(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الثبات والشمول في الشريعة الإسلامية القسم: أصول الفقه
الكتاب: الثبات والشمول في الشريعة الإسلامية
المؤلف: الدكتور عابد بن محمد السفياني، أستاذ مساعد بجامعة أم القرى
أصل هذا الكتاب: رسالة دكتوراه في الشريعة الإسلامية فرع الفقه والأصول - كلية الشريعة بجامعة أم القرى بمكة المكرمة 1407 هـ
الناشر: مكتبة المنارة، مكة المكرمة - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م
عدد الصفحات: 602
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1437
ইসলামী শরীয়তের স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা বিভাগ: উসূলে ফিকহ
বই: ইসলামী শরীয়তের স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা
লেখক: ডক্টর আবিদ বিন মুহাম্মদ আস-সুফইয়ানি, সহকারী অধ্যাপক, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়
বইটির মূল উৎস: ইসলামী শরীয়তের ফিকহ ও উসূলে ফিকহ শাখায় ডক্টরেট থিসিস - শরীয়াহ অনুষদ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মুকাররামা ১৪০৭ হিজরি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানারা, মক্কা মুকাররামা - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الثبات والشمول في الشريعة الإسلامية
تأليف
الدكتور عابد بن محمد السفياني
أستاذ مساعد بجامعة أم القرى
مكتبة المنارة
ইসলামী শরিয়তে স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা
রচনা
ডক্টর আবিদ বিন মুহাম্মদ আস-সুফইয়ানি
উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
মাকতাবাতুল মানারা
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة للمؤلف
الطبعة الأولى
1408 هـ - 1988 م
লেখকের পক্ষ থেকে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الثباتُ والشمول في الشَريعةِ الإسْلاميَّة
ইসলামী শরীআতের স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أصل هَذَا الْكتاب رِسَالَة دكتوراه فِي الشَّرِيعَة الإسلامية فرع الْفِقْه وَالْأُصُول قدمت لكلية الشَّرِيعَة بجامعة أم الْقرى بِمَكَّة المكرمة 1407 هـ ومنحت الدرجَة العلمية بِتَقْدِير ممتاز.
এই গ্রন্থটির মূল উৎস হলো ইসলামী শরীয়াহর ফিকহ ও উসুল বিভাগের একটি পিএইচডি অভিসন্দর্ভ, যা ১৪০৭ হিজরিতে মক্কা মুকাররমাহর উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদে পেশ করা হয়েছিল এবং এটি 'মুমতাজ' (চমৎকার) মানের সাথে এই উচ্চতর ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
{وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 153].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
{আর নিশ্চয় এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} [আল-আন’আম: ১৫৩]।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن عمداً عبده ورسوله صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان الى يوم الدين.
وبعد: فإن الإنسان محتاج إلى مبادئ ثابتة تطمئن اليها نفسه، ذلك لأنه مخلوق مفطور على "التوحيد"، الذي هو دين الرسل جميعاً، وهو الحق الثابت الذي لا يتغير.
وهذه الفطرة السوية تكسب النفس الإنسانية ثباتاً في القيم والمفاهيم والمبادئ، وعن طريق ذلك يعمر الإنسان الأرض ويقوم بمهمة الخلافة، وهو يشعر بتكريم الله له، حيث أنزل له "الوحي" وضمنه جواباً عن كل مسألة تحتاج الى جواب، فإذا به يملك صورة صحيحة عن عالم الغيب، وأحكاماً شرعية يحتكم إليها في عالم الشهادة، وكل ذلك متسق مع فطرته، ومع هذا الكون الذي يعيش فيه. فقد خلق الله هذا الكون حياً متحركاً كما خلق الإنسان حياً مريداً هماماً، فها هنا مجموعة حركة متجددة تحتاج إلى توجيه وضوابط، والدوافع والرغبات والمتاع الذي خلقه الله أيضاً لهذا الإنسان يضمن نشاط تلك الحركة فإذا بها حركة مستمرة موارة متجددة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতঃপর: নিশ্চয়ই মানুষ এমন কিছু স্থির মূলনীতির মুখাপেক্ষী যার প্রতি তার নফস প্রশান্তি লাভ করে। কারণ সে এমন এক সৃষ্টি যাকে "তাওহীদ"-এর ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে, যা সকল রাসূলের ধর্ম এবং যা অটল সত্য ও অপরিবর্তনীয়।
আর এই সঠিক স্বভাবজাত প্রকৃতি মানবাত্মাকে মূল্যবোধ, ধারণা ও মূলনীতির ক্ষেত্রে দৃঢ়তা দান করে। এর মাধ্যমেই মানুষ জমিন আবাদ করে এবং খিলাফতের দায়িত্ব পালন করে। এমতাবস্থায় সে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া সম্মানের অনুভূতি লাভ করে, যেহেতু তিনি তার জন্য "ওহী" অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে এমন প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর অন্তর্ভুক্ত করেছেন যার উত্তর প্রয়োজন। ফলে সে গায়েব বা অদৃশ্যের জগৎ সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণা লাভ করে এবং দৃশ্যমান জগতে ফয়সালার জন্য শারঈ বিধানসমূহ প্রাপ্ত হয়। আর এর সবকিছুই তার স্বভাবজাত প্রকৃতি এবং সে যে মহাবিশ্বে বাস করে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা আল্লাহ এই মহাবিশ্বকে প্রাণবন্ত ও গতিশীল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, যেমন তিনি মানুষকে প্রাণবন্ত, ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন ও উদ্যমী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এখানে এক সেট নবায়নযোগ্য গতিশীলতা রয়েছে যার জন্য দিকনির্দেশনা ও নিয়মনীতি প্রয়োজন। আর আল্লাহ এই মানুষের জন্য যে অনুপ্রেরণা, কামনা-বাসনা ও জীবনোপকরণ সৃষ্টি করেছেন, তা সেই গতির সক্রিয়তাকে নিশ্চিত করে, ফলে এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন, তরঙ্গায়িত ও নবায়নযোগ্য গতিতে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد قدر الله سبحانه أن يذعن الكون كله فلا يخرج عن تلك الضوابط .. أما بنو آدم فقد خيرهم الله بين اتباع سبيل الرشد، أو الانحراف عنه فمنهم من ثبت على فطرته السوية والتزم الهدي الرباني، ومنهم من تحول عنها فانفلت من تلك الضوابط واستجاب للانحراف.
ومن رحمة الله سبحانه أن قوى صلاح الفطرة بتلك الضوابط والتوجيهات وإن هذه الضوابط هي الأحكام الشرعية من الحلال والحرام التي تشمل جميع شؤون الإنسان ومجتمعه الخاصة والعامة، واتصفت هذه الأحكام -بما يناسب الكون والإنسان- من الثبات والشمول والحركة والتجدد والعطاء. ولقد حققت الأجيال الأولى من البشرية -على مدى عشرة قرون (1) - هذه الصورة الشرعية بما فيها من ثبات وشمول وحركة وتجدد بالمستوى الذي كانت تعيشه في تلك الفترة، والمجتمعات الرعوية، أو الزراعية، أو الصناعية تحتاج إلى هذه الصورة الشرعية، وكل يعيش بها حسب ما آتاه الله من قوة.
ثم طرأ على البشرية حالة غير سوية ئما أعرضت عن الهدي الرباني وخرجت عن ضوابطه، فاجتالتها الشياطين وأفسدت فطرتها.
ولقد حرص أعداء البشرية -الشيطان وجنده- على تعميق هذا الانحراف، واستعملوا من الأسلحة أخطرها، فكان ذلك السلاح هو "التبديل" تبديل المفاهيم والقيم وتلبيس الحق على الناس واستحداث صورة جديدة للمفاهيم والقيم والأحكام، وتغييرها في كل عصر ومكان وتزيينها للناس، والحيلولة بينهم وبين الهدي الرباني.
وبدأ الصراع بين فريقين:
الأول: الأنبياء والرسل وأتباعهم من المصلحين:
ومهمتهم المحافظة على الفطرة السوية -وهي التوحيد- وإبعاد الشبهات
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ ফয়সালা করেছেন যে, সমগ্র মহাবিশ্ব অনুগত থাকবে এবং এই সকল নিয়মের বাইরে যাবে না। পক্ষান্তরে, আদম সন্তানদের আল্লাহ তাআলা সঠিক পথ অনুসরণ অথবা তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিষয়ে ইখতিয়ার দান করেছেন। ফলে তাদের মধ্যে কেউ তার সুস্থ স্বভাবের (ফিতরাত) ওপর অটল থেকেছে এবং রব্বানী হিদায়াতকে আঁকড়ে ধরেছে, আবার কেউ তা থেকে বিমুখ হয়ে সেই সকল নিয়ম-শৃঙ্খল থেকে ছিটকে পড়েছে এবং বিচ্যুতিকে গ্রহণ করে নিয়েছে।
আর মহান আল্লাহর রহমত এই যে, তিনি সেই সকল নিয়ম ও নির্দেশনার মাধ্যমে স্বভাবজাত যোগ্যতাকে শক্তিশালী করেছেন। এই সকল নিয়ম মূলত হালাল ও হারামের শরয়ী বিধানাবলি, যা মানুষের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনের সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এই বিধানসমূহ—মহাবিশ্ব ও মানুষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—স্থায়িত্ব, ব্যাপকতা, গতিশীলতা, নতুনত্ব এবং দানে গুণান্বিত। মানবজাতির প্রথম দিকের প্রজন্মসমূহ—দশ শতাব্দীকাল ব্যাপী (১)—এই শরয়ী রূপরেখাকে তার স্থায়িত্ব, ব্যাপকতা, গতিশীলতা ও নতুনত্বসহ সেই পর্যায়ে বাস্তবায়িত করেছিল যে পর্যায়ে তারা তখন জীবন অতিবাহিত করত। আর পশুপালনকারী, কৃষিভিত্তিক বা শিল্পনির্ভর সকল সমাজেরই এই শরয়ী রূপরেখার প্রয়োজন রয়েছে এবং প্রত্যেকেই আল্লাহ প্রদত্ত সক্ষমতা অনুযায়ী এর মাধ্যমেই জীবন অতিবাহিত করে।
এরপর মানবজাতির ওপর এক অস্বাভাবিক অবস্থা আপতিত হলো যখন তারা রব্বানী হিদায়াত থেকে বিমুখ হলো এবং এর নিয়ম-শৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে গেল; ফলে শয়তানরা তাদের প্ররোচিত করে পথভ্রষ্ট করল এবং তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতিকে নষ্ট করে দিল।
আর মানবতার শত্রু—শয়তান ও তার বাহিনী—এই বিচ্যুতিকে আরও গভীর করতে সচেষ্ট হলো এবং তারা সবচাইতে বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করল। সেই অস্ত্রটি ছিল 'পরিবর্তন'—অর্থাৎ ধারণা ও মূল্যবোধের পরিবর্তন, মানুষের কাছে সত্যকে অস্পষ্ট করে তোলা এবং বিভিন্ন ধারণা, মূল্যবোধ ও বিধানের জন্য নতুন নতুন রূপ উদ্ভাবন করা; প্রতিটি যুগে ও স্থানে সেগুলোকে পরিবর্তন করা ও মানুষের কাছে সুশোভিত করে তোলা এবং তাদের ও রব্বানী হিদায়াতের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।
অতঃপর দুই দলের মাঝে সংঘাত শুরু হলো:
প্রথম দল: নবী-রাসূলগণ এবং সংস্কারকদের মধ্য থেকে তাঁদের অনুসারীবৃন্দ:
তাঁদের দায়িত্ব হলো সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতি—তথা তাওহীদ—রক্ষা করা এবং সংশয়সমূহ দূর করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
عنها وتربية الناس على أحكامه، حرصاً على الاستقامة والثبات عليها، ومن ثم بناء حركة شاملة متجددة مع التزام للمنهج الرباني بشموله.
الثاني: الشيطان وأتباعه من المفسدين:
ومهمتهم إفساد الفطرة ونشر الشرك وأحكامه، حرصاً منهم على إفساد الأرض بتشريعات غريبة عن طبيعة الفطرة، يضعونها بأنفسهم، ويطلقون الإنسان مع رغباته وأهوائه بلا ضوابط شرعية، ويمدونه بأحكام متغيرة متبدلة لا تعرف ثباتاً ولا شمولاً ولا تحفظ الفطرة الإِنسانية من الفساد، لأنها موضوعة على مخالفة مقصد الشارع وهو الله سبحانه.
ولم يكتفوا بذلك، بل عادوا على "الوحي" الرباني يحاولون تبديله حتى لا يجد المصلحون مرجعاً يصححون عليه الفساد الذي طرأ على البشرية.
ولقد امتنع عليهم تبديل "الكتاب" و"السنة" وهما الحق الذي أنزله الله على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم وأرسله به إلى الناس كافة إلى يوم القيامة، ذلك بأنه وحي تكفل الله بحفظه نعمة منه وفضلاً كما قال تعالى:
{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (1).
فلجأ هذا الفريق إلى حيلة أخرى فأخذ في تبديل المعاني الشرعية فجعل السنة بدعة، والبدعة سنة، والمعروف منكراً، والمنكر معروفاً، والتوحيد تخلفاً وخروجاً إلى الانحراف، والشرك تقدماً وتوحيداً، والفضيلة رذيلة، والرذيلة فضيلة وهكذا .. والكتاب والسنة بين يدي المسلمين يقرأون نصوصهما على غير مراد الله لا ينجو منهم من هذه الفتنة إلّا مارحم ربك، وصُدّر هذا الفهم إلى الأمم الأخرى، وتواصى على نشره أعداء البشرية سواء في داخل الأمة أو خارجها، فترى أئمة الغزو الفكري في العالم يقرأون الكتاب والسنة ويدرسونها ويحرفون معانيها ويسعون في فتنة التبديل
… وينشرون دراساتهم وكتبهم لتحقيق هذه الغاية.
--------------------------------------------
...তা থেকে এবং তার বিধানসমূহের ওপর মানুষকে গড়ে তোলা, এর ওপর অবিচলতা ও দৃঢ়তা বজায় রাখার আগ্রহে, অতঃপর তার পূর্ণাঙ্গতাসহ রব্বানী মানহাজের (প্রভুর পদ্ধতির) প্রতি অনুগত থেকে একটি ব্যাপক ও নবায়নযোগ্য আন্দোলন গড়ে তোলা।
দ্বিতীয়: শয়তান এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের মধ্য হতে তার অনুসারীরা:
তাদের কাজ হলো ফিতরাতকে (মানুষের সহজাত স্বভাব) কলুষিত করা এবং শিরক ও তার বিধানসমূহ ছড়িয়ে দেওয়া। তাদের এই অপচেষ্টা মূলত ফিতরাতের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যহীন এমন সব বিজাতীয় আইন-কানুন তৈরির মাধ্যমে পৃথিবীতে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে, যা তারা নিজেরাই তৈরি করে। তারা মানুষকে কোনো শরয়ী নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তার কুপ্রবৃত্তি ও কামনার গোলাম হিসেবে ছেড়ে দেয় এবং তাকে এমন পরিবর্তনশীল ও অস্থিতিশীল বিধান সরবরাহ করে যাতে কোনো দৃঢ়তা বা ব্যাপকতা নেই এবং যা মানুষের ফিতরাতকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে না। কারণ, এসব বিধান প্রবর্তিত হয়েছে শারিয়াত দাতা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য বা মাকসাদের বিরোধিতা করার জন্য।
তারা এখানেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা রব্বানী 'অহি'র (প্রত্যাদেশ) দিকে ফিরেছে এবং তা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে, যাতে সংস্কারকগণ এমন কোনো মানদণ্ড বা উৎস খুঁজে না পান যার মাধ্যমে তারা মানবজাতির ওপর চেপে বসা এই বিপর্যয় সংশোধন করতে পারেন।
কিন্তু 'কিতাব' (কুরআন) ও 'সুন্নাহ' পরিবর্তন করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এই দুটি হলো সেই সত্য যা আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য তাঁকে এর মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। আর এটি এমন এক অহি, যা তাঁর পক্ষ থেকে করুণা ও অনুগ্রহ হিসেবে সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
{নিশ্চয় আমিই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।} (১)।
অতঃপর এই দলটি অন্য এক কৌশলের আশ্রয় নিলো; তারা শরয়ী অর্থসমূহ বিকৃত করা শুরু করলো। ফলে তারা সুন্নাহকে বিদআতে এবং বিদআতকে সুন্নাহতে পরিণত করলো; মারুফকে (সৎকাজ) মুনকার (অসৎকাজ) এবং মুনকারকে মারুফে রূপান্তর করলো। তারা তাওহীদকে পশ্চাৎপদতা ও বিচ্যুতি হিসেবে এবং শিরককে প্রগতি ও তাওহীদ হিসেবে প্রচার করতে লাগলো। তারা সচ্চরিত্রকে চারিত্রিক অবনতি এবং চারিত্রিক অবনতিকে সচ্চরিত্র হিসেবে তুলে ধরলো, আর এভাবেই চলতে থাকলো... কিতাব ও সুন্নাহ মুসলিমদের হাতের কাছেই রয়েছে, তারা এগুলোর পাঠ্যসমূহ আল্লাহর উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে অন্যভাবে পাঠ করে। আপনার প্রতিপালক যাকে দয়া করেছেন সে ছাড়া এই ফিতনা থেকে কেউ রক্ষা পায় না। এই ভ্রান্ত বুঝ অন্যান্য জাতির কাছেও রপ্তানি করা হয়েছে এবং মানবতার শত্রুরা উম্মাহর ভেতরে কিংবা বাইরে সর্বত্র এটি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পরস্পরকে প্ররোচিত করে। আপনি দেখবেন যে, বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের নায়করা কিতাব ও সুন্নাহ পাঠ করে ও তা নিয়ে পড়াশোনা করে ঠিকই, কিন্তু তারা এর অর্থগুলোকে বিকৃত করে এবং বিধান পরিবর্তনের ফিতনায় লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে
… এবং তারা এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ প্রচার করে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقبل ذلك وقعت البشرية في فتنة المخالفين من داخل هذه الأمة، فقد حرفت "الفرق الضالة" عقيدة الإسلام وشريعته، وسعت في فتنة التبديل مع استبقاء الانتساب للكتاب والسنة، وقد استفاد أئمة الغزو الفكري منهم وبنوا على تجربتهم واجتمع جهدهم -وهم في أمر مختلف- ولكنه يكون أقوى اجتماعاً وأشد تناصرا عند نشر فتنة التبديل والتغيير مع اختلاف الأساليب والمواقع والشارات والشعارات، وعدو البشرية الأول يرضى عن ذلك كله إذا ما كان الهدف واحداً والغاية التي رسمها مطلوبة ومتحققة.
وإن المسلمين اليوم قد أحاطت بهم هذه الفتنة كما أحاطت بالبشرية في أكثر مراحلها وهي تحيط بها اليوم من جميع أقطارها، وليس لنا ولا لها أن ننتظر رسولاً جديداً يرفع هذه الفتنة بإذن الله، ولكن علينا أن نستمسك بالكتاب والسنّة ونحذر من فتنة التبديل، ونتبع ما كان عليه نبي هذه الأمة صلوات الله وسلامه عليه، وماربي عليه أصحابه رضوان الله عليهم لنكون بفضل من الله من الطائفة التي تقوم بالحق، وبهذا يتحقق لنا أهم أسباب النصر، ولم يبق بعد ذلك إلا الصبر على بذل الجهد وإحسان العمل لنتغلب على الأعداء، ونحول بين البشرية وفتنتهم.
إن الصراع بين أهل الحق والباطل ما زال قائماً .. وقد انقطع في كثير من مراحل البشرية قبل بعثة النبي يكرِو عندما غلب أهل الباطل، ولكنه في هذه الأمة لن ينقطع، لأن المصدر الرباني للهدي محفوظ، وطائفة الحق لا تزول وأعداء الدين داخل الأمة وخارجها أمسكوا بالفتنة الجديدة فتنة تبديل المفاهيم والقيم والأحكام واجتمعوا على نصرتها، وتوافرت جهودهم على ذلك، وأمنتهم هذه الأمة -كما أمنتهم البشرية في جميع أقطار الأرض- لما دعوا إلى السلام وجمع العالم تحت رايته وكفوا عن محاربة الدين محاربة صريحة، وأخذوا في طرق أخرى ملتوية وقام أئمتهم المفكرون بدراسة الكتاب والسنّة وتاريخ الإسلام تماماً كما انتسب إليها أئمة الفرق الضالة وسعوا إلى أغراضهمٍ تلك
… جهلاً أو عناداً، وجعلوا العقل والبحث العلمي -بزعمهم- رائداً لهم فوافقهم على ذلك كثير من الكتاب والباحثين في الدراسات الإِسلامية، فعمت تلك الفتنة في العالم
এর পূর্বে মানবজাতি এই উম্মতের অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের ফিতনায় পতিত হয়েছিল। "ভ্রষ্ট দলসমূহ" ইসলামের আকীদা ও শরীয়তকে বিকৃত করেছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা বজায় রেখেই পরিবর্তনের ফিতনায় লিপ্ত হয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ইমামগণ তাদের থেকে উপকৃত হয়েছে এবং তাদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের ভিত্তি তৈরি করেছে। তারা বিভিন্ন মতে বিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রচেষ্টা একত্রিত হয়েছে, তবে পরিবর্তন ও রূপান্তরের ফিতনা বিস্তারের ক্ষেত্রে তাদের এই ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা সবচেয়ে শক্তিশালী ও তীব্র হয়; যদিও তাদের পদ্ধতি, অবস্থান, প্রতীক ও স্লোগান ভিন্ন ভিন্ন। মানবজাতির প্রধান শত্রু এই সব কিছুতেই সন্তুষ্ট হয় যদি লক্ষ্য অভিন্ন থাকে এবং তার নির্ধারিত উদ্দেশ্য আকাঙ্ক্ষিত ও অর্জিত হয়।
বর্তমানে মুসলমানরা এই ফিতনা দ্বারা সেভাবেই পরিবেষ্টিত হয়েছে যেভাবে মানবজাতি তার অধিকাংশ যুগে পরিবেষ্টিত ছিল, আর আজ এটি বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে তাদের ঘিরে রেখেছে। আমাদের জন্য বা তাদের জন্য আল্লাহর অনুমতিতে এই ফিতনা দূর করার জন্য কোনো নতুন রাসূলের অপেক্ষা করার অবকাশ নেই। বরং আমাদের কর্তব্য হলো কিতাব ও সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা এবং পরিবর্তনের ফিতনা থেকে সতর্ক থাকা। এই উম্মতের নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) যে আদর্শের ওপর ছিলেন এবং তাঁর সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) যে আদর্শের ওপর লালিত-পালিত হয়েছিলেন, আমাদের তা অনুসরণ করতে হবে; যেন আমরা আল্লাহর অনুগ্রহে সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যারা হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মাধ্যমেই আমাদের বিজয়ের প্রধান উপকরণগুলো অর্জিত হবে। এরপর শত্রুদের পরাজিত করতে এবং মানবজাতি ও তাদের এই ফিতনার মাঝে অন্তরায় হতে কেবল প্রচেষ্টা ব্যয় এবং নেক আমলের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করাই অবশিষ্ট থাকে।
হক ও বাতিলের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরন্তর বহমান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্বে মানবজাতির অনেক পর্যায়ে যখন বাতিলের অনুসারীরা বিজয়ী হয়েছিল তখন এই দ্বন্দ্ব বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এই উম্মতের মধ্যে তা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। কারণ হিদায়াতের রব্বানী উৎস সংরক্ষিত এবং হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত দলটি কখনো বিলুপ্ত হবে না। উম্মতের ভেতরের ও বাইরের দ্বীনের শত্রুরা নতুন ফিতনা অর্থাৎ ধারণা, মূল্যবোধ ও বিধি-বিধান পরিবর্তনের ফিতনাকে আঁকড়ে ধরেছে এবং এর সমর্থনে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ লক্ষ্যে তাদের প্রচেষ্টা সংহত হয়েছে। এই উম্মত তাদের বিশ্বাস করেছে—যেমনটি বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষ তাদের বিশ্বাস করেছে—যখন তারা শান্তির ডাক দিয়েছে এবং বিশ্বকে তাদের পতাকাতলে একত্রিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং দ্বীনের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করা থেকে বিরত থেকেছে। তারা অন্যান্য কুটিল পথ অবলম্বন করেছে এবং তাদের বুদ্ধিজীবী নেতারা কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামের ইতিহাস অধ্যয়ন করেছে, ঠিক যেভাবে ভ্রষ্ট দলসমূহের নেতারা এর সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিল এবং অজ্ঞতা বা হঠকারিতার বশবর্তী হয়ে তাদের সেই উদ্দেশ্যগুলো হাসিলের চেষ্টা করেছিল
… অজ্ঞতা বা হঠকারিতার কারণে। তারা তাদের দাবি অনুযায়ী বিবেক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে তাদের পথপ্রদর্শক বানিয়েছে, আর ইসলামি গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক লেখক ও গবেষক তাদের সাথে একমত হয়েছেন; ফলে সেই ফিতনা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الإسلامي وأنشأت واقعاً أصبح فيه أهل الحق غرباء، وفرح أعداء الإسلام بتجهيل هذه الأمة بدينها، ونشطوا في نشر المذاهب الفكرية المعاصرة، التي تنادي بالفصل بين العقيدة والشريعة وفصل الحياة الدنيا عن الآخرة، وكان في مقدمتها "العلمانية" (1).
ولم تكن قدرات العقل الإسلامي من القوة والصفاء بحيث يرفض هذا الانحراف ويتمسك "بالوحي" وسبب ذلك يرجع إلى غزو ثقافي قديم تقبله "العقل الإسلامي" وخُدع به، فَسهُل عليه تقبل هذا الغزو الحديث المتمثل في المذاهب المعاصرة.
لقد أثر المنهج العقلي الذي دخل على الأمة الإسلامية من ثقافة اليونان عن طريق المعتزلة أثراً بالغاً في الأصول والفروع، وقد شُغِلَت به المعتزلة كثيراً في الأصول الاعتقادية، وأشْغَلت الناس به، وتركت في الأمة آثاراً بالغة السوء ما يزال المصلحون يعانون منها، وورّثت مسالك فاسدة في الأصول أثّرت على الفروع العملية وأضعفت من سلطان الشريعة، وجعلت للعقل منزلة تقارب الشرع أو تضاهيه، تركت هي الأخرى آثاراً بالغة السوء، تمثلت في بعض الأراء عند بعض الشذاذ .. ومن سار سيرتهم في الأمة بعد ذلك من الكتاب المحدثين، وانتهت هذه الكتابات يتأثر المتأخر منها بالمتقدم إلى أن العقل له حق تعطيل العمل بالنص بجميع أفراده بحكم "المصلحة". وذلك هو التغيير والتبديل.
ومن الأثار السيئة التي ترتبت على هذه الأفكار الخطيرة أن تزعزع مفهوم "الثبات في الشريعة" عند بعض الدارسين للفقه الإسلامي والمتصلين بالدراسات
--------------------------------------------
ইসলামি এবং এমন এক বাস্তবতার সৃষ্টি করেছে যেখানে হকের অনুসারীরা আগন্তুক হয়ে পড়েছেন। ইসলামের শত্রুরা এই উম্মতকে তার দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ রাখায় আনন্দিত হয়েছে এবং তারা সমকালীন আধুনিক মতবাদগুলো প্রচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা আকিদা ও শরীয়তের মাঝে বিচ্ছেদ এবং ইহকালীন জীবনকে পরকাল থেকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানায়; আর এর শীর্ষে ছিল "ধর্মনিরপেক্ষতা" (১)।
মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা এতটা শক্তিশালী ও স্বচ্ছ ছিল না যে এই বিচ্যুতিকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং "ওহি"কে আঁকড়ে ধরবে। এর কারণ হলো একটি প্রাচীন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন যা "মুসলিম মস্তিষ্ক" গ্রহণ করেছিল এবং এর দ্বারা প্রতারিত হয়েছিল, ফলে সমকালীন মতবাদগুলোর রূপ পরিগ্রহকারী এই আধুনিক আগ্রাসন গ্রহণ করা তার জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিল।
মুতাজিলাদের মাধ্যমে গ্রিক সংস্কৃতি থেকে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যে যৌক্তিক পদ্ধতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তা মৌলিক নীতি (উসুল) এবং শাখা-প্রশাখা (ফুরু)-এর ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। মুতাজিলারা আকিদাগত মৌলিক বিষয়ে এটি নিয়ে অত্যন্ত ব্যাপৃত ছিল এবং মানুষকেও এতে লিপ্ত করেছিল। তারা উম্মাহর মধ্যে এমন কিছু চরম নেতিবাচক প্রভাব রেখে গেছে যার কুফল আজও সংস্কারকরা ভোগ করছেন। তারা মৌলিক বিষয়ে এমন কিছু ভ্রান্ত পদ্ধতি উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছে যা ব্যবহারিক শাখা-প্রশাখার ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং শরীয়তের কর্তৃত্বকে দুর্বল করে দিয়েছে। এটি বিবেক বা যুক্তিকে শরীয়তের সমতুল্য বা কাছাকাছি মর্যাদা দান করেছে, যা অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব রেখে গেছে। এটি প্রতিফলিত হয়েছে কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির মতামতে এবং উম্মাহর মধ্যে পরবর্তীকালের সেই সব আধুনিক লেখকদের লেখায় যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন। এই লেখাগুলোর পরবর্তী পর্যায়গুলো পূর্ববর্তীগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, "জনস্বার্থ" (মাসলাহাত)-এর দোহাই দিয়ে যুক্তির অধিকার রয়েছে যে কোনো অকাট্য পাঠ (নাস)-এর কার্যকারিতা সামগ্রিকভাবে বাতিল করে দেওয়ার। আর এটাই হলো (দ্বীনের) পরিবর্তন ও রূপান্তর।
এই বিপজ্জনক চিন্তাগুলোর ফলে উদ্ভূত অন্যতম ক্ষতিকর প্রভাব হলো, ইসলামি ফিকহ নিয়ে গবেষণাকারী এবং এই সংশ্লিষ্ট গবেষণার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের একাংশের মাঝে "শরীয়তের স্থায়িত্ব"-এর ধারণাটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الشرعية، ثم انتشر هذا الأثر السيء في داخل الأمة، وخاصة بعد أن أصبح النظر في المسائل الدينية مشاعاً لكل أحد علم أوجهل، فضعف سلطان "الشريعة" على كثير من النفوس، وليس ذلك بعجيب لأنه إذا ضعف سلطانها على قلوب بعض المنتسبين للعلم، فأعطوا العقل حق الحكم على النص بإلغاء مقتضياته، فإنه لابد من أن يترك هذا المسلك الفاسد أثره داخل الأمة الإسلامية.
ومن هنا جُعل للعقل منزلة الحكم على الشريعة بالزيادة أو النقص، وفُتح باب البدع في الأصول والفروع، وكان تحقق هذا الأثر على صفات الشريعة سبباً في دراسة هذا الموضوع، لمعرفة الضوابط العلمية التي اتفق عليها سلف الأمة من الصحابة والتابعين ومن بعدهم من أئمة الإِسلام واستدلوا عليها بالكتاب والسنة والإجماع.
ويترتب على ذلك أن نتعرف على منهجهم في الاستدلال لأنه من "الدين" وكل ما يشمله مفهوم الدين ملزم لنا، ومن هنا نفرق بين منهج الاستدلال الإسلامي ومسالك النظر الفاسدة عند المخالفين قديماً وحديثاً، ويتكفل البحث ببيان الفرق في كل موضع بما يناسبه، وفي هذا محافظة على ثبات الشريعة من جانب ومن جانب آخر فيه بيان لكيفية تحقق شمولها في الواقع.
والطريق المؤدي لذلك كله هو دراسة منزلة هذه الشريعة، وبيان أن الشارع إنما هو الله سبحانه، وأن النسخ والتبديل والتغيير ليس لغيره، كما أن إنشاء الحكم وإرسال الرسل ليس لسواه سبحانه، وهذه عقيدة من العقائد التي تحتاج إلى تجلية فقد قل الحديث عنها - وإن كانت موجودة في كتب الأصوليين تحت عنوان "من هو الحاكم"، فكان لا بد من الحديث عنها وتجليتها، لأنها ضرورية لإدراك الفرق بين الألوهية والعبودية، وبين الإسلام والجاهلية، وبين السنّة والبدعة، ولكل طوائف البشرية مواقف منها، يتحدد بعدها موقفهم من هذه الشريعة من حيث ثباتها وشمولها، قبولها أو رفضها، الزيادة فيها أو النقص منها.
ويتصل بهذا الضابط ضوابط أخرى لا بد من الحديث عنها، ذلك أن كثيراً
শরয়ী [মূলনীতিগুলো], তারপর এই মন্দ প্রভাব উম্মাহর অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যখন দ্বীনি বিষয়াবলীতে বিচার-বিবেচনা করা জ্ঞান-অজ্ঞান নির্বিশেষে প্রত্যেকের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে বহু মানুষের হৃদয়ে 'শরীয়ত'-এর কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে যায়। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ যখন ইলমের সাথে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তির হৃদয়ে এর কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে যায় এবং তারা নস বা মূল পাঠের ওপর আকল বা যুক্তিকে ফয়সালা প্রদানের অধিকার প্রদান করে তার দাবিগুলোকে বাতিল করে দেয়, তখন এই ভ্রষ্ট পথ অবশ্যই ইসলামী উম্মাহর অভ্যন্তরে তার প্রভাব রেখে যাবে।
আর এখান থেকেই শরীয়তের বিধিবিধানের হ্রাস বা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আকল বা যুক্তিকে বিচারকের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হয় এবং উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা) উভয় ক্ষেত্রে বিদআতের দ্বার উন্মোচিত হয়। শরীয়তের বৈশিষ্ট্যসমূহের ওপর এই প্রভাবের প্রতিফলনই এই বিষয়টি অধ্যয়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যাতে সেই ইলমি মূলনীতিসমূহ জানা যায় যার ওপর উম্মাহর সালাফ—সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী ইসলামের ইমামগণ—ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমার মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন।
এর ফলশ্রুতিতে আমাদের জন্য তাঁদের ইস্তিদলাল বা দলিল পেশ করার মানহাজ বা পদ্ধতি সম্পর্কে জানা আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ এটি 'দ্বীন'-এর অন্তর্ভুক্ত, আর দ্বীন যেসকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। আর এখান থেকেই আমরা ইসলামী ইস্তিদলাল পদ্ধতি এবং প্রাচীন ও বর্তমান বিরোধীদের ভ্রষ্ট চিন্তাধারার মধ্যে পার্থক্য করি। এই গবেষণা প্রতিটি ক্ষেত্রে উপযুক্ত পদ্ধতিতে সেই পার্থক্যগুলো বর্ণনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শরীয়তের স্থায়িত্ব সংরক্ষিত হয়, তেমনি অন্যদিকে বাস্তবে এর পূর্ণাঙ্গতা কীভাবে রূপায়িত হয় তাও স্পষ্ট হয়।
আর এ সবকিছুর দিকে পরিচালিত পথটি হলো এই শরীয়তের মর্যাদা অধ্যয়ন করা এবং এটি স্পষ্ট করা যে, আইনপ্রণেতা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা। নসখ (রহিতকরণ), পরিবর্তন ও রূপান্তর করার অধিকার তিনি ব্যতীত অন্য কারো নেই। ঠিক যেমন বিধান প্রণয়ন করা এবং রাসূল প্রেরণ করাও তিনি ব্যতীত অন্য কারো কাজ নয়। এটি আকীদার অন্যতম একটি বিষয় যা স্পষ্ট করা প্রয়োজন, কারণ এ বিষয়ে আলোচনা কমে গেছে—যদিও এটি উসুলবিদদের কিতাবসমূহে "হাকিম (বিধানদাতা) কে?" শিরোনামের অধীনে বিদ্যমান রয়েছে। তাই এটি আলোচনা করা এবং স্পষ্ট করা অপরিহার্য ছিল, কারণ উলুহিয়্যাত (উপাস্যতা) ও উবুদিয়্যাত (দাসত্ব), ইসলাম ও জাহিলিয়াত এবং সুন্নাহ ও বিদআতের মধ্যকার পার্থক্য অনুধাবনের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। মানবজাতির প্রতিটি দলের এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে, যার ভিত্তিতে এই শরীয়তের স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা, এর গ্রহণ বা বর্জন এবং এতে হ্রাস বা বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের অবস্থান নির্ধারিত হয়।
এই মূলনীতির সাথে অন্যান্য কিছু মূলনীতিও সম্পৃক্ত যেগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা আবশ্যক, কেননা অনেক...
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
من الباحثين المحدثين من الفقهاء وكثيراً من المستشرقين ومن تابعهم، اضطربوا في تحديد منزلة "الفقه الإسلامي" فمنهم من أسقط الشرعية عنه باعتبار أنه عمل بشري وضعي، ومنهم من بالغ في متابعة المجتهدين حتى كف نفسه وغيره عن التصحيح الذي هو جزء من الاجتهاد، وأمام هذه المواقف المختلفة التبس مفهوم الفقه الإسلامي بمصطلح "الشريعة"، فكان لا بد من دراسة تفصيلية تبين الفوارق بين أهم المصطلحات المتصلة بهذا البحث ومن أهمها "الشريعة" و"الفقه" و"علم الكلام"، وذلك أمر ضروري حتى نتعامل مع كل مصطلح وهو في موضعه العلمي السليم ونعطيه حقه من الصفات الشرعية، وهذا طريق مهم لمعرفة منزلة هذه "الشريعة" على حقيقتها دون أن تلتبس بغيرها من المصطلحات، ولكي نحدد أيضاً مقصودنا بالثبات والشمول ونبين الأدلة عليه، لأن الثبات والشمول في "الشريعة" غير الثبات والشمول في "الفقه"، وقد كان المنهج الذي دُرست به هذه المسائل الخطيرة في الدين منهجاً تأثر أثراً كبيراً بمسالك أهل الكلام من المبتدعة قديماً، ومن تابعهم من المحدثين، فانتشرت الدعوة لتغيير بعض أحكام الشريعة، وذلك بعد أن تكاثرت الأقوال التي انتشرت في كتب الأصول، من أن الأدلة النقلية لا تفيد العلم مطلقاً، وأن الفقه من باب الظنيات هكذا على الإطلاق، وأن الاجتهاد إنما يتبع ما اتفق للمجتهد دون اعتبار مرجح شرعي، ثم ازداد الأمر سوءاً عندما تكاثرت بحوث المحدثين على دعم هذه الآراء سواء في العموم، أو القياس، أو المصلحة، أو الإجماع، وهي أهم طرق الاجتهاد، فكان لا بد من دراسعة صلاحية المسلك العقلي غير الملتزم للشريعة وآثاره قديماً وحديثاً، ودرامعة المنهج الشرعي في الاستدلال الذي ورثناه عن الصحابة - رضوان الله عليهم - والذي تعلموه من رسول الله القدوة العملية لتطبيق هذه الشريعة - ومعالجة أهم الشبه التي يمكن أن تثار حول هذه الدراسة، مع ملاحظة الآثار الإيجابية التي ينتجها الالتزام بالمنهج الشرعي في الاستدلال، وإبرازها وبيان دلالتها على ثبات، الشريعة وشمولها في كل موضع بحسبه، وفي المقابل بيان الآثار السلبية التي تنتج عن التزام ذلك المسلك العقلي المخالف للشريعة في الاستدلال -كله أو بعضه- وإبراز أخطاره وآثاره
ফকিহদের মধ্য থেকে আধুনিক গবেষকগণ এবং অনেক প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীরা ‘ইসলামি ফিকহ’-এর মর্যাদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে স্রেফ একটি মানবীয় ও কৃত্রিম কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করে এর শরয়ি মর্যাদা অস্বীকার করেছেন। আবার কেউ কেউ মুজতাহিদগণের অনুসরণের ক্ষেত্রে এতটাই বাড়াবাড়ি করেছেন যে, তারা নিজেদের এবং অন্যদের ‘তাসহীহ’ বা সংশোধনের কাজ থেকে বিরত রেখেছেন, অথচ এই সংশোধনও ইজতিহাদেরই একটি অংশ। এই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামি ফিকহ-এর ধারণাটি ‘শরীয়াহ’ পরিভাষার সাথে সংমিশ্রিত হয়ে পড়েছে। ফলে এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রধান পরিভাষাগুলোর মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করার জন্য একটি বিস্তারিত অধ্যয়ন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাগুলো হলো ‘শরীয়াহ’, ‘ফিকহ’ এবং ‘ইলমুল কালাম’। প্রতিটি পরিভাষাকে তার সঠিক ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক স্থানে বিন্যস্ত করা এবং সেগুলোকে যথাযথ শরয়ি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। শরীয়াহ-এর প্রকৃত মর্যাদা অনুধাবন করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, যাতে তা অন্য কোনো পরিভাষার সাথে গুলিয়ে না যায়। এছাড়া ‘স্থায়িত্ব’ এবং ‘ব্যাপকতা’ দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য কী তা সুনির্দিষ্ট করা এবং এর সপক্ষে দলিল-প্রমাণাদি উপস্থাপন করাও এর লক্ষ্য; কারণ শরীয়াহ-এর স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা এবং ফিকহ-এর স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা এক নয়। দ্বীনের এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এমন একটি মানহাজ বা পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে, যা প্রাচীনকালের বিদআতি মুতাকাল্লিম বা ইলমুল কালামপন্থীদের এবং তাদের বর্তমান অনুসারীদের চিন্তাধারা দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত। এর ফলে শরীয়াহ-এর কিছু বিধান পরিবর্তনের আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছে। এটি উসূলের কিতাবসমূহে বহুল প্রচলিত এমন কিছু বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে হয়েছে যে—নকলি বা উদ্ধৃতিমূলক দলিলসমূহ নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানে মোটেও সক্ষম নয়, ফিকহ বিষয়টি স্রেফ ধারণা-নির্ভর, এবং ইজতিহাদ মূলত কোনো শরয়ি মানদণ্ড ছাড়াই মুজতাহিদের ইচ্ছাধীন বিষয়। পরবর্তীতে আধুনিক গবেষকদের বিভিন্ন গবেষণা যখন ‘উমুম’ (ব্যাপকতা), ‘কিয়াস’ (সাদৃশ্য বিধান), ‘মাসলাহাত’ (জনকল্যাণ) কিংবা ‘ইজমা’ (ঐক্যমত)-এর মতো ইজতিহাদের প্রধান পদ্ধতিগুলোর ওপর এই মতামতের সমর্থনে বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে যায়। এমতাবস্থায় শরীয়াহর প্রতি দায়বদ্ধ নয় এমন যৌক্তিক পদ্ধতির অসারতা এবং অতীতে ও বর্তমানে এর নেতিবাচক প্রভাবসমূহ নিয়ে গবেষণা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি ইস্তিদলাল বা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে সেই শরয়ি মানহাজ বা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করাও জরুরি ছিল, যা আমরা সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি এবং যা তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে শিখেছিলেন, যিনি ছিলেন এই শরীয়াহর প্রায়োগিক আদর্শ। এর সাথে এই গবেষণা নিয়ে উঠতে পারে এমন প্রধান সংশয়গুলো নিরসন করা এবং ইস্তিদলালের ক্ষেত্রে শরয়ি মানহাজ অনুসরণের ইতিবাচক প্রভাবগুলো চিহ্নিত করাও ছিল এর উদ্দেশ্য। সেই সাথে প্রতিটি ক্ষেত্রে শরীয়াহ-এর স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতার প্রমাণাদি স্পষ্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইস্তিদলালের ক্ষেত্রে শরীয়াহ বিরোধী সেই যৌক্তিক পদ্ধতি—চাই তা আংশিক হোক বা পূর্ণাঙ্গ—অবলম্বন করার নেতিবাচক ফলাফল এবং এর ভয়াবহতা ও প্রভাবগুলোও সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
السيئة على ثبات الشريعة وشمولها، وذلك في أسلوب ميسر بقدر الاستطاعة، ومتتبعاً في ذلك أهم طرق الاجتهاد وذلك بعد التعريف العلمي بهذه الشريعة ومقصدي من ثباتها وشمولها وبيان منزلتها.
ومما زادني اهتماماً بدراسة هذا الموضوع ازدياد حدة هذا الانحراف فى عصرنا الحاضر، فقد التقى مع تلك الانحرافات انحراف أعتى وأشد، ذلك أنه انحراف آت من خارج هذه الأمة، ودخل إليها هذه المرة كما هو عند أعدائها دون تنقيح ولا تعديل، وهو ذات الانحراف الذي تلقته الأمة الإسلامية من قبل ولكنها نقلته تلك الحقبة من الزمن وهي على حال غير الحال التي هي عليه الأن، فقد كان إطاره محدوداً ممثلاً في بعض الطوائف، وتجابهه عوائق كثيرة جداً أبعدته عن التأثير في أحكام الشريعة وذلك لرسوخها في عالم التطبيق دون منازعة من أي منهج خارجي، وألجأته لأسباب عدة إلى دراسات الغيبيات، ومع آثاره البالغة السوء في هذا الجانب إلا أن الشريعة الإسلامية كمنهج للحكم لم تتعرض لهجمات العقل اليوناني والمعتزلي، ومن ثم لم يكن لها شريك خارجي يضايقها أو يطاردها.
وقد كان من آثار هذا الانحراف -وهي كثيرة وبالغة الخطورة- أن التقى مع الانحراف الذي صدرته أوروبا الحديثة إلى الفكر الإسلامي، فقد عبدت أوروبا هذه المرة العقل عبادة مطلقة وأعطته جميع صفات الإله، ودفعت بفكرها إلى قلب العالم الإسلامي في شكل نظريات ومبادئ ومذاهب وأنظمة.
ولأن البشرية اليوم تعيش أكثر انحرافاتها في الواقع التطبيقي لا في مجرد الفلسفة -كما فعل اليونانيون وكما فعلت المعتزلة- فإن الانحراف السابق واللاحق وكلاهما قادم من تراث اليونان الوثني، السابق قدم عن طريق المعتزلة، واللاحق عن طريق الاستشراق، كان لكل منهما أثر سيء على واقع العالم الإسلامي، وتسلل إلى الواقع التطبيقي بقدر أكبر من تسلله إلى عقول الأمة وقلوبها، وكان من آثاره البالغة السوء أن جعل القوانين الوضعية مساوية للشريعة الإسلامية، بل ومقدمة عليها، حكم بذلك العقل الأوروبي اليوناني ومهد لهذا الحكم بمذاهب ونظريات ومؤلفات وواقع مشهود وهو في طريقه المحدد له مستمر في
শরীয়াহর স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতার ওপর এই মন্দ প্রভাবগুলো সম্পর্কে যথাসম্ভব সহজ পদ্ধতিতে আলোচনা করা হয়েছে এবং এই শরীয়াহর বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা, এর স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা দ্বারা আমার উদ্দেশ্য এবং এর মর্যাদার বর্ণনার পর ইজতিহাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা হয়েছে।
বর্তমান যুগে এই বিচ্যুতির তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়া আমাকে এই বিষয়টি অধ্যয়ন করতে আরও আগ্রহী করে তুলেছে। কারণ সেই পূর্ববর্তী বিচ্যুতিগুলোর সাথে আরও অধিক শক্তিশালী ও কঠোর এক বিচ্যুতির মিলন ঘটেছে; আর তা হলো এই উম্মাহর বাহির থেকে আসা একটি বিচ্যুতি। এটি এবার তার শত্রুদের নিকট যেভাবে ছিল, কোনো পরিমার্জন বা সংশোধন ছাড়াই সেভাবে প্রবেশ করেছে। এটি ঠিক সেই একই বিচ্যুতি যা ইতিপূর্বে ইসলামি উম্মাহর নিকট এসেছিল, কিন্তু সেই যুগে তা এমন এক অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছিল যা বর্তমান অবস্থার মতো নয়। তখন এর পরিধি ছিল সীমিত, যা কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এটি অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছিল যা একে শরীয়াহর বিধানসমূহের ওপর প্রভাব বিস্তার করা থেকে দূরে রেখেছিল। কারণ শরীয়াহ তখন কোনো বাহ্যিক মতাদর্শের সাথে বিরোধ ছাড়াই বাস্তব প্রয়োগের জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। আর বিভিন্ন কারণে এটি অদৃশ্য জগতের (গায়েবিয়াত) বিষয়াদি অধ্যয়নের দিকে ধাবিত হয়েছিল। যদিও এই ক্ষেত্রে এর প্রভাব অত্যন্ত মন্দ ছিল, তবুও শাসন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামি শরীয়াহ গ্রিক ও মুতাযিলা বিচারবুদ্ধির আক্রমণের শিকার হয়নি। ফলে তখন এর কোনো বাহ্যিক অংশীদার ছিল না যা একে সংকীর্ণ করত কিংবা তাড়া করে বেড়াত।
এই বিচ্যুতির প্রভাবসমূহের মধ্যে অন্যতম—যা সংখ্যায় অনেক এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক—হলো আধুনিক ইউরোপ ইসলামি চিন্তাধারার কাছে যে বিচ্যুতি রপ্তানি করেছে তার সাথে এর মিলন ঘটেছে। ইউরোপ এবার বিচারবুদ্ধিকে (আকল) নিরঙ্কুশ ইবাদতের বস্তুতে পরিণত করেছে এবং একে ইলাহের যাবতীয় গুণাবলী দান করেছে। তারা তাদের এই চিন্তাধারাকে বিভিন্ন তত্ত্ব, মূলনীতি, মতবাদ ও ব্যবস্থার আকারে ইসলামি বিশ্বের হৃদয়ে ঠেলে দিয়েছে।
যেহেতু মানবতা আজ দর্শনের নিছক আলোচনার চেয়ে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধিকতর বিচ্যুতির মধ্যে বসবাস করছে—যেমনটি গ্রিক এবং মুতাযিলারা করেছিল—তাই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী উভয় বিচ্যুতিই গ্রিক পৌত্তলিক ঐতিহ্য থেকে আগত। পূর্ববর্তীটি মুতাযিলাদের মাধ্যমে এসেছিল এবং পরবর্তীটি প্রাচ্যতত্ত্বের (ওরিয়েন্টালিজম) মাধ্যমে এসেছে। ইসলামি বিশ্বের বাস্তব অবস্থার ওপর এদের প্রত্যেকেরই মন্দ প্রভাব ছিল। এটি উম্মাহর জ্ঞান ও হৃদয়ে যতটা না অনুপ্রবেশ করেছে, তার চেয়ে অধিক মাত্রায় বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ করেছে। এর অত্যন্ত মন্দ প্রভাবগুলোর মধ্যে একটি হলো মানব রচিত আইনগুলোকে (মানবসৃষ্ট আইন) ইসলামি শরীয়াহর সমান করা, বরং একে শরীয়াহর ওপর অগ্রাধিকার প্রদান করা। ইউরোপীয়-গ্রিক বিচারবুদ্ধি এই ফয়সালা করেছে এবং বিভিন্ন মতবাদ, তত্ত্ব, গ্রন্থ ও প্রত্যক্ষ বাস্তবতার মাধ্যমে এই শাসনের পথ সুগম করেছে। এটি তার নির্দিষ্ট পথে অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলেছে...
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
التأثير، وكان أكبر تأثيره منصباً على "الشريعة الإسلامية" من حيث ثباتها وشمولها وحاكميتها رغبة في انتشار عقيدة أهل التبديل وهي "ابتغاء غير الله حكماً" وترك العبودية له، ورد أمره عليه، والإعراض عن متابعة رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، والتشكيك في صفات الشريعة، والعقل الأوروبي اليوناني يقدم السند لهذا الكفر والإلحاد، والغزو الفكري والاستشراق يصدره إلى حيث يستطيع ويربي لحمله المفكرين والباحثين.
وقد اتخذ لهذا طرقاً كثيرة للتأثير على العالم الإسلامي منها:
1 - جعل النهضة الصناعية الأوروبية سبباً لتغيير المفاهيم الدينية والإعراض عن الشريعة الخاتمة التي أرسل بها آخر الرسل نبينا محمد عليه الصلاة والسلام وفي ذات الوقت جعلوا من التطور المادي الرهيب الذي تعيشه هذه البشرية سبباً في التشكيك في شمول الشريعة إذْ كيف تحكم هذه الشريعة الثابتة هذه الأحوال المتطورة المتشعبة التي لا تنقطع حوادثها والتي تمثل تطوراً مادياً لم تشهد البشرية مثله من قبل، فكان لا بد من دراسة كيفية تحقق الشمول وأن ذلك هو مهمة الاجتهاد الذي لا ينقطع ما دام أن هذه الأمة قائمة برسالتها في هذه الأرض، وأن طرقه كفيلة بتحقيق ذلك الشمول، فقد أنزل الله هذه "الشريعة" شاملة، وكان منهج الاستدلال فيها على حال يحقق هذا الشمول في واقع البشرية وما يزال، وهذا البيان مستمر مع جميع موضوعات البحث كل موضع بما يناسبه.
2 - إخضاع الدين والأخلاق والقيم لحكم العقل باعتبار أنه شب عن الطوق فلم يعد يحتاج إلى الله، وتقديم إنتاج المادية الأوروبية شاهداً على قدرات العقل البشري غير المحدودة والالتزام بالمنهج المادي الصرف الذي لا يؤمن بالغيب ولا بالرسول ولا بالوحي، ويقف بالبشرية عند حد الإيمان بالمحسوس.
3 - ربط الشريعة بالجيل الذي كان موجوداً حين نزولها، وجعل مفاهيمها وقيمها وأحكامها حكراً على بيئة معينة، وإخضاعها للتبديل والتغيير إنْ أُريد نقلها إلى بيئة أخرى وزينوا للناس هذه الشبه بإخضاع مذاهبهم للتغيير بين آونة وأخرى ومن بيئة لبيئة وجعلوا الشريعة مماثلة لذلك خاضعة للحكم نفسه.
প্রভাব; আর এর প্রধান প্রভাবটি নিপতিত হয়েছিল "ইসলামি শরীয়ত"-এর ওপর—এর স্থায়িত্ব, ব্যাপকতা ও সার্বভৌমত্বের বিচারে। এর উদ্দেশ্য ছিল পরিবর্তনকামী অনুসারীদের (আহলুত তাবদিল) আকিদার প্রচার ঘটানো, যা হলো "আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে বিধানদাতা হিসেবে অন্বেষণ করা", তাঁর দাসত্ব বর্জন করা, তাঁর নির্দেশকে প্রত্যাখ্যান করা, তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণে বিমুখতা প্রদর্শন করা এবং শরীয়তের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে সংশয় তৈরি করা। ইউরোপীয় গ্রিক মনন এই কুফরি ও নাস্তিক্যবাদের ভিত্তি প্রদান করে, আর বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন ও প্রাচ্যতত্ত্ব একে সম্ভাব্য সব জায়গায় রপ্তানি করে এবং এই মতবাদ বহনের জন্য চিন্তাবিদ ও গবেষকদের তৈরি করে।
মুসলিম বিশ্বের ওপর প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে এটি অনেক পথ অবলম্বন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - ইউরোপীয় শিল্প বিপ্লবকে ধর্মীয় ধারণা পরিবর্তনের এবং সর্বশেষ রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম)-এর আনীত চূড়ান্ত শরীয়তের প্রতি বিমুখ হওয়ার কারণ হিসেবে দাঁড় করানো। একই সাথে মানবজাতি বর্তমানে যে অভাবনীয় বস্তুগত উন্নতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে, তাকে শরীয়তের ব্যাপকতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টির কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। যুক্তি দেওয়া হয় যে, এই অপরিবর্তনীয় শরীয়ত কীভাবে এই আধুনিক, জটিল ও ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির শাসন করবে, যার ঘটনাবলি নিরবচ্ছিন্ন এবং যা এমন এক বস্তুগত উন্নতির প্রতিনিধিত্ব করে যার নজির মানবজাতি আগে কখনো দেখেনি? ফলে শরীয়তের ব্যাপকতা কীভাবে বাস্তবায়িত হয় তা অধ্যয়ন করা জরুরি হয়ে পড়ে। মূলত এটিই হলো ইজতিহাদের দায়িত্ব, যা এই উম্মাহ যতদিন পৃথিবীতে তাদের দাওয়াতী মিশন জারি রাখবে ততদিন অব্যাহত থাকবে। ইজতিহাদের পদ্ধতিসমূহ শরীয়তের সেই ব্যাপকতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। কেননা আল্লাহ এই "শরীয়ত"-কে পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক রূপেই নাজিল করেছেন এবং এতে দলীল সংগ্রহের পদ্ধতিটি এমন ছিল যা মানব বাস্তবতায় এই ব্যাপকতাকে আজও নিশ্চিত করে চলেছে। আলোচনার প্রতিটি বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিকভাবে এই বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হবে।
২ - ধর্ম, নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে যুক্তির শাসনের অধীন করা; এই ধারণা থেকে যে, মানুষ এখন সাবালক হয়েছে এবং তার আর আল্লাহর প্রয়োজন নেই। মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তির সীমাহীন সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ইউরোপীয় বস্তুবাদের সাফল্যকে উপস্থাপন করা এবং নিছক এমন এক বস্তুবাদী মানদণ্ড অনুসরণ করা যা অদৃশ্যে, রাসূলের প্রতি বা ওহীর প্রতি বিশ্বাস রাখে না এবং মানবতাকে কেবল দৃশ্যমান বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের বিশ্বাসের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রাখে।
৩ - শরীয়তকে কেবল সেই প্রজন্মের সাথে সংশ্লিষ্ট করা যারা এর অবতরণকালে বিদ্যমান ছিল। এর ধারণা, মূল্যবোধ ও বিধানসমূহকে নির্দিষ্ট একটি পরিবেশের জন্য সীমাবদ্ধ করে দেওয়া এবং অন্য পরিবেশে একে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও পরিমার্জনের অধীন করা। তারা মানুষের সামনে এই সংশয়কে সুশোভিত করেছে এই যুক্তিতে যে, তাদের মানবচিত মতবাদগুলো যেমন সময়ে সময়ে এবং পরিবেশে পরিবেশে পরিবর্তিত হয়, শরীয়তকেও তারা অনুরূপ পরিবর্তনের অধীন বলে সাব্যস্ত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
4 - اعتمادهم على بعض الآراء والحركات المنحرفة التي نشأت داخل الأمة واتخذت التبديل لأصول السنة شعاراً وكذلك بعض المفكرين المحدثين الذين اتجهوا صوب الفكر الأوروبي وتأثروا به.
5 - تأثيرهم النفسي على القراء والكتاب - المتمثل في الدراسات الاستشراقية التي غزت العالم من جميع أطرافه وقد زعم بعض المستشرقين أنها هي حصيلة البحث العلمي المجرد ذي الخصائص والقدرات التي لم تحظ بها أي دراسات أخرى، ذلك أن إدراك خصائص الفكر الإِسلامي أصبح قاصراً عليهم كما زعم زاعمهم، وزُين ذلك لكثير من الباحثين حتى اتخذهم الغزو الفكري سلماً لتحقيق مآربه ..
لهذه الأسباب مجتمعة عزمت على دراسة موضوع "الثبات والشمول في الشريعة الإسلامية" وأرجو الله أن يجعله خالصاً صواباً عسى أن يرحمني بقبوله ويمن عليّ بتيسيره، و"إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى
… " (1).
منهج البحث:
1 - الترتيب الموضوعي للبحث بحيث تُبنى قضاياه بعضها على بعض، حتى تنتهي موضوعاته، والقارئ ينتقل من موضوع إلى موضوع آخر ينبني عليه ويرتبط به ارتباطاً منطقياً فلا يشعر بالانقطاع.
2 - اهتممت اهتماماً شديداً بتحديد المصطلحات وخاصة تلك التي تَنْبني عليها مسائل أصلية، وطلبت فيها الأصالة وموافقة السلف الأول من الصحابة والتابعين رضوان الله عليهم، وتجافيت عن مخلفات الفرق والمنهج العقلي وآثار الغزو الفكري الحديث.
3 - دراسة الموضوعات ذات الصلة البارزة بموضوع البحث مع الاهتمام بالكليات وضرب الأمثلة الفقهية ذات الدلالة على المقصود في كل
--------------------------------------------
৪ - উম্মাহর অভ্যন্তরে উদ্ভূত কিছু বিচ্যুত মতাদর্শ ও আন্দোলনের ওপর তাদের নির্ভরতা, যারা সুন্নাহর মূলনীতি পরিবর্তনের শ্লোগান গ্রহণ করেছে; সেইসাথে আধুনিক কিছু চিন্তাবিদ যারা ইউরোপীয় চিন্তাধারার দিকে ঝুঁকেছেন এবং তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।
৫ - পাঠক ও লেখকদের ওপর তাদের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব—যা সেই প্রাচ্যতত্ত্ববাদী গবেষণার মাধ্যমে ফুটে ওঠে যা বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে আক্রমণ চালিয়েছে। কিছু প্রাচ্যতত্ত্ববাদী দাবি করেছেন যে, এগুলো এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা সম্পন্ন বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফসল যা অন্য কোনো গবেষণায় অর্জিত হয়নি; তাদের কেউ কেউ এমন দাবিও করেছেন যে, ইসলামী চিন্তাধারার বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবন করা কেবল তাদের ওপরই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। অনেক গবেষকের সামনে বিষয়টিকে সুশোভিত করা হয়েছে, এমনকি বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন তাদের নিজ স্বার্থ হাসিলের সোপান হিসেবে একে গ্রহণ করেছে...
এই সবকটি কারণ একত্রিত হওয়ার দরুন আমি "ইসলামী শরীয়তে স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা" বিষয়টি নিয়ে অধ্যয়ন করার সংকল্প করেছি এবং আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি যেন একে ইখলাসপূর্ণ ও সঠিক করেন, যেন তিনি এটি কবুল করার মাধ্যমে আমার ওপর রহম করেন এবং এটি সহজ করে দিয়ে আমার ওপর অনুগ্রহ করেন; আর "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে..." (১)।
গবেষণার পদ্ধতি:
১ - গবেষণার বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস, যাতে এর মাসআলাগুলো একে অপরের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যতক্ষণ না এর বিষয়গুলো সমাপ্ত হয়। পাঠক এক বিষয় থেকে অন্য বিষয়ে এমনভাবে উপনীত হবেন যা আগেরটির ওপর ভিত্তি করে এবং যৌক্তিকভাবে সংশ্লিষ্ট হবে, ফলে তিনি কোনো বিচ্ছিন্নতা বোধ করবেন না।
২ - আমি পরিভাষা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছি, বিশেষ করে সেগুলোর ক্ষেত্রে যেগুলোর ওপর মৌলিক মাসআলাসমূহ গড়ে ওঠে। আমি সেগুলোর ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবেয়ী তথা প্রথম যুগের সালফে সালেহীনদের (আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হন) পদাঙ্ক অনুসরণ ও বিশুদ্ধতা অনুসন্ধান করেছি এবং বিভ্রান্ত দলসমূহের রেখে যাওয়া অবশিষ্টাংশ, যুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ও আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের প্রভাব থেকে দূরে থেকেছি।
৩ - গবেষণার বিষয়ের সাথে স্পষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অধ্যয়ন করা, সেই সাথে মূলনীতিগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রমাণবহ ফিকহি উদাহরণ পেশ করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
موطن بحسب الحاجة، وتأسيس القواعد العلمية لموضوع الثبات والشمول على أصول أهل السنة حتى يستقر البحث على قاعدة راسخة يمكن بعدها معالجة الآراء المخالفة من داخل الأمة أو من خارجها.
4 - معالجة الآراء المخالفة التي انبعثت من داخل الأمة وربطها باصولها سواء رجعت أصولها إلى الفرق الضالة -داخل الأمة- أو رجعت هي الأخرى إلى الأصول الفلسفية خارج الأمة، ثم تفنيدها وبيان الأسباب التي أدت إلى انتشارها سواء كانت هذه الأسباب من خارج الأمة أو من داخلها، مع الاهتمام بنقد أسسها ومعالجتها معالجة كلية وبيان خطورتها والطريق إلى السلامة من آثارها السلبية ووصفها بالوصف الذي تستحقه وتحديده لنعرف هل هو مجرد خطأ في الاجتهاد أو انحراف ناتج عن مسلك غريب في الاستدلال.
5 - جعلت عرض ومناقشة الآراء المخالفة التي وقع فيها بعض الباحثين في الفقه والأصول قديماً وحديثاً عند تأسيس قواعد البحث في كل موضع بحسبه مع ربطها بالتأثيرات الخارجية إن وجدت.
6 - توثيق مسائل البحث، ما كان منها منسوباً إلى الفقهاء والأصوليين فإلى كتبهم، وما كان منها منسوباً إلى الكتاب المحدثين فإلى كتاباتهم.
7 - التزام المنهج العلمي في المناقشة، والتأكيد على إسقاط الآراء الشاذة وكشف آثارها الخطيرة على الشريعة وتبرئة المنهج العلمي منها محافظة على أصول الدين ومقاصده.
8 - حرصت على أن يكون أسلوب البحث سهل الفهم بعيداً عن ما درج عليه كتّاب الأصول لأن المقصود من الكلام الإفهام.
9 - وضعت "خاتمة" ذكرت فيها أهم نتائج هذه الدراسة.
10 - وضعت فهرساً للمراجع والمصادر، وآخر لمحتويات الرسالة.
প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে আহলুস সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে গবেষণাটি একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে উম্মতের ভেতর থেকে বা বাইরে থেকে আসা বিরোধী মতাদর্শগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
৪ - উম্মতের ভেতর থেকে উদ্ভূত বিরোধী মতামতগুলো পর্যালোচনা করা এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করা; চাই সেই উৎসগুলো উম্মতের অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্ত দলগুলোর দিকে ফিরে যাক অথবা উম্মতের বাইরের দার্শনিক মূলনীতির দিকে। অতঃপর সেগুলোকে খণ্ডন করা এবং সেগুলো ছড়িয়ে পড়ার কারণগুলো বর্ণনা করা, চাই সেই কারণগুলো উম্মতের বাইরের হোক বা ভেতরের। পাশাপাশি তাদের ভিত্তিগুলোর সমালোচনা করা, সেগুলোর সামগ্রিক প্রতিকার করা, সেগুলোর ভয়াবহতা স্পষ্ট করা এবং তাদের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তির পথ বাতলে দেওয়া। সেই সাথে সেগুলোকে তাদের প্রাপ্য যথাযথ বিশেষণে বিশেষায়িত করা এবং তা নির্ধারণ করা, যাতে আমরা জানতে পারি যে এটি কি কেবল ইজতিহাদগত ভুল, নাকি দলীল উপস্থাপনের কোনো বিজাতীয় পদ্ধতির কারণে সৃষ্ট বিচ্যুতি।
৫ - গবেষণার নীতিমালা প্রণয়নের সময় ফিকহ ও উসূলে ফিকহের ক্ষেত্রে প্রাচীন ও আধুনিককালের একদল গবেষক যে সকল বিরোধী মত পোষণ করেছেন, তা প্রতিটি স্থানে প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী উপস্থাপন ও আলোচনা করেছি এবং সম্ভব হলে সেগুলোর ওপর বাহ্যিক প্রভাবগুলো চিহ্নিত করেছি।
৬ - গবেষণার মাসআলাগুলোর তথ্যসূত্র নিশ্চিত করা; এর মধ্যে যা ফকীহ ও উসূলবিদদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত তা তাঁদের মূল কিতাব থেকে এবং যা আধুনিক লেখকদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত তা তাঁদের রচনা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
৭ - আলোচনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা, বিচ্যুত (শায) মতগুলোকে বর্জন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা, শরীয়তের ওপর সেগুলোর বিপজ্জনক প্রভাব উন্মোচন করা এবং দ্বীনের মূলনীতি ও উদ্দেশ্যসমূহ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে সেই বিচ্যুতিগুলো থেকে মুক্ত রাখা।
৮ - গবেষণার ভাষা যেন সহজবোধ্য হয় সেদিকে সচেষ্ট থেকেছি এবং উসূলবিদ লেখকদের গতানুগতিক জটিল শৈলী পরিহার করেছি, কারণ কথার মূল উদ্দেশ্য হলো অন্যকে বোঝানো।
৯ - একটি "উপসংহার" যুক্ত করেছি যেখানে এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
১০ - তথ্যসূত্র ও উৎসগ্রন্থের একটি তালিকা এবং গবেষণাপত্রের বিষয়বস্তুর একটি তালিকা যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومن المفيد أن أختم هذه المقدمة ببيان أن كيد الأعداء لم يكن لينفذ لولا أن المسلمين فرطوا فيما كلفهم الله به، فحقت عليهم سنة الله الجارية، فتغير حالهم من اجتماع إلى تفرق ومن قوة إلى ضعف، وكثرت فيهم طوائف أهل التبديل، ولم تسلم القرون المفضلة إلّا لأنها ثبتت على الأمر الأول، أما الأجيال المتأخرة فقد سقطت في فتنتهم لما كثُر الخبث فيها وفرط كثير من علمائها في إقامة الحق، بل وانتسب منهم خلق كثير إلى الفرق الضالة، ولا نتوقع بعد ذلك إلا تخلفاً عقائدياً كبيراً -يقع في المجتمع الإسلامي- كانت خاتمته إسقاط الخلافة وإحلال أهواء البشر وأنظمتهم محل شريعة الله، وامتزجت أكثر أهواء الفرق مع أهواء المذاهب الفكرية المعاصرة والتيارات الجديدة المنحرفة.
وطريق العودة هو خروج هؤلاء من فتنة التبديل وفهم الإسلام عقيدة وشريعة كما فهمه رسول الإسلام وأصحابه عليهم رضوان الله ومن ثمَّ تخرج هذه
الأمة من هذه المرحلة الخطيرة وتخرج البشرية معها بإذن الله.
ومن المعلوم أن مجرد بقاء الوحي -كتاباً وسنة- بلا تحريف ولا تبديل لرسمه، لم يكن هو الذي بنى الجيل الأول والقرن الذي يليه والقرن الذي يليه، ولم يكن أيضاً مجرد الانتساب، بل كان وراء ذلك فهمٌ متوازنٌ متكاملٌ للعقيدة، وتطبيقٌ حيٌ واقعيٌ لأحكام الإسلام، ومنهج تربوي يحفظ هذا المجتمع على الصورة الصحيحة للإسلام فكراً وعملًا، ومن ثم كان ذلك الجيل هو الحجة علينا وعلى البشرية جمعاء، وسبيله هو السبيل الوحيد لإقامة الحق والخير في هذه الأمة وفي البشرية بإذن الله.
وهذا الكتاب مساهمة متواضعة في هذه السبيل، يقصد لتحقيق تلك الغاية وينطلق من ذلك المنطلق ويعالج آثار تلك الفتنة العمياء .. من خلال دراسة قضية "الثبات والشمول في الشريعة الإسلامية" وأرجو من الله سبحانه أن يكون مساعداً على جمع الإِيجابيات الكثيرة لهذه الفترة التجديدية التي تعيشها
এই ভূমিকার শেষে এটি স্পষ্ট করা উপকারী হবে যে, শত্রুদের ষড়যন্ত্র কার্যকর হতো না যদি না মুসলিমরা আল্লাহর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করত। ফলে তাদের ওপর আল্লাহর শাশ্বত বিধান কার্যকর হয়েছে; তাদের অবস্থা ঐক্য থেকে বিচ্ছিন্নতায় এবং শক্তি থেকে দুর্বলতায় পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের মধ্যে বিকৃতি সাধনকারী দলগুলোর প্রাচুর্য দেখা দিয়েছে। সর্বোত্তম যুগগুলো কেবল এই কারণেই নিরাপদ ছিল যে, তারা আদি নির্দেশের ওপর অবিচল ছিল। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মসমূহ তাদের ফিতনায় নিপতিত হয়েছে, যখন তাদের মধ্যে পঙ্কিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাদের অনেক আলেম সত্য প্রতিষ্ঠায় অবহেলা করেছেন। এমনকি তাদের এক বিশাল অংশ ভ্রান্ত দলগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে। এরপর আমরা মুসলিম সমাজে কেবল একটি বড় ধরনের আকিদাগত পশ্চাৎপদতাই প্রত্যাশা করতে পারি—যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল খিলাফতের পতন এবং আল্লাহর শরীয়তের স্থলে মানুষের প্রবৃত্তি ও ব্যবস্থার প্রতিস্থাপন। অধিকাংশ ভ্রান্ত দলের প্রবৃত্তি বর্তমান যুগের বিভিন্ন আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদ ও নতুন বিচ্যুতিবাদী ধারার সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে।
আর প্রত্যাবর্তনের পথ হলো—এসব লোকের বিকৃতি ও পরিবর্তনের ফিতনা থেকে বেরিয়ে আসা এবং ইসলামকে আকিদা ও শরীয়ত হিসেবে সেভাবেই বোঝা যেভাবে ইসলামের রাসূল এবং তাঁর সাহাবীগণ (তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক) বুঝেছিলেন। অতঃপর এই উম্মত এই বিপজ্জনক পর্যায় থেকে মুক্তি পাবে এবং আল্লাহর অনুমতিতে তাদের সাথে সাথে সমগ্র মানবজাতিও মুক্তি লাভ করবে।
এটি সর্বজনবিদিত যে, কেবল ওহীর—কিতাব ও সুন্নাহর—অক্ষরসমূহ কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তন ছাড়াই অবশিষ্ট থাকা প্রথম প্রজন্ম এবং তাদের পরবর্তী ও তার পরের প্রজন্মকে গড়ে তোলেনি। এমনকি শুধু ওহীর সাথে নামমাত্র সম্পৃক্ত হওয়াও এর কারণ ছিল না; বরং এর পেছনে ছিল আকিদার এক ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি, ইসলামের বিধানাবলির জীবন্ত ও বাস্তব প্রয়োগ এবং একটি আদর্শিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, যা এই সমাজকে চিন্তা ও কর্মের দিক থেকে ইসলামের সঠিক রূপের ওপর বজায় রেখেছিল। ফলে সেই প্রজন্ম আমাদের ওপর এবং সমগ্র মানবজাতির ওপর এক অকাট্য প্রমাণ স্বরূপ। আর আল্লাহর অনুমতিতে এই উম্মত ও সমগ্র মানবজাতির মধ্যে সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো তাদের অনুসৃত পথ।
এই বইটি সেই পথে একটি বিনম্র অবদান, যা সেই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্য রাখে এবং সেই লক্ষ্যবিন্দু থেকেই যাত্রা শুরু করে। এটি সেই অন্ধ ফিতনার প্রভাবসমূহ প্রতিকারের প্রচেষ্টা চালায়... "ইসলামী শরীয়তের স্থায়িত্ব ও ব্যাপকতা" নামক বিষয়টি পর্যালোচনার মাধ্যমে। আমি মহান ও পবিত্র আল্লাহর নিকট আশা করি যে, বর্তমান সময়ে আমরা যে সংস্কারমূলক যুগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছি, তার বহুবিধ ইতিবাচক দিকগুলোকে একত্রিত করতে এটি সহায়ক হবে।
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الصحوة الإسلامية (1) وإبعاد السلبيات عنها محاولة في جمع الطاقة الإسلامية والحيلولة بينها وبين متاهات الفكر وتشتت الجهد العلمي والنفسي. وإلى أن يأذن الله سبحانه بالتمكين للحق وإظهاره على أعدائه وإزالة الشبه التي انتشرت في هذه الأمة وأحاطت بالبشرية من كل جانب، إلى ذلك الحين لا بد من مواصلة الجهد وبذل الوسع ليحيى من حيّ عن بينة ويهلك من هلك عن بينة.
وإن هذه الدراسة التي تسعى لهذا الهدف قدر الله لها أن تكون رسالة علمية تقدم لجامعة أم القرى تتبع منهج البحث في التقسيم والترتيب والعرض والمناقشة
… وتستوعب موضوعات كثيرة ومناقشات مطولة قد يتعب معها بعض القراء ويعجزهم الربط بينها وبين الهدف المنشود.
والله أسأل أن يجزي عني كل من قدم لي معروفاً وأسدى لي نصحاً وعلمني علماً أنتفع به في ديني وأخص بالذكر لجنة المناقشة الكريمة وفي مقدمتها فضيلة أستاذي الدكتور حسين حامد حسان المشرف على الرسالة وفضيلة الشيخ الدكتور صالح بن فوزان الفوزان، وفضيلة الشيخ الدكتور محمود عبد الدائم، فجزاهم الله كل خير وأجزل لهم المثوبة والعطاء.
وأشكر كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بجامعة أم القرى بمكة المكرمة، وأشكر أساتذتي الفضلاء، وأستغفر الله سبحانه عما عسى أن أقع فيه من الزلل والخطأ، وأرجو منه القبول والتوفيق "إن أريد إلا الإصلاح ما استطعت
وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب" وصلى الله على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
مكة المكرمة 2/ 1408 هـ
عابد بن محمد السفياني
--------------------------------------------
ইসলামী জাগরণ (১) এবং এর থেকে নেতিবাচকতা দূর করা হলো ইসলামী শক্তিকে একত্রিত করার এবং একে চিন্তাগত বিভ্রান্তি ও ইলমী ও মনস্তাত্ত্বিক প্রচেষ্টার বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করার একটি প্রয়াস। যতক্ষণ না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার, শত্রুদের ওপর তাকে জয়যুক্ত করার এবং এই উম্মাহর মাঝে ছড়িয়ে পড়া ও মানবজাতিকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা সংশয়গুলো দূর করার অনুমতি প্রদান করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং সর্বাত্মক শক্তি ব্যয় করা অপরিহার্য; যাতে যে জীবিত থাকে সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে এবং যে ধ্বংস হয় সেও সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয়।
এই লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট এই গবেষণাটি আল্লাহর ফয়সালায় উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপিত একটি একাডেমিক থিসিস হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে, যা বিভাজন, বিন্যাস, উপস্থাপন ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ করে
… এবং এতে অনেক বিষয় ও দীর্ঘ আলোচনা স্থান পেয়েছে যা কোনো কোনো পাঠকের জন্য ক্লান্তিকর হতে পারে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সাথে সেগুলোর যোগসূত্র স্থাপন করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে উত্তম প্রতিদান দান করেন যিনি আমার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করেছেন, আমাকে উপদেশ দিয়েছেন কিংবা আমাকে এমন ইলম শিক্ষা দিয়েছেন যার দ্বারা আমি আমার দ্বীনের ক্ষেত্রে উপকৃত হই। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি সম্মানীত পর্যালোচনা কমিটির কথা, যার অগ্রভাগে রয়েছেন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক থিসিস সুপারভাইজার ডক্টর হুসাইন হামিদ হাসান এবং শাইখ ডক্টর সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান ও শাইখ ডক্টর মাহমুদ আব্দুল দায়িম। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁদের সওয়াব ও পুরস্কার বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিন।
আমি মক্কা মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদকে ধন্যবাদ জানাই এবং আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমার সম্ভাব্য সকল পদস্খলন ও ত্রুটির জন্য এবং তাঁর কাছে কবুলিয়ত ও তাওফীক কামনা করছি: "আমি আমার সাধ্যমতো কেবল সংশোধনই চাই।
আর আমার তাওফীক কেবল আল্লাহরই পক্ষ থেকে; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করি।" আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
মক্কা মুকাররমা ২/১৪০৮ হিজরী
আবিদ বিন মুহাম্মাদ আস-সুফয়ানি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
تمهيدفي أهم خصائص الشريعة الإِسلامية بوجه عامإن الشريعة الإسلامية تميزت بخصائص وسمات عن جميع القوانين البشرية التي تضعها طائفة من البشر أو يضعها الزعيم أو المفكر، وهذه الخصائص كثيرة منها الخاصية الأساسية وهي عموم الرسالة للإنس والجن وختمها الشرائع ومنها:
1 - أن هذه الشريعة هي شريعة الله أنزلها سبحانه بعلمه وليس له في وضعها شريك ولا ظهير.
2 - أنها ثابتة ما دامت الحياة الدنيا.
3 - أنها شاملة لجميع ما يحتاجه الناس من عقائد وشرائع وأحكام.
4 - أنها متوازنة لا اضطراب فيها ولا عوج.
5 - أنها تتميز عن شرائع البشر بكونها شريعة نُزلت لتحمل الناس على الخير وتحكم لهم واقعهم البشري الذي يعيشونه حسب اختلاف مجتمعاتهم (1).
ولكل خاصية من هذه الخواص تطبيقات لا تحضر تؤكدها وتبينها.
ولما كان موضوع هذه الدراسة الخاصية الثانية والثالثة استحسنت أن أمهد لذلك بالحديث عن ألصق تلك الخصائص بهاتين الخاصتين وهي كما أرى الخاصية الأولى.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকাসাধারণভাবে ইসলামি শরীয়তের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গেনিশ্চয়ই ইসলামি শরীয়ত এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণের মাধ্যমে মানুষের তৈরি সমস্ত আইন থেকে পৃথক হয়েছে, যা একদল মানুষ কিংবা কোনো নেতা বা চিন্তাবিদ প্রণয়ন করেছেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো অনেক, যার মধ্যে প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মানুষ ও জিনের প্রতি এই রিসালতের ব্যাপকতা এবং এর মাধ্যমে সমস্ত শরীয়তের সমাপ্তি ঘটানো। তার মধ্যে আরও রয়েছে:
১ - এই শরীয়ত হলো আল্লাহর শরীয়ত; তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর নিজ জ্ঞান দ্বারা তা অবতীর্ণ করেছেন এবং এর প্রণয়নে তাঁর কোনো অংশীদার বা সাহায্যকারী নেই।
২ - পার্থিব জীবন বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত এটি অপরিবর্তনীয় ও অটল।
৩ - এটি মানুষের প্রয়োজনীয় সমস্ত আকিদাহ, শরীয়ত ও বিধিবিধানকে শামিল করে।
৪ - এটি ভারসাম্যপূর্ণ, এতে কোনো বিশৃঙ্খলা বা বক্রতা নেই।
৫ - এটি মানবীয় আইনসমূহ থেকে এই দিক দিয়ে স্বতন্ত্র যে, এটি মানুষকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে এবং বিভিন্ন সমাজভেদে মানুষের বাস্তব জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে (১)।
এই বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রত্যেকটির অগণিত প্রয়োগ রয়েছে যা একে সুদৃঢ় ও স্পষ্ট করে।
যেহেতু এই গবেষণার বিষয়বস্তু হলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৈশিষ্ট্য, তাই আমি এর ভূমিকা হিসেবে এই দুই বৈশিষ্ট্যের সাথে সবচেয়ে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা সমীচীন মনে করছি, যা আমার দৃষ্টিতে প্রথম বৈশিষ্ট্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وسيكون موضوع هذا التمهيد الحديث عن أن التشريع والأمر والنهي حق الله الخالص لا يشاركه فيه أحد، وذلك من خلال بعض الآيات القرآنية ونصوص أهل العلم من الفقهاء والأصوليين، وأن حق النسخ وهو التبديل والتغيير إنما هو لمن له حق الإِنشاء وهو الله سبحانه وتعالى، وإذا تقرر ذلك لزم عنه عزل أهل السماء والأرض عن ذلك كله، وسلمت للناس هذه الشريعة شاملة ثابتة بلا تحريف ولا تبديل.
وسأعرض لذلك من ثلاثة طرق.
الأول: تقرير ما جاءت به الآيات القرآنية من أن الله هو الذي ينشئ الأحكام.
الثاني: تقرير ما جاءت به الآيات من نفي صفة الملك والأمر .. الخ عن كل ما سوى الله ووصف المخلوقين جميعاً بالحاجة والافتقار والضعف والعجز ..
الثالث: تقرير ما جاءت به الآيات من أن التشريع من دون الله كفر ..
* الطريقة الأولى: ربط القرآن في مواضع كثيرة بين الإقرار بصفات (1) الله سبحانه وتعالى من الخلق والسمع والبصر والعلم والحكمة والتدبير وبين كونه صاحب الأمر الذي لا معقب لحكمه ولا مبدل لكلماته ..
ودعا القرآن الناس ليؤمنوا بأن الله هو الخالق والرازق والمدبر والعليم
والحكيم
… الخ وأنه صاحب الأمر والحكم لاشريك له وأنه مالك يوم الدين، أي يوم الجزاء، وذلك ليتجه له الخلق بجميع أنواع العبادة من الخوف والرجاء والصلاة والدعاء والإنابة والاستغاثة، والذبح والنذر، والتوكل والخشية
…وقد خاطب القرآن النفس البشرية بهذه العقيدة في مواضع كثيرة جداً،
--------------------------------------------
এই ভূমিকার আলোচ্য বিষয় হবে এই যে, বিধান প্রণয়ন, আদেশ এবং নিষেধ মহান আল্লাহর একান্ত অধিকার, যাতে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। এটি কিছু কুরআনী আয়াত এবং ফকিহ ও উসুলবিদগণের বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। আরও আলোচিত হবে যে, রহিত করার অধিকার—যা মূলত পরিবর্তন ও রূপান্তর—একমাত্র তাঁরই যিনি প্রবর্তন করার অধিকার রাখেন, আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। যখন এটি সাব্যস্ত হয়ে যাবে, তখন এর অনিবার্য দাবি হিসেবে আসমান ও জমিনবাসীকে এ সব কিছু থেকে বিযুক্ত করতে হবে, এবং মানুষের কাছে এই শরিয়ত কোনো প্রকার বিকৃতি ও পরিবর্তন ছাড়াই একটি পূর্ণাঙ্গ ও অটল জীবনবিধান হিসেবে সুরক্ষিত থাকবে।
আমি বিষয়টি তিনটি উপায়ে উপস্থাপন করব।
প্রথম: কুরআনী আয়াতসমূহে যা এসেছে তা প্রতিষ্ঠা করা যে, আল্লাহই হলেন বিধান প্রবর্তনকারী।
দ্বিতীয়: আয়াতসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা সাব্যস্ত করা যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল থেকে রাজত্ব ও আদেশের গুণাবলী ইত্যাদি অস্বীকার করা হয়েছে এবং সকল সৃষ্টিকে মুখাপেক্ষিতা, অভাব, দুর্বলতা ও অক্ষমতার বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়েছে।
তৃতীয়: আয়াতসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা সুপ্রতিষ্ঠিত করা যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে বিধান প্রণয়ন করা কুফর।
* প্রথম পদ্ধতি: কুরআন অনেক স্থানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সৃষ্টি, শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও পরিচালনার গুণাবলি (১) স্বীকার করার সাথে তাঁর আদেশের মালিক হওয়ার বিষয়টিকে সম্পৃক্ত করেছে, যাঁর হুকুমকে রদ করার কেউ নেই এবং যাঁর বাণীর কোনো পরিবর্তনকারী নেই।
কুরআন মানুষকে এ ঈমান আনার আহ্বান জানিয়েছে যে, আল্লাহই হলেন স্রষ্টা, রিযিকদাতা, পরিচালক, সর্বজ্ঞ এবং প্রজ্ঞাময়
… ইত্যাদি এবং তিনিই আদেশ ও বিধানের নিরঙ্কুশ মালিক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি বিচার দিবসের মালিক, অর্থাৎ প্রতিদান দিবসের। আর এটি এজন্য যে, যেন সৃষ্টিজগত সকল প্রকার ইবাদত নিয়ে তাঁর দিকেই ধাবিত হয়—যেমন ভয়, আশা, সালাত, দুআ, প্রত্যাবর্তন, সাহায্য প্রার্থনা, পশু জবাই, মানত, তাওয়াক্কুল ও ভীতি
…কুরআন অনেক স্থানে মানবাত্মাকে এই আকিদার মাধ্যমে সম্বোধন করেছে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وسبب ذلك أن النفس البشرية لا تؤمن بأن الأمر وهو "الحكم والتشريع" لله دون سواه إلا إذا أيقنت أن الله هو الخالق والمدبر والمالك.
وكثيراً ما يسلم الكفار بأن الله هو الخالق والرزاق والمدبر .. ثم لا يؤمنون بأنه المعبود المطاع، ولذلك سجل عليهم القرآن القول بأن الله هو الخالق والمدبر وأنه رب العرش العظيم وهو يجير ولا يجار عليه كما قال تعالى:
{قُلْ لِمَنِ الْأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (84) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ (85) قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ (86) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ (87) قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (88) سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ} (1)
ثم دعاهم بعد ذلك الى التذكر والتدبر والتقوى، لكي يؤمنوا بأن الله الذي خلق الأرض والسماوات والعرش العظيم وهو يجير ولا يجار عليه وبيده ملكوت كل شيء هو الذي يستحق أن يكون له الأمر، لأن الذي بيده ملكوت كل شيء له الأمر كله، وهذا معنى قوله تعالى:
{أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} (2).
وبهذا المعنى الشامل جاء الحديث عن سلطة الله المطلقة في الحكم الكوني والحكم الشرعي، فقال سبحانه وتعالى:
{إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ} (3).
--------------------------------------------
এর কারণ হলো, মানবাত্মা ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বাস করে না যে আদেশ—অর্থাৎ 'বিধান ও শরীয়ত প্রণয়ন'—একমাত্র আল্লাহরই জন্য, যতক্ষণ না সে নিশ্চিত হয় যে আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা, পরিচালক ও মালিক।
কাফেররা অনেক ক্ষেত্রেই স্বীকার করে যে আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং পরিচালক... তবুও তারা তাঁকে আনুগত্যযোগ্য উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করে না। এই কারণেই কুরআন তাদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছে যে, আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা ও পরিচালক এবং তিনি মহান আরশের রব, আর তিনি আশ্রয় দেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কাউকে আশ্রয় দেওয়া যায় না, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
{বলুন, এই পৃথিবী এবং এতে যা কিছু আছে তা কার, যদি তোমরা জানো? (৮৪) তারা বলবে, 'আল্লাহর'। বলুন, তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? (৮৫) বলুন, কে সাত আসমান ও মহান আরশের রব? (৮৬) তারা বলবে, 'আল্লাহর'। বলুন, তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? (৮৭) বলুন, কার হাতে সব কিছুর রাজত্ব এবং তিনি আশ্রয় দেন আর তাঁর বিরুদ্ধে কাউকে আশ্রয় দেওয়া যায় না, যদি তোমরা জানো? (৮৮) তারা বলবে, 'আল্লাহর'। বলুন, তাহলে তোমরা কোত্থেকে জাদুগ্রস্ত হচ্ছ?} (১)
এরপর তিনি তাদেরকে উপদেশ গ্রহণ, চিন্তা-গবেষণা ও তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা বিশ্বাস করে যে—যিনি পৃথিবী, আকাশমন্ডলী ও মহান আরশ সৃষ্টি করেছেন, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর বিরুদ্ধে কাউকে আশ্রয় দেওয়া যায় না এবং যাঁর হাতে সব কিছুর রাজত্ব—একমাত্র তিনিই সকল আদেশের অধিকারী হওয়ার যোগ্য। কারণ যাঁর হাতে সব কিছুর রাজত্ব, সকল আদেশ তাঁরই। আর এটাই মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ:
{জেনে রেখো, সৃষ্টি এবং আদেশ কেবল তাঁরই। বরকতময় আল্লাহ, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।} (২)।
এই ব্যাপক অর্থেই মহাজাগতিক বিধান এবং শরীয়তের বিধানে আল্লাহর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বের কথা এসেছে। অতএব তিনি সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেছেন:
{বিধান তো কেবল আল্লাহরই।} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وبه تتحقق العبادة التي يريدها الله:
{أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} (1).
وهذه العقيدة هي معنى "الكلمة السواء" وهي "شهادة أن لا إله إلا الله" وهذه هي الكلمة التي أمر الله رسوله أن يدعو أهل الكتاب إليها فقال سبحانه:
قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} (2).
والمعنى: "قل يا محمد لأهل الكتاب
… هلموا إلى كلمة سواء يعني إلى كلمة عدل بيننا وبينكم، والكلمة العدل هي أن نوحد الله فلا نعبد غيره ونبرأ من كل معبود سواه فلا نشرك به شيئاً، وقوله: {ولايتخذ بعضنا بعضاً أرباباً} يقول ولا يدين بعضنا لبعض بالطاعة فيما أمر به من معاصي الله، ويعظمه بالسجود له كما يسجد لربه فإن تولوا: يقول: فإن أعرضوا عما دعوتهم إليه من الكلمة السواء التي أمرتك بدعائهم إليها، فلم يجيبوك إليها، فقولوا أيها المؤمنون للمتولين عن ذلك: اشهدوا بأنا مسلمون" (3).
وهذه الكلمة السواء هي الكلمة التي جاء بها الرسل جميعاً للناس كافة، تحمل لهم عقيدة واحدة وهي أن الملك كله لله الذي هو متصف بجميع صفات
--------------------------------------------
এর মাধ্যমেই আল্লাহ যে ইবাদত চান তা বাস্তবায়িত হয়:
{তিনি আদেশ দিয়েছেন যেন তোমরা কেবল তাঁকেই ছাড়া আর কারো ইবাদত না করো; এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না} (১)।
আর এই আকিদাই হলো "কালিমায়ে সাওয়া" (অভিন্ন বাণী)-এর অর্থ, আর তা হলো "এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই"। এটিই সেই কালিমা যার দিকে দাওয়াত দিতে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
{বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এসো এমন একটি বাণীর দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং আমাদের কেউ আল্লাহকে ছেড়ে একে অপরকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা অবশ্যই মুসলিম} (২)।
এর অর্থ হলো: "হে মুহাম্মদ, আপনি আহলে কিতাবদের বলুন
… তোমরা এমন এক অভিন্ন বাণীর দিকে এসো যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে ইনসাফপূর্ণ। আর ইনসাফপূর্ণ বাণীটি হলো—আমরা আল্লাহর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করব, ফলে তিনি ছাড়া আর কারো ইবাদত করব না এবং তিনি ব্যতীত অন্য সকল উপাস্য থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করব, যেন আমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করি। আর তাঁর বাণী: {এবং আমাদের কেউ একে অপরকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না}—অর্থাৎ আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কোনো কাজে কেউ কারো আনুগত্য স্বীকার করবে না এবং একে অপরকে সিজদা করার মাধ্যমে এমনভাবে সম্মান করবে না যেভাবে রবের উদ্দেশ্যে সিজদা করা হয়। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়: অর্থাৎ যদি তারা আপনার সেই অভিন্ন বাণীর দাওয়াত থেকে বিমুখ হয় যার প্রতি তাদের আহ্বান করতে আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা যদি আপনার ডাকে সাড়া না দেয়, তবে হে মুমিনগণ, বিমুখদের উদ্দেশ্যে তোমরা বলো: তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা অবশ্যই মুসলিম" (৩)।
আর এই অভিন্ন বাণীটিই হলো সেই কালিমা যা সকল রাসূল সকল মানুষের জন্য নিয়ে এসেছিলেন। এটি তাদের জন্য একটি একক আকিদা বহন করে, আর তা হলো—যাবতীয় রাজত্ব কেবল আল্লাহরই, যিনি সকল গুণে গুণান্বিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الكمال وأن الأمر كله له سبحانه، يشرع الأحكام وينشئها ويرسل بها رسله ليبلغوها للناس، فهو سبحانه المعبود وحده بحق لأنه صاحب الخلق والأمر. • الطريقة الثانية: وهي مقابلة للطريقة السابقة: ذلك أن الله سبحانه وتعالى نفى صفة الخلق والتدبير والملك عن كل ما سواه، ثم نفى صفة الحكم والتشريع عن كل ما سواه.
وقد تكاثرت الآيات القرآنية في إثبات مختلف صفات النقص للإنسان خاصة فكل ما سواه سبحانه مخلوق مفتقر ومحتاج إلى الله، لا يملك لنفسه ضراً ولا نفعاً ولا حياة ولا موتاً ولا نشوراً، بل لا يملك أدني من ذلك كما قال تعالى في وصف ما يعبد من دونه:
{إِنَّ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللهِ لَا يَمْلِكُونَ لَكُمْ رِزْقًا} (1).
وقال عنهم:
{لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ} (2).
وحتى القطمير لا يملكونه كما قال تعالى:
{وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ} (3).
ووصفهم بأنهم:
{لَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا وَلَا يَمْلِكُونَ مَوْتًا وَلَا حَيَاةً وَلَا نُشُورًا} (4).
--------------------------------------------
পূর্ণতা এবং সমস্ত কর্তৃত্ব একমাত্র তাঁরই—তিনি মহান ও পবিত্র। তিনি বিধানসমূহ প্রবর্তন করেন ও তা প্রণয়ন করেন এবং তা মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর রাসূলদের প্রেরণ করেন। সুতরাং তিনিই একমাত্র সত্য মাবুদ, কারণ সৃষ্টি এবং আদেশ কেবল তাঁরই। • দ্বিতীয় পদ্ধতি: এটি পূর্ববর্তী পদ্ধতির বিপরীত: তা হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তিনি ব্যতীত অন্য সকলের থেকে সৃষ্টি, পরিচালনা এবং মালিকানার গুণকে অস্বীকার করেছেন; অতঃপর তিনি ব্যতীত অন্য সকলের থেকে ফয়সালা এবং বিধান দানের অধিকারকেও অস্বীকার করেছেন।
আর বিশেষভাবে মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের ত্রুটিপূর্ণ গুণাবলী প্রমাণের বিষয়ে কুরআনের বহু আয়াত বর্ণিত হয়েছে; তাই মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে সবই সৃষ্টি এবং আল্লাহর মুখাপেক্ষী ও অভাবী। তারা নিজেদের জন্য কোনো ক্ষতি বা উপকার, মৃত্যু, জীবন কিংবা পুনরুত্থানের কোনো মালিকানা রাখে না। বরং তারা এর চেয়েও তুচ্ছ বিষয়ের মালিক নয়, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করা হয় তাদের বর্ণনায় বলেছেন:
{নিশ্চয়ই আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো, তারা তোমাদের রিযিক দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।} (১)।
তাদের সম্পর্কে আরও বলেছেন:
{তারা আসমানসমূহ ও জমিনের মধ্যে অণু পরিমাণ কোনো কিছুর মালিক নয়।} (২)।
এমনকি তারা সামান্য আবরণেরও (কিতমীর) মালিক নয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
{আর তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদের ডাকো, তারা খেজুরের বীচির সামান্য আবরণেরও মালিক নয়।} (৩)।
তাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে আরও বলেন:
{তারা নিজেদের জন্য কোনো অপকার বা উপকারের ক্ষমতা রাখে না এবং তারা মৃত্যু, জীবন ও পুনরুত্থানেরও মালিক নয়।} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وفي مقابل ذلك ليس لهم من حق التصرف والتدبير والأمر والتشريع شيء، فلا ينبغي أن يصرف لهم أي نوع من أنواع العبادة.
وإذا كان الرسل عليهم الصلاة والسلام وهم أعظم الناس منزلة عند الله ليس لهم في الخلق والتصرف والأمر شيء فكيف بغيرهم.
وقد وصف القرآن الرسل بأنهم بشر لا يملكون لأنفسهم نفعاً ولا ضراً ولا يعلمون الغيب إلا ما أخبرهم الله به، ومهمتهم هي التبليغ والإنذار والتبشير وهم فيما يبلغونه عن الله لا يقدمون فيه ولا يؤخرون ولا يكتمون منه شيئاً ولا يبدّلون.
فأمر الحكم والتشريع إذن لله وحده دون ما سواه، والرسل مبلغون ما أوحى إليهم سواء بلفظه أو بمعناه.
وإليك الأدلة القرآنية على ذلك:
أمر الله تبارك وتعالى نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم أن يقول للناس إنه بشر:
{قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ} (1).
ومثلها ما ورد على صفة التعجب:
{قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلَّا بَشَرًا رَسُولًا} (2).
وقوله تعالى: {قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (3).
وقوله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا أَدْعُو رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِهِ أَحَدًا (20) قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا
--------------------------------------------
এর বিপরীতে, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, আদেশ এবং বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের কোনো অধিকার নেই। সুতরাং তাদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রকার ইবাদত করা উচিত নয়।
আর রাসূলগণ (তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)—যারা আল্লাহর নিকট মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী—সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ এবং আদেশের ক্ষেত্রে যদি তাদেরই কোনো অধিকার না থাকে, তবে অন্য কারো অবস্থা কেমন হবে?
কুরআন রাসূলগণকে মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যারা নিজেদের কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখেন না এবং গায়েব (অদৃশ্য) সম্পর্কে কিছুই জানেন না, কেবল আল্লাহ যা তাদের জানিয়েছেন তা ছাড়া। তাদের দায়িত্ব হলো পৌঁছে দেওয়া, সতর্ক করা এবং সুসংবাদ প্রদান করা। আল্লাহর পক্ষ থেকে তারা যা প্রচার করেন, তাতে তারা কোনো কিছু আগে বাড়ান না, পিছিয়ে দেন না, কোনো কিছু গোপন করেন না এবং কোনো পরিবর্তনও করেন না।
সুতরাং ফয়সালা এবং বিধান প্রদানের বিষয়টি কেবল আল্লাহরই জন্য, তিনি ছাড়া আর কারো নয়। আর রাসূলগণ তাদের প্রতি যা ওহি করা হয়েছে তা পৌঁছে দেন, চাই তা শব্দে হোক বা অর্থে।
এর স্বপক্ষে কুরআনের দলিলসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আদেশ করেছেন তিনি যেন মানুষকে বলেন যে, তিনি একজন মানুষ:
{বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার কাছে ওহি পাঠানো হয়} (১)।
একইভাবে বিস্ময়সূচকভাবে যা বর্ণিত হয়েছে:
{বলুন, পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি কি একজন মানুষ রাসূল ছাড়া অন্য কিছু?} (২)।
মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আল্লাহ যা চান তা ছাড়া আমার নিজের কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা আমার নেই। আর আমি যদি গায়েব (অদৃশ্য) জানতাম, তবে আমি অনেক কল্যাণ লাভ করতাম এবং কোনো অমঙ্গল আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা} (৩)।
মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি তো কেবল আমার প্রতিপালককেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করি না (২০) বলুন, আমি তোমাদের কোনো অপকার করার ক্ষমতা রাখি না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَلَا رَشَدًا (21) قُلْ إِنِّي لَنْ يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا (22) إِلَّا بَلَاغًا مِنَ اللَّهِ وَرِسَالَاتِهِ} (1).
وبشرية الرسول هذه هي التي تحدد مهمته التي نص عليها القرآن في أكثر من موضع، فهي مهمة التبليغ والإِنذار والتبشير.
ومن الآيات التي حددت مهمة الرسول عليه الصلاة والسلام قوله تعالى:
{{يَاأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} (2).
فصاحب الأمر هو الله والرسول مبلغ فقط، ومثلها قوله تعالى في سورة النحل:
{فَهَلْ عَلَى الرُّسُلِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} (3).
والبلاع هنا للتبشير والإنذار كما قال تعالى:
{وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا} (4).
وبه تتحقق الشهادة من الرسل على البشر:
{يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا} (5).
وتحديد هذه المهمة على هذا النحو بالنسبة للرسل والقطع بها في مواطن كثيرة في القرآن يكشف لنا بوضوح عن مهمة البشر بعد ذلك، فإذا لم يكن للرسل إلّا البلاغ وهم متبعون للوحي متعبدون بذلك، لا يسعهم الخروج عنه،
--------------------------------------------
এবং কোনো সুপথেরও (মালিক নই)। (২১) বলুন, আল্লাহ থেকে আমাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং আমি তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো আশ্রয়স্থল পাব না। (২২) আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছানো এবং তাঁর রিসালাত প্রচার করা ব্যতীত। (১)।
রাসূলের এই মানবিক সত্তাই তাঁর সেই দায়িত্বকে নির্ধারণ করে যা কুরআন একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছে; আর তা হলো পৌঁছানো (তাবলিগ), সতর্কীকরণ এবং সুসংবাদ প্রদানের দায়িত্ব।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব নির্ধারণকারী আয়াতসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণী অন্যতম:
হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন। (২)।
সুতরাং আদেশের মালিক হলেন আল্লাহ এবং রাসূল কেবল পৌঁছানোর দায়িত্বশীল। অনুরূপভাবে সূরা আন-নাহলে আল্লাহ তাআলার বাণী রয়েছে:
রাসূলদের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। (৩)।
আর এখানে পৌঁছে দেওয়া বলতে সুসংবাদ দান ও সতর্কীকরণ উদ্দেশ্য, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
আমি আপনাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি। (৪)।
আর এর মাধ্যমেই মানুষের উপর রাসূলদের সাক্ষ্য সাব্যস্ত হয়:
হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। (৫)।
রাসূলদের জন্য এইভাবে দায়িত্ব নির্ধারণ এবং কুরআনের বহু স্থানে তা অকাট্যভাবে বর্ণনা করা আমাদের কাছে পরবর্তী মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে উন্মোচন করে। সুতরাং রাসূলদের দায়িত্ব যদি কেবল পৌঁছে দেওয়া হয়ে থাকে এবং তারা যদি ওহীর অনুসারী ও এর মাধ্যমেই আল্লাহর ইবাদতকারী হয়ে থাকেন, তবে তাদের পক্ষে ওহীর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولا التبديل فيه، فإن البشر محكومون بهذا الوحي الذي بلغة الرسل واتبعوه،
ليس لهم أن يغيروا فيه ولا يبدلوا.
وقد تكلم الإمام الشافعي في كتابه الرسالة عن هذا، فقال:
"باب ما أبان الله لخلقه من فرْضِه على رسوله اتباع ما أوحى إليه وما شهد له به من اتباع ما أُمر به، ومِنْ هُدَاه، وأنه هادٍ لمن اتَبَعَهُ" (1).
واستدل الشافعي على ذلك بآيات كثيرة منها:
1 - قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ اتَّقِ اللهَ وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا (1) وَاتَّبِعْ مَا يُوحَى إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} (2).
2 - وقوله تعالى: {اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} (3).
3 - وقوله تعالى: {ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (4).
قال الإمام الشافعي: "فأعلم اللهُ رسولَه مَنه عليه بما سبق في علمهِ من عصمتهِ إيّاه من خلقه، فقال:
{يَاأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} (5).
--------------------------------------------
এবং এতে কোনো পরিবর্তন নেই, কারণ মানুষ এই ওহী দ্বারা শাসিত যা রাসূলগণ প্রচার করেছেন এবং অনুসরণ করেছেন।
তাদের জন্য এতে কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার সুযোগ নেই।
ইমাম শাফিঈ তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে এ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন:
"পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির জন্য যা স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর রাসূলের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অনুসরণ করা এবং রাসূল যে আদিষ্ট বিষয়গুলো অনুসরণ করেছেন তার সাক্ষ্য দান, আর তাঁর হিদায়াত এবং এটি যে তাঁর অনুসারীদের জন্য পথপ্রদর্শক।" (১)।
শাফিঈ এর সপক্ষে অনেক আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মহান আল্লাহর বাণী: {হে নবী, আল্লাহকে ভয় করুন এবং কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় (১) এবং আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা ওহী করা হয় তা অনুসরণ করুন} (২)।
২ - এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আপনার প্রতি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা ওহী করা হয়েছে আপনি তা অনুসরণ করুন, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন} (৩)।
৩ - এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আমরা আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, সুতরাং আপনি তা অনুসরণ করুন এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না} (৪)।
ইমাম শাফিঈ বলেন: "আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাঁর প্রতি কৃত অনুগ্রহ সম্পর্কে অবহিত করেছেন যা তাঁর ইলমে পূর্ব থেকেই সাব্যস্ত ছিল যে, তিনি তাঁকে সৃষ্টিজীব থেকে রক্ষা করবেন। সুতরাং তিনি বলেছেন:
{হে রাসূল, আপনার প্রতি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন। যদি আপনি তা না করেন তবে তো আপনি তাঁর রিসালাত প্রচার করলেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন} (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
"وشهد له جل ثناؤه باستمساكه بما أَمرهُ به والهُدى في نفسه وهداية من اتبعه فقال:
{وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (1).
ثم قال: "فأبان الله أنْ قد فرضَ على نبيهِ اتباعَ أمرِه وشهدَ له بالبلاغِ عنه، وشهدَ به لنفسه، ونحن نشهدُ له به تقرباً إلى الله بالإيمان به وتوسلًا إليه بتصديق كلماته" (2).
وقرر الإمام الشاطبي هذا الأصل -الذي قرره الإمام الشافعي- وذلك في كتابه الموافقات حيث قال:
"المقصد الشرعي من وضع الشريعة إخراج المكلف عن داعية هواه حتى يكون عبداً لله اختياراً كما هو عبد لله اضطراراً (3)، والدليل على ذلك .. النص الصريح الدال على أن العباد خُلقوا للتعبد لله والدخول تحت أمره ونهيه، كقوله تعالى:
{وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56) مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ} (4).
إلى غير ذلك من الآيات الأمرة بالعبادة على الإطلاق وبتفاصيلها على العموم فذلك كله راجع إلى الرجوع إلى الله في جميع الأحوال والانقياد الى أحكامه على كل حال وهو معنى التعبد لله .... " (5).
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ তাঁর প্রশংসা কীর্তন করে তাঁর অনুকূলে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি যা তাঁকে আদেশ করেছেন তা তিনি শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছেন, এবং তাঁর নিজের মধ্যে হিদায়াত বিদ্যমান এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করে তাদের জন্য তিনি পথপ্রদর্শক। তিনি বলেছেন:
{আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার পক্ষ থেকে রুহ (অহি) পাঠিয়েছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি একে নূর (আলো) করেছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করছেন} (১)।
অতঃপর তিনি বলেন: "আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি তাঁর নবীর ওপর তাঁর আদেশ অনুসরণ করা ফরয করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর অনুকূলে সাক্ষ্য দিয়েছেন, এবং তিনি নিজের জন্যও এই সাক্ষ্য দিয়েছেন; আর আমরাও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর ঈমান এনে এবং তাঁর কালামকে সত্যয়ন করার মাধ্যমে তাঁর জন্য এই সাক্ষ্য দিচ্ছি" (২)।
আর ইমাম শাতবী এই মূলনীতিটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন - যা ইমাম শাফেঈ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন - এবং তা তাঁর 'আল-মুয়াফাকাত' গ্রন্থে, যেখানে তিনি বলেছেন:
"শরিয়ত প্রবর্তনের শরয়ি উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লাফকে (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিকে) তার প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বের করে আনা, যাতে সে স্বেচ্ছায় আল্লাহর বান্দা হতে পারে যেমনভাবে সে বাধ্যগতভাবে আল্লাহর বান্দা (৩), এবং এর দলিল হলো... সেই সুস্পষ্ট নস (অকাট্য প্রমাণ) যা নির্দেশ করে যে, বান্দাদের সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর বন্দেগি করার জন্য এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের অনুগত হওয়ার জন্য, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী:
{আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি (৫৬)। আমি তাদের কাছে কোনো রিজিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে (৫৭)} (৪)।
এভাবে আরও বহু আয়াত রয়েছে যা সাধারণভাবে ইবাদতের আদেশ দেয় এবং বিস্তৃতভাবে তার বিবরণ দেয়; আর এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো সকল অবস্থায় আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং সর্বাবস্থায় তাঁর বিধানের প্রতি অনুগত হওয়া, আর এটাই হলো আল্লাহর বন্দেগির অর্থ..." (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সাবাতু ওয়াশ-শুমূল ফিশ-শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ويدخل في كلام الشاطبي رحمه الله: توحيد الاتباع والطاعة وهو مبني على علم الإنسان بصفات الله وتأليهه له، وخوفه منه وتضرعه إليه، وتوكله عليه، وإنابته إليه، وذبحه ونذره ودعائه وصلاته له وحده سبحانه وإذا حقق العبد ذلك انقاد لأحكام هذه الشريعة وأذعن لها في إيمان واستسلام، ورضى وطمأنينة، لا يعرض عن شيء منها، ولا يقدم عليه غيره، فضلاً أن يقع في جحود شيء منها أو إنكاره.
وعلى هذا الأصل بنى الشاطبي قوله في كتاب الاعتصام حيث قال:
" .. فاعلموا أن الله تعالى وضع هذه الشريعة حجة على الخلق كبيرهم وصغيرهم ومطيعهم وعاصيهم برهم وفاجرهم لم يختص الحجة (1) بها أحداً دون أحد وكذلك سائر الشرائع إنما وضعت لتكون حجة على جميع الأمم التي تنزل فيهم تلك الشريعة حتى أن الشريعة (2) المرسلين بها صلوات الله عليهم داخلون تحت أحكامها، فأنت ترى أن نبينا محمداً صلى الله عليه وسلم مخاطب بها في جميع أحواله وتقلباته مما اختص به دون أمته أو كان عاماً له ولأمته .. " (3).
وهذا الذي قررته الآيات بمثابة البيان لمهمة البشر في هذه الأرض وأنهم محكومون بهذه الشريعة لا يخرج عن حكمها أحد البتة، حتى الأنبياء والرسل، والتشريع حق الله الخالص، وعلى الرسل والبشر جميعاً الإذعان والاتباع، فإذا لم يحق لأحد على الإطلاق كائناً من كان أن يخرج عن حكم هذه الشريعة فلأن لا يكون له شيء من حق التشريع أو التغيير أو التبديل أولى وأحرى.
وها هو الرسول صلى الله عليه وسلم يقول للذين لا يرجون لقاء الله وهم يطلبون منه أن
--------------------------------------------
ইমাম শাত্বেবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হলো: আনুগত্য ও অনুসরণের তাওহীদ। এটি আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান এবং তাঁকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আরও ভিত্তি করে তাঁর প্রতি ভয়, তাঁর কাছে বিনম্র প্রার্থনা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা), তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন এবং একমাত্র তাঁরই উদ্দেশ্যে কুরবানি, মানত, দোয়া ও সালাত আদায়ের ওপর। যখন কোনো বান্দা এটি বাস্তবায়ন করে, তখন সে ঈমান, আত্মসমর্পণ, তুষ্টি ও প্রশান্তির সাথে এই শরীয়তের বিধানাবলির অনুগত হয় এবং সেগুলোকে মেনে নেয়। সে এর কোনো কিছু থেকে বিমুখ হয় না এবং এর ওপর অন্য কিছুকে প্রধান্য দেয় না; এর কোনো কিছুকে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করার তো প্রশ্নই আসে না।
আর এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই শাত্বেবী তাঁর ‘আল-ইতিসাম’ কিতাবে তাঁর বক্তব্য প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:
“...জেনে রাখুন যে, মহান আল্লাহ এই শরীয়তকে সৃষ্টির জন্য দলীল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; তাদের বড় ও ছোট, অনুগত ও অবাধ্য এবং পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ সকলের জন্যই। তিনি এই দলীলকে (১) কারো জন্য নির্দিষ্ট করেননি। তেমনিভাবে অন্যান্য সমস্ত শরীয়তও কেবল সেই সব উম্মতের জন্য দলীল হিসেবে অবতীর্ণ করা হয়েছিল যাদের কাছে সেই শরীয়ত নাযিল করা হয়েছিল। এমনকি যাদের মাধ্যমে শরীয়ত (২) পাঠানো হয়েছে, সেই রাসূলগণও—তাঁদের ওপর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক—এর বিধানাবলির অন্তর্ভুক্ত। তাই আপনি দেখতে পাবেন যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সমস্ত অবস্থা ও কর্মকাণ্ডে এর মাধ্যমে সম্বোধিত হয়েছেন, চাই তা কেবল তাঁর জন্য নির্দিষ্ট হোক কিংবা তাঁর ও তাঁর উম্মতের জন্য সাধারণ হোক... (৩)।”
আয়াতসমূহ যা সাব্যস্ত করেছে, তা এই পৃথিবীতে মানুষের দায়িত্বের বর্ণনাস্বরূপ। আর তা হলো, তারা এই শরীয়তের বিধান দ্বারা শাসিত; কেউ এর শাসনের বাইরে নয়, এমনকি নবী ও রাসূলগণও নন। বিধান প্রদান (তাশরি’) একমাত্র আল্লাহর নিরঙ্কুশ অধিকার। রাসূলগণ এবং সমস্ত মানুষের কর্তব্য হলো তা মেনে নেওয়া ও অনুসরণ করা। সুতরাং, যখন কারোর জন্যই এই শরীয়তের বিধান থেকে বের হওয়ার বিন্দুমাত্র অধিকার নেই, তখন তার জন্য বিধান তৈরি করা, পরিবর্তন করা বা রদবদল করার কোনো অধিকার না থাকাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত ও শ্রেয়।
এই তো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে বলছেন যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না, অথচ তারা তাঁর কাছে দাবি করছিল যে—
--------------------------------------------