(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: -)
المفطرات الطبية المعاصرة دراسة فقهية طبية مقارنة   (عبد الرزاق الكندي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: المفطرات الطبية المعاصرة (دراسة فقهية طبية مقارنة)

المؤلف: عبد الرزاق بن عبد الله صالح بن غالب الكندي

أصل هذا الكتاب: رسالة علمية نال بها الباحث درجة الدكتوراة مع التوصية بطباعتها من كلية معارف الوحي والعلوم الإنسانية بالجامعة الإسلامية العالمية بماليزيا (IIUM)

الناشر: دار الحقيقة الكونية للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م

عدد الصفحات: 482

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1437

সমসাময়িক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ: একটি তুলনামূলক ফিকহী ও চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা   (আব্দুর রাজ্জাক আল-কিন্দি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: সমসাময়িক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (একটি তুলনামূলক ফিকহী ও চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা)

লেখক: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল্লাহ সালিহ বিন গালিব আল-কিন্দি

এই বইটির উৎস: এটি একটি গবেষণামূলক থিসিস, যার মাধ্যমে গবেষক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (IIUM)-এর কুল্লিয়াহ অব ইসলামিক রিভিল্ড নলেজ অ্যান্ড হিউম্যান সায়েন্সেস থেকে মুদ্রণের সুপারিশসহ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন

প্রকাশক: দার আল-হাকিকাহ আল-কাওনিয়াহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮2

শামেলা-র জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১)
المُفَطِّرات الطِّبية المعاصرة

دراسة فقهية طبية مقارنة

 

تأليف

د. عبد الرزاق بن عبد الله بن غالب الكِندي
সমকালীন চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ

একটি তুলনামূলক ফিকহী ও চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা

 

রচনায়

ড. আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল্লাহ বিন গালিব আল-কিন্দি
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ২)
أصل هذا الكتاب رسالة علمية نال بها الباحث درجة الدكتوراه مع التوصية بطباعتها من كلية معارف الوحي والعلوم الإنسانية بالجامعة الإسلامية العالمية بماليزيا (IIUM) .
এই গ্রন্থটি মূলত একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ, যার মাধ্যমে গবেষক মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউএম) ওহী ভিত্তিক জ্ঞান এবং মানবিক অনুষদ থেকে এটি মুদ্রণের সুপারিশসহ ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
شكر وعرفان

في مطلع هذا الكتاب يُسعدني أن أتقدم بخالص الشكر والعرفان لكل من أعانني في مسيرة هذا البحث من أطباء استشاريين وأخصائيين الذين فتحوا قلوبهم وعياداتهم لحواراتي وأسئلتي ورشدوا الجانب الطبي في هذا البحث، وأخص منهم:

- سعادة الدكتور محمد علي البار استشاري أمراض باطنة ورئيس مركز أخلاقيات الطب وكبير خبراء المجامع الفقهية.

- سعادة الدكتور خالد شامح الحميد استشاري الجراحة العامة وجراحة المناظير بمستشفى الملك فهد التخصصي والمستشفى المركزي بالقصيم.

- سعادة الدكتور سعيد بن عمر العمودي استشاري الأمراض الصدرية بالمستشفى الجامعي بمدينة جدة، وعضو هيئة التدريس بكلية الطب بجامعة الملك عبدالعزيز.

وشكري موصول لكل من أعانيي في مسيرة هذا البحث من الزملاء والأحبة.

لهم مني جميعًا خالص الشكر والتقدير، وجزاهم الله عني خير الجزاء.

«ومن لا يشكر الناس لا يشكر الله».
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি

এই গ্রন্থের প্রারম্ভে আমি সেই সকল বিশেষজ্ঞ পরামর্শক ও চিকিৎসকদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে পেরে আনন্দিত, যাঁরা এই গবেষণার পথচলায় আমাকে সহায়তা করেছেন। তাঁরা তাঁদের হৃদয় ও ক্লিনিকসমূহ আমার সাক্ষাৎকার ও প্রশ্নাবলির জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং এই গবেষণার চিকিৎসা সংক্রান্ত দিকগুলো সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন:

- মান্যবর ডক্টর মুহাম্মদ আলী আল-বার; মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসা নৈতিকতা কেন্দ্রের প্রধান এবং ফিকহ একাডেমিগুলোর প্রধান বিশেষজ্ঞ।

- মান্যবর ডক্টর খালিদ শামিখ আল-হুমাইদ; কিং ফাহদ স্পেশালিস্ট হসপিটাল ও আল-কাসিম সেন্ট্রাল হসপিটালের জেনারেল সার্জারি ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ।

- মান্যবর ডক্টর সাঈদ বিন ওমর আল-আমূদী; জেদ্দা শহরের ইউনিভার্সিটি হসপিটালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ এবং কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের শিক্ষক।

আমার এই গবেষণার পথচলায় যে সকল সহকর্মী ও প্রিয়জন আমাকে সহায়তা করেছেন, তাঁদের সকলের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তাঁদের সকলের প্রতি রইল আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর শ্রদ্ধা। আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

«যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।»
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

- توطئة.

- موضوع البحث وأهميته.

- مشكلة البحث.

- أسئلة البحث.

- أهداف البحث.

- أسباب اختيار الموضوع.

- ما سيضيفه هذا البحث.

- منهجية البحث.

- هيكل البحث.
ভূমিকা

- উপক্রমণিকা।

- গবেষণার বিষয়বস্তু ও এর গুরুত্ব।

- গবেষণার সমস্যা।

- গবেষণার প্রশ্নাবলী।

- গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ।

- বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ।

- গবেষণার নতুন সংযোজন।

- গবেষণা পদ্ধতি।

- গবেষণার রূপরেখা
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
•‌‌ توطئة:

إنّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

إنّ مما لا يخفى كون النصوص الشرعية متناهية، والمستجدات غير متناهية فلزم إرجاع تلك المستجدات إلى أصولها فكل نازلة لها حكم، وكل حادثة لها نص كلي أو تفصيلي ترجع إليه. وقد استجدت بعد الوحي حوادث ووقائع، ولم تستجد نصوص، إلا أنّ الأصول الكلية والنصوص العامة استوعبتها وجعلتها تحت الإطار العام للتشريع.

قال السرخسي: «ما من حادثة إلا وفيها حكم لله تعالى من تحليل أو تحريم أو إيجاب أو إسقاط، ومعلوم أن كل حادثة لا يوجد فيها نص، فالنصوص معدودة متناهية، ولا نهاية لما يقع من الحوادث إلى قيام الساعة، والصحابة ما اشتغلوا باعتماد نص في كل حادثة طلباً أو رواية فعرفنا أنه لا يوجد نص في كل حادثة» (1).

--------------------------------------------

(1) السرخسي، شمس الدين محمد بن أحمد، أصول السرخسي، (بيروت: دار الكتاب العلمية، الطبعة الأولى، 1414 هـ - 1993 م) ، ج 2،ص 139.
ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাথীদের উপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

এটি কারো নিকট অস্পষ্ট নয় যে, শরয়ি নস (نصوص) বা মূল পাঠসমূহ সসীম, কিন্তু নতুন উদ্ভূত ঘটনাবলী অসীম। তাই এই সকল নতুন বিষয়কে তাদের মূল উসুলের (أصول) দিকে ফিরিয়ে নেওয়া আবশ্যক। কেননা প্রতিটি নতুন সংকটের (نازلة) একটি বিধান রয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনার জন্য একটি সামগ্রিক অথবা বিস্তারিত নস (نص) রয়েছে, যার দিকে তা প্রত্যাবর্তন করে। ওহি বন্ধ হওয়ার পর অনেক নতুন ঘটনা ও পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নতুন কোনো নস (نصوص) আসেনি। তবে সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ (الأصول الكلية) এবং সাধারণ নসসমূহ (النصوص العامة) এই সমস্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এগুলোকে শরিয়ত প্রণয়নের সাধারণ কাঠামোর অধীনে নিয়ে এসেছে।

ইমাম সারাসি বলেন: «এমন কোনো ঘটনা নেই যাতে মহান আল্লাহর কোনো বিধান নেই—তা হালাল বা হারাম করা হোক, কিংবা ওয়াজিব বা রহিত করা হোক। এটি সুপরিচিত যে, প্রতিটি ঘটনার জন্য (স্বতন্ত্র) নস (نص) পাওয়া যায় না। কারণ নস (نصوص) সংখ্যায় সীমিত ও সসীম, কিন্তু কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে সেই সকল ঘটনার কোনো শেষ নেই। সাহাবীগণ প্রতিটি ঘটনার জন্য কোনো নস (نص) অনুসন্ধান বা বর্ণনা করার পেছনে লিপ্ত হননি। এর মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি যে, প্রতিটি আলাদা ঘটনার জন্য (স্বতন্ত্র) নস (نص) নেই» (১)।

--------------------------------------------

(১) সারাসি, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ, উসুল আস-সারাসি, (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ), ২য় খণ্ড, ১৩৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ولهذا بقي الإسلام شامخاً راسخاً، فاستوعب المكان وساير الزمان، فما من معضلة ولا مشكلة إلا وفيه حل لها، ولا نازلة إلا وعنده جوابها.

ولذا تعين على أهل العلم جملة النظر في كل ما استجد، وإظهار حكم الله فيه، وإعمال العقل في إخراج النوازل على النص، والنظر في الوقائع لتنال حكمها في الشرع، وطريقه إما النص في المنصوص عليه، وإما فهم النص فيما لم ينص عليه، ولا يكون ذلك إلا لذي الرأي الحصين، المدرك لعلم الشرع الشريف (1).

وهذا ما درج عليه الصحابة رضي الله عنهم.

يقول ابن القيم رحمه الله: «فالصحابة رضي الله عنهم مثلوا الوقائع بنظائرها وشبهوها بأمثالها، وردوا بعضها إلى بعض في أحكامها، وفتحوا للعلماء باب الاجتهاد، ونهجوا لهم طريقه وبينوا لهم سبيله» (2).

ويقول أبو حامد الغزالي رحمه الله: «وأشرف العلوم ما ازدوج فيها العقل والسمع، واصطحب فيه الرأي والشرع» (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: بن حميد، صالح بن عبد الله، الجامع في فقه النوازل (الرياض: مكتبة العبيكان، الطبعة الثانية 1426 هـ-2005 م)، ص 12.

(2) ابن القيم، شمس الدين محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد الزرعي، إعلام الموقعين عن رب العالمين، تحقيق: طه عبد الرؤوف سعد (بيروت: دار الجيل، الطبعة الأولى، 1973 م) ج 1، ص 217.

(3) الغزالي، أبو حامد، محمد بن محمد، المستصفى في علم الأصول،، تحقيق: محمد عبد السلام عبد الشافي، (بيروت، دار الكتب العلمية، الطبعة الأولى 1423 هـ) ص 4.
এই কারণেই ইসলাম সুউচ্চ ও সুপ্রতিষ্ঠিত রয়ে গেছে; যা স্থানকে পরিব্যাপ্ত করেছে এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছে। এমন কোনো সংকট বা সমস্যা নেই যার সমাধান এতে নেই, এবং এমন কোনো নতুন উদ্ভূত সমস্যা (نازلة) নেই যার উত্তর এর কাছে বিদ্যমান নেই।

আর এই কারণেই আলেমদের ওপর আবশ্যক হয়ে পড়েছে নতুন উদ্ভূত প্রতিটি বিষয়ের ওপর সামগ্রিক দৃষ্টি রাখা, সে বিষয়ে আল্লাহর বিধান (حكم) প্রকাশ করা এবং শরয়ী পাঠের (نص) আলোকে নতুন উদ্ভূত সমস্যাবলির (نوازل) সমাধান বের করার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োগ ঘটানো। এছাড়া শরীয়তের আলোকে ঘটনাপ্রবাহের বিধান (حكم) নির্ধারণের জন্য সেগুলো পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি। এর পদ্ধতি হলো হয় সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে শরয়ী পাঠের (نص) উপস্থিতি, অথবা যে বিষয়ে শরয়ী পাঠ (نص) নেই সে ক্ষেত্রে মূল পাঠের মর্ম উপলব্ধি করা। আর এটি কেবল সুদৃঢ় প্রজ্ঞা ও শরীয়ত বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব (১)।

আর এটিই ছিল সাহাবীগণের (صحابة) অনুসৃত পথ।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: «সাহাবীগণ (صحابة) ঘটনাপ্রবাহকে সেগুলোর সদৃশ বিষয়ের সাথে তুলনা করতেন এবং সেগুলোকে সেগুলোর সমজাতীয় বিষয়ের সাথে সাদৃশ্য দিতেন। তাঁরা বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে একটিকে অন্যটির সাথে সংযুক্ত করতেন। তাঁরা আলেমদের জন্য ইজতিহাদের (اجتهاد) দ্বার উন্মোচন করেছেন এবং তাঁদের জন্য এর পথ ও পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন» (২)।

আবু হামিদ আল-গাজালী (রহ.) বলেন: «সর্বোত্তম জ্ঞান হলো সেটি যেখানে বুদ্ধি ও শরয়ী দলীল (سمع) উভয়ের সমন্বয় ঘটেছে এবং যেখানে ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) ও শরীয়ত পরস্পর সহগামী হয়েছে» (৩)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: বিন হুমাইদ, সালিহ বিন আবদুল্লাহ, আল-জামি ফিল ফিকহিন নাওয়াযিল (রিয়াদ: মাকতাবাতুল উবায়কান, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪২৬ হি.-২০০৫ খ্রি.), পৃ. ১২।

(২) ইবনুল কাইয়্যিম, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ আল-যারয়ী, ইলামুল মুওয়াক্কিঈন আন রাব্বিল আলামিন, তাহকীক: ত্বহা আবদুর রউফ সাদ (বৈরুত: দারুল জিল, প্রথম সংস্করণ, ১৯৭৩ খ্রি.) খণ্ড ১, পৃ. ২১৭।

(৩) আল-গাজালী, আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, আল-মুসতাসফা ফি ইলমিল উসুল, তাহকীক: মুহাম্মদ আবদুস সালাম আবদুশ শাফী, (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ ১৪২৩ হি.) পৃ. ৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
•‌‌ موضوع البحث وأهميته:

يعتبر الاهتمام بمسائل النوازل سواء في العبادات أو المعاملات من فروض الكفايات التي يلزم إظهار حكم الشرع فيها، ومن أهم تلك النوازل ما يتعلق بالعبادات العينية حيث أنّها تتعلق بكل المكلفين، فتأكدت الفرضية فيها.

ومما جدّ من النوازل الفقهية الهامة مسائل ومستجدات كثيرة تتعلق بمُفَطِّرات الصيام فكَثُر السؤال عنها واضطربت الفتوى فيها، فكان تجلية الحكم الشرعي في هذه النوازل ودراستها بعد تصورها على ما هي عليه علمياً أو طبياً من المهمات التي ينبغي أن يُشمَّر لها، ومن هنا كان هذا البحث.

وعند النظر في النوازل الطبية في مُفَطِّرات الصوم نجد أنها من أدق مسائل الفقه؛ لكونها قضايا مستجدة يغلب على معظمها طابع العصر المتميز بالتعقيد والتشابك واستحداث وسائل لم تخطر على بال بشر يوماً من الدهر، والاجتهاد فيها ضرورة حتمية، وكلما وقعت واقعة احتجنا فيها إلى فتيا واجتهاد.

 

•‌‌ مشكلة البحث:

كما هو معلوم أن فقه النوازل المعاصرة من أبرز التحديات التي تواجه الفقيه المعاصر، وهذا البحث جزء من منظومة الفقه المعاصر الذي تحفه مستجدات تحتاج إلى حل فقهي، وتتركز مشكلة البحث بوجود فراغ في أمر يتعلق بأحد فروض الأعيان، وركن من أركان الإسلام، حيث إنّ نوازل المُفَطِّرات المعاصرة غير مدروسة الدراسة الاجتهادية التأصيلية المحققة التي تربط بين
•‌‌ গবেষণার বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব:

ইবাদত কিংবা লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলির (নওয়াজিল) প্রতি গুরুত্বারোপ করা ‘ফরজে কিফায়া’র অন্তর্ভুক্ত, যার শরয়ি বিধান প্রকাশ করা আবশ্যক। আর এই সমসাময়িক সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই বিষয়গুলো যা ব্যক্তির আবশ্যিক ইবাদতের (ফরজে আইন) সাথে সংশ্লিষ্ট; যেহেতু এটি সকল শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির (মুকাল্লাফ) সাথে সম্পৃক্ত, তাই এ ক্ষেত্রে গবেষণার আবশ্যকতা আরও সুনিশ্চিত হয়।

ফিকহ শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক সমস্যাবলির মধ্যে রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক মাসআলা ও নতুন নতুন বিষয় উদ্ভূত হয়েছে, যেগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি এগুলোর ফতোয়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে এই আধুনিক সমস্যাগুলোর শরয়ি বিধান স্পষ্ট করা এবং সেগুলোর বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী পর্যালোচনার পর সেগুলোকে গবেষণা করা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যার জন্য তৎপর হওয়া উচিত; আর এখান থেকেই এই গবেষণার সূত্রপাত।

রোজা ভঙ্গের কারণ সংক্রান্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক সমস্যাগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, এগুলো ফিকহ শাস্ত্রের অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাসআলা; কেননা এগুলো এমন সব নতুন উদ্ভূত বিষয় যেগুলোর অধিকাংশের ওপর বর্তমান যুগের জটিলতা, পরস্পরমুখিতা এবং এমন সব অভিনব উপকরণের প্রভাব রয়েছে যা অতীতে কোনো মানুষের চিন্তায়ও আসেনি। এগুলোর ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করা একটি অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা; আর যখনই নতুন কোনো ঘটনা ঘটে, তখনই আমাদের ফতোয়া ও ইজতিহাদের প্রয়োজন হয়।

 

•‌‌ গবেষণার সমস্যাবলি:

যেমনটি সুবিদিত যে, সমসাময়িক ফিকহি সমস্যাবলির সমাধান বর্তমান যুগের ফকিহদের সামনে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর এই গবেষণাটি সমসাময়িক ফিকহ ব্যবস্থারই একটি অংশ যা এমন সব নতুন সমস্যার বেষ্টনীতে রয়েছে যেগুলোর ফিকহি সমাধান প্রয়োজন। এই গবেষণার সমস্যাটি মূলত ইসলামের অন্যতম রোকন এবং ‘ফরজে আইন’ ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ের শূন্যতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। যেহেতু রোজা ভঙ্গের কারণ সংক্রান্ত সমসাময়িক সমস্যাবলি নিয়ে এমন কোনো মৌলিক ও সুসংগত ইজতিহাদমূলক গবেষণা সম্পন্ন হয়নি যা উভয়ের মধ্যে...
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
تقعيدات الفقهاء وتقرير الطب الحديث؛ ليقيم الناس ركناً من أركان الإسلام على الوجه الشرعي الصحيح.

كما يعالج البحث إشكالية إسقاط المُفَطِّرات الطبية المعاصرة على تقرير الفقهاء المتقدمين، وتكييفها على ضوء تخريجهم، لمجرد التشابه في الأسماء دون النظر إلى الحقيقة الطبية لها، والاكتفاء بتقريرهم الفقهي مع المفارقة الكبيرة بين الأمرين، وإن تشابهت الأسماء كما هو حاصل عند البعض في تكييف الحقن المعاصرة على ما ذكره الفقهاء المتقدمون من حقن كانت معهودة في زمانهم مع الفارق بين حقيقة كل منها؛ لذا حصل اللبس الذي سَبّب اختلافاً وتبايناً في الفتيا فيما استجد من نوازل المُفَطِّرات.

ومن جهة أخرى لمس الباحث ميلاً للتشدد في فتاوى المُفَطِّرات عند كثير من المفتين بدعوى الاحتياط في جانب العبادة، فأراد أن يسد فرضاً كفائياً مما تمس الحاجة إليه وتعم به البلوى، حيث لم يتم استيعاب دراسة مُفَطِّرات الصيام المعاصرة لا كمّاً ولا كيفاً، وكذلك إبراز سعة الشريعة ورحمتها في إمكانية جريان الخلاف في المستجدات كما جرى في سابقاتها من المسائل، فيسع الناس فيها أكثر من قول، ويصح فيها أكثر من اجتهاد فيرتفع عن الناس الحرج.

 

•‌‌ أسئلة البحث:

في ضوء ما تقدم فإن التساؤلات الرئيسة التي تحاول هذه الدراسة الإجابة عنها هي:
ফকিহগণের মূলনীতিসমূহ এবং আধুনিক চিকিৎসার সিদ্ধান্ত; যাতে মানুষ ইসলামের অন্যতম একটি রুকন সঠিক (صحيح) শরয়ি পদ্ধতিতে পালন করতে পারে।

এই গবেষণাটি সমসাময়িক চিকিৎসাবিজ্ঞানের রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোকে প্রাচীন ফকিহগণের সিদ্ধান্তের ওপর প্রয়োগের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া তাদের উদ্ভূতকরণের (تخريج) আলোকে আধুনিক বিষয়গুলোর অভিযোজন নিয়েও আলোকপাত করে, যেখানে কেবল নামগত সাদৃশ্য দেখা হয় কিন্তু সেগুলোর চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রকৃত সত্যটি বিবেচনা করা হয় না। এক্ষেত্রে ফকিহগণের ফকিহী সিদ্ধান্তের ওপরই কেবল নির্ভর করা হয়, অথচ উভয় বিষয়ের মধ্যে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান। যেমনটি বর্তমান সময়ের ইঞ্জেকশনকে প্রাচীন ফকিহগণের যুগে প্রচলিত ইঞ্জেকশনের ওপর প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কিছু মানুষের মাঝে ঘটে থাকে, যদিও উভয়ের প্রকৃত অবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে যা রোজা ভঙ্গকারী নতুন উদ্ভাবিত সমস্যাগুলোর ফতোয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ ও বৈচিত্র্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, গবেষক অনেক মুফতির ফতোয়ার ক্ষেত্রে ইবাদতের বিষয়ে সতর্কতার অজুহাতে কঠোরতার প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন। তাই তিনি একটি ফরজে কিফায়া পালনের ইচ্ছা করেছেন যার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম এবং যা সর্বসাধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট, কারণ রোজা ভঙ্গকারী আধুনিক বিষয়াবলি নিয়ে পরিমাণগত বা গুণগত কোনো দিক থেকেই কোনো পূর্ণাঙ্গ গবেষণা সম্পন্ন হয়নি। পাশাপাশি শরিয়তের ব্যাপকতা ও রহমতকে ফুটিয়ে তোলাও এর উদ্দেশ্য, যাতে নতুন উদ্ভূত মাসআলাগুলোতে পূর্ববর্তী মাসআলাগুলোর মতোই মতপার্থক্যের সুযোগ থাকে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক অভিমত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে এবং একাধিক ইজতিহাদ (اجتهاد) সঠিক (صحيح) বলে গণ্য হতে পারবে, ফলে মানুষের থেকে সংকীর্ণতা দূর হবে।

 

•‌‌ গবেষণার প্রশ্নাবলি:

উপরোক্ত আলোচনার আলোকে এই গবেষণার উত্তর প্রদানের মূল প্রশ্নগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
1 - ما أهمية دراسة المُفَطِّرات الطبية المعاصرة؟

2 - ما حكم دراسة النوازل المعاصرة؟ ومن يملك حق الفتيا فيها؟

3 - كيف نحدد ضابط المُفَطِّرات؟

4 - ما التيسير في باب المُفَطِّرات الطبية المعاصرة في ضوء القول الراجح؟

5 - ما المُفَطِّرات الطبية المعاصرة؟ وما الإضافة العلمية فيها، وما حكمها في ضوء الفقه والطب الحديث؟

 

•‌‌ أهداف البحث:

في ضوء موضوع البحث وتساؤلاته تتحدد أهداف البحث في النقاط التالية:

1 - بيان أهمية دراسة المُفَطِّرات الطبية المعاصرة، وشروط الفتيا فيها، ومن يملك حق الإفتاء فيها.

2 - إظهار الحكم الشرعي في المُفَطِّرات الطبية المعاصرة؛ ليؤدي الناس عبادتهم على الوجه الصحيح.

3 - إظهار جانب الرحمة في مسائل المُفَطِّرات المعاصرة، وأنها من المسائل التي يسع الأمة تعدد الاجتهادات فيها.

4 - دراسة وتأصيل ما لم يدرس من مُفَطِّرات الصيام المعاصرة، واستكمال ما لم يُسْتكمل.

5 - وضع التصور الصحيح للمُفَطِّرات الطبية المعاصرة؛ ليتم الحكم
1 - সমকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ (المُفَطِّرات) অধ্যয়নের গুরুত্ব কী?

2 - সমকালীন উদ্ভূত সমস্যাবলি (النوازل) অধ্যয়নের বিধান (حكم) কী? এবং এ বিষয়ে ফতোয়া (الفتيا) প্রদানের অধিকার কার রয়েছে?

3 - রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের (المُفَطِّرات) মানদণ্ড (ضابط) আমরা কীভাবে নির্ধারণ করব?

4 - অগ্রগণ্য মতামতের (القول الراجح) আলোকে সমকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের অধ্যায়ে সহজীকরণ (التيسير) কী?

5 - সমকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ (المُفَطِّرات) কী কী? এ ক্ষেত্রে ইলমি সংযোজন কী, এবং ফিকহ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে এগুলোর বিধান (حكم) কী?

 

•‌‌ গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ:

গবেষণার বিষয়বস্তু এবং এর প্রশ্নাবলির আলোকে গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোতে নির্ধারণ করা হয়েছে:

1 - সমকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ (المُفَطِّرات) অধ্যয়নের গুরুত্ব, এ বিষয়ে ফতোয়া (الفتيا) প্রদানের শর্তাবলি এবং এতে ফতোয়া (الإفتاء) প্রদানের অধিকার কার রয়েছে তা বর্ণনা করা।

2 - সমকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের (المُفَطِّرات) শরয়ী বিধান (الحكم الشرعي) প্রকাশ করা; যাতে মানুষ তাদের ইবাদত সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করতে পারে।

3 - সমকালীন রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের মাসআলাগুলোতে রহমতের দিকটি ফুটিয়ে তোলা এবং এটি এমন এক বিষয় যাতে উম্মাহর জন্য ইজতিহাদের (الاجتهادات) ভিন্নতা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

4 - সমকালীন রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের (مُفَطِّرات الصيام) মধ্যে যেগুলো এখনও অধ্যয়ন করা হয়নি সেগুলো অধ্যয়ন করা ও সেগুলোর মৌলিক ভিত্তি (تأصيل) প্রদান করা এবং যা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে তা সম্পন্ন করা।

5 - সমকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ (المُفَطِّرات) সম্পর্কে সঠিক ধারণা (التصور) উপস্থাপন করা; যাতে বিধান (الحكم) প্রদান সম্পন্ন করা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
عليها على ضوئه، فالحكم على الشيء فرع عن تصوره، وفهم النازلة نصف الاجتهاد.

 

•‌‌ أسباب اختيار الموضوع:

مما دفع بي لدراسة هذا الموضوع أسباب عدة أهمها:

أولاً: دراسة النوازل المتعلقة بالعبادات العينية من أهم المهمات التي يجب أن يظهر فيها الحكم الشرعي ليؤدي الناس عباداتهم على الوجه الصحيح.

ثانياً: مُفَطِّرات الصيام الطبية المعاصرة لم تدرس دراسة مُفصلة إلا نزرٌ يسير منها تم بحثه من قِبَل مجمع الفقه الإسلامي في دورته العاشرة بحثاً إجمالياً، ولم يدرسها دراسة أكاديمية مقارنة، مع وجود الحاجة الملحة لدراستها وتأصيلها فقهياً بعد تصورها على ما هي عليه من خلال أهل الاختصاص.

ثالثاً: إقامة الفرض الكفائي الذي يرى الباحث أنه لم يُسد في هذا الباب، فدراسة المُفَطِّرات الطبية المعاصرة فرض كفاية، والباحث يرجو ثواب سد هذا الفرض الكفائي.

رابعاً: لم يجد الباحث من تقدم لبحث المُفَطِّرات المعاصرة إلا ما كان من بحوث قصيرة تناولتها بالعرض الإجمالي، ولم تدرسها دراسة فقهية مقارنة مع أهميتها وقيام الحاجة لذلك.

خامساً: الرغبة في إظهار جانب الرحمة والتيسير في المُفَطِّرات الطبية
তার আলোকে; কেননা কোন বিষয় সম্পর্কে হুকুম প্রদান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ উক্ত বিষয়টি অনুধাবনেরই একটি শাখা, আর সমসাময়িক সমস্যা (نازلة) অনুধাবন করা ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর অর্ধেক।

 

•‌‌ বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:

এই বিষয়টি অধ্যয়নে আমাকে যে কারণগুলো উদ্বুদ্ধ করেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হলো:

প্রথমত: ব্যক্তিগত ইবাদত সংক্রান্ত সমসাময়িক সমস্যাসমূহ (نوازل) নিয়ে গবেষণা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে শরয়ি বিধান (الحكم الشرعي) স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাওয়া আবশ্যক, যাতে মানুষ তাদের ইবাদতসমূহ সঠিক পদ্ধতিতে পালন করতে পারে।

দ্বিতীয়ত: রোজা ভঙ্গকারী আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিসমূহ (مفطرات) নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা হয়নি; কেবল সামান্য কিছু বিষয় ছাড়া যা ইসলামী ফিকহ একাডেমি তাদের দশম অধিবেশনে সামগ্রিকভাবে আলোচনা করেছে। এটি নিয়ে কোনো তুলনামূলক প্রাতিষ্ঠানিক বা অ্যাকাডেমিক গবেষণা সম্পন্ন হয়নি, অথচ বিশেষজ্ঞগণের মাধ্যমে এই বিষয়গুলোর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করার পর এগুলোর ফিকহ শাস্ত্রীয় মূল ভিত্তি নির্ধারণ (تأصيل) ও গবেষণার জোরালো প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তৃতীয়ত: সামষ্টিক ফরজ (فرض كفاية) আদায় করা, যা গবেষকের নিকট মনে হয়েছে যে এই ক্ষেত্রে তা এখনও পরিপূর্ণভাবে সম্পাদিত হয়নি। রোজা ভঙ্গকারী আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো (مفطرات) নিয়ে গবেষণা করা একটি সামষ্টিক ফরজ (فرض كفاية), আর গবেষক এই সামষ্টিক ফরজ (فرض كفاية) আদায়ের সওয়াব প্রত্যাশা করেন।

চতুর্থত: আধুনিক রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ নিয়ে যারা ইতিপূর্বে কাজ করেছেন, গবেষক তাদের মধ্যে এমন কাউকে পাননি যারা একে সামগ্রিক আলোচনার ঊর্ধ্বে গিয়ে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছেন; বিশেষ করে এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও কোনো তুলনামূলক ফিকহ ভিত্তিক গবেষণা সম্পাদিত হয়নি।

পঞ্চমত: চিকিৎসা সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর (مفطرات) ক্ষেত্রে ইসলামের রহমত ও সহজীকরণের দিকটি ফুটিয়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المعاصرة من خلال عرض التكييف الفقهي لها في ضوء المذاهب الأربعة فيسع الأمة فيها ما وسعهم في المسائل الاجتهادية السابقة.

 

•‌‌ ما ستضيفه هذه الدراسة:

بعد البحث والتنقيب لم أجد من استوعب دراسة النوازل في باب المُفَطِّرات الطبية المعاصرة بدراسة فقهية مستوعبة لا من حيث الكم ولا من حيث الكيف؛ ولذا فإن الذي ستضيفه دراسة الباحث هو استقراء للمُفَطِّرات المعاصرة ودراستها، وتصويرها تصويراً واضحاً في ضوء معطيات الطب المعاصر.

كما أن هذه الدراسة سوف تدرس النازلة دراسة تأصيلية تُكَيِّف فيها النازلة، ثم تُخرج حكمها حسب المذاهب الأربعة، وتجري دراسة مقارنة فيما بينها، ثم تدرسها في ضوء ما قرره الطب المعاصر، ثم تجري دراسة مقارنة بين ما وصل إليه الحكم في التخريج الفقهي وبين ما قرره الطب المعاصر للخروج بحكم واضح للمسألة، كما سيقوم بحلحلة بعض الاتجاهات الساكنة داخل أروقة المذاهب الفقهية؛ لتصبح الصورة جلية للدارسين والمفتين وأهل الاختصاص بجذورها القديمة، وامتداداتها المعاصرة.

إضافة إلى ترجيح الباحث في ضوء المعطيات السابقة، فإن البحث سيُظهر كون مسائل المُفَطِّرات المعاصرة من مسائل الاجتهاد التي يسع فيها الخلاف وتعدد الاجتهاد، وذلك مصدر تيسير ورحمة، واللهَ أرجو أن يبارك في هذا البحث ويجعل فيه إثراءً للمكتبة الإسلامية بدراسة مستوعبة مُعمقة.
সমকালীন বিষয়াবলি চার মাযহাবের আলোকে সেগুলোর ফিকহি বিশ্লেষণ (التكييف الفقهي) উপস্থাপনের মাধ্যমে উম্মাহর জন্য এতে সেই প্রশস্ততা ও সুযোগ তৈরি হবে, যা পূর্ববর্তী ইজতিহাদমূলক (اجتهادية) মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে ছিল।

 

•‌‌ এই গবেষণার সংযোজন:

ব্যাপক অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি সমকালীন চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (المُفَطِّرات) এবং উদ্ভূত সমসাময়িক সমস্যাবলির (النوازل) ওপর পরিমাণ বা গুণগত কোনো দিক থেকেই একটি পূর্ণাঙ্গ ফিকহি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। তাই গবেষকের এই কাজটি মূলত সমকালীন রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের একটি সামগ্রিক অনুসন্ধান (استقراء) ও বিশ্লেষণ এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উপাত্তের ভিত্তিতে সেগুলোর একটি সুস্পষ্ট চিত্রায়ন।

তদুপরি, এই গবেষণায় প্রতিটি নতুন উদ্ভূত সমস্যাকে (النازلة) এর মৌলিক নীতিভিত্তিক (تأصيلية) পর্যালোচনার মাধ্যমে এর ফিকহি স্বরূপ বিশ্লেষণ (تُكَيِّف) করা হবে। অতঃপর চার মাযহাব অনুযায়ী সেগুলোর বিধান (حكم) নিরসন করা হবে এবং মাযহাবগুলোর মাঝে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা পরিচালনা করা হবে। এরপর আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পরবর্তীতে ফিকহি নিরসন (التخريج الفقهي) থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে মাসআলার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট বিধানে পৌঁছানো হবে। পাশাপাশি এটি ফিকহি মাযহাবগুলোর অভ্যন্তরে বিদ্যমান স্থবির কিছু চিন্তাধারাকেও গতিশীল করবে; যাতে গবেষক, মুফতি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণের নিকট মাসআলাগুলোর প্রাচীন মূল ভিত্তি এবং সমকালীন প্রয়োগের চিত্রটি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পূর্বোক্ত উপাত্তসমূহের ভিত্তিতে গবেষকের প্রাধান্য দানকৃত (ترجيح) মতের পাশাপাশি এই গবেষণাটি এটিও ফুটিয়ে তুলবে যে, সমকালীন রোজা ভঙ্গকারী মাসআলাগুলো মূলত ইজতিহাদ (الاجتهاد) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে মতপার্থক্য এবং একাধিক ইজতিহাদের অবকাশ রয়েছে। আর এটিই হচ্ছে সহজসাধ্যকরণ ও রহমতের উৎস। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই গবেষণায় বরকত দান করেন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ও গভীর গবেষণার মাধ্যমে ইসলামি জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার তাওফিক দেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
•‌‌ منهجية البحث:

اعتمدت في بحثي على المنهجية الآتية:

1 - المنهج الاستقرائي: وذلك بتتبع جميع النوازل الطبية المعاصرة في باب المُفَطِّرات من جميع مظانها.

2 - المنهج الوصفي: وذلك بعرض جميع المُفَطِّرات الطبية المعاصرة، وتصويرها وفق ما توصل إليه الطب المعاصر من خلال المراجع الطبية المختصة، ومحاورة الأطباء المختصين.

3 - المنهج التحليلي: وذلك بدراسة مفردات البحث بأسلوب علمي واضح مستخدما تنظيما معينا للوصول إلى الحقائق والنتائج.

4 - المنهج المقارن: وذلك بالمقارنة بين أقوال الفقهاء وتأصيلهم، وبين نتائج الطب المعاصر. للوصول إلى القول الراجح.

وقد اعتمدت في جمع معلومات البحث على المصادر والمراجع والأبحاث المتخصصة في الطب والفقه، ومزجت ذلك برؤية فقهية تأصيلية تتناسب مع المستجدات المعاصرة في باب المفطرات، وكان ذلك على النحو الآتي:

أولاً الجانب الفقهي: أعتمدت على الكتب المعتمدة في كل مذهب، والتي استقرت المذاهب على اعتمادها أو ما استقر على كونه مرجعية معتمدة عند الأئمة في الفقه المقارن كالمجموع للنووي والمغني لابن قدامة، وشرقت وغربت بين
‌‌ গবেষণার পদ্ধতি:

আমি আমার গবেষণায় নিম্নোক্ত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছি:

১ - আরোহী পদ্ধতি (المنهج الاستقرائي): আর তা হলো রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (المُفَطِّرات) সম্পর্কিত অধ্যায়ে বিদ্যমান সমসাময়িক সকল চিকিৎসা সংক্রান্ত নবউদ্ভূত মাসআলাগুলো (النوازل) এর সম্ভাব্য সকল উৎস থেকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে।

২ - বর্ণনামূলক পদ্ধতি (المنهج الوصفي): আর তা হলো সমসাময়িক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে রোজা ভঙ্গকারী সকল বিষয় উপস্থাপন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে আলোচনা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা শাস্ত্রীয় সূত্রের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অর্জিত ফলাফলের আলোকে সেগুলোর বাস্তব রূপ চিত্রায়ণের মাধ্যমে।

৩ - বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি (المنهج التحليلي): আর তা হলো গবেষণার প্রতিটি বিষয়কে একটি সুনির্দিষ্ট বিন্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করা, যাতে করে সঠিক তথ্য ও ফলাফলে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

৪ - তুলনামূলক পদ্ধতি (المنهج المقارن): ফকিহগণের বক্তব্য ও তাঁদের মৌলিক নীতি নির্ধারণের (تأصيل) সাথে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ফলাফলের তুলনা করার মাধ্যমে; যাতে করে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মতে (القول الراجح) পৌঁছানো যায়।

গবেষণার তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ফিকহ শাস্ত্রের বিশেষায়িত উৎস, রেফারেন্স ও গবেষণাপত্রগুলোর ওপর নির্ভর করেছি এবং রোজা ভঙ্গকারী বিষয় সংক্রান্ত অধ্যায়ে সমসাময়িক নতুন পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি তাত্ত্বিক ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় করেছি। আর তা সম্পাদিত হয়েছে নিম্নোক্তভাবে:

প্রথমত ফিকহী দিক: আমি প্রতিটি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, যেগুলোর ওপর মাযহাবসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অথবা যা তুলনামূলক ফিকহ (الفقه المقارن) শাস্ত্রে ইমামগণের নিকট নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে স্বীকৃত। যেমন ইমাম নববীর আল-মাজমু এবং ইবনে কুদামার আল-মুগনি। আমি এগুলোর মধ্যে ব্যাপক বিচার-বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান চালিয়েছি...
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
المكتبات الجامعية والعامة إضافة إلى مكتبتي الشخصية.

ثانياً الجانب الطبي: فقد ترددت على المستشفيات الجامعية والتخصصية والمركزية، وقابلت الأطباء الاستشاريين والأخصائيين، وحاورتهم ووثقت حواراتهم مكتوبة ومسجلة، كما حاورت كبير خبراء المجامع الفقهية في المجال الطِّبي (1)، بالإضافة إلى الإبحار في المراجع والمواقع الطِّبية المختصة، وقد بلغ عدد من حاورت من الاستشاريين والأخصائيين سبعة عشر استشاري وأخصائي، بالإضافة إلى مراسلة اثنين آخرين.

وقد تعاملت مع هذه المعلومات وفق منهجية علمية لدراسة النوازل المعاصرة من حيث التصوير أولاً ثم التكييف والتخريج مبيناً ما لم يتضح ومستدلاً لأقوال المذاهب والمعاصرين، ومناقشة ما يرد عليها من اعتراضات والجواب عنها إن وُجد، ثم استخلاص الراجح منها مبيناً أسباب الترجيح.

 

•‌‌ هيكل البحث:

لتحقيق الأهداف المنشودة من البحث، ووفقاً للمنهجية المتبعة فقد جعلت هيكل البحث مكوناً من مقدمة وثلاثة فصول وخاتمة على الترتيب الآتي:

المقدمة: واشتملت على:

--------------------------------------------

(1) الدكتور محمد علي البار، حيث حاورته في عيادته الخاصة بمدينة جدة وقد فتح لي قلبه وصدره وأفادني في العديد من المسائل.
বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ গ্রন্থাগারসমূহ এবং সেই সাথে আমার ব্যক্তিগত পাঠাগার।

দ্বিতীয়ত, চিকিৎসা শাস্ত্রীয় দিক: আমি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত এবং কেন্দ্রীয় হাসপাতালগুলোতে যাতায়াত করেছি। আমি বিশেষজ্ঞ পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাঁদের সাথে আলোচনা করেছি এবং তাঁদের কথোপকথন লিখিত ও রেকর্ডকৃত আকারে সংরক্ষণ করেছি। পাশাপাশি আমি চিকিৎসা ক্ষেত্রে ফিকহ একাডেমিগুলোর প্রধান বিশেষজ্ঞের (১) সাথেও আলোচনা করেছি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত রেফারেন্স গ্রন্থ ও ওয়েবসাইটগুলোতে বিস্তারিত অনুসন্ধান করেছি। আমি যে সকল পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করেছি তাঁদের সংখ্যা সতেরোজন, এছাড়া আরও দুইজনের সাথে পত্রালাপ করেছি।

আমি এই তথ্যাবলিকে সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলি (نوازل) অধ্যয়নের একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আলোকে বিশ্লেষণ করেছি। এক্ষেত্রে প্রথমে বিষয়টির চিত্রায়ন (تصوير), এরপর আইনি স্বরূপ নির্ধারণ (تكييف) এবং মূলনীতির ভিত্তিতে মাসআলা উদ্ভাবন (تخريج) করেছি। যা অস্পষ্ট ছিল তা ব্যাখ্যা করেছি এবং বিভিন্ন মাযহাব ও সমসাময়িক আলিমদের মতামতের সপক্ষে দলিল উপস্থাপন করেছি। উত্থাপিত আপত্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সেগুলোর উত্তর থাকলে তা প্রদান করেছি। অতঃপর সেগুলোর মধ্য থেকে অগ্রাধিকারযোগ্য (راجح) মতটি গ্রহণ করেছি এবং অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) কারণসমূহ স্পষ্ট করেছি।

 

•‌‌ গবেষণার কাঠামো:

গবেষণার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এবং অনুসৃত পদ্ধতি অনুযায়ী আমি গবেষণার কাঠামোকে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারের সমন্বয়ে নিম্নোক্ত বিন্যাসে সাজিয়েছি:

ভূমিকা: এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) ডক্টর মুহাম্মদ আলী আল-বার; জেদ্দা শহরে তাঁর নিজস্ব ক্লিনিকে আমি তাঁর সাথে আলোচনা করেছি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমাকে সময় দিয়েছেন এবং অনেকগুলো বিষয়ে আমাকে উপকৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
(توطئة، موضوع البحث وأهميته، مشكلة البحث، أسئلة البحث، أهداف البحث، أسباب اختيار الموضوع، ما سيضيفه هذا البحث، منهجية البحث، هيكل البحث)

الفصل الأول: التعريفات المنهجية، وأهمية دراسة نوازل الصيام، وضوابط الفتيا فيها، والعلاقة بين الفقه والطب، وفيه مباحث:

المبحث الأول: التعريفات المنهجية لعنوان البحث.

المبحث الثاني: أهمية دراسة النوازل في باب المُفَطِّرات.

المبحث الثالث: شروط الفتوى في النوازل، ومن له حق الإفتاء فيها.

المبحث الرابع: العلاقة بين الفقه والطب.

المبحث الخامس: حكم التداوي.

الفصل الثاني: تقرير قواعد الفقهاء في باب المُفَطِّرات، وفيه مباحث:

المبحث الأول: المُفَطِّرات المجمع عليها والمختلف فيها.

المبحث الثاني: الموسعون والمضيقون في باب المُفَطِّرات.

المبحث الثالث: تحديد الجوف وضابطه عند الفقهاء والأطباء.

المبحث الرابع: ضابط المُفَطِّرات.

الفصل الثالث: المُفَطِّرات الطبية المعاصرة، وفيه مباحث.

المبحث الأول: ما يدخل الجسم عبر منافذ الوجه، وفيه مطالب.

المطلب الأول: بخاخ الربو، وملحقاته.
(প্রস্তাবনা, গবেষণার বিষয় ও এর গুরুত্ব, গবেষণার সমস্যাবলি, গবেষণার প্রশ্নসমূহ, গবেষণার লক্ষ্যসমূহ, বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ, এই গবেষণার মৌলিক সংযোজন, গবেষণার পদ্ধতি, গবেষণার রূপরেখা)

প্রথম অধ্যায়: পদ্ধতিগত সংজ্ঞাসমূহ, সিয়ামের সমসাময়িক মাসআলা অধ্যয়নের গুরুত্ব, সেগুলোর ব্যাপারে ফতোয়া প্রদানের নীতিমালা এবং ফিকহ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্ক; এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণার শিরোনামের পদ্ধতিগত সংজ্ঞাসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ সংক্রান্ত সমসাময়িক মাসআলা অধ্যয়নের গুরুত্ব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সমসাময়িক মাসআলার ক্ষেত্রে ফতোয়া প্রদানের শর্তাবলি এবং ফতোয়া প্রদানের অধিকার।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিকহ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্ক।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: চিকিৎসার বিধান।

দ্বিতীয় অধ্যায়: রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ সংক্রান্ত ফকিহগণের মূলনীতি নির্ধারণ; এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গের সর্বসম্মত ও মতভেদপূর্ণ কারণসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতা অবলম্বনকারীগণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফকিহ ও চিকিৎসকদের নিকট শরীরের অভ্যন্তরীণ ফাঁপা অংশের সীমানা ও তার মানদণ্ড।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের মানদণ্ড।

তৃতীয় অধ্যায়: আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ; এতে রয়েছে কয়েকটি পরিচ্ছেদ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: যা চেহারার প্রবেশপথ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে; এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: অ্যাজমা ইনহেলার ও তার অনুষঙ্গসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثاني: غاز الأكسجين.

المطلب الثالث: استنشاق غاز التخدير.

المطلب الرابع: استخدام معجون الأسنان ومطهرات الفم ومعالِجاته.

المطلب الخامس: منظار المعدة.

المطلب السادس: قطرات الأنف وملحقاتها.

المطلب السابع: قطرات الأذن وملحقاتها.

المطلب الثامن: قطرات العين وملحقاتها.

المطلب التاسع: الأقراص العلاجية التي توضع تحت اللسان.

المبحث الثاني: ما يدخل الجسم عبر الجلد نفاذاً وامتصاصاً، وفيه مطالب:

المطلب الأول: الحقن العضلية والجلدية والوريدية.

المطلب الثاني: حَقْن الدم.

المطلب الثالث: الغسيل الكلوي البريتوني (الصفاقي).

المطلب الرابع: منظار البطن.

المطلب الخامس: إدخال القسطرة في الشرايين للتصوير أو العلاج.

المطلب السادس: الدهانات والمراهم واللصقات العلاجية.

المبحث الثالث: ما يدخل الجسم عبر الجهاز التناسلي والشرج، وفيه مطالب:

المطلب الأول: ما يدخل عبر الجهاز التناسلي للمرأة.

المطلب الثاني: ما يدخل عبر الجهاز البولي.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অক্সিজেন গ্যাস।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অ্যানেস্থেশিয়া বা সংজ্ঞালোপকারী গ্যাস গ্রহণ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ এবং মুখগহ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপকরণের ব্যবহার।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গ্যাস্ট্রোস্কোপি বা পাকস্থলী বীক্ষণ যন্ত্র।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নাকের ড্রপ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: কানের ড্রপ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: চোখের ড্রপ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।

নবম পরিচ্ছেদ: জিহ্বার নিচে রাখা ঔষধি ট্যাবলেট।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ত্বক ভেদ করে বা শোষণের মাধ্যমে শরীরে যা প্রবেশ করে, এবং এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মাংশপেশি, ত্বক এবং শিরার ইনজেকশন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রক্ত সঞ্চালন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ল্যাপারোস্কোপি বা উদর বীক্ষণ যন্ত্র।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার জন্য ধমনিতে ক্যাথেটার প্রবেশ করানো।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: প্রলেপ, মলম এবং ঔষধি ব্যান্ডেজ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: প্রজননতন্ত্র এবং পায়ুপথ দিয়ে শরীরে যা প্রবেশ করে, এবং এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নারীর প্রজননতন্ত্র দিয়ে যা প্রবেশ করে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূত্রনালি দিয়ে যা প্রবেশ করে।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
المطلب الثالث: ما يدخل عن طريق الشرج.

المبحث الرابع: (الخارج من البدن) وفيه مطالب:

المطلب الأول: الغسيل الكلوي الدموي.

المطلب الثاني: التبرع بالدم.

المطلب الثالث: سحب الدم للتحليل.

المطلب الرابع: شفط الدهون.

الخاتمة: وتشمل: النتائج والتوصيات.

قائمة المصادر والمراجع.

الملاحق.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মলদ্বার দিয়ে যা প্রবেশ করে।

চতুর্থ বিভাগ: (শরীর হতে নির্গত বস্তু) এবং এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হিমোডায়ালাইসিস।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রক্তদান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পরীক্ষার জন্য রক্ত সংগ্রহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মেদ অপসারণ।

উপসংহার: এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: ফলাফল ও সুপারিশমালা।

উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা।

পরিশিষ্টসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول

التعريفات المنهجية، وأهمية دراسة نوازل الصيام، وضوابط الفتيا فيها، والعلاقة بين الفقه والطب

وفيه مباحث:

- المبحث الأول: التعريفات المنهجية للمُفَطِّرات الطبية المعاصرة.

- المبحث الثاني: أهمية دراسة النوازل في باب المُفَطِّرات.

- المبحث الثالث: شروط الفتوى في النوازل، ومن له حق الإفتاء فيها.

- المبحث الرابع: العلاقة بين الفقه والطب.

- المبحث الخامس: حكم التداوي.
‌প্রথম অধ্যায়

পদ্ধতিগত সংজ্ঞাসমূহ, সিয়ামের সমসাময়িক মাসআলা পর্যালোচনার গুরুত্ব, সে সংক্রান্ত ফতোয়া প্রদানের নীতিমালা এবং ফিকহ ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্ক

এতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ রয়েছে:

- প্রথম পরিচ্ছেদ: আধুনিক চিকিৎসায় রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের পদ্ধতিগত সংজ্ঞাসমূহ।

- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের অধ্যায়ে সমসাময়িক মাসআলা পর্যালোচনার গুরুত্ব।

- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সমসাময়িক মাসআলার ক্ষেত্রে ফতোয়া প্রদানের শর্তাবলি এবং এতে কার ফতোয়া প্রদানের অধিকার রয়েছে।

- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ফিকহ ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্ক।

- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: চিকিৎসা গ্রহণের বিধান।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الأول

التعريفات المنهجية للمُفَطِّرات الطبية المعاصرة

وفيه مطالب:

- المطلب الأول: تعريف الصيام.

- المطلب الثاني: تعريف المُفَطِّرات.

- المطلب الثالث: استخدام مصطلح المُفَطِّرات.

- المطلب الرابع: تعريف الطب.

المطلب الخامس: تعريف المعاصرة.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

সমকালীন চিকিৎসা-সংক্রান্ত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের পদ্ধতিগত সংজ্ঞাসমূহ

এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

- প্রথম অনুচ্ছেদ: সিয়ামের সংজ্ঞা।

- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের সংজ্ঞা।

- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ‘রোজা ভঙ্গকারী’ পরিভাষাটির প্রয়োগ।

- চতুর্থ অনুচ্ছেদ: চিকিৎসাশাস্ত্রের সংজ্ঞা।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: সমকালীনতার সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
تمهيد

يتناول هذا المبحث التعريف بأهم المفاهيم والمصطلحات المستخدمة في البحث، والتي توضح الركائز الأساسية التي يشتمل عليها البحث، وتعطي صورة عن أهم القوالب التي يتركب منها، كما يُبيِّن الضوابط العلمية والمنهجية لدراسة النوازل المعاصرة من منظور فقهي، ومدى الترابط بين الفقه والطب، وذلك ليتم الدخول للبحث من نافذة سليمة، ومسلك واضح.

 

‌‌المطلب الأول: تعريف الصوم:

لغة: الصيام في اللغة كلمة تدل على الإمساك، والترك، والركود في المكان.

قال ابن فارس: «الصاد، والواو، والميم أصلٌ يدلُّ على إِمساكٍ وركودٍ في مكان» (1).

والصوم الإمساك عن الشيء، والترك له، ولذلك قيل للصائم: صائماً لإمساكه عن الشراب والطعام والنكاح، وقيل للصامت صائماً؛ لإمساكه عن الكلام. ومنه قوله تعالى: {إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا} [مريم:26].

--------------------------------------------

(1) ابن فارس، أبو الحسين أحمد بن فارس بن زكريا، معجم مقاييس اللغة، تحقيق: عبد السلام هارون، (بيروت: دار الجيل، الطبعة الثانية،1420 هـ-1999 م) ، ج 3، ص 323.
উপক্রমণিকা

এই পরিচ্ছেদে গবেষণায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ও পরিভাষাগুলোর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে, যা গবেষণার মৌলিক ভিত্তিগুলোকে স্পষ্ট করে এবং এর কাঠামোগত রূপরেখা প্রদান করে। পাশাপাশি এতে সমকালীন নতুন উদ্ভূত সমস্যা (نوازل) ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যালোচনার বৈজ্ঞানিক ও পদ্ধতিগত মূলনীতিসমূহ এবং ফিকহ ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে একটি সঠিক বাতায়ন ও সুস্পষ্ট পথ ধরে গবেষণায় প্রবেশ করা যায়।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: রোজার সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থ (لغة): অভিধানে 'সিয়াম' শব্দটি বিরত থাকা, বর্জন করা এবং কোনো স্থানে স্থবির থাকা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

ইবনে ফারিস বলেন: "সোয়াদ, ওয়াও এবং মিম এমন একটি মূল যা বিরত থাকা এবং কোনো স্থানে স্থির হওয়াকে নির্দেশ করে।" (১)

আর সওম হলো কোনো কিছু থেকে বিরত থাকা ও তা বর্জন করা। এজন্যই রোজাদারকে পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার কারণে 'সায়েম' বলা হয়। অনুরূপভাবে নীরব ব্যক্তিকেও কথা বলা থেকে বিরত থাকার কারণে 'সায়েম' বলা হয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: "আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে রোজা (মৌনতা) পালনের মানত করেছি, সুতরাং আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কথা বলব না।" [মারইয়াম: ২৬]।

--------------------------------------------

(১) ইবনে ফারিস, আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে ফারিস ইবনে জাকারিয়া, মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ, তাহকিক: আবদুস সালাম হারুন, (বৈরুত: দারুল জিল, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪২০ হিজরি-১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩২৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال أبو عبيدة: «كل ممسك عن طعام، أو كلام، أو سَير، فهو صائم» (1).

اصطلاحاً: الصوم في الاصطلاح يحمل نفس المعنى اللُغوي، إلّا أنَّه إمساك خاص، تميز ببعض التقييدات، ويكاد يكون تعريفه في الاصطلاح الشرعي محل اتفاق بين المذاهب في الجملة، ويقع الخلاف فيما أجملوه في التعريف من المُفَطِّرات التي يمتنع على الصائم تناولها، وهذا طرف من تعريفات المذاهب الأربعة للصوم.

تعريف الحنفية: هو إمساك مخصوص، من شخص مخصوص، في وقت مخصوص (2).

تعريف المالكية: الإمساك عن شهوتي الفم، والفرج، وما يقوم مقامهما، مخالفةً للهوى في طاعة المولى، في جميع أجزاء النهار، وبِنِيَّة قبل الفجر، أو معه إن أمكن (3).

تعريف الشافعية: إمساك مخصوص، في زمن مخصوص، من شخص مخصوص (4).

--------------------------------------------

(1) ابن منظور، محمد بن مكرم الأفريقي المصري، لسان العرب، (بيروت: دار صادر، الطبعة الأولى، د. ت) ج 12، ص 351.

(2) السرخسي، شمس الدين محمد بن أحمد، المبسوط، (بيروت: دار المعرفة، د. ط) ج 3، ص 54.

(3) المغربي، محمد بن عبد الرحمن، مواهب الجليل شرح مختصر خليل، (بيروت: دار الفكر، الطبعة الثانية، 1398 هـ) ج 2، ص 378.

(4) النووي، يحيى بن شرف الدين، المجموع شرح المهذب، (بيروت: دار الفكر، د. ط، 1997 م)، ج 6، 245.
আবু উবাইদা বলেন: «খাদ্য, কথা কিংবা পথচলা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিই রোজা পালনকারী» (১)।

পারিভাষিকভাবে: পারিভাষিক অর্থে রোজা আভিধানিক অর্থের মতোই, তবে এটি বিশেষ এক প্রকার বিরত থাকা, যা কিছু সীমাবদ্ধতার দ্বারা স্বতন্ত্র। শরীয়তের পরিভাষায় এর সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে মাযহাবগুলোর মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য বিদ্যমান। তবে সংজ্ঞায় তারা সংক্ষেপে যে সব রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছেন যা থেকে রোজাদারকে বিরত থাকতে হয়, সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণের ক্ষেত্রে কিছু মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। নিচে চার মাযহাব অনুযায়ী রোজার সংজ্ঞার কিয়দংশ তুলে ধরা হলো।

হানাফি মাযহাবের সংজ্ঞা: এটি হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু থেকে বিরত থাকা (২)।

মালিকি মাযহাবের সংজ্ঞা: মুখ ও লজ্জাস্থানের প্রবৃত্তি এবং এতদুভয়ের স্থলাভিষিক্ত বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা; প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ করে এবং প্রভুর আনুগত্যের উদ্দেশ্যে দিনের সকল অংশে বিরত থাকা। এর সাথে ফজর হওয়ার আগে বা সম্ভব হলে ফজরের সাথে সাথে নিয়ত থাকতে হবে (৩)।

শাফেয়ি মাযহাবের সংজ্ঞা: নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু থেকে বিরত থাকা (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবন মঞ্জুর, মুহাম্মদ বিন মাকরাম আল-আফরিকি আল-মিসরি, লিসানুল আরব, (বৈরুত: দার সাদির, প্রথম সংস্করণ, তারিখবিহীন) ১২ খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা।

(২) আস-সারখাসি, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ, আল-মাবসুত, (বৈরুত: দারুল মা’রিফাহ, সংস্করণ বিহীন) ৩ খণ্ড, ৫৪ পৃষ্ঠা।

(৩) আল-মাগরিবি, মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান, মাওয়াহিবুল জলিল শারহু মুখতাসার খলিল, (বৈরুত: দারুল ফিকর, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৩৯৮ হিজরি) ২ খণ্ড, ৩৭৮ পৃষ্ঠা।

(৪) আন-নববি, ইয়াহইয়া বিন শরফুদ্দিন, আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব, (বৈরুত: দারুল ফিকর, সংস্করণ বিহীন, ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ), ৬ খণ্ড, ২৪৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
تعريف الحنابلة: إمساك عن المُفَطِّرات، من طلوع الفجر الثاني إلى غروب الشمس (1).

ومن خلال تعريفات أصحاب المذاهب يتبين أنهم متفقون على أنّ الصيام هو إمساك عن المُفَطِّرات من طلوع الفجر إلى غروب الشمس بنية التعبد لله، مع اختلافهم في تحديد ماهية المُفَطِّرات، مابين الحَدِّ والعَدِّ.

OOOOO

 

‌‌المطلب الثاني: تعريف المُفَطِّرات:

لغة: مصدر من الفَطْر، قال ابن فارس: «والفاء، والطاء، والراء أصل صحيح يدل على فتح شيء وإبرازه».

وفَطَر الشيء يفطره فطراً فانفطر وفطره: شقه، وتَفَطّر الشيء تشقق. والفطر: الشق، ومنه أُخِذ فطر الصائم، يقال أفطر إفطاراً، وقوم فُطر أي مُفَطِّرون (2).

اصطلاحاً: هي مفسدات الصيام وما ينقضه، ويقطعه.

--------------------------------------------

(1) ابن قدامة، عبد الله بن أحمد المقدسي، المغني في فقه الإمام أحمد بن حنبل الشيباني، (بيروت: دار الفكر، الطبعة الأولى 1405 هـ) ج 3، ص 4.

(2) انظر: ابن فارس، أبو الحسين أحمد بن فارس بن زكريا، معجم مقاييس اللغة، مرجع سابق، ج 4، ص 510، وابن منظور، محمد بن مكرم الأفريقي المصري، لسان العرب، مرجع سابق، ج 5، ص 55.
হাম্বলিগণের সংজ্ঞা: দ্বিতীয় ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (المفطرات) থেকে বিরত থাকা (إمساك) (১)।

মাজহাবের ইমামগণের সংজ্ঞাসমূহ থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তাঁরা এ বিষয়ে একমত যে সিয়াম হলো আল্লাহর ইবাদতের নিয়তে ফজর উদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (المفطرات) থেকে বিরত থাকা (إمساك); যদিও তাঁরা রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের (المفطرات) স্বরূপ নির্ধারণে সংজ্ঞা ও গণনার ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

OOOOO

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের (المفطرات) সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থ: এটি 'ফাতর' থেকে নির্গত একটি মাসদার (مصدر)। ইবনে ফারিস বলেন: «ফা (الفاء), ত্ব (الطاء) এবং রা (الراء) এমন একটি বিশুদ্ধ মূল ধাতু (أصل صحيح) যা কোনো কিছু উন্মোচন করা এবং তা প্রকাশ করাকে বোঝায়।»

কোনো কিছু 'ফাতারা' করার অর্থ হলো তা বিদীর্ণ করা (شقه)। আর কোনো কিছু বিদীর্ণ হওয়াকে 'ইনফাতারা' (انفطر) ও 'তাফাত্তারা' (تفطر) বলা হয়। 'ফাতর' শব্দের অর্থ হলো বিদীর্ণ করা (الشق)। এখান থেকেই রোজাদারের ইফতার শব্দটি গ্রহণ করা হয়েছে। বলা হয়, সে রোজা ভেঙেছে (أفطر إفطاراً)। আর একদল রোজা ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে 'কাওমুন ফুতর' (قوم فطر) বলা হয় (২)।

পারিভাষিক অর্থ (اصطلاحاً): এগুলো হলো সিয়াম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ (مفسدات), যা সিয়ামকে ভঙ্গ ও ছিন্ন করে দেয়।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুদামা, আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-মাকদিসি, আল-মুগনি ফি ফিকহিল ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আল-শায়বানি, (বৈরুত: দারুল ফিকর, প্রথম সংস্করণ ১৪০৫ হিজরি) খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪।

(২) দেখুন: ইবনে ফারিস, আবুল হুসাইন আহমদ বিন ফারিস বিন জাকারিয়া, মু'জাম মাকায়িস আল-লুগাহ, পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১০; এবং ইবনে মানজুর, মুহাম্মদ বিন মাকরাম আল-আফ্রিকি আল-মিসরি, লিসানুল আরব, পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
والمُفَطِّرات مصطلح شرعي ورد في السنة النبوية، ويراد به ما يفسد الصوم وينقضه، ومن ذلك حديث ثوبان رضي الله عنه أنّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ» (1)، وحديث ابن عباس ب قال: «سَافَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ، فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ، ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ فِيهِ شَرَابٌ، فَشَرِبَهُ نَهَارًا لِيَرَاهُ النَّاسُ، ثُمَّ أَفْطَرَ حَتَّى دَخَلَ مَكَّةَ» قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ب: فَصَامَ رَسُولُ اللهِ وَأَفْطَرَ، فَمَنْ شَاءَ صَامَ، وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ» (2)، وحديث أبي هريرة رضي الله عنه: «أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم أمر رجلاً أفطر في رمضان أن يعتق رقبة، أو يصوم شهرين، أو يطعم ستين مسكينا» (3).

فهذه النصوص دلت على أنَّ كلمة أفطر تستخدم في النص الشرعي ويُراد بها ما يفسد الصوم ويبطله، وقد استخدم الأئمة الفقهاء تعبير المُفَطِّرات لما يفسد الصوم ويبطله وجعلوها باباً مستقلا في كتاب الصيام، أسموه المُفَطِّرات (4).

OOOOO

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود، كتاب الصوم، باب الصائم يحتجم، رقم: 2367.

(2) رواه مسلم، كتاب الصوم، باب جواز الصوم والفطر في شهر رمضان للمسافر، رقم: 1113.

(3) رواه مسلم، كتاب الصوم، باب تغليظ تحريم الجماع في نهار رمضان على الصائم، رقم: 1111.

(4) انظر: السرخسي، شمس الدين محمد بن أحمد، المبسوط، مرجع سابق، ج 3، ص 86، وابن رشد، محمد ابن أحمد القرطبي، بداية المجتهد ونهاية المقتصد، (بيروت: دار الفكر، د. ط، د. ت) ج 1،ص 206، والغزالي، أبو حامد محمد بن محمد، الوسيط في المذهب، تحقيق: أحمد محمد إبراهيم، ومحمد تامر، (القاهرة: دار السلام، الطبعة الأولى 1417 هـ) ج 2، ص 524، وابن قدامة، عبد الله بن أحمد المقدسي، المغني في فقه الإمام أحمد بن حنبل الشيباني، (بيروت: دار الفكر، الطبعة الأولى، 1405 هـ) ج 3، ص 4.
রোজার পরিপন্থী বিষয়সমূহ (المُفَطِّرات) হলো একটি শরয়ি পরিভাষা (مصطلح شرعي) যা সুন্নাহ’য় বর্ণিত হয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন বিষয় যা রোজাকে নষ্ট ও ভঙ্গ করে দেয়। এ সংক্রান্ত একটি হাদিস হলো সাওবান (রা.)-এর হাদিস, নবী (সা.) বলেছেন: «শিঙা দানকারী এবং শিঙা গ্রহণকারী উভয়েই রোজা ভঙ্গ (أَفْطَرَ) করেছে» (১), এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে সফরে বের হলেন এবং উসফান নামক স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত রোজা পালন করলেন। অতঃপর তিনি পানীয়সহ একটি পাত্র চাইলেন এবং দিনের বেলা তা পান করলেন যেন মানুষ তা দেখতে পায়, এরপর তিনি মক্কায় প্রবেশ করা পর্যন্ত রোজা ভঙ্গ (أَفْطَرَ) অবস্থায় ছিলেন।» ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা রেখেছেন এবং রোজা ভঙ্গও করেছেন, সুতরাং যার ইচ্ছা সে রোজা রাখবে এবং যার ইচ্ছা সে রোজা ভঙ্গ করবে।» (২), এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস: «নবী (সা.) এমন এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ (أَفْطَرَ) করেছিল, সে যেন একজন দাস মুক্ত করে, অথবা টানা দুই মাস রোজা রাখে, অথবা ষাটজন মিসকিনকে আহার করায়» (৩)।

এই দলিলসমূহ (النصوص) নির্দেশ করে যে, শরয়ি টেক্সটে ‘আফতারা’ (أَفْطَرَ) শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা রোজা নষ্ট ও বাতিল হওয়াকে বোঝানো হয়। ফকিহ ইমামগণ রোজা নষ্ট ও বাতিলকারী বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ‘রোজার পরিপন্থী বিষয়সমূহ’ (المُفَطِّرات) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন এবং একে সিয়াম অধ্যায়ে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যার নামকরণ করেছেন ‘রোজার পরিপন্থী বিষয়সমূহ’ (المُفَطِّرات) (৪)।

OOOOO

--------------------------------------------

(১) বর্ণিত হয়েছে আবু দাউদ-এ, কিতাবুস সাওম, অধ্যায়: রোজা পালনকারীর শিঙা লাগানো, নম্বর: ২৩৬৭।

(২) বর্ণিত হয়েছে মুসলিম-এ, কিতাবুস সাওম, অধ্যায়: মুসাফিরের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখা ও ভঙ্গ করার বৈধতা, নম্বর: ১১১৩।

(৩) বর্ণিত হয়েছে মুসলিম-এ, কিতাবুস সাওম, অধ্যায়: রমজান মাসে দিনের বেলায় রোজা রাখা অবস্থায় সহবাসের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, নম্বর: ১১১১।

(৪) দেখুন: আস-সারাকসি, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ, আল-মাবসুত, পূর্বোক্ত সূত্র, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৮৬; এবং ইবনে রুশদ, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কুরতুবি, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াতুল মুকতাসিদ, (বৈরুত: দারুল ফিকর, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৬; এবং আল-গাজালি, আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, আল-ওয়াসিত ফিল মাজহাব, সম্পাদনা: আহমদ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও মুহাম্মদ তামের, (কায়রো: দারুস সালাম, প্রথম সংস্করণ ১৪১৭ হিজরি) খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫২৪; এবং ইবনে কুদামাহ, আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-মাকদিসি, আল-মুগনি ফি ফিকহিল ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানি, (বৈরুত: দারুল ফিকর, প্রথম সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরি) খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المطلب الثالث: استخدام مصطلح المُفَطِّرات:

إنّ تسمية النوازل الطبية المتعلقة بفساد الصوم بالمُفَطِّرات ليس حكما مسبقاً، وذلك أنّه إذا نزلت نازلة ليس لها اسم شرعي فإنها تُسمى بما يناسبها في اللغة، وحيث إنّ النوازل الطبية المتعلقة بالصيام أول ما يتبادر إلى الذهن أنها مُفسدة للصيام سميت مُفَطِّرات باعتبار أوليّة المتبادر إلى الذهن، وصارت اصطلاحاً شائعاً بين الفقهاء المتأخرين مع جريان الخلاف في كونها مُفَطِّرة أو غير مُفَطِّرة، وحتى من اعتبرها غير مُفَطِّرة عبَّر عنها وسماها بالمُفَطِّرات لشيوع الاصطلاح، وقد بحثها مجمع الفقه الإسلامي باسم المُفَطِّرات المعاصرة (1)، وكذا الباحثون الذين سبق الإشارة إلى بحوثهم في الدراسات السابقة أطلقوا عليها المُفَطِّرات، مع حكمهم على كثير منها بعدم التفطير؛ ولذا صار إطلاق اسم المُفَطِّرات على النوازل الطبية المتعلقة بالصيام اصطلاحاً علمياً وعرفياً، ولا يفهم منه إطلاق حكم مسبق.

OOOOO

 

‌‌المطلب الرابع: تعريف الطب:

لغة: قال ابن فارس: «الطاء، والباء أصلان صحيحان، أحدهما: يدل على علم بالشيء، ومهارة فيه، والآخر يدل: على امتداد في الشيء واستطالة.

--------------------------------------------

(1) انظر: بحوث مجلة مجمع الفقه الإسلامي، مرجع سابق، العدد العاشر، ج 2، ص 5 - 451.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রোজা ভঙ্গের কারণ (المفطرات) পরিভাষার ব্যবহার:

রোজা নষ্ট হওয়ার সাথে সম্পর্কিত আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উদ্ভূত মাসআলাগুলোকে ‘রোজা ভঙ্গের কারণ’ (المفطرات) হিসেবে নামকরণ করা কোনো পূর্বনির্ধারিত বিধান নয়। কারণ, যখন কোনো নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যার কোনো শরয়ি নাম থাকে না, তখন তাকে আভিধানিক অর্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নামকরণ করা হয়। যেহেতু সিয়াম বা রোজার সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক বিষয়গুলো শোনার সাথে সাথে প্রথমেই মাথায় আসে যে এগুলো রোজা নষ্টকারী হতে পারে, তাই প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে এগুলোকে ‘রোজা ভঙ্গের কারণ’ (المفطرات) বলা হয়েছে। পরবর্তী যুগের ফকিহদের মাঝে এটি একটি বহুল প্রচলিত পরিভাষায় পরিণত হয়েছে, যদিও এই বিষয়গুলো রোজা ভঙ্গকারী হওয়া বা না হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ বিদ্যমান রয়েছে। এমনকি যারা এগুলোকে রোজা ভঙ্গকারী মনে করেন না, তারাও পরিভাষাটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত হওয়ার কারণে এগুলোকে ‘রোজা ভঙ্গের কারণ’ (المفطرات) হিসেবেই অভিহিত করেছেন। মাজমা আল-ফিকহ আল-ইসলামি (ইসলামি ফিকহ একাডেমি) এগুলোকে ‘আধুনিক রোজা ভঙ্গের কারণ’ (المفطرات المعاصرة) নামে আলোচনা করেছে (১), একইভাবে পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহে যাদের গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেই গবেষকগণও এগুলোকে রোজা ভঙ্গের কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যদিও তাদের অনেকে সেগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ না হওয়ার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। ফলে রোজার সাথে সংশ্লিষ্ট আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে ‘রোজা ভঙ্গের কারণ’ (المفطرات) বলা একটি ইলমি এবং প্রথাগত পরিভাষায় পরিণত হয়েছে এবং এর দ্বারা কোনো পূর্বনির্ধারিত বিধান বুঝানো হয় না।

OOOOO

 

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: চিকিৎসার সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থ: ইবনে ফারিস বলেছেন: «ত্বা (ط) এবং বা (ب) হলো দুটি বিশুদ্ধ (صحيح) মূলবর্ণ; এর একটির অর্থ হলো কোনো বিষয়ে জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন করা, আর অপরটি কোনো বিষয়ের বিস্তৃতি বা দীর্ঘ হওয়াকে বুঝায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজাল্লাত মাজমা আল-ফিকহ আল-ইসলামি-এর গবেষণাপত্র, পূর্বোক্ত সূত্র, ১০ম সংখ্যা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫ - ৪৫১।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فالأول الطب وهو العلم بالشيء، يقال: رجل طَبّ وطبيب أي عالم حاذق. قال الشاعر:

فإن تسألوني بالنساء فإنني … بصير بأدواء النساء طبيب (1)

 

والطِّبُّ: علاجُ الجسم والنَّفْسِ، ورجل طَبٌّ وطَبِيبٌ عالم بالطِّبِّ، والمُتَطَبِّبُ الذي يَتعاطى عِلم الطِّبِّ» (2).

اصطلاحاً: عرّفه ابن سيناء بأنه: «علم يعرف منه أحوال بدن الإنسان من جهة ما يصح ويزول عن الصحة، ليحفظ الصحة حاصلةً، ويستردها زائلة» (3).

وعرفته الموسوعات الحديثة بأنه: «علم، وفن يُعنى بدراسة الأمراض، ومعالجتها، والوقاية منها» (4).

--------------------------------------------

(1) البيت لعَلقمة بن عَبَدة، انظر: الأزهري، أبو منصور محمد بن أحمد، تهذيب اللغة، تحقيق: محمد عوض مرعب (بيروت: دار إحياء التراث العربي، الطبعة الأولى، 2001 م) ج 13، ص 207.

(2) انظر: ابن فارس، أبو الحسين أحمد بن فارس بن زكريا، معجم مقاييس اللغة، مرجع سابق، ج 3، ص 407، وابن منظور، محمد بن مكرم الأفريقي المصري، لسان العرب، مرجع سابق، ج 1، ص 553.

(3) ابن سينا، أبو علي الحسين بن علي، القانون في الطب، تحقيق: محمد أمين الضناوي (دار البشير، د. ط، د. ت) ج 1، ص 13، ونلاحظ من تعريف ابن سيناء أنَّه سبق الطبَّ الحديث إذ لم يقتصر على جعل الطب معالجة المرض؛ بل جعله أيضاً المحافظة على الوضع السليم للجسم وحمايته من التعرض للمرض، وهو ما يذكره بعض المهتمين بالطب بأنه النقلة النوعية للطب المعاصر باعتباره الطب الوقائي.

(4) انظر: مجموعة من العلماء، الموسوعة العربية العالمية، (الرياض، المؤسسة العربية العالمية، الطبعة الثانية، 1419 هـ ـ 1999 م) ج 15، ص 514، وكنعان، أحمد محمد، الموسوعة الطبية الفقهية (بيروت: دار النفائس، الطبعة الأولى 1420 هـ ـ 2000 م) ص 644، والبستاني، بطرس، دائرة المعارف، (بيروت: لبنان، دار المعرفة، د. ط، د. ت) ج 11، ص 203، البعلبكي، منير، موسوعة المورد (بيروت: دار العلم للملايين، الطبعة الثانية 1996 م) ج 6، ص 221.
প্রথমটি হলো চিকিৎসা (তিব), যা মূলত কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। বলা হয়ে থাকে: একজন অভিজ্ঞ (তব্বুন) ও চিকিৎসক (তাবিবুন) ব্যক্তি অর্থাৎ সুনিপুণ পণ্ডিত। জনৈক কবি বলেছেন:

তোমরা যদি আমাকে নারীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো, তবে আমি... নারীদের ব্যাধি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক (১)

 

আর চিকিৎসা হলো: শরীর ও মনের নিরাময় করা। 'তব্বুন' এবং 'তাবিবুন' বলা হয় চিকিৎসা শাস্ত্রে পণ্ডিত ব্যক্তিকে, আর 'মুতাতাব্বিব' হলো সেই ব্যক্তি যে চিকিৎসা বিদ্যা চর্চা করে (২)।

পরিভাষায়: ইবনে সিনা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "এটি এমন একটি বিজ্ঞান যার মাধ্যমে মানবদেহের অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়—সুস্থতা এবং সুস্থতা লোপ পাওয়ার দিক থেকে, যেন বিদ্যমান সুস্থতাকে বজায় রাখা যায় এবং যা হারিয়ে গেছে তা পুনরুদ্ধার করা যায়" (৩)।

আধুনিক বিশ্বকোষগুলোতে এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে: "এটি এমন একটি বিজ্ঞান ও শিল্প যা রোগ নিয়ে গবেষণা, এর চিকিৎসা এবং তা প্রতিরোধ করা নিয়ে কাজ করে" (৪)।

--------------------------------------------

(১) কবিতাটি আলকামা ইবনে আবাদাহ-র। দেখুন: আল-আজহারি, আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ, তাহযিব আল-লুগাহ, তাহকিক: মুহাম্মদ আওয়াদ মুরইব (বৈরুত: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, প্রথম সংস্করণ, ২০০১ খ্রি.) খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২০৭।

(২) দেখুন: ইবনে ফারিস, আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে ফারিস ইবনে জাকারিয়া, মু'জাম মাকায়িস আল-লুগাহ, পূর্বোক্ত সূত্র, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪০৭; এবং ইবনে মানযুর, মুহাম্মদ ইবনে মাকরাম আল-আফ্রিকি আল-মিসরি, লিসান আল-আরব, পূর্বোক্ত সূত্র, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৫৩।

(৩) ইবনে সিনা, আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আলী, আল-কানুন ফিত তিব, তাহকিক: মুহাম্মদ আমিন আদ-দান্নাবি (দারুল বাশির, সংস্করণ ও সাল অনুল্লিখিত) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩। আমরা ইবনে সিনার সংজ্ঞা থেকে লক্ষ্য করি যে, তিনি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের চেয়েও অগ্রগামী ছিলেন; কারণ তিনি চিকিৎসাকে কেবল রোগের নিরাময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং শরীরকে সুস্থ অবস্থায় বজায় রাখা এবং একে রোগাক্রান্ত হওয়া থেকে সুরক্ষা প্রদানকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ একে সমসাময়িক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি গুণগত পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যাকে 'প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা' বলা হয়।

(৪) দেখুন: একদল আলেম, আল-মাওসুআহ আল-আরাবিয়াহ আল-আলামিয়াহ, (রিয়াদ, আল-মুয়াসসাসাতুল আরাবিয়াহ আল-আলামিয়াহ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৯ হি. — ১৯৯৯ খ্রি.) খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ৫১৪; এবং কানআন, আহমদ মুহাম্মদ, আল-মাওসুআহ আত-তিব্বিয়াহ আল-ফিকহিয়াহ (বৈরুত: দারুন নাফাইস, প্রথম সংস্করণ ১৪২০ হি. — ২০০০ খ্রি.) পৃষ্ঠা ৬৪৪; এবং আল-বুস্তানি, বুতরুস, দাইরাতুল মাআরিফ, (বৈরুত: লেবানন, দারুল মা'রিফাহ, সংস্করণ ও সাল অনুল্লিখিত) খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২০৩; আল-বালাবাকি, মুনির, মাওসুআতুল মাওরিদ (বৈরুত: দারুল ইলম লিল-মালাউন, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৯৬ খ্রি.) খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২২১।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المطلب الخامس: تعريف المعاصرة:

لغة: من العصر، وهو: الدهر والحين. قال ابن فارس: العين، والصاد، والراء أصولٌ ثلاثة صحيحة، والعصر هو الدهر. قال الله تعالى: {وَالْعَصْرِ (1) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ (2)} [العصر:1 - 2] (1).

ومن معانيه: الزمن الذي ينسب إلى ملِك، أو دولة، أو تطورات طبيعية، أو اجتماعية، يقال: عصر الدولة العباسية، عصر الكهرباء، عصر الذرَّة، العصر القديم، العصر المتوسط، والعصر الحديث، وهكذا (2).

و «المعاصَرَة»: مُفاعَلة من العصر، وتعني اجتماع شيئين في عصر واحد، ومنه وصف الشخص بأنه «معاصِرٌ» أي: أدرك أهل هذا العصر، واجتمع معهم.

أما «المعاصِرة» -بكسر الصاد- فالمقصود بها الكائنة في هذا العصر الذي نعيش فيه (3)، فالنوازل المعاصِرة هي التي حصلت في هذا العصر، عصر الثورة

--------------------------------------------

(1) ابن فارس، أبو الحسين أحمد، مقاييس اللغة، مرجع سابق، ج 4،ص 340.

(2) مجمع اللغة العربية، المعجم الوسيط، (القاهرة: مكتبة الشروق، الطبعة الرابعة، 1425 هـ -2004 م) ص 604.

(3) انظر: اللويحق، عبد الرحمن بن معلا، الغلو في حياة المسلمين المعاصرة، (بيروت: مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى 1412 هـ) ص 21.
‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সমসাময়িকতা (المعاصرة)-এর সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থ: এটি ‘আসর’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: কাল ও সময়। ইবনে ফারিস বলেন: আইন, সাদ এবং রা—এগুলো তিনটি সহিহ (صحيحة) মূল বর্ণ, আর ‘আসর’ অর্থ হলো কাল। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {শপথ সময়ের (১) নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত (২)} [সূরা আল-আসর: ১-২] (১)।

এর অন্য অর্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: এমন সময় যা কোনো রাজা, রাষ্ট্র অথবা প্রাকৃতিক বা সামাজিক বিবর্তনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; যেমন বলা হয়ে থাকে: আব্বাসীয় যুগ, বিদ্যুৎ যুগ, আণবিক যুগ, প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগ ইত্যাদি (২)।

আর ‘আল-মুয়াসারাহ’ (المعاصَرَة): এটি ‘আসর’ শব্দ থেকে গঠিত ‘মুফাআলাহ’ ওজনের শব্দ, যার অর্থ এক যুগে দুটি জিনিসের একত্র হওয়া। এরই ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে ‘সমসাময়িক (معاصر)’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, অর্থাৎ তিনি সেই যুগের লোকদের সান্নিধ্য পেয়েছেন এবং তাদের সাথে একত্রে অবস্থান করেছেন।

পক্ষান্তরে ‘আল-মুয়াসিরাহ’ (المعاصِرة)—সাদ বর্ণে কাসরা (জের) সহ—দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আমরা যে যুগে বসবাস করছি তাতে বিদ্যমান বিষয়াবলি (৩)। সুতরাং সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলি (النوازل المعاصرة) বলতে সেই বিষয়গুলোকে বোঝায় যা এই যুগে অর্থাৎ বিপ্লবের যুগে সংঘটিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে ফারিস, আবু আল-হুসাইন আহমদ, মাকায়িস আল-লুগাহ, পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৪০।

(২) মাজমা আল-লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ, আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, (কায়রো: মাকতাবাতুশ শুরূক, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ) পৃষ্ঠা ৬০৪।

(৩) দেখুন: আল-লুওয়াইহিক, আবদুর রহমান বিন মুয়াল্লা, আল-গুলুউ ফি হায়াতিল মুসলিমিন আল-মুয়াসিরাহ, (বৈরুত: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, প্রথম সংস্করণ ১৪১২ হিজরি) পৃষ্ঠা ২১।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
العلمية، القرن العشرين وما بعده.

اصطلاحاً: من خلال تتبعي لم أجد تعريفاً محدداً لكلمة «معاصِرة» إلا أنّ الاستخدام الاصطلاحي لكلمة معاصِرة ليس بعيدًا عن المعنى اللغوي، فالمسائل المعاصِرة هي المنسوبة لذلك العصر الذي تضاف إليه، ويُقصد بها المسائل التي حدثت في العصر الحاضر، فكل من يتحدث عن «المعاصِرة» تكون مضافة للزمن الذي يعيشه.

وفي بحثنا هذا هي: ما استجَدَّ في عصرنا من قضايا طبية لها علاقة بفريضة الصوم صحة وفساداً.
বৈজ্ঞানিক, বিংশ শতাব্দী এবং তার পরবর্তী সময়কাল।

পারিভাষিক অর্থ: আমার অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমি ‘সমসাময়িক’ (معاصرة) শব্দটির কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা খুঁজে পাইনি; তবে ‘সমসাময়িক’ (معاصرة) শব্দটির পারিভাষিক ব্যবহার এর আভিধানিক অর্থ থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়। সুতরাং, সমসাময়িক বিষয়াবলি বলতে ওই যুগের সাথে সম্বন্ধযুক্ত বিষয়াদিকে বোঝায় যার সাথে একে যুক্ত করা হয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বর্তমান যুগে উদ্ভূত বিষয়সমূহ। অতএব, যে ব্যক্তিই ‘সমসাময়িকতা’ (معاصرة) নিয়ে আলোচনা করেন, তা তিনি যে যুগে বসবাস করছেন সেই সময়ের সাথেই সম্পৃক্ত হয়।

আর আমাদের এই গবেষণায় এটি হলো: আমাদের যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সেই নতুন বিষয়াদি, যার সম্পর্ক রোজা পালনের শুদ্ধতা (صحة) ও অশুদ্ধতার (فساد) সাথে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المبحث الثاني

أهمية دراسة النوازل في باب المُفَطِّرات

- المطلب الأول: تعريف النوازل لغة واصطلاحًا.

- المطلب الثاني: أهمية دراسة النوازل في باب المُفَطِّرات المعاصرة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের (المفطرات) ক্ষেত্রে সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলি (النوازل) পর্যালোচনার গুরুত্ব

- প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলির (النوازل) সংজ্ঞা।

- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আধুনিক রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের (المفطرات المعاصرة) ক্ষেত্রে সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলি (النوازل) পর্যালোচনার গুরুত্ব।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাত্তিরাতুত তিব্বিয়াতুল মুআসিরাহ দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাতুন তিব্বিয়াতুন মুকারানাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌المطلب الأول: تعريف النوازل لغة واصطلاحاً:

لغة: جمع نازلة، قال ابن فارس: «النون، والزاء، واللام كلمة صحيحة تدل على هبوط شيء ووقوعه، والنازلة: الشديدة من شدائد الدهر تنزل بالناس» (1).

ومنه قول الشاعر:

ولَرُبَّ نازلة يضيق بها الفتى … ذرعا وعند الله منها المخرج (2)

 

ومنه القنوت في النوازل، يعني: في الشدائد التي تحل بالمسلمين.

اصطلاحاً: هي المسائل الواقعة الجديدة التي تستدعي اجتهاداً وبياناً للحكم الشرعي (3).

وضبطها بالجديدة ليخرج ما سبق وقوعه في زمن ماضٍ، وتحدث عنه الفقهاء، وأصدروا فيه حكماً.

ويخرج بضابط «تستدعي اجتهاداً» ما كان حكمه واضحاً من المستجدات، ويدركه كل مكلف، وقد نص الأئمة أنّ النازلة ما تَطَلّب اجتهاداً ونظراً.

--------------------------------------------

(1) انظر: ابن فارس، أبو الحسين أحمد بن فارس بن زكريا، معجم مقاييس اللغة، مرجع سابق، ج 11،ص 659.

(2) البيت لإبراهيم بن العباس الصولي المتوفى بسامراء سنة 243 هـ، انظر: الحموي، ياقوت بن عبد الله، معجم الأدباء (بيروت: دار الكتب العلمية، الطبعة الأولى،1411 هـ - 1991 م) ج 1، ص 104.

(3) الجيزاني، محمد حسين، فقه النوازل، مرجع سابق، ج 1، ص 21.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে নওয়াজিল-এর সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থ: এটি নাজিলাহ-এর বহুবচন। ইবনে ফারেস বলেছেন: «নুন, জা এবং লাম—এই বর্ণত্রয় এমন একটি সঠিক শব্দ যা কোনো কিছুর নিচে নামা এবং পতিত হওয়াকে নির্দেশ করে। আর নাজিলাহ (نازلة) হলো সময়ের কঠোর বিপদসমূহের মধ্য থেকে এমন এক কঠোর বিপদ যা মানুষের ওপর আপতিত হয়» (১)।

এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি:

অনেক এমন সংকট (نازلة) রয়েছে যাতে যুবক দিশেহারা হয়ে পড়ে … অথচ আল্লাহর কাছেই রয়েছে তার পরিত্রাণ (২)

 

এর থেকেই এসেছে বিপদকালীন কুনুত (القنوت في النوازل), অর্থাৎ: সেই সব কঠিন বিপদ-আপদ যা মুসলিমদের ওপর আপতিত হয়।

পারিভাষিক অর্থ: এগুলো হলো উদ্ভূত নতুন ঘটনাবলী যা ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং শরয়ি বিধান (حكم شرعي) বর্ণনার দাবি রাখে (৩)।

একে ‘নতুন’ শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যাতে অতীতে যা ঘটে গেছে তা বাদ যায়, যা নিয়ে ফকিহগণ ইতিপূর্বে আলোচনা করেছেন এবং সে বিষয়ে বিধান প্রদান করেছেন।

আর ‘ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর দাবি রাখে’—এই শর্তের মাধ্যমে এমন সব নতুন বিষয় বাদ যায় যার বিধান সুস্পষ্ট এবং প্রত্যেক মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) তা অনুধাবন করতে পারে। কেননা ইমামগণ সুস্পষ্ট করে বলেছেন যে, নাজিলাহ হলো তা-ই যা ইজতিহাদ (اجتهاد) ও গবেষণার দাবি রাখে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে ফারেস, আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে ফারেস ইবনে জাকারিয়া, মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ, পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৬৫৯।

(২) পঙক্তিটি ইব্রাহিম ইবনে আল-আব্বাস আল-সুলি-এর, যিনি ২৪৩ হিজরিতে সামাররায় মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-হামাউয়ি, ইয়াকুত বিন আবদুল্লাহ, মুজাম আল-উদা’বা (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৪।

(৩) আল-জিজানি, মুহাম্মদ হুসাইন, ফিকহুল নওয়াজিল, পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১।