(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
بلاغ الرسالة القرآنية   (فريد الأنصاري)

القسم: كتب عامة


الكتاب: بلاغ الرسالة القرآنية؛ من أجل إبصار لآيات الطريق

المؤلف: فريد الأنصاري المغربي (ت 1430 هـ)

الناشر: دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة، القاهرة

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 178

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 ذو القعدة 1436

বালাগুল রিসালাতিল কুরআনিয়্যাহ   (ফরিদ আল-আনসারী)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


কিতাব: বালাগুল রিসালাতিল কুরআনিয়্যাহ; পথের নিদর্শনসমূহ অবলোকনের নিমিত্তে

লেখক: ফরিদ আল-আনসারী আল-মাগরিবি (মৃত্যু ১৪৩০ হি.)

প্রকাশক: দারুস সালাম মুদ্রণ, প্রকাশনা, বিতরণ ও অনুবাদ، কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩০ হি. - ২০০৯ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৮

[কিতাবের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ জিলকদ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة: من القرآن إلى العمران (2)

 

بلاغ الرسالة القرآنية

من أجل إبصار لآيات الطريق

 

تأليف

فريد الأنصاري

 

دار السلام

للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة
ধারাবাহিক: কুরআন থেকে সভ্যতায় (২)

 

কুরআনী বাণীর প্রচার

পথের নিদর্শনাবলি প্রত্যক্ষ করার লক্ষ্যে

 

রচনা

ফরিদ আল-আনসারী

 

দারুস সালাম

মুদ্রণ, প্রকাশনা, বিতরণ ও অনুবাদের জন্য
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২)
كافة حقوق الطبع والنشر والترجمة محفوظة

للناشر

دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة

لصاحبها

عبد القادر محمود البكار

 

الطبعة الأولى

1430 هـ - 2009 م
মুদ্রণ, প্রকাশনা ও অনুবাদের সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রকাশকের পক্ষ থেকে

দারুস সালাম প্রিন্টিং, পাবলিশিং, ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ট্রান্সলেশন

এর স্বত্বাধিকারী

আব্দুল কাদির মাহমুদ আল-বাকার

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

مفتاح الكتاب

 

تَدَبَّرْ .. ثم أَبْصِرْ!

{هَذَا بَلَاغٌ لِّلنَّاسِ وَلِيُنذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَلِيَذَّكَّرَ أُوْلُوا الأَلْبَاب} [إبراهيم:52]

{وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِن بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ. إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِّقَوْمٍ عَابِدِينَ} [الأنبياء:105،106].

{قَدْ جَاءكُم بَصَآئِرُ مِن رَّبِّكُمْ فَمَنْ أَبْصَرَ فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ عَمِيَ فَعَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُم بِحَفِيظٍ} [الأنعام:104]

***
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

গ্রন্থের চাবিকাঠি

 

গভীরভাবে চিন্তা করো... অতঃপর প্রত্যক্ষ করো!

{এটি মানুষের জন্য এক ঘোষণা, যাতে এর দ্বারা তাদের সতর্ক করা হয় এবং তারা যেন জানতে পারে যে, তিনিই কেবল একমাত্র ইলাহ; আর যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।} [ইব্রাহিম: ৫২]

{আর আমি যিকরের পর যাবুরে লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে। নিশ্চয়ই ইবাদতকারী সম্প্রদায়ের জন্য এতে এক বার্তা রয়েছে।} [আল-আম্বিয়া: ১০৫-১০৬]

{তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট চাক্ষুষ প্রমাণাদি এসেছে; সুতরাং যে প্রত্যক্ষ করল তা তার নিজেরই জন্য, আর যে অন্ধ সাজল তা তার নিজেরই বিপক্ষে। আমি তোমাদের ওপর কোনো সংরক্ষক নই।} [আল-আনআম: ১০৪]

***
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الإهداء

إلى القلوب الضارعة إلى الله؛ المكابدة ظلماتِ الحيرة وتباريحَ الأحزان، بحثاً عن نافذة للإبصار - أهدي هذه البلاغات.

محبكم: فريد الأنصاري
উৎসর্গ

আল্লাহর নিকট বিনীত সেই সকল হৃদয়ের প্রতি; যারা বিভ্রান্তির অন্ধকার এবং গভীর দুঃখের যাতনা সহ্য করছে, অন্তর্দৃষ্টির একটি বাতায়নের সন্ধানে—তাদের তরে আমি উৎসর্গ করছি এই পয়গামসমূহ (بلاغات)।

আপনাদেরই শুভাকাঙ্ক্ষী: ফরিদ আল-আনসারী
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، بلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده حتى أتاه اليقين.

أما بعد؛ فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد؛ فإني أحمد الله مرة أخرى أن أرشدني اليوم إلى تقديم هذه الرسالة الصغيرة: (بلاغ الرسالة القرآنية؛ من أجل إبصار لآيات الطريق)؛ لكل باحث عن معرفة الطريق السالكة إلى الله أولاً، ثم لكل المهتمين بالمشروع الإصلاحي.
ভূমিকা (مقدمة)

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তিনি রিসালাতের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদের যথার্থ হক আদায় করেছেন, যে পর্যন্ত না তাঁর নিকট সুনিশ্চিত মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে।

অতঃপর; নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মাঝে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثات), আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে।

অতঃপর; আমি পুনরায় আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, তিনি আজ আমাকে এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি (رسالة) পেশ করার তাওফিক দিয়েছেন: (কুরআনি পয়গাম প্রচার; পথের নিদর্শনাবলী অনুধাবনের উদ্দেশ্যে); যা প্রথমত আল্লাহর দিকে ধাবমান পথের প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষীর জন্য এবং অতঃপর সংস্কারমূলক প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য।
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد كانت هذه الرسالة -أول الأمر- عبارة عن دروس، ألقيتها بمجالس بعض أصحابنا المحبين، وإخواننا الصالحين -نحسبهم كذلك إن شاء الله، ولا نزكي على الله أحداً- مجالس قرآنية مباركة إن شاء الله، شهدتها مدينة مكناسة الزيتون حرسها الله، وأصلح أحوالها، تدارسنا خلالها ما تيسر من بلاغات القرآن العظيم، وهي ثمرة لما استقر عليه النظر -بفضل الله وتوفيقه- من خلال بحث سابق في: (البيان الدعوي)، بعد تجربة متواضعة، عملية ووجدانية، في مجال الدعوة إلى الله، إذ صار بعدها لهذا الموضوع في قلبي حضور خاص، جعلني أقلب النظر فيما بين يدي من أعمال، باحثاً فيما أرى وأسمع، من تجارب ومبادرات، جاهداً في تلمس طريق تقربني إلى الله، على نهج رسول الله صلى الله عليه وسلم، في سيرته ودعوته، عسى أن أهتدي في الشأن التعبدي والإصلاحي إلى التي هي أقوم.

هذا، وقد كانت رحلتي لأداء فريضة الحج لعام: (1420 هـ/2000 م)، فرصة لأعيد النظر والمراجعة، فيما تحصل لدي من رؤى وفهوم، في المجال الدعوي والإصلاحي، فشرعت -منذ ذلك التاريخ- في ترتيب النظر، وأنا أرقب واقع العمل الإسلامي، في ظل ما يجتاح العالم الإسلامي اليوم من فتن كقطع الليل المظلم، لا يكاد قطر من أقطاره ينجو منها، ومن فجور سياسي داهم، يحرق
এই পুস্তিকাটি প্রারম্ভিক পর্যায়ে মূলত কতগুলো পাঠমালার সমষ্টি ছিল, যা আমি আমাদের কিছু মুহিব্বীন বন্ধু এবং নেককার (صالحين) ভাইদের মজলিসে উপস্থাপন করেছিলাম—আমরা তাঁদের তেমনই মনে করি ইনশাআল্লাহ, আর আল্লাহর সামনে আমরা কাউকেই পবিত্র ঘোষণা করি না—আল্লাহর ইচ্ছায় সেগুলো ছিল বরকতময় কুরআনি মজলিস। মরক্কোর ‘মাকনাসাতুজ জয়তুন’ শহর এই মজলিসগুলোর সাক্ষী ছিল; আল্লাহ শহরটিকে হিফাজত করুন এবং এর সার্বিক অবস্থার সংশোধন করুন। সেখানে আমরা সুমহান কুরআনের বাণীসমূহ থেকে যতটুকু সহজসাধ্য হয়েছে, তা নিয়ে পারস্পরিক অধ্যয়ন করেছি। এটি মূলত আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে আমার পূর্ববর্তী একটি গবেষণা ‘আল-বায়ান আদ-দাওয়ি’ (দাওয়াহর বর্ণনাভঙ্গি)-তে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া চিন্তাধারার ফসল; যা আল্লাহর পথে দাওয়াতের ময়দানে আমার বিনম্র বাস্তব ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পরবর্তী নির্যাস। এরপর থেকে এই বিষয়টি আমার অন্তরে এক বিশেষ গুরুত্বের সাথে স্থান করে নেয়, যা আমাকে আমার বর্তমান কাজগুলো পুনঃনিরীক্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। আমি যা দেখি ও শুনি—তা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা হোক বা উদ্যোগ—সবকিছুর মধ্য দিয়ে আমি আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি পথ অন্বেষণ করার নিরন্তর চেষ্টা করি; যা হবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত ও দাওয়াতের পদ্ধতির (نهج) ওপর ভিত্তি করে। যেন আমি ইবাদত ও সংস্কারের ক্ষেত্রে অধিকতর সুদৃঢ় ও সঠিক পথের দিশা পেতে পারি।

বস্তুত, ১৪২০ হিজরি/২০০০ ঈসায়ী সালে হজ পালনের সফরটি আমার জন্য এক অনন্য সুযোগ ছিল, যাতে আমি দাওয়াহ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে আমার অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি ও উপলব্ধিগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করতে পারি। অতঃপর সেই সময় থেকেই আমি আমার চিন্তাগুলোকে বিন্যস্ত করতে শুরু করি; যখন আমি অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের সাথে ইসলামি কর্মতৎপরতার বাস্তবচিত্র পর্যবেক্ষণ করছিলাম। বিশেষ করে বর্তমান মুসলিম বিশ্বে অন্ধকার রাত্রির ন্যায় ছেয়ে আসা নানাবিধ ফিতনা (فتن), যা থেকে মুসলিম উম্মাহর কোনো ভূখণ্ডই প্রায় নিরাপদ নয়, এবং অতর্কিত রাজনৈতিক পাপাচার যা সব কিছুকে দগ্ধ করছে...
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الأخضر واليابس، تهب به عواصف ما سمي بـ (العولمة)، أو (حركة تهويد العالم)، هذه الريح الاستعمارية الغازية الشديدة، الجديدة في أساليبها؛ القديمة في غاياتها ومقاصدها.

ثم إني رأيت الساحة الإسلامية تعج بالأفكار، من نظريات شتى، وتنظيمات شتى، وسياسات شتى، منها ما يتناقض ويتآكل، ومنها ما يتكامل، وكل يتخذ موقعه فيها حسب استعداداته الفطرية، ومؤهلاته الكسبية، وهي -على رغم ما تزخر به من خير كثير- لا تخلو من ثغرات وثلمات، لم تجد بعد من يسدها، ويقف مرابطاً على حراستها، بل إن بعض الأصول والمنطلقات بقيت مكشوفة الظهر، عارية الثغر، رغم تدبيجها في الورقات، لا تجد من يقف على فجها؛ لانصراف الناس إلى اقتطاف بعض الثمرات، مما نحسبه خدعة واستدراجاً.

وقصة نزول الرماة عن جبل الرماة، في غزوة أحد، لم يزل نذيرها يملأ آذان التاريخ! ولكن {لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ} [ق:37]!

ولقد تبين -لمن يتبين- في غبار أحداث العالم الكبرى، التي تندلع عن تواتر الانهيارات الكبرى، منذ مطلع الألفية الميلادية الثالثة؛ أن مواقع المسلمين عامة، ومواقع أهل الشأن الدعوي منهم خاصة؛ قد تراجعت إلى خط الدفاع الأخير! ولعل في ذلك خيراً للإسلام والمسلمين، عَلِمه من
স্থাবর-অস্থাবর সব কিছু, যা তথাকথিত ‘বিশ্বায়ন’ বা ‘বিশ্বকে ইহুদিকরণ আন্দোলন’-এর ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা তাড়িত। এই আগ্রাসী ঔপনিবেশিক প্রবল বাতাস, যা তার কৌশলে নতুন হলেও লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে প্রাচীন।

অতঃপর আমি দেখলাম যে, ইসলামি অঙ্গন বিভিন্ন মতবাদ, বিচিত্র সংগঠন এবং নানামুখী রাজনীতিতে মুখরিত। এগুলোর মধ্যে কিছু পরস্পরবিরোধী ও ক্ষয়িষ্ণু, আবার কিছু একে অপরের পরিপূরক। প্রত্যেকেই তাদের সহজাত যোগ্যতা এবং অর্জিত দক্ষতা অনুযায়ী নিজ নিজ অবস্থানে আসীন। প্রচুর কল্যাণ থাকা সত্ত্বেও এই অঙ্গনটি এমন কিছু ফাটল ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত নয়, যা পূরণ করার মতো এবং অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারায় দাঁড়ানোর মতো কাউকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি কিছু মূলনীতি (الأصول) এবং প্রারম্ভিক ভিত্তি কাগজে-কলমে লিপিবদ্ধ থাকলেও তা অরক্ষিত ও উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে; সেগুলোর রক্ষায় দাঁড়ানোর মতো কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ মানুষ কিছু সাময়িক ফল আহরণেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা আমরা প্রতারণা ও প্রলোভন বলে মনে করি।

আর ওহুদ যুদ্ধে তীরন্দাজদের পাহাড় থেকে নেমে আসার ঘটনাটির সতর্কবার্তা আজও ইতিহাসের কর্ণকুহরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে! কিন্তু এটি কেবল তার জন্য "যার রয়েছে অন্তর অথবা যে একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করে।" [ক্বাফ: ৩৭]!

তৃতীয় সহস্রাব্দের শুরু থেকে বড় বড় পতনের নিরবচ্ছিন্ন (تواتر) ধারায় সৃষ্ট বৈশ্বিক ঘটনার ঘনঘটায়—যেটি বিচার-বিশ্লেষণ করতে চায় তার কাছে—সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সামগ্রিকভাবে মুসলমানদের অবস্থান এবং বিশেষভাবে দাওয়াতি তৎপরতায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের অবস্থান শেষ প্রতিরক্ষা ব্যুহ পর্যন্ত পিছু হটেছে! সম্ভবত এর মধ্যে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কোনো কল্যাণ নিহিত রয়েছে, যা তিনি জানেন...
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
علمه، وجهِله من جهله، فذلك -إن أُحسِنَ استيعابه وتوظيفه- مما سيقدح انطلاق دورة جديدة؛ لحركة تجديد الدين في العالم بحول الله، بمستوى أعلى، وبأداء أرفع.

ثم تبين أيضاً أن المضي بالدعوة في مسارها المشاهد اليوم في كثير من البلاد؛ مضيّاً لا يراعي الظروف الجديدة؛ إنما هو مقامرة بمصير الأمة! ذلك أن هذا المسار يغلب فيه الاستعراض على الاستنهاض، ويطغى فيه النداء على البناء! والحاجة اليوم اختلفت عما كانت عليه قبل سنوات، ولقد نطق شرق الغرب -من قبل- بحكمة مشهورة، تنص على أن النهوض قد يقع بإنجاز (خطوة إلى الوراء من أجل خطوتين إلى الأمام)، وتلك مقولة لها أصل أصيل في صناعة القتال عند المسلمين، مفادها أن: (من لا يحسن الفر لا يحسن الكر)!

ولهذا نظرت بعد ذلك في كتاب الله، الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، فهو أصل الدين كله، منه ينطلق وإليه يعود؛ فتبين لي أولاً أنه لا ينفع الإنسان في هذا كله؛ إلا ما بقي له مدخراً في قبره، عسى أن ينفعه يوم لقاء ربه، فكان أن فتح الله بصيرتي على تولية الوجهة إلى النظر في القرآن؛ تعلماً وتعليماً، ومدارسة وتدبراً؛ عسى أن أهتدي في المسألة الدعوية إلى التي هي أقوم؛ فكان أن اكتشفت أنني كنت أمر على كثير من الآيات دون أن
যিনি তা জেনেছেন তিনি জেনেছেন, আর যিনি তা জানেননি তিনি তা থেকে অজ্ঞ রয়ে গেছেন। সুতরাং তা—যদি যথাযথভাবে অনুধাবন ও প্রয়োগ করা হয়—মহান আল্লাহর শক্তিতে বিশ্বে দ্বীন পুনর্জাগরণের আন্দোলনের জন্য আরও উচ্চতর স্তরে এবং উন্নততর পন্থায় একটি নতুন পর্যায় সূচনা করবে।

অতঃপর এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, বর্তমানে অনেক দেশে দাওয়াহর যে দৃশ্যমান গতিধারা লক্ষ করা যায়, তা পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে বিবেচনায় না নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে; এটি মূলত উম্মাহর ভাগ্য নিয়ে এক প্রকার জুয়া খেলা! কেননা এই পথে জাগরণের চেয়ে প্রদর্শনী এবং নির্মাণের চেয়ে বাচনিক আহ্বানের আধিপত্যই বেশি! অথচ বর্তমান সময়ের চাহিদা কয়েক বছর আগের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে। ইতিপূর্বে পশ্চিমা বিশ্বের প্রাচ্য হতে এক বিখ্যাত প্রজ্ঞা উচ্চারিত হয়েছে যে, পুনরুত্থান সম্ভব হতে পারে ‘দুই কদম এগিয়ে যাওয়ার জন্য এক কদম পিছিয়ে আসার’ মাধ্যমে। এটি এমন এক উক্তি যার মুসলিমদের যুদ্ধকলায় একটি সুদৃঢ় মূল ভিত্তি (أصل أصيل) রয়েছে, যার মর্মার্থ হলো: ‘যে কৌশলগত পশ্চাদপসরণে (الفر) দক্ষ নয়, সে আক্রমণেও (الكر) পারদর্শী নয়!’

এই কারণেই আমি পরবর্তীতে আল্লাহর কিতাবের দিকে দৃষ্টিপাত করলাম, যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না। এটিই হলো সমস্ত দ্বীনের মূল উৎস (أصل), এখান থেকেই সবকিছুর সূচনা এবং এখানেই সবকিছুর প্রত্যাবর্তন। আমার কাছে প্রথমেই এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কবরে সঞ্চিত আমল ছাড়া মানুষের আর কোনো কিছুই কাজে আসবে না, যা সম্ভবত তার রবের সাথে সাক্ষাতের দিনে উপকারে আসবে। ফলে আল্লাহ তাআলা কুরআনের দিকে মনোনিবেশ করার জন্য আমার অন্তর্দৃষ্টি খুলে দিলেন—শিখন ও শিক্ষাদান এবং গভীর অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমে; যাতে আমি দাওয়াহর ক্ষেত্রে সেই পথের দিশা পাই যা অধিকতর সুদৃঢ়। ফলে আমি আবিষ্কার করলাম যে, আমি ইতিপূর্বে অনেক আয়াতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতাম অথচ সেগুলোর...
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أبصرها! وذلك كان سبباً في كثير من البلاء والارتباك الحاصل في السير، هنالك كانت الثغرات التي دخل منها المرض إلى الجسم، ويُجْمِعُ الأطباء على أن أخطر مراحل التطبيب هو تشخيص الداء، قبل وصف الدواء.

ثم إنه لابد -بين يدي هذه الورقات- أن أعلن ما سبق لي إعلانه في كتاب: (البيان الدعوي) من أنني أنطلق في عملي هذا من (مبدأ تأميم الدعوة إلى الله)، كما سلف بيانه مفصلاً في محله، بأدلته وشواهده، والمقصود بـ (تأميم الدعوة): تحريرها من كل انتماء (حركي) ضيق، بالمعنى السياسي للكلمة.

لقد كان مما ضيق الاستيعاب الدعوي بالمغرب وغيره؛ أن الكلمة الطيبة عرضت على الناس باسم التنظيمات والحركات! حتى قاس كثير من الشباب الدخول إلى (الجماعة) على وزان الدخول إلى الإسلام، والخروج عنها كالخروج عنه! لقد آن الأوان لتختص الحركات الإسلامية الحزبية بالاشتغال المؤسسي، والتدافع السياسي، كما هو حالها في الواقع اليوم، وهو أمر لا نقلل من شأنه وأهميته، ولكن على أساس أن يتحرر الشأن الدعوي العام من قبضتها، فالتجربة أثبتت أنها ما زادته -في المرحلة الأخيرة- إلا ضعفاً وتقويضاً!

إن (الحركة) مشروع اجتهادي قد تتباين وجهات النظر فيه من التوافق إلى الاختلاف، حتى التناقض والتنافي أحياناً!
এটি অনুধাবন করুন! আর এটিই ছিল কর্মপন্থা বা পথচলার ক্ষেত্রে অনেক বিপর্যয় ও বিভ্রান্তির কারণ। সেখানেই ছিল সেই ফাটলগুলো যেখান দিয়ে দেহে রোগ প্রবেশ করেছিল। চিকিৎসকরা এ বিষয়ে একমত যে, চিকিৎসার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায় হলো ঔষধের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার আগে রোগ নির্ণয় করা।

অতঃপর এই পৃষ্ঠাগুলো উপস্থাপনের প্রাক্কালে আমাকে অবশ্যই তা ঘোষণা করতে হবে যা আমি ইতিপূর্বে আমার 'আল-বায়ান আদ-দাওয়ি' গ্রন্থে ঘোষণা করেছি। তাহলো, আমি আমার এই কাজে 'আল্লাহর দিকে দাওয়াতকে সর্বজনীন করার নীতি' থেকে অগ্রসর হচ্ছি, যেমনটি ইতোপূর্বে যথাস্থানে তার দলিলসমূহ (أدلة) ও সমর্থনকারী বর্ণনা (شواهد) সহ বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। আর 'দাওয়াতকে সর্বজনীন করা' বলতে উদ্দেশ্য হলো: একে যেকোনো সংকীর্ণ 'সাংগঠনিক' সম্পৃক্ততা থেকে মুক্ত করা, যা শব্দের রাজনৈতিক অর্থে ব্যবহৃত হয়।

মরক্কো ও অন্যান্য স্থানে দাওয়াতি প্রসারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ ছিল এই যে, মানুষের নিকট দ্বীনের বাণী বিভিন্ন সংগঠন ও আন্দোলনের নামে পেশ করা হয়েছিল! এমনকি অনেক যুবক কোনো 'জামাতে' প্রবেশ করাকে ইসলামে প্রবেশের সমতুল্য এবং তা থেকে বের হওয়াকে ইসলাম ত্যাগের সমতুল্য মনে করতে শুরু করেছিল! সময় এসেছে যে, দলীয় ইসলামি আন্দোলনগুলো প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সাথে নির্দিষ্ট থাকবে, যেমনটি বর্তমানে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। এটি এমন এক বিষয় যার গুরুত্বকে আমরা খাটো করে দেখি না, তবে তা হতে হবে এই ভিত্তিতে যে, সাধারণ দাওয়াতি কার্যক্রম যেন তাদের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে। কারণ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, শেষ পর্যায়ে এটি দাওয়াতকে দুর্বল ও ধ্বংস করা ছাড়া আর কিছুই করেনি!

নিশ্চয়ই 'আন্দোলন' হলো একটি গবেষণালব্ধ বা ইজতিহাদি (اجتهادي) প্রকল্প, যেখানে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা ঐক্য থেকে শুরু করে মতভেদ পর্যন্ত হতে পারে, এমনকি কখনও কখনও তা পারস্পরিক বৈপরীত্য ও সাংঘর্ষিক রূপ নিতে পারে!
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بينما الدعوة أو (الصحوة)؛ هي في الأغلب الأعم اشتغال بالمعلوم من الدين بالضرورة، فقلما يميل الشأن فيها حتى إلى مجرد الاختلاف، بلْهَ التنافي والتناقض! فقل لي بربك لو أنك استدعيت محاضراً، أو عالماً من كل حركة، ممن يُعلم اختلافهم الحاد في مواقفهم السياسية، وبرامجهم التغييرية، ثم أوكلت لكل منهم أن يتحدث للناس في موضوع: (الإنسان في القرآن) مثلاً، أو موضوع: (المقاصد التعبدية في الإسلام)، أو: (خطر الفساد الأخلاقي)، بشرط التجرد عن الهوى التنظيمي؛ أفلا يكون الكلام منهم جميعاً واحداً في الجوهر؟ لا تنافي فيه ولا اختلاف؛ إلا كما تختلف العبارات والأساليب في عرض الأفكار؟ فلِمَ إذن نرهن الدعوة بما لم يرهنها الله به؟ ألا نكون قد حجرنا واسعاً؟ بلى والله! وتلك هي آفة الدعوة والدعاة في زماننا هذا، وذلك ما قصدنا التخلص منه بـ (مبدأ تأميم الدعوة).

نقدم رسالتنا هذه إذن؛ ورقةَ عمل لنموذج تطبيقي -تتلوه نماذج أخرى بحول الله، على خطوات ومراحل- من بعد أن أصّلنا النظر في كتابنا: (البيان الدعوي)، فما بقي بعد القول إلا العمل، والقاعدة أن (كل علم ليس تحته عمل فهو باطل).

ولقد ظن بنا بعض إخواننا (من هنا وهناك) -وبعض الظن إثم- أننا بدَّلنا وغيَّرنا، وركنَّا إلى الذين ظلموا! فإلى
পক্ষান্তরে দাওয়াহ বা জাগরণ (الصحوة); অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় ও স্বতঃসিদ্ধ (المعلوم من الدين بالضرورة) বিষয়াবলি নিয়েই এর ব্যাপ্তি। এতে মতপার্থক্যের অবকাশ খুব একটা থাকে না, বৈরিতা বা বৈপরীত্য তো দূরের কথা! সুতরাং আল্লাহর কসম দিয়ে বলুন তো, আপনি যদি প্রতিটি আন্দোলন থেকে এমন একজন আলোচক বা আলেমকে আমন্ত্রণ জানান যাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও সংস্কারমূলক কর্মসূচির ক্ষেত্রে চরম মতভেদ রয়েছে, অতঃপর তাদের প্রত্যেককে মানুষের সামনে—ধরা যাক: 'কুরআনে মানুষ' কিংবা 'ইসলামে ইবাদতের উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد التعبدية)' অথবা 'নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি'—এই জাতীয় কোনো বিষয়ে আলোচনার দায়িত্ব দেন, তবে শর্ত হলো তারা যেন সাংগঠনিক সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত থাকেন; তাহলে কি তাদের সকলের বক্তব্য সারমর্মের দিক থেকে অভিন্ন হবে না? সেখানে কোনো বৈপরীত্য বা বিভেদ থাকবে না; কেবল চিন্তা প্রকাশের ভঙ্গি বা শৈলী ভিন্ন হতে পারে। তবে কেন আমরা দাওয়াহকে এমন বিষয়ের সাথে আবদ্ধ করব যার সাথে আল্লাহ একে আবদ্ধ করেননি? আমরা কি একটি প্রশস্ত বিষয়কে সংকীর্ণ করে দিচ্ছি না? অবশ্যই! আর এটিই বর্তমান যুগে দাওয়াহ ও দাঈদের একটি বড় ব্যাধি। 'দাওয়াহর জাতীয়করণের নীতি (مبدأ تأميم الدعوة)'-এর মাধ্যমে আমরা মূলত এটি থেকেই মুক্তি পেতে চেয়েছি।

অতএব আমরা আমাদের এই বার্তাটি পেশ করছি; এটি একটি ব্যবহারিক মডেলের কর্মপরিকল্পনা—আল্লাহর অনুগ্রহে পর্যায়ক্রমে আরও মডেল আসবে। আমাদের 'আল-বায়ান আদ-দাওয়াবি' কিতাবে তাত্ত্বিক আলোচনার পর এখন কেবল কর্মই অবশিষ্ট আছে। আর নিয়ম হলো, 'যে জ্ঞান (علم) আমলশূন্য, তা অসার (باطل)'।

আমাদের কোনো কোনো ভাই (এদিক-সেদিকের) আমাদের সম্পর্কে ধারণা করেছেন—আর কিছু ধারণা তো পাপ—যে আমরা আদর্শ বিচ্যুত হয়েছি, পরিবর্তিত হয়েছি এবং আমরা জালিমদের দিকে ঝুঁকে পড়েছি! সুতরাং...
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
هؤلاء وأولئك نقول لهم كلمة واحدة: {اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ لَا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ} [الشورى:15].

لقد اكتشفنا أن المنهج المعتمد لدى بعض إخواننا، في الدعوة والحركة؛ منهج مقلوب، ينطلقون فيه (من العمران إلى القرآن)، على طريقة قياس الشبه -وهو أضعف أنواع الأقيسة في علم الأصول- ينظرون إلى ما عند (الآخر) من بناء، فيقيسون عليه -تشبيهاً وتخييلاً- ما يرون أنه يجب أن يكون عندنا، وينطلقون في البناء؛ بل في التقليد! مع مراعاة (إسلامية) الشكل الخارجي! ويبقى الجوهر بعد ذلك يرشح بجاهليته! {أَفَمَنْ اُسِّسَ بُنْيَانُهُ عَلَى تَقْوَى مِنَ اللهِ وَرِضْوَانٍ خَيْرٌ أَم مَّنْ اُسِّسَ بُنْيَانُهُ عَلَىَ شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَانْهَارَ بِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} [التوبة:109].

بينما هذا القرآن العظيم يقدم نموذجه العمراني كاملاً.

إننا قررنا أن ننطلق (من القرآن إلى العمران) على منهج رسول الله صلى الله عليه وسلم في سيرته ودعوته، هذا هو الطريق إن شاء الله! فلن نصدر كتبنا الدعوية بعد اليوم، ولا تجاربنا العملية -إن شاء الله- إلا بهذا المنهج وعلى أساسه، تصوراً وتطبيقاً.
তাদের সবার উদ্দেশ্যে আমরা একটি কথাই বলি: {আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক; আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য; আমাদের ও তোমাদের মাঝে কোনো বিবাদ নেই; আল্লাহ আমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে।} [আশ-শুরা: ১৫]।

আমরা লক্ষ্য করেছি যে, দাওয়াত ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে আমাদের কিছু ভাইয়ের অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) একটি উল্টো পদ্ধতি; যেখানে তারা ‘বিনির্মাণ থেকে কোরআন’-এর দিকে অগ্রসর হন। এটি সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس الشبه) পদ্ধতিতে—যা উসুল শাস্ত্রের (علم الأصول) অনুমানের প্রকারভেদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল (أضعف)—তারা 'অন্যদের' কাঠামোর দিকে তাকান, অতঃপর উপমা ও কল্পনার ভিত্তিতে সেটিকে পরিমাপ করেন যা আমাদের থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন। এরপর তারা নির্মাণে লিপ্ত হন, বরং অন্ধ অনুকরণের পথে হাঁটেন! যদিও তারা বাহ্যিক কাঠামোর 'ইসলামিক' রূপটি বজায় রাখেন, কিন্তু এর সারবস্তু শেষ পর্যন্ত জাহেলিয়াতকেই প্রকাশ করে! {যে ব্যক্তি তার ইমারতের ভিত্তি আল্লাহর তাকওয়া ও তাঁর সন্তুষ্টির ওপর স্থাপন করেছে সে উত্তম, নাকি যে ব্যক্তি তার ইমারতের ভিত্তি স্থাপন করেছে কোনো খাদের ধসে পড়ো-পড়ো কিনারে, যা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে ভেঙে পড়ে? আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।} [আত-তাওবাহ: ১০৯]।

পক্ষান্তরে, এই মহান কোরআন তার বিনির্মাণের পূর্ণাঙ্গ আদর্শ পেশ করে।

আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত ও দাওয়াতের পদ্ধতি (منهج) অনুযায়ী ‘কোরআন থেকে বিনির্মাণ’-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, এটিই সঠিক পথ! তাই আজকের পর থেকে আমরা আমাদের দাওয়াতি গ্রন্থসমূহ বা আমাদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাগুলো—ইনশাআল্লাহ—এই পদ্ধতি (منهج) এবং এরই ভিত্তিতে চিন্তা ও প্রয়োগের মাধ্যমে ছাড়া প্রকাশ করব না।
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
لا نبني بناءً، ولا نعمر تعميراً؛ إلا على أساس من كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، إن القرآن العظيم تصميم رباني راقٍ؛ لبناء فخم، ما كُلِّف الإنسان إلا بإنجازه، على شموليته وامتداده، بدءاً بعمران الإنسان، حتى عمران السلطان.

فأما عمران الإنسان: فهو البناء الكفيل بإخراج (الإنسان القرآني)، المشار إليه في قوله جل وعلا: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللهِ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَاّ اللهَ فَعَسَى أُوْلَئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ} [التوبة:18].

وحينما نقول: (الإنسان) فهو الفرد والمؤسسة، وهو الوجدان الذاتي والجماعي، وهو الأسرة الواحدة والنسيج الاجتماعي، وهو العامة والخاصة، وهو المجتمع والدولة .. إلى غير ذلك من الثنائيات التي يستوعبها مصطلح (الإنسان).

ورسالتنا هذه (بلاغ الرسالة القرآنية) هي من هذا المعنى الأول.

وأما عمران السلطان: فهو البناء الكفيل بإخراج السلطان القرآني، وليس المقصود بالسلطان عنصره البشري، ومرجعه الإنساني، كلا! فذلك هو المعنى الأول وقد سبق، وإنما
আমরা কোনো ভিত্তি স্থাপন করি না এবং কোনো নির্মাণ কাজ পরিচালনা করি না; কেবল আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ভিত্তিতে। মহান কুরআন হলো এক সুউচ্চ রব্বানী নকশা; এক মহিমান্বিত নির্মাণের জন্য, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কেবল মানুষকেই দেওয়া হয়েছে, তার সামগ্রিকতা ও বিস্তৃতিসহ, মানুষের বিনির্মাণ থেকে শুরু করে শাসনের বিনির্মাণ পর্যন্ত।

আর মানুষের বিনির্মাণের ক্ষেত্রে: এটি এমন এক নির্মাণ যা ‘কুরআনিক মানুষ’ গড়ে তুলতে সক্ষম, যার প্রতি মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারাই হবে হিদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত} [আত-তাওবা: ১৮]।

আর যখন আমরা বলি: ‘মানুষ’, তখন তা দ্বারা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক চেতনা, একক পরিবার ও সামাজিক বুনন, সাধারণ ও বিশিষ্ট শ্রেণি এবং সমাজ ও রাষ্ট্র... এ জাতীয় অন্যান্য দ্বৈত সত্তাকে বোঝায় যা ‘মানুষ’ পরিভাষাটি ধারণ করে।

আর আমাদের এই বার্তা (কুরআনিক বার্তার প্রচার) মূলত এই প্রথম অর্থের অন্তর্ভুক্ত।

আর শাসনের বিনির্মাণের ক্ষেত্রে: এটি এমন এক নির্মাণ যা ‘কুরআনিক শাসন’ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম। এখানে শাসন বলতে এর মানবিক উপাদান বা এর মানবিক উৎসকে বোঝানো হয়নি, কখনোই না! কারণ সেটি তো প্রথম অর্থের অন্তর্ভুক্ত যা ইতিপূর্বেই আলোচিত হয়েছে, বরং এটি...
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
المقصود به طبيعته العمرانية، وعمقه النظامي، وهو المشار إليه في قوله تعالى: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ} [الحج:41]، وليس هذا إلا نتيجة للأول، ومَن عَكَسهما فقد قلب المنهج، ولقد بينَّا في كتاب (البيان الدعوي) من ذلك؛ احتجاجاً واستدلالاً؛ ما يكفي إن شاء الله، فلا داعي للإطالة.

والذي يجمع الأول والثاني؛ ليتم كمال (العمران)، هو: (عمران الاستخلاف)، الذي يشمل كل النشاط البشري، ويستوعب كل أبعاده الكونية، وهو المعبر عنه في القرآن الكريم بقوله تعالى: {هُوَ أَنشَأَكُم مِّنَ الأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُّجِيبٌ} [هود:61].

وقوله عز وجل: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً} [البقرة:30].

وقوله سبحانه: {يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ} [سورة ص:26]. فقوله تعالى: {فَاحْكُم بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ} [سورة ص:26] هو جزء من كلي خلافته، وليس هو إياها، وقد سبق لنا في هذه المسألة تدليل وتأصيل، في كتابنا المذكور، لمن شاء التفصيل.
এর দ্বারা এর সভ্যতামুখী প্রকৃতি এবং পদ্ধতিগত গভীরতা বুঝানো হয়েছে, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ (المنكر) করে; আর সকল কাজের চূড়ান্ত পরিণাম আল্লাহরই হাতে।" [সূরা আল-হজ: ৪১]। এটি প্রথমটিরই একটি অনিবার্য ফল, আর যে এ দুটির মধ্যে বৈপরীত্য সৃষ্টি করবে সে মূল পদ্ধতি (المنهج) পরিবর্তন করে ফেলল। আমরা আমাদের ‘আল-বায়ান আদ-দাওয়ি’ গ্রন্থে এ বিষয়ে ইনশাআল্লাহ পর্যাপ্ত দলিল ও প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছি, তাই এখানে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই।

যা প্রথম ও দ্বিতীয় বিষয়কে একত্রিত করে সভ্যতার পূর্ণতা দান করে, তা হলো: ‘খিলাফতের আবাদকরণ’; যা মানুষের সকল কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর মহাজাগতিক সকল দিককে ধারণ করে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর বাণীতে এটিই ব্যক্ত হয়েছে: "তিনিই তোমাদেরকে জমিন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে তোমাদেরকে আবাদকারী বানিয়েছেন। অতএব তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপর তাঁরই দিকে ফিরে আসো। নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা অতি নিকটে, কবুলকারী।" [সূরা হুদ: ৬১]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, নিশ্চয়ই আমি জমিনে একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে যাচ্ছি।" [সূরা আল-বাকারা: ৩০]।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: "হে দাউদ! আমি তোমাকে জমিনে প্রতিনিধি করেছি, অতএব তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়ের সাথে বিচার করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে।" [সূরা সোয়াদ: ২৬]। মহান আল্লাহর এই বাণী: "তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়ের সাথে বিচার করো" তা তাঁর সামগ্রিক খিলাফতের একটি অংশ মাত্র, এটিই পরিপূর্ণ খিলাফত নয়। যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য আমাদের উল্লিখিত গ্রন্থে ইতিপূর্বেই দালিলিক প্রমাণ ও মূলনীতি (تأصيل) উপস্থাপন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
العمل إذن هو: (من القرآن إلى العمران)، إن معنى ذلك أننا ننخرط في حركة (البعثة الجديدة) التي نراها تنطلق اليوم؛ تصديقاً لوعد القرآن العظيم؛ ولبشارة الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم.

وقولنا (حركة): ليس بالمعنى السياسي للكلمة، حيث يضيق اللفظ ويتقزم؛ لينحصر في الدلالة على دائرة تنظيمية محدودة، كلَّا!.

وإنما (الحركة) هنا بمعناها العمراني الكبير، حركة يديرها رب الكون، الحي القيوم سبحانه، مجالها في الأرض، وتقديرها في السماء، تصميمها القرآن، ومنفِّذها الإنسان، ولنا في هذا الموضوع تأصيل آخر، في خطوة تأليفية تتلو هذه بحول الله.

فما عليك يا صاح الآن إلا أن تتناول التصميم القرآني لهندسة العمران، فتنشره بين يديك نشراً، تتبين معالمه، وتتبصر موازينه، وتشرع في التنفيذ؛ بناءً وتعميراً، وكل كلام دون ذلك مضيعة للأعمار في غير طائل، ويكفي الأمة ما أهدرت -ولا تزال- من الطاقة في الجدل والكلام. ومن الحِكَم المأثورة، أنه (إذا أراد الله بقوم سوءاً سلط عليهم الجدل ومنعهم العمل!)

***
সুতরাং কর্মপন্থা হলো: (কুরআন থেকে সভ্যতায় (العمران)), এর অর্থ হলো আমরা সেই (নতুন জাগরণ (البعثة الجديدة)) আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছি যা আমরা আজ সূচিত হতে দেখছি; যা মহান কুরআনের অঙ্গীকারের সত্যয়ন এবং মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুসংবাদের বাস্তবায়নস্বরূপ।

আর আমাদের 'আন্দোলন' (حركة) বলা: তা পরিভাষাটির রাজনৈতিক অর্থে নয়, যেখানে শব্দটি সংকুচিত ও খর্বকায় হয়ে পড়ে; কেবল একটি সীমাবদ্ধ সাংগঠনিক বৃত্তকে নির্দেশ করার জন্য, কখনোই নয়!

বরং এখানে 'আন্দোলন' (حركة) তার বৃহৎ সভ্যতা বিনির্মাণের অর্থে ব্যবহৃত, যে আন্দোলন বিশ্বজগতের প্রতিপালক, চিরঞ্জীব ও সর্বসত্তার ধারক (الحي القيوم) সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পরিচালনা করছেন। যার বিচরণক্ষেত্র পৃথিবীতে এবং যার ফয়সালা আকাশে; যার পরিকল্পনা কুরআন এবং বাস্তবায়নকারী হলো মানুষ। এই বিষয়ে আমাদের একটি স্বতন্ত্র তাত্ত্বিক ভিত্তি (تأصيل) রয়েছে, যা আল্লাহর শক্তিতে এই রচনার পরবর্তী কোনো ধাপে আসবে।

হে প্রিয় বন্ধু, এখন তোমার দায়িত্ব কেবল সভ্যতা প্রকৌশলের কুরআনি নকশাটি গ্রহণ করা, অতঃপর তা তোমার সামনে উন্মোচিত করা, এর স্বরূপসমূহ অনুধাবন করা এবং এর মানদণ্ডগুলো (موازين) পর্যবেক্ষণ করে বাস্তবায়ন তথা নির্মাণ ও আবাদ করার কাজে আত্মনিয়োগ করা। এর বাইরের সকল কথা কেবল নিরর্থক আয়ুক্ষয়। উম্মাহ বিতণ্ডা (الجدل) ও বাদানুবাদে যে শক্তি অপচয় করেছে—এবং এখনো করছে—তা-ই যথেষ্ট। বর্ণিত হিকমতসমূহের (الحِكَم المأثورة) মধ্যে রয়েছে যে, "যখন আল্লাহ কোনো জাতির অমঙ্গল চান, তখন তাদের ওপর বিতণ্ডা (الجدل) চাপিয়ে দেন এবং আমল (العمل) থেকে বঞ্চিত করেন!"

***
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقبل الخلوص من هذا التقديم أعلن لكل من يرغب في السير إلى الله أن هذه الورقة المتواضعة؛ هدية له مني، هدية من قلب أخلص المحبة للمحبين، فمن وجد فيها ما ينفع فهي له، ومن لم يجد من ذلك شيئاً فليدفع عنه ما يكره، والله الهادي إلى الخير والمعين عليه.

وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

وكتبه عبد ربه راجي عفوه وغفرانه، الفقير إلى رحمته ورضوانه:

فريد بن الحسن الأنصاري

الخزرجي السجلماسي، غفر الله له ولوالديه وللمؤمنين.

وقد وافق تمام تبييضه وتصحيحه -بمكناسة الزيتون، من حواضر المغرب الأقصى فجر يوم الأربعاء 9 ربيع الثاني: 1423 هـ - 19/ 6 /2002 م

***
এই উপক্রমণিকা সমাপ্ত করার পূর্বে আমি আল্লাহর পথে চলতে ইচ্ছুক প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করছি যে, এই বিনম্র পুস্তিকাটি আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি উপহার; এটি এমন এক হৃদয়ের উপঢৌকন যা আল্লাহর প্রেমিকদের প্রতি একান্ত ভালোবাসা পোষণ করে। সুতরাং, যিনি এতে কোনো কল্যাণকর বিষয় পাবেন তা তাঁরই জন্য, আর যিনি এতে তেমন কিছু পাবেন না তিনি যেন তা থেকে অপ্রীতিকর বিষয়গুলো বর্জন করেন। আল্লাহই কল্যাণের পথে পথপ্রদর্শক এবং এর ওপর সাহায্যকারী।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন তাঁর রবের এক বান্দা, যিনি তাঁর ক্ষমা ও মার্জনাপ্রত্যাশী এবং তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টির মুখাপেক্ষী:

ফরিদ ইবনুল হাসান আল-আনসারি

আল-খাযরাজি আস-সিজিলমাসি, আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।

এই পাণ্ডুলিপি অনুলিখন ও সংশোধনের কাজ সমাপ্ত হয়েছে— মাগরিবুল আকসা (মরক্কো)-এর অন্যতম নগরী মিকনাসাতুজ যাইতুনে, বুধবার ৯ই রবিউস সানি, ১৪২৩ হিজরি মোতাবেক ১৯শে জুন, ২০০২ খ্রিস্টাব্দের প্রত্যুষে।

***
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌تبصرة في المنهج

إن عودتي إلى القرآن؛ مدارسة وتدبراً؛ كشفت لي أنني كنت أمر على كثير من الآيات دون أن أبصرها!

نعم! لقد قادني التدبر للقرآن العظيم إلى أن أكتشف أن النظر لا يغني عن الإبصار! (1).

--------------------------------------------

(1) لابد من الاعتراف لأهل الفضل بفضلهم؛ فقد كان لأستاذي العالم المربي، الدكتور الشاهد البوشيخي حفظه الله وسلمه الأثر الأول في إثارة انتباهي إلى الأسرار الدعوية للقرآن العظيم، وما ينطوي عليه من كنوز، ومفاتيح لكثير مما يختلف فيه الناس اليوم من قضايا تجديد الدين، وذلك من خلال ما تلقيناه عنه من دروس علمية وتربوية، في وقت كان الالتفات إلى هذا نادراً، فله من الله الجزاء الأوفى على ما علّم وربى.

ثم لابد بعد ذلك من ذكر ما كان لرسائل بديع الزمان سعيد النورسي رحمه الله من أثر كبير في تجلية هذا المعنى في قلبي، ذلك أنه رحمه الله إنما كان يتعامل مع القرآن بمنهج إبصاري.

فقد كان مبدؤه في ذلك قوله: (كن من شئت وأبصر! وافتح عينيك فحسب؛ وشاهد الحقيقة! وأنقذ إيمانك الذي هو مفتاح السعادة الأبدية!) (الملاحق:105) فمثلاً في سياق تفسير قوله تعالى: {يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ =
পদ্ধতি (منهج) সংক্রান্ত অন্তর্দৃষ্টি

পবিত্র কোরআনের পঠন-পাঠন ও গভীর চিন্তা-গবেষণার (تدبر) দিকে আমার প্রত্যাবর্তন আমার কাছে এই সত্য উন্মোচিত করেছে যে, আমি ইতিপূর্বে অনেক আয়াতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতাম অথচ সেগুলো আমি চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ (إبصار) করতাম না!

হ্যাঁ! মহান কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) আমাকে এই সত্য উদঘাটনের পথে পরিচালিত করেছে যে, কেবল সাধারণ দৃষ্টিপাত করা চাক্ষুষ দর্শনের (إبصار) বিকল্প হতে পারে না! (১)।

--------------------------------------------

(১) গুণীজনের গুণের স্বীকারোক্তি প্রদান করা আবশ্যক; মহান কোরআনের দাওয়াহ বিষয়ক রহস্যসমূহ এবং এতে নিহিত ধনভাণ্ডারের প্রতি আমার মনোযোগ আকর্ষণে আমার শিক্ষক, আলিম ও মুরব্বি ডক্টর আশ-শাহিদ আল-বুশাইখি (আল্লাহ তাকে হিফাজত ও সালামত দান করুন) এর প্রভাব ছিল অগ্রগণ্য। বিশেষ করে দ্বীন পুনর্জাগরণ (تجديد الدين) সংক্রান্ত যেসব বিষয়ে বর্তমানে মানুষের মাঝে মতভেদ বিদ্যমান, সেগুলোর অনেক চাবিকাঠি কোরআনের মাঝে রয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে তার নিকট থেকে প্রাপ্ত তাত্ত্বিক ও শিক্ষামূলক পাঠের মাধ্যমে, এমন এক সময়ে যখন এই বিষয়ের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা ছিল বিরল। সুতরাং তিনি যা শিক্ষা দিয়েছেন ও লালন করেছেন তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যেন সর্বোত্তম প্রতিদান লাভ করেন।

এরপর অবশ্যই বদিউজ্জামান সাঈদ নুরসি (রহিমাহুল্লাহ)-এর পত্রাবলির (رسائل) কথা উল্লেখ করতে হয়, যা আমার হৃদয়ে এই অর্থটি পরিস্ফুটিত করার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল; কারণ তিনি (রহিমাহুল্লাহ) কোরআনের ক্ষেত্রে চাক্ষুষ দর্শন পদ্ধতি (منهج إبصاري) অবলম্বন করতেন।

এক্ষেত্রে তার মূলনীতি (مبدأ) ছিল তার এই উক্তি: (তুমি যাই হও না কেন, চাক্ষুষ দর্শন করো! কেবল তোমার চোখ দুটি খোলো এবং সত্য প্রত্যক্ষ করো! আর তোমার ইমানকে রক্ষা করো যা চিরন্তন সুখের চাবিকাঠি!) (আল-মালাহিক: ১০৫)। উদাহরণস্বরূপ, মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা বা তাফসিরের (تفسير) প্রেক্ষাপটে: {হে জিন ও মানব সম্প্রদায়... =
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
فالمرض إذن؛ نظر بلا إبصار! قال عز وجل: {وَتَرَاهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ} [الأعراف:198]، وقال سبحانه: {وَكَأَيِّن مِّن آيَةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ يَمُرُّونَ عَلَيْهَا وَهُمْ عَنْهَا مُعْرِضُونَ} [يوسف:105]، والقرآن العظيم مجموع كلي من الآيات الدالة على الطريق، آيات هي في حاجة فقط إلى من يبصرها؛ ومن هنا وصف الله القرآن كله بأنه (بصائر)، قال سبحانه: {هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّقَوْمِ يُوقِنُونَ} [الجاثية:20].

والبصائر: جمع بصيرة، وهي الآية التي تُبَصِّرُ الناس حقائق الوجود، وتدلهم على الطريق السالكة إلى الله، عند

--------------------------------------------

= إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ. فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ. يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِّن نَّارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنتَصِرَانِ} [الرحمن: 33 - 35]؛ قال رحمه الله: (أبصر! (…) وشاهد معنى الآية الكريمة في نور إعجازها الواضح وضوح النهار، وخذ نجم حقيقة واحدة من سماء تلك الآية الكريمة، واقذف بها الشيطان القابع في ذهنك وارجمه بها! ونحن كذلك نفعل هذا) (الكلمات:210) وقال رحمه الله: (لما زالت الغفلة، أبصرت نور الحق عياناً) (الكلمات:240)، وطالما كان يقول في رسائله: (هكذا شاهدت!) (المثنوي العربي:158)، ن. ذلك كله في كليات رسائل النور تأليف الأستاذ بديع الزمان سعيد النورسي، ترجمة إحسان قاسم الصالحي، نشر دار (سوزلر) للنشر، فرع القاهرة ط 2 بمصر (1412 هـ/ الموافق 1992 م).

كما أنه لا بد من التنويه بما كان لأخينا الدكتور أحمد العبادي -حفظه الله وسلمه- من أثر في تحقيق مناط هذا المفهوم في نفسي، وذلك من خلال مذاكرات ثنائية لا تنسى، فجزاه الله الجزاء الأوفى.
فالمرض إذن؛ نظر بلا إبصار! قال عز وجل: {وَتَرَاهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ} [الأعراف:198]، وقال سبحانه: {وَكَأَيِّن مِّن آيَةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ يَمُرُّونَ عَلَيْهَا وَهُمْ عَنْهَا مُعْرِضُونَ} [يوسف:105]، والقرآن العظيم مجموع كلي من الآيات الدالة على الطريق، آيات هي في حاجة فقط إلى من يبصرها؛ ومن هنا وصف الله القرآن كله بأنه (بصائر) ، قال سبحانه: {هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّقَوْمِ يُوقِنُونَ} [الجاثية:20].

সুতরাং এই ব্যাধি হলো দর্শনহীন দৃষ্টি! মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তুমি তাদের দেখবে যে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে অথচ তারা দেখতে পাচ্ছে না} [আল-আরাফ: ১৯৮]। তিনি আরও বলেছেন: {আর আসমান ও জমিনে কত নিদর্শন (آية) রয়েছে যা তারা অতিক্রম করে চলে যায়, অথচ তারা তা থেকে বিমুখ থাকে} [ইউসুফ: ১০৫]। আর এই মহান কুরআন হলো পথপ্রদর্শক নিদর্শনসমূহের (آيات) এক পূর্ণাঙ্গ সমষ্টি; এমন সব নিদর্শন (آيات) যা কেবল এমন কাউকে প্রত্যাশা করে যে এগুলোকে প্রত্যক্ষ করবে। আর এ কারণেই আল্লাহ পূর্ণ কুরআনকে ‘বাসায়ের’ বা ‘অন্তর্দৃষ্টির আলোকবর্তিকা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এটি মানুষের জন্য অন্তর্দৃষ্টির আলোকবর্তিকা (بصائر) এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত} [আল-জাসিয়া: ২০]।

والبصائر: جمع بصيرة، وهي الآية التي تُبَصِّرُ الناس حقائق الوجود، وتدلهم على الطريق السالكة إلى الله، عند

--------------------------------------------

আর ‘বাসায়ের’ হলো ‘বাসীরাহ’ (بصيرة) এর বহুবচন; আর তা হলো এমন নিদর্শন (آية) যা মানুষের সামনে অস্তিত্বের প্রকৃত সত্যকে উদ্ভাসিত করে এবং তাদেরকে আল্লাহর দিকে ধাবমান সঠিক পথের দিশা দেয়... = {যদি তোমরা আসমান ও জমিনের সীমানা অতিক্রম করতে পার তবে করো, কিন্তু তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না শক্তি ছাড়া। সুতরাং তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? তোমাদের ওপর আগুনের লেলিহান শিখা ও গলিত তামা ছেড়ে দেওয়া হবে, ফলে তোমরা একে অপরকে সাহায্য করতে পারবে না} [আর-রাহমান: ৩৩-৩৫]; তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (প্রত্যক্ষ করুন! (…) দিনের আলোর মতো সুস্পষ্ট অলৌকিকত্বের জ্যোতিতে এই মহান নিদর্শনের (آية) মর্মার্থ প্রত্যক্ষ করুন। সেই মহান নিদর্শনের (آية) আকাশ থেকে একটি ধ্রুব সত্যের নক্ষত্র গ্রহণ করুন এবং আপনার মস্তিষ্কে লুকিয়ে থাকা শয়তানকে তা দিয়ে আঘাত করে বিতাড়িত করুন! আমরাও ঠিক তাই করছি) (আল-কালিমাত: ২১০)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: (যখন উদাসীনতা দূর হলো, আমি হকের আলো চাক্ষুষ দেখতে পেলাম) (আল-কালিমাত: ২৪০)। তিনি প্রায়ই তাঁর রিসালাগুলোতে বলতেন: (এভাবেই আমি প্রত্যক্ষ করেছি!) (আল-মাসনাভি আল-আরাবি: ১৫৮)। দ্রষ্টব্য: এই সবটুকুই ওস্তাদ বদিউজ্জামান সাইদ নোরসি রচিত ‘কুল্লিয়াতু রাসায়িলিন নুর’ থেকে সংগৃহীত, অনুবাদ: ইহসান কাসিম আস-সালিহি, প্রকাশনা: দারু সুজলার পাবলিশিং, কায়রো শাখা, ২য় সংস্করণ, মিশর (১৪১২ হি./ ১৯৯২ খ্রি.)।

সেই সাথে আমাদের ভাই ডক্টর আহমদ আল-আব্বাদির (আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন ও সুস্থ রাখুন) প্রভাবের কথা উল্লেখ করা জরুরি, যা আমার হৃদয়ে এই ধারণার প্রায়োগিক ক্ষেত্র নিশ্চিতকরণে (تحقيق مناط) ভূমিকা রেখেছে; এবং তা ছিল অবিস্মরণীয় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২২)
تعدد الطرق السالكة إلى غيره، وتسمى (بصيرة) من حيث هي مشعة بالنور، الذي يكون سبباً في تبصير الأعين الواقعة عليها، ولذلك وصف الله الآيات في سياق آخر بأنها (مُبْصِرَة) على صيغة اسم الفاعل، فنسب الإبصار إليها من حيث هي سبب فيه، كما في قوله تعالى: {وجَعَلْنَا آيةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً} [الإسراء:12]، أي: مضيئة للأشياء، ومسببة بذلك للأعين في الإبصار.

إلا أن الموضوع المقصود عندنا هاهنا هو: الإبصار النفسي، أو الإبصار القلبي، لا إبصار الجوارح، فالنفس الإنسانية (جسم) روحاني سوي، له جوارحه النفسانية، المفارقة للبدن. وإنما البدن لباسها الخارجي، قال تعالى: {وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا} [الشمس:7]، فإبصار النفس، أو إبصار القلب هو الذي يصاب بالعمى عن الغفلة، ويعالج بالتذكر، قال عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ} [الأعراف:201]، وقال سبحانه: {فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَكِن تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ} [الحج:46].

وعليه يحمل معنى قوله تعالى: {فَلَمَّا جَاءتْهُمْ آيَاتُنَا مُبْصِرَةً قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ} [النمل:13]، وقوله عز وجل: {وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً} [الإسراء:59]، فالآيات مُبْصِرَةٌ بمعنى مُبَصِّرَة، فهي لذلك بصيرة، والبصيرة: هي الثقب الذي يجعل في
অন্যের কাছে পৌঁছানোর পথসমূহ যখন বহুমুখী হয়, তখন তাকে অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) বলা হয়; এই কারণে যে এটি জ্যোতির মাধ্যমে বিকিরিত হয়, যা তার ওপর নিপতিত চোখের দৃষ্টি উন্মোচনের কারণ হয়। এই কারণেই আল্লাহ তা'আলা অন্য এক প্রসঙ্গে আয়াতসমূহকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) রূপে আলোকোজ্জ্বল (مبصرة) বলে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং দেখার কারণ হওয়ার প্রেক্ষিতেই তিনি দর্শনের বিষয়টিকে আয়াতের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং আমি দিনের নিদর্শনকে আলোকোজ্জ্বল (مبصرة) করেছি" [আল-ইসরা: ১২]। অর্থাৎ: এটি বস্তুসমূহকে আলোকিত করে এবং এর মাধ্যমে চোখের দর্শনের কারণ হয়ে থাকে।

তবে আমাদের এখানে উদ্দিষ্ট বিষয়টি হলো: মানসিক দর্শন বা অন্তরের দর্শন, শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দর্শন নয়। কারণ মানুষের আত্মা হলো একটি সুসংগত আধ্যাত্মিক সত্তা (جسم), যার নিজস্ব মানসিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে যা দেহ থেকে স্বতন্ত্র। দেহ কেবল আত্মার বাহ্যিক পোশাক মাত্র। মহান আল্লাহ বলেন: "শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুসংগত করেছেন" [আশ-শামস: ৭]। সুতরাং প্রাণের দর্শন বা অন্তরের দর্শনই অসতর্কতার কারণে অন্ধত্বের শিকার হয় এবং স্মরণের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, যখন শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা তাদের স্পর্শ করে, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, আর তৎক্ষণাৎ তারা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন (مبصرون) হয়ে যায়" [আল-আরাফ: ২০১]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না, বরং বক্ষস্থিত হৃদয়ই অন্ধ হয়" [আল-হাজ্জ: ৪৬]।

আর এর ওপরই মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থ পর্যবসিত হয়: "যখন তাদের কাছে আমার আলোকোজ্জ্বল (مبصرة) নিদর্শনসমূহ এল, তখন তারা বলল, এ তো এক সুস্পষ্ট জাদু" [আন-নামল: ১৩]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি সামুদ জাতিকে উটনী দিয়েছিলাম স্পষ্ট নিদর্শন (مبصرة) হিসেবে" [আল-ইসরা: ৫৯]। সুতরাং আয়াতসমূহ আলোকোজ্জ্বল (مبصرة) হওয়ার অর্থ হলো তা দৃষ্টিদানকারী, আর একারণেই তা অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة)। আর অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) হলো এমন এক ছিদ্র যা করা হয়...
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
باب الدار من أجل معرفة الطارق، وهي اليوم العدسات المجهرية التي تُثبت على أبواب المنازل، فمن خلالها يطلع الإنسان على الحقيقة ويكتشف طبيعتها.

ومن هنا كانت آيات القرآن مُبْصِرَةً، أو بصائر.

فإذ نصب المولى الكريم الآيات بصائر للناس، فإنهم إن لم يبصروا؛ لا لوم آنئذ إلا على أنفسهم، وهو قوله تعالى الوارد على أشد ما تكون النذارة: {قَدْ جَاءكُم بَصَآئِرُ مِن رَّبِّكُمْ فَمَنْ أَبْصَرَ فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ عَمِيَ فَعَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُم بِحَفِيظٍ} [الأنعام:104]، إن هذه الآية أُمٌّ من أمهات الكتاب. فأعد قراءتها وتدبر ثم أبصر!

تدبر ثم أبصر! لأن الإبصار نتيجة طبيعية للتدبر، ولذا كانت الآيات صارمة في وجوب التدبر على ما سيأتي تفصيله وبيانه بحول الله.

- ومن أجل هذا كله خاطب الله جل جلاله الناس ذوي الأبصار، كما في قوله تعالى: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُوْلِي الْأَبْصَارِ} [النور:44]، وقوله أيضاً: {فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ} [الحشر:2].

إن القرآن العظيم نسق كلي من الآيات، والآيات والآي جمع آية: وهي العلامة المنصوبة للدلالة على معلومة يُسْتَرْشَدُ بها في أمر ما، ومن هنا كانت الآية بمعنى: الحجة والبرهان.
বাড়ির দরজা হলো আগন্তুককে চেনার মাধ্যম, আর বর্তমানে এটি হলো দরজায় স্থাপিত সেই অণুবীক্ষণিক লেন্স (ডোর আই), যার মাধ্যমে মানুষ প্রকৃত সত্য প্রত্যক্ষ করে এবং এর স্বরূপ উন্মোচন করে।

আর এখান থেকেই কুরআনের আয়াতসমূহ (آيات) প্রত্যক্ষকারী অথবা অন্তর্দৃষ্টি (بصائر) হিসেবে গণ্য হয়েছে।

যেহেতু মহান প্রতিপালক আয়াতসমূহকে (آيات) মানুষের জন্য অন্তর্দৃষ্টি (بصائر) হিসেবে স্থাপন করেছেন, তাই তারা যদি তা প্রত্যক্ষ না করে, তবে সেই মুহূর্তে নিজেদের ছাড়া আর কাউকে তিরস্কার করার অবকাশ থাকবে না। এটিই মহান আল্লাহর সেই বাণী যা কঠোরতম সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে: "তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে অন্তর্দৃষ্টির (بصائر) প্রমাণসমূহ এসেছে; সুতরাং যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করবে সে নিজের কল্যাণের জন্যই করবে, আর যে অন্ধ সাজবে তার দায় তার ওপরই বর্তাবে। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো সংরক্ষক নই" [আন'আম: ১০৪]। এই আয়াতটি (آية) কিতাবের মূল ভিত্তিগুলোর (أمهات الكتاب) অন্যতম। সুতরাং এটি পুনরায় পাঠ করুন, গভীরভাবে চিন্তা করুন, অতঃপর প্রত্যক্ষ করুন!

গভীরভাবে চিন্তা করুন এবং প্রত্যক্ষ করুন! কারণ প্রত্যক্ষ করা হলো গভীর চিন্তার এক স্বাভাবিক পরিণতি। আর একারণেই গভীর চিন্তা করার আবশ্যিকতার বিষয়ে আয়াতসমূহ (آيات) অত্যন্ত কঠোর, যার বিস্তারিত বর্ণনা ও ব্যাখ্যা আল্লাহর শক্তিতে সামনে আসবে।

- আর এসবের জন্যই মহান আল্লাহ দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্বোধন করেছেন, যেমনটি আল্লাহর বাণীতে এসেছে: "নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা (عبرة) রয়েছে" [নূর: ৪৪], এবং তাঁর আরও বাণী: "অতএব হে দৃষ্টিসম্পন্নগণ! তোমরা শিক্ষা (اعتبروا) গ্রহণ করো" [হাশর: ২]।

নিশ্চয়ই মহান কুরআন হলো আয়াতসমূহের (آيات) এক সামগ্রিক বিন্যাস। 'আয়াত' (آيات) এবং 'আই' (آي) হলো 'আয়াত' (آية)-এর বহুবচন: আর তা হলো এমন এক স্থাপিত নিদর্শন (علامة) যা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যের দিকে নির্দেশ করে যার মাধ্যমে কোনো বিষয়ে সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া যায়। আর এখান থেকেই 'আয়াত' (آية) শব্দটি প্রমাণ (حجة) ও অকাট্য দলিল (برهان) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والحياة الدنيا -بلا دين- ظلمات متضاربة كأمواج البحر البهيم. والناس راحلون إلى ربهم من خلال ما حد لهم من أعمار، إنها رحلة شاقة مضنية. قال عز وجل: {يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَى رَبِّكَ كَدْحًا فَمُلَاقِيهِ} [الإنشقاق:6]، وهو لذلك في حاجة ماسة إلى الآيات؛ عسى أن يسهل عليه أمر العبور، وتتضح له معالم الطريق، ويسلك له سبيلها، تماماً كما لا تسلك الطريق لسائق السيارة؛ إلا بنصب علامات على كل مراحلها، وإنما العلامات: الآيات، كما في كل معاجم اللغة، هذا شيء مهم جدّاً، لكن ما فائدة الآيات بدون إبصار؟

ودعني أقصص عليك ها هنا قصة التاجر والأجير:

تبصرة:

خرج يوماً أحد التجار الأغنياء، ممن يحسبون من أهل الدين والصلاح، يقصد عالمِ المدينة، فسأله في ضائقة نزلت به، يريد من خلالها التوسل إلى الاقتراض الربوي من الأبناك؛ بناء على ما ظهر له فيها من الضرورة، مما لم يره العالم له، على ما يعرفه منه، ومن حاله، إذ كان يمكنه بيع شيء من ممتلكاته -وعنده منها ما يزيد على حاجته الحقيقية- لكن العالم لاحظ من خلال إلحاحه، وإعادة عرض مشكلته؛ أن عينيه تتشوقان إلى الحصول على رخصة!
আর দ্বীনহীন পার্থিব জীবন হচ্ছে ঘোর কৃষ্ণ সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের ন্যায় পরস্পর সংঘাতময় অন্ধকার। আর মানুষ তাদের জন্য নির্ধারিত আয়ুষ্কালের মধ্য দিয়ে তাদের প্রতিপালকের অভিমুখে ধাবিত হচ্ছে; নিশ্চয়ই এটি এক অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও শ্রমসাধ্য সফর। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ, তুমি তোমার রবের নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতে থাকবে, অতঃপর তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ৬]। আর এ কারণেই সে নিদর্শনাদির প্রতি চরম মুখাপেক্ষী; যাতে তার জন্য এই পথ পাড়ি দেওয়া সহজ হয়, পথের চিহ্নসমূহ স্পষ্ট হয় এবং তার চলার পথ সুগম হয়। ঠিক যেমন একজন গাড়ি চালকের জন্য পথের প্রতিটি ধাপে সংকেত বা চিহ্ন স্থাপন করা ছাড়া পথ চলা সম্ভব হয় না। আর এই চিহ্নগুলোই হলো নিদর্শন, যা ভাষার প্রতিটি অভিধানেই বর্ণিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কিন্তু অন্তর্দৃষ্টি ছাড়া নিদর্শনেরই বা কী সার্থকতা আছে?

আসুন, আমি এখানে আপনাকে একজন ব্যবসায়ী ও একজন শ্রমিকের গল্প বলি:

শিক্ষা:

একদিন এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, যিনি দ্বীনদার ও পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হতেন, শহরের একজন আলেমের নিকট গেলেন। তিনি তার ওপর আপতিত এক সংকটের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, যার মাধ্যমে তিনি ব্যাংক থেকে সুদি ঋণ গ্রহণের একটি পথ খুঁজে পেতে চাচ্ছিলেন; তিনি বিষয়টিকে নিজের ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজন মনে করেছিলেন। কিন্তু ওই আলেম তার অবস্থা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে যা জানতেন, তার ভিত্তিতে বিষয়টিকে তার জন্য অপরিহার্য মনে করেননি। কেননা তার পক্ষে নিজের কিছু সম্পদ বিক্রি করা সম্ভব ছিল—এবং তার কাছে তার প্রকৃত প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদও ছিল। কিন্তু আলেম তার পীড়াপীড়ি এবং সমস্যার পুনরাবৃত্তি দেখে লক্ষ্য করলেন যে, তার চোখ দুটি কেবল একটি বিশেষ ছাড় বা অনুমতির প্রত্যাশা করছে!
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم حدث أن جاء إلى العالم نفسه -بعد ذلك- رجل فقير، يشتغل أجيراً، مقابل ما لا يسد حاجته، فشكا -فوق ذلك- ضائقة شديدة ألمت به، فأنزلت به وبأهله ضرراً في الأموال والأبدان! فكان نظر العالم -على ما يعرفه منه ومن حاله، بعد استنفاد كل أبواب الحلال- أن رأى له رخصة المضطر حقيقة، بجواز ارتكاب أخف الضررين اتقاءً لأشدهما؛ وذلك بالاقتراض الربوي، في حدوده المقدرة بقدرها، من بعدما انسدت السبل كلها في وجهه. ثم غاب عنه أياماً؛ حتى ظن أنه قد أتم أمره، ثم لقيه بعد ذلك، فوجده ما يزال يعاني من مشكلته تلك، والخناق لا يزداد إلا اشتداداً عليه، فسأله عما فعل في مسألة الاقتراض، فزفر زفرة كادت تمزق قلبه! فقال: إني ما تجرأت على الاقتراب منه! إني لم أستطع! إني أسأل الله أن يجعل لي مخرجاً غيره!

وعجب العالم من الفرق بين صاحبيه: الأول وهو التاجر، الذي كان يعيش حياة أقرب إلى الترف منها إلى الاعتدال، يمنعه من الربا لكنه يطمع، والثاني: الأجير الذي كان يعيش وأسرته -في كثير من أحواله- على ما لا يسد الحاجة، يفتيه بالرخصة فيمتنع!

قلت: إن الفرق بينهما -لو تدبرت- هو الفرق بين الأعمى والبصير! وبيان ذلك كما يلي:
এরপর ঘটল যে, সেই একই আলেমের নিকট পরবর্তীতে এক দরিদ্র ব্যক্তি এলেন, যিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন এবং পারিশ্রমিক হিসেবে যা পেতেন তা তার ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর জন্যও পর্যাপ্ত ছিল না। তদুপরি, তিনি তার ওপর আপতিত এক চরম সংকটের কথা জানালেন, যা তার এবং তার পরিবারের জান ও মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করছিল। এমতাবস্থায় আলেমের অভিমত ছিল—ঐ ব্যক্তি এবং তার অবস্থা সম্পর্কে আলেমের সম্যক অবগতি এবং হালালের সকল পথ রুদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে—তাকে প্রকৃত নিরুপায় (مضطر) ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত শিথিলতা (رخصة) প্রদানের অনুকূলে। আর তা ছিল অধিকতর অনিষ্ট এড়াতে দুই ক্ষতির মধ্যে লঘুতরটি (أخف الضررين) গ্রহণ করার বৈধতা; অর্থাৎ, তার সম্মুখে সকল পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সুদযুক্ত (ربوي) ঋণের মাধ্যমে সংকট উত্তরণ করা। অতঃপর তিনি বেশ কিছুদিন আলেমের নিকট অনুপস্থিত রইলেন; এমনকি আলেম ধারণা করেছিলেন যে তিনি সম্ভবত তার কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছেন। এরপর যখন তার সাথে আলেমের পুনরায় সাক্ষাৎ হলো, তিনি তাকে পূর্বের ন্যায় সেই সমস্যায় জর্জরিত অবস্থায় পেলেন এবং তার সংকট ক্রমশ ঘনীভূতই হচ্ছিল। আলেম তাকে ঋণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এমন এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন যা যেন তার হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দিচ্ছিল! তিনি বললেন: ‘আমি তো এর ধারেকাছে যাওয়ার সাহসই করতে পারিনি! আমি সক্ষম হইনি! আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার জন্য এ ছাড়া অন্য কোনো নিষ্কৃতির পথ বের করে দেন!’

আলেম তার এই দুই সঙ্গীর মধ্যকার এই বিশাল বৈষম্য দেখে বিস্ময়াভিভূত হলেন: প্রথমজন সেই ব্যবসায়ী, যিনি মিতব্যয়িতার পরিবর্তে বিলাসিতার নিকটবর্তী জীবন অতিবাহিত করতেন, তাকে সুদের (ربا) ব্যাপারে নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি তাতে লালায়িত ছিলেন। আর দ্বিতীয়জন সেই দিনমজুর, যিনি তার পরিবার নিয়ে অধিকাংশ সময় ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণ ছাড়াই জীবন অতিবাহিত করতেন, তাকে শিথিলতার (رخصة) ফতোয়া প্রদান করা সত্ত্বেও তিনি তা থেকে বিরত থাকলেন!

আমি বলি: আপনি যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে দেখবেন তাদের দুজনের মধ্যকার পার্থক্য মূলত অন্ধ ও চক্ষুষ্মানের মধ্যকার পার্থক্যের ন্যায়! এর বিশদ বিবরণ নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فأما الأجير فقد أبصر الآيات: {الَّذِينَ يَاكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَاّ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ. ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا. وَأَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا. فَمَن جَاءهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىَ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللهِ وَمَنْ عَادَ فَأُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} إلى قوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَاذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللهِ وَرَسُولِهِ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ} [البقرة: 275 - 279].

لقد رأى الأجير المال الحرام، فأبصره جمراً مشتعلاً! وأبصر أكلته صرعى يتخبطون في نار جهنم! الآخذين والمعطين فيه سواء، أبصرهم يتداولون نقوداً مشتعلة، كأن معدنها قد سك من مارج نار! وأبصر لهيبها يتطاول إلى دار الدنيا؛ فيحرق عشه، ويخرب بيته، ويهلك بدنه وماله، ويلتهم من حياته ما ظن أنه يعمره، لقد أبصر حقّاً! أبصر ذلك كله فانكمشت يده خوفاً مما رأى!

وأما التاجر فإنما سمع، وليس من رأى كمن سمع!

وكذلك كان رسول الله يُبَصِّرُ أصحابَه صورةَ المال الحرام، ففي الصحيحين من حديث أم سلمة: عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه سمع خصومة بباب حجرته، فخرج إليهم، فقال: «إنما أنا بشر، وإنكم تختصمون إلي، فلعل بعضكم أن يكون ألحن بحجته من بعض؛ فأقضي له على نحو ما
শ্রমিকের বিষয়টি হলো এই যে, তিনি আয়াতসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন: {যারা সুদ খায়, তারা (কিয়ামতের দিন) সে ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে, যাকে শয়তান তার স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দিয়েছে। এটা এজন্য যে, তারা বলে: 'ব্যবসা তো সুদের মতোই'। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। অতএব যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই, আর তার ব্যাপারটি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত। আর যারা পুনরায় তা করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে} হতে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। তবে যদি তোমরা তা না করো, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর যদি তোমরা তাওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে; তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না} [আল-বাকারা: ২৭৫ - ২৭৯]।

শ্রমিক হারাম সম্পদ প্রত্যক্ষ করেছেন, ফলে তিনি একে প্রজ্বলিত অঙ্গার হিসেবে দেখেছেন! এবং এর ভক্ষণকারীদের তিনি জাহান্নামের আগুনে আছাড় খেয়ে ছটফট করতে দেখেছেন! সম্পদ গ্রহণকারী এবং প্রদানকারী—উভয়ই এতে সমান। তিনি তাদের এমন সব মুদ্রা আদান-প্রদান করতে দেখেছেন, যেন তার ধাতু আগুনের শিখা থেকে ঢালাই করা হয়েছে! তিনি এর লেলিহান শিখাকে দুনিয়ার ঘর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখেছেন; যা তার নীড়কে ভস্মীভূত করে, তার ঘরকে ধ্বংস করে, তার শরীর ও সম্পদকে বিনাশ করে এবং তার জীবনের সেই অংশকে গ্রাস করে নেয় যা সে আবাদ করার কথা ভেবেছিল। তিনি সত্যিই প্রত্যক্ষ করেছেন! তিনি এসবই প্রত্যক্ষ করেছেন, তাই যা দেখেছেন তার ভয়ে তাঁর হাত গুটিয়ে নিয়েছেন!

আর ব্যবসায়ীর বিষয় হলো, তিনি তো কেবল শ্রবণ করেছেন; আর প্রত্যক্ষকারী তো শ্রবণকারীর মতো নয়!

অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট হারাম সম্পদের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলতেন। সহিহাইন-এ উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কক্ষের দরজায় বিবাদ শুনতে পেলেন, তখন তিনি তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: «আমি তো কেবল একজন মানুষ, আর তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে আসো। সম্ভবত তোমাদের কেউ অন্যের তুলনায় তার প্রমাণ উপস্থাপনে অধিক পটু হতে পারো; ফলে আমি তার অনুকূলে ফয়সালা প্রদান করি যা আমি শুনি সে অনুযায়ী...»
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أسمع، فمن قضيت له بحق مسلم فإنما هي قطعة من النار! فليأخذها أو ليتركها!» (1)

- وروي الحديث بطرق أخرى فيها زيادة، قال: «فإنما أقطع له قطعة من النار يأتي بها إسطاماً في عنقه يوم القيامة!» [والإسطام: الحديدة التي تسعر بها النار] فبكى الرجلان، وقال كل واحد منهما: حقي لأخي! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أما إذا قلتما، فاذهبا فاقتسما، ثم توخيا الحق، ثم استهما، ثم ليحلل كل واحد منكما صاحبه» (2)

وعلى هذا المنهج التربوي يفهم حديث حنظلة الأسيدي رضي الله عنه، لما أبصر الآيات فقال: لقيني أبو بكر فقال: كيف أنت يا حنظلة؟ قال قلت: نافق حنظلة! قال: سبحان الله! ما تقول؟ قال: قلت: نكون عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، يذكرنا بالنار والجنة؛ حتى كأنا رأي عين! فإذا خرجنا من عند رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ عافسنا الأزواج والأولاد والضيعات؛ فنسينا كثيراً. قال أبو بكر: فو الله إنا لنلقى مثل هذا! فانطلقت أنا وأبو بكر، حتى دخلنا على رسول الله صلى الله عليه وسلم، قلت: نافق حنظلة يا رسول الله! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وما

--------------------------------------------

(1) متفق عليه

(2) رواه أحمد، وأبو داود، والبيهقي، والدارقطني، وابن أبي شيبة في مصنفه، وابن الجارود في منتقاه.
...আমি যা শুনি (সে অনুযায়ী ফয়সালা করি)। সুতরাং আমি যদি কারো পক্ষে অন্য কোনো মুসলিমের হকের ফয়সালা করে দেই, তবে তা জাহান্নামের আগুনের একটি টুকরো মাত্র! অতএব সে তা গ্রহণ করুক কিংবা বর্জন করুক। (১)

- হাদিসটি আরও কিছু বর্ণনাপথের (طرق) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যেখানে অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন: "আমি তো তার জন্য আগুনের একটি টুকরো নির্দিষ্ট করে দিচ্ছি, যা সে কিয়ামতের দিন তার গলায় আগুনের বেড়ি হিসেবে পরিহিত অবস্থায় নিয়ে আসবে!" [আর 'ইস্তাম' হলো: সেই লোহার দণ্ড যা দিয়ে আগুন উসকে দেওয়া হয়]। তখন লোক দুজন কেঁদে ফেললেন এবং তাদের প্রত্যেকেই বললেন: আমার প্রাপ্য অংশ আমার ভাইয়ের জন্য! তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা যখন একমত হলে, তবে যাও এবং নিজেদের মধ্যে তা বণ্টন করে নাও, এরপর সত্যটি অনুসন্ধানে যত্নবান হও, তারপর লটারি করো এবং তোমাদের প্রত্যেকে যেন নিজ সাথীকে দায়মুক্ত করে দেয়।" (২)

আর এই শিক্ষামূলক পদ্ধতির আলোকেই হানজালা আল-আসায়িদি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি অনুধাবন করা যায়; যখন তিনি নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করলেন তখন বললেন: আবু বকর (রা.)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে হানজালা! তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম: হানজালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে! তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! তুমি একি বলছ? আমি বললাম: আমরা যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে থাকি, তিনি আমাদের জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন; যেন আমরা তা চাক্ষুষ দেখছি! এরপর যখন আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে বেরিয়ে আসি; তখন স্ত্রী, সন্তান ও বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে মেতে উঠি; ফলে আমরা অনেক কিছুই ভুলে যাই। আবু বকর (রা.) বললেন: আল্লাহর কসম! আমরাও তো ঠিক এমন অবস্থারই সম্মুখীন হই! এরপর আমি ও আবু বকর (রা.) রওনা হলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! হানজালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে! তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আর..."

--------------------------------------------

(১) ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه)

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ, বায়হাকি, দারা কুতনি, ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে এবং ইবনুল জারুদ তাঁর মুনতাকা গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ذاك؟» قلت: يا رسول الله، نكون عندك تذكرنا بالنار والجنة؛ حتى كأنا رأي عين، فإذا خرجنا من عندك عافسنا الأزواج والأولاد والضيعات، نسينا كثيراً! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والذي نفسي بيده، إن لو تدومون على ما تكونون عندي، وفي الذكر؛ لصافحتكم الملائكة على فرشكم وفي طرقكم! ولكن يا حنظلة، ساعة وساعة! ثلاث مرات» ()

وكذلك كان منهج الصحابة -من بعده صلى الله عليه وسلم في التبصير بالآيات، كلما ادلهمت المشكلات، ومن ذلك ما روته عائشة رضي الله عنها من قصة موت النبي صلى الله عليه وسلم، حيث فزع عمر رضي الله عنه للخبر، وكأنه لم يصدقه، فقام يقول: والله ما مات رسول الله! صلى الله عليه وسلم قال عمر: والله ما كان يقع في نفسي إلا ذاك- وليبعثنه الله، فليقطعن أيدي رجال وأرجلهم! فجاء أبو بكر فكشف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقبله، قال: بأبي أنت وأمي، طبت حيّاً وميتاً، والذي نفسي بيده لا يذيقك الله موتتين أبداً! ثم خرج فقال: أيها الحالف على رسلك! فلما تكلم أبو بكر جلس عمر، فحمد الله أبو بكر وأثنى عليه، وقال: ألا من كان يعبد محمداً صلى الله عليه وسلم؛ فإن محمداً قد مات! ومن كان يعبد الله فإن الله حي لا يموت! وقال: {إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ} [الزمر:30]، وقال: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ
"সেটি কী?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যখন আপনার সান্নিধ্যে থাকি, আপনি আমাদের জাহান্নাম ও জান্নাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন; মনে হয় যেন আমরা তা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছি। কিন্তু যখন আমরা আপনার নিকট হতে প্রস্থান করি, তখন আমরা স্ত্রী, সন্তান ও বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি এবং অনেক কিছু ভুলে যাই! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমরা যদি সর্বদা সেই অবস্থায় থাকতে যে অবস্থায় আমার কাছে থাক এবং সর্বদা জিকিরে নিমগ্ন থাকতে, তবে ফেরেশতারা তোমাদের শয্যায় এবং চলার পথে তোমাদের সাথে মুসাফাহা করত! কিন্তু হে হানজালা, সময়ের ভিন্নতা রয়েছে (কখনো আখিরাতের ধ্যানে, কখনো পার্থিব প্রয়োজনে)!" তিনি কথাটি তিনবার বললেন।

অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তিরোধানের পর সাহাবায়ে কেরামের মানহাজ (منهج) ছিল—যখনই কোনো জটিল সমস্যার উদ্ভব হতো, তাঁরা কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে সত্যের আলোকপাত করতেন। এর একটি উদাহরণ হলো আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের ঘটনা, যেখানে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই সংবাদে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন এবং যেন তা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। তিনি দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন: আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেননি! উমর বললেন: আল্লাহর শপথ! আমার মনে কেবল এই ভাবনাই আসছিল যে—আল্লাহ অবশ্যই তাঁকে পুনরায় পাঠাবেন এবং তিনি অবশ্যই সেইসব লোকেদের হাত ও পা কেটে ফেলবেন! অতঃপর আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র চেহারা হতে কাপড় সরিয়ে তাঁকে চুম্বন করলেন। তিনি বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় পবিত্র। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ কখনোই আপনাকে দুইবার মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করাবেন না! অতঃপর তিনি বাইরে এসে বললেন: হে শপথকারী, শান্ত হও! যখন আবু বকর কথা বলতে শুরু করলেন, তখন উমর বসে পড়লেন। এরপর আবু বকর আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন এবং বললেন: সাবধান! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইবাদত করত, সে জেনে রাখুক যে মুহাম্মাদ ইন্তেকাল করেছেন! আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করে, সে জেনে রাখুক যে আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না! এরপর তিনি পাঠ করলেন: "নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।" [সূরা যুমার: ৩০], এবং পাঠ করলেন: "মুহাম্মাদ একজন রাসূল বৈ তো নন, তাঁর পূর্বে অনেক রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন..."
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ} [آل عمران:144]، فنشج الناس يبكون (…)، قالت عائشة رضي الله عنها: لقد بصَّر أبو بكر الناس الهدى، وعرفهم الحق الذي عليهم، وخرجوا به، يتلون: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ} إلى {الشَّاكِرِينَ} (رواه البخاري). وفي رواية أخرى عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «والله لكأن الناس لم يكونوا يعلمون أن الله أنزلها؛ حتى تلاها أبو بكر رضي الله عنه؛ فتلقاها منه الناس. فما يسمع بشر إلا يتلوها!» (1)

إن هذه النصوص تدل بشكل واضح على المنهج التبصيري، الذي كان يعتمده رسول الله صلى الله عليه وسلم مع أصحابه، كما تدل على مدى الإبصار الذي كانوا يتمتعون به في تلقي الآيات عن رسول الله، ولهذا سماها الله جل جلاله (بصائر)، كما في الآية التي اتخذناها شعاراً لهذا المعنى: {قَدْ جَاءَكُمْ بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ أَبْصَرَ فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ عَمِيَ فَعَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِحَفِيظٍ} [الأنعام:104].

تبصرة:

إن نجاح المشروع الدعوي ليس رهيناً بعدد المتَّبِعين؛ بقدر ما هو رهين بعدد المُبْصِرين، والمُبَصِّرين!

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري
{...তার পূর্বে বহু রাসুল গত হয়েছেন। সুতরাং যদি তিনি ইন্তেকাল করেন কিংবা তাঁকে হত্যা করা হয়, তবে কি তোমরা তোমাদের হিলের ওপর (পেছনের দিকে) ফিরে যাবে? আর যে ব্যক্তি তার দুই হিলের ওপর ফিরে যাবে, সে আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করবেন।} [আল ইমরান: ১৪৪], তখন মানুষ সজোরে কাঁদতে শুরু করল (…), আয়েশা (রা.) বলেন: আবু বকর (রা.) মানুষকে সঠিক পথের দিশা দান করেন এবং তাঁদের ওপর অর্পিত সত্য সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করেন। তাঁরা আয়াতটি পাঠ করতে করতে বেরিয়ে গেলেন: {মুহাম্মদ একজন রাসুল ছাড়া আর কিছুই নন, যাঁর পূর্বে বহু রাসুল গত হয়েছেন} থেকে {কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করবেন} পর্যন্ত (সহীহ বুখারি বর্ণনা করেছেন)। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনা (رواية)-তে তিনি বলেন: “আল্লাহর কসম! মনে হচ্ছিল যেন মানুষ জানতই না যে আল্লাহ এই আয়াতটি নাজিল করেছেন; যতক্ষণ না আবু বকর (রা.) তা পাঠ করলেন। অতঃপর মানুষেরা তাঁর থেকে এটি গ্রহণ করল। এরপর যাকে শোনা যাচ্ছিল, সেই এটি তিলাওয়াত করছিল!” (১)

নিশ্চয়ই এই মূল পাঠসমূহ (نصوص) সুস্পষ্টভাবে সেই অন্তর্দৃষ্টিমূলক মানহাজ বা পদ্ধতি (منهج)-র প্রতি ইঙ্গিত করে, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে অবলম্বন করতেন। এটি সাহাবীদের সেই গভীর অন্তর্দৃষ্টিরও প্রমাণ দেয়, যা তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে আয়াতসমূহ গ্রহণের ক্ষেত্রে পোষণ করতেন। এ কারণেই মহান আল্লাহ এগুলোকে অন্তর্দৃষ্টি (بصائر) নামে অভিহিত করেছেন; যেমনটি আমরা এই বিষয়ের মূলসুর হিসেবে গ্রহণ করা আয়াতে দেখতে পাই: {তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে অন্তর্দৃষ্টির প্রমাণাদি (بصائر) এসেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তা প্রত্যক্ষ করবে, সে নিজের কল্যাণেই করবে। আর যে অন্ধত্ব বরণ করবে, তার দায়ভার তার ওপরই বর্তাবে। আমি তোমাদের ওপর কোনো হিফাজতকারী নই।} [আল-আন’আম: ১০৪]।

অনুস্মারক:

দাওয়াহ প্রকল্পের সাফল্য অনুসারীদের সংখ্যার ওপর ততোটা নির্ভরশীল নয়; যতোটা তা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং অন্তর্দৃষ্টি প্রদানকারী ব্যক্তিদের সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল!

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারি বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
إن هذه الورقات محاولة لوضع أسس، لمشروع إصلاحي، يخاطب الوجدان الديني، الفردي والجماعي، التفت فيه إلى البدهيات الدينية، الاعتقادية والعملية، التي تبين لي أن كثيرا من البلاء المتسلط على البلاد والعباد؛ إنما مصدره ما وقع -من حيث ندري أو لا ندري- بسبب إهمال تلك البدهيات ونسيانها.

وإني لأعتقد جازماً أن ظهر الحركة الإسلامية اليوم، عار تماما من كل حماية، فهي تقف كذلك على خط المواجهة، غير محمية الظهر؛ فتصاب من خلفها كما تصاب من أمامها. وأحسب أن الرجوع إلى الأصول البدهيات في الدين؛ إنما هو رجوع إلى اعتلاء جبل الرماة، الذي كان إخلاؤه سبب هزيمة المسلمين في معركة أحد.

وإني لأرجو أن تكون هذه الورقات فاتحة خير إن شاء الله، لنفسي أولاً، ولمن شرح الله صدره لبلاغات القرآن؛ عسى أن نعود إلى التَّمْسِيكِ بالأصول، التي بها نكون صالحين لميراث محمد صلى الله عليه وسلم؛ أو لا نكون!

ذلك هو المنهج الرباني الذي عليه وقع البلاغ بصريح نص القرآن العظيم؛ فاقرأ قول الله جل جلاله وتدبر: {وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِن بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ. إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِّقَوْمٍ
এই পৃষ্ঠাগুলো একটি সংস্কারমূলক প্রকল্পের ভিত্তি (أسس) স্থাপনের একটি প্রচেষ্টা, যা ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক ধর্মীয় চেতনাকে সম্বোধন করে। এতে আমি সেই সমস্ত ধর্মীয় স্বতঃসিদ্ধ বিষয় (بدهيات)—বিশ্বাসগত ও আমলগত—এর প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি, যা আমার কাছে স্পষ্ট করে তুলেছে যে, দেশ ও জনগণের ওপর আপতিত অধিকাংশ বিপর্যয়ের মূল উৎস হলো—আমরা জানি বা না জানি—সেই স্বতঃসিদ্ধ বিষয় (بدهيات) সমূহের অবহেলা ও বিস্মৃতি।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, বর্তমানে ইসলামি আন্দোলনের পশ্চাৎভাগ সব ধরনের সুরক্ষা থেকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। এটি সম্মুখ সমরে এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যে এর পিঠ অরক্ষিত; ফলে এটি পেছন থেকে যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, সম্মুখভাগ থেকেও একইভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। আমি মনে করি, দ্বীনের মূলনীতি (أصول) ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয় (بدهيات) সমূহের দিকে ফিরে আসা মানে হলো সেই তীরন্দাজদের পাহাড়ে আরোহণ করা, যা খালি করা ওহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের পরাজয়ের কারণ হয়েছিল।

আমি আশা করি এই পৃষ্ঠাগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণের সূচনা হবে, প্রথমত আমার নিজের জন্য এবং তারপর তাদের জন্য যাদের অন্তর আল্লাহ কুরআনের বার্তার (بلاغ) জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন; যাতে আমরা সেই মূলনীতি (أصول) সমূহের ওপর সুদৃঢ়ভাবে ফিরে আসতে পারি, যার মাধ্যমে আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তরাধিকারের যোগ্য (صالحون) হব; অন্যথায় আমাদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না!

এটিই সেই রব্বানী পদ্ধতি (منهج), যার ওপর মহান কুরআনের স্পষ্ট ভাষ্যের মাধ্যমে প্রচারকার্য (بلاغ) সম্পন্ন হয়েছে; সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করুন এবং অনুধাবন করুন: {আর আমি যিকরের পর যবূরে লিখে দিয়েছি যে, আমার যোগ্য (صالحون) বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে। নিশ্চয়ই এতে এক ইবাদতকারী সম্প্রদায়ের জন্য বার্তা (بلاغ) রয়েছে...}
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
عَابِدِينَ} [الأنبياء:105،106]؛ {عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ} [الأنبياء:105]، وصف وشرط فيمن تجرد لطلب الإرث الرباني، فعبثا تحاول نفسك الثقيلة الوصول المشروط؛ دون تحقيق الشرط، ذلك حق يقين يعلنه الله على العالمين جزماً قاطعاً: {إِنَّ فِي هَذَا لَبَلَاغًا لِّقَوْمٍ عَابِدِينَ} [الأنبياء:106]!

فيا أيها الحليم الحيران، السالك مسالك الحياة الدنيا، تبحث -مثلي- عبر ليلها المظلم عن باب للخروج من الفتن .. هذا باب النور، فاقرأ وتدبر قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِالْكِتَابِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ} [الأعراف:170].

اقرأ وتدبر .. ثم أبصر!

***
{ইবাদতকারী (عابدين)} [আল-আম্বিয়া: ১০৫, ১০৬]; {আমার সৎকর্মপরায়ণ (صالحون) বান্দাগণ} [আল-আম্বিয়া: ১০৫], এটি তাদের জন্য একটি গুণ ও শর্ত যারা ঐশী উত্তরাধিকার অন্বেষণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। সুতরাং, শর্ত পূরণ না করে আপনার স্থবির নফসের পক্ষে সেই শর্তযুক্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা বৃথা; এটিই ধ্রুব সত্য যা আল্লাহ বিশ্ববাসীর নিকট অকাট্যভাবে ঘোষণা করেছেন: {নিশ্চয়ই এতে ইবাদতকারী (عابدين) সম্প্রদায়ের জন্য পর্যাপ্ত বার্তা রয়েছে} [আল-আম্বিয়া: ১০৬]!

হে ধৈর্যশীল বিভ্রান্ত পথিক, যিনি এই পার্থিব জীবনের পথে বিচরণ করছেন এবং আমারই মতো এর অন্ধকার রজনীতে ফিতনা থেকে উত্তরণের কোনো পথ খুঁজছেন.. এটিই নূরের দ্বার। অতএব মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করুন এবং তা নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করুন: {আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এবং সালাত কায়েম করে; নিশ্চয়ই আমি সংশোধনকারীদের (مصلحين) প্রতিদান নষ্ট করি না} [আল-আরাফ: ১৭০]।

পাঠ করুন এবং গভীর চিন্তা-গবেষণা করুন.. অতঃপর চক্ষুষ্মান হোন!

***
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌تبصرة

في قصة بلاغ الرسالة القرآنية

سألني أحد المحبين يوماً، قال: كيف نجدد ديننا؟

قلت:

سؤالان كبيران، يرتبطان بوجود الإنسان في الكون، ويحددان مصيره فيه، لكن قلما نضعهما -نحن المسلمين- اليوم على أنفسنا؛ لأنا نزعم أننا نعرف الجواب بداهة. فهل حصل لك -يا صاح- أن جردت نفسك من نفسك وسألتها يوماً كأنها شخص آخر:

السؤال الأول: هل تعرفين الله؟

السؤال الثاني: هل تعرفين القرآن؟

المشكلة هي أننا عندما نكتفي بـ (نعم) نكف عن البحث، وننقطع عن السير في طريق المعرفة الربانية، واستكشاف هذا القرآن العظيم!
পর্যবেক্ষণ

কুরআনিক রিসালাত পৌঁছানোর ইতিবৃত্ত প্রসঙ্গে

একদিন জনৈক হিতাকাঙ্ক্ষী আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি বললেন: আমরা কীভাবে আমাদের দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করব?

আমি বললাম:

দুটি সুবৃহৎ প্রশ্ন, যা মহাবিশ্বে মানুষের অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত এবং এতে তার ভাগ্য নির্ধারণ করে। কিন্তু বর্তমানে আমরা মুসলিমরা কদাচিৎ এই প্রশ্ন দুটি নিজেদের সামনে উপস্থাপন করি; কেননা আমাদের দাবি হলো আমরা স্বতঃসিদ্ধভাবেই এর উত্তর জানি। হে বন্ধু! তোমার কি কখনো এমন হয়েছে যে, তুমি নিজেকে নিজের সত্তা থেকে বিযুক্ত করে অন্য কোনো ব্যক্তির ন্যায় এই প্রশ্ন করেছ:

প্রথম প্রশ্ন: তুমি কি আল্লাহকে চেনো?

দ্বিতীয় প্রশ্ন: তুমি কি কুরআনকে চেনো?

সমস্যা হলো, আমরা যখন কেবল 'হ্যাঁ' সূচক উত্তরেই তুষ্ট থাকি, তখন আমরা অনুসন্ধান বন্ধ করে দিই এবং রব্বানী মা’রিফাত বা খোদায়ী জ্ঞান অর্জনের পথে চলা এবং এই মহান কুরআনকে নতুনভাবে উন্মোচনের ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি!
(খণ্ড: ১) বালাগুর্-রিসালাতিল কুরআনিইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
افرض إذن أنك -مثلي- لا تملك الحقيقة كاملة، ولنتابع البحث معاً:

ألسنا مسلمين؟ ألسنا نشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله؟ بلى طبعاً، هذا شيء حسن، فدين الإسلام الذي هو باب النجاة يوم القيامة إنما ينبني بعد الإيمان بالله على شهادة أن محمداً رسول الله، هذا بدهي، ومعلوم من الدين بالضرورة، نعم، ولكن تأمل: عبارة (رسول الله) هذا الوصف للنبي محمد صلى الله عليه وسلم، هو مناط الدين، الذي قال عنه الله عز وجل: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} [آل عمران: 19]، {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران:85]، فكل الإسلام قائم على شهادة أن محمداً رسول الله، فنتج عن هذا الوصف (رسول) أن الدين كل الدين -أعني الإسلام- هو عبارة عن (رسالة)، وهذا شيء عظيم جدّاً، ندرك رسمه، وقلما نبصر حقيقته. وإليك البيان:

عندما نقول: (محمد رسول الله) فإن الحقيقة اللغوية والحقيقة الشرعية كلتيهما تقتضيان أن محمدا بن عبد الله قد جاء برسالة معينة، أي أنيطت به مهمة، يقوم بتبليغها، فكان بذلك (رسولاً)، ولولا ذلك لما كان له شأن في الكون ولا في التاريخ.
তাহলে ধরে নিন যে আপনি—আমার মতো—পূর্ণ সত্যের অধিকারী নন, এবং আসুন আমরা একসাথে অনুসন্ধান চালিয়ে যাই:

আমরা কি মুসলিম নই? আমরা কি সাক্ষ্য দেই না যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল (رسول)? অবশ্যই, এটি একটি উত্তম বিষয়। ইসলাম ধর্ম, যা কিয়ামতের দিনে মুক্তির দুয়ার, তা আল্লাহর প্রতি ঈমানের পর 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল (رسول)'—এই সাক্ষ্যের ওপরই নির্মিত। এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় এবং দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে সুবিদিত (معلوم من الدين بالضرورة)। হ্যাঁ, তবে লক্ষ্য করুন: 'আল্লাহর রাসুল (رسول الله)'—নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর এই গুণবাচক বিশেষণটিই হলো দ্বীনের মূল ভিত্তি, যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} [আল-ইমরান: ১৯], {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তা কখনোই তার নিকট থেকে কবুল করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আল-ইমরান: ৮৫]। সুতরাং পুরো ইসলাম 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল (رسول)'—এই সাক্ষ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফলে এই 'রাসুল' (رسول) বিশেষণ থেকে এটিই প্রতিভাত হয় যে, পুরো দ্বীন—অর্থাৎ ইসলাম—হলো একটি 'বার্তা' (رسالة)। এটি অত্যন্ত মহান একটি বিষয়, যার বাহ্যিক কাঠামো আমরা অনুধাবন করি, তবে এর প্রকৃত রূপ খুব কমই প্রত্যক্ষ করি। আপনার নিকট এর বিশদ ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরা হলো:

যখন আমরা বলি: (মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল), তখন ভাষাগত বাস্তবতা (الحقيقة اللغوية) এবং শরয়ি বাস্তবতা (الحقيقة الشرعية) উভয়ই এটি দাবি করে যে, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ একটি নির্দিষ্ট বার্তা (رسالة) নিয়ে এসেছেন। অর্থাৎ, তাঁর ওপর একটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে যা তিনি পৌঁছে দেবেন, আর এ কারণেই তিনি হয়েছেন 'রাসুল' (رسول)। এটি না হলে মহাবিশ্বে বা ইতিহাসে তাঁর বিশেষ কোনো গুরুত্ব থাকত না।