(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: -)
الخلاصة في معرفة الحديث   (الطيبي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الخلاصة في معرفة الحديث

المؤلف: الحسين بن محمد بن عبد الله، شرف الدين الطيبي (ت 743 هـ)

المحقق: أبو عاصم الشوامي الأثري

الناشر: المكتبة الإسلامية للنشر والتوزيع - الرواد للإعلام والنشر

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 180

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 23 ذو القعدة 1436

আল-খুলাসাহ ফি মা’রিফাতিল হাদিস   (আত-তীবী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: আল-খুলাসাহ ফি মা’রিফাতিল হাদিস

লেখক: আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, শরফ উদ্দিন আত-তীবী (ওফাত ৭৪৩ হিজরী)

তাহকীককারী: আবু আসিম আশ-শাওয়ামী আল-আসারি

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযি - আর-রুওয়াদ লিল-ইলাম ওয়ান-নাশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরী - ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ যুল-কাদাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة التحقيق

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل، فلا هادى له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}

[آل عمران: 102]

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1]

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}

[الأحزاب: 70 - 71]

أما بعد،

فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وأحسن الهدي، هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

فإن علم الحديث من العلوم التي انفرد بها المسلمون، وجاءوا فيها بما لم تأت بمثله أمة من الأمم إلى يوم الناس هذا، حتى قال قائلهم «ليفتخر
সম্পাদনা ও গবেষণার ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

[আল ইমরান: ১০২]

{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।}

[আহযাব: ৭০ - ৭১]

অতঃপর,

নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সা.)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয় (محدثات), আর প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার (ضلالة) পরিণাম হলো জাহান্নাম।

নিশ্চয়ই হাদিস বিজ্ঞান এমন একটি শাস্ত্র যা দ্বারা মুসলিম জাতি এক অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভূষিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা এমন সব বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও মূলনীতি নিয়ে এসেছে যার নজির বর্তমান সময় পর্যন্ত অন্য কোনো জাতি পেশ করতে পারেনি। এমনকি তাদের জনৈক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন, "যাতে [উম্মতে মুহাম্মাদী] গর্ব করতে পারে...
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٦)
المسلمون بعلم حديثهم ما شاءوا» (1)، ولقد شرف هذا العلم؛ لالتصاقه بصاحب الوحي صلى الله عليه وسلم، فإن هذا العلم إنما يُعنى بدراسة ما يُنسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم من أقوال أو أفعال؛ لأن ما صح عنه صلى الله عليه وسلم بمنزلة القرآن في الهَدْي، لأنه هو البيان عن القرآن، فيه تفصيل ما أجَمَل القرآن، وإيضاح ما أَبهم، واستثناء ما استثناه الله، وزيادة ما زاده الله بالوحي إلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وهو في كل ذلك يتعلق بكل كبيرة وصغيرة في حياة الفرد المسلم، وفي حياة الجماعة، وفي روابط هذه الجماعة، وروابطها بغيرها من الجماعات (2).

ولذا فقد أفرغ أهل العلم جهدهم ووقتهم في التَّقعِيد والتَّنظِير لهذا العلم الشريف.

وكان من بين هؤلاء، الإمام العلامة أبو محمد الحسين بن عبد الله بن محمد الطِّيِبِي الدمشقي، صاحب كتابنا هذا، الذي نحن بصدد تحقيقه والتعليق عليه، وقد جاء كتابه هذا كما يقولون "اسم على مسمى" فهو بحق خلاصة هذا العلم الشريف.

فإنه قد أودع فيه عصارة ما صُنِّف في هذا الفن، كما ذكر في مقدمته لهذا الكتاب، ألا وهي مقدمة ابن الصلاح، والتقريب للنووي، والمنهل الروي لابن جماعة، وأضاف إليهم من مقدمة كتاب جامع الأصول لابن الأثير،

--------------------------------------------

(1) نقله العلامة المعلمي اليماني، عن المستشرق، مرجليوث، في مقدمة تحقيقه لكتاب الجرح والتعديل.

(2) اقتباس من كلام أديب العربية الشيخ أبي فهر محمود محمد شاكر رحمه الله في كتابه … (أباطيل وأسمار، ص 191) بتصرف.
"মুসলিমরা তাদের হাদিস শাস্ত্র নিয়ে যতটুকু ইচ্ছা গর্ব করতে পারে" (১)। এই ইলম বা জ্ঞান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ; কারণ এটি ওহিপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। মূলত এই ইলম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কথা (أقوال) বা কাজসমূহ (أفعال) পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট; কারণ তাঁর থেকে যা সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে তা হিদায়াতের ক্ষেত্রে কুরআনের সমপর্যায়ভুক্ত। কেননা এটি কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ; এতে কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়াবলির বিস্তারিত বিবরণ (تفصيل), অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়ের স্পষ্টীকরণ, আল্লাহ যা বাদ দিয়েছেন তার ব্যতিক্রম (استثناء) এবং আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তাঁর রাসূলের প্রতি যা অতিরিক্ত (زيادة) করেছেন তার বর্ণনা রয়েছে। আর এই সব কিছুই একজন মুসলিমের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়, সামষ্টিক জীবন এবং এই সমষ্টির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সম্পর্কের সাথে জড়িত (২)।

আর এ কারণেই আলেম সমাজ এই মহান ইলমের মূলনীতি প্রণয়ন (تقعيد) ও তাত্ত্বিক রূপরেখা (تنظير) তৈরির ক্ষেত্রে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সময় ব্যয় করেছেন।

তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রখ্যাত ইমাম আল্লামা আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আত-তিবি আদ-দিমাশকি। তিনি আমাদের বর্তমান এই কিতাবটির রচয়িতা, যা আমরা সম্পাদনা (تحقيق) ও টীকা (تعليق) প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তাঁর এই কিতাবটি লোকমুখে প্রচলিত সেই কথার মতোই যে, "নামের সার্থকতা তার গুণেই বিদ্যমান"; এটি প্রকৃতপক্ষে এই মহান ইলমের সারনির্যাস।

কেননা তিনি এতে এই শাস্ত্রের (فن) রচিত গ্রন্থাবলির নির্যাস সংকলন করেছেন, যা তিনি এই কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো: মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ, আন-নববীর আত-তাকরিব এবং ইবনুল জামাআ’র আল-মানহালুর রাবি। এগুলোর সাথে তিনি ইবনুল আসিরের জামিউল উসুল কিতাবের ভূমিকা থেকে আরও কিছু অংশ যোগ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল্লামা মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি এটি প্রাচ্যবিদ মারগোলিউথ-এর বরাতে আল-জারহ ওয়াত তাদিল গ্রন্থের তাঁর সম্পাদিত ভূমিকার শুরুতে উল্লেখ করেছেন।

(২) আরবি সাহিত্যের প্রাজ্ঞ পণ্ডিত শেখ আবু ফিহর মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির রহ.-এর গ্রন্থ (আবাতিল ওয়া আসমার, পৃষ্ঠা ১৯১) থেকে সামান্য পরিমার্জিতভাবে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٧)
فجاء بمصنَّف رائع، ليس بالمختصر المخل، ولا بالمسهب الممل، وهو مناسب جدًا لجمهرة طلبة هذا العلم الشريف، على اختلاف طبقاتهم ومراحلهم العلمية.

كيف لا؟ وقد عاش المصنف في أقوى فترات التصنيف والإنتاج العلمي … إنه القرن الثامن، الذي قُدِّر أن تحيى فيه كوكبة عظيمة من أئمة أهل السنة والجماعة.

منهم على سبيل المثال: شيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه الفذ ابن قيِّم الجوزية، وابن عبد الهادي، والمِزي، والبِرْزَالي، وابن كثير وشمس الدين الذهبي، وغيرهم، عليهم جميعًا رحمة الله تعالى.

 

‌‌التعريف بالكتاب وأهميته:

‌‌(1) تسمية الكتاب:

كتب محقق النسخة المطبوعة على طرة الكتاب "الخلاصة في أصول الحديث".

وقد سمَّاهُ مُصَنِّفُهُ "الخلاصة في معرفة الحديث"، كما جاء في مقدمته للكتاب كما في النسخة الأزهرية التي اعتمدناها، ونسخة مركز ودود التي اعتمدناها أيضا، وأيضا في نسخة آيا صوفيا، والتي وضع محقق المطبوعة صورة طرتها وصورة أول صفحة منها - والتي بها مقدمة المصنف - في مقدمته للكتاب، وأيضا العنوان على طرة آيا صوفيا؛ كما ذكرناه، والله أعلم بالصواب
ফলে তিনি এক চমৎকার সংকলন (مصنف) উপস্থাপন করেছেন, যা ক্ষতিকরভাবে সংক্ষিপ্তও নয়, আবার বিরক্তিকরভাবে দীর্ঘও নয়; আর এটি এই মহান ইলমের (জ্ঞানের) শিক্ষার্থী সাধারণের জন্য তাদের বিভিন্ন স্তর ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ধাপ নির্বিশেষে অত্যন্ত উপযোগী।

কেনই বা হবে না? কারণ গ্রন্থকার (مصنف) রচনা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎপাদনের এক শক্তিশালী সময়ে বসবাস করেছেন … সেটি ছিল অষ্টম শতাব্দী, যে সময়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের একদল মহান ইমামের পদচারণায় ধন্য হওয়ার ফয়সালা হয়েছিল।

উদাহরণস্বরূপ তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ, ইবনে আব্দুল হাদি, আল-মিযযি, আল-বিরযালি, ইবনে কাসির এবং শামসুদ্দিন আয-যাহাবি ও আরও অনেকে, তাঁদের সকলের ওপর মহান আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

 

‌‌গ্রন্থ পরিচিতি ও এর গুরুত্ব:

‌‌(১) গ্রন্থের নামকরণ:

মুদ্রিত কপির গবেষক (محقق) বইয়ের মলাটের ওপর লিখেছেন "আল-খুলাসাতু ফি উসুলিল হাদিস"।

আর গ্রন্থকার (مصنف) নিজে এর নামকরণ করেছেন "আল-খুলাসাতু ফি মা'রিফাতিল হাদিস", যেমনটি তাঁর কিতাবের ভূমিকায় এসেছে। আমরা যে আল-আযহার পাণ্ডুলিপি এবং মারকায ওয়াদুদ পাণ্ডুলিপি দুটির ওপর নির্ভর করেছি, তাতেও এমনটিই রয়েছে। একইভাবে আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপিতেও তাই আছে, যার মলাটের ছবি এবং প্রথম পৃষ্ঠার ছবি (যাতে গ্রন্থকারের ভূমিকা রয়েছে) গবেষক (محقق) তাঁর মুখবন্ধে যুক্ত করেছেন। আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপির মলাটেও শিরোনামটি তেমনই রয়েছে যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে অধিক অবগত।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌(2) موضوعه ومشتملاته:

ولقد عجبت من عدم شهرة هذا الكتاب في الآونة الأخيرة، على الرغم من أهميته، كما ذكرنا، بل لأهمية هذا الكتاب، استفاد منه المصنفون بعده مابين ناقل، ومختصر، وغير ذلك.

فقام بتلخيص هذا الكتاب الإمام أبو الحسن الشريف الجرجاني المتوفى سنة 816 هـ، في كتابه المعروف؛ بمختصر الجرجاني.

وقد طُبع هذا المختصر بتحقيق الدكتور فؤاد عبد المنعم، في دار الدعوة بالإسكندرية.

ثم أخرجه في طبعة أخرى؛ الدكتور علي زوين، في دار الرشد بالرياض.

وقام بشرح هذا المختصر؛ الإمام أبو الحسنات محمد عبد الحي اللكنوي الهندي المتوفى سنة 1304 هـ سماه "ظَفر الأماني في مختصر الجرجاني".

وقام بتحقيقه الدكتور تقي الدين الندوي.

ثم حققه الشيخ عبد الفتاح أبو غدة ونقد طبعة الندوي.

ومن الذين استفادوا من الخلاصة ونقلوا عنها الإمام جلال الدين السيوطي المتوفى سنة 911 هـ، في كتابه القيم "تدريب الراوي".

وأيضا الأمير الصنعاني في كتابه "توضيح الأفكار".

كما استفاد منه الإمام اللكنوي ونقل عنه في كتابه "الرفع والتكميل"
‌(২) এর আলোচ্য বিষয় এবং বিষয়বস্তু:

আমি এই কিতাবটির সাম্প্রতিক সময়ে প্রসিদ্ধ না হওয়ার কারণে বিস্মিত হয়েছি, অথচ এর গুরুত্ব অপরিসীম যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। বরং এই কিতাবটির গুরুত্বের কারণেই এর পরবর্তী সংকলকগণ উদ্ধৃতি প্রদানকারী কিংবা সংক্ষিপ্তকারী (مختصر) ইত্যাদি হিসেবে এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন।

ইমাম আবুল হাসান আশ-শরীফ আল-জুরজানী (ওফাত ৮১৬ হিজরী) তার প্রসিদ্ধ কিতাব 'মুখতাসার আল-জুরজানী'-তে এই কিতাবটির একটি সংক্ষিপ্তসার (تلخيص) প্রস্তুত করেছেন।

এই সংক্ষিপ্তসারটি (مختصر) ডক্টর ফুয়াদ আব্দুল মুনইমের তাহকিক (تحقيق)-সহ আলেকজান্দ্রিয়ার দারুদ দাওয়াহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

পরবর্তীতে রিয়াদের দারুর রুশদ থেকে ডক্টর আলী যুওয়াইন এটি অন্য একটি সংস্করণে প্রকাশ করেন।

ইমাম আবুল হাসানাত মুহাম্মদ আব্দুল হাই লাখনভী আল-হিন্দী (ওফাত ১৩০৪ হিজরী) এই সংক্ষিপ্তসারটির (مختصر) একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন 'যফরুল আমানি ফি মুখতাসার আল-জুরজানী'।

ডক্টর তাকিউদ্দীন নদভী এটির তাহকিক (تحقيق) করেছেন।

এরপর শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ এটি তাহকিক (تحقيق) করেন এবং নদভীর সংস্করণের সমালোচনা (نقد) করেন।

যারা 'আল-খুলাসা' থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হিজরী), তিনি তার মূল্যবান কিতাব 'তাদরিবুর রাবী'-তে এটি ব্যবহার করেছেন।

অনুরূপভাবে আমির আস-সানআনী তার 'তাওদিহুল আফকার' কিতাবে এটি ব্যবহার করেছেন।

ইমাম লাখনভীও এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তার 'আর-রাফ' ওয়াত তাকমিল' কিতাবে এর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٩)
وغيرهم.

ولعل السبب في عدم شهرة هذا الكتاب وعزوف المتأخرين عنه، هو عدم خروجه في صورة حسنة.

فإني قد وقفت على الطبعة التي بين يدي الناس من هذا الكتاب، والتي قام بتحقيقها الشيخ صبحي السامرائي، فوجدت فيها كثيرًا من الأخطاء، ما بين تصحيف وتحريف وسقط، ذلك مما يخل بالمعنى في كثير من المواضع، وربما كان ذلك من أخطاء الطباعة، كما أن كثيرا من نصوصه لم توثق بالعزو إلى مصادرها، التي صرح المصنف بها أو التي لم يصرح بها، وهذا ما حرصت على تلافيه في تحقيقي للكتاب.

وقد وقفت على طبعتين لهذا التحقيق؛ الأولى في رئاسة ديوان الأوقاف العراقية، والثانية في دار عالم الكتب، فلم أجد بينهما أي اختلاف يذكر.

فاستخرت الله عز وجل على تحقيق هذا الكتاب، وذلك بعد مشاورة شيخنا العلامة الدكتور أحمد معبد عبد الكريم، أمد الله بقاءه في الخير، فشجعني على ذلك وأمدني بما أحتاج من مراجع، ولم يبخل علي بنصيحته وتوجيهه فجزاه الله خيرًا.
এবং অন্যান্যরা।

সম্ভবত এই কিতাবটির প্রসিদ্ধি লাভ না করার এবং পরবর্তী যুগের পণ্ডিতদের এর প্রতি বিমুখতার কারণ হলো এটি সুন্দর অবয়বে প্রকাশিত না হওয়া।

আমি এই কিতাবটির বর্তমানে প্রচলিত সংস্করণটি দেখেছি, যা শাইখ সুবহি আল-সামাররাই সম্পাদনা (تحقيق) করেছেন। আমি সেখানে অনেক ভুল লক্ষ্য করেছি, যার মধ্যে রয়েছে বর্ণবিভ্রাট (تصحيف), শব্দ বিকৃতি (تحريف) এবং তথ্যচ্যুতি (سقط)। এই ত্রুটিগুলো অনেক স্থানেই মূল অর্থের ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, যা সম্ভবত মুদ্রণজনিত ভুল হতে পারে। তদুপরি, এর অনেক পাঠ্যই মূল উৎসের বরাতের মাধ্যমে সুসংগত করা হয়নি, চাই গ্রন্থকার সেগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে থাকুন বা না থাকুন। আমি আমার এই কিতাব সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো পরিহার করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।

আমি এই সম্পাদনার (تحقيق) দুটি মুদ্রণ দেখেছি; প্রথমটি ইরাকি দিওয়ানুল আওকাফ থেকে এবং দ্বিতীয়টি দারু আলমিল কুতুব থেকে। এই দুইটির মধ্যে আমি উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি।

অতঃপর আমি এই কিতাবটির সম্পাদনার (تحقيق) বিষয়ে মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি। এটি আমাদের উস্তাদ আল্লামা ডক্টর আহমদ মাবাদ আব্দুল কারিমের সাথে পরামর্শের পর সম্পন্ন হয়েছে—আল্লাহ তায়ালা কল্যাণের সাথে তাকে দীর্ঘজীবী করুন। তিনি আমাকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন এবং প্রয়োজনীয় উৎসগ্রন্থ দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি আমাকে নসিহত ও দিকনির্দেশনা প্রদানে কোনো কার্পণ্য করেননি, আল্লাহ তায়ালা তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌وصف النسخ الخطية:

اعتمدت في تحقيق هذا الكتاب:

أولا على مخطوطة المكتبة الأزهرية، والتي تُعد من أقيم المخطوطات لهذا الكتاب.

وهي نسخة لا تكادُ تخطئ، إلا في النادر، وهي مكتوبة بخط نسخ عادي ومضبوطة بالشكل في مواضع كثيرة من الكتاب.

وتقع هذه النسخة في تسع وخمسين ورقة، وجهان في كل ورقة، عدا الأخيرة فوجه واحد، ومسطرتها زهاء خمسة عشر سطرًا، وعدد كلمات السطر زهاء اثنتا عشرة كلمة، هذا وقد كُتِب في حاشية آخر ورقة منها وبخط يختلف عن خط الناسخ "نصف الجمادى الآخر سنة 883"، كذا بالأرقام، وقد جرت عادة ناسخ هذا الكتاب من أوله إلى آخره أن يكتب الأرقام بالحروف العربية، هذا وعلى النسخة كثير من الحواشي والتعليقات، وقد ذكرت منها ما ظننت أنه يفيد القارئ، وهو في صلب الموضوع، وأعرضت عن ذكر كثير منها، مما لم أرى فيه كبير فائدة، وقد اصطلحنا لها الرمز (ز).

ثانيا على نسخة أتحفني بها الشيخ الفاضل والمحقق الباذل الشيخ أبو عبد الله حسين بن عكاشة حفظه الله، وهي من مصورات مركز ودود للمخطوطات

وتقع ضمن مجموع، من صفحة ثمان وعشرين إلى صفحة اثنين
পাণ্ডুলিপিগুলোর (نسخ خطية) বর্ণনা:

এই গ্রন্থটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি নির্ভর করেছি:

প্রথমত, আল-আজহার লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির (مخطوطة) ওপর, যা এই গ্রন্থের অত্যন্ত মূল্যবান পাণ্ডুলিপিগুলোর (مخطوطات) মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত।

এটি এমন একটি অনুলিপি (نسخة) যাতে ভুল নেই বললেই চলে, কেবল বিরল ক্ষেত্র ছাড়া। এটি সাধারণ নাসখ লিপিতে (خط نسخ) লিখিত এবং গ্রন্থের অনেক স্থানেই হরকতযুক্ত (مضبوطة بالشكل) করা হয়েছে।

এই অনুলিপিটি (نسخة) উনষাটটি পত্র বিশিষ্ট, প্রতি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে, কেবল শেষ পত্রটি এক পৃষ্ঠার। এর বিন্যাস অনুযায়ী প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় পনেরটি করে লাইন এবং প্রতি লাইনে শব্দের সংখ্যা প্রায় বারোটি। এর শেষ পত্রের টীকায় (حاشية) অনুলিপিকারের (ناسخ) হাতের লেখা থেকে ভিন্ন অন্য একটি হাতের লেখায় সংখ্যায় লেখা রয়েছে "জমাদিউল আখির মাসের মাঝামাঝি, ৮৮৩ হিজরি"। অথচ এই গ্রন্থের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুলিপিকারের (ناسخ) অভ্যাস ছিল সংখ্যাগুলোকে আরবি বর্ণমালার মাধ্যমে লেখা। এছাড়া এই অনুলিপিতে (نسخة) অনেক পার্শ্বটীকা (حواشي) ও মন্তব্য রয়েছে। আমি সেখান থেকে সেটুকু উল্লেখ করেছি যা পাঠকের জন্য উপকারী এবং বিষয়ের মূল অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করেছি। আর এর অনেকগুলোই আমি উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি যেগুলোতে বিশেষ কোনো উপকারিতা দেখিনি। আমরা এই কপির জন্য (ز) সংকেত নির্ধারণ করেছি।

দ্বিতীয়ত, এমন একটি অনুলিপির (نسخة) ওপর যা আমাকে উপহার দিয়েছেন সম্মানিত শায়খ এবং একনিষ্ঠ গবেষক (محقق) শায়খ আবু আব্দুল্লাহ হুসাইন বিন উকাশা (হাফিযাহুল্লাহ)। এটি ওয়াদুদ পাণ্ডুলিপি কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত ছায়ালিপি।

এটি একটি সংকলনের (مجموع) অন্তর্ভুক্ত, যার আটাশ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে দুই নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত...
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ١١)
وستين، أي في ثلاثة وثلاثين ورقة، وجهان في كل ورقة، ومسطرتها زهاء خمس وعشرين سطرًا، وعدد كلمات السطر؛ زهاء اثنتا عشرة كلمة، وكُتِبت بخط فارسي جميل، وهي موافقة إلى حد كبير لنسخة الأزهرية سالفة الذكر ولا يوجد عليها تاريخ النسخ، وبها كثير من الحواشي، ذكرت منها ما ظننت أنه يفيد القارئ، وأعرضت عن ذكر الكثير منها، ممالا أجد تحته كبير فائدة، وقد اصطلحنا لها الرمز (د).

هذا وإتماما للفائدة بقدر الممكن والمستطاع؛ فإني قد استفدت من نسخة آيا صوفيا التي اعتمد عليها محقق المطبوعة، وذلك من الورقتين اللتين أوردهما في مقدمة تحقيقه، وهما الورقة الأولى، والورقة الأخيرة، سيما وهذه النسخة كتبت في حياة المؤلف رحمه الله، فهي من الأهمية بمكان.

 

‌‌عملي في الكتاب:

قابلت المخطوطتين، على المطبوعة سالفة الذكر، فأثبت الفروق بينهما … وتركت الإشارة إلى كثير من أخطاء المطبوعة، خشية الملل، إلا أني نبهت على جميع مواضع السقط في أماكنها من الكتاب.

بعد ذلك قمت بقراءة النص بعناية، وعزوت كل نقل إلى قائله بقدر الطاقة

وطابقت هذا النقل بمصدره لأتأكد من صحته، فإن المصنف رحمه الله كثيرًا ما ينقل بتصرف.
...ষাট, অর্থাৎ তেত্রিশটি পত্রে, প্রতিটি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে। এর বিন্যাস প্রায় পঁচিশটি লাইন সম্বলিত এবং প্রতি লাইনের শব্দ সংখ্যা প্রায় বারোটি। এটি সুন্দর ফারসি লিপিতে লেখা। এটি পূর্বে উল্লিখিত আজহারিয়া পাণ্ডুলিপি (نسخة)-র সাথে বহুলাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে অনুলিপি করার কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। এতে প্রচুর টীকা (حواشي) রয়েছে; সেখান থেকে আমি সেই অংশগুলো উল্লেখ করেছি যা পাঠকের উপকারে আসবে বলে মনে করেছি, আর এমন অনেক টীকা পরিহার করেছি যেগুলোতে আমি বিশেষ কোনো ফায়দা খুঁজে পাইনি। আমরা এর জন্য (د) সংকেত নির্ধারণ করেছি।

এর সাথে সাধ্যমতো উপকার পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমি আয়া সুফিয়া পাণ্ডুলিপি (نسخة) থেকেও উপকৃত হয়েছি, যার ওপর মুদ্রিত কপির গবেষক (محقق) নির্ভর করেছিলেন। এটি সেই দুটি পাতা থেকে সংগৃহীত যা তিনি তাঁর তাহকিকের (تحقيق) ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন; পাতা দুটি হলো প্রথম পাতা এবং শেষ পাতা। বিশেষ করে এই পাণ্ডুলিপিটি লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) জীবদ্দশাতেই লিখিত হয়েছিল, তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

‌‌গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি:

আমি পূর্বোক্ত মুদ্রিত কপির সাথে পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) দুটির তুলনা করেছি এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো চিহ্নিত করেছি … আর একঘেয়েমির আশঙ্কায় মুদ্রিত কপির অনেক ভুল উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি। তবে আমি গ্রন্থের যথাযথ স্থানে সব ধরনের বিচ্যুতি (سقط) সম্পর্কে সতর্ক করেছি।

এরপর আমি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে মূল পাঠ (نص) পাঠ করেছি এবং সাধ্যমতো প্রতিটি উদ্ধৃতি তার প্রবক্তার দিকে নিসবত বা সম্পৃক্ত করেছি।

আমি এই উদ্ধৃতিগুলোকে এর মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখেছি যাতে এর শুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করা যায়, কারণ লেখক (রহিমাহুল্লাহ) প্রায়ই নিজের ভাষায় (بتصرف) উদ্ধৃতি প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ١٢)
وقمت أيضًا بالترجمة لكثير من الأعلام الذين ذكروا في أثناء الكتاب.

هذا وقد عرضت عملي هذا على فضيلة الدكتور أحمد معبد عبد الكريم حفظه الله تعالى، فأثنى عليه خيرًا.

وسيجد المطالع لهذا الكتاب أن تعليقاتي قليلة.

ولقد وددت أن لا يكون لي تعليقات على الكتاب أصلا، ولكن هذا ما دعت إليه الضرورة.

وذلك لما تعلمناه من شيوخنا المحققين:

كالعلامة الدكتور أحمد معبد؛ رئيس قسم الحديث بكلية أصول الدين جامعة الأزهر، والأستاذ الكبير عصام محمد الشَّنْطِي؛ المدير الأسبق لمعهد المخطوطات العربية، والدكتور أحمد شوقي بنبين؛ رئيس الخزانة العامة الملكية للمخطوطات بالرباط.

تعلَّمنا منهم أن التحقيق؛ هو إخراج النص المُحَقَّق كما أراده صاحبه، يوم قام بتأليفه، وأنا كتبت على طرة الكتاب "كتاب فلان بتحقيق وتعليق فلان" ولم أكتب "كتاب فلان بحاشية فلان"، فحين أكتب تحقيق فلان، عليَّ إذن ألا أخرج عن هذا المعنى، ولقد رأيت من حقق كتابًا، كان في طبعته القديمة في مجلد واحد، فحققه؛ فخرج في عشرة مجلدات!!!

ولا أريد أن أخوض في هذا الموضوع؛ فإن الكلام فيه ذو شجون، ولعله يكون له موضع آخر إن شاء الله.
আমি এই গ্রন্থে উল্লিখিত অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের (أعلام) জীবনীও রচনা করেছি।

আমি আমার এই কাজটিকে শ্রদ্ধেয় ডক্টর আহমদ মাবাদ আব্দুল করিম (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন)-এর নিকট পেশ করেছি এবং তিনি এর প্রশংসা করেছেন।

এই গ্রন্থের পাঠক দেখতে পাবেন যে, আমার টীকা বা মন্তব্য সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য।

আমার একান্ত ইচ্ছা ছিল যেন এই গ্রন্থের ওপর আমার কোনো টীকা না থাকে, কিন্তু প্রয়োজনের খাতিরেই তা করতে হয়েছে।

আর এটি আমি আমাদের বিজ্ঞ পাণ্ডুলিপি গবেষক (محققين) উস্তাদগণের নিকট থেকে শিখেছি:

যেমন আল্লামা ডক্টর আহমদ মাবাদ; যিনি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন অনুষদের হাদিস বিভাগের প্রধান, বিশিষ্ট অধ্যাপক ইসাম মুহাম্মদ আশ-শিন্তি; যিনি ইনস্টিটিউট অব অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস-এর প্রাক্তন পরিচালক, এবং ডক্টর আহমদ শাওকি বিনবিন; যিনি রাবাতের রাজকীয় পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগারের প্রধান।

আমরা তাঁদের নিকট শিখেছি যে, পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) হলো—সম্পাদিত মূল পাঠকে (نص) এমনভাবে উপস্থাপন করা যেমনটি এর লেখক তাঁর রচনার সময় চেয়েছিলেন। আমি গ্রন্থের প্রচ্ছদে লিখেছি "অমুকের গ্রন্থ, অমুকের সম্পাদনা (تحقيق) ও টীকাসহ", আমি "অমুকের গ্রন্থ ও অমুকের পার্শ্বটীকা (حاشية)" লিখিনি। সুতরাং যখন আমি 'অমুকের সম্পাদনা' (تحقيق) লিখছি, তখন আমার জন্য এই সংজ্ঞার বাইরে যাওয়া উচিত নয়। আমি এমন অনেককে দেখেছি যারা কোনো একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন যা তার প্রাচীন মুদ্রণে মাত্র এক খণ্ডে ছিল, অথচ তিনি তা সম্পাদনা (تحقيق) করার পর দশ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে!!!

আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় প্রবৃত্ত হতে চাই না; কারণ এ আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল, ইনশাআল্লাহ অন্য কোনো স্থানে এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ হবে।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ١٣)
وأخيرًا، أعددت فهرسًا علميًا للكتاب.

ثم إني لا أنسى في هذا المقام، أن أتقدم بالشكر لكل من عاونني في إخراج هذا الكتاب.

وأخص بالذكر منهم وعلى رأسهم؛ فضيلة شيخنا العلامة الدكتور … أحمد معبد عبد الكريم، والذي كان له الفضل في كل ذلك.

وأثني بشيخي الفاضل؛ الشيخ أبو معاذ طارق بن عوض الله، والذي كان له أكبر الفضل علي في فهم هذا العلم الشريف، والذي مارست التحقيق في مكتبه وتحت إشرافه، في أول أمري، مستفيدا من علمه وخبرته الطويلة، فجزاه الله خيرًا.

كما أتقدم بالشكر للشيخ عماد الدين عباس والذي أحاطني بنصائحه وإرشاداته.

وأيضًا أتقدم بالشكر للحاج المهندس محمد يوسف والذي ما بخل علي أبدًا لا بنصح ولا مراجع، فله عليَّ يَدٌ، يجزيه الله بها.

وآخرين يضيق المجال عن ذكرهم جميعًا، أسأل الله عز وجل أن يغفر لنا ولهم، ويتجاوز عنا وعنهم.

وإنه لمن نافلة القول، أن أذكر أننِي لا أدعي العصمة لنفسي بل إن الله عز وجل، أبى أن يكون كتابٌ صحيحًا غيرُ كتابه، ولكن حسبي أنِّي قد بذلت الوسع، في إقامة هذا النص.
পরিশেষে, আমি গ্রন্থটির জন্য একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক সূচিপত্র প্রস্তুত করেছি।

অতঃপর এই পর্যায়ে আমি তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যাঁরা এই গ্রন্থটি প্রকাশে আমাকে সহযোগিতা করেছেন।

আমি তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে এবং সর্বাগ্রে উল্লেখ করছি আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ আল্লামা ডক্টর … আহমাদ মাবাদ আব্দুল কারীম-এর নাম, যাঁর অবদান এই সবকিছুর মূলে নিহিত।

আমি আমার শ্রদ্ধেয় শাইখ আবু মুআয তারিক বিন আওয়াদুল্লাহর প্রশংসা করছি, এই মহৎ ইলম অনুধাবনে যাঁর অবদান আমার ওপর সর্বাধিক। আমি আমার শুরুর দিকে তাঁর কার্যালয়ে এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার অনুশীলন করেছি এবং তাঁর জ্ঞান ও সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হয়েছি; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি শাইখ ইমাদুদ্দিন আব্বাসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাকে তাঁর উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সিক্ত করেছেন।

আমি হাজি ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ ইউসুফের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যিনি উপদেশ কিংবা রেফারেন্স গ্রন্থের ক্ষেত্রে আমার প্রতি কখনো কার্পণ্য করেননি; আমার প্রতি তাঁর এই অনুগ্রহের জন্য আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আরও অনেকে রয়েছেন যাদের সকলের নাম এখানে উল্লেখ করা সম্ভব হচ্ছে না; আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং তাঁদের ক্ষমা করেন এবং সকলের ভুলত্রুটি মার্জনা করেন।

এ কথা বলাই বাহুল্য যে, আমি নিজের জন্য নির্ভুলতার দাবি করি না; বরং মহান আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। তবে আমার সান্ত্বনা এই যে, এই পাঠ্যটি সঠিকভাবে উপস্থাপনে আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ١٤)
فإن كان خيرًا، فبتوفيق الله وحده ورأفته بضعف عبده، وإن كان غير ذلك فبذنوبي وتقصيري وجهلي، كيف لا وقد رضعنا هذا العلم بثدي من العجز وثدي من التقصير.

 

فأسأل الله تبارك وتعالى أن يعفو عني، وأن يتجاوز عن زلاتي، وأن يجعل عملي هذا خالصًا لوجه الكريم، {رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ}.

 

وكتبه راجي عفو ربه الكريم

أبو عاصم الشَّوامي محمد بن محمود بن إبراهيم

لست ليال خلت من ذي الحجة

من عام تسع وعشرين وأربعمائة وألف

من هجرة سيد الخلق صلى الله عليه وسلم -
যদি এতে কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে, তবে তা একমাত্র আল্লাহর তাওফিক এবং তাঁর বান্দার দুর্বলতার প্রতি তাঁর অসীম করুণার বদৌলতে। আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে তা আমার পাপ, ত্রুটি এবং অজ্ঞতার ফসল; আর তা হওয়াই স্বাভাবিক, যেহেতু আমরা এই ইলমের পাঠ গ্রহণ করেছি অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার স্তন্য পান করে।

 

অতঃপর আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে মার্জনা করেন, আমার ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন এবং আমার এই আমলকে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; {হে আমার প্রতিপালক, আমাকে নামাজ কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের প্রতিপালক, আমার প্রার্থনা কবুল করুন। হে আমাদের প্রতিপালক, যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার পিতামাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।}

 

এটি লিখেছেন তাঁর মহান প্রতিপালকের ক্ষমার প্রত্যাশী

আবু আসিম আশ-শাওয়ামি মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন ইবরাহিম

জিলহজ মাসের ছয় রজনী অতিবাহিত হওয়ার পর

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হিজরতের এক হাজার চারশত ঊনত্রিশতম বর্ষে -
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌ترجمة المصنف (1)

هو الإمام العلم، أبو محمد (2) الحسين بن محمد بن عبد الله الطِّيْبِي (3)، الإمام المشهور، صاحب شرح المشكاة وغيره.

قرأت بخط بعض الفضلاء (4): وكان ذا ثروة من الإرث والتجارة، فلم يزل ينفق ذلك في وجوه الخيرات إلى أن كان في آخر عمره فقيرًا، قال وكان كريمًا متواضعًا حسن المعتقد شديد الرد على الفلاسفة والمبتدعة، مظهرًا فضائحهم مع استيلائهم في بلاد المسلمين حينئذ، شديد الحب لله ورسوله، كثير الحياء، ملازمًا للجماعة ليلاً ونهارًا شتاءًا وصيفًا، مع ضعف بصره بآخرة، ملازمًا لأشغال الطلبة في العلوم الإسلامية بغير طمع، بل يعينهم، ويعير الكتب النفيسة لأهل بلده، وغيرهم من أهل البلدان ممن يعرف وممن لا يعرف.

محبًا لمن عُرف منه تعظيم الشريعة، مقبلاً على نشر العلم، آية في استخراج الدقائق من القرآن والسنن.

--------------------------------------------

(1) استقيت جل هذه الترجمة من كتاب الدرر الكامنة لابن حجر، والبدر الطالع للشوكاني وكشف الظنون لحاجي خليفة.

(2) لم أقف على هذه الكنية عند من ترجموا للإمام الطيبي رحمه الله، وإنما أفدتها من صفحة عنوان نسخة آيا صوفيا والتي كتبت في حياة المصنف رحمه الله.

(3) هذه النسبة بالطاء المكسورة، والياء الساكنة المنقوطة من تحتها بنقطتين، والباء المنقوطة من تحتها بنقطة إلى " طِيْب " وهي بلدة بين واسط، وكور الأهواز مشهورة، وينظر الأنساب للسمعاني (8/ 289).

(4) القائل هو ابن حجر، كما في الدرر الكامنة.
গ্রন্থকারের (المصنف) জীবনী (১)

তিনি হলেন প্রখ্যাত ইমাম, আবু মুহাম্মদ (২) আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-তিবি (৩), সেই সুপ্রসিদ্ধ ইমাম, এবং মিশকাত-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা।

আমি কয়েকজন মহৎ ব্যক্তির (৪) স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপিতে পড়েছি: তিনি উত্তরাধিকার ও ব্যবসা সূত্রে প্রভূত সম্পদের অধিকারী ছিলেন। জীবনের শেষভাগে দরিদ্র হয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেই সম্পদ জনহিতকর কাজে ব্যয় করতে থাকেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল, বিনয়ী, সঠিক আকিদাবিশিষ্ট (حسن المعتقد) এবং দার্শনিক ও বিদআতিদের (المبتدعة) কঠোর প্রতিবাদকারী। সে সময় মুসলিম দেশগুলোতে তাদের আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও তিনি তাদের ভ্রষ্টতাগুলো প্রকাশ করে দিতেন। তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি গভীর অনুরাগী এবং অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন। শেষ বয়সে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তিনি শীত-গ্রীষ্ম, দিন-রাত সর্বদা জামাতের (الجماعة) সাথে নামাজ আদায়ে ব্রতী ছিলেন। কোনো প্রকার পার্থিব স্বার্থ ছাড়াই তিনি শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান পাঠদানে নিয়োজিত থাকতেন, বরং তিনি তাদের সাহায্য করতেন এবং নিজ শহরের অধিবাসী ও পরিচিত-অপরিচিত ভিনদেশিদের নিকট মূল্যবান কিতাবসমূহ ধার দিতেন।

শরিয়তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী ব্যক্তিদের তিনি ভালোবাসতেন এবং জ্ঞান প্রসারে নিবেদিত ছিলেন। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সূক্ষ্ম অর্থ ও তত্ত্ব উদঘাটনে তিনি ছিলেন এক অনন্য নিদর্শন।

--------------------------------------------

(১) এই জীবনীর অধিকাংশ তথ্য আমি ইবনে হাজারের আদ-দুরার আল-কামিনাহ, শাওকানির আল-বদর আত-তালি এবং হাজি খলিফার কাশফ উজ-জুনুন থেকে সংগ্রহ করেছি।

(২) ইমাম তিবি (রহ.)-এর জীবনীকারগণের কাছে আমি এই উপনামটি পাইনি; বরং আমি এটি আইয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপির শিরোনামের পৃষ্ঠা থেকে পেয়েছি যা গ্রন্থকারের (المصنف) জীবদ্দশায় লেখা হয়েছিল।

(৩) এই নিসবত বা সম্পর্কটি ‘তিব’ নামক স্থানের সাথে (যা ‘তি’ বর্ণে কাসরা বা জের, ‘ইয়া’ বর্ণে সুকুন এবং ‘বা’ বর্ণ যোগে গঠিত)। এটি ওয়াসিত এবং খুজেস্তানের মাঝামাঝি অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ শহর। দ্রষ্টব্য: সামআনির আল-আনসাব (৮/২৮৯)।

(৪) ইতিপূর্বে উল্লিখিত বক্তব্যটি ইবনে হাজারের, যেমনটি আদ-দুরার আল-কামিনাহ গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ١٦)
شرح الكشَّاف شرحًا كبيرًا، وأجاب عما خالف مذهب أهل السنة أحسن جواب، يعرف فضله من طالعه، وصنَّف في المعاني والبيان؛ التبيان وشرحه وأمر بعض تلامذته باختصاره، على طريقةٍ نهجها له، وسماه المشكاة وشرحها هو شرحًا حافلاً، ثم شرع في جمع كتاب في التفسير، وعقد مجلسًا عظيمًا لقراءة كتاب البخاري، فكان يشتغل في التفسير من بكرة إلى الظهر، ومن ثَمَّ إلى العصر لإسماع البخاري، إلى أن كان يوم مات فإنه فرغ من وظيفة التفسير، وتوجه إلى مجلس الحديث، فدخل مسجدًا عند بيته فصلى النافلة قاعدًا وجلس ينتظر الإقامة للفريضة؛ فقضى نحبه متوجهًا إلى القبلة وذلك يوم الثلاثاء ثالث عشر شعبان سنة 743 هـ.

 

‌‌مصنفاته:

• "التبيان في المعاني والبيان" وهو مختصر مشهور، أوله: (الحمد لله الذي أشرقت سنا محامده. . . الخ) ثم شرحه: تلميذه: علي بن عيسى وسماه: (حدائق البيان).

• "فتوح الغيب في الكشف عن قناع الريب" في ست مجلدات ضخام وهو حاشية على كشاف الزمخشري، وهي من أجل حواشيه كما ذكر حاجي خليفة في كشف الظنون.

قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم قبيل الشروع، أنه ناولني قدحًا من اللبن وأشار إلي فأصبت منه ثم ناولته صلى الله عليه وسلم فأصاب منه.
তিনি 'আল-কাশশাফ'-এর একটি বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন এবং আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের পরিপন্থী বিষয়গুলোর চমৎকার উত্তর দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এটি অধ্যয়ন করবেন তিনি এর মর্যাদা বুঝতে পারবেন। তিনি 'মাআনি' ও 'বায়ান' (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ে 'আত-তিবিয়ান' ও তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন এবং তাঁর কোনো এক ছাত্রকে তাঁর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সেটি সংক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। তিনি এর নাম দেন 'আল-মিশকাত' এবং তিনি নিজে এর একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। অতঃপর তিনি তাফসিরের একটি কিতাব সংকলন শুরু করেন এবং বুখারীর কিতাব পাঠ করার জন্য একটি বিশাল মজলিস কায়েম করেন। তিনি ভোর থেকে যোহর পর্যন্ত তাফসিরের কাজে ব্যস্ত থাকতেন এবং যোহর থেকে আসর পর্যন্ত বুখারী পাঠ করে শোনানোর (إسماع) কাজে নিয়োজিত থাকতেন। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি তাফসিরের দায়িত্ব সম্পন্ন করে হাদিসের মজলিসের দিকে অগ্রসর হতেন। তিনি তাঁর বাড়ির পাশের একটি মসজিদে প্রবেশ করে বসে নফল নামাজ আদায় করলেন এবং ফরজ নামাজের ইকামতের অপেক্ষায় বসে থাকলেন। অতঃপর কিবলামুখী অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দিনটি ছিল ৭৪৩ হিজরির ১৩ই শাবান, মঙ্গলবার।

 

‌‌তাঁর রচনাবলী:

• "আত-তিবিয়ান ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান": এটি একটি প্রসিদ্ধ সংক্ষিপ্তসার (مختصر), যার শুরু হয়েছে এভাবে: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর প্রশংসার জ্যোতি উদ্ভাসিত হয়েছে... ইত্যাদি)। অতঃপর তাঁর ছাত্র আলী বিন ঈসা এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন এবং এর নাম দেন 'হাদায়িকুল বায়ান'।

• "ফুতুুহুল গায়িব ফীল কাশফি আন কিনা’ইর রাইব": এটি ছয়টি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত। এটি যামাখশারীর 'কাশশাফ'-এর ওপর একটি টীকা (حاشية)। হাজী খলীফা 'কাশফুয যুনুন'-এ যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এটি সেই গ্রন্থের শ্রেষ্ঠ টীকাগুলোর (حواشي) অন্যতম।

তিনি বলেন: (গ্রন্থটি) শুরু করার প্রাক্কালে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখলাম যে, তিনি আমাকে এক পেয়ালা দুধ দিলেন এবং আমার দিকে ইশারা করলেন। আমি তা থেকে পান করলাম, অতঃপর আমি সেটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফিরিয়ে দিলে তিনি তা থেকে পান করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ١٧)
• "الكاشف عن حقائق السنن"

أوله: (الحمد لله مشيد أركان الدين الحنيف. . . الخ)

قال: وكنت قبل قد استشرت الأخ في الدين، بقية الأولياء، قطب الصلحاء، ولي الدين محمد بن عبد الله الخطيب، بِجَمْعٍ، في جمع أصل من الأحاديث

فاتفق رأينا على: " تكملة المصابيح " وتهذيبه وتعيين رواته، فما قصر فيما أشرت إليه من جمعه فبذل وسعه، فلما فرغ من إتمامه، شمرت عن ساق الجد في شرح معضله، بعد تتبع الكتب، وسلكت في النقل منها طريق الاختصار، وكان جُل اعتمادي وغاية اهتمامي بشرح مسلم للنووي؛ لأنه كان أجمعها فوائد وأكثرها عوائد.

 

• "كتاب الخلاصة في معرفة الحديث"

وهو كتابنا هذا.
• "আল-কাশিফ আন হাকায়িক আস-সুনান"

এর প্রারম্ভিক অংশ হলো: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দ্বীন-ই-হানিফের স্তম্ভসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন... ইত্যাদি)

তিনি বলেন: ইতিপূর্বে আমি দ্বীনি ভাই, আউলিয়াদের উত্তরসূরি, পুণ্যবানদের শিরোমণি, ওয়ালিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খতিবের সাথে হাদিসের একটি মূল সংকলন প্রস্তুত করার বিষয়ে পরামর্শ করেছিলাম।

অতঃপর আমাদের রায় "তাকমিলাতুল মাসাবিহ" গ্রন্থটির পূর্ণতা দান, এর পরিমার্জন এবং এর বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচয় সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে একমত হলো। আমি তাকে এটি সংকলনের যে ইঙ্গিত দিয়েছিলাম, তাতে তিনি কোনো ত্রুটি করেননি বরং তাঁর পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। যখন তিনি এটি সমাপ্ত করলেন, তখন আমি বিভিন্ন কিতাব পর্যালোচনার পর এর জটিল (معضل) বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা প্রদানে কোমর বেঁধে আত্মনিয়োগ করলাম। আমি কিতাবগুলো থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্তকরণের নীতি অনুসরণ করেছি। এক্ষেত্রে আমার প্রধান নির্ভরতা ও বিশেষ মনোযোগ ছিল নববীর শরহ মুসলিম-এর ওপর; কারণ এটি ছিল সর্বাধিক ফায়দাপূর্ণ ও অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

 

• "কিতাবুল খুলাস ফী মা’রিফাতিল হাদিস"

আর এটিই হলো আমাদের এই কিতাব।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌صور المخطوطات
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٢٠)
أنموذج من مصورة النسخة الأزهرية والمشار إليها بـ (ز)
আজহারী পাণ্ডুলিপির আলোকচিত্রের একটি নমুনা যা (ز) চিহ্ন দ্বারা নির্দেশিত।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٢١)
أنموذج من مصورة مركز ودود والمشار إليها بـ (د)
ওয়াদুদ সেন্টারের অনুলিপি থেকে একটি নমুনা, যা (দ) সংকেত দ্বারা নির্দেশিত।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الخلاصة في معرفة الحديث

تصنيف

شرف الدين أبي محمد الحسين بن محمد بن عبد الله الطيبي الدمشقي

المتوفى 743 هـ

حقق وعلق عليه

أبو عاصم الشوامي الأثري
হাদিস পরিচিতি বিষয়ক সারসংক্ষেপ

গ্রন্থনায়

শরফউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তিবি আদ-দিমাশকি

মৃত্যু ৭৪৩ হিজরি

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান

আবু আসিম আশ-শাওয়ামি আল-আসারি
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٢٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

رب سهِّل (1)

الحمدُ لله عَلى أَفضَالِه، ونَسألُه المَزيدَ مِن نعمهِ ونوَالِه، وصلَّى الله على محمدٍ وآله، الَّلهم كما زِدتَنا نِعمًا، فألهِمنا شكرًا، وبعد.

فهذه جُمَلٌ في معرفة الحديث، مما لا بُدَّ منه للطَّالب، لا سيَّما مَن تَصدَّى للتَّحديث.

لَخصْتهُ من كتاب الإمام مُفتي الشَّام شيخ الإسلام ابن الصَّلاح (2)، ومُختَصر الإمام المُتقن مُحيي الدين النَّواوي (3)، والقاضي بدر الدين يُعرَف (4) بابن

جماعة (5) رضي الله عنهم.

--------------------------------------------

(1) قوله "رب سهل" ليس في (د)، وفي (ز) "وبه نستعين"، والمثبت من آيا صوفيا.

(2) هو أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن بن عثمان بن موسى بن أبي نصر النصري الكردي الشهرزوري تقي الدين المعروف بابن الصلاح، المتوفى سنة 643 هـ ينظر ترجمته في وفيات الأعيان 3/ 243، وكتابه المشهور " بمقدمة ابن الصلاح " طبع مرارًا.

(3) هو الإمام محيي الدين، أبو زكريا، يحيى بن شرف المُري الحِزَامي النووي الشافعي شيخ المذهب في زمانه المتوفى سنة 676 هـ ينظر ترجمته في طبقات الشافعية الكبرى (9/ 395) وكتابه هو المعروف "بالتقريب والتيسير" والذي كان اختصره من كتاب "الإرشاد" له أيضا … وكلاهما طبع.

(4) في (ز) المعروف، والمثبت من (د)، ونسخة على (ز)، وآيا صوفيا.

(5) هو الإمام بدر الدين أبو عبد الله شيخ الإسلام محمد بن إبراهيم بن سعد الله ابن جماعة الشافعي توفي في سنة 733 هـ ينظر ترجمته في الدرر الكامنة (3/ 367) وكتابه هو المعروف " بالمنهل الروي " طبع.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার রব! সহজ করে দিন (১)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর তাঁর অনুগ্রহসমূহের জন্য, এবং আমরা তাঁর নিকট তাঁর নেয়ামত ও দানের প্রাচুর্য প্রার্থনা করি। সালাত বর্ষিত হোক মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর। হে আল্লাহ! যেমন আপনি আমাদের নেয়ামত বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ইলহাম দান করুন। অতঃপর:

এগুলো হাদিস পরিচিতি বিষয়ক কতিপয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা, যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য জানা আবশ্যক, বিশেষ করে তার জন্য যে হাদিস বর্ণনার (التحديث) দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

আমি এটি সংক্ষেপ করেছি শামের মুফতি, শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনুস সালাহ (২), নিখুঁত (المتقن) ইমাম মুহিউদ্দিন আন-নববী (৩) এবং কাজী বদরুদ্দিন যিনি ইবনু জামাআহ (৪) (৫) নামে পরিচিত—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—তাদের কিতাবসমূহ থেকে।

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি "হে আমার রব! সহজ করে দিন" এটি (দ) পাণ্ডুলিপিতে নেই, এবং (য) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "এবং আমরা তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি", আর মূল পাঠটি আইয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত।

(২) তিনি হলেন আবু আমর উসমান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে মুসা ইবনে আবি নাসর আন-নাসরি আল-কুর্দি আশ-শাহরাজুরি তাকিউদ্দীন, যিনি ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত। তিনি ৬৪৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী দেখা যেতে পারে ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৩ কিতাবে। তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব "মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ" বহুবার মুদ্রিত হয়েছে।

(৩) তিনি হলেন ইমাম মুহিউদ্দিন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আল-মুরি আল-হিজামি আন-নববী আশ-শাফেঈ। তিনি তাঁর সময়ের মাযহাবের প্রধান শাইখ ছিলেন, ইন্তেকাল করেন ৬৭৬ হিজরি সনে। তাঁর জীবনী দেখা যেতে পারে তাবাকাতুশ শাফেঈয়াহ আল-কুবরা (৯/৩৯৫) কিতাবে। তাঁর কিতাবটি "আত-তাকরীব ওয়াত-তায়সীর" নামে পরিচিত, যা তিনি তাঁর অপর কিতাব "আল-ইরশাদ" থেকে সংক্ষেপ করেছিলেন... এবং উভয় কিতাবই মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) (য) পাণ্ডুলিপিতে "আল-মারুফ" (পরিচিত) শব্দ আছে, আর বর্তমান পাঠটি (দ) পাণ্ডুলিপি, (য) পাণ্ডুলিপির সংশোধনী এবং আইয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত।

(৫) তিনি হলেন ইমাম বদরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে সাদুল্লাহ ইবনু জামাআহ আশ-শাফেঈ। তিনি ৭৩৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী দেখা যেতে পারে আদ-দুরারুল কামিনাহ (৩/৩৬৭) কিতাবে। তাঁর কিতাবটি "আল-মানহালুর রওয়ী" নামে পরিচিত এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
فهذَّبته تهذيبًا ونقَّحتُه تَنقيحًا ورَصَّفته تَرصِيفًا أَنيقًا.

فوضعت كلَّ شيء في مَصبِّه ومَقرِّه، وأَضفتُ إلى ذلك زِيادَاتٍ مُهمَّة من جَامِع الأُصُول (1)، وغَيرِه (2).

وأَسألُ اللهَ أن يَنفعَ الطَّالبينَ بِه، ويَهديَهُم سَبيلَ الرَّشادِ ويجعله خالصًا لِوجهِهِ الكَرِيم.

 

وسَمَّيتُه بـ "الخُلَاصَةِ في مَعرفةِ الحَدِيث"، ورتَّبتهُ على مُقدِّمة ومَقَاصِدْ وخَاتِمَة.

--------------------------------------------

(1) "جامع الأصول من أحاديث الرسول " للإمام مجد الدين أبي السعادات المبارك بن محمد الجزري المعروف بابن الأثير صاحب التصانيف النافعة المتوفى سنة 606 هـ، وكتاب جامع الأصول؛ طبع.

(2) ينظر فهرس مصادر المصنف الذي أعددناه في آخر الكتاب.
আমি একে সর্বোত্তমভাবে পরিমার্জিত করেছি, যথাযথভাবে সংশোধন করেছি এবং অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বিন্যস্ত করেছি।

ফলে আমি প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে ও অবস্থানে স্থাপন করেছি এবং এতে জামি-উল উসুল (১) ও অন্যান্য (২) উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংযোজনও করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে জ্ঞানপিপাসুদের উপকৃত করেন, তাঁদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং একে কেবলমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন।

 

আমি গ্রন্থটির নামকরণ করেছি "আল-খুলাসাহ ফি মা’রিফাতিল হাদিস" এবং একে একটি ভূমিকা (مقدمة), মূল বিষয়বস্তু (مقاصد) ও একটি উপসংহারের (خاتمة) ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছি।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মাজদুদ্দীন আবিস সাআদাত মুবারক বিন মুহাম্মদ আল-জাযারি, যিনি ইবনুল আসির নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি), তাঁর রচিত গ্রন্থ 'জামি-উল উসুল মিন আহাদিসির রাসুল'। তিনি বহু উপকারী কিতাবের রচয়িতা। জামি-উল উসুল গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে।

(২) লেখকের ব্যবহৃত উৎসসমূহের সূচিপত্র দেখুন যা আমরা গ্রন্থের শেষে প্রস্তুত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
المقدمة

العِلمُ بَحَديثِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ورِوَايَته من أشرف العلوم وأفضلها؛ لأنه ثاني أَدِلَّة علوم الإسلام، ومادة علم الأصول والأحكام، لا يرغب في نشره إلا كلُّ صادق تَقيٍّ، ولا يَزهَدُ في نَصرِه إلا كلُّ مُنافق شَقيٍّ.

قال أبو نصر بن سلَاّم (1): ليس شيء أثقل على أهل الإلحاد ولا أبغض إليهم من سَماع الحديث وروايته وإسناده.

ولهذا العلم أُصول وأحكام واصطلاحات وأوضاع، يحتاج طالبه إلى معرفتها ومدار هذه الأمور على المتون والأسانيد والسند (2)، وغيرها.

الْمَتْنُ: هو ما اكتَنَف الصُّلب من الحيوان، وبه شُبِّه المتن من الأرض ومَتُنَ الشيء قَوِيَ مَتْنُهُ، ومِنه حَبْلٌ مَتِين، فَمَتْنُ كلِّ شيءٍ ما يَتَقَوَّمُ به ذلك الشيء ويَتَقَوَّى به، كما أن الإنسان يَتَقَوَّم بالظَّهر ويَتَقَوَّى به، فَمَتْنُ الحديث ألفاظه التي يَتقوَّم بها المعاني.

واختُلِفَ في متن الحديث أهو قول الصَّحابي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا؟ أو هو مَقُولُ رسول الله صلى الله عليه وسلم فَحَسْب؟

والأول أَظْهَر، لِمَا تَقَرَّر أنَّ السُّنة إِما قولٌ أو فعلٌ أو تَقْرِيرٌ، والسَّلف أَطْلَقُوا الحديث على أقوال الصحابة والتابعين لهم بإحسان وآثارِهِم وفَتَاواهم.

--------------------------------------------

(1) كما في " معرفة علوم الحديث " (ص 35).

(2) يظهر هنا تفرقة المصنف بين السند والإسناد وكلمة السند سقطت من المطبوعة وأثبتناها من (ز)، (د)، وهي كذلك في نسخة آيا صوفيا التي اعتمد عليها محقق المطبوعة.
ভূমিকা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস ও এর বর্ণনা (رواية) সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ বিষয়; কারণ এটি ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের দ্বিতীয় দলিল (أدلة) এবং উসুল (أصول) ও বিধিবিধানের (أحكام) মূল উপাদান। কেবল সত্যবাদী ও আল্লাহভীরু ব্যক্তিরাই এর প্রসারে আগ্রহী হয়, আর হতভাগা মুনাফিক ছাড়া কেউ এর সাহায্যে অনীহা প্রকাশ করে না।

আবু নসর বিন সাল্লাম (১) বলেন: "নাস্তিকদের নিকট হাদিস শ্রবণ, এর বর্ণনা এবং এর সনদপরম্পরা (إسناد)-এর চেয়ে অধিক ভারী ও অপ্রিয় আর কিছু নেই।"

এই শাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি (أصول), বিধান (أحكام), পরিভাষা (اصطلاحات) ও পদ্ধতি (أوضاع) রয়েছে, যা শিক্ষার্থীর জানা প্রয়োজন। আর এই বিষয়গুলোর মূল আবর্তিত হয় মূলপাঠসমূহ (متون), বর্ণনাসূত্রসমূহ (أسانيد), সনদ (سند) ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর।

মূলপাঠ (متن): এটি পশুর মেরুদণ্ডের দুই পাশের শক্ত অংশকে বোঝায়। ভূমির শক্ত ও উঁচু অংশকেও এর সাথে তুলনা করা হয়। কোনো বস্তু শক্তিশালী হওয়াকে 'মাতুন' বলা হয়; এখান থেকেই 'সুদৃঢ় রশি' কথাটি এসেছে। সুতরাং প্রতিটি বিষয়ের 'মাতন' হলো সেই ভিত্তি যার দ্বারা বস্তুটি প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী হয়, যেমন মানুষ তার পিঠের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ও শক্তি পায়। অতএব, হাদিসের মূলপাঠ (متن) হলো সেই শব্দসমষ্টি যার মাধ্যমে অর্থসমূহ সুসংগঠিত হয়।

হাদিসের মূলপাঠ (متن) বলতে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাহাবি (صحابي)-র বর্ণনা (যেমন: তিনি এমন এমন বলেছেন) বোঝাবে, নাকি কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজস্ব উক্তিকে বোঝাবে—এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট; কারণ এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে সুন্নাহ (سنة) হয় মৌখিক উক্তি (قول), নয়তো কর্ম (فعل), অথবা মৌনসম্মতি (تقرير)। আর পূর্বসূরিগণ (سلف) সাহাবি (صحابي) ও নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী তাবেয়ি (تابعين)-দের কথা, তাদের আসার (آثار) ও ফতোয়া (فتاوى)-কেও হাদিস হিসেবে অভিহিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি 'মারেফাতু উলূমিল হাদিস' (পৃষ্ঠা ৩৫) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(২) এখানে লেখক সনদ (سند) ও সনদপরম্পরা (إسناد)-এর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। মূল মুদ্রিত কপিতে 'সনদ' শব্দটি বাদ পড়েছিল, যা আমরা (যাল) ও (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে সংযোজন করেছি। আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপিতেও এটি এভাবেই আছে, যার ওপর ভিত্তি করে মুদ্রিত সংস্করণের সম্পাদক কাজ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٢٨)
والسَّنَدُ: إِخبَارٌ عن طَريقِ المَتنِ، من قولهم فُلانٌ سَنَد أَيْ مُعتَمَد، فسُمِّيَ سَندًا، لاعتماد الحُفَّاظ في صِحةِ الحَديثِ وضَعْفهِ عليه.

والإِسنِاد: هو رَفعُ الحديث إلى قائِله.

وقال عبد الله بن المبارك (1): الإسناد مِن الدِّين، ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء.

فعلى هذا السَّنَدُ والإسناد، يتقاربان في معنى الاعتماد.

 

والحَدِيثُ: ضِدُّ القَديم، لأنه يَحْدُث شيئًا فَشيئًا، ويُستَعمَل في قليل الكلام وكثيره، والكلام يُعنَى به تارةً القول الدَّال على المعنى، وأخرى المعنى القائم بالنَّفس، وهو قِسمان خَبرٌ وإنشَاء.

الإنشاء: إيجاد معنى بلفظ يقارنه في الوجود (2).

والخبر: هو كلام يُفيد بنفسه نسبة شيء إلى شيء في الخارج، والكلام يَشْمل المفيد وغيره؛ فقوله يفيد بنفسه يُخرج غيره، مثل قَائِمٌ في "زيدٌ قائم" وقولك الغلام الذي لزيد (3)، في قولك "الغُلام الَّذي لزيد فعل كذا وكذا"، وقوله في الخارج يخرج الإنشائيات.

قال بعض الأُدبَاء: الإنشاءُ كَلامٌ لفظه سببٌ لِنسبةٍ غير مسبوقة بنسبة أخرى، فخرج الخبر، لأن لَفظَهُ وإن كان سببًا لنسبةٍ بها يَحصُل الكلام لكنها

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في مقدمة صحيحه (1/ 12)، والحاكم في معرفة علوم الحديث (ص 40).

(2) هذا التعريف سقط من المطبوعة وأثبتناه من (ز).

(3) قوله "لزيد" سقط من المطبوعة وأثبتناه من (ز)، (د).
সনদ (سند): এটি হলো মতন (متن)-এর সূত্র সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা। এটি মূলত তাদের এই উক্তি থেকে গৃহীত যে, "অমুক ব্যক্তি একজন সনদ (سند)", অর্থাৎ সে নির্ভরযোগ্য বা অবলম্বন। সুতরাং একে সনদ (سند) নামকরণ করা হয়েছে, কারণ হাদিস সংরক্ষণকারীগণ হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) নিরূপণে এর ওপর নির্ভর করেন।

ইসনাদ (إسناد): এটি হলো হাদিসকে তার মূল প্রবক্তার দিকে পৌঁছে দেওয়া।

আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (১) বলেছেন: ইসনাদ (إسناد) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; যদি ইসনাদ (إسناد) না থাকত, তবে যে যা ইচ্ছা তা-ই বলত।

অতএব, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সনদ (سند) ও ইসনাদ (إسناد) উভয়ই ‘নির্ভরতা’ অর্থে পরস্পর নিকটবর্তী।

 

হাদিস: এটি ‘কাদিম’ বা অনাদির বিপরীত। কেননা এটি পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি হয়। এটি অল্প কথা বা বেশি কথা—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আর ‘কালাম’ বা কথা দ্বারা কখনও এমন উক্তি বোঝানো হয় যা অর্থের নির্দেশক, আবার কখনও অন্তরে বিদ্যমান অর্থকেও বোঝানো হয়। আর এটি দুই প্রকার: সংবাদ (خبر) ও সৃষ্টিধর্মী বাক্য (إنشاء)।

সৃষ্টিধর্মী বাক্য (إنشاء): এমন শব্দ দ্বারা কোনো অর্থ সৃষ্টি করা যা অস্তিত্ব লাভের ক্ষেত্রে সেই শব্দের সমকালীন (২)।

সংবাদ (خبر): এটি এমন বাক্য যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বাস্তব জগতে (الخارج) এক সত্তার সাথে অন্য সত্তার সম্পৃক্ততাকে প্রকাশ করে। এখানে ‘বাক্য’ বা কালাম শব্দটি উপকারী ও অনুপকারী উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে তাঁর উক্তি “স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে” দ্বারা অন্যদের সংজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে, যেমন: “যায়েদ দণ্ডায়মান” বাক্যের মধ্যে ‘দণ্ডায়মান’ শব্দটি অথবা আপনার উক্তি “যায়েদের গোলাম” (৩), যখন আপনি বলেন: “যায়েদের গোলাম এই এই কাজ করেছে”। আর তাঁর উক্তি “বাস্তব জগতে” (الخارج) বলার মাধ্যমে সৃষ্টিধর্মী বাক্য (إنشاء)-সমূহ সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে।

কিছু সাহিত্যিক বলেছেন: সৃষ্টিধর্মী বাক্য (إنشاء) হলো এমন কথা যার শব্দ এমন এক সম্পৃক্ততার কারণ হয় যা অন্য কোনো সম্পৃক্ততা দ্বারা অগ্রগামী বা সাব্যস্ত ছিল না। ফলে সংবাদ (خبر) সংজ্ঞার বাইরে চলে গেল, কারণ সংবাদের শব্দ যদিও একটি সম্পৃক্ততার কারণ যা দ্বারা বাক্য গঠিত হয়, কিন্তু তা...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম তাঁর সহিহ-এর ভূমিকায় (১/১২) এবং হাকিম মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস (পৃ. ৪০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(২) এই সংজ্ঞাটি মুদ্রিত কপি থেকে বাদ পড়েছে এবং আমরা তা (যাই) পাণ্ডুলিপি থেকে সংযোজন করেছি।

(৩) তাঁর উক্তি “যায়েদের জন্য” মুদ্রিত কপি থেকে বাদ পড়েছে এবং আমরা তা (যাই) ও (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে সংযোজন করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
مسبوقة بنسبة أخرى، هي حكاية عنها، فإن طابقتا؛ فالخبر صادق وإلا، فكاذب.

والإنشاء ليس له نسبة أخرى، فإن المُتَكلِّم هو الذي يُحْدِث نِسبةً بها يَحْصُل الكلام؛ ولذلك لا يحتمل المطابقة، ولا عدمها؛ لأن المطابقة نسبة، وكل نسبة لا بُدَّ لها من منتسبين سابقين عليها (1).

--------------------------------------------

(1) اجتهدت فلم أقف على قائل هذا الكلام من الأدباء.
এটি অন্য একটি সম্বন্ধ (نسبة) দ্বারা পূর্ববর্তী, যা সেই সম্বন্ধেরই একটি বিবরণ। সুতরাং যদি তা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে সংবাদটি (خبر) সত্য (صادق); অন্যথায় তা মিথ্যা (كاذب)।

আর প্রবর্তক বাক্যের (إنشاء) জন্য অন্য কোনো সম্বন্ধ নেই। কেননা বক্তাই (متكلم) এমন এক সম্বন্ধ তৈরি করেন যার মাধ্যমে কথাটি সংঘটিত হয়; এই কারণে এটি সংগতি (مطابقة) কিংবা তার অভাবের সম্ভাবনা রাখে না। কারণ সংগতি (مطابقة) নিজেই একটি সম্বন্ধ, আর প্রতিটি সম্বন্ধের জন্য তার পূর্বে দুটি সম্বন্ধযুক্ত বিষয়ের উপস্থিতি আবশ্যক (১)।

--------------------------------------------

(১) আমি যথেষ্ট অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু সাহিত্যিকদের মধ্যে এই উক্তির প্রবক্তাকে খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌فروع

الأول: الخَبَر إِمَّا صِدقٌ أو كَذِبٌ، ولا ثَالِثَ لهما على المختار، ومرجع الصِّدق والكَذِب إما إلى مطابقة الواقع، أو اعتقاد المُخبِر، أو إليهما جَميعًا كما بيَّن لك حَدَائق البَيَان في شرح التِّبيان (1).

الثاني: الخبر قد يُعْلَم صِدقُهُ قَطعًا؛ كخبر اللهِ تَعَالى وخبر رسولِهِ صلى الله عليه وسلم، وقد يُعلم كَذِبه قطعًا؛ كخبر المُخالف لخبر الله تعالى، وقد يُظَنُ صِدقُه؛ كخبر العَدل، وقد يُظن كذبه؛ كخبر الفاسق، وقد يُشَكُ فيه؛ كخبر المجهول.

الثالث: الخبر ينقسم إلى مُتَوَاتِر وآحَاد.

والمتواتر: هو خَبرٌ بَلَغَت رُواته في الكثرة مَبْلغًا، أحالت العادة تَوَاطُؤهُم على الكذب؛ كالمخبرين عن وجود مكة وغزوة بدر (2).

وله شرطان:

الأول: أن يكون عِلمُهُم ضروريًا مُستَنِدًا إلى مَحسوُس، بأن يكون المُخبَر عنه محسوسًا، إذ لو أخبرونا عن حدوث العالم أو عن صِدْقِ الأنبياء أو عن ظَن لم يَحْصُل لنا العلم.

الثاني: أن يستوي طرفاه والوَسَط في عدم تواطئهم على الكذب لِكَثرَتهم

--------------------------------------------

(1) هو شرح لكتاب التبيان في المعاني والبيان للمصنف، شرحه تلميذه، علي بن عيسى.

(2) ينظر الإحكام للآمدي (2/ 26).
আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ (فروع)

প্রথমত: সংবাদ (الخَبَر) হয় সত্য (صِدقٌ) নতুবা মিথ্যা (كَذِبٌ); মনোনীত (المختار) মতানুসারে এই দুটির বাইরে তৃতীয় কোনো প্রকার নেই। সত্যতা ও মিথ্যার মানদণ্ড হলো হয় বাস্তবতার (الواقع) সাথে সংগতি থাকা, অথবা সংবাদদাতার (المُخبِر) বিশ্বাস (اعتقাদ), কিংবা উভয়টিরই সমন্বয়; যেমনটি আপনার নিকট 'শারহুত তিবইয়ান'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'হাদায়িকুল বায়ান'-এ (১) বর্ণনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: সংবাদের (الخَبَر) সত্যতা কখনো নিশ্চিতভাবে (قطعًا) জানা যায়; যেমন মহান আল্লাহ তাআলার সংবাদ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদ। আবার কখনো সংবাদের মিথ্যা হওয়া নিশ্চিতভাবে (قطعًا) জানা যায়; যেমন আল্লাহর সংবাদের পরিপন্থী কোনো সংবাদ। কখনো সংবাদ সত্য হওয়ার প্রবল ধারণা করা হয়; যেমন ন্যায়নিষ্ঠ (العَدل) ব্যক্তির সংবাদ। কখনো মিথ্যা হওয়ার প্রবল ধারণা করা হয়; যেমন পাপাচারী (الفاسق) ব্যক্তির সংবাদ। আবার কখনো এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়; যেমন অজ্ঞাত (المجهول) ব্যক্তির সংবাদ।

তৃতীয়ত: সংবাদ (الخَبَر) মুতাওয়াতির (مُتَوَاتِر) ও আহাদ (آحَاد) - এই দুই ভাগে বিভক্ত।

মুতাওয়াতির (المتواتر): এটি এমন একটি সংবাদ (خبر), যার বর্ণনাকারীদের সংখ্যা এতো বেশি যে, সাধারণত তাদের সকলের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব; যেমন মক্কার অস্তিত্ব এবং বদর যুদ্ধের (২) সংবাদ প্রদানকারীগণ।

এর দুটি শর্ত রয়েছে:

প্রথম: তাদের জ্ঞান হতে হবে আবশ্যিক (ضروريًا) যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের (مَحسوُس) ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ সংবাদটি যেন ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভবযোগ্য হয়। কারণ তারা যদি আমাদের জগত সৃষ্টি হওয়া, নবীদের সত্যতা অথবা কোনো ধারণা (ظَن) সম্পর্কে সংবাদ দেন, তবে আমাদের জন্য নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হবে না।

দ্বিতীয়: বর্ণনাকারীদের আধিক্যের কারণে তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব হওয়ার বিষয়টি বর্ণনাকারী পরম্পরার শুরু, শেষ ও মধ্যবর্তী—সকল স্তরে সমান হতে হবে।

--------------------------------------------

(১) এটি গ্রন্থকারের 'কিতাবুত তিবইয়ান ফিল মাআনি ওয়াল বায়ান' নামক গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা তাঁর ছাত্র আলী বিন ঈসা রচনা করেছেন।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-আমেদী রচিত আল-ইহকাম (২/ ২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٣١)
ويدوم هذا الحد، فيكون أوله كآخره، ووسطه كطرفيه؛ نحو القرآن والصلوات الخمس، وأعداد الركعات، ومقادير الزَّكَوَات، وما أشبه ذلك ولأجل ذلك لم يَحصُل لنا العِلم بِصدق اليهود مع كثرتهم في نقلهم أن مُوسَى عليه السلام كذَّبَ كلَّ نَاسِخٍ لِشَرِيعَتِه، ولا يُصدَّق الشِّيعة بنقل النص على إمامة علي رضي الله عنه، والبَكْرِيَّة على إمامة أبي بكر رضي الله عنه لأن هذا وَضَعَه الآحاد أولاً، وأَفشُوه، ثم كثر الناقلون في عصره وبعده في الأعصار (1).

قال ابنُ الصَّلاح (2): مَن سُئل عن إِبراز مثال لذلك فيما يُروى من الحديث أعياه طلبه، وحديث "إِنْمِا الأَعْمَالُ بِالنيَّات" ليس من ذلك وإن نقله عدد التواتر وزيادة؛ لأن ذلك طَرأ عليه في وسط إسناده ولم يوجد في أوائله (3). نعم حديث "مَنْ كَذَبَ عَليَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوأ مَقْعَده مِنَ النَّار" نراه مثالا لذلك فإنه نقله من الصحابة رضي الله عنهم العددُ الجمُّ.

وذكر أبو بكر البزَّار الحافظ الجليل في مسنده (4): أنه رواه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم نحو من أربعين من الصحابة، وذكر بعض الحُفَّاظ (5) أنه رواه اثنان وستون صحابيًا وفيهم العشرة المُبَشَّرة.

--------------------------------------------

(1) ينظر جامع الأصول لابن الأثير (1/ 121).

(2) مقدمة ابن الصلاح (ص 454 - 455).

(3) في (ز) أوله والمثبت من (د)، ومقدمة ابن الصلاح والمطبوعة.

(4) مسند البزار، عقب حديث (971).

(5) لعله يقصد الحافظ الكبير أبا القاسم سليمان بن أحمد الطبراني المتوفى سنة 360 هـ فإن له جزءًا بعنوان "طرق حديث من كذب علي متعمدًا" وهو مطبوع، إلا أن عدد من رواه من الصحابة عنده واحد وستون صحابيًا.
এই সীমা অব্যাহত থাকে, ফলে এর শুরু এবং শেষ সমান থাকে এবং এর মধ্যভাগ ও প্রান্তগুলোও অভিন্ন থাকে; যেমন কুরআন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রাকাতের সংখ্যা, জাকাতের পরিমাণ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। আর এই কারণেই ইহুদিদের আধিক্য থাকা সত্ত্বেও তাদের বর্ণনার সত্যতা সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করতে পারি না, যখন তারা বর্ণনা করে যে মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর শরিয়তের প্রতিটি রহিতকারীকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছেন। তেমনিভাবে শিয়াদের এই বর্ণনাও বিশ্বাসযোগ্য নয় যেখানে তারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামতের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দলিলের (نص) কথা বলে, আর বকরিয়াদের আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইমামতের বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কারণ এটি প্রাথমিকভাবে একক বর্ণনাকারীরা (آحاد) তৈরি করেছিলেন এবং তা প্রচার করেছিলেন, অতঃপর তাঁর যুগে এবং পরবর্তী যুগগুলোতে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় (১)।

ইবনুস সালাহ (২) বলেছেন: হাদিসের বর্ণনার মধ্য থেকে কাউকে যদি এর কোনো উদাহরণ পেশ করতে বলা হয়, তবে তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। আর "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি এর অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও এটি নিরবচ্ছিন্ন গণনার (تواتر) সংখ্যা বা তার চেয়েও বেশি সংখ্যক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন; কারণ এর বর্ণনাকারীদের আধিক্য এসেছে সনদের (إسناد) মধ্যভাগে এবং এর শুরুর দিকে তা পাওয়া যায় না (৩)। হ্যাঁ, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়" হাদিসটিকে আমরা এর উদাহরণ হিসেবে দেখতে পাই; কেননা সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-দের মধ্য থেকে এক বিশাল সংখ্যা এটি বর্ণনা করেছেন।

মহান হাফেজ (حافظ) আবু বকর আল-বাজজার তাঁর মুসনাদ (৪)-এ উল্লেখ করেছেন যে, এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রায় চল্লিশজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। এবং কোনো কোনো হাফেজ (حفاظ) উল্লেখ করেছেন যে, এটি বাষট্টিজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে আশারা মুবাশশারাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসিরের জামিউল উসুল (১/১২১) দ্রষ্টব্য।

(২) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা ৪৫৪ - ৪৫৫)।

(৩) (যাল) পাণ্ডুলিপিতে 'এর শুরু' রয়েছে এবং (দাল) পাণ্ডুলিপি, মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ ও মুদ্রিত কিতাবে যা আছে তা-ই এখানে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৪) মুসনাদ আল-বাজজার, হাদিস নং ৯৭১-এর পরবর্তী অংশ।

(৫) সম্ভবতঃ তিনি মহান হাফেজ (حافظ) আবুল কাসিম সুলাইমান বিন আহমদ আত-তাবারানি (মৃত্যু ৩৬০ হি.)-কে বুঝিয়েছেন, কারণ তাঁর 'তুরুকু হাদিসি মান কযাবা আলাইয়্যা মুতাআম্মিদান' শিরোনামে একটি পুস্তিকা রয়েছে যা মুদ্রিত, তবে তাঁর নিকট এই হাদিসটি বর্ণনাকারী সাহাবীদের সংখ্যা একষট্টিজন।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٣٢)
قال ابن الصلاح (1): لم يزل عدد رواته في ازدياد وهلم جرًّا على التَّوالي والاستمرار.

قال ابن الأثير في جامع الأصول (2): العدد على قسمين، كامل وهو أقل عدد يورث العلم، وزائد يحصل العلم ببعضه، وتقع الزيادة فضلة.

والكامل ليس معلومًا لنا، لَكِنَّا بحصول العلم الضَّروري، نَستدِّل على كمال العدد، لا أنَّا بِكمَال العدد نستدل على حصول العلم، وأقل عدد يحصل به العلم الضروري مَعلومٌ لله تَعَالى، غير مَعلُومٍ لنا، لأَنَّا لا ندري متى يَحْصُل لنا العلم بوجود مكة عند تواتر الخبر، وأنه كان بعد خبر المائة والمائتين، ويعز علينا تجربة ذلك وإن تكلفناها، فسبيله أن نراقب أنفسنا إذا قُتِل رَجُلٌ في السُّوق مثلاً فشاهد جماعة فأخبرونا عن ذلك متوالية، فإن قولَ الأول يُحرِّك الظَّن، وقول الثاني والثالث يؤكده، ولا يزال يتزايد تأكده إلى أن يَصِير ضروريًا (3).

والآحَاد: كلُّ خَبَرٍ لم يَنْتَه إِلى التَّواتُر، ثم هو قِسمان مُسْتَفِيضٌ وغَيْرُه (4).

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن الصلاح (ص 455).

(2) جامع الأصول لابن الأثير (1/ 122).

(3) ينظر جامع الأصول لابن الأثير (1/ 122 ـ 123).

(4) كتب في حاشية (ز) ما نصه "وقيل هو ما يفيد الظن ثم هو قسمان مستفيض وغيره … فالمستفيض ما زاد نقلته على ثلاثة، وقيل غير ذلك، وغير المستفيض هو خبر الواحد أو الاثنين أو الثلاثة على الخلاف فيه، وأكثر الأحاديث المدونة والمسموعة من هذا القبيل … والتعبد بها جائز عند جمهور علماء المسلمين والعمل بها واجب عند أكثرهم، ورد بعض الحنفية خبر الواحد فيما يعم به البلوى كالوضوء من مس الذكر والإقامة، ورد بعضهم خبر الواحد في الحدود، ورجح بعض المالكية القياس على خبر الواحد المعارض للقياس، والصحيح الذي عليه أهل الحديث أو جمهورهم أن خبر الواحد العدل المتصل في جميع ذلك مقبول وراجح على القياس المعارض له وبه قال الشافعي وأحمد بن حنبل وغيرهما من أئمة الحديث والفقه والأصول والله أعلم ".
ইবনে আল-সালাহ (১) বলেন: এর বর্ণনাকারীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতেই থাকে এবং এটি ধারাবাহিকভাবে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।

জামিউল উসুল-এ ইবনে আল-আসির (২) বলেন: (বর্ণনাকারীর) সংখ্যা দুই প্রকার: পূর্ণাঙ্গ, যা হলো ন্যূনতম এমন সংখ্যা যা জ্ঞান (علم) উৎপাদন করে; এবং অতিরিক্ত, যার সামান্য অংশেই জ্ঞান অর্জিত হয় এবং অতিরিক্ত অংশটি আনুষঙ্গিক হিসেবে গণ্য হয়।

আর পূর্ণাঙ্গ সংখ্যাটি আমাদের জানা নেই, তবে অকাট্য জ্ঞান (العلم الضَّروري) অর্জিত হওয়ার মাধ্যমে আমরা সংখ্যাটির পূর্ণতা সম্পর্কে অনুমান করি; এমনটি নয় যে আমরা সংখ্যার পূর্ণতা দেখে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি অনুমান করি। অকাট্য জ্ঞান (العلم الضَّروري) অর্জিত হওয়ার জন্য ন্যূনতম সংখ্যাটি মহান আল্লাহর নিকট পরিজ্ঞাত, কিন্তু আমাদের নিকট অজানা। কারণ, আমরা জানি না ঠিক কখন মক্কার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের নিকট অকাট্য জ্ঞান (العلم الضَّروري) অর্জিত হয়েছে যখন সেই সংবাদটি মুতাওয়াতির (تواتر) হিসেবে পৌঁছেছে; এবং তা কি একশ নাকি দুইশ জন বর্ণনাকারীর সংবাদের পর হয়েছিল। এই বিষয়টি পরীক্ষা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন, এমনকি যদি আমরা তা করার চেষ্টা করি। এর পদ্ধতি হলো আমাদের নিজেদের পর্যবেক্ষণ করা; যেমন—উদাহরণস্বরূপ যদি বাজারে কোনো ব্যক্তি নিহত হয় এবং একদল লোক প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ধারাবাহিকভাবে আমাদের কাছে সেই সংবাদ পৌঁছায়, তবে প্রথম ব্যক্তির কথা প্রবল ধারণার (الظَّن) সৃষ্টি করে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যক্তির কথা তা জোরালো করে, এবং এভাবে ক্রমাগত দৃঢ় হতে হতে একপর্যায়ে তা অকাট্য (ضروري) জ্ঞানে পরিণত হয় (৩)।

আর আহাদ (الآحَاد): এমন প্রতিটি সংবাদ যা মুতাওয়াতির (التَّواتُر) পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অতঃপর এটি দুই প্রকার: মুস্তাফিয (مُسْتَفِيضٌ) এবং এর বহির্ভূত (৪)।

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমা ইবনে আল-সালাহ (পৃ. ৪৫৫)।

(২) ইবনে আল-আসিরের জামিউল উসুল (১/১২২)।

(৩) দ্রষ্টব্য: ইবনে আল-আসিরের জামিউল উসুল (১/১২২-১২৩)।

(৪) (জ) পাণ্ডুলিপির টীকায় লিখিত হয়েছে: "বলা হয়েছে যে, এটি এমন সংবাদ যা প্রবল ধারণা প্রদান করে (يفيد الظن), এটি দুই প্রকার: মুস্তাফিয (مستفيض) এবং এর বহির্ভূত … সুতরাং মুস্তাফিয (المستفيض) হলো যার বর্ণনাকারী সংখ্যা তিনের অধিক, এবং এর বাইরে অন্য মতও আছে। আর মুস্তাফিয (المستفيض) নয় এমনটি হলো একক সংবাদ (خبر الواحد), কিংবা দুই বা তিনজনের সংবাদ—এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। সংকলিত এবং শ্রুত অধিকাংশ হাদিস এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত … এবং অধিকাংশ মুসলিম আলেমদের নিকট এর মাধ্যমে ইবাদত করা বৈধ এবং তাদের অধিকাংশের নিকট এর ওপর আমল করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। তবে কোনো কোনো হানাফি আলেম সাধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট (উম্মে বালওয়া) বিষয়ে একক সংবাদ (خبر الواحد) প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমন—লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওজু করা এবং ইকামতের মাসআলা। কেউ কেউ হুদুদ-এর ক্ষেত্রে একক সংবাদ (خبر الواحد) প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবার কোনো কোনো মালিকি আলেম কিয়াস (القياس)-এর বিরোধী একক সংবাদ (خبر الواحد)-এর ওপর কিয়াস (القياس)-কে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে সঠিক মত, যা হাদিস বিশারদগণ বা তাঁদের অধিকাংশ পোষণ করেন, তা হলো—সবক্ষেত্রেই ন্যায়পরায়ণ (العدل) ও নিরবচ্ছিন্ন (المتصل) সূত্রে বর্ণিত একক সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণযোগ্য এবং তা এর বিরোধী কিয়াস (القياس)-এর ওপর প্রাধান্যযোগ্য। ইমাম শাফেয়ি, আহমদ বিন হাম্বল এবং হাদিস, ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রের অন্যান্য ইমামগণ এই মতই পোষণ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।"
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٣٣)
[ذكر ابن الجوزي في تَلْقِيحِه (1): أَنَّ حَصرَ الأحاديث يَبعُد إمكانه غير أن جماعة بالغوا في تَتَبُّعِها وحَصَرُوها في أعداد.

قال الإمام أحمد بن حنبل: صَحَّ من الأحاديث سَبْعُمائة أَلف وكَسْر.

وقُرِئ عَلَيْه مُسنَدُه فقال: هذا كتاب قد جَمَعتُه وانتقَيتُه من أكثر من سبعمائة ألف وخمسين ألفًا، فما اختلف المسلمون من الحديث فارجعوا إليه وما لم تجدوا فيه فليس بحجة (2).

فإن قِيل كل ما يَحْوِيِه مُسندُهُ أربعون ألف حديث، منها عشرة آلاف مكررة، فكيف يقول صح سبعمائة ألف وكسر؟ مع هذا فأجيب بأن المراد بهذا العدد؛ الطرق لا المتون] (3).

--------------------------------------------

(1) تلقيح فهوم أهل الأثر (ص 361 - 362).

(2) ينظر خصائص المسند لأبي موسى المديني (ص 4).

(3) ما بين معقوفين سقط من المطبوعة وأثبتناه من (ز)، (د).
[ইবনে আল-জাওজি তাঁর ‘তালকিহ’ (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হাদিসসমূহের সংখ্যা নিরূপণ করা প্রায় অসম্ভব; তবে একদল মনীষী এগুলো অনুসন্ধানে সচেষ্ট হয়েছেন এবং সেগুলোকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করেছেন।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: সাত লক্ষাধিক হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

তাঁর নিকট তাঁর ‘মুসনাদ’ পাঠ করা হলে তিনি বলেন: এটি এমন একটি গ্রন্থ যা আমি সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি হাদিস থেকে সংগ্রহ ও চয়ন করেছি; সুতরাং কোনো হাদিস নিয়ে যদি মুসলমানদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয় তবে তোমরা এর শরণাপন্ন হও, আর যা তোমরা এতে পাবে না তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নয় (২)।

যদি বলা হয় যে, তাঁর মুসনাদে মাত্র চল্লিশ হাজার হাদিস রয়েছে, যার মধ্যে দশ হাজার পুনরাবৃত্ত (مكرر), তবে তিনি কীভাবে বললেন যে সাত লক্ষাধিক হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح)? এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এই সংখ্যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বর্ণনাসূত্রসমূহ (الطرق), মূল পাঠসমূহ (المتون) নয়] (৩)।

--------------------------------------------

(১) তালকিহু ফুহুমি আহলিল আসার (পৃ. ৩৬১-৩৬২)।

(২) দ্রষ্টব্য: আবু মুসা আল-মাদীনী রচিত খাসাইসুল মুসনাদ (পৃ. ৪)।

(৩) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে এবং আমরা তা (যাল) ও (দাল) পাণ্ডুলিপি থেকে সাব্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٣٤)
‌‌المقاصد

اعلم أن متن الحديث نفسه لا يدخل في الاعتبار إلا نادرًا، بل يكتسب صفة من القُوة والضَّعف وبَيْن بَيْن بحسب، أوصاف الرواة من العدالة والضبط والحفظ وخلافها، وبين ذلك، أو بحسب الإسناد من الاتصال والانقطاع والإرسال والاضطراب ونحوها، فالحديث على هذا ينقسم إلى صحيح وحسن وضعيف.

هذا إذا نُظِر إلى المتنِ، وأَمَّا إذا بُحِثَ عن أوصاف الرواة نفسها فقيل هو ثقة عدل ضابط وغير ثقة أو مُتَّهم أو مجهول أو كذوب، واسمه فلان، وُلِد في سنة كذا، ومات في سنة كذا، ونحو ذلك.

وإذا نُظِر إلى حال الطَّالب، كان البحث عن كيفية استفَادَتِه وإفادة الشيخ إياه، وكيفية أخذه من القراءة والسَّماع والإجازة، وغير ذلك وهذا التقرير يستدعي أن يترتب الكلام على أربعة أبواب:

الأول: في أقسام الحديث وأنواعه.

والثاني: في أوصاف الرواة.

والثالث: في تَحمُّل الحديث وطرق نقله.

والرابع: في أسماء الرجال وأنسابهم.
উদ্দেশ্যসমূহ

জেনে রাখুন যে, হাদিসের মূল পাঠ (متن) নিজে খুব কমই বিবেচনার আওতায় আসে, বরং এটি শক্তি (القوة), দুর্বলতা (الضعف) অথবা এতদুভয়ের মধ্যবর্তী কোনো বৈশিষ্ট্য লাভ করে বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (الضبط), হিফজ (الحفظ) ও এর বিপরীত বা মাঝামাঝি অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে; অথবা সনদের অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال), বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع), মুরসাল হওয়া (الإرسال), ইযতিরাব বা অসংগতি (الاضطراب) ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে। সুতরাং হাদিস এই বিচারে সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) ও দুর্বল (ضعيف) — এই তিন ভাগে বিভক্ত।

এটি হলো মূল পাঠের (المتن) দিকে লক্ষ্য করলে; কিন্তু যদি বর্ণনাকারীদের গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তবে তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة), ন্যায়পরায়ণ (عدل), প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط), অনির্ভরযোগ্য (غير ثقة), অভিযুক্ত (متهم), অপরিচিত (مجهول) কিংবা চরম মিথ্যাবাদী (كذوب) বলা হয়; এবং তার নাম অমুক, তিনি অমুক সনে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং অমুক সনে মৃত্যুবরণ করেছেন — এ জাতীয় বিষয়সমূহ আলোচিত হয়।

আর যদি শিক্ষার্থীর অবস্থার দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবে পর্যালোচনার বিষয় হয় তাঁর হাদিস থেকে উপকৃত হওয়া এবং শায়খ কর্তৃক তাঁকে উপকৃত করার পদ্ধতি, এবং কীভাবে তিনি কিরাত (القراءة), শ্রবণ (السماع), অনুমতি (الإجازة) ও অন্যান্য উপায়ে হাদিস গ্রহণ করবেন সেই পদ্ধতি নিয়ে। আর এই উপস্থাপনাটি বিষয়টিকে চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করার দাবি রাখে:

প্রথম: হাদিসের বিভাগ ও প্রকারভেদ সম্পর্কে।

দ্বিতীয়: বর্ণনাকারীদের গুণাবলি সম্পর্কে।

তৃতীয়: হাদিস গ্রহণ (تحمل الحديث) ও তা স্থানান্তরের পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে।

চতুর্থ: বর্ণনাকারীদের নাম ও বংশপরিচয় সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌الباب الأول

في أقسام الحديث

وفيه ثلاثة فصول

 

‌‌الفصل الأول في الصحيح

الصَّحِيحُ: هو ما اتَّصل سَنَدُه بِنَقل العَدل الضَّابط عن مثله، وسَلِم من شُذُوذ وعِلَّة، وفي هذه الأوصاف احترازٌ عن الحَسَنِ والضَّعِيف، فقوله ما اتَّصل سنده احتراز عن المُنقَطِع، وهو الذي لم يتصل إسناده على أي وجه كان، وقوله بنقل العدل، احتراز عَمَّن هو مَستُور العدالة، أو فيه نوع جرح ونعني بالضابط، من يكون حافظًا متيقظًا، غير مُغفَّلٍ ولا ساهٍ ولا شاك في حالتي التَّحمُل والأداء، فإنَّ النَّاقل إذا كان فيه نَوْعُ قُصُورٍ عن درجة الإتقان، دخل حديثه في حدِّ الحسن، وإذا نزلت درجته عن ذلك ضَعُفَ حَدِيثُهُ.

وقوله وسَلِم من شُذُوذٍ، احتراز عن الشَّاذ، وهو الذي يَرويه الثِّقةُ، لكن يُخَالِف ما روى الناس، وقولُه وعِلَّة؛ أي سَلِمَ عمَّا فيه أسباب خفية غامضة قادحة، فإن قيل هذا القّيْد مُستدرَك لأنه لا يَخفَى على الضَّابط الحازِم مِثل تلك القادحة، يقال: الصَّارم قد يَنبُو، والحَازِم قَد يَسهُو، فما اجتمع فيه هذه
প্রথম অধ্যায়

হাদিসের প্রকারভেদ সম্পর্কে

আর এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে

 

‌প্রথম পরিচ্ছেদ: সহিহ (صحيح) প্রসঙ্গে

সহিহ (صحيح) হলো: যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (متصل), যা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর মুখস্থশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী তার অনুরূপ বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং যা অসংগতি (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে হাসান (حسن) ও জয়িফ (ضعيف) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সুতরাং ‘যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন’ বলার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন (منقطع) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, আর তা হলো যার সনদ কোনোভাবেই সংযুক্ত নয়। আর ‘ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির বর্ণনার মাধ্যমে’ বলার দ্বারা এমন ব্যক্তি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যার ন্যায়পরায়ণতা অজ্ঞাত (مستور العدالة), অথবা যার মধ্যে কোনো ধরণের নেতিবাচক সমালোচনা (جرح) রয়েছে। আর দাবেত বা নিখুঁত (ضابط) বলতে আমরা তাকেই বুঝি, যে হবে মুখস্থকারী ও অতন্দ্র সতর্ক, হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও প্রদানের (أداء) উভয় অবস্থায় অসতর্ক নয়, ভুলকারী নয় এবং সংশয়কারী নয়। কেননা বর্ণনাকারীর মধ্যে যদি নিখুঁত হওয়ার স্তরে কোনো ধরণের ঘাটতি থাকে, তবে তার হাদিস হাসান (حسن) এর সংজ্ঞায় দাখিল হবে। আর যদি তার স্তর তার চেয়েও নিচে নেমে যায়, তবে তার হাদিস জয়িফ (ضعيف) হয়ে যায়।

এবং ‘অসংগতি থেকে মুক্ত’ কথাটির মাধ্যমে শায (شاذ) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে; আর তা হলো যা নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন, কিন্তু তা অন্য লোকদের বর্ণনার বিপরীত হয়। এবং ‘ত্রুটি’ কথাটির অর্থ হলো, এমন সুপ্ত ও অস্পষ্ট কারণ থেকে মুক্ত থাকা যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যদি বলা হয় যে এই শর্তটি অতিরিক্ত, কারণ একজন দক্ষ ও নিখুঁত (ضابط) বর্ণনাকারীর কাছে এই ধরণের ক্ষতিকারক ত্রুটি গোপন থাকে না; তবে উত্তরে বলা হয়: ধারালো তরবারিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে এবং দৃঢ়চেতা ব্যক্তিও ভুল করতে পারেন। সুতরাং যাতে এই বিষয়গুলো একত্রিত হয়...
(খণ্ড: ১) আল-খুলাসাতু ফী মা'রিফাতিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ٣٦)
القُيُود حُكِم بصحته، وما افتُقِد فيه قيدٌ منها، خرج عن أن يكون صحيحًا وإذا قيل في حديث، إنه صحيح فمعناه ما ذكرنا، ولا يلزم أن يكون مقطوعًا به في نفس الأمر، وكذا إذا قيل إنه غير صحيح، فمعناه أنه لم يصح إسناده على الوجه المُعتبَر، لا أنه كَذِبٌ في نفس الأمر، وتَتَفاوت درجات الصحيح بحسب قوة شروطه.

وأولُ من صنَّف في الصحيح المجرَّد الإمام البُخَاري، ثم مُسلِمٌ، وكتابهما أصحُ الكُتُبِ بعد كتابِ الله العزيز، وأما قول الشَّافعي رضي الله عنه: ما أعلم شيئًا بعد كتاب الله تعالى أصحُ من مُوطَّأ مالك، فَقَبْل وجود الكتابين ثم البخاري أصحهما صَحيِحًا عند الجمهور، وفي الجامع قال البخاري خرَّجتُ كتاب الصحيح من زهاء ستمائة ألف حديث، وما وضعت فيه حَدِيثًا إلا صَلَّيتُ رَكعَتَين (1).

وأعلى أقسام الصحيح: ما اتَّفَقَا عليه، ثم ما انفرد به البُخَاري، ثم ما انفَرَد به مسلم، ثم ما هو على شرطِهِما وإن لم يَخَرِّجَاه، ثم على شرط البخاري ثم على شرط مسلم، ثم ما صَحَّحَه غيرُهما من الأئمة، فهذه سبعة أقسام.

قال ابن الصلاح (2): وأما ما حُذِف سَنَدُهُ أو بَعضُهُ فيهما، وهو كثير في تراجم البخاري، قليل جِدًا في صحيح مسلم، كقوله في التيمم وروى

--------------------------------------------

(1) ينظر تاريخ بغداد (2/ 327).

(2) مقدمة ابن الصلاح (ص 167).
যে সকল শর্তাবলি উল্লেখ করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। আর যার মধ্যে এর কোনো একটি শর্তের অভাব ঘটবে, তা সহিহ (صحيح) হওয়ার পর্যায় থেকে বিচ্যুত হবে। যখন কোনো হাদিস সম্পর্কে বলা হয় যে এটি সহিহ (صحيح), তখন তার অর্থ আমাদের উল্লিখিত সংজ্ঞাই উদ্দেশ্য হয়; এর দ্বারা বিষয়টি বাস্তব ক্ষেত্রে অকাট্য হওয়া অনিবার্য নয়। অনুরূপভাবে যখন বলা হয় এটি সহিহ (صحيح) নয়, তখন তার অর্থ হলো—গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে এর সনদটি (إسناد) সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়নি; এর অর্থ এই নয় যে এটি বাস্তব ক্ষেত্রে মিথ্যা (كذب)। আর সহিহ (صحيح) হাদিসের স্তরসমূহ এর শর্তাবলির (شروط) শক্তির তারতম্য অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

শুধুমাত্র সহিহ (صحيح) হাদিসের সংকলন সর্বপ্রথম প্রস্তুত করেছেন ইমাম বুখারি, অতঃপর ইমাম মুসলিম। মহান আল্লাহর কিতাবের পর এই গ্রন্থদ্বয়ই সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব। আর ইমাম শাফেয়ি (রা.)-এর উক্তি: "আমি মহান আল্লাহর কিতাবের পর মালিকের মুওয়াত্তার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ কোনো কিতাব জানি না" —এটি ছিল উক্ত গ্রন্থদ্বয় সংকলিত হওয়ার পূর্বের কথা। অতঃপর জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতে সহিহ (صحيح) হওয়ার বিচারে বুখারি এই দুইয়ের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ। ইমাম বুখারি তাঁর জামে গ্রন্থে বলেছেন: "আমি প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে সহিহ কিতাবটি সংকলন করেছি। আর আমি এতে কোনো হাদিসই দুই রাকাত সালাত আদায় করা ব্যতীত অন্তর্ভুক্ত করিনি (১)।"

সহিহ (صحيح) হাদিসের সর্বোচ্চ স্তরসমূহ হলো: যে বিষয়ের ওপর তারা উভয়ে একমত হয়েছেন (متفق عليه), অতঃপর যা কেবল ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর যা কেবল ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন, এরপর যা তাঁদের উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হয়েছে যদিও তাঁরা তা কিতাবে উল্লেখ করেননি, অতঃপর যা ইমাম বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী হয়েছে, এরপর যা ইমাম মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হয়েছে, এবং সবশেষে যা অন্যান্য ইমামগণ সহিহ (صحيহ) সাব্যস্ত করেছেন। এই হলো সাতটি স্তর।

ইবনুল সালাহ (২) বলেছেন: আর যার সনদ (سند) বা সনদের (سند) কিছু অংশ এই গ্রন্থদ্বয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে —যা বুখারির শিরোনামসমূহে (تراجم) অনেক বেশি এবং সহিহ মুসলিম-এ অত্যন্ত কম পাওয়া যায় —যেমন তায়াম্মুম অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: "এবং তিনি বর্ণনা করেছেন..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখ বাগদাদ (২/ ৩২৭)।

(২) মুকাদ্দিমা ইবনুল সালাহ (পৃ. ১৬৭)।