(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
سفر السعادة وسفير الإفادة القسم: النحو والصرف
الكتاب: سفر السعادة وسفير الإفادة
المؤلف: علي بن محمد بن عبد الصمد الهمداني المصري الشافعي، أبو الحسن، علم الدين السخاوي (ت 643 هـ)
المحقق: د. محمد الدالي [ت 1443 هـ]
تقديم: د. شاكر الفحام [ت 1429 هـ]، رئيس مجمع دمشق
الناشر: دار صادر
الطبعة: الثانية، 1415 هـ - 1995 م
عدد الأجزاء: 3 (2 متسلسلة الترقيم، والأخير فهارس)
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1437
সফরুস সাআদাত ওয়া সাফীরুল ইফাদাত বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: সফরুস সাআদাত ওয়া সাফীরুল ইফাদাত
লেখক: আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুস সামাদ আল-হামদানি আল-মিসরি আশ-শাফিঈ، আবুল হাসান، আলামুদ্দীন আস-সাখাবি (ওফাত ৬৪৩ হিজরি)
সম্পাদক: ড. মুহাম্মাদ আদ-দালি [ওফাত ১৪৪৩ হিজরি]
উপস্থাপনা: ড. শাকির আল-ফাহহাম [ওফাত ১৪২৯ হিজরি]، দামেস্ক একাডেমির সভাপতি
প্রকাশক: দার সাদির
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩ (২টি ধারাবাহিক ক্রমিক নম্বরযুক্ত، এবং শেষটি নির্ঘণ্ট)
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবিতা আন-নুসসাখ দল، সৌজন্যে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وهو حسبي
بسم الله الذي باسمه تفتتح الأوائل، والحمد الله الذي بحمده تنجح الوسائل، وصلى الله على محمد نبيه المنتخب من أشرف البطون والفصائل، وأكرم العمائر والقبائل، وعلى آله وصحبه الداعين إلى المكارم والفضائل.
هذا كتاب سفر السعادة وسفير الإفادة يتحفك بالمعاني العجيبة، ويقفك على الأسرار الغامضة الغريبة، ويسلك بك إلى مرادك المسالك القريبة، ويجلو عليك من الخرائد الحسان
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট।
আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামে সবকিছুর শুভ সূচনা হয়। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর প্রশংসার মাধ্যমে সকল উপায়-উপকরণ সফল হয়। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত নবী মুহাম্মদের ওপর, যিনি শ্রেষ্ঠতম বংশ ও শাখা এবং অত্যন্ত সম্মানিত গোত্র ও পরিবারসমূহ হতে নির্বাচিত। আরও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের দিকে আহ্বানকারী।
এটি 'সাফারুস সাআদাহ' (সৌভাগ্যের সফর) এবং 'সাফিরুল ইফাদাহ' (উপকারের দূত) নামক গ্রন্থ, যা আপনাকে চমৎকার সব তত্ত্ব উপহার দেবে এবং আপনাকে গূঢ় ও বিস্ময়কর রহস্যের সন্ধান দেবে। এটি আপনাকে আপনার অভীষ্ট লক্ষ্যের নিকটতম পথে পরিচালিত করবে এবং আপনার সামনে অত্যন্ত চমৎকার ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উন্মোচন করবে।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
أوجها، ويدني إليك من الفوائد شموسا طالما سما بها أوجها؛ فاملأ وعاءك من درره، وأخلص دعاءك لمحرره، فقد كفاك مؤونة التعب، وحماك حزونة الدأب، وأراح من النصب، وأراح عن الوصب، وأزاح عن الوصب، وأتى بما لا يوجد في كتاب، ولا يورد عليه في منهل غير مناهله العذاب، نفع الله به المسلمين المذعنين لأهل الإفادة، المسلمين الذين {لا يريدون علوا في الأرض ولا فسادا والعاقبة للمتقين} = شرحت فيه معاني الأمثلة ومبانيها المشكلة، وأودعته ما استخرجته من ذخائر القدماء [1/ب] وتناظر العلماء، وختمته بأغرب نظم وأسناه، فيما اتفق لفظه واختلف معناه، وأضفت إلى الأبنية ألفاظا مستطرفة واقعة أحسن المواقع عند أهل المعرفة، ورتبت الأبنية على الحروف مستعينا بالله المنان الرؤوف.
এটি আপনার নিকট উপকারের এমন সব সূর্যকে নিকটবর্তী করে দেয় যার উচ্চতা দীর্ঘকাল ধরে সুউচ্চ শিখরে আসীন; অতএব আপনার পাত্রকে এর মুক্তাসমূহ দ্বারা পূর্ণ করুন এবং এর সংকলকের জন্য আপনার দোয়াকে একনিষ্ঠ করুন। তিনি আপনাকে পরিশ্রমের বোঝা থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্ন সাধনার কঠোরতা থেকে রক্ষা করেছেন, ক্লান্তি দূর করেছেন, যাতনা লাঘব করেছেন এবং সকল কষ্ট অপসারিত করেছেন। তিনি এমন কিছু উপস্থাপন করেছেন যা অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া যায় না এবং তার সুমিষ্ট প্রস্রবণ ব্যতীত অন্য কোনো জ্ঞান-উৎস থেকে যা আহরণ করা সম্ভব নয়। আল্লাহ এর মাধ্যমে সেই সকল মুসলিমদের উপকৃত করুন যারা জ্ঞানীদের প্রতি অনুগত, যারা পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য ও ফাসাদ চায় না; আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য। আমি এতে শব্দরূপান্তরের অর্থসমূহ এবং সেগুলোর জটিল গঠনবিন্যাস ব্যাখ্যা করেছি এবং এতে আমি প্রাচীনদের জ্ঞানভাণ্ডার [১/খ] ও আলেমদের শাস্ত্রীয় আলোচনা থেকে যা নির্যাস গ্রহণ করেছি তা গচ্ছিত রেখেছি। আমি এটি সমাপ্ত করেছি এক চমৎকার ও সমুন্নত ছন্দবদ্ধ কবিতার মাধ্যমে—এমন শব্দের বর্ণনায় যার উচ্চারণ এক কিন্তু অর্থ ভিন্ন। আমি শব্দগঠনগুলোর সাথে কিছু বিরল ও চমৎকার শব্দ যুক্ত করেছি যা জ্ঞানীদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত এবং দাতা ও পরম দয়ালু আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমি শব্দগঠনগুলোকে বর্ণানুসারে বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
باب الهمزةالله، جل الله وعز وعلا: في هذا الاسم العظيم أقوال:
الأول: قول سيبويه، وقد رواه عن الخليل: إن أصله (إله) مثل كتاب، ثم دخلت الألف واللام عليه، فقالوا: (الإله)، ثم نقلوا حركة الهمزة إلى اللام، ثم ادغموا اللام في اللام فقالوا: الله، تبارك الله وعلا.
قال: ومثل هذا قولهم: (أناس) ثم أدخلوا الألف واللام، فقالوا: (الأناس) ثم قالوا: (الناس).
হামযাহ অধ্যায়আল্লাহ, আল্লাহ মহান, প্রতাপশালী এবং সমুন্নত: এই মহান নামের ব্যাপারে কয়েকটি অভিমত রয়েছে:
প্রথম: সিবওয়াইহ-এর অভিমত, যা তিনি খলীল থেকে বর্ণনা করেছেন: এর মূল হলো (ইলাহ), যেমন (কিতাব)। এরপর এতে আলিফ এবং লাম যুক্ত হয়েছে, তখন তারা বলেছে: (আল-ইলাহ)। এরপর তারা হামযাহ-এর হরকত লাম-এর দিকে স্থানান্তরিত করেছে, অতঃপর এক লামকে অপর লামের সাথে সন্ধি (ইদগাম) করেছে, ফলে তারা বলেছে: আল্লাহ; আল্লাহ বরকতময় ও সুউচ্চ।
তিনি বলেন: এর উদাহরণ হলো তাদের কথা: (উনাস), অতঃপর তারা আলিফ এবং লাম যুক্ত করেছে এবং বলেছে: (আল-উনাস), এরপর তারা বলেছে: (আন-নাস)।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
قال: وقد يجيء على الأصل، قال:
إن المنايا يطلعـ .... ـن على الأناس الآمنينا
قال الزجاج: (فمذهب سيبويه في الألف واللام كأنهما عوض من الهمزة المحذوفة، وقد صارتا كأحد حروف الاسم لا تفارقانه من الهمزة المحذوفة، وقد صارتا كأحد حروف الاسم لا تفارقانه فلا يجوز حذفهما منه؛ لأنه مباين اسمه لسائر الأسماء، وهو منفرد به عز وجل، لا يشاركه في هذا الاسم غيره).
وقال الجوهري: سمعت أبا علي النحوي يقول: إن الألف واللام عوض من الهمزة. قال: ويدل على ذلك استجازتهم لقطع الهمزة الموصولة الداخلة على لام التعريف في القسم والنداء، وذلك قولهم: (فألله لتفعلن) و (يا ألله اغفر لي). ألا ترى أنها لو كانت غير عوض لم تثبت كما لم تثبت
তিনি বললেন: এটি মূল রূপ অনুযায়ী আসতে পারে, তিনি বলেছেন:
নিশ্চয়ই মৃত্যুসমূহ অতর্কিতে আপতিত হয়... নিরাপদ মানুষদের ওপর।
আজ-যাজ্জাজ বলেন: (আলিফ এবং লাম সম্পর্কে সিবওয়াইহ-এর অভিমত হলো, যেন তারা উভয়ে বিলুপ্ত হামযাহ-এর পরিবর্তে এসেছে। তারা নামের মূল অক্ষরের ন্যায় হয়ে গেছে যা বিলুপ্ত হামযাহ থেকে পৃথক হয় না; এবং তারা নামের মূল অক্ষরের ন্যায় হয়ে গেছে যা তা থেকে পৃথক হয় না, ফলে তা থেকে এ দুটিকে বিলোপ করা বৈধ নয়। কারণ তাঁর এই নাম অন্য সকল নাম থেকে ভিন্ন এবং মহান আল্লাহ এই নামে একক, এই নামে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার নয়)।
আল-জাওহারী বলেন: আমি আবু আলি আন-নাহবীকে বলতে শুনেছি যে, আলিফ এবং লাম হলো হামযাহ-এর স্থলাভিষিক্ত। তিনি বলেন: শপথ এবং আহ্বানের ক্ষেত্রে 'লামে তারিফ'-এর ওপর প্রবেশকারী হামজাতুল ওয়াসলকে হামজাতুল কাত হিসেবে উচ্চারণ করা বৈধ গণ্য করা এর প্রমাণ বহন করে। আর তা হলো তাদের উক্তি: (আল্লাহর কসম, তুমি অবশ্যই করবে) এবং (হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন)। আপনি কি দেখছেন না যে, যদি তা স্থলাভিষিক্ত না হতো তবে তা বহাল থাকত না, যেমনটি বহাল থাকে না-
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
في غير هذا الاسم؟ [2/ 1].
قال: ولا يجوز أيضا أن يكون للزوم الحرف؛ لأن ذلك يوجب أن تقطع الهمزة في (الذي) و (التي)، ولا يجوز أيضا أن تكون لأنها همزة مفتوحة وإن كانت موصولة، كما لم يجز في (ايمن الله) و (ايم الله) التي هي همزة وصل؛ فإنها مفتوحة.
قال: ولا يجوز أن يكون ذلك لكثرة الاستعمال؛ لأن ذلك يوجب أن تقطع الهمزة في غير هذا مما يكثر استعمالهم له؛ فعلمنا أن ذلك لمعنى اختصت به، ولا شيء أولى بذلك المعنى من أن يكون للعوض من الحرف المحذوف الذي هو الفاء).
وقال غيره مؤيدا لقول سيبويه: (أصله (إله)، وهو مشتق
এই নাম ব্যতীত অন্য কিছুতে? [২/ ১]।
তিনি বলেন: এটি বর্ণের আবশ্যিকতার কারণে হওয়াও সম্ভব নয়; কারণ এর ফলে ‘আল্লাযি’ এবং ‘আল্লাতি’ শব্দদ্বয়েও হামযাটিকে বিচ্ছেদকারী হামযা (হামযায়ে ক্বাতঈ) হিসেবে পড়া আবশ্যক হয়ে পড়ত। আবার এটি একটি ফাতহাযুক্ত হামযা হওয়ার কারণেও এমনটি হওয়া সম্ভব নয়, যদিও তা সংযোগকারী হামযা (হামযায়ে ওয়াসলী); যেমনটি ‘আয়মানুল্লাহ’ এবং ‘আয়মুল্লাহ’ শব্দদ্বয়ের ক্ষেত্রে বৈধ হয়নি, যেগুলোতে হামযাটি সংযোগকারী হওয়া সত্ত্বেও ফাতহাযুক্ত।
তিনি বলেন: এটি ব্যবহারের আধিক্যের কারণে হওয়াও সম্ভব নয়; কারণ সেক্ষেত্রে তারা সচরাচর অধিক ব্যবহার করে এমন অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রেও হামযাটিকে বিচ্ছেদকারী হিসেবে পড়া আবশ্যক হয়ে যেত। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, এটি এমন একটি বিশেষ অর্থের কারণে যা কেবল এই নামের সাথেই সংশ্লিষ্ট। আর সেই অর্থের ক্ষেত্রে বিলুপ্ত হওয়া বর্ণ অর্থাৎ ‘ফা’ বর্ণের বিনিময় হওয়ার চেয়ে অধিকতর যুক্তিসঙ্গত আর কিছু নেই)।
অন্য একজন সিবওয়াইহ-এর উক্তিকে সমর্থন করে বলেন: (এর মূল হলো ‘ইলাহ’, এবং এটি নিষ্পন্ন...
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
من أله إلى الرجل يأله إليه: إذا فزع إليه من شر نزل به، فألهه أي: أجاره وآمنه، فسمي إلها، كما سمي الرجل إماما: إذا أم الناس فائتموا به، وكما سمي الثوب رداء ولحافا: إذا ارتدي به والتحف به؛ ثم إنه لما كان اسما لعظيم {ليس كمثله شيء} أرادوا تفخيمه بالتعريف الذي هو الألف واللام؛ لأنهم أفردوه بهذا الاسم دون غيره، فقالوا: (الإله)، واستثقلوا الهمزة في كلام لكثرة استعمالهم إياها- وللهمزة في وسط الكلمة ضغطة شديدة- فحذفوها، فصار الاسم كما نزل به القرآن).
القول الثاني: قالوا: أصله (لاه) على وزن فعل، مثل ضرب. وإلى هذا القول [2/ب] ذهب أبو العباس محمد، قال: ثم دخلت عليه الألف واللام تعظيما لله عز وجل، وإبانة له عن كل مخلوق، فهو اسم وإن كان فيه معنى فعل.
قال: ويؤيد هذا قول ابن عباس- رحمه الله: هو الله ذو
এটি সেই ব্যক্তি থেকে 'আলাহা' শব্দের উদ্ভূত যার কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়: যখন কেউ তার ওপর আপতিত কোনো অনিষ্ট থেকে বাঁচতে তার নিকট আশ্রয় নেয়, তখন সে তাকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রদান করে। ফলে তাকে 'ইলাহ' নামকরণ করা হয়, যেমন কোনো ব্যক্তিকে 'ইমাম' বলা হয় যখন সে মানুষের নেতৃত্ব দেয় এবং তারা তাকে অনুসরণ করে; এবং যেমন বস্ত্রকে 'চাদর' ও 'লেপ' বলা হয় যখন তা পরিধান করা হয় ও তা দিয়ে আবৃত হওয়া হয়। অতঃপর যেহেতু এটি এক মহান সত্তার নাম {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই}, তাই তাঁরা একে নির্দিষ্টকারী 'আলিফ' ও 'লাম' যুক্ত করার মাধ্যমে মহিমান্বিত করতে চেয়েছেন; কারণ তাঁরা এই নামটিকে অন্য সবার থেকে পৃথক করে কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন। ফলে তাঁরা বললেন: 'আল-ইলাহ'। কিন্তু অধিক ব্যবহারের কারণে তাঁরা কথাবার্তায় 'হামজাহ' উচ্চারণ করাকে কষ্টসাধ্য মনে করলেন—কেননা শব্দের মাঝখানে 'হামজাহ' উচ্চারণে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়—তাই তাঁরা এটি বিলুপ্ত করে দিলেন। ফলে নামটি সেই রূপ লাভ করল যেভাবে তা কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে।
দ্বিতীয় মত: তাঁরা বলেন, এর মূল হলো 'লাহ', যা 'ফাআলা' ছন্দের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যেমন 'দরাবা'। এই মতের দিকেই [২/খ] আবু আব্বাস মুহাম্মদ গিয়েছেন। তিনি বলেন, এরপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র মহিমা প্রকাশ এবং তাঁকে সমস্ত সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক করার জন্য এতে 'আলিফ' ও 'লাম' যুক্ত হয়েছে। সুতরাং এটি একটি বিশেষ্য, যদিও এর মধ্যে ক্রিয়ার অর্থ নিহিত রয়েছে।
তিনি বলেন, একে ইবনে আব্বাস—রাহিমাহুল্লাহ—এর এই উক্তিটি সমর্থন করে: তিনি হলেন আল্লাহ যিনি...
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الألوهية يألهه الخلف. وقرأ ابن عباس: (ويذرك وإلاهتك) أي: وعبادتك؛ لأنهم كانوا يعبدون فرعون.
قال أبو العباس محمد: فهو (لاه) على وزن فعل، وأصله: (لوه) أو (ليه)، ثم أدخل الألف واللام.
قال: ولو كان كما ذكر سيبويه أن أصله (إله) لكان قد حذف فاء الفعل وعينه، قال: لأنه تحذف همزة (إله)، وهي فاء الفعل، ثم تذهب اللام إذا أدخل الألف واللام. قال: ولم نر شيئا تحذف فاؤه وعينه. وليس كما قال؛ فإن عينه باقية لم تحذف.
উলুহিয়্যাহ (দেবত্ব) হলো তা-ই যাকে সৃষ্টি উপাসনা করে। ইবনে আব্বাস পাঠ করেছেন: (সে আপনাকে এবং আপনার উপাসনাকে পরিত্যাগ করবে), অর্থাৎ: আপনার ইবাদত; কারণ তারা ফিরআউনের ইবাদত করত।
আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বলেন: শব্দটি হলো (লাহ) যা 'ফা-আল' ওজনে গঠিত, আর এর মূল হচ্ছে: (লাম-ওয়াও-হা) অথবা (লাম-ইয়া-হা), অতঃপর এতে আলিফ এবং লাম যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন: সিবওয়াইহ যেমনটি উল্লেখ করেছেন যে এর মূল হলো (ইলাহ), তবে ক্রিয়ামূলের প্রথম বর্ণ এবং দ্বিতীয় বর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেত। তিনি বলেন: কারণ (ইলাহ)-এর হামজা বিলুপ্ত হয়ে যায় যা ক্রিয়ামূলের প্রথম বর্ণ, এরপর যখন আলিফ এবং লাম যুক্ত হয় তখন লাম চলে যায়। তিনি বলেন: আমরা এমন কিছু দেখিনি যার প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয় বর্ণই বিলুপ্ত হয়। অথচ বিষয়টি তিনি যেমনটি বলেছেন তেমন নয়; কারণ এর দ্বিতীয় বর্ণটি অবশিষ্ট রয়েছে, তা বিলুপ্ত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
القول الثالث: جوز بعضهم أن يكون أصله (ولاه)، فأبدلت الواو همزة، فقيل، إله، كما قالوا: (إسادة) في (وسادة)؛ واشتق من الوله؛ لأن قلوب العباد توله إليه، كقوله عز وجل: {ثم إذا مسكم الضر فإليه تجأرون}. وكان القياس أن يقال: (مولوه) كما يقال معبود، إلا أنهم خالفوا به ذلك البناء ليكون اسما علما، فقالوا: إله، كما قالوا للمكتوب: كتاب، وللمحسوب: حساب.
القول الرابع: قال آخرون: أصله من (أله يأله): إذا تحير؛ لأن العقول تأله عند التفكر [3/ا] في جلاله، أي تتحير.
الخامس: قال بعض اللغويين: أله يأله إلاهة، بمعنى: عبد يعبد عبادة، والتأله: التعبد؛ وأنشد قول رؤبة:
তৃতীয় মত: কেউ কেউ একে বৈধ মনে করেছেন যে, এর মূল হলো (ওয়ালাহ), অতঃপর 'ওয়াও' অক্ষরটিকে 'হামযা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, ফলে তা 'ইলাহ' হয়েছে। যেমন তারা 'উইসাদাহ' এর পরিবর্তে 'ইসাদাহ' বলে থাকে। এটি 'আল-ওয়ালাহ' (ব্যাকুলতা বা অনুরাগ) থেকে উদ্ভূত; কারণ বান্দাদের অন্তরসমূহ তাঁর প্রতি ব্যাকুল বা অনুরাগী হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যখন তোমাদেরকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তোমরা তাঁরই নিকট আর্তনাদ করো}। ভাষাগত নিয়মানুযায়ী একে 'মাউলুহ' (যাঁর প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করা হয়) বলা উচিত ছিল, যেমন 'মাবুদ' (যাঁর ইবাদত করা হয়) বলা হয়; কিন্তু তারা এই গঠনশৈলীর ব্যতিক্রম করেছে যাতে এটি একটি সংজ্ঞাবাচক নাম হতে পারে, তাই তারা 'ইলাহ' বলেছে। যেমন তারা লিখিত বস্তুকে 'কিতাব' এবং গণনাকৃত বিষয়কে 'হিসাব' বলে থাকে।
চতুর্থ মত: অন্যান্যরা বলেছেন: এর মূল হলো (আলাহা-ইয়া’লাহু) থেকে; যার অর্থ হলো দিশেহারা হওয়া; কারণ তাঁর মহিমা নিয়ে চিন্তা করার সময় [৩/ক] জ্ঞান-বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে যায়, অর্থাৎ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে।
পঞ্চম মত: কতিপয় ভাষাবিদ বলেছেন: 'আলাহা ইয়া’লাহু ইলাহাতান' এর অর্থ হলো 'আবাদা ইয়া’বুদু ইবাদাতান' (অর্থাৎ ইবাদত করা), আর 'তাতাল্লুহ' অর্থ হলো 'তাআববুদ' (উপাসনা করা); আর তিনি রু'বাহ-এর এই পঙ্ক্তিটি পাঠ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لله در الغانيات المده
سبحن واسترجعن من تألهي
أي: من تعبدي. قال: فمعنى الإله: المعبود، ومعنى لا إله إلا الله: لا معبود إلا الله، و (إلا) ههنا بمعنى (غير) لا بمعنى الاستثناء؛ لأن الاستثناء ينقسم إلى قسمين: إلى جنس المستثنى، وإلى غير جنسه، ومن توهم الأمرين في الله عز وجل فقد أبطل.
السادس: قال أبو علي: من قال: إن إلاها مأخوذ من توله العباد فقد أخطأ؛ لأن قولهم: (تأله) يدل على أن الهمزة فاء الكلمة.
السابع: زعم بعضهم أن الأصل فيه (الهاء) وهي الهاء التي تكون كناية عن الغائب. قال: وذلك أنهم أثبتوه موجودا في نظر عقولهم، وأشاروا إليه بـ (هاء) الكناية، ثم زيدت فيه لام الملك؛ إذا علموا أنه خالق الأشياء ومالكها، فصار (له) ثم زيدت فيه الألف واللام تعظيما، وفخموه
সুন্দরী নারীদের জন্য আল্লাহর প্রশংসা
তারা তসবিহ পাঠ করল এবং আমার ইবাদত দেখে ইন্নালিল্লাহ পাঠ করল
অর্থাৎ: আমার ইবাদত থেকে। তিনি বললেন: সুতরাং ইলাহ শব্দের অর্থ হলো: উপাস্য, আর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। এবং এখানে ‘ইল্লা’ শব্দটি ‘ব্যতীত’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, ‘ব্যতিক্রম’ অর্থে নয়; কারণ ব্যতিক্রম দুই প্রকার: স্বজাতীয় ব্যতিক্রম এবং বিজাতীয় ব্যতিক্রম। আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এই উভয় বিষয়ের কল্পনা করবে, সে ভ্রান্ত কথা বলল।
ষষ্ঠ: আবু আলী বলেন: যে ব্যক্তি বলে যে, ‘ইলাহ’ শব্দটি বান্দাদের ব্যাকুলতা থেকে গৃহীত, সে ভুল করেছে; কারণ তাদের উক্তি ‘তাআল্লাহা’ (ইবাদত করা) প্রমাণ করে যে, হামজা বর্ণটি শব্দের মূল বর্ণ বা ফা-কালিমা।
সপ্তম: কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এর মূল ভিত্তি হলো ‘হা’ বর্ণটি, আর এটি সেই ‘হা’ যা অনুপস্থিত সত্তার সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তিনি বলেন: এর কারণ হলো, তারা তাদের বিবেকের দৃষ্টিতে তাঁকে অস্তিত্ববান হিসেবে সাব্যস্ত করেছে এবং ‘হা’ সর্বনামের মাধ্যমে তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করেছে। অতঃপর এতে মালিকানার ‘লাম’ যুক্ত করা হয়েছে; যখন তারা জানতে পারল যে তিনি সকল বস্তুর স্রষ্টা ও মালিক, তখন তা ‘লাহু’ (তাঁর জন্য) হয়ে গেল। এরপর সম্মানের জন্য এতে আলিফ ও লাম বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তারা একে গুরুত্ববহ করে তুলেছে।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
توكيدا. ومنهم من أجره على الأصل في ترك التفخيم؛ كقول الشاعر:
أقبل سيل جاء من عند الله
يحرد حرد الجنة المغلة
فأما هذا القول وقول سيبويه وقول المبرد فهو كلام في اسم الله عز وجل، وباقي الأقوال إنما هو كلام في قولهم: إله. والقول الخامس لا يعد قولا؛ لأن قولهم: أله يأله [3/ب] إلاهة إنما هو مأخوذ من (الإله) وهو الذي أراد رؤية بقوله: (من تألهي)، أي من تعبدي الإله. و (المده) جمع مادة، والماده والمادح واحد.
والقول الثامن: قال الخليل، في غير رواية سيبويه عنه: هو
তাগিদ প্রদানের জন্য। আর তাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা একে তাফখিম (গাম্ভীর্যপূর্ণ উচ্চারণ) বর্জন করার মূলনীতির ওপর প্রয়োগ করেছেন; যেমন কবির উক্তি:
আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক প্লাবন ধেয়ে এল
যা ফলবতী উদ্যানের ন্যায় দ্রুতবেগে ধাবিত হচ্ছিল
বস্তুত এই বক্তব্য এবং সিবওয়াইহ ও আল-মুবাররাদের বক্তব্য হলো মহান ও পরাক্রমশালী 'আল্লাহ' নাম প্রসঙ্গে আলোচনা, আর অবশিষ্ট বক্তব্যগুলো হলো তাদের ব্যবহৃত শব্দ 'ইলাহ' (উপাস্য) সংক্রান্ত আলোচনা। আর পঞ্চম মতটি স্বতন্ত্র কোনো মত হিসেবে পরিগণিত হয় না; কারণ তাদের উক্তি: 'আলাহা ইয়াহলাহু' [৩/খ] 'ইলাহাতান' মূলত 'আল-ইলাহ' শব্দ থেকেই গৃহীত। আর রুবাহ তার উক্তি 'মিন তাআল্লুহি' (আমার উপাসনা হতে) দ্বারা এটাই বুঝিয়েছেন, অর্থাৎ আমার ইলাহ-র ইবাদত করা হতে। আর 'আল-মাদ্দাহ' হলো 'মাদ্দাহ'-র বহুবচন, এবং 'আল-মাদ্দাহ' ও 'আল-মাদিহ' (প্রশংসাকারী) অভিন্ন।
অষ্টম মত: আল-খালিল সিবওয়াইহ-র বর্ণনা ব্যতীত অন্য সূত্রে বলেছেন: এটি হলো
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
علم، اسم غير مشتق، ولا يجوز حذف الألف واللام عنه، كما يجوز من الرحمن والرحيم. وإلى هذا القول ذهب جماعة من أهل العربية، وجماعة من الفقهاء منهم: الشافعي- رحمه الله وأبو حنيفة، ومحمد بن الحسن؛ قالوا: هو اسم علم غير مشتق من شيء.
وقال أبو بكر بن دريد: (فأما اشتقاق اسم الله عز وجل فقد أقدم قوم على تفسيره، ولا أحب أن أقول فيه شيئا). وهذا الذي حكيناه عن الفقهاء ومن وافقهم هو الذي يعول عليه ويجب المصير إليه؛ لأن ما تقدم من الأقوال ظن وتخمين لا دليل عليه. ألا تراهم يقولون: هو كذا، بل هو كذا؟ ثم إن سيبويه قال غير القول الأول، فأجاز أن يكون أصله (لاه).
قلت: وليس قوله الأول فيه كقول العرب في النجم؛ لأن ذلك معلوم فيه الحالان، وليست الحال الأولى
এটি একটি নামবাচক বিশেষ্য, যা কোনো শব্দ হতে বুৎপন্ন নয়, এবং এর থেকে আলিফ ও লাম বিলুপ্ত করা বৈধ নয়, যেমনটি আর-রাহমান ও আর-রাহিম এর ক্ষেত্রে বৈধ। আর এটিই একদল ভাষাবিদ এবং একদল ফকিহ-এর অভিমত, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শাফেঈ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আবু হানিফা এবং মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান; তাঁরা বলেছেন: এটি একটি নামবাচক বিশেষ্য যা অন্য কোনো কিছু থেকে নির্গত হয়নি।
আবু বকর ইবনে দুরাইদ বলেন: (আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালীর নামের ব্যুৎপত্তির বিষয়ে একদল লোক এর ব্যাখ্যা প্রদানের দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তবে আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পছন্দ করি না)। আর ফকিহগণ এবং তাঁদের সাথে একমত পোষণকারীদের থেকে আমরা যা বর্ণনা করেছি, সেটিই নির্ভরযোগ্য এবং সেটির দিকেই ফিরে আসা আবশ্যক; কারণ পূর্বে বর্ণিত মতগুলো ধারণা ও অনুমানপ্রসূত, যার কোনো প্রমাণ নেই। আপনি কি দেখছেন না যে তারা বলে: এটি এমন, বরং এটি এমন? এরপর সিবওয়াইহ প্রথম মতটির বিপরীতে ভিন্ন একটি কথা বলেছেন, তিনি এর মূল 'লাহ' হওয়া বৈধ বলেছেন।
আমি বলি: এই বিষয়ে তাঁর প্রথম কথাটি 'আন-নাজম' সম্পর্কে আরবদের উক্তির মতো নয়; কারণ সেটির ক্ষেত্রে উভয় অবস্থাই স্পষ্ট, কিন্তু প্রথম অবস্থাটি নয়
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
التي ادعاها سيبويه في اسم الله عز وجل بمعلومة ولا يعرف ذلك، ولا يقوم عليه دليل. وليس ما قاله سيبويه في (الناس) مما يوافق هذا الاسم العظيم؛ لأن (الناس) و (الأناس) بمعنى واحد، وليس الله و (الإله) بمعنى واحد؛ لأن الله عز وجل علم لا يراد به ما يراد بالإله. [4/آ].
*أحمد: صلى الله عليه وسلم. هو مأخوذ من الحمد، كما أخذ من الحمرة أحمر، ومن الصفرة أصفر. وأحمد أبلغ من محمد، كما أن أحمر وأصغر أبلغ من محمر ومصفر؛ لأنه في أحمر وأصفر ألزم. وليس (أحمد) بمنقول من الفعل المضارع، ولا هو أفعل التفضيل، إنما مثال هذا أن يقال لك: ابن من كرم أفعل، فتقول: أكرم، ومن هذا الله أكبر؛ ومنه قول زهير:
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নামের ব্যাপারে সিবাহওয়াই যা দাবি করেছেন তা জ্ঞাত নয় এবং তা সুপরিচিতও নয়, আর এর ওপর কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত নেই। 'আন-নাস' (মানুষ) সম্পর্কে সিবাহওয়াই যা বলেছেন তা এই মহান নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; কারণ 'আন-নাস' এবং 'আল-উনাস' একই অর্থবোধক, কিন্তু 'আল্লাহ' এবং 'আল-ইলাহ' একই অর্থবোধক নয়; কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা একটি সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিনাম, যা দ্বারা সেই অর্থ উদ্দেশ্য নয় যা 'ইলাহ' দ্বারা উদ্দেশ্য হয়। [৪/আ]।
আহমাদ: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এটি 'হামদ' (প্রশংসা) থেকে গৃহীত, যেমন লাল বর্ণ থেকে 'আহমার' (লাল) এবং হলুদ বর্ণ থেকে 'আসফার' (হলুদ) শব্দটি গৃহীত হয়েছে। আর 'আহমাদ' শব্দটি 'মুহাম্মাদ' অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক, ঠিক যেমন 'আহমার' ও 'আসফার' শব্দ দুটি 'মুহাম্মার' ও 'মুসাফফার' অপেক্ষা অধিক জোরালো; কারণ 'আহমার' ও 'আসফার'-এর ক্ষেত্রে গুণটি অধিক অবিচ্ছেদ্য। আর 'আহমাদ' শব্দটি বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালবাচক ক্রিয়া থেকে স্থানান্তরিত নয় এবং এটি আধিক্যবাচক বিশেষ্যও নয়; বরং এর উদাহরণ হলো যেমন আপনাকে বলা হয়: 'কারুমা' থেকে 'আফআলু' ওজনে শব্দ গঠন করুন, তখন আপনি বলবেন: 'আকরাম'। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো 'আল্লাহু আকবার'; এবং এরই অন্তর্ভুক্ত যুহাইরের উক্তি:
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فتنتج لكم غلمان أشأم كلهم .... كأحمر عاد ثم ترضع فتفطم
و (محمد) أيضا مأخوذ من الحمد.
وقيل لعبد المطلب: بم أسميت ابنك؟ فقال: بمحمد، فقالوا: ما هذا من أسماء آبائك!! فقال: أردت أن يحمد في السموات وفي الأرض.
والهمزة في (أحمد) زائدة لأمرين: أحدهما: الاشتقاق. والثاني: أنها أول ومعها ثلاثة أحرف أصول، ولا تكون كذلك إلا زائدة. و (محمد) مفعل كـ (مكرم). ويقال: كل من تكاملت محاسنه ومناقبه وبلغ النهاية في الحمد فهو محمد، قال الأعشى:
إليك- أبيت اللعن- كان كلالها .... إلى الماجد الفرع الجواد المحمد
*آدم: صلى الله عليه وسلم: اسم، علم لا ينصرف لوزن
অতঃপর তা তোমাদের জন্য এমন সব অশুভ সন্তান জন্ম দেবে যারা সবাই আদ জাতির সেই রক্তিম ব্যক্তির মতো হবে, তারপর তাদের দুধ পান করানো হবে এবং দুধ ছাড়ানো হবে।
এবং 'মুহাম্মাদ' শব্দটিও 'হামদ' (প্রশংসা) থেকে গৃহীত।
আবদুল মুত্তালিবকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি আপনার পুত্রের নাম কী রেখেছেন? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। তারা বলল: এটি আপনার পিতৃপুরুষদের নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়! তিনি বললেন: আমি চেয়েছি যেন আসমানসমূহে এবং জমিনে তাঁর প্রশংসা করা হয়।
আর 'আহমাদ' শব্দের 'হামযা' বর্ণটি দুটি কারণে অতিরিক্ত: একটি হলো শব্দমূলের ব্যুৎপত্তিগত দিক এবং দ্বিতীয়টি হলো এটি শব্দের শুরুতে এসেছে এবং এর সাথে তিনটি মূল অক্ষর রয়েছে, আর এমতাবস্থায় এটি অতিরিক্তই হয়ে থাকে। আর 'মুহাম্মাদ' শব্দটি 'মুফআল' ছাঁচে, যেমন 'মুকরাম'। বলা হয়ে থাকে: যার যাবতীয় সৎগুণ ও বৈশিষ্ট্য পূর্ণতা পেয়েছে এবং প্রশংসার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে, সেই 'মুহাম্মাদ'। আল-আশা বলেছেন:
আপনার দিকেই—আপনি অভিশাপ থেকে মুক্ত থাকুন—তাদের ক্লান্তি নিবেদিত ছিল; সেই উচ্চবংশীয়, মর্যাদাবান, দানবীর ও প্রশংসিত ব্যক্তির পানে।
*আদম (আলাইহিস সালাম): এটি একটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য, যা শব্দগত ওজনের কারণে রূপান্তরহীন (গাইরে মুনসারিফ)।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الفعل والعلمية، وهو عربي باتفاق.
وقال ابن عباس- رحمه الله: هو مأخوذ من أديم الأرض، وهو وجهها؛ لأنه مخلوق منها، قال الأعشى:
يوما تراها كشبه أردية الـ .... ـعصب ويوما أديمها نغلا
وقيل: هو مأخوذ من خلط الشيء بالشيء؛ لأنه مخلوق من ماء وطين. ويقال: أدمتك بأهلي، أي: خلطتك بهم، وبين فلان وفلان أدمة، أي: خلطة وعشرة.
وفي الحديث: (إذا خطب الرجل المرأة فلا بأس أن ينظر إلى وجهها وكفيها فإن ذلك أحرى [4/ب] أن يؤدم بينهما)
ক্রিয়াপদ এবং বিশেষ্যপদ (হওয়ার গুণসম্পন্ন), এবং এটি সর্বসম্মতিক্রমে আরবি শব্দ।
এবং ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন: এটি ‘আদীমুল আরদ’ (জমিনের উপরিভাগ) থেকে গৃহীত, আর তা হলো এর পৃষ্ঠদেশ; কারণ তিনি তা থেকেই সৃজিত। আল-আ’শা বলেছেন:
কোনো একদিন আপনি তাকে ‘আসব’ বস্ত্রের চাদরের ন্যায় দেখবেন, আর অন্য একদিন এর উপরিভাগকে পচা বা নষ্ট অবস্থায় দেখবেন।
এবং বলা হয়েছে: এটি কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত করা থেকে গৃহীত; কারণ তিনি পানি ও মাটি থেকে সৃজিত। আর বলা হয়: ‘আমি তোমাকে আমার পরিবারের সাথে মিশিয়ে দিয়েছি’, অর্থাৎ: আমি তোমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর অমুক ও অমুকের মধ্যে ‘আদমা’ রয়েছে, অর্থাৎ: হৃদ্যতা ও মেলামেশা রয়েছে।
আর হাদিসে এসেছে: (যখন কোনো ব্যক্তি কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন তার মুখমন্ডল ও কব্জি পর্যন্ত দুই হাত দেখতে কোনো দোষ নেই; কারণ তা তাদের উভয়ের মধ্যে সদ্ভাব সৃষ্টির জন্য অধিক উপযোগী)। [৪/খ]
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقيل: مأخوذ من الأدمة في اللون. وأنكر الزمخشري ما ذكرناه، وأن يكون على أفعل، وقال: (اشتقاقهم (آدم) من الأدمة ومن أديم الأرض نحو اشتقاقهم (يعقوب) من (العقب) و (إدريس) من (الدرس) و (إبليس) من (الإبلاس)؛ وما (آدم) إلا اسم أعجمي، وأقرب أمره أن يكون على (فاعل) كازر وعازر وعابر وشالخ وفالغ وأشباه ذلك). والذي قاله حسن وهو أشبه مما تقدم.
وأما (إسرافيل) وأسماء الأنبياء- عليهم السلام نحو: (إدريس) و (إبراهيم) و (إسماعيل) و (إسحاق) و (إسرائل) و (أيوب) فكلها
এবং বলা হয়েছে: এটি বর্ণের ক্ষেত্রে 'আল-উদমাহ' (শ্যামল বর্ণ) থেকে গৃহীত। আর আজ-জামাখশারী আমরা যা উল্লেখ করেছি তা এবং এটি 'আফআলু' ওজনে হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন: (তাদের 'আদম' শব্দটিকে 'আল-উদমাহ' এবং 'আদিমুল আরদ' (জমিনের উপরিভাগ) থেকে ব্যুৎপন্ন করা ঠিক তেমনি, যেমন 'ইয়াকুব'-কে 'আল-আকিব' (গোড়ালি), 'ইদ্রিস'-কে 'আদ-দারস' (পাঠ) এবং 'ইবলিস'-কে 'আল-ইবলাস' (নিরাশ হওয়া) থেকে ব্যুৎপন্ন করা; অথচ 'আদম' একটি অনারব নাম ছাড়া আর কিছু নয়, আর এর সবচেয়ে নিকটবর্তী অবস্থা হলো এটি 'ফায়িল' ওজনে হওয়া; যেমন: আজর, আযর, আবির, শালিখ, ফালিগ এবং এই জাতীয় নামসমূহ)। তিনি যা বলেছেন তা সুন্দর এবং এটি ইতিপূর্বে যা বলা হয়েছে তার চেয়ে অধিক সঙ্গতিপূর্ণ।
আর 'ইসরাফিল' এবং নবীদের—তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—নামসমূহ যেমন: 'ইদ্রিস', 'ইব্রাহিম', 'ইসমাইল', 'ইসহাক', 'ইসরাঈল' এবং 'আইয়ুব', এর সবই...
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
أعجمية.
و (إبراهيم): اسم قديم، وقد تكلمت به العرب على وجوه: قالوا: (إبراهيم)، وهو المشهور، و (إبراهام)، وقد قرئ به، و (إبراهم)، على حذف الياء، و (إبرهم). ويروى أن عبد المطلب قال:
عذت بما عاذ به إبراهم .... مستقبل القبلة وهو قائم
وقال أيضا:
نحن آل الله في كعبه .... لم يزل ذا على عهد ابرهم
অনারবি শব্দ।
এবং (ইব্রাহীম): এটি একটি প্রাচীন নাম, আর আরবরা এটি বিভিন্ন রূপে উচ্চারণ করেছে: তারা বলেছে: (ইব্রাহীম), যা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ; এবং (ইব্রাহাম), এই রূপেও পাঠ করা হয়েছে; এবং 'ইয়া' বিলোপ করে (ইব্রাহাম) ও (ইবরাহাম)। আর বর্ণিত আছে যে, আব্দুল মুত্তালিব বলেছেন:
আমি সেই সত্তার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যার নিকট ইব্রাহাম আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন... কিবলার অভিমুখী হয়ে যখন তিনি দণ্ডায়মান ছিলেন
তিনি আরও বলেছেন:
আমরা আল্লাহর কাবায় আল্লাহরই পরিবার... ইব্রাহামের যুগ থেকে এটি এভাবেই চলে আসছে।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ويقال: (إسماعيل) و (إسماعين).
و (إسحاق) وافق من العربي مصدر: أسحقه إسحاقا. ويقال: (إسرال) مثل (ميكال) و (إسرائيل) و (إسرائين) قال أمية:
لا أرى من يعينني في حياتي .... غير نفسي إلا بني إسرال
قال أبو علي: والقياس في همزة (أيوب) ألا تكون زائدة؛ لأنه لا يخلو أن يكون (فيعولا) أو (فعولا)، فإن قدرناه (فيعولا) كان قياسه- لو كان عربيا- أن يكون من الأوب مثل (قيوم) وإن قدرته (فعولا) كان مثل سفود وكلوب، وإن لم يعلم في الأمثلة مثل هذا؛ لأنه لا ينكر أن يجيء العجمي على مثال لا يكون في العربي. ولا يكون من الأوب، وقد قلبت الواو فيه إلى الياء، لأن من يقول: (صيم) في (صوم) لا يقلب إذا تباعدت من الطرف ولا يقول إلا (صوام)، وكذلك هذه العين إذا تباعدت من
এবং বলা হয়: (ইসমাইল) ও (ইসমাইন)।
এবং (ইসহাক) শব্দটি আরবির এই মাসদারের (ক্রিয়ামূলের) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: আসহাকাহু ইসহাকান। আর বলা হয়: (ইসরাল), যেমন (মিকাল), এবং (ইসরাঈল) ও (ইসরাঈন)। উমাইয়্যাহ বলেছেন:
আমি আমার জীবনে নিজেকে ছাড়া অন্য কোনো সাহায্যকারী দেখি না, কেবল ইসরালের সন্তানদের ব্যতীত।
আবু আলি বলেন: (আইয়ুব) শব্দের হামজাটি অতিরিক্ত না হওয়াই নিয়মসংগত; কারণ এটি ‘ফাইউল’ অথবা ‘ফাউল’ ওজনের বাইরে হওয়া সম্ভব নয়। যদি আমরা একে ‘ফাইউল’ ওজনের মনে করি—যদি এটি আরবি হতো—তবে নিয়ম অনুযায়ী এটি ‘আল-আওব’ থেকে ‘কাইয়ুম’ শব্দের মতো হতো। আর যদি একে ‘ফাউল’ ওজনের মনে করো, তবে তা ‘সাফুদ’ ও ‘কালুব’ এর মতো হবে। যদিও উদাহরণসমূহে এর অনুরূপ কিছু জানা নেই; কারণ কোনো অনারবি শব্দ আরবিতে নেই এমন ওজনে আসাকে অস্বীকার করা যায় না। আর এটি ‘আল-আওব’ থেকে হতে পারে না যেখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘ইয়া’ তে রূপান্তরিত হয়েছে; কারণ যে ব্যক্তি ‘সাওম’ এর ক্ষেত্রে ‘সিয়াম’ বলে, সে বর্ণটি প্রান্ত থেকে দূরে সরে গেলে আর পরিবর্তন করে না এবং ‘সাওয়াম’ ছাড়া অন্য কিছু বলে না। একইভাবে এই ‘আইন’ বর্ণটি যখন থেকে দূরে সরে যায়...
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الطرف وحجزت الواو بينها وبين الآخر لم يجز فيها القلب.
প্রান্তভাগ এবং 'ওয়াও' বর্ণটি যদি তার ও অন্যটির মাঝে ব্যবধান তৈরি করে, তবে তাতে রূপান্তর (কলব) বৈধ হবে না।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فصل
أذكر فيه زيادة الهمزة وأصالتها
متى كانت الهمزة في أول الكلمة ومعها أربعة أحرف من الأصول فهي أصل عرف [5/آ] اشتقاق أو لم يعرف، والكلمة بها من الخماسي. وكذلك إن كانت حشوا أو طرفا، وذلك لكثرة كونها أصلا في ذلك إلا أن يمنع مانع أو يدل على الزيادة دليل.
قال أبو عثمان: (إذا وجدت الهمزة غير أول فلا نقض بزيادتها إلا بثبت؛ لأنها لم تكثر زيادتها في غير الأول).
فإن كانت الهمزة أولا وبعدها ثلاثة أحرف أصول قضي بزيادتها سواء كان معها في الكلمة زيادة أخرى أو لم يكن، وسواء عرف الاشتقاق أو جهل إلا أن يدل على أصالتها دليل، أو يمنع من زيادتها مانع؛ وإنما قضوا بذلك لأن زيادتها كثرت في
পরিচ্ছেদ
যেখানে আমি হামযাহ্-এর অতিরিক্ত হওয়া এবং মৌলিক হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করব
যখন হামযাহ্ শব্দের শুরুতে থাকে এবং তার সাথে চারটি মূল অক্ষর থাকে, তখন সেটি মৌলিক হিসেবে গণ্য হবে, চাই এর বুৎপত্তি [৫/আ] জানা থাকুক বা না থাকুক; আর শব্দটি তখন পঞ্চবর্ণবিশিষ্ট (খুমাসি) হিসেবে গণ্য হয়। অনুরূপভাবে যদি তা শব্দের মাঝে কিংবা শেষে থাকে (তবেও তা মৌলিক), কারণ সেসব ক্ষেত্রে হামযাহ্ সাধারণত মৌলিক হয়ে থাকে, যদি না কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে অথবা অতিরিক্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়।
আবু উসমান বলেন: (যদি হামযাহ্ শব্দের শুরু ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া যায়, তবে প্রমাণ ছাড়া তা অতিরিক্ত হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হবে না; কারণ শুরু ছাড়া অন্য স্থানে এর অতিরিক্ত হওয়ার আধিক্য নেই)।
যদি হামযাহ্ শুরুতে হয় এবং এর পরে তিনটি মূল অক্ষর থাকে, তবে তা অতিরিক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে; চাই শব্দটিতে অন্য কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকুক বা না থাকুক, এবং এর বুৎপত্তি জানা থাকুক বা অজানা থাকুক—যদি না এর মৌলিক হওয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায় অথবা অতিরিক্ত হওয়ার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে। তারা এই ফয়সালা দিয়েছেন কারণ এর অতিরিক্ত হওয়ার ব্যবহার অধিক হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هذه الحال، فيحمل ما جهل على ما علم.
فعلى هذا قالوا: الهمزة في (إبراهيم) و (إسماعيل) ونحو ذلك أصل لأنها أول وبعدها أربعة أحرف أصول، وتكون الهمزة في (إسحاق)، على ما قرر، زائدة، لأنها أول وبعدها ثلاثة أحرف أصول، وكذلك (إدريس) وقد سبق في (أيوب) ما قال أبو علي.
*إبريق: فارسي معرب ومعناه بالفارسية: طريق الماء، أوصب الماء على رفق، وقد جاء في القرآن العزيز، وقال عدي بن زيد:
ودعا بالصبوح يوما فجاءت .... قينة في يمينها إبريق
والإبريق أيضا: السيف الصقيل، ووزنه: إفعيل.
এই অবস্থা, সুতরাং যা অজানা তা যা জানা আছে তার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে।
এই ভিত্তিতে তাঁরা বলেছেন: (ইব্রাহিম) এবং (ইসমাইল) ও এই জাতীয় শব্দসমূহে ‘হামজাহ’ বর্ণটি মূল বর্ণ (আসল), কারণ এটি শুরুতে অবস্থিত এবং এর পরে চারটি মূল বর্ণ রয়েছে। আর (ইসহাক) শব্দে ‘হামজাহ’ বর্ণটি, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, অতিরিক্ত (যায়েদাহ), কারণ এটি শুরুতে অবস্থিত এবং এর পরে তিনটি মূল বর্ণ রয়েছে। একইভাবে (ইদরীস) শব্দের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। আর (আইয়ুব) সম্পর্কে আবু আলি যা বলেছেন তা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
*ইবরিক: এটি একটি আরবিকৃত ফারসি শব্দ এবং ফারসি ভাষায় এর অর্থ হলো: পানির পথ, অথবা ধীরলয়ে পানি ঢালা। এটি মহান কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আদি ইবনে যায়েদ বলেছেন:
একদিন তিনি প্রাতঃকালীন পানীয়র জন্য আহ্বান করলেন, তখন এক গায়িকা উপস্থিত হলো যার ডান হাতে ছিল একটি ইবরিক (পানির পাত্র)।
আর ইবরিক অর্থ উজ্জ্বল তলোয়ারও হয়; এর ওজন (ছন্দ) হলো: ইফ’ইল।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
* إبليس: زعم قوم أنه عربي، وأنه من (أبلس): إذا انقطعت حجته، أو من أبلس من رحمة الله، أي: يئس، أو من الانكسار والحزن؛ يقال: أبلس: إذا سكت عما قال؛ ومنه قوله:
يا صاح هل تعرف رسما مكرسا [5/ب] .... قال: نعم أعرفه، وأبلسا
ويمنع جميع ما قالوه عدم الصرف، ولو كان عربيا لصرف كما يصرف (إخريط) علما.
*أبيل: هو عجمي، ومعناه الناسك من النصارى والراهب، قال:
ইবলিস: একদল লোক দাবি করেছেন যে এটি আরবি শব্দ, এবং এটি 'আবলাসা' থেকে উদ্ভূত: যখন কারও যুক্তি খণ্ডন হয়ে যায়, অথবা সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যায়, অর্থাৎ: সে আশাহত হয়, কিংবা মনোভঙ্গ ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে; বলা হয়ে থাকে: 'আবলাসা', যখন সে যা বলছিল সে বিষয়ে নিশ্চুপ হয়ে যায়; আর এরই প্রেক্ষিতে কবির উক্তি:
হে বন্ধু, তুমি কি কোনো জনমানবহীন বাস্তুভিটার চিহ্ন চেন? [৫/খ] .... সে বলল: হ্যাঁ, আমি তা চিনি, আর সে হতভম্ব হয়ে নিশ্চুপ হয়ে গেল।
তাদের এই সকল দাবি শব্দটির শব্দরূপান্তরহীনতা (মুনসারিফ না হওয়া) দ্বারা নাকচ হয়ে যায়, কারণ এটি যদি আরবি হতো তবে 'ইখরীত' শব্দের মতো এরও শব্দরূপান্তর (সারফ) হতো যখন তা নামবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
*আবীল: এটি একটি অনারবি শব্দ, এর অর্থ হলো নাসারাদের মধ্যকার ইবাদতগুজার এবং সন্ন্যাসী, কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أما ودماء لا تزال كأنها .... على قنة العزى وبالنسر عندما
وما سبح الرهبان في كل بيعة .... أبيل الأبيلين المسيح بن مريما
لقد ذاق منا عامر يوم لعلع .... حساما إذا ماهز بالكف صمما
وكانو يسمون عيسى- على نبينا وعليه السلام- أبيل الأبيلين. والأبيل أيضا: عصا الناقوس، قال:
وما صك ناقوس النصارى أبيلها
وصاحب تلك العصا: أيبلي، قال:
وما أيبلي على هيكل .... بناه وصلب فيه وصارا
ঐ রক্তের শপথ যা এখনও লেগে আছে যেন তা... উজ্জার চূড়ায় এবং নসর মূর্তির সন্নিকটে যখন...
এবং গীর্জাসমূহে সন্ন্যাসীদের তাসবিহ পাঠের শপথ... সন্ন্যাসীদের প্রধান মারইয়াম পুত্র ঈসা মসীহের নামে।
নিশ্চয়ই লা’লা’-এর দিন আমির আমাদের পক্ষ থেকে আস্বাদন করেছিল... এমন এক তলোয়ার যা হাতের তালু দিয়ে চালনা করলে অব্যর্থভাবে লক্ষ্যভেদ করে।
আর তারা ঈসা—আমাদের নবী ও তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—তাঁকে ‘আবিলুল আবিলিন’ (সন্ন্যাসীদের প্রধান) বলে অভিহিত করত। আর ‘আবিল’ শব্দের অর্থ ঘণ্টার লাঠিও হয়; কবি বলেছেন:
এবং খ্রিস্টানদের ঘণ্টার লাঠি যখন তাদের ঘণ্টাটিকে আঘাত করে।
আর সেই লাঠির অধিকারীকে ‘আইবিলি’ বলা হয়; কবি বলেছেন:
এবং কোনো সন্ন্যাসী কোনো উপাসনালয়ে... যা সে নির্মাণ করেছে, তাতে ক্রুশ স্থাপন করেছে এবং সেখানে অবস্থান গ্রহণ করেছে।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومعنى (صار) ههنا: صور.
*إبريسم: بفتح الهمزة والراء، وبعضهم يكسر الهمزة، وهو معرب.
*إبزار: هو معرب، يقال بفتح الهمزة وبكسرها. وهو مفرد وليس بجمع، وهو التابل، والجمع: الأبازير.
إبلمة: واحدة الأبلم، وهي خوص المقل. يقال بفتح الهمزة واللام، وبضمهما، وبكسرهما.
*الأبلة: اسم بلدة. قال أبو علي: وزنه (فعله) وتكون الهمزة أصلية. قال: (ولو قيل: هو (أفعله) والهمزة زائدة مثل (أبلمة) و (أسنمة) لكان قولا).
*أبيناء: جمع (بين)، من قولهم بان الشيء بيانا فهو بين: إذا اتضح. ويقال أيضا: أبان الشيء فهو بين. فجمع (بين) على
এবং এখানে 'সারা' শব্দের অর্থ হলো: আকৃতিসমূহ।
*ইবরীসাম: হামযা ও রা বর্ণের যবর যোগে, কেউ কেউ হামযাতে যের প্রদান করেন; এটি একটি আরবিকৃত শব্দ।
*ইবযার: এটি আরবিকৃত শব্দ, যা হামযার যবর ও যের উভয় যোগে উচ্চারিত হয়। এটি একবচন, বহুবচন নয়; এর অর্থ মশলা, এবং এর বহুবচন হলো আবাযীর।
ইবলামাহ: এটি আবালম-এর একবচন, আর তা হলো মুকিল গাছের পাতা। এটি হামযা ও লামের যবর, পেশ ও যের—তিনভাবেই উচ্চারিত হয়।
*আল-উবুল্লা: একটি শহরের নাম। আবু আলী বলেছেন: এর ওজন হলো 'ফু'উলাহ' এবং হামযাটি এখানে মূল অক্ষর। তিনি বলেন: (যদি বলা হতো যে এটি 'আফ'উলাহ' ওজনের এবং হামযাটি অতিরিক্ত, যেমন ইবলামাহ ও আসনমাহ শব্দে রয়েছে, তবে তাও একটি অভিমত হতে পারত)।
আবীয়ানা: এটি 'বাইয়িন' শব্দের বহুবচন। এটি তাদের এই কথা থেকে গৃহীত যে, যখন কোনো বস্তু স্পষ্ট হয়ে যায় তখন বলা হয় 'বানা আশ-শাইউ বায়ানান', ফলে তা 'বাইয়িন' (সুস্পষ্ট)। আরও বলা হয়, 'আবানা আশ-শাইউ', তখনও তা 'বাইয়িন' (সুস্পষ্ট)। সুতরাং 'বাইয়িন' এর বহুবচন হলো...
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(أبيناء) وهو (أفعلاء)، كما جمع (هين) على (أهيناء).
*أباتر: هو الذي يقطع [6/آ] رحمه، قال الشاعر:
لئيم نزت في أنفه خنزوانة .... على الرحم القربى أحذ أباتر
وقال الجرمي: هو القصير. والخنزوانة: الكبر. والأحذ: الخفيف اليد، وهو أحذ بين الحذذ، قال الفرزدق:
أوليت العراق ورافديه .... فزاريا أحذ يد القميص
الرافدان: دجلة والفرات. يخاطب يزيد بن عبد الملك. وأراد بالفزاري أبا المثنى عمر بن هبيرة. وأراد بخفة اليد: الخيانة.
(আবীনাহ) যা (আফ'ইলা) ওজনের, যেমন (হায়্যিন) শব্দের বহুবচন (আহয়ীনাহ) করা হয়।
*আবাতের: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেন [৬/আ], কবি বলেছেন:
এক নীচ ব্যক্তি যার নাকে অহংকার দানা বেঁধেছে .... নিকটাত্মীয়ের প্রতি সে অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও সম্পর্ক ছিন্নকারী।
আল-জারমী বলেছেন: এর অর্থ হলো খাটো। আর 'খানজুওয়ানা' অর্থ হলো অহংকার। আর 'আল-আহায' অর্থ হলো হালকা হাতবিশিষ্ট, আর সে 'হাযায' গুণের অন্তর্ভুক্ত, আল-ফারাযদাক বলেছেন:
তুমি ইরাক ও এর দুই নদীর শাসনভার অর্পণ করেছ .... জনৈক ফাজারি ব্যক্তির কাছে, যার জামার হাত অত্যন্ত হালকা।
'আর-রাফিদানি' হলো দজলা ও ফরাত নদী। তিনি ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিককে সম্বোধন করছেন। আর ফাজারি বলতে তিনি আবু আল-মুসান্না উমর ইবনে হুবাইরাহকে বুঝিয়েছেন। আর হাতের হালকা হওয়া দ্বারা তিনি খেয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতাকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
* إبين: اسم موضع. ويقال: عدن أبين، بفتح الهمزة وكسرها.
*أترج: جمع أترجة، وتقديرها: (أفعلة)، والهمزة زائدة، وروى أبو زيد: (ترنجة) والجمع (ترنج).
*أتي: مسيل الماء، بضم الهمزة، وهو فعول والهمزة فيه أصل. وقال الأصمعي: (أتي) بالفتح. وقال الجرمي: هنا لغتان؛ وقال الفرزدق:
تصرم عني ود بكر بن وائل .... وما كان عني ودهم يتصرم
قوارص تأتيني ويحتقرونها .... وقد يملأ القطر الأتي فيفعم
* ইবইয়ান: একটি স্থানের নাম। বলা হয়ে থাকে: আদন আবইয়ান, হামযাহর ফাতহাহ (যবর) এবং কাসরাহ (যের) উভয় যোগে।
* উতরুজ: এটি উতরুজাহ শব্দের বহুবচন, আর এর ওজন বা গঠন হলো: (আফউলাহ), এবং এখানে হামযাহ বর্ণটি অতিরিক্ত। আবু যায়িদ বর্ণনা করেছেন: (তুরুঞ্জাহ) এবং এর বহুবচন হলো (তুরুঞ্জ)।
* আতিয়্য: পানির প্রবাহপথ, হামযাহর পেশ যোগে। এটি ফাউল ওজনের এবং এতে হামযাহ বর্ণটি মূল শব্দমূলের অংশ। আসমায়ি বলেছেন: (আতিয়্য) ফাতহাহ যোগে। জারমি বলেছেন: এখানে দুটি ভাষা-রীতি রয়েছে; আর আল-ফারাযদাক বলেছেন:
বাকর বিন ওয়ায়েলের ভালোবাসা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে .... আর তাদের ভালোবাসা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ছিল না
কটু কথা আমার কাছে আসে এবং তারা সেটাকে তুচ্ছজ্ঞান করে .... অথচ বৃষ্টিধারা পানির প্রবাহপথকে পূর্ণ করে প্লাবিত করে দিতে পারে
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قال الجرمي: يقول بعضهم: (الأتي) وبعضهم: (الأتي) فضم قوم وفتح آخرون، يعني في بيت الفرزدق.
*أثفية: واحدة (الأثافي): وهي الحجارة التي ترفع عليها القدر قال الجوهري: (الأثافي)، قال: وإن شئت قلت: (الأثافي) بالتخفيف.
وقال أبو الفتح: (لم يسمع في جمعها إلا التخفيف اجتمعت العرب على ذلك).
وقال الجرمي: قالوا في (أثفية): أثاف، وأجمعوا على تخفيفها. قال: ولا نعلم أحدا ممن يوثق بفصاحته جاء بها على الأصل مثقلة. قال: وقالوا في جمع (أوقية): (أواقي) [6/ب] فثقلوا الياء، وخففها بعضهم فقال: (أواق). قال: وكل ما كان مثقل الياء في الواحد فثقله في الجمع، لا يجوز إلا ذلك، إلا أن تسمع العرب تقول شيئا فتتبعه، قالوا في (أمنية): (أماني)؛ قال الله عز وجل: {لا يعلمون الكتاب إلا أماني}، وقالوا في (سرية): (سراري).
আল-জারমি বলেন: তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: (আল-উতি) এবং কেউ কেউ বলেন: (আল-আতি)। অর্থাৎ একদল পেশ দিয়েছেন এবং অন্য দল জবর দিয়েছেন, যা ফারাজদাক-এর একটি কাব্যাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
*আসফিয়্যাহ: এটি (আসাফি)-এর একবচন: আর তা হলো সেই পাথর যার ওপর হাঁড়ি বসানো হয়। আল-জাওহারি বলেন: (আল-আসাফি); তিনি আরও বলেন: আপনি চাইলে লঘুভাবে (তাসদিদহীন) (আসাফি) বলতে পারেন।
আবু আল-ফাতহ বলেন: (এর বহুবচনের ক্ষেত্রে লঘু উচ্চারণ ব্যতীত অন্য কিছু শোনা যায়নি, আরবরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন)।
আল-জারমি বলেন: তারা (আসফিয়্যাহ)-এর বহুবচনে বলেছেন: আসাফি, এবং তারা এর লঘু উচ্চারণের ওপর ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। তিনি বলেন: যাদের ভাষার শুদ্ধতার ওপর নির্ভর করা হয়, তাদের মধ্যে আমরা কাউকে জানি না যিনি একে এর মূল ব্যাকরণগত রূপ অনুযায়ী গুরুত্বসহ (তাসদিদযুক্ত অবস্থায়) ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন: তারা (আউকিয়্যাহ)-এর বহুবচনে বলেছেন: (আওয়াকি) [৬/খ], এখানে তারা ‘ইয়া’ বর্ণটিকে গুরুত্ব (তাসদিদ) দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ একে লঘুভাবে উচ্চারণ করে বলেছেন: (আওয়াক)। তিনি বলেন: একবচনে যে শব্দের ‘ইয়া’ বর্ণটি তাসদিদযুক্ত থাকে, বহুবচনেও তা তাসদিদযুক্ত হওয়া ছাড়া অন্য কিছু বৈধ নয়, তবে যদি আরবদের থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যতিক্রম শোনা যায় তবে সেটিই অনুসরণ করা হবে। যেমন তারা (উমনিইয়াহ)-এর বহুবচনে বলেছেন: (আমানিই); মহান আল্লাহ বলেন: {তারা কিতাব সম্পর্কে কিছুই জানে না কেবল কিছু মিথ্যা ধারণা ছাড়া}, এবং তারা (সুররিইয়াহ)-এর বহুবচনে বলেছেন: (সারারিই)।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قلت: وقول زهير:
أثافي سفعا في معرس مرجل .... ونؤيا كجذم الحوض لم يتثلم
يروى بالوجهين.
وقال أبو إسحاق: (التخفيف أكثر في (أثاف) في كلام العرب؛ لكثرة استعمالهم (أثاف)، وإن كان التثقيل الأصل؛ قال ذو الرمة:
وهل يرجع التسليم أو يكشف العمى .... ثلاث الأثافي والرسوم البلاقع)
وقال أبو جعفر النحاس: (سمعت محمد بن الوليد يقول: ما رأيت أحدا يروي: (أثافي سفعا) إلا بالتخفيف. قال النحاس: وسمعت أبا الحسن على بن سليمان ينكر هذا ويقول: الوجه التثقيل لأنه الأثل والوزن فيه مستقيم).
আমি বলছি: যুহাইরের উক্তি:
ডেকচি রাখার স্থানে আগুনের আঁচে কালো হয়ে যাওয়া চুলার পাথরগুলো... এবং হাউজের অবশিষ্টাংশের ন্যায় একটি নালা যা ভেঙে পড়েনি
এটি উভয় রূপেই বর্ণিত হয়েছে।
আবু ইসহাক বলেছেন: (আরবদের কথাবার্তায় 'আসাফি' শব্দে লঘুকরণ বা তাশদীদহীনতা অধিক প্রচলিত; শব্দটির অধিক ব্যবহারের কারণে, যদিও মূলগতভাবে তাশদীদযুক্ত হওয়াই ছিল ভিত্তি। যুর রুম্মাহ বলেছেন:
অভিবাদন কি ফিরে আসবে কিংবা বিভ্রান্তি কি দূর হবে... তিনটি চুলার পাথর এবং জনমানবহীন বিরান চিহ্নগুলোর মাধ্যমে?)
আবু জাফর আন-নাহহাস বলেছেন: (আমি মুহাম্মদ ইবনুল ওয়ালিদকে বলতে শুনেছি: আমি কাউকে 'আসাফি সুফআন' অংশটি লঘুকরণ ব্যতীত বর্ণনা করতে দেখিনি। নাহহাস বলেন: আমি আবুল হাসান আলী ইবনে সুলাইমানকে এটি অস্বীকার করতে শুনেছি এবং তিনি বলতেন: সঠিক রূপটি হলো তাশদীদযুক্ত হওয়া, কারণ এটিই মূল ভিত্তি এবং এতে ছন্দের মাত্রাও ঠিক থাকে)।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قلت: وتقدير (أثفية): (أفعولة)، والهمزة زائدة. يقال: ثفيت القدر وأثفيتها: إذا أصلح لها الأثافي. ويقال: بقي من بني فلان أثفية خشناء، أي بقي منهم عدد كثير والمثفاة من النساء: التي لها ضرتان.
*إثمد: هو حرج الكحل، ووزنه: (إفعل).
*أثعوب: أفعول، وهو المنثعب من الماء. يقولون: تعبت الماء ثعبا، أي فجرته.
*أجدل: هو الصقر، والهمزة فيه زائدة.
*اجلوذ بهم السير، أي: دام؛ وأنشد أبو العباس:
ألا حبذا حبذا حبذا .... حبيب تحملت فيه الأذى
আমি বলি: 'আছফিয়্যাহ' শব্দের ওজন বা গঠন হলো 'আফউলাহ', এবং এখানে হামজা বর্ণটি অতিরিক্ত। বলা হয়: আমি পাতিলটি তিন পাথরের চুলায় স্থাপন করলাম; যখন কেউ পাতিল রাখার জন্য চুলার পাথরগুলো ঠিকঠাক করে নেয়। আরও বলা হয়: অমুক গোত্রের একটি বিশাল জনবল বা সংখ্যা অবশিষ্ট আছে। আর নারীদের মধ্যে 'মুছাফফাহ' বলা হয় সেই নারীকে, যার দুইজন সতীন রয়েছে।
*ইছমিদ: এটি হলো সুরমার পাথর, এবং এর ওজন হলো 'ইফআল'।
*উছউব: এটি 'আফউল' ওজনের শব্দ, যার অর্থ হলো পানির প্রবল প্রবাহ। তারা বলে: আমি পানি প্রবাহিত করেছি, অর্থাৎ আমি তা উৎসারিত করেছি।
*আজদাল: এটি হলো বাজপাখি, এবং এতে হামজা বর্ণটি অতিরিক্ত।
*ইজলওয়াদা বিহিমুস সায়রু, অর্থাৎ: তাদের ভ্রমণ নিরবচ্ছিন্ন বা দীর্ঘস্থায়ী হলো; এবং আবুল আব্বাস আবৃত্তি করেছেন:
ওহে কতই না চমৎকার, কতই না প্রিয় সেই প্রিয়জন, যার জন্য আমি সকল কষ্ট ও লাঞ্ছনা সহ্য করেছি।
(খণ্ড: ১)
সাফারুস সাআদাহ ওয়া সাফীরুল ইফাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ألا حبذا برد أنيابه .... إذا أظلم الليل واجلوذا [7/آ]
*إجرد: هو (إفعل) مثل إثمد، وهي بقلة.
*أجارد: موضع، قال:
أتانا ابن أرض يبتغي الزاد بعدما .... ترامي حلامات به وأجارد
ابن أرض، أي: غريب. وحلامات موضع أيضا.
*أجبن: جمع جبين. ويروى قول رؤبة:
আহা, তার দাঁতের শীতলতা কতই না চমৎকার... যখন রাত অন্ধকার হয়ে গেল এবং দীর্ঘায়িত হলো [৭/আ]
*ইজরিদ: এটি (ইফয়াল) ওজনে গঠিত, যেমন ‘ইছমিদ’। এটি একটি উদ্ভিদ বা শাকবিশেষ।
*আজারীদ: একটি স্থানের নাম। কবি বলেছেন:
আমাদের নিকট এক অপরিচিত মুসাফির পাথেয় অন্বেষণে এল, যখন হুলামাত ও আজারীদ তাকে এদিক-ওদিক নিক্ষেপ করল।
ইবন আরদ—অর্থাৎ: অপরিচিত আগন্তুক। হুলামাতও একটি স্থানের নাম।
*আজবুন: এটি ‘জাবীন’ (ললাট)-এর বহুবচন। রু'বাহ-এর উক্তি এভাবে বর্ণিত হয়েছে: