(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: -)
شفاء الغليل في بيان الشبه والمخيل ومسالك التعليل القسم: أصول الفقه
الكتاب: شفاء الغليل في بيان الشبه والمخيل ومسالك التعليل
المؤلف: أبو حامد محمد بن محمد الغزالي الطوسي (ت 505 هـ)
المحقق: د. حمد الكبيسي.
أصل التحقيق: رسالة دكتوراة
الناشر: مطبعة الإرشاد - بغداد
الطبعة: الأولى، 1390 هـ - 1971 م.
عدد الصفحات: 680
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1437
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইয়্যাল ওয়া মাসালিকিত তা'লীল বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইয়্যাল ওয়া মাসালিকিত তা'লীল
লেখক: আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজালী আত-তুসী (মৃত্যু ৫০৫ হি.)
সম্পাদক: ড. হামাদ আল-কুবাইসী.
সম্পাদনার মূল ভিত্তি: পিএইচডি অভিসন্দর্ভ
প্রকাশক: আল-ইরশাদ প্রেস - বাগদাদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯০ হি. - ১৯৭১ খ্রি..
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮০
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারী: রাবিতাতুন নুসসাখ দল (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহর) তত্ত্বাবধানে
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
(وبه استعين) [3 - أ]
الحمد لله المسبح بالغدو والآصال، المقدس عن مضاهاة الأمثال، الموصوف بالجمال والجلال، خالق الإنسان من الطين اللازب والصلصال، ومدبر الخلق بين دوري الأدبار والإقبال، وطوري الهداية والضلال، فـ «من يهد [الله] فماله من مضل». و «من يضال [الله] فماله من والٍ». والصلاة على محمد [رسوله] المصطفى وعلى آله خير آل.
أما بعد: فإن إلحاحك -إيها المسترشد -في اقتراحك، ولجاجك في إظهار احتياجك، إلى «شفاء الغليل»، في بيان مسالك التعليل: من
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি) [৩ - ক]
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর পবিত্রতা মহিমা ঘোষিত হয় সকাল ও সন্ধ্যায়; যিনি সদৃশ ও উপমার ঊর্ধ্বে; যিনি সৌন্দর্য ও মহিমার গুণে গুণান্বিত; যিনি আঠালো ও শুষ্ক ঝনঝনে মাটি থেকে মানবজাতির স্রষ্টা; এবং যিনি সৃষ্টির বিমুখতা ও অনুকূলতা এবং হিদায়াত ও গোমরাহির আবর্তনের পরিচালক। সুতরাং, "আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই", এবং "যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো অভিভাবক নেই"। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর, যাঁরা সর্বোত্তম পরিবার।
অতঃপর: হে সত্যসন্ধানী! তোমার প্রস্তাবের ক্ষেত্রে তোমার পীড়াপীড়ি এবং ‘শিফাউল গালীল’ (তৃষ্ণা নিবারক) নামক গ্রন্থের মাধ্যমে কারণ দর্শানোর (তালীল) পদ্ধতিসমূহ বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশে তোমার একাগ্রতা: থেকে...
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ৪)
المناسب والمؤثر والشبه والطرد والمخيل -صرم لجاجي في التسويف والتساهل، وحل [عقدة] عزمي في المماطلة والتكاسل، فانجررت إلى تحقيق أربك، واستخرت الله تعالى في إسعافك بمطلبك، وأتيت فيه بالعجب العجاب، ولباب الألباب، وكشفت عن وجوه أسراره غمة الحجاب، وقشعت عن مغمضاته غواشي الارتياب.
وأنا أنبهك -أيها المسترشد -على شاكلة الصواب، قبل أن أخوض بك في غمرة الكتاب، وأقدم إليك نصيحة مشوبة بخشونة؛
মুনাসিব (উপযুক্ততা), মুআসির (প্রভাবক), শাবাহ (সাদৃশ্য), তারদ (অন্বয়) এবং মুখাইয়িল (কল্পিত) — এই বিষয়গুলো দীর্ঘসূত্রতা ও শিথিলতার প্রতি আমার হঠকারিতাকে ছিন্ন করেছে, এবং কালক্ষেপণ ও অলসতার ক্ষেত্রে আমার সংকল্পের জড়তাকে মুক্ত করেছে। ফলে আমি আপনার উদ্দেশ্য সাধনে প্রবৃত্ত হয়েছি এবং আপনার চাহিদা পূরণের বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা (ইস্তিখারা) করেছি। আমি এতে বিস্ময়কর ও অদ্ভুত বিষয়াবলী এবং জ্ঞানের সারনির্যাস নিয়ে এসেছি। আমি এর রহস্যময় দিকগুলো থেকে আবরণের অন্ধকার উন্মোচন করেছি এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলো থেকে সন্দেহের মেঘমালা দূরীভূত করেছি।
হে সত্য অন্বেষী! এই কিতাবের গভীরতায় আপনাকে নিয়ে যাওয়ার পূর্বেই আমি আপনাকে সঠিক পন্থার বিষয়ে সতর্ক করছি এবং আপনার নিকট কিছুটা কঠোরতা মিশ্রিত একটি উপদেশ পেশ করছি;
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ৫)
فلا يزوينك عنها مرارة مذاقها، وخشونة ملمسها فنصيحة في تخشين خير من خديعة في لين.
وهي: أن هذا الكتاب لن يسمح بمضمون أسراره على مطالع، ولن يجود بمخزون أعواده على مراجع؛ إلا بعد استجماع شرائط أربع:
الشريطة الأولى: كمال آلة الدرك: من وفور العقل، وصفاء الذهن، وصحة الغريزة، واتقاد القريحة، وحدة الخاطر، وجودة الذكاء والفطنة.
فأما الجاهل البليد، فهو عن مقصد هذا الكتاب بعيد.
وهذه شريطة غريزية، وقضية جبلية، وهي من الله تعالى تحفة وهدية، ونعمة وعطية، لا تنال ببذل الجهد والاكتساب، وتنبتر دون دركها وسائل الأسباب.
الشريطة الثانية: استكداد الفهم، والاقتراح على القريحة،
এর স্বাদের তিক্ততা এবং স্পর্শের রুক্ষতা যেন তোমাকে এটি থেকে বিমুখ না করে; কারণ রুক্ষতাপূর্ণ উপদেশ কোমলতাপূর্ণ প্রতারণা অপেক্ষা উত্তম।
আর তা হলো: এই কিতাব তার গোপন রহস্যের সারমর্ম কোনো পাঠকের সামনে উন্মোচন করবে না এবং কোনো গবেষকের নিকট তার লুকায়িত সারবস্তু বিলিয়ে দেবে না; যতক্ষণ না চারটি শর্ত পূর্ণ হয়:
প্রথম শর্ত: উপলব্ধির উপকরণের পূর্ণতা: যথা—বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাচুর্য, মেধার স্বচ্ছতা, স্বভাবজাত সুস্থতা, প্রতিভার প্রখরতা, চিন্তার তীক্ষ্ণতা এবং বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার শ্রেষ্ঠত্ব।
পক্ষান্তরে, মূর্খ ও স্থবির বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি এই কিতাবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে অনেক দূরে।
এটি একটি সহজাত শর্ত এবং সৃষ্টিগত বিষয়, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনন্য উপহার ও উপঢৌকন, এবং এক বিশেষ নেয়ামত ও দান; যা কঠোর পরিশ্রম বা অর্জনের মাধ্যমে লাভ করা যায় না এবং তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে যাবতীয় বাহ্যিক উপায়-উপকরণ ব্যর্থ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় শর্ত: বোধশক্তিকে নিংড়ে দেওয়া এবং প্রতিভার ওপর দাবি জানানো,
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ৬)
[واستعمال الفكر]، واستثمار العقل بتحديق بصيرته إلى صواب الغوامض: بطول التأمل، وإمعان النظر، والمواظبة على المراجعة، والمثابرة على المطالعة، والاستعانة بالخلوة وفراغ البال، والاعتزال عن مزدحم الأشغال.
فأما من سولت له نفسه درك البغية بمجرد المشامة والمطالعة: معتلاً بالنظر الأول والخاطر السابق، والفكرة الأولى، مع تقسيم الخواطر، واضطراب الفكر، والتساهل في البحث والتنقير، والانفكاك عن الجد والتشمير -فاحكم عليه بأنه مغرور مغبون، وأخلق به أن يكون من ((الذين لا يعلمون الكتاب إلى أماني وإن هم إلا يظنون)).
فصاحب هذه الحالة سيحكم -لا محالة -على لفظ الكتاب بالإخلال: متى استغلق عليه، وعلى معناه بالاختلال: متى لم يبث أسراره إليه.
[চিন্তাশক্তির ব্যবহার] এবং বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগানো, নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে নিগূঢ় বিষয়ের সঠিক সমাধানের দিকে নিবদ্ধ করার মাধ্যমে। আর এটি অর্জিত হয় দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা, গভীর পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত পর্যালোচনা, অধ্যয়নে অধ্যবসায়, নির্জনতা ও মানসিক স্থিরতার সাহায্য গ্রহণ এবং কর্মব্যস্ততার ভিড় থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার মাধ্যমে।
পক্ষান্তরে, যার নফস তাকে কেবল ভাসা-ভাসা দৃষ্টিপাত ও সাধারণ অধ্যয়নের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্ররোচনা দিয়েছে—এমতাবস্থায় যে সে প্রথম দৃষ্টি, প্রাথমিক ধারণা ও তাৎক্ষণিক চিন্তার ওপর নির্ভর করে অজুহাত দেখায়; অথচ তার চিন্তাগুলো বিক্ষিপ্ত, মন অস্থিতিশীল, অনুসন্ধান ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে সে শিথিল এবং সে কঠোর পরিশ্রম ও একনিষ্ঠতা থেকে বিচ্যুত—তবে তার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্তই দিন যে সে প্রবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত। সে মূলত তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য যারা "কিতাব সম্পর্কে অবান্তর আশা ছাড়া কিছুই জানে না এবং তারা কেবল ধারণাই পোষণ করে"।
এমন অবস্থার অধিকারী ব্যক্তি অনিবার্যভাবেই কিতাবের শব্দাবলিকে ত্রুটিযুক্ত মনে করবে যখনই তা তার নিকট দুর্বোধ্য হবে, আর কিতাবের অর্থকে অসংলগ্ন মনে করবে যখনই কিতাব তার নিগূঢ় রহস্যসমূহ তার কাছে প্রকাশ করবে না।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
وكم من عائب قولاً سليماً
… وآفته من الفهم السقيم
الشريطة الثالثة: الانفكاك عن داعية العناد، وضراوة الاعتياد، وحلاوة المألوف من الاعتقاد، فالضراوة بالعادة، مخيلة البلادة؛ والشغف بالعناد، مجلبة الفساد؛ والجمود على تقليد الاعتقاد، مدفعة الرشاد. فمن ألف فنا، علما كان أو ظنا: نفر عن نقيضه طبعه، وتجافى عنه سمعه، فلا يزيده دعاؤك إلا فراراً أو نفارا، ولا يفيده ترغيبك إلا إصرارا واستكباراً:
কত মানুষই তো একটি নির্ভুল কথার দোষ খুঁজে বেড়ায়
… অথচ তার মূল সমস্যাটি তো তার বিকৃত অনুধাবনের মাঝে।
তৃতীয় শর্ত: হঠকারিতার প্ররোচনা, অভ্যাসের আসক্তি এবং পরিচিত বিশ্বাসের মিষ্টতা থেকে বিমুক্ত হওয়া। কেননা অভ্যাসের প্রতি অন্ধ আসক্তি হলো জড়বুদ্ধিতার বহিঃপ্রকাশ; হঠকারিতার প্রতি মোহ হলো বিপর্যয়ের উৎস; আর বিশ্বাসের অন্ধ অনুকরণের উপর স্থবিরতা হলো সঠিক পথপ্রদর্শনের প্রতিবন্ধক। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো একটি বিষয়ের সাথে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে—তা সুনিশ্চিত জ্ঞান হোক কিংবা নিছক ধারণা—তার স্বভাব এর বিপরীত বিষয় থেকে বিমুখ হয় এবং তার কর্ণকুহর তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এমতাবস্থায় আপনার দাওয়াত তার পলায়নপরতা বা অনীহাই কেবল বৃদ্ধি করে, আর আপনার উৎসাহ প্রদান তার একগুঁয়েমি ও অহংকার ছাড়া আর কোনো কাজে আসে না:
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومن يك ذا فمٍ مرٍ مريضٍ
… يجد مراً به الماء الزلالا
الشريطة الرابعة: أن يكون التعريج على مطالعة هذا الكتاب، مسبوقاً بالارتياض بمجاري كلام الفقهاء في مناظراتهم، ومراقي نظرهم في مباحثاتهم، محيطاً بجليات كلام الأصوليين، محتوياً على أطراف هذا العلم، خبيراً بمنهاج الحجاج، كثير الدربة والمران بمصنفات أهل الزمان، متعطشاً إلى درك أسرارٍ شذت عن المصنفات، متشوقاً إلى الإطلاع على حقائق أخفاها عن بني الدهر طارق الآفات.
فإني سقت الكلام في هذا الكتاب، على نهاية الانقباض عن التعرض لما اشتمل عليه كتاب «المنخول، من تعليق الأصول»، مع أنه النهاية في الوفاء بطريقة إمامي فخر الإسلام: إمام الحرمين، قدس الله
যার মুখ তেতো ও অসুস্থ
… সে সুমিষ্ট পানিকেও তেতো মনে করে।
চতুর্থ শর্ত: এই কিতাবটি অধ্যয়নে মনোনিবেশ করার পূর্বে ফকিহগণের মুনাজারা বা বিতর্কসমূহের গতিধারা এবং তাদের আলোচনার উচ্চতর চিন্তাধারায় অভ্যস্ত হতে হবে; উসুলবিদগণের সুস্পষ্ট বক্তব্যসমূহ সম্পর্কে পরিজ্ঞাত হতে হবে; এই ইলমের সকল দিক আয়ত্তকারী হতে হবে; যুক্তি-তর্কের পদ্ধতিতে দক্ষ হতে হবে; সমসাময়িকদের রচনাবলির সাথে গভীর জানাশোনা ও ব্যাপক অনুশীলন থাকতে হবে; এবং এমন সব রহস্য অনুধাবনে তৃষ্ণার্ত হতে হবে যা সাধারণ রচনাবলিতে সচরাচর পাওয়া যায় না এবং এমন সব সত্য উদঘাটনে আগ্রহী হতে হবে যা কালের আবর্তনে মানুষের নিকট হতে গোপন হয়ে পড়েছে।
কেননা আমি এই কিতাবে ‘আল-মানখুল মিন তালিিল উসুল’ কিতাবে বর্ণিত বিষয়সমূহ আলোচনা করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ের সংক্ষেপণ নীতি অবলম্বন করেছি; যদিও সেই কিতাবটি আমার ইমাম, ফখরুল ইসলাম: ইমামুল হারামাইন (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন)-এর পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত স্তরের।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
روحه. وأنحيت على تقرير أمور خلت عنها هذه الطريقة، وقد أحوج إلى استقصائها كلماتٌ تداولتها ألسنة المتلقفين من كتب القاضي أبي زيد الدبوسي رحمه الله، فغلبت على كلام الخصوم في مجاري الجدال والخصام، وقد انسدل على وجهها جلباب من التعقيد والإبهام، فأورث ذلك على المعترضين خبطاً في الكلام. فوقع الكشف عن عوارها، والتنبيه على غوائلها وأغوارها -من الكتاب - بعض المقصد والمرام.
* * *
তাঁর আত্মা। আমি এমন কিছু বিষয়ের সুনিশ্চিত বিবরণের প্রতি মনোনিবেশ করেছি যা থেকে এই পদ্ধতিটি শূন্য ছিল। কাজী আবু জায়েদ আদ-দাব্বুসী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর গ্রন্থাবলি থেকে যারা তথ্য গ্রহণ করে, তাদের মুখে প্রচলিত কিছু শব্দাবলি সেগুলোর নিবিড় অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে; যা বিতর্ক ও বিবাদের ধারায় প্রতিপক্ষের বক্তব্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এগুলোর ওপর জটিলতা ও অস্পষ্টতার একটি আবরণ ঝুলে ছিল, যা প্রতিবাদকারীদের বক্তব্যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। ফলে এই কিতাব থেকে সেগুলোর ত্রুটি উন্মোচন করা এবং সেগুলোর নিহিত বিপদ ও গভীরতা সম্পর্কে সতর্ক করা রচনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولقد أتيت فيه باليد البيضاء، والمحجة الغراء، والحجة الزهراء؛ وسيعترف لي به من له [؟ لم] تحركه رذالة الحسد إلى الطعن والإزراء.
ولست تعدم -أيها المسترشد -رهطا يستجمعون الشرائط التي قدمتها، ويستخرجون من هذا الكتاب الأسرار التي إياه ضمنتها وأودعتها، ثم يقابلونه بالجحود، والكتمان والكنود، ويستدرون فوائده باطنا وهم في الظاهر يذمون، و ((إن فريقا منهم ليكتمون الحق وهم يعلمون)). والمعجب بنفسه إذا لاح له الحق [لا يزداد] ما استطاع في غلوائه إلا غلواً. ((وجحدوا بها واستيقنتها أنفسهم ظلماً وعلواً)):
يذمون دنيا لا يريحون درها
… فلم أر كالدنيا: تذم وتحلب
আমি এতে এক উজ্জ্বল অবদান, সুস্পষ্ট রাজপথ এবং দীপ্তিময় প্রমাণ উপস্থাপন করেছি; অচিরেই আমার এই কাজের স্বীকৃতি দেবে সেই ব্যক্তি, যাকে হীন হিংসা পরনিন্দা ও অবজ্ঞার দিকে ধাবিত করেনি।
হে সত্যসন্ধানী, আপনি এমন একদল লোকের অভাব পাবেন না যারা আমার বর্ণিত শর্তাবলি পূরণ করবে এবং এই কিতাবের অভ্যন্তরে আমি যে রহস্যসমূহ গচ্ছিত ও আমানত রেখেছি তা উদ্ধার করবে, অতঃপর তারা তা অস্বীকার, গোপন এবং অকৃতজ্ঞতার সাথে মোকাবিলা করবে; তারা গোপনে এর নির্যাস গ্রহণ করবে অথচ প্রকাশ্যে নিন্দা করবে—এবং "নিশ্চয়ই তাদের একদল জেনে-বুঝে সত্য গোপন করে"। আর আত্মমুগ্ধ ব্যক্তি যখন সত্য প্রত্যক্ষ করে, তখন সে নিজ সাধ্যমতো কেবল বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি করে। "তারা জুলুম ও অহংকারবশত তা অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর তা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল":
তারা দুনিয়ার নিন্দা করে অথচ এর প্রাচুর্য ভোগ করা ছাড়ে না
… আমি দুনিয়ার মতো আর কিছুই দেখিনি: যার নিন্দাও করা হয় আবার যার থেকে সুবিধাও আদায় করা হয়।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
فلا يخذلنك -أيها الطالب - خذلانهم، ولا يغرنك جحودهم وكتمانهم: فالدر الأزهر، والياقوت الأحمر، والزبر جد الأخضر، والمسك الأذفر؛ لا يخشى على أسواقها الكساد، بتهجينات] 4 - أ [الحساد. فنسترزق الله الهدى لسبل الرشاد والسداد، ونعوذ به من دواعي الضلال والعناد.
وها أنا أفصل لك من مضمون هذا الكتاب تراجمه، ومن مقاصده معاقده ومناظمه.
ولقد قدمت لك مقدمة في صدر الكتاب، على نهاية الإيجاز، في بيان معاني القياس والعلة والدلالة. ثم قسمت مقصود كتاب القياس إلى خمسة أركان:
الركن الأول: في طرق إثبات علة الأصل. الركن الثاني: في العلة. الركن الثالث: في الحكم. الركن الرابع: في الأصل الذي عليه القياس. الركن الخامس: في الفرع الملحق بالأصل.
فأما الركن الأول: فقد نصلت فيه طرق إثبات العلة: بالتنصيص والتنبيه والإيماء، على نهاية الاستقصاء.
ثم ذكرت بعده إثبات العلة، بالتأثير، وذكرت معنى المؤثر.
হে জ্ঞানান্বেষী! তাদের এই বিমুখতা যেন তোমাকে হতাশ না করে, আর তাদের অস্বীকার ও সত্য গোপন করা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে। কেননা উজ্জ্বল মুক্তা, লাল ইয়াকুত, সবুজ পান্না এবং সুগন্ধি মৃগনাভির বাজারে মন্দা নেমে আসার কোনো ভয় নেই, যদি হিংসুকেরা সেগুলোর নিন্দা বা ত্রুটি বর্ণনা করে। সুতরাং আমরা আল্লাহর কাছে সঠিক ও সুদৃঢ় পথের হিদায়াত প্রার্থনা করি, আর গোমরাহি ও একগুঁয়েমির কারণসমূহ থেকে তাঁর আশ্রয় চাই।
এখন আমি তোমার সামনে এই কিতাবের বিষয়বস্তুর বিন্যাস এবং এর উদ্দেশ্যের মূল বিষয় ও ধারাগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছি।
আমি কিতাবের শুরুতে অত্যন্ত সংক্ষেপে একটি ভূমিকা পেশ করেছি, যাতে কিয়াস (অনুমান), ইল্লত (কারণ) এবং দালালাত (নির্দেশনা)-এর অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অতঃপর আমি কিয়াস সংক্রান্ত আলোচনার মূল বিষয়বস্তুকে পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভে বিভক্ত করেছি:
প্রথম রুকন: আসলের (মূল বিষয়ের) ইল্লত সাব্যস্ত করার পদ্ধতিসমূহ। দ্বিতীয় রুকন: ইল্লত প্রসঙ্গে। তৃতীয় রুকন: হুকুম (বিধান) প্রসঙ্গে। চতুর্থ রুকন: আসল বা মূল বিষয় প্রসঙ্গে, যার ওপর কিয়াস করা হয়। পঞ্চম রুকন: ফার’ বা শাখা বিষয় প্রসঙ্গে, যা আসলের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
প্রথম রুকন সম্পর্কে কথা হলো, আমি এতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে ইল্লত সাব্যস্ত করার পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করেছি: নাস বা সুস্পষ্ট বর্ণনা (তানসিস), সতর্কীকরণ (তনবিহ) এবং ইশারার (ইমা) মাধ্যমে।
অতঃপর আমি এর পরে প্রভাবের (তাসির) মাধ্যমে ইল্লত সাব্যস্ত করার বিষয়টি এবং মুয়াসসির (প্রভাবক)-এর অর্থ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثم ذكرت [بعده] إثبات العلة: بالمناسبة، وذكرت معنى «المناسب» وحده وأقسامه، وخيال الفرق بينه وبين المؤثر. وأردفته بيان الاستدال المرسل، وكثفت الغطاء فيه بتكثير الأمثلة.
ثم ذكرت طريق إثبات العلة: بالاطراد والانعكاس. ثم انحدرت منه إلى بيان «الشبه» وطريق إثباته. ثم نزلت منه إلى بيان «الطرد» وما يتعلق [منه] بالجدال، وما يرتبط بالاجتهاد. ونبهت على غلطات بني الزمان في الفرق بين الشبه والطرد.
ثم أتبعت ذلك بباب في بيان ما تعدد العامة من الشبه وليس منه. وذكرت في هذا الباب تفصيل القول في الشبه في جزاء الصيد، والفرق بينه وبين الشبه المعروف في لسان الفقهاء. وذكرت كيفية النظر في التغليب عند ازدحام مناطين للحكم، أو عند تركب المسئلة من شائبتي مناطين متعددين. وأظهرت وجه لفرق بين الجنسين، ووجه انقطاعهما عن قياس الشبه.
واختتمت الباب بيان فن من التصرف، عبرت عنه: بتنقيح مناط الحكم. وذكرت في الباب الأخير أشكال المقاييس، وانقسامها
এরপর আমি [তারপরে] ইল্লাত (আইনি কারণ) সাব্যস্ত করার পদ্ধতি হিসেবে 'মুনাসাবাহ' (উপযোগিতা) উল্লেখ করেছি। আমি কেবল 'মুনাসিব'-এর অর্থ ও এর প্রকারভেদ এবং এর ও 'মুআচ্ছির'-এর (প্রভাব বিস্তারকারী) মধ্যবর্তী পার্থক্যের রূপরেখা বর্ণনা করেছি। আর আমি এর সাথে 'ইসতিদলাল মুরসাল'-এর বর্ণনা যুক্ত করেছি এবং অধিক উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে এর আলোচনাকে আরও বিস্তারিত ও সংহত করেছি।
অতঃপর আমি ইল্লাত সাব্যস্ত করার পদ্ধতি হিসেবে 'ইত্তিরাদ' (পারস্পরিক সহাবস্থান) ও 'ইনকিকাস' (পারস্পরিক ব্যতিরেক) উল্লেখ করেছি। তারপর আমি সেখান থেকে 'শুবাহ' (সাদৃশ্য) বর্ণনা এবং তা সাব্যস্ত করার পদ্ধতির দিকে ধাবিত হয়েছি। এরপর আমি সেখান থেকে 'তারদ' (পারস্পরিক অনুগমন) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিতর্কতত্ত্ব (জাদাল) ও ইজতিহাদ সংক্রান্ত বিষয়াবলি বর্ণনায় অবতীর্ণ হয়েছি। এবং আমি 'শুবাহ' ও 'তারদ'-এর মধ্যবর্তী পার্থক্যের ক্ষেত্রে সমসাময়িকদের ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছি।
এরপর আমি সেই প্রসঙ্গের অনুগামী করেছি এমন একটি অধ্যায় দ্বারা, যেখানে সাধারণ মানুষ যা কিছুকে 'শুবাহ' মনে করে অথচ তা মূলত তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আমি এই অধ্যায়ে শিকারের বিনিময়ের ক্ষেত্রে 'শুবাহ' সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং ফকিহগণের পরিভাষায় প্রসিদ্ধ 'শুবাহ'-এর সাথে এর পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছি। এছাড়া আমি হুকুমের দুটি 'মানাত' (ভিত্তি)-এর সমাবেশ ঘটলে অথবা কোনো মাসআলা একাধিক 'মানাত'-এর সংমিশ্রণে গঠিত হলে তাতে 'তাগলিব' (প্রাধান্য)-এর বিষয়টি কীভাবে বিচার করতে হয়, তা বর্ণনা করেছি। আমি এই দুই শ্রেণির মধ্যবর্তী পার্থক্যের দিক এবং 'কিয়াসে শুবাহ' থেকে এই দুটির বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষিত স্পষ্ট করেছি।
আর আমি এই অধ্যায়টি এক প্রকার প্রয়োগপদ্ধতি বর্ণনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি, যাকে আমি 'তানকিহুল মানাত' (হুকুমের ভিত্তি পরিশোধন) হিসেবে অভিহিত করেছি। এবং আমি সর্বশেষ অধ্যায়ে কিয়াসের বিভিন্ন রূপ ও এর প্রকারভেদ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إلى برهان الاعتلال، وبرهان الخلف، وبرهان الاستدلال. وبينت انحصار طرق الأدلة في الاستدلال بالخاصية والنتيجة والنظير. ورددت برهان الاعتلال -على انتشار أقسامه -إلى مقدمتين ونتيجة، و [بينت] أن النزاع إما أن يقع في المقدمة الأولى، وإما أن يقع في الثانية؛ وأنه إن وقع في الأولى: لم يقع الدليل عليه إلا شرعيا، وإن وقع في الثانية: أمكن أن يكون [الدليل] شرعياً عقلياً ولغوياً.
وأما الركن الثاني في العلة، [فقد] ذكرت فيه وجه إضافة الحكم إلى العلة، فأفضى سياق الكلام إلى استقصاء مسئلة تخصيص العلة،
কারণ দর্শানোর প্রমাণ, বিপরীতধর্মী প্রমাণ এবং অনুমানের প্রমাণের দিকে। এবং আমি বর্ণনা করেছি যে দলিলের পদ্ধতিসমূহ বৈশিষ্ট্য, ফলাফল ও সদৃশ বস্তুর মাধ্যমে অনুমান করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এবং আমি কারণ দর্শানোর প্রমাণকে—তার বিভিন্ন প্রকারের বিস্তৃতি সত্ত্বেও—দুটি ভূমিকা ও একটি সিদ্ধান্তে পর্যবসিত করেছি; এবং [আমি বর্ণনা করেছি] যে বিরোধ হয় প্রথম ভূমিকায় ঘটবে, নতুবা দ্বিতীয় ভূমিকায় ঘটবে। আর যদি তা প্রথমটিতে ঘটে, তবে তার ওপর শরয়ি দলিল ব্যতীত অন্য কিছু প্রতিষ্ঠিত হবে না; কিন্তু যদি দ্বিতীয়টিতে ঘটে, তবে [দলিলটি] শরয়ি, যৌক্তিক এবং ভাষাগত হওয়া সম্ভব।
আর কারণের (ইল্লাত) দ্বিতীয় স্তম্ভের ক্ষেত্রে, আমি তাতে বিধানকে কারণের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার দিকটি উল্লেখ করেছি, ফলে আলোচনার ধারাবাহিকতা কারণের বিশেষায়নের (তাখসিসুল ইল্লাত) বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার দিকে ধাবিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومسئلة الجمع بين العلتين لحكم واحد، ومسئلة العلة القاصرة، ومسئلة تعليل الحكم في محل النص بالعلة.
واختتمت هذا الركن ببيان الفرق بين العلة والمحل، وخرجت] 4 - ب [عليه مسئلة شريك الأب، وشراء القريب، ورجوع شهود الإحصان مع شهود الرجم، وتقديم الكفارة على الحنث، واختصاص المردي عن الحافر بالضمان، وتعليق الطلاق بالملك. إلى غير ذلك: من مسائل يتشعب النظر فيها عن هذا الأصل.
وأما الركن الثالث -وهو ركن الحكم -[فقد] ذكرت فيه بيان ما يجوز أن يثبت بالقياس: من الأحكام، وما لا يجوز [وأن نصب الأسباب للأحكام أحكام يجوز تعليلها]، على خلاف ما تشبث به المتلقفون عن أبي زيد، فإن ما ذكروه-: من أن الأحكام تناط بالأسباب،
একই বিধানের জন্য দুটি কারণের সমন্বয় করার মাসআলা, অসম্পূর্ণ কারণের মাসআলা এবং নস বা অকাট্য দলিলের স্থলে বিধানকে কারণের মাধ্যমে যৌক্তিকতা প্রদানের মাসআলা।
আমি এই রুকনটি সমাপ্ত করেছি কারণ এবং স্থলের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনার মাধ্যমে এবং এর উপর [৪ - খ] আমি পিতার অংশীদার হওয়া, নিকটাত্মীয়কে ক্রয় করা, রজম বা পাথর নিক্ষেপের সাক্ষীদের সাথে ইহসানের সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রত্যাহার করা, শপথ ভঙ্গের পূর্বে কাফফারা প্রদান করা, গর্ত খননকারীর পরিবর্তে ধাক্কা প্রদানকারীর উপর দণ্ড নির্দিষ্ট হওয়া এবং মালিকানার সাথে তালাককে সম্পৃক্ত করার মাসআলাসমূহ প্রয়োগ করেছি। এছাড়া আরও অন্যান্য মাসআলা রয়েছে যেগুলোর তাত্ত্বিক আলোচনা এই মূলনীতি হতে উৎসারিত হয়েছে।
আর তৃতীয় রুকনটি হলো বিধানের রুকন—এতে আমি বর্ণনা করেছি যে, বিধানসমূহের মধ্যে কোনগুলো কিয়াসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়া বৈধ এবং কোনগুলো বৈধ নয়। [এবং বিধানসমূহের জন্য উপলক্ষ্য বা সবব নির্ধারণ করাও এমন এক বিধান যার কারণ বর্ণনা করা বৈধ], যা আবু জায়েদ হতে গ্রহণকারীদের মতের পরিপন্থী। কেননা তারা যা উল্লেখ করেছেন তা হলো—বিধানসমূহ উপলক্ষ্য বা সববের সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لا بالحكم -لا طائل له.
وذكرت فيه طريق الكلام في النفي الأصلي في الأحكام، وأن القول فيه بقياس العلة محال، وأن المسلك فيه محصور في الاستدلال؛ وأن الطريق فيه إما سبر، وإما دلالة، وإما استصحاب. وذكرت طريق الاستصحاب، ووجه التعلق به.
وأما الركن الرابع -وهو ركن الأصل -[فقد] ذكرت فيه شرائط الأصل الذي يقاس عليه. وأنه إذا نبت حكمه بالعقل أو اللغة أو القياس: امتنع القياس عليه. وأن الأصل المعدول به عن القياس كيف يقاس عليه. وما معنى قول الفقهاء: «إن هذه المسئلة خارجة عن القياس؟» وأين يجوز أن يدعى ذلك؟ وأين تمتنع هذه الدعوى؟
وأما الركن الخامس -وهو ركن الفرع -[فقد] ذكرت فيه مسئلتين، أحداهما: تقدم الأصل على الفرع كالوضوء مع التيمم. والأخرى: [في] أن شرطه أن لا يكون منصوصاً عليه، وأن قياسنا في كفارة الظهار في شرط الإيمان، وقتل العمد في إيجاب الكفارة -لا يناقض هذا الشرط.
وبه وقع اختتام الكتاب. وسميته: شفاء الغليل، في بيان الشبه والمخيل ومسالك التعليل.
وسأضيف إليه -إن ساعدوني التوفيق -كتاباً على مذاقه: في طرق التخصيص والتأويل.
বিধানের মাধ্যমে নয় - এর কোনো সুফল নেই।
আমি এতে বিধানের ক্ষেত্রে মূল নেতিবাচকতার আলোচনার পদ্ধতি বর্ণনা করেছি, এবং এটিও যে এতে কারণভিত্তিক অনুমানের (কিয়াস আল-ইল্লাহ) মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অসম্ভব; বরং এক্ষেত্রে কর্মপন্থা কেবল যুক্তি-প্রমাণের (ইস্তিদলাল) মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর এর পদ্ধতি হলো হয় যাচাই-বাছাই (সাবর), নতুবা নির্দেশক (দালালাহ), অথবা পূর্বাবস্থার ধারাবাহিকতা (ইস্তিসহাব)। আমি ইস্তিসহাবের পদ্ধতি এবং এর প্রয়োগের দিকটিও উল্লেখ করেছি।
চতুর্থ রুকন সম্পর্কে—যা হলো মূলের (আসল) রুকন—আমি এতে সেই আসলের শর্তাবলি বর্ণনা করেছি যার ওপর ভিত্তি করে অনুমান (কিয়াস) করা হয়। যদি কোনো বিষয়ের বিধান বুদ্ধি, ভাষা অথবা কিয়াসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তবে তার ওপর কিয়াস করা নিষিদ্ধ। আর যে আসল কিয়াসের সাধারণ নিয়ম থেকে বিচ্যুত, তার ওপর কীভাবে কিয়াস করা সম্ভব? ফকিহগণের এই উক্তির অর্থ কী যে, "এই মাসআলাটি কিয়াসের বহির্ভূত"? এবং কোথায় এই দাবি করা বৈধ, আর কোথায় এই দাবি নিষিদ্ধ?
পঞ্চম রুকন সম্পর্কে—যা হলো শাখার (ফারা') রুকন—আমি এতে দুটি মাসআলা উল্লেখ করেছি। একটি হলো: শাখার ওপর আসলের অগ্রবর্তিতা, যেমন তায়াম্মুমের তুলনায় ওজুর বিষয়টি। অন্যটি হলো: শাখার শর্ত হলো এটি সম্পর্কে কোনো সরাসরি অকাট্য পাঠ (নস) বিদ্যমান থাকবে না। আর জিহারের কাফফারার ক্ষেত্রে ইমানের শর্তারোপ এবং ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে কাফফারা আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে আমাদের কিয়াস এই শর্তের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
এর মাধ্যমেই কিতাবটি সমাপ্ত হলো। আমি এর নাম রেখেছি: তৃষ্ণা নিবারণ: সাদৃশ্য, ধারণা এবং কারণ নির্ণয়ের পদ্ধতিসমূহের বর্ণনায়।
আর আমি এর সাথে—যদি আল্লাহর তাওফিক আমার সহায় হয়—এই একই ধাঁচের আরেকটি কিতাব যুক্ত করব: যা হবে বিশেষায়ন এবং ব্যাখ্যার পদ্ধতিসমূহের বিষয়ে।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
واقتصرت الآن على مقاصد القياس. وما أخللته من كتاب القياس: مما لم اتعرض له؛ فهو منقسم إلى ما رأيته جليا يستغنى بكتاب المنخول عنه، وإلى ما لا تمس الحاجة إليه في المناظرات إلا نادراً. فقصرت همي على الأغمض، ثم اجتزيت منه بالأهم.
وإني لأرجو أن يعم جدواه، وينكشف للطلبة مغزاه، ويفوح
আমি এখন কিয়াসের মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছি। আর কিয়াস অধ্যায় থেকে যা কিছু আমি বাদ দিয়েছি—অর্থাৎ যার অবতারণা আমি করিনি—তা দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমত, যেগুলো আমার কাছে এতোটাই স্পষ্ট যে 'আল-মানখুল' কিতাবটির মাধ্যমে তা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায়; আর দ্বিতীয়ত, বিতর্কের ক্ষেত্রে যার প্রয়োজন খুব কমই পড়ে। তাই আমি আমার সংকল্পকে নিগূঢ় বিষয়গুলোর ওপর নিবদ্ধ করেছি এবং সেখান থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।
আর আমি আশা করি যে, এর উপযোগিতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে, শিক্ষার্থীদের কাছে এর অন্তর্নিহিত অর্থ উন্মোচিত হবে এবং তা সুবাসিত হবে।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لهم رياه. وآمل من الله غفراناً لا يدرك أقصاه، وعفوا لا ينتهى مداه، إذا عنت الوجوه وخرست الألسن وجفت الشفاه، وخضعت الرقاب، وجحظت الأعين، وسجدت الجباء! فما أحسن عبد بربه ظنه إلا أرضاه، وآتاه سؤله ووفاه، فهو الجواد الكريم الفرد الصميد الإله.
* * *
তাদের জন্য তাঁর পরিতৃপ্তি। আর আমি আল্লাহর নিকট এমন ক্ষমা প্রার্থনা করি যার শেষ সীমা অনুধাবন করা যায় না, এবং এমন মার্জনা কামনা করি যার ব্যাপ্তি শেষ হয় না—যখন চেহারাগুলো লাঞ্ছিত ও অবনত হবে, জিহ্বাগুলো বাকরুদ্ধ হয়ে যাবে, ঠোঁটগুলো শুকিয়ে যাবে, গর্দানসমূহ নুয়ে পড়বে, চক্ষুসমূহ বিষ্ফোরিত হবে এবং ললাটসমূহ সিজদাবনত হবে! কোনো বান্দা তার প্রতিপালকের প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করেনি যাকে তিনি সন্তুষ্ট করেননি, এবং তার যাচ্ঞা পূরণ করেননি ও তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেননি। কারণ তিনিই পরম দানশীল, মহিমান্বিত, একক, অমুখাপেক্ষী ইলাহ।
* * *
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ال
مقدمة المرسومة قبل الأركان الخمس
فلابد من ذكر مقدمة في حد القياس وصورته، [وبيان معنى العلة والدلالة]، وبيان قسمته، والتنبيه على مجاري النظر فيه.
أما حده، فقد اختلفت فيه الصيغ والعبارات. ولسنا للتطويل في هذا الكتاب، فيما لا يتعلق به كبير فائدة.
والعبارة المعرفة للمقصد المطلوب، أن يقال: «القياس: عبارةٌ عن إثبات حكم الأصل في الفرع، لاشتراكهما في علة الحكم».
পাঁচ স্তম্ভের পূর্বে নির্ধারিত
উপক্রমণিকাকিয়াসের সংজ্ঞা ও তার রূপরেখা, [ইল্লত ও দালালাতের অর্থ স্পষ্টীকরণ], এর শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা এবং এতে গবেষণার পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে অবহিত করার বিষয়ে একটি উপক্রমণিকা উল্লেখ করা আবশ্যক।
কিয়াসের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শব্দ ও অভিব্যক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। যে বিষয়ে বিশেষ কোনো উপকারিতা নেই, সেই বিষয়ে আমরা এই কিতাবে দীর্ঘ আলোচনা করব না।
উদ্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সংজ্ঞায়িতকারী বাক্যটি হলো: «কিয়াস হলো মূল বিষয়ের বিধানকে শাখা বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা, কারণ তারা উভয়ই বিধানের কারণের (ইল্লত) ক্ষেত্রে অংশীদার।»
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فهذا القدر كاف في البيان.
وإن أردت عبارة محترزة عن الاعتراضات -[التي تهدف الحدود لأمثالها في عبارة المتكلمين وأرباب الصناعات] في الحدود -قلت: هو: حمل معلوم على معلوم في إثبات حكمٍ أو نفيه، بالاشتراك في صفة أو انتفاء صفة، أو حكم أو انتفاء حكم. فهذا أحوى لجميع أقسام الكلام، وأحصر لجملة الأطراف.
وفي الأول غنية عنه: فإنه مفيد للبيان الذي نبغيه، وهو بيان قياس المعنى، إذ هو المشتمل على بيان علة الحكم.
فإن أردت أن تضم إليه قياس الشبه والطرد -عدلت إلى العبارة الأخرى: فإن جميع ذلك على شكل القياس وإن كان ينقسم إلى صحيح وفاسد، فإن الفاسد أيضاً قياس.
وعلى الجملة [أيضاً] لابد من التسوية بين الشيئين: لتتحقق صورة القياس، فإن مشتق من قول العرب: قاس الشيء بالشيء، إذا حذا به حذوه وسواه عليه، يقال: قاس النعل بالنعل، إذا سواه عليه.
বর্ণনার জন্য এই পরিমাণই যথেষ্ট।
আর আপনি যদি এমন একটি পরিভাষা চান যা আপত্তিসমূহ থেকে মুক্ত—[যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদ এবং বিশেষজ্ঞগণ সংজ্ঞার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করে থাকেন]—তবে আমি বলব: তা হলো কোনো বিধান সাব্যস্ত করা বা নাকচ করার ক্ষেত্রে একটি জ্ঞাত বিষয়কে অপর একটি জ্ঞাত বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা; যা কোনো গুণের বিদ্যমানতা বা অনুপস্থিতি, অথবা কোনো বিধানের বিদ্যমানতা বা অনুপস্থিতিতে উভয়ের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এটি আলোচনার সকল প্রকারভেদকে অধিকতর অন্তর্ভুক্তকারী এবং এর সকল দিককে সুসংহতকারী।
তবে প্রথম বর্ণনাই এর জন্য যথেষ্ট ছিল; কারণ তা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ব্যাখ্যা প্রদান করে, আর তা হলো 'কিয়াস আল-মা'না' (অর্থগত অনুমান) এর বর্ণনা, যেহেতু এটি বিধানের কারণ (ইল্লত) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।
যদি আপনি এর সাথে 'কিয়াসুশ শাবাহ' (সাদৃশ্যমূলক অনুমান) এবং 'তারদ' (পারস্পরিক সহাবস্থান)-কে যুক্ত করতে চান, তবে আপনাকে অন্য পরিভাষাটি গ্রহণ করতে হবে। কেননা এ সবই কিয়াসের কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত, যদিও কিয়াস সঠিক এবং ত্রুটিপূর্ণ—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়; আর ত্রুটিপূর্ণ কিয়াসও আদতে কিয়াসেরই অন্তর্ভুক্ত।
সারকথা [আরও] হলো, কিয়াসের স্বরূপ বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিষয়ের মধ্যে সমতা বিধান করা আবশ্যক। কেননা এটি আরবদের এই উক্তি থেকে উদ্ভূত: ‘অমুক বস্তু অমুক বস্তুর সাথে কিয়াস করেছে’, যখন সে তার অনুকরণে তা তৈরি করে এবং তার সমান করে দেয়। বলা হয়ে থাকে: ‘সে জুতাকে জুতোর সাথে কিয়াস করেছে’, যখন সে তাকে অপরটির সমান করে।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
فإن قيل: فهل من فرق بين القياس والعلة؟
قلنا: نعم؛ فإن العلة في تصورها لا تستدعي أصلاً وفرعًا، ولكن إذا ذكرت السبب المؤثر في الحكم، فقد ذكرت [علة الحكم].
والعلة [في الأصل]: عبارة عما يتأثر المحل بوجوده، ولذلك سمي المرض: علة.
وهي في اصطلاح الفقهاء على هذا المذاق.
نعم: قد يسمى القياس علة، لأنه يشتمل على علة الحكم، وهي الركن الأعظم من مقصود القياس، كما يسمى القياس: نظراً واجتهاداً ودليلاً واعتلالاً؛ لأنه يستدرك بالنظر والاجتهاد، ويدل على الحكم، ويشتمل على ذكر العلة: فيسمى اعتلالاً.
وتسمية العلة بمجردها قياساً، لا وجه له. وإن تسامح بعض الفقهاء بإطلاقه، فذلك لتقسيمهم المسائل -في عرفهم - إلى الخبرية والقياسية؛ فما لا يتعلق منه بالخبر تسمى قياسية: لأن الغالب في المسائل التي ليس خبرية، فيعنون بكونه قياسا: أنه ليس خبريا.
فإن قيل: فهي من فرق بين الدلالة والعلة؟
قلنا: نعم؛ فكل علة يجوز أن تسمى دلالة، لأنها تدل على الحكم، فالمؤثر أبداً يدل على الأثر. ولا تسمى كل دلالة علة، لأن الدلالة [قد] يعبر بها عن الأمارة التي توجب: فلا تؤثر، فالغيم
যদি বলা হয়: কিয়াস এবং ইল্লতের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?
আমরা বলি: হ্যাঁ; কেননা ইল্লত তার ধারণাগত দিক থেকে কোনো 'আসল' (মূল) এবং 'ফার্' (শাখা)-এর মুখাপেক্ষী নয়, কিন্তু যখন আপনি বিধানের ক্ষেত্রে প্রভাববিস্তারকারী কারণ উল্লেখ করবেন, তখন আপনি [বিধানের ইল্লত] উল্লেখ করলেন।
আর [মূলত] ইল্লত হলো এমন বিষয়ের নাম যার উপস্থিতির ফলে সংশ্লিষ্ট স্থানটি প্রভাবিত হয়, আর এ কারণেই রোগব্যাধিকে 'ইল্লত' (পীড়া) বলা হয়।
আর ফকীহগণের পরিভাষায় এটি এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
হ্যাঁ: কখনো কখনো কিয়াসকে ইল্লত বলা হয়, কারণ তা বিধানের ইল্লতকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর তা কিয়াসের উদ্দেশ্যের প্রধানতম স্তম্ভ। ঠিক যেমন কিয়াসকে নজর (গবেষণা), ইজতিহাদ, দলীল এবং ই'তিলাল (কারণ দর্শানো) বলা হয়; কারণ এটি নজর ও ইজতিহাদের মাধ্যমে বোধগম্য হয়, বিধানের দিকে পথপ্রদর্শন করে এবং ইল্লতের উল্লেখকে অন্তর্ভুক্ত করে—তাই একে ই'তিলাল বলা হয়।
আর কেবল ইল্লতকে কিয়াস হিসেবে নামকরণ করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। যদিও কোনো কোনো ফকীহ এটি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, তবে তা তাদের পরিভাষায় মাসআলাসমূহকে সংবাদমূলক এবং কিয়াসমূলক—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার কারণে। ফলে যা খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় তাকে কিয়াসমূলক বলা হয়: যেহেতু সংবাদমূলক নয় এমন মাসআলাই সংখ্যাগুরু, তাই কিয়াস হওয়ার মাধ্যমে তারা এটিই উদ্দেশ্য নেন যে তা সংবাদমূলক নয়।
যদি বলা হয়: তবে দালালাত (নির্দেশিকা) এবং ইল্লতের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?
আমরা বলি: হ্যাঁ; প্রতিটি ইল্লতকেই দালালাত বলা বৈধ, কারণ তা বিধানের নির্দেশনা দেয়; কেননা প্রভাববিস্তারকারী সত্তা সর্বদা প্রভাবের দিকে পথপ্রদর্শন করে। কিন্তু প্রতিটি দালালাতকে ইল্লত বলা হয় না, কারণ দালালাত দ্বারা কখনো এমন নিদর্শনকেও বোঝানো হয় যা বিধানকে আবশ্যক করে তোলে কিন্তু কোনো প্রভাব বিস্তার করে না, যেমন মেঘ—
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
الركم دليل على المطر وعلته أيضاً، لأنه يؤثر فيه. والكوكب دليل على القبلة، وليس علة فيها. فما للدلالة حظ في الإيجاب.
والعلة موجبة؛ أما العقلية فبذاتها، وأما الشرعية فبجعل الشرع إياها [علة] موجبة، على معنى إضافة الوجوب إليها، كإضافة وجوب القطع إلى السرقة، وإن كنا نعلم أنه إنما يجب بإيجاب الله تعالى؛ ولكن ينبغي أن نفهم الإيجاب كما ورد به الشرع، وقد ورد بأن السرقة توجب القطع، والزنا يوجب الرجم. ففي هذا تفترق الدلالة والعلة.
وسنتقصى [وجوه] الدلالات -التي ليست من قبيل الأقيسة، ولا من قبيل العلل -في الباب الثاني [إن شاء الله تعالى].
মেঘের স্তূপ বৃষ্টির নিদর্শন এবং তার কারণও বটে, কেননা এটি তাতে প্রভাব ফেলে। আর নক্ষত্র কিবলার নিদর্শন, কিন্তু কিবলার ক্ষেত্রে তা কোনো কারণ নয়। সুতরাং নির্দেশের ক্ষেত্রে আবশ্যিক করার কোনো অংশ নেই।
পক্ষান্তরে কারণ হলো আবশ্যিককারী; বুদ্ধিগত কারণ তার স্বীয় সত্তার মাধ্যমেই আবশ্যিককারী, আর শরয়ি কারণ হলো শরয়ি বিধান কর্তৃক তাকে আবশ্যিককারী [কারণ] হিসেবে সাব্যস্ত করার মাধ্যমে। এটি সেই কারণের দিকে আবশ্যকতাকে সম্বন্ধ করার অর্থে, যেমন চুরির সাথে হাত কাটার আবশ্যকতাকে সম্বন্ধ করা হয়। যদিও আমরা জানি যে, এটি কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আবশ্যক করার কারণেই অবধারিত হয়; তথাপি শরয়ি বিধানে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, আবশ্যকতাকে সেভাবেই আমাদের বুঝতে হবে। আর শরয়ি বিধান অনুযায়ী বর্ণিত হয়েছে যে, চুরি হাত কাটাকে আবশ্যক করে এবং ব্যভিচার রজমকে (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) আবশ্যক করে। সুতরাং এই বিষয়ের মাধ্যমেই নিদর্শন এবং কারণ পৃথক হয়ে থাকে।
আমরা নিদর্শনসমূহের [দিকগুলো] সম্পর্কে—যা কিয়াসের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং কারণসমূহেরও অন্তর্ভুক্ত নয়—দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সবিস্তারে আলোচনা করব [যদি মহান আল্লাহ চান]।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
أما
الأمارة، والآية، والبينة، والحجة، والبرهان -فإنها من الأسامي العامة ولا غرض لنا في بيان اشتقاقاتها وحدودها. وإنما [الغرض و] المقصود تمييز العلة عن الدلالة والأمارة.
وأما القياس: فإنه مشتمل على العلة، إذا العلة بعض أجزائه، كالبيت: يشتمل على الجدار ويتضمنه.
هذا حد القياس وصورته [وما اتصل به: من الفرق بين العلة والدلالة وغيره].
وأما قسمته، فهي -في غرضنا -تنقسم إلى قياس الشبه، وقياس المعنى. والباب معقود لبيان القسمين، وشرائطهما، ووجه الفرق بينهما.
والنظر فيهما في خمسة أركان: الأصل، والفرع، والحكم، والوصف الجامع، وطريق معرفة كون الوصف الجامع علة للحكم. لأنا ذكرنا أن القياس عبارة: عن «إثبات حكم الأصل في الفرع، بالاشتراك في علة الحكم» فتعرضنا لهذه الأمور الخمسة. ولابد من استقصاء النظر فيها.
অতঃপর
আলামত (নিদর্শন), আয়াত (চিহ্ন), বাইয়্যিনাত (সুস্পষ্ট প্রমাণ), হুজ্জাত (দলিল) এবং বুরহান (অকাট্য যুক্তি) —এগুলো সাধারণ পরিভাষাসমূহ এবং এগুলোর ব্যুৎপত্তি ও সংজ্ঞা বর্ণনা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো 'ইল্লাত' (কার্যকারণ)-কে 'দালালাত' (নির্দেশনা) ও 'আলামত' (নিদর্শন) থেকে পৃথক করা।
আর কিয়াস (সাদৃশ্য বিধান): এটি 'ইল্লাত' সমৃদ্ধ, কারণ ইল্লাত এর অন্যতম অংশ; যেমন ঘর: যা দেয়ালকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং নিজের মধ্যে ধারণ করে।
এটিই কিয়াসের সংজ্ঞা ও এর স্বরূপ [এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ: যেমন ইল্লাত ও দালালাতের মধ্যকার পার্থক্য এবং অন্যান্য বিষয়]।
আর এর বিভাজন প্রসঙ্গে—আমাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী—একে 'কিয়াসুশ শিবহ' (সাদৃশ্যমূলক কিয়াস) এবং 'কিয়াসুল মানা' (অর্থগত কিয়াস) এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এই পরিচ্ছেদটি এই দুই প্রকারের বর্ণনা, তাদের শর্তাবলী এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যের দিকগুলো আলোচনার জন্য বিন্যস্ত করা হয়েছে।
এ দুটির আলোচনা পাঁচটি রুকন বা মূল উপাদানের ওপর আবর্তিত হয়: আসল (মূল বিষয়), ফার' (শাখা বিষয়), হুকুম (বিধান), ওয়াসফে জামে' (সমন্বয়কারী বৈশিষ্ট্য), এবং সমন্বয়কারী বৈশিষ্ট্যটি বিধানের জন্য 'ইল্লাত' বা কার্যকারণ হওয়ার বিষয়টি জানার পদ্ধতি। কারণ আমরা উল্লেখ করেছি যে, কিয়াস হলো: «বিধানের ইল্লাত বা কারণে অংশীদার হওয়ার ভিত্তিতে আসলের বিধানটি ফার'-এর জন্য সাব্যস্ত করা»; তাই আমরা এই পাঁচটি বিষয় উপস্থাপন করেছি। আর এ বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও আলোচনা করা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الركن الأول في طريق معرفة كون الوصف الجامع علة لحكم الأصل
حتى يترتب على وجودها الحكم في الفرع
فذهب ذاهبون: إلى أن إقامة الدليل على علة الأصل غير واجب. إذ [قد] تحقق صورة القياس بمجرد الجمع؛ والأصل أن كل وصف يذكر في الأصل علة، إلا أن يمنع [منه] مانع.
وهذا هذيان لا حاصل له: فإن الأصول تنقسم إلى ما يعلل، وإلى ما لا يعلل. ومع الاتفاق على صحة [تعليل حكم] الأصل، اتفقوا على صحة هذا الانقسام. فيحتمل أن لا يكون الأصل معللاً؛ [وأن كان معللاً: احتمل أن لا يكون معللاً] بهذا الوصف المذكور. فلابد من دليل يميز هذا الوصف عن سائر الأوصاف الموجود في الأصل، لينبني على الاشتراك فيه الاشتراك في الحكم.
فإذا تبين أن ذلك لابد منه، فكون الوصف علة لحكم الأصل -يعرف بمسالك:
المسلك الأول: النص في جهة الشارع، وذلك: بأن يأتي بصيغة
মূল বিধানের ইল্লত (কার্যকর কারণ) হিসেবে সমন্বয়কারী বৈশিষ্ট্যটি চেনার পদ্ধতির প্রথম স্তম্ভ আসলের বিধানের ক্ষেত্রে
যাতে তার উপস্থিতির কারণে শাখা (ফারা) মাসআলাতেও বিধানটি কার্যকর হয়
কিছু লোক এই অভিমত পোষণ করেছেন যে: আসলের ইল্লতের ওপর দলিল পেশ করা আবশ্যক নয়। যেহেতু কেবল দুইয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমেই কিয়াসের রূপটি সাব্যস্ত হয়ে যায়; আর মূলনীতি হলো আসলের মধ্যে বর্ণিত প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই ইল্লত, যতক্ষণ না কোনো প্রতিবন্ধক তা থেকে বাধা প্রদান করে।
এটি একটি অসার প্রলাপ যার কোনো সার্থকতা নেই: কারণ মূল বিধানসমূহ এমন যা ইল্লতযুক্ত এবং এমন যা ইল্লতযুক্ত নয়—এই দুই ভাগে বিভক্ত। আসলের বিধানের ইল্লত নির্ধারণ বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যের পাশাপাশি তারা এই বিভাজনের বৈধতার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে আসলটি ইল্লতযুক্ত নয়; আর যদি ইল্লতযুক্ত হয়েও থাকে, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে উল্লিখিত এই বৈশিষ্ট্যের কারণে তা ইল্লতযুক্ত হয়নি। অতএব এমন দলিলের প্রয়োজন যা এই বৈশিষ্ট্যটিকে আসলের মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য বৈশিষ্ট্য থেকে পৃথক করবে, যাতে এই বৈশিষ্ট্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিধানে অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত হয়।
যখন এটি স্পষ্ট হলো যে এটি আবশ্যক, তখন কোনো বৈশিষ্ট্য আসলের বিধানের ইল্লত হওয়া কয়েকটি পদ্ধতির মাধ্যমে জানা যায়:
প্রথম পদ্ধতি: শারঈ বিধানদাতার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নস (স্পষ্ট বর্ণনা), আর তা হলো: বর্ণনাটি এমন শব্দ বা বিন্যাসে আসা যা...
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التعليل، كقوله: العلة كذا، أو الأجل كذا، أو لسبب كذا؛ أو ما يقوم مقامه، ويفيد معناه. فهو صريح في التعليل [به] [وذلك] كقوله تعالى: {كيلا يكون دولة بين الأغنياء منكم}، وهذا صريح في التعليل [به]. [و] كقوله عليه السلام في النهي عن لحوم الأضاحي: «إنما نهيتكم لأجل الدافة» وكقوله عليه السلام في الأعرابي المحرم الذي وقصت به راحلته: لا تخمروا رأسه ولا تقربوه طيبا، فإنه يبعث يوم القيامة ملبياً» وهو صريح في التعليل، ولذلك] 6 - أ [نطرده في كل محرم سوى ذلك الأعرابي. ويبطل قول أبي حنيفة رحمه الله: إن ذلك [كان] من
কারণ দর্শানো, যেমন তাঁর উক্তি: কারণ হলো এটি, অথবা এই জন্য, অথবা এই কারণে; অথবা যা এর স্থলাভিষিক্ত হয় এবং এর অর্থ প্রদান করে। সুতরাং এটি কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট এবং তা যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যাতে তোমাদের মধ্যকার ধনীদের মধ্যেই কেবল সম্পদ আবর্তিত না হয়", আর এটি কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। এবং যেমন কুরবানির গোশত (সঞ্চয়) নিষেধ করার ব্যাপারে তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী: "আমি তোমাদের কেবল (অভাবী) আগন্তুকদের কারণেই নিষেধ করেছিলাম।" এবং মুহরিম (ইহরাম অবস্থায় থাকা) সেই বেদুইনের ব্যাপারে তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণী যাকে তার সওয়ারি ফেলে দিয়ে পিষ্ট করেছিল: "তোমরা তার মাথা ঢেকো না এবং তাকে সুগন্ধি স্পর্শ করিও না, কেননা কিয়ামতের দিন সে তালবিয়াহ পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।" এটি কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট, আর একারণেই ৬ - অ আমরা একে সেই বেদুইন ব্যতীত অন্য সকল মুহরিমের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করি। আর এটি ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তিকে বাতিল করে দেয় যে: নিশ্চয়ই তা ছিল...
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
خصائص [ذلك] الأعرابي، إذ اطلع رسول الله صلى الله عليه وسلم من حاله، على ما أخبر عنه، لنوع ورع وفضيلة اختصت به.
قلنا: ليس الأمر كذلك؛ إذ التخمير والتطييب مأمور به في حق الموتى، ومنهى عنه في حق المحرمين. والذي يسبق إلى الأفهام، أن الموت قاطع للإحرام، وإذا انتفى الإحرام رجع التخمير إلى الأصل المعهود؛ فنهى عن التخمير، وذكر أن علته بقاء الإحرام بعد الموت، فكان التخمير منهيا عنه: لبقاء علته؛ وعرف بقاء العلة [بقوله عليه السلام]: فإنه يحشر يوم القيامة ملبيا» فإن [الإحرام باق بعد الموت شرعا. وعرف به أيضاً أنه] علل النهي ببقاء الإحرام، ونزل ذلك منزلة قوله عليه السلام -في الشهداء: «زملوهم بكلومهم
[সেই] মরুবাসীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যেহেতু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন, যেমনটি তিনি তার সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছিলেন, এমন এক প্রকার তাকওয়া ও ফযীলতের কারণে যা তার সাথেই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল।
আমরা বলি: বিষয়টি তেমন নয়; কারণ মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মাথা ঢাকা ও সুগন্ধি ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে এবং ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তির জন্য তা নিষিদ্ধ। আর যা সাধারণভাবে বোধগম্য হয় তা হলো মৃত্যু ইহরাম ছিন্নকারী, আর যখন ইহরাম অবলুপ্ত হয় তখন মাথা ঢাকার বিষয়টি তার চিরাচরিত মূল বিধানে ফিরে আসে; কিন্তু তিনি মাথা ঢাকা থেকে নিষেধ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এর কারণ হলো মৃত্যুর পরেও ইহরাম অবশিষ্ট থাকা। সুতরাং কারণটি অবশিষ্ট থাকার দরুন মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ হয়েছিল; আর এই কারণটির বিদ্যমানতা জানা যায় [তাঁর (আলাইহিস সালাম) এই বাণীর মাধ্যমে]: "কেননা কিয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে"। সুতরাং [শরীয়ত অনুযায়ী মৃত্যুর পরেও ইহরাম অবশিষ্ট থাকে। এর দ্বারা এটিও জানা গেল যে,] তিনি ইহরাম অবশিষ্ট থাকাকেই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং বিষয়টিকে শহীদদের ব্যাপারে তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাণীর পর্যায়ভুক্ত করেছেন: "তোমরা তাদেরকে তাদের জখমসহ পরিহিত পোশাকে দাফন করো"।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ودمائهم، فإنهم يحشرون يوم القيامة وأوداجهم تشخب دما» فبين أن أثر الشهادة يبقى بعد الموت، وأن المنع من الغسل معلل بتضمنه إبطال أثر الشهادة.
وهذا القدر كاف في هذا القسم، فإن صرائح التعليل ليست مما يخفى.
ولما كانت العلة الشرعية معلومة بالشرع، ولم تنحصر الطرق الشرعية في البيان والتعريف على النصوص -بل من طرق التنبيهات، ومن طرقه الاستنباط والنظر -: جاز أن يعرف كون الشيء علة بتعريف الشرع بألفاظ وأفعال هي منبهة على العلة وإن لم يكن صريحا [به] وجاز أن يعرف بطرق النظر والاستنباط، كما أن الأحكام في أنفسها لما كانت شرعية: جاز معرفتها بجميع هذه الطرق، فنصب الشيء علة حكم من جهة الشرع، كما أن إثبات الحرمة والحل في فعل من الأفعال حكم [من جهة الشرع] فجاز أن تعرف بكل طريق تعرف به الأحكام.
* * *
এবং তাদের রক্তসমূহ; কেননা কিয়ামতের দিন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে এমতাবস্থায় যে তাদের ঘাড়ের রগ থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে শাহাদাতের চিহ্ন মৃত্যুর পরও অবশিষ্ট থাকে, এবং গোসল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণটি এই যে, এটি শাহাদাতের চিহ্নকে বিলুপ্ত করার নামান্তর।
এই পরিচ্ছেদের জন্য এই পরিমাণই যথেষ্ট, কেননা কারণ বর্ণনার সুস্পষ্ট বিষয়গুলো গোপন থাকার মতো বিষয় নয়।
যেহেতু শরয়ি কারণ শরিয়তের মাধ্যমেই পরিজ্ঞাত হয়, এবং বর্ণনা ও সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে শরয়ি পদ্ধতিগুলো কেবল অকাট্য পাঠের (নুসুস) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং ইশারা-ইঙ্গিত এবং গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন ও গভীর পর্যালোচনার পদ্ধতিও এর অন্তর্ভুক্ত—সেহেতু কোনো বিষয় কারণ হওয়ার বিষয়টি শরিয়তের এমন সব শব্দ ও কার্যের মাধ্যমে জানা বৈধ যা কারণের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে, যদিও তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত না হয়। আবার এটি গভীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণালব্ধ উদ্ভাবনের পদ্ধতিতেও জানা বৈধ। ঠিক যেভাবে বিধানসমূহ (আহকাম) স্বয়ং শরয়ি হওয়ার কারণে এই সবকটি উপায়ে তা জানা বৈধ; তাই কোনো বিষয়কে কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা শরিয়তের পক্ষ থেকে একটি বিধান, যেমন কোনো কর্মের ক্ষেত্রে হারাম বা হালাল হওয়া সাব্যস্ত করা শরিয়তের পক্ষ থেকে একটি বিধান। অতএব, যে সকল উপায়ে বিধানসমূহ জানা যায়, তার প্রতিটি উপায়েই কারণ জানা বৈধ।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المسلك الثاني: في إثبات العلل بالتنبيهات من [جهة] الشارع، ووجوهها مختلفة ومراتبها في إفادة الظن متقاربة، وإن كانت لا تنفك عن ضروب من التفاوت في الخفاء والجلاء؛ وهي أنواع:
النوع الأول منها: أن يرتب الحكم على الفعل بفاء التعقيب والتسبيب؛ فهو تنبيه على تعليل الحكم بالفعل الذي رتب عليه.
كقوله تعالى: {والسارق والسارقة فاقطعوا أيديهما}، وكقوله جل من قائل: {إذا قمتم إلى الصلاة فاغسلوا} وقوله تعالى: {فإن كان الذي عليه الحق سفيهاً أو ضعيفاً أو لا يستطع أن يمل هو فليممل وليه العدل} وقوله عليه السلام: «من أحيا أرضاً ميتة فهي له»، وقوله تعالى {ومن لم يستطع منكم
দ্বিতীয় পন্থা: শরীয়তদাতার পক্ষ হতে ইঙ্গিত প্রদানের মাধ্যমে ইল্লাত (কারণ) সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে। এর পদ্ধতিসমূহ বিভিন্ন এবং প্রবল ধারণা প্রদানের ক্ষেত্রে এগুলোর পর্যায়সমূহ কাছাকাছি, যদিও এগুলো অস্পষ্টতা ও স্পষ্টতার দিক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তারতম্য থেকে মুক্ত নয়; আর সেগুলো কয়েক প্রকার:
তন্মধ্যে প্রথম প্রকার: অনুগামী ও কারণবাচক ‘ফা’ বর্ণ দ্বারা কোনো কার্যের ওপর হুকুম বিন্যস্ত করা; এটি মূলত সেই কার্যের মাধ্যমে হুকুমের কারণ দর্শানোর প্রতি একটি ইঙ্গিত, যার ওপর ভিত্তি করে হুকুমটি প্রদান করা হয়েছে।
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “চোর পুরুষ ও চোর নারী, তবে তোমরা তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও”, এবং যেমন সুমহান বক্তার বাণী: “যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমরা ধৌত করো”, এবং আল্লাহর বাণী: “অতঃপর যার ওপর দায়বদ্ধতা রয়েছে সে যদি নির্বোধ বা দুর্বল হয় অথবা সে নিজে তা লিখে দিতে না পারে, তবে তার অভিভাবক যেন ন্যায়ের সাথে তা লিখে দেয়”, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “যে ব্যক্তি কোনো মৃত জমিকে জীবিত (আবাদ) করবে, তবে তা তারই হবে”, এবং আল্লাহর বাণী: “আর তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে না...”
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
طولاً أن ينكح المحصنات المؤمنات، فمما ملكت أيمانكم من فتياتكم] 6 - ب [المؤمنات}، وقوله تعالى: {فلم تجدوا ماءً فيتمموا} وقوله عليه السلام: «ملكت نفسك فاختاري» وقوله: «لعن الله اليهود: حرمت عليهم الشحوم فباعوها وأكلوا أثمانها».
فدل ذلك على أن القطع معلل بالسرقة، وأنها سببه. وأن سبب الوضوء الصلاة. وسبب تكفل الولي بإملاء الحق ضعف المولى عليه وسفهه وعجزه. وسبب ملك الموات الأحياء. وسبب إباحة نكاح الإماء العجز. وسبب جواز التيمم فقد الماء. [وسبب التخيير العتق. وسبب اللعنة أكلهم أثمان الشحوم].
...স্বাধীন মুমিন নারীদের বিবাহ করার সামর্থ্য (না থাকে), তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুমিন তরুণীদের মধ্য হতে [৬ - খ] {মুমিন নারীদের মধ্য হতে}, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো} এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহর) বাণী: «তুমি নিজের মালিক হয়েছো, সুতরাং তুমি বেছে নাও» এবং তাঁর বাণী: «আল্লাহ ইহুদীদের প্রতি লানত করেছেন: তাদের ওপর চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বিক্রি করল এবং তার মূল্য ভক্ষণ করল»।
এটি প্রমাণ করে যে, (হাত) কাটা চুরির কারণে সাব্যস্ত এবং এটিই তার কারণ। আর ওযুর কারণ হলো সালাত। আর অভিভাবকের পক্ষ হতে অধিকার নির্ধারণ বা স্বীকৃতির দায়িত্ব নেওয়ার কারণ হলো যার ওপর অভিভাবকত্ব করা হচ্ছে তার দুর্বলতা, নির্বুদ্ধিতা ও অক্ষমতা। আর অনাবাদী ভূমি মালিকানায় আসার কারণ হলো তা আবাদ করা। আর দাসীদের বিবাহ করা বৈধ হওয়ার কারণ হলো (স্বাধীনদের বিবাহের) অক্ষমতা। আর তায়াম্মুম জায়েয হওয়ার কারণ হলো পানির অভাব। [আর ইচ্ছাধিকার পাওয়ার কারণ হলো মুক্তি। আর লানতের কারণ হলো তাদের চর্বির মূল্য ভক্ষণ করা]।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فكل ذلك تبنيه على إضافة الأحكام إلى الأسباب، ونصب الأسباب عللاً فيها، حتى يقال: تكفل الولي بالإملاء وإن ورد فيه التداين، فالحكم غير مقصور على التداين، بل يجرى في سائر التصرفات المتعللقة بالمصلحة، لتعدي العلة في أمثال ذلك.
ومن هذا القسم: دخول الفاء في كلام الراوي، كقوله: «زنا ماعز فرجم» و «سها رسول الله صلى الله عليه وسلم -فسجد»، و «رضخ يهودي رأس جارية فرضخ رسول الله صلى الله عليه وسلم رأسه».
অতএব, আপনি এ সবকিছুর ভিত্তি স্থাপন করবেন কারণগুলোর (আসবাব) সাথে বিধানসমূহকে (আহকাম) যুক্ত করার ওপর এবং কারণগুলোকে এগুলোর মধ্যে কার্যকর কারণ (ইল্লাত) হিসেবে সাব্যস্ত করার ওপর। এমনকি বলা হয়: অভিভাবক ডিক্টেশন বা বর্ণনা দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যদিও বিষয়টি ঋণ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বিধানটি কেবল ঋণ আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমস্ত লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে; কারণ এই জাতীয় বিষয়গুলোতে কার্যকর কারণটি সম্প্রসারণযোগ্য।
আর এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো: বর্ণনাকারীর কথায় 'ফা' অক্ষরের অনুপ্রবেশ, যেমন তাঁর উক্তি: "মায়েজ ব্যভিচার করেছিল, ফলে তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছিল" এবং "আল্লাহর রাসূল—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—ভুল করেছিলেন, ফলে তিনি সিজদা করেছিলেন", এবং "এক ইহুদি একটি মেয়ের মাথা চূর্ণ করেছিল, ফলে আল্লাহর রাসূল—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—তার মাথা চূর্ণ করেছিলেন"।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
تدل هذه الصيغة من الراوي، على أنه فهم الحكم، وفهم سببه أيضاً.
ولو لم يفهم كون الرجم موجب الزنا، وكون السجود موجب السهو، وكون الرضخ موجب الرضخ -: لما جاز له أن يروى على هذا الوجه، ولكان كلامه كقوله: أكل ماعز فرجم، وقام النبي عليه السلام في الصلاة فسجد.
فإذا قيل له: كيف ذلك؟ قال: «أكل ماعز فرجم لا لأجل الأكل، ولكن لأجل الزنا. وسجد لا لأجل القيام، ولكن لأجل السهو. ولكن جرى الرجم والسجود عقيب الأكل والقيام، كما جرى عقيب الزنا والسهو».
فقال: هذا من هجر الكلام وألغازه. فالصيغة المذكورة موضوعة للتنبيه على التعليل، فاستعمالها لإرادة الجريان عقيبها من غير تعليل -خبط من الكلام لا يصدر إلا من [غرٍ] غبيٍ، أو ممن يؤتى عن حصرٍ وعيٍ.
فإن قيل: بم تنكرون على من يقول: مستند معرفة العلل المناسبة والإخالة والإشعار المعنوي، دون التنبيه اللفظي؛ وهذه الأسباب التي ذكرتموها جميعها مناسب لمسبباتها، ففهم التعليل لذلك، لا للتنبيه من جهة اللفظ؟
বর্ণনাকারীর এই শব্দশৈলী প্রমাণ করে যে, তিনি বিধানটি এবং এর কারণ—উভয়টিই অনুধাবন করেছেন।
আর তিনি যদি ব্যভিচার পাথর নিক্ষেপ (রজম) অপরিহার্য করার কারণ হওয়া, ভুল (সাহু) সিজদাহ অপরিহার্য করার কারণ হওয়া এবং মাথা চূর্ণ করা মাথা চূর্ণের দণ্ড অপরিহার্য করার কারণ হওয়া না বুঝতেন, তবে তার পক্ষে এই পদ্ধতিতে বর্ণনা করা বৈধ হতো না। সে ক্ষেত্রে তার কথাটি এমন হতো: "মায়েজ আহার করল, ফলে তাকে রজম করা হলো" এবং "নবী আলাইহিস সালাম সালাতে দণ্ডায়মান হলেন, ফলে তিনি সিজদাহ করলেন।"
অতঃপর যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়: এটি কীভাবে সম্ভব? তিনি বলবেন: "মায়েজ আহার করেছিল বিধায় তাকে রজম করা হয়েছে—এটি আহারের কারণে নয়, বরং ব্যভিচারের কারণে। আর তিনি সিজদাহ করেছেন দণ্ডায়মান হওয়ার কারণে নয়, বরং ভুলের কারণে। তবে রজম ও সিজদাহ মূলত আহার ও দণ্ডায়মান হওয়ার অব্যবহিত পরেই সংঘটিত হয়েছে, যেমনটি ব্যভিচার ও ভুলের অব্যবহিত পরে ঘটে থাকে।"
তিনি বলেন: এটি অসংলগ্ন প্রলাপ ও ধাঁধাঁ স্বরূপ। কেননা উল্লিখিত শব্দশৈলীটি কারণ (তা'লীল) নির্দেশ করার জন্যই নির্ধারিত। সুতরাং কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে নিছক একটির পর অন্যটি সংঘটিত হওয়া বোঝাতে এর ব্যবহার করা শব্দগত বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই নয়, যা কেবল একজন নির্বোধ মূর্খ অথবা বাকরুদ্ধ ও জড়তাগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব।
যদি প্রশ্ন করা হয়: আপনারা সেই ব্যক্তির প্রতিবাদ কীভাবে করবেন যে বলে—উপযুক্ত কারণসমূহ, যৌক্তিক অনুমান এবং অর্থগত ইঙ্গিতই হলো কারণ নির্ণয়ের মূল ভিত্তি, শাব্দিক ইঙ্গিত নয়? আর আপনারা যেসব কারণ উল্লেখ করেছেন তা তো আপন আপন ফলাফলের সাথে সংগতিপূর্ণ; সুতরাং কারণ অনুধাবিত হয়েছে সেই যৌক্তিক সংগতির কারণেই, শাব্দিক নির্দেশের কারণে নয়।
(খণ্ড: ১)
শিফাউল গালীল ফী বায়ানিশ শুবাহি ওয়াল মুখাইল ওয়া মাসালিকিত তালীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قلنا: ليس الأمر كذلك. فإن هذه الصيغ للتعليل بالأسباب المذكورة وإن كانت الأسباب لا تخيل، وهذا كقوله عليه السلام: «من مس ذكره فليتوضأ» [فهو] تنبيه على تعليل الوضوء بالمس ونصبه سبباً فيه، وإن كان لا يخيل.
وكذلك إذا قال: من أكل شيئًا مما مسته النار فليتوضأ»، و «من قاء أو رعف أو أمذى فليتوضأ».
فكل ذلك لا مناسبة فيه: فإن الأكل والمس لا ينبئان عن الوضوء؛ بل خروج المذي من المنفذ لا يناسب غسل الوجه واليدين، فإنه غسل في غير محل النجاسة؛ ويفهم بالصيغة -من حيث التنبيه -
আমরা বলি: বিষয়টি এমন নয়। কারণ এই শব্দবিন্যাসগুলো উল্লিখিত কারণসমূহের মাধ্যমে কার্যকারণ বা যুক্তি প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যদিও কারণগুলো (যুক্তিগতভাবে) স্পষ্ট নয়। এটি নবী (আলাইহিস সালাম)-এর এই বাণীর মতো: "যে ব্যক্তি তার লিঙ্গ স্পর্শ করবে, সে যেন ওজু করে।" এটি স্পর্শের কারণে ওজু ওয়াজিব হওয়ার প্রতি একটি ইঙ্গিত এবং একে একটি কারণ হিসেবে নির্ধারণ করা, যদিও তা যুক্তিগ্রাহ্য নয়।
অনুরূপভাবে যখন তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি আগুনের স্পর্শ পেয়েছে এমন কিছু আহার করে, সে যেন ওজু করে," এবং "যে ব্যক্তি বমি করে বা যার নাক দিয়ে রক্ত ঝরে অথবা যার মজি নির্গত হয়, সে যেন ওজু করে।"
এই সবগুলোর মধ্যেই কোনো যৌক্তিক সামঞ্জস্য নেই: কারণ আহার করা এবং স্পর্শ করা ওজুর প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে না; বরং নির্গমন পথ দিয়ে মজি নির্গত হওয়া মুখমণ্ডল ও হাত ধোয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কারণ এটি নাপাকির স্থান ব্যতীত অন্য স্থান ধৌত করা; আর এটি শব্দবিন্যাসের মাধ্যমে—ইঙ্গিত প্রদানের দিক থেকে—বোঝা যায়—