(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: -)
فقه النوازل للأقليات المسلمة   (محمد يسري إبراهيم)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: فقه النوازل للأقليات المسلمة «تأصيلا وتطبيقا»

المؤلف: الدكتور محمد يسري إبراهيم

أصل الكتاب: رسالة دكتوراه في الفقه الإسلامي من كلية الشَّريعة والقانون بجامعة الأزهر

الناشر: دار اليسر، القاهرة - جمهورية مصر العربية

الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو القعدة 1437

মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য সমসাময়িক সমস্যার ফিকহ   (মুহাম্মদ ইউসরি ইবরাহিম)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ

বই: মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য সমসাময়িক সমস্যার ফিকহ «মূলনীতি ও প্রয়োগ»

লেখক: ডক্টর মুহাম্মদ ইউসরি ইবরাহিম

মূল বই: আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও আইন অনুষদ থেকে ইসলামি ফিকহ বিষয়ে পিএইচডি থিসিস

প্রকাশক: দারুল ইউসর، কায়রো - মিশর আরব প্রজাতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ জিলকদ ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: -)
فقه النوازل للأقليات المسلمة «تأصيلا وتطبيقا»

 

تأليف

الدكتور محمد يسري إبراهيم

 

[المجلد الأول]

 

دار اليسر
মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ফিকহুন নাওয়াযিল: ‘মূলনীতি ও প্রয়োগ’

 

রচনায়

ডক্টর মুহাম্মাদ ইউসরি ইবরাহিম

 

[প্রথম খণ্ড]

 

দারুল ইউসর
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: -)
‌‌مُقَدِّمَة

وَزَارَةُ الأَوْقَافِ والشُؤُوْن الإِسلَامِيَّةِ

الحمد لله حمدًا يوافي نعمه، والصلاة والسلام على أشرف خلقه وخاتم رسله، وبعد، فإن وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية بدولة قطر -وقد وفقها الله لأن تضرب بسهم في نشر الكتب النافعة للأمة- لتحمد الله سبحانه وتعالى على أن ما أصدرته قد نال الرضا والقبول من أهل العلم.

والمتابع لحركة النشر العلمي لا يخفى عليه جهود دولة قطر في خدمة العلوم الشرعية ورفد المكتبة الإسلامية بنفائس الكتب القديمة والمعاصرة وذلك منذ ما يزيد على ستة عقود، وقد جاء مشروع إحياء التراث الإسلامي والنشر العلمي الذي بدأته الوزارة منذ عدة سنوات امتدادًا لتلك الجهود وسيرًا على تلك المحجة التي عُرفت بها دولة قطر.

ومنذ انطلاقة هذا المشروع المبارك يسَّر الله جلَّ وعلا للوزارة إخراج مجموعة من أمهات كتب العلم في فنون مختلفة معظمها يُطبع لأول مرة، كتفسير العُليمي "فتح الرحمن في تفسير القرآن"، و"مرسوم المصحف" للعُقيلي، و"الدرة الصقيلة في شرح أبيات العقيلة" لأبي بكر عبد الغني المشتهر باللبيب، و"معاني الأحرف السبعة" لأبي الفضل عبد الرحمن بن أحمد بن الحسن الرازي، تحقيق الدكتور حسن ضياء الدين عتر، و"حاشية مسند الإمام أحمد" للسندي، و"شرحين لموطأ الإمام مالك" لكُلٍّ من القنازعي والبوني، و"شرح مسند الإمام الشافعي" للرافعي و"نخب الأفكار شرح معاني الآثار" للبدر العيني، و"مصابيح الجامع" للقاضي بدر الدين الدَّمَاميني، و"التقاسيم والأنواع" للإمام ابن حبان، إضافة إلى "صحيح الإمام ابن خزيمة" بتحقيقه الجديد المتقن، ومثله كتاب "السنن الكبرى" للإمام النسائي المحقَّق على عدة نسخ خطية، و"المخلصيات" لأبي طاهر المخلص، و"مطالع الأنوار" لابن قرقول، و"نهاية المطلب في دراية المذهب" للإمام الجويني بتحقيقه المتقن للأستاذ الدكتور عبد العظيم الديب -رحمه الله تعالى- عضو لجنة إحياء التراث الإسلامي، و"الأوسط من السنن
ভূমিকা

ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নিয়ামতের সমতুল্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রাসুলের ওপর। অতঃপর, কাতার রাষ্ট্রের ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়—যাকে আল্লাহ উম্মাহর জন্য উপকারী গ্রন্থসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে অবদান রাখার তাওফিক দান করেছেন—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসা জ্ঞাপন করছে এই কারণে যে, মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ আলেম সমাজের নিকট সন্তুষ্টি ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।

ইলমি প্রকাশনা জগতের পর্যবেক্ষকদের নিকট শরয়ি জ্ঞানসমূহের খেদমতে কাতার রাষ্ট্রের প্রচেষ্টা এবং গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাচীন ও সমকালীন মূল্যবান কিতাবাদি দ্বারা ইসলামি লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করার বিষয়টি অস্পষ্ট নয়। কয়েক বছর আগে মন্ত্রণালয় কর্তৃক শুরু হওয়া ‘ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন ও ইলমি প্রকাশনা প্রকল্প’ সেই পূর্বতন প্রচেষ্টারই একটি সম্প্রসারিত রূপ এবং কাতার রাষ্ট্র যে সুমহান পথের জন্য পরিচিত, তারই একটি অংশ।

এই বরকতময় প্রকল্পের সূচনালগ্ন থেকে আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা মন্ত্রণালয়ের জন্য বিভিন্ন শাস্ত্রের এমন কিছু মৌলিক ইলমি কিতাব প্রকাশ করা সহজ করে দিয়েছেন, যার অধিকাংশই প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হচ্ছে। যেমন: উলাইমির তাফসির "ফাতহুর রহমান ফি তাফসিরিল কুরআন", উকাইলির "মারসুমুল মাসহাফ", লাবিব নামে পরিচিত আবু বকর আব্দুল গনির "আদ-দুররাতুস সাকিলা ফি শারহি আবয়াতিল আকিলা", ড. হাসান জিয়াউদ্দীন ইতর সম্পাদিত আবুল ফজল আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন হাসান রাজির "মাআনিল আহরুফিস সাবআ", সিন্ধির "হাশিয়া মুসনাদে ইমাম আহমদ", কানাজি ও বুনি রচিত ইমাম মালিকের মুয়াত্তা-এর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, রাফিয়ির "শারহু মুসনাদে ইমাম শাফেয়ি", বদরুদ্দীন আইনির "নুখাবুল আফকার শারহু মাআনিল আসার", কাজি বদরুদ্দীন দামামিনির "মাসাবিহুল জামি", ইমাম ইবনে হিব্বানের "আত-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া", সেই সঙ্গে নতুন ও সুনিপুণ সম্পাদনায় "সহিহ ইমাম ইবনে খুজাইমা", বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপির আলোকে সম্পাদিত ইমাম নাসায়ির "আস-সুনানুল কুবরা", আবু তাহের মুখলিসের "আল-মুখলাসিয়্যাত", ইবনে কারকুলের "মাতালিউল আনোয়ার", ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল আজিম আল-দীব (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক সুনিপুণভাবে সম্পাদিত ইমাম জুওয়াইনির "নিহায়াতুল মাতলাব ফি দিরায়াতিল মাজহাব" এবং "আল-আওসাত মিনাস সুনান"
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: -)
والإجماع والاختلاف" للإمام ابن المنذر بمراجعة دقيقة للشيخ الدكتور عبد الله الفقيه عضو لجنة إحياء التراث الإسلامي أيضًا، و"التبصرة" للإمام اللخمي، و"حاشية الخلوتي" في الفقه الحنبلي، وأخيرًا كتاب: "الأصل" لمحمد بن الحسن الشيباني، كاملاً محققًا على أصول عدة، وفي الطريق إصدارات أخرى مهمة تمثل الفقه الإسلامي في عهوده الأولى.

كما طبعت الوزارة لأول مرة كتاب "جامع الآثار في السير ومولد المختار" لابن ناصر الدين الدمشقي، و"الوجيز في السيرة" و"عصر السيرة" كلاهما للدكتور أكرم ضياء العمري -حفظه الله-.

وفي معتقد أهل السنة والجماعة على مذهب السلف الصالح أصدرت الوزارة كتاباً نفيسًا لطيفًا وهو: "الاعتقاد الخالص من الشك والانتقاد" لابن العطار تلميذ الإمام النووي رحمهما الله تعالى.

هذا في جانب ما يُنشر لأول مرة من كتب التراث، أما في الدراسات والتآليف المعاصرة فقد نشرت الوزارة مجموعة متميزة من الرسائل العلمية وغيرها منها: "القيمة الاقتصادية للزمن"، و"نوازل الإنجاب"، و"الأحكام المتعلقة بالتدخين" وغيرها، وفي الطريق -بإذن الله تعالى- ما تقر به عيون الباحثين من دراسات معاصرة في القرآن والسنة، والنوازل بأنواعها المختلفة.

ويسرنا اليوم أن نقدم كتابا نافعا آخر بعنوان: (فقه النوازل للأقليات المسلمة تأصيلا وتطبيقا) لمؤلفه الدكتور: محمد يسرى إبراهيم في طبعته الجديدة، وقد جمع فيه جملة نافعة من القواعد الفقهية والأصولية والمقاصدية التي لها ارتباط بفقه نوازل الأقليات المسلمة، كما أنه عرض بإيجاز مناهج الأئمة الأربعة في الاستنباط وقواعد الاستدلال وعالج كثيرا مما يتعلق بنوازل الأقليات فأضحى مرجعا مهما في باب التأصيل لإفتاء المسلمين خارج ديار الإسلام، بما يحفظ عليهم دينهم، ويعينهم على أداء التكاليف الشرعية مع مراعاة رفع الحرج الذي جاءت الشريعة برفعه.

 

إِدَارَةُ الشّؤُونِ الإِسلَامِيَّةِ
ইমাম ইবনুল মুনযিরের ‘আল-ইজমা ওয়াল ইখতিলাফ’, যা ইসলামি ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ কমিটির সদস্য শায়খ ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-ফাকিহ কর্তৃক নিবিড়ভাবে পর্যালোচিত হয়েছে; ইমাম লাখমীর ‘আত-তাবসিরাহ্’; হাম্বলি ফিকহের উপর ‘হাশিয়াতুল খালওয়াতী’ এবং সর্বশেষ মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানীর কিতাব ‘আল-আসল’ যা একাধিক পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পাদিত হয়েছে। এছাড়া প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা যা ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইসলামি ফিকহের প্রতিনিধিত্ব করে।

মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো ইবনু নাসিরুদ্দীন আদ-দিমাশকীর ‘জামেউল আসার ফিস সিয়ার ওয়া মাওলিদিল মুখতার’ এবং ডক্টর আকরাম যিয়া আল-উমারী (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) রচিত ‘আল-ওয়াজিজ ফিস সিরাহ’ ও ‘আসরুস সিরাহ’ গ্রন্থদ্বয় মুদ্রণ করেছে।

সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুযায়ী আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বিষয়ক একটি মূল্যবান ও চমৎকার কিতাবও মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে, তা হলো ইমাম নববী (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর রহম করুন)-এর ছাত্র ইবনুল আত্তার রচিত ‘আল-ইতিকাদুল খালিস মিনাশ শাক্কি ওয়াল ইনতিকাদ’।

এগুলো ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাবলির মধ্য থেকে প্রথমবারের মতো প্রকাশের বিষয়; আর সমসাময়িক গবেষণা ও রচনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বেশ কিছু বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ এবং অন্যান্য গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে: ‘আল-কিমাতুল ইকতিসাদিয়্যাহ লিয-যামান’ (সময়ের অর্থনৈতিক মূল্য), ‘নাওয়াযিলুল ইনজাব’ (সন্তান জন্মদান বিষয়ক আধুনিক সমস্যাবলি) এবং ‘আল-আহকামুল মুতাআল্লিকা বিত-তাদখীন’ (ধূমপান সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি) ইত্যাদি। আল্লাহর ইচ্ছায় শীঘ্রই কুরআন, সুন্নাহ এবং বিভিন্ন প্রকার আধুনিক সমস্যার উপর এমন সব সমসাময়িক গবেষণা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে যা গবেষকদের চোখ জুড়িয়ে দেবে।

আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে ডক্টর মুহাম্মাদ ইউসরী ইব্রাহীমের লেখা ‘ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিয়াতিল মুসলিমাহ্: তাসীলান ওয়া তাতবীকান’ (মুসলিম সংখ্যালঘুদের সমসাময়িক সমস্যার ফিকহ: মূলনীতি ও প্রয়োগ) শীর্ষক আরেকটি উপকারী গ্রন্থ এর নতুন সংস্করণে পেশ করছি। এতে তিনি ফিকহি, উসূলি এবং মাকাসিদি এমন একগুচ্ছ উপকারী মূলনীতি সংকলন করেছেন যা মুসলিম সংখ্যালঘুদের সমসাময়িক সমস্যার ফিকহের সাথে সম্পৃক্ত। পাশাপাশি তিনি এতে চার ইমামের মাসআলা উদ্ভাবন পদ্ধতি এবং দলীল গ্রহণের নিয়মাবলি সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছেন। তিনি সংখ্যালঘুদের সমসাময়িক সমস্যা সংক্রান্ত বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, ফলে এটি ইসলামি ভূখণ্ডের বাইরে বসবাসরত মুসলিমদের ফতোয়া প্রদানের মূলনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্সে পরিণত হয়েছে। এটি তাদের দ্বীন রক্ষা করতে সাহায্য করবে এবং শরিয়ত যে কষ্ট দূর করতে এসেছে তা বিবেচনায় রেখে তাদের শরয়ি দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করবে।

 

ইসলামি বিষয়ক বিভাগ
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

أصل هَذَا الْكتاب رِسَالَة علمية حصل بهَا الباحث على دَرَجَة الدكتوراه فِي الْفِقْه الإسلامي من كُلية الشَّرِيعَة والقانون جَامِعَة الْأَزْهَر الشريف وَقد أجيزت الرسَالَة بِتَقْدِير مرتبَة الشّرف الأولى والتوصية بالطبع والتداول بَين الجامعات
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি হলো একটি গবেষণা সন্দর্ভ, যার মাধ্যমে গবেষক আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ ও আইন অনুষদ থেকে ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রে পিএইচডি (ডক্টরেট) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই গবেষণা সন্দর্ভটি প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ গৃহীত হয়েছে এবং এটি মুদ্রণ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিতরণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
فِقهُ النَّوازِل لِلأَقَلِيَّاتِ المُسلِمةِ تَأصِيلًا وَتَطبِيقًا [1]
মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাওয়াযিল ফিকহ: মূলনীতি নির্ধারণ ও প্রয়োগ [১]
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
حُقُوقُ الطَّبع مَحْفُوظة للِمُؤَلف

الطبعة الأولى

طبعة خَاصَّة لوزارة الْأَوْقَاف والشؤون الإسلامية

1434 هـ - 2013 م

 

إصَدارَات

وَزَارَة الأَوْقَافِ وَالشُّؤُوْن الإِسلاميِّةِ

إدَارَةُ الشّؤُونِ الإِسلَامِيَّةِ - دَوْلةِ قَطَر

 

دارُ اليُسر

20 ش عبد الْعَزِيز عِيسَى، المنطقة التَّاسِعَة، الْحَيّ الثَّامِن: مَدِينَة نصر، الْقَاهِرَة.

تليفون: 0020224709269

فاكس: 0020224714801

مَحْمُول: 00201062276208

خدمَة العملاء: 02201118006060

Email: alyousr@gmail.com

www.dar-alyousr.com

 

رقم الْإِيدَاع بدار الْكتب المصرية

20713/ 2011

ISBN: 978 - 977 - 5102 - 09 - 6
স্বত্বাধিকার লেখকের নিকট সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

ওয়াকফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য বিশেষ সংস্করণ

১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ

 

প্রকাশনা

ওয়াকফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ইসলাম বিষয়ক বিভাগ - কাতার রাষ্ট্র

 

দারুল ইউসর

২০ আব্দুল আজিজ ঈসা রোড, নবম এলাকা, অষ্টম মহল্লা: নাসর সিটি, কায়রো।

টেলিফোন: ০০২০২২৪৭০৯২৬৯

ফ্যাক্স: ০০২০২২৪৭১৪৮০১

মোবাইল: ০০২০১০৬২২৭৬২০৮

গ্রাহক সেবা: ০২২০১১১৮০০৬০৬০

ইমেইল: alyousr@gmail.com

www.dar-alyousr.com

 

মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগারে জমাদান নম্বর

২০৭১৩/ ২০১১

আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৯৭৭ - ৫১০২ - ০৯ - ৬
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقَدّمَة

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألَّا إله إلا الله، وحده لا شريكَ له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد:

فإن الأمة المسلمة كتب ربُّها خيريتها بقوله تبارك وتعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110]، وبهذه الخيرية انطلقت الأمة تدعو إلى الله بعقيدتها وشريعتها وأخلاقها تبعث النور، وتنشر الهدى في كل مكان، وما هي إلَّا عقودٌ قليلة ومدَّةٌ وجيزةٌ بعد وفاة نبيها صلى الله عليه وسلم حتى ظهر الدين في الآفاق وبلغ المشارقَ والمغاربَ، وتَحَقَّقَ وعدُ الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم فبلغ هذا الدينُ ما بلغ الليلُ والنهارُ، ولم يبقَ بيتُ مَدَرٍ ولا وَبَرٍ إلَّا ودخله الإسلامُ بعزِّ عزيزٍ أو بذلِّ ذليلٍ (1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه: الإمام أحمد بن حنبل الشيباني في "مسنده"، مؤسسة قرطبة، القاهرة، مصر، مصورة عن الطبعة الميمنية، (4/ 103)، من حديث تميم الداري رضي الله عنه. وقال نور الدين علي بن أبي بكر الهيثمي: "رواه أحمد والطبراني ورجال أحمد رجال الصحيح". مجمع الزوائد ومنبع الفوائد، دار الفكر، بيروت، 1412 هـ، (6/ 8).
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} [আন-নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করল} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে তাদের প্রতিপালক তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে লিখে দিয়েছেন: {তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ, যাদের মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে বাধা প্রদান করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করো} [আল ইমরান: ১১০]। এই শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই উম্মাহ তার আকিদা, শরিয়ত ও চরিত্রের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বান করতে শুরু করে, যা আলো বিচ্ছুরণ করে এবং সর্বত্র হেদায়েত ছড়িয়ে দেয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর মাত্র কয়েক দশক এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই দ্বীন দিগন্ত জুড়ে প্রকাশিত হয় এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে পৌঁছে যায়। এর মাধ্যমে সত্যবাদী ও সত্যায়িত (সাদিকুল মাসদুক) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়; ফলে এই দ্বীন সেখানে পৌঁছেছে যেখানে রাত ও দিন পৌঁছেছে। মাটির তৈরি ঘর হোক বা পশমের তৈরি তাবু—এমন কোনো ঘর অবশিষ্ট থাকেনি যেখানে ইসলাম প্রবেশ করেনি; কোনো সম্মানীর সম্মানের মাধ্যমে অথবা কোনো লাঞ্ছিত ব্যক্তির লাঞ্ছনার মাধ্যমে (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানী তাঁর "মুসনাদ"-এ, মুআসসাসাতু কুরতুবা, কায়রো, মিশর, মায়মানিয়া সংস্করণের প্রতিলিপি, (৪/ ১০৩), তামীম আদ-দারী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে। নূরুদ্দীন আলী বিন আবি বকর আল-হাইসামি বলেন: "এটি আহমাদ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী"। মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৪১২ হিজরি, (৬/ ৮)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وقامت دولة الإسلام مرهوبة الجانبِ، متسعة الجوانب، وقيل للسحابة أمطري حيث شئتِ فسوف يأتيني خراجُكِ! ويومَهَا اعتقد المسلمون -وبحقٍّ- أنَّ هذا الدين قد ظهر على الدين كلِّهِ، وقد انتهى وعدُ الله إلى غايته، وبلغ منتهى مقصوده، إلَّا أنَّ ذلك العطاءَ الربانيَّ لهذه الأمة غيرُ مجذوذٍ ولا مقطوعٍ ولا ممنوعٍ؛ بل هو ممتد ما امتدَّ بالخلق زمانٌ، وما حواهم على الأرض مكانٌ، ويكفي في بلوغِ حُجَّةِ الله الآفاقَ أن يُرفع الأذان بالتكبير والتهليل والتوحيد لتسمعه اليوم كُلُّ الآذان.

وتلك فرحة كبرى ومنة عظمى على أهل الإسلام، قال تعالى: {قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ} [يونس: 58].

لقد امتدَّ عطاء الأمة الخيرة ليصلَ إلى قارات الدنيا بِأَسْرِهَا، وليوجد ثلث المسلمين موزعين في بلاد لا يَدينُ أكثر أهلها بالإسلام.

وغدا المدُّ الإسلامي متناميًا يفتح القلوب ويبشر بالدين الحق، وكما فتح التجار المسلمون بالأمس جنوب شرق آسيا بالدعوة السِّلْمية، يفتح المسلمون اليوم بلادًا ويشرقون على القلوب في المشارق والمغارب بعقيدتِهِمُ السمحةِ، وشريعتِهِمُ الغرَّاءِ، وخُلُقِهِمُ الرفيعِ.

وكلَّمَا وقعت أزمة، أو حدثت مشكلة انجفَلَ الناسُ في تلك الديار نحو المنهج الإسلامي في حل تلك المعضلة، ومواجهة تلك النازلة، ولو كانوا على خلاف الملَّة!

وعلى سبيل المثال فإنَّ الأزمة الاقتصادية العالمية الأخيرةَ والتي عمَّتْ أوروبا وأمريكا وطالتْ جهاتٍ عديدةً في العالم وضعت أوروبا -تحديدًا- أمام خيارين إمَّا "البابا" وإمَّا "القرآن"؛ فقد جاء في افتتاحية مجلة (تشالينجيز) وعلى لسان رئيس تحريرها (بوفيس فانسون) ولأول مرة يطالب خبراءُ غربيون بقراءة القرآن، بدلًا من "الإنجيل" لاكتشاف دور المسيحية الكاثوليكية في تبرير انتهازية الليبرالية المتوحشة.

ولأول مرةٍ تتساءل الصحفُ الغربية عمَّا إذا كانت (وول ستريت) قد تأهلت لاعتناق
আর ইসলামের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অত্যন্ত প্রতাপশালী ও বিশাল দিগন্তব্যাপী হয়ে। সেদিন মেঘের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছিল, "তুমি যেখানে ইচ্ছা বর্ষণ করো, তোমার কর (খরাজ) আমার কাছেই পৌঁছাবে!" সেদিন মুসলমানরা বিশ্বাস করত—এবং তা ছিল যথার্থই—যে এই দীন সকল দীনের ওপর বিজয়ী হয়েছে এবং আল্লাহর ওয়াদা তার চূড়ান্ত লক্ষ্যে ও পূর্ণতায় পৌঁছেছে। তবে এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর সেই দান বা অনুগ্রহ ছিন্ন, বিচ্ছিন্ন বা নিষিদ্ধ নয়; বরং তা বিস্তৃত যতক্ষণ সময় সৃষ্টিজগৎকে বেষ্টন করে আছে এবং স্থান তাদের পৃথিবীতে ধারণ করে আছে। দিগন্তজুড়ে আল্লাহর প্রমাণাদি পৌঁছে যাওয়ার জন্য আজ এটাই যথেষ্ট যে, তাকবির, তাহলিল ও তাওহিদের সাথে আজান ধ্বনিত হচ্ছে, যা আজ সকল কর্ণ শুনতে পায়।

আর এটি ইসলামপন্থীদের জন্য এক মহা আনন্দ ও মহান অনুগ্রহ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ার কারণে; সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা আনন্দিত হয়। এটি তারা যা জমা করে তা অপেক্ষা উত্তম।" [ইউনুস: ৫৮]।

এই শ্রেষ্ঠ উম্মতের কল্যাণ পুরো পৃথিবীর মহাদেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আজ মুসলমানদের এক-তৃতীয়াংশ এমন সব দেশে ছড়িয়ে আছে যেখানে অধিকাংশ মানুষ ইসলামের অনুসারী নয়।

আর ইসলামি জোয়ার আজ ক্রমবর্ধমান হয়ে হৃদয়গুলোকে জয় করছে এবং সত্য দীনের সুসংবাদ দিচ্ছে। যেমন অতীতে মুসলিম বণিকরা শান্তিপূর্ণ দাওয়াতের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জয় করেছিলেন, তেমনি আজ মুসলমানরা তাদের উদার আকিদা, উজ্জ্বল শরিয়ত ও সুউচ্চ চরিত্রের মাধ্যমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশগুলো জয় করছেন এবং মানুষের অন্তরে আলো ছড়াচ্ছেন।

যখনই কোনো সংকট বা সমস্যার সৃষ্টি হয়, তখন সেসব ভূখণ্ডের মানুষ—ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও—সেই সমস্যা সমাধান ও বিপদ মোকাবিলায় ইসলামি পদ্ধতির দিকে ধাবিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট, যা ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বিশ্বের অনেক প্রান্তকে স্পর্শ করেছিল, তা ইউরোপকে—বিশেষভাবে—দুটি বিকল্পের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল: হয় "পোপ" নতুবা "কুরআন"। 'চ্যালেঞ্জেস' (Challenges) ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয়তে এর প্রধান সম্পাদক 'বোভিস ভিনসেন্ট'-এর ভাষায় প্রথমবার পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা 'ইঞ্জিল'-এর পরিবর্তে 'কুরআন' পড়ার দাবি জানান, যাতে হিংস্র লিবারেলিজমের সুবিধাবাদকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মের ভূমিকা উদঘাটন করা যায়।

এবং প্রথমবারের মতো পশ্চিমা সংবাদপত্রগুলো এই প্রশ্ন তুলছে যে, ওয়াল স্ট্রিট কি ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الشريعة الإسلامية على نحو ما جاء على لسان (رولان لاسكين) رئيس تحرير صحيفة (لو جورنال دي فينانس) بالتَّزَامُنِ مع دعوة مجلس الشيوخ الفرنسي إلى ضمِّ النظام المصرفي الإسلامي للنظام المصرفي في فرنسا، وهي ذات الدعوى التي تبنتها أكبرُ مؤسسة مسيحية في العالم وهي الفاتيكان (1).

ومما لا جدالَ فيه أن المسلمين الذين يعيشون كمجموعاتٍ قليلةِ الأفرادِ في دولٍ ليست مسلمةً قد غدوا أكثرَ جمعًا، وأقوى شوكةً، وأقدرَ على المطالبة بكثير من حقوقهِمُ السليبة.

ومع أنهم يُعَامَلُونَ كأقليات عددية إلا أنهم يُمَثِّلُونَ أعدادًا غفيرة، ففي أوروبا يوجد نحو سبعين مليون مسلم، بما يمثل 7 % من تعداد السكان، والمتوقع بحسب تقرير نشرته صحيفة (الصنداي تلغراف) البريطانية في أغسطس عام 2009 م أن يُمَثِّلَ المسلمون في عام 2050 م نحو 20 % من تعداد السكان.

والمسلمون في الهند وحدها يقتربون من 200 مليون نسمة، وهم أقلية هناك!

وكذلك الحال في الصين وروسيا وغيرها من البلاد.

ولا شكَّ أن مؤشراتٍ عدديةً كهذه تُثِيرُ مخاوفَ وأحقادًا ضدَّ الإسلام وأهله، حتى عرف في السنوات الأخيرة ما يُسَمَّى بظاهرة الإسلاموفوبيا أو (الخوف من الإسلام) أو (الرُّهاب الإسلامي)؛ وهي ظاهرة صنعتها وسائلُ الإعلام المعادية، والدوائر الصهيونية والصليبية على حدٍّ سواءٍ، وتجلَّت في حرب إعلامية، وتشويه متعمد، وحرب على المآذن والمساجد والحجاب الإسلامي في أوروبا وأمريكا.

وهذه الظاهرة حَدَتْ بمجلس الفقه الإسلامي الدولي المنبثقِ عن منظمة المؤتمر الإسلامي، المنعقد في دورته الثامنة عشرة بماليزيا عام 1428 هـ - 2007 م أن يُنَاقِشَ

--------------------------------------------

(1) الأزمة المالية، محمد صالح المنجد، زاد للنشر، الخبر، السعودية، 1430 هـ 2009 م، (ص 44 - 45)، مقال: أوروبا: الإسلام من المغالبة إلى المشاركة، محمود سلطان، بموقع "الإسلام اليوم" الإلكتروني

www. islamtoday.com
ইসলামি শরিয়া—যেমনটি 'ল্য জুরনাল দে ফিনান্স' পত্রিকার প্রধান সম্পাদক রোল্যান্ড লাসকিনের বক্তব্যে এসেছে—একই সময়ে ফরাসি সিনেট ফ্রান্সের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানায়। এটি সেই একই দাবি যা বিশ্বের বৃহত্তম খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠান ভ্যাটিকানও (১) গ্রহণ করেছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অমুসলিম দেশগুলোতে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাসরত মুসলিমরা সংখ্যায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, তাদের শক্তি সুসংহত হয়েছে এবং তারা তাদের হরণ করা অধিকারগুলোর দাবি জানাতে অধিকতর সক্ষম হয়েছে।

যদিও তাদের সংখ্যার বিচারে সংখ্যালঘু হিসেবে গণ্য করা হয়, তবুও তারা একটি বিশাল জনসমষ্টির প্রতিনিধিত্ব করে। ইউরোপে প্রায় সাত কোটি মুসলিম রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ। ব্রিটিশ পত্রিকা 'দ্য সানডে টেলিগ্রাফ'-এ ২০০৯ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মুসলিম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেবল ভারতেই মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় বিশ কোটির কাছাকাছি, অথচ সেখানেও তারা সংখ্যালঘু!

চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

নিঃসন্দেহে এই সংখ্যাতাত্ত্বিক সূচকগুলো ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয় ও বিদ্বেষ উসকে দেয়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে 'ইসলামোফোবিয়া' বা 'ইসলামভীতি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এটি এমন এক পরিস্থিতি যা প্রতিকূল গণমাধ্যম এবং একইভাবে ইহুদিবাদী ও ক্রুসেডার চক্রগুলো তৈরি করেছে। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গণমাধ্যম যুদ্ধ, ইচ্ছাকৃত বিকৃতি এবং ইউরোপ ও আমেরিকায় মিনার, মসজিদ ও ইসলামি হিজাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে।

এই পরিস্থিতিই ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)-এর আওতাধীন আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমিকে প্ররোচিত করেছে—যা ১৪২৮ হিজরি তথা ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত তার অষ্টাদশ অধিবেশনে আলোচনার উদ্যোগ নেয়...

--------------------------------------------

(১) আল-আজমাতুল মালিয়্যাহ (আর্থিক সংকট), মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ, জাদ পাবলিকেশন, আল-খোবার, সৌদি আরব, ১৪৩০ হিজরি ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ, (পৃষ্ঠা ৪৪ - ৪৫), প্রবন্ধ: ইউরোপ: আল-ইসলামু মিনাল মুগালাবা ইলাল মুশারাকা, মাহমুদ সুলতান, "ইসলাম টুডে" ওয়েবসাইট থেকে।

www. islamtoday.com
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ويُحِدِّدَ أسبابَ تلك الظاهرةِ، وسبلَ علاجِهَا وتلافيها، وقرر في قراره رقم 166 (4/ 18) ما يلي:

"أولًا: ضرورة التصدي لهذه الظاهرة في إطار استراتيجية تخطِّطُ لها الدولُ والمنظمات الدولية الإسلامية، والمنظمات الممثِّلَةُ للوجود الإسلامي خارج الديار الإسلامية تتضمن آلياتٍ وتدابيرَ قويَّةً تشمل النواحيَ الإعلامية والسياسية والاقتصادية والاجتماعية، وتكوين رسالة إعلامية واضحة؛ للتعريف بالدين الإسلامي، وبيان الحقائق والمبادئ والقيم السامية التي يقوم عليها، مع نشرها بمختلف وسائل الإعلام والشبكة الدولية للمعلومات، وتُشَارِكُ فيها أجهزةُ الإعلامِ ذاتُ التأثير الدولي.

ثانيًا: ضرورة التشاور والتنسيق بين مختلف الدول والمنظمات الدولية الإسلامية؛ لاتخاذ القرارات، والقيام بالأعمال التي تراها مناسبةً للرَّدِّ على حملات التشكيك والإهانات التي تُوَجَّهُ إلى الأمة الإسلامية ورموزِهَا.

ثالثًا: دعوة المجتمع الدولي إلى التعاون والتآزُرِ مع الدول والمنظمات والشعوب الإسلامية في مقاومة هذه الهجمة الشرسة على الإسلام والمسلمين، وإلى إشاعة ثقافة المحبة والتعاون بين الشعوب، ونَبْذِ الكراهية والعنف، والتعاون على ما يُحَقِّقُ خيرَ الإنسانية.

رابعًا: دعوة التجمعات الإسلامية الموجودة خارج الديار الإسلامية إلى أن تَكُونَ رسلًا للسلام والأمن، وحَمْلِ رسالةِ الإسلام النقية في مختلف الأقطار والشعوب، والابتعاد عن الممارسات والتصرفات المسيئة إلى الإسلام في تلك البلاد، مع التمسك بقيم ومبادئ الإسلام. ويهيب المجمع بالدول الإسلامية أن تَمُدَّ هذه التجمعات بكل ما يُعِينها على فهم وتعلم أصول دينها، وبالمعلومات التي تجعلها على علم بما يجري في العالم الإسلامي، مع إنشاء هيئات تعمل على تقوية علاقاتها مع الأمة الإسلامية.
এবং তিনি সেই ঘটনার কারণসমূহ এবং এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায়সমূহ চিহ্নিত করেন। তিনি তাঁর ১৬৬ (৪/১৮) নং সিদ্ধান্তে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্থির করেন:

"প্রথমত: রাষ্ট্রসমূহ, আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থাসমূহ এবং মুসলিম ভূখণ্ডের বাইরে মুসলিম অস্তিত্বের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাসমূহ কর্তৃক পরিকল্পিত একটি কৌশলী কাঠামোর আওতায় এই প্রবণতা মোকাবিলা করা আবশ্যক। এতে শক্তিশালী কর্মপন্থা ও পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে যা সংবাদমাধ্যম, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক দিকগুলোকে পরিব্যপ্ত করবে। ইসলাম ধর্মকে পরিচিত করার জন্য এবং এটি যে সত্য, মূলনীতি ও উচ্চতর মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত তা স্পষ্ট করার লক্ষ্যে একটি স্বচ্ছ মিডিয়া বার্তা গঠন করতে হবে; পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক তথ্য নেটওয়ার্কে তা প্রচার করতে হবে এবং এতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী গণমাধ্যমসমূহকে অংশগ্রহণ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত: মুসলিম উম্মাহ ও এর প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত সন্দেহ সৃষ্টি ও অবমাননাকর প্রচারণার জবাব দিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থাগুলোর মধ্যে পরামর্শ ও সমন্বয় সাধন করা আবশ্যক।

তৃতীয়ত: ইসলাম ও মুসলমানদের ওপর এই হিংস্র আক্রমণ প্রতিরোধে মুসলিম রাষ্ট্র, সংস্থা ও জাতিগুলোর সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি প্রকাশের জন্য এবং জাতিগুলোর মধ্যে ভালোবাসা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে, ঘৃণা ও সহিংসতা বর্জন করতে এবং মানবতার কল্যাণ সাধন করে এমন কাজে সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো।

চতুর্থত: মুসলিম ভূখণ্ডের বাইরে অবস্থানরত মুসলিম জনগোষ্ঠীকে শান্তি ও নিরাপত্তার দূত হওয়ার জন্য এবং বিভিন্ন দেশ ও জাতির কাছে ইসলামের বিশুদ্ধ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো। সেই সাথে ইসলামের মূল্যবোধ ও আদর্শ আঁকড়ে ধরার পাশাপাশি ওইসব দেশে ইসলামকে কলঙ্কিত করে এমন আচরণ ও কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে হবে। মজমা' (একাডেমি) ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা এই জনগোষ্ঠীকে তাদের দ্বীনের মূলনীতিগুলো বুঝতে ও শিখতে সাহায্য করে এমন সব সরঞ্জাম সরবরাহ করে এবং মুসলিম বিশ্বে যা ঘটছে সে সম্পর্কে তাদের অবহিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে। সেই সাথে মুসলিম উম্মাহর সাথে তাদের সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থা গঠন করতে হবে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
خامسًا: حَصْرُ الكتابات والمؤلفات التي تناولت هذه الظاهرة، وحَثُّ المفكرين المسلمين الذين يجيدون اللغات الأخرى للاتصال بالآخر، والحوار معهم، والعمل على تصحيح صورة الإسلام والمسلمين في الداخل والخارج.

سادسًا: تأهيلُ الدعاة الذين يفدون إلى البلاد غير الإسلامية لإتقان لغات تلك البلاد، وتشجيع المؤسسات القائمة التي تُعْنَى بتأهيل الدعاة أو تكوينها إن لم تُوجَدْ؛ ليكونوا قدوة في عرضهم الإسلام سلوكًا وعلمًا ومعاملةً.

سابعًا: بناء العلاقة مع الآخر على أساس الاحترام المتبادل، وتبليغ رسالة الإسلام النقية، من أجل تفاهُمٍ متبادَلٍ، والتوعية لذلك في المناهج التعليمية" (1).

وإذا كان العالم المعاصر اليوم بدأ يتعرَّفُ على حقوق الأقليات، ويعترِفُ بهذا النوع من الحقوق ويُقَنِّنُ من التشريعات ما يضمنها ويحميها -فلا بُدَّ أن نذكِّر هنا بسبق الإسلام بتشريعاته الربانية العالمَ بأسره في حفظ تلك الحقوق ورعاية تلك الحريات، وعلى سبيل المثال: فإن الأقليَّةَ المسيحية عاشت في مصر أربعةَ عشرَ قرنًا متفيئة ظلال شريعة الإسلام السمحة، كما أن الأقلية اليهودية بالمغرب قد تَمَتَّعَتْ بالحياة الكريمة في ظل الحضارة الإسلامية فما ثارتْ مشكلاتٌ، ولا قامتْ ثوراتٌ، ولا اندلعت نزاعاتٌ.

وكما لم تعرف الأمة الإسلامية عَبْرَ تاريخها الطويل مشكلةَ حقوقِ الأقليات، لم تعرِفْ أيضًا الإقليمياتِ ولا الحدودَ المصطنعةَ بين الجنسيات!

وعلى سبيل المثال فقد هاجر الشيخ محمد الخضر حسين (2) من تونس إلى دمشق واستقرَّ بها قبل الحرب العالمية الأولى، وبعد احتلال فرنسا لسوريا هاجر إلى مصر، ورَأَسَ تحريرَ مجلة

--------------------------------------------

(1) قرارات الدورة الثامنة عشرة "بوتراجايا - بماليزيا"، (ص 14 - 16).

‌‌(2) محمد الخضر بن الحسين بن علي بن عمر الحسني التونسي، عالم إسلامي أديب باحث، ممن تولوا مشيخة الأزهر، وكان ذلك عام 1371 هـ، من مصنفاته: الدعوة إلى الإصلاح نقض كتاب في الأدب الجاهلي، ونقض كتاب الإسلام وأصول الحكم، ولد سنة 1293 هـ وتوفي سنة 1377 هـ. الأعلام، لخير الدين الزركلي، دار العلم للملايين، ط 15، 2002، (6/ 113)، معجم المؤلفين، لعمر رضا كحالة، مكتبة المثنى ودار إحياء التراث العربي، بيروت، (9/ 280).
পঞ্চম: এই সংক্রান্ত লেখা ও গ্রন্থসমূহ তালিকাভুক্ত করা এবং অন্যান্য ভাষায় দক্ষ মুসলিম চিন্তাবিদদের অন্যদের সাথে যোগাযোগ, সংলাপ এবং দেশে ও বিদেশে ইসলাম ও মুসলমানদের ভাবমূর্তি সংশোধনের লক্ষ্যে কাজ করতে উৎসাহিত করা।

ষষ্ঠ: অমুসলিম দেশগুলোতে গমনেচ্ছুক দাঈদের (আহ্বায়ক) সেসব দেশের ভাষায় পারদর্শী করার ব্যবস্থা করা এবং দাঈদের প্রশিক্ষণে নিয়োজিত বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করা অথবা প্রতিষ্ঠান না থাকলে তা গড়ে তোলা; যাতে তারা তাদের আচরণ, জ্ঞান ও লেনদেনের মাধ্যমে ইসলাম উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আদর্শ হতে পারেন।

সপ্তম: পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে অন্যদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক সমঝোতার উদ্দেশ্যে ইসলামের বিশুদ্ধ বাণী প্রচার করা এবং শিক্ষা পাঠ্যক্রমে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা (১)।

বর্তমান আধুনিক বিশ্ব যদি আজ সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্কে জানতে শুরু করে থাকে এবং এই ধরনের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করে ও তা নিশ্চিত ও সুরক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন করে থাকে—তবে আমাদের অবশ্যই এখানে মনে করিয়ে দিতে হবে যে, সেই সব অধিকার সংরক্ষণ ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে ইসলাম তার ঐশী বিধানের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের অগ্রগামী। উদাহরণস্বরূপ: মিশরের খ্রিস্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চৌদ্দশ বছর ধরে ইসলামের উদার শরিয়তের ছায়াতলে বসবাস করে আসছে, ঠিক যেমন মরক্কোর ইহুদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ইসলামী সভ্যতার অধীনে মর্যাদাপূর্ণ জীবন উপভোগ করেছে; ফলে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি, কোনো বিপ্লব ঘটেনি এবং কোনো বিবাদও দানা বাঁধেনি।

মুসলিম উম্মাহ যেমন তার দীর্ঘ ইতিহাসে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি, তেমনি তারা আঞ্চলিকতা বা জাতীয়তার কৃত্রিম সীমানা সম্পর্কেও পরিচিত ছিল না!

উদাহরণস্বরূপ, শাইখ মুহাম্মদ আল-খিদর হুসাইন (২) তিউনিসিয়া থেকে দামেস্কে হিজরত করেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। ফ্রান্স সিরিয়া দখল করার পর তিনি মিশরে হিজরত করেন এবং একটি ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

--------------------------------------------

(১) আঠারোতম অধিবেশনের সিদ্ধান্তসমূহ "পুত্রাজায়া - মালয়েশিয়া", (পৃ. ১৪ - ১৬)।

‌‌(২) মুহাম্মদ আল-খিদর বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন উমর আল-হাসানী আল-তিউনিসি, একজন ইসলামী আলেম, সাহিত্যিক ও গবেষক, যিনি ১৩৭১ হিজরিতে আল-আজহারের প্রধানের (শাইখুল আজহার) দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আদ-দাওয়াতু ইলাল ইসলাহ, নাকদু কিতাবিন ফিল আদাবিল জাহিলি এবং নাকদু কিতাবিল ইসলাম ওয়া উসুলিল হুকম। তিনি ১২৯৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আল-আলাম, খাইরুদ্দিন আজ-জিরিকলি, দারুল ইলম লিল-মালাঈন, ১৫তম সংস্করণ, ২০০২, (৬/১১৩); মুজামুল মুআল্লিফীন, উমর রেজা কাহহালা, মাকতাবাতুল মুসান্না এবং দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, (৯/২৮০)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
لواء الإسلام، ثم أصبح شيخًا للأزهر، ولم يخطر ببال أحد من المصريين كيف يكون تونسيٌّ شيخًا للأزهر، والشيخ رشيد رضا (1) في طرابلس الشام هاجر إلى مصر، وأنشأ مجلة المنار، وربما ظن كثيرون أنه مصري لتوطنه مصر، كما كان الشيخ عبد الحميد بن باديس من أسرة بربرية عريقة، وقد التفَّت الجزائر كلُّها حول الشيخ ورَأَسَ جمعيةَ العلماء، وكان من أشدِّ المنافحين عن العربية والإسلام.

أما الأقليات الإسلامية عبر القرون فقد ذاقت صنوفًا من العذاب، وألوانًا من النكبات والويلات، حتى إذا انتهينا إلى العصر الحديث وجدنا التاريخ يسجل بمدادٍ أحمرَ ما جرى للمسلمين من تصفيات جسديَّةٍ، ومجازرَ دمويَّةٍ في البوسنة والهرسك، وكوسوفا وغيرها من دول أوروبا الشرقية، وهي في قلب أوروبا، كما دوَّن مآسيَ المسلمين في الهند وكشمير والفلبين وتايلاند، وقبل ذلك كله فلسطين! وهي دول تقع في قلب آسيا، كما سجل ما جرى لمسلمي تنزانيا والصومال وأوغندا، وأوجادين وغيرها من دول إفريقيا.

فإذا تجاوزنا عقودًا من المعاناة فيكفي أن ندلل بأحداث جَرَتْ خلال سنوات إعداد هذه الرسالة فحسب؛ فلقد كشفت السنواتُ الخمسُ الماضيةُ عن توجُّهات شديدة العدوان على الأقليات والأكثريات المسلمة على حَدٍّ سواء.

فقد وقعت كل من العراق وأفغانستان في احتلال عسكري سافِرٍ بعد عدوان جماعي غاشم، وأقيمت المجازرُ والمذابحُ لمسلمي فلسطين واحدةً تلو الأخرى، ومن آخرها مذبحة غزة 2008 م.

وفي العام الميلادي الحالي 2010 م صدرت قوانين تمنع نقاب المسلمة بدول أوروبية وتُعَاقِبُ عليه؛ بل وقتلت مصرية مسلمة بألمانيا لارتدائها غطاء الرأس الإسلامي!

وأُصْدِرَتِ القوانينُ التي تمنع بناء المآذن بعدد من دول الحرية والديموقراطية بأوروبا!!

--------------------------------------------

(1) محمد رشيد بن علي رضا بن محمد البغدادي الأصل الحسيني النسب صاحب مجلة المنار، وأحد رجال الاصلاح الإسلامي، وهو من الكُتَّاب، والعلماء بالحديث والأدب والتاريخ والتفسير، من مصنفاته: تفسير القرآن الكريم، والخلافة، ويسر الإسلام وأصول التشريع العام، ولد سنة 1282 هـ وتوفي سنة 1354 هـ. الأعلام، للزركلي، (6/ 126)، معجم المؤلفين، لعمر كحالة، (9/ 310 - 311).
ইসলামের পতাকা, এরপর তিনি আল-আযহারের শাইখ হলেন। কোনো মিশরীয়র মনে এই প্রশ্ন জাগেনি যে, একজন তিউনিসীয় কীভাবে আল-আযহারের শাইখ হতে পারেন। আর শাইখ রশীদ রিদা (১) শামের ত্রিপোলি থেকে মিশরে হিজরত করেন এবং আল-মানার সাময়িকী প্রতিষ্ঠা করেন। হয়তো অনেকে মনে করতেন যে তিনি একজন মিশরীয়, কারণ তিনি মিশরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। যেমন শাইখ আব্দুল হামিদ বিন বাদিস ছিলেন এক প্রাচীন বার্বার পরিবারের সন্তান; সমগ্র আলজেরিয়া শাইখের চারপাশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং তিনি উলামা পরিষদের সভাপতিত্ব করেন। তিনি ছিলেন আরবি ভাষা ও ইসলামের অন্যতম প্রধান রক্ষক।

পক্ষান্তরে শতাব্দীকাল ধরে মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো বিভিন্ন ধরণের নির্যাতন এবং নানা প্রকার বিপর্যয় ও দুর্দশার স্বাদ আস্বাদন করেছে। এমনকি আধুনিক যুগে উপনীত হলে আমরা দেখতে পাই যে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কসোভো এবং পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশে মুসলমানদের ওপর যে শারীরিক নির্মূল অভিযান এবং রক্তক্ষয়ী গণহত্যা চালানো হয়েছে, ইতিহাস তা লাল কালিতে লিপিবদ্ধ করেছে; অথচ এসব দেশ ইউরোপের হৃদপিণ্ডে অবস্থিত। একইভাবে এটি ভারত, কাশ্মীর, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে মুসলমানদের বিয়োগান্তক ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করেছে এবং এই সবকিছুর আগে ফিলিস্তিন! যা এশিয়ার হৃদপিণ্ডে অবস্থিত। তদুপরি এটি তাঞ্জানিয়া, সোমালিয়া, উগান্ডা, ওগাদেন এবং আফ্রিকার অন্যান্য দেশের মুসলমানদের সাথে যা ঘটেছিল তাও লিপিবদ্ধ করেছে।

আমরা যদি কয়েক দশকের যাতনার ইতিহাস পেরিয়ে আসি, তবে কেবল এই গবেষণাপত্রটি প্রস্তুতির বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে। বিগত পাঁচ বছর মুসলিম সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ উভয় সম্প্রদায়ের ওপর চরম আক্রমণাত্মক প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

একটি বর্বরোচিত যৌথ আগ্রাসনের পর ইরাক ও আফগানিস্তান উভয় দেশই প্রকাশ্য সামরিক দখলের শিকার হয়েছে। ফিলিস্তিনের মুসলমানদের ওপর একের পর এক গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, যার মধ্যে সাম্প্রতিকতম হলো ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের গাজা গণহত্যা।

বর্তমান ২০১০ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপীয় দেশগুলোতে মুসলিম নারীদের নেকাব নিষিদ্ধ করে আইন জারি করা হয়েছে এবং এর জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে; এমনকি জার্মানিতে একজন মুসলিম মিশরীয় নারীকে শুধুমাত্র ইসলামি মস্তক আবরণী পরিধানের কারণে হত্যা করা হয়েছে!

ইউরোপের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বেশ কিছু দেশে মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ করে আইন পাস করা হয়েছে!!

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ রশীদ বিন আলী রিদা বিন মুহাম্মদ, মূলগতভাবে বাগদাদী ও বংশগতভাবে হুসাইনী। তিনি আল-মানার সাময়িকীর প্রতিষ্ঠাতা এবং ইসলামি সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক এবং হাদীস, সাহিত্য, ইতিহাস ও তাফসীর শাস্ত্রের পণ্ডিত। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: তাফসীরুল কুরআনিল কারীম, আল-খিলাফাহ্ এবং ইউসরুল ইসলাম ওয়া উসুলুত তাশরিয়িল আম্ম। তিনি ১২৮২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৫৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। আল-আলাম, যিরিকলী (৬/১২৬), মু’জামুল মুয়াল্লিফীন, উমর কাহহালা (৯/৩১০-৩১১)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وفي ظل تلك المحن يتنادى المسلمون أفرادًا وجماعاتٍ، وشعوبًا وحكوماتٍ، ومؤسساتٍ وهيئاتٍ لمدِّ يد المعونة لتلك الأقليات، والمسارعة إلى بذل كلِّ نفعٍ ماديٍّ ومعنويٍّ باليد واللسان وبالدعاء.

ثم إن الله تعالى اختصَّ ورثةَ الأنبياء وجهابذة العلماء الفقهاء بتنوير طريق تلك الأقليات، فتصدى كثير من العلماء لمشاكل ومسائل تلك الأقليات، بالفتيا تارةً، وبالنصح أخرى، وبالجهود الفردية والجماعية والمجمعية تارة أخرى، فتأسست مجامعُ فقهيةٌ في الغرب لمعالجة مشكلات الأقليات، واعتنت المجامع العلمية في ربوع العالم الإسلامي بالإجابة عن الأسئلة، وبحث المستجدات.

ومع أن ذلك كله عمل علمي دعوي سلمي فقد ضاق الغرب ذرعًا بهذه المجالس والمجامع، حتى قال رئيس المجلس الأوروبي للبحوث العلمية والإفتاء فضيلة الدكتور يوسف القرضاوي في كلمته الافتتاحية لدورة المجلس التاسعة عشرة المنعقدة باستنابول في الفترة من 30/ 6/ 2009 إلى 5/ 7/ 2009 م: "الأوربيون لم يعودوا يتحملوننا، مع العلم أننا نعمل لصالحهم، وندعو المسلمين إلى أن يندمجوا في مجتمعاتهم، دون أن يتخلوا عن عقيدتهم".

وفي تفسيره لأهمية وجود هنا المجلس قال: "وجودُ أقليات مسلمة في الغرب استدعى وجودَ مؤسسةٍ ترعى الجانب الشرعي لتلك الأقلية. . . ولهذا تم إنشاء المجلس الأوروبي للإفتاء" (1).

وقد أقرَّ بهذه المواقف العدائية كثيرٌ من الباحثين الموضوعيين بالغرب؛ فهذا البروفيسور (ماثياس روه) عميد كلية الحقوق في جامعة نوربيرج بألمانيا، ورئيس رابطة القانون الإسلامي والعربي، وأستاذ القانون الخبير بالأقليات المسلمة في أوروبا يضع كتابًا بعنوان "الأقليات المسلمة والقانون في أوروبا، فرص وتحديات" (2).

حيث تناول في كتابه وجود المسلمين في أوروبا منذ أوائل القرون الوسطى وحتى

--------------------------------------------

(1) حرب إحصاءات لتهميش مسلمي الغرب، لمصطفى عاشور، موقع الشيخ القرضاوي الإلكتروني www.qaradawi.net.

‌‌(2) نشر بترجمة علاء البشبيشي، دار جلوبال ميديا، 2007 م.
সেই সব পরীক্ষার ছায়াতলে মুসলমানরা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে, জাতি ও সরকার হিসেবে এবং প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা হিসেবে সেই সংখ্যালঘুদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে এবং হাত, জবান ও দোয়ার মাধ্যমে সর্বপ্রকার বস্তুগত ও আত্মিক কল্যাণ সাধনে দ্রুত অগ্রসর হতে একে অপরকে আহ্বান জানাচ্ছে।

অতঃপর মহান আল্লাহ নবীগণের উত্তরসূরি এবং বিজ্ঞ ফকীহ আলেমদেরকে সেই সংখ্যালঘুদের পথ আলোকিত করার বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। ফলে অনেক আলেম কখনো ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে, কখনো উপদেশের মাধ্যমে এবং কখনো ব্যক্তিগত, সামষ্টিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই সংখ্যালঘুদের সমস্যা ও মাসআলাগুলোর সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। ফলশ্রুতিতে সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধানের জন্য পশ্চিমে ফিকহি একাডেমিগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ইলমি একাডেমিগুলো প্রশ্নসমূহের উত্তর দিতে এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করেছে।

যদিও এ সবই ছিল ইলমি, দাওয়াতি ও শান্তিপূর্ণ কার্যক্রম, তবুও পশ্চিমা বিশ্ব এই সব মজলিস ও একাডেমিগুলোর ব্যাপারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমনকি ইউরোপীয় কাউন্সিল ফর ফতওয়া অ্যান্ড রিসার্চ-এর চেয়ারম্যান ফযীলাতুশ শাইখ ড. ইউসুফ আল-কারযাভী ইস্তাম্বুলে ৩০/০৬/২০০৯ থেকে ০৫/০৭/২০০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের উনবিংশতম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে বলেছিলেন: "ইউরোপীয়রা এখন আর আমাদের সহ্য করতে পারছে না, অথচ আমরা তাদের কল্যাণেই কাজ করছি এবং মুসলমানদেরকে তাদের স্বীয় আকিদা বিসর্জন না দিয়ে তাদের সমাজের সাথে মিশে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"

এই কাউন্সিলের গুরুত্বের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: "পশ্চিমে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে যা সেই সংখ্যালঘুদের শরয়ী দিকগুলো দেখাশোনা করবে... আর একারণেই ইউরোপীয় ফতোয়া কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে" (১)।

পশ্চিমা বিশ্বের অনেক বস্তুনিষ্ঠ গবেষকই এই শত্রুতাপূর্ণ আচরণের কথা স্বীকার করেছেন। জার্মানির নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন, ইসলামিক অ্যান্ড অ্যারাবিক ল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ইউরোপে মুসলিম সংখ্যালঘু বিষয়ক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক (ম্যাথিয়াস রোহ) "ইউরোপে মুসলিম সংখ্যালঘু ও আইন: সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ" (২) শিরোনামে একটি বই লিখেছেন।

যেখানে তিনি তার বইয়ে মধ্যযুগের শুরুর দিক থেকে নিয়ে... পর্যন্ত ইউরোপে মুসলমানদের উপস্থিতির বিষয়টি আলোচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) পশ্চিমের মুসলমানদের প্রান্তিকীকরণের জন্য পরিসংখ্যানের যুদ্ধ, মোস্তফা আশুর, শাইখ কারযাভীর ওয়েবসাইট www.qaradawi.net।

‌‌(২) আলা আল-বাশবিশির অনুবাদে গ্লোবাল মিডিয়া থেকে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
الوقت الراهن، مشيرًا إلى تحديات قانونية لا يمكن تجاهلها في الحرية الدينية والمساواة أمام القانون، دون أي تفرقة على أساس ديني أو عرقي.

ويُعَقِّبُ فيقول: "إن على الدول الأوروبية أن تُوجِدَ سبلًا لإعطاء المسلمين الذين يعيشون داخل أراضيها كاملَ حقوقهم، وذلك عن طريق مراجعة القواعد القانونية الحالية".

وكما يتوجب على الغربيين أن يفعلوا ذلك يتوجب على تلك الأقليات أن تضع محدداتها الحضارية والشرعية المقاصدية لِتُحْسِنَ التعبير عن نفسها، ولتواجه تحديات متعددةً، فإن النظام العالمي الجديد ليس من صنع المسلمين؛ بل إنه مختلف اجتماعيًّا وسياسيًّا وثقافيًّا عن معهود المسلمين في خلافتهم الضائعة، ودولهم القطرية، إنما هي دول علمانية في أغلب توجهاتها، وإن أشارت في وثائق دساتيرها إلى الإسلام والشريعة (1).

كما أن العالم المعاصر لم يَعُدْ كتلًا منفصلة كما كان في السابق، فلقد تلاحمت الأجزاء وتداخلت الثقافات، وتواصلت الشعوب، واتسم العصر بالتواصل الفعال في كل مجال.

وهذه الإشكالات تثير عددًا من التساؤلات على مستوى السياسة الشرعية، والتأصيل العلمي الفقهي لقضايا تلك الأقليات، ولا يخفى أن ثمة محددات حضارية ومقاصد شرعية في حياة الأقليات المسلمة تحكم علاقتها بمجتمعات غير المسلمين التي تعيش فيها؛ فإن هذه المجتمعات جزء من أمة الدعوة، سواء أكانوا من اليهود، أم النصارى، أم الوثنيين؛ فلا بد من قيام علاقة الدعوة، وقد قال الله تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ} وثَنَّى بعلاقة أخرى هي الحكمة، فقال سبحانه: {بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} وثَلَّثَ بعلاقة الحوار، فقال: {وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125].

والأقليات المسلمة تُفَرِّقُ بين من يعاديها في تلك المجتمعات، ومن يناصرها ويدافع عن حقوقها من غير أهل ملتها، فترفع الأقليةُ المسلمة في علاقتها بغير المسلمين

--------------------------------------------

(1) الأقليات في المنظور الإسلامي: رؤية مقاصدية، د. كمال السعيد حبيب: بحث مقدم إلى ندوة فقه الأقليات المسلمة في ضوء مقاصد الشريعة، اندماج وتميز، بماليزيا (ص 3).
বর্তমান সময়ের প্রতি নির্দেশ করে তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের দৃষ্টিতে সাম্যের ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা যায় না এমন কিছু আইনি চ্যালেঞ্জের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে ধর্মীয় বা জাতিগত ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য থাকবে না।

তিনি মন্তব্য করে বলেন: "ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর উচিত তাদের ভূখণ্ডে বসবাসরত মুসলিমদের পূর্ণ অধিকার প্রদানের পথ খুঁজে বের করা, আর তা করতে হবে বর্তমান আইনি বিধিবিধানগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে।"

পশ্চিমাদের যেমন এটি করা উচিত, তেমনি সেই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোরও উচিত তাদের সভ্যতামূলক এবং শারীয়াহর উদ্দেশ্যভিত্তিক (মাকাসিদি) মানদণ্ডগুলো নির্ধারণ করা, যাতে তারা নিজেদের সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারে এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারে। কেননা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা মুসলিমদের দ্বারা তৈরি নয়; বরং এটি তাদের হারানো খিলাফত এবং জাতীয় রাষ্ট্রগুলোর পরিচিত সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো থেকে ভিন্ন। এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের নীতি ও ঝোঁকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, যদিও তাদের সংবিধানের দলিলাদিতে ইসলাম ও শারীয়াহর উল্লেখ থেকে থাকে (১)।

তাছাড়া সমসাময়িক বিশ্ব আগের মতো বিচ্ছিন্ন কোনো খণ্ডে বিভক্ত নয়। বর্তমানে বিভিন্ন অংশ পরস্পর সংযুক্ত হয়েছে, সংস্কৃতিগুলো একে অপরের সাথে মিশে গেছে, জাতিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে এবং এ যুগটি প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।

এই সমস্যাগুলো সিয়াসাতে শারইয়্যাহর (শারীয়াহভিত্তিক রাজনীতি) পর্যায় থেকে শুরু করে সেই সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোর সমস্যাবলির ইলমি ও ফিকহি ভিত্তির ক্ষেত্রেও অনেকগুলো প্রশ্নের উদ্রেক করে। এটি অস্পষ্ট নয় যে, মুসলিম সংখ্যালঘুদের জীবনে এমন কিছু সভ্যতামূলক মানদণ্ড এবং শারীয়াহর উদ্দেশ্য (মাকাসিদ) রয়েছে যা অমুসলিম সমাজগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে যেখানে তারা বসবাস করে। কেননা এই সমাজগুলো দাওয়াতের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত, তারা ইহুদি, খ্রিস্টান কিংবা মূর্তিপূজক যাই হোক না কেন। সুতরাং তাদের সাথে দাওয়াতি সম্পর্ক বজায় থাকা আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমার রবের পথের দিকে আহ্বান করো।" এরপর তিনি প্রজ্ঞার মাধ্যমে দ্বিতীয় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।" এবং বিতর্কের মাধ্যমে তৃতীয় সম্পর্কের কথা বলে তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: "এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায়" [আন-নাহল: ১২৫]।

আর মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো ওই সকল সমাজে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণকারী এবং তাদের স্বজাতিভুক্ত না হয়েও তাদের সাহায্যকারী ও অধিকার রক্ষাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করে থাকে। ফলে অমুসলিমদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো...

--------------------------------------------

(১) ইসলামি প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু: একটি উদ্দেশ্যমূলক (মাকাসিদি) দৃষ্টিভঙ্গি, ড. কামাল আল-সাঈদ হাবিব: মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘শারীয়াহর উদ্দেশ্যের আলোকে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ফিকহ: অন্তর্ভুক্তি ও স্বাতন্ত্র্য’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণা প্রবন্ধ (পৃষ্ঠা ৩)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
شعار: {لَيْسُوا سَوَاءً} [آل عمران: 113]، فمن أعانها ولم يُعِنْ عليها فإن العلاقة معه تقوم على البر والقسط، وعلى أساس من قوله تعالى: {لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} [الممتحنة: 8].

ولا يمتنع أن تقوم عندئذٍ علاقاتُ التعاونِ على البِرِّ والتقوى؛ لعموم قوله تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} [المائدة: 2].

ولقوله صلى الله عليه وسلم: "والذي نفسي بِيده لا يسألونني خطة يعظمون فيها حرمات اللهِ إلا أعطيتهم إِياها" (1).

وعن هذا المبدأ نشأ تعاونٌ تجاريٌّ واشتراكٌ مصلحيٌّ، وغير ذلك من العلاقات الاجتماعية البشرية الصحيحة، ولا يعني ما سبق استبعادَ وجودِ علاقةِ التَّدَافُعِ الثابتة بقوله تعالى: {وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَفَسَدَتِ الْأَرْضُ} [البقرة: 251].

وكذا فإن هذه العلاقة يستتبعها من مخططات التذويب والانصهار ما يُلْزِمُ أهلَ الإسلامِ بحفظِ ثوابتهم وإقامةِ عقائِدِهم، وتحريرِ ولائِهم لله ورسوله وللمؤمنين، والحرصِ على هويتهم المسلمة أن تذوى أو تتميع، بل وتنبغي مشاركة هذه الأقليات -كل بحسبه- في نصرة قضايا المسلمين عامَّةً من خلال وجودهم في أقطارهم، وقد تَبَدَّى هذا مؤخرًا في موقف مسلمي العالم من قضية كسر الحصار عن غزة الأبية وسفن الإغاثة الإنسانية وأسطول الحرية!

ومن هنا تتأكَّدُ مشاركةُ هذه الأقليات المسلمة في قضايا أُمَّتِهَا بعد أن تُنَظِّمَ صفوفَهَا وتُوَحِّدَ مسيرتَها، وتَجْمَعَ كلمتها. وهنا تتعين الإشارة إلى أن أقلية يهودية لا يزيد تعدادها في العالم بأسره عن ثلاثين مليونًا، تلعب دورًا خطيرًا في الإعلام العالمي، وتعبث بمقدراتٍ اقتصاديةٍ لدولٍ كبرى، وتتحكم في مجريات السياسة العالمية، في حين أن الأقلية المسلمة تزيد عن عشرة أضعافها عدديًّا، ومع هذا فلا تأثيرَ يُذْكَرُ، أو جهودَ تُؤْثَرُ.

--------------------------------------------

(1) أخرجه: البخاري، كتاب الشروط، باب: الشروط في الجهاد، (2731، 2732)، من حديث المسور بن مخرمة ومروان بن الحكم رضي الله عنهما.
মূলমন্ত্র: "তারা সবাই সমান নয়" [আল ইমরান: ১১৩]; সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের সাহায্য করে এবং তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করে না, তার সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সদাচার ও ইনসাফের ভিত্তিতে, এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর ভিত্তি করে: "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের সাথে সদাচার করতে এবং তাদের প্রতি ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।" [আল-মুমতাহিনা: ৮]।

আর তখন পুণ্য ও তাকওয়ার ভিত্তিতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠতে কোনো বাধা থাকে না; মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপকতার কারণে: "তোমরা পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না।" [আল-মায়িদা: ২]।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তারা (কুরাইশরা) আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব চাইবে না যাতে আল্লাহর পবিত্র বিষয়গুলোর মর্যাদা রক্ষা পায়, তবে আমি অবশ্যই তাদের তা প্রদান করব।" (১)।

আর এই নীতি থেকেই বাণিজ্যিক সহযোগিতা, স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশীদারিত্ব এবং অন্যান্য সঠিক মানবিক সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পূর্বের আলোচনার অর্থ এই নয় যে, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত পারস্পরিক প্রতিরোধের সম্পর্কের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হচ্ছে: "আর আল্লাহ যদি মানুষের এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত।" [আল-বাকারা: ২৫১]।

তেমনিভাবে, এই সম্পর্কের ফলশ্রুতিতে আদর্শিক বিলোপ ও একীভূতকরণের যে ষড়যন্ত্র তৈরি হয়, তা ইসলামের অনুসারীদের জন্য তাদের মৌলিক আদর্শসমূহ রক্ষা করা, তাদের আকিদা কায়েম রাখা এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের প্রতি তাদের আনুগত্যকে নিছক ও বিশুদ্ধ রাখা অপরিহার্য করে তোলে। সেই সাথে তাদের মুসলিম পরিচয় যাতে বিলীন না হয়ে যায় বা শিথিল না হয়ে পড়ে সে বিষয়ে সচেষ্ট হওয়াও জরুরি। বরং এই সংখ্যালঘু জনসমষ্টির উচিত—প্রত্যেকে যার যার অবস্থান অনুযায়ী—তাদের স্ব-স্ব দেশে অবস্থানের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক বিষয়গুলোর সাহায্যে অংশগ্রহণ করা। এটি সম্প্রতি ফুটে উঠেছে গর্বিত গাজা উপত্যকার অবরোধ ভাঙার আন্দোলনে এবং মানবিক ত্রাণবাহী জাহাজ ও ফ্রিডম ফ্লোটিলার ক্ষেত্রে বিশ্বের মুসলিমদের অবস্থানের মধ্য দিয়ে!

এখান থেকেই এই মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য তাদের উম্মাহর সমস্যাবলিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিশ্চিত হয়, যখন তারা তাদের কাতারগুলোকে বিন্যস্ত করবে, তাদের পথচলাকে ঐক্যবদ্ধ করবে এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে সংহত করবে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সারা বিশ্বে ইহুদি সংখ্যালঘুদের সংখ্যা তিন কোটির বেশি নয়, অথচ তারা বিশ্ব গণমাধ্যমে এক ভয়াবহ ভূমিকা পালন করছে, বড় বড় রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক ভাগ্য নিয়ে খেলা করছে এবং বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে মুসলিম সংখ্যালঘুদের সংখ্যা তাদের তুলনায় দশ গুণেরও বেশি হওয়া সত্ত্বেও কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব বা স্মরণীয় কোনো প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারি, কিতাবুল শুরুত, অধ্যায়: জিহাদের শর্তাবলি, (২৭৩১, ২৭৩২), মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও মারওয়ান ইবনে হাকাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَيُقْضَى الْأَمْرُ حِيْنَ تَغِيْبُ تَيْمٌ … وَلَا يُسْتَأْمَرُونَ وَهُمْ شُهُودُ

ولا شكَّ أن أفرادًا من الأقليات المسلمة كان لها تأثيرها البارز؛ كالدكتور علي عزت بيجوفيتش (1) الذي كان يومًا من الأقلية، ثم أصبح زعيمًا وقائدًا سياسيًّا، وكذلك ليبولد فايس (محمد أسد) (2) مؤلف كتاب: "الإسلام على مفترق الطرق"، ومراد هوفمان (3) مؤلف كتاب: "الإسلام كبديل"، وغيرهم كثير من الشخصيات المؤثرة على مستوى العالم.

وحتى تؤدي هذه الأقلياتُ واجبَهَا نحو نفسِهَا، ونحو دينِهَا وأُمَّتِهَا فلا مناصَ من تَوَحُّدِهَا، وتنظيمِهَا، وجمعِ كلمتِهَا، وإيجادِ ما يسمى: بـ "فقه الأقليات المسلمة".

--------------------------------------------

(1) ناشط سياسي بوسني وهو كاتب إسلامي، ولد عام 1925 م، عمل مستشارًا قانونيًّا خلال 25 سنة ثم اعتزل وتفرغ للبحث والكتابة، وهو أول رئيس جمهورية للبوسنة والهرسك، بعد انتهاء الحرب في البوسنة، وظل في هذا المنصب منذ سنة 1990 م إلى 1996 م. كما كان أول عضو في مجلس الرئاسة البوسني منذ سنة 1996 م إلى 2000 م، من مؤلفاته: "الإسلام بين الشرق والغرب"، و"البيان الإسلامي" أو "الإعلان الإسلامي"، وكتاب "هروبي للحرية"، وتوفي رحمه الله سنة 2003 م، عن 78 عامًا.

‌‌(2) ولد سنة 1900 م لأبوين يهوديين، وبدأ تعليمه منذ صغره ليصبح حاخامًا مثل جده، وهو نمساوي الأصل، اتجه للصحافة فبرع فيها، وعمل مراسلًا صحفيًّا في الشرق العربي والإسلامي، فأقام مدة في القدس ثم زار القاهرة فالتقى بالإمام مصطفى المراغي، فحاوره حول الأديان، ثم بدأ بتعلم اللغة العربية في أروقة الأزهر، وهو لم يزل بعدُ يهوديَّا، ثم أسلم رحمه الله وقام بالمشاركة في الجهاد مع عمر المختار، ثم سافر إلى باكستان حيث عمل رئيسًا لمعهد الدراسات الإسلامية في لاهور، وهناك قام بتأليف الكتب التي رفعته إلى مصاف ألمع المفكرين الإسلاميين في العصر الحديث، ومن أشهر ما كتب "الإسلام على مفترق الطرق" وله كتاب "الطريق إلى مكة"، كما قام بترجمة معاني القرآن الكريم وصحيح البخاري إلى اللغة الإنجليزية. توفي رحمه الله سنة 1992 م، ودفن في مقابر المسلمين بالأندلس.

‌‌(3) دبلوماسي ومؤلف ألماني بارز، ولد سنة 1931 م، اعتنق الإسلام عام 1980 م، عمل منذ الخمسينيات في سفارة ألمانيا الاتحادية في الجزائر، وعمل كخبير في مجال الدِّفاع النَّووي في وزارة الخارجية الألمانية، كما عمل كمدير لقسم المعلومات في حلف الناتو في بروكسل من عام 1983 م حتى 1987 م ثم سفيرًا لألمانيا في الجزائر من 1987 م حتى 1990 م ثم سفيرًا في المغرب من 1990 م حتى 1994 م، وكان إسلامه موضع جدل بسبب منصبه الرَّفيع في الحكومة الألمانية، وله عدة مؤلفات منها: "الإسلام كبديل"، و"رحلة إلى مكة"، و"الإسلام في الألفية الثالثة"، وغير ذلك.
যখন তায়ম গোত্র অনুপস্থিত থাকে তখনই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যায়... আর তারা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের পরামর্শ নেওয়া হয় না।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিম সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেরই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল; যেমন ডক্টর আলী ইজ্জত বেগোভিচ (১), যিনি একসময় সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অতঃপর একজন নেতা ও রাজনৈতিক অধিনায়ক হয়েছিলেন। তদ্রূপ লিওপোল্ড ওয়াইস (মুহাম্মদ আসাদ) (২), যিনি ‘ইসলাম অ্যাট দ্য ক্রসরোডস’ (ইসলাম দোদুল্যমান অবস্থায়) গ্রন্থের লেখক, এবং মুরাদ হফম্যান (৩), যিনি ‘ইসলাম অ্যাজ অ্যান অল্টারনেটিভ’ (বিকল্প হিসেবে ইসলাম) গ্রন্থের লেখক। এছাড়াও বিশ্বজুড়ে আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।

আর এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো যেন নিজেদের প্রতি এবং তাদের দ্বীন ও উম্মাহর প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেজন্য তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া, সুসংগঠিত হওয়া, ঐক্যমত্য পোষণ করা এবং ‘মুসলিম সংখ্যালঘু ফিকহ’ নামে পরিচিত শাস্ত্র উদ্ভাবন করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই।

--------------------------------------------

(১) একজন বসনীয় রাজনৈতিক কর্মী ও ইসলামী লেখক, ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২৫ বছর ধরে আইনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, অতঃপর অবসর নিয়ে গবেষণা ও লেখালিখিতে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। বসনিয়া যুদ্ধের অবসানের পর ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বসনীয় প্রেসিডেন্সি কাউন্সিলের প্রথম সদস্য ছিলেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘ইসলাম বিটুইন ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট’ (প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মাঝে ইসলাম), ‘দ্য ইসলামিক ডিক্লারেশন’ (ইসলামী ইশতেহার), এবং ‘মাই এসকেপ টু ফ্রিডম’ (মুক্তির সন্ধানে আমার পলায়ন)। তিনি ২০০৩ সালে ৭৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

‌‌(২) ১৯০০ সালে ইহুদি পিতামাতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশব থেকেই তাঁর পিতামহের মতো একজন রাব্বাই (ধর্মগুরু) হওয়ার জন্য শিক্ষা শুরু করেন। তিনি মূলে ছিলেন একজন অস্ট্রিয়ান। তিনি সাংবাদিকতার দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি আরব ও মুসলিম বিশ্বে একজন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি দীর্ঘকাল জেরুসালেমে অবস্থান করেন এবং কায়রো সফর করে ইমাম মুস্তাফা আল-মারগির সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাঁর সাথে ধর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। অতঃপর তিনি আল-আযহারের আঙিনায় আরবি ভাষা শিখতে শুরু করেন, তখনও তিনি ইহুদি ছিলেন। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি উমর আল-মুখতারের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করেন। পরে তিনি পাকিস্তানে পাড়ি জমান এবং সেখানে লাহোরে ‘ইসলামিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। সেখানেই তিনি সেই সমস্ত গ্রন্থ রচনা করেন যা তাঁকে আধুনিক যুগের উজ্জ্বলতম ইসলামী চিন্তাবিদদের সারিতে উন্নীত করেছে। তাঁর সর্বাধিক বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইসলাম অ্যাট দ্য ক্রসরোডস’ এবং ‘দ্য রোড টু মক্কা’। এছাড়াও তিনি পবিত্র কুরআনের মর্মার্থ এবং সহীহ বুখারী ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। ১৯৯২ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে আন্দালুসিয়ার মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হয়।

‌‌(৩) একজন প্রখ্যাত জার্মান কূটনীতিক ও লেখক, ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি পঞ্চাশের দশক থেকে আলজেরিয়ায় ফেডারেল জার্মানির দূতাবাসে কাজ করেন এবং জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরমাণু প্রতিরক্ষা বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ব্রাসেলসে ন্যাটোর তথ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আলজেরিয়ায় এবং ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মরক্কোতে জার্মানির রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জার্মান সরকারের উচ্চপদে আসীন হওয়ার কারণে তাঁর ইসলাম গ্রহণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: ‘ইসলাম অ্যাজ অ্যান অল্টারনেটিভ’, ‘জার্নি টু মক্কা’ (মক্কা সফর), ‘ইসলাম ইন দ্য থার্ড মিলেনিয়াম’ (তৃতীয় সহস্রাব্দে ইসলাম) ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وهو فقه يراد منه حفظ دين هؤلاء الأفراد والطوائف والجماعات، والتأكيد على هويتها وقيمها وأخلاقها الإسلامية.

كما يراد منه ضبط صلتها بالمجتمع الذي تعيش فيه، فلا انعزال ولا ذوبان، وإنما تفاعلٌ واعٍ، وتأثيرٌ نافعٌ، وانتفاعٌ مشترَكٌ.

ثم يأتي التطلع إلى نشر الإسلام بطريقة سلمية بين صفوف الأكثرية، والتمكين للإسلام وأهله على تلك الأرض.

ثم إن لهذه الأقليات عملَهَا الذي يمكن أن يُسْتَثْمَرَ في مصلحة قضايا الأمة على جميع الأصعدة والمجالات السياسية والاقتصادية والإعلامية.

وغني عن البيان أن مصطلح: "فقه الأقليات المسلمة" يتضمن ما هو أبعدُ من الإجابة عن سؤالات في أمور عملية تتعلق بالمكلفين هنالك، فهو أكبر وأعمق من ذلك، وإن كانت المسائل ذات الطبيعة الفقهية تفرضُ نفسَهَا بإلحاح لإيجاد الجواب عنها، وهو أمر تنامى الاهتمام به مؤخَّرًا فرديًّا وجماعيًّا، حتى كثرت في ذلك الفتاوي وتعددت؛ بل واضطربت -أحيانًا- وتخالفت!

ثم إن الشأن أنه إذا كثرت الفروع وتعددت أن تُرَدَّ إلى أصول جامعة تضبط وحدتها، وتقيم منهجها على سَنَنٍ واضحةٍ، ومعالِمَ لائحةٍ.

ولا شكَّ أن الحياة المعاصرة بطبيعتها المتطورة، وإيقاعها المتلاحق -ولا سيما في بلاد الأقليات المسلمة- يدفع للوجود بمسائلَ متشابكةٍ، ونوازلَ مُعَقَّدَةٍ.

ونوازل تلك الأقليات المسلمة في الدرجة القصوى من وعورة المسالك، ودقة المآخذ؛ لغياب الإسلام عن حكم تلك الأقليات، وتعدد الديانات والولاءات، واستضعاف المسلمين هناك، مع قلة العلم الشرعي أو انعدامه أحيانًا، والتباس منهج الاستنباط والحكم أحيانًا أخرى.

وهو أمر يدعو إلى بذلِ أقصى وسعٍ، واستفراغِ كل جهدٍ في تأصيل أحكام تلك النوازل، وضبط منهج الاستدلال لها، والوصول إلى الحكم الشرعي فيها.
এটি এমন এক ফিকহ যার উদ্দেশ্য হলো এই ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলগুলোর দীনকে রক্ষা করা এবং তাদের পরিচয়, মূল্যবোধ ও ইসলামি নৈতিকতার নিশ্চয়তা প্রদান করা।

এর মাধ্যমে তাদের বসবাসরত সমাজের সাথে তাদের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যও রয়েছে, যাতে কোনো বিচ্ছিন্নতা বা বিলীন হয়ে যাওয়া না ঘটে; বরং সচেতন পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, কল্যাণকর প্রভাব এবং যৌথ উপকারিতা নিশ্চিত হয়।

অতঃপর আসে সংখ্যাগুরুদের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ইসলাম প্রচারের আকাঙ্ক্ষা এবং উক্ত ভূখণ্ডে ইসলাম ও মুসলমানদের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য।

তদুপরি, এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সমূহের এমন কিছু ভূমিকা রয়েছে যা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যমসহ সকল স্তরে ও ক্ষেত্রে উম্মাহর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কাজে লাগানো যেতে পারে।

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, "মুসলিম সংখ্যালঘু ফিকহ" পরিভাষাটি সেখানে অবস্থানরত মুকাল্লাফদের (শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেয়েও গভীরতর কিছু অর্থ বহন করে। এটি তার চেয়েও বড় ও ব্যাপক। যদিও ফিকহি প্রকৃতির সমস্যাগুলো সেগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য জোরালো তাগিদ দেয়, যা বর্তমানে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত উভয় পর্যায়ে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে; এমনকি এ বিষয়ে ফতোয়ার সংখ্যাও যেমন বেড়েছে, তেমনি হয়েছে বহুমুখী; এমনকি মাঝেমধ্যে সেগুলোতে বিভ্রান্তি ও বৈপরীত্যও দেখা দেয়!

আর বিষয়টি হলো, যখন শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি ও বহুমুখী হয়, তখন সেগুলোকে এমন কিছু সমন্বিত মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তন করানো প্রয়োজন যা তাদের অভিন্নতাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং একটি সুস্পষ্ট পথ ও উজ্জ্বল নিদর্শনের ওপর তার কর্মপদ্ধতিকে প্রতিষ্ঠিত করবে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আধুনিক জীবন তার ক্রমবিকাশমান প্রকৃতি ও দ্রুতগতির কারণে—বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘু দেশগুলোতে—জটিল বিষয়াবলি ও অত্যন্ত জটিল নওয়াজিল (নতুন উদ্ভূত সমস্যা) সামনে নিয়ে আসছে।

ঐসব মুসলিম সংখ্যালঘুদের নওয়াজিলসমূহ অত্যন্ত দুর্গম ও জটিল প্রকৃতির; কারণ ঐসব সংখ্যালঘুদের ওপর ইসলামি শাসনের অনুপস্থিতি, বহু ধর্ম ও আনুগত্যের উপস্থিতি, সেখানে মুসলমানদের দুর্বল অবস্থান এবং এর সাথে শরয়ি জ্ঞানের স্বল্পতা বা কখনো অনুপস্থিতি এবং মাঝেমধ্যে বিধান আহরণ ও হুকুম প্রদানের পদ্ধতির অস্পষ্টতা।

এই পরিস্থিতি ঐসব নওয়াজিলের বিধানসমূহকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে, সেগুলোর দলিল গ্রহণের পদ্ধতি সুশৃঙ্খল করতে এবং এ সংক্রান্ত শরয়ি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ শক্তি ও সামর্থ্য ব্যয় করার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولمَّا كان تأصيل أحكام تلك النوازل المستجدة من الأهمية بمكان، فإنه لم تَسْبِقْ بعدُ محاولاتٌ تأصيليةٌ، ومداخلاتٌ شرعية قوية في إحكام بنيان التأصيل الفقهيِّ الأصوليِّ المقاصديِّ لفقه نوازل الأقليات المسلمة.

ولمَّا كانت تلك النوازل الخاصة بالأقليات لا تتناهى فلا يكفي عندئذٍ مجرد ذكر الحكم عاريًا عن دليله وتأصيله.

لأجل ذلك كله كان اختيار هذا الموضوع المهم والبحث في هذا المجال المعاصر؛ ليكون أطروحتي للحصول على درجة العالمية (الدكتوراه) في الفقه الإسلامي بكلية الشريعة من جامعة الأزهر الشريف بعنوان: "فقه النوازل للأقليات المسلمة تأصيلًا وتطبيقًا".

وذلك أولًا بجمع ما تفرَّق من تلك القواعد الأصولية والمقاصدية والفقهية، بما يقيم منظومة فقهية أصولية تُبْنَى عليها مسائلُ هذه الفئة المغتربة عن ديار الإسلام.

كما عُنِيَتْ هذه الدراسة باستفادة أحكام بعض النوازل من خلال التطبيق على القواعد الضابطة، والأصول الحاكمة، حيث طرحت بعض نوازل الأقليات في فقه العبادات، والمعاملات، والأحوال الشخصية، والسياسة الشرعية.

وعليه، فقد جاء البحث متضمنًا لجوانب ثلاثة رئيسة هي: تحرير المنهجية الصحيحة في استنباط أحكام النوازل عامة، وبناء تأصيليٌّ لفقه نوازل الأقليات، وأخيرًا تطبيق لاستنباط أحكام بعض هذه النوازل في عدة مجالات.

وفيما يلي خطة البحث:

قسمتُ مادةَ هذا البحثِ إلى مقدمة، وثلاثةِ أبوابٍ، وخاتمة.

أما المقدمة فقد عرضتُ فيها أهميةَ موضوعِ البحث، وأسبابَ اختيارِهِ، إضافةً إلى منهج البحث وخطته.

وأما الأبواب الثلاثة فكانت على النحو التالي:
যেহেতু এই নতুন উদ্ভূত সমস্যাবলির (নাওয়াযিল) বিধানসমূহের মূলনীতি নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং ইতিপূর্বে মুসলিম সংখ্যালঘু বিষয়ক ফিকহে নাওয়াযিলের ফিকহী, উসূলী এবং মাকাসিদী ভিত্তি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে কোনো শক্তিশালী মৌলিক প্রচেষ্টা বা শারঈ হস্তক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।

যেহেতু সংখ্যালঘুদের সাথে সংশ্লিষ্ট এই নাওয়াযিল বা নতুন সমস্যাগুলো অগণিত, তাই কেবল দলীল ও মূলনীতিবিহীন নিছক বিধান উল্লেখ করা যথেষ্ট নয়।

এসকল কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নির্বাচন করা হয়েছে এবং এই সমসাময়িক ক্ষেত্রে গবেষণা করা হয়েছে; যাতে এটি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদ থেকে ইসলামী ফিকহে 'আলামিয়্যাহ' (ডক্টরেট) ডিগ্রি লাভের জন্য আমার থিসিস হিসেবে গণ্য হয়, যার শিরোনাম: "মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাওয়াযিল সংক্রান্ত ফিকহ: মূলনীতি নির্ধারণ ও প্রয়োগ"।

এটি প্রথমত সেই বিক্ষিপ্ত উসূলী, মাকাসিদী এবং ফিকহী কায়েদাসমূহ একত্রিত করার মাধ্যমে করা হয়েছে, যাতে একটি ফিকহী ও উসূলী কাঠামো গড়ে ওঠে যার ওপর ভিত্তি করে ইসলামী ভূখণ্ডের বাইরে বসবাসরত এই জনগোষ্ঠীর মাসয়ালাগুলো সমাধান করা যায়।

তদ্রূপ এই গবেষণায় কিছু নাওয়াযিলের বিধান উদ্ভাবনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে নিয়ন্ত্রক নীতিমালা ও নিয়ামক মূলনীতিসমূহে প্রয়োগের মাধ্যমে, যেখানে ইবাদত, মুয়ামালাত (লেনদেন), ব্যক্তিগত আইন এবং সিয়াসা শারইয়্যাহর ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের কিছু নাওয়াযিল বা নতুন সমস্যা উত্থাপন করা হয়েছে।

সুতরাং, এই গবেষণাটি তিনটি প্রধান দিক অন্তর্ভুক্ত করেছে: সাধারণভাবে নাওয়াযিলের বিধান উদ্ভাবনের সঠিক পদ্ধতি বিশ্লেষণ, মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাওয়াযিল সংক্রান্ত ফিকহের একটি মৌলিক ভিত্তি নির্মাণ এবং সবশেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই নাওয়াযিলগুলোর কয়েকটির বিধান উদ্ভাবনের প্রয়োগ।

নিম্নে গবেষণার রূপরেখা প্রদান করা হলো:

আমি এই গবেষণার বিষয়বস্তুকে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।

ভূমিকার ক্ষেত্রে, আমি এতে গবেষণার বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ এবং সেই সাথে গবেষণার পদ্ধতি ও রূপরেখা তুলে ধরেছি।

আর তিনটি অধ্যায় নিম্নরূপ ছিল:
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الأول: مفهوم نوازل الأقليات المسلمة، ويشتمل على فصلين:

الفصل الأول: فقه النوازل للأقليات المسلمة وأهميته، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف فقه النوازل.

المبحث الثاني: ثمرة دراسة فقه النوازل وأهميته.

المبحث الثالث: مفهوم نوازل الأقليات.

الفصل الثاني: واقع الأقليات المسلمة، ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: نشأة الأقليات المسلمة وتاريخها.

المبحث الثاني: الواقع الإحصائي للأقليات المسلمة.

المبحث الثالث: خصائص الأقليات المسلمة.

المبحث الرابع: مشكلات الأقليات المسلمة.

الباب الثاني: التأصيل لفقه النوازل للأقليات المسلمة، ويشتمل على أربعة فصول:

الفصل الأول: الأحكام الشرعية بين الثبات والتغير، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: خصائص الشريعة الإسلامية.

المبحث الثاني: الثبات والتغير في الأحكام الشرعية.

المبحث الثالث: أسباب تغير الفُتيا والأحكام الفقهية الاجتهادية.

الفصل الثاني: أهمية التأصيل لفقه النوازل للأقليات وخصائصه ومقاصده

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: أهمية التأصيل لفقه نوازل الأقليات وحكمه.

المبحث الثاني: أسباب وخصائص نوازل الأقليات المسلمة.

المبحث الثالث: المقاصد الشرعية لفقه نوازل الأقليات المسلمة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘু সংক্রান্ত সমসাময়িক সমস্যাবলির ধারণা, এবং এটি দুটি অধ্যায় সংবলিত:

প্রথম অধ্যায়: মুসলিম সংখ্যালঘুদের সমসাময়িক সমস্যাবলির ফিকহ ও এর গুরুত্ব, এবং এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সমসাময়িক সমস্যাবলির ফিকহের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সমসাময়িক সমস্যাবলির ফিকহ অধ্যয়নের সুফল ও এর গুরুত্ব।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সংখ্যালঘুদের সমসাময়িক সমস্যাবলির ধারণা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মুসলিম সংখ্যালঘুদের বাস্তবতা, এবং এটি চারটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘুদের উদ্ভব ও ইতিহাস।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘুদের পরিসংখ্যানগত বাস্তবতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘুদের বৈশিষ্ট্যসমূহ।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘুদের সমস্যাসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘুদের সমসাময়িক সমস্যাবলির ফিকহের মূলনীতি নির্ধারণ, এবং এটি চারটি অধ্যায় সংবলিত:

প্রথম অধ্যায়: স্থায়িত্ব ও পরিবর্তনের নিরিখে শরয়ি বিধানসমূহ, এবং এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলামি শরীয়াহর বৈশিষ্ট্যসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শরয়ি বিধানসমূহে স্থায়িত্ব ও পরিবর্তন।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ফতোয়া ও ইজতিহাদি ফিকহি বিধান পরিবর্তনের কারণসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মুসলিম সংখ্যালঘুদের সমসাময়িক সমস্যাবলির ফিকহের মূলনীতি নির্ধারণের গুরুত্ব, বৈশিষ্ট্য ও লক্ষ্যসমূহ

এবং এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সংখ্যালঘু সংক্রান্ত সমসাময়িক সমস্যাবলির ফিকহের মূলনীতি নির্ধারণের গুরুত্ব ও এর বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘুদের সমসাময়িক সমস্যাবলির কারণ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘুদের সমসাময়িক সমস্যাবলির ফিকহের শরয়ি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الفصل الثالث: الأصول والقواعد الحاكمة لفقه نوازل الأقليات، ويشتمل على تسعة مباحث:

المبحث الأول: القواعد الأصولية والمقاصدية والفقهية والفرق بينها.

المبحث الثاني: القواعد المتعلقة بالاجتهاد.

المبحث الثالث: القواعد المتعلقة بالرخص والمشقات.

المبحث الرابع: القواعد المتعلقة بالضرورات والحاجات.

المبحث الخامس: القواعد المتعلقة بالمقاصد.

المبحث السادس: القواعد المتعلقة بالتعارض والترجيح بين المصالح والمفاسد.

المبحث السابع: القواعد المتعلقة بالمآلات.

المبحث الثامن: القواعد المتعلقة بالعرف.

المبحث التاسع: القواعد المتعلقة بالولاية والسياسة الشرعية.

الفصل الرابع: مناهج وطرق استنباط الأحكام الفقهية للنوازل وضوابطها، ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: مناهج الحكم على النوازل.

المبحث الثاني: طرق استنباط أحكام النوازل وضوابطها.

الباب الثالث: من أحكام نوازل الأقليات، ويشتمل على خمسة فصول:

الفصل الأول: من نوازل العبادات، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: من نوازل الطهارة: أثر الاستحالة في التطهير.

المبحث الثاني: من نوازل الصلاة: أوقات الصلوات لأهل القطبين والمناطق الشمالية.

المبحث الثالث: من نوازل الزكاة: حكم دفع الزكاة لغير المسلمين ببلاد الأقليات.

الفصل الثاني: من نوازل المعاملات، ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: حكم التمويل البنكي لشراء المساكن في المجتمعات الغربية.

المبحث الثاني: أحكام عقود التأمين خارج ديار الإسلام.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংখ্যালঘু নাওয়াযিল ফিকহের পরিচালক মূলনীতি ও নিয়মাবলি, এবং এটি নয়টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: উসূলি, মাকাসিদি ও ফিকহি নিয়মাবলি এবং এগুলোর মধ্যকার পার্থক্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইজতিহাদ সংক্রান্ত নিয়মাবলি।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: রুখসত (সহজীকরণ) এবং মাশাক্কাত (কষ্ট-ক্লেশ) সংক্রান্ত নিয়মাবলি।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: জরুরত (অপরিহার্যতা) এবং হাজত (প্রয়োজনীয়তা) সংক্রান্ত নিয়মাবলি।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: মাকাসিদ (শরীয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য) সংক্রান্ত নিয়মাবলি।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: মাসলাহাত (কল্যাণ) ও মাফাসাদাত (অকল্যাণ)-এর মাঝে দ্বন্দ্ব (তাআরুদ) ও তারজিহ (প্রাধান্য নির্ধারণ) সংক্রান্ত নিয়মাবলি।

সপ্তম অনুচ্ছেদ: পরিণাম (মাআলাত) সংক্রান্ত নিয়মাবলি।

অষ্টম অনুচ্ছেদ: উরফ (প্রথা) সংক্রান্ত নিয়মাবলি।

নবম অনুচ্ছেদ: বিলায়াত (অভিভাবকত্ব) ও সিয়াসাতে শারইয়্যাহ (শরীয়াহ ভিত্তিক রাজনীতি) সংক্রান্ত নিয়মাবলি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নাওয়াযিলের (নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতি) ফিকহি বিধান উদ্ভাবনের পদ্ধতি ও নীতিমালা, এবং এটি দুইটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: নাওয়াযিলের ক্ষেত্রে হুকুম বা বিধান প্রদানের পদ্ধতিসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নাওয়াযিলের বিধান উদ্ভাবনের পন্থা ও তার নীতিমালা।

তৃতীয় খণ্ড: সংখ্যালঘু ফিকহুল নাওয়াযিলের কিছু বিধান, এবং এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবাদত সংক্রান্ত নাওয়াযিল, এবং এটি তিনটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্রতা সংক্রান্ত নাওয়াযিল: পবিত্রকরণের ক্ষেত্রে ইস্তিহালা (রাসায়নিক পরিবর্তন)-এর প্রভাব।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সালাত সংক্রান্ত নাওয়াযিল: দুই মেরু ও উত্তরীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের সালাতের সময়সূচী।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জাকাত সংক্রান্ত নাওয়াযিল: সংখ্যালঘু দেশগুলোতে অমুসলিমদের জাকাত প্রদানের বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেনদেন বা মুয়ামালাত সংক্রান্ত নাওয়াযিল, এবং এটি দুইটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পাশ্চাত্য সমাজে ঘরবাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক ফাইন্যান্সিং (ব্যাংক অর্থায়ন)-এর বিধান।

第二 অনুচ্ছেদ: দারুল ইসলামের বাইরে বীমা চুক্তির বিধানাবলি।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الثالث: من نوازل النكاح، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: حكم الزواج من غير المسلمات في غير دار الإسلام.

المبحث الثاني: حكم الزواج الصوري بقصد الحصول على الإقامة أو الجنسية في غير دار الإسلام.

المبحث الثالث: حكم بقاء من أسلمت تحت زوجها الكافر.

الفصل الرابع: من نوازل الطلاق، ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: حكم الطلاق الذي يُوقِعُه القاضي غيرُ المسلم في بلاد الأقليات.

المبحث الثاني: ولاية المراكز الإسلامية في التطليق والتفريق.

الفصل الخامس: من نوازل السياسة الشرعية، ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: حكم التجنس بجنسية دولة غير مسلمة.

المبحث الثاني: المشاركة السياسية في الدول غير المسلمة.

الخاتمة.

المراجع.

الفهارس.

منهج البحث:

لقد اعتمدت في منهج الكتابة والبحث فيما تناولته من مباحثَ ومسائلَ على الأسس التالية:

‌‌1 - تتبع مصادر كل مسألة، والاطلاع على مراجعها القديمة والحديثة بحسب الإمكان، وقد حصل لي من المراجع الحديثة -خاصة- قدر ليس بالقليل، والحمد لله.

‌‌2 - الاعتناء بالتمهيد للمسائل بما يوضحها بحسب المقام مع ما يتضمنه من بيان التعريف اللغوي والاصطلاحي للمصطلحات الواردة.

‌‌3 - تحرير محل الخلاف في المسائل الخلافية، سواء أكانت من المسائل القديمة التي اشتهر الخلاف فيها بين أهل العلم، أو كانت من النوازل التي جدَّتْ واختلف المعاصرون في حكمها.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিকাহ বা বিয়ের সমসাময়িক মাসআলাসমূহ, যা তিনটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: দারুল ইসলাম ব্যতীত অন্য ভূখণ্ডে অমুসলিম নারীদের বিয়ে করার বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দারুল ইসলাম ব্যতীত অন্য ভূখণ্ডে থাকার অনুমতি (রেসিডেন্সি) বা নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে নামমাত্র বা কাগজি বিয়ের বিধান।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলাম গ্রহণকারী মহিলার তার কাফির স্বামীর অধীনে থেকে যাওয়ার বিধান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তালাকের সমসাময়িক মাসআলাসমূহ, যা দুটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সংখ্যালঘু মুসলিমদের দেশে অমুসলিম বিচারক কর্তৃক প্রদত্ত তালাকের বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তালাক ও দাম্পত্য বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে ইসলামি সেন্টার বা কেন্দ্রসমূহের অভিভাবকত্ব ও কর্তৃত্ব।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সিয়াসাতে শারইয়্যাহ বা শরয়ি রাজনীতির সমসাময়িক মাসআলাসমূহ, যা দুটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অমুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণের বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অমুসলিম রাষ্ট্রসমূহে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ।

উপসংহার।

তথ্যসূত্র।

সূচিপত্র।

গবেষণার পদ্ধতি:

আমি যে সকল অনুচ্ছেদ ও মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছি, সেগুলোর লিখন ও গবেষণা পদ্ধতিতে আমি নিম্নোক্ত মূলনীতিগুলোর ওপর নির্ভর করেছি:

‌‌১ - প্রত্যেকটি মাসআলার উৎস অনুসন্ধান করা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর প্রাচীন ও আধুনিক কিতাবপত্র দেখা। বিশেষ করে, আমি আধুনিক তথ্যসূত্র হতে অনেক উপাদান লাভ করেছি, আলহামদুলিল্লাহ।

‌‌২ - মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আলোচনার অবতারণা করা যাতে সেগুলো সুস্পষ্ট হয়, সেই সাথে সেখানে আসা পরিভাষাগুলোর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার গুরুত্ব দেওয়া।

‌‌৩ - মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাগুলোতে বিরোধের মূল জায়গা বা ক্ষেত্র নির্ধারণ করা; চাই তা আলেমদের মাঝে পরিচিত কোনো প্রাচীন মাসআলা হোক কিংবা আধুনিক কোনো নবসৃষ্ট সমসাময়িক মাসআলা হোক যার বিধান সম্পর্কে বর্তমান আলেমগণ মতভেদ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌4 - ذِكْرُ الأقوال في تلك المسائل بأدلتها، وبيان وجه دلالتها، وما يرد عليها من مناقشات غالبًا، وربما اختصرتُ في ذكر المناقشات؛ لكون المسألة ليست من صلب مسائل البحث، ثم ترجيح ما يظهر رجحانه.

‌‌5 - عزو الآيات القرآنية إلى السور، وتخريج الأحاديث النبوية من مصادرها، ونقل حكم أهل العلم على الأحاديث من حيث الصحة والضعف ما أمكن.

‌‌6 - توثيق نصوص العلماء بالرجوع إلى كتبهم مباشرة، واعتماد الكتب الموثقة في مذاهبهم، والعناية بالنقل الحرفي لإثبات صحة النسبة، إلا ما دعت الحاجة إلى اختصاره أو الإشارة إليه في مظانِّهِ.

‌‌7 - ترجمة الفقهاء المذكورين في صلب الرسالة.

‌‌8 - وضع خاتمةٍ وفهارسَ تفصيليةٍ للموضوعات والمصادر والمراجع التي ورد ذكرها في الرسالة.

وفي ختام هذه المقدمة أحمد الله تعالى على انتهائي من هذا العمل وأشكره، وأتوجه بخالص الشكر والتقدير والامتنان إلى السادة العلماء أساتذتي الفضلاء الذين تعاقبوا على الإشراف على هذه الرسالة، وهم: أ. د/ محمد عبد الستار الجبالي، أستاذ ورئيس قسم الفقه بكلية الشريعة بالقاهرة، ثم أ. د/ علي علي منصور، أستاذ ورئيس قسم الفقه بكلية الشريعة سابقًا، وأخيرًا فقد أذن الله عز وجل بإتمام هذا العمل على يدي فضيلة أ. د/ محمد راشد أبي زيد، أستاذ ورئيس قسم الفقه بكلية الشريعة سابقًا، والذي لم يأل جهدًا في دفع مسيرة هذا العمل العلمي وتسديده، والله تعالى أسأل أن يتقبل منه الصالحات، وأن يعلي درجته في الجنات، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
‌‌৪ - উক্ত মাসয়ালাসমূহে দলিলসহ মতামতগুলো উল্লেখ করা, সেগুলোর দলিলের ধরন বর্ণনা করা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলোর ওপর যেসব পর্যালোচনা আসে তা ব্যক্ত করা। অনেক ক্ষেত্রে আমি আলোচনার বিবরণে সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছি; কারণ মাসয়ালাটি গবেষণার মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। অতঃপর যা অধিকতর সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে তাকে প্রাধান্য প্রদান করা।

‌‌৫ - কুরআনের আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা, হাদিসসমূহকে মূল উৎস থেকে বের করা এবং সাধ্যমতো হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার বিষয়ে আলেমদের সিদ্ধান্ত বর্ণনা করা।

‌‌৬ - আলেমদের বক্তব্যগুলো সরাসরি তাঁদের কিতাব থেকে যাচাই করা, তাঁদের মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করা এবং বক্তব্যটি তাঁদের দিকে সম্বন্ধিত হওয়ার সঠিকতা প্রমাণের জন্য হুবহু উদ্ধৃতি প্রদানের যত্ন নেওয়া। তবে যেখানে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়েছে অথবা মূল উৎসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তা ব্যতীত।

‌‌৭ - গবেষণাপত্রের মূল অংশে উল্লেখিত ফকিহগণের জীবনী আলোচনা করা।

‌‌৮ - গবেষণাপত্রে উল্লেখিত বিষয়াদি, উৎস ও তথ্যসূত্রের জন্য একটি উপসংহার এবং বিস্তারিত সূচিপত্র প্রদান করা।

এই ভূমিকার শেষে, আমি এই কর্মটি সম্পন্ন করতে পারায় মহান আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করছি। আমি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আলেমগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা ধারাবাহিকভাবে এই গবেষণাপত্রটি তত্ত্বাবধান করেছেন। তাঁরা হলেন: প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আবদুস সাত্তার আল-জিবালি, কায়রোর শরীয়াহ অনুষদের ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান; এরপর প্রফেসর ডক্টর আলী আলী মনসুর, শরীয়াহ অনুষদের ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান; এবং পরিশেষে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই কাজটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেছেন শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ রাশিদ আবু যায়েদ-এর হাতে, যিনি শরীয়াহ অনুষদের ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান। তিনি এই গবেষণামূলক কাজটিকে গতিশীল করতে এবং একে সঠিক রূপ দিতে কোনো প্রকার ত্রুটি করেননি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর সৎকর্মসমূহ কবুল করেন এবং জান্নাতে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌البَابُ الأَوّلُ

مفهوم نوازل الأقليات المسلمة

الفصل الأول: فقه النوازل للأقليات المسلمة وأهميته.

الفصل الثاني: واقع الأقليات المسلمة.
প্রথম অধ্যায়

মুসলিম সংখ্যালঘু বিষয়ক নাওয়াজিল (উদ্ভূত সমস্যা) এর ধারণা

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাওয়াজিল ফিকহ এবং এর গুরুত্ব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসলিম সংখ্যালঘুদের বাস্তবতা।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفْصَلُ الْأَوَّلُ

فقه النوازل للأقليات المسلمة وأهميته

المبحث الأول: تعريف فقه النوازل.

المبحث الثاني: ثمرة دراسة فقه النوازل وأهميته.

المبحث الثالث: مفهوم نوازل الأقليات
প্রথম অধ্যায়

মুসলিম সংখ্যালঘু বিষয়ক ফিকহুন নাওয়াযিল এবং এর গুরুত্ব

প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিকহুন নাওয়াযিলের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহুন নাওয়াযিল অধ্যয়নের সুফল ও এর গুরুত্ব।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সংখ্যালঘু বিষয়ক নাওয়াযিল এর ধারণা
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الأول تعريف فقه النوازل

‌‌المطلب الأول: تعريف مفرداته ولقبه العلمي والألفاظ ذات الصلة:

‌‌الفرع الأول: تعريف الفقه لغة واصطلاحًا:

الفقه لغةً:

هو مصدر فَقِهَ أو فَقَهَ أو فَقُهَ، ومادته أصل واحد صحيح يدل على إدراك الشيء والعلم به، وكل علم بشيء فهو فقه، وقد جاء لفظ الفقه بمعنى العلم في قوله تعالى: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122]، أي: ليكونوا علماء به (1).

والفقه: الفهم، فيقال: فَقِه بكسر القاف إذا فهم، وبفتحها إذا سبق غيره للفهم، وبضمها إذا صار الفقه له سجيَّة (2).

وقد ذهب طائفة من الأصوليين (3) مع عامة اللغويين إلى أن الفقه: الفهم مطلقًا؛ لأن

--------------------------------------------

(1) لسان العرب، لمحمد بن مكرم بن منظور، تحقيق: أمين عبد الوهاب، ومحمد العبيدي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، ط 3، 1419 هـ - 1999 م، (10/ 305).

‌‌(2) معجم مقاييس اللغة، لأبي الحسين أحمد بن فارس بن زكريا، تحقيق: عبد السلام هارون، دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت، ط 1399 هـ - 1979 م، (4/ 442)، لسان العرب، لابن منظور (10/ 305 - 306)، المصباح المنير في غريب الشرح الكبير، لأحمد محمد الفيومي، المكتبة العلمية، بيروت، (2/ 479).

‌‌(3) الإحكام في أصول الأحكام، لسيف الدين علي بن محمد الآمدي، تحقيق: د. سيد الجميلي، دار الكتاب العربي، بيروت، ط 1، 1404 هـ (1/ 22)، روضة الناظر وجنة المناظر، لعبد الله بن أحمد بن قدامة المقدسي، تحقيق: =
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিকহুন নাওয়াযিল-এর সংজ্ঞা

প্রথম আলোচনা: এর শব্দসমষ্টির সংজ্ঞা, বৈজ্ঞানিক পরিভাষা এবং সংশ্লিষ্ট শব্দসমূহ:

প্রথম শাখা: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ফিকহ-এর সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে ফিকহ:

এটি 'ফাক্বিহা' (فَقِهَ) অথবা 'ফাক্বাহা' (فَقَهَ) অথবা 'ফাক্বুহা' (فَقُهَ)-এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল। এর মূল উপাদান একটি সঠিক মূলনীতিকে নির্দেশ করে, যা কোনো কিছু উপলব্ধি করা ও তা জানাকে বোঝায়। কোনো কিছু সম্পর্কে প্রতিটি জ্ঞানই হলো ফিকহ। মহান আল্লাহর এই বাণীতে ফিকহ শব্দটি 'ইলম' বা জ্ঞান অর্থে এসেছে: “অতএব তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান (তথা ফিকহ) অর্জন করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে।” [সূরা আত-তাওবাহ: ১২২], অর্থাৎ: যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে আলেম বা বিজ্ঞ হতে পারে (১)।

ফিকহ: অর্থ হলো বুঝ। বলা হয়: 'ফাক্বিহা' (ক্বফ বর্ণের নিচে যের দিয়ে) যখন সে বুঝতে পারে; আর 'ফাক্বাহা' (যবর দিয়ে) যখন সে বুঝের ক্ষেত্রে অন্যকে ছাড়িয়ে যায়; এবং 'ফাক্বুহা' (পেশ দিয়ে) যখন ফিকহ বা গভীর সমঝ তার মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয় (২)।

একদল উসুলবিদ (৩) এবং সাধারণ ভাষাবিদদের অভিমত হলো যে, ফিকহ হলো সাধারণভাবে কোনো কিছু বুঝতে পারা; কারণ—

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, মুহাম্মদ বিন মুকরিম বিন মানযুর কর্তৃক রচিত, সম্পাদনা: আমিন আব্দুল ওয়াহাব এবং মুহাম্মদ আল-উবাইদি, দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ৩য় সংস্করণ, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ, (১০/ ৩০৫)।

(২) মু'জামু মাক্বায়িসিল লুগাহ, আবুল হুসাইন আহমাদ বিন ফারিস বিন যাকারিয়া কর্তৃক রচিত, সম্পাদনা: আব্দুস সালাম হারুন, দারুল ফিকর লিত্তিবাআ ওয়ান নাশর ওয়াত তাওযি, বৈরুত, ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ, (৪/ ৪৪২); লিসানুল আরব, ইবনুল মানযুর (১০/ ৩০৫-৩০৬); আল-মিসবাহুল মুনীর ফি গারিবিল শারহিল কবির, আহমাদ মুহাম্মদ আল-ফাইয়ুমি, আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, (২/ ৪৭৯)।

(৩) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম, সাইফুদ্দীন আলী বিন মুহাম্মদ আল-আমিদি কর্তৃক রচিত, সম্পাদনা: ড. সাইয়্যেদ আল-জুমাইলি, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি, (১/ ২২); রওদাতুন নাযির ওয়া জান্নাতুল মুনাযির, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি কর্তৃক রচিত, সম্পাদনা: =
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
العلم إنما يكون عن الفهم، وقد جاء "الفقه" بمعنى الفهم كما جاء بمعنى العلم في كتاب الله تعالى وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم.

فمما ورد الفقه فيه بمعنى الفهم قوله تعالى: {فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا} [النساء: 78]، أي: يفهمونه، وقال تعالى: {لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا} [الكهف: 93]، وقال تعالى: {وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي (27) يَفْقَهُوا قَوْلِي} [طه: 27 - 28]، كما سبق مجيء "الفقه" بمعنى العلم في قوله تعالى: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122].

وفي الحديث: "من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين" (1). قال ابن حجر رحمه الله (2): يفقهه، أي: يفهمه (3).

--------------------------------------------

= د. عبد العزيز عبد الرحمن، نشر جامعة الملك عبد العزيز، الرياض، ط 4، 1408 هـ - 1987 م، (ص 7)، إرشاد الفحول إلى تحقيق الحق من علم الأصول، لمحمد بن علي الشوكاني، تحقيق: أبي حفص سامي ابن العربي، دار الفضيلة، الرياض، ط 1، 1421 هـ - 2000 م، (1/ 58).

‌‌(1) أخرجه أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري في كتابه "الجامع الصحيح المسند من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه"، ترقيم: محمد فؤاد عبد الباقي، المطبعة السلفية ومكتبتها، القاهرة - مصر، ط 1، 1400 هـ كتاب العلم، باب: من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين، (71)، وأبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري في كتابه "الجامع الصحيح"، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، دار إحياء التراث العربي، بيروت، كتاب الزكاة، باب: النهي عن المسألة، (1037)، من حديث معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما.

‌‌(2) أبو الفضل، شهاب الدين، أحمد بن علي بن محمد بن حجر العسقلاني الشافعي، أمير المؤمنين في علم الحديث، حافظ عصره، وفريد دهره، رئيس الجرح والتعديل في زمانه، صاحب المصنفات الكثيرة النافعة ومنها: تهذيب التهذيب، والتقريب، وتغليق التعليق، وإتحاف المهرة بأطراف العشرة، وفتح الباري، ولد سنة 773 هـ، وتوفي سنة 852 هـ. حسن المحاضرة في تاريخ مصر والقاهرة، لجلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي، دار إحياء التراث العربي، عيسى الحلبي، تحقيق: محمد أبي الفضل إبراهيم، ط 1، 1387 هـ، (1/ 363)، الضوء اللامع لأهل القرن التاسع، لشمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي، دار الجيل، ط 1، 1412 هـ، (2/ 36).

‌‌(3) فتح الباري شرح صحيح البخاري، لأحمد بن علي بن حجر العسقلاني، دار المعرفة، بيروت، 1379 هـ، (1/ 164).
জ্ঞান মূলত উপলব্ধি থেকেই অর্জিত হয়। 'ফিকহ' শব্দটি যেমন 'উপলব্ধি' (ফাহম) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তেমনি মহান আল্লাহ তায়ালার কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহতে তা 'জ্ঞান' (ইলম) অর্থ প্রকাশেও এসেছে।

যে সকল স্থানে 'ফিকহ' শব্দটি 'উপলব্ধি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তন্মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী অন্যতম: "এই সম্প্রদায়ের কী হলো যে তারা কোনো কথা প্রায় বুঝতে পারছে না?" [আন-নিসা: ৭৮], অর্থাৎ তারা তা উপলব্ধি করতে পারছে না। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তারা কোনো কথা খুব সামান্যই বুঝতে পারছিল।" [আল-কাহফ: ৯৩]। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: "আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।" [ত্বহা: ২৭-২৮]। যেভাবে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, 'ফিকহ' শব্দটি 'জ্ঞান' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীতে: "অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের স্বজাতির নিকট ফিরে আসার পর তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক থাকতে পারে?" [আত-তাওবাহ: ১২২]।

এবং হাদিসে এসেছে: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন" (১)। ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) (২) বলেন: তাকে গভীর জ্ঞান দান করেন, অর্থাৎ তাকে উপলব্ধি দান করেন (৩)।

--------------------------------------------

= ড. আবদুল আজিজ আবদুর রহমান, কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটি পাবলিকেশন, রিয়াদ, ৪র্থ সংস্করণ, ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ, (পৃ. ৭); মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানি রচিত 'ইরশাদুল ফুহুল ইলা তাহকিকিল হাক্কি মিন ইলমিল উসুল', সম্পাদনা: আবু হাফস সামি ইবনুল আরাবি, দারুল ফাদিলাহ, রিয়াদ, ১ম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ, (১/৫৮)।

‌‌(১) এটি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী তাঁর 'আল-জামি আস-সহিহ আল-মুসনাদ মিন হাদিসি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়্যামিহি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, নম্বর: মুহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকি, আল-মাতবাআহ আস-সালাফিয়্যাহ ও তার মাকতাবা, কায়রো - মিশর, ১ম সংস্করণ, ১৪০০ হিজরি, কিতাবুল ইলম (জ্ঞানের অধ্যায়), অনুচ্ছেদ: আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন, (৭১); এবং আবুল হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নাইসাবুরী তাঁর 'আল-জামি আস-সহিহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সম্পাদনা: মুহাম্মদ ফুয়াদ আবদুল বাকি, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, কিতাবুজ জাকাত (জাকাত অধ্যায়), অনুচ্ছেদ: যাচনা করা থেকে নিষেধাজ্ঞা, (১০৩৭), মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে।

‌‌(২) আবু আল-ফাদল, শিহাবুদ্দিন, আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাজার আল-আসকালানি আল-শাফেয়ী; হাদিস বিজ্ঞানে আমিরুল মুমিনিন, তাঁর যুগের হাফেজ ও অনন্য মনীষী, তাঁর সময়ের জারাহ ও তাদিল (হাদিস বিশারদদের মূল্যায়ন) শাস্ত্রের প্রধান। তিনি অনেক উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: তহজিবুত তহজিব, আত-তাকরিব, তাগলিকুত তালি’ক, ইতহাফুল মাহারা এবং ফাতহুল বারী। তিনি ৭৭৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সূত্র: জালালুদ্দিন আবদুর রহমান বিন আবু বকর আস-সুয়ূতী রচিত 'হুসনুল মুহাদারা ফি তারিখি মিসরা ওয়াল কাহিরা', দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, ঈসা আল-হালাবি, সম্পাদনা: মুহাম্মদ আবু আল-ফাদল ইবরাহিম, ১ম সংস্করণ, ১৩৮৭ হিজরি, (১/৩৬৩); শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আস-সাখাভি রচিত 'আদ-দাওউল লামি লি আহলিল করনিল তাসি', দারুল জিল, ১ম সংস্করণ, ১৪১২ হিজরি, (২/৩৬)।

‌‌(৩) আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি রচিত 'ফাতহুল বারী শারহু সহিহিল বুখারী', দারুল মা'রিফা, বৈরুত, ১৩৭৯ হিজরি, (১/১৬৪)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وذهب طائفة من الأصوليين منهم: الفخر الرازي (1)، وأبو الحسين البصري (2)، إلى أن الفقه هو فهم غرض المتكلم من كلامه (3).

وذهبت طائفة أخرى منهم: أبو إسحاق الشيرازي (4) إلى أنه: فهم الأشياء الدقيقة، سواء أكانت غرض المتكلم أم لا (5).

والراجح أنه الفهم مطلقًا؛ لأن قوله تعالى: {فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا} [النساء: 78]، يدل على أن فهمهم أي حديث ولو كان واضحًا يسمى فقهًا، وقول شعيب عليه السلام كان واضحًا، ومع هذا قالوا: {مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ} [هود: 91]، وأما قوله تعالى: {وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} [الإسراء: 44]، فهي ظاهرة في

--------------------------------------------

(1) فخر الدين، محمد بن عمر بن الحسين القرشي، الأصولي المفسر، ولد سنة 544 هـ، اشتغل على أبيه الإمام ضياء الدين خطيب الري، وانتشرت تواليفه في البلاد شرقًا وغربًا، منها: مفاتيح الغيب، ومعالم أصول الدين، مات سنة 606 هـ.

سير أعلام النبلاء، لشمس الدين محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي، مؤسسة الرسالة، بيروت، ط 2، (1402 هـ - 1982 م)، (21/ 500)، طبقات الشافعية الكبرى، لتاج الدين ابن علي بن عبد الكافي السبكي، دار هجر، ط 2، 1413 هـ، تحقيق: د. محمود محمد الطناحي، د. عبد الفتاح محمد الحلو، (8/ 80).

‌‌(2) أبو الحسين البصري، محمد بن علي بن الطيب، شيخ المعتزلة وصاحب التصانيف الكلامية، ولد في البصرة وسكن بغداد وتوفي بها سنة 436 هـ وقد شاخ، له تصانيف كثيرة منها: المعتمد في أصول الفقه، وغرر الأدلة، وشرح الأصول الخمسة. سير أعلام النبلاء، للذهبي، (17/ 587)، شذرات الذهب في أخبار من ذهب، لشهاب الدين عبد الحي بن أحمد بن العماد، العكري، دار ابن كثير، ط 1، 1406 هـ، (3/ 258).

‌‌(3) المحصول في علم الأصول، لأبي عبد الله محمد بن عمر، فخر الدين الرازي، تحقيق: د. طه جابر فياض العلواني، جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، الرياض، ط 1، 1400 هـ، (1/ 92)، المعتمد في أصول الفقه، لأبي الحسين محمد بن علي بن الطيب البصري، تحقيق: مجموعة من الباحثين، المعهد العلمي الفرنسي للدراسات العربية بدمشق، 1384 هـ - 1964، (1/ 8).

‌‌(4) أبو إسحاق، جمال الإسلام، إبراهيم بن علي بن يوسف الشيرازي، من كبار الأصوليين، ولد بفيروز آباد سنة 393 هـ وقيل غير ذلك، من تصانيفه التنبيه، واللمع وشرحها، والتبصرة، والمهذب، توفي سنة 476 هـ. سير أعلام النبلاء، للذهبي، (18/ 453)، طبقات الشافعية الكبرى، لابن السبكي، (4/ 215).

‌‌(5) شرح اللمع، لأبي إسحاق إبراهيم بن علي الشيرازي، تحقيق: عبد المجيد التركي، دار الغرب الإسلامي، بيروت، ط 1، 1408 هـ - 1988 م، (1/ 157).
উসূলবিদদের একটি দল, যাদের মধ্যে রয়েছেন: ফখরুর রাজী (১) এবং আবু আল-হুসাইন আল-বসরি (২), এই মত পোষণ করেছেন যে, ফিকহ হলো বক্তার কথার মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করা (৩)।

তাদের মধ্য থেকে অন্য একটি দল, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু ইসহাক আশ-শিরাজি (৪), এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, ফিকহ হলো সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অনুধাবন করা, তা বক্তার উদ্দেশ্য হোক বা না হোক (৫)।

আর অধিকতর সঠিক মত হলো—এটি সাধারণভাবে যে কোনো কিছু অনুধাবন করা; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {তবে এই কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতেই চায় না?} [নিসা: ৭৮], এটি নির্দেশ করে যে, তাদের কোনো কথা বোঝা, তা স্পষ্ট হলেও তাকে ফিকহ বলা হয়। আর শোয়াইব আলাইহিস সালামের কথা স্পষ্ট ছিল, তা সত্ত্বেও তারা বলেছিল: {আপনি যা বলেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না} [হুদ: ৯১]। আর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং এমন কোনো কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করে না, কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বোঝো না} [আল-ইসরা: ৪৪], এটি এ ব্যাপারে স্পষ্ট যে

--------------------------------------------

(১) ফখরুদ্দিন, মুহাম্মদ বিন উমর বিন আল-হুসাইন আল-কুরাশি, উসূলবিদ ও মুফাসসির, ৫৪৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার পিতা ইমাম জিয়াউদ্দিন খাতিব আর-রাই-এর নিকট শিক্ষালাভ করেন। তার রচনাবলী প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে রয়েছে: মাফাতিহুল গায়ব এবং মাআলিমু উসূলিদ দ্বীন। তিনি ৬০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আজ-জাহাবি প্রণীত সিয়ারু আলামিন নুবালা, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ২য় সংস্করণ, (১৪০২ হি - ১৯৮২ খ্রি), (২১/ ৫০০); তাজউদ্দিন ইবন আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি প্রণীত তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা, দারু হাজার, ২য় সংস্করণ, ১৪১৩ হি, তাহকিক: ড. মাহমুদ মুহাম্মদ আত-তানাহি, ড. আব্দুল ফাত্তাহ মুহাম্মদ আল-হুলু, (৮/ ৮০)।

‌‌(২) আবু আল-হুসাইন আল-বসরি, মুহাম্মদ বিন আলী বিন আত-তয়িব, মুতাযিলাদের শাইখ এবং কালাম শাস্ত্রের গ্রন্থকার। তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং বাগদাদে বসবাস করেন এবং সেখানেই ৪৩৬ হিজরিতে বার্ধক্যে উপনীত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার অনেক রচনা রয়েছে, যার মধ্যে আছে: আল-মুতামাদ ফি উসূলিল ফিকহ, গুরারুল আদিল্লাহ এবং শারহুল উসূলিল খামসাহ। জাহাবি প্রণীত সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৭/ ৫৮৭); শিহাবুদ্দিন আব্দুল হাই বিন আহমদ বিন আল-ইমাদ আল-আকরি প্রণীত শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব, দারু ইবনু কাসির, ১ম সংস্করণ, ১৪০৬ হি, (৩/ ২৫৮)।

‌‌(৩) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর ফখরউদ্দিন আল-রাজি প্রণীত আল-মাহসুল ফি ইলমিল উসূল, তাহকিক: ড. ত্বহা জাবির ফাইয়াদ আল-আলওয়ানি, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, ১ম সংস্করণ, ১৪০০ হি, (১/ ৯২); আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আত-তয়িব আল-বসরি প্রণীত আল-মুতামাদ ফি উসূলিল ফিকহ, তাহকিক: একদল গবেষক, বৈজ্ঞানিক ফরাসি ইনস্টিটিউট ফর অ্যারাবিক স্টাডিজ দামেস্ক, ১৩৮৪ হি - ১৯৬৪ খ্রি, (১/ ৮)।

‌‌(৪) আবু ইসহাক, জামালুল ইসলাম, ইব্রাহিম বিন আলী বিন ইউসুফ আশ-শিরাজি, প্রথিতযশা উসূলবিদদের একজন। তিনি ৩৯৩ হিজরিতে ফিরোজাবাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে অন্য মতও রয়েছে। তার রচনাবলীর মধ্যে আছে আত-তানবিহ, আল-লুমা ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আত-তাবসিরাহ এবং আল-মুহাযযাব। তিনি ৪৭৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। জাহাবি প্রণীত সিয়ারু আলামিন নুবালা, (১৮/ ৪৫৩); ইবনুস সুবকি প্রণীত তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা, (৪/ ২১৫)।

‌‌(৫) আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আলী আশ-শিরাজি প্রণীত শারহুল লুমা, তাহকিক: আব্দুল মাজিদ আত-তুর্কি, দারুল গারব আল-ইসলামি, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪০৮ হি - ১৯৮৮ খ্রি, (১/ ১৫৭)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
تسمية فهم ما ليس غرضًا للمتكلم فقهًا، فالفقه في الآيات الثلاث معناه: مطلق الفهم، بقرينة مقام الذم في الآية الأولى.

والفهم: إدراك معنى الكلام لجودة الذهن من جهة تهيئه لاقتباس ما يرد عليه من المطالب (1).

الفقه اصطلاحًا:

كان الفقه في الصدر الأول من الصحابة والتابعين يطلق ويراد به ما هو أعم من الأحكام العملية أو الاعتقادية، دون تفريق بينهما؛ ولذا عرَّفه الإمام أبو حنيفة رحمه الله (2) بأنه: "معرفة النفس ما لها وما عليها" (3)، ثم تميز الفقه بمعنى اصطلاحي جديد بعد الصدر الأول، حيث اختص علم الفقه باستنباط الأحكام العملية من الأدلة التفصيلية، وعرَّف الإمام الشافعي رحمه الله (4) وأصحابه الفقه بتعريف اشتهر وذاع، وهو: العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية (5)، وموضوع علم الفقه هو أفعال المكلفين من حيث الحكم عليها، سواء أكانت الأحكام قطعية أم ظنية (6).

--------------------------------------------

(1) شرح الكوكب المنير، لمحمد بن النجار الفتوحي الحنبلي، تحقيق: د. محمد الزحيلي، ود. نزيه حماد، مكتبة العبيكان، الرياض، ط 2، 1418 هـ -1997 م، (1/ 40).

‌‌(2) الإمام أبو حنيفة النعمان بن ثابت بن زوطى التيمي، أحد أئمة الإسلام، والسادة الأعلام، وأحد الأئمة الأربعة أصحاب المذاهب المتبوعة، ولد في حياة صغار الصحابة سنة 80 هـ، ورأى أنس بن مالك لما قدم عليهم الكوفة، وإليه كان المنتهى في الفقه والتدقيق في الرأي وغوامضه. توفي سنة 150 هـ رحمه الله. طبقات الفقهاء، لأبي إسحاق إبراهيم بن علي الشيرازي، دار الرائد العربي، بيروت، لبنان، ط 1، 1990 م، (ص 86)، سير أعلام النبلاء، للذهبي، (11/ 474).

‌‌(3) المنثور في القواعد الفقهية، لبدر الدين محمد بن بهادر بن عبد الله الزركشي، تحقيق: د. تيسير فائق أحمد محمود، طبعة وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية - الكويت، ط 2، 1405 هـ، (1/ 68).

‌‌(4) أبو عبد الله، الشافعي، محمد بن إدريس بن شافع، القرشي المطلبي المكي، صاحب المذهب الفقهي المتبع، الإمام العلم حبر الأمة، من مصنفاته: كتاب الأم، والرسالة، ولد سنة 150 هـ، وتوفي أول شعبان سنة 204 هـ بمصر. طبقات الفقهاء، للشيرازي، (ص 71)، سير أعلام النبلاء، للذهبي، (10/ 5).

‌‌(5) نهاية السول شرح منهاج الأصول، لجمال الدين عبد الرحيم الإسنوي، مصورة عالم الكتب عن جمعية نشر الكتب العربية، القاهرة، 1343 هـ (1/ 22)، شرح جمع الجوامع، لجلال الدين محمد بن أحمد المحلي، ومعه حاشية العطار، دار الكتب العلمية، بيروت، (1/ 57 - 59).

‌‌(6) مفهوم الفقه الإسلامي، لنظام الدين عبد الحميد، مؤسسة الرسالة، بيروت، ط 1، 1404 هـ -1984 م، (ص 13 - 15).
বক্তার উদ্দেশ্য নয় এমন কিছু অনুধাবনের নাম দেওয়া হয়েছে ফিকহ; সুতরাং তিনটি আয়াতে ফিকহ-এর অর্থ হলো: সাধারণ অনুধাবন, প্রথম আয়াতে তিরস্কারের প্রেক্ষাপটের প্রমাণ অনুযায়ী।

আর অনুধাবন (ফাহম) হলো: মেধার প্রখরতার কারণে কথার অর্থ উপলব্ধি করা, যা মনের মধ্যে আসা বিষয়বস্তুগুলো আহরণের প্রস্তুতির দিক থেকে অর্জিত হয় (১)।

পারিভাষিক অর্থে ফিকহ:

সাহাবী এবং তাবেয়ীদের প্রথম যুগে ফিকহ শব্দটি যখন ব্যবহৃত হতো, তখন এর মাধ্যমে আমলগত বা বিশ্বাসগত বিধানের চেয়েও ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হতো, এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করা ছাড়াই; আর এই কারণেই ইমাম আবু হানিফা (রহ.) (২) এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে: "নিজের জন্য কী (উপকারী) আর কী (ক্ষতিকর) সে সম্পর্কে আত্মার জ্ঞান লাভই হলো ফিকহ" (৩)। অতঃপর প্রথম যুগের পর ফিকহ একটি নতুন পারিভাষিক অর্থে বিশিষ্টতা লাভ করে, যেখানে ফিকহ শাস্ত্রটি বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে আমলগত বিধানাবলি আহরণের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। ইমাম শাফিঈ (রহ.) (৪) ও তাঁর অনুসারীগণ ফিকহ-এর এমন একটি সংজ্ঞা দিয়েছেন যা সুপরিচিত ও বহুল প্রচারিত হয়েছে, আর তা হলো: বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত শরয়ি আমলগত বিধানাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান (৫)। ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কাজসমূহ, সেগুলোর ওপর বিধান প্রদানের দিক থেকে; চাই সেই বিধানগুলো নিশ্চিত হোক কিংবা ধারণানির্ভর (৬)।

--------------------------------------------

(১) শরহুল কাওকাব আল-মুনীর, মুহাম্মদ বিন নাজ্জার আল-ফুতুহি আল-হানবালি রচিত, সম্পাদনা: ড. মুহাম্মদ আল-জুহায়লি এবং ড. নাজিহ হাম্মাদ, মাকতাবাতুল উবাইকান, রিয়াদ, ২য় সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ, (১/৪০)।

‌‌(২) ইমাম আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত বিন জুতী আত-তৈমী, ইসলামের অন্যতম ইমাম, শীর্ষস্থানীয় আলেম এবং অনুসরণীয় চার মাজহাবের ইমামদের একজন। তিনি ৮০ হিজরিতে কনিষ্ঠ সাহাবীদের জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন। আনাস বিন মালিক যখন কুফায় আসেন তখন তিনি তাকে দেখেছিলেন। ফিকহ এবং মতামতের সূক্ষ্মতা ও গভীরতায় তাঁর অবদান ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের। তিনি ১৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (রহিমাহুল্লাহ)। তাবাকাতুল ফুকাহা, আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আলী আল-শিরাজি রচিত, দারুর রায়িদ আল-আরাবি, বৈরুত, লেবানন, ১ম সংস্করণ, ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ, (পৃ. ৮৬); সিয়ারু আলামিন নুবালা, আয-যাহাবি রচিত, (১১/৪৭৪)।

‌‌(৩) আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়েদ আল-ফিকহিয়্যাহ, বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ আজ-জারকাশি রচিত, সম্পাদনা: ড. তায়সির ফাইক আহমদ মাহমুদ, ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত - কুয়েত, ২য় সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরি, (১/৬৮)।

‌‌(৪) আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ, মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন শাফি, আল-কুরাশি আল-মুত্তালিবি আল-মাক্কি, অনুসরণীয় ফিকহি মাজহাবের অধিকারী এবং উম্মতের শীর্ষস্থানীয় ইলমি ব্যক্তিত্ব। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: কিতাবুল উম্ম এবং আর-রিসালাহ। তিনি ১৫০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০৪ হিজরির পহেলা শাবানে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। তাবাকাতুল ফুকাহা, আল-শিরাজি রচিত, (পৃ. ৭১); সিয়ারু আলামিন নুবালা, আয-যাহাবি রচিত, (১০/৫)।

‌‌(৫) নিহায়াতুস সুল শরহু মিনহাজিল উসুল, জামালুদ্দিন আব্দুর রহিম আল-ইসনাভি রচিত, আলামুল কুতুব সংস্করণ (জামিয়াতু নাশরিল কুতুব আল-আরাবিয়্যাহ, কায়রো-এর অনুলিপি), ১৩৪৩ হিজরি (১/২২); শরহু জামউল জাওয়ামি, জালালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাহাল্লি রচিত, সাথে রয়েছে হাশিয়াতুল আত্তার, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, (১/৫৭-৫৯)।

‌‌(৬) মাফহুমুল ফিকহ আল-ইসলামি, নিজামুদ্দিন আব্দুল হামিদ রচিত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১ম সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ, (পৃ. ১৩-১৫)।
(খণ্ড: ১) ফিকহুন নাওয়াযিল লিল-আকাল্লিইয়াতিল মুসলিমাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وللأصوليين تعريفات كثيرة متقاربة في معناها، ومن ذلك: ما ذكره الزركشي (1) في قواعده بقوله هو: "معرفة أحكام الحوادث نصًّا واستنباطًا" (2).

وقد يطلق الفقه اصطلاحًا على ثلاثة معانٍ مرتبطة ببعضها:

المعنى الأول: الفقه بمعنى: أهلية الاجتهاد والنظر في النصوص الشرعية، والقدرة على استخراج الأحكام منها، وهذا ما يعرف باسم الملكة الفقهية (3).

المعنى الثاني: معرفة الأحكام الشرعية العملية مع أدلتها (4).

المعنى الثالث: مجموعة الأحكام الشرعية الثابتة لأفعال المكلفين، بغض النظر عن سبيل إدراكها اجتهادًا كان أو تقليدًا (5).

والفقه بهذا الاعتبار يطلق عليه اسم الفروع، إما في مقابلة علم العقائد وأصول الدين؛ لأن التصديق بالأحكام الشرعية العملية تابع للتصديق بالأحكام الاعتقادية، وإما في مقابلة علم أصول الفقه لتفرع أحكامه عن أحكام هذا العلم وبناء مسائله عليه (6).

والفقيه هو من عرف جملة غالبة من الأحكام الشرعية، أو من له أهلية تامة يعرف الحكم بها إذا شاء، مع معرفته جملًا كثيرة من الأحكام الفرعية، وحضورها عنده بأدلتها الخاصة والعامة (7).

--------------------------------------------

(1) أبو عبد الله، محمد بن بهادر بن عبد الله الزركشي الشافعي، الإمام العلامة الفقيه الأصولي، التركي الأصل، المصري مولدًا ووفاة، له تصانيف كثيرة منها: لقطة العجلان، والبحر المحيط، والمنثور، والديباج على المنهاج، ولد سنة 745 هـ، وتوفي سنة 794 هـ طبقات الشافعية، لأبي بكر بن محمد بن أحمد بن عمر ابن قاضي شهبة، طبعة دائرة المعارف العثمانية بحيدر آباد، ط 1، 1399، (3/ 227)، شذرات الذهب، لابن العماد، (6/ 334).

‌‌(2) المنثور في القواعد الفقهية، للزركشي، (1/ 69).

‌‌(3) حاشية العطار على جمع الجوامع، (2/ 420).

‌‌(4) المدخل الفقهي العام، للشيخ مصطفى أحمد الزرقا، دار القلم، دمشق، ط 1، 1418 هـ - 1998 م، (1/ 65).

‌‌(5) نفس المصدر (1/ 66).

‌‌(6) الموسوعة الفقهية الكويتية، وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية بالكويت، طبعت تباعًا في مطابع عدة، على سنوات متفرقة، (1/ 12).

‌‌(7) شرح الكوكب المنير، لابن النجار الحنبلي (1/ 42)، صفة الفتوى والمفتي والمستفتي، لأحمد بن حمدان الحنبلي، تحقيق: محمد ناصر الدين الألباني، المكتب الإسلامي، بيروت، لبنان، ط 3، 1397 هـ (ص 14).
উসুলবিদদের নিকট এর অর্থের কাছাকাছি অনেকগুলো সংজ্ঞা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো যা আল-যাররাকাশি (১) তাঁর 'কাওয়ায়িদ'-এ উল্লেখ করেছেন: "নাস (শরয়ি পাঠ) এবং ইস্তিনবাত (গবেষণা)-এর মাধ্যমে উদ্ভূত ঘটনাবলির বিধানসমূহ জানাই হলো ফিকহ।" (২)

পারিভাষিক অর্থে ফিকহ শব্দটিকে পরস্পর সংশ্লিষ্ট তিনটি অর্থে ব্যবহার করা হয়:

প্রথম অর্থ: ইজতিহাদ করার যোগ্যতা এবং শরয়ি দলীলসমূহের প্রতি দৃষ্টি প্রদান ও তা থেকে বিধান আহরণ করার সামর্থ্য। একেই 'ফিকহি মালকা' (ফিকহী প্রতিভা) বলা হয় (৩)।

দ্বিতীয় অর্থ: দলীলসহ আমল সংক্রান্ত শরয়ি বিধানাবলি জানা (৪)।

তৃতীয় অর্থ: মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর কাজের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত শরয়ি বিধানাবলির সমষ্টি, তা যে পদ্ধতিতেই অর্জন করা হোক না কেন—চাই তা ইজতিহাদের মাধ্যমে হোক কিংবা তাকলিদের মাধ্যমে (৫)।

এই বিবেচনায় ফিকহকে 'ফুরু' (শাখা-প্রশাখা) বলা হয়। এটি হয় আকায়েদ ও উসুলুদ্দিন (ধর্মের মূলনীতি) শাস্ত্রের বিপরীতে; কারণ আমল সংক্রান্ত শরয়ি বিধানাবলিকে সত্য বলে স্বীকার করা আকিদাগত বিধানাবলিকে সত্য বলে স্বীকার করার অনুগামী। অথবা এটি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের বিপরীতে; কারণ এর বিধানসমূহ উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের বিধান থেকে উৎসারিত এবং এর মাসয়ালাসমূহ তার ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত (৬)।

আর ফকিহ হলেন তিনি, যিনি শরয়ি বিধানাবলির অধিকাংশ জানেন, অথবা যাঁর এমন পূর্ণাঙ্গ যোগ্যতা রয়েছে যে তিনি চাইলে বিধানগুলো জেনে নিতে পারেন; সাথে সাথে তিনি ফুরুয়ি (শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত) বিধানাবলির একটি বড় অংশ সম্পর্কে অবগত এবং বিশেষ ও সাধারণ দলীলসহ সেগুলো তাঁর আয়ত্তে থাকে (৭)।

--------------------------------------------

(১) আবু আবদুল্লাহ, মুহাম্মাদ ইবনে বাহাদুর ইবনে আবদুল্লাহ আল-যাররাকাশি আশ-শাফিয়ি, ইমাম, আল্লামা, ফকিহ এবং উসুলবিদ। তিনি মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত, জন্ম ও মৃত্যু মিশরে। তাঁর অনেকগুলো রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: লাকজাতুল আজলান, আল-বাহরুল মুহিত, আল-মানসুর এবং আদ-দিবাজ আলাল মিনহাজ। তিনি ৭৪৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ, আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে উমর ইবনে কাদি শুহবাহ রচিত, দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া হায়দরাবাদ সংস্করণ, ১ম সংস্করণ, ১৩৯৯ হি., (৩/২২৭); শাযারাতুয যাহাব, ইবনুল ইমাদ রচিত, (৬/৩৩৪)।

‌‌(২) আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ, আল-যাররাকাশি রচিত, (১/৬৯)।

‌‌(৩) হাশিয়াতুল আত্তার আলা জামউল জাওয়ামি, (২/৪২০)।

‌‌(৪) আল-মাদখালুল ফিকহিল আম, শায়খ মুস্তফা আহমাদ আয-যারকা রচিত, দারুল কালাম, দামেস্ক, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮ হি. - ১৯৯৮ খ্রি., (১/৬৫)।

‌‌(৫) একই উৎস, (১/৬৬)।

‌‌(৬) আল-মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, কুয়েতের আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন বছর ধরে বিভিন্ন প্রেসে ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত, (১/১২)।

‌‌(৭) শারহুল কাওকাবিল মুনির, ইবনুন নাজ্জার আল-হাম্বলি রচিত, (১/৪২); সিফাতুল ফাতওয়া ওয়াল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি, আহমাদ ইবনে হামদান আল-হাম্বলি রচিত, তাহকিক: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি, আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত, লেবানন, ৩য় সংস্করণ, ১৩৯৭ হি., (পৃ. ১৪)।