(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
السيف المسلول على من سب الرسول   (تقي الدين السبكي)

القسم: العقيدة


الكتاب: السيف المسلول على من سب الرسول

المؤلف: تقي الدين علي بن عبد الكافي السبكي (المتوفى 756 هـ)

المحقق: إياد أحمد الغوج

الناشر: دار الفتح (عمان - الأردن)

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 527

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 صفر 1437

আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল   (তাকিউদ্দীন আস-সুবকি)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল

লেখক: তাকিউদ্দীন আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি)

সম্পাদক: ইয়াদ আহমদ আল-গাউজ

প্রকাশক: দারুল ফাতহ (আম্মান - জর্ডান)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৭

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মার্কাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
السيف المسلول على من سب الرسول صلى الله عليه وسلم

للإمام /

تقي الدين علي بن عبد الكافي السبكي الشافعي

ت: 756 هـ

 

تحقيق/

إياد أحمد الغوج

 

دار الفتح

عمان - الأردن
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালিদাতার বিরুদ্ধে উন্মুক্ত তরবারি

ইমাম /

তাকীউদ্দীন আলী বিন আব্দুল কাফী আস-সুবকী আশ-শাফিঈ

ওফাত: ৭৫৬ হিজরি

 

তাহকীক/

ইয়াদ আহমাদ আল-গূজ

 

দারুল ফাতহ

আম্মান - জর্ডান
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٠٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ الإمام العلامة المجتهد المطلق، شيخ الإسلام، إمام الأئمة، لسان الأمة، حجة الله على أهل زمانه، والداعي إليه في سره وإعلانه، بقلمه ولسانه، قامع المبتدعين، بقية المجتهدين، خصم المناظرين، أحد أولياء الله الصالحين: تقي الدين أبو الحسن علي بن عبد الكافي السُبكي تغمده الله برحمته:

الحمد لله المنتصر لأوليائه، المنتقم من أعدائه، المعبود في أرضه وسمائه، المقدس بصفاته وأسمائه، المنفرد بعظمته وكبريائه، القاهر بجبروته وعلائه، الواحد الأحد الذي لا أول لأزليته ولا آخر لبقائه، الرب الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يشركه أحد في قضائه، الحي وقد حكم على كل أحد بفنائه، العالم فلا يعزب عنه مثقال ذرة في الأرض ولا في السماء في حالتي ظهوره وخفائه، القادر فكل الممكنات تحت طوعه مسخرة لأمره ودعائه، الحكيم الذي أتقن ما صنع فسبحانه من إله تحار العقول في بحار آلائه.

أحمده على ما أسبغ من نعمائه، وأسبل من عطائه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة أدخرها وأستودعه إياها ليوم لقائه.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখ, ইমাম, আল্লামা, মুজতাহিদ মুতলাক, শাইখুল ইসলাম, ইমামগণের ইমাম, উম্মতের মুখপত্র, স্বীয় যামানার অধিবাসীদের উপর আল্লাহর হুজ্জাত (দলিল), তাঁর পানে গোপনে ও প্রকাশ্যে নিজ কলম ও জবানের মাধ্যমে আহ্বানকারী, বিদআতিদের দমনকারী, মুজতাহিদগণের অবশিষ্টাংশ, তার্কিকদের প্রতিপক্ষ, আল্লাহর নেককার ওলিগণের অন্যতম: তাকিউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল কাফী আস-সুবকী (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত করুন) বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় বন্ধুদের সাহায্যকারী, শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী, নিজ যমীন ও আসমানে মা’বুদ (উপাস্য), নিজ গুণাবলী ও নামসমূহের মাধ্যমে পবিত্র, স্বীয় মহিমা ও গরিমা নিয়ে অনন্য, আপন পরাক্রম ও উচ্চতায় বিজয়ী, তিনি এক ও অদ্বিতীয় যার অনাদিয়তের কোনো শুরু নেই এবং যার স্থায়িত্বের কোনো শেষ নেই। তিনি রব ও অমুখাপেক্ষী, যিনি জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি এবং তাঁর ফয়সালায় কেউ তাঁর শরিক নেই। তিনি চিরঞ্জীব, অথচ তিনি প্রত্যেকের জন্য বিনাশের ফয়সালা করেছেন। তিনি সর্বজ্ঞানী, আসমান ও যমীনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়—তা প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। তিনি সর্বশক্তিমান, তাই সমস্ত সম্ভাব্য বিষয়সমূহ তাঁর আনুগত্যে নতিস্বীকার করে তাঁর আদেশ ও আহবানের অনুগত। তিনি মহাপ্রজ্ঞাবান যিনি তাঁর সৃষ্টিকে সুনিপুণ করেছেন; অতএব মহিমা সেই ইলাহ্-র, যাঁর নিআমতের সমুদ্রে জ্ঞানীদের বুদ্ধি দিশেহারা হয়ে পড়ে।

আমি তাঁর প্রশংসা করি তাঁর পরিপূর্ণ নিআমত ও অবারিত দানের জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা আমি সঞ্চয় করে রাখছি এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনের জন্য তাঁর নিকট আমানত রাখছি।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٠٤)
وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله خاتم أنبيائه، وصفوة رسله وأمنائه، نبي الرحمة، وشفيع الأمة، وكاشف الكرب والغمة، المخرج بإذن الله إلى النور من الظلمة، المبتعث بالهدى والحكمة، والمؤيد بما بشر به من الكفاية والعصمة.

شرف الله قدره على سائر الخلائق، وأخذ من الأنبياء على نصرته العهود والمواثق.

حبيب الله وخليله، وأمينه على وحيه ورسوله، أكرم الخلق على ربه، والموعود النصر لحزبه، لولاه ما خلقت شمس ولا قمر، ولا كان للدنيا عين ولا أثر.

الدعي إلى سبيل ربه بالحكمة والموعظة الحسنة، والواجب تعظيمه والصلاة عليه على جميع الألسنة، من وجبت نبوته وآدم بين الروح
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর নবীকুলের মোহর (সর্বশেষ নবী), তাঁর রাসূলদের মধ্যে মনোনীত এবং তাঁর আমানতদারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি দয়ার নবী, উম্মতের সুপারিশকারী এবং বিপদ ও দুশ্চিন্তা বিদূরণকারী। তিনি আল্লাহর অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নির্গমনকারী, হিদায়াত ও প্রজ্ঞা (হিকমত) সহ প্রেরিত এবং যাঁকে পর্যাপ্ততা ও সুরক্ষার সুসংবাদ দ্বারা শক্তিশালী করা হয়েছে।

আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টির ওপর তাঁর মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছেন এবং নবীদের কাছ থেকে তাঁর সাহায্যের ব্যাপারে অঙ্গীকার ও সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন।

তিনি আল্লাহর হাবীব (প্রিয়) ও তাঁর খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু), তাঁর ওহীর আমানতদার ও তাঁর রাসূল। তিনি তাঁর রবের নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং তাঁর দলের (অনুসারীদের) জন্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত। তিনি না থাকলে সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করা হতো না এবং দুনিয়ার কোনো অস্তিত্ব বা চিহ্ন থাকত না।

তিনি প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে তাঁর রবের পথের দিকে আহ্বানকারী। সকল রসনায় তাঁর সম্মান প্রদর্শন ও তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব। যাঁর নবুওয়াত অবধারিত হয়েছিল যখন আদম রুহ ও (দেহের) মাঝখানে ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٠٥)
والجسد، وكان اسمه مكتوبًا على العرش مع الفرد الصمد، ورفع الله ذكره/ فلا يذكر إلا ذكر معه، وجعل شريعته ناسخة لجميع الشرائع، فلو كان موسى وعيسى حيين لاقتدى به كل منهما وتبعه.

المنصور بالرعب مسيرة شهر، والباقي كتابه بقاء الدهر، المخصوص بالدعوة العامة وكان النبي يبعث إلى قومه، وصاحب الشفاعة العظمى حين يذهل كل أحد عن والده ووالده وأمه.
এবং দেহ; আর তাঁর নাম আরশের ওপর একক অমুখাপেক্ষী (সত্তা)-র নামের সাথে লিখিত ছিল। আল্লাহ তাঁর স্মরণকে উচ্চকিত করেছেন, ফলে যখনই তাঁর (আল্লাহর) কথা উল্লেখ করা হয়, তাঁর সাথে তাঁর (রাসূলের) নামও উল্লেখ করা হয়। তিনি তাঁর শরীয়তকে সকল শরীয়তের রহিতকারী করেছেন; যদি মূসা ও ঈসা জীবিত থাকতেন, তবে তাঁরা অবশ্যই তাঁর অনুসরণ করতেন এবং তাঁর অনুগামী হতেন।

তিনি এক মাসের পথ দূরত্ব হতে ভীতির মাধ্যমে সাহায্যপ্রাপ্ত। যাঁর কিতাব মহাকালের স্থায়িত্ব পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। তিনি বিশ্বজনীন দাওয়াতের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যেখানে ইতিপূর্বে নবীগণ কেবল নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হতেন। তিনি সেই সুমহান সুপারিশের অধিকারী, যখন প্রত্যেকেই তার সন্তান, পিতা ও মাতা হতে বিস্মৃত হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٠٦)
بيده لواء الحمد، وآدم ومن دونه تحت لوائه، وأول من تنشق عنه الأرض إذا بعث الأموات، وإمام الأنبياء وخطيبهم إذا خشعت للرحمن الأصوات.

صاحب الصدر المشروح، والإمداد بالملائكة والروح، والمعجزات الباهرة، والآيات الظاهرة، المطهر من كل دنس وعيب، والمبجل عن كل شك وريب، لم يزل نورًا يتنقل في الأصلاب والجباه، من لدن آدم إلى أبيه عبد الله، فنسبه أطهر الأنساب وأعظمها، وأرفعها عند الله والخلق وأكرمها، مبرأ من أنكحة الجاهلية الفاسدة والسفاح، محفوظًا بكلاءة الله في عقودها الصحاح، حتى طلع بدرًا منيرًا تنكست الأصنام لطلعته،
তাঁর হাতে প্রশংসার পতাকা থাকবে, এবং আদম ও তাঁর পরবর্তী সকলেই তাঁর পতাকার নিচে থাকবেন। মৃতদের পুনরুত্থানের সময় তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর কবর বিদীর্ণ হবে এবং তিনি নবীগণের ইমাম ও তাঁদের মুখপাত্র হবেন যখন রাহমানের সমীপে সকল ধ্বনি স্তব্ধ হয়ে যাবে।

তিনি প্রশস্ত বক্ষ, ফেরেশতা ও রূহ দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বিস্ময়কর মুজিজা ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীর অধিকারী। তিনি সকল প্রকার কলুষতা ও দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং সকল সন্দেহ ও সংশয় থেকে সুউচ্চ ও সম্মানিত। তিনি আদম থেকে শুরু করে তাঁর পিতা আবদুল্লাহ পর্যন্ত পবিত্র পূর্বপুরুষদের পৃষ্ঠদেশ ও ললাটে নিরন্তর নূর হিসেবে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তাঁর বংশধারা পবিত্রতম ও মহানতম এবং আল্লাহর নিকট ও সৃষ্টির মাঝে তা সর্বোচ্চ ও সর্বাধিক সম্মানিত। জাহেলি যুগের কলুষিত বিবাহ ও ব্যভিচার থেকে তিনি মুক্ত এবং আল্লাহর বিশেষ হেফাযতে সহীহ বিবাহের মাধ্যমে সংরক্ষিত ছিলেন। অবশেষে তিনি উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ হিসেবে উদিত হলেন, যাঁর আবির্ভাবে মূর্তিসমূহ মস্তক অবনত করল।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٠٧)
وأفل داعي الشرك لبعثته. وأتى كمال دائرة الوجود وقطبه، وصفوة العالم ولبه، من أنفس القبائل وهو أنفسها، وأرأس الشعوب وهو أرأسها، كاملاً في ذاته وصفاته، محفوظًا في حركاته وسكناته، معصومًا في جلواته وخلواته، مدعوًا عند قومه بالأمين، مقبلاً بقلبه وقالبه على عبادة رب العالمين.

يسلم عليه قبل مبعثه الحجر ويظلله الغمام، ويتوسم فيه كل من له علم أنه رسول الملك العلام.
তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তির ফলে শিরকের আহ্বানকারী অস্তমিত হয়েছে। অস্তিত্বের পরিমণ্ডলের পূর্ণতা ও তার কেন্দ্রবিন্দু এবং জগতের শ্রেষ্ঠ নির্যাস ও মজ্জা আগমন করেছেন। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ গোত্রসমূহ হতে এসেছেন এবং তিনি তাদের মধ্যে সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ; তিনি সর্বোন্নত জাতিসমূহ হতে এসেছেন এবং তিনি তাদের মধ্যে সর্বাধিক উন্নত। তিনি স্বীয় সত্তা ও গুণাবলিতে পূর্ণাঙ্গ, তাঁর চলন ও স্থিরতায় সুরক্ষিত, প্রকাশ্যে ও গোপনে নিষ্পাপ, স্বজাতির নিকট ‘আল-আমিন’ নামে অভিহিত এবং কায়মনোবাক্যে রব্বুল আলামীনের ইবাদতে নিবিষ্ট।

তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বেই পাথর তাঁকে সালাম প্রদান করত এবং মেঘমালা তাঁকে ছায়া দান করত। আর যাঁরই জ্ঞান ছিল, তিনি তাঁর মাঝে এই লক্ষণসমূহ প্রত্যক্ষ করতেন যে, তিনি মহাজ্ঞানী অধিপতির রাসূল।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٠٨)
إلى أن كمل الأربعين، فأتاه الروح الأمين، بالكتاب المبين، الذي هو أعظم المعجزات، بله تسبيح الحصا، ونبع الماء، وانشقاق القمر، ورد العين بعد العور، وتكثير القليل/ وإجابة الدعاء، والمعراج والإسراء، وكمال محاسنه في الخُلُقِ والخَلْق، ورأفته ورحمته بكافة الخلق، والصلاة بالأنبياء، وسيادة ولد آدم، ورد الشمس بمشاهدة العالم، وقلب الأعيان، وإبراء الأكمة في العيان، وغير ذلك من المعجزات، والآيات البينات، التي لا تعد ولا تحد، صلى الله عليه وعلى آله وأزواجه وذريته، وسلم تسليمًا كثيرًا ما دار فلك، وسبح ملك، وذر شارق وغرب، وغرد حمام وأطرب، وما دامت الدنيا والأخرة، وألبسه من تعظيمه حلله الفاخرة، وآتاه الوسيلة والفضيلة، والدرجة الرفيعة، وبعه مقامًا محمودًا، وأهدى إليه منا كل وقت سلامًا جديدًا.

চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, অতঃপর তাঁর নিকট রূহুল আমীন সুস্পষ্ট কিতাব নিয়ে আসলেন, যা সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা; তদুপরি কঙ্করের তাসবীহ পাঠ, পানির ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হওয়া, চন্দ্র দ্বিধাবিভক্ত হওয়া, নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া, অল্প বস্তুকে বৃদ্ধি করা, দুআ কবুল হওয়া, মিরাজ ও ইসরা, এবং তাঁর চরিত্র ও দৈহিক অবয়বের পূর্ণাঙ্গ সৌন্দর্য, সকল সৃষ্টির প্রতি তাঁর মমতা ও দয়া, নবীদের ইমামতি করা, বনী আদমের নেতৃত্ব, বিশ্ববাসীর প্রত্যক্ষ দর্শনে সূর্যের প্রত্যাবর্তন, বস্তুর গুণগত রূপান্তর, প্রকাশ্যে জন্মান্ধকে আরোগ্য দান এবং এছাড়া আরও অসংখ্য মুজিজা ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী যা গণনা করা বা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, পত্নীগণ ও বংশধরদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন—যতক্ষণ কক্ষপথ আবর্তিত হবে, ফেরেশতা তাসবীহ পাঠ করবে, সূর্য উদিত ও অস্তমিত হবে, এবং কবুতর কলকাকলি করবে ও মুগ্ধ করবে; আর যতক্ষণ দুনিয়া ও আখিরাত বিদ্যমান থাকবে। তিনি তাঁকে তাঁর পক্ষ হতে সুমহান মর্যাদার ভূষণে ভূষিত করুন এবং তাঁকে দান করুন ওয়াসীলা, ফযীলত ও সুউচ্চ মর্যাদা, আর তাঁকে মাকামে মাহমুদে তথা প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে সর্বদা তাঁর প্রতি নতুন নতুন সালাম পেশ করুন।

(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٠٩)
أما بعد:

فإنه لا منة علينا لأحد بعد الله كما لهذا النبي الكريم، ولا فضل لبشر سواه علينا كفضله العميم، إذ به هدانا الله إلى الصراط المستقيم، ووقانا من حر نار الجحيم.

قال تعالى: (لقد جاءكم رسول من أنفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم بالمؤمنين رءوف رحيم (128)) [التوبة: 128].

به حصلت لنا مصالح الدنيا والأخرة، وأسبغ الله علينا نعمه باطنة وظاهرة، وبصرنا بعد العمى، وهدانا بعد الضلال، وعلمنا بعد الجهل، وبه ـ إن شاء الله ـ نرجو الأمن بعد الخوف.

اختبأ لنا دعوته شفاعة لنا يوم القيامة، وسأل الله لنا ما لا تبلغه أمنيتنا من أنواع الكرامة، فكيف نقوم بشكره؟! أو نقوم من واجب حقه بمعشار عشره!

فلذلك ـ ولما له عند الله من المرتبة العلية ـ أوجب علينا تعظيمه وتوقيره ونصرته ومحبته والأدب معه، فقال تعالى: (إنا أرسلناك شاهدًا ومبشرًا ونذيرًا (8) لتؤمنوا بالله ورسوله وتعزروه وتوقروه) [الفتح: 8 - 9].

وقال تعالى: (إلا تنصروه فقد نصره الله) [التوبة: 40].

وقال تعالى:/ (النبي أولى بالمؤمنين من أنسهم) [الأحزاب: 6].

وقال تعالى: (يا أيها الذين أمنوا لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي ولا تجهروا له بالقول كجهر بعضكم لبعض أن تحبط أعمالكم وأنتم لا تشعرون (2) إن الذين
এরপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহর পরে এই মহিমান্বিত নবীর মতো আমাদের ওপর অন্য কারও কোনো অনুগ্রহ নেই এবং তাঁর ব্যাপক অনুগ্রহের মতো অন্য কোনো মানুষের অনুগ্রহ আমাদের ওপর নেই; যেহেতু তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সরল পথের দিশা দিয়েছেন এবং জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ থেকে আমাদের রক্ষা করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর জন্য পীড়াদায়ক; তিনি তোমাদের কল্যাণের আকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি অতি দয়াবান ও পরম করুণাময় (১২৮)) [তওবা: ১২৮]।

তাঁর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করেছি এবং আল্লাহ আমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দিয়েছেন। অন্ধত্বের পর তিনি আমাদের দৃষ্টি দান করেছেন, পথভ্রষ্টতার পর আমাদের হিদায়াত দিয়েছেন, অজ্ঞতার পর আমাদের জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই—আল্লাহ চাইলে—আমরা ভয়ের পরে নিরাপত্তার আশা রাখি।

তিনি কিয়ামতের দিন আমাদের জন্য সুপারিশ হিসেবে তাঁর দোয়াটি সঞ্চিত রেখেছেন এবং আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য এমন সব সম্মাননা প্রার্থনা করেছেন যা আমাদের আকাঙ্ক্ষারও অতীত। সুতরাং আমরা কীভাবে তাঁর শুকরিয়া আদায় করব?! অথবা তাঁর হকের দশমাংশের এক অংশও কীভাবে আদায় করব!

এ কারণেই—এবং আল্লাহর কাছে তাঁর যে উচ্চ মর্যাদা রয়েছে সে জন্য—আল্লাহ আমাদের ওপর তাঁকে সম্মান করা, শ্রদ্ধা করা, সাহায্য করা, ভালোবাসা এবং তাঁর সাথে শিষ্টাচার বজায় রাখা আবশ্যক করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি (৮), যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো এবং তাঁকে সাহায্য করো ও শ্রদ্ধা করো) [ফাতহ: ৮ - ৯]।

মহান আল্লাহ বলেন: (যদি তোমরা তাঁকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তো তাঁকে সাহায্য করেছেনই) [তওবা: ৪০]।

মহান আল্লাহ বলেন: (নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়) [আহযাব: ৬]।

মহান আল্লাহ বলেন: (হে ঈমানদারগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো না; যাতে তোমাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে না যায় অথচ তোমরা টেরও পাবে না (২)। নিশ্চয়ই যারা...
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١١٠)
يغضون أصواتهم عند رسول الله أولئك الذين امتحن الله قلوبهم للتقوى لهم مغفرة وأجر عظيم (3)) [الحجرات: 2 - 3].

وقال تعالى: (إن الله وملائكته يصلون على النبي يا أيها الذين أمنوا صلوا عليه وسلموا تسليمًا (56)) [الأحزاب: 56]

وقال تعالى: (وإن تظاهروا عليه فإن الله هو مولاه وجبريل وصالح المؤمنين والملائكة بعد ذلك ظهيرا (4)) [التحريم: 4].

وقال تعالى: (لقد من الله على المؤمنين إذ بعث فيهم رسولاً من أنفسهم) [آل عمران: 164].

ومن تأمل القرآن كله وجده طافحًا بتعظيم عظيم لقدر النبي صلى الله عليه وسلم.

وإن الله تعالى كما أخذ علينا لنفسه ـ مع التصديق به وبوحدانيته ـ واجبات:

في قلوبنا: من التعظيم والإجلال والمهابة والخوف والرضى والتوكل والشكر.

وفي ألسنتنا: مِنَ الثناء والذكر والحمد والقراءة.

وفي جوارحنا: من الصلاة وغيرها من الواجبات. كذلك أوجب لنبيه ـ مع التصديق به وبرسالته ـ واجبات:

في قلوبنا: من التوقير والعظيم والمحبة،

وفي ألسنتنا: من الصلاة والشهادة في الأذان والصلاة والخطبة،

وفي جوارحنا: بأن نقدمه على أنفسنا ونبذل مهجنا بين يديه، إلى غير ذلك مما أوجبه الله له، هذا زيادة على ما يجب بتبليغه من جهة الرسالة،
যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহান প্রতিদান (৩)। [আল-হুজুরাত: ২ - ৩]।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো (৫৬)) [আল-আহযাব: ৫৬]

এবং মহান আল্লাহ বলেন: (আর যদি তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে একে অপরের সাহায্যকারী হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাহায্যকারী, আর জিবরাঈল ও সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণও; তদুপরি ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী (৪)) [আত-তাহরীম: ৪]।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: (আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল পাঠিয়েছেন) [আল-ইমরান: ১৬৪]।

যে ব্যক্তি সমগ্র কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে, সে তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুউচ্চ মর্যাদার মহা সম্মানে ভরপুর দেখতে পাবে।

আর মহান আল্লাহ যেভাবে তাঁর প্রতি এবং তাঁর একত্বের প্রতি বিশ্বাসের সাথে সাথে তাঁর নিজের জন্য আমাদের ওপর কিছু ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় কর্তব্য নির্ধারণ করেছেন:

আমাদের অন্তরের ক্ষেত্রে: যেমন সম্মান, মহিমা, গাম্ভীর্য, ভয়, সন্তুষ্টি, তাওয়াক্কুল এবং শুকরিয়া।

আমাদের জিহ্বার ক্ষেত্রে: যেমন প্রশংসা, যিকির, হামদ এবং তিলাওয়াত।

এবং আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে: যেমন সালাত ও অন্যান্য ওয়াজিব ইবাদত। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর নবীর প্রতি এবং তাঁর রিসালাতের প্রতি বিশ্বাসের সাথে সাথে নবীর জন্যও কিছু ওয়াজিব নির্ধারণ করেছেন:

আমাদের অন্তরের ক্ষেত্রে: যেমন শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা,

আমাদের জিহ্বার ক্ষেত্রে: যেমন দরুদ পাঠ এবং আযান, সালাত ও খুতবার মধ্যে সাক্ষ্য প্রদান,

এবং আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে: যেমন তাঁকে আমাদের নিজেদের জীবনের ওপর প্রধান্য দেওয়া এবং তাঁর সামনে আমাদের প্রাণ উৎসর্গ করা, এছাড়া আরও অনেক কিছু যা আল্লাহ তাঁর জন্য ওয়াজিব করেছেন। এটি রিসালাত প্রচারের কারণে যে হক আবশ্যক হয়, তার অতিরিক্ত।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١١١)
فإن ذلك عام في كل رسول من حيث الرسالة، وهذا قدر زائد تعظيمًا لخصوصه زيادة على التبليغ.

وقال صلى الله عليه وسلم: "لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من ولده ووالده والناس أجمعين".

وقال عمر: يا رسول الله، أنت أحب إلي من كل أحد إلا نفسي، قال: "لا يا عمر، حتى أكون أحب إليك من نفسك"، قال: أنت أحب إلي من نفسي، قال: "فالآن".

وكذلك حرم الله سبحانه وتعالى علينا أمورًا لتعظيم/ النبي فقال تعالى: (وما كان لكم أن تؤذوا رسول الله ولا أن تنكحوا أزواجه من بعده أبدًا إن ذالكم كان عند الله عظيما (53)) [الأحزاب: 53].

وقال تعالى: (إن الذين يؤذون الله ورسوله لعنهم الله في الدنيا والأخرة وأعد لهم عذابًا مهينا (57) والذين يؤذون المؤمنين والمؤمنات بغير ما اكتسبوا فقد احتملوا بهتانًا وإثمًا مبينًا (58)) [الأحزاب: 57 - 58].

فانظر كيف غاير في الجزاء بين أذى الرسول وأذى غيره من المؤمنين، وحرم أزواجه بعده، ولم تحرم أزواج غيره من المؤمنين بعده.

وقال تعالى: (ومنهم الذين يؤذون النبي ويقولون هو أذن قل أذن خير لكم يؤمن بالله ويؤمن للمؤمنين ورحمة للذين أمنوا منكم والذين يؤذون رسول الله لهم عذاب أليم (61)) [التوبة: 61].
নিশ্চয়ই রিসালাতের দিক থেকে এটি প্রত্যেক রাসূলের ক্ষেত্রে সাধারণ বিষয়, তবে এটি তাঁর বিশেষত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য প্রচারের (তাবলিগ) অতিরিক্ত একটি বিশেষ মর্যাদা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার সন্তান, তার পিতা এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"

উমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার কাছে আমার নিজের জীবন ব্যতীত অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়। তিনি বললেন: "না হে উমর, যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।" উমর (রা.) বললেন: এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়। তিনি বললেন: "হে উমর, এখন (তোমার ঈমান পূর্ণ হলো)।"

অনুরূপভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নবীর সম্মানে আমাদের ওপর কিছু বিষয় হারাম করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: (আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীদের বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনও সংগত নয়। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর নিকট গুরুতর বিষয়) [আল-আহযাব: ৫৩]।

মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি দুনিয়া ও আখিরাতে লানত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাকর শাস্তি। আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করল) [আল-আহযাব: ৫৭ - ৫৮]।

সুতরাং লক্ষ্য করুন, রাসূলকে কষ্ট দেওয়া এবং অন্য মুমিনদের কষ্ট দেওয়ার পরিণামের মধ্যে তিনি কীভাবে পার্থক্য করেছেন; এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীদের বিবাহ করা হারাম করেছেন, অথচ অন্য কোনো মুমিনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদের হারাম করা হয়নি।

মহান আল্লাহ বলেন: (তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, 'তিনি তো কেবল কান (সবার কথাই শোনেন)'। আপনি বলুন, 'তিনি তোমাদের জন্য কল্যাণের কান; তিনি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেন এবং মুমিনদের বিশ্বাস করেন এবং তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য তিনি রহমত স্বরূপ। আর যারা আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি') [আত-তাওবা: ৬১]।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١١٢)
وقال تعالى: (إن ذالكم كان يؤذي النبي فيستحي منكم والله لا يستحي من الحق) [الأحزاب: 53].

وحرم سبحانه وتعالى التقدم بين يدي الله ورسوله، فلا يحل لأحد أن يتقدم بقوله على النبي صلى الله عليه.

وحرم التخلف عنه، فقال: (ما كان لأهل المدينة ومن حولهم من الأعراب أن يتخلفوا عن رسول الله ولا يرغبوا بأنفسهم عن نفسه) [التوبة: 120].

وحرم نداءه من وراء الحجرات، ونسب من يفعل ذلك إلى عدم العقل.

ولا سبيل إلى أن نستوعب هاهنا الآيات الدالة على ذلك وما فيها من التصريح والإشارة إلى علو قدر النبي صلى الله عليه وسلم ومرتبته، ووجوب المبالغة في حفظ الأدب معه، وكذلك الآيات التي فيها ثناء الله تعالى عليه وقسمه بحياته، ونداؤه بالرسول والنبي ولم يناده باسمه بخلاف غيره من الأنبياء ناداهم بأسمائهم، إلى غير ذلك مما يشير إلى إنافة قدرة العلي عنده، وأنه لا مجد يساوي مجده.

فكان تعظيمنا له وبذلنا النفوس والمهج بين يديه، وتوقيرنا إياه ونصرتنا له: عبادة واجبة علينا لامتثال/ أمر الله تعالى ونفوسنا منقادة إليه لما له علينا من الإحسان، والقلوب مجبولة على حب من أحسن إليها، والمحبة بالقلب، والنصرة باليد واللسان، فإذا عجزت اليد فلا أقل من اللسان.
মহান আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয় তোমাদের এই আচরণ নবীকে কষ্ট দিচ্ছিল, ফলে তিনি তোমাদের থেকে লজ্জা পাচ্ছিলেন; অথচ আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা পান না” [আল-আহজাব: ৫৩]।

তিনি পবিত্র ও সুমহান, তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আগে অগ্রসর হওয়া হারাম করেছেন। সুতরাং কারো জন্য বৈধ নয় যে, সে নবীর (আল্লাহর সালাত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) কথার ওপর নিজের কথাকে প্রাধান্য দেবে।

এবং তাঁর থেকে পেছনে পড়ে থাকাও হারাম করেছেন। তিনি বলেন: “মদিনাবাসী এবং তাদের আশপাশের মরুবাসীদের জন্য সঙ্গত নয় যে তারা আল্লাহর রাসূলের পেছনে পড়ে থাকবে এবং তাঁর জীবনের চেয়ে নিজেদের জীবনকে অধিক প্রিয় মনে করবে” [আত-তাওবাহ: ১২০]।

আর কক্ষসমূহের পেছন থেকে তাঁকে ডাকা হারাম করেছেন এবং যারা এমনটা করে তাদের নির্বুদ্ধিতার সাথে অভিহিত করেছেন।

এখানে সেই সকল আয়াতকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয় যা এর ওপর প্রমাণ বহন করে এবং যাতে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এর মর্যাদা ও মর্তবার উচ্চতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা ও ইঙ্গিত রয়েছে, এবং তাঁর সাথে শিষ্টাচার রক্ষায় চূড়ান্ত পর্যায়ের গুরুত্ব প্রদানের আবশ্যকতা ব্যক্ত হয়েছে। একইভাবে সেই সব আয়াত যাতে মহান আল্লাহ তাঁর প্রশংসা করেছেন, তাঁর জীবনের শপথ করেছেন, তাঁকে রাসূল ও নবী বলে সম্বোধন করেছেন—অথচ অন্যান্য নবীদের তিনি নাম ধরে ডেকেছেন—এ ছাড়া আরও যা কিছু মহান আল্লাহর কাছে তাঁর মর্যাদার আধিক্যের প্রতি নির্দেশ করে এবং এটি প্রকাশ করে যে, কোনো গৌরবই তাঁর গৌরবের সমান নয়।

সুতরাং তাঁর প্রতি আমাদের সম্মান প্রদর্শন, তাঁর সম্মুখে আমাদের জান ও প্রাণ উৎসর্গ করা এবং তাঁকে শ্রদ্ধা ও সাহায্য করা আমাদের ওপর একটি ওয়াজিব ইবাদত, যাতে আমরা মহান আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য করতে পারি। আর আমাদের অন্তর তাঁর প্রতি অনুগত, কারণ আমাদের প্রতি তাঁর অসীম ইহসান রয়েছে। আর অন্তরসমূহ স্বভাবগতভাবেই তাকে ভালোবাসে যে তাদের প্রতি ইহসান করে। ভালোবাসা হলো অন্তরের কাজ, আর সাহায্য করা হলো হাত ও জিহবার মাধ্যমে। সুতরাং যদি হাত অপারগ হয়, তবে অন্তত জিহবার মাধ্যমে সাহায্য করা কাম্য।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١١٣)
وهذا تصنيف سميته:

السيف المسلول على من سب الرسول

وكان الداعي إليه أن فتيا رفعت إلي في نصراني سب ولم يُسلم، فكتبت عليها: يقتل النصراني المذكور كما قتل النبي صلى الله عليه وسلم كعب بن الأشرف، ويطهر الجناب الرفيع من ولغ هذا الكلب:

لا يسلم الشرف الرفيع من الأذى … حتى يراق على جوانبه الدم

وكتب معي جماعة من الشافعية والمالكية، فأنكر ذلك بعض الناس محتجًا بقول الرافعي وغيره من الأصحاب: إن في انتقاض عهده بذلك خلافًا، وظن أنه إذا لم ينتقض عهده لا يُقتل، وتعجب من استدلالي بقصة كعب بن الأشرف، وقال: هذه واقعة عين لا يستدل بها لاحتمال أنه قتله بغير السب، وربما زعم بعض المجادلين في ذلك أن كعب بن الأشرف كان حربيًا.

وإني لأتعجب من المجادلة في ذلك ممن له أدنى إلمام بالسير أو أنس بالفقه! وأتعجب من شافعي عجبًا آخر وإمامه قد قال ما قلته واحتج
এটি এমন একটি সংকলন যার নাম আমি রেখেছি:

রাসূলকে গালি প্রদানকারীর বিরুদ্ধে উন্মুক্ত তরবারি

এর কারণ ছিল এই যে, একজন খ্রিস্টান সম্পর্কে আমার কাছে একটি ফতোয়া চাওয়া হয়েছিল যে গালি দিয়েছিল অথচ ইসলাম গ্রহণ করেনি। তখন আমি তার ওপর লিখেছিলাম: উক্ত খ্রিস্টানকে হত্যা করা হবে যেমনভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাব বিন আশরাফকে হত্যা করেছিলেন এবং এই কুকুরের লালা থেকে সেই সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ সত্তাকে পবিত্র করা হবে:

উচ্চ মর্যাদা কষ্ট ও আঘাত থেকে রেহাই পায় না … যতক্ষণ না তার চারপার্শ্বে রক্ত প্রবাহিত হয়

আমার সাথে শাফিঈ ও মালিকি মাযহাবের একদল আলিমও একমত পোষণ করে লিখেছিলেন। কিন্তু কিছু লোক রাফিঈ এবং তাঁর অন্যান্য অনুসারীদের উক্তিকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করে এর বিরোধিতা করেন যে, এই কাজের মাধ্যমে তার জিম্মি চুক্তি ভঙ্গ হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তারা মনে করেছিলেন যে, যদি তার চুক্তি ভঙ্গ না হয় তবে তাকে হত্যা করা যাবে না। কাব বিন আশরাফের কাহিনী থেকে আমার দলিল পেশ করা দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন: এটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনা যা থেকে সাধারণ দলিল গ্রহণ করা যায় না, কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি তাকে গালি ছাড়া অন্য কোনো কারণে হত্যা করেছিলেন। সম্ভবত কিছু তর্কপ্রিয় ব্যক্তি এ দাবিও করেছেন যে কাব বিন আশরাফ একজন হারবি ছিলেন।

যাদের সীরাত সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান বা ফিকহ শাস্ত্রের সাথে সামান্যতম পরিচয় আছে, তাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এমন তর্কে লিপ্ত হওয়া দেখে আমি বিস্মিত হই! আর একজন শাফিঈ অনুসারীর ব্যাপারে আমি আরও বেশি বিস্মিত হই, কারণ স্বয়ং তাঁর ইমাম সেই কথাই বলেছেন যা আমি বলেছি এবং তিনি দলিল পেশ করেছেন...
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١١٤)
بما احتججت به من خبر كعب بن الأشرف، وكذلك الأكابر من أصحاب مذهبه، ولم يصرح أحد منهم بخلاف ذلك، وقال الغزالي: إن المذهب أنه لا تقبل توبته، فلا وجه لإنكار ذلك إلا المجادلة بالباطل.

وحق علي وعلى غيري من أهل العلم القيام في ذلك وتبيين الحق فيه، فإن فيه نصره للنبي صلى الله عليه وسلم، والله تعالى يقول: (وليعلم الله من ينصره ورسله بالغيب إن الله قوي عزيز (25)) [الحديد: 25].

وليس لي قدرة أن أنتقم بيدي من هذا الساب المعلون، والله يعلم أن قلبي كاره/ منكر، ولكن لا يكفي الإنكار بالقلب هاهنا، فأجاهد بما أقدر عليه من اللسان والقلم، وأسأل الله عدم المؤاخذة بما تقصر يدي عنه، وأن ينجيني كما أنجي الذي ينهون عن السوء، إنه عفو غفور.
আপনি কাব বিন আশরাফের যে সংবাদ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, এবং তাঁর মাযহাবের বড় আলেমগণও তাই করেছেন, তাঁদের কেউই এর বিপরীতে কিছু স্পষ্ট করেননি। ইমাম গাযালী বলেছেন: মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো তার তাওবা কবুল করা হবে না। তাই বাতিল বিতণ্ডা ছাড়া এটি অস্বীকার করার কোনো পথ নেই।

আমার এবং অন্যান্য আলেমদের জন্য এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া এবং সত্যকে স্পষ্ট করা আবশ্যক। কারণ এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহায্য রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন যে, কে না দেখেও তাঁকে ও তাঁর রাসূলগণকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী (২৫))। [হাদীদ: ২৫]

এই অভিশপ্ত গালমন্দকারীর থেকে হাত দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। আল্লাহ জানেন যে আমার অন্তর একে ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যান করে। তবে এক্ষেত্রে কেবল অন্তরে ঘৃণা করাই যথেষ্ট নয়, তাই আমি জিহ্বা ও কলম দিয়ে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী জিহাদ করছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন আমার হাত যা করতে অক্ষম, সে জন্য তিনি আমাকে পাকড়াও না করেন এবং আমাকে যেন সেভাবে মুক্তি দেন যেভাবে তিনি মন্দ কাজে বাধা প্রদানকারীদের মুক্তি দিয়েছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١١٥)
ورتبت هذا الكتاب على أبواب أربعة:

الأول: في حكم الساب من المسلمين.

الثاني: في حكم الساب من أهل الذمة وسائر الكفار.

الثالث: في بيان ما هو سب.

الرابع: في شيء من شرف المصطفى صلى الله عليه وسلم نختم به الكتاب؛ ليكون خاتمه مسكا.

والله تعالى أسأل أن ينفع به وأن يجعله خالصًا لوجهه، وأن يسدد أقوالنا وأفعالنا ونياتنا، ويجمع لنا ولآبائنا وأمهاتنا وأولادنا وأهلينا خير الدنيا وخير الآخرة، ويصرف عنا شر الدنيا وشر الآخرة، ويحشرنا في زمرة هذا النبي الكريم، بفضله ومنه الجسيم؛ إنه هو الغفور الرحيم.
এবং আমি এই কিতাবটিকে চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম: মুসলমানদের মধ্য থেকে গালমন্দকারীর বিধান প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়: জিম্মি ও অন্যান্য কাফেরদের মধ্য থেকে গালমন্দকারীর বিধান প্রসঙ্গে।

তৃতীয়: গালি বলতে কী বোঝায়, তার বর্ণনায়।

চতুর্থ: মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার কিছু বিবরণে, যার মাধ্যমে আমরা কিতাবটি সমাপ্ত করব; যাতে এর সমাপ্তি সুগন্ধিময় হয়।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকৃত করেন এবং একে কেবল তাঁর চেহারার জন্য একান্তভাবে সাব্যস্ত করেন, এবং আমাদের কথা, কাজ ও নিয়তকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, আর আমাদের জন্য এবং আমাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজনের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ একত্রিত করেন, এবং আমাদের থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের অনিষ্ট দূর করেন, এবং তাঁর অনুগ্রহ ও বিশাল দানে আমাদের এই সম্মানিত নবীর দলের অন্তর্ভুক্ত করে হাশরে সমবেত করেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١١٧)
‌‌الباب الأول: في حكم الساب من المسلمين

وفيه فصلان:

أحدهما: في وجوب قتله إذا لم يتب.

والثاني: في توبته واستتابته.
প্রথম অধ্যায়: মুসলিমদের মধ্য থেকে গালিদাতার বিধান প্রসঙ্গে

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথমটি: যদি সে তওবা না করে তবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়টি: তার তওবা এবং তার নিকট তওবা প্রার্থনা করা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١١٩)
‌‌الفصل الأول: في وجوب قتله

وذلك مجمع عليه، والكلام في مسألتين، إحداهما: في نقل كلام العلماء في ذلك ودليله، والثانية: في أنه: يُقتل كفرًا أو حدًا مع الكفر؟

 

‌‌المسألة الأولى: في نقل كلام العلماء ودليله

أما النقل: فقال القاضي عياض: "أجمعت الأمة على قتل متنقصه من المسلمين وسابه".

وقال أبو بكر بن المنذر: "أجمع عوام أهل العلم على أن على من سب النبي صلى الله عليه وسلم القتل. وممن قال ذلك مالك بن/ أنس، والليث، وأحمد،
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাকে হত্যা করার আবশ্যকতা প্রসঙ্গে

এটি একটি সর্বসম্মত বিষয়, এবং এ বিষয়ে আলোচনা দুটি মাসআলায় বিভক্ত, প্রথমটি: এ ব্যাপারে আলেমদের বক্তব্য এবং এর দলীল উদ্ধৃত করা প্রসঙ্গে, এবং দ্বিতীয়টি: তাকে কি কুফরির কারণে হত্যা করা হবে নাকি কুফরির পাশাপাশি হদ (শাস্তি) হিসেবে?

 

প্রথম মাসআলা: আলেমদের বক্তব্য এবং এর দলীল উদ্ধৃত করা প্রসঙ্গে

উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে: কাযী ইয়ায বলেছেন: "মুসলমানদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা করবে এবং তাঁকে গালি দেবে, তাকে হত্যা করার ব্যাপারে উম্মত ঐকমত্য পোষণ করেছে।"

আবু বকর ইবনুল মুনযির বলেছেন: "সাধারণ আলেম সমাজ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেবে তাকে হত্যা করা আবশ্যক। যাঁরা এই মত পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মালেক ইবনে আনাস, লাইস, আহমাদ,"
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢٠)
وإسحاق، وهو مذهب الشافعي".

قال عياض: "وبمثله قال أبو حنيفة وأصحابه، والثوري وأهل الكوفة، والأوزاعي، في المسلم".

وقال محمد بن سحنون: "أجمع العلماء أن شاتم النبي عليه السلام المتنقص له كافر، والوعيد جار عليه بعذاب الله، وحكمه عند الأمة القتل، ومن شك في كفره وعذابه كفر".
এবং ইসহাক; আর এটিই শাফিঈর মাযহাব।"

ইয়ায বলেন: "অনুরূপ কথা আবু হানিফা ও তাঁর সাথীবৃন্দ, সাওরি, কুফাবাসীগণ এবং আওযায়ি মুসলিম ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন।"

এবং মুহাম্মদ ইবনে সাহনুন বলেন: "ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নবী আলাইহিস সালামকে গালিদানকারী এবং তাঁর অবমাননাকারী কাফির; তার ওপর আল্লাহর আযাবের হুমকি অবধারিত। আর উম্মতের নিকট তার বিধান হলো মৃত্যুদণ্ড। যে ব্যক্তি তার কুফরি এবং শাস্তির ব্যাপারে সন্দেহ করবে, সে-ও কাফির হবে।"
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢١)
وقال أبو سليمان الخطابي: "لا أعلم أحدًا من المسلمين اختلف في وجوب قتله إذا كان مسلمًا".

وعن إسحاق بن راهويه أحد الأئمة الأعلام قال: "أجمع المسلمون أن من سبَّ الله أو سبَّ رسوله صلى الله عليه وسلم أو دفع شيئًا مما أنزل الله أو قتل نبيًا من أنبياء الله عز وجل أنه كافر بذلك وإن كان مقرًا بكل ما أنزل الله".

وهذه نقول معتضدة بدليلها، وهو الإجماع، ولا عبرة بما أشار إليه ابن حزم الظاهري من الخلاف في تكفير المستخف به، فإنه شيء لا يعرف
আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি বলেছেন: "আমি মুসলিমদের মধ্যে এমন কাউকে জানি না যিনি তাকে হত্যা করার আবশ্যকতা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন, যদি সে মুসলিম হয়ে থাকে।"

বরেণ্য ইমামগণের অন্যতম ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মুসলিমগণ এই বিষয়ে ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে গালি দেয় বা তাঁর রাসূলকে (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) গালি দেয়, অথবা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার কোনো কিছুকে প্রত্যাখ্যান করে, অথবা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নবীদের মধ্য থেকে কোনো নবীকে হত্যা করে—সে ব্যক্তি এর দ্বারা কাফির হয়ে যায়, যদিও সে আল্লাহর নাযিলকৃত সমস্ত বিষয়ের প্রতি স্বীকৃতি প্রদানকারী হয়ে থাকে।"

আর এই উদ্ধৃতিসমূহ তাদের নিজস্ব দলীল অর্থাৎ ইজমা (ঐক্যমত্য) দ্বারা সমর্থিত। ইবনে হাজম আল-জাহিরি অবজ্ঞাকারীকে কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়ে যে মতভেদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা ধর্তব্য নয়; কারণ এটি এমন এক বিষয় যা (বিদ্বানদের নিকট) পরিচিত নয়।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢٢)
لأحد من العلماء، ومن استقرأ سير الصحابة تحقق إجماعهم على ذلك، فإنه نقل عنهم في قضايا مختلفة منتشرة يستفيض مثلها، ولم ينكره أحد.

روى أبو داود والنسائي عن أبي برزة قال: كنت عند أبي بكر رضي الله عنه، فتغيظ على رجل ـ وفي رواية: من أصحابه ـ فاشتد عليه، فقلت: تأذن لي يا خليفة رسول الله أضرب عنقه؟ قال: فأذهبت كلمتي غضبه، فقام فدخل، فأرسل إلىَّ فقال: ما الذي قلت آنفًا؟ قلت: ائذن لي أضرب عنقه. [فقال:] أكنت فاعلاً لو أمرتك؟ قلت: نعم، قال: لا والله، ما كانت لبشرٍ بعد محمد صلى الله عليه وسلم.
কোনো আলেম বা জ্ঞানীর জন্য; আর যে ব্যক্তি সাহাবীদের জীবনীর অনুসন্ধান করবে, সে এ বিষয়ে তাদের ঐকমত্যের বিষয়ে নিশ্চিত হবে। কেননা এটি তাদের থেকে বিভিন্ন বিস্তৃত ও প্রসিদ্ধ বিষয়ের মতো বর্ণিত হয়েছে এবং কেউ তা অস্বীকার করেনি।

আবু দাউদ ও নাসায়ী আবু বারযাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর নিকটে ছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি এক ব্যক্তির প্রতি—অন্য বর্ণনায়: তাঁর সঙ্গীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির প্রতি—অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং তার প্রতি কঠোর হলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা, আপনি কি আমাকে অনুমতি দেবেন আমি তার ঘাড় উড়িয়ে দিই? বর্ণনাকারী বলেন: আমার এই কথাটি তাঁর রাগকে দূর করে দিল। অতঃপর তিনি উঠে ভেতরে প্রবেশ করলেন। এরপর তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: তুমি একটু আগে কী বলেছিলে? আমি বললাম: আমাকে অনুমতি দিন আমি তার ঘাড় উড়িয়ে দিই। [অতঃপর তিনি বললেন:] আমি তোমাকে আদেশ করলে কি তুমি তা করতে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর পরে আর কোনো মানুষের জন্য এটি বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢٣)
فهذا الكلام من أبي بكر رضي الله عنه يدل على أن النبي صلى الله عليه وسلم له أن يقتل من تغيظ عليه، بخلاف غيره من البشر، ولا شك أن سبه يغيظه.

وروى سيف وغيره أن المهاجر بن أبي أمية ـ وكان أميرًا على اليمامة أو نواحيها ـ رفعت إليه امرأتان غنت إحداهما باسم النبي صلى الله عليه وسلم فقطع يدها ونزع ثناياها، وغنت الأخرى بهجاء المسلمين فقطع يدها ونزع ثنيتها/، فكتب إليه أبو بكر: بلغني الذي سرت به في المرأة التي تغنت وزمرت باسم النبي صلى الله عليه وسلم، فلولا ما قد سبقتني فيها لأمرتك بقلتها، لأن حد الأنبياء ليس يشبه الحدود، فمن تعاطى ذلك من مسلم فهو مرتد، أو معاهد فهو محارب غادر.
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এই বক্তব্য একথার প্রমাণ বহন করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই ব্যক্তিকে হত্যা করার অধিকার রয়েছে যে তাঁকে রাগান্বিত করে, যা অন্য সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁকে গালি দেওয়া তাঁকে রাগান্বিত করে।

সাইফ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, মুহাজির বিন আবি উমাইয়্যাহ—যিনি ইয়ামামা বা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আমির ছিলেন—তাঁর নিকট দুজন নারীকে আনা হয়েছিল। তাদের একজন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম নিয়ে গান গেয়েছিল, ফলে তিনি তার হাত কেটে দেন এবং তার সামনের দাঁত উপড়ে ফেলেন। আর অন্যজন মুসলিমদের নিন্দা করে গান গেয়েছিল, ফলে তিনি তার হাত কেটে দেন এবং তার সামনের একটি দাঁত উপড়ে ফেলেন। অতঃপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নিকট লিখে পাঠালেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম নিয়ে গান গাওয়া ও বাদ্য বাজানো নারীর ক্ষেত্রে তোমার নেওয়া পদক্ষেপের সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেছে। তুমি যদি তার ব্যাপারে আমার আগে সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করতে, তবে আমি তোমাকে তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিতাম। কেননা নবীদের অবমাননার বিধান অন্য সাধারণ দণ্ডবিধির মতো নয়। সুতরাং কোনো মুসলিম যদি এমন আচরণ করে তবে সে মুরতাদ, আর কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম যদি তা করে তবে সে বিশ্বাসঘাতক যুদ্ধকামী হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢٤)
فإن قيل: لِمَ لا كتب إليه أبو بكر بقتلها؟ قلنا: لعلها أسلمت، أو لأن المهاجر حدها باجتهاده فلم ير أبو بكر أن يجمع بين حدين.

وعن عمر رضي الله عنه أنه أتى برجل سب النبي صلى الله عليه وسلم فقلته، ثم قال عمر: من سب الله أو سب أحدًا من الأنبياء فقاتلوه.

وعن ابن عباس قال: أيما مسلم سب الله أو سب أحدًا من الأنبياء فقد كذب برسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي ردة، يستتاب فإن رجع وإلا قتل، وأيما معاهد عاند فسب الله أو سب أحدًا من الأنبياء أو جهر به فقد نقض العهد فاقتلوه.

وعن خليد أن رجلاً سب عمر بن عبد العزيز فكتب عمر: أنه لا يقتل إلا من سب رسول الله صلى الله عليه وسلم.
যদি বলা হয়: কেন আবু বকর তাকে হত্যার নির্দেশ লিখে পাঠাননি? আমরা বলব: সম্ভবত সে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, অথবা মুহাজির নিজ ইজতিহাদ অনুযায়ী তাকে দণ্ড প্রদান করেছিলেন, তাই আবু বকর দুটি দণ্ডকে একত্রিত করা সমীচীন মনে করেননি।

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গালি দিয়েছিল, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন। অতঃপর উমর বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে গালি দেয় অথবা নবীদের মধ্য থেকে কাউকে গালি দেয়, তোমরা তাকে হত্যা করো।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে কোনো মুসলিম যদি আল্লাহকে গালি দেয় অথবা নবীদের মধ্য থেকে কাউকে গালি দেয়, তবে সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং এটি ধর্মত্যাগ (মুরতাদ হওয়া)। তার নিকট তওবা তলব করা হবে; যদি সে ফিরে আসে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। আর যদি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম হঠকারিতাবশত আল্লাহকে গালি দেয় অথবা নবীদের কাউকে গালি দেয় অথবা তা প্রকাশ্যভাবে করে, তবে সে চুক্তি ভঙ্গ করল, সুতরাং তোমরা তাকে হত্যা করো।

খুলাইদ থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে গালি দিয়েছিল, তখন উমর লিখে পাঠালেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গালিদানকারী ব্যতীত অন্য কাউকে হত্যা করা হবে না।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢٥)
والإكثار من ذلك لا حاجة إليه مع العلم بقيام الإجماع عليه.

وهكذا ورد عن الشافعي رضي الله عنه أنه سئل عمن هزل بشيء من آيات الله تعالى، فقال: هو كافر، واستدل بقوله تعالى: (قل أبالله وآياته ورسوله كنتم تستهزءون (65) لا تعتذروا قد كفرتم بعد إيمانكم) [التوبة: 56 ـ 66].

ونقل القاضي عياض عن إبراهيم بن حسين بن خالد الفقيه أنه احتج بقتل خالد بن الوليد بن نويرة لقوله عن النبي صلى الله عليه وسلم: صاحبكم.
এ ব্যাপারে অধিক উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, যেহেতু এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি জানা রয়েছে।

অনুরূপভাবে ইমাম শাফেঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে মহান আল্লাহর কোনো আয়াত নিয়ে উপহাস করে। তিনি বললেন: সে কাফির। এবং তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলীল পেশ করেন: (বলুন, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে? তোমরা ওজর পেশ করো না; তোমরা তোমাদের ঈমান আনার পর কুফরি করেছ।) [আত-তাওবাহ: ৬৫-৬৬]।

আর কাযী ইয়ায ফকীহ ইবরাহীম বিন হুসাইন বিন খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদ কর্তৃক ইবনে নুওয়াইরাকে হত্যা করার সপক্ষে দলীল পেশ করেছেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে তার এই উক্তির কারণে: "তোমাদের সাথী"।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢٦)
قال: وقال ابن القاسم عن مالك ـ في "كتاب ابن سحنون"، و"المبسوط"، و"العتبية"، وحكاه مطرف عن مالك في كتاب ابن حبيب ـ: من سب النبي صلى الله عليه وسلم قتل ولم يستتب. وقال ابن القاسم في
তিনি বলেন: এবং ইবনে কাসিম ইমাম মালিক থেকে—‘কিতাব ইবনে সাহনুন’, ‘আল-মাবসুত’ এবং ‘আল-উতবিয়্যাহ’ গ্রন্থে, এবং মুতাররিফ ইমাম মালিক থেকে ‘কিতাব ইবনে হাবিব’-এ বর্ণনা করেছেন—যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেবে তাকে হত্যা করা হবে এবং তার নিকট তাওবা চাওয়া হবে না। এবং ইবনে কাসিম বলেন...
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢٧)
"العُتبية": أو شتمه أو عابه أو تنقصه فإنه يقتل، وحكمه عند الأمة القتل كالزنديق. وفي "المبسوط": عن عثمان بن كنانة: من شتم النبي صلى الله عليه وسلم من المسلمين قتل أو صلب حيًا/ ولم يستتب، والإمام مخير في صلبه حيًا أو قتله. ومن رواية أبي مصعب وابن أبي أويس: سمعنا مالكًا يقول: منسب رسول الله صلى الله عليه وسلم أو شتمه أو عابه أو تنقصه قتل مسلمًا كان أو كافرًا ولا يستتاب. وفي "كتاب محمد": أخبرنا أصحاب مالك أنه قال: من سب النبي صلى الله عليه وسلم أو غيره من النبيين من مسلم أو كافر قتل ولم يستتب. وقال

"আল-উতবিয়া": অথবা যে তাকে গালি দিল বা তার দোষ অন্বেষণ করল কিংবা তাকে তুচ্ছজ্ঞান করল, তবে তাকে হত্যা করা হবে। উম্মাহর নিকট তার বিধান হলো জিন্দিকের ন্যায় তাকে হত্যা করা। "আল-মাবসুত"-এ উসমান ইবনে কিনানা থেকে বর্ণিত: মুসলমানদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিবে, তাকে হত্যা করা হবে অথবা জীবন্ত শূলে চড়ানো হবে এবং তার তাওবা তলব করা হবে না। ইমাম তাকে জীবন্ত শূলে চড়ানো বা হত্যা করার ব্যাপারে পূর্ণ এখতিয়ারপ্রাপ্ত। আবু মুসআব এবং ইবনে আবি উয়াইসের বর্ণনায় রয়েছে: আমরা মালিককে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিবে, অবমাননা করবে, তার ত্রুটি বর্ণনা করবে কিংবা তাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে, তাকে হত্যা করা হবে—সে মুসলিম হোক বা কাফির, এবং তার নিকট থেকে তাওবা চাওয়া হবে না। "কিতাব মুহাম্মদ"-এ মালিকের ছাত্ররা আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা অন্য কোনো নবীকে গালি দিবে—সে মুসলিম হোক বা কাফির—তাকে হত্যা করা হবে এবং তার তাওবা তলব করা হবে না। আর তিনি বলেছেন...

(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢٨)
أصبغ: يقتل على حال أسر ذلك أو أظهره، ولا يستتاب، لأن توبته لا تعرف. وقال عبد الله بن عبد الحكم: من سب النبي صلى الله عليه وسلم من مسلم أو كافر قتل ولم يستتب. وحكى الطبري مثله عن أشهب عن مالك. وروى ابن وهب عن مالك: من قال: إن رداء النبي صلى الله عليه وسلم ويروى: زر النبي صلى الله عليه وسلم وسخ، أراد به عيبه، قتل.

قال القاضي عياض: وقال بعض علمائنا: أجمع العلماء على أن من دعا على نبي من الأنبياء بالويل أو بشيء من المكروه أنه يقتل بلا استتابة، وأفتى أبو الحسن القابسي فيمن قال في النبي صلى الله عليه وسلم، يتيم أبي طالب،
আসবাগ বলেছেন: তাকে হত্যা করা হবে, সে তা গোপনে করুক বা প্রকাশ্যেই করুক, এবং তার নিকট তওবা চাওয়া হবে না, কারণ তার তওবা (সত্যতা) নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম বলেছেন: মুসলিম হোক বা কাফির, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিবে, তাকে হত্যা করা হবে এবং তার নিকট তওবা চাওয়া হবে না। তাবারী আশহাবের সূত্রে ইমাম মালিক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে ওয়াহাব ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি বলবে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাদর—অন্য বর্ণনায় এসেছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (পোশাকের) বোতাম—ময়লা ছিল, এবং এর মাধ্যমে সে তাঁর দোষ অন্বেষণ করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে তাকে হত্যা করা হবে।

কাযী আয়ায বলেছেন: আমাদের কিছু আলেম বলেছেন: ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো নবীর জন্য ধ্বংস বা অপ্রীতিকর কোনো কিছুর প্রার্থনা করবে, তাকে তওবা চাওয়া ছাড়াই হত্যা করা হবে। এবং আবুল হাসান আল-কাবেসী সেই ব্যক্তি সম্পর্কে ফতোয়া দিয়েছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেছে যে তিনি 'আবু তালিবের ইয়াতীম',
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٢٩)
بالقتل. وأفتى فقهاء الأندلس بقتل [ابن] حاتم المتفقه الطليطلي وصلبه باستخفافه بحق النبي صلى الله عليه وسلم وتسميته إياه أثناء مناظرته باليتيم، وزعمه أن زهده لم يكن قصدًا، ولو قدر على الطيبات أكلها.

وقال حبيب بن ربيع القروي: مذهب مالك وأصحابه أن من قال فيه عليه السلام ما فيه نقص قتل دون استتابة.

وقال ابن عتاب: الكتاب والسنة موجبان أن من قصد النبي صلى الله عليه وسلم بأذى أو نقص معرضًا أو مصرحًا وإن قل فقلته واجب.

قال القاضي عياض: وكذلك أقول حكم من غمصه أو عيره برعاية الغنم أو السهو أو النسيان أو السحر، أو ما أصابه من جرح أو أصاب
...মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে। আন্দালুসের ফকিহগণ তোলেদোর ফকিহ [ইবনে] হাতিমকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের এবং তাকে শূলে চড়ানোর ফতোয়া দিয়েছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করার কারণে। তিনি বিতর্কের সময় নবীকে ‘এতিম’ বলে সম্বোধন করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে তাঁর দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ) উদ্দেশ্যমূলক ছিল না, বরং যদি তিনি উত্তম বস্তুসমূহ লাভে সক্ষম হতেন তবে তা আহার করতেন।

হাবিব ইবনে রবি আল-কায়রাওয়ানি বলেন: ইমাম মালিক এবং তাঁর অনুসারীদের মাজহাব হলো, যে ব্যক্তি নবী আলাইহিস সালাম সম্পর্কে এমন কোনো কথা বলবে যাতে তাঁর মর্যাদাহানি হয়, তাকে তওবা তলব করা ছাড়াই হত্যা করা হবে।

ইবনে আত্তাব বলেন: কুরআন এবং সুন্নাহ এটি আবশ্যক করে যে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার বা তাঁর প্রতি কোনো দোষারোপ করার ইচ্ছা পোষণ করবে—সেটি ইঙ্গিতে হোক কিংবা স্পষ্টভাবে, এবং তার পরিমাণ যত সামান্যই হোক না কেন—তাকে হত্যা করা ওয়াজিব।

কাজী আইয়াজ বলেন: অনুরূপভাবে আমি বলি, যে ব্যক্তি তাঁকে অবজ্ঞা করবে অথবা ছাগল চরানো, ভুল করা, বিস্মৃতি বা জাদুর শিকার হওয়া, কিংবা তাঁর ওপর আপতিত হওয়া কোনো ক্ষত বা যা কিছু আপতিত হয়েছে সে কারণে তাচ্ছিল্য করবে, তার বিধানও একই।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٣٠)
بعض جيوشه، أو شدة من زمنه أو عدوه، أو بالميل إلى نسائه، فحكم هذا كله لمن قصد به: القتل./

وقال أحمد بن حنبل في رواية عبد الله: من شتم النبي قُتل، وذلك أنه شتم فقد ارتد عن الإسلام، ولا يشتم مسلم النبي صلى الله عليه وسلم.

وقال في رواية حنبل: كل من شتم النبي صلى الله عليه وسلم أو تنقصه مسلمًا كان أو كافرًا فعليه القتل، وأرى أن يُقتل ولا يستتاب.

وقال في رواية أخرى: من شتم النبي صلى الله عليه وسلم مسلمًا كان أو كافرًا يُقتل.

وقال عبد الله بن أحمد: سألت أبي عمن شتم النبي صلى الله عليه وسلم: يُستتاب؟ قال: قد وجب عليه القتل ولا يستتاب؛ خالد بن الوليد قتل رجلاً شتم النبي صلى الله عليه وسلم ولم يستتبه.

وهكذا قال أصحاب أحمد: إن من سب الله كفر سواء أكان مازحًا أم جادًا للآية التي استدل بها الشافعي.
তাঁর কোনো সেনাবাহিনী, অথবা তাঁর সময়ের কোনো কঠোরতা বা তাঁর শত্রু নিয়ে, অথবা তাঁর স্ত্রীদের প্রতি কোনো আসক্তির (বিদ্রূপাত্মক) মাধ্যমে; যে ব্যক্তি এগুলোর কোনো একটির উদ্দেশ্য নিয়ে এমন কাজ করবে, তার বিধান হলো: মৃত্যুদণ্ড।

এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল আবদুল্লাহর বর্ণনায় বলেছেন: যে ব্যক্তি নবীকে গালি দিবে তাকে হত্যা করা হবে, কারণ গালি দেওয়ার মাধ্যমে সে ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে গেছে; আর কোনো মুসলিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিতে পারে না।

এবং তিনি হাম্বলের বর্ণনায় বলেছেন: যে ব্যক্তিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিবে কিংবা তাঁকে তুচ্ছজ্ঞান করবে, সে মুসলিম হোক বা কাফের, তার ওপর মৃত্যুদণ্ড অবধারিত। আমি মনে করি তাকে হত্যা করা হবে এবং তার নিকট তওবা কামনা করা হবে না।

এবং অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিবে, সে মুসলিম হোক বা কাফের, তাকে হত্যা করা হবে।

এবং আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন: আমি আমার পিতাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয়—তার কাছে কি তওবা কামনা করা হবে? তিনি বললেন: তার ওপর মৃত্যুদণ্ড আবশ্যক হয়ে গেছে এবং তার কাছে তওবা চাওয়া হবে না; খালিদ বিন ওয়ালিদ এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিয়েছিল এবং তিনি তার কাছে তওবা কামনা করেননি।

আর এভাবেই আহমদের অনুসারীগণ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে গালি দিবে সে কাফের হয়ে যাবে, চাই সে উপহাসচ্ছলে বলুক বা গুরুত্বের সাথে; সেই আয়াতের ভিত্তিতে যা দ্বারা শাফেয়ী দলিল পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٣١)
وقال أبو يعلى من الحنابلة: من سب الله أو سب رسوله فإنه يكفر سواء استحل سبه أم لم يستحله، فإن قال: لم أستحل ذلك لم يقبل منه في ظاهر الحكم، رواية واحدة، وكان مرتدا. قال: وليس كالقاتل والشارب والسارق إذا قال: أنا غير مستحل، حيث يصدق، لأن له غرضا في فعل هذه الأشياء مع التحريم، وهو اللذة. قال: وإذا حكمنا بكفره فإنما نحكم به في الظاهر، فأما في الباطن فإن كان صادقًا فيما قال فهو مسلم كما في الزنديق.

وذكر أبو يعلي عن بعض الفقهاء: إن كان مستحيلاً كفر، وإن لم يكن مستحيلاً فسق ولم يكفر كساب الصحابة.
হাম্বলী মাযহাবের আবু ইয়ালা বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহকে গালি দেয় অথবা তাঁর রাসূলকে গালি দেয়, সে কাফির হয়ে যাবে; চাই সে এই গালি দেওয়াকে হালাল মনে করুক কিংবা না করুক। সে যদি বলে, "আমি একে হালাল মনে করিনি", তবে প্রকাশ্য বিধান অনুযায়ী তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না—এটিই একমাত্র বর্ণনা—এবং সে মুরতাদ হিসেবে গণ্য হবে। তিনি বলেন: সে খুনি, মদ্যপায়ী বা চোরের মতো নয়; যারা যদি বলে, "আমি একে হালাল মনে করি না", তবে তাদের কথা সত্য বলে গণ্য করা হয়। কারণ হারাম হওয়া সত্ত্বেও এই কাজগুলো করার পেছনে তাদের একটি উদ্দেশ্য থাকে, আর তা হলো স্বাদ আস্বাদন করা। তিনি বলেন: আমরা যখন তার কুফরের ফয়সালা করি, তখন কেবল বাহ্যিক হুকুমের ভিত্তিতেই করি। পক্ষান্তরে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে, সে যা বলেছে তাতে যদি সে সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে সে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি যিনদীকের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

আবু ইয়ালা জনৈক ফকীহ থেকে উল্লেখ করেছেন: যদি সে একে হালাল মনে করে তবে কাফির হবে, আর যদি হালাল মনে না করে তবে ফাসেক হবে কিন্তু কাফির হবে না—যেমনটি সাহাবীগণকে গালিদাতার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আস-সাইফুল মাসলুল আলা মান সাব্বার রাসূল (পৃষ্ঠা: ١٣٢)
وهذا نظير ما يُحكى أن بعض الفقهاء من أهل العراق أفتى هارون الرشيد فيمن سب النبي صلى الله عليه وسلم أن يجلدا، حتى أنكر ذلك مالك رضي الله عنه ورد هذه الفتيا.

وهذا نظير ما حكاه ابن حزم، وقد ذكر القاضي عياض بعد أن رد هذه الحكاية عن بعض فقهاء العراق والخلاف الذي أشار إليه ابن حزم بما نقله من الإجماع عن غير واحد، وحمل الحكاية على أن أولئك لم يكونوا ممن شهر بالعلم، أو لم يكونوا ممن يوثق بفتواه لميل الهوى به، أو أن الفتيا كانت في كلمة اختلف/ في كونها سبًا أو كانت فيمن تاب.

وما حكي عن بعض الفقهاء من أنه إذا لم يستحل لا يكفر: زلة عظيمة وخطأ صريح لا يثبت عن أحد من العلماء المعتبرين، ولا يقوم عليه دليل صحيح.
এটি সেটির অনুরূপ যা বর্ণিত হয়েছে যে, ইরাকের কিছু ফকিহ হারুনুর রশীদের নিকট এই ফতোয়া দিয়েছিলেন যে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দিবে তাকে যেন বেত্রাঘাত করা হয়। এমনকি ইমাম মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর প্রতিবাদ করেন এবং এই ফতোয়া প্রত্যাখ্যান করেন।

এটি ইবনে হাজম যা বর্ণনা করেছেন তারও অনুরূপ। আর কাজি আয়াজ ইরাকের কিছু ফকিহের বর্ণিত এই ঘটনা এবং ইবনে হাজম যে মতপার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা প্রত্যাখ্যান করার পর একাধিক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত ইজমা (ঐক্যমত) উল্লেখ করেছেন। তিনি এই বর্ণনাটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, তারা ইলমের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন না, অথবা প্রবৃত্তির অনুসরণ করার কারণে তাদের ফতোয়ার ওপর আস্থা রাখা যেত না, অথবা ফতোয়াটি এমন কোনো শব্দের ব্যাপারে ছিল যা গালি হওয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ ছিল, কিংবা এটি ছিল এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে তওবা করেছিল।

আর কোনো কোনো ফকিহ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, যদি কেউ বিষয়টিকে হালাল মনে না করে তবে সে কাফের হবে না—এটি একটি বড় পদস্খলন এবং সুস্পষ্ট ভুল যা কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের পক্ষ থেকে প্রমাণিত নয় এবং এর সপক্ষে কোনো সঠিক দলিলও নেই।