(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: -)
الغنية لطالبي طريق الحق القسم: الرقائق والآداب والأذكار
الكتاب: الغنية لطالبي طريق الحق عز وجل
المؤلف: عبد القادر بن موسى بن عبد الله بن جنكي دوست الحسني، أبو محمد، محيي الدين الجيلاني، أو الكيلاني، أو الجيلي (ت 561 هـ)
المحقق: أبو عبد الرحمن صلاح بن محمد بن عويضة
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1997 م
عدد الأجزاء: 2
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1437
আল-গুনিয়া লি-তালিবি ত্বরিকিল হাক্ক বিভাগ: আধ্যাত্মিকতা, শিষ্টাচার ও জিকিরসমূহ
কিতাব: আল-গুনিয়া লি-তালিবি ত্বরিকিল হাক্ক আজ্জা ওয়া জাল্লা
লেখক: আবদুল কাদির বিন মুসা বিন আবদুল্লাহ বিন জাঙ্গি দোস্ত আল-হাসানি, আবু মুহাম্মদ, মুহিউদ্দীন আল-জিলানি, অথবা আল-কিলানি, অথবা আল-জিলি (মৃত্যু ৫৬১ হিজরি)
সম্পাদক: আবু আবদুর রহমান সালাহ বিন মুহাম্মদ বিন উওয়াইদাহ
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: রাবেতাতুন নুসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মার্কাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
[مقدمة المؤلف]
قال الشيخ الإمام العلامة العالم الزاهد الأوحد الورع العارف المؤيد محيي الدين قطب الإسلام معز الأنام ناصر السنة قامع البدعة صدر الأئمة أبو محمد عبد القادر بن أبي صالح بن عبد الله الجيلي، تغمده الله برحمته وأعاد علينا وعلى المسلمين من بركته، وحشرنا في زمرته آمين:
الحمد لله الذي بتحميده يستفتح كل كتاب، وبذكره يصدر كل خطاب وبحمده يتنعم أهل النعيم في دار الجزاء والثواب، وباسمه يشفى كل داء، وبه يكشف كل غمة وبلاء، إليه ترفع الأيدي بالتضرع والدعاء، في الشدة والرخاء، والسراء والضراء، وهو سامع لجميع الأصوات، بفنون الخطاب على اختلاف اللغات، والمجيب للمضطر الدعاء، فله الحمد على ما أولى وأسدى، وله الشكر على ما أنعم وأعطى، وأوضح المحجة وهدى، وصلواته على صفيه ورسوله الذي به من الضلالة هدى، محمد وآله وأصحابه وإخوانه المرسلين والملائكة المقربين، وسلم تسليما.
أما بعد:
فقد ألح علي بعض أصحابي، وشدد في الخطاب في تصنيف هذا الكتاب لحسن ظنه في الإصابة والصواب، والله تعالى هو العاصم في الأقوال والأفعال والمطلع على الضمائر والنيات، والمنعم المتفضل بتسهيل ما أراد، وإليه عز وجل الالتجاء لتطهير القلوب من الرياء والنفاق، وإبدال السيئات بالحسنات، إنه غافر الذنوب والخطيئات، وقابل التوب من العباد.
فلما رأيت صدق رغبته في معرفة الآداب الشرعية من الفرائض والأركان والسنن والهيئات، ومعرفة الصانع عز وجل بالآيات والعلامات، ثم الاتعاظ بمواعظ القرآن والألفاظ النبوية في مجالس نذكرها، ومعرفة أخلاق الصالحين نشير لها في أثناء
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
[লেখকের ভূমিকা]
শায়খ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, অনন্য সংসারত্যাগী, পরহেযগার, মারেফতপ্রাপ্ত, আল্লাহর সাহায্যপুষ্ট, দ্বীনের পুনরুজ্জীবিতকারী, ইসলামের কুতুব, সৃষ্টির সম্মানভাজন, সুন্নাহর সাহায্যকারী, বিদআতের দমনকারী, ইমামদের অগ্রগণ্য, আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন আবি সালেহ বিন আব্দুল্লাহ আল-জিলী (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন এবং তাঁর বরকত আমাদের ওপর ও মুসলিমদের ওপর ফিরিয়ে দিন, আর আমাদের তাঁর দলে হাশর করুন, আমীন) বলেছেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর প্রশংসার মাধ্যমে প্রতিটি কিতাব শুরু হয়, যাঁর যিকিরের মাধ্যমে প্রতিটি ভাষণ সূচিত হয়, যাঁর প্রশংসার মাধ্যমে প্রতিদান ও সওয়াবের ঘরে নেয়ামতপ্রাপ্তরা নেয়ামত লাভ করেন, যাঁর নামের উসিলায় প্রতিটি রোগ নিরাময় হয় এবং যাঁর মাধ্যমে প্রতিটি দুঃখ ও বালা-মুসিবত দূর হয়। বিপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে, সুখ ও দুঃখে তাঁরই কাছে কাকুতি-মিনতি ও দোয়ার সাথে হাত উত্তোলন করা হয়। তিনি সকল আওয়ায শ্রবণকারী, ভাষার বিভিন্নতা সত্ত্বেও বিচিত্র সম্বোধন তিনি শোনেন, তিনি আর্তদের দোয়ার উত্তরদাতা। সুতরাং তাঁরই প্রশংসা যা তিনি দান করেছেন ও অনুগ্রহ করেছেন, এবং তাঁরই কৃতজ্ঞতা যা তিনি নেয়ামত দিয়েছেন ও প্রদান করেছেন, আর তিনি সুস্পষ্ট পথ দেখিয়েছেন ও হিদায়াত দান করেছেন। তাঁর দরুদ ও অবারিত সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দা ও রাসূলের ওপর যাঁর মাধ্যমে তিনি গোমরাহি থেকে হিদায়াত দিয়েছেন, অর্থাৎ মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী, তাঁর ভাই অন্যান্য রাসূলগণ এবং নিকটবর্তী ফেরেশতাদের ওপর।
অতঃপর:
আমার কিছু সঙ্গী এই কিতাবটি রচনার জন্য আমাকে অনেক পীড়াপীড়ি করেছেন এবং জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন, কারণ আমার সঠিকত্ব ও নির্ভুলতার ব্যাপারে তাঁদের সুধারণা রয়েছে। আর আল্লাহ তাআলাই কথা ও কাজে রক্ষাকারী এবং তিনি অন্তরের গোপন রহস্য ও নিয়ত সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি যা চান তা সহজ করার মাধ্যমে অনুগ্রহ ও কৃপা করেন। রিয়া ও নিফাক থেকে অন্তর পবিত্র করার জন্য এবং গুনাহসমূহকে নেকি দ্বারা পরিবর্তন করার জন্য একমাত্র তাঁরই কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়। নিশ্চয়ই তিনি পাপ ও ভুলত্রুটি ক্ষমাশীল এবং বান্দাদের তওবা কবুলকারী।
যখন আমি শরয়ী আদবসমূহ তথা ফরায়েয, আরকান, সুন্নাত ও নিয়মাবলি জানার ব্যাপারে এবং বিভিন্ন নিদর্শন ও চিহ্নের মাধ্যমে মহান স্রষ্টাকে চেনার ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহের সত্যতা দেখলাম, অতঃপর কুরআন ও নববীয় বাণীর উপদেশমালার মাধ্যমে নসিহত গ্রহণ—যা আমরা বিভিন্ন মজলিসে উল্লেখ করব—এবং নেককারদের চরিত্র সম্পর্কে জানার আকাঙ্ক্ষা—যা আমরা আলোচনার ফাঁকে ইঙ্গিত করব—তা অনুধাবন করলাম (তখন এই কিতাব রচনায় প্রবৃত্ত হলাম)।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১০)
الكتاب، ليكون عونا له على سلوك طريق الله عز وجل، وامتثال أوامره، وانتهاء نواهيه، ووجدتُ له نية صادقة صدرت من فتوح الغيب في إجابته إلى ذلك، فسارعتُ مشمرا مبتغيا محتسبا للثواب، راجيا للنجاة في يوم الحساب، إلى جمع هذا الكتاب بتوفيق رب الأرباب الملهم للصواب، وقد سميته:
(الغنية لطالبي طريق الحق عز وجل)
এই কিতাবটি, যাতে এটি তাকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথে চলতে, তাঁর আদেশসমূহ পালন করতে এবং তাঁর নিষেধসমূহ পরিহার করতে সহায়তা করে। আমি তার মধ্যে এক অকৃত্রিম সংকল্প প্রত্যক্ষ করেছি যা এই ডাকে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অদৃশ্যের দুয়ার উন্মোচন থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ফলে আমি সওয়াবের প্রত্যাশায় এবং বিচার দিবসে নাজাতের আশায় প্রভুদের প্রভু ও সঠিক বিষয়ের অনুপ্রেরণা দানকারীর তাওফিকে এই কিতাবটি সংকলনের জন্য সচেষ্ট হয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়েছি। আমি এর নামকরণ করেছি:
(সত্যের পথ অন্বেষণকারীদের জন্য পর্যাপ্ত পাথেয়)
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১১)
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
باب
نبدأ فنقول:
الذي يجب على من يريد الدخول في دين الإسلام
أولًا: أن يتلفظ بالشهادتين: لا إله إلا الله، محمد رسول الله، ويتبرأ من كل دين غير دين الإسلام، ويعتقد بقلبه وحدانية الله تعالى، على ما سنبينه إن شاء الله تعالى.
إذا كان الإسلام هو الدين عند الله تعالى، قال الله عز وجل: {إن الدين عند الله الإسلام} [آل عمران: 19].
وقال تعالى: {ومن يبتغ غير الإسلام دينًا فلن يقبل منه} [آل عمران: 85].
فإذا أتى بذلك دخل في الإسلام، وحرم قتله وسبي ذراريه واستغنام أمواله، ويغفر له ما تقدم من التفريط في حق الله عز وجل، لقوله تعالى: {قل للذين كفروا إن ينتهوا يغفر لهم ما قد سلف} [الأنفال: 38].
وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله، فإذا قالوها عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله».
ولقوله صلى الله عليه وسلم: «الإسلام يجب ما قبله».
ثم يجب عليه الغسل للإسلام، لما روي أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر ثمامة بن أثال وقيس بن
পরিচ্ছেদ
আমরা শুরু করছি এবং বলছি:
ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য যা আবশ্যক:
প্রথমত: শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) উচ্চারণ করা: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; এবং ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল ধর্ম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং অন্তরে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে বর্ণনা করব।
যেহেতু ইসলামই আল্লাহ তাআলার নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} [আল-ইমরান: ১৯]।
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না} [আল-ইমরান: ৮৫]।
সুতরাং যখন সে তা সম্পাদন করবে, তখন সে ইসলামে প্রবেশ করল; এবং তাকে হত্যা করা, তার সন্তানদের বন্দি করা এবং তার সম্পদ গণিমত হিসেবে গ্রহণ করা হারাম হয়ে গেল। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার হকের ক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী সকল অবহেলা ও ত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া হবে, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {আপনি কাফেরদের বলে দিন, যদি তারা বিরত হয় তবে তাদের অতীতে যা হয়ে গেছে তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে} [আল-আনফাল: ৩৮]।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর কারণে: «আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের হক ব্যতীত। আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়»।
এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: «ইসলাম তার পূর্বের সকল পাপ মিটিয়ে দেয়»।
এরপর ইসলাম গ্রহণের জন্য তার ওপর গোসল করা ওয়াজিব হয়, যেহেতু বর্ণিত হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুমামা ইবনে উসাল এবং কায়াস ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عاصم، لما أسلما بالغسل.
وفي رواية: «ألق عنك شعر الكفر واغتسل».
ثم تجب عليه الصلاة، لأن الإيمان قول وعمل، لأن القول دعوى والعمل هو البينة، والقول صورة والعمل روحها.
وللصلاة شرائط تتقدمها وهي:
الطهارة بالماء الطهور، والتيمم عند عدمه، والستارة بثوب طاهر، والوقوف على بقعة طاهرة، واستقبال القبلة، والنية، ودخول الوقت.
أما الطهارة فلها فرائض وسنن:
والفرائض في ظاهر المذهب عشرة:
النية أولًا: وهو أن ينوي بطهارته رفع الحدث، وإن كان تيممًا فاستباحة الصلاة، لأن التيمم لا يرفع الحدث، ومحلها القلب، فإن ذكر ذلك بلسانه مع اعتقاده بقلبه كان قد أتى بالأفضل، وإن اقتصر على الاعتقاد بالقلب أجزأ.
ثم التسمية: وهو أن يذكر الله تعالى عند إرادته أخذ الماء.
আসিম, যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করল গোসল করার মাধ্যমে।
আর একটি বর্ণনায় রয়েছে: "তোমার থেকে কুফরির চুল ফেলে দাও এবং গোসল করো।"
অতঃপর তার ওপর সালাত ফরজ হয়, কারণ ঈমান হলো কথা ও কাজ; কেননা কথা হলো দাবি এবং কাজ হলো তার প্রমাণ, আর কথা হলো অবয়ব এবং কাজ হলো তার রুহ বা আত্মা।
আর সালাতের কিছু শর্ত রয়েছে যা সালাতের পূর্বে পালন করতে হয়, সেগুলো হলো:
পবিত্র পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন, পানি না পাওয়া গেলে তায়াম্মুম করা, পবিত্র কাপড় দ্বারা সতর ঢাকা, পবিত্র স্থানে দাঁড়ানো, কিবলামুখী হওয়া, নিয়ত করা এবং ওয়াক্ত বা সময় হওয়া।
পবিত্রতার ক্ষেত্রে কিছু ফরজ ও সুন্নত রয়েছে:
মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী ফরজ হলো দশটি:
প্রথমত নিয়ত: আর তা হলো স্বীয় পবিত্রতার মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করা, আর যদি তা তায়াম্মুম হয় তবে সালাত বৈধ হওয়ার নিয়ত করা, কারণ তায়াম্মুম অপবিত্রতা দূর করে না। নিয়তের স্থান হলো অন্তর। যদি কেউ অন্তরের বিশ্বাসের সাথে মুখেও তা উচ্চারণ করে তবে সে উত্তম কাজটি করল, আর যদি শুধু অন্তরের বিশ্বাসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে তবে তা যথেষ্ট হবে।
অতঃপর তাসমিয়াহ: আর তা হলো পানি ব্যবহারের ইচ্ছা করার সময় আল্লাহ তাআলার জিকির বা নাম স্মরণ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم المضمضة: وهو دوران الماء في الفم ومجه وإخراجه منه.
ثم الاستنشاق: وهو إدخال الماء في خرمي الأنف.
ثم غسل الوجه: وحده من منابت شعر الرأس إلى ما انحدر من اللحيين والذقن طولًا، ومن وتد الأذن إلى وتد الأذن عرضًا.
ثم غسل اليدين إلى المرفقين.
ثم مسح الرأس: وصفته: أن يغمس يديه في الماء ثم يرفعهما فارغتين فيضعهما على ما مقدم رأسه ويجرهما إلى قفاه، ويعيدهما إلى الموضع الذي بدأ منه، ويكون الإبهامان في صماخي الأذنين، فيمسح بهما الجلدتين القائمتين مع الصماخين.
ثم غسل الرجلين مع الكعبين: وهما العظمان الناتئان في مفصل القدم وكل ذلك مرة واحدة.
وأما التاسع: فهو ترتيب الأعضاء كلها كما نطق به القرآن في قوله عز وجل:
{يا أيها الذين آمنوا إذا قمتم إلى الصلاة فاغسلوا وجوهكم وأيديكم إلى المرافق وامسحوا برؤوسكم وأرجلكم إلى الكعبين} [المائدة: 6].
والعاشر: الموالاة، وهي إتباع العضو الثاني الأول قبل أن ينشف ماء الأول.
এরপর কুলি করা: আর তা হলো মুখের ভেতর পানি ঘুরানো এবং তা মুখ থেকে বের করে দেওয়া।
এরপর নাকে পানি দেওয়া: আর তা হলো নাকের ছিদ্র দুটিতে পানি প্রবেশ করানো।
এরপর মুখমণ্ডল ধৌত করা: এর সীমানা হলো দৈর্ঘ্যে মাথার চুল গজানোর স্থান থেকে চোয়ালের দুই হাড়ের নিচ ও চিবুক পর্যন্ত, এবং প্রস্থে এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত।
এরপর দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করা।
এরপর মাথা মাসাহ করা: এর পদ্ধতি হলো: ব্যক্তি তার দুই হাত পানিতে ডুবাবে, তারপর পানিহীন অবস্থায় হাত দুটি তুলবে, অতঃপর হাত দুটি মাথার সামনের অংশে রাখবে এবং সেগুলো ঘাড়ের পিছন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে, এরপর সেখান থেকে পুনরায় শুরুর স্থানে ফিরিয়ে আনবে। আর বৃদ্ধাঙ্গুলি দুটি কানের ছিদ্রে থাকবে, অতঃপর তা দিয়ে কানের বাইরের চামড়া ও ছিদ্রপথ মাসাহ করবে।
এরপর দুই টাখনুসহ পা ধৌত করা: টাখনু হলো পায়ের সংযোগস্থলে থাকা উঁচু হাড় দুটি। আর এ সবকিছুই একবার করে।
নবমটি হলো: সমস্ত অঙ্গগুলো ক্রমানুসারে ধৌত করা, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে পবিত্র কুরআনে ব্যক্ত করেছেন:
{হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]।
দশমটি হলো: নিরবচ্ছিন্নতা; আর তা হলো প্রথম অঙ্গের পানি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই পরবর্তী অঙ্গটি ধৌত করা।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وأما سننها فعشر أيضًا:
غسل الكفين قبل إدخالهما الإناء، والسواك، والمبالغة في المضمضة والاستنشاق إلا أن يكون صائمًا، وتخليل اللحية الكثة على اختلاف الروايتين، وغسل داخل العينين، والبداءة باليمين، وأخذ ماء جديد للأذنين، ومسح العنق، وتخليل ما بين الأصابع، والغسلة الثانية والثالثة.
وأما التيمم:
فأن يضرب يديه على تراب طاهر له غبار يعلق باليد، ناويًا لاستباحة صلاة مفروضة، مسميًا ضربة واحدة يفرج بين أصابعه، فيمسح وجهه بباطن أصابع يديه، وظهر كفيه بباطن راحتيه.
وأما الطهارة الكبرى: فنذكرها في باب آداب الخلاء إن شاء الله تعالى.
وأما الستارة: فأن تكون ثوبًا طاهرًا يستر عورته ومنكبيه من سائر أنواع الثياب إلا الحرير، فإن الصلاة فيه باطلة وإن كان طاهرًا، وكذلك المغصوب.
وأما البقعة: فأن تكون طاهرة من جميع الأنجاس، فإن كانت النجاسة التي عليها قد نشفتها الرياح أو الشمس فبسط عليها بساطًا طاهرًا فصلى عليه صحت صلاته على
আর এর সুন্নাতসমূহও দশটি:
পাত্রে প্রবেশের করানোর আগে কবজি পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া, মেসওয়াক করা, রোজা না রাখা অবস্থায় কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ায় অতিরঞ্জন করা, দুই বর্ণনার ভিন্নতা অনুযায়ী ঘন দাড়ি খিলাল করা, চোখের ভেতর ধোয়া, ডান দিক থেকে শুরু করা, কানের জন্য নতুন পানি নেওয়া, ঘাড় মাসেহ করা, আঙুলের ফাঁক খিলাল করা এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধোয়া।
আর তায়াম্মুমের পদ্ধতি হলো:
পবিত্র মাটির ওপর দুই হাত আঘাত করা যাতে হাতে ধুলো লাগে, ফরজ সালাত বৈধ করার নিয়ত করে এবং বিসমিল্লাহ বলে আঙুলসমূহ ফাঁক করে এক বার আঘাত করা, এরপর তার হাতের আঙুলসমূহের ভেতরের অংশ দিয়ে তার মুখমণ্ডল মাসেহ করা এবং হাতের তালুর ভেতরের অংশ দিয়ে দুই হাতের কবজির পিঠের দিক মাসেহ করা।
আর বড় পবিত্রতা (গোসল): এ সম্পর্কে আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা শৌচাগারের শিষ্টাচার অধ্যায়ে আলোচনা করব।
আর আচ্ছাদন: তা সব ধরনের পোশাকের মধ্য থেকে এমন একটি পবিত্র কাপড় হওয়া যা তার সতর এবং দুই কাঁধ ঢেকে রাখে, রেশমি কাপড় ব্যতীত। কেননা রেশমি কাপড়ে সালাত বাতিল, যদিও তা পবিত্র হয়। অনুরূপভাবে জবরদখলকৃত কাপড়ের হুকুমও একই।
আর স্থান: তা সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়া। যদি তার ওপর বিদ্যমান অপবিত্রতা বাতাস বা সূর্য শুকিয়ে ফেলে এবং এরপর তার ওপর কোনো পবিত্র বিছানা বিছিয়ে সালাত আদায় করা হয়, তবে তার সালাত সহিহ হবে এর ওপর...
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إحدى الروايتين. وكذلك إن كانت مغصوبة على رواية ضعيفة.
وأما استقبال القبلة:
فأن يتوجه إلى عين الكعبة إن كان بمكة وما قاربها من البقاع وإلى جهتها إن كان على بعد منها بالاجتهاد وبذل الطاقة بالاستدلال بالشواهد والدلالات بالنجوم والشمس والرياح وغير ذلك.
وأما النية:
فمحلها القلب وهو أن يعتقد أداء ما افترض الله تعالى عليه من فعل الصلاة بعينها وامتثال أمره الواجب من غير رياء وسمعة، ثم يحضر قلبه إلى أن يفرغ منها، وقد جاء في الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال لعائشة رضي الله عنها: (ليس لك من صلاتك إلا ما حضر قلبك).
وأما دخول الوقت:
فبعلمه يقينًا أو غلبة الظن في يوم الغيم وهيجان الرياح والموانع.
ثم يؤذن فيقول:
الله أكبر الله أكبر، الله أكبر الله أكبر، أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن محمدًا رسول الله، أشهد أن محمدًا رسول الله، حي على الصلاة، حي على الصلاة، حي على الفلاح، حي على الفلاح، الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله.
ثم يقيم الصلاة فيقول:
الله أكبر، الله أكبر، أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن محمدًا رسول الله، حي على الصلاة، حي على الفلاح، قد قامت الصلاة، قد قامت الصلاة، الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله.
(فصل) فإذا كملت هذه الشروط دخل في الصلاة.
بقوله: (الله أكبر)، لا يجزئه غيره من ألفاظ التعظيم.
এটি দুই বর্ণনার একটি। একইভাবে, যদি স্থানটি জবরদখলকৃত হয়, তবে একটি দুর্বল বর্ণনা অনুযায়ী (একই হুকুম)।
আর কিবলামুখী হওয়া প্রসঙ্গে:
তা হলো কাবার মূল কাঠামোর দিকে মুখ করা, যদি ব্যক্তি মক্কায় বা এর নিকটবর্তী কোনো স্থানে থাকে। আর যদি দূরে থাকে, তবে নক্ষত্র, সূর্য, বায়ুপ্রবাহ এবং অন্যান্য নিদর্শন ও প্রমাণের মাধ্যমে ইজতিহাদ ও সাধ্যমতো চেষ্টার দ্বারা কিবলার দিক নির্ধারণ করা।
আর নিয়ত প্রসঙ্গে:
এর স্থান হলো অন্তর। তা হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর যে নির্দিষ্ট সালাত ফরজ করেছেন তা আদায়ের এবং লৌকিকতা ও খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে তাঁর ওয়াজিব নির্দেশ পালনের সংকল্প করা। অতঃপর সালাত সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত অন্তরকে উপস্থিত রাখা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-কে বলেছেন: "তোমার সালাত থেকে তোমার জন্য কেবল ততটুকুই প্রাপ্য, যতটুকু সময় তোমার অন্তর উপস্থিত ছিল।"
আর ওয়াক্ত বা সময় প্রবেশ প্রসঙ্গে:
তা নিশ্চিত জ্ঞানের মাধ্যমে অথবা মেঘাচ্ছন্ন দিন, প্রচণ্ড বাতাস ও প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে হবে।
অতঃপর আজান দিবে এবং বলবে:
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। সালাতের জন্য এসো, সালাতের জন্য এসো। সাফল্যের জন্য এসো, সাফল্যের জন্য এসো। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।
অতঃপর সালাতের ইকামত দিবে এবং বলবে:
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। সালাতের জন্য এসো। সাফল্যের জন্য এসো। সালাত প্রতিষ্ঠিত হলো, সালাত প্রতিষ্ঠিত হলো। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।
(পরিচ্ছেদ) যখন এই শর্তগুলো পূর্ণ হবে, তখন সে সালাতে প্রবেশ করবে।
তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ), সম্মানসূচক অন্য কোনো শব্দ দ্বারা তা যথেষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ولها أركان وواجبات ومسنونات وهيئات.
فأما الأركان فخمسة عشر:
القيام، وتكبير الإحرام، وقراءة الفاتحة، والركوع، والطمأنينة فيه، والاعتدال عنه، والطمأنينة فيه، والسجود، والطمأنينة فيه، والجلوس بين السجدتين، والطمأنينة فيه، والتشهد الأخير، والجلوس فيه، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، والتسليم.
وأما الواجبات فتسعة
التكبير غير تكبيرة الإحرام، والتسميع والتحميد عند الرفع من الركوع، والتسبيح في الركوع والسجود مرة مرة، وقول (رب اغفر لي) في الجلسة بين السجدتين مرة مرة، والتشهد الأول، والجلوس له، ونية الخروج من الصلاة في التسليم.
এর রুকন, ওয়াজিব, সুন্নাত এবং হাইআত (আনুষঙ্গিক নিয়মাবলী) রয়েছে।
আর রুকনসমূহ হলো পনেরটি:
দাঁড়ানো, তাকবিরে তাহরিমা, সূরা ফাতিহা পাঠ করা, রুকু করা, তাতে স্থিরতা অবলম্বন করা, রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, তাতে স্থিরতা অবলম্বন করা, সিজদা করা, তাতে স্থিরতা অবলম্বন করা, দুই সিজদার মাঝখানে বসা, তাতে স্থিরতা অবলম্বন করা, শেষ তাশাহহুদ, তাতে বসা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা এবং সালাম ফেরানো।
আর ওয়াজিবসমূহ হলো নয়টি:
তাকবিরে তাহরিমা ব্যতীত অন্যান্য তাকবিরসমূহ, রুকু থেকে উঠার সময় তাসমি (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলা) ও তাহমিদ (রব্বানা লাকাল হামদ বলা), রুকু ও সিজদাতে এক একবার করে তাসবিহ পাঠ করা, দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠকে একবার ‘রব্বিগফির লী’ (হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন) বলা, প্রথম তাশাহহুদ, তার জন্য বসা এবং সালাম ফেরানোর সময় নামায থেকে বের হওয়ার নিয়ত করা।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأما المسنونات فأربع عشرة:
الاستفتاح، والتعوذ، وقراءة: «بسم الله الرحمن الرحيم»، وقول «آمين»، وقراءة سورة، وقول: «ملء السموات والأرض» بعد التحميد، وما زاد على التسبيحة الواحدة في الركوع والسجود، وقول: «رب اغفر لي»، والسجود على الأنف في إحدى الروايتين، وجلسة الاستراحة بعد انقضاء السجدتين، والتعوذ من أربعة أشياء بأن يقول: «أعوذ بالله من عذاب جهنم ومن عذاب القبر ومن فتنة المسيح الدجال ومن فتنة المحيا والممات»، والدعاء بما ذكر في الأخبار بعد أين يصلى على النبي صلى الله عليه وسلم في التشهد الأخير، والقنوت في الوتر، والتسليمة الثانية على رواية ضعيفة.
وأما الهيئات فخمس وعشرون هيئة:
رفع اليدين عند الافتتاح والركوع، والرفع منه وهو أن تكون كفاه مع منكبيه وإبهاماه عند شحمتي أذنيه وأطراف أصابعه مع فروع أذنيه ثم إرسالهما بعد الرفع، ووضع اليمين على الشمال تحت السرة، والنظر إلى موضع السجود، والجهر بالقراءة وآمين، والإسرار بهما، ووضع اليدين على الركبتين في الركوع، ومد الظهر، ومجافاة عضديه عن جنبيه فيه، والبداءة بوضع الركبة ثم اليدين في السجود، ومجافاة البطن عن الفخذين والفخذين عن الساقين فيه، والتفريق بين الركبتين في السجود، ووضع اليدين حذاء منكبيه فيه، والافتراش في السجود بين السجدتين وفي التشهد الأول والتورك في الثاني، ووضع اليد اليمنى على الفخذ اليمنى مقبوضة مشيرًا بالسبابة محلقة بالإبهام مع الوسطى، ووضع اليسرى على الفخذ اليسرى مبسوطة.
আর সুন্নাতসমূহ চৌদ্দটি:
ছানা পাঠ করা, আউযুবিল্লাহ পাঠ করা, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ করা, ‘আমীন’ বলা, সূরা পাঠ করা, তাহমীদের পর ‘আকাশ ও পৃথিবী পূর্ণ করে’ বলা, রুকু ও সিজদাহে একবারের অধিক তাসবীহ পাঠ করা, ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন’ বলা, দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী নাকের ওপর সিজদাহ করা, দুই সিজদাহ সমাপ্ত হওয়ার পর বিশ্রামের জন্য বসা, চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে এই বলা: ‘আমি আল্লাহর নিকট জাহান্নামের আযাব, কবরের আযাব, মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’, শেষ তাশাহহুদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরূদ পাঠের পর হাদীসে বর্ণিত দুআসমূহ পাঠ করা, বিতর নামাযে কুনুত পাঠ করা এবং একটি দুর্বল বর্ণনা অনুযায়ী দ্বিতীয় সালাম ফেরানো।
আর হেইআত বা পদ্ধতিসমূহ পঁচিশটি:
নামায শুরু করার সময়, রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় উভয় হাত তোলা, আর তা হলো এমনভাবে হাত তোলা যাতে হাতের তালুদ্বয় কাঁধ বরাবর থাকে, বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছায় এবং আঙ্গুলের ডগাগুলো কানের ওপরের অংশ বরাবর থাকে, এরপর হাত তোলার পর সেগুলো ছেড়ে দেওয়া; নাভির নিচে বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা; সিজদার জায়গার দিকে দৃষ্টি রাখা; কিরাত ও আমীন উচ্চস্বরে এবং নিচুস্বরে পাঠ করা; রুকুতে হাঁটুর ওপর উভয় হাত রাখা; পিঠ সোজা রাখা; রুকুতে বাহুদ্বয়কে পার্শ্বদেশ থেকে আলাদা রাখা; সিজদাহে যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু এবং তারপর হাত রাখা; সিজদাহে পেটকে উরু থেকে এবং উরুকে নলা থেকে দূরে রাখা; সিজদাহে দুই হাঁটুর মাঝে দূরত্ব রাখা; সিজদাহে উভয় হাত কাঁধ বরাবর রাখা; দুই সিজদার মাঝখানে ও প্রথম তাশাহহুদে ইফতিরাশ (বাম পা বিছিয়ে বসা) এবং দ্বিতীয়টিতে তাওয়াররুক (নিতম্বের ওপর বসা); ডান উরুর ওপর ডান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে তর্জনী দিয়ে ইশারা করা এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে বৃত্তাকার করে রাখা; এবং বাম উরুর ওপর বাম হাত প্রসারিত করে রাখা।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২০)
فإن أخل بشرط من الشرائط التي ذكرناها أولًا بغير عذر لم تنعقد الصلاة.
وإن ترك ركنًا عامدًا أو ساهيًا بطلت.
وإن ترك واجبًا ساهيًا جبره بسجود السهو، وإن تركه عامدًا بطلت الصلاة.
وإن ترك سنة أو هيئة لم تبطل ولم يسجد.
* * *
كتاب الزكاةوتجب عليه الزكاة إن كان له مال زكوي.
وهو أن يملك عشرين مثقالًا من الذهب، أو مائتي درهم من الورق، أو قيمة أحدهما من عروض التجارة، أو خمسًا من الإبل، أو ثلاثين من البقر، أو أربعين من الغنم سائمة حولًا كاملًا، إلا أن يكون عبدًا أو مكاتبًا فإنه لا تجب عليهما الزكاة.
فيخرج عن الذهب والفضة ربع العشر، فيكون عن كل عشرين دينارًا نصف دينار، لأن عشرها ديناران وربعها نصف دينار. وعن مائتي درهم خمسة دراهم، لأن عشرها عشرون وربعها خمسة.
وعن خمس من الإبل: شاة، وهي الجدع من الضأن قد تمت له ستة أشهر، والثني من المعز وهو ما له سنة.
وعن عشر: شاتان.
আমরা পূর্বে যে শর্তগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, ওজর ছাড়া তার কোনো একটি কেউ লঙ্ঘন করলে সালাত সংঘটিত হবে না।
আর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত কোনো রুকন ছেড়ে দিলে সালাত বাতিল হয়ে যাবে।
যদি কেউ ভুলবশত কোনো ওয়াজিব ছেড়ে দেয়, তবে সাহু সিজদার মাধ্যমে তা পূরণ করবে; আর যদি তা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেয়, তবে সালাত বাতিল হয়ে যাবে।
আর যদি কেউ কোনো সুন্নত বা হাইআত ছেড়ে দেয়, তবে সালাত বাতিল হবে না এবং তাকে সিজদাও দিতে হবে না।
* * *
যাকাত অধ্যায়আর ব্যক্তির ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে যদি তার কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে।
তা হলো এই যে, সে বিশ মিসকাল স্বর্ণ, অথবা দুইশ দিরহাম রূপা, অথবা এই দুটির যেকোনো একটির সমমূল্যের বাণিজ্যিক পণ্য, অথবা পাঁচটি উট, অথবা ত্রিশটি গরু, অথবা চল্লিশটি চারণভূমিতে বিচরণকারী ছাগল বা ভেড়ার মালিক হয় এবং তার ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হয়; তবে গোলাম বা মুকাতাব দাসের ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে না।
অতএব, স্বর্ণ ও রূপার ক্ষেত্রে এক দশমাংশের এক চতুর্থাংশ যাকাত প্রদান করবে। ফলে প্রতি বিশ দিনারের বিপরীতে আধা দিনার প্রদান করতে হবে; কারণ এর এক দশমাংশ হলো দুই দিনার এবং তার এক চতুর্থাংশ হলো আধা দিনার। আর দুইশ দিরহামের বিপরীতে পাঁচ দিরহাম দিতে হবে; কারণ এর এক দশমাংশ হলো বিশ এবং তার এক চতুর্থাংশ হলো পাঁচ।
আর পাঁচটি উটের বিপরীতে একটি ছাগল বা ভেড়া দিতে হবে; আর তা হলো ভেড়ার ক্ষেত্রে জাযআ—যার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে, অথবা ছাগলের ক্ষেত্রে সানি—যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে।
আর দশটি উটের বিপরীতে দুটি ছাগল বা ভেড়া দিতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২১)
وعن خمسة عشر: ثلاث شياه.
وعن عشرين: أربع شياه.
وعن خمس وعشرين: ابنة مخاض، وهي ما لها سنة ودخلت في الثانية، فإن لم يقدر عليها فابن لبون ذكر، وهو ما له سنتان ودخل في الثالثة.
وعن ست وثلاثين: ابنة ليون، وهي في سن ابن ليون.
وعن ست وأربعين: حقة، وهي ما كمل لها ثلاث سنين.
وعن إحدى وستين: جذعة، وهي ما كمل لها أربع سنين.
وعن ست وسبعين: بنتًا لبون.
وعن إحدى وتسعين: حقتان إلى أن تبلغ مائة وعشرين.
فإن زادت واحدة كان في كل أربعين ابنة لبون، وفي كل خمسين حقة.
وأما البقر: فيخرج عن كل ثلاثين: تبيعًا أو تبيعة، وهي ما كمل لها سنة.
وعن أربعين: مسنة، وهي ما كمل لها سنتان.
وعن ستين: تبيعين.
فإذا بلغت سبعين كان فيها: تبيع ومسنة.
ثم على هذا الاعتبار يخرج عن كل ثلاثين تبيعًا، وعن كل أربعين مسنة.
وأما الغنم: ففي كل أربعين: شاة إلى أن تبلغ مائة وعشرين، فإن زادت واحدة ففيها شاتان إلى مائتين، فإذا زادت واحدة ففيها ثلاث شياه إلى ثلاثمائة، ثم في كل مائة شاة.
فيعطى المخرج عن جميع ذلك للثمانية الأصناف المذكورة في القرآن:
للفقراء الذين لا يملكون كفايتهم.
والمساكين وهم الذين لهم معظم الكفاية ولا يملكون تمامها.
والعاملين عليها وهم الجباة لها والحافظون لها إلى أن يؤدوها إلى الإمام.
এবং পনেরোটির জন্য: তিনটি বকরি।
এবং বিশটির জন্য: চারটি বকরি।
এবং পঁচিশটির জন্য: একটি বিনতে মাখাদ, আর এটি হলো যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে এবং দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে। যদি তা পাওয়া না যায়, তবে একটি ইবনে লাবুন পুরুষ উট, আর এটি হলো যার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে এবং তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে।
এবং ছত্রিশটির জন্য: একটি বিনতে লাবুন, আর এটি ইবনে লাবুনের সমবয়সী।
এবং ছেচল্লিশটির জন্য: একটি হিক্কাহ, আর এটি হলো যার তিন বছর পূর্ণ হয়েছে।
এবং একষট্টিটির জন্য: একটি জাযআহ, আর এটি হলো যার চার বছর পূর্ণ হয়েছে।
এবং ছিয়াত্তরটির জন্য: দুইটি বিনতে লাবুন।
এবং একানব্বইটির জন্য: দুইটি হিক্কাহ, যতক্ষণ না একশত বিশে পৌঁছায়।
অতঃপর যদি একটিও বৃদ্ধি পায় (অর্থাৎ ১২১টি হয়), তবে প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি বিনতে লাবুন এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি হিক্কাহ দিতে হবে।
আর গরুর ক্ষেত্রে: প্রতি ত্রিশটির জন্য প্রদান করতে হবে: একটি তাবি‘ বা তাবি‘আহ (এক বছর বয়সী বাছুর), যা এক বছর পূর্ণ করেছে।
এবং চল্লিশটির জন্য: একটি মুসিন্নাহ (দুই বছর বয়সী গরু), যা দুই বছর পূর্ণ করেছে।
এবং ষাটটির জন্য: দুইটি তাবি‘।
অতঃপর যখন সত্তরে পৌঁছাবে, তখন তাতে থাকবে: একটি তাবি‘ এবং একটি মুসিন্নাহ।
অতঃপর এই নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ত্রিশটির জন্য একটি তাবি‘ এবং প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি মুসিন্নাহ প্রদান করতে হবে।
আর বকরির ক্ষেত্রে: প্রতি চল্লিশটিতে: একটি বকরি, যতক্ষণ না একশত বিশে পৌঁছায়। অতঃপর যদি একটি বৃদ্ধি পায়, তবে দুইশত পর্যন্ত তাতে দুইটি বকরি। অতঃপর যদি একটি বৃদ্ধি পায়, তবে তিনশত পর্যন্ত তাতে তিনটি বকরি। এরপর প্রতি একশতে একটি করে বকরি।
অতঃপর এসব কিছু থেকে যা সংগৃহীত হবে তা কুরআনে বর্ণিত আট প্রকার শ্রেণিকে প্রদান করা হবে:
ফকিরদের জন্য, যাদের নিকট তাদের প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সম্পদ নেই।
মিসকিনদের জন্য, যাদের কাছে প্রয়োজনীয় অধিকাংশ সম্পদ রয়েছে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পর্যাপ্ততা নেই।
এবং যাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যারা এটি সংগ্রহকারী এবং ইমামের নিকট পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত তা সংরক্ষণকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২২)
والمؤلفة قلوبهم وهو قوم من الكفار يرجى إسلامهم إذا أعطوا المال أو يكفوا شرهم على المسلمين.
وفي الرقاب وهم المكاتبون، وإن اشترى بزكاته رقبة كاملة فأعتقها جار أيضًا على رواية.
والغارمين وهم المدينون الذين لا طاقة لهم على قضاء ديونهم.
وفي سبيل الله وهم الغزاة الذين لا جزاء لهم في ديوان الإمام وغيره من السلاطين وإن كانوا أغنياء.
وابن السبيل وهو المسافر المنقطع به دون الذي ينشئ السفر من بلده.
فإذا أدى ما عليه من زكاة الفرض يستحب له
صدقة التطوع في سائر أوقاته ليلًا ونهارًا قليلًا وكثيرًا. لاسيما في الأشهر المباركة كشهر رجب وشعبان وشهر رمضان وأيام العيد وعاشوراء وأيام الجدب والضيق، ليحوز بذلك العافية في الجسم والمال والأهل والخلف السريع في الدنيا والثواب الجزيل في الآخرة.
(فصل) ويخرج
زكاة الفطر إذا فضل عن قوته وقوت عياله يوم العيد وليلته عن نفسه وزوجته ورقيقه وولده وأمه وأبيه وأخوته وأخواته وأعمامه وبني أعمامه على الترتيب الأقرب فالأقرب، بشرط أن يكونوا في مؤنته ونفقته.
وقدرها صاع وزنه خمسة أرطال وثلث بالعراقي من التمر أو الزبيب أو البر أو الشعير أو دقيقهما أو سويقهما وكذلك الأقط على الصحيح من المذهب.
فإن عدم الأصناف جميعها فليخرج من قوت البلد من سائر أنواع الحب كالأرز والذرة والدخن وغيرها
* * *
যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য, তারা হলো কাফিরদের এমন একটি দল যাদেরকে সম্পদ প্রদান করা হলে তাদের ইসলাম গ্রহণের আশা করা যায় অথবা তারা মুসলমানদের ওপর তাদের অনিষ্ট করা থেকে বিরত থাকে।
দাসমুক্তির খাতে ব্যয় করা হবে মুকাতাব দাসদের জন্য। আর যদি কেউ তার জাকাতের অর্থ দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ দাস ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে দেয়, তবে একটি বর্ণনা অনুযায়ী তাও বৈধ হবে।
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলো সেই সব ঋণী যাদের ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য নেই।
আল্লাহর পথে ব্যয় করা হবে সেই সব যোদ্ধাদের জন্য যাদের নাম ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) দপ্তরে বা অন্যান্য শাসকদের দপ্তরে বেতনভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়, যদিও তারা সম্পদশালী হয়।
মুসাফির হলো সেই পর্যটক যে পথিমধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে, তবে এমন ব্যক্তি নয় যে নিজ শহর থেকেই সফরের সূচনা করছে।
যখন ব্যক্তি তার ওপর অর্পিত ফরজ জাকাত আদায় করে ফেলে, তখন তার জন্য দিন-রাত সব সময়ে, অল্প বা অধিক পরিমাণে
নফল সদকা করা মুস্তাহাব। বিশেষ করে বরকতময় মাসগুলোতে যেমন রজব, শাবান ও রমজান মাস এবং ঈদের দিনগুলোতে, আশুরার দিনে এবং দুর্ভিক্ষ ও সংকটের সময়; যাতে এর মাধ্যমে সে শরীর, সম্পদ ও পরিবারে নিরাপত্তা লাভ করতে পারে এবং দুনিয়াতে দ্রুত প্রতিদান ও আখিরাতে মহা সওয়াব অর্জন করতে পারে।
(পরিচ্ছেদ) ঈদের দিন ও রাতে নিজের এবং নিজের পরিবারের খোরাকির অতিরিক্ত সম্পদ থাকলে ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে
সদকাতুল ফিতর আদায় করবে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে তার স্ত্রী, দাস, সন্তান, মা, বাবা, ভাই, বোন, চাচা এবং চাচাতো ভাইদের পক্ষ থেকে নিকটাত্মীয়তার ক্রমানুসারে তা আদায় করবে; শর্ত হলো তারা যেন তার ভরণপোষণ ও খোরপোশের অধীনে থাকে।
এর পরিমাণ হলো এক সা', যার ওজন ইরাকি পরিমাপ অনুযায়ী পাঁচ রতল এবং এক তৃতীয়াংশ। এটি খেজুর, কিশমিশ, গম, যব অথবা এগুলোর আটা কিংবা ছাতু থেকে প্রদান করতে হবে। মাযহাবের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী পনিরের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।
যদি এই সকল প্রকারের খাদ্যদ্রব্য না পাওয়া যায়, তবে সে ঐ অঞ্চলের প্রধান খাদ্যশস্যের অন্যান্য প্রকার যেমন চাল, ভুট্টা, কাউন বা জোয়ার এবং এই জাতীয় শস্য থেকে তা আদায় করবে।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كتاب الصياموإذا دخل شهر رمضان وجب عليه أن يصومه، لقوله تعالى: {فمن شهد منكم الشهر فليصمه} [البقرة: 185].
فإذا ثبت عنده دخول الشهر إما برؤيته نفسه الهلال، أو شهادة رجل واحد عدل بذلك، أو إكمال شعبان ثلاثين يومًا، أو حدوث غيم أو قتر في ليلة الثلاثين منه، نوى أي وقت من الليل من بعد غروب الشمس إلى قبل أن يطلع الفجر الثاني، أنه صائمٌ غدًا من شهر رمضان.
وهكذا كل ليلة إلى أن ينتهي الشهر.
وإن نوى في أول ليلة من الشهر أنه صائم الشهر جميعه كفاه ذلك في رواية ضعيفة، والصحيح الأول.
فإذا أصبح وجب عليه أن يمسك في جميع نهاره عن الأكل والشرب والجماع وجميع ما يصل إلى جوفه من أي موضع كان، وعن الحجامة لنفسه أو غيره، واستدعاء القيء والمني.
فإن خالف في جميع ذلك بطل صومه ووجب عليه الإمساك إلى غروب الشمس والقضاء، إلا الجماع فإنه يجب عليه مع ذلك كفارة وهي عتق رقبة مؤمنة سليمة من
সিয়ামের অধ্যায়আর যখন রমজান মাস শুরু হয় তখন তার ওপর রোজা রাখা ওয়াজিব হয়, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাসটি পাবে সে যেন তাতে রোজা রাখে} [আল-বাকারাহ: ১৮৫]।
সুতরাং যখন তার নিকট মাস শুরু হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়—হয় সে নিজে চাঁদ দেখার মাধ্যমে, অথবা এ বিষয়ে একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সাক্ষ্যের মাধ্যমে, অথবা শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করার মাধ্যমে, অথবা শাবান মাসের ত্রিশতম রাতে মেঘ কিংবা ধূলিকণা দেখা দেওয়ার মাধ্যমে—তখন সে সূর্যাস্তের পর থেকে দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত রাতের যেকোনো সময়ে নিয়ত করবে যে, সে আগামীকাল রমজান মাসের রোজা পালন করবে।
এভাবেই পুরো মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতে নিয়ত করতে হবে।
যদি কেউ মাসের প্রথম রাতে এই নিয়ত করে যে সে পুরো মাস রোজা রাখবে, তবে একটি দুর্বল বর্ণনা অনুযায়ী তা তার জন্য যথেষ্ট হবে; কিন্তু সঠিক মত হলো প্রথমটি।
অতঃপর যখন সকাল হবে, তখন তার ওপর সারাদিন পানাহার, স্ত্রী সহবাস, শরীরের যেকোনো পথ দিয়ে পেটের ভেতরে প্রবেশকারী সকল বস্তু, নিজের বা অন্য কারো হিজামা করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা ও বীর্যপাত থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব।
যদি সে এই বিষয়গুলোর কোনো একটির মাধ্যমে বিরোধিতা করে (ভঙ্গ করে) তবে তার রোজা বাতিল হয়ে যাবে এবং তার ওপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাকা ও কাজা করা ওয়াজিব হবে; তবে সহবাসের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেক্ষেত্রে তার ওপর এগুলোর সাথে কাফফারাও ওয়াজিব হবে, আর তা হলো এমন একজন মুমিন দাস মুক্ত করা যে ত্রুটিমুক্ত...
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
العيوب المضرة في العمل، فإن لم يجد فصيام شهرين متتابعين، فإن لم يستطع فإطعام ستين مسكينًا لكل واحد منهم مد من طعام وهو رطل وثلث بالعراقي، فيكون مائة وثلاثة وسبعين درهمًا وثلث درهم، أو نصف صاع من تمر أو شعير، فإن لم يجد ذلك فمن قوت بلده كما قلنا في الفطرة.
فإن لم يجد شيئًا سقطت عنه، واستغفر الله عز وجل، وتاب إليه، وأحسن العمل في الباقي.
ويجتنب في نهار رمضان:
الخلوة بامرأة شابة، والقبلة لها، وإن كانت ممن تحل له، أو ذات رحم.
ويجتنب السواك بعد الزوال، ومضغ العلك، وجمع ريقه ثم بلع، وذوق الطعام عند الطبخ وغيره، والغيبة، والنميمة، والكذب، والسب، وغير ذلك.
ويستحب له:
تعجيل الإفطار إلا في يوم الغيم فتأخيره أفضل، وتأخير السحور إلا أن يكون ممن يخفى عليه طلوع الفجر، والأولى له أن يفطر على التمر أو الماء، ويدعو وقت الإفطار، لما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (إذا صام أحدكم فقدم عشاؤه فليقل: بسم الله اللهم لك صمت، وعلى رزقك أفطرت، سبحانك وبحمدك، اللهم تقبل منا فإنك أنت السميع العليم).
* * *
কাজের জন্য ক্ষতিকারক ত্রুটিমুক্ত (দাস মুক্তি), যদি তা না পায় তবে টানা দুই মাস রোজা রাখা, যদি তাতেও সক্ষম না হয় তবে ষাটজন মিসকিনকে অন্নদান করা, তাদের প্রত্যেকের জন্য এক মুদ পরিমাণ খাদ্য, যা ইরাকি পরিমাপে এক রতল এবং এক তৃতীয়াংশ, যা একশত তিয়াত্তর এবং এক তৃতীয়াংশ দিরহামের সমপরিমাণ হবে, অথবা অর্ধেক সা' খেজুর কিংবা যব, আর যদি তাও না পায় তবে তার অঞ্চলের প্রধান খাদ্যশস্য থেকে প্রদান করবে যেমনটি আমরা ফিতরার বর্ণনায় বলেছি।
যদি সে কিছুই না পায় তবে তার ওপর থেকে এটি রহিত হয়ে যাবে, সে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাঁর নিকট তওবা করবে এবং অবশিষ্ট দিনগুলোতে আমল সংশোধন করে নিবে।
রমজানের দিনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরিহার করবে:
যুবতী নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করা এবং তাকে চুম্বন করা, যদিও সে তার জন্য হালাল (স্ত্রী) হয় অথবা মাহরাম আত্মীয় হয়।
সূর্য ঢলে পড়ার পর মিসওয়াক করা, গাম বা এ জাতীয় কিছু চিবানো, মুখে লালা জমা করে তা গিলে ফেলা, রান্নার সময় বা অন্য কোনো প্রয়োজনে খাবারের স্বাদ গ্রহণ করা, গিবত (পরনিন্দা), চোগলখুরি, মিথ্যা বলা, গালিগালাজ করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় পরিহার করবে।
আর তার জন্য মুস্তাহাব হলো:
দ্রুত ইফতার করা, তবে মেঘলা দিনে দেরি করে ইফতার করা উত্তম; আর শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া, তবে যদি ফজর উদয় হওয়ার বিষয়টি অস্পষ্ট থাকে তবে নয়। তার জন্য খেজুর অথবা পানি দিয়ে ইফতার করা উত্তম, এবং ইফতারের সময় দোয়া করা; যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে এবং তার সামনে ইফতার উপস্থিত করা হয়, সে যেন বলে: আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করছি। আপনি পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা। হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা)।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كتاب الاعتكافويستحب له الاعتكاف.
ولا يكون إلا في مسجد يصلي فيه بالجماعة، وأولى المساجد الجامع إذا كان اعتكافه أيامًا يتخللها جمعة.
ويصح بغير صوم والأولى أن يكون بالصوم، لأنه أجمع لهمه، وأعون على كسر نفسه، وأليق باشتقاق ما هو بصدده.
لأن الاعتكاف هو حبس النفس في مكان مخصوص، ولزوم الشيء والمداومة عليه، قال الله تعالى: {ما هذه التماثيل التي أنتم لها عاكفون} [الأنبياء: 52].
وهو من السنن المأثورة عن النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، لأن النبي صلى الله عليه وسلم اعتكف العشر الأواخر من شهر رمضان، ثم لم يزل على ذلك حتى توفاه الله تعالى، وندب الصحابة إليه فقال: (من أراد أن يعتكف فليعتكف العشر الأواخر).
فإذا اعتكف ينبغي له أن يتشاغل بفعل كل ما يقربه إلى الله تعالى من قراءة القرآن والتسبيح والتهليل والتكبير والتفكر ويجتنب كل ما لا يعنيه من القول والعمل.
ويلزم الصمت في غير ذكر الله تعالى.
ويجوز له التدريس وإقراء القرآن، لأن ذلك يتعدى نفعه إلى غيره، فهو أكثر ثوابًا من اشتغاله بخاصة نفسه.
ويجوز له الخروج من معتكفه لما لابد له منه، كالاغتسال من الجنابة، والأكل والشرب، وقضاء حاجة الإنسان من البول والغائط، وعند الخوف على نفسه من الفتنة والمرض الشديد وغير ذلك.
ইতিকাফ অধ্যায়ব্যক্তির জন্য ইতিকাফ করা মুস্তাহাব।
এটি কেবল এমন মসজিদেই হতে পারে যেখানে জামাতের সাথে সালাত আদায় করা হয়। আর যদি ইতিকাফ এমন দিনগুলোতে হয় যার মধ্যে জুমা অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে জামে মসজিদই অধিক উত্তম।
রোজা ছাড়াও ইতিকাফ সহীহ হয়, তবে রোজা রাখাটাই উত্তম; কারণ এটি একাগ্রতা অর্জনের জন্য অধিক অনুকূল, নফসের দমনে অধিক সহায়ক এবং যে বিষয়ের সে সংকল্প করেছে তার আভিধানিক অর্থ ও উদ্দেশ্যের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কেননা ইতিকাফ হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিজেকে আটকে রাখা এবং কোনো বিষয়ের ওপর অবিচল থাকা ও তাতে লেগে থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এই মূর্তিগুলো কী, যেগুলোর সামনে তোমরা ইতিকাফকারী (নিবিষ্ট) হয়ে আছো?" [আল-আম্বিয়া: ৫২]।
এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের থেকে বর্ণিত সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করেছেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই আমল অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি সাহাবীদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করে বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করে।"
যখন কেউ ইতিকাফ করবে, তখন তার উচিত এমন সব কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যা তাকে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য দান করে; যেমন কুরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর এবং চিন্তা-গবেষণা। আর কথা ও কাজের মধ্যে যা তার জন্য অপ্রয়োজনীয় তা বর্জন করা।
আল্লাহর যিকির ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে নীরবতা বজায় রাখা আবশ্যক।
তাঁর জন্য পাঠদান ও কুরআন শিক্ষা দেওয়া জায়েজ, কারণ এর উপকারিতা অন্যের কাছেও পৌঁছায়। ফলে এটি শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত ইবাদতে মশগুল থাকার চেয়ে অধিক সওয়াবদায়ক।
ইতিকাফের স্থান থেকে তাঁর জন্য সেই সকল প্রয়োজনে বের হওয়া জায়েজ যা সম্পাদন করা অপরিহার্য; যেমন অপবিত্রতা থেকে গোসল করা, পানাহার করা, মলমূত্র ত্যাগের মাধ্যমে মানুষের প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটানো এবং যখন নিজের জানের ওপর কোনো ফিতনা, গুরুতর অসুস্থতা বা এই জাতীয় অন্য কোনো বিষয়ের আশঙ্কা থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
كتاب الحجفإذا كملت في حقه
شرائط الحج وجب عليه أداء الحج والعمرة على الفور، وهو أن يكون بعد إسلامه حرًا عاقلًا بالغًا مستطيعًا بالزاد والراحلة، وتخلية الطريق من عدو يمنعه، وإمكان المسير إليه وهو اتساع الوقت لأداء الحج، وصحة البدن للاستمساك على الراحلة.
والاستطاعة بالزاد والراحلة إنما تكون بعد تحصيل النفقة لعياله إلى أن يعود إليهم، والمسكن لهم، وقضاء الديون إن كانت عليه.
وأن يكون له كفاية بعد رجوعه من فضل ماله أو أجرة عقار أو بضاعة أو صناعة. فإن خالف وقصر بعياله وامتنع من قضاء دينه وخرج إلى الحج كان مأثومًا ظالمًا مسخوطًا عليه، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (كفى بالمرء إثمًا أن يضيع من يقوته).
فإن سلم من المخالفة حتى فرغ من الحج والعمرة سقط عنه الحج.
(فصل) فإذا بلغ الميقات الشرعي وهو:
ذات عرق: إن كان من أهل المشرق.
والجحفة: إن كان من أهل المغرب.
وذو الحليفة: إن كان من أهل المدينة.
হজ অধ্যায়যখন কারও ক্ষেত্রে
হজের শর্তাবলি পূর্ণ হয়, তখন তার ওপর অবিলম্বে হজ ও ওমরাহ পালন করা ওয়াজিব হয়ে যায়। তা হলো—ইসলাম গ্রহণের পর স্বাধীন, সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক এবং পাথেয় ও সওয়ারির (বাহন) সামর্থ্য রাখা, তাকে বাধা প্রদানকারী শত্রু থেকে পথ নিরাপদ থাকা এবং সেখানে যাতায়াতের সক্ষমতা থাকা, যা হলো হজ পালনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া এবং সওয়ারির ওপর স্থির থাকার মতো শারীরিক সুস্থতা থাকা।
পাথেয় ও সওয়ারির সামর্থ্য তখনই গণ্য হবে যখন সে তার পরিবারের নিকট ফিরে আসা পর্যন্ত তাদের ভরণপোষণ এবং তাদের আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে এবং তার ওপর কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করবে।
এছাড়াও ফিরে আসার পর তার অতিরিক্ত সম্পদ, স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া, ব্যবসা অথবা পেশার মাধ্যমে পর্যাপ্ত জীবিকার সংস্থান থাকতে হবে। যদি সে এর ব্যতিক্রম করে এবং পরিবারের প্রতি অবহেলা করে অথবা ঋণ পরিশোধ না করে হজে চলে যায়, তবে সে পাপিষ্ঠ, জালেম ও আল্লাহর অসন্তুষ্টিভাজন হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ব্যক্তির পাপিষ্ঠ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার পোষ্যদের (যাদের ভরণপোষণ তার দায়িত্বে) ধ্বংস বা অবহেলা করে।"
যদি সে এই সকল বিধি লঙ্ঘন না করে হজ ও ওমরাহ সম্পন্ন করে, তবে তার ওপর থেকে হজের বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যাবে।
(পরিচ্ছেদ) যখন সে শরয়ি মিকাতে পৌঁছাবে, আর তা হলো:
যাতু ইর্ক: যদি সে প্রাচ্যবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আল-জুহফাহ্: যদি সে পাশ্চাত্যবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
যুল-হুলাইফাহ্: যদি সে মদিনাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ويلملم: إن كان من أهل اليمن.
وقرن: إن كان من أهل نجد.
يغتسل ويتنظف أو يتيمم إن لم يجد الماء، ويتزر بإزار ويرتدي برداء، ويكونان أبيضين نظيفين، ويتطيب ويصلى ركعتين، ثم يحرم وينوى الإحرام بقلبه، ويلبي بالعمرة إن كان متمتعًا وهو الأفضل، أو بالحج المفرد، أو بالحج والعمرة جميعًا.
ويشترط أن يقول: اللهم إني أريد العمرة أو الحج أو إياهما جميعًا، فيسر ذلك لي وتقبل مني، وحلني حيث حبستني، ويلبي.
وصفة التلبية:
لبيك الله لبيك، لا شريك لك لبيك، إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك.
يرفع بذلك صوته، ويقول ذلك بعد الإحرام، وعقيب الصلوات الخمس، وفي إقبال الليل والنهار، والتقاء الرفاق، وإذا علا شرف أو هبط واديًا أو سمع ملبيًا، وفي مساجد الحرم وبقاعه، ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم، ويدعو لنفسه بما أحب إذا فرغ من التلبية.
(فصل) فإذا أحرم لا يغطي رأسه، ولا يلبس المخيط ولا الخفين، فإذا فعل ذلك لزمه ذبح شاة، إلا ألا يجد الإزار والنعلين.
ولا يتطيب في بدنه وثيابه من سائر أنواع الطيب، فإن فعل ذلك متعمدًا غسله
ইয়ালামলাম: যদি সে ইয়েমেনের অধিবাসী হয়।
এবং কারন: যদি সে নজদবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
সে গোসল করবে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে অথবা পানি না পেলে তায়াম্মুম করবে। সে একটি ইজার (নিচের কাপড়) ও একটি রিদা (উপরের কাপড়) পরিধান করবে, আর কাপড় দুটি হতে হবে সাদা ও পরিষ্কার। সে সুগন্ধি মাখবে এবং দুই রাকাত নামাজ পড়বে। অতঃপর সে ইহরাম বাঁধবে ও অন্তরে ইহরামের নিয়ত করবে। সে যদি মুতামাত্তি’ হয়—যা সর্বোত্তম—তবে উমরার তালবিয়া পাঠ করবে, অথবা হজে ইফরাদ কিংবা হজ ও উমরা একত্রে পালনের জন্য তালবিয়া পাঠ করবে।
আর তাকে এই শর্তারোপ করতে হবে যে: হে আল্লাহ, আমি উমরা অথবা হজ অথবা উভয়টিরই ইচ্ছা করছি, আপনি এটি আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন। আর যেখানেই আপনি আমাকে আটকে দেবেন, সেখানেই আমার ইহরাম খোলার স্থান হবে। এরপর সে তালবিয়া পাঠ করবে।
তালবিয়ার স্বরূপ:
আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নেয়ামত ও রাজত্ব আপনারই, আপনার কোনো শরিক নেই।
সে উচ্চস্বরে এটি পাঠ করবে। ইহরাম বাঁধার পর, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শেষে, রাত ও দিনের শুরুতে, সহযাত্রীদের সাথে সাক্ষাতের সময়, কোনো উঁচু স্থানে আরোহণের সময় অথবা উপত্যকায় অবতরণের সময় কিংবা কারো তালবিয়া পাঠ শোনা গেলে, এবং হারামের মসজিদসমূহ ও এর চত্বরসমূহে এটি পাঠ করবে। তালবিয়া পাঠ শেষ হলে সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে এবং নিজের জন্য পছন্দমতো দোয়া করবে।
(পরিচ্ছেদ) যখন সে ইহরাম বাঁধবে, তখন সে তার মাথা ঢাকবে না এবং সেলাই করা পোশাক কিংবা চামড়ার মোজা পরিধান করবে না। যদি সে এমনটি করে, তবে তার ওপর একটি বকরি জবাই করা আবশ্যক হবে; তবে ইজার ও জুতা না পাওয়া গেলে ভিন্ন কথা।
সে তার শরীরে ও পোশাকে কোনো প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা করে, তবে সে তা ধুয়ে ফেলবে।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وذبح شاة.
ولا يقلم أظفاره ولا يحلق شعره، فإن قلم ثلاثة أظفار أو حلق ثلاث شعرات من رأسه أو بدنه فعليه ذبح شاة، فإن كان دون ذلك ففي كل ظفر أو شعرة مد من طعام.
ولا يعقد النكاح لنفسه ولا لغيره، ويجوز له الارتجاع.
ولا يباشر الزوجة والأمة في الفرج ولا دون الفرج، فإن فعل ذلك بطل حجه إذا كان ذلك قبل رمي جمرة العقبة.
ولا يستمني، ولا يكرر النظر، فإن فعل فأمنى فعليه الكفارة وهي ذبح شاة.
ولا يقتل الصيد المأكول، وما تولد من مأكول وغير مأكول.
ولا يأكل ما صيد لأجله، أو أشار إليه، أو دل عليه، أو أعان على ذبحه، مثل أن يمسكه له أو يعيره سكينًا ونحو ذلك، فإن فعل ذلك فعليه الجزاء مثله من النعم:
فإن كان الصيد نعامة فعليه: بدنة.
وإن كان حمار وحش فعليه: بقرة.
وإن كان بقرة الوحش وأنواعها فعليه: بقرة.
وإن كان غزالًا أو ثعلبًا فعليه: عنز.
وإن كان ضبعًا: فكبش.
وإن كان أرنبًا: فعناق.
وإن كان يربوعًا: فجفرة.
وفي الضب: جدي.
وفي الكبير كبيرٌ، وفي الصغير صغيرٌ، على مثل ما قتل في جميع الصفات.
وإن كان ذلك حمامًا -وكل مطوق حمام -ففي كل واحد: شاة.
فإن لم يكن له مثل فقيمته، يرجع في معرفة ذلك إلى قول عدلين من المسلمين.
ويجوز له ذبح الحيوان الأنسي وأكله.
এবং একটি বকরি জবেহ করা।
এবং সে নখ কাটবে না এবং চুল মুণ্ডন করবে না। যদি সে তিনটি নখ কাটে অথবা তার মাথা বা শরীর থেকে তিনটি চুল মুণ্ডন করে, তবে তার উপর একটি বকরি জবেহ করা ওয়াজিব। আর যদি তার চেয়ে কম হয়, তবে প্রতিটি নখ বা চুলের বিনিময়ে এক মুদ পরিমাণ খাদ্য প্রদান করতে হবে।
সে নিজের জন্য বা অন্যের জন্য বিবাহের আকদ করবে না, তবে তার জন্য (তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে) ফিরিয়ে নেওয়া (রুজু করা) বৈধ।
সে তার স্ত্রী বা দাসীর সাথে যৌনাঙ্গে কিংবা যৌনাঙ্গ ব্যতীত অন্য কোথাও শারীরিক স্পর্শ বা আলিঙ্গন করবে না। যদি সে জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের পূর্বে তা করে, তবে তার হজ বাতিল হয়ে যাবে।
সে হস্তমৈথুন করবে না এবং বারবার (কামভাব নিয়ে) তাকাবে না। যদি সে তা করে এবং বীর্যপাত ঘটে, তবে তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হবে, আর তা হলো একটি বকরি জবেহ করা।
সে ভক্ষণযোগ্য বন্যপ্রাণী শিকার করবে না, এবং এমন প্রাণীও নয় যা ভক্ষণযোগ্য ও অভক্ষণযোগ্য প্রাণীর মিলনে জন্মেছে।
সে এমন কিছু খাবে না যা তার জন্য শিকার করা হয়েছে, কিংবা যার দিকে সে ইশারা করেছে, অথবা যেটির সন্ধান দিয়েছে, কিংবা যেটি জবেহ করতে সাহায্য করেছে—যেমন সেটি ধরে রাখা অথবা শিকারিকে ছুরি ধার দেওয়া এবং এই জাতীয় কিছু। যদি সে তা করে, তবে তাকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে তার অনুরূপ বিনিময় (জরিমানা) দিতে হবে:
যদি শিকার করা প্রাণীটি উটপাখি হয়, তবে তার ওপর বিনিময় হলো: একটি পূর্ণাঙ্গ উট।
যদি বুনো গাধা হয়, তবে তার ওপর বিনিময় হলো: একটি গরু।
যদি নীলগাই বা তার সমজাতীয় বন্য গরু হয়, তবে তার ওপর বিনিময় হলো: একটি গরু।
যদি হরিণ বা শিয়াল হয়, তবে তার ওপর বিনিময় হলো: একটি ছাগী।
যদি হায়েনা হয়: তবে একটি দুম্বা।
যদি খরগোশ হয়: তবে এক বছরের কম বয়সী বকরি।
যদি ইয়ারবু (মরুর ইঁদুর বিশেষ) হয়: তবে চার মাস বয়সী ছাগলছানা।
আর ঘুইসাপের ক্ষেত্রে: একটি পাঠা।
বড় প্রাণীর ক্ষেত্রে বড় বিনিময় এবং ছোট প্রাণীর ক্ষেত্রে ছোট বিনিময় হবে, যা সকল বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে শিকার করা প্রাণীর অনুরূপ হবে।
আর যদি তা কবুতর হয়—আর গলার বেষ্টনীযুক্ত প্রতিটি পাখিই কবুতরের অন্তর্ভুক্ত—তবে প্রত্যেকটির বিনিময়ে: একটি বকরি।
যদি (চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে) এর কোনো অনুরূপ না থাকে, তবে তার মূল্য দিতে হবে। এ বিষয়ে নির্ধারণের জন্য দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এবং তার জন্য গৃহপালিত পশু জবেহ করা এবং তা খাওয়া বৈধ।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ويجوز له قتل كل ما فيه مضرة كالحية والعقرب والكلب العقور والسبع والنمر والذئب والفهد والفأرة والغراب الأبقع والحدأة والبزاة وأنواعها، والزنبور والبق والبراغيث والقراد والأوزاغ والذباب وجميع حشرات الأرض، ويجوز قتل النمل عند الأذية، وكذلك القمل والصبئان في إحدى الروايتين، والأخرى عليه أن يتصدق بما أمكن.
ولا يقتل صيد الحرم، فإن قتله كان حكمه كما ذكرنا في صيد الإحرام.
ولا يقطع أشجار الحرم ولا يقلعها، فإن فعل ذلك ضمن الشجرة الكبيرة ببقرة، والصغيرة بشاة.
وكذلك صيد المدينة وشجرها يحرم عليه، إلا أن جزاءهما سلب ما عليه من الثياب، ويكون ذلك حلالًا لمن أخذه.
(فصل)
فإن كان في الوقت سعة فأمكنه دخول مكة قبل يوم عرفة بأيام، فالمستحب له أن يغتسل غسلًا كاملًا ويدخلها من أعلاها.
فإذا بلغ المسجد الحرام دخل من باب بني شيبة، ويرفع يديه عند رؤية البيت ويقول: اللهم إنك أنت السلام ومنك السلام، حينًا ربنا بالسلام، اللهم زد هذا البيت تعظيمًا وتشريفًا وتكريمًا ومهابة وبرًا، وزد من شرفه وعظمه ممن حجه أو اعتمره تعظيمًا وتشريفًا وتكريمًا ومهابة وبرًا، الحمد لله رب العالمين، والحمد لله كثيرًا كما هو أهله، وكما ينبغي لكرم وجهه وعز جلاله، الحمد لله الذي بلغني بيته ورآني لذلك أهلًا، والحمد لله على كل حال، اللهم إنك دعوت إلى حج بيتك، وقد جئناك لذلك، اللهم تقبل مني واعف عني وأصلح لي شأني كله، لا إله إلا أنت.
يرفع بذلك صوته، ثم يطوف للقدوم ويضطبع بردائه، فيكشف كتفه الأيمن ويستر الأيسر، ثم يتقدم إلى الحج الأسود، فيستلمه بيده ويقبله إن أمكنه، وإلا استلمه وقبل يده، فإن زحم أشار بيده إليه ويقول:
(بسم الله والله أكبر، إيمانًا بك وتصديقًا بكتابك ووفاء بعهدك وإتباعًا لسنة نبيك محمد صلى الله عليه وسلم).
এবং তার জন্য ক্ষতিকর এমন সবকিছুকে হত্যা করা জায়েজ, যেমন: সাপ, বিচ্ছু, কামড়ানো কুকুর, হিংস্র শিকারি প্রাণী, বাঘ, নেকড়ে, চিতা, ইঁদুর, চিত্রা কাক, চিল, বাজপাখি ও এদের বিভিন্ন প্রজাতি এবং বোলতা, ছারপোকা, মাছি, উকুন, টিকটিকি, মাছি ও যমিনের যাবতীয় কীটপতঙ্গ। কষ্ট দিলে পিঁপড়া মারা জায়েজ। অনুরূপভাবে উকুন ও উকুনের ডিমের ক্ষেত্রেও দুটি বর্ণনার একটিতে অনুমতির কথা এসেছে, আর অন্য বর্ণনা মতে তাকে সাধ্যমতো সদকা করতে হবে।
হারামের শিকার হত্যা করা যাবে না। যদি কেউ তা হত্যা করে তবে তার বিধান তেমনই হবে যা আমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি।
হারামের গাছ কাটা যাবে না এবং তা উপড়ানো যাবে না। যদি কেউ তা করে তবে বড় গাছের বিনিময়ে একটি গরু এবং ছোট গাছের বিনিময়ে একটি ভেড়া জরিমানা দিতে হবে।
অনুরূপভাবে মদিনার শিকার এবং এর গাছ কাটাও তার জন্য হারাম। তবে এ দুটির শাস্তি হলো অপরাধীর পরিহিত পোশাক কেড়ে নেওয়া এবং যে তা কেড়ে নেবে তার জন্য তা হালাল হবে।
(পরিচ্ছেদ)
যদি সময়ের প্রশস্ততা থাকে এবং আরাফাতের দিনের কয়েকদিন আগে মক্কায় প্রবেশ করা সম্ভব হয়, তবে মুস্তাহাব হলো পূর্ণাঙ্গ গোসল করা এবং মক্কার উঁচু দিক দিয়ে প্রবেশ করা।
যখন মসজিদে হারামে পৌঁছাবে তখন বনু শায়বা দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং কাবা ঘর দেখার সময় দুই হাত উত্তোলন করবে ও বলবে: হে আল্লাহ, আপনিই শান্তি এবং আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে। হে আমাদের রব, আমাদের শান্তির সাথে জীবিত রাখুন। হে আল্লাহ, এই ঘরের সম্মান, মর্যাদা, আভিজাত্য, গাম্ভীর্য ও পুণ্য বৃদ্ধি করে দিন। এবং যারা হজ্জ বা ওমরাহ করতে আসে তাদের মধ্য থেকে যারা এই ঘরকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়, তাদেরও সম্মান, মর্যাদা, আভিজাত্য, গাম্ভীর্য ও পুণ্য বাড়িয়ে দিন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। আল্লাহর প্রচুর প্রশংসা, যেমনটি তাঁর শানের উপযোগী এবং যেমনটি তাঁর সত্তার মহানুভবতা ও তাঁর মর্যাদার গৌরবের জন্য সমীচীন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে তাঁর ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমাকে এর যোগ্য মনে করেছেন। সকল অবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া। হে আল্লাহ, আপনি আপনার ঘরের হজ্জের দিকে আহ্বান করেছেন এবং আমরা সেই উদ্দেশ্যেই এসেছি। হে আল্লাহ, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার যাবতীয় বিষয় সংশোধন করে দিন, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
এভাবে উচ্চস্বরে দোয়া করবে, অতঃপর তাওয়াফে কুদুম করবে এবং চাদর দিয়ে ইজতিবা করবে (ডান বগলের নিচ দিয়ে চাদর নিয়ে বাম কাঁধে রাখা), ফলে তার ডান কাঁধ উন্মুক্ত থাকবে এবং বাম কাঁধ ঢাকা থাকবে। এরপর হাজরে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হবে এবং হাত দিয়ে তা স্পর্শ করবে ও সম্ভব হলে চুম্বন করবে। যদি সম্ভব না হয় তবে হাত দিয়ে ইশারা করবে এবং বলবে:
(আল্লাহর নামে এবং আল্লাহ সুমহান। আপনার প্রতি ঈমান এনে, আপনার কিতাবকে সত্য মেনে, আপনার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আপনার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণ করে)।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ثم يطوف على يمينه وهو أن يرجع إلى باب البيت، فيمضي إلى الحجر الذي فيه ميزاب البيت مسرعًا، وهو السعي الشديد مع تقارب الخطا، حتى إذا بلغ الركن اليماني استلمه ولم يقبله، فإذا بلغ الحجر الأسود عد ذلك شوطًا واحدًا.
ثم يطوف كذلك ثانيًا وثالثًا قائلًا في جميع ذلك: (اللهم أجعله حجًا مبرورًا وسعيًا مشكورًا وذنبًا مغفورًا).
ثم يخفف مشيه، ويقارب خطاه، فيمشي على هيئته في الأربعة الباقية ويقول فيها:
(رب اغفر وارحم واعف عما تعلم، وأنت الأعز الأكرم، اللهم ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار).
ويدعو بما أراد بما يجوز من خير الدنيا والآخرة.
وينبغي أن يكون ناويًا لذلك، طاهرًا من الأحداث والأنجاس وساتر العورة لأن النبي صلى الله عليه وسلم-قال: (الطواف بالبيت صلاة، إلا أن الله تعالى أباحكم فيه النطق).
فإذا فرغ من ذلك صلى ركعتين خلف مقام إبراهيم خليل الرحمن عليه السلام، يقرأ في الأولى بعد الفاتحة {قل يا أيها الكافرون
…} [الكافرون: 1 - 6]، وفي الثانية {قل هو الله أحد
…} [الإخلاص: 1 - 4]، ثم يرجع إلى الحجر الأسود فيستمله، ثم يخرج إلى الصفا من بابه، ويرقى عليه إلى حيث يمكنه رؤية الكعبة، ثم يكبر ثلاثًا ويقول: (الحمد لله على ما هدانا، لا إله إلا الله وحده لا شريك له، صدق وعده ونصر عبده، وهزم الأحزاب وحده، لا إله إلا الله، ولا نعبد إلا إياه، مخلصين له الدين ولو كره الكافرون).
ثم ينزل ويلبي ويدعو ثانيًا وثالثًا، ثم ينزل ماشيًا حتى يكون بينه وبين الميل الأخضر المنتصب عند المسجد ما قدره ستة أذرع، ثم يسرع في المشي حتى يبلغ إلى الميلين الأخضرين، ثم يخفف مشيه إلى أن يبلغ المروة فيرقى عليه فيفعل كما فعل على الصفا، ثم ينزل ويمشي في موضع مشيه ويسعى في موضع سعيه إلا أن يصير إلى الصفا، ثم كذلك فيعد سبعًا يبدأ بالصفا ويختم بالمروة.
এরপর তিনি তাঁর ডান দিক দিয়ে তওয়াফ করবেন, যার অর্থ হলো বাইতুল্লাহর দরজার দিকে ফিরে যাওয়া। অতঃপর তিনি সেই কোণের দিকে দ্রুতপদে এগিয়ে যাবেন যাতে বাইতুল্লাহর মিজাব (পরনালী) রয়েছে, আর এটি হলো ছোট ছোট কদমে দ্রুত চলা। এভাবে যখন তিনি রুকনে ইয়ামানি পৌঁছাবেন, তখন তা স্পর্শ করবেন কিন্তু চুম্বন করবেন না। এরপর যখন হাজরে আসওয়াদে পৌঁছাবেন, তখন একে এক চক্কর হিসেবে গণ্য করবেন।
এরপর একইভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় চক্কর দেবেন এবং এই সবগুলোতে বলবেন: (হে আল্লাহ! একে কবুলকৃত হজ, প্রশংসিত প্রচেষ্টা এবং ক্ষমাকৃত পাপে পরিণত করুন)।
এরপর তিনি তাঁর হাঁটার গতি কমিয়ে দেবেন এবং স্বাভাবিক পদক্ষেপে চলবেন। বাকি চার চক্করে তিনি তাঁর স্বাভাবিক গতিতে চলবেন এবং তাতে বলবেন:
(হে আমার প্রতিপালক! আপনি ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং যা আপনি জানেন তা থেকে মার্জনা করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক সম্মানিত ও মহানুভব। হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন)।
আর তিনি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ থেকে যা ইচ্ছা এবং যা বৈধ এমন দোয়া করবেন।
আর তাঁর জন্য সমীচীন হলো এর নিয়ত করা, অপবিত্রতা ও নাপাকি থেকে পবিত্র থাকা এবং সতর আবৃত রাখা। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (বাইতুল্লাহর তওয়াফ হলো সালাতের মতো, তবে আল্লাহ তাআলা এতে তোমাদের জন্য কথা বলা বৈধ করেছেন)।
যখন তিনি তা থেকে অবসর হবেন, তখন খলিলুর রহমান ইবরাহিম আলাইহিস সালাম-এর মাকামের পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর {বলুন, হে কাফিরগণ
…} [কাফিরুন: ১-৬] এবং দ্বিতীয় রাকাতে {বলুন, তিনি আল্লাহ এক
…} [ইখলাস: ১-৪] পাঠ করবেন। এরপর পুনরায় হাজরে আসওয়াদে ফিরে গিয়ে তা স্পর্শ করবেন। এরপর নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে সাফার দিকে বের হবেন এবং এর ওপর এমন উচ্চতায় উঠবেন যেখান থেকে কাবা দেখা সম্ভব হয়। এরপর তিনবার তাকবির বলবেন এবং বলবেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের হিদায়াত দিয়েছেন। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি তাঁর ওয়াদা সত্য করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে)।
এরপর তিনি নিচে নামবেন, তালবিয়াহ পাঠ করবেন এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার দোয়া করবেন। এরপর হেঁটে নিচে নামবেন যতক্ষণ না তাঁর এবং মসজিদের নিকট স্থাপিত সবুজ চিহ্নের মধ্যে ছয় হাত পরিমাণ দূরত্ব থাকে। এরপর তিনি দ্রুতপদে চলবেন যতক্ষণ না দুটি সবুজ চিহ্নের নিকট পৌঁছান। এরপর মারওয়া পর্যন্ত পৌঁছা পর্যন্ত তাঁর হাঁটার গতি কমিয়ে দেবেন। অতঃপর সেখানে উঠে তিনি সাফার ন্যায় কাজগুলো করবেন। এরপর তিনি নামবেন এবং হাঁটার স্থানে হাঁটবেন ও দ্রুত চলার স্থানে দ্রুত চলবেন যতক্ষণ না সাফাতে ফিরে আসেন। এভাবে তিনি সাত চক্কর পূর্ণ করবেন যা সাফা থেকে শুরু হবে এবং মারওয়াতে শেষ হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وينبغي أن يكون متطهرًا كما ذكرنا، في الطواف بالبيت، فإذا فرغ من ذلك حلق أو قصر وإن كان متمتعًا ولم يكن قد ساق هديًا وفعل ما يفعله الحلال.
فإذا كان يوم التروية وهو الثامن من ذي الحجة أحرم من مكة للحج، فيأتي منى فيصلي بها الظهر والعصر والمغرب والعشاء ويبيت بها، ثم يصلي بها الصبح. فإذا طلعت الشمس دفع مع الناس إلى الموقف بعرفة فإذا زالت الشمس وخطب الإمام خطبة يعلم الناس فيها ما ينبغي أن يفعلوه من الوقوف وموضعه ووقته ودفعه من عرفات والصلاة بمزدلفة والمبيت بها وغير ذلك من رمي الجمار والنحر والحلق والطواف بالبيت، دنا من الإمام فيعي ما يقول، ثم يصلي معه الظهر والعصر يجمع بينهما بإقامة لكل صلاة، ثم يتقدم إلى جبل الرحمة والصخرات بقرب الإمام، يستقبل القبلة فيقف هناك ويجتهد في الدعاء والثناء على الله عز وجل.
وينبغي أن يكون أكثر ذكره: لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، يحيي ويميت وهو حي لا يموت بيده الخير وهو على كل شيء قدير، اللهم أجعل في قلبي نورًا وفي بصري نورًا وفي سمعي نورًا ويسر لي أمري.
فإن فاته الوقوف مع الإمام نهارًا أدركه بعد خروج الإمام من الموقف قبل أن يطلع الفجر الثاني من ليلة النحر، ومن أدركه كذلك فقد أدرك الوقفة وإلا فقد فاته الحج، فإذا دفع مع الإمام إلى طريق مزدلفة يكون على التؤدة والسكون والوقار، فإذا وصل مزدلفة صلى مع الإمام بها المغرب والعشاء جماعة، أو منفردًا إن فاتته مع الإمام، ثم حط رحله فيبيت هناك، ويأخذ منها حصى الجمار أو من حيث تيسر له ذلك، وعدده سبعون حصاة، وقدره أن يكون أكبر من الحمص وأصغر من البندق، ويستحب أن يغسله، ثم يصلي الفجر إذا أصبح، ويجتهد أن يغلس بها، ثم يأتي المشعر الحرام فيقف عنده، فيكثر الحمد لله والثناء عليه والتهليل والتكبير والدعاء، والأولى أن يقول في دعائه:
اللهم كما أوقفتنا فيه وأريتنا إياه فوفقنا لذكرك كما هديتنا، واغفر لنا وارحمنا كما وعدتنا بقولك الحق {فإذا أفضتم من عرفات
…} إلى قوله تعالى: {غفور رحيم} [البقرة: 198 - 199].
فإذا أضاء النهار وأسفر دفع إلى منى وأسرع في وادي محسر، فإذا وصل إلى منى
আমরা যেমন উল্লেখ করেছি, বায়তুল্লাহর তাওয়াফের ক্ষেত্রে তার পবিত্র থাকা উচিত। এরপর তা থেকে ফারেগ হলে সে মাথা মুণ্ডন করবে অথবা চুল ছোট করবে। যদি সে তামাত্তু হজকারী হয় এবং হাদির পশু সাথে না নিয়ে আসে, তবে সে ইহরাম মুক্ত ব্যক্তি যা করে তা-ই করবে।
অতঃপর যখন তারবিয়ার দিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের অষ্টম দিন আসবে, তখন সে মক্কা থেকে হজের ইহরাম বাঁধবে। এরপর মিনায় আসবে এবং সেখানে জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা সালাত আদায় করবে এবং সেখানে রাত অতিবাহিত করবে। তারপর সেখানে ফজর সালাত আদায় করবে। যখন সূর্য উদিত হবে, তখন সে লোকজনের সাথে আরাফার ময়দানের দিকে রওনা হবে। যখন সূর্য ঢলে পড়বে এবং ইমাম খুতবা দেবেন—যাতে তিনি মানুষকে আরাফায় অবস্থান, এর স্থান ও সময়, আরাফা থেকে প্রস্থান, মুজদালিফায় সালাত ও সেখানে রাতযাপন এবং এ ছাড়া কঙ্কর নিক্ষেপ, পশু জবাই, মাথা মুণ্ডন ও বায়তুল্লাহর তাওয়াফসহ যা করণীয় তা শিক্ষা দেবেন—তখন সে ইমামের নিকটবর্তী হবে এবং তিনি যা বলেন তা মনোযোগ দিয়ে শুনবে। এরপর সে তাঁর সাথে জোহর ও আসরের সালাত একত্রে আদায় করবে, প্রতিটি সালাতের জন্য আলাদা ইকামাত দিয়ে। অতঃপর সে জাবালে রহমত ও ইমামের নিকটবর্তী পাথরগুলোর দিকে অগ্রসর হবে, কিবলামুখী হয়ে সেখানে দাঁড়াবে এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার প্রশংসা ও দোয়ায় সচেষ্ট হবে।
তার অধিকাংশ জিকির হওয়া উচিত: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন, আর তিনি চিরঞ্জীব—কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। তাঁর হাতেই কল্যাণ এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দিন, আমার দৃষ্টিতে নূর দিন, আমার শ্রবণে নূর দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।
যদি দিনের বেলা ইমামের সাথে অবস্থান করা তার ছুটে যায়, তবে ইমামের প্রস্থানের পর থেকে নহরের রাতের দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়ার আগে পৌঁছালেও সে তা পেয়ে যাবে। যে এভাবে তা পাবে, সে অবস্থান পেল, অন্যথায় তার হজ ছুটে যাবে। যখন সে ইমামের সাথে মুজদালিফার পথে রওনা হবে, তখন যেন ধীরস্থিরতা, প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বজায় রাখে। মুজদালিফায় পৌঁছে সে ইমামের সাথে মাগরিব ও এশা জামাতের সাথে আদায় করবে, অথবা ইমামের সাথে ছুটে গেলে একা পড়বে। এরপর সে মালপত্র নামাবে এবং সেখানে রাতযাপন করবে। সেখান থেকে অথবা যেখান থেকে সুবিধা হয় কঙ্কর সংগ্রহ করবে। এর সংখ্যা সত্তরটি। এর আকার ছোলার চেয়ে বড় এবং বাদামের চেয়ে ছোট হওয়া উচিত। কঙ্করগুলো ধুয়ে নেওয়া মুস্তাহাব। এরপর ভোর হলে সে ফজর সালাত পড়বে এবং অন্ধকার থাকতেই তা পড়ার চেষ্টা করবে। অতঃপর মাশআরুল হারামে এসে সেখানে অবস্থান করবে এবং আল্লাহর অধিক প্রশংসা, স্তুতি, তাহলিল, তাকবির ও দোয়া করবে। তার দোয়ায় এটি বলা উত্তম:
হে আল্লাহ! যেভাবে আপনি আমাদের এখানে দাঁড় করিয়েছেন এবং আমাদের এটি দেখিয়েছেন, তেমনিভাবে আপনি আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী আপনার জিকির করার তাওফিক দিন। আপনি আমাদের ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, যেমনটি আপনি আপনার সত্য বাণীতে ওয়াদা করেছেন {অতঃপর যখন তোমরা আরাফাত থেকে প্রস্থান করবে
…} আল্লাহ তাআলার এই বাণী পর্যন্ত: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} [আল-বাকারাহ: ১৯৮ - ১৯৯]।
যখন দিন উজ্জ্বল ও ফর্সা হয়ে উঠবে, তখন সে মিনার দিকে রওনা হবে এবং ওয়াদি মুহাসসিরে দ্রুত চলবে। যখন সে মিনায় পৌঁছাবে...
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
رمى جمرة العقبة بسبع حصيات، مكبرًا في إثر كل حصاة، رافعًا يده حتى يرى بياض إبطيه، كما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه رمى كذلك، وسكت عن التلبية عند أول حصاة يرميها، ويكون رميه هذا بعد طلوع الشمس وقبل الزوال وفيما بعد من أيام التشريق بعد الزوال، فإذا رمى نحر هديًا إن كان معه، وحلق جميع رأسه أو قصر، وإن كانت امرأة تقصر من شعرها قدر الأنملة.
ثم يمضي إلى مكة ويغتسل ويتوضأ، فيطوف طواف الزيارة ويعينه بالنية، ويصلي ركعتين خلف المقام، فإذا فرغ سعى بين الصفا والمرة إن أراد، لأن السعي قد سقط عنه بفعله في طواف القدوم، ثم قد حل له كل شيء من محظورات الإحرام، وصار حلالًا كما كان قبل الإحرام، ثم يتقدم إلى زمزم فيشرب من مائها فيقول عند شربه:
بسم الله اللهم اجعله لنا علمًا نافعًا ورزقًا واسعًا وريًا وشبعًا وشفاء من كل داء، واغسل به قلبي وأملأه من خشيتك.
ثم يرجع إلى منى فيبيت بها ثلاث ليال، فيرمي الجمرات الثلاث في أيام التشريق على ما ذكرنا كل يوم بإحدى وعشرين حصاة، كل جمرة سبع حصيات، فيبدأ بالجمرة الأولى وهي أبعد الجمرات من مكة مما يلي مسجد الخيف، يجعلها عن يساره ويستقبل القبلة فإذا رماها تقدم عنها يسيرًا لئلا يصيبه حصى غيره، فيقف هناك داعيًا الله عز وجل بقدر قراءة سورة البقرة إن أمكنه، ثم يرمي الجمرة الوسطى فيجعلها عن يمينه، ويستقبل القبلة فيدعو كالأولى ثم يرمي الجمرة الأخيرة وهي جمرة العقبة ويجعلها عن يمينه، وينزل إلى الوادي، ويكون مستقبلًا إلى القبلة ولا يقف هناك، ثم يفعل في اليوم الثاني والثالث كذلك.
وإن أحب أن يتعجل ولا يرمي في اليوم الثالث دفن ما بقي معه من بقية الحصى هناك، ويخرج قاصدًا إلى مكة فيأتي الأبطح فيصلي هناك الظهر والعصر والمغرب والعشاء، ثم ينام يسيرًا ثم يدخل مكة فيقيم بها أو غيرها من المواضع كالزاهر والأبطح، وإذا أراد أن يدخل البيت يكون حافيًا، ويصلي فيه نفلًا، ويشرب من ماء زمزم ويرتوي
তিনি জামরাতুল আকাবায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় তাকবির বলবেন। তিনি নিজের হাত এতটা উঁচুতে তুলবেন যেন তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যায়, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি এভাবেই নিক্ষেপ করেছিলেন। প্রথম কঙ্করটি নিক্ষেপ করার সময় তিনি তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবেন। তাঁর এই পাথর নিক্ষেপ হবে সূর্যোদয়ের পর এবং দ্বিপ্রহরের (জাওয়াল) পূর্বে; আর তাশরিকের পরবর্তী দিনগুলোতে হবে জাওয়ালের পরে। পাথর নিক্ষেপ শেষ হলে সাথে হাদি (কুরবানির পশু) থাকলে তা জবেহ করবেন। এরপর মাথার পুরো চুল মুণ্ডন করবেন অথবা ছোট করবেন। আর নারী হলে আঙুলের এক কর পরিমাণ চুল ছোট করবেন।
অতঃপর তিনি মক্কার দিকে অগ্রসর হবেন এবং গোসল ও অজু করবেন। এরপর তাওয়াফে জিয়ারত করবেন এবং নিয়তের মাধ্যমে তা নির্দিষ্ট করবেন। মাকামে ইবরাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন। তা শেষ করার পর চাইলে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করবেন; কারণ তাওয়াফে কুদুমের সময় সায়ী করার কারণে তাঁর ওপর থেকে এই সায়ী রহিত হয়ে গেছে। এরপর ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ সকল বিষয় তাঁর জন্য বৈধ হয়ে যাবে এবং তিনি ইহরামের পূর্বের ন্যায় হালাল হয়ে যাবেন। অতঃপর তিনি যমযমের দিকে এগিয়ে যাবেন এবং এর পানি পান করবেন। পান করার সময় তিনি বলবেন:
আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আপনি একে আমাদের জন্য উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক, তৃষ্ণা নিবারণকারী, পরিতৃপ্তকারী এবং সকল রোগের নিরাময় হিসেবে কবুল করুন। এর মাধ্যমে আমার অন্তর ধৌত করে দিন এবং আপনার ভয়ে তা পরিপূর্ণ করে দিন।
এরপর তিনি মিনায় ফিরে যাবেন এবং সেখানে তিন রাত অবস্থান করবেন। আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে আমাদের বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন একুশটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন; প্রতিটি জামরায় সাতটি করে কঙ্কর। তিনি প্রথম জামরা (জামরায়ে উলা) থেকে শুরু করবেন, যা মক্কা থেকে সবচেয়ে দূরে এবং মাসজিদুল খাইফ সংলগ্ন। তিনি একে বাম পাশে রাখবেন এবং কিবলামুখী হবেন। পাথর নিক্ষেপ শেষ করার পর তিনি সেখান থেকে কিছুটা সামনে এগিয়ে যাবেন যেন অন্যের কঙ্কর তাঁর গায়ে না লাগে। সেখানে অবস্থান করে সক্ষম হলে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করার সমপরিমাণ সময় মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করবেন। এরপর মধ্যম জামরায় পাথর নিক্ষেপ করবেন এবং একে ডান পাশে রাখবেন। অতঃপর কিবলামুখী হয়ে প্রথমটির ন্যায় দোয়া করবেন। এরপর শেষ জামরা অর্থাৎ জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করবেন এবং একে ডান পাশে রাখবেন। এরপর উপত্যকায় নেমে আসবেন এবং কিবলামুখী থাকবেন, তবে সেখানে দাঁড়াবেন না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও তিনি এভাবেই করবেন।
যদি কেউ দ্রুত প্রস্থান করতে চায় এবং তৃতীয় দিনে পাথর নিক্ষেপ না করে, তবে অবশিষ্ট কঙ্করগুলো সেখানে পুঁতে ফেলবে। এরপর মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে আবতাহ নামক স্থানে আসবে এবং সেখানে জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা আদায় করবে। এরপর সামান্য সময় ঘুমিয়ে মক্কায় প্রবেশ করবে এবং সেখানে অথবা জাহির ও আবতাহের মতো অন্য কোনো স্থানে অবস্থান করবে। যখন তিনি বায়তুল্লাহয় (কাবা শরিফ) প্রবেশ করতে চাইবেন, তখন খালি পায়ে প্রবেশ করবেন। সেখানে নফল নামাজ পড়বেন এবং যমযমের পানি পান করে তৃপ্ত হবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
منه. وينوي ما أحب من العلم والمغفرة والرضوان لقوله عليه الصلاة والسلام: «ماء زمزم لما شرب له».
ويكثر الاعتماد والنظر إلى الكعبة، لما روي في بعض الأخبار: إن النظر إليها عبادة.
ثم لا يخرج حتى يودع البيت فيطوف به سبعًا، ثم يقف بين الركن والباب ويدعو فيقول:
اللهم هذا بيتك وأنا عبدك وابن عبدك وابن أمتك حملتني على ما سخرت لي من خلقك وسيرتني في بلادك حتى بلغتني بنعمتك، وأعنتني على قضاء نسكي، فإن كنت رضيت عني فازدد عني رضا، وإلا فمن علي الآن قبل تباعدي عن بيتك، هذا أوان انصرافي إن أذنت لي غير مستبدل بك ولا ببيتك ولا راغب عنك ولا عن بيتك، اللهم فاصحبني العافية في بدني والصحة في جسمي والعصمة في ديني وأحسن منقلبي ومثواي، وارزقني طاعتك ما أبقيتني واجمع لي خير الدنيا والآخرة إنك على كل شيء قدير.
وما زاد على ذلك من الدعاء من خير الدنيا والآخرة كان حسنًا، ثم يصلي على النبي صلى الله عليه وسلم ولم يقم بعد ذلك بمكة، فإن أقام أعاد الطواف وإلا ذبح شاة.
(فصل) فإن كان في الوقت ضيق وخاف فوت الوقفة بعرفات، فإن أحرم من الميقات بدأ بعرفات فوقف هناك، ثم دفع منها بعد غروب الشمس، فيفعل ما ذكرناه من البيتوتة بمزدلفة ثم الرمي بمنى، ثم إذا دخل مكة طاف طوافين، ينوى بالأول منهما القدوم وبالثاني الزيارة، ثم يسعى بين الصفا والمروة، ثم يحل له كل شيء، ثم يعود إلى منى للرمي في الأيام الثلاثة، ثم يتم الأفعال على ما تقدم ذكره.
...তা থেকে। আর সে জ্ঞান, ক্ষমা ও সন্তুষ্টির মধ্য থেকে যা ইচ্ছা নিয়ত করবে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই ফলপ্রসূ হয়।"
এবং সে কাবার প্রতি অধিক নির্ভরশীলতা ও দৃষ্টিপাত বজায় রাখবে, কারণ কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: "কাবার দিকে তাকানো ইবাদত।"
অতঃপর বিদায়ী তাওয়াফ হিসেবে সাতবার প্রদক্ষিণ না করে সে বের হবে না। তারপর রুকন ও দরজার মাঝখানে দাঁড়াবে এবং দুআ করে বলবে:
হে আল্লাহ! এটি আপনার ঘর, আর আমি আপনার বান্দা, আপনার বান্দার পুত্র এবং আপনার বাঁদীর পুত্র। আপনি আপনার সৃষ্টির মধ্য থেকে যা আমার জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন তার ওপর আরোহণ করিয়ে আমাকে বহন করেছেন এবং আপনার জনপদে আমাকে ভ্রমণ করিয়েছেন, অবশেষে আপনার অনুগ্রহে আমাকে (এখানে) পৌঁছিয়েছেন। আমার হজের কার্যাবলি সম্পন্ন করতে আপনি আমাকে সাহায্য করেছেন। সুতরাং আপনি যদি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তবে আমার প্রতি আপনার সন্তুষ্টি আরও বাড়িয়ে দিন। আর যদি তা না হয়, তবে আপনার ঘর থেকে দূরে যাওয়ার আগেই এখন আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন। এটি আমার প্রস্থানের সময় যদি আপনি আমাকে অনুমতি দেন; আমি আপনাকে ছেড়ে অন্য কাউকে গ্রহণ করছি না, আপনার ঘরেরও কোনো বিকল্প খুঁজছি না এবং আপনার প্রতি বা আপনার ঘরের প্রতি আমি বিমুখও নই। হে আল্লাহ! আমার শরীরে আপনি নিরাপত্তা এবং দেহে সুস্থতা দান করুন, আমার দ্বীনকে সংরক্ষিত রাখুন এবং আমার প্রত্যাবর্তন ও আবাসস্থলকে উত্তম করুন। আমি যতক্ষণ জীবিত থাকি আমাকে আপনার আনুগত্য নসিব করুন এবং আমার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ একত্রিত করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
এর অতিরিক্ত দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য যা কিছু দুআ করা হবে তা উত্তম হবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ করবে এবং এরপর মক্কায় আর অবস্থান করবে না। যদি সে অবস্থান করে, তবে পুনরায় তাওয়াফ করবে; অন্যথায় একটি বকরি যবেহ করবে।
(পরিচ্ছেদ) যদি সময়ের স্বল্পতা থাকে এবং আরাফাতে অবস্থানের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে, তবে সে মীকাত থেকে ইহরাম বেঁধে থাকলে আগে আরাফাত থেকে শুরু করবে এবং সেখানে অবস্থান করবে। অতঃপর সূর্যাস্তের পর সেখান থেকে প্রস্থান করবে। তারপর মুযদালিফায় রাত্রিযাপন এবং মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপ সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা পালন করবে। এরপর যখন মক্কায় প্রবেশ করবে, তখন দু'টি তাওয়াফ করবে; যার প্রথমটিতে কুদুম (আগমনী) এবং দ্বিতীয়টিতে যিয়ারতের নিয়ত করবে। অতঃপর সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করবে। এরপর তার জন্য সবকিছু হালাল হয়ে যাবে। অতঃপর সে তিন দিন কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য পুনরায় মিনায় ফিরে যাবে। এরপর পূর্বে বর্ণিত নিয়মে কার্যাবলি সম্পন্ন করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(فصل)
وصفة
العمرة: أن يحرم بها من الميقات الشرعي الذي تقدم ذكره، بعد أن يغتسل ويتطيب ويصلي ركعتين، فيطوف بالبيت سبعًا، ويسعى بين الصفا والمروة ويقصر أو يحلق، ثم يحل منها إن لم يكن ساق هديًا، وإن كان بمكة خرج إلى التنعيم فيحرم منه فيفعل كذلك.
(فصل)
ولا يبطل الحج إلا بالوطء في الفرج أو دون الفرج مع الإنزال.
و
أركان الحج أربعة: الإحرام، والوقوف، وطواف الزيارة، والسعي.
وعن الشيخ رحمه الله: إنها ركنان أحدهما: الوقوف بعرفة، والثاني: الطواف بالبيت، والصحيح الأول.
فإذا ترك واحدًا من هذه الأركان كان حجه ناقصًا، وعليه الإتيان به، إما في سنته وأما في العام القابل، يأتي به محرمًا، ولا يجبره دم بحال.
وأما واجباته فخمسة وهي: المبيت بمزدلفة إلى ما بعد نصف الليل، والمبيت بمنى، والرمي، والحلاق، وطواف الوداع. فإن ترك واحدًا منها جبره بدم، وهو شاة كما قلنا في ترك الواجبات في الصلاة يجبره بسجود السهو.
وأما مسنوناته فخمسة عشر وهي:
[الأول]: الاغتسال للإحرام ولدخول مكة وللوقوف بعرفة وللمبيت بمزدلفة ولرمي الجمار أيام منى ولطواف الزيارة ولطواف الوداع.
والثاني: طواف القدوم.
والثالث: الرمل.
والرابع: الاضطباع في الطواف والسعي.
(পরিচ্ছেদ)
উমরার
পদ্ধতি: তা হলো ইতিপূর্বে উল্লিখিত শরয়ী মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা—গোসল করার, সুগন্ধি মাখার এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর। অতঃপর বাইতুল্লাহর সাতবার তাওয়াফ করবে, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করবে এবং চুল ছোট করবে অথবা মুণ্ডন করবে। এরপর সে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে যদি সে সাথে করে হাদী (কুরবানির পশু) না নিয়ে আসে। আর যদি সে মক্কায় অবস্থানরত থাকে, তবে তানয়ীমে গিয়ে সেখান থেকে ইহরাম বাঁধবে এবং একইভাবে কাজগুলো সম্পাদন করবে।
(পরিচ্ছেদ)
যৌনাঙ্গে সহবাস অথবা বীর্যপাতসহ যৌনাঙ্গের বাইরে মৈথুন ব্যতীত হজ বাতিল হয় না।
হজের
রুকনসমূহ চারটি: ইহরাম, আরাফায় অবস্থান, তাওয়াফে যিয়ারত এবং সাঈ।
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: রুকন হলো দুইটি; একটি: আরাফায় অবস্থান এবং দ্বিতীয়টি: বাইতুল্লাহর তাওয়াফ। তবে প্রথম মতটিই সঠিক।
যদি কেউ এই রুকনগুলোর কোনো একটি ছেড়ে দেয়, তবে তার হজ অসম্পূর্ণ থাকবে এবং তা আদায় করা তার ওপর আবশ্যক হবে; হয় সেই বছরেই অথবা পরবর্তী বছরে। সে তা ইহরাম অবস্থায় সম্পন্ন করবে এবং কোনো অবস্থাতেই দমের (পশু কুরবানি) মাধ্যমে এর প্রতিকার হবে না।
আর এর ওয়াজিবসমূহ পাঁচটি, সেগুলো হলো: অর্ধরাতের পর পর্যন্ত মুজদালিফায় অবস্থান করা, মিনায় রাত্রিযাপন করা, পাথর নিক্ষেপ (রমি) করা, মুণ্ডন করা এবং বিদায়ী তাওয়াফ। যদি কেউ এর কোনো একটি ছেড়ে দেয়, তবে একটি দমের মাধ্যমে তার প্রতিকার করবে। আর তা হলো একটি ছাগল জবাই করা, যেমনটি আমরা সালাতের ওয়াজিবসমূহ বর্জনের ক্ষেত্রে বলেছি যে, তা সাহু সিজদার মাধ্যমে প্রতিকার করা হয়।
আর এর সুন্নাতসমূহ পনেরটি, সেগুলো হলো:
[প্রথমত]: ইহরামের জন্য, মক্কায় প্রবেশের জন্য, আরাফায় অবস্থানের জন্য, মুজদালিফায় অবস্থানের জন্য, মিনার দিনগুলোতে জামরায় পাথর নিক্ষেপের জন্য, তাওয়াফে যিয়ারতের জন্য এবং বিদায়ী তাওয়াফের জন্য গোসল করা।
দ্বিতীয়ত: তাওয়াফে কুদুম।
তৃতীয়ত: রমল।
চতুর্থত: তাওয়াফ ও সাঈতে ইযতিবা করা।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
و [الخامس]: استلام الركنين.
و [السادس]: التقبيل.
و [السابع]: الارتقاء على الصفا والمروة.
و [الثامن]: المبيت بمنى ثلاثًا.
و [التاسع]: الوقوف على المشعر الحرام.
و [العاشر]: الوقوف عند الجمرات.
و [الحادي عشر]: الخطب.
و [الثاني عشر]: الأذكار.
و [الثالث عشر]: شدة السعي في مواضعه.
و [الرابع عشر]: المشي في مواضعه.
و [الخامس عشر]: ركعتا الطواف.
فإن ترك هذه الأشياء أو واحدًا منها كان تاركًا للأفضل ولا شيء عليه.
(فصل)
أما العمرة فأركانها ثلاثة:
الإحرام، والطواف بالبيت، والسعي بين الصفا والمروة.
وواجباتها: الحلاق فحسب.
وسننها: الغسل عند الإحرام، والأدعية، والأذكار المشروعة في الطواف والسعي.
وقد بينا الحكم في تركها في الحج.
(فصل)
فإذا من الله تعالى عليه بالعافية، وقدم المدينة، فالمستحب له أن يأتي مسجد النبي صلى الله عليه وسلم، وليقل عند دخول المسجد:
اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، وافتح لي أبواب رحمتك، وكف عني أبواب عذابك، الحمد لله رب العالمين.
এবং [পঞ্চম]: দুই রুকন স্পর্শ করা।
এবং [ষষ্ঠ]: চুম্বন করা।
এবং [সপ্তম]: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে আরোহণ করা।
এবং [অষ্টম]: মিনায় তিন রাত যাপন করা।
এবং [নবম]: মাশয়ারুল হারামে অবস্থান করা।
এবং [দশম]: জামরাহসমূহের নিকট অবস্থান করা।
এবং [একাদশ]: খুতবাসমূহ।
এবং [দ্বাদশ]: যিকরসমূহ।
এবং [ত্রয়োদশ]: নির্ধারিত স্থানসমূহে দ্রুতগতিতে সাঈ করা।
এবং [চতুর্দশ]: নির্ধারিত স্থানসমূহে হাঁটা।
এবং [পঞ্চদশ]: তাওয়াফের দুই রাকাত সালাত।
যদি কেউ এই বিষয়গুলো বা এগুলোর কোনো একটি ছেড়ে দেয়, তবে সে যা উত্তম তা পরিত্যাগ করল, আর এতে তার ওপর কোনো কিছু (জরিমানা) বর্তাবে না।
(পরিচ্ছেদ)
উমরার ক্ষেত্রে এর রুকন তিনটি:
ইহরাম, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা।
আর এর ওয়াজিবসমূহ: কেবল মাথা মুণ্ডানো।
আর এর সুন্নাতসমূহ: ইহরামের সময় গোসল করা, এবং তাওয়াফ ও সাঈতে শরীয়তসম্মত দোয়াসমূহ ও যিকরসমূহ।
এগুলো ছেড়ে দেওয়ার বিধান আমরা ইতিপূর্বে হজ্জের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি।
(পরিচ্ছেদ)
অতঃপর আল্লাহ তাআলা যদি অনুগ্রহ করে তাকে সুস্থতা দান করেন এবং সে মদিনায় আগমন করে, তবে তার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে আসা মুস্তাহাব। আর মসজিদে প্রবেশের সময় সে বলবে:
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর দরূদ বর্ষণ করুন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দ্বারগুলো খুলে দিন, আর আমার থেকে আপনার আজাবের দ্বারগুলো রুদ্ধ করে দিন। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ثم يأتي القبر، وليكن بحذائه بينه وبين القبلة، ويجعل جدار القبلة خلف ظهره والقبر أمامه تلقاء وجهه والمنبر عن يساره، وليقم مما يلي المنبر وليقل:
السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم إنك حميد مجيد، اللهم آت سيدنا محمدًا الوسيلة والفضيلة والدرجة الرفيعة وابعثه المقام المحمود الذي وعدته، اللهم صل على روح محمد في الأرواح، وعلى جسده في الأجساد، كما بلغ رسالتك وتلا آياتك وصدع بأمرك وجاهد في سبيلك وأمر بطاعتك ونهي عن معصيتك، وعادى عدوك ووالى وليك وعبدك حتى أتاه اليقين.
اللهم إنك قلت في كتابك لنبيك: {ولو أنهم إذ ظلموا أنفسهم جاءوك فاستغفروا الله واستغفر لهم الرسول لوجدوا الله توابًا رحيمًا} [النساء: 64]. وإني أتيت بيتك تائبًا من ذنوبي مستغفرًا، فأسألك أن توجب لي المغفرة كما أوجبتها لمن أتاه في حياته، فأقر عنده بذنبه فدعا له نبيه فغفرت له.
اللهم إني أتوجه إليك بنبيك عليه سلامك نبي الرحمة، يا رسول الله إني أتوجه بك إلى ربي ليغفر لي ذنوبي، اللهم إني أسألك بحقه أن تغفر لي وترحمني، اللهم أجعل محمدًا أول الشافعين وأنجح السائلين وأكرم الأولين والآخرين.
اللهم كما آمنا به ولم نره وصدقناه ولم نلقه فأدخلنا مدخله واحشرنا في زمرته، وأوردنا حوضه واسقنا بكأسه مشربًا رويًا صافيًا سائغًا هنيئًا لا نظمأ بعده أبدًا غير خزايًا ولا ناكثين ولا مارقين ولا جاحدين ولا مرتابين، ولا مغضوب علينا ولا ضالين، واجعلنا من أهل شفاعته.
ثم يتقدم عن يمينه ثم ليقل:
السلام عليكما يا صاحبي رسول الله صلى الله عليه وسلم ورحمة الله وبركاته، السلام عليك يا أبا بكر الصديق، السلام عليك يا عمر الفاروق، اللهم أجزهما عن نبيهما وعن
এরপর সে কবরের নিকট আসবে এবং এমনভাবে দাঁড়াবে যেন তার ও কিবলার মাঝখানে কবরটি থাকে। সে কিবলার দেয়ালকে নিজের পিঠের পেছনে রাখবে এবং কবরকে নিজের চেহারার সামনে রাখবে, আর মিম্বর থাকবে তার বাম দিকে। সে মিম্বরের নিকটবর্তী স্থানে দাঁড়াবে এবং বলবে:
আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে নবী এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত। হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের ওপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যেমন আপনি ইবরাহীমের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন; নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, আমাদের নেতা মুহাম্মাদকে ওসীলা, ফযীলত ও উচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই মাকামে মাহমুদ (প্রশংসিত স্থান)-এ পৌঁছে দিন যার ওয়াদা আপনি তাঁকে দিয়েছেন। হে আল্লাহ, আত্মাসমূহের মধ্যে মুহাম্মাদের আত্মার ওপর এবং দেহসমূহের মধ্যে তাঁর দেহের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে তিনি আপনার রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেছেন, আপনার নির্দেশ স্পষ্টভাবে প্রচার করেছেন, আপনার পথে জিহাদ করেছেন, আপনার আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন, আপনার নাফরমানি থেকে নিষেধ করেছেন, আপনার শত্রুর সাথে শত্রুতা করেছেন, আপনার বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব করেছেন এবং মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনার ইবাদত করেছেন।
হে আল্লাহ, আপনি আপনার কিতাবে আপনার নবীর উদ্দেশ্যে বলেছেন: {আর যদি তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন আপনার নিকট আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত} [আন-নিসা: ৬৪]। আর আমি আপনার ঘরে এসেছি আমার গুনাহসমূহ থেকে তাওবা করে ও ক্ষমা প্রার্থী হয়ে। তাই আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমার জন্য ক্ষমা অবধারিত করেন, যেমনিভাবে আপনি তাঁর জন্য অবধারিত করেছিলেন যে তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর নিকট এসেছিল এবং তাঁর কাছে নিজের গুনাহের কথা স্বীকার করেছিল, অতঃপর তাঁর নবী তার জন্য দুআ করেছিলেন এবং আপনি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
হে আল্লাহ, আমি আপনার রহমতের নবী, আপনার নবীর মাধ্যমে—তাঁর ওপর আপনার শান্তি বর্ষিত হোক—আপনার দিকে মনোনিবেশ করছি। হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার মাধ্যমে আমার রবের দিকে মনোনিবেশ করছি যেন তিনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে তাঁর হকের উসীলায় প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন এবং আমার ওপর দয়া করেন। হে আল্লাহ, মুহাম্মাদকে প্রথম সুপারিশকারী, আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে সফল এবং পূর্বাপর সকলের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত করুন।
হে আল্লাহ, যেহেতু আমরা তাঁর ওপর ঈমান এনেছি তাঁকে না দেখেই এবং তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ছাড়াই, সুতরাং আপনি আমাদের তাঁর প্রবেশস্থলে প্রবেশ করান এবং তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের হাশর করুন। আমাদের তাঁর হাউজে উপনীত করুন এবং তাঁর পেয়ালা থেকে আমাদের এমন তৃপ্তিদায়ক, স্বচ্ছ, সুস্বাদু ও মনোরম পানীয় পান করান যার পর আমরা আর কখনো তৃষ্ণার্ত হব না; যেখানে আমরা লাঞ্ছিত হব না, অঙ্গীকার ভঙ্গকারী, দ্বীন বিচ্যুত, অস্বীকারকারী কিংবা সন্দিহান হব না, আর আমাদের ওপর রাগান্বিত হওয়া হবে না এবং আমরা পথভ্রষ্টও হব না। আর আমাদের তাঁর সুপারিশ লাভকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
এরপর সে তার ডান দিকে অগ্রসর হবে এবং বলবে:
আপনাদের দুজনের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই সাথী এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত। আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আবু বকর সিদ্দীক। আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে উমর ফারুক। হে আল্লাহ, তাঁদের নবীর পক্ষ থেকে এবং... পক্ষ থেকে তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الإسلام خيرًا واغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان، ولا تجعل في قلوبنا غلًا للذين آمنوا ربنا إنك رؤوف رحيم.
ثم يصلي ركعتين ويجلس.
ويستحب أن يصلي بين القبر والمنبر في الروضة.
وإن أحب أن يتمسح بالمنبر تبركًا به.
ويصلي بمسجد القباء.
وأن يأتي قبور الشهداء ويزورهم: فعل ذلك وأكثر الدعاء هناك.
ثم إذا أراد الخروج من المدينة أتى مسجد النبي صلى الله عليه وسلم وتقدم إلى القبر وسلم على رسول الله صلى الله عليه وسلم وفعل كما فعل أولًا، وودعه وسلم على صاحبيه كذلك ثم قال:
اللهم لا تجعل آخر العهد مني بزيارة قبر نبيك، وإذا توفيتني فتوفني على محبته وسنته آمين يا أرحم الراحمين. وخرج سالمًا إن شاء الله.
* * *
ইসলামকে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের ও আমাদের ঐ সকল ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছেন, আর মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।
অতঃপর তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন এবং বসবেন।
আর কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান অর্থাৎ রওজায় নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব।
আর যদি কেউ বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে মিম্বর স্পর্শ করতে পছন্দ করে (তবে তা করতে পারে)।
এবং মসজিদে কুবাতে নামাজ আদায় করবে।
আর শহীদদের কবরের নিকট আসা এবং তাঁদের জিয়ারত করা উচিত; তিনি তা করবেন এবং সেখানে অধিক পরিমাণে দোয়া করবেন।
অতঃপর যখন তিনি মদিনা থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা করবেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে আসবেন, কবরের সামনে অগ্রসর হবেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাম পেশ করবেন এবং পূর্বে যেভাবে করেছিলেন ঠিক সেভাবেই করবেন। তিনি তাঁকে বিদায় জানাবেন এবং একইভাবে তাঁর দুই সঙ্গীর ওপরও সালাম পেশ করবেন, অতঃপর বলবেন:
হে আল্লাহ, আপনার নবীর কবর জিয়ারতের এই সফরকে আমার জীবনের শেষ সফর করবেন না। আর যখন আপনি আমার মৃত্যু দিবেন, তখন তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর সুন্নতের ওপরই আমার মৃত্যু দান করবেন। হে দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু, কবুল করুন। আর ইনশাআল্লাহ তিনি নিরাপদে প্রস্থান করবেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-গুনিয়াহ লি-তালিবি ত্বরীকিল হাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
كتاب الآداب(فصل) الابتداء ب
السلام سنة، ورده آكد من ابتدائه.
وهو مخير في صفته:
إما أن يدخل الألف واللام فيقول: السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
أو يحذفهما فيقول: سلام عليكم ورحمة الله وبركاته، ولا يزيد على ذلك.
وقد روي في ذلك حديث وهو: ما روي عن عمران بن الحصين رضي الله تعالى عنهما أنه قال: «جاء رجل أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: السلام عليكم، فرد عليه السلام، ثم جلس، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: عشرًا.
ثم جاء آخر فقال: السلام عليكم ورحمة الله، فرد عليه فجلس، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: عشرون.
ثم جاء آخر: فقال: السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، فرد عليه فجلس، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ثلاثون»، يعني ثلاثين حسنة.
والسنة أن يسلم الماشي على الجالس، والراكب على الماشي والجالس.
وسلام الواحد من الجماعة على غيرهم يجزئ.
وكذلك رد الواحد من الجماعة يجزئ عنهم.
শিষ্টাচার গ্রন্থ(পরিচ্ছেদ)
সালাম দিয়ে শুরু করা সুন্নাত, আর সালামের উত্তর প্রদান করা সালাম শুরু করার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
সালাম প্রদানের পদ্ধতির ক্ষেত্রে ব্যক্তি ইখতিয়ারপ্রাপ্ত (পছন্দ করার সুযোগ আছে):
হয় তিনি আলিফ এবং লাম যুক্ত করে বলবেন: আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
অথবা সে দুটি বিলুপ্ত করে বলবেন: সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, এবং এর চেয়ে অতিরিক্ত কিছু বলবেন না।
এ বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা হলো: ইমরান বিন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: আস-সালামু আলাইকুম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন, অতঃপর লোকটি বসলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: দশ।
অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি আসলেন এবং বললেন: আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। তিনি উত্তর দিলেন এবং লোকটি বসলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: বিশ।
অতঃপর আরও এক ব্যক্তি আসলেন এবং বললেন: আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। তিনি উত্তর দিলেন এবং লোকটি বসলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ত্রিশ», অর্থাৎ ত্রিশটি নেকি বা পুণ্য।
সুন্নাত হলো এই যে, পথচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দেবেন এবং আরোহী ব্যক্তি পথচারী ও উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দেবেন।
দলের মধ্য থেকে একজনের সালাম প্রদান করা অন্যদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।
অনুরূপভাবে দলের পক্ষ থেকে একজনের উত্তর প্রদান করা তাদের সকলের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।