(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: -)
قواعد ابن رجب - ت مشهور القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: تقرير القواعد وتحرير الفوائد [المشهور بـ «قواعد ابن رجب»]
المؤلف: زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (ت 795 هـ)
المحقق: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: دار ابن عفان للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419 هـ
عدد الأجزاء: 4 (الرابع فهارس)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو القعدة 1437
ইবনে রজবের কাওয়ায়েদ - মাশহুর তাহকীক বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ
গ্রন্থ: তাকরীরুল কাওয়ায়েদ ওয়া তাহরীরুল ফাওয়ায়েদ [যা «কাওয়ায়েদে ইবনে রজব» নামে প্রসিদ্ধ]
লেখক: জয়নুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৭৯৫ হি.)
সম্পাদক: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: দার ইবনে আফফান প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি.
খণ্ড সংখ্যা: ৪ (চতুর্থটি সূচিপত্র)
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ জিলকদ ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: -)
تقرير القواعد وتحرير الفوائد
تصنيف
الإمام الحافظ زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي
(736 - 795 هـ)
وبآخره
فهرست كتاب تقرير القواعد وتحرير الفوائد
تصنيف
جلال الدين أبي الفرج نصر الدين البغدادي
ضبط نصه وعلق عليه ووثق نصوصه وخرج أحاديثه وآثاره
أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
دار ابن عفان
নীতিমালার সুদৃঢ়করণ এবং ফায়দাহসমূহের বিশদ বিশ্লেষণ
প্রণয়নে
ইমাম হাফিজ যাইনুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে আহমাদ ইবনে রাজাব আল-হাম্বলী
(৭৩৬ - ৭৯৫ হিজরি)
এবং শেষে রয়েছে
'নীতিমালার সুদৃঢ়করণ এবং ফায়দাহসমূহের বিশদ বিশ্লেষণ' গ্রন্থের সূচিপত্র
প্রণয়নে
জালালুদ্দীন আবুল ফারাজ নাসিরুদ্দীন আল-বাগদাদী
মূল পাঠ বিন্যাস, টীকা প্রদান, পাঠ্য যাচাই এবং হাদিস ও আসারসমূহের উৎস নির্দেশ করেছেন
আবু উবায়দাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
দার ইবনে আফফান
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المحققإنَّ الحمدَ للَّه؛ نحمدُه، ونستعينهُ، ونستغفرهُ، ونعوذُ باللَّه من شرور أنفُسِنا وسيِّئات أعمالِنا، مَن يهده اللَّه؛ فلا مضلَّ له، ومَن يُضْلِل؛ فلا هاديَ له.
وأشهدُ أنْ لا إلهَ إلَّا اللَّهُ وحدَه لا شريكَ لهُ، وأشهدُ أنَّ محمَّدًا عبدُه ورسولُه.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1).
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (2).
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (3).
أما بعد:
--------------------------------------------
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} (১)।
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের সেই রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং (ভয় করো) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} (২)।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করে} (৩)।
অতঃপর:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৬)
فهذا هو كتاب "القواعد الفقهية" للإمام ابن رجب الحنبلي، يأخذ مكانه اللائق به في المكتبة التراثية، بعد ضبط نصَّه، والتعليق عليه، وتخريج أحاديثه وآثاره، وتوثيق نقولاته، وإثبات شرح الشيخ العلامة محمد بن صالح العثيمين -حفظه اللَّه ورعاه- عليه.
*
أهمية الكتاب وفائدته:فائدة كتابنا هذا تنبع من طبيعة مادته، وقد، "اهتم الفقهاء بالقواعد الفقهية لما فيها من سهولة العلم والاحاطة بأحكام الفروع دون حفظها، والإلمام بمدلولاتها دون جمعها، ولما يترتب عليها من انتظام الكليات للجزئيات، ولولا القواعد الفقهية لكانت الأحكام الفقهية فروعًا متناثرة تتناقض في ظواهرها، بيان اتففت في مدلول بواطنها" (1).
قال الزركشي:
"أما بعد، فإن ضبط الأمور المنتشرة في القوانين المتّحدة، وهو أوعى لحفظها، وأدعى لضبطها، وهي إحدى حِكَم العدد التي وضع لأجلها.
والحكيم إذا أراد التّعليم لا بد له أن يجمع بين بيالين، إجمالي تتشوَّف إليه النفس، وتفصيليّ تسكن إليه.
ولقد بلغني عن الشيخ قطب الدين السنباطي رحمه الله أنَّه كان يقول: الفقه معرفة النظائر.
وهذه القواعد تضبط للفقيه أصول المذهب، وتطلعه من مآخذ الفقه على نهاية المطلب" (2).
--------------------------------------------
সুতরাং এটি হলো ইমাম ইবনে রাজাব আল-হাম্বলীর "আল-কাওয়ায়েদুল ফিকহিয়্যাহ" (ফিকহী মূলনীতিসমূহ) গ্রন্থ, যা এর মূল পাঠ যাচাই ও সম্পাদনা, টীকা প্রদান, হাদীস ও আছারসমূহের উৎস নির্ণয় (তাখরীজ), উদ্ধৃতিসমূহের প্রামাণ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং এতে শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন -আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন ও রক্ষা করুন- এর ব্যাখ্যা সংযোজনের পর ঐতিহ্যবাহী কুতুবখানায় তার যোগ্য স্থান গ্রহণ করছে।
*
গ্রন্থের গুরুত্ব ও এর উপকারিতা:আমাদের এই গ্রন্থের উপকারিতা এর বিষয়ের প্রকৃতি থেকেই উৎসারিত। বস্তুত, "ফকীহগণ ফিকহী মূলনীতিসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন কারণ এতে রয়েছে ইলম বা জ্ঞান অর্জনের সহজসাধ্যতা এবং শাখা-প্রশাখার (ফুরু) বিধানগুলো মুখস্থ না করেই সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ, এবং সেগুলোকে একত্রিত না করেই তার মর্মার্থ সম্পর্কে অবগত হওয়া। এছাড়াও এর ফলে আংশিক বিষয়গুলো (জুযইয়াত) সামষ্টিক বিষয়ের (কুল্লিয়াত) অধীনে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত হয়। যদি ফিকহী মূলনীতিসমূহ না থাকত, তবে ফিকহী বিধানগুলো বিক্ষিপ্ত শাখা-প্রশাখা হিসেবে থেকে যেত যা বাহ্যিকভাবে পরস্পরবিরোধী মনে হতো, যদিও অভ্যন্তরীণ মর্মার্থের দিক থেকে সেগুলো অভিন্ন।" (১)।
যারকাশী বলেছেন:
"অতঃপর, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে অভিন্ন নিয়মের অধীনে সুসংবদ্ধ করা তা মুখস্থ রাখার জন্য অধিক সহায়ক এবং তা আয়ত্ত করার জন্য অধিক কার্যকর; আর সংখ্যার প্রবর্তনের পেছনে এটিও অন্যতম একটি হিকমত।
আর একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি যখন শিক্ষা দিতে চান, তখন তাকে অবশ্যই দুই ধরনের বর্ণনার সমন্বয় করতে হয়: একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা যা জানার জন্য মন আগ্রহী হয়, এবং অপরটি বিস্তারিত বর্ণনা যা দ্বারা মন প্রশান্তি লাভ করে।
শাইখ কুতুবুদ্দীন আস-সুনবাতী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে যে, তিনি বলতেন: ফিকহ হলো সদৃশ বিষয়সমূহের জ্ঞান।
আর এই মূলনীতিগুলো ফকীহর জন্য মাযহাবের উসুলসমূহকে সুসংবদ্ধ করে এবং ফিকহের উৎসসমূহ থেকে তাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের চরম সীমায় পৌঁছে দেয়।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৭)
وفائدة كتابنا هذا جليلة، فما حواه من القواعد كثيرة العدد، عظيمة المدد، وكاد أن يستوعب مسائل الفقه جميعًا في تخريجها عليها، فيحصّل الناظرُ فيه تفصيلًا بديعًا للمسائل مع ذكر قواعدها "وبقدر الإحاطة بها يعظم قدر الفقيه ويشرف، ويظهر رونق الفقه ويعرف، وتتضح مناهج الفتوى وتكشف" (1).
وتظهر قيمة هذا الكتاب من اعتماد كثير من العلماء المحققين لنقولاته، فكتاب "الإنصاف" -مثلًا- للمرداوي مُسْتودَعٌ لكتاب "القواعد"، وذكر المرداوي في "مقدمته" (1/ 17) عند ذكره الاختلاف بين الأصحاب في مسائل متجاذبة المآخذ، قال:
"فالاعتماد في معرفة المذهب من ذلك على ما قاله المصنف، والمجد، والشارح، وصاحب الفروع، والقواعد الفقهية، والوجيز. . . ".
وقال (1/ 17): "فإن اختلفوا، فالمذهب: ما قدمه صاحب "الفروع" فيه في معظم مسائله، فإن أطلق الخلاف، أو كان من غير المعظم الذي قدّمه، فالمذهب: ما اتفق عليه الشيخان -أعني: المصنف والمجد- أو وافق أحدهما الآخر في أحد اختياريه، وهذا ليس على إطلاقه، وإنما هو في الغالب، فإن اختلفا فالمذهب مع من وافقه صاحب "القواعد الفقهية" أو الشيخ تقي الدين. . . ".
ثم قال: "فإن لم يكن لهما -أي: الموفق والمجد- ولا لأحدهما في ذلك تصحيح، فصاحب القواعد الفقهية. . . ".
قال: "وهذا الذي قلنا من جث الجملة، وفي الغالب، وإلا فهذا لا يطرد ألبتة".
--------------------------------------------
আমাদের এই কিতাবের উপকারিতা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এতে যে বিপুল সংখ্যক মূলনীতি সংকলিত হয়েছে তা অত্যন্ত সহায়ক এবং এটি প্রায় সমস্ত ফিকহি মাসআলাকেই সেগুলোর মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে আয়ত্ত করার কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে। ফলে পাঠক এর মধ্যে মূলনীতিসমূহের বর্ণনার পাশাপাশি মাসআলাগুলোর এক চমৎকার বিস্তারিত বিবরণ খুঁজে পাবেন। "আর এই মূলনীতিসমূহ আয়ত্ত করার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেই একজন ফকিহর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পায়, ফিকহ শাস্ত্রের সৌন্দর্য বিকশিত ও পরিচিত হয় এবং ফতোয়া প্রদানের পদ্ধতিসমূহ স্পষ্ট ও উন্মোচিত হয়" (১)।
অনেক গবেষক আলেম এই কিতাবের উদ্ধৃতির ওপর নির্ভরযোগ্যতার সাথে নির্ভর করেছেন, যা থেকে এই কিতাবের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। উদাহরণস্বরূপ, আল-মারদাউয়ি রচিত "আল-ইনসাফ" কিতাবটি হলো "আল-কাওয়াইদ" কিতাবের একটি নির্ভরযোগ্য সংকলন। আল-মারদাউয়ি তার "মুকাদ্দিমা" বা ভূমিকার (১/১৭) অংশে বিভিন্ন সূত্রের সংমিশ্রণযুক্ত মাসআলাগুলোতে আলেমদের মধ্যকার মতপার্থক্য উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন:
"এক্ষেত্রে মাযহাব সম্পর্কে জানার জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস হলো মুসান্নিফ (গ্রন্থকার), আল-মাজদ, আশ-শারিহ (ব্যাখ্যাকার), আল-ফুরু এর লেখক, আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ এর লেখক এবং আল-ওয়াজিজ এর লেখকের বক্তব্য..."
তিনি (১/১৭) আরও বলেন: "যদি তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তবে মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত হবে যা 'আল-ফুরু' এর লেখক তার অধিকাংশ মাসআলায় উপস্থাপিত করেছেন। যদি তিনি মতভেদকে অমীমাংসিত রাখেন অথবা এটি তার উপস্থাপিত অধিকাংশ মাসআলার অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে মাযহাব হবে যার ওপর শাইখাইন—অর্থাৎ মুসান্নিফ ও আল-মাজদ—একমত হয়েছেন অথবা তাদের একজন অন্যজনের কোনো একটি পছন্দের মতের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তবে এটি ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে। আর যদি তারা (শাইখাইন) ভিন্ন মত পোষণ করেন, তবে মাযহাব হবে যার সাথে 'আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ' এর লেখক অথবা শাইখ তাকিউদ্দীন একমত হয়েছেন..."
অতঃপর তিনি বলেন: "যদি তাদের দুজনের—অর্থাৎ আল-মুওয়াফফাক ও আল-মাজদ—কারও পক্ষ থেকে অথবা তাদের কোনো একজনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করা না থাকে, তবে 'আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ' এর লেখকের বক্তব্য (নির্ভরযোগ্য হবে)..."
তিনি আরও বলেন: "আমরা যা বলেছি তা মূলত সামগ্রিক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য, অন্যথায় এটি সর্বদা একইভাবে প্রযোজ্য হবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৮)
فكتاب "القواعد" لا يمثل صورة استنباط للمسائل الشوارد وردها لأصولها فقط، بينما يمثل أيضًا الحكم الذي استقر عند فقهاء الحنابلة نتيجة قواعدهم المعروفة.
والشاهد من هذا النقل إظهار قيمة ترجيحات وتصحيحات ابن رجب في هذا الكتاب.
ومن الفوائد في هذا الباب الي تظهر قيمة هذا الكتاب:
أن سليمان بن حمدان (ت 1397 هـ) ألف "إتحاف الأريب الأمجد في معرفة الرواة عن الإمام أحمد" (1) وامتاز كتابه بذكر اختيارات المترجمين، وأكثر من النقل عن كتابنا "القواعد" هذا (2).
*
توثيق نسبة الكتاب للإمام ابن رجب:كتاب "القواعد" صحيح النسبة لصاحبه ابن رجب، والأدلة على ذلك كثيرة، منها:
أولًا: ذكره ابن رجب في كتبه الأخرى، فذكره -مثلًا- في شرحه على "صحيح البخاري" المسمى "فتح الباري" (6/ 142 - 143 - ط مكتبة الغرباء) فقال في مسألة: تعمَّد المأموم سبق إمامه:. . . "ولو كان سبق الإمام سهوًا حتَّى دركه إمامُه اعتدَّ له بذلك عند أصحابنا وغيرهم خلافًا لزُفر، وقد بسطتُ القولَ على ذلك في كتاب القواعد في الفقه" واللَّه أعلم".
قلت: والمسألة في كتابنا هذا (1/ 487).
--------------------------------------------
"আল-কাওয়াইদ" গ্রন্থটি কেবল বিচ্ছিন্ন মাসআলাসমূহের উদ্ভাবন এবং সেগুলোকে তাদের মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি রূপই উপস্থাপন করে না; বরং এটি হাম্বলী ফকীহদের নিকট তাদের সুপরিচিত মূলনীতির ভিত্তিতে যে বিধান স্থির হয়েছে, তাও উপস্থাপন করে।
এই উদ্ধৃতি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এই গ্রন্থে ইবনে রজবের দালিলিক অগ্রাধিকার এবং বিশদকরণের গুরুত্ব কতখানি।
এই অধ্যায়ে বর্ণিত উপকারিতাগুলোর মধ্যে যা এই কিতাবের গুরুত্ব প্রকাশ করে তা হলো:
সুলাইমান বিন হামদান (মৃত্যু ১৩৯৭ হিজরি) "ইতহাফুল আরিবিল আমজাদ ফি মারিফাতির রুওয়াতি আনিল ইমাম আহমাদ" (১) রচনা করেছেন। তাঁর গ্রন্থটি জীবনীকারদের নিজস্ব পছন্দের মাসআলাসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে এবং তিনি আমাদের এই "আল-কাওয়াইদ" (২) গ্রন্থ থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
*
ইমাম ইবনে রজবের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততার প্রমাণিকতা:"আল-কাওয়াইদ" গ্রন্থটি এর লেখক ইবনে রজবের প্রতি সম্পৃক্ত হওয়া সঠিক এবং এর সপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
প্রথমত: ইবনে রজব তাঁর অন্যান্য কিতাবে এর উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি তাঁর "ফাতহুল বারী" নামক "সহীহ বুখারী"-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে (৬/ ১৪২ - ১৪৩ - মাকতাবাতুল গুরবা সংস্করণ) মুক্তাদির ইমামের আগে বেড়ে যাওয়ার মাসআলায় বলেছেন: . . . "যদি ইমামের আগে বেড়ে যাওয়াটা ভুলবশত হয় এবং পরিশেষে ইমাম তাকে পেয়ে যান, তবে আমাদের সাথীদের নিকট এবং অন্যদের নিকট তা ধর্তব্য হবে, তবে ইমাম যুফার এর বিরোধিতা করেছেন। আর আমি 'আল-কাওয়াইদ ফিল ফিকহ' গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।" আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আমি বলছি: মাসআলাটি আমাদের এই কিতাবের (১/ ৪৮৭) পৃষ্ঠায় বিদ্যমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثانيًا: نسبه له جمع من الأعلام، مثل:
ابن حجر العسقلاني في "الدرر الكامنة" (2/ 322) و"إنباء الغمر بأنباء العمر" (1/ 460)، والنُّعيمي في "الدارس في تاريخ المدارس" (2/ 77)، وابن مفلح في "المقصد الأرشد" (2/ 82)، ويوسف بن عبد الهادي في "الجوهر المنضد" (ص 49)، وابن العماد في "شذرات الذهب" (6/ 339)، وابن حُميد النجدي في "السحب الوابلة" (ص 197)، وابن حُميد السُّبيعي في "الدُّرّ المنضَّد في أسماء كتب مذهب الإمام أحمد" (ص 48/ رقم 144)، وابن بدران في "المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل" (ص 457)، وحاجي خليفة في "كشف الظنون" (2/ 1359)، وإسماعيل البغدادي في "هدية العارفين" (1/ 528)، وكحالة في "معجم المؤلفين" (5/ 118)، والزِّركلي في "الأعلام" (295/ 3)، وغيرهم كثير.
ثالثًا: نقل منه كثيرٌ من الحنابلة، ولا سيما المرداوي في "الإنصاف"، وأكثر جدًا، وقدّم اختيار صاحبه على غيره، على ما مضى في (أهمية الكتاب وفائدته).
رابعًا: الموجود على طرَّة النسخ الخطيّة، يظهر بوضوحٍ أن الكتاب لابن رجب، ولا سيما المثبت في أول وآخر نسخة (أ)، حيث أثبت ابن رجب خطه علبها، على ما سيأتي في (وصف النسخ الخطيّة).
*
تحقيق اسم الكتاب:ذكره له جلّ مترجميه بعنوان "القواعد الفقهية"، كما في "المقصد الأرشد في ذكر أصحاب الإمام أحمد" (2/ 82) لابن مفلح، و"الجوهر المنضد في طبقات متأخري أصحاب أحمد" (ص 49) ليوسف بن عبد الهادي، و"الدر المنضد في
দ্বিতীয়ত: একদল প্রথিতযশা আলেম এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যেমন:
ইবনে হাজার আল-আসকালানি ‘আদ-দুরার আল-কামিনাহ’ (২/৩২২) এবং ‘ইনবাউল গুমর বি-আনবাউল উমর’ (১/৪৬০) গ্রন্থে, আন-নুয়াইমি ‘আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস’ (২/৭৭) গ্রন্থে, ইবনে মুফলিহ ‘আল-মাকসাদুল আরশাদ’ (২/৮২) গ্রন্থে, ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি ‘আল-জাওহারুল মুনাসসাদ’ (পৃ. ৪৯) গ্রন্থে, ইবনুল ইমাদ ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৬/৩৩৯) গ্রন্থে, ইবনে হুমাইদ আন-নাজদি ‘আস-সুহুবুল ওয়াবিল্লাহ’ (পৃ. ১৯৭) গ্রন্থে, ইবনে হুমাইদ আস-সুবাই ‘আদ-দুররুল মুনাসসাদ ফি আসমায়ি কুতুবি মাজহাবি ইমাম আহমাদ’ (পৃ. ৪৮/ নং ১৪৪) গ্রন্থে, ইবনে বদরান ‘আল-মাদখাল ইলা মাজহাবি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল’ (পৃ. ৪৫৭) গ্রন্থে, হাজি খালিফা ‘কাশফুয যুনুন’ (২/১৩৫৯) গ্রন্থে, ইসমাইল আল-বাগদাদি ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ (১/৫২৮) গ্রন্থে, কাহহালা ‘মু’জামুল মুয়াল্লিফিন’ (৫/১১৮) গ্রন্থে, আয-যিরিকলি ‘আল-আ’লাম’ (৩/২৯৫) গ্রন্থে এবং আরও অনেকে।
তৃতীয়ত: বহু হাম্বলি আলেম এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, বিশেষ করে আল-মারদাউয়ি ‘আল-ইনসাফ’ গ্রন্থে; তিনি অতি মাত্রায় উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং কিতাবের লেখকের পছন্দকে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন, যেমনটি (কিতাবটির গুরুত্ব ও উপকারিতা) আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে।
চতুর্থত: পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে যা বিদ্যমান, তা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে কিতাবটি ইবনে রজবের, বিশেষ করে পাণ্ডুলিপি (আলিফ)-এর শুরুতে ও শেষে যা সাব্যস্ত হয়েছে, যেখানে ইবনে রজব তাঁর স্বহস্তে সেটি নিশ্চিত করেছেন, যেমনটি সামনে (পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা) অংশে আসবে।
*
কিতাবের নাম নিশ্চিতকরণ:তাঁর অধিকাংশ জীবনীকার কিতাবটিকে ‘আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ’ শিরোনামে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইবনে মুফলিহ তাঁর ‘আল-মাকসাদুল আরশাদ ফি যিকরি আসহাবি ইমাম আহমাদ’ (২/৮২) গ্রন্থে, ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি ‘আল-জাওহারুল মুনাসসাদ ফি তবাকাতিল মুতাআখখিরি আসহাবি আহমাদ’ (পৃ. ৪৯) গ্রন্থে এবং ‘আদ-দুররুল মুনাসসাদ ফি...’ গ্রন্থে করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১০)
أسماء كتب مذهب الإمام أحمد" (ص 48/ رقم 144) للسبيعي و"الدرر الكامنة في أعيان المئة الثامنة" (2/ 322) لابن حجر، و"الدارس في تاريخ المدارس " (2/ 77) للنُّعيميّ، و"شذرات الذهب" (2/ 339) لابن العماد الحنبلي، و"المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل" (ص 146 - ط عبد اللَّه التركي) لابن بدران، وغيرهم.
وسماه المصنِّف في "فتح الباري" (6/ 143) بـ"القواعد في الفقه"، وطبع بعنوان "القواعد في الفقه الإسلامي"، في مصر قديمًا، سنة 1352 هـ، ثم سنة 1392 وثم عن دار الكتب العلمة، دون أي تعليق أو ضبط أو مراجعة على نسخ خطية.
وجاء اسم الكتاب على طرة النسخ الخطية "تقرير القواعد وتحرير الفوائد" (1)، وكذا ذكره إسماعيل باشا البغدادي في "هدية العارفين" (1/ 527) وعمر رضا كحالة في "معجم المؤلفين" (5/ 118) وهذا العنوان هو الذي اعتمدناه، بناءً على وروده هكذا في النسخ الخطة، وأما قول مترجميه "القواعد الفقهية" إنما هو تسمية له بموضوعه.
--------------------------------------------
আস-সুবাইয়ি-এর "আসমাউ কুতুবি মাজহাবি ইমাম আহমাদ" (পৃষ্ঠা ৪৮/ নং ১৪৪), ইবনে হাজার-এর "আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আইয়ানিল মিয়াতিল সামিনাহ" (২/ ৩২২), আন-নুআইমি-এর "আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস" (২/ ৭৭), ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি-এর "শাযারাতুয যাহাব" (২/ ৩৩৯), ইবনে বাদরান-এর "আল-মাদখাল ইলা মাজহাবি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল" (পৃষ্ঠা ১৪৬ - আবদুল্লাহ তুর্কি সংস্করণ) এবং অন্যান্য।
এবং গ্রন্থকার "ফাতহুল বারি" (৬/ ১৪৩) গ্রন্থে একে "আল-কাওয়াইদ ফিল ফিকহ" নামে অভিহিত করেছেন। এটি মিশরে প্রাচীনকালে ১৩৫২ হিজরি সনে "আল-কাওয়াইদ ফিল ফিকহিল ইসলামি" শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছিল, এরপর ১৩৯২ হিজরি সনে এবং পরবর্তীতে দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়, কোনো প্রকার টীকা, বিন্যাস বা পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা ছাড়াই।
এবং পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে বইটির নাম এসেছে "তাকরিরুল কাওয়াইদ ওয়া তাহরিরুল ফাওয়াইদ" (১), একইভাবে ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদি "হাদিয়াতুল আরিফিন" (১/ ৫২৭) গ্রন্থে এবং উমর রেজা কাহহালা "মুজামুল মুআল্লিফিন" (৫/ ১১৮) গ্রন্থে একে উল্লেখ করেছেন। পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই উল্লেখ থাকার ভিত্তিতে আমরা এই শিরোনামটিই গ্রহণ করেছি। আর জীবনীকারদের একে "আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ" বলা মূলত এর বিষয়ের নাম অনুসারে করা একটি নামকরণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১১)
*
تعريف عام بالكتاب (1):
بنى ابنُ رجب مباحثَ هذا الكتاب على مئة وستين قاعدة، وأردفها بفصل يحتوي على فوائد تلحق بالقواعد في مسائل مشهورة، فيها اختلاف في المذهب، وتنبني على الاختلاف فيها فوائد متعددة، وقد بلغ عددها إحدى وعشرين فائدة، معظمها ذات شأن في الفقه الإسلامي.
قال الشيخ بكر أبو زيد: "ألحق في كتاب القواعد: "فوائد في مسائل يترتب على الخلاف فيها فوائد. وهي تعني "أثر الخلاف في تكييف الأحكام الفقهية" وهي لفتة نفيسة، حقيقة بإفرادها في التأليف" (2).
وذكر ابن رجب في الديباجة مقصده من تأليف هذا الكتاب، وأنه كتبه على استعجال، فقال:
"فهذه قواعد مهمة، وفوائد جمّة، تضبط للفقيه أصول المذهب، وتطلعه من مآخذ الفقه على ما كان عنه قد تغيَّب، وتنظم له منثور المسائل في سلك واحد، وتقيّد له الشوارد، وتقرب عليه كل متباعد، فليمعن الناظر في النظر، وليوسّع العذر إنّ اللبيب من عذر، فلقد سنح بالبال على غاية من الإعجال كالارتجال أو قريبًا من الارتجال في أيامٍ يسيرةٍ وليال، ويأبى اللَّهُ العصمةَ لكتاب غير كتابه، والمنصف من اغتفر قليل خطأ المرء في كثير صوابه، واللَّه المسؤول أن يوفّقنا لصواب القول والعمل، وأن يرزقنا اجتناب أسباب الزّيغ والزلل، إنه قريب مجيب لمن سأل، لا يخيب من إياه رجى وعليه توكل" (3).
--------------------------------------------
কিতাবটির একটি সাধারণ পরিচিতি (১):
ইবনে রজব এই কিতাবের আলোচনাগুলো একশ ষাটটি মূলনীতির (কায়েদা) ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন। এরপর তিনি এমন একটি অধ্যায় যুক্ত করেছেন যা প্রসিদ্ধ মাসআলাগুলোতে মূলনীতির সাথে সম্পৃক্ত কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় (ফাওয়ায়িদ) অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে মাযহাবের ভেতর মতপার্থক্য রয়েছে এবং এই মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে নানাবিধ উপকারিতা অর্জিত হয়। এগুলোর সংখ্যা একুশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার অধিকাংশ ইসলামি ফিকহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ বকর আবু যায়দ বলেন: "তিনি আল-কাওয়ায়েদ গ্রন্থে এমন সব মাসআলার ক্ষেত্রে 'ফাওয়ায়িদ' (প্রয়োজনীয় বিষয়াবলী) যুক্ত করেছেন, যেগুলোর মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে আরও অনেক উপকারিতা অর্জিত হয়। এর অর্থ হলো 'ফিকহি হুকুমের ধরণ নির্ধারণে মতপার্থক্যের প্রভাব'। এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার দিক, যা স্বতন্ত্রভাবে রচনার দাবি রাখে" (২)।
ইবনে রজব ভূমিকার মধ্যে এই কিতাবটি রচনার উদ্দেশ্য উল্লেখ করেছেন এবং এটি যে তিনি তড়িঘড়ি করে লিখেছেন তাও বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
"এগুলো হলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি এবং প্রচুর উপকারী বিষয়, যা একজন ফকিহের জন্য মাযহাবের মূল উসুলসমূহকে আয়ত্তে এনে দেয় এবং ফিকহের উৎসসমূহ থেকে এমন বিষয় তার সামনে প্রকাশ করে যা তার নিকট অস্পষ্ট ছিল। এগুলো তার জন্য বিক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোকে একটি সুতোয় গেঁথে দেয়, দুর্লভ বিষয়গুলোকে আবদ্ধ করে এবং প্রতিটি দূরবর্তী বিষয়কে নিকটবর্তী করে দেয়। সুতরাং পাঠক যেন গভীরভাবে এটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন, কেননা বুদ্ধিমান ব্যক্তিই ক্ষমা করতে জানেন। এটি আমার মনে অতি দ্রুততার সাথে উদিত হয়েছে, যেন তাৎক্ষণিক কোনো বিষয় বা তার কাছাকাছি কিছু, যা সামান্য কয়েক দিন ও রাতের মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত রাখতে অস্বীকার করেছেন। আর ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তিনিই, যিনি মানুষের অনেক সঠিক কাজের ভিড়ে সামান্য ভুলকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের কথা ও কাজে সঠিকতা দান করেন এবং বিচ্যুতি ও পদস্খলনের কারণগুলো পরিহার করার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনাকারীর অতি নিকটবর্তী ও সাড়াদানকারী; তিনি তাকে নিরাশ করেন না যে তাঁর কাছে আশা রাখে এবং তাঁর ওপর ভরসা করে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১২)
ففي هذا النص الذي قدم به ابن رجب لكتاب "القواعد" يظهر منه الأمور الآتية:
أولًا: يريد ابن رجب أن يضبط أصول المسائل الفقهية حتى لا يضيع طالب العلم بين شارد المسائل، وكثرة القضايا.
ثانيًا: "يضع ابن رجب تحت عنوان (قاعدة) موضوعًا فقهيًا، ثم يتناوله بإيضاحٍ مسهب، وتفصيل معجب" (1) على وفق أصول المذهب.
ويذكر تحت القاعدة الواحدة مسائل متعددة من أبواب مختلفة، ويختارها بدقة، بحيث يكون بين ذكرها وبين القاعدة ارتباط وثيق، ومع هذا فهو يقحم في النادر بعض المسائل الفقهية داخل القاعدة.
فذكر -مثلًا- في القاعدة (السابعة والخمسون بعد المئة) ذكر ابن رجب القاعدة وذكر معها مسائل حين قال: (إذا تغير حال المرأة التي في العدة بانتقالها من رق إلى حرية أو طرأ عليها سبب موجب لعدة أخرى من الزوج كوفاته فهل يلزمها الانتقال إلى عدة الوفاة أو إلى عدة أخرى). تلك هي القاعدة التي يترتب عليها صور وخلاف فقهي، لكن ابن رجب استطرد بعد ذلك وقال: إن كان زوجها متمكنًا من تلافي نكاحها في العدة لزمها الانتقال وإلا فلا إلا ما يستثنى من ذلك من الإبانة في المرض. وهذا الصنيع مقصود أيضًا من ابن رجب لأنه يريد أن يضع القاعدة وأن يوجز مسائل صورها داخل القاعدة، ليكون عند لقارئ تصوَّرٌ كليٌّ للقاعدة بمسائلها، وتأتي الصور موضحة لهذه المسائل (2). ويعمل في كثير من الأحايين على ترتيب المسائل بدقة فائقة تحت القاعدة
--------------------------------------------
ইবনে রজব তার "আল-কাওয়ায়েদ" (মূলনীতিসমূহ) গ্রন্থের জন্য যে ভূমিকা পেশ করেছেন, তাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ফুটে ওঠে:
প্রথমত: ইবনে রজব ফিকহী মাসআলাসমূহের মূলনীতিগুলো সুসংহত করতে চেয়েছেন, যাতে ইলম অন্বেষণকারী বিক্ষিপ্ত মাসআলা এবং অগণিত সমস্যার ভিড়ে হারিয়ে না যায়।
দ্বিতীয়ত: "ইবনে রজব (মূলনীতি) শিরোনামের অধীনে একটি ফিকহী বিষয় নির্ধারণ করেন, অতঃপর মাযহাবের মূলনীতি অনুযায়ী তা অত্যন্ত প্রাঞ্জল ব্যাখ্যা এবং চমৎকার বিশদ বিবরণের মাধ্যমে আলোচনা করেন" (১)।
তিনি একটি মূলনীতির অধীনে বিভিন্ন অধ্যায় থেকে একাধিক মাসআলা উল্লেখ করেন এবং তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নির্বাচন করেন, যাতে মাসআলাগুলো এবং মূলনীতির মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক থাকে। এর পাশাপাশি, তিনি কদাচিৎ মূলনীতির ভেতরে কিছু ফিকহী মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করেন।
উদাহরণস্বরূপ—একশত সাতান্নতম মূলনীতিতে ইবনে রজব মূলনীতিটি উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে কিছু মাসআলাও আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন: (যদি ইদ্দত পালনরত কোনো নারীর অবস্থা দাসত্ব থেকে স্বাধীনতায় উত্তরণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়, অথবা স্বামীর পক্ষ থেকে অন্য কোনো ইদ্দত ওয়াজিব হওয়ার কারণ ঘটে—যেমন তার মৃত্যু—তবে কি তার জন্য মৃত্যুজনিত ইদ্দতে নাকি অন্য কোনো ইদ্দতে স্থানান্তরিত হওয়া আবশ্যক হবে?)। এটিই সেই মূলনীতি যার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রূপরেখা ও ফিকহী মতপার্থক্য তৈরি হয়। তবে ইবনে রজব এরপর আরও বিস্তারিত আলোচনা করে বলেছেন: যদি তার স্বামী ইদ্দত চলাকালীন বিবাহ রক্ষার সুযোগ রাখেন, তবে তার জন্য স্থানান্তর হওয়া আবশ্যক, অন্যথায় নয়; তবে অসুস্থতাবস্থায় বিচ্ছেদের মতো ব্যতিক্রমী বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়। ইবনে রজবের এই পদ্ধতিটি ছিল উদ্দেশ্যমূলক; কারণ তিনি মূলনীতিটি স্থাপন করার পাশাপাশি এর অন্তর্গত মাসআলাগুলোর রূপরেখা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চেয়েছেন, যাতে পাঠকের কাছে সংশ্লিষ্ট মাসআলাসহ মূলনীতিটি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা তৈরি হয় এবং রূপরেখাগুলো যেন এই মাসআলাসমূহের ব্যাখ্যা হিসেবে কাজ করে (২)। তিনি প্রায়শই মূলনীতির অধীনে মাসআলাগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিন্যস্ত করার কাজ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الواحدة.
* مثال ذلك:
ما ذكره في القاعدة التاسعة والخمسون فيما يتعلق بالعقود التي لا ترد إلا على موجود بالفعل أو بالقوة. تكلم فيها عن الانفساخ الحكمي بالتلف.
فذكر مسائله مرتبة:
* ذكر مسائل تلف المبيع في مدة الخيار هل يسقط الخيار أو لا يسقط.
* ثم ذكر تلف بعض المبيع المعيب.
* ثم ذكر تلف العين المعيبة كلها.
وهذا القصد من ابن رجب يدل على عقليته الرتيبة المنظمة وترتيبه المسائل ترتيبًا منطقيًا (1).
ثالثًا: ويمتاز كتابنا هذا بأنه "يورد (القواعد) على النسق المألوف في كتب القواعد بصيغة موجزة، وهذا قليل بالموازنة بينه والكتب المشهورة الأخرى في هذا الباب، ولا ضَيْرَ في ذلك، فإنّ الكتاب في محتوياته وغضونه تضمَّن معظم القواعد المشهورة المتداولة، وإن اختلف الأسلوب والصِّياغة في بيانها" (2). ولذا قد تجد بعض القواعد في طيات المباحث (3)، وبعضها مصاغ بعبارات طويلة لا يلمح
--------------------------------------------
একক।
* এর উদাহরণ হলো:
তিনি উনষাটতম নীতিতে যা উল্লেখ করেছেন, তা হলো সেই সমস্ত চুক্তি সম্পর্কিত যা কেবল বর্তমানে বিদ্যমান বা সম্ভাব্যভাবে বিদ্যমান বস্তুর ওপর কার্যকর হয়। সেখানে তিনি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে আইনি বিলুপ্তি (ইনফিসাখ) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
অতঃপর তিনি এর মাসয়ালাগুলো ক্রমানুসারে উল্লেখ করেছেন:
* পণ্য ক্রয়ের পর তা গ্রহণ বা বর্জন করার অধিকারের (ইখতিয়ার) মেয়াদে বিক্রিত পণ্য নষ্ট হওয়ার মাসয়ালাগুলো উল্লেখ করেছেন—তাতে ইখতিয়ার বাতিল হবে কি হবে না।
* এরপর ত্রুটিযুক্ত বিক্রিত পণ্যের আংশিক নষ্ট হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
* এরপর সম্পূর্ণ ত্রুটিযুক্ত পণ্যটি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
ইবনে রজব-এর এই প্রয়াস তার সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত চিন্তাধারা এবং মাসয়ালাগুলোকে যৌক্তিকভাবে সাজানোর পদ্ধতির পরিচয় দেয় (১)।
তৃতীয়ত: আমাদের এই গ্রন্থটি এই বৈশিষ্ট্যে অনন্য যে, এটি "কায়েদা বা নীতিসমূহকে ফিকহি কায়েদা বিষয়ক গ্রন্থসমূহের পরিচিত পদ্ধতি অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত আঙ্গিকে পেশ করে। এই শাস্ত্রের অন্যান্য প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর সাথে তুলনা করলে এটি কিছুটা কম মনে হতে পারে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। কারণ গ্রন্থটি এর বিষয়বস্তু ও আলোচনার ভাঁজে ভাঁজে অধিকাংশ প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত নীতিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যদিও সেগুলো বর্ণনার শৈলী ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে" (২)। এ কারণে আপনি কিছু কায়দাহ আলোচনার গভীরে খুঁজে পেতে পারেন (৩), আর কিছু কায়দাহ এমন দীর্ঘ বাক্যে বিন্যস্ত যা সহজে বুঝে আসে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
منها أنها قاعدة إلا بعد تمحيص وبحث (1).
وتلمح في بعض الأحايين أنَّه يقصد تقديم قاعدة على أُخرى، ويظهر في ذلك دقة فائقة. (2).
رابعًا: يسهب ابن رجب في النقل عن أئمة الحنابلة ومن كتبهم المعتمدة، ويظهر اختياراتهم، وأقوال الإمام أحمد على وجه الخصوص، وينقل عن "مسائله" باختلاف الروايات المنقولة عنه، على وجه فيه تحقيق وتحرير، وتدقيق وتفصيل، بحيث يذكر التعقبات أو المؤاخذات على النقل أو الفهم أو التخريج، ويكاد في بعض الأحايين يخرج بقاعدة من خلال الاستقراء عن خطأ يقع فيه بعضهم، أو وهم يتخيّله، فذكر -مثلًا- في (2/ 194) أنّ أبا بكر بن عبد العزيز ينقل كلام أحمد بالمعنى الذي يفهمه منه، فيقع فيه تغيير شديد، وذكر أيضًا في (3/ 257) أن القاضي أبا يعلى كثيرًا ما يظن أقوال سفيان في "مسائل ابن منصور" أنها أقوال لأحمد.
خامسًا: "قصد ابن رجب في كتابه هذا أن يعرض الفقه الحنبلي بصورة منضبطة، تجعل مسائله في عقد نظيم، كما أن الشوارد من المسائل تقيد حتَّى يقرب المتباعد منها، وهذا هو مسلك فقهي إلا أنَّه جديد وفريد.
وعلى هذا فكاب "القواعد" كتاب فقه، ليس له نظير في الأشباه والنظائر، كما أنَّه لا يسير على المألوف من تدوين كتب الفقه" (3).
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো এটি একটি নীতি নয় যতক্ষণ না পর্যন্ত যাচাই-বাছাই ও গবেষণার পর নিশ্চিত হওয়া যায় (১)।
মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি একটি নীতিকে অন্যটির উপর প্রাধান্য দিতে চান এবং এতে এক অসামান্য সূক্ষ্মতা প্রকাশ পায়। (২)।
চতুর্থত: ইবনে রজব হাম্বলী ইমামগণের কাছ থেকে এবং তাঁদের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং তাঁদের গ্রহণকৃত মতসমূহ তুলে ধরেন, বিশেষ করে ইমাম আহমদের উক্তিগুলো। তিনি তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন বর্ণনাসহ "মাসায়েল" থেকে এমনভাবে উদ্ধৃত করেন যাতে তাহকিক (সত্যায়ন), তাহরির (পরিশোধন), তাদকিক (সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ) ও তাফসিল (বিস্তারিত বিবরণ) ফুটে ওঠে। তিনি কোনো উদ্ধৃতি, উপলব্ধি বা তাখরিজের (শরয়ি সমাধান বের করা) ক্ষেত্রে আপত্তি বা ভুলত্রুটিগুলোও উল্লেখ করেন। মাঝে মাঝে তিনি অনুসন্ধানের মাধ্যমে এমন একটি নীতি উদ্ভাবন করেন যা দ্বারা কারো কোনো ভুল বা কাল্পনিক ধারণার নিরসন ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি (২/১৯৪) উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকর বিন আব্দুল আজিজ ইমাম আহমদের কথাকে নিজের বুঝ অনুযায়ী মর্মার্থে বর্ণনা করেছেন, যার ফলে তাতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন (৩/২৫৭) যে, কাজী আবু ইয়ালা প্রায়শই "মাসায়েল ইবনে মনসুর"-এ সুফিয়ানের কথাগুলোকে ইমাম আহমদের কথা বলে মনে করতেন।
পঞ্চমত: "ইবনে রজব তাঁর এই গ্রন্থে হাম্বলী ফিকহকে একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করার ইচ্ছা করেছেন, যা এর মাসআলাগুলোকে একটি সুবিন্যস্ত মালায় গেঁথে দেয়। যেমনটি বিচ্ছিন্ন মাসআলাগুলোকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যাতে দূরবর্তী বিষয়গুলোও নিকটবর্তী হয়। এটি একটি ফিকহি পদ্ধতি, তবে এটি নতুন ও অনন্য।
সেই হিসেবে "আল-কাওয়ায়েদ" হলো ফিকহের এমন একটি কিতাব যার কোনো সমতুল্য নেই আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর (সমজাতীয় মাসআলা) বিষয়ক কিতাবসমূহের মধ্যে; ঠিক যেমন এটি ফিকহ শাস্ত্রের কিতাব রচনার প্রচলিত ধারাও অনুসরণ করে না" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
سادسًا: هذا الكتاب يدلل على أصالة ابن رجب في علم الفقه، وأن له فيه يدًا طولى، وأن عنده فيه عقلية إحصائية تجمع مسائل العلوم تحت منضبط واحدٍ، وقد صدق من قال عنه، وذكر له هذا الكتاب: "يدل على معرفة تامة بالمذهب" (1).
فهذا الكتاب يمثل عقلية ابن رجب الفقهية الإبداعية، كما أن "شرح العلل للترمذي" يدلل على عقليته الحديثية الإبداعية.
ومن الجدير بالذكر "أن ابن رجب في عرضه للمسائل كان عقلية واعية منفتّحة، لأنه ينقل آراء العلماء، ويرجح في بعض الأَحايين، وفي بعض الأحايين يذكر الرأي الذي يميل إليه صراحة، ويشير للآخر دون ذكره" (2) فيقول -مثلًا- في (القاعدة الحادية والثلاثين): "وظاهر كلام أحمد. . . " (3) وفي (القاعدة السادسة والعشرين): ". . . على أصح الوجهين" (4)، وهكذا.
سابعًا: لم يهمل ابن رجب في هذا الكتاب مذاهب العلماء الأُخرى، بل ذكر فيه مذاهب بعض الصحابة والتابعين وفقهاء الأمصار، فضلًا عن سائر الأئمة المتبوعين، ولكن كان كذلك عند الحاجة وبقدر ما تحتاجه بعض المسائل، ويظهر ذلك جليًّا في الفهرس الخاص في هذا النوع، من المجلد الرابع.
ثامنًا: كما أنَّه لم يهمل فيه الأدلة النصيّة والآثار السلفية، وإن لم يكن ذلك من مقاصده، لانشغاله بلمّ شعث المسائل تحت قاعدة واحدة، والغالب
--------------------------------------------
ষষ্ঠত: এই গ্রন্থটি ফিকহ শাস্ত্রে ইবনে রজবের মৌলিকত্বের প্রমাণ দেয় এবং এই শাস্ত্রে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেয়। তাঁর একটি সুশৃঙ্খল সংকলনমূলক মেধা ছিল যা বিজ্ঞানের বিভিন্ন মাসআলাসমূহকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর অধীনে একত্র করে। তাঁর সম্পর্কে যিনি বলেছেন তিনি যথার্থই বলেছেন এবং এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "এটি মাযহাব সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের প্রমাণ দেয়" (১)।
সুতরাং এই গ্রন্থটি ইবনে রজবের সৃজনশীল ফিকহী মেধার প্রতিনিধিত্ব করে, যেমনিভাবে "শারহুল ইলাল লিত-তিরমিযী" তাঁর সৃজনশীল হাদিস বিষয়ক মেধার প্রমাণ দেয়।
এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, "মাসআলাসমূহ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইবনে রজব একজন সচেতন ও উদারমনা চিন্তাবিদ ছিলেন। কারণ তিনি ওলামায়ে কেরামের মতামত উদ্ধৃত করেন এবং কখনও কখনও একটিকে প্রাধান্য দেন, আবার কখনও কখনও নিজের ঝোঁক যে মতের দিকে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আবার অন্যটির নাম উল্লেখ না করেই সেদিকে ইঙ্গিত করেন" (২)। যেমন তিনি (৩১তম নীতিমালায়) বলেন: "আহমাদের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো..." (৩) এবং (২৬তম নীতিমালায়) বলেন: "...দুটি মতের মধ্যে অধিকতর সঠিকটির ওপর ভিত্তি করে" (৪), ইত্যাদি।
সপ্তমত: ইবনে রজব এই গ্রন্থে অন্যান্য আলেমদের মাযহাবগুলো উপেক্ষা করেননি। বরং তিনি এতে কিছু সাহাবী, তাবিঈ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ফকীহগণের মাযহাব উল্লেখ করেছেন, সেইসাথে অন্যান্য অনুসরণীয় ইমামদের মতও বর্ণনা করেছেন। তবে এটি করেছেন প্রয়োজনানুসারে এবং কিছু মাসআলা যতটুকু দাবি করে সে অনুযায়ী। এটি চতুর্থ খণ্ডের এই বিষয়ক বিশেষ সূচিপত্রে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
অষ্টমত: একইভাবে তিনি এতে সরাসরি উদ্ধৃতি এবং সালাফদের বর্ণনা সমূহকেও উপেক্ষা করেননি, যদিও এটি তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল না; কারণ তিনি মাসআলাসমূহের বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একটি মূলনীতির অধীনে একত্র করতে ব্যস্ত ছিলেন, আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
على هذه المسائل أنها جزئية تفصيلية لم يرد فيها دليل. ومع هذا فقد ذكر جملة من الآيات والأحاديث، وأشار في بعض الأحايين إلى درجة الأحاديث، والغالب عليه فيها أنَّه يذكرها بإيماءٍ وإيجاز، أو يثير إلى أصولها دون ذكرٍ لمفرداتها.
*
مدح العلماء له:مدح هذا الكتابَ جميعُ مَنْ نظر فيه، فضلًا عن مطالعيه، وقد أفصح غير واحدٍ عن ذلك، فقال يوسف بن عبد الهادي، المعروف بـ (ابن المِبْرَد) (1) (المتوفى 909 هـ):
"وكتاب "القواعد الفقهيّة" مجلد كبير، وهو كتاب نافع من عجائب الدَّهر، حتَّى أنَّه استُكْثِرَ عليه، حتَّى زعم بعضُهم أنَّه وجد قواعدَ مبدَّدَةً لشيخ الإسلام ابن تيمية فجمعها، وليس الأمر كذلك، بل كان رحمه الله فوق ذلك" (2).
وقال ابن مفلح (المتوفى 884 هـ):
و"القواعد الفقهية" تدلُّ على معرفةٍ تامّةٍ بالمذهب" (3).
وقال ابن حجر (المتوفى 852 هـ):
--------------------------------------------
এই মাসয়ালাগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো এগুলো এমন বিস্তারিত খুটিনাটি বিষয় যার স্বপক্ষে কোনো [সুনির্দিষ্ট] দলিল বর্ণিত হয়নি। তা সত্ত্বেও তিনি একগুচ্ছ আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং মাঝে মাঝে হাদিসসমূহের মানের (সহিহ/জইফ) দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তবে এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় তিনি ইশারা ও সংক্ষেপণের পথ অবলম্বন করেছেন অথবা হাদিসের মূল সূত্রের দিকে ইঙ্গিত করেছেন কিন্তু তার খুটিনাটি বিষয়গুলো উল্লেখ করেননি।
*
উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে গ্রন্থটির প্রশংসা:যারা এই কিতাবটি দেখেছেন তারা সকলেই এর প্রশংসা করেছেন, আর যারা এটি পাঠ করেছেন তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য। একাধিক ব্যক্তি এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। ইউসুফ ইবনে আব্দুল হাদী, যিনি (ইবনুল মিবরাদ) (১) নামে পরিচিত (মৃত্যু ৯০৯ হি.), বলেছেন:
"এবং 'আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ' গ্রন্থটি একটি বৃহৎ খণ্ড। এটি একটি উপকারী কিতাব এবং কালের বিস্ময়কর সৃষ্টিসমূহের অন্যতম। এমনকি গ্রন্থটিকে তার (লেখকের) জন্য অনেক বেশি মনে করা হতো, ফলে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মূলনীতি খুঁজে পেয়েছিলেন এবং সেগুলো একত্রিত করেছেন। কিন্তু বিষয়টি মোটেও সেরকম নয়, বরং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন তার চাইতেও উচ্চমানের।" (২)।
وقال ইবনে মুফলিহ (মৃত্যু ৮৮৪ হি.) বলেছেন:
এবং "'আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ' মাজহাব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়।" (৩)।
এবং ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হি.) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
و"القواعد الفقهية" أجاد فيه" (1).
وذكر هذا الإعجاب غير واحدٍ من المعاصرين، فقال بعضهم عنه: "أما الكتاب فهو من أنفس وأحفل الكتب للقواعد في الفقه الحنبلي، وحمل من الثَّروة الفقهية ما يَجلُّ عن الوصف والبيان، وقديمًا وجدنا العلماء يثنون عليه، يقول صاحب "كشف الظنون": "وهو كتاب نافع من عجائب الدهر"، وإن مما يدهش العقل أن المؤلف صنّفه في أيامٍ يسيرة" (2).
وقال الأُستاذ مصطفى الزّرقاء عنه:
"وهو كتاب عظيم القيمة، يحمل من الثروة الفقهية ما يجل عن الوصف، وقد وصفه صاحب "كشف الظنون" بأنه من العجائب" (3).
*
الجهود المبذولة حول الكتاب:عرف العلماءُ أهمية هذا الكتاب من زمن بعيدٍ، ولذا تتابعوا على خدمته، وظهرت هذه الخدمة على ألوانٍ متعدِّدة، نحصرها فيما يلي:
أولًا: اختصاره:اختصر هذا الكتاب جماعة (4)، منهم:
الأول: عبد الرزاق الحنبلي (المتوفى 819 هـ) له "مختصر قواعد ابن رجب".
--------------------------------------------
এবং "আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়া" গ্রন্থে তিনি চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন (১)।
সমসাময়িকদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এই মুগ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি সম্পর্কে বলেছেন: "বইটির কথা বলতে গেলে, এটি হাম্বলী ফিকহের মূলনীতি (কাওয়ায়িদ) বিষয়ক অত্যন্ত মূল্যবান ও সমৃদ্ধ গ্রন্থগুলোর অন্যতম। এটি এমন ফিকহী সম্পদ ধারণ করে যা বর্ণনা ও ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে। প্রাচীনকাল থেকেই আমরা আলেমদেরকে এর প্রশংসা করতে দেখেছি; 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক বলেন: 'এটি এক উপকারী গ্রন্থ এবং কালের অন্যতম বিস্ময়'। আর আশ্চর্যের বিষয় এই যে, লেখক এটি মাত্র সামান্য কয়েক দিনের মধ্যে সংকলন করেছেন" (২)।
এবং উস্তাদ মুস্তাফা আয-যারকা এটি সম্পর্কে বলেছেন:
"এটি অত্যন্ত উচ্চ মানের একটি গ্রন্থ, যা এমন ফিকহী সম্পদ বহন করে যা বর্ণনাতীত। 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক একে বিস্ময়কর বস্তুগুলোর অন্তর্ভুক্ত বলে অভিহিত করেছেন" (৩)।
*
গ্রন্থটি কেন্দ্রিক গৃহীত প্রচেষ্টাসমূহ:আলেমগণ প্রাচীনকাল থেকেই এই গ্রন্থের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন, তাই তারা ধারাবাহিকভাবে এর খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছেন। এই খেদমত বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেয়েছে, যা আমরা নিম্নরূপে সীমাবদ্ধ করতে পারি:
প্রথমত: গ্রন্থটির সারসংক্ষেপকরণ:একদল আলেম (৪) এই গ্রন্থের সারসংক্ষেপ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:
প্রথমজন: আব্দুর রাজ্জাক আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৮১৯ হি.), তার রয়েছে "মুখতাসারু কাওয়ায়িদি ইবনি রাজাব"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الثاني: أحمد بن نصر اللَّه بن أحمد بن محمد بن عمر المخزومي المعروف بـ "المحب بن نصر اللَّه" (المتوفى 844 هـ) له أيضًا: "مختصر قواعد ابن رجب".
الثالث: عبد اللَّه بن عبد الرحمن أبا بطين (المتوفى 1121 هـ) له أيضًا "مختصر قواعد ابن رجب".
ثانيًا: ترتيبه مع تهذيبه:رتب هذا الكتاب مع تهذيبٍ له اثنان -فيما أعلم-:
أحدهما: يوسف بن عبد الرحمن بن الحسن زين الدين أبي البشرى عبد الرحمن التّادفي الحلبي الحنبلي (المتوفى 900 هـ).
قال الشيخ راغب الطباخ في ترجمته:
"ووقف على "قواعد ابن رجب" في مذهب الحنابلة، فإذا هو كتاب يفتقر إلى التهذيب، وحسن الترتيب، فهذبه تهذيبًا، ورتّبه ترتيبًا عجيبًا، وعرض ما وضعه وهو يومئذ بالقاهرة على الإمامين الجليلين الحنبليين: الشهاب أحمد الشيشني، والبدر محمد السعدي، فقرَّظا له تقريظًا حسنًا، وناهيك بالمثنَّى بذكره عالمًا" (1).
والآخر: الشمس محمد بن عثمان بن حسين الجَزِيْريّ ثم القاهري الحنبلي (المتوفى 888 هـ).
قال السخاوي في ترجمته:
"وشرع في ترتيب فروع "قواعد" ابن رجب، ولو عُمِّر وتفرَّغ للاشتغال، لسادَ، عوَّضهُ اللَّه الجنّة" (2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: আহমাদ ইবনে নাসরুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-মাখযূমী, যিনি "আল-মুহিব্ব ইবনে নাসরুল্লাহ" (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরী) নামে পরিচিত। তাঁরও একটি গ্রন্থ রয়েছে: "মুখতাসার কাওয়াইদ ইবনে রজব"।
তৃতীয়: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আবা বুতাইন (মৃত্যু ১১২১ হিজরী)। তাঁরও একটি গ্রন্থ রয়েছে: "মুখতাসার কাওয়াইদ ইবনে রজব"।
দ্বিতীয়ত: পরিমার্জনসহ এর বিন্যাসকরণ:আমার জানামতে দুইজন ব্যক্তি এই গ্রন্থটিকে এর পরিমার্জনসহ বিন্যস্ত করেছেন:
তাঁদের একজন হলেন: ইউসুফ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাসান যাইনুদ্দীন আবিল বুশরা আব্দুর রহমান আত-তাদিফী আল-হালাবী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৯০০ হিজরী)।
শায়খ রাগিব আত-তাব্বাখ তাঁর জীবনীতে বলেন:
"তিনি হাম্বলী মাযহাবের 'কাওয়াইদ ইবনে রজব' গ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দেখতে পান যে গ্রন্থটি পরিমার্জন ও সুন্দর বিন্যাসের মুখাপেক্ষী। অতঃপর তিনি এটিকে উত্তমভাবে পরিমার্জন করেন এবং চমৎকারভাবে বিন্যস্ত করেন। তিনি যখন কায়রোতে ছিলেন, তখন তাঁর কৃত কর্মটি দুই মহান হাম্বলী ইমাম—শিহাব আহমাদ আশ-শীশিনী এবং বদর মুহাম্মাদ আস-সাদী—এর নিকট পেশ করেন। তাঁরা উভয়েই এর জন্য চমৎকার প্রশংসা বাণী লিখেন। আর সেই দুই আলিম কর্তৃক প্রশংসিত হওয়াই (এর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য) যথেষ্ট।" (১)।
অপরজন হলেন: আশ-শামস মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে হুসাইন আল-জাযীরী, অতঃপর আল-কাহেরী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৮৮৮ হিজরী)।
সাখাভী তাঁর জীবনীতে বলেন:
"তিনি ইবনে রজবের 'কাওয়াইদ'-এর শাখা-প্রশাখাগুলোর বিন্যাস শুরু করেছিলেন; যদি তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করতেন এবং এই কাজে একাগ্র হওয়ার সুযোগ পেতেন, তবে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতেন। আল্লাহ তাকে জান্নাত দ্বারা বিনিময় দান করুন।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقام بتهذيبه الشيخ العلامة محمد الصالح العثيمين، وسمَّاه بـ:
"نيل الأرب من قواعد ابن رجب"
وذكره له الشيخ بكر أبو زيد في كتابه "المدخل المفصَّل" (2/ 936) وقال: "لم يطبع".
ووقفتُ عليه بخطّه، وهذا نصُّ ديباجته:
"بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وبه نستعين، وعليه نتوكل، الحمد اللَّه الذي بيَّن قواعد الدين على لسان رسوله أحمد، وفقه من أراد به خيرًا وأيَّد، وأُصلِّي وأسلِّم على أفضل الخلق محمد، وعلى آله وأصحابه الرُّكع السُّجْد.
وبعد:
فإِنَّ كتاب "قواعد الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل الشيباني" الذي ألفه ذو المقام الرفيع المشيد لقد حوى من الحسن وجمع المعاني ما به عن غيره تفرد، وصل فيه قواعد بنى عليها من فروع الفقه ما تبدَّد، وكان من الصعب حفظ هذه القواعد بفروعها الشوارد؛ فاستخرت اللَّه تعالى في اختصار قواعده الحسان وحذف فروعها تقربًا إلى اللَّه تعالى، ورجاء لسهولة حفظها وحيث قلت: والمذهب أو ظاهر المذهب كذا أو عن قول وهو المذهب فمن عندي، والمراد به ما ذهب إليه المتأخرون: كصاحبي "المنتهى" و"الإقناع" ومرادي بضمير الجمع الأصحاب المتأخرون وبالشيخ حجر العلوم أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام إبن تيمية الحراني وسميته "نيل الأرب من قواعد ابن رجب".
واللَّه أسأل أن ينفع به كما نفع بأصله وأن يجعله خالصًا لوجهه إنه جواد كريم.
এটি পরিমার্জন করেছেন শায়খ আল-আল্লামা মুহাম্মদ আস-সালিহ আল-উসাইমিন এবং এর নামকরণ করেছেন:
"নাইলুল আরাব মিন কাওয়াইদ ইবনে রাজাব"
শায়খ বকর আবু যায়দ তাঁর 'আল-মাদখাল আল-মুফাসসাল' (২/৯৩৬) গ্রন্থে এটি তাঁর বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এটি মুদ্রিত হয়নি"।
আমি তাঁর স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপি দেখেছি এবং এটি হলো তাঁর ভূমিকার পাঠ:
"পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূল আহমাদ-এর জবানে দ্বীনের মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং যার জন্য তিনি কল্যাণ চেয়েছেন তাকে ফিকহের জ্ঞান দান করেছেন ও তাকে সাহায্য করেছেন। আর আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও রুকু-সিজদাকারী সাহাবীগণের প্রতি।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই 'কাওয়াইদুল ফিকহ আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানি' নামক কিতাবটি, যা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ও সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব সংকলন করেছেন, তা এমন সৌন্দর্য এবং অর্থগত ব্যাপকতা ধারণ করেছে যার ফলে এটি অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে। তিনি এখানে এমন সব মূলনীতি যুক্ত করেছেন যার ওপর ফিকহের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শাখাসমূহকে বিন্যস্ত করেছেন। আর এই মূলনীতিসমূহকে এর বিক্ষিপ্ত শাখাসহ মুখস্থ করা কঠিন ছিল; তাই আমি আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি এর সুন্দর মূলনীতিসমূহ সংক্ষেপ করার জন্য এবং এর শাখাসমূহ বাদ দেওয়ার জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এবং তা মুখস্থ করা সহজ হওয়ার আশায়। যখন আমি বলি: 'মাযহাব' বা 'মাযহাবের প্রকাশ্য মতটি এমন' কিংবা 'এক বর্ণনা অনুযায়ী যা মাযহাব', তখন তা আমার পক্ষ থেকে (বুঝানো হয়েছে); আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পরবর্তী যুগের আলেমগণ যেদিকে গিয়েছেন: যেমন 'আল-মুনতাহা' এবং 'আল-ইকনা' কিতাবদ্বয়ের রচয়িতাগণ। আর বহুবচনের সর্বনাম দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো পরবর্তী যুগের সাথীগণ (উলামায়ে কেরাম), এবং 'শায়খ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জ্ঞানের সুউচ্চ মিনার আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী। আর আমি এর নাম দিয়েছি 'নাইলুল আরাব মিন কাওয়াইদ ইবনে রাজাব'।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে ফায়দা দান করেন যেমনটি তিনি এর মূল কিতাব দ্বারা করেছেন এবং একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য বিশুদ্ধ আমল হিসেবে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অতি দয়ালু।"
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقد أشرنا حذو كل قاعدة إلى صفحتها من الأصل تسهيلًا على الناظر. . . ".
* وهذا نصُّ خاتمته:
" وإلى هنا انتهى بنا القلم، وقد ذكر المصنف رحمه الله في آخر كتابه فوائد وهي أن هناك مسائل الخلاف فيها مشتهر؛ وللخلاف فيها مسائل كثيرة تنبني على ذلك الاختلاف، لأن بعض مسائل الخلاف يكون كالشجرة ذا فروع منتشرة لكن لما رأينا أن ذكر الأصل وحذف الفرع لا يأتي بالمقصود، وأن ذكر الكل يخرج بنا عن الاختصار لم يبق إلا الترك بالكلية، والحمد للَّه الذي بنعمته تتم الصالحات والحمد للَّه مدى الأزمان والأوقات، وصلى اللَّه على محمد خير البريات وعلى آله وأصحابه المجتهدين في إخلاص الأعمال والطاعات.
قال ذلك محرره
محمد الصالح العثيمين
غفر اللَّه له وجميع المسلمين
حرر في 26/ 1/ 1370".
* * *
আমরা পাঠকের সুবিধার্থে প্রতিটি মূলনীতির পাশে মূলগ্রন্থের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা নম্বর নির্দেশ করেছি...।
* এটিই তাঁর উপসংহারের পাঠ:
"এবং এখানেই আমাদের কলম থেমেছে। লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর গ্রন্থের শেষে কিছু জ্ঞাতব্য বিষয় উল্লেখ করেছেন যে, এমন কিছু মাসআলা রয়েছে যাতে মতবিরোধ সুপ্রসিদ্ধ; এবং সেই মতপার্থক্যের ভিত্তিতে অনেক মাসআলা সৃষ্টি হয়, কারণ কিছু মতভেদপূর্ণ মাসআলা বিস্তৃত শাখাযুক্ত বৃক্ষের ন্যায়। তবে যখন আমরা দেখলাম যে, কেবল মূলটি উল্লেখ করে শাখাগুলো বর্জন করলে উদ্দেশ্য সফল হয় না, আবার সব কিছু উল্লেখ করলে তা সংক্ষেপণের পরিপন্থী হয়, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে তা বর্জন করা ছাড়া আর কোনো পথ অবশিষ্ট থাকল না। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ পূর্ণতা পায়। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য সর্বকালে ও সর্বমুহূর্তে। আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সেই সব সাহাবীদের ওপর, যারা আমল ও ইবাদতে একনিষ্ঠতা অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন।
এটি তাঁর সম্পাদক বলেছেন
মুহাম্মাদ আস-সালিহ আল-উসাইমিন
আল্লাহ তাঁকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন
লিখিত হয়েছে ২৬/ ১/ ১৩৭০ হিজরিতে।"
* * *
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثالثًا: فهرسته:اشتغل غير واحدٍ من العلماء بترتيب مسائل "قواعد ابن رجب" على الكتب والأبواب الفقهية المعتادة، وقد ظفرتُ بجماعةٍ قاموا بذلك، منهم:
أولًا: جلال الدين أبو الفرج نصر الدين البغدادي، له "فهرست كتاب "تقرير وتحرير الفوائد"، مطبوع في آخر كتابنا هذا في طليعة مجلد الفهارس.
ثانيًا: وفي المكتبة الأزهرية مخطوط برقم (614) وعنه مصورة في جامعة أم القرى بمكة الكرمة برقم (88) بعنوان: "كشف المسائل في كتاب تقرير القواعد وتحرير الفوائد" لابن رجب.
قال الشيخ بكر أبو زيد: "لعله كتاب العلاء المرداوي (المتوفى سنة 885 هـ): "فهرست القواعد الأصولية"" (1).
فإن صح هذا الظن فيكون هذا الفهرست للقواعد لا المسائل، والأمر يحتاج إلى نظر في النسخة الخطية، ولم يتسنَّ لي ذلك، ولا حول ولا قوة إلا باللَّه.
ثالثًا: وقد عمل الشيخ فوزان السابق (المتوفى سنة 1373 هـ) فهرسًا فقهيًا لفروعه، مطبوع (2).
رابعًا: شروحه:لم أظفر بشرح لكتابنا هذا، إلا ما قام به فضيلة الشيخ العلامة محمد بن صالح العثيمين -حفظه اللَّه- وفسح مدته، وبارك اللَّه في جهوده، ونفع به- من إملاءات عليه في حلقاته التعليمية في بريدة من المملكة العربية السعودية، وفيه
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: এর সূচিপত্র:একাধিক আলেম ইবনে রজবের "কাওয়ায়িদ"-এর মাসআলাগুলোকে প্রচলিত ফিকহী কিতাব ও অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। আমি এমন একদল আলিমের সন্ধান পেয়েছি যারা এই কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:
প্রথমত: জালালুদ্দিন আবুল ফারাজ নাসিরুদ্দিন আল-বাগদাদী। তাঁর একটি সূচিপত্র রয়েছে যার নাম "তাকরির ওয়া তাহরিরুল ফাওয়ায়েদ"-এর সূচিপত্র। এটি আমাদের এই কিতাবের শেষে সূচিপত্র খণ্ডের শুরুতে মুদ্রিত হয়েছে।
втоীয়ত: মাকতাবাতুল আজহারিয়াতে একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নম্বর (৬১৪)। মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এর একটি অনুলিপি রয়েছে যার নম্বর (৮৮)। এর শিরোনাম হলো: ইবনে রজব রচিত "কাশফুল মাসায়িল ফি কিতাবি তাকরীরিল কাওয়ায়িদ ওয়া তাহরীরিল ফাওয়ায়েদ"।
শায়খ বকর আবু যায়িদ বলেন: "সম্ভবত এটি আল্লা আল-মারদাভী (মৃত্যু ৮৮৫ হিজরি) রচিত কিতাব: 'ফিহরিস্তুল কাওয়ায়িদিল উসুলিয়্যাহ'" (১)।
যদি এই ধারণা সঠিক হয়, তবে এই সূচিপত্রটি হবে মূলনীতির (কাওয়ায়িদ) জন্য, মাসআলার জন্য নয়। বিষয়টি পাণ্ডুলিপিটি পর্যালোচনার দাবি রাখে, কিন্তু আমার পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।
তৃতীয়ত: শায়খ ফাওজান আল-সাবিক (মৃত্যু ১৩৭৩ হিজরি) এর শাখা-প্রশাখাগুলোর একটি ফিকহী সূচিপত্র তৈরি করেছেন, যা মুদ্রিত হয়েছে (২)।
চতুর্থত: এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ:আমি আমাদের এই কিতাবটির কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থের সন্ধান পাইনি, কেবল শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন, তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন, তাঁর প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন এবং তাঁর দ্বারা উপকার করুন—সৌদি আরবের বুরাইদাহ শহরে তাঁর শিক্ষাদান মজলিসগুলোতে যে পাঠদান করেছিলেন তা ব্যতীত। এতে রয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تعليقات نفيسة على مواطن كثيرةٍ من هذا الكتاب، وقد عملتُ على تفريغها، وأثبتُّها في مواطنها من طبعتنا هذه، وللَّه الحمد والمنة.
خامسًا: طبعاته:طبع هذا الكتاب أكثر من مرة، وأشهر طبعاته طبعة الأستاذ طه عبد الرؤوف سعد، وقد ظهرت أول مرة في القاهرة، عن مكتبة الخانجي، سنة 1352 هـ -1933 م، في (454 صفحة) (1).
وشاب هذه الطبعة نقص في عبارات، وتحريف وتصحيف في مواطن كثيرة في عدة كلمات، نبّهنا عليها في هوامش الكتاب. ولم يخل هذا السقط والتحريف والتصحيف من جميع طبعات الكتاب، قال الدكتور عبد اللَّه الغفيلي عن كتابنا هذا: "وقد طبع عدة مرات، منها طبعة بالقاهرة سنة 1352 هـ - المطبعة الخيرية، ولكن جميع الطبعات لا تخلو من السقط والتحريف والتصحيف، وهو جدير بأن يعنى به، ويطبع طبعة علمية محررة ومحققة" (2).
*
النسخ الخطية المعتمدة في التحقيق:اعتمدتُ في تحقيق كتاب "القواعد" على ثلاث نسخ خطية، هذا وصفها:
الأول: ورمزت لها بنسخة (أ).
--------------------------------------------
এই গ্রন্থের অনেকগুলো স্থানে মূল্যবান মন্তব্য রয়েছে, এবং আমি সেগুলো অনুলিখন করার কাজ করেছি এবং আমাদের এই সংস্করণে সেগুলোর স্ব স্ব স্থানে সাব্যস্ত করেছি। আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই জন্য।
পঞ্চম: এর সংস্করণসমূহ:এই বইটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ সংস্করণ হলো উস্তাদ তাহা আবদুর রউফ সা'দ-এর সংস্করণ। এটি প্রথমবার কায়রোতে মাকতাবাতুল খাঞ্জি থেকে ১৩৫২ হিজরি - ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে (৪৫৪ পৃষ্ঠায়) প্রকাশিত হয়েছিল (১)।
এই সংস্করণে বাক্যাংশের অভাব এবং অনেক স্থানে বেশ কিছু শব্দে বিকৃতি ও মুদ্রণজনিত ভুল রয়ে গেছে, যা আমরা বইটির টীকায় উল্লেখ করেছি। বইটির কোনো সংস্করণই এই বাদ পড়া, বিকৃতি এবং মুদ্রণজনিত ভুল থেকে মুক্ত নয়। ডক্টর আবদুল্লাহ আল-গুফাইলি আমাদের এই বইটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে ১৩৫২ হিজরিতে কায়রোতে আল-মাতবাআতুল খাইরিয়্যাহ-এর একটি সংস্করণ রয়েছে, তবে সকল সংস্করণই বাদ পড়া অংশ, বিকৃতি ও মুদ্রণজনিত ভুল থেকে মুক্ত নয়। এটি যত্ন পাওয়ার যোগ্য এবং একটি সম্পাদিত ও তাহকীককৃত বৈজ্ঞানিক সংস্করণে মুদ্রিত হওয়া উচিত" (২)।
*
তাহকীকের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলো:"আল-কাওয়ায়িদ" গ্রন্থটির তাহকীকের ক্ষেত্রে আমি তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার বর্ণনা নিম্নরূপ:
প্রথম: আমি এর প্রতীক দিয়েছি পাণ্ডুলিপি (আলিফ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وهي نسخة محفوظة في مكتبة (أسد أفندي) الملحقة (1) بالمكتبة السليمانية، ورقمها (505) وصنِّف تحت موضوع: "التَّصوُّف"!!
وفي أوَّله: "بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.
الحمد للَّه الذي مهَّد قواعد الدِّين، بكتابه المحكم، وشيَّد معاقد العلم بخطابه، وأحكم وفقّه في دينه مَنْ أراد به خيرًا من عباده، وفهَّم وأوفق من شاء على ما شاء من. . . ".
وفي آخره على اليسار بخط المصنف: "بلغ مقابلة لجميع الكتاب بأصلي لذي بخطي بحضوري، وذلك [في] مجالس آخرها عاشر شوال سنة ثلاث وسبعين وسبع مئة.
وكتبه مؤلِّفُه عبد الرحمن لن أحمد بن رجب الحنبلي، عفا اللَّه عنه، وصلى اللَّه على محمد وآله وصحبه وسلم".
وكتب بعصهم (غير ناسخ المخطوط) بخط مغاير طبعًا، على يمين خطه ما نصُّه:
"آخر كتاب "الطبقات"!! على مذهب إمام الأئمة ناصر السنة، الإمام الربانيّ أبي عبد اللَّه أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني، رضي الله عنه، وأرضاه، وجعل الجنّة مأواه.
والحمد للَّه وحده، وصلى اللَّه على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم".
فهذا المكتوب على يمين خط المصنِّف من أن الكتاب هو "الطبقات" خطأ،
--------------------------------------------
এটি সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির সাথে সংযুক্ত (১) আসাদ এফেন্দি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি, এর নম্বর (৫০৫) এবং একে "তাসাউফ" বিষয়ের অধীনে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে!!
এবং এর শুরুতে রয়েছে: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সুদৃঢ় কিতাবের মাধ্যমে দ্বীনের মূলনীতিসমূহকে সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর বাণীর মাধ্যমে জ্ঞানের ভিত্তিগুলোকে মজবুত করেছেন, এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার কল্যাণ তিনি চেয়েছেন তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছেন, আর যাকে ইচ্ছা করেছেন তাকে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বুঝ দান করেছেন এবং তাওফিক দিয়েছেন...।"
এবং এর শেষে বাম দিকে লেখকের নিজ হাতে লেখা রয়েছে: "পুরো কিতাবটি আমার উপস্থিতিতে আমার নিজের হাতের লেখা মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা (মুকাবালা) শেষ হয়েছে। এটি সম্পন্ন হয়েছে এমন কতগুলো মজলিসের মাধ্যমে যার শেষটি ছিল সাতশ তিয়াত্তর হিজরি সালের দশই শাওয়াল।
এবং এটি লিখেছেন এর লেখক আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আল-হাম্বলী, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। এবং আল্লাহ মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।"
এবং অন্য কেউ (পাণ্ডুলিপিটি যে ব্যক্তি অনুলিপি করেছেন তিনি নন) স্পষ্টতই ভিন্ন হাতের লেখায় লেখকের লেখার ডান পাশে যা লিখেছেন তার পাঠ হলো:
"ইমামদের ইমাম, সুন্নাহর সাহায্যকারী, ইমামে রব্বানি আবু আবদিল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন)-এর মাযহাব অনুযায়ী 'আত-তাবাকাত' কিতাবটির সমাপ্তি!!
এবং সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।"
সুতরাং লেখকের হস্তাক্ষরের ডানপাশে কিতাবটিকে "আত-তাবাকাত" হিসেবে উল্লেখ করে যা লেখা হয়েছে তা ভুল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فالجملة كلها دخيلة، بنيت على خطأ (1).
وهذه النسخة نفيسة جدًا، وتظهر نفاستها من مقابلتها على نسخة المصنف (2)، ففي هوامشها إلحاقات وتصويبات، وضرب الناسخ على بعض السطور فيها.
وفي هوامش هذه النسخة تعليقات نفيسة بخطوط متغايرة، يظهر منها أنها كانت في تملك بعض العلماء، وهذه التعليقات فيها شرح وزيادة إيضاح لكلام المصنف أو بيان لمبهم أو تفصيل لمجمل (انظر -على سبيل المثال- 1/ 196، 260، 370، 383).
أو ترجيح وتصحيح القول (انظر -على سبيل المثال- 1/ 285).
أو ذكر اختيار محقق من العلماء (انظر -على سبيل المثال- 1/ 69، 134، 383).
ولم يذكر الناسخ اسمه، ولكنها كتبت في حياة المصنف، وقوبلت على أصوله، وبعض الأوراق بخط المصنف بتمامها، وفيه خط آخر، فهي بمجموعها فيها ثلاثة خطوط.
الثانية: ورمزت لها بحرف (ب).
وهي نسخة محفوظة في مكتبة وليّ الدين أفندي التابعة (3) للمكتبة السليمانيّة، ورقمها (1421)، وتقع في (342) ورقة. وقبله في المخطوطة
--------------------------------------------
পুরো বাক্যটিই প্রক্ষিপ্ত, যা ভুলের ওপর ভিত্তি করে রচিত (১)।
এই পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত মূল্যবান, এবং গ্রন্থকারের পাণ্ডুলিপির সাথে এর মুকাবিলা বা তুলনা করার মাধ্যমে এর শ্রেষ্ঠত্ব ফুটে ওঠে (২)। এর প্রান্তটীকায় (হাশিয়া) বিভিন্ন সংযোজন ও সংশোধন রয়েছে এবং লিপিকার এর কিছু চরণের ওপর কর্তন চিহ্ন প্রদান করেছেন।
এই পাণ্ডুলিপির প্রান্তটীকায় বিভিন্ন হাতের লেখায় মূল্যবান মন্তব্য রয়েছে, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে এটি কিছু আলেমদের মালিকানাধীন ছিল। এই মন্তব্যগুলোতে গ্রন্থকারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও অতিরিক্ত স্পষ্টীকরণ, অস্পষ্ট বিষয়ের বর্ণনা অথবা সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে (উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ১/ ১৯৬, ২৬০, ৩৭০, ৩৮৩)।
অথবা কোনো মতের প্রাধান্য প্রদান বা বিশুদ্ধকরণ (উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ১/ ২৮৫)।
অথবা আলেমদের মধ্য থেকে কোনো গবেষকের চয়নকৃত মতের উল্লেখ (উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ১/ ৬৯, ১৩৪, ৩৮৩)।
লিপিকার তাঁর নাম উল্লেখ করেননি, তবে এটি গ্রন্থকারের জীবদ্দশায় লিখিত হয়েছে এবং তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। কিছু পাতা সম্পূর্ণরূপে গ্রন্থকারের নিজ হাতের লেখায় এবং সেখানে অন্য একটি হাতের লেখাও রয়েছে; এভাবে সামগ্রিকভাবে এতে তিনটি ভিন্ন হাতের লেখা বিদ্যমান।
দ্বিতীয়: আমি একে 'বা' বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
এটি সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির অধিভুক্ত (৩) ওয়ালিউদ্দিন এফেন্দি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি, যার নম্বর (১৪২১) এবং এটি (৩৪২)টি পত্রে বিস্তৃত। পাণ্ডুলিপিতে এর পূর্বে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
"فهرست كتاب تقرير القواعد وتحرير الفوائد" لجلال الدين أبي الفرج نصر الدين البغدادي (1).
وأوله: "بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وهو حسبي ونعم الوكيل. الحمد للَّه الذي مهّد قواعد الدين بكتابه المحكم، وشيَّد معاقد العلم بخطابه. . . ".
وآخره: "والحمد للَّه وحده، وصلى اللَّه على سيدنا محمد وآله وصحبه، ووافق الفراغ من كتابته على يد أفقر عباد اللَّه وأحوجهم إلى رحمة ربه تعالى. . . أحمد بن عبد العزيز بن علي بن إبراهيم الفتوحي الحنبلي. . . ".
فالناسخ هو عالم كبير من علماء الحنابلة، وهو والد صاحب "منتهى الإرادات"، وله "شرح الوجيز" لم يتم.
كان عالمًا عاملًا متواضعًا طارحًا للتكلُّف، انفرد في زمنه بمعرفة مذهبه، وصار عليه المعول فيه، وقد شارك في الحديث، وسار فيه السَّير الحثيث.
ووردفي ترجمته أنه "فقير الحال، كثير العيال، وقد حصَّل بعض الوظائف والكتب النَّفيسة، واستمر على جلالته حتَّى مات في ذي الحجة، سنة 949 في القاهرة، وخلَّف أولادًا نجباء، وذِكْرًا حسنًا رحمه اللَّه تعالى وإيانا" (2).
وورد أيضًا أنه "كتب بالأجرة وغيرها، وتكسب بالشهادة، ثم ولي عاقدًا فاسخًا بعد سعي كبير" (3).
--------------------------------------------
জালালুদ্দীন আবুল ফারাজ নাসরুদ্দীন আল-বাগদাদী (১) রচিত "তাকরিরুল কাওয়াইদ ওয়া তাহরিরুল ফাওয়াইদ" গ্রন্থের সূচী।
এবং এর প্রারম্ভিক অংশ: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সুসংহত কিতাবের মাধ্যমে দ্বীনের মূলনীতিসমূহকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে ইলমের কেন্দ্রবিন্দুসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন...।"
এবং এর শেষাংশ: "সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আল্লাহ তাঁর রহমত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক নিঃস্ব এবং তাঁর সুমহান রবের রহমতের প্রতি সর্বাধিক মুখাপেক্ষী ব্যক্তি... আহমদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আলী বিন ইব্রাহিম আল-ফুতুহি আল-হানবালীর হাতে এর অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছে...।"
সুতরাং এই অনুলিপিকারক হলেন হাম্বলি আলেমদের মধ্যে একজন প্রথিতযশা আলেম। তিনি "মুনতাহাল ইরাদাত" গ্রন্থের লেখকের পিতা এবং তাঁর "শারহুল ওয়াজিজ" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যা পূর্ণতা পায়নি।
তিনি ছিলেন একজন আমলদার আলেম, বিনয়ী এবং লৌকিকতা বর্জিত। নিজ যুগে তিনি মাযহাবের গভীর জ্ঞান অর্জনে অনন্য হয়ে উঠেছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁর ওপরই নির্ভর করা হতো। তিনি হাদিস শাস্ত্রেও অবদান রেখেছিলেন এবং তাতে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়েছিলেন।
তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ছিলেন "দরিদ্র এবং অধিক সন্তান-সন্ততির অধিকারী। তিনি কিছু কর্মসংস্থান ও মূল্যবান গ্রন্থাদি অর্জন করেছিলেন। ৯৪৯ হিজরির জিলহজ মাসে কায়রোতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর মর্যাদার ওপর অটল ছিলেন। তিনি রেখে গেছেন কৃতি সন্তান এবং উত্তম স্মৃতি। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং আমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন" (২)।
আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি "পারিশ্রমিক ও অন্যান্য বিনিময়ে অনুলিপির কাজ করতেন এবং সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে উপার্জন করতেন। অতঃপর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি বিবাহ সম্পন্ন ও বিচ্ছেদকারী হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وله على الكتاب هوامش مفيدة، فيها نقولات نفيسة عن العلماء، وفي بعضها ترجيح وذكر اختيار لبعض المحققين من علماء المذهب (انظر -على سبيل المثال- 1/ 41، 42، 64، 65، 123، 128، 510، 511)، وفي بعضها تعقّب للمصنف، وفي بعضها مزيد توضيح لعبارة غامضة أو بيان لمبهم. وهكذا (انظر -على سبيل المثال- 1/ 63، 92، 94، 116، 117، 118، 119، 121، 127، 128، 136، 389 و 2/ 23، 108)
وهذه النسخة مضبوطة، وعلى هوامشها تصحيحات وإلحاقات.
وفي آخرها كلام فيه مدح وثناء لكتاب "تقرير القواعد وتحرير الفوائد" بخط متأخّرٍ مغاير لخطِّ النَّاسخ، فلعله بخط بعض متملّكيها، ولعل الناسخ قد كتب هذا الكتاب بالأجرة، كما ذكر في ترجمته (1).
الثالثة: ورمزت لها بحرف (ج).
وهذه النسخة من محفوظات مكتبة الرياض العامة، تحت رقم (431/ 86) وتقع في (218) ورقة، وفي بدايتها "فهرست تقرير القواعد".
وفي أولها: "بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ. ربِّ يسِّر وأعن يا كريم. اللهم عونًا منك، فالمعان نريد.
قال الشيخ الإمام العلامة، والبحر الفهامة: أبو الفرج زين الدين عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي البغدادي رحمه اللَّه تعالى ورضي عنه:
الحمد للَّه الذي مهد قواعد الدين بكتابه المحكم. . . ".
--------------------------------------------
এবং বইটির ওপর তাঁর উপকারী টীকা রয়েছে, যাতে আলেমদের থেকে মূল্যবান উদ্ধৃতি রয়েছে। সেগুলোর কোনো কোনোটিতে মাযহাবের বিজ্ঞ আলেমদের মধ্য থেকে কিছু মুহাক্কিক (গবেষক) এর মতের প্রাধান্য প্রদান ও পছন্দের উল্লেখ রয়েছে (উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ১/ ৪১, ৪২, ৬৪, ৬৫, ১২৩, ১২৮, ৫১০, ৫১১)। কোনোটিতে গ্রন্থকারের মতের পর্যালোচনা রয়েছে, আবার কোনোটিতে অস্পষ্ট বাক্যের অধিকতর ব্যাখ্যা বা অস্পষ্ট বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। এভাবে (উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ১/ ৬৩, ৯২, ৯৪, ১১৬, ১১৭, ১১৮, ১১৯, ১২১, ১২৭, ১২৮, ১৩৬, ৩৮৯ এবং ২/ ২৩, ১০৮)
এই পাণ্ডুলিপিটি সুবিন্যস্ত এবং এর পার্শ্বটীকায় সংশোধন ও সংযোজন রয়েছে।
এর শেষে "তাকরিরুল কাওয়ায়িদ ওয়া তাহরিরুল ফাওয়ায়িদ" গ্রন্থের প্রশংসা ও গুণগান সম্বলিত কিছু কথা রয়েছে, যা লিপিকারের হাতের লেখার চেয়ে ভিন্ন পরবর্তী সময়ের কোনো হাতের লেখায়। সম্ভবত এটি এর কোনো মালিকের হাতের লেখা। আর সম্ভবত লিপিকার এই বইটি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে লিখেছিলেন, যেমনটি তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে (১)।
তৃতীয়টি: এবং আমি এটিকে (জিম) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
এই পাণ্ডুলিপিটি রিয়াদ পাবলিক লাইব্রেরির সংরক্ষিত সংগ্রহ থেকে প্রাপ্ত, যার নম্বর (৪৩১/ ৮৬) এবং এটি (২১৮) পত্রে সমাপ্ত। এর শুরুতে "তাকরিরুল কাওয়ায়িদের সূচিপত্র" রয়েছে।
এর শুরুতে রয়েছে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব! সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন হে দয়াময়। হে আল্লাহ! আপনার নিকট থেকে সাহায্য প্রার্থনা করছি, কেননা আমরা আপনারই সাহায্যপ্রার্থী।"
শায়খ, ইমাম, আল্লামা এবং গভীর জ্ঞানের সাগর: আবুল ফারাজ জয়নুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে রজব আল-হাম্বলী আল-বাগদাদী (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন:
"সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সুসংহত কিতাবের মাধ্যমে দ্বীনের মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي آخرها: "وهو حسبنا، ونعم الوكيل، والحمد للَّه رب العالمين، وصلى اللَّه وسلم على سيّدنا محمد سيّد الأوّلين والآخرين، صلاةً وسلامًا دائمين إلى يوم الدِّين.
تمَّ الكتابُ بعون الملك الوهَّاب ضحوة الاثنين رابع عشر المحرم، من شهور 1334 هـ بقلم أسير ذنوبه وخطاياه، الفقير إلى عفو مولاه، المعلّق بكرم معبوده ورجاه: عمر بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن إبراهيم بن عبد اللطيف بن محمد بن علي بن حمد بن معيوف.
اللهم اغفر لكاتبه ولوالديه ووالديهما وذريتهما وأحبابه فيك، ولمن قال آمين، آمين، آمين، آمين".
وعلى هوامش هذه النسخة إلحاقات وتصويبات، مما يدل على أنها مقابلة على نسخةٍ جيَّدة، ولذا كتب الناسخ في آخرها:
"بلغ مقابلة" وكذا على هوامش كثيرٍ من أوراقها (1).
*
نشرتنا من الكتاب وعملي فيه:تمتاز نشرتنا من هذا الكتاب بالآتي:
أولًا: قمتُ بمقابلة الكتاب على ثلاث نسخ خطية، سبق وصفها.
ثانيًا: أثبتُّ الفروق بين النسخ الخطية وطبعة الأستاذ طه عبد الرؤوف في الهامش، ونبّهتُ على التحريفات والتصحيفات والسقط الواقع في المطبوع.
ثالثًا: أثبتُّ ما على حواشي النسخ الخطية أو بعضها من تعليقاتٍ نفيسة،
--------------------------------------------
এবং এর শেষে রয়েছে: "তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহ সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের নেতা; এমন সালাত ও সালাম যা কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
সুমহান দাতা অধিপতির সাহায্যে ১৩৩৪ হিজরি সনের মহররম মাসের চৌদ্দ তারিখ সোমবার সকালে কিতাবটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি লিখেছেন নিজের পাপ ও ত্রুটির হাতে বন্দী, তার রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী এবং তার মাবুদের করুণা ও আশার ওপর নির্ভরশীল: উমর ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে আব্দুল রহমান ইবনে ইবরাহিম ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে হামাদ ইবনে মায়ুফ।
হে আল্লাহ, এর লেখককে, তার পিতামাতাকে এবং তাদের পিতামাতাকে, তাদের বংশধরদের, আপনার সন্তুষ্টির জন্য তার প্রিয়জনদের এবং যারা 'আমিন' বলবে তাদের ক্ষমা করুন। আমিন, আমিন, আমিন, আমিন।"
এই পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় অনেক সংযুক্তি ও সংশোধনী রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এটি একটি উন্নত মানের পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এই কারণেই লেখক এর শেষে লিখেছেন:
"তুলনা সম্পন্ন হয়েছে" এবং এর অনেক পাতার পার্শ্বটীকায়ও অনুরূপ লেখা রয়েছে (১)।
*
কিতাবটির আমাদের এই সংস্করণ এবং এতে আমার কাজ:এই কিতাবটির আমাদের এই সংস্করণটি নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যে অনন্য:
প্রথমত: আমি কিতাবটিকে তিনটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি, যেগুলোর বর্ণনা ইতিপূর্বে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: আমি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিগুলো এবং উস্তাদ ত্বহা আব্দুল রউফ-এর মুদ্রিত সংস্করণের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ পাদটীকায় উল্লেখ করেছি। এছাড়াও মুদ্রিত কপিতে থাকা বিকৃতি, শব্দগত ভুল এবং বাদ পড়া অংশগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেছি।
তৃতীয়ত: হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিগুলোর পার্শ্বটীকায় বা সেগুলোর কোনো কোনোটিতে থাকা মূল্যবান মন্তব্যগুলো আমি সন্নিবেশিত করেছি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فيها زيادة إيضاحٍ، أو بيان وهم، أو تعقب للمصنف، أو ذكر للراجح في المذهب.
رابعًا: حاولتُ جاهدًا توثيق النقولات من الكتب التي نقل منها المصنِّف (1)، وتعبتُ في ذلك، إذا أغلب نقولات المصنف كانت بالفحوى والإيماء والإشارة، إلا في القليل النادر إذ ينقل فيه المصنف كلام العلماء بالنص.
واستعنتُ بما نقله المصنف في "ذيل طبقات الحنابلة" من فروع هي اختيارات للمترجمين عنده، وفي بعض الأحايين يتعقّبهم وينَكّت على كلامهم، فإن فعل أشرت أو نقلت كلامه وأنشط في بعض المسائل، فأثبت مظانها من الكتب المشهورة في المذهب، ولعلي أذكر (أحيانًا) فيها اختيارات بعض المحققين من العلماء، أو الراجح فيها وفق الدليل أو مذاهب العلماء الأخرى ولعلي أزيد بعض المسائل مما لها صلة بالقاعدة، فاتت المصنف، وهذا في القليل النادر كما في مبحث (القرعة).
خامسًا: أثبتُّ شرح الشيخ العلامة محمد بن الصالح العثيمين -حفظه اللَّه- على الكتاب، وذلك بتفريغ ما أملاه على مواطن عديدة منه ثم قمت بتوزيعها على مواطنها من الكتاب، ووضعتُ علامة (ع) عقب كلامه.
سادسًا: خرجتُ الأحاديث والآثار التي ذكرها المصنِّف، وبيّنتُ درجتها من حيث الصحة والحسن والضعف، وأثبتُّ نصَّ الأحاديث والآثار التي أومئ إليها المصنف، ولم يذكر لفظها.
سابعًا: عرفتُ بالأعلام غير المعروفين، وبالكتب التي لم تطبع (2)، وحاولتُ
--------------------------------------------
এতে অতিরিক্ত স্পষ্টীকরণ, অথবা কোনো ভুল নির্দেশ করা, অথবা গ্রন্থকারের বক্তব্যের ওপর পর্যালোচনা, অথবা মাযহাবের অগ্রগণ্য মতের উল্লেখ রয়েছে।
চতুর্থত: আমি গ্রন্থকার যেসব কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেগুলোর উৎস যাচাই করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি (১)। আর এতে আমি বেশ পরিশ্রম করেছি, কারণ গ্রন্থকারের অধিকাংশ উদ্ধৃতিই ছিল সারমর্ম হিসেবে, ইঙ্গিতে এবং ইশারায়; খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে তিনি আলেমদের বক্তব্য হুবহু শব্দে উদ্ধৃত করেছেন।
আমি গ্রন্থকার তাঁর "যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ" গ্রন্থে ফিকহী শাখা-প্রশাখার যে বিষয়গুলো বর্ণনা করেছেন—যা তার কাছে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ইখতিয়ারাত (পছন্দনীয় মত) ছিল—সেগুলোর সাহায্য নিয়েছি। মাঝে মাঝে তিনি তাদের বক্তব্যের ওপর পর্যালোচনা করেছেন এবং সূক্ষ্ম মন্তব্য করেছেন। যদি তিনি এমনটি করে থাকেন, তবে আমি তা নির্দেশ করেছি অথবা তাঁর বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছি। কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে আমি অধিক সচেষ্ট হয়েছি এবং মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাবগুলো থেকে সেগুলোর উৎসস্থল নিশ্চিত করেছি। সম্ভবত আমি এতে (মাঝে মাঝে) মুহাক্কিক আলেমদের ইখতিয়ারাতসমূহ উল্লেখ করেছি, অথবা দলীল অনুযায়ী অগ্রগণ্য মত অথবা অন্যান্য আলেমদের মাযহাব উল্লেখ করেছি। সম্ভবত আমি এমন কিছু মাসআলাও যোগ করেছি যা মূলনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট কিন্তু গ্রন্থকার উল্লেখ করতে পারেননি; তবে এটি খুব অল্প ক্ষেত্রেই হয়েছে, যেমন 'কুরআহ' (লটারি) সংক্রান্ত আলোচনায়।
পঞ্চমত: আমি এই কিতাবের ওপর শেখ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন -আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন- এর ব্যাখ্যা সংযোজন করেছি। এটি করা হয়েছে তাঁর প্রদত্ত শ্রুতলিখন থেকে বিভিন্ন অংশ অনুলিখন করার মাধ্যমে, অতঃপর সেগুলো কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে বিন্যস্ত করেছি এবং তাঁর বক্তব্যের শেষে (ع) চিহ্ন দিয়েছি।
ষষ্ঠত: আমি গ্রন্থকার কর্তৃক উল্লিখিত হাদীস ও আসারগুলোর তাখরীজ করেছি এবং সহীহ, হাসান ও জয়ীফ হওয়ার দিক থেকে সেগুলোর মান বর্ণনা করেছি। এছাড়া গ্রন্থকার যেসব হাদীস ও আসারের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন কিন্তু শব্দ উল্লেখ করেননি, সেগুলোর মূল পাঠ সংযোজন করেছি।
সপ্তমত: আমি অপরিচিত ব্যক্তিবর্গের পরিচয় এবং অপ্রকাশিত কিতাবসমূহের (২) পরিচয় দিয়েছি এবং চেষ্টা করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ذكر نسخها الخطية، إنْ ظفرتُ بذلك.
ثامنًا: أثبتُّ في الحواشي رسالة بتمامها للإمام ابن رجب، هي "قاعدة في إخراج الزكاة على الفور" بتحقيق الدكتور الوليد آل فريان، واستفدتُ من تعليقاته عليها. انظر: (التعليق 3/ 287 - 292) ونقلتُ جل ما يلزم من كتابه "كتاب القول الصواب في تزويج أمهات أولاد الغياب". انظر: (3/ 173 - 174، 175، 175 - 176).
تاسعًا: صنعتُ فهارس علمية تحليلية للكتاب، وأفردتُ لها مجلدًا خاصًا، واشتملت هذه الفهارس على الآتي:
أولًا: تحقيق "فهرست تقرير القواعد وتحرير الفوائد" لجلال الدين أبي الفرج نصر الدين البغدادي، وهو عبارة عن ترتيب مسائل "القواعد" على الأبواب الفقهية المعتادة.
ثانيًا: فهرس الآيات القرآنية (ورتبتُه على حسب ترتيبها في القرآن الكريم).
ثالثًا: فهرس الأحاديث الشريفة (ورتبتُه على الحروف).
رابعًا: فهرس الآثار السلفية (ورتبته على حسب قائليها).
خامسًا: فهرس القواعد الفقهية (ورتبتها على الحروف، واستخرجت منها ما لم يكن واضحًا، أو كان في أثناء الشرح).
سادسًا: فهرس الفوائد الفقهية والعلمية (ورتبتها على الحروف، لأن الفهرس الأول مرتب على الأبواب، وهذا الفهرس أوسع منه).
سابعًا: اختيارات أئمة الحنابلة وفقهائهم (ورتبتُه على أسماء الأئمة
পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ দেওয়া হয়েছে, যদি আমি তা লাভে সক্ষম হয়ে থাকি।
অষ্টম: আমি টীকায় ইমাম ইবনে রজবের একটি পূর্ণাঙ্গ রিসালাহ বা প্রবন্ধ সংযুক্ত করেছি, যা হলো ডক্টর আল-ওয়ালিদ আল-ফুরাইয়ান কর্তৃক সম্পাদিত "কায়িদাতুন ফি ইখরাজিল জাকাত আলাল ফাউর" (অবিলম্বে জাকাত আদায়ের মূলনীতি) এবং আমি তার টীকাগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি। দেখুন: (টীকা ৩/ ২৮৭ - ২৯২) এবং আমি তার "কিতাবুল কাউলিস সাওয়াব ফি তাজউইজি উম্মাহাতি আওলাদিল গিয়াব" গ্রন্থ থেকে প্রয়োজনীয় অধিকাংশ বিষয় উদ্ধৃত করেছি। দেখুন: (৩/ ১৭৩ - ১৭৪, ১৭৫, ১৭৫ - ১৭৬)।
নবম: আমি গ্রন্থটির জন্য পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিশ্লেষণধর্মী নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি এবং এর জন্য একটি স্বতন্ত্র খণ্ড নির্দিষ্ট করেছি; এই নির্ঘণ্টগুলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম: জালালুদ্দীন আবুল ফরাজ নসরুদ্দীন আল-বাগদাদীর "ফিহরিসতু তাকরিরিল কাওয়াঈদ ওয়া তাহরিরিল ফাওয়াঈদ" এর সম্পাদনা, যা মূলত প্রচলিত ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী "কাওয়াঈদ" এর মাসআলাসমূহের বিন্যাস।
দ্বিতীয়: কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট (এবং আমি তা পবিত্র কুরআনের বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি)।
তৃতীয়: হাদীস শরীফের নির্ঘণ্ট (এবং আমি তা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি)।
চতুর্থ: সালাফদের আসার বা বাণীর নির্ঘণ্ট (এবং আমি তা প্রবক্তাদের নামানুসারে সাজিয়েছি)।
পঞ্চম: ফিকহী মূলনীতি বা কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহর নির্ঘণ্ট (এবং আমি তা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি, এবং তা থেকে এমন বিষয়গুলো বের করেছি যা স্পষ্ট ছিল না কিংবা ব্যাখ্যার ভেতরে ছিল)।
ষষ্ঠ: ফিকহী ও তাত্ত্বিক উপকারিতা বা ফাওয়াঈদের নির্ঘণ্ট (এবং আমি তা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি, কারণ প্রথম নির্ঘণ্টটি অধ্যায়ভিত্তিক সাজানো ছিল, আর এই নির্ঘণ্টটি তার চেয়েও বিস্তৃত)।
সপ্তম: হাম্বলী ইমাম ও ফকীহগণের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ (এবং আমি তা ইমামদের নামানুসারে সাজিয়েছি)।
(খণ্ড: ১)
কাওয়াইদু ইবনি রাজাব - তাহকীক মাশহুর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والفقهاء، ثم ذكرتُ المباحث تحت اسم كل عالمٍ وفقيه، ورتبتُها على الحروف).
ثامنًا: مذاهب الصحابة وعلماء الأمصار وسائر الفقهاء من غير الحنابلة ورتبته كالذي قبله).
تاسعًا: فهرس الأعلام (ورتبتُه على الحروف).
عاشرًا: فهرس الطوائف والفرق والمذاهب والجماعات (ورتبتُه على الحروف).
حادي عشر: فهرس كتب مسائل الإمام أحمد (ورتبتُه على أسماء أصحاب المسائل للإمام).
ثاني عشر: فهرس الكتب (ورتبته على الحروف).
ثالث عشرة: فهرس الغريب والمصطلحات العلمية (ورتبتُه على الحروف).
رابع عشر: وأخيرًا، فهرس أسماء المُتَعقِّبين من العلماء والمصنِّفين (ورتبته على أسماء مَنْ تُعُقَّب من العلماء، وأدرجتُ تحت كل اسم عالم المسائل الفقهية، ورتبتُها على الحروف، ونصصتُ على المسألة وعلى اسم المتعقِّب).
وأخيرًا. . . هذا جهدي أضعه بين يدي العلماء وطلبة العلم النُّبهاء، طالبًا منهم تسديدي وتصويبي فيما ندَّ عني، أو لم تطله يدي، واللَّه هو الهادي، وهو -سبحانه- المرجوّ أن ينفع بهذا الكتاب، وأن يضع له القبول في الأرض، وأن ينفعني به يوم الحساب يوم لا ينفع مال ولا بنون، إلا من أتى اللَّه بقلب سليم، وآخر دعوانا أنِ الحمد للَّه رب العالمين.
وكتب
أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
الأردن - عثمان
ص. ب 620520
...এবং ফকীহগণ; অতঃপর আমি প্রত্যেক আলেম ও ফকীহর নামের অধীনে আলোচ্য বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি এবং তা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি।)
অষ্টম: সাহাবীগণ, বিভিন্ন শহরের আলেমগণ এবং হাম্বলীগণ ব্যতীত অন্যান্য ফকীহগণের মাযহাবসমূহ (এবং আমি এটিকেও পূর্বেরটির ন্যায় সাজিয়েছি।)
নবম: বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট (এবং আমি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি।)
দশম: দল, উপদল, মাযহাব এবং জামাতসমূহের নির্ঘণ্ট (এবং আমি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি।)
একাদশ: ইমাম আহমদের মাসআলা বা ফতোয়া সংবলিত কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট (এবং আমি এটি ইমামের নিকট মাসআলা বর্ণনাকারীদের নামের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছি।)
দ্বাদশ: গ্রন্থসমূহের নির্ঘণ্ট (এবং আমি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি।)
ত্রয়োদশ: অপ্রচলিত শব্দ ও বৈজ্ঞানিক পরিভাষাসমূহের নির্ঘণ্ট (এবং আমি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি।)
চতুর্দশ: এবং সর্বশেষ, আলেম ও লেখকদের মধ্যে যারা পূর্ববর্তী আলেমদের মতামতের ওপর পর্যালোচনা (তাকীব) করেছেন তাদের নামের নির্ঘণ্ট (এবং আমি এটি ওই সকল আলেমদের নামের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছি যাদের ওপর পর্যালোচনা করা হয়েছে। আমি প্রত্যেক আলেমের নামের অধীনে ফিকহী মাসআলাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং তা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি, আর মাসআলা ও পর্যালোচনাকারীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি।)
অবশেষে... এটি আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যা আমি বিজ্ঞ আলেম সমাজ এবং মেধাবী জ্ঞানান্বেষীদের সম্মুখে পেশ করছি; তাদের কাছে প্রার্থনা এই যে, আমার কোনো বিচ্যুতি ঘটলে বা যা আমার নাগালের বাইরে থেকে গেছে, সে বিষয়ে তারা যেন আমাকে সঠিক দিকনির্দেশনা ও সংশোধন প্রদান করেন। আর আল্লাহই একমাত্র পথপ্রদর্শক। তাঁরই নিকট প্রত্যাশা যে, তিনি এই কিতাব দ্বারা উপকার সাধন করবেন, পৃথিবীতে একে কবুলিয়ত দান করবেন এবং হিসাবের দিনে এটি দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন; যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সে ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
জর্ডান - উসমান
পি.ও. বক্স: ৬২০৫২০