(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: -)
ردع الإخوان عن محدثات آخر جمعة رمضان القسم: الفرق والردود
الكتاب: ردع الإخوان عن محدثات آخر جمعة رمضان - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (7)
المؤلف: محمد عبد الحي بن محمد عبد الحليم الأنصاري اللكنوي الهندي، أبو الحسنات (ت 1304 هـ)
حققه وخرج نصوصه وعلق عليه: مجد بن أحمد مكي
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الثالثة، 1420 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 90
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1436
রদ্উল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখির জুমুআতি রামাদান (রমজানের শেষ জুমুআর বিদআতসমূহ হতে ভাইদের সতর্কীকরণ) বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: রদ্উল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখির জুমুআতি রামাদান - মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠক সিরিজ (৭)
লেখক: মুহাম্মাদ আবদুল হাই ইবনে মুহাম্মাদ আবদুল হালিম আনসারী লখনভি হিন্দি, আবু হাসনাত (মৃ. ১৩০৪ হি.)
তাহকীক, পাঠ্য বিন্যাস ও তালীক: মাজদ বিন আহমদ মক্কী
প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ ও প্রকাশনা সংস্থা, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২০ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯০
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণ অনুযায়ী রাখা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জিলকদ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (7)
ردع الإخوان عن محدثات آخر جمعة رمضان
تأليف
الإمام أبي الحسنات محمد عبد الحي اللكنوي الهندي ولد 1264 وتوفي 1304 هـ رحمه الله تعالى
حققه وخرج نصوصه وعلق عليه
مجد بن أحمد مكي
دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশদিনের সম্মেলন (৭)
রমজানের শেষ জুমআর নবউদ্ভাবিত বিদআতসমূহ থেকে ভাইদের বারণকরণ
রচনা
ইমাম আবুল হাসানাত মুহাম্মদ আব্দুল হাই লখনভি হিন্দি, জন্ম ১২৬৪ এবং মৃত্যু ১৩০৪ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
পাঠ্যতত্ত্ব যাচাই, উৎস বিশ্লেষণ ও টীকা প্রদান করেছেন
মাজদ বিন আহমদ মক্কি
দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২)
حُقوُق الطبع محفُوظة
الطبعة الأولى في لكنو من الهند سنة 1303
الطبعة الثانية في لكنو أيضًا سنة 1337
الطبعة الثالثة وهي المحققة في بيروت سنة 1420 هـ - 1999 م
دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع
هاتف: 702857 - فاكس: 704963/ 009611
بيروت - لبنان ص ب: 5955/ 14
e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ: লক্ষ্ণৌ, ভারত, ১৩০৩ হিজরি
দ্বিতীয় সংস্করণ: পুনরায় লক্ষ্ণৌ থেকে, ১৩৩৭ হিজরি
তৃতীয় সংস্করণ (সম্পাদিত সংস্করণ): বৈরুত, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
দারুল বাশাএর আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ
টেলিফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১
বৈরুত - লেবানন, পি.ও. বক্স: ৫৯৫৫/ ১৪
ইমেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقدمة المعتني بالكتابالحمد لله ربِّ العالمين، والصَّلاة والسلامُ على سيد المرسلين، وخاتم النبيين، ورضي الله عن أصحابِهِ الغُرِّ الميامين، الهداة المهديّين، ومن تبعهم بإحسان من العلماء العاملين، الذين حملوا راية العلم بعزيمة ويقين، ونفوا عنه تحريف الغالين، وتأويل المُبْطلين، وبدَع الجاهلين.
وبعد؛ فهذه رسالةٌ لطيفة من رسائل نابغة المتأخِّرين الإِمام المحقِّق المدقِّق، الفقيه المحدث، الشيخ محمَّد عبد الحي اللكنوي الهندي، المولود سنة 1264، والمتوفى سنة 1304 عن 39 سنة وأربعة أشهر رحمه الله تعالى، وأكثر من 115 أثر علمي ما بين رسالة صغيرة في صفحات وكتاب ضخم في مجلدات، في أصعب المباحث وأدق الموضوعات.
وقد تميَّز في هذه الرسالة كشأنِهِ في سائِر مباحثِهِ وآثاره العلمية الثمينة باستيعاب الأدلة، وكثرةِ الشواهد، ونُدْرة النقول، مع التحلِّي بالإِنصاف الذي هو من أجمل الأوصاف.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
কিতাবটির সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার ও সর্বশেষ নবীর প্রতি। আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর জ্যোতির্ময় ও বরকতময় সাহাবীগণের প্রতি, যারা ছিলেন পথপ্রদর্শক ও সঠিক পথপ্রাপ্ত। এবং (সালাম বর্ষিত হোক) তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারী সেই কর্মঠ আলেমগণের প্রতি, যারা দৃঢ় সংকল্প ও প্রত্যয়ের সাথে ইলমের ঝাণ্ডা বহন করেছেন এবং তা থেকে চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের অপব্যাখ্যা ও মূর্খদের বিদআত দূরীভূত করেছেন।
অতঃপর, এটি পরবর্তী যুগের প্রতিভাবান ইমাম, গভীর গবেষক ও সূক্ষ্মদর্শী আলেম, ফকীহ ও মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ আব্দুল হাই লাখনভী আল-হিন্দী (রহ.)-এর একটি সংক্ষিপ্ত রিসালা। তিনি ১২৬৪ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩০৪ হিজরীতে ৩৯ বছর ৪ মাস বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি ১১৫টিরও বেশি ইলমী কাজ রেখে গেছেন—যার মধ্যে কয়েক পৃষ্ঠার ছোট রিসালা থেকে শুরু করে কয়েক খণ্ডের বিশাল গ্রন্থ রয়েছে—যেগুলো অত্যন্ত জটিল আলোচনা ও সূক্ষ্ম বিষয়ের ওপর রচিত।
তাঁর অন্যান্য গবেষণা ও মূল্যবান ইলমী নিদর্শনের মতো এই রিসালাটিরও বৈশিষ্ট্য হলো—দলিলের ব্যাপকতা, প্রচুর সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং দুর্লভ উদ্ধৃতিসমূহ, সেইসাথে ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার ভূষণে ভূষিত হওয়া, যা সর্বোত্তম গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ৪)
سبب تأليفه للرسالة ومُجْمل مواضيعها:أَبَانَ المؤلِّف في مقدمة رسالته "رَدْع الإِخوان عن مُحْدَثات آخر جمعةِ رمضان" أنَّه ألَّفها حمايةً للسُّنَّة النبويَّة، وتحذيرًا من بدعٍ أحدثها بعض الناس في آخر جمعة شهر رمضان.
وقد حذَّر فيها من بعض البدع المُحْدَثة، وحقَّق ما لها وما عليها، وما جَازَ منها وما لم يجز.
والذي دعاه إلى تأليف هذه الرسالة أنَّ أحد تلامذته النابهين، وهو العالم الجليل أبو الطيِّبات أحمد عبد الله السَّكندرفوري الهَزَاروي الذي لازمه مدة، واستفاد منه، حدَّثه عن بدعة منتشرة في بلد، يقوم بها العوام، بل بعض خواص أهل العلم!!
هذه البدعة هي القضاء العُمُري تكفيرًا لقضاء ما فاتهم من الصلاة في جميع العمر، وذلك بأداء أربع ركعات نفلًا مع الجماعة تداعيًا قبل صلاة آخر جمعة من رمضان، ولم يقتصر الأمر على ذلك، بل ويحسبون أنها كفارة لفوائت آبائهم وأجدادهم!!
وقد أطلعه تلميذه المذكرر على نقولٍ من كتب الوعظ والأوراد تحثُّ على هذا القضاء المزعوم، وطَلَبَ منه وألحَّ عليه أن يؤلِّف رسالةً في التحذير من هذه البدعة الشنيعة.
فقام رحمه الله تعالى بهذه المهمة أحسن قيام، وردَّ هذه البدعة ردًّا لم يُبْق فيه شبهة لقائل، ولا متمسكًا لعامل بها.
فقد سَرَد أقوال المتمسِّكين بهذه البدعة من كتبهم، وبيَّن أن صنيعهم
রিসালাহটি রচনার প্রেক্ষাপট এবং এর বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ:লেখক তাঁর "রাদউল ইখওয়ান আন মুদাসাতি আখিরি জুমুআতি রমাদান" (রমজানের শেষ জুমুআর নব-উদ্ভাবিত বিষয়াদি থেকে ভ্রাতৃবৃন্দকে নিবৃত্তকরণ) নামক রিসালাহর ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এটি সুন্নাতে নববীর সুরক্ষা এবং রমজান মাসের শেষ জুমুআয় কিছু মানুষের প্রবর্তিত বিদআতসমূহ সম্পর্কে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে রচনা করেছেন।
এতে তিনি কতিপয় নব-উদ্ভাবিত বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং সেগুলোর স্বপক্ষে ও বিপক্ষে উপস্থাপিত বিষয়াদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, আর এর মধ্যে কোনটি বৈধ এবং কোনটি অবৈধ তা নিরূপণ করেছেন।
এই রিসালাহটি রচনার পেছনে মূল প্রেষণা ছিল এই যে, তাঁর অন্যতম মেধাবী ছাত্র, মহান আলেম আবু তায়্যিবাত আহমাদ আব্দুল্লাহ আস-সিকান্দারপুরী আল-হাযারাভী—যিনি দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন—তাঁকে একটি বিদআত সম্পর্কে অবহিত করেন যা একটি জনপদে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি ইলমধারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কেউ কেউও এতে লিপ্ত ছিলেন!!
এই বিদআতটি হলো "কাযা-এ-উমরী", যা সারাজীবনের ছুটে যাওয়া নামাযের কাফফারা হিসেবে পালন করা হয়। এর পদ্ধতি হলো রমজানের শেষ জুমুআর নামাযের আগে সম্মিলিত আহ্বানের মাধ্যমে জামাতের সাথে চার রাকাআত নফল নামায আদায় করা। বিষয়টি শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তারা ধারণা করে যে, এটি তাদের পিতা ও পূর্বপুরুষদের ছুটে যাওয়া নামাযেরও কাফফারা!!
উল্লিখিত ছাত্র তাঁকে নসিহত ও আওরাদের (যিকিরের) বিভিন্ন কিতাব থেকে কিছু উদ্ধৃতি দেখান, যা এই তথাকথিত কাযার প্রতি উৎসাহিত করে। তিনি লেখকের নিকট এই জঘন্য বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য একটি রিসালাহ রচনা করার একান্ত অনুরোধ ও পিড়াপিড়ি করেন।
অতঃপর তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই দায়িত্ব অত্যন্ত সুচারুভাবে আঞ্জাম দেন এবং এই বিদআতকে এমনভাবে খণ্ডন করেন যে, কোনো প্রবক্তার জন্য আর কোনো সংশয় অবশিষ্ট থাকেনি এবং এতে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য কোনো অজুহাত বাকি থাকেনি।
তিনি তাদের কিতাবসমূহ থেকে এই বিদআতে বিশ্বাসীদের বক্তব্যগুলো বিস্তারিতভাবে উদ্ধৃত করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই কর্মকাণ্ড...
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ৫)
من أقبح البدع من ستة وجوهٍ فصَّلها بأدلتها وشواهدها، وناقشهم في كل ما استدلوا به من شبهٍ واهية، ونثر في رده كثيرًا من الفوائد والفرائد.
ويعدُّ تحذيره من هذه البدعةِ هو محور الكتاب، وشغل قرابة ثلثي الرسالة.
وقد نقل ما يتعلق بهذا المبحث من هذه الرسالة أستاذنا العلامة المحقِّق المحدِّث الشيخ عبد الفتاح أبو غدة رحمه الله تعالى في "تعليقاته الحافلة على الأجوبة الفاضلة" ص 31 - 34، وقال في ختام نقوله: "هذه النقول لو شدَّ طالبُ العلم الرَّحْل إليها شهرًا كاملًا لكان ذلك جديرًا بها، فإنَّها لُباب الحق، ومحضُ النُّصح والصدق، فلهذا أطَلْتُ بها، فرحم الله الإِمام اللكنويَّ، وجزاهُ عن العلم والدين خيرًا".
وبعد ردِّه هذه البدعة باستيفاء وتفصيل، حذَّر من بدعة ثانية، وهي: حفيظة رمضان التي يكتبها بعض الناس في آخر جمعة رمضان أثناء خطبة الخطيب، بدعوى أنَّها تحفظُ من الغَرَق والحَرَق والسَّرَق وسائر الآفات!! فردَّ هذه البدعة، ونقلَ كلام الكثير من أهل العلم في التحذير منها.
وأما البدعة الثالثة، فهي: تسمية الجمعة الأخيرة من جمعات رمضان بجمعة الوداع. وبيَّن أنَّ هذه التسمية وإن لم يَرِدْ بها كتابٌ ولا سنَّة، فلا بأس بها، وليس في أمثال هذه التسمية ابتداء أمر غير مشروع، أو اختراع أمر ممنوع.
وأما البدعة الرابعة: فهي في التحذير من إيراد الأشعار الفارسية، والهندية في خطبة آخر جمعة رمضان، أو قراءة الخطبة بغير العربية؛ لأنَّه خلاف السنَّة المتوارثة.
وأما الأمر المُحْدَث الخامس: فهو ما اشتهر في أكثر البلاد من
এটি ছয়টি কারণে নিকৃষ্টতম বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা তিনি দালিলিক প্রমাণ ও দৃষ্টান্তসহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তারা যেসব অসার সংশয়কে দলিল হিসেবে পেশ করেছে, তিনি সেগুলোর প্রতিটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তার খণ্ডনে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ হিকমত ও বিরল তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন।
এই বিদআত সম্পর্কে তাঁর সতর্কবাণীই বইটির মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং এটি এই পুস্তিকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত।
আমাদের শিক্ষক, আল্লামা, মুহাক্কিক ও মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর রচিত "তালিকাতুল হাফিলা আলাল আজবিবাতিল ফাদিলা" গ্রন্থের ৩১-৩৪ পৃষ্ঠায় এই পুস্তিকা থেকে উক্ত আলোচনার সংশ্লিষ্ট অংশটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি তাঁর উদ্ধৃতির শেষে বলেন: "কোনো জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থী যদি এই উদ্ধৃতিগুলো অর্জনের জন্য এক মাস ব্যাপী সফর করতেন, তবে তাও এর জন্য উপযুক্ত হতো। কেননা এগুলো হলো সত্যের সারনির্যাস এবং নিখাদ নসিহত ও সততার বহিঃপ্রকাশ। এই কারণেই আমি এটি দীর্ঘায়িত করেছি। আল্লাহ তাআলা ইমাম লাখনভিকে রহম করুন এবং জ্ঞান ও দ্বীনের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।"
এই বিদআতটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিতভাবে খণ্ডন করার পর, তিনি দ্বিতীয় আরেকটি বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। সেটি হলো: ‘হাফিজায়ে রমজান’ (রমজানের রক্ষা কবজ), যা কিছু লোক রমজানের শেষ জুমায় খতিবের খুতবা চলাকালীন এই দাবিতে লিখে থাকে যে, এটি পানিতে ডুবা, অগ্নিকাণ্ড, চুরি এবং অন্যান্য সমস্ত আপদ-বিপদ থেকে রক্ষা করে!! তিনি এই বিদআতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এ সম্পর্কে সতর্ককারী বহু আলেমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন।
তৃতীয় বিদআতটি হলো: রমজানের শেষ জুমাকে ‘জুমাতুল বিদা’ বা বিদায়ী জুমা হিসেবে নামকরণ করা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই নামকরণের পক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো প্রমাণ না থাকলেও এতে কোনো দোষ নেই। কারণ এই ধরনের নামকরণের মধ্যে কোনো অবৈধ বিষয়ের সূচনা বা নিষিদ্ধ কোনো বিষয়ের উদ্ভাবন নেই।
চতুর্থ বিদআতটি হলো: রমজানের শেষ জুমার খুতবায় ফার্সি ও হিন্দি কবিতা আওড়ানো অথবা আরবি ব্যতীত অন্য ভাষায় খুতবা পাঠ করার ব্যাপারে সতর্ক করা; কারণ এটি বংশপরম্পরায় চলে আসা সুন্নাহর পরিপন্থী।
আর পঞ্চম নব-আবিষ্কৃত বিষয়টি হলো: যা অধিকাংশ জনপদে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে...
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ৬)
تضمين خطبة الجمعة الأخيرة من المعاني والألفاظ الدالَّة على التحسُّر والحزن بذهاب ذلك الشهر.
ووقف في تحذيره من هذه البدعة موقف الإِنصاف بين المتشدِّدين المانعين، والمتساهلين المجوِّزين.
فهناك فرقةٌ منعتْ مثلَ هذه الخُطَب، واعتبرتها بدعةً مُحْدثة؛ لأنها لم تنقل عن النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فردَّ هذا القول، بأنَّه لا يختص بخطبة الوداع، بل يجري في كلِّ خطبة صنَّفها الخطباء بعباراتٍ جديدة لم تنقل عن صاحب الرسالة صلى الله عليه وسلم، وأنَّه يلزم منه حَصْر الخطب في الخطب المنقولة عن أصحاب القرون الثلاثة الأولى. وبين أن المقصود من الخطبة: التذكير والتخويف وتعليم الأحكام، سواء كانت ألفاظه ومعانيه مأثورة أو مُحْدَثة، على أن لا تفوِّت الألفاظ والمعاني الجديدة مقصود الخطبة ووضعها.
وأما الفرقة الثانية المُتَساهلة التي بالغت في تجويز خطبة الوداع والتزمته، حتى أدَّى إلى ظنِّ ما ليس من الشرع من الشرع، وما ليس بسنَّةٍ من السنَّة، فبيَّن أن الأوْلى الاتباع لطريقة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فإن الخير كلَّه في الاتِّباع.
وبهذا ختم رسالتَهُ النافعة، وحقَّق فيها بنَصَفة واعتدال، متجنِّبًا الإِفراط والتفريط.
وهو مما منحه الله تعالى ووفقه إليه، كما يقول في ترجمته لنفسه في مقدمة كتابه "النافع الكبير لمن يطالع الجامع الصغير" (1) مُعدِّدًا نعم الله تعالى عليه:
--------------------------------------------
রমজান মাসের বিদায়ে আক্ষেপ ও দুঃখ প্রকাশকারী অর্থ ও শব্দাবলি জুমার শেষ খুতবায় অন্তর্ভুক্ত করা।
এই বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করার ক্ষেত্রে তিনি কঠোরভাবে নিষেধকারী এবং শিথিলভাবে অনুমতি প্রদানকারীদের মাঝে ইনসাফপূর্ণ ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন।
একদল এমন খুতবাকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং একে নবউদ্ভাবিত বিদআত হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়নি। তিনি এই মতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এই যুক্তিতে যে, এটি কেবল বিদায়ী খুতবার সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং খতিবদের দ্বারা নতুন শব্দাবলিতে সংকলিত এমন প্রতিটি খুতবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়নি। এর ফলে খুতবাকে কেবল প্রথম তিন শতাব্দীর বর্ণিত খুতবাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, খুতবার মূল উদ্দেশ্য হলো নসিহত করা, আল্লাহর ভয় দেখানো এবং আহকাম শিক্ষা দেওয়া; চাই এর শব্দ ও অর্থ মাছুর (পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত) হোক কিংবা নতুন উদ্ভাবিত, তবে শর্ত হলো নতুন শব্দ ও অর্থ যেন খুতবার মূল উদ্দেশ্য ও কাঠামোর ব্যত্যয় না ঘটায়।
পক্ষান্তরে দ্বিতীয় দল হলো শিথিলপন্থী, যারা বিদায়ী খুতবা বৈধ করার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করেছে এবং এটিকে আবশ্যক করে নিয়েছে। এমনকি এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যা শরিয়তভুক্ত নয় তাকে শরিয়ত মনে করা হচ্ছে এবং যা সুন্নাহ নয় তাকে সুন্নাহ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের পদ্ধতির অনুসরণ করাই সর্বোত্তম; কেননা যাবতীয় কল্যাণ কেবল অনুকরণের মধ্যেই নিহিত।
এভাবেই তিনি তাঁর এই উপকারী রিসালাহ বা প্রবন্ধটি সমাপ্ত করেছেন এবং এতে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি বর্জন করে ইনসাফ ও ভারসাম্যের সাথে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন।
এটি আল্লাহ তাআলার বিশেষ দান ও তাওফিক, যেমনটি তিনি তাঁর "আন-নাফিউল কাবির লিমান ইউতালিউল জামিয়াস সাগির" (১) গ্রন্থের ভূমিকায় নিজের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর ওপর আল্লাহর নেয়ামতগুলো গণনা করার সময় উল্লেখ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ৭)
"ومن منحه تعالى: أنَّه جعلني سالكًا بين الإِفراط والتفريط، لا تأتي مسألةُ معركةِ الآراء بين يدي إلَّا أُلهمت الطريق الوسط فيها". انتهى.
ويقول في كتابه "ظَفَر الأماني" (1) في مبحث الحديث الموضوع واختلاف الحفاظ فيما بينهم ووجوه المرجِّحات: "وإني أحمد الله حمدًا متواليًا، وأشكره شكرًا متتاليًا على أن وفقني للتوسُّط في جميع المباحث الفقهية والحديثية، ورزقني نظرًا وسيعًا وفهمًا رفيعًا، أقْتَدر به على الترجيح فيما بين أقوالهم المتفرِّقة، ونجَّاني من بليَّة تقليد المشدِّدين والمتساهلين تقليدًا جامدًا، واختيار قولِ إحدى الطائفتين -من دون تبصُّر وتفكُّر- اختيارًا كاسدًا.
لا أقول هذا تكبُّرًا وفخرًا، بل تحدُّثًا بنعمة الربِّ وشكرًا، ولربي عليَّ مننٌ مُختَصَّةٌ، لا أقْدِرُ على عَدِّها، ونعمٌ متكثرةٌ، لا يمكن مني حَصْرُها، فشكري هو العَجْزُ عن أداءِ شكرها، وأرجو من ربي دَوَامَها وذُخرها".
كلمة عن أصول الرسالة وعملي فيها:طُبِعت هذه الرسالة في الهند طَبْعَا حَجَريًّا قديمًا، وتيسَّر لي الوقوف على طبعتين:
الطبعة الأولى صَدَرت في حياة المؤلف ضمن مجموعة من رسائله النفيسة، عُرِفت باسم مجموعة الرسائل الخمس، وهي:
1 - ترويح الجَنان بتشريح حكم شرب الدخان.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর দানসমূহের মধ্যে একটি হলো: তিনি আমাকে আতিশয্য ও শিথিলতার মধ্যবর্তী পথ অবলম্বনকারী বানিয়েছেন। যখনই কোনো মতপার্থক্যের লড়াইপূর্ণ মাসয়ালা আমার সামনে আসে, তখনই আমি সেখানে মধ্যপন্থা অবলম্বনের প্রেরণা লাভ করি। (সমাপ্ত)
তিনি তার "জাফারুল আমানি" (১) গ্রন্থে জাল হাদিস এবং হাফিজদের মধ্যকার মতপার্থক্য ও প্রাধান্য নির্ণয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কিত আলোচনায় বলেন: "আমি মহান আল্লাহর ক্রমাগত প্রশংসা ও নিরন্তর শুকরিয়া আদায় করছি এ জন্য যে, তিনি আমাকে সমস্ত ফিকহ ও হাদিস বিষয়ক আলোচনায় মধ্যপন্থা অবলম্বনের তাওফিক দিয়েছেন এবং আমাকে দান করেছেন এক বিস্তৃত দৃষ্টি ও সুউচ্চ সমঝ-শক্তি। এর মাধ্যমে আমি তাদের বিক্ষিপ্ত মতগুলোর মধ্যে প্রাধান্যযোগ্য মতটি বেছে নিতে সক্ষম হই। তিনি আমাকে কঠোর ও শিথিলপন্থীদের অন্ধ অনুকরণের বিপদ থেকে এবং কোনো প্রকার চিন্তা-গবেষণা ছাড়াই কেবল এক পক্ষের মতকে অসারভাবে গ্রহণ করা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
আমি এটি অহংকার বা গর্বের বশবর্তী হয়ে বলছি না, বরং প্রতিপালকের নেয়ামতের বর্ণনা ও কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বলছি। আমার প্রতিপালকের আমার ওপর এমন কিছু বিশেষ অনুগ্রহ রয়েছে যা গণনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, এবং এত অজস্র নেয়ামত রয়েছে যা সীমাবদ্ধ করা আমার সাধ্যাতীত। তাই আমার কৃতজ্ঞতা হলো তাঁর শুকরিয়া আদায়ে আমার অক্ষমতা স্বীকার করা। আমি আমার প্রতিপালকের কাছে এই নেয়ামতসমূহের স্থায়িত্ব ও পারলৌকিক সঞ্চয় হওয়ার প্রার্থনা করছি।"
পুস্তিকার মূল উৎস এবং এতে আমার কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে কিছু কথা:এই পুস্তিকাটি ভারতে প্রাচীন লিথোগ্রাফ পদ্ধতিতে মুদ্রিত হয়েছিল এবং আমি এর দুটি সংস্করণ দেখার সুযোগ পেয়েছি:
প্রথম সংস্করণটি লেখকের জীবদ্দশায় তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান পাঁচটি পুস্তিকার সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল, যা 'মাজমুআতুর রাসায়িলিল খামস' নামে পরিচিত। সেগুলো হলো:
১ - তারউইহুল জানানি বি-তাশরিহি হুকমি শুরবিদ দুখান (ধূমপানের বিধান বর্ণনায় হৃদয়ের প্রশান্তি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ৮)
2 - ردع الإِخوان عن محدثاتِ آخر جمعةِ رمضان -وهي التي بين يديك-.
3 - آكام النفائس في أداء الأذكار بلسان الفارس.
4 - زجْر الناس على إنكار أثر ابن عباس.
5 - الإِنصاف في حكم الاعتكاف (1).
وقد طبعت هذه المجموعة سنة 1303، طبعتها أجْوَد المطابع وأتقنها في ذلك الحين: (المطبع المُصْطفائي) في مدينة لكنو في 13 صفحة من القطع الطويل والخط الناعم الدقيق.
والطبعة الثانية التي وقفتُ عليها طبعة حجرية أيضًا صدرت سنة 1337 في المطبع اليوسفي للحاج المفتي محمَّد يوسف ضمن مجموعة الرسائل الخمس في 17 صفحة.
وعن هاتين الطبعتين أنشر هذه الرسالة المفيدة، مجتهدًا في العناية بها، وقد نفدت طبعاتها منذ أكثر من ثمانين سنة، وتعدُّ هذه الرسالة وأخواتها في عداد النُّسخ المخطوطة لنُدْرة وجودها، وتعذُّر الحصول عليها.
فلذا رأيت طبعها بالحروف الناضرة، والإِخراج المتقن، والعناية اللائقة، والتعليق المفيد، لتزيد الاستفادة منها.
--------------------------------------------
২ - ভাইদেরকে রমজানের শেষ জুমুআর বিদআতসমূহ থেকে বিরত রাখা -আর এটিই আপনার সম্মুখে বর্তমান-।
৩ - ফারসি ভাষায় জিকির আদায়ের বিষয়ে মূল্যবান স্তূপ।
৪ - ইবনে আব্বাসের (রা.) আছার (বর্ণনা) অস্বীকার করার বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করা।
৫ - এতেকাফের বিধান প্রসঙ্গে ইনসাফপূর্ণ বক্তব্য (১)।
এই সংকলনটি ১৩০৩ হিজরি সনে মুদ্রিত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ের অন্যতম সেরা ও নিখুঁত ছাপাখানা লখনউ শহরের 'মাতবা আল-মুস্তফায়ী'-তে ১৩ পৃষ্ঠায়, দীর্ঘ আকৃতিতে এবং সূক্ষ্ম ও মিহি লিপিতে এটি প্রকাশিত হয়।
দ্বিতীয় যে সংস্করণটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি, সেটিও একটি লিথোগ্রাফ মুদ্রণ; যা ১৩৩৭ হিজরিতে হাজি মুফতি মুহাম্মদ ইউসুফের 'মাতবা আল-ইউসুফী' থেকে পাঁচটি রিসালার সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ১৭ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল।
এই দুই সংস্করণের ওপর ভিত্তি করেই আমি এই উপকারী রিসালাটি যথাযথ যত্ন সহকারে প্রকাশ করছি। গত আশি বছরেরও বেশি সময় ধরে এর মুদ্রণ নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। দুষ্প্রাপ্যতা এবং সংগ্রহ করা দুঃসাধ্য হওয়ার কারণে এই রিসালা ও এর সমগোত্রীয় অন্যান্য রচনাগুলো এখন পাণ্ডুলিপির মতোই বিবেচিত হয়।
তাই আমি এর উপযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একে উজ্জ্বল হরফে, নিপুণ বিন্যাসে, যথাযথ তত্ত্বাবধানে এবং উপকারী টীকা সহকারে মুদ্রণ করা সমীচীন মনে করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ৯)
وأما عملي في هذه الرسالة، فقد كتبت مقدمة موجزة في التعريف بالرسالة ومضمونها، ولم أترجم لمؤلِّفها -رحمه الله تعالى- اكتفاءً بالترجمة الحافلة الشاملة التي كتبها أستاذنا العلَّامة الشيخ عبد الفتاح أبو غدة -رحمه الله تعالى- في أول كتابه: "الرفع والتكميل"، و "الأجوبة الفاضلة"، و"تحفة الأخيار".
ولشيخنا الأستاذ عبد الفتاح أبو غدة -رحمهُ الله تعالى- فضل التعريف بهذا الإِمام الجليل في البلاد العربية، ونشر كتبه بعناية وإتقان، وتحقيق وتعليق لا سيما في تحقيق كتابه الفذ الفريد: "الرفع والتكميل"، وكتبه الأخرى مثل: "الأجوبة الفاضلة"، و"ظَفَر الأماني". رحمهما الله تعالى وجزاهما عن العلم وأهله خير الجزاء.
ومن جوانب عنايتي بهذه الرسالة أني فصَّلت مقاطعها وجملها، وراعيتُ علامات الترقيم (التفهيم)، وضبطتُ كثيرًا من العبارات بالشكل، لتكون أيسر قراءة وأقرب فهمًا.
- وقوَّمت ما وقع فيها من تصحيفات يسيرة بالعودة إلى أكثر المصادر المنقول منها.
- وخرَّجت الأحاديث الواردة فيها، وعزوت أكثر النصوص إلى مصادرها.
- وعلَّقتُ على بعض المواضع في هذه الرسالة، لا سيما في التعريف بالكتب الفقهية الكثيرة ومؤلِّفيها، إحياءً لذكر هؤلاء الأئمة الفقهاء، وتعريفًا بهم وبمراتبهم، وتوثيقًا لصلة طلاب العلم بهذه الكتب التي انقطعت صلتهم بها.
এই পুস্তিকাটিতে আমার সম্পাদিত কর্মপদ্ধতির ব্যাপারে বলতে গেলে—আমি পুস্তিকাটির পরিচিতি ও এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা লিখেছি। তবে এর লেখকের—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—জীবনী এখানে উল্লেখ করিনি; কারণ আমাদের শিক্ষক আল্লামা শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—কর্তৃক তাঁর ‘আর-রাফউ ওয়াত-তাকমিল’, ‘আল-আজউইবাতুল ফাদিলাহ’ এবং ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থত্রয়ের শুরুতে লিখিত বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ জীবনীটিই যথেষ্ট মনে করেছি।
আরব ভূখণ্ডে এই মহান ইমামকে পরিচিত করানো এবং তাঁর গ্রন্থাবলি পরম যত্ন ও নিপুণতার সাথে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আমাদের উস্তাদ শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বিশেষ অবদান রয়েছে। বিশেষ করে তাঁর অনন্য ও অতুলনীয় গ্রন্থ ‘আর-রাফউ ওয়াত-তাকমিল’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ যেমন: ‘আল-আজউইবাতুল ফাদিলাহ’ ও ‘জাফারুল আমানি’-র সম্পাদনা ও টীকা সংযোজনের ক্ষেত্রে তাঁর কাজ অত্যন্ত নিখুঁত। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং ইলম ও আহলে ইলমের পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
এই পুস্তিকাটির প্রতি আমার বিশেষ শ্রমের অন্যতম দিক হলো—আমি এর অনুচ্ছেদ ও বাক্যগুলোকে পৃথক ও বিন্যস্ত করেছি, বিরামচিহ্নের যথাযথ ব্যবহারের প্রতি লক্ষ্য রেখেছি এবং অনেক শব্দের হরকত (যের-যবর) প্রদান করেছি, যাতে এটি পাঠ করা সহজতর হয় এবং এর মর্ম অনুধাবন করা সাবলীল হয়।
- এতে বিদ্যমান সামান্য কিছু লিখন-বিভ্রাট (তাসহিফ) মূল উৎসগ্রন্থগুলোর সহায়তায় সংশোধন করেছি।
- এতে উল্লেখিত হাদিসগুলোর তাখরিজ (সূত্রনির্দেশ) করেছি এবং অধিকাংশ উদ্ধৃতিকে তাদের মূল উৎসের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।
- আমি পুস্তিকাটির কিছু স্থানে টীকা সংযোজন করেছি, বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রের অসংখ্য কিতাব ও তাঁদের রচয়িতাদের পরিচিতি তুলে ধরেছি। এর উদ্দেশ্য হলো—এই ফকিহ ইমামদের স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, তাঁদের ও তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক স্তর সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং ইলমের শিক্ষার্থীদের সাথে এই কিতাবগুলোর যে জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তা পুনরায় সুদৃঢ় করা।
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১০)
- وصنفتُ لها فهارس عامة تمكن من الرجوع إليها والأخذ منها بأسرع وقت.
وفي الختام: أسألُ الله عز وجل أن يُخلص نيَّتي، ويتقبَّل عملي، ويوفِّقني لخدمةِ كتابه الكريم وسنَّة نبيِّه العظيم عليه أفضل الصلاة والتسليم، كما أسأله سبحانه أن يرحمنا ويرحمَ والدينا ومشايخنا وسائر المسلمين، ويُصلح لنا ذراريَّنا ودنيانا وآخرتَنا، ويُحسن ختامنا، وهو ربُّنا ومولانا، وهو أرحمُ الراحمين، والحمدُ للهِ ربِّ العالمين، وصَلَّى الله على سيدنا محمَّد وآله وصحبه وسلَّم تسليمًا كثيرًا.
وكتبه:
مجد بن أحمد مكي
جدة / الاثنين 19 جمادى الأولى 1420
আমি এর জন্য সাধারণ নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি, যা দ্রুততম সময়ে এর দিকে প্রত্যাবর্তন এবং তা থেকে তথ্য আহরণে সহায়তা করবে।
পরিশেষে: আমি মহান প্রতাপশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার নিয়তকে বিশুদ্ধ করেন, আমার আমল কবুল করেন এবং আমাকে তাঁর মহাগ্রন্থ ও তাঁর মহান নবীর সুন্নাহর খিদমতে তাওফিক দান করেন, যাঁর প্রতি সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। তেমনি আমি তাঁর পবিত্র সত্তার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের প্রতি, আমাদের পিতামাতা, আমাদের শিক্ষকগণ এবং সকল মুসলিমের প্রতি দয়া করেন; আমাদের সন্তানসন্ততি, আমাদের ইহকাল ও পরকাল সংশোধন করেন এবং আমাদের শেষ পরিণাম সুন্দর করেন। তিনি আমাদের প্রতিপালক ও অভিভাবক এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের প্রতি আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ইতি:
মাজদ বিন আহমদ মক্কি
জেদ্দা / সোমবার ১৯ জুমাদাল উলা ১৪২০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ لله الذي أزالَ أمورَ الجاهليّة ببعثةِ خيرِ البريَّة، وَجَعَلَ لمن تَبِعَهُ وسَلَكَ مَسْلَكه الدَّرجاتِ العَليَّة، أشهدُ أنَّه لا إله إلَّا هو وحدَهُ لا شريكَ له، وأنَّ محمَّدًا عبدُه ورسولُه، شهادةً تُنْجِينا من الدَّرَكاتِ الدنيّة، وأُصلِّي وأُسلِّمُ عليه وعلى آلهِ وصحبِهِ الهادينَ إلى السُّنَنِ المرضيّة، القامعينَ للبِدْعات الرديّة، وعلى من تَبِعَهم بإحسانٍ إلى يومِ حساب الأعمالِ الجَلِيَّة والخفِيّة.
وبعد؛ فيقول الراجي عَفْوَ ربِّه القويِّ، أبو الحسنات محمَّد عبد الحيِّ اللكنوي: هذه رسالةٌ وجيزة، وعُجَالة مفيدة مسمَّاةٌ بـ:
"رَدْع الإِخوان عن مُحْدَثَاتِ آخر جُمعةِ رمضان"
ألَّفْتُهَا حِمَايةً للسُّنَّة المحمَّديَّة، ونُصْرةً للطريقةِ الأحمديّة، سائلًا منَ الله تعالى أن يجعلَها ويجعلَ سائرَ تصانيفي نافعةً للبريّة، ومُوجبةً لفوزي بالمراتبِ السَّنِيَّة.
* * *
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টির সেরা সত্তার প্রেরণের মাধ্যমে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূরীভূত করেছেন এবং তাঁর অনুসারী ও তাঁর পথ অবলম্বনকারীদের জন্য সুউচ্চ মাকাম নির্ধারণ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। এমন এক সাক্ষ্য যা আমাদের নিকৃষ্টতম অধঃপতন থেকে মুক্তি দান করবে। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কিরামের প্রতি, যারা পছন্দনীয় সুন্নাহর দিকে পথপ্রদর্শক এবং মন্দ বিদআতসমূহকে নির্মূলকারী। আর (সালাম বর্ষিত হোক) কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের প্রতি, যেদিন প্রকাশ্য ও গোপন সকল আমলের হিসাব গ্রহণ করা হবে।
অতঃপর; স্বীয় শক্তিশালী রবের ক্ষমার প্রত্যাশী আবু আল-হাসানাত মুহাম্মদ আব্দুল হাই লাখনভী বলছেন: এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা এবং উপকারী সংকলন, যার নামকরণ করা হয়েছে:
"রমজানের শেষ জুমআর নবউদ্ভাবিত বিদআতসমূহ হতে ভাইদের সতর্কীকরণ"
সুন্নাতে মুহাম্মদীয়ার সংরক্ষণ এবং তরীকায়ে আহমদীয়ার সহযোগিতার লক্ষ্যে আমি এটি রচনা করেছি। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন এই কিতাবসহ আমার অন্যান্য সকল রচনাকে সৃষ্টির জন্য কল্যাণকর করেন এবং একে আমার জন্য উচ্চ মর্যাদা লাভের অছিলা বানান।
* * *
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১২)
اعلم أنَّهم قد أحدثوا في آخرِ جمعةِ شهر رمضان أمورًا ممَّا لا أصْلَ لها، والتزمُوا أمورًا لا أصْل لِلُزومِها، فأردتُ أنْ أكشفَ القِنَاعَ عنها، وأحقِّقَ ما لها وما عليها، وأبيِّنَ ما جازَ منها وما لم يَجُزْ منها، مع الإِنصاف الذي هو خيرُ الأوصاف، والتجنُّبِ عن طريق الإِفراط والتفريط الموجِبَيْنِ للاعتساف.
فمنها: القضاء العُمُري:
حدثَ ذلك في بلاد خُراسَان وأطْرافِها، وبعضِ بلاد اليمن وأكنافِهَا، ولهم في ذلكَ طرقٌ مُختلفةٌ، ومَسَالِكُ مُتَشَتِّتة.
فمنهم: مَن يُصلِّي في آخرِ جمعةِ رمضان خمسَ صَلَواتِ قضاءً بأذانٍ وإقامةٍ مع الجماعة، ويجْهرون في الجهريَّة، ويُسِرُّون في السِّرِّيَّة، وينوون لها بقولهم: نويتُ أنْ أُصَلِّي أربعَ ركعاتٍ مفروضة قضاءً لما فاتَ من الصَّلواتِ في تمامِ العُمُر ممَّا مضا، ويعتقدونَ أنَّها كفَّارةٌ لجميعِ الصَّلواتِ الفائتةِ فيما مضى.
ومنهم: مَن يصلِّي أربعَ رَكَعاتٍ نَفْلًا مع الجَمَاعة تداعيًا، وينوون بقولهم: نويتُ أنْ أُصلِّيَ أربعَ ركعاتِ تقْصيرًا وتكفيرًا لقضاءِ ما فات منِّي في جميع عمري صَلاةَ النفل.
ومنهم: مَن زاد نغمةً، واعتقدَ أنَّها كفارةٌ لفوائتِ آبائِهِ وأجْداده أيضًا.
وقد نقلوا لإِثبات ما فعلوا عبارات، وذكروا فيه روايات.
জেনে রাখুন যে, তারা রমজান মাসের শেষ জুমায় এমন কিছু বিষয় উদ্ভাবন করেছে যার কোনো মূল ভিত্তি নেই, এবং তারা এমন সব বিষয় পালনে অবিচল হয়েছে যার আবশ্যকতার কোনো ভিত্তি নেই। তাই আমি এগুলোর পর্দা উন্মোচন করতে, এর স্বপক্ষে ও বিপক্ষে যা আছে তা যাচাই করতে এবং এর মধ্য থেকে যা বৈধ ও যা অবৈধ তা বর্ণনা করতে ইচ্ছা করেছি; আর তা ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার সাথে—যা সর্বোত্তম গুণ—এবং অতিরঞ্জন ও শিথিলতার পথ পরিহার করে, যা বিচ্যুতি ও অবিচারের কারণ।
তন্মধ্যে একটি হলো: কাযায়ে উমরি (জীবনের ছুটে যাওয়া নামাযের কাযা):
এর প্রচলন ঘটেছে খোরাসান ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে এবং ইয়েমেনের কিছু শহর ও তার উপকণ্ঠগুলোতে; আর এ বিষয়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ও বিবিধ পন্থা রয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ রমজানের শেষ জুমায় আযান ও ইকামতের সাথে জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায কাযা হিসেবে আদায় করে; তারা উচ্চস্বরে তিলাওয়াতের নামাযে সশব্দে এবং নিম্নস্বরের নামাযে নিঃশব্দে তিলাওয়াত করে। আর তারা এই বলে নিয়ত করে: "আমি বিগত জীবনে আমার ছুটে যাওয়া সমস্ত ফরয নামাযের কাযা হিসেবে চার রাকাত ফরয নামায আদায় করার নিয়ত করছি।" তারা বিশ্বাস করে যে, এটি অতীতের সমস্ত ছুটে যাওয়া নামাযের কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ স্বরূপ।
আবার তাদের কেউ কেউ সম্মিলিতভাবে জামাতের সাথে নফল হিসেবে চার রাকাত নামায আদায় করে এবং এই বলে নিয়ত করে: "আমি আমার পুরো জীবনে ছুটে যাওয়া নফল নামাযের কাযা হিসেবে সংক্ষিপ্তকরণ ও কাফফারা স্বরূপ চার রাকাত নামায আদায় করার নিয়ত করছি।"
কেউ কেউ এতে আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং বিশ্বাস করে যে, এটি তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের ছুটে যাওয়া নামাযের জন্যও কাফফারা হবে।
তারা তাদের এই কর্মকাণ্ড প্রমাণের জন্য বিভিন্ন বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে এবং এ বিষয়ে কিছু বর্ণনাও উল্লেখ করেছে।
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ففي "زاد اللبيب" (1): "ذكر نماز كفارت نماز هاكه قضا شده باشنداز نسخة شيخ الإِسلام والمسلمين رئيس الأولياء ومقتدي الأوتاد شيخ ركن الدين قَدَّس الله سِرَّه كه براي سلطان قطب الدين تبرك وهديه آورده بو دند واستاد اين نماز از حضرت رسالت بناه صلى الله عليه وسلم منقول ست هركرا نماز ها قضا شده باشند وندا ندكه اعداد جندست بايدكه روز جمعه جار ركعت نفل بيك سلام بكذا ردودر هو ركعت بعد از فاتحة آية الكرسي هفت بار وإنا أعطينا بانزده بار بخوا اندو أمير المؤمنين علي كفت از ببغمير صلى الله عليه وسلم شنيده أم اكر هفت صد سال نماز وي قضا سنده بأشد كفاره شودياران كفتند يا رسول الله عمر آدمي هفتاد ويا هشتاد سال ست جندين صفت جيست رسول الله صلى الله عليه وسلم فر مود نمازي كه أو قضا كرده بأشد ونماز مادر وبدرو نماز هاكه از فرز ندان أو قضا سنده اند همه قبول افتندو نيت اين نماز اين ست نويت لله أن أصليَ أربعَ ركعات تقصيرًا أو تكفيرًا لقضاء ما فات منِّي في جميع عمري صلاة نفل". انتهى.
ومثلُه في "أنيس الواعظين"، وحاصِلُ ما فيه مُعَرَّبًا: أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "من فاتته صلوات، ولا يدري عددَها، فلْيصلِّ يومَ الجمعة أربع ركعاتٍ نَفْلًا بسلامٍ واحد، ويقْرأُ في كلِّ رَكعةٍ بعد الفاتحة آية الكرسي سبعَ مراتٍ، وإنَّ أعطيناك الكوثر خمس عشرة مرة".
قال علي بن أبي طلب رضي الله عنه: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنْ فاتته صلوات سبعمائة سنة كانت هذه الصلاة كفارة لها. قالت الصحابة: إنَّما عُمر الإِنسان -أي: من هذه الأمة- سبعون سنة أو ثمانون؟ فقال
--------------------------------------------
"যাদুল লাবীব" (১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "কাযা হয়ে যাওয়া নামাযসমূহের কাফফারা স্বরূপ নামাযের বর্ণনা; যা শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন, আউলিয়াদের প্রধান এবং কুতুবগণের অনুসরণীয় শাইখ রুকনুদ্দীন (আল্লাহ তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র করুন)-এর পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত, যা তিনি সুলতান কুতুবুদ্দীনের জন্য বরকত ও উপহার স্বরূপ নিয়ে এসেছিলেন। এই নামাযের পদ্ধতি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। যার নামাযসমূহ কাযা হয়েছে এবং সে সেগুলোর সংখ্যা জানে না, তার উচিত জুমার দিন এক সালামে চার রাকাত নফল নামায আদায় করা। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সাতবার আয়াতুল কুরসি এবং পনেরোবার সূরা কাউসার পাঠ করবে। আমীরুল মুমিনীন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, যদি সাতশত বছরের নামাযও কাযা হয়ে থাকে, তবে এই নামায তার কাফফারা হয়ে যাবে। সাহাবীগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! মানুষের বয়স তো সত্তর বা আশি বছর, তবে এই আধিক্যের রহস্য কী? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করলেন, তার নিজের কাযা নামাযসমূহ এবং তার পিতা-মাতা ও সন্তানদের কাযা হয়ে যাওয়া নামাযসমূহ—সবই এর উসিলায় কবুল হয়ে যাবে। এই নামাযের নিয়ত হলো: 'আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার জীবনের সমস্ত ছুটে যাওয়া নামাযের ক্ষতিপূরণ বা কাফফারা স্বরূপ চার রাকাত নফল নামায আদায়ের নিয়ত করছি'।" সমাপ্ত।
অনুরূপ বর্ণনা "আনীসুল ওয়ায়েজীন" গ্রন্থেও রয়েছে, যার আরবী সারসংক্ষেপ হলো: নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন: "যার নামাযসমূহ ছুটে গেছে এবং সে সেগুলোর সংখ্যা জানে না, সে যেন জুমার দিন এক সালামে চার রাকাত নফল নামায আদায় করে। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সাতবার আয়াতুল কুরসি এবং পনেরোবার 'ইন্না আ'তায়নাকাল কাউসার' পাঠ করবে।"
আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যদি সাতশত বছরের নামাযও ছুটে গিয়ে থাকে, তবে এই নামায তার কাফফারা হবে। সাহাবীগণ বললেন: মানুষের আয়ু—অর্থাৎ এই উম্মতের মানুষের বয়স—তো সত্তর বা আশি বছর মাত্র? তখন তিনি বললেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: كانت كفارة لما فاته، وما فاتَ من الصَّلوات من أبيه وأمِّه، ولفوائتِ أولادِهِ".
ونيَّةُ هذه الصَّلاة أن يقول: نويْتُ أن أُصَلِّيَ أربعَ ركعاتٍ تَقْصيرًا وتكفيرًا لقضاءِ ما فاتَ مني في جميعِ عُمُري صلاةَ نفل متوجِّهًا إلى الكعبة.
وفي "أوراد راحة العابدين": "در مصابيح مذكور ست هركه در آخر روز جمعة ازماه رمضان جار ركعت نماز كذار وبيش از نماز ظهر كه آنرا قضاي عمري نا مند كويندد جميع عمرش كه نماز ناغه سنده بأشد بجامي افتدوا زين نما زا داشوند بيشك كفته اند اتفاقي ست وكدامي از ابل سنت وجماعت، دروي اختلاف نكرده اندونخوا هند كرد وخركه ابا كند ضال ومضل ست واز دائرة اسلام خارج وامادراد اكر دن بجماعت اختلاف ست ميان علماء بعضي مي كويند بجماعت مكروه است كذا ردن وى كه اداي نفل با مامت مكروه است وبعضي مي كويند كه كذا ردن بوصف مذكور مكروه نيست كه درين نماز مدخل فوائت است وبرين قول كذا ردن فوائت بجماعت صحيح غير مكروه است جنانجة در كتب فقه مشهور ست وبرين فتوى داده خلف بن أيوب كه يكي از تلامذة إمام أعظم ست ودر فتاوى واجد الدين نسفي در باب نوافل ست كه در بلاد عرب أولى آنست كه يكان يكان كذا ار ند كه ايشان در كلام وز بان فصاحت وبلاغت دارند وقراءة قرآن بخو بي مي كنند امادر بلاد عجم على الخصوص در عهد مايان اصح واولى آنست كه بجماعت كذار ند كه اكثر عجم از قدر قرآن قدر ما يجوز به الصلوة ند انند ومخارج حروف نشنا سند" انتهى.
وحاصِلُ ما فيه مُعَرَّبًا: مَنْ صلَّى في آخر جُمُعَةٍ من رمضان أربعَ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বলেছেন): "এটি তার অনাদায়ী সালাতের কাফফারা হবে এবং তার পিতা ও মাতার অনাদায়ী সালাতসমূহ এবং তার সন্তানদের অনাদায়ী সালাতসমূহেরও কাফফারা হবে।"
এই সালাতের নিয়ত হলো এভাবে বলা: "আমি কাবামুখী হয়ে আমার সমগ্র জীবনের অনাদায়ী সালাতসমূহের ক্ষতিপূরণ ও কাফফারা হিসেবে চার রাকাত নফল সালাত আদায় করার নিয়ত করছি।"
এবং 'আওরাদ রাহাতুল আবিদীন' গ্রন্থে বর্ণিত আছে: "মাসাবিহ গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ জুমাবারে জোহরের সালাতের পূর্বে চার রাকাত সালাত আদায় করবে—যাকে কাজায়ে উমরি বলা হয়—তবে তার সারাজীবনের ছুটে যাওয়া সালাতসমূহ এর মাধ্যমে সুসম্পন্ন হবে এবং এই সালাতের উসিলায় সেগুলো আদায় হয়ে যাবে। নিঃসন্দেহে বলা হয়েছে যে এটি একটি সর্বসম্মত বিষয় এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেউ এতে দ্বিমত করেননি এবং করবেনও না। আর যে এটি অস্বীকার করবে সে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বহির্ভূত। তবে জামাআতের সাথে আদায় করার ক্ষেত্রে উলামায়ে কিরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; কেউ কেউ বলেন যে এটি জামাআতে আদায় করা মাকরুহ, কারণ ইমামের অনুসরণে নফল সালাত আদায় করা মাকরুহ। আবার কেউ কেউ বলেন যে বর্ণিত বিশেষণে এটি আদায় করা মাকরুহ নয়, কারণ এই সালাতে অনাদায়ী সালাতসমূহের উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে। আর এই মতানুসারে জামাআতের সাথে অনাদায়ী সালাত আদায় করা সঠিক ও মাকরুহ নয়, যেমনটি ফিকহ শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে বিধৃত হয়েছে। ইমাম আযমের অন্যতম ছাত্র খালাফ ইবনে আইয়ুব এই ফতোয়া প্রদান করেছেন। ফাতাওয়ায়ে ওয়াজিদুদ্দীন নাসাফি-র নফল অধ্যায়ে উল্লেখ আছে যে, আরব দেশসমূহে এটি একাকী আদায় করাই শ্রেয়, কারণ তাদের ভাষা ও বাকভঙ্গিতে প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কার বিদ্যমান এবং তারা সুন্দরভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে সক্ষম। কিন্তু অনারব দেশসমূহে, বিশেষ করে আমাদের বর্তমান যুগে, জামাআতের সাথে আদায় করাই অধিকতর বিশুদ্ধ ও উত্তম। কারণ অধিকাংশ অনারব কুরআনের ততটুকু পরিমাণও শুদ্ধভাবে জানে না যা দ্বারা সালাত বৈধ হয় এবং তারা অক্ষরের উচ্চারণস্থলসমূহও চেনে না।" সমাপ্ত।
আরবিতে এর সারসংক্ষেপ হলো: যে ব্যক্তি রমজানের শেষ জুমাবারে চার রাকাত...
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
رَكعاتٍ قبل الظُّهر، وهو المُسَمَّى بالقَضَاء العُمُري، كانت كفارة لفوائتِ جميع عُمُره.
قالوا: وهذا لا شبهةَ فيه، وهو اتفاقي لم يختلف فيه أحدٌ من أهلِ السنَّة والجماعة، ولا يختلفون، ومَنْ أنكره فهو ضَالٌّ مُضِل، وخارجٌ عن دائرة الإِسلام.
وأما أداؤها بالجماعة ففيه اختلاف، قال بعضهم: أداؤها بالجماعة مكروعٌ؛ لأنَّ أداءَ النَّفْل بالجماعة مكروه.
وقال بعضهم: لا يُكره أداءُ الصَّلاة المذكورة بالوصفِ المذكور بالجماعة؛ لأن فيه دخلًا للفوائت، وأداءُ الفوائت بالجماعة صحيح غير مكروه على ما في كتب الفقه، وبه أفتى خَلَفُ بن أيوب؛ أحد تلامذة الإِمام الأعظم.
وذكر في "فتاوى واجد الدين النَّسفي" أنَّ الأَوْلى في بلادِ العرب أن يؤدُّوها فُرادى فُرادى؛ لكونهم فصحاء وبلغاء، ويَقْرؤون القرآن بأحسنِ وجهٍ، وأما في بلاد العجم، لا سيَّما في زماننا فالأصحُّ والأَوْلى أن يؤدُّوها بالجماعةِ؛ لأنَّ أكثرهم لا يعرفونَ مَخَارجَ الحروف، ولا يقْرؤونَ القرآن على الوجْهِ الحَسَن.
وفي "مفتاح الجنان" (1): فضيلت نماز باكه قضا بسيا رشده باشندو عدد آن ندا ند روز جمعه بيش از نماز جمعه ياهر وقتي كه توا ند جار ركعت نماز بيك سلام بكذ ارد ودر هو ركعت بعد از فاتحة آية الكرسي يك بار وسورة الكوثر بانزده بار بخو اند أبو بكر صديق رضي الله عنه كفت من شنيدم از رسول صلى الله عليه وسلم هركه اين نماز بكذا اردو وبست سال نماز ها
--------------------------------------------
যোহরের পূর্বের [চার] রাকাত নামাজ, যাকে ‘কাজায়ে উমরি’ বলা হয়, তা সারা জীবনের ছুটে যাওয়া নামাজের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়।
তাঁরা বলেছেন: এতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি একটি ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়, যাতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি এবং করবেনও না। যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করবে, সে ভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তকারী এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বহির্ভূত।
আর এটি জামাআতের সাথে আদায় করার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এটি জামাআতের সাথে আদায় করা মাকরুহ; কেননা নফল নামাজ জামাআতের সাথে আদায় করা মাকরুহ।
আবার কেউ কেউ বলেছেন: বর্ণিত পদ্ধতিতে উল্লিখিত নামাজটি জামাআতের সাথে আদায় করা মাকরুহ নয়; কারণ এতে কাজা নামাজের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আর ফিকহশাস্ত্রের কিতাবসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী কাজা নামাজ জামাআতের সাথে আদায় করা সহিহ এবং মাকরুহ নয়। ইমামে আজমের অন্যতম ছাত্র খালাফ ইবনে আইয়ুব এই ফতোয়া দিয়েছেন।
‘ফাতাওয়ায়ে ওয়াজিদুদ্দিন আন-নাসাফি’-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আরব দেশগুলোতে এটি একাকী আদায় করাই উত্তম; কারণ তারা বিশুদ্ধভাষী ও সাবলীল এবং তারা সর্বোত্তম পদ্ধতিতে কুরআন পাঠ করে। তবে অনারব দেশগুলোতে, বিশেষ করে আমাদের বর্তমান সময়ে, জামাআতের সাথে আদায় করাই অধিকতর সঠিক ও উত্তম; কারণ তাদের অধিকাংশ লোক হরফের মাখরাজ সম্পর্কে অবগত নয় এবং সঠিকভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে না।
আর ‘মিফতাহুল জিনান’ গ্রন্থে (১) বর্ণিত হয়েছে: যে ব্যক্তির অনেক নামাজ কাজা হয়েছে এবং সেগুলোর সংখ্যা তার জানা নেই, সেই নামাজের ফজিলত হলো—সে জুমার দিনে জুমার নামাজের আগে অথবা যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে চার রাকাত নামাজ এক সালামে আদায় করবে। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একবার আয়াতুল কুরসি এবং পনেরোবার সূরা কাউসার পাঠ করবে। আবু বকর সিদ্দিক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি, যে ব্যক্তি এই নামাজ আদায় করবে, তার বিশ বছরের নামাজ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
كفاره شوند وبر وايت عمر رضي الله عنه جار صد سال نماز قضا كفارت شوند وبر وايت عثمان رضي الله عنه شش صد سال نماز ها كفارت شوند وبر وايت علي رضي الله عنه هفت صد سال نماز هاكه قضا سنده با شند كفارت شوند يا ران بر سيد ند يا رسول الله صلى الله عليه وسلم عمر آدمي هفتا دو يا هشتاد سال بأشد جندين نماز جيست فر مود ثد نماز هاي مادر وبدر وجد وخويش وفر زندان كفارت شوند وقبول افتد. انتهى.
وحاصلُه مُعَرَّبًا: أنَّ من فاتَتْ لهُ صَلَواتٌ كثيرة، ولا يعلمُ عدَدها، فَلْيُصلِّ يومَ الجُمُعة قبلَ صَلاة الجمعة، أو أيِّ وقتٍ شاء: أربع ركعات بتحريمةٍ واحدة، ويقْرأُ في كلِّ رَكعةٍ بعد الفاتحة آيةَ الكرسيِّ مرَّةً، وسورةَ الكوثر خمس عشرة مرَّة.
قال أبو بكر رضي الله عنه: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من صَلَّى هذه كانت له كفَّارة لصَلوات اثنتين وعشرين سنة".
وفي رواية عمر رضي الله عنه: "لصلواتِ أربعمائة سنة".
وفي رواية عثمان رضي الله عنه: "لصلواتِ ستمائة سنة".
وفي رواية عليّ رضي الله عنه: "لصلواتِ سبعمائة سنة".
قالوا: يا رسولَ الله، إنَّما عُمُر الإِنسان سبعون أو ثمانون؟ فقال: "تكون هذه الصَّلاة كفَّارةً لصَلَوَاتِهِ الفائتةِ وفوائتِ أُمِّه وأبيهِ وجدِّهِ وأبنائِهِ وصِهْرِه".
وهذه العبارات قد أَوْقَفني عليها الفاضلُ النبيلُ العالمُ الجليل المولوي أبو الطيِّبات أحمد بن المولوي عبد الله السكندرفوري الهزاروي حين حَضَر عندي لتكميل بقية كتبِهِ كشرحِ مُلخَّص الجغميني وغير ذلك،
...সেগুলোর কাফফারা হবে। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা অনুযায়ী চারশ বছরের কাজা নামাজের কাফফারা হবে। উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা অনুযায়ী ছয়শ বছরের নামাজের কাফফারা হবে। আর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা অনুযায়ী সাতশ বছরের কাজা হয়ে যাওয়া নামাজের কাফফারা হবে। সহচরগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), মানুষের বয়স তো সত্তর বা আশি বছর হয়, তবে এত অধিক নামাজের (কাফফারার রহস্য) কী? তিনি এরশাদ করলেন, এটি মাতা-পিতা, দাদা, আত্মীয়-স্বজন এবং সন্তানদের নামাজের কাফফারা হবে এবং কবুল হবে। সমাপ্ত।
এর সারসংক্ষেপ আরবিতে অনুবাদ করলে দাঁড়ায়: যার অনেক নামাজ কাজা হয়েছে এবং সে তার সংখ্যা জানে না, সে যেন জুমার দিন জুমার নামাজের আগে অথবা যে কোনো সুবিধাজনক সময়ে এক তাহরিমায় চার রাকাত নামাজ আদায় করে। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একবার আয়াতুল কুরসি এবং পনেরো বার সূরা কাউসার পাঠ করবে।
আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি এই নামাজ আদায় করবে, এটি তার বাইশ বছরের নামাজের কাফফারা হবে।"
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় রয়েছে: "চারশ বছরের নামাজের জন্য।"
উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় রয়েছে: "ছয়শ বছরের নামাজের জন্য।"
আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় রয়েছে: "সাতশ বছরের নামাজের জন্য।"
তাঁরা আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, মানুষের বয়স তো কেবল সত্তর বা আশি বছর? তিনি বললেন: "এই নামাজ তার নিজের ছুটে যাওয়া নামাজ এবং তার মা, বাবা, দাদা, সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের ছুটে যাওয়া নামাজের কাফফারা হবে।"
এই উদ্ধৃতিগুলো আমার দৃষ্টিগোচর করেছেন গুণী, মার্জিত ও মহান আলেম মৌলভি আবু আল-তৈয়্যিবাত আহমদ বিন মৌলভি আবদুল্লাহ আল-সিকান্দারপুরী আল-হাজারভী, যখন তিনি আমার কাছে তাঁর অবশিষ্ট কিতাবসমূহ যেমন শারহু মুলখাস আল-জাগমিনি ইত্যাদি সমাপ্ত করার জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وأقام في مجالسِ درسي مُدَّةً، وحَصَّل عندي ما حَصَّل برهة، وهو الذي أصرَّ عليَّ لتأليف رسالة فيما هنالك، وذَكَرَ لي أن عوام أطرافِ بلدته، بل بعض خواصِّ أكنافِ مُسْتَقَرِّهِ يهتمُّون بهذه الصَّلاة غايةَ الاهتمام، ويؤدُّونها بالالتزام، بل منهم من يَقْضي صَلَواتِهِ عَمْدًا ظنًّا أنَّه يُصلِّي القضاءَ العُمُري في جمعةِ رمضان، فيكون ذلك كفارة.
وأقولُ مُعتصمًا بحبل الله المتين: كلُّ ما يفعلونَهُ ويعتقدونَهُ من حَرَكاتِ الغافلين.
أما صنيعُهم مِنْ تَركِ الصَلاةَ عَمْدًا مُعتمدًا على القَضَاء العُمُري، فهو من أَقْبح القبائح.
فقد ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم: "بينَ الرَّجل والكفر ترك الصلاة"، أخرجه أحمد (1).
وفي رواية مسلم: "بين الرَّجل وبين الشِّرك أو الكفر: تركُ الصَّلاة" (2).
وفي روايةِ أبي داود والنسائي: "ليس بين العبدِ وبين الكفرِ إلَّا تركُ الصَّلاة" (3).
وفي رواية الترمذي: "بين الكفر والإِيمان ترك الصلاة" (4).
--------------------------------------------
তিনি দীর্ঘকাল আমার দরসের মজলিসে অবস্থান করেছেন এবং একটি সময় পর্যন্ত আমার নিকট থেকে শিক্ষা হাসিল করেছেন। তিনিই এই বিষয়ে একটি পুস্তিকা রচনার জন্য আমাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছেন। তিনি আমার নিকট উল্লেখ করেছেন যে, তার অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, এমনকি তার জনপদের কিছু বিশেষ শ্রেণির মানুষও এই সালাতটির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তা আদায় করেন। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই ধারণায় ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করে যে, রমজানের শেষ জুমায় 'কাযা-ই উমরি' (সারা জীবনের কাজা সালাত) আদায় করলে তা পূর্ববর্তী সবকিছুর কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে।
আল্লাহর মজবুত রজ্জুকে আঁকড়ে ধরে আমি বলছি: তারা যা কিছু করে এবং বিশ্বাস করে, তার সবই গাফেল বা উদাসীনদের কাজ।
আর 'কাযা-ই উমরি'র ওপর ভরসা করে তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জন করার বিষয়টি নিকৃষ্টতম জঘন্য কাজের অন্তর্ভুক্ত।
কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "ব্যক্তি এবং কুফরের মাঝে ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১)।
এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: "মানুষ এবং শিরক বা কুফরের মাঝে (পার্থক্য) হলো সালাত ত্যাগ করা" (২)।
এবং আবু দাউদ ও নাসাঈর বর্ণনায় এসেছে: "বান্দা এবং কুফরের মাঝে সালাত ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো ব্যবধান নেই" (৩)।
এবং তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে: "কুফর ও ঈমানের মাঝে (পার্থক্য) হলো সালাত বর্জন করা" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي رواية الطبراني: "مَنْ تَرَكَ الصَّلاة متعمِّدًا فقد كَفَر جهارًا" (1).
وفي رواية ابن ماجَه والبيهقي: "من تركها متعمِّدًا فقد بَرِئَتْ منه الذمَّة" (2).
وعند البزَّار بسند حسن: "مَن تَرَك الصَّلاةَ لقيَ الله وهُوَ عليهِ عَضْبان" (3).
وعند البزار: "لا سَهمَ في الإِسلام لمن لا صَلَاةَ له، ولا صَلاةَ لمن لا وُضوءَ له" (4).
وفي البابِ أخبارٌ كثيرة وآثارٌ شهيرةٌ.
--------------------------------------------
তাবারানির বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জন করল, সে প্রকাশ্যে কুফরি করল" (১)।
ইবনে মাজাহ ও বায়হাকির বর্ণনায় আছে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জন করল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি ও নিরাপত্তা উঠে গেল" (২)।
ইমাম বাজ্জারের নিকট হাসান সনদে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি সালাত বর্জন করবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার ওপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন" (৩)।
বাজ্জারের বর্ণনায় আরও রয়েছে: "ইসলামে তার কোনো অংশ নেই যার সালাত নেই, আর তার সালাত হয় না যার ওজু নেই" (৪)।
এই অধ্যায়ে আরও বহু বর্ণনা এবং প্রসিদ্ধ আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের উক্তি) বিদ্যমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال ابن حَجَر المكِّي الهَيْتَمي في "الزَّواجر عن اقترافِ الكبائر"، بعد ذكر كثيرٍ منها: "اختلف العلماءُ ومَنْ بَعدَهُم في كُفر تاركِ الصَّلاة، وقد مَرَّ في الأحاديثِ الكثيرةِ السَّابقة التصريحُ بكفره وشِركِهِ، وخروجِهِ عن المِلَّة، وبأنَّه تَبْرأُ منه ذِمَّةُ الله ورسوله، وبأنَّه يحبط عملُه، وبأنَّه لا دينَ له، وبأنَّه لا إيمانَ له، ونحو ذلك من التغليظات.
وأخذَ بظاهرها جماعةٌ من الصَّحابة والتابعين ومنْ بعدهم، فقالوا: مَن تَرك صلاةً متعمِّدًا حتى خَرج جميع وقتها كان كافرًا مُراقَ الدَّم، منهم: عُمر، وعبد الرَّحمن بن عوف، ومعاذ بن جَبل، وأبو هُريرة، وابنُ مسعود، وابنُ عباس، وجابر، وأبو الدرداء.
ومن غير الصحابة: أحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، وعبد الله بن المبارك، والنَّخَعي، وابن عُتَيْبة (1)، وأيوبُ السَّخْتِياني، وأبو داود الطَّيَالسي، وأبو بكر بن أبي شَيْبة، وزهيرُ بن حرب، وغيرهم.
فهؤلاء الأئمَّة كلُّهم قائلونَ بكفرِ تاركِ الصَّلاة وإباحةِ دمه.
وقال محمَّد بن نصر المَرْوَزي: قال إسحاق: صَحَّ عن النبي صلى الله عليه وسلم أنَّ تاركَ الصلاة كافرٌ.
وأمَّا الشافعيُّ وآخرون، فإنَّهم وإنْ قالوا بعدم كفره إذا لم يستحل الترك، لكنهم قائلون بأنَّه يمتَل بترك صلاة واحدة؛ فإذا أمِرَ بها في وقتها حتى خَرَجَ ولم يُصَلِّها، ثمَّ قيلَ له: صَلِّها، فأبى، ضُرب عُنُقُه بالسيف" (2). انتهى.
--------------------------------------------
ইবনে হাজার আল-মাক্কী আল-হায়তামী তাঁর "আয-যাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবায়ির" গ্রন্থে অনেকগুলো কবীরা গুনাহ আলোচনার পর বলেন: "সালাত ত্যাগকারীর কুফর বা অবিশ্বাসের বিষয়ে আলেমগণ এবং তাঁদের পরবর্তীগণ মতভেদ করেছেন। তবে ইতিপূর্বে বর্ণিত অসংখ্য হাদিসে স্পষ্টভাবে তার কুফর, শিরক (অংশীবাদ), ধর্ম থেকে বহিষ্কার, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ছিন্ন হওয়া, আমল বাতিল হওয়া এবং তার কোনো দ্বীন ও ঈমান না থাকার কথা বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া এ জাতীয় আরও অনেক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে।
সাহাবী, তাবেয়ি এবং তাঁদের পরবর্তীগণের একটি দল এই হাদিসগুলোর বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে সালাত ত্যাগ করে এবং এভাবে সালাতের সম্পূর্ণ সময় পার করে দেয়, সে কাফির এবং তার রক্ত বৈধ (অর্থাৎ সে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য)। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: উমর, আবদুর রহমান বিন আউফ, মুয়াজ বিন জাবাল, আবু হুরায়রা, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, জাবির এবং আবুদ্ দারদা।
সাহাবীদের বাইরে রয়েছেন: আহমাদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক, আন-নাখায়ী, ইবনে উতাইবা (১), আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আবু বকর বিন আবি শায়বা, যুহাইর বিন হারব এবং আরও অনেকে।
এই সকল ইমামগণ সালাত ত্যাগকারীর কুফর এবং তার রক্ত বৈধ হওয়ার সপক্ষে মত দিয়েছেন।
মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেন: ইসহাক বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, সালাত ত্যাগকারী কাফির।
পক্ষান্তরে ইমাম শাফেয়ী এবং অন্যান্যরা যদিও বলেছেন যে, সালাত ত্যাগ করাকে বৈধ মনে না করা পর্যন্ত সে কাফির হবে না; তবে তাঁরা এই মত দিয়েছেন যে, মাত্র একটি সালাত ত্যাগের কারণেই তাকে হত্যা করা হবে। যদি তাকে সালাতের সময়ের মধ্যে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সে তা না পড়ে সময় অতিবাহিত করে ফেলে, অতঃপর তাকে বলা হয়: 'সালাত আদায় করো' এবং সে তা অস্বীকার করে, তবে তলোয়ারের আঘাতে তার শিরচ্ছেদ করা হবে" (২)। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأما اعتقادهم في أنَّ صلاةَ رمضان، وإنْ كانت فريضةً فَضلًا عن غيرها تعدلُ كثيرًا من الصَّلوات، فهو قبيحةٌ ثانية.
قال في "الفتاوى البزَّازية" (1): "يصلي في رمضان لا غير، ويقول: اين خود بسياراست، أو يقول: صَلاةٌ في رمضان تعدل سبعين صلاة: يكفر" (2) انتهى.
وفي "الفُصُول العِمَادية" (3): رجلٌ يُصلِّي في رمضان لا غير، ويقول: اين خود بسياراست، أو يقول: زيادت في آيد؛ لأن كل صلاة في رمضان تساوي سبعين صلاة: يكفر. انتهى. ومثله في "جامع الفصولين" (4).
--------------------------------------------
আর রমজান মাসের সালাত সম্পর্কে তাদের এই বিশ্বাস যে, এটি (ফরজ হওয়া সত্ত্বেও এবং অন্য মাসের তুলনায় এর মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও) অনেক সালাতের সমতুল্য, তা হলো দ্বিতীয় এক জঘন্য বিভ্রান্তি।
'আল-ফাতাওয়া আল-বাজ্জাজিয়া'-তে (১) বলা হয়েছে: "সে কেবল রমজানেই সালাত আদায় করে অন্য সময় নয়, এবং বলে: 'এটিই তো অনেক', অথবা বলে: 'রমজানের এক ওয়াক্ত সালাত সত্তর ওয়াক্ত সালাতের সমান': তবে সে কুফরি করল" (২) সমাপ্ত।
আর 'আল-ফুসুল আল-ইমাদিয়া'-তে (৩) রয়েছে: জনৈক ব্যক্তি কেবল রমজানেই সালাত আদায় করে এবং বলে: 'এটিই তো অনেক', অথবা বলে: 'এর সওয়াব অনেক বেশি হবে; কারণ রমজানের প্রতিটি সালাত সত্তরটি সালাতের সমান': তবে সে কুফরি করল। সমাপ্ত। এর অনুরূপ বর্ণনা 'জামি আল-ফুসুলাইন'-এও (৪) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২১)
وفي "خزانة المفتين" (1): رجل يُصَلي في رمضان لا غير ويقول: اين خود بسياراست، أو صلَّى إلى غير القِبْلة متعمّدًا فوافق ذلك القِبْلة، أو صلَّى بغير وضوء متعمِّدًا، أو صلَّى إلى غير القِبْلة على وجه الاستهزاء والاستخفاف: صارَ كافرًا في الفصول كلها. انتهى.
وفي "كشف الوقاية": رجلٌ صلَّى في رمضان لا غيره، ويقول: اين خود بسياراست، أو يقول: زيادت مي آيد؛ لأنَّ كلَّ صلاة في رمضان تساوي سبعين يكفر. انتهى.
وفي "الفتاوى العالمكيرية" (2): رجل يُصَلِّي في رمضان لا غير، ويقول: اين خود بسياراست، أو يقول: زيادَت في آيد؛ لأنَّ كلَّ صلاة في رمضان تساوي سبعين صلاة يكفر (3). انتهى.
فإنْ قلتَ: كيف هذا، وقد أخرج العُقَيلي وضعَّفه، وابنُ خزيمة في صحيحه، والبيهقي، والخطيب، والأصبهاني في "الترغيب" عن سلمان
--------------------------------------------
এবং "খিজানাতুল মুফতীন"-এ রয়েছে (১): কোনো ব্যক্তি কেবল রমজান মাসেই সালাত আদায় করে, অন্য সময় নয় এবং সে বলে: "এটুকুই তো অনেক", অথবা সে ইচ্ছাকৃতভাবে কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করল কিন্তু তা ঘটনাক্রমে কিবলার সাথে মিলে গেল, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে অজু ছাড়া সালাত আদায় করল, কিংবা উপহাস ও তুচ্ছজ্ঞান করার ছলে কিবলা ছাড়া অন্য দিকে ফিরে সালাত আদায় করল: তবে এই সকল সুরতেই সে কাফির হয়ে যাবে। সমাপ্ত।
এবং "কাশফুল বিকায়া"-তে রয়েছে: কোনো ব্যক্তি কেবল রমজান মাসেই সালাত আদায় করল, অন্য সময় নয়, এবং সে বলে: "এটুকুই তো অনেক", অথবা সে বলে: "অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে; কারণ রমজানের প্রতিটি সালাত সত্তরটির সমান", তবে সে কাফির হয়ে যাবে। সমাপ্ত।
এবং "ফাতাওয়া আলমগিরী"-তে (২) রয়েছে: কোনো ব্যক্তি কেবল রমজান মাসেই সালাত আদায় করে, অন্য সময় নয়, এবং সে বলে: "এটুকুই তো অনেক", অথবা সে বলে: "অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে; কারণ রমজানের প্রতিটি সালাত সত্তরটি সালাতের সমান", তবে সে কাফির হয়ে যাবে (৩)। সমাপ্ত।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: এটি কীভাবে সম্ভব, অথচ উকাইলি এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে দুর্বল বলেছেন, এবং ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে, বায়হাকি, খাতিব এবং আসবাহানি "আত-তারগিব" গ্রন্থে সালমান থেকে বর্ণনা করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفارسي رضي الله عنه قال: خَطَبنا رسولُ الله صلى الله عليه وسلم في آخر يومٍ من شعبان فقال: "يا أيُّها النَّاس: قد أظلَّكُم شهرٌ مباركٌ، شهرٌ فيه ليلة خيرٌ من ألف شهر، جعلَ الله صيَامه فريضةً، وقيامَ ليلهِ تطوُّعًا، من تَقَرَّب فيه بخَصْلَة من الخيرِ كانَ كمَّن أدَّى فريضةً فيمَا سِوَاه، ومن أدَّى فريضةً فيه كان كَمَن أدَّى سبعينَ فريضةً فيما سواه" الحديث (1) ذكره بطوله الحافظ السيوطي في تفسيره "الدر المنثور" (2).
قلت: هذا أمرٌ آخر، فإنَّهم لا يُنكرون فَضْلَ صلاة رمضان، وبلوغ فرضه ثوابًا إلى سبعين فريضةٍ في غير رمضان، بل غرضهم إبْطال قول من يقول: إنَّ صلاة رمضان تعدل سبعينَ صلاة معادلةً حقيقيَّةً، وتقوم مقَامَها، وأنها مُجزيةٌ من سبعينَ صلاة، وإنَّما حكمُوا بكفر من اعتقد هذا، وترك الصَّلواتِ معْتَمِدًا على هذا، لا بكفر من اعتقد حصول زيادةِ الثواب، فإنَّه فَضْلُ العزيز الوهَّاب.
ولهذا قال عليٌّ القاري في "المِرقاة شرح المِشْكاة" (3) عند المبحث
--------------------------------------------
সালমান আল-ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাবান মাসের শেষ দিনে আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং বলেন: "হে লোকসকল, তোমাদের নিকট এক বরকতময় মাস উপস্থিত হয়েছে, এমন এক মাস যাতে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ এই মাসের রোজা ফরজ করেছেন এবং এর রাতের ইবাদতকে নফল করেছেন। যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে, সে যেন অন্য সময়ে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এতে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য সময়ে সত্তরটি ফরজ আদায় করল।" হাদিস (১) হাফেজ সুয়ুতী তাঁর তাফসির "আদ-দুররুল মানসুর"-এ (২) এটি বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।
আমি বলি: এটি একটি ভিন্ন বিষয়। কেননা তারা রমজানের সালাতের ফজিলত এবং এর ফরজের সওয়াব রমজান ব্যতীত অন্য সময়ের সত্তরটি ফরজের সমতুল্য হওয়াকে অস্বীকার করেন না। বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো সেই ব্যক্তির বক্তব্যকে খণ্ডন করা যে বলে: রমজানের সালাত প্রকৃতপক্ষে সত্তরটি সালাতের সমতুল্য এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয় এবং এটি সত্তরটি সালাতের জন্য যথেষ্ট। তারা কেবল সেই ব্যক্তির কাফের হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন যে এই বিশ্বাস পোষণ করে এবং এর ওপর ভিত্তি করে সালাত পরিত্যাগ করে; সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয় যে কেবল সওয়াব বৃদ্ধির বিশ্বাস পোষণ করে, কেননা তা পরাক্রমশালী দাতারই অনুগ্রহ।
এই কারণেই আলী আল-কারী "মিরকাত শরহুল মিশকাত" (৩)-এ সংশ্লিষ্ট আলোচনায় বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
في مضاعَفِة الثواب في مسجد مكة والمدينة: "ثم المراد بالتضعيف السَّابق: في الأَجْر دون الإِجْزاء باتفاق العلماء، فالصَّلاةُ في أحدِ المساجدِ الثلاثة لا يُجزئُ عن أكثر من واحدةٍ إجماعًا، وما اشتهر على ألسنة العوام: "أنَّ من صلَّى داخل الكعبة أربع ركعات يكون قضاءَ الدهر" باطلٌ لا أَصْل له". انتهى.
وأمَّا ظنُّهم بأنَّ صَلاةً واحدةً، أو صلواتٍ خمسة تُجْزئ عن جميع فَوَائت عُمُره، فهو شَنَاعَةٌ ثالثة، لوجوه:
أحدها: أنَّ هذا أمرٌ لم يُعهد نظيرُه في الشَّرع، فلم يَرِد فيه عبادَةٌ تكون قائمةً مقامَ عبادات كثيرة، ومُجْزيةً عنها.
وثانيها: أنَّ القضاء دَيْنٌ من ديون الله في ذِمة عباده، وقد تقرَّر في مَقَرِّهِ: أنَّ الدِّيْن لا يَسقطُ عن ذِمَّة المدْيون إلَّا بالأداء أو بالإِبْراء، ومن المعلوم أنَّ أداء صلاةٍ واحدة، أو صلواتٍ خمسة ليس بأداءٍ لصلواتِ كثيرة، ولم يوجد الإِبْراء، فكيف يصحُّ الإِجْزاء.
وثالثها: أنَّ القضاءَ عبارةٌ عن تسليمِ مثلِ الواجب، كما نصَّت عليه أئمَّةُ الأصول، والمثْليّة بين صَلاةٍ واحدةٍ أو صَلَواتٍ خمسة لصلواتٍ كثيرة غيرُ معقول؛ ألا ترى أنَّه لو أدَّى مَنْ عليه أربع ركعات: ثلاث ركعات أو خمسَ رَكَعاتٍ لا يكون ذلك مُجْزيًا، فكيف يكونُ في رَكَعات عديدة إجزاءٌ عن آلاف ركعة؟
ورابعها: أنَّ قضاءً الفرضِ فرضٌ بالنَّص، ومن المعلوم أنَّ الفروض مُتزاحِمة، فلا بدَّ من تعيين ما يُريد أدَاءَهُ حتى تَبْرأَ ذمَّتَه، فإنَّ فرضًا من
মক্কা ও মদিনার মসজিদে সওয়াব বৃদ্ধির বিষয়ে: "পূর্বোক্ত সওয়াব বৃদ্ধির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সওয়াবের আধিক্য, আলেমদের ঐকমত্য অনুযায়ী এটি দায়মুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সুতরাং তিন মসজিদের যেকোনো একটিতে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা কেবল এক ওয়াক্ত নামাজের পক্ষ থেকেই যথেষ্ট হবে—এ বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত রয়েছে। আর সাধারণ মানুষের মুখে যা প্রসিদ্ধ যে, 'যে ব্যক্তি কাবার অভ্যন্তরে চার রাকাত নামাজ পড়বে, তা সারাজীবনের কাজা হিসেবে গণ্য হবে'—এটি একটি বাতিল কথা এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।" সমাপ্ত।
আর তাদের এই ধারণা যে, এক ওয়াক্ত বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জীবনের সমস্ত ছুটে যাওয়া নামাজের জন্য যথেষ্ট হবে, তা তৃতীয় একটি জঘন্য বিভ্রান্তি; এর কয়েকটি কারণ রয়েছে:
প্রথমত: শরিয়তে এর কোনো নজির বা সদৃশ বিষয় জানা নেই। এমন কোনো ইবাদতের অস্তিত্ব নেই যা অনেক ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং সেগুলোর পক্ষ থেকে যথেষ্ট হিসেবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয়ত: কাজা হলো বান্দার জিম্মায় আল্লাহর পাওনা ঋণসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি আপন স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত যে, ঋণ আদায় করা বা পাওনাদারের পক্ষ থেকে মাফ করে দেওয়া ছাড়া ঋণগ্রহীতার জিম্মা থেকে ঋণ রহিত হয় না। এটি সুনিশ্চিত যে, এক বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা অনেক নামাজের আদায় হিসেবে গণ্য হতে পারে না, আর এখানে ক্ষমা বা দায়মুক্তিরও কোনো প্রমাণ নেই; এমতাবস্থায় দায়মুক্তি কীভাবে সহিহ হতে পারে?
তৃতীয়ত: উসুল শাস্ত্রের ইমামগণ যেভাবে ব্যক্ত করেছেন, কাজা হলো মূলত ওয়াজিবের অনুরূপ বিষয় অর্পণ করা। এমতাবস্থায় একটি বা পাঁচটি নামাজের সাথে বহু নামাজের সমতুল্যতা অযৌক্তিক। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যার জিম্মায় চার রাকাত নামাজ আবশ্যক, সে যদি তিন রাকাত বা পাঁচ রাকাত আদায় করে, তবে তা যথেষ্ট হয় না; তাহলে কীভাবে সামান্য কিছু রাকাত হাজার হাজার রাকাতের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে?
চতুর্থত: ফরজ নামাজের কাজা করা নস (শরয়ি প্রমাণ) অনুযায়ী ফরজ। এটি সর্বজনবিদিত যে, ফরজসমূহ পরস্পর ভিড় করে (অর্থাৎ প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে আদায়যোগ্য), তাই দায়মুক্ত হওয়ার জন্য কোন ওয়াক্ত আদায় করা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করা আবশ্যক। কেননা একটি ফরজ...
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفروض لا يتأدَّى بنيَّة فرض آخر، كما نصَّ عليه في "التبيين" (1)، فكيف يمكن أن تتأدَّى صلوات كثيرة غير معيَّنة بصلاةٍ واحدة.
وخامسها: أنَّه ذكر في "الظهيريَّة" (2) و"البحر الرائق" وغيرهما أنه لو كانت الفوائت كثيرة، فاشتغلَ بالقضاء يحتاج إلى تعيين الظهر والعصر، وينوي أيضًا ظهرَ يوم كذا، فإنْ أراد تسهيلَ الأمر ينوي أوَّل ظهر عليه، أو آخر ظهرٍ عليه" (3). انتهى.
فكيف يمكن أن تَبرأَ الذمَّةُ بالواحدةِ أو الخمسةِ عن الكثيرةِ غيرِ المتعيِّنة.
وسادسها: أنَّه وَرَد في الحديث الصحيح: "إنما الأعمَال بالنيات، وإنَّما لكل امرئٍ ما نوَى". أخرجه البخاري في بَدء صحيحه وفي كتاب الإِيمان والعتق والهجرة والنكاح والأَيْمان والنذور وترك الحِيَل، ومسلم، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، وأحمد، والدارقطني، وابن حِبَّان، والبيهقي وغيرهم (4). ولم يخرِّجْه مالكٌ في "موطأه"، كذا ذكره
--------------------------------------------
ফরজ ইবাদতসমূহ অন্য কোনো ফরজের নিয়তে আদায় হয় না, যেমনটি "তাবয়ীনুল হাকায়িক" (১) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং, নির্দিষ্ট নয় এমন অনেক নামাজ কীভাবে মাত্র একটি নামাজের মাধ্যমে আদায় হওয়া সম্ভব?
পঞ্চম কারণ: "আল-জহিরিয়্যাহ" (২), "আল-বাহরুর রাইক" এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কাজা নামাজের সংখ্যা অনেক বেশি হয় এবং কেউ তা আদায়ে মগ্ন হয়, তবে যোহর ও আসরকে সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজন হবে। এমনকি অমুক দিনের যোহর হিসেবেও নিয়ত করতে হবে। তবে বিষয়টি সহজ করতে চাইলে সে এভাবে নিয়ত করতে পারে যে, "আমার জিম্মায় থাকা প্রথম যোহর" অথবা "আমার জিম্মায় থাকা শেষ যোহর" (৩)। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
এমতাবস্থায় অনির্ধারিত বহু নামাজের পরিবর্তে মাত্র একটি বা পাঁচটি নামাজের মাধ্যমে কীভাবে জিম্মা বা দায়মুক্তি সম্ভব?
ষষ্ঠ কারণ: সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে।" ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থের শুরুতে এবং ঈমান, দাসমুক্তি, হিজরত, বিবাহ, শপথ ও মানত এবং কূটকৌশল বর্জন অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও ইমাম মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, দারাকুতনি, ইবনে হিব্বান, বায়হাকি এবং অন্যান্যগণও এটি বর্ণনা করেছেন (৪)। তবে ইমাম মালিক তাঁর "মুয়াত্তা" গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেননি; এভাবেই তিনি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
القسطلاني في "إرشاد السَّاري شرح صحيح البخاري" (1).
ولم يُصب في قوله: "لم يخرجه مالك في موطأه". وقد تَبعَ فيه الحافظَ ابنَ حجر العسقلاني، حيث قال في "فتح الباري" (2)، وغيره كذلك، فإنَّ هذا الحديث موجودٌ في موطأ مالك برواية محمد بن الحسن (3)، وقد أوْضَحتُ ذلك في حاشيتي عليها المسمَّاة بـ "التعليق المُمَجَّد على مُوَطأ محمَّد" (4).
وهذا الحديثُ يدلُّ على أنَّ ثوابَ الأعمال، أو صحَّةَ الأعمال موقوفٌ على النيّة، وأنَّ المَرء لا يحصلُ له إلَّا ثوابُ ما نَوى، أو صحَّةُ ما نوى لا غيره، فكيف يمكنُ أن تتأدَّى فوائت كثيرة بصلاةٍ أُدِّيْت بنيّة النَّفْل، فإنَّما لكل ما نوى.
وقد ذكر في "فتح القدير" في باب الوتر عن "التجنيس" (5) وغيره أن
--------------------------------------------
আল-কাসতালানি তাঁর "ইরশাদুস সারি শারহু সহিহিল বুখারি" গ্রন্থে (১)।
"মালিক এটি তাঁর মুয়াত্তায় বর্ণনা করেননি" - তাঁর এই বক্তব্যটি সঠিক নয়। এক্ষেত্রে তিনি হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানিকে অনুসরণ করেছেন, যিনি তাঁর "ফাতহুল বারি" (২) গ্রন্থে এমনটি বলেছেন এবং অন্যান্যরাও অনুরূপ বলেছেন। অথচ এই হাদিসটি মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বর্ণনায় ইমাম মালিকের মুয়াত্তায় বিদ্যমান (৩)। আর আমি এটি উক্ত গ্রন্থের ওপর আমার লিখিত হাশিয়া "আত-তালিকুল মুমাজ্জাদ আলা মুয়াত্তা মুহাম্মদ" (৪) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি।
এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, আমলের সওয়াব বা আমল সহিহ হওয়া নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ কেবল তা-ই লাভ করে যার সে নিয়ত করে, চাই তা সওয়াব হোক কিংবা আমলের শুদ্ধতা। সুতরাং নফল নামাজের নিয়তে আদায় করা একটি নামাজের মাধ্যমে অনেকগুলো কাজা নামাজ কীভাবে আদায় হতে পারে? কেননা মানুষ কেবল তা-ই পায় যার সে নিয়ত করে।
"ফাতহুল কাদির" গ্রন্থের বিতর অধ্যায়ে "আত-তাজনিস" (৫) ও অন্যান্য কিতাব থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الفرض لا يتأدَّى بنيّةَ النَّفْل، ويجوزُ عكسُه (1). انتهى.
فإن قالوا: نحن ننوي معه قَضَاءَ عُمُريًّا فَتَتَأدَّى به.
قلت: هذه النيّةَ لا مِثل لها في الشَّرع، وهل ذلك إلَّا كَمَن نوى بصيامٍ واحد أدَاء صِيَاماتٍ متعدِّدة، أو بحجّ واحد حَجَّاتٍ كثيرة.
وسابعها: أنَّه أخرج الثوريُّ في جامعه عن إبراهيم النخعي قال: "من ترك صلاةً واحدةً عشرين سنةً، لم يُعِد إلَّا تلك الصَّلاةَ الواحدةَ"، وذكره البخاري في صحيحه تعليقًا (2).
وأخرج البخاري عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مَنْ نسيَ صلاةَ فَلْيُصَلِّ إذا ذكَرَها، لا كَفَّارَةَ لها إلَّا ذلك" (3).
وفي روايةٍ لمسلم عن أبي هريرة: "مِنْ نَسِيَ الصَّلاة فَلْيُصلِّها إذا ذَكَرَها فإنَّ الله يقول: {وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي} (4).
وفي روايةٍ له عن أبي قَتَادة في حديث طويل: "أَمَا إنَّه ليس في النَّوم تفريطٌ، إنَّما التفريط على من لم يُصَلِّ الصَّلاة حتى يجيءَ وقتُ الصَّلاة الأخرى، فمن فَعَلَ ذلك فَليُصَلِّها حين ينتبه لها" (5).
وفي رواية له عن أنس مرفوعًا: "من نَسيَ صلاةَ فلْيُصلِّها إذا ذَكَرَها، لا كفَّارةَ لها إلَّا ذلك".
--------------------------------------------
নফল (ঐচ্ছিক) নিয়তে ফরজ (আবশ্যিক) আদায় হয় না, তবে এর বিপরীতটি বৈধ (১)। সমাপ্ত।
যদি তারা বলে: আমরা এর সাথে ‘কাজা-এ-উমরি’র (জীবনের ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা) নিয়ত করি, ফলে তার মাধ্যমে তা আদায় হয়ে যাবে।
আমি বলি: শরিয়তে এই নিয়তের কোনো নজির নেই; আর এটি কি কেবল সেই ব্যক্তির মতো নয় যে একটি রোজার মাধ্যমে একাধিক রোজা আদায়ের নিয়ত করে, অথবা একটি হজের মাধ্যমে বহু হজের নিয়ত করে?
সপ্তম (দলিল): আস-সাওরি তার ‘জামে’ গ্রন্থে ইবরাহিম আন-নাখায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যদি কেউ বিশ বছর পর্যন্ত একটি নামাজ ছেড়ে দেয়, তবে সে কেবল সেই একটি নামাজই পুনরায় আদায় করবে।" বুখারি তার ‘সহিহ’ গ্রন্থে এটি ‘তালিক’ (সনদহীন বর্ণনা) হিসেবে উল্লেখ করেছেন (২)।
আর ইমাম বুখারি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে যায়, তবে যখনই তার মনে পড়বে সে যেন তা আদায় করে নেয়; এটি ছাড়া এর আর কোনো কাফফারা নেই" (৩)।
মুসলিমের এক বর্ণনায় আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি নামাজ ভুলে যায়, তবে যখনই তার মনে পড়বে সে যেন তা আদায় করে নেয়, কেননা আল্লাহ বলেন: {আমার স্মরণে নামাজ কায়েম করো} (৪)।
তাঁর (মুসলিম) অপর এক বর্ণনায় আবু কাতাদা (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে: "সাবধান! নিদ্রার অবস্থায় কোনো অবহেলা নেই, অবহেলা তো সেই ব্যক্তির জন্য যে পরবর্তী নামাজের ওয়াক্ত না আসা পর্যন্ত নামাজ আদায় করে না; সুতরাং যে ব্যক্তি এমনটি করবে, সে যখন জাগ্রত হবে তখনই যেন তা আদায় করে নেয়" (৫)।
তাঁরই অপর এক বর্ণনায় আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে যায়, তবে যখনই তার মনে পড়বে সে যেন তা আদায় করে নেয়; এটি ছাড়া এর আর কোনো কাফফারা নেই।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي رواية له عنه: "مَنْ نسيَ صلاةً أو نام عنها، فكفَّارتُها أن يصليَها إذا ذكرها".
وفي رواية له عنه: "إذا رَقَد أحدُكُم عن الصَّلاة أو غَفَلَ عنها، فَلْيُصلِّها إذا ذَكَرَها" (1).
وكذلك أخرجه أصحاب السُّنن الأربعة وغيرهم بألفاظٍ مُتَقَارِبَة (2).
فهذه الأخبارُ الصِّحاح شَاهِدةٌ على فَسادِ ما يعتقدونَه؛ لأنَّها دالَّةٌ على أنَّ الفائتةَ لا تتأتَّى إلَّا بأدائها بنفسِها، ولا كفارةَ لها إلَّا ذلك، وأنَّه لا يقومُ شيءٌ آخر مقامَها.
وأمَّا ظنُّهم أنَّ مثل هذه الصَّلاة تكونُ مُجزية عن فوائت الآباء والأجداد والأولاد والأحفاد فهو شناعةٌ رابعةٌ، بل هو أُضحوكةٌ للنَّاظرين، ومُزَخْرَفةٌ عند العاقلين، فإنَّهم إنْ أرادوا به أنَّ ثوابَها يَصِلُ إليهم فهو ليسَ بصحيح، فإنَّ ثوابَ العبادة إنَّما يكون لمن يكتَسبُها لا لغيره، بنصِّ قولِه تعالى: {لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ} (3).
ولذا لمَّا ذهب بعض العلماء إلى أنَّ ثوابَ عبادةِ الصَّبي يكون للوليِّ، ردَّه المحقِّقون بأنَّ الوليَّ إنَّما يُثابُ ثوابَ التحريضِ والتسبيب، وأمَّا ثوابُ نفسِ العبادة فكَلَّا، على ما هو مَبْسوط في "حواشي التلويح"، وغيرها.
--------------------------------------------
তাঁরই বর্ণনায় তাঁর থেকে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি কোনো সালাত ভুলে যায় অথবা তা থেকে ঘুমিয়ে পড়ে, তবে তার কাফফারা হলো যখনই তার স্মরণে আসবে তখনই তা আদায় করে নেয়া।"
এবং তাঁরই সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কেউ যদি সালাত থেকে ঘুমিয়ে থাকে কিংবা তা থেকে গাফেল হয়ে যায়, তবে যখনই তার স্মরণে আসবে তখনই যেন সে তা আদায় করে নেয়" (১)।
তদ্রূপ চার সুনান গ্রন্থকারগণ এবং অন্যান্যরাও প্রায় কাছাকাছি শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
সুতরাং এই সহীহ বর্ণনাগুলো তাদের বিশ্বাসের অসারতার সাক্ষ্য বহন করে; কেননা এগুলো একথার প্রমাণ যে, কাজা হওয়া সালাত তা নিজে আদায় করা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না এবং এর জন্য এটি ছাড়া আর কোনো কাফফারা নেই। আর অন্য কোনো কিছু এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না।
আর তাদের এই ধারণা যে, এই জাতীয় সালাত পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, সন্তান-সন্ততি এবং নাতি-নাতনিদের কাজা হওয়া সালাতসমূহের জন্য যথেষ্ট হবে—তা হলো চতুর্থ এক জঘন্য বিষয়; বরং এটি পর্যবেক্ষকদের নিকট হাস্যকর এবং বুদ্ধিমানদের নিকট একটি অলংকৃত মিথ্যা। তারা যদি এর দ্বারা এই উদ্দেশ্য করে থাকে যে, এর সওয়াব তাঁদের কাছে পৌঁছাবে, তবে তা সঠিক নয়। কেননা ইবাদতের সওয়াব কেবল আমলকারীর জন্যই হয়, অন্য কারো জন্য নয়; মহান আল্লাহর বাণীর সুস্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী: "সে যা অর্জন করেছে তা তারই প্রাপ্য এবং সে যা কামাই করেছে তার পরিণাম তারই ওপর বর্তাবে" (৩)।
এজন্যই যখন কোনো কোনো আলেম অভিমত প্রদান করেছেন যে, শিশুর ইবাদতের সওয়াব তার অভিভাবকের হবে, তখন গবেষক আলেমগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বলে যে, অভিভাবক কেবল উৎসাহ দান ও মাধ্যম হওয়ার সওয়াব পাবেন; কিন্তু মূল ইবাদতের সওয়াব তিনি পাবেন না। যেমনটি 'হাশিয়া আত-তালবীহ' ও অন্যান্য কিতাবে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فإنْ قَصَدوا أنَّ ثوابَهَا يَصِلُ إليهم بإِيصاله إليهم، فهو وإنْ كان صحيحًا، لكنَّه خارج عن البحث، مع أنَّه ليس مختصًّا بالآباء والأولاد، بل يصل ثوابُ العبادة أيَّ عبادةٍ كانت إلى مَنْ أَوْصَلَ ثَوابَها إليه، وإنْ كان أجنبيًّا.
وإنْ أرادُوا به أنَّ هذه الصَّلاة تكون مُجْزيةً وكفارةً عن فَوَائت الآباء والأولاد، فهو مخالِفٌ لقوله تعالى: {لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ} (1).
ولحديث: "إذا ماتَ ابنُ آدم انقطع عملُه إلَّا من ثلاث: صدقةٍ جارية، أو علمٍ يُنتفعُ به، أو ولدٍ صالحٍ يدعو لَه"، أخرجه ابن ماجَهْ ومسلم وغيرهما (2).
ولقول الفقهاء: النيابةُ لا تجْري في العباداتِ البدنية، بل في المالية. وقد ذكر في "الدر المختار" و "البحر الرائق"، وغيرهما: لو قَضَاها وَرَثَتُهُ بأمرِهِ لم يجز (3). انتهى.
وقد أخرج النَّسائيُّ في "السُّنن الكبرى" -بإسناد صحيح- عن ابن عباس قال: "لا يُصَلِّي أحدٌ عن أحدٍ، ولا يصوم أحدٌ عن أحدٍ" (4).
وروى عبد الرزاق مثله من قول ابن عمر (5)، ذكره ابن حجر في
--------------------------------------------
যদি তারা এর দ্বারা উদ্দেশ্য করে থাকেন যে, আমলকারীর পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তার সাওয়াব তাদের কাছে পৌঁছাবে, তবে তা সঠিক হলেও বর্তমান আলোচনার বহির্ভূত। অধিকন্তু এটি কেবল পিতামাতা ও সন্তানদের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং যে কোনো ইবাদতের সাওয়াবই যার উদ্দেশ্যে তা উৎসর্গ করা হয় তার নিকট পৌঁছে থাকে, যদিও সে অনাত্মীয় হয়।
আর যদি তারা এর দ্বারা এই উদ্দেশ্য করে থাকেন যে, এই সালাত পিতামাতা ও সন্তানদের ছুটে যাওয়া সালাতের পক্ষ থেকে যথেষ্ট এবং কাফফারা হয়ে যাবে, তবে তা মহান আল্লাহর বাণীর পরিপন্থী: "সে যা অর্জন করেছে তা তারই জন্য, আর সে যা কামাই করেছে তার পরিণামও তারই ওপর বর্তাবে" (১)।
তদ্রূপ এটি নিম্নোক্ত হাদিসেরও পরিপন্থী: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন তার আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; তবে তিনটি বিষয় ব্যতীত: সদকায়ে জারিয়াহ, এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় অথবা এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" হাদিসটি ইবনে মাজাহ, মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (২)।
ফকিহগণের বক্তব্য অনুযায়ীও এটি অশুদ্ধ; তারা বলেন: শারীরিক ইবাদতসমূহে প্রতিনিধিত্ব চলে না, বরং তা কেবল আর্থিক ইবাদতে প্রযোজ্য। 'আদ-দুররুল মুখতার' ও 'আল-বাহরুর রাইক' সহ অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে: যদি মৃত ব্যক্তির নির্দেশক্রমে তার উত্তরাধিকারীরা তার পক্ষ থেকে কাজা আদায় করে দেয়, তবে তা জায়েজ হবে না (৩)। সমাপ্ত।
ইমাম নাসায়ি 'আস-সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে—সহিহ সনদে—ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কেউ কারো পক্ষ থেকে সালাত আদায় করবে না এবং কেউ কারো পক্ষ থেকে রোজা পালন করবে না" (৪)।
আবদুর রাজ্জাকও অনুরূপ বর্ণনা ইবনে উমর (রাযি.)-এর উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন (৫), যা ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাত আখের জুমুআতি রমাদান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
"التلخيص الحبير بتخريج أحاديث شرح الرافعي الكبير" (1).
وأمَّا أداؤهم هذه الصَّلاة، وهي قضاءٌ لكلّ فائتة عندهم في المسجد فهو شَنَاعةٌ خامسة، لما قال في "البحر الرائق": إذا فاتَتْ صلاة عن وقتها ينبغي أن يقضيَها في بيته، ولا يقضيها في المسجد (2). انتهى.
وفي "الدُّر المختار": ينبغي أن لا يُطْلع غيره على قضائِهِ؛ لأنَّ التأخيرَ معصية، فلا يُظهرها. انتهى.
وقال في "ردِّ المحتار": تقدَّم في بابِ الأذان أنَّه يُكره قضاء الفائتة في المسجد، وعلَّله الشَّارح البارع بما ها هنا: أنَّ التأخيرَ معصيةٌ، فلا يظهرها، وظاهرُهُ: أنَّ الممنوع هو القضاء مع الاطِّلاع عليه، سواء كان في المسجد أو غيره، كما أفادَهُ في "المِنَح" (3).
قلت: والظاهرُ أنَّ "ينبغي" ها هنا للوجوب، وأنَّ الكراهية تحريميّة؛ لأنَّ إظهارَ المعصيةِ معصيةٌ. انتهى (4).
--------------------------------------------
"আল-তালখিস আল-হাবির বি-তাখরিজি আহাদিসি শারহির রাফিয়িল কাবির" (১)।
আর তাদের এই সালাত আদায় করা—যা তাদের নিকট প্রতিটি ছুটে যাওয়া সালাতের কাজা হিসেবে গণ্য—মসজিদে সম্পাদন করা একটি পঞ্চম জঘন্য কাজ। কেননা "আল-বাহরুর রায়িক" গ্রন্থে বলা হয়েছে: যখন কোনো সালাত তার নির্ধারিত সময় থেকে পার হয়ে যায় (কাজা হয়), তবে তা নিজের ঘরেই আদায় করা উচিত, মসজিদে নয় (২)। সমাপ্ত।
এবং "আদ-দুররুল মুখতার" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: সালাত কাজা করার বিষয়টি অন্য কাউকে অবগত করা উচিত নয়; কারণ সালাত আদায়ে বিলম্ব করা একটি গুনাহ, তাই তা প্রকাশ করা যাবে না। সমাপ্ত।
"রাদ্দুর মুহতার" গ্রন্থে বলা হয়েছে: আযান অধ্যায়ে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মসজিদে ছুটে যাওয়া সালাতের কাজা আদায় করা মাকরূহ। বিজ্ঞ ব্যাখ্যাকার এর কারণ এখানে যা বর্ণিত হয়েছে তা দিয়েই ব্যাখ্যা করেছেন যে—বিলম্ব করা একটি গুনাহ, তাই তা প্রকাশ করা যাবে না। এর বাহ্যিক দিকটি হলো: যা নিষিদ্ধ তা হলো অন্যের গোচরীভূত করে কাজা আদায় করা, চাই তা মসজিদে হোক বা অন্য কোথাও, যেমনটি "আল-মিনাহ" গ্রন্থে (৩) তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
আমি বলি: দৃশ্যত এখানে "উচিত" শব্দটি ওয়াজিব বা আবশ্যকতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এই মাকরূহ হওয়াটি হলো "মাকরূহে তাহরিমি"; কারণ গুনাহ প্রকাশ করা নিজেই একটি গুনাহ। সমাপ্ত (৪)।
--------------------------------------------