(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: -)
إفادة المبتدي المستفيد فى حكم إتيان المأموم بالتسميع   (برهان الدين الناجي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إفادة المبتدي المستفيد فى حكم إتيان المأموم بالتسميع وجهره به إذا بلغ وإسراره بالتحميد - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (29)

المؤلف: إبراهيم بن محمد بن محمود بن بدر، برهان الدين، أبو إسحاق الحلبي القبيباتي الشافعيّ الناجي (ت 900 هـ)

المحقق: الدكتور عبد الرؤوف بن محمد الكمالي

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 38

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 صفر 1437

মুক্তাদির তাসমি পাঠের বিধান প্রসঙ্গে তালিবে ইলমদের জন্য উপকারী নির্দেশনা   (বুরহান উদ্দিন আন-নাজি)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


কিতাব: মুক্তাদির তাসমি পাঠের বিধান, মুবাল্লিগ হলে উচ্চস্বরে তা পাঠ এবং অনুচ্চস্বরে তাহমিদ পাঠ প্রসঙ্গে তালিবে ইলমদের জন্য উপকারী নির্দেশনা - মাসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠকের ধারাবাহিক (২৯)

লেখক: ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ বিন বদর, বুরহান উদ্দিন, আবু ইসহাক আল-হালাবি আল-কুবায়বাতি আশ-শাফিয়ি আন-নাজি (মৃত্যু ৯০০ হিজরি)

গবেষক (محقق): ড. আব্দুর রউফ বিন মুহাম্মাদ আল-কামালি

প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কিতাবের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ সফর ১৪৩৭ হিজরি

(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (29)

 

إفادة المبتدي المستفيد فى حكم إتيان المأموم بالتسميع وجهره به إذا بلغ وإسراره بالتحميد

 

تأليف

الحافظ برهان الدين إبراهيم بن محمد الدمشقي

المعروف بالناجي (810 - 900 هـ)

 

تحقيق

الدكتور عبد الرؤوف بن محمد الكمالي

 

ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم

 

دار البشائر الإسلامية
লাইকাতুল আশরিল আওয়াখির বিল মাসজিদিল হারাম (২৯)

 

'তাসমি' (تسميع) পাঠে মুক্তাদির অংশগ্রহণ, উচ্চৈঃস্বরে তা পৌঁছে দেওয়া এবং নিম্নস্বরে 'তাহমিদ' (تحميد) পাঠের বিধান সম্পর্কে নবাগত জ্ঞানপিপাসুদের জন্য নির্দেশিকা

 

রচনা

হাফিজ (حافظ) বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আদ-দিমাশকি

যিনি আন-নাজি নামে সুপরিচিত (৮১০ - ৯০০ হিজরি)

 

সম্পাদনা ও গবেষণা (تحقيق)

ডক্টর আবদুর রউফ বিন মুহাম্মাদ আল-কামালি

 

হারামাইন শরিফাইনের কতিপয় কল্যাণকামী ব্যক্তি এবং তাঁদের শুভানুধ্যায়ীদের আর্থিক সহযোগিতায় এটি মুদ্রিত হয়েছে

 

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২)
جَمِيْعُ الحُقُوقِ مَحْفُوظَةٌ

الطَّبْعَةُ الأولى

1422 هـ - 2001 م

 

دَار البشائر الإسْلاميّة للطّباعَة وَالنّشر وّالتّوزيْع

هَاتفْ: 702857 - فَاكسْ: 704963/ 009611

بَيروتَ - لبنان ص ب: 5955/ 14

 

e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

 

দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ

ফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১

বৈরুত - লেবানন, ডাক বক্স: ৫৯৫৫/ ১৪

 

ই-মেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

المقَدّمَة

الحمد لله ربِّ العالمين، والصَّلاة والسَّلام على أفضل المرسلين، نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين.

أما بعد:

فهذه رسالة لطيفة، في مسألة فقهية مشهورة، الخلافُ فيها بين الفقهاء معروف، ألا وهي مسألة التسميع للمأموم، أي: قولُ "سَمِعَ الله لِمَنْ حَمِده"، هل يأتي به المأمومُ أوْ لا؟

ولا شك أن هذه المسألة تصلح لأن تكون مثالاً من الأمثلة الكثيرة للمسائل التي يسوغ فيها الاختلاف والاجتهاد، وأنه لا إنكار فيها؛ فقد قرَّر العلماء رحمهم الله القاعدةَ الفقهية النفيسة: "لا يُنكَر المختلفُ فيه، وإنما ينكر المجمع عليه" (1)، وذلك إذا لم يكن الخلاف ضعيفًا، بأن تكون مآخذ الأقوال معتبرة، كما هو الحال في مسألتنا.

وليس كلُّ خلافٍ جاء معتبرًا … إلَاّ خلافِ له حظُّ من النظرِ

--------------------------------------------

(1) "الأشباه والنظائر" للسيوطي (ص 158).
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

 

ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।

অতঃপর:

এটি একটি প্রসিদ্ধ ফিকহি (فقهية) মাসআলা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যে বিষয়ে ফকিহদের (الفقهاء) মধ্যকার মতভেদ (الخلاف) সুবিদিত। আর তা হলো মুক্তাদীর (المأموم) তাসমি (التسميع) পাঠের মাসআলা; অর্থাৎ মুক্তাদী কি "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলবে নাকি বলবে না?

নিঃসন্দেহে এই মাসআলাটি এমন বহু বিষয়ের একটি দৃষ্টান্ত হওয়ার যোগ্য যেখানে মতভেদ (الاختلاف) ও ইজতিহাদ (الاجتهاد) করার অবকাশ রয়েছে এবং এতে কোনো অস্বীকৃতি বা আপত্তি নেই। উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) একটি মূল্যবান ফিকহি (فقهية) নীতি (القاعدة) সাব্যস্ত করেছেন: "মতভেদপূর্ণ (المختلف فيه) বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই, বরং কেবল ঐকমত্যপূর্ণ (المجمع عليه) বিষয়েই আপত্তি করা যাবে" (১)। আর তা তখন প্রযোজ্য যখন মতভেদটি দুর্বল (ضعيفًا) হয় না এবং মতগুলোর ভিত্তি নির্ভরযোগ্য (معتبرة) হয়, যেমনটি আমাদের এই মাসআলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সব মতভেদই গ্রহণযোগ্য (معتبرًا) হিসেবে গণ্য নয়... কেবল সেই মতভেদ ছাড়া যার গবেষণালব্ধ জোরালো ভিত্তি রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সুয়ুতী রচিত "আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর" (পৃ. ১৫৮)।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ৪)
والمؤلف رحمه الله قد نصر في هذه المسألة قولَ الشافعية ومَن وافقهم، في أن المأموم يأتي بالتسميع، وهو قول وجيه وقويّ بلا شك، لكن الذي ظهر لي- والله تعالى أعلم- أن قول الحنابلة ومن وافقهم، في أن المأموم لا يأتي بالتسميع، هو الأرجح، كما أشرت إلى وجه ذلك في تحقيق هذه الرسالة (1).

--------------------------------------------

(1) وتلخيصًا لأقوال العلماء في مسألة التسميع -وكذا التحميد حيث ذكرها المؤلف رحمه الله أقول:

أولًا: التسميع: لم يختلف العلماء في أن الإِمام يأتي بالتسميع.

وأما المنفرد، ففيه قولان:

1 - أنه يأتي به. وهو الأصح عند الحنفية، وقولُ المالكية والشافعية، والمذهب عند الحنابلة، وقول ابن حزم.

2 - أنه لا يأتي به. وهو رواية عن أبي حنيفة وعن أحمد.

وأما المأموم، ففيه قولان -أيضًا-:

1 - أنه يأتي به. وهو قول الشافعية ورواية عن أحمد وقولُ ابن حزم.

2 - أنه لا يأتي به. وهو قول الحنفية والمالكية، والمذهب عند الحنابلة.

ثانيّا: التحميد: لم يختلف العلماء في أن المأموم يأتي بالتحميد.

وكذلك هو قول أكثر العلماء في حق المنفرد، إلَاّ رواية عن أبي حنيفة وعن أحمد، أنه لا يأتي به.

وأما الإِمام، ففيه قولان:

1 - أنه يأتي به. وهو قول أكثر أهل العلم.

2 - أنه لا يأتي به. وهو قول أبي حنيفة -خلافًا للصاحبين- وقول المالكية.

انظر:"بدائع الصنائع" (2/ 551، 552 - ط زكريا علي يوسف) و"فتح =
লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এই মাসয়ালায় শাফেঈ মাজহাবের অনুসারী ও তাদের সাথে একমত পোষণকারীদের মতকে সমর্থন করেছেন যে, মুক্তাদি 'তাসমি' (التسميع) পাঠ করবে। এটি নিঃসন্দেহে একটি যুক্তিযুক্ত এবং শক্তিশালী মত। তবে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে—এবং আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত—তা হলো হাম্বলি মাজহাবের অনুসারী ও তাদের সাথে একমত পোষণকারীদের মতটিই অধিকতর প্রাধান্যযোগ্য (الأرجح), যেখানে বলা হয়েছে যে, মুক্তাদি 'তাসমি' (التسميع) পাঠ করবে না; যেমনটি আমি এই রিসালাহটির তাহকিকের ক্ষেত্রে এর কারণ নির্দেশ করেছি (১)।

--------------------------------------------

(১) 'তাসমি' (التسميع) এর মাসয়ালায় এবং একইভাবে 'তাহমিদ' (التحميد) এর ক্ষেত্রে—যেহেতু লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এটি উল্লেখ করেছেন—ওলামায়ে কেরামের অভিমতসমূহের সারসংক্ষেপ হিসেবে আমি বলছি:

প্রথমত: 'তাসমি' (التسميع): ইমাম 'তাসমি' (التسميع) পাঠ করবেন—এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

আর একাকী নামাজ আদায়কারীর (المنفرد) ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে:

১ - তিনি এটি পাঠ করবেন। এটিই হানাফি মাজহাবের নিকট অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত, এবং মালিকি ও শাফেঈ মাজহাবের অভিমত, হাম্বলি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য মত (المذهب) এবং ইবনে হাজমের উক্তি।

২ - তিনি এটি পাঠ করবেন না। এটি আবু হানিফা এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)।

আর মুক্তাদির ক্ষেত্রেও দুটি মত রয়েছে:

১ - তিনি এটি পাঠ করবেন। এটি শাফেঈ মাজহাবের অভিমত, আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) এবং ইবনে হাজমের উক্তি।

২ - তিনি এটি পাঠ করবেন না। এটি হানাফি ও মালিকি মাজহাবের অভিমত এবং হাম্বলি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য মত (المذهب)।

দ্বিতীয়ত: 'তাহমিদ' (التحميد): মুক্তাদি 'তাহমিদ' (التحমيد) পাঠ করবেন—এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

একইভাবে একাকী নামাজ আদায়কারীর ক্ষেত্রেও এটি অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের অভিমত। তবে আবু হানিফা এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী, তিনি এটি পাঠ করবেন না।

আর ইমামের ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে:

১ - তিনি এটি পাঠ করবেন। এটি অধিকাংশ বিজ্ঞজনের অভিমত।

২ - তিনি এটি পাঠ করবেন না। এটি আবু হানিফার অভিমত—তার দুই ছাত্রের (সাহিবাইন) মতের বিপরীতে—এবং মালিকি মাজহাবের অভিমত।

দেখুন: "বাদায়েউস সানায়ে" (২/ ৫৫১, ৫৫২ - যাকারিয়া আলী ইউসুফ সংস্করণ) এবং "ফাতহুল... =
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ৫)
وعلى كل حال، فإن صاحب هذه الرسالة هو إمام جليل، وعالِمٌ فذٌّ، يتضح ذلك لكل من طالع كتابه "عجالة الإِملاء" في التعليق على "الترغيب والترهيب" للمنذري.

وللمؤلف رحمه الله مصنفات كثيرة، لكنها لم تخرج إلى عالَم المطبوعات بعد، فها نحن ننشر واحداً منها؛ إحياءَ لذكره وعلمه، وبيانَّا لفضله ومنزلته، نسأل الله تعالى أن يكتب لنا وله الرحمة والرضوان، وأن يحشرنا جميعًا مع المتقين الأبرار.

* * *

--------------------------------------------

= القدير" لابن الهمام (1/ 289، 300 - ط 1 مصطفى البابي الحلبي) و"حاشية الدسوقي" (1/ 24) و"حاشية العدوي على شرح الرسالة" (1/ 233) و"مغني المحتاج" (1/ 165، 166) و"المجموع شرح المهذب" (3/ 391 - ط مكتبة الإِرشاد)، و"المغني" لابن قدامة (2/ 184، 186، 189 - ط دار هجر)، و"الإِنصاف" (2/ 64)، و"المحلى" لابن حزم (3/ 255).
যা-ই হোক, এই পুস্তিকাটির লেখক একজন মহান ইমাম এবং এক অনন্য পণ্ডিত। এটি সেই ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, যে মুনজিরী-র "আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব"-এর ওপর তাঁর টীকা গ্রন্থ "উজালাতুল ইমলা" পাঠ করেছে।

লেখকের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বহু গ্রন্থ রয়েছে, কিন্তু সেগুলো এখনো মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয়নি। অতএব, আমরা তাঁর স্মৃতি ও জ্ঞানকে জীবিত রাখার জন্য এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁর এই একটি রচনা প্রকাশ করছি। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ও তাঁর জন্য রহমত ও সন্তুষ্টি লিখে দেন এবং আমাদের সকলকে পরহেজগার ও পুণ্যবানদের সাথে হাশর নসিব করেন।

* * *

--------------------------------------------

= ইবনুল হুমাম রচিত "ফাতহুল কাদির" (১/ ২৮৯, ৩০০ - ১ম সংস্করণ, মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি), "হাশিয়াতুদ দসুকি" (১/ ২৪), "শারহুর রিসালা"-র ওপর "হাশিয়াতুল আদাবি" (১/ ২৩৩), "মুগনিল মুহ্তাজ" (১/ ১৬৫, ১৬৬), "আল-মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব" (৩/ ৩৯১ - মাকতাবাতুল ইরশাদ সংস্করণ), ইবনে কুদামা রচিত "আল-মুগনি" (২/ ১৮৪, ১৮৬, ১৮৯ - দারু হাজার সংস্করণ), "আল-ইনসাফ" (২/ ৬৪) এবং ইবনে হাজম রচিত "আল-মুহাল্লা" (৩/ ২৫৫)।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ترجمة المؤلِّف (1)

‌‌نسبه ومولده:

هو: برهان الدين، أبو إسحاق: إبراهيم بن محمد بن محمود بن بدر، الحلبي الأصل، الدمشقي، القبيباتي، الشافعي.

ويُعْرَف بالناجي -بالنون والجيم- لكونه -فيما قيل- حنبليَّا ثم تَشفَّع.

وربما قيل له: المحدَّث.

وُلِدَ في أحد الربيعين، سنةَ عشر وثمانمائة، بدمشق.

 

‌‌شيوخه ومسموعاته وتلاميذه:

سمع على الحافظ ابن حجر العسقلاني، وابنِ ناصر الدين، والفخرِ عثمان بنِ الصَّلِف، والعلاء بن بردس، والشهاب أحمد بن حسن بن عبد الهادي، والزينِ عبد الرحمن بن الشيخ خليل، والأريحي.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: "الضوء اللامع" للسخاوي (1/ 166)، و"نظم العِقيان" للسيوطي (ص 27، 28)، و"شذرات الذهب" لابن العماد الحنبلي (7/ 365)، و"الأعلام" للزِّرِكْلي (1/ 65)، و"معجم المؤلفين" لكحالة (1/ 69).
লেখকের জীবনী (ترجمة) (১)

তাঁর বংশপরিচয় ও জন্ম:

তিনি হলেন: বুরহানুদ্দিন, আবু ইসহাক: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে বদর। তিনি মূলত আলেপ্পোর অধিবাসী (الحلبي الأصل), দামেশকি (الدمشقي), কুবায়বাতি এবং শাফেয়ী (الشافعي)।

তিনি 'নাজি' (الناجي) —নুন ও জিম বর্ণের মাধ্যমে (بالنون والجيم)— নামে পরিচিত ছিলেন। কারণ হিসেবে বলা হয় যে, তিনি প্রথমে হাম্বলি (حنبلي) ছিলেন এবং পরবর্তীতে শাফেয়ী মাযহাব গ্রহণ (تشفَّع) করেন।

মাঝে মাঝে তাঁকে মুহাদ্দিস (المحدَّث) বলা হতো।

তিনি ৮১০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল বা রবিউস সানি মাসের কোনো এক সময়ে দামেশকে জন্মগ্রহণ করেন।

 

তাঁর শিক্ষকগণ, শ্রুত বিষয়সমূহ (مسموعات) ও ছাত্রগণ:

তিনি হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি, ইবনে নাসিরুদ্দিন, আল-ফাখর উসমান ইবনে আস-সালাফ, আল-আলা ইবনে বারদাস, আশ-শিহাব আহমদ ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল হাদি, আজ-জাইন আব্দুর রহমান ইবনে আশ-শায়খ খলিল এবং আল-আরিহি-এর নিকট হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন: সাখাউয়ি রচিত "আদ-দাও আল-লামি" (১/ ১৬৬), সুয়ুতি রচিত "নাজমুল ইকইয়ান" (পৃ. ২৭, ২৮), ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি রচিত "শাযারাতুয যাহাব" (৭/ ৩৬৫), যিরিকলি রচিত "আল-আলাম" (১/ ৬৫) এবং কাহহালা রচিত "মুজামুল মুআল্লিফিন" (১/ ৬৯)।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ৭)
ومما سمعه على العلاء: "الشمائل" و"مشيخة الأشرف الفخر" و"السنن" لأبي داود والترمذي.

وسمع على الأريحي "صحيح البخاري".

وسمع -أيضاً- على عبد الله وعبد الرحمن ابني زريق، واختص بالعلاء بن زكنون، وقرأ عليه القرآن وغيرَه، وتزوج ابنته، ثم فارقه.

وقد تحوّل شافعيّا غير مرة.

وتتلمذ عليه عدد من العلماء، منهم أبو البركات محمد بن أحمد بن الكيال، والشيخ عبد القادر بن محمد النعيمي الشافعي صاحب "الدارس في تاريخ المدارس".

 

‌‌عِلْمُه ومنزلته:

كان محبًّا في أهل السنة، شديدَ الإِنكار على معتقدي ابن عربي ونحوِه كابن حامد، منجمعًا عن بني الدنيا، قانعًا باليسير.

قال السخاوي رحمه الله: "والثناء عليه مستفيض، ووصَفه الخضيري بأنه شيخ عالم فاضل، محدث محرِّر متقن معتَمَد، خدم هذا الشأن بلسانه وقلمه، وطالع كثيراً من كتبه". اهـ (1).

وقال عنه تلميذه أبو البركات ابن الكيال: "شيخ الإِسلام والمسلمين، حافظ العصر، وأمير المؤمنين في حديث سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم" (2).اهـ.

وقال شيخ الإِسلام بدمشق كمال الدين محمد بن حمزة الحسيني لمَّا ذكر محلة ميدان الحصا: "هذه المحلة خَصَّها الله تعالى بثلاثة

--------------------------------------------

(1) "الضوء اللامع" (1/ 166).

(2) "الكواكب النيرات" (ص 451)، حيث أشار إليه في خاتمة كتابه هذا.
আল-আলার নিকট তিনি যা শ্রবণ করেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: "শামায়েল", "মাশয়াখাতুল আশরাফ আল-ফাখর" এবং আবু দাউদ ও তিরমিযীর "সুনান" গ্রন্থদ্বয়।

তিনি আল-আরিহীর নিকট "সহিহ বুখারি" শ্রবণ করেছেন।

এছাড়াও তিনি যুরাইকের দুই পুত্র আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমানের নিকট শ্রবণ করেছেন। তিনি আলা ইবনে যাকনূনের সান্নিধ্যে বিশেষভাবে অবস্থান করেন, তাঁর নিকট কুরআন ও অন্যান্য বিষয় পাঠ করেন এবং তাঁর কন্যাকে বিবাহ করেন, পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে।

তিনি একাধিকবার শাফেয়ী মাজহাব গ্রহণ করেছিলেন।

অনেক আলেম তাঁর নিকট শিক্ষালাভ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু আল-বারাকাত মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল কায়্যাল এবং "আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস" গ্রন্থের লেখক শেখ আবদুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আন-নুআইমি আশ-শাফেয়ী।

 

‌‌তাঁর ইলম ও মর্যাদা:

তিনি আহলে সুন্নাতের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। ইবনে আরাবি ও ইবনে হামিদের মতো ব্যক্তিদের আকিদাহর কঠোর প্রতিবাদকারী ছিলেন। তিনি দুনিয়াদারদের থেকে বিমুখ ও অল্পে তুষ্ট থাকতেন।

সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাঁর প্রশংসা বহুল প্রচলিত (مستفيض)। আল-খুদাইরি তাঁকে একজন বিদগ্ধ প্রাজ্ঞ আলেম শেখ, নির্ভরযোগ্য (معتمد) ও পারদর্শী (متقن) সূক্ষ্ম গবেষক (محرر) হাদিস বিশারদ (محدث) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি তাঁর মুখ ও কলম দিয়ে এ শাস্ত্রের সেবা করেছেন এবং এর বহু গ্রন্থ অধ্যয়ন করেছেন।" সমাপ্ত (১)।

তাঁর ছাত্র আবু আল-বারাকাত ইবনুল কায়্যাল তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন, যুগের হাফেজ (حافظ) এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন (أمير المؤمنين في الحديث)।" সমাপ্ত (২)।

দামেস্কের শাইখুল ইসলাম কামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে হামজাহ আল-হুসাইনী যখন 'মায়দানুল হাসা' এলাকাটি উল্লেখ করেন, তখন বলেন: "আল্লাহ তাআলা এই এলাকাটিকে তিনটি বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) "আদ-দউ আল-লামি" (১/ ১৬৬)।

(২) "আল-কাওয়াকিবুন নাইয়িরাত" (পৃষ্ঠা ৪৫১), যেখানে তিনি তাঁর এই গ্রন্থের শেষে এ দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ৮)
أبارية، كل منهم انفرد بفنٍّ لا يُشارَك فيه، الشيخ إبراهيم الناجي بعلم الحديث … " اهـ (1).

وقال ابن العماد الحنبلي في وصفه: "الإِمام العالم" (2). اهـ.

 

‌‌مصنفاته:

للناجي رحمه الله مصنفات كثيرة، نذكرها مرتبةً على حسب حروف المعجم:

1 - إفادة المبتدي المستفيد في حكم إتيان المأموم بالتسميع وجهره به إذا بلَّغ وإسراره بالتحميد (3). (وهو رسالتنا هذه).

2 - الأمر بالمحافظة على الكتاب والسنَّة (4).

3 - تحذير الإِخوان فيما يورث الفقر والنسيان (5).

4 - تقريب المبطَّإ بترتيب رواة الموطإ.

ذكره الناجي نفسه في كتابه "عجالة الإِملاء" (6)، ووصفه بأنه جزء لطيف نفيس، وأنه جاوز برواة الموطإ الثمانين.

5 - ثلاثيات في الحديث، روايةً عن ابن حجر (7).

--------------------------------------------

(1) "شذرات الذهب" (8/ 195).

(2) "شذرات الذهب" (7/ 365).

(3) ذكره في "كشف الظنون" (1/ 131).

(4) ذكره في "هدية العارفين" (1/ 23).

(5) ذكره في "كشف الظنون" (1/ 355) وهدية العارفين" (1/ 23). وذكروه كذلك باسم: "قلائد العقيان فيما يورث الفقر والنسيان"، والظاهر أنهما كتاب واحد.

(6) (ص 75).

(7) ذكره في"كشف الظنون" (1/ 522).
...আবারিয়্যাহ, তাঁদের প্রত্যেকেই এমন এক একটি বিদ্যায় অনন্য ছিলেন যাতে অন্য কেউ তাঁদের সমকক্ষ ছিল না; শেখ ইব্রাহিম আন-নাজি হাদিসবিজ্ঞান (علم الحديث)-এ … " সমাপ্ত (১)।

এবং ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: "ইমাম ও আলিম" (২)। সমাপ্ত।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

আন-নাজি (রহিমাহুল্লাহ)-এর অনেক গ্রন্থ রয়েছে, আমরা সেগুলোকে বর্ণানুসারে সাজিয়ে উল্লেখ করছি:

১ - ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফিদ ফি হুকমি ইতিয়ানিল মা’মুম বিত তাসমি’ ওয়া জাহরিহি বিহি ইজা বাল্লাগা ওয়া ইসরারিহি বিত তাহমিদ (৩)। (আর এটিই আমাদের বর্তমান এই পুস্তিকা (رسالة))।

২ - আল-আমর বিল মুহাফাজতি আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ (৪)।

৩ - তাহজিরুল ইখওয়ান ফিমা ইউরিসুল ফাকরা ওয়ান নিসইয়ান (৫)।

৪ - তাকরিবুল মুবাত্তি’ বিতরতিবি রুয়াতিল মুয়াত্তি’।

আন-নাজি নিজেই তাঁর গ্রন্থ "উজালতুল ইমলা" (৬)-তে এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে একটি চমৎকার ও মূল্যবান সংকলন (جزء) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, এতে মুয়াত্তি-এর বর্ণনাকারী (رواة)-দের সংখ্যা আশি ছাড়িয়ে গেছে।

৫ - হাদিসের ক্ষেত্রে সুলাসিয়াত (ثلاثيات), যা ইবনে হাজার থেকে বর্ণিত (৭)।

--------------------------------------------

(১) "শাজারাতুজ জাহাব" (৮/ ১৯৫)।

(২) "শাজারাতুজ জাহাব" (৭/ ৩৬৫)।

(৩) "কাশফুজ জুনুন" (১/ ১৩১)-এ এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

(৪) "হাদিয়াতুল আরিফিন" (১/ ২৩)-এ এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

(৫) "কাশফুজ জুনুন" (১/ ৩৫৫) এবং "হাদিয়াতুল আরিফিন" (১/ ২৩)-এ এটি উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা একে "কালাইদুল উকিয়ান ফিমা ইউরিসুল ফাকরা ওয়ান নিসইয়ান" নামেও উল্লেখ করেছেন; তবে স্পষ্টত এ দুটি একই গ্রন্থ।

(৬) (পৃষ্ঠা ৭৫)।

(৭) "কাশফুজ জুনুন" (১/ ৫২২)-এ এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ৯)
6 - جزء في طرق حديث الإِنصات للجمعة.

ذكره في "العجالة" (1) وقال: "وقد صَنَّفْتُ في ألفاظ هذا الحديث جزءًا، أطرفته وطرقته من الكتب الستة والموطإ ومسندي الشافعي وأحمد، والدارمي، فلتراجعه فإنه مفيد جدًّا". اهـ.

7 - جزء في طرق حديث البركة في البكور.

ذكره في "العجالة" (2) وقال: "وقد عزوت هذه الرواياتِ كلَّها إلى مَن خرَّجها، وذكرت الحديث بالزيادة فيه وبدونها، في جزء لطيف يُرْحَل إليه". اهـ.

8 - جزء في طرق حديث رويفع بن ثابت: "من قال: اللَّهُمَّ صلِّ على محمد، وأَنْزِلْه المقعد المقرب عندك يوم القيامة، وجبت له الشفاعة" (3)

9 - جواب في إلياس.

ذكره في "العجالة" (4)، وقال: "وقد قررت نبوته [أي الخضر]، وذكرت القائلين بها من المتقدمين والمتأخرين وأتباعِ المذاهب الأربعة وغيرهم، ضمن جواب حافل في إلياس".اهـ.

10 - الجواب المجلي للفظ تشويش القارئ على المصلي (5).

--------------------------------------------

(1) (ص 185).

(2) (ص 336).

(3) ذكره في "العجالة" (ص 332).

(4) (ص 54، 55).

(5) ذكره في "هدية العارفين" (1/ 23).
৬ - জুমুআর নামাজের জন্য নীরব থাকা সংক্রান্ত হাদিসের সূত্র (طرق) বিষয়ক একটি পুস্তিকা।

তিনি "আল-উজালাহ" (১) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমি এই হাদিসের শব্দাবলি নিয়ে একটি পুস্তিকা রচনা করেছি, যেখানে আমি কুতুবুস সিত্তা, মুয়াত্তা, শাফেয়ি ও আহমদের মুসনাদ এবং দারেমি থেকে এর চমৎকার সব সূত্র (طرق) বর্ণনা করেছি; সুতরাং এটি দেখে নিন, কারণ এটি অত্যন্ত উপকারী।" সমাপ্ত।

৭ - ভোরে বরকত হওয়া সংক্রান্ত হাদিসের সূত্র (طرق) বিষয়ক একটি পুস্তিকা।

তিনি "আল-উজালাহ" (২) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমি এই সকল বর্ণনা (روايات) সেগুলোর সংকলকদের দিকে নিসবত করেছি এবং অতিরিক্ত অংশসহ ও অতিরিক্ত অংশ ছাড়া হাদিসটি একটি চমৎকার পুস্তিকায় উল্লেখ করেছি, যা অর্জনের জন্য সফর করা সার্থক।" সমাপ্ত।

৮ - রুয়াইফি ইবনে সাবিত বর্ণিত হাদিসের সূত্র (طرق) সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা: "যে ব্যক্তি বলে: হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন এবং কিয়ামতের দিন আপনার কাছে তাকে নিকটতম স্থানে আসীন করুন, তার জন্য সুপারিশ অবধারিত হয়ে যায়।" (৩)

৯ - ইলিয়াস (আ.) সম্পর্কে একটি উত্তর।

তিনি "আল-উজালাহ" (৪) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমি তার [অর্থাৎ খিজির (আ.)-এর] নবুয়ত সাব্যস্ত করেছি এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলিমগণ এবং চার মাযহাবের অনুসারীসহ অন্যদের মধ্যে যারা এই মত পোষণ করেছেন, তাদের কথা ইলিয়াস (আ.) সম্পর্কে একটি বিস্তারিত উত্তরের মধ্যে উল্লেখ করেছি।" সমাপ্ত।

১০ - আল-জাওয়াবুল মুজাল্লি লি-লাফজি তাশউইশিল ক্বারি আলাল মুসল্লি (সালাত আদায়কারীর ওপর ক্বারির বিঘ্ন সৃষ্টি সংক্রান্ত শব্দের স্পষ্ট উত্তর)। (৫)

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ১৮৫)।

(২) (পৃষ্ঠা ৩৩৬)।

(৩) তিনি এটি "আল-উজালাহ" (পৃষ্ঠা ৩৩২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৪) (পৃষ্ঠা ৫৪, ৫৫)।

(৫) এটি "হাদিয়াতুল আরিফিন" (১/ ২৩) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ১০)
11 - جواب الناجي عن الناسخ المنسوخ: هل يمكن جمعه (1)؟.

12 - حاشية على شرح مسلم للنووي (2).

13 - حاشية على كتاب الأذكار للنووي (3).

14 - حاشية على كتاب تجريد أسماء الصحابة للذهبي (4).

15 - حصول البغية، لسائل: هل لأحد في الجنة لحية؟ (5)

16 - رسالة في الشفاعة (6).

17 - شرح "القواعد المنظومة" لشهاب الدين الهائم (ت 887 هـ) (7).

18 - عجالة الإِملاء المتيسرة من التذنيب على ما وقع للحافظ المنذري من الوهم وغيره في كتابه الترغيب والترهيب (8).

--------------------------------------------

(1) ذكره في "الأعلام" (1/ 65) وأنه مخطوط في التيمورية.

(2) ذكره في "العجالة" (ص 468).

(3) ذكره في "العجالة" (ص 95، 156).

(4) ذكره في "العجالة" كما قال محقق "العجالة" حسين بن عكاشة (ص 8).

(5) ذكره في "كشف الظنون" (1/ 670) و"هدية العارفين" (1/ 23).

(6) ذكره في "كشف الظنون" (1/ 874).

(7) ذكره في "كشف الظنون" (2/ 1360).

(8) طُبِع -أولاً- مذيَّلاً بكتاب "الترغيب والترهيب" للمنذري، بتحقيق أيمن صالح، دار الحديث - (القاهرة، سنة 1415 هـ - 1994 م)، ثم طبع حديثاً (1419 هـ - 1998 م) بتحقيق أبي عبد الله حسين بن عكاشة - مكتبة الصحابة (الإِمارات - الشارقة) ومكتبة التابعين (القاهرة وعين شمس). وقد ذكر الناجي في مقدمة كتابه هذا (ص 22)، قوله: "وهذه النبذ التي تيسَّر إملاؤها، لعمري في الجملة مفيدة، بل فريدة، فتح الله بها وبغيرها، وتصلح أن تكون لهذا الكتاب -بل ولغيره- كالتهذيب، ولا بأس بتسميتها: عجالة =
১১ - আন-নাজীর উত্তর রহিতকারী (الناسخ) ও রহিতকৃত (المنسوخ) বিষয়ে: এটি কি একত্র করা সম্ভব (১)?

১২ - নববীর শারহু মুসলিমের ওপর একটি টীকা (২)।

১৩ - নববীর কিতাবুল আজকারের ওপর একটি টীকা (৩)।

১৪ - জাহাবীর কিতাবু তাজরিদি আসমাইস সাহাবার ওপর একটি টীকা (৪)।

১৫ - হুসুলুল বুগইয়াহ, প্রশ্নকারীর জন্য: জান্নাতে কি কারো দাড়ি থাকবে? (৫)

১৬ - শাফায়াত (সুপারিশ) বিষয়ক একটি পুস্তিকা (৬)।

১৭ - শিহাবুদ্দিন আল-হাইমের (মৃত্যু ৮৮৭ হিজরি) "আল-কাওয়াইদুল মানজুমাহ"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৭)।

১৮ - হাফিজ আল-মুনজিরীর তারগিব ওয়াত তারহিব গ্রন্থে সংঘটিত বিভ্রম (الوهم) ও অন্যান্য বিষয়ের পরিশিষ্ট হিসেবে সহজলভ্য শ্রুতিলিখনের সংক্ষিপ্ত সংকলন (৮)।

--------------------------------------------

(১) এটি "আল-আলাম" গ্রন্থে (১/৬৫) উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি তাইমুরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত আছে।

(২) এটি "আল-উজলাহ" গ্রন্থে (পৃ. ৪৬৮) বর্ণিত হয়েছে।

(৩) এটি "আল-উজলাহ" গ্রন্থে (পৃ. ৯৫, ১৫৬) বর্ণিত হয়েছে।

(৪) এটি "আল-উজলাহ" গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে, যেমনটি "আল-উজলাহ" গ্রন্থের মুহাক্কিক (গবেষক) হুসাইন বিন উকাশাহ (পৃ. ৮) বলেছেন।

(৫) এটি "কাশফুয যুনুন" (১/৬৭০) এবং "হাদিয়্যাতুল আরিফিন" (১/২৩) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(৬) এটি "কাশফুয যুনুন" (১/৮৭৪) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(৭) এটি "কাশফুয যুনুন" (২/১৩৬০) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(৮) এটি প্রথমত মুনজিরীর "তারগিব ওয়াত তারহিব" গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসেবে আইমান সালেহ-এর সম্পাদনায় দারুল হাদিস - (কায়রো, ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ) থেকে মুদ্রিত হয়েছে। অতঃপর সম্প্রতি (১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ) আবু আব্দুল্লাহ হুসাইন বিন উকাশাহ-এর সম্পাদনায় মাকতাবাতুস সাহাবাহ (সংযুক্ত আরব আমিরাত - শারজাহ) এবং মাকতাবাতুত তাবিঈন (কায়রো ও আইন শামস) থেকে মুদ্রিত হয়েছে। আন-নাজী তার এই গ্রন্থের (পৃ. ২২) ভূমিকায় বলেছেন: "শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে যা সহজতর হয়েছে সেই এই অংশগুলো আমার জীবনের অভিজ্ঞতায় সামগ্রিকভাবে অত্যন্ত উপকারী, বরং অনন্য। আল্লাহ এগুলোর মাধ্যমে এবং অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে দ্বীন উন্মুক্ত করেছেন। এটি এই কিতাবের জন্য—বরং অন্যান্য কিতাবের জন্যও—পরিমার্জন (التهذيب) হিসেবে উপযুক্ত হতে পারে, আর একে 'উজলাহ' (সংক্ষিপ্ত সংকলন) নামকরণ করতে কোনো বাধা নেই।"
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ১১)
19 - قلائد المرجان في الحديث الوارد كذبًا في الباذنجان (1).

20 - كفاية المسمَّع المصيخ في البطيخ (2).

21 - كنز الراغبين العفاة (3) في الرمز إلى المولد المحمدي والوفاة (4).

22 - مصنف في صلاة الضحى (5).

23 - مصنف في مؤذني النبي صلى الله عليه وسلم (6).

24 - المعين على فعل سنَّة التلقين (7).

25 - نصيحة الأحباب عن أكل التراب (8).

 

‌‌وفاته:

توفي الناجي رحمه الله تعالى بدمشق، في رمضان سنة تسعِمائة، غفر الله تعالى له برحمته، وأسكنه دار كرامته.

--------------------------------------------

= الإِملاء … " وذكر الاسم المطوَّل المذكور هنا.

(1) ذكره في "كشف الظنون" (2/ 1355)، و"هدية العارفين" (1/ 23).

(2) ذكره كذلك في "هدية العارفين" (1/ 23) وذكره في "كشف الظنون" باسم: "كفاية المصيخ وهو المسمع في البطيخ".

(3) جمع عافٍ، وهو كل طالب فضل أو رزق. انظر: "القاموس المحيط" (ص 1693).

(4) ذكره في "كشف الظنون" (1517)، و"هدية العارفين" (1/ 23). وذكر في "الأعلام" (1/ 65) أنه مخطوط في سوهاج (104 حديث).

(5) صدر هذا الكتاب بعناية الأخوين الكريمين الشيخ نظام يعقوبي والشيخ رمزي دمشقية، وطبع في دار البشائر الإِسلامية، سنة 1419 هـ.

(6) ذكره في "العجالة" (ص 168).

(7) ذكره في "كشف الظنون" (2/ 1745)، و"هدية العارفين" (1/ 23).

(8) ذكره في "كشف الظنون" (2/ 1957)، و"هدية العارفين" (1/ 23).
১৯ - কালাইদ আল-মারজান ফি আল-হাদিস আল-ওয়ারিদ মিথ্যা (كذبًا) ফিল বাদিনজান (বেগুন সম্পর্কে বর্ণিত মিথ্যা হাদিসসমূহ) (১)।

২০ - কিফায়াতুল মুসাম্মা আল-মুসিখ ফিল বিত্তিখ (তরমুজ প্রসঙ্গে শ্রবণকারীর জন্য পর্যাপ্ততা) (২)।

২১ - কানজুল রাগিরিন আল-উফাহ (৩) ফির রাময ইলাল মাওলিদ আল-মুহাম্মাদী ওয়াল ওয়াফাত (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্ম ও ওফাত নির্দেশক চিহ্নসমূহ প্রসঙ্গে অনুগ্রহপ্রার্থীদের ভাণ্ডার) (৪)।

২২ - চাশতের সালাত বিষয়ক একটি মুসান্নাফ (৫)।

২৩ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুয়াজ্জিনদের সম্পর্কে একটি মুসান্নাফ (৬)।

২৪ - তালকিনের সুন্নাত পালনে সহায়িকা (৭)।

২৫ - মাটি ভক্ষণ সম্পর্কে বন্ধুদের প্রতি উপদেশ (৮)।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

আন-নাজি রহমাতুল্লাহি তাআলা নয়শ হিজরি সনের রমজান মাসে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমতের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁকে জান্নাতে (দারুল কারামাহ) স্থান দিন।

--------------------------------------------

= আল-ইমলা... এবং এখানে বর্ণিত দীর্ঘ নামটির উল্লেখ করেছেন।

(১) এটি 'কাশফুন জুনুন' (২/ ১৩৫৫) এবং 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (১/ ২৩)-এ উল্লিখিত হয়েছে।

(২) এটি একইভাবে 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (১/ ২৩)-এ উল্লিখিত হয়েছে এবং 'কাশফুন জুনুন'-এ 'কিফায়াতুল মুসিখ ওয়া হুয়াল মুসাম্মা ফিল বিত্তিখ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

(৩) এটি 'আফিন'-এর বহুবচন, যার অর্থ হলো অনুগ্রহ বা জীবিকা অন্বেষণকারী। দেখুন: 'আল-কামুস আল-মুহিত' (পৃষ্ঠা ১৬৯৩)।

(৪) এটি 'কাশফুন জুনুন' (১৫১৭) এবং 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (১/ ২৩)-এ উল্লিখিত হয়েছে। 'আল-আলাম' (১/ ৬৫)-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি সোহাগে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি (১০৪টি হাদিস সম্বলিত)।

(৫) এই গ্রন্থটি দুই সম্মানীয় ভাই শায়খ নিজাম ইয়াকুবি এবং শায়খ রামজি দামেশকিয়্যাহর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি ১৪১৯ হিজরি সনে দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

(৬) এটি 'আল-উজাহলা' (পৃষ্ঠা ১৬৮)-এ উল্লিখিত হয়েছে।

(৭) এটি 'কাশফুন জুনুন' (২/ ১৭৪৫) এবং 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (১/ ২৩)-এ উল্লিখিত হয়েছে।

(৮) এটি 'কাশফুন জুনুন' (২/ ১৯৫৭) এবং 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (১/ ২৩)-এ উল্লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌وصف النسخة المعتمدة

اعتمدت في إخراج هذه الرسالة على نسخة مكتبة الملك فهد الوطنية بالرياض -وهي مشتراة مِن أحد الورَّاقين الدمشقيين، ولم تُرَقَّمْ بعد- ضمن مجموع للعلَاّمة الحافظ برهان الدين إبراهيم بن محمد الدمشقي، المعروف بالناجي. والمجموع كله بخط إبراهيم بن عثمان بن محمَّد، في شهر رمضان، سنة (878 هـ)، وهذا يدل على أنها منسوخة في حياة المصنَّف المتوفى سنة (900 هـ)، وقد صرَّح الناسخ بذلك حيث قال عن المصنِّف: "حفظه الله".

وتقع مخطوطتنا في أربع ورقات، وعدد الأسطر فيها (21) سطرًا، وهي بخطَّ نسخِىٍّ واضح.

وقد قمت بعزو الآيات الكريمة إلى سورها وترقيمها، وعزو الأحاديث إلى مخرِّجيها، والأقوال إلى مصادرها، والتعليق على ما يحتاج إلى تعليق، على وجه الاختصار.

ولا يفوتني أن أشكر أخي المفضال، الشيخ المحقق محمد بن ناصر العجمي، على ما أكرمني به من تهيئة المخطوطة، فجزاه الله خيرًا.

وصلَّى الله على نبينا محمَّد، وعلى آله وصحبه وسلَّم.

* * *
গৃহীত পাণ্ডুলিপির বিবরণ

এই রিসালাটি (পুস্তিকা) সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি রিয়াদের কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এটি দামেস্কের একজন পাণ্ডুলিপি বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত এর কোনো নম্বর প্রদান করা হয়নি। এটি আল্লামা হাফিজ (الحافظ) বুরহান উদ্দিন ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ আদ-দামেশকি—যিনি আন-নাজি নামে পরিচিত—তাঁর একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। সম্পূর্ণ সংকলনটি ৮৭৮ হিজরি সনের রমজান মাসে ইব্রাহিম ইবন উসমান ইবন মুহাম্মদ কর্তৃক স্বহস্তে লিখিত। এটি প্রমাণ করে যে, পাণ্ডুলিপিটি লেখকের জীবদ্দশায় প্রতিলিপি করা হয়েছে, যিনি ৯০০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। অনুলিপিকারক স্বয়ং লেখকের ব্যাপারে "আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন" বলার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

আমাদের আলোচ্য পাণ্ডুলিপিটি চারটি পত্র (ফোলিও) বিশিষ্ট এবং এতে লাইনের সংখ্যা ২১টি। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত।

আমি এই পুস্তিকায় ব্যবহৃত পবিত্র আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরা ও নম্বরসহ উল্লেখ করেছি, হাদিসগুলোকে তাদের মূল সংকলনকারীদের (مخرجيها) উদ্ধৃতিসহ সন্নিবেশ করেছি এবং বিভিন্ন উক্তিকে তাদের মূল উৎসের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি। এছাড়া প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংক্ষেপে টীকা প্রদান করেছি।

আমার পরম শ্রদ্ধেয় ভাই শায়খ মুহাক্কিক (المحقق) মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমিকে ধন্যবাদ জানাতে আমি ভুলব না; কারণ তিনি আমাকে এই পাণ্ডুলিপিটি সরবরাহ করে ধন্য করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সহচরের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

* * *
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ১৩)
مخطوطااات

ممم

صورة الصفحة الأولى من المخطوطة
পাণ্ডুলিপি

ম ম ম

পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ১৪)
صورة الصفحة الأخيرة من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (29)

 

إفادة المبتدي المستفيد فى حكم إتيان المأموم بالتسميع وجهره به إذا بلغ وإسراره بالتحميد

 

تأليف

الحافظ برهان الدين إبراهيم بن محمد الدمشقي

المعروف بالناجي (810 - 900 هـ)

 

تحقيق

عبد الرؤوف بن محمد الكمالي
মাসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠক (২৯)

 

মুক্তাদির 'তাসমি' পাঠ করা, অন্যকে শোনানোর প্রয়োজনে তা উচ্চস্বরে বলা এবং 'তাহমিদ' নিভৃতে পাঠ করার বিধান প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় ফায়দা

 

গ্রন্থনায়

হাফিজ (الحافظ) বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি

যিনি আন-নাজি নামে সুপরিচিত (৮১০ - ৯০০ হিজরি)

 

সম্পাদনায়

আবদুর রউফ বিন মুহাম্মদ আল-কামালি
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله على ما أنعم، وصلَّى الله على سيدنا محمد وعلى آل محمد وصحبه وسَلَّم، وبعد:

فإنَّ السنَّة عند إمامنا الشافعي رضي الله عنه لكل مُصل -من إمام ومأموم ومنفرد- إذا ابتدأ برفع رأسه من الركوع أن يقول: "سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَه"، فإذا انتصب قائمًا، واعتدل بعوده إلى الهيئةِ التي كان عليها قبل رُكُوعِه، قال: "ربَّنا لك الحمد"؛ لما ثبت في الصحيحين (1) وغيرِهما من حديث أبي هريرة: "أنه عليه الصلاة والسلام كان يقولُ: (سمع الله لمن حَمِدَه) حين يَرْفَعُ صُلْبَهُ من الركوع، ثم يقول وهو قائم: (ربنا ولك [الحمد] (2) ". وعند البخاري: "ربنا لك الحمد" (3)، وقال بعض رواته: "ولك الحمد" (4).

--------------------------------------------

(1) "صحيح البخاري" (2/ 272) - الفتح، و"صحيح مسلم" (1/ 293، 294).

(2) هذه الكلمة سقطت من المخطوط.

(3) "صحيح البخاري" (2/ 272).

(4) وهو الذي اتفق عليه أكثر الرواة. قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "قال العلماء: الرواية بثبوت الواو أرجح، وهي [أي الواو] زائدة، وقيل: عاطفة على محذوف، وقيل: هي واو الحال. قاله ابن الأثير، وضعَّف ما =
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)

আল্লাহ তাআলা যা নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আমাদের ইমাম শাফিঈ (রা.)-এর নিকট ইমাম, মুক্তাদি ও একাকী সালাত আদায়কারী প্রত্যেক মুসল্লির জন্য সুন্নাহ (سنة) হলো—যখন সে রুকু থেকে মাথা উঠাতে শুরু করবে তখন বলবে: "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" (আল্লাহ তাঁর প্রশংসা শ্রবণ করেন যে তাঁর প্রশংসা করে)। অতঃপর যখন সে সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং রুকুর পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে এসে স্থির হবে (এতেদাল করবে), তখন বলবে: "রব্বানা লাকাল হামদ" (হে আমাদের রব, সকল প্রশংসা আপনারই); কারণ সহীহাইন (১) ও অন্যান্য কিতাবে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে এটি সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যে, "রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন রুকু থেকে তাঁর পিঠ সোজা করতেন তখন বলতেন: (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ), অতঃপর দণ্ডায়মান অবস্থায় বলতেন: (রব্বানা ওয়া লাকাল [হামদ]) (২)"। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে: "রব্বানা লাকাল হামদ" (৩), এবং এর কিছু বর্ণনাকারী (رواة) বলেছেন: "ওয়া লাকাল হামদ" (৪)।

--------------------------------------------

(১) "সহীহ বুখারী" (২/ ২৭২) - ফাতহুল বারী, এবং "সহীহ মুসলিম" (১/ ২৯৩, ২৯৪)।

(২) এই শব্দটি পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ (سقطت) পড়েছে।

(৩) "সহীহ বুখারী" (২/ ২৭২)।

(৪) এটিই সেই পাঠ যার ওপর অধিকাংশ বর্ণনাকারী (رواة) ঐকমত্য পোষণ করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন: "উলামাগণ বলেছেন: ‘ওয়াও’ (و) যুক্ত বর্ণনাটিই অধিকতর অগ্রগণ্য (أرجح), এবং এটি [অর্থাৎ ওয়াও] অতিরিক্ত (زائدة)। কেউ কেউ বলেছেন এটি একটি ঊহ্য পদের ওপর সংযোজক (عاطفة), আবার কেউ বলেছেন এটি অবস্থাজ্ঞাপক ওয়াও (واو الحال)। ইবনে আসীর (রহ.) এমনটি বলেছেন, এবং তিনি সেই মতটিকে দুর্বল (ضعف) করেছেন যা ="
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وسيأتي التَّعَرُّضُ لِلَفْظِ التحميد بزيادةٍ في التسميع، وإنما المقصود هنا تقريرُ أنه لا خلاف في مذهبه في الجمع بينهما كما نقله شيخ المذهب محيي الدين النووي، في كتابه: "شرح المهذب" (1) وغيره عن الشافعي وأصحابه، وقال: "هذا لا خلاف فيه عندنا"، وقرَّر أنَّ التسميعَ ذِكْرُ رفعِ الرأس من الركوع، والتحميدَ بعده ذكرُ الاعتدالِ منه.

وقد روى البخاري ومسلم وغيرهما من الأئمة، من حديث جماعات من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين (2): أن الشارع صلوات الله وسلامه عليه كان يجمع بينهما في صلاة الفرض والتطوع (3).

--------------------------------------------

= عداه. اهـ. "فتح الباري" (2/ 273).

والتقدير على كون الواو عاطفة: (ربَّنا اسْتَجِبْ لنا -أو ما قارب ذلك- ولك الحمد)، ففيه زيادة معنى؛ لأنه يشتمل على معنى الدعاء ومعنى الخبر. وأمَّا بإسقاط الواو، فهو يدل على أحد هذين المعنين فقط. انظر: "الإِحكام" لابن دقيق العيد (1/ 204).

(1) الذي أسماه بـ "المجموع" (3/ 391) ط المطيعي-مكتبة الإِرشاد- جدة.

(2) منهم:

1 - أبو هريرة رضي الله عنه، أخرجه البخاري (2/ 272)، ومسلم (1/ 293، 294).

2 - ابن عمر رضي الله عنهما، أخرجه البخاري (2/ 221).

3 - ابن أبي أوفى رضي الله عنهما، أخرجه مسلم (1/ 346).

(3) أي مِن حيثُ إطلاقُ الروايات، وإلَاّ فليس هناك روايةٌ خاصَّة في التطوع. ثم إن ما ورد مِن وصف الصحابة لصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فالظاهر أنه وصفٌ لحال إمامته؛ لأنها الحالة الغالبة على النبي صلى الله عليه وسلم، كما ذكره ابن دقيق العيد رحمه الله في "الإحكام" (1/ 222).
তাসমি (تسميع)-এর সাথে প্রশংসা বাক্য (تحميد)-এর শব্দাবলি বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে। তবে এখানে উদ্দেশ্য হলো তাঁর মাযহাব (مذهب)-এ এই দুটির সমন্বয় করার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই তা সাব্যস্ত করা, যেমনটি মাযহাবের শায়খ মুহিউদ্দীন আন-নববী তাঁর কিতাব "শরহুল মুহাজ্জাব" এবং অন্যান্য কিতাবে শাফেয়ী ও তাঁর অনুসারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমাদের নিকট এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।" তিনি আরও সাব্যস্ত করেছেন যে, তাসমি (تسميع) হলো রুকু (ركوع) থেকে মাথা তোলার জিকির (ذكر), আর প্রশংসা বাক্য (تحميد) হলো এর পরবর্তী সোজা হয়ে দাঁড়ানো (اعتدال)-এর জিকির (ذكر)।

ইমাম বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্য ইমামগণ একদল সাহাবী (صحابة) (رضوان الله عليهم أجمعين)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, শরীয়ত প্রদাতা (صلوات الله وسلامه عليه) ফরজ (فرض) এবং নফল (تطوع) উভয় সালাতে এই দুটির সমন্বয় করতেন।

--------------------------------------------

= অতিক্রান্ত হয়েছে। দ্রষ্টব্য: "ফাতহুল বারী" (২/ ২৭৩)।

'ওয়াও' অক্ষরটি সংযোজক অব্যয় হওয়ার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা হলো: (হে আমাদের রব, আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন - অথবা এই জাতীয় কিছু - এবং আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা), এতে অর্থের আধিক্য রয়েছে; কারণ এটি দোয়া (دعاء) এবং সংবাদ (خبر) উভয় অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'ওয়াও' বাদ দিলে এটি কেবল এই দুটি অর্থের একটিকে নির্দেশ করে। দেখুন: ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এর "আল-ইহকাম" (১/ ২০৪)।

(1) যার নাম তিনি দিয়েছেন "আল-মাজমু" (৩/ ৩৯১), আল-মুতিয়ী সংস্করণ-মাকতাবাতুল ইরশাদ-জেদ্দা।

(2) তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

1 - আবু হুরায়রা (رضي الله عنه), এটি বের করেছেন বুখারি (২/ ২৭২) ও মুসলিম (১/ ২৯৩, ২৯৪)।

2 - ইবনে উমর (رضي الله عنهما), এটি বের করেছেন বুখারি (২/ ২২১)।

3 - ইবনে আবি আওফা (رضي الله عنهما), এটি বের করেছেন মুসলিম (১/ ৩৪৬)।

(3) অর্থাৎ বর্ণনার ব্যাপকতার দিক থেকে, নতুবা নফল (تطوع) সালাতের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো বর্ণনা নেই। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে সাহাবীগণের বর্ণনার ধরন থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি তাঁর ইমামতি (إمامة)-কালীন অবস্থার বর্ণনা; কারণ এটিই ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকাংশ সময়কার অবস্থা, যেমনটি ইবনে দাকীক আল-ঈদ (رحمه الله) "আল-ইহকাম" (১/ ২২২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد صح عنه في البخاري (1) وغيره أنه قال: "صلوا كما رأيتموني أصلي"، كذا قرَّره النووي في "شرح المهذب" (2) وغيره، وفي مواضع من "شرح مسلم" (3)، والاستدلالُ به ظاهر.

وقال الإِمام البخاري: "باب ما يقول الإِمام ومَن خلفَه إذا رفع رأسه من الركوع" (4). ثم روى بسنده الصحيح المشهور إلى أبي هريرة قال: "كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا قال: (سمع الله لمن حمده)، قال: (اللَّهُمَّ ربنا ولك الحمد) ".

وروى الحافظ أبو بكر ابن أبي شيبة في "مصنفه" (5) عن عليّ بن أبي طالب: "أنه كان إذا رفع رأسه من الركوع قال: سمع الله لمن حمده، اللهم ربنا لك الحمد، بحولك وقوتك أقوم وأقعد".

وقد ورد في جمع المأموم بينهما أيضاً ما سنذكره.

--------------------------------------------

(1) "صحيح البخاري" (2/ 111).

(2) (3/ 393).

(3) (4/ 193).

(4) "صحيح البخاري" (2/ 282).

(5) (1/ 247)، وإسناده ضعيف؛ فيه: أبو إسحاق، وهو السَّبيعي، عمرو بن عبد الله، اختلط بأَخَرَةٍ، كما أنه مشهور بالتدليس، وقد عنعن هنا. انظر: "تقريب التهذيب" (ص 423 - ط محمد عوامة)، و"طبقات المدلسين" (ص 42). وفي إسناده -أيضًا- الحارث، وهو الأعور، قال عنه في "تقريب التهذيب" (ص 146): "كذَّبه الشعبي في رأيه، ورُمِيَ بالرفض، وفي حديثه ضعف".اهـ.
এবং বুখারি (১) ও অন্যান্য কিতাবে তাঁর থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ", ইমাম নববী 'শারহুল মুহাযযাব' (২) ও অন্যান্য কিতাবে এবং 'শারহুল মুসলিম'-এর (৩) বিভিন্ন স্থানে এটি এভাবেই সাব্যস্ত করেছেন এবং এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা সুস্পষ্ট।

ইমাম বুখারি বলেন: "পরিচ্ছেদ: ইমাম এবং তাঁর পেছনের মুক্তাদি যখন রুকু থেকে মাথা তোলে তখন কী বলবে" (৪)। এরপর তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ সহিহ (الصحيح) সনদে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বলতেন: (সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ), তখন বলতেন: (আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ)।"

হাফেজ আবু বকর ইবনে আবি শায়বা তাঁর 'মুসান্নাফ'-এ (৫) আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন বলতেন: সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ, বি-হাওলিকা ওয়া কুওয়্যাতিকা আক্বুমু ওয়া আক্বউদ (আপনার শক্তি ও সামর্থ্যে আমি দাঁড়াই ও বসি)।"

মুক্তাদির ক্ষেত্রেও এই দুটির সমন্বয়ের ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তা আমরা সামনে উল্লেখ করব।

--------------------------------------------

(১) "সহিহ বুখারি" (২/ ১১১)।

(২) (৩/ ৩৯৩)।

(৩) (৪/ ১৯৩)।

(৪) "সহিহ বুখারি" (২/ ২৮২)।

(৫) (১/ ২৪৭); এর সনদ দুর্বল (ضعيف); এতে রয়েছেন আবু ইসহাক, তিনি হলেন সাবিয়ি আমর ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি শেষ বয়সে স্মৃতিবিভ্রমে (اختلط) আক্রান্ত হয়েছিলেন, যেমন তিনি তাদলীস (التدليس) করার জন্যও প্রসিদ্ধ এবং এখানে তিনি 'আন' (عنعن) শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: "তাকরিবুত তাহযিব" (পৃষ্ঠা ৪২৩ - মুহাম্মদ আওয়ামা সংস্করণ) এবং "তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন" (পৃষ্ঠা ৪২)। এর সনদে আরও রয়েছেন হারিস, যিনি আল-আওয়ার নামে পরিচিত, "তাকরিবুত তাহযিব"-এ (পৃষ্ঠা ১৪৬) তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "ইমাম শাবি তাঁর মতামতের ক্ষেত্রে তাঁকে মিথ্যাবাদী (كذَّبه) বলেছেন এবং তাঁর প্রতি রাফেযি (الرفض) হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে, আর তাঁর হাদিসে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২০)
قال الشيخ ولي الدين (1) في "تكملة شرح تقريب الأسانيد" (2) الذي عمله له والده زين الدين (3) في الكلام على حديث: "إنما جعل الِإمامُ لِيُؤْتَمَّ به" (4): "مع (5) أن الاعتماد على قوله عليه الصلاة والسلام: "صَلُّوا كما رأيتموني أصلِّي" (6) ". اهـ.

فروى الحافظان أبو الحسن الدارقطني وأبو بكر البيهقي في "خلافيَّاته" (7) عن سعيد المَقْبُري: "أنَّه سمع أبا هريرة وهو إمام للناس في الصلاة يقول: (سمع الله لمن حمده، اللَّهُمَّ ربنا لك الحمد، الله أكبر)، يرفع بذلك صوته ونتابعه معًا".

وسيأتي أنه يستحب للإِمام أو المبلِّغ عنه الجهرُ بالتسميعِ وتكبيرِ

--------------------------------------------

(1) هو أبو زرعة، أحمد بن عبد الرحيم العراقي (ت 826 هـ).

(2) (2/ 331). وقد أسمى والدُه الشرح المذكور بـ "طرح التثريب في شرح التقريب" الذي أكمله ولده من بعده، رحمهما الله جميعًا.

(3) هو أبو الفضل، عبد الرحيم بن الحسين العراقي (ت 806 هـ).

(4) الحديث مروي عن جماعة من الصحابة، منهم أبو هريرة رضي الله عنه، أخرجه عنه البخاري (2/ 109)، ومسلم (1/ 309، 310).

(5) قَبْلَهُ في الشرح المذكور: "وقد ورد في جمع المأموم بينهما أحاديث في إسنادها ضعف، فنذكرها، مع أن الاعتماد … " إلخ.

(6) أخرجه البخاري في مواضع من "صحيحة"، من رواية مالك بن الحويرث رضي الله عنه، منها (2/ 111).

(7) لم أجده في "سنن الدارقطني"، والذي في "طرح التثريب" (2/ 332) هو عزوه للبيهقي فقط، وهو الصواب إن شاء الله، وهو في "سننه الكبرى" (2/ 96).
শেখ ওয়ালীউদ্দীন (১) "তাকমিলাতু শারহি তাকরীবিল আসানিদ" (২) নামক গ্রন্থে—যা তার পিতা যাইনুদ্দীন (৩) তার জন্য রচনা করেছিলেন—"ইমাম নির্ধারিত হন কেবলমাত্র তাকে অনুসরণ করার জন্য" (৪) শীর্ষক হাদিসটির আলোচনায় বলেন: "যদিও (৫) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: 'তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ' (৬)-এর ওপর নির্ভর করাই মূল ভিত্তি।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

দুই হাফেজ আবু হাসান আদ-দারা কুতনি এবং আবু বকর আল-বাইহাকি তার "খিলাফিয়্যাত" (৭) গ্রন্থে সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লোকদের ইমাম হিসেবে সালাত আদায়কালে বলতে শুনেছেন: (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ, আল্লাহু আকবার), তিনি এর মাধ্যমে তার আওয়াজ উচ্চস্বরে (جهر) ব্যক্ত করতেন এবং আমরা সকলে একত্রে তাকে অনুসরণ করতাম।"

সামনে আসবে যে, ইমাম বা তার পক্ষ থেকে ঘোষণাকারীর জন্য উচ্চস্বরে (جهر) তাসমি (تسميع) এবং তাকবির (تكبير) বলা মুস্তাহাব (مستحب)...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু যুরআহ, আহমদ ইবনে আবদুর রহীম আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮২৬ হি.)।

(২) (২/ ৩৩১)। তার পিতা উক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নামকরণ করেছিলেন "তরহুত তাতরীব ফি শারহিত তাকরীব", যা তার পর তার পুত্র সম্পন্ন করেন; আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।

(৩) তিনি হলেন আবুল ফজল, আবদুর রহীম ইবনে আল-হুসাইন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হি.)।

(৪) হাদিসটি একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাদের মধ্যে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুও রয়েছেন; ইমাম বুখারি (২/ ১০৯) এবং ইমাম মুসলিম (১/ ৩০৯, ৩১০) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) উক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর পূর্বে রয়েছে: "মুকতাদি কর্তৃক এ দুইটির সমন্বয় করার ব্যাপারে এমন কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেগুলোর সনদে (إسناد) দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, তাই আমরা সেগুলো উল্লেখ করছি, যদিও নির্ভরতা … " ইত্যাদি।

(৬) ইমাম বুখারি তার "সহিহ বুখারি" গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনা থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো (২/ ১১১)।

(৭) আমি এটি "সুনানে দারা কুতনি"-তে খুঁজে পাইনি। তবে "তরহুত তাতরীব" (২/ ৩৩২) গ্রন্থে যা আছে তা হলো এটি কেবলমাত্র বাইহাকির দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ এটিই সঠিক; আর এটি তার "সুনানে কুবরা" (২/ ৯৬) গ্রন্থে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২১)
الانتقالات بحيث يسمع المأموم.

وقالَ النووي في "شرح مسلم" (1): "باب إثبات التكبير في كل خفض ورفع إلَاّ في رفعه من الركوع؛ فإنه يقول فيه: (سمع الله لمن حمده) ".

قال البيهقي: ورُوِي عن أبي بُردة بنِ أبي موسى -وهو الأشعري التابعي- أنه كان يقول خلف الإِمام: (سمع الله لمن حمده، ربنا لك الحمد).

وقال عطاء بن أبي رَبَاح: يجمعهما مع الإِمام أحبُّ إلى.

وروى البيهقي والدارقطني (2) بإسناد صحيح عن ابن عون قال: قال ابن سيرين: "إذا قال الإِمام: (سمع الله لمن حمده)، قال من خلفه: (سمع الله لمن حمده) ". زاد البيهقي: (اللَّهُمَّ ربنا لك الحمد).

إلى غير ذلك.

وروى الحافظ الدارقطني في "سننه" (3) من طريق عمرو بن شَمِر، عن جابر -وهو الجُعْفِيُّ- وهما واهيان (4)، عن عبد الله بن بريدة، عن

--------------------------------------------

(1) (4/ 97).

(2) "سنن الدارقطني" (1/ 345)، ومن طريقه البيهقي في "سننه" (2/ 96).

(3) (1/ 339)، وكذا أخرجه البيهقي في "الخلافيات" -كما في "طرح التثريب" (2/ 331) - وقال: "وفيه جابر الجُعْفي، لا يحتج به، ومن دونه أكثرهم ضعفاء". اهـ.

(4) أما عمرو بن شَمِر، فهو الجُعفي الكوفي الشيعي، أبو عبد الله. قال عنه =
স্থানান্তরের ধ্বনিগুলো এমনভাবে প্রদান করা যেন মুক্তাদি শুনতে পায়।

এবং ইমাম নববী "শারহু মুসলিম" (১)-এ বলেছেন: "রুকু ও সিজদায় অবনত হওয়া এবং সেখান থেকে মাথা তোলার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকবির সাব্যস্ত করার অধ্যায়; তবে রুকু থেকে ওঠার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম; কেননা তিনি তখন বলেন: (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ)"।

বায়হাকি বলেন: আবু বুরদাহ ইবনে আবি মুসা—যিনি একজন আশআরি তাবিঈ (تابعي)—থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইমামের পেছনে বলতেন: (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা লাকাল হামদ)।

আতা ইবনে আবি রাবাহ বলেন: ইমামের সাথে এই উভয়টি একত্র করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।

বায়হাকি এবং দারা কুতনি (২) একটি সহিহ (صحيح) সনদে ইবনে আউন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে সিরিন বলেছেন: "যখন ইমাম বলেন: (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ), তখন তাঁর পেছনের মুক্তাদিও বলে: (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ)"। বায়হাকি আরও বৃদ্ধি করেছেন: (আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ)।

ইত্যাদি আরও অন্যান্য।

হাফিজ দারা কুতনি তাঁর "সুনান" (৩)-এ আমর ইবনে শামির-এর সূত্রে জাবির—যিনি আল-জু'ফি—থেকে বর্ণনা করেছেন; আর তাঁরা উভয়ই অত্যন্ত দুর্বল (واهيان) (৪), তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি...

--------------------------------------------

(১) (৪/ ৯৭)।

(২) "সুনান দারা কুতনি" (১/ ৩৪৫), এবং তাঁর সূত্র ধরে বায়হাকি তাঁর "সুনান" (২/ ৯৬)-এ উল্লেখ করেছেন।

(৩) (১/ ৩৩৯), একইভাবে বায়হাকি "আল-খিলাফিয়াত"-এ এটি বর্ণনা করেছেন—যেমনটি "তারহুত তাসরিব" (২/ ৩৩১)-এ রয়েছে—এবং তিনি বলেন: "এতে জাবির আল-জু'ফি রয়েছেন, যাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (لا يحتج به) করা যায় না এবং তাঁর পরবর্তী বর্ণনাকারীদের অধিকাংশই দুর্বল (ضعفاء)"। সমাপ্ত।

(৪) আর আমর ইবনে শামির-এর ব্যাপারে বলা যায়, তিনি হলেন জু'ফি, কুফি ও শিয়া মতাবলম্বী, উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে =
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২২)
أبيه قال: قال لنا النبي صلى الله عليه وسلم: "يا بُريدة، إذا رفعت رأسك من الركوع فقل: (سمع الله لمن حمده، اللَّهُمَّ ربنا لك الحمد مِلْءَ السماوات ومِلْءَ الأرض ومِلْءَ ما شئت من شيء بعد) ".

وجه الدلالة منه: أمره بالجمع بين التسميع والتحميد.

ورَوَى -أيضًا- (1) من طريق عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان -وفيه لينٌ (2) - عن عبد الله بن الفضل، عن الأعرج، عن أبي هريرة، قال: "كنا إذا صلينا خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: (سمع الله لمن حمده)، قال مَن وراءه: (سمع الله لمن حمده) ". لكنه قال: المحفوظ لهذا الإِسناد إنما هو: "إذا قال الإِمام: (سمع الله لمن حمده) فليقل من وراءَه: (اللَّهُمَّ ربنا لك الحمد) ".

وسيأتي الجواب عنه وعن نظائره فيما بعد إن شاء الله.

وقد وافق الشافعيَّ على أن المأموم يأتي بالتسميع والتحميد كالإِمام -غيرُ من تقدم- اثنان من المالكيَّةِ.

قال الشيخ سراج الدين بنُ الملَقِّن في شرح حديث: "إنما جُعِل

--------------------------------------------

= البخاري: "منكر الحديث". وقال النسائي والدارقطني وغيرهما: "متروك الحديث". انظر: "ميزان الاعتدال" (3/ 268).

وأما جابر الجُعْفي، فقد قال عنه في "التقريب" -أيضًا- (ص 137): "ضعيف رافضي". اهـ.

(1) "سنن الدارقطني" (1/ 340).

(2) قال عنه في "تقريب التهذيب" (ص 337): "صدوق يخطئ، ورمي بالقدر، وتغير بأَخَرة". اهـ.
তাঁর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন: "হে বুরাইদাহ, যখন তুমি রুকু থেকে মাথা তুলবে তখন বলো: (সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদু মিলআস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরদি ওয়া মিলআ মা শি'তা মিন শাইয়িন বা'দু)।"

এর থেকে দলিল গ্রহণের দিক হলো: এটি 'তাসমি' (সামি'আল্লাহু বলা) এবং 'তাহমিদ' (হামদ পাঠ করা)-কে একত্রে আদায় করার নির্দেশ প্রদান করে।

এবং আরও বর্ণিত হয়েছে (১) আব্দুর রহমান বিন সাবিত বিন সাওবানের সূত্রে—যাঁর মাঝে কিছুটা শিথিলতা (لين) রয়েছে (২)—আব্দুল্লাহ বিন ফাদল থেকে, তিনি আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে সালাত আদায় করতাম এবং তিনি বলতেন: (সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ), তখন তাঁর পেছনে যারা থাকত তারাও বলত: (সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ)।" কিন্তু তিনি বলেছেন: এই সনদের ক্ষেত্রে সংরক্ষিত (محفوظ) বর্ণনাটি হলো: "ইমাম যখন বলবেন: (সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ), তখন তাঁর পেছনের লোকেরা বলবে: (আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদু)।"

ইনশাআল্লাহ এর এবং এর সমজাতীয় বর্ণনার উত্তর পরবর্তীতে আসবে।

ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর এই মতের সাথে—যে মুক্তাদিও ইমামের মতো তাসমি ও তাহমিদ উভয়টি আদায় করবে—ইতোপূর্বে উল্লিখিত ব্যক্তিগণ ছাড়াও মালিকি মাজহাবের দুজন আলিম একমত পোষণ করেছেন।

শাইখ সিরাজুদ্দিন ইবনুল মুলাক্কিন নিম্নোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "মূলত নির্ধারণ করা হয়েছে...

--------------------------------------------

= বুখারি বলেছেন: "অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)"। নাসায়ি এবং দারা কুতনি ও অন্যান্যরা বলেছেন: "পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (متروك الحديث)"। দেখুন: মীযানুল ইতিদাল (৩/ ২৬৮)।

আর জাবির আল-জু'ফি সম্পর্কে তিনি তাকরীব-এ আরও বলেছেন (পৃ. ১৩৭): "দুর্বল (ضعيف) এবং রাফেজি।" সমাপ্ত।

(1) সুনান আদ-দারা কুতনি (১/ ৩৪০)।

(2) তাকরীবুত তাহজীব-এ তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে (পৃ. ৩৩৭): "সত্যবাদী কিন্তু ভুল করেন (صدوق يخطئ), তাঁর প্রতি তাকদির অস্বীকারের অভিযোগ রয়েছে এবং শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২৩)
الِإمامُ لِيُوْتَمَّ به" من "شرح العمدة": "قاله من المالكية عيسى بن دينار (1) وابن نافع (2)، وإن كان القاضي عياض في "إكماله" (3) خطَّأ من تأوَّل ذلك عليهما".

قال: "وقال مالك في مختصر ما يسر في المختصر": للمأموم أن يجمع بينهما". انتهى.

وقد وافق الشافعىَّ على جمع المنفرد بينهما: مالك وأحمد وابن حزم الظاهري (4)، وعزاه إلى طائفة من السلف.

--------------------------------------------

(1) هو أبو محمد، عيسى بن دينار الغافقي، الطليطلي، صاحب ابن القاسم، كان صالحّا ورعاً، مقدَّمّا في الفقه على يحيي بن يحيي. انصرف إلى الأندلس وعلَّم أهلها الفقه. له تأليف في الفقه يسمى "كتاب الهدية"، كتب به إلى بعض الأمراء، عشرة أجزاء. توفي بطليطلة سنة اثنتي عشرة ومائتين. انظر: "الديباج المذهب" (ص 178، 179)، و"شذرات الذهب" (2/ 28).

(2) في الأصل: "نافع"، وهو خطأ، والصواب ما أثبته كما هو في "الإِكمال" للقاضي عياض (2/ 269)، والمراد به: أبو محمد، عبد الله بن نافع الصائغ، تفقه بمالك، وهو مفتي المدينة بعده، وتوفي بها سنة ست وثمانين ومائة. انظر: "الديباج المذهب" (1/ 131).

(3) وهو كتاب: "إكمال المعلم شرح صحيح مسلم"، طبع سنة 1998 م، بتحقيق الدكتور يحيي إسماعيل، نشر دار الوفاء بالمنصورة.

(4) انظر لمالك: "المدونة" (1/ 71)، ولأحمد: "المغني" (2/ 186)، وذكر أن هذا هو المشهور عن أحمد، وفي رواية أخرى عنه: أن المنفرد لا يأتي بالتحميد.

وانظر لابن حزم: "المحلى" (4/ 119 - 121).
"শারহুল উমদাহ" থেকে "ইমামকে অনুসরণ করার জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে" অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: "মালিকি মাজহাবের আলিমদের মধ্যে ঈসা ইবনে দিনার (১) এবং ইবনে নাফে (২) এ কথা বলেছেন। যদিও কাজি ইয়াজ তার 'ইকমাল' (৩) গ্রন্থে তাদের উদ্ধৃতিতে যারা এমন ব্যাখ্যা করেছেন, তাদের ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন।"

তিনি বলেন: "ইমাম মালিক 'মুখতাসার মা ইয়াসার ফিল মুখতাসার' গ্রন্থে বলেছেন: মুক্তাদির জন্য উভয়টি (তাসমি ও তাহমিদ) একত্রে পাঠ করার সুযোগ রয়েছে।" সমাপ্ত।

আর একা সালাত আদায়কারীর ক্ষেত্রে উভয়টি একত্রে পাঠ করার ব্যাপারে ইমাম শাফিয়ির সাথে একমত পোষণ করেছেন: মালিক, আহমাদ এবং ইবনে হাজম জাহিরি (৪); এবং তিনি একে সালাফদের একটি দলের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ, ঈসা ইবনে দিনার আল-গাফেকি আত-তুলাইতুলি, ইবনুল কাসিমের সঙ্গী। তিনি ছিলেন সৎ (صالحًا) ও পরহেযগার (ورعًا), এবং ফিকহ শাস্ত্রে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়ার চেয়ে অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি আন্দালুসে ফিরে যান এবং সেখানকার অধিবাসীদের ফিকহ শিক্ষা দেন। ফিকহ শাস্ত্রে 'কিতাবুল হাদিয়্যাহ' নামে তার একটি রচনা রয়েছে, যা তিনি কোনো এক আমিরের উদ্দেশ্যে দশ খণ্ডে লিখেছিলেন। ২১২ হিজরি সনে তুলাইতুলায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: 'আদ-দিবাজুল মাজহাব' (পৃ. ১৭৮, ১৭৯) এবং 'শাযারাতুয যাহাব' (২/২৮)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে "নাফে" রয়েছে, যা ভুল; সঠিক হলো যা আমি সাব্যস্ত করেছি যেমনটি কাজি ইয়াজের 'আল-ইকমাল' (২/২৬৯) গ্রন্থে রয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আবু মুহাম্মদ, আব্দুল্লাহ ইবনে নাফে আস-সায়িগ। তিনি ইমাম মালিকের নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন এবং তার পরবর্তী সময়ে মদিনার মুফতি ছিলেন। ১৮৬ হিজরি সনে মদিনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: 'আদ-দিবাজুল মাজহাব' (১/১৩১)।

(৩) এটি হলো: 'ইকমালুল মু'লিম শারহু সহিহ মুসলিম' নামক গ্রন্থ, যা ড. ইয়াহইয়া ইসমাইলের সম্পাদনায় ১৯৯৮ সালে মানসুরার দারুল ওয়াফা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

(৪) ইমাম মালিকের মতের জন্য দেখুন: 'আল-মুদাওয়ানাহ' (১/৭১), এবং ইমাম আহমাদের জন্য দেখুন: 'আল-মুগনি' (২/১৮৬); সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটিই ইমাম আহমাদের প্রসিদ্ধ (المشهور) মত। তবে তার থেকে বর্ণিত অন্য একটি রেওয়ায়েত অনুযায়ী, একা সালাত আদায়কারী তাহমিদ পাঠ করবে না। আর ইবনে হাজমের মতের জন্য দেখুন: 'আল-মুহাল্লা' (৪/১১৯-১২১)।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال ابن عبد البر: لا أعلم فيه خلافًا (1).

وقال صاحِبُ "الهداية" من الحنفية: يجمع بينهما في الأصح، وإن كان يروى الاكتفاء بالتسميع، ويُرْوَى بالتحميد (2).

وكذا نقل أبو عيسى الترمذي في "جامعه" عن ابن سيرين وغيره (3). قال: وبه يقول الشافعي وإسحاق.

وكذا نقله عنهما ابن المنذر في "الإِشراف"، وعن أبي بردة وابن سيرين وعطاء.

وذكره الخطابي في "معالم سنن أبي داود" (4) عن ابن سيرين وعطاء.

وقد وافق الشافعىَّ على أن الإِمام يجمع بينهما أيضًا -غيرُ من تقدم-: أبو يوسف ومحمد بن الحسن صاحبا أبي حنيفة (5).

قال ابن العراقي: "وهو قول في مذهب مالك أيضًا، حكاه ابن

--------------------------------------------

(1) انظر: "الاستذكار" (5/ 405).

(2) "الهداية" مع "فتح القدير" (1/ 299، 300).

(3) الذي في "جامع الترمذي" (2/ 56) في النقل عن ابن سيرين وغيره إنما هو في المأموم.

(4) (1/ 403) - مطبوع مع مختصر المنذري.

(5) انظر: "الهداية" مع "فتح القدير" (1/ 298).
ইবনে আবদ আল-বারর বলেন: আমি এই বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلافًا) আছে বলে জানি না (১)।

হানাফি মাজহাবের "হিদায়া" গ্রন্থের লেখক বলেন: বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী ইমাম উভয়টি একত্রে পাঠ করবেন, যদিও কেবল তাসমি (التسميع) পাঠের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার বর্ণনা (يروى) পাওয়া যায় এবং কেবল তাহমিদ (التحميد) পাঠের বর্ণনাও রয়েছে (২)।

অনুরূপভাবে আবু ঈসা তিরমিজি তাঁর "জামে" গ্রন্থে ইবনে সিরিন ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন (৩)। তিনি বলেন: ইমাম শাফেয়ি ও ইসহাক এই মতই পোষণ করেন।

তেমনিভাবে ইবনে আল-মুনজির তাঁর "আল-ইশরাফ" গ্রন্থে তাঁদের উভয়ের থেকে এবং আবু বুর্দাহ, ইবনে সিরিন ও আতা থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন।

আর খাত্তাবি তাঁর "মাআলিমুস সুনান লি আবি দাউদ" গ্রন্থে (৪) ইবনে সিরিন ও আতা থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।

ইমাম শাফেয়ির সাথে এই বিষয়ে যে ইমামও উভয়টি একত্রে পাঠ করবেন—পূর্বোল্লিখিত ব্যক্তিগণ ছাড়াও—আবু হানিফার দুই শিষ্য আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসানও একমত হয়েছেন (৫)।

ইবনে আল-ইরাকি বলেন: "এটি মালিকি মাজহাবেরও একটি অভিমত (قول), যা ইবনে... বর্ণনা করেছেন।"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আল-ইসতিযকার" (৫/ ৪০৫)।

(২) ফাতহুল কাদিরসহ "হিদায়া" (১/ ২৯৯, ৩০০)।

(৩) "জামে তিরমিজি" (২/ ৫৬)-তে ইবনে সিরিন ও অন্যান্যদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত মুক্তাদির (المأموم) ক্ষেত্রে।

(৪) (১/ ৪০৩) - মুখতাসার আল-মুনজিরির সাথে মুদ্রিত।

(৫) দেখুন: ফাতহুল কাদিরসহ "হিদায়া" (১/ ২৯৮)।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২৫)
شاس (1) في "الجواهر" (2)، أنه يجمع الإِمام بينهما" (3). انتهى.

وقد أشار إلى هذا الإِمام ابن الحاجب في "فروع الأمهات" (4) فقال: "ويستحب للمنفرد في الرفع: (سمع الله لمن حمده، اللَّهُمَّ ربنا ولك الحمد)، وللإِمام الأول، وقيل مثله، وللمأموم الثاني". انتهى.

* فالشافعي جمع للمصلي في هذه المسألة المذاهب كلها، فكان مذهبُه الجامعُ للمحاسن أحقَّها بالاتباع وأَهْلَها.

* وكيف لا وهو ابنُ عَمِّ نبينا وابن عمته، وسميُّه وناصِرُ سُنَّتِهِ، القرشي الشافعي المنسوب إلى جده شافِع؟! ويجتمع نسبه الشريف مع أشرف الأشراف في عبد مناف.

ولقد أحسن أبو عبد الله محمد بن إبراهيم البوشنجي من

--------------------------------------------

(1) في حاشية المخطوط: "أوَّله معجمة، وآخره مهملة".

وابن شاس، هو: أبو محمد، عبد الله بن نجم بن شاس الجُذَامي السَّعدي المالكي. سمع من عبد الله بن بَرِّي النحوي، ودرَّس بمصر وأفتى. كان مقبلاً على الحديث، ذا ورع وجهاد. حدَّث عنه الحافظ المنذري. توفي سنة (616 هـ).

(2) اسم كتابه: "الجواهر الثمينة في فقه أهل المدينة"، وضعه على ترتيب "الوجيز" للغزالي، وجوَّده ونقَّحه، وسارت به الركبان. انظر: "سير أعلام النبلاء" (22/ 98).

(3) "طرح التثريب" (2/ 330).

(4) ذكره في "هدية العارفين" (1/ 655) باسم: "جامع الأمهات في الفقه"، وفي "كشف الظنون" بأسم: "فروع ابن الحاجب"، وقال ابن كثير في "البداية والنهاية" (13/ 188): "ومختصره في الفقه من أحسن المختصرات، انتظم فيه فوائد ابن شاس". اهـ.
ইবনে শাস (১) "আল-জাওয়াহির" (২)-এ উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম এই উভয়টির (তাসমি ও তাহমিদ) সমন্বয় করবেন (৩)। সমাপ্ত।

ইমাম ইবনুল হাজিব "ফুরুউল উম্মাহাত" (৪)-এ এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: "একাকী সালাত আদায়কারীর (মুনফারিদ) জন্য রুকু থেকে ওঠার সময় মুস্তাহাব হলো: (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ) বলা; আর ইমামের জন্য প্রথমটি (তাসমি), এবং মতান্তরে উভয়ের সমন্বয়; আর মুক্তাদীর (মামুম) জন্য দ্বিতীয়টি (তাহমিদ)।" সমাপ্ত।

* সুতরাং ইমাম শাফিঈ এই মাসআলায় মুসল্লির জন্য সকল মাযহাবের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তাই উত্তম বৈশিষ্ট্যসমূহের সংকলক হিসেবে তাঁর মাযহাবই অনুসরণের জন্য অধিক উপযুক্ত ও যোগ্য।

* আর কেনই বা তা হবে না, যখন তিনি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচাতো ভাই ও ফুফাতো ভাই, তাঁর সমনামধারী এবং তাঁর সুন্নাহর সাহায্যকারী, কুরাইশী এবং তাঁর দাদা শাফি-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত শাফিঈ?! তাঁর সম্মানিত বংশধারা আবদে মানাফে গিয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের সাথে মিলিত হয়েছে।

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-বুশানজী কতই না চমৎকার বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: "এর প্রথম অক্ষরটি নুকতাহযুক্ত এবং শেষটি নুকতাহবিহীন।"

আর ইবনে শাস হলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন নাজমু বিন শাস আল-জুজামি আস-সাদি আল-মালিকি। তিনি ব্যাকরণবিদ আব্দুল্লাহ বিন বাররি-এর নিকট শ্রবণ করেছেন এবং মিসরে শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদান করেছেন। তিনি হাদিসের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং পরহেজগারী ও জিহাদে নিমগ্ন ছিলেন। তাঁর নিকট থেকে হাফেজ মুনজিরি বর্ণনা করেছেন। তিনি ৬১৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

(২) তাঁর কিতাবের নাম: "আল-জাওয়াহির আস-সামিনাহ ফি ফিকহি আহলিল মদিনাহ"। তিনি এটি ইমাম গাজালির "আল-ওয়াজিজ"-এর বিন্যাস অনুযায়ী সংকলন করেছেন এবং একে অত্যন্ত সুন্দর ও পরিমার্জিত করেছেন যা সুধী মহলে সমাদৃত। দেখুন: "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (২২/৯৮)।

(৩) "তারহুত তাসরিব" (২/৩৩০)।

(৪) "হাদিয়াতুল আরিফিন" (১/৬৫৫) গ্রন্থে একে "জামেউল উম্মাহাত ফিল ফিকহ" নামে উল্লেখ করা হয়েছে। আর "কাশফুজ জুনুন" গ্রন্থে "ফুরুউ ইবনিল হাজিব" নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে কাসির "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" (১৩/১৮৮) গ্রন্থে বলেছেন: "ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর এই সংক্ষিপ্ত সারটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংক্ষেপণ, যেখানে ইবনে শাস-এর গবেষণালব্ধ বিষয়সমূহ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২৬)
أصحابنا (1) حيث قال في إمامه -بل وإمامنا وإمام الأئمة الأعظم، رضي الله عنه وعنهم أجمعين-:

ومِنْ شُعَبِ الِإيمانِ حُبُّ ابنِ شافع … وفَرْضٌ أكيدٌ حُبُّهُ لا تَطَوُّعُ

وإني حياتي شافعىُّ فإن أَمُتْ … فوصِيَّتي بعدي بأن تتشفَّعوا

وروى الحافظ الكبير أبو بكر الخطيب البغدادي -الذي كان أوَّلاً حنبليًّا ثم انتقل فصار شافعيًّا- بسنده المتصل إلى الإِمام المُزَني قال: "رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام، فسألتُهُ عن الشافعي فقال: "من أراد محبتي وسُنَّتي فعليه بمحمد بن إدريس الشافعيِّ المطَّلِبي؛ فإنَّه مني وأنا منه".

ومن الغرائب: ما ذكره الحافظ الذهبي -في "ميزانه" (2)، في ترجمة أبي بكر البندنيجي الفقيه، محمد بن حمد بن خلف -وهو من مشايخ السَّمعاني وابن عساكر-: أنه عمل حنبليَّا، ثم حنفيَّا، ثم شافعيَّا واستمرَّ، فلُقِّبَ حنفش.

وقال أبو الحسن علي بن أحمد الدِّينَوَرىُّ الزاهِدُ: رأيت

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ ابن حجر في "تهذيب التهذيب" (9/ 10): "وهو من كبار الشافعية، وزعم الذهبي أنه كان مالكيًّا، ويدل على أنه شافعي … " ثم ذكر البيتين اللذين سيذكرهما المصنف. قيل: كان مولده سنة أربع ومائتين. قال عنه الحافظ في "التهذيب" (9/ 8): "أبو عبد الله، الفقيه الأديب، شيخ أهل الحديث في عصره، نزيل نيسابور، ثم ذكر من روى عنهم، ومنهم يحيى بن عبد الله بن بكير، وسعيد بن منصور، وممن روى عنه: محمد بن إسحاق الصاغاني وهو أكبر منه. توفي سنة تسعين -أو: واحد وتسعين- ومائتين.

(2) "ميزان الاعتدال" (3/ 528).
আমাদের সাথীদের (أصحابنا) (১), যেখানে তিনি তাঁর ইমাম সম্পর্কে—বরং আমাদের ইমাম এবং সকল ইমামদের মহান ইমাম সম্পর্কে (আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন:

ঈমানের শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো ইবনে শাফেয়ীর প্রতি ভালোবাসা … আর তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা একটি সুনিশ্চিত ফরজ (فرض), যা কেবল নফল নয়।

আমি সারাটি জীবন শাফেয়ী হিসেবেই থাকব, আর যদি আমি মৃত্যুবরণ করি … তবে আমার পরবর্তী অসিয়ত হলো এই যে, তোমরাও শাফেয়ী মাজহাব অনুসরণ করবে।

মহান হাফেজ (الحافظ) আবু বকর আল-খাতিব আল-বাগদাদী—যিনি প্রথমে হাম্বলী ছিলেন এবং পরবর্তীতে শাফেয়ী মাজহাবে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন—তাঁর নিরবচ্ছিন্ন সনদ (سند متصل) সহকারে ইমাম আল-মুযানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। এরপর আমি তাঁকে শাফেয়ী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আমার ভালোবাসা এবং আমার সুন্নাহ অর্জন করতে চায়, তার উচিত মুহাম্মদ বিন ইদরিস আল-শাফেয়ী আল-মুত্তালিবীকে অনুসরণ করা; কেননা সে আমার থেকে এবং আমি তার থেকে।""

আশ্চর্যের বিষয়গুলোর একটি হলো: হাফেজ (الحافظ) যাহাবী তাঁর "মিজান" (২)-এ ফকিহ (الفقيه) আবু বকর আল-বানদানিজী মুহাম্মদ বিন হামদ বিন খালাফ—যিনি আল-সামআনী ও ইবনে আসাকিরের শাইখদের (مشايخ) অন্তর্ভুক্ত—এর জীবনীতে (ترجمة) উল্লেখ করেছেন যে: তিনি প্রথমে হাম্বলী হিসেবে আমল করতেন, এরপর হানাফী এবং সবশেষে শাফেয়ী হিসেবে স্থায়ী হন; ফলে তাঁর উপাধি হয়েছিল 'হানফাশ'।

আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ আদ-দিনাওয়ারী আল-জাহিদ (الزاهد) বলেছেন: আমি দেখেছি...

--------------------------------------------

(১) হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার 'তাহজীবুত তাহজীব' (৯/১০) এ বলেছেন: "তিনি বড় মাপের শাফেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যাহাবী দাবি করেছেন যে তিনি মালেকী ছিলেন, তবে তিনি যে শাফেয়ী ছিলেন তার প্রমাণ হলো … " এরপর তিনি সেই দুটি কাব্য পঙ্ক্তি উল্লেখ করেছেন যা লেখক এখানে উল্লেখ করেছেন। বলা হয়: তাঁর জন্ম ছিল ২০৪ হিজরিতে। হাফেজ (الحافظ) তাঁর সম্পর্কে 'তাহজীব'-এ (৯/৮) বলেছেন: "আবু আব্দুল্লাহ, ফকিহ (الفقيه) ও সাহিত্যিক, তাঁর যুগের আহলে হাদিসদের শাইখ (شيخ), নিশাপুরের অধিবাসী।" এরপর তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন বুকাইর এবং সাঈদ বিন মনসুর। আর তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-সাগানী অন্যতম, যিনি তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। তিনি ২৯০ অথবা ২৯১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) "মিজানুল ইতিদাল" (৩/৫২৮)।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২৭)
النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فقلت: يا رسول الله، بقول مَن آخذ؟ "فأشار إلى عليّ بن أبي طالب، فقال: خذ بيد هذا، فأتِ به ابنَ عمنا الشافعي؛ ليعمل بمذهبِهِ فيرشُدَ ويبلغَ باب الجنة"، ثم قال: "الشافعي بين العلماء كالبدر بين الكواكب".

ويكفيه هذا الثناءُ البليغ، والحثُّ على اتِّباع مذهبه دون بقية أئمة المذاهب، ولهذا أفتى الشيخ محيي الدين النووي، فيما لو حلف الحالف بالطلاق أن الشافعي أفضل الأئمة في عصره، ومذهبه خَيْرُ المذاهب، أنه لا يقع عليه طلاق.

وقال أحمد بن حنبل: ما أحدٌ مسَّ بيده مَحْبَرَةً ولا قلمًا إلَاّ وللشافعي في رقبته مِنَّةً (1).

وقال الربيع بن سليمان المرادي -خادمُ الشافعي وصاحبُه-: "رأيت في المنام كأنَّ آدمَ عليه السلام مات، فسألت عن ذلك، فقيل: هذا موتُ أعلمِ أهل الأرض؛ لأن الله تعالى عَلَّمَ آدمَ الأسماءَ كلَّها، فما كان إلَاّ يسيرٌ ومات الشافعي".

ورأى غيرُ الرَّبيع ليلةَ مات الإِمامُ الشافعيُّ قائلاً يقول: "الليلةَ مات النبي صلى الله عليه وسلم" (2).

--------------------------------------------

(1) وقال إمام الحرمين الجويني: "ما من شافعي المذهب إلَاّ وللشافعي عليه منة، إلَاّ أحمد البيهقي [يعني به أبا بكر الحافظ صاحب السنن الكبرى] فإن له على الشافعي منة". اهـ. "وفيات الأعيان" (1/ 76). وذلك لنصرته لمذهب الشافعي بجمعه لأدلته وإسناد أحاديثه.

(2) جرى المؤلف -رحمه الله تعالى- في الثناء على الإِمام الشافعي -رحمه =
নবী (সা.)-কে স্বপ্নে দেখলাম, অতঃপর আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কার কথা গ্রহণ করব? "তিনি আলী ইবনে আবু তালিবের দিকে ইশারা করে বললেন: এর হাত ধরো এবং তাকে আমাদের চাচাতো ভাই শাফিঈর কাছে নিয়ে যাও; যাতে সে তার মাজহাব অনুযায়ী আমল করে এবং সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়ে জান্নাতের দরজায় পৌঁছে যায়", অতঃপর তিনি বললেন: "আলেমদের মাঝে শাফিঈ নক্ষত্ররাজির মাঝে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায়।"

অন্যান্য মাজহাবের ইমামদের বাদ দিয়ে কেবল তাঁর মাজহাব অনুসরণের প্রতি এই উচ্চ প্রশংসা এবং উৎসাহ প্রদানই তাঁর জন্য যথেষ্ট। এই কারণেই শেখ মহিউদ্দিন নববী ফতোয়া দিয়েছেন যে, যদি কেউ তালাকের শপথ করে বলে যে, শাফিঈ তাঁর যুগের ইমামদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর মাজহাব সকল মাজহাবের মধ্যে উত্তম, তবে তার তালাক কার্যকর হবে না।

আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: এমন কেউ নেই যে নিজ হাতে দোয়াতি বা কলম স্পর্শ করেছে অথচ তার স্কন্ধে শাফিঈর এহসান বা অনুগ্রহ নেই (১)।

শাফিঈর খাদেম ও সহচর রাবি ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদি বলেন: "আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আদম (আ.) ইন্তেকাল করেছেন। আমি সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলা হলো: এটি পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বড় আলেমের মৃত্যু; কারণ আল্লাহ তাআলা আদমকে সমস্ত নাম শিখিয়েছিলেন। এর অল্প কিছুকাল পরেই শাফিঈ ইন্তেকাল করেন।"

ইমাম শাফিঈ যে রাতে ইন্তেকাল করেন, রাবি ছাড়া অন্য একজন স্বপ্ন দেখেন যে এক ব্যক্তি বলছে: "আজ রাতে নবী (সা.) ইন্তেকাল করেছেন" (২)।

--------------------------------------------

(১) ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনি বলেন: "শাফিঈ মাজহাবের এমন কোনো অনুসারী নেই যার ওপর শাফিঈর এহসান নেই, কেবল আহমাদ আল-বায়হাকি [অর্থাৎ আবু বকর হাফিজ (الحافظ), আস-সুনান আল-কুবরা-এর লেখক] ব্যতীত; কারণ শাফিঈর ওপর তাঁরই এহসান রয়েছে।" সমাপ্ত। "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" (১/ ৭৬)। আর এটি শাফিঈর মাজহাবের স্বপক্ষে দলিলসমূহ সংগ্রহ এবং তাঁর হাদিসগুলোর সনদ (إسناد) সংকলনের মাধ্যমে সাহায্য করার কারণে।

(২) ইমাম শাফিঈর—রাহিমাহুল্লাহ—প্রশংসা করার ক্ষেত্রে লেখক—রাহিমাহুল্লাহ তাআলা—এভাবে অগ্রসর হয়েছেন যে =
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২৮)
* وأما ما احْتَجَّ به الغير على أن المأموم يقتصر على التحميد، من الحديث: "إذا قال الإِمام: (سمع الله لمن حمده)، فقولوا: (اللَّهُمَّ ربنا لك الحمد) "، وفي لفظ: "ولك"، وفي آخَر: "ربنا ولك" (1)، والحديث الآخر: "إنما جُعِلَ الإِمامُ لِيُؤْتَمَّ به"، وفيه: "وإذا قال: (سمع الله لمن حمده)، فقولوا: (ربنا ولك) وفي لفظ: (اللَّهُمَّ ربنا لك الحمد) "؟!.

فأجاب عنهما أئمتنا الشافعية رضي الله عنهم، بأنه: ليس في الكلام حصرٌ، وغايةُ ما في الحديث السكوتُ عن إتيان المأموم بالتسميع والإِمامِ بالتحميد (2)، فيستفاد ذلك من دليل آخر، وهو ثبوته مِن فعل الشارع وغيره مما قدَّمناهُ مبسوطًا (3).

--------------------------------------------

= الله- على ما اعتاده أصحاب كل مذهب من مدح إمامهم، بما لا يخلو عادةً من نوع مبالغة في ذلك، وإن كان ليس هناك شك في إمامة الشافعي وعلمه، ورفعة درجته وورعه. ومما ينبغي التنبه له -أيضًا- أن الرؤى ليست مصدراً لاستنباط الأحكام الشرعية والعمل بها، وإنما يستأنس بها فقط.

(1) أي: من غير ذكر لفظة "اللَّهُمَّ".

(2) لكن يمكن أن يناقَش ذلك، بأن في الحديث قرينةً تدل على أن المأموم لا يأتي بالتسميع، وهي: أن الحديث سيق لبيان ما يفعله المأموم، فقال: "فإذا كبَّر فكبِّروا، وإذا ركع فاركعوا، وإذا قال: (سمع الله لمن حمده)، فقولوه: (اللَّهُمَّ ربنا لك الحمد)، وإذا سجد فاسجدوا، وإذا صلَّى جالسًا فصلُّوا جلوسًا أجمعون" أخرجه البخاري (2/ 216)، ومسلم -واللفظ له- (1/ 310)، وزاد في رواية: "وإذا قال: (ولا الضالين)، فقولوا: (آمين) ".

(3) لكن لم يثبت ما يدل على إتيان المأموم به خصوصاً.
আর অন্যরা মুক্তাদি (المأموم)-এর শুধুমাত্র তাহমিদ (التحমيد) পাঠের ওপর যে প্রমাণ উপস্থাপন করেন, তা হলো এই হাদিস: "যখন ইমাম (الإمام) বলেন: (আল্লাহ ওই ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে), তখন তোমরা বলো: (হে আল্লাহ, হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা) "। অন্য শব্দে আছে: "এবং আপনার জন্য", আবার অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "আমাদের প্রতিপালক, এবং আপনার জন্যই" (১)। আর অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "ইমাম (الإمام) নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে তাঁর অনুসরণ করা হয়", সেখানে রয়েছে: "আর যখন তিনি বলেন: (আল্লাহ ওই ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে), তখন তোমরা বলো: (আমাদের প্রতিপালক এবং আপনার জন্যই)" এবং অন্য শব্দে আছে: (হে আল্লাহ, হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা) "।

এর উত্তরে আমাদের শাফেয়ী ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন যে: এই বক্তব্যের মধ্যে কোনো সীমাবদ্ধতা (حصر) নেই। এই হাদিসের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো মুক্তাদি (المأموم)-এর তাসমি' (التسميع) পাঠ এবং ইমাম (الإمام)-এর তাহমিদ (التحميد) পাঠ সম্পর্কে নীরব থাকা (২)। সুতরাং বিষয়টি অন্য দলীল (دليل) থেকে গ্রহণ করা হবে, আর তা হলো শরীয়ত প্রবর্তকের (الشارع) আমল এবং অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হওয়া, যা আমরা ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছি (৩)।

--------------------------------------------

= আল্লাহ—প্রত্যেক মাযহাবের অনুসারীদের তাঁদের ইমামের প্রশংসার সাধারণ রীতি অনুযায়ী, যাতে সাধারণত এক প্রকার অতিরঞ্জন থাকেই। যদিও ইমাম শাফেয়ীর ইমামত, তাঁর জ্ঞান, সুউচ্চ মর্যাদা এবং পরহেযগারীর বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এছাড়া আরও একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত যে, স্বপ্ন শরীয়তের বিধান আহরণ করার এবং তার ওপর আমল করার উৎস নয়; বরং একে কেবল সান্ত্বনা বা অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

(১) অর্থাৎ: "হে আল্লাহ" (اللَّهُمَّ) শব্দটি উল্লেখ করা ব্যতীত।

(২) তবে এ বিষয়ে বিতর্ক করা যেতে পারে যে, হাদিসটিতে এমন একটি পারিপার্শ্বিক আলামত (قرينة) রয়েছে যা নির্দেশ করে যে মুক্তাদি (المأموم) তাসমি' (التسميع) পাঠ করবেন না; আর তা হলো: হাদিসটি মূলত মুক্তাদি কী আমল করবেন তা বর্ণনা করার জন্য এসেছে। তাই তিনি বলেছেন: "যখন তিনি তাকবির (تكبير) দেবেন তখন তোমরা তাকবির (تكبير) দাও, যখন তিনি রুকু (ركوع) করবেন তখন তোমরা রুকু (ركوع) করো, আর যখন তিনি বলেন: (আল্লাহ ওই ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে), তখন তোমরা বলো: (হে আল্লাহ, হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা), যখন তিনি সাজদাহ (سجود) করেন তখন তোমরা সাজদাহ (سجود) করো, আর যখন তিনি বসে সালাত আদায় করেন তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করো।" এটি বুখারী (২/ ২১৬) এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন—শব্দ বিন্যাস তাঁর—(১/ ৩১০), এবং এক বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে: "আর যখন তিনি বলেন: (পথভ্রষ্টদের পথ নয়), তখন তোমরা বলো: (আমীন) "।

(৩) কিন্তু বিশেষ করে মুক্তাদির (المأموم) পক্ষ থেকে তা পাঠ করার সপক্ষে কোনো কিছু সাব্যস্ত হয়নি।
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال ابن العراقي: "عنى الحديث على مذهب الشافعي: إذا قال الإِمام: (سمع لمن حمده) في انتقاله، فقولوا: (ربنا لك الحمد) في اعتدالكم". قال: بل نزيد على هذا ونقول: إن في الحديث دلالةً على أن المأموم يقول: (سمع الله لمن حمده)، مِن قوله: "إنما جُعِلَ الإِمامُ لِيُؤْتَمَّ به" (1).انتهى (2).

يعني لما فيه من الأمر بمتابعته في غير هذا.

وقال العلَاّمة شمس الدين الكِرْمانيُّ في هذا الحديث من شرحه للبخاري (3): "فإن قلت: هذا دليل لمن قال: لا يزيد المأموم على (ربنا لك الحمد)، ولا يقول (سمع الله لمن حمده …).

قلت: لا نُسَلِّمُ أنه دليل له؛ إذ ليس فيه نفيُ الزيادة، ولئن سلَّمنا فهو معارَض بما ثبت أنه صلى الله عليه وسلم جمع بينهما، وثبت أنه قال: "صلُّوا كما رأيتموني أصلي".

وأما وجه الجمع، فهو أن يقول حال الارتفاع: (سمع الله لمن حمده)، وحال الانتصاب (ربَّنا لك الحمد) ".

قال: "وفي الكلام التفاتٌ، أي من الغَيْبَةِ إلى الحضور" (4).

--------------------------------------------

(1) وقد يقال: تسميع المأموم مستثنى من المتابعة، بدليل القرينة التي أشرف إليها قريبًا، والله تعالى أعلم.

(2) "طرح التثريب في شرح التقريب" (2/ 332).

(3) (5/ 105).

(4) أي: فهو أسلوب من أساليب البلاغة، فإن قوله: "سمع الله لمن حمده" خطاب غيبة، وقوله: "ربنا لك الحمد" خطاب حضور. =
ইবনে আল-ইরাকি বলেন: "শাফেয়ী মাজহাব অনুযায়ী হাদিসটির অর্থ হলো: যখন ইমাম স্থানান্তরের সময় অর্থাৎ রুকু থেকে উঠার সময় 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবেন, তখন তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় 'রব্বানা লাকাল হামদ' বলবে।" তিনি বলেন: বরং আমরা এর সাথে আরও যোগ করে বলতে পারি যে, হাদিসটিতে এ কথার প্রমাণ (دلالة) রয়েছে যে, মুক্তাদিও 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে; যা তাঁর এই বাণী থেকে প্রতীয়মান হয়: "ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে কেবল তাঁর অনুসরণের জন্য" (১)। সমাপ্ত (২)।

অর্থাৎ, এটি ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণের নির্দেশের কারণে।

আল্লামা শামসুদ্দিন আল-কিরমানি তাঁর বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই হাদিস সম্পর্কে বলেন (৩): "যদি আপনি বলেন: এটি তাদের জন্য প্রমাণ (دليل) যারা বলেন যে, মুক্তাদি 'রব্বানা লাকাল হামদ'-এর অতিরিক্ত কিছু বলবে না এবং সে 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে না …।

আমি বলব: আমরা এটি স্বীকার করি না যে এটি তাঁর জন্য প্রমাণ (دليل); কারণ এতে অতিরিক্ত কিছু বলার ব্যাপারে কোনো অস্বীকৃতি নেই। আর যদি আমরা তা মেনেও নেই, তবে এটি সেই প্রমাণিত (ثابت) বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক (معارض) যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুটির মধ্যে সমন্বয় করেছেন এবং এটিও প্রমাণিত (ثابت) যে তিনি বলেছেন: "তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।"

আর সমন্বয়ের পদ্ধতি (وجه الجمع) হলো, রুকু থেকে উঠার সময় 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলা এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় 'রব্বানা লাকাল হামদ' বলা।"

তিনি বলেন: "আর এই বক্তব্যের মধ্যে ইলতিফাত বা মোড় পরিবর্তন (التفات) রয়েছে, অর্থাৎ নামপুরুষ থেকে প্রত্যক্ষ সম্বোধনের দিকে পরিবর্তন" (৪)।

--------------------------------------------

(১) বলা যেতে পারে যে: মুক্তাদির 'তাসমি' বা সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলা অনুসরণের সাধারণ নিয়ম থেকে ব্যতিক্রম, যা নিকটবর্তী প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিতের (قرينة) প্রমাণ (دليل) দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে, আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

(২) "তারহুত তাসরিব ফি শারহিত তাকরিব" (২/ ৩৩২)।

(৩) (৫/ ১০৫)।

(৪) অর্থাৎ: এটি অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) একটি শৈলী, কেননা তাঁর কথা: "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" হলো পরোক্ষ সম্বোধন (خطاب غيبة) এবং তাঁর কথা: "রব্বানা লাকাল হামদ" হলো প্রত্যক্ষ সম্বোধন (خطاب حضور)। =
(খণ্ড: ১) ইফাদাতুল মুবতাদিল মুস্তাফীদ ফী হুকমি ইত্যনিল মামূমি বিত তাসমী (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال: "فيه دلالة على أنه يستحب للإِمام الجهر بقوله: (سمع الله لمن حمده) ". انتهى.

وقال ابن المُلَقِّن في شرح "عمدة الأحكام": "الجواب عن الحديث: أنه عليه الصلاة والسلام علَّمهم ما جهلوه من ذكر الاستواء، بخلاف ذكر الرفع من الركوع وهو التسميع؛ فإنهم كانوا يَعْلَمونه ويعملون به ويتابعون فيه، فلم يُحْتج إلى التنبيه عليه، بخلاف قوله: (ربنا لك الحمد) ".

قال: "وكذا الحديث الآخر الذي فيه: "فإنه من وافق قولُه قولَ الإِمام" جوابه ما ذكرناه".

وقال في شرحه للبخاري: "استَحَبَّ الشافعيةُ الجمعَ بين (سمع الله لمن حمده) وبين (ربنا لك الحمد).

وقالوا: معنى حديث "فقولوا: (ربنا لك الحمد)، أي مع ما قد علمتموه من قول (سمع الله لمن حمده) ".

قال: وإنما خصَّه بالذكر؛ لأنه كان يجهر بـ (سمع الله لمن حمده)، فهم كانوا يعلمونه، ولا يعرفون (ربنا لك الحمد)؛ لأنه يُسِرُّ به؛ فلذلك علَّمهم إياه".

وهذا سبقه إلى نحوه الشيخ تقي الدين السُّبْكي (1) في شرحه للمنهاج (2).

--------------------------------------------

(1) أبو الحسن، علي بن عبد الكافي بن علي السبكي (ت 756 هـ).

(2) واسمه: "الابتهاج في شرح المنهاج"، كما في "هدية العارفين" (1/ 721)، ولا يزال مخطوطاً.
তিনি বলেন: "এর মধ্যে এই দলীল (دلالة) রয়েছে যে, ইমামের জন্য উচ্চস্বরে (جهر) 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলা মুস্তাহাব (مستحب)।" সমাপ্ত।

ইবনুল মুলাক্কিন 'উমদাতুল আহকাম'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শারহ) বলেন: "হাদিসটির উত্তর হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর (استواء) সেই যিকির শিখিয়েছেন যা সম্পর্কে তাঁরা জানতেন না। পক্ষান্তরে রুকু থেকে মাথা তোলার যিকির তথা তাসমি' (تسميع)-এর বিষয়টি ভিন্ন; কারণ তাঁরা এটি জানতেন, এর ওপর আমল করতেন এবং এ ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করতেন। তাই এ বিষয়ে সচেতন করার প্রয়োজন ছিল না, যা তাঁর বাণী 'রব্বানা লাকাল হামদ' এর বিষয় থেকে ভিন্ন।"

তিনি বলেন: "অনুরূপভাবে অপর যে হাদিসটিতে রয়েছে: 'যাঁর কথা ইমামের কথার সাথে মিলে যাবে', সেটির উত্তরও আমরা যা উল্লেখ করেছি তাই।"

বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে তিনি বলেন: "শাফিঈগণ 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' এবং 'রব্বানা লাকাল হামদ'—উভয়টি একত্রে বলাকে মুস্তাহাব (مستحب) মনে করেন।

তাঁরা বলেন: 'তোমরা রব্বানা লাকাল হামদ বলো'—এই হাদিসটির অর্থ হলো: তোমরা ইতিমধ্যে 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলার যে নিয়ম জেনেছ, তার সাথে এটিও বলো।"

তিনি বলেন: "তিনি বিশেষভাবে এটি উল্লেখ করেছেন কারণ তিনি উচ্চস্বরে (جهر) 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন, ফলে তাঁরা সেটি জানতেন। কিন্তু তাঁরা 'রব্বানা লাকাল হামদ' সম্পর্কে জানতেন না কারণ তিনি এটি নিচুস্বরে (إسرار) পাঠ করতেন; সে কারণেই তিনি তাঁদের এটি শিখিয়েছিলেন।"

শায়খ তাকিউদ্দীন আস-সুবকি (১) মিনহাজ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (২) এই ধরণের কথা আগে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আবুল হাসান, আলী বিন আব্দুল কাফি বিন আলী আস-সুবকি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি)।

(২) গ্রন্থটির নাম হলো: 'আল-ইবতিহাজ ফি শারহিল মিনহাজ', যেমনটি 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (১/ ৭২১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, এবং এটি এখনও পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আকারে রয়েছে।