(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: -)
بلوغ المرام من أدلة الأحكام - ت الفحل القسم: كتب السنة
الكتاب: بلوغ المرام من أدلة الأحكام
المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)
المحقق: الدكتور ماهر ياسين الفحل
الناشر: دار القبس للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م
عدد الصفحات: 568
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 ذو القعدة 1436
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - তাহকীক আল-ফাহল বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম
লেখক: আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী)
মুহাক্কিক: ডক্টর মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল
প্রকাশক: দারুল কাবাস প্রকাশনা ও বিতরণ، রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৫ হিজরী - ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৮
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ যিলকদ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: -)
بلوغ المرام من أدلة الأحكام
تأليف
الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني رحمه الله (773 هـ - 852 هـ)
حقق نصوصه وخرج أحاديثه وعلق عليه
الدكتور ماهر ياسين الفحل
شيخ دار الحديث في العراق أستاذ الحديث والفقه المقارن بكلية العلوم الإسلامية - جامعة الأنبار
دار القبس للنشر والتوزيع
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম (বিধানের দলীলসমূহ হতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো)
রচনায়
আল-হাফিজ আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (৭৭৩ হি. - ৮৫২ হি.)
মূল পাঠের সংশোধন, হাদিস বিশ্লেষণ ও টীকা প্রদান করেছেন
ডক্টর মাহের ইয়াসিন আল-ফাহাল
ইরাকের দারুল হাদিসের শায়খ, আনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদের হাদিস ও তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক
দারুল কাবাস প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له.
«وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، وأمينه على وحيه، وخيرته من خلقه وسفيره بينه وبين عباده، المبعوث بالدين القويم، والمنهج المستقيم، أرسله الله رحمة للعالمين، وإماماً للمتقين، وحجةً على الخلائق أجمعين» (1).
{يا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوْتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُوْنَ} [آل عمران: 102].
{يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً واتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءلُوْنَ بهِ وَالأَرْحَامِ إنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْباً} [النساء: 1].
{يا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُوْلُوا قَوْلاً سَدِيْداً * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ ويَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيْماً} الأحزاب: [70 - 71].
أما بعد:
فإني أحمدُ الله أولاً وآخراً، وظاهراً، وباطناً أنْ مكنني من تحقيق هذا الكتاب المختصر «بلوغ المرام من أدلة الأحكام» الذي مرّت عليَّ سنون في تحقيقه؛ إذْ عاودت العمل فيه مرةً بعد مَرّة في مُددٍ متباعدة، حتى استكمل عندي نصاب
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই।
«এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে দূত; যিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও সরল পথ সহকারে প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ, মুত্তাকীদের ইমাম হিসেবে এবং সকল সৃষ্টির উপর প্রমাণ হিসেবে পাঠিয়েছেন» (১)।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (ছিন্ন করা) থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [নিসা: ১]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে} [আহযাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর:
আমি শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, তিনি আমাকে এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ «বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম»-এর তাহকীক (সম্পাদনা) করার সামর্থ্য দিয়েছেন; যার তাহকীকের কাজে আমার বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে। কারণ আমি দীর্ঘ বিরতি দিয়ে বারবার এর কাজ শুরু করেছিলাম, পরিশেষে আমার নিকট এর পাণ্ডুলিপি পূর্ণতা পেয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٦)
المخطوطات، ولما تجمعتْ لدي بنعمة الله الهمة للتعليق على أحاديثه والحكم عليها صحةً وضعفاً مع دراسة الكتاب دارسةً وافيةً شرعت بالعمل وراجعته مراراً تجنباً الخطأ. وقد جعلتُ تحقيقَ الكتاب وقفاً لله سبحانه وتعالى؛ يحقُّ لكل مسلم طبعُه شريطةَ التقيّد بالنص، وقد وقفت الكتاب على روح أمي يرحمها الله تعالى، فأسال الله أنْ يجعله في ميزان حسناتها، يوم تقل الحسنات وتكثر الزفرات يوم الحسرات.
وكتاب «بلوغ المرام من أدلة الأحكام» من الكتب التي تهم الطالب المبتديء والعالم المنتهي؛ إذ إنَّ أحاديث الكتاب أحاديث الفقه؛ والفقهُ مهمٌ فهو ثمرة العلوم الشرعية، وما عبدَ الله بمثل الفقه كما قال الزهري، والفقه كما قال الراغب الأصبهاني: «ما من واقعة من الكون في أحد من الخلق إلا وهي مفتقرة إلى الفقه؛ لأنَّ به انتظامَ صلاح الدنيا والدين». ثمَّ إنَّ الكتاب من كتب المتون المختصرة، وهو ليس بالطويل الممل ولا القصير المخل، ومع لطافة الحجم وأهمية الموضوع انماز أنَّه مما يحفظ، وما زال أهل العلم الربانيون يحثون طلابهم على الحفظ، فهذا العلامة الكبير الشيخ عبد الكريم الخضير حفظه الله يقول: «لا بد لطالب العلم من مخزون حفظي». وهذا الكتاب قد حفظه عددٌ كبير من الطلبة وأهل العلم منذ تأليفه، وحتى يوم الناس هذا، وقد اعتنى به أهلُ العلم تدريساً وشرحاً؛ فكثرت عناية أهل الناس به في القديم والحديث، وصارت بعض شروحه مَدْرس الناس، والحمد لله رب العالمين.
والمؤلَّف رمزٌّ على المؤلِّف؛ إذ قد ظهرتْ في هذا الكتاب شخصيةُ الحافظ ابن حجر كما ظهرتْ في بقية كتبه، علماً أنَّه اعتمد على من سبقه في جمع الأحاديث؛ إذ قد ألف عدد من العلماء في أحاديث الأحكام، كما إنَّ الحافظ انتفع كثيراً في اختياره الأحاديث من كتاب «الإلمام» لابن دقيق العيد، ومن كتاب «المحرر» لابن
পাণ্ডুলিপিসমূহ; আর যখন আল্লাহর অনুগ্রহে আমার মাঝে এই কিতাবের হাদিসগুলোর ওপর টীকা প্রদান এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা অনুসারে মান নির্ণয় করার পাশাপাশি কিতাবটি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা করার সংকল্প জাগ্রত হলো, তখন আমি কাজ শুরু করলাম এবং ভুল এড়াতে বারবার তা পর্যালোচনা করলাম। আমি কিতাবটির এই তাহকিক বা সম্পাদনাকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে ওয়াকফ করলাম; মূল পাঠের অবিকল অনুসরণের শর্তে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এটি মুদ্রণ করার অধিকার রয়েছে। আমি কিতাবটি আমার মায়ের রূহের কল্যাণে ওয়াকফ করেছি, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর নেকির পাল্লায় স্থান দেন, যেদিন নেকি কমে যাবে এবং দীর্ঘশ্বাস বৃদ্ধি পাবে, সেই হাহাকারের দিনে।
এবং «বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম» কিতাবটি এমন এক কিতাব যা শিক্ষানবিশ ছাত্র এবং অভিজ্ঞ আলেম—উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ; কেননা এই কিতাবের হাদিসগুলো হলো ফিকহ বা বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিস। আর ফিকহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শরয়ি জ্ঞানসমূহের ফল। ইমাম জুহরি যেমনটি বলেছেন, ফিকহের মতো অন্য কিছু দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করা হয়নি। আর রাগের আসফাহানি বলেছেন: «সৃষ্টিজগতের এমন কোনো ঘটনা নেই যা ফিকহের মুখাপেক্ষী নয়; কারণ এর মাধ্যমেই দুনিয়া ও দ্বীনের সংশোধন ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।» তদুপরি, কিতাবটি সংক্ষিপ্ত মূলপাঠ বা মতনের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি এমন দীর্ঘ নয় যা বিরক্তি উৎপাদন করে, আবার এমন সংক্ষিপ্তও নয় যা অর্থ বুঝতে বিঘ্ন ঘটায়। এর ক্ষুদ্র আয়তন এবং বিষয়ের গুরুত্বের পাশাপাশি এর অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি মুখস্থ করার উপযোগী। রব্বানি আলেমগণ সর্বদা তাঁদের ছাত্রদের মুখস্থ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করে আসছেন। যেমন প্রখ্যাত আলেম শাইখ আব্দুল কারিম আল-খুদাইর (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) বলেন: «ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অবশ্যই মুখস্থের একটি ভাণ্ডার থাকতে হবে।» কিতাবটি সংকলনের পর থেকে আজ অবধি বিপুল সংখ্যক তালিবে ইলম ও আলেম এটি মুখস্থ করেছেন। আলেমগণ এটি পাঠদান ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। প্রাচীন ও বর্তমান উভয় কালেই এর প্রতি মানুষের গুরুত্বারোপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ মানুষের পাঠশালায় পরিণত হয়েছে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আর রচনা হলো রচয়িতার পরিচয়বাহী; কেননা এই কিতাবে হাফেজ ইবনে হাজারের ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছে যেমনটি তাঁর অন্যান্য কিতাবেও প্রকাশ পেয়েছে। তবে এটি জানা থাকা প্রয়োজন যে, তিনি হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তীদের ওপর নির্ভর করেছেন; কেননা বহু আলেম ইতিপূর্বে আহকামের হাদিস নিয়ে কিতাব রচনা করেছেন। পাশাপাশি হাফেজ (ইবনে হাজার) হাদিস নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইবনে দাকিকুল ঈদের «আল-ইলমাম» কিতাব এবং ইবনে... এর «আল-মুহাররার» কিতাব থেকে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٧)
عبد الهادي، والحافظ ابن حجر قد أحال في كتابه هذا إلى بعض كتبه، كما أحال إلى كتابه النفيس «فتح الباري بشرح صحيح البخاري» وفي ذلك إشارة إلى أنَّه انتفع مما قدمه من ثروة علمية إلى أمة محمد صلى الله عليه وسلم.
ثم لا يخفى على الباحثين الجادين وكثير من الناس ما للحافظ ابن حجر من مكانة علمية، فقد كان على قدر كبير من وفور العقل والاشتغال بما ينفعه مع الحرص الشديد على الوقت، والحفاظ على أنفاس العمر بالعمل النافع، وقد دلَّ على ذلك ما قدم للناس من عطاءٍ علميٍّ وافر، بحيث كانت كتبه لا يستغني عنها باحث.
والحافظ ابن حجر قد حباه الله بشخصية فذة جمعتْ الجد والتقى وحسن السيرة، وقد كان مثالاً للشخصية العلمية النادرة، ومن الأدلة على ذلك كتبه التي انتشرت بين أيدي الناس على جميع المعمورة، فكانت كتبه تسير في زمانه مسير الشمس، كل ذلك كان سبباً للعمل في هذا الكتاب نصحاً للأمة واحتراماً لتراثها ودفعاً لغوائل التشويه عما قدمه أفذاذها بانين بذلك عزها ومجدها، ولم يكن جهدي منصباً على تحقيق النص، فقد جهدت في الحكم على الأحاديث، والتعليق على ما يستحق التعليق من غير اختصار ولا تطويل، وقد قدمتُ للكتاب بدراسة متوسطة دالة على سيرة الحافظ ابن حجر، ثم الكلام على منهجه في كتابه «بلوغ المرام من أدلة الأحكام» ثم النسخ الخطية مع بيان ما لها وما عليها، ثم بيان منهجي الذي سرت عليه في تحقيق الكتاب، ولم أعمل للكتاب فهارس كاشفة؛ لأنَّ الكتاب متن مختصر للحفظ.
وبعد: فهذا كتاب «بلوغ المرام من أدلة الأحكام» للحافظ ابن حجر العسقلاني أقدمه لمحبي المصطفى صلى الله عليه وسلم السائرين على هديه الراجين شفاعته يوم القيامة. وقد خدمته الخدمة التي توازي تعلقي بسنة سيدنا النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وبذلتُ فيه ما وسعني من
عبد الهাদী; এবং হাফেয ইবনে হাজার তাঁর এই কিতাবে নিজের কিছু কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন তিনি তাঁর মূল্যবান কিতাব ‘ফাতহুল বারী বিশারহি সহীহিল বুখারী’-এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের নিকট যে ইলমী সম্পদ পেশ করেছেন তা থেকে নিজেই উপকৃত হয়েছেন।
অতঃপর সিরিয়াস গবেষক এবং বহু মানুষের কাছে হাফেয ইবনে হাজারের ইলমী মর্যাদা অজানা নয়। তিনি প্রচুর প্রজ্ঞা এবং যা তাঁর উপকারে আসে তাতে নিমগ্ন থাকার ক্ষেত্রে অনেক উচ্চ পর্যায়ে ছিলেন, পাশাপাশি সময়ের প্রতি ছিল তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনের প্রতিটি শ্বাসকে নেক আমলের মাধ্যমে রক্ষা করার স্পৃহা। মানুষের জন্য তিনি যে প্রচুর ইলমী অবদান রেখে গেছেন তা-ই এর প্রমাণ পেশ করে, যার ফলে তাঁর কিতাবসমূহ ছাড়া কোনো গবেষকের পক্ষে চলা সম্ভব নয়।
আল্লাহ তাআলা হাফেয ইবনে হাজারকে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব দান করেছিলেন যা নিষ্ঠা, তাকওয়া এবং সুন্দর চরিত্রের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। তিনি ছিলেন এক বিরল ইলমী ব্যক্তিত্বের উদাহরণ। সারা বিশ্বের মানুষের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়া তাঁর কিতাবসমূহ এর অন্যতম প্রমাণ। তাঁর কিতাবগুলো তাঁর সমসাময়িককালেই সূর্যের মতো সর্বত্র বিচরণ করত। উম্মতের কল্যাণকামিতা, তাদের ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অবদান—যারা এর সম্মান ও মর্যাদা বিনির্মাণ করেছেন—তাদের কাজের বিকৃতি রোধ করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই কিতাবটির ওপর কাজ করার কারণ ছিল। আমার প্রচেষ্টা কেবল পাঠ্য সংশোধনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আমি হাদিসগুলোর ওপর হুকুম প্রদান এবং অতি সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ না করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে টীকা প্রদানের জন্য শ্রম দিয়েছি। আমি কিতাবটির শুরুতে হাফেয ইবনে হাজারের জীবনী নির্দেশক একটি নাতিদীর্ঘ ভূমিকা পেশ করেছি। এরপর তাঁর কিতাব ‘বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম’-এ তাঁর মানহাজ বা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছি। অতঃপর পাণ্ডুলিপিসমূহ এবং সেগুলোর গুণাগুণ বর্ণনা করেছি। তারপর এই কিতাবটি সম্পাদনায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা বর্ণনা করেছি। তবে আমি কিতাবটির জন্য কোনো বিস্তারিত সূচিপত্র তৈরি করিনি; কারণ কিতাবটি মূলত মুখস্থ করার উপযোগী একটি সংক্ষিপ্ত মূলপাঠ (মতন)।
অতঃপর: হাফেয ইবনে হাজার আল-আসকালানী রচিত এই ‘বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম’ কিতাবটি আমি মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুরাগীদের নিকট পেশ করছি, যারা তাঁর হেদায়েতের ওপর চলেন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর শাফায়াতের আশা রাখেন। আমাদের নেতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর প্রতি আমার অনুরাগের সমপরিমাণ আমি কিতাবটির খিদমত করেছি এবং এতে আমার সাধ্যানুযায়ী যা করার তা করেছি...
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٨)
جهد ومال ووقت، ولم أبخل عليه بشيء منَ الوقت، وكان الوقت الذي قضيته فيه كله مباركاً، وأوصي إخواني حفاظ الوحيين بالاهتمام غاية الاهتمام بحفظ القرآن الكريم والعناية به فهو مفتاح العلم، قال الضياء المقدسي عن أحد شيوخه: «وأوصاني وقت سفري، فَقَالَ: أَكْثَر من قراءة الْقُرْآن، ولا تتركه فَإِنَّهُ يتيسر لَك الَّذِي تطلبه عَلَى قدر مَا تقرأ، قَالَ: فرأيت ذَلِكَ وجربته كثيراً، فكنتُ إِذَا قرأتُ كثيراً تيسر لي منْ سماع الْحَدِيث وكتابته الكثير، وإذا لَمْ أقرأ لَمْ يتيسر لي»، وكلما تقدم الإنسان بالقرآن تقدم بالعلم، وفي الختام أشكر أخوي الوفيين الشيخ أحمد طارق عبد الحميد القيسي والشيخ محمد سعد سعود الطائي، فقد كان لهما اليد الطولى في تصحيح تجارب الطباعة ومراجعة الكتاب؛ فأسأل الله أن يجعلهما من الوارثين الذين يرثون الفردوس، ولا أنسى بالشكر والدعاء إخواني من أبي وأمِّي: طه أبا أسامة وثامراً أبا عمر وسالماً أبا عبد الله، الذين كانوا لي عوناً في حلي وترحالي وفي مسيرتي في طلب العلم ونشره، فأسأل الله أن يبارك في أنفاس عمرهم وأن يُبقي عملهم الصالح فوق الأرض مباركاً نافعاً، وأكرر حمدي وشكري لربي الذي لا يؤدى شكر نعمة من نعمه إلا بنعمة تتجدد.
وكتب
د. ماهر ياسين الفحل
شيخ دار الحديث في العراق
أستاذ الحديث والفقه المقارن
كلية العلوم الإسلامية - جامعة الأنبار
1/محرم/1435 من هجرة حبيب الله صلى الله عليه وسلم -
প্রচেষ্টা, সম্পদ ও সময় ব্যয় করেছি; আমি এর জন্য সময়ের কোনো কার্পণ্য করিনি। এতে ব্যয় করা আমার পুরো সময়টিই ছিল বরকতময়। আমি আমার দুই ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহর) হাফেজ ভাইদের প্রতি পবিত্র কুরআন হিফজ করার এবং এর প্রতি যত্নবান হওয়ার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অসিয়ত করছি, কারণ এটিই হলো ইলমের চাবিকাঠি। আদ-দিয়া আল-মাকদিসি তাঁর এক শায়খ সম্পর্কে বলেন: «তিনি আমার সফরের সময় আমাকে অসিয়ত করে বলেছিলেন: তুমি অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করবে এবং তা ত্যাগ করবে না; কেননা তুমি যা অন্বেষণ করছ তা তোমার তিলাওয়াতের পরিমাণ অনুযায়ী তোমার জন্য সহজ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন: আমি তা প্রত্যক্ষ করেছি এবং বহুবার এর অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। আমি যখন অধিক পরিমাণে তিলাওয়াত করতাম, তখন আমার জন্য হাদিস শ্রবণ ও তা লিখে রাখা অনেক সহজ হয়ে যেত। আর যখন আমি তিলাওয়াত করতাম না, তখন তা আমার জন্য সহজ হতো না।» মানুষ কুরআনের মাধ্যমে যতখানি অগ্রসর হয়, সে ইলমের ক্ষেত্রেও ততখানি অগ্রসর হয়। পরিশেষে, আমি আমার দুই বিশ্বস্ত ভাই শেখ আহমাদ তারিক আব্দুল হামিদ আল-কাইসি এবং শেখ মুহাম্মদ সাদ সউদ আত-তায়ীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কিতাবটির মুদ্রণ সংশোধন ও পর্যালোচনায় তাঁদের বিশাল হাত ছিল। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদেরকে সেই উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে। আমি কৃতজ্ঞতা ও দোয়ার সাথে আমার আপন ভাইদের ভুলছি না: তাহা আবু উসামাহ, থামির আবু উমর এবং সালিম আবু আব্দুল্লাহ, যারা আমার আবাসন ও ভ্রমণে এবং ইলম অর্জন ও প্রচারের পথে আমার সহায়ক ছিলেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদের জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাসে বরকত দান করেন এবং জমিনের উপরে তাঁদের নেক আমলসমূহকে বরকতময় ও ফলপ্রসূ হিসেবে জারি রাখেন। আমি পুনরায় আমার রবের প্রশংসা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি, যাঁর কোনো নেয়ামতের শুকরিয়া নতুন কোনো নেয়ামত ছাড়া আদায় করা সম্ভব নয়।
লিখেছেন
ড. মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল
ইরাকের দারুল হাদিসের শায়খ
হাদিস ও তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক
ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ - আনবার বিশ্ববিদ্যালয়
১/মহররম/১৪৩৫ হিজরি, আল্লাহর প্রিয়তম হাবিবের (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) হিজরত অনুসারে -
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٩)
ترجمة المصنفتوطئة (1): أفاضت المصادر في ترجمة ابن حجر، وتنوعت مظانُّ ترجمته، فتارة مع الحفاظ، وثانية مع القضاة، وثالثة مع المؤرخين، ورابعة مع الأدباء، فلما كان الحافظ ابن حجر ينماز بالمكانة العلمية المرموقة، فقد ترجم له كثير من المؤلفين القدماء، كما عني بعض المحدثين بأخباره ومكانته ومؤلفاته، ومن أوسع التراجم القديمة له: كتاب «الجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر»، لتلميذه السخاوي، فقد أجاد وأفاد، وعلى تصنيفه كان جل اعتماد من ترجم للحافظ ممن جاء بعده، وأما الحديثة فأحسنها كتاب: «ابن حجر العسقلاني ودراسة مصنفاته ومنهجه وموارده في كتابه الإصابة» للأستاذ الدكتور شاكر محمود عبد المنعم الهيتي، ويوجد في مقدمات كثير من الكتب، وهنالك دراسات اهتمت بتراثه منها:
1 - موسوعة الحافظ ابن حجر الحديثية: جمع وإعداد أخينا الدكتور وليد أحمد الحسين وفريقه.
2 - أنيس الساري: تحقيق الشيخ المحقق: نبيل بن منصور بن يعقوب البصارة، وهو موسوعة ضخمة اعتنت بتخريج الأحاديث والآثار التي أوردها الحافظ ابن حجر في «فتح الباري».
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের জীবনীভূমিকা (১): হাফেজ ইবনে হাজারের জীবনী বর্ণনায় উৎসসমূহ অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং তার জীবনীর সূত্রগুলো বৈচিত্র্যময়। কখনো তাকে হাদিস বিশারদদের সাথে, কখনো বিচারকদের সাথে, কখনো ইতিহাসবিদদের সাথে এবং কখনো সাহিত্যিকদের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু হাফেজ ইবনে হাজার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক অবস্থানের অধিকারী ছিলেন, তাই প্রাচীন অনেক লেখক তার জীবনী রচনা করেছেন। একইভাবে পরবর্তীকালের অনেক গবেষকও তার জীবনবৃত্তান্ত, মর্যাদা এবং গ্রন্থসমূহ নিয়ে কাজ করেছেন। তার প্রাচীন জীবনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত হলো তার ছাত্র সাখাভীর রচিত ‘আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফি তারজামাতি শায়খিল ইসলাম ইবনে হাজার’ গ্রন্থটি। এতে তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং পরবর্তীকালে যারা হাফেজের জীবনী লিখেছেন, তাদের অধিকাংশেরই প্রধান নির্ভরতা ছিল এই গ্রন্থের ওপর। আর আধুনিক জীবনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো প্রফেসর ডক্টর শাকির মাহমুদ আবদুল মোনয়েম আল-হিতি রচিত ‘ইবনে হাজার আল-আসকালানি ওয়া দিরাসাতু মুসান্নাফাতিহি ওয়া মানহাজিহি ওয়া মাওয়ারিদিহি ফি কিতাবিহিল ইসাবাহ’ গ্রন্থটি। এছাড়াও অনেক বইয়ের ভূমিকাতেও তার জীবনী রয়েছে এবং তার জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য নিয়ে কিছু গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মাওসুয়াতুল হাফিজ ইবনে হাজার আল-হাদিসিয়াহ: সংকলন ও সম্পাদনায় আমাদের ভাই ডক্টর ওয়ালিদ আহমেদ আল-হুসাইন ও তার দল।
২ - আনিসুস সারি: মুহাক্কিক শেখ নাবিল বিন মানসুর বিন ইয়াকুব আল-বাসারা সম্পাদিত। এটি একটি বিশাল বিশ্বকোষ যা হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে যে সকল হাদিস ও আছার উল্লেখ করেছেন সেগুলোর তাহরিজ (উৎস অনুসন্ধান) সংক্রান্ত গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
اسمه ونسبه ونسبته وكنيته.
هو شهاب الدين أبو الفضل، أحمد بن علي بن محمد بن محمد بن علي بن محمود بن حجر الكناني العسقلاني.
وكنانة: هي قبيلته، وعسقلان (1): هي المدينة التي جاء منها أصوله.
وأما حجر: فهو اسم أحد أجداده أو لقب له واشتهر هو بـ (ابن حجر) وكنَّاه والده أبا الفضل كُني بذلك تشبيهاً بقاضي مكة أبي الفَضْل محمد بن أحمد ابن عبد العزيز العقيلي النويري، ولقب بـ (شهاب الدين) (2).
ولادته ونشأته:
ولد ابن حجر في الثاني والعشرين من شعبان سنة ثلاث وسبعين وسبع مئة، على شاطئ النيل بمصر ونشأ يتيماً، حيث مات أبوه وله من العمر أربع سنوات، وكانت أمه قد ماتت قبل ذلك (3). وقد دخل الكُتَّابَ وهو ابن خمس سنين، وأكمل حفظ القرآن وهو في التاسعة من عمره، وصلّى بالناس التراويح في الحرم المكي سنة خمس وثمانين وسبع مئة، وله من العمر اثنا عشر عاماً، وكان مع وصيه زكي الدين الخرُّوبي (4)، وفي سنة ست وثمانين حفظ كُتُباً من مختصرات العلوم كـ «العمدة»، و «الحاوي الصغير»، و «مختصر ابن الحاجب»، و «الملحة» للحريري، وغيرها (5).
--------------------------------------------
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, নিসবত এবং কুনিয়াত।
তিনি হলেন শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল, আহমাদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে মাহমুদ ইবনে হাজার আল-কিনানি আল-আসকালানি।
আর কিনানা হলো তাঁর গোত্র, এবং আসকালান (১) হলো সেই শহর যেখান থেকে তাঁর পূর্বপুরুষরা এসেছিলেন।
আর 'হাজার' হলো তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষের নাম অথবা তাঁর উপাধি। তিনি 'ইবনে হাজার' নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাঁর পিতা মক্কার কাজি আবুল ফজল মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-উকাইলি আন-নুওয়াইরির সাথে সাদৃশ্য রেখে তাঁর কুনিয়াত রাখেন 'আবুল ফজল'। তাঁর উপাধি ছিল 'শিহাবুদ্দিন' (২)।
তাঁর জন্ম ও শৈশব:
ইবনে হাজার সাতশ তিয়াত্তর হিজরির বাইশে শাবান মিশরে নীল নদের তীরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন; তাঁর বয়স যখন চার বছর তখন তাঁর পিতা মারা যান এবং এর আগেই তাঁর মাতা মৃত্যুবরণ করেছিলেন (৩)। পাঁচ বছর বয়সে তিনি মক্তবে ভর্তি হন এবং নয় বছর বয়সে পবিত্র কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন। সাতশ পঁচাশী হিজরিতে তিনি মক্কার হারামে ইমাম হিসেবে তারাবিহ পড়ান, তখন তাঁর বয়স ছিল বারো বছর। সে সময় তিনি তাঁর অভিভাবক জাকিউদ্দিন আল-খাররুবির সাথে ছিলেন (৪)। সাতশ ছিয়াশি হিজরিতে তিনি বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থাবলি মুখস্থ করেন, যেমন— 'আল-উমদাহ', 'আল-হাভি আস-সগির', 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব' এবং হারিরির 'আল-মুলহাহ' ইত্যাদি (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
فإنَّه كما كتب بخطه فراجع وذاكر وقرأ وأقرأ، وأقبل العزم المصمم على التحصيل، ووفق للهداية إلى سواء السبيل، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.
فأخذ عن مشايخ ذلك العصر، وقد بقي منهم بقايا، وواصل الغدو والرواح إلى المشايخ بالبواكر والعشايا (1).
ولم يكتف بذلك فقط، وإنَّما شدَّ رحال العزم ليشافه الرجال في مختلف الأماكن والبلدان؛ وليحظ بصحبة الجهابذة الأفذاذ الذين وصفهم أبو جعفر المنصور لما قيل له: «هل بقي من لذات الدنيا شيء لم تنله؟ قال: بقيت خصلة أنْ أقعد في مصطبة وحولي أصحاب الحديث فيقول المستملي: من ذكرتَ رحمك الله؟ قال: فغدا عليه الندماء وأبناء الوزراء بالمحابر والدفاتر، فقال: لستم بهم، إنَّما هو الدَّنسة ثيابهم، والمتشققة أرجلهم، الطويلة شعورهم بُدُد الآفاق ونقلة الحديث» (2)، فرحل رحمه الله إلى اليمن، والشام والحجاز وغيرها، وأخذ العلم عن مشاهير العلماء في هذه البلدان (3)، حتى حصّل مالم يحصله أقرانه وندماؤه.
شيوخه:
من أكثر من الطلب أكثر من الشيوخ، ومَنْ تفنن في العلوم لا بد أن تتعدد موارده العلمية فكان للحافظ ابن حجر ميزة على أقرانه بكثرة الشيوخ وتنوع المعارف، فقد تلقى ابن حجر العلم عن شيوخ كثيرين في مختلف العلوم والفنون، وقد خصص لشيوخه كتابين:
الأول: «المجمع المؤسس للمعجم المفهرس» ترجم فيه لشيوخه، وذكر مروياتهم بالسماع أو بالإجازة أو الإفادة عنهم.
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই তিনি যেমন স্বহস্তে লিখেছিলেন, তেমনই তিনি পর্যালোচনা করেছেন, মুজাকারা করেছেন, পাঠ করেছেন এবং পাঠদান করেছেন; তিনি জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদৃঢ় সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন এবং সঠিক পথের দিশা লাভে ধন্য হয়েছিলেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
তিনি সেই সময়ের মাশায়েখদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, যাঁদের মধ্য হতে তখন অল্প কিছু সংখ্যক অবশিষ্ট ছিলেন। তিনি সকাল-সন্ধ্যায় এবং ভোর ও রাতে মাশায়েখদের নিকট নিরবচ্ছিন্নভাবে যাতায়াত করতেন (১)।
তিনি কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং বিভিন্ন স্থান ও জনপদে আলেমদের সাথে সরাসরি সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সুদৃঢ় সংকল্প নিয়ে সফর করেছিলেন; যাতে তিনি সেই সকল অদ্বিতীয় প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের সাহচর্য লাভ করতে পারেন, যাঁদের বর্ণনা আবু জাফর আল-মনসুর দিয়েছিলেন যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: “দুনিয়ার স্বাদ-আহ্লাদের মধ্যে কি এমন কিছু বাকি আছে যা আপনি অর্জন করেননি? তিনি বললেন: একটি বিষয় বাকি আছে, তা হলো আমি একটি উঁচু বেদিতে বসব আর আমার চারপাশে হাদিসের ছাত্ররা থাকবে, তখন মুস্তামলি বলবে: আপনি কার কথা উল্লেখ করলেন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন? বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর পরদিন তাঁর কাছে সহচরবৃন্দ এবং উজির-পুত্ররা দোয়াত ও খাতা নিয়ে হাজির হলো। তিনি বললেন: তোমরা তারা নও; তারা তো তারা যাদের কাপড় মলিন, যাদের পা ফেটে গেছে, যাদের চুল লম্বা, যারা দিগন্তের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকে এবং যারা হাদিসের বাহক” (২)। অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইয়ামেন, শাম, হিজাজ ও অন্যান্য স্থানে সফর করেন এবং এসব দেশের প্রখ্যাত আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন (৩), এমনকি তিনি এমন কিছু অর্জন করেন যা তাঁর সমসাময়িক ও সাথীরা অর্জন করতে পারেননি।
তাঁর উস্তাদবৃন্দ:
যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণে অধিক পরিশ্রম করে, তার উস্তাদের সংখ্যাও অধিক হয়। আর যে বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করে, তার ইলমি উৎসগুলো বহুমুখী হতে বাধ্য। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর সমসাময়িকদের তুলনায় অধিক উস্তাদ এবং বিচিত্র জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার কারণে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। ইবনে হাজার বিভিন্ন বিজ্ঞান ও কলার অনেক উস্তাদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাঁর উস্তাদদের পরিচয়ে দুটি গ্রন্থ উৎসর্গ করেছেন:
প্রথমটি: «আল-মাজমাউল মুআসসিস লিল মুজামিল মুফাহরাস», এখানে তিনি তাঁর উস্তাদদের জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের নিকট থেকে শ্রবণ, ইজাজত বা উপকারের মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
والثاني: «المعجم المفهرس»، وهو فهرس لمرويات الحافظ، ذكر فيه شيوخه خلال ذكره لأسانيده في الكتب والمسانيد، والكتابان محققان، وكذلك ذكر شيوخ الحافظ تلميذه النجيب السخاوي في كتابه: «الجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر»، وفصَّل القول عنهم، وقد قسّمهم على ثلاثة أقسام (1):
القسم الأول: فيمن سمع منه الحديث، ولو حديثاً تاماً، وعدة من فيه مائتان وزيادة على ثلاثين نفساً.
القسم الثاني: فيمن أجاز له، وعدته مائتان وزيادة على عشرين.
القسم الثالث: فيمن أخذ عنه مذاكرة أو إنشاداً، أو سمع خطبته أو تصنيفه أو شهد له ميعاداً، وعدته مائة نفس وزيادة على ثمانين.
فجملة الأقسام الثلاثة ستمائة نفس وأربعة وأربعون نفساً، بما فيها من الحوالات، وجملتها في الأقسام كلها أربعة عشر نفساً، فالخالص حينئذ ستمائة وثلاثون، وعلى الرغم من المبالغة في بعض ذلك إلا أنَّه يصفو له الكثير، لا سيما أنَّ المتأخرين لا يتحصل لهم مثل ذلك العدد على خلاف المتقدمين.
وفيما يأتي ذكر لبعض المشهورين منهم:
فمن شيوخه في الحديث:
1 - عبد الرحيم بن الحسين العراقي ت (806) هـ (2).
2 - علي بن أبي بكر الهيثمي ت (807) هـ (3)، وهو ثالث ثلاثة من أفضل من بقي بعد العراقي.
--------------------------------------------
এবং দ্বিতীয়টি হলো: «আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস», যা হাফেজের বর্ণনাসমূহের একটি নির্ঘণ্ট। তিনি এতে কিতাব ও মুসনাদসমূহে তাঁর সনদসমূহ উল্লেখ করার সময় তাঁর উস্তাদদের কথা উল্লেখ করেছেন। কিতাব দুটি সম্পাদিত। একইভাবে হাফেজের উস্তাদদের কথা তাঁর মেধাবী ছাত্র আস-সাখাভী তাঁর গ্রন্থ: «আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফী তারজামাত শায়খিল ইসলাম ইবনে হাজার»-এ উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁদেরকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন (১):
প্রথম ভাগ: যাঁদের কাছ থেকে তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন, এমনকি তা যদি একটি পূর্ণাঙ্গ হাদিসও হয়। এই ভাগে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা দুই শতাধিক এবং ত্রিশের অধিক।
দ্বিতীয় ভাগ: যাঁরা তাঁকে ইজাযত দিয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা দুই শতাধিক এবং বিংশের অধিক।
তৃতীয় ভাগ: যাঁদের নিকট থেকে তিনি মুজাকারা (আলোচনা) বা আবৃত্তি গ্রহণ করেছেন, অথবা যাঁদের খুতবা বা রচনা শ্রবণ করেছেন কিংবা যাঁদের মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা এক শতাধিক এবং আশির অধিক।
সুতরাং তিনটি বিভাগের মোট সংখ্যা হলো ছয়শ চুয়াল্লিশ জন, যার মধ্যে উদ্ধৃতিসমূহ (হাওলা) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সকল বিভাগে এর মোট সংখ্যা হলো চৌদ্দ জন। অতএব, মূল সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়শ ত্রিশ জন। এর কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন থাকলেও, তাঁর জন্য অনেক সংখ্যকই অবশিষ্ট থাকে; বিশেষ করে পরবর্তী যুগের আলেমদের পক্ষে পূর্ববর্তীদের ন্যায় এত বিপুল সংখ্যক উস্তাদ লাভ করা সম্ভব হয় না।
নিম্নে তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজনের কথা উল্লেখ করা হলো:
হাদিস শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী মৃত্যু (৮০৬) হিজরি (২)।
২ - আলী বিন আবু বকর আল-হাইসামি মৃত্যু (৮০৭) হিজরি (৩), তিনি ইরাকীর পরে অবশিষ্ট শ্রেষ্ঠ তিনজনের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ومن شيوخه في الفقه:
1 - عمر بن علي بن الملقن ت (804) هـ (1)، وهو صاحب التصانيف الباهرة، والمعرفة الواسعة.
2 - عمر بن رسلان البلقيني ت (805) هـ (2).
3 - محمد بن علي بن محمد بن القطّان المصري.
4 - علي بن أحمد الأدمي (3).
5 - إبراهيم بن موسى الأبناسي ت (802 هـ)، صاحب العلم الغزير، والقلب الرحيم الذي كان يحسن إلى طلبته ويجمعهم على التفقه، ويرتب لهم ما يأكلون، ويسعى لهم في الأرزاق (4).
ومن شيوخه في العربية:
1 - محمد بن محمد الغماري ت (802) هـ (5).
2 - مجد الدين بن محمد بن يعقوب الفيروز آبادي ت (817) هـ (6).
3 - أبو الفرج الغزِّي (7).
--------------------------------------------
এবং ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - উমর বিন আলী বিন আল-মুলাক্কিন, মৃত্যু (৮০৪) হিজরী (১), তিনি চমৎকার রচনাবলি ও ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
২ - উমর বিন রুসলান আল-বুলকিনী, মৃত্যু (৮০৫) হিজরী (২)।
৩ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাত্তান আল-মিসরী।
৪ - আলী বিন আহমদ আল-আদামী (৩)।
৫ - ইব্রাহিম বিন মুসা আল-আবনাদী, মৃত্যু (৮০২ হিজরী), প্রচুর জ্ঞান ও দয়াবান হৃদয়ের অধিকারী, যিনি তাঁর ছাত্রদের প্রতি সদয় ছিলেন, তাঁদেরকে ফিকহ শিক্ষার জন্য একত্রিত করতেন, তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন এবং তাঁদের জীবিকার অন্বেষণে সচেষ্ট হতেন (৪)।
এবং আরবি ভাষায় তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গুমারী, মৃত্যু (৮০২) হিজরী (৫)।
২ - মাজদুদ্দীন বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদী, মৃত্যু (৮১৭) হিজরী (৬)।
৩ - আবুল ফারাজ আল-গাজ্জী (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ومن شيوخه في القراءات:
1 - إبراهيم بن أحمد بن عبد الواحد التنوخي ت (800) هـ (1).
2 - شيخ القراءات محمد بن محمد بن محمد الدمشقي الجزري ت (833) (2).
3 - أحمد بن محمد بن علي الخيوطي المصري ت (807 هـ) (3).
ومن شيوخه في أصول الفقه:
محمد بن علي بن محمد بن عيسى بن محمد بن أبي بكر القطّان المصري.
وظائفه:
تقلَّد الحافظ وظائف متعددة وهي:
1 - التدريس: تولى تدريس التفسير والحديث والفقه في مدارس كثيرة منها (المدرسة الجمالية) و (المدرسة الشريفية) و (المدرسة الحسنية) وغيرها.
وقد أملى من خلال هذه الوظيفة أكثر من ألف مجلس حديثي (4).
2 - الإفتاء: تولى منصب الإفتاء أكثر من ثلاثين سنة، فقد ولي إفتاء دار العدل في سنة إحدى عشرة وثمانمائة.
3 - القضاء: تولى القضاء مدة تزيد على إحدى وعشرين سنة.
4 - المشيخة: كان رحمه الله قد ولي مشيخة البيبرسية ونظرها، وبعد عزله منها حوّل مجلس إملائه إلى الكاملية، وأمر بتبيضها ثم أُعيد إلى الخانقاه على جاري عادته في أوائل ربيع الثاني في سنة اثنتين وخمسين وعاد الإملاء بها.
--------------------------------------------
এবং কিরাআত শাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - ইবরাহীম বিন আহমাদ বিন আবদুল ওয়াহিদ আত-তানূখী, মৃত্যু (৮০০) হিজরী (১)।
২ - শাইখুল কিরাআত মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আদ-দিমাশকী আল-জাযারী, মৃত্যু (৮৩৩) হিজরী (২)।
৩ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-খাইউতী আল-মিসরী, মৃত্যু (৮০৭ হিজরী) (৩)।
এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর আল-কাত্তান আল-মিসরী।
তাঁর দায়িত্বসমূহ:
হাফিয (ইবনে হাজার) একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন, সেগুলো হলো:
১ - অধ্যাপনা: তিনি অনেক মাদরাসায় তাফসীর, হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে রয়েছে (আল-মাদরাসাতুল জামালিয়া), (আল-মাদরাসাতুশ শরীফিয়া), (আল-মাদরাসাতুল হাসানিয়া) এবং অন্যান্য।
তিনি এই পদের দায়িত্ব পালনকালে এক হাজারেরও বেশি হাদীসের ইমলা (শ্রুতিলিপি প্রদান) মজলিস পরিচালনা করেছেন (৪)।
২ - ইফতা (ফতোয়া প্রদান): তিনি ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ইফতা বা ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৮১১ হিজরীতে ‘দারুল আদল’-এর মুফতি হিসেবে নিযুক্ত হন।
৩ - বিচার বিভাগ (কাযা): তিনি একুশ বছরেরও বেশি সময় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
৪ - মাশাইখিয়া (প্রধান শাইখ পদ): তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বায়বারসিয়া খানকাহর প্রধান শাইখ ও তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেখান থেকে অপসারিত হওয়ার পর তিনি তাঁর ইমলা মজলিস আল-কামিলিয়া মাদরাসায় স্থানান্তরিত করেন এবং তা পরিষ্কারভাবে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। অতপর ৫২ হিজরীর রবিউস সানী মাসের শুরুর দিকে তিনি তাঁর পূর্বের রীতি অনুযায়ী পুনরায় উক্ত খানকাহতে ফিরে আসেন এবং সেখানে পুনরায় ইমলা মজলিস শুরু করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وهناك وظائف أخرى كالخطابة بالجامع الأزهر، وجامع عمرو بن العاص رضي الله عنه، وخزن كتب المدرسة المحمودية وغير ذلك (1).
أسرته:
تزوج الحافظ -رحمه الله تعالى- سنة 798 هـ أولى زوجاته أُنس ابنة القاضي كريم الدين عبد الكريم بن أحمد بن عبد العزيز النستراوي الأصل المصري، تزوجها بإشارة وصيِّه العلامة ابن القطّان، فحصل لها بواسطة ذلك خير كثير.
واستولدها صاحب الترجمة عدّة أولاد، زين خاتون، وفرحة، وغالية، ورابعة، وفاطمة، ولم يأت منها بذكر قط، نعم كانت تجيء بين كل بطنين بسقط ذكر.
فالأولى اعتنى بها أبوها فاستجاز لها، وأسمعها على شيخه العراقي والهيثمي، وأحضرها على ابن خطيب في الثالثة الجزء الثالث من أول «حديث المخلص» وتزوجها الأمير شاهين العلائي الكركي، فولدت له أحمد وعزيزة وأبا المحاسن يوسف، كلهم ماتوا في حياة أمهم إلا يوسف المعروف بسبط ابن حجر فنشأ عزيزاً مكرماً في حجر جدَّيه، واستجيز له غير واحد من المسندين، وقرأ عليه «البخاري» و «التقريب» و «النخبة» داخل البيت وغيرها كثير.
والثانية (فرحة) تزوجها شيخ الشيوخ محب الدين ابن الأشقر الذي ولي نظر الجيش وكتابة السر، وكان أحد أعيان الديار المصرية، ولدت له ولداً مات صغيراً في حياة أمه.
والثالثة (غالية)، والخامسة (فاطمة): ماتتا بالطاعون في ربيع الأول سنة 819 هـ مع بعض عيال أبيهما.
--------------------------------------------
সেখানে আরও অন্যান্য দায়িত্ব ছিল, যেমন জামে আজহার এবং জামে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এ খুতবা প্রদান, মাহমুদিয়া মাদরাসার কিতাব সংরক্ষণ করা এবং আরও অনেক কিছু (১)।
তাঁর পরিবার:
হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) ৭৯৮ হিজরিতে তাঁর প্রথম স্ত্রী উনস-কে বিবাহ করেন, যিনি ছিলেন কাদি কারিমুদ্দিন আবদুল কারিম ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল আজিজ আন-নাসতারাউয়ি আল-মিসরির কন্যা। তিনি তাঁর অভিভাবক আল্লামা ইবনুল কাত্তানের পরামর্শে তাকে বিবাহ করেছিলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি অনেক কল্যাণ লাভ করেছিলেন।
এই জীবনীকার (ইবনে হাজার) তাঁর থেকে বেশ কটি সন্তান লাভ করেছিলেন: জাইন খাতুন, ফারহা, গালিয়া, রাবিয়া এবং ফাতিমা। তাঁর গর্ভ থেকে কোনো ছেলে সন্তান জন্মায়নি; তবে হ্যাঁ, প্রতি দুই সন্তানের মাঝে গর্ভপাত হওয়া ছেলে সন্তানের জন্ম হতো।
বড় মেয়েটির প্রতি তার পিতা বিশেষ যত্ন নিয়েছিলেন এবং তার জন্য অনুমতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাকে তাঁর শায়খ ইরাকি এবং হাইসামির কাছে হাদীস শ্রবণ করিয়েছিলেন এবং ইবনে খতিবের কাছে তিন বছর বয়সে ‘হাদীসুল মুখলিস’-এর প্রথম থেকে তৃতীয় অংশ শ্রবণের মজলিসে উপস্থিত করেছিলেন। পরে আমির শাহীন আল-আলাই আল-কারকি তাকে বিবাহ করেন। তাঁর গর্ভে আহমাদ, আজিজাহ এবং আবুল মাহাসিন ইউসুফ জন্মগ্রহণ করেন। ইউসুফ ছাড়া সবাই তাদের মায়ের জীবদ্দশায় মারা যান। ইউসুফ ‘সিবত ইবনে হাজার’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি তাঁর নানা-নানির কোলে অত্যন্ত স্নেহ ও সম্মানের সাথে বেড়ে ওঠেন। তাঁর জন্য অনেক মুসনিদ থেকে অনুমতি গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি ঘরেই তাঁর নানার কাছে ‘বুখারি’, ‘তাকরিব’, ‘নুখবাহ’ এবং আরও অনেক কিতাব পাঠ করেছিলেন।
দ্বিতীয় মেয়ে (ফারহা)-কে শায়খুশ শুয়ুখ মুহিবুদ্দিন ইবনুল আশকার বিবাহ করেন, যিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধান ও গোপন নথিপত্র লিখনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং মিসরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি তাঁর এক পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, যে তার মায়ের জীবদ্দশায় শৈশবেই মারা যায়।
তৃতীয় মেয়ে (গালিয়া) এবং পঞ্চম মেয়ে (ফাতিমা) ৮১৯ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তাদের পিতার পরিবারের আরও কিছু সদস্যের সাথে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٧)
والرابعة (رابعة): ولدت سنة 811 هـ أسمعها والدها على المراغي بمكة سنة 815 هـ وأجاز لها جمع من الشاميين والمصريين، وتزوجها الشهاب أحمد بن محمد بن مكنون، ودخل بها بكراً، فولدت منه بنتاً أسماها غالية، ماتت في حياتهما، ثم مات زوجها سنة 829 هـ فتزوجها المحب بن الأشقر المذكور أيضاً، واستمرت حتى ماتت عنده في سنة 832 هـ.
إنَّ صاحب الترجمة لما رأى كثرة ما تلده أمُّ أولاده من الإناث وأحبَّ أن يكون له ولد ذكر، ولم يمكنه التزويج مراعاة لخاطرها، اختار التسري، وكانت لزوجته جارية جميلة، يقال: إنها ططرية، اسمها خاص تُرك، فوقع في خاطره الميل إليها، فاقتضى رأيه الشريف أن أظهر تغيظاً منها بسبب تقصيرها وحلف أنَّها لا تقيم في منزله فبادرت زوجته في بيعها بأي ثمن كان، فأرسل الحافظ ابن ضياء الحنبلي فاشتراها له بطريق الوكالة، وأقامت في بعض الأماكن، حتى استبرأها ثم وطئها فحملت بولده القاضي بدر الدين أبي المعالي محمد.
كان مولده سنة 815 هـ، فأشغله والده بحفظ القرآن فختمه، وصلى بالناس على جاري العادة سنة 826 هـ بالخانقاه الركنية البيبرسية، وهو الذي صنَّف له الحافظ «بلوغ المرام» لكنَّه ما تيسر له حفظه (1)، بل حفظ يسيراً منه ومن غيره، وكتب عن والده كثيراً من مجالس العلم، واشتغل بالقيام بأمر القضاة والأوقاف ونحوها حتى فاق.
ومن زوجات الحافظ عتيقة العلامة نظام الدين يحيى بن سيف الدين الصِّيرامي
--------------------------------------------
এবং চতুর্থজন (রাবিয়া): তিনি ৮১১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ৮১৫ হিজরি সনে মক্কায় আল-মারগি-র নিকট তাঁকে হাদিস শ্রবণ করান এবং সিরীয় ও মিশরীয় একদল আলেম তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন। শিহাব আহমেদ বিন মুহাম্মদ বিন মাকনুন তাঁকে বিবাহ করেন এবং তিনি কুমারী থাকাবস্থায় তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন। তাঁর গর্ভে গালিয়া নাম্নী একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়, যে তাদের জীবদ্দশাতেই মৃত্যুবরণ করে। অতঃপর ৮২৯ হিজরি সনে তাঁর স্বামী মৃত্যুবরণ করলে পূর্বোক্ত মুহিব বিন আল-আশকার তাঁকে বিবাহ করেন এবং ৮৩২ হিজরি সনে তাঁর নিকট থাকাবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে (হাফেজ ইবনে হাজার), তিনি যখন দেখলেন যে তাঁর সন্তানদের জননী (স্ত্রী) অধিকহারে কন্যা সন্তান প্রসব করছেন এবং তিনি একটি পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষা করলেন, অথচ স্ত্রীর মনোবেদনার আশঙ্কায় তাঁর পক্ষে পুনঃবিবাহ করা সম্ভব ছিল না, তখন তিনি দাসী গ্রহণের পথ বেছে নিলেন। তাঁর স্ত্রীর একজন সুন্দরী দাসী ছিল—বলা হয় সে তাতার বংশোদ্ভূত, তার নাম ছিল খাস তুর্ক—তার প্রতি তাঁর মনে অনুরাগের সৃষ্টি হলো। অতঃপর তাঁর বিজ্ঞ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি তার কোনো ত্রুটির কারণে রাগান্বিত হওয়ার ভান করলেন এবং শপথ করলেন যে সে তাঁর ঘরে অবস্থান করতে পারবে না। ফলে তাঁর স্ত্রী দ্রুত তাকে যে কোনো মূল্যে বিক্রি করার উদ্যোগ নিলেন। তখন হাফেজ ইবনে জিয়া আল-হাম্বলিকে তিনি পাঠালেন এবং তিনি তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে তাকে ক্রয় করলেন। সে কিছুকাল অন্য স্থানে অবস্থান করল যতক্ষণ না তার গর্ভমুক্ত হওয়া (ইস্তিবরা) নিশ্চিত হলো। এরপর তিনি তার সাথে মিলিত হলেন এবং সে তাঁর পুত্র কাজী বদরউদ্দিন আবুল মাআলি মুহাম্মদের গর্ভধারণ করল।
তাঁর জন্ম ছিল ৮১৫ হিজরি সনে। তাঁর পিতা তাঁকে কুরআন হিফজ করার কাজে নিয়োজিত করেন এবং তিনি তা সম্পন্ন করেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ৮২৬ হিজরি সনে তিনি খানকাহ রুকনিয়া বাইবারসিয়াহ-তে ইমামতি করেন। এই পুত্রের জন্যই হাফেজ (ইবনে হাজার) 'বুলুগুল মারাম' গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন, যদিও তাঁর পক্ষে তা পুরোপুরি হিফজ করা সম্ভব হয়নি (১); বরং তিনি সেখান থেকে এবং অন্য উৎস থেকে সামান্য কিছু হিফজ করেছিলেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে ইলমি মজলিসের অনেক কিছু লিখে নিয়েছিলেন এবং বিচার বিভাগ ও ওয়াকফ সংক্রান্ত কার্যাবলীতে এমনভাবে আত্মনিয়োগ করেছিলেন যে তিনি তাতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।
এবং হাফেজের স্ত্রীদের মধ্যে আল্লামা নিজামুদ্দিন ইয়াহইয়া বিন সাইফুদ্দীন আস-সাইরামির মুক্তিপ্রাপ্তা দাসীও ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
شيخ الظاهرية، تزوجها في مجاورة أم أولاده في سنة أربع وثلاثين، ورُزق منها ابنةً في سنة خمس وثلاثين، وهي بقاعة المشيخة بالبيبرسية، سمَّاها آمنة.
ومن زوجاته كذلك ليلى ابنة محمود بن طوغان الحلبية، تزوجها حيث سافر مع الأشرف إلى آمد في سنة ست وثلاثين، وكانت ذات ولدين بالغين، واستمرت معه إلى أنْ سافر من حلب، ففارقها، لكنَّه لم يُعلمها بالطلاق، وإنَّما أسرَّه لبعض خواصه والتمس منه أنْ لا يعلمها بذلك إلا بعد مُضيِّ المدة التي كان عجَّل لها النفقة عنها عند سفره.
وأعلمها بأنَّ الحامل له على الطلاق الرِّفق بها لئلا تختار الإقامة بوطنها أو يحصل لها نصيبها، فلا تتضرر بشبكته (1).
تلاميذه:
أما تلامذته، فقد توافدوا على مجالسه من كل حدب وصوب حتى ضاقت مجالسه، وامتلأت بجموعهم مدارسه، وقد أخذوا عنه من أقطار شتى وأماكن
مختلفة (2)، ومن أبرزهم وأشهرهم:
1 - ابن فهد المكي، تقي الدين محمد بن محمد ت (871) هـ (3).
2 - محمد بن سليمان الكافيجي ت (879) هـ (4).
3 - برهان الدين إبراهيم بن عمر البقاعي ت (885) هـ (5).
--------------------------------------------
যাহিরিয়ার শায়খ, চব্বিশ [৮৩৪] হিজরি সনে তাঁর সন্তানদের মায়ের সান্নিধ্যে থাকা অবস্থায় তিনি তাঁকে বিয়ে করেন। পঁয়ত্রিশ [৮৩৫] হিজরি সনে তাঁর কোলজুড়ে এক কন্যাসন্তান আসে, তখন তিনি বাইবারসিয়ার শায়খুল মাশায়িখের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁর নাম রাখেন আমিনা।
তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে আরও ছিলেন মাহমুদ বিন তুগান আল-হালাবিয়্যাহ-র কন্যা লায়লা। ছত্রিশ [৮৩৬] হিজরি সনে তিনি যখন আল-আশরাফের সাথে আমেদে সফর করেন, তখন তাঁকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক দুই সন্তানের জননী। তিনি তাঁর সাথেই ছিলেন যতক্ষণ না তিনি হালাব থেকে সফর করেন, এরপর তিনি তাঁর থেকে পৃথক হয়ে যান। তবে তিনি তাঁকে তালাকের কথা জানাননি; বরং তিনি তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির কাছে বিষয়টি গোপন রাখেন এবং তাঁদের কাছে অনুরোধ করেন যেন সেই সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে এ বিষয়ে না জানানো হয়, যে সময়ের জন্য তিনি সফরের প্রাক্কালে অগ্রিম ভরণপোষণ প্রদান করেছিলেন।
আর তিনি তাঁকে অবগত করেছিলেন যে, তালাক দেওয়ার মূল কারণ ছিল তাঁর প্রতি সদয় হওয়া, যাতে তিনি নিজ জন্মভূমিতে অবস্থান করা বেছে নিতে পারেন অথবা তাঁর প্রাপ্য অংশ লাভ করতে পারেন এবং তাঁর সাথে সম্পর্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন (১)।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
তাঁর ছাত্রদের কথা বলতে গেলে, তাঁরা সকল দিক থেকে তাঁর মজলিসগুলোতে সমবেত হতেন, এমনকি তাঁর মজলিসসমূহ সংকীর্ণ হয়ে যেত এবং তাঁর মাদ্রাসাগুলো তাঁদের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে যেত। তাঁরা বিভিন্ন অঞ্চল ও ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে এসে তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন (২)। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং প্রসিদ্ধ হলেন:
১ - ইবনে ফাহাদ আল-মাক্কি, তকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, মৃত্যু (৮৭১) হিজরি (৩)।
২ - মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-কাফিয়াজি, মৃত্যু (৮৭৯) হিজরি (৪)।
৩ - বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম বিন উমর আল-বিকাঈ, মৃত্যু (৮৮৫) হিজরি (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
4 - محمد بن محمد الخيضري ت (902) هـ (1).
5 - محمد بن عبد الرحمان السخاوي ت (902) هـ (2).
6 - زكريا بن محمد الأنصاري ت (926) هـ (3).
مكانته العلمية وثناء العلماء عليه:
الداخل في كتب العلم تجاه هذه الفقرة يجد العجب العجاب، فهذا الذي لا يمكن تعداده ولا يُستطاع حصره، لكني ذكرت من ذلك حسب الإيجاز خشية الإطالة، فمنها:
1 - كتب الحافظ العراقي على «لسان الميزان» ما صورته: كتاب «لسان الميزان» تأليف الحافظ المتقن، الناقد، الحجة، شهاب الدين أحمد بن علي الشافعي، الشهير بابن حجر، نفع الله بفوائده وأمتع الله بعوائده (4).
2 - كتب العلامة تقي الدين أبو بكر الدجوي على بعض تخاريج الحافظ ما صورته: لقد بهر ابن حجر بفضله العقول والأفكار، كما فاق حَجَرُهُ الياقوت بل غيره من الحجّار «وإنَّ من الحجارة لما يتفجر منه الأنهار» فإنَّه جمع فأوعى، وأوعب جمعاً وأبدع لفظاً ومعنىً، وجمع إحساناً وحسناً، فلو شاهد حسنه الجمالُ المزيُّ لأطنب في الثناء وأسهب، أو الذهبيُّ لذهب في الإعجاب كل مذهب، أو ابنُ عبد الهادي لاهتدى به واقتفى أثره، أو ابن كثير لكاثر ببعضه واستكثره،
--------------------------------------------
৪ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-খাইদারি, মৃত্যু (৯০২) হিজরি (১)।
৫ - মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাভি, মৃত্যু (৯০২) হিজরি (২)।
৬ - জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি, মৃত্যু (৯২৬) হিজরি (৩)।
তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা:
ইলমি কিতাবসমূহে এই অনুচ্ছেদের বিষয়ে যে প্রবেশ করবে সে বিস্ময়কর সব নিদর্শনের দেখা পাবে; এটি এমন বিষয় যা গণনা করা সম্ভব নয় এবং যা সীমাবদ্ধ করাও দুষ্কর। তবে দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় আমি সংক্ষেপে কিছু উল্লেখ করছি, তন্মধ্যে রয়েছে:
১ - হাফেজ ইরাকি ‘লিসানুল মিজান’-এর ওপর যা লিখেছেন তার অনুলিপি নিম্নরূপ: ‘লিসানুল মিজান’ কিতাবটি সুনিপুণ হাফেজ, সমালোচক, হুজ্জত, শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন আলী আশ-শাফিয়ি—যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত—তাঁর রচনা। আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা উপকৃত করুন এবং এর কল্যাণসমূহ দ্বারা আনন্দিত করুন (৪)।
২ - আল্লামা তাকিউদ্দীন আবু বকর আদ-দাজবি হাফেজ ইবনে হাজারের কিছু তাখরিজের ওপর যা লিখেছেন তার অনুলিপি নিম্নরূপ: ইবনে হাজার তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব দ্বারা বুদ্ধি ও চিন্তাজগতকে বিমোহিত করেছেন, যেমন তাঁর ‘পাথর’ (হাজার) ইয়াকুতসহ অন্যান্য সকল পাথরকে ছাড়িয়ে গেছে; ‘আর নিশ্চয়ই কিছু পাথর এমন যা থেকে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়।’ নিশ্চয়ই তিনি জ্ঞান আহরণ করে তা সংরক্ষণ করেছেন, পূর্ণাঙ্গ সংকলন করেছেন এবং শব্দ ও অর্থে চমৎকারিত্ব দেখিয়েছেন। তিনি উত্তম বিষয় ও সৌন্দর্যকে একত্রিত করেছেন। যদি আল-জামাল আল-মিজ্জি তাঁর সৌন্দর্য দেখতেন, তবে তিনি প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতেন এবং বিস্তারিত বর্ণনা করতেন; অথবা আজ-জাহাবি যদি দেখতেন, তবে তিনি বিস্ময়ের সকল সীমায় পৌঁছে যেতেন; অথবা ইবনে আব্দুল হাদি যদি দেখতেন, তবে তিনি তাঁর মাধ্যমে পথনির্দেশ পেতেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন; অথবা ইবনে কাসির যদি দেখতেন, তবে তিনি এর সামান্য অংশ নিয়েও গর্ব করতেন এবং একে অনেক মনে করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
فشكراً لهذا الإمام شكراً، فلقد جمَّل مصره، وجدد لها في الحفاظ ذكراً، أوزعه الله شكر ما حمله، كما زيَّن به عصره ومصره وجمَّله (1).
3 - كتب العلامة كمال الدين الشُمُنّي في خطبة (شرحه للنخبة) ما نصه: فإنَّ الكتاب المسمى بـ «نخبة الفِكَر في مصطلح أهل الأثر» من مصنفات الشيخ الإمام مفتي الأنام، مالك ناصية العلوم وفارس ميدانها، وحائز قصب السبق في حَلبة رهانها، الوارد من فنون المعارف أنهاراً صافية، اللابس من محاسن الأعمال ثياباً ضافية، حافظ السنة من التحريف والتبديل، المرجوع إليه في علمي التجريح والتعديل، وحيد دهره في الحفظ والاتقان، فريد عصره في النباهة والعرفان، فيلسوف علل الأخبار وطبيبها، إمام طائفة الحديث وخطيبها (2).
4 - قال ابن تغري بردي في بيان صفاته: «شيخ الإسلام، حافظ المشرق والمغرب أمير المؤمنين في الحديث، علّامة الدهر، شيخ مشايخ الإسلام، حامل لواء سنة سيد الأنام، قاضي القضاة (3) أوحد الحفاظ والرواة، شهاب الدين أبو الفَضْل أحمد بن الشيخ علي بن محمد بن محمد بن علي بن أحمد بن حجر المصري المولد والمنشأ والدار والوفاة، العسقلاني الأصل، الشافعي، قاضي قضاة الديار المصرية وعالمها وحافظها وشاعرها
… لم يخلف بعده مثله شرقاً ولا غرباً، ولا نظر هو في مثل نفسه في علم الحديث.
--------------------------------------------
সুতরাং এই ইমামের প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা। তিনি তাঁর স্বদেশকে অলংকৃত করেছেন এবং সেখানে হাদিস সংরক্ষণের ধারাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে সেই ইলমের আমানতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করুন যা তিনি বহন করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাঁকে দিয়ে তাঁর যুগ ও দেশকে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও সুশোভিত করেছেন (১)।
৩ - আল্লামা কামালুদ্দিন আশ-শুমুন্নি তাঁর (নুখবাহ্-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের) খুতবায় লিখেছেন: নিশ্চয়ই ‘নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার’ নামক কিতাবটি সেই শাইখ, ইমাম, বিশ্ববাসীর মুফতি, জ্ঞানের সকল শাখার অধিপতি ও এর ময়দানের অশ্বারোহী, শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী, জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে স্বচ্ছ প্রস্রবণ আহরণকারী, উত্তম আমলের প্রশস্ত পোশাকে আবৃত, সুন্নাহকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে হেফাজতকারী, জারহ ও তাদীল শাস্ত্রে যাঁর নিকট শরণাপন্ন হওয়া হয়, মুখস্থ ও নিপুণতায় তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞা ও মারেফাতে তাঁর যুগের অনন্য পুরুষ, হাদিসের গূঢ় ত্রুটিসমূহের (ইলাল) দার্শনিক ও চিকিৎসক এবং হাদিস বিশারদগণের ইমাম ও প্রবক্তার (২) অন্যতম রচনা।
৪ - ইবনে তাগরি বারদি তাঁর গুণাবলি বর্ণনায় বলেন: “শাইখুল ইসলাম, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের হাফেজ, হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন, যুগের শ্রেষ্ঠ আল্লামা, শাইখুল ইসলামগণের শাইখ, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব (রাসূলুল্লাহ ﷺ)-এর সুন্নাহর পতাকাবাহী, প্রধান বিচারপতি (৩), হাফেজ ও বর্ণনাকারীদের মধ্যে অনন্য, শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আহমাদ বিন শাইখ আলি বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আহমাদ বিন হাজার; যাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, আবাস ও মৃত্যু মিশরে, বংশগতভাবে আসকালানি, শাফেয়ি মাযহাব অনুসারী, মিশর ভূখণ্ডের প্রধান বিচারপতি এবং সেখানকার শ্রেষ্ঠ আলেম, হাফেজ ও কবি... তাঁর পরে প্রাচ্যে কিংবা পাশ্চাত্যে তাঁর সমতুল্য কেউ আসেনি, আর তিনি নিজেও হাদিস শাস্ত্রে নিজের মতো কাউকে দেখেননি।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وكان -رحمه الله تعالى- إماماً عالماً حافظاً شاعراً أدبياً مصنّفاً مليح الشكل منور الشيبة، حلو المحاضرة إلى الغاية والنهاية عذب المذاكرة، مع وقار وأبهة وعقل وسكون وحلم وسياسة ودرية بالأحكام ومداراة الناس، قلَّ أنْ كان يخاطب الرجل بما يكره، بل كان يحسن إلى من يسيء إليه (1)، ويتجاوز عمن قدر عليه هذا مع كثرة الصوم ولزوم العبادة والبر والصدقات، وبالجملة فإنَّه أحد من أدركنا من الأفراد» (2).
وقال ابن فهد: «لم ترَ العيون مثله، ولا رأى مثل نفسه» (3).
أوصافه الخُلُقية:
قد عُرِف -رحمه الله تعالى- بتحريه في مأكله ومشربه وملبسه وأموره كلها، وعُرف في ضبط لسانه مما يشهد لورعه، حتى في الدعاء على من ظلمه (4)، وعرف بسعة حلمه وصدره وحسن سياسته والإعفاء عن من يؤذيه، لاسيما مع القدرة على الانتقام، بل
--------------------------------------------
তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— ছিলেন একজন ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, হাফিজ, কবি, সাহিত্যিক ও গ্রন্থকার। তিনি ছিলেন সুন্দর অবয়বসম্পন্ন ও উজ্জ্বল শ্মশ্রুমণ্ডিত। তাঁর আলোচনার মজলিস ছিল অত্যন্ত মনোরম এবং তাঁর কথোপকথন ছিল অতি মধুর। এর সাথে তাঁর মধ্যে ছিল গাম্ভীর্য, শান-শওকত, প্রজ্ঞা, স্থিরতা, সহিষ্ণুতা, বিচক্ষণতা, শরীয়তের বিধিবিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং মানুষের সাথে কোমল আচরণ। তিনি কাউকে তার অপছন্দনীয় কথা বলতেন না বললেই চলে; বরং যে তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করত, তিনি তার প্রতিও ইহসান করতেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাকে ক্ষমা করে দিতেন। এর পাশাপাশি তিনি প্রচুর রোজা রাখতেন এবং সর্বদা ইবাদত, পুণ্যকর্ম ও দান-সদকায় লিপ্ত থাকতেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা যাঁদের সাক্ষাৎ পেয়েছি, তাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
ইবনে ফাহদ বলেন: «চোখ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি এবং তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি»।
তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি:
তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— তাঁর খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং যাবতীয় বিষয়াদিতে অত্যন্ত সতর্কতা ও পরহেজগারির জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁর জিহ্বা নিয়ন্ত্রণেও অত্যন্ত সচেতন ছিলেন যা তাঁর তাকওয়ার প্রমাণ দেয়, এমনকি যারা তাঁর ওপর জুলুম করত, তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করার ক্ষেত্রেও তিনি সংযমী ছিলেন। তিনি তাঁর প্রশস্ত হৃদতা, ধৈর্য, উত্তম নীতি এবং কষ্টদানকারীকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য খ্যাত ছিলেন, বিশেষ করে প্রতিশোধ গ্রহণের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও। এমনকি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
يحسن لمن أساء إليه، ويتجاوز عن من قدر عليه، وعدم سرعة غضبه ما لم يكن في حق الله تعالى وحق رسوله صلى الله عليه وسلم، وعُرف كذلك بصبره على المحن والحوادث البدنية والمالية، وأنَّه غاية في السماحة والسخاء والبذل مع قصد خفاء ذلك، وشفقته على خلق الله تعالى وإحسانه للغرباء، ولا سيما أهل الحرمين، وابتكاره لهم في أوقافهم المستجد والقدوم، مما كثر الترحم عليه بسببه، وتميز ببره لشيوخه وأبناءهم، بل بطلبته وأصحابه وخدمه، وتميز كذلك عن كافة أهل عصره لمزيد التبسط في عارية الكتب، وحسن عشرته وتواضعه وحلو محاضرته وشدة خوفه من الله تعالى، وجمع العمل مع العلم (1)، وغيرها من الأوصاف الحميدة، فلله دره.
وفاته:
وبعد حياة حافلة في التعلم والتعليم فاضت الروح الطاهرة إلى بارئها وانتقلت إلى جوار ربها الكريم، ففي ليلة السبت الثامن عشر من شهر ذي الحجة سنة اثنتين وخمسين وثمانمئة فارقت الروح هذا الجسد الذي طالما أضناه التعب في سبيل خدمة هذا الدين.
وحضر تشييعه جمع كبير من أهل القاهرة، ودُفن في القرافة الصغرى (2).
وقبره الآن يقع على مسافةٍ تقدر بحوالي (1500 م) من مقام الإمام الشافعي، ذكر ذلك الدكتور شاكر محمود عند زيارته له (3).
ولفقد هذا العَلَم الكبير أنَّتِ الأقلامُ والكتبُ، ورثاه المحبون، وممن رثاه
--------------------------------------------
যিনি তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করতেন তাঁর প্রতি তিনি সদাচরণ করতেন এবং যার ওপর তাঁর প্রতিশোধ নেওয়ার সামর্থ্য ছিল তাকে তিনি ক্ষমা করে দিতেন। মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকের পরিপন্থী কোনো বিষয় না হলে তিনি সহজে রাগান্বিত হতেন না। এছাড়া তিনি শারীরিক ও আর্থিক পরীক্ষা এবং বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সহনশীলতা, বদান্যতা ও দানশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা তিনি অত্যন্ত গোপনে সম্পন্ন করার চেষ্টা করতেন। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি তাঁর দয়া এবং আগন্তুকদের প্রতি, বিশেষ করে হারামাঈন শরীফাইন-বাসীর প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ছিল অপরিসীম। তাদের ওয়াকফ সংক্রান্ত নতুন ও পুরাতন নানা সংস্কার ও উদ্যোগের কারণে মানুষ তাঁর জন্য অনেক রহমতের দোয়া করত। তিনি তাঁর শিক্ষকগণ ও তাঁদের সন্তানদের প্রতি, এমনকি নিজের ছাত্র, সঙ্গী ও সেবকদের প্রতি সদাচরণের ক্ষেত্রেও অনন্য ছিলেন। কিতাব ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যধিক উদারতার কারণে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। এছাড়া তাঁর উত্তম সাহচর্য, বিনয়, আকর্ষণীয় বাকপটুতা, আল্লাহর প্রতি প্রগাঢ় ভীতি এবং ইলমের সাথে আমলের সমন্বয় (১) সহ আরও বহু প্রশংসনীয় গুণাবলি তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল। তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি মহান আল্লাহরই বিশেষ দান।
তাঁর ইন্তেকাল:
ইলম অর্জন ও শিক্ষাদানে মুখরিত এক কর্মময় জীবন অতিবাহিত করার পর এই পবিত্র আত্মা তাঁর স্রষ্টার সান্নিধ্যে পাড়ি জমালো এবং তাঁর মহান রবের সান্নিধ্যে স্থানান্তরিত হলো। ৮৫২ হিজরী সনের যিলহজ মাসের আঠারো তারিখ শনিবার রাতে এই আত্মা সেই দেহ ত্যাগ করল, যা দীর্ঘকাল দ্বীনের খিদমতে ক্লান্তিতে জীর্ণ ছিল।
কায়রোর এক বিশাল জনসমাবেশ তাঁর জানাজায় শরিক হয় এবং তাঁকে 'কারাফা সুগরা'-তে (২) দাফন করা হয়।
বর্তমানে তাঁর কবর ইমাম শাফেয়ীর মাকাম থেকে আনুমানিক ১৫০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। ডক্টর শাকির মাহমুদ তাঁর সফরনামায় এ কথা উল্লেখ করেছেন (৩)।
এই মহান মনীষীর বিয়োগে কলম এবং কিতাবসমূহ হাহাকার করেছে এবং তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা শোকগাঁথা রচনা করেছেন। শোকগাঁথা রচয়িতাদের মধ্যে রয়েছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
تلميذه البقاعي (1) بقصيدة مطلعها:
رزء ألَمَّ فقلتُ الدهر في وهج
… وأعقل الناس منسوباً إلى الهرجِ (2)
مؤلفاته
يعد الحافظ ابن حجر من المكثرين في التصنيف، إذ له من المؤلفات والتحقيقات ما يزيد على مئتين وسبعين مؤلفاً، وهي متفاوتة في أحجامها فمنها الكبير، ومنها المتوسط، ومنها الصغير، ويغلب عليها التصنيف في الحديث والجرح والتعديل. وقد استقصاها تلميذه السخاوي (3)، وعدد من الباحثين المعاصرين (4)، وفصّلوا القول فيها، فبينوا مطبوعها من مخطوطها من مفقودها، ولا داعي لتكرار ما ذكره الباحثون من سرد مؤلفاته، ولكنني سأكتفي ببعض ذلك:
1 - إتحاف المهرة (5).
2 - الإصابة في تمييز الصحابة (مطبوع في أربع مجلدات).
3 - إنباء الغمر بأبناء العمر (مطبوع).
4 - بلوغ المرام (طبع عدة طبعات)، وهذه طبعتنا نسأل الله القبول.
5 - تبصير المنتبه في تحرير المشتبه (مطبوع في أربع مجلدات).
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্র আল-বিকায়ি (১) একটি কাসিদার মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন যার প্রথম চরণ হলো:
একটি বিপদ আপতিত হলো, আমি বললাম কাল যেন অগ্নিশিখায় প্রজ্বলিত
… এবং বিচক্ষণতম মানুষকে বিশৃঙ্খলার সাথে সম্পর্কিত করা হচ্ছে (২)
তাঁর রচনাবলী
হাফেজ ইবনে হাজারকে প্রচুর গ্রন্থ রচনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়, কেননা তাঁর মৌলিক রচনা ও গবেষণামূলক কর্মের সংখ্যা দুইশত সত্তরটিরও অধিক। এগুলোর আকার বিভিন্ন ধরনের; কোনটি বৃহৎ, কোনটি মাঝারি আবার কোনটি ক্ষুদ্র। এগুলোর অধিকাংশ হাদিস এবং জারহ ও তা’দিল (হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন) বিষয়ের ওপর রচিত। তাঁর ছাত্র আস-সাখাভি (৩) এবং বেশ কয়েকজন সমসাময়িক গবেষক (৪) এগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা পেশ করেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁরা এগুলোর মধ্যে কোনটি মুদ্রিত, কোনটি পাণ্ডুলিপি এবং কোনটি হারিয়ে গেছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। গবেষকদের বর্ণিত সেই দীর্ঘ গ্রন্থতালিকার পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই, তবে আমি এখানে কিছু উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব:
১ - ইতহাফুল মাহারা (৫)।
২ - আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ (চার খণ্ডে মুদ্রিত)।
৩ - ইনবাউল গুমর বি-আবনাউল উমর (মুদ্রিত)।
৪ - বুলুগুল মারাম (বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে), আর এটি আমাদের সংস্করণ, আল্লাহর কাছে এর কবুলিয়াত প্রার্থনা করছি।
৫ - তাবসিরুল মুনতাব্বিহ ফি তাহরিরিল মুশতাবিহ (চার খণ্ডে মুদ্রিত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
6 - تعجيل المنفعة بزوائد رجال الأئمة الأربعة (مطبوع).
7 - تغليق التعليق (مطبوع في أربع مجلدات).
8 - التلخيص الحبير (طبع عدة طبعات).
9 - تهذيب التهذيب (طبع عدة طبعات، أولها في الهند في اثني عشر مجلداً).
10 - الدراية في تلخيص تخريج أحاديث الهداية (مطبوع).
11 - فتح الباري شرح صحيح البخاري (مطبوع في سبعة عشر مجلداً).
12 - لسان الميزان (مطبوع في سبع مجلدات).
13 - المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية (مطبوع في خمس مجلدات).
14 - نزهة الألباب في الألقاب (مطبوع في مجلدين) (1).
15 - القول الثبت في الصوم يوم السبت (2).
أوهام الحافظ في الكتاب
1 - وعلى الرغم من أنَّ الكتاب مختصر -كما ذكر ذلك مؤلفه- إلا أنَّه ساق بعض الأحاديث على جهة الاختصار كما في الحديث رقم (1) (3) و (9) و (90) (4).
2 - أهمل أشياء لا بد من التنبيه عليها كما في الحديث رقم (10)، وأهمل الكلام على زيادة «فليرقه» وهي شاذة، وكما في زيادة: «أخراهن أو أولاهن بالتراب» في الحديث نفسه، والأولى أنْ يذكر الترجيح، ولم ينبه على الإدراج الوارد في الحديث (43)
--------------------------------------------
৬ - তা'জিলুল মানফায়াহ বি জাওয়াইদি রিজালিল আইম্মাতিল আরবাআ (মুদ্রিত)।
৭ - তাগলীকুত তালীক (চার খণ্ডে মুদ্রিত)।
৮ - আত-তালখীসুল হাবীর (কয়েকটি সংস্করণ মুদ্রিত হয়েছে)।
৯ - তাহযীবুত তাহযীব (কয়েকটি সংস্করণ মুদ্রিত হয়েছে, যার প্রথমটি ভারতে বারো খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল)।
১০ - আদ-দিরায়া ফী তালখীসি তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়াহ (মুদ্রিত)।
১১ - ফাতহুল বারী শারহু সহীহিল বুখারী (সতেরো খণ্ডে মুদ্রিত)।
১২ - লিসানুল মীযান (সাত খণ্ডে মুদ্রিত)।
১৩ - আল-মাতালিবুল আলিয়াহ বি জাওয়াইদিল মাসানিদিস সামানিয়াহ (পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত)।
১৪ - নুযহাতুল আলবাব ফিল আলকাব (দুই খণ্ডে মুদ্রিত) (১)।
১৫ - আল-কাওলুস সাবত ফিস সাওমি ইয়াওমিস সাবত (২)।
এই কিতাবে হাফিযের কিছু ভ্রম ও অসাবধানতা
১ - যদিও কিতাবটি সংক্ষিপ্ত—যেমনটি এর লেখক উল্লেখ করেছেন—তথাপি তিনি কিছু হাদীস সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি হাদীস নং (১) (৩), (৯) এবং (৯০) (৪)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে।
২ - তিনি এমন কিছু বিষয় বাদ দিয়েছেন যা উল্লেখ করা জরুরি ছিল, যেমন হাদীস নং (১০)-এ। তিনি 'সে যেন তা ঢেলে ফেলে' (ফাল-ইউরিকহু) অতিরিক্ত অংশটি নিয়ে আলোচনা করতে অবহেলা করেছেন, অথচ এটি শায (বিচ্ছিন্ন/অনিয়মিত)। অনুরূপভাবে একই হাদীসে 'তাদের শেষটি অথবা তাদের প্রথমটি মাটি দিয়ে' অতিরিক্ত অংশের ব্যাপারেও তিনি আলোচনা করেননি, অথচ এক্ষেত্রে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতটি উল্লেখ করাই ছিল উত্তম। তদুপরি হাদীস নং (৪৩)-এ বর্ণিত 'ইদরাজ' (হাদীসের পাঠে প্রক্ষিপ্ত অংশ) সম্পর্কেও তিনি সতর্ক করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
علماً أنَّه أشار إليه في «فتح الباري»، وكذلك في الحديث (57) لم يبين شذوذ رواية الترمذي، وحديث (117) أهمل الكلام عن الزيادة الشاذة.
3 - ذكر فوائد وهنَّ كما في الحديث (17) إذ إن القياس أن لا يذكره اكتفاءً بالذي قبله، لكنَّه ذكره لمزيد فائدة، وهو الوعيد الشديد الذي يستفاد منه وهو أن المقترف لهذا الإثم واقع في كبيرة، ونحوه في الحديث الذي بعده (18) فقد ساق لفظ مسلم، ثم عقّبه بما عند الأربعة من أصحاب السنن؛ لإفادة العموم.
4 - الاقتصار على الأهم، وترك ما هو مهم كما في حديث رقم (604) و (1120) و (1255).
5 - وقع في أخطاء في العزو كما في الحديث (18) و (31) (1) و (45) (2) و (76) و (111) و (114) و (147) و (168) و (171) و (188) و (195) و (261) و (280) و (318) و (336) و (522) و (567) و (619) و (625) و (651) و (655) و (666) و (756) و (774) و (875) و (953) و (971) و (989) و (1096) و (1166) و (1175) و (1238) و (1241) و (1244) و (1249) و (1257) و (1280) و (1346) و (1357) و (1396) و (1438) (3) و (1443) و (1444) و (1453) و (1468) و (1471) و (1501) و (1542).
6 - تلوُّنه في الأحكام، وبعبارةٍ أدق تَغَيُّر اجتهاده في كتبه فحديث رقم (60) قال: «بإسناد حسن»، وقال في «التلخيص»: «إسناده صحيح»، وقال في «الفتح»: «رجاله ثقات».
--------------------------------------------
উল্লেখ্য যে, তিনি ‘ফাতহুল বারী’-তে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। একইভাবে ৫৭ নম্বর হাদিসে তিনি তিরমিযীর বর্ণনার ‘শুযুয’ (বিচ্যুতি) স্পষ্ট করেননি এবং ১১৭ নম্বর হাদিসে শায (বিচ্যুত) অতিরিক্ত অংশ সম্পর্কে আলোচনা উপেক্ষা করেছেন।
৩ - বিভিন্ন ফায়দা (উপকারিতা) উল্লেখ করা; যেমনটি ১৭ নম্বর হাদিসে রয়েছে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী আগেরটির ওপর নির্ভর করে এটি উল্লেখ না করাই সমীচীন ছিল, কিন্তু তিনি অতিরিক্ত ফায়দার জন্য এটি উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো সেই কঠোর হুঁশিয়ারি যা থেকে বোঝা যায় যে, এই গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি কবিরা গুনাহে লিপ্ত। এর পরবর্তী ১৮ নম্বর হাদিসটিও অনুরূপ; সেখানে তিনি মুসলিমের শব্দাবলি উল্লেখ করেছেন এবং এরপর সাধারণ অর্থ প্রদানের জন্য ‘সুনান’ চতুষ্টয়ের বর্ণনা যুক্ত করেছেন।
৪ - অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বর্জন করা; যেমনটি ৬০৪, ১১২০ এবং ১২৫৫ নম্বর হাদিসে দেখা যায়।
৫ - তথ্যসূত্রে (হাওয়ালার ক্ষেত্রে) ভুল হওয়া; যেমনটি ১৮, ৩১ (১), ৪৫ (২), ৭৬, ১১১, ১১৪, ১৪৭, ১৬৮, ১৭১, ১৮৮, ১৯৫, ২৬১, ২৮০, ৩১৮, ৩৩৬, ৫২২, ৫৬৭, ৬১৯, ৬২৫, ৬৫১, ৬৫৫, ৬৬৬, ৭৫৬, ৭৭৪, ৮৭৫, ৯৫৩, ৯৭১, ৯৮৯, ১০৯৬, ১১৬৬, ১১৭৫, ১২৩৮, ১২৪১, ১২৪৪, ১২৪৯, ১২৫৭, ১২৮০, ১৩৪৬, ১৩৫৭, ১৩৯৬, ১৪৩৮ (৩), ১৪৪৩, ১৪৪৪, ১৪৫৩, ১৪৬৮, ১৪৭১, ১৫০১ এবং ১৫৪২ নম্বর হাদিসে ঘটেছে।
৬ - বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য, আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, নিজ গ্রন্থসমূহে তাঁর ইজতিহাদের পরিবর্তন। যেমন ৬০ নম্বর হাদিস সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "হাসান সনদে", ‘আত-তালখীস’ গ্রন্থে বলেছেন: "এর সনদ সহীহ", এবং ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
7 - خطؤوه في نسبة الأحاديث إلى مسانيد الصحابة كما في الأحاديث: (235) و (279) و (353) و (421) و (649) (1) و (760) و (1044) و (1202) و (1445) و (1544).
8 - العزو إلى كتب وإهمال ما هو أهم كما في الحديث (104) (2) و (204) و (283) و (330) و (332) و (394) و (395) و (397) (3) و (448) و (528) و (656) و (741) و (776) و (835) و (840) و (857) و (911) (4) و (1187) و (1224) و (1467) و (1518) و (1550).
9 - تصرَّف في بعض متون الأحاديث يسيراً كما في الحديث (533) و (895) و (1179) و (1216) (5).
10 - التساهل في بعض الاطلاقات الدقيقة كما في الحديث (134) و (386).
11 - الخطأ في تحديد عزو بعض الألفاظ (232) و (235) و (270) و (502) و (527) و (663) و (1311).
12 - الخطأ في جعل المرفوع مقطوعاً كما في (344).
13 - الخطأ في جعل المرفوع موقوفاً كما في (1221).
14 - ذكر في الكتاب أحاديث موضوعة، وكان عليه أنْ يعرض عنها، فالأحكام لا تؤخذ من الأحاديث البواطيل كما في الحديث (427) و (472) و (521) و (1036).
--------------------------------------------
৭ - সাহাবীদের মাসনাদসমূহের দিকে হাদিস সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তারা তাকে ভুল প্রতিপন্ন করেছেন, যেমনটি হাদিস নম্বর: (২৩৫), (২৭৯), (৩৫৩), (৪২১), (৬৪৯) (১), (৭৬০), (১০৪৪), (১২০২), (১৪৪৫) এবং (১৫৪৪)-এ রয়েছে।
৮ - কিছু কিতাবের উদ্ধৃতি প্রদান করা এবং অপেক্ষাকৃত অধিক গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলো উপেক্ষা করা, যেমনটি হাদিস নম্বর (১০৪) (২), (২০৪), (২৮৩), (৩৩০), (৩৩২), (৩৯৪), (৩৯৫), (৩৯৭) (৩), (৪৪৮), (৫২৮), (৬৫৬), (৭৪১), (৭৭৬), (৮৩৫), (৮৪০), (৮৫৭), (৯১১) (৪), (১১৮৭), (১২২৪), (১৪৬৭), (১৫১৮) এবং (১৫৫০)-এ রয়েছে।
৯ - কিছু হাদিসের মূল পাঠে (মতন) সামান্য পরিবর্তন করেছেন, যেমনটি হাদিস নম্বর (৫৩৩), (৮৯৫), (১১৭৯) এবং (১২১৬) (৫)-এ রয়েছে।
১০ - কিছু সূক্ষ্ম পরিভাষাগত প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন, যেমনটি হাদিস নম্বর (১৩৪) এবং (৩৮৬)-এ রয়েছে।
১১ - কিছু শব্দের উদ্ধৃতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভুল করা: (২৩২), (২৩৫), (২৭০), (৫০২), (৫২৭), (৬৬৩) এবং (১৩১১)।
১২ - মারফু হাদিসকে মাকতু হিসেবে গণ্য করার ভুল করা, যেমনটি (৩৪৪) নম্বর হাদিসে রয়েছে।
১৩ - মারফু হাদিসকে মাওকুফ হিসেবে গণ্য করার ভুল করা, যেমনটি (১২২১) নম্বর হাদিসে রয়েছে।
১৪ - কিতাবটিতে তিনি জাল (মাওদু) হাদিস উল্লেখ করেছেন, অথচ তার উচিত ছিল তা থেকে বিরত থাকা; কেননা বাতিল বা বানোয়াট হাদিস থেকে শরিয়তের বিধান গ্রহণ করা যায় না, যেমনটি হাদিস নম্বর (৪২৭), (৪৭২), (৫২১) এবং (১০৩৬)-এ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
15 - التساهل في تخفيف الحكم على الأحاديث الواهية كما في الحديث (468) و (1554).
16 - أخذ المتن من كتاب المتأخر وعزو الحديث إلى كتاب المتقدم مع اختلاف اللفظين، كما في الحديث (564).
17 - ساق بعض الأحاديث بالمعنى كما في حديث رقم (850) وهو مما لا ينبغي و (1089).
18 - الخطأ في نسبة الأقوال إلى قائليها، كما في الحديث (1010) فقد عزا قولاً للترمذي وهو خطأ؛ فإنَّ قائله يزيد بن هارون، وإنَّما نقله الترمذي عنه، وفي حديث (1025) عزا قولاً لجابر، وذكر أنَّه متفق عليه، وإنَّما انفرد مسلمٌ بتخريجه، وهو من قول سفيان بن عيينة، علماً أنَّه نبَّه عليه في «فتح الباري».
19 - الخطأ في الأحكام كما في الحديث (1146).
أصله في كذا في بلوغ المرام
يطلق الحافظ ابن حجر «أصله في كذا» إذا ورد الحديث خارج الصحيحين، ويكون ثمة اختلاف يسير له، له أثر فقهي، وقد يكون هذا الاختلاف فيه علة، أو قد يكون ليس فيه علة، كما قال في حديث أبي هريرة في قصة ثمامة بن أثال عندما أسلم وأمره النبي صلى الله عليه وسلم أن يغتسل، قال: «رواه عبد الرزاق، وأصله متفق عليه» (113)، والحديث في الصحيحين أنَّ ثمامة اغتسل، وليس عندها الأمر بالاغتسال، ومعلوم أنَّ وجوب الاغتسال لمن دخل الإسلام هو رأي جماعة من أهل العلم، وحديث عبد الرزاق حديث صحيح؛ فلهذا السبب خرَّج رواية عبد الرزاق من رواية الأمر، ولما يترتب عليها من أثر فقهي.
১৫ - অত্যন্ত দুর্বল হাদীসসমূহের হুকুম শিথিল করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করা, যেমনটি (৪৬৮) এবং (১৫৫৪) নম্বর হাদীসে রয়েছে।
১৬ - পরবর্তী যুগের কোনো গ্রন্থ থেকে পাঠ গ্রহণ করা এবং শব্দের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও হাদীসটিকে পূর্ববর্তী কোনো গ্রন্থের দিকে নিসবত করা (সম্বন্ধযুক্ত করা), যেমনটি (৫৬৪) নম্বর হাদীসে রয়েছে।
১৭ - কিছু হাদীস মর্মার্থের ভিত্তিতে বর্ণনা করা, যেমন (৮৫০) এবং (১০৮৯) নম্বর হাদীসে রয়েছে, যা করা অনুচিত।
১৮ - বক্তব্যের বক্তা নির্ধারণে ভুল করা, যেমন (১০১০) নম্বর হাদীসে তিনি একটি বক্তব্যকে তিরমিযীর দিকে নিসবত করেছেন যা ভুল; কেননা এর বক্তা হলেন ইয়াযীদ বিন হারুন, তিরমিযী কেবল তাঁর থেকে তা উদ্ধৃত করেছেন। এবং (১০২৫) নম্বর হাদীসে তিনি একটি বক্তব্যকে জাবিরের দিকে নিসবত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, অথচ এটি এককভাবে মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং এটি সুফিয়ান বিন উয়াইনার বক্তব্য; উল্লেখ্য যে তিনি 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
১৯ - বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে ভুল করা, যেমন (১১৪৬) নম্বর হাদীসে রয়েছে।
বুলুগুল মারামে 'এর মূল ভিত্তি অমুক কিতাবে রয়েছে' পরিভাষার অর্থ
হাফেজ ইবনে হাজার 'এর মূল ভিত্তি অমুক কিতাবে রয়েছে' পরিভাষাটি তখন ব্যবহার করেন যখন হাদীসটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এর বাইরে বর্ণিত হয় এবং সেখানে এমন কোনো সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে যার ফিকহী প্রভাব রয়েছে। এই পার্থক্যের মধ্যে কোনো ত্রুটি থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। যেমনটি তিনি সুমামাহ বিন উসালের ইসলাম গ্রহণের ঘটনায় আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে বলেছেন যে, যখন সুমামাহ ইসলাম গ্রহণ করেন তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে গোসল করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন: "এটি আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল ভিত্তি মুত্তাফাকুন আলাইহি" (১১৩)। অথচ সহীহাইন-এ বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে সুমামাহ গোসল করেছেন, সেখানে গোসল করার নির্দেশের কথা নেই। এটি সর্বজনবিদিত যে, নতুন মুসলিমের জন্য গোসল ওয়াজিব হওয়া একদল আলেমের অভিমত। আর আবদুর রাজ্জাকের হাদীসটি সহীহ; এই কারণে তিনি আবদুর রাজ্জাকের 'নির্দেশ সম্বলিত' বর্ণনাটি চয়ন করেছেন, যেহেতু এর সাথে একটি ফিকহী বিধান জড়িত।
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وفي حديث ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أفضل الأعمال الصلاة في أول وقتها» (171) رواه الترمذي والحاكم وصححاه، قال الحافظ ابن حجر: «وأصله في الصحيحين».
والحديث في الصحيحين بلفظ: «على وقتها»، وما ذكره الحافظ ابن حجر معلول بتفرد راويه ومخالفة من هو أوثق منه، ولكنه ذكره لما له من أثر فقهي.
وحينما ذكر رواية أبي داود (520) عند الحديث (182) وفيها: «ولم يستدر»، قال: «وأصله في الصحيحين» أي: من غير تلك الزيادة الشاذّة.
وحينما ذكر حديث أبي عامر الأشعري رضي الله عنه برقم: (524) مرفوعاً قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليكونن من أمتي أقوام يستحلّون الخزَّ والحرير» قال: «رواه أبو داود وأصله في البخاري، وإنما صنع ذلك للشك في صحابيه عند البخاري، ولأنه صدره بقوله: قال».
وحينما ذكر حديث أسماء بنت أبي بكر (533) أنها أخرجت جبة رسول الله صلى الله عليه وسلم مكفوفة الجيب والكمَّين والفرجين بالدِّيباج، قال: «رواه أبو داود وأصله في مسلم»، إنَّما صنع ذلك بسبب الاختصار؛ لطول الحديث الذي في «صحيح مسلم» ولاقتصار رواية أبي داود على الشاهد.
وقال لما ذكر حديث عليٍّ (563) أنَّه كبَّر على سهل بن حنيف ستاً، وقال: إنَّه بدري: «رواه سعيد بن منصور وأصله في البخاري».
وقد صنع الحافظ ابن حجر هذا للاختلاف بين الروايتين، ففي رواية سعيد بن منصور ذكر العدد والتعليل بكونه بدرياً بسبب التكبير في الصلاة بست تكبيرات، أما في رواية البخاري فليس فيها العدد، وقوله: «إنَّه بدري» من باب ذكر محاسن الموتى، وذكر العدد معلول؛ لعدم ورود هذا الصنيع عن بدري آخر.
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সর্বোত্তম আমল হলো প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায় করা" (১৭১)। এটি তিরমিযী ও হাকীম বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা একে সহীহ বলেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "এর মূল সূত্র (আসল) বুখারী ও মুসলিম শরীফে রয়েছে।"
আর বুখারী ও মুসলিম শরীফে হাদিসটি "ওয়াক্ত অনুযায়ী" শব্দে এসেছে। হাফিজ ইবনে হাজার যা উল্লেখ করেছেন তা বর্ণনাকারীর একাকী বর্ণনা এবং তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিরোধিতার কারণে ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল)। তবে ফিকহী প্রভাব থাকার কারণে তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।
এবং যখন তিনি ১৮২ নম্বর হাদিসের আলোচনায় আবু দাউদের বর্ণনা (৫২০) উল্লেখ করেন—যাতে রয়েছে: "এবং তিনি ঘোরেননি"—তখন তিনি বলেন: "এর মূল সূত্র বুখারী ও মুসলিম শরীফে রয়েছে"। অর্থাৎ: উক্ত শায (বিচ্ছিন্ন বা বিরল) অতিরিক্ত অংশটুকু ব্যতীত।
আর যখন তিনি আবু আমের আল-আশআরী (রা.)-এর ৫২৪ নম্বর মারফূ হাদিসটি উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু কওমের আবির্ভাব ঘটবে যারা রেশম ও সিল্ককে হালাল মনে করবে", তখন তিনি বলেন: "এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল সূত্র বুখারীতে রয়েছে।" তিনি এমনটি করেছেন কারণ বুখারীতে এর সাহাবী সম্পর্কে সন্দেহ ছিল এবং তিনি একে 'বলেন' (তা'লীক) শব্দ দিয়ে শুরু করেছেন।
এবং যখন তিনি আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)-এর হাদিস (৫৩৩) উল্লেখ করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি জুব্বা বের করলেন যার পকেট, হাতা ও ছিদ্রযুক্ত অংশগুলো রেশম দিয়ে নকশা করা ছিল, তখন তিনি বলেন: "এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল সূত্র মুসলিম শরীফে রয়েছে।" তিনি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এমনটি করেছেন; কারণ 'সহীহ মুসলিম'-এর হাদিসটি দীর্ঘ এবং আবু দাউদের বর্ণনাটি কেবল প্রয়োজনীয় প্রমাণের (শাহিদ) মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আর যখন তিনি আলী (রা.)-এর হাদিস (৫৬৩) উল্লেখ করেন যে, তিনি সাহল ইবনে হুনাইফের জানাজায় ছয়টি তাকবীর দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি একজন বদরী সাহাবী, তখন তিনি বলেন: "এটি সাঈদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল সূত্র বুখারীতে রয়েছে।"
হাফিজ ইবনে হাজার বর্ণনা দুটির মধ্যে পার্থক্যের কারণে এমনটি করেছেন। সাঈদ ইবনে মানসুরের বর্ণনায় ছয় তাকবীরের সংখ্যা এবং তিনি বদরী সাহাবী হওয়ার কারণে এই সংখ্যায় তাকবীর দেওয়ার কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে, বুখারীর বর্ণনায় সংখ্যার উল্লেখ নেই; সেখানে "তিনি বদরী ছিলেন" কথাটি মৃত ব্যক্তির গুণাবলী বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। আর সংখ্যার উল্লেখটি ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল); কারণ অন্য কোনো বদরী সাহাবীর ক্ষেত্রে এমন কাজ বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وقال في حديث (593) جابر مرفوعاً: «لا تدفنوا موتاكم بالليل إلا أن تضطروا»: «أخرجه ابن ماجه، وأصله في «مسلم» لكن قال: «زجر أن يقبر الرجل بالليل حتى يصلى عليه»، فالرواية المرفوعة لفظاً في إسنادها إبراهيم بن يزيد المكي، وهو متروك، والرواية المرفوعة حكماً هي المحفوظة.
وقال (614): «وله من حديث أبي سعيد: «ليس فيما دون خمسة أوساق من تمر، ولا حب صدقة» ثمَّ عقبه بقوله: «وأصله حديث أبي سعيد متفق عليه» وإنَّما صنع ذلك والحديث واحد؛ بسبب التطويل والاختصار بين الحديث الأول والثاني مع إلماح إلى الاختلاف اليسير.
وعند حديث حمزة بن عمرو الأسلمي (673) أنَّه قال: يا رسول الله أجد بي قوة على الصيام في السفر، فهل عليَّ جناح؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هي رخصة من الله، فمن أخذ بها فحسن، ومن أحبَّ أن يصوم فلا جناح عليه» قال: «رواه مسلم، وأصله في المتفق من حديث عائشة أنَّ حمزة بن عمرو سأل»، وإنَّما صنع ذلك بسبب الطول والاختصار، فرواية مسلم أطول من الرواية المتفق عليها وكلا الروايتين صحيحة.
وعند حديث عائشة رضي الله عنها (709) قالت: قلت: يا رسول الله على النساء جهاد، قال: «نعم، عليهنَّ جهاد ولا قتال فيه: الحج والعمرة» قال: «رواه أحمد وابن ماجه واللفظ له، وإسناده صحيح، وأصله في الصحيح» ، إنَّما قال ذلك لتقارب اللفظ.
وحديث (720) قال: «رواه الخمسة غير الترمذي، وأصله في مسلم من حديث أبي هريرة»، والحديث المذكور أخصر، وهو أشمل للصراحة بأنَّ ما زاد تطوع.
وعند حديث عائشة (723) ، أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم وقَّت لأهل العراق ذات عرق. قال:
এবং জাবিরের (৫৯৩) মারফূ হাদিসে তিনি বলেন: "তোমরা তোমাদের মৃতদের রাতে দাফন করো না, যদি না তোমরা বাধ্য হও": "এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল ভিত্তি 'মুসলিম'-এ রয়েছে, তবে সেখানে বলা হয়েছে: 'তিনি রাতে কোনো ব্যক্তিকে দাফন করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ না তার জানাজা পড়া হয়'। সুতরাং শাব্দিকভাবে মারফূ বর্ণনাটির সনদে ইবরাহিম বিন ইয়াজিদ মক্কী রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরূক), আর হুকুমগতভাবে মারফূ বর্ণনাটিই সংরক্ষিত।"
এবং তিনি (৬১৪) বলেন: "তার নিকট আবু সাঈদ এর হাদিস থেকে বর্ণিত: 'পাঁচ ওয়াসাক-এর কম খেজুর বা শস্যের ওপর কোনো জাকাত নেই'। এরপর তিনি এই বলে এর অনুসরণ করেন যে: 'এর মূল ভিত্তি আবু সাঈদের হাদিস যা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত)'। তিনি মূলত এটি করেছেন হাদিস এক হওয়া সত্ত্বেও; প্রথম ও দ্বিতীয় হাদিসের দীর্ঘতা ও সংক্ষিপ্ততার কারণে এবং সামান্য পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করার জন্য।"
এবং হামজা বিন আমর আল-আসলামীর হাদিসের (৬৭৩) ক্ষেত্রে যে, তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি সফরে রোজা রাখার শক্তি পাই, তবে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ছাড় (রুকসাত), সুতরাং যে তা গ্রহণ করবে তা উত্তম, আর যে রোজা রাখা পছন্দ করবে তার কোনো গুনাহ নেই।" তিনি বলেন: "এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল ভিত্তি মুত্তাফাকুন আলাইহি-তে আয়েশার হাদিসে রয়েছে যে হামজা বিন আমর প্রশ্ন করেছিলেন।" তিনি মূলত এটি করেছেন দীর্ঘতা ও সংক্ষিপ্ততার কারণে, কারণ মুসলিমের বর্ণনাটি মুত্তাফাকুন আলাইহি বর্ণনার চেয়ে দীর্ঘ এবং উভয় বর্ণনাই সহিহ।
এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিসে (৭০৯) তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, নারীদের ওপর কি জিহাদ আছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তাদের ওপর এমন জিহাদ আছে যাতে কোনো লড়াই নেই: হজ ও উমরা।" তিনি বলেন: "এটি আহমদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তার (ইবনে মাজাহর), এর সনদ সহিহ এবং এর মূল ভিত্তি সহিহ গ্রন্থে রয়েছে।" শব্দাবলির নিকটবর্তী হওয়ার কারণেই তিনি এমনটি বলেছেন।
এবং হাদিস (৭২০) সম্পর্কে তিনি বলেন: "তিরমিজি ব্যতীত পঞ্চ-ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল ভিত্তি আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে মুসলিমে রয়েছে।" উল্লিখিত হাদিসটি সংক্ষিপ্ততর এবং অতিরিক্ত আমল যে নফল হবে সে ব্যাপারে স্পষ্টতার ক্ষেত্রে এটি অধিক ব্যাপক।
এবং আয়েশার হাদিসে (৭২৩), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরাকবাসীদের জন্য 'জাতু ইরাক' মিকাত নির্ধারণ করেন। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
«رواه أبو داود والنسائي، وأصله عند مسلم من حديث جابر، إلا أنَّ راويه شكَّ في رفعه»، فبان من هذا الصنيع أنَّه أشار إلى رواية الأصل؛ لورود الشَّك فيها، وضعّفها وأنها لا تشفع للتي قبلها ولا التي قبلها تشفع لها.
وعند حديث عائشة (1036) أنَّ عمرة بنت الجون تعوذت من رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أدخلت عليه، تعني لما تزوَّجها، فقال: «لقد عذت بمعاذ» ، فطلَّقها، وأمر أسامة فمتَّعها بثلاثة أثواب»، قال: «أخرجه ابن ماجه، وفي إسناده راوٍ متروك، وأصل القصة في الصحيح من حديث أبي أسيد الساعدي».
أقول: سند ابن ماجه تالف، والحديث موضوع فلا داعي لترك الصحيح الذي في الصحيح ثمَّ ذكر التالف.
وعند حديث المسور بن مخرمة (1103) أنَّ سُبيعة الأسلمية رضي الله عنه نفست بعد وفاة زوجها بليال، فجاءت النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم فاستأذنته أن تنكح، فأذن لها، فنكحت. قال: «رواه البخاري، وأصله في الصحيحين».
وكلا الحديثين صحيح، لكنَّ البخاريَّ اختار لفظ البخاري من حديث المسور بن مخرمة؛ لأجل اللفظ وتقاربه مع الباب، وهو أخصر، والحديث الأصل الذي أشار إليه أطول؛ لكنْ فات الحافظ ابن حجر أنْ ينبه أنَّ حديث الصحيحين من حديث أم سلمة.
وعند حديث أبي شريح الخزاعي (1175) قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فمن قتل له قتيل بعد مقالتي هذه، فأهله بين خيرتين، إمَّا أن يأخذوا العقل أو يقتلوا» قال: «أخرجه أبو داود والنسائي، وأصله في الصحيحين من حديث أبي هريرة بمعناه».
قال ماهر: الحديثان صحيحان، ولو أنّه اكتفى بما في الصحيحين لكان أولى.
«এটি আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল ভিত্তি জাবিরের বর্ণিত হাদিস থেকে মুসলিমে রয়েছে, তবে এর বর্ণনাকারী এটি রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিস হিসেবে মারফু হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন», সুতরাং এই কাজ থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি মূল বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন; কারণ এতে সন্দেহ রয়েছে এবং তিনি এটিকে দুর্বল বলেছেন এবং এটি তার পূর্ববর্তী হাদিসকে সমর্থন দেয় না এবং পূর্ববর্তীটিও একে সমর্থন দেয় না।
আর আয়েশার বর্ণিত হাদিসের (১০৩৬) ক্ষেত্রে যে, উমরাহ বিনতে আল-জাওন যখন রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে প্রবেশ করলেন—অর্থাৎ যখন তিনি তাকে বিবাহ করেছিলেন—তখন তিনি রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তুমি এক মহান আশ্রয়স্থলের কাছে আশ্রয় চেয়েছ», অতঃপর তিনি তাকে তালাক দিলেন এবং উসামাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি তাকে তিনটি কাপড় দিয়ে বিদায়কালীন উপহার প্রদান করলেন। তিনি (ইবনে হাজার) বলেন: «এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী রয়েছেন, তবে ঘটনার মূল অংশ আবু উসাইদ আল-সাঈদির হাদিস থেকে সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।»
আমি বলি: ইবনে মাজার সনদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং হাদিসটি জাল। সুতরাং সহিহ গ্রন্থে বিদ্যমান সহিহ হাদিসটি বর্জন করে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত হাদিসটি উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
আর মিসওয়ার ইবনুল মাখরামার হাদিসের (১১০৩) ক্ষেত্রে যে, সুবাইআ আল-আসলামিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর স্বামীর মৃত্যুর কয়েক রাত পর সন্তান প্রসব করলেন। অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বিয়ের অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং তিনি বিবাহ করলেন। তিনি বলেন: «এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল ভিত্তি সহিহাইন-এ রয়েছে।»
উভয় হাদিসই সহিহ, তবে বুখারি (গ্রন্থকার) মিসওয়ার ইবনুল মাখরামার হাদিস থেকে বুখারির শব্দগুলো গ্রহণ করেছেন; শব্দের চয়ন এবং বিষয়ের সাথে এর ঘনিষ্ঠতার কারণে, আর এটি সংক্ষিপ্ততর। অথচ তিনি যে মূল হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা দীর্ঘতর; তবে হাফিজ ইবনে হাজার এটি উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন যে, সহিহাইনের হাদিসটি উম্মে সালামার বর্ণনা থেকে এসেছে।
আর আবু শুরাইহ আল-খুজায়ির হাদিসের (১১৭৫) ক্ষেত্রে তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার এই ঘোষণার পর যার কোনো আত্মীয়কে হত্যা করা হবে, তার পরিবারের জন্য দুটি সুযোগ রয়েছে; হয় তারা রক্তপণ গ্রহণ করবে, নতুবা কিসাসস্বরূপ হত্যা করবে (মৃত্যুদণ্ড দেবে)।’ তিনি বলেন: «এটি আবু দাউদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল ভিত্তি একই অর্থে আবু হুরাইরার হাদিস থেকে সহিহাইনে রয়েছে।»
মাহের বলেন: উভয় হাদিসই সহিহ, তবে তিনি যদি সহিহাইনে যা রয়েছে তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন তবে সেটিই হতো অধিকতর উত্তম।
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وعند حديث ابن عمر رضي الله عنهما (1180) عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: «إنَّ أعتى النَّاس على الله ثلاثة، من قتل في حرم الله، أو قتل غير قاتله، أو قتل لذحل الجاهلية» قال: «أخرجه ابن حبان في حديث صححه، وأصله في البخاري من حديث ابن عباس».
قال ماهر: لو ذكر حديث البخاري لكان أولى، ولربما ذكر حديث ابن حبان؛ لأجل أن لفظه أوسع.
وعند حديث عوف بن مالك رضي الله عنه (1280) أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قضى بالسَّلبِ للقاتل. قال: «رواه أبو داود وأصله عند مسلم».
قال ماهر: لا داعي لهذا الكلام، فالحديث عندهما باللفظ نفسه وبالإسناد نفسه.
وعند حديث المسور بن مخرمة ومروان (1311) أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم خرج عام الحديبية
… فذكر الحديث بطوله، وفيه: «هذا ما صالح عليه محمد بن عبد الله سهيل بن عمرو: على وضع الحرب عشر سنين، يأمنُ فيها الناس، ويكف بعضهم عن بعض» قال: «أخرجه أبو داود وأصله في البخاري».
وقال ماهر: لا داعي للتخريج بهذه الطريقة، وقد خلط الحافظ في هذا الحديث بين لفظين بطريقين مختلفين.
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীসের (১১৮০) বর্ণনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অবাধ্য ব্যক্তি হচ্ছে তিনজন: যে ব্যক্তি আল্লাহর হারামে (নিষিদ্ধ এলাকায়) হত্যা করে, যে তার হত্যাকারী ব্যতীত অন্যকে হত্যা করে, অথবা যে জাহেলি যুগের প্রতিশোধ নিতে হত্যা করে।» তিনি বলেছেন: «একে ইবনে হিব্বান এমন একটি হাদীসে বর্ণনা করেছেন যা তিনি সহীহ বলেছেন এবং এর মূল বর্ণনা বুখারীতে ইবনে আব্বাস থেকে রয়েছে।»
মাহের বলেছেন: যদি তিনি বুখারীর হাদীসটি উল্লেখ করতেন তবে তা উত্তম হতো; সম্ভবত তিনি ইবনে হিব্বানের হাদীসটি উল্লেখ করেছেন কারণ এর শব্দমালা অধিক বিস্তৃত।
আউফ বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের (১২৮০) বর্ণনায় রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হত্যাকারীর জন্য নিহত ব্যক্তির আসবাবপত্র (সালব) প্রদানের ফয়সালা করেছিলেন। তিনি বলেছেন: «এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল বর্ণনা মুসলিমের কাছে রয়েছে।»
মাহের বলেছেন: এই কথার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ হাদীসটি উভয় গ্রন্থে একই শব্দে এবং একই সনদে বর্ণিত হয়েছে।
মিসওয়ার বিন মাখরামা ও মারওয়ান বর্ণিত হাদীসের (১৩১১) বর্ণনায় রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদায়বিয়ার বছর বের হয়েছিলেন
… অতপর তিনি হাদীসটি দীর্ঘভাবে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: «এটি সেই সন্ধি যা মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ ও সুহাইল বিন আমর সম্পাদন করেছেন: দশ বছর যুদ্ধ বন্ধ রাখার বিষয়ে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকবে এবং একে অপর থেকে বিরত থাকবে।» তিনি বলেছেন: «এটি আবু দাউদ সংকলন করেছেন এবং এর মূল বুখারীতে রয়েছে।»
এবং মাহের বলেছেন: এভাবে তাখরিজ (উৎস বর্ণনা) করার কোনো প্রয়োজন নেই, হাফেজ এই হাদীসে দুটি ভিন্ন সূত্রের দুটি পাঠকে মিশ্রিত করে ফেলেছেন।
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وصف النسخ الخطية:اعتمدت في تحقيقي لهذا الكتاب الجليل على ثلاث نسخ خطية هنَّ:
النسخة الأولى: وهي النسخة المصورة عن مخطوطة الأزهر المصرية: ورمزت لها بـ (م).
وهي نسخة نقلت من نسخة بخط مؤلفه كما كتب ذلك ناسخها في آخر ورقة فيها، وهي نسخة تقع في (116) صفحة، في كل صفحة (18) سطراً، وفي كل سطر (15) كلمة تقريباً، كُتبت أبوابها باللون الأحمر، وكذلك لفظة: (وعن) و (وعنه) في بداية الحديث، خطها واضح وحسن، وهي مشكولة في أغلب المواطن.
وهذه النسخة متقنة حتى ثلث الكتاب الأول تقريباً، ثم بعد ذلك حصل فيها سقط وتحريف في بعض المواطن، منها سقوط أحاديث 473 و 507 و 508 و 855.
قوبلت النسخة على أصل المؤلف، نص على ذلك ناسخها حيث كتب في حاشية الورقة الأخيرة «بلغ مقابلة على أصل المؤلف فصحَّ ذلك، ولله الحمد».
ثم كُتب في آخر صفحة فيها عقب آخر حديث: «آخر الكتاب: نقل من نسخة بخط مؤلفه أمتع الله ببقائه المسلمين آمين، وقال في آخرها: فرغ منه ملخصه أحمد بن علي بن محمد بن حجر في حادي عشر شهر ربيع الأول سنة ثمان وعشرين وثمانمائة حامداً مصلياً مسلماً، صلى الله وسلم على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم،
كتبه علي بن محمد القيم في ثاني وعشرين ربيع الآخر سنة ثمان وأربعين وثمانمائة لمستنسخها شمس الدين محمد الواعظ الشهير بابن حجر غفر الله له آمين، وجميع المسلمين آمين».
পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ:এই মহান গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, সেগুলো হলো:
প্রথম পাণ্ডুলিপি: এটি মিশরের আল-আজহার পাণ্ডুলিপির ছায়াচিত্র (ফটোকপি); আমি একে (মীম) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
এটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে, যেমনটি এর লিপিকার শেষ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। এই কপিটি ১১৬ পৃষ্ঠার, প্রতি পৃষ্ঠায় ১৮টি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় ১৫টি করে শব্দ রয়েছে। এর অধ্যায়গুলোর নাম লাল কালিতে লেখা হয়েছে, একইভাবে হাদিসের শুরুতে ‘ওয়া আন’ (এবং হতে) ও ‘ওয়া আনহু’ (এবং তাঁর হতে) শব্দগুলোও লাল কালিতে লেখা। এর হস্তাক্ষর স্পষ্ট ও সুন্দর, এবং অধিকাংশ স্থানে হরকত (যের, যবর, পেশ) দেওয়া আছে।
এই পাণ্ডুলিপিটি গ্রন্থের প্রায় প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত অত্যন্ত নিখুঁত, কিন্তু এরপর কিছু জায়গায় বিচ্যুতি ও বিকৃতি ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৭৩, ৫০৭, ৫০৮ ও ৮৫৫ নম্বর হাদিসগুলোর বিলুপ্তি অন্যতম।
এই কপিটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এর লিপিকার শেষ পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এভাবে: "লেখকের মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখার কাজ শেষ হয়েছে এবং তা সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।"
এরপর শেষ হাদিসের পর কপির শেষ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে: "গ্রন্থের সমাপ্তি: এটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে—আল্লাহ তাঁর দীর্ঘজীবনের মাধ্যমে মুসলমানদের উপকৃত করুন, আমীন। তিনি এর শেষে বলেছেন: এর সংক্ষিপ্তকারী আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাজার ৮২৮ হিজরীর ১১ই রবিউল আউয়াল তারিখে আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূলের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করে এটি সমাপ্ত করেছেন; আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক,
৮৪৮ হিজরীর ২২শে রবিউস সানি তারিখে আলী বিন মুহাম্মদ আল-কাইয়্যিম এটি এর অনুলিপিকারক শামসুদ্দিন মুহাম্মদ আল-ওয়াইজ—যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত—তাঁর জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, আমীন এবং সকল মুসলমানকে ক্ষমা করুন, আমীন।"
(খণ্ড: ১)
বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম - ত. আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
النسخة الثانية: وهي النسخة التركية: وقد رمزت لها بـ (ت) وهي نسخة تقع في (145) ورقة، في كل ورقة وجهان، يقع في كل وجه (18) سطراً، وفي كل سطر (12) كلمة تقريباً، أسماء الأبواب فيها ولفظة «وعن»، و «وعنه»، و «اللام» في «قال»، و «التاء» في «قالت» باللون الأحمر. وهذه النسخة نسخة متقنة جداً، وذات خط واضح وحسن، ومشكولة في عدة مواطن، وهي متقنة إلى ما يقارب أكثر من نصف الكتاب الأول، وحصل فيها سقط وتحريف ولكنه قليل جداً، منها سقوط حديث «953».
قال ناسخها في آخر ورقة فيها: «آخر الكتاب، قال مصنفه الشيخ الإمام العالم العلامة شيخ الإسلام، أمتع الله بوجوده الأنام، فرغ منه ملخصه أحمد بن علي بن محمد ابن حجر في حادي عشر شهر ربيع الأول سنة ثمان وعشرين وثمان مائة حامداً لله تعالى، ومصلياً على رسوله صلى الله عليه وسلم.
النسخة الثالثة: ومزت لها بـ (غ) وهي نسخة تقع في سبعة كراريس، كل كراس يحتوي تسع صفحات، في كل صحيفة وجهان، يحتوي كل وجه على ثمان وعشرين سطراً، في كل سطر ثمان عشرة كلمة تقريباً، كُتبت أبوابها باللون الأحمر وكذلك لفظة «عن» و «عنه» في بداية الحديث، خطها لا بأس به.
جرى عليها تصحيحاً في بعض المواطن كما في صحيفة «2، 18، 38» وكذلك جرى عليها إضافة في بعض المواطن كما في صحيفة «20، 54، 63» تتصف هذه المخطوطة بكثرة السقوطات كما في الأحاديث 405، 422، 424، 448، 470، 477، 490، 502 وغيرها، وكذلك ظهر فيها سقوط أحاديث بأكملها، على سبيل المثال الأحديث 473، 507، 508، 700، 850 وغيرها.
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: এটি তুর্কি পাণ্ডুলিপি। আমি একে (ত) প্রতীকে চিহ্নিত করেছি। এটি ১৪৫টি পত্র সম্বলিত, যার প্রতিটি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে। প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৮টি করে লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় ১২টি করে শব্দ রয়েছে। এতে পরিচ্ছেদসমূহের নাম এবং ‘ওয়া আন’, ‘ওয়া আনহু’, ‘ক্বলা’ শব্দের ‘লাম’ এবং ‘ক্বলাত’ শব্দের ‘তা’ লাল রঙে লিখিত। এই পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত নিখুঁত, এর হাতের লেখা স্পষ্ট ও সুন্দর এবং অনেক স্থানে হরকতযুক্ত। এটি প্রথম বইটির অর্ধেকেরও বেশি পর্যন্ত যথেষ্ট নির্ভুল। তবে এতে কিছু বিচ্যুতি ও বিকৃতি ঘটেছে যা খুবই সামান্য, যার মধ্যে ৯৫৩ নম্বর হাদিসটি বাদ পড়া অন্যতম।
এর লিপিকার শেষ পত্রে বলেছেন: "গ্রন্থ সমাপ্ত। এর রচয়িতা শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম—আল্লাহ তাঁর অস্তিত্বের মাধ্যমে সৃষ্টির কল্যাণ দীর্ঘস্থায়ী করুন—বলেন: এর সংক্ষেপকারী আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাজার এটি সমাপ্ত করেছেন ৮২৮ হিজরি সালের ১১ই রবিউল আউয়াল মাসে, মহান আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে।"
তৃতীয় পাণ্ডুলিপি: আমি একে (গাইন) প্রতীকে চিহ্নিত করেছি। এটি সাতটি দিস্তা সম্বলিত, যার প্রতিটি দিস্তায় নয়টি করে পাতা রয়েছে। প্রতিটি পাতায় দুটি করে পৃষ্ঠা এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৮টি করে লাইন রয়েছে। প্রতি লাইনে প্রায় ১৮টি করে শব্দ রয়েছে। এর পরিচ্ছেদসমূহ এবং হাদিসের শুরুতে থাকা ‘আন’ ও ‘আনহু’ শব্দগুলো লাল রঙে লিখিত। এর হাতের লেখা মোটামুটি ভালো।
এতে কিছু স্থানে সংশোধন করা হয়েছে যেমন ২, ১৮ ও ৩৮ নম্বর পৃষ্ঠায়। একইভাবে কিছু স্থানে সংযোজনও করা হয়েছে যেমন ২০, ৫৪ ও ৬৩ নম্বর পৃষ্ঠায়। এই পাণ্ডুলিপিটিতে অধিক পরিমাণে অংশ বাদ পড়ার ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়, যেমন ৪০৫, ৪২২, ৪২৪, ৪৪৮, ৪৭০, ৪৭৭, ৪৯০, ৫০২ ইত্যাদি হাদিসসমূহে। এছাড়া এতে পূর্ণ হাদিসও বাদ পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, উদাহরণস্বরূপ ৪৭৩, ৫০৭, ৫০৮, ৭০০, ৮৫০ ইত্যাদি হাদিসসমূহ।