(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: -)
الانتصار للصحابة الأخيار في رد أباطيل حسن المالكي (عبد المحسن العباد)
القسم: الفرق والردود
الكتاب: الانتصار للصحابة الأخيار في رد أباطيل حسن المالكي
المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر
الناشر: دار ابن القيم، الدمام، المملكة العربية السعودية، دار ابن عفان، القاهرة، مصر
الطبعة: الثانية، 1423هـ
عدد الصفحات: 145
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাসান মালকির অলীক দাবি খণ্ডনে শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণের পক্ষসমর্থন (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)
বিভাগ: বিভিন্ন দল ও খণ্ডন
বই: হাসান মালকির অলীক দাবি খণ্ডনে শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণের পক্ষসমর্থন
লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদর
প্রকাশক: দার ইবনুল কাইয়্যিম, দাম্মাম, সৌদি আরব রাজতন্ত্র, দার ইবনু আফফান, কায়রো, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৩)
الانتصار للصحابةِ الأخيار في ردِّ أباطيل حسن المالكيتأليف:عبد المحسن بن حمد العباد البدر
শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের সমর্থনে: হাসান আল-মালিকির ভিত্তিহীন অভিযোগসমূহের খণ্ডনরচনা:আব্দুল মুহসিন বিন হামদ আল-আব্বাদ আল-বদর
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله وحده، وصلَّى الله وسلَّم وبارك على من لا نَبِيَّ بعده، نبيِّنا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان. أمَّا بعد:فإنَّ عقيدةَ أهل السُّنَّة والجماعة في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم رضي الله عنهم عقيدةٌ سليمةٌ مستقيمةٌ، مَبنيَّةٌ على مَحبَّتهم جميعاً، وموالاتهم، والدعاء لهم، والثناء عليهم بالجميل اللَاّئق بهم، وسلامة القلوب والألسنة من كلِّ ما لا يليق بهم.وإنَّ من الخزي والعار للمرء في هذه الحياة أن يكون في قلبه غِلٌّ لهم، وأن يطلقَ لسانَه بِمَا فيه نَيْلٌ منهم، وذمٌّ لهمٌ، وهَضم لِجَنَابهم، يقول الطحاوي رحمه الله: " ونحبُّ أصحابَ رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا نفرط في حبِّ أحدٍ منهم، ولا نتبرَّأ من أحدٍ منهم، ونبغض من يبغضهم وبغير الخير يذكرهم، ولا نذكرهم إلَاّ بخيرٍ، وحبُّهم دينٌ وإيمانٌ وإحسانٌ، وبغضُهم كفرٌ ونفاقٌ وطغيانٌ ".وقال أبو المظفَّر السمعاني رحمه الله: " التعرُّضُ إلى جانب الصحابة علامةٌ على خذلان فاعله، بل هو بدعةٌ وضلالةٌ ".
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য; আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই ব্যক্তির ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই—আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীবর্গের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সঠিক, যা তাঁদের সকলকে ভালোবাসা, তাঁদের প্রতি আনুগত্য পোষণ করা, তাঁদের জন্য দোয়া করা এবং তাঁদের যথাযোগ্য মর্যাদায় ভূষিত করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেই সাথে তাঁদের মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এমন সব কিছু থেকে অন্তর ও জিহ্বাকে মুক্ত রাখাও এই আকিদার অবিচ্ছেদ্য অংশ।ইহকালে কোনো ব্যক্তির জন্য এটি চরম লাঞ্ছনা ও অপমানের বিষয় যে, তার অন্তরে সাহাবীবর্গের প্রতি কোনো প্রকার বিদ্বেষ থাকবে এবং সে নিজের জিহ্বা দ্বারা তাঁদের সমালোচনা, নিন্দা বা অবমাননা করবে। ইমাম তহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীবর্গকে ভালোবাসি; তবে তাঁদের কাউকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমরা সীমা লঙ্ঘন করি না এবং তাঁদের কাউকেও আমরা পরিত্যাগ করি না। যারা তাঁদেরকে ঘৃণা করে এবং কল্যাণের পরিবর্তে অন্যভাবে তাঁদের স্মরণ করে, আমরা তাদের ঘৃণা করি। আমরা তাঁদের কেবল কল্যাণের সাথেই স্মরণ করি। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা রাখা দ্বীনদারি, ঈমান ও ইহসান; আর তাঁদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা কুফরি, নিফাক ও সীমালঙ্ঘন।"আবু মুজাফফর আস-সামআনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সাহাবীবর্গের শানে বেয়াদবি করা বা তাঁদের মর্যাদাহানি করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লাঞ্ছিত হওয়ার লক্ষণ, বরং এটি একটি বিদআত ও ভ্রষ্টতা।"
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৪)
ويقول أبو زرعة الرازي رحمه الله: " إذا رأيت الرجلَ ينتقصُ أحداً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعلم أنَّه زنديقٌ؛ وذلك أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم عندنا حقٌّ والقرآن حقٌّ، وإنَّما أدَّى إلينا هذا القرآنَ والسننَ أصحابُ رسول الله صلى الله عليه وسلم وإنَّما يريدون أن يجرحوا شهودَنا ليُبطلوا الكتاب والسنة، والجرحُ بهم أولى وهم زنادقةٌ "وهذه النقول مع غيرها مذكورة في آخر هذا الكتاب.وطبعته الثانية هذه مع سابقتها على نفقة بعض المحسنين، أثابهم الله وأجزل لهم المثوبة.وأسأل الله أن ينفع بهذا الكتاب مؤلِّفَه وقارئَه وسامعه والمردودَ عليه فيه، إنَّه سميعٌ مجيب.المؤلف
আবু যুরআহ আর-রাযী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "যদি আপনি কোনো ব্যক্তিকে দেখেন যে সে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীদের মধ্যে কাউকে খাটো করছে, তবে জেনে রাখুন যে সে একজন যিনদীক (ধর্মদ্রোহী)। এর কারণ হলো, আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সত্য এবং কুরআন সত্য। আর আমাদের নিকট এই কুরআন ও সুন্নাহকে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীগণই পৌঁছে দিয়েছেন। মূলত তারা আমাদের সাক্ষীদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় যাতে কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল করে দিতে পারে। অথচ তারাই অভিযুক্ত হওয়ার অধিক যোগ্য এবং তারাই যিনদীক।"এই বর্ণনাগুলো অন্যান্য উদ্ধৃতিসহ এই কিতাবের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে।পূর্ববর্তী সংস্করণের ন্যায় এই দ্বিতীয় সংস্করণটিও কয়েকজন হিতৈষী ব্যক্তির অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছে, আল্লাহ তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের পুরস্কারকে সমৃদ্ধ করুন।আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই কিতাবের মাধ্যমে এর লেখক, পাঠক, শ্রোতা এবং যার প্রতিবাদে এটি রচিত হয়েছে—সবাইকে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।লেখক
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيمالحمدُ لله نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذ بالله من شرورِ أنفسنا ومن سيِّئاتِ أعمالِنا، مَن يهدِه الله فلا مُضلَّ له، ومَن يُضلل فلا هادي له، وأشهدُ أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريكَ له، وأشهدُ أنَّ محمداً عبدُه ورسولُه، صلَّى الله وسلَّم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه، ومَن سلك سبيلَه واهتدى بهديه إلى يوم الدِّين، أمَّا بعدُ:فإنَّ خيرَ الحديث كتابُ الله، وخيرَ الهَدْي هديُ محمد صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمور محدثاتها، وكلَّ بدعة ضلالة، وكلَّ ضلالة في النار.وبعد، فإنَّ من فضلِ الله تعالى وعظيمِ منَّتِه عليَّ أن حبَّبَ إليَّ صحابةَ رسول الله صلى الله عليه وسلم الأخيار، وقرابتَه الأطهار، من غير إفراطٍ أو تفريطٍ، أو غُلوٍّ أوجفاءٍ، كما هي طريقةُ السَّلف الصالح، وقد ألَّفتُ رسالةً مختصرةً بعنوان: ((عقيدةُ أهل السنَّة والجماعة في الصحابة الكرام رضي الله عنهم) ، وقد نُشرتْ في مجلَّة الجامعة الإسلامية، في عدَدِها الثاني من السنة الرابعة، الصادر في شهر شوّال سنةَ 1391هـ، ثمَّ طُبعتْ مستقلَّة.وألَّفتُ رسالةً بعنوان: ((فضلُ أهل البيت وعُلوُّ مكانتهم عند أهل السنَّة والجماعة)) طُبعتْ في عام 1422هـ، وسبق أن ألقيتُ محاضرةً في الموضوع في الجامعة الإسلامية في عام 1405هـ تقريباً بعنوان: ((مكانةُ أهل البيت عند الصحابة وتابعيهم بإحسان)) .
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবে ও তাঁর হিদায়াত অনুযায়ী চলবে, তাদের সবার ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন এবং বরকত দান করুন। অতঃপর:নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হচ্ছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।অতঃপর, আমার প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও তাঁর অশেষ মেহেরবানী এই যে, তিনি আমার অন্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুণ্যবান সাহাবীগণ এবং তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন; কোনো প্রকার অতিরঞ্জন বা শিথিলতা কিংবা চরমপন্থা বা অবজ্ঞা ছাড়াই, যেমনটি ছিল সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের পথ। আমি ইতিপূর্বে ‘আকীদাতু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতি ফিস সাহাবাতিল কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম’ (সম্মানিত সাহাবীগণের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আকিদা) শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা রচনা করেছি, যা ১৩৯১ হিজরি সালের শাওয়াল মাসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাগাজিনের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্বতন্ত্রভাবেও মুদ্রিত হয়েছে।এছাড়াও আমি ‘ফাদলু আহলিল বাইতি ওয়া উলুউউ মাকানতিহিম ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত’ (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের নিকট আহলে বাইতের ফযীলত ও তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা) শিরোনামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছি যা ১৪২২ হিজরি সালে মুদ্রিত হয়েছে। এর পূর্বে আনুমানিক ১৪০৫ হিজরি সালে মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে ‘মাকানাতু আহলিল বাইতি ইনদাস সাহাবাতি ওয়াত তাবিঈনা বিইহসান’ (সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেঈগণের নিকট আহলে বাইতের মর্যাদা) শিরোনামে একটি বক্তৃতা প্রদান করেছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقد ألقيتُ محاضرةً في قاعة المحاضرات في الجامعة الإسلامية في عام 1405هـ تقريباً عن معاويةَ بن أبي سفيان رضي الله عنه، وكان عنوانها في أوَّل الأمر ((معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه بين المنصفين والمتعسِّفين)) ، لكنِّي عند إلقائها اقتصرتُ على كلام أهل الإنصاف دون ذكر شيءٍ من كلام أهل الاعتساف، ثمَّ طُبعت بعنوان: ((من أقوال المنصفين في الصحابيِّ الخليفةِ معاويةَ رضي الله عنه) .وفي الآونة الأخيرة وقفتُ على رسالتين لأحد المتعسِّفين الجُدُد، وهو حسن بن فرحان المالكي (نسبة إلى بَنِي مالك في أقصى جنوب المملكة) ، إحداهما بعنوان: ((الصحابةُ بين الصُّحبة اللُّغوية والصُّحبة الشَّرعية)) ، والثانية بعنوان: ((قراءةٌ في كتب العقائد)) ، اشتملتَا على تَخبُّطٍ وتَخليطٍ في مسائل الاعتقاد، ولا سيَما في الصحابة الكرام رضي الله تعالى عنهم وأرضاهم، وعلى النَّيل من عددٍ كبيرٍ من علماء أهل السنَّة المتقدِّمين والمتأخِّرين، وإشادة بأهل البدع.وسأقتصرُ في هذه الرسالة على دحضِ أباطيله في حقِّ الصحابة الكرام رضي الله عنهم وأرضاهم.ومن هذه الأباطيل: تقسيمُه الصحبةَ إلى صحبةٍ شرعيَّة وصحبةٍ لغويَّةٍ، ويريدُ بالصُّحبة الشرعيَّة صحبة المهاجرين والأنصار من أوَّل الهجرة إلى صُلح الحُديبية، وأنَّ ما ورد من فضائل لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إنَّما هي لهؤلاء وحدهم، ومَن كان بعد الحُديبية فصحبتُه لغويَّة كصحبة المنافقين والكفّار. فأخرج بذلك الألوفَ الكثيرةَ من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين أسلموا وهاجروا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الحُديبية، وكذلك الذين أسلموا عامَ الفتح، والوفودَ الذين وَفَدوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم وغيرَهم، ومِن الذين زعم أنَّهم لَم يظفروا بشرف الصُّحبة لرسول الله صلى الله عليه وسلم وأنَّ صُحبَتَهم إيَّاه
আমি আনুমানিক ১৪০৫ হিজরি সনে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার হলে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে একটি বক্তৃতা প্রদান করেছিলাম। প্রথম দিকে এর শিরোনাম ছিল: "ন্যায়নিষ্ঠ ও বিভ্রান্তদের মাঝে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)", তবে প্রদানের সময় আমি বিভ্রান্তদের বক্তব্যের উল্লেখ না করে কেবল ন্যায়নিষ্ঠদের আলোচনার ওপরই সীমাবদ্ধ ছিলাম। পরবর্তীতে এটি "সাহাবী খলিফা মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে ন্যায়নিষ্ঠদের কিছু বাণী" শিরোনামে প্রকাশিত হয়।সম্প্রতি আমি বর্তমান যুগের একজন বিভ্রান্ত ব্যক্তির দুটি পুস্তিকা পাঠ করেছি, তিনি হলেন হাসান বিন ফারহান আল-মালিকি (সৌদি আরবের সুদূর দক্ষিণের বনু মালিক গোত্রের বংশোদ্ভূত)। একটির শিরোনাম "আভিধানিক সাহচর্য ও শরয়ি সাহচর্যের মাঝে সাহাবায়ে কেরাম" এবং দ্বিতীয়টি "আকিদার কিতাবসমূহের ওপর একটি পাঠ"। এগুলোতে আকিদাগত বিষয়ে, বিশেষ করে সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ব্যাপারে চরম বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আহলে সুন্নাতের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বহু আলিমের মানহানি করা হয়েছে এবং বিদয়াতিদের প্রশংসা করা হয়েছে।আমি এই পুস্তিকাটিতে সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ব্যাপারে তার উত্থাপিত অমূলক দাবিগুলো খণ্ডনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।তার এসব অলীক দাবির অন্যতম হলো: সাহচর্যকে শরয়ি ও আভিধানিক—এই দুই ভাগে ভাগ করা। শরয়ি সাহচর্য বলতে তিনি হিজরতের সূচনা থেকে হুদাইবিয়ার সন্ধি পর্যন্ত মুহাজির ও আনসারদের সাহচর্যকে উদ্দেশ্য করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের ব্যাপারে যেসব ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, তা কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট। আর হুদাইবিয়ার সন্ধির পর যারা এসেছেন, তাদের সাহচর্য কেবল আভিধানিক, যেমনটা মুনাফিক ও কাফিরদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এভাবে তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই হাজার হাজার সাহাবীকে সাহচর্য থেকে খারিজ করে দিয়েছেন যারা হুদাইবিয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করে হিজরত করেছিলেন, কিংবা যারা মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং যারা বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হয়েছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, এরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্যের মর্যাদা লাভ করতে পারেননি এবং তাদের সাহচর্য কেবল...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৭)
كصُحبة الكفَّار والمنافقين: عمُّه العباس بن عبد المطّلب وابنُه عبد الله وخالد بن الوليد وعمرو بن العاص والمغيرة بن شعبة ومعاوية رضي الله عنهم، وسيأتي تنصيصُه على عدم صحبتِهم والردُّ عليه.ومن هذه الأباطيل تشكيكُه في أفضليَّة أبي بكر على غيره وفي أَوْلَوِيَّته بالخلافة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وغير ذلك مِمَّا سأذكرُه في الرَّدِّ عليه.والله يعلم أنَّني كارهٌ لإيراد هذه الأباطيل، لكن حالي كما جاء فيالمَثَل: ((مُكرَهٌ أخوك لا بطل)) ، كما في مجمع الأمثال للميداني (ص:274) ، فأجدُني مضطرًّا إلى إيراد هذه التَّعسُّفات والرَّدِّ عليها،وأقول فيها كما قال السيوطي في كتابه ((مفتاح الجنة في الاحتجاجبالسنة)) (ص:5) في إبطال قول من قال: (إنَّه لا يُحتَجُّ بالسُّنَّة، إنَّمايُحتجُّ بالقرآن وحده!) قال: ((اعلموا ـ يرحمكم الله ـ أنَّ من العلم كهيئة الدواء، ومن الآراء كهيئة الخلاء، لا تُذكر إلَاّ عند داعية الضرورة)) إلى أن قال في (ص:6) : ((وهذه آراء ما كنتُ أستحلُّ حكايتَها لولا ما دعت إليه الضرورة من بيان أصل هذا المذهب الفاسد، الذي كان الناس في راحة منه من أعصار)) .ولشناعة هذه الأباطيل، فإنَّ مجرَّدَ تصوُّرِها يُغني عن الاشتغال في الردِّ عليها، لكنِّي رأيتُ الردَّ عليها في هذه الرسالة؛ لئلَاّ يغتَرَّ بها ذو جهل أو تغفيل، ورجاء أن يهدِيَ الله المردودَ عليه، ويُخرجه من الظلمات إلى النور، فيتوبَ من تلك الأباطيل قبل أن يفجأَه هادِمُ اللَّذَّات، والرجوعُ إلى الحقِّ خيرٌ من التمادي في الباطل، كما قال ذلك عمر بن الخطاب رضي الله عنه (تفسير القرطبي 5/262) .
যেমন কাফের ও মুনাফিকদের সাহচর্য (হিসেবে গণ্য করা): তাঁর চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ, খালিদ ইবনে ওয়ালীদ, আমর ইবনুল আস, মুগীরা ইবনে শু'বা এবং মুয়াবিয়া (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন); আর তাঁদের সাহচর্য অস্বীকার করার বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য এবং এর খণ্ডন সামনে আসবে।আর এসব অসার বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হলো অন্যদের ওপর আবু বকরের শ্রেষ্ঠত্ব এবং রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর পর খিলাফতের ব্যাপারে তাঁর অগ্রাধিকার নিয়ে তার সংশয় প্রকাশ করা, এছাড়াও আরও অন্যান্য বিষয় যা আমি তার খণ্ডন প্রসঙ্গে উল্লেখ করব।আল্লাহ জানেন যে, এই অসার কথাগুলো উদ্ধৃত করাকে আমি অপছন্দ করছি, কিন্তু আমার অবস্থা ঠিক সেই প্রবাদের মতো যা বর্ণিত হয়েছেপ্রবাদ: "তোমার ভাই অনন্যোপায়, বীর নয়," যেমনটি আল-মাইদানীর 'মাজমাউল আমসাল' (পৃষ্ঠা: ২৭৪) গ্রন্থে রয়েছে। ফলে আমি এই বিভ্রান্তিকর কথাগুলো উল্লেখ করতে এবং সেগুলোর জবাব দিতে নিজেকে বাধ্য মনে করছি,আর এ বিষয়ে আমি তাই বলছি যা ইমাম সুয়ূতী তাঁর 'মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজবিস সুন্নাহ' (পৃষ্ঠা: ৫) গ্রন্থে সেই ব্যক্তির বক্তব্য বাতিলের ক্ষেত্রে বলেছিলেন, যে বলেছিল: (সুন্নাহ দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না, কেবলকুরআন দ্বারাই দলিল পেশ করা হবে!) তিনি বলেছিলেন: "জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন—নিশ্চয়ই কিছু জ্ঞান ওষুধের ন্যায়, আর কিছু মতবাদ শৌচাগারের ন্যায়, যা অনিবার্য প্রয়োজন ছাড়া উল্লেখ করা হয় না।" তিনি পৃষ্ঠা ৬-এ আরও বলেছেন: "এগুলো এমন সব মতবাদ যা বর্ণনা করা আমি বৈধ মনে করতাম না, যদি না এই ভ্রান্ত মতবাদের উৎস বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত, যা থেকে মানুষ বহু যুগ ধরে শান্তিতে ছিল।"এই অসার কথাগুলোর জঘন্যতার কারণে এগুলো কেবল কল্পনা করাই এগুলোর খণ্ডনে লিপ্ত হওয়া থেকে নিবৃত রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল, কিন্তু আমি এই পুস্তিকায় এগুলোর খণ্ডন করা সমীচীন মনে করেছি; যাতে কোনো অজ্ঞ বা অসতর্ক ব্যক্তি এতে প্রতারিত না হয়, এবং এই আশায় যে আল্লাহ যেন সেই ব্যক্তিকে (যার খণ্ডন করা হচ্ছে) হিদায়াত দান করেন এবং অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসেন, ফলে সে যেন 'স্বাদ বিনাশকারী' (মৃত্যু) হঠাৎ আসার আগেই এই অসার বিষয়গুলো থেকে তওবা করতে পারে। আর মিথ্যার ওপর অবিচল থাকার চেয়ে সত্যের দিকে ফিরে আসা উত্তম, যেমনটি ওমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন (তাফসীরে কুরতুবী ৫/২৬২)।
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد سَمَّيتُ هذه الرسالة:الانتصار للصحابةِ الأخيار في ردِّ أباطيل حسن المالكيوما أعزوُه إليه مِن كلامٍ باطل للردِّ عليه فهو في كتابه الذي في الصحابة، وما كان في الكتاب الآخر وهو: ((قراءةٌ في كتب العقائد)) فإنِّي أنصُّ عليه، فأقول: قال في ((قراءته)) كذا وكذا، وقد رددتُ عليه من كتابه هذا في موضعين من هذا الردِّ (ص:65) ، (ص:115 … ) ، وسأُفرِدُ بحول الله الردَّ عليه فيه بكتاب بعنوان: ((الانتصار لأهل السُّنَّة والحديث في ردِّ أباطيل حسن المالكي)) .وأسأل الله عز وجل التوفيقَ لِما فيه رضاه والفقهَ في دينه والثباتَ على الحقِّ، إنَّه سميعٌ مجيب.* * *
আমি এই পুস্তিকাটির নামকরণ করেছি:আল-ইন্তিসার লিস-সাহাবাতিল আখইয়ার ফি রাদ্দি আবাতিলে হাসান আল-মালিকি (হাসান আল-মালিকির ভ্রান্ত ধারণাসমূহ খণ্ডনে শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণের সমর্থন)খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে আমি তাঁর যে সকল ভ্রান্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি, তা সাহাবীগণ সম্পর্কে রচিত তাঁর গ্রন্থ থেকে নেওয়া। আর যা তাঁর অপর গ্রন্থ—অর্থাৎ: ‘কিরাআতুন ফি কুতুবিল আকাইদ’ (আকিদার গ্রন্থসমূহে একটি পর্যালোচনা)—থেকে নেওয়া হয়েছে, তা আমি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি; আমি বলেছি: তিনি তাঁর ‘কিরাআত’ গ্রন্থে এমন এমন কথা বলেছেন। আমি এই খণ্ডনমূলক রচনার দুই স্থানে (পৃষ্ঠা: ৬৫, পৃষ্ঠা: ১১৫ ...) তাঁর এই বইটির প্রতিবাদ করেছি এবং আল্লাহর শক্তিতে আমি অচিরেই এই বিষয়ে ‘আল-ইন্তিসার লি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল হাদিস ফি রাদ্দি আবাতিলে হাসান আল-মালিকি’ (হাসান আল-মালিকির অসারতা খণ্ডনে আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল হাদিসের বিজয়) শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করব।আমি পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট সেই তাওফিক প্রার্থনা করছি যাতে তাঁর সন্তুষ্টি নিহিত রয়েছে এবং তাঁর দ্বীনের সঠিক বুঝ ও হকের ওপর অবিচলতা কামনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, উত্তরদাতা।* * *
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৯)
زعمه قَصْر الهجرة على المهاجرين قبل الحُديبية، وقَصْر الصُّحبة على المهاجرين والأنصار قبل الحُديبية، والرد عليه:قال في (ص:25) في بيان مَن هم الصحابة: ((أصحابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: ـ الصحبة الشرعية ـ ليسوا إلَاّ المهاجرين والأنصار، وقد يدخل فيهم مَن كان في حكمهم مِمَّن أسلم وهاجر إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وعاد إلى بلاده قبل فتح الحُديبية.فهذا أسلمُ تعريفٍ لأصحاب النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وهذه الصُّحبةُ الشرعيةُ هي التي كان فيها النُّصرةُ والتمكينُ في أيَّام الضَّعفِ والذِّلَّة، وهي الصُّحبةُ الممدوحةُ في القرآن الكريم والسنَّة النبويّة، بمعنى أنَّ كلَّ آيات القرآن الكريم التي أثنت على (الذين مع النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم) إنَّما كان الثناءُ مُنصَبًّا على المهاجرين والأنصار فقط، وليس هناك مدحٌ عامٌّ لِمَن كان مع النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إلَاّ وهو منصرفٌ لهؤلاء لا لغيرهم!!)) .وقد علَّق عند قوله: ((قبل فتح الحُديبية)) بقوله في الحاشية: ((وقد يدخل في مسمَّى (الأصحاب) مَن أسلم بَعد الحُديبية إلى فتح مكة، مع الجزم بالفرق الكبير بينهم وبين أصحاب النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قبل بيعة الرِّضوان؛ لحديث خالد بن الوليد وعبد الرحمن بن عوف، لكن لا يدخل فيهم طلقاءُ قريشٍ ولا عُتقاءُ ثقيفٍ ولا مَن كان في حُكمهم من الأعراب والوفود بعد فتح مكة!!!)) .وقال في نهاية الكتاب (ص:84 ـ 85) : ((الصُّحبةُ الشرعية: لا تكون إلَاّ في المهاجرين والأنصار الذين كانوا مع النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في المدينة من بداية الهجرة إلى زمن الحُديبية، ويدخل في هؤلاء السابقون بالإسلام، الذين
হুদায়বিয়ার পূর্ববর্তী মুহাজিরদের মধ্যে হিজরতকে সীমাবদ্ধ রাখা এবং হুদায়বিয়ার পূর্ববর্তী মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সাহাবিত্বকে সীমাবদ্ধ করার ব্যাপারে তার দাবি এবং এর খণ্ডন:তিনি (পৃষ্ঠা: ২৫)-এ সাহাবীগণ কারা তার বর্ণনায় বলেছেন: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ—শরয়ী সাহাবিত্বের বিচারে—মুহাজির এবং আনসার ব্যতীত অন্য কেউ নন। তবে তাদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তারা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং হুদায়বিয়ার সন্ধির পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হিজরত করেছেন এবং পরবর্তীতে নিজ দেশে ফিরে গিয়েছেন।এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সবচেয়ে নিরাপদ সংজ্ঞা। আর এই শরয়ী সাহাবিত্বই হলো সেই সাহাবিত্ব যার মধ্যে দুর্বলতা ও হীনম্মন্যতার দিনগুলোতে সাহায্য ও বিজয় নিহিত ছিল। এটিই পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে প্রশংসিত সাহাবিত্ব; অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের যে সকল আয়াতে (যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন) তাদের প্রশংসা করা হয়েছে, সেই প্রশংসা কেবল মুহাজির এবং আনসারদের ওপরই নিপতিত হয়েছে। যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন তাদের জন্য এমন কোনো সাধারণ প্রশংসা নেই যা তাদের ব্যতীত অন্য কারো দিকে ধাবিত হয়!!))।তিনি তার "হুদায়বিয়ার বিজয়ের পূর্বে" কথার প্রেক্ষিতে টীকায় মন্তব্য করেছেন: ((হুদায়বিয়ার পর থেকে মক্কা বিজয় পর্যন্ত যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তারা 'সাহাবী' সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন; তবে বায়আতে রিদওয়ানের পূর্ববর্তী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের সাথে তাদের বিরাট পার্থক্যের বিষয়টি সুনিশ্চিত; যা খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আবদুর রহমান বিন আউফ (রাযি.)-এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু মক্কা বিজয়ের পরের কুরাইশদের 'তুলাকা' (মুক্তপ্রাপ্ত), সাকিফ গোত্রের 'উতাকা' (মুক্ত ব্যক্তি) এবং তাদের পর্যায়ভুক্ত গ্রাম্য বেদুইন ও প্রতিনিধি দলগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হবে না!!!))।তিনি কিতাবের শেষে (পৃষ্ঠা: ৮৪-৮৫)-এ বলেছেন: ((শরয়ী সাহাবিত্ব: এটি কেবল সেই মুহাজির ও আনসারদের জন্য সাব্যস্ত যারা হিজরতের শুরু থেকে হুদায়বিয়ার সময় পর্যন্ত মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। তাদের মধ্যে ইসলামের সেই অগ্রবর্তী ব্যক্তিবর্গও অন্তর্ভুক্ত, যারা...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১০)
توفوا في مكة قبل الهجرة، أو في الحبشة، أو قدموا بعد الحُديبية من مهاجرة الحبشة فقط.الصُّحبة العامة: التي مرجعُها العُرفُ أو اللُّغة، فهذه يدخل فيها كلُّ مَن صحب النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم من المسلمين أو المنافقين أو الكفَّار، والذي يُدخِل مَن صحب النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صحبةً يسيرةً لاحتمال اللُّغة ذلك لا يستطيع إخراجَ صحبة المنافق لا لغةً ولا عُرفاً؛ لأنَّ اللغةَ والعرفَ تحتملان ذلك أيضاً.فإن قال المُخرج للمنافق أو الكافر: إنَّما أخرجناهما من الصُّحبةِ بالشرع، قلنا له: ونحنُ إنَّما حدَّدنا الصُّحبة الشرعية بالمهاجرين والأنصار بالشرع أيضاً.فإن تَمسَّكتَ بمطلق اللغة فقد أدخلتَ على النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صحبةَ المنافقين، وإن قلتَ: أنَّ اللغة ليست حجَّةً على الشرع، قلنا: كذلك في الصحبة الشرعية، والعرفُ حكمُه حكمُ اللغة، وإن كان أقوى دلالةً من اللغة)) .أقول: إنَّ هذا الكلام يشتمل على أمور:الأول: قصرُه المهاجرين هجرةً شرعيةً على مَن هاجر قبل الحُديبية، دون مَن هاجر بعدها.الثاني: أنَّ المهاجرين قبل الحُديبية مع الأنصار هم أصحابُ رسول الله صلى الله عليه وسلم الصُّحبةَ الشرعية دون غيرِهم.الثالث: الجزم بأنَّ كلَّ مَن صحب الرسولَ صلى الله عليه وسلم بعد فتح مكة ـ سواء كان من الطُّلَقاء والعُتقاء وأصحاب الوفود ـ لا يُعَدُّ صحابياًّ، وصحبتُه المضافة إليه لغوية، كصحبة المنافقين والكفّار.الرابع: أنَّ أولادَ المهاجرين والأنصار ليس لهم حكم المهاجرين والأنصار.
তারা হিজরতের পূর্বে মক্কায় অথবা আবিসিনিয়ায় ইন্তেকাল করেছেন, অথবা হুদায়বিয়ার পরে কেবলমাত্র আবিসিনিয়ার মুহাজিরদের মধ্য থেকে আগমন করেছেন।সাধারণ সাহচর্য: যার মূল ভিত্তি হলো প্রথা বা আভিধানিক অর্থ। এর অন্তর্ভুক্ত সেই সকল ব্যক্তি, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভ করেছেন—তারা মুসলিম, মুনাফিক কিংবা কাফির যাই হোক না কেন। আর যারা কেবল আভিধানিক সম্ভাবনার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সামান্য সময়ের সঙ্গ লাভকারীকে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, তারা আভিধানিক বা প্রথাগত কোনোভাবেই মুনাফিকের সাহচর্যকে বাদ দিতে পারবেন না; কারণ ভাষা ও প্রথা উভয়ই এর অবকাশ রাখে।যদি মুনাফিক বা কাফিরদের বাদ দানকারী ব্যক্তি বলেন: "আমরা কেবল শরীয়তের ভিত্তিতেই তাদের সাহচর্য থেকে বাদ দিয়েছি", তবে আমরা তাকে বলব: "আমরাও শরীয়তের ভিত্তিতেই মুহাজির ও আনসারদের জন্য শরয়ী সাহচর্যকে সুনির্দিষ্ট করেছি।"আপনি যদি নিছক আভিধানিক অর্থের ওপর অটল থাকেন, তবে আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে মুনাফিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করে ফেললেন। আর যদি আপনি বলেন যে, ভাষা শরীয়তের ওপর প্রামাণ্য দলিল নয়, তবে আমরা বলব: শরয়ী সাহচর্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। আর প্রথার হুকুমও ভাষার হুকুমের মতোই, যদিও প্রথার ইঙ্গিত ভাষার তুলনায় অধিক শক্তিশালী।আমি বলছি: এই বক্তব্যটি কয়েকটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:প্রথমত: শরয়ী হিজরতের ক্ষেত্রে 'মুহাজির' সংজ্ঞাকে কেবলমাত্র হুদায়বিয়ার পূর্বের হিজরতকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, হুদায়বিয়ার পরের হিজরতকারীদের বাদ দিয়ে।দ্বিতীয়ত: হুদায়বিয়ার পূর্বের মুহাজির এবং আনসারগণই হলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরয়ী সাহচর্যপ্রাপ্ত সাহাবী, অন্য কেউ নন।তৃতীয়ত: এই বিষয়ে সুনিশ্চিত হওয়া যে, মক্কা বিজয়ের পর যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য পেয়েছেন—তারা মুক্তপ্রাপ্ত হোক, দাসত্বমুক্ত হোক কিংবা বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সদস্য হোক—তাদেরকে সাহাবী হিসেবে গণ্য করা হবে না। তাদের ক্ষেত্রে সাহচর্য শব্দটি কেবল আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হবে, যেমনটি মুনাফিক ও কাফিরদের সাহচর্যের ক্ষেত্রে হয়।চতুর্থত: মুহাজির ও আনসারদের সন্তানদের জন্য মুহাজির ও আনসারদের সমপর্যায়ের হুকুম প্রযোজ্য হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الخامس: اعتبر مَن صَحِبَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بعد الحُديبية وقبل فتح مكة من أصحابه الصُّحبة اللُّغوية التي هي شبيهةٌ بصحبة المنافقين والكفار، كما جاء في كلامه الأخير الذي هو خلاصةُ رأيه.والجوابُ عن الأمر الأوّل أن يُقال:إنَّ الهجرةَ إلى الرسول صلى الله عليه وسلم في المدينة تَمتدُّ مِن بدْءِ الهجرة إلى فتحِ مكة، مع التفاوت الكبير بين مَن تقدَّمتْ هجرتُه ومَن تأخَّرتْ، كما أنَّ التفاوُتَ حاصلٌ بين مَن هاجر في بداية الهجرة وبين مَن هاجر قُبَيل صُلح الحُديبية.فإنَّ مَن شَهِد بدراً وأُحُداً والخندقَ وغيرَها أفضلُ مِمَّن هاجر قُبَيل الحُديبية وشَهِد الحُديبية.وما ذكره في (ص:85 ـ 86) من تقسيم الهجرة إلى (هجرة شرعية) تنتهي بصلح الحُديبية و (شرعيةِ هجرةٍ) تَمتَدُّ إلى فتح مكة، وقصْره فضلَ الهجرة التي ورد لأهلها المدحُ والثناءُ على الهجرة قبل الحُديبية دون ما بعدها إلى فتح مكة تحكُّمٌ لا دليل عليه.ويدلُّ لاستمرار الهجرة التي ورد لأهلها المدحُ والثناءُ من بدء الهجرة إلى فتح مكة ما يأتي:1 ـ حديث ابن عباس في الصحيحين، واللفظُ للبخاري (2825) ، أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قال يومَ الفتح: ((لا هجرةَ بعد الفتح، ولكن جهادٌ ونيَّةٌ، وإذا استُنفِرْتُم فانفِروا)) .قال الحافظ في شرحه: ((قال الخطّابيُّ وغيرُه: كانت الهجرةُ فرضاً في أوَّل الإسلام على مَن أسلم لقلَّة المسلمين بالمدينة وحاجتِهم إلى الاجتماع، فلمَّا فتح الله مكةَ دخل النَّاسُ في دين الله أفواجاً، فسقط فرضُ الهجرة إلى
পঞ্চম: তিনি হুদায়বিয়ার পরে এবং মক্কা বিজয়ের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভকারী ব্যক্তিদের সান্নিধ্যকে কেবল আক্ষরিক সাহচর্য হিসেবে গণ্য করেছেন, যা মুনাফিক ও কাফিরদের সাহচর্যের অনুরূপ; এটি তাঁর সর্বশেষ বক্তব্যে উঠে এসেছে যা তাঁর মতামতের নির্যাস।প্রথম প্রসঙ্গের উত্তর হলো এই যে:মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হিজরতের সময়কাল হিজরতের সূচনা থেকে মক্কা বিজয় পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে আগে হিজরতকারী ও পরে হিজরতকারীদের মধ্যে মর্যাদাগত অনেক পার্থক্য রয়েছে, ঠিক যেমন হিজরতের শুরুতে হিজরতকারী এবং হুদায়বিয়ার সন্ধির কিছুকাল পূর্বে হিজরতকারীদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।নিশ্চয়ই যারা বদর, ওহুদ, খন্দক ও অন্যান্য যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, তারা হুদায়বিয়ার প্রাক্কালে হিজরতকারী ও হুদায়বিয়ায় উপস্থিতদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ।তিনি (৮৫-৮৬ পৃষ্ঠায়) হিজরতকে যেভাবে 'শরয়ী হিজরত' (যা হুদায়বিয়ার সন্ধির সাথে শেষ হয়) এবং 'হিজরতের বৈধতা' (যা মক্কা বিজয় পর্যন্ত বিস্তৃত) - এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং হিজরতকারীদের জন্য বর্ণিত সমস্ত প্রশংসা ও ফযিলতকে কেবল হুদায়বিয়ার পূর্ববর্তী হিজরতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে পরবর্তী হিজরতকে তা থেকে বঞ্চিত করেছেন, তা একটি প্রমাণহীন মনগড়া দাবি মাত্র।প্রশংসিত ও ফযিলতপূর্ণ হিজরত যে তার সূচনা থেকে মক্কা বিজয় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ছিল, তার প্রমাণগুলো নিম্নরূপ:১. সহীহাইন-এ বর্ণিত ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর হাদীস, যার শব্দবিন্যাস বুখারীর (২৮২৫), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন: "মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে। সুতরাং যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের জন্য আহ্বান করা হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়ো।"হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: "খাত্তাবী ও অন্যান্যরা বলেছেন: ইসলামের প্রাথমিক যুগে যারা ইসলাম গ্রহণ করত, তাদের জন্য হিজরত করা ফরজ ছিল। কারণ তখন মদিনায় মুসলিমদের সংখ্যা ছিল অল্প এবং তাদের সুসংগঠিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল। অতঃপর যখন আল্লাহ মক্কা বিজয় দান করলেন এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে শুরু করল, তখন হিজরতের সেই আবশ্যকতা রহিত হয়ে গেল...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১২)
المدينة، وبقي فرضُ الجهاد والنية على من قام به أو نزل به عدوٌّ)) .2 ـ حديث أبي عثمان النهدي عن مجاشع بن مسعود في الصحيحين، واللفظُ للبخاري (3079) ، قال: ((جاء مجاشعٌ بأخيه مجالد بن مسعود إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فقال: هذا مجالد يبايعُك على الهجرة، فقال: لا هجرةَ بعد فتح مكة، ولكن أبايعُه على الإسلام)) .وفي لفظٍ للبخاري (2963) قال مجاشع: ((أتيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أنا وأخي، فقلتُ: بايعْنا على الهجرة، فقال: مَضتِ الهجرةُ لأهلها، فقلتُ: علامَ تبايعنا؟ قال: على الإسلام والجهاد)) .وهو يدلُّ على استمرار الهجرة ذات المدح والثناء إلى فتح مكة.3 ـ عن عائشة رضي الله عنها قالت: ((انقطعت الهجرةُ منذُ فتح الله على نبِيِّه صلى الله عليه وسلم مكة)) رواه البخاري (3080) .وهو واضحٌ في استمرار الهجرة ذات الفضل إلى فتح مكة.4 ـ حديث جرير رضي الله عنه مرفوعاً: ((المهاجرون والأنصارُ بعضُهم أولياءُ بعض في الدنيا والآخرة، والطُّلَقاءُ من قريشٍ والعتقاءُ من ثقيفٍ بعضُهم أولياءُ بعضٍ في الدنيا والآخرة)) ، وهوحديثٌ صحيحٌ، انظر تخريجه في السلسلة الصحيحة للألباني (1036) والمسند (4/363) .والمقابلة بين المهاجرين والأنصار وبين الطُّلَقاء والعتقاء دالَّةٌ على استمرار الهجرة إلى فتح مكة.وقد أورد المالكي في (ص:46 ـ 47) حديثَ مجاشعٍ، وفيه الدلالة على أنَّ الهجرة تنتهي بفتح مكة، وهو يخالفُ ما زعمَه في (ص: 45 ـ 46) من أنَّ الهجرةَ تنتهي بصُلح الحُديبية فقال: ((الدليلُ الخامس عشر ما رواه
মদিনা, এবং জিহাদের আবশ্যকতা ও সংকল্প তাদের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে যারা এতে অংশগ্রহণ করে অথবা যাদের ওপর শত্রু আক্রমণ করে।))।২- সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ মুজাশে ইবনে মাসউদ থেকে আবু উসমান আন-নাহদীর বর্ণিত হাদীস, আর শব্দগুলো বুখারীর (৩০৭৯), তিনি বলেন: ((মুজাশে তাঁর ভাই মুজালিদ ইবনে মাসউদকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে এসে বললেন: এই যে মুজালিদ, সে হিজরতের ওপর আপনার কাছে বায়াত হতে চায়। তখন তিনি বললেন: মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, বরং আমি তার কাছ থেকে ইসলামের ওপর বায়াত গ্রহণ করব))।বুখারীর অন্য একটি বর্ণনায় (২৯৬৩) মুজাশে বলেন: ((আমি এবং আমার ভাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম এবং বললাম: আমাদের থেকে হিজরতের ওপর বায়াত গ্রহণ করুন। তিনি বললেন: হিজরত তার যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য অতিবাহিত হয়ে গেছে। আমি বললাম: তবে আপনি আমাদের কিসের ওপর বায়াত করাবেন? তিনি বললেন: ইসলাম ও জিহাদের ওপর))।এটি মক্কা বিজয় পর্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত হিজরত অব্যাহত থাকার প্রমাণ বহন করে।৩- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য মক্কা বিজয় করে দিলেন, তখন থেকেই হিজরত বন্ধ হয়ে গেছে))। বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (৩০৮০)।এটি মক্কা বিজয় পর্যন্ত ফযীলতপূর্ণ হিজরত অব্যাহত থাকার বিষয়ে সুস্পষ্ট।৪- জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু হাদীস: ((মুহাজির ও আনসারগণ দুনিয়া ও আখিরাতে একে অপরের বন্ধু, আর কুরাইশদের মধ্যে যারা মুক্তপ্রাপ্ত (তুলাকা) এবং সাকীফ গোত্রের যারা মুক্তপ্রাপ্ত (উতাকা), তারা দুনিয়া ও আখিরাতে একে অপরের বন্ধু))। এটি একটি সহীহ হাদীস, আলবানীর ‘সিলসিলাহ সহীহাহ’ (১০৩৬) এবং ‘মুসনাদ’ (৪/৩৬৩)-এ এর উৎস অনুসন্ধান বা তাহরীজ দেখুন।মুহাজির ও আনসারদের সাথে তুলাকা ও উতাকাদের এই তুলনা মক্কা বিজয় পর্যন্ত হিজরত অব্যাহত থাকার প্রমাণ।আল-মালিকী তাঁর গ্রন্থের (পৃষ্ঠা: ৪৬-৪৭)-এ মুজাশের হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, যাতে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে হিজরত সমাপ্ত হওয়ার প্রমাণ রয়েছে; অথচ এটি তাঁর সেই দাবির পরিপন্থী যা তিনি (পৃষ্ঠা: ৪৫-৪৬)-এ করেছেন যে, হিজরত হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমেই শেষ হয়ে গেছে। সেখানে তিনি বলেছিলেন: ((পঞ্চদশ দলীল হলো যা বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
البخاري في صحيحه عن مجاشع بن مسعود قال: أتيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بأخي بعد الفتح، فقلتُ: يا رسول الله! جِئتُك بأخي لتبايعَه على الهجرة، قال: ذهب أهلُ الهجرة بما فيها.أقول: هذه (كذا) فيه دلالةٌ واضحةٌ على أنَّ فتحَ مكة قطع الهجرة، ولا يحصل مسلمو الفتح على اسم الهجرة ولا فضلها حتى لو وفدوا إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وعلى هذا فلا يُسمَّوْن مهاجرين، وإنَّما يُسمَّوْن (الناس) كما في حديث (أنا وأصحابي حيِّزٌ والناسُ حيِّزٌ) ، أو يُسمَّون الطُّلَقاء، أو نحو ذلك!)) .ثمَّ علَّق على هذا بقوله: ((وقوله: (ذهب أهلُ الهجرة بِما فيها) أي بِما فيها من فضلٍ وتسميةٍ وغيرِ ذلك مِمَّا هو من خصائص المهاجرين وفضائلهم)) .وأقول: هذا واضحٌ في استمرار الهجرة ذات الثناء والمدح إلى فتح مكة، وهو خلافُ ما دندن حولَه من أنَّ الهجرةَ المحمود أهلُها تنتهي بصلح الحُديبية، وهذا الحديثُ قد أوردتُه قريباً من جملة الأدلَّة الدالَّة على استمرار الهجرة المحمود أهلُها إلى فتح مكة، وليس إلى صلح الحُديبية كما زعم، وقد وُفِّق هنا للصواب بتقرير أنَّ الهجرةَ تستمرُّ إلى فتح مكة، وإن كان ذلك بغير قصدٍ منه.وأمَّا الأمورُ الأربعةُ الباقيةُ، وهي قصرُه الصُّحبةَ الشرعية التي جاء مدحُها في الكتاب والسنَّة على المهاجرين قبل الحُديبية والأنصار إلى زمن صلح الحُديبية، ونفي هذه الصحبة عن المهاجرين بعد الحُديبية، وعن الطُّلَقاء وعتقاء ثقيف وأصحاب الوفود وأبناء المهاجرين والأنصار، فيجاب عن ذلك بأنَّ هذا التقسيم للصحابة إلى مَن صُحبتُهم صُحبةٌ شرعيةٌ ومَن
ইমাম বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুজাশে বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের পর আমি আমার ভাইকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার ভাইকে আপনার নিকট হিজরতের ওপর বায়আত করার জন্য নিয়ে এসেছি। তিনি বললেন: হিজরতকারীরা হিজরতের যাবতীয় ফজিলত ও মর্যাদা নিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছেন।আমি বলছি: এতে সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে যে, মক্কা বিজয় হিজরতের ধারাকে সমাপ্ত করেছে। মক্কা বিজয়ের সময় যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তারা হিজরতের নাম বা মর্যাদা লাভ করবেন না, এমনকি তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেও। এমতাবস্থায় তাদের মুহাজির বলা হবে না, বরং তাদের 'মানুষ' (সাধারণ লোক) বলা হবে, যেমনটি হাদীসে এসেছে: "আমি ও আমার সাহাবীগণ এক পক্ষে এবং সাধারণ মানুষ অন্য পক্ষে", অথবা তাদের 'তুলাকা' (মুক্তপ্রাপ্ত) বা অনুরূপ নামে অভিহিত করা হবে।অতঃপর তিনি এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "এবং তাঁর বাণী: (হিজরতকারীরা তাদের প্রাপ্য মর্যাদা নিয়ে চলে গেছেন) অর্থাৎ হিজরতের মর্যাদা, নাম এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যা মুহাজিরদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তা নিয়ে তারা গত হয়েছেন।"আমি বলছি: এটি মক্কা বিজয় পর্যন্ত প্রশংসিত হিজরত অব্যাহত থাকার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। এটি তাঁর সেই বক্তব্যের বিপরীত যা তিনি বারবার বলে থাকেন যে, প্রশংসিত হিজরত হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায়। আমি অচিরেই এই হাদীসটিকে সেই সব দলীলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পেশ করেছি যা প্রমাণ করে যে, প্রশংসিত হিজরত মক্কা বিজয় পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, হুদায়বিয়ার সন্ধি পর্যন্ত নয় যেমনটি তিনি দাবি করেছেন। আর এখানে তিনি মক্কা বিজয় পর্যন্ত হিজরত অব্যাহত থাকার বিষয়টি সাব্যস্ত করার মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, যদিও তা তাঁর অনিচ্ছাকৃত ছিল।আর অবশিষ্ট চারটি বিষয়ের ক্ষেত্রে—যা হলো কুরআন ও সুন্নাহতে প্রশংসিত 'শরয়ী সাহাবিয়্যাত' বা সহচর্যকে কেবল হুদায়বিয়ার পূর্ববর্তী মুহাজির এবং হুদায়বিয়ার সন্ধিকাল পর্যন্ত আনসারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা এবং হুদায়বিয়া পরবর্তী মুহাজির, মক্কার মুক্তপ্রাপ্ত (তুলাকা), সাকিফ গোত্রের মুক্তপ্রাপ্তগণ, প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং মুহাজির ও আনসারদের সন্তানদের থেকে এই সাহাবিয়্যাতকে অস্বীকার করা—এর উত্তর হলো: সাহাবায়ে কেরামকে 'শরয়ী সাহাবিয়্যাত' প্রাপ্ত এবং যারা তা নন, এই দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়টি...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صُحبتُهم لُغويةٌ شبيهةٌ بصحبة المنافقين والكافرين تقسيمٌ غيرُ صحيحٍ، وهو من محدثات القرن الخامس عشر، والصحيحُ أنَّ كلَّ مَن لقي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مؤمناً به ومات على الإسلام فهو من أصحابه.قال الحافظ ابن حجر في الإصابة (1/10) : ((وأصحُّ ماوقفتُ عليه من ذلك أنَّ الصحابيَّ مَن لقي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مؤمناً به ومات على الإسلام، فيدخل فيمن لقيه مَن طالت مجالسته له أوقصُرت، ومن روى عنه أو لَم يروِ، ومن غزا معه أو لَم يغزُ، ومن رآه رُؤيةً ولو لَم يجالسْه، ومَن لَم يرَه لعارضٍ كالعمى)) ثمَّ شرح تعريفَه هذا إلى أن قال (1/12) : ((وهذا التعريفُ مَبنِيٌّ على الأصحِّ المختارِ عند المحقِّقين كالبخاري وشيخِه أحمدَ بن حنبل ومن تبعهما، ووراء ذلك أقوالٌ أخرى شاذَّةٌ … )) وأشار إلى جملةٍ منها، وهذا التعريفُ هو الأسلمُ، وهو يشملُ حتى الذين رأوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مجرَّدَ رؤية ولَم يُجالِسوه، ويدلُّ لذلك أدلَّةٌ:الأول: قال الله عز وجل: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ الله وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ الله وَرِضْوَاناً سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ الله الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً} .فإنَّ هذه الآيةَ الكريمةَ عامَّةٌ في جميع أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم سواءً مَن كان أسلم عام الفتح وصحبه صلى الله عليه وسلم، ومَن كان قبل ذلك وبعده إلى وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم.
তাদের সাহচর্য কেবল আভিধানিক এবং মুনাফিক ও কাফিরদের সাহচর্যের সদৃশ—এমন বিভাজন সঠিক নয়। এটি পঞ্চদশ হিজরি শতাব্দীর নব উদ্ভাবিত বিষয়। সঠিক মত হলো—যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান রেখে তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন, তিনিই তাঁর সাহাবী।হাফিয ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে (১/১০) বলেছেন: "এ বিষয়ে আমি যা পেয়েছি তার মধ্যে সবচেয়ে সঠিক মত হলো—সাহাবী তিনি, যিনি ঈমানের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তিনি তাঁর সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করুন বা স্বল্প সময়, তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করুন বা না করুন, তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করুন বা না করুন এবং যিনি তাঁকে কেবল দেখেছেন অথচ তাঁর সান্নিধ্যে বসেননি, তিনিও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর যিনি অন্ধত্বের মতো কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে তাঁকে দেখতে পাননি (কিন্তু সাক্ষাৎ পেয়েছেন), তিনিও সাহাবী হিসেবে গণ্য হবেন।" এরপর তিনি তাঁর এই সংজ্ঞার ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং পরিশেষে বলেন (১/১২): "এই সংজ্ঞাটি ইমাম বুখারী, তাঁর শিক্ষক আহমদ ইবনে হাম্বল এবং তাঁদের অনুসারী মুহাক্কিকদের নিকট সর্বাধিক সঠিক ও মনোনীত মতের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত। এর বাইরে অন্যান্য বিচ্ছিন্ন অভিমতও রয়েছে …" তিনি সেগুলোর একটি অংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর এই সংজ্ঞাটিই হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ। এটি এমনকি তাঁদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করে যাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেবল দেখেছেন কিন্তু তাঁর সান্নিধ্যে বসার সুযোগ পাননি। এর সপক্ষে একাধিক দলিল রয়েছে:প্রথমত: মহান আল্লাহ বলেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তুমি তাদের রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ—যেন একটি চারাগাছ, যা থেকে তার অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা তাকে শক্ত করে, তারপর তা পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে যায়, যা চাষিকে আনন্দিত করে, যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।"নিশ্চয়ই এই মহান আয়াতটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সাহাবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—চাই তিনি মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করুন, কিংবা তার আগে বা পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত পর্যন্ত যে কোনো সময়ে হোক না কেন।
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد تأوَّل المالكيُّ هذه الآيةَ بقصرِ عمومِها على المهاجرين والأنصار قبل الحُديبية وهو تحكُّمٌ وتعسُّفٌ، وسيأتي الرَّدُّ عليه.الثاني: قال الله عز وجل: {وَمَا لَكُمْ أَلَاّ تُنفِقُوا فِي سَبِيلِ الله وَلِلَّهِ مِيرَاثُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ لَا يَسْتَوِي مِنكُم مَنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنفَقُوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلاًّ وَعَدَ الله الْحُسْنَى وَالله بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} .فإنَّ الآيةَ عامَّةٌ في الصحابة، والفتحُ فيها فتحُ مكةَ على قول الجمهور، وصلحُ الحُديبية على قول بعض العلماء، وسيأتي ذكر المالكي للآية مستدلاًّ بها على رأيه الباطل والرَّدّ عليه.الثالث: قال الله عز وجل: {وَالَّذِينَ آمَنُوا مِن بَعْدُ وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا مَعَكُمْ فَأُولَئِكَ مِنكُمْ وَأُولُوا الأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ الله إِنَّ الله بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} .ففي الآية دليلٌ على أنَّ مَن آمن وهاجر وجاهد مع المهاجرين والأنصار من الصحابة الذين تأخَّر إسلامُهم أنَّهم منهم في الأجر والثواب، مع التفاوت الكبير بين هؤلاء وهؤلاء، قال الشوكاني في فتح القدير: ((ثمَّ أخبر سبحانه بأنَّ من هاجر بعد هجرتهم وجاهد مع المهاجرين الأوَّلين والأنصار فهو مِن جملتِهم أي: من جملة المهاجرين الأوَّلين والأنصار في استحقاق ما استحقُّوه من الموالاة والمناصرة وكمال الإيمان والمغفرة والرزق الكريم)) .الرابع: قال الله عز وجل: {لَكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ وَأُولَئِكَ لَهُمُ الخَيْرَاتُ وَأُولَئِكَ هُمُ المُفْلِحُونَ أَعَدَّ الله
আল-মালিকি এই আয়াতের সাধারণ অর্থকে হুদায়বিয়ার পূর্বের মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অপব্যাখ্যা করেছেন, যা মূলত একটি স্বেচ্ছাচারী ও হঠকারী সিদ্ধান্ত; অচিরেই এর খণ্ডন আসবে।দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহ বলেন: “তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করছো না? অথচ আসমান ও জমিনের উত্তরাধিকার তো আল্লাহরই। তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং লড়াই করেছে, তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরে ব্যয় করেছে ও লড়াই করেছে। তবে আল্লাহ প্রত্যেকের সাথেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর তোমরা যা করো সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত।”এই আয়াতটি সাহাবীদের ব্যাপারে সাধারণ ও ব্যাপক অর্থবোধক। জমহুর উলামাদের মতে এখানে ‘বিজয়’ বলতে মক্কা বিজয়কে বোঝানো হয়েছে, আর কোনো কোনো আলেমের মতে এটি হুদায়বিয়ার সন্ধি। অচিরেই মালিকির এই আয়াতটিকে স্বীয় বাতিল মতের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার বিষয়টি এবং এর উপযুক্ত খণ্ডন সামনে আসবে।তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ বলেন: “আর যারা পরে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে জিহাদ করেছে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহর বিধানে আত্মীয়রা একে অপরের অধিক হকদার। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।”এই আয়াতে এ কথার দলিল রয়েছে যে, যেসব সাহাবী বিলম্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং মুহাজির ও আনসারদের সাথে ঈমান এনেছেন, হিজরত ও জিহাদ করেছেন, তারা সওয়াব ও প্রতিদানের ক্ষেত্রে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত; যদিও উভয়ের মধ্যে মর্যাদাগত বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শাওকানি 'ফাতহুল কাদির'-এ বলেছেন: “অতঃপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, যারা তাদের হিজরতের পরে হিজরত করেছে এবং প্রথম যুগের মুহাজির ও আনসারদের সাথে জিহাদ করেছে, তারা তাদেরই দলভুক্ত। অর্থাৎ তারা ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, ঈমানের পূর্ণতা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা লাভের যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রথম যুগের মুহাজির ও আনসারদেরই অন্তর্ভুক্ত।”চতুর্থত: মহান আল্লাহ বলেন: “কিন্তু রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে ঈমান এনেছে, তারা তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করেছে; তাদের জন্যই রয়েছে সকল কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম। আল্লাহ প্রস্তুত করেছেন...”
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ الفَوْزُ العَظِيمُ} .فإنَّ الآيةَ في الصحابة جميعاً، فيدخلُ فيها كلُّ مَن كان معه وجاهد قبل الفتح وبعده، في حُنين والطائف وغزوة تبوك، قال ابن كثير في تفسيره: ((لَمَّا ذكر تعالى ذمَّ المنافقين بيَّن ثناءَه على المؤمنين وما لهم في آخرتهم، فقال: {لَكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا} إلى آخر الآيتين من بيان حالِهم ومآلهم، وقوله: {وَأُولَئِكَ لَهُمُ الخَيْرَاتُ} ، أي: في الدار الآخرة في جنَّات الفردوس والدرجات العُلَى)) .ويدلُّ لذلك أيضاً قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ الله وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ المُؤْمِنِينَ} ، أي: أنَّ الله كافيك وكافي من اتَّبَعك من المؤمنين.الخامس: قال الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى الله تَوْبَةً نَصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَن يُكَفِّرَ عَنكُمْ سِيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِي الله النَّبِيَّ وَالَّذين آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} .ففي الآيةِ الكريمة بيانُ حال النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم والذين آمنوا معه يوم القيامة، ويدخل في ذلك الصحابة رضي الله عنهم دخولاً أوَّليًّا؛ لأنَّهم خيارُ المؤمنين وسادات الأولياء بعد الأنبياء والمرسَلين.السادس: عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال:((يأتي على الناس زمان، يغزو فئامٌ من الناس، فيُقال لهم: فيكم مَن رأى رسولَ الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم! فيُفتَح لهم،
তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাতসমূহ যার পাদদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটিই হলো মহাসাফল্য।নিশ্চয়ই এই আয়াত সকল সাহাবী সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে তাঁর সাথে যারা ছিলেন এবং মক্কা বিজয়ের পূর্বে ও পরে হুনাইন, তায়েফ ও তাবুক যুদ্ধে জিহাদ করেছেন, তারা সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত। ইবনে কাসীর তাঁর তাফসিরে বলেন: "যখন আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের নিন্দা বর্ণনা করলেন, তখন তিনি মুমিনদের প্রশংসা এবং পরকালে তাদের জন্য যা রয়েছে তা স্পষ্ট করে দিলেন। তিনি বললেন: {কিন্তু রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে ঈমান এনেছে তারা জিহাদ করেছে...} আয়াতদ্বয়ের শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থা ও পরিণতির বর্ণনায়। আর তাঁর বাণী: {এবং তাদের জন্যই রয়েছে কল্যাণসমূহ}, অর্থাৎ: পরকালে জান্নাতুল ফিরদাউস ও সুউচ্চ মর্যাদাসমূহ।"এর সপক্ষে আল্লাহ তাআলার এই বাণীটিও প্রমাণ পেশ করে: {হে নবী! আপনার জন্য এবং মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করেছে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট}। অর্থাৎ: নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার জন্য এবং মুমিনদের মধ্য হতে যারা আপনার অনুসরণ করেছে তাদের জন্য যথেষ্ট।পঞ্চম: আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা করো, খাঁটি তওবা। আশা করা যায় তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবীকে এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানপাশে ধাবিত হবে। তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান}।এই মহিমান্বিত আয়াতে কিয়ামতের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছেন তাদের অবস্থার বর্ণনা রয়েছে। আর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এতে প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্ত; কেননা তাঁরা মুমিনদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং নবী ও রাসূলদের পর আউলিয়াদের শিরোমণি।ষষ্ঠ: আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:"মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে, যখন একদল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন? তারা বলবে: হ্যাঁ! তখন তাদের বিজয় দান করা হবে।"
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثمَّ يغزو فئامٌ من الناس، فيُقال لهم: فيكم مَن رأى مَن صَحب رسولَ الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم! فيُفتَح لهم، ثمَّ يغزو فئامٌ من الناس، فيُقال لهم: هل فيكم مَن رأى مَن صَحِب من صَحب رسولَ الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم! فيُفتَح لهم)) رواه مسلم (2532) .فهذا الحديث الصحيحُ دالٌّ على أنَّ الصُّحبةَ للرسول صلى الله عليه وسلم تحصُل برؤيته صلى الله عليه وسلم، وإن لَم تطُلْ صحبتُه إيَّاه.قال علي بن المديني رحمه الله في اعتقاده الذي رواه عنه اللالكائي بإسناده في كتابه ((شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة)) (1/188) فساقه، وفيه: ((مَن صَحِبَه سَنةً أو شهراً أو ساعةً، أو رآه، أو وفد إليه فهو من أصحابه، له من الصُّحبة على قدر ما صحبَه، فأدناهم صحبةً هو أفضلُ من الذين لَم يروه، ولو لقوا الله عز وجل بجميع الأعمال، كان الذي صحب النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ورآه بعينيه وآمن به ولو ساعة أفضلَ بصُحبته من التابعين كلِّهم، ولو عملوا كلَّ أعمال الخير)) .وقد ساق اللالكائيُّ في كتابه أيضاً (1/180) اعتقاد الإمام أحمد بإسناده إلى عَبدوس بن مالك العطَّار عنه، وفيه تعريف الصحابي وبيان فضيلة الصُّحبة بنحو كلام علي بن المديني المتقدِّم.قال ابن تيمية في منهاج السنَّة (8/382 ـ 388) : ((ومِمَّا يبيِّن هذا أنَّ الصُّحبةَ فيها عمومٌ وخصوصٌ، فيُقال: صَحبِه ساعةً ويوماً وجمعةً وشهراً وسنةً، وصَحِبَه عمرَه كلَّه.وقد قال تعالى: {وَالصَّاحِبِ بِالجَنبِ} ، قيل: هو الرفيق في السَّفر، وقيل: الزوجة، وكلاهما تقلُّ صُحبتُه وتكثر، وقد سَمَّى الله الزوجةَ صاحبةً في قوله: {أَنَّى يُكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُن لَهُ صَاحِبَةٌ} .ولهذا قال أحمد بن حنبل في الرسالة التي رواها عَبْدوس بن مالك عنه: (
"এরপর একদল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে, তখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে: 'তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভকারী কাউকে দেখেছে?' তারা বলবে: 'হ্যাঁ!' তখন তাদের জন্য বিজয় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এরপর আর একদল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে, তখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে: 'তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যে এমন কাউকে দেখেছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভকারী ব্যক্তির সান্নিধ্য পেয়েছে?' তারা বলবে: 'হ্যাঁ!' তখন তাদের জন্য বিজয় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৩২)।এই সহীহ হাদীসটি একথারই প্রমাণ বহন করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য বা সান্নিধ্য তাঁকে দেখার মাধ্যমেই অর্জিত হয়ে যায়, যদিও তাঁর সাথে সাহচর্যের সময়কাল দীর্ঘ না-ও হয়।আলী ইবনুল মাদীনী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর আকিদাহ বিষয়ক বক্তব্যে বলেন—যা ইমাম লালকাঈ তাঁর ‘শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহ’ গ্রন্থে (১/১৮৮) নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন—সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন: “যিনি তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে এক বছর, এক মাস বা এক ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন, অথবা তাঁকে দেখেছেন, কিংবা তাঁর নিকট প্রতিনিধি হিসেবে এসেছেন, তিনি তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি যতটুকু সাহচর্য পেয়েছেন সেই অনুযায়ী তাঁর ‘সাহাবিয়্যাত’ সাব্যস্ত হবে। তাঁদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের সাহচর্যের অধিকারী ব্যক্তিও তাঁদের চেয়ে উত্তম যারা তাঁকে দেখেনি; এমনকি তারা যদি সমস্ত আমল নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে তবুও। যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য পেয়েছেন, নিজের চোখে তাঁকে দেখেছেন এবং তাঁর ওপর ঈমান এনেছেন—তা যদি সামান্য সময়ের জন্যও হয়—তবুও তিনি তাঁর সাহচর্যের মর্যাদার কারণে সমস্ত তাবিঈর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যদিও তাবিঈগণ সকল প্রকার সৎ আমল করে থাকেন।”ইমাম লালকাঈ তাঁর কিতাবেও (১/১৮০) আব্দুস বিন মালিক আল-আত্তারের সূত্রে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর আকিদাহ বর্ণনা করেছেন। সেখানেও সাহাবীর সংজ্ঞা এবং সাহচর্যের ফযীলত সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদীনীর পূর্বোক্ত বক্তব্যের অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে (৮/৩৮২—৩৮৮) বলেন: “একটি বিষয় একে স্পষ্ট করে দেয় তা হলো—‘সাহচর্য’ শব্দটিতে ব্যাপকতা এবং বিশেষত্ব উভয়টিই বিদ্যমান। তাই বলা হয়: তিনি তাঁর সাথে এক ঘণ্টা, একদিন, এক সপ্তাহ, এক মাস বা এক বছর কাটিয়েছেন, কিংবা সারা জীবন তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন।মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর পার্শ্বস্থ সঙ্গী}, বলা হয়েছে: তিনি হলেন সফরের সঙ্গী; আবার বলা হয়েছে: তিনি হলেন স্ত্রী। উভয় ক্ষেত্রেই সাহচর্যের ব্যাপ্তি কম বা বেশি হতে পারে। আল্লাহ তাআলা স্ত্রীকে ‘সাহেবা’ (সঙ্গিনী) হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {কীভাবে তাঁর সন্তান হতে পারে যখন তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই?}।এই কারণেই ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তাঁর সেই রিসালায়—যা আব্দুস বিন মালিক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—বলেছেন: (
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مَن صحب النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سنةً أو شهراً أو يوماً أو ساعةً، أو رآه مؤمناً به، فهو من أصحابه، له من الصُّحبة على قدر ما صحبَه) .وهذا قول جماهير العلماء من الفقهاء وأهل الكلام وغيرِهم: يَعُدُّون في أصحابه مَن قلَّت صحبتُه ومَن كثرت، وفي ذلك خلافٌ ضعيف.والدليلُ على قول الجمهور ما أخرجاه في الصحيحين عن أبي سعيد الخدري، عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال: (يأتي على الناس زمان، يغزو فئامٌ من الناس، فيُقال: هل فيكم مَن رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم! فيُفتَح لهم، ثمَّ يغزو فئامٌ من الناس، فيُقال: هل فيكم مَن رأى مَن صحب النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم! فيُفتَح لهم، ثمَّ يغزو فئامٌ من الناس، فيُقال: هل فيكم مَن رأى مَن صحب من صحب رسولَ الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم! فيُفتَح لهم) ، وهذا لفظ مسلم، وله في رواية أخرى: (يأتي على الناس زمان يُبعَثُ منهم البعث، فيقولون: انظروا هل تجدون فيكم أحداً مِن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيوجد الرَّجل، فيُفتَح لهم به، ثمَّ يُبعث البعثُ الثاني، فيقولون: هل فيكم مَن رأى أصحابَ رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم! فيُفتَح لهم به، ثمَّ يُبعثُ البعثُ الثالث، فيُقال: انظروا هل ترون فيكم مَن رأى مَن رأى أصحابَ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون: نعم، ثمَّ يكون البعثُ الرابع، فيُقال: هل ترون فيكم أحداً رأى من رأى أحداً رأى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيوجد الرَّجل فيُفتحُ لهم به) ، ولفظ البخاري ثلاث مرَّات كالرواية الأولى، لكن لفظه: (يأتي على الناس زمان يغزو فِئامٌ من الناس) ، وكذلك قال في الثانية والثالثة، وقال فيها كلِّها: (صَحِب) ، واتَّفقت الروايات على ذِكر الصحابةِ والتابعين وتابعيهم، وهم القرون الثلاثة، وأمَّا القرن الرابع فهو في
যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এক বছর, এক মাস, এক দিন বা এক মুহূর্তের জন্য, অথবা ঈমান আনত অবস্থায় তাঁকে দেখেছেন, তিনি তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি যতটুকু সান্নিধ্য লাভ করেছেন, সেই অনুযায়ী সাহাবী হওয়ার মর্যাদা লাভ করবেন)।আর এটিই ফিকহবিদ, ধর্মতত্ত্ববিদ এবং অন্যান্য অধিকাংশ (জমহুর) আলেমের অভিমত। তারা সাহাবীদের মধ্যে তাদেরও গণ্য করেন যাদের সান্নিধ্য ছিল স্বল্প এবং তাদেরও যাদের সান্নিধ্য ছিল দীর্ঘ। এ বিষয়ে অন্য যে মতভেদ রয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল।জমহুর উলামাদের মতের পক্ষে প্রমাণ হলো যা ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাদের সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে যখন একদল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন জিজ্ঞাসা করা হবে: ‘তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ!’ তখন তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে যখন একদল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন জিজ্ঞাসা করা হবে: ‘তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সান্নিধ্য লাভ করেছে?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ!’ তখন তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে যখন একদল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে। তখন জিজ্ঞাসা করা হবে: ‘তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সান্নিধ্য লাভকারীদের সান্নিধ্য লাভ করেছে?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ!’ তখন তাদের বিজয় দান করা হবে।” এটি ইমাম মুসলিমের বর্ণনা। তাঁর অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: “মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে যখন একটি সেনাদল প্রেরিত হবে, তখন তারা বলবে: ‘তোমরা দেখ তো তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবী আছেন কি না?’ তখন একজনকে পাওয়া যাবে এবং তার উসিলায় তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর দ্বিতীয় একটি সেনাদল পাঠানো হবে। তখন তারা বলবে: ‘তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের দেখেছে?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ!’ ফলে তার মাধ্যমে তাদের বিজয় দান করা হবে। এরপর তৃতীয় একটি সেনাদল পাঠানো হবে এবং বলা হবে: ‘তোমরা দেখ তো তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের দেখেছেন এমন কাউকে দেখেছে?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ!’ এরপর চতুর্থ একটি সেনাদল পাঠানো হবে এবং বলা হবে: ‘তোমরা দেখ তো তোমাদের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যায় কি না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের দেখেছেন এমন কাউকে দেখেছেন এমন কাউকে দেখেছে?’ তখন একজনকে পাওয়া যাবে এবং তার উসিলায় তাদের বিজয় দান করা হবে।” ইমাম বুখারীর বর্ণনা প্রথম বর্ণনার মতোই তিনবার এসেছে, তবে তাঁর শব্দচয়ন হলো: “মানুষের ওপর এমন সময় আসবে যখন একদল লোক যুদ্ধে লিপ্ত হবে,” এবং তিনি দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বলেছেন। তিনি সবক্ষেত্রেই ‘সান্নিধ্য লাভ’ (সাহাব) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সকল বর্ণনা সাহাবী, তাবেয়ী এবং তবে-তাবেয়ীদের বর্ণনার ক্ষেত্রে একমত পোষণ করেছে, যারা হলেন (শ্রেষ্ঠ) তিন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। আর চতুর্থ প্রজন্মের বিষয়টি হলো...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بعضها، وذِكرُ القرن الثالث ثابت في المتفق عليه من غير وجه، كما في الصحيحين عن ابن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (خيرُ أمَّتِي القرن الذين يَلونَنِي، ثمَّ الذين يلُونَهم، ثمَّ الذين يلُونَهم، ثمَّ يجيء قومٌ تسبق شهادةُ أحدِهم يَمينَه ويَمينُه شهادتَه) .وفي الصحيحين عن عِمران: أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قال: (إنَّ خيرَكم قرنِي ثمَّ الذين يلُونَهم، ثمَّ الذين يلُونَهم) ، قال عِمران: فلا أدري أقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد قرنه قرنين أو ثلاثة، (ثمَّ يكون بعدهم قومٌ يشهدون ولا يُستشهدون، ويخونون ولا يُؤتمَنون، وينذِرون ولا يوفون) ، وفي رواية: (ويحلفون ولا يُستحلفون) ، فقد شكَّ عمران في القرن الرابع … )) .إلى أن قال: ((ففي الحديث الأول: (هل فيكم مَن رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم؟) ثمَّ قال: (هل فيكم مَن رأى مَن صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟) ، فدلَّ على أنَّ الرَّائي هو الصَّاحب، وهكذا يقول في سائر الطبقات في السؤال: (هل فيكم من رأى مَن صَحبَ مَن صَحِبَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم؟) ثمَّ يكون المراد بالصَّاحب الرائي.وفي الرواية الثانية: (هل تجدون فيكم أحداً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟) ثمَّ يقال في الثالثة: (هل فيكم من رأى من رأى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟) .ومعلومٌ إن كان الحكمُ لصاحب الصاحب معلَّقاً بالرؤية، ففي الذي صحب رسولَ الله صلى الله عليه وسلم بطريق الأوْلَى والأحْرَى.ولفظ البخاري قال فيها كلِّها: (صَحِب) ، وهذه الألفاظ إن كانت كلُّها من ألفاظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فهي نصٌّ في المسألة، وإن كان قد قال
সেগুলোর কিছু, এবং তৃতীয় প্রজন্মের উল্লেখ মুত্তাফাকুন আলাইহি তথা সর্বসম্মত হাদিসসমূহে বিভিন্নভাবে সাব্যস্ত হয়েছে। যেমন সহিহাইন-এ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে সেই প্রজন্মের লোক যারা আমার সমসাময়িক, এরপর তারা যারা তাদের পরবর্তী, এরপর তারা যারা তাদের পরবর্তী। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের সাক্ষ্য তাদের শপথের অগ্রগামী হবে এবং শপথ সাক্ষ্যের অগ্রগামী হবে।"এবং সহিহাইন-এ ইমরান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার প্রজন্মের লোক, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী।" ইমরান (রা.) বলেন: আমি জানি না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রজন্মের পর আরও দুই প্রজন্মের কথা বলেছেন নাকি তিন প্রজন্মের। "অতঃপর তাদের পরে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের সাক্ষ্য দিতে বলা হবে না, তারা খিয়ানত করবে এবং তাদের আমানতদার মনে করা হবে না, তারা মানত করবে কিন্তু তা পূরণ করবে না।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "তারা শপথ করবে অথচ তাদের শপথ করতে বলা হবে না।" সুতরাং ইমরান (রা.) চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন … )) ।তিনি আরও বলেন: ((অতঃপর প্রথম হাদিসে বলা হয়েছে: (তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে?) এরপর তিনি বলেছেন: (তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভকারী ব্যক্তিকে দেখেছে?) সুতরাং এটি নির্দেশ করে যে, দর্শনকারীই হলেন 'সাহাবি'। একইভাবে অন্যান্য স্তরের ক্ষেত্রেও প্রশ্নের মধ্যে বলা হয়েছে: (তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভকারীর সাহচর্য লাভকারীকে দেখেছে?) সেক্ষেত্রে ‘সাহাবি’ দ্বারা দর্শনকারীই উদ্দেশ্য হবে।এবং দ্বিতীয় বর্ণনায় আছে: (তোমরা কি তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবিকে পাচ্ছ?) অতঃপর তৃতীয়টিতে বলা হয়েছে: (তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের যারা দেখেছে তাদের দেখেছে?) ।আর এটি সুনিশ্চিত যে, যদি সাহাবীর সঙ্গীর ক্ষেত্রে বিধানটি দর্শনের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে যিনি স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন তাঁর ক্ষেত্রে এটি আরও অধিকতর ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রযোজ্য হবে।এবং বুখারির শব্দে সবগুলোর ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে: (সাহচর্য লাভ করেছে), আর যদি এই শব্দগুলোর সবগুলোই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজস্ব শব্দ হয়ে থাকে, তবে তা এই মাসআলার ক্ষেত্রে অকাট্য নস বা দলিল। আর যদি তিনি বলে থাকেন...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২০)
بعضَها، والراوي مثل أبي سعيد يروي اللَّفظ بالمعنى، فقد دلَّ على أنَّ معنى أحد اللَّفظين عندهم هو معنى الآخر، وهم أعلمُ بِمعاني ما سمعوه من كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم.وأيضاً فإنْ كان لفظ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم (رأى) فقد حصل المقصود، وإن كان لفظه (صحب) في طبقة أو طبقات، فإن لَم يُرِد به الرؤية لَم يكن قد بيَّن مرادَه، فإنَّ الصُّحبةَ اسمُ جنسٍ ليس لها حدٌّ في الشرع ولا في اللغة، والعُرف فيها مختلف.والنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَم يُقيِّد الصُّحبةَ بقيدٍ، ولا قدَّرها بقدر، بل علَّق الحكمَ بمطلقها، ولا مُطلقَ لها إلَاّ الرؤية.وأيضاً فإنَّه يُقال: صَحِبَه ساعةً وصَحِبَه سنةً وشهراً، فتقع على القليل والكثير، فإذا أُطلقت من غير قيد لَم يَجُز تقييدُها بغير دليل، بل تُحملُ على المعنى المشترك بين سائر موارد الاستعمال.ولا ريب أنَّ مجرَّدَ رؤية الإنسان لغيره لا توجب أن يُقال: قد صَحِبَه، ولكن إذا رآه على وجه الاتِّباع له والاقتداء به دون غيره والاختصاص به، ولهذا لَم يُعتدَّ برؤية مَن رأى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم من الكفَّار والمنافقين؛ فإنَّهم لَم يروه رؤيةَ مَن قَصْدُه أن يؤمن به، ويكون من أتباعه وأعوانه المصدِّقين له فيما أخبر، المطيعين له فيما أمر، الموالين له، المُعادين لِمَن عاداه، الذي هو أحبُّ إليهم من أنفسِهم وأموالِهم وكلِّ شيء)) .السابع: عن أبي هريرة رضي الله عنه: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم أتى المقبرة، فقال: ((السَّلامُ عليكم دارَ قومٍ مؤمنين، وإنَّا إن شاء الله بكم لاحقون، وددتُ أنَّا قد رأينا إخواننا، قالوا: أوَلَسْنا إخوانَك يا رسول الله؟! قال:
...একাংশ; আর আবু সাঈদের মতো বর্ণনাকারীগণ শব্দের পরিবর্তে ভাবার্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করেছেন, যা প্রমাণ করে যে, তাঁদের নিকট এই শব্দ দুটির একটির অর্থ অপরটির অনুরূপ। আর তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে যা শুনেছেন, তার মর্মার্থ সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।তদুপরি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যবহৃত শব্দ যদি 'দেখেছেন' হয়ে থাকে, তবে উদ্দেশ্য হাসিল হলো। আর যদি কোনো স্তরে বা স্তরসমূহে তাঁর ব্যবহৃত শব্দ 'সঙ্গ দান করেছেন' হয়ে থাকে এবং তিনি যদি এর দ্বারা কেবল দেখাকে উদ্দেশ্য না করেন, তবে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেননি। কেননা 'সুহবত' বা সাহচর্য একটি জাতিবাচক বিশেষ্য, শরীয়ত বা ভাষাতত্ত্বে যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই এবং প্রথাভেদে এর প্রয়োগ ভিন্ন হয়ে থাকে।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহচর্যকে কোনো শর্ত দিয়ে সীমাবদ্ধ করেননি এবং এর কোনো নির্দিষ্ট মাত্রাও নির্ধারণ করেননি; বরং তিনি বিধানটিকে এর নিরঙ্কুশ অর্থের ওপর নির্ভরশীল করেছেন। আর চাক্ষুষ দেখা ছাড়া এর অন্য কোনো নিরঙ্কুশ অর্থ নেই।আরও বলা হয় যে: কেউ এক মুহূর্ত সঙ্গ দিয়েছে, আবার কেউ এক বছর বা এক মাস সঙ্গ দিয়েছে; সুতরাং এটি অল্প এবং অধিক উভয় সময়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। যখন একে কোনো শর্ত ছাড়াই সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া একে সীমাবদ্ধ করা বৈধ নয়; বরং একে ব্যবহারের সকল ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমজাতীয় ও সাধারণ অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে হবে।এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এক মানুষের অন্য মানুষকে কেবল দেখা মাত্রই তাকে 'সঙ্গ দিয়েছে' বলা আবশ্যক হয় না। তবে যখন কেউ অন্যকে অনুসরণ, অনুকরণ এবং নির্দিষ্টভাবে তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার উদ্দেশ্যে দেখে, (তখনই তা গণ্য হয়)। একারণেই কাফির ও মুনাফিকদের মধ্যে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছিল, তাদের দেখাকে গণ্য করা হয়নি; কারণ তারা তাঁকে এমন ব্যক্তির ন্যায় দেখেনি যার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর অনুসারী ও সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, তাঁর দেওয়া সংবাদসমূহকে সত্য বলে মেনে নেওয়া, তাঁর আদেশ পালন করা এবং তাঁর প্রতি অনুগত হওয়া ও তাঁর শত্রুদের শত্রু হওয়া—যিনি তাদের নিকট তাদের নিজেদের প্রাণ, সম্পদ এবং সবকিছুর চেয়েও অধিক প্রিয়।))সপ্তম: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে এসে বললেন: ((হে মুমিন সম্প্রদায়ের আবাসস্থল! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হচ্ছি। আমার বড়ই আকাঙ্ক্ষা ছিল যদি আমরা আমাদের ভাইদের দেখতে পেতাম! তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أنتم أصحابي، وإخواننا الذين لَم يأتوا بعد)) الحديث، رواه مسلم (249) وغيرُه.فدلَّ الحديثُ على التمييز بين أصحابه وإخوانِه، وأنَّ أصحابَه هم الذين أدركوه ورأوه، وإخوانَه الذين يأتون مِن بعد ولَم يروه، والمرادُ بالأُخوَّة الأخوَّة الإيمانية، والصحابةُ جمعوا بين الصُّحبةِ والأُخوَّة، والذين بعدَهم نصيبُهم الأُخوَّة وحدها.قال شيخ الإسلام ابن تيمية في منهاج السنة (8/389) : ((ومعلومٌ أنَّ قوله (إخواني) أراد به إخواني الذين ليسوا بأصحابي، وأمَّا أنتم فلكم مزيَّة الصُّحبة …فجعل هذا حدًّا فاصلاً بين إخوانه الذين ودَّ أن يراهم وبين أصحابه، فدلَّ على أنَّ مَن آمن به ورآه فهو من أصحابه، لا مِن هؤلاء الإخوان الذين لَم يَرَهم ولَم يَرَوْه، فإذا عُرف أنَّ الصُّحبةَ اسمُ جنسٍ تَعُمُّ قليلَ الصُّحبة وكثيرَها، وأدناها أن يصحبَه زمناً قليلاً، فمعلومٌ أنَّ الصِّديقَ في ذروةِ سَنَام الصُّحبة وأعلى مراتبها؛ فإنَّه صَحِبَه من حين بعثه الله إلى أن مات)) .الثامن: روى الإمام أحمد في مسنده (4/152) عن محمد بن عُبيد الطنافسي قال: ثنا محمد ـ يعني ابنَ إسحاق ـ حدَّثني يزيد بن أبي حبيب، عن مَرثد بن عبد الله اليَزَنِي، عن أبي عبد الرحمن الجُهنِيِّ قال: ((بينا نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم طلع رَكْبان، فلمَّا رآهما قال: كِنديان ومُذْحجِيان، حتى أتياه، فإذا رجالٌ من مُذحج، قال: فدنا إليه أحدُهما ليُبايِعه، قال: فلمَّا أخذ بيده قال: يا رسول الله! أرأيتَ مَن رآك فآمن بك وصدَّقك واتَّبعك: ماذا له؟ قال: طوبى له، قال: فمسح على يده، فانصرف، ثمَّ
"তোমরা আমার সাহাবী, আর আমাদের ভাই হচ্ছে তারা যারা এখনও আসেনি" — হাদিসটি ইমাম মুসলিম (২৪৯) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।সুতরাং হাদিসটি তাঁর সাহাবী ও তাঁর ভাইদের মধ্যে পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করে। তাঁর সাহাবীগণ হলেন তাঁরা যারা তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং তাঁকে দেখেছেন, আর তাঁর ভাই হলেন তাঁরা যারা পরবর্তী সময়ে আসবেন এবং তাঁকে দেখেননি। এখানে 'ভ্রাতৃত্ব' দ্বারা ঈমানি ভ্রাতৃত্ব উদ্দেশ্য। সাহাবীগণ সাহচর্য এবং ভ্রাতৃত্ব উভয়ই অর্জন করেছেন, আর যারা তাঁদের পরে আসবেন তাদের প্রাপ্য হবে কেবল ভ্রাতৃত্ব।শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'মিনহাজুস সুন্নাহ' গ্রন্থে (৮/৩৮৯) বলেছেন: "এটি সুবিদিত যে, তাঁর বাণী 'আমার ভাইগণ' দ্বারা তিনি সেই ভাইদের উদ্দেশ্য করেছেন যারা আমার সাহাবী নন, আর তোমাদের জন্য রয়েছে সাহচর্যের বিশেষ মর্যাদা …তিনি একে তাঁর সেই ভাই—যাদের তিনি দেখার আকাঙ্ক্ষা করেছেন—এবং তাঁর সাহাবীদের মধ্যে একটি বিভাজক সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁকে দেখেছেন তিনি তাঁর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত, ওই ভাইদের অন্তর্ভুক্ত নন যাদের তিনি দেখেননি এবং যারা তাঁকে দেখেনি। যখন এটি জানা গেল যে 'সাহচর্য' একটি জাতিবাচক নাম যা অল্প বা অধিক সাহচর্য উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে এবং যার সর্বনিম্ন পর্যায় হলো সামান্য সময়ের জন্য সাহচর্যে থাকা, তখন এটি স্পষ্ট যে সিদ্দিক (আবু বকর) সাহচর্যের সর্বোচ্চ শিখরে এবং এর শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন; কেননা আল্লাহ তাঁকে রাসূল হিসেবে পাঠানোর সময় থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তাঁর সাহচর্যে ছিলেন।"অষ্টম: ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৪/১৫২) মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ—অর্থাৎ ইবনে ইসহাক—হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব আমার নিকট মারসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ছিলাম, এমন সময় দুই আরোহীর দেখা মিলল। তিনি যখন তাঁদের দেখলেন তখন বললেন: তারা কিন্দা ও মুজহিজ গোত্রের। তারা তাঁর নিকট আসা পর্যন্ত দেখা গেল তারা মুজহিজ গোত্রের লোক। বর্ণনাকারী বলেন: তাদের একজন তাঁর কাছে বায়আত হতে এগিয়ে এল। যখন তিনি তার হাত ধরলেন তখন সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কী অভিমত সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে আপনাকে দেখেছে, আপনার প্রতি ঈমান এনেছে, আপনাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে এবং আপনার অনুসরণ করেছে—তার জন্য কী প্রতিদান রয়েছে? তিনি বললেন: তার জন্য সুসংবাদ (তূবা)। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তিনি তার হাতের ওপর হাত বুলিয়ে দিলেন এবং সে ফিরে গেল। এরপর..."
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২২)
أقبل الآخرُ حتى أخذ بيده ليُبايِعه، قال: يا رسول الله! أرأيتَ مَن آمن بك وصدَّقك واتَّبعك ولَم يرَك؟ قال: طوبى له، ثمَّ طوبى له، ثمَّ طوبى له، فمسح على يده فانصرف)) .وهذا الإسناد فيه محمد بن عُبيد ويزيد بن أبي حبيب ومرثَد بن عبد الله اليزني، وهم ثقات من رجال الجماعة، ومحمد بن إسحاق صدوق يدلِّس، وقد صرَّح بالتحديث.وقد رُتِّب الفضلُ في الحديث على رؤيته صلى الله عليه وسلم والإيمان به وتصديقه واتِّباعه.التاسع: روى البخاري ومسلم في صحيحيهما، واللِّفظ للبخاري (3650) عن عِمران بن حُصين رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((خيرُ أُمَّتِي قرنِي، ثمَّ الذين يلونَهم، ثمَّ الذين يلونَهم، قال عِمران: فلا أدري أَذَكر بعد قرنه قرنين أو ثلاثة)) الحديث.وروَيا أيضاً، واللفظ للبخاري (3651) عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قال: ((خيرُ الناس قرني، ثمَّ الذين يلونَهم، ثمَّ الذين يلونَهم)) الحديث.والقرنُ الأوَّل مِن هذه القرون هو قرنُ الصحابة رضي الله عنهم، قال النووي في شرح صحيح مسلم (16/84) : ((اتَّفق العلماءُ على أنَّ خيرَ القرون قرنُه صلى الله عليه وسلم، والمرادُ أصحابُه)) .ونقل عن القاضي عياض أنَّ شهر بن حوشَب قال: ((قرنُه: ما بَقيتْ عينٌ رأتْه، والثاني: ما بقيت عينٌ رأت مَن رآه، ثمَّ كذلك)) .وقال ابن تيمية في منهاج السنة (8/384) : ((واتَّفقت الروايات على ذِكر الصحابة والتابعين وتابعيهم، وهم القرون الثلاثة)) .
অন্য ব্যক্তিটি এগিয়ে এসে তাঁর হাত ধরে বায়আত গ্রহণ করতে চাইলেন। তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি আপনার প্রতি ঈমান এনেছে, আপনাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে এবং আপনার অনুসরণ করেছে কিন্তু আপনাকে দেখেনি, তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?" তিনি বললেন: "তার জন্য সুসংবাদ, পুনরায় তার জন্য সুসংবাদ, পুনরায় তার জন্য সুসংবাদ।" এরপর তিনি তার হাতে স্পর্শ করলেন এবং লোকটি ফিরে গেল।এই সনদে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ, ইয়াযিদ ইবনে আবি হাবিব এবং মারসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইয়াযানি রয়েছেন; তাঁরা জামাআতের (সহীহ সিত্তাহর সংকলকগণের) নির্ভরযোগ্য রাবী। আর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক সত্যবাদী তবে তিনি 'তাদলিস' করেন, কিন্তু এখানে তিনি সরাসরি শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।এই হাদীসে শ্রেষ্ঠত্বকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দর্শন করা, তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন, তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁর অনুসরণের ওপর বিন্যস্ত করা হয়েছে।নবম: ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন—শব্দবিন্যাস বুখারীর (৩৬৫০)—ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ সময় হলো আমার যুগ, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ।" ইমরান (রা.) বলেন: আমার জানা নেই যে তিনি তাঁর যুগের পর আরও দুই যুগের কথা বলেছিলেন না কি তিন যুগের। (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)।তাঁরা উভয়ে আরও বর্ণনা করেছেন—শব্দবিন্যাস বুখারীর (৩৬৫১)—আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মানবজাতির শ্রেষ্ঠ সময় হলো আমার যুগ, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ।" (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)।এই যুগসমূহের মধ্যে প্রথম যুগটি হলো সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের যুগ। ইমাম নববী শারহু সহীহ মুসলিম-এ (১৬/৮৪) বলেছেন: "উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর সাহাবীগণ।"কাযী ইয়াদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, শাহর ইবনে হাওশাব বলেছেন: "তাঁর যুগ বলতে ততক্ষণ পর্যন্ত সময় বোঝায় যতক্ষণ তাঁকে দেখেছে এমন কোনো ব্যক্তি জীবিত ছিল। দ্বিতীয় যুগ বলতে যতক্ষণ তাঁকে দেখেছে এমন ব্যক্তিকে দেখেছে এমন কোনো ব্যক্তি জীবিত ছিল; পরবর্তী যুগটিও তদ্রূপ।"ইবনে তাইমিয়্যাহ মিনহাজুস সুন্নাহ-তে (৮/৩৮৪) বলেছেন: "বর্ণনাগুলো সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবে-তাবিঈগণের আলোচনার ব্যাপারে একমত হয়েছে, আর তাঁরাই হলেন শ্রেষ্ঠ তিন যুগ।"
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وجاء في السنة الصحيحة وَصْفُ الذين لَم يُدركوا زمنَه صلى الله عليه وسلم ويَروهبـ (التابعين) ، ففي صحيح مسلم (2542) عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: إنِّي سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إنَّ خيرَ التابعين رجلٌ يُقال له أُوَيس، له والدةٌ وكان به بياض، فمُروه فليستغفر لكم)) ، وهو يدلُّ على التمييز بين الصحابة والتابعين.العاشر: روى مسلم (2531) عن أبي بُردة، عن أبيه أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: ((صلَّينا المغربَ مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثمَّ قلنا: لو جلسنا حتى نصلي معه العشاءَ، قال: فجلسنا، فخرج علينا، فقال: ما زلتُم ههنا؟ قلنا: يا رسول الله! صلَّينا معك المغربَ، ثمَّ قلنا: نجلس حتى نصلِّيَ معك العشاءَ، قال: أحسنتم أو أَصبتُم، قال: فرفع رأسَه إلى السماء، وكان كثيراً مِمَّا يرفع رأسه إلى السماء، فقال: النُّجومُ أَمَنَةٌ للسماءِ، فإذا ذهبت النجومُ أتى السماءَ ما تُوعَد، وأنا أَمَنةٌ لأصحابي، فإذا ذهبتُ أتى أصحابي ما يُوعَدون، وأصحابي أَمَنةٌ لأمَّتِي، فإذا ذهب أصحابي أتى أمَّتي ما يوعَدون)) .وفي صحيح البخاري (3876) أنَّ أبا موسى رضي الله عنه قدِم إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حين فتح خيبر، وكان ذلك بعد الحُديبية، وأبو موسى رضي الله عنه مِمَّن يشمله حديثه هذا، لا كما يقول المالكي مِن أنَّ الصُّحبةَ الشرعيَّة هي لِمَن كانت هجرتُه قبل الحُديبية؛ لأنَّ الحُديبية في سنة ست من الهجرة، وفتح خيبر في سنة سبع.الحادي عشر: روى البخاري في صحيحه من حديث ابن عباس (1739) وأبي بكرة (1741) في خطبة النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِنى في حجَّة الوداع،
বিশুদ্ধ সুন্নাহর মধ্যে এমন ব্যক্তিদের 'তাবেয়ী' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগ পাননি এবং তাঁকে দেখেননি।সহীহ মুসলিমে (২৫৪২) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই তাবেয়ীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন উওয়াইস নামক এক ব্যক্তি। তাঁর মা আছেন এবং তাঁর শরীরে শ্বেত রোগ ছিল। তোমরা তাঁকে বলবে তিনি যেন তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।" এটি সাহাবী এবং তাবেয়ীদের মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণ দেয়।দশম: মুসলিম (২৫৩১) আবু বুরদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম, এরপর আমরা বললাম: আমরা যদি বসে থাকতাম যতক্ষণ না তাঁর সাথে ইশার সালাত আদায় করি! বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমরা বসে থাকলাম, তিনি আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: তোমরা কি এখনও এখানেই আছ? আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করেছি, তারপর ভাবলাম বসে থাকব যতক্ষণ না আপনার সাথে ইশার সালাত আদায় করি। তিনি বললেন: তোমরা উত্তম কাজ করেছ বা সঠিক করেছ। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুললেন—আর তিনি প্রায়ই আকাশের দিকে মাথা তুলতেন—অতঃপর বললেন: নক্ষত্ররাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ, যখন নক্ষত্ররাজি চলে যাবে তখন আকাশের ওপর তা আপতিত হবে যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ, যখন আমি চলে যাব তখন আমার সাহাবীদের ওপর তা আপতিত হবে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। আর আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ, যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন তখন আমার উম্মতের ওপর তা আপতিত হবে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে।"সহীহ বুখারীতে (৩৮৭৬) বর্ণিত হয়েছে যে, আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খাইবার বিজয়ের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমন করেন, আর তা ছিল হুদায়বিয়ার পরের ঘটনা। আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে এই হাদিসটি শামিল করে; আল-মালিকি যা দাবি করেছেন বিষয়টি তেমন নয় যে, শরয়ী সাহচর্য কেবল তাদের জন্য যারা হুদায়বিয়ার পূর্বে হিজরত করেছেন। কারণ হুদায়বিয়া হয়েছিল হিজরি ষষ্ঠ বর্ষে এবং খাইবার বিজয় হয়েছিল সপ্তম বর্ষে।একাদশ: বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (১৭৩৯) এবং আবু বাকরাহ (১৭৪১) থেকে বিদায় হজের সময় মিনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভাষণের হাদিস বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي آخرها: ((فليُبلِّغ الشاهدُ الغائبَ)) ، وحديث أبي بكرة رواه مسلم أيضاً (29) .وهؤلاء الذين حجُّوا معه وشهدوا خطبتَه وسَمعوها، وأُمروا بإبلاغها غيرَهم هم من أصحابه، لا كما يقول المالكي من أنَّ الصُّحبةَ الشرعيَّة خاصَّةٌ بِمَن كان قبل الحُديبية.الثاني عشر: روى أبو داود في سننه (3659) بإسناد صحيح عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((تَسمعون ويُسمع منكم، ويُسمَع مِمَّن سَمِع منكم)) .وهو دالٌّ على أنَّ الذين سَمعوا منه صلى الله عليه وسلم هم من أصحابه، وأنَّ الذين سَمعوا من الصحابة هم التابعون، وأنَّ الذين سَمعوا مِمَّن سَمع من الصحابة هم أتباع التابعين، ولا يُقال: إنَّ مَن سَمع رسولَ الله صلى الله عليه وسلم وحدَّث عنه ليس بصحابي.الثالث عشر: روى أبوداود في سننه (3660) عن زيد بن ثابت رضي الله عنه قال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((نضَّر الله امرءاً سَمِع منَّا حديثاً فحفظه حتى يبلِّغَه … )) الحديث.وهوحديثٌ متواتر؛ رواه أربعة وعشرون صحابيًّا، وقد جمعتُ طرقَه وتكلَّمتُ على فقهه في بحث بعنوان: ((دراسة حديث (نضَّر الله امرءاً سمع مقالتِي … ) رواية ودراية)) ، وهو مطبوع، وهو دالٌّ على كون مَن سَمع حديثَه صلى الله عليه وسلم منه أنَّه من أصحابه.الرابع عشر: روى البخاري في الأدب المفرد (87) قال: حدَّثنا بِشر ابن محمد، قال: أخبرنا عبد الله، قال: أخبرنا صفوان بن عمرو قال: حدَّثني
এবং এর শেষে রয়েছে: ((উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়)), আর আবু বকরার হাদিসটি ইমাম মুসলিমও বর্ণনা করেছেন (২৯)।আর যারা তাঁর সাথে হজ পালন করেছেন, তাঁর খুতবায় উপস্থিত থেকেছেন ও তা শ্রবণ করেছেন এবং অন্যদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছেন—তাঁরা সকলেই তাঁর সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত। আল-মালিকী যেমনটি দাবি করেন যে, শরয়ি সাহচর্য কেবল হুদায়বিয়ার সন্ধির পূর্ববর্তী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষিত, বিষয়টি তেমন নয়।দ্বাদশ: আবু দাউদ তাঁর সুনানে (৩৬৫৯) সহিহ সনদে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা শুনছ, তোমাদের থেকেও শোনা হবে এবং যারা তোমাদের থেকে শুনেছে তাদের থেকেও শোনা হবে))।এটি একথার প্রমাণ দেয় যে, যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছেন তাঁরা তাঁর সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত, আর যারা সাহাবীগণের নিকট থেকে শুনেছেন তাঁরা তাবিঈ, এবং যারা সাহাবীগণের নিকট থেকে শ্রবণকারীদের নিকট থেকে শুনেছেন তাঁরা তবে-তাবিঈ। আর একথা বলা যাবে না যে: যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে সরাসরি শুনেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি সাহাবী নন।ত্রয়োদশ: আবু দাউদ তাঁর সুনানে (৩৬৬০) যায়েদ ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ((আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে, অতঃপর তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয় … )) আল-হাদিস।এটি একটি মুতাওয়াতির হাদিস; চব্বিশজন সাহাবী এটি বর্ণনা করেছেন। আমি এর বর্ণনাপথগুলো একত্র করেছি এবং এর ফিকহী দিক নিয়ে আলোচনা করেছি একটি গবেষণাপত্রে যার শিরোনাম: ((দিরাসাতু হাদিসি 'নাদ্দারাল্লাহু ইমরাআন সামি'আ মাকালাতী...' রিওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান (আমার বক্তব্য শ্রবণকারী ব্যক্তির চেহারা আল্লাহ উজ্জ্বল করুন... হাদিসটির সনদ ও মতন বিষয়ক গবেষণা)))। এটি মুদ্রিত হয়েছে। এটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে সরাসরি হাদিস শুনেছেন, তিনি তাঁর সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত।চতুর্দশ: ইমাম বুখারী 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ (৮৭) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সাফওয়ান ইবনে আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عبد الرحمن بن جبير بن نُفير، عن أبيه قال: ((جلسنا إلى المقداد بن الأسود يوماً، فمرَّ به رجلٌ، فقال: طوبَى لِهاتَين العينين اللَّتين رأَتا رسولَ الله صلى الله عليه وسلم، والله! لوَدِدنا أنَّا رأينا ما رأيتَ، وشهدنا ما شهدتَ، فاستُغضِب، فجعلت أَعْجَب: ما قال إلَاّ خيراً! ثمَّ أقْبَلَ عليه فقال: ما يَحمل الرَّجلَ على أن يتمنَّى مَحضراً غيَّبه الله عنه؟ لا يدري لو شَهدَه كيف يكون فيه؟ والله! لقد حضر رسولَ الله صلى الله عليه وسلم أقوامٌ كبَّهم الله على مناخرِهم في جهنَّم؛ لَم يُجيبوه ولَم يُصدِّقوه، أوَ لا تَحمدون الله عز وجل إذ أخرجكم لا تعرفون إلَاّ ربَّكم فتُصدِّقون بِما جاء به نبيُّكم صلى الله عليه وسلم، قد كُفيتُم البلاء بغيركم … )) الحديث.وعبد الله الذي في الإسناد هو ابن المبارك، وهو ثقة، أخرج له الجماعة، والثلاثة الذين فوقه ثقات، أخرج لهم البخاري في الأدب المفرد ومسلم وأصحاب السنن، والراوي عن ابن المبارك، قال عنه الحافظ في التقريب:((صدوق)) ، وقد رواه عن ابن المبارك جمعٌ، منهم: يَعمر بن بشر في مسند الإمام أحمد (6/3) ، وحسين بن حسن في الآحاد والمثاني لابن أبي عاصم (292) ، وقد أورد الحديثَ ابنُ كثير في تفسيره في آخر سورة الفرقان من مسند الإمام أحمد، وقال: ((هذا إسنادٌ صحيح ولَم يخرجوه)) .وهو يدلُّ على أنَّ التابعين يَرون أنَّ شَرَفَ الصُّحبةِ يَحصُل برؤيتِه صلى الله عليه وسلم مع الإيمان به؛ ولَم يُنكر ذلك المقداد رضي الله عنه، وإنَّما غضب لِتمنِّي أمرٍ لا يدري المُتمنِّي ماذا يكون حالُه عند حصولِه، وهذا الذي غضب منه المقداد نظيرُ ما جاء في الحديث المتفق عليه عن أبي هريرة: أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قال: ((لا تَتمنَّوا لقاءَ العدوِّ، وسلُوا الله العافيةَ، وإذا لقيتُموه فاصبِروا، واعلموا أنَّ الجنَّةَ تحت ظلالِ السيوف)) ؛ لأنَّ متمنِّيَ لقاء العدوِّ لا يدري
আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফায়ের তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "একদিন আমরা মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রা.)-এর কাছে বসেছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলল: 'ধন্য সেই দুই চোখ যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছে! আল্লাহর কসম, আমরা যদি তা দেখতে পেতাম যা আপনি দেখেছেন এবং আমরা যদি সে সকল ঘটনায় উপস্থিত থাকতে পারতাম যাতে আপনি উপস্থিত ছিলেন!' এতে তিনি (মিকদাদ) রাগান্বিত হলেন। আমি অবাক হতে লাগলাম, কারণ ওই ব্যক্তি তো ভালো কথাই বলেছে! এরপর তিনি তাঁর দিকে ফিরে বললেন: 'কোন বিষয়টি একজন মানুষকে এমন এক পরিস্থিতিতে উপস্থিত থাকার আকাঙ্ক্ষা করতে প্রলুব্ধ করে যা থেকে আল্লাহ তাকে অনুপস্থিত রেখেছেন? সে তো জানে না যে যদি সে সেখানে উপস্থিত থাকত তবে তার অবস্থা সেখানে কেমন হতো? আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সমসাময়িক এমন অনেক জাতি উপস্থিত ছিল যাদেরকে আল্লাহ তাদের নাসিকার ওপর ভর দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করেছেন; কারণ তারা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি এবং তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি। তোমরা কি মহান আল্লাহর প্রশংসা করবে না যে, তিনি তোমাদের এমন এক অবস্থায় বের করেছেন যখন তোমরা তোমাদের রব ছাড়া আর কাউকে চেনো না এবং তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা বিশ্বাস করো? অন্যের (পূর্ববর্তীদের) মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা থেকে রক্ষা করা হয়েছে...' " হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।সনদে উল্লিখিত আবদুল্লাহ হলেন ইবনুল মুবারক। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী, 'জামাত' (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থের সংকলকগণ) তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। আর তাঁর উপরের স্তরের তিনজন বর্ণনাকারীও নির্ভরযোগ্য; ইমাম বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ এবং ইমাম মুসলিম ও সুনান গ্রন্থকারগণ তাঁদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুবারক থেকে যিনি বর্ণনা করেছেন তাঁর সম্পর্কে হাফেজ (ইবনে হাজার) 'তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন:"সদুক" (সত্যবাদী)। ইবনুল মুবারক থেকে একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: মুসনাদে ইমাম আহমাদে (৬/৩) ইয়ামুর ইবনে বিশর এবং ইবনে আবি আসিমের 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' (২৯২) গ্রন্থে হুসাইন ইবনুল হাসান। ইমাম ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে সূরা আল-ফুরকানের শেষে মুসনাদে ইমাম আহমাদ থেকে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এই সনদটি সহিহ কিন্তু তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।"এটি প্রমাণ করে যে, তাবিঈগণ মনে করতেন ঈমানের সাথে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখার মাধ্যমেই সাহচর্য বা সোহবতের মর্যাদা অর্জিত হয়; আর মিকদাদ (রা.) তা অস্বীকার করেননি। বরং তিনি রাগ করেছিলেন এমন কিছুর আকাঙ্ক্ষা করার কারণে যার ফলাফল ঘটার সময় আকাঙ্ক্ষাকারীর অবস্থা কেমন হতো তা সে জানে না। মিকদাদ (রা.) যে কারণে রাগান্বিত হয়েছিলেন তা আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত) হাদিসের অনুরূপ, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা শত্রুর সাথে যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা করো না, বরং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। তবে যখন তাদের সম্মুখীন হবে, তখন ধৈর্য ধারণ করো এবং জেনে রেখো যে তলোয়ারের ছায়ার নিচেই জান্নাত।" কারণ শত্রুর সাথে যুদ্ধের আকাঙ্ক্ষাকারী জানে না...
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عن حاله حين لقائه: هل تكون حسنة أو سيِّئة؟ويدلُّ أيضاً لفرح التابعين برؤية الصحابة ما رواه أبو داود في سننه (948) بإسنادٍ فيه ضعف، عن هلال بن يَسَاف قال: ((قدمتُ الرَّقَّةَ، فقال لي بعضُ أصحابي: هل لك في رجلٍ من أصحاب النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؟ قال: قلت: غنيمة! فدفعنا إلى وابِصة، قلت لصاحبِي: نبدأ فننظر إلى دلِّه، فإذا عليه قلنسوة لاطئةٌ ذات أُذنين وبُرنس خَزٍّ أغبر … )) الحديث.ووابِصةُ هو ابن معبد رضي الله عنه، وقد وفد على النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سنة تسع من الهجرة، ولَمَّا عُرض على هلال بن يساف لقاؤه فرح، وقال: ((غنيمة!)) .أقول: وإنَّها والله غنيمة وأيُّ غنيمة؛ ظَفَرُ التابعيِّ برؤية مَن شرَّفه الله بصحبة النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مع الإيمان به والاتِّباع له!الخامس عشر: قال الحافظ ابن حجر في الإصابة (1/20 ـ 21) :((وقد كان تعظيمُ الصحابة ـ ولو كان اجتماعُهم به صلى الله عليه وآله وسلم قليلاً ـ مقرَّراً عند الخلفاء الراشدين وغيرهم، فمِن ذلك ما قرأت في كتاب أخبار الخوارج تأليف محمد بن قدامة المروزي، بخطِّ بعضِ مَن سمعه منه في سنة سبعٍ وأربعين ومئتين، قال: حدَّثنا علي بن الجعد، قال: حدَّثنا زهير هو الجعفي، عن الأسود بن قيس، عن نُبَيْح العَنَزِي قال: كنت عند أبي سعيد الخدري)) ، ثمَّ ذكره الحافظ بإسناده إلى نُبيح قال: ((كنَّا عنده وهو متَّكئ، فذكرنا عليًّا ومعاوية، فتناول رجلٌ معاويةَ، فاستوى أبو سعيد الخدري جالساً، ثمَّ قال: كنَّا ننزلُ رفاقاً مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، فكنَّا رفقةً فيها أبو بكر، فنزلنا على أهل أبيات وفيهم امرأة حُبلى، ومعنا رجلٌ من أهل البادية، فقال للمرأة الحامل: أَيَسُرُّك أن تلِدي غلاماً، قالت: نعم! قال: إن أعطيتِنِي شاةً ولَدتِ غلاماً، فأعطَتْه، فسَجَع لها
তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময়ের অবস্থা সম্পর্কে: তা কি ভালো হবে নাকি মন্দ?সাহাবীগণের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে তাবিঈগণের আনন্দের বিষয়টি আবু দাউদ তাঁর সুনানে (৯৪৮) একটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি রাক্কাহ শহরে আসলাম। তখন আমার জনৈক সাথী আমাকে বললেন: 'তুমি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী?' আমি বললাম: 'এ তো এক মহা সৌভাগ্য (গনিমত)!' এরপর আমরা ওয়াবিসাহ-এর কাছে গেলাম। আমি আমার সাথীকে বললাম: 'প্রথমে আমরা তাঁর আচার-আচরণ ও বেশভুষা লক্ষ্য করব।' দেখলাম তাঁর মাথায় কানটুপি যুক্ত একটি লেপ্টে থাকা টুপি এবং গায়ে একটি ধূসর বর্ণের রেশমি জুব্বা রয়েছে ..." (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।আর ওয়াবিসাহ হলেন ইবনে মাবাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি নবম হিজরীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন। যখন হিলাল বিন ইয়াসাফের কাছে তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রস্তাব দেওয়া হলো, তিনি আনন্দিত হলেন এবং বললেন: "এ তো এক মহা পাওনা (গনিমত)!"আমি বলি: আল্লাহর কসম, এটি সত্যিই এক মহা গনিমত, আর কতই না শ্রেষ্ঠ সেই পাওনা! একজন তাবিঈর জন্য এমন ব্যক্তির দর্শন লাভ করা যাঁকে আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য এবং তাঁর প্রতি ঈমান ও তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।পঞ্চদশ: হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে (১/২০-২১) বলেন:"সাহাবীগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন—যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁদের সাহচর্য অল্প সময়ের জন্যও হয়ে থাকে—তা খোলাফায়ে রাশেদীন ও অন্যান্যদের কাছে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। এরই একটি উদাহরণ আমি মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মারওয়াযী রচিত 'আখবারুল খাওয়ারিজ' গ্রন্থে পাঠ করেছি, যা ২৪৭ হিজরীতে তাঁর থেকে শ্রবণকারী কোনো ব্যক্তির হস্তলিপিতে সংরক্ষিত ছিল। তিনি বলেছেন: আলী বিন জাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যুহাইর (যিনি আল-জুফী) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসওয়াদ বিন কায়স থেকে, তিনি নুবাইহ আল-আনাযী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'আমি আবু সাঈদ আল-খুদরীর নিকট ছিলাম'।" এরপর হাফেজ ইবনে হাজার নুবাইহ পর্যন্ত তাঁর সনদসহ উল্লেখ করেন যে, তিনি (নুবাইহ) বলেন: "আমরা তাঁর নিকট ছিলাম এবং তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন। এরপর আমরা আলী ও মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সম্পর্কে আলোচনা শুরু করলাম। তখন এক ব্যক্তি মুয়াবিয়া সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করল। এতে আবু সাঈদ আল-খুদরী সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: 'আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিভিন্ন কাফেলায় ভ্রমণ করতাম। আমরা এমন এক কাফেলায় ছিলাম যেখানে আবু বকরও ছিলেন। এক স্থানে আমরা একদল লোকের বসতিতে নামলাম যেখানে জনৈক গর্ভবতী মহিলা ছিল। আমাদের সাথে মরুভূমির এক গ্রাম্য লোক ছিল। সে সেই গর্ভবতী মহিলাকে বলল: "তুমি কি পুত্র সন্তান জন্ম দিলে খুশি হবে?" মহিলাটি বলল: "হ্যাঁ!" সে বলল: "তুমি যদি আমাকে একটি বকরি দাও তবে তুমি পুত্র সন্তান প্রসব করবে।" তখন মহিলাটি তাকে একটি বকরি দিয়ে দিল। এরপর সে তার উদ্দেশ্যে ছন্দযুক্ত বাক্য আওড়াতে লাগল...।"
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أسجاعاً، ثمَّ عمد إلى الشاةِ فذبحها وطبخها، وجلسنا نأكل منها ومعنا أبو بكر، فلمَّا علم بالقصَّة قام فتقيَّأ كلَّ شيءٍ أكل، قال: ثمَّ رأيتُ ذلك البَدَويَّ أُتِي به عمر بن الخطاب وقد هجا الأنصارَ، فقال لهم عمر: لولا أنَّ له صحبةً من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ما أدري ما نال فيها لَكَفَيْتُكموه، ولكن له صحبة مِن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم) .ثمَّ قال الحافظ: ((لفظ علي بن الجعد، ورجال هذا الحديث ثقات، وقد توقَّف عمر رضي الله عنه عن معاتبتِه فضلاً عن معاقبتِه لكونه علم أنَّه لقي النَّبِيَّ صلى الله عليه وآله وسلم، وفي ذلك أبينُ شاهد على أنَّهم كانوا يعتقدون أنَّ شأنَ الصحبة لا يعدله شيء)) .ثمَّ ذكر أحاديث في فضل أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورجال الإسناد ثقات كما قال الحافظ ابن حجر، فعليُّ بن الجعد خرَّج له البخاري وأبو داود، وزهير بن معاوية والأسود بن قيس خرَّج لهم أصحاب الكتب الستة، ونُبيح العَنَزي خرَّج له أصحاب السنن، قال عنه المزيُّ في تهذيب الكمال: ((روى عنه الأسود بن قيس وأبو خالد الدالاني، قال أبو زرعة: ثقة لَم يرو عنه غير الأسود بن قيس، وذكره ابن حبان في كتاب الثقات)) ، وقال الحافظ في تهذيب التهذيب: ((قلت: وقال العجلي: كوفي تابعي ثقة، وذكره علي بن المديني في جملة المجهولين الذين يروي عنهم الأسود بن قيس، وصحح الترمذي حديثه وكذلك ابن خزيمة وابن حبان والحاكم)) .وقول الحافظ: ((رجال هذا الحديث ثقات)) ، وفيهم نُبيح هو المعتمَد، وأمَّا قوله في التقريب عنه: ((مقبول)) ، أي: حيث يُتابَع، فغير مقبول.
ছন্দোবদ্ধ গদ্য; অতঃপর তিনি বকরির প্রতি মনোনিবেশ করে তা যবেহ করলেন ও রান্না করলেন। আমরা তা থেকে খেতে বসলাম এবং আমাদের সাথে আবু বকর (রা.) ছিলেন। অতঃপর যখন তিনি প্রকৃত ঘটনা জানতে পারলেন, তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং যা কিছু খেয়েছিলেন তার সবটুকুই বমি করে বের করে দিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর আমি সেই বেদুঈনকে দেখলাম যাকে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট নিয়ে আসা হয়েছিল, যে আনসারদের নিন্দা করেছিল। তখন উমর (রা.) তাদের বললেন: যদি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তার সাহচর্য না থাকত—আমি জানি না সাহচর্যের কারণে তিনি সেখানে কী মর্যাদা লাভ করেছেন—তবে আমিই তোমাদের পক্ষ থেকে তার জন্য যথেষ্ট হতাম (তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতাম)। কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তার সাহচর্য রয়েছে।অতঃপর হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: এটি আলী বিন আল-জাদ-এর শব্দে বর্ণিত, আর এই হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। উমর (রা.) তাকে তিরস্কার করা তো বটেই, এমনকি শাস্তি প্রদান থেকেও বিরত থাকেন; কেননা তিনি জানতেন যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। আর এর মধ্যে এটিই সর্বাপেক্ষা সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, তারা বিশ্বাস করতেন যে সাহচর্যের মর্যাদার সমতুল্য অন্য কিছু হতে পারে না।অতঃপর তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের মর্যাদা সম্পর্কে কিছু হাদিস উল্লেখ করেন। আর হাফেজ ইবনে হাজার যেমনটি বলেছেন, এর সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। কেননা আলী বিন আল-জাদ-এর নিকট থেকে ইমাম বুখারী ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। যুহাইর বিন মুয়াবিয়া ও আসওয়াদ বিন কাইস-এর নিকট থেকে কুতুবে সিত্তাহর সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন। নুবাইহ আল-আনাযী-এর নিকট থেকে সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। আল-মিযযী ‘তাহযীবুল কামাল’ গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন: "তার থেকে আসওয়াদ বিন কাইস ও আবু খালিদ আদ-দালানী বর্ণনা করেছেন। আবু যুরআ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, আসওয়াদ বিন কাইস ব্যতীত অন্য কেউ তার থেকে বর্ণনা করেননি এবং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের তালিকায় (কিতাবুস সিকাত) উল্লেখ করেছেন।" হাফেজ ‘তাহযীবুত তাহযীব’ গ্রন্থে বলেছেন: "আমি বলছি: আল-ইজলী বলেছেন: তিনি কুফাবাসী নির্ভরযোগ্য তাবেঈ। আলী বিন আল-মাদিনী তাকে সেই সকল অজ্ঞাত ব্যক্তিদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন যাদের থেকে আসওয়াদ বিন কাইস বর্ণনা করেন। তিরমিযী তার বর্ণিত হাদিসকে সহীহ বলেছেন এবং অনুরূপভাবে ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান ও হাকেমও তা করেছেন।"আর হাফেজের এই উক্তি যে: "এই হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য" এবং তাদের মধ্যে নুবাইহ-ও রয়েছেন—এটিই হলো প্রামাণ্য মত। আর ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে তার সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "মাকবুল" (গ্রহণযোগ্য), অর্থাৎ: যখন তার সমর্থক বর্ণনা পাওয়া যায় তখন গ্রহণযোগ্য—তা (এক্ষেত্রে) গ্রহণযোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولا شكَّ أنَّ هجوَ هذا الأعرابي الصحابي للأنصار لا يرجع إلى نُصرتهم للرسول صلى الله عليه وسلم؛ لأنَّ ذلك نفاقٌ، وإنَّما يرجع لشيء غير ذلك، وسيأتي نقل ابن حجر عن القرطبي صاحب المفهم ما يوضح ذلك.وقد يكون هذا الهجوُ أخفَّ من الذَّمِّ الذي أضافه المالكي للأنصار، وذلك بنسبته إلى أكثرهم كون علي رضي الله عنه أولى بالخلافة من أبي بكر، كما سيأتي عند ذِكر تشكيكه في أحقَّية أبي بكر بالخلافة،؛ فإنَّ ذلك سوءُ ظنٍّ بهم، وأنَّهم يأبَون إلَاّ غير أبي بكر، وقد قال النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:((يأبَى الله والمؤمنون إلَاّ أبا بكر)) .ويدلُّ أيضاً لشمول الصُّحبة لكلِّ من رآه أو سَمع منه حديثاً وصحبه مدَّة وجيزة أو طويلة ما يلي:الأول: أنَّ الذين دوَّنوا سنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم متَّفقون على ثبوت الصُّحبة لكلِّ مَن سَمِع منه صلى الله عليه وسلم، ولو كان الذي سمعه منه حديثاً واحداً؛ فإنَّهم يسوقون الأسانيد حتى تنتهي إلى الصحابة الذين سمعوا منه ويتَرضَّون عنهم، ومن طريقة أهل السُّنَّة والجماعة الترضِّي عن الصحابة عند ذِكرهم والتَّرحُّم على مَن كان بعدهم.الثاني: أنَّ الذين ألَّفوا في الصحابة أثبتوا فيهم مَن حصل له مجرَّد اللُّقيّ للرَّسول صلى الله عليه وسلم، ومَن لَم يَروِ عنه إلَاّ حديثاً واحداً.الثالث: أنَّ الذين ألَّفوا في الصحابة وغيرهم، عندما يأتي ذكر الصحابي ـ سواء قلَّت صُحبتُه أو طالت ـ يقولون عنه: صحابي، لا يحتاجون إلى إضافة شيء على هذا الوصف إلَاّ إذا كان الوصفُ فيه زيادة فضل ومنقبة، ككونه من السابقين إلى الإسلام أو مِن أهل بدر أو مِن أهل بيعة الرضوان، فإنَّهم يُضيفون ذلك إلى وصف الصُّحبة.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বেদুইন সাহাবী কর্তৃক আনসারদের নিন্দা বা বিদ্রূপ করার কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁদের সাহায্য-সহযোগিতা করা ছিল না; কেননা তা নিফাক বা কপটতার শামিল। বরং তা অন্য কোনো কারণে ছিল। ইবনে হাজার কর্তৃক ‘আল-মুফহিম’ রচয়িতা আল-কুরতুবী থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিটি সামনে আসবে যা বিষয়টি স্পষ্ট করবে।আর এই নিন্দা সম্ভবত সেই তিরস্কারের চেয়েও লঘু যা আল-মালিকী আনসারদের প্রতি আরোপ করেছেন; তা হলো তাদের অধিকাংশের প্রতি এই মতারোপ করা যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খিলাফতের জন্য আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অপেক্ষা অধিক যোগ্য ছিলেন। যেমনটি আবু বকরের খিলাফতের হকের ব্যাপারে তার সংশয় প্রকাশের আলোচনার সময় সামনে আসবে। বস্তুত এটি তাঁদের প্রতি কুধারণা পোষণ করা এবং এই ধারণা করা যে তাঁরা আবু বকর ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:((আল্লাহ ও মুমিনগণ আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে অস্বীকার করেন))।নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলোও প্রমাণ করে যে, সাহাবী হওয়ার বিষয়টি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যিনি তাঁকে দেখেছেন অথবা তাঁর নিকট থেকে কোনো হাদীস শুনেছেন এবং স্বল্প বা দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন:প্রথমত: যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ সংকলন করেছেন, তাঁরা এই বিষয়ে একমত যে, যিনি নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো কিছু শুনেছেন তিনি সাহাবী হিসেবে গণ্য হবেন, যদিও তাঁর শোনা হাদীসটি মাত্র একটিই হয়ে থাকে। তাঁরা বর্ণনাপরম্পরা (সনদ) উল্লেখ করেন যা সেই সকল সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছে যাঁরা তাঁর থেকে শুনেছেন এবং তাঁরা তাঁদের জন্য সন্তুষ্টির দোয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পাঠ করেন। আর সাহাবীদের স্মরণের সময় তাঁদের জন্য সন্তুষ্টির দোয়া করা এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রহমতের দোয়া (রাহিমাহুল্লাহ) করা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসৃত পদ্ধতি।দ্বিতীয়ত: যাঁরা সাহাবীদের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁরা তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাঁদের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কেবল সাক্ষাৎ ঘটেছে এবং যাঁরা তাঁর থেকে মাত্র একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।第三ত: যাঁরা সাহাবী এবং অন্যদের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁরা কোনো সাহাবীর বর্ণনার ক্ষেত্রে—তাঁর সাহচর্য স্বল্প হোক বা দীর্ঘ—তাঁকে ‘সাহাবী’ হিসেবেই উল্লেখ করেন। এই গুণের সাথে অন্য কিছু যোগ করার প্রয়োজন তাঁরা বোধ করেন না, যদি না সেই গুণটি অতিরিক্ত কোনো মর্যাদা বা ফযীলত বহন করে; যেমন ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী হওয়া, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হওয়া অথবা বায়আতে রিদওয়ানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। এই বিশেষ ক্ষেত্রগুলোতে তাঁরা সাহাবী হওয়ার গুণের সাথে সেই বৈশিষ্ট্যটিও যোগ করে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الرابع: أنَّ العلماءَ على مختلف العصور والدُّهور مُطْبقون على عدِّ كلِّ مَن أسلم بعد صُلح الحُديبية وظفر بصحبة النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أنَّه من أصحابه، سواء قصرت مدَّة صحبتِه أو طالت، ومِمَّا يوضِّح ذلك أنَّ المالكيَّ الذي ابتلي بالرأي الباطل، وهو قَصْر الصحبة على المهاجرين والأنصار قبل صلح الحُديبية لَم يَجد له سَلَفاً في هذا الرأي الباطل إلَاّ شخصاً واحداً من المعاصرين سَمَّاه، وهو عبد الرحمن محمد الحكمي، وقد ذكر في ملحق قراءته أنَّه طالبٌ يُواصل دراسته العليا في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، وستأتي الإشارة إلى ذلك عند ذِكر إعلان المالكي إفلاسه من وجود سلفٍ له في رأيه سوى ذلك الشخص.وبناءً على هذا الرأي الباطل، ماذا يقالُ للصَّحابة الكثيرين الذين أسلموا وصحِبوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بعد بيعة الرِّضوان وسَمعوا حديثَه؟ أيقالُ لهم: تابعون، أم ماذا يقال لهم؟!وماذا يقال لأحاديثهم: أهي مرفوعةٌ أم غيرُ مرفوعة؟!وعند أهل السنة أنَّ المرفوعَ تصريحاً ما قال فيه الصحابيُّ: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كذا، وعندهم أنَّ الإسنادَ المنتهي إلى الصحابيِّ يقال له: موقوفٌ، والمنتهي إلى التَّابعي ومَن دونه يقال له: مقطوعٌ، وما قال فيه التابعي (قال رسول الله صلى الله عليه وسلم) يقال له مرسل، وعلى هذا الرأيِ الباطل للمالكي يحتاج الأمرُ إلى إعادة النَّظر في مصطلحات علم المصطلح، وذلك واضحٌ في شذوذه وشذوذ قدوته الحكمي، ثمَّ يقال أيضاً إنَّ هذا الرأيَ المحدَث في القرن الخامس عشر لو كان خيراً لسبق إليه سلفُ هذه الأمَّة، وليس من المعقول أن يُحجب حقٌّ في العصور المختلفة عن الناس ويُدَّخَر للمالكي وقدوته!
চতুর্থত: বিভিন্ন যুগ ও শতাব্দী জুড়ে উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত যে, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন, তারা সকলেই সাহাবী হিসেবে গণ্য; তাদের সাহচর্যের সময়কাল দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, আল-মালিকী—যিনি এই বাতিল মতবাদে আক্রান্ত হয়েছেন যে সাহচর্য কেবল হুদায়বিয়ার সন্ধির পূর্বের মুহাজির ও আনসারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ—তিনি এই ভ্রান্ত মতের সপক্ষে সমসাময়িক একজন ব্যক্তি ছাড়া আর কোনো পূর্বসূরি খুঁজে পাননি। তিনি সেই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন আবদুর রহমান মুহাম্মদ আল-হাকামী। তিনি তার পাঠের পরিশিষ্টে উল্লেখ করেছেন যে, আল-হাকামী ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণারত একজন ছাত্র। মালিকী যখন তার এই মতের সপক্ষে ওই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কোনো পূর্বসূরির উপস্থিতির ক্ষেত্রে নিজের দেউলিয়াত্ব ঘোষণা করবেন, তখন এই বিষয়টি আরও বিস্তারিত আসবে।এই বাতিল মতের ভিত্তিতে, বাইয়াতে রিদওয়ানের পর যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর হাদিস শুনেছেন, সেই অসংখ্য সাহাবীদের সম্পর্কে কী বলা হবে? তাদের কি তাবিঈ বলা হবে, নাকি অন্য কিছু?!আর তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহ সম্পর্কেই বা কী বলা হবে: সেগুলো কি মারফূ (রাসূল পর্যন্ত সরাসরি সম্পৃক্ত), নাকি মারফূ নয়?!আহলে সুন্নাতের নিকট স্পষ্টভাবে 'মারফূ' হলো তা-ই, যাতে সাহাবী বলেন: 'আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনটি বলতে শুনেছি'। তাদের মতে, যে সনদের ধারা সাহাবী পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয় তাকে 'মাওকূফ' বলা হয়; আর যা তাবিঈ বা তার পরবর্তী স্তরে গিয়ে শেষ হয় তাকে 'মাকতূ' বলা হয়। আর তাবিঈ যখন সরাসরি বলেন 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন', তখন তাকে 'মুরসাল' বলা হয়। মালিকীর এই বাতিল মত গ্রহণ করলে 'ইলমুল মুসতালাহ' (হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞান)-এর সংজ্ঞাসমূহ নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন পড়বে। এর মাধ্যমে তার এবং তার আদর্শ হাকামীর মতাদর্শের বিচ্যুতি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া আরও বলা যায় যে, পনেরো শতকের এই উদ্ভাবিত মতবাদ যদি কল্যাণকর হতো, তবে উম্মাহর পূর্বসূরিগণ অবশ্যই তা গ্রহণে অগ্রণী হতেন। এটা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয় যে, কোনো সত্য যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছ থেকে গোপন থাকবে আর তা কেবল মালিকী ও তার আদর্শের অনুসারীদের জন্যই জমিয়ে রাখা হবে!
(খণ্ড: ১)
আল ইনতিসার লিস সাহাবাতিল আখইয়ার ফী রাদ্দি আবাতীলি হাসান আল মালিকী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بقي بعد ذلك أن أُشير إلى أمورٍ:الأمرُ الأوَّلُ: ما ذكره مِن أنَّ صحبةَ مَن رآه بعد الحُديبية ليست شرعية، وأنَّها كصحبة المنافقين والكفار، مردودٌ بأنَّ رؤيةَ الصحابة رؤيةٌ مع الإيمان به والتصديق بما جاء به، بخلاف رؤية المنافقين والكفار، وقد مرَّ في الدليل الثامن أنَّه لما قال للنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم رجلٌ: يا رسول الله! أرأيت من رآك فآمن بك وصدَّقك واتَّبعك: ماذا له؟ فأجابه صلى الله عليه وسلم بقوله: ((طوبى له)) .وهو واضحٌ في الفرق بين رؤية الصَّحابيِّ المصدِّق للنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم المتَّبع له، ورؤية المنافقين والكفار، ومرَّ أيضاً في أثر المقداد ـ وهو الدليلُ الرابع عشر ـ قولُه رضي الله عنه: ((والله! لقد حضر رسولَ الله صلى الله عليه وسلم أقوامٌ كبَّهم الله على مناخرهم في جهنَّم؛ لَم يُجيبوه ولَم يصدِّقوه، أوَ لَا تحمدون الله عز وجل إذ أخرجكم لا تعرفون إلَاّ ربَّكم، فتصدِّقون بما جاء به نبيُّكم صلى الله عليه وسلم، قد كُفيتم البلاء بغيركم)) .ومرَّ قولُ شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في الدليل السادس:((ولهذا لَم يُعتدَّ برؤية مَن رأى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم من الكفار والمنافقين؛ فإنَّهم لَم يروه رُؤيةَ مَن قصدُه أن يؤمن به ويكون من أتباعه وأعوانه)) .ومِمَّا تقدَّم يتَّضحُ بطلان تسوية المالكي بين صحبة مَن صحب النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بعد الحُديبية وصحبةِ المنافقين والكفار، {أَفَنَجْعَلُ المُسْلِمِينَ كَالمُجْرِمِينَ مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ} ؟!الثاني: ما ذكره في الحاشية (ص:25) من قوله: ((وقد يدخل في مسمَّى (الأصحاب) مَن أسلم بعد الحُديبية إلى فتح مكة)) .أقول: هذا الذي ذكره كلامٌ جميلٌ لو سلِمَ مِن ذكر ((قد)) في أوَّله؛
এরপর আরও কিছু বিষয়ে ইঙ্গিত করা বাকি রয়েছে:প্রথমত: হুদায়বিয়ার পর যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন তাদের সাহচর্য (সহবত) শরয়ি নয় এবং তা মুনাফিক ও কাফিরদের সাহচর্যের ন্যায়—তাঁর এই বক্তব্যটি প্রত্যাখ্যাত। কারণ, সাহাবীদের দর্শন ছিল তাঁর প্রতি ঈমান এবং তাঁর আনীত বিষয়ের সত্যায়নসহ, যা মুনাফিক ও কাফিরদের দর্শনের বিপরীত। অষ্টম দলিলে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কী রায় সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে আপনাকে দেখেছে, আপনার প্রতি ঈমান এনেছে, আপনাকে সত্যায়ন করেছে এবং আপনার অনুসরণ করেছে; তার জন্য কী রয়েছে? জবাবে তিনি বলেছিলেন: “তার জন্য সুসংবাদ।”এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যায়নকারী ও অনুসারী সাহাবীর দর্শন এবং মুনাফিক ও কাফিরদের দর্শনের মধ্যকার পার্থক্যের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। চতুর্দশ দলিলে মিকদাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায়ও এসেছে, তিনি বলেছিলেন: “আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এমন কিছু সম্প্রদায় উপস্থিত হয়েছিল যাদেরকে আল্লাহ জাহান্নামে উপুড় করে নিক্ষেপ করেছেন; কারণ তারা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি এবং তাঁকে সত্যায়ন করেনি। তোমরা কি মহান আল্লাহর প্রশংসা করবে না যে, তিনি তোমাদের এমন অবস্থায় বের করেছেন যে তোমরা তোমাদের প্রতিপালক ছাড়া অন্য কাউকে চেনো না এবং তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা তোমরা বিশ্বাস করো? অন্যদের মাধ্যমে তোমাদেরকে পরীক্ষা থেকে রক্ষা করা হয়েছে।”ষষ্ঠ দলিলে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর উক্তি অতিক্রান্ত হয়েছে:“এ কারণেই কাফির ও মুনাফিকদের মধ্যে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন তাদের দর্শনকে ধর্তব্য মনে করা হয়নি; কারণ তারা তাঁকে এমনভাবে দেখেনি যার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর অনুসারী ও সাহায্যকারী হওয়া।”উপরের আলোচনা থেকে মালকির সেই দাবির অসারতা স্পষ্ট হয়ে যায় যেখানে তিনি হুদায়বিয়ার পরবর্তী সাহাবীদের সাহচর্য এবং মুনাফিক ও কাফিরদের সাহচর্যকে সমান করেছেন। “তবে কি আমি মুসলিমদের অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কীভাবে বিচার করছ?!”দ্বিতীয়ত: তিনি টীকায় (পৃষ্ঠা: ২৫) যা উল্লেখ করেছেন: “হুদায়বিয়ার পর থেকে মক্কা বিজয় পর্যন্ত যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তারা ‘সাহাবী’ নামটির অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।”আমি বলব: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা চমৎকার কথা হতো যদি এর শুরুতে ‘হতে পারেন’ (কাদ) শব্দটি উল্লেখ করা থেকে এটি মুক্ত থাকত;