(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: -)
القصيدة الوضاحية في مدح السيدة عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها   (ابن بهيج)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: القصيدة الوضاحية في مدح السيدة عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (33)

المؤلف: أبو عمران الفليشيّ موسى بن محمد بن عبد الله الكفيف المَرِيِّي الأندلسي المعروف بابن بهيج (ت بعد 496 هـ)

اعتنى به: نظام محمد صالح يعقوبي

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 46

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1437

উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার প্রশংসায় আল-কাসিদাহ আল-ওয়াদাহিয়্যাহ   (ইবনে বাহীজ)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার প্রশংসায় আল-কাসিদাহ আল-ওয়াদাহিয়্যাহ - মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠক সিরিজ (৩৩)

লেখক: আবু ইমরান আল-ফুলায়শী মূসা বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কাফীফ আল-মারিয়্যী আল-আন্দালুসী, যিনি ইবনে বাহীজ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪৯৬ হিজরীর পর)

সম্পাদনায়: নিযাম মুহাম্মাদ সালেহ ইয়াকুবী

প্রকাশক: দারুল বাশায়েঁ আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরী - ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১লা রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام

 

المجموعة الرابعة

رمضان 1422 هـ
মসজিদুল হারামে শেষ দশকের বৈঠক

 

চতুর্থ সংকলন

রমজান ১৪২২ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২)
بينما كان هذا المجلد من لقاء العشر الأواخر يُطبع نزل أمر الله وقضاؤه بوفاة صاحب الدار الناشرة له الشيخ الفاضل رمزي بن سعد الدِّين دمشقية رحمة الله تعالى عليه

وقد توفي عصر يوم الثلاثاء 23 شعبان 1423 هـ

وصُلِّي عليه يوم الأربعاء بعد صلاة العصر، ودفن في مقبرة الشهداء ببيروت وكم كنا نتمنّى إخرج هذا المجلد قبل وفاته رحمه الله تعالى؛ لما علمنا من حرصه الشديد على رؤيته مطبوعًا؛ فقد كان ركن هذا اللقاء الطيِّب، ولكن قضاء الله نافذ، ولا راد لما كتب، وإنا على فقده لمحزونون، وإنا لله وإنا إليه راجعون.

اللَّهُمَّ أسبغ عليه الرحمات، واجعل مقامه في الجنات، آمين.

أُسرة دار البشائر الإسلامية

* * *

 

جميع الحقوق محفوظة

الطبْعَةُ الأولى

1423 هـ - 2002 م

 

دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع

هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611

بيروت - لبنان - ص ب:5955/ 14

 

e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
যখন 'লিক্বাউল আশরিল আওয়াখির'-এর এই খণ্ডটি মুদ্রিত হচ্ছিল, তখন এর প্রকাশক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী, ফজিলতপূর্ণ শায়খ রামজি বিন সাদউদ্দীন দামেশকিয়া—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এর মৃত্যুতে আল্লাহর আদেশ ও ফয়সালা অবতীর্ণ হয়েছে।

তিনি ২৩ শাবান ১৪২৩ হিজরি, মঙ্গলবার আসরের সময় ইন্তেকাল করেন।

বুধবার আসরের নামাজের পর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং বৈরুতের মাকবারাতুশ শুহাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। আমরা কতই না আকাঙ্ক্ষা করেছিলাম যে তাঁর মৃত্যুর আগে এই খণ্ডটি প্রকাশ করব—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—কেননা আমরা জানতাম যে এটি মুদ্রিত দেখার জন্য তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল; তিনি ছিলেন এই বরকতময় মজলিসের অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা কার্যকর হয় এবং তাঁর লিখিত বিষয় প্রতিহত করার কেউ নেই। তাঁর বিয়োগে আমরা শোকাহত, আর নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

হে আল্লাহ, তাঁর ওপর রহমতরাশি বর্ষণ করুন এবং জান্নাতে তাঁর মাকাম দান করুন, আমিন।

দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়া পরিবার

* * *

 

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম প্রকাশ

১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়া মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ

ফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১

বৈরুত - লেবানন - পি.ও. বক্স: ৫৯৫৫/ ১৪

 

ই-মেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تصدير المجموعة الرابعة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله الذي جعل لعباده مِنْ دهرِهِ نَفَحَاتٍ لِيَتَعَرَّضُوا فِيها إلى فُيُوض رَحْمَتِهِ، وجَعَلَ العشرَ الأواخرَ من رمضانَ مِنْ أَجَل هذه المواسمِ قَدْرًا، وأَعْظَمِها مَظِنَّةً لِمَغْفِرَتِهِ، علا ربُّنا فكانَ فوقَ سماواتِه عاليًا، ثُمَّ على عَرْشِه اسْتوى، يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفى، ويَسْمَعُ الكلامَ والنَّجوى، لا تَخْفى عليه خافيةٌ في الأرضِ ولا في السَّماءِ، ولا في لُججِ البِحارِ ولا في الهواء.

وأشهدُ أَنْ لا إلهَ إلَّا اللهُ إلهًا واحدًا، فَرْدًا صَمَدًا، قاهرًا قادرًا، رؤوفًا رحيمًا، لم يتَّخِذْ صاحبةً ولا ولدًا، ولا شريكًا له في مُلْكه، امتنَّ على المُؤْمنين بفضله، فَبَذَلَ لَهُمُ الإحسانَ، وزَيَّن في قلوبهمُ الأيمان، وكرَّه إليهمُ الكفرَ والفسوقَ والعصيان.

وأشهدُ أنَّ نبيَّنا وسَيّدَنا محمَّدًا عبدُهُ ورسولُهُ، وصَفِيُّهُ مِن خَلْقِهِ، وحبيبهُ وخليلُه، الرَّحمةُ المهداةُ، والنعمةُ المُسْداةُ، السِّراجُ المنيرُ، والبشيرُ النَّذيرُ، صلَّى اللهُ تعالى عليه وعلى آلِهِ وأَزْواجِه وذُرِّيَّتِهِ، وأَنْصَارِهِ وَأَتْبَاعِهِ
চতুর্থ সংকলনের মুখবন্ধ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য তাঁর মহাকালের মধ্য হতে কিছু সুবাসিত মুহূর্ত নির্ধারণ করেছেন যাতে তারা তাতে তাঁর করুণার প্রবাহের সম্মুখীন হতে পারে, এবং রমজানের শেষ দশককে এই সকল মৌসুমের মধ্যে মর্যাদার দিক দিয়ে অন্যতম মহান এবং তাঁর ক্ষমা প্রাপ্তির সর্বাপেক্ষা সম্ভাব্য সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আমাদের রব সুউচ্চ, ফলে তিনি তাঁর আকাশসমূহের উপরে উচ্চে রয়েছেন, অতপর তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন; তিনি গোপন এবং আরও গোপনীয় বিষয়ও জানেন, এবং তিনি কথোপকথন ও চুপিচুপি কথা শোনেন; আসমান ও জমিনে কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না, এমনকি গভীর সমুদ্রে কিংবা বায়ুমণ্ডলেও নয়।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক ইলাহ, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী, পরাক্রমশালী, ক্ষমতাবান, অত্যন্ত দয়াশীল ও পরম করুণাময়। তিনি কোনো স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি মুমিনদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা দয়া করেছেন, ফলে তিনি তাদের প্রতি কল্যাণ দান করেছেন এবং তাদের হৃদয়ে ঈমানকে সুশোভিত করেছেন এবং তাদের কাছে কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপ্রিয় করে দিয়েছেন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী ও নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর মনোনীত এবং তাঁর প্রিয় ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। তিনি উপহারস্বরূপ প্রেরিত রহমত এবং দানকৃত নেয়ামত, আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর পত্নীগণ, তাঁর বংশধরদের ওপর এবং তাঁর আনসার ও অনুসারীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ৪)
إلى يَوْمِ بَعْثِ بَرِيَّتِهِ، آمين.

وبعدُ:

فَبِفَضْلِ الله تعالى ومِنَّتهِ، ومَحْضِ كَرَمِهِ وجُوده ورَحْمَتِهِ، يسَّر لنَا تَجَدُّدَ لِقاءِ مجالسِ العَشْرِ الأَواخرِ التي نَعْقِدُها بِصَحْنِ المسجدِ الحرامِ تُجاهَ الكعبةِ المشرَّفة -زادها الله عِزًّا وشرفًا ومَن شَرَّفَها وعَظَّمَها- في موسم هذا العام -1422 هـ-، بَعْدَ أَنْ حَظِي إنْتاجُ العام الماضي 1421 هـ وما قَبْلَهُ بِقَبولِ العُلماءِ والفُضلاءِ، وطلبةِ العلمِ والنُّبلاءِ، في الحرمين الشريفين وغيرها من بلاد الإِسلام، فالحمدُ لله الذي بنعمته تَتِمُّ الصَّالحاتِ، ونَسْأله المزيدَ مِن فضله وتوفيقه، إنَّه سميع مجيب.

وكان من جُملة من سُرَّ بهذه المجالس وشَجَّعَنَا إلى المزيد من البحث والتحقيق وإخراج كنوز السلف وإحياء سُنَّة السماع والقراءة والمقابلة والعرض، شيخُ الحنابلة في عصرنا العلَّامةُ الفقيهُ شيخُنا الشيخُ عبدُ الله بْنُ عبد العزيز العقيلُ حفظه الله تعالى.

وقد شَرُفَ لقاؤنا هذا العام -1422 هـ- بمساهمة جليلة لفضيلته -حفظه الله تعالى ومتَّع به- وذلك بسماع القصيدة الوضاحية، حيث تشرَّفتُ بقراءتها عليه بحضور أخي وقرَّة عيني الشيخ محمَّد بن ناصر العجمي وحفيد الشيخ أنس بن عبد الرحمن ابن الشيخ عبد الله العقيل، فقام بتصحيح بعض ألفاظها وضبطها وكتب السماع بخطِّه الشريف المثبت في أول هذه المجموعة، فجزاه الله عنَّا خير الجزاء وجعل ذلك في ميزان حسناته.

وقد تمَّ في هذا الموسم -1422 هـ- قراءة وإعداد الرسائل الآتية:
তাঁর সৃষ্টিজগতকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত। আমিন।

অতঃপর:

আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ ও অনুকম্পায় এবং তাঁর একান্ত করুণা, বদান্যতা ও রহমতে, তিনি আমাদের জন্য এ বছরের (১৪২২ হিজরি) মৌসুমে মাসজিদুল হারামের চত্বরে সম্মানিত কাবার সম্মুখে—আল্লাহ কাবার এবং যারা একে সম্মান ও মর্যাদা দান করে তাদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব আরও বৃদ্ধি করে দিন—অনুষ্ঠিতব্য শেষ দশকের মজলিসগুলোর পুনরাবৃত্তির সুযোগ সহজ করে দিয়েছেন। গত ১৪২১ হিজরি এবং তার আগের বছরগুলোর কাজগুলো হারামাইন শরিফাইনসহ অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডের ওলামায়ে কেরাম, গুণীজন, ইলম অন্বেষী এবং বিদগ্ধজনদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার পর এই প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সমস্ত নেক কাজ সম্পন্ন হয়। আমরা তাঁর কাছে আরও অনুগ্রহ ও তাওফিকের প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দোয়া কবুলকারী।

যারা এই মজলিসগুলোর মাধ্যমে আনন্দিত হয়েছেন এবং আমাদের আরও গবেষণা, তাহকিক, সালাফদের জ্ঞানভাণ্ডার উন্মোচন এবং শ্রবণ (সামা), পাঠ (কিরাত), মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা (মুকাবালা) ও উপস্থাপন (আরজ)-এর সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে উৎসাহিত করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমাদের বর্তমান যুগের হাম্বলিদের শাইখ, আল্লামা ফকিহ, আমাদের শাইখ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল-আকিল (আল্লাহ তায়ালা তাকে হিফাজত করুন)।

এই বছর (১৪২২ হিজরি) আমাদের বৈঠকটি তাঁর (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন ও তাঁর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন) এক মহান অবদানের মাধ্যমে ধন্য হয়েছে, আর তা হলো 'কাসিদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ' শ্রবণ। আমার ভাই ও নয়নমণি শাইখ মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজমি এবং শাইখ আবদুল্লাহ আল-আকিলের নাতি আনাস বিন আবদুর রহমানের উপস্থিতিতে আমি তাঁর কাছে এটি পাঠ করার সৌভাগ্য লাভ করেছি। তিনি এর কিছু শব্দের সংশোধন ও পরিমার্জন করেছেন এবং তাঁর নিজ হাতে শ্রবণের সত্যায়ন লিখে দিয়েছেন যা এই সংকলনের শুরুতে যুক্ত করা হয়েছে। আল্লাহ তাকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।

এই মৌসুমে (১৪২২ হিজরি) নিম্নে বর্ণিত পুস্তিকাগুলো পাঠ ও প্রস্তুত করা সম্পন্ন হয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ৫)
1 - القصيدة الوضَّاحية في مدح السيِّدة عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها، لأبي عمران موسى بن بهيج الأندلسي، بعناية كاتب هذه السطور.

2 - صفة المؤمن والمؤمنة، للعالم الزاهد ذي النون المصري، بعناية فضيلة الشيخ رمزي سعد الدين دمشقية.

3 - تفريج الكروب في تعزيل الدروب، للإِمام العلَّامة تقي الدين أبي بكر بن داود الحنبلي، بتحقيق تفاحة الكويت الأخ الشيخ محمَّد بن ناصر العجمي.

4 - مجلس في فضل صوم يوم عاشوراء، للحافظ زكي الدين المنذري، بتحقيق الباحث الشيخ عبد اللطيف بن محمَّد الجيلاني.

5 - بذل المرام في فضل الجماعة وأحكام المأموم والإمام، للشيخ حسن بن إبراهيم البيطار، بتحقيق الشيخ الدكتور عبد الرؤوف بن محمَّد الكمالي.

6 - جزء في زواج أبي العاص بن الربيع بزينب بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم، للشيخ عبد الغني المقدسي، بتحقيق الشيخ مساعد العبد الجادر.

7 - مدخل أهل الفقه واللسان إلى ميدان المحبة والعرفان، لابن شيخ الحزاميين، بتحقيق الأخ الشيخ وليد بن محمَّد العلي.

8 - الكفاءة في النكاح، للإِمام الفقيه ابن قطلوبغا، بتحقيق الدكتور عبد الستار أبو غدة.

9 - استيفاء الاستدلال في تحريم الإِسبال على الرجال، للأمير محمَّد بن إسماعيل الصنعاني، بتحقيق الدكتور عبد الرؤوف بن محمَّد الكمالي.

10 - قصيدة في مدح السُّنَّة، للحافظ أبي طاهر السِّلَفي، ويليه:
১ - আল-কাসিদাহ আল-ওয়াদদাহিয়্যাহ: মুমিন জননী সাইয়্যিদাহ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রশংসায়, আবু ইমরান মুসা ইবনে বাহিজ আল-আন্দালুসি রচিত, এই পঙক্তিগুলোর লেখকের তত্ত্বাবধানে।

২ - মুমিন ও মুমিনাহর বৈশিষ্ট্য, যাহিদ আলিম জুন-নুন আল-মিসরি রচিত, ফজিলাতুশ শাইখ রামজি সাদ আদ-দিন দামাশকিয়্যাহর তত্ত্বাবধানে।

৩ - তাফরিজুল কুরুব ফি তা’জিল আদ-দুরুব, ইমাম আল্লামা তাকিউদ্দিন আবু বকর ইবনে দাউদ আল-হাম্বালি রচিত, কুয়েতের রত্ন ভাই শাইখ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমির তাহকিকসহ।

৪ - আশুরার দিনের সিয়ামের ফজিলত বিষয়ক মজলিস, হাফিজ জাকিউদ্দিন আল-মুনজিরি রচিত, গবেষক শাইখ আব্দুল লতিফ বিন মুহাম্মদ আল-জিলানির তাহকিকসহ।

৫ - বাযলুল মারাম ফি ফাদলিল জামাআত ওয়া আহকামিল মামুম ওয়াল ইমাম, শাইখ হাসান বিন ইবরাহিম আল-বিতার রচিত, শাইখ ডক্টর আব্দুর রউফ বিন মুহাম্মদ আল-কামালির তাহকিকসহ।

৬ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা যায়নাব-এর সাথে আবুল আস বিন রাবি-এর বিবাহ বিষয়ক পুস্তিকা, শাইখ আব্দুল গনি আল-মাকদিসি রচিত, শাইখ মুসাইদ আল-আব্দুল জাদিরের তাহকিকসহ।

৭ - মাদখালু আহলিল ফিকহি ওয়াল লিসান ইলা ময়দানিল মাহাব্বাতি ওয়াল ইরফান, ইবনে শাইখ আল-হিযামিয়্যিন রচিত, ভাই শাইখ ওয়ালিদ বিন মুহাম্মদ আল-আলির তাহকিকসহ।

৮ - বিবাহে কুফু বা সমতা, ইমাম ফকিহ ইবনে কুতলুবুগা রচিত, ডক্টর আব্দুল সাত্তার আবু গুদ্দাহর তাহকিকসহ।

৯ - ইসতিফাউল ইসতিদলাল ফি তাহরিমিল ইসবাল আলার রিজাল, আমির মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সানআনি রচিত, ডক্টর আব্দুর রউফ বিন মুহাম্মদ আল-কামালির তাহকিকসহ।

১০ - সুন্নাহর প্রশংসায় কাসিদাহ, হাফিজ আবু তাহির আস-সিলাফি রচিত, এবং এরপর রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ৬)
11 - رسالة في برِّ الوالدين، للإمام تقى الذين السبكي، كلاهما بعناية راقم هذه السطور.

12 - جزء في عدم صحة ما نقل عن بلال بن رباح رضي الله عنه من إبداله الشين في الأذان سينًا، لأبي الخير محمَّد الخيضري، ويليه:

13 - وصية ناصر الدين بن المَيْلَق، كلاهما بعناية الأخ الشيخ جمال عَزُّون.

14 - ختم جامع الإِمام الترمذي، للمحدِّث الشيخ عبد الله بن سالم البصري، بعناية العربي الدائز الفرياطي المغربي.

هذا ونرجو من أساتذتنا ومشايخنا الأجلَّاء، وإخواننا طلبة العلم الفضلاء -في مشارق الأرض ومغاربها- أن لا يبخلوا علينا بنصائحهم وتوجيهاتهم، وتصويباتهم وتسديداتهم ومشاركاتهم، فنحن بأمسَّ الحاجة إليها، ويمكنهم إرسالها على عنوان الناشر، دار البشائر الإِسلامية - بيروت.

ولا يفوتنا أن ننبِّه هنا أنَّ كل محقق وباحث مسؤول عن عمله وجهده وما قد يعتريه من نقص أو خلل أو خطأ، وليس لنا إلَّا التنسيق بين البحوث ومتابعة وصولها لذا لزم التنبيه.

وصلَّى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلَّم.

كتبه الفقير إلى الله

نظام محمد صالح يعقوبي

ليلة 27 رمضان المبارك 1422 هـ
১১ - পিতা-মাতার প্রতি সদাচার বিষয়ক একটি রিসালাহ, ইমাম তকিউদ্দীন আস-সুবকি রচিত; উভয়টি এই পঙক্তিগুলোর লেখকের তত্ত্বাবধানে।

১২ - বেলাল ইবন রাবাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আজানে 'শিন' বর্ণকে 'সিন' দিয়ে পরিবর্তন করতেন বলে যা বর্ণিত হয়েছে তার অসারতা বিষয়ক একটি পুস্তিকা, যা আবুল খায়ের মুহাম্মদ আল-খাইদরি রচনা করেছেন। এরপর রয়েছে:

১৩ - নাসিরুদ্দীন ইবনুল মাইলাকের অসিয়ত; উভয়টি ভ্রাতৃপ্রতিম শাইখ জামাল আযযুনের তত্ত্বাবধানে।

১৪ - ইমাম তিরমিযীর 'জামি' গ্রন্থের সমাপ্তি পাঠ (খতম), মুহাদ্দিস শাইখ আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-বাসরি রচিত; আল-আরবি আদ-দাইয আল-ফারিয়াতি আল-মাগরিবির তত্ত্বাবধানে।

পরিশেষে আমরা আমাদের সম্মানিত শিক্ষক ও মহান মাশায়েখদের এবং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের আমাদের গুণী জ্ঞানপিপাসু ভাইদের নিকট আবেদন করছি যে, তারা যেন আমাদের প্রতি তাদের উপদেশ, দিকনির্দেশনা, ভুল সংশোধন, সঠিক পথপ্রদর্শন এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে কার্পণ্য না করেন। আমাদের এগুলোর অত্যন্ত প্রয়োজন। আপনারা এগুলো প্রকাশকের ঠিকানায় পাঠাতে পারেন: দারুল বাশা ইরে আল-ইসলামিয়া - বৈরুত।

আমরা এখানে এ বিষয়টি সতর্ক করে দিচ্ছি যে, প্রত্যেক গবেষক ও অনুসন্ধানকারী তার নিজ নিজ কাজ ও প্রচেষ্টার জন্য এবং তাতে কোনো অভাব, ত্রুটি বা ভুল পরিলক্ষিত হলে তার জন্য এককভাবে দায়ী থাকবেন। আমাদের দায়িত্ব ছিল কেবল গবেষণাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং সেগুলোর প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। তাই বিষয়টি অবহিত করা আবশ্যক মনে করলাম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

আল্লাহর মুখাপেক্ষী এটি লিখেছেন

নিজাম মুহাম্মদ সালেহ ইয়াকুবি

২৭ রমজানুল মুবারক, ১৪২২ হিজরি রাত
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (33)

 

القصيدة الوضاحية في مدح السيدة عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها

 

تأليف

الشيخ الإمام أبي عمران موسى بن محمد بن عبد الله الأندلسي

المعروف بابن بهيج (كان حيا سنة 496 هـ) رحمه الله تعالى

 

اعتنى به

نظام محمد صالح يعقوبي

 

أسهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم

 

دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের মাজলিস (৩৩)

 

মুমিন জননী সায়্যিদা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রশংসায় আল-কাসিদা আল-ওয়াদ্বাহিয়্যাহ

 

রচনায়

শায়খ ইমাম আবু ইমরান মুসা বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আন্দালুসি

যিনি ইবনে বাহীজ নামে পরিচিত (তিনি ৪৯৬ হিজরি সনে জীবিত ছিলেন) রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা

 

সম্পাদনায়

নিযাম মুহাম্মাদ সালেহ ইয়াকুবি

 

হারামাইন শরিফাইনের কিছু পুণ্যবান ব্যক্তি ও তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীগণ এর মুদ্রণে সহায়তা করেছেন

 

দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مُقدمة المعتَني بها

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على سيّدنا رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه، وبعد:

فقد كنت في زيارة لبريطانيا صحبة الوالدة الكريمة حفظها الله تعالى لمراجعة بعض الأطباء، وكعادتي قصدت المكتبة البريطانية في لندن للاطِّلاع على نفائسها، فكان من جملة ما اطلعت عليه هذه القصيدة الجليلة. ثم بعد أيام قمت بزيارة مكتبة جامعة أكسفورد للاطلاع على بعض مخطوطاتها فوجدت النسخة الثانية المسندة لهذه القصيدة، فكأنها تنادي علي: أخرجني أخرجني!!

ولم يسبق لي قبل ذلك الاطِّلاع عليها لقلة بضاعتي وقصوري، مع أنه تبيَّن لي بعد ذلك أنه قد سبق طبعها مرارًا مشرقًا ومغربًا كما في مقدمة أخي الشيخ العجمي حفظه الله في ترجمة صاحب القصيدة وتوثيقها وتخميسها، ولكن يبقى لنا فضل نشرها للمرة الأولى منسوبة إلى مؤلفها الأصلي رحمه الله، اعتمادًا على هاتين النسختين المخطوطتين اللتين لم يسبق اطِّلاع أحد ممَّن سبق إلى نشرها عليهما، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء والله ذو الفضل العظيم.

 

* * *
সম্পাদকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:

আমি আমার সম্মানিতা মাতার (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন) সাথে কিছু চিকিৎসক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্রিটেন সফরে ছিলাম। আমার অভ্যাস অনুযায়ী লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে গিয়েছিলাম সেখানকার মূল্যবান সংগ্রহগুলো দেখার জন্য। সেখানে যা কিছু আমি দেখেছি তার মধ্যে এই মহান কাসিদাটিও (কবিতা) অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর কয়েক দিন পর আমি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি পরিদর্শনে যাই তাদের কিছু পাণ্ডুলিপি দেখার জন্য। সেখানে আমি এই কাসিদার দ্বিতীয় একটি সনদযুক্ত পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাই। এটি যেন আমাকে ডেকে বলছিল: আমাকে বের করো, আমাকে বের করো!!

আমার স্বল্প বিদ্যা ও সীমাবদ্ধতার কারণে এর আগে এটি দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি, যদিও পরে আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে এটি এর আগেও প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে; যেমনটি আমার ভাই শেখ আল-আজামির (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) ভূমিকায় কাসিদার লেখকের জীবনী, এর প্রামাণ্যতা ও এর তাখমিসের বর্ণনায় এসেছে। কিন্তু এই কাসিদাটিকে এর মূল লেখকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে প্রথমবারের মতো প্রকাশ করার কৃতিত্ব আমাদেরই রয়ে গেল। এটি সম্ভব হয়েছে এই দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে, যা এর আগে যারা এটি প্রকাশ করেছেন তাদের কেউ দেখার সুযোগ পাননি। আর এটি আল্লাহরই অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন এবং আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী।

 

* * *
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌ترجمة صاحب القصيدة وتوثيقها وتخميسها (1)

‌‌أولًا: ترجمة الناظم

ذكره ابن الأبار في "التكملة لكتاب الصلة" (2) حيث قال:

موسى بن بهيج، المغربي الواعظ، أندلسي من أهل المرية، نزل مصر، يكنى أبا عمران. كان من أهل العلم والأدب، وله في الزهد وغيره أشعار حملت عنه، ذكره ابن خير وحدَّث عن أبي جعفر بن زيدون عن أبي عبد الله محمَّد بن أحمد بن عباس المرشاني عنه بمخمَّسته في الحج وأعماله كلها، لقيه بمصر وقرأها عليه في سنة ست وتسعين وأربعمائة، وكان أبو عمر المعروف بابن يَمْنَالَش الزاهد ينشد لابن بهيج هذا:

إنما دنياك ساعة … فاجعل الساعة طاعهْ

--------------------------------------------

(1) تفضل أخي وقرة عيني تفاحة الكويت الشيخ محمَّد بن ناصر العجمي حفظه الله بكتابة هذه الترجمة، مع توثيق القصيدة وتخميسها، وقال في مقدمتها: "بقلم: الفقير إلى عفو ربه محمَّد بن ناصر العجمي، مهداة لأخيه عالم البحرين وجوهرتها المكنونة نظام محمَّد صالح يعقوبي غفر الله ذنوبه وذنوبي". فجزاه الله عني كل خير.

(2) (2/ 174، 175) بتحقيق الدكتور عبد السلام الهراس، ط دار المعرفة بالدار البيضاء في المغرب.
কবিতার রচয়িতার পরিচিতি, এর নির্ভরযোগ্যতা এবং এর তাখমিস (পঞ্চপদীকরণ) (১)

প্রথমত: কবির পরিচিতি

ইবনুল আব্বার ‘আত-তাকমিলা লি-কিতাবিস সিলা’ (২) গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন:

মুসা বিন বাহিজ, আল-মাগরিবি আল-ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা), আল-মেরিয়া অঞ্চলের একজন আন্দালুসীয়, তিনি মিশরে বসতি স্থাপন করেছিলেন, তাঁর উপনাম আবু ইমরান। তিনি ইলম ও আদব (সাহিত্য)-এর অধিকারী ছিলেন এবং দুনিয়াবিমুখতা ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর অনেক কবিতা রয়েছে যা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে খায়ের তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তিনি আবু জাফর বিন যায়দুন থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্বাস আল-মুরশানি থেকে হজ ও এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলি নিয়ে তাঁর ‘তাখমিস’ (পঞ্চপদী কবিতা) বর্ণনা করেছেন। তিনি মিশরে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং চারশত ছিয়ানব্বই হিজরি সনে তা তাঁর কাছে পাঠ করেন। যাহিদ আবু উমর—যিনি ইবনে ইয়ামনালাশ নামে পরিচিত ছিলেন—ইবনে বাহিজের এই পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করতেন:

তোমার দুনিয়া কেবল একটি মুহূর্ত মাত্র … সুতরাং এই মুহূর্তটিকে আনুগত্যে (ইবাদতে) পরিণত করো।

--------------------------------------------

(১) আমার ভাই এবং আমার চোখের পুতলি, কুয়েতের রত্ন শায়খ মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজামি (হাফিযাহুল্লাহ) এই পরিচিতিটি লেখার পাশাপাশি কবিতাটির নির্ভরযোগ্যতা ও এর তাখমিস প্রদান করে অনুগ্রহ করেছেন। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: "লিখনীতে: তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজামি; বাহরাইনের আলেম ও এর গুপ্ত মানিক ভাই নিযাম মুহাম্মাদ সালেহ ইয়াকুবীর প্রতি উৎসর্গকৃত, আল্লাহ তাঁর ও আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন।" আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

(২) (২/ ১৭৪, ১৭৫) ডক্টর আব্দুস সালাম আল-হাররাস-এর সম্পাদনায়, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় অবস্থিত দার আল-মা’রিফাহ থেকে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ১২)
واحذر التقصير فيها … واجتهد ما قدر ساعهْ

وإذ أحببت عزًّا … فالتمس عزّ القناعهْ

وترجم له أحمد بن محمَّد المقري في "نفح الطيب من غُصن الأندلس الرطيب" (1) في ذكره لمن رحل إلى المشرق فقال:

موسى بن بهيج المغربي الأندلسي، الواعظ، الفقيه، العالم، من أهل المرية، نزل مصر …

ثُمَّ ذكر نحو كلام ابن الأبار السابق.

وذكر له ابن خير الأندلسي في "فهرسة ما رواه عن شيوخه" (2):

مخمسة الشيخ الواعظ المقري أبي عمران بن بهيج الأندلسي، في صفة الحج وأعماله كلها؛ وقطعة شعر لامية أيضًا في الزهد، أولها:

كم تحسنت أو حسنت المعال

وهي اثنا عشر بيتًا.

حدثني بهما الشيخ الوزير أبو جعفر عبد الله بن محمَّد بن زيدون المخزومي رحمه الله، مناولة منه لي، قال: حدثني بهما الحاج الإِمام أبو عبد الله محمَّد بن أحمد بن عياش العبدري المرشاني رحمه الله، قراءةً عليه، عن قائلهما أبي عمران بن بهيج رحمه الله، قراءة عليه، لقيه بمصر في سنة 496.

كما أن الحافظ أبو طاهر السِّلَفِي روى له شعرًا في "معجم السَّفر" (3) إذ يقول:

--------------------------------------------

(1) (2/ 220، 221) بتحقيق إحسان عباس، ط دار صادر.

(2) (ص 413، 414) ط دار الآفاق الجديدة.

(3) (ص 144) ط المكتبة التجارية بمكة المكرمة.
আর এতে ত্রুটি করা থেকে সতর্ক হও … এবং তোমার সাধ্যমতো চেষ্টা করো।

আর তুমি যদি সম্মান চাও … তবে অল্পে তুষ্টির সম্মান অন্বেষণ করো।

আর আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-মাক্বরী তাঁর 'নাফহুত তীব মিন গুসনিল আন্দালুস আর-রাত্বীব' (১) গ্রন্থে যারা প্রাচ্যের দিকে সফর করেছিলেন তাদের বর্ণনায় তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন:

মূসা ইবন বাহীজ আল-মাগরিবী আল-আন্দালুসী, তিনি একজন ওয়াইজ, ফকীহ ও আলিম; আল-মেরিয়ার অধিবাসী ছিলেন এবং মিসরে বসতি স্থাপন করেছিলেন …

এরপর তিনি ইবনুল আব্বার-এর পূর্বোক্ত কথার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

আর ইবন খায়র আল-আন্দালুসী তাঁর 'ফিহরিসাতু মা রাওয়াহু আন শুয়ুখিহি' (২) গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন:

শায়খ, ওয়াইজ ও ক্বারী আবু ইমরান ইবন বাহীজ আল-আন্দালুসীর রচিত পঞ্চপদী কবিতা, যা হজ্জের বিবরণ ও তার সকল আমল সম্পর্কে; এবং যুহদ (দুনিয়া-বিমুখতা) সম্পর্কে একটি লামিয়্যাহ কাব্যখণ্ডও রয়েছে, যার শুরু হলো:

কতই না সুন্দর হয়েছে বা সৌন্দর্যমন্ডিত হয়েছে উচ্চতর গুণাবলি

এটি বারোটি পঙ্‌ক্তি বিশিষ্ট কবিতা।

শায়খ উজির আবু জাফর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন যাইদুন আল-মাখজুমী (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে এই কবিতা দুটি প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: হাজি ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আইয়াশ আল-আবদারী আল-মারশানী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এর রচয়িতা আবু ইমরান ইবন বাহীজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; তিনি ৪৯৬ হিজরিতে মিসরে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

অনুরূপভাবে হাফিজ আবু তাহির আস-সিলাফী 'মু'জামুস সাফার' (৩) গ্রন্থে তাঁর কিছু কবিতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) (২/ ২২০, ২২১) ইহসান আব্বাসের সম্পাদনায়, দার সাদির সংস্করণ।

(২) (পৃষ্ঠা ৪১৩, ৪১৪) দারুল আ ফাক আল-জাদিদাহ সংস্করণ।

(৩) (পৃষ্ঠা ১৪৪) আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাহ, মক্কাতুল মুকাররামাহ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
حدَّثني أبو محمّد عبد الله بن محمد بن ملوك التنوخيّ الفليشيّ بالإسكندرية بعد رجوعه من مكَّة، وفليش قرية من قرى لُرْقَة بشرق الأندلس، قال: غاب أبو عمران الفليشيّ، موسى بن محمد بن بهيج الكفيف المَرِيِّي عن عشائره مدّة بالمشرق، فعمل بمصر موشّحًا أوَّله:

يا مُنَجِّمِينَا … هل لِلْغَرِيبِ سَبِيلْ

نَحْوَ الظّاعِنِينَا … فَالْقَلْبُ مِنْهُ عَلِيلْ

لَا يُلْفِي مُعِينَا … إلَّا دُمُوعًا تَسيلْ

وَيُجْرِيهَا هَتُونا … مِنْ جَفْنِهِ وَيُدِيلْ

ومنه:

حَكَى نَوْحَ المُسْتَهَامِ … مِمَّا بِهِ مِنْ غَرَامْ

نَوْحًا كَنَوْحِ الحَمَامِ … عَلى ذُرَى الآكَامِ

غَدَا يُجْرِي بِانْسِجَامِ … دمْعًا كَصَوْبِ الغَمَامِ

يَشْكُو لِكُلِّ الأَنَامِ … مَا بِالْحَشَا مِنْ كَلَامِ

ولم يذكر ابن الأبار ولا المقري سنة وفاته، ولكنه كان حيًّا سنة (496 هـ) إذْ كان في مصر.

 

‌‌ثانيًا: توثيق القصيدة وصحة نسبتها لأبي عمران موسى بن بهيج الأندلسي

قال الحافظ أبو طاهر السِّلَفِي في "معجم السَّفر" (1):

أنشدني أبو الطاهر عبد المنعم بن موهوب بن أحمد القارئ بمصر،

--------------------------------------------

(1) (ص 204).
মক্কা থেকে ফিরে আসার পর আলেকজান্দ্রিয়ায় আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুলুক আত-তানুখি আল-ফালিশি আমাকে বর্ণনা করেছেন—আর ফালিশ হলো পূর্ব আন্দালুসের লুরকার একটি গ্রাম—তিনি বলেন: আবু ইমরান আল-ফালিশি, মুসা বিন মুহাম্মদ বিন বাহিজ আল-কাফিফ আল-মারিয়্যি দীর্ঘকাল প্রাচ্যে তার আত্মীয়-স্বজন থেকে দূরে ছিলেন, তাই তিনি মিশরে একটি মুওয়াশশাহ (কাব্য) রচনা করেছিলেন, যার শুরু হলো:

হে আমাদের জ্যোতিষীরা … এই পরদেশীর কি কোনো পথ আছে?

সেই প্রস্থানকারীদের পানে … যার বিরহে তার অন্তর আজ অসুস্থ।

সে কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পায় না … কেবল প্রবাহিত অশ্রু ছাড়া।

এবং সে তার চোখের পাতা থেকে অবিরাম ধারায় তা বইয়ে দেয় এবং বারবার ঝরিয়ে দেয়।

এবং তা থেকে আরও অংশ:

প্রেমাসক্তের বিলাপের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছে … তার মাঝে থাকা তীব্র অনুরাগের কারণে।

পাহাড়ের চূড়ায় কবুতরের বিলাপের মতো বিলাপ … পাহাড়ের চূড়াগুলোর ওপর।

সে অবিরাম ধারায় বইয়ে দিতে লাগল … মেঘের বৃষ্টির মতো অশ্রু।

সে সমস্ত সৃষ্টির কাছে অভিযোগ করে … তার অন্তরে থাকা জমানো বেদনার কথা।

ইবনুল আব্বার বা আল-মাক্কাররি কেউই তার মৃত্যুর সাল উল্লেখ করেননি, তবে তিনি ৪৯৬ হিজরিতে জীবিত ছিলেন যখন তিনি মিশরে অবস্থান করছিলেন।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: কাসিদাটির প্রামাণ্যতা এবং আবু ইমরান মুসা বিন বাহিজ আল-আন্দালুসির প্রতি এর নিসবতের বিশুদ্ধতা

হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফি "মু'জামুস সাফার" গ্রন্থে বলেছেন (১):

মিশরে আবু তাহের আব্দুল মুনইম বিন মাওহুব বিন আহমাদ আল-কারি আমাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন,

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ২০৪)।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال: أنشدنا أبو عمران موسى بن محمد بن عبد الله بن بهيج الأندلسي لنفسه من قصيدته المشهورة في ذكر عائشة الصدّيقة ومنها:

أَكرِمْ بِأرْبَعَةٍ أئِمَّةِ شَرْعِنَا … فَهُمُ لِبَيْتِ الدِّينِ كَالأرْكَانِ

بينَ الصَّحَابَةِ والقَرَابَةِ أُلفَةٌ … لَا تَسْتَحِيلُ بِنَزْغَةِ الشيْطَانِ

نُسِجَتْ مَودَّتَهُمْ سَدًى في لُحْمَةٍ … فَبِنَاؤهَا مِنْ أثبَتِ البُنْيَانِ

{رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ} صَفَتْ أَخْلَاقُهُم … وَخَلَتْ قُلُوبُهُمُ مِنَ الشنْآنِ

هُمْ كَالأَصَابِعِ في اليَدَيْنِ تَوَاصُلًا … هَلْ يَسْتَوِي كَفٌّ بِغَيْرِ بَنَانِ

اللهُ ألَّف بينَ وُدِّ قُلُوبِهِمْ … لِيَغِيظَ كُل مُنَافِقٍ طَعَّانِ

فَدُخُولُهُمْ بينَ الأحِبَّةِ كُلْفَةٌ … وَسِبَابُهُمُ سَببٌ إلَى الحِرْمَانِ

وذكرها الحافظ ابن حجر في "المجمع المؤسس للمعجم المفهرس" (1) فيما يرويه عن شيخه عبد الرحمن بن أحمد، المعروف بابن الشيْخَة، حيث قال: "قصيدة في مدح أم المؤمنين عائشة" أولها:

مَا شَانُ أُمِّ المُؤمِنينَ وَشَاني

وهي من نظم أبي عمران موسى بن محمَّد بن عبيد الله الأندلسي الواعظ، بسماعه لها على أبي الحسن بن قُرَيْش، بسماعه من الحافظ رَشِيد الدين يحيى بن علي بن عبد الله العَطَّار، قال: أخبرنا أبي، قال: أخبرنا أبو طاهر عبد المنعم بن موهوب إجازة، قال: أنشدنا أبو عمران.

كما ذكرها في "المجمع" (2) أيضًا، فيما يرويه عن شيخه محمَّد بن محمَّد بن أبي بكر، خطيب الصَّالحية، إذ يقول:

--------------------------------------------

(1) (2/ 130) بتحقيق يوسف المرعشلي، ط دار المعرفة في بيروت.

(2) (2/ 486).
তিনি বললেন: আবু ইমরান মুসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বাহিজ আল-আন্দালুসি আমাদের নিকট সিদ্দীকা আয়েশার বর্ণনায় তার নিজের সেই বিখ্যাত কবিতাটি পাঠ করেছেন, যার কিছু অংশ হলো:

আমাদের শরীয়তের চার ইমাম কতই না সম্মানিত! … তারা দ্বীনের গৃহের স্তম্ভের ন্যায়।

সাহাবায়ে কেরাম এবং রাসূলের নিকটাত্মীয়দের মাঝে এমন সখ্যতা ছিল … যা শয়তানের প্ররোচনায় কখনো বিলীন হওয়ার নয়।

তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা টানা ও পোড়েনের মতো করে বোনা হয়েছে … তাই এর ভিত্তি হলো অত্যন্ত সুদৃঢ় স্থাপনা।

{তারা একে অপরের প্রতি দয়ার্দ্র} তাদের চরিত্র ছিল নিষ্কলুষ … এবং তাদের অন্তর ছিল বিদ্বেষমুক্ত।

পারস্পরিক বন্ধনের দিক থেকে তারা যেন দুই হাতের আঙুলসমূহ … আঙুল ব্যতিরেকে কি হাতের তালু পূর্ণ হতে পারে?

আল্লাহ তাদের অন্তরের ভালোবাসার মাঝে মিলন ঘটিয়েছেন … যাতে প্রত্যেক বিদ্রূপকারী মুনাফিক রাগান্বিত হয়।

প্রিয়জনদের মাঝে তাদের এই অনধিকার প্রবেশ কেবল কষ্টকর … আর তাদের গালি দেওয়া হলো বঞ্চিত হওয়ার কারণ।

হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-মাজমাউল মুআসসিস লিল-মুজামিল মুফাহরাস' (১) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন যা তিনি তার উস্তাদ আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ—যিনি ইবনে শাইখাহ নামে পরিচিত—তার থেকে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেন: "উম্মুল মুমিনীন আয়েশার প্রশংসায় একটি কবিতা" যার প্রথম চরণ হলো:

উম্মুল মুমিনীনের মর্যাদা এবং আমার মাঝে কীসের তুলনা!

এটি ওয়ায়েজ আবু ইমরান মুসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আন্দালুসির কাব্যরচনা। তিনি এটি আবু হাসান ইবনে কুরাইশের নিকট শুনেছেন, তিনি হাফেজ রশিদ উদ্দিন ইয়াহইয়া ইবনে আলি ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আত্তারের নিকট শুনেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তাহের আব্দুল মুনয়িম ইবনে মাওহুব ইজাজতসূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ইমরান এটি আবৃত্তি করেছেন।

তিনি 'আল-মাজমা' (২) গ্রন্থেও এটি উল্লেখ করেছেন, যা তিনি সালিহিয়ার খতিব তার উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) (২/১৩০) ইউসুফ আল-মার'আশলির সম্পাদনায়, বৈরুতের দারুল মা'রিফাহ থেকে প্রকাশিত।

(২) (২/৪৮৬)।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
وسمعت من لفظه "أحاديث وأناشيد، فيها القصيدة التي في مدح أم المؤمنين عائشة"، أولها:

ما شان أُمِّ المؤمنين وشاني

وهي من نظم أبي عمران موسى بن عبيد الله الأندلسي الواعظ، بسماعه من عز الدين ابن جماعة قال: أخبرنا محمَّد بن أبي الحَرَم، قال: أخبرنا الرشيد العَطَّار، قال: أخبرنا أبي، قال: أخبرنا أبو طاهر عبد المنعم بن موهوب إجازة عنه.

كما أن أبو الفتح إبراهيم بن علي القرشي القلقشندي قد رواها من طريق الحافظ ابن حجر، إذ يقول كاتب "ثبته" (1) محمَّد بن يشبك اليوسفي:

وسمِعَ على سيِّدنا ومولانا وشيخنا شيخ مشايخ الإِسلام والحفاظ جمال الدين أبي الفتح إبراهيم بن شيخ الإِسلام علاء الدِّين أبي الفتوح علي بن القاضي قطب الدِّين أحمد القُرَشي القلقشنديّ الشافعي جميع القصيدة الوضَّاحيَّة في مدح أُمِّ المؤمنين عائشة رضي الله تعالى عنها، التي أوَّلها:

ما شان أُمِّ المؤمنين وشاني

بقراءة الشَّيخ شهاب الدِّين أحمد بن علي القدسي الحنبليّ، كاتبه (2) محمَّد بن يشبك اليوسفيّ، وولده أحمد، والشَّيخ شرف الدِّين يونس بن ملاج الحسنيّ الحنفيّ، قال مولانا المُسَمِّع: أخبرنا بها جمع من الشيوخ سماعًا

--------------------------------------------

(1) "ثبت القلقشندي" (17 / ب قطعة منه، نسخة مكتبة المدينة المنورة العامَّة برقم 365).

(2) قلت: وهذا عين إسناد نسخة أكسفورد التي اعتمدنا عليها. (كتبه نظام).
আমি তাঁর মুখে "কিছু হাদীস ও কবিতা শুনেছি, যার মধ্যে মুমিনদের জননী আয়িশার প্রশংসায় রচিত সেই কাসিদাটিও রয়েছে", যার শুরুটা হলো:

মুমিনদের জননীর শান আর আমার অবস্থান কোথায়!

এটি ওয়ায়েজ আবু ইমরান মুসা ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-আন্দালুসী-র কাব্যরচনা, যা তিনি ইজ্জুদ্দীন ইবনে জামাআহ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবিল হারাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আর-রশিদ আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তাহের আব্দুল মুনয়িম ইবনে মাওহুব তাঁর থেকে প্রাপ্ত ইজাযতের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

যেমনটি আবু ফাতহ ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-কুরাশী আল-কালকাশান্দি এটি হাফেজ ইবনে হাজার-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যখন তাঁর ‘সাবাত’ (১) এর লেখক মুহাম্মদ ইবনে ইয়াশবাক আল-ইউসুফী বলেন:

তিনি আমাদের সাইয়্যেদ, মাওলানা এবং আমাদের শাইখ, ইসলাম ও হাফেজদের শাইখদের শাইখ জামালুদ্দীন আবুল ফাতহ ইব্রাহিম ইবনে শাইখুল ইসলাম আলাউদ্দীন আবুল ফুতুহ আলী ইবনুল কাজী কুতুবুদ্দীন আহমদ আল-কুরাশী আল-কালকাশান্দি আশ-শাফিয়ীর নিকট মুমিনদের জননী আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা)-এর প্রশংসায় রচিত পূর্ণাঙ্গ ‘কাসিদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ’ শ্রবণ করেছেন, যার শুরুটা হলো:

মুমিনদের জননীর শান আর আমার অবস্থান কোথায়!

এটি শাইখ শিহাবুদ্দীন আহমদ ইবনে আলী আল-কুদসী আল-হাম্বলীর পাঠের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর লেখক (২) মুহাম্মদ ইবনে ইয়াশবাক আল-ইউসুফী, তাঁর পুত্র আহমদ এবং শাইখ শরফুদ্দীন ইউনুস ইবনে মাল্লাজ আল-হাসানী আল-হানাফী। আমাদের শ্রবণকারী মাওলানা বললেন: একদল শাইখ শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের এটি জানিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) ‘সাবাত আল-কালকাশান্দি’ (১৭ / খ-এর অংশবিশেষ, মদিনা মুনাওয়ারা পাবলিক লাইব্রেরির ৩৬৫ নম্বর পাণ্ডুলিপি)।

(২) আমি বলছি: এটিই অক্সফোর্ড পাণ্ডুলিপির সেই মূল সনদ যার ওপর আমরা নির্ভর করেছি। (এটি নিজাম লিখেছেন)।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
منهم شيخ الإِسلام شهاب الدِّين أبو الفضل أحمد بن علي بن حجر الشافعي، والمسندة أُمِّ الفضل هاجر القدسيَّة، والمسندة ساره ابنة جماعة وغيرهم، سماعًا على الثانية، وإجازةً من الأول والأخيرة إن لم يكن سماعًا ولا قراءة.

قال الأوَّلون: أنا أبو الفرج عبد الرحمن بن أحمد المبارك بن الشيخة الغزّي سماعًا لهاجر، وإجازة؛ إن لم يكن سماعًا ولا قراءة لشيخ الإِسلام ابن حجر، أنا أبو الحسن عليّ بن إسماعيل بن إبراهيم بن قُريش، وقالت ساره: أنا جدّي شيخ الإِسلام عزّ الدِّين أبو عمر عبد العزيز بن محمّد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة الكنانيّ إجازة؛ إن لم يكن سماعًا، أنا أبو بكر محمد بن مكي بن جامع القرشيّ سماعًا. قال هو وابن قريش: أنا بها الرَّشيد أبو الحسين يحيى بن علي بن عبد الله القرشيّ العطار الحافظ، أنا بها أبو الطَّاهر عبد المنعم بن موهوب اليزني القارئ، أنشدنيها ناظمها أبو عمران موسى بن محمَّد بن عبد الله الأندلسي الواعظ، عُرِفَ بابن بهيج، فذكرها.

وأجاز مولانا المُسَمِّع لكاتبه محمَّد بن يشبك اليوسفي وولده أحمد رواية ذلك وجميع ما يجوز له وعنه روايته، صحَّ ذلك وثبت بباب منزل مولانا المُسَمِّع بِحَارَة بهاء الدِّين قراقوش، في يوم الأحد المبارك السادس عشر من ذي القعدة الحرام، سنة ثمان وعشرة وتسعمائة".

وقد كتب صحة هذا السماع بخطه العلَّامة أبو الفتح القلقشندي: "الحمد لله. صحيح ذلك، كتبه إبراهيم بن علاء القرشي القلقشندي الشَّافعي حامدًا مصليًا مسلمًا".

وممن سَمِعَ هذه القصيدة ورواها: العلَّامة محمَّد المرتضى الزَّبيدي،
তাদের মধ্যে রয়েছেন শাইখুল ইসলাম শিহাবউদ্দীন আবুল ফজল আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আশ-শাফিয়ী, মুসনিদাহ উম্মুল ফজল হাজার আল-কুদসিয়্যাহ, এবং মুসনিদাহ সারাহ বিনতে জামাআহ ও অন্যান্যরা। দ্বিতীয় জনের নিকট শ্রবণের মাধ্যমে, এবং প্রথম ও শেষোক্ত জনের নিকট থেকে ইজাজত বা অনুমতি সূত্রে, যদি শ্রবণ বা পাঠ না হয়ে থাকে।

প্রথমোক্তরা বলেন: আমাদের নিকট আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে আহমাদ আল-মুবারক ইবনে আশ-শাইখাহ আল-গাযযী হাজার-এর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজারের নিকট থেকে ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন; যদি সরাসরি শ্রবণ বা পাঠ না হয়ে থাকে। আমাদের নিকট আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহীম ইবনে কুরাইশ বর্ণনা করেছেন। সারাহ বলেন: আমার নিকট আমার দাদা শাইখুল ইসলাম ইজ্জুদ্দীন আবু উমর আব্দুল আজীজ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে সাদুল্লাহ ইবনে জামাআহ আল-কিনানী ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন; যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে। আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মাক্কী ইবনে জামি' আল-কুরাশী শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি এবং ইবনে কুরাইশ বলেন: আমাদের নিকট আর-রাশীদ আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুরাশী আল-আত্তার আল-হাফিয এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আবু তাহের আব্দুল মুনয়িম ইবনে মাওহুব আল-ইয়াযানী আল-কারী এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার নিকট এর রচয়িতা আবু ইমরান মূসা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আন্দালুসী আল-ওয়ায়েয—যিনি ইবনে বাহীজ নামে পরিচিত—এটি আবৃত্তি করেছেন, এরপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

এবং আমাদের মাওলানা মুসাম্মি' (পাঠ শ্রবণকারী) তার লেখক মুহাম্মাদ ইবনে ইশবাক আল-ইউসুফী এবং তার পুত্র আহমাদকে এটি এবং তার পক্ষ থেকে যা কিছু বর্ণনা করা বৈধ তার সবকিছুর বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করেছেন। এটি সঠিক ও সাব্যস্ত হয়েছে বাহাউদ্দীন কারাকুশ পাড়ায় অবস্থিত আমাদের মাওলানা মুসাম্মি'-এর গৃহের দ্বারে, ১৬ই জিলকদ হারাম, ৯১৮ হিজরি সনের মুবারক রবিবারে।

এবং আল্লামা আবুল ফাতহ আল-কালকাশান্দি নিজ হাতে এই শ্রবণের বিশুদ্ধতা লিখে দিয়েছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। এটি সঠিক, এটি লিখেছেন ইবরাহীম ইবনে আলা আল-কুরাশী আল-কালকাশান্দি আশ-শাফিয়ী, আল্লাহর প্রশংসা, সালাত ও সালাম পাঠ করার পর।"

আর যারা এই কাসিদা (কবিতা) শুনেছেন এবং বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আল্লামা মুহাম্মাদ আল-মুরতাজা আজ-জাবিদী।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
إذ جاء سماعه لها على نسخة من هذه القصيدة محفوظة بالخزانة العامة بتطوان في المغرب تحت رقم (60)، وإليك إياه (1):

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، حمدًا لمن نزَّل براءة الصدّيقية في كتابه، وصلاةً وسلامًا على سيدنا محمَّد وآله وصحبه، وبعد:

فيقول أسير المساوي، عبد الوهاب بن محمَّد الطائي الحميدي الشافعي الشبراوي:

قد أنشدنا شيخنا الإِمام الحَبْر الهُمام اللغوي الجهبذ الناثر الناظم الناقد المحدث المفسر الفقيه الحنفي السيد الشريف محمد بن محمد بن محمَّد الشهير بالمرتضى الزبيدي الحسيني نزيل مصر، بجامع المرحوم شيخو العمري الناصري بخط صليبة أحمد بن طولون، قال: أنشدنا إياها شيخنا الفقيه الصالح محمَّد بن مصطفى بن علي الأيسر الفُوّي الشافعي عن والده.

قال شيخنا السيد المذكور: وأعلى من ذلك أني رويتها عن شيخي السيد محمد بن محمَّد حجاج الحسيني قال: أنشدنا أبو الفيض علي بن إبراهيم الزغلي البويتجي الشافعي نزيل فُوَّة. قال: أنشدنا إبراهيم بن محمَّد المأموني الشافعي، عن الشمس الرملي الأنصاري، عن شيخ الإِسلام زكرياء الأنصاري، عن الحافظ شهاب الدين أحمد بن علي بن حجر العسقلاني بقراءته على أبي الفرج عبد الرحمن بن أحمد بن المبارك، أنا أبو الحسن علي بن إسماعيل بن قريش المخزومي سماعًا سنة 739 بسماعه على الحافظ رشيد الدين أبي الحسين يحيى بن علي القريشي، قال: أخبرنا والدي أبو الحسن علي بن عبد الله القريشي بحق قراءتي عليه غير ما مرة، أخبرنا

--------------------------------------------

(1) انظر ما يأتي (ص 18).
যেহেতু এই কবিতার একটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এর শ্রবণ (সামা) সম্পন্ন হয়েছে, যা মরক্কোর তিতওয়ানের পাবলিক লাইব্রেরিতে (৬০) নম্বর অধীনে সংরক্ষিত আছে, আর তা নিম্নরূপ (১):

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা তাঁর জন্য যিনি তাঁর কিতাবে সিদ্দীকার (আয়েশা রা.) পবিত্রতা অবতীর্ণ করেছেন, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর। অতঃপর:

অপরাধের শৃঙ্খলে আবদ্ধ আব্দুল ওয়াহাব বিন মুহাম্মদ আল-তাঈ আল-হুমায়দী আল-শাফেয়ী আল-শুবরাওয়ী বলছেন:

আমাদের নিকট এটি আবৃত্তি করেছেন আমাদের শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, মহৎ প্রাণ, ভাষাবিদ, প্রখর মেধা সম্পন্ন, গদ্যকার, পদ্যকার, সমালোচক, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, হানাফী ফকীহ, সাইয়্যেদ শরীফ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, যিনি মুরতাজা আল-জুবাইদী আল-হুসাইনী নামে প্রসিদ্ধ এবং মিশরে বসবাসকারী; মরহুম শায়খু আল-উমারী আল-নাসিরী জামে মসজিদে, যা আহমাদ বিন তুলুন এলাকার সালিবা নামক স্থানে অবস্থিত। তিনি বলেন: আমাদের নিকট এটি আবৃত্তি করেছেন আমাদের শায়খ, সৎ ফকীহ মুহাম্মদ বিন মুস্তফা বিন আলী আল-আইসার আল-ফুওয়ী আল-শাফেয়ী, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন।

উক্ত শায়খ সাইয়্যেদ বলেন: এর চেয়েও উচ্চতর সনদ হলো আমি এটি বর্ণনা করেছি আমার শায়খ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ হাজ্জাজ আল-হুসাইনীর নিকট থেকে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন আবুল ফায়েজ আলী বিন ইব্রাহিম আল-জুগলী আল-বুওয়াইতিজী আল-শাফেয়ী, যিনি ফুওয়াহ্-তে বসবাস করতেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-মামুনী আল-শাফেয়ী, শামস আল-রামলী আল-আনসারীর সূত্রে, তিনি শায়খুল ইসলাম জাকারিয়া আল-আনসারীর সূত্রে, তিনি হাফেজ শিহাব উদ্দিন আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানীর সূত্রে, যা তিনি আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন আল-মুবারকের নিকট পাঠের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন। আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন ইসমাইল bin কুরাইশ আল-মাখজুমী ৭৩৯ হিজরীতে শ্রবণের মাধ্যমে, যা তিনি হাফেজ রশীদ উদ্দিন আবুল হোসেন ইয়াহিয়া বিন আলী আল-কুরাইশীর নিকট শ্রবণ করেছিলেন। তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-কুরাইশী, তাঁর নিকট আমার একাধিকবার পাঠের মাধ্যমে; তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) সামনে দেখুন (পৃষ্ঠা ১৮)।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
أبو طاهر عبد المنعم بن موهوب اليَزَني الواعظ إجازةً، أنشدنا أبو عمران موسى بن محمَّد بن عبد الله الأندلسي لنفسه في عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها، وأجازه الأفضل وزير مصر السُّني عليها بمائة دينار لما بلغته، رضي الله عنها ورحم الله القائل.

تمت بحمد الله وعونه وحسن توفيقه، والحمد لله أولًا وآخرًا وظاهرًا وباطنًا، ولا حول ولا قوة إلَّا بالله العلي العظيم.

وعليها بخط السيد مرتضى ما نصه:

الحمد لله، قد سمع مني هذه القصيدة بقراءتي: كاتبها وصاحبها الشيخ الفاضل المفيد أبو الفضل عبد الوهاب بن محمَّد بن علي الشبراوي الشافعي حفظه الله، وقد أجزت له ولمن سمع معه، وهم نحو من ثلاثين نفسًا ضبطت أسماؤهم على ظهر نسخة الأصل عند مثبت الأسماء، روايتَها عني، بارك الله فيهم ونفع بهم. وكتبه محمَّد بن محمَّد بن محمَّد المرتضى الحسيني في يوم الاثنين لليلتين بقيتا من شعبان سنة 1186 بجامع المرحوم شيخو العمري، حامدًا لله ومصليًّا ومسلمًا.

هذا ما وقفت عليه من توثيقٍ أصيلٍ لهذه القصيدة الجليلة، ومما ينبغي التنبيه عليه أن هذه القصيدة قد سبق نشرها وذلك من قِبَل العلَّامة اللغوي سعيد الأفغاني، فقد أوردها كاملة في كتابه "عائشة والسياسة" المطبوع في القاهرة سنة (1947) (ص 362 - 265) وذكر أنه اعتمد على نسخة قديمة في حوزة الأستاذ أحمد عُبيد صاحب المكتبة العربية بدمشق.

كما أن العلَّامة عبد الله كنون المغربي نشرها (1) في مجلة مجمع اللغة

--------------------------------------------

(1) وقد اعتمد على أربع نسخ: الأولى نسخته الخاصة، والثانية والثالثة والرابعة من =
আবু তাহির আব্দুল মুনইম বিন মাওহুব আল-ইয়াজানি আল-ওয়ায়িজ ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করেছেন, আবু ইমরান মুসা বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আন্দালুসি মুমিনদের মাতা আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর শানে নিজের রচিত কবিতা আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। মিশরের সুন্নি উজির আল-আফদালের কাছে যখন তা পৌঁছাল, তিনি এর জন্য তাকে একশ দিনার পুরস্কার প্রদান করেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং আল্লাহ লেখকের ওপর রহম করুন।

আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর সাহায্য ও উত্তম তাওফিকের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্য ও গোপনে। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

এর ওপর সাইয়্যিদ মুরতাজার হস্তাক্ষরে যা লিখিত আছে তার পাঠ নিম্নরূপ:

সকল প্রশংসা আল্লাহর। এই কাসিদার লেখক ও স্বত্বাধিকারী ফাজেল ও মুফিদ শায়খ আবুল ফজল আব্দুল ওয়াহহাব বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আশ-শাবরাভি আশ-শাফিয়ি (আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন) আমার নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে এটি শুনেছেন। আমি তাঁকে এবং যারা তাঁর সাথে শ্রবণ করেছেন—যাঁদের সংখ্যা প্রায় ত্রিশ জন এবং নামসমূহ মূল পাণ্ডুলিপির অপর পৃষ্ঠায় নিবন্ধকের নিকট সংরক্ষিত আছে—তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে এটি বর্ণনার অনুমতি প্রদান করলাম। আল্লাহ তাদের মাঝে বরকত দিন এবং তাদের দ্বারা উপকৃত করুন। এটি লিখেছেন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মুরতাজা আল-হুসাইনি, সোমবার, ১১৮৬ হিজরির শাবান মাসের দুই দিন অবশিষ্ট থাকতে মারহুম শায়খু আল-উমারি জামে মসজিদে; আল্লাহর প্রশংসা করে এবং সালাত ও সালাম পাঠ করে।

এই মহান কাসিদাটির মূল প্রামাণিক দলিল হিসেবে যা আমি পেয়েছি তা এখানেই শেষ। একটি বিষয় সতর্ক করা প্রয়োজন যে, এই কাসিদাটি ইতিপূর্বে ভাষাবিদ আল্লামা সাঈদ আল-আফগানি প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর 'আইশা ওয়াস-সিয়াসাহ' (আয়িশা ও রাজনীতি) গ্রন্থে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন, যা ১৯৪৭ সালে কায়রো থেকে মুদ্রিত হয়েছিল (পৃষ্ঠা ৩৬২-৩৬৫)। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দামেস্কের 'আল-মাকতাবাতুল আরাবিয়্যাহ'-এর মালিক উস্তাদ আহমদ উবাইদের সংগ্রহে থাকা একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন।

অনুরূপভাবে মাগরেবি আল্লামা আব্দুল্লাহ কানুন এটি প্রকাশ করেছেন (১) ভাষা একাডেমি সাময়িকীতে...

--------------------------------------------

(১) তিনি চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন: প্রথমটি তাঁর নিজস্ব কপি, এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থটি হলো...
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
العربية بدمشق سنة (1393 هـ -1973 م) (47/ 748 - 756) ثُمَّ أعاد نشرها مرة أُخرى في مجلة "المناهل" التي تصدرها وزارة الثقافة في المغرب العدد السادس (رجب 1396 هـ - يوليو) (ص 25 - 34) (1).

ومما قاله في مطلع هذه المقالة:

"هي قصيدة في مناقب أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها اشتملت على ذكر فضائلها وفضائل والدها أبي بكر الصديق ومجادلة الخصوم المبغضين لها المتقولين عليها. ومحاجتهم بالدليل من الكتاب والسنة في إيمان صادق ودفاع حار. وبالواقع التاريخي الذي لا نزاع فيه من سيرتها العطرة وسيرة أبيها الخليفة الأول رضوان الله عليه، وكل ذلك بأسلوب بارع وبيان رفيع، ونظم محكم متين، وإلى هذا وبقطع النظر عن كل اعتبار، فالقصيدة تعبر عن عاطفة إنسانية رفيعة لأنها تتخذ موقف المساندة بجنب سيدة شريفة أثناء أزمة

--------------------------------------------

= محتويات المكتبة العامَّة بتطوان، وأرقامها فيها (656، 830، 60) والرقم الأخير فيها هو رقم النسخة التي فيها سماع الزبيدي الذي سبق إيراده من مقالته في مجلة مجمع اللغة العربية (49/ 924).

وقد تعقب أحدهم في مجلة مجمع اللغة العربية بدمشق (49/ 453) مقال عبد الله كنون الذي أورد فيه هذه القصيدة، وذكر أنه رأى بخط والده وهو من القرن الماضي أن القصيدة لابن لعديم، كما أنني وقفت على نسخة خطية من هذه القصيدة في مكتبة عارف حكمت بالمدينة النبوية برقم (267 مجاميع)، وذكر ناسخها في أولها أنها لابن الجزري، وهذه النسخة منسوخة سنة 1189 هـ، وقد زادت أبياتها على بقية النسخ أكثر من عشرين بيتًا، وهذا كله مما حدا بي إلى العناية بتوثيق هذه القصيدة وبيان صحة نسبها إلى أبي عمران الأندلسي.

(1) وقد أوقفني على هذه المقال أخي الباحث المحقق الطلعة، أحد كواكب المغرب المشرقة عبد اللطيف بن محمَّد الجيلاني، فجزاه الله عني خيرًا.
দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমি কর্তৃক ১৩৯৩ হিজরি - ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে (৪৭/ ৭৪৮ - ৭৫৬); এরপর তিনি এটি মরক্কোর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত 'আল-মানাহিল' পত্রিকার ষষ্ঠ সংখ্যায় (রজব ১৩৯৬ হিজরি - জুলাই) (পৃ. ২৫ - ৩৪) পুনরায় প্রকাশ করেন (১)।

এই প্রবন্ধের প্রারম্ভে তিনি যা বলেছেন:

"এটি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার মর্যাদা সম্পর্কে একটি কাসিদা (কবিতা), যা তাঁর এবং তাঁর পিতা আবু বকর সিদ্দিকের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর প্রতি বিদ্বেষপোষণকারী ও তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারী শত্রুদের সাথে বিতর্কের বিষয়বস্তু ধারণ করেছে। এতে সত্য ঈমান ও জোরালো প্রতিরক্ষার সাথে কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের মাধ্যমে তাদের যুক্তি খণ্ডন করা হয়েছে। সেই সাথে তাঁর সুগন্ধিময় জীবনী এবং প্রথম খলিফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর জীবনী থেকে অবিসংবাদিত ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। এই সমস্ত কিছু অত্যন্ত চমৎকার শৈলী, উচ্চমানের বর্ণনাভঙ্গি এবং সুদৃঢ় কাব্যিক গাঁথুনিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সকল বিবেচনার ঊর্ধ্বে, এই কবিতাটি একটি উচ্চতর মানবিক অনুভূতি প্রকাশ করে, কারণ এটি একটি সংকটের সময়ে এক মহীয়সী নারীর পাশে দাঁড়ানোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

--------------------------------------------

= তেতুয়ান পাবলিক লাইব্রেরির বিষয়বস্তু এবং সেখানে এর নম্বরগুলো হলো (৬৫৬, ৮৩০, ৬০)। সর্বশেষ নম্বরটি সেই পাণ্ডুলিপির নম্বর যাতে যুবাইদীর 'সামা' (শ্রবণ অনুলিপি) রয়েছে, যা ইতিপূর্বে আরবি ভাষা একাডেমি পত্রিকার (৪৯/ ৯২৪) প্রবন্ধে উদ্ধৃত হয়েছে।

দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমি পত্রিকার (৪৯/ ৪৫৩) কোনো এক লেখক আব্দুল্লাহ কান্নুনের প্রবন্ধটি পর্যালোচনা করেছেন যেখানে তিনি এই কবিতাটি উল্লেখ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি গত শতাব্দীর তাঁর পিতার হস্তলিপিতে দেখেছেন যে কবিতাটি ইবনে আল-আদীমের। পাশাপাশি আমি মদিনা মুনাওয়ারার আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে এই কবিতার একটি পাণ্ডুলিপি পেয়েছি যার নম্বর (২৬৭ মাজমুআ), এবং এর অনুলিপিকারক শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে এটি ইবনুল জাযারীর। এই অনুলিপিটি ১১৮৯ হিজরিতে অনুলিখিত হয়েছে এবং এর শ্লোক সংখ্যা অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় বিশটিরও বেশি বেশি। এই সমস্ত কিছুই আমাকে এই কবিতাটির প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করতে এবং আবু ইমরান আল-আন্দালুসির প্রতি এর সম্বন্ধের সঠিকতা স্পষ্ট করার প্রতি মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

(১) মরক্কোর উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একজন, আমার ভাই গবেষক ও তাত্ত্বিক অনুসন্ধানী আব্দুল লতিফ বিন মুহাম্মদ আল-জিলানি আমাকে এই প্রবন্ধটির ব্যাপারে অবহিত করেছেন। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২০)
هي أعنف أزمة يمر بها امرأة في حياتها، فتنافح عنها وعن كرامتها حتى تحتفظ لها بسمعتها الطيبة وذكرها الجميل.

ومما أبر به صاحب هذه القصيدة أنه جعلها على لسان السيدة عائشة نفسها، فبعد المطلع الذي يوذن بمقصوده تخلص في البيت الثاني إلى إعطائها الكلمة، فجعلها هي التي تناظر وتفاخر وتدفع في نحور الأعداء بسلاح الحجة والبرهان الذي يطوقهم الخزي والعار. فلو أنها رضي الله عنها نطقت فعلًا بشعر في الموضوع لما زادت على ما احتوته هذه القصيدة، وهي من هي قوة بيانٍ وشدة عارضة.

وهذا مما يدل على بلاغة منشئها، ومقدرته البيانية وتمكنه من صناعة الشعر، فضلًا عن رسوخ قدمه في المعرفة بعلم الحديث والسيرة النبوية والتاريخ وسائر العلوم الإِسلامية".

ولا يعزب عنك أيها القارئ ما مرَّ في سماع الزَّبيدي لها أنه ذكر: أن الأفضل وزير مصر السني (1) أجاز ناظمها بمائة دينار لمَّا بلغته.

 

‌‌ثالثًا: تخميسها

ومما يدل على العناية بها أن الشيخ عبد الحميد قُدْس المكي المتوفى سنة (1334 هـ) (2) قد خمَّسها بعنوان "بُلوغ السَّعد والأمنية في مدح سيدتنا

--------------------------------------------

(1) هو الأفضل بن أمير الجيوش بدر الجمالي، وزِّر للمستنصر والمستعلي من خلفاء الفاطميين، وكان سنِّيًّا أبطل الكثير من مراسيم الفاطميين، توفي سنة 515 هـ. (تاريخ الدولة الفاطمية للدكتور حسن إبراهيم حسن ص 175).

(2) هو الشيخ عبد الحميد قُدْس بن علي، قال الشيخ المؤرخ المكي عبد الله مرداد أبو الخير في "نشر النَّور والزَّهر- مختصره، ص 237 وما بعدها": "الجاوي =
এটি একজন নারীর জীবনে অতিবাহিত হওয়া সবচেয়ে কঠিন সংকট, তাই তিনি নিজের এবং নিজের সম্মানের পক্ষ সমর্থন করেন যাতে তাঁর সুখ্যাতি এবং সুন্দর স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে।

এই কাসিদার লেখকের অন্যতম কৃতিত্ব হলো তিনি এটিকে খোদ সায়্যিদা আয়েশার জবানীতে উপস্থাপন করেছেন। উদ্দেশ্য জ্ঞাপনকারী প্রারম্ভিক পঙক্তির পর, তিনি দ্বিতীয় পঙক্তিতেই তাঁকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন। ফলে তিনিই বিতর্ক করছেন, গর্ব করছেন এবং দলিল ও প্রমাণের অস্ত্র দিয়ে শত্রুদের প্রতিহত করছেন, যা তাদেরকে লাঞ্ছনা ও অপমানের বেড়াজালে আবদ্ধ করে। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) যদি প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়ে কোনো কাব্য রচনা করতেন, তবে এই কাসিদায় যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার চেয়ে বেশি কিছু হতো না। অথচ তিনি বাকপটুতা ও জোরালো বাচনভঙ্গির ক্ষেত্রে ছিলেন অনন্য সাধারণ।

এটি এর রচয়িতার অলংকারশাস্ত্রের গভীরতা, বর্ণনাশৈলীর সক্ষমতা এবং কাব্য রচনায় তাঁর দক্ষতার প্রমাণ দেয়। এর পাশাপাশি ইলমে হাদিস, সিরাত, ইতিহাস এবং অন্যান্য ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্যেরও পরিচয় বহন করে।

হে পাঠক, জাবিদির বর্ণনায় যা এসেছে তা আপনার অজানা নয় যে, মিসরের সুন্নি উজির আল-আফদাল (১) যখন এই কাব্য সম্পর্কে জানতে পারলেন, তখন তিনি এর রচয়িতাকে একশত দিনার পুরস্কার প্রদান করেছিলেন।

 

‌‌তৃতীয়ত: এর তাখমিস (পঞ্চপদীকরণ)

এর প্রতি গুরুত্বারোপের একটি প্রমাণ হলো যে, শায়খ আব্দুল হামিদ কুদস আল-মাক্কি (মৃত্যু ১৩৩৪ হিজরি) (২) "বুলুগুল সা'দ ওয়াল উমনিইয়াহ ফি মাদহি সাইয়্যিদাতিনা" শিরোনামে এর একটি তাখমিস রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আল-আফদাল বিন আমিরুল জুয়ুশ বদর আল-জামালি। তিনি ফাতেমি খলিফা মুস্তানসির এবং মুস্তালির উজির ছিলেন। তিনি ছিলেন সুন্নি মতাবলম্বী এবং ফাতেমিদের অনেক রীতিনীতি বাতিল করেছিলেন। তিনি ৫১৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (ডক্টর হাসান ইব্রাহিম হাসান রচিত 'তারিখুদ দাওলাতিল ফাতিমিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ১৭৫)।

(২) তিনি হলেন শায়খ আব্দুল হামিদ কুদস বিন আলী। মক্কার ইতিহাসবিদ শায়খ আবদুল্লাহ মিরদাদ আবু আল-খায়ের 'নাশরুন নূর ওয়ায যাহর - মুখতাসার' এর ২৩৭ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে বলেছেন: "আল-জাবি ="
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২১)
أم المؤمنين المبرأة الصِّديقية" وهو مطبوع في مطبعة الترقي في مصر سنة (1319 هـ) (1) وإليك نصها:

هذا التخميس النفيس على القصيدة السنية، المقولة على لسان المبرأة الصديقية، سيدتنا أم المؤمنين عائشة المحظية، زوجة وحبيبة خير البرية، صلَّى الله وسلم عليه وعلى آله وأصحابه وأزواجه بكرة وعشية، وهي متضمنة لمدحتها البهية، تقبَّل الله تعالى ذلك إنه مبلغ الأمنية، آمين بالآمين.

قِفْ واستمع قولًا عظيم الشان … في مدح زوج المصطفى العدنان

إذ قال عنها مثبتُ البرهان … (ما شأن أُمّ المؤمنين وشاني)

(هُدِيَ المحبُّ لها وضَلَّ الشاني)

فاقت على كل النساء بنُبلها … ولدَى العلوم بدت معالمُ طَوْلها

وإذا أردتَ بيانَ عِزَّةِ نيلها … (إني أَقول مبينًا عن فضلها)

(ومترجِمًا عن قولها بلساني)

يا مدَّعي حُبّ المشفع أحمد … خذ حُبّ حِبَّتِه شفيعك في غد

--------------------------------------------

= أصلًا، المكي مولدًا، الشافعي، الأديب الشاعر، أخذ العلم عن أهله وذويه ولازم فيه". ثُمَّ ذكر أخذه عن علماء مكة، ورحلته إلى الجامع الأزهر وأخذه عن علمائه، وتصدى بعد ذلك للتدريس في المسجد الحرام. ومما قال أبو الخير مرداد: "وأثنى عليه كثير من أهل الفضائل، ونثر ونظم، وألف التآليف العديدة الحسنة المفيدة".

وذكر طرفًا منها، ثُم إشارة إلى هذا التخميس بالعنوان السابق. توفي الشيخ عبد الحميد قدس سنة (1334 هـ). وانظر ترجمته أيضًا في "سير وتراجم" لعمر عبد الجبار (ص 157)، و"الأعلام" للزركلي (3/ 288).

(1) أوقفني على هذه التخميس الأخ الدكتور عبد الله الحُجيلي، الأستاذ بالجامعة الإِسلامية بالمدينة المنورة، فجزاه الله خيرًا.
"উম্মুল মুমিনীন আল-মুবাররাআ আস-সিদ্দিকাহ" যা মিশরের মাতবাআতুত তারাাক্কিতে ১৩১৯ হিজরিতে (১) মুদ্রিত হয়েছে। আর এটি হলো তার মূল পাঠ:

এই মূল্যবান 'তাখমিস' সেই 'আল-কাসিদাতুস সুন্নিয়্যাহ'র ওপর রচিত, যা আমাদের নেত্রী উম্মুল মুমিনীন, অত্যন্ত প্রিয়তমা, সৃষ্টির সেরা ব্যক্তিত্বের স্ত্রী ও প্রেয়সী আয়িশা আস-সিদ্দিকাহ (যিনি আল্লাহ কর্তৃক পবিত্র ঘোষিত)-এর জবানীতে বর্ণিত। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও স্ত্রীদের ওপর সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। এটি তাঁর অতি উজ্জ্বল প্রশংসাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে। মহান আল্লাহ তা কবুল করুন, নিশ্চয়ই তিনি আকাঙ্ক্ষা পূরণকারী। আমীন, কবুল করুন।

থামো এবং এক অতি মহিমান্বিত কথা শ্রবণ করো … মুস্তফা আদনানের স্ত্রীর প্রশংসায়

যখন দলীল প্রতিষ্ঠাকারী তাঁর সম্পর্কে বললেন … (উম্মুল মুমিনীনের সাথে আমার কী-ই বা সম্পর্ক!)

(তাঁর প্রেমিক হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে আর তাঁর বিদ্বেষী হয়েছে পথভ্রষ্ট)

তিনি আপন মহানুভবতায় সকল নারীর ঊর্ধ্বে চলে গেছেন … এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ পেয়েছে

যদি তুমি তাঁর প্রাপ্ত মর্যাদার স্পষ্ট বর্ণনা চাও … (তবে আমি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্পষ্ট বর্ণনা দিচ্ছি)

(এবং আমার ভাষায় তাঁর কথার অনুবাদ করছি)

হে শাফাআতকারী আহমাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভালোবাসার দাবিদার! … কাল কিয়ামতে তোমার সুপারিশকারী হিসেবে তাঁর প্রিয়তমার ভালোবাসাকে গ্রহণ করো

--------------------------------------------

= মূলত মক্কি বংশোদ্ভূত, শাফিঈ, সাহিত্যিক ও কবি, তিনি তাঁর পরিবার ও স্বজনদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।" এরপর তিনি মক্কার উলামাদের নিকট তাঁর শিক্ষাগ্রহণ, জামিউল আযহারে তাঁর সফর ও সেখানকার উলামাদের নিকট জ্ঞান অর্জন এবং পরবর্তীতে মসজিদে হারামে শিক্ষকতায় তাঁর নিয়োজিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। আবু আল-খাইর মিরদাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "গুণীজনদের অনেকেই তাঁর প্রশংসা করেছেন, তিনি গদ্য ও পদ্য রচনা করেছেন এবং অনেক সুন্দর ও উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন।"

এবং তিনি এর কিছু অংশের কথা উল্লেখ করেছেন, এরপর পূর্বোক্ত শিরোনামে এই তাখমিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। শেখ আব্দুল হামিদ কুদস ১৩৩৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী আরও দেখুন উমর আব্দুল জাব্বারের "সিয়ার ওয়া তারাজিম" (পৃষ্ঠা ১৫৭) এবং যিরিকলির "আল-আলাম" (৩/২৮৮) গ্রন্থে।

(১) মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-হুজাইলি আমাকে এই তাখমিস সম্পর্কে অবহিত করেছেন, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২২)
فإذا أبيتَ أقولُ قولَ مسدّد … (يا مبغضي لا تأتِ قبر محمَّد)

(فالبيت بيتي والمكان مكاني)

أتظنّ تحظى مع قِلاكَ بمقصد … حاشا فأنتَ إذًا بشرٍّ مُغْتدٍ

أو ماترى ما حزتُهُ بتأيُّدِ … (إني خُصصتُ على نساء محمَّد)

(بصفاتِ بِرٍّ تحتهن معاني)

سَبقتْ خديجةُ واعترفتُ بفضلها … وخصائصي في الذكر منبَعُ جَزلها

ونساءُ أحمدَ فقتُهن بجُلّها … (وسبقتُهن إلى الفضائل كلِّها)

(فالسبق سبقي والعِنان عناني)

من ذا الذي قد حاز مثلَ مناقبي … إذ كنتُ حِبَّةَ من أشاد مراتبي

فالسعدُ وافاني ونِلتُ مآربي … (مرض النبيُّ ومات بين ترائبي)

(واليومُ يومي والزمان زماني)

من سار مثليَ في الخليقة سيرَه … والسعد أنطقَ باعتلائيَ طَيْرَه

ما زلتُ أشكر للمهيمن خيرَه … (زوجي رسولُ الله لم أر غيرَه)

(الله زوَّجني بِهِ وحباني)

قد زانني ربي بحسن سريرتي … ولدى ذوي الإيمان حسَّنَ سيرتي

وأعزَّني الهادي ففقْتُ عشيرتي … (وأتاهُ جبريلُ الأمينُ بصورتي)

(فأحبَّني المختارُ حين رآني)

فأنا الكريمة من غشاني برُّه … قد زادني شرفًا وعزًّا فخرُه

من ذا يفاخرني وبيتي قبرُه … (أنا بكرهُ العذراءُ عندي سرُّه)

(وضجيعُه في منزلي قمران)

فليَ الهنا أعلى المهيمنُ رُتبتي … إذ بالحبيب بلغتُ غايةَ بُغيتي
যদি তুমি অস্বীকার করো তবে আমি অকাট্য কথা বলব … (হে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী, তুমি মুহাম্মাদের কবরের কাছে এসো না)

(কেননা এই ঘর আমার ঘর এবং এই স্থান আমার স্থান)

তুমি কি মনে করো যে তোমার বিদ্বেষ সত্ত্বেও তুমি তোমার উদ্দেশ্য সফল করবে? … কখনোই নয়, বরং তুমি অকল্যাণের সাথেই সকাল অতিবাহিত করছ

অথবা তুমি কি দেখছ না যে আমি ঐশী সাহায্যে কী অর্জন করেছি? … (নিশ্চয়ই আমাকে মুহাম্মাদের অন্যান্য স্ত্রীদের ওপর বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে)

(এমন পুণ্যময় গুণাবলির মাধ্যমে যেগুলোর অন্তরালে গভীর অর্থ নিহিত রয়েছে)

খাদিজা অগ্রগামী হয়েছেন এবং আমি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করি … আর কুরআনে বর্ণিত আমার বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো সেই শ্রেষ্ঠত্বের মূল উৎস

আহমাদের স্ত্রীদের মধ্যে আমি অধিকাংশ বিষয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে গিয়েছি … (এবং আমি সকল শ্রেষ্ঠত্বের দিকে তাঁদের চেয়ে অগ্রগামী হয়েছি)

(সুতরাং এই অগ্রগামিতা কেবল আমারই এবং এই কর্তৃত্ব কেবল আমারই)

এমন কে আছে যে আমার মতো চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন করেছে? … যেহেতু আমি তাঁর প্রিয়তমা ছিলাম যিনি আমার মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন

সুতরাং পরম সৌভাগ্য আমার নিকট এসেছে এবং আমি আমার লক্ষ্য অর্জন করেছি … (নবী অসুস্থ হয়েছিলেন এবং আমার বক্ষ ও কণ্ঠনালীর মাঝখানে তিনি ইন্তেকাল করেছেন)

(আর সেই দিনটি ছিল আমার দিন এবং সেই সময়টি ছিল আমারই সময়)

সৃষ্টির মধ্যে কে আমার মতো পথ চলেছে? … আর সৌভাগ্য আমার উচ্চমর্যাদার কারণে পাখিকে দিয়ে কথা বলিয়েছে

আমি সর্বদা মহাপ্রভুর নিকট তাঁর কল্যাণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি … (রাসূলুল্লাহ আমার স্বামী, আমি অন্য কাউকে দেখিনি)

(আল্লাহ তাঁর সাথে আমার বিবাহ দিয়েছেন এবং আমাকে এই অনুগ্রহ দান করেছেন)

আমার রব আমার পবিত্র অন্তরের কারণে আমাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন … এবং ঈমানদারদের নিকট আমার জীবনচরিতকে সুন্দর করেছেন

আর পথপ্রদর্শক আমাকে সম্মানিত করেছেন ফলে আমি আমার স্বজনদের উপরে স্থান পেয়েছি … (এবং বিশ্বস্ত জিবরাঈল আমার প্রতিকৃতি নিয়ে তাঁর নিকট এসেছিলেন)

(অতঃপর মনোনীত রাসূল আমাকে দেখে ভালোবেসেছেন)

আমি সেই মহীয়সী নারী যাঁর ওপর তাঁর বদান্যতা বর্ষিত হয়েছে … তাঁর গৌরব আমাকে সম্মান ও মর্যাদায় বৃদ্ধি করেছে

কে আমার সাথে গর্ব করবে যখন আমার ঘরই তাঁর কবর? … (আমিই তাঁর একমাত্র কুমারী স্ত্রী, আমার নিকটই তাঁর গোপন রহস্য)

(এবং আমার ঘরে তাঁর সাথে শায়িত আছেন আরও দুই চন্দ্র)

আমার জন্য রয়েছে আনন্দ, মহাপ্রভু আমার মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন … যেহেতু প্রিয়তমের সান্নিধ্যে আমি আমার সকল আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
وبسورة النور البهيَّة قِصَّتي … (وتكلَّمَ اللهُ العظيمُ بحجَّتي)

(وبراءَتي في محكم القرآن)

وكذاكَ أوْعد من أراد مَذَلَّتي … بالخزي والبلوى وأحسنَ نشأتي

وأعزَّني رغمًا لحُسن محَجّتي … (واللهُ عظَّمني وعظَّم حرمتي)

(وعلى لسانِ نبيّهِ بَرَّاني)

تَبًّا لمن لخلاف ذلك يتذِي … حسبي إلهي والمهيمنُ منقذي

فبِهِ نصرتُ على المنافق والبَذِي … (واللهُ في القرآن قد لعنَ الذي)

(بعدَ البراءة بالقبيح رماني)

سبحان ربِّي إذْ قضى بتخَلّصي … وأذلَّ أعدائي ودمَّر مُرْهصي

وأزال همِّي فاستحال تنغُّصي … (والله وبَّخ مَنْ أراد تنقُّصي)

(إفكًا وسبح نفسَه في شأني)

فمعيشتي من بعد ذاك هنيئةٌ … وحياةُ إخوان النفاقِ رديئةٌ

ولوامعُ البشرى عليَّ مضيئة … (إني لمُحصَنَةُ الإِزار بريئةٌ)

(ودليلُ حُسنِ براءَتي إحصانِي)

هو كيف لا وعليَّ جادَ بنيله … رَبِّي وأكرمني بأجزل طَوْله

ولحسن ظنِّي في الكريم وفضله … (الله خصَّصني بخاتم رسله)

(وأذلَّ أهل الكفر والطغيان)

كيف التجاهُلُ عن مقام أوحد … قد فقتُ أمثالي بغير تَردُّد

حَفَّت عنايته ففزت بسؤدد … (وسمعتُ وَحْيَ الله عند محمَّد)

(من جبرئيل ونورُه يغشاني)

مَنْ ذا لهُ الإذلالُ عند جنابه … مثلي ومَن قد حدثتْ بخطابه
উজ্জ্বল সূরা আন-নূরে আমার কাহিনী … (এবং মহান আল্লাহ আমার প্রমাণ দিয়ে কথা বলেছেন)

(এবং পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহে আমার নির্দোষিতা বর্ণিত হয়েছে)

আর এভাবেই তিনি আমার লাঞ্ছনা কামনাকারীদের ভয় দেখিয়েছেন … লাঞ্ছনা ও পরীক্ষার মাধ্যমে, আর তিনি আমার জীবনকে অতি উত্তম করেছেন।

এবং তিনি আমাকে সম্মানিত করেছেন আমার সত্যনিষ্ঠার কারণে … (আর আল্লাহ আমাকে মহিমান্বিত করেছেন এবং আমার মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন)

(এবং তাঁর নবীর জবানে তিনি আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন)

ধ্বংস হোক তার জন্য যে এর বিপরীত পথ অনুসরণ করে … আমার জন্য আমার ইলাহ-ই যথেষ্ট এবং সেই সর্বশক্তিমান রক্ষকই আমার ত্রাণকর্তা।

তাঁর সাহায্যেই আমি মুনাফিক ও অশ্লীলভাষীদের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছি … (আর আল্লাহ কুরআনে তাকে অভিশাপ দিয়েছেন যে,)

(নির্দোষ প্রমাণের পরও আমাকে কুৎসিত অপবাদ দিয়েছে)

আমার রব পবিত্র, যখন তিনি আমার মুক্তির ফয়সালা করলেন … আর আমার শত্রুদের লাঞ্ছিত করলেন এবং যারা ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়েছিল তাদের ধ্বংস করলেন।

তিনি আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন, ফলে আমার কষ্ট দূরীভূত হলো … (আর আল্লাহ তাকে তিরস্কার করেছেন যে আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে চেয়েছিল)

(মিথ্যা অপবাদের মাধ্যমে; এবং তিনি আমার বিষয়ে নিজের পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন)

এরপর আমার জীবন সুখময় হয়েছে … আর মুনাফিকদের জীবন হয়েছে অত্যন্ত নিকৃষ্ট।

সুসংবাদের উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা আমার উপর প্রদীপ্ত … (নিশ্চয়ই আমি পবিত্রা ও সতী এবং আমি নির্দোষ)

(আর আমার নির্দোষিতার উত্তম প্রমাণ হলো আমার সতীত্ব)

তা কেন হবে না, অথচ আমার প্রতি অবারিত দান করেছেন … আমার রব, এবং তাঁর অফুরন্ত অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করেছেন।

মহান আল্লাহর প্রতি আমার উত্তম ধারণা এবং তাঁর অনুগ্রহের কারণে … (আল্লাহ আমাকে তাঁর শেষ রাসূলের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত করেছেন)

(এবং তিনি কুফর ও অবাধ্যতা পোষণকারীদের লাঞ্ছিত করেছেন)

এক অনন্য মর্যাদা সম্পর্কে কীভাবে উপেক্ষা করা সম্ভব … আমি নিঃসন্দেহে আমার সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছি।

তাঁর কৃপা আমাকে বেষ্টন করেছে ফলে আমি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছি … (এবং আমি মুহাম্মাদ (সা.)-এর নিকট আল্লাহর ওহী শ্রবণ করেছি)

(জিবরাঈল (আ.)-এর পক্ষ থেকে, যখন তাঁর নূর আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল)

কার এমন পরম সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য হয়েছে … আমার মতো, যাঁর সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومنِ استقرتْ والأمينُ ببابه … (أُوحِي إليه وكنت تحتَ ثيابه)

(فحنا عليَّ بثوبِهِ وحباني)

فالله نوَّر بالعلوم بصيرتي … وقُصِدتُ بالفتوى ففقتُ بفَتْوَتي

زَمَنَ الأُلى فازوا بأعظم رتبةِ … (مَنْ ذا يُفاخرني ويُنكر صحبتي)

(ومحمدٌ في حِجْره ربَّاني)

فأنا بعائشة سُمِّيتُ لِمَقْصِدٍ … وأنا الحظيةُ قد حُظيتُ بسيِّد

وأنا النسيبَةُ قد سَمَوْتُ بمَحْتَدٍ … (وأنا ابنةُ الصدِّيقِ صاحبِ أحمد)

(وحبيبهِ في السرِّ والإِعلان)

أبوايَ قد سبَقَا لديْن ممجَّدٍ … وإلى المدينة هاجرا بتَوَدُّدٍ

فنشئتُ في الإِسلام نشأة مُسعدٍ … (وأخذت عن أبويّ دينَ محمدٍ)

(وهما على الإِسلام مصطحِبان)

فالمجدُ مجدِي والسعادةُ مَنْصِبِي … والعزُّ عزَّي والنجابةُ مَرْكَبي

والسعد سعدي والشهامة مَشْربي … (والفخر فخري والخلافة في أبي)

(حسبي بهذا مَفخَرًا وكفاني)

وبأمرِ طَهَ قدَّموه بِسُجَّدٍ … فَرَضُوا خلافتَه برأي مرْشِدٍ

فمشى على سَنَنِ المفضَّل أحمدٍ … (وأبي أقامَ الدينَ بعد محمدٍ)

(فالنَّصل نَصلي والسِّنان سِناني)

مَنْ مِثْله أرضى النبيَّ بأُنسه … وقَضى الأنامُ على محاسنِ حَدْسه

وأعَدَّ كلَّ الصالحاتِ لرمسه … (نَصَف النبيّ بماله وبنفسه)

(وخروجِهِ معهُ من الأوطانِ)

يومَ النبيُّ إلى المدينة قد نوى … ما سار إلَّا والدِي مَعهُ سوا
যার কাছে ওহী স্থির হয়েছিল এবং জিবরাইল আমীন তাঁর দ্বারে অবস্থান করতেন … (তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ হতো আর আমি তাঁর চাদরের নিচে থাকতাম)

(অতঃপর তিনি তাঁর চাদর দিয়ে আমাকে ঢেকে নিলেন এবং আমাকে পরম মমতা দান করলেন)

অতঃপর আল্লাহ জ্ঞানের মাধ্যমে আমার অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেছেন … এবং ফতোয়া প্রদানের জন্য লোকেরা আমার অভিমুখ করত, ফলে আমি আমার ফতোয়ার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি

সেই পূর্ববর্তীদের যুগে যারা সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করেছিলেন … (কে আছে যে আমার সাথে গর্ব প্রকাশ করবে এবং আমার সাহচর্যকে অস্বীকার করবে?)

(এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোলে আমাকে লালন-পালন করেছেন)

এক বিশেষ উদ্দেশ্যেই আমার নাম আয়েশা রাখা হয়েছে … এবং আমিই সেই সৌভাগ্যবতী যে এক মহান নেতার সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়েছি

আমি উচ্চবংশীয় নারী, আমি আমার আভিজাত্যের কারণে উচ্চমর্যাদা লাভ করেছি … (এবং আমি আহমাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গী সিদ্দিকের কন্যা)

(এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে তাঁর পরম প্রিয় পাত্রের তনয়া)

আমার পিতা-মাতা সেই মহিমান্বিত দ্বীনের পথে অগ্রগামী ছিলেন … এবং অত্যন্ত অনুরাগের সাথে মদিনায় হিজরত করেছিলেন

আমি ইসলামের ছায়াতলে এক পরম সৌভাগ্যবান হিসেবে বেড়ে উঠেছি … (এবং আমি আমার পিতা-মাতার নিকট থেকেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীন গ্রহণ করেছি)

(এবং তাঁরা উভয়েই ইসলামের ওপর একে অপরের সঙ্গী ছিলেন)

গৌরব আমারই গৌরব, এবং পরম সুখ আমারই উচ্চপদ … সম্মান আমারই সম্মান, আর আভিজাত্যই আমার চলার বাহন

সৌভাগ্য আমারই সৌভাগ্য, আর সাহসিকতা আমার স্বভাব … (গর্ব আমারই গর্ব, এবং খিলাফত আমার পিতার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত)

(গৌরব করার জন্য এটাই আমার নিকট যথেষ্ট এবং পর্যাপ্ত)

এবং ত্বহা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশে সকলে তাঁকে ইমাম হিসেবে সামনে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন … অতঃপর এক সঠিক নির্দেশনার ভিত্তিতে তাঁরা তাঁর খিলাফতের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছিলেন

অতঃপর তিনি সেই মনোনীত আহমাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন … (এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর আমার পিতাই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন)

(সুতরাং তলোয়ারের ফলক আমারই ফলক এবং বর্শার ফলাও আমারই ফলা)

তাঁর মতো আর কে আছে যে তাঁর অন্তরঙ্গ সাহচর্যের মাধ্যমে নবীকে সন্তুষ্ট করেছেন … এবং সৃষ্টিজগৎ তাঁর সূক্ষ্ম অনুমানের সৌন্দর্যের ওপর ফয়সালা করেছে

তিনি তাঁর কবরের পাথেয় হিসেবে সকল নেক আমল প্রস্তুত করেছিলেন … (তিনি নিজের সম্পদ এবং জীবন দিয়ে নবীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন)

(এবং তাঁর সাথে স্বদেশ ত্যাগ করে হিজরতে বের হয়েছিলেন)

যেদিন নবী মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরতের সংকল্প করেছিলেন … সেদিন আমার পিতা ছাড়া তাঁর সাথে অন্য কেউ সঙ্গী ছিল না।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَمَعِيَّةُ المولى بنصرٍ فاستوى … (ثانيهِ في الغار الذي سدَّ الكُوَى)

(بِرِدائِهِ أكرِمْ به مِنْ ثان)

مُذْ حَلَّ مع طه تكامل مَغْنَما … وبقولِ "لا تحزنْ" تشجَّعَ واحتما

فَعَلَتْهُ بعدُ سكينةٌ ممن سما … (وتجلَّلتْ معه ملائكةُ السما)

(وأتتهُ بشرى الله بالرضوان)

ما زال يقْفُو فعلَ طه المجتبى … ويسيرُ مهما سار مَعْهُ تحبُّبَا

فهو الذي في الله حَبَّ تقرُّبا … (وجفا الغِنَى حتى تَجَلْبَبَ بالْعبا)

(زهدًا وأظعنَ أيَّمَا إظعان)

أمضَى لواءً للنبي بِنُبْلِهِ … لتزولَ آثارُ الغُوَاة بطَوْله

وتدومَ أعلامُ الهداة بفضله … (قَتَلَ الذي منع الزكاةَ بجهله)

(وأذَلَّ أهلَ البغي والعدوان)

فاق الصحابةَ كلَّهم بمكارمٍ … إذ كان بحرَ معارفٍ ومراحمٍ

وأبا هدىً ونَدىً وصدقِ عزائمٍ … (وهو الذي لم يخشَ لومةَ لائمٍ)

(في قتل أهل الكفر والطغيان)

أفتى الردى بشجاعةٍ بَذَلَ النَّدا … أجلى الصدا بشهامةٍ قمع العدا

حَازَ المفاخرَ كم لذلك أرشدا … (سبق الصحابةَ والقرابةَ للهدى)

(هو شيخهم في العدل والإِحسان)

حاوى فضائلَ في الأنامِ جزيلةٍ … وخصالِ بِرٍّ خامرته جليلةٍ

مَنْ مثلُهُ يسمو بكلِّ جميلةٍ … (واللهِ ما سبقوا لمثل فضيلةٍ)

(مثلَ استباق الخيل يوم رهان)

إلَّا أبي فيها كشمس سمائها … أو مثلَ جوهرة زهت بضيائها
প্রভুর সাহচর্য সাহায্যের সাথে হলো, তাই তিনি উঠলেন … (তিনি গর্তের মাঝে দ্বিতীয়জন, যিনি সব ছিদ্র বন্ধ করেছিলেন)

(তাঁর চাদর দ্বারা; কতই না সম্মানিত তিনি সেই দ্বিতীয় জন হিসেবে)

যখন থেকে তিনি ত্বহার সাথে অবস্থান করলেন, তাঁর প্রাপ্তি পূর্ণতা পেল … এবং "দুশ্চিন্তা করো না" বাণীর মাধ্যমে তিনি সাহসী ও সুরক্ষিত হলেন

অতঃপর সুউচ্চ সত্তার পক্ষ থেকে তাঁর ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হলো … (আর আসমানের ফেরেশতারা তাঁর সাথে সম্মিলিত হলেন)

(এবং তাঁর নিকট আল্লাহর সন্তুষ্টির সুসংবাদ পৌঁছে গেল)

তিনি সর্বদা মনোনীত ত্বহার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে থাকলেন … এবং ভালোবাসা বশত তিনি যেখানেই চলতেন তাঁর সাথেই পথ চলতেন

তিনিই তো সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নৈকট্য লাভে ব্রতী হয়েছিলেন … (এবং তিনি ঐশ্বর্য বর্জন করেছিলেন এমনকি মোটা চাদর পরিধান করেছিলেন)

(বৈরাগ্যবশত এবং তিনি চূড়ান্তভাবে প্রস্থান করেছিলেন)

তিনি নবীর ঝাণ্ডাকে তাঁর মহানুভবতার মাধ্যমে উড্ডীন রেখেছিলেন … যাতে তাঁর বীরত্বের দ্বারা পথভ্রষ্টদের চিহ্নসমূহ বিলুপ্ত হয়

এবং তাঁর অনুগ্রহে হিদায়েতপ্রাপ্তদের নিশানসমূহ স্থায়ী থাকে … (তিনি সেই ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন যে অজ্ঞতাবশত যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল)

(এবং তিনি অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারীদের লাঞ্ছিত করেছিলেন)

তিনি সকল সাহাবীর চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলেন তাঁর মহত্ত্বের দ্বারা … যেহেতু তিনি ছিলেন জ্ঞান ও দয়ার এক সমুদ্র

তিনি ছিলেন হিদায়েত, বদান্যতা ও সত্য সংকল্পের আধার … (এবং তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেননি)

(কুফরী ও অবাধ্যদের হত্যার ক্ষেত্রে)

তিনি সাহসিকতার সাথে মৃত্যুকে বরণ করেছিলেন এবং অকাতরে দান করেছিলেন … তিনি বীরত্বের সাথে অন্তরের মরিচা দূর করেছিলেন এবং শত্রুদের দমন করেছিলেন

তিনি বহু গৌরব অর্জন করেছিলেন এবং সে লক্ষ্যে অনেক পথ দেখিয়েছিলেন … (তিনি হিদায়েতের পথে সকল সাহাবী ও আত্মীয়-স্বজনদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন)

(তিনি ন্যায়বিচার ও ইহসানের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রধান ব্যক্তি)

তিনি মানুষের মাঝে অসংখ্য মহৎ গুণের অধিকারী ছিলেন … এবং তাঁর মাঝে অনেক মহান নেক আমলের বৈশিষ্ট্য মিশে ছিল

তাঁর মতো আর কে আছে যে সকল সুন্দরের মাধ্যমে সমুন্নত হয় … (আল্লাহর কসম, তাঁরা তাঁর মতো কোনো শ্রেষ্ঠত্বের পানে পৌঁছাতে পারেননি)

(যেমন প্রতিযোগিতার দিনে ঘোড়াদের দ্রুত ধাবিত হওয়ার মতো)

তবে তিনি সেখানে আসমানের সূর্যের মতো ছিলেন … অথবা এমন এক মণি-মুক্তার মতো যা স্বীয় জ্যোতিতে প্রদীপ্ত ছিল
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وكذاك ما راموا محلَّ سنائها … (إلَّا وصار أبي إلى علْيَائها)

(فمكانُهُ منهم أجلُّ مكان)

فاللهُ أكرمه بأفضلِ رِفده … إذ فاز بالهادي ففاق بسعدِهِ

فسما الذُّرَى مَنْ ذا يقولُ بردِّهِ … (وإذا أراد الله نُصرَةَ عبده)

(مَنْ ذا يُطِيْقُ له على خِذلان)

واللهُ خَصّ أبي بخيرٍ نائبِ … وأبادَ أعداهُ بسهمٍ صائبِ

خَلَفَ النبيَّ فكان أفضلَ نائبِ … (جمع الإِلهُ المؤمنين على أبي)

(فاستبدلوا من خوفهم بأمان)

ذَا مَحْتَدِي مَنْ رامه فَلْيقْتني … ليرى المقامَ فبالمحبةِ يعتني

فإذًا أقول لمن صَفَى وأحبَّني … (مَنْ حبَّنِي فَلْيَجْتنِبْ مَنْ سبَّنِي)

(إن كان صانَ محبَّتي ورعاني)

جانِبْ مودَّةَ من ألمَّ بمبغض … فالزَّينُ تسري فيه وَصمةُ مُمْرضِ

تَعِسَتْ محبةُ من يُلِمُّ بمعرضِ … (فإذا مُحِبي قد ألمَّ بمبغِضي)

(فكلاهما في بغضنا سيَّان)

من ودَّني يحظى بعز مطرِبٍ … والله يُسعفهُ بخيرٍ صيِّبٍ

أوَليس يعلمُ حِظْوَتي بمُطَيِّبٍ … (إِني لَطَيِّبّةَ خُلِقتُ لطيّبٍ)

(ونساءُ أحمدَ أطيبُ النسوان)

فأنا التي مما يُشين سليمةٌ … محفوظة قد زيَّنتني شيمة

وخصالُ برٍّ في الأنام وسيمة … (إني لَصادقةُ المقال كريمة)

(إِيْ والذي ذلَّتْ له الثقلان)

وقد اصطفاني خالقي لصفيّهِ … فحُمِيتُ من سوء الزمان وغيِّهِ
তেমনিভাবে তারা যখনই তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার স্থান অর্জনের সংকল্প করেছে … (তখনই আমার পিতা তার উচ্চতায় আরোহণ করেছেন)

(ফলে তাদের মাঝে তাঁর স্থান হলো সুমহান স্থান)

অতঃপর আল্লাহ তাঁকে তাঁর সর্বোত্তম অনুগ্রহ দ্বারা সম্মানিত করেছেন … যেহেতু তিনি হেদায়েতদানকারীর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হয়েছেন এবং নিজ সৌভাগ্যের কারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন

তিনি উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন, কে আছে যে তাঁকে প্রতিহত করার কথা বলবে? … (আর আল্লাহ যখন তাঁর বান্দাকে সাহায্য করতে চান)

(তখন কে তাঁকে অপদস্থ করার সামর্থ্য রাখে?)

আর আল্লাহ আমার পিতাকে সর্বোত্তম উত্তরসূরি হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন … এবং তাঁর শত্রুদেরকে লক্ষ্যভেদী তীরের মাধ্যমে ধ্বংস করেছেন

তিনি নবীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন এবং সর্বোত্তম প্রতিনিধি ছিলেন … (ইলাহ মুমিনদেরকে আমার পিতার ওপর ঐক্যবদ্ধ করেছেন)

(ফলে তারা তাদের ভয়ের পরিবর্তে নিরাপত্তা লাভ করেছে)

এটিই আমার আভিজাত্য, যে ব্যক্তি এটি পেতে চায় সে যেন তা অর্জন করে … যাতে সে এই মর্যাদা প্রত্যক্ষ করতে পারে, অতএব সে যেন ভালোবাসার প্রতি যত্নশীল হয়

অতঃপর আমি তাকেই বলছি যে আমার প্রতি নিষ্ঠাবান এবং আমাকে ভালোবেসেছে … (যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে, সে যেন তাকে পরিহার করে যে আমাকে গালি দেয়)

(যদি সে আমার ভালোবাসাকে রক্ষা করে এবং আমার মর্যাদা রক্ষা করে থাকে)

যে ব্যক্তি আমার বিদ্বেষ পোষণকারীর সাথে ঘনিষ্ঠতা রাখে তার বন্ধুত্ব পরিহার করো … কারণ সুন্দরের মধ্যে ব্যাধিগ্রস্তের কলঙ্ক সংক্রমিত হয়

সেই ব্যক্তির ভালোবাসা ধ্বংস হোক যে বিমুখকারীর সাথে ঘনিষ্ঠ হয় … (সুতরাং যখন আমার প্রেমিক আমার বিদ্বেষ পোষণকারীর সাথে ঘনিষ্ঠ হয়)

(তখন আমাদের প্রতি বিদ্বেষের ক্ষেত্রে তারা উভয়েই সমান)

যে আমাকে ভালোবাসবে সে আনন্দদায়ক সম্মান লাভ করবে … এবং আল্লাহ তাকে প্রচুর কল্যাণ দ্বারা সাহায্য করবেন

সে কি জানে না যে সেই পবিত্র ব্যক্তিত্বের নিকট আমার কী মর্যাদা রয়েছে? … (আমি তো এক পবিত্রা নারী যাকে একজন পবিত্র পুরুষের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে)

(আর আহমাদের স্ত্রীগণ নারীগণের মধ্যে সর্বাধিক পবিত্র)

আমিই সেই নারী যে সকল কলঙ্ক থেকে মুক্ত … সুরক্ষিতা, আর সচ্চরিত্র আমাকে সুশোভিত করেছে

সৃষ্টির মাঝে নেক আমলের গুণাবলি উজ্জ্বল … (নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদিনী এবং মহীয়সী)

(হ্যাঁ, সেই সত্তার শপথ যাঁর সামনে মানব ও জিন জাতি মস্তক নত করেছে)

আমার সৃষ্টিকর্তা আমাকে তাঁর মনোনীত বন্ধুর জন্য পছন্দ করেছেন … ফলে আমি কালের মন্দ ও এর পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষিত হয়েছি
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
وكُسيتُ من فخر البها بسنيِّهِ … (واللَّهُ حبَّبني لقلب نبيِّه)

(وإلى الصراط المستقيم هداني)

سعدٌ لمن قد وَدَّني وتأدّبا … وبحبِّهِ الإِيمانُ فيه قد رَبا

قد بَشَّرَ المولى المحبَّ تقرُّبا … (إِني لأُمُّ المؤمنين فمن أبَى)

(حُبِّي فسوف يَبوءُ بالخسران)

فأحِبَّنِي تحظى بكل كرامةِ … واجزمْ بحسن براءَتي وسلامتي

وبطيبِ أصلي في الورى وشهامتي … (والله يكرم من يُريد كرامتي)

(ويُهين ربي من أراد هواني)

واللهُ أتحفني بمِنَّة نَيْلِه … وحبَا أحِبَّائي مواهبَ طَوْلِهِ

وأذلَّ أعدائي بسطوةِ عدلِهِ … (والله أسألهُ زيادةَ فضلِهِ)

وحمدتُهُ شكرًا لما أولاني)

فاقبَلْ دعائي يا كريم بمقصدٍ … وَاخْزِ العدا واجْزِ المحبَّ بسؤددٍ

هذا وذا نصحي لكل مؤيَّدٍ … (يا من يلوذ بأهل بيت محمدٍ)

(يرجو بذلك رحمةَ الرحمن)

امْزُجْ محبَّتَهم بحبِّ هُدَى السُّبُلْ … تنجو ففز بسنا محبَّتهم وصُلْ

وإذا أردتَ العزَّ من سَنَدِ الرسل … (صِلْ أُمهاتِ المؤمنين ولا تحُلْ)

(عَنِّي فتُسْلَبَ حلَّةَ الإِيمان)

طوبَى لمن قد حَبَّ خِيْرَةَ أمجدٍ … مِنْ صحبِهِ والآلِ صفوةِ منجدٍ

وجميعِ أزواجِ المشفعِ أحمدٍ … (ويلٌ لعبدٍ خانَ آلَ محمدٍ)

(بعداوة الأزواجِ والأختان)

فأبِي معَ الفاروقِ عصمةُ ديننا … وشهيدُهم عثمانُ مُذْهِبُ رَيننا
আমি তাঁর জ্যোতির মহিমার গৌরবে ভূষিত হয়েছি … (এবং আল্লাহ আমাকে তাঁর নবীর হৃদয়ে প্রিয় করেছেন)

(এবং তিনি আমাকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন)

সেই ব্যক্তি সৌভাগ্যবান যে আমাকে ভালোবেসেছে এবং আদব বজায় রেখেছে … আর তার ভালোবাসার মাধ্যমেই তার মাঝে ঈমান বৃদ্ধি পেয়েছে

নিশ্চয়ই মহান প্রতিপালক নৈকট্য লাভকারী প্রেমিককে সুসংবাদ দিয়েছেন … (আমিই তো মুমিনদের জননী, সুতরাং যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে)

(আমার প্রতি ভালোবাসা, তবে সে শীঘ্রই ক্ষতির সম্মুখীন হবে)

অতএব আমাকে ভালোবাসো, তবে তুমি সকল মর্যাদা লাভ করবে … আর আমার পবিত্রতা ও নিষ্কলঙ্ক হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখো

সৃষ্টিজগতে আমার বংশের আভিজাত্য ও আমার বীরত্ব সম্পর্কে … (আর আল্লাহ তাকেই সম্মানিত করেন যে আমার সম্মান রক্ষা করতে চায়)

(এবং আমার প্রতিপালক তাকেই লাঞ্ছিত করেন যে আমাকে অপমান করতে চায়)

আল্লাহ তাঁর দানের অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন … এবং আমার ভালোবাসার মানুষদের তাঁর বদান্যতার উপহার দান করেছেন

আর তিনি তাঁর ন্যায়ের প্রতাপে আমার শত্রুদের অপদস্থ করেছেন … (এবং আমি আল্লাহর কাছেই তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধির প্রার্থনা করি)

(আর তিনি আমাকে যা দান করেছেন তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমি তাঁর প্রশংসা করি)

হে পরম দয়ালু! আমার দোয়া কবুল করুন নির্দিষ্ট লক্ষ্যে … আর শত্রুদের লজ্জিত করুন এবং প্রেমাস্পদকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করুন

এই ছিল প্রত্যেক পুণ্যবানের প্রতি আমার নসিহত … (হে সেই ব্যক্তি যে মুহাম্মাদের আহলে বায়তের আশ্রয় নেয়)

(সে এর মাধ্যমে দয়াময় আল্লাহর রহমত কামনা করে)

তাদের ভালোবাসাকে সঠিক পথের হিদায়াতের ভালোবাসার সাথে মিশ্রিত করো … তবেই তুমি মুক্তি পাবে, সুতরাং তাদের ভালোবাসার জ্যোতি দিয়ে সফল হও এবং লক্ষ্যে পৌঁছাও

আর তুমি যদি রাসূলদের সান্নিধ্য থেকে সম্মান চাও … (তবে মুমিনদের জননীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করো এবং বিমুখ হয়ো না)

(আমার থেকে, নতুবা তোমার ঈমানের পোশাক কেড়ে নেওয়া হবে)

সেই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যে অতি মহিমান্বিতের মনোনীতদের ভালোবেসেছে … তাঁর সাহাবীগণ এবং আহলে বায়ত যারা শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী

এবং সুপারিশপ্রাপ্ত আহমাদের সকল পত্নীদের … (ধ্বংস সেই দাসের জন্য যে মুহাম্মাদের পরিবারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে)

(তাঁর পত্নী ও আত্মীয়দের সাথে শত্রুতা পোষণের মাধ্যমে)

আমার পিতা ও ফারুক (উমর) হলেন আমাদের দ্বীনের রক্ষাকবচ … এবং তাদের শহীদ উসমান আমাদের হৃদয়ের কলুষতা দূরকারী
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
وعليٌّ الكرَّارُ نورُ يقيننا … (أكرِمْ بأربعةٍ أئمةِ شرعنا)

(فهمُ لبيت الدين كالأركان)

حُبُّ الصحابةِ والقرابةِ تحفةٌ … يا سعدَ من وافتهُ منها صُدْفة

عَطَفت عليه من المهيمن عطفة … (بين الصحابة والقرابةِ أُلفةٌ)

(لا تستحيل بنزغة الشيطان)

مَن شامَ طه نال أبهى مُنيةِ … فالصحب قد سُعِدُوا بتلك الحُظْوَةِ

فهمُ الكرامُ وهم قُصارَى بغيتي … (نَسَجَتْ محبَّتَهم سَدَى في لُحْمتي)

(بنيانها من أثبت البنيان)

للهِ دَرُّهُم زكى إنفاقُهم … في المُكْرَمات كما نما إرفاقهم

باعوا النفوسَ لمن لهُ أشواقُهم … (رُحَمَاءُ بينهمُ صفت أخلاقهم)

(وَخَلَتْ قلوبُهُم من الشَّنَآن

آلُ الرسول وصحبُهُ بلغوا العلا … فمُحِبُّهم طُرًّا أصاب وفُضِّلَا

ومحِبُّ بعضٍ مخطئٌ سَنَنَ الملا … (هم كالأصابع في اليدين تَوَصُّلَا)

(هل تستوي كفٌّ بغير بنان)

طوبى لهم في سَلْمهم وحروبهم … فالله راضٍ عنهمُ لوُثوبهم

لله مَن أجلَى جميعَ كروبهم … (واللهُ ألَّفَ بين وُدِّ قلوبهم)

(في بُغْض كل منافق طعَّان)

نالوا العلا إذ زيَّنتهم رأفَةٌ … فلهم بجناتٍ أُعِدَّت غرفةٌ

فَمنِ الأُلى بهمُ تُفَرَّقُ أُلفةٌ … (فدخولهم بين الأحبَّة كلفةٌ)

(وسِبابُهم سبب إلى الحرمان)

قد أكرم المولى الصحابَ بقربه … لصفا طويَّتِهم بأفضلِ حزبه
এবং আলী আল-কাররার আমাদের দৃঢ় বিশ্বাসের নূর … (আমাদের শরীয়তের চার ইমাম কতই না সম্মানিত!)

(কেননা তাঁরা দ্বীনের গৃহের স্তম্ভস্বরূপ)

সাহাবায়ে কেরাম এবং নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা একটি বিশেষ উপহার … সেই ব্যক্তি কতই না ভাগ্যবান যে দৈবক্রমে তা লাভ করেছে

মহান রক্ষণাবেক্ষণকারীর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অনুগ্রহ বর্ষিত হয়েছে … (সাহাবী এবং নিকটাত্মীয়দের মধ্যে ছিল গভীর হৃদ্যতা)

(যা শয়তানের প্ররোচনায় পরিবর্তিত হয় না)

যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ আকাঙ্ক্ষা লাভ করেছেন … আর সাহাবীগণ সেই সৌভাগ্যের দ্বারা ধন্য হয়েছেন

তাঁরাই সম্মানিত এবং তাঁরাই আমার কামনার শেষ সীমা … (তাঁদের মহব্বত আমার অস্তিত্বের টানা-পোড়েনে বুনে দেওয়া হয়েছে)

(যার ভিত্তি হলো সবচেয়ে সুদৃঢ় ভিত্তিসমূহের অন্তর্ভুক্ত)

আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য উত্তম প্রতিদান হোক, তাঁদের দান কতই না পবিত্র ছিল … মহৎ কাজসমূহে যেমন তাঁদের সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছিল

তাঁরা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তাঁর জন্য যাঁর প্রতি তাঁদের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল … (তাঁরা নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু, তাঁদের চরিত্র ছিল নিষ্কলুষ)

(এবং তাঁদের অন্তর ছিল বিদ্বেষমুক্ত)

রাসূলের পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণ উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন … তাই তাঁদের সকলকেই যে ভালোবাসবে সে সঠিক পথ ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে

আর যে কেবল কিছু সংখ্যককে ভালোবাসবে সে উম্মাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে … (পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁরা দুই হাতের আঙুলসমূহের মতো)

(আঙুলহীন হাতের তালু কি কখনো সমান হতে পারে?)

শান্তি ও যুদ্ধ উভয় অবস্থায় তাঁদের জন্য সুসংবাদ … কেননা আল্লাহ তাঁদের বীরত্বের কারণে তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন

আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই সত্তার প্রতি প্রশংসা যিনি তাঁদের সকল দুঃখ দূর করেছেন … (আর আল্লাহই তাঁদের অন্তরের মহব্বতের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করেছেন)

(প্রত্যেক বিদ্রূপকারী মুনাফিকের প্রতি ঘৃণার বিষয়ে)

তাঁরা উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন যেহেতু দয়া তাঁদের বিভূষিত করেছে … তাঁদের জন্য জান্নাতসমূহে বিশেষ কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে

তবে যারা তাঁদের মধ্যকার সম্প্রীতি নষ্ট করে … (প্রিয়জনদের মাঝে তাদের প্রবেশ অনধিকার চর্চা মাত্র)

(আর তাঁদের গালি দেওয়া হলো বঞ্চিত হওয়ার কারণ)

মহান প্রভু সাহাবীগণকে তাঁর নৈকট্য দ্বারা সম্মানিত করেছেন … তাঁদের অন্তরের স্বচ্ছতার কারণে তাঁদেরকে শ্রেষ্ঠ দলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
طه المرجَّى في المعاد وكَربه … (طوبى لمن وإلى جماعةَ صحبه)

(ويكون من أحبابه الحَسنَان)

هذي المعالي إنما هي فيضةٌ … استنهضتْها للمكارم نهضةٌ

جمعت أوابدَ ما حوتها غيضة … (خذها إليك فإنما هي روضةٌ)

(محفوفة بالرَّوح والريحان)

إنَّما رُباها بالمحامد مُفْعمٌ … قد حف منشيها بسعدٍ مُكرمٌ

وحبا مخمِّسَها نجاحًا منعمٌ … (تجلي النفوسَ إذا تلاها مسلمٌ)

(وعلى الروافض (1) لعنةُ الرحمن)

يا رب أنجز بالمشفعِ قصدَنا … واكْبِتْ أعادينا وجد بغنائنا

عمن سواك فأنت أنفعُ مقتنَى … (هذَا ويا ربَّاه جد ليَ بالمنى)

(واغفر لناظمها أبي عمران)

وعُبَيْدَك القدسيَّ زدْ في أجرهِ … واحرُس بنيه من الزمان وشره

واحمِ الجميعَ وكن لهُ في دهره … (واجعل مكيدةَ مَنْ طغا في نحره)

والْطُفْ بنا في السر والإعلان)

وامنن علينا بالقبول وبالرضا … وبحسن يُسْرٍ واحْمِ من سوءِ القضا

واسبِلْ علينا السَّتْرَ واغفر ما مضى … (واعْطِفْ علينا بالنبيّ المرتضى)

(واختمْ لنا بشهادة الإِيمان)

وامْنُنْ على كلٍّ بحسن مآلهِ … والأهلِ والأحبابِ مع أنجالِهِ

والمسلمين ومَن سما بمقاله … (صلَّى الإِلهُ على النبيِّ وآلهِ)

(فَبِهِمْ تتمُّ أزاهرُ البستان)

--------------------------------------------

(1) يقصد بهم غلاتهم الذين يبغضون الصحابة وأمهات المؤمنين.
আখেরাতে এবং এর ভয়াবহ বিপদে যাঁর নিকট আশা রাখা হয় সেই ত্বহা... ... (ধন্য সেই ব্যক্তি, যে তাঁর সাহাবীগণের জামাআতের অনুসরণ ও বন্ধুত্ব গ্রহণ করেছে)

(এবং হাসান ও হুসাইন যাঁর প্রিয়জনদের অন্তর্ভুক্ত)

এই উচ্চমর্যাদাসমূহ কেবলই এক মহাপ্রবাহ... ... যা মহানুভবতার প্রতি এক নবজাগরণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়েছে

এটি এমন সব বিরল বিষয়কে একত্র করেছে যা কোনো অরণ্যও ধারণ করতে পারেনি... ... (এটি তুমি গ্রহণ করো, কারণ এটি একটি উদ্যান)

(যা প্রশান্তি ও সুগন্ধে পরিবেষ্টিত)

নিশ্চয়ই এর উচ্চভূমিগুলো প্রশংসায় কানায় কানায় পূর্ণ... ... এর রচয়িতাকে এক সম্মানিত সৌভাগ্য ঘিরে রেখেছে

এবং এর পঙ্ক্তি বৃদ্ধিকারীকে (তাখমিসকারীকে) অনুগ্রহকারী মহান সত্তা দান করেছেন সফলতা... ... (যখন কোনো মুসলিম এটি পাঠ করে তখন তা আত্মাকে নির্মল করে দেয়)

(এবং রাফেজিদের (১) ওপর রহমানের অভিশাপ বর্ষিত হোক)

হে পালনকর্তা! শাফায়াতকারীর উসিলায় আমাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ করুন... ... আমাদের শত্রুদের লাঞ্ছিত করুন এবং আপনার দান দ্বারা আমাদের অভাবমুক্ত করুন

আপনি ছাড়া অন্য সকলের থেকে, কারণ অর্জিত সম্পদ হিসেবে আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ... ... (এই নিবেদন, আর হে আমার পালনকর্তা! আমার আকাঙ্ক্ষাগুলো পূর্ণ করুন)

(এবং এর কাব্য রচয়িতা আবু ইমরানকে ক্ষমা করুন)

আপনার এই নগণ্য দাস কুদসী-র প্রতিদান বাড়িয়ে দিন... ... আর যামানার সকল অনিষ্ট থেকে তার সন্তানদের রক্ষা করুন

সবাইকে রক্ষা করুন এবং সারা জীবন তাঁর সহায় হোন... ... (যে সীমা লঙ্ঘন করে, তার ষড়যন্ত্রকে তার নিজ কণ্ঠেই বিদ্ধ করুন)

(এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে আমাদের প্রতি সদয় হোন)

আমাদের ওপর কবুলিয়ত ও সন্তুষ্টির মাধ্যমে অনুগ্রহ করুন... ... আর উত্তম সহজতা দান করুন এবং মন্দ ফয়সালা থেকে রক্ষা করুন

আমাদের ওপর পর্দার আবরণ ঢেলে দিন এবং অতীতকে ক্ষমা করুন... ... (পছন্দনীয় নবীর উসিলায় আমাদের প্রতি দয়া করুন)

(এবং ঈমানের সাক্ষ্যের সাথে আমাদের সমাপ্তি দান করুন)

সকলের সুন্দর পরিণতির মাধ্যমে অনুগ্রহ দান করুন... ... আর পরিবার ও সন্তানদের সাথে সকল প্রিয়জনদের ওপরও

এবং সকল মুসলিম ও যারা নিজ বাণীর মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা পেয়েছে তাদের ওপর... ... (ইলাহ দরুদ বর্ষণ করুন নবী ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর)

(যাঁদের মাধ্যমেই এই উদ্যানের পুষ্পরাজী পূর্ণতা পায়)

--------------------------------------------

(১) এখানে তাদের সেই চরমপন্থীদের বোঝানো হয়েছে যারা সাহাবীগণ এবং মুমিন জননীদের (উম্মাহাতুল মুমিনিন) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
ما دِيمةٌ فوق الخمائل قد همت … وكذا السلامُ على الجميع ومَن هدت

أنوارُهم للمكرمات وكَمَّلَتْ … (والتابعين وتابعيهم ما شَدَتْ)

(في دَوْحةٍ وُرْقٌ على الأغصان)

تَمَّ هذا التخميس الأنيق النفيس بعون الملك العلام، في مدة زهيدة من الأيام، ظهر يوم الخميس الموافق 27 محرم الحرام، عام 1319 هجرية، على يد ناظمه الراجي ألطاف مولاه الخفية عبد الحميد بن محمَّد علي قُدُسْ. فتح الله تعالى عليه وأيده بروح القدس، ونظر إليه وإلى ذريته ومحبيه بعين الرحمة. وأزال عنهم وعن المسلمين كل غمة. ونسأله تعالى الإِخلاص والقبول وبلوغ الأمنية.

 

* * *
যেমন করে ঘন মেঘ হতে তৃণভূমির ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকে … তেমনিভাবে শান্তি বর্ষিত হোক সবার ওপর এবং তাদের ওপর যাদের

নূর মহৎ কাজগুলোকে পূর্ণতা দান করেছে … (এবং তাবেয়ি ও তাদের অনুসারীদের ওপর, যতক্ষণ গান গায়)

(বিশাল বৃক্ষের ডালপালার ওপর কপোতসমূহ)

এই সুশোভিত ও মূল্যবান তাখমিস (পাঁচ চরণের কবিতা) মহাজ্ঞানী মালিকের সাহায্যে সম্পন্ন হয়েছে খুব অল্প দিনের ব্যবধানে, ১৩১৯ হিজরি সনের ২৭শে মুহাররমুল হারাম, বৃহস্পতিবার দুপুরে। এটি সম্পন্ন হয়েছে এর রচয়িতা, আপন মাওলার গোপন অনুগ্রহের আশাবাদী আব্দুল হামিদ ইবনে মুহাম্মদ আলী কুদুস-এর হাতে। আল্লাহ তাআলা তার জন্য (জ্ঞানের দ্বার) উন্মুক্ত করুন এবং তাকে পবিত্র আত্মা (রুহুল কুদুস) দ্বারা শক্তিশালী করুন; এবং তার প্রতি, তার বংশধর ও তার প্রিয়জনদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি রাখুন। আর তাদের থেকে এবং সকল মুসলিমের থেকে সমস্ত বিপদ-আপদ দূর করে দিন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট ইখলাস, কবুলিয়াত এবং অভিপ্রায় পূর্ণ হওয়ার প্রার্থনা করছি।

 

* * *
(খণ্ড: ১) আল কাসীদাতুল ওয়াদাহিয়্যাহ ফী মাদহিস সাইয়্যিদাহ আয়িশাহ উম্মিল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌وصف النسختين المخطوطتين

1 - نسخة المكتبة البريطانية (British Library) بلندن:

تقع ضمن مجموع رقمه في المكتبة البريطانية (OR.5509)، وهو بخط مملوكي غاية في الروعة والجمال، قد كتب برسم الخزانة العالية الناصرية ولد المقر المرحوم أقبغالص أستاذ الدار العالية الملكي الأشرفي.

يقع المجموع في 26 ورقة، ويحتوي على:

(أ) قصيدة بانت سعاد مع شرح مختصر لها (1 - 18 ب).

(ب) حديث الإِفك، وهو نص رواية البخاري (19 أ - 22 ب).

(ج) هذه القصيدة (23 أ- 26 ب).

والنسخة مؤرخة في 22 جمادى الأولى 776 هـ.

2 - نسخة المكتبة البودلية بأكسفورد (Bodlean) بلندن:

تقع ضمن مجموع حديثي نفيس من العصر المملوكي أيضًا، رقمه في المكتبة (marsh.493)، وهي الرسالة السادسة عشرة في المجموع (الأوراق 189 أ-193 ب).

وناسخها هو يونس بن ملاج الحسني الحنفي، وهو من أهل العلم والرواية، وقد كتب هذه النسخة لنفسه رحمه الله، وعلى المجموع كله سماعات وإجازات كثيرة من أهل العلم له ولأصحابه.
পাণ্ডুলিপি দুটির বিবরণ

১ - লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরির (British Library) পাণ্ডুলিপি:

এটি ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে (OR.5509) নম্বরযুক্ত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও সুন্দর মামলুকি হস্তলিপিতে লিখিত। এটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন রাজকীয় নাসিরি গ্রন্থাগারের জন্য অনুলিখিত হয়েছিল, যা মরহুম আল-মুক্বর আক্ববুগলাস-এর পুত্রের তত্ত্বাবধানে ছিল, যিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন রাজকীয় আশরাফি প্রাসাদের ওস্তাদুদ-দার (গৃহপ্রধান)।

সংকলনটি ২৬টি পত্র (পৃষ্ঠা) সমন্বয়ে গঠিত এবং এতে রয়েছে:

(ক) ‘বানাত সুয়াদ’ কাসিদা এবং এর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (১ - ১৮ খ)।

(খ) হাদিসুল ইফক (মিথ্যা অপবাদের ঘটনা), এটি ইমাম বুখারির বর্ণনার পাঠ (১৯ ক - ২২ খ)।

(গ) এই কাসিদাটি (২৩ ক - ২৬ খ)।

পাণ্ডুলিপিটির তারিখ ২২ জুমাদাল উলা ৭৭৬ হিজরি।

২ - অক্সফোর্ডের (লন্ডন) বোডলিয়ান (Bodleian) লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি:

এটিও মামলুক আমলের একটি মূল্যবান হাদিস সংকলনের অন্তর্ভুক্ত, লাইব্রেরিতে এর নম্বর (marsh.493)। এটি উক্ত সংকলনের ষোড়শ পুস্তিকা (১৮৯ ক - ১৯৩ খ পত্র)।

এর লিপিকার হলেন ইউনুস বিন মাল্লাজ আল-হাসানি আল-হানাফি; তিনি ইলম ও রেওয়ায়েতের অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি এই পাণ্ডুলিপিটি নিজের জন্য লিখেছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। পুরো সংকলনটির ওপর আলেমদের পক্ষ থেকে তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য অনেক সামাআ (শ্রবণ সনদ) ও ইজাজত (অনুমতিপত্র) রয়েছে।