(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: -)
المعلم بشيوخ البخاري ومسلم   (ابن خلفون)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: المعلم بشيوخ البخاري ومسلم

المؤلف: أبو بكر محمد بن إسماعيل بن خلفون (المتوفى 636 هـ)

المحقق: أبو عبد الرحمن عادل بن سعد

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى

عدد الصفحات: 612

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 صفر 1437

আল-মু'আল্লিম বি-শুয়ুখিল বুখারী ওয়া মুসলিম   (ইবনে খালফুন)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আল-মু'আল্লিম বি-শুয়ুখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (বুখারী ও মুসলিমের উস্তাদগণের পরিচিতি)

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন খালফুন (মৃত্যু ৬৩৬ হিজরী)

সম্পাদক: আবু আবদুর রহমান আদিল বিন সাদ

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১২

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক এলিট-এর তত্ত্বাবধানে অনুলিপিকারক দল

[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌باب في ذكر إمامة محمد بن إسماعيل البخاري وثقته وإتقانه ومعرفته بالحديث وعلله وتاريخ وفاته رحمه الله

إسماعيل البخاري ثقة مأمون صاحب التصنايف الكثيرة (..)

أبو داود سمعت علي بن حجر قال: ما أخرجت خراسان مثل أبا زرعة الرازي بالري، ومحمد بن إسماعيل البخاري ببخارى، وعبد الله بن عبد الرحمن السمرقندي بسمرقند، ومحمد بن إسماعيل عندي أبصرهم، وأعلمهم وأفقههم.

وروى عبد الله بن أحمد بن حنبل عن أبيه قال: انتهى الحديث إلى أربعة من أهل خراسان، أبو زرعة الرازي، ومحمد بن إسماعيل البخاري، وعبد الله بن عبد الرحمن السمرقندي، والحسن بن شجاع البخلي.

وروي عن بندار محمد بن بشار أنه قال: حفاظ الدنيا أربعة: الرازي بالري، ومسلم بن الحجاج بنيسابور، وعبد الله بن عبد الرحمن الدارمي بسمرقند، ومحمد بن إسماعيل البخاري ببخاري.

وروي عن نعيم بن حماد المروزي، ويعقوب بن إبراهيم الدورقي أنهما قالا: محمد بن إسماعيل ففيه.

وروي عن عبدان بن عثمان قال: ما رأيت بعيني شابًا أبصر من هذا وأشار إلى محمد بن إسماعيل.

وقال محمد بن أبي خزيم: سمعت يحيى بن جعفر يقول: لو قدر لي أن أزيد في عمر محمد بن إسماعيل لفعلت، فإن موتى يكون موت رجل واحد، وموت محمد بن إسماعيل ذهاب العلم.

وقال أبو حاتم محمد بن إدريس الرازي في سنة سبع وأربعين ومائتين: يقدم عليكم رجل من أهل خراسان لم يخرج منها أحفظ منه، ولا قدم العراق أعلم
মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর ইমামত (নেতৃত্ব), তাঁর নির্ভরযোগ্যতা, পাণ্ডিত্য, হাদিস ও এর ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর ইন্তেকালের তারিখ সম্পর্কে আলোচনা। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

ইসমাইল আল-বুখারী হলেন নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা (..)

আবু দাউদ বলেন, আমি আলি বিন হুজরকে বলতে শুনেছি: খুরাসান রায় অঞ্চলের আবু জুরআ আর-রাজি, বুখারার মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী এবং সমরখন্দের আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সামারকান্দির মতো কাউকে জন্ম দেয়নি। আর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমার দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, সবচেয়ে জ্ঞানী এবং সবচেয়ে বড় ফকিহ।

আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খুরাসানবাসীদের মধ্যে চারজনের কাছে ইলমে হাদিস পৌঁছে শেষ হয়েছে (অর্থাৎ তারা ছিলেন এর শীর্ষবিন্দু): আবু জুরআ আর-রাজি, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী, আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সামারকান্দি এবং হাসান বিন শুজা আল-বাখলি।

বুন্দার মুহাম্মদ বিন বাশশার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: দুনিয়ার হাফিজ চারজন: রায় অঞ্চলের রাজি, নিশাপুরের মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ, সমরখন্দের আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আদ-দারিমি এবং বুখারার মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী।

নুআইম বিন হাম্মাদ আল-মারওয়াজি এবং ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আদ-দাওরাকি থেকে বর্ণিত যে তারা দুজনেই বলেছেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল একজন ফকিহ।

আবদান বিন উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নিজের চোখে এই যুবকের চেয়ে অধিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কাউকে দেখিনি—এবং তিনি মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের দিকে ইঙ্গিত করলেন।

মুহাম্মদ বিন আবি খুজাইম বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন জাফরকে বলতে শুনেছি: যদি মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের আয়ু বৃদ্ধি করা আমার সাধ্যের মধ্যে থাকত, তবে আমি অবশ্যই তা করতাম; কারণ আমার মৃত্যু হবে একজন সাধারণ ব্যক্তির মৃত্যু, কিন্তু মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের মৃত্যু হলো ইলমের বিদায়।

আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন ইদরিস আর-রাজি ২৪৭ হিজরি সনে বলেন: তোমাদের কাছে খুরাসান থেকে এমন এক ব্যক্তি আসছেন যার চেয়ে বড় হাফিজ সেখান থেকে আর বের হয়নি এবং ইরাকেও তাঁর চেয়ে বড় কোনো জ্ঞানী পদার্পণ করেনি।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٦)
منه، فقدم بعد ذلك محمد بن إسماعيل بأشهر.

وروى عن سليم (بن مجاهد) قال: كنت عند محمد بن سلام فقال لو جئت قبل لرأيت صبيًا يحفظ سبعين ألف حديث، قال: فخرجت لأطلبه حتى لقيته فقلت: أنت الذي تقول: أنا أحفظ سبعين ألف حديث. قال: نعم وأكثر منه، ولا أجيئك بحديث عن الصحابة والتابعين إلا عرفت مولد أكثر منه ووفاتهم ومساكنهم ولست أروي حديثًا من حديث الصحابة والتابعين إلا لي في ذلك أصل أحفظه عن كتاب الله، وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وروي عن أبي حامد بن حمدون القطان أنه قال: سمعت مسلم بن الحجاج، وجاء إلى محمد بن إسماعيل البخاري فقبل بين عينيه وقال: دعني حتى أقبل رجليك يا أستاذ الأستاذين وسيد المحدثين وطبيب الحديث وعلله حدثك محمد بن سلام قال: حدثنا مخلد بن يزيد الحراني قال: نا ابن جريج، عن موسى ابن عقبة، عن سهيل، عن أبيه، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم في كفارة المجلس. فما علته، قال محمد بن إسماعيل: هذا حديث مليح ولا أعلم في الدنيا غير هذا الحديث الواحد في هذا الباب إلا أنه معلول ثنا به موسى بن إسماعيل قال: ثنا وهيب قال: ثنا سهيل عن عوف بن عبد الله قوله، قال محمد ابن إسماعيل: وهذا أولى فإنه لا يذكر لموسى بن عقبة سماع من سهيل، فقال له مسلم، لا يبغضك إلا حاسد، وأشهد أنه ليس في الدنيا مثلك.

وروي عن محمد بن أبي حاتم الوراق النحوي قال: قلت لأبي عبد الله محمد ابن إسماعيل ـ يعني البخاري ـ: تحفظ جميع ما أدخلت في المصنف، قال: لا يخفى على جميع ما فيه.

وروي عن البخاري أنه قال: أحفظ مائة ألف حديث صحيح، وأحفظ مائتي ألف حديث غير صحيح.

وروى عنه أنه قال: أخرجت هذا الكتاب ـ يعني الجامع الصحيح ـ من زهاء ستمائة ألف حديث، وحدثني الشيخ الحافظ أبو (..) ـ رحمه الله
সেখান থেকে, এরপর মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল কয়েক মাস পরে আগমন করলেন।

সুলাইম (ইবন মুজাহিদ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবন সালামের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বললেন: যদি তুমি এর আগে আসতে, তবে এমন এক কিশোরকে দেখতে পেতে যে সত্তর হাজার হাদিস মুখস্থ রাখে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন আমি তাকে খুঁজতে বের হলাম এবং অবশেষে তাঁর দেখা পেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম: আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি বলেন, 'আমি সত্তর হাজার হাদিস মুখস্থ জানি'? তিনি বললেন: হ্যাঁ, বরং তার চেয়েও বেশি। আর আমি সাহাবী এবং তাবিঈদের থেকে তোমার কাছে এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসব না, যার অধিকাংশেরই জন্মকাল, মৃত্যু এবং বাসস্থান সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর আমি সাহাবী ও তাবিঈদের থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করি না, যার স্বপক্ষে আল্লাহর কিতাব এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে আমার নিকট কোনো সংরক্ষিত মূল ভিত্তি নেই।

আবু হামিদ ইবন হামদুন আল-কাত্তান থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আমি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে দেখেছি, তিনি মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারীর নিকট আসলেন এবং তাঁর দুই চোখের মধ্যস্থলে (কপালে) চুম্বন করলেন। এরপর বললেন: "হে উস্তাদদের উস্তাদ, মুহাদ্দিসদের সরদার এবং হাদিস ও তার ত্রুটিসমূহের চিকিৎসক! আমাকে অনুমতি দিন যাতে আমি আপনার পা দুটিতে চুম্বন করতে পারি।" এরপর তিনি বললেন, মুহাম্মদ ইবন সালাম আপনার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাখলাদ ইবন ইয়াযীদ আল-হাররানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা ইবন উকবা থেকে, তিনি সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে 'কাফফারাতুল মজলিস' সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন—এই হাদিসের ত্রুটি (ইল্লত) কী? মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল বললেন: "এটি একটি চমৎকার হাদিস এবং এই বিষয়ে গোটা পৃথিবীতে এই একটি হাদিস ছাড়া আমি অন্য কিছু জানি না। তবে এটি ত্রুটিযুক্ত (মালুল)। এটি আমাদের নিকট মুসা ইবন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উহাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুহাইল বর্ণনা করেছেন আউফ ইবন আব্দুল্লাহর উক্তি হিসেবে।" মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আরও বললেন: "আর এটিই অধিকতর সঠিক, কেননা মুসা ইবন উকবার সুহাইল থেকে সরাসরি শ্রবণ করার কোনো প্রমাণ নেই।" তখন মুসলিম তাঁকে বললেন: "হিংসুক ব্যতীত কেউ আপনাকে অপছন্দ করবে না এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে পৃথিবীতে আপনার সমতুল্য আর কেউ নেই।"

মুহাম্মদ ইবন আবু হাতিম আল-ওয়াররাক আন-নাহবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাইলকে—অর্থাৎ বুখারীকে—জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কি আপনার সংকলিত গ্রন্থে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছেন তার সবটুকুই মুখস্থ রাখেন? তিনি বললেন: এতে যা কিছু আছে তার কিছুই আমার কাছে অস্পষ্ট নয়।

ইমাম বুখারী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি এক লক্ষ সহিহ হাদিস মুখস্থ রাখি এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ রাখি।

তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমি এই গ্রন্থটি—অর্থাৎ আল-জামি আস-সহিহ—প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে চয়ন করে বের করেছি। আর শাইখ আল-হাফিজ আবু (...)—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—আমাকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٧)
ـ فيما كتبه: قال: حدثنا أبو بجر الأسدي قال: ثنا أبو العباس العذري قال: حدثنا أبو العباس العذري قال: نا أبو أحمد بن عدي قال: وسمعت عبد القدوس ابن همام يقول: وسمعت عدة مشايخ يحكون أن محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله قدم بغداد فسمع به أصحاب الحديث فاجتمعوا، وعمدوا إلى مائة حديث فقلبوا متونها وأسانيدها، وجعلوا متن هذا الإسناد لإسناد آخر، وإسناد هذه المتن لمتن آخر، ودفعوا إلى عشرة أنفس، لكل رجل منهم عشرة أحاديث، وأمروهم إذا حضروا المجلس أن يلقوا بها على البخاري، فأخذوا الموعد للمجلس، فحضر المجلس جماعة من أصحاب الحديث من الغرباء من أهل خراسان، وغيرهم، من البغداديين فلما اطمأن المجلس بأهله انتدب إليه رجل من المجلس من العشرة، فسأله عن حديث من تلك الأحاديث المقلوبة، فقال البخاري لا أعرفه، فسأله عن آخر فقال: لا أعرفه، ثم سأله عن آخر فقال: لا أعرفه، فما زال يلقي عليه واحدًا بعد واحد حتى فرغ من عشرته، والبخاري يقول: لا أعرفه، فكان العلماء ممن حضر المجلس يلتفت بعضهم إلى بعض ويقولون: الرجل فهم، ومن كان منهم غير ذلك فهو يقضي على البخاري بالعجز والتقصير وقلة الفهم، ثم انتدب رجل آخر من العشرة فسأله عن حديث من تلك الأحاديث المقلوبة، فقال البخاري: لا أعرفه، وسأله عن آخر، فقال: لا أعرفه، فسأل عن آخر فقال: لا أعرفه، فلم يزل يلقي عليه واحدًا بعد واحد حتى فرغ من عشرته، والبخاري يقول: لا أعرفه، ثم انتدب الثالث والرابع إلى تمام العشرة، حتى فرغوا كلهم من الأحاديث المقلوبة والبخاري لا يزيدهم على أن يقول: لا أعرفه (..). فرغوا التفت إلى الأول منهم فقال: أما حديث الأول فهو كذا، وحديثك الثاني فهو كذا، والثالث والرابع على الولاء حتى أتى على تمام العشرة، فرد كل متن إلى إسناده، وكل إسناد إلى متنه، ثم فعل بالآخرين مثل ذلك، ورد متون الأحاديث كلها إلى أسانيدها، وأسانيدها إلى متونها، فأقر له الناس بالحفظ والعلم، وأذعنوا له بالفضل.

قال: وكذا ابن صاعد رحمه الله إذا ذكر محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله يقول: الكبش النطاح.
তিনি যা লিখেছেন তার মধ্যে রয়েছে: তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর আল-আসাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-আব্বাস আল-উযরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-আব্বাস আল-উযরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আহমাদ বিন আদি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেন: আমি আব্দুল কুদ্দুস ইবনে হাম্মামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি কয়েকজন শাইখকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) যখন বাগদাদে আসলেন, তখন হাদিসবেত্তারা তাঁর আগমনের সংবাদ শুনে একত্রিত হলেন। তাঁরা একশত হাদিস সংগ্রহ করলেন এবং সেগুলোর মূল পাঠ (মতন) ও সনদসমূহ ওলটপালট করে দিলেন। তাঁরা এক সনদের মতন অন্য সনদে এবং এক মতনের সনদ অন্য মতনের সাথে জুড়ে দিলেন। এরপর তাঁরা দশজন ব্যক্তিকে নিয়োগ করলেন এবং প্রত্যেকের হাতে দশটি করে হাদিস তুলে দিলেন। তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হলো যে, তাঁরা যখন মজলিসে উপস্থিত হবেন, তখন যেন এই হাদিসগুলো বুখারীর সামনে পেশ করেন। তাঁরা মজলিসের একটি সময় নির্ধারণ করলেন। মজলিসে খুরাসান ও অন্যান্য অঞ্চলের অনেক প্রবাসী মুহাদ্দিস এবং বাগদাদের অধিবাসীরা উপস্থিত হলেন। মজলিস যখন আগত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে থিতু হলো, তখন সেই দশজনের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে সেই ওলটপালট করা হাদিসগুলো থেকে একটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। বুখারী বললেন, "আমি এটি চিনি না।" এরপর তিনি অন্য একটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন, "আমি এটি চিনি না।" এরপর তিনি অন্য আরেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন, "আমি এটি চিনি না।" তিনি একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর দশটি হাদিস শেষ হলো, আর বুখারী প্রতিটি ক্ষেত্রেই বলছিলেন, "আমি এটি চিনি না।" মজলিসে উপস্থিত আলেমদের মধ্যে যাঁরা বিচক্ষণ ছিলেন, তাঁরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, "এই ব্যক্তি বিষয়টি ধরে ফেলেছেন।" আর যাঁদের অবস্থা তেমন ছিল না, তাঁরা বুখারীর অক্ষমতা, ত্রুটি ও অল্পজ্ঞানের রায় দিতে লাগলেন। এরপর সেই দশজনের মধ্য থেকে দ্বিতীয় আরেকজন ব্যক্তি দাঁড়ালেন এবং সেই ওলটপালট করা হাদিসগুলো থেকে একটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। বুখারী বললেন, "আমি এটি চিনি না।" তিনি অন্য একটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন, "আমি এটি চিনি না।" তিনি অন্য আরেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন, "আমি এটি চিনি না।" এভাবে তিনি একের পর এক হাদিস পেশ করতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর দশটি হাদিস শেষ হলো, আর বুখারী বলছিলেন, "আমি এটি চিনি না।" এরপর তৃতীয়, চতুর্থ করে দশজন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সবাই একে একে দাঁড়ালেন এবং ওলটপালট করা হাদিসগুলো শেষ করলেন। বুখারী "আমি এটি চিনি না" বলা ছাড়া আর কিছুই বাড়ালেন না। তাঁরা যখন শেষ করলেন, তখন তিনি তাঁদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তির দিকে ফিরে বললেন, "তোমার প্রথম হাদিসটি ছিল এমন (সঠিক রূপ), আর তোমার দ্বিতীয় হাদিসটি ছিল এমন, আর তৃতীয় ও চতুর্থটি ছিল এমন..." এভাবে তিনি ধারাবাহিকভাবে দশটি পর্যন্ত শেষ করলেন। তিনি প্রত্যেকটি মতনকে তার সঠিক সনদে এবং প্রত্যেকটি সনদকে তার সঠিক মতনে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর তিনি অন্যদের সাথেও অনুরূপ করলেন। তিনি হাদিসের সকল মতনকে সেগুলোর সনদে এবং সকল সনদকে সেগুলোর মতনে ফিরিয়ে দিলেন। ফলে উপস্থিত সকলে তাঁর হিফজ (স্মৃতিশক্তি) ও ইলমের (জ্ঞান) স্বীকৃতি দিল এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি অনুগত হলো।

তিনি বলেন: অনুরূপভাবে ইবনে সাঈদ (রহিমাহুল্লাহ) যখনই মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কথা উল্লেখ করতেন, তখন বলতেন: "শিং দিয়ে গুঁতো দেওয়া লড়াকু ভেড়া" (অর্থাৎ অপ্রতিদ্বন্দ্বী বীর)।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٨)
وقال أحمد بن عدي: وسمعت الحسن بن الحسين البزار يقول: سمعت إبراهيم بن معقل يقول سمعت محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله يقول: ما أدخلت في هذا الكتاب ـ يعني جامعه الصحيح ـ إلا ما صح، وتركت من الصحيح حتى لا يطول الكتاب.

قال محمد: البخاري إمام من أئمة الحديث وعلله ورجاله، روى عنه جماعة من أئمة الحديث وحفاظهم، فممن روى عنه: أبو علي الحسين بن محمد بن زياد القباني الحافظ، وأبو بكر أحمد بن عمرو بن عبد الخالق البزار، وأبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب بن علي النسائي، وأبو عيسى محمد بن عيسى السلمي الترمذي، وأبو العباس محمد بن إسحاق بن إبراهيم الثقفي السراج، وأبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة السلمي، وأبو محمد عبد الله بن علي بن الجارود النيسابوري، وأبو محمد يحيى بن محمد بن صاعد البغدادي، وأبو عبد الله الحسن بن إسماعيل الضبي البغدادي، وأبو إسحاق إبراهيم بن إسحاق الحربي، وأبو بكر محمد بن سليمان الباغندي، وأبو محمد بن عبد الله بن محمد بن فاختة المخزومي، وغيرهم رحمة الله عليهم أجمعين.
আহমদ ইবনে আদি বলেছেন: আমি হাসান ইবনে হুসাইন আল-বাযযারকে বলতে শুনেছি: আমি ইব্রাহিম ইবনে মা'কিলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারিকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলতে শুনেছি: আমি এই কিতাবে — অর্থাৎ আমার জামে সহিহ-তে — কেবল তা-ই অন্তর্ভুক্ত করেছি যা সহিহ (বিশুদ্ধ), আর অনেক সহিহ হাদিস বর্জন করেছি যাতে কিতাবটি দীর্ঘ না হয়ে যায়।

মুহাম্মদ বলেছেন: বুখারি হলেন হাদিস শাস্ত্র, এর ত্রুটি (ইল্লাত) এবং বর্ণনাকারীদের (রিজাল) ইমামগণের মধ্যে একজন শীর্ষস্থানীয় ইমাম। হাদিসের একদল ইমাম ও হাফেজ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: হাফেজ আবু আলি আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আল-কাব্বানি, আবু বকর আহমদ ইবনে আমর ইবনে আবদুল খালিক আল-বাযযার, আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব ইবনে আলি আন-নাসায়ি, আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আস-সুলামি আত-তিরমিযি, আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আস-সাকাফি আস-সিরাজ, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমা আস-সুলামি, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আলি ইবনুল জারুদ আন-নাইসাবুরি, আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বাগদাদি, আবু আবদুল্লাহ আল-হাসান ইবনে ইসমাইল আদ-দব্বি আল-বাগদাদি, আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আল-হারবি, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-বাগিন্দি, আবু মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফাখিতা আল-মাখযুমি এবং আরও অনেকে, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌باب ذكر إمامته وزهده وورعه

روى عن محمد بن أبي حاتم سار يعني محمد بن إسماعيل البخاري إلى بستان بعض أصحابه (…) صلى بالقوم ثم قام للتطوع وأطال القيام، فلما فرغ من صلاته رفع ذيل قميصه، فقال لبعض من معه: انظر هل ترى تحت قميصي شيئًا، وإذا زنبورًا قد أبره في ستة عشر أو سبعة عشر موضعًا، وقد تورم من ذلك جسده، وكان أثر الزنبور في جسده ظاهرًا، فقال له بعضهم: كيف لم تخرج من الصلاة في أول ما أبرك؟ قال: كنت في سورة فأحببت أن أتمها.

وروى عن حفص بن عمر الأشقر قال: كنا مع محمد بن إسماعيل البخاري بالبصرة نكتب الحديث ففقدناه يومًا فطلبناه، فوجدناه في بيت وهو عريان وقد نفد ما عنده ولم يبق معه شيء، فاجتمعنا وجمعنا له الدراهم حتى اشترينا ثوبًا وكسوناه، ثم اندفع معنا في كتابة الحديث.

وروي عن أبي عبد الله البخاري رحمه الله أنه قال: إني لأرجو أن ألقى الله تعالى ولا يحاسبني أن اغتبت أحدًا.

وقال أبو أحمد بن عدي: سمعت محمد بن يوسف بن بشر الفربري يقول: سمعت النجم بن فضل وكان من أهل المعرفة والفضل يقول: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام وقد خرج من باب ماشيًا في قرية ببخاري وخلفه محمد بن إسماعيل البخاري، فكلما خطا النبي صلى الله عليه وسلم خطوة خطا محمد بن إسماعيل خطوة النبي ـ صلى الله علي وسلم ـ ووضع قدمه على موضع قدم النبي عليه العلم.

قال: وسمعت عبد القدوس بن همام يقول سمعت عدة من المشايخ يقولون: (حاول) محمد بن إسماعيل البخاري تراجم بين [قبر]صلى الله عليه وسلم ومنبره وكان يصلي لكل ترجمة ركعتين.

قال محمد: وروى عن أبي الهيثم الكشميهني قال: سمعت محمد بن يوسف الفربري يقول: قال لي محمد بن إسماعيل البخاري: ما وضعت في كتاب الصحيح حديثًا إلا اغتسلت قبل ذلك وصليت ركعتين.
তাঁর ইমামত (নেতৃত্ব), যুহদ (দুনিয়াত্যাগ) এবং ওরা' (খোদাভীতি) বর্ণনার পরিচ্ছেদ

মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারি তাঁর এক বন্ধুর বাগানে গেলেন (…) তিনি লোকেদের নিয়ে নামাজ পড়লেন, তারপর নফল নামাজে দাঁড়ালেন এবং কিয়াম (দাঁড়ানো) দীর্ঘ করলেন। যখন তিনি নামাজ শেষ করলেন, তখন তাঁর কামিজের নিচের অংশ তুললেন এবং তাঁর সাথে থাকা একজনকে বললেন: দেখ তো, আমার কামিজের নিচে কিছু দেখতে পাও কি না? দেখা গেল একটি বোলতা তাঁকে ষোল বা সতেরটি স্থানে হুল ফুটিয়েছে এবং তাতে তাঁর শরীর ফুলে গেছে। তাঁর শরীরে বোলতার হুলের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তখন তাঁদের একজন তাঁকে বললেন: প্রথমবার হুল ফোটানোর সময়ই আপনি কেন নামাজ শেষ করলেন না? তিনি বললেন: আমি একটি সূরা পড়ছিলাম, তাই সেটি শেষ করতে চেয়েছিলাম।

হাফস ইবনে উমর আল-আশকার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা বসরায় মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারির সাথে হাদিস লিখছিলাম। একদিন আমরা তাঁকে খুঁজে পেলাম না, তাই তাঁর খোঁজ করলাম। তাঁকে একটি ঘরে পেলাম, তিনি বিবস্ত্র অবস্থায় ছিলেন (পোশাকের অভাবে) এবং তাঁর কাছে যা ছিল তা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল, কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তখন আমরা একত্রিত হয়ে তাঁর জন্য দিরহাম সংগ্রহ করলাম এবং তাঁর জন্য কাপড় কিনে তাঁকে পরালাম। এরপর তিনি পুনরায় আমাদের সাথে হাদিস লেখায় লিপ্ত হলেন।

আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: আমি আশা করি আমি মহান আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করব যে, তিনি আমাকে কারও গীবত (পরনিন্দা) করার জন্য হিসাব নেবেন না।

আবু আহমাদ ইবনে আদি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে বিশর আল-ফিরাবরিকে বলতে শুনেছি: আমি নাজমু ইবনে ফজলকে—যিনি মারেফাত ও ফযিলতের অধিকারী ছিলেন—বলতে শুনেছি: আমি স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম যে তিনি বুখারার একটি গ্রামে একটি দরজা দিয়ে হেঁটে বের হচ্ছেন এবং তাঁর পেছনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারি রয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই একটি পদক্ষেপ ফেলছিলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈলও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঠিক সেই পদক্ষেপের স্থানে নিজের পা রাখছিলেন।

তিনি বলেন: আমি আব্দুল কুদ্দুস ইবনে হাম্মামকে বলতে শুনেছি, আমি অনেক শাইখকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর এবং মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে বসে (সহিহ বুখারির) অধ্যায়সমূহ বিন্যাস করেছেন এবং প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছেন।

মুহাম্মদ বলেন: আবুল হাইসাম আল-কুশমিহানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরিকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারি আমাকে বলেছেন: আমি আমার 'সহিহ' গ্রন্থে কোনো হাদিস সন্নিবেশ করিনি যতক্ষণ না আমি তার আগে গোসল করেছি এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
صفته رحمه الله

حدثنا الشيخ الحافظ أبو بكر البيهقي فيما كتب إليّ قال: ثنا أبو بجر الأسدي، عن أبي العباس العذري.

وحدثني صاحب لنا قراءة مني عليه، عن أبي القاسم خلف بن عبد الملك الأنصاري قال: قرأته على القاضي أبي عبد الله محمد بن عبد العزيز الأنصاري، عن أبي العباس العُذري، عن أبي العباس الرازي، عن أبي أحمد بن عدي قال: سمعت الحسن بن الحسين البزار يقول: رأيت محمد بن إسماعيل البخاري شيخًا نحيف الجسم ليس بالطويل ولا بالقصير.
তাঁর দৈহিক বৈশিষ্ট্য, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।

শায়খ আল-হাফিজ আবু বকর আল-বাইহাকী আমাদের নিকট যা লিখেছেন তাতে তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু বকর আল-আসাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস আল-উযরী থেকে।

এবং আমাদের এক সাথী আমার নিকট পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম খালাফ ইবনে আব্দুল মালিক আল-আনসারী থেকে, তিনি বলেন: আমি এটি বিচারক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-আনসারীর নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু আব্বাস আল-উযরী থেকে, তিনি আবু আব্বাস আর-রাযী থেকে, তিনি আবু আহমদ ইবনে আদি থেকে, তিনি বলেন: আমি হাসান ইবনে হুসাইন আল-বাযযারকে বলতে শুনেছি: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারীকে একজন শায়খ হিসেবে দেখেছি যার শরীর ছিল ক্ষীণ, তিনি দীর্ঘাকৃতিও ছিলেন না আবার খর্বাকৃতিও ছিলেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢١)
ذكر امتحانه وخبره مع

خالد بن أحمد الأمير وإلى بخاري

قال أبو أحمد بن عدي: ذكر لي جماعة من المشايخ أن محمد بن إسماعيل رحمه الله لما ورد نيسابور اجتمع الناس إليه وعقد له المجلس حتى بغض من كان في ذلك الوقت من مشايخ نيسابور لما رأى من إقبال الناس إليه واجتماعهم عليه فقال لأصحاب الحديث: إن محمد بن إسماعيل البخاري يقول اللفظ بالقرآن مخلوق فامتحنوه في المجلس، فلما حضر الناس مجلس البخاري قام إليه رجل فقال: يا أبا عبد الله، ما تقول في اللفظ بالقرآن مخلوق هو أو غير مخلوق، فأعرض عنه (…) ثم أعاد عليه القول فأعرض عنه، ولم يجبه ثم قال في الثالثة (…) محمد بن إسماعيل وقال: القرآن كلام الله غير مخلوق، وأفعال العباد مخلوقة والامتحان بدعة، فشغب الرجل وشغب الناس وتفرقوا عنه، وقعد البخاري في منزله.

قال ابن عدي: وسمعت الإسماعيلى يقول: سمعت الفرهباني يقول: سمعت عمرو بن منصور النيسابوري يقول: سمعت محمد بن إسماعيل البخاري وسُئل عن اللفظ بالقرآن فقال: سمعت عبيد الله بن سعيد أبا قدامة السرخسي يقول: سمعت يحيى بن سعيد القطان وعبد الرحمن بن مهدي يقولان: أفعال العباد مخلوقة.

قال ابن عدي: وسمعت أبا بكر الإسماعيلي يقول: سمعت الفرهباني يقول: قيل لمحمد بن إسماعيل: ترجع عما قلت ليعود الناس إليك فقال: لا حاجة لي فيهم.

قال ابن عدي: وسمعت عبد الحميد يقول: سمعت أبي يقول: سمعت حيان ابن محمد بن يحيى يقول: قلت لأبي يا أبة، مالك ولهذا الرجل (يعني محمد بن إسماعيل) ولست من رجاله في العلم؟ قال: رأيته بمكة يتبع شمخصة، وكان شمخصة كوفيًا قد فبلغ ذلك محمد بن إسماعيل يقول: دخلت مكة ولم أعرف بها أحدًا من المحدثين، وكان شمخصة هذا قد عرف المحدثين فكنت أتبعه ليقيدني من
বুখারার আমীর খালিদ বিন আহমাদ এর সাথে তার পরীক্ষা ও সংবাদ সম্পর্কে আলোচনা।

আবু আহমাদ বিন আদি বলেন: একদল মাশায়েখ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যখন নিশাপুরে আগমন করেন, তখন লোকজন তার কাছে সমবেত হয় এবং তার জন্য মজলিস স্থাপন করা হয়। এমনকি সেই সময়ের নিশাপুরের মাশায়েখগণ তাকে অপছন্দ করতে শুরু করেন যখন তারা দেখলেন মানুষ তার প্রতি ঝুঁকে পড়ছে এবং তার কাছে একত্রিত হচ্ছে। তখন তারা আহলুল হাদিসদের বললেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বুখারী বলছেন যে 'কুরআনের উচ্চারণ সৃষ্টি', সুতরাং মজলিসে তাকে এ বিষয়ে পরীক্ষা করো। যখন লোকজন বুখারীর মজলিসে উপস্থিত হলো, তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল: হে আবু আব্দুল্লাহ, কুরআনের উচ্চারণের ব্যাপারে আপনি কী বলেন, এটি কি সৃষ্টি না কি সৃষ্টি নয়? তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন (…) এরপর লোকটি আবার সেই কথা বলল, তিনি আবারও বিমুখ হলেন এবং তাকে উত্তর দিলেন না। অতপর তৃতীয়বারে মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বললেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, যা সৃষ্টি নয়; আর বান্দাদের কার্যাবলি সৃষ্টি এবং (এভাবে) পরীক্ষা করা বিদআত। তখন লোকটি হট্টগোল শুরু করল এবং লোকেরাও হট্টগোল করল ও তার কাছ থেকে চলে গেল। আর বুখারী তার বাড়িতে অবস্থান করতে লাগলেন।

ইবনে আদি বলেন: আমি ইসমাইলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি ফারাহবানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আমর বিন মানসুর নিশাপুরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বুখারীকে বলতে শুনেছি যখন তাকে কুরআনের উচ্চারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন: আমি ওবায়দুল্লাহ বিন সাইদ আবু কুদামা আস-সারখাসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন সাইদ আল-কাত্তান এবং আব্দুর রহমান বিন মাহদীকে বলতে শুনেছি, তারা বলেছেন: বান্দাদের কার্যাবলি সৃষ্টি।

ইবনে আদি বলেন: আমি আবু বকর আল-ইসমাইলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ফারাহবানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইলকে বলা হলো: আপনি যা বলেছেন তা থেকে ফিরে আসুন যাতে মানুষ আপনার কাছে ফিরে আসে। তিনি বললেন: তাদের ব্যাপারে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।

ইবনে আদি বলেন: আমি আব্দুল হামিদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাইয়ান ইবনে মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: হে পিতা, আপনার ও এই ব্যক্তির (অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল) মাঝে কী হয়েছে? অথচ আপনি ইলমের ক্ষেত্রে তার সমপর্যায়ের নন। তিনি বললেন: আমি তাকে মক্কায় দেখেছি শামখাসাহ্-এর অনুসরণ করতে। শামখাসাহ্ ছিলেন একজন কুফিবাসী। এই সংবাদ মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের কাছে পৌঁছলে তিনি বলেন: আমি মক্কায় প্রবেশ করেছি অথচ সেখানকার মুহাদ্দিসদের কাউকে আমি চিনতাম না। আর এই শামখাসাহ্ মুহাদ্দিসদের চিনতেন, তাই আমি তার অনুসরণ করতাম যাতে তিনি আমাকে তাদের থেকে লিপিভুক্ত করে দেন—
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
المحدثين، وأي عيب في هذا.

قال محمد: وقال أبو عبد الله محمد بن عبد الله النياسبوري الحافظ: ثنا أبو بكر محمد بن أبي الهيثم المطوعي ببخاري قال: ثنا محمد بن يوسف الفربري قال: سمعت أبا عبد الله محمد بن إسماعيل يقول: أما أفعال العباد فمخلوقة، فقد حدثنا علي بن عبد الله قال: ثنا مروان بن معاوية قال: نا أبو مالك عن ربعي بن حراش عن حذيفة قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الله يصنع كل صانع وصنعته".

قال أبو عبد الله: سمعت عبيد الله بن سعيد يقول: سمعت يحيى بن سعيد يقول: ما زلت أسمع أصحابنا يقولون: إن أفعال العباد مخلوقة، فقال أبو عبد الله البخاري: حركاتهم، وأصواتهم، وأكسابهم وكتابتهم مخلوقة فأما القرآن المتلو المبين المثبت في المصاحف المسطور المكتوب الموعي في القلوب، فهو كلام الله ليس بخلق قال الله تعالى: (بل هو آيات بينات في صدور الذين أوتوا العلم).

قال محمد: وروى عن أبي سعيد محمد بن عبد الله بن حمدون قال: سمعت أبا حامد الشرقي يقول: سمعت محمد بن يحيى يعني الذهلي يقول: القرآن كلام الله غير مخلوق من جميع جهاته وحيث يتصرف فمن لزم استغنى عن ذلك اللفظ، وعما سواه من الكلام في القرآن، ومن زعم أن القرآن مخلوق فقد كفر، وخرج عن الإيمان، وبانت منه امرأته ويستتاب فإن تاب وإلا ضربت عنقه، وجعل ماله فيئًا بين المسلمين ولم يدفن في مقابر المسلمين قال: ومن وقف فقال لا أقول مخلوق أو غير مخلوق فقد ضاهى الكفر، ومن زعم أن لفظي بالقرآن مخلوق هذا مبتدع لا يجالس ولا يكلم، ومن ذهب بعد مجلسنا هذا إلى محمد بن إسماعيل البخاري فاتهموه فإنه لا يحضر مجلسه إلا من كان على مثل مذهبه.

وروى عن أحمد بن منصور بن محمد الشيرازي قال: حدثني محمد بن يعقوب الأخرم قال: سمعت أصحابنا يقولون: لما قدم محمد بن إسماعيل البخاري نيسابور استقبله أربعة آلاف رجل ركبان على الخيل سوى من ركب بغلاً أو حمارًا، وسوى الرحالة فحضر الكل مجلسه إلى أن أظهر من قوله ما أظهر فبلغ
মুহাদ্দিসগণ, আর এতে দোষের কী আছে?

মুহাম্মদ বলেন: হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-নিশাপুরী বলেছেন: আমাদের কাছে বুখারায় আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবিল হাইসাম আল-মুতাউয়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফারাবরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইলকে বলতে শুনেছি: বান্দাদের কর্মসমূহ সৃষ্টি। আলী বিন আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মালিক আমাদের নিকট রিবয়ী বিন হিরাশ থেকে, তিনি হুজায়ফা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক কারিগর এবং তার কারিগরিকে সৃষ্টি করেন।"

আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আমি উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি সর্বদা আমাদের সাথীদের বলতে শুনেছি যে, বান্দাদের কর্মসমূহ সৃষ্টি। অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী বলেন: তাদের নড়াচড়া, তাদের শব্দসমূহ, তাদের উপার্জন এবং তাদের লেখা সৃষ্টি; তবে তিলাওয়াতকৃত সুস্পষ্ট কুরআন যা মাসহাফসমূহে সংরক্ষিত, সারিবদ্ধভাবে লিখিত এবং যা হৃদয়ে সংরক্ষিত, তা আল্লাহর কালাম, সৃষ্টি নয়। মহান আল্লাহ বলেন: (বরং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের হৃদয়ে তা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ)।

মুহাম্মদ বলেন: আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামদুন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু হামিদ আশ-শারকীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া অর্থাৎ আদ-দুহলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, এটি সকল দিক থেকেই এবং এর সকল ব্যবহারেই অনাদি (সৃষ্টি নয়)। যে ব্যক্তি এটি আঁকড়ে ধরবে সে উক্ত শব্দ চয়ন এবং কুরআন সম্পর্কিত অন্য সকল বিতর্ক থেকে মুক্ত থাকবে। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে কুরআন সৃষ্টি, সে কুফরি করল এবং ঈমান থেকে বের হয়ে গেল, তার স্ত্রী তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তাকে তওবা করতে বলা হবে। যদি সে তওবা করে (তবে ভালো), অন্যথায় তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে, তার সম্পদ মুসলিমদের মধ্যে 'ফাই' (লব্ধ সম্পদ) হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হবে না। তিনি বলেন: আর যে ব্যক্তি বিরত থাকবে এবং বলবে যে 'আমি সৃষ্টি বা অ-সৃষ্টি কিছুই বলব না', সে কুফরিকে অনুকরণ করল। আর যে দাবি করবে যে 'কুরআন নিয়ে আমার উচ্চারণ সৃষ্টি', সে একজন বিদআতি; তার সাথে বসা যাবে না এবং কথাও বলা যাবে না। আর আমাদের এই মজলিসের পর যে ব্যক্তি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর কাছে যাবে, তাকে তোমরা অভিযুক্ত করবে; কারণ তার মজলিসে কেবল তারাই উপস্থিত হয় যারা তার মতাদর্শের ওপর রয়েছে।

আহমদ বিন মনসুর বিন মুহাম্মদ আল-শিরাজি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-আখরাম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমাদের সাথীদের বলতে শুনেছি: যখন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী নিশাপুরে আসলেন, তখন চার হাজার ঘোড়সওয়ার তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন, এছাড়া খচ্চর বা গাধার আরোহী এবং পথচারীরা তো ছিলই। অতঃপর সকলেই তার মজলিসে উপস্থিত হয়েছিল, যতক্ষণ না তিনি তার বক্তব্য প্রকাশ করলেন যা তিনি প্রকাশ করেছিলেন, এরপর সংবাদ পৌঁছাল...
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ذلك محمد بن يحيى الذهلي (…) مسلم بن الحجاج (…) حضر عند محمد بن يحيى فقال محمد بن يحيى: أحكم على من قال لفظي بالقرآن أن يترك مجلسي قال: فقام مسلم فخرج وتبعه أحمد بن سلمة فقال محمد بن يحيى: لا يساكني هذا الرجل في بلد فخشي البخاري أن يلحقه منه مكروه فخرج فسمعت القاسم بن القاسم: سمعت إبراهيم وراق أحمد بن سيار: يقول: لما قدم البخاري مرو استقبله أحمد بن سيار فيمن استقبله فقال له أحمد بن سيار: يا أبا عبد الله، نحن لا نخالفك فيما تقول لكن العامة لا تحتمل ذا منك، فقال: إني أخشى الله أن أسأل عن شيء أعلمه حقًا أن أقول غيره، فانصرف عنه أحمد بن سيار.

قال محمد: وذكر أبو محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي محمد بن إسماعيل البخاري في كتاب الجرح والتعديل فقال: قدم عليهم من الري سنة مائتين وخمسين، سمع منه أبي، وأبو زرعة ترك حديثه عندما كتب إليهما محمد ابن يحيى النيسابوري أنه أظهر عندهم أن لفظه بالقرآن مخلوق.

وروي عن أبي عمرو أحمد بن نصر بن إبراهيم النيسابوري الخفاف أنه قال: أتيت محمد بن إسماعيل فناظرته في شيء من الأحاديث حتى طابت نفسه فقلت: يا أبا عبد الله، ها هنا أحد يحكي عنك أنه قلت هذا المقالة، فقال: يا أبا عمرو، احفظ ما أقول لك، من زعم من أهل نيسابور وقومس والري وهمذان وحلوان وبغداد والكوفة ومكة والبصرة أني قلت لفظي بالقرآن مخلوق فهو كذاب فإني لم أقل هذه المقالة إلا أني قلت: أفعال العباد مخلوقة.

وروي عن أبي إسماعيل بكر بن منير أنه قال: بعث الأمير خالد بن أحمد الذهلي والي بخاري إلى محمد بن إسماعيل أن احمل إلى كتاب الجامع والتاريخ وغيرهما لأسمع منها، فقال محمد بن إسماعيل لرسوله: أنا لا أذل العلم ولا أحمله إلى أبواب الناس، فإن كان لك إلى شيء منه حاجة فاحضرني في مسجدي، وفي داري، وإن لم يعجبك هذا فأنت سلطان فامنعني من المجس ليكون لي عذرًا عند
তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দুহলী (…) মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (…) মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়ার নিকট উপস্থিত হলেন। তখন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া বললেন: "যে ব্যক্তি বলবে যে তার কুরআনের উচ্চারণ সৃষ্ট (মাখলুক), আমি ফয়সালা দিচ্ছি যে সে যেন আমার মজলিস ত্যাগ করে।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন মুসলিম উঠে দাঁড়ালেন এবং বেরিয়ে গেলেন, আর আহমাদ ইবনে সালামাহ তাকে অনুসরণ করলেন। অতঃপর মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া বললেন: "এই ব্যক্তি যেন আমার সাথে একই শহরে বাস না করে।" ফলে বুখারী আশঙ্কা করলেন যে তার পক্ষ থেকে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হতে পারে, তাই তিনি বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর আমি কাসেম ইবনুল কাসেমকে বলতে শুনেছি: আমি আহমাদ ইবনে সাইয়্যারের লেখক ইবরাহীমকে বলতে শুনেছি: যখন বুখারী মার্ভে আসলেন, তখন আহমাদ ইবনে সাইয়্যার তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা লোকদের সাথে তাকে অভ্যর্থনা জানালেন। অতঃপর আহমাদ ইবনে সাইয়্যার তাকে বললেন: "হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি যা বলেন আমরা তাতে আপনার বিরোধিতা করি না, কিন্তু সাধারণ মানুষ আপনার থেকে এই কথাটি সহ্য করতে পারবে না।" তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহকে ভয় করি যে, আমি এমন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হব যা আমি সত্য বলে জানি আর আমি তা ভিন্ন অন্য কিছু বলব।" ফলে আহমাদ ইবনে সাইয়্যার তার থেকে ফিরে গেলেন।

মুহাম্মাদ বলেন: আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি ‘আল-জারহ ওয়াত-তা’দীল’ গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারীর উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি ২৫০ হিজরীতে রেই অঞ্চলে তাদের নিকট এসেছিলেন। আমার পিতা তার থেকে হাদিস শুনেছেন, কিন্তু আবু জুরআহ তার হাদিস পরিত্যাগ করেছিলেন যখন মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আন-নাইসাবুরী তাদের নিকট চিঠি লিখেছিলেন যে, তিনি তাদের নিকট প্রকাশ করেছেন যে কুরআনে তার উচ্চারণ মাখলুক (সৃষ্ট)।

আবু আমর আহমাদ ইবনে নাসর ইবনে ইবরাহীম আন-নাইসাবুরী আল-খাফফাফ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের নিকট আসলাম এবং কিছু হাদিস নিয়ে তার সাথে আলোচনা করলাম এমনকি তিনি সন্তুষ্ট হলেন। তখন আমি বললাম: "হে আবু আব্দুল্লাহ, এখানে একজন আছে যে আপনার পক্ষ থেকে বর্ণনা করে যে আপনি এই কথাটি বলেছেন।" তিনি বললেন: "হে আবু আমর, আমি যা বলছি তা মনে রেখো; নাইসাবুর, কুমাস, রেই, হামাদান, হালওয়ান, বাগদাদ, কুফা, মক্কা ও বসরার অধিবাসীদের মধ্যে যে ব্যক্তি দাবি করবে যে আমি বলেছি ‘কুরআনে আমার উচ্চারণ মাখলুক’, সে মিথ্যাবাদী। কেননা আমি এই কথাটি বলিনি, বরং আমি বলেছি: ‘বান্দাদের কর্মসমূহ সৃষ্ট’।"

আবু ইসমাইল বাকর ইবনে মুনীর থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: বুখারার ওয়ালি আমির খালিদ ইবনে আহমাদ আদ-দুহলী মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলের নিকট লোক পাঠালেন যেন তিনি তার নিকট ‘আল-জামি’’, ‘আত-তারিখ’ এবং অন্যান্য কিতাবগুলো নিয়ে আসেন যাতে তিনি তা থেকে হাদিস শুনতে পারেন। তখন মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল তার দূতকে বললেন: "আমি ইলমকে অপমানিত করব না এবং মানুষের দ্বারে দ্বারে তা বহন করে নিয়ে যাব না। যদি এর কোনো কিছুতে আপনার প্রয়োজন থাকে তবে আমার মসজিদে বা আমার বাড়িতে উপস্থিত হোন। আর যদি আপনার কাছে এটি পছন্দনীয় না হয় তবে আপনি তো শাসক, আমাকে মজলিস করতে নিষেধ করে দিন যাতে আল্লাহর নিকট আমার ওজর থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الله تعالى يوم القيامة. لأني لا أكتم العلم لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "من سئل عن علم فكتمه ألجم بلجام من نار" قال بكار: سبب الوحشة بينهما هذا.

وروى عن محمد بن عبد الله الحافظ قال: سمعت محمد بن العباس الضبي يقول: سمعت أبا بكر بن أبي عمرو الحافظ يقول: كان سبب مفارقة أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البلد ـ يعني بخاري ـ أن خالد بن أحمد الذهلي الأمير خليفة الظاهرية ببخاري سأل أن يحضر منزله فيقرأ الجامع والتاريخ على أولاده، فامتنع أبو عبد الله عن الحضور عنده، فراسله أن يعقد مجلسًا لأولاده ولا يحضره غيرهم، فامتنع عن ذلك أيضًا، وقال: لا يسعني أن أخص بالسماع قومًا دون قوم، فاستعان خالد بن أحمد بحريث بن أبي الورقاء وبغيره من أهل العلم ببخاري عليه حتى تكلموا في مذهبه ونفاه عن البلد، فدعا عليهم أبو عبد الله محمد بن إسماعيل فقال: اللهم أرهم ما قصدوني به في أنفسهم وأولادهم، وأهاليهم، فأما خالد فلم يأت عليه أقل من شهر حتى ورد أمر الظاهرية بأن ينادي عليه فنودي عليه وهو على أتان وأشخص على إكاف ثم صار عاقبة أمره إلى ما قد انتشر وشاع، وأما حريث بن أبي الورقاء فإنه ابتلي في أهله فرأى فيها ما يحل عن الوصف وأما فلان (…) يبتلى بأولاده، وأراه الله فيهم البلايا.
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা (এর নিকট জবাবদিহি করতে হবে)। কারণ আমি ইলম বা জ্ঞান গোপন করি না, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যাকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো আর সে তা গোপন করল, তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।" বাক্কার বলেন: তাদের উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের কারণ ছিল এটিই।

মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন আব্বাস আদ-দব্বীকে বলতে শুনেছি: আমি আবু বকর বিন আবি আমর আল-হাফিজকে বলতে শুনেছি: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল (অর্থাৎ ইমাম বুখারি)-এর শহর — অর্থাৎ বুখারা — ত্যাগের কারণ ছিল এই যে, বুখারায় তাহিরি বংশের প্রতিনিধি আমির খালিদ বিন আহমদ আদ-যুহলি অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি তার বাসভবনে উপস্থিত হয়ে তার সন্তানদের নিকট 'আল-জামি' এবং 'আত-তারিখ' পাঠ করে শোনান। আবু আব্দুল্লাহ তার নিকট উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানান। তখন আমির তাকে পুনরায় বার্তা পাঠান যেন তিনি কেবল তার সন্তানদের জন্য একটি পাঠদানের মজলিস করেন যেখানে অন্য কেউ উপস্থিত থাকবে না। তিনি এতেও অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন: "আমি নির্দিষ্ট কিছু লোককে ইলম শ্রবণের জন্য বিশেষায়িত করতে এবং অন্যদের বঞ্চিত করতে পারি না।" ফলে খালিদ বিন আহমদ হুরাইস বিন আবিল ওয়ারকা এবং বুখারার অন্যান্য আলেমদের সাহায্য নিলেন এবং তারা তার মাযহাব (আকিদা) সম্পর্কে সমালোচনা শুরু করলেন এবং তাকে শহর থেকে বহিষ্কার করলেন। তখন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে বললেন: "হে আল্লাহ! তারা আমার প্রতি যে মন্দ উদ্দেশ্য পোষণ করেছে, তা আপনি তাদের নিজেদের জীবনে, তাদের সন্তানদের মাঝে এবং তাদের পরিবারের মাঝে তাদের দেখিয়ে দিন।" অতঃপর খালিদের ব্যাপারে অবস্থা এই দাঁড়াল যে, এক মাস পার হওয়ার আগেই তাহিরি শাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ এলো যে তাকে জনসমক্ষে লাঞ্ছিত করে ঘোষণা দেওয়া হোক। ফলে তাকে একটি মাদি গাধার পিঠে চড়িয়ে এবং জিনহীন গাধার ওপর বসিয়ে ঘুরিয়ে ঘোষণা দেওয়া হলো। এরপর তার পরিণাম তা-ই হলো যা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রসিদ্ধ হয়েছে। আর হুরাইস বিন আবিল ওয়ারকার ব্যাপার হলো, তিনি তার পরিবারের মাধ্যমে এমন পরীক্ষায় নিপতিত হলেন যা বর্ণনা করাও কঠিন। আর অমুক (…) তার সন্তানদের মাধ্যমে পরীক্ষার সম্মুখীন হলেন এবং আল্লাহ তাকে তাদের ব্যাপারে কঠিন বিপদ প্রত্যক্ষ করালেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
تاريخ موته رحمه الله

قال أبو أحمد بن عدي: وسمعت الحسن بن الحسين البزار البخاري يقول: توفي محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله ليلة السبت عند صلاة العشاء، في ليلة الفطر، ودفن يوم الفطر بعد صلاة الظهر، يوم السبت مستهل شوال من شهور سنة ست وخمسين ومائتين، وعاش اثنتين وستين سنة، إلا ثلاثة عشر يومًا رحمه الله.

وروى عن أي العباس الفضل بن بسام قال: سمعت إبراهيم بن محمد يقول: أنا توليت دفن محمد بن إسماعيل لما أن مات بخرتنك أردت حمله إلى مدينة سمرقند أن أدفنه بها، فلم يتركني صاحب لنا فدفناه بها، فلما أن فرغنا ورجعت إلى المنزل الذي كنت فيه قال لي صاحب القصر سألته أمس فقلت: يا أبا عبد الله، ما تقول في القرآن، فقال: القرآن كلام الله غير مخلوق، قال: فقلت: إن الناس يزعمون أنك تقول: ليس في المصاحف قرآن ولا في صدور الناس، فقال: أستغفر الله أن تشهد علي بشيء لم تسمعه مني، قال: أقول كما قال الله تعالى: (والطور وكتاب مسطور) وأقول في المصحف قرآن، وفي صدور الناس قرآن، فمن قال غير هذا يستتاب، فإن تاب وإلا فسبيله سبيل الكفر.

وروى عن إبراهيم بن مغفل: رأيت محمد بن إسماعيل في اليوم الذي أخرج فيه من بخارى، قال: فتقدمت إليه فقلت: يا أبا عبد الله، كيف ترى هذا اليوم من ذلك اليوم الذي نثر عليك فيه نثر، فقال: لا أبالي إذا سلم ديني، قال: فخرج إلى بيكند، فصار الناس معه حزبين، حزب معه، وحزب عليه إلى أن كتب إليه أهل سمرقند فسألوه أن يقدم عليهم، فقدم إلى أن وصل بعض قرى سمرقند فوقع بين أهل سمرقند فتنة من سببه قوم يريدون إدخاله البلد وقوم لا يريدون دخوله. أن اتفقوا على أن يرحل (…) الخير وما وقع بينهم فخرج يريد أن يركب فلما استوى على دابته قال: اللهم خر لي: (…) ميتًا.

واتصل بأهل سمرقند فأتوا بأجمعه فصلوا عليه (…) رحمه الله.
তাঁর মৃত্যুর তারিখ, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

আবু আহমাদ ইবনে আদি বলেন: আমি আল-হাসান ইবনুল হুসাইন আল-বায্যার আল-বুখারিকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) শনিবার রাতে ইশার সালাতের সময়, ঈদুল ফিতরের রাতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার যোহরের সালাতের পর দাফন করা হয়, যা ছিল ২৫৬ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের শুরু। তিনি তেরো দিন কম বাষট্টি বছর বেঁচে ছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

আবুল আব্বাস আল-ফাদল ইবনে বাসসাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল যখন খারতাঙ্কে মৃত্যুবরণ করেন, তখন আমি তাঁর দাফনের দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমি তাঁকে সমরকন্দ শহরে নিয়ে গিয়ে সেখানে দাফন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের এক সাথী আমাকে তা করতে দেননি, ফলে আমরা তাঁকে সেখানেই দাফন করি। যখন আমরা দাফন সম্পন্ন করে আমি যে আবাসে অবস্থান করছিলাম সেখানে ফিরে এলাম, তখন প্রাসাদের মালিক আমাকে বললেন যে, তিনি গতকাল তাঁকে (বুখারিকে) জিজ্ঞাসা করেছিলেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, কুরআন সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি উত্তরে বলেছিলেন: কুরআন আল্লাহর বাণী, তা সৃষ্টি নয়। তিনি বলেন: আমি বললাম: মানুষ তো ধারণা করে যে আপনি বলেন—মাসহাফসমূহে কোনো কুরআন নেই এবং মানুষের অন্তরেও নেই। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যে আপনি আমার বিরুদ্ধে এমন বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যা আমার থেকে শোনেননি। তিনি বলেন: আমি তা-ই বলি যা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (শপথ তূর পাহাড়ের এবং লিখিত কিতাবের)। আমি বলি যে, মাসহাফের মধ্যে কুরআন আছে এবং মানুষের অন্তরের মধ্যেও কুরআন আছে। যে ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম কিছু বলবে তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তার পথ কুফরির পথ।

ইব্রাহিম ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণিত: আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইলকে সেই দিন দেখেছিলাম যেদিন তাঁকে বুখারা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন: আমি তাঁর নিকটবর্তী হয়ে বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, যেদিন আপনার ওপর অজস্র উপহার ছিটানো হয়েছিল সেই দিনের তুলনায় আজকের দিনটিকে আপনি কেমন দেখছেন? তিনি বললেন: আমার দ্বীন যদি নিরাপদ থাকে তবে আমি কোনো পরোয়া করি না। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি বিকান্দের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। সেখানে মানুষ তাঁকে নিয়ে দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল—এক দল তাঁর পক্ষে এবং এক দল তাঁর বিপক্ষে। পরিশেষে সমরকন্দবাসীরা তাঁর কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিকট আসার অনুরোধ জানাল। তিনি রওয়ানা হলেন এবং যখন সমরকন্দের কিছু গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন তাঁর আগমনের কারণে সমরকন্দবাসীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হলো। এক দল লোক তাঁকে শহরে প্রবেশ করাতে চাইল এবং অন্য দল তাঁর প্রবেশ চাইল না। একপর্যায়ে তারা একমত হলো যে তিনি প্রস্থান করবেন (…) কল্যাণ এবং তাদের মধ্যে যা ঘটেছিল। এরপর তিনি বের হলেন সওয়ারিতে আরোহণের উদ্দেশ্যে। যখন তিনি তাঁর পশুর ওপর উঠলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য যা উত্তম তা নির্বাচন করুন: (…) মৃত অবস্থায়।

খবর সমরকন্দবাসীর কাছে পৌঁছালে তারা সকলে উপস্থিত হলেন এবং তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন (…) আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وقال أبو أحمد بن عدي: وسمعت عبد القدوس بن عبد الجبار السمرقندي يقول: جاء محمد بن إسماعيل إلى خرتنك قرية من قرى سمرقند على فرسخين منها، وكان له بها أقارب فنزل عندهم، قال: فسمعته ليلة من الليالي، وقد فرغ من صلاة الليل يدعو ويقول في دعائه: اللهم قد ضاقت على الأرض بما رحبت فاقبضني إليك، قال: فما تم الشهر حتى قبضه الله، وقبره بخرتنك، رحمه الله.

وقال أبو علي حسين بن محمد الجباني: أخبرني أبو الحسن طاهر بن معوذ ابن عبد الله بن معوذ المعافري صاحبنا رحمه الله قال: أنا أبو الفتح وأبو الليث نصر بن الحسن التنكتي المقيم بسمرقند قدم عليهم بلسية عام أربعة وستين وأربعمائة، قال: قحط المطر عندنا بسمرقند في بعض الأعوام، قال: فاستسقى الناس مرارًا فلم يسقوا، قال: فأتى رجل من الصالحين معروف بالصلاح مشهور به إلى قاضي سمرقند فقال له: إني قد رأيت رأيًا أعرضه عليك، قال: وما هو؟ قال: أرى أن تخرج ويخرج الناس إلى قبر الإمام محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله وقبره بخرتنك وتستسقوا عنده، فعسى أن يسقينا، قال: فقال القاضي: نعم رأيت، فخرج القاضي وخرج الناس معه، واستسقى القاضي بالناس وبكى الناس عند القبر وتشفعوا بصاحبه، فأرسل الله تعالى السماء بماء عظيم غزير، أقام الناس من أجله بخرتنك سبعة أيام أو نحوها، لا يستطيع أحد الوصول إلى سمرقند من كثرة المطر .. وبين خرتنك وسمرقند ثلاثة أميال أو نحوها.
এবং আবু আহমাদ বিন আদি বলেন: আমি আবদুল কুদ্দুস বিন আব্দুল জাব্বার আস-সামারকান্দিকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল সামারকান্দের নিকটবর্তী গ্রাম খারতাঙ্কে আসলেন, যা শহর থেকে দুই ফারসাখ দূরে অবস্থিত। সেখানে তাঁর আত্মীয়স্বজন থাকায় তিনি তাদের নিকট অবস্থান করেন। তিনি বলেন: এক রাতে আমি তাকে শুনলাম, যখন তিনি রাতের সালাত শেষ করেছেন, তখন তিনি দোয়া করছিলেন এবং তাঁর দোয়ায় বলছিলেন: "হে আল্লাহ! জমিন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও আমার জন্য তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে, সুতরাং আপনি আমাকে আপনার সান্নিধ্যে নিয়ে নিন।" তিনি বলেন: মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আল্লাহ তাঁর জান কবজ করলেন। তাঁর কবর খারতাঙ্কে অবস্থিত, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

এবং আবু আলী হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-জুব্বানি বলেন: আমাদের সঙ্গী আবুল হাসান তাহের বিন মুআউওয়াজ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুআউওয়াজ আল-মাআফিরি (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে জানিয়েছেন যে: আবুল ফাতহ এবং সামারকান্দে বসবাসকারী আবুল লাইস নাসর বিন হাসান আত-তানকাতি—যিনি ৪৬৪ হিজরি সনে বালাসিয়ায় তাদের নিকট আগমন করেছিলেন—বলেছেন: কোনো এক বছর আমাদের সামারকান্দে অনাবৃষ্টি ও খরা দেখা দেয়। তিনি বলেন: মানুষ বারবার বৃষ্টির প্রার্থনা করল কিন্তু বৃষ্টি হলো না। এমতাবস্থায় নেককার ও সৎকর্মশীল হিসেবে সুপরিচিত এক ব্যক্তি সামারকান্দের কাজীর নিকট এসে বললেন: "আমি একটি প্রস্তাব ভেবেছি যা আপনার কাছে পেশ করতে চাই।" কাজী বললেন: "তা কী?" তিনি বললেন: "আমার অভিমত হলো, আপনি এবং সাধারণ মানুষ ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারির (রাহিমাহুল্লাহ) কবরের উদ্দেশ্যে বের হবেন—তাঁর কবরটি খারতাঙ্কে—এবং তাঁর কবরের নিকট বৃষ্টির প্রার্থনা করবেন। সম্ভবত আল্লাহ আমাদের বৃষ্টি দান করবেন।" কাজী বললেন: "আপনার প্রস্তাবটি উত্তম।" অতঃপর কাজী ও সাধারণ মানুষ বের হলেন। কাজী লোকদের নিয়ে বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন এবং উপস্থিত জনতা কবরের নিকট কান্নাকাটি করল ও সেখানে শায়িত ব্যক্তির মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করল। তখন আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে প্রচুর ও মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। বৃষ্টির তীব্রতার কারণে মানুষ খারতাঙ্কে প্রায় সাত দিন বা তদ্রূপ সময় অবস্থান করতে বাধ্য হলো, কেউ সামারকান্দে পৌঁছাতে পারছিল না। আর খারতাঙ্ক ও সামারকান্দের মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন মাইল বা তার কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌باب في ذكر إمامة مسلم بن الحجاج وثقته وإتقانه ومعرفته بالحديث وعلله وتاريخ وفاته رحمه الله

هو مسلم بن الحجاج بن مسلم أبو الحسين: القشيري النيسابوري.

ذكره ابن أبي حاتم في كتاب الجرح والتعديل فقال: كتبت عنه بالري، وكان ثقة من الحفاظ، له معرفة بالحديث ثم قال ابن أبي حاتم: سئل أبي عنه فقال: صدوق.

وذكره مسلم بن قاسم فقال: جليل القدر، ثقة، من أئمة المحدثين، له كتاب في الصحيح الثقة لم يصنع أحد مثله.

وذكره أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب فقال: أحد الأئمة من حفاظ الحديث وهو صاحب المسند الصحيح، رحل إلى العراق والحجاز والشام ومصر وقدم بغداد غيرة مرة وحدث بها.

يروي عنه من أهلها يحيى بن محمد بن صاعد، ومحمد بن مخلد، وآخر قدومه بغداد، كان في سنة تسع وخمسين ومائتين.

أخبرني محمد بن أحمد بن يعقوب قال: أنا محمد بن نعيم الضبي قال: نا أبو الفضل محمد بن إبراهيم قال: سمعت أحمد بن سلمة يقول: رأيت أبا زرعة وأبا حاتم الرازيين يقدمان مسلم بن الحجاج في معرفة الصحيح على مشايخ عصرهما، وأخبرني ابن يعقوب، أنا محمد بن نعيم قال: سمعت الحسين بن محمد السرخسي يقول: سمعت أبي يقول: سمعت مسلم بن الحجاج يقول: صنفت هذا المسند الصحيح من ثلثمائة ألف حديث مسموعة.

حدثني أبو القاسم عبد الله بن أحمد بن علي الشوذجاني بأصبهان قال: سمعت محمد بن إسحاق بن منده يقول: ما تحت أديم السماء اصح من كتاب مسلم بن الحجاج في علم الحديث.

وذكر أبو عبد الله الحاكم قال: حدثت عن محمد بن عبد الوهاب: سمعت الحسين بن منصور يقول: قال إسحاق بن إبراهيم الحنظلي ونظر إلى مسلم بن الحجاج فقال: (عما كاين بوي).
ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের ইমামত, তাঁর নির্ভরযোগ্যতা, পাণ্ডিত্য, হাদিস ও এর ত্রুটি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর ইন্তেকালের তারিখের আলোচনা সম্পর্কিত অধ্যায়, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন

তিনি হলেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আবুল হুসাইন: কুশাইরী নিসাবুরী।

ইবনে আবি হাতেম তাঁর 'কিতাবুল জারহি ওয়াত তা'দীল'-এ তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: আমি তাঁর থেকে রয় শহরে লিখেছি, তিনি হাফেজদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন, হাদিস শাস্ত্রে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। অতঃপর ইবনে আবি হাতেম বলেন: আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তিনি সত্যবাদী।

মুসলিম ইবনে কাসিম তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি সুমহান মর্যাদার অধিকারী, নির্ভরযোগ্য এবং মুহাদ্দিসদের অন্যতম ইমাম। সহিহ হাদিসের ওপর তাঁর এমন একটি কিতাব রয়েছে যার অনুরূপ কেউ কখনও তৈরি করতে পারেনি।

আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খতিব তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি হাদিস হাফেজদের অন্যতম ইমাম এবং তিনি 'আল-মুসনাদ আস-সহিহ' এর রচয়িতা। তিনি ইরাক, হিজাজ, সিরিয়া ও মিসর সফর করেছেন এবং একাধিকবার বাগদাদে আগমন করে সেখানে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

বাগদাদবাসীদের মধ্যে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ এবং মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। বাগদাদে তাঁর শেষ আগমন ছিল ২৫৯ হিজরি সালে।

মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে নুয়াইম আদ-দব্বি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আমাদের বলেছেন: আমি আহমদ ইবনে সালামাহকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু যুরআ এবং আবু হাতেম রাজী-দ্বয়কে দেখেছি যে, তাঁরা সহিহ হাদিসের জ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে তাঁদের সমসাময়িক শায়খদের ওপর প্রধান্য দিতেন। ইবনে ইয়াকুব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে নুয়াইম আমাকে জানিয়েছেন: আমি হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আস-সারাকসীকে বলতে শুনেছি: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, আমি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে বলতে শুনেছি: আমি আমার শ্রুত তিন লক্ষ হাদিস থেকে এই 'মুসনাদ আস-সহিহ' সংকলন করেছি।

আসফাহানে আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আলী আশ-শাউযাজানী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহকে বলতে শুনেছি: আসমানের নিচে হাদিস শাস্ত্রে মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ আর কোনো কিতাব নেই।

আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব থেকে বর্ণিত হয়েছে: আমি হুসাইন ইবনে মানসুরকে বলতে শুনেছি: ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেছিলেন: "তুমি কী চমৎকার এক ব্যক্তিই না হবে!"।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قال الحاكم: فرضي الله عن إسحاق، لقد أصابت فراسته الذكية فيه.

قال محمد: وقد روى ذلك أيضًا أحمد بن سلمة، عن الحسين بن منصور، عن إسحاق ابن إبراهيم ـ هو ابن راهويه الحنظلي ـ وهي كلمة فارسية معناها: أي رجل يكون هذا.

وقال محمد بن عبد الله النيسابوري: سمعت أبا عبد الله محمد بن يعقوب يقول: سمعت أحمد بن سلمة يقول: عقد لأبي الحسين مسلم بن الحجاج مجلس المذاكرة، فذكر له حديث لم يعرفه، فانصرف إلى منزله وأوقد السراج وقال لمن في الدار لا يدخلن أحد منكم البيت فقيل له: أهديت لنا سلة فيها تمر، قال: قدموها إلي، فقدموها إليه وكان يكتب الحديث ويأكل تمرة يمضعها، فأصبح وقد فني التمر ووجد الحديث.

قال محمد بن عبد الله: زادني الثقة من أصحابنا أنه منها مات رحمه الله، وذكر القاضي عياض مسلمًا هذا فقال: أحمد أئمة المسلمين وحفاظ المحدثين ومتقني المصنفين، أثنى عليه غير واحد من الأئمة المتقدمين، وأجمعوا على إمامته وتقديمه وصحة حديثه وخبره، ومعرفته وثقته وقبول كتابه.

وقال أبو مروان الكبشي: كان من شيوخي من يفضل كتاب مسلم على كتاب البخاري.

وروي عن مسلم أنه قال: عرضت كتابي على أبي زرعة الرازي، فكل ما أشار أنه له علة تركته، وما قال هو صحيح ليس له علة أخرجته.

قال محمد: مسلم بن الحجاج إمام من الأئمة في الحديث وعلله ورجاله، روى عنه جماعة من أئمة الحديث وحفاظهم فممن روى عنه:

أبو عيسى، محمد ابن عيسى الترمذي، وأبو بكر محمد بن إسحاق ابن خزيمة السلمي، وأبو العباس محمد ابن إسحاق بن إبراهيم الثقفي السراج، وأبو حامد أحمد بن محمد بن الحسن بن الشرقي الحافظ، وأبو محمد يحيى بن محمد بن صاعد البغدادي، وأبو عبد الله محمد بن مخلد الدوري، وأبو حاتم مكي ابن عبدان بن محمد بن بكر النيسابوري وغيرهم.
আল-হাকিম বলেন: আল্লাহ ইসহাকের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তার তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি তার ব্যাপারে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

মুহাম্মদ বলেন: এটি আহমাদ ইবনে সালামাহ, আল-হুসাইন ইবনে মানসুর থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম—যিনি ইবনে রাহওয়াইহ আল-হানজালি—থেকেও বর্ণনা করেছেন। এটি একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হলো: এটি কেমন লোক।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নিশাপুরি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবনে সালামাহকে বলতে শুনেছি: আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের জন্য একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তার নিকট এমন একটি হাদিস উল্লেখ করা হয় যা তিনি চিনতে পারেননি। তখন তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে গেলেন এবং প্রদীপ জ্বালালেন। তিনি ঘরের লোকদের বললেন: তোমাদের কেউ যেন ঘরে প্রবেশ না করে। তাকে বলা হলো: আমাদের এক ঝুড়ি খেজুর উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: তা আমার কাছে নিয়ে এসো। তারা তা তার সামনে উপস্থাপন করল। তিনি হাদিস লিখছিলেন এবং একটি করে খেজুর চিবিয়ে খাচ্ছিলেন। ভোর হওয়ার আগেই খেজুর শেষ হয়ে গেল এবং তিনি হাদিসটি খুঁজে পেলেন।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন: আমাদের নির্ভরযোগ্য এক সাথী আমার নিকট আরও বাড়িয়ে বলেছেন যে, এর মাধ্যমেই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন। কাজি আইয়াজ এই মুসলিম সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন: তিনি মুসলিমদের ইমামদের মধ্যে অন্যতম, মুহাদ্দিসদের হাফেজ এবং গ্রন্থকারদের মধ্যে অত্যন্ত সূক্ষ্মজ্ঞানী ছিলেন। পূর্ববর্তী ইমামগণের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি তার প্রশংসা করেছেন এবং তার ইমামত, শ্রেষ্ঠত্ব, তার বর্ণিত হাদিস ও সংবাদের বিশুদ্ধতা, তার জ্ঞান, নির্ভরযোগ্যতা এবং তার কিতাব কবুল হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

আবু মারওয়ান আল-কাবশি বলেন: আমার শিক্ষকদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যিনি ইমাম মুসলিমের কিতাবকে ইমাম বুখারির কিতাবের ওপর প্রাধান্য দিতেন।

ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমি আমার কিতাবটি আবু জুরআ আর-রাজির নিকট উপস্থাপন করেছি। তিনি যে হাদিসটি সম্পর্কে ত্রুটি থাকার ইশারা করেছেন আমি তা বর্জন করেছি, আর যেটির ব্যাপারে তিনি বলেছেন যে এটি সহিহ এবং এতে কোনো ত্রুটি নেই, আমি তা বর্ণনা করেছি।

মুহাম্মদ বলেন: মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ হাদিসশাস্ত্র, হাদিসের ত্রুটি এবং বর্ণনাকারীদের জ্ঞান সমৃদ্ধ ইমামগণের মধ্য হতে একজন ইমাম ছিলেন। হাদিসের একদল ইমাম ও হাফেজ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ আস-সুলামি, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আস-সাকাফি আস-সাররাজ, আবু হামিদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে শারকি আল-হাফেজ, আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়িদ আল-বাগদাদি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আদ-দাওরি, আবু হাতিম মাক্কি ইবনে আবদান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বকর আন-নিশাপুরি এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وقال أبو عبد الله الحاكم: سمعت محمد بن يعقوب أبا عبد الله الحافظ يقول: توفي مسلم بن الحجاج عشية يوم الأحد، ودفن يوم الأثنين لخمس بقين من رجب سنة إحدى وستين ومائتين.

এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেছেন: আমি হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি: মুসলিম বিন হাজ্জাজ রবিবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁকে দুইশত একষট্টি হিজরি সনের রজব মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে সোমবার দাফন করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌باب حرف الألف في أسامي شيوخ البخاري ومسلم رحمة الله عليهم أجمعين

‌‌من اسمه أحمد

1 - أحمد بن إبراهيم بن كثير أبو عبد الله العبدي النُكري بضم النون، ونُكر بالنون في عبد القيس بن أقصى بن دُعمي بن حرملة بن أسد بن ربيعة بن نزار وهو الدورقي البغدادي أخو يعقوب بن إبراهيم الدورقي، (ودورق) موضع بالبصرة، سكن بغداد.

وقال: أبو أحمد الحاكم: وإنما سثموا دوارقة لأنهم كانوا يلبسون القلانس الطوال، وقبل الدورق بالعراق الكوز، كان يعمل الكيزان.

روى عن: أبي سعيد عبد الرحمن بن مهدي الأزدي ويقال العنبري البصري، وأبي إسماعيل مبشر بن إسماعيل الحلبي، وأبي داود سليمان بن داود الطيالسي البصري، وأبي أيوب سليمان بن حرب الواشحي وغيرهم.

تفرد بن مسلم، روى عنه في كتاب الإيمان والصلاة والجنائز والنكاح وفي الفتن وغير ذلك.

وروى أيضًا عن: أبي عمر حفص بن غياث النخعي، وأبي معاوية مقسم ابن كثير السلمي، وأبي بشر إسماعيل بن إبراهيم الأسدي المعروف بابن علية، وأبي محمد إسحاق بن يوسف الأزرق وغيرهم.

وروى عنه: أبو داود السجستاني، وأبو عيسى الترمذي وأبو بكر أحمد بن منصور بن سيار الرمادي، وأبو عبد الرحمن عبد الله بن أحمد بن حنبل الشيباني، وأبو عبد الرحمن بقي بن مخلد بن يزيد القرطبي، وأبو يعقوب إسحاق بن إبراهيم ابن يونس البغدادي نزيل مصر، وأبو بكر بن أبي خيثمة البغدادي، وأبو حاتم الرازي، وأبو زرعة الرازي، وأبو القاسم البغوي وأبو عبد الرحمن النسائي
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর শাইখগণের নামের ক্ষেত্রে 'আলিফ' বর্ণের অধ্যায়

‌যাদের নাম আহমদ

১ - আহমদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে কাসীর আবু আব্দুল্লাহ আল-আবদী আন-নুকরী; 'নুন' বর্ণে পেশসহ। আর নুকরী বংশটি আব্দুল কাইস ইবনে আকসা ইবনে দু'মী ইবনে হারমালা ইবনে আসাদ ইবনে রাবী'আ ইবনে নিযারের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আদ-দাওরাকী আল-বাগদাদী এবং ইয়াকূব ইবনে ইবরাহীম আদ-দাওরাকীর ভাই। 'দাওরাক' বসরার একটি স্থানের নাম, তবে তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন।

আবু আহমদ আল-হাকিম বলেন: তাদের 'দাওরাকা' বলা হতো কারণ তারা দীর্ঘ টুপি পরিধান করতেন। আবার বলা হয় যে, ইরাকে 'দাওরাক' অর্থ হলো কলস, তিনি কলস তৈরি করতেন।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আল-আযদি (যাকে আল-আনবারী আল-বসরীও বলা হয়), আবু ইসমাইল মুবাশশির ইবনে ইসমাইল আল-হালাবী, আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে দাউদ আত-তায়ালিসী আল-বসরী, আবু আইয়ুব সুলায়মান ইবনে হারব আল-ওয়াশিহী এবং অন্যান্যদের থেকে।

তার থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিম একক ছিলেন; তিনি তার থেকে ঈমান, সালাত, জানাযা, বিবাহ এবং ফিতনা অধ্যায়সহ অন্যান্য বিষয়ে বর্ণনা করেছেন।

তিনি আরও বর্ণনা করেছেন: আবু উমর হাফস ইবনে গিয়াস আন-নাখায়ী, আবু মুয়াবিয়া মিকসাম ইবনে কাসীর আস-সুলামী, আবু বিশর ইসমাইল ইবনে ইবরাহীম আল-আসাদী (যিনি ইবনে উলাইয়্যা নামে পরিচিত), আবু মুহাম্মদ ইসহাক ইবনে ইউসুফ আল-আযরাক এবং অন্যান্যদের থেকে।

তার থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী, আবু ঈসা আত-তিরমিযী, আবু বকর আহমদ ইবনে মনসুর ইবনে সাইয়ার আর-রামাদী, আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী, আবু আব্দুর রহমান বাকী ইবনে মাখলাদ ইবনে ইয়াযীদ আল-কুরতুবী, আবু ইয়াকূব ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনে ইউনুস আল-বাগদাদী (যিনি মিশরে অবস্থান করতেন), আবু বকর ইবনে আবু খাইসামা আল-বাগদাদী, আবু হাতিম আর-রাযী, আবু যুরআ আর-রাযী, আবু আল-কাসিম আল-বাগাবী এবং আবু আব্দুর রহমান আন-নাসাঈ।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣١)
وغيرهم.

وروى عنه البخاري في غير الجامع، مات سنة ست وأربعين ومائتين.

وثقه البخاري.

وقال ابن أبي حاتم: سألت أبي عنه فقال: صدوق، وقال (....) سألت أبا جعفر العقيلي، وأبا بكر الحضرمي وغيرهما، عن أحمد ويعقوب الدورقين فكلهم يقول: كلاهما ثقة ومقدم وإمام، غير أن أحمد أقدم، وكان أجل قال: وقالوا لي: أحمد بن إبراهيم أجاب في المحنة، وذكره مسلمة بن قاسم فقال: بغدادي ثقة.

 

2 - أحمد بن إسحاق بن الحصين بن جابر بن جندل أبو إسحاق السلمي السرماري، (وسرماري) فتح السين المهملة ويقال أيضًا بكسرها، قرية من قرى بخاري، وهو المطوعي الشجاع الذي يضرب بشجاعته المثل والد أبي صفوان إسحاق بن أحمد.

روى عن: أبي محمد عثمان بن عمر بن فارس النضري، وأبي يوسف يعلي ابن عبيد الحنفي مولاهم الطنافسي الكوفي، وأبي محمد عبيد الله بن موسى العبسي الكوفي، وأبي عثمان عمرو بن عاصم الكلابي البصري.

تفرد به البخاري، روى عنه في كتاب الصلاة. وتفسير سورة الفتح وذكر بني إسرائيل وصفة النبي صلى الله عليه وسلم.

وروى عنه (…) بن إسماعيل بن حرة بن سليمان بن عبد الله بن قيس ابن حازن السلمي البخاري.

مات يوم الإثنين لست ليال بقين من شهر ربيع الآخر سنة اثنين وأربعين ومائتين، ومات ابنه صفوان أبو صفوان للنصف من شهر رمضان سنة ست
এবং অন্যান্যগণ।

বুখারি তাঁর থেকে 'আল-জামে' ব্যতীত অন্য কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৪৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

বুখারি তাঁকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন।

ইবনু আবি হাতিম বলেছেন: আমি আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি সত্যবাদী (সাদুক)। আর (....) বলেছেন: আমি আবু জাফর আল-উকাইলি, আবু বকর আল-হাদরামি এবং অন্যান্যদেরকে আহমদ ও ইয়াকুব আদ-দাওরাকি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁরা সকলেই বলেছেন: তাঁরা উভয়ই নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), অগ্রগণ্য এবং ইমাম; তবে আহমদ বয়সে অগ্রজ এবং অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন: তাঁরা আমাকে বলেছেন যে, আহমদ বিন ইবরাহিম 'মিহনা' (পরীক্ষা)-র সময় উত্তর দিয়েছিলেন। মাসলামাহ বিন কাসিম তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন: বাগদাদী, নির্ভরযোগ্য।

 

২ - আহমদ বিন ইসহাক বিন আল-হুসাইন বিন জাবির বিন জানদাল আবু ইসহাক আস-সুলামি আস-সারমারি। (সারমারি) এখানে 'সিন' বর্ণের ওপর ফাতহা (যবর) যোগে উচ্চারিত হয়, আবার কাসরা (যের) যোগেও বলা হয়। এটি বুখারার একটি গ্রাম। তিনি ছিলেন একজন স্বেচ্ছাসেবক যোদ্ধা এবং অত্যন্ত সাহসী, যাঁর সাহসিকতার উপমা দেওয়া হয়। তিনি আবু সাফওয়ান ইসহাক বিন আহমদের পিতা।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু মুহাম্মদ উসমান বিন উমর বিন ফারিস আন-নাদরি, আবু ইউসুফ ইয়ালা বিন উবায়েদ আল-হানাফি (তাঁদের মুক্তদাস) আত-তানাফিসি আল-কুফি, আবু মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ বিন মুসা আল-আবসি আল-কুফি এবং আবু উসমান আমর বিন আসিম আল-কিলাবি আল-বাসরি থেকে।

বুখারি এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর থেকে সালাত অধ্যায়, সূরাহ আল-ফাতহ-এর তাফসির, বনী ইসরায়েলের আলোচনা এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি (সিফাত) পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (…) বিন ইসমাইল বিন হুররাহ বিন সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন কায়স বিন হাজিন আস-সুলামি আল-বুখারি।

তিনি ২৪২ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের শেষের দিকে ছয় দিন বাকি থাকতে সোমবার মৃত্যুবরণ করেন। আর তাঁর পুত্র সাফওয়ান আবু সাফওয়ান ২৪৬ হিজরি সনের রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وسبعين ومائتين، وكان والده أحمد بن إسحاق رحل به إلى العراق قبل البخاري، فلحق من المشايخ عدة لم يلحقهم البخاري.

 

3 - أحمد بن إشكاب أبو عبد الله الصفار الكوفي، سكن مصر.

روى عن أبي عبد الرحمن محمد بن فضيل بن غزوان الضبي الكوفي.

تفرد به البخاري، روى عنه في عمرة الحديبية، وفي الفتن، وآخر حديث في الجامع، وقال آخر ما لقيته بمصر سنة سبع عشر ومائتين.

قال محمد: أحمد بن إشكاب، هذا اختلف في اسم والده، فقيل: هو أحمد ابن معمر بن إشكاب، وقيل هو: ابن مجمع بن إشكاب، وقيل هو أحمد بن عبد الله بن إشكاب، ويقال في اسم جده إشكاب وإشكيب.

روى أيضًا أحمد هذا عن أبي عبد الله شريك بن عبد الله النخعي، وأبي بكر عبد السلام بن حرب الملائي الكوفي، وأبي بكر بن عياش بن سالم الأسدي الكوفي، وأبي علي عبد الرحمن بن سليمان الرازي، وأبي عبد الله بن أبي عتبة محمد بن عبيد الحنفي الطنافسي، وعبد الرحمن بن عبد الملك بن سعيد بن حيان ابن أبجر الكناني وغيرهم.

روى عنه: سعيد بن أسد بن موسى المصري، وأبو إسحاق إبراهيم بن أبي داود البرلسي، وأبو جعفر محمد بن عبدي بن عتبة الكندي الكوفي وأبو حاتم محمد ابن إدريس الرازي وغيرهم، وهو ثقة، قاله أحمد بن صالح الكوفي، وأبو حاتم الرازي.

زاد أبو حاتم: مأمون صدوق.

وزاد ابن صالح: كثير الحديث، وهو بابة محمد بن عبد الله ابن نمير في السن، وكان يبيع النمائر بالكوفة، ومات بمصر.

وقال ابن أبي حاتم: وسمعت أبا زرعة يقول: أدركته ولم أكتب عنه، قال: سئل أبو زرعة عنه فقال: روى عنه سعيد بن أسد بن موسى وكان صاحب حديث.

 

4 - أحمد بن جعفر المعقري بضم الميم وفتح العين وتشديد القاف،
দুইশত সত্তর (সাল), এবং তাঁর পিতা আহমদ ইবনে ইসহাক ইমাম বুখারীর পূর্বে তাঁকে নিয়ে ইরাকের দিকে সফর করেছিলেন। ফলে তিনি এমন অনেক শায়খের দেখা পেয়েছিলেন যাঁদের দেখা ইমাম বুখারী পাননি।

 

৩ - আহমদ ইবনে ইশকাব আবু আবদুল্লাহ আস-সাফফার আল-কুফি, তিনি মিশরে বসবাস করতেন।

তিনি আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল ইবনে গাযওয়ান আদ-দব্বী আল-কুফি থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারী তাঁর বর্ণনায় একক ছিলেন (অর্থাৎ আস-সহীহ গ্রন্থে শুধু তিনিই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন), তিনি তাঁর থেকে হুদায়বিয়ার উমরাহ অধ্যায়ে, ফিতনা অধ্যায়ে এবং আল-জামি‘র সর্বশেষ হাদিসে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সর্বশেষ তাঁর সাথে আমার মিশরে দুইশত সতেরো হিজরি সালে সাক্ষাৎ হয়েছিল।’

মুহাম্মদ বলেন: এই আহমদ ইবনে ইশকাবের পিতার নাম নিয়ে মতভেদ আছে। বলা হয়েছে: তিনি হলেন আহমদ ইবনে মা‘মার ইবনে ইশকাব; আবার বলা হয়েছে: তিনি ইবনে মাজমা‘ ইবনে ইশকাব; আবার বলা হয়েছে: তিনি আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইশকাব। তাঁর দাদার নাম ইশকাব ও ইশকিব দুই ভাবেই বলা হয়।

এই আহমদ আরও বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ শারীক ইবনে আবদুল্লাহ আন-নাখয়ী, আবু বকর আবদুস সালাম ইবনে হারব আল-মুলায়ী আল-কুফি, আবু বকর ইবনে আইয়াশ ইবনে সালিম আল-আসাদী আল-কুফি, আবু আলী আবদুর রহমান ইবনে সুলাইমান আর-রাযী, আবু আবদুল্লাহ ইবনে আবু উতবাহ মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-হানাফী আত-তানাফিসী এবং আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে সাঈদ ইবনে হাইয়ান ইবনে আবজার আল-কিনানী ও অন্যদের থেকে।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: সাঈদ ইবনে আসাদ ইবনে মূসা আল-মিসরী, আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আবু দাউদ আল-বুরুল্লুসী, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবদী ইবনে উতবাহ আল-কিন্দি আল-কুফি এবং আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আর-রাযী ও অন্যান্যরা। তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), এ কথা আহমদ ইবনে সালিহ আল-কুফি এবং আবু হাতিম আর-রাযী বলেছেন।

আবু হাতিম আরও যোগ করেছেন: তিনি বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী।

ইবনে সালিহ আরও যোগ করেছেন: তিনি অধিক হাদিস বর্ণনাকারী এবং তিনি বয়সের দিক থেকে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইরের সমপর্যায়ের ছিলেন। তিনি কুফায় ছোট কার্পেট (নামাইর) বিক্রি করতেন এবং মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে আবু হাতিম বলেন: আমি আবু যুর‘আকে বলতে শুনেছি, ‘আমি তাঁকে পেয়েছিলাম কিন্তু তাঁর থেকে কিছু লিখে নেইনি।’ তিনি বলেন: আবু যুর‘আকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘তাঁর থেকে সাঈদ ইবনে আসাদ ইবনে মূসা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদিসের পণ্ডিত ছিলেন।’

 

৪ - আহমদ ইবনে জাফর আল-মা‘কারী (মীম বর্ণে পেশ, ‘আইন বর্ণে যবর এবং ক্বাফ বর্ণে তাশদীদ সহকারে),
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
ويقال أيضًا بفتح الميم وكسر القاف، ويقال مُعقر بلد باليمن.

روى عن: أبي محمد النضر بن موسى بن محمد الجرشي اليمامي.

تفرد به مسلم، روى عنه في كتاب الصلاة وفي الفضائل.

روى عنه أبو الحسن محمد بن أحمد بن زهير بن طهمان القمي الطوسي وغيره، وقال أبو جعفر العقيلي: حدثنا جعفر بن أحمد: حدثنا أحمد بن جعفر المعقري: ثنا النضر بن محمد: ثنا عكرمة بن عمار: ثنا إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة قال: كان ثلاثة في بني إسرائيل الحديث.

 

5 - أحمد بن جناب بالجيم والنون خفيفة ابن المغيرة أبو الوليد المصيصي وقيل الحريثي، والمصيصة والحريثة من الشام كان يكون ببغداد.

روي عن: أبي عمرو عيسى بن يونس بن أبي إسحاق الهمداني.

تفرد به مسلم، روى عنه في كتاب الجهاد.

وروى عنه: أبو يحيى محمد بن عبد الرحيم البزاز، وأبو داود السجستاني، وأبو بكر بن أبي خيثمة البغدادي، وأبو بكر محمد بن علي بن داود البغدادي، وأبو حاتم الرازي، وابو زرعة الرازي، وأبو يعلي الموصلي وغيرهم.

وقال ابن أبي حاتم الرازي: سئل أبي عنه فقال: صدوق.

 

6 - أحمد بن جواس بفتح الجيم وتشديد الواو أبو عاصم الحنفي الكوفي.

ثقة، قاله مسلمة بن قاسم الأندلسي.

روى عن: أبي الأحوص سلام بن سليم الحنفي الكوفي، وأبي عبد الرحمن عبيد الله بن عبد الرحمن الأشجعي الكوفي.

تفرد به مسلم، روى عنه في كتاب الإيمان، وفي الطهارة، والصلاة.

وروى عنه: أبو شيبة إبراهيم بن أبي بكر بن أبي شيبة العبسي، وأبو داود سليمان بن الأشعث السجستاني، وأبو عمرو عثمان بن خرزاذ الأنطاكي، وأبو عبد الله محمد بن مسلم بن قتادة الرازي، وأبو حاتم محمد بن
এটি মিমের যবর এবং ক্বাফের যের যোগেও উচ্চারিত হয়, আর বলা হয় মুয়াক্কার ইয়ামেনের একটি শহর।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু মুহাম্মদ আন-নাদর ইবনুল মুসা ইবনু মুহাম্মদ আল-জুরাশি আল-ইয়ামামি থেকে।

ইমাম মুসলিম এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর থেকে নামায অধ্যায়ে এবং ফযিলত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনু আহমাদ ইবনু জুহাইর ইবনু তাহমান আল-কুম্মি আত-তুসি এবং আরও অনেকে। আবু জাফর আল-উকাইলি বলেছেন: আমাদের নিকট জাফর ইবনু আহমাদ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনু জাফর আল-মুয়াক্কারি বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট নাদর ইবনু মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইকরিমা ইবনু আম্মার বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবি তালহা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন লোক ছিল... (সম্পূর্ণ হাদীস)।

 

৫ - আহমাদ ইবনু জানাব -জীম এবং নূন-এর হালকা (তাসদীদহীন) উচ্চারণসহ- ইবনুল মুগীরাহ আবু আল-ওয়ালিদ আল-মাসসিসি, মতান্তরে আল-হারিসি; আর মাসসিসাহ ও হারিসাহ শামের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বাগদাদে থাকতেন।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু আমর ঈসা ইবনু ইউনুস ইবনু আবি ইসহাক আল-হামাদানি থেকে।

ইমাম মুসলিম এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর থেকে জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু ইয়াহইয়া মুহাম্মদ ইবনু আব্দুর রাহিম আল-বাযযার, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আবু বকর ইবনু আবি খাইসামা আল-বাগদাদি, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনু আলি ইবনু দাউদ আল-বাগদাদি, আবু হাতিম আর-রাজি, আবু যুরআহ আর-রাজি, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি এবং আরও অনেকে।

ইবনু আবি হাতিম আর-রাজি বলেন: আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তিনি সত্যবাদী।

 

৬ - আহমাদ ইবনু জাওয়াস -জীম-এর যবর এবং ওয়াও-এর তাসদীদসহ- আবু আসিম আল-হানাফি আল-কুফি।

তিনি নির্ভরযোগ্য, মাসলামাহ ইবনু কাসিম আল-আন্দালুসি এমনটি বলেছেন।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু আহওয়াস সালাম ইবনু সুলাইম আল-হানাফি আল-কুফি এবং আবু আব্দুর রহমান উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান আল-আশজায়ি আল-কুফি থেকে।

ইমাম মুসলিম এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর থেকে ঈমান অধ্যায়, পবিত্রতা অধ্যায় এবং নামায অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু শাইবাহ ইবরাহিম ইবনু আবি বকর ইবনু আবি শাইবাহ আল-আবসি, আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআাস আস-সিজিস্তানি, আবু আমর উসমান ইবনু খাররাযাদ আল-আন্তাকি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু মুসলিম ইবনু কাতাদাহ আর-রাজি এবং আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনু...
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣٤)
إدريس الرازي، وأبو زرعة عبيد الله بن الكريم الرازي، وأبو عبد الرحمن يعني ابن مخلد الأندلسي وغيرهم. وأحسن الثناء عليهم محمد بن مسلم.

وروى جعفر الخلدي، عن محمد بن عبد الله الحضرمي المعروف بالمطين قال: مات أبو عاصم أحمد بن حواس الحنفي لثلاث خلت من المحرم سنة ثمان وثلاثين ومائتين وكان لا يخضب.

 

7 - أحمد بن الحسن أبو الحسن وقيل أبو عبد الله الترمذي.

روى عن أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني.

تفرد به البخاري، روى عنه في آخر كتاب المغازي.

قال ابن أبي حاتم: سئل أبي عنه فقال: صدوق.

وذكره أبو عبد الله الحاكم في المدخل وقال: أحمد حفاظ خراسان ومشهور بالأخذ عن أحمد يعني ابن حنبل.

قال محمد: أحمد بن الحسن هذا ثقة مشهور.

روى عن: أبي عاصم الضحاك بن مخلد النبيل، وأبي محمد سعيد بن الحكم بن أبي مريم المصري، وأبي أيوب سليمان بن داود الهاشمي، وابي محمد عبد الله بن نافع الصائغ، وأبي عبد الرحمن عبد الله بن مسلمة القعنبي، وأبي سلمة موسى بن إسماعيل المنقري، وأبي عبد الله عبد الملك بن إبراهيم النجدي وغيرهم.

روى عنه: أبو الدرداء عبد العزيز بن منيب المروزي، وأبو أحمد سليمان بن داود القزاز، وأبو العباس أحمد بن علي الأبار، وأبو حاتم الرازي، وأبو زرعة الرازي، ، وابو عيسى الترمذي وغيرهم.

 

8 - أحمد بن الحسن بن خراش أبو جعفر البغدادي.

روى عن: أبي سهيل عبد الصمد بن عبد الوارث بن سعيد العنبري، وأبي عامر عبد الملك بن عمرو العقدي، وأبي عمرو شبابة بن سوار الفزاري، وأبي حفص عمر بن عبد الوهاب بن رياح الرياحي البصري، وأبي عثمان عمرو بن عاصم بن عبيد الله بن الوازع القيسي الكلابي البصري وأبي معمر عبد الله بن عمرو، وعمر بن أبي الحجاج المنقري، المقعد البصري، وأبي عمرو
ইদ্রিস আর-রাজি, আবু যুরআহ উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল কারিম আর-রাজি, আবু আব্দুর রহমান অর্থাৎ ইবনে মাখলাদ আল-আন্দালুসি এবং অন্যান্যগণ। মুহাম্মদ বিন মুসলিম তাঁদের উত্তম প্রশংসা করেছেন।

জাফর আল-খুলদি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি আল-মুতাইয়িন নামে পরিচিত, তিনি বলেন: আবু আসিম আহমদ বিন হাওয়াাস আল-হানাফি দুইশত আটত্রিশ হিজরি সনের মুহাররম মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি খেজাব (চুলে রঙ) লাগাতেন না।

 

৭ - আহমদ বিন আল-হাসান আবু আল-হাসান, এবং বলা হয় আবু আব্দুল্লাহ আত-তিরমিজি।

তিনি আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানি থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারি এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি কিতাবুল মাগাজির শেষ দিকে তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: সাদুক (সত্যবাদী)।

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম 'আল-মাদখাল'-এ তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আহমদ খুরাসানের হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত এবং আহমদ অর্থাৎ ইবনে হাম্বল থেকে ইলম গ্রহণের জন্য তিনি প্রসিদ্ধ।

মুহাম্মদ বলেন: এই আহমদ বিন আল-হাসান একজন নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারী।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু আসিম আদ-দাহহাক বিন মাখলাদ আন-নাবিল, আবু মুহাম্মদ সাঈদ বিন আল-হাকাম বিন আবি মারইয়াম আল-মিসরি, আবু আইয়ুব সুলাইমান বিন দাউদ আল-হাশেমি, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন নাফি আস-সায়েগ, আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-ক্বানাবি, আবু সালামাহ মুসা বিন ইসমাইল আল-মানকারি, আবু আব্দুল্লাহ আব্দুল মালিক বিন ইব্রাহিম আন-নাজদি এবং অন্যান্যদের থেকে।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু আদ-দারদা আব্দুল আজিজ বিন মুনিব আল-মারওয়াযি, আবু আহমদ সুলাইমান বিন দাউদ আল-কাযযায, আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আলি আল-আব্বার, আবু হাতিম আর-রাজি, আবু যুরআহ আর-রাজি এবং আবু ঈসা আত-তিরমিজি ও অন্যান্যগণ।

 

৮ - আহমদ বিন আল-হাসান বিন খিরাশ আবু জাফর আল-বাগদাদি।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু সুহাইল আব্দুস সামাদ বিন আব্দুল ওয়ারিস বিন সাঈদ আল-আনবারি, আবু আমির আব্দুল মালিক বিন আমর আল-আকাদি, আবু আমর শাবাবাহ বিন সাওয়ার আল-ফাযারি, আবু হাফস ওমর বিন আব্দুল ওয়াহাব বিন রিয়াহ আল-রিয়াহি আল-বাসরি, আবু উসমান আমর বিন আসিম বিন উবাইদুল্লাহ বিন আল-ওয়াযি আল-কায়সি আল-কিলাবি আল-বাসরি এবং আবু মা'মার আব্দুল্লাহ বিন আমর, ও ওমর বিন আবিল হাজ্জাজ আল-মানকারি, আল-মুক'আদ আল-বাসরি এবং আবু আমর...
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
مسلم بن إبراهيم الأزدي مولاهم الفراهيدي البصري، وأبي حبيب حبان بن هلال البصري وغيرهم.

تفرد به مسلم، روى عنه في كتاب الإيمان والطهارة والصلاة والحج والجهاد والاستئذان والفضائل وغير ذلك.

وروى عنه: أبو عيسى الترمذي، وأبو الحسن علي بن الحسن بن الجنيد الرازي، وأبو العباس محمد بن إسحاق بن إبراهيم الثقفي السراج وغيرهم.

[وذكره أبو بكر الخطيب فقال وكان ثقة]

 

9 - أحمد بن الحجاج أبو العباس البكري ويقال الذهلي والشيباني المروزي.

روى عن: أبي ضمرة أنس بن عياض الليثي المدني.

تفرد به البخاري، روى عنه في كتاب العمرة في باب القدوم بالغداة.

وروى أيضًا عن: أبي إسماعيل حاتم بن إسماعيل المدني، وأبي تمام عبد العزيز بن أبي حازم المدني، وأبي عبد الرحمن عبد الله بن المبارك المروزي، وأبي عبد الله الفضل بن موسى الشيباني، وأبي سعيد عبد الرحمن بن مهدي البصري وغيرهم.

روى عنه: أبو محمد عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، وأبو بكر أحمد بن منصور بن سيار الرمادي، وأبو محمد جعفر بن محمد بن شاكر الصائغ، وأبو بكر ابن أبي خيثمة البغدادي وغيرهم.

مات يوم عاشوراء أول سنة ثنتين وعشرين ومائتين قاله البخاري.

وقال أبو جعفر النحاس: أحمد بن الحجاج المروزي ثقة.

وقال ابن أبي حاتم الرازي: ثنا ابن أبي خيثمة فيما كتب إلي قال: ثنا أحمد ابن الحجاج المروزي وكان رجل صدق.

 

10 - أحمد بن حميد أبو الحسن القرشي مولاهم الكوفي ختن عبيد الله
মুসলিম বিন ইব্রাহিম আল-আযদি তাঁদের মুক্তদাস আল-ফারাহিদি আল-বাসরি, এবং আবু হাবিব হিব্বান বিন হিলাল আল-বাসরি ও অন্যান্যগণ।

মুসলিম এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে ঈমান, পবিত্রতা, সালাত, হাজ্জ, জিহাদ, অনুমতি প্রার্থনা, ফযিলত এবং অন্যান্য অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু ঈসা আত-তিরমিযি, আবু আল-হাসান আলি বিন আল-হাসান বিন আল-জুনাইদ আল-রাযি, আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আস-সাকাফি আস-সাররাজ এবং অন্যান্যগণ।

[আবু বকর আল-খতিব তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন]

 

৯ - আহমাদ বিন আল-হাজ্জাজ আবু আল-আব্বাস আল-বাকরি, তাঁকে আল-যুহলি এবং আল-শায়বানি আল-মারওয়াযিও বলা হয়।

বর্ণনা করেছেন: আবু দামরাহ আনাস বিন ইয়াদ আল-লাইসি আল-মাদানি থেকে।

ইমাম বুখারি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে উমরাহ অধ্যায়ে সকালে পৌঁছানো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

তিনি আরও বর্ণনা করেছেন: আবু ইসমাইল হাতিম বিন ইসমাইল আল-মাদানি, আবু তাম্মাম আব্দুল আজিজ বিন আবি হাযিম আল-মাদানি, আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক আল-মারওয়াযি, আবু আব্দুল্লাহ আল-ফাদল বিন মুসা আল-শায়বানি, আবু সাঈদ আব্দুর রহমান বিন মাহদি আল-বাসরি এবং অন্যান্যদের থেকে।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আদ-দারিমি, আবু বকর আহমাদ বিন মানসুর বিন সাইয়্যার আল-রামাদি, আবু মুহাম্মদ জা'ফর বিন মুহাম্মদ বিন শাকির আস-সাইয়েগ, আবু বকর ইবন আবি খাইসামা আল-বাগদাদি এবং অন্যান্যগণ।

তিনি ২২২ হিজরির শুরুর দিকে আশুরার দিনে মৃত্যুবরণ করেন, ইমাম বুখারি এটি বলেছেন।

আবু জা'ফর আন-নাহহাস বলেছেন: আহমাদ বিন আল-হাজ্জাজ আল-মারওয়াযি নির্ভরযোগ্য।

ইবন আবি হাতিম আল-রাযি বলেন: ইবন আবি খাইসামা আমার নিকট লিখিত পত্রে জানিয়েছেন, আহমাদ বিন আল-হাজ্জাজ আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।

 

১০ - আহমাদ বিন হুমাইদ আবু আল-হাসান আল-কুরাইশি তাঁদের মুক্তদাস আল-কুফি, উবায়দুল্লাহর জামাতা।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣٦)
ابن موسى، ثقة، قاله أحمد بن عبيد الله بن صالح الكوفي.

روى عن: أبي عبد الرحمن عبيد الله بن عبد الرحمن الأشجعي الكوفي.

تفرد به البخاري، روى عنه في تفسير سورة النساء من الجامع في قوله تعالى: (وإذا حضر القسمة أولوا القربى واليتامى والمساكين) الآية.

وروى عن: أبي عمر حفص بن غياث النخعي، وأبي محمد عبد الله ابن إدريس الأودي الكوفي، وأبي عبد الرحمن محمد بن فضيل ابن غزوان الضبي، وأبي سعيد يحيى بن زكريا بن أبي زائدة الكوفي وغيرهم.

روى عنه: أبو سعيد الأشج، وأبو بكر أحمد بن أبي خيثمة البغدادي، وأبو حاتم محمد بن إدريس الرازي، وأبو محمد بهز بن سليمان بن يحيى المصري وغيرهم، أدركه أبو زرعة الرازي ولم يكتب عنه.

وقال جعفر بن محمد بن الحجاج الرقي: كنت عنده بالرقة سنة ثماني عشرة ومائتين.

وقال ابن أبي حاتم: سمعت أبي يقول: ثنا أحمد بن حميد ختن عبيد الله بن موسى وكان رضي.

قال ابن أبي حاتم: ثنا أبي: قال لي عمر بن حفص بن غياث: من أين أقبلت؟ فقلت: من عند أحمد بن حميد ختن عبيد الله بن موسى، قال: كان يختلف إلى أبي وهو صغير، فقال له أبي ذات يوم: ابن من أنت؟ فقال: ابن حميد، فقال: ممن أنت؟ فقال: من بيتنا فتبسم أبي وعجب من صغره.

 

11 - أحمد بن أبي عمرو واسم أبي عمرو حفص بن عبد الله بن راشد أبو علي، وقيل: أبو الحسن السلمي مولاهم النيسابوري.

روى عن: أبيه، وكان أبوه قاضي نيسابور.

تفرد به البخاري، روى عنه في كتاب الحج والنكاح فقال: ثنا أحمد بن أبي عمرو وقال: ثنى أبي الحديث.

وروى عنه: أبو داود السجستاني، وأبو الفضل أحمد بن سلمة بن عبد الله ابن سلمة النيسابوري البزاز، وأبو عبد الرحمن زكريا بن يحيى السجستاني
ইবন মুসা, নির্ভরযোগ্য, এটি আহমাদ ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন সালিহ আল-কুফি বলেছেন।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু আবদুর রহমান উবাইদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান আল-আশজায়ি আল-কুফি থেকে।

ইমাম বুখারি এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি 'আল-জামে' গ্রন্থে সূরা আন-নিসার তাফসির অধ্যায়ে মহান আল্লাহর বাণী: (বণ্টনের সময় যখন আত্মীয়স্বজন, এতিম ও মিসকিনরা উপস্থিত হয়) আয়াতের বর্ণনায় তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এবং তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু উমর হাফস ইবন গিয়াস আন-নাখায়ি, আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবন ইদ্রিস আল-আওদি আল-কুফি, আবু আবদুর রহমান মুহাম্মাদ ইবন ফুযাইল ইবন গাযওয়ান আদ-দাব্বি এবং আবু সাঈদ ইয়াহইয়া ইবন যাকারিয়া ইবন আবি যাইদাহ আল-কুফি ও অন্যদের থেকে।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ, আবু বকর আহমাদ ইবন আবি খাইসামা আল-বাগদাদি, আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবন ইদ্রিস আর-রাজি এবং আবু মুহাম্মাদ বাহয ইবন সুলাইমান ইবন ইয়াহইয়া আল-মিসরি ও অন্যান্যগণ। আবু যুরআহ আর-রাজি তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন তবে তাঁর থেকে হাদিস লিখে নেননি।

জাফর ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-হাজ্জাজ আর-রাক্কি বলেন: আমি দুইশত আঠারো হিজরিতে রাক্কায় তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম।

ইবন আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আহমাদ ইবন হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যিনি উবাইদুল্লাহ ইবন মুসার জামাতা ছিলেন এবং তিনি একজন সন্তোষভাজন ব্যক্তি ছিলেন।

ইবন আবি হাতিম বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবন হাফস ইবন গিয়াস আমাকে বললেন: তুমি কোত্থেকে আসছো? আমি বললাম: আহমাদ ইবন হুমাইদের নিকট থেকে, যিনি উবাইদুল্লাহ ইবন মুসার জামাতা। তিনি বললেন: সে ছোট থাকতেই আমার পিতার কাছে যাতায়াত করত। একদিন আমার পিতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কার ছেলে? সে বলল: হুমাইদের ছেলে। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কার (কোন গোত্রের)? সে বলল: আমাদের পরিবারের। এতে আমার পিতা মুচকি হাসলেন এবং তার অল্প বয়সের বুদ্ধিমত্তায় বিস্মিত হলেন।

 

১১ - আহমাদ ইবন আবি আমর; আর আবু আমরের নাম হলো হাফস ইবন আবদুল্লাহ ইবন রাশিদ আবু আলি, এবং বলা হয়: আবু আল-হাসান আস-সুলামি, তাঁদের আযাদকৃত দাস, আন-নিসাবুরি।

তিনি বর্ণনা করেছেন: তাঁর পিতা থেকে; আর তাঁর পিতা ছিলেন নিশাপুরের কাজী।

ইমাম বুখারি এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি হজ ও বিবাহ অধ্যায়ে তাঁর থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: আহমাদ ইবন আবি আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমার নিকট হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আবু আল-ফাযল আহমাদ ইবন সালামা ইবন আবদুল্লাহ ইবন সালামা আন-নিসাবুরি আল-বাযযার এবং আবু আবদুর রহমান যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সিজিস্তানি।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣٧)
المعروف بخياط السنة وأبو بكر محمد بن النضر الجارودي النيسابوري، وأبو العباس محمد بن إسحاق بن إبراهيم الثقفي السراج، وأبو عبد الرحمن بن شعيب النسائي وأبو محمد عبد الله بن علي بن الجارود النيسابوري وغيرهم. مات في سنة ستين ومائتين قاله أبو النصر الكلاباذي.

وقال غيره: مات في سنة خمس وخمسين ومائتين.

قال ابن أبي حاتم الرازي: كتب إلى أبي وإلى أبي زرعة بجزء من حديثه.

وقال أبو عبد الرحمن النسائي: أحمد بن حفص بن عبد الله نيسابوري ثقة.

 

12 - أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد بن إدريس بن عبد الله ابن حبان أبو عبد الله الشيباني الذهلي البغدادي كان أصله من (.....) من مدينة مرو، قدم جده حنبل بن هلال مع المسودة ودخل معهم مصر.

قال أحمد بن حنبل: حملت من مرو وأمي حبلي (يعني إلى بغداد).

روى عن: أبي محمد سفيان بن عيينة بن أبي عمران الهلالي مولاهم المكي، وأبي معاوية هشيم بن بشير بن القاسم بن دينار السلمي مولاهم الواسطي، وأبي بشر إسماعيل بن إبراهيم الأسدي مولاهم البصري المعروف بابن علية، وأبي سعيد يحيى بن سعيد بن فروخ القطان البصري، وأبي سعيد عبد الرحمن بن مهدي ابن حسان الأزدي مولاهم البصري، وأبي محمد معتمر بن سليمان بن طرخان التيمي البصري، وأبي عبد الله محمد بن جعفر الهذلي مولاهم الكرابيسي البصري المعروف بغندر، وأبي هشام عبد الله بن نمير الهمداني الكوفي، وأبي عبد الله محمد ابن سلمة الباهلي مولاهم الحراني، وأبي يوسف يعقوب بن إبراهيم بن سعد بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف القرشي الزهري، وأبي سعيد يحيى بن زكريا بن أبي زائدة الهمداني مولاهم الكوفي القاضي، وأبي بكر عبد الوهاب بن همام بن نافع الحميري الصنعاني، وأبي داود سليمان بن داود الطيالسي، وأبي عبد الله محمد بن عبد الله بن المثنى الأنصاري وغيرهم.

تفرد به مسلم، روى عنه في كتاب الإيمان والصلاة والحج والجهاد والحدود والفضائل وغير ذلك.
'খাইয়াতুস সুন্নাহ' নামে পরিচিত এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুন নাদর আল-জারুদী আন-নায়সাবুরি, আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহিম আস-সাকাফি আস-সাররাজ, আবু আবদুর রহমান ইবনু শুআইব আন-নাসায়ী এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনু আলী ইবনুল জারুদ আন-নায়সাবুরি এবং অন্যান্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, এ কথা আবু নাসর আল-কালাবাদি বলেছেন।

এবং অন্যরা বলেছেন: তিনি ২৫৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনু আবি হাতিম আর-রাজি বলেন: তিনি আমার পিতা এবং আবু যুরআর নিকট তাঁর হাদিসের একটি অংশ লিখে পাঠিয়েছিলেন।

এবং আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ী বলেন: আহমাদ ইবনু হাফস ইবনু আবদুল্লাহ নায়সাবুরি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী।

 

১২ - আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু হাম্বল ইবনু হিলাল ইবনু আসাদ ইবনু ইদরিস ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হিব্বান আবু আবদুল্লাহ আশ-শাইবানি আদ-দুহলি আল-বাগদাদি। তাঁর আদি নিবাস ছিল মার্ভ শহরের (.....) অঞ্চলে। তাঁর দাদা হাম্বল ইবনু হিলাল 'মুসাওয়িদাহ' (কালো পতাকাবাহী আব্বাসীয় বাহিনী) এর সাথে আগমন করেন এবং তাদের সাথে মিসরে প্রবেশ করেন।

আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেন: আমাকে মার্ভ থেকে বহন করে আনা হয়েছিল যখন আমার মা গর্ভবতী ছিলেন (অর্থাৎ বাগদাদে)।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু মুহাম্মদ সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা ইবনু আবি ইমরান আল-হিলালি (তাদের মুক্তদাস) আল-মাক্কি, আবু মুআবিয়া হুশাইম ইবনু বাশির ইবনুল কাসিম ইবনু দিনার আস-সুলামি (তাদের মুক্তদাস) আল-ওয়াসিতি, আবু বিশর ইসমাইল ইবনু ইবরাহিম আল-আসাদি (তাদের মুক্তদাস) আল-বাসরি—যিনি ইবনু উলাইয়্যাহ নামে পরিচিত, আবু সাঈদ ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ ইবনু ফাররুখ আল-কাত্তান আল-বাসরি, আবু সাঈদ আবদুর রহমান ইবনু মাহদি ইবনু হাসসান আল-আযদিও (তাদের মুক্তদাস) আল-বাসরি, আবু মুহাম্মদ মুতামির ইবনু সুলাইমান ইবনু তারখান আত-তাইমি আল-বাসরি, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু জাফর আল-হুযালি (তাদের মুক্তদাস) আল-কারাবিসি আল-বাসরি—যিনি গুন্দার নামে পরিচিত, আবু হিশাম আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর আল-হামদানি আল-কুফি, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু সালামাহ আল-বাহিলি (তাদের মুক্তদাস) আল-হাররানি, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনু ইবরাহিম ইবনু সাদ ইবনু ইবরাহিম ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আউফ আল-কুরাশি আয-যুহরি, আবু সাঈদ ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া ইবনু আবি যাইদাহ আল-হামদানি (তাদের মুক্তদাস) আল-কুফি আল-কাদি, আবু বকর আবদুল ওয়াহহাব ইবনু হাম্মাম ইবনু নাফি আল-হিমইয়ারি আস-সানআনি, আবু দাউদ সুলাইমান ইবনু দাউদ আত-তায়ালিসি, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনুল মুসান্না আল-আনসারি এবং অন্যদের থেকে।

ইমাম মুসলিম এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি তাঁর থেকে ঈমান, সালাত, হজ, জিহাদ, হুদুদ (দণ্ডবিধি), ফাদায়িল (মর্যাদা) এবং অন্যান্য অধ্যায়ে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣٨)
وروى البخاري في الجامع الصحيح، عن أحمد بن الحسن الترمذي عنه، ع معتمر بن سليمان التيمي في آخر المغازي بعد ذكر وفاة النبي صلى الله عليه وسلم.

قال أبو نصر الكلاباذي: ولم يحدث عنه البخاري نفسه في الجامع بشيء ولا أورد من حديث فيه شيئًا غير هذا الواحد إلا ما لعله استشهد به في بعض المواضع.

قال محمد: قال البخاري في كتاب النكاح: وقال لنا أحمد بن حنبل: ثنا يحيى ابن سعيد، عن سفيان حدثني حبيب، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس: حرم من النسب سبع، ومن الصهر سبع ثم قرأ: (حرمت عليكم أمهاتكم) الآية.

وقال أيضًا البخاري في كتاب اللباس وفي باب هل يجعل نقش الخاتم ثلاثة أسطر في عقب حديث محمد بن عبد الله الأنصاري، وزادني أحمد قال: نا الأنصاري قال: حدثني أبي الحديث، قيل إنه أحمد بن حنبل، وقد روى عنه في غير الجامع غير شيء.

وروى عنه: أبو إسحاق إبراهيم بن إسحاق الطلقاني، وأبو جعفر أحمد بن صالح المصري. وأبو هاشم زياد بن أيوب الطوسي، وأبو بكر محمد بن إسحاق ابن محمد الصاغاني البغدادي، وأبو محمد حجاج بن يوسف الشاعر، وأبو الفضل عباس بن محمد الدوري، وأبو عبد الله محمد بن يحيى الذهلي، وأبو جعفر محمد ابن عبيد الله المنادي، وأبو داود السجستاني، وأبو زرعة عبد الرحمن بن عمرو النصري الدمشقي، وأبو زرعة عبيد الله بن عبد الكريم الرازي، وأبو حاتم محمد ابن إدريس الرازي، وأبناه عبد الله وصالح ابنا أحمد بن حنبل، وأبو عبد الرحمن (يعني بن مخلد) القرطبي وغيرهم.

قال أبو خيثمة في تاريخه: ولد أمد بن حنبل سنة أربع وستين ومات رحمه الله في رجب يوم جمعة سنة إحدى وأربعين ومائتين، صلى عليه محمد ابن عبد الله بن طاهر أمير بغداد، ودفن بباب حرب ـ رحمة الله ـ.

قال: وسمعت يحيى بن معين يقول: أحمد رجل صالح ليس هو صاحب شر.

قال محمد: أحمد بن محمد بن حنبل إمام من أئمة المسلمين في الحديث
ইমাম বুখারী আল-জামিউস সহীহ্ গ্রন্থে আহমদ ইবনে হাসান আত-তিরমিযী থেকে, তিনি মু'তামির ইবনে সুলায়মান আত-তাইমী থেকে মাগাযী অধ্যায়ের শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত উল্লেখ করার পর বর্ণনা করেছেন।

আবু নাসর আল-কালাবাযী বলেন: ইমাম বুখারী স্বয়ং ‘আল-জামিউ’ গ্রন্থে এই একটি হাদিস ছাড়া তার থেকে আর কিছুই বর্ণনা করেননি এবং কোনো হাদিস এতে আনেননি, তবে সম্ভবত কিছু স্থানে তিনি তাকে উদ্ধৃতি (শাহিদ) হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

মুহাম্মদ বলেন: ইমাম বুখারী বিবাহ অধ্যায়ে বলেছেন: আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি বলেন যে হাবীব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: বংশীয় সম্পর্কের কারণে সাতজন এবং বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে সাতজন (বিবাহ করা) হারাম। এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন: "তোমাদের জন্য তোমাদের মায়েদের হারাম করা হয়েছে..." (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।

ইমাম বুখারী পোশাক অধ্যায়ে এবং ‘আংটির নকশা কি তিন লাইনে করা হবে’ পরিচ্ছেদে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারীর হাদিসের পর আরও বলেছেন: আহমদ আমার কাছে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনসারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। বলা হয় যে, তিনি হলেন আহমদ ইবনে হাম্বল। আর তিনি (ইমাম বুখারী) ‘আল-জামিউ’ ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে তার থেকে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এবং তার থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আত-তালকানী, আবু জাফর আহমদ ইবনে সালিহ আল-মিসরী, আবু হাশিম যিয়াদ ইবনে আইয়ুব আত-তূসী, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আস-সাগানী আল-বাগদাদী, আবু মুহাম্মদ হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আশ-শা’ইর, আবু ফজল আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাওরী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলী, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-মুনাদী, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী, আবু যুরআ আব্দুর রহমান ইবনে আমর আন-নাসরী আদ-দিমাশকী, আবু যুরআ উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল কারীম আর-রাযী, আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আর-রাযী, তার দুই পুত্র আব্দুল্লাহ ও সালিহ (আহমদ ইবনে হাম্বলের পুত্রদ্বয়), আবু আব্দুর রহমান (অর্থাৎ ইবনে মাখলাদ) আল-কুরতুবী এবং আরও অনেকে।

আবু খাইসামা তার ইতিহাসে বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল ১৬৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪১ হিজরি সনের রজব মাসের এক জুমার দিনে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন)। বাগদাদের আমির মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাহির তার জানাজার সালাত পড়ান এবং তাকে ‘বাব-ই হারব’ এ দাফন করা হয়—আল্লাহর রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক।

তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: আহমদ একজন নেককার লোক, তিনি কোনো অনিষ্টকারী নন।

মুহাম্মদ বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল হাদিস শাস্ত্রে মুসলিম উম্মাহর ইমামদের মধ্যে অন্যতম একজন ইমাম।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣٩)
والفقه والسنة، امتحن بالضرب والسجن رحمه الله يقال: إن المعتصم ضربه سنة تسع عشرة ومائتين ليقول بخلق القرآن فثبت، قال هلال بن العلاء الرقي: من الله على هذه الأمة بأحمد بن حنبل حين صبر في المحنة والضرب فنظر غيره إليه فصبر ولم يقولوا بخلق القرآن ولولا هو هلك الناس.

وقال أبو عبد الله البخاري: ولما ضرب أحمد بن حنبل كنا بالبصرة فسمعت أبا الوليد يعني الطيالسي يقول: لو كان هذا في بني إسرائيل لكان أحدوثة.

وقال عبد الله بن أحمد بن حنبل: أجاب يحيى بن معين في القرآن، وأبو خيثمة، وأ؛ مد بن الدورقي، وأبو مسلم المستملي والخوزي قال: وضرب أبي تسعة وثلاثين سوطًا، وذلك في سنة تسع عشرة ومائتين، وكان مقامه في الحبس سبعة وعشرين شهرًا، والضرب بعد ذلك، ثم أطلق حين ضرب وعاش إلى سنة إحدى وأربعين، قال أبو عبد الله رحمه الله: سمعته يقول: (....) أوجع قطع الله يدك ـ يعني المعتصم ـ.

وقال ابن أبي حاتم الرازي: ثنا العباس بن الوليد بن مزيد قال: حدثني الحارث ابن العباس قال: قلت لأبي مسهر: تعرف أحدًا يحفظ على هذه الأمة أمر دينها، قال: لا أعلمه إلا شابًا في ناحية المشرق ـ يعني أحمد بن حنبل ـ.

ثنا أبو بكر بن القاسم بن عطية (…) قال: نا عبد الله بن أحمد بن شبويه قال: سمعت قتيبة يقول: لو أدرك أحمد بن حنبل عصر الثوري ومالك والأوزاعي والليث بن سعد لكان هو المقدم، قلت لقتيبة: تضم أحمد ابن حنبل إلى التابعين، قال: إلى كبار التابعين.

ثنا أحمد بن سلمة النيسابوري قال: ذكرنا لقتيبة بن سعيد يحيى بن يحيى، وإسحاق بن راهوية، وأحمد بن حنبل فقال: أحمد بن حنبل أكبر ممن سميتهم كلهم.

ثنا الحسين بن الحسن الرازي قال: سمعت على بن المديني يقول: ليس في أصحابنا أحفظ من أبي عبد الله أحمد بن حنبل وبلغني أنه لا يحدث إلا من كتاب
এবং ফিকহ ও সুন্নাহ, তাকে প্রহার ও কারাগারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। বলা হয় যে, মুতাসিম ২১৯ হিজরি সনে তাকে কুরআন সৃষ্টির মতবাদ প্রকাশ করার জন্য প্রহার করেন, কিন্তু তিনি অটল ছিলেন। হিলাল ইবনুল আলা আর-রাক্কি বলেন: আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের ওপর আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি পরীক্ষা ও প্রহারে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। তাঁর দিকে তাকিয়ে অন্যরাও ধৈর্য ধরল এবং তারা কুরআন সৃষ্টির কথা বলেনি। তিনি না থাকলে মানুষ ধ্বংস হয়ে যেত।

আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি বলেন: যখন আহমাদ ইবনে হাম্বলকে প্রহার করা হয়েছিল, তখন আমরা বসরায় ছিলাম। আমি আবু আল-ওয়ালিদ অর্থাৎ আত-তায়ালিসিকে বলতে শুনেছি: যদি এটি বনী ইসরাঈলের মধ্যে ঘটত, তবে তা একটি কিংবদন্তি হয়ে থাকত।

আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আবু খাইসামা, আহমাদ ইবনে আদ-দাওরাকি, আবু মুসলিম আল-মুস্তামলি এবং আল-খাওজি কুরআনের (সৃষ্টি হওয়ার) বিষয়ে (চাপের মুখে) ইতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেন: আমার পিতাকে ৩৯টি দোররা মারা হয়েছিল, আর এটি ছিল ২১৯ হিজরি সনে। তিনি সাতাশ মাস কারাগারে বন্দী ছিলেন। এরপর তাকে প্রহার করা হয় এবং প্রহারের পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি ২৪১ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) রহ. বলেন: আমি তাকে বলতে শুনেছি: (....) "খুব যন্ত্রণাদায়ক, আল্লাহ তোমার হাত কেটে দিন" — অর্থাৎ মুতাসিমকে উদ্দেশ্য করে।

ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে মাজিদ, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন হারিস ইবনুল আব্বাস, তিনি বলেন: আমি আবু মুসহিরকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি এমন কাউকে চেনেন যিনি এই উম্মতের দ্বীনের বিষয়গুলো হেফাযত করছেন? তিনি বললেন: প্রাচ্যের সেই যুবক ছাড়া আমি আর কাউকে জানি না — অর্থাৎ আহমাদ ইবনে হাম্বল।

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনুল কাসিম ইবনে আতিয়্যাহ (…) তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে শাবওয়াইহ, তিনি বলেন: আমি কুতাইবাহকে বলতে শুনেছি: আহমাদ ইবনে হাম্বল যদি আস-সাওরি, মালিক, আওজায়ি এবং লাইস ইবনে সা'দের যুগ পেতেন, তবে তিনিই হতেন তাদের অগ্রগণ্য। আমি কুতাইবাহকে বললাম: আপনি কি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত করছেন? তিনি বললেন: বড় বড় তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত করছি।

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে সালামাহ আন-নাইসাবুরি, তিনি বলেন: আমরা কুতাইবাহ ইবনে সাঈদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং আহমাদ ইবনে হাম্বলের কথা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল তোমরা যাদের নাম উল্লেখ করেছ তাদের সকলের চেয়ে বড়।

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনুল হাসান আর-রাজি, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছি: আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বলের চেয়ে বড় হাফেজ আর কেউ নেই। আর আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, তিনি কিতাব দেখে ছাড়া হাদিস বর্ণনা করেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٤٠)
ولنا فيه أسوة حسنة.

ثنا أحمد بن سلمة النيسابوري قال: سمعت قتيبة بن سعيد يقول: أحمد بن حنبل إمام الدنيا، وقال أبو أحمد بن عدي الجرجاني: ثنا عبد الله بن محمد بن عبد العزيز قال: ثنا أحمد بن حنبل إمام الدنيا.

وقال ابن أبي حاتم: سمعت أبا زرعة يقول: لم أزل أسمع الناس يذكرون أحمد بن حنبل ويقدمونه على يحيى بن معين، وعلى أبي خيثمة.

سمعت أبا زرعة يقول: ما رأيت أحدًا أجمع من أحمد بن حنبل، قيل له: إسحاق بن راهويه، فقال: أحمد بن حنبل أكبر من إسحاق وأفقه.

ثنا علي بن الحسين بن الجنيد قال: سمعت أبا جعفر النفيلي يقول: كان أحمد بن حنبل من أعلام الدين.

ثنا يعقوب بن إسحاق قال: سمعت محمد بن يحيى النيسابوري يقول: إمامنا أحمد بن حنبل.

قال ابن أبي حاتم: سئل أبي عن أحمد بن حنبل قال: هو إمام وهو حجة.

وقال أبو أحمد بن عدي الجرجاني: ثنا زكريا بن يحيى قال: نا يوسف بن عبد الله الخوارزمي قال: نا حرملة قال: سمعت الشافعي يقول: خرجت من العراق فما خلفت بالعراق رجلاً أفضل ولا أعلم ولا أتقي من أحمد بن حنبل.

وقال أبو حاتم محمد بن حبان البستي: نا أحمد بن الحسن البلخي بجرجان: ثنا العباس بن محمد الخلال: ثنا إبراهيم بن شماس قال: سمعت وكيع الجراح، وحفص بن عيينة يقولان: ما قدم الكوفة مثل ذلك الفتى ـ يعنيان أحمد ابن حنبل ـ.

حدثني محمد بن الليث الوراق قال: سمعت محمد بن مشكان يقول: قال عبد الرازق، ما قدم علي أحد كان يشبه أحمد بن حنبل.

وقال ابن أبي حاتم: ثنا أحمد بن سنان عن عبد الرحمن بن مهدي أنه رأى أحمد بن حنبل أقبل إليه أو قام من عنده فقال: هذا أعلم الناس بحديث سفيان الثوري.

ونا صالح بن أحمد بن حنبل قال: سمعت أبي يقول: مات هشيم وأنا ابن
এবং তার মাঝে আমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।

আহমদ ইবনে সালামাহ আন-নিশাপুরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কুতাইবা ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: আহমদ ইবনে হাম্বল হলেন পৃথিবীর ইমাম। আবু আহমদ ইবনে আদি আল-জুরজানি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল হলেন পৃথিবীর ইমাম।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আবু যুরআহকে বলতে শুনেছি: আমি সবসময়ই মানুষকে আহমদ ইবনে হাম্বলের কথা উল্লেখ করতে এবং তাকে ইয়াহইয়া ইবনে মাইন ও আবু খাইসামার উপরে প্রধান্য দিতে শুনেছি।

আমি আবু যুরআহকে বলতে শুনেছি: আমি আহমদ ইবনে হাম্বল অপেক্ষা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ আর কাউকে দেখিনি। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ সম্পর্কে আপনার মত কী? তিনি বললেন: আহমদ ইবনে হাম্বল ইসহাকের চেয়েও বড় এবং অধিক বিজ্ঞ ফকিহ।

আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনুল জুনাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাফর আন-নুফাইলিকে বলতে শুনেছি: আহমদ ইবনে হাম্বল ছিলেন দ্বীনের অন্যতম দিকপাল।

ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আন-নিশাপুরিকে বলতে শুনেছি: আহমদ ইবনে হাম্বল হলেন আমাদের ইমাম।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমার পিতাকে আহমদ ইবনে হাম্বল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তিনি একজন ইমাম এবং তিনি একজন হুজ্জাত (প্রমাণস্বরূপ)।

আবু আহমদ ইবনে আদি আল-জুরজানি বলেন: জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাওয়ারিজমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারমালাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাফিয়িকে বলতে শুনেছি: আমি ইরাক ত্যাগ করেছি এবং আহমদ ইবনে হাম্বল অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ, অধিক জ্ঞানী এবং অধিক মুত্তাকি কোনো ব্যক্তি ইরাকে রেখে আসিনি।

আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি বলেন: জুরজানে আহমদ ইবনুল হাসান আল-বালখি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আল-খাল্লাল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: ইব্রাহিম ইবনে শাম্মাস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াকি ইবনুল জাররাহ এবং হাফস ইবনে উইয়াইনাহকে বলতে শুনেছি: এই যুবক—অর্থাৎ আহমদ ইবনে হাম্বল—এর মতো শ্রেষ্ঠ কেউ কুফায় পদার্পণ করেনি।

মুহাম্মদ ইবনুল লাইস আল-ওয়াররাক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে মুশকানকে বলতে শুনেছি: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আহমদ ইবনে হাম্বলের সদৃশ আর কেউ আমার কাছে আসেনি।

ইবনে আবি হাতিম বলেন: আহমদ ইবনে সিনান আব্দুর রহমান ইবনে মাহদির সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আহমদ ইবনে হাম্বলকে তার দিকে আসতে দেখে অথবা তার নিকট থেকে উঠতে দেখে বললেন: এই ব্যক্তি সুফিয়ান সাওরির হাদিস সম্পর্কে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।

সালেহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: হুশাইম মারা যান যখন আমার বয়স ছিল...
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٤١)
عشرين وأنا أحفظ ما سمعت منه، ولقد جاء إنسان إلى باب ابن علية ومعه كتب هشيم فجعل يلقيها علي وأنا أقول: إسناد هذا كذا فجاء (....) وكان يحفظ، فقلت: أجبه فبقي ولقد عرفت من حديثه ما لم أسمعه.

وذكر أحمد بن عبد الله بن صالح الكوفي أحمد بن حنبل فقال عنه: من أهل خراسان، سكن بغداد وولد بها، ثقة، ثبت في الحديث، نزه النفس، بغية في الحديث صاحب سنة وخبر.

وذكره أيضًا أبو عمر النميري الأندلسي فقال: وكان محله من العلم والحديث ما لا خفاء به، وكان إمام الناس في الحديث، وكان ورعًا خيرًا فاضلاً عابدًا صلبًا في السنة، غليظًا على أهل البدع، وكان أعلم الناس بحديث الرسول صلى الله عليه وسلم.

وقال أبو عمر أيضًا: ثنا عبد الرحمن بن عبد الله بن خالد قال: نا يوسف ابن يعقوب النحيرمي إملاء في المسجد الجامع بالبصرة قال: نا أبو يحيى زكريا بن يحيى الساجي قال: سمعت حوثرة بن محمد المنقري يقول: تتبين السنة في الرجل في اثنتين: في حبه أحمد بن حنبل وكتابة كتب السنة.

وقال أبو عبد الرحمن النسائي: كان هؤلاء الأربعة في عصر واحد: أحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، ويحيى بن معين، وعلي بن عبد الله المديني، فأما أحمد وإسحاق فجمعا الحديث والفقه، وأما يحيى بن معين وعلي بن المديني فكانا يعرفان الحديث خاصة دون غيره.

وقال أبو محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي: سمعت أي يقول: الذي كان يحسن معرفة صحيح الحديث من سقيمه وعنده تمييز ذلك، ويحسن علل الحديث أحمد بن حنبل ويحيى بن معين وعلى بن المديني وبعدهم أبو زرعة كان يحسن ذلك، قيل لأبي: فغير هؤلاء تعرف اليوم: قال: لا.

وقال أبو أحمد بن عدي: ثنا عبد الله بن محمد بن عبد العزيز قال: ثنا أبو الربيع الزهراني قال: ثنا حماد بن زيد قال: ثنا بقية بن الوليد قال: ثنا معاذ بن رفاعة، عن إبراهيم بن عبد الرحمن العذري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يرث هذا العلم من كل خلف عدو له، ينفون عنه تحريف الغالين،
কুড়ি বছর পর্যন্ত আমি যা কিছু তাঁর থেকে শুনেছি তা মুখস্থ রেখেছি। ইবনে আলিয়্যাহর দরজায় একজন লোক হুশাইমের কিতাব নিয়ে এলো এবং আমার সামনে সেগুলো পেশ করতে লাগলো, আর আমি বলছিলাম: এই হাদিসের সনদ এমন... এরপর কেউ একজন এলো যে মুখস্থ করতো, আমি বললাম: তাকে উত্তর দাও। সে থেকে গেল এবং আমি তাঁর হাদিস থেকে এমন কিছু জানতে পারলাম যা আমি আগে শুনিনি।

আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-কুফি আহমাদ ইবনে হাম্বল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর বিষয়ে বলেছেন: তিনি খোরাসানের অধিবাসী ছিলেন, বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য, হাদিসে সুদৃঢ়, পবিত্র আত্মার অধিকারী, হাদিস অন্বেষণে অগ্রগামী এবং সুন্নাহ ও আসারের অনুসারী ছিলেন।

আবু উমর আন-নুমাইরি আল-আন্দালুসিও তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ইলম ও হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর মর্যাদা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ছিল। তিনি হাদিসে মানুষের ইমাম ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার, কল্যাণকামী, ফযিলতপূর্ণ, ইবাদতকারী, সুন্নাহর ওপর অটল এবং বিদআতিদের প্রতি কঠোর। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন।

আবু উমর আরও বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আন-নাহাইরামি বসরার জামে মসজিদে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজি, তিনি বলেন: আমি হাওসারা ইবনে মুহাম্মদ আল-মানকারিকে বলতে শুনেছি: একজন মানুষের সুন্নাহর ওপর থাকা দুটি জিনিসের মাধ্যমে প্রকাশ পায়: আহমাদ ইবনে হাম্বলের প্রতি ভালোবাসা এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহ লেখা।

আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ী বলেছেন: এই চারজন একই যুগের ছিলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আলি ইবনে আবদুল্লাহ আল-মাদিনি। আহমাদ ও ইসহাক হাদিস ও ফিকহ উভয়টিই একত্র করেছিলেন, আর ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও আলি ইবনে আল-মাদিনি বিশেষভাবে হাদিস সম্পর্কেই জানতেন, অন্য বিষয়ে নয়।

আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: সহিহ হাদিসকে দুর্বল হাদিস থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলল) চেনার ক্ষেত্রে যারা পারদর্শী ছিলেন তারা হলেন—আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আলি ইবনে আল-মাদিনি। তাদের পর আবু জুরআও এতে পারদর্শী ছিলেন। আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: বর্তমান সময়ে আপনি কি এদের বাইরে আর কাউকে চেনেন? তিনি বললেন: না।

আবু আহমাদ ইবনে আদি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু রাবি আয-যাহরানি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালিদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুয়াজ ইবনে রিফাআহ, ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান আল-উজরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রতিটি প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ এই ইলমের উত্তরাধিকারী হবে; তারা তা থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি দূর করবে..."
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٤٢)
وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين".

قال عبد الله بن محمد بن عبد العزيز وكان أحمد بن حنبل منهم.

قال محمد: رواه إسماعيل بن عياش، عن معاذ بن رفاعة السلامي، عن أبي عبد الرحمن العذري، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.

وقال أبو جعفر العقيلي: ثنا محمد بن داود بن خزيمة الرملي قال: ثنا محمد ابن عبد العزيز الرملي ويعرف بالواسطي قال: ثنا بقية، عن رزيق أبي عبد الله الألهاني، عن القاسم أبي عبد الرحمن، عن أبي أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يحمل هذا العلم من كل خلف عدوله، ينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين".

قال محمد: وقد رثى بكر بن حماد لأحمد بن حنبل بقصيدة منها قوله:

لا تسفكن دمًا حرامًا … واسكب دموعًا لابن حنبل أحمدا

كان الحديث به يعب عبابه … فاليوم قد أخلى الحديث المسندا

ما كان متهمًا على ما قاله … بل كان مأمونًا عليه مسددا

لم تلوك الدنيا على شهواتها … بل كنت في الدنيا أبر وأزهدا

 

13 - أحمد بن محمد بن الوليد أبو محمد الأزرقي المكي القواس ونسبه بعضهم فقال: هو أحمد بن محمد بن الوليد بن عقبة بن الأزرق بن عمرو بن الحارث بن أبي شمر الغساني.

روى عن: أبي إسحاق إبراهيم بن سعد بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف الزهري المدني، وأبي أمية عمرو بن يحيى بن سعيد بن عمرو بن سعيد بن العاص القرشي الأموي السعيدي المكي.

تفرد به البخاري، روى عنه في كتاب الوضوء والجنائز وغير ذلك من الجامع.

وقال في التاريخ: فارقناه سنة ثنتي عشرة ومائتين.

قال محمد: وقد روى أحمد بن محمد الأزرقي هذا عن أبي سليمان داود بن عبد الرحمن العطار المكي، وأبي خالد مسلم بن خالد الزنجي المكي، وأبي عبد الله
এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি ও মূর্খদের অপব্যাখ্যা।"

আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ বলেছেন যে, আহমাদ ইবনে হাম্বল ছিলেন তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।

মুহাম্মদ বলেন: এটি ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ, মুআয ইবনে রিফায়া আস-সালামি থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-উযরি থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবু জাফর আল-উকায়লি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে দাউদ ইবনে খুযায়মা আর-রামলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ আর-রামলি—যিনি আল-ওয়াসিতি নামে পরিচিত—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: বাকিয়্যাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি রুযায়ক আবু আবদুল্লাহ আল-আলহানি থেকে, তিনি কাসেম আবু আবদুর রহমান থেকে এবং তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ এই ইলম (জ্ঞান) বহন করবেন, তারা এ থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন।"

মুহাম্মদ বলেন: বকর ইবনে হাম্মাদ আহমাদ ইবনে হাম্বলের শোকে একটি কাসিদা রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তার এই উক্তি:

হারাম রক্ত ঝরিয়ো না … বরং আহমাদ ইবনে হাম্বলের জন্য চোখের জল ফেলো

তার মাধ্যমে হাদিসের ঢেউ প্রবলবেগে প্রবাহিত হতো … আজ সেই মুসনাদ হাদিস খালি হয়ে গেছে

তিনি যা বলতেন সে ব্যাপারে তিনি অভিযুক্ত ছিলেন না … বরং তিনি ছিলেন আমানতদার এবং সঠিক পথের অনুসারী

দুনিয়া তার লালসা দিয়ে তোমাকে টলাতে পারেনি … বরং তুমি ছিলে দুনিয়াতে সবচেয়ে নেককার এবং দুনিয়াবিমুখ

 

১৩ - আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়ালিদ আবু মুহাম্মদ আল-আযরাকি আল-মাক্কি আল-কাওয়াস; কেউ কেউ তার বংশপরিচয় এভাবে উল্লেখ করেছেন: তিনি হলেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়ালিদ ইবনে উকবা ইবনে আল-আযরাক ইবনে আমর ইবনে আল-হারিস ইবনে আবু শিমর আল-গাসসানি।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে সাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ আল-যুহরি আল-মাদানি এবং আবু উমাইয়া আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ ইবনে আল-আস আল-কুরাশি আল-উমাবি আস-সাঈদি আল-মাক্কি থেকে।

ইমাম বুখারি এককভাবে তার থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি তার থেকে কিতাবুল ওযু, জানাযা এবং জামে’র অন্যান্য অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

এবং তিনি আত-তারিখ-এ বলেছেন: আমরা দুইশত বারো হিজরি সনে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি।

মুহাম্মদ বলেন: এই আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আযরাকি বর্ণনা করেছেন আবু সুলাইমান দাউদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আত্তার আল-মাক্কি, আবু খালিদ মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-যানজি আল-মাক্কি এবং আবু আবদুল্লাহ থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুআল্লিম বিশুয়ূখিল বুখারী ওয়া মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٤٣)
مالك بن أنس الأصبحي، وأبي محمد سفيان بن عيينة بن أبي عمران الهلالي المكي وغيرهم.

روى عنه: سعد بن عبد الله بن عبد الحكم المصري، وأبو يحيى عبد الله بن أحمد بن أبي مسرة المكي، وأبو يوسف يعقوب بن سفيان الفارسي، وأبو حاتم محمد بن إدريس بن المنذر الرازي، وأبو عبد الله محمد بن علي بن زيد المكي الصائغ وغيرهم. وقال ابن أبي حاتم: سمعت أبا زرعة يقول: أدركته ولم أكتب عنه، ثم قال ابن أبي حاتم: سمعت أبي يقول: ثقة.

 

14 - أحمد بن محمد سمع أبا عبد الرحمن بن المبارك الحنظلي المرزوي.

تفرد به البخاري، روى عنه في الوضوء، والحج، والأضاحي، والاعتصام وغير ذلك.

واختلف في أحمد بن محمد هذا فقيل هو:

أحمد بن محمد بن موسى أبو العباس المروزي السمسار المعروف بمردويه، قاله أبو عبد الله الحاكم، وأبو نصر الكلاباذي.

وقال غيرهما: هو أحمد بن محمد بن ثابت أبو الحسن الخزاعي مولاهم المروزي المعروف بابن شبويه، يقال: هو مولى بديل بن ورقاء الخزاعي، وذكر بعضهم فيمن أخرج عنه البخاري في الصحيح أحمد بن محمد بن عبد الله بن القاسم بن أبي بزة أبو الحسن المقرئ المكي مؤذن مسجد الحرام.

وذكر أبو أحمد بن عدي الجرجاني في أسامي شيوخ البخاري أحمد بن محمد، عن عبد الله، عن معمر لا يعرف.

قال محمد: أمد بن محمد بن موسى مردويه.

يروى عن: أبي عبد الرحمن عبد الله بن المبارك الحنظلي، وأبي عبد الله جرير ابن عبد الحميد الضبي الرازي، وأبي محمد إسحاق بن يوسف الأزرق الواسطي وغيرهم.

روى عنه: أبو بكر بن أبي خيثمة البغدادي، وأبو عيسى بن عيسى الترمذي، وأبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي، ونسبه النسائي إلى جده موسى وقال: لا بأس به.
মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহি, আবু মুহাম্মদ সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না ইবনে আবি ইমরান আল-হিলালি আল-মাক্কি এবং অন্যান্যরা।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: সা’দ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম আল-মিসরি, আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আবি মাসাররাহ আল-মাক্কি, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান আল-ফারিসি, আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস ইবনে আল-মুনজির আর-রাজি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে যায়েদ আল-মাক্কি আস-সায়িগ এবং অন্যান্যরা। ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমি আবু যুরআহ-কে বলতে শুনেছি: আমি তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছি কিন্তু তাঁর থেকে (হাদিস) লিখিনি। এরপর ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: (তিনি) নির্ভরযোগ্য।

 

১৪ - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি আবু আব্দুর রহমান ইবনুল মুবারক আল-হানজালি আল-মারওয়াযি থেকে শুনেছেন।

ইমাম বুখারি এককভাবে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি তাঁর থেকে ওজু, হজ, কোরবানি, ই’তিসাম (সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা) সহ অন্যান্য অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

এই আহমদ ইবনে মুহাম্মদ-এর পরিচয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে যে তিনি হলেন:

আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আবুল আব্বাস আল-মারওয়াযি আস-সিমসার, যিনি ‘মারদুওয়াইহ’ নামে পরিচিত। আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এবং আবু নাসর আল-কালাবাদি একথাই বলেছেন।

আবার অন্য অনেকে বলেছেন: তিনি হলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাবিত আবু হাসান আল-খুজায়ি তাদের মুক্তদাস আল-মারওয়াযি, যিনি ‘ইবনে শাবওয়াইহ’ নামে পরিচিত। বলা হয়, তিনি বুদাইল ইবনে ওয়ারকা আল-খুজায়ির মুক্তদাস। এবং কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে যাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-কাসিম ইবনে আবি বাজাহ আবু হাসান আল-মুকরি আল-মাক্কি, যিনি মসজিদে হারামের মুয়াজ্জিন ছিলেন।

আবু আহমদ ইবনে আদি আল-জুরজানি ইমাম বুখারির শিক্ষকদের তালিকায় আহমদ ইবনে মুহাম্মদ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, যিনি আব্দুল্লাহ-এর সূত্রে মা’মার থেকে বর্ণনা করেছেন—যাকে চেনা যায় না।

মুহাম্মদ বলেছেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা মারদুওয়াইহ।

তিনি বর্ণনা করেছেন: আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-হানজালি, আবু আব্দুল্লাহ জারির ইবনে আব্দুল হামিদ আদ-দাব্বি আর-রাজি, আবু মুহাম্মদ ইসহাক ইবনে ইউসুফ আল-আযরাক আল-ওয়াসিতি এবং অন্যদের থেকে।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু বকর ইবনে আবি খাইসামা আল-বাগদাদি, আবু ঈসা ইবনে ঈসা আত-তিরমিজি, আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে শুয়াইব আন-নাসায়ি। ইমাম নাসায়ি তাঁকে তাঁর দাদা মুসার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই।