(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: -)
ثمرة التسارع إلى الحب في الله تعالى وترك التقاطع   (جمال الدين القاسمي)

القسم: الفقه العام


الكتاب: ثمرة التسارع إلى الحب في الله تعالى وترك التقاطع - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (9)

المؤلف: محمد جمال الدين بن محمد سعيد بن قاسم الحلاق القاسمي (ت 1332 هـ)

تحقيق وتعليق: محمد بن ناصر العجمي

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 46

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1436

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসায় ধাবিত হওয়া এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন না করার সুফল   (জামালুদ্দীন আল-কাসেমী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসায় ধাবিত হওয়া এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন না করার সুফল - মসজিদুল হারামের শেষ দশকের বৈঠকের ধারাবাহিক (৯)

লেখক: মুহাম্মদ জামালুদ্দীন বিন মুহাম্মদ সাঈদ বিন কাসেম আল-হাল্লাক আল-কাসেমী (ওফাত ১৩৩২ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা: মুহাম্মদ বিন নাসের আল-আজমী

প্রকাশক: দারুল বাশাএর আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬

[বইটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জিলকদ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (9)

 

ثمرة التسارع إلى الحب في الله تعالى وترك التقاطع

 

تأليف

العلامة الشيخ محمد جمال الدين القاسمي الدمشقي (1283 - 1332 هـ)

 

تحقيق وتعليق

محمد بن ناصر العجمي

 

ساهم بطبعه بعض أهل الخير بالمدينة المنورة

 

دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের মজলিস (৯)

 

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পারস্পরিক ভালোবাসার পথে ধাবিত হওয়া এবং সম্পর্কচ্ছেদ বর্জনের সুফল

 

রচনায়

আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন আল-কাসিমী আদ-দিমাশকী (১২৮৩ - ১৩৩২ হিজরি)

 

সম্পাদনা ও টীকা বিন্যাস

মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-আজমী

 

মদিনা মুনাওয়ারার কতিপয় পুণ্যবান ব্যক্তি এর মুদ্রণে অবদান রেখেছেন

 

দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الورقة الأولى من "ثمرة التسارع" بخط المصنف
গ্রন্থকারের স্বহস্তে লিখিত "সামরাতুত্তাসারু"-এর প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على محمَّد وآله أجمعين، وبعد:

فهذه رسالة سمَّيتها: "ثَمَرةُ التَّسارع إِلى الحب في الله تعالى وترك التقاطع" ذكرت فيها شذرة ممَّا ورد في ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم.

فممَّا وَرَدَ في الحُبِّ في الله تعالى: قوله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ اللهَ يقولُ يَوْمَ القِيَامَةِ: أَيْنَ المُتَحابُّونَ بِجَلَالِي، اليَوْمَ أُظِلُّهُمْ في ظِلِّي، يَوْمَ لَا ظِلَّ إلا ظِلِّي". رواه مسلم عن أبي هريرة (1).

وعنه صلى الله عليه وسلم: "أنَّ رَجُلًا زارَ أَخًا لَهُ في قَرْيةٍ أُخرى، فَأَرْصَدَ (2) الله لَهُ عَلَى مَدْرَجَتِهِ (3) مَلَكًا، قَال: أَيْنَ تُرِيد؟ قَال: أُرِيدُ أَخًا لِي في هذِهِ الْقَرْيةِ. قَال: هَلْ لَكَ عَلَيْهِ مِنْ نِعْمَةٍ تربُّها (4)؟ قَال: لَا، غَيْرَ أَنِّي أَحْبَبْتُهُ في اللهِ.

--------------------------------------------

(1) (4/ 1988).

(2) (فأرصد) أي أقعده يرقبه.

(3) (على مدرجته) المدرجة هي الطريق، سُمِّيت بذلك لأنَّ الناس يدرجون عليها، أي يمضون ويمشون.

(4) (تَربُّها) أي تقوم بإصلاحها، وتنهض إليه بسبب ذلك. من "شرح صحيح مسلم".
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর। অতঃপর:

এটি একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা যার নাম আমি দিয়েছি: "থামারাতুত তাসারি' ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তা'আলা ওয়া তারকুত তাকাতি" (আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসার দিকে ধাবিত হওয়া এবং সম্পর্কচ্ছেদ বর্জনের সুফল)। এতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই বিষয়ক কিছু অংশ উল্লেখ করেছি।

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভালোবাসার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হলো: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: আমার মহিমার খাতিরে যারা একে অপরকে ভালোবেসেছিলে তারা কোথায়? আজ আমি তাদের আমার ছায়াতলে আশ্রয় দেব, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া নেই।" এটি আবু হুরায়রা থেকে মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরও বর্ণিত আছে যে: "এক ব্যক্তি অন্য এক গ্রামে তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তার জন্য তার পথে (৩) একজন ফেরেশতাকে মোতায়েন (২) করলেন। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন: এই গ্রামে আমার এক ভাইয়ের কাছে যাচ্ছি। ফেরেশতা বললেন: তার ওপর কি আপনার কোনো অনুগ্রহ আছে যা আপনি সংরক্ষণ (৪) করছেন? তিনি বললেন: না, কেবল আমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি।"

--------------------------------------------

(১) (৪/ ১৯৮৮)।

(২) (মোতায়েন করলেন) অর্থাৎ তিনি তাকে পর্যবেক্ষণের জন্য সেখানে বসিয়ে দিলেন।

(৩) (তার পথে) 'মাদরাজাহ' হলো রাস্তা; এর নামকরণ এমন করা হয়েছে কারণ মানুষ এর ওপর দিয়ে যাতায়াত করে অর্থাৎ চলাফেরা করে।

(৪) (সংরক্ষণ করেন) অর্থাৎ আপনি তার দেখাশোনা করেন এবং সেই কারণে তার কাছে যান। শারহু সহিহ মুসলিম থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৩৮)
قَال: فَإِنِّي رَسُولُ اللهِ إِلَيْكَ، بِأَنَّ الله قَدْ أَحَبَّكَ كَمَا أَحْبَبْتَهُ فِيهِ". رواه مسلم عن أبي هريرة (1).

وَعَنْ أَنَس أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُول الله، مَتَى السَّاعَةُ؟ قَال: "وَمَا أَعْدَدْتَ لَهَا؟ "، قَال: مَا أَعْدَدْتُ لَهَا إلا أَنِّي أُحِبُّ الله وَرَسُولَهُ. قَال: "أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ".

قَالَ أَنَس: فَمَا رَأَيْتُ الْمُسْلِمِينَ فَرِحُوا بِشَيء بَعْدَ الإِسْلَامِ فَرَحَهُم بِهَا. رواه البخاري ومسلم (2).

وَعَن مُعَاذ بن جبل قَال: سمعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "قال الله تعالى: "وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابِّينَ فِيَّ، والمُتَجَالِسِينَ فيَّ، والمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ، والمُتبَاذِلِينَ فِيَّ"". رواه مالك (3).

وفي رواية التِّرمذي (4): "قَال: يقُولُ الله تَعَالى: المُتَحَابُّونَ في جَلَالِي لَهُمْ مَنَابِرُ مِن نُورٍ، يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ والشُهَدَاءُ".

وَعَن عمر قَال: قَال رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللهِ لأُنَاسًا مَا هُمْ بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ، يَغْبِطُهُمُ الأَنْبِيَاءُ والشُهَدَاءُ يَوْمَ القِيَامَةِ بِمَكَانِهِمْ مِنَ الله"، قَالُوا: يَا رَسُول الله، تُخْبِرُنَا مَنْ هُمْ؟ قَالَ: "هُمْ قَوْمٌ تَحَابُّوا بِرَوحِ الله عَلَى غَيْرِ أَرْحَامٍ بَيْنَهُمْ، وَلَا أَمْوَالٍ يَتَعَاطَوْنَهَا، فَوَاللهِ إِنَّ

--------------------------------------------

(1) (4/ 1988).

(2) البخاري (7/ 42، 10/ 553)، ومسلم (4/ 2032).

(3) في "الموطإ" (2/ 953، 954)، وأحمد (5/ 233)، وابن حبان (575)، والحاكم (4/ 168)، وصحَّحه الحافظ المنذري في "الترغيب" (3/ 606).

(4) (2390) وقال: "حسن صحيح"، وهو كما قال.
তিনি বললেন: "আমি আপনার নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত, (আপনাকে এই সংবাদ দিতে এসেছি) যে আল্লাহ আপনাকে ভালোবেসেছেন যেমনটি আপনি তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবেসেছেন।" এটি আবু হুরায়রা থেকে মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।

আনাস থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন: "তুমি এর জন্য কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছো?", সে বলল: আমি এর জন্য তেমন কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসি। তিনি বললেন: "তুমি (পরকালে) তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো।"

আনাস বলেন: ইসলাম গ্রহণের পর মুসলিমদের অন্য কোনো বিষয়ে এতো বেশি আনন্দিত হতে দেখিনি, যতটা তারা এই সংবাদে আনন্দিত হয়েছিল। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।

মুয়াজ বিন জাবাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি যে: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, যারা আমার জন্য একে অপরের সাথে বসে, যারা আমার জন্য একে অপরের সাথে দেখা করে এবং যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরের তরে ব্যয় করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত হয়ে যায়।" এটি মালিক বর্ণনা করেছেন (৩)।

তিরমিজির একটি বর্ণনায় (৪) রয়েছে: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: যারা আমার মহিমা বা শ্রেষ্ঠত্বের খাতিরে একে অপরকে ভালোবাসে, তাদের জন্য নূরের মিম্বর থাকবে, যা দেখে নবী ও শহীদগণও ঈর্ষা করবেন।"

উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা নবীও নন এবং শহীদও নন, কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের কারণে নবী ও শহীদগণও তাদের দেখে ঈর্ষা করবেন।" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা আমাদের জানাবেন কি? তিনি বললেন: "তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা একে অপরকে আল্লাহর রুহের (দ্বীন বা ভালোবাসা) মাধ্যমে ভালোবেসেছে, অথচ তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এবং একে অপরের সাথে কোনো ধন-সম্পদ লেনদেনের সম্পর্কও নেই। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তাদের...

--------------------------------------------

(১) (৪/ ১৯৮৮)।

(২) বুখারি (৭/ ৪২, ১০/ ৫৫৩) এবং মুসলিম (৪/ ২০৩২)।

(৩) এটি 'মুয়াত্তা' (২/ ৯৫৩, ৯৫৪), আহমাদ (৫/ ২৩৩), ইবনে হিব্বান (৫৭৫) ও হাকেম (৪/ ১৬৮)-এ বর্ণিত হয়েছে; এবং হাফেজ মুনজিরি 'আত-তারগিব' (৩/ ৬০৬)-এ একে সহিহ (صحَّحه) বলে অভিহিত করেছেন।

(৪) (২৩৯০) এবং তিনি বলেছেন: "হাসান সহিহ (حسن صحيح)", আর বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وُجُوهَهُمْ لَنُورٌ وإِنَّهُمْ لَعَلَى نُورٍ، لَا يَخَافُونَ إِذَا خَافَ النَّاسُ، وَلَا يَحْزنونَ إِذَا حَزِنَ النَّاسَ"، وقَرَأَ هذا الآيةَ: {أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [يونس: 62]. رواه أبو داود (1).

وَعَن ابنِ عبَّاس قَال: قَال رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لأبي ذرٍّ: "يَا أَبَا ذَرّ، أَيُّ عُرَى الإِيمانِ أَوْثَق؟ "، قَالَ: الله وَرَسُوله أَعْلم. قَال: "المُوَالَاةُ في اللهِ، والحُبُّ في الله". رواه البيهقي في "شعب الإِيمان" (2).

وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَال: "إِذَا عَادَ المُسْلِمُ أَخَاهُ أَوْ زَارَهُ، قَال الله تعالى: طِبْتَ وَطَابَ مَمْشَاكَ وتَبَوَّأْتَ مِنَ الجَنَّة مَنْزِلًا". رواه الترمذي (3).

--------------------------------------------

(1) في "سننه" (3527)، وفي إسناده انقطاع، إلَّا أنَّه حسن بشواهده التي منها: حديث أبي هريرة عند ابن حبان (573)، وحديث أبي مالك الأشعري عند أحمد (5/ 343).

(2) أخرجه الطبراني في "الكبير" (11/ 251)، والبيهقي في "شعب الإِيمان" (9068)، والبغوي في "شرح السُّنَّة" (13/ 53) وإسناده ضعيف جدًّا؛ فيه الحسين بن قيس الرحبي، متروك الحديث، إلَّا أنَّ أصل الحديث حسن بشواهده التي منها: حديث البراء بن عازب، الذي أخرجه أحمد (4/ 286)، وابن أبي شيبة في "الإِيمان" (110)، وإسناده ضعيف. ومرسل عمرو بن مرَّة: أخرجه وكيع بن الجرَّاح في "الزُّهد" (329)، فالحديث حسن لغيره، والله أعلم.

(3) في "سننه" (2008)، وأحمد (2/ 326، 344، 354)، والبخاري في "الأدب المفرد" (345)، وقال الترمذي: "حديثٌ حسن"، وهو كما قال بشاهد له عند أبي يعلى في "مسنده" (4139)، وأبي نُعيم في "الحلية" (3/ 157) من حديث أنس. وقال الهيثمي في "مجمع الزوائد" (8/ 173): "رجاله رجال الصحيح غير ميمون بن عجلان، وهو ثقة".
তাদের চেহারা হবে নূর এবং তারা নূরের ওপর আসীন থাকবে। তারা ভীত হবে না যখন মানুষ ভীত হবে এবং তারা দুঃখিত হবে না যখন মানুষ দুঃখিত হবে।" এবং তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না} [ইউনূস: ৬২]। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (১)।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আবু যরকে বললেন: "হে আবু যর, ঈমানের কোন হাতল সবচেয়ে মজবুত?" তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: "আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বন্ধুত্ব করা এবং আল্লাহর জন্য ভালোবাসা।" এটি বাইহাকি 'শুয়াবুল ইমান'-এ বর্ণনা করেছেন (২)।

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যখন কোনো মুসলিম তার ভাইকে দেখতে যায় অথবা তার সাক্ষাৎ করতে যায়, তখন মহান আল্লাহ বলেন: তুমি ধন্য এবং তোমার পথচলাও ধন্য হোক, আর তুমি জান্নাতে একটি আবাস নির্দিষ্ট করে নিলে।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর 'সুনান'-এ (৩৫২৭); এর সনদে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে, তবে এটি এর সমর্থনকারী বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে হাসান (حسن)। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইবনে হিব্বানে (৫৭৩) বর্ণিত আবু হুরায়রার হাদিস এবং আহমদে (৫/৩৪৩) বর্ণিত আবু মালিক আল-আশআরির হাদিস।

(২) তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ (১১/২৫১), বাইহাকি 'শুয়াবুল ইমান'-এ (৯০৬৮) এবং বাগাভি 'শারহুস সুন্নাহ'-তে (১৩/৫৩) এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ খুবই দুর্বল (ضعيف جدًّا); এতে হুসাইন ইবনে কাইস আল-রাহবি রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (متروك الحديث)। তবে মূল হাদিসটি তার সমর্থনকারী বর্ণনাগুলোর (شواهد) মাধ্যমে হাসান (حسن); যার মধ্যে রয়েছে বারা ইবনে আযিবের হাদিস যা আহমদ (৪/২৮৬) ও ইবনে আবি শাইবা 'আল-ইমান'-এ (১১০) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল (ضعيف)। আর আমর ইবনে মুররার বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাটি ওকি ইবনুল জাররাহ 'আয-যুহদ'-এ (৩২৯) বর্ণনা করেছেন; সুতরাং হাদিসটি অন্যান্য বর্ণনার প্রেক্ষিতে হাসান (حسن لغيره)। আল্লাহই ভালো জানেন।

(৩) তাঁর 'সুনান'-এ (২০০৮), আহমদ (২/৩২৬, ৩৪৪, ৩৫৪), বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ (৩৪৫)। তিরমিজি বলেছেন: "এটি হাসান (حسن) হাদিস।" তিনি যেমনটি বলেছেন, আবু ইয়ালা তার 'মুসনাদ'-এ (৪১৩৯) এবং আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ'-তে (৩/১৫৭) আনাস-এর সূত্রে এর একটি শাহেদ (সমর্থনমূলক বর্ণনা) উল্লেখ করেছেন। হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ'-এ (৮/১৭৩) বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী, মায়মুন ইবনে আজলান ব্যতীত, আর তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।"
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَعَنِ المِقْدَامِ بن مَعْدِي كرب عن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم قَال: "إِذَا أَحَبَّ الرَّجُلُ أَخَاهُ فَلْيُخْبِرْهُ أَنّهُ يُحِبّه". رواه أبو داود والترمذي (1).

وَعَن أَنَسٍ قَال: مَرَّ رَجُلٌ بِالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَعِنْده نَاسٌ، فَقَال رَجُلٌ مِمَّنْ عِنْدَه: إِنِّي لأُحِبُّ هذَا للهِ؟ فَقَال النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: "أَعْلَمْتَه؟ "، قَال: لَا، قَال: "قُمْ إِلَيْهِ فَأَعْلِمْهُ"، فَقَامَ إِلَيْهِ فَأَعْلَمَهُ، فَقَال: أَحَبَّكَ الَّذِي أَحْبَبْتَنِي لَهُ، قَال: ثُمَّ رَجَعَ، فَسَأَلَهُ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرَهُ بِمَا قَال، فَقَال النبي صلى الله عليه وسلم: "أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ، وَلَكَ مَا احْتَسَبْتَ". رواه البيهقي في "الشعب"، وللترمذي نحوه (2).

وَعَن أَبي سَعِيدٍ الخدري أنَّه سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يقُول: "لَا تُصَاحِبْ إِلَّا مُؤْمِنًا، وَلَا يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلَّا تَقِيٌّ". رواه الترمذي، وأبو داود والدَّارمي (3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (4/ 130)، والبخاري في "الأدب المفرد" (542)، وأبو داود (5124)، والترمذي (4/ 284 من تحفة الأحوذي، ط الهند، وقد سقط من طبعة إبراهيم عطوة)، وإسناده صحيح.

(2) أخرجه عبد الرزاق في "المصنف" (20319)، والبيهقي في "شعب الإِيمان" (8596)، والبغوي في "شرح السُّنَّة" (13/ 66، 67)، وإسناده جيِّد.

وأما رواية الترمذي فإنه أخرجها في "سننه" (2386)، ولفظها: "المرءُ مَع مَنْ أَحَبَّ، وله ما اكْتَسَبَ".

وإسنادها ضعيف؛ فيها أبو هشام الرفاعي محمَّد بن يزيد، شيخ الترمذي، ليس بالقوي كما في "التقريب"، والحسن البصري لم يصرح بسماعه من أنس، فتبقى لفظة: "وله ما اكتسب" ضعيفة، ومما يدل على ضعفها أنَّ الإِمام أحمد أخرج هذا الحديث في "مسنده" (2/ 226، 283) بسند جيِّد من حديث أنس هذا وفيه: "ولك مَا احْتَسَبْتَ".

(3) أخرجه أحمد (3/ 38)، وأبو داود (4833)، والترمذي (2395)، والدارمي (2/ 103)، والبيهقي في "شعب الإِيمان" (8937)، وإسناده حسن.
মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে ভালোবাসে, তখন সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে সে তাকে ভালোবাসে।" আবু দাউদ এবং তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন (১)।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তাঁর কাছে কিছু লোক উপস্থিত ছিল। তখন সেখানে উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে ভালোবাসি। নবী (সা.) বললেন: "তুমি কি তাকে তা জানিয়েছ?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "তার কাছে যাও এবং তাকে জানিয়ে দাও।" সে তার কাছে গিয়ে তাকে তা জানাল। সে বলল: যাঁর জন্য তুমি আমাকে ভালোবেসেছ, তিনি তোমাকে ভালোবাসুন। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর সে ফিরে এল এবং নবী (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে যা বলেছিল তা তাকে জানাল। তখন নবী (সা.) বললেন: "তুমি যাকে ভালোবাসো তার সাথেই থাকবে এবং তুমি যা সওয়াবের আশা করেছ তা তোমার জন্য।" বায়হাকি 'শুয়াবুল ইমান'-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজিতেও এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে (২)।

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: "মুমিন ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গী হয়ো না এবং পরহেজগার ব্যতীত অন্য কেউ যেন তোমার খাবার না খায়।" তিরমিজি, আবু দাউদ এবং দারেমি এটি বর্ণনা করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি আহমদ (৪/১৩০), বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ (৫৪২), আবু দাউদ (৫১২৪) এবং তিরমিজি (৪/২৮৪, তুহফাতুল আহওয়াযি, ভারতীয় সংস্করণ; এটি ইব্রাহিম আতওয়া সংস্করণে বাদ পড়েছে) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহিহ (صحيح)।

(২) এটি আব্দুর রাজ্জাক 'আল-মুসান্নাফ'-এ (২০৩১৯), বায়হাকি 'শুয়াবুল ইমান'-এ (৮৫৯৬) এবং বাগাভি 'শারহুস সুন্নাহ'-তে (১৩/৬৬, ৬৭) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ উত্তম (جيِّد)।

আর তিরমিজির বর্ণনার ক্ষেত্রে, তিনি এটি তাঁর 'সুনান'-এ (২৩৮৬) বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: "ব্যক্তি তার সাথেই থাকবে যাকে সে ভালোবাসে এবং সে যা অর্জন করেছে তা তার জন্য।"

এর সনদ দুর্বল (ضعيف); এতে আবু হিশাম আল-রিফায়ি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ রয়েছেন, যিনি তিরমিজির উস্তাদ, তিনি শক্তিশালী (قوي) নন যেমনটি 'আত-তাক্বরিব'-এ উল্লেখ আছে। আর হাসান বসরি আনাস (রা.) থেকে তাঁর শ্রবণের (سماع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি। ফলে "এবং সে যা অর্জন করেছে" শব্দগুচ্ছটি দুর্বল (ضعيفة) রয়ে যায়। এর দুর্বলতার প্রমাণসমূহের একটি হলো এই যে, ইমাম আহমদ এই হাদিসটি তাঁর 'মুসনাদ'-এ (২/২২৬, ২৮৩) আনাস (রা.)-এর এই হাদিস থেকে একটি উত্তম (جيِّد) সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে রয়েছে: "এবং তুমি যা সওয়াবের আশা করেছ তা তোমার জন্য।"

(৩) এটি আহমদ (৩/৩৮), আবু দাউদ (৪৮৩৩), তিরমিজি (২৩৯৫), দারেমি (২/১০৩), বায়হাকি 'শুয়াবুল ইমান'-এ (৮৯৩৭) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান (حسن)।
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: قَال رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم "المَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ". رواه الإِمام أحمد، والترمذي، وأبو داود، والبيهقي (1).

وَعَن يَزِيد بن نعامةَ قَال: قَال رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: "إِذَا آخَى الرَّجُلُ الرَّجُلَ فَلْيَسْأَلْهُ عَنِ اسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَمِمَّنْ هُوَ فَإِنَّهُ أَوْصَلُ لِلمَوَدَّةِ". رواه الترمذي (2).

وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "لَوْ أَنَّ عَبْدَيْنِ تَحَابَّا في الله عز وجل، وَاحِدٌ في المَشْرِقِ وَآخَرُ في الْمَغْرِب؛ لَجَمَعَ الله بَيْنَهُمَا يَوْمِ القِيَامَةِ، يقُول: هذَا الّذِي كُنْتَ تُحِبُّهُ فيّ" (3).

وَعَن أَبِي رَزِين، أَنّهُ قَالَ لَهُ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: "أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى مَلَاكِ هذَا الأَمْرِ الَّذِي تُصِيبُ بِهِ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالآخِرَة؟ عَلَيْكَ بِمَجَالِسِ أَهْلِ الذِّكْرِ، وَإِذَا خَلَوْتَ فَحَرِّكْ لِسَانَكَ مَا اسْتَطَعْتَ بِذِكْرِ اللهِ، وَأَحِبَّ في الله وأَبْغِضْ في الله. يَا أَبَا رُزَين: هَلْ شَعَرْتَ أَنَّ الرَّجُلَ إِما خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ زَائِرًا أَخَاهُ شَيَّعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ، كُلُّهُم يُصَلّونَ عَلَيْهِ ويقُولُون: رَبَّنَا إِنَّهُ وَصَلَ فِيكَ

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (2/ 303)، وأبو داود (4832)، والترمذي (2378)، والبيهقي في "شعب الإِيمان" (8990، 8991)، وفي "الآداب" (308)، وإسناده حسن.

(2) في "سننه" (2392) وقال: "غريب لا نعرفه إلَّا من هذا الوجه، ولا نعرف ليزيد بن نعامة سماعًا من النبي صلى الله عليه وسلم"، وإسناده ضعيف؛ وذلك لأنَّ يزيد بن نعامة ليست له صحبة. (تهذيب الكمال للمِزِّي 32/ 255)، وفيه سعيد بن سلمان لم يوثقه غير ابن حبان.

(3) أخرجه البيهقي في "الشعب" (8606) وإسناده ضعيف؛ فيه حكيم بن نافع القرشي، ضعيف الحديث.
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষ তার বন্ধুর আদর্শের অনুসারী হয়; সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য রাখা উচিত সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।" ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ এবং বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন (১)।

ইয়াযিদ ইবনে নুয়ামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন সে যেন তার নাম, তার পিতার নাম এবং সে কোন বংশের তা জিজ্ঞাসা করে নেয়। কেননা এটি পারস্পরিক ভালোবাসাকে অধিক সুদৃঢ় করে।" তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন (২)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি আল্লাহর দুই বান্দা একে অপরকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসে—যাদের একজন পূর্বে এবং অন্যজন পশ্চিমে থাকে—তবে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের একত্রিত করবেন এবং বলবেন: 'এই সেই ব্যক্তি যাকে তুমি আমার সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসতে'।" (৩)।

আবু রাযীন (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: "আমি কি তোমাকে এমন এক মূল বিষয়ের সন্ধান দেব না, যার মাধ্যমে তুমি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করবে? তুমি যিকিরকারীদের মজলিসকে আঁকড়ে ধরো। যখন তুমি একাকী থাকবে, তখন যথাসম্ভব আল্লাহর যিকিরে তোমার জিহ্বাকে সচল রেখো। আর আল্লাহর জন্যই ভালোবাসো এবং আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করো। হে আবু রাযীন! তুমি কি জানো যে, কোনো ব্যক্তি যখন তার কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়, তখন সত্তর হাজার ফেরেশতা তার অনুসরণ করে? তারা সবাই তার জন্য দুআ করে এবং বলে: 'হে আমাদের রব! সে আপনার সন্তুষ্টির জন্য সম্পর্ক যুক্ত করেছে' (৪)...

--------------------------------------------

(১) আহমাদ (২/৩০৩), আবু দাউদ (৪৮৩২), তিরমিযী (২৩৭৮), বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' (৮৯৯০, ৮৯৯১) এবং 'আল-আদাব' (৩০৮)-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)।

(২) তাঁর 'সুনান' (২৩৯২) গ্রন্থে এবং তিনি বলেছেন: "এটি গরিব (غريب), আমরা এই একটি সূত্র ছাড়া এটি জানি না এবং ইয়াযিদ ইবনে নুয়ামাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরাসরি শ্রবণ (سماع) করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।" এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); কারণ ইয়াযিদ ইবনে নুয়ামাহ-র সাহাবী হওয়া (صحبة) প্রমাণিত নয় (মিযযী রচিত তাহযীবুল কামাল ৩২/২৫৫)। এতে সাঈদ ইবনে সালমান নামক জনৈক বর্ণনাকারী রয়েছেন, যাকে ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ নির্ভরযোগ্য বলেননি (توثيق)।

(৩) বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' (৮৬০৬)-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); এতে হাকীম ইবনে নাফে আল-কুরাশী রয়েছেন, যিনি হাদিসে দুর্বল (ضعيف الحديث)।
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৪২)
فَصِلْهُ، فَإِن اسْتَطَعْتَ أَنْ تعمل جَسَدَكَ في ذلك فَافْعَل" (1).

وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، فَقَال رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ في الجَنَّةِ لعمدًا مِن ياقوتَةٍ عَلَيْهَا غُرَفٌ مِن زَبَرْجَدٍ، لَهَا أَبْوَابٌ مُفَتَّحَة تُضِيءُ كَمَا يُضِيءُ الكَوْكَب الدُّرَّيّ"، فَقَالُوا: يَا رَسُول الله، مَنْ يَسْكُنها؟ قَال: "المُتَحَابُّونَ في الله، والمُتَجَالِسُون في الله، والمُتَلَاقُونَ في الله" (2).

روى البيهقي الأحاديث الثَّلاثة في "شعب الإِيمان".

ومِمَّا وَرَدَ في النَّهْي عَن التَّهَاجُرِ والتَّقَاطُعِ:

قوله صلى الله عليه وسلم: "لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاث لَيَالٍ، يلتقيان فيُعرض هذا ويُعرض هذا، وخيرهما الذي يبدأ بالسلام". رواه البخاري، ومسلم عن أبي أيوب الأنصاري (3).

وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: قال رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "إِيَّاكُمْ والظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ، وَلَا تَحَسَّسوا، وَلَا تَجَسَّسوا، وَلَا تناجَشوا، وَلَا تَحَاسَدوا، وَلَا تَبَاغَضوا، وَلَا تَدَابَروا، وَكُونُوا عِبَادَ الله إِخْوَانًا".

وفي رواية: "وَلَا تَنَافَسوا". رواه البخاري، ومسلم (4).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البيهقي في "الشعب" (8608)، وإسناده ضعيف، فيه عثمان بن عطاء المقدسي، وهو ضعيف.

(2) أخرجه البزار (3592)، والبيهقي في "الشعب" (8589)، وقال الهيثمي في "المجمع" (10/ 278): "وفيه محمَّد بن أبي حُميد، وهو ضعيف".

(3) البخاري (11/ 21)، ومسلم (4/ 1984).

(4) البخاري (10/ 481)، ومسلم (4/ 1985، 1986).
"সুতরাং তুমি তার সাথে সম্পর্ক যুক্ত রাখো, যদি তুমি তোমার শরীরকে এ কাজে নিয়োজিত করতে সক্ষম হও তবে তা করো" (১)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে ইয়াকুতের এমন কিছু স্তম্ভ রয়েছে যার ওপর পান্নার কক্ষসমূহ রয়েছে। সেগুলোর দরজাগুলো উন্মুক্ত, যা উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো আলো বিকিরণ করে।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেখানে কারা বসবাস করবে? তিনি বললেন: "যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরের সাথে বসে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে" (২)।

ইমাম বায়হাকি শুআবুল ঈমান গ্রন্থে এই তিনটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং বিচ্ছেদ ঘটানোর নিষেধ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "কোনো ব্যক্তির জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়; তারা যখন একে অপরের মুখোমুখি হয় তখন এ মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং ও মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম যে সালামের মাধ্যমে শুরু করে।" ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম এটি আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (৩)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ ধারণা হলো সবচাইতে বড় মিথ্যা কথা। তোমরা একে অপরের দোষ খুঁজো না, গোয়েন্দাগিরি করো না, কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ধোঁকা দিও না, একে অপরকে হিংসা করো না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না। বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো।"

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "এবং তোমরা একে অপরের সাথে অশুভ প্রতিযোগিতা করো না।" ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) বায়হাকি শুআবুল ঈমান গ্রন্থে (৮৬০৮) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। এতে উসমান ইবনে আতা আল-মাকদিসি রয়েছেন, তিনি দুর্বল (ضعيف)।

(২) এটি আল-বাজার (৩৫৯২) এবং বায়হাকি শুআবুল ঈমান গ্রন্থে (৮৫৮৯) বর্ণনা করেছেন। আর আল-হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থে (১০/ ২৭৮) বলেছেন: "এতে মুহাম্মদ ইবনে আবি হুমাইদ রয়েছেন, তিনি দুর্বল (ضعيف)"।

(৩) বুখারি (১১/ ২১) এবং মুসলিম (৪/ ১৯৮৪)।

(৪) বুখারি (১০/ ৪৮১) এবং মুসলিম (৪/ ১৯৮৫, ১৯৮৬)।
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: قَال رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "يَفْتَحُ اللهُ أَبْوَابَ الجَنَّة يَوْمَ الاثْنَيْنِ، وَيَوْمَ الخَمِيسِ، فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لَا يُشْرِكُ بِالله شَيْئًا، إِلَّا رَجُلٌ كَانَتْ بَيْنَهُ وبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاء، فَيُقَال: أَنْظِروا هذَينِ حتَّى يَصْطَلِحَا". رواه مسلم (1).

وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "يعرض أعمال النَّاس في كُلِّ جُمعةٍ مَرَّتَيْنِ، يَوْمَ الاثنينِ ويَوْمَ الخميس، فيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ مُؤْمنٍ إِلَّا عَبْدًا بَيْنَهُ وبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاء، فَيُقَال: اتْركُوا لهذَينِ حتَّى يَفِيئَا". رواه مسلم (2).

وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَال: "لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثٍ، فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلَاثٍ فَمَاتَ دَخَلَ النَّارَ". رواه الإِمام أحمد، وأبو داود (3).

وَعَن أَبِي خِراش السُّلمي أنَّه سَمِعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يقُول: "مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً، فَهْوَ كسَفْكِ دمِهِ". رواه أبو داود (4).

وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يَحِلُّ لِمُؤْمِنٍ أَنْ

--------------------------------------------

(1) (4/ 1987).

(2) (4/ 1988).

(3) لم يروه الإِمام أحمد؛ وإنما رواه أبو داود (4914)، وصحَّحه الحافظ العراقي في "تخريج الإِحياء" (2/ 223) ولم يعزه إلى مسند أحمد.

(4) أخرجه أحمد (4/ 221)، والبخاري في "الأدب المفرد" (404)، وأبو داود (4915)، والطبراني في "الكبير" (22 / رقم 779)، والحاكم (4/ 163)، والبيهقي في "الشعب" (6207)، وفي "الآداب" (302)، وقال الحافظ العراقي في "تخريج الإِحياء" (2/ 223): "إسناده صحيح".
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেন। অতঃপর এমন প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় যে আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করে না; তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যার ও তার ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা রয়েছে। তখন বলা হয়: এই দুজনকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা আপস-মীমাংসা করে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রতি সপ্তাহে দুইবার—সোমবার ও বৃহস্পতিবার—মানুষের আমলসমূহ উপস্থাপন করা হয়। তখন প্রত্যেক মুমিন বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়; তবে সেই বান্দা ছাড়া যার ও তার ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা রয়েছে। তখন বলা হয়: এই দুজনকে ছেড়ে দাও যতক্ষণ না তারা (সৎ পথে) ফিরে আসে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। যে ব্যক্তি তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখল এবং সে অবস্থায় মারা গেল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" এটি ইমাম আহমদ এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (৩)।

আবু খিরাশ আস-সুলামি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে এক বছর সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখল, তা তার রক্ত প্রবাহিত করার (হত্যার) সমতুল্য।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (৪)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কোনো মুমিনের জন্য বৈধ নয় যে সে...

--------------------------------------------

(1) (4/ 1987)।

(2) (4/ 1988)।

(3) ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেননি; বরং এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (৪৯১৪), এবং হাফিজ আল-ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' (২/ ২২৩) গ্রন্থে একে সহিহ (صحَّحه) সাব্যস্ত করেছেন এবং একে মুসনাদে আহমদের দিকে সম্বন্ধ করেননি।

(4) আহমদ (৪/ ২২১), বুখারি 'আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে (৪০৪), আবু দাউদ (৪৯১৫), তাবারানি 'আল-কাবির' গ্রন্থে (২২ / নং ৭৭৯), হাকিম (৪/ ১৬৩), বায়হাকি 'আশ-শুয়াব' (৬২০৭) এবং 'আল-আদাব' (৩০২) গ্রন্থে এটি বের করেছেন। হাফিজ আল-ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' (২/ ২২৩) গ্রন্থে বলেছেন: "এর সনদ সহিহ (إسناده صحيح)"।
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৪৪)
يَهْجُرَ مُؤْمِنًا فَوْقَ ثَلَاث، فَإِنْ مَرَّت بِهِ ثَلَاثٌ فَلْيَلْقَه فَلْيُسَلِّم عليه، فَإِنْ رَدَّ عليه السلام فَقَد اشْتَرَكَا في الأَجْرِ، وإِنْ لَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ فَقَدْ بَاءَ بِالإِثْمِ، وَخَرَجَ المُسَلِّمُ مِنَ الهِجْرَةِ". رواه أبو داود (1).

وَعَن أَبي الدَّرْدَاء قَال: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ والصَّدَقَةِ والصَّلاةِ؟ "، قَال: قُلْنَا: بَلَى. قَال: "إِصْلَاحُ ذَاتِ البَيْنِ، وفَسَادُ ذَاتِ البَيْنِ هِي الحَالِقَةُ". رواه أبو داود، والترمذي (2).

وَعَن الزُّبَيْر قَال: قال رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "دَبَّ إِلَيْكُم دَاءُ الأُمَمِ قَبْلَكُم: الحَسَدُ، والبَغْضَاءُ؛ هِي الحَالِقَةُ، لَا أَقُولُ تَحْلِقُ الشَّعْرَ، ولكِنْ تَحْلِقُ الدِّين". رواه الإِمام أحمد، والترمذي (3).

وَعَن أسماء بنت يزيد قالت: قال رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يَحِلُّ الكَذِبُ إِلَّا في ثَلَاثٍ: كَذِبُ الرَجُل مَعَ امْرَأَتِهِ لِيُرْضِيَهَا، والكَذِبُ في الحَرْبِ، والكَذِبُ ليصلحَ بَيْنَ النَّاسِ". رواه أحمد، والترمذي (4).

--------------------------------------------

(1) في "سننه" (4912)، ومن طريقه البيهقي في "الشعب" (6195)، وإسناده ضعيف؛ فيه هلال بن أبي هلال لا يعرف كما قال الحافظ الذهبي (الميزان 4/ 317).

(2) أخرجه أحمد (6/ 444، 445)، وأبو داود (4919)، والترمذي (2509)، وإسناده صحيح على شرط البخاري ومسلم.

(3) أخرجه أحمد (1/ 167)، والترمذي (2510)، من طريق يعيش بن الوليد، أنَّ مولى لآل الزبير حدَّثه عن الزبير به، وإسناده ضعيف لجهالة مولى آل الزبير هذا.

(4) أخرجه أحمد (6/ 459، 461)، والترمذي (1939)، وإسناده ضعيف، لضعف شهر بن حوشب، لكن يشهد له ما بعده، فهو به حسن.
"একজন মুমিনের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। যদি তিন দিন অতিবাহিত হয়ে যায়, তবে সে যেন তার সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাকে সালাম দেয়। যদি সে সালামের উত্তর দেয়, তবে তারা উভয়েই সওয়াবের ক্ষেত্রে অংশীদার হবে। আর যদি সে উত্তর না দেয়, তবে সে পাপের বোঝা বহন করল, আর সালাম প্রদানকারী সম্পর্ক ছিন্ন রাখার পাপ থেকে মুক্ত হলো।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (১)।

আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি কি তোমাদেরকে রোজা, সদকা এবং নামাজের স্তরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ মর্যাদা সম্পন্ন কাজ সম্পর্কে সংবাদ দেব না?" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমরা বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন: "বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া; আর পারস্পরিক সম্পর্কের কলহ হলো মুণ্ডনকারী (নিশ্চিহ্নকারী)।" এটি আবু দাউদ এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (২)।

জুবায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের দিকে তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ব্যাধি সংক্রমিত হয়েছে: হিংসা এবং বিদ্বেষ; যা হলো মুণ্ডনকারী। আমি বলছি না যে তা চুল মুণ্ডন করে, বরং তা দ্বীনকে মুণ্ডন (বিনাশ) করে দেয়।" এটি ইমাম আহমাদ এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (৩)।

আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত মিথ্যা বলা বৈধ নয়: স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য স্বামীর মিথ্যা বলা, যুদ্ধে মিথ্যা বলা এবং মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য মিথ্যা বলা।" এটি আহমাদ এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর "সুনানে" (৪৯১২), তাঁর সূত্রে বাইহাকী "শুয়াবুল ইমান" গ্রন্থে (৬১৯৫); এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); এতে হিলাল বিন আবি হিলাল নামক বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি অপরিচিত (لا يعرف), যেমনটি হাফেজ যাহাবী উল্লেখ করেছেন (মিজান ৪/ ৩১৭)।

(২) এটি আহমাদ (৬/ ৪৪৪, ৪৪৫), আবু দাউদ (৪৯১৯) এবং তিরমিজি (২৫০৯) বর্ণনা করেছেন; এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح), যা বুখারী ও মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী।

(৩) এটি আহমাদ (১/ ১৬৭) এবং তিরমিজি (২৫১০) ইয়াইশ বিন ওয়ালিদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, জুবায়ের পরিবারের একজন মুক্তদাস তাঁর নিকট জুবায়ের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; আর জুবায়ের পরিবারের এই মুক্তদাসের পরিচয় অজ্ঞাত (جهالة) হওয়ার কারণে এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)।

(৪) এটি আহমাদ (৬/ ৪৫৯, ৪৬১) এবং তিরমিজি (১৯৩৯) বর্ণনা করেছেন; শাহর বিন হাওশাব-এর দুর্বলতার (ضعف) কারণে এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), তবে পরবর্তী বর্ণনাটি এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়, ফলে এটি সেই কারণে হাসান (حسن)।
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَعَن أُمِّ كلثوم بنت عقبة بن أبي مُعيط قالت: سمعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لَيْسَ الكَذَّابُ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ ويقُولُ خَيْرًا ويُنمي خَيْرًا". رواه الشيخان (1).

وزَادَ مُسْلِم: "قَالَت: ولَمْ أَسْمَعه -تعني النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم يُرَخِّصُ في شَيْءٍ مِمَّا يَقُولُ النَّاسُ كَذِبٌ إِلَّا في ثَلَاثٍ: الحَرْبُ، والإِصلَاحُ بَيْنَ النَّاسِ، وحَدِيثُ الرَّجُل امْرَأَتَهُ وحَدِيثُ الْمَرْأَة زَوْجها" (2).

قَالَ الخطَّابِي: "هذِهِ أُمُورٌ قد يَضطرُّ الإِنسان فيها إِلى زيادة القَوْلِ، ومجاوزة الصِّدق، طلبًا للسلامة، ودفعًا للضرر. فالكذب في الإِصلاح بين اثنين هو: أن يُنمي من أحدهما إِلى صاحبه خيرًا، ويبلغه جميلًا، وإِن لم يكن سمعه منه؛ يريد بذلك الإِصلاح. والكذب في الحرب: أن يظهر من نفسه قوَّة، ويتحدث بما يقوي به أصحابه ويكيد به عدوه. وأما كذب الرجل زوجته، هو: أن يعدها ويُمنِّيها ويُظهر لها من المحبة أكثر مما في نفسه؛ يستديم بذلك صحبتها ويُصلح به خلقها" (3). انتهى.

والأحاديث في ذلك كثيرة، وفيما ذكرناه كفاية لأُولي الهداية، والحمد لله في البداية والنِّهاية، على يد جامعه محمَّد جمال الدِّين القاسمي.

--------------------------------------------

(1) البخاري (5/ 299)، ومسلم (4/ 2011).

(2) مسلم (4/ 2011، 2012).

(3) "معالم السنن" للخطابي (7/ 236 - المطبوع بهامش مختصر سنن أبي داود للمنذري).
উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা বিন আবি মুআইত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী (كذاب) নয় যে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করে দেয় এবং ভালো কথা বলে ও ভালো কথা পৌঁছায়।" এটি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন (১)।

এবং মুসলিম অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "তিনি (উম্মে কুলসুম) বলেন: আমি তাঁকে (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) মানুষের বলা কোনো মিথ্যার (كذب) বিষয়ে অনুমতি দিতে শুনিনি, কেবল তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত: যুদ্ধ, মানুষের মধ্যে মীমাংসা করা এবং স্বামীর তার স্ত্রীর সাথে কথা বলা ও স্ত্রীর তার স্বামীর সাথে কথা বলা" (২)।

খাত্তাবি বলেন: "এগুলো এমন বিষয় যাতে মানুষ প্রয়োজনে কথা বাড়িয়ে বলতে বা সত্যকে অতিক্রম করতে বাধ্য হতে পারে—নিরাপত্তা অর্জনের জন্য এবং ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য। দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসার ক্ষেত্রে মিথ্যা (كذب) হলো: একজনের পক্ষ থেকে অপরজনের কাছে ভালো কথা পৌঁছানো এবং সুন্দর কথা জানানো, যদিও সে তা তার কাছ থেকে শোনেনি; এর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য থাকে মীমাংসা করা। যুদ্ধের ক্ষেত্রে মিথ্যা (كذب) হলো: নিজের পক্ষ থেকে শক্তি প্রদর্শন করা এবং এমন কথা বলা যা তার সঙ্গীদের শক্তিশালী করবে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে কৌশল হিসেবে কাজ করবে। আর স্বামীর তার স্ত্রীর সাথে মিথ্যার (كذب) বিষয়টি হলো: তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া, তাকে আশা দেওয়া এবং তার প্রতি নিজের অন্তরের অনুরাগের চেয়েও বেশি প্রকাশ করা; এর মাধ্যমে সে দাম্পত্য জীবন স্থায়ী করতে চায় এবং স্ত্রীর স্বভাব সংশোধন করতে চায়" (৩)। সমাপ্ত।

এই বিষয়ে হাদিসসমূহ অনেক, আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তা হিদায়াতপ্রত্যাশীদের জন্য যথেষ্ট। শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; এর সংকলক মুহাম্মদ জামালুদ্দীন কাসেমী।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৫/ ২৯৯), এবং মুসলিম (৪/ ২০১১)।

(২) মুসলিম (৪/ ২০১১, ২০১২)।

(৩) খাত্তাবি রচিত "মাআলিমুস সুনান" (৭/ ২৩৬ - মুনজিরি কর্তৃক মুখতাসার সুনানে আবি দাউদ-এর টীকায় মুদ্রিত)।
(খণ্ড: ১) সামরাতুত তাসা-রু ইলাল হুব্বি ফিল্লাহি তাআলা ওয়া তারকিত তাকাতু (পৃষ্ঠা: ৪৬)
في 19 شوَّال سنة 1313 (1).

* * *

--------------------------------------------

(1) انتهيت من مقابلة المنسوخ بخط مؤلفه في السابع عشر من شعبان المكرم سنة 1420 هـ في الروضة الشريفة بالمسجد النبوي بدار السُّنَّة، المدينة المنوَّرة، على ساكنها أفضل الصَّلاة والسَّلام، والحمد لله رب العالمين.

ثُمَّ قابلته مرَّة أُخرى بأصله وذلك بقراءة الأخ في الله المحبّ جوهرة المدينة المنوَّرة المكنونة / هانئ بن عبد العزيز ساب المَدَني، وذلك في المسجد الحرام تجاه الكعبة المشرفة يوم الأربعاء بين العشاءين في الحادي والعشرين من رمضان المبارك سنة 1420 هـ.
১৩১৩ হিজরির ১৯শে শাওয়াল (১)।

* * *

--------------------------------------------

(১) আমি ১৪২০ হিজরির ১৭ই শাবান মুকাররম তারিখে মদিনা মুনাওয়ারার মসজিদে নববীর রওজা শরীফে অবস্থিত দারুস সুন্নাহ-তে লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির সাথে এই অনুলিপিটি মিলিয়ে দেখার (مقابلة) কাজ শেষ করেছি। এর বাসিন্দার ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।

অতঃপর আমি এটি পুনরায় মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি (مقابلة); যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমার প্রিয় ভাই, মদিনা মুনাওয়ারার সুপ্ত রত্ন হানি বিন আব্দুল আজিজ সাব আল-মাদানির পাঠের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এটি ১৪২০ হিজরির ২১শে রমজানুল মুবারক বুধবার মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে কাবা শরিফের সামনে মসজিদে হারামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।