(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: -)
معاني النحو   (فاضل صالح السامرائي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: معاني النحو

المؤلف: د. فاضل صالح السامرائي

الناشر: دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع - الأردن

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الأجزاء: 4

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الأولى 1438

মাআনী আন-নাহু   (ফাদেল সালেহ আস-সামাররাঈ)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ: মাআনী আন-নাহু (নাহুর অর্থসমষ্টি)

লেখক: ড. ফাদেল সালেহ আস-সামাররাঈ

প্রকাশক: দারুল ফিকর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ - জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবেতাতুন নুসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (সেন্টার অব সায়েন্টিফিক এলিট)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদাল উলা ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১)
معاني النحو

الجزء الأول

الدكتور فاضل صالح السامرائي

دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع
নাহুর অর্থসমূহ

প্রথম খণ্ড

ডক্টর ফাদিল সালিহ আস-সামাররাঈ

দারুল ফিকর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

معاني النحو
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

ব্যাকরণের অর্থসমূহ
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الأولى

1420 هـ - 2000 م
প্রথম সংস্করণ

১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

اللهم انفعني بما علمتني وزدني علمًا.

وبعد:

فإنه من المعلوم أن علم (النحو) يُعنى، أول ما يعنى، بالنظر في أواخر الكلم، وما يعتريها من إعراب وبناء، كما يعنى بأمور أخرى على جانب كبير من الأهمية، كالذكر، والحذف والتقديم، والتأخير، وتفسير بعض التعبيرات، غير أنه يولي العناية الأوى للاعراب.

وهناك موضوعات ومسائل نحوية كثيرة، لا تقل أهمية عن كل ما بحثه النحاة، بل قد تفوق كثيرا منها، لا تزال دون بحث، لم يتناولها العلماء بالدرس ولم يولوها النظر.

قد أبدو مغاليا في هذا الزعم، ولكن هذا الزعم حقيقة. أننا عجز عن فهم كثير من التعبيرات النحوية، أو تفسيرها، ولا نستطيع التمييز بين معانيها، فمن ذلك على سبيل المثال.

ما الفرق في المعنى بين قولك: (لا رجلَ - بالفتح - في الدار)، و (ما من رجل في الدار) مع أن كلتا العباراتين لنفي الجنس على سبيل الاستغراق؟

ما الفرق بين قوله تعالى: {فاعلم أنه لا إله إلا الله} وقوله: {وما من إله إلا الله} لم نفى العبارة الأولى بـ (لا) والثانية بـ (ما)؟

ما الفرق في المعنى بين قولك (ليس محمد حاضرا) و (ما محمد حاضرا) و (إن محمد حاضرا) أقول ما الفرق في المعنى، وليس في الاعراب؟

ما الفرق بين قوله تعالى: {قل لست عليكم بوكيل} وقوله: {وما أنا عليكم بوكيل} لماذا نفى العبارة الأولى بليس، والثانية بـ (ما)؟
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

হে আল্লাহ, আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাকে উপকৃত করুন এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।

অতপর:

এটা সুবিদিত যে, (নাহু) শাস্ত্র প্রধানত শব্দের শেষাংশ এবং তাতে সংঘটিত হওয়া ইরাব ও বিনা নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়াও এটি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন উল্লেখ করা, বিলোপ করা, আগে আনা, পরে নেওয়া এবং কিছু অভিব্যক্তির ব্যাখ্যা প্রদান নিয়ে আলোচনা করে; তবে এটি ইরাবের প্রতিই সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে থাকে।

আরও অনেক নাহু সংক্রান্ত বিষয় ও মাসআলা রয়েছে, যা বৈয়াকরণদের আলোচিত বিষয়গুলোর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর চেয়েও অধিক গুরুত্ববহ; অথচ সেগুলো এখনও গবেষণার বাইরে রয়ে গেছে। আলেমগণ সেগুলো নিয়ে পড়াশোনা বা দৃষ্টিপাত করেননি।

এই দাবিতে আমাকে হয়তো অতিশয়োক্তি পোষণকারী মনে হতে পারে, কিন্তু এই দাবিটি বাস্তব সত্য। আমরা অনেক নাহু সংক্রান্ত অভিব্যক্তির মর্ম অনুধাবন বা তার ব্যাখ্যা প্রদানে অক্ষম এবং এগুলোর অর্থের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারি না। উদাহরণস্বরূপ:

আপনার কথা: (ঘরে কোনো পুরুষ নেই - ফাতাহ বা যবর সহ) এবং (ঘরে কোনো পুরুষই নেই) - এই দুইয়ের অর্থের মধ্যে পার্থক্য কী? অথচ উভয় বাক্যই সামগ্রিকভাবে লিঙ্গবাচক না-বোধক অর্থ প্রকাশ করছে?

মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই} এবং তাঁর বাণী: {আর আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই}- কেন প্রথম বাক্যটি 'লা' দ্বারা এবং দ্বিতীয়টি 'মা' দ্বারা না-বোধক করা হলো?

আপনার কথা (মুহাম্মদ উপস্থিত নন - লাইসা যোগে), (মুহাম্মদ উপস্থিত নন - মা যোগে) এবং (মুহাম্মদ উপস্থিত নন - ইন যোগে) - এই তিনের অর্থের মধ্যে পার্থক্য কী? আমি অর্থের পার্থক্যের কথা বলছি, ব্যাকরণিক কাঠামোর (ইরাব) নয়।

মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি তোমাদের উপর কর্মবিধায়ক নই} এবং তাঁর বাণী: {আর আমি তোমাদের উপর কর্মবিধায়ক নই}- কেন প্রথম বাক্যটি 'লাইসা' দ্বারা এবং দ্বিতীয়টি 'মা' দ্বারা না-বোধক করা হলো?
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৬)
ما الفرق بين قوله تعالى: {وما أنا إلا نذير مبين} وقوله: {إن أنا إلا نذير مبين} لماذا نفى العبارة الأولى بـ (ما) والثانية بـ (إن)؟

أهو لمجرد التغيير في التعبير، أم هو لمعنى مقصود؟

ما الفرق بين التعليل باللام، وكي؟ أهناك فرق في المعنى بين قولك (جئت لاستفيد) و (جئت كي استفيد) أم هما بمعنى واحد؟

قال تعالى: {فرددناه إلى أمه كي تقر عينها ولا تحزن ولتعلم أن وعد الله حق} [القصص: 13] فجاء بالتعليل الأول بكي (كي تقر) والثاني باللام (لتعلم) فلم كان ذاك؟

أهذا التغيير لمعنى مقصود أم هو لمجرد التغيير؟

ثم ما الفرق بين أنواع التعليل المختلفة؟

هناك تعليل باللام مثل {ولا يزالون مختلفين إلا من رحم ربك ولذلك خلقهم} [هود: 118 - 119].

وتعليل بالباء مثل: {ولهم عذاب أليم بما كانوا يكذبون} [البقرة: 10].

وتعليل بمن مثل: {ولا تقتلوا أولادكم من إملاق} [الأنعام: 151].

وتعليل بفي مثل: {لمسكم في ما أفضتم فيه عذاب عظيم} [النور: 14].

وتعليل بعن كقوله تعالى: {وما كان استغفار إبراهيم لأبيه إلا عن موعده وعدها إياه} [التوبة: 114].

وتعليل بعلى كقوله تعالى: {ولتكبروا الله على ما هداكم} [البقرة: 185].

فهل التعليل بهذه الأدوات المختلفة واحد؟

هل هناك فرق في المعنى بين (مع)، و (واو) المعية، في نحو قولك: " جئت مع محمد" و " جئت ومحمدا"؟

ما الفرق في المعنى، بين " واو" رب، في نحو قوله:
মহান আল্লাহর বাণী: "আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী বৈ নই" এবং তাঁর বাণী: "আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী বৈ নই" এর মধ্যে পার্থক্য কী? কেন তিনি প্রথম বাক্যাংশটি 'মা' দ্বারা এবং দ্বিতীয়টি 'ইন' দ্বারা না-বোধক করেছেন?

এটি কি কেবল প্রকাশভঙ্গির পরিবর্তনের জন্য, নাকি এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে?

'লাম' এবং 'কাই' দ্বারা কারণ দর্শানোর (তা'লিল) মধ্যে পার্থক্য কী? "আমি এসেছি যাতে আমি উপকৃত হতে পারি" (লাম ব্যবহার করে) এবং "আমি এসেছি যাতে আমি উপকৃত হতে পারি" (কাই ব্যবহার করে)- এই দুই কথার মধ্যে কি অর্থের কোনো পার্থক্য আছে নাকি তারা একই অর্থ বহন করে?

মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখিত না হয় এবং যাতে সে জানতে পারে যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য" [আল-কাসাস: ১৩]। এখানে প্রথম কারণটি 'কাই' (যাতে চোখ জুড়ায়) দ্বারা এবং দ্বিতীয়টি 'লাম' (যাতে সে জানতে পারে) দ্বারা এসেছে, এর কারণ কী?

এই পরিবর্তন কি কোনো নির্দিষ্ট অর্থের জন্য নাকি কেবল পরিবর্তনের খাতিরে পরিবর্তন?

অতঃপর কারণ দর্শানোর বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পার্থক্য কী?

'লাম' দ্বারা কারণ দর্শানো রয়েছে যেমন: "আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে, তবে যাদের ওপর তোমার রব দয়া করেছেন তারা ছাড়া। আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।" [হুদ: ১১৮-১১৯]।

'বা' দ্বারা কারণ দর্শানো রয়েছে যেমন: "আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি কারণ তারা মিথ্যা বলত।" [আল-বাকারাহ: ১০]।

'মিন' দ্বারা কারণ দর্শানো রয়েছে যেমন: "আর অভাবের কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না।" [আল-আনআম: ১৫১]।

'ফি' দ্বারা কারণ দর্শানো রয়েছে যেমন: "তোমরা যে বিষয়ে লিপ্ত হয়েছিলে তার কারণে তোমাদের ওপর মহা শাস্তি আপতিত হতো।" [আন-নূর: ১৪]।

'আন' দ্বারা কারণ দর্শানো রয়েছে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর ইবরাহীমের তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা তো ছিল কেবল সেই ওয়াদার কারণে যা সে তাকে দিয়েছিল।" [আত-তাওবাহ: ১১৪]।

'আলা' দ্বারা কারণ দর্শানো রয়েছে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর যেন তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো এই কারণে যে, তিনি তোমাদের হিদায়াত দান করেছেন।" [আল-বাকারাহ: ১৮৫]।

তাহলে এই বিভিন্ন অব্যয় দ্বারা কারণ দর্শানো কি একই?

"আমি মুহাম্মাদের সাথে এসেছি" এবং "আমি মুহাম্মাদের সাথে এসেছি" (সহগামী ওয়াও যোগে) - এই জাতীয় বাক্যে 'মা'আ' এবং 'সহগামী ওয়াও'-এর অর্থের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?

'রুব্বা' এর 'ওয়াও' এর অর্থের পার্থক্য কী, যেমন তাঁর কথা:
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৭)
وليل كأن الصبح في اخرياته … حشاشة نصل ضم إفرنده غمد

وقوله:

رب ليل كأنه الصبح في الحسـ … ن وإن كان اسود الطيلسان

ما الغرض من الاتيان بواو الحال في نحو قوله: (جاء محمد وبيده حقيبة)؟

وما الفرق بين ذكرها وحذفها؟

ما الفرق في المعنى بين قولك، إن تسهر تتعب، إن تسهر تعبت، إن سهرت تعبت، إن سهرت تتعب (بالجزم)، إن سهرت تتعب (بالرفع) إن سهرت فتتعب، إن سهرت فأنت تتعب، إن أنت سهرت تعبت، أنت إن سهرت تعبت، أنت تتعب إن سهرت؟

ما الفرق في المعنى بين قولك:

عندي سوار ذهب - بالاضافة.

وعندي سوار ذهبا.

وعندي سوار ذهب - بالاتباع

وعندي سوار من ذهب

وعندي سوار من الذهب؟

ما الفرق بين قولك (جئت إكرما لك) و (جئت لاكرام لك)؟ إن النحاة يقولون: كلاهما جائز ونحن نقول: نعم كلاهما جائز، ولكن هل ثمة فرق بينهما في المعنى؟

وغير ذلك وغيره، مما لايخص موضوعا دون موضوع بل هو يعم جميع الموضوعات النحوية بلا استثناء. فهناك في كل موضوع سؤالات أكثر مما ذكرت لا تزال بها حاجة إلى الإجابة عنها.
আর এমন এক রাত যেন তার শেষভাগে প্রভাত প্রকাশিত ... তরবারির ফলার সেই অবশিষ্ট অংশ যাকে তার খাপের চাকচিক্য ঢেকে রেখেছে।

এবং তাঁর উক্তি:

এমন অনেক রাত রয়েছে যা সৌন্দর্যের দিক থেকে প্রভাতের ন্যায়, ... যদিও তার চাদরটি ছিল কৃষ্ণবর্ণ।

"মুহাম্মদ এসেছে এমতাবস্থায় যে তার হাতে একটি ব্যাগ ছিল" - এই জাতীয় বাক্যে 'ওয়াও আল-হাল' (অবস্থা জ্ঞাপক ওয়াও) ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?

এবং এটি উল্লেখ করা ও বর্জন করার মধ্যে পার্থক্য কী?

আপনার এই উক্তিগুলোর মাঝে অর্থের পার্থক্য কী: "যদি তুমি রাত জাগো তবে তুমি ক্লান্ত হবে", "যদি তুমি রাত জাগো তবে তুমি ক্লান্ত হয়েছিলে", "যদি তুমি রাত জেগেছিলে তবে তুমি ক্লান্ত হয়েছিলে", "যদি তুমি রাত জেগেছিলে তবে তুমি ক্লান্ত হবে (জজম সহকারে)", "যদি তুমি রাত জেগেছিলে তবে তুমি ক্লান্ত হও (রাফা সহকারে)", "যদি তুমি রাত জেগেছিলে তবে তুমি ক্লান্ত হবেই", "যদি তুমি রাত জেগেছিলে তবে তুমিই ক্লান্ত হবে", "যদি তুমিই রাত জেগেছিলে তবে তুমি ক্লান্ত হয়েছিলে", "তুমি, যদি রাত জাগো তবে ক্লান্ত হবে", "তুমি ক্লান্ত হবে যদি তুমি রাত জাগো"?

আপনার এই উক্তিগুলোর মাঝে অর্থের পার্থক্য কী:

আমার নিকট একটি স্বর্ণের চুড়ি আছে - ইজাফাত (সম্বন্ধ) সহযোগে।

আমার নিকট একটি স্বর্ণের চুড়ি আছে (স্বর্ণ হিসেবে)।

আমার নিকট একটি স্বর্ণের চুড়ি আছে - ইত্তিবা (অনুসরণ) সহযোগে।

আমার নিকট স্বর্ণের তৈরি একটি চুড়ি আছে।

আমার নিকট (সেই নির্দিষ্ট) স্বর্ণের তৈরি একটি চুড়ি আছে?

"আমি আপনার সম্মানে এসেছি" এবং "আমি এসেছি আপনার সম্মানের জন্য" - এই দুই বাক্যের মাঝে পার্থক্য কী? নিশ্চয়ই ব্যাকরণবিদগণ বলেন: উভয়ই বৈধ। আর আমরা বলি: হ্যাঁ, উভয়ই বৈধ, কিন্তু এই দুইয়ের মাঝে কি অর্থের কোনো পার্থক্য বিদ্যমান?

এছাড়া আরও অন্যান্য বিষয়, যা কেবল একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং তা ব্যতিক্রমহীনভাবে ব্যাকরণের সকল বিষয়কে শামিল করে। প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে আমার উল্লিখিত প্রশ্নের চেয়েও অনেক বেশি প্রশ্ন রয়েছে, যেগুলোর উত্তর প্রদানের আবশ্যকতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৮)
ربما لا أكون مغاليا إذا قلت نحن لا نفهم اللغة كما ينبغي لأن أكثر دراستنا تتعلق بالعلاقات الظاهرة بين الكلمات أما المعنى فهو بعيد عن تناولنا وفهمنا. بل ربما لا أكون مغالبا إذا قلت أننا نجهل أكثر مما نعلم فيما نحسب أننا نعلم.

ومن هنا محتاجون إلى (فقه) للنحو يصل إلى درجة الضرورة. صحيح أن قسما من المسائل المتعلقة بالمعنى عرض لها علم النحو، وعلم البلاغة، لكن لا يزال كثير منها دون نظر. ومن ذلك على سبيل المثال، ما عرضته قبل قليل، فإن أكثر هذه المسائل لم تبحث لا في كتب النحو، ولا في كتب البلاغة، ولا في غيرها من كتب اللغة، في حدود ما أعلم.

قد تكون هناك شذرات، أو عبارات متناثرة، وردت عرضا في كتاب تفسير، أو في بحث اعجاز، أو في كتاب أدب، ولكن أكثر هذه المسائل بقيت بلا جواب.

أن دراسة النحو على أساس المعنى، علاوة على كونها ضرورة فوق كل ضرورة، تعطي هذا الموضوع نداوة وطراوة، وتكسبه جدة وطرافة، بخلاف ما هو عليه الآن من جفاف وقسوة.

إن الدارس له على هذا النهج، يشعر بلذة عظيمة وهو ينظر في التعبيرات ودلالتها المعنوية، ويشعر باعتزاز، بانتسابه إلى هذه اللغة الفنية، الثرية، الحافلة بالمعاني الدقيقة الجميلة، ثم هو بعد ذلك يحرص على هذه اللغة الدافقة بالحيوية، وهو وراء كل ذلك يحاول تطبيق هذه الأوجه في كلامه، ويشعر بمتعة في هذا التطبيق.

أن الجهل بالمعنى أدى إلى أن تختفي، وتموت ظواهر لغوية كانت شائعة مستعملة ومن ذلك على سبيل المثال، ظاهرة " القطع" الجميلة الدلالة، والتي كانت شائعة شيوعا كبيرا في الشعر، والنثر، في القرآن وغيره، وذلك نحو قولك" مررت بمحمد الكريم أو الكريم " واكتفى بالاتباع، علما بأن دلالة القطع، تختلف عن دلالة الاتباع، وإن دلالة القطع إلى الرفع تختلف عن دلالة القطع إلى النصب.
সম্ভবত আমি অতিশয়োক্তি করছি না যদি বলি যে, আমরা ভাষাকে সেভাবে বুঝি না যেভাবে বোঝা উচিত; কারণ আমাদের অধিকাংশ অধ্যয়ন শব্দের বাহ্যিক সম্পর্কসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর অর্থ আমাদের নাগাল ও বোধগম্যতার বাইরে রয়ে গেছে। বরং সম্ভবত আমি বাড়িয়ে বলছি না যদি বলি যে, আমরা যা জানি বলে মনে করি, তার চেয়ে বেশি বিষয়ে আমরা অজ্ঞ।

আর এখান থেকেই নাহুর (ব্যাকরণ) এমন এক 'ফিকহ' বা গভীর প্রজ্ঞার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে যা অপরিহার্যতার স্তরে পৌঁছেছে। এটি সত্য যে, অর্থ সংক্রান্ত বিষয়াবলির একটি অংশ নাহু শাস্ত্র ও বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) শাস্ত্রে আলোচিত হয়েছে, কিন্তু তবুও এর অনেক বিষয়ই এখনও পর্যালোচনার বাইরে রয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, আমি কিছুক্ষণ আগে যা উপস্থাপন করেছি; আমার জানামতে এ সকল বিষয়ের অধিকাংশ না নাহুর কিতাবসমূহে, না বালাগাতের কিতাবসমূহে, আর না অন্য কোনো ভাষাতাত্ত্বিক কিতাবে আলোচিত হয়েছে।

হতে পারে তাফসীর গ্রন্থে, ইজায (অলৌকিকত্ব) বিষয়ক গবেষণায় অথবা সাহিত্যের কিতাবে বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্ধৃতি বা বিক্ষিপ্ত কিছু বাক্য প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে, কিন্তু এই বিষয়গুলোর অধিকাংশই উত্তরহীন রয়ে গেছে।

অর্থের ভিত্তিতে নাহু চর্চা করা সব প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে একটি অপরিহার্য বিষয় হওয়ার পাশাপাশি এই বিষয়টিকে সজীবতা ও স্নিগ্ধতা দান করে এবং একে নতুনত্ব ও চমৎকারিত্ব প্রদান করে; বর্তমানে এটি যে শুষ্কতা ও কঠোরতার ওপর রয়েছে তার বিপরীতে।

যে ব্যক্তি এই পদ্ধতিতে এটি অধ্যয়ন করবে, সে বিভিন্ন অভিব্যক্তি ও সেগুলোর অর্থগত তাৎপর্য লক্ষ্য করার সময় এক মহান তৃপ্তি অনুভব করবে। এই শৈল্পিক, সমৃদ্ধ এবং সূক্ষ্ম ও সুন্দর অর্থে পরিপূর্ণ ভাষার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার জন্য সে গর্ব অনুভব করবে। অতঃপর সে এই প্রাণবন্ত ভাষার প্রতি যত্নশীল হবে এবং এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে সে তার কথাবার্তায় এই দিকগুলো প্রয়োগ করার চেষ্টা করবে এবং এই প্রয়োগে আনন্দ অনুভব করবে।

অর্থের প্রতি অজ্ঞতা এমন কিছু ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত ও মৃত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যা একসময় ব্যাপকভাবে প্রচলিত ও ব্যবহৃত ছিল। উদাহরণস্বরূপ, 'আল-কাত' (বিচ্ছিন্নকরণ) নামক চমৎকার অর্থবহ বৈশিষ্ট্যটির কথা বলা যায়, যা কবিতা, গদ্য, কুরআন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হতো। যেমন আপনার বলা: "মারারতু বি-মুহাম্মাদিনিল কারীমু" অথবা "কারীমা", অথচ বর্তমানে কেবল 'ইত্তিবা' (পূর্ববর্তী শব্দের ব্যাকরণিক অনুসরণ)-এর ওপরই নির্ভর করা হয়। অথচ 'কাত'-এর তাৎপর্য 'ইত্তিবা'-এর তাৎপর্য থেকে ভিন্ন, এবং 'রফ' (পেশ)-এর দিকে 'কাত' করার তাৎপর্য 'নসব' (যবর)-এর দিকে 'কাত' করার তাৎপর্য থেকে ভিন্ন।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৯)
إن الأوجه النحوية ليست مجرد استكثار من تعبيرات لا طائل تحتها، كما يتصور بعضهم، وإن جوزا أكثر من وجه تعبيري ليس معناه أن هذه الأوجه ذات دلالة معنوية واحدة، وإن لك الحق أن تستعمل أيها تشاء كما تشاء وإنما لكل وجه دلالته فإذا أردت معنى ما لزمك إن تستعمل التعبير الذي يؤديه، ولا يمكن أن يؤدي تعبيران مختلفان معنى واحدا، إلا إذا كان ذلك لغة، نحو قولك" ما محمد حاضرا" و " ما محمد حاضر" فالأولى لغة حجازية، والثانية تميمية، ولا يترتب على هذا اختلاف في المعنى.

وفيما عدا ذلك لابد أن يكون لكل تعبير معنى، إذ كل عدول من تعبير إلى تعبير، لابد أن يصحبه عدول من معنى إلى معنى، بالأوجه التعبيرية المتعددة، إنما هي صور لأوجه معنوية متعددة.

إن هذا الكتاب محاولة في فقه النحو على النهج الذي اسلفته، إنه محاولة للتمييز بين التراكيب المختلفة وشرح معنى كل تركيب.

فهو إذن يدور على المعنى أساسا وبناء. وموضوع المعنى موضوع جليل، وحسبك من جلالته أن اللغة ما وجدت إلا للافصاح عنه.

إن تأليف أي كتاب في النحو، أيسر من موضوع هذا الكتاب بكثير، وذلك لأن الأحكام النحوية مذكورة مبينة في كتب النحو لا تكلفك إلا استخراجها، وجمعها في كتاب واحد على حسب الخطة التي تريدها.

وأما هذا الموضوع فليس الأمر فيه أمر جمع أحكام نحوية، ولا ذكر قواعد مبينة، وإنما هو تفسير للجملة العربية، وتبيين لمعاني التراكيب المختلفة، مما لا تجلو أغلبه في كتب النحو، وقد تفزع إلى كتب البلاغة والتفسير وغيرها من المظان، فلا تجد شيئا مما تريد.

فلابد من أن تضطلع بهذه المهمة أنت بنفسك تنظر في النصوص، وتدقق في الصور التعبيرية المختلفة، لاستباط المعاني للتعبيرات المختلفة، لقد أمضيت في هذا البحث أكثر من عشرة أعوام، وكان شغلى الشاغل في الليل والنهار أتأمل النصوص،
ব্যাকরণিক রূপসমূহ নিছক নিরর্থক অভিব্যক্তির বাহুল্য মাত্র নয়, যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করে থাকেন। যদি একাধিক অভিব্যক্তির রূপের সুযোগ থাকে, তার অর্থ এই নয় যে এই রূপগুলোর অর্থগত তাৎপর্য অভিন্ন এবং আপনি আপনার ইচ্ছামতো যা খুশি ব্যবহার করতে পারেন। বরং প্রতিটি রূপের নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে। আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করতে চান, তবে আপনাকে সেই অভিব্যক্তিটিই ব্যবহার করতে হবে যা তা যথাযথভাবে তুলে ধরে। দুটি ভিন্ন অভিব্যক্তি একই অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, যদি না বিষয়টি বিশুদ্ধ ভাষাগত বৈচিত্র্যের হয়; যেমন আপনার উক্তি: "মা মুহাম্মাদুন হাদিরান" এবং "মা মুহাম্মাদুন হাদিরুন"। প্রথমটি হিজাজি রীতি এবং দ্বিতীয়টি তামিমি রীতি; এতে অর্থের কোনো তারতম্য ঘটে না।

এছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে প্রতিটি অভিব্যক্তির একটি স্বতন্ত্র অর্থ থাকা আবশ্যক। কেননা এক অভিব্যক্তি থেকে অন্য অভিব্যক্তিতে বিচ্যুতি বা রূপান্তরের সাথে সাথে অবশ্যই অর্থের পরিবর্তন ঘটা অনিবার্য। বিভিন্ন অভিব্যক্তির রূপ মূলত বহুবিধ অর্থগত রূপের প্রতিচ্ছবি মাত্র।

এই গ্রন্থটি আমার ইতিপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতির আলোকে 'ফিকহুন নাহু' (ব্যাকরণের প্রজ্ঞা) সংক্রান্ত একটি প্রচেষ্টা। এটি বিভিন্ন গঠনরীতির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ এবং প্রতিটি কাঠামোর অর্থ বিশ্লেষণের একটি প্রয়াস।

সুতরাং এটি মূলত অর্থকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত এবং নির্মিত। অর্থের বিষয়টি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এর মর্যাদা বুঝার জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট যে, ভাষা কেবল অর্থ প্রকাশের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যাকরণ শাস্ত্রের যেকোনো গ্রন্থ রচনা করা এই গ্রন্থের বিষয়ের তুলনায় অনেক বেশি সহজ। কারণ ব্যাকরণিক বিধানসমূহ বিভিন্ন গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে, যেখানে আপনার কাজ কেবল সেগুলো আপনার প্রয়োজন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী খুঁজে বের করা এবং একটি গ্রন্থে একত্রিত করা।

কিন্তু বর্তমান বিষয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যাকরণিক বিধান সংগ্রহ বা স্পষ্ট নিয়মনীতি উল্লেখ করার মতো নয়। বরং এটি আরবি বাক্যের ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন গঠনরীতির অর্থ স্পষ্ট করার বিষয়, যার অধিকাংশ বিষয় আপনি ব্যাকরণ গ্রন্থগুলোতে স্পষ্টভাবে পাবেন না। এমনকি আপনি হয়তো অলঙ্কারশাস্ত্র, তাফসির কিংবা অন্যান্য সম্ভাব্য উৎসের কাছে ধরণা দেবেন, কিন্তু আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয় সেখানে খুঁজে পাবেন না।

ফলে আপনাকে নিজেকেই এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে, মূল পাঠ্যসমূহের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে এবং বিভিন্ন অভিব্যক্তির অন্তর্নিহিত অর্থ উদঘাটনের জন্য প্রকাশের বিচিত্র রূপগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আমি এই গবেষণায় দশ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেছি এবং দিবা-রাত্রি আমার ধ্যান-জ্ঞান ছিল কেবল এই পাঠ্যসমূহ নিয়ে চিন্তা করা।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১০)
وأديم النظر فيها، وأوازن بينها، وأدقق فيما تحتمله من معان، وكان القرآن الكريم هو المصدر الأول لهذا البحث، أفهرس آياته بحسب الموضوعات، وانظر في الفروق التعبيرية، وفي السياق الذي ورد فيه كل تعبير، إضافة إلى المظان الأخرى من كتب النحو، والبلاغة، واللغة، والتفسير، وعلوم القرآن وغيرها.

وأنا لا أدعي، أني وصلت إلى أمور نهائية في كل ما بحثت، وإنما هي - كما ذكرت - محاولة للسير في هذا الطريق فإن أكن قد أصبت فمن الله، وإن أكن قد أخطأت، فمن النفس والشيطان، وأرجو ألا أحرم أجر المجتهدين في الحالتين. نسأل الله أن يلهمنا الرشد ويجنبنا الزلل، ويهدينا إلى الخير كله، ويعصمنا من الشر كله، إنه سميع مجيب.

فاضل السامرائي
আমি এতে নিরবচ্ছিন্নভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছি, সেগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছি এবং সেগুলোর সম্ভাব্য অর্থসমূহ সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। পবিত্র কুরআনই ছিল এই গবেষণার প্রধান উৎস; আমি এর আয়াতসমূহকে বিষয়ভিত্তিক সূচিবদ্ধ করেছি এবং শব্দশৈলীর বৈচিত্র্য ও প্রতিটি বর্ণনা যে প্রেক্ষাপটে এসেছে তা লক্ষ্য করেছি। এর পাশাপাশি ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, ভাষাতত্ত্ব, তাফসির, উলূমুল কুরআন এবং অন্যান্য মৌলিক গ্রন্থসমূহের সহায়তা নিয়েছি।

আমি এই দাবি করি না যে, আমার গবেষণালব্ধ সকল বিষয়ে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি; বরং এটি—যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি—এই পথে চলার একটি প্রচেষ্টা মাত্র। সুতরাং যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে থাকি তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি আমি ভুল করে থাকি তবে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আমি আশা করি যে উভয় অবস্থাতেই আমি মুজতাহিদদের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হব না। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সঠিক পথের অনুপ্রেরণা দান করেন, পদস্খলন থেকে দূরে রাখেন, আমাদের সকল কল্যাণের দিকে পরিচালিত করেন এবং সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

ফাদিল আস-সামাররাঈ
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الجملة العربية

‌‌عناصر الجملة العربية:

تتألف الجملة العربية من عناصر وأبرز هذه العناصر هي:

1 - المفردة: ونعني بها الكلمة مثل أسد، سيف، شجرة.

2 - البناء الصرفي: (الصيغة) كأسماء الفاعلين، والمفعولين، والمبالغة، واختلاف الجموع للاسم الواحد، وغير ذلك مثل طاعن، ومطعان وطعان، وحمق، وأحمق، وسائد وسيد، وسنبلات وسنابل، وأشهر وشهور ونحو ذلك.

وكل صيغة - في الغالب - لها دلالة تختلف عن أختها قليلا، أو كثيرا، وكما أنهم قالوا: " زيادة المباني دليل على زيادة المعاني" نرى أن " اختلاف المباني دليل على اختلاف المعاني"

3 - التأليف بنوعيه:

أ - التأليف الجزئي: نحو رغب إلى، رغب في، رغب عن، فرغب إليه بمعنى تضرع إليه وابتهل، ورغب فيه أراده واستحبه، ورغب عنه عزف ومال عنه.

ب - التأليف التام: كالتقديم، والتأخير، والذكر، والحذف، والتوكيد، وعدمه، وما إلى ذلك نحو: زيد قائم وقائم زيد والقائم زيد وإن زيدًا قائم وما إلى ذلك.

4 - النغمة الصوتية: وهي ذات دلالة على معنى - فالجملة الواحدة قد يختلف معناها باختلاف النغمة كأن تقول: " زيد عند مال " وتشد صوتك على " مال" وتفخم الصوت فيه فيكون المعنى، أنه ذو مال كثير أو متعدد ونحو ذلك. وتقول: " عنده مال " وترقق الصوت وتكسره فيكون معناها أنه ذو مال قليل، لا يعتد به ونحو ذلك. قال أبو الفتح عثمان بن جني: " وذلك أنك تحس في كلام القائل لذلك من التطويح، والتطريح،
আরবি বাক্য

আরবি বাক্যের উপাদানসমূহ:

আরবি বাক্য কতগুলো উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত এবং এগুলোর মধ্যে প্রধান উপাদানগুলো হলো:

১ - একক শব্দ: এটি দ্বারা আমরা শব্দকে বুঝিয়ে থাকি, যেমন: সিংহ, তলোয়ার, বৃক্ষ।

২ - রূপতাত্ত্বিক গঠন: (শব্দরূপ) যেমন কর্তৃবাচক বিশেষ্য, কর্মবাচক বিশেষ্য, অতিশয়োক্তিবাচক রূপ, একই বিশেষ্যের বিভিন্ন বহুবচন এবং অন্যান্য; যেমন: আক্রমণকারী, অতি-আক্রমণকারী ও আক্রমণাত্মক, মূর্খতা ও অতি মূর্খ, নেতা ও সর্দার, শিষসমূহ ও অনেক শিষ, মাসসমূহ ও বহু মাস ইত্যাদি।

আর প্রতিটি রূপের—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—এমন অর্থ থাকে যা তার সমগোত্রীয় রূপ থেকে কিছুটা বা অনেকখানি ভিন্ন হয়। যেমন ভাষাবিদগণ বলেছেন: "শব্দ কাঠামোর বৃদ্ধি অর্থের আধিক্যের প্রমাণ," তেমনি আমরা মনে করি যে "শব্দ কাঠামোর ভিন্নতা অর্থের ভিন্নতার প্রমাণ"।

৩ - বিন্যাস ও তার প্রকারভেদ:

ক - আংশিক বিন্যাস: যেমন 'রগিব ইলা' (অনুরাগ হওয়া), 'রগিব ফী' (আগ্রহী হওয়া), 'রগিব আন' (বিমুখ হওয়া); এখানে 'রগিব ইলাইহি' অর্থ হলো তার নিকট অনুনয়-বিনয় ও প্রার্থনা করা, 'রগিব ফীহি' অর্থ হলো তা পেতে চাওয়া ও পছন্দ করা, এবং 'রগিব আনহু' অর্থ হলো তা থেকে বিমুখ হওয়া ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।

খ - পূর্ণাঙ্গ বিন্যাস: যেমন শব্দের অগ্রায়ন (তাকদীম), পশ্চাৎায়ন (তাখীর), উল্লেখ করা, উহ্য রাখা (হাজফ), গুরুত্ব প্রদান (তাওকীদ) বা না করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। যেমন: যায়েদ দণ্ডায়মান, দণ্ডায়মান যায়েদ, দণ্ডায়মান ব্যক্তিটিই যায়েদ, নিশ্চয়ই যায়েদ দণ্ডায়মান ইত্যাদি।

৪ - স্বরভঙ্গি: এটি অর্থের দিকনির্দেশক—ফলে একই বাক্যের অর্থ স্বরভঙ্গির ভিন্নতার কারণে ভিন্ন হতে পারে। যেমন আপনি যদি বলেন: "যায়েদের নিকট সম্পদ আছে" এবং "সম্পদ" শব্দের ওপর জোর দেন ও আওয়াজকে গম্ভীর করেন, তবে এর অর্থ হবে তার নিকট প্রচুর বা বহুবিধ সম্পদ আছে। আবার যদি আপনি বলেন: "তার নিকট সম্পদ আছে" এবং আওয়াজকে কোমল ও নিচু করেন, তবে এর অর্থ হবে তার নিকট সামান্য সম্পদ আছে, যা উল্লেখযোগ্য নয়। আবুল ফাতহ উসমান ইবনে জিননি বলেন: "আর এটি এ কারণে যে, আপনি বক্তার কথায় স্বরক্ষেপণ ও শৈল্পিক প্রসারণের অনুভূতি লাভ করেন..."
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১২)
والتفخيم، والتعظيم، ما يقوم مقام قوله (طويل) أو نحو ذلك. وأنت تحسن هذا من نفسك إذا تأملته وذلك أن تكون في مدح إنسان والثناء عليه فتقول: كان والله رجلا، فتزيد في قوة اللفظ بـ " الله " هذه الكلمة، وتتمكن في تمطيط اللام، وإطالة الصوت بها وعليها، أي رجلا فاضلا، أو شجاعا أو كريما ونحو ذلك.

وكذلك تقول: سألناه فوجدناه إنسانًا، وتمكن الصوت بـ " إنسان " وتفخمه فتستغني بذلك عن وصفه بقوله: إنسانا سمحا، أو جوادا ونحو ذلك. وكذلك إن ذممته ووصفته بالضيق قلت: سألناه وكان إنسانا وتزوي وجهك وتقطبه فيغني ذلك عن قولك: إنسانا لئيما، أو لحزا أو مبخلا أو نحو ذلك" (1).

"وقد برهنت التجارب الحديثة على أن الإنسان حين ينطق بلغته، لا يتبع درجة صوتية واحدة في النطق بجميع الأصوات. ومن اللغات ما يجعل لاختلاف درجة الصوت أهمية كبيرة، إذ تختلف فيها معاني الكلمات تبعا لاختلاف درجة الصوت حين النطق بها. ومن أشهر هذه اللغات اللغة الصينية إذ قد تؤدي فيها الكلمة الواحدة عدة معنا، ويتوقف كل معنى من هذه المعاني على درجة الصوت حين النطق بالكلمة. ففي اللغة الصينية كلمة (فان) مثلا تؤدي ستة معان لا علاقة بينها هي (نوم، يحرق، شجاع، واجب، نعم، مسحوق) وليس هناك من فرق سوى النغمة الموسيقية في كل حالة" (2).

5 - التطور التاريخي للدلالة: فدلالات التعبير الواحد قد تتغير والمعاني قد تتحول وربما كان من الصعوبة معرفة الأصل للدلالة وذلك نحو قولهم " رفع عقيرته"، بمعنى صاح، إذ ليس هناك من علاقة لغوية بين " رفع عقيرته" و " صاح" " فلو ذهبت تشتق هذا بأن تجمع معنى الصوت وبين معنى" ع ق ر " لبعد عنك وتعسفت. وأصله أن رجلا قطعت إحدى رجليه فرفعها ووضعها على الأخرى ثم صرخ بأرفع صوته فقال الناس: رفع عقيرته" (3).

--------------------------------------------

(1) الخصائص: (3/ 370 - 371)

(2) الأصوات اللغوية، لإبراهيم أنيس: (103)

(3) الخصائص: (1/ 166)
গৌরবমন্ডিত করা ও মহিমান্বিত করা এমন একটি বিষয় যা ‘দীর্ঘ’ বা এই জাতীয় শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয়। যখন আপনি কোনো মানুষের প্রশংসা ও গুণগান করেন, তখন আপনি এটি নিজেই উপলব্ধি করতে পারেন। যেমন আপনি বলেন: ‘আল্লাহর কসম, তিনি একজন পুরুষ ছিলেন।’ তখন আপনি ‘আল্লাহ’ শব্দটির মাধ্যমে উচ্চারণের শক্তি বৃদ্ধি করেন এবং ‘লাম’ অক্ষরটিকে প্রলম্বিত করেন ও তাতে সুর দীর্ঘায়িত করেন। এর অর্থ হলো—একজন গুণী পুরুষ, অথবা একজন সাহসী বা দানশীল ব্যক্তি বা এই জাতীয় কিছু।

তেমনিভাবে আপনি বলেন: ‘আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তাকে একজন মানুষ হিসেবে পেলাম।’ এখানে ‘মানুষ’ শব্দটিতে আপনি স্বর প্রক্ষেপণ করেন এবং শব্দটিকে গাম্ভীর্যপূর্ণ করেন। ফলে আপনি তাকে ‘উদার মানুষ’ বা ‘দানবীর’ বা এই জাতীয় গুণাবলীতে বিশেষিত করা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যান। একইভাবে আপনি যদি তার নিন্দা করেন এবং তাকে সংকীর্ণমনা হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে বলেন: ‘আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং সে ছিল একজন মানুষ (মাত্র)।’ তখন আপনি আপনার মুখমন্ডল কুঁচকাবেন এবং কপালে ভাঁজ ফেলবেন; যা আপনার এই কথা বলা থেকে বাঁচিয়ে দেবে যে—‘একজন নীচ মানুষ’ বা ‘কৃপণ’ বা ‘বখিল’ বা এই জাতীয় কিছু। (১)

“আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাসমূহ প্রমাণ করেছে যে, মানুষ যখন তার ভাষায় কথা বলে, তখন সে সমস্ত ধ্বনি উচ্চারণে একটি মাত্র স্বরস্তর অনুসরণ করে না। এমন কিছু ভাষা আছে যেখানে স্বরস্তরের ভিন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ সেখানে উচ্চারণের সময় স্বরস্তরের পরিবর্তনের সাথে সাথে শব্দের অর্থও পরিবর্তিত হয়ে যায়। এই ভাষাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো চীনা ভাষা। কারণ সেখানে একটি শব্দই একাধিক অর্থ প্রকাশ করতে পারে এবং এই অর্থগুলোর প্রতিটি নির্ভর করে শব্দটি উচ্চারণের সময়ের স্বরস্তরের ওপর। উদাহরণস্বরূপ, চীনা ভাষায় ‘ফান’ শব্দটি এমন ছয়টি অর্থ প্রদান করে যেগুলোর একটির সাথে অন্যটির কোনো সম্পর্ক নেই। সেগুলো হলো—(ঘুম, পোড়ানো, সাহসী, আবশ্যক, হ্যাঁ, চূর্ণ)। প্রতিটি ক্ষেত্রে সুরের ঝংকার ব্যতীত অন্য কোনো পার্থক্য নেই।” (২)

৫ - অর্থের ঐতিহাসিক বিবর্তন: একটি বাচভঙ্গির অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে এবং ভাবধারাও বদলে যেতে পারে। কোনো অর্থের মূল উৎস খুঁজে বের করা হয়তো কঠিন হতে পারে। যেমন আরবদের প্রবাদ: ‘সে তার কাটা পা তুলেছে’, যার অর্থ হলো—সে চিৎকার করেছে। অথচ ‘পা তোলা’ এবং ‘চিৎকার করা’র মধ্যে কোনো ভাষাগত সম্পর্ক নেই। আপনি যদি এই শব্দের ব্যুৎপত্তি খুঁজতে যান এবং ‘আওয়াজ’-এর অর্থের সাথে ‘কাটা’ বা ‘জখম’ করার অর্থের সমন্বয় করতে চান, তবে তা আপনার জন্য দুরূহ হবে এবং আপনাকে কষ্টকল্পনা করতে হবে। এর মূল উৎস হলো—এক ব্যক্তির একটি পা কেটে ফেলা হয়েছিল, তখন সে সেই পা-টি তুলে অন্য পায়ের ওপর রাখল এবং তার সর্বোচ্চ স্বরে চিৎকার করল। তখন মানুষ বলতে লাগল: ‘সে তার কাটা পা তুলেছে’ (অর্থাৎ সে চিৎকার করছে)।” (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-খাসাইস: (৩/ ৩৭০ - ৩৭১)

(২) আল-আসওয়াতুল লুগাউইয়্যাহ, ইব্রাহিম আনিস: (১০৩)

(৩) আল-খাসাইস: (১/ ১৬৬)
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
وكقولهم " لله دره" للدلالة على التعجب فنحن حين نقول: " لله دره كاتبا أو شاعرا" لا نريد المعنى المعجمي لهذه العبارة، بل ربما لم نفهم المعنى الأصلى لها. وقد اختلف اللغويون في أصل هذا التعبير وأشهر ما ذكر فيه، إن الدر هو اللبن، فمعنى قولهم " لله دره " إن الله سقاه لبنا خاصا. " أي ما أعجب هذا اللبن الذي نزل به مثل هذا الولد الكامل في هذه الصفة" (1).

بل ربما تكلم الناس بكلام لا يفهمون معناه ولا ألفاظه وإنما تعارفوا عليه، أو نقل من لغة أخرى، واختفى المعنى الدلالي واللغوي للأصل، فنحن في العراق نستعمل مثلا " قزل قرط" في التوبيخ، والغضب، والدعاء على المخاطب، ولكن الناس لا يفهمون القصد الحقيقي من هذا التعبير ولا معناه، وقد استفسرت من كثير من الناس عن معنى هذا التعبير الدارج فلم يعرفه منهم أحد (2).

ومن ذلك قولهم في الاستحسان وتحبيذ الأمر عَلُوّا الذي فيه معنى التمني، ولكن الأصل لهذا التعبير قد فقد، وأظن أن أصله ألا يا حبذا فاقتصر على ألا يا تخفيفا، ثم أبدلت العامة الهمزة عينا، كقولهم القرعان، في القرآن ثم قلبت يا إلى وا فتغير التعبير إلى ما ترى، ومثل هذا التغيير كثير في اللغة.

ونحو ذلك قولهم حي الله بمعنى أيا كان، تقول لصاحبك: ماذا تأخذ أهذا أم ذلك؟ فيجيبك حي الله أي: أيا كان، وبقيت مدة أفكر في أصل هذا التعبير وعلاقته بهذا المعنى، إلى أن استقر رأيي على أن أصله أيا كان ثم أي إللى كان ومعنى اللى الذي عند العامة وأحيانا نقول: هي اللى كان بإبدال الهمزة هاء ثم حذفت كان

--------------------------------------------

(1) التصريح: (1/ 397)

(2) ذكر أحد الفضلاء أن هذا التعبير دخل العامية العراقية من التركية وهو مركب من كلمتين:

1 - قيزيل وهي لفظة تركية ومعناها مرض الحمى القرمزية.

2 - كورت وهي لفظة إيطالية الأصل دخلت اللغة التركية ومن معانيها القرين. فكأن الإنسان يدعو على مخاطبة بأن تلازمه الحمى القرمزية.
যেমন তাদের কথা "লিল্লাহি দাররুহু" (আল্লাহর জন্যই তার প্রাচুর্য) বিস্ময় প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। আমরা যখন বলি: "লেখক বা কবি হিসেবে আল্লাহর জন্যই তার প্রাচুর্য", তখন আমরা এই বাক্যাংশের আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য করি না, বরং সম্ভবত আমরা এর মূল অর্থটি বুঝতেও পারি না। ভাষাবিদগণ এই অভিব্যক্তির মূল উৎস সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, 'আদ-দার' শব্দের অর্থ হলো দুধ। সুতরাং তাদের "লিল্লাহি দাররুহু" বলার অর্থ হলো যে, আল্লাহ তাকে এক বিশেষ দুধ পান করিয়েছেন। অর্থাৎ "এই দুধ কতই না বিস্ময়কর, যা থেকে এই গুণের অধিকারী এমন একজন পূর্ণাঙ্গ সন্তান জন্মলাভ করেছে" (১)।

বরং মানুষ সম্ভবত এমন সব কথা বলে যার অর্থ বা শব্দাবলি তারা বোঝে না, বরং তারা এটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, অথবা এটি অন্য কোনো ভাষা থেকে এসেছে এবং মূলের ভাষাতাত্ত্বিক ও নির্দেশক অর্থটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা ইরাকে তিরস্কার, ক্রোধ এবং সম্বোধনকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বদদোয়ার ক্ষেত্রে "কাজাল কারত" শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু মানুষ এই অভিব্যক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা অর্থ বোঝে না। আমি অনেক লোকের কাছে এই প্রচলিত অভিব্যক্তির অর্থ সম্পর্কে জানতে চেয়েছি, কিন্তু তাদের কেউ তা জানত না (২)।

অনুরূপ একটি বিষয় হলো কোনো কিছুর প্রশংসা বা সন্তুষ্টি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের "আলুওয়া" বলা, যার মধ্যে কামনার অর্থ নিহিত আছে। কিন্তু এই অভিব্যক্তির মূল উৎসটি হারিয়ে গেছে। আমার ধারণা এর মূল ছিল "আলা ইয়া হাব্বাজা", যা সংক্ষেপ করার জন্য "আলা ইয়া" পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এরপর সাধারণ মানুষ 'হামজা'কে 'আইন' দ্বারা পরিবর্তন করেছে, যেমন তারা "কুরআন" শব্দকে "কুরআন" (আইন দিয়ে) উচ্চারণ করে থাকে। অতঃপর 'ইয়া' বর্ণটি 'ওয়াও' তে রূপান্তরিত হয়েছে, ফলে অভিব্যক্তিটি বর্তমান রূপ ধারণ করেছে যা আপনি দেখছেন। ভাষায় এ জাতীয় পরিবর্তন প্রচুর দেখা যায়।

তদ্রূপ তাদের "হাইয়াল্লাহ" বলা, যা "যাই হোক" অর্থে ব্যবহৃত হয়। আপনি আপনার সঙ্গীকে বললেন: আপনি কোনটি নেবেন, এটি না ওটি? তখন সে আপনাকে উত্তর দেয় "হাইয়াল্লাহ", অর্থাৎ: "যাই হোক না কেন"। আমি এই অভিব্যক্তির মূল এবং এই অর্থের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তা করেছি, শেষ পর্যন্ত আমার অভিমত স্থির হয়েছে যে, এর মূল ছিল "আইয়্যান কানা", এরপর "আইয়ু ইল্লি কানা" (সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত 'ইল্লি' অর্থে), এবং কখনো কখনো আমরা 'হামজা'কে 'হা' দ্বারা পরিবর্তন করে "হিয়া ইল্লি কানা" বলি, এরপর "কানা" শব্দটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

--------------------------------------------

(১) আত-তাসরিহ: (১/ ৩৯৭)

(২) একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে, এই অভিব্যক্তিটি তুর্কি ভাষা থেকে ইরাকি উপভাষায় প্রবেশ করেছে এবং এটি দুটি শব্দের সমষ্টি:

১ - কিজিল: এটি একটি তুর্কি শব্দ এবং এর অর্থ হলো লাল জ্বর (স্কারলেট ফিভার)।

২ - কুর্ট: এটি ইতালীয় মূলের শব্দ যা তুর্কি ভাষায় প্রবেশ করেছে এবং এর অন্যতম অর্থ হলো সঙ্গী বা সহচর। সুতরাং মানুষ যেন তার সম্বোধনকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই বদদোয়া করছে যে, লাল জ্বর যেন তার চিরসাথী হয়।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
اختصارا، وأبدلت الهمزة جاء لتقاربهما، فكلتاهما من أحرف الحلق فصارت: حي اللي ثم حي الله.

6 - الإعراب: وهو أبرز ظاهرة، أو من أبرز الظواهر في العربية، ومن أهم عناصر الجملة فيها وسنفرد له بحثا.

 

‌‌تأليف الجملة العربية:

الجملة العربية - كما يرى النحاة - تتألف من ركنين أساسيين، هما المسند، والمسند إليه. فالمسند إليه هو المتحدث عنه ولا يكون إلا إسما، والمسند هو المتحدث به ويكون فعلا أو إسما، وهذان الركنان هما عمدة الكلام وما عداهما فضلة أو قيد.

وليس المقصود بالفضلة عند النحاة أنها يجوز الاستغناء عنها من حيث المعنى، كما أنه ليس المقصود بها أنها يجوز حذفها متى شئنا. فإن الفضلة قد يتوقف عليها معنى الكلام وذلك نحو قوله تعالى: {وما خلقنا السماء والأرض وما بينهما لاعبين} [الأنبياء: 16]، فإنه لا يمكن الاستغناء عن قوله: لا عبين، وكقوله تعالى: {ولا تمش في الأرض مرحا} [الإسراء: 37]، فإنه لا يستغنى عن قوله " مرحا".

والحذف لا يكون في العمدة، ولا في الفضلة إلا بالقرائن، فإن العمدة تحذف جوازا ووجوبا كالفضلة، وذلك كحذف كل من المبتدأ والخبر جوازا، ووجوبا، وحذف عامل المفعول المطلق جوازا، ووجوبا وحذف عامل الاغراء والتحذير جوازا ووجوبا. وهذه كلها عمد. ويحذف المفعول به والحال وغيرهما من الفضلات. فليس معنى الفضلة إذن إمكان الاستغناء عنها متى شئنا وإنما المقصود بـ {الفضلة} أنه يمكن أن يتألف كلام بدونها، إذ كل كلام لابد أن يكون فيه عمدة مذكورة أو مقدرة بخلاف الفضلة فإنه لا يمكن أن يتألف كلام بدونها نحو " محمد مسافر" و " فاض النهر ".

وقد تخرج بعض التعبيرات على طريقة التأليف هذه ولكن النحاة يتأوَّلون ذلك، كالنداء نحو " يا رجل" فإنهم أوّلوه بـ " ادعو رجلا " على ما بين التعبيرين من تباين. وكالتعجب نحو " ما أعذب الماء" فإنهم أولوه بـ " شيء جعل الماء عذبا".
সংক্ষেপে, হামযাহকে 'হা' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে তাদের উচ্চারণের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে, কারণ উভয়ই কণ্ঠনালীয় বর্ণ, ফলে এটি 'হায়্যাল্লি' এবং তারপর 'হায়্যাল্লাহ' হয়েছে।

৬ - ই'রাব (পদবিবর্তন): এটি আরবি ভাষার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য বা অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং বাক্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমরা এর জন্য একটি স্বতন্ত্র আলোচনা নিবেদন করব।

 

‌‌আরবি বাক্য গঠন:

ব্যাকরণবিদদের মতে, আরবি বাক্য দুটি মৌলিক স্তম্ভের সমন্বয়ে গঠিত, সেগুলো হলো মুসনাদ (উদ্দেশ্যমূলক অংশ) এবং মুসনাদ ইলাইহি (উদ্দেশ্য)। মুসনাদ ইলাইহি হলো যার সম্পর্কে কিছু বলা হয় এবং তা কেবল বিশেষ্য (ইসম) হতে পারে। আর মুসনাদ হলো যা দ্বারা সংবাদ দেওয়া হয় এবং তা ক্রিয়া (ফেল) বা বিশেষ্য (ইসম) হতে পারে। এই দুটি স্তম্ভই হলো বাক্যের মূল ভিত্তি (উমদাহ্), আর এগুলো ছাড়া বাকি অংশকে ফাদলাহ (অতিরিক্ত) বা কায়েদ (শর্ত/সীমিতকারী) বলা হয়।

ব্যাকরণবিদদের কাছে 'ফাদলাহ' মানে এই নয় যে অর্থের দিক থেকে তা অপরিহার্য নয়, আবার এর অর্থ এটিও নয় যে যখন খুশি তা বাদ দেওয়া যাবে। কারণ কখনও কখনও বাক্যের অর্থ ফাদলাহ-এর ওপরই নির্ভর করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আমি আসমান, জমিন ও এ দুটির মধ্যবর্তী কোনো কিছুই খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি" [আল-আম্বিয়া: ১৬]। এখানে 'খেলাচ্ছলে' অংশটুকু বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। আবার যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর জমিনে দম্ভভরে বিচরণ করো না" [আল-ইসরা: ৩৭]। এখানে 'দম্ভভরে' শব্দটি বাদ দেওয়া যায় না।

কোনো প্রমাণ বা সূত্র ছাড়া উমদাহ্ বা ফাদলাহ কোনটিই বিলোপ (হাফয) করা যায় না। ফাদলার মতো উমদাহকেও বৈধভাবে বা আবশ্যিকভাবে বিলোপ করা যায়। যেমন মুবতাদা এবং খবরের বৈধ ও আবশ্যিক বিলোপ, মাফউলে মুতলাকের আমেলের (ক্রিয়া) বৈধ ও আবশ্যিক বিলোপ এবং ইগরা ও তাহযীরের আমেলের বৈধ ও আবশ্যিক বিলোপ। এগুলোর প্রতিটিই হলো উমদাহ্। আবার মাফউলে বিহি, হাল এবং অন্যান্য ফাদলাহসমূহকেও বিলোপ করা হয়। অতএব, ফাদলাহ মানে এই নয় যে যখন ইচ্ছা তা বাদ দেওয়া সম্ভব, বরং 'ফাদলাহ' বলতে উদ্দেশ্য হলো যে এটি ছাড়াও বাক্য গঠিত হতে পারে। কারণ প্রতিটি বাক্যে অবশ্যই উমদাহ উল্লিখিত বা উহ্য অবস্থায় থাকতে হবে; ফাদলাহ-এর বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ ফাদলাহ ছাড়াও বাক্য গঠিত হওয়া সম্ভব। যেমন: "মুহাম্মাদ মুসাফির" এবং "নদী প্লাবিত হয়েছে"।

কোনো কোনো অভিব্যক্তি এই গঠন পদ্ধতির বাইরে চলে যেতে পারে, তবে ব্যাকরণবিদরা সেগুলোর ব্যাখ্যা করেন। যেমন সম্বোধন, যেমন: "হে লোক!" তারা এর ব্যাখ্যা করেন "আমি লোকটিকে ডাকছি" হিসেবে, যদিও এই দুই অভিব্যক্তির মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। আবার যেমন বিস্ময়সূচক বাক্য, যেমন: "পানি কতই না সুপেয়!" তারা এর ব্যাখ্যা করেন এভাবে যে, "কোনো একটি বস্তু পানিকে সুপেয় করেছে।"
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولا داعي لأن تخرج كل التعبيرات الواردة في اللغة على هذا النمط من التأليف، بل ينبغي الاعتراف بأن بعض التعبيرات تكون على غير هذا النمط، وإن كان الأصل في تأليف الجملة العربية أن يكون على النمط الذي ذكروه.

وقد ذهب الخليل وسيبويه إلى أنه لا خبر لـ (ألا) التي تفيد التمني نحو قولهو " ألا ماء ماء باردًا" انظر الكتاب 1/ 359، الأشموني 2/ 15، الهمع 1/ 147" وذهب الأخفش والكوفيون إلى أنه لا خبر لنحو قولنا (الإنسان وعمله - انظر الأشموني 1/ 217).

ومعنى ذلك أن بعض التعبيرات يتألف من إسم وحرف، وبعضها يتألف من اسم ومعطوف، وهذا خروج على الطريقة العامة التي يقول بها النحاة.

 

‌‌صورة تأليف الجملة:

يظهر تأليف الجملة العربية بصورتين تبعًا للمسند: فعل مع اسم، واسم مع اسم. وبالتعبير الإصطلاحي فعل وفاعل أو نائبه، ومبتدأ وخبر نحو: أقبل سعيد، وسعيد مقبل، وكل التعبيرات الأخرى إنما هي صور أخرى لهذين الأصلين.

والصورة الأساسية للجمل التي مسندها فعل، أن يتقدم الفعل على المسند إليه كما في جملة " أقبل سعيد " ولا يتقدم الفاعل (1) على الفعل أو بتعبير أدق

لا يتقدم المسند إليه على الفعل إلا لغرض يقتضيه المقام.

والصورة الأساسية للجمل التي مسندها اسم، أن يتقدم المسند إليه على المسند، أو بتعبير آخر، أن يتقدم المبتدأ على الخبر، ولا يقدم الخبر إلا لسبب يقتضيه المقام، أو طبيعة الكلام.

--------------------------------------------

(1) نقول هذا تجوزا وإلا فهو مبتدأ عند الجمهور.
ভাষার অন্তর্ভুক্ত সকল প্রকাশভঙ্গিকে এই বিন্যাস কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন নেই, বরং এটি স্বীকার করা উচিত যে, কিছু প্রকাশভঙ্গি এই কাঠামোর বাইরে হয়ে থাকে, যদিও আরবি বাক্য গঠনের মূল ভিত্তি হচ্ছে সেই কাঠামোটি যা তারা উল্লেখ করেছেন।

খলীল এবং সিবওয়াইহ-এর অভিমত হলো, আকাঙ্ক্ষা (তামান্নি) অর্থ প্রকাশকারী 'আলা'-এর কোনো খবর (বিধেয়) থাকে না, যেমন তাদের উক্তি: "আলা মাউন মাউন বারিদান" (হায়, যদি কিছু ঠান্ডা পানি থাকত!) [দ্রষ্টব্য: আল-কিতাব ১/৩৫৯, আল-আশমুনি ২/১৫, আল-হাম’ ১/১৪৭]। আর আখফাশ এবং কুফী ব্যাকরণবিদদের অভিমত হলো, "মানুষ এবং তার কর্ম"-এর ন্যায় বাক্যসমূহের কোনো খবর থাকে না [দ্রষ্টব্য: আল-আশমুনি ১/২১৭]।

এর অর্থ হলো, কিছু প্রকাশভঙ্গি বিশেষ্য ও অব্যয় নিয়ে গঠিত হয় এবং কিছু প্রকাশভঙ্গি বিশেষ্য ও সংযোজক পদ নিয়ে গঠিত হয়। এটি ব্যাকরণবিদদের বর্ণিত সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী।

 

‌‌বাক্য গঠনের রূপ:

মুসনাদ (আশ্রিত পদ) অনুযায়ী আরবি বাক্য গঠন দুটি রূপে প্রকাশ পায়: বিশেষ্যের সাথে ক্রিয়া এবং বিশেষ্যের সাথে বিশেষ্য। পারিভাষিক ভাষায় একে বলা হয়: ক্রিয়া ও কর্তা অথবা কর্তার স্থলাভিষিক্ত, এবং উদ্দেশ্য ও বিধেয়। যেমন: 'সাঈদ এসেছে' এবং 'সাঈদ আগন্তুক'। অন্যান্য সকল প্রকাশভঙ্গি মূলত এই দুটি মূল কাঠামোরই বিভিন্ন রূপ।

যে বাক্যের মুসনাদ ক্রিয়া, তার মৌলিক রূপ হলো মুসনাদ ইলাইহ (উদ্দেশ্য)-এর পূর্বে ক্রিয়া আসা, যেমন "সাঈদ এসেছে" বাক্যে। এখানে কর্তা (১) ক্রিয়ার পূর্বে আসে না, অথবা আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে

মুসনাদ ইলাইহ ক্রিয়ার আগে আসে না, কেবল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য থাকলেই তা হয়।

আর যে বাক্যের মুসনাদ বিশেষ্য, তার মৌলিক রূপ হলো মুসনাদ-এর পূর্বে মুসনাদ ইলাইহ আসা। অন্য কথায়, খবরের পূর্বে মুবতাদা আসা। প্রেক্ষাপট বা বাচনের প্রকৃতিগত কোনো কারণ ছাড়া খবরকে আগে আনা হয় না।

--------------------------------------------

(১) আমরা এটি শিথিলভাবে বলছি, নতুবা জমহুর বা অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
والفرق بين هاتين الصورتين - أعني الجملة التي مسندها فعل والجملة التي مسندها اسم - أن الجملة التي مسندها فعل، إنما يدل على الثبوت. تقول مثلا: يجتهد زيد وزيد مجتهد، ويحفظ زيد وزيد حافظ، ويطلع سعيد وسعيد مطلع، ويتعلم سعيد وسعيد متعلم، ويجود مصعب ومصعب جواد ونحو ذلك. فأنت ترى في هذه الأمثلة جميعها أن الفعل يدل على التجدد والحدوث، والاسم يدل على الثبوت. تقول لصديقك: أتظن أنك تنجح في هذا العام؟ فيقول لك (أنا ناجح) أي لوثوقه بنفسه ادعى أن الأمر منته وثابت، ولو لم يكن هذا الأمر قد تم فعلا. فالفعل يدل على التجدد والحدوث، والاسم يدل على الثبوت، فإذا أردت الدلالة على الحدوث جئت بجملة مسندها فعل تقدم الفعل أو تأخر. وإذا أردت الدلالة على الثبوت جئت بجملة مسندها اسم.

فالجملتان يجتهد سعيد وسعيد يجتهد كلتاهما تدلان على الحدوث (1)، وإنما قدم المسند إليه لغرض من أغراض التقديم.

ثم إن الأصل أن يتقدم الفعل على المسند إليه - كما ذكرنا - فإذا جاء الفعل متقدما لم يسأل عن سبب تقدمه، لأنه هو الصورة الأساسية، فإن تقدم المسند إليه سألنا عن سبب تقدمه.

وإذا جاء المسند إليه في الجملة التي مسندها إسم متقدما، لم نسأل عن سبب تقدمه لأنه هو الصورة الأساسية لهذا التعبير، فإن تقدم المسند سألنا عن سبب تقدمه، فالتأليف الطبيعي للجملة العربية هو نحو هذا.

يقبل سعيد.

سعيد مقبل.

فإن تقدم سعيد في الجملة الأولى، أو تقدم مقبل في الجملة الثانية نظرنا في سبب ذلك

--------------------------------------------

(1) انظر: حاشية يس على التصريح (1/ 173)، حاشية الصبان (1/ 210).
এই দুই প্রকারের মধ্যে পার্থক্য—অর্থাৎ যে বাক্যের মুসনাদ (বিধেয়) হলো ক্রিয়া এবং যে বাক্যের মুসনাদ হলো বিশেষ্য—তা হলো এই যে, ক্রিয়া নবায়ন ও নতুন করে ঘটা নির্দেশ করে, আর বিশেষ্য স্থায়িত্ব ও স্থিরতা নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ আপনি বলেন: যায়েদ চেষ্টা করছে এবং যায়েদ প্রচেষ্টাকারী; যায়েদ মুখস্থ করছে এবং যায়েদ মুখস্থকারী; সাঈদ প্রকাশিত হচ্ছে এবং সাঈদ প্রকাশিত; সাঈদ শিখছে এবং সাঈদ শিক্ষার্থী; মুসআব দান করছে এবং মুসআব দানশীল, এবং এই জাতীয় আরও উদাহরণ। আপনি এই সকল উদাহরণে দেখছেন যে, ক্রিয়াটি নবায়ন ও সংঘটন নির্দেশ করছে, আর বিশেষ্যটি স্থিরতা ও স্থায়িত্ব নির্দেশ করছে। আপনি আপনার বন্ধুকে বলেন: "তুমি কি মনে করো যে তুমি এই বছর সফল হবে?" তখন সে আপনাকে বলে "(আমি সফল)" অর্থাৎ নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসের কারণে সে দাবি করে যে বিষয়টি সুনিশ্চিত ও স্থির হয়ে গেছে, যদিও বিষয়টি বাস্তবে তখনও সম্পন্ন হয়নি। সুতরাং ক্রিয়া নবায়ন ও সংঘটন নির্দেশ করে, আর বিশেষ্য স্থায়িত্ব নির্দেশ করে। অতএব আপনি যদি কোনো কিছু ঘটার বা নবায়নের অর্থ প্রকাশ করতে চান, তবে এমন বাক্য নিয়ে আসবেন যার মুসনাদ হলো ক্রিয়া, চাই ক্রিয়াটি আগে আসুক বা পরে। আর যদি আপনি স্থিরতা বা স্থায়িত্বের অর্থ প্রকাশ করতে চান, তবে এমন বাক্য নিয়ে আসবেন যার মুসনাদ হলো বিশেষ্য।

'সাঈদ চেষ্টা করছে' এবং 'সাঈদ, সে চেষ্টা করছে'—এই উভয় বাক্যই নতুন করে ঘটা বা নবায়ন (১) নির্দেশ করে; এখানে কেবল উপস্থাপনার বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যের কারণে মুসনাদ ইলাইহ-কে (উদ্দেশ্য) আগে আনা হয়েছে।

অতঃপর মূল নিয়ম হলো মুসনাদ ইলাইহ-এর পূর্বে ক্রিয়া আসা—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—তাই ক্রিয়া যদি আগে আসে তবে তার কারণ জিজ্ঞাসা করা হয় না, কারণ এটিই মৌলিক রূপ। কিন্তু যদি মুসনাদ ইলাইহ আগে আসে তবে আমরা তার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি।

আর যে বাক্যের মুসনাদ হলো বিশেষ্য, সেখানে যদি মুসনাদ ইলাইহ আগে আসে, তবে আমরা তার কারণ জিজ্ঞাসা করি না কারণ এটিই এই ধরণের অভিব্যক্তির মৌলিক রূপ। তবে যদি মুসনাদ আগে আসে তবে আমরা তার অগ্রবর্তী হওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। আরবি বাক্যের স্বাভাবিক গঠনরীতি হলো এই রূপ:

সাঈদ আসছে।

সাঈদ আগন্তুক।

যদি প্রথম বাক্যে সাঈদ আগে আসে, কিংবা দ্বিতীয় বাক্যে আগন্তুক শব্দটি আগে আসে, তবে আমরা তার কারণ অনুসন্ধান করি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তাসরিহ-এর ওপর ইয়া-সীনের টিকা (১/ ১৭৩), সাব্বানের টিকা (১/ ২১০)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
وكلا التعبيرين بدرجة واحدة بالنسبة إلى المخاطب، فكلاهما إخبار أولي والمخاطب خالي الذهن عن الموضوع، ويسمى هذا الضرب من الخبر " الخبر الابتدائي" إلا أن الفرق بينهما - كما ذكرت - أن الفعل يدل على الحدوث، والاسم يدل على الثبوت.

 

‌‌دلالة الجملة العربية:

ينظر إلى دلالة الجملة العربية من جهتين:

‌‌1 - الدلالة القطعية والاحتمالية.

2 - الدلالة الظاهرة والباطنة.

وسننظر في هذين النوعين.

 

1 - الدلالة القطعية والاحتمالية:

المدقق في الجملة العربية ودلالتها على المعنى يرى أنها على ضربين:

أ - تعبير نصي أو قطعي أي يدل على معنى واحد.

ب - تعبير احتمالي أي يحتمل أكثر من معنى.

وهذا خط واضح في طبيعة دلالة الجملة العربية يبرز للمستقري بصورة جلية، فمن ذلك على سبيل المثال أنك لا تقول: (اشتريت قدح ماء) بالاضافة (واشتريت قدحا ماء) فالجملة الأولى تعبير إحتمالي، لأنها تحتمل أنك اشتريت ماء مقدار قدح، وتحتمل أنك اشتريت القدح أي الإناء. أما الجملة الثانية فدلالتها قطعية لأنها لا تحتمل إلا أنك اشتريت ماء مقدار قدح. جاء في (شرح الأشموني):

" النصب في نحو ذنوب ماء، وحب عسلا، أولى من الجر، لأن النصب يدل على أن المتكلم اراد أن عنده ما يملأ الوعاء المذكور من الجنس المذكور، وأما الجر فيحتمل أن يكون مراده ذلك وأن يكون مراده بيان أن عنده الوعاء الصالح لذلك (1).

--------------------------------------------

(1) شرح الأشموني: (1/ 197).
আর উভয় প্রকাশভঙ্গিই সম্বোধিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই পর্যায়ের, কারণ উভয়েই প্রাথমিক সংবাদ এবং সম্বোধিত ব্যক্তি বিষয়টি সম্পর্কে পূর্বধারণা মুক্ত। সংবাদের এই ধরনকে "প্রাথমিক সংবাদ" বলা হয়। তবে এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো—যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি—ক্রিয়া কোনো কিছুর নতুনভাবে সংঘটিত হওয়া নির্দেশ করে এবং বিশেষ্য স্থায়িত্ব নির্দেশ করে।

 

‌‌আরবি বাক্যের অর্থবোধকতা:

আরবি বাক্যের অর্থবোধকতার দিকে দুটি দিক থেকে দৃষ্টিপাত করা হয়:

‌‌১ - সুনিশ্চিত এবং সম্ভাবনাময় অর্থবোধকতা।

২ - প্রকাশ্য এবং অভ্যন্তরীণ অর্থবোধকতা।

আমরা এই দুই প্রকার নিয়ে আলোচনা করব।

 

১ - সুনিশ্চিত এবং সম্ভাবনাময় অর্থবোধকতা:

যে ব্যক্তি আরবি বাক্য এবং অর্থের ওপর তার নির্দেশনার বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তিনি দেখতে পান যে তা দুই প্রকার:

ক - অকাট্য বা সুনিশ্চিত প্রকাশভঙ্গি, অর্থাৎ যা কেবল একটি অর্থই প্রকাশ করে।

খ - সম্ভাবনাময় প্রকাশভঙ্গি, অর্থাৎ যা একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখে।

আর এটি আরবি বাক্যের অর্থবোধকতার প্রকৃতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ধারা, যা অনুসন্ধানকারীর নিকট অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যখন বলেন: 'আমি এক পেয়ালা পানি কিনেছি' সম্বন্ধযুক্ত করে (ইদাফাত যোগে) এবং বলেন 'আমি এক পেয়ালা পরিমাণ পানি কিনেছি' (তামিয যোগে)—এ দুইয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। প্রথম বাক্যটি একটি সম্ভাবনাময় প্রকাশভঙ্গি, কারণ এতে সম্ভাবনা আছে যে আপনি এক পেয়ালা পরিমাণ পানি কিনেছেন, আবার সম্ভাবনা আছে যে আপনি পেয়ালাটিই (অর্থাৎ পাত্রটি) কিনেছেন। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় বাক্যটির অর্থ সুনিশ্চিত, কারণ এতে আপনি এক পেয়ালা পরিমাণ পানি কিনেছেন—একথা ছাড়া অন্য কোনো সম্ভাবনা নেই। 'শারহু আল-আশমুনি'-তে এসেছে:

"'এক বালতি পানি' এবং 'এক কলস মধু' এর ন্যায় উদাহরণগুলোতে নসব (যবর) হওয়া যর (যের) হওয়ার চেয়ে উত্তম। কারণ নসব নির্দেশ করে যে, বক্তা বুঝাতে চেয়েছেন তার নিকট উল্লিখিত পাত্রটি পূর্ণ করার মতো সমজাতীয় বস্তু রয়েছে। পক্ষান্তরে যর হওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকে যে, তিনি হয়তো এটিই বুঝাতে চেয়েছেন অথবা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে তার নিকট ওই নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী পাত্রটি মজুদ রয়েছে (১)।

--------------------------------------------

(১) শারহু আল-আশমুনি: (১/ ১৯৭)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
وتقول: (الذي يدخل الدار له جائزة) و (الذي يدخل الدار فله جائزة) فالجملة الأولى ذات دلالة إحتمالية، لأنها تحتمل أنك تعني بـ (الذي يدخل الدار) شخصا معروفا وأن الجائزة ليست مترتبة على دخول الدار بل هو مستحقها قبل ذلك، كما تحتمل أن يكون الاسم الموصول هنا مشبها بالشرط، فالجائزة مترتبة على دخول الدار فكل من يدخلها يستحق الجائزة. وأما الجملة الثانية فذات دلالة قطعية لأنها لا تعني إلا المعنى الثاني أي فيها معنى الشرط والجزاء، وهذه الفاء واقعة في جواب " الذي" كما تقع في جواب الشرط أي أن الجائزة مترتبة على دخول الدار (1).

وتقول: " اعبد ربك خوفا وطمعًا" و (اعبد ربك خائفا وطامعا) فالمنصوب في الجملة الأولى يحتمل الحالية، والمفعول لأجله، والمفعولية المطلقة، وفي الجملة الثانية حال ليس غير.

وتقول: (أنا ضارب زيد) بالإضافة، و (أنا ضارب زيدا)، فالتعبير الأول يحتمل المضي والحال، والاستقبال، فهو تعبير احتمالي، في حين أن الجملة الثانية هي نص، في أنها بمعنى الحال، أو الاستقبال، لأن إسم الفاعل المضاف، يحتمل المضي كقوله تعالى: {فاطر السماوات والأرض} [الأنعام: 14] ويحتمل الاستمرار، كقوله تعالى: {إن الله فالق الحب والنوى .. فالق الإصباح} [الأنعام: 95 - 96]، والحال، كقولك (انا ضارب سعيد الآن) والاستقبال، كقوله تعالى: {ربنا إنك جامع الناس ليوم لاريب فيه} [آل عمران: 9].

أما الذي ينصب مفعولا به، فلا يدل إلا على الحال أو الاستقبال (2).

وتقول (لا رجل في الدار) و (لا رجل في الدار)، فالأولى نص في نفي الجنس، أما الثانية فتحتمل نفي الجنس ونفي الوحدة (3).

--------------------------------------------

(1) انظر شرح الرضي على الكافية: (1/ 109)

(2) الأشموني: (2/ 292)، وما بعدها، التصريح: (2/ 65 - 66).

(3) الأشموني: (2/ 2)، حاشية الصبان: (1/ 236 - 237)، الرضي على الكافية: (1/ 279).
আপনি বলেন: (যে ঘরে প্রবেশ করবে তার জন্য পুরস্কার রয়েছে) এবং (যে ঘরে প্রবেশ করবে তবে তার জন্য পুরস্কার রয়েছে)। প্রথম বাক্যটি একটি সম্ভাব্য অর্থ নির্দেশ করে। কারণ এর দ্বারা সম্ভাবনা রয়েছে যে আপনি ‘যে ঘরে প্রবেশ করবে’ বলতে জনৈক পরিচিত ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন এবং পুরস্কারটি ঘরে প্রবেশের কারণে নির্ধারিত নয়, বরং সে এর পূর্বেই তার হকদার ছিল। আবার এটিও সম্ভাবনা রাখে যে, এখানে ইসম মওসুল (সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য) টি শর্তের সদৃশ, ফলে পুরস্কারটি ঘরে প্রবেশের সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ যে-ই তাতে প্রবেশ করবে সে-ই পুরস্কারের যোগ্য হবে। আর দ্বিতীয় বাক্যটি অকাট্য অর্থ নির্দেশ করে, কারণ এটি কেবল দ্বিতীয় অর্থটিই প্রকাশ করে অর্থাৎ এতে শর্ত ও প্রতিদানের অর্থ রয়েছে। আর এই ‘ফা’ অক্ষরটি ‘আল্লাজি’-এর উত্তর হিসেবে এসেছে, যেমনটি শর্তের উত্তরে আসে। অর্থাৎ পুরস্কারটি ঘরে প্রবেশের ওপর নির্ভরশীল। (১)

আপনি বলেন: "ভয় ও আশার সাথে তোমার রবের ইবাদত করো" এবং (ভীত ও আশাবাদী হয়ে তোমার রবের ইবাদত করো)। প্রথম বাক্যের নসবযুক্ত (জবর বিশিষ্ট) শব্দটি হাল (অবস্থা), মাফউল লাহু (কারণবাচক কর্ম) এবং মাফউল মুতলাক (ক্রিয়া বিশেষ্য) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। আর দ্বিতীয় বাক্যে এটি কেবল হাল (অবস্থা) হিসেবেই গণ্য।

আপনি বলেন: ইদাফাত (সম্বন্ধ) সহকারে (আমি জায়েদের প্রহারকারী) এবং (আমি জায়েদকে প্রহারকারী)। প্রথম প্রকাশভঙ্গিটি অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ—তিনটি কালেরই সম্ভাবনা রাখে। তাই এটি একটি সম্ভাব্য অভিব্যক্তি। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় বাক্যটি অকাট্য (নস) যে, এটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল বুঝাচ্ছে। কারণ সম্বন্ধযুক্ত ইসম ফায়িল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) অতীত কাল নির্দেশ করার সম্ভাবনা রাখে, যেমন আল্লাহর বাণী: {আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা} [আল-আনআম: ১৪]। আবার এটি নিরবচ্ছিন্নতা বা স্থায়িত্বের সম্ভাবনাও রাখে, যেমন আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহ শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী... ঊষার উন্মেষকারী} [আল-আনআম: ৯৫-৯৬]। আবার এটি বর্তমান কালও বুঝাতে পারে, যেমন আপনার কথা: (আমি এখন সাঈদকে প্রহার করছি)। আবার এটি ভবিষ্যৎ কালও বুঝাতে পারে, যেমন আল্লাহর বাণী: {হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি মানুষকে এক নির্দিষ্ট দিনে একত্রিত করবেন যাতে কোন সন্দেহ নেই} [আলে ইমরান: ৯]।

তবে যা মাফউল বিহি (কর্ম)-কে নসব (জবর) দেয়, তা কেবল বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালই নির্দেশ করে। (২)

আপনি বলেন (ঘরে কোনো পুরুষ নেই—লা ফাতাহ যোগে) এবং (ঘরে কোনো পুরুষ নেই—লা পেশ যোগে)। প্রথমটি হচ্ছে স্বজাতি নিষেধে (নাফিয়ে জিনস) অকাট্য। আর দ্বিতীয়টি স্বজাতি নিষেধ এবং একক ব্যক্তি নিষেধ (নাফিয়ে ওয়াহদাহ)—উভয়েরই সম্ভাবনা রাখে। (৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন শারহুর রাযী আলাল কাফিয়া: (১/১০৯)

(২) আল-আশমুনি: (২/২৯২), এবং পরবর্তী অংশ; আত-তাসরিহ: (২/৬৫-৬৬)।

(৩) আল-আশমুনি: (২/২), হাশিয়াতুস সাব্বান: (১/২৩৬-২৩৭), শারহুর রাযী আলাল কাফিয়া: (১/২৭৯)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
وتقول: (ما جاءني رجل) و (ما جاءني من رجل) فالأولى تحتمل نفي الجنس ونفي الوحدة، أي ما جاءني رجل واحد بل أكثر، والثانية لا تحتمل إلا نفي الجنس (1).

وتقول: (كرم زيد ضيفا) و (كرم ضيف زيد) فالجملة الأولى تحتمل أن يكون المقصود الثناء على ضيف زيد بالكرم، كما تحتمل أن يكون زيد كريما حال كونه ضيفا، أي زيد هو الموصوف بالكرم، أما الثانية، فلا تحتمل إلا أن يكون الثناء على ضيف زيد (2). جاء في (شرح الرضي على الكافية) في (طاب زيد أبا) " يجوز أن تريد بـ (أبا) نفس زيد وأن تريد به أباه" (3).

إلى غير ذلك من الأمثلة:

وهذا خط واضح في التعبير العربي.

 

‌‌2 - الدلالة الظاهرة والباطنة:

ونعني بالدلالة الظاهرة المعنى الذي يعطيه ظاهر اللفظ مثل سافر محمد ونام خالد ونحو قوله تعالى: {وأحل الله البيع وحرم الربا} [البقرة: 275].

وأما الدلالة الباطنة فهي الدلالة التي تؤدي عن طريق المجاز والكنايات والملاحن والإشارات، وما إلى ذلك، كقوله: (رمتني بسهم ريشه الكحل) أي بنظرة من عين مكحولة وقوله (بعيدة مهوى القرط) أي طويلة العنق وقولهم (بنو فلان فلان يطؤهم الطريق) أي أهل الطريق جاء في (دلائل الإعجاز): " الكلام على ضربين:

ضرب أنت تصل منه إلى الغرض بدلالة اللفظ وحده، وذلك إذا قصدت أن تخبر عن زيد مثلا بالخروج على الحقيقة فقلت: خرج زيد، وبالإنطلاق عن عمرو فقلت: عمرو منطلق وعلى هذا القياس.

--------------------------------------------

(1) حاشية الصبان: (2/ 212)، التصريح: 2/ 8، الرضي على الكافية: (1/ 279)

(2) انظر: مغني اللبيب: (2/ 463).

(3) الرضي على الكافية: (1/ 239).
আপনি বলেন: (আমার কাছে কোনো লোক আসেনি) এবং (আমার কাছে কোনো একজন লোকও আসেনি)। প্রথম বাক্যটি পুরো জাতি অস্বীকার করা এবং একক সংখ্যা অস্বীকার করা উভয়টিরই সম্ভাবনা রাখে। অর্থাৎ, আমার কাছে কেবল একজন লোক আসেনি বরং একাধিক এসেছে। আর দ্বিতীয় বাক্যটি কেবল পুরো জাতি অস্বীকার করারই অর্থ প্রদান করে (১)।

আপনি বলেন: (যায়েদ অতিথি হিসেবে মহানুভব হয়েছে) এবং (যায়েদের অতিথি মহানুভব হয়েছে)। প্রথম বাক্যটি যায়েদের অতিথির মহানুভবতার প্রশংসা করার সম্ভাবনা রাখে, আবার যায়েদ যখন অতিথি ছিল তখন সে মহানুভব ছিল এমন অর্থও বহন করে। অর্থাৎ যায়েদ নিজেই মহানুভবতার গুণে গুণান্বিত। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যটি কেবল যায়েদের অতিথির প্রশংসারই অর্থ বহন করে (২)। 'শারহুর রাযি আলাল কাফিয়া' গ্রন্থে "যায়েদ পিতা হিসেবে উত্তম হয়েছে" বাক্যটি সম্পর্কে বলা হয়েছে— "এখানে 'পিতা' শব্দ দ্বারা যায়েদকে বোঝানো যেমন বৈধ, তেমনি তার পিতাকে বোঝানোও বৈধ" (৩)।

এরূপ আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে:

এটি আরবি প্রকাশভঙ্গির একটি সুস্পষ্ট ধারা।

 

‌‌২ - প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য তাৎপর্য:

প্রকাশ্য তাৎপর্য বলতে আমরা সেই অর্থকে বুঝি যা শব্দের বাহ্যিক রূপ থেকে পাওয়া যায়, যেমন: মুহাম্মদ সফর করেছে এবং খালিদ ঘুমিয়েছে। অথবা মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন} [আল-বাকারা: ২৭৫]।

আর অপ্রকাশ্য তাৎপর্য হলো সেই অর্থ যা রূপক, পরোক্ষ ইঙ্গিত, দ্ব্যর্থবোধক কথা এবং ইশারার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যেমন কবির কথা: (সে আমাকে এমন তীর ছুড়েছে যার পাখা হলো সুরমা) অর্থাৎ সুরমা মাখা চোখের দৃষ্টি। আবার যেমন বলা হয়: (কানের দুল ঝোলার স্থানটি অনেক দূরে) অর্থাৎ দীর্ঘ ঘাড় বিশিষ্ট। এবং তাদের কথা (অমুক গোত্রের লোকেরা এমন যে রাস্তা তাদের মাড়িয়ে যায়) অর্থাৎ তারা পথের ধারের মানুষ (মেহমানদার)। 'দালাইলুল ই'জায' গ্রন্থে এসেছে: "কথা দুই প্রকার:

এক প্রকার হলো যার মাধ্যমে আপনি কেবল শব্দের সাহায্যেই মূল উদ্দেশ্যে পৌঁছে যান। আর তা হলো যখন আপনি যায়েদ সম্পর্কে বাস্তবে বের হওয়ার সংবাদ দিতে চান এবং বলেন: যায়েদ বের হয়েছে, আর আমর সম্পর্কে বলেন: আমর চলে যাচ্ছে এবং এই নিয়মেই অন্যান্য বাক্য।"

--------------------------------------------

(১) হাশিয়া আস-সাব্বান: (২/ ২১২), আত-তাসরিহ: ২/ ৮, আর-রাযি আলাল কাফিয়া: (১/ ২৭৯)

(২) দেখুন: মুগনি আল-লাবিব: (২/ ৪৬৩)।

(৩) আর-রাযি আলাল কাফিয়া: (১/ ২৩৯)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২০)
وضربٌ آخر أنت لا تصل منه إلى الغرض بدلالة اللفظ وحده، ولكن يدلك، اللفظ على معناه الذي يقتضيه موضوعه في اللغة، ثم تجد لذلك المعنى دلالة ثانية تصل بها إلى الغرض. ومدار هذا الأمر على الكناية والاستعارة والتمثيل أو لا ترى إنك إذا قلت: هو كثير رماد، القدر، أو قلت: طويل النجاد، أو قلت في المرأة: نؤوم الضحى، فإنك في جميع ذلك لا تفيد غرضك الذي تعني من مجرد اللفظ، ولكن يدل اللفظ على معناه الذي يوجبه ظاهره، ثم يعقل السامع من ذلك المعنى، على سبيل الاستدلال، معنى ثانيا، هو غرضك كعرفتك من كثير رماد القدر إنك مضياف ومن طويل النجاد، إنه طويل القامة .. وكذا إذا قال: (رأيت أسدًا) ودلك الحال على إنه لم يرد السبع علمت أنه أراد التشبيه، إلا أنه بالغ فجعل الذي رآه، بحيث لا يتميز عن الأسد في شجاعته ..

وإذا قد عرفت هذه الجملة، فههنا عبارة مختصرة، وهي أن تقول: المعنى ومعنى المعنى، تعني بالمعنى المفهوم من ظاهر اللفظ، والذي تصل إليه بغير واسطة. وبمعنى المعنى أن تعقل من اللفظ معنى، ثم يفضي بك ذلك المعنى، إلى معنى، ثم يفضي بك ذلك المعنى، إلى معنى آخر كالذي فسرت لك" (1).

--------------------------------------------

(1) دلائل الإعجاز: (202 - 203).
অন্য আরেকটি প্রকার হলো এমন যে, আপনি সেখানে কেবল শব্দের নির্দেশনার মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে পারেন না; বরং শব্দটি আপনাকে তার আভিধানিক অর্থের দিকে নির্দেশ করে যা ভাষায় তার প্রয়োগ দ্বারা সাব্যস্ত হয়, অতঃপর আপনি সেই অর্থের মাধ্যমে দ্বিতীয় একটি তাৎপর্য খুঁজে পান যার দ্বারা আপনি মূল উদ্দেশ্যে উপনীত হন। আর এই বিষয়টি কিনায়া (পরোক্ষ উক্তি), ইস্তিআরা (রূপক) এবং তামসিল (দৃষ্টান্ত)-এর ওপর আবর্তিত। আপনি কি দেখেন না যে, যখন আপনি বলেন: "তার রান্নার পাত্রের ছাই অনেক বেশি," অথবা বলেন: "তার তলোয়ারের বেল্ট দীর্ঘ," কিংবা কোনো নারীর ক্ষেত্রে বলেন: "সে পূর্বাহ্নে ঘুমন্ত," তখন এই সবগুলোর মাধ্যমেই আপনি কেবল শাব্দিক অর্থের দ্বারা আপনার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন না। বরং শব্দটি তার বাহ্যিক রূপ যা দাবি করে সেই অর্থের দিকে নির্দেশ করে, অতঃপর শ্রোতা সেই অর্থ থেকে যুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে দ্বিতীয় একটি অর্থ অনুধাবন করে, যা আপনার মূল উদ্দেশ্য। যেমন: "পাত্রের প্রচুর ছাই" থেকে আপনি বুঝতে পারেন যে ব্যক্তিটি অত্যন্ত আতিথেয়তাপরায়ণ এবং "দীর্ঘ তলোয়ারের বেল্ট" থেকে বোঝা যায় সে দীর্ঘদেহী। ঠিক তেমনি কেউ যখন বলে: "আমি একটি সিংহ দেখেছি" এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা যদি নির্দেশ করে যে সে হিংস্র বন্যপ্রাণীটি বুঝাতে চায়নি, তখন আপনি বুঝতে পারেন যে সে এখানে সাদৃশ্য বুঝাতে চেয়েছে। তবে সে এখানে অতিশয়োক্তি করেছে এবং যাকে দেখেছে তাকে সাহসিকতার দিক থেকে এমন স্তরে নিয়ে গেছে যে সে সিংহের থেকে আলাদা নয়।

যখন আপনি এই সারসংক্ষেপটি বুঝতে পারলেন, তখন এখানে একটি সংক্ষিপ্ত পরিভাষা প্রয়োগ করা যায়, আর তা হলো— 'অর্থ' এবং 'অর্থের অর্থ'। 'অর্থ' বলতে সেই বোধগম্য বিষয়কে বুঝায় যা শব্দের বাহ্যিক রূপ থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি বোঝা যায়। আর 'অর্থের অর্থ' হলো শব্দের মাধ্যমে একটি অর্থ অনুধাবন করা, অতঃপর সেই অর্থটি আপনাকে দ্বিতীয় আরেকটি অর্থের দিকে ধাবিত করা, ঠিক যেভাবে আমি আপনার কাছে ব্যাখ্যা করেছি" (১)।

--------------------------------------------

(১) দালায়েলুল ই'জায: (২০২ - ২০৩)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌ظاهرة الإعراب

وهو كما ذكرنا أبرز ظاهرة، أو من أبرز الظواهر في العربية. وقد ورثت العربية ظاهرة الأعراب من اللغة السامية الأم وقد كانت اللغات السامية القديمة كلها معربة (1).

وقال المستشرق الألماني نولدكه، إن النبط كانوا يستعملون الضمة في حالة الرفع والفتحة في حالة النصب، والكسرة في حالة الجر (2).

" والنصوص في اللغة، الأكدية وتشمل اللغتين البابلية والآشورية، تدل على وجود الأعراب فيهما كاملا.

وهذا قانون حمورابي (1792 - 1750 ق. م) المدون باللغة البابلية القديمة، يوجد فيه الاعراب، كما هو في اللغة العربية الفصحى تماما، فالفاعل مرفوع، والمفعول منصوب وعلامة الرفع الضمة، وعلامة النصب الفتحة، وعلامة الجر الكسرة، تماما كما في العربية.

ولا يقتصر الأمر على ذلك بل، إن المثنى، والجمع، المذكر، يماثلان، في الاعراب المثنى والجمع في العربية. فيرفع المثنى بالألف، وينصب ويجر بالياء .. أما الجمع المذكر فإنه يرفع بالواو وينصب ويجر بالياء" (3).

ومعنى الاعراب لغة، الابانة عما في النفس، وهو مصدر الفعل (أعرب) ومعنى أعرب أبان يقال: أعرب الرجل عن حاجته، أي أبان عنها. جاء في (أسرار العربية): " أما الإعراب ففيه ثلاثة أوجه: أحدها أن يكون سمي بذلك لأنه يبين المعاني مأخوذ من قولهم: أعرب الرجل عن حجته إذا بينها ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: " الثيب تعرب عن نفسها " أي تبين وتوضح .. فلما كان الإعراب يبين المعاني سمي إعرابًا.

--------------------------------------------

(1) العربية ليو هان فك 33، التطور النحوي لبرجشراسر 75.

(2) انظر اللغات السامية لنولدكه 73.

(3) قضية الاعراب في العربية بين أيدي الدارسين مقال للدكتور رمضان عبد التواب في مجلة المجلة العدد 114 يونيو 1966 ص 105، وانظر الدراسات النحوية واللغوية عند الزمخشري 337 - 339.
ইরাবের বৈশিষ্ট্য

যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, এটি আরবি ভাষার সবচেয়ে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য, অথবা অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। আরবি ভাষা এই ইরাবের (শব্দরূপান্তরের) বৈশিষ্ট্যটি আদি সেমিটিক ভাষা থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং প্রাচীন সকল সেমিটিক ভাষাই ইরাব-সম্পন্ন বা রূপান্তরশীল ছিল (১)।

জার্মান প্রাচ্যবিদ নোলডেকে বলেছেন যে, নাবাতীয়গণ রফ (কর্তৃকারক) অবস্থায় দ্বাম্মাহ (পেশ), নসব (কর্মকারক) অবস্থায় ফাতহাহ (যবর) এবং জর (সম্বন্ধ পদ) অবস্থায় কাসরাহ (যের) ব্যবহার করত (২)।

"আক্কাদীয় ভাষার পাঠ্যসমূহ—যার মধ্যে ব্যাবিলনীয় ও অ্যাসিরীয় উভয় ভাষাই অন্তর্ভুক্ত—তাতে পূর্ণাঙ্গভাবে ইরাবের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রাচীন ব্যাবিলনীয় ভাষায় লিপিবদ্ধ হাম্মুরাবির আইন সংহিতা (১৭৯২ - ১৭৫০ খ্রিষ্টপূর্ব) লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তাতে ঠিক ধ্রুপদী আরবি ভাষার মতোই ইরাব বিদ্যমান। সেখানে ফায়েল (কর্তা) মারফু, মাফউল (কর্ম) মানসুব এবং রফ-এর চিহ্ন দ্বাম্মাহ, নসব-এর চিহ্ন ফাতহাহ এবং জর-এর চিহ্ন কাসরাহ; ঠিক যেমনটি আরবিতে দেখা যায়।

বিষয়টি কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দ্বিবচন ও পুরুষবাচক বহুবচনও ইরাবের ক্ষেত্রে আরবির দ্বিবচন ও বহুবচনের অনুরূপ। সেখানে দ্বিবচন ‘আলিফ’ দ্বারা মারফু হয় এবং ‘ইয়া’ দ্বারা মানসুব ও মাজরুর হয়... আর পুরুষবাচক বহুবচন ‘ওয়াও’ দ্বারা মারফু হয় এবং ‘ইয়া’ দ্বারা মানসুব ও মাজরুর হয়" (৩)।

অভিধান অনুযায়ী ইরাব শব্দের অর্থ হলো মনের ভাব প্রকাশ করা। এটি ‘আ’রাবা’ ক্রিয়াপদ থেকে উদ্ভূত মাসদার (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য), আর ‘আ’রাবা’ শব্দের অর্থ হলো স্পষ্ট করা বা ব্যক্ত করা। যেমন বলা হয়: ‘ব্যক্তিটি তার প্রয়োজন ব্যক্ত করেছে’, অর্থাৎ সে তা স্পষ্ট করেছে। ‘আসরারুল আরাবিয়াহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে: “ইরাবের নামকরণের পেছনে তিনটি দিক রয়েছে: প্রথমটি হলো, এর নামকরণ এ কারণে করা হয়েছে যে এটি বাক্যের অর্থকে সুস্পষ্ট করে। এটি আরবদের এই উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে—‘ব্যক্তিটি তার দলিল স্পষ্ট করেছে’ যখন সে তা ব্যক্ত করে। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীও একই অর্থ বহন করে: ‘পূর্ববিবাহিত নারী (বিয়ের ক্ষেত্রে) তার নিজের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে মত প্রকাশ করবে’ অর্থাৎ সে বিষয়টি বর্ণনা করবে ও স্পষ্ট করবে... সুতরাং ইরাব যেহেতু বাক্যের অর্থকে সুস্পষ্ট করে, তাই এর নাম ‘ইরাব’ রাখা হয়েছে।”

--------------------------------------------

(১) আল-আরাবিয়্যাহ, লিও জোহান ফাক ৩৩; আত-তাতাওয়ুরুন নাহওয়ি, বার্গস্ট্রাসার ৭৫।

(২) দেখুন: নোলডেকের আস-সামীইয়্যাত ৭৩।

(৩) ‘কাদিয়াতুল ইরাব ফিল আরাবিয়্যাহ বাইনা আইদিল দারিসীন’, ড. রমাদান আবদুত তাওয়াবের নিবন্ধ, আল-মাজাল্লাহ পত্রিকা, সংখ্যা ১১৪, জুন ১৯৬৬, পৃষ্ঠা ১০৫; আরও দেখুন: আদ-দিরাসাতুন নাহওয়িয়্যাহ ওয়াল লুগাবিয়্যাহ ইনদাল যামাখশারী ৩৩৭-৩৩৯।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২২)
والوجه الثاني أن يكون سمي إعرابا لأنه تغير يحلق أواخر الكلم من قولهم:

" عربت معدة الفصيل" إذا تغيرت.

فغن قيل: العرب في قولهم: عربت معدة الفصيل معناه الفساد وكيف يكون الإعراب مأخذوا منه؟

قيل: معنى قولك: أعربت الكلام أي أزلت عربه، وهو فساده، وصار هذا كقولك: أعجمت الكتاب، إذا أزلت عجمته، وأشكيت الرجل، إذا أزلت شكايته .. وهذه الهمزة تسمى همزة السلب.

والوجه الثالث أن يكون سمي إعرابا لأن المعرب للكلام كأنه يتحبب إلى السامع باعرابه من قولهم: إمرأة عروب إذا كانت متحببة" (1)

وجاء في (شرح شذور الذهب): " للاعراب معنيان لغوي واصطلاحي. فمعناه اللغوي الإبانة يقال: أعرب عما في نفسه إذا أبان عنه وفي الحديث " البكر تستأمر وأذنها صماتها والأيم تعرب عن نفسها" أي تبين رضاها بصريح النطق" (2).

وجاء في (الايضاح في علل النحو): " الإعراب أصله البيان يقال أعرب الرجل عن حاجته إذا أبان عنها، ورجل معرب أي مبين عن نفسه ومنه الحديث " الثيب تعرب عن نفسها .. " هذا أصله، ثم إن النحويين لما رأوا في أواخر الأسماء والأفعال حركات تدل على المعاني وتبين عنها سموها إعرابا أي بيانا وكأن البيان بها يكون ..

والإعراب الحركات عن معاني اللغة. وليس كل حركة إعرابًا، كما إنه ليس كل الكلام معربًا" (3).

--------------------------------------------

(1) أسرار العربية (18 - 19).

(2) شرح شذور الذهب لابن هشام (33).

(3) الايضاح (91) وانظر كتاب الجمل للزجاجي (291)، الخصائص: (1/ 35 - 36)، والرضي على الكافية (1/ 24 - 25)، همع الهوامع (1/ 13)، شرح الأشموني (1/ 47 - 48).
দ্বিতীয় দিকটি হলো, একে ই'রাব নাম দেওয়া হয়েছে কারণ এটি শব্দের শেষাংশে ঘটা পরিবর্তন; যা তাদের (আরবদের) উক্তি "উটের বাচ্চার পাকস্থলী পরিবর্তিত হয়ে গেছে" থেকে গৃহীত, যখন তা পরিবর্তিত হয়।

যদি বলা হয়: আরবদের উক্তি "উটের বাচ্চার পাকস্থলী পরিবর্তিত হয়েছে"-এ 'আরব' শব্দের অর্থ হলো বিকৃতি বা নষ্ট হওয়া, তবে ই'রাব শব্দটি কীভাবে তা থেকে গৃহীত হতে পারে?

উত্তরে বলা হয়েছে: আপনার উক্তি "আমি কথাকে ই'রাবযুক্ত করেছি" এর অর্থ হলো—আমি এর বিকৃতি বা অস্পষ্টতা দূর করেছি। এটি আপনার সেই উক্তির মতো— "আমি কিতাবটিকে ই'জামমুক্ত (পার্থক্যকারী চিহ্নযুক্ত) করেছি", যখন আপনি এর অস্পষ্টতা দূর করেন; এবং "আমি লোকটির অভিযোগ দূর করেছি", যখন আপনি তার কষ্টের কারণ দূর করেন। আর এই হামযাহ-টিকে 'হামযায়ে সালব' (অপসারণসূচক হামযাহ) বলা হয়।

তৃতীয় দিকটি হলো, একে ই'রাব নাম দেওয়া হয়েছে কারণ যে ব্যক্তি কথাকে ই'রাবযুক্ত করে, সে যেন তার ই'রাবের মাধ্যমে শ্রোতার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে; এটি তাদের উক্তি "অনুরাগিণী নারী" থেকে নেওয়া হয়েছে, যখন সে (স্বামীর নিকট) প্রিয় হয়। (১)

'শারহু শুযুরিয যাহাব' গ্রন্থে এসেছে: "ই'রাবের দুটি অর্থ রয়েছে: আভিধানিক ও পারিভাষিক। এর আভিধানিক অর্থ হলো প্রকাশ করা। বলা হয়: 'সে তার মনের ভাব প্রকাশ করেছে', যখন সে তা ব্যক্ত করে। আর হাদিসে এসেছে: 'কুমারী মেয়ের অনুমতি নিতে হবে এবং তার নীরবতাই তার সম্মতি, আর ইতিপূর্বে বিবাহিতা নারী নিজের কথা নিজে প্রকাশ করবে' অর্থাৎ স্পষ্ট উচ্চারণের মাধ্যমে সে তার সম্মতির কথা ব্যক্ত করবে।" (২)।

'আল-ঈযাহ ফী ইলালিন নাহব' গ্রন্থে এসেছে: "ই'রাবের মূল অর্থ হলো স্পষ্ট করা। বলা হয়, 'ব্যক্তিটি তার প্রয়োজনের কথা স্পষ্ট করেছে' যখন সে তা ব্যক্ত করে। আর স্পষ্টভাষী ব্যক্তিকে 'মু'রিব' বলা হয়। এ থেকেই হাদিসে এসেছে: 'বিবাহিতা নারী নিজের পক্ষ থেকে প্রকাশ করবে...' এটিই এর মূল ভিত্তি। অতঃপর ব্যাকরণবিদগণ যখন বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদসমূহের শেষে এমন কিছু স্বরচিহ্ন দেখতে পেলেন যা অর্থের দিকে নির্দেশ করে এবং অর্থকে স্পষ্ট করে, তখন তারা সেটির নাম দিলেন ই'রাব অর্থাৎ স্পষ্টকরণ; যেন এর মাধ্যমেই স্পষ্টতা অর্জিত হয়...

আর ই'রাব হলো ভাষাগত অর্থের পরিচায়ক স্বরচিহ্নসমূহ। তবে প্রতিটি স্বরচিহ্নই ই'রাব নয়, ঠিক যেমন সব শব্দ ই'রাব গ্রহণকারী নয়।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আসরারুল আরাবিয়্যাহ (১৮ - ১৯)।

(২) ইবনে হিশাম রচিত শারহু শুযুরিয যাহাব (৩৩)।

(৩) আল-ঈযাহ (৯১) এবং দেখুন: যাজ্জাজীর কিতাবুল জুমাল (২৯১), আল-খাসাইস: (১/ ৩৫ - ৩৬), কাফিয়ার ওপর আর-রাযীর ব্যাখ্যা (১/ ২৪ - ২৫), হামউল হাওয়ামি' (১/ ১৩), শারহুল আশমুনি (১/ ৪৭ - ৪৮)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذا المعنى اللغوي للاعراب هو الأصل لمعنى الاعراب في النحو: فالاعراب " هو الإبانة عن المعاني بالألفاظ، ألا ترى أنك إذا سمعت أكرم سعيد أباه، وشكر سعيدا أبوه علمت برفع أحدهما، ونصب الآخر الفاعل، من المفعول، ولو كان الكلام شرجا واحدا لاستبهم أحدهما من صاحبه" (1).

" وإنما أتي به للفرق بين المعاني، وإذا أخبرت عن الإسم بمعنى من المعاني المفيدة إحتيج إلى الإعراب، ليدل على ذلك المعنى" (2).

وجاء في (شرح الرضي على الكافية): " الإعراب ما أختلف آخره .. ليدل على المعاني المعتورة عليه. وقوله " ليدل على المعاني المعتورة عليه " بيان لعلة وضع الاعراب في الأسماء" (3).

قال الزجاجي في (الإيضاح) " فإن قال قائل: قد ذكرت أن الإعراب داخل عقب الكلام فما الذي دعا إليه واحتيج إليه من أجله؟

فالجواب أن يقال: إن الأسماء لما كانت تعتورها المعاني، وتكون فاعلة، ومفعولة ومضافة، ومضافا إليها، ولم يكن في صورها وأبنيتها أدلة على هذه المعاني، بل كانت مشتركة، جعلت حركات الاعراب فيها تنبيء عن هذه المعاني فقالوا: ضرب زيد عمرا فدلوا برفع زيد على إن الفعل له، وبنصب عمرو على إن الفعل واقع به. وقالوا (ضرب زيد) فدلوا بتغيير أول الفعل، ورفع زيد على إن الفعل لما لم يسم فاعله، وأن المفعول قد ناب منابه. وقالوا: (هذا غلام زيد) فدلوا بخفض زيد، على إضافة الغلام إليه وكذلك سائر المعاني، جعلوا هذه الحركات دلائل عليها، ليتسعوا في كلامهم وقدموا الفاعل إذا أرادوا ذلك، أو المفعول عند الحاجة، إلى تقديمه، وتكون الحركات دالة على المعاني. هذا قول جميع النحويين إلا أبا علي قطربا فإنه عاب عليهم هذا الاعتلال،

--------------------------------------------

(1) الخصائص (1/ 35).

(2) المفصل (1/ 84).

(3) الرضي على الكافية (1/ 18).
ইরাবের এই আভিধানিক অর্থই ব্যাকরণে ইরাবের অর্থের মূল ভিত্তি: ইরাব হলো "শব্দের মাধ্যমে অর্থসমূহকে সুস্পষ্ট করা। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন আপনি শোনেন 'সাঈদ তার পিতাকে সম্মান করেছে' এবং 'সাঈদকে তার পিতা ধন্যবাদ জানিয়েছে', তখন আপনি একজনের রফ (পেশ) এবং অন্যজনের নাসব (যবর) দেখে ফায়েল (কর্তা) ও মাফউলকে (কর্ম) আলাদাভাবে চিনতে পারেন? যদি বাক্য একই রূপের হতো, তবে একটি অন্যটি থেকে অস্পষ্ট থেকে যেত" (১)।

"আর এটি মূলত অর্থসমূহের মধ্যে পার্থক্য করার জন্যই আনা হয়েছে। যখন আপনি কোনো বিশেষ্য সম্পর্কে কোনো অর্থপূর্ণ বিষয় ব্যক্ত করবেন, তখন সেই অর্থকে নির্দেশ করার জন্য ইরাবের প্রয়োজন হবে" (২)।

‘শারহুর রাদি আলাল কাফিয়া’-তে এসেছে: "ইরাব হলো শব্দের শেষের সেই পরিবর্তন... যা তার ওপর আপতিত অর্থসমূহ নির্দেশ করার জন্য হয়ে থাকে। আর তাঁর কথা ‘তার ওপর আপতিত অর্থসমূহ নির্দেশ করার জন্য’—এটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ইরাব প্রবর্তনের কারণের বর্ণনা" (৩)।

যাজ্জাজি ‘আল-ইদাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: "যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: আপনি উল্লেখ করেছেন যে ইরাব শব্দের শেষে যুক্ত হয়, তবে কোন বিষয়টি একে প্ররোচিত করল এবং কোন প্রয়োজনে এর অবতারণা করা হলো?

এর উত্তর হলো: বিশেষ্যগুলোর (ইসিম) ওপর যখন বিভিন্ন অর্থ আপতিত হয় এবং সেগুলো কখনও কর্তা (ফায়েল), কখনও কর্ম (মাফউল), কখনও সম্বন্ধিত পদ (মুদাফ) ও কখনও যার সাথে সম্বন্ধ করা হয় (মুদাফ ইলাইহি) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, অথচ তাদের বাহ্যিক রূপে ও কাঠামোতে এই অর্থগুলোর কোনো প্রমাণ থাকে না বরং সেগুলো সাধারণ বা অস্পষ্ট দেখায়; তখন ইরাবের হরকতসমূহকে এই অর্থগুলো প্রকাশকারী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে তারা বলেছেন: 'জায়দ আমরকে প্রহার করেছে', যেখানে তারা জায়দকে রফ প্রদানের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে ক্রিয়াটি তার দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে এবং আমরকে নাসব প্রদানের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে তার ওপর ক্রিয়াটি আপতিত হয়েছে। তারা আরও বলেছেন: 'জায়দ প্রহৃত হয়েছে', যেখানে তারা ক্রিয়ার প্রারম্ভিক রূপ পরিবর্তন করে এবং জায়দকে রফ প্রদান করে বুঝিয়েছেন যে এটি এমন এক ক্রিয়া যার কর্তা অনুল্লেখিত (মাজহুল), এবং কর্মটি এখানে কর্তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। তারা আরও বলেছেন: 'এটি জায়দের গোলাম', যেখানে তারা জায়দকে জার (জের) প্রদানের মাধ্যমে তার দিকে গোলামের সম্বন্ধ হওয়াকে নির্দেশ করেছেন। একইভাবে অন্যান্য সকল অর্থের ক্ষেত্রেও এই হরকতগুলোকে অর্থের নির্দেশক বানানো হয়েছে, যাতে তারা তাদের কথাবার্তায় প্রশস্ততা আনতে পারেন এবং যখন ইচ্ছা কর্তাকে আগে আনতে পারেন অথবা প্রয়োজনে কর্মকে আগে নিয়ে আসতে পারেন, আর এই হরকতগুলোই অর্থের দিকনির্দেশনা দেবে। এটি আবু আলি কুতরুব ব্যতীত সকল ব্যাকরণবিদের অভিমত; তিনি তাদের এই যুক্তিপ্রদর্শনের সমালোচনা করেছেন।"

--------------------------------------------

(১) আল-খাসাইস (১/ ৩৫)।

(২) আল-মুফাসসাল (১/ ৮৪)।

(৩) আর-রাদি আলাল কাফিয়া (১/ ১৮)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال لم يعرب الكلام للدلالة على المعاني، والفرق بين بعضها وبعض .. وإنما أعربت العرب كلامها لأن الأسم في حال الوقف يلزمه السكون للوقف، فلو جعلوا وصله بالسكون أيضا، لكان يلزمه الاسكان في الوقف، والوصل فكانوا يبطئون عند الإدراج، فلما وصلوا وأمكنهم التحريك، جعلنا التحريك معاقبا للإسكان ليعتدل الكلام ..

وقال الخالفون له ردًا عليه " لو كان كما ذكر لجاز جر الفاعل مرة، ورفعه، أخرى ونصبه، وجاز نصب المضاف إليه لأن القصد في هذا، إنما هو الحركة تعاقب سكونا، ليعتدل بها الكلام فأي حركة أتى بها المتكلم أجزأته، فهو مخير في ذلك، وفي هذا فساد للكلام، وخروج عن أوضاع العرب وحكمة نظمهم في كلامهم (1).

وقد ذهب الأستاذ إبراهيم أنيس مذهب قطرب، قال: " يظهر والله أعلم أن تحريك أواخر الكلمات، كان صفة من صفات الوصل في الكلام، شعرا ونثرا، فإذا وقف المتكلم او اختتم، لم يحتج إلى تلك الحركات بل يقف على آخر كلمة من قوله، بما يسمى السكون. كما يظهر أن الأصل في كل الكلمات أن تنتهي بهذا السكون، وأن المتكلم لا يلجأ إلى تحريك الكلمات إلا لضرورة شعرية (2).

وقال أيضا: " لم تكن تلك الحركات الإعرابية تحدد المعاني في أذهان العرب القدماء كما يزعم النحاة، بل لا تعدو أن تكون حركات يحتاج إليها في الكثير من الأحيان لوصل الكلمات بعضها ببعض" (3).

" وكون الاعراب علما على المعاني، هو الرأي المقبول الواضح البين، إذ لو كانت الغاية منه الخفة عند درج الكلام، ما التزمته العرب هذا الإلتزام.

--------------------------------------------

(1) الأشباه والنظائر 1/ 84 - 86، الإيضاح في علل النحو (69)، وما بعدها.

(2) من أسرار اللغة (142).

(3) المصدر نفسه (158).
তিনি বলেন যে, অর্থের দিকে ইঙ্গিত করার জন্য কিংবা অর্থের মাঝে পার্থক্য করার জন্য কালামে (বাক্যে) ইরাব (স্বরচিহ্ন) প্রদান করা হয়নি। বরং আরবরা তাদের কালামে ইরাব প্রদান করেছে কারণ নামপদগুলো (ইসিম) থামার অবস্থায় (ওয়াকফ) সাকিন আবশ্যক করে। যদি তারা সংযুক্ত অবস্থায়ও (ওয়াসল) সাকিন রাখত, তবে থামা ও সংযুক্ত থাকা উভয় অবস্থায়ই সাকিন আবশ্যক হয়ে পড়ত, ফলে কথা বলার সময় তারা ধীরগতির হয়ে পড়ত। তাই যখন তারা শব্দগুলো সংযুক্ত করল এবং তাদের পক্ষে স্বরচিহ্ন (হারাকাত) প্রদান সম্ভব হলো, তখন কথাকে ভারসাম্যপূর্ণ করার জন্য আমরা সাকিনের বিপরীতে হারাকাতকে সাব্যস্ত করেছি যাতে কালাম বা কথা সুসংগত হয়...

তাঁর বিরোধীরা তাঁর প্রতিবাদে বলেছেন, "যদি বিষয়টি তেমন হতো যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন, তবে কর্তাকে (ফায়েল) একবার যার (জের), আরেকবার রাফা (পেশ) এবং অন্যবার নাসাব (জবর) দেওয়া বৈধ হতো। অনুরূপভাবে মুদাফ ইলাইহিতে নাসাব দেওয়াও বৈধ হতো। কারণ এক্ষেত্রে উদ্দেশ্য কেবল সাকিনের বিপরীতে হারাকাত নিয়ে আসা যাতে বাক্য ভারসাম্যপূর্ণ হয়। সেক্ষেত্রে বক্তা যে কোনো হারাকাত নিয়ে এলেই তা তার জন্য যথেষ্ট হতো এবং সে বিষয়ে সে স্বাধীন থাকত। আর এর ফলে বাক্যের বিন্যাস নষ্ট হতো এবং এটি আরবদের ভাষাগত কাঠামো ও তাদের কালামের শৃঙ্খলার হিকমতের পরিপন্থী হতো (১)।

উস্তাদ ইব্রাহিম আনিসও কুতরুবের মতের অনুসারী হয়েছেন। তিনি বলেন, "আল্লাহই ভালো জানেন, এটা প্রতীয়মান হয় যে, শব্দের শেষের হারাকাতগুলো ছিল কবিতা ও গদ্যে বাক্য সংযুক্ত করার একটি বৈশিষ্ট্য। যখন বক্তা থামতেন বা কথা শেষ করতেন, তখন তার সেই হারাকাতগুলোর প্রয়োজন হতো না, বরং তিনি তাঁর কথার শেষ শব্দে সাকিন দিয়ে থামতেন। আরও প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিটি শব্দের মূল বিষয় হলো সাকিন দিয়ে শেষ হওয়া এবং বক্তা কেবল কাব্যিক প্রয়োজনেই শব্দে হারাকাত ব্যবহারের আশ্রয় নিতেন (২)।

তিনি আরও বলেন: "সেই ইরাবি হারাকাতগুলো প্রাচীন আরবদের মনে অর্থ নির্ধারণ করে দিত না, যেমনটি বৈয়াকরণরা দাবি করেন। বরং এগুলো কেবল এমন কিছু হারাকাত ছিল যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজন হতো" (৩)।

"ইরাব হলো অর্থের নিদর্শন—এটাই হলো গ্রহণযোগ্য, সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল অভিমত। কারণ যদি এর উদ্দেশ্য কেবল কথা বলার সময় সাবলীলতা রক্ষা করা হতো, তবে আরবরা এটিকে এতটা কঠোরভাবে মেনে চলত না।

--------------------------------------------

(১) আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর ১/ ৮৪ - ৮৬, আল-ইদাহ ফি ইলালিন নাহব (৬৯) এবং পরবর্তী অংশ।

(২) মিন আসরারিল লুগাহ (১৪২)।

(৩) একই উৎস (১৫৮)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن أوضح الأمور على هذا انه لو قرأ أحدٌ قوله تعالى: {أن الله بريء من المشركين ورسوله} [التوبة: 30]، بالجر لاختل المعنى وفسد. وقيل أن حادثة كهذه هي التي أدت إلى وضع النحو (1).

وذكر لنا الزمخشري أعرابيا مر فسمع مؤذنا يقول: أشهد أن محمدا رسول الله، بالنصب فصاح به: ويحك ماذا تصنع؟

ثم .. إن أول حكايات ظهور اللحن على زمن أبي الأسود الدؤلي تدل على أن الإعراب له أثر في المعنى (2).

ومن يستطيع أن ينكر أن قوله تعالى: {إنما يخشى الله من عباده العلماء} [فاطر: 28] لو أبدلت فيه حركة (الله) إلى الرفع وحركة (العلماء) إلى النصب، لاختل المعنى وتغير إلى العكس تماما؟ وأن الجملة التالية - مثلا - إذا كانت غفلا احتملت معاني عدة فإن شكلت نصت على معنى واحد:

أكرم الناس أحمد.

أكرم الناسُ أحمدَ.

أكرم الناسَ أحمدُ.

أكرمُ الناسِ أحمدُ.

أكرمِ الناسَ أحمدُ.

وهو من الوضوح بمكان" (3).

--------------------------------------------

(1) الكشاف 2/ 27

(2) دراسات في اللغة إبراهيم السامرائي 47

(3) الدراسات النحوية واللغوية عند الزمخشري (235 - 336).
এর উপর অন্যতম স্পষ্ট একটি বিষয় হলো, যদি কেউ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রসূলও} [আত-তাওবাহ: ৩] -এই অংশটি 'জার' (জের) দিয়ে পাঠ করে, তবে এর অর্থ বিঘ্নিত ও বিকৃত হয়ে যাবে। আর বলা হয়ে থাকে যে, এই ধরণের ঘটনাই নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র সংকলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল (১)।

যামাখশারী আমাদের নিকট জনৈক গ্রাম্য আরব ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি এক মুয়াজ্জিনকে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসুলুল্লাহ’ বাক্যটিতে ‘রাসুল’ শব্দটিকে নসব (যবর) দিয়ে পড়তে শুনে চিৎকার করে বলে ওঠেন: "তোমার ধ্বংস হোক! তুমি একি করছ?"

অতঃপর... আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী-এর যুগে ভাষাগত ভুল (লাহন) প্রকাশের প্রাথমিক ঘটনাগুলো এই প্রমাণ দেয় যে, ইরাব (শব্দের শেষাংশের স্বরচিহ্ন) অর্থের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে (২)।

আর কেই বা অস্বীকার করতে পারে যে, মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই আল্লাহকে ভয় করে} [ফাতির: ২৮] -এর মধ্যে যদি ‘আল্লাহ’ শব্দের হরকত পরিবর্তন করে রাফা (পেশ) করা হয় এবং ‘আলেম’ শব্দের হরকত নসব (যবর) করা হয়, তবে অর্থটি সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে ঠিক বিপরীত হয়ে যাবে? তদ্রূপ নিচের বাক্যটি যদি হরকতবিহীন হয় তবে তা একাধিক অর্থ প্রকাশের সম্ভাবনা রাখে, কিন্তু যদি হরকতযুক্ত করা হয় তবে তা একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে:

মানুষকে আহমাদ সম্মান করেছে।

মানুষগুলো আহমাদকে সম্মান করেছে।

আহমাদ মানুষকে সম্মান করেছে।

আহমাদ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মানীত/দানশীল।

হে আহমাদ, মানুষকে সম্মান করো।

আর এই বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-কাশশাফ ২/২৭

(২) দিরাসাত ফিল লুগাহ, ইবরাহিম আস-সামাররাঈ ৪৭

(৩) আদ-দিরাসাত আন-নাহউইয়্যাহ ওয়াল লুগাউইয়্যাহ ইনদাল যামাখশারী (২৩৫ - ৩৩৬)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌معاني الاعراب

ذهب كثير من النحويين إلى أن الرفع علم الفاعلية، وبقية المرفوعات مشبهة به والنصب علم المفعولية، وبقية المنصوبات ملحقة بالمفاعيل، والجر علم الإضافة (1).

وقيل بل المبتدأ والخبر هما الأول والأصل في استحقاق الرفع وبقية المرفوعات محمولة عليهما، ونسب هذا القول إلى سيبويه وابن السراج (2).

وقيل: المرفوعات كلها أصول (3)، إلا إن ما عليه حذاق النحويين هو الأول (4).

ورجح رضي الدين الإستراباذي أن الرفع علم العمدة، والنصب علم الفضلة، والجر علم الإضافة، جاء في (شرح الرضى على الكافية) تعقيبا على قول المصنف أن الرفع علم الفاعلية، والنصب علم المفعولية، والجر علم الإضافة، " والأولى كما بينا أن يقال: الرفع علم كون الاسم عمدة الكلام، ولا يكون في غير العمد، والنصب علم الفضلة في الأصل، ثم يدخل في العمد تشبيها بالفضلات كما مضى .. وأما الجر فعلم الإضافة أي كون الاسم مضافا إليه معنى أو لفظًا، كما في غلام زيد وحسن الوجه" (5).

وجاء فيه: وجعل الرفع أقوى الحركات للعمد وهي ثلاثة: الفاعل والمبتدأ والخبر.

وجعل النصب للفضلات سواء اقتضاها جزء الكلام بلا واسطة، كغير المفعول معه من المفاعيل، وكالحال، والتمييز، أو اقتضاها بواسطة حرف كالمفعول معه، والمستثنى غير المفرع، والأسماء التي تلي حروف الاضافة، أعني حروف الجر. وإنما جعل للفضلات النصب الذي هو أضعف الحركات وأخفها، لكون الفضلات أضعف من العمد، وأكثر منها.

--------------------------------------------

(1) المفصل (1/ 50)، همع الهوامع: (1/ 93)، الرضي على الكافية: (1/ 34).

(2) ابن يعيش (1/ 73)، همع الهوامع: (1/ 93).

(3) همع الهوامع (1/ 93)، حدائق الدقائق للبردعي.

(4) ابن يعش (1/ 73)، حدائق الدقائق للبردعي.

(5) شرح الرضي على الكافية (1/ 24 - 25).
ই'রাবের তাৎপর্য

অনেক ব্যাকরণবিদ এই মত পোষণ করেছেন যে, রাফ’ হলো ফায়েলিয়াত (কর্তৃপদীয়তা)-এর চিহ্ন এবং অন্যান্য মারফু’ (রাফ’ বিশিষ্ট) শব্দগুলো এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নাসব হলো মাফউলিয়াত (কর্মপদীয়তা)-এর চিহ্ন এবং অন্যান্য মানসুব (নাসব বিশিষ্ট) শব্দগুলো মাফউলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর জার হলো ইযাফাত (সম্বন্ধ)-এর চিহ্ন (১)।

কেউ কেউ বলেন, বরং মুবতাদা এবং খবরই হলো রাফ’ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম এবং মূল উৎস, আর বাকি মারফু’ শব্দগুলো এই দুইটির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এই মতটি সীবওয়াইহ এবং ইবনে আস-সাররাজ-এর দিকে নিসবত করা হয় (২)।

আরও বলা হয়েছে যে, সকল মারফু’ শব্দই হলো মূল (৩); তবে বিজ্ঞ ব্যাকরণবিদদের নিকট প্রথম মতটিই অগ্রগণ্য (৪)।

রাযীউদ্দীন আল-আস্তারাবাদী এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, রাফ’ হলো উমদাহ (বাক্যের অপরিহার্য অংশ)-এর চিহ্ন, নাসব হলো ফাদলাহ (অতিরিক্ত অংশ)-এর চিহ্ন এবং জার হলো ইযাফাত-এর চিহ্ন। (শারহুর রাযী আলাল কাফিয়া) গ্রন্থে গ্রন্থকারের এই বক্তব্যের ওপর আলোকপাত করে বলা হয়েছে যে, রাফ’ হলো ফায়েলিয়াত-এর চিহ্ন, নাসব হলো মাফউলিয়াত-এর চিহ্ন এবং জার হলো ইযাফাত-এর চিহ্ন— "এবং আমরা যেমন বর্ণনা করেছি, এটি বলাই অধিক উত্তম যে: রাফ’ হলো একটি বিশেষ্য বাক্যের উমদাহ বা প্রধান অংশ হওয়ার চিহ্ন, যা উমদাহ ছাড়া অন্য কোথাও হয় না; এবং নাসব মূলত ফাদলাহ (অতিরিক্ত অংশ)-এর চিহ্ন, যা পরবর্তীতে ফাদলাহ-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে উমদাহ-এর মধ্যেও প্রবেশ করে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে... আর জার হলো ইযাফাত-এর চিহ্ন, অর্থাৎ অর্থগত বা শব্দগতভাবে কোনো বিশেষ্য 'মুদাফ ইলাইহি' হওয়া, যেমন: গোলামু যায়দিন (যায়দের গোলাম) এবং হাসানুল ওয়াজহি (সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট)" (৫)।

সেখানে আরও বলা হয়েছে: রাফ’-কে উমদাহ-এর জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী হারাকাত (স্বরচিহ্ন) নির্ধারণ করা হয়েছে, আর উমদাহ হলো তিনটি: ফায়েল, মুবতাদা এবং খবর।

আর নাসব-কে ফাদলাহ (অতিরিক্ত অংশসমূহ)-এর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, চাই তা কোনো মাধ্যম ছাড়াই বাক্যের কোনো অংশের দাবি অনুযায়ী হোক—যেমন মাফউল মা'আহু ব্যতীত অন্যান্য মাফউলসমূহ, হাল এবং তামীয—অথবা কোনো হরফ বা অব্যয়ের মাধ্যমে হোক, যেমন মাফউল মা'আহু, মুসতাসনা গায়রুল মুফাররা' এবং সম্বন্ধসূচক হরফ অর্থাৎ হরফে জার-এর পরবর্তী বিশেষ্যসমূহ। ফাদলাহ-এর জন্য নাসব-কে নির্ধারণ করা হয়েছে যা হারাকাতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ও হালকা, কারণ ফাদলাহসমূহ উমদাহ-এর তুলনায় দুর্বল এবং সংখ্যার দিক থেকে অধিক।

--------------------------------------------

(১) আল-মুফাসসাল (১/৫০), হামউল হাওয়ামি’: (১/৯৩), আর-রাযী আলাল কাফিয়া: (১/৩৪)।

(২) ইবনে ইয়া’ঈশ (১/৭৩), হামউল হাওয়ামি’: (১/৯৩)।

(৩) হামউল হাওয়ামি’ (১/৯৩), হাদা’ইকুদ দাকায়িক লিল বারদা’য়ী।

(৪) ইবনে ইয়া’ঈশ (১/৭৩), হাদা’ইকুদ দাকায়িক লিল বারদা’য়ী।

(৫) শারহুর রাযী আলাল কাফিয়া (১/২৪ - ২৫)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
ثم أريد أن يميز بعلامة ما هو فضلة، بواسطة حرف ولم يكن بقي من الحركات غير الكسر، فميز به، مع كونه منصوب المحل، لأنه فضلة، فصار معنى معنى كون الاسم مضافا إليه معنى العمدة بحرف، معنى آخر منضما إلى المعنيين المذكورين، علامته الجر فإن سقط الحرف ظهر الاعراب المحلي في هذه الفضلة، نحو: " الله لا فعلن " فإذا عطف على المجرور فالحمل على الجر الظاهر أولى من الحمل على النصب المقدر. وقد يحمل على المحل كما في قوله تعالى {وامسحوا برءوسكم وأرجلكم} بالنصب فإن سقط الجار مع الفعل لزوما كما في الاضافة زال النصب المقدر.

فأصل الجر أن يكون علم الفضلة التي تكون بواسطة حرف، ثم يخرج في موضعين عن كونه علم الفضلة، ويبقى علما للمضاف إليه فقط:

أحدهما فيما أضيف إليه الاسم.

والثاني في المجرور المسند إليه نحو: مر بزيد.

والأصل فيهما أيضا ذلك كما بينا" (1).

والظاهر إن ما رجحه الرضي، من أن الرفع دليل العمدة، هو الأصل، لقول إبراهيم مصطفى ومن تابعه، إن الضمة دليل السناد.

والذي أراه في تعليل إعراب الاسم ما يأتي:

1 - إن الرفع دليل الإسناد، أو العمدة، وليس في العربية اسم مرفوع، إلا وهو طرف في الإسناد أي عمدة.

2 - إن حق العمدةـ أن يرتفع ولكن قد يدخل على المسند، أو المسند إليه ما يعدل حركته الأصلية، إلى النصب، أو إلى الجر، كالنصب، بالأحرف المشبهة بالفعل، والجر بالحروف الزائدة.

--------------------------------------------

(1) الرضي على الكافية (1/ 21 - 22).
অতঃপর চাওয়া হলো যে, যা কিছু পরিপূরক (ফাজলা), তাকে যেন একটি চিহ্নের মাধ্যমে পৃথক করা হয়, আর তা কোনো অব্যয়ের (হরফ) মাধ্যমে। স্বরচিহ্নগুলোর মধ্যে কাসরা ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না, তাই এর মাধ্যমেই তাকে চিহ্নিত করা হলো, যদিও স্থানগতভাবে (মাহাল) তা মানসুব, কারণ তা ফাজলা। ফলে ইসম মুদাফ ইলাইহি হওয়ার অর্থ দাঁড়িয়েছে অব্যয়যোগে উমদাহ বা প্রধান অংশ হওয়ার অর্থের সাথে অন্য একটি অর্থ যা উল্লিখিত দুটি অর্থের সাথে যুক্ত হয়, যার চিহ্ন হলো যার। সুতরাং যদি অব্যয়টি বিলুপ্ত হয়, তবে এই ফাজলাতে স্থানীয় ইরাব প্রকাশ পায়, যেমন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই করব"। এমতাবস্থায় যদি মাজরুরের ওপর আতিফ করা হয়, তবে উহ্য নাসবের ওপর ভিত্তি করার চেয়ে প্রকাশ্য জারের ওপর ভিত্তি করাই উত্তম। কখনও কখনও স্থানের (মাহাল) ওপরও ভিত্তি করা হয় যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের মাথা মাসহ করো এবং তোমাদের পা ধৌত করো} নাসব সহকারে। অতঃপর যদি ক্রিয়ার সাথে হরফে জার আবশ্যিকভাবে বিলুপ্ত হয়, যেমনটি ইদাফাতের ক্ষেত্রে ঘটে, তবে উহ্য নাসব আর থাকে না।

সুতরাং জারের মূল প্রকৃতি হলো এটি এমন পরিপূরকের (ফাজলা) চিহ্ন হওয়া যা কোনো অব্যয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অতঃপর এটি দুটি স্থানে পরিপূরকের চিহ্ন হওয়া থেকে বের হয়ে আসে এবং কেবল মুদাফ ইলাইহির চিহ্ন হিসেবেই থেকে যায়:

প্রথমত: যেখানে ইসমকে অন্য শব্দের দিকে ইদাফাত করা হয়।

দ্বিতীয়ত: সেই মাজরুর যা মুসনাদ ইলাইহি হয়, যেমন: 'যাইদের পাশ দিয়ে যাওয়া হলো'।

আর এই উভয় ক্ষেত্রেও মূল ভিত্তি সেটিই যা আমরা বর্ণনা করেছি" (১)।

আর বাহ্যত আল-রাজি যা প্রধান্য দিয়েছেন যে, রাফ হলো উমদাহ বা প্রধান অংশের প্রমাণ, সেটিই মূল ভিত্তি। কারণ ইবরাহিম মুস্তাফা এবং তাঁর অনুসারীদের মতে, দাম্মা হলো ইসনাদ বা সম্পর্কের প্রমাণ।

আর ইসমের ইরাবের কারণ বর্ণনায় আমি যা সঙ্গত মনে করি তা হলো নিম্নরূপ:

১ - রাফ হলো ইসনাদ বা উমদাহর প্রমাণ। আরবিতে এমন কোনো মারফু ইসম নেই যা ইসনাদের অংশ বা উমদাহ নয়।

২ - উমদাহর অধিকার হলো মারফু হওয়া, কিন্তু কখনও কখনও মুসনাদ বা মুসনাদ ইলাইহির ওপর এমন কিছু প্রবেশ করে যা তার মূল হারাকাতকে নাসব বা জারের দিকে পরিবর্তন করে দেয়। যেমন হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফিলের মাধ্যমে নাসব হওয়া এবং অতিরিক্ত হরফের মাধ্যমে যার হওয়া।

--------------------------------------------

(১) আল-কাফিয়ার ওপর আল-রাজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ (১/ ২১-২২)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
3 - النصب علامة الفضلة.

4 - قد يدخل على قسم من الفضلات ما يعدل حركتها إلى الجر كقولهم: ما رأيت من أحد، ورب رجل أكرمت.

5 - الجر دليل الإضافة، وأحيانا يكون علامة لاسناد غير مباشر، أو مفعولية غير مباشرة (1).

 

دلالة العلامات (2) على المعنى:

الأصل في العربية أن تكون العلامات ذوات دلالة على المعاني، وإن اختلاف العلامات يؤدي إلى اختلاف المعاني ويستثني من ذلك أمور منها:

1 - علامات البناء: فليست علامات البناء أعلاما لمعان، كما هي في الإعراب فـ (أين) مثلا تقع عمدة نحو: أين دارك؟ وتقع فضلة محلها النصب نحو:

أين ذهبت؟ وتقع في محل جر نحو: من أين جئت؟ وهي في جميع ذلك، لها حركة واحدة هي الفتحة.

2 - إختلاف اللغات: من الواضح أن اختلا العلامات في اللغة الواحدة، يتبعه إختلاف في المعنى نحو: ما أحسن زيد ما أحسن زيدا، وكما يذكر النحاة في نحو: لا رجل في الدار (بالفتح) ولا رجل في الدار (بالرفع).

ولكن ليس من الضرورة أن يؤدي اختلاف العلامات في اللغتين إلى إختلاف المعنى في التعبير الواحد، فنحن لا نستطيع أن نقول أن معنى جملة (ما محمد حاضرا) في لغة الحجاز يختلف عن معنى جملة (ما محمد حاضر) في لغة تميم فـ (ما) كما هو معلوم يعملها الحجازيون إذا دخلت على الجملة الإسمية بشروط معروفة ويهملها التميميون" (3)

--------------------------------------------

(1) انظر الدراسات النحوية واللغوية عند الزمخشري (346).

(2) العلامات هي (الضمة، الفتحة، الكسرة، السكون) مع بقية العلامات الفرعية الأخرى.

(3) المغني (1/ 303) ابن عقيل (1/ 302) الأشموني (1/ 247)، التصريح: (1/ 196).
৩ - নসব (নাসব) হলো ফদলা (অতিরিক্ত অংশ)-এর চিহ্ন।

৪ - কোনো কোনো ফদলার ওপর এমন কিছু বিষয় প্রবেশ করতে পারে যা তার হরকতকে জরে (জেরে) পরিবর্তন করে দেয়, যেমন তাদের কথা: আমি কাউকে দেখিনি (মা রাআইতু মিন আহাদিন), এবং আমি অনেক ব্যক্তিকে সম্মান করেছি (রুব্বা রাজুলিন আকরমতু)।

৫ - জর হলো ইদাফাত (সম্বন্ধ)-এর প্রমাণ, আর কখনো কখনো এটি পরোক্ষ ইসনাদ বা পরোক্ষ মাফ'উলিয়্যাত (কর্মকারক)-এর চিহ্ন হয় (১)।

 

অর্থের ওপর চিহ্নসমূহের (২) নির্দেশনা:

আরবি ভাষার মূলনীতি হলো চিহ্নসমূহ অর্থের পরিচয়ক হবে, এবং চিহ্নসমূহের ভিন্নতা অর্থের ভিন্নতা সৃষ্টি করবে। তবে এর কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - বিনার (অপরিবর্তনীয় অবস্থার) চিহ্নসমূহ: বিনার চিহ্নসমূহ অর্থের আলামত বা পরিচয়ক নয়, যেমনটি ই'রাবের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, (আইনা - কোথায়) শব্দটি 'উমদাহ' (প্রধান অংশ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: তোমার বাড়ি কোথায়? (আইনা দারুকা?)। আবার এটি 'ফদলা' (অতিরিক্ত অংশ) হিসেবে নসবের স্থানে ব্যবহৃত হয়, যেমন: তুমি কোথায় গিয়েছিলে? (আইনা জাহাবতা?)। আবার এটি জরের স্থানেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: তুমি কোথা থেকে এসেছ? (মিন আইনা জি'তা?)। এই সব ক্ষেত্রেই এর মাত্র একটিই হরকত থাকে, আর তা হলো ফাতহা।

২ - ভাষার (উপভাষার) ভিন্নতা: এটা স্পষ্ট যে, একই ভাষায় চিহ্নের ভিন্নতা অর্থের ভিন্নতা অনুসরণ করে, যেমন: যায়েদের কোন জিনিসটি সুন্দর? (মা আহসানু যায়দিন) এবং যায়েদ কতই না সুন্দর! (মা আহসানা যায়দান)। এবং যেমনটি ব্যাকরণবিদগণ উল্লেখ করেছেন: বাড়িতে কোনো পুরুষ নেই (লা রাজুলা - ফাতহা যোগে) এবং বাড়িতে কোনো পুরুষ নেই (লা রাজুলুন - রাফা যোগে)।

কিন্তু এটা জরুরি নয় যে, দুটি ভিন্ন ভাষায় চিহ্নের ভিন্নতা একই অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে অর্থের ভিন্নতা ঘটাবে। আমরা বলতে পারি না যে, হিজাজিদের ভাষায় "মুহাম্মদ উপস্থিত নয়" (মা মুহাম্মাদুন হাদিরান) বাক্যের অর্থ তামীম গোত্রের ভাষায় "মুহাম্মদ উপস্থিত নয়" (মা মুহাম্মাদুন হাদিরুন) বাক্যের অর্থ থেকে ভিন্ন। কারণ "মা" শব্দটি, যেমনটি জানা আছে, হিজাজিরা যখন ইসমিয়া জুমলার ওপর প্রবেশ করে তখন তাকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আমল দেয় (কার্যকর করে), আর তামীম গোত্রের লোকেরা একে আমলহীন (অকার্যকর) রাখে (৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যামাখশারীর নিকট নাহবি ও ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণা (৩৪৬)।

(২) চিহ্নসমূহ হলো (দম্মাহ, ফাতহা, কাসরা, সুকুন) এবং এর সাথে অন্যান্য আনুষঙ্গিক চিহ্নসমূহ।

(৩) আল-মুগনি (১/ ৩০৩), ইবনে আকীল (১/ ৩০২), আল-অশমুনি (১/ ২৪৭), আত-তাসরিহ (১/ ১৯৬)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
أو أن جملة (ليس الطيب إلا المسك) بنصب (المسك) في لغة الحجاز، يختلف معناها عن جملة (ليس الطيب إلا المسك) برفع (المسك) في لغة تميم، فإن (ليس) إذا انتقض خبرها بالا يبقى عملها عند الحجازيين ويهملها بنو تميم (1).

أو أن جملة (لعل الله فضلكم علينا) بجر لفظ الجلالة عند عقيل، يختلف معناها عن جملة (لعل الله فضلكم علينا) بالنصب في لغة سائر العرب، فإن الجر بلعل لغة عقيل، والنصب بها، لغة سائر العرب (2).

أو (اقبل أباك) في لغة بني الحارث وجماعة يختلف معناها عن جملة (أقبل أبوك) في لغة سائر العرب، فإن بني الحارث وزبيدا وخثعما وهمدان تجعل أبا وأخا وحما، بالألف مطلقا (3).

فاختلاف اللغات في التعبير الواحد لا يؤدي إلى إختلاف المعنى، وإن كانت العلامات الإعرابية مختلفة.

3 - الاتباع والمجاورة: ظاهرة من ظواهر العربية تكون في الحركات والكلمات ويعود في حقيقته إلى الانسجام الموسيقي بين الأصوات، كقراءة من قرأ: الحمدُ لله بضم اللام اتباعا لضمة الدال، أو الحمد للهِ (4) بكسر الدال اتباعا لكسر اللام.

ومن الاتباع في غير الأواخر قولهم (حدث أمر) بضم الدال، حين يقرن الفعل بقدم فإذا أفردت لفظة (حدث) قالوا (حدث) بفتح الدال لأنه زال السبب الذي أوجب ضم دالها (5).

ومن الاتباع في الكلمات قولهم (الغدايا والعشايا) إذا قرنوا بينهما، فجاؤا بكلمة الغدايا لموازنة العشايا فإن أفردوا الغدايا ردوها إلى أصلها، فقالوا الغدوات. ومنه ما جاء في الحديث عنه صلى الله عليه وسلم إنه قال للنساء المتبرزات في العيد: " ارجعن مأزورات غير مأجورات".

--------------------------------------------

(1) المغني (1/ 394)، التصريح: (1/ 196).

(2) المغني (1/ 286)، ابن عقيل (3/ 4)، الأشموني (2/ 204)، التصريح (2/ 2).

(3) الأشموني (1/ 70)، شرح شواهد الأشموني للعيني (1/ 70)، التصريح (1/ 65)، حاشية الخضري على شرح ابن عقيل: (1/ 38)

(4) الخصائص: (3/ 179).

(5) انظر درة الغواص (51).
অথবা হিজাজিদের ভাষায় 'আল-মিসক' শব্দটিকে নসব (জবর) দিয়ে 'সুগন্ধি কেবল কস্তুরিই' বাক্যটির যে অর্থ, তামিমিদের ভাষায় 'আল-মিসক' শব্দটিকে রাফা (পেশ) দিয়ে একই বাক্যের অর্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ হিজাজিদের নিকট 'লাইসা'-এর খবর (সংবাদ) যদি 'ইল্লা' দ্বারা খণ্ডিত হয়, তবে তার আমল আর অবশিষ্ট থাকে না, কিন্তু বনু তামিমিরা একে আমলহীন হিসেবে গণ্য করে (১)।

অথবা উকাল গোত্রের নিকট শব্দে জালালাত (আল্লাহ)-কে যার (জের) প্রদান করে 'সম্ভবত আল্লাহ তোমাদের আমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন' বাক্যটির যে অর্থ, অন্যান্য আরবদের ভাষায় নসব (জবর) প্রদানকৃত একই বাক্যের অর্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ 'লাআল্লা' দ্বারা যার (জের) প্রদান করা উকাল গোত্রের ভাষা, আর একে নসবের জন্য ব্যবহার করা অন্যান্য আরবদের ভাষা (২)।

অথবা বনু হারিস ও একটি দলের ভাষায় 'তোমার বাবার দিকে এগিয়ে যাও' (আলিফ যোগে) বাক্যটির অর্থ অন্যান্য আরবদের ভাষায় 'তোমার বাবা এগিয়ে এসেছেন' (ওয়াও যোগে) বাক্যটির অর্থ হতে ভিন্ন নয়। কেননা বনু হারিস, যুবাইদ, খাস'আম ও হামদান গোত্রসমূহ 'আবা', 'আখা' এবং 'হামা' শব্দগুলোকে সর্বাবস্থায় আলিফ যোগে ব্যবহার করে (৩)।

সুতরাং একই অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাষার বৈচিত্র্য অর্থের ভিন্নতা ঘটায় না, যদিও ইরাবি বা ব্যাকরণিক চিহ্নগুলো ভিন্ন হয়ে থাকে।

৩ - অনুকরণ (ইত্তিবা) ও নৈকট্য (মুজাওয়ারাহ): এটি আরবি ভাষার এমন এক বৈশিষ্ট্য যা হরকত এবং শব্দের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। এর প্রকৃত ভিত্তি হলো ধ্বনিসমূহের মধ্যে সুরের সামঞ্জস্য। যেমন কোনো কোনো ক্বারীর পাঠ: 'আল-হামদু লিল্লাহি' এর পরিবর্তে 'আল-হামদু লুল্লাতি' পাঠ করা যেখানে দাল-এর পেশের অনুকরণে লাম-কে পেশ প্রদান করা হয়েছে, অথবা 'আল-হামদি লিল্লাহি' (৪) পাঠ করা যেখানে লাম-এর যেরের অনুকরণে দাল-কে যের প্রদান করা হয়েছে।

শব্দের শেষাংশ ব্যতীত অন্য জায়গায় অনুকরণের উদাহরণ হলো তাদের উক্তি: 'একটি বিষয় ঘটেছে' (হাদূসা আমরুন), এখানে দাল-কে পেশ দেওয়া হয়েছে যখন ক্রিয়াটিকে 'পুরাতন হওয়া' (ক্বাদূমা) শব্দের সাথে মিলিয়ে বলা হয়। কিন্তু যখন 'ঘটেছে' (হাদাসা) শব্দটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তারা দাল-কে যবর দিয়ে 'হাদাসা' বলে, কারণ তখন দাল-কে পেশ দেওয়ার কারণটি অপসারিত হয় (৫)।

শব্দের মধ্যে অনুকরণের একটি উদাহরণ হলো তাদের উক্তি: 'সকাল ও সন্ধ্যা' (আল-গাদায়া ওয়াল-আশায়া), যখন তারা শব্দ দুটিকে একত্রে ব্যবহার করে। এখানে 'আল-আশায়া' শব্দের সাথে ভারসাম্য রক্ষার জন্য তারা 'আল-গাদায়া' শব্দটি ব্যবহার করেছে। কিন্তু তারা যদি 'সকাল' শব্দটি এককভাবে ব্যবহার করত, তবে একে তার মূল রূপে ফিরিয়ে নিত এবং 'আল-গাদাওয়াত' বলত। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীস, যেখানে তিনি ঈদের মাঠে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "তোমরা গুনাহগার অবস্থায় ফিরে যাও, সওয়াব অর্জনকারী অবস্থায় নয়।" (এখানে 'মাজুরাত' শব্দের সাথে মিল রাখতে 'মাযুরাত' শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি (১/৩৯৪), আত-তাসরিহ (১/১৯৬)।

(২) আল-মুগনি (১/২৮৬), ইবনে আকিল (৩/৪), আল-আশমুনি (২/২০৪), আত-তাসরিহ (২/২)।

(৩) আল-আশমুনি (১/৭০), আল-আইনি কর্তৃক শারহু শওয়াহিদুল আশমুনি (১/৭০), আত-তাসরিহ (১/৬৫), শারহু ইবনে আকিলের উপর খিজরির হাশিয়া (১/৩৮)।

(৪) আল-খাসাইস (৩/১৭৯)।

(৫) দ্রষ্টব্য: দুররাতুল গাওয়াস (৫১)।
(খণ্ড: ১) মাআনিন নাহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
والأصل في (مأزورات) (موزورات) لاشتقاقها من الوزر (1).

ومن الاتباع أن يجاء بكلمات لا معنى لها أصلا، وإنما ضمت إلى الكلمات التي قبلها لزيين الكلام، مثل قولهم حسن بسن (2).

ومنه المجاورة كقول الحطيئة:

فإياكم وحية بطن واد … هموز الناب ليس لكم بسي

فيمن جر هموز الناب. وقول الآخر

كأن نسج العنكبوت المرمل

وإنما صوابه المرملا (3).

ولا نستطيع أن نقول في حركات الاتباع، أنها حركات ذات معنى خاص، فلا فرق في المعنى بين القرائتين: الحمد لله والحمدِ لله، وإنما هو أمر يعود إلى الإنسجام الموسيقي بين الأصوات كما ذكرنا.

4 - النقل وحذف الحركة لسبب غير إعرابي: فمن النقل قول الشاعر:

عجبت والدهر كثير عجبه … من عنزي سبني لم أضربه

فضمة الباء منقولة من الهاء (4) وإلا فهي ساكنة لأن الفعل مجزوم والضمة هنا ليست ذات دلالة على معنى، ولا يقاس أمرها على ضمة المضارع الإعرابية.

ومنه رأي بعض النحاة قراءة من قرأ: (ومن يخرج من بيته مهاجرًا إلى الله ورسوله ثم يدركه الموت فقد وقع أجره على الله) بضم الكاف من (يدركه) قيل ضم الكاف منقول

--------------------------------------------

(1) درة الغواص (51 - 52).

(2) الرضي على الكافية: (1/ 365).

(3) الخصائص: (3/ 220 - 221).

(4) حاشية على الكشاف لمجهول - الورقة 116 مخطوطة بمكتبة الأوقاف ببغداد برقم 2247.
‘মা’যুরাত’ (মأزورات)-এর মূল রূপ হলো ‘মাওযুরাত’ (موزورات), কারণ এটি ‘বিযর’ (পাপ বা বোঝা) থেকে উদ্ভূত হয়েছে। (১)

‘ইততিবা’ (অনুসরণ)-এর একটি প্রকার হলো এমন সব শব্দের ব্যবহার যেগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, বরং কেবল বাক্যের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পূর্ববর্তী শব্দের সাথে সেগুলো যুক্ত করা হয়; যেমন তাদের উক্তি: ‘হাসান বাসান’ (খুবই সুন্দর)। (২)

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ‘মুজাওয়ারাহ’ (পার্শ্ববর্তী শব্দের প্রভাবে হারাকাত গ্রহণ), যেমন হুতাইয়াহ-এর উক্তি:

তোমরা উপত্যকার তলদেশের সাপ থেকে সাবধান থেকো... যার বিষদাঁত কামড় দেয় এবং সে তোমাদের প্রতি সদয় নয়।

এখানে যারা ‘হামুযিন নাবি’ (বিষদাঁত) শব্দটিকে ‘জের’ দিয়ে পড়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। এবং অন্য কবির উক্তি:

যেন মাকড়সার বুনন যা সুশোভিত।

অথচ এর সঠিক রূপ হওয়ার কথা ছিল ‘আল-মুরমালা’ (যবর যুক্ত)। (৩)

আমরা ‘হারাকাতুল ইততিবা’ (অনুসরণমূলক স্বরচিহ্ন) সম্পর্কে বলতে পারি না যে, এগুলো বিশেষ কোনো অর্থবহ হারাকাত। সুতরাং অর্থের দিক থেকে ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ এবং ‘আল-হামদি লিল্লাহ’—এই দুই পঠনরীতির (কিরাত) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বরং এটি ধ্বনিসমূহের মধ্যে শ্রুতিমধুর ছন্দের সামঞ্জস্য রক্ষার বিষয়, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি।

৪ - ই’রাব (ব্যাকরণিক পরিবর্তন) ব্যতীত অন্য কারণে হারাকাত স্থানান্তর ও বিলোপ: হারাকাত স্থানান্তরের (নাকল) উদাহরণ হলো কবির উক্তি:

আমি বিস্মিত হয়েছি, আর মহাকালের বিস্ময় তো অনেক... এক আনযী গোত্রীয় ব্যক্তির আচরণে যে আমাকে গালি দিয়েছে অথচ আমি তাকে প্রহার করিনি।

এখানে ‘বা’ বর্ণের পেশটি মূলত ‘হা’ বর্ণ থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। (৪) অন্যথায় বর্ণটি সাকিন (স্থির) হওয়ার কথা ছিল, কারণ ক্রিয়াটি ‘মাজযুম’ (যযমযুক্ত)। আর এখানকার এই পেশ কোনো বিশেষ অর্থ নির্দেশ করে না এবং একে মুযারি’ ক্রিয়ার ব্যাকরণিক পেশের সাথে তুলনা করা যাবে না।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো কোনো নাহুবিদের (ব্যাকরণবিদ) মতানুসারে ঐ ব্যক্তির পঠনরীতি যিনি পাঠ করেছেন: (আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরতকারী হিসেবে নিজ ঘর থেকে বের হয়, অতঃপর মৃত্যু তাকে পেয়ে বসে, তবে তার পুরস্কার আল্লাহর ওপর অবধারিত হয়ে যায়) এখানে ‘ইউদরিকহু’ (তাকে পেয়ে বসে) শব্দের ‘কাফ’ বর্ণে পেশ দিয়ে পাঠ করার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, কাফ বর্ণের এই পেশটি স্থানান্তরিত।

--------------------------------------------

(১) দুররাতুল গাওওয়াস (৫১ - ৫২)।

(২) আর-রাযি আলাল কাফিয়াহ: (১/ ৩৬৫)।

(৩) আল-খাসাইস: (৩/ ২২০ - ২২১)।

(৪) হাশিয়াহ আলাল কাশশাফ (অজ্ঞাত লেখক) - পৃষ্ঠা ১১৬, বাগদাদের আওকাফ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি নম্বর ২২৪৭।