(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
تقريب الوصول إلي علم الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: تقريب الوصول إلي علم الأصول (مطبوع مع: الإشارة في أصول الفقه)
المؤلف: أبو القاسم، محمد بن أحمد بن جُزَي الكلبي الغرناطي المالكي (ت 741 هـ)
المحقق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 203
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 صفر 1437
তাকরিব আল-উসুল ইলা ইলম আল-উসুল বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)
কিতাব: তাকরিব আল-উসুল ইলা ইলম আল-উসুল (যার সাথে মুদ্রিত: আল-ইশারাহ ফি উসুলিল ফিকহ)
লেখক: আবু আল-কাসিম، মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে জুজাই আল-কালবি আল-গারনাতি আল-মালিকি (মৃত্যু ৭৪১ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৩
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণে: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, সৌজন্যে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
تقريب الوصُول إِلى علم الأصُول
تأليف
أبي الْقَاسِم مُحَمَّد بن أَحْمد بن جُزَيّ الْكَلْبِيّ الغرنَاطي الْمَالِكِي
الْمُتَوفَّى سنة 741 هـ
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
রচনায়
আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে জুযাই আল-কালবি আল-গারনাতি আল-মালিকি
মৃত্যু ৭৪১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
ترجمة المصنّفهو محمد بن أحمد بن محمد بن عبد اللَّه بن يحيى بن عبد الرحمن بن يوسف بن سعيد بن جُزي الكلبي، كنيته أبو القاسم.
وُلِدَ سنة 693 هـ في الأندلس، وأخذ عن أبي جعفر أحمد بن إبراهيم بن الزبير الغرناطي: النحوي، الأصولي، الأديب، المقرئ، المفسّر، المؤرّخ، وأبو القا سم قاسم بن عبد اللَّه بن محمد بن الشاط الأنصاري السبتي، الحافظ الفقيه، المالكي، الأصولي.
وأبو عبد اللَّه محمد بن أحمد اللخميّ المعروف بابن الكماد، وأبو عبد اللَّه محمد بن عمرو الفهري السبتي، المعروف بابن رشيد، وأبو عبد اللَّه محمد بن أحمد بن يوسف بن أحمد بن عمر الهاشمي الطناجي، وغيرهم.
له مصنفات كثيرة منها: وسيلة المسلم في تهذيب صحيح مسلم، والدعوات والأذكار المتخرجة من صحيح الأخبار، والقوانين الفقهية في تلخيص مذهب المالكية، والتنبيه على مذهب الشافعية، والحنفية، والحنبلية، وتقريب الوصول إلى علم الأصول [وهو كتابنا].
وفاته: توفي رحمه الله شهيدًا يوم الكائنة بطريف سنة [741 هـ] (1).
وصف المخطوطلقد استعنّا في تحقيق هذا الكتاب بالإضافة إلى المطبوعة على النسخة الخطية في الخزانة العامة بالرباط تحت رقم [1863]، وتقع في [65/ ق].
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থকারের জীবনীতিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ বিন সাঈদ বিন জুযাই আল-কালবি, তাঁর উপনাম (কুনিয়া) আবুল কাসেম।
তিনি ৬৯৩ হিজরি সনে আন্দালুসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন আবু জাফর আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন জুবায়ের আল-গারনাতি—যিনি ছিলেন নাহুবিদ (النحوي), উসুলবিদ (الأصولي), সাহিত্যিক (الأديب), ক্বারী (المقرئ), মুফাসসির (المفسّر) ও ঐতিহাসিক (المؤرّخ)—এবং আবুল কাসেম কাসেম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আশ-শাত আল-আনসারি আস-সাবতি—যিনি ছিলেন হাফিজ (الحافظ), ফকিহ (الفقيه), মালিকি ও উসুলবিদ (الأصولي)—তাদের নিকট থেকে।
এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-লাখমি, যিনি ইবনুল কাম্মাদ নামে পরিচিত; আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আমর আল-ফিহরি আস-সাবতি, যিনি ইবনে রাশিদ নামে পরিচিত; আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন উমর আল-হাশেমি আত-তানাজি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে।
তাঁর অনেকগুলো রচনা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: ওয়াসিলাতুল মুসলিম ফি তাহযিবি সহিহ মুসলিম, আদ-দাওয়াত ওয়াল আযকার আল-মুতখাররিজাহ মিন সহিহ আল-আখবার, আল-কাওয়ানিন আল-ফিকহিয়্যাহ ফি তালখিসি মাযহাবিল মালিকিয়্যাহ, আত-তানবিহ আলা মাযহাবি আশ-শাফিইয়্যাহ ওয়াল হানাফিয়্যাহ ওয়াল হাম্বলিয়্যাহ এবং তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল [যা আমাদের এই গ্রন্থ]।
মৃত্যু: তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ৭৪১ হিজরি সনে তারিফের যুদ্ধে শহীদ (شهيد) হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
পাণ্ডুলিপির বিবরণএই গ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমরা মুদ্রিত কপির পাশাপাশি রাবাতের আল-খিজানাতুল আম্মাহ-তে ১৮৬৩ নম্বর সিরিয়ালে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) সাহায্য নিয়েছি, যা ৬৫ পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
ل/ أالورقة الأولى
ল/ ক প্রথম পত্র
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
الورقة الأولى [ل/ ب] الرباط
প্রথম পত্র [ল/ ব] রিবাত
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
ورقة من المخطوط [ل/ أ] الرباط
রিবাত পাণ্ডুলিপির একটি পত্র [ল/ ক]
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
ورقة من المخطوط [ل/ ب] الرباط
পাণ্ডুলিপির একটি পত্র [ল/ ব] রাবাত
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
اللوحة الأخيرة
সর্বশেষ ফলক
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
صلّى اللَّه على سيّدنا محمد وآله وصحبه وسلم
قال الشيخ الفقيه الأستاذ العالم أبو القاسم بن أحمد بن جزي وحمه اللَّه تعالى، وجعل الجنة مثواه، آمين:
الحمد للَّه الذي رفع بالعلم درجات أهله، وأجزل ثوابهم على اكتسابه وعلى نقله، كما أنعم عليهم بالتوفيق لدرسه وحمله، وصلوات اللَّه وسلامه على سيدنا محمد خاتم أنبيائه ورسله، الذي هدى كافة الخلق إلى منهاج الحق وسبله، وبالغ في تبليغ الرسالة بقوله وفعله، بذل جهده بين إقامة دين اللَّه وبيان فرعه وأصله، حتى ظهر مصداق قول الملك جل جلاله: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ} [التوبة: الآية 33]. ورضي اللَّه عن أهل بيته الطاهرين وأصحابه الأكرمين وحشرنا معهم تحت ظلال عرشه يوم لا ظل غير ظله.
أما بعد:. . .
فإن العلوم على ثلاثة أضرب: علم عقلي، وعلم نقلي، وعلم يأخذ من العقل والنقل بطرف، فلذلك أشرف في الشرف على أعلى شرف، وهو علم أصول الفقه الذي امتزج به المعقول بالمنقول، واشتد على النظر في الدليل والمدلول، وإنه لنعم العون على فهم كتاب اللَّه وسنة الرسول صلى الله عليه وسلم، وناهيك من علم يرتقي الناظر فيه عن حضيض رتبة المقلدين، إلى رفيع درجات المجتهدين، وأقل أحواله أن يعرف وجوه الترجيح فيفرقه بين الراجح والمرجوح، ويميز بين السقيم والصحيح، وإني أحببت أن يضرب ابني محمد -أسعده اللَّه- في هذا العلم بسهمه، فصنفت هذا الكتاب برسمه ورسمته بوسمه، لينشط لدرسه وفهمه، وعولت فيه على الاختصار والتقريب، مع حسن الترتيب والتهذيب، وقسمته إلى خمسة فنون:
الفن الأول: في المعارف العقلية.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ফকিহ, শায়খ, উস্তায ও বিজ্ঞ আলেম আবুল কাসিম বিন আহমদ বিন জুযাই (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন এবং জান্নাতকে তাঁর বাসস্থান করুন, আমিন) বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জ্ঞানের মাধ্যমে জ্ঞানীদের মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন এবং জ্ঞান অর্জন ও তা বর্ণনা করার (نقله) জন্য তাদের প্রতিদানকে মহিমান্বিত করেছেন। যেমন তিনি তাদের প্রতি এটি পাঠ ও ধারণ (حمله) করার তাওফিক দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন। আর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর, যিনি তাঁর নবী ও রাসুলগণের মোহর, যিনি সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সত্যের পথ ও পন্থার দিকে পরিচালিত করেছেন। তিনি তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে রিসালাত পৌঁছানোর চূড়ান্ত প্রচেষ্টা করেছেন, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং এর শাখা ও মূল বর্ণনার ক্ষেত্রে নিজের শ্রম ব্যয় করেছেন, যতক্ষণ না মালিক আল্লাহ জল্লা জালালুহুর বাণীর সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে: "তিনিই সেই সত্তা, যিনি তাঁর রাসুলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তাকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন" [আত-তাওবাহ: আয়াত ৩৩]। আল্লাহ তাঁর পবিত্র আহলে বাইত এবং সম্মানিত সাহাবীগণের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং কিয়ামতের দিন যখন তাঁর ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না, তখন আমাদের তাঁর আরশের ছায়ার নিচে তাদের সঙ্গে পুনরুত্থিত করুন।
অতঃপর: . . .
নিশ্চয়ই জ্ঞান তিন প্রকার: বুদ্ধিভিত্তিক (عقلي) জ্ঞান, বর্ণনাভিত্তিক (نقلي) জ্ঞান এবং এমন এক জ্ঞান যা বুদ্ধি ও বর্ণনা উভয় থেকে অংশ গ্রহণ করে। এ কারণেই তা মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। আর তা হলো উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র, যাতে যুক্তিসিদ্ধ বিষয়ের সাথে বর্ণনাপ্রসূত বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটেছে এবং যা দলিল (الدليل) ও দলিলের নির্দেশিত বিষয়ের (المدلول) ওপর গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। আল্লাহর কিতাব ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য সহায়ক। এমন এক জ্ঞান সম্পর্কে তোমার আর কী বলার আছে, যার অনুসারী অন্ধ অনুসারীদের নিম্নস্তর থেকে মুজতাহিদদের (المجتهدين) সুউচ্চ মর্যাদায় উন্নীত হয়। এর সর্বনিম্ন অবস্থা হলো এই যে, সে প্রাধান্য দেওয়ার (الترجيح) পদ্ধতিগুলো জানতে পারবে, যার ফলে সে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الراجح) ও অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (المرجوح) বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে এবং ত্রুটিযুক্ত (السقيم) ও সহিহ (الصحيح) এর মধ্যে প্রভেদ করতে পারবে। আমি চেয়েছিলাম আমার পুত্র মুহাম্মদ (আল্লাহ তাকে সৌভাগ্যবান করুন) যেন এই শাস্ত্রে তার অংশ গ্রহণ করে। তাই আমি তার জন্যই এই বইটি সংকলন করেছি এবং তার নামেই এর নামকরণ করেছি, যাতে সে এটি পাঠ ও অনুধাবনে উৎসাহ পায়। আমি এতে সংক্ষেপন ও সহজীকরণের ওপর নির্ভর করেছি, পাশাপাশি বিন্যাস ও পরিমার্জনের সৌন্দর্য বজায় রেখেছি। আমি একে পাঁচটি শিল্পে (فنون) বিভক্ত করেছি:
প্রথম শিল্প: বুদ্ধিভিত্তিক (عقلية) জ্ঞান প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
الفن الثاني: في المعارف اللغوية.
الفن الثالث: في الأحكام الشرعية.
الفن الرابع: في الأدلة على الأحكام الشرعية.
الفن الخامس: في الاجتهاد والترجيح.
وجعلت في كل فن عشرة أبواب، فاحتوى الكتاب على خمسين بابًا، وقدمت في أوله مقدمته يحتاج إليها وسميته: "تقريب الوصول إلى علم الأصول" واللَّه المستعان.
الفصل الأول: في تفسير أصول الفقهوهو مركب من كلمتين، فنفسر كل واحدة على انفراد، ثم نفسر المركب منهما. أما الأصول فجمع أصل، وله في اللغة معنيان: أحدهما: ما منه الشيء والآخر ما يبنى عليه الشيء (1) حسيًّا أو معنى، وله في الاصطلاح معنيان: أحدهما: الراجح والآخر: الدليل (2).
وأما الفقه فهو في اللُّغة الفهم (3)، وهو في الاصطلاح: (العلم بالأحكام الشرعية الفرعية بأدلتها على التفصيل في الأحكام وفي أدلتها).
فقولنا: العلم، نريد به ما يشمل القطع والظن، لأن الفقه منه مقطوع به ومظنون، فالعلم هنا الظن وما في معناه.
وقولنا: بالأحكام، تحزّزًا من العلم بالذوات.
وقولنا: الشرعية، تحزّزًا من العقلية وغيرها.
وقولنا: الفرعية، تحزّزًا من أصول الدين.
وقولنا: بأدلتها، تحزّزًا من التقليد، وهو: (الاعتقاد بغير دليل)، فإنه لا يسمى في الاصطلاح فقهًا.
وقولنا: على التفصيل في الأحكام وفي أدلتها: تحرزًا من أصول الفقه، فإنَّ الفقيه يعرف آحاد مسائل الأحكام، ويستدل بآحاد أدلة، والأصولي إنما يعرف أنواع
--------------------------------------------
দ্বিতীয় শিল্প: ভাষাগত জ্ঞান প্রসঙ্গে।
তৃতীয় শিল্প: শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) প্রসঙ্গে।
চতুর্থ শিল্প: শরয়ি বিধানের দলিলসমূহ (الأدلة) প্রসঙ্গে।
পঞ্চম শিল্প: ইজতিহাদ (الاجتهاد) ও প্রাধান্যদান (الترجيح) প্রসঙ্গে।
আমি প্রতিটি শিল্পে দশটি করে অধ্যায় নির্ধারণ করেছি, ফলে গ্রন্থটি পঞ্চাশটি অধ্যায় সংবলিত হয়েছে। এর শুরুতে আমি একটি প্রয়োজনীয় ভূমিকা উপস্থাপন করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: "তাক্বরীবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল"; আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থিত।
প্রথম পরিচ্ছেদ: উসুলুল ফিকহ-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গেএটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, তাই আমরা প্রত্যেকটিকে পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করব, অতঃপর সেগুলোর সমষ্টিগত রূপটি ব্যাখ্যা করব। 'উসুল' (الأصول) হলো 'আসল' (أصل)-এর বহুবচন; শাব্দিক অর্থে এর দুটি অর্থ রয়েছে: একটি হলো—যা থেকে কোনো বস্তুর উৎপত্তি হয়; এবং অন্যটি হলো—যার ওপর কোনো বস্তু ভিত্তি লাভ করে (১), তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হোক বা অর্থগত। পরিভাষায় (الاصطلاح) এর দুটি অর্থ রয়েছে: একটি হলো প্রবল (الراجح) এবং অন্যটি হলো দলিল (الدليل) (২)।
আর 'ফিকহ' (الفقه) অভিধানে হলো অনুধাবন (৩)। পরিভাষায় (الاصطلاح) এর সংজ্ঞা হলো: (বিস্তারিত দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে শরয়ি শাখা-প্রশাখাগত বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যা বিধান এবং সেগুলোর দলিল—উভয় ক্ষেত্রেই বিস্তারিত)।
আমাদের বক্তব্য: 'জ্ঞান' (العلم)—এর দ্বারা আমরা এমন বিষয়কে বুঝিয়েছি যা নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) এবং প্রবল ধারণা (الظن) উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ ফিকহ-এর কিছু অংশ সুনিশ্চিত এবং কিছু অংশ প্রবল ধারণা-প্রসূত। সুতরাং এখানে জ্ঞান বলতে প্রবল ধারণা (الظن) এবং এর সমার্থবোধক বিষয়াদি উদ্দেশ্য।
আমাদের বক্তব্য: 'বিধানাবলি (الأحكام)', এটি সত্তাগত জ্ঞান থেকে সতর্কতার সাথে পৃথক করার জন্য।
আমাদের বক্তব্য: 'শরয়ি (الشرعية)', এটি বুদ্ধিগত ও অন্যান্য জ্ঞান থেকে সতর্কতার সাথে পৃথক করার জন্য।
আমাদের বক্তব্য: 'শাখা-প্রশাখাগত (الفرعية)', এটি দ্বীনের মৌলিক নীতিসমূহ (أصول الدين) থেকে সতর্কতার সাথে পৃথক করার জন্য।
আমাদের বক্তব্য: 'দলিলসহ (بأدلتها)', এটি তাকলিদ (التقليد) থেকে সতর্কতার সাথে পৃথক করার জন্য। আর তাকলিদ হলো: (দলিল ব্যতীত কোনো বিশ্বাস পোষণ করা); কেননা পরিভাষায় (الاصطلاح) একে ফিকহ বলা হয় না।
আমাদের বক্তব্য: 'বিধানাবলি ও সেগুলোর দলিলসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা প্রসঙ্গে': এটি উসুলুল ফিকহ থেকে পৃথক করার জন্য। কেননা ফকিহ (الفقيه) বিধানের একক মাসআলাসমূহ জানেন এবং একক দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন। পক্ষান্তরে উসুলবিদ (الأصولي) শুধুমাত্র প্রকারভেদগুলো সম্পর্কে জানেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
الأحكام ويستدل عليها بآحاد الأدلة من تعيين آحادها، وتحرزًا أيضًا بقولنا: على التفصيل في الأدلة من استدلال المقلد على الجملة، فإنه يستدل بأصل إمامه على صحة قوله.
وأما أصول الفقه: (فهو العلم بالأحكام الشرعية الفرعية على الجملة وبأدواتها والاجتهاد فيها وما يتعلق به).
الفصل الثاني: في وجه تقسيم هذا الكتاب إلى الفنون الخمسة المذكورةوذلك أن المقصود الأول إنما هو معرفة الأحكام الشرعية، فهذا الفن هو المطلوب لنفسه، وإنما احتيج إلى سائر الفنون من أجله، ولما كان ثبوت الأحكام متوقفًا على الأدلة احتيج إلى فن الأدلة، ولما كان استنباط الأحكام من الأدلة متوقفًا على شروط الاجتهاد احتيج إلى فن في الأدلة وشروطه، وكيفيته من الترجيح وغيره، ثم إن ذلك كله يتوقف على أدوات يحتاج إليها في فهمه والتصرف فيه، وهي له آلات، وهي على نوعين:
منها ما يرجع إلى المعاني وهو من المعارف العقلية.
ومنها ما يرجع إلى الألفاظ وهي فن المعارف اللغوية، فانقسم العلم بالضرورة إلى تلك الفنون الخمسة، فقسمنا كتابنا هذا إليها، وقدمنا الأدوات، لأنه لا يتوصل إلى فهم ما سواها إلا بعد فهمها.
বিধিবিধানসমূহ এবং সেই সকল (বিধানের) ওপর একক (آحاد) দলীলসমূহ নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। এছাড়াও আমাদের উক্তি—‘দলীলসমূহের বিস্তারিত বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে’—বলার মাধ্যমে মুকাল্লিদ বা অনুসারীর সামগ্রিক দলীল উপস্থাপন থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে; কারণ সে তার ইমামের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই নিজের বক্তব্যের বিশুদ্ধতার প্রমাণ দেয়।
আর উসুলুল ফিকহ হলো: (সামগ্রিকভাবে শরীয়তের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিধিবিধান এবং এর পদ্ধতিসমূহ, ইজতিহাদ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই গ্রন্থটিকে উল্লিখিত পাঁচটি শাস্ত্রে বিভক্ত করার যৌক্তিকতা প্রসঙ্গেএর কারণ হলো, মূল লক্ষ্য হলো শরয়ী বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; সুতরাং এই শাস্ত্রটিই মূলত কাম্য, আর অন্য সকল শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে এরই খাতিরে। যেহেতু বিধিবিধানের সাব্যস্ত হওয়া দলীলের ওপর নির্ভরশীল, তাই দলীল সংক্রান্ত শাস্ত্রের প্রয়োজন হয়েছে। আর যেহেতু দলীল থেকে বিধিবিধান আহরণ করা ইজতিহাদের শর্তাবলির ওপর নির্ভরশীল, তাই দলীল ও তার শর্তাবলি এবং অগ্রগণ্যতা নির্ধারণের পদ্ধতি ইত্যাদি সংক্রান্ত শাস্ত্রের আবশ্যকতা তৈরি হয়েছে। অতঃপর এই সবকিছু অনুধাবন করা ও প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কিছু প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর নির্ভর করে, যা এর জন্য সহায়ক উপকরণ স্বরূপ; আর তা দুই প্রকার:
তার মধ্যে কিছু অর্থের সাথে সম্পৃক্ত, যা বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
আর কিছু শব্দের সাথে সম্পৃক্ত, যা ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞানের শাখা। ফলে জ্ঞান অনিবার্যভাবেই এই পাঁচটি শাস্ত্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাই আমরা আমাদের এই গ্রন্থটিকে সেভাবেই বিন্যস্ত করেছি এবং সহায়ক উপকরণসমূহকে আগে স্থান দিয়েছি; কারণ সেগুলো অনুধাবন করা ব্যতীত অন্য কোনো বিষয় উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
الفن الأول من علم الأصول في المعارف العقليةوفيه عشرة أبواب:
الباب الأول: في مدارك العلوموهو ضربان: تصور وتصديق:
- فأما التصور، فإدراك الذوات المفردة كمعرفة معنى الجسم، والحركة، والحيوان، والجماد، والحادث، والقديم، وغير ذلك.
- وأما التصديق، فهو إسناد أمر إلى ذات بالنفي والإثبات، كقولنا: الجسم حادث والجسم ليس بقديم (1)، فالتصور مقدم والتصديق متأخر عنه، ثم إن الإسناد التصديقي على خمسة أنواع: علم، وجهل، وشك، وظن، ووهم.
- فالعلم: هو الجزم المطابق للحق، وقيل في حده: معرفة المعلوم على ما هو به (2)، فاعترض بلزوم الدور فقيل فيه العلم صفة توجب تمييزًا لا يحتمل النقيض (3).
- والجهل: هو الجزم غير المطابق، وقد يقال فيه جهل مركب (4).
- والشك: هو احتمال أمرين فأكثر من غير ترجيح (5).
- والظن: هو الاحتمال الراجح (6).
- والوهم: هو الاحتمال المرجوح (7).
--------------------------------------------
বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান সম্পর্কিত উসুল শাস্ত্রের (علم الأصول) প্রথম পরিচ্ছেদএতে দশটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: জ্ঞানের উপলব্ধিসমূহ (مدارك العلوم) প্রসঙ্গেএটি দুই প্রকার: ধারণা (تصور) এবং প্রত্যয়ন (تصديق):
- ধারণা (تصور) হলো একক সত্তাসমূহকে উপলব্ধি করা; যেমন- বস্তু (الجسم), গতি (الحركة), প্রাণী, জড় পদার্থ, নশ্বর (الحادث), অনাদি (القديم) এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয়ের অর্থ অনুধাবন করা।
- আর প্রত্যয়ন (تصديق) হলো কোনো বিষয়কে ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে কোনো সত্তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা। যেমন আমাদের উক্তি: বস্তু নশ্বর (الحادث) এবং বস্তু অনাদি (القديم) নয় (১)। এক্ষেত্রে ধারণা (تصور) আগে আসে এবং প্রত্যয়ন (تصديق) তার পরে আসে। অতঃপর প্রত্যয়নমূলক সম্বন্ধ পাঁচ প্রকার: জ্ঞান (علم), অজ্ঞতা (جهل), সন্দেহ (شك), প্রবল ধারণা (ظن) এবং ক্ষীণ ধারণা (وهم)।
- জ্ঞান (علم): এটি হলো সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস। এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তা বাস্তবে যেমন আছে তেমনভাবে জানা (২)। তবে এতে চক্রক দোষ (الدور) অনিবার্য হওয়ার কারণে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। ফলে এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: জ্ঞান (علم) হলো এমন একটি গুণ যা এমন এক পার্থক্য নিরূপণ নিশ্চিত করে যা বিপরীত কোনো সম্ভাবনা রাখে না (৩)।
- অজ্ঞতা (جهل): এটি হলো বাস্তবতা পরিপন্থী দৃঢ় বিশ্বাস। একে কখনও জটিল অজ্ঞতাও (جهل مركب) বলা হয় (৪)।
- সন্দেহ (شك): কোনো একটিকে প্রাধান্য না দিয়ে দুই বা ততোধিক বিষয়ের সম্ভাবনা থাকাকে সন্দেহ (شك) বলে (৫)।
- প্রবল ধারণা (ظن): এটি হলো অগ্রগণ্য (الراجح) সম্ভাবনা (৬)।
- ক্ষীণ ধারণা (وهم): এটি হলো নিম্নগণ্য বা দুর্বলতর (المرجوح) সম্ভাবনা (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
تكميل:حكم العقل بأمر على أمر يسمى تصديقًا، فإن تكلم به فهو خبر فإن رام الاحتجاج عليه سمي دعوى، فإن ذكره في معرض الحجة سمي قضية.
الباب الثاني: فيما يوصل إلى التصوروذلك ثلاثة أشياء: الحد، والرسم، واللفظ المراد.
- فأما الحدّ: فهو تعريف ماهية الشيء بجنسه وفصله.
- وأما الرسم: فهو تعريف ماهية الشي بجنسه وخاصته.
فقولنا: ماهية الشيء، هي التي يسأل عنها بـ "ما"، وتحرزنا بذلك مما يسأل عنه بـ "أي" وبـ "أين" و"متى" و"كيف".
وقولنا: بجنسه، يشمل الجنس الأعلى وما تحته النوع، فإن النوع جنس بالنسبة إلى ما تحته، ولكن الأولى أن يذكر في الحد والرسم الجنس الأقرب.
وقولنا في حد: الحد بفصله هو الوصف اللازم الذاتي الذي لا يفهم الشيء بدون فهمه كالنطق النفساني للإنسان.
وقولنا في حدة الرسم بخاصته الخاصة وصف لازم، إلا أنه غير ذاتي فلا يتوقف الفهم عليه كالضحك بالقوة للإنسان، بقولنا الإنسان هو الحيوان الناطق حد وقولنا: الإنسان هو الحيوان الضاحك رسم، وإنما اشترطنا ذكر الجنس ليعم فيكون (الحد والرسم) جامعًا، وهو المقصود.
واشترطنا الفصل والخاصة ليخرج غير المطلوب، فإنهما وصفان يتميز بهما الموصوف من غيره فيكون الحد أو الرسم مانعًا وهو المنعكس، وقد يسقط ذكر الجنس من الحد أو الرسم فيكون ناقصًا كقولنا: الإنسان هو الناطق أو الضاحك.
- وأما اللفظ المرادف فنحو قولنا: البر وتقول: القمح، ويشترط أن يكون مساويًا لا أعم ولا أخص (1)، ويحترز في الحد والرسم والمرادف من التعريف [بالمساوي]، والأخفى من الإجمال في اللفظ، ومن الدور، وهو التعريف بما لا يعرف إلا بحد معرفة المطلوب، فيتوقف.
--------------------------------------------
পরিপূর্ণতা (تكميل):এক বিষয়ের মাধ্যমে অন্য বিষয়ের উপর বিবেকের বিচার করাকে স্বীকৃতি (تصديقًا) বলা হয়। যদি তা উচ্চারণ করা হয় তবে তা সংবাদ (خبر)। আর যদি তার সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের ইচ্ছা করা হয় তবে তাকে দাবি (دعوى) বলা হয়। আর যদি তা প্রমাণের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয় তবে তাকে বচন (قضية) বলা হয়।
দ্বিতীয় অধ্যায়: যা ধারণার (التصور) দিকে নিয়ে যায়তা তিনটি বস্তু: সংজ্ঞা (الحد), বিবরণ (الرسم), এবং উদ্দিষ্ট শব্দ (اللفظ المراد)।
- সংজ্ঞা (الحد) প্রসঙ্গে: এটি হলো কোনো বিষয়ের সারসত্তাকে (ماهية) তার জাতি (جنسه) ও বিভেদক (فصله) দ্বারা পরিচিত করানো।
- বিবরণ (الرسم) প্রসঙ্গে: এটি হলো কোনো বিষয়ের সারসত্তাকে (ماهية) তার জাতি (جنسه) ও বৈশিষ্ট্য (خاصته) দ্বারা পরিচিত করানো।
আমাদের বক্তব্য: 'বিষয়ের সারসত্তা' (ماهية الشيء) হলো সেটি যার সম্পর্কে 'কী' (ما) দিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এর মাধ্যমে আমরা সেই সব বিষয় থেকে সতর্কতা অবলম্বন করি যা সম্পর্কে 'কোনটি' (أي), 'কোথায়' (أين), 'কখন' (متى) এবং 'কেমন' (كيف) দ্বারা প্রশ্ন করা হয়।
আমাদের বক্তব্য: 'তার জাতি (جنسه) দ্বারা', এটি উচ্চতর জাতি (الجنس الأعلى) এবং তার নিচের প্রজাতিকে (النوع) অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা প্রজাতি (النوع) তার নিচস্থ বিষয়ের তুলনায় জাতি (جنس)। তবে সংজ্ঞা (الحد) ও বিবরণের (الرسم) ক্ষেত্রে নিকটবর্তী জাতি (الجنس الأقرب) উল্লেখ করাই উত্তম।
সংজ্ঞার বর্ণনায় আমাদের কথা: বিভেদক (فصله) সহ সংজ্ঞা (الحد) হলো এমন এক আবশ্যিক ও মৌলিক গুণ (الوصف اللازم الذاتي) যা অনুধাবন করা ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়টি অনুধাবন করা সম্ভব নয়; যেমন মানুষের ক্ষেত্রে তার অভ্যন্তরীণ বাকশক্তি (النطق النفساني)।
বিবরণ বা সংজ্ঞার বর্ণনায় আমাদের কথা: তার বৈশিষ্ট্য (بخاصته) সহ; বৈশিষ্ট্য (الخاصة) হলো একটি আবশ্যিক গুণ (وصف لازم), তবে তা মৌলিক (غير ذاتي) নয়। ফলে বিষয়টি বোঝার ক্ষেত্রে এটি নির্ভর করে না; যেমন মানুষের জন্য সুপ্ত হাস্যশক্তি (الضحك بالقوة)। আমাদের কথা: 'মানুষ হলো বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী' এটি একটি সংজ্ঞা (حد), আর আমাদের কথা: 'মানুষ হলো হাস্যশীল প্রাণী' এটি একটি বিবরণ (رسم)। আমরা জাতির (الجنس) উল্লেখ করার শর্ত দিয়েছি যাতে তা ব্যাপক হয় এবং (সংজ্ঞা ও বিবরণ) যেন সংগ্রাহক (جامعًا) হয়, আর এটিই মূল উদ্দেশ্য।
আর আমরা বিভেদক (الفصل) ও বৈশিষ্ট্যের (الخاصة) শর্তারোপ করেছি যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো বাদ পড়ে যায়। কেননা এ দুটি এমন গুণ যার মাধ্যমে বিশেষিত বস্তুটি অন্য বিষয় থেকে পৃথক হয়, ফলে সংজ্ঞা (الحد) বা বিবরণ (الرسم) যেন প্রতিরোধক (مانعًا) হয়, যা বিপরীতক্রমে সত্য (المنعكس)। কখনো সংজ্ঞা (الحد) বা বিবরণ (الرسم) থেকে জাতির (الجنس) উল্লেখ বাদ পড়ে যায়, তখন তা অসম্পূর্ণ (ناقصًا) হয়; যেমন আমাদের কথা: 'মানুষ হলো বাকশক্তিসম্পন্ন' অথবা 'হাস্যশীল'।
- সমার্থক শব্দের (اللفظ المرادف) উদাহরণ হলো আমাদের কথা: আল-বিরর (البر) এবং আপনার বলা: আল-কামহ (القمح)। এখানে শর্ত হলো যে তা সমান হতে হবে, অধিক ব্যাপক বা অধিক সংকীর্ণ হওয়া চলবে না (১)। সংজ্ঞা (الحد), বিবরণ (الرسم) ও সমার্থকের (المرادف) ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের বিষয় (بالمساوي) দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা, অধিক অস্পষ্ট বিষয় (الأخفى), শব্দের অস্পষ্টতা (إجمال), এবং বৃত্তক (الدور) থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। আর বৃত্তক (الدور) হলো এমন বিষয় দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যা উদ্দিষ্ট বিষয়টি জানা ছাড়া জানা সম্ভব নয়, ফলে তা স্থগিত হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
تنبيه:الحد غير المحدود إن أريد به اللفظ وهو نفسه، إن أريد به المعنى، فإنَّ لكل شيء في الوجود أربع مراتب:
حقيقتُه في نفسه، ومثالُه في الذهب، وذكرُه باللسان، وكتابتُه بالقلم (1).
الباب الثالث: فيما يوصل إلى التصديقفالمُوصل إلى العلم يسمى دليلًا (2)، والمُوصل إلى الظن يسمي أمارة، ثم إن الدليل ينقسم أربعة أنواع:
سَمعي، وعقلي، وحسي، ومركب من العقل والحسن.
- فأما السمعي: فهو دليل الكتاب والسنة المتواترة، والإجماع لا غير فإن غيرها كالقياس وشبهه إنما يفيد الظن.
- وأما العقلي: فينقسم قسمين: ضروري، ونظري.
فالضروري: هو الذي لا يفتقر إلى نظر واستدلال، ويسمى أيضًا البديهي، كعلم الإنسان بوجود نفسه، وعلمه بأن الاثنين أكثر من الواحد، وعلمه بأن المصنوع لا بد له من صانع، وشبه ذلك من الأوليات.
والنظري خلافه: وهو الذي يفتقر إلى نظر واستدلال.
- وأما الحسي: فهو الإدراك بالحواس الخمس، وهي: السمع والبصر والشم، والذوق، واللمس، وينخرط في سلكها الوحدانيات كعلم الإنسان بلذته وألَمِه.
- وأما المركب عنهما من الحس والعقل، فهو التواتر والتجريب والحدس وزاد أبو المعالي وأبو حامد قرائن الأحوال، كصفرة الوجل (3) وحمرة الخجل، فتلخص من هذا أن المفيدات للعلم تسعة وهي:
السمع، وضرورة العقل، والنظر العقلي، والحس، والوجدان، والتواتر والتجريب، والحدس، وقرائن الأحوال.
--------------------------------------------
সতর্কবার্তা:সংজ্ঞা (الحد) সংজ্ঞায়িত বস্তু (المحدود) থেকে ভিন্ন; যদি এর দ্বারা শব্দ উদ্দেশ্য হয় তবে তা শব্দই, আর যদি এর দ্বারা অর্থ উদ্দেশ্য হয়, তবে অস্তিত্বমান প্রতিটি বস্তুর চারটি স্তর রয়েছে:
স্বীয় সত্তায় তার হাকিকত বা বাস্তবতা (حقيقة), মনে তার প্রতিচ্ছবি (الذهن), জিহ্বায় তার উচ্চারণ এবং কলমে তার লিখন (১)।
তৃতীয় অধ্যায়: যা তাসদিক বা প্রত্যয়ন পর্যন্ত পৌঁছায়যা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) পর্যন্ত পৌঁছায় তাকে দলিল (دليل) (২) বলা হয়, আর যা প্রবল ধারণা (الظن) পর্যন্ত পৌঁছায় তাকে আলামত (أمارة) বলা হয়। অতঃপর দলিল চার প্রকার:
শ্রবণলব্ধ (سمعي), বুদ্ধিবৃত্তিক (عقلي), ইন্দ্রিয়লব্ধ (حسي) এবং বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়ের সমন্বিত রূপ।
- শ্রবণলব্ধ (سمعي): এটি হলো কিতাব (কুরআন), মুতাওয়াতির (متواترة) সুন্নাহ এবং ইজমা (الإجماع)-এর দলিল; এ ছাড়া অন্য কিছু নয়। কেননা এগুলি ব্যতীত অন্য বিষয় যেমন কিয়াস (القياس) ও অনুরূপ বিষয়গুলো কেবল প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে।
- বুদ্ধিবৃত্তিক (عقلي): এটি দুই প্রকার: স্বতঃসিদ্ধ (ضروري) এবং গবেষণালব্ধ (نظري)।
স্বতঃসিদ্ধ (ضروري): এটি এমন বিষয় যা কোনো পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়। একে প্রাথমিক জ্ঞান (البديهي)-ও বলা হয়। যেমন মানুষের নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান, দুই সংখ্যাটি এক-এর চেয়ে বড় হওয়ার জ্ঞান, এবং প্রতিটি সৃষ্টির একজন স্রষ্টা থাকা আবশ্যক—এরূপ জ্ঞান এবং প্রাথমিক বিষয়সমূহ (الأوليات)।
গবেষণালব্ধ (نظري) এর বিপরীত: যা পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের (استدلال) মুখাপেক্ষী।
- ইন্দ্রিয়লব্ধ (حسي): তা হলো পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অর্জিত উপলব্ধি। সেগুলো হলো: শ্রবণ, দর্শন, ঘ্রাণ, আস্বাদন এবং স্পর্শ। এই পর্যায়ভুক্ত হলো অভ্যন্তরীণ অনুভূতিসমূহ (الوجدانيات), যেমন মানুষের আনন্দ ও বেদনার জ্ঞান।
- আর ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধির সমন্বিত রূপ হলো: মুতাওয়াতির (التواتر), অভিজ্ঞতা (التجريب) এবং অনুমান (الحدس)। আবু আল-মাআলি এবং আবু হামিদ এর সাথে পারিপার্শ্বিক অবস্থাগত আলামত (قرائن الأحوال) যোগ করেছেন, যেমন ভয়ের কারণে ফ্যাকাশে হওয়া (৩) এবং লজ্জার কারণে লাল হওয়া। সুতরাং সারকথা হলো, নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদানকারী মাধ্যম নয়টি, আর সেগুলো হলো:
শ্রবণ (السمع), স্বতঃসিদ্ধ বুদ্ধি (ضرورة العقل), বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা (النظر العقلي), ইন্দ্রিয় (الحس), অভ্যন্তরীণ অনুভূতি (الوجدان), মুতাওয়াতির (التواتر), অভিজ্ঞতা (التجريب), অনুমান (الحدس) এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থাগত আলামত (قرائن الأحوال)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
ثم دون هذه المرتبة ما يفيد الظن وهي ثلاثة أشياء: المشهورات، والمقبولات، والوهميات.
فأما المشهورات: فهي ما اتفق عليه الناس أو أكثرهم أو به الأفاضل منهم من العوائد وغيرها، وقد يحكم العقل بمقتضى ذلك أو لا يحكم به ولا يخالفه.
وأما المقبولات: فهي ما يخبر به الثقة أو الثقات الذين لم يبلغوا مبلغ التواتر، ولكن تسكن النفس إليها.
وأما الوهميات: فهي ما يتخيل أنه عقلي وليس كذلك (1).
الباب الرابع: في أسماء الألفاظوهي:
المشترك، والمترادف، والمتواطي، والمشكك، والمتباين، ونبينها بتقسيم وهو: أن اللفظ ومعناه على أربعة أقسام:
الأول: أن يتحد اللفظ ويتعدد المعنى فهو المشترك كالعين.
الثاني: أن يتعدد اللفظ ويتحد المعنى، فهو المترادف كالقمح والبر والحِنطة.
الثالث: أن يتحدد اللفظ والمعنى، فإن كان معناه مستويًا في محاله كالرجل فهو المتواطي، وإن كان معناه متفاوتًا أو مختلفًا، فهو المشكك كإطلاق النور على ضوء الشمس وضوء المصباح.
الرابع: أن يتعدد اللفظ والمعنى، فهو المتباين كالإنسان والفرس والطير (2). ومن هذا التقسيم، تؤخذ حدودها.
تنبيهان:- الأول: قد يتوهم في ألفاظ أنها مترادفة، وهي متباينة كالسيف، والصارم، والمُهَنَّدِ، فإن السيف اسم للذات فقط والصارم باعتبار القطع، والمهند باعتبار أنه من الهند. وكذلك قولنا زيد متكلم فصيح، فإن الأول للذات، والثاني للصفة، والثالث لصفة الصفة (3).
--------------------------------------------
অতঃপর এই স্তরের নিচে এমন বিষয় রয়েছে যা প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে এবং তা তিনটি বিষয়: প্রসিদ্ধ বিষয়সমূহ (المشهورات), গ্রহণযোগ্য বিষয়সমূহ (المقبولات) এবং কাল্পনিক বিষয়সমূহ (الوهميات)।
প্রসিদ্ধ বিষয়সমূহ (المشهورات) হলো: যে বিষয়ে মানুষ অথবা তাদের অধিকাংশ, অথবা তাদের মধ্যকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অভ্যাসগতভাবে বা অন্য কোনো কারণে একমত হয়েছেন। কখনো বিবেক এর সপক্ষে রায় দেয়, আবার কখনো রায় দেয় না, তবে এর বিরোধিতাও করে না।
আর গ্রহণযোগ্য বিষয়সমূহ (المقبولات) হলো: সেই সংবাদ যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি বা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তিবর্গ প্রদান করেন যারা মুতাওয়াতির (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছাননি, কিন্তু মন তাতে আশ্বস্ত হয়।
আর কাল্পনিক বিষয়সমূহ (الوهميات) হলো: যা বুদ্ধিভিত্তিক বলে কল্পনা করা হয় কিন্তু বাস্তবে তা সেরূপ নয় (১)।
চতুর্থ অধ্যায়: শব্দের নামসমূহের বর্ণনায়সেগুলো হলো:
সমোচ্চারিত ও ভিন্নার্থক (المشترك), সমার্থক (المترادف), সমজাতীয় (المتواطي), তারতম্যমূলক (المشكك) এবং বিসদৃশ (المتباين)। আমরা এগুলোকে একটি বিভাজনের মাধ্যমে স্পষ্ট করছি, তা হলো: শব্দ এবং তার অর্থ চার প্রকার হতে পারে:
প্রথম: শব্দ এক কিন্তু অর্থ একাধিক হওয়া, একে সমোচ্চারিত ও ভিন্নার্থক (المشترك) বলা হয়; যেমন 'আইন' শব্দ।
দ্বিতীয়: শব্দ একাধিক কিন্তু অর্থ এক হওয়া, একে সমার্থক (المترادف) বলা হয়; যেমন 'কামহ', 'বুর' এবং 'হিনতাহ' (সবগুলোর অর্থ গম)।
তৃতীয়: শব্দ এবং অর্থ উভয়ই এক হওয়া। যদি তার অর্থ তার প্রয়োগক্ষেত্রে সমান হয় যেমন 'মানুষ' শব্দ, তবে তাকে সমজাতীয় (المتواطي) বলা হয়। আর যদি তার অর্থ তারতম্যপূর্ণ বা ভিন্ন হয়, তবে তাকে তারতম্যমূলক (المشكك) বলা হয়; যেমন সূর্যের আলো এবং প্রদীপের আলোর ওপর 'আলো' শব্দের প্রয়োগ।
চতুর্থ: শব্দ এবং অর্থ উভয়ই একাধিক হওয়া, তাকে বিসদৃশ (المتباين) বলা হয়; যেমন মানুষ, ঘোড়া এবং পাখি (২)। এই বিভাজন থেকেই এগুলোর সংজ্ঞা গৃহীত হয়।
দুটি সতর্কতা:- প্রথম: কিছু শব্দের ক্ষেত্রে এমন ধারণা হতে পারে যে সেগুলো সমার্থক (المترادف), অথচ সেগুলো বিসদৃশ (المتباين); যেমন: আস-সাইফ (তরবারি), আস-সারিম এবং আল-মুহান্নাদ। কেননা 'সাইফ' কেবল মূল বস্তুটির নাম, 'সারিম' কাটার গুণ বিবেচনা করে এবং 'মুহান্নাদ' তা হিন্দুস্তান থেকে আগত হওয়ার কারণে বলা হয়। অনুরূপভাবে আমাদের বক্তব্য: 'যায়েদ একজন সাবলীল বক্তা', এখানে প্রথমটি সত্তার জন্য, দ্বিতীয়টি গুণের জন্য এবং তৃতীয়টি গুণের গুণের জন্য (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
- الثاني: إن المشترك هو: اللفظ الموضوع لمعنيين وضعًا لم ينقل من أحدهما إلى الآخر، فإن كان منقولًا من أحدهما إلى الآخر فلا يسمى مشتركًا في الاصطلاح ولكن إن نقل لغير علاقة، سمي بالمنقول، وإن نقل لعلاقة، سمي بالنظر إلى المعنى الأول حقيقة وبالنظر إلى الثاني مجازًا.
الباب الخامس: في الدَّلالةوهي ثلاثة أنواع: مطابقة، وتضمن، والتزام.
- فدلالة المطابقة: هي دلالة اللفظ على كمال مسماه كدلالة لفظ البيت على جميعه.
- ودلالة التضمن: هي دلالة اللفظ على جزء مسماه كدلالة لفظ البيت على سقفه.
- ودلالة التزام: هي دلالة اللفظ على لازم مسماه كدلالة السقف على الجدار (1).
تنبيهات ثلاثة:الأول: زاد فخر الدين بن الخطيب (2) قيدًا في دلالة التضمن وهو أن قال على جزء مسماه من حيث هو جزء تحرز من دلالة اللفظة بالمطابقة على معنى، وبالتضمن على غيره كقولنا: حرف لأحد حروف المعنى نحو: لَيْتَ، ولَعَلَّ وحرف اللام وحدها بمعنى حرف هجاء، فالأول يدل على اللام بالتضمن، والثاني يدل عليها مطابقة.
- الثاني: يشترط في دلالة الالتزام أن تكون الملازمة في الذهن والخارج، أو في الذهن خاصة لا في الخارج خاصة.
- الثالث: جعل شهاب الدين القرافي الدلالة قسمين:
دلالة اللفظ وهي ما ذكرنا.
والدلالة باللفظ: وهي استعمال المتكلم اللفظ في حقيقته أو مجازه.
--------------------------------------------
- দ্বিতীয়: মুশতারাক (المشترك) হলো সেই শব্দ যা দু’টি অর্থের জন্য মৌলিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে একটি অর্থ থেকে অন্যটিতে তা স্থানান্তরিত হয়নি। যদি তা একটি অর্থ থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরিত হয়, তবে তাকে পরিভাষায় (اصطلاح) মুশতারাক বলা হয় না। বরং যদি কোনো সম্পর্ক ছাড়াই স্থানান্তরিত হয়, তবে তাকে মানকুল (المنقول) বলা হয়; আর যদি কোনো সম্পর্কের কারণে স্থানান্তরিত হয়, তবে প্রথম অর্থের বিবেচনায় তাকে হাকিকত (حقيقة) এবং দ্বিতীয় অর্থের বিবেচনায় মাজাজ (مجاز) বলা হয়।
পঞ্চম অধ্যায়: দালালাত বা শব্দের নির্দেশ (الدلالة) প্রসঙ্গেএটি তিন প্রকার: মুতাবাকাহ (مطابقة), তাদামমুন (تضمن) এবং ইলতিজাম (التزام)।
- মুতাবাকাহ (مطابقة) এর নির্দেশ: এটি হলো শব্দের পূর্ণ অর্থের ওপর উক্ত শব্দের নির্দেশ করা, যেমন ‘ঘর’ শব্দটি দ্বারা সম্পূর্ণ ঘরকে বোঝানো।
- তাদামমুন (تضمن) এর নির্দেশ: এটি হলো শব্দের অর্থগত অংশের ওপর উক্ত শব্দের নির্দেশ করা, যেমন ‘ঘর’ শব্দটি দ্বারা তার ছাদকে বোঝানো।
- ইলতিজাম (التزام) এর নির্দেশ: এটি হলো শব্দের অর্থের জন্য অপরিহার্য বা আবশ্যিক বিষয়ের ওপর নির্দেশ করা, যেমন ছাদ শব্দটি দেয়ালের ওপর নির্দেশ করা (১)।
তিনটি সতর্কতা:প্রথম: ফখরুদ্দীন ইবনুল খতিব (২) তাদামমুন (تضمن) এর নির্দেশের সংজ্ঞায় একটি শর্ত যুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, অর্থের অংশের ওপর তার ‘অংশ হওয়ার দিক থেকে’ নির্দেশ করা। এটি এমন শব্দ থেকে বাঁচার জন্য যা মুতাবাকাহ (مطابقة) হিসেবে একটি অর্থের ওপর এবং তাদামমুন (تضمن) হিসেবে অন্য একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করে। যেমন আমাদের কথা: অর্থবোধক বর্ণসমূহের একটির জন্য ‘হারফ’ (বর্ণ) শব্দটি ব্যবহার করা, যেমন: লায়তা এবং লাআল্লা; আবার শুধু ‘লাম’ বর্ণটি যখন বর্ণমালার বর্ণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে প্রথমটি ‘লাম’ বর্ণের ওপর তাদামমুন (تضمن) হিসেবে নির্দেশ করে এবং দ্বিতীয়টি তার ওপর মুতাবাকাহ (مطابقة) হিসেবে নির্দেশ করে।
- দ্বিতীয়: ইলতিজাম (التزام) এর নির্দেশের ক্ষেত্রে শর্ত হলো যে, সেই আবশ্যকতা মানসিক এবং বাহ্যিক উভয় ক্ষেত্রে হতে হবে, অথবা বিশেষ করে মানসিক ক্ষেত্রে হতে হবে, কেবল বাহ্যিক ক্ষেত্রে নয়।
- তৃতীয়: শিহাবুদ্দীন আল-কারাফি দালালাত বা নির্দেশকে (الدلالة) দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:
শব্দের নির্দেশ (دلالة اللفظ): যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
শব্দ দ্বারা নির্দেশ (الدلالة باللفظ): এটি হলো বক্তা কর্তৃক শব্দকে তার হাকিকত (حقيقة) অথবা মাজাজ (مجاز) অর্থে ব্যবহার করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
الباب السادس: في الفرق بين الجزئي والكلي، والكل والجزء والكلية والجزئية- أما الكلىُّ: فهو الذي لا يمنع تصور معناه من تعدده سواء وجد في الوجود متحددًا كالإنسان أو واحدًا كالشمس أو لم يوجد في الوجود، فإن الاعتبار هنا من جهة تصوره في الذهن.
- أما الجزئي: فهو الذي يدل على واحد بعينه كالاسم العلم ويسمي النحويون الكلي نكرة، ويسمون الجزئي معرفة.
وأنواعها خمسة: المضمر: وأسماء الإشارة، والعلم، والمعرف بالألف واللام، والمضاف إلى المعرفة.
فائدة:المضمر عند أكثر الناس جزئي كاختصاصه بمتكلم أو مخاطب أو غائب، وقال النحويون فيه: إنه أعرف المعارف.
وقال شهاب الدين: إنه كلي في وضعه وإنما اختص في استعماله.
- وأما الكل: فهو المجموع بجملته كأسماء الأعداد.
- والجزء: هو ما تركب الكل منه كتركيب العشرة من اثنين في خمسة.
- وأما الكلية: فهي ما يقتضي الحكم على كل فرد من أفراد الحقيقة، كقوله تعالى: {كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ (26)} [الرحمن: الآية 26].
والجزئية: ما تقتضي الحكم على بعض أفراد الحقيقة، كقولنا: بعض الحيوان إنسان.
بيان:قد يعسر الفرق بين الكل والكلية، وهو أن الحكم في الكل على المجموع لا على كل فرد بانفراده، وذلك كقولنا: كل إنسان يَشِيلُ الصخرة العظيمة، والحكم في الكلية على كل فرد بانفراده حتى لا يبقى فرد، كقولنا: كل إنسان يشبعه رغيف.
الباب السابع: في نسبة بعض الحقيقة من بعضإذا نظرنا إلى حقيقة مع أخرى وجدتها على أربعة أقسام:
ষষ্ঠ অধ্যায়: আংশিক (جزئي) ও সামগ্রিক (كلي), এবং সমষ্টি (كل), অংশ (جزء), সামগ্রিকতা (كلية) ও আংশিকতা (جزئية)-র মধ্যকার পার্থক্য প্রসঙ্গে- সামগ্রিক (كلي): এটি হলো এমন যা তার অর্থের কল্পনাকে বহু হওয়া থেকে বাধা প্রদান করে না, চাই তা বাস্তবে বহু হিসেবে বিদ্যমান থাকুক যেমন ‘মানুষ’, অথবা একটি হিসেবে বিদ্যমান থাকুক যেমন ‘সূর্য’, অথবা বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব না থাকুক; কেননা এখানে মূল বিবেচ্য হলো মনে বা মস্তিষ্কে তার কল্পনা করা।
- আংশিক (جزئي): এটি এমন যা নির্দিষ্ট কোনো একটি সত্তাকে নির্দেশ করে যেমন নামবাচক বিশেষ্য (العلم)। ব্যাকরণবিদগণ সামগ্রিক (كلي)-কে অনির্দিষ্ট (نكرة) এবং আংশিক (جزئي)-কে নির্দিষ্ট (معرفة) বলে অভিহিত করেন।
আর এগুলি পাঁচ প্রকার: সর্বনাম (المضمر), নির্দেশক বিশেষ্য (أسماء الإشارة), নামবাচক বিশেষ্য (العلم), আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট বিশেষ্য (المعرف بالألف واللام), এবং নির্দিষ্ট বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত শব্দ (المضاف إلى المعرفة)।
ফায়দা:অধিকাংশ আলিমের মতে সর্বনাম (المضمر) হলো আংশিক (جزئي); কারণ এটি বক্তা, সম্বোধিত ব্যক্তি বা অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট হওয়ার বৈশিষ্ট্য রাখে। ব্যাকরণবিদগণ এর ব্যাপারে বলেন যে, এটি সর্বাধিক নির্দিষ্ট (معرفة) বিশেষ্য।
শিহাবউদ্দীন বলেন: এটি তার গঠনগত দিক থেকে সামগ্রিক (كلي), তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট হয়ে থাকে।
- সমষ্টি (كل): এটি হলো যা তার পূর্ণ রূপের مجموع বা সমাহার, যেমন সংখ্যাবাচক নামসমূহ।
- অংশ (جزء): এটি হলো তা যা দ্বারা সমষ্টিটি গঠিত হয়, যেমন পাঁচের সাথে দুই গুণের মাধ্যমে দশ গঠিত হওয়া।
- সামগ্রিকতা (كلية): এটি এমন বিষয় যা হাকিকাত বা মূল সত্তার প্রতিটি সদস্যের ওপর হুকুম আরোপ করাকে আবশ্যক করে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সব নশ্বর (فان)} [আর-রহমান: ২৬]।
আংশিকতা (جزئية): এটি এমন বিষয় যা হাকিকাত বা মূল সত্তার কিছু সদস্যের ওপর হুকুম আরোপ করাকে আবশ্যক করে, যেমন আমাদের উক্তি: কিছু প্রাণী হলো মানুষ।
বিবরণ:সমষ্টি (كل) এবং সামগ্রিকতা (كلية)-র মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। পার্থক্যটি হলো এই যে, সমষ্টি (كل)-র ক্ষেত্রে হুকুমটি সমষ্টিগত বিষয়ের ওপর হয়, পৃথক পৃথকভাবে প্রত্যেক সদস্যের ওপর নয়; যেমন আমাদের বলা: সব মানুষ মিলে বিশাল পাথরটি উঠাবে। আর সামগ্রিকতা (كلية)-র ক্ষেত্রে হুকুমটি পৃথক পৃথকভাবে প্রত্যেক সদস্যের ওপর হয়, এমনকি কোনো সদস্যই বাকি থাকে না; যেমন আমাদের বলা: প্রত্যেক মানুষকে একটি রুটি তৃপ্ত করে।
সপ্তম অধ্যায়: এক হাকিকাতের সাথে অন্যটির সম্বন্ধ প্রসঙ্গেআমরা যখন একটি হাকিকাত বা বাস্তবতার সাথে অন্যটিকে মিলিয়ে দেখি, তখন সেটিকে চার প্রকারে বিভক্ত পাই:
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
- الأول: أن تكون إحداهما أعم مطلقًا، والأخرى أخص مطلقًا، كالحيوان والإنسان، يستدل بوجود الأخص على وجود الأعم، وينفي الأعم على نفي الأخص، ولا دليل في عدم الأخص ولا في وجود الأعم.
- الثاني: أن يكون كل واحد منهما أعم من وجه وأخص من وجه آخر كالإنسان والأبيض، فلا دليل لأحدهما على الآخر أصلًا.
- الثالث: أن يكونا متساويين كالإنسان والضاحك بالقوة، فيستدل بوجود كل واحد منهما على وجود الآخر، وبعدمه على عدمه.
- الرابع: أن يكونا متباينين كالحيوان والجماد، والمعلومات أيضًا على ثلاثة أقسام:
نقيضان: وهما اللذان لا يجتمعان معًا ولا يرتفعان معًا كوجود زيد وعدمه، فيستدل بوجود أحدهما على عدم الآخر، وبعدمه على وجوده.
وضدان: وهما اللذان لا يجتمعان ويمكن ارتفاعهما كالسواد والبياض، فيستدل بوجود أحدهما على عدم الآخر، ولا دليل في عدم واحد منهما.
وخلافان: وهما اللذان يمكن اجتماعهما وارتفاعهما كالإنسان والفرس، فلا دليل في وجود واحد منهما ولا في عدمه.
قانون:في هذا الباب وذلك بإدخال كل على إحدى الحقيقتين والإخبار بالأخرى فإن صدقت القضية من الجهتين فهما متساويان كقولنا: كل إنسان ضاحك، وكل ضاحك إنسان، وإن كذبت من الجهتين، فهما متباينان، أو أعم من وجه وأخص من وجه، وإن صدقت من الجهة الواحدة، فهما أعم مطلقًا وأخص مطلقًا كقولك: كل إنسان حيوان، والمضاف إلى "كلُّ" هو الأخص، والخبر هو الأعم، وإن عكستها كذبت.
الباب الثامن: في أنواع الحجج العقليةوهي ثلاثة أنواع: قياس، واستقراء، وتمثيل.
- فأما القياس: فهو عبارة عن كلام مُؤلَّفٍ مقدِمتين فأكثر، يتولد منهما نتيجة (1) وهي المطلوب إثباتها أو نفيها، فنذكره في موضعه.
--------------------------------------------
- প্রথম: একটি হতে পারে নিরঙ্কুশভাবে ব্যাপক (أعم مطلقًا), এবং অন্যটি হতে পারে নিরঙ্কুশভাবে বিশেষ (أخص مطلقًا), যেমন জীব ও মানুষ। বিশেষের উপস্থিতি দ্বারা ব্যাপকের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়, এবং ব্যাপকের অনুপস্থিতি দ্বারা বিশেষের অনুপস্থিতি প্রমাণিত হয়। তবে বিশেষের অনুপস্থিতিতে বা ব্যাপকের উপস্থিতিতে কোনো প্রমাণ নেই।
- দ্বিতীয়: প্রতিটি একদিক থেকে ব্যাপক (أعم من وجه) এবং অন্যদিক থেকে বিশেষ (أخص من وجه) হতে পারে, যেমন মানুষ ও সাদা বর্ণ। এক্ষেত্রে একজনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অন্যজনের জন্য কোনো দলিল নয়।
- তৃতীয়: উভয়টি সমান (متساويين) হতে পারে, যেমন মানুষ ও সামর্থ্যগতভাবে হাস্যকারী। এক্ষেত্রে একটির উপস্থিতি অন্যটির উপস্থিতির দলিল এবং একটির অনুপস্থিতি অন্যটির অনুপস্থিতির দলিল।
- চতুর্থ: উভয়টি পরস্পর ভিন্ন (متباينين) হতে পারে, যেমন জীব ও জড় পদার্থ। একইভাবে তথ্যসমূহ তিন প্রকার:
স্ববিরোধী (نقيضان): যারা একসাথে একত্রিত হতে পারে না এবং একসাথে অপসারিতও হতে পারে না, যেমন জায়েদের অস্তিত্ব ও তার অনুপস্থিতি। এখানে একটির উপস্থিতি অন্যটির অনুপস্থিতির প্রমাণ এবং একটির অনুপস্থিতি অন্যটির উপস্থিতির প্রমাণ।
বিপরীতমুখী (ضدان): যারা একসাথে একত্রিত হতে পারে না তবে উভয়টি অপসারিত হওয়া সম্ভব, যেমন কালো ও সাদা। এখানে একটির উপস্থিতি অন্যটির অনুপস্থিতির প্রমাণ দেয়, কিন্তু কোনো একটির অনুপস্থিতি কোনো দলিল নয়।
ভিন্নধর্মী (خلافان): যারা একসাথে একত্রিত হতে পারে এবং অপসারিত হওয়াও সম্ভব, যেমন মানুষ ও ঘোড়া। এখানে কোনো একটির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনো দলিল নয়।
নীতিমালা:এই অধ্যায়ে (পদ্ধতি হলো) উভয় হাকিকতের যে কোনো একটির ওপর 'প্রত্যেক' (كل) শব্দ যুক্ত করা এবং অন্যটি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া। যদি বিষয়টি উভয় দিক থেকে সত্য হয়, তবে তারা সমান (متساويان), যেমন আমাদের উক্তি: 'প্রত্যেক মানুষ হাস্যকারী' এবং 'প্রত্যেক হাস্যকারী মানুষ'। আর যদি উভয় দিক থেকে মিথ্যা হয়, তবে তারা পরস্পর ভিন্ন (متباينان) অথবা একদিক থেকে ব্যাপক ও অন্যদিক থেকে বিশেষ (أعم من وجه وأخص من وجه)। আর যদি শুধু এক দিক থেকে সত্য হয়, তবে তারা নিরঙ্কুশভাবে ব্যাপক (أعم مطلقًا) ও নিরঙ্কুশভাবে বিশেষ (أخص مطلقًا), যেমন আপনার উক্তি: 'প্রত্যেক মানুষ জীব'। এখানে যা 'প্রত্যেক' (كل) শব্দের সাথে যুক্ত হয়েছে তা বিশেষ (الأخص) এবং যা সংবাদ হিসেবে এসেছে তা ব্যাপক (الأعم)। আপনি যদি এটি উল্টে দেন তবে তা মিথ্যা হবে।
অষ্টম অধ্যায়: বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের প্রকারভেদএটি তিন প্রকার: কিয়াস (قياس), আরোহ (استقراء), এবং উপমা (تمثيل)।
- কিয়াস (القياس) হলো: এমন বক্তব্য যা দুই বা ততোধিক প্রাঙ্গণ (مقدِمتين) দ্বারা গঠিত, যা থেকে একটি ফলাফল (১) নির্গত হয়; যা প্রমাণ করা বা নাকচ করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। আমরা এটি যথাস্থানে আলোচনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
وهذا القياس في اصطلاح أهل المنطق، وأما القياس في اصطلاح الفقهاء فنذكره في موضعه. ثم إن هذا القياس المنطقي إن كانت مقدماته قطعية وركبت كما يجب بشروطها، سمي برهان، وكانت النتيجة علمًا يقينيًا (1)، وإن كانت مقدماته أو واحدة منهما غير قطعية أو دخله خلل في التركيب أو نقص من شروطها لم يفد اليقين، وقد يفيد الظن أو ما دونه.
- وأما الاستقراء: فهو أن ينظر الحكم في كثير من أفراد الحقيقة، فيوجد فيها على حالة واحدة، فيغلب على الظن أنه على تلك الحالة في جميع أفراد الحقيقة (2).
- وأما التمثيل: فهو أن يحكم لجزء بحكم جزء آخر (3) وهو أضعفها.
والفرق بينها:
أن القياس احتجاج منقول على معنى كلي إلى معنى كلي تحته، أو إلى جزئي، وأن الاستقراء منقول من جزئيات متعددة إلى كلي، وأن التمثيل منقول من جزئي إلى جزئي.
الباب التاسع: في أنواع القياس المنطقيوهو خمسة: برهان، وجدل، وخطابة، وشعر، وسفسطة.
- فأما البرهان: فهو القياس اليقيني الصحيح.
الصحيح: وهو الذي تكون مقدماته قطعية كلها البديهيات، والنظريات الصحيحة، والحسية السالمة من غلط الحس.
- وأما الجدل: فهو الذي تكون مقدماته مقبولة أو مشهورة عند الكافة وهي في الأغلب صادقة، وقد تكون كاذبة في النادر.
وفائدة الجدل أن يغلب الخصم خصمه.
- وأما الخطابة: فهي التي تكون مقدماتها مقبولة يحصل بها غلبة الظن فتقتنع النفس بها وتركن إليها مع حضور نقيضها بالبال، أو قبول النفس لنقيضها.
--------------------------------------------
আর এই কিয়াস (القياس) যুক্তিবিদদের (أهل المنطق) পরিভাষায় ব্যবহৃত; আর ফকিহদের (الفقهاء) পরিভাষায় কিয়াস (القيাস) এর আলোচনা আমরা যথাস্থানে করব। অতঃপর এই যৌক্তিক কিয়াস (القياس المنطقي) এর প্রাঙ্গণ বা ভূমিকাগুলো (مقدماته) যদি অকাট্য (قطعية) হয় এবং তার শর্তানুযায়ী যথাযথভাবে বিন্যস্ত হয়, তবে তাকে বুরহান (برهان) বা প্রমাণ বলা হয় এবং এর ফলাফল হয় নিশ্চিত জ্ঞান (علمًا يقينيًا)। আর যদি এর ভূমিকাগুলোর উভয়টি অথবা কোনো একটি অকাট্য (غير قطعية) না হয়, কিংবা এর বিন্যাসে কোনো ত্রুটি থাকে অথবা শর্তে কোনো ঘাটতি থাকে, তবে তা নিশ্চিত বিশ্বাস (اليقين) প্রদান করে না; বরং তা প্রবল ধারণা (الظن) বা তার নিম্নপর্যায়ের ধারণা দিতে পারে।
- আর ইস্তিকরা (الاستقراء) বা আরোহ হলো: কোনো বাস্তবতার অনেকগুলো একক বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে হুকুমটি পর্যবেক্ষণ করা, অতঃপর সেগুলোকে একই অবস্থায় পাওয়া; ফলে প্রবল ধারণা (الظن) হয় যে, সেই বাস্তবতার সকল এককের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রূপ হবে।
- আর তামসিল (التمثيل) বা উপমা হলো: একটি খণ্ডাংশের (جزء) হুকুমের মাধ্যমে অন্য একটি খণ্ডাংশের (جزء) ওপর হুকুম আরোপ করা, আর এটি এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল।
এগুলোর মধ্যকার পার্থক্য হলো:
কিয়াস (القياس) হলো কোনো সামগ্রিক অর্থ (معنى كلي) থেকে তার অন্তর্গত অন্য কোনো সামগ্রিক অর্থ বা কোনো বিশেষ অর্থের (جزئي) দিকে দলিল স্থানান্তরিত করা; আর ইস্তিকরা (الاستقراء) হলো একাধিক বিশেষ অর্থ (جزئيات) থেকে সামগ্রিক অর্থের (كلي) দিকে স্থানান্তরিত হওয়া; আর তামসিল (التمثيل) হলো এক বিশেষ (جزئي) থেকে অন্য বিশেষের (جزئي) দিকে স্থানান্তরিত হওয়া।
নবম অধ্যায়: যৌক্তিক কিয়াসের (القياس المنطقي) প্রকারভেদ প্রসঙ্গেতা পাঁচ প্রকার: বুরহান (برهان), জাদাল (جدل) বা বিতর্ক, খুতবাহ (خطابة) বা বাগ্মিতা, কবিতা (شعر) এবং সফসাতাহ (سفسطة) বা কুতর্ক।
- বুরহান (برهان) হলো: নিশ্চিত ও সঠিক কিয়াস (القياس)।
সঠিক (الصحيح): হলো যার সকল ভূমিকা বা প্রাঙ্গণসমূহ অকাট্য (قطعية); যেমন স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ (البديهيات), সঠিক তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ (النظريات) এবং ইন্দ্রিয়জাত বিভ্রম থেকে মুক্ত অনুভূতিশীল বিষয়সমূহ (الحسية)।
- আর জাদাল (جدل) হলো: যার ভূমিকা বা প্রাঙ্গণসমূহ সর্বসাধারণের নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبولة) অথবা প্রসিদ্ধ (مشهورة); যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্য (صادقة) হয়, তবে কদাচিৎ মিথ্যাও (كاذبة) হতে পারে।
জাদালের (جدل) উপকারিতা হলো প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা।
- আর খুতবাহ বা বাগ্মিতা (الخطابة) হলো: যার ভূমিকাগুলো গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যার মাধ্যমে প্রবল ধারণা (غلبة الظن) অর্জিত হয় এবং মন তাতে আশ্বস্ত ও পরিতুষ্ট হয়, যদিও তার বিপরীত বিষয়টি স্মৃতিতে উপস্থিত থাকে অথবা মন তার বিপরীতটিকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
وفائدة الخطابة أن يميل السامع إلى ما يراد منه ويركن إليه ويقوي ذلك بفصاحة الكلام وعذوبة الألفاظ وطيب النغمة.
- وأما الشعر: فهو ما يتضمن تشبيهًا أو تمثيلًا أو استعارة، أو تخييل أمر في النفس يقصد به الترغيب أو الترهيب أو التشجيع أو الحث على العطاء أو تحريك فرح أو حزن أو تقريب بعيد أو غير ذلك، وهو يؤثر في النفس مع العلم بكذبه، ويشتمل تأثيره بحسن الصوت والتلحين.
- وأما السفسطة: فهي المغالطة، والغلط يقع بوجوه كثيرة من جهة اللفظ أو من جهة المعنى أو من طريق الحذف والإضمار، أو في تركيب المقدمات الوهمية مكان القطعية إلى غير ذلك.
تحقيق هذه الألفاظ في هذا الاصطلاح بخلاف معناها في اللغة والاصطلاح العام:
- أما البرهان: فهو في اللغة كل ما يوصل إلى التحقيق، سواء كان كلامًا أو غيره.
وفي هذا الاصطلاح كلام مُؤَلَّفٌ على وجه مخصوص بشروط مخصوصة.
- وأما الخطابة فهي في اللغة كلام الخطيب سواء تكلم بما يفيد الظن أو اليقين وهي هنا ما يفيد الظن خاصة (1).
- وأما الشعر: فهو في هذا الاصطلاح أعم منه في الاصطلاح العام لأنه هنا المجاز والتمثيل وشبه ذلك، مما ليس بحقيقة سواء كان منظومًا أو منثورًا، وهو في الاصطلاح العام: المنظوم الأعاريض المعروفة.
الباب العاشر: في البرهانونتكلم في أجزائه التي تتركب منها، وفي ضروبه.
- أما أجزاؤه فلا بد في كل برهان وقياس منطقي من مقدمتين فأكثر ونتيجة تحذف إحدى المقدمتين للعلم بها.
--------------------------------------------
বাগ্মিতার (الخطابة) উপকারিতা হলো শ্রোতাকে উদ্দেশ্যকৃত বিষয়ের দিকে ধাবিত করা এবং তার প্রতি তাকে আশ্বস্ত করা; আর বাকপটুতা, শব্দের মিষ্টতা ও সুমধুর সুরের মাধ্যমে একে শক্তিশালী করা হয়।
- আর কবিতা (الشعر): তা হলো এমন যা উপমা (تشبيه), উদাহরণ (تمثيل) বা রূপক (استعارة) ধারণ করে, অথবা মনের মধ্যে এমন একটি বিষয়ের কল্পনা (تخييل) তৈরি করে যার মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান (الترغيب), ভীতি প্রদর্শন (الترهيب), অনুপ্রেরণা দান, দানে উদ্বুদ্ধ করা, আনন্দ বা দুঃখের উদ্রেক করা কিংবা দূরের কিছুকে নিকটবর্তী মনে করা অথবা অন্য কিছুর উদ্দেশ্য থাকে। এটি মিথ্যা (كذب) হওয়া সত্ত্বেও মনে প্রভাব ফেলে এবং সুন্দর কণ্ঠ ও সুরের মাধ্যমে এর প্রভাব পূর্ণতা পায়।
- আর কূটতর্ক (السفسطة): এটি হলো বিভ্রান্তি (المغالطة), আর এই ভুল শব্দ বা অর্থের দিক থেকে, অথবা বিলোপ (الحذف) ও গোপন রাখার (الإضمار) মাধ্যমে কিংবা অকাট্য (القطعية) প্রমাণের স্থলে কাল্পনিক ভূমিকার (المقدمات الوهمية) বিন্যাসের মাধ্যমে নানাভাবে ঘটতে পারে।
এই পরিভাষায় (الاصطلاح) এই শব্দগুলোর বিশ্লেষণ আভিধানিক অর্থ এবং সাধারণ পারিভাষিক অর্থের চেয়ে ভিন্ন:
- আর প্রমাণ (البرهان): আভিধানিক দিক থেকে তা হলো যা সত্য উদঘাটনে পৌঁছে দেয়, তা কথা হোক বা অন্য কিছু।
আর এই পরিভাষায় (الاصطلاح) এটি হলো বিশেষ শর্তসাপেক্ষে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে সুসংগঠিত বাক্য।
- আর বাগ্মিতা (الخطابة): এটি আভিধানিক দিক থেকে বক্তার বক্তব্য, চাই সে ধারণা (الظن) প্রদানকারী বা নিশ্চয়তা (اليقين) প্রদানকারী কথাই বলুক না কেন; আর এখানে তা বিশেষভাবে ধারণা (الظن) প্রদানকারী বিষয়কে বোঝায় (১)।
- আর কবিতা (الشعر): এই পরিভাষায় তা সাধারণ পরিভাষার চেয়ে অধিক ব্যাপক; কারণ এখানে রূপক (المجاز), উপমা (التمثيل) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত যা প্রকৃত বিষয় নয়, চাই তা পদ্য আকারে হোক বা গদ্য আকারে। আর সাধারণ পরিভাষায় তা হলো: পরিচিত ছন্দোবদ্ধ পদ্যাবলি।
দশম অধ্যায়: প্রমাণ (البرهان) প্রসঙ্গেআমরা এর উপাদানসমূহ যা দ্বারা এটি গঠিত এবং এর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করব।
- আর এর উপাদানসমূহের ক্ষেত্রে: প্রতিটি প্রমাণ (البرهان) এবং যুক্তিবিদ্যার অনুমানের (قياس) জন্য অবশ্যই দু’টি বা ততোধিক ভূমিকা (مقدمة) এবং একটি ফলাফল (نتيجة) থাকতে হবে; অনেক সময় জানা থাকার কারণে দু’টি ভূমিকার (مقدمتين) একটিকে বিলুপ্ত করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
والمقدمة هي جملة خبرية تسمى قضية، وتشتمل على موضوع ومحمول ويسمي أهل المنطق المخبر عنه بالموضوع والخبر بالمحمول، ويسميها النحويون مبتدأ وخبرًا، ويسمي الفقهاء حكمًا، والمبتدأ محكومًا عليه.
ويشترط أن تكون ما تقتضيه هذه القضية من نفي أو إثبات معلومًا أو مُسَلَّمًا عند الخصم، فإذا ازدوجت هذه القضية وهي المقدمة مع مثلها، تولدت بينهما النتيجة، وهي جملة أخرى خبرية تسمى أيضًا قضية، وهي التي قصد إثباتها أو نفيها، ولذلك يقول الفقهاء وجه الدليل ويعنون به وجه لزوم النتيجة من المقدمات.
وتنقسم القضايا أيضًا قسمين: موجبة وهي المثبتة، وسالبة وهي المنفية وتنقسم كل واحدة أربعة أقسام: كلية محصورة، وجزئية محصورة، وشخصية، ومهملة.
- فالكلية المحصورة هي التي يكون موضوعها عامًّا كقولنا: كل مسكر حرام.
- والجزئية المحصورة نحو قولنا: بعض الحيوان إنسان، واللفظ الحاصر لهما يسمى سيورًا نحو كل وبعض.
- والشخصية: هي التي يكون موضوعها جزئيًا كقولنا: زيد قائم.
- والمهملة: وهي التي يتبين فيها أن الحكم للكل أو للبعض كقولنا: {إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2)} [العصر: الآية 2].
إلا أن الشخصية والمهملة مطرحتان في العلوم، فبقيت المحصورتان الكلية والجزئية، وكل واحدة منهما تكون موجبة وسالبة، فالقضايا على هذا أربع.
- ثم إن البرهان من طريق صورة تركيبه على ثلاثة أضرب:
الضرب الأول: ويسميه بعض الناس القياس الاقتراني، ويسميه أهل المنطق الحسيني، ويسميه أهل اللغة برهان العلة، وهو يشتمل على مقدمتين، في كل مقدمة محمول وموضوع وهما الحكم والمحكوم عليه فتلك أربعة أشياء، إلا أن واحدًا منها يتكرر في المقدمتين فتبقى ثلاثة أشياء يسميها أهل المنطق حدودًا وهي الحد الأوسط، والحد الأكبر والحد الأصغر.
- فأما الحد الأوسط فيسميه الفقهاء علة، وهو الذي يتكرر في المقدمتين.
- وأما الحد الأكبر: فهو الحكم وهو الذي يكون في النتيجة محمولًا.
ভূমিকা (مقدمة) হলো একটি বর্ণনামূলক বাক্য যাকে প্রতিজ্ঞা (قضية) বলা হয়। এটি উদ্দেশ্য (موضوع) এবং বিদেয় (محمول) নিয়ে গঠিত। যুক্তিবিদগণ সংবাদ প্রদানকৃত বিষয়কে উদ্দেশ্য (موضوع) এবং সংবাদটিকে বিদেয় (محمول) বলেন। ব্যাকরণবিদগণ এদেরকে মুক্তাদা (مبتدأ) ও খবর (خبر) বলেন, আর ফকিহগণ একে বিধান (حكم) এবং যার ওপর বিধান কার্যকর হয় তাকে মাহকুম আলাইহি (محكوم عليه) বলেন।
শর্ত হলো এই প্রতিজ্ঞা যে নেতিবাচকতা (نفي) বা ইতিবাচকতা (إثبات) দাবি করে, তা প্রতিপক্ষের নিকট জ্ঞাত (معلوم) বা স্বীকৃত (مُسَلَّم) হতে হবে। যখন এই প্রতিজ্ঞা তথা ভূমিকা (مقدمة) অন্য একটি সমজাতীয় প্রতিজ্ঞার সাথে যুক্ত হয়, তখন তাদের মধ্য থেকে ফলাফল (نتيجة) তৈরি হয়। এটি অন্য একটি বর্ণনামূলক বাক্য যাকে প্রতিজ্ঞা (قضية) বলা হয়, এবং এটিই মূলত প্রমাণ করা বা নাকচ করা উদ্দেশ্য থাকে। এজন্য ফকিহগণ প্রমাণের ভিত্তি (وجه الدليل) পরিভাষাটি ব্যবহার করেন এবং এর দ্বারা তারা ভূমিকাগুলো থেকে ফলাফল বের হওয়ার আবশ্যকতাকে (لزوم) বুঝিয়ে থাকেন।
প্রতিজ্ঞাগুলো (قضايا) আবার দুই প্রকার: ইতিবাচক (موجبة) যা সাব্যস্তকারী, এবং নেতিবাচক (سالبة) যা অস্বীকারমূলক। এদের প্রত্যেকটি আবার চার প্রকার: সার্বিক সীমাবদ্ধ (كلية محصورة), আংশিক সীমাবদ্ধ (جزئية محصورة), ব্যক্তিগত (شخصية) এবং অনির্দিষ্ট (مهملة)।
- সার্বিক সীমাবদ্ধ (كلية محصورة) হলো যার উদ্দেশ্য (موضوع) সাধারণ বা ব্যাপক হয়, যেমন আমাদের কথা: "প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম।"
- আংশিক সীমাবদ্ধ (جزئية محصورة) যেমন আমাদের কথা: "কিছু প্রাণী মানুষ।" আর এদের সীমাবদ্ধকারী শব্দকে পরিমাণক (سور) বলা হয়, যেমন: 'প্রত্যেক' এবং 'কিছু'।
- ব্যক্তিগত (شخصية): এটি হলো যার উদ্দেশ্য (موضوع) আংশিক বা সুনির্দিষ্ট হয়, যেমন আমাদের কথা: "যায়েদ দণ্ডায়মান।"
- অনির্দিষ্ট (مهملة): যাতে স্পষ্ট হয় না যে বিধানটি সকলের জন্য নাকি কিছু অংশের জন্য, যেমন আমাদের কথা: "নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।" [আল-আসর: আয়াত ২]
তবে ব্যক্তিগত (شخصية) এবং অনির্দিষ্ট (مهملة) প্রতিজ্ঞাগুলো বিজ্ঞানের আলোচনায় বর্জিত, তাই কেবল সীমাবদ্ধ (محصورتان) দুটিই অবশিষ্ট থাকে—সার্বিক (كلية) ও আংশিক (جزئية)। এদের প্রত্যেকটি ইতিবাচক (موجبة) ও নেতিবাচক (سالبة) হতে পারে, ফলে প্রতিজ্ঞা মোট চারটি।
- অতঃপর প্রমাণ (برهان) তার গঠনের সুরতের দিক থেকে তিন প্রকার (أضرب):
প্রথম প্রকার: একে কেউ কেউ সংযোজক অনুমান (القياس الاقتراني) বলেন, যুক্তিবিদগণ একে হুসাইনি বলেন এবং ভাষাবিদগণ একে কারণের প্রমাণ (برهان العلة) বলেন। এটি দুটি ভূমিকা (مقدمة) নিয়ে গঠিত। প্রতিটি ভূমিকায় একটি বিদেয় (محمول) এবং একটি উদ্দেশ্য (موضوع) থাকে, যা মূলত বিধান (حكم) এবং যার ওপর বিধান দেওয়া হয় (محكوم عليه)। ফলে সেখানে চারটি উপাদান থাকে, তবে তাদের মধ্যে একটি উভয় ভূমিকায় পুনরাবৃত্ত হয়। ফলে তিনটি উপাদান অবশিষ্ট থাকে যাকে যুক্তিবিদগণ পদ (حدود) বলেন; আর সেগুলো হলো: মধ্যপদ (الحد الأوسط), প্রধান পদ (الحد الأكبر) এবং অপ্রধান পদ (الحد الأصغر)।
- মধ্যপদ (الحد الأوسط) কে ফকিহগণ কারণ (علة) বলেন, যা উভয় ভূমিকায় পুনরাবৃত্ত হয়।
- আর প্রধান পদ (الحد الأكبر) হলো বিধান (حكم) যা ফলাফলে বিদেয় (محمول) হিসেবে থাকে।
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
- وأما الحد الأصغر: فهو المحكوم عليه وهو الذي يكون في النتيجة موضوعًا.
والمقدمة التي فيها الأصغر تسمى صغرى.
والمقدمة التي فيها الحد الأكبر تسمى كبرى.
ومثال ذلك قولنا: كل مسكر حرام، ومنبيذ مسكر، فالنبيذ حرام فقولنا: كل مسكر كلية موجبة وهي المقدمة الكبرى.
وقولنا: منبيذ مسكر مقدمة أخرى وهي أيضًا كلية موجبة وهي المقدمة الصغرى.
وقولنا: والنبيذ حرام هي النتيجة.
والحد الأوسط هو المسكر لأنه تكرر في المقدمتين، والأصغر هو النبيذ لأنه موضوع في النتيجة وهو المحكوم عليه، والحد الأكبر هو الحرام، لأنه محمول في النتيجة، وهو الحكم.
ثم إن هذا الضرب له ثلاثة أشكال:
- الشكل الأول: أن يكون الحد الأوسط موضوعًا في إحدى المقدمتين محمولًا في الأخرى، كان عبرت بعبارة الفقهاء، قلت أن تكون العلة حكمًا في إحدى المقدمتين محكومًا عليه في الأخرى وذلك كالمثال الذي ذكرنا ألا ترى أن المسكر -وهو العلة- وقع محكومًا عليه في قولنا: كل مسكر حرام، ووقع حكمًا في قولنا: النبيذ مسكر.
ويشترط في هذا المثال أن تكون المقدمة الصغرى موجبة لا سالبة، وأن تكون الكبرى كلية لا جزئية، وحينئذٍ تنتج نتيجة صحيحة (1).
- الشكل الثاني: أن يكون الحد الأوسط محمولًا في المقدمتين، ويسميه الفقهاء "الفرق"، يشترط في إنتاجه أن تكون الكبرى كلية، وأن تكون إحدى المقدمتين مخالفة للأخرى في الإيجاب والسلب.
ومثاله قولنا: كل ثوب مزروع ولا ربوي مزروع فلا ثوب واحد ربوي (2).
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে ক্ষুদ্রতর পদ (الحد الأصغر): তা হলো যার ওপর বিধান আরোপ করা হয় (المحكوم عليه) এবং যা সিদ্ধান্তে (النتيجة) উদ্দেশ্য (موضوعًا) হিসেবে থাকে।
আর যে আশ্রয়বাক্যে (المقدمة) ক্ষুদ্রতর পদটি থাকে তাকে ক্ষুদ্রতর আশ্রয়বাক্য (صغرى) বলা হয়।
এবং যে আশ্রয়বাক্যে বৃহত্তম পদ (الحد الأكبر) থাকে তাকে বৃহত্তম আশ্রয়বাক্য (كبرى) বলা হয়।
এর উদাহরণ হলো আমাদের এই উক্তি: "প্রত্যেক মাদক দ্রব্যই হারাম, এবং নাবীয হলো মাদক দ্রব্য, সুতরাং নাবীয হলো হারাম।" এখানে আমাদের উক্তি "প্রত্যেক মাদক দ্রব্য (হারাম)" একটি সার্বিক সদর্থক (كلية موجبة) বাক্য এবং এটিই বৃহত্তম আশ্রয়বাক্য (المقدمة الكبرى)।
আর আমাদের উক্তি "নাবীয হলো মাদক দ্রব্য" হলো অপর একটি আশ্রয়বাক্য এবং এটিও একটি সার্বিক সদর্থক (كلية موجبة) বাক্য, যা ক্ষুদ্রতর আশ্রয়বাক্য (المقدمة الصغرى)।
এবং আমাদের উক্তি "নাবীয হলো হারাম" হলো সিদ্ধান্ত (النتيجة)।
আর মধ্যবর্তী পদ (الحد الأوسط) হলো মাদক দ্রব্য; কারণ এটি উভয় আশ্রয়বাক্যে পুনরাবৃত্তি হয়েছে। আর ক্ষুদ্রতর পদ (الأصغر) হলো নাবীয; কারণ এটি সিদ্ধান্তে (النتيجة) উদ্দেশ্য (موضوع) হিসেবে রয়েছে এবং এটিই যার ওপর বিধান আরোপ করা হয়েছে (المحكوم عليه)। বৃহত্তম পদ (الحد الأكبر) হলো হারাম; কারণ এটি সিদ্ধান্তে বিধেয় (محمول) হিসেবে এসেছে এবং এটিই হলো বিধান (الحكم)।
অতঃপর এই প্রকারের (الضرب) তিনটি রূপ (أشكال) রয়েছে:
- প্রথম রূপ (الشكل الأول): মধ্যবর্তী পদ (الحد الأوسط) এক আশ্রয়বাক্যে উদ্দেশ্য (موضوعًا) হবে এবং অন্যটিতে বিধেয় (محمولًا) হবে। আমি যদি ফকিহগণের পরিভাষায় ব্যক্ত করি তবে বলব: ইল্লত (العلة) বা কারণটি এক আশ্রয়বাক্যে বিধান (حكمًا) হিসেবে থাকবে এবং অন্যটিতে যার ওপর বিধান দেয়া হয়েছে (محكومًا عليه) হিসেবে থাকবে। এটি ঠিক আমরা যে উদাহরণটি উল্লেখ করেছি তার মতো। আপনি কি দেখছেন না যে 'মাদক দ্রব্য'—যা এখানে ইল্লত (العلة)—তা আমাদের উক্তি "প্রত্যেক মাদক দ্রব্য হারাম"-এ যার ওপর বিধান দেওয়া হয়েছে (محكومًا عليه) হিসেবে এসেছে, এবং আমাদের উক্তি "নাবীয মাদক দ্রব্য"-তে বিধান (حكمًا) হিসেবে এসেছে।
এই উদাহরণের ক্ষেত্রে শর্ত হলো ক্ষুদ্রতর আশ্রয়বাক্যটি (المقدمة الصغرى) সদর্থক (موجبة) হতে হবে, নঞর্থক (سالبة) নয়; এবং বৃহত্তম আশ্রয়বাক্যটি (الكبرى) সার্বিক (كلية) হতে হবে, বিশেষ (جزئية) নয়; তবেই তা একটি সঠিক সিদ্ধান্ত (نتيجة) প্রদান করবে (১)।
- দ্বিতীয় রূপ (الشكل الثاني): মধ্যবর্তী পদ (الحد الأوسط) উভয় আশ্রয়বাক্যেই বিধেয় (محمولًا) হবে; ফকিহগণ একে "পার্থক্য" (الفرق) বলে অভিহিত করেন। এটি ফলপ্রসূ হওয়ার জন্য শর্ত হলো বৃহত্তম আশ্রয়বাক্যটি (الكبرى) সার্বিক (كلية) হতে হবে এবং এক আশ্রয়বাক্য সদর্থক ও নঞর্থক হওয়ার দিক থেকে অপরটির বিপরীত হতে হবে।
এর উদাহরণ হলো আমাদের উক্তি: "প্রত্যেক কাপড়ই পরিমাপযোগ্য এবং কোনো সুদযুক্ত বস্তু পরিমাপযোগ্য নয়, সুতরাং কোনো কাপড়ই সুদযুক্ত নয়" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
- الشكل الثالث: أن يكون الحد الأوسط موضوعًا في المقدمتين، ويسميه الفقهاء بـ "النقض"، ويشترط في إنتاجه أن تكون المقدمة الصغرى موجبة وأن تكون إحداهما كلية.
ومثاله قولنا: كل قمح مطعوم، وكل قمح ربوي، فبعض المطعوم ربوي (1).
تنبيهات ثلاثة:- الأول: متى كان في البرهان مقدمة سالبة أو جزئية أو مظنونة كانت النتيجة كذلك، لأنها تتبع أخس المقدمات، ولا تتبع أشرفها.
- الثاني: تجتمع الأشكال الثلاثة في أنها لا تنتج إذا كانت المقدمتان معًا سالبتين أو جزئيتين.
- الثالث: لا تكون نتيجة الشكل الثالث إلا سالبة، ولا تكون نتيجة الشكل الثالث إلا جزئية، أما نتيجة الشكل الأول فتكون موجبة أو سالبة، أو كلية أو جزئية.
تلخيص:يتصور في تركيب كل شكل ست عشرة صورة، لأن كل واحد من المقدمتين يمكن أن تكون على أربعة أنواع، وأربعة في أربعة ستة عشر ولكن إنما ينتج في الشكل الأول أربع صور، وفي الثاني أربع، وفي الثالث ست صور، ولا ينتج سائر الصور لعدم شروط الإنتاج فيها.
- الضرب الثاني: الشرطي المتصل، ويسميه الفقهاء التلازم، وهو مركب من مقدمتين:
الأولى منهما مركبة من قضيتين، قرن إحداهما بحرف شرط، وتسمى المقدمة الأخرى إجزاء الشرط، وتسمى التالي، وقد يسمى المقدم باللزوم والتالي باللازم.
المقدمة الثانية من قضية واحدة قرن بها حرف استثناء على اصطلاح أهل المنطق مثل "لكن" أو لم يقرن، ويكون الكلام في معناه.
--------------------------------------------
তৃতীয় প্রকার (الشكل الثالث): মধ্যম পদটি (الحد الأوسط) উভয় প্রাঙ্গণে উদ্দেশ্য হিসেবে থাকবে, ফকীহগণ একে "খণ্ডন (النقض)" নামে অভিহিত করেন। এর ফলাফল লাভের জন্য শর্ত হলো ক্ষুদ্রতর প্রাঙ্গণটি (المقدمة الصغرى) সদর্থক (موجبة) হতে হবে এবং যেকোনো একটি প্রাঙ্গণ সার্বিক (كلية) হতে হবে।
এর উদাহরণ হলো আমাদের কথা: প্রতিটি গম হলো খাদ্যদ্রব্য, এবং প্রতিটি গম হলো সুদযুক্ত পণ্য, অতএব কিছু খাদ্যদ্রব্য হলো সুদযুক্ত (১)।
তিনটি সতর্কতা:- প্রথমত: যখন দলীলে (البرهان) কোনো নঞর্থক (سالبة), বিশেষ (جزئية) অথবা ধারণানির্ভর (مظنونة) প্রাঙ্গণ থাকবে, তখন ফলাফলও তদ্রূপ হবে; কারণ ফলাফল সর্বদা নিম্নতর প্রাঙ্গণকে অনুসরণ করে, উচ্চতরটিকে নয়।
- দ্বিতীয়ত: তিনটি প্রকারই এ বিষয়ে একমত যে, যদি উভয় প্রাঙ্গণই নঞর্থক (سالبة) অথবা বিশেষ (جزئية) হয়, তবে তা কোনো ফলাফল দেবে না।
- তৃতীয়ত: তৃতীয় প্রকারের ফলাফল কেবল নঞর্থক (سالبة) হয় না এবং তৃতীয় প্রকারের ফলাফল কেবল বিশেষ (جزئية) হয়। পক্ষান্তরে, প্রথম প্রকারের ফলাফল সদর্থক (موجبة) বা নঞর্থক (سالبة), এবং সার্বিক (كلية) বা বিশেষ (جزئية) হতে পারে।
সারসংক্ষেপ:প্রতিটি প্রকারের বিন্যাসে ষোলোটি সুরত (صورة) কল্পনা করা যায়, কারণ দুটি প্রাঙ্গণের প্রতিটিই চার প্রকারের হতে পারে, আর চার গুণ চার সমান ষোলো। কিন্তু কেবল প্রথম প্রকারে চারটি সুরত, দ্বিতীয়টিতে চারটি এবং তৃতীয়টিতে ছয়টি সুরত ফলাফল দেয়। বাকি সুরতগুলো ফলাফল প্রদানের শর্তাবলি না থাকায় কোনো ফল দেয় না।
- দ্বিতীয় পদ্ধতি (الضرب الثاني): শর্তযুক্ত অবিচ্ছিন্ন (الشرطي المتصل), ফকীহগণ একে অবিচ্ছেদ্যতা (التلازم) বলেন; এটি দুটি প্রাঙ্গণ দ্বারা গঠিত:
তাদের প্রথমটি দুটি বচন দ্বারা গঠিত, যার একটির সাথে শর্তের অব্যয় যুক্ত থাকে এবং অপর প্রাঙ্গণকে শর্তের প্রতিদান বা অনুগামী (التالي) বলা হয়। কখনও কখনও পূর্বগামীকে (المقدم) অপরিহার্যকারী (اللزوم) এবং অনুগামীকে (التالي) অপরিহার্য (اللازم) বলা হয়।
দ্বিতীয় প্রাঙ্গণটি একটি বচন নিয়ে গঠিত যার সাথে منطিকবিদদের (أهل المنطق) পরিভাষায় কোনো ব্যতিরেকী অব্যয় যুক্ত থাকে যেমন- "কিন্তু" (لكن), অথবা যুক্ত থাকে না তবে বাক্যটি সেই অর্থই প্রকাশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
وتشتمل هذه المقدمة الثانية على ذكر إحدى القضيتين المتقدمتين تسليمًا إما بالنفي أو بالإثبات حتى ينتج إحدى القضيتين أو نقيضها.
مثال ذلك: إن كان الوتر يُؤَدِّي على الراحلة، فهو نافلة، ومعلوم أنه يؤدي على الراحلة، فهو نافلة.
وهذا الضرب قسمان:
- أحدهما: أن يكون اللازم أعم من الملزوم، فينتج على وجهين:
أحدهما: أن يكون الاستثناء عين المقدم، كقولنا: إن كانت الصلاة صحيحة فالمصلي متطهر.
وأخرى: أن يكون الاستثناء نقيض التالي كقولنا: لكنه غير متطهر فالصلاة غير صحيحة، ولا ينتج استثناء نقيض المقدم وعين التالي.
- القسم الثاني: أن يكونا متساويين، فحينئذٍ ينتج على أربعة أوجه كقولنا: إن كانت الشمس طالعة فالنهار موجود، وذلك لأن المتساويين يلزم من إثبات كل واحد منهما إثبات الآخر، ومن نفي كل واحد منهما نفي الآخر، بخلاف الأعم والأخص، فإنه لا يلزم من نفي الأخص نفي الأعم ولا من إثبات الأخص، فلذلك يبطل من إنتاجها وجهان (1).
- الضرب الثالث: الشرطي المنفصل.
ويسميه المتكلمون السبر والتقسيم، ويسميه بعض الفقهاء نمط التعاند، وهو مركب من مقدمتين فأكثر يقترن بالأولى حرف منهما معاندة، بالثانية حرف استثناء أو معناه، ومثاله:
قولنا: هذا العدد إما زوج وإما فرد، ولكنه زوج فليس بفرد، وإنتاجه على أربعة أوجه: مثال الأول: ما ذكرنا، ومثال الثاني: لكنه فرد فليس بزوج، ومثال الثالث: لكنه ليس بزوج فهو فرد، ومثال الرابع: لكنه ليس بفرد فهو زوج، وذلك أنهما قسمان متناقضان، فينتج إثبات كل واحد منهما نفي الآخر، ونفي كل واحد منهما إثبات الآخر، فتلك أربعة أوجه.
--------------------------------------------
এই দ্বিতীয় প্রস্তাবনাটি (المقدمة) পূর্ববর্তী দুটি প্রতিজ্ঞার (القضيتين) কোনো একটিকে স্বীকৃতি প্রদানের (تسليمًا) মাধ্যমে উল্লেখ করার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে, হয় নেতিবাচকভাবে (بالنفي) অথবা ইতিবাচকভাবে (بالإثبات), যাতে এর ফলে দুটি প্রতিজ্ঞার একটি অথবা তার বিপরীতটি (نقيضها) সাব্যস্ত হয়।
এর উদাহরণ: যদি বিতর বাহনের পিঠে আদায় করা হয়, তবে তা নফল (نافلة); আর এটি বিদিত যে তা বাহনের পিঠে আদায় করা হয়, সুতরাং তা নফল (نافلة)।
আর এই প্রকারটি (الضرب) দুই ভাগে বিভক্ত:
- প্রথমটি: অপরিহার্য বিষয়টি (اللازم) যেন যার জন্য অপরিহার্য (الملزوم) তার চেয়ে অধিক ব্যাপক (أعم) হয়; এমতাবস্থায় তা দুটি পদ্ধতিতে (وجهين) ফলাফল প্রদান করে:
একটি হলো: অনুসিদ্ধান্তটি (الاستثناء) প্রথম প্রস্তাবনার (المقدم) হুবহু অনুরূপ (عين) হওয়া। যেমন আমাদের কথা: যদি সালাত সঠিক (صحيحة) হয়, তবে সালাত আদায়কারী পবিত্র (متطهر)।
অন্যটি হলো: অনুসিদ্ধান্তটি (الاستثناء) পরবর্তী অংশের (التالي) বিপরীত (نقيض) হওয়া। যেমন আমাদের কথা: কিন্তু তিনি পবিত্র (غير متطهر) নন, অতএব সালাত সঠিক (غير صحيحة) নয়। তবে প্রথম প্রস্তাবনার বিপরীত (نقيض المقدم) এবং পরবর্তী অংশের অনুরূপ (عين التالي) কোনো ফল প্রদান করে না।
- দ্বিতীয় বিভাগ: উভয়টি সমান (متساويين) হওয়া। এমতাবস্থায় এটি চারটি পদ্ধতিতে (أوجه) ফল প্রদান করে। যেমন আমাদের কথা: যদি সূর্য উদিত হয়, তবে দিন বিদ্যমান। কারণ দুটি সমান (متساويين) বিষয়ের ক্ষেত্রে একটির ইতিবাচক প্রমাণের (إثبات) মাধ্যমে অন্যটির ইতিবাচক প্রমাণ (إثبات) হওয়া অপরিহার্য হয় এবং একটির নেতিবাচক প্রমাণের (نفي) মাধ্যমে অন্যটির নেতিবাচক প্রমাণ (نفي) হওয়া অপরিহার্য হয়। পক্ষান্তরে অধিক ব্যাপক (الأعم) ও অধিক সংকীর্ণ (الأخص) বিষয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; কেননা অধিক সংকীর্ণের নেতিবাচক প্রমাণের (نفي) মাধ্যমে অধিক ব্যাপকের নেতিবাচক প্রমাণ (نفي) হওয়া অপরিহার্য নয় এবং অধিক সংকীর্ণের ইতিবাচক প্রমাণের (إثبات) মাধ্যমেও তা হয় না। এই কারণে এর ফলাফল প্রদানের ক্ষেত্র থেকে দুটি পদ্ধতি বাতিল হয়ে যায় (১)।
- তৃতীয় প্রকার (الضرب): বিয়োজক শর্তসাপেক্ষ বাক্য (الشرطي المنفصل)।
ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদগণ (المتكلمون) একে 'পর্যবেক্ষণ ও বিভাজন' (السبر والتقسيم) নামে অভিহিত করেন এবং কোনো কোনো ফকিহ একে 'পারস্পরিক বিরোধিতার ধরন' (نمط التعاند) বলেন। এটি দুই বা ততোধিক প্রস্তাবনার সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে প্রথমটির সাথে একটি বিরোধিতার (معاندة) হরফ যুক্ত থাকে এবং দ্বিতীয়টির সাথে একটি ব্যতিক্রমসূচক (استثناء) হরফ বা তার সমার্থক শব্দ যুক্ত থাকে। এর উদাহরণ:
আমাদের কথা: এই সংখ্যাটি হয় জোড় নতুবা বিজোড়; কিন্তু এটি জোড়, সুতরাং এটি বিজোড় নয়। এর ফলাফল প্রদানের পদ্ধতি চারটি: প্রথমটির উদাহরণ হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি। দ্বিতীয়টির উদাহরণ: কিন্তু এটি বিজোড়, সুতরাং এটি জোড় নয়। তৃতীয়টির উদাহরণ: কিন্তু এটি জোড় নয়, সুতরাং এটি বিজোড়। চতুর্থটির উদাহরণ: কিন্তু এটি বিজোড় নয়, সুতরাং এটি জোড়। এর কারণ হলো যে, এই দুটি অংশ পরস্পর বিপরীত (متناقضان), ফলে এদের প্রত্যেকটির ইতিবাচক প্রমাণ (إثبات) অন্যটির নেতিবাচক প্রমাণ (نفي) প্রদান করে এবং প্রত্যেকটির নেতিবাচক প্রমাণ (نفي) অন্যটির ইতিবাচক প্রমাণ (إثبات) প্রদান করে। সুতরাং এগুলো হলো চারটি পদ্ধতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
ولا يشترط أن تنحصر القضية في قسمين، فقد تكون ثلاثة وأكثر، ويشترط أن يستوي جميعها، كقولنا: العدد إما متساو أو أقل أو أكثر، ومثاله في الفقه إما واجب أو مندوب أو حرام أو مكروه أو مباح، فإثبات واحد من الأقسام يقتضي نفي ما عداه (1).
تكميل:إذا لم يقم دليل على قضية، فقد استدل على إثباتها ببطلان نقيضها أو يستدل على بطلانها بإثبات نقيضها.
والقضيتان المتناقضتان هما اللذان إذا صدقت إحداهما كذبت الأخرى وبالعكس، ويشترط أن يكون المحكوم في القضيتين واحدًا وأن يكون الحكم واحدًا، وحينئذ يصدق الحكم على النقيض.
--------------------------------------------
এটি আবশ্যক নয় যে বিষয়টি (قضية) কেবল দুটি ভাগে সীমাবদ্ধ থাকবে, বরং তা তিনটি বা তার বেশিও হতে পারে। তবে শর্ত হলো যে সবকটি ভাগ যেন সমান হয়; যেমন আমাদের কথা: সংখ্যা হয় সমান হবে, না হয় কম হবে অথবা বেশি হবে। ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: হয় ওয়াজিব (واجب), মানদুব (مندوب), হারাম (حرام), মাকরূহ (مكروه) অথবা মুবাহ (مباح)। সুতরাং কোনো একটি ভাগের উপস্থিতি অন্যগুলোর অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে (১)।
পরিপূরক (تكميل):যদি কোনো বিষয়ের (قضية) পক্ষে কোনো দলিল (دليل) প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে তার বিপরীত (نقيض) বিষয়ের অসারতা দ্বারা সেটি প্রমাণের দলিল পেশ করা হয় অথবা তার বিপরীতের (نقيض) প্রমাণের মাধ্যমে মূল বিষয়ের অসারতার দলিল পেশ করা হয়।
আর পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয় (قضيتان متناقضتان) হলো এমন যা একটি সত্য হলে অন্যটি মিথ্যা হয় এবং এর বিপরীতটাও ঘটে। শর্ত হলো উভয় বিষয়ের ক্ষেত্রে যার ওপর বিধান প্রদান করা হচ্ছে এবং প্রদত্ত বিধান (حكم) যেন এক হয়; আর তখনই বিপরীতটির ক্ষেত্রে বিধানটি (حكم) প্রযোজ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
الفن الثاني من علم الأصول في المعارف اللغويةوهي عشرة أبواب:
الباب الأول: في الوضع والاستعمال والحمل- أما الوضع: فهو جعل اللفظ دليلًا على المعنى، وهو قسمين:
وضع أولي: وهو الذي لم يسبق بوضع آخر ويسمى المرتجل.
ووضع منقول من معنى إلى آخر، وهو على قسمين:
- منقول لعلاقة وهو المجاز.
- ومنقول لغير علاقة، ويختص باسم المنقول كتسمية الولد جعفر والجعفر في اللغة النهر الصغير (1).
- وأما الاستعمال: فهو التكلم باللفظ بعد وضعه وسواء أطلق على معناه الأول أو نقل عنه لعلاقة أو غير علاقة.
- وأما الحمل: فهو اعتقاد السامع لمراد المتكلم من لفظه سواء أصاب مراده أو أخطأه.
فالاستعمال من صفة المتكلم، وهو الحمل من صفة السامع، والوضع متقدم عليها.
فروع ثلاثة:
- الأول: في واضع اللغات، فذهب قوم إلى أنها اصطلاحية، ووضعهما الناس فيما بينهم ليتخاطبوا بها، وذهب قوم إلى أنها توقيفية وضعها اللَّه وعلمها عباده بواسطة الملائكة والأنبياء.
--------------------------------------------
উসুল (মৌলনীতি) শাস্ত্রের দ্বিতীয় শাখা: ভাষাগত জ্ঞান প্রসঙ্গেএটি দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত:
প্রথম অধ্যায়: শব্দ গঠন (وضع), প্রয়োগ (استعمال) এবং অর্থ অনুধাবন (حمل) প্রসঙ্গে- শব্দ গঠন (وضع) প্রসঙ্গে: এটি হলো কোনো শব্দকে অর্থের নির্দেশক হিসেবে সাব্যস্ত করা, আর এটি দুই প্রকার:
প্রাথমিক গঠন (وضع أولي): এটি এমন শব্দ যা ইতিপূর্বে অন্য কোনো অর্থে গঠিত হয়নি এবং একে মৌলিক শব্দ (مرتجل) বলা হয়।
এবং এমন গঠন যা এক অর্থ থেকে অন্য অর্থে স্থানান্তরিত (وضع منقول), এটি দুই প্রকার:
- কোনো সম্পর্কের কারণে স্থানান্তরিত, যা রূপক (مجاز) নামে পরিচিত।
- এবং সম্পর্কহীনভাবে স্থানান্তরিত, যা বিশেষভাবে স্থানান্তরিত (منقول) হিসেবে অভিহিত; যেমন সন্তানের নাম 'জাফর' রাখা, অথচ অভিধানে 'জাফর' অর্থ হলো ছোট নদী (১)।
- আর প্রয়োগ (استعمال) প্রসঙ্গে: এটি হলো শব্দ গঠনের পর তা উচ্চারণ করা, চাই তা তার প্রাথমিক অর্থে ব্যবহৃত হোক অথবা কোনো সম্পর্কের ভিত্তিতে বা সম্পর্কহীনভাবে তা থেকে স্থানান্তরিত করা হোক।
- আর অর্থ অনুধাবন (حمل) প্রসঙ্গে: এটি হলো বক্তার শব্দ থেকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে শ্রোতার ধারণা পোষণ করা, চাই সে সঠিক উদ্দেশ্য ধরতে পারুক বা ভুল করুক।
সুতরাং প্রয়োগ (استعمال) হলো বক্তার বৈশিষ্ট্য, আর অর্থ অনুধাবন (حمل) হলো শ্রোতার বৈশিষ্ট্য; এবং শব্দ গঠন (وضع) এ দুটির পূর্ববর্তী বিষয়।
তিনটি শাখা:
- প্রথমত: ভাষার প্রবর্তক প্রসঙ্গে; একদল মনে করেন যে এটি পারষ্পরিক সমঝোতা (اصطلاحية) ভিত্তিক, যা মানুষ নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়ের জন্য নির্ধারণ করেছে। অন্য একদল মনে করেন যে এটি ঐশীভাবে নির্ধারিত (توقيفية), যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন এবং ফেরেশতা ও নবীদের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের শিক্ষা দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
والأمر في ذلك محتمل ولا تبتغي عليه فائدة (1).
- الفرع الثاني: أجاز مالك والشافعي استعمال اللفظ الواحد في معنيين فأكثر في حالة واحدة، ومنعه قوم، وذلك كالمشترك، يطلق على معنيين، وكالحقيقة والمجاز يجمع بينهما في اللفظ، ومنه قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ} [الأحزاب: الآية 56]، لأن الصلاة من اللَّه الرحمة، ومن الملائكة الدعاء، وقد استعمل في المعنيين معًا (2).
- الفرع الثالث: إذا ورد اللفظ المشترك بقرينة، حمل على المعنى الذي تدل عليه القرينة، وإن ورد مجردًا عن القرائن، توقف فيه، فلم يتصرف فيه إلا بدليل.
وقال الشافعي يحمل على جميع محتملاته احتياط والفرق بين هذه الفروع أن الأول في الوضع والثاني في الاستعمال، والثالث في الحمل.
الباب الثاني: في الحقيقة والمجازوفيه فصلان:
الفصل الأول: ففي حدهماأما الحقيقة: فهي اللفظ المستعمل في معناه.
والمجاز: هو اللفظ المستعمل في غير معناه لعلاقة بينهما.
والمراد بالمعنى هنا: هو ما يعنيه العرف الذي وقع التخاطب، وذلك أن الاستعمال على ثلاثة أضرب: لغوي، وشرعي، وعرفي.
واللفظ يكون حقيقة في أحدهما مجازًا في الآخر، وهو تصيير الحقيقة مجازًا، والمجاز حقيقة باختلاف الاستعمال، ألا ترى أن الدابة في اللغة حقيقة في كل حيوان، وفي العرف أهل مصر حقيقة في الحمار لا غير، وفي عرف أهل المغرب حقيقة في المركوبات كلها، وهي مجاز بالنظر إلى كل استعمال منها إذا أطلقت على سواه.
--------------------------------------------
এ বিষয়টি সম্ভাব্য (محتمل) এবং এর পেছনে কোনো ফায়দা অন্বেষণ করা নিষ্প্রয়োজন (১)।
- দ্বিতীয় শাখা: ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ী একই অবস্থায় একটি শব্দকে দুই বা ততোধিক অর্থে ব্যবহার করা বৈধ বলেছেন, তবে একদল তা নিষেধ করেছেন। এটি যেমন বহু অর্থবোধক (مشترك) শব্দের ক্ষেত্রে হয়, যা দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার যেমন প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز) অর্থ, শব্দে এই উভয়কে সমন্বয় করা হয়। মহান আল্লাহর বাণী এর উদাহরণ: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পেশ করেন} [আল-আহযাব: আয়াত ৫৬], কারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো রহমত এবং ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে হলো দোয়া (دعاء)। এখানে শব্দটি উভয় অর্থেই একসাথে ব্যবহৃত হয়েছে (২)।
- তৃতীয় শাখা: যদি বহু অর্থবোধক (مشترك) শব্দটি কোনো অনুষঙ্গ (قرينة) সহকারে বর্ণিত হয়, তবে তাকে সেই অর্থের ওপর প্রয়োগ (حمل) করা হবে যা অনুষঙ্গটি (قرينة) নির্দেশ করে। আর যদি কোনো অনুষঙ্গ (قرينة) ছাড়াই বর্ণিত হয়, তবে সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থগিত (توقف) রাখা হবে; ফলে কোনো প্রমাণ ব্যতীত সেখানে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
ইমাম শাফেয়ী বলেছেন, সতর্কতাবশত (احتياط) শব্দটিকে তার সকল সম্ভাব্য (محتملات) অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হবে। এই শাখাগুলোর মধ্যে পার্থক্য হলো—প্রথমটি শব্দ গঠন (وضع) সংক্রান্ত, দ্বিতীয়টি ব্যবহার (استعمال) সংক্রান্ত এবং তৃতীয়টি প্রয়োগ (حمل) সংক্রান্ত।
দ্বিতীয় অধ্যায়: প্রকৃত (حقيقة) ও রূপক (مجاز) প্রসঙ্গেএতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: উভয়ের সংজ্ঞার বিবরণেপ্রকৃত (حقيقة): এটি হলো এমন শব্দ যা তার নিজ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
রূপক (مجاز): এটি হলো এমন শব্দ যা উভয়ের মাঝে কোনো সম্পর্কের (علاقة) কারণে নিজ অর্থ ছাড়া অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আর এখানে অর্থ বলতে সেই প্রচলিত প্রথা (عرف) উদ্দেশ্য যার মাধ্যমে কথোপকথন সম্পন্ন হয়। কারণ ব্যবহার (استعمال) তিন প্রকার: আভিধানিক (لغوي), শারয়ি (شرعي) এবং প্রথাগত (عرفي)।
একটি শব্দ এক ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة) হলে অন্য ক্ষেত্রে রূপক (مجاز) হতে পারে। ব্যবহারের ভিন্নতার কারণে প্রকৃত (حقيقة) শব্দ রূপক (مجاز) হয়ে যায় এবং রূপক (مجاز) শব্দ প্রকৃত (حقيقة) হয়ে যায়। আপনি কি দেখেন না যে, 'দাব্বাহ' (প্রাণী) শব্দটি আভিধানিক দিক থেকে প্রতিটি প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة), কিন্তু মিসরবাসীদের প্রথা (عرف) অনুযায়ী এটি কেবল গাধার ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة), আবার মাগরেববাসীদের প্রথা (عرف) অনুযায়ী এটি সকল প্রকার বাহনের ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة)। যখন এগুলোকে অন্য কোনো অর্থে ব্যবহার করা হয়, তখন প্রতিটি ব্যবহারের সাপেক্ষে সেগুলো রূপক (مجاز) হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
وكذلك الصلاة والزكاة والصيام وغير ذلك من الألفاظ الشرعية، لها معانٍ في اللغة، ومعانٍ في الشرع، وهي بالنظر إلى الشرع حقيقة في المعاني الشرعية مجاز في اللغوية، وهي بالنظر إلى اللغة بعكس ذلك (1).
الفصل الثاني: في أقسام المجازوهو ينقسم قسمين:
مجاز في الإفراد، وهو الأكثر.
ومجاز في التركيب والإسناد، كقوله تعالى: {فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ} [البقرة: الآية 16] لأن الربح في الحقيقة من صفة التاجر لا من صفة التجارة.
وينقسم من طريق علاقته عشرة أقسام:
أولها: مجاز التشبيه، كتسمية الشجاع بالأسد، وتدخل الاستعارة في هذا القسم.
وثانيها: تسمية المجاور باسم مجاوره.
وثالثها: إطلاق اسم الكل على البعض.
ورابعها: إطلاق البعض على الكل.
وخامسها: تسمية السبب باسم المسبب.
وسادسها: تسمية المسبب باسم السبب.
وسابعها: التسمية أو الوصف بما يستقبل.
ثامنها: بما مضى.
وتاسعها: الزيادة في اللفظ.
وعاشرها: النقصان منه (2).
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে সালাত, জাকাত, সিয়াম এবং অন্যান্য শরয়ি পরিভাষাগুলোর আভিধানিক অর্থ ও শরয়ি অর্থ রয়েছে। শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো শরয়ি অর্থের ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة) এবং আভিধানিক অর্থের ক্ষেত্রে রূপক (مجاز)। আবার আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি এর বিপরীত (১)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রূপক (مجاز) এর প্রকারভেদএটি দুই ভাগে বিভক্ত:
একক শব্দে রূপক (مجاز في الإفراد), যা সর্বাধিক প্রচলিত।
এবং বাক্য গঠন ও সম্পর্কের রূপক (مجاز في التركيب والإسناد), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি} [আল-বাকারাহ: আয়াত ১৬]। কারণ লাভ মূলত প্রকৃত অর্থে ব্যবসায়ীর গুণ, ব্যবসার গুণ নয়।
সম্পর্কের (علاقة) দিক থেকে এটি দশটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি: সাদৃশ্যমূলক রূপক (مجاز التشبيه), যেমন সাহসী ব্যক্তিকে সিংহ বলা। রূপক অলঙ্কার (استعارة) এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়টি: নিকটবর্তী কোনো বস্তুর নামে নামকরণ করা।
তৃতীয়টি: পূর্ণের (الكل) নাম আংশিকের (البعض) ওপর প্রয়োগ করা।
চতুর্থটি: আংশিকের (البعض) নাম পূর্ণের (الكل) ওপর প্রয়োগ করা।
পঞ্চমটি: কারণকে (السبب) ফলাফলের (المسبب) নামে নামকরণ করা।
ষষ্ঠটি: ফলাফলকে (المسبب) কারণের (السبب) নামে নামকরণ করা।
সপ্তমটি: ভবিষ্যৎ অবস্থার প্রেক্ষিতে নামকরণ বা গুণ বর্ণনা করা।
অষ্টমটি: অতীত অবস্থার প্রেক্ষিতে।
নবমটি: শব্দে আধিক্য (الزيادة)।
দশমটি: শব্দ থেকে হ্রাস (النقصان) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
الباب الثالث: في العموم والخصوصوفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: في حد العموم وأدواتهأما حده فالعموم وهو: شمول الحكم لكل فرد من أفراد الحقيقة والعام هو: اللفظ الموضوع لمعنى كلي بشرط شمول الحكم لكل فرد من أفراده فهو من الكلية لا من الكل.
وأدوات العموم: كل، وجميع، وأجمع، والجمع إذا كان بالألف واللام سواء كان سالمًا أو متكسرًا، واسم الجمع كذلك والمفرد إذا كان بالألف واللام التي للجنس، والنكرة في سياق النفي، والذي، والتي وتثنيتهما وجمعهما، ومن، وما، وأي، ومتى في الزمان وأين، وحيث في المكان، ومهما (1)، وقال الشافعي: ترك الاستفصال في حكاية الأحوال تقوم مقام العموم في المقال (2)، واختلف في الفعل في سياق النفي (3).
الفصل الثاني: في حد التخصيص وذكر المخصصاتأما التخصيص: فهو إخراج بعض ما يتناوله العموم قبل تقرر حكمه، وتحرزنا بهذا القيد من النسخ، لأنه بحد تقرر الحكم الأول.
- وأما المخصصات للعموم فضربان: متصلة، ومنفصلة.
فالمتصلة: الاستثناء، والشرط، والصفة، والغاية (4).
والمنفصلة: العقل، والحس، ومنطوق الكتاب والسنة، ومفهومهما، وفعل النبي صلى الله عليه وسلم، وإقراره، والإجماع (5)، والقياس على خلاف فيه (6) كل هذه تخصص الكتاب والسنة.
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায়: ব্যাপকতা (عموم) ও বিশেষত্ব (خصوص) প্রসঙ্গেএতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ব্যাপকতা (عموم) এর সংজ্ঞা ও এর শব্দসমূহ (أدوات)এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে, ব্যাপকতা (عموم) হলো: হুকুম বা বিধানটি এর হাকিকত বা বাস্তবতার প্রতিটি সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা। আর সাধারণ শব্দ (عام) হলো: এমন শব্দ যা একটি সামগ্রিক বা সামষ্টিক অর্থের জন্য নির্ধারিত, তবে শর্ত হলো হুকুম বা বিধানটি এর প্রতিটি সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করবে। সুতরাং এটি সামগ্রিকতা (كلية) এর অন্তর্ভুক্ত, সমষ্টি (كل) এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশের শব্দসমূহ (أدوات) হলো: ‘কুল্লুন’ (كل - প্রতিটি), ‘জামিঊন’ (جميع - সকল), ‘আজমাউ’ (أجمع - সমস্ত), এবং বহুবচন যখন তাতে আলিফ ও লাম যুক্ত থাকে—চাই তা অক্ষত বহুবচন (سالم) হোক বা ভগ্ন বহুবচন (متكسر) হোক। একইভাবে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (اسم الجمع) এবং একবচন শব্দ যখন তাতে জাতিবাচক (جنس) আলিফ-লাম যুক্ত থাকে। এছাড়া না-বোধক (نفي) প্রসঙ্গে ব্যবহৃত অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দ; আল-লাজি (الذي), আল-লাতি (التي) এবং এগুলোর দ্বিবচন ও বহুবচন রূপ। আরও রয়েছে ‘মান’ (من), ‘মা’ (ما), ‘আইয়ু’ (أي), সময়ের ক্ষেত্রে ‘মাতা’ (متى), স্থানের ক্ষেত্রে ‘আইনা’ (أين) ও ‘হাইসু’ (حيث), এবং ‘মাহমা’ (مهما) (১)। ইমাম শাফিঈ বলেন: অবস্থার বর্ণনায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা বর্জন করা বক্তব্যের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা (عموم) এর স্থলাভিষিক্ত হয় (২)। না-বোধক (نفي) প্রসঙ্গে ব্যবহৃত ক্রিয়া (فعل) এর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে (৩)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) এর সংজ্ঞা ও এর নির্দিষ্টকারী (مخصصات) বিষয়সমূহের বর্ণনানির্দিষ্টকরণ (تخصيص) হলো: ব্যাপকতা (عموم) এর অন্তর্ভুক্ত কিছু অংশকে তার হুকুম বা বিধান নির্ধারিত হওয়ার আগেই বের করে দেওয়া। এই শর্তের মাধ্যমে আমরা রহিতকরণ (نسخ) থেকে বিরত থেকেছি, কারণ তা প্রথম বিধান নির্ধারিত হওয়ার পর ঘটে থাকে।
- ব্যাপকতা (عموم) কে নির্দিষ্টকারী (مخصصات) বিষয়সমূহ দুই প্রকার: সংলগ্ন (متصلة) ও বিচ্ছিন্ন (منفصلة)।
সংলগ্ন (متصلة) বিষয়গুলো হলো: ব্যতিক্রম (استثناء), শর্ত (شرط), বিশেষণ (صفة) এবং সীমা (غاية) (৪)।
বিচ্ছিন্ন (منفصلة) বিষয়গুলো হলো: বিবেক (عقل), ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতি (حس), কুরআন ও সুন্নাহর উচ্চারিত অর্থ (منطوق), এগুলোর অন্তর্নিহিত অর্থ (مفهوم), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কর্ম, তাঁর মৌন সম্মতি (إقرار), ঐক্যমত (إجماع) এবং কিয়াস (قياس)—যদিও কিয়াসের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে (৬)। এই সবগুলো বিষয়ই কুরআন ও সুন্নাহর ব্যাপকতাকে নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাকরিবুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
ولا يخصص العموم وروده على سبب خاص خلافًا للشافعي (1)، ولا يخصصه العرف والعادة على خلاف ذلك (2)، ولا مخالفة راويه له (3) ولا عطفه على خاص، ولا عطف خاص عليه (4).
الفصل الثالث: في مسائل متفرقة- الأولى: مذهب مالك والقاضي أبي بكر بن الطيب، أن أقل الجمع اثنان، ومذهب الشافعي وأبي حنيفة وغيرهما أن أقل الجمع ثلاثة (5).
- المسألة الثانية: يتدرج العبيد في خطاب الناس (6)، ويندرج النساء في خطاب الرجال لاستوائهم في الأحكام إلا ما خصصه الدليل (7).
- المسألة الثالثة: يجوز التخصيص حتى لا يبقى من العموم إلا واحد.
- المسألة الرابعة: إذا خص العام، بقي حجة بعد التخصيص.
- المسألة الخامسة: إذا ورد الاستثناء أو الشرط أو الغاية بعد أشياء فمذهب مالك: أنه يرجع إلى جميعها، ومذهب أبي حنيفة أنه يرجع إلى الأخير خاصة.
تقسيم: الألفاظ أربعة أقسام:عام أريد به العموم نحو: كل مسكر حرام، وخاص أريد به الخصوص كقوله صلى الله عليه وسلم في الذهب والحرير: "هَذَانِ مُحَرَّمَانِ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِي" (8) وعام أريد به الخصوص كقوله تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا} [النور: الآية 2]، فإنه يراد به غير المحصن، وخاص أريد به العموم كقوله تعالى: {فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ} [الإسراء: الآية 23] فإن المراد النهي عن أنواع العقوق كلها (9).
--------------------------------------------
সাধারণ অর্থকে (العموم) নির্দিষ্ট কোনো প্রেক্ষাপটের (سبب خاص) কারণে সীমিত করা যাবে না, যা ইমাম শাফেয়ীর মতের পরিপন্থী (১)। আর প্রচলিত প্রথা ও অভ্যাস (العرف والعادة) এর বিপরীতে একে সীমিত করবে না (২), এমনকি বর্ণনাকারীর (راوي) তার নিজ বর্ণনার বিপরীত আমল করাও একে সীমিত করবে না (৩)। কোনো বিশেষ শব্দের (خاص) ওপর একে সংযোজন করা অথবা এর ওপর কোনো বিশেষ শব্দকে সংযোজন করাও একে সীমিত করবে না (৪)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিবিধ মাসআলা প্রসঙ্গে- প্রথম মাসআলা: ইমাম মালেক এবং কাজী আবু বকর বিন আল-তাইয়িবের মাযহাব হলো, বহুবচনের (الجمع) সর্বনিম্ন সংখ্যা দুই। আর ইমাম শাফেয়ী, আবু হানিফা এবং অন্যদের মাযহাব হলো, বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা তিন (৫)।
- দ্বিতীয় মাসআলা: সাধারণ মানুষের প্রতি সম্বোধনে দাসগণ অন্তর্ভুক্ত হবে (৬), এবং পুরুষদের প্রতি সম্বোধনে নারীরাও অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে তারা সমান, তবে যা দলিল (الدليل) দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছে তা ব্যতীত (৭)।
- তৃতীয় মাসআলা: বিশেষায়ন (التخصيص) করা জায়েজ, এমনকি সাধারণ অর্থের (العموم) অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে মাত্র একটি অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত।
- চতুর্থ মাসআলা: যখন কোনো সাধারণ শব্দকে (العام) বিশেষায়িত করা হয়, তখন বিশেষায়নের (التخصيص) পরেও তা প্রমাণ (حجة) হিসেবে বহাল থাকে।
- পঞ্চম মাসআলা: যখন একাধিক বিষয়ের পর কোনো ব্যতিক্রম (الاستثناء), শর্ত (الشرط) অথবা সীমা (الغاية) উল্লেখ করা হয়, তখন ইমাম মালেকের মাযহাব হলো—তা পূর্ববর্তী সকল বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে; আর ইমাম আবু হানিফার মাযহাব হলো—তা কেবল সর্বশেষ বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
প্রকারভেদ: শব্দাবলি চার প্রকার:১. সাধারণ শব্দ যা দ্বারা ব্যাপক অর্থই (العموم) উদ্দেশ্য, যেমন: 'প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম'। ২. বিশেষ শব্দ যা দ্বারা নির্দিষ্ট অর্থই (الخصوص) উদ্দেশ্য, যেমন সোনা ও রেশম সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "এই দুটি বস্তু আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম" (৮)। ৩. সাধারণ শব্দ যা দ্বারা নির্দিষ্ট অর্থ (الخصوص) উদ্দেশ্য, যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে বেত্রাঘাত করো} [আন-নূর: ২], এখানে কেবল অবিবাহিতদের (غير المحصن) উদ্দেশ্য করা হয়েছে। ৪. বিশেষ শব্দ যা দ্বারা ব্যাপক অর্থ (العموم) উদ্দেশ্য, যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী: {তাদের প্রতি 'উফ' বলো না} [আল-ইসরা: ২৩], কারণ এখানে সব ধরণের অবাধ্যতা ও কষ্ট প্রদান নিষেধ করাই উদ্দেশ্য (৯)।
--------------------------------------------