(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: -)
الحدود في الأصول   (أبو الوليد الباجي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الحدود في الأصول (مطبوع مع: الإشارة في أصول الفقه)

المؤلف: أبو الوليد سليمان بن خلف بن سعد بن أيوب الباجي الذهبي المالكي (ت 474 هـ)

المحقق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 126

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 صفر 1437

আল-হুদুদ ফিল উসুল   (আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


গ্রন্থ: আল-হুদুদ ফিল উসুল (একত্রে মুদ্রিত: আল-ইশারা ফি উসুলিল ফিকহ)

লেখক: আবু আল-ওয়ালিদ সুলায়মান বিন খালাফ বিন সাদ বিন আইয়ুব আল-বাজি আদ-দাহাবি আল-মালিকি (মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল

প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতা আন-নুসসাখ দল (মারকাজ আল-নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ-এর তত্ত্বাবধানে)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৮৯)
الْحُدُود فِي الْأُصُولِ

 

تأليف

القَاضِي أبي الْوَلِيد سُلَيْمَان بن خَلَف بن سَعد بن أَيُّوب الْبَاجِيّ الذَّهَبِيّ الْمَالِكِي

الْمُتَوفَّى سنة 474 هـ
আল-হুদুদ ফিল উসুল

 

গ্রন্থকার

আল-কাদি আবু আল-ওয়ালিদ সুলায়মান বিন খালাফ বিন সাদ বিন আইয়ুব আল-বাজি আদ-দাহাবি আল-মালিকি

মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

المقدمة

أما ترجمة المصنّف أبي الوليد الباجي المتوفّى سنة 474 هـ، فتقدمت في كتاب الإشارة، ولقد استعنّا بفضل الواحد الأحد الفرد الصمد في تحقيق هذا الكتاب على نسخة مكتبة الأسكوريال - مدريد، تحت رقم [1514/ 4] وتقع في [22/ ق] ويوجد بها خرم بمقدار سطر تقريبًا نبّهنا عليه في الهامش.

وليعذرنا طَلَبَة العلم على هذا الجهد القليل الضعيف الحقير.

طالب العلم/ محمد فارس
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

ভূমিকা

গ্রন্থকার আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি (মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি)-এর জীবনী (ترجمة) ‘কিতাবুল ইশারা’ গ্রন্থে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আমরা এক, অদ্বিতীয় ও চিরন্তন মুখাপেক্ষীহীন মহান আল্লাহর অনুগ্রহে মাদ্রিদের এস্কোরিয়াল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত [১৫১৪/৪] নম্বরযুক্ত পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এই গ্রন্থটির সম্পাদনা (تحقيق) সম্পন্ন করেছি। এই পাণ্ডুলিপিটি [২২/পৃষ্ঠা] সম্বলিত এবং এতে প্রায় এক লাইনের মতো একটি বিচ্যুতি বা শূন্যস্থান রয়েছে, যা আমরা পাদটীকায় নির্দেশ করেছি।

জ্ঞানান্বেষীগণ যেন আমাদের এই সামান্য, দুর্বল (ضعيف) ও নগণ্য প্রচেষ্টাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন।

জ্ঞানান্বেষী/ মুহাম্মদ ফারিস
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯৩)
ل /أ / الورقة الأولى نسخة الأسكوريال
ল / অ / প্রথম পাতা এস্কোরিয়াল পাণ্ডুলিপি
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯৪)
اللوحة الأخيرة من نسخة الأسكوريال
এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ ফলক।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى اللَّه على محمد وعلى آله وسلم

قال القاضي أبو الوليد سليمان بن خلف الباجي رضي الله عنه:

 

‌‌الحد: هو اللفظ الجامع المانع (1).

معنى الحدّ ما يتميز به المحدود ويشتمل على جميعه، وذلك يقتضي أنه يمنع مشاركته لغيره في الخروج عن الحدّ، ومشاركة غيره له في تناول الحدّ له.

وأصل الحدّ في كلام العرب المنع. قال اللَّه تبارك وتعالى {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا} [البقرة: الآية 229]. ومنه سُمِّي السجَّان حدَّادًا لمنعه من يُسجن من الخروج والتصرف.

فلما كان في الحدّ ما قدمناه من المنع، صحّ أن يوصف بالحدّ. وهذه العبارة من قولنا "اللفظ الجامع المانع" يتناول الحدَّ وحدَّ الحدِّ وحدَّ حدِّ الحدِّ إلى ما لا نهاية له؛ لأن اسم الحد واقع على جميعها.

 

‌‌العلم: معرفة المعلوم على ما هو به (2).

لو اقتصرنا من هذا اللفظ على قولنا "العلم المعرفة" لأجزى ذلك، ولم ينتقض طردًا ولا عكسًا، لكنَّا زدنا باقي الألفاظ على وجه البيان لمخالفه من خالف في ذلك.

وقد ترد ألفاظ الحد لدفع النقض، وترد للبيان في موضع الخلاف. وإنما قلنا "المعلوم" ليدخل تحته المعلوم المعدوم والموجود. ولا يصح أن يقال "إنه معرفة الشيء على ما هو به" على قولنا إن المعدوم ليس بشيء، لأن ذلك كان يخرج المعلوم المعدوم عما حددناه، ويوجب ذلك بطلان الحد لقولنا وقول أكثر الأمة إن المعدوم يصح أن يعلم.

--------------------------------------------

(1) التعريفات ص 73.

(2) التعريفات ص 135.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আল-কাজী আবুল ওয়ালিদ সুলায়মান ইবনে খালাফ আল-বাজি (রা.) বলেন:

 

‌‌সংজ্ঞা (الحد): তা হলো একটি ব্যাপক ও বর্জনকারী (الجامع المانع) শব্দ (১)।

সংজ্ঞার (الحد) অর্থ হলো যার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত বস্তু (المحدود) পৃথক হয় এবং যা তার সমুদয় অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর এটি দাবি করে যে, তা সংজ্ঞায়িত বস্তুটিকে সংজ্ঞার (الحد) বাইরে চলে যেতে বাধা প্রদান করে এবং অন্য কোনো কিছুকে উক্ত সংজ্ঞার (الحد) অন্তর্ভুক্ত হতে বাধা দেয়।

আরবি ভাষায় সংজ্ঞার (الحد) মূল অর্থ হলো বাধা প্রদান করা (المنع)। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {এগুলো আল্লাহর সীমারেখা (حدود الله), সুতরাং তোমরা এগুলো লঙ্ঘন করো না} [সুরা বাকারা: আয়াত ২২৯]। এর থেকেই কারারক্ষীকে ‘হাদ্দাদ’ বলা হয়, কারণ সে বন্দিকে বাইরে বের হওয়া এবং চলাফেরা করা থেকে বাধা প্রদান করে।

যেহেতু সংজ্ঞার (الحد) মধ্যে আমাদের উল্লিখিত বাধা প্রদানের (المنع) বিষয়টি বিদ্যমান, তাই একে সংজ্ঞা (الحد) হিসেবে অভিহিত করা সঠিক হয়েছে। আমাদের উক্তি "ব্যাপক ও বর্জনকারী (الجامع المانع) শব্দ"—এই পরিভাষাটি সংজ্ঞা (الحد), সংজ্ঞার সংজ্ঞা এবং সংজ্ঞার সংজ্ঞার সংজ্ঞা থেকে নিয়ে অসীম পর্যন্ত সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ সংজ্ঞা (الحد) নামটি এই সবগুলোর ওপরই প্রযোজ্য।

 

‌‌জ্ঞান (العلم): জ্ঞাত বিষয়কে (المعلوم) তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী জানা (معرفة) (২)।

যদি আমরা এই শব্দের ক্ষেত্রে শুধু আমাদের এই কথা "জ্ঞান (العلم) হলো জানা (المعرفة)"-এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকতাম, তবে তা যথেষ্ট হতো এবং তা অনুবর্তিতা (طردًا) বা ব্যতিরেক (عكسًا) কোনো দিক থেকেই অসার হতো না। কিন্তু আমরা অবশিষ্ট শব্দগুলো ব্যাখ্যা হিসেবে যুক্ত করেছি তাদের বিরোধিতার কারণে যারা এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

কখনো সংজ্ঞার (الحد) শব্দগুলো আপত্তি (النقض) খণ্ডনের জন্য আসে, আবার কখনো মতপার্থক্যের স্থলে ব্যাখ্যার জন্য আসে। আমরা কেবল "জ্ঞাত বস্তু (المعلوم)" বলেছি যাতে এর অন্তর্ভুক্ত হয় অবিদ্যমান জ্ঞাত বস্তু (المعدوم) এবং বিদ্যমান জ্ঞাত বস্তু (الموجود)। আমাদের এই মত অনুযায়ী—যে ‘অবিদ্যমান বস্তু (المعدوم) কোনো বস্তু (الشيء) নয়’—এ কথা বলা সঠিক হবে না যে "তা হলো কোনো বস্তুকে (الشيء) তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী জানা (معرفة)"; কারণ এটি আমাদের সংজ্ঞায়িত করা ‘অবিদ্যমান জ্ঞাত বস্তু’কে সংজ্ঞার বাইরে বের করে দিত। আর এটি সংজ্ঞার (الحد) অসারতা আবশ্যক করত, কারণ আমাদের এবং উম্মাহর অধিকাংশের মতে ‘অবিদ্যমান বিষয়’ সম্পর্কে জ্ঞান (العلم) থাকা সম্ভব।

--------------------------------------------

(১) আত-তারিফাত, পৃষ্ঠা ৭৩।

(২) আত-তারিফাত, পৃষ্ঠা ১৩৫।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯৬)
بل نعلم ذلك من أنفسنا ضرورة إن علومنا تتعلق بما عُدم من غزوة بدر واحد، وظهور النبي صلى الله عليه وسلم وكثير من الصحابة رضي الله عنهم ممن وقع لنا العلم به من جهة الخبر المتواتر.

وإنما قلنا "على ما هو به" ولم نقل على صفته، لأن ما يحتمل الصفة لا يكون إلا موجودًا، فكان ذلك أَيضًا يخرج المعدوم عن أن يكون معلومًا.

وإنما قلنا "معرفة المعلوم على ما هو به" ولم نقل اعتقاده على ما هو به، لأن الاعتقاد ليس بعلم، ولا من جنسه، ولذلك نجد كثيرًا من أهل الكفر والضلال يعتقدون الشيء على خلاف ما هو عليه من الإلحاد والاتحاد والتثليث، وليس شيء من ذلك يعلم، لأن العلم لا يتعلق بالمعلوم إلا على ما هو به، والاعتقاد يتعلق بالمُعْتَقَدِ على ما هو به وعلى ضد ذلك وخلافه. واللَّه أعلم.

 

‌‌العلم الضروري: ما لزم نفس المخلوق لزومًا لا يمكنه الانفكاك منه ولا الخروج عنه.

وصفُ هذا العلم بأنه ضروري معناه أنه يوجد بالعالِمِ دون اختياره ولا قصده.

ويوصف الإنسان بأنه مضطر إلى الشيء على وجهين:

أحدهما: أن يوجد به دون قصده. كما يوجد به العمى والخرس والصحة والمرض وسائر المعاني الموجودة به وليست بموقوفة على اختياره وقصده.

والثاني: ما يوجد به بقصده، وإن لم يكن مختارًا له، من قولهم اضطر فلان إلى أكل الميتة وإلى تكفف الناس. وإن كان الأكل إنما يوجد به بقصده.

ووصفنا للعلم بأنه "ضروري" من القسم الأول، لأن وجوده بالعالِمِ ليس بموقوف على قصده.

وقلنا في الحد "ما لزم نفس المخلوق" احترازًا من علم الباري تعالى، فإنَّه ليس بضرورة.

والعلم الضروري يقع من ستة أوجه: الحواس الخمس. وهي حاسة البصر وحاسة السمع وحاسة الشم وحاسة الذوق وحاسة اللمس.

والحاسة على الحقيقة التي يتعلق بها وقوع هذا العلم إنما هو المعنى الموجود بهذه الأجسام دون الأجساد.
আমরা বরং আমাদের নিজেদের সত্তা থেকেই আবশ্যিকভাবে (ضرورة) এটি জানি যে, আমাদের জ্ঞানসমূহ বদর ও উহুদ যুদ্ধের ন্যায় অতীত বিষয় এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও বহু সাহাবীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আবির্ভাবের সাথে সম্পৃক্ত, যাদের ব্যাপারে আমাদের জ্ঞান মুতাওয়াতির সংবাদ (الخبر المتواتر)-এর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।

আমরা বলেছি "তা যেভাবে আছে সেভাবেই", এবং "তার গুণ অনুযায়ী" বলিনি। কারণ যা গুণ গ্রহণের যোগ্যতা রাখে তা কেবল বিদ্যমান সত্তাই হতে পারে। ফলে এই উক্তিটি কোনো অবিদ্যমান বিষয়কে জ্ঞাত হওয়ার গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।

আর আমরা বলেছি "জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী জানা", "তার স্বরূপ অনুযায়ী বিশ্বাস করা" বলিনি। কেননা বিশ্বাস (الاعتقاد) কোনো জ্ঞান নয় এবং জ্ঞানের সমগোত্রীয়ও নয়। এই কারণেই আমরা কুফর ও গোমরাহীর অনুসারীদের অনেককে ইলাহাদ (নাস্তিকতা), ইত্তিহাদ (সর্বেশ্বরবাদ) এবং ত্রিত্ববাদের ন্যায় বিভিন্ন বিষয়ে তাদের প্রকৃত স্বরূপের বিপরীতে বিশ্বাস (الاعتقاد) পোষণ করতে দেখি। আর এসবের কোনোটিকেই জ্ঞান বলা হয় না। কেননা জ্ঞান জ্ঞাত বিষয়ের সাথে কেবল তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ীই সম্পৃক্ত হয়। পক্ষান্তরে বিশ্বাস (الاعتقاد) কোনো বিশ্বাস্য বস্তুর সাথে তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী হতে পারে আবার তার বিপরীত বা পরিপন্থীও হতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري): যা সৃষ্টির সত্তার জন্য এমনভাবে অপরিহার্য হয়ে যায় যে, তা থেকে পৃথক হওয়া বা বের হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।

এই জ্ঞানকে আবশ্যিক (ضروري) বলে অভিহিত করার অর্থ হলো, এটি জ্ঞানীর মাঝে তার ইচ্ছা বা সংকল্প ছাড়াই সৃষ্টি হয়।

মানুষকে কোনো বিষয়ে নিরুপায় বা বাধ্য (مضطر) বলে দুইভাবে অভিহিত করা হয়:

প্রথমত: যা তার ইচ্ছা ছাড়াই তার মাঝে বিদ্যমান থাকে। যেমন অন্ধত্ব, বাকহীনতা, সুস্থতা, অসুস্থতা এবং অন্যান্য গুণাবলি যা তার মাঝে বিদ্যমান থাকে এবং এগুলো তার ইচ্ছা বা সংকল্পের ওপর নির্ভরশীল নয়।

দ্বিতীয়ত: যা তার ইচ্ছার মাধ্যমে অর্জিত হয় যদিও তাতে তার স্বাধীনতা থাকে না। যেমন বলা হয়ে থাকে যে, অমুক ব্যক্তি মৃত প্রাণী ভক্ষণ করতে বা মানুষের কাছে হাত পাততে বাধ্য (اضطر) হয়েছে। যদিও ভক্ষণ করার কাজটি মূলত তার ইচ্ছার মাধ্যমেই সংঘটিত হয়।

জ্ঞানকে "আবশ্যিক" (ضروري) হিসেবে আমাদের দেওয়া সংজ্ঞাটি প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। কেননা জ্ঞানীর মাঝে এর অস্তিত্ব তার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়।

আর সংজ্ঞায় আমরা যে বলেছি "যা সৃষ্টির সত্তার জন্য অপরিহার্য", তা মূলত মহান স্রষ্টার জ্ঞানকে আলাদা করার জন্য। কারণ তাঁর জ্ঞান কোনো আবশ্যিকতা (ضرورة) নয়।

আর আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري) ছয়টি দিক থেকে অর্জিত হয়: পঞ্চেন্দ্রিয়। সেগুলো হলো— দর্শন ইন্দ্রিয়, শ্রবণ ইন্দ্রিয়, ঘ্রাণ ইন্দ্রিয়, স্বাদ গ্রহণ ইন্দ্রিয় এবং স্পর্শ ইন্দ্রিয়।

প্রকৃতপক্ষে যে ইন্দ্রিয় দ্বারা এই জ্ঞান অর্জিত হয়, তা হলো এই শরীরগুলোর মাঝে বিদ্যমান অন্তর্নিহিত শক্তি, কেবল এই স্থূল দেহগুলো নয়।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯৭)
والبصر يختص بمعنى تدرك به الأجسام والألوان والأكوان، وهي الحركة والسكون. وحاسة السمع تختص بإدراك الأصوات. وحاسة الشم تختص بإدراك الروائح. وحاسة الذوق تختص بإدراك الطعوم. ولكل واحد من هذه المعاني اختصاص بعضو من الأعضاء، وأما حاسة اللمس فموجودة لكل عضو فيه حياة، وتختص بإدراك الحرارة والرطوبة واليبوسة. وعند بعض العلماء بالصلابة والرخاوة. وهذا كله يجري العادة، وقد يصح مع خرق العادات وجود تعلق كل معنى من تلك المعاني بغير ما شاهد تعلقه به الآن.

وقد يقع العلم الضروري بالخبر المتواتر. وله اختصاص بالسمع بحسب ما تقدّم.

ويقع العلم الضروري ابتداءً من غير إدراك حاسة من الحواس. كعلم الإنسان بصحته وسقمه وفرحه وحزنه وغير ذلك من أحواله، وعلمه بأن الاثنين أكثر من الواحد، وأن الضدين لا يجتمعان وغير ذلك من المعاني.

 

‌‌والعلم النظري: ما احتاج إلى تقدم النظر والاستدلال ووقع عقيبه بغير فصل.

قولنا "نظري" يقتضي اختصاصه بالنظر والاستدلال، وأنه لا يوجد إلا به. وفي ذلك احتراز من العلم الضروري، لأنه لا يحتاج إلى تقدم نظر واستدلال، واحتراز من علم الباري تبارك وتعالى، فإنه لا يحتاج إلى نظر واستدلال.

وقولنا "ووقع عقيبه بغير فصل" على قول القاضي أبي بكر في قوله إن العلم النظري إنما يقع بعد كمال النظر والاستدلال.

وذهب الشيخ أبو عبد اللَّه بن مجاهد إلى خلاف ذلك، أو أنه يقع مع النظر والاستدلال، وأنه كما وقع جزء من النظر وقع جزء من العلم حتى يكمل النظر، فيكمل بكماله العلم.

 

‌‌والاعتقال: تيقن المعتقد من غير علم.

ومعنى ذلك أن يتيقن بغير العلم. لأن العلم يتضمن التيقن، ومن علم شيئًا تيقنه، وقد يتيقن المتيقن بغير علم، وهذا هو الاعتقاد.

والذي يتميز به اليقين من العلم أن المعتقد يتيقن الشيء وهو على خلاف ما يعتقده، ومحال أن يعلم الشيء، ولا يكون على ما يعلمه.
দৃষ্টিশক্তি এমন একটি বিশেষ গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট যার মাধ্যমে বস্তুসমূহ, বর্ণসমূহ এবং অবস্থাসমূহ—অর্থাৎ গতি ও স্থিতি উপলব্ধি করা যায়। শ্রবণশক্তি শব্দ উপলব্ধির সাথে নির্দিষ্ট। ঘ্রাণশক্তি গন্ধ উপলব্ধির সাথে নির্দিষ্ট। স্বাদগ্রহণ শক্তি বিবিধ স্বাদ আস্বাদনের সাথে নির্দিষ্ট। এই অনুভূতিগুলোর প্রত্যেকটি সুনির্দিষ্ট কোনো অঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট। পক্ষান্তরে স্পর্শের অনুভূতি জীবনের অস্তিত্ব আছে এমন প্রতিটি অঙ্গেই বিদ্যমান এবং এটি তাপ, আর্দ্রতা ও শুষ্কতা উপলব্ধির সাথে নির্দিষ্ট। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে এটি কাঠিন্য ও কোমলতা উপলব্ধির সাথেও সংশ্লিষ্ট। এই সবকিছুই সাধারণ অভ্যাসের ভিত্তিতে ঘটে থাকে। তবে অলৌকিক পন্থায় (خرق العادات) বর্তমানে এই অনুভূতিগুলোর সাথে যে অঙ্গের সম্পর্ক আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তার ব্যতিক্রম হওয়াও সম্ভব।

অনেক সময় মুতাওয়াতির (المتواتر) সংবাদ (الخبر) দ্বারা আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري) অর্জিত হয়। আর পূর্বালোচিত নিয়ম অনুযায়ী এর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে শ্রবণশক্তির সাথে।

কোনো প্রকার ইন্দ্রিয়গত উপলব্ধি ছাড়াই সরাসরি আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري) অর্জিত হতে পারে। যেমন—মানুষের নিজের সুস্থতা, অসুস্থতা, আনন্দ, বেদনা এবং তার অন্যান্য অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান। তদ্রূপ এই জ্ঞান যে, দুই একের চেয়ে বেশি, এবং দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় একত্রে অবস্থান করতে পারে না—ইত্যাদি।

 

তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري): যা অর্জনের জন্য পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভরতা (الاستدلال) অগ্রগামী হওয়া প্রয়োজন এবং যা কোনো ব্যবধান ছাড়াই তার পরপরই অর্জিত হয়।

আমাদের 'তাত্ত্বিক (نظري)' বলাটি একে পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভরতা (الاستدلال) এর সাথে সুনির্দিষ্ট করার দাবি রাখে এবং এটি ওই মাধ্যম ছাড়া অর্জিত হয় না। এর মাধ্যমে আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, কারণ তা অর্জনে পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভরতা (الاستدلال) এর প্রয়োজন হয় না। তদ্রূপ এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার জ্ঞান থেকেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, কেননা তাঁর জ্ঞানের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভরতা (الاستدلال) এর আবশ্যকতা নেই।

আমাদের উক্তি "যা কোনো ব্যবধান ছাড়াই তার পরপরই অর্জিত হয়" এটি কাজী আবু বকরের মতের ভিত্তিতে করা হয়েছে। তাঁর মতে, তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) তখনই অর্জিত হয় যখন পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভরতা (الاستدلال) পূর্ণতা পায়।

শেখ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মুজাহিদ এর ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। অথবা তাঁর মতে, এটি পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভরতা (الاستدلال) চলাকালীনই অর্জিত হতে থাকে; অর্থাৎ পর্যবেক্ষণের প্রতিটি অংশের সাথে জ্ঞানের এক একটি অংশ অর্জিত হয় এবং পর্যবেক্ষণ পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে জ্ঞানও পূর্ণতা লাভ করে।

 

বিশ্বাস (الاعتقال): জ্ঞান (العلم) ছাড়াই কোনো বিষয়ে বিশ্বাসীর দৃঢ় প্রত্যয়।

এর অর্থ হলো জ্ঞান (العلم) ব্যতিরেকেই কোনো বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চয়তা পোষণ করা। কারণ জ্ঞান (العلم) দৃঢ় নিশ্চয়তাকে অন্তর্ভুক্ত করে। যে ব্যক্তি কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন, তিনি সে বিষয়ে সুনিশ্চিত হন। তবে কখনো কখনো কোনো ব্যক্তি জ্ঞান (العلم) ছাড়াই কোনো বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চয়তা পোষণ করতে পারেন, আর এটিই হলো বিশ্বাস (الاعتقاد)।

প্রকৃত জ্ঞান (العلم) থেকে এই বিশ্বাসের পার্থক্যের জায়গাটি হলো—বিশ্বাস পোষণকারী কোনো বিষয়ে দৃঢ় নিশ্চয়তা রাখে অথচ বিষয়টি তার বিশ্বাসের বিপরীতেও হতে পারে। কিন্তু কোনো বিষয়ে প্রকৃত জ্ঞান (العلم) থাকা এবং সেটি বাস্তবের বিপরীতে হওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯৮)
وقد قال مالك رحمه الله: إن لغو اليمين هو أن يحلف الرجل على الشيء يتيقنه وهو على خلاف ما حلف عليه.

إنما أوردت هذا القول عن مالك ليبين أن ما ذكرته في اليقين أمر شائع في السلف والخلف.

ولذلك ينقسم الاعتقاد إلى قسمين: صحيح وفاسد. فمن اعتقد الشيء على ما هو به، فاعتقاده صحيح. ومن اعتقد الشيء على ما ليس به، فاعتقاده فاسد، واعتقاده ذلك جهل. ولذلك حددنا الجهل بأنه اعتقاد المعتقد على ما ليس به. واللَّه أعلم.

 

ويصح أن نريد بقولنا "تيقن المعتقد من غير علم" أنه تيقن ليس من متضمن العلم ولا سببه. والاعتقاد عند القائل بهذا القول أحد أضداد العلم كالشك‌‌ والظن. لأنه إذا كان اليقين من مقتضى العلم خرج عن أن يكون اعتقادًا، وكان علمًا. فهذا عُرْيَ عن ذلك صار اعتقادًا. فمحال اجتماع العلم والاعتقاد لكونهما ضدين خلافيين. واللَّه أعلم.

‌‌والجهل: اعتقاد المُعْتَقَد على ما ليس به.

قولنا "اعتقاد المعتقد على ما ليس به" صحيح، لأن الجاهل معتقد لما يعتقده من الموجودات على غير ما هي عليه. ولو اعتقدها على ما هي عليه لم يكن عند كثير من العلماء موصوفًا بالجهل، وإن لم يكن عالمًا بها.

إنما قلنا "على ما ليس به" ولم نقل "على خلاف ما هو عليه" لأن المعدوم لا يوصف بأنه خلافٌ لشيء ولا غيرٌ له. فلو قلنا: على خلاف ما هو عليه، أو على غير ما هو عليه لخرج الجهل بالمعدوم عن أن يكون جهلًا، وذلك يبطل الحد ويوجب فساده.

 

‌‌والشك: تجويز أمرين لا مزية لأحدهما على الآخر (1).

والظن: تجويز أمرين فما زاد لأحدهما مزية على سائرها (2).

الظن في كلام العرب على قسمين:

--------------------------------------------

(1) التعريفات ص 113.

(2) التعريفات ص 125.
ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: অর্থহীন শপথ (لغو اليمين) হলো কোনো ব্যক্তি এমন কোনো বিষয়ে শপথ করা যা সে সুনিশ্চিত (يقين) বলে মনে করে, অথচ বিষয়টি তার শপথের বিপরীত।

আমি মালিকের এই উক্তিটি কেবল একারণে উল্লেখ করেছি যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, সুনিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) ব্যাপারে আমি যা উল্লেখ করেছি তা পূর্ববর্তী (السلف) এবং পরবর্তী (الخلف) আলেমদের মাঝে একটি প্রচলিত বিষয়।

আর একারণেই বিশ্বাস (الاعتقاد) দুই ভাগে বিভক্ত: সঠিক (صحيح) এবং ভ্রান্ত (فاسد)। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার ওপর বিশ্বাস করে, তার বিশ্বাস সঠিক (صحيح)। আর যে ব্যক্তি কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে বিশ্বাস করে, তার বিশ্বাস ভ্রান্ত (فاسد), আর তার সেই বিশ্বাস হলো মূর্খতা (جهل)। একারণেই আমরা মূর্খতার (الجهل) সংজ্ঞা দিয়েছি যে, তা হলো বিশ্বাসী ব্যক্তির কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে বিশ্বাস করা। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

আমাদের এই কথার দ্বারা "জ্ঞান ব্যতীত বিশ্বাসী ব্যক্তির সুনিশ্চিত হওয়া" (تيقن المعتقد من غير علم) বুঝানো সঠিক হতে পারে যে, এটি এমন এক সুনিশ্চিত হওয়া যা জ্ঞানের (العلم) অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তার কারণও নয়। এই মত পোষণকারীর নিকট বিশ্বাস (الاعتقاد) হলো জ্ঞানের (العلم) বিপরীত বিষয়গুলোর অন্যতম, যেমন সংশয় (الشك)‌‌ এবং ধারণা (الظن)। কারণ সুনিশ্চিত বিশ্বাস (اليقين) যদি জ্ঞানের (العلم) অনিবার্য দাবি হয়, তবে তা বিশ্বাস (اعتقاد) হওয়ার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে জ্ঞান (علم) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং এটি যখন তা থেকে মুক্ত হয়, তখন তা বিশ্বাস (اعتقاد) হয়। তাই জ্ঞান (العلم) এবং বিশ্বাস (الاعتقاد) একত্র হওয়া অসম্ভব, যেহেতু তারা দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

‌‌মূর্খতা (الجهل): বিশ্বাসী ব্যক্তি কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে বিশ্বাস করা।

আমাদের কথা "বিশ্বাসী ব্যক্তি কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে বিশ্বাস করা" সঠিক, কারণ অজ্ঞ ব্যক্তি বিদ্যমান বিষয়সমূহ সম্পর্কে যা বিশ্বাস করে তা তার প্রকৃত রূপের বিপরীতে করে থাকে। আর যদি সে তা প্রকৃত রূপ অনুযায়ী বিশ্বাস করত, তবে অনেক আলেমের মতে সে মূর্খতা (الجهل) গুণে গুণান্বিত হতো না, যদিও সে সে বিষয়ে জ্ঞানী (عالم) নয়।

আমরা কেবল বলেছি "তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে" এবং "যা আছে তার বিপরীতে" বলিনি, কারণ অবিদ্যমান (المعدوم) বস্তুকে কোনো কিছুর বিপরীত বা অন্য কিছু হিসেবে অভিহিত করা যায় না। যদি আমরা বলতাম: "যা আছে তার বিপরীতে" বা "তার প্রকৃত অবস্থার অন্যথা", তবে অবিদ্যমান বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতা 'মূর্খতা' (جهل) হওয়ার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যেত, যা সংজ্ঞাকে বাতিল করে দিত এবং এর অসারতা আবশ্যক করত।

 

‌‌সংশয় (الشك): দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা রাখা যেখানে একটির ওপর অপরটির কোনো প্রাধান্য নেই (১)।

ধারণা (الظن): দুই বা ততোধিক বিষয়ের সম্ভাবনা রাখা যেখানে একটির ওপর অপরটির প্রাধান্য বিদ্যমান (২)।

আরবদের পরিভাষায় ধারণা (الظن) দুই প্রকার:

--------------------------------------------

(১) আত-তারিফাত, পৃষ্ঠা ১১৩।

(২) আত-তারিফাত, পৃষ্ঠা ১২৫।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯৯)
أحدهما: أن يكون بمعنى العلم. من قوله تعالى: {نِّي ظَنَنْتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِيَهْ (20)} [الحاقة: الآية 20]. وقول الشاعر:

فقلت لهم ظنوا بألفي مدجج … سُراتهم بالفارسي المصرد

والضرب الثاني: ليس بمعنى العلم، ولكنه من باب التجويز. وللمظنون مزية على سائر الوجوه التي يتعلق بها التجويز وهذا الجنس هو الذي حددناه

وأما القسم الأول فقد دخل في باب العلم.

ولا يصح الظن ولا الشك في أمر لا يحتمل إلا وجهًا واحدًا، وإنما يصح فيما يحتمل وجهين وأكثر من ذلك. فإن قوي تجويز أحد الوجوه التي يتعلق بها التجويز كان ظنًّا، وإن استوت كان شكًّا.

والظن في نفسه يختلف، فيقوى تارة ويضعف أخرى ما لم يبلغ حد مساواة هذا الوجه لغيره من الوجوه، فيخرج بذلك عن أن يكون ظنًّا.

 

‌‌والسهو: الذهول.

معنى السهو أن لا يكون الساهي ذاكرًا لما نسي. وهو على قسمين:

أحدهما: أن يتقدمه ذكر ثم يعدم الذكره فهذا يصح أن يسمى سهوًا ويصح أن يسمى نسيانًا.

والقسم الثاني: لا يتقدمه ذكره فهذا لا يصح أن يوصف بالنسيان، وإنما يوصف بالسهو والذهول.

 

‌‌والعقل: العلم الضروري الذي يقع ابتداءً ويعم العقلاء.

فلا يلزمنا على هذا معرفة الإنسان بحال نفسه من صحته وسقمه وفرحه وحزنه، لأن ذلك لا يقع ابتداءً، ولولا وجود ذلك به ما علمه.

وليس كذلك علمنا بأن الاثنين أكثر من الواحد وأن الضدين لا يجتمعان، فإن ذلك يعلمه العاقل من غير حدوث شيء ولا وقوعه ولا إدراك حاسة ولا سماع خبر.

وليس كذلك العلم الواقع عن إدراك الحواس، فإنه لا يقع إلا بإدراك الحواس، وكذلك علم الإنسان بصحته وسقمه، فإنه لا يقع ابتداءً، وإنما يقع بعد أن يوجد ذلك به.
এর একটি হলো: নিশ্চিত জ্ঞান (علم) অর্থে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আমি জানতাম (ظننت) যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে" [আল-হাক্কাহ: ২০]। এবং কবির উক্তি:

অতঃপর আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা দুই হাজার সশস্ত্র যোদ্ধার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হও (ظنوا)... যাদের অগ্রভাগ পারস্যের বর্মধারী।

আর দ্বিতীয় প্রকারটি: নিশ্চিত জ্ঞান (علم) অর্থে নয়, বরং এটি সম্ভাব্যতার (تجويز) অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে ধারণাকৃত বিষয়টি (مظنون) অন্যান্য সম্ভাব্য বিষয়ের চেয়ে অগ্রাধিকার পায়, আর এটিই সেই প্রকার যা আমরা সংজ্ঞায়িত করেছি।

আর প্রথম প্রকারটি নিশ্চিত জ্ঞান (علم) অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

এমন কোনো বিষয়ে প্রবল ধারণা (ظن) বা সংশয় (شك) পোষণ করা সঠিক নয় যা কেবল একটিই অর্থ প্রকাশ করে। বরং তা কেবল এমন বিষয়ে সঠিক যা দুই বা ততোধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখে। সুতরাং যদি সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্যে একটির সম্ভাবনা প্রবল হয় তবে সেটি প্রবল ধারণা (ظن) হিসেবে গণ্য হবে, আর যদি উভয়টির সম্ভাবনা সমান হয় তবে সেটি সংশয় (شك) হিসেবে গণ্য হবে।

আর প্রবল ধারণা (ظن) স্বয়ং পরিবর্তিত হয়; কখনো তা শক্তিশালী হয় আবার কখনো তা দুর্বল হয়, যতক্ষণ না তা অন্য কোনো বিষয়ের সাথে সমান হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়। যদি সমান পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তবে তা আর প্রবল ধারণা (ظن) থাকে না।

 

‌‌আর অমনোযোগিতা (سهو): হলো বিস্মৃতি বা উদাসীনতা (ذهول)।

অমনোযোগিতা (سهو) এর অর্থ হলো অমনোযোগী ব্যক্তি তার ভুলে যাওয়া বিষয়টি স্মরণে না রাখা। এটি দুই প্রকার:

প্রথমত: যা পূর্বে স্মরণে ছিল অতঃপর সেই স্মৃতির বিলুপ্তি ঘটেছে; একে অমনোযোগিতা (سهو) এবং বিস্মৃতি (نسيان) উভয়ই বলা সঠিক।

দ্বিতীয় প্রকার: যা পূর্বে কখনোই স্মরণে ছিল না; একে বিস্মৃতি (نسيان) হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়, বরং একে কেবল অমনোযোগিতা (سهو) ও উদাসীনতা (ذهول) হিসেবে অভিহিত করা হয়।

 

‌‌আর বিবেচনাশক্তি (عقل): হলো সেই অপরিহার্য জ্ঞান (العلم الضروري) যা কোনো মাধ্যম ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জিত হয় এবং সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা সমানভাবে প্রযোজ্য।

এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, একজন মানুষের নিজের শারীরিক সুস্থতা, অসুস্থতা, আনন্দ বা বিষাদ সম্পর্কে জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া আমাদের জন্য আবশ্যক নয়; কারণ তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জিত হয় না। বরং তার মধ্যে এগুলোর অস্তিত্ব না থাকলে সে তা জানতে পারত না।

কিন্তু আমাদের এই জ্ঞান যে 'দুই একের চেয়ে বড়' অথবা 'বিপরীতমুখী দুটি বিষয় একত্রে অবস্থান করতে পারে না'—তা এর অনুরূপ নয়। কারণ একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কোনো বাহ্যিক ঘটনা ঘটা, ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতি বা কোনো সংবাদ বা বর্ণনা (خبر) শোনা ছাড়াই তা অবগত থাকেন।

অনুরূপভাবে ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের বিষয়টিও এর ব্যতিক্রম, কারণ তা ইন্দ্রিয়ের সংযোগ ব্যতীত অর্জিত হয় না। মানুষের নিজের সুস্থতা বা অসুস্থতা সংক্রান্ত জ্ঞানও তেমনি; এটি কোনো মাধ্যম ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জিত হয় না, বরং তা তার মধ্যে বিদ্যমান থাকার পরই কেবল সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয়।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০০)
وقاله القاضي أبو بكر إنه يقع ابتداءً، فقد قرن به ما بين هذا، فقال إنه يقع ابتداءً من غير إدراك حاسة، ولم يقل إنه يقع ابتداءً على الإطلاق، وإنما قال إنه لا يحتاج في العلم به إلى إدراك حاسة من الحواس المتقدم ذكرها (1). واللَّه أعلم.

ووجه آخر، وهو أن معرفة الإنسان بمرضه وصحته لا يعم العقلاء، وإنما يختص بذلك من وجد به، وكذلك مخبر أخبار التواتر لا يعم العقلاء وإنما يقع العلم به لمن سمع بذلك الخبر دون غيره على الوجه الذي يقع به العلم. واللَّه أعلم.

وقال القاضي أبو بكر: حد العقل بعض العلوم الضرورية. وكان الشيخ أبو عبد اللَّه بن مجاهد يذهب في حده إلى أنه "مادة تعرف بها حقائق الأشياء" وأنكره أكثر شيويخنا البغداديين، لأنه إن كان أراد بقوله "مادة" أنه من جنس الأجسام والجواهر على ما يذهب إليه الفلاسفة من أنه جوهر بسيط فغير صحيح، لأن الأحكام لا تثبت بالأجسام ولا بالجواهر، ولا تكون عللًا لها، ولذلك لم يكن المتحرك متحركًا بجسم ولا جوهر، ولا الأبيض أبيض ولا الأسود أسود ولا العالم عالمًا ولا الجاهل جاهلًا، وإنما تثبت الأحكام بالأعراض التي هي علل لثبوتها.

وإن كان أراد بقوله "مادة" أنه عرض من الأعراض، فينتقض بالعلم الذي تعلم به حقائق الأشياء، فإنَّه ليس من العقل بسبيل، لأن الحيوان يعلم كثيرًا من الأشياء، فيعلم ما يتقوت به فيقصده، وما لا يتقوت به ويضره فيجتنبه، ويعلم زجر من يزجره فيزدجر، ولا يوصف لذلك أنه عاقل. فوجب أن يكون ما يختص به من يُسمى عاقلًا ويوصف بذلك في لسان العرب وهو الإنسان.

فإذا كان العقل مما يختص به الإنسان من العلوم، فقد قال القاضي أبو بكر بأنه ما يُعلم به أن الاثنين أكثر من الواحد، وأن الضدين لا يجتمعان وهذا يختص بمعرفته الإنسان الذي يختص بالوصف بالعقل دون الحيوان الذي لا يوصف بذلك. وهذا الذي قاله القاضي أبو بكر في هذه المسألة وذهب إليه كثير من شيوخنا.

وأما ما حُدّ به العقل بأنه "بعض العلوم الضرورية" فعندي أنه ينتقض بخبر أخبار التواتر وما يدرك بالحواس من العلوم، فإنه بعض العلوم الضرورية، ومع ذلك فإنه

--------------------------------------------

(1) انظر التمهيد للباقلاني ص 37.

এবং কাজী আবু বকর বলেছেন যে, এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে (ابتداءً) ঘটে; তিনি এর সাথে এটি সংযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি কোনো ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধি ব্যতিরেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে (ابتداءً) ঘটে। তিনি একথা বলেননি যে, এটি নিরঙ্কুশভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে (ابتداءً) ঘটে, বরং তিনি বলেছেন যে, এটি জানার ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লিখিত ইন্দ্রিয়সমূহের কোনোটির উপলব্ধির প্রয়োজন হয় না। (১) আল্লাহই ভালো জানেন।

অন্য একটি দিক হলো, কোনো মানুষের তার অসুস্থতা বা সুস্থতা সম্পর্কে জ্ঞান সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য সাধারণ নয়, বরং এটি কেবল সেই ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট যার মাঝে তা বিদ্যমান থাকে। অনুরূপভাবে, মুতাওয়াতির (تواتر) সংবাদের বিষয়বস্তুও সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য সাধারণ নয়, বরং এর জ্ঞান কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে অর্জিত হয় যে সেই সংবাদ শুনেছে, অন্য কারও জন্য নয়—যে পদ্ধতিতে জ্ঞান অর্জিত হয় সে অনুযায়ী। আল্লাহই ভালো জানেন।

কাজী আবু বকর বলেছেন: বুদ্ধির সংজ্ঞা (حد) হলো কতিপয় আবশ্যিক জ্ঞান (العلوم الضرورية)। শেখ আবু আবদুল্লাহ ইবনে মুজাহিদ বুদ্ধির সংজ্ঞায় এই মত পোষণ করতেন যে, এটি এমন একটি "উপাদান (مادة)" যার দ্বারা বস্তুর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ চেনা যায়। আমাদের বাগদাদী শিক্ষকদের অধিকাংশ একে অস্বীকার করেছেন। কারণ, তিনি যদি "উপাদান (مادة)" বলতে দেহের প্রজাতি এবং সারবস্তু (جواهر) উদ্দেশ্য করে থাকেন—যেমনটি দার্শনিকরা মনে করেন যে এটি একটি সরল সারবস্তু (جوهر بسيط)—তবে তা সঠিক নয়। কেননা বিধানসমূহ দেহ বা সারবস্তু (جواهر) দ্বারা সাব্যস্ত হয় না এবং সেগুলো বিধানের কারণও (علل) হয় না। এই কারণেই গতিশীল বস্তু কোনো দেহ বা সারবস্তুর (جوهر) কারণে গতিশীল হয় না, সাদা বস্তু সাদা হয় না, কালো বস্তু কালো হয় না, আলেম আলেম হয় না এবং জাহেল জাহেল হয় না; বরং বিধানসমূহ সাব্যস্ত হয় আনুষঙ্গিক গুণাবলি (أعراض) দ্বারা, যা সেগুলো সাব্যস্ত হওয়ার কারণ (علل)।

আর যদি তিনি "উপাদান (مادة)" বলতে আনুষঙ্গিক গুণাবলির (عرض) কোনো একটি উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তা সেই জ্ঞান দ্বারা খণ্ডিত হয় যার মাধ্যমে বস্তুর হাকিকত জানা যায়। কেননা তা বুদ্ধির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো পথ নেই। কারণ জীবজন্তু অনেক কিছুই জানে; সে জানে কোনটি তার খাদ্য ফলে সে সেটির অন্বেষণ করে, আর কোনটি খাদ্য নয় এবং তার জন্য ক্ষতিকর ফলে সে তা বর্জন করে। আবার তাকে কেউ ধমক দিলে সে তা বোঝে এবং বিরত থাকে, কিন্তু এর কারণে তাকে বুদ্ধিমান (عاقل) বলা হয় না। সুতরাং যা দ্বারা কাউকে বুদ্ধিমান (عاقل) নাম দেওয়া হয় এবং আরবী ভাষায় সেই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়, তা মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক।

সুতরাং বুদ্ধি যদি মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে কাজী আবু বকর বলেছেন যে, এটি এমন বিষয় যার দ্বারা জানা যায় যে দুই একের চেয়ে বেশি এবং দুটি বিপরীতমুখী বিষয় একত্রে জমা হতে পারে না। এই জ্ঞানটি কেবল সেই মানুষের জন্যই নির্দিষ্ট যে বুদ্ধির বিশেষণে বিশেষিত, সেই জীবজন্তুর জন্য নয় যা এই বিশেষণে বিশেষিত হয় না। এই মাসআলায় কাজী আবু বকর যা বলেছেন, আমাদের অনেক শিক্ষক সেই মতই গ্রহণ করেছেন।

আর বুদ্ধিকে যে "কতিপয় আবশ্যিক জ্ঞান (العلوم الضرورية)" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, আমার মতে তা মুতাওয়াতির (تواتر) সংবাদ এবং ইন্দ্রিয়জাত জ্ঞানসমূহ দ্বারা খণ্ডিত হয়। কারণ এগুলোও কতিপয় আবশ্যিক জ্ঞানের (العلوم الضرورية) অন্তর্ভুক্ত, তা সত্ত্বেও এটি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-তামহিদ লিল বাকিল্লানি, পৃষ্ঠা ৩৭।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০১)
ليس بعقل. وأيضًا فإن هذا ليس بطريق للتحديد، لأن التحديد إنما يراد به تفسير المحدود وتبيينه، وقولنا "عقل" أبين وأكثر تمييزًا مما ليس بعقل من قولنا "بعض العلوم الضرورية" فإنه لا يفهم من لفظ الحد ولا يتميز به من غيره، ولذلك لا يجوز أن يقال في حد الجوهر إنه بعض المحدثات.

فصل: ومحله القلب. هذا الذي ذهب إليه مالك رضي الله عنه، وهو قول أهل السنة من المتكلمين.

وقال أبو حنيفة: محله الرأس. وبه قالت المعتزلة.

وتتعلق به مسألة من الفقه، وذلك أن من شج رجلًا موضحة، فذهب عقله، لزمه عند مالك دية العقل وأرش الموضحة، لأنه إنما أتلف عليه منفعة ليست في عضو الشجة، فتكون الشجة تبعًا لها.

وقال أبو حنيفة: إنما عليه دية العقل فقط، لأنه لما شج رأسه وأتلف عليه العقل الذي هو منفعة في العضو المشجوج دخل أرش الشجة في الدية.

والصحيح ما قاله مالك رحمه الله، والدليل على ذلك قوله تعالى: {فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا} [الحج: الآية 46]، فوصف القلوب بأنها يعقل بها، فلولا أن العقل موجود بها لما وصفت بذلك حقيقة، كما لا توصف الأذن بأنه يُرى بها ولا يُصغي بها. وأيضًا فإنه قال {قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا أَوْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا} [الحج: الآية 46] فأضاف منفعة كل عضو إليه كما فعل في الأذن. وكما قال تعالى: {أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا أَمْ لَهُمْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا} [الأعراف: الآية 195] فأضاف إلى كل عضو المنفعة المخصوصة به، فثبت بذلك أن العقل منفعة القلب ومختص به.

 

‌‌والفقه: معرفة الأحكام الشرعية.

ذهب مشايخنا إلى أن حد الفقه معرفة أحكام المكلفين، ونُقض لهم هذا الحد بأن من الفقه معرفة أحكام من ليس بمكلف من بني آدم وسائر الحيوان.

وجاوب القاضي أبو بكر عن ذلك بأن قال: إن هذا النقض لا يلزم، لأن المكلفين هم المطلوبون بها، وذلك معنى إضافتنا إليهم، ولا يصح على هذا أن يكون حكم لغير مكلف.
এটি বিবেক নয়। অধিকন্তু, এটি সংজ্ঞায়নের কোনো যথার্থ পদ্ধতিও নয়; কারণ সংজ্ঞায়নের উদ্দেশ্য হলো সংজ্ঞায়িত বিষয়কে ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করা। আমাদের "বিবেক" শব্দটি "কিছু আবশ্যকীয় জ্ঞান" বলার চেয়ে অধিক স্পষ্ট এবং যা বিবেক নয় তা থেকে অধিক পৃথককারী। কারণ এটি সংজ্ঞার শব্দ থেকে বোঝা যায় না এবং এর মাধ্যমে তা অন্য বস্তু থেকে পৃথক হয় না। এই কারণেই মূলসত্তার সংজ্ঞায় এটি বলা বৈধ নয় যে, তা "কিছু সৃষ্ট বস্তু" হতে পারে।

পরিচ্ছেদ: এর স্থান হলো হৃদয়। ইমাম মালিক (রা.) এই মত পোষণ করেছেন এবং এটিই ইলমুল কালাম শাস্ত্রের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অভিমত।

ইমাম আবু হানিফা (র.) বলেন: এর স্থান হলো মস্তিষ্ক। মুতাযিলা সম্প্রদায়ও একই কথা বলেছে।

এর সাথে ফিকহ শাস্ত্রের একটি মাসয়ালা সংশ্লিষ্ট। তা হলো, কেউ যদি কোনো ব্যক্তিকে এমনভাবে জখম করে যাতে হাড় উন্মোচিত হয়ে যায়, এবং এর ফলে তার বিবেক লোপ পায়, তবে ইমাম মালিকের মতে তার ওপর বিবেকের রক্তপণ এবং উক্ত জখমের নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ উভয়ই প্রদান করা আবশ্যক হবে। কারণ সে এমন এক উপযোগিতা নষ্ট করেছে যা কেবল জখমকৃত অঙ্গের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়; ফলে জখমটি বিবেকের অনুগামী হিসেবে গণ্য হবে।

ইমাম আবু হানিফা (র.) বলেন: তার ওপর কেবল বিবেকের রক্তপণ প্রদান করা আবশ্যক। কারণ যখন সে তার মাথায় জখম করেছে এবং তার বিবেক নষ্ট করেছে—যা ওই জখমকৃত অঙ্গেরই একটি উপযোগিতা—তখন জখমের ক্ষতিপূরণ রক্তপণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।

আর সঠিক (صحيح) হলো ইমাম মালিক (র.) যা বলেছেন। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তাদের এমন হৃদয় থাকে যা দ্বারা তারা উপলব্ধি করতে পারে} [সূরা হজ: ৪৬]। এখানে হৃদয়কে উপলব্ধির মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যদি বিবেক হৃদয়ে বিদ্যমান না থাকত, তবে প্রকৃতপক্ষে হৃদয়কে এভাবে বিশেষায়িত করা হতো না; যেমন কান সম্পর্কে বলা যায় না যে তা দিয়ে দেখা যায় কিংবা তা দ্বারা কেবল শ্রবণ করা হয় না। আরও দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এমন হৃদয় যা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে অথবা এমন কান যা দ্বারা তারা শোনে} [সূরা হজ: ৪৬]। এখানে কানের ন্যায় প্রতিটি অঙ্গের উপযোগিতাকে সেই অঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাদের কি এমন পা আছে যা দিয়ে তারা চলে? নাকি তাদের এমন হাত আছে যা দিয়ে তারা ধরে? নাকি তাদের এমন চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখে? নাকি তাদের এমন কান আছে যা দিয়ে তারা শোনে?} [সূরা আরাফ: ১৯৫]। এখানে প্রতিটি অঙ্গের সাথে তার নির্দিষ্ট উপযোগিতাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বিবেক হলো হৃদয়ের একটি উপযোগিতা এবং এটি তার সাথেই বিশিষ্ট।

 

‌‌ফিকহ: শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

আমাদের শায়খগণ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ফিকহের সংজ্ঞা হলো মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের বিধানাবলি জানা। তবে তাদের এই সংজ্ঞার ওপর এই বলে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, আদম সন্তান ও অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে যারা দায়বদ্ধ নয়, তাদের বিধানাবলি জানাও ফিকহের অন্তর্ভুক্ত।

কাজী আবু বকর এর জবাবে বলেছেন: এই আপত্তি কার্যকর হয় না, কারণ দায়বদ্ধ ব্যক্তিরাই মূলত এই বিধানগুলোর উদ্দিষ্ট। তাদের সাথে বিধানকে সম্পৃক্ত করার অর্থও এটিই। আর এই ভিত্তিতে দায়বদ্ধ নয় এমন ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র কোনো বিধান থাকা সঠিক নয়।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০২)
وهذا الجواب وإن كان فيه بعض التخلص مما ألزمه الخصم على وجه الجدل، فإن إضافته الأحكام إلى من تتعلق به ممن جنى أو جُني عليه أظهر من تعلقها بمن يحكم في ذلك.

ولذلك يقال حكم جناية فلان وحكم ما جُني على فلان، وحكم ما أفسدت في المواشي. فثبت حكم الجناية بوجودها وإن لم يحكم به حاكم.

والتحرّز من هذا واجب لو تساوى إضافة الحكم إلى من حكم به وإضافته إلى من وجد منه أو وجد به، فكيف إذا كانت إضافته إلى من وجد منه أو وجد به أظهر.

ووجه ثانٍ: وهو أنه لو كان هذا على ما جاوب به لوجب أن يجزئه من هذا الحد قوله "معرفة الأحكام" إذ لا يصح على ما جاوب به أن يضاف حكم إلى غير مكلف. فلم تزد إضافة الأحكام إلى المكلفين إلا إلباسًا.

وعندي أن ما حددته به أسلم من الاعتراض، وهو قولنا "معرفة الأحكام الشرعية" احترازًا من الأحكام العقلية التي لا توصف في عادة المتخاطبين وعرفهم بأنها من الفقه، وإن كان معنى الفقه الفهم. تقول: فهمت ما قال فلان وفقهته. ومن فهم ما قال له قائل من الأحكام الشرعية العقلية صَحَّ بأن يوصف بأنه فقه عنه، وأنه فقيه بذلك. لكن عرف المخاطب قصر ذلك على نوع من العلم، ولذلك لا يوصف العالم بالعربية والحساب والهندسة ولغات العرب وغير ذلك من أنواع العلم بأنه فقيه وإن كنا لا نشك أنه لم يكن عالمًا حتى فقهها وفهمها.

 

‌‌أصول الفقه: ما انبنت عليه معرفة الأحكام الشرعية.

يريد أن أصول الفقه غير الفقه، لأن الشيء لا ينبني على نفسه، وإنما ينبني على سواه مما يكون أصلًا له، ويكون هو مستنبطًا ومأخوذًا منه، ومتوصلًا إليه بذلك الأصل.

وذلك أنه معرفة أحكام الأوامر والنواهي والعموم والخصوص والاستثناء والمجمل والمفصل وسائر أنواع الخطاب والنسخ والإجماع والقياس وأنواعه وضروبه وما يعترض به على كل شيء من ذلك وما يجاوب به عن كل نوع من الاعتراضات فيه، وتمييز صحيح ذلك من سقيمة مما يتوصل به إلى استنباط الأحكام من الكتاب والسنة وإجماع الأمة، وإلحاق المسكوت عنه بالمنطوق بحكمه.
এই উত্তরটি যদিও বিতর্কের খাতিরে প্রতিপক্ষের বাধ্যবাধকতা থেকে কিছুটা নিষ্কৃতি দেয়, তবুও বিধানসমূহকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি—যে অপরাধ করেছে বা যার প্রতি অপরাধ করা হয়েছে—তার সাথে সম্পৃক্ত করা বিচারকের সাথে সম্পৃক্ত করার চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট।

এ কারণেই বলা হয়—অমুকের কৃত অপরাধের বিধান, অমুকের ওপর কৃত অপরাধের বিধান এবং গবাদি পশুর ফসলাদি নষ্ট করার বিধান। সুতরাং অপরাধ সংঘটিত হওয়ার মাধ্যমেই তার বিধান সাব্যস্ত হয়ে যায়, যদিও কোনো বিচারক সেই বিষয়ে ফয়সালা না দেন।

বিধানকে বিচারকের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং যার মাধ্যমে বা যার ক্ষেত্রে তা সংঘটিত হয়েছে তার সাথে সম্পৃক্ত করা যদি সমপর্যায়ের হতো, তবে তা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক হতো। সুতরাং যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে বিধান সম্পৃক্ত করা অধিকতর স্পষ্ট, সেখানে তো তা আরও বেশি প্রযোজ্য।

দ্বিতীয় কারণটি হলো: বিষয়টি যদি তাঁর উত্তর অনুযায়ী হতো, তবে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে কেবল "বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান" বলাই যথেষ্ট হতো। কারণ তাঁর উত্তর অনুযায়ী মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) ছাড়া অন্য কারও দিকে বিধানকে সম্পৃক্ত করা শুদ্ধ নয়। সুতরাং মুকাল্লাফদের দিকে বিধানকে সম্পৃক্ত করা কেবল অস্পষ্টতাই বৃদ্ধি করেছে।

আমার মতে, আমি যে সংজ্ঞাটি নির্ধারণ করেছি তা আপত্তির মুখে অধিকতর নিরাপদ; আর তা হলো— "শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান"। এটি করা হয়েছে মূলত যৌক্তিক বিধানাবলি থেকে বেঁচে থাকার জন্য, যা সাধারণের কথোপকথন ও পরিভাষায় 'ফিকহ' হিসেবে অভিহিত হয় না, যদিও আভিধানিক অর্থে ফিকহ মানে হলো অনুধাবন। আপনি বলে থাকেন: "আমি অমুকের কথা বুঝেছি এবং উপলব্ধি করেছি।" যে ব্যক্তি কোনো বক্তার যৌক্তিক শরয়ি বিধান সংক্রান্ত কথা বুঝতে পারে, তাকে যথাযথভাবে এ বিশেষণে বিশেষিত করা যায় যে সে বিষয়টি উপলব্ধি করেছে এবং সে বিষয়ে সে বিজ্ঞ। কিন্তু প্রচলিত পরিভাষায় একে বিশেষ এক প্রকার জ্ঞানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এই কারণেই আরবি ভাষা, গণিত, জ্যামিতি, আরবদের ভাষাতত্ত্ব বা অন্যান্য বিদ্যায় পারদর্শী ব্যক্তিকে 'ফকিহ' বলা হয় না, যদিও এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত সেই বিষয়ে বিদ্বান হতে পারেন না যতক্ষণ না তিনি তা উপলব্ধি ও অনুধাবন করেন।

 

‌‌উসুলুল ফিকহ: যার ওপর ভিত্তি করে শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হয়।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—উসুলুল ফিকহ এবং ফিকহ ভিন্ন বিষয়। কারণ কোনো বস্তু নিজের ওপর নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, বরং তা অন্য কোনো বস্তুর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে যা তার জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। আর ফিকহ সেই ভিত্তি থেকে উৎসারিত ও গৃহীত হয় এবং সেই ভিত্তির মাধ্যমেই ফিকহ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়।

আর তা হলো—আদেশ, নিষেধ, সাধারণ, বিশেষ, ব্যতিক্রম, সংক্ষিপ্ত, বিস্তারিত এবং সম্বোধনের সকল প্রকারের বিধানাবলি এবং রহিতকরণ, ঐক্যমত, কিয়াস ও এর প্রকারভেদ ও পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এছাড়া এসবের ওপর উত্থাপিত আপত্তি এবং সেই আপত্তির জবাব সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং এগুলোর মধ্যে সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) এর পার্থক্য নিরূপণ করা, যার মাধ্যমে কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের ঐক্যমত থেকে বিধানাবলি আহরণ করা যায় এবং যে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই তাকে বর্ণিত বিষয়ের বিধানের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০৩)
فكانت هذه المعاني أصولًا للأحكام الشرعية، لأنه لا طريق إلى استنباطها ومعرفة صحيحها من سقيمها إلا بعد المعرفة لما وصفنا بأنه أصل لها.

 

‌‌والدليل: هو الدلالة على البرهان. وهو الحجة والسلطان.

والدليل في الحقيقة هو فعل الدال، ولذلك يقال: استدل بأثر اللصوص عليهم، وإن كان اللصوص لم يقصدوا الدلالة على أنفسهم.

ومن أصحابنا من قال: إن الدليل إنما يستعمل فيما يؤدي إلى العلم. وأما ما يؤدي إلى غلبة الظن فهو أمارة.

وهذا تنويعٌ قُصِدَ به المبالغة، فلم يوصل إلى الحقيقة، لا سيما على قول القاضي أبي بكر "أن كل مجتهد مصيب" لأن المستدل بالدليل المؤدي إلى غلبة الظن قد توصل به إلى العلم والقطع. لأن القياس والمستدل بخبر الآحاد إذا عمل به فقد علم أنه عمل ما أمره به ربه وافترضه عليه، لأن الذي كُلِّف هو الاجتهاد في بلوغ غلبة الظن، وهو متيقن وجود ذلك منه.

وكذلك على قول شيوخنا "إن الحق في واحد" فإن الفرض إنما يتعلق بالاجتهاد إلى غلبة الظن، فإذا وُجِدَ ذلك منه، فقد عُلم قطعا وقوع ذلك منه وأداؤه لفرضه. ولو قلب هذا القول على مقسمه لما كان له طريق إلى إثبات ما اختار منه.

وحدّ الدليل: ما صح أن يرشد إلى المطلوب الغائب عن الحواس (1).

[ومعنى ذلك أن الدليل الذي يصح أن يستدل به ويسترشد ويتوصل به إلى المطلوب، وإن لم يكن استدلالٌ، ولا توَصَّلَ به أحد. ولو كان الباري جل وعلا خلق جمادًا ولم يخلق من يستدل به على أن له محدثًا لكان دليلًا على ذلك، وإن لم يستدل به أحد. فالدليل دليل لنفسه: وإن لم يُستدل به.

فلو قلنا: "إن الدليل ما أرشد إلى المطلوب" لخرج الدليل الذي لم يَسْتَدلَ به أحد عن أن يكون دليلًا محدودًا بذلك الحد.

وقد ذكر القاضي أبو بكر في بعض مصنفاته أن الدليل "هو المرشد إلى المطلوب على وجه التجوز". واللَّه أعلم].

 

‌‌والدال: هو الناصب للدليل.

--------------------------------------------

(1) انظر التمهيد ص 39.
এই অর্থগুলোই শারিয়াহর বিধানাবলির মূলনীতি (أصول) হিসেবে গণ্য, কারণ আমাদের বর্ণিত বিষয়গুলো যে বিধানের মূল ভিত্তি তা জানা ব্যতিরেকে সেগুলো থেকে বিধান আহরণ করা এবং সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করার কোনো পথ নেই।

 

‌‌দলিল (دليل): এটি হলো প্রমাণের দিকনির্দেশনা। এটিই হলো যুক্তি (حجة) এবং অকাট্য প্রমাণ।

বাস্তবিকপক্ষে দলিল হলো দলিলদাতার কর্ম। একারণেই বলা হয়: চোরদের পদচিহ্নের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে, যদিও চোরেরা নিজেদের ধরিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য করেনি।

আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: 'দলিল' শব্দটি কেবল তখনই ব্যবহৃত হয় যা নিশ্চিত জ্ঞানের (علم) দিকে নিয়ে যায়। আর যা প্রবল ধারণার (غلبة الظن) দিকে নিয়ে যায়, তাকে নিদর্শন (أمارة) বলা হয়।

এটি এমন একটি শ্রেণিবিন্যাস যার মাধ্যমে কেবল অতিরঞ্জন করা হয়েছে, যা প্রকৃত সত্যে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে কাজী আবু বকরের এই মতানুসারে যে, "প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক"। কারণ যিনি এমন দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন যা প্রবল ধারণার সৃষ্টি করে, তিনি এর মাধ্যমে জ্ঞান ও দৃঢ় নিশ্চয়তা লাভ করেন। কেননা যখন কিয়াস (قياس) এবং একক বর্ণনা (خبر الآحاد) অনুযায়ী আমল করা হয়, তখন আমলকারী নিশ্চিতভাবে জানে যে সে তা-ই পালন করেছে যা তার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার ওপর ফরজ করেছেন। কারণ তাকে যা করতে বলা হয়েছিল তা হলো প্রবল ধারণায় পৌঁছানোর জন্য ইজতিহাদ করা, আর তার পক্ষ থেকে সেই ইজতিহাদ সংঘটিত হয়েছে—এই ব্যাপারে সে নিশ্চিত।

অনুরূপভাবে আমাদের উস্তাদগণের এই মতানুসারেও যে, "সত্য কেবল একজনের সাথেই থাকে", সেক্ষেত্রেও ফরজ বা দায়িত্বটি কেবল প্রবল ধারণার উদ্দেশ্যে ইজতিহাদ করার সাথে সংশ্লিষ্ট। যখন তার মাধ্যমে সেটি অর্জিত হয়, তখন সে নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে তার দায়িত্বটি সে পালন করেছে। যদি এই বক্তব্যটিকে তার বিপরীতভাবে প্রয়োগ করা হতো, তবে তিনি যা চয়ন করেছেন তা প্রমাণ করার কোনো পথ থাকত না।

দলিলের সংজ্ঞা: যা সঠিক উপায়ে এমন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে যা পঞ্চেন্দ্রিয়ের অগোচর (১)।

[এর অর্থ হলো, দলিল সেটিই যা দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করা, নির্দেশনা গ্রহণ করা এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো বৈধ হয়, যদিও বাস্তবে কেউ তা দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন না করে কিংবা কেউ তার মাধ্যমে গন্তব্যে না পৌঁছায়। মহান আল্লাহ যদি কোনো জড় পদার্থ সৃষ্টি করতেন এবং এমন কাউকে সৃষ্টি না করতেন যে তার মাধ্যমে স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ গ্রহণ করবে, তবুও সেটি স্রষ্টার অস্তিত্বের দলিল হিসেবেই গণ্য হতো, যদিও কেউ তা দ্বারা দলিল পেশ করেনি। সুতরাং দলিল স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দলিল; তা দ্বারা কেউ দলিল পেশ করুক বা না করুক।

আমরা যদি বলি: "যা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় তা-ই দলিল", তবে যে দলিল দ্বারা কেউ প্রমাণ পেশ করেনি তা এই সংজ্ঞার বাইরে চলে যাবে।

কাজী আবু বকর তার কোনো কোনো কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, দলিল হলো "রূপক অর্থে অভীষ্ট লক্ষ্যপানে পথপ্রদর্শক"। আল্লাহই সর্বজ্ঞ]।

 

‌‌দলিলদাতা (الدال): তিনি হলেন সেই সত্তা যিনি দলিল উপস্থাপন করেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আত-তামহিদ, পৃষ্ঠা ৩৯।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০৪)
معنى ذلك أنه هو الذي يفعل فعلًا يُستدل به على ما هو دليل عليه. وقد يكون هذا فيمن قصد الدلالة بذلك الفعل وفيمن لم يقصد ذلك، كاللصوص يُستدل على مكانهم بآثارهم. فيسمى فاعل ذلك الأثر دالًا في الحقيقة. فقد يوصل بالفعل من لم يوجد باختياره. فيقال لمن يعلم على ضرورة عالم. واللَّه أعلم وأحكم.

 

‌‌والمستدل: هو الطالب للدليل (1).

المستدل في الحقيقة هو الذي يطلب ما يستدل به على ما يريد الوصول إليه. كما يستدل به المكلف بالمحدثات على محدثها، ويستدل بالأدلة الشرعية على الأحكام التي جعلت أدلة عليها.

وقد سمّى الفقهاء المحتج بالدليل مستدلًا، ولعلهم أرادوا بذلك أنه محتج به الآن، وقد تقدم استدلاله به على الحكم الذي توصل به إليه، ويحتج الآن به على ثبوته.

 

‌‌والمستدل عليه: هو الحكم. وقد يقع على السائل أيضًا.

حقيقة المستَدَلّ عليه هو الحكم، لأن المستدل إنما يستدل بالأدلة على الأحكام، وإنما يصح هذا بإسناده إلى عرف المخاطبين الفقهاء. فقد يستدل بأثر الإنسان على مكانه، وليس ذلك بحكم. ولكن ليس هذا من الأدلة التي يريد الفقهاء تحديدها وتمييزها مما ليست بأدلة.

بل الأدلة عندهم في عرف تخاطبهم ما اشتمل عليه هذا الحد مما يوصف بأنه أدلة عندهم.

وقد يوصف المحتج عليه بأنه مُستدَلٌ عليه، لما تقدم من وصف المحتج بأنه مُستدِل. فإذا كان المحتج مستدلّا صح أن يوصف المحتج عليه بأنه مُستَدَل عليه.

 

‌‌والاستدلال: هو التفكر في حال المنظور فيه طلبّا للعلم بما هو نظر فيه أو لغلبة الظن إن كان مما طريقه غلبة الظن (1).

ومعنى ذلك أن الاستدلال هو الاهتداء بالدليل والاقتفاء لأثره حتى يوصل إلى الحكم.

--------------------------------------------

(1) انظر الإنصاف للقاضي أبو بكر ص 15.
এর অর্থ হলো, তিনি এমন এক সত্তা যিনি এমন কাজ করেন যার মাধ্যমে দলীলযোগ্য বিষয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও হতে পারে যে সেই কাজের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা (دلالة) দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে, আবার তার ক্ষেত্রেও হতে পারে যে তা ইচ্ছা করেনি; যেমন চোরদের পদাঙ্ক দেখে তাদের অবস্থানের প্রমাণ (يُستدل) পাওয়া যায়। সুতরাং সেই চিহ্নের কর্তাকে প্রকৃতপক্ষে নির্দেশক (دالًا) বলা হয়। কখনও কখনও এমন ক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানো যায় যা তার ইচ্ছাধীন ছিল না। ফলে যাকে আবশ্যকীয়ভাবে জানা যায়, তাকে জ্ঞানী বলা হয়। আর আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন এবং তিনিই পরম প্রজ্ঞাময়।

 

‌‌আল-মুস্তাদিল (দলীল অন্বেষণকারী): হলো দলীলের (دليل) অন্বেষণকারী (১)।

প্রকৃতপক্ষে মুস্তাদিল বা অন্বেষণকারী (المستدل) হলো সেই ব্যক্তি, যে এমন কিছু তালাশ করে যা দিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রমাণ (يستدل) পাওয়া যায়। যেমন মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) নতুন সৃষ্ট বস্তুরাজির মাধ্যমে তার স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ (يستدل) লাভ করে এবং শরয়ি দলীলসমূহ (الأدلة الشرعية) দ্বারা সেই সকল বিধানের (الأحكام) প্রমাণ (يستدل) পায় যেগুলোর জন্য এগুলোকে দলীল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফকিহগণ দলীলের (دليل) মাধ্যমে যুক্তি উপস্থাপনকারীকে মুস্তাদিল (مستدلًا) নামে অভিহিত করেছেন। সম্ভবত তারা এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে, সে বর্তমানে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করছে, অথচ এই দলীলের মাধ্যমে সেই বিধানে (الحكم) উপনীত হওয়ার জন্য তার প্রমাণ অন্বেষণ বা ইস্তিদলাল (استدلاله) প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে সে এর সাব্যস্ত হওয়ার সপক্ষে যুক্তি পেশ করছে।

 

‌‌আল-মুস্তাদাল আলাইহি (যার সপক্ষে দলীল পেশ করা হয়): হলো বিধান (الحكم)। কখনও কখনও এটি প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।

প্রকৃতপক্ষে 'মুস্তাদাল আলাইহি' (المستَدَلّ عليه) হলো বিধান (الحكم), কারণ দলীল অন্বেষণকারী (المستدل) মূলত দলীলাদির (الأدلة) মাধ্যমে বিধানসমূহের (الأحكام) প্রমাণ তালাশ করে থাকে। আর এটি ফকিহদের পরিভাষার সাথে সম্পৃক্ত করলেই কেবল সঠিক হয়। কখনও কখনও মানুষের পদচিহ্ন দিয়ে তার অবস্থান নিশ্চিত করার প্রমাণ (يستدل) নেওয়া হয়, তবে তা কোনো বিধান (حكم) নয়। ফকিহগণ যেসকল দলীলের (الأدلة) সংজ্ঞা প্রদান করতে চান এবং যেগুলোকে অ-দলীল থেকে পৃথক করতে চান, এটি সেই প্রকারের দলীলের অন্তর্ভুক্ত নয়।

বরং তাদের পরিভাষায় দলীল (الأدلة) হলো সেই বিষয় যা এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত এবং যা তাদের নিকট দলীল (أدلة) হিসেবে বিশেষিত হওয়ার যোগ্য।

আবার যার বিরুদ্ধে দলিল পেশ করা হয় তাকেও 'মুস্তাদাল আলাইহি' (مُستدَلٌ عليه) হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে, যেহেতু ইতিপূর্বে দলিল পেশকারীকে 'মুস্তাদিল' (مُستدِل) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং যদি দলিল পেশকারীকে 'মুস্তাদিল' বলা হয়, তবে যার বিরুদ্ধে দলিল পেশ করা হচ্ছে তাকে 'মুস্তাদাল আলাইহি' বলাও সংগত হবে।

 

‌‌আল-ইস্তিদলাল (দলীল অনুসন্ধান): হলো বিচার্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে অথবা প্রবল ধারণা (غلبة الظن) অর্জনের লক্ষ্যে (যদি বিষয়টি প্রবল ধারণার ওপর নির্ভরশীল হয়) সেই বিচার্য বিষয়ের অবস্থা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা (১)।

এর অর্থ হলো ইস্তিদলাল (الاستدلال) হলো দলীলের (الدليل) মাধ্যমে দিকনির্দেশনা গ্রহণ এবং এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা, যতক্ষণ না তা কাঙ্ক্ষিত বিধানে (الحكم) পৌঁছে দেয়।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-ইনসাফ, কাজী আবু বকর, পৃষ্ঠা ১৫।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০৫)
والتفكر فيها قد يكون على وجوه، ولذلك خُصّ منها التفكر على وجه الطلب للعلم بالحكم المطلوب، أو لغلبة الظن في كثير من الأحكام التي ليس طريقها العلم كالأحكام الثابتة بأخبار الآحاد والقياس.

 

‌‌والبيان: الإيضاح (1).

ومعنى ذلك أن يوضح الآمر أو الناهي أو المخبر أو المجاوب عما يقصد إلى إيضاحه ويزيل اللبس عنه وسائر وجوه الاحتمال الذي يمنع تبيينه. من قولهم: وضح الصبح، ووضح الشيء، إذا ظهر وزال الحائل عنه.

 

‌‌والهداية: قد تكون بمعنى الإرشاد.

ومعنى ذلك أن الهداية تكون بمعنى التوفيق. قال اللَّه تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم: {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ} [القصص: الآية 56] يريد بذلك لا توفقه.

وأما إرشاده، فقد وجد منه صلى الله عليه وسلم لمن أحب ولمن لم يحب.

وتكون الهداية أيضًا بمعنى الإرشاد. وقد جاء ذلك في قوله تعالى: {وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَى عَلَى الْهُدَى} [فصلت: الآية 17]. معناه -واللَّه أعلم- أرشدناهم. ولو كان بمعنى قد وفقهم لوجد منهم الإيمان، ولما استحبوا العمى على الهدى.

ولما قصدنا بمعنى الهداية فيما ذكرناه الإرشاد لزم أن نتحرز من الهداية التي بمعنى التوفيق. وإن كنا قد خرجنا بما احترزنا به عن حكم الحدود على وجه التجوز. والعلم بأن مثل هذا لا يخفى على من أراد الحقيقة. واللَّه الموفق للصواب.

 

‌‌النص: ما رفع في بيانه إلى أبعد غاياته.

ومعنى ذلك أن يكون قد ورد اللفظ على غاية ما وضعت عليه الألفاظ من الوضوح والبيان.

وذلك أن لا يحتمل اللفظ إلا معنى واحدًا، لأنه إذا احتمل معنيين فأكثر لم تحصل له غاية البيان. بل قد قصر عن هذه الغاية.

وقد حدّه بعض أصحابنا بأنه اللفظ الذي لا يحتمل إلا معنى واحدًا وهو معنى ما أشرنا إليه.

--------------------------------------------

(1) تعريفات الشريف الجرجاني ص 41.
এবং সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা বিভিন্ন পদ্ধতিতে হতে পারে; আর এই কারণেই তার মধ্য থেকে কেবল সেই চিন্তা-ভাবনাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে যা কাঙ্ক্ষিত বিধানের জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে করা হয়, অথবা এমন অনেক বিধানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার সৃষ্টির জন্য করা হয় যেগুলোর অর্জনের পথ নিশ্চিত জ্ঞান নয়, যেমন একক সংবাদ (أخبار الآحاد) এবং কিয়াসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়া বিধানসমূহ।

 

‌‌আল-বায়ান: সুস্পষ্টকরণ (১)।

আর এর অর্থ হলো, আদেশদাতা, নিষেধকারী, সংবাদদাতা কিংবা উত্তরদাতা যা স্পষ্ট করতে চাইছেন তা সুস্পষ্ট করবেন এবং তা থেকে অস্পষ্টতা ও সম্ভাব্য সকল সংশয় দূর করবেন যা তার বর্ণনাকে বাধাগ্রস্ত করে। এটি আরবদের এই কথা থেকে গৃহীত: 'প্রভাত স্পষ্ট হয়েছে' এবং 'বস্তুটি স্পষ্ট হয়েছে', অর্থাৎ যখন তা প্রকাশিত হয় এবং তার ওপর থেকে অন্তরায় দূর হয়ে যায়।

 

‌‌আল-হিদায়াহ: এটি কখনও 'ইরশাদ' বা পথপ্রদর্শনের অর্থে ব্যবহৃত হয়।

আর এর অর্থ হলো হিদায়াহ কখনও 'তৌফিক' বা সামর্থ্য প্রদানের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত দিতে পারবেন না} [আল-কাসাস: ৫৬]; এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, আপনি তাকে তৌফিক দিতে পারবেন না।

পক্ষান্তরে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে 'ইরশাদ' বা পথপ্রদর্শনের বিষয়টি তো তাঁর প্রিয় এবং অপ্রিয়—উভয় শ্রেণির মানুষের জন্যই সাধিত হয়েছে।

আবার হিদায়াহ 'ইরশাদ' বা পথপ্রদর্শনের অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলার এই বাণীতেও বিষয়টি এসেছে: {আর সামুদ জাতি, আমি তাদেরকে হিদায়াত দান করেছিলাম, কিন্তু তারা হিদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকেই অধিক পছন্দ করেছিল} [ফুসসিলাত: ১৭]। এর অর্থ হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—আমি তাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছি। যদি এটি 'তৌফিক' প্রদানের অর্থে হতো, তবে তাদের মধ্যে ঈমান প্রকাশ পেত এবং তারা হিদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকে প্রাধান্য দিত না।

যেহেতু আমরা হিদায়াহ বলতে এখানে কেবল পথপ্রদর্শনকেই (ইরশাদ) উদ্দেশ্য নিয়েছি, তাই 'তৌফিক' বা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ অর্থে ব্যবহৃত হিদায়াহ থেকে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। যদিও এই সতর্কতার মাধ্যমে আমরা রূপক প্রয়োগের দ্বারা সংজ্ঞায়নের প্রচলিত নিয়ম থেকে কিছুটা বাইরে চলে গিয়েছি। তবে বাস্তব সত্য জানতে আগ্রহী ব্যক্তিদের নিকট বিষয়টি গোপন থাকার কথা নয়। আর আল্লাহই সঠিক পথের তৌফিকদাতা।

 

‌‌আন-নাস: যার বর্ণনাকে তার চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।

এর অর্থ হলো, শব্দটি স্পষ্টতা ও বিবৃতির সেই চরম সীমায় উপনীত হবে যার জন্য শব্দসমূহ গঠন করা হয়।

আর তা হলো এই যে, শব্দটি কেবল একটিই অর্থ বহন করবে; কেননা যদি তা দুই বা ততোধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখে, তবে বর্ণনার চূড়ান্ত পর্যায় আর অর্জিত হয় না। বরং তা সেই লক্ষ্য পূরণে অপূর্ণ থেকে যায়।

আমাদের কতিপয় সাথী (আলেম) এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, এটি এমন একটি শব্দ যা কেবল একটিই অর্থ ধারণ করার সম্ভাবনা রাখে; আর এটিই সেই অর্থ যার প্রতি আমরা ইঙ্গিত করেছি।

--------------------------------------------

(১) তারিফাতুশ শরিফ আল-জুরজানি, পৃষ্ঠা ৪১।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০৬)
وقال بعض أصحابنا: إنه مأخوذ من النص في السير، وهو أرفع السير كما أن هذا أرفع المبيّن.

وقال بعضهم: إنه مأخوذ من منصة العروس التي توضع عليها العروس وتجلّى لتبدو لجميع الناس. سميت بذلك لأن ذلك أتم ما يمكن أن يُتناول به إظهارها وجلاؤها.

 

‌‌والظاهر: هو المعنى الذي يسبق إلى فهم السامع من المعاني التي يحتملها اللفظ.

ومعنى ذلك أن يكون اللفظ يحتمل معنيين فزائدًا، إلا أنه يكون في بعضها أظهر منه في سائرها، إما لعرف استعمال في لغة أو شرع أو صناعة.

ولأن اللفظ موضوع له، وقد يستعمل في غيره، فإذا ورد على السامع سبق إلى فهمه أن المراد به ما هو أظهر فيه.

ولا يدخل على هذا النص لقولنا "من المعاني التي يحتملها اللفظ" لأن النص ليس له غير معنى واحد. وبذلك يتميز من الظاهر.

 

‌‌والعموم: استغراق ما تناوله اللفظ.

ومعنى ذلك أن يكون اللفظ يتناول جنسًا أو جماعة أو صفات أو غير ذلك مما يعمه لفظ، ويقتضي ذلك اللفظ استيعاب ما يصح أن يتناوله ويقع عليه.

فإن معنى العموم حمل ذلك اللفظ على جميع ما يصح أن يقع عليه ويتناوله. كقولك: الرجال للذي يصح تناوله لكل من يقع عليه اسم رجل.

فمعنى العموم حمله على كل ما يصح أن يتناوله اللفظ إلا أن يخصصه دليل يخرج به بعض ما تناوله.

 

‌‌والخصوص: إفراد بعض الجملة بالذكر. وقد يكون إخراج بعض ما تناوله العموم عن حكمه. ولفظ التخصيص فيه أبين.

ومعنى ذلك أننا إذا قلنا إن اللفظ ورد عامًا، ثم ورد لفظ آخر يتناول بعض تلك الجملة وصف بأنه خاص.

مثل قوله تعالى: {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ} [التوبة: الآية 5]. فإن هذا اللفظ عام في كل مشرك. فإذا ورد لفظ يتناول قتل اليهود والنصارى قيل هذا لفظ
আমাদের কতিপয় সাথী (আলেমগণ) বলেছেন: এটি ভ্রমণের গতি (النص) থেকে গৃহীত, যা ভ্রমণের গতির মধ্যে সর্বোত্তম; যেমনটি এটি বর্ণনার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ পর্যায়।

আবার তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি কনের সিংহাসন বা মঞ্চ থেকে উদ্ভূত যার ওপর কনেকে বসানো হয় এবং সুসজ্জিত করা হয় যেন সবার কাছে দৃশ্যমান হয়। একে এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি তার প্রকাশ এবং উন্মোচনের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্য মাধ্যম।

 

‌প্রকাশ্য (الظاهر): এটি এমন অর্থ যা শব্দের সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্য থেকে শ্রোতার অনুধাবনে প্রথমেই ভেসে ওঠে।

এর অর্থ হলো শব্দটি দুই বা ততোধিক অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে, তবে তার কোনো একটি অর্থ অন্যান্যগুলোর তুলনায় অধিক স্পষ্ট হয়; সেটি ভাষার ব্যবহারিক রীতি, শরিয়ত অথবা কোনো বিশেষ শাস্ত্রীয় পরিভাষার কারণে হতে পারে।

যেহেতু শব্দটি সেই অর্থের জন্যই নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যদিও তা অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে, তাই যখন তা শ্রোতার সামনে উপস্থাপন করা হয়, তখন তার বুদ্ধিতে প্রথমেই একথাই আসে যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই অর্থটিই যা এতে অধিক স্পষ্ট।

আমাদের "শব্দের সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্য থেকে" কথাটির কারণে সুনিশ্চিত পাঠ (النص) এর অন্তর্ভুক্ত হবে না; কেননা সুনিশ্চিত পাঠ (النص)-এর একটি মাত্র অর্থ ছাড়া অন্য কোনো অর্থ থাকে না। এর মাধ্যমেই এটি প্রকাশ্য (الظاهر) থেকে পৃথক হয়ে থাকে।

 

‌সাধারণ (العموم): শব্দটি যা কিছু শামিল করে তার সবটুকুকে পরিব্যাপ্ত করা।

এর অর্থ হলো শব্দটি কোনো লিঙ্গ, সমষ্টি, গুণাবলি বা এমন কিছুকে শামিল করবে যা কোনো শব্দ দ্বারা সাধারণ করা যায় এবং শব্দটি সেই সব কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রাখে যা এর আওতায় আসা বা এর ওপর প্রযোজ্য হওয়া সঠিক।

কেননা সাধারণ (العموم)-এর অর্থ হলো সেই শব্দটিকে এমন সব বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা যার ওপর এটি প্রযোজ্য হওয়া বা যাকে শামিল করা সঠিক। যেমন আপনার উক্তি: "পুরুষগণ", যা এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা সঠিক যার ওপর "পুরুষ" শব্দটি প্রযোজ্য হয়।

সুতরাং সাধারণ (العموم)-এর অর্থ হলো একে এমন সব বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা যা শব্দটি শামিল করার উপযুক্ত, যতক্ষণ না কোনো দলিল একে বিশেষিত (يخصصه) করে যার মাধ্যমে শামিলকৃত বিষয়ের কিছু অংশ এর হুকুম থেকে বের হয়ে যায়।

 

‌বিশেষ (الخصوص): কোনো সমষ্টির অংশবিশেষকে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা। কখনও আবার সাধারণ (العموم) অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের কিছু অংশকে তার বিধান থেকে বের করে দেওয়াকেও এটি বলা হয়। তবে বিশেষীকরণ (التخصيص) শব্দটি এক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট।

এর অর্থ হলো যখন আমরা বলি যে শব্দটি সাধারণ (عام) হিসেবে এসেছে, অতঃপর অন্য একটি শব্দ আসে যা সেই সমষ্টির অংশবিশেষকে শামিল করে, তখন তাকে বিশেষ (خاص) হিসেবে অভিহিত করা হয়।

যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো} [আত-তাওবাহ: ৫]। নিশ্চয়ই এই শব্দটি সকল মুশরিকের ক্ষেত্রে সাধারণ (عام)। অতঃপর যদি এমন কোনো শব্দ আসে যা ইহুদি ও নাসারাদের হত্যার বিষয়টি শামিল করে, তবে বলা হয় যে এটি একটি শব্দ...
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০৭)
خاص. بمعنى أنه مثل اقتلوا اليهود، يتناول الجملة التي استوعبها اللفظ العام. من قولهم خُصَّ فلان بكذا، بمعنى أنه أفرد به دون غيره ممن يشمله وإياه معنى أو معانٍ.

فإذا كان اللفظ الخاص حكمه حكم اللفظ العام على ما قدمناه قيل هذا لفظ خاص ولفظ عام وإذا كان حكم اللفظ الخاص يضاد حكم اللفظ العام بان أخرج من اللفظ بعض ما تناوله مثل قوله تعالى: {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ} [التوبة: الآية 5] ثم يرد بعد هذا النهي عن قتل من أدّى الجزية، فإنه قد أخرج باللفظ الخاص بعض ما تناوله اللفظ العام، فيصح أن يقال في هذا إنه خصوص، بمعنى أن أهل الجزية خُصّوا بهذا. ولفظ التخصيص فيه أظهر وأكثر استعمالًا عند أهل الجدل.

ومعنى ذلك أن هذا خصّ اللفظ الأول فجعله خاصًّا فيمن لم يؤد الجزية بعد أن كان عامًّا فيهم وفي سواهم ويحتمل أن يكون معنى ذلك أنه خصّ من يقع عليه بحكم مخالف للذي ورد به اللفظ العام. واللَّه أعلم.

 

‌‌المجمل: ما لا يفهم المراد به من لفظه، ويفتقر في بيانه إلى غيره. معنى المجمل أن يكون اللفظ يتناول جملة المعنى دون تفصيله، وورد على صفة تقع تحتها صفات وأجناس متغايرة. ولذلك قيل في حدّه "إنه لا يفهم المراد به من لفظه" لوقوعه على أجناس متباينة مختلفة، فلا يمكن امتثال الأمر به إلا بعد بيانه، لأن المأمور لو أراد امتثال الأمر به لم يمكنه القصد إلى جنس مخصوص، لأن اللفظ المجمل لا يقتضيه ولا ينبئ عنه بمجرده، فلما كان هذا حكمه افتقر إلى معنى غيره يبينه ويوضح عن جنسه وقدره وصفاته وغير ذلك من أحكامه.

وذلك مثل قوله تعالى: {وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا} [الإسراء: الآية 33] فلفظة السلطان ههنا مجملة، لا يعلم المراد بها [من] جنس مخصوص من قتل أو دية أو حبس أو غير ذلك.

ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا اللَّه فإذا قالوها عصموا مني أموالهم ودماءهم إلا بحقها (1). فلفظة الحق ههنا مجملة، لأنه لا يعلم جنس الحق ولا قدره. وقد عاد ذلك بالإجمال في قوله: "عصموا مني دماءهم وأموالهم" وإن كان اللفظ عامًّا معروف الجنس. لكنه لما استثني منه مجملٌ غير معلوم، صار ما بقي منه مجملًا غير معلوم.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري ومسلم وأبو داود والترمذي، انظر كشف الخفا للعجلوني 1/ 194.
বিশেষ (خاص)। এর অর্থ হলো—যেমন "ইহুদীদের হত্যা করো"—এটি সেই বাক্যকে অন্তর্ভুক্ত করে যা সাধারণ শব্দ (عام) দ্বারা পরিবেষ্টিত। তাদের প্রবাদ থেকে এসেছে "অমুককে অমুক বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে", এর অর্থ হলো সে ব্যতিরেকে অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে কেবল তাকেই এর জন্য একক করা হয়েছে, যদিও তারা এক বা একাধিক অর্থের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যদি বিশেষ শব্দ (خاص)-এর বিধান সাধারণ শব্দ (عام)-এর বিধানের অনুরূপ হয় যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি, তবে তাকে বিশেষ শব্দ (خاص) ও সাধারণ শব্দ (عام) বলা হয়। আর যদি বিশেষ শব্দের বিধান সাধারণ শব্দের বিধানের বিপরীত হয়—এভাবে যে সেটি সাধারণ শব্দের অন্তর্ভুক্ত কিছু অংশকে বের করে দেয়—যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর মুশরিকদের হত্যা করো} [আত-তাওবা: ৫], অতঃপর এর পরে যারা জিজিয়া প্রদান করেছে তাদের হত্যা করার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। এখানে বিশেষ শব্দ (خاص) দ্বারা সাধারণ শব্দ (عام)-এর অন্তর্ভুক্ত কিছু অংশকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় একে সুনির্দিষ্টকরণ (خصوص) বলা সঠিক হবে; অর্থাৎ জিজিয়া প্রদানকারীরা এর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট হয়েছে। আর বিতর্কবিদদের নিকট এক্ষেত্রে বিশেষায়ন (تخصيص) শব্দটি অধিকতর স্পষ্ট ও বহুল ব্যবহৃত।

এর অর্থ হলো—এটি প্রথম শব্দটিকে সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে এবং একে তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ (خاص) বানিয়ে দিয়েছে যারা জিজিয়া প্রদান করেনি, অথচ ইতিপূর্বে এটি তাদের এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও সাধারণ (عام) ছিল। আবার এর অর্থ এমন হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি যার ওপর প্রযোজ্য হয় তাকে এমন একটি বিধানের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করেছে যা সাধারণ শব্দ (عام) দ্বারা বর্ণিত বিধানের পরিপন্থী। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

 

‌অস্পষ্ট (مجمل): যা দ্বারা উদ্দেশ্য কী তা কেবল তার শব্দ থেকে বোঝা যায় না এবং তার ব্যাখ্যার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয়। অস্পষ্ট (مجمل)-এর অর্থ হলো—শব্দটি অর্থের সমষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে কিন্তু তার বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে না, এবং এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর অবতীর্ণ হয় যার অধীনে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই কারণেই এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে "যা দ্বারা উদ্দেশ্য কী তা কেবল তার শব্দ থেকে বোঝা যায় না", কারণ এটি নানাবিধ ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির ওপর প্রযোজ্য হয়। ফলে এর ব্যাখ্যা ব্যতিরেকে সেই আদেশ পালন করা সম্ভব নয়। কেননা যাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, সে যদি আদেশটি পালন করতে চায় তবে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিকে লক্ষ্য করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না, কারণ অস্পষ্ট শব্দ (مجمل) কেবল নিজের দ্বারা তা দাবি করে না বা সে সম্পর্কে সংবাদ দেয় না। যখন এর বিধান এমন হলো, তখন এটি অন্য কোনো অর্থের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে যা এর শ্রেণি, পরিমাণ, গুণাবলি এবং এর অন্যান্য বিধানকে সুস্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করে।

এর উদাহরণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দিয়েছি} [আল-ইসরা: ৩৩]। এখানে 'ক্ষমতা' শব্দটি অস্পষ্ট (مجمل), কারণ এর দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট বিষয় যেমন হত্যা, রক্তমূল্য, কারাদণ্ড বা অন্য কিছু উদ্দেশ্য কি না তা জানা যায় না।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। যখন তারা এটি বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের জান ও মাল নিরাপদ করে নেবে, তবে তার হক ব্যতিরেকে (১)।" এখানে 'হক' শব্দটি অস্পষ্ট (مجمل), কারণ হকের ধরন বা তার পরিমাণ জানা নেই। ফলে এটি তাঁর এই বাণীতে অস্পষ্টতা (إجمال) ফিরিয়ে এনেছে: "তারা আমার থেকে তাদের জান ও মাল নিরাপদ করে নেবে", যদিও শব্দটি সাধারণ (عام) এবং এর ধরনও পরিচিত ছিল। কিন্তু যেহেতু তা থেকে একটি অস্পষ্ট (مجمل) ও অজ্ঞাত বিষয়কে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই তার অবশিষ্টাংশও অস্পষ্ট (مجمل) ও অজ্ঞাত হয়ে পড়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিজি। দেখুন: আজলুনির কাশফুল খাফা ১/১৯৪।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০৮)
‌‌والمفسر: ما فهم المراد به من لفظه، ولم يفتقر في بيانه إلى غيره.

معنى ذلك أن لفظ التفسير يقتضي تبيين ما يَقْصِدُ إلى تفسيره قاصد بعد إجماله وإبهامه.

ويصح أن يوصف بذلك إذا كان وُضِعَ من البيان على موضوع يقتضي كونه مفسرًا. فإذا كان ذلك قائمًا قصدنا بالحد إلى بيان اللفظ الذي موضعه التفسير والتفصيل.

فإذا ورد اللفظ متناولًا لما تقصد العبارة [البيان] عنه من المعاني على وجه التفصيل والإيضاح، وبلغ من ذلك مبلغًا يُفهم المراد به من لفظه كان مفسرًا. وما كان هذا حكمه، لم يفتقر في بيانه إلى غيره واللَّه أعلم.

 

‌‌والمحكم: يستعمل في المفسر؛ ويستعمل في الذي لم ينسخ.

فإذا استعملناه في المفسر، فقد تقدم معناه، ويكون وصفنا له حينئذٍ بأنه محكم أنه قد أحكم تفسيره وإيضاحه ووضعه ونظمه على ما قصد به من الإيضاح.

وإذا قلنا إن معناه الذي لم ينسخ، فإن معناه الممنوع من النسخ. وقد قال مجاهد في قوله تعالى: {الر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ} [هود: الآية 1] أن معنى ذلك منعت من النسخ. وقد قيل إنه مأخوذ من حكمة اللجام التي تمنع الفرس من الجماح.

 

‌‌والمتشابه: هو المشكل الذي يحتاج في فهم المراد به إلى تفكر وتأمل.

ومعنى وصفنا له بأنه متشابه أن يحتمل معاني مختلفة يتشابه تعلقها باللفظ. ولذلك احتاج تمييز المراد منها باللفظ إلى فكر وتأمل يتميز به المراد من غيره.

 

‌‌والمطلق: هو اللفظ الواقع على صفات لم يقيد ببعضها.

ومعنى ذلك أن يرد اللفظ يتناول مذكورًا يصح وجوده على صفات متغايرة مختلفة، ولا يقيد بشيء منها.

مثل قوله تعالى في آية الظهار {فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا} [المجادلة: الآية 3] فكذلك العتق في الظهار بلفظ الرقبة، والرقبة واقعة على صفات متغايرة من كفر وإيمان وذكورة وأنوثة وصغر وكبر وتمام ونقصان، ولم يقيدها بصفة تتميز بها مما يخالفها، فهذا الذي يسميه أهل الجدل المطلق.

 

‌‌والمقيد: هو اللفظ الواقع على صفات قد قُيّد ببعضها.
‌‌সুব্যক্ত (المفسر): যা তার শব্দ থেকেই উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে এবং যার ব্যাখ্যার জন্য অন্য কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন হয় না।

এর অর্থ হলো, 'তাফসির' শব্দটির দাবিই হলো এমন বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করা, যা কোনো ব্যাখ্যাকারী বিষয়টির সংক্ষিপ্ততা বা অস্পষ্টতার পর তা স্পষ্ট করার ইচ্ছা পোষণ করেন।

একে তখনই এই গুণাবলি দ্বারা বিশেষায়িত করা সঠিক হবে, যখন বিষয়টির বর্ণনাভঙ্গি এমনভাবে বিন্যস্ত হয় যা তাকে সুব্যক্ত (المفسر) হওয়ার দাবি রাখে। যখন এই বিষয়টি বিদ্যমান থাকে, তখন আমরা সংজ্ঞার মাধ্যমে সেই শব্দের ব্যাখ্যার দিকে ইঙ্গিত করি যার অবস্থান হলো বিস্তারিত বর্ণনা ও সুস্পষ্টকরণ।

সুতরাং শব্দটি যদি বিস্তারিত ও সুস্পষ্টভাবে বর্ণনার উদ্দিষ্ট অর্থসমূহ প্রকাশ করে এবং তা যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তার শব্দ থেকেই উদ্দেশ্য অনুধাবন করা সম্ভব হয়, তবে তা সুব্যক্ত (المفسر) হিসেবে গণ্য হবে। আর যার বিধান এমন হবে, তা ব্যাখ্যার জন্য অন্য কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌সুদৃঢ় (المحكم): এটি সুব্যক্ত (المفسر) অর্থে ব্যবহৃত হয়; আবার যা রহিত (نسخ) হয়নি এমন অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

যখন আমরা একে সুব্যক্ত (المفسر) অর্থে ব্যবহার করি, তখন এর অর্থ ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় বিষয়টিকে সুদৃঢ় (المحكم) হিসেবে অভিহিত করার কারণ হলো, এর ব্যাখ্যা, সুস্পষ্টতা, উপস্থাপনা ও বিন্যাসকে তার উদ্দিষ্ট স্পষ্টতার ওপর সুসংহত করা হয়েছে।

আর যখন আমরা বলি যে এর অর্থ হলো যা রহিত (نسখ) হয়নি, তখন এর অর্থ দাঁড়ায় যা রহিতকরণ (النسخ) থেকে সংরক্ষিত। ইমাম মুজাহিদ (রহ.) মহান আল্লাহর বাণী: {আলিফ, লাম, রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে} [হুদ: ১] সম্পর্কে বলেছেন যে, এর অর্থ হলো এটি রহিত হওয়া থেকে সুরক্ষিত। এও বলা হয়েছে যে, এটি পশুর মুখের লাগাম থেকে উদ্ভূত, যা ঘোড়াকে অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখে।

 

‌‌অস্পষ্ট বা রূপক (المتشابه): এটি হলো সেই জটিল (المشكل) বিষয় যা বুঝতে বা উদ্দিষ্ট অর্থ অনুধাবনে চিন্তা ও গবেষণার প্রয়োজন হয়।

একে অস্পষ্ট বা রূপক (المتشابه) বলার অর্থ হলো, এটি এমন ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ধারণের সম্ভাবনা রাখে যা শব্দের সাথে সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে সদৃশ বা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। একারণেই শব্দের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট অর্থকে পৃথক করার জন্য চিন্তা ও গবেষণার প্রয়োজন হয়, যাতে উদ্দিষ্ট বিষয়টি অন্য বিষয় থেকে আলাদা করা যায়।

 

‌‌সাধারণ বা শর্তহীন (المطلق): এটি এমন শব্দ যা কতিপয় বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রযোজ্য হয় কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট শর্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়।

এর অর্থ হলো এমন শব্দের আগমন যা এমন বিষয়কে শামিল করে যার অস্তিত্ব ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ওপর হওয়া সম্ভব, এবং তার জন্য কোনো শর্তারোপ করা হয়নি।

যেমন যিহার সংক্রান্ত আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা পরস্পরকে স্পর্শ করার পূর্বে একজন দাস মুক্ত করবে} [আল-মুজাদালাহ: ৩]। এখানে যিহারের ক্ষেত্রে 'দাস' শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর 'দাস' শব্দটি কুফর, ইমান, পুরুষ, নারী, ছোট, বড়, নিখুঁত বা খুঁতযুক্ত হওয়ার মতো ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রযোজ্য হতে পারে। অথচ এখানে এমন কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য দ্বারা তাকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি যার মাধ্যমে সে তার বিপরীত বৈশিষ্ট্য থেকে পৃথক হতে পারে। বিতর্কবিদগণ একেই সাধারণ বা শর্তহীন (المطلق) নামে অভিহিত করেন।

 

‌‌শর্তযুক্ত (المقيد): এটি এমন শব্দ যা কতিপয় বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রযোজ্য এবং যা কোনো নির্দিষ্ট শর্ত (قيد) দ্বারা সীমাবদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০৯)
ومعنى ذلك أن يكون اللفظ الوارد يتناول المذكور الموجود على صفات متغايرة ويقيد ببعضها، فيتميز بذلك مما يخالفه في تلك الصفة.

وذلك مثل قوله تعالى في كفارة القتل: {وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ} [النساء: الآية 92] فاسم الرقبة واقع على المؤمنة والكافرة، فلما قيده ههنا بالإيمان كان مقيدًا من هذا الوجه، وإن كان مطلقًا في غير ذلك من الصفات.

 

‌‌والتأويل: صرف الكلام عن ظاهره إلى وجه يحتمله.

ومعنى ذلك أن يكون الكلام يحتمل معنيين فزائدًا إلا أن أحدهما أظهر في ذلك اللفظ إما لوضع أو استعمال أو عرف. فإذا ورد وجب حمله على ظاهره إلا أن يرد دليل يصرفه عن ذلك الظاهر إلى بعض ما يحتمله. ويسمي أهل الجدل ذلك الصرف تأويلًا.

وذلك [كـ] قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ} [البقرة: الآية 228]. فلفظة "يتربصن" ظاهرها الخبر، ويحتمل أن يراد بها الأمر. فلو تُركنا والظاهر لحملناها على الخبر، إلا أنّا نجد من المطلقات من لا يتربصن، وخبر الباري تبارك وتعالى لا يصح أن يقع بخلاف مخبره، فثبت بذلك أن المراد به الأمر. واللَّه أعلم بالصواب.

 

‌‌والنسخ: إزالة الحكم الثابت بشرع متقدم بشرع متأخر عنه على وجه لولاه لكان ثابتًا.

معنى ذلك أن النسخ في كلام العرب قد يكون بمعنى الكتابة وليس هذا الذي نريده بهذا الحد. ويكون بمعنى الإزالة. من قولهم نسخت الشمس الظل، إذا أزالته. وهو معنى النسخ في الشرع، وهو أن يزال حكم من الأحكام بعد أن يثبت الأمر به.

فأما الحكم الوارد ابتداءً فلا يسمى عند أهل الجدل نسخًا، وكذلك إذا حظر معنى من المعاني مدة من الزمان مقدرة، فانقضت المدة وانقضى بانقضائها الحظر، لم يوصف ذلك بأنه نسخ، لأن ما تقدم من الحظر لم يُزل بتلك الإباحة التي خلفته، وإنما زال بانقضاء مدته، ولذلك قلنا إن النسخ "إزالة الحكم الثابت" يريد أنه باقٍ إلى حين الإزالة له، ولو كانت انقضت مدته لما وصف بأنه مزال.

وقولنا "بشرع متقدم بشرع متأخر عنه" احترازًا للحد واستيعابًا للمحدود، لأنا لو قلنا "إزالة الحكم الثابت بقول متقدم بقول متأخر عنه" على ما قاله كثير من شيوخنا
এর অর্থ হলো, ব্যবহৃত শব্দটি এমনভাবে বর্ণিত বিষয়ের ওপর প্রযুক্ত হওয়া যা বিভিন্ন গুণের অধিকারী এবং তাকে কোনো একটি গুণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হয়। এর ফলে শব্দটি উক্ত গুণের বিপরীত গুণসম্পন্ন বিষয় থেকে পৃথক হয়ে যায়।

যেমন হত্যার কাফফারা সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {একটি মুমিন দাস মুক্ত করা} [নিসা: ৯২]। এখানে 'দাস' শব্দটি মুমিন ও কাফির উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। যখন তিনি এখানে একে ঈমানের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করলেন, তখন তা এই দিক থেকে সীমাবদ্ধ (مقيد) হয়ে গেল, যদিও অন্যান্য গুণের ক্ষেত্রে তা শর্তহীন (مطلق) রয়ে গেছে।

 

‌‌ব্যাখ্যা (تأويل): বক্তব্যকে তার প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ থেকে এমন এক সম্ভাব্য অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেয়া যা বহন করার যোগ্যতা শব্দটির রয়েছে।

এর অর্থ হলো, কোনো বক্তব্য দুই বা ততোধিক অর্থ বহন করতে পারে, তবে শব্দটির আভিধানিক গঠন, ব্যবহার বা প্রথার কারণে কোনো একটি অর্থ অধিকতর সুস্পষ্ট হয়। সুতরাং যখন শব্দটি আসবে, তখন তাকে তার প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থেই গ্রহণ করা আবশ্যক, যতক্ষণ না এমন কোনো দলিল পাওয়া যায় যা তাকে সেই প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ থেকে অন্য কোনো সম্ভাব্য অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেয়। বিতর্ক শাস্ত্রবিদগণ এই রূপান্তরকে ব্যাখ্যা (تأويل) বলে অভিহিত করেন।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে} [বাকারা: ২২৮]। এখানে "তারা প্রতীক্ষায় থাকবে" শব্দটির প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ হলো সংবাদ (خبر), তবে এর দ্বারা আদেশ (أمر) উদ্দেশ্য হওয়াও সম্ভব। যদি আমরা একে কেবল প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থের ওপর ছেড়ে দিতাম, তবে একে সংবাদ (خبر) হিসেবেই গ্রহণ করতাম। কিন্তু আমরা দেখি যে, অনেক তালাকপ্রাপ্তা নারী প্রতীক্ষা করে না; অথচ মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার সংবাদ (خبر) বাস্তবে তার সংবাদের বিপরীত হওয়া অসম্ভব। সুতরাং এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো আদেশ (أمر)। আর আল্লাহই সঠিক উত্তর সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।

 

‌‌রহিতকরণ (النسخ): কোনো পরবর্তী শরয়ি বিধানের মাধ্যমে পূর্ববর্তী শরয়ি বিধান দ্বারা সাব্যস্ত কোনো হুকুমকে এমনভাবে অপসারণ করা, যা না থাকলে তা বহাল থাকত।

এর অর্থ হলো, আরবদের ভাষায় 'নাসখ' শব্দটি কখনো 'লিখন' অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে এই সংজ্ঞায় আমাদের উদ্দেশ্য সেটি নয়। বরং এটি 'অপসারণ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন তারা বলে, "সূর্য ছায়াকে অপসারিত (نسخت) করেছে", যখন সূর্য ছায়াকে মিটিয়ে দেয়। শরিয়তের পরিভাষায় রহিতকরণ (النسخ)-এর অর্থ এটাই; অর্থাৎ কোনো বিষয়ে নির্দেশ সাব্যস্ত হওয়ার পর সেই বিধানটি অপসারিত হওয়া।

তবে প্রাথমিকভাবে আগত কোনো বিধানকে বিতর্ক শাস্ত্রবিদদের নিকট রহিতকরণ (النسخ) বলা হয় না। তেমনিভাবে যদি কোনো বিষয় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেই সময় অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে নিষেধাজ্ঞারও সমাপ্তি ঘটে, তবে তাকে রহিতকরণ (النسخ) হিসেবে অভিহিত করা হয় না। কারণ পূর্ববর্তী সেই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী বৈধতা দ্বারা অপসারিত হয়নি, বরং তা তার নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার কারণেই বিলুপ্ত হয়েছে। এই কারণেই আমরা বলেছি যে, রহিতকরণ (النسخ) হলো "সাব্যস্ত বিধানের অপসারণ"; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, অপসারিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিধানটি বহাল ছিল। যদি তার সময়সীমা আগেই শেষ হয়ে যেত, তবে তাকে অপসারিত বলে গণ্য করা হতো না।

আর আমাদের উক্তি "পরবর্তী শরয়ি বিধানের মাধ্যমে পূর্ববর্তী শরয়ি বিধানকে"—এটি সংজ্ঞাকে নিখুঁত করতে এবং সংজ্ঞায়িত বিষয়কে পূর্ণাঙ্গরূপে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বলা হয়েছে। কারণ আমাদের অনেক শায়খ যেমনটি বলেছেন, যদি আমরা বলতাম "পরবর্তী কোনো বক্তব্যের মাধ্যমে পূর্ববর্তী বক্তব্যের মাধ্যমে সাব্যস্ত বিধানকে অপসারণ করা"...
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১০)
لخرج عن هذا الحد نسخ الأفعال بالأفعال ونسخ الأموال بالأفعال ونسخ الأفعال بالأقوال. فإذا علقنا ذلك بلفظه "الشرع" اشتملت على الأقوال والأفعال واستوعبت الحد.

وقلنا "بشرع متأخر عنه" لأن الناسخ من شرطه أن يتأخر عن المنسوخ، ولا يرد قبله ولا معه.

وقولنا "على وجه لولاه لكان ثابتًا" تبين لما تقدم من أن النسخ إنما يكون بإزالة الحكم الأول بالحكم الثاني لا بانقضاء مدته وورود ما يخالفه بعده.

 

‌‌دليل الخطاب: قصر حكم المنطوق به على ما تناوله، والحكم للمسكوت عنه بما خالفه.

ومعنى ذلك -عند القائلين به- أن يعلن الحكم على صفة موجودة في بعض الجنس، فيدل ذلك -عند القائلين به- أن حكم ما لم توجد فيه تلك الصفة مخالف لحكم ما وجدت فيه.

وذلك مثل ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "في سائمة الغنم الزكاة (1) " فدل ذلك عند القائلين بدليل الخطاب على أن ما ليس بسائمة من الغنم لا زكاة فيها.

وذلك أن السائمة عندهم منطوق بحكمها، والمعلوفة مسكوت عنها، فوجب أن يكون حكم المعلوفة غير حكم السائمة.

وقد ذكرنا أن هذا ليس بصحيح، لأن ما نص على حكمه ثبت حكمه بالنص. وما سكت عن حكمه من المعلوفة لا يجوز أن يثبت فيه بذلك النص حكم مخالف لما نص عليه ولا مماثل له، وإنما يجب أن يطلب دليل حكمه في الشرع كسائر ما سكت عنه. وهذا فائدة تخصيص ما نص على حكمه.

 

‌‌ولحن الخطاب: هو الضمير الذي لا يتم الكلام إلا به.

‌‌وفحوى الخطاب: ما يعنهم من نفس الخطاب من قصد المتكلم بعرف اللغة (2).

‌‌والحصر: له لفظ واحد إنما (3).

--------------------------------------------

(1) أخرج نحوه النسائي في سننه 5/ 29.

(2) انظر مفتاح الوصول ص 112.

(3) التعريفات ص 78.
তাহলে এই সংজ্ঞা থেকে কাজের দ্বারা কাজ রহিতকরণ (نسخ), কাজের দ্বারা সম্পদের [বিধান] রহিতকরণ (نسخ) এবং কথার দ্বারা কাজ রহিতকরণ (نسخ) বাদ পড়ে যেত। সুতরাং আমরা যখন একে 'শরিয়ত' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট করি, তখন এটি কথা ও কাজ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে এবং সংজ্ঞাকে পূর্ণাঙ্গ করে।

আমরা বলেছি "পরবর্তী কোনো শারয়ি বিধানের মাধ্যমে", কারণ রহিতকারী (ناسخ) হওয়ার শর্ত হলো এটি রহিতকৃত (منسوخ) বিষয়ের পরে আসবে; এটি তার আগে বা সাথে আসবে না।

আমাদের বক্তব্য "এমনভাবে যা না হলে বিধানটি বহাল থাকত" - এটি পূর্বে আলোচিত বিষয়কে স্পষ্ট করে যে, রহিতকরণ (نسخ) মূলত দ্বিতীয় বিধানের মাধ্যমে প্রথম বিধানটি অপসারণের দ্বারা হয়, তার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে বা পরে কোনো বিপরীত কিছু আসার মাধ্যমে নয়।

 

‌‌দলীলুল খিতাব (دليل الخطاب): ভাষ্যকৃত (منطوق) বিষয়ের হুকুমকে তার আওতাভুক্ত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং অনুক্ত (مسكوت عنه) বিষয়ের ক্ষেত্রে তার বিপরীত হুকুম সাব্যস্ত করা।

যারা এর প্রবক্তা তাদের মতে এর অর্থ হলো— কোনো এক জাতীয় বিষয়ের কিছু অংশে বিদ্যমান কোনো গুণের ভিত্তিতে হুকুম ঘোষণা করা। এটি তাদের মতে প্রমাণ করে যে, যে বিষয়ের মধ্যে ওই গুণটি বিদ্যমান নেই তার হুকুম, গুণটি বিদ্যমান থাকা বিষয়ের হুকুমের বিপরীত হবে।

এর উদাহরণ হলো যেমন নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "মাঠে চারণকারী (سائمة) ছাগলের ওপর জাকাত রয়েছে (১)"। যারা দলীলুল খিতাব (دليل الخطاب)-এর প্রবক্তা, তাদের নিকট এটি প্রমাণ করে যে, ছাগলের মধ্যে যা চারণকারী (سائمة) নয়, তাতে জাকাত নেই।

কেননা তাদের মতে চারণকারী (سائمة) পশুর হুকুম হলো ভাষ্যকৃত (منطوق), আর পালিত (معلوفة) পশুর বিষয়টি অনুক্ত (مسكوت عنه)। ফলে পালিত (معلوفة) পশুর হুকুম চারণকারী (سائمة) পশুর হুকুমের চেয়ে ভিন্ন হওয়া আবশ্যক।

আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এটি সঠিক (صحيح) নয়; কারণ যার হুকুম স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, তার বিধান সেই পাঠ (نص)-এর মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। আর পালিত (معلوفة) পশুর মতো যে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, সেই পাঠ (نص)-এর মাধ্যমে সেখানে বর্ণিত হুকুমের বিপরীত বা সদৃশ কোনো বিধান সাব্যস্ত করা বৈধ নয়। বরং শরিয়তের অন্যান্য অনুক্ত (مسكوت عنه) বিষয়ের মতো এর হুকুমের দলিলও তালাশ করা আবশ্যক। আর যেটির হুকুম স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে তার বিশেষায়নের সার্থকতা এখানেই।

 

‌‌লাহনী খিতাব (لحن الخطاب): এটি হলো সেই প্রচ্ছন্ন অর্থ (ضمير) যা ছাড়া বাক্য পূর্ণাঙ্গ হয় না।

‌‌ফাহওয়াল খিতাব (فحوى الخطاب): ভাষার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বক্তার উদ্দেশ্য থেকে সম্বোধনের যে অর্থটি প্রতীয়মান হয় (২)।

‌‌সীমাবদ্ধকরণ (حصر): এর জন্য একটি শব্দ রয়েছে আর তা হলো 'ইন্নামা' (إنما) (৩)।

--------------------------------------------

(১) নাসাঈ তার সুনানে ৫/২৯ এ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: মিফতাহুল উসুল, পৃষ্ঠা ১১২।

(৩) আত-তা'রিফাত, পৃষ্ঠা ৭৮।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১১)
‌‌ومعنى الخطاب: هو القياس.

‌‌والحقيقة: كل لفظ بقي على موضوعه (1).

معنى وصفنا لهذا بأنه حقيقة أنه مستعمل فيما وضع له على الحقيقة، ثم يعدل به عنه، ولا يجوز به معناه. من قولهم: هذا حقيقة‌‌ الأمر. فإذا استعمل اللفظ في المعنى الذي له وصف بأنه حقيقة فيه، بمعنى أنه لم يتسامح بالعدول به عما وضع له، ولا نقل عن ذلك بتجوز ولا غيره.

‌‌والمجاز: كل لفظ تجوز به عن موضوعه (1).

ومعنى وصفنا له بذلك أن المستعمل له جاوز استعماله فيما وضع له إلى غيره. من قولهم: جاوز فلان قدره، إذا تعداه. واستعمل ذلك وكثر في كلامهم حتى سموا اللفظ المستعمل في غير ما وضع له مجازًا وسموا المتكلم به متجوزًا. وهو شائع ذائع في كلام العرب، ولا يكون الناطق بذلك متكلمًا بغير لغة العرب، لأن العرب استعملت هذه الألفاظ في غير ما وضعت له على هذا الوجه، فكان ذلك من اللغة العربية.

الأمر: اقتضاء المأمور به بالقول على وجه الاستعلاء والقسر (2).

ومعنى ذلك ألا يكون أمرًا إلا باستدعاء الفعل-، وذلك يتميز من الإباحة، لأن المبيح لا يستدعي الفعل، وإنما يأذن فيه والأمر يستدعيه على وجه ما هو آمر به من وجوب أو ندب.

وقوله "على وجه الاستعلاء والقسر" مما يختص به الأمر ويتميز به من الشفاعة والرغبة، لأن الشافع والراغب يستدعي الفعل، لكن على وجه الرغبة والخضوع، والآمر يستدعيه على وجه الغلبة والقهر.

 

‌‌الواجب: ما كان في تركه عقاب من حيث هو ترك له على وجه ما.

قوله: "ما كان في تركه عقاب" ترك الفعل هو ضده، وترك المشي الوقوف والجلوس والاضطجاع. كل واحد من هذه يسمى تركًا للمشي، والمشي ترك لكل واحد من هذه في عرف تخاطب المتكلمين وأهل الجدل.

--------------------------------------------

(1) انظر مفتاح الوصول ص 75.

(2) انظر مفتاح الوصول ص 30.
সম্বোধনের (الخطاب) অর্থ: তা হলো কিয়াস (القياس)।

হাকীকত (الحقيقة): প্রত্যেকটি শব্দ যা তার মূল অর্থের (موضوعه) ওপর বহাল থাকে (১)।

আমাদের এই বর্ণনাকে 'হাকীকত' হিসেবে অভিহিত করার অর্থ হলো, শব্দটি বাস্তবে যার জন্য নির্ধারিত হয়েছে সেই অর্থেই ব্যবহৃত হচ্ছে, অতঃপর তা থেকে বিচ্যুত হওয়া হয়নি এবং তার অর্থকে অতিক্রম করা হয়নি। যেমন তাদের উক্তি: "এটিই বিষয়ের হাকীকত (الأمر)"। সুতরাং শব্দ যখন সেই অর্থে ব্যবহৃত হয় যার জন্য তাকে 'হাকীকত' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, এর অর্থ হলো শব্দটিকে যে বিষয়ের জন্য রাখা হয়েছিল তা থেকে বিচ্যুত হওয়াকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি এবং রূপক (تجوز) বা অন্য কোনোভাবে তা থেকে স্থানান্তরিত করা হয়নি।

মাজায (المجاز): প্রত্যেকটি শব্দ যা তার মূল নির্ধারিত অর্থ থেকে অন্য অর্থে প্রয়োগ (تجوز) করা হয়েছে (১)।

আমাদের এই বর্ণনার অর্থ হলো, ব্যবহারকারী শব্দটিকে তার নির্ধারিত অর্থ থেকে অন্য অর্থে অতিক্রম করিয়েছেন। যেমন তাদের কথা: "অমুক তার সীমা অতিক্রম (جاوز) করেছে", যখন সে তা লঙ্ঘন করে। এটি তাদের কথায় এতো অধিক প্রচলিত হয়েছে যে, তারা নির্ধারিত অর্থ ছাড়া অন্য অর্থে ব্যবহৃত শব্দকে মাজায (مجازًا) এবং এর বক্তাকে মুতাজাউয়িয (متجوزًا) নাম দিয়েছে। এটি আরবদের কথায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত, এবং এরূপ বক্তা আরবি ভাষা বহির্ভূত ভাষায় কথা বলছেন বলে গণ্য হবে না; কারণ আরবরাই এই শব্দগুলোকে তাদের নির্ধারিত অর্থ ব্যতিরেকে এভাবে ব্যবহার করেছে, ফলে এটি আরবি ভাষারই অংশ।

আদেশ (الأمر): উচ্চমর্যাদা প্রদর্শন (الاستعلاء) ও বাধ্যবাধকতার (القسر) ভিত্তিতে কথার মাধ্যমে কোনো কাজ দাবি করা (২)।

এর অর্থ হলো, কোনো কাজ তলব বা দাবি করা ছাড়া তা আদেশ (أمرًا) হবে না। এটি বৈধতা (الإباحة) থেকে স্বতন্ত্র; কারণ বৈধতাদানকারী কাজটি তলব করেন না, বরং কেবল তার অনুমতি দেন। পক্ষান্তরে আদেশদাতা সেই কাজটিকে ওয়াজিব (وجوب) বা মানদুব (ندب) হওয়ার ভিত্তিতে দাবি করেন।

এবং তার উক্তি "উচ্চমর্যাদা প্রদর্শন ও বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে" বিষয়টি আদেশের (الأمر) জন্য নির্দিষ্ট এবং এর মাধ্যমেই তা সুপারিশ (الشفاعة) ও অনুরোধ (الرغبة) থেকে পৃথক হয়। কারণ সুপারিশকারী বা অনুরোধকারীও কাজটি দাবি করেন, তবে তা বিনয় ও নম্রতার সাথে; কিন্তু আদেশকারী তা দাবি করেন প্রাধান্য ও পরাক্রমের সাথে।

 

ওয়াজিব (الواجب): যার বর্জনে কোনো না কোনোভাবে শাস্তি (عقاب) রয়েছে।

তার উক্তি: "যার বর্জনে শাস্তি রয়েছে" - কোনো কাজ বর্জন করা হলো তার বিপরীত কাজ করা। যেমন হাঁটা বর্জন করা হলো দাঁড়ানো, বসা বা শুয়ে থাকা। এর প্রত্যেকটিকেই হাঁটা বর্জন করা বলা হয়, আর হাঁটা হলো কালাম শাস্ত্রবিদ ও তার্কিকদের পরিভাষায় এগুলোর প্রত্যেকটির বর্জন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন মিফতাহুল উসুল, পৃষ্ঠা ৭৫।

(২) দেখুন মিফতাহুল উসুল, পৃষ্ঠা ৩০।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১২)
ويتميز الواجب من المندوب إليه بأنّ في تركه عقابًا، وليس في ترك المندوب إليه ولا المباح عقاب. مثال ذلك: أن من ترك صلاة الفرض إلى جلوس أو غيره حتى فات وقتها استحق العقاب. ومن ترك الصلاة النافلة إلى جلوس، أو ترك الوقوف المباح إلى جلوس لم يستحق بشيء من ذلك عقابًا.

وقلنا "من حيث هو تَرْك له" احترازًا من ترك المباح والمندوب إليه إلى معصية، فإنه يستحق العقاب، ليس من حيث إنه ترك المندوب والمباح، ولكن من حيث فعل المعصية.

يبين ذلك: أنه إذا ترك صلاة الفرض، إلى أي شيء تركها، استحق بذلك العقاب، لأنه ترك الواجب. وإذا ترك المندوب إليه والمباح، إلى معصية استحق العقاب من حيث فعل المعصية لا من حيث ترك المندوب إليه والمباح وإذا ترك أحدهما إلى غير معصية لم يستحق عقابًا، فتميز بذلك ترك الواجب من المندوب إليه والمباح. ولذلك قيدنا الحد بقولنا: "من حيث هو ترك له".

وقولنا: "على وجه ما" احتراز من الواجب المخير فيه كالكفارات التي خُيّر المكفر فيها بين العتق والإطعام والكسوة، لا سيما على قول من أصحابنا إن جميعها واجب، فإنه يترك بعضها وهو واجب، ولا إثم عليه إذا فعل واحدًا منها.

ومعنى قولنا: "على وجه" نريد ألا يكون أتى ببدل لما تركه من الواجب، أما لأن الواجب ليس فيه تخيير، وأما لأنه ترك جميع المخير فيه، ولم يقض الكفارة بشيء، وهو الغرض والمكتوب.

وقد عبّر بعض أصحابنا عن مؤكد السنن بالواجب، وهذا تجوز في العبارة وليس بحقيقة. وذهب بعض أصحابنا إلى أن الواجب وإن كان في تركه عقاب فرتبته دون رتبة الفرض.

ويعبر أصحاب أبي حنيفة عن ذلك بأن الفرض ما ثبت بنص القرآن والواجب ما ثبت بقول النبي صلى الله عليه وسلم. وهذا ليس بصحيح لأن ما ثبت بقول النبي عليه السلام وما ثبت بنص القرآن، فكل من عند اللَّه ثابت بنص القرآن، لقوله تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [المَائدة: الآية 92]، وقوله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: الآية 63].

وذهب القاضي أبو محمد في بعض كلامه إلى أن الواجب ما أثم بتركه ولم يجب قضاؤه، وأن الفرض ما يلزم -مع ما في تركه من الإثم- قضاؤه.
ওয়াজিব (واجب) এবং মানদুব (مندوب إليه)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো ওয়াজিব বর্জনে শাস্তি রয়েছে, কিন্তু মানদুব বা মুবাহ (مباح) বর্জনে কোনো শাস্তি নেই। উদাহরণস্বরূপ: যে ব্যক্তি বসে থাকা বা অন্য কোনো কাজের কারণে ফরজ (فرض) সালাত বর্জন করে তার সময় অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত, সে শাস্তির যোগ্য হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি বসে থাকার কারণে নফল (نافلة) সালাত বর্জন করে, অথবা কোনো মুবাহ (مباح) দাঁড়িয়ে থাকার বিষয় পরিহার করে বসে থাকে, সে এর কারণে কোনো শাস্তির যোগ্য হবে না।

আমরা বলেছি "একে বর্জন করার কারণে" - এটি মুবাহ (مباح) বা মানদুব (مندوب إليه) বিষয় বর্জন করে কোনো পাপ (معصية) কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্কতা হিসেবে বলা হয়েছে। কারণ এমতাবস্থায় সে শাস্তির যোগ্য হবে পাপ (معصية) করার কারণে, মানদুব বা মুবাহ বর্জন করার কারণে নয়।

এটি আরও স্পষ্ট করে যে, কোনো ব্যক্তি যদি ফরজ (فرض) সালাত বর্জন করে, তবে সে যে কারণেই তা বর্জন করুক না কেন, সে শাস্তির যোগ্য হবে; কেননা সে ওয়াজিব (واجب) বর্জন করেছে। আর যদি সে মানদুব (مندوب إليه) বা মুবাহ (مباح) বিষয় বর্জন করে কোনো পাপ (معصية) কাজে লিপ্ত হয়, তবে সে পাপ (معصية) করার কারণে শাস্তির যোগ্য হবে, মানদুব বা মুবাহ বর্জনের কারণে নয়। আর যদি সে পাপহীনভাবে এগুলোর কোনো একটি বর্জন করে, তবে সে শাস্তির যোগ্য হবে না। এর মাধ্যমেই ওয়াজিব (واجب) বর্জন এবং মানদুব ও মুবাহ বর্জনের মধ্যে পার্থক্য ফুটে ওঠে। এজন্যই আমরা সংজ্ঞায় "একে বর্জন করার কারণে" শর্তটি যুক্ত করেছি।

এবং আমাদের বক্তব্য "নির্দিষ্ট পন্থায়" দ্বারা ওয়াজিব মুখাইয়ার (الواجب المخير فيه) (ঐচ্ছিক ওয়াজিব) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, যেমন কাফফারা (كفارات); যেখানে কাফফারা আদায়কারীকে দাসমুক্তি, খাদ্য প্রদান বা পোশাক প্রদানের মধ্যে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের সাথীদের (মাযহাবের ইমামগণের) মতে যখন এর সবগুলোই ওয়াজিব (واجب), এমতাবস্থায় সে কিছু ওয়াজিব বর্জন করলেও তার ওপর কোনো গুনাহ (إثم) হবে না যদি সে এর যেকোনো একটি পালন করে।

আর আমাদের বক্তব্য "নির্দিষ্ট পন্থায়" এর অর্থ হলো সে যা বর্জন করেছে তার কোনো বিকল্প সে পালন করেনি। হয় সেই ওয়াজিব (واجب)-এ কোনো এখতিয়ার ছিল না, অথবা সে ঐচ্ছিক ওয়াজিবগুলোর সবগুলোই বর্জন করেছে এবং কাফফারা (كفارات) হিসেবে কোনোটিই আদায় করেনি। আর এটিই হলো লক্ষ্য এবং নির্ধারিত বিধান।

আমাদের কোনো কোনো সাথী (আলিম) সুন্নতে মুয়াক্কাদাহকে (مؤكد السنن) ওয়াজিব (واجب) হিসেবে ব্যক্ত করেছেন, তবে এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ, প্রকৃত অর্থে নয়। আবার আমাদের কিছু আলিম মনে করেন যে, ওয়াজিব (واجب) বর্জনে যদিও শাস্তি রয়েছে, তবুও এর মর্যাদা ফরজের (فرض) মর্যাদার নিচে।

ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, ফরজ (فرض) হলো যা কুরআনের অকাট্য দলীল (نص) দ্বারা প্রমাণিত, আর ওয়াজিব (واجب) হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত। তবে এটি সঠিক নয়; কারণ যা নবী আলাইহিস সালামের বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত এবং যা কুরআনের অকাট্য দলীল (نص) দ্বারা প্রমাণিত, সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং কুরআনের নস দ্বারাই সাব্যস্ত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো" [সূরা আল-মায়িদাহ: ৯২]। এবং তাঁর বাণী: "সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা সতর্ক হোক যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে" [সূরা আন-নূর: ৬৩]।

কাজী আবু মুহাম্মদ তাঁর কোনো কোনো বক্তব্যে অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, ওয়াজিব (واجب) হলো তা যা বর্জন করলে গুনাহ (إثم) হয় কিন্তু কাজা (قضاء) করা আবশ্যক হয় না। আর ফরজ (فرض) হলো তা যা বর্জনের কারণে গুনাহ (إثم) হওয়ার পাশাপাশি তা কাজা (قضاء) করাও আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১৩)
وهذا أيضًا ليس بالبيّن، لأن القضاء مما يجب عند محققي أصحابنا بأمر ثان، واختلاف العبادات في مقادير المأثم بتركها لا يفرق بينها في معنى الوجوب.

والصواب أن الواجب والفرض سواء، وربما كان الواجب أثبت في ذلك، لأن الواجب من وجب الحائط إذا سقط، فكأن هذه العبادة قد سقطت على المكلف سقوطًا يلزمه ولا يمكنه الفرار عنها ولا المخلص منها إلا بأدائها. والفرض لفظ مشترك بين التقدير واللزوم. وعلى هذا محققو أصحابنا وغيرهم.

 

‌‌المندوب إليه: هو المأمور به الذي في فعله ثواب، وليس في تركه عقاب من حيث هو تَرْك له على وجه ما.

قولنا: "هو المأمور به" وصفناه بذلك لمخالفة من خالف فيه بقوله: إنه ليس بمأمور به. ولأن هذه الصفة تتميز به منه لقولنا: "في فعله ثواب" هذه الصفة مؤكدة لذلك.

 

‌‌المباح: ما ثبت من جهة الشرع أن لا ثواب في فعله ولا عقاب في تركه من حيث هو تَرْك له على وجه ما.

قولنا: "ما ثبت من جهة الشرع" مبني على ما ذهب إليه أهل الحق من أن الإباحة والحظر والوجوب أحكام شرعية، ليس للعقل فيها مجال، ولا لثبوتها تعلق به، وإنما ذلك بحسب ما ورد به الشرع.

ولذلك قلنا إن المباح ما عُلمت بالشرع صفاته التي هو عليها من "أن لا ثواب في فعله" وبهذا يتميز من الواجب والمندوب إليه، لأن في فعلهما ثوابًا، ويشارك المندوب إليه في أن لا عقاب في تركه، وبذلك يتميزان من الواجب.

وقلنا: "من حيث هو ترك له" نريد إذا ترك المباح من الجلوس إلى مشي أو وقوف مباح فلا إثم عليه. ولو تركه إلى قربة لكان في تركه ثواب من حيث فعل القربة لا من حيث ترك المباح. ولو تركه إلى الشيء في معصية لكان في مشيه عقاب لا من حيث ترك الجلوس المباح، ولكن من حيث فعل المشي المحظور. واللَّه أعلم.

 

‌‌السنة: ما رسم ليحتذى.

هذا أصل موضوع هذه اللفظة. ولذلك يقال سنة النبي صلى الله عليه وسلم بمعنى أنه ما رسمه.
এটিও স্পষ্ট নয়, কারণ আমাদের সাথীদের মুহাক্কিকগণের (محققون) মতে ‘কাযা’ (قضاء) দ্বিতীয় একটি আদেশের মাধ্যমে ওয়াজিব (واجب) হয়। আর ইবাদতসমূহ বর্জনের কারণে গুনাহের পরিমাণের ভিন্নতা ওয়াজিব হওয়ার অর্থের ক্ষেত্রে তাদের মাঝে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করে না।

সঠিক মত হলো, ওয়াজিব (واجب) ও ফরজ (فرض) উভয়ই সমান। অনেক সময় ওয়াজিব শব্দটি এ ক্ষেত্রে অধিকতর সুদৃঢ় হয়, কারণ 'ওয়াজিব' শব্দটি 'ওয়াজাবাল হাইত' (দেয়াল পড়ে যাওয়া) থেকে উদ্ভূত। সুতরাং বিষয়টি এমন যেন এই ইবাদতটি মুকাল্লাফ (مكلف) -এর ওপর এমনভাবে পতিত হয়েছে যা তাকে অপরিহার্যভাবে পালন করতে হবে এবং তা আদায় করা ছাড়া এটি থেকে পলায়ন করার বা মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। আর ফরজ (فرض) শব্দটি নির্ধারণ এবং অপরিহার্যতা—উভয় অর্থে ব্যবহৃত একটি সাধারণ শব্দ। আমাদের সাথীদের মুহাক্কিকগণ এবং অন্যান্যরা এই মতেরই অনুসারী।

 

‌‌মানদুব (مندوب إليه): এটি এমন আদিষ্ট বিষয় যা পালন করলে সওয়াব (ثواب) আছে, কিন্তু কোনোভাবে তা বর্জন করার কারণে কোনো শাস্তি (عقاب) নেই।

আমাদের উক্তি: "এটি আদিষ্ট বিষয়"—আমরা এটি দ্বারা ওই ব্যক্তির বিরোধিতা করেছি যে বলে এটি আদিষ্ট বিষয় নয়। আর যেহেতু এই বৈশিষ্ট্যটির মাধ্যমে এটি পৃথক হয়, তাই আমাদের উক্তি: "এটি পালনে সওয়াব আছে"—এই বৈশিষ্ট্যটি সেই বিষয়টিকে আরও সুনিশ্চিত করে।

 

‌‌মুবাহ (مباح): শরয়ি দালিল দ্বারা যা প্রমাণিত যে, এটি করলে কোনো সওয়াব (ثواب) নেই এবং কোনোভাবে তা বর্জন করলে কোনো শাস্তিও (عقاب) নেই।

আমাদের উক্তি: "যা শরয়ি দালিল দ্বারা প্রমাণিত"—এটি সত্যপন্থীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে যে, ইবাহাত (إباحة), হাজর (حظر) এবং উজুব (وجوب) হলো শরয়ি বিধান (أحكام شرعية); এ ক্ষেত্রে বিবেকের কোনো অবকাশ নেই এবং এগুলো সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বিবেকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং এগুলো কেবল শরিয়তে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

এই কারণেই আমরা বলেছি যে, মুবাহ (مباح) হলো তা-ই যার বৈশিষ্ট্যসমূহ শরয়ি প্রমাণের মাধ্যমে জানা যায় যে "এটি পালনে কোনো সওয়াব নেই"। এর মাধ্যমে এটি ওয়াজিব (واجب) এবং মানদুব (مندوب إليه) থেকে পৃথক হয়, কারণ ওই দুটি পালনে সওয়াব রয়েছে। তবে তা বর্জনে কোনো শাস্তি না থাকার দিক থেকে এটি মানদুবের (مندوب إليه) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, আর এভাবেই তারা উভয়টি ওয়াজিব (واجب) থেকে পৃথক হয়।

আর আমরা বলেছি: "কোনোভাবে তা বর্জন করার কারণে"—এর দ্বারা আমরা বুঝিয়েছি যে, যদি কেউ বসা থেকে হাঁটা বা দাঁড়ানোর মতো কোনো মুবাহ (مباح) কাজ করার মাধ্যমে পূর্বের মুবাহ কাজটি বর্জন করে, তবে তার কোনো গুনাহ হবে না। আর যদি সে কোনো ইবাদতের উদ্দেশ্যে তা বর্জন করে, তবে সেই ইবাদত পালনের কারণে সে সওয়াব (ثواب) পাবে, মুবাহ কাজটি বর্জন করার কারণে নয়। আবার যদি সে কোনো গুনাহের (معصية) কাজের উদ্দেশ্যে তা বর্জন করে, তবে তার হাঁটার জন্য শাস্তি (عقاب) হবে; তা বসা নামক মুবাহ কাজটি বর্জন করার জন্য নয়, বরং নিষিদ্ধ (محظور) হাঁটা বা কাজ করার কারণে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌সুন্নাহ (سنة): যা অনুসরণের জন্য আদর্শ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটিই এই শব্দটির মূল আভিধানিক অর্থ। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) বলা হয় এই অর্থে যে, যা তিনি আদর্শ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১৪)
ولذلك تقول الفقهاء "يقرأ السنة" بمعنى أنه يقرأ ما شرع النبي صلى الله عليه وسلم سننًا من ذلك إما بنطق أو بفعل أو بنصب دليل.

ويسمي أهل الحديث "سننًا" بمعنى أنه يتضمن ما رسمه النبي صلى الله عليه وسلم لأمته.

وقد يسمي بعض الفقهاء، ما حصلت له رتبة في النوافل سنّة، فيقولون "صلاة العيدين سنّة" "والوتر سنّة".

واختلفوا في ركعتي الفجر، فقال أشهب: ليستا من السنن، بل هي من الرغائب. وقال ابن عبد الحكم: هي من السنن. وإنما اختلفا في ذلك لاختلافهما في الصفة التي لها تسمى النوافل سنة.

ومذهب أشهب أن السنن من النوافل إنما هي ما أظهر النبي صلى الله عليه وسلم وجمع عليه أمته وشرع الجماعة له من الصلوات والنوافل، كصلاة العيدين والاستسقاء والكسوف. فلما لم يكن حال ركعتي الفجر بهذه الحال، بل كان يصليها في بيته. فَذًّا وكان ذلك حكمها، لم تكن عنده من السنن.

وعند ابن [عبد] الحكم أن معنى السنّة من النوافل ما كان مقدرًا لا يزاد عليه ولا ينقص منه. وهذه حال ركعتي الفجر، ولذلك وصفها بأنها من السنن -واللَّه أعلم- ولم توصف عنده صلاة الليل بأنها من السنن لما كانت غير مقدرة.

 

‌‌العبادة: هي الطاعة والتذلل للَّه تعالى باتباع ما شرع.

قولنا: "هي الطاعة" يحتمل معنيين:

أحدهما: امتثال الأمر. وهو مقتضاه في اللغة. إلا أنه في اللغة واقع على كل امتثال لأمر الآمر في طاعة أو معصية، لكننا قد احترزنا من المعصية بقولنا: "والتذلل للَّه تعالى"، لأن طاعة الباري تعالى لا يصح أن تكون معصية.

والثاني: أن الطاعة إذا أطلقت في الشرع فإنها تقتضي القربة، وطاعة الباري تعالى دون طاعة غيره.

 

‌‌الحسن: ما أُمِرْنا بمدح فاعله (1).

ومعنى ذلك أن حَسَنَ الأفعال وقبيحها لا يعرفون بالعقل، وإنما يعرف بالشرع. فما أَمَرَنا الشرع بمدح فاعله فهو حسن، وما لم نؤمر بمدح فاعله فليس بحسن. وقد

--------------------------------------------

(1) انظر الإنصاف ص 49.
এজন্য ফকিহগণ বলেন "সুন্নাহ (سنة) পাঠ করা", যার অর্থ হলো নবী (সা.) যা কিছু সুন্নাহ (سنن) হিসেবে প্রবর্তন করেছেন তা পাঠ করা, চাই তা মৌখিক বা কোনো কাজের মাধ্যমে হোক কিংবা কোনো প্রমাণ সাব্যস্ত করার মাধ্যমে হোক।

হাদিস বিশারদগণ একে "সুন্নাহ (سنن)" বলে অভিহিত করেন এই অর্থে যে, এটি নবী (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য যা রূপরেখা প্রদান করেছেন তা অন্তর্ভুক্ত করে।

কোনো কোনো ফকিহ নফল (نوافل) ইবাদতের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে এমন বিষয়কে সুন্নাহ (سنة) বলে আখ্যায়িত করেন। তাই তারা বলেন, "দুই ঈদের নামাজ সুন্নাহ (سنة)" এবং "বিতর নামাজ সুন্নাহ (سنة)"।

ফজরের দুই রাকাত নামাজ সম্পর্কে তারা মতভেদ করেছেন। আশহাব বলেছেন: এগুলো সুন্নাহর (سنن) অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এগুলো কাঙ্ক্ষিত ইবাদত (رغائب)। আর ইবনে আব্দুল হাকাম বলেছেন: এটি সুন্নাহর (سنن) অন্তর্ভুক্ত। তাদের এই মতভেদের কারণ হলো নফল (نوافل) ইবাদতকে কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সুন্নাহ (سنة) বলা হবে সেই মানদণ্ডের ভিন্নতা।

আশহাবের মাযহাব হলো, নফল (نوافل) ইবাদতসমূহের মধ্যে সুন্নাহ (سنن) কেবল তাই যা নবী (সা.) প্রকাশ্যভাবে পালন করেছেন এবং যার ওপর উম্মতকে একত্রিত করেছেন এবং যে নামাজ ও নফল (نوافل) ইবাদতের জন্য জামাত প্রবর্তন করেছেন, যেমন দুই ঈদের নামাজ, ইস্তিসকা (বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা) এবং কুসুফ (সূর্যগ্রহণ)। যেহেতু ফজরের দুই রাকাতের অবস্থা এমন ছিল না, বরং তিনি তা তাঁর ঘরে একাকী আদায় করতেন এবং এটাই ছিল এর বিধান, তাই তাঁর মতে এটি সুন্নাহর (سنن) অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইবনে [আব্দুল] হাকামের মতে, নফল (نوافل) ইবাদতসমূহের মধ্যে সুন্নাহর (سنة) অর্থ হলো যা সুনির্ধারিত, যাতে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি করা যায় না। ফজরের দুই রাকাতের অবস্থাও এমনই, তাই তিনি একে সুন্নাহ (سنن) হিসেবে বর্ণনা করেছেন —এবং আল্লাহই ভালো জানেন— আর তাঁর নিকট রাতের নামাজকে সুন্নাহ (سنن) হিসেবে অভিহিত করা হয়নি কারণ তা সুনির্ধারিত নয়।

 

‌‌ইবাদত (العبادة): এটি হলো প্রবর্তিত বিধান অনুসরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর সমীপে বিনয় প্রকাশ করা।

আমাদের বক্তব্য: "এটি হলো আনুগত্য" এর দুটি অর্থ হতে পারে:

প্রথমটি: আদেশ পালন করা। আভিধানিকভাবে এটিই এর দাবি। তবে আভিধানিক অর্থে আনুগত্য বা নাফরমানি উভয় ক্ষেত্রেই আদেশদাতার আদেশ পালনকে বোঝায়। কিন্তু আমরা "মহান আল্লাহর সমীপে বিনয় প্রকাশ করা" বলে নাফরমানি বা পাপ থেকে সতর্ক হয়েছি, কারণ মহান স্রষ্টার আনুগত্য কখনো পাপ হতে পারে না।

দ্বিতীয়টি: শরিয়তে যখন নিঃশর্তভাবে আনুগত্যের কথা বলা হয়, তখন এর দ্বারা নৈকট্য (القربة) লাভ উদ্দেশ্য থাকে, যা অন্য কারো আনুগত্য নয় বরং একমাত্র মহান স্রষ্টারই আনুগত্য।

 

‌‌উত্তম (الحسن): যার সম্পাদনকারীর প্রশংসা করতে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (১)।

এর অর্থ হলো কর্মের উত্তম (حسن) ও অনুত্তম বা মন্দ (قبيح) দিকগুলো কেবল বিবেক দ্বারা জানা যায় না, বরং তা শরিয়তের মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং শরিয়ত আমাদের যার সম্পাদনকারীর প্রশংসা করতে নির্দেশ দিয়েছে তা-ই উত্তম (حسن), আর যার সম্পাদনকারীর প্রশংসা করতে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়নি তা উত্তম (حسن) নয়।

--------------------------------------------

(১) আল-ইনসাফ, পৃষ্ঠা ৪৯ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১৫)
يصح أن يوصف بأنه قبيح إذا أمرنا بذم فاعله كالمعاصي. وقد يستحيل أن يوصف بقبح مع استحالة وصفه بالحسن إذا لم نؤمر بمدح فاعله ولا بذمه كالأفعال المباحة من الجلوس والقيام، لمّا لم نؤمر بمدح فاعله ولا بذمه استحال [وصفها] بأنها حسنة أو قبيحة.

 

‌‌الظلم: التعدي.

ومعنى ذلك أن يؤمر المكلف فيتعدى ما أمر به. وعلى هذا لا يصلح أن يوصف غير المأمور بظلم، لأنه لم يتعد أمرًا. ولذلك لا يوصف من ليس بمكلف من الحيوان إذا عاث وأفسد بأنه ظالم، لأنه لم يُنْه عن ذلك، ولا توجه إليه أمر بضده.

 

‌‌الجائز: يستعمل فيما لا إثم فيه. وحده: ما وافق الشرع. ويستعمل في العقود التي لا تلزم، وحده: ما كان للعاقد فسخه.

وقولنا: "فيما لا إثم فيه" إنه جائز معناه أنه ضد الفساد الذي يأثم فاعله. فيقال: يجوز للولي أن يقتص ممن قتل وليه. بمعنى أنه لا يأثم في ذلك إن فعله. ويجوز للرجل أن يبيع الثوب بالثوبين يدًا بيد. بمعنى أنه لا إثم عليه فيه، وأن بيعه هذا شرعي، كما أن قتل المقتص قاتل وليه شرعي. ولو فعله ظلمًا لم يصح أن يوصف بأن قتله جائز لمَّا كان قتله مخالفًا للشرع ومنافيًا له. وكذلك يقال: لا يجوز أن يبيع الرجل درهمًا بدرهمين، لأن ذلك ينافي الشرع ويأثم فاعله.

وأما وصفنا ما لا يلزم من العقود أنه عقد جائز كالقراض، الشركة، فإنما وصفناه بذلك لما كان لكل واحد من المتعاقدين فسخه. ولا يوصف بذلك عقد البيع ولا عقد الإجارة، بل يوصف بأنه عقد لازم لما لم يكن لأحد المتعاقدين فسخه. ولو كان لأحد المتعاقدين فسخه، ولم يكن للآخر فسخه كالجعل، لكان جائزًا في حق من له فسخه ولازمًا في حق من ليس له ذلك. واللَّه أعلم.

 

‌‌الشرط: ما يعدم الحكم بعدمه، ولا يوجد بوجوده.

هذا على ما وصفناه من أن معنى الشرط ما يعدم الحكم بعدمه ولا يوجد بوجوده. ولو كان مما يوجد بوجوده لكان علة للحكم.

وهذا في الأحكام الشرعية شبّه بالشروط والعلل في الأحكام العقلية.

مثال ذلك: أن الطهارة لما كانت شرطًا في صحة الصلاة، عدمت الصلاة بعدمها، ولم توجد بوجودها فقد تصح الطهارة ولا تصح الصلاة.
কোনো কাজকে মন্দ (قبيح) হিসেবে অভিহিত করা সঠিক (يصح) হতে পারে তখন, যখন আমাদের তার কর্তাকে নিন্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যেমন পাপাচার (المعاصي)। আবার কখনো কোনো কাজকে মন্দ (قبيح) হিসেবে অভিহিত করা অসম্ভব হতে পারে, পাশাপাশি তাকে উত্তম (حسن) বলাও অসম্ভব হতে পারে, যখন আমাদের তার কর্তাকে প্রশংসা বা নিন্দা কোনোটিরই নির্দেশ দেওয়া হয়নি; যেমন বসা বা দাঁড়ানোর মতো বৈধ (مباح) কার্যাবলি। যেহেতু আমাদের তার কর্তার প্রশংসা বা নিন্দার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তাই সেগুলোকে উত্তম (حسن) বা মন্দ (قبيح) হিসেবে অভিহিত করা অসম্ভব।

 

‌‌জুলুম (الظلم): সীমালঙ্ঘন।

এর অর্থ হলো, মুকাল্লাফ (المكلف) ব্যক্তিকে কোনো নির্দেশ দেওয়া হলে সে নির্দেশিত বিষয়ের সীমা অতিক্রম করে। সেই হিসেবে, যাকে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি তাকে জুলুমের সাথে সম্পর্কিত করা সঠিক নয়; কারণ সে কোনো আদেশ লঙ্ঘন করেনি। এই কারণেই পশুর মতো যারা মুকাল্লাফ (المكلف) নয়, তারা কোনো অনিষ্ট বা বিপর্যয় ঘটালে তাদের জালেম (ظالم) বলা হয় না; কেননা তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়নি এবং এর বিপরীত কোনো আদেশও তাদের প্রতি ছিল না।

 

‌‌জায়েজ (الجائز): এটি এমন বিষয়ে ব্যবহৃত হয় যাতে কোনো পাপ নেই। এর সংজ্ঞা হলো: যা শরিয়তের (الشرع) অনুকূল। এটি ঐসব চুক্তির (العقود) ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা বাধ্যতামূলক নয়; যার সংজ্ঞা হলো: যা বাতিল করার (فسخه) অধিকার চুক্তিকারীর রয়েছে।

আমাদের বক্তব্য: "যাতে কোনো পাপ নেই" তা জায়েজ (جائز), এর অর্থ হলো এটি সেই ফাসাদের বিপরীত যার কর্তার পাপ হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: অভিভাবকের জন্য তার পোষ্যকে হত্যাকারীর কাছ থেকে কিসাস (يقتص) নেওয়া জায়েজ (يجوز)। এর অর্থ হলো, সে যদি তা করে তবে তাতে তার কোনো পাপ হবে না। অনুরূপভাবে, কোনো ব্যক্তির জন্য হাতে হাতে একটি কাপড়ের বিনিময়ে দুটি কাপড় বিক্রি করা জায়েজ (يجوز)। এর অর্থ হলো, এতে তার কোনো পাপ নেই এবং তার এই বিক্রয় প্রক্রিয়াটি শরয়ি (شرعي); যেমন কিসাস গ্রহণকারীর কর্তৃক তার পোষ্যের হত্যাকারীকে হত্যা করাও শরয়ি (شرعي)। কিন্তু সে যদি জুলুমবশত এটি করত, তবে তার সেই হত্যাকে জায়েজ (جائز) বলা সঠিক হতো না; কারণ তখন তার সেই হত্যা শরিয়ত (الشرع) বিরোধী ও তার পরিপন্থী হতো। একইভাবে বলা হয়: কোনো ব্যক্তির জন্য এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম বিক্রি করা জায়েজ (يجوز) নয়; কারণ তা শরিয়ত (الشرع) পরিপন্থী এবং এর কর্তার পাপ হয়।

আর অ-বাধ্যতামূলক চুক্তিগুলোকে যে আমরা জায়েজ (جائز) চুক্তি হিসেবে অভিহিত করি, যেমন কিরাদ (القراض) ও অংশীদারিত্ব (الشركة); সেগুলোকে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো, চুক্তি সম্পাদনকারী (المتعاقدين) উভয়েরই তা বাতিল করার (فسخه) অধিকার থাকে। ক্রয়-বিক্রয় বা ইজারা (الإجارة) চুক্তিকে এই নামে অভিহিত করা হয় না; বরং একে লাজিম (لازم) বা বাধ্যতামূলক চুক্তি বলা হয়, কারণ এতে কোনো পক্ষেরই চুক্তি বাতিল করার (فسخه) অধিকার থাকে না। যদি কোনো চুক্তিতে একজনের বাতিল করার (فسخه) অধিকার থাকে আর অন্যজনের না থাকে, যেমন জু'আলা (الجعل); তবে যার বাতিল করার অধিকার আছে তার ক্ষেত্রে এটি জায়েজ (جائز) এবং যার অধিকার নেই তার ক্ষেত্রে এটি লাজিম (لازم) হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌শর্ত (الشرط): যার অনুপস্থিতিতে হুকুম (الحكم) অনুপস্থিত থাকে, কিন্তু যার উপস্থিতিতে হুকুম (الحكم) অবধারিত হয় না।

এটি আমাদের বর্ণিত বর্ণনানুসারে যে, শর্ত (الشرط)-এর অর্থ হলো যার অনুপস্থিতিতে হুকুম (الحكم) অনুপস্থিত থাকে এবং যার উপস্থিতিতে হুকুম (الحكم) অবধারিত হয় না। আর যদি এটি এমন হতো যা উপস্থিত থাকলে হুকুম (الحكم) অবধারিত হয়ে যায়, তবে তা হুকুমের (الحكم) জন্য ইল্লত (علة) হিসেবে গণ্য হতো।

এটি শরয়ি হুকুমসমূহের (الأحكام الشرعية) ক্ষেত্রে আকলি বা বুদ্ধিভিত্তিক হুকুমের শর্ত (الشروط) ও ইল্লত (العلل) সমূহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

এর উদাহরণ হলো: পবিত্রতা (الطهارة) যেহেতু সালাতের শুদ্ধতার (صحة الصلاة) জন্য একটি শর্ত (شرط), তাই পবিত্রতার অনুপস্থিতিতে সালাতও অনুপস্থিত (বাতিল) হয়ে যায়। কিন্তু পবিত্রতা থাকলেই সালাত হয়ে যায় না; কারণ পবিত্রতা সঠিক (تصح) হওয়া সত্ত্বেও সালাত সঠিক না-ও হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১৬)
مثال ذلك من الأحكام العقلية: أن الحياة شرط في صحة وجود العلم، فيستحيل أن يوجد العلم مع عدم الحياة.

 

‌‌الخبر: هو الوصف للمُخْبَر عنه.

وتوضيح هذا أن كل خبر فهو وصف للمخبَّر عنه، إما بقيام أو قعود أو مشي أو حياة أو موت أو غنى أو فقر أو غير ذلك. وتتبع هذا يبين صحة ما قلناه.

فكل وصف للموصوف فهو خبر عنه بما يوصف به، والحدّ إذا اطرد وانعكس ولم ينتقض في أحد الوجهين. حكم بصحته.

والكلام على ما حدَّ به سائر المتكلمين الخبر يأتي في نفس الكتاب (1) والذي أورد هذا الحد وأثبته من شيوخنا القاضي أبو جعفر السمناني رحمه الله، وهو أصح ما ورد في ذلك. واللَّه أعلم.

 

‌‌الصدق: الوصف للمُخْبَر عنه على ما هو به.

ومعنى ذلك أن الصدق والكذب من صفات الذي يختص به، فلا يدخل في شيء من أنواع الكلام غيره فكل من وصف شيئًا على ما هو به فهو صادق في خبره، وكل صادق في خبره هو واصف للموصوف على ما هو به، سواء قصد ذلك أو لم يقصده. وكذلك الكذب. قال اللَّه تعالى: {لِيُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ كَانُوا كَاذِبِينَ} [النحل: الآية 39]. وقد تقدم الكلام على باقي ما في الحد من الألفاظ.

 

‌‌التواتر: كل خبر وقع العلم بمخبره ضرورة من جهة الخبر.

لفظة "التواتر" مقتضاها في كلام العرب التتابع والاتصال. فكان هذا الخبر اتصل وتتابع حتى وقع العلم به فمتى بلغ هذا الحد من الاتصال وصف بأنه متواتر، ومتى قصر عنه ولم يبلغه لم يوصف بذلك وإن كان قد تتابع وتواتر.

وهذا بحسب عرف تخاطب أهل الجدل وتواطئهم على هذه الألفاظ وما يريدون بها، وذلك سائغ إذا لم يخرج عن لغة العرب على حسب ما بيناه في الكتاب من حكم الأسماء العرفية.

وقلنا: "بمخبره ضرورة" يقتضي أن العلم الواقع بالخبر المتواتر علم ضرورة على ما يقوله شيوخ أهل الحق لا علم نظر واستدلال على ما يقوله غيرهم.

--------------------------------------------

(1) انظر التمهيد ص 160.
যৌক্তিক বিধানের একটি উদাহরণ হলো: জীবন হচ্ছে জ্ঞানের অস্তিত্ব সঠিক হওয়ার শর্ত, সুতরাং জীবনহীন অবস্থায় জ্ঞানের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব।

 

‌‌সংবাদ (الخبر): এটি হলো সংবাদে বর্ণিত বিষয় সম্পর্কে বিবরণ প্রদান করা।

এর ব্যাখ্যা হলো, প্রতিটি সংবাদই হলো সেই সত্তার গুণাগুণ বর্ণনা যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হচ্ছে—চাই তা দণ্ডায়মান হওয়া, বসা, হাঁটা, জীবন, মৃত্যু, সচ্ছলতা, দারিদ্র্য বা অন্য কিছু হোক না কেন। বিষয়টির অনুসন্ধান আমাদের এই কথার যথার্থতা স্পষ্ট করে দেয়।

সুতরাং কোনো বিশেষ্য সম্পর্কে প্রতিটি বর্ণনা বা গুণাবলিই হলো সেই সত্তা সম্পর্কে সংবাদ। আর কোনো সংজ্ঞা (الحد) যদি ব্যাপক ও সর্বব্যাপী হয় এবং সংজ্ঞায়িত বিষয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনো দিক থেকেই তাতে ব্যত্যয় না ঘটে, তবে সেটির বিশুদ্ধতার ফয়সালা করা হয়।

অন্যান্য কালাম শাস্ত্রবিদগণ সংবাদ (الخبر)-এর যে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, সে বিষয়ে এই গ্রন্থেই (১) আলোচনা আসবে। আমাদের উস্তাদগণের মধ্যে কাযী আবু জাফর আস-সামনানী (রাহিমাহুল্লাহ) এই সংজ্ঞাটি উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠিত করেছেন, আর এ বিষয়ে এটিই সর্বাধিক সঠিক বর্ণনা। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌সত্যবাদিতা (الصدق): কোনো সংবাদে বর্ণিত বিষয়কে বাস্তব অনুযায়ী বর্ণনা করা।

এর অর্থ হলো, সত্যবাদিতা ও মিথ্যাবাদিতা হলো সংবাদের বৈশিষ্ট্য, সংবাদের প্রকারভেদ ছাড়া অন্য কোনো প্রকারের কথার মধ্যে এগুলো প্রবেশ করে না। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বিষয়কে বাস্তব অনুযায়ী বর্ণনা করল, সে তার সংবাদে সত্যবাদী। আর প্রতিটি সত্যবাদী সংবাদদাতাই হলো কোনো সত্তার বাস্তব গুণাবলি বর্ণনাকারী, চাই সে সেই সংবাদের সংকল্প করুক বা না করুক। মিথ্যাবাদিতার ক্ষেত্রেও একই কথা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যাতে তিনি তাদের কাছে স্পষ্ট করে দেন সে বিষয় যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং যাতে কাফিররা জেনে নেয় যে, তারা মিথ্যাবাদী (كاذبين) ছিল} [সুরা আন-নাহল: ৩৯]। সংজ্ঞায় উল্লিখিত অবশিষ্ট শব্দাবলী সম্পর্কে ইতিপূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে।

 

‌‌মুতাওয়াতির (التواتر): এমন প্রতিটি সংবাদ (الخبر), যার মাধ্যমে বর্ণিত বিষয় সম্পর্কে আবশ্যিক জ্ঞান (علم ضروري) অর্জিত হয়।

আরবি ভাষায় ‘তাওয়াতুর’ (التواتر) শব্দের অর্থ হলো ধারাবাহিকতা ও নিরবচ্ছিন্নতা। সুতরাং এই সংবাদটিও নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিকভাবে প্রবাহিত হয় যতক্ষণ না তদ্বারা জ্ঞান অর্জিত হয়। ফলে যখন এটি সংযোগের এই পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন একে মুতাওয়াতির (متواتر) হিসেবে অভিহিত করা হয়। আর যদি এর চেয়ে কম হয় এবং সেই পর্যায়ে না পৌঁছায়, তবে তাকে এই নামে অভিহিত করা হয় না, যদিও তাতে ধারাবাহিকতা ও পৌনঃপুনিকতা বিদ্যমান থাকে।

আর এটি তার্কিকগণের পরিভাষার ব্যবহার এবং এই শব্দগুলোর মাধ্যমে তারা যা বুঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়ে তাদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ যতক্ষণ না তা আরবি ভাষা থেকে বিচ্যুত হয়, যেমনটি আমরা এই গ্রন্থে প্রচলিত নামসমূহের বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে স্পষ্ট করেছি।

আমরা যে বলেছি “আবশ্যিকভাবে (ضرورة) সংবাদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান হওয়া”, এর দাবি হলো মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদের মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জিত হয় তা হলো আবশ্যিক জ্ঞান (علم ضروري), যেমনটি সত্যপন্থী উস্তাদগণ বলে থাকেন; এটি গবেষণালব্ধ জ্ঞান নয়, যা অন্যরা বলে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আত-তামহীদ, পৃষ্ঠা ১৬০।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১৭)
وقلنا: "من جهة الخبر" احتراز ممن أخبر بما يعلمه الإنسان ضرورة فإنه يقع له العلم، لكن ليس من جهة الخبرية.

مثل أن يخبرك إنسان أن الاثنين أكثر من الواحد، وأن الضدين لا يجتمعان، فإن العلم الضروري يقع لك بما أخبر به، ولكن ليس من جهة خبره، بل من جهة علمك به.

فبهذه الخاصية يتميز العلم الواقع بخبر التواتر أنه لا يقع إلا من جهة المخبرين به، ولولا ذلك لم يقع العلم بما أخبروا به. وما قدمناه من الخبر بأن الاثنين أكثر من الواحد، وأن الضدين لا يجتمعان يقع العلم بمخبره ضرورة، سواء أخبر به أو لم يخبر به، ولا تأثير لخبره في شيء من ذلك. واللَّه أعلم.

 

‌‌المسند: ما اتصل اسناده.

معنى ذلك أن يتصل نقل الرواة له، فيخبر كل واحد منهم بمن نقل إليه، إلى أن يتصل ذلك إلى الصحابي رضي الله عنه الذي نقله عن النبي صلى الله عليه وسلم.

فإن أخلّ فيه بذكر واحد من رواته، سواء كان الصحابي أو غيره فهو مرسل. ومعنى ذلك أنه قد أهمل فيه ذكر بعض رواته واحد كان أو أكثر من ذلك.

 

‌‌الموقوف: ما وقف به على الراوي ولم يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم.

ومعنى ذلك أنه وقف على الصحابي رضي الله عنه أو غيرة من رواته، فجعل من قوله، ولم يرفع ولا وصل إلى النبي صلى الله عليه وسلم بإسناد أو إرسال.

وهذه الألفاظ كلها على حسب المواضعة بين أهل الصناعة. وقصرهم لها على هذا النوع مما تحتمله دون سائر محتملاتها.

 

‌‌الإجماع: اتفاق علماء العصر على حكم الحادثة.

لفظ الإجماع إذا أطلق في الشرع اقتضى ما ذكرناه، ويقتضي إجماع جماعة على غير ذلك من الآراء والأقوال والأعمال. إلا أن عرف الاستعمال عند الفقهاء جرى على حسب ما قدمناه أولًا، فلا يفسر الحد بغير ذلك مما لا يستعمل فيه عند الفقهاء إلا بقرينة.

وهذا الحد على مذهب من يرى أن الإجماع ينعقد بعد الاختلاف. فأما على مذهب من يقول إن موت المخالف وإجماع الباقين بعده لا ينعقد به الإجماع، فلا بد
আমরা বলেছি: "সংবাদের দিক থেকে" কথাটি এমন সংবাদদাতার থেকে সতর্কতা স্বরূপ, যে এমন বিষয় সম্পর্কে তথ্য দেয় যা মানুষ আবশ্যিকভাবে জানে। কেননা এক্ষেত্রেও মানুষের জ্ঞান অর্জিত হয়, কিন্তু তা সংবাদ হওয়ার কারণে (الخبرية) নয়।

যেমন কোনো ব্যক্তি আপনাকে সংবাদ দিল যে, দুই একের চেয়ে বেশি এবং দুটি বিপরীত বিষয় একত্রে অবস্থান করতে পারে না। সেক্ষেত্রে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন সে সম্পর্কে আপনার অপরিহার্য জ্ঞান অর্জিত হবে, তবে তা তাঁর সংবাদের কারণে নয়, বরং বিষয়টি সম্পর্কে আপনার নিজস্ব জ্ঞানের কারণে।

এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমেই মুতাওয়াতির (تواتر) সংবাদের ফলে অর্জিত জ্ঞান পৃথক হয় যে, তা কেবল সংবাদদাতাদের মাধ্যমেই অর্জিত হয়; অন্যথায় তারা যা সংবাদ দিয়েছেন সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হতো না। আর ইতিপূর্বে আমরা যে উদাহরণ পেশ করেছি যে, দুই একের চেয়ে বেশি এবং দুটি বিপরীত বিষয় একত্রে অবস্থান করতে পারে না—সেগুলোর ক্ষেত্রে সংবাদ দেওয়া হোক বা না হোক, বিষয়টি আবশ্যিকভাবেই জানা যায়। এতে সংবাদের কোনো প্রভাব নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌মুসনাদ (المسند): যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন।

এর অর্থ হলো, বর্ণনাকারীদের (رواة) বর্ণনা পরম্পরা নিরবচ্ছিন্ন হওয়া, যেখানে তাদের প্রত্যেকজন যার কাছ থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন তার কথা উল্লেখ করবেন, এভাবে বিষয়টি সাহাবী (صحابي) (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত পৌঁছাবে, যিনি তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

যদি এর বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্য থেকে কোনো একজনকে উল্লেখ করতে ত্রুটি করা হয়, তিনি সাহাবী (صحাবী) হোন বা অন্য কেউ, তবে সেটি মুরসাল (مرسل)। এর অর্থ হলো, এতে কোনো কোনো বর্ণনাকারীর (رواة) উল্লেখ বাদ পড়েছে, তিনি একজন হোন বা তার অধিক।

 

‌‌মাওকুফ (الموقوف): যা রাবি (راوي) পর্যন্ত গিয়ে থেমে গেছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

এর অর্থ হলো, এটি সাহাবী (صحابي) (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বা অন্য কোনো বর্ণনাকারীর (رواة) ওপর গিয়ে থেমে গেছে এবং তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবে গণ্য হয়েছে। এটি মারফু (رفع) করা হয়নি এবং সনদ (إسناد) বা ইরসালের (إرسال) মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছানো হয়নি।

আর এই শব্দগুলো সবই এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের (أهل الصناعة) পরিভাষাগত প্রয়োগ অনুযায়ী। তাঁরা শব্দগুলোকে অন্যান্য অর্থের পরিবর্তে কেবল এই বিশেষ প্রকারের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।

 

‌‌ইজমা (الإجماع): কোনো ঘটনার বিধানের ওপর সমকালীন আলেমদের ঐকমত্য।

ইজমা (الإجماع) শব্দটি যখন শরিয়তে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা আমাদের উল্লিখিত অর্থকেই বোঝায়। যদিও এটি অন্য কোনো মত, বক্তব্য বা কাজের ওপর কোনো দলের ঐকমত্যকেও বোঝাতে পারে। তবে ফকিহদের পরিভাষায় এর ব্যবহার আমরা প্রথমে যা উল্লেখ করেছি সে অনুযায়ীই হয়ে থাকে। তাই কোনো লক্ষণ (قرينة) ছাড়া ফকিহদের ব্যবহৃত অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ দ্বারা এর সংজ্ঞা প্রদান করা যাবে না।

আর এই সংজ্ঞাটি সেই মাযহাব অনুযায়ী যারা মনে করেন যে, মতপার্থক্যের পরও ইজমা (الإجماع) সংঘটিত হতে পারে। পক্ষান্তরে যারা বলেন যে, ভিন্নমত পোষণকারীর মৃত্যু এবং এরপর অবশিষ্টদের ঐকমত্যের মাধ্যমে ইজমা (الإجماع) সংঘটিত হয় না, সেক্ষেত্রে অবশ্যই...
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১৮)
من الزيادة في هذا الحد. فيقال: إجماع علماء العصر في حكم حادثة لم يتقدم فيها خلاف.

 

‌‌التقليد: التزام حكم المقلد من غير دليل.

ومعنى ذلك أن يلتزم المقلِّد قول المقلَّد شرعًا ودينًا، ويعتقد ما حرمه حرامًا وما أوجبه واجبًا وما أباحه مباحًا من غير دليل يستدل به على شيء من ذلك غير قول من قلّده. ولو صار إليه بدليل، فإنه فرض من لا يحسن النظر والاستدلال، ولا له آلة على حسب ما أثبتناه في الكتاب.

 

‌‌الاجتهاد: بذل الوسع في طلب صواب الحكم.

وهو على طريق من قال إن الحق في واحد، وأن المكلف إنما كلف طلبه ولم يكلف إدراكه.

وأما على قول القاضي أبي بكر "إن كل مجتهد مصيب" فإن الحد يجب أن يقال فيه بذل الوسع في بلوغ حكم الحادثة.

وقال محمد بن خويز منداد: إن حده بذل الوسع في بلوغ الغرض. وهذا الحد ليس بحد فقهي على الحقيقة، لأن هذا حكم كل مجتهد في طلب حكم وغيره. ومن أراد إجراءه على ما قدمناه من الحدود الفقهية فالصواب [. . . (1)].

 

‌‌الرأي: أعتقاد إدراك صواب الحكم الذي لم ينص عليه.

‌‌والفرق بينه وبين الاجتهاد أن الاجتهاد معنى طلب الصواب، والرأي معنى إدراك الصواب. ولذلك يقال: إن الرأي المصيب ما رأيت. فلا يعبرون بذلك إلا عن كمال الاجتهاد وإدراك المطلوب.

وقال ابن خويز منداد: الرأي استخراج حسن العاقبة. وهذا من نظير الحد الأول في أنه ليس بمقصور على الرأي الفقهي، لأن هذا حكم كل رأي مصيب في الفقه وغيره، على أنه ينتقض بالرأي الفاسد، فإنه رأي ولا يستخرج حسن العاقبة، بل يستخرج به سوء العاقبة.

 

‌‌الاستحسان: اختيار القول من غير دليل ولا تقليد.

--------------------------------------------

(1) يوجد سقط بمقدار ورقة تقريبًا، طالب العلم.
...এই সংজ্ঞার অতিরিক্ত অংশ থেকে। সুতরাং বলা হয়: কোনো সমসাময়িক ঘটনার বিধানে সেই যুগের আলেমগণের সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع), যার পূর্বে কোনো মতপার্থক্য (خلاف) বিদ্যমান ছিল না।

 

‌‌অন্ধ অনুসরণ (التقليد): প্রমাণ (دليل) ব্যতিরেকে মুকাল্লাদ (যাকে অনুসরণ করা হয়)-এর সিদ্ধান্ত মেনে চলা।

এর অর্থ হলো, মুকাল্লিদ (مقلد) শরয়ী ও দ্বীনী ক্ষেত্রে মুকাল্লাদ (অনুসৃত ব্যক্তি)-এর বক্তব্যকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নেবে এবং সে যেটিকে হারাম (حرام) বলেছে তা হারাম, যা ওয়াজিব (واجب) বলেছে তা ওয়াজিব এবং যা মুবাহ (مباح) বলেছে তা মুবাহ বলে বিশ্বাস করবে; আর এর কোনোটির জন্যই তার কাছে সেই ব্যক্তির কথা ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ (دليل) থাকবে না যার সে অন্ধ অনুসরণ (التقليد) করছে। আর যদি সে দলিলের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছায়, তবে এটি এমন ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত দায়িত্ব যে সঠিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ ও দলিল প্রয়োগ (استدلال) করতে পারদর্শী নয় এবং এই কিতাবে আমরা যা প্রমাণ করেছি সেই অনুযায়ী তার কাছে এর কোনো সক্ষমতাও নেই।

 

‌‌গবেষণা (الاجتهاد): সঠিক বিধান অনুসন্ধানে সাধ্যমতো চেষ্টা করা।

এটি তাদের মতানুযায়ী যারা বলেন যে, সত্য কেবল একটিই এবং মুকাল্লাফকে (শরয়ী বিধান যার ওপর অর্পিত) কেবল তা অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে অনুধাবনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

আর কাজী আবু বকর-এর অভিমত "প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد) সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত" অনুযায়ী এর সংজ্ঞায় বলতে হবে: কোনো ঘটনার বিধানে পৌঁছানোর জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করা।

মুহাম্মদ ইবনে খুওয়াইজ মানদাদ বলেন: এর সংজ্ঞা হলো উদ্দেশ্য অর্জনে সাধ্যমতো চেষ্টা করা। প্রকৃতপক্ষে এই সংজ্ঞাটি কোনো ফিকহী সংজ্ঞা নয়, কারণ এটি বিধান অনুসন্ধানকারী বা অন্য যেকোনো গবেষণাকারীর (مجتهد) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যারা আমাদের ইতিপূর্বে বর্ণিত ফিকহী সংজ্ঞাগুলোর আলোকে এটি পরিচালনা করতে চান, তাদের জন্য সঠিক হলো [. . . (১)]।

 

‌‌ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي): এমন কোনো বিধানের সঠিকত্ব অনুধাবনের বিশ্বাস করা যার সপক্ষে কোনো সুস্পষ্ট নস (نص) নেই।

‌‌এর সাথে ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর পার্থক্য হলো যে, ইজতিহাদ অর্থ সঠিক সমাধান অনুসন্ধান করা, আর রায় (الرأي) অর্থ সঠিক সমাধানটি উপলব্ধি করা। এই কারণেই বলা হয়: "সঠিক রায় (الرأي) হলো সেটিই যা আপনি অভিমত হিসেবে প্রদান করেছেন।" তারা এই শব্দের মাধ্যমে কেবল ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর পূর্ণতা এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনকেই বুঝিয়ে থাকেন।

ইবনে খুওয়াইজ মানদাদ বলেন: রায় (الرأي) হলো উত্তম ফলাফল বের করে আনা। এটিও প্রথম সংজ্ঞার মতোই যে, এটি কেবল ফিকহী রায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কারণ এটি ফিকহ ও ফিকহ বহির্ভূত যেকোনো সঠিক মতামতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অধিকন্তু, এটি ভ্রান্ত রায়ের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়; কারণ সেটিও একটি অভিমত (الرأي) হলেও তা উত্তম ফলাফল বয়ে আনে না, বরং মন্দ ফলাফল বয়ে আনে।

 

‌‌বিশেষ বিবেচনায় গ্রহণ (الاستحسان): প্রমাণ (دليل) কিংবা অন্ধ অনুসরণ (التقليد) ছাড়াই কোনো বক্তব্যকে গ্রহণ করা।

--------------------------------------------

(১) এখানে প্রায় এক পৃষ্ঠার মতো অংশ বাদ পড়েছে, হে ইলম অন্বেষণকারী।
(খণ্ড: ১) আল হুদুদ ফিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১৯)
وقد اختلفت تأويلات أصحابنا في الاستحسان، فذهب محمد بن خويز منداد إلى أنه الأخذ بأقوى الدليلين. ومعنى ذلك أن يتعارض دليلان فيأخذ بأقوى الدليلين. ومعنى ذلك أن يتعارض دليلان فيأخذ بأصحهما وأقواهما تعلقًا بالمدلول عليه.

وهذا ليس في الاستحسان بسبيل، وإنما هو الأخذ بما ترجح من الدليلين المتعارضين.

وقد عبر بعض أصحابنا عنه بأنه معنى تخصيص العام من المعاني. وذلك مثل أن يرد الشرع بالمنع من بيع الرطب بالتمر، ويطرد هذا حيث وجد من بابه، ثم يرد الشرع بجواز بيع ثمرة العرية بخرصها من التمر إلى الجداد. فلا يكون هذا موضع الاستحسان، وإنما هو من باب بناء العام على الخاص، والحكم بالخاص والقضاء به على ما قابله من العام.

قال أبو الوليد رضي الله عنه: والذي عندي أن الاستحسان الذي يتكرر ذكره ويكثر على وجهين:

أحدهما: ترك القياس والعدول عنه: لما يعتقده القائس في الفرع أنه أضعف في تعلقه بالحكم من الأصل. فيعدل لذلك عن إلحاقه به لمعنى يختص به من علة واقفه تضاد القياس. ولو قوي الفرع قوة الأصل في حكمه لكان قياسه عليه أولى من تعلقه بالعلة الواقفة.

ممن تعلق بهذا أو سماه استحسانًا، فهو قياس، والقياس الذي يخالف هذا باطل، وإنما يخالف هذا في العبارة.

ومن ذلك أن يرى أن طرد القياس يؤدي إلى غلو ومبالغة في الحكم، ويستحسن في بعض المواضع مخالفة القياس لمعنى يختص به ذلك الوضع من تخفيف أو مقارنة. وهذا كثيرًا ما يستعمله أشهب وأصبغ وابن المواز. وقد قال أشهب في الرجل يشتري سلعة بالخيار فيموت، فيختلف ورثته في الخيار، فيريد بعضهم الإجازة وبعضهم الرد: إن حكمهم أن يجيزوا كلهم أو يردوا. لأن موروثهم لم يكن له إجازة البعض ورد البعض. واستحسن لمن أجاز منهم أن يأخذ حصة من لم يجز. وأما في النظر فليس لهم إلا أن يأخذوا جميعًا أو يردوا جميعًا. وهذا الاستحسان ينفيه نفاة الاستحسان وينكرونه. والواجب فيما لا نص فيه ولا إجماع إتباع مقتضى الأدلة
'ইস্তিহসান' (الاستحسان) -এর ব্যাখ্যায় আমাদের ফকিহ বন্ধুদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে খুওয়াইজ মানদাদ মনে করেন যে, এটি হলো দুটি দলিলের মধ্যে অধিকতর শক্তিশালী দলিলটি গ্রহণ করা। এর অর্থ হলো যখন দুটি দলিলের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ দেখা দেয়, তখন নির্দেশিত বিষয়ের সাথে সবচেয়ে বেশি সঠিক এবং দৃঢ়ভাবে সংশ্লিষ্ট দলিলটি গ্রহণ করা।

অথচ এটি মূলত 'ইস্তিহসান' (الاستحسان) -এর অন্তর্ভুক্ত কোনো পদ্ধতি নয়; বরং এটি হলো দুটি পরস্পরবিরোধী দলিলের মধ্যে যেটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে তা গ্রহণ করা।

আমাদের কতিপয় ফকিহ একে 'সাধারণ হুকুমকে বিশেষায়িত করা' (تخصيص العام) অর্থে বর্ণনা করেছেন। যেমন—শরিয়তের পক্ষ থেকে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে কাঁচা খেজুর কেনাবেচা নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত বিধান আসা এবং এই সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে এই নিয়মই বলবৎ থাকা; অতঃপর আবার শরিয়ত কর্তৃক 'আরিয়্যা' (العرية) পদ্ধতির কেনাবেচাকে ফলের বাগান কাটার সময় পর্যন্ত শুকনা খেজুরের বিনিময়ে অনুমিত পরিমাণে কেনাবেচার অনুমতি প্রদান করা। আসলে এটি 'ইস্তিহসান' (الاستحسان) -এর ক্ষেত্র নয়, বরং এটি হলো সাধারণ বিধানের ওপর বিশেষ বিধানকে ভিত্তি করা এবং সাধারণের বিপরীতে বিশেষ বিধান দ্বারা ফয়সালা প্রদান করা।

আবু আল-ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমার মতে, যে 'ইস্তিহসান' (الاستحسان) -এর কথা বারবার ও অধিক হারে আলোচিত হয়, তা দুই প্রকার:

প্রথমটি হলো: ‘কিয়াস’ (القياس) পরিত্যাগ করা এবং তা থেকে সরে আসা; কারণ ‘কিয়াস’ (القياس) কারী ব্যক্তি কোনো একটি শাখাগত মাসআলার (فرع) হুকুমের সাথে সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে সেটিকে মূলের (أصل) তুলনায় দুর্বল মনে করেন। ফলে তিনি এই শাখাগত মাসআলাটিকে মূলের সাথে যুক্ত করা থেকে বিরত থাকেন এমন একটি বিশেষ কারণে বা সুনির্দিষ্ট ইল্লতের (علة) কারণে যা সরাসরি ‘কিয়াস’ (القياس) -এর পরিপন্থী। যদি হুকুমের ক্ষেত্রে সেই শাখাটি মূলের মতোই শক্তিশালী হতো, তবে সুনির্দিষ্ট ইল্লতের সাথে যুক্ত হওয়ার চেয়ে সেটিকে মূলের ওপর কিয়াস করাই অধিক উত্তম হতো।

যারা এই পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকেন বা একে 'ইস্তিহসান' (الاستحسان) নামকরণ করেন, এটি মূলত এক প্রকার 'কিয়াস' (القياس) -ই; এবং যে 'কিয়াস' (القياس) এর বিরোধিতা করে তা বাতিল (باطل)। এটি শুধুমাত্র পরিভাষাগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিন্ন।

দ্বিতীয় প্রকারটি হলো এই যে, একগুঁয়েভাবে 'কিয়াস' (القياس) অনুসরণ করলে হুকুমের ক্ষেত্রে কঠোরতা বা বাড়াবাড়ি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়; তখন সেই বিশেষ প্রেক্ষাপটে সহজীকরণ কিংবা সামঞ্জস্য বিধানের উদ্দেশ্যে ‘কিয়াস’ (القياس) পরিপন্থী হওয়াকেই উত্তম মনে করা হয়। আশহাব, আসবাগ এবং ইবনুল মাওয়াজ প্রায়শই এটি প্রয়োগ করতেন। আশহাব সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে পসন্দ করার অধিকারসহ (خيار) কোনো পণ্য ক্রয় করার পর মারা যায়; অতঃপর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সেই পসন্দ করার অধিকার নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়—কেউ চুক্তিটি অনুমোদন করতে চায় আবার কেউ তা বাতিল করতে চায়। এ ক্ষেত্রে বিধান হলো, তাদের হয় সবাই মিলে অনুমোদন করতে হবে অথবা সবাই মিলে বাতিল করতে হবে। কারণ যার কাছ থেকে তারা উত্তরাধিকার পেয়েছে, তার জন্য আংশিক অনুমোদন ও আংশিক বাতিলের সুযোগ ছিল না। তবে তিনি ইস্তিহসান করে বলেছেন যে, যারা অনুমোদন করেছে তারা যেন অন্যদের অংশও গ্রহণ করে নেয়। কিন্তু যৌক্তিক পর্যালোচনার দাবি হলো, তাদের হয় সবাই মিলে গ্রহণ করতে হবে নতুবা সবাই মিলে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। যারা ‘ইস্তিহسان’ (الاستحسان) অস্বীকার করেন, তারা এই প্রকারটিকে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করেন। আর যে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট টেক্সট বা ‘নস' (نص) এবং ‘ইজমা’ (إجماع) নেই, সেখানে দলিলের দাবি অনুসরণ করাই আবশ্যক।