(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: -)
الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (25)
المؤلف: أحمد بن علي الأزهري الشافعي (ت 1179 هـ)
المحقق: رمزي سعد الدين دمشقية
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 42
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1437
যামযামের ফজিলত সংক্রান্ত সুসংবদ্ধ পরিচিতি বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: যামযামের ফজিলত সংক্রান্ত সুসংবদ্ধ পরিচিতি - মাসজিদুল হারামে শেষ দশকের মিলনমেলা সিরিজ (২৫)
লেখক: আহমাদ বিন আলী আল-আযহারী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ১১৭৯ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: রামজী সাদউদ্দীন দিমাসকিয়া
প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (25)
الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم
تأليف
الشيخ أحمد بن علي الشافعي
رئيس المحدثين بجامع أياصوفيا المتوفى سنة 1179 هـ
تحقيق
رمزي سعد الدين دمشقية
ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم
دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের মজলিস (২৫)
যমযমের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক সুনিশ্চিত জ্ঞানদান
রচনায়
শায়খ আহমদ বিন আলী আশ-শাফেয়ী
আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস, মৃত্যু ১১৭৯ হিজরী
তাহকীক
রামযী সাদউদ্দীন দিমাস্কিয়্যাহ
হারামাইন শরীফাইনের কিছু পুণ্যবান ব্যক্তি এবং তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা এর মুদ্রণে অবদান রেখেছেন
দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولى
1422 هـ - 2001 م
دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع
هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611
بيروت- لبنان ص ب:5955/ 14
e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা
ফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১
বৈরুত- লেবানন, ডাকবক্স: ৫৯৫৫/ ১৪
ই-মেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للهِ الذي مِنَ الماء خلق كل شيء حيٍّ وأبدع، والصلاة والسلام على مَنْ فار مِنْ بين أصابعه الماء ونبع، وعلى آله الأطهار وصحبه الأخيار ما سجد لله مسلم وركع.
أما بعد، فهذه رسالة لطيفة فيها ذكر ماء زمزم وأسمائها وفضلها للشيخ أحمد الشافعي، أحد علماء الدولة العثمانية، رئيس المحدثين بجامع أيا صوفيا المتوفى سنة 1179 هـ، طبعت هذه الرسالة قديمًا سنة 1331 هـ بمطبعة الترقي الماجدية العثمانية بمكة المشرَّفة على نفقة مالكها محمَّد ماجد الكردي المكي.
ولمَّا وقفت على نسختها المطبوعة -وهي عزيزة الوجود- رأيت من المناسب دخولها في رسائل "لقاء العشر الأواخر" لتعلقها بالحرم الشريف ثم إحياء لذكرها وتعميمًا لفوائدها بذكر زمزم وأخبارها.
وقد ألَّف العلماء في زمزم قديمًا وحديثًا، ومن أحسن ما كُتب فيها كتاب: "فضل ماء زمزم" للشيخ سائد بكداش حيث ذكر تاريخ ماء زمزم وأسمائه وخصائصه وبركاته ونية شربه وأحكامه والاستشفاء به وما قيل في مدحه من الأشعار، ثم أتبعه بجزء الحافظ ابن حَجَر في الحديث
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পানি থেকে প্রতিটি জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন এবং উদ্ভাবন করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর আঙুলসমূহের মধ্য থেকে পানি উথলে উঠেছিল ও প্রবাহিত হয়েছিল, এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণের প্রতি, যতক্ষণ কোনো মুসলিম আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা ও রুকু করবে।
অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যাতে যমযম পানি, এর নামসমূহ এবং এর ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এটি উসমানীয় খিলাফতের অন্যতম আলেম এবং আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস শায়খ আহমাদ শাফিয়ী (মৃত্যু ১১৭৯ হিজরি) কর্তৃক রচিত। এই পুস্তিকাটি অতীতে ১৩৩১ হিজরি সনে মক্কা মুশাররাফায় 'আল-তরাক্কি আল-মাজিদিয়্যাহ আল-উসমানিয়্যাহ' ছাপাখানায় এর মালিক মুহাম্মদ মাজিদ আল-কুর্দি আল-মাক্কির অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছিল।
যখন আমি এর মুদ্রিত কপির সন্ধান পেলাম—যা বর্তমানে দুষ্প্রাপ্য—তখন আমি এটিকে "লিকাউল আশরিল আওয়াখির" (শেষ দশরজনীর সাক্ষাৎ) সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করলাম। কারণ এটি হারাম শরীফের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর এর মাধ্যমে এর আলোচনা পুনর্জীবিত হবে এবং যমযম ও এর ঘটনাবলী বর্ণনার মাধ্যমে এর উপকারিতা ব্যাপকতা লাভ করবে।
আলেমগণ প্রাচীন ও আধুনিক যুগে যমযম সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ বিষয়ে রচিত সর্বোত্তম গ্রন্থগুলোর একটি হলো শায়খ সায়েদ বাকদাশ রচিত "ফাযলু মায়ি যমযম" (যমযম পানির ফযীলত), যেখানে তিনি যমযমের ইতিহাস, এর নামসমূহ, বৈশিষ্ট্য, বরকত, এটি পান করার নিয়ত, এর বিধানাবলী, এর দ্বারা আরোগ্য লাভ এবং এর প্রশংসায় রচিত কবিতাগুলো উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি হাফেয ইবনে হাজারের হাদিস বিষয়ক অংশটি এর সাথে সংযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
المشهور: "ماء زمزم لما شرب له". فمن أراد الاستفاضة فليرجع إلى الكتاب المذكور فإن فيه فوائد ونفائس.
أما الرسالة التي بين يدينا فهي رسالة وجيزة تصلح أن تقرأ في مجلس أو مجلسين، وقد قمت بخدمتها عن الطبعة الأولى محاولًا ضبط ألفاظها وتقويم عباراتها من المصادر المنقولة عنها.
راجيًا من اللطيف الخبير أن ينفع بها ويغفر لمؤلفها، وأن يمنَّ بفضله وكرمه على عبده الفقير إلى رحمته ورضوانه.
بحمدون في 16/ 6 / 1422 هـ
الموافق لـ 4/ 9 / 2001 م
وكتبه
رمزى سعد الدين دمشقية
সুপ্রসিদ্ধ হাদীসটি হলো: "যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে।" সুতরাং কেউ যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায়, তবে সে যেন উল্লিখিত কিতাবটি পাঠ করে, কেননা এতে রয়েছে বহু উপকারিতা ও মূল্যবান বিষয়াদি।
আর আমাদের হাতে থাকা এই রিসালাটি (পুস্তিকা) একটি সংক্ষিপ্ত রচনা, যা এক বা দুই মজলিসে পড়ার উপযোগী। আমি প্রথম সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে এর খেদমত সম্পন্ন করেছি, যেখানে শব্দগুলোর সঠিক বিন্যাস এবং উদ্ধৃত মূল উৎসগুলো থেকে এর বাক্যগুলোর সংস্কার করার চেষ্টা করেছি।
সুক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং এর লেখককে ক্ষমা করেন, আর তাঁর করুণা ও সন্তুষ্টির মুখাপেক্ষী এই নগণ্য দাসের প্রতি নিজ অনুগ্রহ ও বদান্যতা বর্ষণ করেন।
বাহামদুন, ১৬/০৬/১৪২২ হিজরী
মোতাবেক ৪/৯/২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
এটি লিখেছেন
রামজি সাদ আদ-দীন দিমাসকিয়া
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة المؤلفورد اسم المؤلف على غلاف الطبعة الأولى لهذه الرسالة المطبوعة بمطبعة الترقي بمكة المكرمة هكذا:
الشيخ أحمد الغزي الشافعي الأزهري المحدِّث.
وله ترجمة في "معجم المؤلفين" لعمر رضا كحالة 2/ 16 لم أقف على سواها في المصادر العربية، وهذا نصُّها:
أحمد بن علي الغزي الأزهري الشافعي، نزيل القسطنطينية.
رئيس المحدِّثين بجامع أيا صوفيا، توفي ودفن بأسكدار. من تصانيفه:
1 - بغية الطالب وبلوغ المآرب.
2 - القمر المنير العلوي في أثر القدم النبوي.
3 - قرة العين لمن وعى في استحباب رفع اليدين في الدعاء
ومصادر الترجمة: إيضاح المكنون للبغدادي 2/ 225، 240؛ وهدية العارفين للبغدادي أيضًا 1/ 176.
* * *
লেখকের জীবনীমক্কাতুল মোকাররমায় মাতবাআতুত তারাক্কিতে মুদ্রিত এই পুস্তিকার প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদে লেখকের নাম এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
শায়খ আহমদ আল-গাজ্জি আশ-শাফেয়ি আল-আজহারি আল-মুহাদ্দিস।
ওমর রেজা কাহহালার "মু'জামুল মুআল্লিফিন" (২/১৬)-এ তাঁর একটি জীবনী রয়েছে, আরবি উৎসগুলোর মধ্যে এটি ছাড়া অন্য কোনো জীবনী আমার নজরে আসেনি। এর মূল পাঠ নিম্নরূপ:
আহমদ বিন আলী আল-গাজ্জি আল-আজহারি আশ-শাফেয়ি, কনস্টান্টিনোপলের অধিবাসী।
আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস; তিনি উসকুদার (স্কুতারি)-এ মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই সমাহিত হন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
১ - বুগইয়াতুত তালিব ওয়া বুলুগুল মাআরিব।
২ - আল-কামারুল মুনিরুল আলাউয়ি ফি আসারিল কদমান নববী।
৩ - কুররাতুল আইন লিমান ওয়াআ ফি ইসতিহবাবি রাফইল ইয়াদাইন ফিদ দুয়া।
জীবনীর উৎসসমূহ: আল-বাগদাদীর 'ঈজাহুল মাকনুন' ২/২২৫, ২৪০; এবং আল-বাগদাদীর 'হাদিয়াতুল আরিফিন' ১/১৭৬।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثم وقفتُ على ترجمة للمؤلف مختصرة في "سجل عثماني" 1/ 260 المطبوع سنة 1308 هـ، وقد وردت الترجمة كذلك بنصها في "الموسوعة التركية" 1/ 192 الصادرة باستنبول نقلًا عن "سجل عثماني" (1).
وقد ورد اسم المؤلف فيها هكذا:
أحمد عز أفندي
وفيها: أنه رئيس المحدثين بجامع أيا صوفيا، وتوفي عام 1179 هـ، ودفن بأسكدار.
فكأن لفظة (عز) تصحفت عند البغدادي إلى (الغزي)، والله تعالى أعلم بالصواب.
* * *
--------------------------------------------
এরপর আমি ১৩০৮ হিজরিতে মুদ্রিত "সিজিল্ল-ই উসমানি" ১/২৬০-এ লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী দেখতে পেলাম। "সিজিল্ল-ই উসমানি" (১) থেকে উদ্ধৃত করে ইস্তাম্বুল থেকে প্রকাশিত "তুর্কি বিশ্বকোষ" ১/১৯২-এ জীবনীটি একইভাবে হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
আর এতে লেখকের নাম এভাবে এসেছে:
আহমাদ ইয এফেন্দি
এবং এতে রয়েছে যে: তিনি আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন, এবং ১১৭৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন ও উস্কুদারে সমাহিত হন।
মনে হচ্ছে বাগদাদীর নিকট (ইয) শব্দটি লিখনপ্রমাদবশত (আল-গাযযী) হয়ে গেছে, আর মহান আল্লাহই সঠিক বিষয়টি সবচেয়ে ভালো জানেন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
صورة "سجل عثماني" وفيه ترجمة المؤلف وأن اسمه: أحمد العز
একটি "উসমানীয় নথিপত্র"-এর ছবি এবং এতে গ্রন্থকারের জীবনী রয়েছে এবং তাঁর নাম হলো: আহমাদ আল-ইজ্জ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
صورة غلاف الطبعة الأولى للرسالة
রিসালাহ-এর প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ চিত্র
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: -)
الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (25)
المؤلف: أحمد بن علي الأزهري الشافعي (ت 1179 هـ)
المحقق: رمزي سعد الدين دمشقية
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 42
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1437
যমযমের ফযীলত বর্ণনায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-পরিচিতি বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
কিতাব: যমযমের ফযীলত বর্ণনায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-পরিচিতি - মসজিদে হারামে শেষ দশকের মজলিস সিরিজ (২৫)
লেখক: আহমদ বিন আলী আল-আযহারী আল-শাফেয়ী (মৃত্যু ১১৭৯ হিজরী)
তাহকীক: রামযী সাদউদ্দীন দিমাস্কিয়া
প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৪২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (25)
الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم
تأليف
الشيخ أحمد بن علي الشافعي
رئيس المحدثين بجامع أياصوفيا المتوفى سنة 1179 هـ
تحقيق
رمزي سعد الدين دمشقية
মসজিদুল হারামে শেষ দশকের মজলিস (২৫)
যমযমের ফযীলত সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য
রচনায়
শায়খ আহমাদ বিন আলী আশ-শাফিঈ
আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস, মৃত্যু ১১৭৯ হিজরী
সম্পাদনায়
রামযী সা’দ আদ-দীন দিমাসকিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله على نِعم جلَّتْ فكَثُرَت أن تُعَدَّ، وجَلَّت فكَبُرت أن تُحدَّ، وصلَّى الله على سيِّدنا محمَّد سيِّد العرب والعجم، الذي غُسِل قلبه الشريف بعد شقِّ صدره ليلة الإِسراء بماء زمزم، وعلى آله وأصحابه وسلم.
وبعد، فهذه أوراق أذكر فيها إن شاء الله تعالى بعض ما لزمزم من الأسماء والفضائل، ومن أظهرها من الأوائل، مرتبًا ذلك على مقدمة وثلاثة أبواب:
فالأول: فيمن أظهرها.
والثاني: في فضلها.
والثالث: في بيان الترتيب في الفضيلة بينها وبين أنواع الماء.
وأما الخاتمة: ففي بيان أن الماء من سما هو، هل له لون وطعم أو لا؟.
وسميتها: "الإِعلام الملتزَم بفضيلة زمزم".
فأقول وعلى الله الكريم اعتمادي، وإليه تفويضي وإستنادي، هذه:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য সেই সব নিআমতের ওপর যা এতই মহান যে তা গণনা করা অসম্ভব এবং যা এতই বিশাল যে তার কোনো সীমা নেই। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি আরব ও অনারবদের নেতা, ইসরা-এর রাতে সিনা চাক (বক্ষ বিদীর্ণ) করার পর যাঁর পবিত্র অন্তর জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করা হয়েছিল, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর, এগুলো কিছু পৃষ্ঠা যাতে আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা জমজমের কিছু নাম ও ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা করব এবং প্রাচীনদের মধ্যে কারা একে প্রকাশ করেছিলেন তাও উল্লেখ করব। আমি একে একটি ভূমিকা ও তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম অধ্যায়: যারা এটি প্রকাশ করেছিলেন তাদের বর্ণনায়।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এর ফযীলত বা মর্যাদার বর্ণনায়।
তৃতীয় অধ্যায়: এর এবং অন্যান্য প্রকার পানির মাঝে মর্যাদার স্তরবিন্যাসের বর্ণনায়।
আর উপসংহার: এই বর্ণনায় যে, আসমান থেকে বর্ষিত পানির কি কোনো রঙ ও স্বাদ আছে নাকি নেই?
আমি এর নামকরণ করেছি: "আল-ইলাম আল-মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম" (জমজমের ফযীলত বিষয়ে সুনিশ্চিত জ্ঞানদান)।
আমি বলছি—এবং মহামহিম আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁরই নিকট আমার সকল কাজ অর্পণ ও তাঁরই ওপর আমার নির্ভরতা—এটি হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
مقدمة
أما زمزم فهي وإن كانت أشهر من أن تُذكر، بركاتها أجلُّ من أن تُحصر، بئر المسجد الحرام، بينها وبين الكعبة شرَّفها الله تعالى قريب أربعين ذراعًا كما قاله الحافظ العسقلاني في "الفتح" (1).
وأما عمق البئر: فقال العلَّامة البكري (2): قد ذَرَعتُ الحبل
--------------------------------------------
ভূমিকা
আর যমযমের কথা বলতে গেলে, এটি এতই প্রসিদ্ধ যে নতুন করে এর পরিচিতি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না এবং এর বরকতসমূহ এতই মহিমান্বিত যে তা গণনা করা সম্ভব নয়। এটি হলো মসজিদে হারামের কূপ। এর এবং আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সম্মানিত কাবার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় চল্লিশ হাত, যেমনটি হাফিয আসকালানি 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (১)।
আর কূপের গভীরতার ব্যাপারে আল্লামা বাকরি (২) বলেন: আমি রশিটি পরিমাপ করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الذي كنتُ أستقي به فوجدته عشر قامات، انتهى (1).
--------------------------------------------
যা দিয়ে আমি পানি তুলতাম এবং সেটিকে দশ 'কামা' দীর্ঘ পেয়েছি। সমাপ্ত (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأول من عمل الرخام على زمزم وفرش أرضها بالمرمر: أبو جعفر المنصور، ثاني خلفاء العباسية (1).
وأما أسماؤهما: فزمزم، وشَبَّاعَة، ومُرْوِيَة، ونافعة، وعافية، وميمونة، وبركة، وبَرَّة، ومَضْنُونة، وكافية، ومُعْذِبَة، وشفاء سُقْم، وطعام طُعْم، وهَزْمَة جبريل، وسُقْيَا إسماعيل.
فأما زمزم: ففيه لغات، المشهورة: زَمْزَم، بفتح الزاي وسكون الميم، الثانية: زَمَّزَم بفتحها أيضًا وتشديد الميم، الثالثة: زِمَّزِم بكسر الزاءين وتشديد الميم (2).
سُمِّيَت بذلك لوجوه، فقيل: لكثرة مائها، فتكون مشتقة من قولهم: ماءٌ زَمْزُوم وزَمْزام، أي: كثير.
وقيل: لزمزمة الماء فيها، أي: حركته.
وقيل: لزمزمة جبريل عليه الصلاة والسلام، أي: كلامه.
قال في "القاموس" (3): الزَمْزَمَة -أي: بفتح الزاي الأولى والثانية وسكون الميم الأولى وفتح الثانية-: الصوت البعيد له دوي، وتتابع صوت الرعد، وهو أحسنه صوتًا وألينه (4) مطرًا.
--------------------------------------------
জমজমের ওপর প্রথম মার্বেল পাথর স্থাপনকারী এবং এর প্রাঙ্গণে মার্বেল বিছিয়ে দেওয়া ব্যক্তি হলেন আব্বাসীয় বংশের দ্বিতীয় খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর (১)।
আর এ দুটির নামসমূহ হলো: জমজম, শাব্বাআহ, মুরউইয়াহ, নাফিআহ, আফিয়াহ, মায়মুনাহ, বারাকাহ, বাররাহ, মাদনুনা, কাফিয়াহ, মুয়াদ্দিবাহ, শিফাউ সুকম, তয়ামু তয়ম, হাযমাতু জিবরাঈল এবং সুকয়া ইসমাঈল।
জমজম শব্দটির উচ্চারণে কয়েকটি রূপ রয়েছে; প্রসিদ্ধটি হলো: 'যামযাম' (যাই বর্ণে ফাতহাহ বা জবর এবং মীম বর্ণে সুকুন বা জযম যোগে), দ্বিতীয়টি হলো: 'যাম্মাযাম' (যাই বর্ণে ফাতহাহ এবং মীম বর্ণে তাশদীদ যোগে), তৃতীয়টি হলো: 'যিম্মিজিম' (উভয় যাই বর্ণে কাসরাহ বা যের এবং মীম বর্ণে তাশদীদ যোগে) (২)।
কয়েকটি কারণে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে: এর পানির আধিক্যের কারণে। তখন এটি তাদের উক্তি 'মাউন যামযুম' বা 'যামযাম' থেকে উদ্ভূত হবে, যার অর্থ হলো: প্রচুর পানি।
আরও বলা হয়েছে: এর মধ্যে পানির 'যামযামাহ' বা শব্দের কারণে, অর্থাৎ পানির নড়াচড়া বা প্রবাহের শব্দের জন্য।
আবার বলা হয়েছে: জিবরাঈল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর 'যামযামাহ' বা বাচনভঙ্গির কারণে, অর্থাৎ তাঁর কথার শব্দের জন্য।
'আল-কামুস' গ্রন্থে (৩) বলা হয়েছে: 'আয-যামযামাহ'—অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় যাই বর্ণে ফাতহাহ এবং প্রথম মীম বর্ণে সুকুন ও দ্বিতীয়টিতে ফাতহাহ যোগে—হলো এমন দূরবর্তী শব্দ যার একটি গুম্ফন বা প্রতিধ্বনি রয়েছে, এবং মেঘের ডাকের ধারাবাহিকতা; যা শব্দের দিক থেকে অত্যন্ত চমৎকার এবং বৃষ্টির দিক থেকে অত্যন্ত মৃদু (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وفي "النهاية" (1): الزمزمة الصوت الخفي. انتهى.
وقيل: لزمِّ هاجر لمائها حين انفجرت، أي: ضمها إياها وحصرها لها بالتراب.
وقيل: لأنها زُمَّت بالميزان لئلا تأخذ يمينًا وشمالًا (2).
وقيل: لأن عبد المطلب أُرِي في منامه أن قائلًا يقول له: احفر زمزم. كما يأتي (3).
وأما شَبَّاعَةُ: فبفتح الشين المعجمة وتشديد الباء الموحدة وفتح العين المهملة، من الشِّبَع ضد الجوع. سمِّيت بذلك لحصول الشبع عند شربها بقصد ذلك (4)، كما يأتي.
وأما مُرْوِيَة: فبضم الميم وسكون الراء المهملة وكسر الواو وتخفيف المثناة التحتية، من الري ضدُّ العطش، يقال: رَوِي من الماء واللبن كرضي، رِيًّا بكسر الراء ورَيًّا بفتحها، ورِوَىً بكسرها أيضًا. سُمِّيت بذلك لشدة قمعها للظمأ.
--------------------------------------------
এবং 'আন-নিহায়াহ' (১) গ্রন্থে রয়েছে: 'যামযামাহ' হলো মৃদু আওয়াজ। সমাপ্ত।
আরও বলা হয়েছে: হাজেরা যখন পানি প্রবাহিত হতে দেখেন তখন তা আটকে রাখার (যাম্ম্) চেষ্টার কারণে এই নাম হয়েছে; অর্থাৎ তিনি পানিকে একত্রিত করেছিলেন এবং মাটি দিয়ে এর চারপাশ ঘিরে দিয়েছিলেন।
আরও বলা হয়েছে: কারণ একে পরিমাপের মাধ্যমে বেঁধে রাখা হয়েছিল যাতে এটি ডানে-বামে ছড়িয়ে না পড়ে (২)।
আরও বলা হয়েছে: কারণ আব্দুল মুত্তালিব স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, জনৈক ঘোষক তাকে বলছেন: ‘যামযাম খনন করো’। যেমনটি সামনে আসবে (৩)।
আর 'শাব্বা'আহ' (শীন বর্ণে ফাতহাহ, বা বর্ণে তাশদীদ এবং আইন বর্ণে ফাতহাহ সহযোগে) শব্দটি ক্ষুধার বিপরীত পরিতৃপ্তি (শিবউ) থেকে এসেছে। এই উদ্দেশ্যে এটি পান করলে পরিতৃপ্তি অর্জিত হয় বলে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে (৪), যেমনটি সামনে আসবে।
আর 'মুরউইয়্যাহ' (মীম বর্ণে পেশ, রা বর্ণে সুকুন, ওয়াও বর্ণে কাসরাহ এবং ইয়া বর্ণে তাশদীদবিহীন) শব্দটি পিপাসার বিপরীত পরিতৃপ্তি (রাই) থেকে এসেছে। বলা হয়ে থাকে: সে পানি বা দুধ পান করে পরিতৃপ্ত হয়েছে (যেমন 'রাদিয়া' শব্দটির রূপান্তর হয়)। এর ক্রিয়ামূল 'রিইইয়ান' (রা বর্ণে কাসরাহ), 'রাইইয়ান' (রা বর্ণে ফাতহাহ) এবং 'রিওয়ান' (রা বর্ণে কাসরাহ) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। প্রচণ্ড পিপাসা নিবারণ করার ক্ষমতার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وأما نافعة: فبنون بعدها ألف ثم فاء فعين مهملة، من النفع ضد الضُّر. سمِّيت بذلك لكثرة منافعها التي لا تحصر، من جملتها أن شربها يقوِّي القلب ويسكِّن الرَّوع، كما يأتي (1).
وأما عافية: فبالعين المهملة والفاء بعدها مثناة تحتية، من عافاه الله من كذا معافاة (2) وعافية، وهب له العافية من العلل والبلايا. سمِّيت بذلك لدفع كثير من العلل بشرب مائها، فكم أبرأ الله بمائها من الأمراض ما عَجَزت عنه حُذَّاق الأطباء.
وأما مَيْمُونة: فبفتح الميم الأولى وسكون المثناة التحتية وضم الميم الثانية، من اليُمن، وهو البركة. سمِّيت بذلك لأن بركتها مأثورة، فقد شربها جماعة من السلف والخلف لكثير من المقاصد والمآرب فنالوها، كما يأتي (3).
وأما بَرَّه: فهو بدون ال، وبفتح الباء الموحدة وتشديد الراء المهملة، من البِرِّ بكسر الموحدة ضد العقوق، أي: ذات بر وإحسان لشاربها؛ لما يناله ويحصل له من بركتها.
وأما مَضْنُونَة: فهو بفتح الميم وسكون الضاد المعجمة وضم النون بعدها واو ثم نون مفتوحة بعدها هاء، من ضَنَّ به يَضِنُّ ضِنًّا إذا منعه عن غيره، أي: لنفاسته، إذ الضَّنين: النفيس. سمِّيت بذلك لأن
--------------------------------------------
আর 'নাফিআহ' প্রসঙ্গে: এটি নুন, এরপর আলিফ, তারপর ফা এবং এরপর আইন (মহমালাহ) দিয়ে গঠিত; যা ক্ষতির বিপরীত 'নাফ' (উপকার) থেকে উদ্ভূত। এর অগণিত উপকারের কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো এটি পান করা হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করে এবং ভীতি দূর করে, যেমনটি সামনে আসবে (১)।
আর 'আফিয়াহ' প্রসঙ্গে: এটি আইন (মহমালাহ) এবং ফা, এরপরে ইয়া (মুসান্না তাহতিয়্যাহ) দিয়ে গঠিত; যা আল্লাহ কাউকে কোনো বিষয় হতে 'আফাহ' (সুস্থতা দান করা), 'মুআফাত' (২) এবং 'আফিয়াহ' থেকে উদ্ভূত, অর্থাৎ তিনি তাকে রোগব্যাধি ও বিপদাপদ থেকে সুস্থতা দান করেছেন। এর পানি পান করার মাধ্যমে অনেক রোগব্যাধি দূর হওয়ার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে। এর পানির মাধ্যমে আল্লাহ কতই না এমন সব রোগ নিরাময় করেছেন, যা নিরাময়ে দক্ষ চিকিৎসকরাও অক্ষম ছিলেন।
আর 'মাইমুনাহ' প্রসঙ্গে: এটি প্রথম মিমে ফাতহা, ইয়া (মুসান্না তাহতিয়্যাহ)-তে সুকুন এবং দ্বিতীয় মিমে যম্মাহ দিয়ে গঠিত; যা 'ইুম্ন' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ বরকত। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর বরকত সুপ্রসিদ্ধ; সালাফ এবং খালাফগণের একটি দল বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন পূরণের লক্ষে এটি পান করেছেন এবং তা অর্জন করেছেন, যেমনটি সামনে আসবে (৩)।
আর 'বাররাহ' প্রসঙ্গে: এটি 'আল' ব্যতিরেকে, বা (মুওয়াহহাদাহ)-তে ফাতহা এবং রা (মহমালাহ)-তে তাশদীদ যোগে গঠিত; যা বা-তে কাসরা বিশিষ্ট 'বিরর' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা অবাধ্যতার বিপরীত। অর্থাৎ, এটি পানকারীর প্রতি সদয় ও ইহসানকারী; কারণ এর বরকতের মাধ্যমে পানকারী যা কিছু প্রাপ্ত হয় ও লাভ করে তার জন্য একে এ নামে ডাকা হয়।
আর 'মাদনুনাহ' প্রসঙ্গে: এটি মিমে ফাতহা, দদ (মু'জামাহ)-তে সুকুন এবং নুনে যম্মাহ, এরপর ওয়াও, অতঃপর নুনে ফাতহা এবং শেষে হা দিয়ে গঠিত; এটি 'দন্না বিহি ইয়াদিননু দিন্নান' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ যখন কেউ একে অন্যের থেকে আগলে রাখে; অর্থাৎ এর অতি মূল্যবান হওয়ার কারণে, যেহেতু 'দানীন' অর্থ অত্যন্ত মূল্যবান। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الناس يضن بعضهم على بعض بها لكونها نفيسة. وقد منع الله تعالى منها قومًا من العرب سكنوا حولها فعصوا وتهاونوا بحرمة الكعبة، فطردهم الله عنها ومنعهم إيَّاها (1).
وأما كافية: فمن الكفاية، أي: التي تكفي من شربها عن الميل والطلب لغيرها؛ لما يحصل له من الرَّي بها.
وأما مُعْذِبَة: فهو بضم الميم وسكون العين المهملة وكسر الذال المعجمة وفتح الموحدة، من أعذب الماء، أي: صار عَذْبًا، أي: مانعًا للعطش لحلاوته، يعني: ذات عذوبة وحلاوة، فهو بمعنى مُرْوِيَة.
وأما شفاء سُقْم: فهو عَلَمٌ إضافي، والإِضافة فيه على معنى اللام. سمِّيت بذلك لأن شرب مائها سبب في شفاء كثير من الأسقام ودفع الآلام.
وأما طَعَام طُعْم: فهو عَلمَ إضافي أيضًا، بضم الطاء الثانية وسكون العين المهملة التي بعده، وهو الذي يشبع من أكله. سمِّيت بذلك لحصول الشِّبَع عند تناولها، فهو بمعنى شَبَّاعَة.
وأما هَزْمَة جبريل: فبفتح الهاء وسكون الزاي وفتح الميم، من هزمه يهْزِمُه إذا غمزه بيده فصارت فيه حُفرة، فالهزمة موضع الهزم، أي: الغمز والضرب. ويروى: هَمْزة جبريل بفتح الهاء وسكون الميم
--------------------------------------------
মানুষ এর উচ্চমূল্যের কারণে একে অপরের প্রতি কার্পণ্য করে। আর আল্লাহ তাআলা আরবদের মধ্য থেকে এমন এক সম্প্রদায়কে এটি থেকে বঞ্চিত করেছিলেন যারা এর আশেপাশে বসবাস করত, কিন্তু তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং কাবার পবিত্রতাকে অবজ্ঞা করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করেন এবং তাদের জন্য এটি নিষিদ্ধ করে দেন (১)।
আর 'কাফিয়া': এটি 'কিফায়াহ' (পর্যাপ্ততা) থেকে এসেছে। অর্থাৎ, যা পান করলে তৃষ্ণা নিবারিত হওয়ার কারণে অন্য কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা বা চাহিদার জন্য এটি যথেষ্ট হয়ে যায়।
আর 'মু'জিবা': এটি মীম বর্ণে পেশ, নুকতাহীন আইন বর্ণে সাকিন, নুকতাযুক্ত যাল বর্ণে যের এবং বা বর্ণে জবর যোগে গঠিত। এটি 'আযবাবা আল-মা' থেকে এসেছে, যার অর্থ পানি সুমিষ্ট হওয়া। অর্থাৎ, এর মিষ্টতার কারণে তৃষ্ণা নিবারক হওয়া। এর অর্থ হলো এটি সুমিষ্ট ও মিষ্টতা সম্পন্ন, যা তৃষ্ণা নিবারক হওয়ার অর্থ প্রদান করে।
আর 'শিফাউ সুকমিন' (ব্যাধির আরোগ্য): এটি একটি সমাসবদ্ধ নাম, এবং এখানে সমাসটি 'লাম' (জন্য) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এর পানি পান করা অনেক ব্যাধির আরোগ্য এবং ব্যথা দূর করার মাধ্যম।
আর 'তয়ামু তু'মিন' (খাদ্যের আহার): এটিও একটি সমাসবদ্ধ নাম, দ্বিতীয় 'ত' বর্ণে পেশ এবং পরবর্তী নুকতাহীন 'আইন' বর্ণে সাকিন সহযোগে গঠিত। এটি এমন বস্তু যা আহার করলে পেট ভরে। এটি গ্রহণের ফলে তৃপ্তি লাভ হয় বলে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে, যা 'তৃপ্তিদায়ক' অর্থে ব্যবহৃত।
আর 'হাযমাতু জিবরীল': এটি হা বর্ণে জবর, যা বর্ণে সাকিন এবং মীম বর্ণে জবর যোগে গঠিত। এটি 'হাযামাহু ইয়াহযিমুহু' থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো যখন কেউ তার হাত দিয়ে কোনো কিছুকে চাপে এবং সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয়। সুতরাং 'হাযমাহ' হলো চাপের স্থান বা আঘাতের স্থান। এটি 'হামযাতু জিবরীল' হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যেখানে হা বর্ণে জবর এবং মীম বর্ণে সাকিন রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مقدَّمة على الزاي، من همز يَهْمِز بكسر الميم في المضارع، ويَهْمُز بضمها أيضًا همزًا، إذا غمزه أيضًا أو ضغطه أو دفعه أو ضربه، فهو بمعنى ما قبله. سُمِّيت بذلك لضرب جبريل عليه الصلاة والسلام بعَقِبه لها؛ ولأن عبد المطلب أُرِيَ في الرؤيا الآتي ذكرها قائلًا يقول له: زمزم وما زمزم! هزمة جبريل برجله وسُقيا إسماعيل وأهله، زمزم البركات تروي الرُّفات الواردات، شفاء سقم وخير طعام (1).
وقد جاء أيضًا في مبتدأ حديث الوضوء مثل هذا: وهو أن جبريل هَمَز للنبي صلى الله عليه وسلم بعَقِبِه في الوادي فنبع الماء (2).
* * *
--------------------------------------------
'হা' বর্ণটি 'ঝা' বর্ণের পূর্বে এসেছে, যা 'হামাযা-ইয়াহমিঝু' (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালে মীম বর্ণে কাসরা বা যের সহ) অথবা 'ইয়াহমুঝু' (যম্মাহ বা পেশ সহ) ধাতু থেকে উদ্ভূত; যখন কেউ কোনো কিছুকে টিপে ধরে, চাপ দেয়, ধাক্কা দেয় কিংবা আঘাত করে। এটি এর পূর্ববর্তী শব্দের সমার্থবোধক। জিবরাইল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর গোড়ালি দিয়ে সেখানে আঘাত করার কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া আব্দুল মুত্তালিবকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল (যা সামনে বর্ণিত হবে), যেখানে একজন তাঁকে বলছিলেন: 'জমজম এবং তুমি কি জান জমজম কী! জিবরাইলের পায়ের আঘাতের স্থান এবং ইসমাইল ও তাঁর পরিবারের পানীয়; বরকতময় জমজম যা আগতদের তৃষ্ণা মেটায়, এটি রোগের নিরাময় এবং সর্বোত্তম খাদ্য' (১)।
ওজুর হাদিসের প্রারম্ভেও অনুরূপ বর্ণনা এসেছে: জিবরাইল উপত্যকায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য তাঁর গোড়ালি দিয়ে আঘাত করেছিলেন এবং পানি নির্গত হয়েছিল (২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الباب الأول فيمن أظهرهافأول من أظهرها جبريل عليه الصلاة والسلام سقيا لإِسماعيل عليه الصلاة والسلام عندما ظمئ وهو صغير، ثم حفر الخليل عليه الصلاة والسلام، ثم أظهرها عبد المطلب جد النبي صلى الله عليه وسلم.
وذلك أن الله عز وجل أمر إبراهيم الخليل بالمسير من الشام إلى بلد الله الحرام، فركب البُراق، وحمل إسماعيل أمامه وكان رضيعًا، وقيل: كان ابن سنتين، وهَاجَر خلفه، ومعه جبريل يدلُّه على موضع البيت، فوضعهما إبراهيم عند البيت عند دوحة فوق زمزم في أعلى المسجد، وليس بمكة يومئذٍ أحد، وليس فيها ماء ولا عمارة ولا زراعة، وأمرها أن تتخذ فيها عريشًا.
فلما أراد إبراهيم أن ينصرف راجعًا إلى الشام ورأت هاجر أن ليس بحضرتها أحد من الناس ولا ماء ظاهر، تركت ابنها إسماعيل في مكانه وتبعت إبراهيم، فقالت: يا إبراهيم إلى مَنْ تدعنا؟ فسكت عنها حتى إذا دنا من كَدَاء (1) قال: إلى الله أدعكم. قالت: فالله
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: যারা এটি প্রকাশ করেছেনএটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম), যখন ইসমাঈল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) শিশু অবস্থায় তৃষ্ণার্ত হয়েছিলেন তখন তাকে পান করানোর জন্য। এরপর খলীল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এটি খনন করেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব এটি প্রকাশ করেন।
আর তা এভাবে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইব্রাহীম খলীলকে শাম থেকে আল্লাহর পবিত্র নগরীর অভিমুখে গমনের নির্দেশ দেন। তখন তিনি বুরাকে আরোহণ করেন এবং ইসমাঈলকে নিজের সামনে বসিয়ে নেন—তিনি তখন দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন, কারো মতে তার বয়স ছিল দুই বছর—আর হাজেরা ছিলেন তার পেছনে। জিবরাঈল তাদের সাথে ছিলেন এবং তাকে বাইতুল্লাহর স্থানের পথ দেখাচ্ছিলেন। ইব্রাহীম তাদের উভয়কে মসজিদের উপরের অংশে জমজমের উপরে অবস্থিত একটি বড় বৃক্ষের নিকট রেখে দেন। সে সময় মক্কায় কোনো জনমানুষ ছিল না এবং সেখানে পানি, কোনো স্থাপনা বা চাষাবাদও ছিল না। তিনি তাকে সেখানে একটি চালাঘর তৈরি করে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ইব্রাহীম যখন পুনরায় শামে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন এবং হাজেরা দেখলেন যে তাদের সান্নিধ্যে কোনো মানুষ নেই এবং দৃশ্যমান কোনো পানিও নেই, তখন তিনি তার পুত্র ইসমাঈলকে তার স্থানে রেখে ইব্রাহীমের পিছু নিলেন। তিনি বললেন: হে ইব্রাহীম, আপনি আমাদের কার কাছে রেখে যাচ্ছেন? তিনি নীরব রইলেন। অবশেষে যখন তিনি কাদার (১) নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি বললেন: আমি তোমাদের আল্লাহর নিকট রেখে যাচ্ছি। তিনি বললেন: তবে তো আল্লাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
أمركَ بهذا؟ قال: نعم. قالت: فحسبي، تركْتَنا إلى كافٍ.
وخرج إبراهيم حتى وقف على كداء ولا بناء ولا ظل ولا شيء يحول دون ابنه إسماعيل، فنظر إليه فأدركه ما يدرك الوالد من الرحمة لولده، فقال: {رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي} الآية، وانصرفت هاجر إلى ابنها وعمدت فجعلت عريشًا في موضع الحِجْر -بكسر الحاء المهملة- من سَمُر (1) -بفتح السين المهملة وضم الميم- وألقت عليه ثُمامًا (2) -بضم المثلثة وتخفيف الميم-.
وفي رواية: أن إبراهيم عليه الصلاة والسلام وضع عندهما جِرَابًا فيه تمر وسِقَاء فيه ماء، فلما نَفِدَ الماء عطش إسماعيل وعطشت أمه وانقطع لبنها، فأخذ إسماعيل كهيئة الموت فظنَّت أنه ميت فجَزِعَت، وخرجت جزعًا أن تراه على تلك الحالة، وقالت: يموت وأنا غائبة عنه أهون عليَّ. ثم ظهر لها جبريل فانطلق بها حتى وقف على موضع زمزم فضرب بعَقِبِه مكان البئر فظهر الماء فوق الأرض (3).
وفي "الحدائق": فبحث جبريل بعقبه، أو قال: بجناحه -على شك الراوي- وجعلت هاجر تَزمُّ الماء، أي: تحصره خِيفَة
--------------------------------------------
তিনি কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (হাজেরা) বললেন: তবে আমার জন্য এটাই যথেষ্ট, আপনি আমাদের এক পর্যাপ্ত ও সক্ষম সত্তার নিকট রেখে যাচ্ছেন।
ইবরাহীম প্রস্থান করলেন এবং অবশেষে কাদা নামক স্থানে এসে দাঁড়ালেন। সেখানে কোনো দালানকোঠা ছিল না, ছায়া ছিল না এবং তাঁর পুত্র ইসমাইলের সামনে আড়াল হওয়ার মতো কোনো কিছুই ছিল না। তিনি তাঁর দিকে তাকালেন এবং এক পিতার হৃদয়ে সন্তানের প্রতি যে মমতা জাগে, তা তাঁকে আচ্ছন্ন করল। তিনি বললেন: {হে আমাদের পালনকর্তা! আমি আমার বংশধরদের এক অংশকে...} [আয়াত শেষ পর্যন্ত]। হাজেরা তাঁর পুত্রের নিকট ফিরে আসলেন এবং সংকল্প করে হিজর নামক স্থানে—যা হা অক্ষরে যের সহযোগে উচ্চারিত—সামুর গাছ দ্বারা—যা সীন অক্ষরে যবর এবং মীম অক্ষরে পেশ সহযোগে উচ্চারিত—একটি ঝুপড়ি তৈরি করলেন এবং তার উপর সুমাম নামক ঘাস—যা ছা অক্ষরে পেশ এবং মীম অক্ষরে হালকা উচ্চারণ (তাশদীদহীন) সহযোগে উচ্চারিত—বিছিয়ে দিলেন।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: ইবরাহীম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁদের নিকট খেজুর ভর্তি একটি থলে এবং পানি ভর্তি একটি মশক রেখে দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন পানি শেষ হয়ে গেল, তখন ইসমাইল তৃষ্ণার্ত হলেন এবং তাঁর মাতাও তৃষ্ণার্ত হলেন এবং তাঁর দুধ শুকিয়ে গেল। ইসমাইলের অবস্থা মৃতপ্রায় হয়ে পড়ল, এমনকি তিনি (হাজেরা) মনে করলেন যে শিশুটি মারা যাচ্ছে। ফলে তিনি অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়লেন এবং সন্তানকে ঐ করুণ অবস্থায় দেখার আশঙ্কায় বাইরে বেরিয়ে এলেন। তিনি বললেন: আমার অনুপস্থিতিতে সে মৃত্যুবরণ করবে—এটা আমার নিকট অধিকতর সহনীয়। অতঃপর জিবরাঈল তাঁর নিকট আবির্ভূত হলেন এবং তাঁকে নিয়ে চললেন, এমনকি তিনি যমযমের স্থানে এসে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি কূপের স্থানে তাঁর গোড়ালি দিয়ে আঘাত করলেন এবং মাটির উপর পানি প্রকাশিত হলো।
এবং "আল-হাদাইক" গ্রন্থে রয়েছে: অতঃপর জিবরাঈল তাঁর গোড়ালি দিয়ে খুঁড়লেন, অথবা বর্ণনাকারীর সন্দেহ অনুযায়ী বলেছেন: তাঁর ডানা দিয়ে। আর হাজেরা পানিকে বাঁধ দিতে শুরু করলেন, অর্থাৎ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তা আটকে রাখছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
أن يفوتها قبل أن تأتي بشَنِّها (1)، فاستقت وبادرت إلى ابنها فسقته.
قال ابن عباس: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "يرحم الله أمَّ إسماعيل لو تركت زمزم"، أو قال: "لو لم تَغرِف من الماء لكانت عينًا مَعينًا" (2).
ثم إن الجُرْهُمي عمرو بن الحارث (3) لما أحدث قومه بحرم الله تعالى الحوادث قيَّض الله لهم من أخرجهم من مكة، فعمد عمرو المذكور إلى نفائس من أموال الكعبة -وكان من جملتها غزالان من ذهب وأسياف سبعة كان ساسان ملك الفرس قد أهداها إلى الكعبة- ووضعها في زمزم وطمَّها وبالغ في طمها
--------------------------------------------
যাতে তার ছোট মশকে পানি ভরার আগেই তা ফুরিয়ে না যায় (১), তাই সে পানি তুলল এবং দ্রুত তার পুত্রের কাছে গিয়ে তাকে পান করাল।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ ইসমাঈলের মায়ের ওপর রহম করুন, যদি তিনি যমযমকে (নিজের অবস্থায়) ছেড়ে দিতেন", অথবা তিনি বলেছেন: "যদি তিনি পানি তুলে না নিতেন, তবে তা একটি প্রবহমান ঝরনা হতো" (২)।
অতঃপর জুরহুম গোত্রের আমর ইবনুল হারিস (৩), যখন তার কওম আল্লাহর হারামে নানা অনাচার সৃষ্টি করল, তখন আল্লাহ তাদের জন্য এমন ব্যবস্থা করলেন যারা তাদের মক্কা থেকে বহিষ্কার করল। ফলে উল্লিখিত আমর কাবার মূল্যবান কিছু সম্পদ সংগ্রহ করল—যার মধ্যে ছিল স্বর্ণের দুটি হরিণ এবং সাতটি তলোয়ার যা পারস্যের রাজা সাসান কাবাকে উপহার দিয়েছিলেন—এবং সেগুলোকে যমযম কূপে নিক্ষেপ করে তা ভরাট করে দিল এবং তা পুরোপুরি ঢেকে ফেলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
ودفنها (1)، وفر إلى اليمن بقومه (2).
فلم تزل زمزم مدفونة مغيبة أكثر من خمسمائة سنة لا يُعرف مكانها إلى أن أظهرها عبد المطلب جَدُّ النبي صلى الله عليه وسلم بعلامات عَرَف بها موضعها في رؤيا رآها متكررة ثلاثة مرات، فحفرها وأظهرها (3)، ولم تزل ظاهرة بحمد الله تعالى إلى الآن وإلى ما شاء الله تعالى.
* * *
--------------------------------------------
এবং তিনি তা দাফন (লুকিয়ে) করেন (১), এবং নিজ কওমসহ ইয়েমেনে পালিয়ে যান (২)।
ফলে জমজম পাঁচশ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রোথিত ও বিলুপ্ত অবস্থায় ছিল, এর স্থান জানা ছিল না। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাদা আবদুল মুত্তালিব তা প্রকাশ করেন এমন কিছু চিহ্নের মাধ্যমে যা তিনি উপর্যুপরি তিনবার স্বপ্নে দেখে এর স্থান শনাক্ত করেছিলেন। এরপর তিনি তা খনন করেন এবং প্রকাশ করেন (৩), এবং আল্লাহর প্রশংসায় তা এখন পর্যন্ত এবং আল্লাহ যতদিন চান প্রকাশ্য রয়েছে।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الباب الثاني في فضلهاقد ورد في فضل زمزم أحاديث كثيرة، لكن البخاري لم يذكرها لكونها لم تكن على شرطه صريحًا.
ووقع في صحيح مسلم (1) من حديث أبي ذر: "ماء زمزم طَعَامُ طُعْم"، وزاد الطيالسي (2): "وشفاء سُقْم".
وفي "المستدرك" (3) من حديث ابن عباس مرفوعًا: "ماء زمزم لما شُرِب له". وصححه البيهقي في الشُّعَب وابن عيينه وابن حبان.
ووثَّق رجاله الحافظ الدمياطي (4)، وكذلك الحافظ العسقلاني حيث قال في "الفتح" (5) بعد نقله هذا الحديث: رجاله ثقات إلَّا أنه
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর ফযিলত প্রসঙ্গেজমজমের ফযিলত সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তবে ইমাম বুখারী সেগুলো উল্লেখ করেননি, কারণ সেগুলো স্পষ্টভাবে তাঁর শর্ত অনুযায়ী ছিল না।
সহীহ মুসলিমে (১) আবু যার বর্ণিত হাদীসে এসেছে: "জমজমের পানি তৃপ্তিদায়ক খাদ্য", আর তায়ালিসি (২) বর্ধিত অংশে উল্লেখ করেছেন: "এবং রোগের আরোগ্য"।
"আল-মুস্তাদরাক" (৩) গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই কার্যকর হয়।" ইমাম বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ, ইবনে উয়াইনা এবং ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।
হাফেয দিমইয়াতি (৪) এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন, তেমনি হাফেয আসকালানিও তাঁর "আল-ফাতহ" (৫) গ্রন্থে এই হাদীসটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, তবে এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
اختُلف في إرساله ووصله، وإرساله أصح، انتهى (1).
وحذا حذوهما القسطلاني حيث قال بعد إيراده حديث "المستدرك" المذكور (2): وبالجملة فقد ثبتت صحة هذا الحديث، أعني حديث: "ماء زمزم لما شُرِب له".
ومعناه: أنكَ إنْ شربته لتستشفي به شفاكَ الله، وإن شربته لشبعكَ أشبعكَ الله، وإن شربته لقطع ظمأ قطعه الله تعالى، وهكذا.
وقد ورد عن أبي حنيفة رحمه الله تعالى أنه شربه للعلم والفقاهة فكان أفقه [أهل] زمانه (3).
قال البكري (4) رحمه الله تعالى: وأنا قد جرَّبت ذلك فوجدته صحيحًا على أني لم أشربه إلَّا على يقين من هذا وتصديق بالحديث، انتهى.
--------------------------------------------
এর মুরসাল ও মাউসুল (সূত্রযুক্ত) হওয়ার ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে, তবে এটি মুরসাল হওয়াই অধিক বিশুদ্ধ, সমাপ্ত (১)।
কাসতাল্লানিও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যেখানে তিনি উল্লিখিত "আল-মুসতাদরাক"-এর হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন (২): সংক্ষেপে এই হাদিসটির বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়েছে, অর্থাৎ এই হাদিসটি: "যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই সফল হয়।"
এর অর্থ হলো: আপনি যদি আরোগ্য লাভের জন্য এটি পান করেন তবে আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করবেন, যদি আপনি পরিতৃপ্ত হওয়ার জন্য এটি পান করেন তবে আল্লাহ আপনাকে পরিতৃপ্ত করবেন, আর যদি তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পান করেন তবে আল্লাহ তাআলা তা নিবারণ করবেন, এবং এভাবেই সব ক্ষেত্রে।
ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইলম ও ফিকহ অর্জনের জন্য এটি পান করেছিলেন এবং তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ফকিহ হয়েছিলেন (৩)।
আল-বাকরি (৪) (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: আমি এটি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং একে সত্য পেয়েছি, তবে আমি এটি এই বিষয়ের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস এবং হাদিসের প্রতি সত্যায়ন রেখেই পান করেছি, সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي البخاري (1) عن الشعبي أن ابن عباس رضي الله عنهما حدَّثه قال: "سَقيتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم من زمزم فشرب وهو قائم".
قال الحافظ بن حجر في "الفتح" (2): فيه -أي: الحديث المذكور- الرخصة في الشرب قائمًا، انتهى.
أي: فيكون النهي عن الشرب قائمًا الوارد في الصحيح نهي أدب وإرفاق؛ ليكون تناول الماء على سكون وطمأنينة، فيكون أبعد من الفساد، كما قاله محيي السنة (3).
قال علي القاري: أقول: ويمكن أن يكون القيام مختصًّا بماء زمزم، ونكتة التخصيص الإِشارة إلى استحباب التضلع من مائه. ثم قال: ورأيت بعضهم صرَّح بأنه يُسن الشرب من زمزم قائمًا اتباعًا له صلى الله عليه وسلم، انتهى.
وبالجملة فيستحب الشرب من مائها والتضلُّع منه (4)، لما روى الدارقطني والبيهقي مرفوعًا (5): "آيةُ ما بيننا وبين المنافقين إنهم
--------------------------------------------
বুখারিতে (১) আশ-শা'বি থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যমযমের পানি পান করিয়েছিলাম, আর তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করেছিলেন।"
হাফেজ ইবনে হাজার "আল-ফাতহ্" (২)-এ বলেছেন: এতে—অর্থাৎ উল্লিখিত হাদীসে—দাঁড়িয়ে পান করার অনুমতি রয়েছে। সমাপ্ত।
অর্থাৎ, সহীহ হাদীসসমূহে দাঁড়িয়ে পান করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা আদব ও স্বস্তির জন্য; যাতে পানি পান করাটা স্থিরতা ও প্রশান্তির সাথে হয়, ফলে তা ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে মুক্ত থাকে—যেমনটি মুহিউস সুন্নাহ্ (৩) বলেছেন।
আলী আল-কারী বলেছেন: আমি বলছি, হতে পারে দাঁড়িয়ে পান করাটা যমযমের পানির সাথে সুনির্দিষ্ট, আর এই সুনির্দিষ্টকরণের সূক্ষ্ম রহস্য হলো যমযমের পানি পেট ভরে পান করা মুস্তাহাব হওয়ার প্রতি ইশারা করা। এরপর তিনি বলেছেন: আমি কাউকে কাউকে স্পষ্ট বলতে দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণে যমযমের পানি দাঁড়িয়ে পান করা সুন্নাত। সমাপ্ত।
মোদ্দাকথা হলো, এর পানি পান করা এবং তা দ্বারা পেট পূর্ণ করা (৪) মুস্তাহাব, কেননা আদ-দারাকুতনি এবং আল-বায়হাকি মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন (৫): "আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্যের নিদর্শন হলো যে তারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لا يتضلَّعون من زمزم".
وقد جاء في حديث علي رضي الله عنه: (خير بئر
--------------------------------------------
তারা জমজম থেকে পেট ভরে পান করে না।"
এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে: (সর্বোত্তম কূপ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
في الأرض زمزم) (1).
ولهذا الصلحاء يشربونه ويحملونه معهم في أسفارهم تباعًا له صلى الله عليه وسلم؛ فإنه أول منه حمل ماء زمزم عند رجوعه من حج البيت تبركًا به واستشفاءً (2).
والدعاء عند شربه مستجاب.
وأولى (3) ما يُشرب؛ لتحقق التوحيد والموت عليه، والعزة بطاعة الله تعالي، قال ابن المُنيِّر: وكأنه عنوان على حُسن العهد وكمال الشوق؛ فإن العرب أعتادت الحنين إلى مناهل الأحبة وموارد أهل المودَّة، وزمزم هو منهل أهل البيت، فالمتعطش إليها قد أقام
--------------------------------------------
(পৃথিবীতে জমজম আছে) (১)।
এ কারণেই পুণ্যবান ব্যক্তিরা এটি পান করেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে তাদের সফরে সঙ্গে বহন করেন; কারণ তিনিই প্রথম বাইতুল্লাহর হজ থেকে ফিরে আসার সময় বরকত ও আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে জমজমের পানি বহন করেছিলেন (২)।
এটি পান করার সময়ের দুআ কবুল হয়।
আর যা পান করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য (৩), তা হলো তাওহীদ অর্জন ও তার ওপর মৃত্যু লাভ এবং মহান আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মান অর্জনের উদ্দেশ্যে; ইবনুল মুনাইর বলেন: এটি যেন সুন্দর অঙ্গীকার এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাকুলতার একটি প্রতীক; কারণ আরবদের অভ্যাস ছিল প্রিয়জনদের পানীয় স্থল এবং ভালোবাসার পাত্রদের ঘাটের প্রতি আকুলতা প্রকাশ করা, আর জমজম হলো আহলে বাইতের পানীয় স্থল, সুতরাং এর প্রতি তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি যেন অবস্থান গ্রহণ করেছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
شعار المحبة وأحسن العهد للأحبة والشرب منها، ولذا جُعل التضلع منها علامة فارقة بين الإِيمان والنفاق، ولله در القائل: [من الطويل]
وما شُربي للماءِ (1) إلَّا تَذَكُّرًا
… لماءٍ به أهلُ الحبيبِ نُزُولُ
وروى الفاكهي (2) وغيره عن ابن عباس: صلُّوا في مُصلى الأخيار، واشربوا من شراب الأبرار، قيل: وما مصلى الأخيار؟ قال: تحت الميزاب، قيل: فما شراب الأبرار؟ قال: ماء زمزم (3).
وبالجملة فمعرفة أسمائها وفضلها والتضلع من مائها من جملة البرِّ بها والوفاء بحقها وحق أهلها، كما أشار لذلك الفقيه الزاهد يوسف بن محمَّد المعروف بابن الشيخ (4) رحمه الله تعالى، حيث
--------------------------------------------
এটি ভালোবাসার নিদর্শন এবং প্রিয়জনদের প্রতি সর্বোত্তম অঙ্গীকার ও তা থেকে পান করা। এ কারণেই পেট ভরে তা পান করাকে ঈমান ও নিফাকের মধ্যে পার্থক্যকারী চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কতই না চমৎকার বলেছেন কবি: [তবীল ছন্দ থেকে]
আমার পানি পান করা (১) কেবল স্মরণ করার জন্যই
… এমন এক পানির কথা যেখানে প্রিয়তমের পরিবার অবস্থান করে।
ফাকেহি (২) এবং অন্যরা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: তোমরা নেককারদের সালাতের স্থানে সালাত আদায় করো এবং পুণ্যবানদের পানীয় থেকে পান করো। জিজ্ঞেস করা হলো: নেককারদের সালাতের স্থান কোনটি? তিনি বললেন: মিজাবের (কাবা ঘরের নালী) নিচে। জিজ্ঞেস করা হলো: পুণ্যবানদের পানীয় কী? তিনি বললেন: যমযমের পানি (৩)।
সংক্ষেপে, এর নামসমূহ ও ফযীলত জানা এবং এর পানি পেট ভরে পান করা এর প্রতি সদাচরণ এবং এর ও এর অধিবাসীদের হকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি ইঙ্গিত করেছেন ফকীহ ও যাহেদ ইউসুফ বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনে শেখ (৪) নামে পরিচিত (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন), যেখানে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال (1) [الوافر]:
لَعمرُكَ إنَّ تَرْكي زمزمًا لَـ (2)
… أُسمِّيها لَمِن بابِ العقوقِ
وكيفَ ومَاؤُها بردت منه (3)
… أوارتي (4) أحرُّ من الحريقِ
وأرجو من سِقَايته (5) هنا أن
… سيسقيني كذاكَ من الرحيقِ
أَزمزمُ ها أنا أُسميكِ أيضًا
… لما قدّمتِ عندي من حقوقِ
وما المحمودُ إلَّا اللهُ ربِّي
… وربُّ الكلِّ والبيتِ العتيقِ
فائدة:
حكى في "المجموع" (6) من كتب أئمتنا الشافعية الإِجماع على صحة الطهارة بماء زمزم.
--------------------------------------------
তিনি (১) [ওয়াফির ছন্দে] বলেছেন:
তোমার জীবনের কসম! আমার যমযমকে এর নাম ধরে ডাকা ছেড়ে দেওয়া অবশ্যই এক প্রকার অকৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত।
আর তা হবেই বা কেন, যখন এর পানি শীতল করে দিয়েছে আমার কলিজার সেই দহনকে যা ছিল আগুনের চেয়েও উত্তপ্ত।
আর আমি এখানে এর পান করানো থেকে আশা রাখি যে, তিনি আমাকে একইভাবে জান্নাতের বিশুদ্ধ পানীয় (রাহীক) থেকেও পান করাবেন।
হে যমযম! এই তো আমি তোমার নাম নিচ্ছি, আমার প্রতি তোমার যে সব অধিকার রয়েছে তার কারণে।
আর প্রশংসা তো কেবল আমার রব আল্লাহর জন্যই, যিনি সকলের রব এবং এই সুপ্রাচীন গৃহের (কাবা) প্রতিপালক।
ফায়দা:
আমাদের শাফিঈ ইমামগণের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে যমযমের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের বৈধতার ওপর ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------