(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: -)
إرشاد العباد في فضل الجهاد القسم: الفقه العام
الكتاب: إرشاد العباد في فضل الجهاد - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (14)
المؤلف: حسن بن إبراهيم بن حسن بن محمد، المعروف بالبيطار (ت 1272 هـ)
تحقيق وتعليق: محمد بن ناصر العجمي
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 46
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1436
ইরশাদুল ইবাদ ফি ফাদলিল জিহাদ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: ইরশাদুল ইবাদ ফি ফাদলিল জিহাদ - মসজিদুল হারামে শেষ দশদিনের বৈঠক সিরিজ (১৪)
লেখক: হাসান বিন ইব্রাহিম বিন হাসান বিন মুহাম্মদ, আল-বিতার নামে পরিচিত (মৃত্যু ১২৭২ হি.)
সম্পাদনা ও টীকা: মুহাম্মদ বিন নাসের আল-আজমি
প্রকাশক: দার আল-বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হি. - ২০০০ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬
[বইয়ের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জিলকদ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (14)
إرشاد العباد في فضل الجهاد
تأليف
العلامة الشيخ حسن بن إبراهيم البيطار الدمشقي (1206 هـ - 1272 هـ)
تحقيق وتعليق
محمد بن ناصر العجمي
ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم
دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে রমজানের শেষ দশকের বিশেষ মজলিস (১৪)
ইরশাদুল ইবাদ ফি ফাদলিল জিহাদ
রচনায়
আল্লামা শায়খ হাসান বিন ইবরাহিম আল-বাইতার আদ-দিমাশকি (১২০৬ হি. - ১২৭২ হি.)
গবেষণা-সম্পাদনা ও টীকাভাষ্য
মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি
হারামাইন শরিফাইনের কতিপয় পুণ্যবান ব্যক্তি ও তাঁদের শুভানুধ্যায়ীদের সৌজন্যে এটি মুদ্রিত
দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২)
جَميعُ الحُقُوقِ مَحْفُوظَةٌ
الطّبْعَةُ الأولى
1421 هـ - 2000 م
دَارُ البَشَائِر الإسْلَامِيَّة للطباعة والنشر والتوزيع
هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611
بيروت - لبنان ص. ب: 5955/ 14
e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়া মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা
টেলিফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১
বৈরুত - লেবানন, পি.ও বক্স: ৫৯৫৫/ ১৪
ই-মেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله خالق العباد، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله ذو الفضل والِإسعاد، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الداعي إلى أركان الإِسلام، والمُشيد لفريضة الجهاد، صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه أولي الجدِّ
والاجتهاد، صلاة دائمة إلى يوم التناد.
أمَّا بعد:
فهذه رسالة لطيفة، ونبذة شريفة، دَبجَتْها يراعةُ العلَاّمة المُسْنِد الشيخ حسن بن إبراهيم البيطار، في فضل الجهاد والحثِّ عليه، إِذْ هو عز الأُمة وعنوان فلاحها ورفعتها بين الأُمم، وبه ترفع الدَّرجات، وتُمحى السيئات، وتُكفَّر الخطيئات، وتُفتح أبواب الجنات، إلى غير ذلك من الفضائل التي لا تُضاهى، والخيرات التي لا تتناهى.
ولما كان العلَاّمة البيطار -وهو جدُّ الأُسرة العالمية المشهورة بدمشق الشَّام- لم يخرج له شيء من المصنفات، أحببت إحياء هذه الرسالة وإخراجها في ضمن لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام، سائلاً
المولى جلَّت قدرته أن يُعيد لهذه الأمة مجدها التليد وعزها الغابر المجيد، المُنعقد على عَقْدِ رايات الجهاد، والعمل بأركان الإِسلام وسائر تعاليمه، إنه ولي ذلك، القادر عليه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বান্দাদের স্রষ্টা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি অনুগ্রহ ও সৌভাগ্য দানকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি ইসলামের স্তম্ভসমূহের দিকে আহ্বানকারী এবং জিহাদের বিধানকে সুসংহতকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টাসম্পন্ন
ও সাধনায় মগ্ন সাহাবীগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, এমন রহমত যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
অতপর:
এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা এবং একটি অনন্য সারসংক্ষেপ, যা প্রখ্যাত আলেম ও মুসনিদ (المسند) শায়খ হাসান ইবনে ইব্রাহিম আল-বিতার এর লেখনী দ্বারা অলঙ্কৃত হয়েছে। এটি জিহাদের মর্যাদা এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান সংক্রান্ত। কেননা জিহাদ হলো উম্মাহর শক্তি এবং জাতিসমূহের মাঝে তার সফলতা ও উচ্চমর্যাদার স্মারক। এর মাধ্যমে মর্তবা উন্নত হয়, মন্দ কাজসমূহ দূরীভূত হয়, পাপরাশি মোচন করা হয় এবং জান্নাতের দ্বারসমূহ উন্মোচিত হয়। এছাড়াও এতে রয়েছে আরও অনেক অতুলনীয় ফজিলত এবং অগণিত কল্যাণ।
যেহেতু আল্লামা আল-বিতার—যিনি দামেস্কের সুপ্রসিদ্ধ আল-বিতার পরিবারের অন্যতম পূর্বপুরুষ—তাঁর কোনো সংকলিত গ্রন্থ ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়নি, তাই আমি এই পুস্তিকাটিকে পুনর্জীবিত করতে এবং মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত লিকা আল-আশর আল-আওয়াখির সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করে প্রকাশ করতে আগ্রহী হয়েছি। আমি
মহান প্রতিপালকের নিকট তাঁর সুমহান কুদরতের ওসিলায় প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই উম্মতকে তার প্রাচীন ঐতিহ্য এবং হারানো গৌরব ও সম্মান ফিরিয়ে দেন, যা জিহাদের পতাকা সমুন্নত রাখা এবং ইসলামের স্তম্ভসমূহ ও এর যাবতীয় শিক্ষার ওপর আমল করার সাথে সম্পৃক্ত। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وصف النسخة المعتمدة في إخراج هذه الرسالة:اعتمدت في تحقيقي لهذه الرسالة على نسخة في دار الكتب الظاهرية بدمشق المحمية تحت رقم (7166) (1)، وتقع في 16 ورقة، وعدد الأسطر فيها (15) سطرًا، وهي فيما يبدو بخط المُصنِّف، وقد وقع فيها بعض الأخطاء اليسيرة نبهت على بعضها.
وقمت بالتعليق عليها وتخريج ما فيها من الأحاديث وعزوها إلى مصادرها، وهذ الرسالة كما يتضح من سياقها خطبة في الحث على الجهاد والتنبيه على فضله.
أسأل الله التوفيق لما يُحب ويرضى، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيد ولد آدم وعلى آله وصحبه أجمعين.
محمد بن ناضف العجمي
--------------------------------------------
এই পুস্তিকাটি প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:এই পুস্তিকাটি সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমি দামেস্কের ‘দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়্যাহ’-তে সংরক্ষিত ৭১৬৬ (১) নম্বর পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এটি ১৬টি পত্র সংবলিত এবং এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৫টি করে লাইন রয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি দৃশ্যত লেখকের নিজ হস্তলিপিতে লিখিত। এতে কিছু সামান্য ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, যার কয়েকটির ব্যাপারে আমি সতর্ক করেছি।
আমি এই পাণ্ডুলিপির ওপর টীকা প্রদান করেছি এবং এতে বিদ্যমান হাদিসগুলোর উৎসনির্দেশ (تخريج) ও সেগুলোকে মূল উৎসগ্রন্থের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি। এই পুস্তিকাটি, যেমনটি এর প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট হয়, জিহাদের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সচেতন করার ওপর একটি ভাষণ।
আমি আল্লাহর নিকট সেই সব কাজের তাওফিক প্রার্থনা করছি যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক আদম সন্তানদের সর্দার এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
মুহাম্মদ ইবনে নাদিফ আল-আজমি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة المؤلف (1)
خير من يترجم للعالم ابنه خصوصًا إذا كان عالمًا مؤرخًا، وصاحبنا الشيخ حسن البيطار ترجم له ابنه العلَاّمة عبد الرزاق البيطار فهو يقول: الشيخ حسن بن إبراهيم بن حسن بن محمَّد بن حسن ابن إبراهيم بن عبد الله الشهير بالبيطار الشافعي الدِّمشقي ولادة وقراءة، الميداني إقامة ومدفنًا، الوالد
الأعظم، والسيد الأفخم والأكرم، والعالم النحرير، والمدقق الخبير، شافعي زمانه، وألمعي أوانه، الجامع بين العلوم العقلية والنقلية، والمقتدي بالكتاب العزيز والسُّنَة المُحمديَّة، بحر العلوم والمعارف، الشَّارب من أطيب مناهل العرفان واللطائف، الآخذ بعزائم العبادة، والجاعل التقوى إلى الآخرة زاده، النقي الصَّالح، والزَّاهد التَّقي العابد الناجح، من أطبق النَّاس على فضله، واقتدى العموم بصدق قوله وفعله،
--------------------------------------------
লেখকের জীবনী (১)
একজন আলেমের জীবনী রচনার জন্য তার সন্তানই সর্বোত্তম ব্যক্তি, বিশেষ করে যদি তিনি একজন আলেম ও ঐতিহাসিক হন। আমাদের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব শায়খ হাসান আল-বিতার-এর জীবনী তার পুত্র আল্লামা আবদুর রাজ্জাক আল-বিতার রচনা করেছেন। তিনি বলেন: শায়খ হাসান ইবনে ইবরাহিম ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ, যিনি আল-বিতার নামে প্রসিদ্ধ; তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং জন্ম ও শিক্ষাগ্রহণের দিক থেকে দামেশকি, আর বসবাস ও সমাধিস্থ হওয়ার বিচারে মাইদানি। তিনি ছিলেন
মহান পিতা, অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাবান নেতা, বিজ্ঞ পণ্ডিত এবং অভিজ্ঞ সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, স্বীয় যুগের শ্রেষ্ঠ শাফেয়ী ফকিহ এবং নিজ সময়ের প্রখর মেধাবী ব্যক্তিত্ব। তিনি যৌক্তিক ও বর্ণিত উভয় বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও মুহাম্মাদি সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সমুদ্র এবং মারিফত ও আধ্যাত্মিক সুধার নির্মল প্রস্রবণ থেকে পানকারী ছিলেন। তিনি ইবাদতের কঠিন সংকল্প গ্রহণকারী এবং তাকওয়াকে আখেরাতের পাথেয় হিসেবে গ্রহণকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পবিত্র, নেককার (صالح), দুনিয়াবিমুখ (زاهد), খোদাভীরু (تقي) এবং সফল ইবাদতগুজার (عابد)। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সকল মানুষ ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ তাঁর কথা ও কাজের সত্যতার অনুসরণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
إن نطق رأيت البيان مُتسربًا من لسانه، وأدركت من بيانه تمام عرفانه، حوى الكمالات وحازها، وتحقق حقائق العلوم ومجازها، فالفضل حشو إبراده، والنُّبل تلو إصداره وإيراده، مع نفس عذبت صفاء، وشيمة ملئت وفاء، ومذهب صفا صفاء التِّبر، وخَلَصَ من شوائب الخيلاء والكبر، وسعَى لكل نُجح، واستوى على ذروة التحصيل والربح، وأدبٍ زرت على صدر السُّنَّة جيوبه؛ وهبَّت بعرف النفس المطمئنة صَبَاه وجنوبه.
وُلد رضي الله تعالى عنه أثناء سنة ست ومائتين وألف، وشبَّ في حِجْر والده، ويد العناية والرعاية تجذبه إلى أسنى مقاصده، وحينما بلغ سن التمييز؛ وجهه والده لتعليم القرآن العزيز، عند الفاضل الكامل، والعالم العامل، الشيخ فتح الله أفندي فقرأ القرآن، ثُمَّ حفظه على تمام الِإتقان، إلى أن صار يعتمد عليه فيه، ويطلب منه ما استتر من مشكلاته وخوافيه، وكان مواظبًا على تلاوة آياته، في غالب أوقاته، وتفقه على علامة وقته الشيخ صالح الزَّجاج، والشيخ حسن العطار المصري الأَزهري، والشيخ عبد الله الكردي، وغيرهم مما هو مذكور في "ثبته"، وقرأ كثيراً من العلوم الآلية والشَّرعية، على من تقدم وعلى سادة ذوي مقامات علية، وشهرة سنية، منهم الشيخ عبد الرحمن الكُزْبري، والشيخ حامد العطّار، والشيخ نجيب القلعي، والشيخ عبد الرسول المكي، والشيخ عمر المجتهد، والشيخ عبد الغني السَّقطي، وغيرهم من العلماء الأعلام، والفُضلاء الكرام، ولا زال يترقى في مدارج العلوم، حتى استوى على عرش المنطوق منها والمفهوم، ويُشار بحل المشكلات إليه، ويعتمد في عويصات المسائل عليه، واعترف له مشايخه بالِإجادة، وألزموه بالتدريس والِإفادة.
যখন তিনি কথা বলতেন, তখন তাঁর জবান থেকে বাগ্মিতা বিচ্ছুরিত হতো এবং তাঁর বর্ণনাভঙ্গি থেকে তাঁর পূর্ণ আধ্যাত্মিক জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যেত। তিনি সকল শ্রেষ্ঠত্বকে আয়ত্ত করেছিলেন এবং ইলমের প্রকৃত ও রূপক হাকিকতসমূহ অর্জন করেছিলেন। ফজিলত ছিল তাঁর ভূষণ, আর আভিজাত্য ছিল তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর আত্মা ছিল নির্মল ও পবিত্র এবং স্বভাব ছিল বিশ্বস্ততায় পরিপূর্ণ। তাঁর কর্মপন্থা ছিল স্বর্ণের ন্যায় বিশুদ্ধ এবং তা দম্ভ ও অহংকারের কলুষতা থেকে মুক্ত ছিল। তিনি সকল সফলতার জন্য সচেষ্ট ছিলেন এবং জ্ঞান আহরণ ও সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন। তাঁর শিষ্টাচার সুন্নাহর আদর্শকে সুশোভিত করেছিল এবং তাঁর প্রশান্ত আত্মার সুবাসে পূর্ব ও দক্ষিণের বাতাস হিল্লোলিত হতো।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বারো শত ছয় হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং পিতার তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। ঐশ্বরিক করুণা ও যত্নের ছায়া তাঁকে তাঁর সুউচ্চ লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করছিল। যখন তিনি বুঝমান হওয়ার বয়সে (سن التمييز) পৌঁছান, তখন তাঁর পিতা তাঁকে পবিত্র কুরআন শিক্ষার জন্য বিজ্ঞ-বিচক্ষণ ও আমলদার আলিম শায়খ ফাতহুল্লাহ আফেন্দির নিকট প্রেরণ করেন। তিনি সেখানে কুরআন পাঠ করেন এবং অত্যন্ত নিপুণতার (إتقان) সাথে তা হিফজ করেন। একপর্যায়ে কুরআনের বিষয়ে তাঁর ওপর নির্ভর করা হতো এবং এর জটিল ও গূঢ় বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হতো। তিনি অধিকাংশ সময় কুরআনের আয়াত তিলাওয়াতে মগ্ন থাকতেন। তিনি তাঁর সমসাময়িক প্রখ্যাত আল্লামা শায়খ সালিহ আজ-জাজ্জাজ, শায়খ হাসান আল-আত্তার আল-মিসরি আল-আযহারি, শায়খ আবদুল্লাহ আল-কুর্দি এবং অন্যান্যদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, যাদের নাম তাঁর সনদ-সংগ্রহ বা 'সাবাত' (ثبت)-এ বর্ণিত আছে। তিনি পূর্বোক্ত আলিমগণ এবং উচ্চ মর্যাদা ও সুউচ্চ খ্যাতির অধিকারী বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের নিকট অনেক সহায়ক ও শরয়ি জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ আবদুর রহমান আল-কুজবারি, শায়খ হামিদ আল-আত্তার, শায়খ নাজিব আল-কালা’ই, শায়খ আবদুর রাসুল আল-মাক্কি, শায়খ উমর আল-মুজতাহিদ, শায়খ আবদুল গনি আস-সাকতি এবং অন্যান্য প্রখ্যাত ও সম্মানিত উলামায়ে কিরাম। তিনি ইলমের সোপানগুলোতে উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করতে থাকেন, যতক্ষণ না তিনি শাস্ত্রের সুস্পষ্ট পাঠ (منطوق) ও অন্তর্নিহিত মর্মার্থ (مفهوم) উভয় প্রকার জ্ঞানের সিংহাসনে সমাসীন হন। যে কোনো জটিল সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর দিকেই ইঙ্গিত করা হতো এবং দুরূহ মাসয়ালাসমূহে তাঁর ওপরই নির্ভর করা হতো। তাঁর উস্তাদগণ তাঁর পারদর্শিতা (إجادة) স্বীকার করে নেন এবং তাঁকে অধ্যাপনা ও জ্ঞান বিতরণের দায়িত্ব প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ولما بلغ من العمر ثلاثين، طلبه أعيان أهل الميدان للقيام بوظائف الِإمامة والخطبة والتدريس والتعليم في جامع كريم الدِّين (1)، فتمنع جهده، وأظهر أن مطلوبهم ليس عنده، فاستعانوا عليه بشيوخه، واجتهدوا في طلبهم له لما يعلمون من تمكنه في العلم ورسوخه، فأجاب دعوة شيوخه في الحال، وقابل الأمر بالامتثال، وانتقل بعياله ومتاعه إلى الميدان، سنة ألف ومائتين وست وثلاثين، وكان لهم به من الحظوة والسرور ما كان، فانقاد له الكبير والصغير، وأحبه الجليل والحقير، وقدموه على الملك والمال، والأهل والعيال، وكان هو لهم بمنزلة الوالد والشقيق، والرفيق الرَّقيق، يُجل كبيرهم، ويرحم صغيرهم، ويعظهم بما ينفع، ويذب عنهم الأذى جهده ويدفع.
ومما وقع له من الأمور الغريبة، والحوادث النادرة العجيبة، أنه في سنة اثنتين وستين ومائتين وألف في رمضان، كان جالسًا في حجرته قُبيل الزوال يتدارس القرآن مع أحد أولاده، إذ جاءه رسول القاضي فقال له: إنّ القاضي يرومك فبادر لمراده، فقام ممتثلاً، وللِإجابة مستعجلاً، فلما دخل عليه، نظر القاضي بعين المقت إليه، وقال له: أنت الذي قد استملت الناس إليك، حتى صاروا لا يعتمدون في مصالحهم إلَاّ عليك، وأن
--------------------------------------------
যখন তাঁর বয়স ত্রিশ বছর পূর্ণ হলো, তখন আল-মাইদান অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁকে জামে করিমুদ্দিন (১) মসজিদে ইমামতি (الإمامة), খুতবা (الخطبة), অধ্যাপনা (التدريس) ও শিক্ষাদানের (التعليم) দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ জানালেন। তিনি যথাসাধ্য অসম্মতি জানালেন এবং প্রকাশ করলেন যে, তাঁরা যা খুঁজছেন (যোগ্যতা) তা তাঁর মাঝে নেই। অতঃপর তাঁরা তাঁর উস্তাদদের (شيوخه) শরণাপন্ন হলেন এবং তাঁকে রাজি করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেন; কারণ তাঁরা ইলমের প্রতি তাঁর পূর্ণ দখল ও পাণ্ডিত্য (رسوخه) সম্পর্কে জানতেন। ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর উস্তাদদের (شيوخه) আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং এই নির্দেশটি আনুগত্যের সাথে গ্রহণ করলেন। তিনি ১২৩৬ হিজরী সনে সপরিবারে ও যাবতীয় আসবাবপত্রসহ আল-মাইদান এলাকায় স্থানান্তরিত হলেন। সেখানে তাঁকে পেয়ে সাধারণ মানুষের আনন্দ ও সৌভাগ্যের সীমা রইল না। ছোট-বড় সবাই তাঁর অনুগত হয়ে গেল এবং সমাজের গণ্যমান্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই তাঁকে ভালোবাসতে লাগল। এমনকি তারা তাঁকে রাষ্ট্রক্ষমতা, সম্পদ, পরিবার ও সন্তান-সন্ততির চেয়েও বেশি প্রাধান্য দিতে লাগল। তিনি তাঁদের কাছে ছিলেন একজন স্নেহময় পিতা, সহোদর ভাই এবং এক কোমল হৃদয়ের বন্ধুর মতো। তিনি তাঁদের বড়দের শ্রদ্ধা করতেন, ছোটদের স্নেহ করতেন, তাঁদেরকে উপকারী নসীহত প্রদান করতেন এবং সাধ্যমতো তাঁদের থেকে যে কোনো কষ্টদায়ক বিষয় প্রতিহত ও দূর করতেন।
তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া বিস্ময়কর ও বিরল ঘটনাসমূহের মধ্যে একটি হলো—১২৬২ হিজরী সনের রমজান মাসের এক দিন, দ্বিপ্রহরের কিছুক্ষণ আগে তিনি তাঁর কামরায় বসে তাঁর এক সন্তানের সাথে কুরআন অধ্যয়ন করছিলেন। এমন সময় বিচারকের পক্ষ থেকে একজন দূত এসে তাঁকে বলল: "বিচারক আপনাকে তলব করেছেন, তাই অবিলম্বে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সেখানে উপস্থিত হোন।" তিনি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালেন এবং আদেশ পালনের জন্য দ্রুত রওনা হলেন। যখন তিনি তাঁর সামনে প্রবেশ করলেন, বিচারক অত্যন্ত ঘৃণার (المقت) দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন: "আপনিই কি সেই ব্যক্তি, যিনি মানুষদেরকে নিজের দিকে এমনভাবে আকৃষ্ট করেছেন যে, এখন তারা তাদের কোনো প্রয়োজনে আপনি ছাড়া আর কারো ওপর নির্ভর করে না? এবং..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
السلطان قد وجه حاكمًا لمصالح العباد، وأنت قد حُلْتَ بيننا وبينها وهذا عدوان وفساد، وما زال يقرعه هو وأهل المحكمة، وينسبون إليه كل مفسدة ومظلمة، إلى أن أمر القاضي بحبسه في حبس الأشقياء الطغام، وقال له هذا جزاء من يتعرض لمصالح الحُكَّام، ولم يصغ لقوله ولا لاعتذاره، بل كلما بالغ في تلطيفه بالغ في إنذاره، فاستدار حوله الأَعوان، وأخذوه إلى الحبس وأسلموه للسجان، فدخل السجن وهو راض بالقدر، ليس في قلبه تغير ولا كدر، وجلس يتلو القرآن، وأهله وأولاده وعائلته
ليس لهم خبر بهذا الطغيان، فما أذن العصر، إلَاّ وقد شاع هذا الأمر، فقام الناس على ساق، وأظهروا حالة الخلاف والشقاق، ورعدت رعود الفتنة وسال سيلها، وانسحب على بهجة الأمن والركون ذيلها، وسدت الطرق من ورود الأَفواج، حتى لم يبق لسالك من مسلك ولا لناهج من منهاج،
وكل إنسان متقلد بأنواع السِّلاح، لا يصغي لعاذل ولا لاح، وكل من القاضي وأعوانه خَالَ أنه بلغ مطلوبه، ونال من هذا الفاضل مرامه ومرغوبه، وأنه قد أدب فيه سواه، وجعله هدفًا لسهام من عداه، فلما صار الغروب توجه الناس لنصرة الدِّين أفواجًا، جاعلين ذلك لرضى مولاهم منهاجًا، فلما سمع القاضي بذلك، علم أنه أوقع نفسه بالمعاطب والمهالك، فندم حين لا ينفعه الندم، وفهم أن ما صنعه زلة قدم، فبادر للتوقع على السادات الأكابر، وهم يقولون له أنت متعنت مكابر، قد فتحت علينا للشر بابًا أي باب، وسلكت سبيل الغي وأخطأت طريق الصواب، أظننت أنه بسبب فعلك هان، وأنه لا ينتطح له كبشان، فانظر ما وقع من سوء فعلك، والله يعلم ما يحصل لك وللناس من أجلك، فقال: لقد أغراني أعواني، وألقوني في أودية ذلي وهواني، وقالوا لا تخش من
সুলতান জনগণের কল্যাণের তদারকির জন্য একজন শাসক নিযুক্ত করেছিলেন, কিন্তু আপনি আমাদের ও সেই কল্যাণের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন; আর এটি হলো সীমালঙ্ঘন ও ফাসাদ। তিনি এবং আদালতের লোকেরা তাকে ক্রমাগত ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং সকল অনিষ্ট ও জুলুমের দায় তার ওপর আরোপ করতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত বিচারক তাকে পাপিষ্ঠ ও নীচ লোকদের কারাগারে বন্দী করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে বললেন, “শাসকদের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করলে এই প্রতিদানই পেতে হয়।” বিচারক তার কোনো কথা বা ওজর-আপত্তিতে কর্ণপাত করলেন না; বরং তিনি যতবারই নম্রতা প্রদর্শন করলেন, বিচারক ততবারই তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করলেন। অতঃপর প্রহরীরা তাকে ঘিরে ধরল এবং কারাগারে নিয়ে কারারক্ষীর কাছে সোপর্দ করল। তিনি তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট চিত্তে কারাগারে প্রবেশ করলেন; তার অন্তরে কোনো বিচ্যুতি বা মালিন্য ছিল না। তিনি বসে কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগলেন। তার পরিবার, সন্তান-সন্ততি এবং আত্মীয়-স্বজন—
এই চরম অত্যাচার সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। আসরের আযান হতে না হতেই এই সংবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল। অমনি মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ল এবং তাদের চরম অসন্তোষ ও বিরোধিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাল। ফিতনার মেঘ গর্জন করে উঠল এবং এর সয়লাব বয়ে চলল, যা শান্তি ও স্থিরতার সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিল। চারদিক থেকে আসা জনস্রোতের কারণে পথঘাট এমনভাবে রুদ্ধ হয়ে গেল যে, পথিকদের চলাচলের জন্য কোনো গলি বা পথই অবশিষ্ট রইল না।
প্রত্যেক ব্যক্তিই বিভিন্ন প্রকার অস্ত্রে সজ্জিত ছিল এবং তারা কোনো তিরস্কারকারী বা নিন্দুকের কথায় কান দিচ্ছিল না। এদিকে বিচারক ও তার সহযোগীরা মনে করেছিল যে, তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করেছে এবং এই গুণী ব্যক্তির ওপর নিজেদের কাম্য ও অভিপ্রায় চরিতার্থ করতে পেরেছে। তারা ভেবেছিল এর মাধ্যমে অন্যদের শিক্ষা দেওয়া গেছে এবং তাকে শত্রুদের তীরের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। যখন সূর্যাস্ত হলো, তখন মানুষ দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য দলে দলে অগ্রসর হলো এবং একে তাদের মাওলার সন্তুষ্টির পথ হিসেবে গ্রহণ করল। বিচারক যখন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শুনলেন, তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, তিনি নিজেকে ধ্বংস ও বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তখন তিনি এমন সময়ে অনুতপ্ত হলেন যখন অনুশোচনা কোনো উপকারে আসে না এবং উপলব্ধি করলেন যে, তার এই কাজ ছিল একটি বড় ধরনের পদস্খলন। অতঃপর তিনি তড়িঘড়ি করে বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের শরণাপন্ন হলেন। তারা তাকে বলতে লাগলেন, “তুমি একজন হঠকারী ও অহংকারী; তুমি আমাদের ওপর অনিষ্টের এক বিরাট দ্বার উন্মোচন করেছ। তুমি গোমরাহির পথ অবলম্বন করেছ এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছ। তুমি কি ভেবেছিলে যে তোমার এই কাজের কারণে সে লাঞ্ছিত হবে এবং এ নিয়ে কোনো প্রতিবাদ হবে না? এখন দেখ তোমার মন্দ কাজের পরিণাম কী দাঁড়িয়েছে; আল্লাহই ভালো জানেন তোমার কারণে তোমার ও জনগণের ওপর কী বিপদ নেমে আসে।” সে বলল, “আমার সহযোগীরা আমাকে প্ররোচিত করেছে এবং আমাকে লাঞ্ছনা ও অপমানের গহ্বরে নিক্ষেপ করেছে। তারা বলেছিল যে, তুমি ভয় পেয়ো না...”
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
تأديبه لأنه رجل حقير، لا يَسأل عنه كبير ولا صغير، وإني الآن قد اعترفت بذنبي، وتبت إلى مولاي وربي، فأحضروه لأعتذر إليه، وأُقبل رأسه ويديه، وها أنا ذا الآن لأمره مطيع، وعندكم في كف هذا الأمر وقيع، فعند ذلك اجتمع العلماء والأعيان، وتوجهوا وأمامهم نقيب الأشراف السيد أحمد أفندي العجلاني لِإخراج المترجم من السجن بالعظمة والشأن، فحينما دخلوا عليه، وقدموا جميل العبارات إليه، وطلبوا منه أن يعفو عن ظالمه، وأن يقابله بمراحمه، فقال: أنا ما جرى لي ذلك إلَاّ بذنب اقترفته، وإن كنت ما تذكرته ولا عرفته، ونسأل الله أن يعفو عنا، ويقبل صالح الأعمال منا، ثُمَّ ساروا جميعًا إلى دار النقيب، فحينما رآه القاضي بادره بالترحيب، وأبدى اعتذاره لديه، وعانقه وقبل يديه، ثُمَّ رجع إلى مكانه ومعه من الناس ألوف كثيرة، ولا زالوا يطلقون البارود بين يديه ويلعبون بالسيوف والسنان إلى أن وصلوا به إلى داره الشهيرة، ولم يمض بعد ذلك مدة أيام، إلَاّ وأباد الله ذلك القاضي وأعوانه وأدار عليهم كؤوس الحِمام.
ثُمَّ إنه في آخر شعبان سنة ثلاث وستين ومائتين وألف قد حضر من السُّلطان المغازي عبد المجيد، مرسوم سنين يأمر فيه بدعوة الوالد المترجم والشيخ عبد الرحمن الطيبي إلى الآستانة ويؤكد غاية التأكيد، فأحضرهما حضرة الوالي صفوتي باشا بالتعظيم وأخبرهما بما كان، وأعلمهما بأن السفر قد تعين ثامن رمضان، فتوجها على نفقة الملك الجليل، بكل إكرام وتعظيم وتبجيل، إلى أن دخلا القسطنطينية، دار المملكة السَّنية، فنزل كل منهما في مكان، ولاحظتهما عين الرفعة والِإحسان، وكانت مشيخة الإِسلام إذ ذاك لحضرة من تصرف من حين شبيبته بدراسة المعارف،
তাকে শাসন করা উচিত কারণ সে একজন নগণ্য ব্যক্তি, যার সম্পর্কে কোনো বড় বা ছোট কেউ কোনো পরোয়া করে না। আমি এখন আমার অপরাধ স্বীকার করছি এবং আমার রব ও মাওলার কাছে তওবা করছি। অতএব তাকে নিয়ে আসা হোক যাতে আমি তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারি এবং তার মস্তক ও হস্তদ্বয় চুম্বন করতে পারি। আমি এখন তার আদেশের অনুগত, আর আপনাদের নিকট এই বিষয়টি নিরসনের জন্য জামিনদার (وقيع) হিসেবে আছি। তখন ওলামা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হলেন এবং নকিব আল-আশরাফ সৈয়দ আহমদ এফেন্দি আল-আজলানি তাদের সম্মুখে থেকে পূর্ণ মর্যাদা ও শানের সাথে জীবনীতে আলোচিত ব্যক্তিত্বকে (المترجم) কারাগার থেকে মুক্ত করতে অগ্রসর হলেন। যখন তারা তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং তার প্রতি চমৎকার সব বাক্যালাপ পেশ করলেন এবং তার কাছে আবেদন করলেন যেন তিনি তার প্রতি জুলুমকারীর প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করেন ও তাকে অনুগ্রহের দৃষ্টিতে দেখেন, তখন তিনি বললেন: আমার সাথে এমনটি ঘটত না যদি না আমি কোনো পাপ (ذنب) করতাম, যদিও আমি তা স্মরণ করতে পারছি না বা জানি না। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ক্ষমা করেন এবং আমাদের নেক আমলসমূহ কবুল করেন। অতঃপর তারা সকলে নকিবের বাসভবনের দিকে যাত্রা করলেন। বিচারক (قاضي) যখন তাকে দেখলেন, তৎক্ষণাৎ তাকে স্বাগতম জানালেন এবং তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। তিনি তাকে আলিঙ্গন করলেন এবং তার হস্তদ্বয় চুম্বন করলেন। এরপর তিনি স্বীয় অবস্থানে ফিরে এলেন এবং তার সাথে হাজার হাজার মানুষ ছিল। তারা ক্রমাগত তার সামনে বারুদ (বন্দুক) ছুড়ছিল এবং তলোয়ার ও বল্লম নিয়ে ক্রীড়া প্রদর্শন করছিল, যতক্ষণ না তারা তাকে তার বিখ্যাত বাসভবনে পৌঁছে দিল। এরপর মাত্র কয়েক দিন অতিবাহিত হয়েছিল, যখন আল্লাহ সেই বিচারক (قاضي) ও তার সহযোগীদের ধ্বংস করে দিলেন এবং তাদের ওপর মৃত্যুর পেয়ালা আবর্তন করালেন।
অতঃপর ১২৬৩ হিজরি সনের শাবান মাসের শেষ দিকে সুলতান গাজি আব্দুল মজিদের পক্ষ থেকে একটি রাজকীয় ফরমান আসলো, যাতে তিনি এই জীবনীতে আলোচিত ব্যক্তিত্বের (المترجم) পিতা এবং শায়খ আব্দুর রহমান আত-তাইয়িবিকে আস্তানায় (ইস্তাম্বুল) আসার নির্দেশ প্রদান করেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জোর দেন। গভর্নর সাফওয়াত পাশা তাদের অত্যন্ত সম্মানের সাথে উপস্থিত করলেন এবং যা ঘটেছে তা অবহিত করলেন। তিনি তাদের জানালেন যে রমজানের আট তারিখে সফরের সময় নির্ধারিত হয়েছে। মহান বাদশাহর রাজকীয় খরচে তারা অত্যন্ত সম্মান, মর্যাদা ও মহিমার সাথে রওনা হলেন, যতক্ষণ না তারা কনস্টান্টিনোপলে তথা সালতানাতের সুমহান রাজধানীতে প্রবেশ করলেন। তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে অবস্থান নিলেন এবং উচ্চ মর্যাদা ও মহানুভবতার দৃষ্টি তাদের ওপর নিবদ্ধ ছিল। সেই সময়ে শায়খুল ইসলাম (مشيخة الإسلام) পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি তার যৌবনকাল থেকেই জ্ঞানচর্চায় ব্যাপৃত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وإفاضة العوارف، وكلف بالعلم حتى صار ملهج لسانه، وروضة أجفانه، السيد أحمد عارف حكمت بيك، فكان لوالدي منه الالتفات الوافر، والميل المتكاثر، وكان يكثر بينهم البحث والحديث، خصوصًا فيما يتعلق بالتفسير والحديث، فذلك كان مُقدمًا عنده على ما سواه، وملحوظًا بعين عنايته ورضاه، وكل منهما أخذ عن الآخر وأجازه، وأسمعه حديث الأولية وذكر معناه وحقيقته ومجازه، وقد مدح الأُستاذ الأعظم، شيخُ الإِسلام والمسلمين الأكرم، والدي بهذه الأبيات على الارتجال، من غير إمهال، هي:
يا قلب أبشر بما ترجوه من منن
… فقد حظيت بشهم كامل فطن
حليف علم إمام سيد ثقة
… أخلاقه الشم قدجاءت على سَنن
فقلت للقلب هذا ما تؤمله
… لقد بلغت المُنى والأُنس من حسن
فأجابه سيدي الوالد حفظه الله، وأحسن مثواه، بقوله:
شمس المعارف تغنينا عن السَّرج
… ومنهج الفضل لا يخفى لمن يلج
وطالع السعد لا يعروه كاسفة
… وعارف الدهر محفوظ من العوج
شيخ الأنام الذي طابت مآثره
… بحر الكمالات ذو الأمواج واللجج
فرع النبوة وصف الحسن لابسه
… فنوره ظاهر في وجهه البهج
شهمٌ هُمام وللمختار نسبته
… فيا لها نسبة تسمو لمبتهج
رب المعارف والأبحاثُ شاهدة
… بكونه عارفًا حثًّا بلا حرج
طود من العلم والِإحسان جمله
… حلم به قد سما الأسمى من الدرج
بشرى لنا معشر الِإسلام إن لنا
… من فضله نظرة تُدني من الفرج
يا مبتغي العلم لذ إن رُمت ري صدى
… بمنهل بفنون العلم مبتهج
এবং প্রজ্ঞার প্রাচুর্য দানকারী, যিনি জ্ঞানের প্রতি এতই অনুরাগী ছিলেন যে জ্ঞানচর্চা তাঁর রসনার প্রধান অনুষঙ্গ এবং তাঁর নয়নের প্রশান্তি হয়ে উঠেছিল—তিনি হলেন সাইয়্যিদ আহমদ আরিফ হিকমত বেগ। আমার পিতার প্রতি তাঁর অগাধ মনোযোগ এবং গভীর অনুরাগ ছিল। তাঁদের উভয়ের মধ্যে প্রায়শই বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা ও আলোচনা চলত, বিশেষ করে তাফসির ও হাদিস সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। তাঁর নিকট এই বিষয়গুলো অন্য সবকিছুর তুলনায় অগ্রাধিকার পেত এবং তাঁর বিশেষ যত্ন ও সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে পর্যালোচিত হতো। তাঁদের প্রত্যেকেই একে অপরের নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন এবং একে অপরকে অনুমতি (إجازة) দিয়েছেন। তিনি তাঁকে 'হাদিসুল আউয়্যালিয়া' শ্রবণ করিয়েছেন এবং এর অর্থ, প্রকৃত স্বরূপ (حقيقة) ও রূপক (مجاز) ব্যাখ্যা করেছেন। মহান উস্তাদ, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ, কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে আমার পিতাকে প্রশংসা করে নিম্নোক্ত কবিতাগুলো পাঠ করেছেন:
হে অন্তর! তুমি যা আশা করেছিলে সে নিয়ামতের সুসংবাদ গ্রহণ করো;
… কারণ তুমি একজন পূর্ণাঙ্গ ও প্রজ্ঞাবান বীরের সান্নিধ্য লাভ করেছ।
তিনি জ্ঞানের সহচর, ইমাম, সাইয়্যিদ এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة);
… তাঁর সুমহান চরিত্রসমূহ নববী আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আমি অন্তরকে বললাম, এটাই তো তোমার আকাঙ্ক্ষা ছিল;
… তুমি হাসানের সান্নিধ্যে নিজের মনোবাসনা ও প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছ।
অতঃপর আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন এবং তাঁর আবাসস্থলকে সুন্দর করুন) এর উত্তরে বললেন:
প্রজ্ঞার সূর্য আমাদের প্রদীপের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত করে দেয়;
… আর শ্রেষ্ঠত্বের পথ তার কাছে অস্পষ্ট থাকে না যে তাতে প্রবেশ করে।
সৌভাগ্যের উদিত নক্ষত্র কখনো গ্রহণ দ্বারা আচ্ছন্ন হয় না;
… আর যুগের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী সর্বদা বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষিত থাকেন।
তিনি সৃষ্টির শিক্ষক, যাঁর পুণ্যস্মৃতিগুলো অত্যন্ত পবিত্র;
… তিনি পূর্ণতার এক সমুদ্র, যা তরঙ্গমালা ও গভীরতায় আচ্ছন্ন।
তিনি নবুয়তের বংশধর, সৌন্দর্য যাঁর ভূষণ;
… তাঁর প্রদীপ্ত চেহারায় সেই নূর সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত।
তিনি একজন সাহসী ও মহান ব্যক্তি, যাঁর বংশধারা রাসুলুল্লাহ-এর সাথে সম্পৃক্ত;
… কতই না মহিমান্বিত সেই বংশ মর্যাদা, যা সৌভাগ্যবান ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
তিনি প্রজ্ঞার অধিপতি, আর বিভিন্ন গবেষণা ও আলোচনা এর সাক্ষী যে,
… তিনি কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই একজন প্রকৃত জ্ঞানী।
তিনি জ্ঞানের এক সুউচ্চ পর্বত, যাকে ইহসান সুশোভিত করেছে;
… তাঁর সহনশীলতার মাধ্যমে তিনি উচ্চতর মর্যাদায় আসীন হয়েছেন।
হে মুসলিম সম্প্রদায়! আমাদের জন্য সুসংবাদ, কেননা তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি
… এমন এক কৃপাদৃষ্টি রয়েছে যা মুক্তিকে নিকটবর্তী করে দেয়।
হে জ্ঞানপিপাসু! যদি তুমি তৃষ্ণা মেটাতে চাও, তবে আশ্রয় নাও
… জ্ঞানের বিবিধ শাখায় প্রদীপ্ত এই ঝরনাধারার।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
يا سائلي عن دليل الصدق في خبري
… شواهد الفضل لا تحتاج للحجج
فيمّم الركب وانزل روض ساحته
… واشمم شذا طيبه الفياح بالأرج
فمنصب المجد فيه حاز غايته
… وقد سعى نحوه بالصدق واللهج
وكوكب السعد مسعود بطلعته
… يلوح في ذروة الأفلاك بالبلج
ومن يقف بالحمى نودي بلغت مني
… هذا الغياث ففز بالبشر والفرج
فالله يحفظه من كل نازلة
… ممتعًا بسرور عنه لم يعج
ما نال كل المنى في مدحه حسن
… معطرًا من ثناه نفحة المُرُج
ثُمَّ إنه بعد تمام رمضان، قامت دواعي الأفراح من كلِّ زوجينِ اثنان، وذلك لختان جلالة السلطان مراد والسلطان عبد الحميد شبلي مولانا المعظم أمير المؤمنين السلطان عبد المجيد، وكان فراغ مواكب
الختان، ذوات العظمة والشأن، نهار الجمعة حادي وعشرين من شوال، سنة ثلاث وستين ومائتين وألف من هجرة محمَّد شمس الكمال.
ثم بعد الختان تكرر له الاجتماع بحضرة ذي العظمة والشأن، مولانا السلطان عبد المجيد خان، وعرضت عليه الدولة العلية إجراء معاش جزيل، فقال: لم يبق في العمر إلَاّ قليل.
ومن النَّوادر اللطيفة، والوقائع الظريفة، أني اجتمعت سنة ثمانين ومائتين وألف في مدينة غزة، بمفتيها حضرة الِإمام الفاضل، والعلَّامة الكامل، السيد محيي الدِّين أفندي الحُسيني، فكان من جملة المذاكرة أن
حكى لنا أنه بعد انفضاض موكب الختان شَرَّفَ حضرة تميمي أفندي مفتي مصر القاهرة إلى بلد الخليل، وكان طريقه على غزة، فنزل في دار محيي الدِّين أفندي المرقوم، فسأله عن سفره إلى الآستانة واجتماعه
হে আমার সংবাদের (خبر) সত্যতা (صدق) সম্পর্কে জিজ্ঞাসু
… শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শনসমূহের জন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
সুতরাং কাফেলার মুখ ফেরাও এবং তাঁর প্রাঙ্গণের উদ্যানে অবতরণ করো
… আর তাঁর সৌরভযুক্ত সুবাসের সুঘ্রাণ গ্রহণ করো।
মর্যাদার সুউচ্চ শিখর তাঁর মাঝে পূর্ণতা পেয়েছে
… আর তিনি সত্যতা (صدق) ও ঐকান্তিকতার সাথে সেই লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়েছেন।
সৌভাগ্যের নক্ষত্রটি তাঁর আবির্ভাবে ধন্য
… যা আকাশের সর্বোচ্চ শিখরে উজ্জ্বল শুভ্রতায় উদ্ভাসিত হচ্ছে।
আর যে ব্যক্তি এই সংরক্ষিত সীমানায় দাঁড়ায়, তাকে ডেকে বলা হয়: "তুমি তোমার আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছে গেছ"
… এই হলো সেই মহান সাহায্য, সুতরাং আনন্দ ও মুক্তি লাভ করো।
আল্লাহ তাঁকে প্রতিটি বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুন
… এবং তাঁকে এমন সুখে রাখুন যা তাঁর থেকে কখনো বিচ্যুত হবে না।
হাসান তাঁর প্রশংসায় সকল আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে পারেনি
… তাঁর প্রশংসা তৃণভূমির স্নিগ্ধ বাতাসের মতো সুবাসিত।
অতঃপর রমজান মাস সমাপ্ত হওয়ার পর, আনন্দের জোয়ার বইতে শুরু করল, আর তা ছিল মহামান্য সুলতান মুরাদ এবং সুলতান আব্দুল হামিদ শিবলীর খতনার অনুষ্ঠান উপলক্ষে, যাঁরা আমাদের মহান অধিপতি আমিরুল মুমিনীন সুলতান আব্দুল মাজিদের সন্তান। সেই মহিমান্বিত এবং উচ্চমর্যাদাপূর্ণ খতনার মিছিলের সমাপ্তি ঘটে
জুমাবার, শাউয়াল মাসের একুশ তারিখে, পূর্ণতার সূর্য মুহাম্মাদ (সা.)-এর হিজরতের এক হাজার দুইশত তেষট্টি সনে।
এরপর খতনার অনুষ্ঠানের পর, মহামান্য ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন আমাদের অধিপতি সুলতান আব্দুল মাজিদ খানের সাথে তাঁর বারবার সাক্ষাতের সুযোগ হয় এবং রাজদরবার থেকে তাঁর জন্য পর্যাপ্ত ভাতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তখন তিনি বলেন: "জীবনের আর অল্প সময়ই অবশিষ্ট আছে।"
চমৎকার কিছু দুর্লভ ঘটনা ও সুন্দর ঘটনাবলির মধ্যে একটি হলো—আমি এক হাজার দুইশত আশি হিজরি সনে গাজা শহরে সেই শহরের মুফতি, বিশিষ্ট ইমাম (إمام) ও পূর্ণাঙ্গ আল্লামা (علامة), সাইয়্যেদ মুহিউদ্দিন আফেন্দি আল-হুসাইনির সাথে সাক্ষাৎ করি। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি
আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন যে, খতনার মিছিল শেষ হওয়ার পর কায়রোর মুফতি তামিমি আফেন্দি খলিল শহরে যাওয়ার পথে গাজায় আসেন। তিনি উল্লিখিত মুহিউদ্দিন আফেন্দির বাড়িতে অবস্থান করেন। তখন তিনি তাঁকে তাঁর আস্তানা সফর এবং সুলতানের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
بالسلطان وعن موكب الختان، فحكى له إلى أن قال له: ولما دخلنا مجلس السلطان للاجتماع معه وكان المجلس في غاية الاتساع، فأخذ كل منا مجلسه والسلطان بعد لم يحضر، والحاضرون كل منهم لا يعرف الآخر، وكل منهم يظن أن الحاضرين على غير لغته، فضاق صدري لذلك ولم أدر ما أفعل، إلى أن رأيت إنسانًا عليه الهيبة والوقار، قد نظر إلى الخادم وقال: اسقني ماء مع أنه لم يرد ذلك، ولكن أراد أن يفتح للحاضرين باب معرفة في بعضهم مع بعض فعرفه الحاضرون بأنه عربي، فقمت إليه وقعدت بجانبه، وتكلمت معه، وعرف كل من الحاضرين من يفهم عليه، وانضم إليه، واشتغل كل منهم بالمذاكرة مع من يأنس به ويفهم لغته، وكان أصل ذلك هذا الِإنسان فاستسميته، فقال: أنا من
الشَّام، واسمي حسن البيطار وهو المترجم المذكور، واستسماني، ونلنا بعضنا مع بعض في هذا المجلس وبعده غاية الإنس والتهاني، ووجدته عالمًا فاضلاً، وشهمًا كاملاً، ومدح وأطنب، وأطال وأسهب. اهـ.
ولم يزل هذا المترجم في الآستانة مُعظمًا مُبجلًا، مُكرمًا مفضلاً، إلى أن حصل لهم الِإذن الشريف بالعود إلى الوطن، مقلدين قلائد الفضل والمنن، وكان يوم السفر من الاستانة يومًا مشهودًا، وموكبًا للاجتماع مقصودًا، اجتمع فيه للوداع السادات والأكابر، وذوو المراتب والمفاخر، وكان يوم في خوله إلى الشَّام يوم اجتماع وسرور، وهناء وحبور، كاد أن يقال: ما بقي في الشَّام إنسان، إلَاّ وقد خرج لاستقبال هذا الحبر المُصان، وكانت مدة سفره أربعة أشهر؛ لأنه بدأ السفر في ثامن رمضان سنة ألف ومائتين وثلاث وستين، وانتهى سفره ثامن محرم الحرام سنة أربع وستين.
وكان رضي الله عنه مُواظبًا على التَّهجد وصلاة الفجر في الوقت
সুলতান এবং খতনার শোভাযাত্রা সম্পর্কে তিনি বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন: যখন আমরা সুলতানের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে তাঁর মজলিসে প্রবেশ করলাম, যা ছিল অত্যন্ত প্রশস্ত, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করলাম। সুলতান তখনও উপস্থিত হননি। উপস্থিতদের মধ্যে কেউ কাউকে চিনত না এবং প্রত্যেকেই ধারণা করছিল যে অন্যরা হয়তো তাদের ভাষা জানে না। এতে আমি কিছুটা বিব্রত বোধ করছিলাম এবং কী করব বুঝতে পারছিলাম না। এমতাবস্থায় আমি গাম্ভীর্য ও মর্যাদাপূর্ণ এক ব্যক্তিকে দেখলাম। তিনি খাদেমের দিকে তাকিয়ে বললেন: "আমাকে পানি পান করাও", যদিও তাঁর পানির প্রয়োজন ছিল না; বরং তিনি চেয়েছিলেন উপস্থিতদের মাঝে একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে। তখন উপস্থিতরা বুঝতে পারলেন যে তিনি একজন আরব। আমি তাঁর কাছে গিয়ে পাশে বসলাম এবং তাঁর সাথে কথা বললাম। এভাবে উপস্থিতদের মধ্যে যারা যার ভাষা বুঝতে পারছিল, তারা পরস্পর পরিচিত হয়ে একে অপরের সাথে যুক্ত হলো এবং প্রত্যেকেই তাদের পরিচিত ও সমভাষীদের সাথে ইলমি আলোচনায় (المذاكرة) লিপ্ত হলো। এই সূচনার মূলে ছিলেন সেই ব্যক্তিটি। আমি তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমি শামের অধিবাসী এবং আমার নাম হাসান আল-বিিতার"—যিনি হচ্ছেন উল্লিখিত আলোচ্য ব্যক্তি (المترجم)। তিনি আমার নামও জানতে চাইলেন। সেই মজলিসে এবং তার পরবর্তী সময়ে আমাদের মাঝে অত্যন্ত হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমি তাঁকে একজন বিদগ্ধ পণ্ডিত ও পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পেয়েছি। তিনি তাঁর ভূয়সী প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। সমাপ্ত (اهـ)।
এই আলোচ্য ব্যক্তি (المترجم) আস্তানায় (ইস্তাম্বুল) অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাবান হিসেবে অবস্থান করতে থাকেন, যতক্ষণ না তাঁদের স্বদেশে ফেরার রাজকীয় অনুমতি লাভ হয়। তাঁরা তখন শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহের অলংকারে ভূষিত ছিলেন। আস্তানা থেকে তাঁর প্রস্থানের দিনটি ছিল এক জনবহুল ও স্মরণীয় দিন। সেই বিদায় অনুষ্ঠানে বহু সর্দার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং উচ্চপদস্থ মর্যাদাবান ও সম্মানিত ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁর শামে প্রত্যাবর্তনের দিনটি ছিল আনন্দ ও উৎসবের দিন। বলা যেতে পারে যে, শামের প্রতিটি মানুষই এই সংরক্ষিত মহা-বিদ্বানকে (الحبر) অভ্যর্থনা জানাতে বেরিয়ে এসেছিল। তাঁর এই সফরের সময়কাল ছিল চার মাস; কারণ তিনি ১২৬৩ হিজরি সালের ৮ই রমজান সফর শুরু করেন এবং ১২৬৪ হিজরি সালের ৮ই মহররম তাঁর সফর সমাপ্ত হয়।
তিনি (রা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদ পালন করতেন এবং সময়মতো ফজরের সালাত আদায়ের প্রতি যত্নবান ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأول، وبعد الصلاة له أوراد لا يبرح عنها في سفر ولا حضر، منها أوراد الصباح والمساء الواردة في السنة، فإنه كان يقرأها صباحًا ومساءً، ومنها أنه يقرأ في كل يوم من القرآن جزءًا، فيختم في كل ثلاثين يومًا القرآن بتمامه، وكان حسن الخُلق، يغلب عليه الزهد والِإعراض عن الدنيا، وكان إذا تصعب أمر بين الناس من حقوق وغيرها بمجرد حضوره وتكلمه فيه ينقضي أمره على أحسن حال، وذلك لصفاء نيته وحسن سريرته.
وفي سنة سبع وستين ومائتين وألف توجهت معه إلى الحجاز، وكانت هذه المرة له المرة الثالثة، ورأيت منه في السفر ما يدل على سُمو درجته، وكان له مع علماء الحجاز مذاكرات علمية، وأبحاث شريفة
سنية، وكانوا يشهدون له بالفضل.
ولو أردت أن أذكر في هذه الكتابة ما حواه من الشمائل وما لديه، لأفضى الأمر إلى قَصْرِ هذا الكتاب عليه، ولكن ما لا يذكر كله، لا يترك كله.
وفي ثاني وعشرين من شعبان سنة اثنتين وسبعين ومائتين وألف مرض في داء ذات الجنب، وفي ليلة رمضان سأل عن إثبات الشهر، فأخبرناه بإثباته فشرب في السحر ونوى، وأصبح يُعالج سكرات الموت، فوضع له بعض عياله نقطة ماء في فمه، ففتح عينيه ومسح فمه، وأمرهن بالِإشارة بعدم العود لمثل ذلك. ومات رضي الله عنه قبل الغروب بساعة ونصف، وكان آخر كلامه من الدنيا الذكر، وكان نزوله لرمسه مع قول المؤذن للمغرب الله أكبر، وقد حضر مشهد جنازته جمع عظيم، وعدد
جسيم، وما ترى منهم إلَاّ من دموعه ساكبة، وأحزانه متفاقمة دائبة، وأسفه متزايد، وزفيره متصاعد، وذلك كما تقدم في غرة رمضان سنة
প্রথমত, সালাতের পর তাঁর কিছু নিয়মিত আমল ছিল যা তিনি সফর কিংবা আবস্থান—কোনো অবস্থাতেই ত্যাগ করতেন না। এর মধ্যে সুন্নাহ (السنة)-এ বর্ণিত সকাল ও সন্ধ্যার দোয়া ও জিকিরসমূহ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা তিনি নিয়মিত সকাল এবং সন্ধ্যায় পাঠ করতেন। এছাড়া তিনি প্রতিদিন কুরআন মাজিদ থেকে এক জুজ (অংশ) তিলাওয়াত করতেন, এভাবে প্রতি ত্রিশ দিনে তিনি একবার পূর্ণ কুরআন খতম সম্পন্ন করতেন। তিনি অত্যন্ত সচ্চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর ওপর দুনিয়াবিমুখতা (الزهد) ও পার্থিব বিষয়ের প্রতি অনাসক্তি প্রবল ছিল। যখন মানুষের মধ্যে পাওনা বা অন্য কোনো বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতো, তখন কেবল তাঁর উপস্থিতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যেত। আর এটি ছিল তাঁর নিয়তের স্বচ্ছতা এবং অভ্যন্তরীণ পবিত্রতারই ফল।
১২৬৭ হিজরি সনে আমি তাঁর সাথে হিজাজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই, আর এটি ছিল তাঁর জন্য তৃতীয় সফর। সেই সফরে আমি তাঁর মধ্যে এমন সব বিষয় প্রত্যক্ষ করেছি যা তাঁর উচ্চমর্যাদার পরিচয় দেয়। হিজাজের উলামায়ে কেরামের সাথে তাঁর বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এবং মর্যাদাপূর্ণ সুন্নাহভিত্তিক (سنية) গবেষণা সম্পন্ন হয়েছিল এবং তাঁরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিতেন।
আমি যদি এই লেখায় তাঁর সামগ্রিক চারিত্রিক গুণাবলী (الشمائل) এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করতে চাই, তবে এই পুরো বইটি কেবল তাঁর বর্ণনার জন্যই নিবেদিত হয়ে পড়বে। তবে যা সম্পূর্ণ আলোচনা করা সম্ভব নয়, তা তো পুরোপুরি বর্জন করা যায় না।
১২৭২ হিজরি সনের ২২শে শাবান তিনি পার্শ্বপ্রদাহ রোগে আক্রান্ত হন। রমজানের রাতে তিনি মাস শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। যখন আমরা তাঁকে মাস সাব্যস্ত হওয়ার সংবাদ দিলাম, তখন তিনি সেহরির সময় পানাহার করলেন এবং রোজা রাখার নিয়ত করলেন। ভোর হতেই তিনি মৃত্যুযন্ত্রণার সম্মুখীন হলেন। তাঁর পরিবারের কেউ একজন তাঁর মুখে এক ফোঁটা পানি দিলে তিনি চোখ মেললেন এবং মুখ মুছে ফেললেন, আর ইশারার মাধ্যমে তাদের পুনরায় এমন করতে নিষেধ করলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, সূর্যাস্তের দেড় ঘণ্টা পূর্বে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইহধাম ত্যাগকালে তাঁর সর্বশেষ কথা ছিল আল্লাহর জিকির। যখন মুয়াজ্জিন মাগরিবের আজানে 'আল্লাহু আকবার' বলছিলেন, ঠিক তখনই তাঁকে কবরে শায়িত করা হয়। তাঁর জানাজায় এক বিশাল জনসমাবেশ এবং অগণিত মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে প্রত্যেককে কেবল অশ্রু বিসর্জন দিতে এবং গভীর শোকে আচ্ছন্ন দেখা যাচ্ছিল; সবার আক্ষেপ ও দীর্ঘশ্বাস ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আর এটি ছিল রমজানের শুরুতে... সনে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
اثنتين وسبعين ومائتين وألف، ودُفِن رضي الله عنه في تربة باب الله بجانب قبر سيدنا تقي الدين الحصني من جهة الشمال. اهـ بتصرف.
* * *
لم يشر الشيخ عبد الرزاق البيطار إلى مؤلفات والده وهذا ذكرها:
1 - إرشاد العباد في فضل الجهاد (وهو الذي بين يديك).
2 - بذل المرام في فضل الجماعة وأحكام المأموم والِإمام، له نسخة في دار الكتب المصرية برقم (21632 ب).
3 - تحقيق الكلام في وجوب الصلاة قبل السلام، منه نسخة في دار الكتب المصرية برقم (21632 ب).
4 - فتح الكريم بشرح بسم الله الرحمن الرحيم، له نسخة في دار الكتب المصرية المصرية (21632 ب).
5 - كشف اللثام عن هداية الأنام، وهو كتاب كبير يقع في 209 ورقات له نسخة في الظاهرية برقم 8232.
6 - نبذة في بناء دمشق الشام، دار الكتب المصرية (8300).
وقد اشتهر الشيخ حسن البيطار بعلوِّ الإِسناد، ودارت عليه الرواية، وطلب منه أهل العلم الِإجازة وهذا نموذج منها:
১২৭২ (হিজরি), এবং আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে উত্তর দিকে আমাদের নেতা তাকীউদ্দীন আল-হিসনির কবরের পাশে বাবে আল্লাহ গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। সমাপ্ত - সংক্ষেপিত (بتصرف)।
* * *
শেখ আব্দুর রাজ্জাক আল-বাইতার তাঁর পিতার রচনাবলি সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত করেননি, আর এগুলো হলো তার উল্লেখ:
১ - ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ (যা বর্তমানে আপনার সম্মুখে রয়েছে)।
২ - বাযলুল মারাম ফী ফাদলিল জামাআত ওয়া আহকামিল মামূম ওয়াল ইমাম; এর একটি পাণ্ডুলিপি মিসরীয় দারুল কুতুবে (২১৬৩২ ব) নম্বর অধীনে রয়েছে।
৩ - তাহকীকুল কালাম ফী উজুবিল সালাত কাবলাস সালাম; এর একটি পাণ্ডুলিপি মিসরীয় দারুল কুতুবে (২১৬৩২ ব) নম্বর অধীনে রয়েছে।
৪ - ফাতহুল কারীম বি-শারহি বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম; এর একটি পাণ্ডুলিপি মিসরীয় দারুল কুতুবে (২১৬৩২ ব) রয়েছে।
৫ - কাশফুল লিসাম আন হিদায়াতিল আনাম; এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যা ২০৯টি পত্র (ورقات) বিশিষ্ট, এর একটি পাণ্ডুলিপি জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে ৮২৩২ নম্বরে সংরক্ষিত।
৬ - নুবযাতুন ফী বিনায়ি দামিশক আশ-শাম; দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ (৮৩০০)।
শেখ হাসান আল-বাইতার উচ্চ সনদ (علو الإسناد) এর জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং তাঁর নিকট বর্ণনার (الرواية) ধারা আবর্তিত হতো। ইলম অন্বেষণকারীগণ তাঁর নিকট ইজাজত বা অনুমতি (الإجازة) প্রার্থনা করতেন এবং এটি তারই একটি নমুনা:
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
صورة إجازته لسعد الدِّين البكري وهي بخط الشيخ حسن البيطار
সা'দ উদ্দিন আল-বাকরীর জন্য তাঁর অনুমতিপত্রের (إجازة) অনুলিপি, যা শায়খ হাসান আল-বিতারের হস্তাক্ষরে লিখিত।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الورقة الأولى من الكتاب
গ্রন্থের প্রথম পাতা
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (14)
إرشاد العباد في فضل الجهاد
تأليف
العلامة الشيخ حسن بن إبراهيم البيطار الدمشقي (1206 هـ - 1272 هـ)
تحقيق وتعليق
محمد بن ناصر العجمي
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠক (১৪)
ইরশাদুল ইবাদ ফি ফাদলিল জিহাদ (জিহাদের ফজিলত বর্ণনায় বান্দাদের জন্য নির্দেশনা)
রচনায়
আল্লামা শায়খ হাসান বিন ইব্রাহিম আল-বায়তার আদ-দিমাশকি (১২০৬ হি. - ১২৭২ হি.)
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান
মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ لله الذي نَشَرَ لواء الجهاد للمُوحدين، وقطعَ بصوارِم سيوفهم رقاب الكَفَرة والمُعاندين، ووفَّقهم بأن باعوا نفوسهم لله تعالى ففازوا بالفوز المبين، وتحقَّقوا بمقتضى وعده تعالى بقوله جلَّ وعلا:
{وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ} [الروم: 47]؛ والصَّلاة والسَّلام على سيِّدنا محمَّد صاحب الدِّين المتين، المُنْزَل عليه: {فَأَيَّدْنَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَى عَدُوِّهِمْ فَأَصْبَحُوا ظَاهِرِينَ} [الصف: 14]؛ وعلى آله وأصحابه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم [الدين].
وبعد:
فلمّا كان في أواخر سنة تسع وستين بعد المائتين والألف، ورد الأمر الشاهاني بأنَّ طائفة روسيا الباغية، والشرذمة القليلة الطاغية، تخطَّت على بعض أطراف مملكة مولانا الأعظم، وسلطاننا الأفخم، صاحب العزِّ والتمكين، والمؤيَّد بالنصر والفتح المبين؛ حامي بَيْضة الإِسلام، ومشيِّد أركان شريعة خير الأنام؛ سلطان البرَّيْن والبحرَيْن، وخادم الحرمين الشريفين؛ السلطان ابن السلطان، السلطان المغازي عبد المجيد خان ابن السلطان المغازي محمود خان (1)، خلَّدَ الله ملكه على مدى الزمان؛
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাওহিদপন্থীদের জন্য জিহাদের ঝাণ্ডা সমুন্নত করেছেন এবং তাঁর শাণিত তরবারির আঘাতে কাফির ও হঠকারীদের গর্দান বিচ্ছিন্ন করেছেন; আর তিনি তাদেরকে এমন তাওফিক দান করেছেন যে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির বিনিময়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে সুস্পষ্ট বিজয় লাভে ধন্য হয়েছে এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ বাস্তবায়িত করেছে:
{আর মুমিনদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব} [রূম: ৪৭]; আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সুদৃঢ় দ্বীনের অধিকারী, যাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে: {অতঃপর আমি মুমিনদেরকে তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করলাম, ফলে তারা বিজয়ী হলো} [সফ: ১৪]; এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী (التابعين) ব্যক্তিবর্গের ওপর।
অতঃপর:
যখন ১২৬৯ হিজরি সালের শেষভাগে এই রাজকীয় ফরমান জারি হলো যে, বিদ্রোহী রুশ গোষ্ঠী এবং নগণ্য সীমালঙ্ঘনকারী দলটি আমাদের মহান অধিপতি ও মহিমান্বিত সুলতানের সাম্রাজ্যের কোনো কোনো প্রান্তে সীমা লঙ্ঘন করেছে; যিনি প্রতাপ ও ক্ষমতার অধিকারী এবং বিজয় ও সুস্পষ্ট সাহায্যের দ্বারা সমর্থিত; ইসলামের ভূখণ্ড রক্ষাকারী এবং সৃষ্টির সেরা মানবের শরিয়তের স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ়কারী; দুই ভূখণ্ড ও দুই সমুদ্রের সুলতান এবং হারামাইন শরীফাইনের খাদেম; সুলতান ইবনে সুলতান, সুলতান আল-গাজী আব্দুল মাজীদ খান ইবনে সুলতান আল-গাজী মাহমুদ খান (১), আল্লাহ যুগে যুগে তাঁর রাজত্বকে চিরস্থায়ী করুন;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فاقتضى ذلك منهم نقض العهد، والنداء عليهم بالطرد والبُعد، فصدرت إشارة مولانا المُومى إليه أعزَّ الله أنصاره بالتوجه لقتالهم، وإشعال نار الحرب فيهم واستئصالهم.
فهتف بي هاتف الِإلهام، أن أجمع نُبذة من كلام بعض العلماء الأعلام، إرشادًا للعباد في فضل الجهاد، وتأسِّيًا بما روي عن عليّ بن أبي طالب كرَّم الله وجهه أنه قال: مَنْ حرَّضَ أخاه على الجهاد كان له
مثل أجره، وكان له بكل خطوة عبادةُ سنة.
وفي لفظ آخر عنه رضي الله عنه قال: مَنْ حَرَّضَ رجلاً على الجهاد في سبيل الله فله مثل أجره، وزاده مِثْل أجر نبى مرسل بلَّغَ رسالة ربه، ومَنْ بَطَّأ رجلاً عن الجهاد؛ فلو افتدى يوم القيامة بمِلئ الأرض ذهبًا لم يقبل منه؛ وله عذاب أليم إلا أن يعفو الله عنه (1).
فابتدرت لذلك مستعينًا بالقدير المالك، ورتبتها على: مقدمة، وبابين، وخاتمة، فأقول -وهو حسبي ونعم الوكيل-:
--------------------------------------------
এর ফলে তাদের পক্ষ থেকে চুক্তি ভঙ্গ হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে এবং তাদের বহিষ্কার ও দূরীকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। অতঃপর আল্লাহ যাঁকে সাহায্য করুন, সেই মহান অভিভাবকের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার, যুদ্ধের অগ্নি প্রজ্বলিত করার এবং তাদের সমূলে উৎপাটিত করার নির্দেশ জারি হয়।
তখন আমার অন্তরে এই ঐশ্বরিক প্রেরণা জাগ্রত হলো যে, জিহাদের ফজিলত সম্পর্কে বান্দাদের পথপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এবং আলী ইবনে আবি তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুসরণকল্পে প্রথিতযশা আলেমদের বাণীর একটি সংকলন প্রস্তুত করি। তিনি (আলী রা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার ভাইকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করবে, সে তার
সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে এবং তার প্রতিটি কদমে এক বছরের ইবাদতের সওয়াব লাভ হবে।"
তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক শব্দে তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোনো মানুষকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে এবং অতিরিক্ত হিসেবে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এমন একজন প্রেরিত (مرسل) নবীর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি কোনো মানুষকে জিহাদ থেকে বিরত রাখবে, কিয়ামতের দিন সে যদি পৃথিবী পূর্ণ সোনাও মুক্তিপণ হিসেবে দেয়, তবুও তা কবুল করা হবে না; বরং তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, যদি না আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন (১)।"
তাই আমি সর্বশক্তিমান মহান মালিকের সাহায্য প্রার্থনা করে এই কাজ শুরু করলাম এবং একে একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করলাম। আমি বলছি—আর আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক—:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مقدمة في حكم الجهاد في سبيل الله تعالىاعلم أنَّ الجهاد في سبيل الله تعالى مشروع إجماعًا.
وللكفار حالتان:
الحالة الأولى: أن يكونوا في بلادهم مُستقرين فيها، فالجهاد حينئذٍ فرضُ كفاية، ويتحصل: إما بتشحين الثغور -وهي محل الخوف- التي تلي بلادهم بمُكافئين لهم لو قصدوها، مع إحكام الحُصون، والخنادق أو، تقليد ذلك للأُمراء المؤتمنين، المشهورين بالشجاعة والنُّصح للمسلمين.
وإما بأن يدخل الِإمام أو نائبه بشرطه دارهم بالجيوش لقتالهم، وأقلُّه مرة في كل سنةٍ، فإذا زاد فهو أفضل على حسب ما يراه من المصلحة، وعلى الرعية إعانته، إلَاّ إذا أخذ الخَرَاج. فإن لم يبعث كان كلُّ الِإثم عليه، وهذا إذا غَلَب على ظنه أنه يُكافئهم، وإلَاّ فلا يُباح قتالهم، ويكتفي بالشقِّ الأول في القيام بفرض الكفاية.
الحالة الثانية: أن يدخلوا بلدة لنا، أو صار بينهم وبينها دون مسافة القصرة فيكون الجهاد حينئذ فرض عين على كل من فيه كفاية من أهل
মহান আল্লাহর পথে জিহাদের বিধান সম্পর্কে ভূমিকাজেনে রাখুন, মহান আল্লাহর পথে জিহাদ করা সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) শরিয়তসম্মত।
কাফিরদের (الكفار) ব্যাপারে দুটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথম অবস্থা: তারা যখন তাদের নিজ দেশে স্থিতিশীল থাকে, তখন জিহাদ করা সামষ্টিক আবশ্যকতা (فرض كفاية)। এটি অর্জিত হয়: হয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে (الثغور)—যা আশঙ্কার স্থান এবং তাদের ভূখণ্ড সংলগ্ন—পর্যাপ্ত প্রতিরোধকারী সৈন্য মোতায়েন করার মাধ্যমে, যাতে তারা আক্রমণ করলে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়, সেই সাথে দুর্গ ও পরিখাগুলো সুদৃঢ় করা; অথবা বীরত্ব ও মুসলিমদের হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সুপরিচিত বিশ্বস্ত আমীরদের (الأُمراء) ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করার মাধ্যমে।
অথবা ইমাম (الإمام) বা তাঁর প্রতিনিধি নির্দিষ্ট শর্তানুসারে সেনাবাহিনী নিয়ে তাদের ভূখণ্ডে গিয়ে যুদ্ধ করবেন এবং এর সর্বনিম্ন সীমা হলো প্রতি বছরে একবার। যদি এর চেয়ে বেশি করা হয়, তবে তা জনকল্যাণ (المصلحة) বিবেচনা অনুযায়ী অধিকতর উত্তম। এমতাবস্থায় প্রজাদের কর্তব্য হলো তাঁকে সাহায্য করা, তবে যদি তিনি খরাজ (الخراج) গ্রহণ করেন (তবে তা ভিন্ন)। যদি তিনি সৈন্য না পাঠান, তবে সমস্ত গুনাহ (الإثم) তাঁর ওপরই বর্তাবে। এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তাঁর প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হবে যে তিনি তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম; অন্যথায় যুদ্ধ করা বৈধ (مباح) নয় এবং সামষ্টিক আবশ্যকতা (فرض كفاية) পালনের জন্য প্রথম পদ্ধতিটিই যথেষ্ট।
দ্বিতীয় অবস্থা: তারা যদি আমাদের কোনো জনপদে প্রবেশ করে অথবা তাদের এবং সেই জনপদের মধ্যবর্তী দূরত্ব কসরের দূরত্বের (مسافة القصر) চেয়ে কম হয়, তবে সেখানে বসবাসরত সক্ষম প্রত্যেকের ওপর জিহাদ তখন ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (فرض عين) হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تلك البلدة ومن في قُربهم إن حصلت بهم كفاية، وعلى كل مَنْ علم بهم ممن هو فوق مسافة القصر إنْ لم تحصل الكفاية بهم، فيجب الدفع عنهم بكل ممكن أطاقوه.
ولو أَسَرُّوا مُسلمًا فيجب النهوض إليهم -لخلاصِهِ إنْ توقعناه ولو على نُدور- وجوبَ عَيْنٍ كدخولهم دارنا، بل أولى؛ لأنَّ حُرمة المسلم أعظم.
* * *
সেই জনপদ এবং তাদের নিকটবর্তী যারা রয়েছেন তাদের ওপর (প্রতিরক্ষা করা আবশ্যক), যদি তাদের দ্বারা পর্যাপ্ততা (كفاية) অর্জিত হয়। আর যদি তাদের দ্বারা পর্যাপ্ততা (كفاية) অর্জিত না হয়, তবে কসরের দূরত্বের (مسافة القصر) বাইরে অবস্থানকারী যে কেউ তাদের সম্পর্কে জানতে পারবে, তার ওপরই (প্রতিরক্ষা করা আবশ্যক হবে)। সুতরাং তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকা সম্ভাব্য সকল উপায়ে তাদের রক্ষা করা আবশ্যক।
আর যদি তারা কোনো মুসলিমকে বন্দী করে, তবে তাকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তাদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়া ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (وجوب عين)—যদি আমরা তার মুক্তির আশা রাখি, যদিও তা বিরল (ندور) হয়—যেমনটি তারা আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে (প্রতিরক্ষা) আবশ্যক হয়; বরং এটি অধিকতর অগ্রগণ্য; কারণ একজন মুসলিমের সম্মান ও পবিত্রতা সর্বাপেক্ষা মহান।
* * *
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الباب الأول في التحريض على الجهاد والحثِّ عليهثُمَّ أتوجَّه بالخطاب إلى نفسي أوَّلَا وبالذات، وإليكم أيها الِإخوان والسَّادات (1)؛ فأصغوا آذانكم لما أقول، وتلقوه بالِإذعان والقبول: إنَّ الجهاد في سبيل الله لِإعلاء كلمة الله من أعظم العبادات البَدنية، قد ورد الأمر به والحثُّ عليه [في] الآيات القرآنية والأحاديث النبوية.
فمن الآيات: قوله تعالى -حيث استنفر الأنام لجهاد أعدائهم اللئام، ليُجازيهم على ذلك بما وعدهم من عظيبم جزائه-: {انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [التوبة: 41].
وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ} [الصف: 10].
قال أهل التفسير: لمَّا نزلت هذه الآية قال المسلمون: لو علمنا هذه التجارة لأعطينا فيها الأموال والأنفس .. فبيَّن الله تعالى لهم التجارة، فقال: {تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: জিহাদের অনুপ্রেরণা ও এর প্রতি উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গেঅতঃপর আমি প্রথমত ও প্রধানত নিজের প্রতি, এবং আপনাদের প্রতি হে ভ্রাতৃবৃন্দ ও শ্রদ্ধেয় সুধীজন (১) সম্বোধন করছি; সুতরাং আমি যা বলছি তাতে কর্ণপাত করুন এবং তা আনুগত্য ও কবুলিয়তের সাথে গ্রহণ করুন: নিশ্চয়ই আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে আল্লাহর পথে জিহাদ করা শারীরিক ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং নববী হাদিসসমূহে এ ব্যাপারে নির্দেশ ও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
আয়াতসমূহের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী—যেখানে তিনি মানবজাতিকে তাদের হীন শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি তাদের সেই মহান প্রতিদান দান করেন যার প্রতিশ্রুতি তিনি তাদের দিয়েছেন— "তোমরা অভিযানে বের হও হালকা অবস্থায় কিংবা ভারী অবস্থায় এবং আল্লাহর পথে তোমাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করো। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।" [আত-তাওবাহ: ৪১]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদের এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব, যা তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে?" [আস-সাফ: ১০]
তাফসির বিশেষজ্ঞগণ বলেন: যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হলো, তখন মুসলিমগণ বললেন: আমরা যদি এই ব্যবসার কথা জানতাম তবে তাতে আমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন বিলিয়ে দিতাম... অতঃপর মহান আল্লাহ তাদের কাছে সেই ব্যবসার বিবরণ দিলেন এবং বললেন: "তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে; এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ (11) يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (12)} [الصف: 11، 12].
فطوبى لمن امتثل أمر مولاه، وأطاعه في جميع ما منَّ به عليه وأولاه، وباع منه نفسه الخسيسة بنَيْل الدرجات، والحصول على أعظم المثوبات، وعمل على الوفاء بكريم عهده، وبذل في مرضاته ما ملكه
تصديقًا لصادق وعده، إذ قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 111].
فيا لها من بيعة ما أعظم ربح صفقتها!، ويا لها من تجارة ما أسرع نُجْحَ نفقتها!، ربحتَ والله أيها البائع؛ في بيعِ ما أحل لك بيعه بما عنده من الودائع، وحصلت على الِإكسير الأعظم الذي لا يُخاف نفاده، ولا ينقطع إمداده. وكيف لا والشُّهداء مخصوصون بدرجات عالية، ومقامات سامية؛ أجسامهم لا تبلى، وأرواحهم عند المليك الأعلى؛ في النعيم الدَّائم يتقلبون، وبرضى مولاهم يستبشرون؛ لا يخافون فتنة القبور، ولا يحزنهم الفزع الأكبر يوم ينفخ في الصور.
قال تعالى: {وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ} [آل عمران: 169].
والآيات في ذلك كثيرة، وفيما ذُكر كفاية.
وأما الأحاديث النبوية: فمنها ما أخرجه البخاري عن أبي هريرة
...যদি তোমরা জানতে (১১)। তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদের দাখিল করবেন এমন জান্নাতে যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহে উত্তম বাসস্থানে। এটাই মহাসাফল্য (১২)। [আস-সাফ: ১১, ১২]।
সুসংবাদ তার জন্য, যে তার রবের আদেশ পালন করেছে এবং তাকে তিনি যা কিছু দান ও অনুগ্রহ করেছেন তার সবকিছুর ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্য করেছে; এবং উচ্চমর্যাদা অর্জন ও সর্বশ্রেষ্ঠ সওয়াব লাভের বিনিময়ে তাঁর নিকট নিজের তুচ্ছ সত্তাকে বিক্রি করে দিয়েছে। সে তাঁর মহান প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করেছে এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিজের মালিকানাধীন যা কিছু আছে তা উৎসর্গ করেছে
তাঁর সত্য প্রতিশ্রুতির সত্যায়নস্বরূপ, যখন মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, ফলে তারা মারে এবং মরে। এটি তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনে তাঁর ওপর একটি সত্য প্রতিশ্রুতি। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রতিশ্রুতি পূরণকারী আর কে আছে? সুতরাং তোমরা যে কেনাবেচা করেছ, সেই সওদার জন্য আনন্দিত হও। আর এটাই হলো মহাসাফল্য।} [আত-তাওবাহ্: ১১১]।
আহা, এ কী চমৎকার এক লেনদেন, যার লাভ কতই না মহান! আর এ কী চমৎকার এক ব্যবসা, যার বিনিয়োগের সুফল কতই না দ্রুতগামী! হে বিক্রেতা, আল্লাহর কসম, তুমি লাভবান হয়েছ; যা বিক্রয় করা তোমার জন্য বৈধ ছিল, তা তাঁর নিকট গচ্ছিত জিনিসের বিনিময়ে বিক্রয় করে দিয়ে। তুমি লাভ করেছ সেই মহান পরশপাথর, যার ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই এবং যার সরবরাহ কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না। আর কেনই বা হবে না, অথচ শহীদগণ উচ্চমর্যাদা ও উন্নত মকামের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত। তাঁদের শরীর পচে যায় না এবং তাঁদের রূহসমূহ সুউচ্চ অধিপতির নিকট অবস্থান করে। তাঁরা চিরস্থায়ী নেয়ামতের মধ্যে বিচরণ করেন এবং তাঁদের রবের সন্তুষ্টিতে আনন্দিত হন। তাঁরা কবরের পরীক্ষা (فتنة) কে ভয় পান না এবং যেদিন শিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে, সেদিনকার মহাত্রাস তাঁদের চিন্তিত করবে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত; তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের রিযিক দেওয়া হয়।} [আলি ইমরান: ১৬৯]।
এ বিষয়ে আয়াতসমূহ অনেক, আর যা উল্লেখ করা হয়েছে তাই যথেষ্ট।
আর নবুওয়াতের হাদিসসমূহের মধ্যে রয়েছে: যার একটি বুখারি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "مَثَل المجاهد في سبيل الله كمثل الصائم القائم، وتوكَّل الله للمجاهد في سبيله إنْ توفَّاه أنْ يُدخله الجنة أو يرجعه سالمًا مع أجر وغنيمة" (1).
وقال عليه الصلاة والسلام: "إنَّ في الجنة مائة درجةٍ أعدَّها اللهُ للمجاهدين في سَبيل الله، ما بين الدَّرجتينِ كما بين السَّماء والأرض، فإذا سألتُمُ اللهَ فاسألوهُ الفردوس؛ فإنهُ وسَطُ الجنَّة وأعلى الجنَّة، وفوقَهُ عَرْشُ الرَّحمنِ ومنه تُفَجَّرُ أنهارُ الجنَّة" (2).
وعن أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: "ما مِن عبدٍ يموت، لَهُ عند الله خيرٌ يَسرُّه أنْ يرجع إلى الدُّنيا، وأن له الدنيا وما فيها إلَاّ الشَّهيد، لما يرى من فَضْلِ الشَّهادة، فإنَّه يَسُرّهُ أن يرجع إلى الدُّنيا فيُقتل مرَّةً أُخرى" (3).
وقال صلى الله عليه وسلم: "والذي نفسي بيدِهِ لولا أنَّ رجالاً من المؤمنين لا تطيبُ أنفسهم أن يتخلَّفوا عني ولا أجد ما أحملهم عليه، ما تخلَّفتُ عن سريَّةٍ تغزو في سبيل الله، والذي نفسي بيده لَوَددتُ أن أُقتَل في سبيل الله ثُمَّ أُحْيا، ثُمَّ أُقتَل ثُمَّ أُحْيا، ثُمَّ أُقتَل" (4).
وذكر ابن سَبُع عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "مَوْقِفُ سَاعَةٍ في سبيلِ اللهِ أَفْضَلُ من شهودِ لَيْلَةِ
--------------------------------------------
আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর পথে জিহাদকারীর (مجاهد) উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে রোজা রাখে ও রাতে সালাতে দণ্ডায়মান থাকে। আর আল্লাহর পথে জিহাদকারীর (مجاهد) জন্য আল্লাহ তায়ালা এই জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন যে, যদি তিনি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা তাকে সওয়াব ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদসহ (غنيمة) সহিহ-সালামতে ফিরিয়ে আনবেন।" (১)।
এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে একশতটি স্তর রয়েছে যা আল্লাহ তায়ালা আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের (مجاهدين) জন্য প্রস্তুত করেছেন; প্রতিটি স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। অতএব, তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফেরদাউস চাইবে; কারণ এটিই জান্নাতের মধ্যস্থল এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ অংশ। এর উপরেই রয়েছে দয়াময় আল্লাহর আরশ এবং সেখান থেকেই জান্নাতের ঝরণাধারাগুলো প্রবাহিত হয়।" (২)।
আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর কাছে কল্যাণকর প্রতিদান লাভকারী কোনো বান্দাই মৃত্যুর পর দুনিয়াতে ফিরে আসতে পছন্দ করে না—যদিও তাকে দুনিয়া ও তার মধ্যকার সব কিছু দিয়ে দেওয়া হয়—শহীদ (شهيد) ব্যতীত। কেননা সে শাহাদাতের (شهادة) মর্যাদা প্রত্যক্ষ করার কারণে পুনরায় দুনিয়াতে ফিরে গিয়ে আরও একবার নিহত হওয়াকে পছন্দ করে।" (৩)।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যদি মুমিনদের একদল লোকের জন্য এমন না হতো যে, আমার পেছনে থেকে যাওয়া তাদের নিকট মানসিকভাবে কষ্টকর হবে অথচ তাদের বহন করার মতো কোনো বাহনও আমার কাছে নেই, তবে আমি আল্লাহর পথে যুদ্ধরত কোনো সেনাদল (سرية) থেকেই পেছনে থাকতাম না। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! আমি অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করি যে আল্লাহর পথে আমি নিহত হই, পুনরায় জীবিত হই, আবার নিহত হই, পুনরায় জীবিত হই এবং আবারও নিহত হই।" (৪)।
ইবনে সাবু আবু হুরায়রা (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহর পথে এক মুহূর্তকাল অবস্থান করা কোনো এক রজনী যাপনের চেয়েও উত্তম..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
القَدْرِ عِنْدَ الحَجَرِ الأسْودِ" (1).
وذُكر عن سعيد بن أبي هلال أنَّ رجلاً قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: أخبرني بعمل أُدركْ به عمل المجاهد في سبيل الله، قال: "لو قُمتَ الليل وصُمتَ النهار لم تبلغ نوم المُجاهد في سبيل الله"، قال: يا رسول الله، إنَّ لي مالاً فإذا أنفقته أيكون لي مثل أجر المُجاهد في سبيل الله؟ قال: "وكم
مالك؟ "، قال: ستة آلاف دينار. قال: "لو أنفقتها في طاعة الله لم تبلغ غُبار شراك نعل المُجاهد في سبيل الله" (2).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يَجْتَمِعُ غُبارٌ في سبيل اللَّهِ ودُخانُ جَهَنَّمَ في جَوْفِ عَبْدِ مسلم، ولا يجتمِعُ شُحٌّ وإِيمان في جَوْف عَبْدٍ أبدًا" (3).
وروى البخاري أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ما اغبرَّت قدما عبد في سبيل الله فتمسَّه النَّار" (4).
وقال أسد بن وداعة: إِنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يتلثَّم من الغبار في سبيل الله (5).
--------------------------------------------
হাজরে আসওয়াদের নিকট মর্যাদা" (১)।
সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন যার মাধ্যমে আমি আল্লাহর পথে মুজাহিদের আমলের সমান মর্যাদা লাভ করতে পারব। তিনি বললেন: "যদি তুমি সারা রাত নামাজে দাঁড়িয়ে থাকো এবং সারা দিন রোজা রাখো, তবুও তুমি আল্লাহর পথে মুজাহিদের ঘুমের সমান মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না।" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমার কাছে সম্পদ আছে, আমি যদি তা ব্যয় করি তবে কি আমি আল্লাহর পথে মুজাহিদের সমান সওয়াব পাব? তিনি বললেন: "তোমার সম্পদ
কত?" সে বলল: ছয় হাজার দিনার। তিনি বললেন: "যদি তুমি তা আল্লাহর আনুগত্যের কাজে ব্যয় করো, তবুও তুমি আল্লাহর পথে মুজাহিদের জুতার ফিতার ধুলিকণার সমান মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না" (২)।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর পথের ধুলো এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কোনো মুসলিম বান্দার পেটে একত্রে জমা হবে না; আর কৃপণতা ও ঈমান কোনো বান্দার হৃদয়ে কখনো একত্রে জমা হবে না" (৩)।
বুখারি বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর পথে যে বান্দার দুই পা ধুলোমলিন হয়েছে, তাকে আগুন স্পর্শ করবে না" (৪)।
আসাদ ইবনে ওয়াদাআহ বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পথে ধুলোবালি থেকে বাঁচার জন্য মুখমণ্ডল আবৃত করতেন না (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وعنه صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: "إنَّ الملائكة تصلِّي على المغازي ما دامت حمائل سيفه ودرعِهِ وسلاحه عليه" (1).
وعنه عليه الصلاة والسلام: "لَرَوْحَة في سبيل الله أو غزوةٌ خَيْرٌ من الدُّنيا وما فيها، ولو أنَّ امرأة من أهل الجنة اطَّلعت إلى أهل الأرض لأَضاءت ما بينها" (2).
فإذا فهمتَ ما تلوتُ عليك، وأصغيتَ إليه بأذنيك؛ علمتَ أنَّ النهوضَ لذلك من أهمِّ المهمات وأعظم المثوبات. فما هذه الغفلة العظيمة التي أضحتْ على القلوب مقيمة، ورَكنتْ إليها النفوس فأصبحت
من الرشاد والتوفيق عديمة؟!. أَوَ ما علمتم أنَّ أعداءكم -دمَّرهم الله- باحثون عليكم؟ مشتغلون بكل حيلة في نيل الوصل إليكم؟ وقد جمعوا من العَدَد والعُدَد، وأرسلوا جواسيسهم وعيونهم في كل بلد؛ ليخبروهم بما أنتم عليه من التهاون والغفلة؟! وأن عُدَّتكم بالنسبة إلى عدتهم في غاية الضعف والقلَّة، و {كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ} [البقرة: 249].
أَوَمَا بلغكم بما وقع لأهل الجزائر وما حولها من المسلمين من الكَفَرة والمعاندين: من إذلال دين سيِّد المرسلين، وأخذ عباد الله المؤمنين؟ فلمَّا عرفوا جميع أحوالكم وما أنتم عليه من عدم احتفالكم بهم
واشتغالكم؛ طمعوا لا بلَّغ الله لهم أملًا وقيل المراد، وأجمعوا بدَّد الله
--------------------------------------------
নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা যুদ্ধাভিযানকারীর জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত রহমতের দোয়া করতে থাকে, যতক্ষণ তার তলোয়ারের বন্ধনী, বর্ম এবং অস্ত্র তার সাথে থাকে।" (১)।
নবিজি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে আরও বর্ণিত: "আল্লাহর পথে একটি বিকেল অতিবাহিত করা অথবা একটি যুদ্ধাভিযান দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম। আর যদি জান্নাতের কোনো নারী জমিনবাসীর দিকে উঁকি দেয়, তবে সে আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী সবকিছু আলোকিত করে দিত।" (২)।
আমি আপনার কাছে যা পাঠ করেছি তা যদি আপনি বোঝেন এবং কান পেতে তা শ্রবণ করেন, তবে আপনি জানবেন যে এর (জিহাদ) জন্য প্রস্তুত হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং মহত্তম পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত। তবে এই ভয়াবহ উদাসীনতা কেন যা অন্তরে স্থায়ী নিবাস গেড়েছে এবং নফস যার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে, ফলে তা
সঠিক পথ ও তাওফিক বর্জিত হয়ে পড়েছে?! আপনারা কি জানেন না যে আপনাদের শত্রুরা—আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন—আপনাদের খুঁজে বেড়াচ্ছে? তারা আপনাদের ওপর বিজয় লাভের জন্য সব ধরনের কূটকৌশলে লিপ্ত? তারা জনবল ও সমরশস্ত্রে সুসজ্জিত হয়েছে এবং প্রতিটি জনপদে তাদের গোয়েন্দা ও চর পাঠিয়েছে; যাতে তারা আপনাদের অবহেলা ও উদাসীনতা সম্পর্কে তাদের অবহিত করতে পারে?! তাদের প্রস্তুতির তুলনায় আপনাদের প্রস্তুতি চরম দুর্বলতা ও স্বল্পতার স্তরে রয়েছে। অথচ, "কত অল্পসংখ্যক দল আল্লাহর হুকুমে বহুসংখ্যক দলের ওপর বিজয়ী হয়েছে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" [সুরা বাকারা: ২৪৯]।
আলজেরিয়া এবং তার আশপাশের মুসলমানদের ওপর কাফের ও হঠকারীদের পক্ষ থেকে যা আপতিত হয়েছে—রাসুলদের সরদারের দ্বীনকে লাঞ্ছিত করা এবং আল্লাহর মুমিন বান্দাদের বন্দি করার সংবাদ—তা কি আপনাদের কাছে পৌঁছেনি? যখন তারা আপনাদের যাবতীয় অবস্থা এবং তাদের ব্যাপারে আপনাদের গুরুত্বহীনতা ও অন্য কাজে লিপ্ত থাকার কথা জানতে পারল; তখন তারা লোলুপ হলো—আল্লাহ তাদের আশা পূরণ না করুন—এবং তারা ঐক্যবদ্ধ হলো—আল্লাহ তাদের ছিন্নভিন্ন করুন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
شملهم فيما بلغنا عنهم على الخروج لهذه البلاد، والاستيلاء على أموال العباد.
مع أنه بلغنا أيضًا أن من استولوا عليه فهو في الجهد العظيم والعذاب الأليم، قد أُبدلوا بعد العزِّ والفرح غمًّا وحُزنًا، واستولى عليهم الكرب والقرح حِسًّا ومعنًى، قد وُثِّقوا بالسلاسل والحديد، وهم كل يوم في عذاب شديد، وصاروا من جملة المماليك والعبيد. كانوا بالأمس أغنياء آمنين، فأصبحوا فقراء خائفين؛ انتُهِبت أموالهم، وتغيَّرت أحوالهم، وفُرِّقت عنهم نساؤهم، وأُخذت منهم بناتهم وأبناؤهم، وصار الكفرة يتنافسون في بيعهم في الأثمان، وجعلوا يفرقونهم في سائر البلدان، ويريدون أن يفتنوهم عن دينهم، ويفسدوا عليهم قوَّة يقينهم.
فما هذه الغفلة عن إخوانكم يا معشر المسلمين؟ وهم منتظرون لكم في كل وقت وحين؛ لا يشبعون من طعام، ولا يجدون راحة في المنام.
فما حال مَن يَبيتُ في السلاسل مغلولًا؟! وبالقيود والأغلال معقولاً؟! لا يستخدمونهم إلَاّ بالانتهار والضرب، والشتم القبيح واللطم والسب؛ لا تُدركهم عليهم شفقة ولا رحمة، ولا يُبالون بما كلفوهم في ذلك من كربٍ أو نقمة؛ دموعهم على الوَجَنَات سائلة، وأحزانهم متوالية غير زائلة؛ لا يملكون لأنفسهم نفعًا ولا ضرًّا، ولا يقدرون على شيء من الأسباب سرًّا ولا جهرًا، إلَاّ البكاء والنَّحيب، والتضرُّع للسميع المجيب، العالِم بأحوالهم، القادر على خلاصهم من أغلالهم وأنكالهم.
فيا لها من حُرقةٍ ما أعظمها في القلوب، ويا لها من حسرةٍ يكاد القلب من سماع حكايتها يذوب؛ لا يغفل عنها إلَاّ من عَمِيتْ بصيرته وعظمت جريرته.
আমরা তাদের সম্পর্কে যা জেনেছি, তা তাদের এই দেশগুলোতে অভিযান চালানো এবং আল্লাহর বান্দাদের ধন-সম্পদ দখল করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে।
যদিও আমাদের কাছে এই সংবাদও পৌঁছেছে যে, তারা যাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে, তারা চরম দুর্গতি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির মধ্যে নিপতিত হয়েছে; সম্মান ও আনন্দের পরিবর্তে তাদের অবস্থা দুঃখ ও বিষাদে রূপান্তরিত হয়েছে এবং তারা দৃশ্যত ও মানসিকভাবে চরম উৎকণ্ঠা ও ক্ষতের শিকারে পরিণত হয়েছে। তাদের লোহার শিকলে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা হয়েছে, তারা প্রতিদিন কঠোর যন্ত্রণার মধ্যে অতিবাহিত করছে এবং তারা দাস ও গোলামদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। গতকালও তারা অভাবমুক্ত ও নিরাপদ ছিল, অথচ আজ তারা নিঃস্ব ও ভীত-সন্ত্রস্ত; তাদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে, তাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, তাদের স্ত্রীদের তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পুত্র-কন্যাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাফেররা তাদের বিক্রয়মূল্য নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছে; তারা চায় তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে এবং তাদের দৃঢ় বিশ্বাসের শক্তি নষ্ট করে দিতে।
হে মুসলিম জনতা! আপনাদের ভাইদের ব্যাপারে এই উদাসীনতা কেন? অথচ তারা সর্বক্ষণ আপনাদের পথ চেয়ে আছে; তারা পেট ভরে আহার পায় না এবং নিদ্রায় কোনো স্বস্তি পায় না।
সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হতে পারে যে হাতকড়া পরা অবস্থায় শিকলবন্দী হয়ে রাত কাটায়?! এবং যে বেড়ি ও শৃঙ্খলে আষ্টেপৃষ্ঠে আবদ্ধ?! কঠোর তিরস্কার, প্রহার, কদর্য গালিগালাজ এবং চপেটাঘাত ও গালি ছাড়া তাদের দিয়ে কোনো কাজ করানো হয় না; তাদের প্রতি কোনো মমতা বা দয়া দেখানো হয় না এবং তাদের ওপর যে কষ্ট বা বিপত্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে তারা ভ্রুক্ষেপও করে না। তাদের গাল বেয়ে অশ্রু ঝরছে এবং তাদের বিষাদ নিরন্তর, যা দূরীভূত হওয়ার নয়। তারা নিজেদের জন্য কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না এবং গোপনে বা প্রকাশ্যে কোনো উপায় অবলম্বনে সক্ষম নয়; কেবল রোদন, বিলাপ এবং সর্বশ্রোতা ও কবুলকারীর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া, যিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত এবং তাদের এই শৃঙ্খল ও কঠিন বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম।
হায়, অন্তরে কী এক দহন, যা অত্যন্ত প্রখর! আর কী এক আক্ষেপ, যার কাহিনী শুনলে হৃদয় বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়। কেবল সেই ব্যক্তিই এ থেকে বিমুখ থাকতে পারে যার অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গেছে এবং যার অপরাধ পর্বতপ্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ألا مَنْ فيه غيرة؟!
ألا من يبرِّد حرّ هذه الجمرة؟!
أين رأفة أهل الإِسلام؟!
أين شفقة أمة محمَّد عليه الصلاة والسلام، الموصوفين بالأوصاف الجميلة، المخصوصين باتباع المخصوص بالفضيلة والوسيلة؟!
أَمَا بلغكم قوله صلى الله عليه وسلم: "إنَّما يَرْحمُ اللهُ مِنْ عبادِه الرُّحماءَ" (1).
وقوله صلى الله عليه وسلم: "الرَّاحمون يرحمهم الرَّحمن، ارحموا مَن في الأرض يرحمكم مَن في السماء" (2).
وقوله صلى الله عليه وسلم: "المؤمنون كَجَسَدٍ واحِدٍ، إن اشْتكى عضو منه تداعى إليه سائر الجسد" (3).
فاقبلوا وصية نبيكم النَّاصح لجيِّدكم ورديِّكم، واستيقظوا من غفلتكم، وأفيقوا من سكرتكم.
أين أرباب الهمم العالية؟
أين أصحاب النفوس الزاكية؟
أين أرباب العقول، البائعون نفوسهم في نصرة دين الرسول؟
--------------------------------------------
কারো কি আত্মমর্যাদাবোধ নেই?!
এই জ্বলন্ত অঙ্গারের উত্তাপ নিভিয়ে দেওয়ার মতো কি কেউ নেই?!
ইসলামের অনুসারীদের মমতা কোথায়?!
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের অনুকম্পা কোথায়, যারা সুন্দর গুণাবলিতে ভূষিত এবং যিনি ফজিলত ও ‘ওয়াসিলা’-র জন্য বিশেষভাবে মনোনীত, তাঁর অনুসরণের জন্য তারা বিশেষায়িত?!
আপনাদের নিকট কি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বাণী পৌঁছায়নি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন" (১)।
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বাণী: "দয়ালুদের ওপর পরম দয়াময় দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন" (২)।
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বাণী: "মুমিনরা একটি দেহের মতো; যদি তার কোনো অঙ্গ ব্যথিত হয়, তবে শরীরের অবশিষ্ট অংশ তাতে সাড়া দেয়" (৩)।
অতএব তোমরা তোমাদের নবীর উপদেশ গ্রহণ করো, যিনি তোমাদের উত্তম ও অনুত্তম সবার জন্যই কল্যাণকামী; তোমাদের উদাসীনতা থেকে জাগ্রত হও এবং তোমাদের মোহ থেকে সচেতন হও।
উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সংকল্পবদ্ধ ব্যক্তিরা কোথায়?!
পবিত্র আত্মার অধিকারীরা কোথায়?!
সেই বুদ্ধিমানরা কোথায়, যারা রাসুলের দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুল ইবাদ ফী ফাদলিল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أين الأبطال والشجعان؟
أين الأقيال (1) والفرسان؟
أين أرباب العدَّة؟
أين أصحاب البأس والشِّدَّة؟
أين أُسود الرِّجال المؤثرون برضوان ذي العظمة والجلال، الذين لا تدركهم دهشة ولا خوف عند القتال؟
أين مَنْ يهجر النوم والرقاد؟
أين من يترك الأهل والأولاد؟
هل من بائع نفسه من الله؟ هل من مستوجب جزيل الثواب من مولاه؟
هل من مخالف نفسه الأمَّارة؟ هل من مُنفق ماله في أعظم تجارة؟
فيا أيَّتها النفوس السَّالمة، والعقول الكاملة، افتحوا أعين بصائركم، واصغوا بقلوبكم إلى ناصحكم، وأطيعوا أمر أمير المؤمنين، وجاهدوا في الله تعالى أعداءكم أعداء الدِّين؛ واغتنموا في ذلك الأجر العظيم والثواب الجسيم؛ قال الله تعالى في محكم كتابه القديم: {الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ (20) يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ لَهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُقِيمٌ (21) خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ (22)} [التوبة: 20 - 22].
ولا يثقل عليكم عباد الله بَذْلُ ما يفنى من أموالكم في نُصرة دينكم،
--------------------------------------------
বীর ও সাহসীরা কোথায়?
মহান অধিপতিগণ এবং অশ্বারোহী যোদ্ধারা কোথায়?
যুদ্ধ-সরঞ্জামের অধিকারীরা কোথায়?
বিক্রম ও কঠোরতার অধিকারীরা কোথায়?
সেই পুরুষ-সিংহরা কোথায়, যারা মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়; যুদ্ধের সময় যাদের কোনো বিস্ময় বা ভয় স্পর্শ করে না?
নিদ্রা ও তন্দ্রা পরিত্যাগকারীরা কোথায়?
পরিবার ও সন্তানদের ত্যাগকারীরা কোথায়?
আল্লাহর কাছে নিজের জীবন বিক্রয়কারী কেউ আছে কি? নিজ রবের পক্ষ থেকে মহা পুরস্কারের যোগ্য হওয়ার প্রত্যাশী কেউ আছে কি?
কুপ্রবৃত্তি-তাড়িত নফসের বিরুদ্ধাচরণকারী কেউ আছে কি? সর্বোত্তম ব্যবসায় নিজ সম্পদ ব্যয়কারী কেউ আছে কি?
হে প্রশান্ত আত্মা ও পূর্ণ বুদ্ধিমানগণ! তোমাদের অন্তর্দৃষ্টির চক্ষু উন্মীলিত করো, তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষীর প্রতি হৃদয়ের কান পেতে দাও এবং আমীরুল মুমিনীনের নির্দেশ মান্য করো। তোমাদের শত্রু তথা দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পথে জিহাদ করো এবং এর মাধ্যমে মহা পুণ্য ও বিশাল সওয়াব লুফে নাও। মহান আল্লাহ তাঁর সুদৃঢ় প্রাচীন গ্রন্থে বলেছেন: {যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা অত্যন্ত বড়; আর তারাই সফলকাম (২০)। তাদের রব তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে দয়া ও সন্তুষ্টি এবং এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন যেখানে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী নেয়ামত (২১)। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে রয়েছে মহা পুরস্কার (২২)।} [আত-তাওবাহ: ২০ - ২২]।
হে আল্লাহর বান্দারা! তোমাদের দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য তোমাদের নশ্বর সম্পদ ব্যয় করা যেন তোমাদের কাছে ভারী মনে না হয়।
--------------------------------------------