(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: -)
الإنصاف في حكم الإعتكاف   (أبو الحسنات اللكنوي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الإنصاف في حكم الاعتكاف، ومعه الإسعاف بتحشية الإنصاف - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (6)

المؤلف: محمد عبد الحي بن محمد عبد الحليم الأنصاري اللكنوي الهندي، أبو الحسنات (ت 1304 هـ)

حققه وخرج نصوصه وعلق عليه: مجد بن أحمد مكي

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الثالثة، 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 49

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1436

ই’তিকাফের বিধানের ক্ষেত্রে ইনসাফ (আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ই’তিকাফ)   (আবুল হাসানাাত আল-লাখনভী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ই’তিকাফ, এবং এর সাথে আল-ইসআফ বি-তাহশিয়াতিল ইনসাফ - মাসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠকের ধারাবাহিক (৬)

লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল হাই বিন মুহাম্মদ আব্দুল হালীম আল-আনসারী আল-লাখনভী আল-হিন্দী, আবুল হাসানাাত (মৃ. ১৩০৪ হি.)

তাহকীক (تحقيق), তাখরীজ (تخريج) ও টীকা প্রদানকারী: মাজদ বিন আহমদ মাক্কী

প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২০ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (6)

 

الإنصاف في حكم الاعتكاف

تأليف

الإمام أبي الحنات محمد عبد الحي اللكنوي الهندي ولد 1264 وتوفي 1304 هـ رحمه الله تعالى

 

ومعه

الإسعاف بتحشية الإنصاف

تأليف

الشيخ محمد عبد الغفور الرمضانفوري ولد 1270 وتوفي 1348 هـ رحمه الله تعالى

 

حققه وخرج نصوصه وعلق عليه

مجد بن أحمد مكي

 

دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠক (৬)

 

আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ (ইতিকাফের বিধানের ক্ষেত্রে ইনসাফ)

রচনায়

ইমাম আবুল হাসানাত মুহাম্মদ আব্দুল হাই লখনভি আল-হিন্দি, জন্ম ১২৬৪ এবং মৃত্যু ১৩০৪ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

 

এবং এর সাথে আছে

আল-ইসআফ বি-তাহশিয়াতিল ইনসাফ (আল-ইনসাফ গ্রন্থের টীকা সংবলিত সাহায্যকারী)

রচনায়

শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল গফুর রামদানপুরী, জন্ম ১২৭০ এবং মৃত্যু ১৩৪৮ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

 

পাণ্ডুলিপি যাচাই (تحقيق), মূল পাঠের সূত্র বিশ্লেষণ (تخريج) ও টীকা প্রদান (تعليق) করেছেন

মাজদ বিন আহমদ মক্কি

 

দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়াহ
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২)
الإنصاف في حُكم الإعتكاف

ويليه

ردع الإخوان عن محدثات آخر جمعة رمضان
ইতিকাফের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে ইনসাফপূর্ণ সিদ্ধান্ত

এবং এর পরবর্তী অংশ

রমজানের শেষ জুমুআর নবআবিষ্কৃত বিষয়াবলি (محدثات) থেকে ভাইদেরকে সতর্কীকরণ
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ৩)
حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولى في لكنو من الهند سنة 1303

الطبعة الثانية في لكنو أيضًا من الهند سنة 1337

الطبعة الثالثة وهي المحققة في بيروت سنة 1420 هـ - 1999 م

 

دار البشائر الإِسلاميّة للطباعة والنشر والتوزيع

هاتف:702857 - فاكس: 704963/ 009611

بيروت - لبنان ص ب: 5955/ 14

 

e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ: লখনউ, ভারত, ১৩০৩ হিজরি

দ্বিতীয় সংস্করণ: লখনউ, ভারত, ১৩৩৭ হিজরি

তৃতীয় সংস্করণ, যা একটি সম্পাদিত (المحققة) সংস্করণ, বৈরুত, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা

ফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩ / ০০৯৬১-১

বৈরুত - লেবানন, পি.ও. বক্স: ১৪/৫৯৫৫

 

ইমেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المعتني بالكتاب

الحمدُ لله رب العالمين، والصلاة والسَّلامُ على خاتم النبيِّين وإمام المرسلين، سيِّدنا محمَّد وآله وصحبه أجمعين، ومَن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدّين.

أما بعد؛ ففي رحاب البيت العتيق، وفي الليالي العشْرِ الأواخر من شهر رمضان، نجتمعُ في كلِّ عامٍ مع نخبةٍ من أهل العلم والخير والبرّ، ونتدارسُ في مباحث العلم، ويتكرَّرُ هذا اللقاء في كلِّ عام، وَتَتَّسع هذه الحلقة المباركة، وتتوثَّق أواصر الأُخوَّة والأُلْفَةِ والمحبَّة، وتتعمَّق روابط المودَّة والتناصح والتراحم والتعاون.

وقد اتَّفق هؤلاء الأصحاب الكرام (1) على إصْدار رسائل علمِية تُقْرأ في تلكَ المجالس المباركة، وينتفع بها الإِخوة الصَّالحون المحبُّون، الذين يفدون إلى المسجد الحرام في العشر الأخير من شهر رمضان، فكانت سُنةً حسنةً، وعملًا مباركًا، وعلمًا نافعًا مفيدًا.

--------------------------------------------

(1) وفي مقدمتهم: الأخ الفاضل العالم الداعية الشيخ نظام يعقوبي البحريني، والأخ الكريم الباحث الدؤوب الشيخ محمَّد بن ناصر العجمي الكويتي، والأخ الحبيب الناشر المتقن الأستاذ رمزي دمشقية صاحب "دار البشائر الإِسلامية".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌গ্রন্থের তত্ত্বাবধায়কের (المعتني بالكتاب) ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী (خاتم النبيِّين) ও রাসূলগণের ইমাম (إمام المرسلين) আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি, আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের প্রতি।

অতঃপর; পবিত্র কাবা গৃহের প্রাঙ্গণে, রমজান মাসের শেষ দশকে প্রতি বছর আমরা একদল বিদগ্ধ আলেম, সৎ ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের সাথে একত্রিত হই এবং ইলমি বিষয়াদি নিয়ে পঠন-পাঠন ও আলোচনা করি। প্রতি বছরই এই সাক্ষাতের পুনরাবৃত্তি ঘটে, বরকতময় এই মজলিস আরও বিস্তৃত হয় এবং এর ফলে ভ্রাতৃত্ব, সখ্যতা ও ভালোবাসার বন্ধন সুদৃঢ় হয়। সেই সাথে গভীর হয় হৃদ্যতা, পরস্পরকে নসিহত করা, দয়া ও সহযোগিতার সম্পর্ক।

এই সম্মানিত সঙ্গীগণ (১) এমন কিছু ইলমি গবেষণাপত্র (رسائل علمية) প্রকাশের ব্যাপারে একমত হয়েছেন যা সেই বরকতময় মজলিসগুলোতে পাঠ করা হবে। এর মাধ্যমে সেই সকল পুণ্যবান ও অনুরাগী ভাইয়েরা উপকৃত হবেন যারা রমজানের শেষ দশকে মসজিদুল হারামে আগমন করেন। এটি একটি উত্তম রীতি (سنة حسنة), বরকতময় কাজ এবং অত্যন্ত উপকারী ও কল্যাণকর ইলম হিসেবে গণ্য হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন: বিজ্ঞ আলেম ও দাঈ শ্রদ্ধেয় ভাই শেখ নিজাম ইয়াকুবি আল-বাহরাইনি, অক্লান্ত গবেষক শ্রদ্ধেয় ভাই শেখ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি আল-কুয়েতি এবং নির্ভরযোগ্য প্রকাশক প্রিয় ভাই উস্তাদ রামজি দিমাস্কিয়াহ, যিনি 'দার আল-বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ'-এর স্বত্বাধিকারী।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ৬)
فاخترتُ رسالتين من رسائل الإِمام محمَّد عبد الحي اللكنوي رحمه الله تعالى، لهما ارتباط وثيق بمناسبة هذا الشهر المبارك.

وأما الرسالة الأولى فعنوانها: "رَدع الإِخوان عن مُحْدَثات آخرِ جمعةِ رمضان"، وقد انتهيتُ بفضلِ الله وعونه من خدمتها والعنايةِ اللائقةِ بها.

وأما الرسالة الثانية، فهذه التي بين يديك، وعنوانها: "الإِنصاف في حكم الاعتكاف"، ومعها: "الإِسعاف بتحشية الإِنصاف" لتلميذ المؤلف الشيخ محمَّد عبد الغفور الرَّمْضانفوري.

وأتكلَّم بين يدي هاتين الرسالتين بكلمةٍ موجزة عن الاعتكاف، ثم عن موضوع هاتين الرسالتين، ثم التعريف بصاحب الحاشية، وخدمتي لهما.

وأسألُ الله سبحانه التوفيق لِمَحَابِّه، وخدمة كتابِهِ، وسنَّة نبيِّه صلى الله عليه وسلم، إنَّه نعْمَ المولى والنَّصير.

 

‌‌حِكمةُ الاعتكاف:

قال الإِمام ابن القيِّم رحمه الله تعالى: "لمَّا كان صلاحُ القلب واستقامتُه على طريق سَيْره إلى الله تعالى، متوقِّفًا على جمعيَّتِهِ على الله، ولمِّ شعثه بإقباله بالكليَّة على الله تعالى؛ فإنَّ شَعَثَ القلب لا يَلُمُّه إلَّا الإِقْبالُ على الله تعالى، ولمَّا كان فُضُولُ الطَّعام والشَّراب، وفُضولُ مخالطة الأنام، وفضولُ الكلام، وفضولُ المنام، ممَّا يزيده شَعَثًا، ويُشَتِّتُهُ في كلِّ واد، ويقطعه عن سَيْره إلى الله تعالى، أو يُضعِفُهُ، أو يعوقُه ويوقِفُه: اقْتَضَتْ رحمة العزيز الرحيم بعباده أنْ شَرَعَ لهم من الصَّوم ما
আমি ইমাম মুহাম্মদ আব্দুল হাই লখনভি (রহ.)-এর রিসালাসমূহ থেকে দুটি রিসালা নির্বাচন করেছি, যেগুলোর এই বরকতময় মাসের বিশেষ মুহূর্তের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

প্রথম রিসালাটির শিরোনাম হলো: "রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাতু আখিরি জুমুআতি রমজান", আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্যে আমি এটির খেদমত এবং যথাযথ তত্ত্বাবধানের কাজ সম্পন্ন করেছি।

আর দ্বিতীয় রিসালাটি বর্তমানে আপনার সম্মুখে রয়েছে, যার শিরোনাম: "আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ"; এর সাথে রয়েছে লেখকের ছাত্র শেখ মুহাম্মদ আব্দুল গফুর রমজানপুরী কর্তৃক লিখিত টিকাগ্রন্থ "আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতি আল-ইনসাফ"।

এই রিসালা দুটির প্রারম্ভে আমি ইতিকাফ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করব, অতঃপর রিসালা দুটির বিষয়বস্তু, এরপর টিকাকারের পরিচয় এবং এগুলোর সম্পাদনায় আমার কাজের বিবরণ তুলে ধরব।

আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর প্রিয় আমলসমূহের তৌফিক এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর নবী (সা.)-এর সুন্নাহর খেদমত করার প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক ও সাহায্যকারী।

 

‌‌ইতিকাফের হিকমত বা তাৎপর্য:

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন: "যেহেতু অন্তরের সংশোধন এবং আল্লাহ তাআলার অভিমুখে তার যাত্রাপথে অবিচল থাকা নির্ভর করে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ একাগ্রতা এবং সর্বতোভাবে তাঁর অভিমুখী হয়ে হৃদয়ের বিক্ষিপ্ততাকে দূর করার ওপর; কেননা অন্তরের এই অস্থিরতা বা বিচ্যুতি আল্লাহ তাআলার অভিমুখী হওয়া ছাড়া অন্য কিছুতে দূরীভূত হয় না। আর যেহেতু অতিরিক্ত পানাহার, মানুষের সাথে অধিক মেলামেশা, অনর্থক কথাবার্তা ও অতিরিক্ত ঘুম অন্তরের এই বিক্ষিপ্ততাকে আরও বাড়িয়ে দেয়, তাকে সকল উপত্যকায় উদভ্রান্ত করে ফেলে এবং আল্লাহ তাআলার অভিমুখে চলার পথে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় অথবা তাকে দুর্বল কিংবা বাধাগ্রস্ত ও স্থবির করে দেয়; তাই স্বীয় বান্দাদের প্রতি পরাক্রমশালী ও দয়াময় আল্লাহর করুণার দাবি হলো যে, তিনি তাদের জন্য সিয়াম বা রোজা পালন বিধিবদ্ধ করেছেন যা..."
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ৭)
يُذهبُ فضولَ الطعام والشراب، ويستفرغُ من القلبِ أخلاطَ الشَّهوات المعوِّقة له عن سَيْره إلى الله تعالى، وشَرَعَهُ بقدر المصلحة، بحيث ينتفعُ به العبد في دنياه وأُخراه، ولا يضرُّه ولا يقطعُهُ عن مصالحه العاجلة والآجلة.

وشَرَعَ لهم الاعتكاف الذي مقصودُه وروحُه عكوفُ القلب على الله تعالى، وجمعيَّتُهُ عليه، والخَلْوةُ به، والانقطاعُ عن الاشتغال بالخلق، والاشتغالُ به وحدَهُ سبحانه، بحيث يصيرُ ذكرُهُ وحبُّه والإِقبالُ عليه في مَحَلِّ هموم القلب وخَطَراته، فيستولي عليه بدلَها، ويصيرُ الهمُّ كلُّه به، والخطراتُ كلُّها بذكره، والتفكُّرُ في تحصيل مراضيه، وما يقرِّب منه، فيصيرُ أُنْسُهُ بالله بدلًا من أُنسِهِ بالخَلْق، فيعدُّه بذلك لأنسه به يوم الوَحْشة في القبور حين لا أنيسَ له، ولا ما يفرحُ به سِواه، فهذا مَقْصود الاعتكاف الأعظم" (1).

"فالخَلْوةُ المشروعة لهذه الأُمَّة هي الاعتكاف في المساجد، خصوصًا في شهر رمضان، خصوصًا في العشر الأواخر منه، كما كان النبيُّ صلى الله عليه وسلم يفعله. فالمعتكفُ قد حَبَسَ نفسَه على طاعة الله وذكرِهِ، وقطع عن نفسه كلَّ شاغل يشغلُهُ عنه، وعَكَفَ بقلبه وقالَبِهِ على ربِّه وما يقرِّبه منه، فما بقيَ له همٌّ سوى الله عز وجل وما يرضيه عنه.

فمعنى الاعتكاف وحقيقته: قَطْعُ العلائق عن الخلائق للاتصال بخدمة الخالق" (2).

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد 2: 86 - 87.

(2) لطائف المعارف، لابن رجب الحنبلي ص 348 - 349 بتصرف واختصار.
ইহা পান ও আহারের আতিশয্য দূর করে এবং অন্তর হতে সেই সকল কামনাবাসনার সংমিশ্রণকে নিষ্কাশিত করে যা মহান আল্লাহর দিকে তার গমনে বাধা প্রদান করে। তিনি একে কল্যাণের পরিমাণ অনুযায়ী বিধিবদ্ধ করেছেন, যাতে বান্দা এর দ্বারা দুনিয়া ও আখেরাতে উপকৃত হয় এবং তা যেন তার কোনো ক্ষতি না করে কিংবা তার তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী কল্যাণ হতে তাকে বিচ্ছিন্ন না করে।

আর তিনি তাদের জন্য ইতিকাফ বিধিবদ্ধ করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ও প্রাণ হলো মহান আল্লাহর প্রতি হৃদয়ের একাগ্রতা, তাঁর প্রতি মনঃসংযোগ, তাঁর সাথে নির্জনতা যাপন এবং সৃষ্টির ব্যস্ততা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল তাঁরই স্মরণে নিমগ্ন হওয়া; যেন তাঁর যিকির, মহব্বত ও তাঁর অভিমুখী হওয়াই হৃদয়ের সকল দুশ্চিন্তা ও ভাবনার স্থলাভিষিক্ত হয়। ফলে হৃদয়ের সাধারণ চিন্তা ও উদ্বেগের পরিবর্তে এগুলোই সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে এবং সকল ভাবনা কেবল তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর নৈকট্য লাভের উপায়সমূহ নিয়েই সকল চিন্তা নিবিষ্ট হয়। এর মাধ্যমে সৃষ্টির সান্নিধ্যের পরিবর্তে আল্লাহর সান্নিধ্যই তার নিকট প্রীতিকর হয়ে ওঠে, যা তাকে কবরের সেই ভয়াবহ একাকীত্বের দিনে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য প্রস্তুত করে তুলবে যখন তিনি ছাড়া আর কোনো সঙ্গী বা আনন্দদাতা থাকবে না। এটিই হলো ইতিকাফের মহান লক্ষ্য (১)।

“এই উম্মতের জন্য বিধিবদ্ধ নির্জনতা হলো মসজিদে ইতিকাফ করা, বিশেষ করে রমজান মাসে এবং বিশেষভাবে এর শেষ দশকে, যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। সুতরাং ইতিকাফকারী ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর যিকিরের জন্য আবদ্ধ করে নেয় এবং তাঁর থেকে বিমুখকারী সকল ব্যস্ততা হতে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে। সে তার অন্তর ও দেহ নিয়ে তার রবের প্রতি এবং যা তাকে রবের নিকটবর্তী করে তার প্রতি নিবিষ্ট হয়। ফলে মহান আল্লাহ এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া তার আর কোনো চিন্তা অবশিষ্ট থাকে না।

ইতিকাফের মর্মার্থ ও হাকীকত হলো: সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্যে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা” (২)।

--------------------------------------------

(১) যাদুল মাআদ ২: ৮৬ - ৮৭।

(২) লাতায়েফুল মাআরিফ, ইবনে রজব হাম্বলী, পৃ. ৩৪৮ - ৩৪৯ পরিমার্জিত ও সংক্ষেপিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌رسالة اللكنوي "الإِنصاف في حكم الاعتكاف":

حفلت كتب الفقه بالحديث عن أحكام الاعتكاف وأدلة مشروعيته، وشروط صحته، وأركانه، ومُبْطلاته، وما يشرع للمعتكف وما يُباح له وما يُنهى عنه، وأُفردت مؤلَّفات قديمة وحديثة تتحدَّث عن أحكامه بشمول واستيعاب أو عن بعض جزئياته.

ومن هذه المؤلَّفات: رسالة الإِمام اللكنوي "الإِنصاف في حكم الاعتكاف" وهي تبحث في موضوع واحد، وهو: حكم الاعتكاف.

 

‌‌سببُ تأليف الرسالة وتاريخ كتابتها:

والذي دعاه إلى تأليف هذه الرسالة مباحثة علمية جَرَتْ بينه وبين بعضِ الفضلاء سنة 1282 - وكان سنُّه آنذاك 18 سنة- في حكم الاعتكاف، وتكلَّم كلٌّ منهما بما خطر على خاطره، دون تحقيق المسألة بالرجوع إلى كتب الفقه المعتمدة، فقامَ المؤلِّف رحمه الله تعالى بدراسة المسألة وبحثها، والتفتيش في كتب الفقه وحَرْثِها، وبيَّن باستيعاب حكم الاعتكاف. وكان فراغُهُ من تأليفها في التاسع من شهر رمضان سنة 1284، وله من العمر عشرون عامًا رحمه الله تعالى.

 

‌‌مباحث الرسالة:

بحثَ المؤلِّف رحمه الله تعالى حكم الاعتكاف في ست مقامات:

المقام الأول: هل الاعتكاف مستحب أو سنَّة أو مباح أو واجب؟

المقام الثاني: هل هو سنَّة مؤكَّدة، أو غير مؤكَّدة؟

المقام الثالث: هل هو سنَّة مؤكَّدة كفاية أم عينًا؟
ইমাম লাখনভির রিসালা "আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ":

ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ ইতিকাফের বিধানাবলি, এর বৈধতার দলিলসমূহ, এর শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি (شروط صحته), এর রুকনসমূহ (أركانه), এর বাতিলকারী বিষয়সমূহ (مُبْطلاته) এবং ইতিকাফকারীর জন্য যা বিধিবদ্ধ, যা বৈধ এবং যা নিষিদ্ধ তা নিয়ে পরিপূর্ণ। এর বিধানাবলি নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করে অথবা এর বিশেষ কিছু দিক নিয়ে প্রাচীন ও আধুনিক অনেক স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে।

এই গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো ইমাম লাখনভির রিসালা "আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ"। এটি একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, আর তা হলো: ইতিকাফের বিধান।

 

রিসালাটি রচনার কারণ এবং এটি লেখার তারিখ:

এই রিসালাটি রচনার পেছনে যে বিষয়টি তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো ১২৮২ হিজরিতে ইতিকাফের বিধান নিয়ে তাঁর এবং কতিপয় গুণী ব্যক্তির মধ্যে সংঘটিত একটি তাত্ত্বিক আলোচনা—তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই (تحقيق) না করেই তাঁরা প্রত্যেকে যার যার মনে যা এসেছিল তা নিয়েই কথা বলেছিলেন। অতঃপর লেখক (রহমাতুল্লাহি তাআলা) বিষয়টি অধ্যয়ন ও গবেষণা করেন এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ তন্ন তন্ন করে তালাশ করেন ও ইতিকাফের বিধান সবিস্তারে বর্ণনা করেন। ১২৮৪ হিজরির ৯ই রমজান তিনি এটি লেখা শেষ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর (রহমাতুল্লাহি তাআলা)।

 

রিসালার আলোচ্য বিষয়সমূহ:

লেখক (রহমাতুল্লাহি তাআলা) ইতিকাফের বিধান সম্পর্কে ছয়টি স্তরে আলোচনা করেছেন:

প্রথম স্তর: ইতিকাফ কি মুস্তাহাব (مستحب) নাকি সুন্নাত (سنَّة), মুবাহ (مباح) নাকি ওয়াজিব (واجب)?

দ্বিতীয় স্তর: এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنَّة مؤكَّدة) নাকি সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা (غير مؤكَّدة)?

তৃতীয় স্তর: এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া (سنَّة مؤكَّدة كفاية) নাকি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আয়িন (عينًا)?
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ৯)
المقام الرابع: هل هو سُنَّة كفاية على أهل البلدة، أم على أهل كل محلة؟

المقام الخامس: هل هو سُنَّةٌ مؤكَّدة مُطْلقًا أم في رمضان؟

المقام السادس: هل السُّنَّة استيعاب العَشْر الأواخر من رمضان بالاعتكاف؟ أم الاعتكاف في جُزْءٍ منه؟

وقد أجاب عن كلِّ هذه التساؤلات باستيعابٍ وشمولٍ واستقصاءٍ.

وتتجلَّى في هذه الرسالة الصَّغيرة -كسائر رسائل اللكنويّ-: التتبع والدقة والأناة والإِنصاف.

فهو في هذه الرسالة يرجع إلى أكثر من عشرين مرجعًا من مراجع الفقه الحنفي، ويناقش فيها الكثيرَ من الأقوال. فقد ناقش عبارة القُدوري بقوله باستحباب الاعتكاف، وأنَّه يُحمل قوله على استحبابه في نفسه، والسُّنيَّةُ في الاعتكاف بالعشر الأواخر.

وناقش قولَ مَنْ يرى الوجوب بدليل مواظبة النبيِّ صلى الله عليه وسلم؛ بأنَّ المواظبة مع عدم الإِنكار على مَنْ تَرَكَه دليل السُّنيَّة.

وناقش قولَ من يرى أنَّ الاعتكاف له نوع اختصاص بالنبيِّ صلى الله عليه وسلم، وأنَّه مندوب للأمة. وردَّ على من صحَّح القول بأنه سنَّة عين لا سنَّة كفاية.

وانتهى إلى أن: الاعتكاف في نفسه مستحبٌّ، ويجبُ بالنذر وغيره، وهو سنَّة مؤكَّدة كفاية في العشر الأواخر من رمضان على سبيل الاستيعاب.
চতুর্থ বিষয়: এটি কি শহরের অধিবাসীদের জন্য সুন্নাতে কিফায়া (سنة كفاية), নাকি প্রতিটি মহল্লার অধিবাসীদের জন্য?

পঞ্চম বিষয়: এটি কি সাধারণভাবে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة), নাকি শুধু রমজান মাসে?

ষষ্ঠ বিষয়: সুন্নাহ (سنة) কি রমজানের শেষ দশ দিন পূর্ণভাবে ইতিকাফ করা? নাকি এর একাংশে ইতিকাফ করা?

তিনি এই সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অত্যন্ত ব্যাপকতা, পূর্ণতা এবং সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের সাথে।

লখনভি-র অন্যান্য পুস্তিকার মতোই এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটিতেও তাঁর তাত্ত্বিক অনুসন্ধান, নির্ভুলতা, ধৈর্য এবং নিরপেক্ষতা ফুটে উঠেছে।

এই পুস্তিকায় তিনি হানাফি ফিকহের বিশটিরও বেশি মূলগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং অনেকগুলো মত নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি কুদুরি-র ইতিকাফ মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার বক্তব্যটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে, তাঁর বক্তব্যটি ইতিকাফের মৌলিক হুকুম মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা হবে, আর রমজানের শেষ দশ দিনের ইতিকাফের ক্ষেত্রে এটি সুন্নাহ (سنة)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়মিত আমলের দলিলের ভিত্তিতে যারা ইতিকাফকে ওয়াজিব (وجوب) মনে করেন, তাদের বক্তব্য নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন; তিনি বলেছেন যে, কোনো আমল নিয়মিত করা এবং তা বর্জনকারীর প্রতি অস্বীকৃতি বা নিন্দা প্রকাশ না করা হলো সেটি সুন্নাহ (سنية) হওয়ার প্রমাণ।

তিনি সেই মতটিও আলোচনা করেছেন যারা মনে করেন যে, ইতিকাফের বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট ছিল এবং উম্মতের জন্য এটি মানদুব (مندوب)। আর যারা এই মতটিকে সহিহ (صح) বলেছেন যে, এটি সুন্নাতে আইন (سنة عين), সুন্নাতে কিফায়া (سنة كفاية) নয়—তিনি তাদেরও জবাব দিয়েছেন।

পরিশেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে: ইতিকাফ মৌলিকভাবে মুস্তাহাব (مستحب), মানত ও অন্যান্য কারণে এটি ওয়াজিব (يجب) হয় এবং রমজানের শেষ দশ দিন পূর্ণ সময়ব্যাপী ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া (سنة مؤكدة كفاية)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌حاشية الرسالة "الاِسعاف" وترجمة مؤلِّفها:

قام تلميذ المؤلف الشيخ محمَّد عبد الغفور الرمضانفوري بتحشية رسالة شيخه الإِمام اللكنوي في حياته وسمَّاها: "الإِسعاف بتحشية الإِنصاف"، وكان انتهاؤه من كتابة تعليقاته في ربيع الأول سنة 1302.

وقد أحال في كثير من تعليقاته إلى كتب المؤلِّف اللكنوي مثل: "تحفة الأخيار في إحياء سُنَّة سيِّد الأبرار"، وتعليقاته عليها: "نُخْبة الأنظار"، و"السِّعاية في كشف ما في شرح الوقاية"، و"عُمْدة الرعاية في حل شرح الوقاية"، و"النافع الكبير لمن يُطالع الجامع الصغير". وترجم للأعلام المذكورين في الرسالة اعتمادًا على كتب اللكنوي في التراجم، وفي مقدمتها: "الفوائد البهيَّة في تراجم الحنفية"، و"التعليقات السنية"، و "طَرَب الأماثل بتراجم الأفاضل"، و"فَرْحة المدرسين بذكر المؤلَّفات والمؤلِّفين". كما أكثر من النقل من "فتح الباري" لابن حجر.

وأما ترجمة تلميذ المؤلف الشيخ محمَّد عبد الغفور الرمضانفوري فهي، كما وردت في كتاب "نزهة الخواطر" (1) للعلَّامة المؤرِّخ الشيخ عبد العلي الحسني رحمه الله تعالى:

"الشيخ العالم الفقيه عبد الغفور الرَّمْضَانفوري البهاري، أحد العلماء المشهورين، وُلد في سنة سبعين ومائتين وألف بقرية: (رمضان فور) من أعمال (مونكير)، واشتغل أيامًا على المولوي إسماعيل الرَّمْضانفوري، والشيخ محمَّد أحسن الكيلاني (2).

--------------------------------------------

(1) 8: 289.

(2) المتوفى سنة 1301 رحمه الله تعالى، انظر ترجمته في: "النزهة" 8: 431 - 432.
"আল-ইসআফ" পুস্তিকাটির টীকা এবং এর লেখকের জীবনী:

লেখকের শিষ্য শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল গফুর রামদানপুরী তাঁর উস্তাদ ইমাম লাখনবীর জীবদ্দশায় তাঁর এই পুস্তিকাটির টীকা লিখেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: "আল-ইসআফ বি-তাহশিয়াতি আল-ইনসাফ"। তিনি ১৩০২ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে তাঁর এই টীকা লিখন সমাপ্ত করেন।

তিনি তাঁর বহু টীকায় লেখক লাখনবীর বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যেমন: "তুহফাতুল আখইয়ার ফি ইহয়ায়ি সুন্নাতি সাইয়্যিদিল আবরার" এবং এর উপর তাঁর করা টীকা "নুখবাতুল আনজার", "আস-সিআয়াহ ফি কাশফি মা ফি শারহিল বিকায়াহ", "উমদাতুর রিআয়াহ ফি হাল্লি শারহিল বিকায়াহ" এবং "আন-নাফেউল কাবির লিমান ইউতালিউল জামিউস সাগির"। তিনি পুস্তিকাটিতে বর্ণিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে জীবনী সাহিত্যের ওপর রচিত লাখনবীর গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো: "আল-ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ", "আত-তালিকাতুস সুন্নিইয়াহ", "তারাবুল আমাছিল বি-তারাজিমিল আফাদিল" এবং "ফারহাতুল মুদাররিসিন বি-জিক্রিল মুআল্লাফাত ওয়াল মুআল্লিফিন"। এছাড়া তিনি ইবনে হাজারের "ফাতহুল বারি" থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

আর লেখকের শিষ্য শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল গফুর রামদানপুরীর জীবনী সম্পর্কে ঐতিহাসিক আল্লামা শায়খ আব্দুল হাই হাসানী (রহ.)-এর "নুজহাতুল খাওয়াতির" (১) গ্রন্থে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে:

"প্রসিদ্ধ (مشهور) আলেমগণের অন্যতম শায়খ, আলেম ও ফকিহ (فقيه) আব্দুল গফুর রামদানপুরী বিহারী; তিনি ১২৭০ হিজরীতে মুঙ্গের অঞ্চলের অন্তর্গত রামদানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কিছুদিন মৌলভী ইসমাইল রামদানপুরী ও শায়খ মুহাম্মদ আহসান কিলানি (২)-এর নিকট জ্ঞানার্জন করেন।

--------------------------------------------

(১) ৮: ২৮৯।

(২) তিনি ১৩০১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন; তাঁর জীবনী দেখুন: "নুজহাতুল খাওয়াতির" ৮: ৪৩১ - ৪৩২।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১১)
ثم سافر إلى (لكنو)، وأخذ عن العلامة عبد الحي بن عبد الحليم الأنصاري اللكنوي، ثم سار إلى (سهارنفور) وأخذ الحديث عن الشيخ أحمد علي بن لطف الله السَّهارنفوري (1) المحدِّث، ثم رجع إلى بلاده.

وله مصنَّفات منها: "الإِسعاف حاشية الإِنصاف"، و"تسهيل المتأمِّل"، و"شرح التهذيب"، و"عمدة المفاسد"، و"مفيد الأحناف"، في مبحث السلام، ورسالة في سُجود السهو، و"خُلاصة المُفْردات"، وله غير ذلك من الرسائل". انتهى.

ولم يذكر وفاته، وجاء ذكر وفاته سنة ثمان وأربعين وثلاثمائة وألف من الهجرة، في كتاب "الإِمام عبد الحي اللكنوي" (2) لوليِّ الدين الندوي، عن ثمان وسبعين عامًا رحمه الله تعالى.

 

‌‌كلمة عن أصول الرسالتين وعملي فيهما:

طُبِعت هذه الرسالة مع حاشيتها في حياة المؤلِّف رحمه الله تعالى بالطباعة الحَجَرية، بحروف دقيقة ناعمة، وحواشٍ كثيرة متداخلة، بالمطبع المُصْطفاني سنة 1303 ضمن مجموعة الرسائل الخمسة، في سبع صفحات من ص 86 - 92.

والطبعة الثانية التي وقفت عليها طبعة حجرية أيضًا صدرت سنة 1337 في المطبع اليوسفي للحاج المفتي محمَّد يوسف في عشر صفحات، ضمن مجموعة الرسائل الخمسة أيضًا من ص 116 - 125.

وعن هاتين الطبعتين أَنْشُرُ هاتين الرسالتين.

--------------------------------------------

(1) المتوفى سنة 1297 بمدينة سهارنفور، انظر ترجمته في: "النزهة" 7: 50.

(2) ص 136.
এরপর তিনি (লখনউ) সফর করেন এবং আল্লামা আব্দুল হাই ইবনে আব্দুল হালিম আনসারী লখনভী-এর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর তিনি (সাহারানপুর) গমন করেন এবং মুহাদ্দিস (المحدث) শায়খ আহমদ আলী ইবনে লুতফুল্লাহ সাহারানপুরী (১)-এর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন।

তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: "আল-ইসআফ হাশিয়া আল-ইনসাফ", "তাসহিলুল মুতাআম্মিল", "শারহুত তাহযিব", "উমদাতুল মাফাসিদ", এবং সালামের অধ্যায় বিষয়ক "মুফীদুল আহনাফ", সিজদায়ে সাহু বিষয়ক একটি রিসালা (رسالة) এবং "খুলাসাতুল মুফরাদাত"। এছাড়াও তাঁর আরও অনেক রিসালা (رسالة) রয়েছে। সমাপ্ত।

তিনি তাঁর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেননি। ওলিউদ্দিন নদভী রচিত "আল-ইমাম আব্দুল হাই লখনভী" (২) কিতাবে তাঁর মৃত্যুসন ১৩৪৮ হিজরি উল্লেখ করা হয়েছে। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৮ বছর। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

 

‌‌রিসালা (رسالة) দুটির মূল উৎস এবং এ দুটিতে আমার কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু কথা:

এই রিসালাটি (رسالة) তার টীকা বা হাশিয়া (حاشية) সহ লেখক (رحمه الله تعالى)-এর জীবদ্দশায় ১৩০৩ হিজরিতে লিথোগ্রাফি বা পাথর মুদ্রণ পদ্ধতিতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম অক্ষরে এবং অনেকগুলো পরস্পরসম্পর্কিত হাশিয়া (حاشية) সহ 'মাতবা আল-মুসতাফানি'-তে মুদ্রিত হয়েছিল। এটি 'মাজমুআতুর রাসায়িল আল-খামসাহ' (পাঁচটি রিসালার সংকলন)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ৮৬ থেকে ৯২ পৃষ্ঠার মধ্যে মোট সাত পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল।

আমি যে দ্বিতীয় সংস্করণটি দেখেছি, সেটিও ছিল লিথোগ্রাফি পদ্ধতিতে মুদ্রিত, যা ১৩৩৭ হিজরিতে হাজি মুফতি মুহাম্মদ ইউসুফের 'মাতবা আল-ইউসুফি' থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এটিও উক্ত পাঁচটি রিসালার (رسالة) সংকলনে ১১৬ থেকে ১২৫ পৃষ্ঠার মধ্যে মোট দশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে।

আমি এই সংস্করণ দুটির উপর ভিত্তি করেই এই রিসালা (رسالة) দুটি প্রকাশ করছি।

--------------------------------------------

(১) তিনি ১২৯৭ হিজরিতে সাহারানপুর শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন: "আন-নুজহা", ৭: ৫০।

(২) ১৩৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১২)
وأما عملي فيهما، فهو بين يدي القاريء، فقد فصَّلت مقاطعهما وجملهما، ونسَّقت الحواشي مع الأصل، واعتنيتُ بعلامات الترقيم والضبط، حتى أصبحت سهلة التناول قريبة الفهم.

ورجعتُ إلى كثيرٍ من المصادر التي رَجَع إليها المؤلف، ولا سيَّما في حواشي "الإِسعاف"، وصححتُ بعض ما وقع فيها من تحريف.

وعلَّقت على مواضع يسيرة من الحاشية، التي استوعَبَتْ ما في الرسالة ولم تترك مبحثًا دون شرحٍ وتفصيل، فعلَّقت على الحاشية بعض التعليقات اليسيرة التي تزيدُها نفعًا وإفادة بعون الله تعالى.

ولم أترجم للمؤلِّف رحمه الله تعالى لشهرته وكثرةِ ما كُتب عنه، واقْتَصرت على ترجمة تلميذه محمَّد عبد الغفور الرَّمْضَانْفُوري.

ولم أصنع للرسالة فهارس علمية متنوِّعة لِصِغَرِها ويُسْرِ الوصول إلى فوائدها، واكتفيتُ بصنع فهرس عام لمحتوياتها.

وفي الختام: أسأل الله عز وجل أن يتقبَّل جهدي اليسير، في خدمة هاتين الرسالتين، ويرزقَني الإِخلاص في العلم والعمل، وكما أسأله سبحانه أن يرحمنا ويرحمَ والدينا ومشايخَنا وسائرَ المسلمين، ويغفرَ لنا ولإِخواننا الذين سبقونا بالإِيمان، ويلحقنا بالصالحين، والحمد لله رب العالمين، وصلَّى الله وسلَّم على سيِّدنا محمَّد وآله وصحبه أجمعين.

 

وكتبه

مجد بن أحمد مكي

الجمعة 23/ جمادى الأولى 1420
এবং এই দুইটিতে আমার কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গেলে, তা পাঠকের সামনেই বিদ্যমান। আমি এগুলোর অনুচ্ছেদ ও বাক্যগুলোকে বিন্যস্ত করেছি, মূল পাঠের সাথে পাদটীকাগুলোর সমন্বয় সাধন করেছি এবং বিরামচিহ্ন ও নির্ভুল স্বরচিহ্নের (ضبط) প্রতি যত্নবান হয়েছি, যাতে এটি সহজসাধ্য ও সহজবোধ্য হয়।

আমি এমন অনেক উৎসগ্রন্থের (مصادر) শরণাপন্ন হয়েছি যেগুলোর বরাত লেখক দিয়েছেন, বিশেষ করে 'আল-ইসআফ'-এর পাদটীকাগুলোতে; আর সেখানে যেসব বিকৃতি (تحريف) ঘটেছিল, তার কিছু সংশোধন করেছি।

আমি পাদটীকার কিছু সামান্য স্থানে টীকা যুক্ত করেছি, যা এই পুস্তিকার বিষয়বস্তুকে পূর্ণাঙ্গরূপে ধারণ করেছে এবং কোনো গবেষণার বিষয়কে (مبحث) ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ ছাড়া রাখেনি। আমি পাদটীকায় কিছু নগণ্য টীকা প্রদান করেছি যা আল্লাহর সাহায্যে এর উপকারিতা ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি করবে।

আমি লেখকের জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করিনি, কারণ তিনি অত্যন্ত সুপরিচিত এবং তাঁর সম্পর্কে প্রচুর লেখা হয়েছে। আমি কেবল তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ আবদুল গফুর রামদানপুরীর জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

পুস্তিকাটি ক্ষুদ্রাকৃতির হওয়াতে এবং এর জ্ঞানগর্ভ বিষয়গুলো সহজে খুঁজে পাওয়া সম্ভব বিধায় আমি এর জন্য কোনো তাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট (فهارس) তৈরি করিনি। আমি কেবল এর বিষয়বস্তুর একটি সাধারণ সূচিপত্র (فهرس) তৈরির মাধ্যমেই যথেষ্ট মনে করেছি।

পরিশেষে: আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই পুস্তিকা দুটির সেবায় আমার এই নগণ্য প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং আমাকে ইলম ও আমলে একনিষ্ঠতা (إخلاص) দান করেন। তেমনিভাবে আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের প্রতি, আমাদের পিতা-মাতা, আমাদের উস্তাদগণ এবং সকল মুসলমানের প্রতি রহম করেন; আমাদের এবং আমাদের সেইসব ভাইদের ক্ষমা করে দেন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছেন এবং আমাদের নেককারদের (صالحين) দলভুক্ত করেন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সহচরদের ওপর।

 

এটি লিখেছেন

মাজদ বিন আহমদ মক্কি

শুক্রবার, ২৩ জুমাদাল উলা, ১৪২০ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

لَكَ الحَمْدُ يا مَنْ هو مُسْتَجْمِعٌ لِكمَالِ الأوْصَاف، وأشهدُ أنْ لا إله إلَّا أَنْتَ لا شَريكَ لكَ في أطْرافِ العالَم والأكْناف، وَأُصلِّي وأُسلِّم على حَبيبِكَ محمدٍ المُجْتَبَى، أحمد المُصْطَفى، مُخْرجِ الأمَّةِ عن طريق الاعتِساف، وعلى صحبِهِ وآلهِ الأخيارِ والأشراف.

أما بعد؛ فيقول مَنْ لا صِنَاعةَ له إلَّا اكتسابُ الخطيئات، أبو الحَسَنات محمَّد، المدعو بعبد الحيِّ اللكنويِّ وطنًا، الأنْصاريِّ الأيوبيِّ القُطْبيِّ نَسَبًا، الحنفي مذهبًا، تَجَاوَزَ الله عن ذَنبِه الجليِّ والخفيِّ (1):

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

(1) بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لمن خَلَقَ الإِنسانَ وعلَّمه البيان، أشهد أنَّه لا إله إلَا هو وحدَهُ لا شريكَ له، خالقُ كلِّ كمينٍ ومَكَان، وأصلِّي وأسلِّم على رسوله محمدٍ سَيِّد الإِنْس والجانّ، وعلى آله وصحبِه والتابعين لهم بإحسانٍ، وبعد:

فيقول الراجي إلى رحمة ربِّه الشَّكور، محمَّد عبد الغفور الرمضانفوري، حفظه الله عن الشرِّ المعنوي والصُّوري:

هذه تعليقَاتٌ متفرِّقة، مُشْتَمِلَةٌ على فَوَائدَ مُتَشَتِّتة على رسالة المولى المحقِّق، =
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য হে সত্তা, যিনি সমস্ত পূর্ণ গুণের আধার। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, মহাবিশ্বের সকল প্রান্তে ও দিকে আপনার কোনো অংশীদার নেই। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি আপনার প্রিয় মুহাম্মদ মুজতবা, আহমদ মুস্তফার প্রতি, যিনি উম্মতকে বিচ্যুতি ও অবিচারের পথ থেকে বের করে এনেছেন, এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত বংশধর ও সহচরদের প্রতি।

অতঃপর; সেই ব্যক্তি বলছে যার পাপ অর্জন করা ছাড়া অন্য কোনো পুঁজি নেই, আবুল হাসনাত মুহাম্মদ, জন্মস্থানের নিসবতে যিনি আব্দুল হাই লখনভি নামে পরিচিত, বংশসূত্রে আনসারি আইয়ুবী কুতুবী, এবং মাযহাবগতভাবে হানাফি; আল্লাহ তার প্রকাশ্য ও গোপন সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন (১):

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইনসাফ গ্রন্থের টীকা সম্বলিত আল-ইসআফ]

(1) পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার জন্য, যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাব প্রকাশের ক্ষমতা শিক্ষা দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি প্রতিটি গোপন বস্তু ও স্থানের স্রষ্টা। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি মানব ও জিন জাতির সরদার, এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সহচরবৃন্দ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণের প্রতি। অতঃপর:

তাঁর অতি দানশীল রবের দয়ার প্রত্যাশী মুহাম্মদ আব্দুল গফুর রামদানপুরি বলছেন, আল্লাহ তাকে আত্মিক ও বাহ্যিক সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন:

এগুলো হলো গবেষক (محقق) মাওলানার রিসালার ওপর বিভিন্ন তাত্ত্বিক উপকারিতা সম্বলিত কিছু বিক্ষিপ্ত টীকা, =
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
قد جَرى النِّزاع (1) بيني وبين بعضِ الفُضَلاء سَنة اثنتين وثمانينَ بعد الألف والمائتين من هجرةِ رسول الثَّقَلَيْن صلَّى عليه وعلى آلِهِ رب المَشْرِقَيْن، في أنَّ الاعتكاف (2): هل هو سُنَّة مُؤَكَّدةٌ على

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= والأستاذ المدقِّق، دَامَ ظلُّه على رؤوس المستفيدين والمسترشدين، المسماة بـ: "الإنصاف في حكم الاعتكاف" سَمَّيتُها بـ:

"الإسعاف بتحشية الإِنْصاف"

وأرجُو مِنَ الله تعالى أنْ يتقبلَها بلُطْفِهِ العميم، ويجعلَها خالصةً لوجهِهِ الكريم.

(1) قوله (قد جَرى النزاع …) إلخ: كان ذلك في حَيدر آباد من بلاد الدَّكَن مُشَافهةً ومُكالمةً، وذلك بَعْدَمَا عَادَ إليه الأستاذ المُصَنِّف، لا زالتْ شمسُ أفضاله بازغةً، وأقمارُ فيوضِه سَاطعة، عن حجِّ بيت الله الحرام، وزيارةِ مسجدِ النبي عليه الصلاة والسلام مرةً أولى، وكان مُشتغلًا بتحصيلِ العلوم عند والده العلَّام المرحوم هناك.

(2) قوله (الاعتكاف): افتعالٌ من عَكَف، وهو لازمٌ من طَلَب (1)، فمصدره: العكوف، وهو اللزوم على الشَّيء خيرًا كان أو شرًّا، ومنه قوله تعالى: {فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ} (2).

ومُتَعدٍّ: من ضَرب، ومصدرُه: العكف، بمعنى الحَبْس والمنع، ومنه قوله تعالى: {وَالْهَدْيَ مَعْكُوفًا} (3)، ومنه: الاعتكاف في المسجد. لأنَّه حبْسٌ النفس ومنعه، سمِّي هذا النوع من العبادة؛ لأنَّه إقامة في المسجد مع شرائطه.

وفي الشَّرع: اللُّبْثُ والإِقامة في المسجد للعبادةِ من شخصٍ مخصوصٍ، بنيَّةٍ، بصفةٍ مخصوصة. =

_________

(1) يصحُّ في مضارعه: كسر عين الفعل وضمها: يَعْكُفُ، ويَعْكِفُ.

(2) سورة الأعراف، آية 138.

(3) سورة الفتح، آية 25.
قد جَرى النِّزاع (১) আমার এবং কতিপয় গুণী ব্যক্তির মাঝে মানব ও জিনজাতির রসূল—তাঁর এবং তাঁর বংশধরদের ওপর দুই উদয়াচলের রবের পক্ষ থেকে রহমত বর্ষিত হোক—তাঁর হিজরতের বারোশত বিরাশি হিজরি সনে এই মর্মে সংঘটিত হয় যে, ইতিকাফ (২): এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة)...

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসআফ বি-তাহশিয়াতিল ইনসাফ]

= এবং সূক্ষ্মদর্শী উস্তাদ, তাঁর ছায়া উপকৃত ও হেদায়েতপ্রত্যাশীদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী হোক, তাঁর "আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ" নামক গ্রন্থের ওপর আমি এই টীকা লিখেছি যার নামকরণ করেছি:

"আল-ইসআফ বি-তাহশিয়াতিল ইনসাফ"

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর অসীম অনুগ্রহে এটি কবুল করেন এবং একে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিসেবে গণ্য করেন।

(১) তাঁর উক্তি (বিতর্ক সংঘটিত হয় …) ইত্যাদি: এটি হায়দ্রাবাদ ডেকান অঞ্চলে মৌখিকভাবে এবং কথোপকথনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল। এটি সংঘটিত হয়েছিল লেখক উস্তাদ—তাঁর অনুগ্রহের সূর্য সর্বদা উদিত থাকুক এবং তাঁর ফয়েযের চন্দ্রসমূহ সর্বদা প্রজ্জ্বলিত থাকুক—পবিত্র বায়তুল্লাহর হজ এবং প্রথমবার নবীজির (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) মসজিদ যিয়ারত থেকে ফিরে আসার পর। তিনি সেখানে তাঁর মরহুম আল্লামা পিতার নিকট ইলম অর্জনে মগ্ন ছিলেন।

(২) তাঁর উক্তি (ইতিকাফ): এটি عَكَف (আকাফা) থেকে افتعال (ইফতি'আল) ওজনে গঠিত। এটি طلب (তালাবা) এর ন্যায় অকর্মক (لازم) (১), এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল হলো العكوف (উকুফ), যার অর্থ কোনো বিষয়ের ওপর অবিচল থাকা, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: {অতঃপর তারা এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছাল যারা তাদের মূর্তিপূজায় নিবিষ্ট ছিল} (২)।

এবং এটি সকর্মক (متعدي): যা ضرب (দরাবা) এর ওজন থেকে আসে। এর মাসদার হলো العكف (আকফ), যার অর্থ হলো আটকে রাখা বা বাধা দেওয়া। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: {এবং উৎসর্গের পশুকে আটকে রাখা হয়েছিল} (৩)। মসজিদে ইতিকাফ এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে নফসকে আটকে রাখা ও নিবৃত্ত করা হয়। ইবাদতের এই প্রকারকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি শর্তসাপেক্ষে মসজিদে অবস্থান করা।

শরীয়তের পরিভাষায়: ইবাদতের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক নিয়তের সাথে বিশেষ পদ্ধতিতে মসজিদে অবস্থান করা। =

_________

(১) এর মুদারে বা বর্তমানকালীন ক্রিয়ারূপের ক্ষেত্রে আইন বর্ণে কাসরা বা দম্মা উভয়ই শুদ্ধ: يَعْكُفُ (ইয়া’কুফু) এবং يَعْكِفُ (ইয়া’কিফু)।

(২) সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৩৮।

(৩) সূরা আল-ফাতহ, আয়াত ২৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الكفاية (1)، أو على العَيْن (2)؟

وعلى التقدير الأول: هل هو سنَّة كفاية على أهل البلدة، كَصَلاةِ الجنازة، أو على أهلِ كلِّ مَحلَّة، كالتراويحِ بالجماعة؟

فتكلَّم كلٌّ منا بما خَطَر في خَاطِره، من دون أن يتجسَّس تحقيقه من كتبِ الفقه، فأردتُ أن أكتبَ فيه ما يَسْلُكُ مَسْلَك السَّداد، ويُثْبِتُ ما هو المقْصُود والمُرَاد، وسميته بِـ:

"الإنصاف في حكم الاعتكاف"

وأسألُ الله تعالى قَبولَه بالتضرُّع والإِلحاف، فأقول:

قد وقع الاختلاف في أنَّ الاعتكاف مُسْتَحَبٌّ (3) أو سنَّة؟

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= والأصل فيه: الكتاب، والسنَّة، وإجماع الأمة، وهو من الشرائع القديمة؛ لقوله تعالى: {أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ} (4).

وهو سُنَّة في العشر الأواخرِ من رمضان، واتَّفقوا على استحبابه في غيرِهِ، ووجوبه إذا نَذَر مُنْجزًا كان أو مُعلَّقًا، كما ستَعرف.

(1) قوله (سُنَّة مؤكَّدة على الكفاية): وهي التي يُثَاب إنْ أَتى بها، وَيُلامُ لو تَركوا جميعًا.

(2) قوله (أو على العَيْن): أي ثابتٌ على كُل مُكلَّف بعينِهِ، ولا يَسْقُطُ عن الآخرين بأداءِ البعض.

(3) قوله (مُسْتَحَب): السين والتاء زائدتان، أي: المحبوب فيه، والمحبوب في اللغة: ضد المكروه، واصطلاحًا: ما فعله النبي صلى الله عليه وسلم مرةً، وتركَه أخرى، فيثابُ على فعلِهِ، ولا يلامُ على تركه، كما في "شرح الملتقى".

_________

(4) سورة البقرة، آية 125.
কিফায়া (সামষ্টিক) (كفاية) (১), নাকি আইন (ব্যক্তিগত) (عين) (২)?

এবং প্রথম সম্ভাবনা অনুযায়ী: এটি কি শহরবাসীর ওপর সুন্নতে কিফায়া (سنة كفاية), যেমন জানাজার নামাজ; নাকি প্রত্যেক পাড়া-মহল্লাবাসীর ওপর, যেমন জামাতে তারাবিহ?

এমতাবস্থায় আমাদের প্রত্যেকেই যার যার মনে যা আসছিল সে অনুযায়ী আলোচনা করছিলাম, ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে এর বিস্তারিত তাহকিক (تحقيق) অনুসন্ধান করা ছাড়াই। তাই আমি এ বিষয়ে এমন কিছু লেখার সংকল্প করলাম যা সঠিক পথ অনুসরণ করবে এবং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য প্রমাণ করবে। আর আমি এর নামকরণ করেছি:

"আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ"

আমি বিনয় ও অনুনয়-বিনয় সহকারে মহান আল্লাহর কাছে এর কবুলিয়্যাত প্রার্থনা করছি। অতঃপর আমি বলছি:

ইতিকাফ মুস্তাহাব (مستحب) (৩) নাকি সুন্নাত (سنة), এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতি আল-ইনসাফ]

= আর এর মূল ভিত্তি হলো: কিতাবুল্লাহ (কুরআন), সুন্নাহ (سنة) এবং উম্মতের ইজমা (إجماع); আর এটি পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তোমরা আমার ঘরকে পবিত্র করো তাওয়াফকারী ও ইতিকাফকারীদের জন্য।" (৪)।

রমজানের শেষ দশকে এটি সুন্নাত (سنة); এছাড়া অন্য সময়ে একে মুস্তাহাব (مستحب) বলার ব্যাপারে ফকিহগণ একমত হয়েছেন। আর যদি মানত (نذر) করা হয়, তবে তা পালন করা ওয়াজিব (واجب)—চাই তা নির্দিষ্ট মেয়াদের হোক বা শর্তযুক্ত, যেমনটি আপনি সামনে জানতে পারবেন।

(১) তাঁর কথা (সামষ্টিক সুন্নতে মুয়াক্কাদা): এটি এমন আমল যা আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যায়, আর সকলে যদি তা বর্জন করে তবে সকলেই তিরস্কারের সম্মুখীন হয়।

(২) তাঁর কথা (অথবা আইন তথা ব্যক্তিগত): অর্থাৎ যা প্রত্যেক মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) ওপর ব্যক্তিগতভাবে সাব্যস্ত এবং কয়েকজনের আদায়ের মাধ্যমে অন্যদের থেকে এর আবশ্যকতা রহিত হয় না।

(৩) তাঁর কথা (মুস্তাহাব): এখানে 'সিন' এবং 'তা' অতিরিক্ত অক্ষর, অর্থাৎ যার মধ্যে ভালোবাসা রয়েছে। আভিধানিক অর্থে 'মাহবুব' হলো 'মাকরূহ' (مکروه)-এর বিপরীত। আর পারিভাষিক অর্থে: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো করেছেন আবার কখনো ছেড়ে দিয়েছেন; সুতরাং তা করলে সওয়াব আছে কিন্তু ছেড়ে দিলে কোনো তিরস্কার নেই, যেমনটি "শারহুল মুলতাকা"-তে বর্ণিত হয়েছে।

_________

(৪) সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১২৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وعلى الثاني: هل هو سُنَّة مؤكَّدة أو غيرُ مؤكَّدة (1)؟

وعلى الأول: هل هو سُنَّةٌ مُطْلقًا أو في العَشْرِ الأواخرِ من رمضان، وهل هو سُنَّةٌ كفايةً أو عَيْنًا؟

فلنذكر منها ما يرفع الحجاب عن وَجْه هذا الباب، مُستعينًا بحبْلِ المولى الوهَّاب، فههنا مقامات:

 

‌‌المقام الأول:

هل الاعتكاف مُسْتَحَبٌّ أو سُنَّة أو مباحٌ أو واجبٌ
(2)؟

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

(1) قوله (سُنَّةٌ مؤكَّدة أو غير مؤكَّدة): اختار في "البحر" تعريفين للسُّنَّة، الأول: أنَّها الطَّريقة المسْلوكة في الدين من غير لزومٍ على سبيل المواظبة، الثاني: أن السنة ما وَاظَبَ عليها النبي صلى الله عليه وسلم لكن إن كانت لا مَعَ التَّرك، فهي دليلُ السُّنَّة المؤكَّدة، وإن كانت مع الترك أحيانًا فهي دليلُ غيرِ المؤكَّدة، وإن اقْتَرَنَتْ بالإنكار على مَنْ لم يفعله فهي دليل الوجوب، وإن لم تقْترن به فهي دليل السُّنَّة المؤكَّدة على الكفاية، وهذا في غير الواجبِ المُختَصِّ به صلى الله عليه وسلم، أما هوَ فقد لا ينكر على تركِهِ مع وجوبه في حقِّه، كصلاة الضُّحى فافهم، كذا في الطَّحْطاوي. وتفصيل تعريف السُّنَّة وما وقع فيه من الاختلاف مع تنقيح الحقِّ والإنْصاف، ليُطْلب من: رسالة الأستاذ العلامة المُسمَّاة بـ "تُحفة الأخيار في إحياء سنة سيد الأبرار" (5)، وتعليقاته عليها المُسمَّاة بـ "نُخْبة الأنظار".

(2) قوله (أو واجب): قال ابن عابدين في "حاشية الدر المختار": ما كان فعلُهُ أوْلى من تركِهِ مع منعِ الترك إن ثَبَت بدليلٍ قطعي ففرضٌ، أو بظنيٍّ فواجبٌ، وبلا منع =

_________

(5) في الأصل الثاني في ذكر عبارات الفقهاء والأصوليين الواقعة في تعريف السنَّة المؤكدة مع ما لها وما عليها ص 68 - 86 وأورد عن اثنين وعشرين فقيهًا أقوالهم في تعريفها، وناقشها، وحاكم بينها.
দ্বিতীয় মতানুসারে: এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة) নাকি গায়রে মুয়াক্কাদা (غير مؤكدة) (১)?

প্রথম মতানুসারে: এটি কি সাধারণভাবে সুন্নাত (سنة), নাকি রমাদানের শেষ দশকে? আর এটি কি সুন্নাতে কিফায়া (سنة كفاية) নাকি সুন্নাতে আইন (سنة عين)?

সুতরাং আমরা এ বিষয়ে এমন কিছু আলোচনা করব যা এই অধ্যায়ের রহস্য উন্মোচন করবে, সেই মহান দাতা প্রভুর সাহায্যের ওপর ভরসা করে; এখানে কয়েকটি পর্যায় রয়েছে:

 

‌‌প্রথম পর্যায়:

ইতিকাফ কি মুস্তাহাব (مستحب), নাকি সুন্নাত (سنة), নাকি মুবাহ (مباح), নাকি ওয়াজিব (واجب) (২)?

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসয়াফ বিতাহশিয়াতি আল-ইনসাফ]

(১) তাঁর বক্তব্য (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা গায়রে মুয়াক্কাদা): 'আল-বাহর' গ্রন্থে সুন্নাতের দুটি সংজ্ঞা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমটি: এটি দ্বীনের এমন এক অনুসৃত পথ যা নিয়মিত পালন করা হয় তবে তা আবশ্যকতার পর্যায়ভুক্ত নয়। দ্বিতীয়টি: সুন্নাত হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করেছেন; তবে তা যদি মাঝেমধ্যে বর্জন করা ব্যতীত হয়ে থাকে, তবে তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة) হওয়ার প্রমাণ। আর যদি মাঝেমধ্যে বর্জন করে থাকেন, তবে তা গায়রে মুয়াক্কাদা (غير مؤكدة) হওয়ার প্রমাণ। আর যদি তা বর্জনকারীর প্রতি তিরস্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তা ওয়াজিব (واجب) হওয়ার প্রমাণ। আর যদি তিরস্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়, তবে তা সুন্নাতে কিফায়া মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة على الكفاية) হওয়ার প্রমাণ। এটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ওয়াজিব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা তাঁর ক্ষেত্রে নিজ কর্তব্য পালনে কোনো আমল বর্জন সত্ত্বেও তিনি তিরস্কার নাও করতে পারেন, যেমন চাশতের সালাত; বিষয়টি অনুধাবন করুন। তাহতাবি-তে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সুন্নাতের সংজ্ঞা এবং এ নিয়ে সংঘটিত মতপার্থক্যসমূহের সবিস্তার বিবরণ ও সত্যের চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য উস্তাদ আল্লামার রিসালা 'তুহফাতুল আখইয়ার ফি ইহয়ায়ি সুন্নাতি সাইয়্যিদিল আবরার' (৫) এবং এর ওপর তাঁর লিখিত টীকা 'নুখবাতুল আনজার' দ্রষ্টব্য।

(২) তাঁর বক্তব্য (বা ওয়াজিব): ইবনে আবিদিন 'হাশিয়া আদ-দুররুল মুখতার'-এ বলেন: যে কাজ বর্জন করার চেয়ে করা উত্তম এবং যা বর্জনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা যদি অকাট্য দলিল (دليل قطعي) দ্বারা প্রমাণিত হয় তবে তা ফরজ (فرض), আর যদি ধারণামূলক দলিল (دليل ظني) দ্বারা প্রমাণিত হয় তবে তা ওয়াজিব (واجب)। আর বর্জনের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে =

_________

(৫) মূল কিতাবের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সুন্নাতে মুয়াক্কাদার সংজ্ঞায় ফকিহ ও উসুলবিদগণের (الأصوليون) ব্যবহৃত পরিভাষাসমূহের বর্ণনায় (পৃষ্ঠা ৬৮-৮৬) বাইশজন ফকিহের সংজ্ঞা সংক্রান্ত উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فَذَهَبَ بعضُ المالكيّة إلى أنَّ الاعتكافَ أمرٌ مباح، وهذا القول ممَّا لا اعتدادَ به.

قال أبو بكر المالكي: قولُ أصحابنا أنَّه جائز (1) جهل.

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= الترك إن كان ممَّا واظب عليه الرسول صلى الله عليه وسلم والخلفاء الراشدون من بعده فسنَّة، وإلَّا فمندوب. ويُطْلب تفصيل هذا البحث من "السعاية في كَشف ما في شرح الوقاية" (6) للأستاذ.

(1) قوله (قول أصحابنا أنَّه جائز): قال الحافظ ابن حجر في "الفتح": ومن كلام مالك (7) أَخذ بعض أصحابه أنَّ الاعتكاف جائز، وأنكر ذلك عليهم ابن العربي (8)، وقال: إنه سُنَّةٌ مؤكَّدة، وكذا قال ابن بطَّال: في مواظبة النبي صلى الله عليه وسلم عليه ما يدلُّ على تأكُّده (9)، وقال أبو داود عن أحمد: لا أعلم عن أحدٍ من العلماء خلافًا أنه مسنون (10). انتهى.

_________

(6) 1: 164 - 169.

(7) وهو قوله: "ما رأيت صحابيًّا اعتكف، وقد اعتكف صلى الله عليه وسلم حتى قُبض، وهم أشدُّ الناس … فلم أزل أفكر حتى أخذ بنفسي أنَّه لشدته؛ نهاره وليله سواء؛ كالوصال المنهي عنه مع وصاله المنهي عنه"، نقله ابن رشد في "بداية المجتهد" 1: 312 وعلَّله بأنَّه كرهه مخافة أنْ لا يوفي بشرطه.

(8) قال ابن العربي في "عارضة الأحوذي" 4: 3: "وهو سُنَّة وليس ببدعة، ولا يقال فيه: مباح؛ فإنَّه جهلٌ من أصحابنا الذين يقولون في كتبهم: الاعتكاف جائز".

(9) قال ابن عبد البر في "التمهيد" 23: 51 - 52: "في هذا الحديث، أي حديث أبي سعيد الخدري: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعتكف العشر الوسط من رمضان … وهو من أصح حديث يُروى في هذا الباب، دليل على أن الاعتكاف في رمضان سنَّة مسنونة؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعتكف في رمضان، ويواظب على ذلك، وما واظب عليه فهو سنَّة لأمته، وأجمع علماء المسلمين على أنَّ الاعتكاف ليس بواجب، وأن فاعله محمودٌ عليه مأجور فيه. وهكذا سبيل السُّنن كلها ليست بواجبة فرضًا، ألا ترى إلى إجماعهم على قولهم: هذا فرض، وهذا سنَّة، أي هذا واجب، وهذا مندوب إليه، وهذه فريضة، وهذه فضيلة انتهى.

(10) فتح الباري 4: 272.
কিছু মালিকী আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, ইতিকাফ হলো একটি মুবাহ (مباح) বিষয়; অথচ এই বক্তব্যটি ধর্তব্য নয়।

আবু বকর আল-মালিকী বলেছেন: আমাদের সাথীদের এই উক্তি যে এটি জায়েজ (جائز), তা মূর্খতা।

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতি আল-ইনসাফ]

= কোনো কাজ বর্জন করা যদি এমন বিষয় হয় যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীন সর্বদা পালন করেছেন, তবে তা সুন্নাত (سنَّة), নতুবা তা মানদুব (مندوب)। এই গবেষণার বিস্তারিত বিবরণ উস্তাদের "আস-সিয়ায়াহ ফী কাশফি মা ফী শারহিল বিকায়াহ" (৬) থেকে তালাশ করতে হবে।

(১) তাঁর উক্তি (আমাদের সাথীদের কথা যে এটি জায়েজ): হাফেজ ইবনে হাজার "ফাতহুল বারী" গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম মালিকের কিছু বক্তব্য থেকে তাঁর কিছু অনুসারী গ্রহণ করেছেন যে ইতিকাফ জায়েজ (جائز)। ইবনুল আরাবী তাদের এই মতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন (৮) এবং বলেছেন: এটি সুন্নাহ মুয়াক্কাদাহ (سُنَّةٌ مؤكَّدة)। ইবনে বাত্তালও তদ্রূপ বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিয়মিত ইতিকাফ পালনের মধ্যে এর গুরুত্বের (৯) প্রমাণ রয়েছে। আবু দাউদ ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন: এটি সুন্নাত (مسنون) হওয়ার ব্যাপারে আমি আলেমদের কারো মাঝে কোনো দ্বিমত জানি না (১০)। সমাপ্ত।

_________

(৬) ১: ১৬৪ - ১৬৯।

(৭) আর তা হলো তাঁর উক্তি: "আমি কোনো সাহাবীকে ইতিকাফ করতে দেখিনি, অথচ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল পর্যন্ত ইতিকাফ করেছেন, আর তাঁরা ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি... তাই আমি চিন্তা করতে থাকলাম যতক্ষণ না আমি উপলব্ধি করলাম যে, এর কঠোরতার কারণে—কেননা এর দিন ও রাত সমান; এটি অনেকটা নিষিদ্ধ বিরামহীন রোজা বা ভিসাল (الوصال)-এর মতো যা তাঁর (রাসুলুল্লাহর) ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ভিসালের মতোই।" ইবনে রুশদ এটি "বিদায়াতুল মুজতাহিদ" গ্রন্থে (১: ৩১২) বর্ণনা করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (ইমাম মালিক) ইতিকাফের শর্তসমূহ পূর্ণ না করার আশঙ্কায় এটিকে অপছন্দ করেছেন।

(৮) ইবনুল আরাবী "আরিদাতুল আহওয়াযী" গ্রন্থে (৪: ৩) বলেছেন: "এটি সুন্নাত (سُنَّة), বিদআত (بدعة) নয়। এর ক্ষেত্রে মুবাহ (مباح) বলা যাবে না; কারণ আমাদের সেই সব সাথীদের এটি মূর্খতা যারা তাদের কিতাবসমূহে বলেন: ইতিকাফ জায়েজ (جائز)।"

(৯) ইবনে আব্দুল বার "আত-তামহীদ" গ্রন্থে (২৩: ৫১ - ৫২) বলেছেন: "এই হাদিসে—অর্থাৎ আবু সাঈদ আল-খুদরী বর্ণিত হাদিসে: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের মধ্য দশকে ইতিকাফ করতেন... আর এটি এই অধ্যায়ে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত—দলিল রয়েছে যে রমজানে ইতিকাফ করা একটি সুন্নাত (سنَّة مسنونة); কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানে ইতিকাফ করতেন এবং এর ওপর নিয়মিত আমল করতেন। আর তিনি যা নিয়মিত পালন করতেন তা তাঁর উম্মতের জন্য সুন্নাত (سنَّة)। মুসলিম আলেমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে ইতিকাফ ওয়াজিব (واجب) নয়, এবং এর আমলকারী প্রশংসিত ও প্রতিদানপ্রাপ্ত হবে। এভাবেই সমস্ত সুন্নাতের পথ যে সেগুলো ফরজ (واجبة فرضًا) হিসেবে আবশ্যক নয়। আপনি কি তাদের এই উক্তির ওপর ইজমা বা ঐকমত্য (إجماع) লক্ষ্য করেন না যে: এটি ফরজ (فرض) এবং এটি সুন্নাত (سنَّة), অর্থাৎ এটি ওয়াজিব (واجب) এবং এটি মানদুব (مندوب إليه), আর এটি ফরিজাহ (فريضة) এবং এটি ফযীলত (فضيلة)। সমাপ্ত।

(১০) ফাতহুল বারী ৪: ২৭২।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولم أطَّلع على مَنْ قال بوجوب الاعتكاف مُطْلقًا (1)، بل قد ادَّعى النووي (2) في "شرح صحيح مسلم" الإِجماعَ على عدم وجوبه (3).

وأما أصحابُنا الحنفيّة فَعُلِمَ من اختلافِ عباراتهم أنَّهم تفرّقوا فيه ثلاث فرق:

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

(1) قوله (مطلقًا): سواء كان في العَشْر الأواخر من رمضان أو في غيره من الأزمنة.

(2) قوله (النووي): هو شيخ الإِسلام يحيى بن شرف بن مُرِّي، محيي الدين النووي الشافعي، وُلد سنة إحدى وثلاثين وستمائة، وتوفي بعدما زار القدس في رجب سنة سبع وسبعين وستمائة، وقيل: ست وسبعين (11)، من تصانيفه: "شرح صحيح مسلم"، و"تهذيب الأسماء واللغات"، و"شرح المُهَذَّب"، و"المنهاج"، و"كتاب الأذكار"، و"رياض الصالحين"، و"المناسك"، و"الأربعون"، و"التبيان في آداب حَمَلة القرآن"، و"كتاب المُبْهَمات"، و"التحرير في ألفاظ التنبيه"، و"نكت التنبيه"، و "الخُلَاصة"، و"الإِرشاد" و"التقْريب والتيسير"مختصر "الإِرشاد"، و"تُحفة الطالب"، و"نكت على الوسيط"، و"شرح الوسيط"، و"شرح قطعة من صحيح البخاري"، و"طَبَقات الشافعية"، و"رؤوس المسائل"، و"رسالة في الاستِسْقاء"، و "رسالة في استحباب القيام لأهل الفضل"، وأخرى في "قسمة الغنائم"، و"الأصول والصوابط"، و"الإِشارات على الروضة". وإن شِئْتَ زيادةَ الاطلاع فعليك بـ "التعليقات السنيَّة على الفوائد البهيَّة" (ص 10 - 11) للأستاذ العلامة، وبرسالته المُسَمَّاة بـ "فرحة المدرسين بذكر المؤلَّفات والمؤلفين".

(3) قوله (الإِجماع على عدم وجوبه): أي اعتكاف العشر الأواخر من رمضان، حيث قال: "وقد أجمع المسلمون على استحبابِهِ، وأنَّه ليس بواجب" (12). انتهى.

_________

(11) وهو الصواب فإن وفاته في الرابع والعشرين من رجب سنة ست وسبعين وستمائة كما نصَّ على ذلك تلميذه ابن العطار في "تحفة الطالبين"، والسبكي في "الطبقات".

(12) شرح صحيح مسلم للنووي 67:8.
আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি ইতিকাফ (اعتكاف) পালন করাকে শর্তহীনভাবে (مطلقًا) আবশ্যক (واجب) বলেছেন (১); বরং ইমাম নববী (২) 'শরহ সহীহ মুসলিম'-এ এর আবশ্যকতা (وجوب) না থাকার ওপর ঐকমত্যের (إجماع) দাবি করেছেন (৩)।

আর আমাদের হানাফি মাযহাবের ইমামগণের বিভিন্ন বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, তারা এ বিষয়ে তিনটি দলে বিভক্ত হয়েছেন:

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতিল ইনসাফ]

(1) তাঁর উক্তি (শর্তহীনভাবে (مطلقًا)): চাই তা রমজানের শেষ দশকে হোক কিংবা অন্য কোনো সময়ে।

(2) তাঁর উক্তি (নববী): তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ ইবনে মুররি, মুহিউদ্দিন নববী শাফিঈ। তিনি ৬৩১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং জেরুজালেম সফরের পর ৬৭৭ হিজরি সনের রজব মাসে ইন্তেকাল করেন; আবার বলা হয়েছে: ৬৭৬ হিজরি (১১)। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: ‘শরহ সহীহ মুসলিম’, ‘তহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত’, ‘শরহুল মুহাজ্জাব’, ‘আল-মিনহাজ’, ‘কিতাবুল আজকার’, ‘রিয়াদুস সলিহীন’, ‘আল-মানাসিক’, ‘আল-আরবাউন’, ‘আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন’, ‘কিতাবুল মুবহামাত’, ‘আত-তাহরির ফি আলফাজিত তানবিহ’, ‘নুকাতুত তানবিহ’, ‘আল-খুলাসা’, ‘আল-ইরশাদ’ এবং ‘আত-তাক্বরিব ওয়াত তাইসির’ যা ‘আল-ইরশাদ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, ‘তুহফাতুত ত্বালিব’, ‘নুকাত আলাল ওয়াসিত’, ‘শরহুল ওয়াসিত’, ‘শরহু কিতাতিন মিন সহীহ বুখারী’, ‘তাবাক্বাতুশ শাফিইয়্যাহ’, ‘রুউসুল মাসায়িল’, ‘রিসালা ফিল ইসতিসকা’, ‘রিসালা ফি ইসতিহবাবিল ক্বিয়াম লি আহলিল ফাদ্বল’, এবং আরেকটি ‘গনিমতের সম্পদ বণ্টন’ সম্পর্কে, ‘আল-উসুল ওয়াদ দাওয়া বিত’ এবং ‘আল-ইশারাত আলার রওদ্বাহ’। আপনি যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তবে প্রখ্যাত আল্লামার ‘আত-তালিকাতুস সুন্নিয়াহ আলাল ফাওয়ায়িদিল বাহিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা ১০-১১) এবং তাঁর ‘ফারহাতুল মুদাররিসিন বিজিকরিল মুআল্লাফাত ওয়াল মুআল্লিফিন’ নামক রিসালাটি দেখুন।

(3) তাঁর উক্তি (আবশ্যকতা না থাকার ওপর ঐকমত্য (إجماع)): অর্থাৎ রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ (اعتكاف) প্রসঙ্গে; যেখানে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুসলিমগণ এটি মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং এটি ওয়াজিব (واجب) নয়" (১২)। সমাপ্ত।

_________

(11) আর এটিই সঠিক, কেননা তাঁর মৃত্যু ৬৭৬ হিজরি সনের ২৪শে রজব তারিখে হয়েছিল, যেমনটি তাঁর ছাত্র ইবনুল আত্তার ‘তুহফাতুত তালিবিন’ গ্রন্থে এবং সুবকি ‘তাবাক্বাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(12) নববীর শরহ সহীহ মুসলিম ৮:৬৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فذهب القُدُوري (1) في "مختصره" إلى استحبابه، حيث قال: "ويُسْتَحب"، وغيرُه إلى أنه سُنَّة مُؤَكَّدة.

قال المَرْغيناني (2) في "الهداية": الصحيحُ أنَّه سُنَّةٌ مؤكَّدة؛ لأنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم واظَبَ عليه في العَشْر الأواخر من رمضان (3)، والمواظَبَةُ دليلُ

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

(1) قوله (فَذهب القُدوري): هو أحمد بن محمَّد بن أحمد، أبو الحسين الحنفي البغدادي القُدُوْري -بضم القاف والدال المهملة وسكون الواو بعدها راء مهملة- قيل: إنَّه نسبة إلى قريةٍ من قُرى بغداد، يقال لها "قدورة"، وقيل؛ نسبة إلى بيع القُدُور، صنَّف " المختصر" المشهور، و"شرح مختصر الكرخي"، و"التجريد"، في سبعة أسفار مشتَملٌ على الخلاف بين أبي حنيفة والشافعي رحمهما الله تعالى، كان ثقةً صدوقًا، سمع الحديث، وروى عنه الخطيب، وكانت ولادتُه سنة اثنتين وستين وثلاثمائة، مات في رجب سنة ثمان وعشرين وأربعمائة ببغداد. والتفصيل في "الفوائد البهيَّة في تراجم الحنفية" (ص 30 - 31) للأستاذ العلَّامة، وفي "فرحة المدرسين".

(2) قوله (المَرْغِيْنَاني): هو علي بن أبي بكر بن عبد الجليل الفَرْغَاني المَرْغِيْنَاني، نسبة إلى مَرْغِيْنان -بفتح الميم وسكون الراء المهملة، وكسر الغين المعجمة، وسكون الياء بعدها نون ثم ألف بعدها نون- بلدة من بلاد فَرْغَانة، جمع بين "المختصر" للقُدوري، و"الجامع" وسمَّاه: "بداية المُبْتدي"، وشَرَحه وسمَّاهُ بـ "كفاية المنتهي"، ثم اختصره وسمَّاه بـ "الهداية"، وصنَّف "المنتقى"، و"نشر المذهب"، و"التجْنيس"، و"المزيد" و"مناسك الحج"، و"مختارات النوازل" وكتابًا في الفرائض، توفي في سنة ثلاث وتسعين وخمسمائة. والبَسْط في: "الفوائد البهيَّة" (ص 141 - 144)، و"مقدمة الهداية" (1: 11 - 13)، و"مقدمة السِّعاية" (24 - 25)، كلُّها للأستاذ العلَّامة.

(3) قوله (وَاظَب عليه …): أخرج الأئمة الستة في كتبهم، واللفظُ للبخاريِّ عن عائشةَ زوجِ النبي صلى الله عليه وسلم: "أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم كان يعتكفُ العشرَ الأواخر من رمضان =
ইমাম কুদুরি (১) তাঁর "মুখতাসার"-এ এটিকে মুস্তাহাব হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "এবং এটি মুস্তাহাব", তবে অন্যরা একে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইমাম মারগিনানি (২) "হিদায়া"-তে বলেছেন: সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে এর প্রতি যত্নবান ছিলেন (৩), আর এই ধারাবাহিকতা একটি প্রমাণ...

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইস’আফ বিতাহশিয়াতিল ইনসাফ]

(1) তাঁর বক্তব্য (কুদুরি অভিমত ব্যক্ত করেছেন): তিনি হলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ, আবু আল-হুসাইন আল-হানাফি আল-বাগদাদি আল-কুদুরি —ক্বাফ বর্ণে পেশ এবং নুকতাহীন দাল বর্ণে পেশ ও সাকিনযুক্ত ওয়াও এরপর নুকতাহীন রা-এর সাথে— বলা হয় যে, এটি বাগদাদের একটি গ্রামের নাম, যাকে "কুদুরা" বলা হতো; আবার কেউ বলেছেন এটি মাটির পাত্র বিক্রির সাথে সম্পর্কিত। তিনি বিখ্যাত "মুখতাসার", "শারহু মুখতাসারি আল-কারখি" এবং "আত-তাজরিদ" রচনা করেছেন যা সাত খণ্ডে বিভক্ত এবং এতে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুমাল্লাহু তাআলা)-এর মধ্যকার মতপার্থক্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সত্যবাদী (صدوق) ছিলেন। তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং খতিব তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল ৩৬২ হিজরি সনে এবং তিনি ৪২৮ হিজরি সনের রজব মাসে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। বিস্তারিত দেখুন উস্তাদ আল্লামার "আল-ফাওয়ায়িদ আল-বাহিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ" (পৃ. ৩০-৩১) এবং "ফারহাতুল মুদাররিসিন"-এ।

(2) তাঁর বক্তব্য (মারগিনানি): তিনি হলেন আলি ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুল জলিল আল-ফারগানি আল-মারগিনানি। মারগিনানি শব্দটি মারগিনান —মিম বর্ণে জবর, নুকতাহীন রা বর্ণে সাকিন, মু’জাম গাইন বর্ণে জের এবং সাকিনযুক্ত ইয়া এরপর নুন, তারপর আলিফ ও নুন— এর দিকে সম্বন্ধিত, যা ফারগানার অন্তর্ভুক্ত একটি জনপদ। তিনি কুদুরির "মুখতাসার" ও "আল-জামি" গ্রন্থদ্বয়কে একত্রিত করে "বিদায়াতুল মুবতাদি" নামকরণ করেন এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখে নাম দেন "কিফায়াতুল মুনতাহা"। এরপর তিনি এটিকে সংক্ষেপ করেন এবং নাম দেন "হিদায়া"। এছাড়াও তিনি "আল-মুনতাকা", "নাশকুল মাযহাব", "আত-তাজনিস", "আল-মাযিদ", "মানাসিকুল হাজ্জ", "মুখতারাতুন নাওয়াযিল" এবং ফরায়েয শাস্ত্রের একটি কিতাব রচনা করেন। তিনি ৫৯৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে উস্তাদ আল্লামার: "আল-ফাওয়ায়িদ আল-বাহিয়্যাহ" (পৃ. ১৪১-১৪৪), "হিদায়ার ভূমিকা" (১: ১১-১৩) এবং "আস-সি’আয়াহ-এর ভূমিকা" (২৪-২৫) গ্রন্থগুলোতে।

(3) তাঁর বক্তব্য (তার প্রতি যত্নবান ছিলেন ...): ছয়জন ইমাম তাঁদের কিতাবসমূহে এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ বুখারির, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন =
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২০)
السُّنِّيَّة، وهكذا ذكر في "المحيط" (1) و"البدائع" (2)

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= حتى توفَّاه الله، ثم اعتكف أزواجه من بعده" (13)، إلَّا ابن ماجه فإنَّه أخرجه عن أُبيِّ بن كَعب قال: "كان النبي صلى الله عليه وسلم يعتكفُ العَشْر الأواخرَ من رمضان، فَسَافَر عامًا، فلمَّا كان العام القَابل، اعتكف عشرين يومًا" (14)، وأخرجه أبو داود والنسائي أيضًا، ولفظُهما: "ولم يعتكف عامًا" (15).

(1) قوله (في المحيط): المراد به حيث أُطْلق "المحيط البُرْهاني" غالبًا، وهو مؤلِّف "الذخيرة"، وقد يُراد به "المحيط" للسَّرَخْسي محمَّد بن محمَّد بن محمَّد الملقَّب برضيِّ الدين السَّرَخْسي، نسبة إلى سَرَخْس بفتح السين والراء وسكون الخاء، بلدةٌ قديمةٌ من بلاد خُراسان، وهو اسمُ رجلٍ سَكَنَ هذا الموضع، وعَمَّره وأتمَّ بناءه ذو القرنين، توفي سنة أربع وأربعين وخمسمائة. وفي تحقيق عدد المحيطات وتعيين مؤلفيها اختلافٌ ذكره الأستاذ العلام -مُدَّ ظله- في "الفوائد" (ص 188 - 191). إنْ شئْتَ فَطَالعها، فلعلَّك لا تجد في غيرها مثلَ هذه الفرائد.

(2) قوله (والبدائع): لأبي بكر بن مسعود بن أحمد علاء الدين مَلكُ العلماء الكَاساني، نسبة إلى الكاسان بالكاف ثم الألف ثم السين المهملة ثم الألف ثم النون، بلدة وراء الشَّاش، وقد يقال في نسبته: الكاشاني بالمعجمة بدل المهملة، وفي "مشتبه النسبة" للذهبي (2: 495): "قاسان، بلدةٌ كبيرة بتركستان خَلف سَيْحون، وأهلها يقولون: كاسان، وكانت من محاسن الدنيا، خربت باستيلاء الترك عليها". شَرَح "تحفة الفقهاء"، وله كتاب "السُّلطان المبين في أصول الدين"، مات في عاشر رجب سنة سبع وثمانين وخمسمائة، وَدُفِنَ بظاهر حَلَب. ومَنْ شَاءَ الاطِّلاع على أحوالِهِ بالتفصيل فلْيَرجع إلى "الفوائد" (ص 53).

_________

(13) أخرجه البخاري في كتاب الاعتكاف (2026)، ومسلم في الاعتكاف (1172)، وأبو داود في كتاب الصيام، باب الاعتكاف 3: 194 (2454) (2456)، والترمذي في كتاب الصوم (790)، والنسائي في "الكبرى" 2: 257 (3335).

(14) أخرجه ابن ماجه في كتاب الصيام (1770).

(15) أخرجه أبو داود (2455)، والنسائي في "الكبرى" 2: 259 (3344).
সুন্নাহভিত্তিক (السُّنِّيَّة), এবং এভাবেই "আল-মুহিত" (১) এবং "আল-বাদায়ি" (২)-এ উল্লিখিত হয়েছে।

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইস'আফ বিতাহশিয়াতিল (تحشية) ইনসাফ]

= যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর মৃত্যু ঘটালেন, অতঃপর তাঁর পরে তাঁর পত্নীগণ ইতিকাফ করেছেন" (১৩), তবে ইবনে মাজাহ ব্যতীত; কারণ তিনি উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرجه), তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন, একবার তিনি সফরে থাকায় (সে বছর ইতিকাফ করতে পারেননি), পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন" (১৪), এবং আবু দাউদ ও নাসায়িও এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه), তাঁদের বর্ণিত শব্দমালা (لفظُهما) হলো: "এবং তিনি এক বছর ইতিকাফ করেননি" (১৫)।

(১) তাঁর উক্তি (আল-মুহিত-এ): এর দ্বারা সাধারণত যখন কোনো বিশেষণ ছাড়াই ব্যবহার করা হয় তখন "আল-মুহিত আল-বুরহানি" উদ্দেশ্য হয়, যিনি "আদ-যাখিরা"-এর লেখক। কখনও এর দ্বারা সারাখসি অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ—যিনি রাদীয়ুদ্দীন আস-সারাখসি উপাধিতে পরিচিত—তাঁর "আল-মুহিত" উদ্দেশ্য হতে পারে। সারাখস (সীন এবং র-এ ফাতহ এবং খ-এ সুকুন যোগে) হলো খুরাসান অঞ্চলের একটি প্রাচীন শহর। এটি এক ব্যক্তির নাম যিনি এই স্থানে বসবাস করতেন, যুল-কারনাইন এটি আবাদ করেছেন এবং এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি ৫৪৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। "মুহিত" নামীয় গ্রন্থসমূহের সংখ্যা নির্ধারণ (تحقيق) এবং সেগুলোর লেখকদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে যা উস্তাদুল্লাম -তাঁর ছায়া দীর্ঘ হোক- "আল-ফাওয়াইদ" (পৃ. ১৮৮-১৯১)-এ উল্লেখ করেছেন। আপনি চাইলে তা পাঠ করতে পারেন, সম্ভবত আপনি অন্য কোথাও এই ধরনের দুর্লভ (فرائد) তথ্যাবলি পাবেন না।

(২) তাঁর উক্তি (এবং আল-বাদায়ি): এটি আবু বকর বিন মাসউদ বিন আহমদ আলাউদ্দীন মালিকুল উলামা আল-কাসানির গ্রন্থ। "কাসান" (প্রথমে কাফ, এরপর আলিফ, এরপর সীন মুহমালাহ (مهملة), এরপর আলিফ এবং সবশেষে নূন যোগে) হলো শাশ-এর পরবর্তী একটি শহর। কখনও কখনও তাঁর নিসবত (পারিবারিক নাম)-এর ক্ষেত্রে সীন মুহমালাহ-র পরিবর্তে শীন মু'জামাহ (معجمة) যোগে "আল-কাশানি" বলা হয়ে থাকে। আয-যাহাবির "মুশতাবিহুন নিসবাহ" (২: ৪৯৫)-এ রয়েছে: "কাসান হলো তুর্কিস্তানের সাইহুন নদীর ওপারের একটি বড় শহর, এর অধিবাসীরা একে কাসান বলে। এটি পৃথিবীর সুন্দরতম স্থানগুলোর একটি ছিল, তুর্কিরা তা দখল করে নেওয়ার পর এটি ধ্বংস হয়ে যায়।" তিনি "তুহফাতুল ফুকাহা"-এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাঁর "আস-সুলতানুল মুবিন ফি উসুলিদ দীন" নামক একটি কিতাব রয়েছে। তিনি ৫৮৭ হিজরি সনের ১০ই রজব মৃত্যুবরণ করেন এবং আলেপ্পোর (হালাব) শহরতলীতে সমাহিত হন। যে ব্যক্তি তাঁর জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায় সে যেন "আল-ফাওয়াইদ" (পৃ. ৫৩)-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

_________

(১৩) বুখারি এটি ইতিকাফ অধ্যায়ে (২০২৬), মুসলিম ইতিকাফ অধ্যায়ে (১১৭২), আবু দাউদ সিয়াম অধ্যায়ে, ইতিকাফ অনুচ্ছেদে ৩: ১৯৪ (২৪৫৪) (২৪৫৬), তিরমিজি সওম অধ্যায়ে (৭৯০), এবং নাসায়ি "আল-কুবরা" ২: ২৫৭ (৩৩৩৫)-তে বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(১৪) ইবনে মাজাহ এটি সিয়াম অধ্যায়ে (১৭৭০) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(১৫) আবু দাউদ (২৪৫৫) এবং নাসায়ি "আল-কুবরা" ২: ২৫৯ (৩৩৪৪)-তে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২১)
و"التحفة" (1).

وقال الزاهديُّ في "المُجْتبى" (2): "قال أستاذنا: الصحيح أنَّه سُنَّة"، ولم أجد في غير مختصر القُدُوريِّ أنه مُسْتَحبٌ، فالظَّاهرُ أنَّه أرادَ بهِ السُّنَّة، كما أنَّه أرادَ أوَّل الكتاب هذا حيث قال: "ويُسْتَحَبُّ للمتوضيء أن ينوي الطَّهارة، ويَسْتَوعبَ رأسَه بالمسْح"، فسمَّاها مُسْتَحَبةً مع أنها من السُّننَ". انتهى.

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

(1) قوله (والتُّحفة): لمحمد بن أحمد بن أبي أحمد أبي بكر علاء الدين السَّمرقندي، أستاذ صاحب "البدائع" المتوفَّى سنة سبع وثمانين وخمسمائة (16).

(2) قوله (قال الزاهدي في المُجْتبى): شرح مُختصر القُدُوري، وهو لمختار بن محمود بن محمَّد أبي الرَّجاء، نجم الدين الزَّاهدي الغَزْمِيْني، نسبة إلى غَزْمِيْن -بفتح الغين المعجمة وسكون الزاي المعجمة ثم الميم المكسورة ثم الياء التحتانية المثنَّاة الساكنة ثم النون- قَصَبة من قَصَبات خُوارزم، مات سنة ثمان وخمسين وستمائة، وقيل: سنة ست وستين وستمائة، ومن تصانيفه: "قُنْيَةُ المُنْيَة لتتميم الغُنْيَة"، و"الرسالة النَّاصِرية"، و"زادُ الأئمة"، و"الجامعُ في الحيض"، وكتاب في الفرائض، و"الحاوي" وغير ذلك، كان معتزلي الاعتقاد، حنفيَّ الفروع، قال ابن عابدين صاحب "رد المحتار" في "تنقيح الفتاوى الحامدية": "نَقْلُ الزاهدي يعارِضُ نَقْلَ المعتَبرات، فإنَّه ذكر ابن وَهْبان: أنَّه لا يُلتفت إلى ما نَقَلَه صاحب "القنية" مخالفًا للقواعد ما لم يعضُد النقل من غيره، ومثله في "النَّهر" أيضًا. وإنْ شئتَ الاطلاع على الكتبِ غير المعْتبَرة فارجع إلى "النافع الكبير لمن يُطالع الجامع الصغير" (ص 27 - 31)، ومقدمة "عمدة الرعاية في حلِّ شرح الوقاية " كلاهُما للأستاذ.

_________

(16) وكانت وفاة علاء الدين السمرقندي سنة 539 كما ذكر السمعاني في "التحبير في المعجم الكبير" 2: 84 - 85، وقال: "كتب إليَّ الإجازة، وتوفي غُرَّة جمادى الأولى سنة 539 ببخارى". انتهى. ولم يذكر السمعاني نسبة السمرقندي في "الأنساب".
এবং "আত-তুহফা" (১)।

এবং আল-জাহিদি "আল-মুজতাবা" (২)-তে বলেছেন: "আমাদের উস্তাদ বলেছেন: সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি সুন্নাত (سُنَّة)"। আমি "মুখতাসারুল কুদুরি" ব্যতীত অন্য কোথাও একে মুস্তাহাব (مُسْتَحبٌ) হিসেবে পাইনি। ফলে বাহ্যত (الظَّاهرُ) প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এর দ্বারা সুন্নাত (سُنَّة)-ই উদ্দেশ্য নিয়েছেন, যেমনটি তিনি এই কিতাবের শুরুতেও উদ্দেশ্য নিয়েছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "অজুকারীর জন্য পবিত্রতা (الطَّهارة)-র নিয়ত করা এবং পুরো মাথা মাসাহ করা মুস্তাহাব (مُسْتَحبٌ)"। এখানে তিনি এগুলোকে মুস্তাহাব (مُسْتَحبٌ) বলে অভিহিত করেছেন অথচ এগুলো সুন্নাত (السُّنن)-সমূহের অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত।

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতিল ইনসাফ]

(১) তাঁর কথা (এবং আত-তুহফা): এটি মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবি আহমাদ আবু বকর আলাউদ্দিন আস-সামারকান্দির গ্রন্থ, যিনি "আল-বাদায়ে" গ্রন্থের লেখকের উস্তাদ এবং ৫৮৭ হিজরিতে (১৬) মৃত্যুবরণ করেন।

(২) তাঁর কথা (আল-জাহিদি আল-মুজতাবা-তে বলেছেন): এটি "মুখতাসারুল কুদুরি"-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এর লেখক হলেন মুখতার ইবনে মাহমুদ ইবনে মুহাম্মাদ আবু রাজা নাজমুদ্দিন আল-জাহিদি আল-গাযমিনি। 'গাযমিন' (غزمين) শব্দের উচ্চারণ হলো— গাইন বর্ণে ফাতহাহ, যা বর্ণে সুকুন, অতঃপর মীম বর্ণে কাসরাহ, এরপর নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট সাকিন ইয়া এবং শেষে নূন— এটি খাওয়ারিজম অঞ্চলের একটি জনপদ। তিনি ৬৬৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ৬৬৬ হিজরিতে। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: "কুনিয়াতুল মুনইয়াহ লি-তাতমিমিল গুনইয়াহ", "আর-রিসালাতুন নাসিরিয়া", "যাদুল আইম্মাহ", "আল-জামি ফিল হায়জ", ফারায়েজ বিষয়ক একটি কিতাব এবং "আল-হাবি" ইত্যাদি। তিনি আকীদার ক্ষেত্রে মুতাযিলী (معتزلي الاعتقাদ) এবং ফিকহী মাসআলার ক্ষেত্রে হানাফী (حنفيَّ الفروع) ছিলেন। "রাদ্দুল মুহতার" গ্রন্থের লেখক ইবনে আবিদিন "তানকিহুল ফাতাওয়াল হামিদিয়া"-তে বলেছেন: "আল-জাহিদির উদ্ধৃতি নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের (المعتبرات) উদ্ধৃতির পরিপন্থী; কেননা ইবনে ওয়াহবান উল্লেখ করেছেন যে, 'আল-কুনিয়া' গ্রন্থের লেখক নিয়মের পরিপন্থী যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না, যতক্ষণ না অন্য কোনো উৎস থেকে সেই উদ্ধৃতির সমর্থন পাওয়া যায়। 'আন-নাহর' গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর যদি আপনি অনির্ভরযোগ্য (غير المعتبَرة) কিতাবসমূহ সম্পর্কে অবগত হতে চান, তবে উস্তাদ রচিত 'আন-নাফিউল কাবীর লি-মান ইয়ুতালিউল জামিউস সাগীর' (পৃষ্ঠা ২৭-৩১) এবং 'উমদাতুর রিআয়াহ ফী হাল্লি শারহিল বিকায়াহ'-এর ভূমিকা দ্রষ্টব্য।"

_________

(১৬) আলাউদ্দিন আস-সামারকান্দির মৃত্যু ৫৩৯ হিজরিতে হয়েছিল, যেমনটি আস-সামআনি "আত-তাহবীর ফিল মুজামিল কাবীর" (২: ৮৪-৮৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "তিনি আমাকে ইজাজত (الإجازة) লিখে দিয়েছিলেন এবং ৫৩৯ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসের শুরুতে বুখারায় মৃত্যুবরণ করেন।" সমাপ্ত। আস-সামআনি "আল-আনসাব" গ্রন্থে আস-সামারকান্দির বংশপরম্পরা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২২)
وقال النَّسَفي (1) في "المنافع شرح الفقه النافع": ثم قال في "الكتاب": إنَّه مُستحب، والصحيح: أنَّه سُنَّةٌ، لمواظبةِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم على ذلك، وقضائِهِ في شوال حيث تركه (2). فهذان قولان.

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

(1) قوله (قَال النسفي): هو عبد الله بن أحمد بن محمود أبو البركات حَافظ الدين النَّسفي، نسبةً إلى نَسَف بفتحتين، من بلاد السِّنْد فيما وراءَ النَّهر، وقيل: بكسر السين وفي النسبة تُفتح. و"النافع" وهو الذي اشتهر بـ "المُسْتصفى"، وله تصانيف أخرى سِوى ذلك، منها "الوافي"، وشرحه "الكافي"، و"كنز الدقائق"، و"المُصَفَّى شرح المنظومة النسفية"، و"المنار، وشرحه "كشْف الأسرار"، و"الاعتماد شرح العمدة"، ودَخَلَ بغداد سنة عشر وسبعمائة، ومات في هذه السَّنَة، وقد أرَّخ القاري وفاته سنة إحدى وسبعمائة، وذكر أنَّ من تصانيفه "المدارك" في التفسير، وشَرحان على المنار، أحدهما: "الكشف"، والثاني: ألطف منه، وفي طبقات تقي الدين من خطِّ ابن الشِّحنة أنه لا يُعرف له شرح على الهداية.

و"الفقه النافع" متنٌ متينٌ لناصر الدين محمَّد بن يوسف أبو القاسم الشهيد الحسيني السَّمَرقندي، اسمُه محمَّد بن يوسف، كما صرَح به صاحب "الكشف" في مواضع، لكن قد وقع منه الاختلاف في تاريخ وفاته، فقال عند ذكر "مصابيح السُّبُل" و"المنافع": أنَّه توفي سنة ست وخمسين وستمائة، وقال عند ذكر "المُلْتَقَط": أنَّه مات سنة ست وخمسين وخمسمائة، وفي "طَبَقات القاري": أنَّه مات في سنة ست وخمسين وخمسمائة، ومن تصانيفه: "خُلاصة المفتي"، وكتاب "الأخصاف" أيضًا. انتهى ملتقطًا من "الفوائد" (ص 220).

(2) قوله (وقضائه …) إلخ: لما أخرجه البخاري عن عائشة قالت: "كان النبي صلى الله عليه وسلم يعتكفُ في العشرِ الأواخر من رمضان، فكنت أضرب له خِباءَ (17) فيُصلِّي الصُّبحَ =

_________

(17) قال ابن الأثير في "جامع الأصول" 1: 327: الخِباء: واحد الأخبية من وَبَرٍ أو صوف، ولا يكون من شعر، وهو على عمودين أو ثلاثة، وما فوق ذلك فهو بيت". انتهى.
এবং নাসাফী (১) "আল-মানাফে' শারহুল ফিকহিন নাফি'" গ্রন্থে বলেছেন: অতঃপর তিনি "আল-কিতাব"-এ বলেছেন: নিশ্চয়ই এটি মুস্তাহাব, তবে সহীহ (الصحيح) মত হলো: এটি সুন্নাহ (سنة), কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নিয়মিত আমল করতেন এবং শাওয়াল মাসে তা কাযা করেছিলেন যখন তিনি তা ছেড়ে দিয়েছিলেন (২)। সুতরাং এই দুটি অভিমত।

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতিল ইনসাফ]

(১) তাঁর উক্তি (নাসাফী বলেছেন): তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুদ আবু আল-বারাকাত হাফিয উদ্দিন আল-নাসাফী; নাসাফ (ন ও স বর্ণে ফাতহা যোগে) এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা মা ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের সিন্দ-এর অন্তর্ভুক্ত একটি শহর। কেউ কেউ বলেন: সিন বর্ণে কাসরা যোগে এবং সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে ফাতহা হয়। আর "আল-নাফি'" যা "আল-মুসতাসফা" নামে প্রসিদ্ধ, এবং এছাড়া তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে, যার মধ্যে "আল-ওয়াফি" এবং তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আল-কাফি", "কানযুদ দাকাইক", "আল-মুসাফফা শারহুল মানযুমাতিন নাসাফিয়্যাহ", এবং "আল-মানার" ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ "কাশফুল আসরার", "আল-ইতিমাদ শারহুল উমদাহ" অন্যতম। তিনি সাতশ দশ হিজরীতে বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং এই বছরেই ইন্তেকাল করেন। আল-কারী তাঁর মৃত্যু সাল সাতশ এক হিজরী উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর রচনার মধ্যে তাফসীর শাস্ত্রে "আল-মাদারিক" এবং আল-মানার-এর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার একটি "আল-কাশফ" এবং অন্যটি তার চেয়েও সংক্ষিপ্ত। তাকী উদ্দিনের জীবনীগ্রন্থ (طبقات) এ ইবনুশ শিহনার হস্তলিপি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "আল-হিদায়াহ" গ্রন্থের উপর তাঁর কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থের কথা জানা নেই।

আর "আল-ফিকহুন নাফি'" হলো একটি সুদৃঢ় মূল পাঠ (متن), যার রচয়িতা হলেন নাসির উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আবুল কাসিম আশ-শাহীদ আল-হুসাইনী আল-সামারকান্দি। তাঁর নাম মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, যেমনটি "কাশফুল আসরার" এর রচয়িতা বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর মৃত্যু তারিখ নিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে; "মাসাবিহুস সুবুল" এবং "আল-মানাফে'" এর আলোচনায় তিনি বলেছেন যে, তিনি ছয়শ ছাপ্পান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন, আবার "আল-মুলতাকাত"-এর আলোচনায় বলেছেন যে, তিনি পাঁচশ ছাপ্পান্ন হিজরীতে মারা গেছেন। আল-কারী-এর জীবনীগ্রন্থ (طبقات) এ রয়েছে যে, তিনি পাঁচশ ছাপ্পান্ন হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে "খুলাসাতুল মুফতী" এবং "কিতাবুল আখসাফ"ও রয়েছে। "আল-ফাওয়াইদ" (পৃষ্ঠা ২২০) থেকে সংকলিত হয়ে সমাপ্ত।

(২) তাঁর উক্তি (এবং তাঁর কাযা করা...): ইমাম বুখারি আয়েশা (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার প্রেক্ষিতে; তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, তাই আমি তাঁর জন্য একটি তাবু (১৭) টাঙিয়ে দিতাম, অতঃপর তিনি ফজরের নামাজ আদায় করতেন..."

_________

(১৭) ইবনুল আসীর "জামেউল উসুল" (১: ৩২৭) গ্রন্থে বলেছেন: "খিবাহ: আখবিয়াহ-এর একবচন, যা পশম বা উল দিয়ে তৈরি তাবু, এটি চুল দিয়ে তৈরি হয় না। এটি দুই বা তিনটি খুঁটির ওপর দণ্ডায়মান থাকে, আর এর চেয়ে বড় হলে তাকে 'বাইত' (ঘর) বলা হয়।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وههنا قول ثالث، وهو التفصيل: بأنَّه سُنَّة مؤكَّدة في العَشْر الأواخر من رمضان، ويكون واجبًا بالنذر بلسانه (1)، ولا يكفي مجرَّد النيَّة، وبالشُّروع (2)، وبالتعليق (3)،

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= ثم يدخُلُه، فاستأذنَتْ حفصةُ عائشةَ أن تضربَ خِباءَ، فَأَذِنَتْ لها فَضَرَبَتْ خِباءً، فلما رَأَتْهُ زينبُ بنتُ جحش ضَرَبَت خِباءً آخر، فلما أصبحَ النبي صلى الله عليه وسلم رأى الأَخْبيَة، فقال: مَا هَذا؟ فأُخبر.

فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "آلبرَّ تَرَوْن (18) بهنّ، فتركَ الاعتكافَ ذلك الشَّهرَ، ثم اعتكفَ عشرًا من شوّال" (19).

قال الحافظ في "الفتح": وفي اعتكافه في شَوَّال دَليلٌ على أنَّ النوافِلَ المعتادة إذا فاتَتْ تُقْضَى استحبابًا، واستدلَّ به المالكية على وجوبِ قضاءِ العملِ لمنْ شَرَع فيه ثم أبطله، ولا دلالة فيه لما سيأتي" (20).

(1) قوله (بالنَّذر بلسانه): كقوله: لله عَليَّ أن أعتكفَ ثلاثةَ أيام مثلًا.

(2) قوله (وبالشُّروع): عطفٌ على قوله بالنَّذْر، ولكنَّه ضعيف، حيث قال الحَصْكَفيُّ وغيره: فلو شَرَع في نفله ثمَّ تركَهُ لا يلزمه قضاؤه على الظاهر، وما في بعض المعتَبَرات: أنَّه يلزم بالشُّروع مفرَّع على القول الضعيف (21).

(3) قوله (وبالتعليق): عطفٌ على قوله: بالنَّذْر، وهذا يقتضي أنَّ صورة التعليق ليست بنذر؛ لأنَّ العطفَ يقتضي المغايرة مع أنَّها نذر، فالأَوْلى أن يقول: واجبٌ =

_________

(18) في سنن أبي داود (2456)، والنسائي (709): "آلْبرَّ تُردْنَ"، قال السندي في حاشيته على النسائي 2: 45: "بمد الهمزة مثل: {آللهُ أَذِنَ لَكُمْ}، والاستفهام للإِنكار، و"آلبرَّ" بالنصب مفعول "يُرِدْنَ"، أي: ما أرَدْنَ البر وإنما أرَدْنَ قضاءَ مقتضى الغَيْرة، والله تعالى أعلم.

(19) أخرجه البخاري في كتاب الاعتكاف، باب اعتكاف النساء 4: 275 (2033).

(20) فتح الباري 4: 276 - 277.

(21) الدر المختار 2: 444، وهو وإن لم يلزمه القضاءُ لكن يُستحبُّ له، وهناك قول آخر عن الحنفية: أنه يقضي المسنون المؤكَّد وهو العشر الأواخر دون غيرها. حاشية ابن عابدين 2: 445.
এখানে একটি তৃতীয় মত রয়েছে, আর তা হলো বিস্তারিত বিবরণ: এটি রমজানের শেষ দশকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, এবং মুখে মানত করার মাধ্যমে এটি ওয়াজিব হয় (১), শুধুমাত্র নিয়ত যথেষ্ট নয়; আর আমল শুরু করার মাধ্যমে (২) এবং শর্তযুক্ত করার (তালিক) মাধ্যমেও (৩)।

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইনসাফ-এর টীকা সংবলিত আল-ইসআফ]

= অতঃপর তিনি তাতে প্রবেশ করবেন। হাফসা (রা.) আয়েশা (রা.)-এর নিকট একটি তাঁবু খাটানোর অনুমতি চাইলেন, তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং তিনি একটি তাঁবু খাটালেন। যখন জয়নব বিনতে জাহাশ এটি দেখলেন, তিনিও অন্য একটি তাঁবু খাটালেন। যখন সকাল হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁবুগুলো দেখলেন এবং বললেন: "এগুলো কী?" তাঁকে জানানো হলো।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা কি মনে করো যে তারা পুণ্য অর্জনের (১৮) উদ্দেশ্যেই এটি করছে? ফলে তিনি সেই মাসে ইতিকাফ বর্জন করলেন এবং পরবর্তীতে শাওয়ালের দশ দিন ইতিকাফ করলেন" (১৯)।

হাফিজ ইবনে হাজার "ফাতহুল বারি" গ্রন্থে বলেন: "শাওয়াল মাসে তাঁর ইতিকাফ করা এই বিষয়ের প্রমাণ যে, নিয়মিত নফল ইবাদত যদি ছুটে যায় তবে তা মুস্তাহাব হিসেবে কাজা করা হয়। মালিকিগণ এর মাধ্যমে সেই ব্যক্তির ওপর আমল কাজা করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করেছেন যে ব্যক্তি আমল শুরু করার পর তা বাতিল করে দিয়েছে। তবে সামনে যা আসছে সে অনুযায়ী এতে তেমন কোনো প্রমাণ নেই" (২০)।

(১) তাঁর কথা (মুখে মানতের মাধ্যমে): যেমন কারো কথা: "আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার ওপর উদাহরণস্বরূপ তিন দিন ইতিকাফ করা আবশ্যক।"

(২) তাঁর কথা (শুরু করার মাধ্যমে): এটি 'মানত' শব্দের ওপর সংযোজিত হয়েছে, তবে এটি দুর্বল (ضعيف)। হাসকাফি এবং অন্যান্যরা বলেন: যদি কেউ নফল আমল শুরু করে এবং পরে তা ছেড়ে দেয়, তবে প্রকাশ্য মতানুসারে তার ওপর কাজা করা আবশ্যক হয়না। আর কিছু নির্ভরযোগ্য কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে যে, শুরু করার মাধ্যমে তা আবশ্যক হয়ে যায়, তা একটি দুর্বল (ضعيف) মতের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে (২১)।

(৩) তাঁর কথা (শর্তযুক্ত করার মাধ্যমে): এটি 'মানত' শব্দের ওপর সংযোজিত হয়েছে। এটি দাবি করে যে, শর্তযুক্ত করার বিষয়টি মানত নয়; কারণ ব্যাকরণগত সংযোজন ভিন্নতা দাবি করে, অথচ এটিও মানত। তাই উত্তম হলো এটি বলা যে: ওয়াজিব =

_________

(১৮) সুনান আবু দাউদ (২৪৫৬) এবং নাসাঈ (৭০৯)-তে রয়েছে: "তোমরা কি পুণ্য অর্জন করতে চাও?" সিন্ধি নাসাঈ-এর টিকায় (২: ৪৫) বলেন: "হামজাকে দীর্ঘ করে পড়ার মাধ্যমে, যেমন: {আল্লাহ কি তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন?}, এখানে প্রশ্নটি অস্বীকৃতি জ্ঞাপক। আর 'আল-বিররা' শব্দটি নসব অবস্থায় কর্ম হিসেবে এসেছে। অর্থাৎ: তারা পুণ্যের ইচ্ছা করেনি বরং তারা কেবল তাদের ঈর্ষার দাবি পূরণ করতে চেয়েছিল। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

(১৯) এটি বুখারি ইতিকাফ অধ্যায়ের 'নারীদের ইতিকাফ' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন ৪: ২৭৫ (২০৩৩)।

(২০) ফাতহুল বারি ৪: ২৭৬ - ২৭৭।

(২১) আদ-দুররুল মুখতার ২: ৪৪৪। যদিও তার ওপর কাজা করা আবশ্যক নয়, তবে তা তার জন্য মুস্তাহাব। হানাফিদের পক্ষ থেকে আরেকটি মত রয়েছে যে: সে কেবল সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ তথা শেষ দশকের ইতিকাফ কাজা করবে, অন্যগুলো নয়। হাশিয়া ইবনে আবিদিন ২: ৪৪৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ذكره ابن الكمال (1)، ومُسْتَحَبٌ في غيرِهِ من الأزمنة.

وهذا القولُ هو الذي صحَّحَهُ العيني (2) في "شرح الكَنز" حيث قال:

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= بالنذر مُنْجَزًا كان أو مُعَلَّقًا، وصورةُ التعليق أن يقول: إنْ شَفَى الله مريضي فلانًا لأعتكِفَنَّ كذا (22).

(1) قوله (ابن الكَمَال): هو أحمد بن سُليمان الرُّومي، الشهير بابن كَمَال باشا، مات في سنة أربعين وتسعمائة بقسطنطينية، وله مصنَّفات تزيد على مائة، منها "الإِصْلاح"، وشرحُه "الإِيضاح"، ومتن في الأصول سماه: "تغيير التنقيح"، وشرحه، ومتنٌ في الكلام وشرحه، ومتن في المعاني والبيان وشرحه، ومتنٌ في الفرائض وشرحه، وحواشي على "شرح المفتاح"، وعلى " الهداية"، وعلى "تهافت الفلاسفة" لخواجه زاده، وغير ذلك.

(2) قوله (العَيْني): هو محمود بن أحمد بن موسى بن أحمد بن حسين ابن يوسف بن محمود، قاضي القضاة بَدر الدين العَيْني، نسبة إلى عَيْن تاب، بلدة كبيرة على ثلاث مراحل من حلب، وُلِدَ بمصر، وقيل: بحلب (23) في نصف رمضان سنة ثنتين وستين وسبعمائة، ومات في ذي الحجة سنة خمس وخمسين وثمانمائة، ومن تصانيفه: "عمدة القاري شرح صحيح البخاري"، و"شرح معاني الآثار"، و"البناية شرح الهداية"، و"رمز الحقائق شرح كنز الدقائق"، و "شرح المجمع" (24)، و"شرح دُرَر البحار"، و "منحة السُّلوك شَرح تُحفة =

_________

(22) قال العلامة اللكنوي في حاشيته على "الهداية" 2: 290 في تعليق الاعتكاف بشرط: "وبه ظَهَر خطأ صاحب "الكنز" حيث عدَّ الاعتكاف في باب السَّلَم من كتاب البيوع من الأمور التي لا يصحُّ تعليقها بالشرط، وقد نبه على ذلك ابن نجيم في "البحر الرائق" في ذلك الموضع".

(23) والصواب: أن ولادته بعين تاب من أعمال حلب.

(24) واسمه: "المُسْتَجمع في شرح المجمع والمنتقى في شرح الملتقى" وهو شرح لكتاب "مجمع البحرين وملتقى النهرين" لابن الساعاتي المتوفى سنة 694 كما في "الجواهر المضية" 1: 80.
ইবনে আল-কামাল (১) এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটি ছাড়া অন্যান্য সময়ে তা মুস্তাহাব (مستحب)।

এবং এই অভিমতটিই আল-আইনি (২) "শারহুল কানজ"-এ বিশুদ্ধ (صحح) বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতিল ইনসাফ]

= মানতের মাধ্যমে, চাই তা তাৎক্ষণিক হোক বা শর্তযুক্ত (معلق); আর শর্তযুক্ত হওয়ার রূপটি হলো এমন যে, সে বলবে: যদি আল্লাহ আমার অমুক রোগীকে সুস্থ করে দেন, তবে আমি অবশ্যই এত দিন ইতিকাফ করব (২২)।

(১) তাঁর বক্তব্য (ইবনে আল-কামাল): তিনি হলেন আহমদ বিন সুলাইমান আর-রুমি, যিনি ইবনে কামাল পাশা নামে প্রসিদ্ধ। তিনি ৯৪০ হিজরিতে কনস্টান্টিনোপলে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক, যার মধ্যে রয়েছে "আল-ইসলাহ", এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আল-ঈজাহ", উসুল শাস্ত্রের একটি মূল পাঠ (মত্ন) যা তিনি "তাগয়ীরুত তানকীহ" নামে অভিহিত করেছেন এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইলমে কালামের একটি মূল পাঠ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, মানি ও বায়ান শাস্ত্রের একটি মূল পাঠ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ফারায়েজ শাস্ত্রের একটি মূল পাঠ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এছাড়া "শারহুল মিফতাহ", "আল-হিদায়া" এবং খাওয়াজাহ জাদাহ-এর "তাহাফুতুল ফালাসিফা"-এর ওপর লিখিত পাদটীকা (হাশিয়া) এবং আরও অন্যান্য রচনা।

(২) তাঁর বক্তব্য (আল-আইনি): তিনি হলেন মাহমুদ বিন আহমদ বিন মুসা বিন আহমদ বিন হুসাইন ইবনুল ইউসুফ বিন মাহমুদ, প্রধান বিচারপতি (কাদি আল-কুদাত) বদরুদ্দিন আল-আইনি। তাঁর নিসবত "আইন তাব" নামক শহরের দিকে, যা হালাব থেকে তিন দিনের দূরত্বে অবস্থিত একটি বড় শহর। তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন, আবার বলা হয়েছে হালাব-এ (২৩), ৭৬২ হিজরির রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এবং ৮৫৫ হিজরির জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো: "উমদাতুল কারী শারহু সহিহিল বুখারি", "শারহু মাআনিল আসার", "আল-বিনায়া শারহুল হিদায়া", "রামজুল হাকায়িক শারহু কানজিদ দাকায়িক", "শারহুল মাজমা" (২৪), "শারহু দুরারিল বিহার" এবং "মিনহাতুস সুলুক শারহু তুহফাহ"=

_________

(২২) আল্লামা লাখনভি "আল-হিদায়া" (২: ২৯০)-এর পাদটীকায় শর্তযুক্ত ইতিকাফ প্রসঙ্গে বলেছেন: "এর মাধ্যমেই 'কানজ' গ্রন্থকারের ভুল প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে তিনি ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ের 'সালাম' পরিচ্ছেদে ইতিকাফকে এমন বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট করা সঠিক নয়। ইবনে নুজাইম 'আল-বাহরুর রায়িক'-এ উক্ত স্থানে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।"

(২৩) সঠিক হলো: তাঁর জন্ম হালাবের অন্তর্গত আইন তাব শহরে।

(২৪) এর নাম হলো: "আল-মুস্তাজমা ফি শারহিল মাজমা ওয়াল মুনতাকা ফি শারহিল মুলতাকা", যা ইবনে আস-সাআতি (মৃত্যু ৬৯৪) রচিত "মাজমাউল বাহরাইন ওয়া মালতাকাল নাহরাইন" গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ; যেমনটি "আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ" (১: ৮০)-তে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
"قال الشيخ: إنَّه سُنَّةٌ، وقال القُدُوري: إنه مُسْتَحَبٌّ، وقال صاحب "الهداية": الصحيحُ أنَّه سُنَّة مؤكَّدة، قلت: الصحيحُ التفصيل، فإن كان منذورًا: فواجب، وفي العشر الأواخر من رمضان: سُنَّة، وفي غيره: مستحب". انتهى.

واختاره الزَّيلعيُّ (1) في "شرح الكَنْز" حيث قال: "الحقُّ الانقسام إلى ثلاثة أقسام: واجبٌ، وهو المنذور، وسُنَّة في العشر الأواخر من رمضان، ومُسْتَحَبٌّ في غيره".

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= الملوك"، و"طبقات الحنفيَّة"، و"طبقات الشعراء"، و"مختصر تاريخ ابن عساكر"، و"شرح الشَّواهد الصغير"، و"الكبير"، وغير ذلك. هكذا في "الفوائد" (ص 207 - 208)، وغيره من تأليفات الأستاذ العلامة مُدَّ ظلُّه.

(1) قوله (الزَّيْلعي): هو عثمان بن علي بن محجن، أبو محمَّد فخر الدين الزيلعي، نسبة إلى زَيْلع -بفتح الزاي المعجمة، وسكون الياء المثنَّاة التحتية، ثم اللام المفتوحة، ثم العين المهمَلة-، بلدة بساحل بحر الحبشة، ومن مصنَّفاته: "تبيين الحقائق شرح كنز الدقائق"، وهو المُراد بالشارح في "البحر الرائق"، و "بركة الكلام على أحاديث الأحكام الواقعة في الهداية وسائر كتب الحنفية"، وشرحان على "الجامع الكبير"، مات في رمضان سنة ثلاث وأربعين وسبعمائة، ودُفنَ بالقَرِّافة.

واعلم أن صاحبَ الترجمة غيرُ الزيْلعي المخرِّج لأحاديث الهداية، فإنَّ اسمَهُ جمال الدين عبد الله بن يُوسف بن محمَّد، وقيل: ابن يونس بن محمَّد، أخذ عن الزَّيْلَعي صاحبِ الترجمة، مات في المحرم سنة اثنتين وستين وسبعمائة، هكذا حققه الأستاذ في تصانيفه، ولقد أخطأ الفاضل القِنَّوْجي نزيل بهوفال في "إتحاف النبلاء" حيث سماه بيوسف. وليطلب تفصيله من "إبراز الغي الواقع في شفَاء العي"، و"تذكرة الراشد برد تَبْصرة الناقد"، كلاهما للأستاذ العلام.
শাইখ বলেছেন: "এটি সুন্নাহ।" কুদুরী বলেছেন: "এটি মুস্তাহাব।" আর 'আল-হিদায়াহ' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: "বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো এটি সুন্নাহ মুয়াক্কাদাহ।" আমি বলি: "বিশুদ্ধ (صحيح) কথা হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা; যদি এটি মানত করা হয়, তবে তা ওয়াজিব; রমজানের শেষ দশকে এটি সুন্নাহ এবং অন্য সময়ে এটি মুস্তাহাব।" সমাপ্ত।

এবং আয-যায়লায়ী (১) 'শারহুল কানয' গ্রন্থে এটিই পছন্দ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "সঠিক কথা হলো এটি তিন ভাগে বিভক্ত: ওয়াজিব—যা মানত করা হয়েছে; রমজানের শেষ দশকে সুন্নাহ; এবং অন্য সময়ে মুস্তাহাব।"

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতিল ইনসাফ]

= 'আল-মুলুক', 'তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ', 'তাবাকাতুশ শুআরা', 'মুখতাসার তারিখ ইবনে আসাকির', 'শারহুশ শাওয়াাহিদ আস-সাগীর' ও 'আল-কাবীর' এবং অন্যান্য। এভাবেই 'আল-ফাওয়াইদ' (পৃষ্ঠা ২০৭ - ২০৮) এবং উস্তাদ আল্লামাহর—তাঁর ছায়া দীর্ঘ হোক—অন্যান্য রচনায় বর্ণিত হয়েছে।

(১) তাঁর উক্তি (আয-যায়লায়ী): তিনি হলেন উসমান বিন আলী বিন মিহজান, আবু মুহাম্মদ ফখর উদ্দিন আয-যায়লায়ী। তিনি 'যায়লায়'—যায়-এর ওপর ফাতহাহ, ইয়া-এর ওপর সুকুন, অতঃপর লাম-এর ওপর ফাতহাহ এবং আইনের ওপর সুকুন—এর সাথে সম্বন্ধিত। এটি হাবশা সমুদ্র উপকূলের একটি শহর। তাঁর সংকলিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: 'তাবয়ীনুল হাকায়িক শারহু কানযিদ দাকায়িক'—যা 'আল-বাহরুর রায়িক' গ্রন্থে 'শারহ' বা ব্যাখ্যাকার বলতে তাকেই বোঝানো হয়; 'বারাকাতুল কালাম আলা আহাদিসিল আহকাম আল-ওয়াকিয়া ফিল হিদায়াহ ওয়া সাইরি কুতুবিল হানাফিয়্যাহ' এবং 'আল-জামি আল-কাবীর'-এর ওপর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তিনি ৭৪৩ হিজরি সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং কারাফায় সমাহিত হন।

জেনে রাখুন যে, আলোচিত জীবনীকার ব্যক্তি সেই আয-যায়লায়ী নন যিনি 'আল-হিদায়াহ'-এর হাদিসসমূহের তথ্যসূত্র ও মান নির্ণয় (المخرج) করেছেন। কারণ তাঁর (মান নির্ণয়কারীর) নাম হলো জামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ; বলা হয় ইবনে ইউনুস বিন মুহাম্মদ। তিনি এই জীবনীতে আলোচিত আয-যায়লায়ীর নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি ৭৬২ হিজরি সনের মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন। উস্তাদ তাঁর রচনাগুলোতে এভাবেই এটি নিরূপণ করেছেন। ফাজিল কান্নওজি, যিনি ভোপালে অবস্থান করতেন, তিনি 'ইতিহাফুন নুবালা' গ্রন্থে তাঁকে 'ইউসুফ' নামে অভিহিত করে ভুল করেছেন। এর বিস্তারিত বিবরণ 'ইবরাযুল গাই আল-ওয়াকিয় ফি শিফাইল আই' এবং 'তাযকিরাতুর রাশিদ বিরাদ্দি তাবসিরাতিন নাকিদ' গ্রন্থদ্বয়ে সন্ধান করা উচিত, যা উভয়ই উস্তাদ আল্লামাহর রচনা।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
واختاره أيضًا ابن الهُمَام (1) في "فتح القدير"، وجَزَمَ به الشُّرُنْبُلالي (2) في "نور الإِيضاح"، والتُّمُرْتَاشي (3) في "تنوير الأبْصار"،

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

(1) قوله (ابن الهُمَام): هو محمَّد بن عبد الواحد بن عبد الحميد، كمال الدين، الشهير بابن الهُمَام السَّكَنْدري السِّيواسي، وُلد في سنة ثمان وثمانين وسبعمائة، وقيل: سنة تسعين وسبعمائة، ومات يوم الجمعة سابع رمضان سنة إحدى وستين وثمانمائة، ومن تصانيفه: "فتح القدير شرح الهداية" إلى كتاب الوكالة (25)، و"التحرير في الأصول"، و"المُسَايَرة" في العقائد، و"زاد الفقير" مختصر في مسائل الصلاة، و"رسالة في إعراب: سُبْحان الله وبحمده". كذا في "الفوائد" (ص 180 - 181).

(2) قوله (الشُّرُنْبُلالي): هو أبو الإِخلاص حَسَن بن عَمَّار بن علي الوفائي المصري الشُّرُنْبُلَالي -بضم الشين مع الراء المهمَلَة، وسُكون النون وضم الباء الموحدة، ثم لام ألف ثم لام-، نسبة إلى شبرابلولة على غير قياس، بلدة تجاه منوف بسَواد مصر، صَنَّف كتبًا كثيرة، أجلُّها: "شرح منظومة ابن وَهْبان"، قال الأستاذ مُدَّ ظلُّه في "التعليقات" (ص 58): وقد طالعتُ من تصانيفه: "نور الإِيضاح"، وشرحه "إمْداد الفتاح"، ومختصره "مراقي الفلاح"، وستين رسالة في مسائل متفرقة. انتهى.

يقول العبد: وقد طَالعتُ من مصنَّفاته: حاشيته على "الدُّرر والغُرر" (26)، أولها: الحمدُ لله الذي أظهر في هذه الدار ببديع قدرته … إلخ، مات رحمه الله في رمضان سنة تسع وستين بعد الألف.

(3) قوله (والتُّمُرْتَاشي): هو شمسُ الدين محمَّد بن عبد الله بن أحمد الخطيب بن =

_________

(25) ثم أكمل شرحه شمس الدين قاضي زاده المتوفى سنة 988 وسمَّى هذه التكملة: "نتائج الأفكار في كشف الرموز والأسرار".

(26) "درر الحكام شرح غُرر الأحكام" كلاهما لمنلا خسرو بن فراموز المتوفى سنة 885 بالقسطنطينية رحمه الله تعالى.
এবং এটি ইবনুল হুমাম (১) 'ফাতহুল কাদির'-এ গ্রহণ করেছেন, আর শুরুবলালি (২) 'নূরুল ইদাহ'-এ এবং তুমুরতাশি (৩) 'তানভীরুল আবসার'-এ এটি নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন।

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতিল ইনসাফ]

(1) তাঁর বক্তব্য (ইবনুল হুমাম): তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্দুল হামিদ, কামালুদ্দিন, যিনি ইবনুল হুমাম আস-সাকান্দারি আস-সিওয়াসি নামে প্রসিদ্ধ। তিনি ৭৮৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে ৭৯০ হিজরি সনে। তিনি ৮৬১ হিজরি সনের ৭ই রমজান রোজ শুক্রবার মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: কিতাবুল ওকালাহ পর্যন্ত 'হিদায়া'র ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল কাদির' (২৫), উসুল শাস্ত্রের 'আত-তাহরির', আকাইদ বিষয়ক 'আল-মুসায়ারাহ', সালাতের মাসআলা বিষয়ক সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ 'জাদুল ফাকির' এবং 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি'-এর ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) বিষয়ক একটি রিসালাহ। 'আল-ফাওয়ায়িদ'-এ (পৃ. ১৮০-১৮১) এরূপই বর্ণিত হয়েছে।

(2) তাঁর বক্তব্য (আশ-শুরুবলালি): তিনি হলেন আবুল ইখলাস হাসান ইবনে আম্মার ইবনে আলী আল-ওয়াফায়ি আল-মিসরি আশ-শুরুবলালি। শুরুবলালি শব্দটি শিন বর্ণে পেশ ও (নুকতাহীন) রা, নুন বর্ণে সুকুন ও এক নুকতাযুক্ত বা-তে পেশ, এরপর লাম-আলিফ ও লাম—এর সমন্বয়ে গঠিত। এটি মিশরের সাওয়াদ (পল্লী) অঞ্চলের মানুফের বিপরীতে অবস্থিত ‘শুবরাবালুলাহ’ নামক জনপদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা (শব্দগঠনের) নিয়মের ব্যতিক্রম। তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো 'শারহু মানজুমাতি ইবনি ওয়াহবান'। উস্তাদ (তাঁর ছায়া দীর্ঘ হোক) 'আত-তালিকাত' (পৃ. ৫৮) গ্রন্থে বলেছেন: আমি তাঁর রচনাবলির মধ্যে 'নূরুল ইদাহ', এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ইমদাদুল ফাত্তাহ', এর সংক্ষিপ্তসার 'মারাকিল ফালাহ' এবং বিবিধ মাসআলার ওপর ষাটটি রিসালাহ অধ্যয়ন করেছি। (সমাপ্ত)।

বান্দা (গ্রন্থকার) বলেন: আমি তাঁর রচনাবলির মধ্যে 'আদ-দুরার ওয়াল গুরার' (২৬)-এর ওপর তাঁর হাশিয়া (টীকাগ্রন্থ) অধ্যয়ন করেছি, যার শুরু হয়েছে এভাবে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর অপূর্ব কুদরতের মাধ্যমে এই জগতে প্রকাশ করেছেন... ইত্যাদি। তিনি ১০৬৯ হিজরি সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

(3) তাঁর বক্তব্য (ওয়াত-তুমুরতাশি): তিনি হলেন শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-খাতিব ইবনে...

_________

(25) অতঃপর শামসুদ্দিন কাজি জাদাহ (মৃত্যু ৯৮৮ হি.) এর ব্যাখ্যা সম্পন্ন করেন এবং এই পরিশিষ্টের নামকরণ করেন: 'নাতায়িজুল আফকার ফি কাশফির রুমুজি ওয়াল আসরার'।

(26) 'দুরারুল হুক্কাম শারহু গুরারিল আহকাম', উভয়টিই মোল্লা খুসরু ইবনে ফরামোজ-এর রচনা, যিনি ৮৮৫ হিজরি সনে কনস্টান্টিনোপলে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وإليه مَالَ الحَصكَفي (1).

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= إبراهيم الخطيب التُّمُرْتاشي الغَزِّي، نسبة إلى تُمُرْتاش -بضم التاء المثنَّاة الفوقيَّة الأولى وضمِّ الميم وسكون الراء المهمَلة-، قريةٌ من قرى خُوارزم، كذا ذكره الطَّحْطاوي في "حواشي الدر المختار"، وذكر ابن عابدين في حاشيته عليه، نسبة إلى جده المسمَّى به، والغَزِّي نسبة إلى غَزَّة البلد المعلوم، ومن تصانيفه: "تنوير الأبصار"، وشرحُه "فتح الغفار"، ورسالة في علم الصرْف، ومنظومة في التوحيد، وشرحُها، و"شرح زاد الفقير" لابن الهُمَام، و"شرح قصيدة بَدْء الأمالي"، و"شرح مختصر المنار"، و"شرح المنار" إلى باب السُّنَّة، و"شرح قطعة من الوقاية"، و"شرح الكنز" إلى باب الأَيْمان، و"حاشية الدرر شرح الغرر" إلى باب الحج، و"تحفة الأقران"، منظومة في الفقه، وشرحها "مواهب الرحمن"، و"رسالة في خصائص العشرة المبشَّرة"، و"رسالة في عصمة الأنبياء"، و"رسالة في جواز الاسْتِنابة في الخطبة"، و"رسالة في القراءة خَلْف الإِمام"، و"النفائس في أحكام الكنائس"، و "مُسْعِف الحكام على الأحكام"، و"رسالة في مسح الخُفيْن"، و"رسالة في دخول الحمَّام"، و"رسالة في النكاح بلفظ: جوَّزْتُك"، و"رسالة في أحكام الدروز"، وغير ذلك، وكانت وفاته في رجب سنة أربع وألف. وليُطْلَب البَسْط في ترجمته، وترجمة مؤلِّف "الدّر المختار شرح تنوير الأبصار" من "طَرَب الأماثل بتراجم الأفاضل" (ص 304 - 305)، للأستاذ العلَّامة، ومن "فرحة المدرسين".

(1) قوله (الحَصْكَفي): هو علاء الدين محمَّد بن علي بن محمَّد بن علي بن عبد الرحمن الحَصْكَفي الدمشقي الحنفي، والحَصْكَفي -بفتح الحاء وسكون الصَّاد، وفي بعض النسخ: بالسين المهملة، وفتح الكاف بعدها فاء- نسبة إلى حِصْن كيفا على خلاف القياس، والقياس: الحِصْني، وهي بَلدةٌ من بلاد ديار بكر، ألَّف "شرح تنوير الأبصار" المسمَّى بـ "خزائن الأسرار"، ومختصره "الدر المختار"، و"شرح المُلْتَقى" المسمَّى بـ "المنتقى"، و"شرح المنار" المسمى =
এবং হাসকাফি (১) এর দিকেই ঝুঁকেছেন।

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইস'আফ বিতাহশিয়াতিল ইনসাফ]

= ইব্রাহিম আল-খাতিব আত-তুমুরতাশি আল-গাজ্জি। তাঁর নিসবত (সম্বন্ধ) করা হয়েছে তুমুরতাশ-এর দিকে—প্রথম 'তা' বর্ণে পেশ, 'মিম' বর্ণে পেশ এবং বিরামযুক্ত 'রা' বর্ণে সাকিন যোগে—এটি খাওয়ারিজমের একটি গ্রাম। তাহতাবি 'হাওয়াশি আদ-দুররুল মুখতার' গ্রন্থে এমনই উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবিদিন তাঁর হাশিয়াতে উল্লেখ করেছেন যে, এটি তাঁর এই নামে নামাঙ্কিত দাদার নিসবত। আর আল-গাজ্জি হলো প্রসিদ্ধ শহর গাজার নিসবত। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'তানভিরুল আবসার', এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল গাফফার', শব্দতত্ত্ব (সরফ) বিষয়ক একটি রিসালাহ, তাওহিদ বিষয়ক একটি কাব্যগ্রন্থ ও তার ব্যাখ্যা, ইবনুল হুমাম রচিত 'জাদুল ফাকির' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, 'কাসিদাতু বাদউল আমালি' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, 'মুখতাসারুল মানার' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সুন্নাহ (السنة) অধ্যায় পর্যন্ত 'আল-মানার' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, 'আল-বিকায়াহ' এর একাংশের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, শপথ অধ্যায় পর্যন্ত 'আল-কানজ' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, হজ অধ্যায় পর্যন্ত 'গুরার' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আদ-দুরার' এর হাশিয়া, ফিকহ শাস্ত্রের কাব্যগ্রন্থ 'তুহফাতুল আকরান' ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'মাওয়াহিবুর রহমান', 'আশারা মুবাশশারাহ' (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবি) এর বৈশিষ্ট্য বিষয়ক রিসালাহ, নবীদের নিষ্পাপত্ব বিষয়ক রিসালাহ, খুতবায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করার বৈধতা বিষয়ক রিসালাহ, ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ বিষয়ক রিসালাহ, গির্জার বিধানাবলী বিষয়ক 'আন-নাফাইস', 'মুস'ইফুল হুক্কাম আলাল আহকাম', মোজার ওপর মাসেহ বিষয়ক রিসালাহ, গোসলখানায় প্রবেশ বিষয়ক রিসালাহ, 'জাওয়াজতুক' (আমি তোমার সাথে বিবাহ দিচ্ছি) শব্দে বিবাহ বিষয়ক রিসালাহ, দ্রুজ সম্প্রদায়ের বিধিবিধান বিষয়ক রিসালাহ এবং আরও অনেক। তাঁর মৃত্যু হয়েছে হিজরি ১০০৪ সালের রজব মাসে। তাঁর এবং 'আদ-দুররুল মুখতার শারহু তানভিরিল আবসার' এর লেখকের বিস্তারিত জীবনী উস্তাদ আল্লামার 'তারাবুল আমাসিল বিতারা জিমিল আফাদিল' (পৃষ্ঠা ৩০৪-৩০৫) এবং 'ফারহাতুল মুদাররিসিন' থেকে অনুসন্ধান করা উচিত।

(১) তাঁর উক্তি (আল-হাসকাফি): তিনি হলেন আলাউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আবদুর রহমান আল-হাসকাফি আদ-দিমাশকি আল-হানাফি। আল-হাসকাফি শব্দটি—'হা' বর্ণে জবর এবং 'সাদ' বর্ণে সাকিন যোগে (কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'সিন' বর্ণে সাকিন), এরপর 'কাফ' বর্ণে জবর এবং 'ফা' বর্ণ—এটি নিয়ম বা কিয়াসের (القياس) পরিপন্থীভাবে 'হিসনে কাইফা' এর নিসবত। কিয়াস বা নিয়ম (القياس) অনুযায়ী এটি হওয়ার কথা ছিল 'হিসনি'। এটি দিয়ার বকর অঞ্চলের একটি শহর। তিনি 'তানভিরুল আবসার' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'খাজাইনুল আসরার' রচনা করেছেন, যার সংক্ষেপিত রূপ হলো 'আদ-দুররুল মুখতার'। এছাড়া 'আল-মুলতাকা' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-মুনতাকা' এবং 'আল-মানার' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ...
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قلت: لا يبعد أن يُحمَل الاستحبابُ في قولِ القُدوري على استحبابه في نفسِهِ، والسُّنيَّة في قولِ صاحب "الهدايةِ" على الاعتكاف في العشر الأواخر بمقْتضى دليله، فلم يَبْق إلَّا قولٌ واحد، وهو الأصح.

 

‌‌المقام الثاني:

هل هو سُنَّةٌ مؤكَّدة أو غيرُ مؤكَّدة
؟ وعرفتَ من المرغيناني والعيني والزَّيْلعي تصحيح أنَّه سُنَّةٌ مؤكَّدة، واسْتَدلُّوا عليه بأَنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قد واظَبَ عليه (1). رواه الشيخان.

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= بـ "إفاضة الأنوار"، و"تعليقات على صحيح البخاري"، وغير ذلك، توفي في شوال سنة ثمان وثمانين بعد الألف بدمشق، وعمره ثلاث وستون سنة.

(1) قوله (قد واظَبَ عليه): قال الحافظ في "الفتح،: "أورد المصنفُ ثلاثةَ أحاديث: أحدها: حديث ابن عمر: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعتكف العشر الأواخر من رمضان"، وأخرجه مسلم من هذا الوجه، وزاد: "قال نافع: وقد أراني عبد الله بن عمر المكانَ الذي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعتكفُ فيه من المسجد، (27)، وزادَ ابنُ ماجه من وجهٍ آخر: عن نافع عن ابن عمرَ أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا اعتكفَ، طُرِح له فراشه أو يوضع له سريره وراءَ أُسطوانة التوبة (28).

ثانيهما: حديث عائشة مثل حديث ابن عمر، وزاد: "حتى توفَّاه الله، ثم اعتكف أزواجه من بعده" (29)، فيُؤْخَذُ من الأول: اشتراط المسجد له، ومن الثاني: أنه لم يُنْسخ، وليس من الخصائص" (30). انتهى بقدر الحاجة. =

_________

(27) أخرجه البخاري في كتاب الاعتكاف (2025)، ومسلم في الاعتكاف (1171)، وأخرجه أبو داود بزيادة مسلم في الاعتكاف 3: 195 (2457).

(28) أخرجه ابن ماجه في كتاب الصيام 1: 564 (1774).

(29) أخرجه البخاري في كتاب الاعتكاف 4: 271 (2026).

(30) فتح الباري 4: 272.
আমি বলি: কুদুরি-র বক্তব্যে মুস্তাহাব হওয়া (الاستحباب) বিষয়টিকে এর সত্তাগত মুস্তাহাব হওয়ার ওপর এবং 'হিদায়া' গ্রন্থকারের বক্তব্যে সুন্নত হওয়া (السُّنيَّة) বিষয়টিকে এর দলিলের দাবি অনুযায়ী শেষ দশ দিনের ইতিকাফের ওপর প্রয়োগ করা অসম্ভব নয়। সুতরাং কেবল একটি অভিমতই অবশিষ্ট থাকে, আর সেটিই অধিকতর সহিহ (الأصح)।

 

‌‌দ্বিতীয় পর্যায়:

এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سُنَّةٌ مؤكَّدة) নাকি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নয় (غيرُ مؤكَّدة)
? এবং আপনি মারগিনানি, আইনি এবং যাইলায়ি-র বর্ণনা থেকে জানতে পেরেছেন যে, এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سُنَّةٌ مؤكَّدة) হওয়ার বিষয়টিই সহিহ হিসেবে গণ্য করা (تصحيح) হয়েছে, এবং তাঁরা এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিতভাবে এটি পালন করেছেন (১)। এটি শাইখাইন (الشيخان) বর্ণনা করেছেন।

‌‌

--------------------------------------------

_

[ইনসাফ-এর টীকা সম্বলিত আল-ইসআফ]

= "ইফাদাতুল আনওয়ার", "তালিকাত আলা সহিহ বুখারি" এবং অন্যান্য। তিনি ১০৮৮ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর।

(১) তাঁর উক্তি (তিনি নিয়মিতভাবে এটি পালন করেছেন): হাফিজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারি'-তে বলেছেন: "মুসান্নিফ তিনটি হাদিস উল্লেখ করেছেন: প্রথমটি: ইবনে উমরের হাদিস: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন', এবং ইমাম মুসলিম এই সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বর্ধিত করেছেন যে: 'নাফি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উমর আমাকে মসজিদের সেই স্থানটি দেখিয়েছেন যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করতেন (২৭)। ইবনে মাজাহ অন্য একটি সূত্রে নাফি হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইতিকাফ করতেন, তখন তাঁর জন্য উসতুওয়ানাতুত তাওবা-র পেছনে বিছানা পাতা হতো অথবা খাট রাখা হতো (২৮)।

দ্বিতীয়টি: আয়েশার হাদিস ইবনে উমরের হাদিসের অনুরূপ, তবে এতে বর্ধিত হয়েছে: 'আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করা পর্যন্ত (তিনি এটি করেছেন), অতঃপর তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর পত্নীগণও ইতিকাফ করেছেন' (২৯)। সুতরাং প্রথম হাদিস থেকে পাওয়া যায়: ইতিকাফের জন্য মসজিদ হওয়া শর্ত, এবং দ্বিতীয়টি থেকে পাওয়া যায়: এটি মানসুখ (রহিত) (يُنْسخ) হয়নি এবং এটি কেবল তাঁর জন্য সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য (الخصائص)-ও নয়" (৩০)। প্রয়োজনীয় অংশ সমাপ্ত। =

_________

(২৭) বুখারি এটি ইতিকাফ অধ্যায়ে (২০২৫) এবং মুসলিম ইতিকাফ অধ্যায়ে (১১৭১) বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ মুসলিমের বর্ধিত অংশসহ ইতিকাফ ৩: ১৯৫ (২৪৫৭) বর্ণনা করেছেন।

(২৮) ইবনে মাজাহ এটি সিয়াম অধ্যায়ে ১: ৫৬৪ (১৭৭৪) বর্ণনা করেছেন।

(২৯) বুখারি এটি ইতিকাফ অধ্যায়ে ৪: ২৭১ (২০২৬) বর্ণনা করেছেন।

(৩০) ফাতহুল বারি ৪: ২৭২।
(খণ্ড: ১) আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فإنْ قلتَ: المواظَبةُ دليلُ الوجوبِ.

قلتُ: هذا إذا كان مع الإِنكار على التَّرك، وأمَّا المواظَبةُ مع عَلَمِ الإِنكار على مَنْ تَرَكَهُ فهي دليلُ السُّنِّيَّة (1)، ولم يثبتْ إنكارُهُ صلى الله عليه وسلم على مَنْ تَركَه من الصَّحابة.

فإنْ قلتَ: لو كان سُنَّةً مؤكَّدةً لما تركه الصَّحابة (2) مع أنه لم يعتكف الخلفاءُ الأربعة.

قلتُ: إنَّما تركوا لوجهٍ آخر، وهو ما قاله الإِمام مالك: "لم يبلغني أنَّ أبا بكر وعمر وعثمان وابنَ المسيِّب، ولا أحدًا من سَلَف هذه الأمَّة

‌‌

--------------------------------------------

_

[الإِسعاف بتحشية الإِنصاف]

= فإن قلت: إنَّ قوله: "قد واظب عليه" لم يُخْرِجْهُ الشيخان في صحيحيهما بهذا اللفظ، وما أخرجاه فيهما لم يذكره المصنّف العلَّام أبْقاهُ الله وأدام، قلت: المواظبةُ إنَّما تُفهم من قول عائشة رضي الله عنها: "كان يعتكف" بقرينةِ قولها: "حتى توفَّاه الله"، وهذا من قَبيل روايته بالمعنى.

(1) قوله (فهي دليل السُّنِّيَّة): واستدلَّ ابن الهُمَام في "فتح القدير" على عدم كون الاعتكاف واجبًا بتركِهِ صلى الله عليه وسلم في العَشْرِ الأخير بسببِ ما وَقَع من أزواجه، واعتكافه صلى الله عليه وسلم بدله عشرًا من شوال، واعترض عليه بحر العلوم في "رسائل الأركان" بقوله: ففيه أنَّ القضاءَ بعد الترك دليل الوجوب. قلتُ: قد مرَّ من قبل من كلام الحافظ ابن حجر أنَّ القضاء في شوال كان على سبيل الاستحباب، ولو كان على سبيل الوجوب لاعتكف معه نساؤه أيضًا في شوال، والله أعلم.

(2) قوله (لما تركه الصحابة): لأنَّ الصحابةَ رضي الله عنهم كانوا أشدَّ النَّاس حِرصًا على اتباع النبي صلى الله عليه وسلم، وما كانوا تاركي سنةً من سُنَنِهِ إلَّا ما مُنعوا عنه، فلا يُتَصَوَّر أن يتركوا الاعتكافَ مع كونِهِ سُنَّةً مؤكَّدة.
যদি আপনি বলেন: নিরবচ্ছিন্নতা (مواظبة) ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দলিল।

আমি বলব: এটি তখন হয় যখন বর্জনকারীর প্রতি অস্বীকৃতি (إنكار) জানানো হয়। কিন্তু বর্জনকারীর প্রতি অস্বীকৃতি (إنكار) না জানানোর সাথে নিরবচ্ছিন্নতা (مواظبة) থাকা সুন্নাত (سنة) হওয়ার দলিল (১), আর সাহাবীগণের মধ্য থেকে যারা এটি বর্জন করেছেন তাদের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অস্বীকৃতি (إنكار) জানানো প্রমাণিত হয়নি।

যদি আপনি বলেন: যদি এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة) হতো তবে সাহাবীগণ তা বর্জন করতেন না (২), অথচ চার খলিফাও ইতিকাফ করেননি।

আমি বলব: তারা অন্য কোনো কারণে এটি বর্জন করেছেন, আর তা হলো ইমাম মালিক যা বলেছেন: "আমার কাছে পৌঁছায়নি যে আবু বকর, উমর, উসমান ও ইবনুল মুসায়্যিব অথবা এই উম্মতের সালাফ (سلف) এর মধ্য থেকে কেউ...

‌‌

--------------------------------------------

_

[আল-ইস'আফ বিতাহশিয়াতিল ইনসাফ]

= যদি আপনি বলেন: তাঁর এই বক্তব্য: "তিনি এতে নিরবচ্ছিন্ন ছিলেন (واظب عليه)", শাইখাইন তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে এই শব্দে বর্ণনা (أخرج) করেননি। আর মুসান্নিফ আল্লামা (আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন) যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেননি। আমি বলব: নিরবচ্ছিন্নতা (مواظبة) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র উক্তি: "তিনি ইতিকাফ করতেন" থেকেই বোঝা যায়, যার সাথে তাঁর বক্তব্য "যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দিয়েছেন" যুক্ত রয়েছে। আর এটি অর্থগত বর্ণনা (رواية بالمعنى) এর অন্তর্ভুক্ত।

(১) তাঁর উক্তি (এটি সুন্নাত হওয়ার দলিল): ইবনুল হুমাম 'ফাতহুল কাদির' গ্রন্থে ইতিকাফ ওয়াজিব (وجوب) না হওয়ার ওপর দলিল পেশ করেছেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তাঁর স্ত্রীদের ঘটনার কারণে শেষ দশকে ইতিকাফ বর্জন করা এবং তার বদলে শাওয়াল মাসে দশ দিন ইতিকাফ করার মাধ্যমে। বাহরুল উলুম 'রাসায়িলুল আরকান'-এ এর ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেছেন: বর্জনের পর কাজা (قضاء) করা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দলিল। আমি বলব: ইতিপূর্বে হাফেজ ইবনে হাজার এর বক্তব্য অতিবাহিত হয়েছে যে, শাওয়াল মাসে কাজা (قضاء) করা মুস্তাহাব (استحباب) হিসেবে ছিল। যদি তা ওয়াজিব (وجوب) হতো, তবে তাঁর স্ত্রীগণও তাঁর সাথে শাওয়াল মাসে ইতিকাফ করতেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) তাঁর উক্তি (সাহাবীগণ তা বর্জন করতেন না): কারণ সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। তারা তাঁর কোনো সুন্নাত (سنة) বর্জন করতেন না যদি না তাদের তা থেকে বারণ করা হতো। সুতরাং ইতিকাফ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة) হওয়া সত্ত্বেও তারা তা বর্জন করবেন, এমনটি কল্পনা করা যায় না।