(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: -)
الإنصاف في حكم الإعتكاف القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الإنصاف في حكم الاعتكاف، ومعه الإسعاف بتحشية الإنصاف - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (6)
المؤلف: محمد عبد الحي بن محمد عبد الحليم الأنصاري اللكنوي الهندي، أبو الحسنات (ت 1304 هـ)
حققه وخرج نصوصه وعلق عليه: مجد بن أحمد مكي
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الثالثة، 1420 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 49
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 ذو القعدة 1436
ই’তিকাফের বিধানের ক্ষেত্রে ইনসাফ (আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ই’তিকাফ) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ই’তিকাফ, এবং এর সাথে আল-ইসআফ বি-তাহশিয়াতিল ইনসাফ - মাসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠকের ধারাবাহিক (৬)
লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল হাই বিন মুহাম্মদ আব্দুল হালীম আল-আনসারী আল-লাখনভী আল-হিন্দী, আবুল হাসানাাত (মৃ. ১৩০৪ হি.)
তাহকীক (تحقيق), তাখরীজ (تخريج) ও টীকা প্রদানকারী: মাজদ বিন আহমদ মাক্কী
প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২০ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (6)
الإنصاف في حكم الاعتكاف
تأليف
الإمام أبي الحنات محمد عبد الحي اللكنوي الهندي ولد 1264 وتوفي 1304 هـ رحمه الله تعالى
ومعه
الإسعاف بتحشية الإنصاف
تأليف
الشيخ محمد عبد الغفور الرمضانفوري ولد 1270 وتوفي 1348 هـ رحمه الله تعالى
حققه وخرج نصوصه وعلق عليه
مجد بن أحمد مكي
دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশ দিনের বৈঠক (৬)
আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ (ইতিকাফের বিধানের ক্ষেত্রে ইনসাফ)
রচনায়
ইমাম আবুল হাসানাত মুহাম্মদ আব্দুল হাই লখনভি আল-হিন্দি, জন্ম ১২৬৪ এবং মৃত্যু ১৩০৪ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
এবং এর সাথে আছে
আল-ইসআফ বি-তাহশিয়াতিল ইনসাফ (আল-ইনসাফ গ্রন্থের টীকা সংবলিত সাহায্যকারী)
রচনায়
শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল গফুর রামদানপুরী, জন্ম ১২৭০ এবং মৃত্যু ১৩৪৮ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
পাণ্ডুলিপি যাচাই (تحقيق), মূল পাঠের সূত্র বিশ্লেষণ (تخريج) ও টীকা প্রদান (تعليق) করেছেন
মাজদ বিন আহমদ মক্কি
দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়াহ
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২)
الإنصاف في حُكم الإعتكاف
ويليه
ردع الإخوان عن محدثات آخر جمعة رمضان
ইতিকাফের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে ইনসাফপূর্ণ সিদ্ধান্ত
এবং এর পরবর্তী অংশ
রমজানের শেষ জুমুআর নবআবিষ্কৃত বিষয়াবলি (محدثات) থেকে ভাইদেরকে সতর্কীকরণ
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى في لكنو من الهند سنة 1303
الطبعة الثانية في لكنو أيضًا من الهند سنة 1337
الطبعة الثالثة وهي المحققة في بيروت سنة 1420 هـ - 1999 م
دار البشائر الإِسلاميّة للطباعة والنشر والتوزيع
هاتف:702857 - فاكس: 704963/ 009611
بيروت - لبنان ص ب: 5955/ 14
e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ: লখনউ, ভারত, ১৩০৩ হিজরি
দ্বিতীয় সংস্করণ: লখনউ, ভারত, ১৩৩৭ হিজরি
তৃতীয় সংস্করণ, যা একটি সম্পাদিত (المحققة) সংস্করণ, বৈরুত, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা
ফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩ / ০০৯৬১-১
বৈরুত - লেবানন, পি.ও. বক্স: ১৪/৫৯৫৫
ইমেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المعتني بالكتابالحمدُ لله رب العالمين، والصلاة والسَّلامُ على خاتم النبيِّين وإمام المرسلين، سيِّدنا محمَّد وآله وصحبه أجمعين، ومَن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدّين.
أما بعد؛ ففي رحاب البيت العتيق، وفي الليالي العشْرِ الأواخر من شهر رمضان، نجتمعُ في كلِّ عامٍ مع نخبةٍ من أهل العلم والخير والبرّ، ونتدارسُ في مباحث العلم، ويتكرَّرُ هذا اللقاء في كلِّ عام، وَتَتَّسع هذه الحلقة المباركة، وتتوثَّق أواصر الأُخوَّة والأُلْفَةِ والمحبَّة، وتتعمَّق روابط المودَّة والتناصح والتراحم والتعاون.
وقد اتَّفق هؤلاء الأصحاب الكرام (1) على إصْدار رسائل علمِية تُقْرأ في تلكَ المجالس المباركة، وينتفع بها الإِخوة الصَّالحون المحبُّون، الذين يفدون إلى المسجد الحرام في العشر الأخير من شهر رمضان، فكانت سُنةً حسنةً، وعملًا مباركًا، وعلمًا نافعًا مفيدًا.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থের তত্ত্বাবধায়কের (المعتني بالكتاب) ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী (خاتم النبيِّين) ও রাসূলগণের ইমাম (إمام المرسلين) আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি, আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের প্রতি।
অতঃপর; পবিত্র কাবা গৃহের প্রাঙ্গণে, রমজান মাসের শেষ দশকে প্রতি বছর আমরা একদল বিদগ্ধ আলেম, সৎ ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের সাথে একত্রিত হই এবং ইলমি বিষয়াদি নিয়ে পঠন-পাঠন ও আলোচনা করি। প্রতি বছরই এই সাক্ষাতের পুনরাবৃত্তি ঘটে, বরকতময় এই মজলিস আরও বিস্তৃত হয় এবং এর ফলে ভ্রাতৃত্ব, সখ্যতা ও ভালোবাসার বন্ধন সুদৃঢ় হয়। সেই সাথে গভীর হয় হৃদ্যতা, পরস্পরকে নসিহত করা, দয়া ও সহযোগিতার সম্পর্ক।
এই সম্মানিত সঙ্গীগণ (১) এমন কিছু ইলমি গবেষণাপত্র (رسائل علمية) প্রকাশের ব্যাপারে একমত হয়েছেন যা সেই বরকতময় মজলিসগুলোতে পাঠ করা হবে। এর মাধ্যমে সেই সকল পুণ্যবান ও অনুরাগী ভাইয়েরা উপকৃত হবেন যারা রমজানের শেষ দশকে মসজিদুল হারামে আগমন করেন। এটি একটি উত্তম রীতি (سنة حسنة), বরকতময় কাজ এবং অত্যন্ত উপকারী ও কল্যাণকর ইলম হিসেবে গণ্য হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فاخترتُ رسالتين من رسائل الإِمام محمَّد عبد الحي اللكنوي رحمه الله تعالى، لهما ارتباط وثيق بمناسبة هذا الشهر المبارك.
وأما الرسالة الأولى فعنوانها: "رَدع الإِخوان عن مُحْدَثات آخرِ جمعةِ رمضان"، وقد انتهيتُ بفضلِ الله وعونه من خدمتها والعنايةِ اللائقةِ بها.
وأما الرسالة الثانية، فهذه التي بين يديك، وعنوانها: "الإِنصاف في حكم الاعتكاف"، ومعها: "الإِسعاف بتحشية الإِنصاف" لتلميذ المؤلف الشيخ محمَّد عبد الغفور الرَّمْضانفوري.
وأتكلَّم بين يدي هاتين الرسالتين بكلمةٍ موجزة عن الاعتكاف، ثم عن موضوع هاتين الرسالتين، ثم التعريف بصاحب الحاشية، وخدمتي لهما.
وأسألُ الله سبحانه التوفيق لِمَحَابِّه، وخدمة كتابِهِ، وسنَّة نبيِّه صلى الله عليه وسلم، إنَّه نعْمَ المولى والنَّصير.
حِكمةُ الاعتكاف:قال الإِمام ابن القيِّم رحمه الله تعالى: "لمَّا كان صلاحُ القلب واستقامتُه على طريق سَيْره إلى الله تعالى، متوقِّفًا على جمعيَّتِهِ على الله، ولمِّ شعثه بإقباله بالكليَّة على الله تعالى؛ فإنَّ شَعَثَ القلب لا يَلُمُّه إلَّا الإِقْبالُ على الله تعالى، ولمَّا كان فُضُولُ الطَّعام والشَّراب، وفُضولُ مخالطة الأنام، وفضولُ الكلام، وفضولُ المنام، ممَّا يزيده شَعَثًا، ويُشَتِّتُهُ في كلِّ واد، ويقطعه عن سَيْره إلى الله تعالى، أو يُضعِفُهُ، أو يعوقُه ويوقِفُه: اقْتَضَتْ رحمة العزيز الرحيم بعباده أنْ شَرَعَ لهم من الصَّوم ما
আমি ইমাম মুহাম্মদ আব্দুল হাই লখনভি (রহ.)-এর রিসালাসমূহ থেকে দুটি রিসালা নির্বাচন করেছি, যেগুলোর এই বরকতময় মাসের বিশেষ মুহূর্তের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
প্রথম রিসালাটির শিরোনাম হলো: "রদউল ইখওয়ান আন মুহদাসাতু আখিরি জুমুআতি রমজান", আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্যে আমি এটির খেদমত এবং যথাযথ তত্ত্বাবধানের কাজ সম্পন্ন করেছি।
আর দ্বিতীয় রিসালাটি বর্তমানে আপনার সম্মুখে রয়েছে, যার শিরোনাম: "আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ"; এর সাথে রয়েছে লেখকের ছাত্র শেখ মুহাম্মদ আব্দুল গফুর রমজানপুরী কর্তৃক লিখিত টিকাগ্রন্থ "আল-ইসআফ বিতাহশিয়াতি আল-ইনসাফ"।
এই রিসালা দুটির প্রারম্ভে আমি ইতিকাফ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করব, অতঃপর রিসালা দুটির বিষয়বস্তু, এরপর টিকাকারের পরিচয় এবং এগুলোর সম্পাদনায় আমার কাজের বিবরণ তুলে ধরব।
আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর প্রিয় আমলসমূহের তৌফিক এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর নবী (সা.)-এর সুন্নাহর খেদমত করার প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক ও সাহায্যকারী।
ইতিকাফের হিকমত বা তাৎপর্য:ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন: "যেহেতু অন্তরের সংশোধন এবং আল্লাহ তাআলার অভিমুখে তার যাত্রাপথে অবিচল থাকা নির্ভর করে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ একাগ্রতা এবং সর্বতোভাবে তাঁর অভিমুখী হয়ে হৃদয়ের বিক্ষিপ্ততাকে দূর করার ওপর; কেননা অন্তরের এই অস্থিরতা বা বিচ্যুতি আল্লাহ তাআলার অভিমুখী হওয়া ছাড়া অন্য কিছুতে দূরীভূত হয় না। আর যেহেতু অতিরিক্ত পানাহার, মানুষের সাথে অধিক মেলামেশা, অনর্থক কথাবার্তা ও অতিরিক্ত ঘুম অন্তরের এই বিক্ষিপ্ততাকে আরও বাড়িয়ে দেয়, তাকে সকল উপত্যকায় উদভ্রান্ত করে ফেলে এবং আল্লাহ তাআলার অভিমুখে চলার পথে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় অথবা তাকে দুর্বল কিংবা বাধাগ্রস্ত ও স্থবির করে দেয়; তাই স্বীয় বান্দাদের প্রতি পরাক্রমশালী ও দয়াময় আল্লাহর করুণার দাবি হলো যে, তিনি তাদের জন্য সিয়াম বা রোজা পালন বিধিবদ্ধ করেছেন যা..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
يُذهبُ فضولَ الطعام والشراب، ويستفرغُ من القلبِ أخلاطَ الشَّهوات المعوِّقة له عن سَيْره إلى الله تعالى، وشَرَعَهُ بقدر المصلحة، بحيث ينتفعُ به العبد في دنياه وأُخراه، ولا يضرُّه ولا يقطعُهُ عن مصالحه العاجلة والآجلة.
وشَرَعَ لهم الاعتكاف الذي مقصودُه وروحُه عكوفُ القلب على الله تعالى، وجمعيَّتُهُ عليه، والخَلْوةُ به، والانقطاعُ عن الاشتغال بالخلق، والاشتغالُ به وحدَهُ سبحانه، بحيث يصيرُ ذكرُهُ وحبُّه والإِقبالُ عليه في مَحَلِّ هموم القلب وخَطَراته، فيستولي عليه بدلَها، ويصيرُ الهمُّ كلُّه به، والخطراتُ كلُّها بذكره، والتفكُّرُ في تحصيل مراضيه، وما يقرِّب منه، فيصيرُ أُنْسُهُ بالله بدلًا من أُنسِهِ بالخَلْق، فيعدُّه بذلك لأنسه به يوم الوَحْشة في القبور حين لا أنيسَ له، ولا ما يفرحُ به سِواه، فهذا مَقْصود الاعتكاف الأعظم" (1).
"فالخَلْوةُ المشروعة لهذه الأُمَّة هي الاعتكاف في المساجد، خصوصًا في شهر رمضان، خصوصًا في العشر الأواخر منه، كما كان النبيُّ صلى الله عليه وسلم يفعله. فالمعتكفُ قد حَبَسَ نفسَه على طاعة الله وذكرِهِ، وقطع عن نفسه كلَّ شاغل يشغلُهُ عنه، وعَكَفَ بقلبه وقالَبِهِ على ربِّه وما يقرِّبه منه، فما بقيَ له همٌّ سوى الله عز وجل وما يرضيه عنه.
فمعنى الاعتكاف وحقيقته: قَطْعُ العلائق عن الخلائق للاتصال بخدمة الخالق" (2).
--------------------------------------------
ইহা পান ও আহারের আতিশয্য দূর করে এবং অন্তর হতে সেই সকল কামনাবাসনার সংমিশ্রণকে নিষ্কাশিত করে যা মহান আল্লাহর দিকে তার গমনে বাধা প্রদান করে। তিনি একে কল্যাণের পরিমাণ অনুযায়ী বিধিবদ্ধ করেছেন, যাতে বান্দা এর দ্বারা দুনিয়া ও আখেরাতে উপকৃত হয় এবং তা যেন তার কোনো ক্ষতি না করে কিংবা তার তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী কল্যাণ হতে তাকে বিচ্ছিন্ন না করে।
আর তিনি তাদের জন্য ইতিকাফ বিধিবদ্ধ করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ও প্রাণ হলো মহান আল্লাহর প্রতি হৃদয়ের একাগ্রতা, তাঁর প্রতি মনঃসংযোগ, তাঁর সাথে নির্জনতা যাপন এবং সৃষ্টির ব্যস্ততা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল তাঁরই স্মরণে নিমগ্ন হওয়া; যেন তাঁর যিকির, মহব্বত ও তাঁর অভিমুখী হওয়াই হৃদয়ের সকল দুশ্চিন্তা ও ভাবনার স্থলাভিষিক্ত হয়। ফলে হৃদয়ের সাধারণ চিন্তা ও উদ্বেগের পরিবর্তে এগুলোই সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে এবং সকল ভাবনা কেবল তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর নৈকট্য লাভের উপায়সমূহ নিয়েই সকল চিন্তা নিবিষ্ট হয়। এর মাধ্যমে সৃষ্টির সান্নিধ্যের পরিবর্তে আল্লাহর সান্নিধ্যই তার নিকট প্রীতিকর হয়ে ওঠে, যা তাকে কবরের সেই ভয়াবহ একাকীত্বের দিনে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য প্রস্তুত করে তুলবে যখন তিনি ছাড়া আর কোনো সঙ্গী বা আনন্দদাতা থাকবে না। এটিই হলো ইতিকাফের মহান লক্ষ্য (১)।
“এই উম্মতের জন্য বিধিবদ্ধ নির্জনতা হলো মসজিদে ইতিকাফ করা, বিশেষ করে রমজান মাসে এবং বিশেষভাবে এর শেষ দশকে, যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। সুতরাং ইতিকাফকারী ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর যিকিরের জন্য আবদ্ধ করে নেয় এবং তাঁর থেকে বিমুখকারী সকল ব্যস্ততা হতে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে। সে তার অন্তর ও দেহ নিয়ে তার রবের প্রতি এবং যা তাকে রবের নিকটবর্তী করে তার প্রতি নিবিষ্ট হয়। ফলে মহান আল্লাহ এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া তার আর কোনো চিন্তা অবশিষ্ট থাকে না।
ইতিকাফের মর্মার্থ ও হাকীকত হলো: সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্যে যুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা” (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
رسالة اللكنوي "الإِنصاف في حكم الاعتكاف":
حفلت كتب الفقه بالحديث عن أحكام الاعتكاف وأدلة مشروعيته، وشروط صحته، وأركانه، ومُبْطلاته، وما يشرع للمعتكف وما يُباح له وما يُنهى عنه، وأُفردت مؤلَّفات قديمة وحديثة تتحدَّث عن أحكامه بشمول واستيعاب أو عن بعض جزئياته.
ومن هذه المؤلَّفات: رسالة الإِمام اللكنوي "الإِنصاف في حكم الاعتكاف" وهي تبحث في موضوع واحد، وهو: حكم الاعتكاف.
سببُ تأليف الرسالة وتاريخ كتابتها:والذي دعاه إلى تأليف هذه الرسالة مباحثة علمية جَرَتْ بينه وبين بعضِ الفضلاء سنة 1282 - وكان سنُّه آنذاك 18 سنة- في حكم الاعتكاف، وتكلَّم كلٌّ منهما بما خطر على خاطره، دون تحقيق المسألة بالرجوع إلى كتب الفقه المعتمدة، فقامَ المؤلِّف رحمه الله تعالى بدراسة المسألة وبحثها، والتفتيش في كتب الفقه وحَرْثِها، وبيَّن باستيعاب حكم الاعتكاف. وكان فراغُهُ من تأليفها في التاسع من شهر رمضان سنة 1284، وله من العمر عشرون عامًا رحمه الله تعالى.
مباحث الرسالة:بحثَ المؤلِّف رحمه الله تعالى حكم الاعتكاف في ست مقامات:
المقام الأول: هل الاعتكاف مستحب أو سنَّة أو مباح أو واجب؟
المقام الثاني: هل هو سنَّة مؤكَّدة، أو غير مؤكَّدة؟
المقام الثالث: هل هو سنَّة مؤكَّدة كفاية أم عينًا؟
ইমাম লাখনভির রিসালা "আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ":ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ ইতিকাফের বিধানাবলি, এর বৈধতার দলিলসমূহ, এর শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি (شروط صحته), এর রুকনসমূহ (أركانه), এর বাতিলকারী বিষয়সমূহ (مُبْطلاته) এবং ইতিকাফকারীর জন্য যা বিধিবদ্ধ, যা বৈধ এবং যা নিষিদ্ধ তা নিয়ে পরিপূর্ণ। এর বিধানাবলি নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করে অথবা এর বিশেষ কিছু দিক নিয়ে প্রাচীন ও আধুনিক অনেক স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে।
এই গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো ইমাম লাখনভির রিসালা "আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ"। এটি একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, আর তা হলো: ইতিকাফের বিধান।
রিসালাটি রচনার কারণ এবং এটি লেখার তারিখ:এই রিসালাটি রচনার পেছনে যে বিষয়টি তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো ১২৮২ হিজরিতে ইতিকাফের বিধান নিয়ে তাঁর এবং কতিপয় গুণী ব্যক্তির মধ্যে সংঘটিত একটি তাত্ত্বিক আলোচনা—তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই (تحقيق) না করেই তাঁরা প্রত্যেকে যার যার মনে যা এসেছিল তা নিয়েই কথা বলেছিলেন। অতঃপর লেখক (রহমাতুল্লাহি তাআলা) বিষয়টি অধ্যয়ন ও গবেষণা করেন এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ তন্ন তন্ন করে তালাশ করেন ও ইতিকাফের বিধান সবিস্তারে বর্ণনা করেন। ১২৮৪ হিজরির ৯ই রমজান তিনি এটি লেখা শেষ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর (রহমাতুল্লাহি তাআলা)।
রিসালার আলোচ্য বিষয়সমূহ:লেখক (রহমাতুল্লাহি তাআলা) ইতিকাফের বিধান সম্পর্কে ছয়টি স্তরে আলোচনা করেছেন:
প্রথম স্তর: ইতিকাফ কি মুস্তাহাব (مستحب) নাকি সুন্নাত (سنَّة), মুবাহ (مباح) নাকি ওয়াজিব (واجب)?
দ্বিতীয় স্তর: এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنَّة مؤكَّدة) নাকি সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা (غير مؤكَّدة)?
তৃতীয় স্তর: এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া (سنَّة مؤكَّدة كفاية) নাকি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আয়িন (عينًا)?
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقام الرابع: هل هو سُنَّة كفاية على أهل البلدة، أم على أهل كل محلة؟
المقام الخامس: هل هو سُنَّةٌ مؤكَّدة مُطْلقًا أم في رمضان؟
المقام السادس: هل السُّنَّة استيعاب العَشْر الأواخر من رمضان بالاعتكاف؟ أم الاعتكاف في جُزْءٍ منه؟
وقد أجاب عن كلِّ هذه التساؤلات باستيعابٍ وشمولٍ واستقصاءٍ.
وتتجلَّى في هذه الرسالة الصَّغيرة -كسائر رسائل اللكنويّ-: التتبع والدقة والأناة والإِنصاف.
فهو في هذه الرسالة يرجع إلى أكثر من عشرين مرجعًا من مراجع الفقه الحنفي، ويناقش فيها الكثيرَ من الأقوال. فقد ناقش عبارة القُدوري بقوله باستحباب الاعتكاف، وأنَّه يُحمل قوله على استحبابه في نفسه، والسُّنيَّةُ في الاعتكاف بالعشر الأواخر.
وناقش قولَ مَنْ يرى الوجوب بدليل مواظبة النبيِّ صلى الله عليه وسلم؛ بأنَّ المواظبة مع عدم الإِنكار على مَنْ تَرَكَه دليل السُّنيَّة.
وناقش قولَ من يرى أنَّ الاعتكاف له نوع اختصاص بالنبيِّ صلى الله عليه وسلم، وأنَّه مندوب للأمة. وردَّ على من صحَّح القول بأنه سنَّة عين لا سنَّة كفاية.
وانتهى إلى أن: الاعتكاف في نفسه مستحبٌّ، ويجبُ بالنذر وغيره، وهو سنَّة مؤكَّدة كفاية في العشر الأواخر من رمضان على سبيل الاستيعاب.
চতুর্থ বিষয়: এটি কি শহরের অধিবাসীদের জন্য সুন্নাতে কিফায়া (سنة كفاية), নাকি প্রতিটি মহল্লার অধিবাসীদের জন্য?
পঞ্চম বিষয়: এটি কি সাধারণভাবে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة), নাকি শুধু রমজান মাসে?
ষষ্ঠ বিষয়: সুন্নাহ (سنة) কি রমজানের শেষ দশ দিন পূর্ণভাবে ইতিকাফ করা? নাকি এর একাংশে ইতিকাফ করা?
তিনি এই সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অত্যন্ত ব্যাপকতা, পূর্ণতা এবং সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের সাথে।
লখনভি-র অন্যান্য পুস্তিকার মতোই এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটিতেও তাঁর তাত্ত্বিক অনুসন্ধান, নির্ভুলতা, ধৈর্য এবং নিরপেক্ষতা ফুটে উঠেছে।
এই পুস্তিকায় তিনি হানাফি ফিকহের বিশটিরও বেশি মূলগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং অনেকগুলো মত নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি কুদুরি-র ইতিকাফ মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার বক্তব্যটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে, তাঁর বক্তব্যটি ইতিকাফের মৌলিক হুকুম মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা হবে, আর রমজানের শেষ দশ দিনের ইতিকাফের ক্ষেত্রে এটি সুন্নাহ (سنة)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়মিত আমলের দলিলের ভিত্তিতে যারা ইতিকাফকে ওয়াজিব (وجوب) মনে করেন, তাদের বক্তব্য নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন; তিনি বলেছেন যে, কোনো আমল নিয়মিত করা এবং তা বর্জনকারীর প্রতি অস্বীকৃতি বা নিন্দা প্রকাশ না করা হলো সেটি সুন্নাহ (سنية) হওয়ার প্রমাণ।
তিনি সেই মতটিও আলোচনা করেছেন যারা মনে করেন যে, ইতিকাফের বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট ছিল এবং উম্মতের জন্য এটি মানদুব (مندوب)। আর যারা এই মতটিকে সহিহ (صح) বলেছেন যে, এটি সুন্নাতে আইন (سنة عين), সুন্নাতে কিফায়া (سنة كفاية) নয়—তিনি তাদেরও জবাব দিয়েছেন।
পরিশেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে: ইতিকাফ মৌলিকভাবে মুস্তাহাব (مستحب), মানত ও অন্যান্য কারণে এটি ওয়াজিব (يجب) হয় এবং রমজানের শেষ দশ দিন পূর্ণ সময়ব্যাপী ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিফায়া (سنة مؤكدة كفاية)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
حاشية الرسالة "الاِسعاف" وترجمة مؤلِّفها:قام تلميذ المؤلف الشيخ محمَّد عبد الغفور الرمضانفوري بتحشية رسالة شيخه الإِمام اللكنوي في حياته وسمَّاها: "الإِسعاف بتحشية الإِنصاف"، وكان انتهاؤه من كتابة تعليقاته في ربيع الأول سنة 1302.
وقد أحال في كثير من تعليقاته إلى كتب المؤلِّف اللكنوي مثل: "تحفة الأخيار في إحياء سُنَّة سيِّد الأبرار"، وتعليقاته عليها: "نُخْبة الأنظار"، و"السِّعاية في كشف ما في شرح الوقاية"، و"عُمْدة الرعاية في حل شرح الوقاية"، و"النافع الكبير لمن يُطالع الجامع الصغير". وترجم للأعلام المذكورين في الرسالة اعتمادًا على كتب اللكنوي في التراجم، وفي مقدمتها: "الفوائد البهيَّة في تراجم الحنفية"، و"التعليقات السنية"، و "طَرَب الأماثل بتراجم الأفاضل"، و"فَرْحة المدرسين بذكر المؤلَّفات والمؤلِّفين". كما أكثر من النقل من "فتح الباري" لابن حجر.
وأما ترجمة تلميذ المؤلف الشيخ محمَّد عبد الغفور الرمضانفوري فهي، كما وردت في كتاب "نزهة الخواطر" (1) للعلَّامة المؤرِّخ الشيخ عبد العلي الحسني رحمه الله تعالى:
"الشيخ العالم الفقيه عبد الغفور الرَّمْضَانفوري البهاري، أحد العلماء المشهورين، وُلد في سنة سبعين ومائتين وألف بقرية: (رمضان فور) من أعمال (مونكير)، واشتغل أيامًا على المولوي إسماعيل الرَّمْضانفوري، والشيخ محمَّد أحسن الكيلاني (2).
--------------------------------------------
"আল-ইসআফ" পুস্তিকাটির টীকা এবং এর লেখকের জীবনী:লেখকের শিষ্য শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল গফুর রামদানপুরী তাঁর উস্তাদ ইমাম লাখনবীর জীবদ্দশায় তাঁর এই পুস্তিকাটির টীকা লিখেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: "আল-ইসআফ বি-তাহশিয়াতি আল-ইনসাফ"। তিনি ১৩০২ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে তাঁর এই টীকা লিখন সমাপ্ত করেন।
তিনি তাঁর বহু টীকায় লেখক লাখনবীর বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যেমন: "তুহফাতুল আখইয়ার ফি ইহয়ায়ি সুন্নাতি সাইয়্যিদিল আবরার" এবং এর উপর তাঁর করা টীকা "নুখবাতুল আনজার", "আস-সিআয়াহ ফি কাশফি মা ফি শারহিল বিকায়াহ", "উমদাতুর রিআয়াহ ফি হাল্লি শারহিল বিকায়াহ" এবং "আন-নাফেউল কাবির লিমান ইউতালিউল জামিউস সাগির"। তিনি পুস্তিকাটিতে বর্ণিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে জীবনী সাহিত্যের ওপর রচিত লাখনবীর গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো: "আল-ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ", "আত-তালিকাতুস সুন্নিইয়াহ", "তারাবুল আমাছিল বি-তারাজিমিল আফাদিল" এবং "ফারহাতুল মুদাররিসিন বি-জিক্রিল মুআল্লাফাত ওয়াল মুআল্লিফিন"। এছাড়া তিনি ইবনে হাজারের "ফাতহুল বারি" থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
আর লেখকের শিষ্য শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল গফুর রামদানপুরীর জীবনী সম্পর্কে ঐতিহাসিক আল্লামা শায়খ আব্দুল হাই হাসানী (রহ.)-এর "নুজহাতুল খাওয়াতির" (১) গ্রন্থে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে:
"প্রসিদ্ধ (مشهور) আলেমগণের অন্যতম শায়খ, আলেম ও ফকিহ (فقيه) আব্দুল গফুর রামদানপুরী বিহারী; তিনি ১২৭০ হিজরীতে মুঙ্গের অঞ্চলের অন্তর্গত রামদানপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কিছুদিন মৌলভী ইসমাইল রামদানপুরী ও শায়খ মুহাম্মদ আহসান কিলানি (২)-এর নিকট জ্ঞানার্জন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثم سافر إلى (لكنو)، وأخذ عن العلامة عبد الحي بن عبد الحليم الأنصاري اللكنوي، ثم سار إلى (سهارنفور) وأخذ الحديث عن الشيخ أحمد علي بن لطف الله السَّهارنفوري (1) المحدِّث، ثم رجع إلى بلاده.
وله مصنَّفات منها: "الإِسعاف حاشية الإِنصاف"، و"تسهيل المتأمِّل"، و"شرح التهذيب"، و"عمدة المفاسد"، و"مفيد الأحناف"، في مبحث السلام، ورسالة في سُجود السهو، و"خُلاصة المُفْردات"، وله غير ذلك من الرسائل". انتهى.
ولم يذكر وفاته، وجاء ذكر وفاته سنة ثمان وأربعين وثلاثمائة وألف من الهجرة، في كتاب "الإِمام عبد الحي اللكنوي" (2) لوليِّ الدين الندوي، عن ثمان وسبعين عامًا رحمه الله تعالى.
كلمة عن أصول الرسالتين وعملي فيهما:طُبِعت هذه الرسالة مع حاشيتها في حياة المؤلِّف رحمه الله تعالى بالطباعة الحَجَرية، بحروف دقيقة ناعمة، وحواشٍ كثيرة متداخلة، بالمطبع المُصْطفاني سنة 1303 ضمن مجموعة الرسائل الخمسة، في سبع صفحات من ص 86 - 92.
والطبعة الثانية التي وقفت عليها طبعة حجرية أيضًا صدرت سنة 1337 في المطبع اليوسفي للحاج المفتي محمَّد يوسف في عشر صفحات، ضمن مجموعة الرسائل الخمسة أيضًا من ص 116 - 125.
وعن هاتين الطبعتين أَنْشُرُ هاتين الرسالتين.
--------------------------------------------
এরপর তিনি (লখনউ) সফর করেন এবং আল্লামা আব্দুল হাই ইবনে আব্দুল হালিম আনসারী লখনভী-এর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর তিনি (সাহারানপুর) গমন করেন এবং মুহাদ্দিস (المحدث) শায়খ আহমদ আলী ইবনে লুতফুল্লাহ সাহারানপুরী (১)-এর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেন। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন।
তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: "আল-ইসআফ হাশিয়া আল-ইনসাফ", "তাসহিলুল মুতাআম্মিল", "শারহুত তাহযিব", "উমদাতুল মাফাসিদ", এবং সালামের অধ্যায় বিষয়ক "মুফীদুল আহনাফ", সিজদায়ে সাহু বিষয়ক একটি রিসালা (رسالة) এবং "খুলাসাতুল মুফরাদাত"। এছাড়াও তাঁর আরও অনেক রিসালা (رسالة) রয়েছে। সমাপ্ত।
তিনি তাঁর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেননি। ওলিউদ্দিন নদভী রচিত "আল-ইমাম আব্দুল হাই লখনভী" (২) কিতাবে তাঁর মৃত্যুসন ১৩৪৮ হিজরি উল্লেখ করা হয়েছে। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৮ বছর। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।
রিসালা (رسالة) দুটির মূল উৎস এবং এ দুটিতে আমার কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু কথা:এই রিসালাটি (رسالة) তার টীকা বা হাশিয়া (حاشية) সহ লেখক (رحمه الله تعالى)-এর জীবদ্দশায় ১৩০৩ হিজরিতে লিথোগ্রাফি বা পাথর মুদ্রণ পদ্ধতিতে অত্যন্ত সূক্ষ্ম অক্ষরে এবং অনেকগুলো পরস্পরসম্পর্কিত হাশিয়া (حاشية) সহ 'মাতবা আল-মুসতাফানি'-তে মুদ্রিত হয়েছিল। এটি 'মাজমুআতুর রাসায়িল আল-খামসাহ' (পাঁচটি রিসালার সংকলন)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ৮৬ থেকে ৯২ পৃষ্ঠার মধ্যে মোট সাত পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল।
আমি যে দ্বিতীয় সংস্করণটি দেখেছি, সেটিও ছিল লিথোগ্রাফি পদ্ধতিতে মুদ্রিত, যা ১৩৩৭ হিজরিতে হাজি মুফতি মুহাম্মদ ইউসুফের 'মাতবা আল-ইউসুফি' থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এটিও উক্ত পাঁচটি রিসালার (رسالة) সংকলনে ১১৬ থেকে ১২৫ পৃষ্ঠার মধ্যে মোট দশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে।
আমি এই সংস্করণ দুটির উপর ভিত্তি করেই এই রিসালা (رسالة) দুটি প্রকাশ করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأما عملي فيهما، فهو بين يدي القاريء، فقد فصَّلت مقاطعهما وجملهما، ونسَّقت الحواشي مع الأصل، واعتنيتُ بعلامات الترقيم والضبط، حتى أصبحت سهلة التناول قريبة الفهم.
ورجعتُ إلى كثيرٍ من المصادر التي رَجَع إليها المؤلف، ولا سيَّما في حواشي "الإِسعاف"، وصححتُ بعض ما وقع فيها من تحريف.
وعلَّقت على مواضع يسيرة من الحاشية، التي استوعَبَتْ ما في الرسالة ولم تترك مبحثًا دون شرحٍ وتفصيل، فعلَّقت على الحاشية بعض التعليقات اليسيرة التي تزيدُها نفعًا وإفادة بعون الله تعالى.
ولم أترجم للمؤلِّف رحمه الله تعالى لشهرته وكثرةِ ما كُتب عنه، واقْتَصرت على ترجمة تلميذه محمَّد عبد الغفور الرَّمْضَانْفُوري.
ولم أصنع للرسالة فهارس علمية متنوِّعة لِصِغَرِها ويُسْرِ الوصول إلى فوائدها، واكتفيتُ بصنع فهرس عام لمحتوياتها.
وفي الختام: أسأل الله عز وجل أن يتقبَّل جهدي اليسير، في خدمة هاتين الرسالتين، ويرزقَني الإِخلاص في العلم والعمل، وكما أسأله سبحانه أن يرحمنا ويرحمَ والدينا ومشايخَنا وسائرَ المسلمين، ويغفرَ لنا ولإِخواننا الذين سبقونا بالإِيمان، ويلحقنا بالصالحين، والحمد لله رب العالمين، وصلَّى الله وسلَّم على سيِّدنا محمَّد وآله وصحبه أجمعين.
وكتبه
مجد بن أحمد مكي
الجمعة 23/ جمادى الأولى 1420
এবং এই দুইটিতে আমার কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গেলে, তা পাঠকের সামনেই বিদ্যমান। আমি এগুলোর অনুচ্ছেদ ও বাক্যগুলোকে বিন্যস্ত করেছি, মূল পাঠের সাথে পাদটীকাগুলোর সমন্বয় সাধন করেছি এবং বিরামচিহ্ন ও নির্ভুল স্বরচিহ্নের (ضبط) প্রতি যত্নবান হয়েছি, যাতে এটি সহজসাধ্য ও সহজবোধ্য হয়।
আমি এমন অনেক উৎসগ্রন্থের (مصادر) শরণাপন্ন হয়েছি যেগুলোর বরাত লেখক দিয়েছেন, বিশেষ করে 'আল-ইসআফ'-এর পাদটীকাগুলোতে; আর সেখানে যেসব বিকৃতি (تحريف) ঘটেছিল, তার কিছু সংশোধন করেছি।
আমি পাদটীকার কিছু সামান্য স্থানে টীকা যুক্ত করেছি, যা এই পুস্তিকার বিষয়বস্তুকে পূর্ণাঙ্গরূপে ধারণ করেছে এবং কোনো গবেষণার বিষয়কে (مبحث) ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত বিবরণ ছাড়া রাখেনি। আমি পাদটীকায় কিছু নগণ্য টীকা প্রদান করেছি যা আল্লাহর সাহায্যে এর উপকারিতা ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি করবে।
আমি লেখকের জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করিনি, কারণ তিনি অত্যন্ত সুপরিচিত এবং তাঁর সম্পর্কে প্রচুর লেখা হয়েছে। আমি কেবল তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ আবদুল গফুর রামদানপুরীর জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
পুস্তিকাটি ক্ষুদ্রাকৃতির হওয়াতে এবং এর জ্ঞানগর্ভ বিষয়গুলো সহজে খুঁজে পাওয়া সম্ভব বিধায় আমি এর জন্য কোনো তাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট (فهارس) তৈরি করিনি। আমি কেবল এর বিষয়বস্তুর একটি সাধারণ সূচিপত্র (فهرس) তৈরির মাধ্যমেই যথেষ্ট মনে করেছি।
পরিশেষে: আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই পুস্তিকা দুটির সেবায় আমার এই নগণ্য প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং আমাকে ইলম ও আমলে একনিষ্ঠতা (إخلاص) দান করেন। তেমনিভাবে আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের প্রতি, আমাদের পিতা-মাতা, আমাদের উস্তাদগণ এবং সকল মুসলমানের প্রতি রহম করেন; আমাদের এবং আমাদের সেইসব ভাইদের ক্ষমা করে দেন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছেন এবং আমাদের নেককারদের (صالحين) দলভুক্ত করেন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সহচরদের ওপর।
এটি লিখেছেন
মাজদ বিন আহমদ মক্কি
শুক্রবার, ২৩ জুমাদাল উলা, ১৪২০ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
لَكَ الحَمْدُ يا مَنْ هو مُسْتَجْمِعٌ لِكمَالِ الأوْصَاف، وأشهدُ أنْ لا إله إلَّا أَنْتَ لا شَريكَ لكَ في أطْرافِ العالَم والأكْناف، وَأُصلِّي وأُسلِّم على حَبيبِكَ محمدٍ المُجْتَبَى، أحمد المُصْطَفى، مُخْرجِ الأمَّةِ عن طريق الاعتِساف، وعلى صحبِهِ وآلهِ الأخيارِ والأشراف.
أما بعد؛ فيقول مَنْ لا صِنَاعةَ له إلَّا اكتسابُ الخطيئات، أبو الحَسَنات محمَّد، المدعو بعبد الحيِّ اللكنويِّ وطنًا، الأنْصاريِّ الأيوبيِّ القُطْبيِّ نَسَبًا، الحنفي مذهبًا، تَجَاوَزَ الله عن ذَنبِه الجليِّ والخفيِّ (1):
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য হে সত্তা, যিনি সমস্ত পূর্ণ গুণের আধার। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, মহাবিশ্বের সকল প্রান্তে ও দিকে আপনার কোনো অংশীদার নেই। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি আপনার প্রিয় মুহাম্মদ মুজতবা, আহমদ মুস্তফার প্রতি, যিনি উম্মতকে বিচ্যুতি ও অবিচারের পথ থেকে বের করে এনেছেন, এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত বংশধর ও সহচরদের প্রতি।
অতঃপর; সেই ব্যক্তি বলছে যার পাপ অর্জন করা ছাড়া অন্য কোনো পুঁজি নেই, আবুল হাসনাত মুহাম্মদ, জন্মস্থানের নিসবতে যিনি আব্দুল হাই লখনভি নামে পরিচিত, বংশসূত্রে আনসারি আইয়ুবী কুতুবী, এবং মাযহাবগতভাবে হানাফি; আল্লাহ তার প্রকাশ্য ও গোপন সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন (১):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قد جَرى النِّزاع (1) بيني وبين بعضِ الفُضَلاء سَنة اثنتين وثمانينَ بعد الألف والمائتين من هجرةِ رسول الثَّقَلَيْن صلَّى عليه وعلى آلِهِ رب المَشْرِقَيْن، في أنَّ الاعتكاف (2): هل هو سُنَّة مُؤَكَّدةٌ على
--------------------------------------------
قد جَرى النِّزاع (১) আমার এবং কতিপয় গুণী ব্যক্তির মাঝে মানব ও জিনজাতির রসূল—তাঁর এবং তাঁর বংশধরদের ওপর দুই উদয়াচলের রবের পক্ষ থেকে রহমত বর্ষিত হোক—তাঁর হিজরতের বারোশত বিরাশি হিজরি সনে এই মর্মে সংঘটিত হয় যে, ইতিকাফ (২): এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الكفاية (1)، أو على العَيْن (2)؟
وعلى التقدير الأول: هل هو سنَّة كفاية على أهل البلدة، كَصَلاةِ الجنازة، أو على أهلِ كلِّ مَحلَّة، كالتراويحِ بالجماعة؟
فتكلَّم كلٌّ منا بما خَطَر في خَاطِره، من دون أن يتجسَّس تحقيقه من كتبِ الفقه، فأردتُ أن أكتبَ فيه ما يَسْلُكُ مَسْلَك السَّداد، ويُثْبِتُ ما هو المقْصُود والمُرَاد، وسميته بِـ:
"الإنصاف في حكم الاعتكاف"
وأسألُ الله تعالى قَبولَه بالتضرُّع والإِلحاف، فأقول:
قد وقع الاختلاف في أنَّ الاعتكاف مُسْتَحَبٌّ (3) أو سنَّة؟
--------------------------------------------
কিফায়া (সামষ্টিক) (كفاية) (১), নাকি আইন (ব্যক্তিগত) (عين) (২)?
এবং প্রথম সম্ভাবনা অনুযায়ী: এটি কি শহরবাসীর ওপর সুন্নতে কিফায়া (سنة كفاية), যেমন জানাজার নামাজ; নাকি প্রত্যেক পাড়া-মহল্লাবাসীর ওপর, যেমন জামাতে তারাবিহ?
এমতাবস্থায় আমাদের প্রত্যেকেই যার যার মনে যা আসছিল সে অনুযায়ী আলোচনা করছিলাম, ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে এর বিস্তারিত তাহকিক (تحقيق) অনুসন্ধান করা ছাড়াই। তাই আমি এ বিষয়ে এমন কিছু লেখার সংকল্প করলাম যা সঠিক পথ অনুসরণ করবে এবং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য প্রমাণ করবে। আর আমি এর নামকরণ করেছি:
"আল-ইনসাফ ফি হুকমিল ইতিকাফ"
আমি বিনয় ও অনুনয়-বিনয় সহকারে মহান আল্লাহর কাছে এর কবুলিয়্যাত প্রার্থনা করছি। অতঃপর আমি বলছি:
ইতিকাফ মুস্তাহাব (مستحب) (৩) নাকি সুন্নাত (سنة), এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وعلى الثاني: هل هو سُنَّة مؤكَّدة أو غيرُ مؤكَّدة (1)؟
وعلى الأول: هل هو سُنَّةٌ مُطْلقًا أو في العَشْرِ الأواخرِ من رمضان، وهل هو سُنَّةٌ كفايةً أو عَيْنًا؟
فلنذكر منها ما يرفع الحجاب عن وَجْه هذا الباب، مُستعينًا بحبْلِ المولى الوهَّاب، فههنا مقامات:
المقام الأول:هل الاعتكاف مُسْتَحَبٌّ أو سُنَّة أو مباحٌ أو واجبٌ (2)؟
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মতানুসারে: এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة) নাকি গায়রে মুয়াক্কাদা (غير مؤكدة) (১)?
প্রথম মতানুসারে: এটি কি সাধারণভাবে সুন্নাত (سنة), নাকি রমাদানের শেষ দশকে? আর এটি কি সুন্নাতে কিফায়া (سنة كفاية) নাকি সুন্নাতে আইন (سنة عين)?
সুতরাং আমরা এ বিষয়ে এমন কিছু আলোচনা করব যা এই অধ্যায়ের রহস্য উন্মোচন করবে, সেই মহান দাতা প্রভুর সাহায্যের ওপর ভরসা করে; এখানে কয়েকটি পর্যায় রয়েছে:
প্রথম পর্যায়:ইতিকাফ কি মুস্তাহাব (مستحب), নাকি সুন্নাত (سنة), নাকি মুবাহ (مباح), নাকি ওয়াজিব (واجب) (২)?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فَذَهَبَ بعضُ المالكيّة إلى أنَّ الاعتكافَ أمرٌ مباح، وهذا القول ممَّا لا اعتدادَ به.
قال أبو بكر المالكي: قولُ أصحابنا أنَّه جائز (1) جهل.
--------------------------------------------
কিছু মালিকী আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, ইতিকাফ হলো একটি মুবাহ (مباح) বিষয়; অথচ এই বক্তব্যটি ধর্তব্য নয়।
আবু বকর আল-মালিকী বলেছেন: আমাদের সাথীদের এই উক্তি যে এটি জায়েজ (جائز), তা মূর্খতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ولم أطَّلع على مَنْ قال بوجوب الاعتكاف مُطْلقًا (1)، بل قد ادَّعى النووي (2) في "شرح صحيح مسلم" الإِجماعَ على عدم وجوبه (3).
وأما أصحابُنا الحنفيّة فَعُلِمَ من اختلافِ عباراتهم أنَّهم تفرّقوا فيه ثلاث فرق:
--------------------------------------------
আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি ইতিকাফ (اعتكاف) পালন করাকে শর্তহীনভাবে (مطلقًا) আবশ্যক (واجب) বলেছেন (১); বরং ইমাম নববী (২) 'শরহ সহীহ মুসলিম'-এ এর আবশ্যকতা (وجوب) না থাকার ওপর ঐকমত্যের (إجماع) দাবি করেছেন (৩)।
আর আমাদের হানাফি মাযহাবের ইমামগণের বিভিন্ন বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, তারা এ বিষয়ে তিনটি দলে বিভক্ত হয়েছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فذهب القُدُوري (1) في "مختصره" إلى استحبابه، حيث قال: "ويُسْتَحب"، وغيرُه إلى أنه سُنَّة مُؤَكَّدة.
قال المَرْغيناني (2) في "الهداية": الصحيحُ أنَّه سُنَّةٌ مؤكَّدة؛ لأنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم واظَبَ عليه في العَشْر الأواخر من رمضان (3)، والمواظَبَةُ دليلُ
--------------------------------------------
ইমাম কুদুরি (১) তাঁর "মুখতাসার"-এ এটিকে মুস্তাহাব হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "এবং এটি মুস্তাহাব", তবে অন্যরা একে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইমাম মারগিনানি (২) "হিদায়া"-তে বলেছেন: সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে এর প্রতি যত্নবান ছিলেন (৩), আর এই ধারাবাহিকতা একটি প্রমাণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
السُّنِّيَّة، وهكذا ذكر في "المحيط" (1) و"البدائع" (2)
--------------------------------------------
সুন্নাহভিত্তিক (السُّنِّيَّة), এবং এভাবেই "আল-মুহিত" (১) এবং "আল-বাদায়ি" (২)-এ উল্লিখিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
و"التحفة" (1).
وقال الزاهديُّ في "المُجْتبى" (2): "قال أستاذنا: الصحيح أنَّه سُنَّة"، ولم أجد في غير مختصر القُدُوريِّ أنه مُسْتَحبٌ، فالظَّاهرُ أنَّه أرادَ بهِ السُّنَّة، كما أنَّه أرادَ أوَّل الكتاب هذا حيث قال: "ويُسْتَحَبُّ للمتوضيء أن ينوي الطَّهارة، ويَسْتَوعبَ رأسَه بالمسْح"، فسمَّاها مُسْتَحَبةً مع أنها من السُّننَ". انتهى.
--------------------------------------------
এবং "আত-তুহফা" (১)।
এবং আল-জাহিদি "আল-মুজতাবা" (২)-তে বলেছেন: "আমাদের উস্তাদ বলেছেন: সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি সুন্নাত (سُنَّة)"। আমি "মুখতাসারুল কুদুরি" ব্যতীত অন্য কোথাও একে মুস্তাহাব (مُسْتَحبٌ) হিসেবে পাইনি। ফলে বাহ্যত (الظَّاهرُ) প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এর দ্বারা সুন্নাত (سُنَّة)-ই উদ্দেশ্য নিয়েছেন, যেমনটি তিনি এই কিতাবের শুরুতেও উদ্দেশ্য নিয়েছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "অজুকারীর জন্য পবিত্রতা (الطَّهارة)-র নিয়ত করা এবং পুরো মাথা মাসাহ করা মুস্তাহাব (مُسْتَحبٌ)"। এখানে তিনি এগুলোকে মুস্তাহাব (مُسْتَحبٌ) বলে অভিহিত করেছেন অথচ এগুলো সুন্নাত (السُّنن)-সমূহের অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقال النَّسَفي (1) في "المنافع شرح الفقه النافع": ثم قال في "الكتاب": إنَّه مُستحب، والصحيح: أنَّه سُنَّةٌ، لمواظبةِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم على ذلك، وقضائِهِ في شوال حيث تركه (2). فهذان قولان.
--------------------------------------------
এবং নাসাফী (১) "আল-মানাফে' শারহুল ফিকহিন নাফি'" গ্রন্থে বলেছেন: অতঃপর তিনি "আল-কিতাব"-এ বলেছেন: নিশ্চয়ই এটি মুস্তাহাব, তবে সহীহ (الصحيح) মত হলো: এটি সুন্নাহ (سنة), কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নিয়মিত আমল করতেন এবং শাওয়াল মাসে তা কাযা করেছিলেন যখন তিনি তা ছেড়ে দিয়েছিলেন (২)। সুতরাং এই দুটি অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وههنا قول ثالث، وهو التفصيل: بأنَّه سُنَّة مؤكَّدة في العَشْر الأواخر من رمضان، ويكون واجبًا بالنذر بلسانه (1)، ولا يكفي مجرَّد النيَّة، وبالشُّروع (2)، وبالتعليق (3)،
--------------------------------------------
এখানে একটি তৃতীয় মত রয়েছে, আর তা হলো বিস্তারিত বিবরণ: এটি রমজানের শেষ দশকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, এবং মুখে মানত করার মাধ্যমে এটি ওয়াজিব হয় (১), শুধুমাত্র নিয়ত যথেষ্ট নয়; আর আমল শুরু করার মাধ্যমে (২) এবং শর্তযুক্ত করার (তালিক) মাধ্যমেও (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ذكره ابن الكمال (1)، ومُسْتَحَبٌ في غيرِهِ من الأزمنة.
وهذا القولُ هو الذي صحَّحَهُ العيني (2) في "شرح الكَنز" حيث قال:
--------------------------------------------
ইবনে আল-কামাল (১) এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটি ছাড়া অন্যান্য সময়ে তা মুস্তাহাব (مستحب)।
এবং এই অভিমতটিই আল-আইনি (২) "শারহুল কানজ"-এ বিশুদ্ধ (صحح) বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
"قال الشيخ: إنَّه سُنَّةٌ، وقال القُدُوري: إنه مُسْتَحَبٌّ، وقال صاحب "الهداية": الصحيحُ أنَّه سُنَّة مؤكَّدة، قلت: الصحيحُ التفصيل، فإن كان منذورًا: فواجب، وفي العشر الأواخر من رمضان: سُنَّة، وفي غيره: مستحب". انتهى.
واختاره الزَّيلعيُّ (1) في "شرح الكَنْز" حيث قال: "الحقُّ الانقسام إلى ثلاثة أقسام: واجبٌ، وهو المنذور، وسُنَّة في العشر الأواخر من رمضان، ومُسْتَحَبٌّ في غيره".
--------------------------------------------
শাইখ বলেছেন: "এটি সুন্নাহ।" কুদুরী বলেছেন: "এটি মুস্তাহাব।" আর 'আল-হিদায়াহ' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: "বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো এটি সুন্নাহ মুয়াক্কাদাহ।" আমি বলি: "বিশুদ্ধ (صحيح) কথা হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা; যদি এটি মানত করা হয়, তবে তা ওয়াজিব; রমজানের শেষ দশকে এটি সুন্নাহ এবং অন্য সময়ে এটি মুস্তাহাব।" সমাপ্ত।
এবং আয-যায়লায়ী (১) 'শারহুল কানয' গ্রন্থে এটিই পছন্দ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "সঠিক কথা হলো এটি তিন ভাগে বিভক্ত: ওয়াজিব—যা মানত করা হয়েছে; রমজানের শেষ দশকে সুন্নাহ; এবং অন্য সময়ে মুস্তাহাব।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
واختاره أيضًا ابن الهُمَام (1) في "فتح القدير"، وجَزَمَ به الشُّرُنْبُلالي (2) في "نور الإِيضاح"، والتُّمُرْتَاشي (3) في "تنوير الأبْصار"،
--------------------------------------------
এবং এটি ইবনুল হুমাম (১) 'ফাতহুল কাদির'-এ গ্রহণ করেছেন, আর শুরুবলালি (২) 'নূরুল ইদাহ'-এ এবং তুমুরতাশি (৩) 'তানভীরুল আবসার'-এ এটি নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وإليه مَالَ الحَصكَفي (1).
--------------------------------------------
এবং হাসকাফি (১) এর দিকেই ঝুঁকেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قلت: لا يبعد أن يُحمَل الاستحبابُ في قولِ القُدوري على استحبابه في نفسِهِ، والسُّنيَّة في قولِ صاحب "الهدايةِ" على الاعتكاف في العشر الأواخر بمقْتضى دليله، فلم يَبْق إلَّا قولٌ واحد، وهو الأصح.
المقام الثاني:هل هو سُنَّةٌ مؤكَّدة أو غيرُ مؤكَّدة؟ وعرفتَ من المرغيناني والعيني والزَّيْلعي تصحيح أنَّه سُنَّةٌ مؤكَّدة، واسْتَدلُّوا عليه بأَنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قد واظَبَ عليه (1). رواه الشيخان.
--------------------------------------------
আমি বলি: কুদুরি-র বক্তব্যে মুস্তাহাব হওয়া (الاستحباب) বিষয়টিকে এর সত্তাগত মুস্তাহাব হওয়ার ওপর এবং 'হিদায়া' গ্রন্থকারের বক্তব্যে সুন্নত হওয়া (السُّنيَّة) বিষয়টিকে এর দলিলের দাবি অনুযায়ী শেষ দশ দিনের ইতিকাফের ওপর প্রয়োগ করা অসম্ভব নয়। সুতরাং কেবল একটি অভিমতই অবশিষ্ট থাকে, আর সেটিই অধিকতর সহিহ (الأصح)।
দ্বিতীয় পর্যায়:এটি কি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سُنَّةٌ مؤكَّدة) নাকি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নয় (غيرُ مؤكَّدة)? এবং আপনি মারগিনানি, আইনি এবং যাইলায়ি-র বর্ণনা থেকে জানতে পেরেছেন যে, এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سُنَّةٌ مؤكَّدة) হওয়ার বিষয়টিই সহিহ হিসেবে গণ্য করা (تصحيح) হয়েছে, এবং তাঁরা এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিতভাবে এটি পালন করেছেন (১)। এটি শাইখাইন (الشيخان) বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফ ফী হুকমিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فإنْ قلتَ: المواظَبةُ دليلُ الوجوبِ.
قلتُ: هذا إذا كان مع الإِنكار على التَّرك، وأمَّا المواظَبةُ مع عَلَمِ الإِنكار على مَنْ تَرَكَهُ فهي دليلُ السُّنِّيَّة (1)، ولم يثبتْ إنكارُهُ صلى الله عليه وسلم على مَنْ تَركَه من الصَّحابة.
فإنْ قلتَ: لو كان سُنَّةً مؤكَّدةً لما تركه الصَّحابة (2) مع أنه لم يعتكف الخلفاءُ الأربعة.
قلتُ: إنَّما تركوا لوجهٍ آخر، وهو ما قاله الإِمام مالك: "لم يبلغني أنَّ أبا بكر وعمر وعثمان وابنَ المسيِّب، ولا أحدًا من سَلَف هذه الأمَّة
--------------------------------------------
যদি আপনি বলেন: নিরবচ্ছিন্নতা (مواظبة) ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দলিল।
আমি বলব: এটি তখন হয় যখন বর্জনকারীর প্রতি অস্বীকৃতি (إنكار) জানানো হয়। কিন্তু বর্জনকারীর প্রতি অস্বীকৃতি (إنكار) না জানানোর সাথে নিরবচ্ছিন্নতা (مواظبة) থাকা সুন্নাত (سنة) হওয়ার দলিল (১), আর সাহাবীগণের মধ্য থেকে যারা এটি বর্জন করেছেন তাদের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অস্বীকৃতি (إنكار) জানানো প্রমাণিত হয়নি।
যদি আপনি বলেন: যদি এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة) হতো তবে সাহাবীগণ তা বর্জন করতেন না (২), অথচ চার খলিফাও ইতিকাফ করেননি।
আমি বলব: তারা অন্য কোনো কারণে এটি বর্জন করেছেন, আর তা হলো ইমাম মালিক যা বলেছেন: "আমার কাছে পৌঁছায়নি যে আবু বকর, উমর, উসমান ও ইবনুল মুসায়্যিব অথবা এই উম্মতের সালাফ (سلف) এর মধ্য থেকে কেউ...
--------------------------------------------