(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: -)
تحذير الجمهور من مفاسد شهادة الزور   (أحمد المحمصاني)

القسم: الفقه العام


الكتاب: تحذير الجمهور من مفاسد شهادة الزور - لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (11)

المؤلف: أحمد بن عمر بن محمَّد بن غنيم المحمصاني البيروتي الأزهري (ت 1370 هـ)

اعتنى به: رمزي سعد الدين دمشقية

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 45

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1436

মিথ্যা সাক্ষ্যের অনিষ্ট সম্পর্কে জনগণকে সতর্কীকরণ   (আহমদ আল-মাহমাসানি)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: মিথ্যা সাক্ষ্যের অনিষ্ট সম্পর্কে জনগণকে সতর্কীকরণ - মাসজিদুল হারামের শেষ দশদিনের বৈঠক (১১)

লেখক: আহমদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন গুনাইম আল-মাহমাসানি আল-বৈরুতী আল-আযহারী (মৃ. ১৩৭০ হিজরী)

সম্পাদনায়: রামযী সাদউদ্দীন দিমাসকিয়্যাহ

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরী - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ যুল-কাদাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (11)

 

تحذير الجمهور من مفاسد شهادة الزور

 

تأليف

أحمد بن عمر المحمصاني البيروتي الأزهري المتوفى (1370 هـ - 1951 م)

 

اعتنى به

رمزي سعد الدين دمشقية

 

ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم

 

دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশকের মিলনমেলা (১১)

 

মিথ্যা সাক্ষ্যের অপকারিতা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্কীকরণ

 

রচনা

আহমদ ইবনে উমর আল-মাহমাসানি আল-বৈরুতি আল-আজহারি, মৃত্যু (১৩৭০ হিজরী - ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ)

 

সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধানে

রামজি সাদ আদ-দীন দিমাসকিয়া

 

হারামাইন শরিফাইনের কতিপয় পুণ্যবান ব্যক্তি এবং তাঁদের হিতাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ এর মুদ্রণে অবদান রেখেছেন

 

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়া
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২)
تحذير الجمهور مِنْ مَفَاسِدِ شَهَادَةِ الزُّوْرِ
মিথ্যা সাক্ষ্যের (شهادة الزور) অপকারিতা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্কীকরণ
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ৩)
جَميعُ الحُقُوقِ مَحْفُوظَةٌ

الطّبْعَةُ الأولى

1421 هـ - 2000 م

 

دَارُ البَشَائِر الإسْلَامِيَّة للطباعة والنشر والتوزيع

هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611

بيروت - لبنان ص. ب: 5955/ 14

 

e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়া মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা

টেলিফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১

বৈরুত - লেবানন, পোস্ট বক্স: ৫৯৫৫/ ১৪

 

e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ৫)
مقَدّمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله ذي الِإفضال، والصلاة والسلام على رسوله صاحب الخِصَال، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان ما تعاقب الزمان وطال.

أما بعد، فإن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر من صفات هذه الأمة، وصفوا بها في محكم التنزيل بقوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110]، وحضَّ عليها الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم بقوله: "والذي نفسي بيده لتأمُرنَّ بالمعروف ولتَنْهَوُن عن المنكر، أو ليوشكَنَّ الله أن يبعث عليكم عقابًا منه، ثم تدعُونَهُ فلا يُستجابُ لكم" (1).

وهذه المهمة الشريفة هي مهمة الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، قام بها رسولنا العظيم ثم مِنْ بعده صحابته الكرام، ثم مَنْ بعدهم من علماء هذه الأمة الذين هم ورثة الأنبياء.

ومن هذه البابة تأتي الرسالة التي بين أيدينا لعالم بيروتي أزهري

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي ح 2169، من حديث حذيفة بن اليمان، وقال: هذا حديث حسن.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা অনুগ্রহের আধার আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূলের ওপর—যিনি সকল মহৎ চরিত্রের অধিকারী—এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা মহাকালের আবর্তনে নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।

অতঃপর, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ হলো এই উম্মতের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। আল-কুরআনের অকাট্য আয়াতে আল্লাহ তাআলার বাণীতে তাঁদের এই গুণের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য; তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ} [আল-ইমরান: ১১০]। সত্যবাদী ও সত্যবাদী হিসেবে স্বীকৃত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে তাকিদ দিয়ে বলেছেন: "সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে, নতুবা অচিরেই আল্লাহ তোমাদের ওপর তাঁর পক্ষ থেকে শাস্তি পাঠাবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর কাছে দোয়া করবে কিন্তু তোমাদের দোয়া কবুল করা হবে না।" (১)

আর এই মহান দায়িত্ব হলো নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) মূল কাজ, যা আমাদের মহান রাসূল এবং তাঁর পরে তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ আঞ্জাম দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে এই উম্মতের সেই সকল আলেমগণ তা পালন করেছেন যারা নবীগণের প্রকৃত উত্তরসূরি।

এই প্রেক্ষাপটেই বৈরুতের আজহারি ঘরানার একজন আলেমের রচিত এই গবেষণাপত্রটি আমাদের সামনে এসেছে।

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ২১৬৯, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.)-এর হাদিস থেকে; এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ৬)
جليل، هو الشيخ أحمد بن عمر المحمصاني رحمه الله، والذي أراد بها النصح لأهل عصره في مسألة يتكرر وقوعها في كل العصور، وهي شهادة الزور مع تبيان مفاسدها وخطرها على المجتمع والأمة، كما نبَّه رحمه الله إلى معنًى من معاني شهادة الزور يتمثل بمن يكتب شهادة خطية لمن أراد تقلّد منصب خاص أو عام يشهد له فيها بما ليس فيه، وهذا مما عمَّت به البلوى في هذا الزمن، نسأل المولى السلامة.

وقد قمت بالعناية بهذه الرسالة عن الطبعة الأولى المطبوعة في حياة المؤلف بالمطبعة العثمانية ببيروت سنة 1327 هـ، وذلك بتخريج أحاديثها والتعليق على مواطن منها، مميزًا لتعليقات المؤلف بحرف [م] آخرها.

ولم تخلُ هذه النسخة من أخطاء طباعية قليلة قمت بتصحيحها ولا سيما في الأحاديث ضبطًا من مصادرها دون الِإشارة إلى ذلك.

وختامًا من المولى الكريم نرجو القبول وعليه التكلان ولا حول ولا قوة إلَاّ بالله.

وكتبه

رَمزي سَعد الدين دمشقية

بيروت 7 جمادى الأولى 1421 هـ

الموافق 7 آب 2000 م
মহান ব্যক্তিত্ব, তিনি হলেন শায়খ আহমদ ইবনে উমর আল-মাহমাসানি (রাহিমাহুল্লাহ); তিনি এর মাধ্যমে নিজ সময়ের মানুষের জন্য এমন একটি বিষয়ে নসিহত করতে চেয়েছেন যা সকল যুগেই বারবার পরিলক্ষিত হয়, আর তা হলো মিথ্যা সাক্ষ্য (شهادة الزور) প্রদান এবং এর অপকারিতা ও সমাজ ও উম্মাহর ওপর এর ভয়াবহতা স্পষ্ট করা। তিনি (রাحمه الله) মিথ্যা সাক্ষ্যের (شهادة الزور) এমন একটি দিক সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন যা হলো—কেউ যদি কোনো বিশেষ বা সাধারণ পদমর্যাদা পেতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য এমন কোনো লিখিত প্রত্যয়নপত্র বা সুপারিশনামা লিখে দেয় যাতে তার মধ্যে নেই এমন গুণের সাক্ষ্য দেওয়া হয়। এটি এমন এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে যা বর্তমানে সর্বব্যাপী সমস্যায় (عمَّت به البلوى) রূপ নিয়েছে; আমরা মহান রবের নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

আমি এই পুস্তিকাটির সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করেছি লেখকের জীবদ্দশায় ১৩২৭ হিজরিতে বৈরুতের উসমানিয়া প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণটি অবলম্বনে। এতে আমি এর হাদিসগুলোর উৎসনির্দেশ (تخريج) করেছি এবং নির্দিষ্ট কিছু স্থানে টীকা প্রদান করেছি, আর লেখকের নিজস্ব টীকাগুলোকে তার শেষে [ম] বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

এই কপিতে কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি ছিল যা আমি সংশোধন করেছি, বিশেষ করে মূল উৎসগ্রন্থসমূহ থেকে হাদিসগুলোর পাঠের নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণের (ضبط) ক্ষেত্রে, তবে আলাদাভাবে তা উল্লেখ করিনি।

পরিশেষে, মহান দয়াময় রবের নিকট কবুলিয়ত প্রার্থনা করি এবং তাঁর ওপরই নির্ভরতা। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

এটি লিখেছেন

রামজি সাদ আদ-দীন দিমাসকিয়্যাহ

বৈরুত, ৭ জুমাদাল উলা ১৪২১ হিজরি

মোতাবেক ৭ আগস্ট ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة المؤلف

هو العلَاّمة الشيخ أحمد بن عمر بن محمَّد بن غنيم المحمصاني البيروتي الأزهري، والده السيد عمر صاحب "المكتبة الحميدية" المشهورة في بيروت التي كانت ملتقى الأدباء والعلماء في بيروت.

وفي هذه الروضة العلمية -مكتبة والده- نشأ الشيخ أحمد محبًا للعلم وأهله، مواظبًا على حضور مجالس العلم وخاصة مجالس الشيخ محمَّد عبده خلال مدة إبعاده التي قضاها في بيروت.

دخل الجامع الأزهر الشريف طالبًا للعلم سنة 1315 هـ، ولازم مجالس الِإمام الأكبر الشيخ محمَّد عبده، وكان من تلاميذه المحببين إليه النُّجباء الذين نثروا تعاليمه في التجدُّد والتطوُّر، فاستقبلته بيروت حين عاد استقبالاً طيباً، وأنزلته الأسر البيروتية إثر غيابه الطويل على الرحب والسعة، فكان له طلبة من رجال ونساء يذكرونه بالِإجلال والاحترام.

تولى أثناء إقامته في الأزهر أمانة مكتبته الشهيرة فأفاد من عمله هذا فائدة جُلَّى، ثم أصبح مدرِّسًا في الأزهر.

أخذ عن الشيخ محمَّد محمود الشنقيطي المتوفى 1322 هـ علوم اللغة، واشترك معه في تحقيق عدة كتب، منها كتاب "الإِنصاف في التنبيه على الأسباب التي أوجبت الاختلاف" لابن السيد البطليوسي الأندلسي،
‌লেখকের জীবনী

তিনি হলেন মহাজ্ঞানী (علامة) শাইখ আহমদ বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন গুনাইম আল-মাহমাসানি আল-বৈরুতী আল-আযহারী। তাঁর পিতা ছিলেন সাইয়্যেদ উমর, যিনি বৈরুতের বিখ্যাত "আল-মাকতাবাতুল হামিদীয়াহ"-এর মালিক ছিলেন; যা বৈরুতের সাহিত্যিক ও আলেমদের মিলনস্থল ছিল।

পিতার লাইব্রেরি নামক এই ইলমি বাগানে শাইখ আহমদ জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি অনুরাগী হয়ে বেড়ে ওঠেন। তিনি ইলমি মজলিসগুলোতে, বিশেষ করে শাইখ মুহাম্মাদ আবদুহ যখন বৈরুতে নির্বাসিত ছিলেন, তখন তাঁর মজলিসগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন।

তিনি ১৩১৫ হিজরি সনে জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে সম্মানিত আল-আযহার মসজিদে প্রবেশ করেন এবং গ্র্যান্ড ইমাম (الإمام الأكبر) শাইখ মুহাম্মাদ আবদুহ-এর মজলিসগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করেন। তিনি তাঁর এমন এক প্রিয় ও মেধাবী ছাত্র ছিলেন যারা সংস্কার ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষাগুলো প্রচার করেছিলেন। তিনি যখন বৈরুতে ফিরে আসেন তখন বৈরুতবাসী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় এবং তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর বৈরুতের পরিবারগুলো তাঁকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করে। নারী ও পুরুষ উভয় শ্রেণির ছাত্ররাই তাঁর নিকট ছিল, যারা তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করত।

আল-আযহারে অবস্থানকালে তিনি এর বিখ্যাত লাইব্রেরির তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং এর ফলে তিনি দারুণভাবে উপকৃত হন। পরবর্তীতে তিনি আল-আযহারের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।

তিনি ১৩২২ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শাইখ মুহাম্মাদ মাহমুদ আশ-শানকিতী-র নিকট ভাষাবিজ্ঞান শিক্ষা করেন এবং তাঁর সাথে বেশ কিছু কিতাবের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) কাজে অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে ইবনুল সাইয়্যেদ আল-বাতালইউসি আল-আন্দালুসি রচিত "আল-ইনসাফ ফিত তানবিহ আলাল আসবাব আল্লাতি আওজাবাতিল ইখতিলাফ" কিতাবটি অন্যতম।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ৮)
ومنها كتاب "الفصيح" للِإمام ثعلب، وله فيهما تعليقات وتفاسير تشهد برسوخ قدمه وفضله.

كما أخذ الِإجازة من السيد محمَّد بن جعفر الكَتَّاني، والشيخ السيد عبد الحي الكتاني، وقد اجتمع به في مصر (1).

بعد عودته إلى بيروت عُين مدرسًا في مكتب الحقوق العثماني، حيث تولّى شرح "مجلة الأحكام الشرعية" وإلقاء المحاضرات في علم أصول الفقه، وذلك سنة 1332 هـ -1913 م. وانتخب عضوًا في المجمع العلمي اللبناني سنة 1928 م، وأسندت إليه رئاسة لجنة المخطوطات فيه.

كان عضوًا عاملاً لعشرات السنين في جمعية المقاصد الخيرية الِإسلامية في بيروت، ثم رئيسًا للجنة المدارس فيها. يشجع طلبتها بالجوائز التي كان يغدقها على تلامذته المجلين.

كان خطيبًا ومدرِّسًا في الجامع العمري الكبير، وجامع الأمير عساف لعدة سنوات، وكان البيروتيون يتهافتون على سماع خطبه ويفيدون منها ويرجعون إليه في كثير من المشاكل التي كانت تواجههم في أمور دينهم ودنياهم.

درَّس القرآن الكريم واللغة العربية لرئيس الجامعة الأمريكية الدكتور بيار ضودج، فتوثَّقت بينهما صداقة العلم والمعرفة.

 

من مؤلفاته:

- كتاب خلاصة النحو.

- رسالة تحذير الجمهور من مفاسد شهادة الزور.

--------------------------------------------

(1) إتحاف ذوي العناية للشيخ محمَّد العربي العزوزي، ص 73.
এর মধ্যে ইমাম ছালাব-এর 'আল-ফাসিহ' কিতাবটি অন্যতম। এতে তাঁর এমন কিছু টীকা ও ব্যাখ্যা রয়েছে যা তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ও শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেয়।

তদ্রূপ তিনি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাত্তানি এবং শায়খ সাইয়্যেদ আব্দুল হাই আল-কাত্তানি থেকে অনুমতি (إجازة) লাভ করেছেন এবং মিসরে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন (১)।

বৈরুতে ফিরে আসার পর তিনি উসমানি আইন দপ্তরে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি ১৩৩২ হিজরি - ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে 'মাজাল্লাতুল আহকাম আল-শারইয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যা প্রদান এবং ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ে বক্তৃতা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি লেবানিজ সায়েন্টিফিক একাডেমির সদস্য নির্বাচিত হন এবং সেখানে পাণ্ডুলিপি কমিটির প্রধানের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়।

তিনি কয়েক দশক ধরে বৈরুতের জামিয়াতুল মাকাসিদ আল-খাইরিয়্যাহ আল-ইসলামিয়্যাহ-এর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পরবর্তীতে এর মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি হন। তিনি তাঁর কৃতি ছাত্রদের অকাতরে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহিত করতেন।

তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর জামে উমরি আল-কাবির এবং জামে আমির আসসাফ-এ খতিব ও শিক্ষক ছিলেন। বৈরুতবাসীরা তাঁর খুতবা শোনার জন্য ভিড় জমাতেন, তা থেকে উপকৃত হতেন এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়া সংশ্লিষ্ট অনেক সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর শরণাপন্ন হতেন।

তিনি আমেরিকান ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ডক্টর বেয়ার ডজ-কে পবিত্র কুরআন ও আরবি ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন, যার ফলে তাঁদের মধ্যে ইলমি ও জ্ঞানতাত্ত্বিক এক সুদৃঢ় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:

- খুলাসাতুন নাহু।

- রিসালাতু তাহজিরিল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতিল জুর।

--------------------------------------------

(১) শায়খ মুহাম্মদ আল-আরাবি আল-আজ্জুজি রচিত ‘ইতহাফু জাবিল ইনায়া’, পৃষ্ঠা ৭৩।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ৯)
- شرح أحكام المجلة الشرعية.

- تفسير الفاتحة.

- مختصر جامع بيان العلم وفضله وما ينبغي من روايته وحمله، طبع بمصر سنة 1320 هـ (1).

كما اعتنى بتصحيح وضبط الكلمات اللغوية للكتب التالية:

- المعلقات السبع، طبع في مصر سنة 1319 هـ.

- الإِنصاف، طبع في مصر سنة 1319 هـ.

- اللؤلؤ النظيم في روم التعليم والتعلم، طبع في مصر سنة 1319 هـ.

- حجج القرآن، طبع في مصر سنة 1320 هـ.

- فصيح ثعلب.

وله عدة قصائد شعرية ومحاضرات ألقيت في مناسبات عديدة لم تطبع.

توفي سنة 1370 هـ - 1951 م، يوم 30 تموز وقد نيَّف على الثمانين، وكان آخر تلاميذ الشيخ محمَّد عبده (2). وكان يضيف إلى اسمه نسبة "الأزهري" كلما وقع (3).

* * *

--------------------------------------------

(1) معجم المطبوعات 1702، ومعجم المؤلفين 2/ 35.

(2) علماؤنا للمحامي كامل الداعوق، ص 204 - 206.

(3) مجلة الفكر الِإسلامي - العدد 8/ 8 سنة 1399 هـ- 1979 م، ص 31.
- শারহ আহকামুল মাজাল্লাতিশ শারইয়াহ।

- তাফসিরুল ফাতিহা।

- জামে বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ওয়ামা ইয়ামবাগি মিন রিওয়ায়াতিহি ওয়া হামলিহি-এর সংক্ষেপিত (مختصر) সংস্করণ, যা ১৩২০ হিজরিতে মিশরে মুদ্রিত হয়েছে (১)।

এছাড়াও তিনি নিম্নোক্ত গ্রন্থগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক শব্দাবলি সংশোধন ও যথাযথ রূপ নির্ধারণ (ضبط) করার প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন:

- আল-মুআল্লাকাতুস সাবআ, যা ১৩১৯ হিজরিতে মিশরে মুদ্রিত।

- আল-ইনসাফ, যা ১৩১৯ হিজরিতে মিশরে মুদ্রিত।

- আল-লু’লুউন নাযিম ফি রুমিত তালীমি ওয়াত তাআল্লুম, যা ১৩১৯ হিজরিতে মিশরে মুদ্রিত।

- হুজাজুল কুরআন, যা ১৩২০ হিজরিতে মিশরে মুদ্রিত।

- ফাসিহু ছালাব।

তাঁর বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণ রয়েছে যা এখনও মুদ্রিত হয়নি।

তিনি ১৩৭০ হিজরি - ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন এবং সে সময় তাঁর বয়স আশি বছরের অধিক ছিল। তিনি ছিলেন শায়খ মুহাম্মদ আবদুহ-এর সর্বশেষ ছাত্রদের একজন (২)। তিনি যখনই স্বাক্ষর করতেন, নিজের নামের সাথে ‘আল-আযহারি’ নিসবত (نسبة) বা সম্বন্ধবাচক নাম যুক্ত করতেন (৩)।

* * *

--------------------------------------------

(১) মু’জামুল মাতবু’আত ১৭০২, এবং মু’জামুল মুআল্লিফীন ২/ ৩৫।

(২) আইনজীবী কামিল আদ-দাউক প্রণীত ‘উলামাউনা’, পৃষ্ঠা ২০৪ - ২০৬।

(৩) মাজাল্লাতুল ফিকরিল ইসলামি - সংখ্যা ৮/ ৮, ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ৩১।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ১০)
صورة خط المؤلف وتوقيعه على غلاف إحدى مخطوطات الفقه الحنبلي
হাম্বলি ফিকহ শাস্ত্রের একটি পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে লেখকের হস্তাক্ষর ও তাঁর স্বাক্ষরের চিত্র।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (11)

 

تحذير الجمهور من مفاسد شهادة الزور

 

تأليف

أحمد بن عمر المحمصاني البيروتي الأزهري المتوفى (1370 هـ - 1951 م)

 

اعتنى به

رمزي سعد الدين دمشقية

 

ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم

 

دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের সমাবেশ (১১)

 

মিথ্যা সাক্ষ্যের অনিষ্টতা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্কীকরণ

 

রচনায়

আহমদ বিন উমর আল-মাহমাসানি আল-বাইরুতি আল-আযহারি, ইন্তেকাল (১৩৭০ হিজরি - ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দ)

 

সম্পাদনায়

রামজি সাদ আদ-দীন দিমাসকিয়্যাহ

 

হারামাইন শরিফাইনের কিছু পুণ্যবান ব্যক্তি এবং তাঁদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা এর মুদ্রণে সহযোগিতা করেছেন

 

দারুল বাশা’ইর আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله حمدًا يوافي نعمه ويكافئ مزيده، والصلاة والسلام على سيدنا محمَّد وسائر النبيين، وآل كلٍّ وجميع الصالحين.

أمَّا بعد، فقد طلب مني بعض ذَوِي الحميَّة الدينيَّة في مدينة بيروت أنْ أكتُبَ رسالةً في بيان مفاسد شهادة الزور وما يترتب عليها من المضارِّ، وأن أذكُرَ ما ورد من الآيات والأحاديث في هذا الشأن. فأجبتُه لذلك عملاً بواجب النصيحة الدينية، ولما رواه الِإمام مسلم بن الحجاج في صحيحه (1) عن سيدنا أبي رُقَيَّة تميمِ بن أوسٍ الداريِّ رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الدِّينُ النصيحة"، قلنا: لمن؟ قال: "لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم".

فالرجاء فيمن يطَّلع عليها أنْ يتقبَّلها قَبولاً حسنًا، ويتَّخذها وسيلة لتنبيه العامَّة إلى اجتناب تلك البليَّة الطَّامَّة، ويذكِّر بها مَنْ له قلبٌ أو ألقى السمع وهو شهيد.

وقد سمَّيتُ هذه الرسالة "تحذير الجمهور من مفاسد شهادة الزور"،

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم 1/ 74، ح 55.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নিয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহের বৃদ্ধির উপযোগী। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং অন্যান্য সকল নবিগণের ওপর, এবং তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার-পরিজন ও সকল নেককার বান্দাদের ওপর।

অতঃপর, বৈরুত শহরের কিছু ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যে, আমি যেন মিথ্যা সাক্ষ্যের অপকারিতা এবং এর ফলে উদ্ভূত ক্ষতিসমূহ বর্ণনা করে একটি পুস্তিকা রচনা করি এবং এ বিষয়ে বর্ণিত আয়াত ও হাদিসসমূহ উল্লেখ করি। ধর্মীয় নসিহতের আবশ্যকতা পালনার্থে আমি তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছি। কারণ ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁর সহিহ মুসলিম (১) গ্রন্থে আমাদের নেতা আবু রুয়াইয়াহ তামীম ইবনে আওস আদ-দারি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবি (সা.) বলেছেন: "দীন হলো নসিহত (উপদেশ)।" আমরা জিজ্ঞেস করলাম: কার জন্য? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসুলের জন্য, মুসলিমদের ইমামগণের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য।"

যারা এই পুস্তিকাটি পাঠ করবেন, তাদের কাছে আশা রইল যে তারা এটিকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করবেন এবং সাধারণ মানুষকে এই ভয়াবহ বিপদ থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করবেন। এছাড়া যার অন্তর আছে অথবা যে একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করে, তাকে এর মাধ্যমে স্মরণ করিয়ে দেবেন।

আমি এই পুস্তিকাটির নাম দিয়েছি "তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতিল যুর" (মিথ্যা সাক্ষ্যের অপকারিতা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্কীকরণ)।

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম ১/৭৪, হাদিস ৫৫।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ১৪)
ورتبتُها على مقدمة وأربعة فصول وخاتمة. وأسأله تعالى أنْ يجعلها خالصة لوجهه، وأن ينفع بها ويوفِّقنا لما فيه خير الأمة، والعمل لِإحياء السُّنَّة وإماتة البدعة، إنَّه سميع مجيب، وما توفيقي واعتصامي إلَاّ بالله عليه توكَّلْتُ وإليه أُنيب.

* * *
আর আমি এটি একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারের ওপর বিন্যস্ত করেছি। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং আমাদের সেই কাজের তাওফীক দান করেন যাতে উম্মাহর কল্যাণ নিহিত এবং যা সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন ও বিদআতের বিনাশ সাধনে নিবেদিত। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী। আল্লাহ্‌র তাওফীক ও তাঁর আশ্রয় লাভ কেবল আল্লাহ্‌রই সাহায্যে; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই পানে আমি প্রত্যাবর্তন করি।

* * *
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ১৫)
مقَدّمة

اعلم يا أخي هداني الله وإيَّاك إلى طريق الخير والرشاد أنَّ شهادة الزور جريمة عظيمةُ الشر جسيمة الضرر، فكم ضاع بها مِنْ حقٍّ كان ثابتًا، ونشأت عنها مُعضلات ومشكلات تفاقم خَطبُها واشتدَّ كَربُها، وكم هدرت بسببها دماء وغَلَت من أجلها مَرَاجِلَ الشَّحناء والبغضاء، وكثيرًا ما أيقظتْ الفتنة وأعظمت المحنة وفصمتْ عُرى الوحدة، وربما أدَّت إلى تقاطع ذوي الأرحام وتهديد السلام بين الأفراد والأقوام، بل وبدَّلت الأمن خوفًا والوفاق خُلفًا، فكان من وراء ذلك كله شر عظيم وخطر

جسيم.

عرف هذا الأمم السابقة فشدَّدوا في عقوبة مرتكبها وبالغوا في التنكيل به، وحكموا بأنَّه عدو للأمة بتمامها. وقضى عليه بعض الأمم كالرومانيين بالِإعدام، وغَلَوا في شأن التزوير حتى عَدُّوا من المزورين من أخفى وصيَّة المتوفَّى أو أضاعها، بل كل امرئ فعل شيئًا يدلُّ على غِشٍّ أو خراب ذمة. وكانت عقوبتهم للأحرار بالنفي إلى مكان حصين مع مصادرتهم في أموالهم كلها، وعقوبة الرقيق هي الِإعدام (1). ثم ترقَّت

--------------------------------------------

(1) هذه الجملة مأخوذة بمعناها عن رسالة "التزوير في الأوراق" لأحمد فتحي باشا زغلول العصر [م].
ভূমিকা

হে আমার ভাই! আল্লাহ আমাকে এবং আপনাকে কল্যাণ ও সঠিক পথের দিশা দান করুন—জেনে রাখুন যে, মিথ্যা সাক্ষ্যদান একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ এবং এর ক্ষতি সুদূরপ্রসারী। এর ফলে কত অকাট্য অধিকার যে লুণ্ঠিত হয়েছে এবং এর কারণে এমন সব জটিল ও কঠিন সমস্যার উদ্ভব হয়েছে যার ভয়াবহতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষের কষ্টকে প্রকট করেছে। এর কারণে কত প্রাণ অকালে ঝরেছে এবং মানুষের হৃদয়ে শত্রুতা ও বিদ্বেষের আগুন প্রজ্বলিত হয়েছে। এটি প্রায়শই ফিতনা বা বিশৃঙ্খলাকে জাগ্রত করেছে, বিপদকে ঘনীভূত করেছে এবং ঐক্যের বন্ধনকে ছিন্ন করেছে। এমনকি এটি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং ব্যক্তি ও জাতির মধ্যে শান্তি বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকন্তু, এটি নিরাপত্তাকে ভয়ে এবং সম্প্রীতিকে বিবাদে রূপান্তরিত করেছে; যার পেছনে লুকায়িত ছিল চরম অনিষ্ট ও ভয়াবহ বিপদ

গুরুতর।

পূর্ববর্তী জাতিসমূহ এটি উপলব্ধি করেছিল, তাই তারা এর অপরাধীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করেছিল এবং তাকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করেনি। তারা তাকে সমগ্র জাতির শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছিল। রোমানদের মতো কিছু জাতি এর জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছিল। জালিয়াতির বিষয়ে তারা এতটাই কঠোর ছিল যে, মৃত ব্যক্তির অসিয়তনামা গোপনকারী বা নষ্টকারীকেও তারা জালিয়াতদের অন্তর্ভুক্ত করত। বরং প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গের সামান্যতম প্রমাণ পাওয়া যায় এমন কাজ করা ব্যক্তিকেও তারা এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করত। স্বাধীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাদের শাস্তি ছিল সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কোনো সুরক্ষিত স্থানে নির্বাসন দেওয়া, আর দাসদের জন্য শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড (১)। এরপর এটি আরও অগ্রসর হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) এই বাক্যটির ভাবার্থ আহমদ ফাতহি পাশা জাযলুল আল-আসর-এর ‘তাজউইর ফিল আওরাক’ নামক পুস্তিকা থেকে গৃহীত হয়েছে [ম]।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ১৬)
مدارك الأمم بعد ذلك فتعدَّلت العقوبات بحسب آثار الجريمة وعظيم خطرها.

جاء الإِسلام -وهو الكافل للسعادة الدنيوية والأخروية والشفاءُ لأمراض الِإنسانية- فعدَّ شهادة الزور من أعظم الكبائر وأشدَّها ضررًا، وحذَّر من مرتكبيها وجعلهم من أكبر المجرمين وأجراً المفسدين، وعَرَّفهم سُوء منقلبهم وعاقبة بغيهم بما فيه عبرة لكل معتبر كما سيُتلى عليك.

* * *
এরপর জাতিসমূহের বোধশক্তির বিকাশ ঘটল এবং অপরাধের প্রভাব ও তার ভয়াবহতার মাত্রা অনুযায়ী দণ্ডবিধিসমূহ সংশোধিত হলো।

ইসলাম—যা ইহকালীন ও পরকালীন সৌভাগ্যের জামিনদার এবং মানবজাতির ব্যাধিসমূহের মহৌষধ—আবির্ভূত হয়ে মিথ্যা সাক্ষ্যদানকে (شهادة الزور) অন্যতম কবীরা গুনাহ (الكبائر) ও সর্বাধিক ক্ষতিকর বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। এটি এই পাপে লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে সতর্ক করেছে এবং তাদেরকে জঘন্যতম অপরাধী ও ধৃষ্ট বিশৃঙ্খলাকারী হিসেবে গণ্য করেছে। অধিকন্তু, তাদের মন্দ পরিণাম ও সীমালঙ্ঘনের অশুভ পরিণতি সম্পর্কে এমনভাবে অবহিত করেছে, যাতে প্রত্যেক শিক্ষাগ্রহণকারীর জন্য উপদেশ রয়েছে; যা আপনার নিকট অচিরেই পাঠ করা হবে।

* * *
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الأول فيما جاء من الآيات والأحاديت المتعلقة بشهادة الزور

من المناسب أن نبين معنى الزور في اللغة حتى يكون المطَّلع على بصيرة فيما ينظر فيه، وحتى يُعلمَ أن أصحاب المعجمات اللغوية لم يهملوا تفظيع حال شهادة الزور حتى في كلامهم على المعنى اللغوي.

جاء في "لسان العرب" للِإمام محمَّد ابن منظور الِإفريقي ما نصُّه (1): والزور: الكذب والباطل، وقيل: شهادة الباطل وقول الكذب. إلى أن قال: وفي الحديث: "المتشبِّع (2) بما لم يُعْطَ كلابِسِ ثَوْبَيْ زور" (3).

--------------------------------------------

(1) لسان العرب 4/ 336 - 337.

(2) هو الذي يدَّعي بما ليس فيه ويُحبُّ أنْ يُحمدَ بما لم يفعل، وهذا الدَّاء قد فشا بين كثير ممن زين لهم الشيطان أعمالهم، وغَرَّتهم الأماني الباطلة، وقد أخبر الله عز وجل عن هؤلاء بقوله: {لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِنَ الْعَذَابِ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 188].

ودواء هؤلاء هو الرجوع إلى الله ومحاسبة النفس، وطرح الغرور والأخذ بالعلم على وجهه الصحيح والتمسك بالعمل الصالح، والنصح والِإخلاص والتقوى في جميع ذلك كله، والله وليُّ المؤمنين. [م].

(3) رواه البخاري ح 5219، ومسلم 3/ 1681 ح 2130، من حديث أسماء بنت =
প্রথম পরিচ্ছেদ: মিথ্যা সাক্ষ্য সংশ্লিষ্ট আয়াত ও হাদিসসমূহের বর্ণনা প্রসঙ্গে

এটি সমীচীন যে আমরা অভিধানে 'যুর' (মিথ্যা) এর অর্থ স্পষ্ট করব, যাতে পাঠক যা পাঠ করছেন সে বিষয়ে সম্যক অবগত হতে পারেন এবং যাতে এটি জানা যায় যে, অভিধানকারগণ ভাষাগত অর্থের আলোচনার ক্ষেত্রেও মিথ্যা সাক্ষ্যের জঘন্যতাকে উপেক্ষা করেননি।

ইমাম মুহাম্মদ ইবন মানযুর আল-ইফরিকির 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তার ভাষ্য হলো (১): যুর হলো মিথ্যা ও অসারতা; আর বলা হয়েছে: মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান ও মিথ্যা কথা বলা। তিনি আরও বলেন: হাদিসে এসেছে: "যাকে যা দেওয়া হয়নি সে বিষয়ে যে ব্যক্তি নিজেকে পরিতৃপ্ত জাহির করে, সে যেন মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধানকারী।" (৩)

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব ৪/ ৩৩৬ - ৩৩৭।

(২) সে হলো ওই ব্যক্তি যে নিজের মাঝে বিদ্যমান নেই এমন গুণের দাবি করে এবং যা সে করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে। এই ব্যাধিটি এমন অনেক লোকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে যাদের কার্যাবলিকে শয়তান তাদের সামনে সুশোভিত করে দিয়েছে এবং মিথ্যা আকাঙ্ক্ষা যাদের প্রতারিত করেছে। মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত হয় এবং যা তারা করেনি এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে, তুমি কখনোই তাদেরকে আজাব থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত মনে করো না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} [আলে ইমরান: ১৮৮]।

এদের প্রতিকার হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, আত্মপর্যালোচনা করা, অহংকার বর্জন করা, সঠিক পন্থায় জ্ঞান অর্জন করা এবং নেক আমল আঁকড়ে ধরা; সেই সাথে এই সবকিছুর মধ্যে হিতাকাঙ্ক্ষা, ইখলাস ও তাকওয়া বজায় রাখা। আর আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক। [ম]।

(৩) এটি বুখারি (হাদিস নং ৫২১৯) এবং মুসলিম (৩/ ১৬৮১, হাদিস নং ২১৩০) বর্ণনা করেছেন, আসমা বিনতে... এর হাদিস হতে। =
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ১৮)
الزُّور: الكذب والباطل والتُّهمة، وقد تكرر ذكر شهادة الزور في الحديث، وهي من الكبائر، فمنها قوله صلى الله عليه وسلم: "عَدَلَتْ شهادةُ الزور الشركَ باللهِ وإنَّما عادلته لقوله تعالى: {وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ} ثم

--------------------------------------------

= أبي بكر رضي الله عنهما، وعند مسلم ح 2129 من رواية عائشة رضي الله عنها.

وقصة الحديث: أن امرأةً قالت: يا رسول الله إنَّ لي ضَرَّة فهل على جُناح إن تشبَّعتُ من زوجي غير الذي يعطيني؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "المتشبع بما لم يُعط كلابس ثوبَيْ زور".

وقد نقل الحافظ ابن حجر في "فتح الباري" 9/ 318 أقوال العلماء في تفسير هذا الحديث، فمما نقله: قال الزمخشري في "الفائق": المتشبع أي المتشبه بالشبعان وليس به، واستُعيرَ للتحلي بفضيلة لم يرزقها، وشُبَّه بلابس ثوبي زور أي ذي زور، وهو الذي يتزيا بزي أهل الصلاح رياءً، وأضاف الثوبين إليه لأنهما كالملبوسين، وأراد بالتثنية أن المتحلي بما ليس فيه كمن لبس ثوبي الزور ارتدى بأحدهما واتزر بالآخر، كما قيل: إذا هو بالمجد ارتدى وتأزرا.

فالِإشارة بالِإزار والرداء إلى أنه متصف بالزور من رأسه إلى قدمه.

وقال الخطابي: الثوب مَثَلٌ، ومعماه أنه صاحب زور وكذب، كما يقال لمن وصف بالبراءة من الأدناس طاهر الثوب والمراد به نفس الرجل.

ونقل الخطابي عن نعيم بن حماد قوله: كان يكون في الحي الرجل له هيئة وشارة، فإذا احتيج إلى شهادة زور لبس ثوبيه وأقبل فشهد فقُبل لنُبل هيئته وحُسن ثوبيه، فيقال: أمضاها بثوبيه يعني الشهادة، فأضيف الزور إليهما، فقيل: كلابس ثوبي زور. وأما حكم التثنية في قوله: "ثوبي زور" فللإِشارة إلى أن كذب المتحلي مثنى؛ لأنه كذب على نفسه بما لم يأخذ وعلى غيره بما لم يُعط،

وكذلك شاهد الزور يظلم نفسه ويظلم المشهود عليه. اهـ.
আয-যুর (الزُّور): মিথ্যা, বাতিল ও অপবাদ। হাদিসসমূহে মিথ্যা সাক্ষ্য (شهادة الزور)-র বিষয়টি বারবার উল্লিখিত হয়েছে এবং এটি কবিরা গুনাহসমূহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি অন্তর্ভুক্ত: "মিথ্যা সাক্ষ্য (شهادة الزور) আল্লাহর সাথে শিরক করার সমতুল্য হয়েছে।" এটি সমতুল্য হওয়ার কারণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না} অতঃপর

--------------------------------------------

= আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, এবং মুসলিম-এ ২১২৯ নং হাদিসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর বর্ণনা (رواية) থেকে উদ্ধৃত।

হাদিসের প্রেক্ষাপট: জনৈক মহিলা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার একজন সতিন আছে, আমার স্বামী আমাকে যা দেননি তা নিয়ে যদি আমি নিজেকে তৃপ্ত বা ধন্য (তথা যা পাইনি তা পেয়েছি বলে) জাহির করি তবে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যা তাকে দেওয়া হয়নি তা দ্বারা তৃপ্ত হওয়া ব্যক্তি এমন, যে মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধানকারী।"

হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারি ৯/৩১৮-তে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন। তার মধ্যে তিনি যা উদ্ধৃত করেছেন: আয-জামাকশারি আল-ফাইক-এ বলেছেন: আল-মুতাসাব্বি (المتشبع) অর্থাৎ যে ব্যক্তি তৃপ্ত ব্যক্তির সাদৃশ্য গ্রহণ করে অথচ সে আসলে তৃপ্ত নয়। এটি এমন কোনো গুণের ভূষণে ভূষিত হওয়ার ক্ষেত্রে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা তাকে প্রদান করা হয়নি। তাকে মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধানকারী তথা মিথ্যাচারী (ذي زور)-এর সাথে তুলনা করা হয়েছে; যে ব্যক্তি রিয়া বা লোক-দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ লোকদের বেশভূষা গ্রহণ করে। তিনি 'পোশাক দুটি' কথাটিকে তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন কারণ সেগুলো পরিধেয় বস্ত্রের মতো। আর দ্বিবচন ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে নেই এমন গুণের দাবি করে, সে যেন মিথ্যার দুটি কাপড় পরিধান করল—একটি চাদর হিসেবে অন্যটি লুঙ্গি হিসেবে। যেমনটি বলা হয়ে থাকে: "যখন সে মর্যাদাকেই চাদর ও লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করে।"

সুতরাং ইজার (লুঙ্গি) ও রিদা (চাদর)-এর প্রতি ইশারা বা ইঙ্গিত হলো এই যে, সে মাথা থেকে পা পর্যন্ত মিথ্যা দ্বারা বিশেষিত।

আল-খাত্তাবি বলেছেন: পোশাক (এখানে) একটি উপমা। এর মর্মার্থ হলো সে মিথ্যা ও প্রবঞ্চনার ধারক। যেমন কলুষতা থেকে মুক্ত কোনো ব্যক্তির বর্ণনায় তাকে 'পবিত্র পোশাকধারী' বলা হয়, যেখানে উদ্দেশ্য হলো খোদ ব্যক্তিটি।

আল-খাত্তাবি নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ থেকে উদ্ধৃত করেন: জনপদে এমন এক ব্যক্তি ছিল যার বিশেষ বেশভূষা ও জাঁকজমক ছিল। যখন মিথ্যা সাক্ষ্য (شهادة زور)-র প্রয়োজন হতো, সে তার বিশেষ পোশাক দুটি পরিধান করে আসত এবং তার আভিজাত্যপূর্ণ বেশভূষা ও সুন্দর পোশাকের কারণে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হতো। তখন বলা হতো: সে তার পোশাক দুটির মাধ্যমে সাক্ষ্যটি পার করে দিয়েছে। ফলে মিথ্যাকে সেই পোশাক দুটির সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে: "মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধানকারী (كلابس ثوبي زور)-র মতো।" আর "মিথ্যার দুটি পোশাক" কথাটিতে দ্বিবচন ব্যবহারের কারণ হলো এই ইঙ্গিত দেওয়া যে, নিজেকে অলঙ্কৃতকারীর মিথ্যাটি দ্বিমুখী; কেননা সে যা গ্রহণ করেনি তা নিয়ে নিজের ব্যাপারে মিথ্যা বলছে, আবার যা তাকে দেওয়া হয়নি সে বিষয়ে দাতার ব্যাপারেও মিথ্যা বলছে।

অনুরূপভাবে, মিথ্যা সাক্ষী (شاهد الزور) নিজের ওপর জুলুম করে এবং যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে তার ওপরও জুলুম করে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال بعدها: {وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ} [الفرقان: 72] " (1).

وقد جاء لفظ الزُّور في القرآن الكريم في أربعة مواضع، منها موضعان يتعلقان بشهادة الزور:

فالأول: قوله تعالى في سورة الحج: {فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ (30) حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ} [الحج: 30، 31].

وللمفسِّرين في قول الزور في هذه الآية وجوه، منها: أنَّه قولهم هذا حلال وهذا حرام، ومنها: أنَّه شهادة الزور، رفعوا هذا التفسير إلى النبي صلى الله عليه وسلم، ومنها: أنَّه الكذب والبهتان.

والثاني: قوله تعالى في سورة الفرقان: ({وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا (72)} [الفرقان: 72].

قال بعض المفسرين: لا يشهدون شهادة الزور، وقال آخرون: لا يشهدون الشرك، وقال آخرون: هو قول الكذب، وقال بعضهم: هو الغناء.

وقال ابن جرير الطبري (2): إنَّ أولى الأقوال بالصواب أنْ يُقال: والذين لا يشهدون شيئًا من الباطل لا شركًا ولا غناءً ولا كذبًا ولا غيره وكلّ ما لزمه اسم الزّور؛ لأنَّ الله عمَّ في وصفه إيَّاهم أنهم لا يشهدون

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي ح 2299، والِإمام أحمد 4/ 178 من حديث أيمن بن خُريم.

ورواه الترمذي أيضًا ح 2305، وأبو داود ح 3599، وابن ماجه ح 2372، وأحمد 4/ 321 من حديث خُريم بن فاتك الأسدي، بألفاظ متقاربة.

(2) جامع البيان 19/ 49.
এর পরে তিনি বললেন: {এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না} [আল-ফুরকান: ৭২] " (১)।

পবিত্র কুরআনে 'যুর' (মিথ্যা) শব্দটি চারটি স্থানে এসেছে, যার মধ্যে দুটি স্থান মিথ্যা সাক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত:

প্রথমটি হলো: সূরা আল-হাজ্জ-এ মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা বর্জন করো এবং মিথ্যা কথা পরিহার করো। (৩০) আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে, তাঁর সাথে কোনো শরীক না করে} [আল-হাজ্জ: ৩০, ৩১]।

এই আয়াতে 'মিথ্যা কথা' (قول الزور) সম্পর্কে মুফাসসিরগণের বেশ কিছু অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: এটি দ্বারা তাদের সেই কথা বোঝানো হয়েছে যে, 'এটি হালাল এবং এটি হারাম'; আবার কেউ বলেছেন: এটি দ্বারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বোঝানো হয়েছে—তারা এই ব্যাখ্যাটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে উদ্ধৃত (مرفوع) করেছেন; অন্যমতে এটি হলো মিথ্যা ও অপবাদ।

দ্বিতীয়টি হলো: সূরা আল-ফুরকান-এ মহান আল্লাহর বাণী: ({এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং যখন তারা অসার ক্রিয়াকলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন গাম্ভীর্যের সাথে চলে যায়। (৭২)} [আল-ফুরকান: ৭২]।

কিছু মুফাসসির বলেছেন: তারা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করে না। অন্যগণ বলেছেন: তারা শিরকে উপস্থিত হয় না। আবার কেউ বলেছেন: এটি হলো মিথ্যা কথা বলা। কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো গান-বাজনা।

ইবনে জারীর আত-তাবারী (২) বলেছেন: বক্তব্যসমূহের মধ্যে সঠিকতার সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো এটি বলা যে: "তারা বাতিলের কোনো কিছুতেই উপস্থিত হয় না—তা শিরক হোক, গান-বাজনা হোক, মিথ্যা হোক বা অন্য কিছু—অর্থাৎ যা কিছুর ওপর 'যুর' (মিথ্যা/বাতিল) শব্দটি প্রযোজ্য হয়; কারণ আল্লাহ তাদের বর্ণনায় এ কথাটি ব্যাপকভাবে উল্লেখ করেছেন যে তারা উপস্থিত হয় না..."

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি হাদিস নং ২২৯৯ এবং ইমাম আহমাদ ৪/১৭৮-এ আয়মান ইবনে খুরাইম বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

তিরমিজি হাদিস নং ২৩০৫, আবু দাউদ হাদিস নং ৩৫৯৯, ইবনে মাজাহ হাদিস নং ২৩৭২ এবং আহমাদ ৪/৩২১-এ খুরাইম ইবনে ফাতিক আল-আসাদি বর্ণিত হাদিস থেকে প্রায় একই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) জামিউল বায়ান ১৯/৪৯।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২০)
الزور، فلا ينبغي أن يُخصّ من ذلك شيء إلَاّ بحجَّة يجب التسليم لها من خبر أو عقل.

 

‌‌وأما الأحاديث:

فقد روى البخاري ومسلم والِإمام أحمد (1) عن سيدنا أنس بن مالك خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الكبائر أو سُئل عن الكبائر فقال: "الشرك بالله، وقتل النفس، وعقوق الوالدين"، وقال: "ألا أُنبِّئكم بأكبر الكبائر: قول الزور"، أو قال: "شهادة الزور".

وعن أبي بَكْرَة نُفَيْع بن الحارث (2)، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أَلا أُنبئكم بأكبر الكبائر؟ "، قلنا: بلى يا رسول الله، قال: "الِإشراك بالله؟ وعقوق الوالدين"، وكان متكئًا فجلس (3) وقال: "ألَا وقول الزور وشهادة الزور"، فما زال يكررها حتى قلنا: ليتهُ سَكَتَ (4).

--------------------------------------------

(1) البخاري ح 2653، ومسلم 1/ 92، ومسند أحمد 3/ 131.

(2) رواه البخاري ح 2654، ومسلم 1/ 91 ح 87، ومسند أحمد 5/ 36.

(3) هذا يُشْعِر باهتمامه صلى الله عليه وسلم بذلك حتى جلس بعد أنْ كان متكئًا، ويفيد ذلك تأكيد تحريمه وعظيم قُبحه. وسبب الاهتمام بشهادة الزور كونها أسهل وقوعًا على الناس والتهاون بها أكثر، فإنَّ الِإشراك ينبو عنه قلب المسلم، والعقوق يَصرِف عنه الطبع، وأما الزور فالحوامل عليه كثيرة كالعداوة والحسد وغيرهما، فاحتيج إلى الاهتمام به. وليس ذلك لِعِظَمه بالنسبة إلى ما ذُكر معه من الِإشراك قطعًا، بل لكون مفسدته إلى الغير، بخلاف الِإشراك فإنَّ مفسدته مقصورة عليه غالبًا. اهـ. من نيل الأوطار للِإمام الشوكاني. [م].

(4) قال الحافظ ابن حجر في الفتح 5/ 263 في تعليقه على هذه الكلمة: أي شفقة عليه وكراهية لما يزعجه، وفيه ما كانوا عليه من كثرة الأدب معه صلى الله عليه وسلم والمحبة له والشفقة عليه. اهـ.
মিথ্যাচার; সুতরাং কোনো দলিল বা প্রমাণের ভিত্তি ব্যতীত এ থেকে কোনো কিছুই স্বতন্ত্র করা উচিত নয়, যার সামনে সংবাদ বা বিবেকের মাধ্যমে নতি স্বীকার করা আবশ্যক।

 

‌‌আর হাদিসসমূহের বিষয়ে:

বুখারি, মুসলিম ও ইমাম আহমদ (১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম আমাদের নেতা আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবিরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করলেন অথবা তাঁকে কবিরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শরিক করা, জীবন নাশ করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।" এরপর তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? তা হলো মিথ্যা কথা বলা," অথবা বললেন: "মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।"

আবু বাকরা নুফাই বিন হারিস (২) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না?" আমরা বললাম: "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল!" তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শরিক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।" তিনি হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন, এরপর উঠে বসলেন (৩) এবং বললেন: "সাবধান! মিথ্যা কথা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান।" তিনি এ কথার পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন, এমনকি আমরা (মনে মনে) বললাম: হায়! তিনি যদি এখন থামতেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি, হাদিস নং ২৬NT৫৩; মুসলিম ১/৯২; মুসনাদ আহমদ ৩/১৩১।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, হাদিস নং ২৬৫৪; মুসলিম ১/৯১, হাদিস নং ৮৭; মুসনাদ আহমদ ৫/৩৬।

(৩) এটি উক্ত বিষয়ের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ গুরুত্বারোপের কথা জানান দেয়, যার কারণে তিনি হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে উঠে বসলেন। এটি উক্ত কর্মের নিষিদ্ধতার গুরুত্ব এবং এর চরম কদর্যতা নির্দেশ করে। মিথ্যা সাক্ষ্যের প্রতি এই বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের কারণ হলো, মানুষের জন্য এতে লিপ্ত হওয়া সহজ এবং এর প্রতি অবহেলা অধিক। কেননা শিরকের বিষয় থেকে মুমিনের অন্তর স্বভাবতই দূরে থাকে এবং পিতা-মাতার অবাধ্যতা থেকেও মানুষের প্রবৃত্তি তাকে বিরত রাখে। পক্ষান্তরে মিথ্যা সাক্ষ্যের পেছনে শত্রুতা, হিংসা এবং এর ন্যায় অনেক প্রভাবক বিদ্যমান থাকে, যার ফলে এর প্রতি বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে এটি শিরকের সাথে উল্লেখ করা হলেও নিশ্চিতভাবেই তা শিরকের চেয়ে বড় হওয়ার কারণে নয়, বরং এর অনিষ্টতা অন্যের ওপর প্রসারিত হয় বলে এমনটি করা হয়েছে; বিপরীতে শিরকের অনিষ্টতা সাধারণত ব্যক্তির নিজের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে। ইতি— ইমাম শাওকানি রচিত 'নায়লুল আওতার' থেকে। [ম]।

(৪) হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ' (৫/২৬৩) গ্রন্থে এই শব্দটির ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ তাঁর প্রতি দয়া পরবশ হয়ে এবং তিনি যাতে কোনো কষ্টের সম্মুখীন না হন তা অপছন্দ করে। এর দ্বারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সাহাবিদের উচ্চতর আদব, ভালোবাসা ও মমত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায়। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২১)
وروى الِإمام ابن ماجه (1) عن سيدنا عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لَن تَزُولَ قَدَما شاهدِ الزور حتى يُوجب الله له النار". وفي هذا الحديث وعيدٌ شديدٌ لشاهدِ الزور حيث أوجب الله له النار قبل أن ينتقل من مكانه، ولعل ذلك مع عدم التوبة، أما لو تاب وأكذب نفسه قبل العمل بشهادته فالله يقبل التوبة عن عباده.

وروى الحاكم والديلمي (2) عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أَلَا من زيَّن نفسه للقُضاة بشهادة الزور زيَّنه الله تعالى يوم القيامة بسِرْبال (3) من قَطِرَان وأَلْجمه بلجام من نار".

وروى الِإمام أحمد في مسنده وابن أبي الدنيا (4) عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مَنْ شهدَ على مسلم شهادةً ليس لها بأهل فليتبوَّأ مقعده من النار".

وروى أبو سعيد النقَّاش في "كتاب القضاة" (5) عن عبد الله بن جَرَاد: عن النبي صلى الله عليه وسلم: "مَنْ شهدَ شهادة زور فعليه لعنةُ الله، ومَنْ حَكَمَ بين اثنين فلم يَعدِل بينهما فعليه لعنةُ الله".

--------------------------------------------

(1) ح 2373، وفي الزوائد: في إسناده محمَّد بن الفرات متفق على ضعفه، وكذبه الِإمام أحمد.

(2) لم أجده عند الحاكم في المستدرك ولا في مسند الفردوس للديلمي، وعزاه في كنز العمال للحافظ ابن عساكر في التاريخ عن إبراهيم بن هدبة عن أنس، ح 17760.

(3) السربال: القميص.

(4) المسند 2/ 509، وقال الهيثمي في المجمع 4/ 200: تابعيَّة لم بسم وبقية رجاله ثقات، وابن أبي الدنيا في كتاب الغيبة والنميمة ح 122.

(5) هكذا أورده المتقي الهدي في كنز العمال ح 17762، وعزاه للنقاش.
ইমাম ইবনে মাজাহ (১) সাইয়্যিদিনা আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীর কদমদ্বয় ততক্ষণ পর্যন্ত সরবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করবেন।" এই হাদিসে মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তার স্থান পরিবর্তনের আগেই তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করে দেন। সম্ভবত এটি তাওবা না করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; তবে যদি সে তাওবা করে এবং তার সাক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করার আগেই নিজেকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করে, তবে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন।

হাকিম ও দাইলামি (২) আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "সাবধান! যে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্যের মাধ্যমে বিচারকদের নিকট নিজেকে সুশোভিত করল, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার জামা (৩) দ্বারা সুশোভিত করবেন এবং তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।"

ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ-এ এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া (৪) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে এমন সাক্ষ্য প্রদান করল যার সে যোগ্য নয়, তবে সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ তাঁর "কিতাবুল কুদাত" (৫)-এ আবদুল্লাহ ইবনে জারাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দিল তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ, আর যে ব্যক্তি দুইজনের মধ্যে বিচার করল কিন্তু তাদের মধ্যে ইনসাফ করল না, তার ওপরও আল্লাহর অভিশাপ।"

--------------------------------------------

(১) হাদিস নং ২৩৭৩। আয-যাওয়ায়েদ-এ রয়েছে: এর সনদ (إسناد)-এ মুহাম্মদ ইবনুল ফুরাত নামক বর্ণনাকারী রয়েছে, যার দুর্বল (ضعيف) হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত এবং ইমাম আহমদ তাকে মিথ্যাবাদী (كذاب) বলেছেন।

(২) আমি এটি হাকিমের মুস্তাদরাক কিংবা দাইলামির মুসনাদুল ফিরদাউস-এ পাইনি। কানযুল উম্মাল-এ এটি হাফেজ ইবনে আসাকিরের তারিখ-এর উদ্ধৃতিতে ইবরাহিম ইবনে হুদবা সূত্রে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, হাদিস নং ১৭৭৬০।

(৩) সিরবাল (سربال) হলো: কামিস বা জামা।

(৪) মুসনাদ ২/৫০৯। হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়েদ-এ ৪/২০০-এ বলেছেন: এতে একজন নারী তাবিঈ (تابعية) রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আর ইবনে আবিদ দুনিয়া তাঁর কিতাবুল গীবাহ ওয়ান নামিমাহ-তে উল্লেখ করেছেন, হাদিস নং ১২২।

(৫) মুত্তাকী আল-হিন্দি কানযুল উম্মাল-এ এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন, হাদিস নং ১৭৭৬২ এবং এটি নাক্কাশের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২২)
وروى البخاري ومسلم (1) عن أبي هريرة، عنه صلى الله عليه وسلم: "مَنْ مشى مع قوم يرى أنه شاهد وليس بشاهد فهو شاهد زور، ومَنْ أعانَ على خصومة بغير علم كان في سَخَط الله حتى ينْزِع، وقتال المؤمن كفر وسبابه فسوق".

وعن ابن عمر قال: لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم شاهد الزور وهو يعلم (2).

* * *

--------------------------------------------

(1) الحديث ليس في البخاري ومسلم، بل أخرجه البيهقي في السنن 6/ 82، وسبب هذا الخطأ نقل المؤلف الحديث عن كنز العمال ح 17763 حيث وقع فيه رمز (ق) أي الصحيحين وهو تصحيف عن (هق) أي البيهقي في السنن.

(2) كنز العمال ح 17802، وعزاه لأبي سعيد النقاش.
ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (১) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাথে এই উদ্দেশ্যে পথ চলল যে তাকে সাক্ষী মনে করা হচ্ছে অথচ সে প্রকৃত সাক্ষী নয়, তবে সে একজন মিথ্যা সাক্ষী (شاهد زور)। আর যে ব্যক্তি না জেনে কোনো বিবাদে সহায়তা করল, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে যতক্ষণ না সে তা পরিহার করে। আর মুমিনের সাথে লড়াই করা কুফরি (كفر) এবং তাকে গালি দেওয়া ফাসিকি (فسوق)।"

এবং ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) জেনে-বুঝে মিথ্যা সাক্ষ্য (شاهد الزور) প্রদানকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন (২)।

* * *

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমে নেই, বরং এটি ইমাম বায়হাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে (৬/৮২) বর্ণনা করেছেন। এই ভুলের কারণ হলো লেখক হাদিসটি 'কানজুল উম্মাল' (হাদিস নং ১৭৭৬৩) থেকে উদ্ধৃত করেছেন যেখানে (ق) প্রতীকটি ব্যবহৃত হয়েছে যা দ্বারা সহিহাইন (الصحيحين) বোঝানো হয়। এটি মূলত (هق) প্রতীকের লিখনগত বিকৃতি (تصحيف), যা দ্বারা সুনানে বায়হাকি উদ্দেশ্য।

(২) কানজুল উম্মাল, হাদিস নং ১৭৮০২; তিনি এটি আবু সাঈদ আন-নাক্কাশের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الثاني في ذكر بعض ما جاء عن أئمة الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين وما ذكره بعض الفقهاء في كتبهم في حكم شاهد الزور

عن مكحول والوليد بن أبي مالك قالا: كتب عمر إلى عُمَّاله في الشاهد الزور أنْ يُضربَ أربعينَ سَوطًا، وأن يُسخَّم وجهه (1)، ويُحلق رأسه، ويُطاف به، ويُطال حبسه (2).

وعن عبد الله بن عامر بن ربيعة قال: أُتِيَ عمر بشاهد زور فوقفه للناس يومًا إلى الليل يقول: هذا فلان يشهد زورًا فاعرِفوه، فجلده ثم حبسه (3).

وعن علي بن الحسين قال: كان عليٌّ إذا أخذ شاهد زور بعثه إلى

--------------------------------------------

(1) وفي رواية يسخَّم وجهه "بالحاء" ومعناهما: أن يسوَّد، مأخوذ من السخام وهو سواد القِدر، وقيل: المراد بالتسحيم: التخجيل والتفضيح [م].

(2) رواه عبد الرزاق في المصنف ح 15392، وفيه: مكحول عن الوليد بن أبي مالك، والبيهقي في السنن 15/ 142.

(3) رواه البيهقي في السنن 10/ 141.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবী (صحابة)গণের ইমামদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং কতিপয় ফকীহ (فقهاء) তাঁদের কিতাবসমূহে মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার বিধান সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তার আলোচনা

মাকহুল এবং ওয়ালিদ ইবনে আবি মালিক থেকে বর্ণিত (عن), তাঁরা বলেন: উমর (রা.) তাঁর কর্মকর্তাদের নিকট মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার বিষয়ে লিখে পাঠান যে, তাকে যেন চল্লিশটি বেত্রাঘাত করা হয়, তার মুখমণ্ডল কালি মাখিয়ে কালো করে দেওয়া হয় (১), তার মাথা মুণ্ডন করা হয়, তাকে জনসমক্ষে ঘোরানো হয় এবং তার কারাবাস দীর্ঘ করা হয় (২)।

আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিয়াহ থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: উমর (রা.)-এর নিকট এক মিথ্যা সাক্ষ্যদাতাকে আনা হলে তিনি তাকে একদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখেন এবং ঘোষণা করেন: ‘এই ব্যক্তি অমুক, সে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়; সুতরাং তোমরা তাকে চিনে রাখো’। এরপর তিনি তাকে বেত্রাঘাত করেন এবং কারারুদ্ধ করেন (৩)।

আলী ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: আলী (রা.) যখন কোনো মিথ্যা সাক্ষ্যদাতাকে পাকড়াও করতেন, তখন তাকে প্রেরণ করতেন...

--------------------------------------------

(১) অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) শব্দটি ‘হা’ বর্ণযোগে বর্ণিত হয়েছে এবং উভয় শব্দের অর্থ হলো: মুখমণ্ডল কালো করে দেওয়া। এটি ‘সাখাম’ শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ হাঁড়ির কালি। আবার বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা লজ্জিত ও অপদস্থ করা উদ্দেশ্য [ম]।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে, হাদিস নং ১৫৩৯২; আর তাতে মাকহুল বর্ণনা করেছেন (عن) ওয়ালিদ ইবনে আবি মালিক থেকে। এছাড়াও বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে (১৫/১৪২) এটি বর্ণনা করেছেন (رواه)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) বায়হাকী তাঁর সুনান গ্রন্থে (১০/১৪১)।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২৪)
عشيرته، فقال: إنَّ هذا شاهد زور فاعرفوه وعرِّفوه، ثم خَلَّى سبيله (1).

وقال العلَّامة الشيخ محمَّد بن عبد الرحمن الدمشقي العثماني في كتابه "رحمة الأمة في اختلاف الأئمة" ما نصُّه (2):

(فصل) واختلفوا في عقوبة شاهد الزور، فقال أبو حنيفة: لا تعزير عليه بل يُوقف في قومه ويقال لهم: إنه شاهد زور، وقال مالك والشافعي وأحمد: يُعزَّر ويُوقف في قومه ويُعرَّفون أنَّه شاهد زور، وزاد مالك فقال:

ويُشهَّر (3) في الجوامع والأسواق والمجامع، اهـ.

وقال العلَاّمة الشهاب أحمد بن حجر الهيتمي في كتابه "الزواجر عن اقتراف الكبائر" ما نصُّه (4): (الكبيرة السابعة والثامنة والثلاثون بعد الأربعمائة شهادة الزور وقَبولها).

أخرج الشيخان عن أبي بَكْرة واسمه نُفَيع بن الحارث رضي الله عنه قال: كنا جُلوسًا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "أَلَا أُنبئكم بأكبر الكبائر" ثلاثًا "الِإشراك باللهِ، وعقوق الوالدين"، وكان متكئًا فجلس فقال: "أَلَا وقول

--------------------------------------------

(1) رواه البيهقي في السنن 10/ 142، وقال عَقِبَه: وهذا منقطع.

(2) رحمة الأمة 1/ 213، من الطبعة التي بهامش كتاب الميزان للشعراني.

(3) التشهير بشاهد الزور وتعريف الناس بحاله من العقوبات التي تَفعل في النفوس ما لا يفعله كثير من الجزاءات الأخرى، وحسبُكَ أنَّ شاهد الزور في هذه الحالة يجتنبه الناس ويمقتونه فيكون بينهم كالجمل الأجرب ينفر منه كل من يراه ولا يطمئن إليه أحد، ومتى ارتفعت ثقة الناس منه خسر خسرانًا مبينًا، ونعوذ بالله من خزي الدنيا وعذاب الآخرة [م].

(4) الزواجر 2/ 193.
...তার গোত্র। অতঃপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি একজন মিথ্যা সাক্ষী; সুতরাং তোমরা তাকে চিনে রাখো এবং অন্যদেরকেও তাকে চিনিয়ে দাও।" এরপর তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন (১)।

আল্লামা শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আদ-দিমাশকি আল-উসমানি তার 'রাহমাতুল উম্মাহ ফি ইখতিলাফিল আইম্মাহ' গ্রন্থে যা লিখেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ (২):

(পরিচ্ছেদ) মিথ্যা সাক্ষীর শাস্তির বিষয়ে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা বলেন: তার ওপর কোনো শাস্তিমূলক দণ্ড নেই, বরং তাকে তার সম্প্রদায়ের সামনে দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বলা হবে যে, সে একজন মিথ্যা সাক্ষী। আর ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমদ বলেন: তাকে শাস্তিমূলক দণ্ড প্রদান করা হবে এবং তার সম্প্রদায়ের সামনে দাঁড় করিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে যে সে একজন মিথ্যা সাক্ষী। ইমাম মালিক আরও বাড়িয়ে বলেন:

এবং তাকে বড় বড় মসজিদ, বাজার ও জনসমাবেশস্থলে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে (৩)। সমাপ্ত।

আল্লামা শিহাব আহমদ বিন হাজর আল-হায়তামি তার 'আজ-জাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবায়ির' গ্রন্থে যা লিখেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ (৪): (৪৩৭ ও ৪৩৮তম কবিরা গুনাহ হলো মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং তা গ্রহণ করা)।

শায়খাইন আবু বাকরা (রা.)—যার নাম নুফাই বিন আল-হারিস (রা.)—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম, তখন তিনি তিনবার বললেন: "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে অবহিত করব না?" (তা হলো) "আল্লাহর সাথে শরিক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।" তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন, এরপর সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: "সাবধান! আর মিথ্যা কথা...

--------------------------------------------

(১) বায়হাকি এটি সুনান গ্রন্থে (১০/১৪২) বর্ণনা করেছেন এবং এর পরপরই বলেছেন: এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)।

(২) রাহমাতুল উম্মাহ ১/২১৩; যা শায়রানির আল-মিজান গ্রন্থের পার্শ্বটীকায় মুদ্রিত সংস্করণ থেকে।

(৩) মিথ্যা সাক্ষীকে জনসমক্ষে লাঞ্ছিত করা এবং তার অবস্থা সম্পর্কে মানুষকে অবগত করা এমন এক শাস্তি যা মানুষের মনে এমন প্রভাব ফেলে যা অন্য অনেক শাস্তি পারে না। আপনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এই অবস্থায় মানুষ মিথ্যা সাক্ষীকে পরিহার করবে এবং ঘৃণা করবে; ফলে সে মানুষের মাঝে একটি চর্মরোগগ্রস্ত উটের মতো হয়ে পড়বে, যাকে দেখা মাত্রই সবাই দূরে সরে যায় এবং কেউ তার ওপর আস্থা রাখে না। যখনই মানুষের আস্থা তার ওপর থেকে উঠে যাবে, সে সুস্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আমরা দুনিয়ার লাঞ্ছনা এবং আখিরাতের আজাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই [সম্পাদক]।

(৪) আজ-জাওয়াজির ২/১৯৩।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২৫)
الزور وشهادة الزور"، فما زال يكرِّرها حتى قلنا: ليتهُ سَكَتَ (1).

وروى البخاري: "الكبائر الِإشراك بالله، وعقوق الوالدين، وقتل النفس، واليمين الغموس" (2).

والشيخان: ذَكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الكبائر فقال: "الشرك بالله، وعقوق الوالدين، وقتل النفس"، فقال: "أَلَا أُنبئكم بأكبر الكبائر: قول الزور" أو قال: "شهادة الزور" (3).

وأبو داود واللفظ له والترمذي وابن ماجه (4): صلَّى رسول الله صلى الله عليه وسلم

صلاة الصبح فلما انصرف قام قائمًا فقال: "عَدَلَتْ شهادة الزور الِإشراك بالله" ثلاث مرات ثم قرأ: {فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ (30) حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ} [الحج: 30، 31]. ورواه الطبراني موقوفًا على ابن مسعود بسند حسن (5).

وأحمد بسند رُواته ثِقَات: "مَنْ شهد على مسلم شهادة ليس لها بأهل فليتبوأ مقعده من النار" (6).

--------------------------------------------

(1) تقدم تخريجه ص 20.

(2) البخاري ح 6675 من حديث عبد الله بن عمرو، ومناسبة الحديث قوله صلى الله عليه وسلم:

"اليمين الغموس"، أي الكاذبة التي تغمس صاحبها في النار والتي هي مفتاح شهادة الزور.

(3) تقدم تخريجه ص 20.

(4) تقدم تخريجه ص 19.

(5) مجمع الزوائد 4/ 200.

(6) تقدم تخريجه ص 21.
"...মিথ্যা কথা ও মিথ্যা সাক্ষ্য।" তিনি এটি বারংবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমরা বললাম: হায়! তিনি যদি থামতেন (১)।

বুখারি বর্ণনা করেছেন: "কবিরা গুনাহসমূহ হলো—আল্লাহর সাথে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কোনো প্রাণ হত্যা করা এবং মিথ্যা শপথ (اليمين الغموس)" (২)।

শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবিরা গুনাহসমূহের কথা উল্লেখ করে বললেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং প্রাণ হত্যা করা।" এরপর তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তা হলো—মিথ্যা কথা" অথবা তিনি বলেছেন "মিথ্যা সাক্ষ্য" (৩)।

আবু দাউদ (শব্দাবলি তার), তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (৪): রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি দাঁড়ালেন এবং বললেন: "মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা আল্লাহর সাথে শিরক করার সমতুল্য করা হয়েছে"—একথা তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {সুতরাং তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং পরিহার করো মিথ্যা কথা। আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করে} [সূরা হজ: ৩০, ৩১]। তাবারানি এটি ইবনে মাসউদের সূত্রে মাওকুফ (موقوفًا) হিসেবে হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন (৫)।

আহমদ এমন এক সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات): "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে এমন সাক্ষ্য দিল যার সে উপযুক্ত নয়, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়" (৬)।

--------------------------------------------

(১) এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে ২০ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) বুখারি, হাদিস নং ৬৬৭৫, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বর্ণিত হাদিস থেকে; হাদিসটির প্রাসঙ্গিকতা হলো নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী:

"আল-ইয়ামিন আল-গামুস", অর্থাৎ এমন মিথ্যা শপথ যা তার লিপ্তকারীকে জাহান্নামে নিমজ্জিত করে এবং যা মিথ্যা সাক্ষ্যের চাবিকাঠি।

(৩) এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে ২০ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে ১৯ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৫) মাজমাউয যাওয়াইদ, ৪/২০০।

(৬) এর তাখরিজ (تخريج) পূর্বে ২১ পৃষ্ঠায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২৬)
وابن ماجه والحاكم وصحَّحه: "لن تَزولَ قَدَما شاهد الزور حتى يوجب الله له النار" (1).

والطبراني: "إن الطير لتضرب بمناقيرها على الأرض وتحرك أذنابها من هول يوم القيامة وما يتكلم به شاهد الزور، ولا يفارق قدماه على الأرض حتى يُقذف به في النار" (2).

والطبراني بسند فيه منكر: "أَلَا أخبركم بأكبر الكبائر: الِإشراك بالله، وعقوق الوالدين"، وكان صلى الله عليه وسلم محتبيًا فحلَّ حبوته فأخذ النبي صلى الله عليه وسلم بطرف لسانه فقال: "ألَا وقول الزور" (3).

والطبراني بسند رجاله ثقات: "ألا أُنبئكم بأكبر الكبائر: الِإشراك باللهِ " ثم قرأ: " {وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا} [النساء: 48]، وعقوق الوالدين" ثم قرأ: {أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ} [لقمان: 14]، وكان متكئًا فقعد فقال: "ألا وقول الزور" (4).

--------------------------------------------

(1) تقدم تخريجه ص 21.

(2) مجمع الزوائد 4/ 200 من حديث ابن عمر، قال الهيثمي: رواه الطبراني في الأوسط وفيه من لا أعرفه.

(3) مجمع الزوائد 4/ 200 من حديث أبي الدرداء، قال الهيثمي: رواه الطبراني في الكبير وفيه عمر بن المساور وهو منكر الحديث.

ومعنى "كان محتبيًا فحل حبوته": الاخباء أن يضم الِإنسان رجليه إلى بطنه بثوب يجمعهما به مع ظهره أو يكون باليدين عوض الثوب. النهاية في غريب الحديث 1/ 335.

(4) أخرجه الطبراني في المعجم الكبير 18/ 140 من حديث عمران بن الحصين.

قال الهيثمي في مجمع الزوائد 1/ 103: رجاله ثقات إلَاّ أن الحسن مدلِّس وعنعنه.
ইবনে মাজাহ এবং আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صححه) বলে অভিহিত করেছেন: "মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীর দুই পা সরবে না যতক্ষণ না আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করেন" (১)।

তাবারানি বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই পাখি কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা এবং মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী যা বলে তার কারণে মাটিতে ঠোঁট দিয়ে আঘাত করতে থাকে এবং তাদের লেজ নাড়াতে থাকে। মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীর দুই পা মাটি থেকে পৃথক হবে না যতক্ষণ না তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়" (২)।

তাবারানি এমন একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে একজন মুনকার (منكر) বর্ণনাকারী রয়েছেন: "আমি কি তোমাদের কবিরা গুনাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? আল্লাহর সাথে শরিক করা এবং পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহতিবা (দুই পা পেটের সাথে গুটিয়ে বসা) অবস্থায় ছিলেন, এরপর তিনি সেই বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জিহ্বার অগ্রভাগ ধরে বললেন: "সাবধান! এবং মিথ্যা কথা" (৩)।

তাবারানি এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات): "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? আল্লাহর সাথে শরিক করা।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "{আর যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে এক মহাপাপ রচনা করে}" [আন-নিসা: ৪৮], "এবং পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "{আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, প্রত্যাবর্তন তো আমারই কাছে}" [লুকমান: ১৪]। তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, এরপর উঠে বসলেন এবং বললেন: "সাবধান! এবং মিথ্যা কথা" (৪)।

--------------------------------------------

(১) এর তাখরিজ পৃষ্ঠা ২১-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/২০০, ইবনে উমরের হাদিস থেকে; আল-হায়সামি বলেছেন: তাবারানি এটি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন এবং এতে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যাকে আমি চিনি না।

(৩) মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/২০০, আবু দারদার হাদিস থেকে; আল-হায়সামি বলেছেন: তাবারানি এটি আল-কাবীর-এ বর্ণনা করেছেন এবং এতে উমর বিন আল-মুসাওয়ির রয়েছেন, যিনি মুনকার (منكر) হাদিস বর্ণনাকারী।

"তিনি ইহতিবা অবস্থায় ছিলেন অতঃপর সেই ভঙ্গি পরিবর্তন করলেন"-এর অর্থ হলো: ইহতিবা হলো এমনভাবে বসা যেখানে মানুষ তার দুই পা পেটের সাথে গুটিয়ে কাপড় দিয়ে পিঠের সাথে বেঁধে রাখে অথবা কাপড়ের বদলে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে রাখে। আন-নিহায়াহ ফি গরিবিল হাদিস ১/৩৩৫।

(৪) তাবারানি এটি আল-মু'জাম আল-কাবীর ১৮/১৪০-এ ইমরান বিন হুসাইন-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

আল-হায়সামি মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১/১০৩-এ বলেছেন: এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে হাসান একজন মুদাল্লিস (مدلس) এবং তিনি আনআনা (عنعنه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২৭)
تنبيه: عَدُّ هذين -يعني شهادة الزور وقبولها- هو ما صرحوا به في الأولى وقياسها في الثانية. وشهادة الزور هي أن يشهد بما لا يتحققه.

قال العز ابن عبد السلام: وَعدُّها كبيرة ظاهر إنْ وقع في مال خطير، فإنْ وقع في مال قليل كزبيبة أو تمرة فمشكل، فيجوز أنْ تُجعل من الكبائر فطمًا عن هذه المفاسد كما جُعل شرب قطرة من الخمر من الكبائر وإنْ لم تتحقق المفسدة، ويجوز أنْ يُضبط ذلك المال بنصاب السرقة.

قال: وكذلك القول في أكل مال اليتيم.

وقد مرّ عن ابن عبد السلام أنه حكى الِإجماع على أنَّ غَصْبَ الحبَّة وسرقتها كبيرة وهذا مؤيِّد للأول، أعني أنَّه لا فرق في كون شهادة الزور كبيرة بين قليل المال وكثيره فطمًا عن هذه المفسدة القبيحة الشنيعة جدًّا، ومِن ثَمَّ جُعلت عدلاً للشرك، ووقع له صلى الله عليه وسلم عند ذِكرها من الغضب والتكرير ما لم يقع له عند ذكر ما هو أكبر منها كالقتل والزنا، فدلَّ ذلك على عِظَم

أمرها، ومن ثَم جُعلت في بعض الأحاديث السابقة أكبر الكبائر، انتهى باختصار قليل.

وذكر الكمال ابن الهُمام في كتابه "فتح القدير على الهداية" (1): أنَّ شُريحًا القاضي كان يبعث بشاهد الزور إلى سوقه إن كان سوقيًا وإلى قومه إن كان غير سوقي بعد العصر أجمع ما يكونون ويقول: إن شُريحًا يُقرئكم السلام، ويقول: إنَّا وجدنا هذا شاهد زور فاحذروه وحَذِّروا الناس منه. اهـ.

--------------------------------------------

(1) 7/ 477، طبعة مصطفى البابي الحلبي.
সতর্কবার্তা: এই দুইটিকে—অর্থাৎ মিথ্যা সাক্ষ্য (شهادة الزور) প্রদান করা এবং তা গ্রহণ করা—গণনা করার বিষয়টি হলো এমন যা তাঁরা প্রথমটির ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তার ওপর কিয়াস (قياس) করেছেন। আর মিথ্যা সাক্ষ্য (شهادة الزور) হলো এমন বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যা সে নিশ্চিতভাবে জানে না।

ইজ্জুদ্দিন ইবনে আবদুস সালাম বলেন: এটি কবিরা গুনাহ (كبيرة) হিসেবে গণ্য হওয়া স্পষ্ট যদি তা কোনো বড় অংকের সম্পদের ক্ষেত্রে ঘটে; তবে যদি তা কিশমিশ বা একটি খেজুরের মতো সামান্য সম্পদের ক্ষেত্রে হয় তবে তা অস্পষ্ট বা জটিল (مشكل)। এমতাবস্থায় এই সকল অনিষ্ট (المفاسد) থেকে বিরত রাখার জন্য একে কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত করা বৈধ হতে পারে, যেমন এক ফোঁটা মদ পান করাকেও কবিরা গুনাহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যদিও তাতে কোনো ক্ষতি বা অনিষ্ট (المفسدة) নিশ্চিতভাবে সাধিত না হয়। আবার এটাও বৈধ যে, সেই সম্পদের পরিমাণকে চুরির নিসাব (نصاب) দ্বারা নির্দিষ্ট করা হবে।

তিনি বলেন: এতিমের সম্পদ ভক্ষণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

ইতিপূর্বে ইবনে আবদুস সালাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একটি শস্যদানা জবরদখল বা চুরি করা কবিরা গুনাহ (كبيرة) হওয়ার ব্যাপারে ইজমা (الإجماع) বর্ণনা করেছেন। আর এটি প্রথম মতটিকে সমর্থন করে—অর্থাৎ এই অত্যন্ত জঘন্য ও কদর্য অনিষ্ট (المفسدة) থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য (شهادة الزور) কবিরা গুনাহ (كبيرة) হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পদের পরিমাণ অল্প হোক বা বেশি, তাতে কোনো পার্থক্য নেই। এ কারণেই একে শিরকের (الشرك) সমতুল্য করা হয়েছে। আর এটি উল্লেখ করার সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে এমন রাগ ও কথার পুনরাবৃত্তি প্রকাশ পেয়েছিল যা এর চেয়েও বড় কোনো বিষয় যেমন হত্যা বা ব্যভিচার উল্লেখ করার সময় প্রকাশ পায়নি। সুতরাং এটি এর ভয়াবহতাকে প্রমাণ করে। আর একারণেই পূর্বের কিছু হাদিসে একে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ (أكبر الكبائر) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সামান্য সংক্ষেপিতভাবে সমাপ্ত।

কামাল ইবনুল হুমাম তাঁর কিতাব "ফাতহুল কাদির আলাল হিদায়া"-তে উল্লেখ করেছেন (১): কাজি শুরাইহ মিথ্যা সাক্ষ্যদাতাকে (شاهد الزور) তার বাজারে পাঠাতেন যদি সে বাজারী হতো, আর যদি বাজারী না হতো তবে আসরের পর যখন মানুষের সমাগম সবচেয়ে বেশি হয় তখন তাকে তার গোত্রের নিকট পাঠাতেন এবং বলতেন: শুরাইহ তোমাদের সালাম পাঠিয়েছেন এবং বলেছেন, "আমরা একে মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা (شاهد زور) হিসেবে পেয়েছি, সুতরাং তোমরা তার থেকে সতর্ক থাকো এবং মানুষকেও তার থেকে সতর্ক করো।" সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) ৭/ ৪৭৭, মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২৮)
وشريح كان قاضيًا زمن سيدنا عمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم وزاحم الصحابة في الفتوى وإن كان من كبار التابعين، وهو شريح بن الحارث الكِندي أقام في الكوفة قاضيًا خمسًا وسبعين سنة وتوفي سنة سبع وثمانين من الهجرة (1)، كما ذكر ابن خَلِّكَان في تاريخه وأطال في ترجمته (2).

وقال العلَاّمة شمس الدين محمَّد ابن قيِّم الجوزية في كتابه "إعلام الموقعين" ما نصُّه (3): لا خلاف بين المسلمين أنَّ شهادة الزور من الكبائر … ، ثم ذَكَر أحاديث تقدَّمت إلى أن قال: وفي المسند من حديث عبد الله بن مسعود (4) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "بين يدي الساعة تسليم

الخاصَّة، وفشوَّ التجارة حتى تُعين المرأة زوجها على التجارة، وقطع الأرحام، وشهادة الزور، وكتمان شهادة الحق".

وقال الحسن بن زياد اللؤلؤي: حدثنا أبو حنيفة قال: كُنَّا عند مُحارب بن دثار فتقدم إليه رجلان فادَّعى أحدهما على الَآخر مالًا فجحده المدَّعى عليه، فسأله البيِّنة فجاء رجل فشهد عليه، فقال المشهود عليه: لا والله الذي لا إلله إلَاّ هو ما شهد عليَّ بحقٍّ، وما علمته إلَاّ رجلًا صالحًا غير هذه الزلَّة، فإنَّه فعل هذا لِحقد كان في قلبه عليَّ.

وكان محارب متكئًا فاستوى جالساً ثم قال: يا ذا الرجل سمعتُ ابن

--------------------------------------------

(1) وهو ابن مائة وعشرين سنة، رحمه الله تعالى.

(2) وفَيَّات الأعيان 2/ 460 - 463.

(3) 1/ 124، طبعة دار الكتاب العربي - بيروت.

(4) المسند 1/ 407، وزاد في آخره: "وظهور القلم".
এবং শুরেইহ আমাদের নেতা উমর, উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগে বিচারক (قاضي) ছিলেন। তিনি বড় মাপের তাবেয়ি হওয়া সত্ত্বেও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সাহাবীদের সমকক্ষ ছিলেন। তিনি হলেন শুরেইহ ইবনুল হারিস আল-কিন্দী, যিনি কুফায় পঁচাত্তর বছর বিচারক (قاضي) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং হিজরি সাতাশি সালে মৃত্যুবরণ করেন (১), যেমনটি ইবনে খাল্লিকান তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর জীবনী (ترجمة) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন (২)।

এবং আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ তাঁর 'ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন' গ্রন্থে যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ (৩): মুসলিমদের মধ্যে এতে কোনো মতভেদ নেই যে, মিথ্যা সাক্ষ্য (شهادة الزور) কবিরা গুনাহসমূহের (الكبائر) অন্তর্ভুক্ত ... , অতঃপর তিনি পূর্বোল্লিখিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করার পর বলেন: মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (৪) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের প্রাক্কালে কেবল বিশেষ ব্যক্তিদের সালাম দেওয়া হবে,

ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটবে এমনকি নারী তার স্বামীকে ব্যবসায় সহযোগিতা করবে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হবে, মিথ্যা সাক্ষ্য (شهادة الزور) দেওয়া হবে এবং সত্য সাক্ষ্য (شهادة الحق) গোপন করা হবে।"

এবং হাসান ইবনে জিয়াদ আল-লু'লুয়ি বলেন: আমাদের নিকট আবু হানিফা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমরা মুহারিব ইবনে দিসারের নিকট ছিলাম, তখন তাঁর নিকট দুজন ব্যক্তি এল। তাদের একজন অপরজনের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করল কিন্তু বিবাদী তা অস্বীকার করল। তখন তিনি তার কাছে প্রমাণ (بينة) চাইলেন। এরপর এক ব্যক্তি এসে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিল। তখন যার বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল সে বলল: আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, সে আমার বিরুদ্ধে সত্য সাক্ষ্য দেয়নি। এই পদস্খলন ছাড়া আমি তাকে একজন নেককার ব্যক্তি (رجل صالح) হিসেবেই জানতাম। মূলত আমার প্রতি তার অন্তরে থাকা বিদ্বেষের কারণেই সে এমনটি করেছে।

মুহারিব হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: হে লোক! আমি ইবনে... শুনেছি...

--------------------------------------------

(১) সে সময় তাঁর বয়স ছিল একশ বিশ বছর, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

(২) ওফায়াতুল আইয়ান ২/৪৬০ - ৪৬৩।

(৩) ১/১২৪, দারুল কিতাব আল-আরাবি সংস্করণ - বৈরুত।

(৪) মুসনাদ ১/৪০৭, এবং এর শেষে আরও যুক্ত হয়েছে: "এবং কলমের প্রকাশ"।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ২৯)
عمر يقول سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ليأتينَّ على الناس يوم تشيب فيه الوِلْدان وتضع الحوامل ما في بطونها وتضرب الطير بأذنابها وتضع ما في بطونها من شدة ذلك اليوم ولا ذنب عليها، وإنَّ شاهد الزور لا تقارَّ قدماه على الأرض حتى يُقذف به في النار" (1)، فإنْ كنتَ شَهدتَ بحق فاتَّقِ وأقم على شهادتك، وإنْ كنتَ شهدتَ بباطل فاتقِّ الله وغطِّ رأسكَ واخرج من هذا الباب.

وفي رواية: أنَّ الرجل قال له: كنتُ أُشهدتُ على شهادة وقد نسيتها أرجعُ فأتذكرها، فانصرف ولم يشهد عليه بشيء. اهـ، بتصرف.

* * *

--------------------------------------------

(1) جامع مسانيد الِإمام أبي حنيفة 2/ 279، طبعة حيدرأباد - سنة 1332 هـ.
ওমর (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মানুষের ওপর অবশ্যই এমন একদিন আসবে যেদিন শিশুরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে, গর্ভবতী মহিলারা তাদের গর্ভপাত করবে এবং পাখিরা তাদের লেজ ঝাপটাবে ও সেই দিনের ভয়াবহতার কারণে তাদের গর্ভে যা আছে তা প্রসব করে দিবে অথচ তাদের কোনো পাপ নেই। আর মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার পা জমিনে স্থির হওয়ার আগেই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" (১) সুতরাং তুমি যদি সত্য সাক্ষ্য দিয়ে থাকো তবে আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমার সাক্ষ্যের ওপর অটল থাকো; আর যদি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে থাকো তবে আল্লাহকে ভয় করো, নিজের মাথা ঢেকে নাও এবং এই দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাও।

অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে: এক ব্যক্তি তাকে বললেন, 'আমাকে একটি বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছিল কিন্তু আমি তা ভুলে গিয়েছি; আমি ফিরে যাই এবং তা স্মরণ করার চেষ্টা করি।' অতঃপর তিনি চলে গেলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দিলেন না। সমাপ্ত, সংক্ষেপিত।

* * *

--------------------------------------------

(১) জামেউল মাসানিদ ইমাম আবু হানিফা ২/ ২৭৯, হায়দ্রাবাদ সংস্করণ - ১৩৩২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) তাহযীরুল জুমহুর মিন মাফাসিদি শাহাদাতুয যুর (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الفصل الثالث في بيان أضرار شهادة الزور في الشاهد نفسه وفي الهيئة الاجتماعية

قد عرفنا مما تقدم ما لشاهد الزور من الوعيد الشديد والعقاب الأكيد في هذه الدنيا وفي الآخرة ولعذاب الآخرة أشد وأبقى.

ونحن الآن نبيِّن في هذا الفصل ما لشهادة الزور من الأضرار في نفس شاهدها وفي الهيئة الاجتماعية التي يعيش ويرتع فيها. وهذه الأضرار أمور معقولة يُدركها كلُّ مَنْ تأمَّلها وأمعَن في حال من يقترف تلك الجريمة الفظيعة.

فأولها: أنَّه يتَّصف بالكذب ويوسم بميسم الافتراء، وكفى بهما خزيًا ونكالًا. فإنَّ الِإنسان مفطور على الخير والصدق، فإذا مال إلى عكسهما فلا تسأل عما يعتَوِرُه من الآلام النفسيَّة والمؤذيات، لا سيما إذا حَاق به سُوء عمله فهنالك الخُسران المبين.

وثانيها: أنَّه يجد من ضميره موبِّخًا له على فساد عمله، ومؤنِّبًا شديدًا يقرِّعه على ما أجرم واقترف، وربما اعترف بما ارتكبه وقال نفسه
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: খোদ সাক্ষী এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর মিথ্যা সাক্ষ্যের ক্ষতিসমূহ বর্ণনা প্রসঙ্গে

পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, ইহকাল ও পরকালে মিথ্যা সাক্ষ্যদাতার জন্য কী পরিমাণ কঠোর হুঁশিয়ারি এবং সুনিশ্চিত শাস্তি রয়েছে; আর পরকালের আজাব তো অধিকতর কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী।

আমরা এখন এই পরিচ্ছেদে মিথ্যা সাক্ষ্যের সেই ক্ষতিগুলো বর্ণনা করব যা খোদ সাক্ষীর নিজের সত্তায় এবং সেই সামাজিক কাঠামোর ওপর পড়ে যেখানে সে বসবাস ও বিচরণ করে। এই ক্ষতিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক বিষয়, যা কেবল তারাই অনুধাবন করতে পারবে যারা এ নিয়ে চিন্তা করবে এবং এই জঘন্য অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তির অবস্থার ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করবে।

প্রথমত: সে মিথ্যার (كذب) গুণে বিশেষিত হয় এবং মিথ্যা অপবাদের (افتراء) চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত হয়; আর লাঞ্ছনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য এই দুটি বিষয়ই যথেষ্ট। কেননা মানুষ স্বভাবগতভাবেই কল্যাণ ও সত্যের ওপর সৃজিত হয়েছে। সুতরাং সে যখন এই দুটির বিপরীত দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন তার ওপর আপতিত মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্টদায়ক বিষয়গুলো সম্পর্কে আর বলার অপেক্ষা রাখে না; বিশেষ করে যখন তার অশুভ কর্মের পরিণাম তাকে পরিবেষ্টন করে ফেলে, তখনই প্রকাশ পায় সুস্পষ্ট ক্ষতি।

দ্বিতীয়ত: সে তার বিবেকের নিকট হতে নিজের কর্মের পঙ্কিলতার জন্য তিরস্কার লাভ করে এবং তার কৃত অপরাধ ও অপকর্মের জন্য বিবেক তাকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করে। এমনকি অনেক সময় সে তার কৃতকর্মের কথা স্বীকারও করে ফেলে এবং মনে মনে বলে...