(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: -)
الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم   (أحمد الشافعي)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (25)

المؤلف: أحمد بن علي الأزهري الشافعي (ت 1179 هـ)

المحقق: رمزي سعد الدين دمشقية

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 42

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1437

যামযামের ফজিলত সংক্রান্ত সুসংবদ্ধ পরিচিতি   (আহমাদ আশ-শাফিঈ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

গ্রন্থ: যামযামের ফজিলত সংক্রান্ত সুসংবদ্ধ পরিচিতি - মাসজিদুল হারামে শেষ দশকের মিলনমেলা সিরিজ (২৫)

লেখক: আহমাদ বিন আলী আল-আযহারী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ১১৭৯ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: রামজী সাদউদ্দীন দিমাসকিয়া

প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (25)

 

الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم

 

تأليف

الشيخ أحمد بن علي الشافعي

رئيس المحدثين بجامع أياصوفيا المتوفى سنة 1179 هـ

 

تحقيق

رمزي سعد الدين دمشقية

 

ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم

 

دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের মজলিস (২৫)

 

যমযমের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক সুনিশ্চিত জ্ঞানদান

 

রচনায়

শায়খ আহমদ বিন আলী আশ-শাফেয়ী

আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস, মৃত্যু ১১৭৯ হিজরী

 

তাহকীক

রামযী সাদউদ্দীন দিমাস্কিয়্যাহ

 

হারামাইন শরীফাইনের কিছু পুণ্যবান ব্যক্তি এবং তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা এর মুদ্রণে অবদান রেখেছেন

 

দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى

1422 هـ - 2001 م

 

دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع

هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611

بيروت- لبنان ص ب:5955/ 14

 

e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা

ফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১

বৈরুত- লেবানন, ডাকবক্স: ৫৯৫৫/ ১৪

 

ই-মেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد للهِ الذي مِنَ الماء خلق كل شيء حيٍّ وأبدع، والصلاة والسلام على مَنْ فار مِنْ بين أصابعه الماء ونبع، وعلى آله الأطهار وصحبه الأخيار ما سجد لله مسلم وركع.

أما بعد، فهذه رسالة لطيفة فيها ذكر ماء زمزم وأسمائها وفضلها للشيخ أحمد الشافعي، أحد علماء الدولة العثمانية، رئيس المحدثين بجامع أيا صوفيا المتوفى سنة 1179 هـ، طبعت هذه الرسالة قديمًا سنة 1331 هـ بمطبعة الترقي الماجدية العثمانية بمكة المشرَّفة على نفقة مالكها محمَّد ماجد الكردي المكي.

ولمَّا وقفت على نسختها المطبوعة -وهي عزيزة الوجود- رأيت من المناسب دخولها في رسائل "لقاء العشر الأواخر" لتعلقها بالحرم الشريف ثم إحياء لذكرها وتعميمًا لفوائدها بذكر زمزم وأخبارها.

وقد ألَّف العلماء في زمزم قديمًا وحديثًا، ومن أحسن ما كُتب فيها كتاب: "فضل ماء زمزم" للشيخ سائد بكداش حيث ذكر تاريخ ماء زمزم وأسمائه وخصائصه وبركاته ونية شربه وأحكامه والاستشفاء به وما قيل في مدحه من الأشعار، ثم أتبعه بجزء الحافظ ابن حَجَر في الحديث
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পানি থেকে প্রতিটি জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন এবং উদ্ভাবন করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর আঙুলসমূহের মধ্য থেকে পানি উথলে উঠেছিল ও প্রবাহিত হয়েছিল, এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণের প্রতি, যতক্ষণ কোনো মুসলিম আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা ও রুকু করবে।

অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যাতে যমযম পানি, এর নামসমূহ এবং এর ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এটি উসমানীয় খিলাফতের অন্যতম আলেম এবং আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস শায়খ আহমাদ শাফিয়ী (মৃত্যু ১১৭৯ হিজরি) কর্তৃক রচিত। এই পুস্তিকাটি অতীতে ১৩৩১ হিজরি সনে মক্কা মুশাররাফায় 'আল-তরাক্কি আল-মাজিদিয়্যাহ আল-উসমানিয়্যাহ' ছাপাখানায় এর মালিক মুহাম্মদ মাজিদ আল-কুর্দি আল-মাক্কির অর্থায়নে মুদ্রিত হয়েছিল।

যখন আমি এর মুদ্রিত কপির সন্ধান পেলাম—যা বর্তমানে দুষ্প্রাপ্য—তখন আমি এটিকে "লিকাউল আশরিল আওয়াখির" (শেষ দশরজনীর সাক্ষাৎ) সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করলাম। কারণ এটি হারাম শরীফের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর এর মাধ্যমে এর আলোচনা পুনর্জীবিত হবে এবং যমযম ও এর ঘটনাবলী বর্ণনার মাধ্যমে এর উপকারিতা ব্যাপকতা লাভ করবে।

আলেমগণ প্রাচীন ও আধুনিক যুগে যমযম সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ বিষয়ে রচিত সর্বোত্তম গ্রন্থগুলোর একটি হলো শায়খ সায়েদ বাকদাশ রচিত "ফাযলু মায়ি যমযম" (যমযম পানির ফযীলত), যেখানে তিনি যমযমের ইতিহাস, এর নামসমূহ, বৈশিষ্ট্য, বরকত, এটি পান করার নিয়ত, এর বিধানাবলী, এর দ্বারা আরোগ্য লাভ এবং এর প্রশংসায় রচিত কবিতাগুলো উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি হাফেয ইবনে হাজারের হাদিস বিষয়ক অংশটি এর সাথে সংযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ৪)
المشهور: "ماء زمزم لما شرب له". فمن أراد الاستفاضة فليرجع إلى الكتاب المذكور فإن فيه فوائد ونفائس.

أما الرسالة التي بين يدينا فهي رسالة وجيزة تصلح أن تقرأ في مجلس أو مجلسين، وقد قمت بخدمتها عن الطبعة الأولى محاولًا ضبط ألفاظها وتقويم عباراتها من المصادر المنقولة عنها.

راجيًا من اللطيف الخبير أن ينفع بها ويغفر لمؤلفها، وأن يمنَّ بفضله وكرمه على عبده الفقير إلى رحمته ورضوانه.

بحمدون في 16/ 6 / 1422 هـ

الموافق لـ 4/ 9 / 2001 م

وكتبه

رمزى سعد الدين دمشقية
সুপ্রসিদ্ধ হাদীসটি হলো: "যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করে।" সুতরাং কেউ যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায়, তবে সে যেন উল্লিখিত কিতাবটি পাঠ করে, কেননা এতে রয়েছে বহু উপকারিতা ও মূল্যবান বিষয়াদি।

আর আমাদের হাতে থাকা এই রিসালাটি (পুস্তিকা) একটি সংক্ষিপ্ত রচনা, যা এক বা দুই মজলিসে পড়ার উপযোগী। আমি প্রথম সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে এর খেদমত সম্পন্ন করেছি, যেখানে শব্দগুলোর সঠিক বিন্যাস এবং উদ্ধৃত মূল উৎসগুলো থেকে এর বাক্যগুলোর সংস্কার করার চেষ্টা করেছি।

সুক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞাত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং এর লেখককে ক্ষমা করেন, আর তাঁর করুণা ও সন্তুষ্টির মুখাপেক্ষী এই নগণ্য দাসের প্রতি নিজ অনুগ্রহ ও বদান্যতা বর্ষণ করেন।

বাহামদুন, ১৬/০৬/১৪২২ হিজরী

মোতাবেক ৪/৯/২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

এটি লিখেছেন

রামজি সাদ আদ-দীন দিমাসকিয়া
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ترجمة المؤلف

ورد اسم المؤلف على غلاف الطبعة الأولى لهذه الرسالة المطبوعة بمطبعة الترقي بمكة المكرمة هكذا:

الشيخ أحمد الغزي الشافعي الأزهري المحدِّث.

وله ترجمة في "معجم المؤلفين" لعمر رضا كحالة 2/ 16 لم أقف على سواها في المصادر العربية، وهذا نصُّها:

أحمد بن علي الغزي الأزهري الشافعي، نزيل القسطنطينية.

رئيس المحدِّثين بجامع أيا صوفيا، توفي ودفن بأسكدار. من تصانيفه:

‌‌1 - بغية الطالب وبلوغ المآرب.

‌‌2 - القمر المنير العلوي في أثر القدم النبوي.

‌‌3 - قرة العين لمن وعى في استحباب رفع اليدين في الدعاء

ومصادر الترجمة: إيضاح المكنون للبغدادي 2/ 225، 240؛ وهدية العارفين للبغدادي أيضًا 1/ 176.

* * *
লেখকের জীবনী

মক্কাতুল মোকাররমায় মাতবাআতুত তারাক্কিতে মুদ্রিত এই পুস্তিকার প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদে লেখকের নাম এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:

শায়খ আহমদ আল-গাজ্জি আশ-শাফেয়ি আল-আজহারি আল-মুহাদ্দিস।

ওমর রেজা কাহহালার "মু'জামুল মুআল্লিফিন" (২/১৬)-এ তাঁর একটি জীবনী রয়েছে, আরবি উৎসগুলোর মধ্যে এটি ছাড়া অন্য কোনো জীবনী আমার নজরে আসেনি। এর মূল পাঠ নিম্নরূপ:

আহমদ বিন আলী আল-গাজ্জি আল-আজহারি আশ-শাফেয়ি, কনস্টান্টিনোপলের অধিবাসী।

আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস; তিনি উসকুদার (স্কুতারি)-এ মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই সমাহিত হন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১ - বুগইয়াতুত তালিব ওয়া বুলুগুল মাআরিব।

২ - আল-কামারুল মুনিরুল আলাউয়ি ফি আসারিল কদমান নববী।

৩ - কুররাতুল আইন লিমান ওয়াআ ফি ইসতিহবাবি রাফইল ইয়াদাইন ফিদ দুয়া।

জীবনীর উৎসসমূহ: আল-বাগদাদীর 'ঈজাহুল মাকনুন' ২/২২৫, ২৪০; এবং আল-বাগদাদীর 'হাদিয়াতুল আরিফিন' ১/১৭৬।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ৬)
ثم وقفتُ على ترجمة للمؤلف مختصرة في "سجل عثماني" 1/ 260 المطبوع سنة 1308 هـ، وقد وردت الترجمة كذلك بنصها في "الموسوعة التركية" 1/ 192 الصادرة باستنبول نقلًا عن "سجل عثماني" (1).

وقد ورد اسم المؤلف فيها هكذا:

أحمد عز أفندي

وفيها: أنه رئيس المحدثين بجامع أيا صوفيا، وتوفي عام 1179 هـ، ودفن بأسكدار.

فكأن لفظة (عز) تصحفت عند البغدادي إلى (الغزي)، والله تعالى أعلم بالصواب.

* * *

--------------------------------------------

(1) الشكر موصول للأخ الشيخ بسام الجابي الذي تكرم بالمساعدة في الاطلاع على المصادر التركية.
এরপর আমি ১৩০৮ হিজরিতে মুদ্রিত "সিজিল্ল-ই উসমানি" ১/২৬০-এ লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী দেখতে পেলাম। "সিজিল্ল-ই উসমানি" (১) থেকে উদ্ধৃত করে ইস্তাম্বুল থেকে প্রকাশিত "তুর্কি বিশ্বকোষ" ১/১৯২-এ জীবনীটি একইভাবে হুবহু বর্ণিত হয়েছে।

আর এতে লেখকের নাম এভাবে এসেছে:

আহমাদ ইয এফেন্দি

এবং এতে রয়েছে যে: তিনি আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন, এবং ১১৭৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন ও উস্কুদারে সমাহিত হন।

মনে হচ্ছে বাগদাদীর নিকট (ইয) শব্দটি লিখনপ্রমাদবশত (আল-গাযযী) হয়ে গেছে, আর মহান আল্লাহই সঠিক বিষয়টি সবচেয়ে ভালো জানেন।

* * *

--------------------------------------------

(১) কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শ্রদ্ধেয় ভাই শায়খ বাসসাম আল-জাবীকে, যিনি তুর্কি উৎসগুলো দেখার বিষয়ে সাহায্য করে অনুগৃহীত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ৭)
صورة "سجل عثماني" وفيه ترجمة المؤلف وأن اسمه: أحمد العز
একটি "উসমানীয় নথিপত্র"-এর ছবি এবং এতে গ্রন্থকারের জীবনী রয়েছে এবং তাঁর নাম হলো: আহমাদ আল-ইজ্জ।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ৮)
صورة غلاف الطبعة الأولى للرسالة
রিসালাহ-এর প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: -)
الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم   (أحمد الشافعي)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (25)

المؤلف: أحمد بن علي الأزهري الشافعي (ت 1179 هـ)

المحقق: رمزي سعد الدين دمشقية

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 42

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1437

যমযমের ফযীলত বর্ণনায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-পরিচিতি   (আহমদ আল-শাফেয়ী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

কিতাব: যমযমের ফযীলত বর্ণনায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-পরিচিতি - মসজিদে হারামে শেষ দশকের মজলিস সিরিজ (২৫)

লেখক: আহমদ বিন আলী আল-আযহারী আল-শাফেয়ী (মৃত্যু ১১৭৯ হিজরী)

তাহকীক: রামযী সাদউদ্দীন দিমাস্কিয়া

প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ প্রতিষ্ঠান, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরী - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৪২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (25)

 

الإعلام الملتزم بفضيلة زمزم

 

تأليف

الشيخ أحمد بن علي الشافعي

رئيس المحدثين بجامع أياصوفيا المتوفى سنة 1179 هـ

 

تحقيق

رمزي سعد الدين دمشقية
মসজিদুল হারামে শেষ দশকের মজলিস (২৫)

 

যমযমের ফযীলত সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য

 

রচনায়

শায়খ আহমাদ বিন আলী আশ-শাফিঈ

আয়া সোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান মুহাদ্দিস, মৃত্যু ১১৭৯ হিজরী

 

সম্পাদনায়

রামযী সা’দ আদ-দীন দিমাসকিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله على نِعم جلَّتْ فكَثُرَت أن تُعَدَّ، وجَلَّت فكَبُرت أن تُحدَّ، وصلَّى الله على سيِّدنا محمَّد سيِّد العرب والعجم، الذي غُسِل قلبه الشريف بعد شقِّ صدره ليلة الإِسراء بماء زمزم، وعلى آله وأصحابه وسلم.

وبعد، فهذه أوراق أذكر فيها إن شاء الله تعالى بعض ما لزمزم من الأسماء والفضائل، ومن أظهرها من الأوائل، مرتبًا ذلك على مقدمة وثلاثة أبواب:

فالأول: فيمن أظهرها.

والثاني: في فضلها.

والثالث: في بيان الترتيب في الفضيلة بينها وبين أنواع الماء.

وأما الخاتمة: ففي بيان أن الماء من سما هو، هل له لون وطعم أو لا؟.

وسميتها: "الإِعلام الملتزَم بفضيلة زمزم".

فأقول وعلى الله الكريم اعتمادي، وإليه تفويضي وإستنادي، هذه:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য সেই সব নিআমতের ওপর যা এতই মহান যে তা গণনা করা অসম্ভব এবং যা এতই বিশাল যে তার কোনো সীমা নেই। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি আরব ও অনারবদের নেতা, ইসরা-এর রাতে সিনা চাক (বক্ষ বিদীর্ণ) করার পর যাঁর পবিত্র অন্তর জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করা হয়েছিল, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর, এগুলো কিছু পৃষ্ঠা যাতে আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা জমজমের কিছু নাম ও ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা করব এবং প্রাচীনদের মধ্যে কারা একে প্রকাশ করেছিলেন তাও উল্লেখ করব। আমি একে একটি ভূমিকা ও তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: যারা এটি প্রকাশ করেছিলেন তাদের বর্ণনায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এর ফযীলত বা মর্যাদার বর্ণনায়।

তৃতীয় অধ্যায়: এর এবং অন্যান্য প্রকার পানির মাঝে মর্যাদার স্তরবিন্যাসের বর্ণনায়।

আর উপসংহার: এই বর্ণনায় যে, আসমান থেকে বর্ষিত পানির কি কোনো রঙ ও স্বাদ আছে নাকি নেই?

আমি এর নামকরণ করেছি: "আল-ইলাম আল-মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম" (জমজমের ফযীলত বিষয়ে সুনিশ্চিত জ্ঞানদান)।

আমি বলছি—এবং মহামহিম আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁরই নিকট আমার সকল কাজ অর্পণ ও তাঁরই ওপর আমার নির্ভরতা—এটি হলো:
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ১২)
مقدمة

أما زمزم فهي وإن كانت أشهر من أن تُذكر، بركاتها أجلُّ من أن تُحصر، بئر المسجد الحرام، بينها وبين الكعبة شرَّفها الله تعالى قريب أربعين ذراعًا كما قاله الحافظ العسقلاني في "الفتح" (1).

وأما عمق البئر: فقال العلَّامة البكري (2): قد ذَرَعتُ الحبل

--------------------------------------------

(1) في "أخبار مكة" للأزرقي 2/ 85: من الركن الذي فيه الحجر الأسود إلى رأس زمزم أربعون ذراعًا.

ولم أقف على الخبر في "فتح الباري" لابن حجر.

‌‌(2) هكذا أورد المؤلف هذا الخبر عن البكري، ومثله خبران آخران يأتيان ص 24، وص 36. والبكري: هو الوزير الفقيه أبي عُبيد عبد الله بن عبد العزيز البكري الأندلسي المتوفى سنة 487 هـ، وكتابه هو: "معجم ما استعجم من أسماء البلاد والمواضع"، وقد ذكر فيه زمزم في 1/ 700 - 701، وقد قلَّبتُ الكتاب طويلًا بحثًا عن هذه الأخبار دون جدوى.

ثم أثناء بحثي لعزو الأبيات الشعرية التي نقلها المؤلف عن ابن الشيخ -الآتي ذكرها ص 31 - في كتابه "ألف باء" وقفت على هذه الأخبار، ولكن تبين أنها من كلام ابن الشيخ وليست من كلام البكري.

وسبب هذا الوهم عند المؤلف رحمه الله أنَّ ابن الشيخ نقل في كتابه "ألف باء" 2/ 462 عن البكري في "معجم ما استعجم" ثم زاد عليه كلامًا من عنده مُصدِّرًا له بقوله: قلتُ، فكأن المؤلف لم يتنبه لذلك فخلط بين الكلامين عفا الله عنه.
ভূমিকা

আর যমযমের কথা বলতে গেলে, এটি এতই প্রসিদ্ধ যে নতুন করে এর পরিচিতি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না এবং এর বরকতসমূহ এতই মহিমান্বিত যে তা গণনা করা সম্ভব নয়। এটি হলো মসজিদে হারামের কূপ। এর এবং আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সম্মানিত কাবার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় চল্লিশ হাত, যেমনটি হাফিয আসকালানি 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (১)।

আর কূপের গভীরতার ব্যাপারে আল্লামা বাকরি (২) বলেন: আমি রশিটি পরিমাপ করেছি...

--------------------------------------------

(১) আযরাকীর 'আখবারু মক্কা' গ্রন্থে ২/৮৫: যে রুকনে হাজরে আসওয়াদ রয়েছে সেখান থেকে যমযমের উপরিভাগ পর্যন্ত দূরত্ব চল্লিশ হাত।

আমি ইবনে হাজারের 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে এই বর্ণনাটি খুঁজে পাইনি।

‌‌(২) এভাবেই লেখক আল্লামা বাকরি থেকে এই তথ্যটি বর্ণনা করেছেন, এবং অনুরূপ আরও দুটি বর্ণনা ২৪ ও ৩৬ পৃষ্ঠায় আসবে। আর বাকরি হলেন: ফকীহ উজির আবু উবাইদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাকরি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু: ৪৮৭ হিজরি)। তাঁর কিতাবটি হলো: 'মু'জামু মাসতা'জাম মিন আসমায়িল বিলাদি ওয়াল মাওয়াদ্বি'। এতে তিনি ১/৭০০-৭০১ পৃষ্ঠায় যমযমের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি এই বর্ণনাগুলোর সন্ধানে দীর্ঘক্ষণ কিতাবটি উল্টেপাল্টে দেখেছি কিন্তু কোনো ফলাফল পাইনি।

এরপর ইবনুশ শাইখের বরাতে লেখকের উদ্ধৃত কবিতার পঙক্তিগুলোর (যা সামনে ৩১ পৃষ্ঠায় আসবে) উৎস সন্ধানের সময় তাঁর 'আলিফ বা' কিতাবে এই সংবাদগুলো আমি খুঁজে পাই। তবে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এগুলো মূলত ইবনুশ শাইখের কথা, আল-বাকরির কথা নয়।

লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) এই ভ্রমের কারণ হলো, ইবনুশ শাইখ তাঁর 'আলিফ বা' কিতাবের ২/৪৬২ পৃষ্ঠায় বাকরির 'মু'জামু মাসতা'জাম' থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, অতঃপর 'আমি বলছি' বলে নিজের পক্ষ থেকে কিছু কথা যোগ করেছেন। লেখক সম্ভবত সেদিকে খেয়াল না করে উভয় বক্তব্যকে মিলিয়ে ফেলেছেন। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
الذي كنتُ أستقي به فوجدته عشر قامات، انتهى (1).

--------------------------------------------

(1) القامة: طول الإنسان، تعادل (1.83 م) فالعشر قامات (18.30 م). المعجم الوسيط 2/ 798. وذكر الأزرقي في "أخبار مكة" 2/ 61، والفاكهي في "أخبار مكة" 2/ 75: أن غورها من رأسها إلى الجبل أربعون ذراعًا (22.50 مترًا) كل ذلك بنيان، وما بقي فهو جبل منقور وهو تسعة وعشرون ذراعًا (16.25 مترًا). وبئر زمزم اليوم تتكون من قسمين: قسم مبني بعمق 14.80 م، وقسم منقور في الجبل بعمق 17.20 م. هذا ما أورده المهندس يحيى حمزة كوشك في كتابه "زمزم طعام طُعم وشفاء سقم" ص 60 و 61، وقال: يعود الفرق في عمق الجزء المبني بين الوقت الحاضر والروايات التاريخية إلى أن بئر زمزم الآن منخفضة عن الكعبة المشرفة تحت سطح أرضية المطاف، بينما كانت في السابق فوق سطح الأرض.

وينظر الشكل المنقول عن كتاب يحيى كوشك ص 62:

 

[رسم توضيحي لبئر زمزم]
যা দিয়ে আমি পানি তুলতাম এবং সেটিকে দশ 'কামা' দীর্ঘ পেয়েছি। সমাপ্ত (১)।

--------------------------------------------

(১) কামা: মানুষের উচ্চতা, যা (১.৮৩ মিটার) এর সমান; সুতরাং দশ কামা হলো (১৮.৩০ মিটার)। আল-মু'জামুল ওয়াসিত ২/৭৯৮। আযরাকি 'আখবারু মক্কা' ২/৬১ এবং ফাকিহি 'আখবারু মক্কা' ২/৭৫-এ উল্লেখ করেছেন যে: কূপের মুখ থেকে পাহাড় পর্যন্ত এর গভীরতা হলো চল্লিশ যিরা (২২.৫০ মিটার), যার পুরোটাই গাঁথুনি; আর অবশিষ্ট অংশটি হলো পাহাড় খোদাই করা যা উনত্রিশ যিরা (১৬.২৫ মিটার)। বর্তমান সময়ে জমজম কূপ দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: ১৪.৮০ মিটার গভীর একটি গাঁথুনি করা অংশ এবং ১৭.২০ মিটার গভীর পাহাড় খোদাই করা একটি অংশ। ইঞ্জিনিয়ার ইয়াহিয়া হামজা কুশাক তার 'জমজম: তায়ামু তু’মিন ওয়া শিফাউ সাকামিন' (পৃষ্ঠা ৬০ ও ৬১) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: বর্তমান সময় ও ঐতিহাসিক বর্ণনার মধ্যে গাঁথুনি করা অংশের গভীরতার পার্থক্যের কারণ হলো, জমজম কূপ এখন মাতাফ চত্বরের নিচে কাবার তুলনায় নিচু অবস্থানে রয়েছে, যেখানে পূর্বে এটি ভূপৃষ্ঠের উপরে ছিল।

ইয়াহইয়া কুশাকের বইয়ের ৬২ পৃষ্ঠা থেকে সংগৃহীত চিত্রটি দেখুন:

 

[জমজম কূপের একটি চিত্র]
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأول من عمل الرخام على زمزم وفرش أرضها بالمرمر: أبو جعفر المنصور، ثاني خلفاء العباسية (1).

وأما أسماؤهما: فزمزم، وشَبَّاعَة، ومُرْوِيَة، ونافعة، وعافية، وميمونة، وبركة، وبَرَّة، ومَضْنُونة، وكافية، ومُعْذِبَة، وشفاء سُقْم، وطعام طُعْم، وهَزْمَة جبريل، وسُقْيَا إسماعيل.

فأما زمزم: ففيه لغات، المشهورة: زَمْزَم، بفتح الزاي وسكون الميم، الثانية: زَمَّزَم بفتحها أيضًا وتشديد الميم، الثالثة: زِمَّزِم بكسر الزاءين وتشديد الميم (2).

سُمِّيَت بذلك لوجوه، فقيل: لكثرة مائها، فتكون مشتقة من قولهم: ماءٌ زَمْزُوم وزَمْزام، أي: كثير.

وقيل: لزمزمة الماء فيها، أي: حركته.

وقيل: لزمزمة جبريل عليه الصلاة والسلام، أي: كلامه.

قال في "القاموس" (3): الزَمْزَمَة -أي: بفتح الزاي الأولى والثانية وسكون الميم الأولى وفتح الثانية-: الصوت البعيد له دوي، وتتابع صوت الرعد، وهو أحسنه صوتًا وألينه (4) مطرًا.

--------------------------------------------

(1) كذا في "أخبار مكة" للأزرقي 2/ 61، و "أخبار مكة" للفاكهي 2/ 75.

‌‌(2) وذكر البكري في "معجم ما استعجم" 1/ 700 زيادة على ما هنا: زُمَزِم بضم أوله وفتح ثانيه وكسر الزاي الثانية، وزُمَّزِم بضم أوله وفتح ثانيه وتشديده وكسر الزاي الثانية.

‌‌(3) "القاموس المحيط" للفيروزأبادي ص 1444.

‌‌(4) في "القاموس": وأثْبَتُهُ.
জমজমের ওপর প্রথম মার্বেল পাথর স্থাপনকারী এবং এর প্রাঙ্গণে মার্বেল বিছিয়ে দেওয়া ব্যক্তি হলেন আব্বাসীয় বংশের দ্বিতীয় খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর (১)।

আর এ দুটির নামসমূহ হলো: জমজম, শাব্বাআহ, মুরউইয়াহ, নাফিআহ, আফিয়াহ, মায়মুনাহ, বারাকাহ, বাররাহ, মাদনুনা, কাফিয়াহ, মুয়াদ্দিবাহ, শিফাউ সুকম, তয়ামু তয়ম, হাযমাতু জিবরাঈল এবং সুকয়া ইসমাঈল।

জমজম শব্দটির উচ্চারণে কয়েকটি রূপ রয়েছে; প্রসিদ্ধটি হলো: 'যামযাম' (যাই বর্ণে ফাতহাহ বা জবর এবং মীম বর্ণে সুকুন বা জযম যোগে), দ্বিতীয়টি হলো: 'যাম্মাযাম' (যাই বর্ণে ফাতহাহ এবং মীম বর্ণে তাশদীদ যোগে), তৃতীয়টি হলো: 'যিম্মিজিম' (উভয় যাই বর্ণে কাসরাহ বা যের এবং মীম বর্ণে তাশদীদ যোগে) (২)।

কয়েকটি কারণে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে: এর পানির আধিক্যের কারণে। তখন এটি তাদের উক্তি 'মাউন যামযুম' বা 'যামযাম' থেকে উদ্ভূত হবে, যার অর্থ হলো: প্রচুর পানি।

আরও বলা হয়েছে: এর মধ্যে পানির 'যামযামাহ' বা শব্দের কারণে, অর্থাৎ পানির নড়াচড়া বা প্রবাহের শব্দের জন্য।

আবার বলা হয়েছে: জিবরাঈল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর 'যামযামাহ' বা বাচনভঙ্গির কারণে, অর্থাৎ তাঁর কথার শব্দের জন্য।

'আল-কামুস' গ্রন্থে (৩) বলা হয়েছে: 'আয-যামযামাহ'—অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় যাই বর্ণে ফাতহাহ এবং প্রথম মীম বর্ণে সুকুন ও দ্বিতীয়টিতে ফাতহাহ যোগে—হলো এমন দূরবর্তী শব্দ যার একটি গুম্ফন বা প্রতিধ্বনি রয়েছে, এবং মেঘের ডাকের ধারাবাহিকতা; যা শব্দের দিক থেকে অত্যন্ত চমৎকার এবং বৃষ্টির দিক থেকে অত্যন্ত মৃদু (৪)।

--------------------------------------------

(১) অনুরূপ বর্ণনা পাওয়া যায় আযরাকীর 'আখবারু মক্কা' ২/৬১ এবং ফাকিহীর 'আখবারু মক্কা' ২/৭৫-এ।

‌‌(২) আল-বাকরি তাঁর 'মু'জাম মা ইসতা'জাম' ১/৭০০-এ এখানে উল্লিখিত রূপগুলোর অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: 'যুমাজিম' (প্রথম বর্ণে দম্মাহ বা পেশ, দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহাহ এবং দ্বিতীয় যাই বর্ণে কাসরাহ যোগে) এবং 'যুম্মাজিম' (প্রথম বর্ণে দম্মাহ, দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহাহ ও তাশদীদ এবং দ্বিতীয় যাই বর্ণে কাসরাহ যোগে)।

‌‌(৩) ফিরোযাবাদীর 'আল-কামুস আল-মুহিত', পৃষ্ঠা: ১৪৪৪।

‌‌(৪) 'কামুস' গ্রন্থে রয়েছে: 'ওয়া আসবাতুহু' (সবচেয়ে সুদৃঢ়)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وفي "النهاية" (1): الزمزمة الصوت الخفي. انتهى.

وقيل: لزمِّ هاجر لمائها حين انفجرت، أي: ضمها إياها وحصرها لها بالتراب.

وقيل: لأنها زُمَّت بالميزان لئلا تأخذ يمينًا وشمالًا (2).

وقيل: لأن عبد المطلب أُرِي في منامه أن قائلًا يقول له: احفر زمزم. كما يأتي (3).

وأما شَبَّاعَةُ: فبفتح الشين المعجمة وتشديد الباء الموحدة وفتح العين المهملة، من الشِّبَع ضد الجوع. سمِّيت بذلك لحصول الشبع عند شربها بقصد ذلك (4)، كما يأتي.

وأما مُرْوِيَة: فبضم الميم وسكون الراء المهملة وكسر الواو وتخفيف المثناة التحتية، من الري ضدُّ العطش، يقال: رَوِي من الماء واللبن كرضي، رِيًّا بكسر الراء ورَيًّا بفتحها، ورِوَىً بكسرها أيضًا. سُمِّيت بذلك لشدة قمعها للظمأ.

--------------------------------------------

(1) "النهاية في غريب الحديث والأثر"، لابن الأثير 2/ 313.

‌‌(2) هكذا أورد هذا القول الحافظ ابن حجر في "الفتح" 3/ 493، وفي "شفاء الغرام" للفاسي 1/ 252: لأنها زُمت بالتراب لئلا يأخذ الماء يمينًا وشمالًا. وهو أوضح في المعنى.

‌‌(3) ص 22.

‌‌(4) عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كنَّا نسمِّيها شَبَّاعة -يعني زمزم-، وكنا نجدها نِعْمَ العون على العيال. قال الهيثمي في "مجمع الزوائد" 3/ 286: رواه الطبراني في "الكبير" ورجاله ثقات.
এবং 'আন-নিহায়াহ' (১) গ্রন্থে রয়েছে: 'যামযামাহ' হলো মৃদু আওয়াজ। সমাপ্ত।

আরও বলা হয়েছে: হাজেরা যখন পানি প্রবাহিত হতে দেখেন তখন তা আটকে রাখার (যাম্ম্) চেষ্টার কারণে এই নাম হয়েছে; অর্থাৎ তিনি পানিকে একত্রিত করেছিলেন এবং মাটি দিয়ে এর চারপাশ ঘিরে দিয়েছিলেন।

আরও বলা হয়েছে: কারণ একে পরিমাপের মাধ্যমে বেঁধে রাখা হয়েছিল যাতে এটি ডানে-বামে ছড়িয়ে না পড়ে (২)।

আরও বলা হয়েছে: কারণ আব্দুল মুত্তালিব স্বপ্নে দেখেছিলেন যে, জনৈক ঘোষক তাকে বলছেন: ‘যামযাম খনন করো’। যেমনটি সামনে আসবে (৩)।

আর 'শাব্বা'আহ' (শীন বর্ণে ফাতহাহ, বা বর্ণে তাশদীদ এবং আইন বর্ণে ফাতহাহ সহযোগে) শব্দটি ক্ষুধার বিপরীত পরিতৃপ্তি (শিবউ) থেকে এসেছে। এই উদ্দেশ্যে এটি পান করলে পরিতৃপ্তি অর্জিত হয় বলে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে (৪), যেমনটি সামনে আসবে।

আর 'মুরউইয়্যাহ' (মীম বর্ণে পেশ, রা বর্ণে সুকুন, ওয়াও বর্ণে কাসরাহ এবং ইয়া বর্ণে তাশদীদবিহীন) শব্দটি পিপাসার বিপরীত পরিতৃপ্তি (রাই) থেকে এসেছে। বলা হয়ে থাকে: সে পানি বা দুধ পান করে পরিতৃপ্ত হয়েছে (যেমন 'রাদিয়া' শব্দটির রূপান্তর হয়)। এর ক্রিয়ামূল 'রিইইয়ান' (রা বর্ণে কাসরাহ), 'রাইইয়ান' (রা বর্ণে ফাতহাহ) এবং 'রিওয়ান' (রা বর্ণে কাসরাহ) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। প্রচণ্ড পিপাসা নিবারণ করার ক্ষমতার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসীর রচিত 'আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার', ২/৩১৩।

‌‌(২) হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ' ৩/৪৯৩-এ এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আল-ফাসীর 'শিফাউল গারাম' ১/২৫২-তে বর্ণিত হয়েছে: কারণ পানি যাতে ডানে-বামে প্রবাহিত হতে না পারে সেজন্য একে মাটি দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল। এটি অর্থের দিক থেকে অধিক স্পষ্ট।

‌‌(৩) পৃষ্ঠা ২২।

‌‌(৪) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একে 'শাব্বা'আহ' (অর্থাৎ যামযাম) নামে ডাকতাম এবং আমরা একে পরিবারের ভরণ-পোষণের ক্ষেত্রে এক চমৎকার সহায়ক হিসেবে পেতাম। হাইসামী 'মাজমাউয যাওয়াইদ' ৩/২৮৬-এ বলেছেন: এটি তাবারানী 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأما نافعة: فبنون بعدها ألف ثم فاء فعين مهملة، من النفع ضد الضُّر. سمِّيت بذلك لكثرة منافعها التي لا تحصر، من جملتها أن شربها يقوِّي القلب ويسكِّن الرَّوع، كما يأتي (1).

وأما عافية: فبالعين المهملة والفاء بعدها مثناة تحتية، من عافاه الله من كذا معافاة (2) وعافية، وهب له العافية من العلل والبلايا. سمِّيت بذلك لدفع كثير من العلل بشرب مائها، فكم أبرأ الله بمائها من الأمراض ما عَجَزت عنه حُذَّاق الأطباء.

وأما مَيْمُونة: فبفتح الميم الأولى وسكون المثناة التحتية وضم الميم الثانية، من اليُمن، وهو البركة. سمِّيت بذلك لأن بركتها مأثورة، فقد شربها جماعة من السلف والخلف لكثير من المقاصد والمآرب فنالوها، كما يأتي (3).

وأما بَرَّه: فهو بدون ال، وبفتح الباء الموحدة وتشديد الراء المهملة، من البِرِّ بكسر الموحدة ضد العقوق، أي: ذات بر وإحسان لشاربها؛ لما يناله ويحصل له من بركتها.

وأما مَضْنُونَة: فهو بفتح الميم وسكون الضاد المعجمة وضم النون بعدها واو ثم نون مفتوحة بعدها هاء، من ضَنَّ به يَضِنُّ ضِنًّا إذا منعه عن غيره، أي: لنفاسته، إذ الضَّنين: النفيس. سمِّيت بذلك لأن

--------------------------------------------

(1) ص 33.

‌‌(2) كذا في "القاموس" ص 1693. وفي الأصل: معافة، وهو تصحيف.

‌‌(3) ص 24.
আর 'নাফিআহ' প্রসঙ্গে: এটি নুন, এরপর আলিফ, তারপর ফা এবং এরপর আইন (মহমালাহ) দিয়ে গঠিত; যা ক্ষতির বিপরীত 'নাফ' (উপকার) থেকে উদ্ভূত। এর অগণিত উপকারের কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো এটি পান করা হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করে এবং ভীতি দূর করে, যেমনটি সামনে আসবে (১)।

আর 'আফিয়াহ' প্রসঙ্গে: এটি আইন (মহমালাহ) এবং ফা, এরপরে ইয়া (মুসান্না তাহতিয়্যাহ) দিয়ে গঠিত; যা আল্লাহ কাউকে কোনো বিষয় হতে 'আফাহ' (সুস্থতা দান করা), 'মুআফাত' (২) এবং 'আফিয়াহ' থেকে উদ্ভূত, অর্থাৎ তিনি তাকে রোগব্যাধি ও বিপদাপদ থেকে সুস্থতা দান করেছেন। এর পানি পান করার মাধ্যমে অনেক রোগব্যাধি দূর হওয়ার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে। এর পানির মাধ্যমে আল্লাহ কতই না এমন সব রোগ নিরাময় করেছেন, যা নিরাময়ে দক্ষ চিকিৎসকরাও অক্ষম ছিলেন।

আর 'মাইমুনাহ' প্রসঙ্গে: এটি প্রথম মিমে ফাতহা, ইয়া (মুসান্না তাহতিয়্যাহ)-তে সুকুন এবং দ্বিতীয় মিমে যম্মাহ দিয়ে গঠিত; যা 'ইুম্ন' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ বরকত। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর বরকত সুপ্রসিদ্ধ; সালাফ এবং খালাফগণের একটি দল বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও প্রয়োজন পূরণের লক্ষে এটি পান করেছেন এবং তা অর্জন করেছেন, যেমনটি সামনে আসবে (৩)।

আর 'বাররাহ' প্রসঙ্গে: এটি 'আল' ব্যতিরেকে, বা (মুওয়াহহাদাহ)-তে ফাতহা এবং রা (মহমালাহ)-তে তাশদীদ যোগে গঠিত; যা বা-তে কাসরা বিশিষ্ট 'বিরর' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা অবাধ্যতার বিপরীত। অর্থাৎ, এটি পানকারীর প্রতি সদয় ও ইহসানকারী; কারণ এর বরকতের মাধ্যমে পানকারী যা কিছু প্রাপ্ত হয় ও লাভ করে তার জন্য একে এ নামে ডাকা হয়।

আর 'মাদনুনাহ' প্রসঙ্গে: এটি মিমে ফাতহা, দদ (মু'জামাহ)-তে সুকুন এবং নুনে যম্মাহ, এরপর ওয়াও, অতঃপর নুনে ফাতহা এবং শেষে হা দিয়ে গঠিত; এটি 'দন্না বিহি ইয়াদিননু দিন্নান' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ যখন কেউ একে অন্যের থেকে আগলে রাখে; অর্থাৎ এর অতি মূল্যবান হওয়ার কারণে, যেহেতু 'দানীন' অর্থ অত্যন্ত মূল্যবান। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ৩৩।

‌‌(২) 'কামুস'-এর ১৬৯৩ পৃষ্ঠায় এরূপই রয়েছে। আর মূলে 'মুয়াফাহ' ছিল, যা একটি লিপিক্রমিক ভুল (তাসহিফ)।

‌‌(৩) পৃষ্ঠা ২৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
الناس يضن بعضهم على بعض بها لكونها نفيسة. وقد منع الله تعالى منها قومًا من العرب سكنوا حولها فعصوا وتهاونوا بحرمة الكعبة، فطردهم الله عنها ومنعهم إيَّاها (1).

وأما كافية: فمن الكفاية، أي: التي تكفي من شربها عن الميل والطلب لغيرها؛ لما يحصل له من الرَّي بها.

وأما مُعْذِبَة: فهو بضم الميم وسكون العين المهملة وكسر الذال المعجمة وفتح الموحدة، من أعذب الماء، أي: صار عَذْبًا، أي: مانعًا للعطش لحلاوته، يعني: ذات عذوبة وحلاوة، فهو بمعنى مُرْوِيَة.

وأما شفاء سُقْم: فهو عَلَمٌ إضافي، والإِضافة فيه على معنى اللام. سمِّيت بذلك لأن شرب مائها سبب في شفاء كثير من الأسقام ودفع الآلام.

وأما طَعَام طُعْم: فهو عَلمَ إضافي أيضًا، بضم الطاء الثانية وسكون العين المهملة التي بعده، وهو الذي يشبع من أكله. سمِّيت بذلك لحصول الشِّبَع عند تناولها، فهو بمعنى شَبَّاعَة.

وأما هَزْمَة جبريل: فبفتح الهاء وسكون الزاي وفتح الميم، من هزمه يهْزِمُه إذا غمزه بيده فصارت فيه حُفرة، فالهزمة موضع الهزم، أي: الغمز والضرب. ويروى: هَمْزة جبريل بفتح الهاء وسكون الميم

--------------------------------------------

(1) يريد قبيلة جُرهُم كما سيأتي خبرهم ص 21.
মানুষ এর উচ্চমূল্যের কারণে একে অপরের প্রতি কার্পণ্য করে। আর আল্লাহ তাআলা আরবদের মধ্য থেকে এমন এক সম্প্রদায়কে এটি থেকে বঞ্চিত করেছিলেন যারা এর আশেপাশে বসবাস করত, কিন্তু তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং কাবার পবিত্রতাকে অবজ্ঞা করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করেন এবং তাদের জন্য এটি নিষিদ্ধ করে দেন (১)।

আর 'কাফিয়া': এটি 'কিফায়াহ' (পর্যাপ্ততা) থেকে এসেছে। অর্থাৎ, যা পান করলে তৃষ্ণা নিবারিত হওয়ার কারণে অন্য কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা বা চাহিদার জন্য এটি যথেষ্ট হয়ে যায়।

আর 'মু'জিবা': এটি মীম বর্ণে পেশ, নুকতাহীন আইন বর্ণে সাকিন, নুকতাযুক্ত যাল বর্ণে যের এবং বা বর্ণে জবর যোগে গঠিত। এটি 'আযবাবা আল-মা' থেকে এসেছে, যার অর্থ পানি সুমিষ্ট হওয়া। অর্থাৎ, এর মিষ্টতার কারণে তৃষ্ণা নিবারক হওয়া। এর অর্থ হলো এটি সুমিষ্ট ও মিষ্টতা সম্পন্ন, যা তৃষ্ণা নিবারক হওয়ার অর্থ প্রদান করে।

আর 'শিফাউ সুকমিন' (ব্যাধির আরোগ্য): এটি একটি সমাসবদ্ধ নাম, এবং এখানে সমাসটি 'লাম' (জন্য) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এর পানি পান করা অনেক ব্যাধির আরোগ্য এবং ব্যথা দূর করার মাধ্যম।

আর 'তয়ামু তু'মিন' (খাদ্যের আহার): এটিও একটি সমাসবদ্ধ নাম, দ্বিতীয় 'ত' বর্ণে পেশ এবং পরবর্তী নুকতাহীন 'আইন' বর্ণে সাকিন সহযোগে গঠিত। এটি এমন বস্তু যা আহার করলে পেট ভরে। এটি গ্রহণের ফলে তৃপ্তি লাভ হয় বলে একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে, যা 'তৃপ্তিদায়ক' অর্থে ব্যবহৃত।

আর 'হাযমাতু জিবরীল': এটি হা বর্ণে জবর, যা বর্ণে সাকিন এবং মীম বর্ণে জবর যোগে গঠিত। এটি 'হাযামাহু ইয়াহযিমুহু' থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো যখন কেউ তার হাত দিয়ে কোনো কিছুকে চাপে এবং সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয়। সুতরাং 'হাযমাহ' হলো চাপের স্থান বা আঘাতের স্থান। এটি 'হামযাতু জিবরীল' হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যেখানে হা বর্ণে জবর এবং মীম বর্ণে সাকিন রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এখানে জুরহুম গোত্রকে বোঝানো হয়েছে, যাদের বিবরণ ২১ পৃষ্ঠায় সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
مقدَّمة على الزاي، من همز يَهْمِز بكسر الميم في المضارع، ويَهْمُز بضمها أيضًا همزًا، إذا غمزه أيضًا أو ضغطه أو دفعه أو ضربه، فهو بمعنى ما قبله. سُمِّيت بذلك لضرب جبريل عليه الصلاة والسلام بعَقِبه لها؛ ولأن عبد المطلب أُرِيَ في الرؤيا الآتي ذكرها قائلًا يقول له: زمزم وما زمزم! هزمة جبريل برجله وسُقيا إسماعيل وأهله، زمزم البركات تروي الرُّفات الواردات، شفاء سقم وخير طعام (1).

وقد جاء أيضًا في مبتدأ حديث الوضوء مثل هذا: وهو أن جبريل هَمَز للنبي صلى الله عليه وسلم بعَقِبِه في الوادي فنبع الماء (2).

* * *

--------------------------------------------

(1) لم أقف على هذا اللفظ في مصادر قصة حفر عبد المطلب لزمزم، وسيأتي سياق القصة من مصادرها تعليقًا ص 22.

‌‌(2) الحديث رواه ابن إسحاق في تعليم جبريل النبي صلى الله عليه وسلم الوضوء والصلاة، "السيرة النبوية" 1/ 244، قال السهيلي: هذا الحديث مقطوع في السيرة.

وروي مختصرًا عند الإمام أحمد في "المسند" 4/ 161، وابن ماجه ح (462)، من حديث زيد بن حارثة موصولًا، إلَّا أن في إسناده ابن لهيعة، وهو ضعيف.
'হা' বর্ণটি 'ঝা' বর্ণের পূর্বে এসেছে, যা 'হামাযা-ইয়াহমিঝু' (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালে মীম বর্ণে কাসরা বা যের সহ) অথবা 'ইয়াহমুঝু' (যম্মাহ বা পেশ সহ) ধাতু থেকে উদ্ভূত; যখন কেউ কোনো কিছুকে টিপে ধরে, চাপ দেয়, ধাক্কা দেয় কিংবা আঘাত করে। এটি এর পূর্ববর্তী শব্দের সমার্থবোধক। জিবরাইল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর গোড়ালি দিয়ে সেখানে আঘাত করার কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া আব্দুল মুত্তালিবকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল (যা সামনে বর্ণিত হবে), যেখানে একজন তাঁকে বলছিলেন: 'জমজম এবং তুমি কি জান জমজম কী! জিবরাইলের পায়ের আঘাতের স্থান এবং ইসমাইল ও তাঁর পরিবারের পানীয়; বরকতময় জমজম যা আগতদের তৃষ্ণা মেটায়, এটি রোগের নিরাময় এবং সর্বোত্তম খাদ্য' (১)।

ওজুর হাদিসের প্রারম্ভেও অনুরূপ বর্ণনা এসেছে: জিবরাইল উপত্যকায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য তাঁর গোড়ালি দিয়ে আঘাত করেছিলেন এবং পানি নির্গত হয়েছিল (২)।

* * *

--------------------------------------------

(১) আব্দুল মুত্তালিবের জমজম খননের গল্পের মূল উৎসসমূহে আমি এই শব্দসমষ্টি খুঁজে পাইনি। গল্পের বিস্তারিত বিবরণ এর উৎস হতে ২২ পৃষ্ঠার টিকায় আসবে।

‌(২) হাদিসটি ইবনে ইসহাক জিবরাইল কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ওজু ও সালাত শিক্ষা দেওয়ার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, "আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ" ১/২৪৪। সুহাইলি বলেছেন: সিরাতের এই হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (মাকতু)।

এটি সংক্ষিপ্ত আকারে ইমাম আহমাদ "আল-মুসনাদ" ৪/১৬১ এবং ইবনে মাজাহ (হাদিস নং ৪৬২)-এ যায়িদ ইবনে হারিসাহর হাদিস থেকে নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তবে এর সনদে ইবনে লাহিআহ রয়েছেন, যিনি দুর্বল।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الباب الأول فيمن أظهرها

فأول من أظهرها جبريل عليه الصلاة والسلام سقيا لإِسماعيل عليه الصلاة والسلام عندما ظمئ وهو صغير، ثم حفر الخليل عليه الصلاة والسلام، ثم أظهرها عبد المطلب جد النبي صلى الله عليه وسلم.

وذلك أن الله عز وجل أمر إبراهيم الخليل بالمسير من الشام إلى بلد الله الحرام، فركب البُراق، وحمل إسماعيل أمامه وكان رضيعًا، وقيل: كان ابن سنتين، وهَاجَر خلفه، ومعه جبريل يدلُّه على موضع البيت، فوضعهما إبراهيم عند البيت عند دوحة فوق زمزم في أعلى المسجد، وليس بمكة يومئذٍ أحد، وليس فيها ماء ولا عمارة ولا زراعة، وأمرها أن تتخذ فيها عريشًا.

فلما أراد إبراهيم أن ينصرف راجعًا إلى الشام ورأت هاجر أن ليس بحضرتها أحد من الناس ولا ماء ظاهر، تركت ابنها إسماعيل في مكانه وتبعت إبراهيم، فقالت: يا إبراهيم إلى مَنْ تدعنا؟ فسكت عنها حتى إذا دنا من كَدَاء (1) قال: إلى الله أدعكم. قالت: فالله

--------------------------------------------

(1) بفتح الكاف ممدود موضع بأعلى مكة، وهو الموضع الذي دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة منه. "فتح الباري" 6/ 401. =
প্রথম পরিচ্ছেদ: যারা এটি প্রকাশ করেছেন

এটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম), যখন ইসমাঈল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) শিশু অবস্থায় তৃষ্ণার্ত হয়েছিলেন তখন তাকে পান করানোর জন্য। এরপর খলীল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এটি খনন করেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব এটি প্রকাশ করেন।

আর তা এভাবে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইব্রাহীম খলীলকে শাম থেকে আল্লাহর পবিত্র নগরীর অভিমুখে গমনের নির্দেশ দেন। তখন তিনি বুরাকে আরোহণ করেন এবং ইসমাঈলকে নিজের সামনে বসিয়ে নেন—তিনি তখন দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন, কারো মতে তার বয়স ছিল দুই বছর—আর হাজেরা ছিলেন তার পেছনে। জিবরাঈল তাদের সাথে ছিলেন এবং তাকে বাইতুল্লাহর স্থানের পথ দেখাচ্ছিলেন। ইব্রাহীম তাদের উভয়কে মসজিদের উপরের অংশে জমজমের উপরে অবস্থিত একটি বড় বৃক্ষের নিকট রেখে দেন। সে সময় মক্কায় কোনো জনমানুষ ছিল না এবং সেখানে পানি, কোনো স্থাপনা বা চাষাবাদও ছিল না। তিনি তাকে সেখানে একটি চালাঘর তৈরি করে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ইব্রাহীম যখন পুনরায় শামে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন এবং হাজেরা দেখলেন যে তাদের সান্নিধ্যে কোনো মানুষ নেই এবং দৃশ্যমান কোনো পানিও নেই, তখন তিনি তার পুত্র ইসমাঈলকে তার স্থানে রেখে ইব্রাহীমের পিছু নিলেন। তিনি বললেন: হে ইব্রাহীম, আপনি আমাদের কার কাছে রেখে যাচ্ছেন? তিনি নীরব রইলেন। অবশেষে যখন তিনি কাদার (১) নিকটবর্তী হলেন, তখন তিনি বললেন: আমি তোমাদের আল্লাহর নিকট রেখে যাচ্ছি। তিনি বললেন: তবে তো আল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) কাফ বর্ণে ফাতাহ যোগে দীর্ঘ স্বরে উচ্চারিত মক্কার উচ্চভূমির একটি স্থান; এটি সেই স্থান যেখান দিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন। "ফাতহুল বারী" ৬/৪০১। =
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২০)
أمركَ بهذا؟ قال: نعم. قالت: فحسبي، تركْتَنا إلى كافٍ.

وخرج إبراهيم حتى وقف على كداء ولا بناء ولا ظل ولا شيء يحول دون ابنه إسماعيل، فنظر إليه فأدركه ما يدرك الوالد من الرحمة لولده، فقال: {رَبَّنَا إِنِّي أَسْكَنْتُ مِنْ ذُرِّيَّتِي} الآية، وانصرفت هاجر إلى ابنها وعمدت فجعلت عريشًا في موضع الحِجْر -بكسر الحاء المهملة- من سَمُر (1) -بفتح السين المهملة وضم الميم- وألقت عليه ثُمامًا (2) -بضم المثلثة وتخفيف الميم-.

وفي رواية: أن إبراهيم عليه الصلاة والسلام وضع عندهما جِرَابًا فيه تمر وسِقَاء فيه ماء، فلما نَفِدَ الماء عطش إسماعيل وعطشت أمه وانقطع لبنها، فأخذ إسماعيل كهيئة الموت فظنَّت أنه ميت فجَزِعَت، وخرجت جزعًا أن تراه على تلك الحالة، وقالت: يموت وأنا غائبة عنه أهون عليَّ. ثم ظهر لها جبريل فانطلق بها حتى وقف على موضع زمزم فضرب بعَقِبِه مكان البئر فظهر الماء فوق الأرض (3).

وفي "الحدائق": فبحث جبريل بعقبه، أو قال: بجناحه -على شك الراوي- وجعلت هاجر تَزمُّ الماء، أي: تحصره خِيفَة

--------------------------------------------

= وهو ما يُعرف اليوم "ريع الحَجُون" يدخل طريقه بين مقبرتي المَعْلاة، ويفضي من الجهة الأخرى إلى حي العتيبة وجرول. "المعالم الأثيرة" ص 231.

‌‌(1) السَّمُر جمع سَمُرَة: نوع من شجر الطَّلح.

‌‌(2) الثمام: نبات طويل كانت تُسَدُّ به فجوات البيوت قديمًا.

‌‌(3) أصل هذه القصة في البخاري من حديث ابن عباس، ح (3364).
তিনি কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (হাজেরা) বললেন: তবে আমার জন্য এটাই যথেষ্ট, আপনি আমাদের এক পর্যাপ্ত ও সক্ষম সত্তার নিকট রেখে যাচ্ছেন।

ইবরাহীম প্রস্থান করলেন এবং অবশেষে কাদা নামক স্থানে এসে দাঁড়ালেন। সেখানে কোনো দালানকোঠা ছিল না, ছায়া ছিল না এবং তাঁর পুত্র ইসমাইলের সামনে আড়াল হওয়ার মতো কোনো কিছুই ছিল না। তিনি তাঁর দিকে তাকালেন এবং এক পিতার হৃদয়ে সন্তানের প্রতি যে মমতা জাগে, তা তাঁকে আচ্ছন্ন করল। তিনি বললেন: {হে আমাদের পালনকর্তা! আমি আমার বংশধরদের এক অংশকে...} [আয়াত শেষ পর্যন্ত]। হাজেরা তাঁর পুত্রের নিকট ফিরে আসলেন এবং সংকল্প করে হিজর নামক স্থানে—যা হা অক্ষরে যের সহযোগে উচ্চারিত—সামুর গাছ দ্বারা—যা সীন অক্ষরে যবর এবং মীম অক্ষরে পেশ সহযোগে উচ্চারিত—একটি ঝুপড়ি তৈরি করলেন এবং তার উপর সুমাম নামক ঘাস—যা ছা অক্ষরে পেশ এবং মীম অক্ষরে হালকা উচ্চারণ (তাশদীদহীন) সহযোগে উচ্চারিত—বিছিয়ে দিলেন।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: ইবরাহীম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁদের নিকট খেজুর ভর্তি একটি থলে এবং পানি ভর্তি একটি মশক রেখে দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন পানি শেষ হয়ে গেল, তখন ইসমাইল তৃষ্ণার্ত হলেন এবং তাঁর মাতাও তৃষ্ণার্ত হলেন এবং তাঁর দুধ শুকিয়ে গেল। ইসমাইলের অবস্থা মৃতপ্রায় হয়ে পড়ল, এমনকি তিনি (হাজেরা) মনে করলেন যে শিশুটি মারা যাচ্ছে। ফলে তিনি অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়লেন এবং সন্তানকে ঐ করুণ অবস্থায় দেখার আশঙ্কায় বাইরে বেরিয়ে এলেন। তিনি বললেন: আমার অনুপস্থিতিতে সে মৃত্যুবরণ করবে—এটা আমার নিকট অধিকতর সহনীয়। অতঃপর জিবরাঈল তাঁর নিকট আবির্ভূত হলেন এবং তাঁকে নিয়ে চললেন, এমনকি তিনি যমযমের স্থানে এসে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি কূপের স্থানে তাঁর গোড়ালি দিয়ে আঘাত করলেন এবং মাটির উপর পানি প্রকাশিত হলো।

এবং "আল-হাদাইক" গ্রন্থে রয়েছে: অতঃপর জিবরাঈল তাঁর গোড়ালি দিয়ে খুঁড়লেন, অথবা বর্ণনাকারীর সন্দেহ অনুযায়ী বলেছেন: তাঁর ডানা দিয়ে। আর হাজেরা পানিকে বাঁধ দিতে শুরু করলেন, অর্থাৎ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তা আটকে রাখছিলেন।

--------------------------------------------

= এটি বর্তমানে "রি'উল হাজুন" নামে পরিচিত; যার রাস্তা মা'লাত নামক দুটি কবরস্থানের মাঝ দিয়ে প্রবেশ করে এবং অন্য দিক দিয়ে উতাইবিয়াহ ও জারওয়াল মহল্লায় গিয়ে শেষ হয়। "আল-মাআলিমুল আসীরাহ" পৃষ্ঠা ২৩১।

‌‌(১) আস-সামুর হলো সামুরাহ শব্দের বহুবচন: এটি এক প্রকার বাবলা জাতীয় গাছ।

‌‌(২) আস-সুমাম: একটি দীর্ঘ উদ্ভিদ যা দিয়ে প্রাচীনকালে ঘরবাড়ির ফাঁকফোকর বন্ধ করা হতো।

‌‌(৩) এই কাহিনীর মূল ভিত্তি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত বুখারীর হাদীসে রয়েছে, হাদীস নম্বর ৩৩৬৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২১)
أن يفوتها قبل أن تأتي بشَنِّها (1)، فاستقت وبادرت إلى ابنها فسقته.

قال ابن عباس: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "يرحم الله أمَّ إسماعيل لو تركت زمزم"، أو قال: "لو لم تَغرِف من الماء لكانت عينًا مَعينًا" (2).

ثم إن الجُرْهُمي عمرو بن الحارث (3) لما أحدث قومه بحرم الله تعالى الحوادث قيَّض الله لهم من أخرجهم من مكة، فعمد عمرو المذكور إلى نفائس من أموال الكعبة -وكان من جملتها غزالان من ذهب وأسياف سبعة كان ساسان ملك الفرس قد أهداها إلى الكعبة- ووضعها في زمزم وطمَّها وبالغ في طمها

--------------------------------------------

(1) الشَّن: القِربة الصغيرة.

‌‌(2) جزء من حديث ابن عباس عند البخاري، ح (3364).

ومعنى "عينًا معينًا": أي ظاهرًا جاريًا على وجه الأرض.

‌‌(3) أورد الأزرقي في "أخبار مكة" 1/ 92 أن الذي طمَّ بئر زمزم هو: مُضَاض بن عمرو بن الحارث، ثم ذكر في 2/ 41 أن الذي طمَّها هو: عمرو بن الحارث بن مُضاض، وكذا ذكر عمرو بن الحارث بن هشام في "السيرة النبوية" 1/ 114 عن ابن إسحاق، وقد تابعهما من جاء بعدهما من المؤرخين كأمثال ابن كثير في "البداية والنهاية" والصالحي في "سُبل الهدى والرشاد" وغيرهما، فأخذوا بأحد القولين ولم يبينوا وجه الاختلاف في ذلك، سوى ما وقفتُ عليه من كلام المتقي الفاسي في كتابه "شفاء الغرام" حيث قال 1/ 376: واختُلف فيمن دفن الحجر الأسود وغزالَيْ الكعبة في زمزم هل هو مُضاض بن عمرو بن الحارث بن مُضاض بن عمرو الجرهمي كما هو مقتضى الخبر الذي رواه الأزرقي عن الكلبي عن أبي صالح؟ أو هو عمرو بن الحارث بن مُضاض الأصغر؟ كما هو مقتضى ما ذكره ابن إسحاق والزبير بن بكَّار عن أبي عبيدة وذكر الأزرقي ما يوافقه، اهـ.
যাতে তার ছোট মশকে পানি ভরার আগেই তা ফুরিয়ে না যায় (১), তাই সে পানি তুলল এবং দ্রুত তার পুত্রের কাছে গিয়ে তাকে পান করাল।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ ইসমাঈলের মায়ের ওপর রহম করুন, যদি তিনি যমযমকে (নিজের অবস্থায়) ছেড়ে দিতেন", অথবা তিনি বলেছেন: "যদি তিনি পানি তুলে না নিতেন, তবে তা একটি প্রবহমান ঝরনা হতো" (২)।

অতঃপর জুরহুম গোত্রের আমর ইবনুল হারিস (৩), যখন তার কওম আল্লাহর হারামে নানা অনাচার সৃষ্টি করল, তখন আল্লাহ তাদের জন্য এমন ব্যবস্থা করলেন যারা তাদের মক্কা থেকে বহিষ্কার করল। ফলে উল্লিখিত আমর কাবার মূল্যবান কিছু সম্পদ সংগ্রহ করল—যার মধ্যে ছিল স্বর্ণের দুটি হরিণ এবং সাতটি তলোয়ার যা পারস্যের রাজা সাসান কাবাকে উপহার দিয়েছিলেন—এবং সেগুলোকে যমযম কূপে নিক্ষেপ করে তা ভরাট করে দিল এবং তা পুরোপুরি ঢেকে ফেলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করল।

--------------------------------------------

(১) আশ-শান: ছোট চামড়ার মশক।

‌‌(২) বুখারীতে বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদিসের অংশ, হাদিস নম্বর (৩৩৬৪)।

আর "আইনুন মাঈনুন" শব্দের অর্থ: অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠে প্রবহমান দৃশ্যমান ঝরনা।

‌‌(৩) আজরকী "আখবারু মক্কা" ১/৯২-তে উল্লেখ করেছেন যে, যিনি যমযম কূপ ভরাট করেছিলেন তিনি হলেন: মুদাদ ইবনে আমর ইবনুল হারিস। অতঃপর ২/৪১-এ তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যিনি এটি ভরাট করেছিলেন তিনি হলেন: আমর ইবনুল হারিস ইবনে মুদাদ। অনুরূপভাবে ইবনে ইসহাক থেকে "আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ" ১/১১৪-তে আমর ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী ঐতিহাসিকগণ যেমন ইবনে কাসীর "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া"-তে এবং সালিহি "সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ"-এ ও অন্যান্যরা তাদের অনুসরণ করেছেন। ফলে তারা দুটি মতের একটি গ্রহণ করেছেন কিন্তু এর মধ্যকার মতভেদের বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। তবে মুত্তাকী আল-ফাসি তাঁর "শিফাউল গারাম" (১/৩৭৬) কিতাবে যা বলেছেন আমি কেবল তা জানতে পেরেছি, যেখানে তিনি বলেন: হাজরে আসওয়াদ এবং কাবার দুটি স্বর্ণের হরিণ যমযমে কে দাফন করেছিলেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে—তিনি কি মুদাদ ইবনে আমর ইবনুল হারিস ইবনে মুদাদ ইবনে আমর আল-জুরহুমি, যেমনটি কালবি থেকে আবু সালেহ কর্তৃক আজরকী বর্ণিত বর্ণনার দাবি? নাকি তিনি আমর ইবনুল হারিস ইবনে মুদাদ আল-আসগার? যেমনটি আবু উবাইদাহ থেকে ইবনে ইসহাক ও জুবায়ের ইবনে বাক্কার উল্লেখ করেছেন এবং আজরকী এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২২)
ودفنها (1)، وفر إلى اليمن بقومه (2).

فلم تزل زمزم مدفونة مغيبة أكثر من خمسمائة سنة لا يُعرف مكانها إلى أن أظهرها عبد المطلب جَدُّ النبي صلى الله عليه وسلم بعلامات عَرَف بها موضعها في رؤيا رآها متكررة ثلاثة مرات، فحفرها وأظهرها (3)، ولم تزل ظاهرة بحمد الله تعالى إلى الآن وإلى ما شاء الله تعالى.

* * *

--------------------------------------------

(1) وكان ذلك بعد أن نَضَب ماء زمزم عقوبة لجرهم لما أحدثوا في الحرم من المعاصي.

‌‌(2) في "أخبار مكة" للأزرقي 2/ 41: فسلَّط الله عليهم -أي على جرهم- خزاعة فأخرجتهم من الحرم، ووَلِيَت عليهم الكعبة والحكم بمكة ما شاء الله أن تليه.

‌‌(3) وهي قصة طويلة أوردها الأزرقي في "أخبار مكة" 2/ 44 - 46، وابن هشام في "السيرة النبوية" 1/ 142، والفاكهي في "أخبار مكة" 2/ 16، كلهم من طريق محمَّد بن إسحاق بإسناده عن علي بن أبي طالب قال: قال عبد المطلب: إني لنائم في الحِجر -حِجْر إسماعيل- إذ أتاني آتٍ فقال: احفِر طيبة، قال: قلت: وما طيبة؟ قال: ثم ذهب عني، فلما كان الغد رجعت إلى مضجعي فنمت فيه فجاءني فقال: احفر بَرَّة، قال: قلت: وما برّة؟ قال: ثم ذهب عني، فلما كان الغد رجعت إلى مضجعي فنمت فيه فجاءني فقال: احفر المضنونة، قال: قلت: وما المضنونة؟ قال: ثم ذهب عني، فلما كان الغد رجعت إلى مضجعي فنمت فيه فجاءني فقال: احفر زمزم، قال: قلت: وما زمزم؟ قال: لا تَنزِف أبدًا ولا تُذَمّ، تسقي الحجيج الأعظم، وهي بين الفرث والدم، عند نُقْرة الغراب الأعصم، عند قرية النمل.

قال ابن إسحاق: فلما بُيِّن له شأنها ودُلّ على موضعها، وعَرَف أنه صُدِق، غدا بمعوله ومعه ابن الحارث …

وللقصة تتمة تُنظر في المصادر المذكورة آنفًا.
এবং তিনি তা দাফন (লুকিয়ে) করেন (১), এবং নিজ কওমসহ ইয়েমেনে পালিয়ে যান (২)।

ফলে জমজম পাঁচশ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রোথিত ও বিলুপ্ত অবস্থায় ছিল, এর স্থান জানা ছিল না। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাদা আবদুল মুত্তালিব তা প্রকাশ করেন এমন কিছু চিহ্নের মাধ্যমে যা তিনি উপর্যুপরি তিনবার স্বপ্নে দেখে এর স্থান শনাক্ত করেছিলেন। এরপর তিনি তা খনন করেন এবং প্রকাশ করেন (৩), এবং আল্লাহর প্রশংসায় তা এখন পর্যন্ত এবং আল্লাহ যতদিন চান প্রকাশ্য রয়েছে।

* * *

--------------------------------------------

(১) এটি ছিল জমজমের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর, যা হারামে সংঘটিত পাপাচারের কারণে জুরহুম গোত্রের জন্য শাস্তি স্বরূপ হয়েছিল।

‌‌(২) আজরাক্বীর 'আখবারু মক্কা' গ্রন্থে (২/৪১): আল্লাহ তাদের উপর -অর্থাৎ জুরহুমদের উপর- খুযাআহ গোত্রকে চাপিয়ে দেন, ফলে তারা তাদের হারাম এলাকা থেকে বের করে দেয় এবং আল্লাহ যতদিন চেয়েছিলেন তারা কাবার তত্ত্বাবধান ও মক্কার শাসনের দায়িত্ব পালন করে।

‌‌(৩) এটি একটি দীর্ঘ কাহিনী যা আজরাক্বী 'আখবারু মক্কা' (২/৪৪-৪৬), ইবনে হিশাম 'আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ' (১/১৪২) এবং ফাকিহী 'আখবারু মক্কা' (২/১৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তারা সবাই মুহাম্মদ বিন ইসহাক এর সূত্রে এবং তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মুত্তালিব বলেছেন: আমি হিজরে -অর্থাৎ হিজরে ইসমাইলে- ঘুমাচ্ছিলাম, তখন এক আগন্তুক আমার কাছে এসে বললেন: 'ত্বীবাহ' খনন করো। তিনি বলেন: আমি বললাম: ত্বীবাহ কী? তিনি বলেন: এরপর তিনি চলে গেলেন। পরদিন যখন আমি পুনরায় আমার শয্যায় ফিরে ঘুমালাম, তিনি এসে বললেন: 'বাররাহ' খনন করো। তিনি বলেন: আমি বললাম: বাররাহ কী? তিনি বলেন: এরপর তিনি চলে গেলেন। পরদিন যখন আমি পুনরায় আমার শয্যায় ফিরে ঘুমালাম, তিনি এসে বললেন: 'মাদনুনাহ' খনন করো। তিনি বলেন: আমি বললাম: মাদনুনাহ কী? তিনি বলেন: এরপর তিনি চলে গেলেন। পরদিন যখন আমি পুনরায় আমার শয্যায় ফিরে ঘুমালাম, তিনি এসে বললেন: 'জমজম' খনন করো। তিনি বলেন: আমি বললাম: জমজম কী? তিনি বললেন: যা কখনও শেষ হবে না এবং যার নিন্দা করা হবে না, তা অসংখ্য হাজীদের পানি পান করাবে; এবং তা গোবর ও রক্তের মধ্যবর্তী স্থানে, সাদা ডানাযুক্ত কাকের ঠোকরানোর জায়গায়, পিঁপড়াদের বাসার কাছে।

ইবনে ইসহাক বলেন: যখন তার কাছে এর গুরুত্ব স্পষ্ট হলো এবং স্থানের দিশা দেওয়া হলো, আর তিনি বুঝতে পারলেন যে বিষয়টি সত্য, তখন তিনি তার কুড়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন এবং তার সাথে তার পুত্র হারিস ছিল...

গল্পের বাকি অংশ ইতিপূর্বে উল্লেখিত উৎসগুলোতে দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الباب الثاني في فضلها

قد ورد في فضل زمزم أحاديث كثيرة، لكن البخاري لم يذكرها لكونها لم تكن على شرطه صريحًا.

ووقع في صحيح مسلم (1) من حديث أبي ذر: "ماء زمزم طَعَامُ طُعْم"، وزاد الطيالسي (2): "وشفاء سُقْم".

وفي "المستدرك" (3) من حديث ابن عباس مرفوعًا: "ماء زمزم لما شُرِب له". وصححه البيهقي في الشُّعَب وابن عيينه وابن حبان.

ووثَّق رجاله الحافظ الدمياطي (4)، وكذلك الحافظ العسقلاني حيث قال في "الفتح" (5) بعد نقله هذا الحديث: رجاله ثقات إلَّا أنه

--------------------------------------------

(1) "صحيح مسلم" ح (2473) ونصُّه: "إنها مباركة، إنها طعام طعم".

‌‌(2) هكذا أورد هذه الزيادة الحافظ بن حجر في "فتح الباري" 3/ 493 قال: زاد الطيالسي من الوجه الذي أخرجه منه مسلم: "وشفاء سقم".

‌‌(3) "المستدرك على الصحيحين" للحاكم 1/ 473.

‌‌(4) قال السخاوي في "المقاصد الحسنة" ص 357: صححه من المتقدمين ابن عيينة، ومن المتأخرين الدمياطي في جزء جمعه فيه.

‌‌(5) "فتح الباري" 3/ 493.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর ফযিলত প্রসঙ্গে

জমজমের ফযিলত সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তবে ইমাম বুখারী সেগুলো উল্লেখ করেননি, কারণ সেগুলো স্পষ্টভাবে তাঁর শর্ত অনুযায়ী ছিল না।

সহীহ মুসলিমে (১) আবু যার বর্ণিত হাদীসে এসেছে: "জমজমের পানি তৃপ্তিদায়ক খাদ্য", আর তায়ালিসি (২) বর্ধিত অংশে উল্লেখ করেছেন: "এবং রোগের আরোগ্য"।

"আল-মুস্তাদরাক" (৩) গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই কার্যকর হয়।" ইমাম বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ, ইবনে উয়াইনা এবং ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।

হাফেয দিমইয়াতি (৪) এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন, তেমনি হাফেয আসকালানিও তাঁর "আল-ফাতহ" (৫) গ্রন্থে এই হাদীসটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, তবে এটি...

--------------------------------------------

(১) "সহীহ মুসলিম" হাদীস নং (২৪৭৩) এবং এর পাঠ হলো: "নিশ্চয়ই এটি বরকতময়, এটি তৃপ্তিদায়ক খাদ্য।"

‌‌(২) হাফেয ইবনে হাজার "ফাতহুল বারী" ৩/৪৯৩-এ এই অতিরিক্ত অংশটি এভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: তায়ালিসি সেই একই সূত্রে এই বর্ধিত অংশটি বর্ণনা করেছেন যে সূত্র থেকে ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন: "এবং রোগের আরোগ্য"।

‌‌(৩) হাকেম প্রণীত "আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাঈন" ১/৪৭৩।

‌‌(৪) সাখাভী "আল-মাকাসিদুল হাসানা" পৃষ্ঠা ৩৫৭-এ বলেছেন: পূর্ববর্তীদের মধ্যে ইবনে উয়াইনা এবং পরবর্তীদের মধ্যে দিমইয়াতি তাঁর সংকলিত একটি পুস্তিকায় একে সহীহ বলেছেন।

‌‌(৫) "ফাতহুল বারী" ৩/৪৯৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
اختُلف في إرساله ووصله، وإرساله أصح، انتهى (1).

وحذا حذوهما القسطلاني حيث قال بعد إيراده حديث "المستدرك" المذكور (2): وبالجملة فقد ثبتت صحة هذا الحديث، أعني حديث: "ماء زمزم لما شُرِب له".

ومعناه: أنكَ إنْ شربته لتستشفي به شفاكَ الله، وإن شربته لشبعكَ أشبعكَ الله، وإن شربته لقطع ظمأ قطعه الله تعالى، وهكذا.

وقد ورد عن أبي حنيفة رحمه الله تعالى أنه شربه للعلم والفقاهة فكان أفقه [أهل] زمانه (3).

قال البكري (4) رحمه الله تعالى: وأنا قد جرَّبت ذلك فوجدته صحيحًا على أني لم أشربه إلَّا على يقين من هذا وتصديق بالحديث، انتهى.

--------------------------------------------

(1) قلت: وقد تقدم أن للحافظ بن حجر جزءًا مفردًا في هذا الحديث نشره الشيخ سائد بكداش في آخر كتابه "فضل ماء زمزم". يقول الحافظ بن حجر فيه ص 270: مرتبة هذا الحديث عند الحفاظ باجتماع هذه الطرق يصلُح للاحتجاج به، على ما عُرف من قواعد أئمة الحديث. اهـ.

‌‌(2) "إرشاد الساري" 3/ 185.

‌‌(3) "فضل ماء زمزم" ص 135 نقلًا عن البوسنوي في رسالته عن مقام إبراهيم عليه الصلاة والسلام.

ونُقل عن الإِمام الشافعي رضي الله عنه أنه قال: شربتُ من ماء زمزم لثلاثٍ، شربتُه للعلم، وشربته للرمي فكنت أصيب من عشرة عشرة ومن عشرة تسعة، وشربته للجنة وأرجوها. "الجامع اللطيف" ص 266.

‌‌(4) تقدم ص 12 أن القائل لهذا الكلام هو ابن الشيخ وليس البكري.
এর মুরসাল ও মাউসুল (সূত্রযুক্ত) হওয়ার ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে, তবে এটি মুরসাল হওয়াই অধিক বিশুদ্ধ, সমাপ্ত (১)।

কাসতাল্লানিও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যেখানে তিনি উল্লিখিত "আল-মুসতাদরাক"-এর হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন (২): সংক্ষেপে এই হাদিসটির বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়েছে, অর্থাৎ এই হাদিসটি: "যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই সফল হয়।"

এর অর্থ হলো: আপনি যদি আরোগ্য লাভের জন্য এটি পান করেন তবে আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করবেন, যদি আপনি পরিতৃপ্ত হওয়ার জন্য এটি পান করেন তবে আল্লাহ আপনাকে পরিতৃপ্ত করবেন, আর যদি তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পান করেন তবে আল্লাহ তাআলা তা নিবারণ করবেন, এবং এভাবেই সব ক্ষেত্রে।

ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইলম ও ফিকহ অর্জনের জন্য এটি পান করেছিলেন এবং তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ফকিহ হয়েছিলেন (৩)।

আল-বাকরি (৪) (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: আমি এটি পরীক্ষা করে দেখেছি এবং একে সত্য পেয়েছি, তবে আমি এটি এই বিষয়ের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস এবং হাদিসের প্রতি সত্যায়ন রেখেই পান করেছি, সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, হাফিজ ইবনে হাজার এই হাদিসের বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন, যা শেখ সায়েদ বাকদাশ তাঁর "ফাদলু মায়ি যমযম" গ্রন্থের শেষে প্রকাশ করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার সেখানে ২৭০ পৃষ্ঠায় বলেন: মুহাদ্দিসগণের নিকট এই হাদিসের স্তর হলো—সূত্রসমূহের সমষ্টিগত বিচারে এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য, যা হাদিস বিশারদ ইমামগণের স্বীকৃত মূলনীতি অনুযায়ী সাব্যস্ত হয়েছে। সমাপ্ত।

‌‌(২) "ইরশাদুস সারি" ৩/ ১৮৫।

‌‌(৩) "ফাদলু মায়ি যমযম" পৃষ্ঠা ১৩৫, মাকামে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সম্পর্কে আল-বুসনাভির রিসালা থেকে উদ্ধৃত।

ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমি তিনটি উদ্দেশ্যে যমযমের পানি পান করেছি—আমি এটি ইলমের জন্য পান করেছি, তিরন্দাজির জন্য পান করেছি ফলে আমি দশটির মধ্যে দশটিই অথবা দশটির মধ্যে নয়টি লক্ষ্যভেদে সক্ষম হতাম, আর আমি এটি জান্নাতের জন্য পান করেছি এবং আমি সেই আশা রাখি। "আল-জামি উল লাতিফ" পৃষ্ঠা ২৬৬।

‌‌(৪) ১২ পৃষ্ঠায় অতিবাহিত হয়েছে যে, এই উক্তির বক্তা হলেন ইবনুশ শেখ, আল-বাকরি নন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي البخاري (1) عن الشعبي أن ابن عباس رضي الله عنهما حدَّثه قال: "سَقيتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم من زمزم فشرب وهو قائم".

قال الحافظ بن حجر في "الفتح" (2): فيه -أي: الحديث المذكور- الرخصة في الشرب قائمًا، انتهى.

أي: فيكون النهي عن الشرب قائمًا الوارد في الصحيح نهي أدب وإرفاق؛ ليكون تناول الماء على سكون وطمأنينة، فيكون أبعد من الفساد، كما قاله محيي السنة (3).

قال علي القاري: أقول: ويمكن أن يكون القيام مختصًّا بماء زمزم، ونكتة التخصيص الإِشارة إلى استحباب التضلع من مائه. ثم قال: ورأيت بعضهم صرَّح بأنه يُسن الشرب من زمزم قائمًا اتباعًا له صلى الله عليه وسلم، انتهى.

وبالجملة فيستحب الشرب من مائها والتضلُّع منه (4)، لما روى الدارقطني والبيهقي مرفوعًا (5): "آيةُ ما بيننا وبين المنافقين إنهم

--------------------------------------------

(1) "صحيح البخاري" ح (1637).

‌‌(2) "فتح الباري" 3/ 493.

‌‌(3) أي الإِمام البغوي في "شرح السُّنة" 11/ 381.

‌‌(4) أي يستحبُّ الامتلاء من زمزم شِبَعًا ورِيًّا حتى يبلغ الماء أضلاعه.

‌‌(5) "سنن الدارقطني" 2/ 288، و"سنن البيهقي" 5/ 147 من حديث ابن عباس، ورواه ابن ماجه في "السنن" ح (3561) من حديث ابن عباس أيضًا، قال في "الزوائد": إسناده صحيح ورجاله موثقون. قال السخاوي في "المقاصد الحسنة" =
বুখারিতে (১) আশ-শা'বি থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যমযমের পানি পান করিয়েছিলাম, আর তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করেছিলেন।"

হাফেজ ইবনে হাজার "আল-ফাতহ্" (২)-এ বলেছেন: এতে—অর্থাৎ উল্লিখিত হাদীসে—দাঁড়িয়ে পান করার অনুমতি রয়েছে। সমাপ্ত।

অর্থাৎ, সহীহ হাদীসসমূহে দাঁড়িয়ে পান করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা আদব ও স্বস্তির জন্য; যাতে পানি পান করাটা স্থিরতা ও প্রশান্তির সাথে হয়, ফলে তা ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে মুক্ত থাকে—যেমনটি মুহিউস সুন্নাহ্ (৩) বলেছেন।

আলী আল-কারী বলেছেন: আমি বলছি, হতে পারে দাঁড়িয়ে পান করাটা যমযমের পানির সাথে সুনির্দিষ্ট, আর এই সুনির্দিষ্টকরণের সূক্ষ্ম রহস্য হলো যমযমের পানি পেট ভরে পান করা মুস্তাহাব হওয়ার প্রতি ইশারা করা। এরপর তিনি বলেছেন: আমি কাউকে কাউকে স্পষ্ট বলতে দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণে যমযমের পানি দাঁড়িয়ে পান করা সুন্নাত। সমাপ্ত।

মোদ্দাকথা হলো, এর পানি পান করা এবং তা দ্বারা পেট পূর্ণ করা (৪) মুস্তাহাব, কেননা আদ-দারাকুতনি এবং আল-বায়হাকি মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন (৫): "আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্যের নিদর্শন হলো যে তারা...

--------------------------------------------

(১) "সহীহ আল-বুখারি" হাদীস (১৬৩৭)।

‌‌(২) "ফাতহুল বারি" ৩/ ৪৯৩।

‌‌(৩) অর্থাৎ ইমাম আল-বাগাভী "শারহুস সুন্নাহ"-এ ১১/ ৩৮১।

‌‌(৪) অর্থাৎ যমযম দ্বারা পেট ভরে ও তৃপ্তি সহকারে পান করা মুস্তাহাব, এমনকি পানি যেন পাঁজরের হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

‌‌(৫) "সুনান আদ-দারাকুতনি" ২/ ২৮৮, এবং "সুনান আল-বায়হাকি" ৫/ ১৪৭ ইবনে আব্বাসের হাদীস থেকে, এবং ইবনে মাজাহ এটি তাঁর "সুনান"-এ হাদীস (৩৫৬১) ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণনা করেছেন, "আয-যাওয়ায়েদ"-এ বলা হয়েছে: এর সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আস-সাখাভী "আল-মাকাসিদুল হাসানাহ"-এ বলেছেন =
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
لا يتضلَّعون من زمزم".

وقد جاء في حديث علي رضي الله عنه: (خير بئر

--------------------------------------------

= ص 358 بعد ذكر رواياته: وهو حسن.

كيفية الشرب من زمزم والدعاء عنده

وفي سياق رواية هذا الحديث تعليم ابن عباس رضي الله عنهما لأحد الناس كيفية الشرب من زمزم، فعن محمَّد بن عبد الرحمن بن أبي بكر، قال: كنتُ عند ابن عباس جالسًا فجاءه رجل، فقال: من أين جئتَ؟ فقال: من زمزم. قال: فشربتَ منها كما ينبغي؟ قال: وكيفَ؟ قال: إذا شربتَ منها:

‌‌1 - فاستقبلِ القبلة،

‌‌2 - واذكُرِ اسمَ الله،

‌‌3 - وتنفَّسْ ثلاثًا،

‌‌4 - وتضلَّع منها،

‌‌5 - فإذا فرغتَ فاحمد الله عز وجل،

فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إنَّ آيةَ ما بيننا وبين المنافقين إنهم لا يتضلَّعون من زمزم". هذه رواية ابن ماجه.

والمراد من قوله: (تنفس ثلاثًا): أن يفصل الإناء عن فمه ثم يشرب في ثلاث مرات.

دعاء ابن عباس عند شرب زمزم

وفي "سنن الدارقطني" 2/ 288: عن عكرمة قال: كان ابن عباس إذا شرب من زمزم قال:

- اللَّهم إني أسألك علمًا نافعًا،

- ورزقًا واسعًا،

- وشِفاءً من كل داء.
তারা জমজম থেকে পেট ভরে পান করে না।"

এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে: (সর্বোত্তম কূপ...

--------------------------------------------

= ৩৫৮ পৃষ্ঠা, এর বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার পর: এটি হাসান।

জমজম পান করার পদ্ধতি এবং এর নিকট দুআ

এবং এই হাদীস বর্ণনার প্রেক্ষাপটে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা জনৈক ব্যক্তিকে জমজম পান করার পদ্ধতি শিক্ষা দিচ্ছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে আসলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বলল: জমজম থেকে। তিনি বললেন: তুমি কি তা থেকে যেভাবে পান করা উচিত সেভাবে পান করেছ? সে বলল: সেটা কীভাবে? তিনি বললেন: যখন তুমি তা থেকে পান করবে:

‌‌১ - কিবলামুখী হবে,

‌‌২ - আল্লাহর নাম স্মরণ করবে,

‌‌৩ - তিন নিঃশ্বাসে পান করবে,

‌‌৪ - এবং তা থেকে পেট ভরে পান করবে,

‌‌৫ - অতঃপর যখন তুমি শেষ করবে, তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর প্রশংসা করবে,

কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্যের নিদর্শন হলো যে, তারা জমজম থেকে পেট ভরে পান করে না।" এটি ইবনে মাজাহর বর্ণনা।

এবং তাঁর উক্তি (তিন নিঃশ্বাসে পান করা)-এর অর্থ হলো: পাত্রটি মুখ থেকে আলাদা করা, অতঃপর তিনবারে পান করা।

জমজম পানের সময় ইবনে আব্বাসের দুআ

এবং "সুনানে দারা কুতনী" ২/২৮৮-এ ইকরিমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস যখন জমজম পান করতেন, তখন বলতেন:

- হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করছি,

- এবং প্রশস্ত রিযিক,

- এবং সকল রোগ থেকে আরোগ্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
في الأرض زمزم) (1).

ولهذا الصلحاء يشربونه ويحملونه معهم في أسفارهم تباعًا له صلى الله عليه وسلم؛ فإنه أول منه حمل ماء زمزم عند رجوعه من حج البيت تبركًا به واستشفاءً (2).

والدعاء عند شربه مستجاب.

وأولى (3) ما يُشرب؛ لتحقق التوحيد والموت عليه، والعزة بطاعة الله تعالي، قال ابن المُنيِّر: وكأنه عنوان على حُسن العهد وكمال الشوق؛ فإن العرب أعتادت الحنين إلى مناهل الأحبة وموارد أهل المودَّة، وزمزم هو منهل أهل البيت، فالمتعطش إليها قد أقام

--------------------------------------------

(1) رواه ابن قتيبة في "غريب الحديث" 1/ 357 بهذا اللفظ، ورواه الفاكهي بإسناد صحيح في "أخبار مكة" 2/ 43، وعبد الرازق في "المصنّف" 5/ 116، بلفظ: خير بئر في الناس بئر زمزم.

‌‌(2) روى الترمذي ح (963)، والحاكم في "المستدرك" 1/ 485 عن عائشة رضي الله عنها: أنها كانت تحمل من ماء زمزم وتخبر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يحمله. قال الترمذي: حديث حسن غريب.

وروى الفاكهي في "أخبار مكة" 2/ 49، والبيهقي في "السنن" 5/ 202: أنَّ عائشة رضي الله عنها حملت من ماء زمزم في القوارير للمرضى، وقالت: حمله رسول الله صلى الله عليه وسلم في الأدواء والقِرَب، وكان يصبّه على المرضى ويسقيهم.

وفي "مجمع الزوائد" 3/ 287: عن حبيب بن أبي ثابت قال: سألتُ عطاء: أحمل ماء زمزم؟ فقال: قد حمله رسول الله صلى الله عليه وسلم وحمله الحسن وحمله الحسين. قال الهيثمي: رواه الطبراني في "الكبير"، وفيه من لم أعرفه.

‌‌(3) من هنا ينقل المؤلف عن القسطلاني في "إرشاد الساري" 3/ 180 - 181.
(পৃথিবীতে জমজম আছে) (১)।

এ কারণেই পুণ্যবান ব্যক্তিরা এটি পান করেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে তাদের সফরে সঙ্গে বহন করেন; কারণ তিনিই প্রথম বাইতুল্লাহর হজ থেকে ফিরে আসার সময় বরকত ও আরোগ্য লাভের উদ্দেশ্যে জমজমের পানি বহন করেছিলেন (২)।

এটি পান করার সময়ের দুআ কবুল হয়।

আর যা পান করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য (৩), তা হলো তাওহীদ অর্জন ও তার ওপর মৃত্যু লাভ এবং মহান আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মান অর্জনের উদ্দেশ্যে; ইবনুল মুনাইর বলেন: এটি যেন সুন্দর অঙ্গীকার এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যাকুলতার একটি প্রতীক; কারণ আরবদের অভ্যাস ছিল প্রিয়জনদের পানীয় স্থল এবং ভালোবাসার পাত্রদের ঘাটের প্রতি আকুলতা প্রকাশ করা, আর জমজম হলো আহলে বাইতের পানীয় স্থল, সুতরাং এর প্রতি তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি যেন অবস্থান গ্রহণ করেছে

--------------------------------------------

(১) ইবনে কুতাইবা তাঁর "গারিবুল হাদিস" ১/ ৩৫৭ গ্রন্থে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন, ফাকিহি সহীহ সনদে "আখবারু মক্কা" ২/ ৪৩ গ্রন্থে এবং আবদুর রাজ্জাক তাঁর "মুসান্নাফ" ৫/ ১১৬ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ কূপ হলো জমজম কূপ।

‌‌(২) তিরমিযী হাদিস নং (৯৬৩) এবং হাকেম "মুস্তাদরাক" ১/ ৪৮৫ গ্রন্থে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি জমজমের পানি বহন করতেন এবং বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বহন করতেন। তিরমিযী বলেছেন: হাদিসটি হাসান গারিব।

ফাকিহি "আখবারু মক্কা" ২/ ৪৯ গ্রন্থে এবং বায়হাকি "সুনান" ৫/ ২০২ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা অসুস্থদের জন্য কাঁচের পাত্রে জমজমের পানি বহন করতেন এবং বলতেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি মশক ও পাত্রে বহন করতেন এবং তিনি তা রোগীদের ওপর ঢালতেন ও তাদের পান করাতেন।

এবং "মাজমাউয যাওয়াইদ" ৩/ ২৮৭ গ্রন্থে: হাবিব ইবনে আবু সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আতাকে জিজ্ঞাসা করলাম: আমি কি জমজমের পানি বহন করব? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বহন করেছেন এবং হাসান ও হোসাইনও বহন করেছেন। হাইসামি বলেছেন: তাবারানি এটি "আল-কাবীর" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এতে এমন বর্ণনাকারী আছেন যাকে আমি চিনি না।

‌‌(৩) এখান থেকে লেখক কাসতালানি থেকে তাঁর "ইরশাদুস সারি" ৩/ ১৮০ - ১৮১ গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদান করছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
شعار المحبة وأحسن العهد للأحبة والشرب منها، ولذا جُعل التضلع منها علامة فارقة بين الإِيمان والنفاق، ولله در القائل: [من الطويل]

وما شُربي للماءِ (1) إلَّا تَذَكُّرًا … لماءٍ به أهلُ الحبيبِ نُزُولُ

وروى الفاكهي (2) وغيره عن ابن عباس: صلُّوا في مُصلى الأخيار، واشربوا من شراب الأبرار، قيل: وما مصلى الأخيار؟ قال: تحت الميزاب، قيل: فما شراب الأبرار؟ قال: ماء زمزم (3).

وبالجملة فمعرفة أسمائها وفضلها والتضلع من مائها من جملة البرِّ بها والوفاء بحقها وحق أهلها، كما أشار لذلك الفقيه الزاهد يوسف بن محمَّد المعروف بابن الشيخ (4) رحمه الله تعالى، حيث

--------------------------------------------

(1) في "إرشاد الساري": وما شرقي بالماء.

‌‌(2) لم أجد هذا الأثر عند الفاكهي، وإنما هو عند الأزرقي في "أخبار مكة" 1/ 318، والمؤلف تابَعَ القسطلاني في "إرشاد الساري" 3/ 181 في نسبته للفاكهي، فلعلها سبق ذهن من القسطلاني، والله أعلم.

‌‌(3) إلى هنا انتهى النقل عن "إرشاد الساري".

‌‌(4) هو أبو الحجَّاج يوسف بن محمَّد البَلَوي الأْندلسي المالكي، الإِمام الأديب الفقيه الزاهد، قال ابن الأبَّار: بنى ببلده مالقة خمسة وعشرين مسجدًا من صميم ماله، وعمل فيها بيده، وحفر بيده آبارًا عدة أزيد من خمسين بئرًا، وغزا عدة غزوات مع المنصور بالمغرب ومع صلاح الدين بالشام، وكان يلبس الخشن من الثياب.

قال المنذري: سمع بمالقه من غير واحد، ورحل إلى الإِسكندرية فسمع من الحافظ أبي طاهر السِّلَفي وغيره. حدَّث، وكان أحد الزهَّاد المشهورين، ولم تَفُتْه غزوة في البر ولا في البحر، وتولى الخطابة بمالقة. =
এটি ভালোবাসার নিদর্শন এবং প্রিয়জনদের প্রতি সর্বোত্তম অঙ্গীকার ও তা থেকে পান করা। এ কারণেই পেট ভরে তা পান করাকে ঈমান ও নিফাকের মধ্যে পার্থক্যকারী চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কতই না চমৎকার বলেছেন কবি: [তবীল ছন্দ থেকে]

আমার পানি পান করা (১) কেবল স্মরণ করার জন্যই … এমন এক পানির কথা যেখানে প্রিয়তমের পরিবার অবস্থান করে।

ফাকেহি (২) এবং অন্যরা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: তোমরা নেককারদের সালাতের স্থানে সালাত আদায় করো এবং পুণ্যবানদের পানীয় থেকে পান করো। জিজ্ঞেস করা হলো: নেককারদের সালাতের স্থান কোনটি? তিনি বললেন: মিজাবের (কাবা ঘরের নালী) নিচে। জিজ্ঞেস করা হলো: পুণ্যবানদের পানীয় কী? তিনি বললেন: যমযমের পানি (৩)।

সংক্ষেপে, এর নামসমূহ ও ফযীলত জানা এবং এর পানি পেট ভরে পান করা এর প্রতি সদাচরণ এবং এর ও এর অধিবাসীদের হকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি ইঙ্গিত করেছেন ফকীহ ও যাহেদ ইউসুফ বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনে শেখ (৪) নামে পরিচিত (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন), যেখানে

--------------------------------------------

(১) "ইরশাদুস সারী"-তে রয়েছে: এবং আমার পানির তৃষ্ণা মেটানো নয়।

‌‌(২) আমি ফাকেহির নিকট এই বর্ণনাটি পাইনি, বরং এটি আজরাকির "আখবারু মক্কা" ১/৩১৮-তে রয়েছে। লেখক ফাকেহির দিকে এর নিসবত করার ক্ষেত্রে কাসতালানির "ইরশাদুস সারী" ৩/১৮১-এর অনুসরণ করেছেন। সম্ভবত এটি কাসতালানির মনের ভুল, আল্লাহই ভালো জানেন।

‌‌(৩) এখানে "ইরশাদুস সারী" থেকে উদ্ধৃতি সমাপ্ত হলো।

‌‌(৪) তিনি হলেন আবু হাজ্জাজ ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-বালাবি আল-আন্দালুসি আল-মালিকি। তিনি একজন ইমাম, সাহিত্যিক, ফকীহ ও যাহেদ। ইবনুল আব্বার বলেন: তিনি তাঁর নিজ শহর মালাগাতে নিজের একান্ত সম্পদ থেকে পঁচিশটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং তাতে নিজ হাতে কাজ করেছেন। তিনি নিজ হাতে পঞ্চাশটিরও বেশি কূপ খনন করেছেন। তিনি মাগরিবে মানসুরের সাথে এবং শামে সালাহুদ্দীনের সাথে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি মোটা ও খসখসে কাপড় পরিধান করতেন।

মুনজিরি বলেন: তিনি মালাগাতে অনেকের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করে হাফেজ আবু তাহের সিলাফি ও অন্যদের নিকট শুনেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বিখ্যাত যাহেদদের একজন ছিলেন। স্থলপথ বা জলপথের কোনো যুদ্ধই তাঁর হাতছাড়া হয়নি। তিনি মালাগাতে খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-ইলামুল মুলতাযাম বি-ফাদিলাতি যামযাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال (1) [الوافر]:

لَعمرُكَ إنَّ تَرْكي زمزمًا لَـ (2) … أُسمِّيها لَمِن بابِ العقوقِ

وكيفَ ومَاؤُها بردت منه (3) … أوارتي (4) أحرُّ من الحريقِ

وأرجو من سِقَايته (5) هنا أن … سيسقيني كذاكَ من الرحيقِ

أَزمزمُ ها أنا أُسميكِ أيضًا … لما قدّمتِ عندي من حقوقِ

وما المحمودُ إلَّا اللهُ ربِّي … وربُّ الكلِّ والبيتِ العتيقِ

فائدة:

حكى في "المجموع" (6) من كتب أئمتنا الشافعية الإِجماع على صحة الطهارة بماء زمزم.

--------------------------------------------

= وقال عنه الذهبي في "السِّيَر": الإمام القدوة، المُجاب الدعوة، كان ربانيًّا قانتًا لله، كثير الغزو، يُعدّ من الأبدال وفُحول الرجال، تلا القراءات السبع وأقرأ وأفاد.

توفي بمالقة عن خمس وثمانين عامًا، سنة 604 هـ.

"التكملة لوفيات النقلة" 2/ 147، و "سير أعلام النبلاء" 21/ 479، و "الأعلام" 8/ 247.

‌‌(1) ذكر هذه الأبيات في كتابه الجامع النافع "ألف باء" 2/ 462، وضبطها وراجعها مشكورًا الأخ الدكتور حسَّان الطيَّان.

‌‌(2) في الأصل وكتاب "ألف باء": (لا)، والصحيح أنها لام التوكيد المزحلقة، وليست لا النافية.

‌‌(3) في هذا الموضع كسرٌ لم يظهر لنا إصلاحه.

‌‌(4) في الأصل: رفاتي إذا، والتصحيح من كتاب "ألف باء".

‌‌(5) في الأصل: سقانيه، والتصحيح من "ألف باء".

‌‌(6) "المجموع شرح المهذب" للنووي 1/ 91.
তিনি (১) [ওয়াফির ছন্দে] বলেছেন:

তোমার জীবনের কসম! আমার যমযমকে এর নাম ধরে ডাকা ছেড়ে দেওয়া অবশ্যই এক প্রকার অকৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত।

আর তা হবেই বা কেন, যখন এর পানি শীতল করে দিয়েছে আমার কলিজার সেই দহনকে যা ছিল আগুনের চেয়েও উত্তপ্ত।

আর আমি এখানে এর পান করানো থেকে আশা রাখি যে, তিনি আমাকে একইভাবে জান্নাতের বিশুদ্ধ পানীয় (রাহীক) থেকেও পান করাবেন।

হে যমযম! এই তো আমি তোমার নাম নিচ্ছি, আমার প্রতি তোমার যে সব অধিকার রয়েছে তার কারণে।

আর প্রশংসা তো কেবল আমার রব আল্লাহর জন্যই, যিনি সকলের রব এবং এই সুপ্রাচীন গৃহের (কাবা) প্রতিপালক।

ফায়দা:

আমাদের শাফিঈ ইমামগণের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে যমযমের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের বৈধতার ওপর ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

= এবং আয-যাহাবী তাঁর ‘আস-সিয়ার’ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি ছিলেন অনুসরণীয় ইমাম, যাঁর দুআ কবুল হতো, তিনি ছিলেন রব্বানী ও আল্লাহর অনুগত, অধিক জিহাদকারী, তাঁকে আবদাল ও শ্রেষ্ঠ পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো। তিনি সাত কিরাত পাঠ করেছিলেন এবং তা শিক্ষা দিয়েছেন ও এর দ্বারা উপকৃত করেছেন।

তিনি ৬০৪ হিজরি সনে পঁচাশি বছর বয়সে মালাকায় ইন্তেকাল করেন।

‘আত-তাকমিলা লি-ওয়াফায়াতিন নাকলা’ ২/১৪৭, ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ ২১/৪৭৯, এবং ‘আল-আলাম’ ৮/২৪৭।

‌‌(১) তিনি এই কবিতাগুলো তাঁর অত্যন্ত উপকারী ও সারগর্ভ গ্রন্থ ‘আলিফ বা’ ২/৪৬২-এ উল্লেখ করেছেন। ডক্টর হাসান আত-তাইয়্যান কৃতজ্ঞতার সাথে এটি বিন্যস্ত ও পুনঃনিরীক্ষণ করেছেন।

‌‌(২) মূল পাণ্ডুলিপি ও ‘আলিফ বা’ কিতাবে (লা) রয়েছে, তবে সঠিক হলো এটি ‘লামে তাকিদ মুযহলাকা’ (নিশ্চয়তা জ্ঞাপক লাম), নাফিয়া (না-বোধক) ‘লা’ নয়।

‌‌(৩) এই স্থানে ছন্দে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে যার সংশোধন আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়নি।

‌‌(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: ‘রাফাতি ইযা’, এবং ‘আলিফ বা’ কিতাব থেকে এর সংশোধন করা হয়েছে।

‌‌(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: ‘সাকানিহি’, এবং ‘আলিফ বা’ থেকে এর সংশোধন করা হয়েছে।

‌‌(৬) আন-নববীর ‘আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব’ ১/৯১।