(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
قطع الجدال في أحكام الاستقبال «للكعبة المشرفة» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: قطع الجدال في أحكام الاستقبال «للكعبة المشرفة» - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (30)
المؤلف: محمد بن حسن العجيمي الحنفي المكي (ت 1156 هـ)
اعتنى به: يوسف محمد الصبيحي
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 30
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 صفر 1437
ক্বতউল জিদাল ফি আহকামিল ইস্তিকবাল (সম্মানিত কাবার অভিমুখী হওয়ার বিধানাবলি সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান) বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: ক্বতউল জিদাল ফি আহকামিল ইস্তিকবাল «সম্মানিত কাবার জন্য» - মসজিদে হারামের শেষ দশদিনের বৈঠকের ধারাবাহিক (৩০)
লেখক: মুহাম্মদ বিন হাসান আল-উজাইমি আল-হানাফি আল-মাক্কি (মৃ. ১১৫৬ হি.)
সম্পাদনায়: ইউসুফ মুহাম্মদ আল-সুবাইহি
প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়া মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হি. - ২০০১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (30)
قطع الجدال في أحكام الاستقبال «للكعبة المشرفة»
تأليف
الشيخ محمد بن حسن العجيمي المتوفى سنة 1156 هـ
بعناية
يوسف محمد الصبيحي
ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشرفين ومحبيهم
دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের মজলিস (৩০)
সম্মানিত কাবার অভিমুখী হওয়ার বিধানাবলি সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান
প্রণয়নে
শায়খ মুহাম্মাদ বিন হাসান আল-উজাইমি, মৃত্যু: ১১৫৬ হিজরি
সম্পাদনায়
ইউসুফ মুহাম্মাদ আস-সুবাইহি
হারামাইন শরিফাইনের কতিপয় পুণ্যবান ব্যক্তি ও তাদের শুভানুধ্যায়ীগণ এর মুদ্রণে অবদান রেখেছেন
দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
قطع الجدال في أحكام الاستقبال
কিবলামুখী হওয়ার বিধানাবলি সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ربّ العالمين، والصَّلاة والسَّلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبيّنا محمَّد وعلى آله وصحبه أجمعين، وعلى من اتبعهم بإحسان إلى يوم الدِّين.
أمَّا بعد:
فهذه رسالة معنونة بـ "قطع الجدال في أحكام الاستقبال"، لمؤلِّفها الشيخ محمَّد بن حسن العجيمي المتوفَّى سنة (1156 هـ)، وهي تتعلَّق بحكم تقدم المأموم على الإِمام عند الكعبة إذا كانا في جهة واحدة، أو كان المأموم أمام الركنين وقد حاذى الإِمام.
وقد أحببت إخراجها لينتفع بها إخواني، وكان السبب في نشرها فضيلة الشيخ البحاثة المكرم الأستاذ محمد بن ناصر العجمي -حفظه الله- عندما زارني، فعرضتُ عليه ما في خزانتي من مخطوطات تتعلَّق بالبلد الحرام، فطلب منِّي العناية بهذه الرسالة والاشتراك في "لقاء العشر الأواخر"، الذي أتحف الباحثين بالرسائل النافعة، والمخطوطات القيِّمة.
ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলদের মাঝে শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের সবার ওপর।
অতঃপর:
এটি ‘কাতউল জিদাল ফি আহকামিল ইস্তিকবাল’ শিরোনামের একটি পুস্তিকা, যার লেখক শেখ মুহাম্মদ বিন হাসান আল-উজাইমি (মৃত্যু ১১৫৬ হিজরি)। এটি কাবার নিকট ইমামের সামনে মুক্তাদীর অগ্রবর্তী হওয়ার বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট; যখন তাঁরা উভয়ে একই দিকে থাকেন অথবা মুক্তাদী যখন রুকনদ্বয়ের সামনে অবস্থান করে ইমামের সমান্তরালে চলে আসেন।
আমি এটি প্রকাশ করতে আগ্রহী হয়েছি যেন আমার ভাইয়েরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। এটি প্রকাশের প্রেক্ষাপট হলেন শ্রদ্ধেয় শায়খ ও গবেষক উস্তাদ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি (আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন), যখন তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তখন আমি তাঁর নিকট পবিত্র মক্কা নগরী সংক্রান্ত আমার সংগ্রহশালায় থাকা পাণ্ডুলিপিগুলো উপস্থাপন করি। তিনি আমাকে এই পুস্তিকাটির যত্ন নিতে এবং ‘লিকাউল আশরিল আওয়াখির’ প্রকল্পে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান, যা গবেষকদের বিভিন্ন উপকারী পুস্তিকা ও মূল্যবান পাণ্ডুলিপি উপহার দিয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فاستجبت لطلبه، وامتثلت لرغبته، فجزاه الله خيرًا وبارك الله فيه ونفع به، وجعل الله الخير أمامه، والسعادة وراءه، هو وإخوانه القائمين على هذا اللقاء، والعاملين على إخراج هذه الكنوز من مكنوناتها.
وأخيرًا أدعو الله الكريم أن يجعل ما عملته في ميزان حسناتي، وأن ينفع به إخواني، وصلَّى الله على سيِّدنا محمَّد وعلى آله وصحبه وسلَّم.
وكتبه
يُوسُف بن مُحمَّد الصّبيحي
আমি তাঁর অনুরোধে সাড়া দিয়েছি এবং তাঁর অভিপ্রায় পূরণ করেছি। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁকে বরকতময় করুন এবং তাঁর দ্বারা (উম্মাহকে) উপকৃত করুন। আল্লাহ তাঁর সম্মুখে কল্যাণ এবং পশ্চাতে সৌভাগ্য নির্ধারণ করুন—তাঁর জন্য এবং এই মজলিসের আয়োজক ও এই নিগূঢ় জ্ঞানভাণ্ডারসমূহকে তাদের লুকায়িত অবস্থা থেকে প্রকাশ করার কাজে নিয়োজিত ভাইদের জন্য।
পরিশেষে, আমি পরম দয়ালু আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজকে আমার নেক আমলের পাল্লায় কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে আমার ভাইদের উপকৃত করেন। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন
ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আস-সুবাইহি
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة المؤلف (1)
اسمه وولادته:هو المؤرِّخ المحدِّث الشيخ محمد بن حسن العجيمي الحنفي المكي. وُلِد بمكة ونشأ بها.
طلبه للعلم:أخذ العلوم عن عدد من العلماء حتى صار يشار إليه بالبنان، وحاز قصبات السبق في ميدان البيان، فأجازه عدد من العلماء بالتدريس.
وكان عالم زمانه وفريد أقرانه.
مشايخه:أخذ عن والده العلَّامة حسن العجيمي وغيره من علماء عصره.
--------------------------------------------
লেখকের জীবনী(১)
তাঁর নাম ও জন্ম:তিনি হলেন ঐতিহাসিক ও হাদিস বিশারদ (المحدِّث) শেখ মুহাম্মদ বিন হাসান আল-উজাইমি আল-হানাফি আল-মক্কি। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন।
তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ:তিনি বেশ কিছু সংখ্যক আলেমের নিকট থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন, যার ফলে তিনি সর্বজনবিদিত ও সুপ্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং বাগ্মিতার ময়দানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। অতঃপর বহু আলেম তাঁকে পাঠদানের অনুমতি (أجازه) প্রদান করেন।
তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের যুগশ্রেষ্ঠ আলেম এবং সমসাময়িকদের মাঝে অনন্য।
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:তিনি তাঁর পিতা প্রাজ্ঞ পণ্ডিত (العلامة) হাসান আল-উজাইমি এবং তাঁর যুগের অন্যান্য আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مؤلَّفاته:له عدد من المؤلفات، منها: "قطع الجدال"، وهي هذه الرسالة.
وفاته:تُوُفِّي رحمه الله بمكة سنة 1156 هـ.
* * *
তাঁর রচনাবলি:তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: "কাত’উল জিদাল", আর এটিই হলো বর্তমান এই পুস্তিকা (رسالة)।
তাঁর মৃত্যু:তিনি ১১৫৬ হিজরিতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।
* * *
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وصف المخطوطةاعتمدتُ في إخراج هذه النسخة على المخطوطة الموجودة في مكتبة مكة المكرمة برقم (6) مجاميع، وهي بخط الرقعة، وتقع في 7 صفحات في كل صفحة 24 سطرًا.
ونسخها الشيخ جعفر بن أبي بكر اللبني وتملكها، وفي طرَّتها تقريظ لأحد علماء مكة للرسالة.
* * *
পাণ্ডুলিপির বিবরণএই সংস্করণটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি মক্কা আল-মুকাররামা লাইব্রেরিতে ৬ নম্বর মাজামিউ (সংকলন) হিসেবে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিটির ওপর নির্ভর করেছি। এটি রুকআ লিপিতে লিখিত এবং এটি ৭টি পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত, যার প্রতি পৃষ্ঠায় ২৪টি করে লাইন রয়েছে।
শায়খ জাফর বিন আবি বকর আল-লুবানি এটি প্রতিলিপি করেছেন এবং এটি তাঁর মালিকানাধীন ছিল। এই রিসালার (পুস্তিকা) প্রচ্ছদপৃষ্ঠায় মক্কার জনৈক আলিমের একটি প্রশংসামূলক বাণী (تقريظ) রয়েছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
صورة الورقة الأولى من المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
صورة الورقة الثانية من المخطوط
পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় পত্রের চিত্র
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (30)
قطع الجدال في أحكام الاستقبال «للكعبة المشرفة»
تأليف
الشيخ محمد بن حسن العجيمي المتوفى سنة 1156 هـ
بعناية
يوسف محمد الصبيحي
মসজিদুল হারামে রমজানের শেষ দশকের বিশেষ মজলিস (৩০)
সম্মানিত কাবার অভিমুখী হওয়ার বিধানাবলি সম্পর্কিত বিতর্কের নিরসন
রচনায়
শেখ মুহাম্মদ বিন হাসান আল-উজাইমি (মৃত্যু ১১৫৬ হিজরি)
সম্পাদনায়
ইউসুফ মুহাম্মদ আল-সুবাইহি
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
الحمد لله المرجو للتوفيق والسداد، الجاعل بيته الحرام قبلةً لسائر العباد، والصلاةُ والسلامُ على نبيِّه المختار إمامِ الاهتداء، وصحابتِهِ الأخيار السالكين محجة الاقتداء.
وبعد:
فقد سُئِلَ العبدُ الحقير، المعترف بالعجز والتقصير، محمد ابن الشيخ حسن العُجيمي الحنفي، عاملهُ مولاه بلطفه الخفي، عن مسئَلةٍ كَثُرَ الاضطراب فيها في القديم والحديث، وكاد يَروجُ باطلَها في زماننا على بعض أهل الفقه والحديث، وهي مسألة:
ما إذا صلَّى مقتدٍ على الحجارة السود المقابلة للشاذَرْوَان
(1)--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের আশা করা হয়; যিনি তাঁর পবিত্র ঘরকে সকল বান্দার জন্য কিবলা নির্ধারণ করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত নবী, হিদায়াতের ইমাম এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের ওপর, যাঁরা অনুসরণের সঠিক পথে চলেছেন।
অতঃপর:
নিজের অক্ষমতা ও ত্রুটির কথা স্বীকারকারী অধম বান্দা মুহাম্মদ ইবনে শেখ হাসান আল-উজাইমি আল-হানাফি—যাঁর সাথে তাঁর মাওলা তাঁর গোপন অনুগ্রহের মাধ্যমে আচরণ করুন—তাকে এমন একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রাচীন ও বর্তমান যুগে অনেক বিভ্রান্তি ছিল এবং আমাদের সময়ে ফিকহ ও হাদিস বিশারদদের কারও কারও কাছে এর অসার (باطل) বিষয়টি প্রায় গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে বসেছে। মাসআলাটি হলো:
শাযারওয়ানের বিপরীতে থাকা কালো পাথরগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে কোনো মুক্তাদি যদি সালাত আদায় করে
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مُزْوَرًّا
(1) مستقبلًا جهة الباب بإمام حنفيٍّ في مقامه المعلوم
(2). هل يجوز أم لا؟
فتقاعستُ عن الجواب، خشيةَ أن أكون ممَّن جازف وأفرط، فكاد يُجَوِّزُ تقديمَ المأموم على الإِمام، أو ممَّن خالف وفرَّط، فكاد يُعَطِّل جانبًا من سُوْحِ
(3) بيته الحرامِ.
--------------------------------------------
বাঁকা হয়ে (مُزْوَرًّا)
(১) দরজার দিকে মুখ করে, একজন হানাফি ইমামের পেছনে তার নির্ধারিত মাকামে (مقامه) (২) অবস্থান করে [সালাত আদায় করা]। এটি কি বৈধ (يجوز) হবে নাকি হবে না?
ফলে আমি উত্তর দিতে ইতস্তত বোধ করলাম, এই ভয়ে যে, পাছে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাই যারা দুঃসাহস দেখায় এবং সীমালঙ্ঘন করে, ফলে প্রায় ইমামের আগে মুক্তাদির দাঁড়ানোকে বৈধ (يُجَوِّزُ) সাব্যস্ত করে ফেলে; অথবা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাই যারা বিরোধিতা করে এবং অবহেলা করে, ফলে আল্লাহর পবিত্র ঘরের চত্বরের (سوح)
(৩) একটি অংশকে প্রায় অকার্যকর করে দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وتأكَّد الطلبُ، وتكرّر من فضلاء لا تنبغي مخالفة إشارتهم، مذكِّرين بقوله تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى}
(1)، ومشيرين إلى قوله صلى الله عليه وسلم: "مَن سُئِلَ عن علمٍ فَكَتَمَهُ
… " الحديث
(2)، مع إيراد بعض الفضلاء المشاركين في علم الهندسة شبهة ينبغي هو رسمها بلسان أهل الفن، لكونه -حفظه الله- مظهر السمت الحسن.
فعند ذلك امتثلتُ الإِشارة، معترفًا بالقصور والحقارة، فقلتُ مستمدًّا من الملك الوهَّاب التوفيق لصوب الصواب:
اعلم أيُّها الأخ الفاضل أنَّ المولى جلَّ شأْنُه، وعزَّ سلطانه، لما اقتضت حكمته الخفيَّة إيجادَ عباده للقيام ببعض حقوق العبودية، خلق بيته العظيم، وشَرَّفَهُ بإضافةِ التشريفِ والتكريم
(3)، واختار له أشرف الأشكال الخمسة والثلاثين، وهو الشكل المربَّع لما سبق في علمه القديم، أن سيصير قبلة لمن في الجهات الأربع، أعني المشرق
--------------------------------------------
এবং অনুরোধটি জোরালো হলো এবং এমন কতিপয় গুণীজন থেকে বারবার আসতে থাকলো যাদের ইঙ্গিত অমান্য করা সমীচীন নয়। তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন: {এবং তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো}
(১) এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর প্রতি ইশারা করছিলেন: "যাকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল..." হাদিস
(২)। এর পাশাপাশি প্রকৌশলবিদ্যায় পারদর্শী কিছু গুণীজন একটি সংশয় উত্থাপন করেছেন যা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের ভাষায় চিত্রিত করা সমীচীন, যেহেতু তিনি—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—উত্তম আদর্শের প্রতিচ্ছবি।
এমতাবস্থায় আমি আমার অপূর্ণতা ও দীনতা স্বীকার করে সেই ইঙ্গিত পালন করলাম। অতঃপর পরম দাতা প্রতিপালকের নিকট সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর তাওফিক কামনা করে বললাম:
হে প্রিয় গুণী ভাই, জেনে রাখুন যে মহান প্রতিপালক—যার শান মহিমান্বিত এবং যার কর্তৃত্ব পরাক্রমশালী—যখন তাঁর নিগূঢ় হিকমত বান্দাদেরকে দাসত্বের কিছু হক আদায়ের নিমিত্তে সৃষ্টি করা আবশ্যক করল, তখন তিনি তাঁর মহান ঘর (কাবা) সৃষ্টি করলেন এবং একে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার চাদরে ভূষিত করলেন
(৩)। তিনি এর জন্য পঁয়ত্রিশটি জ্যামিতিক আকৃতির মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আকৃতিটি পছন্দ করলেন, আর তা হলো বর্গাকার আকৃতি; কারণ তাঁর অনাদি জ্ঞানে পূর্বেই নির্ধারিত ছিল যে, এটি চারদিকের মানুষের জন্য কিবলা হিসেবে গণ্য হবে, অর্থাৎ পূর্ব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والمغرب والشام واليمن؛ لاحتوائها على من في المساحة الأرضية من المُكَلَّفين في كل زمن مع دفع الحرج عنهم في الاستقبال باعتدالِ أَضلاعِهِ الأَربعةِ الملتئمةِ بأربع زوايا مُسَطَّحة، مُسَمَّات عند أهل اللغةِ والشرعِ أركانًا موضحة.
ثُمَّ إنَّ الشارع أَوجب على كلِّ مكلَّفٍ مُشَاهدٍ لها استقبال تلك البقعة المُسْتَدَلِّ عليها بالمثال المُشَاهَد، وعلى كلِّ غائب عنها استقبالُ جهتها أيّ جهةٍ كانت من الجهات الأربع المتقدم ذكرها كما هو مُصَرَّحٌ به في كتب علمائنا
(1)، ولا حاجة إلى الإِطالة بذكر النصوص لكونها من بديهيات مسائل مذهب الإِمام الأعظم.
ثُمَّ إنَّ الشارع أيضًا حثَّ على الصلاة جماعة
(2) وجعلها تفضل صلاة المنفرد ببضع وعشرين درجة
(3)، وكتب للكائن خلف ظهر الإِمام في الصف الأوَّل مائة صلاة، وللذي في الجانب الأيمن خمسة وسبعين صلاة، وللذي في الجانب الأيسر خمسين صلاة، وللذي في سائر الصفوف خمسة وعشرين صلاة، كما نقله الزين في بَحْرِهِ
(4)، وجعل صلاة المأموم منوطةً بصلاة الإِمام صحَّةً وفسادًا، وأوجب تأخره عن
--------------------------------------------
এবং মাগরিব, শাম ও ইয়েমেন; কারণ এটি প্রতিটি যুগে ভূপৃষ্ঠে অবস্থানরত শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত (المكلفين) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে সমতল চারটি কোণে মিলিত চারটি বাহুর সমতাপূর্ণ বিন্যাসের মাধ্যমে তাদের জন্য কিবলামুখী হওয়ার ক্ষেত্রে সংকীর্ণতা দূর করা হয়েছে, যা ভাষাবিদ এবং শরিয়ত বিশারদদের নিকট সুস্পষ্ট রুকন (أركانًا) হিসেবে অভিহিত।
অতঃপর শরিয়ত প্রণেতা প্রত্যেক প্রত্যক্ষকারী শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত (مكلف) ব্যক্তির জন্য সেই পবিত্র স্থানের দিকে মুখ করা ওয়াজিব (أوجب) করেছেন, যা দৃশ্যমান নির্দশন দ্বারা প্রমাণিত। আর যারা সেখান থেকে দূরে অবস্থিত, তাদের জন্য তার দিকের (جهة) অভিমুখী হওয়া ওয়াজিব, যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত চারটি দিকের যে কোনো একটি হতে পারে; যেমনটি আমাদের আলেমদের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে
(১)। দলিলসমূহ উল্লেখ করে দীর্ঘ আলোচনা করার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি ইমামে আজমের মাযহাবের স্বতঃসিদ্ধ মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
তদুপরি, শরিয়ত প্রণেতা জামাতে (جماعة) সালাত আদায় করতেও উৎসাহিত করেছেন
(২) এবং একে একাকী আদায়কারীর সালাতের তুলনায় বিশের অধিক গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ করেছেন
(৩)। প্রথম কাতারে ইমামের ঠিক পেছনে অবস্থানকারীর জন্য একশত সালাতের সওয়াব, ডান পাশে অবস্থানকারীর জন্য পঁচাত্তর সালাতের সওয়াব, বাম পাশে অবস্থানকারীর জন্য পঞ্চাশ সালাতের সওয়াব এবং অবশিষ্ট কাতারসমূহে অবস্থানকারীদের জন্য পঁচিশ সালাতের সওয়াব নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি যাইন তার আল-বাহর গ্রন্থে
(৪) বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মুক্তাদির সালাত শুদ্ধ (صحة) বা অশুদ্ধ (فساد) হওয়ার ক্ষেত্রে ইমামের সালাতের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং তার পেছনে অবস্থান করা ওয়াজিব (أوجব) করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إمامه تأخُّرًا حقيقيًّا أو حكميًّا -كما ستفهمه- تنويهًا بشرف الإِمام، وتبيينًا لتفاوت المقام.
إذا تقرَّر ذلك، فاعلم أنَّ البيت الشريف زاده الله تشريفًا له أربع جهات متغايرة بالحس والاعتبار الشرعي، فإن اختلفت جهة المأموم والإِمام صحَّ اقتداؤه مطلقًا، وإن اتَّحدت جهتهما، فإن تأخَّر عن إمامه صحَّ اقتداؤه بلا كراهة ما لم يكن وحده بشرطه المعلوم، وإن حاذى إمامه صحَّ بلا كراهة ما لم يكن معه غيره بشروطه المعلومة، وإن تقدَّم على إمامه حقيقةً أو حكمًا لا يصح اقتداؤه
(1).
فالتقدُّم الحقيقي هو: أن يكون ظهرهُ إلى وجه إمامه.
والتقدُّم الحكمي نظرًا إلى الصف المستقيم هو: أن يكون المقتدي بحال لو رسمنا خطًّا مستقيمًا من عَقِبه نجدُه متقدِّمًا على عقب الإِمام، أو قَدَمَهُ على الخلاف فيه، وبالنظر إلى الصف المستدير برسم دائرة متقدمة على دائرة الإِمام مع اتحاد قطبهما.
والتأخُّر الحكمي: أن يكون المأموم أقرب إلى البيت الشريف من إمامه في غير جهته، فهو وإن تقدَّم على إمامه صورةً فهو متأخِّر حكمًا.
والتأخر الحقيقي: هو أن يكون خلف الإِمام مطلقًا سواء كان في
--------------------------------------------
ইমামের থেকে প্রকৃত (حقيقي) বা বিধানগত (حكمي) পশ্চাৎপদতা—যেমনটি আপনি শীঘ্রই বুঝতে পারবেন—ইমামের মর্যাদাকে সমুন্নত করার জন্য এবং অবস্থানের তারতম্য স্পষ্ট করার জন্য।
যখন এই বিষয়টি সাব্যস্ত হলো, তখন জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তায়ালা কাবার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, বাহ্যিক দৃষ্টিতে এবং শরিয়তের মানদণ্ডে কাবার চারটি পৃথক দিক রয়েছে। যদি মুক্তাদি ও ইমামের দিক ভিন্ন হয়, তবে নিঃশর্তভাবে তার অনুসরণ সঠিক (صحيح) হবে। আর যদি উভয়ের দিক অভিন্ন হয়, তবে মুক্তাদি যদি তার ইমামের পেছনে থাকে তবে কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) ছাড়াই তার অনুসরণ সঠিক (صحيح) হবে, যতক্ষণ না সে তার সুনির্দিষ্ট শর্তানুযায়ী একাকী হয়। আর যদি সে তার ইমামের সমান্তরালে দাঁড়ায়, তবে কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) ছাড়াই তা সঠিক (صحيح) হবে, যতক্ষণ না তার সাথে নির্ধারিত শর্তানুযায়ী অন্য কেউ থাকে। কিন্তু সে যদি তার ইমামের চেয়ে প্রকৃতগতভাবে (حقيقة) বা বিধানগতভাবে (حكما) অগ্রবর্তী হয়, তবে তার অনুসরণ সঠিক (صحيح) হবে না
(১)।
প্রকৃত অগ্রবর্তিতা হলো: মুক্তাদির পিঠ তার ইমামের চেহারার দিকে থাকা।
সোজা কাতারের বিবেচনায় বিধানগত (حكمي) অগ্রবর্তিতা হলো: মুক্তাদি এমন অবস্থায় থাকা যে, যদি আমরা তার গোড়ালি থেকে একটি সোজা রেখা টানি, তবে তাকে ইমামের গোড়ালির চেয়ে অগ্রবর্তী পাওয়া যাবে, অথবা পায়ের পাতার ক্ষেত্রেও এতে মতভেদ রয়েছে। আর বৃত্তাকার কাতারের বিবেচনায় একটি অগ্রবর্তী বৃত্ত অঙ্কন করা যা ইমামের বৃত্তের চেয়ে এগিয়ে থাকবে, যদিও উভয়ের কেন্দ্রবিন্দু অভিন্ন হয়।
বিধানগত পশ্চাৎপদতা (التأخر الحكمي) হলো: মুক্তাদি তার ইমামের দিক ব্যতীত অন্য দিক থেকে কাবার অধিক নিকটবর্তী হওয়া; এমতাবস্থায় সে বাহ্যত ইমামের চেয়ে অগ্রবর্তী হলেও বিধানগতভাবে (حكما) সে পশ্চাৎবর্তী হিসেবে গণ্য হবে।
প্রকৃত পশ্চাৎপদতা (التأخر الحقيقي) হলো: যেকোনোভাবে ইমামের পেছনে থাকা, চাই তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الصف المستقيم، أو في الصف الدوري، أو في الصف التربيعي.
فالصف التربيعي هو: المحيط بجوانب البيت الشريف، والصف الدوري هو: الجاري في قوس الدائرة كصف المقام الحنفي، والصف المستقيم هو: الخالي من التقويس، فظهر لك من هذا أنَّ البيت الشريف مربع الشكل مع مقاربته للشكل المستطيل، وعلى كلٍّ فله أضلاع أربعة، كل ضلع جهة مستقلَّة بالحكم، وبين كل ضلعين ركن هو نقطة حاصلة من التقائهما يَحِدُّ كلًّا منهما عن الآخر، وأنَّ المقتدي إن كان في غير جهة إمامه صحَّ اقتداؤه مطلقًا، وإن كان فيها صحَّ بشرط عدم التقدُّم كما تقدَّم.
بقي أنَّ المقتدي لو كان مسامتًا للركن الموالي لجهة الإِمام مع كونه أقرب إلى الكعبة كما هو واقعة الحال هل يصح اقتداؤه أم [لا]؟.
قال العلَّامة الشيخ حسن الشرنبلالي
(1) في حاشيته على الدرر
(2): ينبغي أن لا يصح احتياطًا بلا نص، وتبعه على ذلك صاحب الدرّ
--------------------------------------------
সরলরেখায় কাতার (الصف المستقيم), অথবা বৃত্তাকার কাতার (الصف الدوري), অথবা বর্গাকার কাতার (الصف التربيعي)।
বর্গাকার কাতার (الصف التربيعي) হলো: যা পবিত্র ঘরের (কাবা) চতুর্দিক পরিবেষ্টন করে থাকে। আর বৃত্তাকার কাতার (الصف الدوري) হলো: যা বৃত্তচাপের ন্যায় প্রবহমান, যেমন হানাফি মাকামের কাতার। আর সরলরেখায় কাতার (الصف المستقيم) হলো: যা বক্রতামুক্ত। এ থেকে আপনার নিকট স্পষ্ট হলো যে, পবিত্র ঘরটি বর্গাকৃতি, যদিও এটি আয়তাকৃতির কাছাকাছি। যাই হোক না কেন, এর চারটি বাহু রয়েছে, প্রতিটি বাহু বিধানের (الحكم) ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র দিক (جهة)। আর প্রতি দুই বাহুর মাঝখানে একটি রুকন বা কোণ (ركن) রয়েছে, যা তাদের মিলনের ফলে সৃষ্ট একটি বিন্দু এবং তা একটিকে অপরটি থেকে পৃথক করে। আর মুক্তাদি (المقتدي) যদি তার ইমামের (إمامه) দিক (جهة) ব্যতীত অন্য দিকে থাকে, তবে তার ইকতিদা (اقتداؤه) শর্তহীনভাবে (مطلقًا) সহিহ (صحَّ) হবে। আর যদি সে একই দিকে থাকে, তবে পূর্বে বর্ণিত আলোচনার ন্যায় ইমামের আগে না যাওয়ার শর্তে (شرط) তা সহিহ (صحَّ) হবে।
এখন প্রশ্ন থাকে যে, মুক্তাদি (المقتدي) যদি ইমামের (الإِمام) দিকের নিকটবর্তী রুকনের (الركن) সমান্তরালে দাঁড়ায় এবং সেই সাথে কাবার অধিকতর নিকটে থাকে—যেমনটি বর্তমানে ঘটে থাকে—তবে কি তার ইকতিদা (اقتداؤه) সহিহ (صحَّ) হবে নাকি [না]?
আল্লামা শেখ হাসান আল-শুরুনবুলালি
(১) তার আদ-দুরার এর টীকাগ্রন্থে (حاشيته)
(২) বলেছেন: কোনো অকাট্য দলিলের (نص) অনুপস্থিতিতে সতর্কতাস্বরূপ (احتياطًا) এটি সহিহ (صحَّ) না হওয়া উচিত। আদ-দুর গ্রন্থের লেখকও এ বিষয়ে তার অনুসরণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المختار
(1) وغيره، وكأن هذا الاحتياط نظر إلى قاعدة: تعارض المانع والمقتضى
(2)، المذكورة في كتب أصول فقهائنا، وقد فرَّع عليها صاحب الأشباه
(3) فروعًا كثيرة تقارب الفرع المذكور في العلة، غير أنَّ هذا الاحتياط إنما يظهر أثره فيما إذا لم تتمحض الجهة المستقبلة بأن كان محدَّد الركن بين عيني المستقبل قاسمًا صدره الذي هو المناط في الاستقبال شطرين: شطر تحصل به المشاركة للإِمام في جهته، وشطر في مقابل الجهة الموالية لها.
وأمَّا إذا تمحَّضت الجهة بأن وقف على خط الركن مُزْوَرًّا موجّهًا صدره إلى إحدى الجهتين، فإن كانت جهة الإِمام فلا يصحّ اقتداؤه جزمًا لتقدِّمه المشاهد، وإن كانت غيرها صحَّ اقتداؤه بلا شبهة، وهذا لا يختصّ بالمأموم المستقبِل للركن، بل الإِمام كذلك لو استقبل الركن بلا تمحّض جهة يمنع المقتدي من التقدُّم عليه في كل من الجهتين احتياطًا، فإن تمحَّضت جهة يمنع المقتدي من التقدُّم فيها فقط.
وسأوضح لك جميع ما تقدَّم ذكره برسم يتضمَّن تصوير البيت الشريف وبيان جهاته الأربع والصفوف الثلاثة: التربيعي، والدوري،
--------------------------------------------
আল-মুখতার
(১) এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে যে, এই সতর্কতা (الاحتياط) সম্ভবত আমাদের ফকিহগণের উসুল সংক্রান্ত কিতাবে বর্ণিত ‘প্রতিবন্ধক ও কারণের সংঘাত (تعارض المانع والمقتضى)’ নামক মূলনীতির প্রতি লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে। আল-আশবাহ গ্রন্থের লেখক এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে অনেকগুলো শাখা-মাসআলা বর্ণনা করেছেন, যা ইল্লাত বা কারণের (العلة) দিক থেকে উল্লিখিত মাসআলার কাছাকাছি। তবে এই সতর্কতার (الاحتياط) প্রভাব তখনই প্রকাশ পায় যখন কিবলার দিকটি সুনির্ধারিত না হয়; যেমন যদি রুকন বা কোণটি কিবলামুখী ব্যক্তির দুই চোখের মাঝখানে এমনভাবে থাকে যা তার বুককে—যা কিবলামুখী হওয়ার (الاستقبال) মূল ভিত্তি (المناط)—দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়: এক ভাগ যার মাধ্যমে ইমামের সাথে তার দিকে অংশগ্রহণ সাব্যস্ত হয় এবং অন্য ভাগ তার পার্শ্ববর্তী দিকের বিপরীতে থাকে।
আর যদি দিকটি সুনির্ধারিত হয়, অর্থাৎ ব্যক্তি রুকনের রেখার উপর তির্যকভাবে দাঁড়িয়ে তার বুক কোনো একটি নির্দিষ্ট দিকে রাখে, এমতাবস্থায় সেটি যদি ইমামের দিক হয়, তবে চাক্ষুষভাবে ইমামের আগে বেড়ে যাওয়ার কারণে তার অনুসরণ (اقتداؤه) নিশ্চিতভাবে (جزمًا) সহিহ হবে না। আর যদি অন্য দিকে হয়, তবে কোনো সন্দেহ ছাড়াই তার অনুসরণ (اقتداؤه) সহিহ হবে। এটি কেবল রুকনের দিকে মুখ করা মুক্তাদির (المأموم) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বরং ইমামের ক্ষেত্রেও একই বিধান; যদি তিনি সুনির্ধারিত দিক ছাড়াই রুকনের দিকে মুখ করেন, তবে সতর্কতা (الاحتياط) হিসেবে উভয় দিকেই মুক্তাদির জন্য তার আগে বেড়ে যাওয়া নিষিদ্ধ হবে। আর যদি কোনো একটি দিক সুনির্ধারিত হয়, তবে কেবল সেই দিকেই মুক্তাদির জন্য আগে বেড়ে যাওয়া নিষিদ্ধ হবে।
আমি আপনার সামনে একটি চিত্রের মাধ্যমে উপরোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করব, যেখানে পবিত্র ঘরের প্রতিচ্ছবি এবং এর চার দিক ও তিন ধরণের কাতার: বর্গাকার ও বৃত্তাকারের বর্ণনা থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
والمستقيم، مع الإِشارة إلى الإِمام والمأموم والتقدُّم والتأخر والاتِّحاد والاختلاف.
وهذا الرسم كما ترى، والحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله.
فالشكل المربع هو صورة البيت الشريف، والخط الأحمر
(1) الملاصق له هو صورة الشاذروان، والألف الحمراء للإِشارة إلى الإِمام، والألفات السود للإِشارة إلى المأمومين حول الكعبة وهو الصف التربيعي. والدائرة الحمراء المحيطة بالجميع للإِشارة إلى الصف
--------------------------------------------
...এবং সরল (مستقيم), যেখানে ইমাম (إمام) ও মুক্তাদি (مأموم) এবং অগ্রগামিতা, পশ্চাদগামিতা, ঐক্য ও পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আর এই চিত্রটি যেমন আপনি দেখছেন; সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এ বিষয়ের পথ দেখিয়েছেন, আর আল্লাহ আমাদের পথপ্রদর্শন না করলে আমরা কখনোই পথ পেতাম না।
চতুর্ভুজ আকৃতিটি হলো সম্মানিত ঘরের প্রতিচ্ছবি এবং এর সাথে লেগে থাকা লাল রেখাটি
(১) হলো শাযারওয়ানের চিত্র। লাল ‘আলিফ’ ইমামের (إمام) প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য এবং কালো ‘আলিফ’গুলো কাবার চারপাশের মুক্তাদিদের (مأموم) প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা হলো বর্গাকার কাতার (صف)। আর সবাইকে পরিবেষ্টনকারী লাল বৃত্তটি কাতার (صف) নির্দেশ করার জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الدوري، والألفات السود فيها للإِشارة إلى المأمومين، والألف الحمراء للإِشارة إلى الإِمام لو كان في مقام الحنفي.
والخط المستقيم في طرف الدائرة للإِشارة إلى المأمومين فيه، والخطوط الحمر الخارجة من أركان البيت الشريف إلى مقابلها من الدائرة للإِشارة إلى حدود أرباع الدائرة لمقابلة كل ربع منها جهة من جهات البيت الشريف.
والخطوط السود الخارجة من وجوه الأركان إلى الدائرة القاسمة لذلك الربع إلى شكل مستطيل بين شكلين مثلثين للإِشارة إلى قدر ما زاد به الصف الدوري على الصف التربيعي من المساحة مع اتحادهما في الجهة بسبب البعد والاستدارة، فكلما ازداد بعدًا ازداد سعة في مثلين، وبذلك تعرف قول فقهائنا في تحديد الغدير العظيم أنه إن كان مربعًا فبعشرة أذرع من كل جهاته الأربع، فمجموعها أربعون ذراعًا، وإن كان مستديرًا فبستَّة وثلاثين ذراعًا.
فإذا كان الإِمام في ربع من الدائرة لا يجوز لمأمومه أن يتقدَّمه في خصوص ذلك الربع مطلقًا سواء مستقبل جهة إمامه أو غيرها لو فرض، وأما إذا كان في غيرها جاز له التقدُّم والتأخُّر؛ لأنَّه وإن تقدَّم فهو متأخّر حكمًا لاختلاف جهتهما كما صرَّح به القُهُسْتَانيّ
(1) وغيره.
--------------------------------------------
বৃত্তাকার (الدوري), আর এতে বিদ্যমান কালো ‘আলিফ’ বর্ণগুলো মুক্তাদিদের (المأمومين) নির্দেশ করার জন্য এবং লাল ‘আলিফ’ ইমামকে (الإمام) নির্দেশ করার জন্য, যদি তিনি হানাফিদের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করেন।
আর বৃত্তের প্রান্তের সরলরেখাটি সেখানে অবস্থানরত মুক্তাদিদের (المأمومين) নির্দেশ করার জন্য। কাবা শরিফের কোণগুলো থেকে বৃত্তের বিপরীত দিক পর্যন্ত প্রসারিত লাল রেখাগুলো বৃত্তের চার ভাগের সীমা নির্দেশ করে, যাতে প্রতিটি ভাগ কাবা শরিফের একটি দিকের মুখোমুখি হয়।
আর কোণগুলোর সম্মুখভাগ থেকে বৃত্ত পর্যন্ত প্রসারিত কালো রেখাগুলো ঐ চতুর্থাংশকে দুটি ত্রিভুজের মাঝখানে একটি আয়তক্ষেত্রে বিভক্ত করে। এগুলো মূলত দূরত্ব ও বক্রতার কারণে একই অভিমুখে থাকা সত্ত্বেও বর্গাকার কাতারের (الصف التربيعي) তুলনায় বৃত্তাকার কাতারের (الصف الدوري) ক্ষেত্রফলের আধিক্য নির্দেশ করে। ফলে দূরত্ব যত বাড়বে, প্রশস্ততাও তত দ্বিগুণ হারে বাড়বে। এর মাধ্যমেই আমাদের ফকিহদের (فقهائنا) ‘গদিরে আজিম’ বা বিশাল জলাশয় নির্ধারণের বিষয়টি বুঝা যায় যে, তা যদি বর্গাকার হয় তবে তার চারদিকের প্রত্যেক দিক দশ হাত করে মোট চল্লিশ হাত হতে হবে, আর যদি তা বৃত্তাকার হয় তবে ছত্রিশ হাত হতে হবে।
অতএব ইমাম (الإمام) যদি বৃত্তের কোনো এক চতুর্থাংশে থাকেন, তবে ঐ নির্দিষ্ট অংশে কোনোভাবেই মুক্তাদির (لمأمومه) জন্য তার সামনে অবস্থান করা বৈধ নয় (لا يجوز); চাই সে ইমামের অভিমুখে হোক বা অন্য কোনো দিকে। পক্ষান্তরে সে যদি অন্য চতুর্থাংশে থাকে, তবে তার জন্য আগে বা পিছে থাকা বৈধ (جاز); কারণ সে বাহ্যত অগ্রবর্তী হলেও ভিন্ন দিকের কারণে হুকুমের দিক থেকে সে পশ্চাদবর্তী হিসেবেই গণ্য হবে। যেমনটি আল-কুহুস্তানি ও অন্যান্যগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأمّا الصفّ المستقيم وهو الملاصق للدَّائرة في التصوير، وحكمه: أنَّ من قابل مساحة البيت الشريف فصلاته صحيحة، ومن لا فلا، اللَّهُمَّ إلَّا أن يَزْوَرَّ ذلك الشخص في وقوفه فيعمد بصدره إلى نحو القبلة فصلاته حينئذٍ صحيحة كما تراه مشارًا إليه بالألفات الحمر بين الألفات السود في صفه.
وأمَّا الشاذروان فاستقباله بمفرده لا يجوز؛ لأنَّه عندنا ليس من البيت نظرًا للاستقبال لا الاحترام.
وأما الحجارة السود المذكورة فهي للإِشارة إلى منع المصلِّي عليها مطلقًا مستقبلًا الشاذروان، وأمَّا إذا وقف عليها مُزْوَرًّا إلى نحو البيت، فتجوز صلاته لتمحض جهة الاستقبال كما تقدَّم.
وأما الشبهة المشار إليها سابقًا الصادرة من ذلك الفاضل بحسب علم الهندسة بأنه يمكن رسم خط من طرف أحد أرباع الدائرة الذي هو جهة مستقلة ينتهي مستقيمًا إلى جهة ضلع ربع آخر الذي هو جهة أخرى يوجد به في سطح ذلك الضلع زاويتان أحدهما: حادة، والأخرى: منفرجة، فبمقتضاه يجوز تقدُّم المأموم على إمامه في جهته مستقبلًا جهة غير جهة إمامه لاختلاف جهتهما استقبالًا.
وجوابه بأنَّ ذلك لو تكلف في وجوده بجرّ الخط الذي منتهاه نقطة تلاصق سطح ذلك الضلع أو تمازجه لا يتصوَّر في مقابلة مساحة عرض صدر المصلي بقدره من مساحة تلك الجهة المستقبلة المغايرة لجهة إمامه، ولو فرض، فاتفاق نصوص علمائنا متونًا وشروحًا صريح في منع تقدُّم المأموم على إمامه إن كان في جهته مطلقًا من غير تقييد باتحاد
আর চিত্রায়িত বৃত্তের সাথে সংলগ্ন যে সোজা কাতারটি রয়েছে তার হুকুম হলো: যে ব্যক্তি পবিত্র গৃহের (بيت الشريف) মূল সীমানার সামনাসামনি হবে তার নামাজ শুদ্ধ (صحيحة), আর যে হবে না তার নামাজ শুদ্ধ নয়। তবে যদি সেই ব্যক্তি দাঁড়ানো অবস্থায় কিছুটা কোণাকুণি হয়ে তার বক্ষকে কিবলার (قبلة) দিকে নিবদ্ধ করে, তবে সেক্ষেত্রে তার নামাজ শুদ্ধ (صحيحة); যেমনটি আপনি তার কাতারে কালো আলিফগুলোর মাঝে লাল আলিফগুলো দ্বারা নির্দেশিত হতে দেখছেন।
আর শাযরওয়ানের (شاذروان) ক্ষেত্রে কেবল সেটির অভিমুখী হওয়া (استقبال) বৈধ নয় (لا يجوز); কারণ আমাদের নিকট অভিমুখী হওয়ার (استقبال) বিবেচনায় এটি পবিত্র গৃহের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও সম্মানের (احترام) দিক থেকে অন্তর্ভুক্ত।
আর উল্লিখিত কালো পাথরগুলো মূলত শাযরওয়ানের (شاذروان) দিকে মুখ করে অবস্থানকারী মুসল্লির জন্য সেখানে দাঁড়ানোকে নিঃশর্তভাবে নিষেধ করার সংকেত স্বরূপ। তবে যদি সে পবিত্র গৃহের দিকে মুখ করে কিছুটা ঘুরে সেখানে দাঁড়ায়, তবে তার নামাজ বৈধ (تجوز), যেহেতু এখানে অভিমুখী হওয়ার (استقبال) দিকটি সুস্পষ্টভাবে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর জ্যামিতিবিদ্যার (علم الهندسة) আলোকে সেই বিদগ্ধ ব্যক্তি কর্তৃক ইতিপূর্বে যে সংশয়টি উত্থাপন করা হয়েছে যে, বৃত্তের একটি চতুর্থাংশের প্রান্ত থেকে—যা একটি স্বতন্ত্র দিক—একটি সরলরেখা অঙ্কন করা সম্ভব যা অন্য একটি চতুর্থাংশের বাহুর দিকে গিয়ে শেষ হবে—যা একটি ভিন্ন দিক। এর ফলে সেই বাহুর তলে দুটি কোণ উৎপন্ন হবে, যার একটি সূক্ষ্মকোণ এবং অন্যটি স্থূলকোণ। এর দাবি অনুযায়ী, মুক্তাদির (مأموم) জন্য স্বীয় ইমামের (إمام) চেয়ে অগ্রবর্তী হওয়া বৈধ (يجوز), এমতাবস্থায় যে সে ইমামের অভিমুখী দিক ব্যতীত অন্য একটি দিকে মুখ করে আছে, যেহেতু অভিমুখী হওয়ার (استقبال) ক্ষেত্রে তাদের উভয়ের দিক ভিন্ন।
এর উত্তর হলো, যদি কষ্টকল্পিতভাবে এমন কোনো রেখা টানা হয় যার প্রান্তসীমা সেই বাহুর তলের সাথে সংলগ্ন বা মিশ্রিত কোনো বিন্দুতে গিয়ে পৌঁছে, তবুও ইমামের (إمام) অভিমুখী দিকের চেয়ে ভিন্ন দিকে মুখ করে থাকা মুসল্লির বুকের প্রশস্ততা সমপরিমাণ জায়গার বিপরীতে তা কল্পনা করা সম্ভব নয়। আর যদি তর্কের খাতিরে তা ধরেও নেওয়া হয়, তবুও আমাদের ওলামায়ে কেরামের মূলপাঠসমূহ (متون) ও ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের (شروح) ঐকমত্যপূর্ণ বর্ণনা স্পষ্টভাবে মুক্তাদিকে (مأموم) তার ইমামের (إمام) চেয়ে অগ্রবর্তী হতে নিষেধ করে, যদি সে ইমামের দিকেই অবস্থান করে; আর এটি কোনো একই অভিমুখী হওয়ার শর্ত ছাড়াই নিঃশর্তভাবে নিষিদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الاستقبال، مع أنَّ فقهائنا احتاجوا لتصحيح صلاة المقتدي المتقدم على إمامه في غير جهته وصحَّة اقتدائه بجعل ذلك التقدُّم تأخُّرًا حكميًّا، فكيف يتخيَّل جواز الاقتداء مع تقدُّمه على إمامه في جهته؟!
ولا حاجة إلى الإِطالة بذكر نصوص المسائل المذكورة لبداهتها، حيث كان الغرض من هذه الرسالة الجواب مع الاختصار، ولولا ذلك لسردت لك من النصوص ما يُفْضي بك إلى الملال.
* * *
কেবলামুখী হওয়া; যদিও আমাদের ফকিহগণ ইমামের অভিমুখ ভিন্ন অন্য দিকে ইমামের চেয়ে অগ্রবর্তী মুক্তাদির সালাত শুদ্ধ গণ্য (تصحيح) করার প্রয়োজনে এবং তার অনুসরণের (اقتداء) বৈধতা সাব্যস্ত করতে সেই অগ্রগামিতাকে হুকুমগত (حكمي) পশ্চাৎপদতা হিসেবে গণ্য করেছেন, তবে ইমামের অভিমুখেই তাঁর চেয়ে অগ্রবর্তী হয়ে অনুসরণের (اقتداء) বৈধতা (جواز) কীভাবে কল্পনা করা সম্ভব?!
উল্লিখিত মাসআলাসমূহ স্বতঃসিদ্ধ হওয়ার কারণে এগুলোর দালিলিক পাঠ (نصوص) বর্ণনা করে দীর্ঘায়িত করার কোনো প্রয়োজন নেই। যেহেতু এই রিসালাহ বা পত্রের উদ্দেশ্য হলো সংক্ষেপে উত্তর প্রদান করা; তা না হলে আমি আপনার নিকট দালিলিক পাঠের (نصوص) এমন দীর্ঘ বিবরণ পেশ করতাম যা আপনাকে ক্লান্ত করে দিত।
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
خاتمة نسأل المولى الكريم حُسنها
بقي أمران مهمَّان يجب التنبيه عليهما والتنبُّه لهما، حيث انجر بنا الكلام إلى مثل هذا المقام:
أحدهما: أنَّ الإِمام إذا تقدَّم في أيام الموسم وصلَّى تحت البيت الشريف لكثرة الحجاج اصطف خلفه كثير من العوامّ في الصف الأوَّل، فإذا انتهى اصطفافهم إلى الحجارة السود المتقدّم ذكرها قطعوا الصفَّ وجعلوا الاستدارة التربيعية في الصف الثاني بلا ضرورة تُلْجِئهم إلى ذلك، وقد علمت صحَّة استدارته في الصف التربيعي من الرسم المذكور فيجب على أهل الديانة منعهم من ذلك وإدارة الصف الشرعي على الوجه المرعي.
ثانيهما: أنَّ كثيرًا من العوامّ يتركون الصف الأول الذي هو خلف الإِمام حقيقة
(1) ويتقدَّمون إلى تحت البيت الشريف بلا عذر كحرّ شمس
--------------------------------------------
উপসংহার (خاتمة) আমরা মহান দয়াময় রবের নিকট এর উত্তম সমাপ্তি প্রার্থনা করি।
এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশিষ্ট রয়েছে যা উল্লেখ করা এবং সেদিকে লক্ষ্য রাখা আবশ্যিক (واجب), যেহেতু আলোচনা আমাদেরকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে:
প্রথমটি হলো: যখন ইমাম হজের দিনগুলোতে সামনে অগ্রসর হন এবং হাজীদের আধিক্যের কারণে পবিত্র কাবার নিচে সালাত আদায় করেন, তখন প্রথম কাতারে তাঁর পেছনে অনেক সাধারণ মানুষ কাতারবদ্ধ হয়। অতঃপর যখন তাদের কাতারবদ্ধ হওয়া পূর্বে উল্লেখিত কালো পাথর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন তারা কাতার বিচ্ছিন্ন (قطع) করে ফেলে এবং কোনো জরুরি প্রয়োজন (ضرورة) ছাড়াই দ্বিতীয় কাতারে চতুর্ভুজাকৃতি বৃত্তায়ন তৈরি করে। আপনি উক্ত চিত্র থেকে চতুর্ভুজাকৃতি কাতারে বৃত্তায়নের শুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে জেনেছেন; সুতরাং ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ওপর আবশ্যিক (واجب) হলো তাদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখা এবং শরিয়তসম্মত কাতারকে মানসম্মত পদ্ধতিতে পরিচালনা করা।
দ্বিতীয়টি হলো: অনেক সাধারণ মানুষ প্রথম কাতার ত্যাগ করে যা প্রকৃতপক্ষে ইমামের পেছনে থাকে এবং কোনো ওজর (عذر) যেমন প্রখর রোদ ছাড়াই পবিত্র কাবার নিচের দিকে অগ্রসর হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يفرُّون منه إلى الاستظلال بذلك الظل الظليل ملاحظين لقول الملا علي القاري
(1) عليه رحمة الباري بأنه الصف الأول، حيث صنف رسالة في ذلك سمَّاها "الفضل المعول في الصف الأول"
(2)، سلك فيها مسلك أهل السلوك.
وما تحقَّقوا ملاحظته رحمه الله التي لاحظها فيها، وبنوا الأمر على الظاهر وما تحقَّقوا حاله الباهر، حيث كان رحمه الله من كبار السادة الصوفية السالكين طريق السادة النقشبنديَّة
(3) المفضي لدوام
--------------------------------------------
তারা সেখান থেকে সেই সুনিবিড় ছায়ার আশ্রয়ে ফিরে যান, তারা মোল্লা আলী আল-ক্বারী
(১) —তাঁর ওপর স্রষ্টার রহমত বর্ষিত হোক— এর বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য রাখেন যে এটিই হলো প্রথম কাতার, যেখানে তিনি এ বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং তার নাম রেখেছেন "আল-ফদলুল মুআউওয়াল ফিস সাফফীল আউওয়াল"
(২), এতে তিনি আধ্যাত্মিক পথচারীদের পথ অনুসরণ করেছেন।
আর তারা তাঁর সেই পর্যবেক্ষণটি উপলব্ধি করতে পারেননি যা তিনি সেখানে লক্ষ্য করেছিলেন এবং তারা বিষয়টিকে কেবল বাহ্যিক দিক দিয়ে বিবেচনা করেছেন এবং তাঁর সেই প্রোজ্জ্বল অবস্থা উপলব্ধি করেননি, যেখানে তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন নকশবন্দিয়া
(৩) তরীকার অনুসারী সুফিদের মধ্যে অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব, যা নিরন্তর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المراقبة لا سيَّما في حال المناجاة الثاقبة، فذاق في حالة القرب ما حلى له، ونشق من عرف ذلك الشميم ما عرف به حرامه وحلاله، فلا غَرْو أن يستنتج من شكله الأول ما عنده عليه المعول، حيث ظفر بالسول وما برح في ربقة اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم، فقل لمريد التبعية بلا عراقة أنها تخييلية ما لها علاقة
(1).
وأمَّا من كان له الحرص التامّ على العمل بظاهر شريعة سيد الأنام المؤيّد بالأحاديث الصحيحة والنصوص الفقهية الصريحة، فلا يتقدَّمنَّ على إمامه، ولا يتحوَّل ويترقَّبنَّ الثواب الموعود به ملازم الصف الأول
(2).
--------------------------------------------
আল্লাহর পর্যবেক্ষণ (মুরাকাবাহ), বিশেষত প্রখর নিভৃত আলাপের (মুনাজাত) অবস্থায়। ফলে তিনি সান্নিধ্যের অবস্থায় তা আস্বাদন করেছেন যা তাঁর নিকট প্রিয় লেগেছে এবং সেই সুগন্ধির ঘ্রাণ থেকে তিনি তা গ্রহণ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি এর হারাম ও হালালকে চিনেছেন। সুতরাং আশ্চর্যের কিছু নেই যে, তিনি তাঁর প্রাথমিক অবস্থা থেকে সেই সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন যার ওপর তাঁর নির্ভরতা রয়েছে, যেহেতু তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করেছেন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের বন্ধনে অবিচল রয়েছেন। অতএব গভীরমূলহীন অনুসরণের প্রত্যাশীকে বলুন যে, এটি নিছক কল্পনাপ্রসূত, যার কোনো সম্পর্ক নেই
(1).
পক্ষান্তরে, যার মধ্যে মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম সত্তার শরীয়তের প্রকাশ্য বিধান অনুযায়ী আমল করার পূর্ণ আগ্রহ রয়েছে, যা সহীহ (صحيح) হাদিসসমূহ এবং সুস্পষ্ট ফিকহী ভাষ্য দ্বারা সমর্থিত, তিনি যেন তাঁর ইমামের অগ্রবর্তী না হন, এবং তিনি যেন স্থান পরিবর্তন না করেন এবং প্রথম কাতারে অবস্থানকারীর জন্য প্রতিশ্রুত সওয়াবের প্রতীক্ষায় থাকেন
(2).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ক্বাতউল জিদাল ফী আহকামিল ইস্তিকবাল লিল কাবাতিল মুশাররাফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وفي هذا كفاية ومقنع لمن كان بمرأى من التحقيق ومسمع، ونسأله جلَّ شأنه أن يختم لنا ولجميع إخواننا بالحسنى، وأن يمتِّعنا بالنظر إلى وجهه الكريم الذي هو القبلة الحقيقية في المقام الأسنى، مع المنعم عليهم من النبيِّين والصدِّيقين والشُّهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقًا.
والحمد لله ربّ العالمين، وصلى الله على خاتم النبيين سيِّدنا محمد وآله وصحبه أجمعين.
غرَّة شهر شعبان سنة 1150 هـ.
وتَمَّ نسخها من نسخة منقولة من خط المؤلف رحمه الله تعالى مؤرَّخة بغرَّة شهر صفر الخير سنة 1178 هـ، وكان ذلك على يد كاتبها لنفسه جعفر بن أبي بكر اللبني، ثالث عشر صفر الخير سنة 1357 هـ.
والحمد لله ربّ العالمين
(1).
* * *
--------------------------------------------
যিনি গভীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা (تحقيق) এর গুণসম্পন্ন, তার জন্য এতেই পর্যাপ্ততা ও সন্তুষ্টি রয়েছে; এবং আমরা মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এবং আমাদের সকল ভাইদের শেষ পরিণতি কল্যাণের সাথে সমাপ্ত করেন এবং তিনি যেন আমাদের তাঁর মহান সত্তার চেহারার দিকে তাকিয়ে ধন্য হওয়ার সুযোগ দান করেন, যা সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রকৃত কিবলা স্বরূপ; সেই সকল নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাথে যারা নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত, আর সাথী হিসেবে তারা কতই না চমৎকার।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সর্বশেষ নবী আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
১লা শাবান, ১১৫০ হিজরি।
আর এই পাণ্ডুলিপিটি লেখকের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) নিজ হস্তাক্ষর থেকে অনুলিপি করা একটি কপি থেকে প্রতিলিপি করা হয়েছে, যার তারিখ ছিল ১লা সফর আল-খায়ের, ১১৭৮ হিজরি। এটি লেখক জাফর বিন আবু বকর আল-লাবানি কর্তৃক তাঁর নিজ হাতে সম্পন্ন হয়েছে ১৩ই সফর আল-খায়ের, ১৩৫৭ হিজরি তারিখে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য(১)।
* * *
--------------------------------------------