(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: -)
اتباع السنن واجتناب البدع   (ضياء الدين المقدسي)

القسم: العقيدة


الكتاب: اتباع السنن واجتناب البدع

المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 643هـ)

دراسة وتحقيق: محمد بدر الدين القهوجي، محمد الأرناؤوط

الناشر: دار ابن كثير، دمشق - بيروت

الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م

عدد الصفحات: 76

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিদআত বর্জন   (দিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসি)

শাখা: আকিদাহ


গ্রন্থ: সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিদআত বর্জন

লেখক: দিয়াউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃ. ৬৪৩ হি.)

গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মাদ বদরুদ্দীন আল-কাহওয়াজি, মুহাম্মাদ আল-আরনাউত

প্রকাশক: দার ইবনে কাসীর, দামেস্ক - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হি. - ১৯৮৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

‌‌جزء من اتباع السنن واجتناب البدع

عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب الناس فيحمد الله ويثني عليه بما هو أهله ثم يقول: (من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة) .

عن العرباض بن سارية السلمي رضي الله عنه قال: وعظنا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।

সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিদআত বর্জনের একটি অংশ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের সামনে খুতবা দিতেন, তখন তিনি আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করতেন, এরপর বলতেন: (আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত।)

ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ আস-সুলামী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তিনি আমাদের উপদেশ দিয়েছিলেন
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২০)
رسول الله صلى الله عليه وسلم موعظة، ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب، قلنا: يا رسول الله كأنها موعظة مودع فأوصنا، قال: (أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة، وإن كان عبداً حبشياً، فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين فتمسكوا بها وعضوا عليها بالنواخذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة) .

حديث صحيح أخرجه الإمام أحمد.

عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إياكم ومحدثات الأمور، فإن شر الأمور محدثاتها، وإن كل محدثة بدعة، وإن كل بدعة ضلالة) .

رواه ابن ماجة.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক নসিহত প্রদান করলেন যার ফলে চোখসমূহ অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি যেন বিদায়ী কোনো ব্যক্তির নসিহত, তাই আপনি আমাদের ওসিয়ত করুন। তিনি বললেন: (আমি তোমাদের আল্লাহভীতি এবং কথা শোনা ও আনুগত্য করার ওসিয়ত করছি, যদিও সে একজন হাবশী গোলাম হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা)।

এটি ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো। আর প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা)।

ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২১)
عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من أحدث في أمرنا هذا ما ليس فيه فهو رد) .

رواه البخاري ومسلم.

وعنده: (في أمرنا ما ليس منه فهو رد) .

عن عوف بن مالك الأشجعي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقةً، فرقة واحدة في الجنة، وسبعون فرقة في النار، وافترقت النصارى على ثنتين وسبعين فرقة إحدى وسبعون في النار، وواحدة في الجنة، والذي نفسي
আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছু নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত)।

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম।

আর তাঁর নিকট (বর্ণিত রয়েছে): (আমাদের এই বিষয়ের মধ্যে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত)।

আউফ ইবনে মালিক আল-আশজাঈ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (ইয়াহুদীরা একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছে, একটি দল জান্নাতে এবং সত্তরটি দল জাহান্নামে। আর নাসারারা বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছে, একাত্তরটি দল জাহান্নামে এবং একটি দল জান্নাতে। আর সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ...)
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২২)
بيده لتفترقن أمتي على ثلاث وسبعين فرقة، فواحدة في الجنة، وثنتان وسبعون في النار، قيل: يا رسول الله من هم؟ قال: الجماعة) .

رواه ابن ماجة.

عن أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لتتبعن سنن من قبلكم، شبراً بشبر، وذرعاً بذراع، حتى لو دخلوا جحر ضب لتبعتموهم) ، قلنا يا رسول الله: اليهود والنصارى؟ قال: (فمن؟) .

رواه البخاري.

عن جابر بن عبد الله قال: كنا جلوساً عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فخط خطاً هكذا أمامه فقال: (هذا سبيل الله) وخط خطاً عن يمينه
(তাঁর হাতের কসম) অবশ্যই আমার উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যাদের মধ্যে একটি জান্নাতে এবং বাহাত্তরটি জাহান্নামে। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন: জামাআত।

এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘত এবং হাত হাত অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে)। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানরা? তিনি বললেন: (তবে আর কারা?)।

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে উপবিষ্ট ছিলাম, তখন তিনি তাঁর সামনে একটি রেখা অঙ্কন করলেন এবং বললেন: (এটি আল্লাহর পথ) এবং তিনি তাঁর ডান পাশে একটি রেখা অঙ্কন করলেন।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৩)
وخطاً عن شماله، وقال: (هذا سبل الشيطان) ثم وضع يده على الخط الأوسط، ثم تلا هذه الآية: (وَأن هَذَا صِرَاطِي مُسَتقِيمَاً فَاتَبِعُوه وَلا تَتَبِعُوا السُبلَ فَتُفرِقُ بِكُم عَن سَبِيلِه ذَلكُم وصَاكُم بِه لعَلكُم تَتَقُون) .

عن عبد الله بن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لكل عمل شرة ولك شرة فترة، فمن كانت فترته إلى سنتي فقد اهتدى، ومن كانت فترته إلى غير ذلك فقد هلك) .
এবং তাঁর বাম পাশে কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: (এগুলো শয়তানের পথ), তারপর তিনি মাঝখানের রেখাটির ওপর তাঁর হাত রাখলেন এবং এই আয়াতটি পাঠ করলেন: (আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো)।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (প্রত্যেক আমলের একটি উৎসাহ-উদ্দীপনা আছে এবং প্রত্যেক উৎসাহ-উদ্দীপনার একটি শৈথিল্য রয়েছে। সুতরাং যার শৈথিল্য আমার সুন্নাতের দিকে হবে, সে হেদায়াত প্রাপ্ত হলো; আর যার শৈথিল্য অন্য কিছুর দিকে হবে, সে ধ্বংস হয়ে গেল)।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৪)
عن ابن عباس قال: ما أتى على الناس عام إلا أحدثوا فيه بدعة وأماتوا فيه سنة، حتى تحيا البدع وتموت السنن.

عن أبى عبد الرحمن السلمي قال: كان عمرو بن عتبة
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মানুষের ওপর এমন কোনো বছর আসে না যাতে তারা তাতে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করে না এবং কোনো সুন্নতকে বিলুপ্ত করে দেয় না; এমনকি এক সময় বিদআতগুলো জীবিত হয়ে ওঠে এবং সুন্নতগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়।

আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমর ইবনে উতবা ছিলেন
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৫)
السلمي ومعضد في أناس من أصحابها اتخذوا مسجداً يسبحون فيه بين المغرب والعشاء كذا ويحمدون كذا، فأخبر بذلك عبد الله بن مسعود فقال للذي أخبره: إذا جلسوا فأتني، فلما

আস-সুলামি এবং মুআদিদ তাদের কতিপয় সঙ্গীদের সাথে একটি মসজিদ গ্রহণ করেছিলেন যেখানে তারা মাগরিব এবং ইশার মধ্যবর্তী সময়ে এভাবে তাসবিহ পাঠ করতেন এবং এভাবে তাহমিদ পাঠ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে এ বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি সংবাদদাতাকে বললেন: "যখন তারা বসবে তখন তুমি আমার কাছে এসো।" অতঃপর যখন...

(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৬)
جلسوا أتاه فجاء عبد الله عليه برنسه، حتى دخل عليهم فكشف البرنس عن رأسه ثم قال: أنا ابن أم عبدٍ، والله لقد جئتم ببدعة ظلماً، أو قد فضلتم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم علماً، فقال معضد: - وكان رجلاً مفوهاً - والله ما جئنا ببدعةٍ ظلماً، ولا فضلنا أصحاب محمدٍ علماً. فقال عبد الله: لئن اتبعتم القوم لقد سبقوكم سبقاً مبيناً، ولئن جزتم يميناً أو شمالاً لقد ضللتم ضلالاً بعيداً.

عن عامر بن عبد الله بن الزبير قال: جئت أبي فقال: أين كنت؟ فقلت: وجدت قوماً ما رأيت مثلهم، يذكرون الله عز وجل فيرعد أحدهم حتى يغشى عليه من خشية الله فقعدت معهم. قال: لا تقعد معهم بعدها. فرآني كأنه لم يأخذ ذلك فيّ، فقال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ القرآن، ورأيت أبا بكر وعمر رضي الله عنهما يتلوان القرآن فلا يصيبهم هذا، أفتراهم أخشع لله من أبي بكر وعمر، فرأيت أن ذلك كذلك فتركتهم.
তারা যখন বসা ছিল তখন আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) তাদের কাছে এলেন। আবদুল্লাহর গায়ে একটি টুপি ছিল, তিনি তাদের নিকট প্রবেশ করে মাথা থেকে টুপিটি সরালেন। অতঃপর বললেন: "আমি উম্মে আবদের পুত্র। আল্লাহর কসম, তোমরা নিশ্চয়ই এক অন্যায় বিদআত নিয়ে এসেছ, নতুবা তোমরা কি জ্ঞানের দিক থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হয়ে গেছ?" তখন মুআদ্বাদ—যিনি একজন সুবক্তা ছিলেন—বললেন: "আল্লাহর কসম, আমরা কোনো অন্যায্য বিদআত নিয়ে আসিনি এবং জ্ঞানের দিক থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করিনি।" তখন আবদুল্লাহ বললেন: "যদি তোমরা সেই কওমের (সাহাবীদের) অনুসরণ করো, তবে তো তারা তোমাদের অনেক আগেই সুস্পষ্টভাবে ছাড়িয়ে গেছেন। আর যদি তোমরা ডানে কিংবা বামে বিচ্যুত হও, তবে তোমরা সুদূর বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হবে।"

আমির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার নিকট এলাম, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কোথায় ছিলে?" আমি বললাম: "আমি এমন কিছু লোকের দেখা পেলাম যাদের মতো কাউকে দেখিনি। তারা মহান আল্লাহর জিকির করে, ফলে আল্লাহর ভয়ে তাদের কেউ কেউ এমনভাবে প্রকম্পিত হয় যে শেষ পর্যন্ত সে মূর্ছা যায়। তাই আমি তাদের সাথে বসলাম।" তিনি বললেন: "এর পর থেকে আর তাদের সাথে বসবে না।" তিনি আমাকে দেখে মনে করলেন যেন তাঁর কথাটি আমার ওপর তেমন প্রভাব ফেলেনি, তখন তিনি বললেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরআন তিলাওয়াত করতে দেখেছি এবং আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকেও কুরআন পাঠ করতে দেখেছি, অথচ তাদের তো এমন দশা হতো না। তবে কি তুমি মনে করো যে তারা আবু বকর ও উমরের চেয়েও আল্লাহকে বেশি ভয় পায়?" তখন আমি বুঝতে পারলাম যে বিষয়টি এমনই, তাই আমি তাদের সঙ্গ ত্যাগ করলাম।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৭)
عن خلف بن حوشب أن جوّاباً التيمي كان يرتعد عند الذكر فقال له إبراهيم النخعي: إن كنت تملكه فلا أبالي أن لا أعتد بك، وإن كنت لا تملكه فقد خالفت من هو خير منك.

عن عمرو بن مالك قال: بينما نحن يوماً عند أبي الجوزاء يحدثنا إذ خر رجل فاضطرب، فوثب أبو الجوزاء فسعى قبله، فقيل له: يا أبو الجوزاء إنه رجل به الموتة، فقال: إنما
খালাফ ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণিত যে, জাওওয়াব আত-তাইমী যিকিরের সময় কেঁপে উঠতেন। তখন ইবরাহীম আন-নাখয়ী তাঁকে বললেন: "যদি তুমি এটি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হও, তবে আমি তোমার কোনো পরোয়া করি না, আর যদি তুমি এটি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম না হও, তবে তুমি তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করলে যিনি তোমার চেয়ে উত্তম ছিলেন।"

আমর ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমরা আবু আল-জাওযায়ের নিকট ছিলাম এবং তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি পড়ে গিয়ে ছটফট করতে লাগল। তখন আবু আল-জাওযা লাফিয়ে উঠে তার দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলেন। তাঁকে বলা হলো: "হে আবু আল-জাওযা, এ তো এমন এক ব্যক্তি যার মৃগী রোগ রয়েছে।" তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৮)
كنت أراه من هؤلاء القفازين ولو كان منهم لأمرت به وأخرجته من المسجد إنما ذكرهم الله تعالى فقال: تفيض أعينهم وتقشعر جلودهم.

أبو الجوزاء اسمه أوس بن عبد الله صاحب ابن عباس.

عن عبد الأعلى قال: سمعت الشافعي يقول: تركت بالعراق شيئاً يسمونه: التغبير وصنعته الزنادقة يشغلون به عن القرآن.
আমি তাকে সেই সকল লাফিয়ে চলা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম। আর যদি সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে আমি তার ব্যাপারে নির্দেশ দিতাম এবং তাকে মসজিদ থেকে বের করে দিতাম। মহান আল্লাহ কেবল তাদের কথাই উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয় এবং তাদের চামড়া শিউরে ওঠে।

আবু আল-জাওযা, তাঁর নাম আউস ইবনে আবদুল্লাহ, তিনি ইবনে আব্বাসের সঙ্গী ছিলেন।

আবদ আল-আলা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শাফিয়ীকে বলতে শুনেছি: আমি ইরাকে এমন একটি বিষয় ছেড়ে এসেছি যাকে তারা ‘তাগবীর’ বলে; এটি যিনদীকরা উদ্ভাবন করেছে, যার মাধ্যমে তারা মানুষকে কুরআন থেকে বিমুখ করে রাখে।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال حسن الجردي قال: سمعت الشافعي محمد بن إدريس يقول: تركت بالعراق شيئاً يقال له التغبير، أحدثته الزنادقة، يصدون الناس به عن القرآن.

عن الحارث قال: سمعت أبا عبد الله أحمد بن حنبل سئل: ما ترى في التغبير إنه يرق عليه القلب؟ قال: بدعة.

عن يعقوب بن سفيان: أنه سأل أبا عبد الله عن السماع، فكرهه ونهى عن استماعه.

قال أبو القاسم: سئل أبو علي الروذباري عن من يسمع
হাসান আল-জুর্দি বলেন: আমি শাফিঈ মুহাম্মদ বিন ইদরিসকে বলতে শুনেছি: আমি ইরাকে 'আত-তাগবীর' নামক এমন একটি বিষয় রেখে এসেছি যা যিন্দীকরা উদ্ভাবন করেছে, এর মাধ্যমে তারা মানুষকে কুরআন থেকে বিমুখ করে।

হারিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি আত-তাগবীর সম্পর্কে কী মনে করেন, যা অন্তরকে কোমল করে? তিনি বললেন: এটি বিদআত।

ইয়াকুব বিন সুফিয়ান থেকে বর্ণিত: তিনি আবু আব্দুল্লাহকে 'সামা' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি তা অপছন্দ করেছিলেন এবং তা শ্রবণ করা থেকে নিষেধ করেছিলেন।

আবুল কাসিম বলেন: আবু আলী আর-রুজবারীকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে শুনে থাকে...
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩০)
الملاهي ويقول: هي لي حلال، أني قد وصلت إلى درجة لا تؤثر في اختلاف الأحوال، فقال: نعم قد وصل لعمري ولكن إلى سقر.

عن أبي الحارث الأولاسي أنه قال: رأيت إبليس في النوم بأولاس، وهو جالس وعن يمينه جماعة، عن شماله جماعة فقال إبليس لطائفة منهم: قولوا شيئاً - وكانوا على شيء من المساع - فأخذوا في القول، قال أبو الحارث: فاستغرقتني الطيبة حتى لعله كدت أطوح نفسي من السطح، ثم التفت إلى طائفة أخرى فقال لهم: ارقصوا، فرأيتهم يرقصون ويشيرون في الرقص إلى إشارات حسنة ويزعقون ويصيحون حتى تحيرت، ثم قال لي إبليس: يا أبا الحارث أليس هذا حسناً؟ قلت: بلى. قال. ما أصبت شيئاً أدخل عليكم به ليكون لي عليكم سلطان إلا بهذا، فخرج شهوة السماع من قلبي، فما سمعت بعدها.

عن أبي سعيد الخراز أنه قال: رأيت أبا القاسم
বাদ্যযন্ত্রসমূহ এবং তিনি বলেন: "এগুলো আমার জন্য হালাল, কেননা আমি এমন এক স্তরে পৌঁছেছি যেখানে অবস্থার পরিবর্তন কোনো প্রভাব ফেলে না।" তখন তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! সে পৌঁছেছে ঠিকই, তবে তা সাকারে (জাহান্নামে)।"

আবু আল-হারিস আল-আওলাসী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমি আওলাসে স্বপ্নে ইবলিসকে দেখলাম যে সে উপবিষ্ট আছে, তার ডানে একদল এবং বামে একদল লোক রয়েছে। তখন ইবলিস তাদের এক দলকে বলল: "তোমরা কিছু বলো" - এবং তারা শ্রবণের (সামা) এক অবস্থায় ছিল - ফলে তারা বলতে শুরু করল। আবু আল-হারিস বলেন: (তাদের কথা শুনে) তৃপ্তি ও মুগ্ধতা আমাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করল যে, সম্ভবত আমি ছাদ থেকে নিজেকে নিচে ফেলে দেওয়ার উপক্রম হয়েছিলাম। অতঃপর সে অন্য এক দলের দিকে ফিরে বলল: "তোমরা নাচো।" তখন আমি তাদের নাচতে দেখলাম, তারা নাচের সময় বিভিন্ন সুন্দর ভঙ্গি করছিল এবং উচ্চস্বরে চিৎকার ও চেঁচামেচি করছিল, এমনকি আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। অতঃপর ইবলিস আমাকে বলল: "হে আবু আল-হারিস, এটা কি সুন্দর নয়?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" সে বলল: "তোমাদের মাঝে প্রবেশ করে তোমাদের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করার জন্য আমি এর চেয়ে বড় কোনো মাধ্যম পাইনি।" ফলে আমার অন্তর থেকে শ্রবণের (সামা) আকাঙ্ক্ষা দূরীভূত হয়ে গেল এবং এরপর আমি আর কখনো তা শুনিনি।

আবু সাঈদ আল-খাররাজ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমি আবুল কাসিমকে দেখলাম...
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩১)
الجوعي في المنام بعد وفاته فقلت له: ما فعل الله بك فقال: وبخني وأقامني ثم غفر لي، فقلت: بماذا؟ قال: تفعل وتسمع، وتتواجد، وتقيسني بليلى وسلمى.

أخبرنا العدل أبو الفضل عبد الواحد ببغداد أن الإمام العالم أبا محمد عبد الله بن عبد الله بن علي بن أحمد بن عبد الله المقرىء النحوي، أجاز لهم وأنشد لنفسه:

تَركُ التَكلُف فِي التَصَوفِ وَاجَبُ … ومِن المُحَالِ تَكَلُفُ الفُقَرَاءِ

قَومُ إِذا اِمتَدَ الظَلامُ رَأيتُهم … يَتَرَكَعُون تَرَكُعُ القَرَاءِ

والوَجدُ مِنهُم فِي الوِجُوهِ مَحَله … ثُمّ السَماعُ يَحِلُ فِي الإغضَاءِ

لا يَرفَعُون بِذاَكَ صَوتاً مُجَهَراً … يَتجَنَبُون مُوَاقِع الأَهوَاءِ

ويَواصِلون بِذاَك صوتاً مُجهَراً … فِي الَبَأسِ إن يأتِي وفِي السَراءِ

وتَراهُم بَينَ الأَنَامِ إذا أتوا … مِثلَ النِجُومِ الغرّ فِي الظَلماءِ

صَدقت عزَائمهُم وعَزم مَرامهِم … وعَلت منَازِلُهُم عَلى الجَوزاءِ

خَدَمُوا الإله حَقيقَة وعَزيمة … ورَعوا حِقُوقَ الِلهِ فِي الآناءِ

وَالَرقصُ نَقصَ عِندهم فِي عِقُولِهم … ثُمّ القَضِيب بِغيرِ ما إخفَاءِ
আল-জুয়াইকে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখা গেল, আমি তাঁকে বললাম: "আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন?" তিনি বললেন: "তিনি আমাকে তিরস্কার করেছেন এবং দণ্ডায়মান করেছেন, অতঃপর আমাকে ক্ষমা করেছেন।" আমি বললাম: "কী কারণে?" তিনি বললেন: "তুমি (নানা কিছু) করতে এবং শুনতে, ভাবাবিষ্ট হতে, আর আমাকে লায়লা ও সালমার সাথে তুলনা করতে।"

বাগদাদে ন্যায়পরায়ণ আবুল ফজল আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ইমাম আলেম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুকরি আন-নাহবী তাঁদের অনুমতি প্রদান করেছেন এবং নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

তাসাউউফের ক্ষেত্রে কৃত্রিমতা বর্জন করা ওয়াজিব … আর ফকীরদের জন্য কৃত্রিমতা অবলম্বন করা অসম্ভব।

তাঁরা এমন এক জাতি যে, যখন অন্ধকার ঘনীভূত হয়, তখন আপনি তাঁদের … ক্বারীগণের ন্যায় রুকু করতে দেখবেন।

তাঁদের চেহারায় আধ্যাত্মিক অনুরাগের স্থান পরিলক্ষিত হয় … আর শ্রবণ কার্যকর হয় দৃষ্টি অবনত রাখায়।

তাঁরা তাতে উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ তোলেন না … তাঁরা কুপ্রবৃত্তির স্থানসমূহ পরিহার করে চলেন।

তাঁরা তাতে উচ্চ আওয়াজ জারি রাখেন … বিপদ এবং সুখের সময়েও।

যখন তাঁরা মানুষের মাঝে আসেন তখন আপনি তাঁদের দেখবেন … অন্ধকারের উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির ন্যায়।

তাঁদের সংকল্প এবং অভীষ্ট লক্ষ্যের দৃঢ়তা সত্যনিষ্ঠ … আর তাঁদের মর্যাদা জাওজা নক্ষত্রমণ্ডলীর উপরে উন্নত।

তাঁরা নিষ্ঠা ও সংকল্পের সাথে আল্লাহর ইবাদত করেছেন … এবং সকল সময়ে আল্লাহর হকসমূহ রক্ষা করেছেন।

তাঁদের নিকট নাচ হলো বুদ্ধির স্বল্পতা … আর কোনো লুকোছাপা ছাড়াই বাদ্যদণ্ড (ক্বদীব) বাজানোও (অনুরূপ)।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩২)
هَذا شِعارُ الصَالِحين ومن مَضَى … مِن سَادةِ الزُهاَدِ والعُلمَاءِ

فإذَا رَأيت مُخَالفاً لِفعَالِهم … فاحكُم عَليه بعَظمِ الإغواءِ

وأنشدنا لنفسه وأخبر به عن العدل أبو الفضل إجازة:

حُرمَةُ اَلمرءِ تَستَقيمُ إذا مَا … كان فِي دِينِه عَلى تَحقيقِِ

لا يَرَى الرَقصُ واَلقَضَيبُ … وَلا الدَفّ طَريقاً إلِى صَوابِ الطَريقِِ

وكذَا الشِيزَ والتَهافُت فِيه … بِانكشَافِ الرؤوسِ والَتصَفيقِ

هَذه سِيرةُ الزَنوجِ ذَوي النقَ … ص إذا مَا هَبُوا لِفعلِ الَفسُوقِ

قال رحمه الله: أنشدني أخي الفقيه الإمام أبو العباس أحمد بن
এটি নেককার ও অতীত ব্যক্তিবর্গের বৈশিষ্ট্য … যারা ছিলেন সাধক ও আলেমদের নেতৃস্থানীয়।

যখন আপনি তাদের কর্মের বিপরীত কাউকে দেখবেন … তখন তাকে চরম বিভ্রান্ত বলে গণ্য করবেন।

তিনি আমাদের নিকট নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করেছেন এবং আদল আবু আল-ফজল এটি ইজাযত সূত্রে বর্ণনা করেছেন:

ব্যক্তির মর্যাদা তখনই অটুট থাকে যখন সে … তার দ্বীনের ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে।

সে নৃত্য এবং বাদ্যযন্ত্রের কাঠি বাজানোকে … কিংবা দফ বাজানোকে সঠিক পথের পাথেয় মনে করে না।

তেমনিভাবে উন্মাদনা এবং এতে লিপ্ত হওয়া … মাথা উন্মোচন ও হাততালি প্রদানের মাধ্যমে।

এটি তো সেই ত্রুটিপূর্ণ কৃষ্ণাঙ্গদের চরিত্র … যখন তারা পাপাচার করতে উদ্যত হয়।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) বলেছেন: আমার ভাই ফকিহ ইমাম আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন... আমাকে এটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
عبد الواحد بن أحمد بن عبد الرحمن المقدسي من لفظه قال: أنشدني أبو العباس أحمد بن الجاجة - بذلك كان يعرف - وكان رجلاً صالحاً إن شاء الله لنفسه:

يَا سَائِلِي مِن طَرِيقِ الَفَضلِ واَلأَدبِ … عَن مَعَشرِ فِعلهم أدَى إلِى العَطبِ

قَوُمُ إلى رَاحَةٍ اِستأنَسُوا وَنأوُا … عَن الَتكَسُبِ بَينَ الَنَاسِ والتَعبِ
আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-মাকদিসী নিজ মুখে বলেছেন: আবুল আব্বাস আহমদ বিন আল-জাজাহ—এই নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন—এবং ইনশাআল্লাহ তিনি একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন, তিনি আমাকে নিজের রচিত পংক্তিগুলো আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

হে শ্রেষ্ঠত্ব ও শিষ্টাচারের পথে আমার কাছে প্রশ্নকারী … এমন এক দল সম্পর্কে যাদের কর্ম বিনাশের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা আরাম-প্রমোদে অভ্যস্ত হয়েছে এবং তারা বিমুখ হয়েছে … মানুষের মাঝে উপার্জন ও শ্রমসাধ্য কাজ হতে।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قَالُوا بَلا سَبَبِ اللهُ رَازقُنَا … واللهُ راَزِقُنَا بِالَسعِي والسَببِ

ألَيس مَريَم رَبُ العَرشِ قَالَ لَها: … هُزِي إلِيكِ بِجذَعِ يَانَع رَطَبِ

وَلو يَشاَء أتَاهَا رَزقَها رَغَداً … مِن غَيرِ مَا تَعبِ مِنها وَلا نصَبِ

وكَان رزِقُ رَسَولَ اللهِ جَاعِله … رَبُ الَبرَيةِ تحَت القَصرِ واَلقصبِ

وباكرُوا اللهوَ واللذاتِ واتخذوا … لهُوَ الحَدِيثِ لهُم دِيناً مع الطربِ

إذَا أتُوا مَنزَلاً قَالُوا َلِصَاحِبِه … قَبّل يدَ الشيَخِ ذِي الإكرَام والأدَبِ

هَذا لهُ نَظَرُ هَذا لهُ هِمَمُ … لهُ الكرامَاتُ بَين العُجم والعَرَبِ

يَمشي عَلى الماءِ يطَوي الأَرضَ قاَطبَةً … وَفاتحُ كلّ بَابِ مُغلَقٍ أَشِبِ

اطلب رِضا الشَيخِ وانَظر أين مَذهَبه … وَليَس مَذهبه إلا إلِى الذَهَبِ

هَذا وقد جَاءَ بِالمَعلومِ فَابتَدرُوا … مُحسَرين عَن الأيدِي عَلى الَركبِ

كُل امرِىء مُنهم فِي الأكلِ مُعضَله … ومُرجِف الأرَضِ يَوم الرَوع بالهَربِ

إذا تَغَنى مُغنيهُم سَمِعت لهُم … صُراخ قُومٍ رُموا بالويلِ والحَربِ

ما زَال ليلهُم رقَصاً فإن تِعبوا … تطَارحُوا فِي زوَايا البيتِ كالخَشَبِ

ضَربُ الَقضَيبِ مَدى الأيَامِ شُغلُهم … والرقصُ دأبهُم والضرب فِي الضَربِ

قَالوا لنا مَذهُب وهو الحقيقةُ لا … نَقُول بِالشَرعِ ثُم الدَرسِ فِي الكُتبِ

ولا نُريد مِن الرَحَمنِ جَنتَّهُ … ولا نَخافُ لظى جَاءت عَلى غضبِ

وما بِهذا كِتابُ اللهِ أخبرنا … وجَاءت الرُسلُ بِالتَرغِيبِ والرَهبِ

َزارُوا النِساءَ وآخوهُنّ هل عُصِمُوا … مِنهن أم أمنُوا مِن طَارقِ النّوَبِ

نَسُوا قضيةَ هاروتٍ وصَاحِبه … ماروت إذ شَرِبا كَأساً مِن العَطبِ

وَهَمّ يوسُفَ لولا أن رأى عَجَبَاً … بُرهَان خَالِقِه فاعجب مِن العَجبِ
তারা বলল, কোনো কারণ ছাড়াই আল্লাহ আমাদের রিযিকদাতা … অথচ আল্লাহ আমাদের রিযিক প্রদান করেন প্রচেষ্টা ও উপকরণের মাধ্যমে।

আরশের রব কি মারইয়ামকে বলেননি: … তুমি তোমার দিকে খেজুরের তাজা ও পাকা কান্ডটি নাড়া দাও।

আর তিনি চাইলে কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট ছাড়াই তাকে … স্বচ্ছন্দে রিযিক দান করতে পারতেন।

আর সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক আল্লাহর রাসূলের রিযিক নির্ধারণ করেছিলেন … বর্শা ও যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জামের ছায়াতলে।

তারা খেলতামাশা ও লালসায় মেতে উঠল এবং বাদ্যযন্ত্রসহ … অনর্থক কথাকে নিজেদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করল।

তারা যখন কোনো বাসস্থানে উপস্থিত হয়, তখন তার মালিককে বলে: … এই সম্মানিত ও শিষ্টাচারী শাইখের হাত চুম্বন করো।

এর প্রখর দৃষ্টি আছে, এর উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে; … অনারব ও আরবদের মাঝে এর বহু অলৌকিক কারামত রয়েছে।

সে পানির উপর দিয়ে হাঁটে, মুহূর্তেই সমগ্র পৃথিবী পাড়ি দেয় … এবং প্রতিটি জটিল রুদ্ধ দ্বার উন্মোচনকারী।

শাইখের সন্তুষ্টি অন্বেষণ করো এবং লক্ষ্য করো তার পথ কোন্দিকে; … স্বর্ণ (অর্থ) ছাড়া তার কোনো পথ বা গন্তব্য নেই।

এই তো তিনি খাবার নিয়ে এসেছেন, তাই তোমরা দ্রুত এগিয়ে এসো … কনুই পর্যন্ত কাপড় গুটিয়ে হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে।

তাদের প্রত্যেকেই আহারের ক্ষেত্রে এক মহা বিপদ (ভোজনরসিক) … অথচ ভয়ের দিনে পলায়ন করে মাটি কাঁপিয়ে দেয়।

যখন তাদের গায়ক গান ধরে, তখন তুমি তাদের এমন চিৎকার … শুনতে পাবে যেন এক কওমকে ধ্বংস ও যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

সারা রাত তাদের নাচ চলতেই থাকে, অতঃপর তারা ক্লান্ত হয়ে পড়লে … ঘরের কোণগুলোতে কাঠের ন্যায় লুটিয়ে পড়ে।

দিনভর লাঠি দিয়ে আঘাত করা (তালের জন্য) তাদের কাজ … আর নাচ তাদের অভ্যাস এবং একের পর এক আঘাত।

তারা আমাদের বলে, আমাদের একটি পথ আছে যা হাকীকত (ধ্রুব সত্য); আমরা … শরীয়ত ও কিতাব পাঠের কথা বলি না।

আমরা রহমানের নিকট তাঁর জান্নাত চাই না, … আর না আমরা ক্রোধবশত আগত প্রজ্বলিত অগ্নিকে ভয় করি।

অথচ আল্লাহর কিতাব আমাদের এমন সংবাদ দেয়নি, … বরং রাসূলগণ এসেছেন আশা ও ভীতির বাণী নিয়ে।

তারা নারীদের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাদের বোন বানিয়ে নেয়; তারা কি তাদের থেকে … সুরক্ষাপ্রাপ্ত, নাকি বিপদাপদ থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে?

তারা হারুত ও তার সাথী মারুতের ঘটনা ভুলে গেছে, … যখন তারা ধ্বংসের পেয়ালা পান করেছিল।

আর ইউসুফের সংকল্পের কথা ভাবো, যদি না তিনি তাঁর স্রষ্টার … বিস্ময়কর নিদর্শন দেখতেন; তবে বিস্ময়ের চেয়েও বড় বিস্ময় এটি।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ونَظَرةً تَركَت داودَ ذا حَرَق … عَلى خَطيئَتِه باكٍ أخا كُرَبِ

أبرا إلى اللهِ مِن قَومِ فِعالُهم … هذا وعَن ذَمّهم ما عشت لم أتُبِ

قال: وأخبرنا أخي رحمه الله أن أحمد المذكور أنشدهم ولم يعزها، والظاهر - والله - أنها له:

يا سالِكي سُبُلَ العُدوانِ وَالتُهَمِ … وَتابِعي نِعَمِ الرَحمَنِ بِالنِقَمِ

وَتارِكي سُبلَ الَمعرَوُفِ عَافِيةً … وآخِذِي طُرَق الخذلانِ والندَمِ

أَلبَستُمُ الدينَ عاراً مِن فِعالِكُم … ما ليسَ يَحسُنُ مِن عُربِ ولا عَجَمِ

سَمّيتُمُ الدِينَ مِن لهوٍ ومِن لَعبٍ … دِيناً وقُربى إلى الرَحمَنِ ذِي الكَرمِ

يا مُشبهي حُمُرَ الصَحراءِ رامِحةً … لمّا تَمَلّت مِن الخضراءِ والدّيمِ

هل كَان فِيما مَضَى مِن فِعلِ سيَدكُم … ضَربُ القَضِيب ورفسُ الأرض بِالقَدمِ

نسأل الله تعالى أن يعيذنا من جميع البدع ما ظهر منها وما بطون وأن يحيينا على سنة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، وأن يميتنا على ملته وأن يوفقنا لما يحب ويرضى من القول والنية والعمل والهدى وأن يوزعنا شكر نعمه، ويزيدنا من عطائه وقسمه، إنه على كل شيء قدير، وهو حسبنا ونعم الوكيل.

أما بعد: فقد ذكر النبيُ صلى الله عليه وسلم في هذه الأحاديث ما فيه كفاية لمن أراد الله رشده وهداه لاتباع سنة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، وقد أعلم النبيُ صلى الله عليه وسلم: أن كل محدثة بدعة، وأن أمته ستفترق على ثلاثٍ من قبلها وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة، وإن هذه الأمة تتبع سنن من قبلها شبراً بشبر وذراعاً بذراع. وقد كثر في زماننا هذا البدع فظهرت، وعمل بها خلق كثير من الناس، وزاولها طريقاً إلى الله تعالى، فمن ذلك: حضور الغناء والمزامير، والرقص، ومؤاخاة النسوان، والحضور مع
একটি দৃষ্টি যা দাউদকে দহনের মধ্যে রেখে গেল … তার ভুলের জন্য ক্রন্দনরত, কষ্টের সঙ্গী হিসেবে।

আমি আল্লাহর কাছে এমন কওম থেকে দায়মুক্ত ঘোষণা করছি যাদের কাজ হলো এগুলো … আর তাদের নিন্দা করা থেকে আমি যতদিন বেঁচে থাকব তাওবা করব না।

তিনি বললেন: আমার ভাই (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাদের অবহিত করেছেন যে, উল্লিখিত আহমদ তাদের কাছে এই কবিতাগুলো আবৃত্তি করেছেন কিন্তু তিনি সেগুলোকে কারো প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধ করেননি; আর আল্লাহর কসম, স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে এগুলো তাঁরই নিজের:

হে সীমালঙ্ঘন ও অপবাদের পথে বিচরণকারীরা … এবং দয়াময় আল্লাহর নেয়ামতসমূহকে অকৃতজ্ঞতার মাধ্যমে অনুগমনকারীরা।

এবং যারা সুস্থ অবস্থায় কল্যাণের পথ পরিত্যাগকারী … এবং লাঞ্ছনা ও অনুশোচনার পথ গ্রহণকারী।

তোমরা তোমাদের কর্মের মাধ্যমে দ্বীনকে এমন এক কলঙ্কে ভূষিত করেছ … যা আরব বা অনারব কারো পক্ষেই শোভন নয়।

তোমরা আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলাকে দ্বীন নাম দিয়েছ … দ্বীন এবং মর্যাদাশীল দয়াময় আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে।

হে মরুভূমির বন্য গাধার সদৃশ যারা লাথি ছোড়ে … যখন তারা সবুজ ঘাস ও অবিরাম বৃষ্টিতে পরিতৃপ্ত হয়।

অতীতকালে কি তোমাদের নেতার কোনো কর্মের অন্তর্ভুক্ত ছিল … লাঠি দিয়ে আঘাত করা কিংবা পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করা?

আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিদআত থেকে রক্ষা করেন এবং আমাদের আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতের ওপর জীবিত রাখেন, আর আমাদের তাঁর মিল্লাতের ওপর মৃত্যু দান করেন এবং আমাদের সেই কথা, নিয়ত, আমল ও হিদায়াতের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আর তিনি যেন আমাদের তাঁর নেয়ামতের শোকর করার তাওফিক দেন এবং তাঁর দান ও অংশ বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, আর তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

অতঃপর: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই হাদিসসমূহে এমন বিষয় বর্ণনা করেছেন যা ওই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট যাকে আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত অনুসরণের জন্য সঠিক পথ ও হিদায়াত দিতে চান। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানিয়েছেন যে: প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর তাঁর উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে একটি ব্যতীত সবই জাহান্নামে যাবে। আর নিশ্চয়ই এই উম্মত তাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘত এবং হাত হাত (যথাযথভাবে) অনুসরণ করবে। আমাদের বর্তমান সময়ে বিদআত অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা প্রকাশ পেয়েছে, অনেক মানুষ এর ওপর আমল করছে এবং একে মহান আল্লাহর দিকে যাওয়ার পথ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে: গান ও বাদ্যযন্ত্রের আসরে উপস্থিত হওয়া, নৃত্য করা, নারীদের সাথে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করা এবং তাদের সাথে একত্রে উপস্থিত হওয়া...
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
المردان، حتى إن بعضهم ليرى ذلك أفضل من الصلاة وقراءة القرآن، فنعوذ بالله من الخذلان، ونستعينه على أداء الشكر وكثرة الذكر في جميع الأحيان، ونسأله بكرمه أن لا يجعل للشيطان علينا سلطاناً، وقد قال تعالى: (فَمَن يُرِد اللهُ فِتنَتهُ فَلَن تَمِلكَ لَهُ مِن اللهِ شَيئَاً، أولئك الذينَ لَم يُرِدِ اللهُ أن يُطَهّرَ قلوبَهُم) .
দাড়িহীন কিশোরগণ, এমনকি তাদের কেউ কেউ একে সালাত ও কুরআন তিলাওয়াতের চেয়েও উত্তম মনে করে; সুতরাং আমরা আল্লাহর কাছে নিঃসহায়তা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং সর্বক্ষণ শুকরিয়া আদায় ও অধিক জিকির করার জন্য তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমরা তাঁর অনুগ্রহের অসিলায় প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ওপর শয়তানের কোনো আধিপত্য না দেন। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: (আর আল্লাহ যার ফিতনা বা পরীক্ষা চান, আল্লাহর বিপরীতে তার জন্য আপনার কিছুই করার নেই। এরাই তারা যাদের অন্তরসমূহ আল্লাহ পবিত্র করতে চাননি)।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌باب ذكر فتنة النساء

عن أسامة بن زيد وسعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (ما تركت بعدي فتنةً أضر على الرجال من النساء) .
নারীদের ফিতনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

উসামাহ ইবনে যায়িদ এবং সাঈদ ইবনে যায়িদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর অন্য কোনো ফিতনা রেখে যাইনি।"।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وفي رواية أبي خالد: (ما تركت على أمتي بعدي فتنةً) . هذا حديث صحيح أخرجه البخاري ومسلم.

عن أبي سعيد، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (إن الدنيا حلوة خضرة، وإن الله مستخلفكم فيها، فينظر ما تعملون فاتقوا الدنيا، واتقوا النساء،
এবং আবু খালিদের বর্ণনায় রয়েছে: (আমি আমার উম্মতের জন্য আমার পরে কোনো ফিতনা ছেড়ে যাইনি)। এটি একটি সহীহ হাদীস, যা বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই দুনিয়া মিষ্ট ও সজীব, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে এতে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, অতঃপর তিনি দেখেন তোমরা কী আমল করো। সুতরাং তোমরা দুনিয়া থেকে সতর্ক থাকো এবং নারী থেকে সতর্ক থাকো,
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩৯)
فإن أول فتنة بني إسرائيل كانت من النساء) .

صحيح أخرجه مسلم.
কেননা বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা ছিল নারীদের মাধ্যমে) ।

সহীহ, এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌باب تعظيم مس امرأة غير محرم

عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يبايع النساء بالكلام بهذه الآية: (عَلى أن لا يُشرِكن بِاللهِ شَيئاً) وما مست يد رسول الله صلى الله عليه وسلم يد امرأة قط إلا امرأة يملكها.
গাইরে মাহরাম নারীকে স্পর্শ করার ভয়াবহতা সম্পর্কিত অধ্যায়

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীদের নিকট হতে কেবল এই আয়াতের ভিত্তিতে মৌখিকভাবে বায়আত নিতেন: (যেন তারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করে)। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি, কেবল সেই নারী ব্যতীত যার মালিকানা তাঁর ছিল।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৪১)
عن معقل بن يسار قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لأن يطعن في رأس رجل بمخيط من حديد خير له من أن تمسه امرأة لا تحل له) .

هذا الحديث على رسم مسلم، والله تعالى أعلم.
মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির মাথায় লোহার সুঁই বিদ্ধ হওয়া তার জন্য এমন কোনো নারীকে স্পর্শ করার চেয়েও উত্তম, যে নারী তার জন্য হালাল নয়।"

এই হাদিসটি ইমাম মুসলিমের মানদণ্ড অনুযায়ী বর্ণিত, আর মহান আল্লাহ-ই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌باب في تحريم الدخول على النساء

والخلوة بهن والسفر إلا مع ذي محرم

عن عقبة بن عامر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إياكم والدخول على النساء) . قال رجل: أفرأيت الحمو؟ قال: الحمو الموت.
নারীদের নিকট প্রবেশ করা, তাদের সাথে নির্জনে অবস্থান করা

এবং মাহরাম ব্যতীত সফর করা নিষিদ্ধ হওয়া বিষয়ক অধ্যায়

উকবা ইবনে আমির হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা নারীদের নিকট প্রবেশ করা থেকে বেঁচে থাকো)। এক ব্যক্তি বললেন: দেবর (বা স্বামীর নিকটাত্মীয়) সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: দেবর তো মৃত্যু।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৪৩)
رواه البخاري ومسلم.

وقد روي عن الليث أنه قال: الحمو مثل أخي الزوج ونحوه.

عن ابن عباس قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (لا يخلون
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

লাইস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: 'হামু' হলো স্বামীর ভাই এবং তার অনুরূপ ব্যক্তিবর্গের মতো।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (কোনো ব্যক্তি যেন নির্জনে অবস্থান না করে
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৪৪)
رجل بامرأة إلا ومعها ذو محرم) فقال رجل يا رسول الله: إن امرأتي خرجت حاجة، وإني اكتتبت في غزوة كذا وكذا. قال: (فانقلب فحج مع امرأتك) .

رواه البخاري ومسلم.

عن جابر بن سمرة السوائي قال: خطبنا عمر بن الخطاب
(কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করবে না) তবে তার সাথে তার মাহরাম থাকা ব্যতীত। তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছি। তিনি বললেন: (ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্জ করো)।

এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

জাবির ইবনে সামুরা আস-সুওয়ায়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৪৫)
بالجابية فقال: يا أيها الناس قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقامي فيكم فقال: (أحسنوا إلى أصحابي، ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم، ثم يفشو الكذب، حتى يشهد الرجل على الشهادة لا يسألها، ويحلف على اليمين لا يسألها، فمن أراد منكم بحبوحة الجنة فليلزم الجماعة، فإن الشيطان مع الواحد، وهو مع الاثنين أبعد، ولا يخلون أحد بامرأة فإن الشيطان ثالثهما، من سرته حسنته، وساءته سيئته فهو مؤمن) .

أخرجه النسائي.
জাবিয়া নামক স্থানে তিনি বললেন: হে লোকসকল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে সেভাবেই দাঁড়িয়েছিলেন যেভাবে আমি তোমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছি। অতপর তিনি বললেন: (তোমরা আমার সাহাবীদের প্রতি সদাচরণ করো, তারপর তাদের প্রতি যারা তাদের অনুগামী হবে, তারপর তাদের প্রতি যারা তাদের অনুগামী হবে। এরপর মিথ্যার ব্যাপক বিস্তার ঘটবে, এমনকি কোনো ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে অথচ তার নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না, এবং সে শপথ করবে অথচ তার নিকট শপথ চাওয়া হবে না। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রশস্ততা বা মধ্যভাগ কামনা করে, সে যেন জামাত বা ঐক্যবদ্ধ থাকা আবশ্যক করে নেয়। কেননা শয়তান একজনের সাথে থাকে এবং সে দুজনের থেকে অধিক দূরে থাকে। আর কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে, কারণ শয়তান তাদের তৃতীয়জন হিসেবে উপস্থিত থাকে। যার নিকট তার নেক আমল আনন্দদায়ক হয় এবং যার নিকট তার গুনাহের কাজ কষ্টদায়ক হয়, সেই মুমিন)।

এটি নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৪৬)
عن عبادة بن الصامت أنه قال: ألا تروني لا أقوم رفداً ولا آكل إلا ما لوّق لي؟. قال يحيى: يعني ليّن وسخن وقد مات صاحبي منذ زمان، قال يحيى يعني: ذكره، ولا يسرني أني خلوت بامرأة لا تحل لي، وإن لي ما تطلع عليه الشمس مخافة أن ياتي الشيطان فيحركه، إنه لا سمع له ولا بصر.

উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: তোমরা কি আমাকে দেখছ না যে, আমি সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারি না এবং আমার জন্য যা নরম করা হয় তা ছাড়া আমি আহার করি না? ইয়াহইয়া বলেন: অর্থাৎ নরম ও গরম। এবং অনেক আগে থেকেই আমার সঙ্গী (অঙ্গটি) মৃত হয়ে গেছে—ইয়াহইয়া বলেন: অর্থাৎ তাঁর পুরুষাঙ্গ—তবুও কোনো হারাম মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান করা আমাকে আনন্দিত করবে না, যদিও বিনিময়ে আমাকে এমন সব সম্পদ দেওয়া হয় যার ওপর সূর্য উদিত হয়; এই ভয়ে যে, শয়তান এসে সেটিকে নাড়াচাড়া করতে পারে, কেননা সেটির কোনো শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি নেই।

(খণ্ড: ১) ইত্তিবাউস সুনান ওয়াজতিনাবুল বিদা (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌باب الأمر بغض البصر

قال الله تعالى: (قُل لِلمُؤمِنين يَغُضُوا مِن أبصَارِهِم) .

عن جرير قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن نظرة الفجأة، فأمرني أن أصرف بصري.

رواه مسلم في صحيحه.
দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশের পরিচ্ছেদ

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আপনি মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে)।

জারীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আমাকে আমার দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন।

এটি মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।