(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب سيبويه للسيرافي القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح كتاب سيبويه
المؤلف: أبو سعيد السيرافي الحسن بن عبد الله بن المرزبان (ت 368 هـ)
المحقق: أحمد حسن مهدلي، علي سيد علي
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 2008 م
عدد الأجزاء: 5
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 جُمادَى الأولى 1437
সিরাফী কৃত শরহ কিতাব সিবওয়াইহ বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: শরহ কিতাব সিবওয়াইহ
লেখক: আবু সাঈদ আল-সিরাফী আল-হাসান ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আল-মারযুবান (মৃত্যু ৩৬৮ হিজরী)
মুহাক্কিক: আহমদ হাসান মাহদালি، আলী সৈয়দ আলী
প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ জুমাদাল উলা ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب سيبويه
تأليف
أبي سعيد السيرافي الحسن بن عبد الله بن المرزبان المتوفى سنة 368 هـ
تحقيق
أحمد حسن مهدلي
علي سيد علي
[المجلد الأول]
دار الكتب العلمية
সিবওয়াইহ-এর কিতাবের ব্যাখ্যা
রচনা
আবু সাঈদ আস-সিরাফী আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মারযুবান, মৃত্যু ৩৬৮ হিজরি
সম্পাদনা
আহমদ হাসান মাহদালি
আলী সাইয়্যেদ আলী
[প্রথম খণ্ড]
দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمة
لقد مدح أبو عثمان الجاحظ أنواع العلوم، ومنها علم النحو، حيث سئل عنه، فقال:
" يبسط من العي اللسان، ويجزي من حصر البيان، وبه يسلم من هجنة اللحن وتخريف القول، وهو آلة لصواب المنطق، وتسديد لكلام العرب (1).
ومن هنا كانت المكانة الرفيعة التي حظي بها كتاب سيبويه، أو (أبو النحو العربي) كما يطلقون عليه، الذي يعتبر تصنيفه (الكتاب) أشهر كتاب في النحو، فكان جديرا بالتربع- دون منازع- على قمة علم النحو، إذ أن مكانة سيبويه وأهميته ترجع إلى أنه أول من سجل قواعد النحو العربي، وأرسى أسس معالمه واتجاهاته.
وقد اقتضت الأمانة العلمية أن نذكر فضل المستشرق الفرنسي (هرتويج دبرنبورج) على كتاب سيبويه، حيث نشره في العام 1881، أي قبل أن تظهر طبعة بولاق بمصر بعشرين عاما، وذلك في ألف صفحة مع مقدمة وحواش في مجلدين، مع ترجمته إلى الفرنسية (2).
ومن هذه المكانة الرفيعة التي اعتلاها (الكتاب) استمد (شرح أبي سعيد السيرافي) شهرته وتفرده بالصيت دون سائر الشروح التي تعرضت للكتاب؛ لأنه أقدم شرح وصل إلى أيدينا، فكان محور اهتمام الباحثين والدارسين في الشرق والغرب على السواء.
ولعل المستشرق الألماني (يان) من أسبق الذين نشروا مقتطفات من (شرح السيرافي)، عند ما نقل كتاب سيبويه إلى اللغة الألمانية ..
وهي ذات المقتطفات التي استعانت بها مطبعة بولاق بمصر عند ما نشرت كتاب
--------------------------------------------
ভূমিকা
আবু উসমান আল-জাহিজ বিভিন্ন প্রকার ইলমের প্রশংসা করেছেন, যার মধ্যে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত। যখন তাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন:
"এটি জড়তামুক্ত জিহ্বাকে প্রসারিত করে, বিবৃতির সীমাবদ্ধতা দূর করে এবং এর মাধ্যমেই অশুদ্ধির কুশ্রীতা ও বাণীর বিকৃতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি সঠিক যুক্তির একটি উপকরণ এবং আরবদের কথাকে সঠিক পথে পরিচালনার মাধ্যম (১)।
এখান থেকেই সিবওয়াইহ-এর কিতাব যে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে তার উৎস নিহিত, অথবা যাকে তারা 'আরবি ব্যাকরণের জনক' বলে অভিহিত করেন। তাঁর সংকলিত 'আল-কিতাব' নাহু শাস্ত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। সুতরাং, এটি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই নাহু শাস্ত্রের চূড়ায় আসীন হওয়ার যোগ্য ছিল। কারণ সিবওয়াইহ-এর মর্যাদা ও গুরুত্বের মূল কারণ হলো তিনি সর্বপ্রথম আরবি ব্যাকরণের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং এর বৈশিষ্ট্য ও গতিপথের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার দাবি হলো সিবওয়াইহ-এর কিতাবের ওপর ফরাসি প্রাচ্যবিদ (হার্টউইগ ডেরেনবার্গ)-এর অবদানের কথা উল্লেখ করা। তিনি ১৮৮১ সালে এটি প্রকাশ করেন, যা মিশরের বুলাক সংস্করণ প্রকাশিত হওয়ার বিশ বছর আগে। এটি ভূমিকা ও টীকা সহ এক হাজার পৃষ্ঠার দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ফরাসি ভাষায় এর অনুবাদও ছিল (২)।
'আল-কিতাব' যে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিল, তা থেকেই 'শারহু আবি সাঈদ আস-সিরাফি' তার খ্যাতি এবং অন্যান্য সমস্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভিড়ে অনন্যতা লাভ করেছে। কারণ এটিই আমাদের হাতে পৌঁছানো সবচেয়ে প্রাচীন ব্যাখ্যাগ্রন্থ। ফলে এটি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিকট সমানভাবে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সম্ভবত জার্মান প্রাচ্যবিদ (ইয়ান) তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য যারা 'শারহু আস-সিরাফি'-র কিছু অংশ প্রকাশ করেছিলেন, যখন তিনি সিবওয়াইহ-এর কিতাব জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেন...
এগুলো সেই একই উদ্ধৃতাংশ যা মিশরের বুলাক প্রেস ব্যবহার করেছিল যখন তারা কিতাবটি প্রকাশ করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৪)
سيبويه، فكانت- بحق- إشراقة فجر التعريف ب
(السيرافي) في البيئة العربية اللغوية، حيث اطلع القراء على بعض من شروحه للكتاب عند ما تداولته الأيدي من مطبعة بولاق.
ومع هذه المبادرة المبكرة التي كنا نأمل أن تكون فاتحة للمزيد، إلا أن (شرح السيرافي) لم يحظ بوضوح النهار الذي بدأ فجره الألماني (يان) فاستمرت النسخ المخطوطة لشرح السيرافي حبيسة الأسر والظلمات عشرات السنين، إلى أن تنبهت إليه الأوساط البحثية في الثلث الأخير من القرن العشرين.!!
إلى أن شاءت المقادير أن نتعرض- مرة أخرى- بعد هذه الصحوة المتأخرة، لنعيد قراءة (شرح السيرافي) ندلو بدلونا في هذا المضمار مسترشدين بمحاولات من سبقونا، آملين أن نضيف بعضا مما نراه يسهم في اقتراب النص إلى الكمال، ولله الكمال وحده، وهي غاية البحث والتحقيق أن يصلا بالنص إلى الصورة التامة التي قصدها المؤلف.
السيرافي:
ترجمت له كتب التراجم والطبقات، ولكن أقدم هذه التراجم، ما ورد في كتاب (الفهرست) لابن النديم الذي ألفه عام 377 هـ، حيث يقول:
" قال الشيخ أبو أحمد، أمده الله: أبو سعيد الحسن بن عبد الله بن المرزبان، وأصله من فارس، مولده ب (سيراف)، وفيها ابتدأ بطلب العلم، وخرج عنها قبل العشرين من عمره، ومضى إلى عمان وتفقه بها، ثم عاد إلى سيراف، ومضى إلى العسكر فأقام بها مدة ولقي محمد بن عمر الصيمري المتكلم، وكان يقدّمه ويفضله على جميع أصحابه، وكان فقيها على مذاهب العلماء العراقيين، وخلف القاضي أبا محمد بن معروف على قضاء الجانب الشرقي، وكان أستاذه في النحو، ثم الجانبين، وكان الكرخي الفقيه يقدمه ويفضله، وعقد له حلقة يفتي فيها، ومولده قبل التسعين، وتوفي في رجب لليلتين خلتا من سنة ثمان وستين وثلاث مائة " (1).
وكتب التراجم والطبقات- على رحابتها- التي ذكرت السيرافي قد تراوحت بين أمرين من حياة الرجل:
--------------------------------------------
সিবওয়াইহ, ফলে এটি ছিল—যথাযথভাবেই—আরবি ভাষাতাত্ত্বিক পরিমণ্ডলে
(সিরাফি) -এর পরিচয়ের উষালগ্ন, যেখানে পাঠকরা বুলাক প্রেস থেকে প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর কিতাবের কিছু ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছিলেন।
এই প্রাথমিক উদ্যোগটি, যা আমরা আশা করেছিলাম যে আরও অনেক কিছুর সূচনা করবে, তা সত্ত্বেও (সিরাফির ব্যাখ্যাগ্রন্থ) সেই দিনের আলোর স্পষ্টতা পায়নি যার ভোর শুরু করেছিলেন জার্মান পণ্ডিত (ইয়ান); ফলে সিরাফির ব্যাখ্যার পাণ্ডুলিপিগুলো দশকের পর দশক ধরে অন্ধকার ও বন্দিদশায় আবদ্ধ ছিল, যতক্ষণ না বিংশ শতাব্দীর শেষ এক-তৃতীয়াংশে গবেষণা ক্ষেত্রগুলো এ বিষয়ে সচেতন হয়।!!
অবশেষে তকদির চাইল যে আমরা—পুনরায়—এই বিলম্বে ঘটা জাগরণের পর (সিরাফির ব্যাখ্যা) নতুন করে পাঠ করি এবং আমাদের পূর্বসূরিদের প্রচেষ্টাকে পাথেয় করে এই ময়দানে আমাদের অবদান রাখি; এই আশায় যে আমরা এমন কিছু যোগ করতে পারব যা পাঠ্যটিকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে। আর পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহরই জন্য; আর গবেষণা ও তাহকিকের লক্ষ্যই হলো পাঠ্যটিকে সেই পূর্ণাঙ্গ রূপে পৌঁছে দেওয়া যা লেখক উদ্দেশ্য করেছিলেন।
সিরাফি:
জীবনী ও স্তরবিষয়ক গ্রন্থসমূহ তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছে, তবে এই জীবনীগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম হলো ইবনুন নাদিমের 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে, যেটি তিনি ৩৭৭ হিজরিতে রচনা করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন:
"শায়খ আবু আহমদ (আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন) বলেন: আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল মারজুবান, তাঁর আদি নিবাস পারস্যে, তাঁর জন্ম (সিরাফ)-এ। সেখানেই তিনি ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং বিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েন। তিনি ওমানে যান এবং সেখানে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এরপর তিনি সিরাফে ফিরে আসেন, তারপর আল-আসকার অভিমুখে গমন করেন এবং সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। সেখানে তিনি মুতাকাল্লিম মুহাম্মাদ ইবনে উমর আস-সাইমারীর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি তাঁকে তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর অগ্রাধিকার ও শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন। তিনি ইরাকি ওলামাদের মাজহাব অনুযায়ী ফকিহ ছিলেন। তিনি কাজি আবু মুহাম্মাদ ইবনে মারুফের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পূর্ব দিকের বিচারকার্য পরিচালনা করেন, যিনি নাহু শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদ ছিলেন; পরবর্তীতে তিনি উভয় দিকের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। ফকিহ আল-কারখী তাঁকে অগ্রাধিকার ও প্রাধান্য দিতেন এবং তাঁর জন্য একটি মজলিস কায়েম করেছিলেন যেখানে তিনি ফতোয়া দিতেন। তাঁর জন্ম নব্বই হিজরির আগে এবং তিনি ৩৬৮ হিজরির রজব মাসের দুই রাত অতিবাহিত হওয়ার পর ইন্তেকাল করেন।" (১)।
জীবনী ও স্তরবিষয়ক গ্রন্থসমূহ—তাদের বিশালতা সত্ত্বেও—যা সিরাফি সম্পর্কে আলোচনা করেছে, তা এই ব্যক্তির জীবনের দুটি বিষয়ের মধ্যে আবর্তিত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৫)
فمنها ما اهتم بذكر المصنفات والمؤلفات، كما هو مستفاد من كتاب (ابن النديم) الفهرست، ومنها ما اهتم بذكر حياته الإنسانية والعلمية، كما أخبرنا (البغدادي) المتوفى (464 هـ) في كتابه: تاريخ بغداد.
ثم أن ما تلا هذين المصنفين من كتب التراجم والطبقات، قد اقتفى آثارهما واعتمد عليهما في ثبت المعلومات، عن حياة السيرافي وتاريخه العلمي. نذكر منها:
- كتاب الأنساب للسمعاني (ت 562 هـ).
- نزهة الألباء، لابن الأنباري (ت 577 هـ).
- إرشاد الأريب، لياقوت الحموي (ت 620 هـ).
ويعتبر إرشاد الأريب من أهم المصادر المتأخرة التي اعتنت بحياة السيرافي.
ثم توالت المؤلفات والمصادر التي تعني بتراجم الأعلام، وهي على تواترها- أي المؤلفات والمصادر- لا ترقى إلى مرتبة كتابي: الفهرست، لابن النديم، وتاريخ بغداد، للبغدادي.
السيرافي العالم:السيرافي، نسبة إلى مكان ميلاده (سيراف) وهي مدينة من مدن بلاد فارس حيث تربطها علاقات تجارية مع بلاد الهند بحكم موقعها الجغرافي، الواقع جنوبا من بلاد فارس.
وقد أتاحت له نشأته أن يتقن الفارسية، لغة قومه وعشيرته، واللغة العربية، التي كانت- إذا صح التعبير- لغة المراسم والدواوين، فضلا عن كونها لسان التخاطب بين سائر الناس من سكان البلاد.
وكان السيرافي قد أتمّ بعضا من معارفه وعلومه اليسيرة في مدينته (سيراف) حيث إنها لم تكن بيئة علمية، وإنما كانت- كما ذكرنا- مركزا للتجارة والمال.
ثم انصرف عن (سيراف) مسقط رأسه قبيل بلوغه عامه العشرين من عمره قاصدا بلاد (عمان) لدراسة علوم الفقه، ثم ارتحل إلى (عسكر مكرم) حيث انتظم في حلقات الصّيمري المعتزلي، المتوفى سنة 315 هـ، فكان السيرافي نابغة الحلقة وفارسها الذي يشار إليه بالبنان.
ونظرا لأن بغداد- حاضرة حواضر الدنيا- كانت ذاخرة بالمعارف والعلوم
এর মধ্যে কোনোটি রচনা ও গ্রন্থাবলির বর্ণনায় গুরুত্বারোপ করেছে, যা ইবনে নাদীমের 'আল-ফিহরিস্ত' গ্রন্থ থেকে প্রাপ্ত। আবার কোনোটি তাঁর ব্যক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক জীবন বর্ণনায় গুরুত্ব দিয়েছে, যেমনটি আল-বাগদাদী (মৃ. ৪৬৪ হি.) তাঁর 'তারীখে বাগদাদ' গ্রন্থে আমাদের জানিয়েছেন।
অতঃপর এই দুটি গ্রন্থের পর জীবনী ও স্তরবিন্যাস সংক্রান্ত যেসব গ্রন্থ রচিত হয়েছে, সেগুলো সিরাফীর জীবন ও তাঁর ইলমী ইতিহাস সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে এ দুটিরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং এগুলোর ওপরই নির্ভর করেছে। আমরা সেগুলোর কয়েকটি উল্লেখ করছি:
- সাম'আনীর 'কিতাবুল আনসাব' (মৃ. ৫৬২ হি.)।
- ইবনুল আম্বারীর 'নুজহাতুল আলিব্বা' (মৃ. ৫৭৭ হি.)।
- ইয়াকুত আল-হামাবীর 'ইরশাদুল আরীব' (মৃ. ৬২০ হি.)।
আর 'ইরশাদুল আরীব' পরবর্তী সময়কার সেই সব উৎসের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত, যা সিরাফীর জীবনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
এরপর মনিষীদের জীবনচরিত বিষয়ক গ্রন্থ ও উৎসসমূহ একের পর এক আসতে থাকে। তবে এই গ্রন্থ ও উৎসগুলো—অর্থাৎ গ্রন্থ ও উৎসগুলো—সংখ্যার আধিক্য সত্ত্বেও ইবনে নাদীমের 'আল-ফিহরিস্ত' এবং আল-বাগদাদীর 'তারীখে বাগদাদ' নামক গ্রন্থদ্বয়ের মর্যাদায় পৌঁছাতে পারেনি।
আলিম হিসেবে সিরাফী:সিরাফী—এই নাম তাঁর জন্মস্থান 'সিরাফ'-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত। এটি পারস্যের শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি শহর, যা পারস্যের দক্ষিণে অবস্থিত হওয়ার কারণে ভৌগোলিক অবস্থানের সুবাদে হিন্দুস্তানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখত।
তাঁর বেড়ে ওঠার পরিবেশ তাঁকে তাঁর স্বজাতি ও গোত্রের ভাষা ফারসিতে পারদর্শী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। পাশাপাশি আরবি ভাষাতেও তিনি দক্ষ হয়ে ওঠেন, যা ছিল—যদি বলা সঠিক হয়—রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ও দাপ্তরিক ভাষা; এছাড়া এটি দেশের সাধারণ অধিবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক কথোপকথনের মাধ্যমও ছিল।
সিরাফী তাঁর প্রাথমিক জ্ঞান ও সামান্য বিদ্যা তাঁর নিজ শহর 'সিরাফ'-এ সমাপ্ত করেছিলেন; কারণ তা কোনো জ্ঞানচর্চার পরিবেশ ছিল না, বরং সেটি ছিল—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থ-সম্পদের কেন্দ্র।
অতঃপর তিনি তাঁর কুড়ি বছর বয়সে পদার্পণের কিছুকাল আগে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে নিজ জন্মভূমি 'সিরাফ' ত্যাগ করে 'ওমান' অভিমুখে যাত্রা করেন। এরপর তিনি 'আস্কারে মুকাররম'-এ হিজরত করেন, যেখানে তিনি মুতাজিলা মতাদলম্বী আস-সাইমারী (মৃ. ৩১৫ হি.)-এর পাঠচক্রে যোগদান করেন। ফলে সিরাফী সেই পাঠচক্রের এক অনন্য প্রতিভা এবং এমন এক অগ্রগামী ব্যক্তিতে পরিণত হন, যার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হতো।
যেহেতু বিশ্বের প্রধান মহানগরী বাগদাদ জ্ঞান ও বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ ছিল...
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৬)
والعلماء، فأحبّ أبو سعيد أن يسبح في موجات معارفها وعلومها، إذ كانت بغداد مطمح العلماء ومقصد المتعلمين وقبلتهم.
فوصل السيرافي إلى بغداد لينهل من روافدها، التي صنعت منه- فيما بعد- لغويّا عالما بأسرار العربية، فذاع صيته حتى أفاء الله عليه بوضع شرحه المستفيض لكتاب الكتب (الكتاب) لإمام النحويين سيبويه، الذي كان محور الدراسات اللغوية وعمدتها في بغداد، ثم طارت شهرة السيرافي وملأت الفضاء على رحابته، فعرف كمدرس وقاض.
ولكنهما- كمهنة- لم يكفياه مؤنة العيش، فقد كان زاهدا لا يعتاش إلا من كدّ يده، فكان يعتمد على مهنة النسخ حيث
ينسخ في اليوم بعض وريقات تكفيه دراهمها المعدودات متطلبات الحياة فحسب، فقد كان يرى- وهو الزاهد- ضرورة التدريس بدون مقابل، كما كان يرفض أجره عن عمله كقاض؛ لأن نشر العدالة، ورد المظالم، وإعادة الحقوق يجب أن تكون خالصة لوجه الله تعالى، هكذا كانت حياته وفلسفته ورسالته، ولعلها كانت سمة من سمات السلف؛ لأن التاريخ العربي الإسلامي حافل بالأعلام الذين لم يتقاضوا أجرا مقابل التدريس والقضاء
… !
شيوخه:- أبو بكر محمد بن السري، المعروف ب (ابن السرّاج).
- أبو بكر محمد بن علي، المعروف ب (مبرمان).
- أبو بكر بن دريد.
- أبو بكر بن مجاهد (عالم القراءات).
- الصيمري المعتزلي.
تلاميذه:- إبراهيم بن علي إسحاق الفارسي.
- أحمد بن بكر العبدي.
- إسماعيل بن حماد الجوهري. (ت 313 هـ). صاحب معجم الصحاح.
- أبو البركات محمد بن عبد الواحد الزبيدي الأندلسي.
- أبو حيان التوحيدي. (ت 414 هـ).
- الحسين بن محمد بن جعفر. (ت 388 هـ).
এবং উলামাগণ; ফলে আবু সাঈদ এর জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ঢেউয়ে অবগাহন করতে চাইলেন, কেননা বাগদাদ ছিল আলেমদের আকাঙ্ক্ষিত স্থান এবং শিক্ষার্থীদের গন্তব্য ও কিবলা।
অতঃপর সিরাফী বাগদাদে পৌঁছলেন এর ঝরনাধারা থেকে পান করার জন্য, যা তাকে পরবর্তীতে আরবী ভাষার রহস্যজ্ঞানী একজন ভাষাবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছিল। ফলে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল, এমনকি আল্লাহ তাকে নাহুবিদদের ইমাম সিবওয়াইহ-এর ‘আল-কিতাব’-এর (যা ছিল বাগদাদে ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যয়নের মূল কেন্দ্র ও ভিত্তি) একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সামর্থ্য দান করেন। এরপর সিরাফীর খ্যাতি বিশাল আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এবং তিনি একজন শিক্ষক ও বিচারক হিসেবে সুপরিচিত হলেন।
কিন্তু পেশা হিসেবে এই দুটি তার জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে পর্যাপ্ত ছিল না। তিনি ছিলেন এমন একজন যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) ব্যক্তি, যিনি কেবল কায়িক শ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে জীবন ধারণ করতেন। তিনি পাণ্ডুলিপি নকল করার পেশার ওপর নির্ভর করতেন, যেখানে প্রতিদিন তিনি কিছু পৃষ্ঠা নকল করতেন যার বিনিময়ে প্রাপ্ত নগণ্য দিরহামটুকু কেবল তার জীবনধারণের আবশ্যকীয় প্রয়োজন মেটাত। সেই যাহিদ ব্যক্তি মনে করতেন যে, কোনো বিনিময় ছাড়াই শিক্ষাদান করা অপরিহার্য। একইভাবে তিনি বিচারক হিসেবে তার বেতন নিতে অস্বীকৃতি জানাতেন; কারণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জুলুমের প্রতিকার এবং অধিকার পুনরুদ্ধার কেবল মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যই হওয়া উচিত। এমনই ছিল তার জীবনধারা, দর্শন ও লক্ষ্য। সম্ভবত এটি ছিল সালাফদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য; কারণ আরবী-ইসলামী ইতিহাস এমন সব বরেণ্য ব্যক্তিত্বে পরিপূর্ণ যারা শিক্ষাদান ও বিচারকার্য পরিচালনার বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি
… !
তার শিক্ষকগণ:- আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল সাররি, যিনি (ইবনুল সাররাজ) নামে পরিচিত।
- আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আলী, যিনি (মুবরামান) নামে পরিচিত।
- আবু বকর ইবনে দুরাইদ।
- আবু বকর ইবনে মুজাহিদ (কিরাত শাস্ত্রের আলেম)।
- সাইমারী আল-মুতাজিলী।
তার ছাত্রগণ:- ইবরাহীম ইবনে আলী ইসহাক আল-ফারিসী।
- আহমদ ইবনে বকর আল-আবদী।
- ইসমাঈল ইবনে হাম্মাদ আল-জাওহারী (মৃত্যু ৩১৩ হি.)। ‘আস-সিহাহ’ অভিধানের রচয়িতা।
- আবু আল-বারাকাত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আজ-জুবাইদী আল-আন্দালুসী।
- আবু হাইয়ান আত-তাওহীদী (মৃত্যু ৪১৪ হি.)।
- আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর (মৃত্যু ৩৮৮ হি.)।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৭)
- ابن خالويه، اللغوي. (ت 370 هـ).
- عبد الله بن الرقاق. (ت 387 هـ).
- عبد الواحد بن رزمه.
- عبيد الله بن أحمد العراري. (ت 382 هـ).
- علي عبد الله السمعي. (ت 415 هـ).
- علي بن عبيد بن الرقاق. (ت 345 هـ).
- علي بن عيسى الربعي، النحوي. (ت 420 هـ).
- علي بن محمد بن عبد الرحيم بن دينار. (ت 323 هـ).
- محمد بن أحمد بن عمر الحلال.
- محمد بن محمد بن عباد. (ت 334 هـ).
- معز الدولة ابن بويه.
مؤلفاته:1 - شرح شواهد سيبويه.
2 - كتاب ألفات الوصل والقطع.
3 - كتاب أخبار النحويين البصريين.
4 - كتاب الوقف والابتداء.
5 - كتاب صنعة الشعر والبلاغة.
6 - الإقناع في النحو.
7 - شرح مقصورة ابن دريد.
8 - المدخل إلى سيبويه.
- ইবনে খালুওয়াইহ, ভাষাবিদ। (মৃত্যু ৩৭০ হিজরি)।
- আবদুল্লাহ ইবনুর রক্কাক। (মৃত্যু ৩৮৭ হিজরি)।
- আবদুল ওয়াহিদ ইবনে রজমাহ।
- উবায়দুল্লাহ ইবনে আহমাদ আল-আরারি। (মৃত্যু ৩৮২ হিজরি)।
- আলী আবদুল্লাহ আস-সাময়ি। (মৃত্যু ৪১৫ হিজরি)।
- আলী ইবনে উবাইদ ইবনুর রক্কাক। (মৃত্যু ৩৪৫ হিজরি)।
- আলী ইবনে ঈসা আর-রুবায়ি, ব্যাকরণবিদ। (মৃত্যু ৪২০ হিজরি)।
- আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহিম ইবনে দিনার। (মৃত্যু ৩২৩ হিজরি)।
- মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে উমর আল-হালাল।
- মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ। (মৃত্যু ৩৩৪ হিজরি)।
- মুইযযুদ্দৌলা ইবনে বুওয়াইহ।
তাঁর রচনাবলি:১ - শারহু শাওয়াহিদি সিবওয়াইহ।
২ - কিতাবু আলফাতি ওয়াসলি ওয়াল ক্বাতয়ি।
৩ - কিতাবু আখবারিন নাহবিইয়িনাল বাসরিয়্যিন।
৪ - কিতাবুল ওয়াক্বফি ওয়াল ইবতিদা।
৫ - কিতাবু সানয়াতিশ শি'রি ওয়াল বালাগা।
৬ - আল-ইকনা ফিল নাহবি।
৭ - শারহু মাকসুরাতি ইবনে দুরায়দ।
৮ - আল-মাদখালু ইলা সিবওয়াইহ।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال أبو سعيد: قال سيبويه:
هذا باب «علم ما الكلم من العربية»هذا موضوع كتابه الذي نقله عنه أصحابه، ويسأل في ذلك عن أشياء:
فأولها: أن يقال: إلام أشار سيبويه بقوله: " هذا ". والإشارة بها تقع إلى حاضر؟
فالجواب عن ذلك أنه يحتمل ثلاثة أوجه، أحدها: أن يكون أشار إلى ما في نفسه من العلم، وذلك حاضر، كما يقول القائل: " قد نفعنا علمك هذا الذي تبثه، وكلامك هذا الذي تتكلم به ". والثاني: أن يكون أشار إلى متوقّع قد عرف وانتظر وقوعه في أقرب الأوقات إليه. فجعله كالكائن الحاضر تقريبا لأمره، كقوله: " هذا الشتاء مقبل ". و " هذا الخليفة قادم "، ومثله قول الله عز وجل: هذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي يُكَذِّبُ بِهَا الْمُجْرِمُونَ (1).
والثالث: أن يكون وضع كلمة الإشارة غير مشير بها؛ ليشير بها عند الحاجة.
والفراغ من المشار إليه. كقولك: " هذا ما شهد عليه الشهود المسمّون في هذا الكتاب " وإنما وضع ليشهدوا وما شهدوا بعد.
وأما " علم " فمصدر، إما أن يكون مصدر أن تعلم أو أن يعلم، لأن المصادر العاملة عمل الأفعال تقدر بأن الخفيفة والفعل بعدها.
فإذا قدّر " علم " بأن تعلم، كان الكلام على " ما " من ثلاثة أوجه: أحدها: أن تكون استفهاما، فإذا كانت كذلك كان لفظها رفعا، لو تبين الإعراب فيه، ويكون ارتفاعه بالابتداء، ويكون " الكلم " خبره، أو يكون " الكلم " الابتداء، و " ما " خبر مقدمة، ويكون موضع الجملة التي هي ابتداء وخبر نصبا، ويكشف هذا المعنى لك أنك لو جعلت مكانها " أيّا " لقلت " هذا باب علم أي شيء الكلم من العربية، فترفع " أيّ " ويكون موضعها مع الكلم نصبا، لأنك أردت: هذا باب أن تعلم.
فإذا لم تكن استفهاما قلت: هذا باب علم مسألتك، وتبين الإعراب فيه؛ لأنه ليس باستفهام يمتنع عمل ما قبله فيه، وإنما لم يعلم ما قبل " أيّ " و " ما " والأسماء التي يستفهم بها فيها، من قبل أن هذه الأسماء المستفهم بها نائبة عن ألف الاستفهام، متضمنة لمعناها،
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আবু সাঈদ বলেন: সীবওয়াইহ বলেছেন:
এটি ‘আরবি ভাষায় শব্দ কী তা জানা’ সংক্রান্ত অধ্যায়এটি তার সেই কিতাবের বিষয়বস্তু যা তার নিকট থেকে তার সঙ্গীরা বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করা হয়:
তার প্রথমটি হলো: এ কথা বলা যে, সীবওয়াইহ তার "এটি" উক্তি দ্বারা কিসের দিকে ইশারা করেছেন? অথচ ইশারা তো সাধারণত উপস্থিত কোনো বিষয়ের দিকেই হয়ে থাকে।
এর উত্তর হলো, এতে তিনটি দিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমটি: তিনি তার মনের মধ্যে থাকা জ্ঞানের দিকে ইশারা করেছেন, আর তা উপস্থিত। যেমন কোনো বক্তা বলে: "আপনার এই জ্ঞান যা আপনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং আপনার এই কথা যা আপনি বলছেন তা আমাদের অনেক উপকার করেছে।" দ্বিতীয়টি: তিনি এমন এক প্রত্যাশিত বিষয়ের দিকে ইশারা করেছেন যা পরিচিত এবং যা খুব শীঘ্রই ঘটার প্রতীক্ষায় আছে। ফলে বিষয়টিকে নিকটবর্তী করার জন্য তিনি একে উপস্থিত বিষয়ের মতো গণ্য করেছেন। যেমন কারো উক্তি: "এই তো শীতকাল আসন্ন।" এবং "এই তো খলিফা আসছেন।" এর অনুরূপ হলো মহান আল্লাহর বাণী: এটিই সেই জাহান্নাম যাকে অপরাধীরা অস্বীকার করত (১)।
তৃতীয়টি: তিনি ইশারা শব্দটি স্থাপন করেছেন কোনো কিছুর দিকে ইশারা না করেই, যাতে প্রয়োজনের সময় এর দ্বারা ইশারা করা যায়।
এবং ইশারা করার বিষয়টি সম্পন্ন হওয়ার জন্য। যেমন তোমার উক্তি: "এই হলো সেই বিষয় যার ওপর এই কিতাবে নামোল্লিখিত সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিয়েছে।" অথচ এটি স্থাপন করা হয়েছে যেন তারা সাক্ষ্য দেয়, যদিও তারা তখনও সাক্ষ্য দেয়নি।
আর "জানা" শব্দটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল)। এটি হয় 'তোমার জানা' অথবা 'জানানো হওয়া'-এর মাসদার। কারণ যে সকল মাসদার ক্রিয়ার মতো কাজ করে সেগুলোকে 'আন' এবং তার পরবর্তী ক্রিয়া দ্বারা অনুমান করা হয়।
যদি "জানা" শব্দটিকে 'তোমার জানা' হিসেবে ধরা হয়, তবে "কী" শব্দটির ক্ষেত্রে তিনটি দিক থাকে: প্রথমটি: এটি প্রশ্নবোধক হওয়া। যদি তা-ই হয়, তবে শব্দগতভাবে এটি 'রাফা' হবে যদি তাতে ইরাব (কারক বিভক্তি) প্রকাশিত হতো। আর এর রাফা হওয়া হবে 'মুবতাদা' (উদ্দেশ্য) হিসেবে এবং "শব্দসমূহ" হবে তার 'খবর' (বিধেয়)। অথবা "শব্দসমূহ" হবে মুবতাদা এবং "কী" হবে অগ্রবর্তী খবর। আর মুবতাদা ও খবর মিলে যে বাক্যটি হবে তার স্থান হবে 'নসব'-এর। এই অর্থটি তোমার কাছে স্পষ্ট হবে যদি তুমি এর স্থলে "কোনটি" শব্দটিকে বসাতে, তবে তুমি বলতে: "এটি আরবি ভাষায় শব্দসমূহ কোন জিনিস তা জানার অধ্যায়।" তখন তুমি "কোনটি" শব্দটিকে রাফা করতে এবং 'শব্দসমূহ' শব্দের সাথে মিলে এর স্থানটি হতো নসব। কারণ তোমার উদ্দেশ্য হলো: এটি তোমার জানার অধ্যায়।
আর যদি এটি প্রশ্নবোধক না হয় তবে তুমি বলবে: "এটি তোমার মাসআলা বা বিষয়টি জানার অধ্যায়।" এক্ষেত্রে কারক বিভক্তিটি স্পষ্ট হবে। কারণ এটি কোনো প্রশ্নবোধক শব্দ নয় যা তার পূর্ববর্তী শব্দের প্রভাবকে বাধা দেবে। "কোনটি" ও "কী" এবং প্রশ্নবোধক নামবাচক শব্দগুলোর পূর্ববর্তী শব্দ কেন আমল বা কাজ করতে পারে না, তার কারণ হলো এই প্রশ্নবোধক শব্দগুলো প্রশ্নবোধক হামজার স্থলাভিষিক্ত এবং তার অর্থ ধারণকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وليس بجائز أن يعمل ما قبل ألف الاستفهام فيما بعده؛ لأن حرف الاستفهام يقع صدر الكلام، كما تقع " ما " النافية، و " إنّ " المؤكدة، والحروف الداخلة على الجمل لها صدور الكلام.
والوجه الثاني من وجوه " ما " أن تكون بمعنى " الذي " ويكون صلتها هو " الكلم " و " هو " محذوفة، وحذفها جائز، كأنك قلت: هذا باب علم الذي هو الكلم " من العربية "، والدليل على جواز حذفها قول الله تعالى في قراءة بعضهم ثُمَّ آتَيْنا مُوسَى الْكِتابَ تَماماً عَلَى الَّذِي أَحْسَنَ (1) يريد الذي هو أحسن. وكما قرأ بعضهم: أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا ما بَعُوضَةً فَما فَوْقَها (2) أراد ما هو بعوضة وكما قرأ بعضهم: ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمنِ عِتِيًّا (3) أراد أيهم هو. بمعنى: الذي هو. وحكى " الخليل " (4): " ما أنا بالذي قائل لك شيئا " أراد: بالذي هو قائل لك شيئا.
والوجه الثالث: أن تكون " ما " صلة، ويكون دخولها كخروجها في تغيير إعراب غيرها، إلا أنها تؤكد المعنى الذي تدخل فيه، فيكون اللفظ: هذا باب علم، ما الكلم من العربية.
وإذا كان " علم " مصدر " أن يعلم " كان الكلام فيه كالكلام في " أن تعلم " إلا في موضعين:
أحدهما: موضع " ما " إذا جعلناه منصوبا هناك جعلناه مرفوعا هاهنا.
والوجه الثاني: إذا جعلنا " ما " صلة هناك، فنصبنا الكلم رفعناه هاهنا.
ويجوز إضافة " علم " وترك التنوين منها، و " ما " محتملة لوجوهها الثلاثة، فإذا كانت استفهاما، كان لفظها رفعا على ما قلنا آنفا وموضعها بما بعدها خفضا، وإذا كانت بمعنى " الذي " كانت مخفوضة بالإضافة، وصلتها على ما وصفنا، وإذا كانت صلة كان " الكلم " خفضا، ولفظه: هذا باب علم ما الكلم من العربية.
--------------------------------------------
প্রশ্নবোধক আলিফ-এর পূর্ববর্তী শব্দ তার পরবর্তী শব্দে আমল করা বৈধ নয়; কারণ প্রশ্নবোধক হরফ বাক্যের শুরুতে আসার হকদার, যেমন না-বোধক "মা" এবং নিশ্চয়তাবোধক "ইন্না" বাক্যের শুরুতে আসে। আর জুমলার ওপর যে সকল হরফ প্রবেশ করে, সেগুলো বাক্যের প্রারম্ভে থাকার অধিকার রাখে।
"মা" এর দ্বিতীয় অবস্থা হলো, এটি "আল্লাযী" (যা) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া এবং "আল-কালিম" শব্দটি তার সিলাহ হওয়া, যেখানে "হুয়া" (সর্বনাম) শব্দটি উহ্য থাকবে। আর একে উহ্য রাখা বৈধ, যেন আপনি বলছেন: "এটি আরবি ভাষার সেই কালিমা সংক্রান্ত ইলমের পরিচ্ছেদ"। এটি উহ্য রাখার বৈধতার দলীল হলো কারো কারো কিরাআতে মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আমি মূসাকে কিতাব দান করেছি পূর্ণতা স্বরূপ তার ওপর যে উত্তম" (১); এখানে "যা উত্তম" (আল্লাযী হুয়া আহসান) উদ্দেশ্য। অনুরূপভাবে কারো কিরাআত: "একটি মশা বা তার চেয়ে ঊর্ধ্বে কিছুর উপমা দিতে" (২); এখানে উদ্দেশ্য হলো "যা মশা" (মা হুয়া বা’ঊদাতান)। অনুরূপভাবে কারো কিরাআত: "অতঃপর আমি প্রত্যেক দল থেকে তাদের মধ্য থেকে তাকে টেনে বের করব যে দয়াময় আল্লাহর অবাধ্যতায় অত্যন্ত কঠোর ছিল" (৩); এখানে উদ্দেশ্য হলো "যে সে" (আইয়ুহুম হুয়া), অর্থাৎ "যে ব্যক্তি" (আল্লাযী হুয়া)। আল-খলীল (৪) বর্ণনা করেছেন: "আমি এমন ব্যক্তি নই যে তোমাকে কিছু বলবে"; এখানে উদ্দেশ্য হলো: "সেই ব্যক্তির মতো যে তোমাকে কিছু বলবে" (বিল্লাযী হুয়া কায়িলুন)।
তৃতীয় অবস্থা হলো: "মা" অতিরিক্ত (সংযুক্তকারী) হওয়া। এর থাকা বা না থাকা অন্য শব্দের ব্যাকরণিক অবস্থা (ইরাব) পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সমান, তবে এটি যে বাক্যে প্রবেশ করে তার অর্থকে তাকিদ বা জোর প্রদান করে। তখন বাক্যটির রূপ হবে: "এটি আরবি ভাষার কালিমা সংক্রান্ত ইলমের পরিচ্ছেদ"।
যদি "ইলম" শব্দটি "জানা" এর ক্রিয়ামূল (মাসদার) হয়, তবে সেক্ষেত্রে বক্তব্যটি "তোমার জানার" বক্তব্যের মতোই হবে, কেবল দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত:
প্রথমটি: "মা"-এর অবস্থান; যদি আমরা সেখানে একে মানসূব (নসববিশিষ্ট) ধরি, তবে এখানে আমরা একে মারফূ (রফা-বিশিষ্ট) ধরব।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি: যদি আমরা সেখানে "মা"-কে অতিরিক্ত ধরি এবং "কালিমা" শব্দটিকে মানসূব করি, তবে এখানে আমরা একে মারফূ করব।
"ইলম" শব্দটিকে পরবর্তী শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (ইযাফাত) করা এবং তাতে তানভীন ত্যাগ করা বৈধ। আর "মা" শব্দটিতে উল্লিখিত তিনটি অবস্থারই সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এটি প্রশ্নবোধক হয়, তবে এর উচ্চারণ হবে রফা বা পেশযুক্ত—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বলেছি—এবং পরবর্তী অংশসহ এর স্থান হবে জর বা জেরযুক্ত। আর যদি এটি "আল্লাযী" (যা) অর্থে হয়, তবে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে এটি জেরযুক্ত হবে এবং এর পরবর্তী অংশ হবে আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি সে অনুযায়ী। আর যদি এটি অতিরিক্ত হয়, তবে "কালিমা" শব্দটি জেরযুক্ত হবে এবং এর উচ্চারণ হবে: "এটি আরবি ভাষার কালিমা সংক্রান্ত ইলমের পরিচ্ছেদ"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وفي صحة إضافة " علم " إلى " ما " - وهي استفهام- نظر؛ لأنه يجوز أن يفرق بين وقوع الخافض على الاستفهام، وبين وقوع الناصب، وذلك أن الناصب قد يعلّق ويبطل عمله؛ ألا ترى أنّا نقول: قد علمت " أزيد في الدار أم عمرو " و " علمت أيهم في الدار "، " وأتيت أيهم في الدار "، ولا نقول: " أنبئت بأيّهم في الدار، وأنبئت أيهم في الدار ".
ويجوز تنوين " الباب "؛ فإذا نوّن جاز في " العلم " الرفع والنصب، فإذا نصبت فعلى التمييز، كأنك لما قلت: " هذا باب " احتمل أن يكون بابا من العلم وغيره، كما أنك إذا قلت: " أخذت عشرين " احتمل أن يكون من الدراهم وغيرها، فإذا ذكرت نوعا مما تحتمله نصبته، كذلك إذا ذكرت نوعا مما يحتمل " الباب " نصبته.
وإذا رفعته ففيه ثلاثة أوجه مرضيّة:
أحدها: أن يكون " هذا " مبتدأ، و " باب " خبره، و " علم " خبر مبتدأ محذوف، كأنك قلت: هذا باب، هذا علم، أو قلت: هذا باب هو علم ما الكلم.
والثاني: أن يكون " باب " خبر " هذا "، ويكون " علم " بدلا منه واقعا موقعه، كأنك قلت: هذا " علم " ما الكلم.
والثالث: أن يكون " باب " و " علم " جميعا خبرين ل " هذا " كما تقول: " هذا حلو حامض " تريد: قد جمع الطعمين، ومثله قول الشاعر:
من يك ذا بت فهذا بتي
… مصيّف مقيّظ مشتى
تخذته من نعجات ست
… سود جعاد من نعاج الدست (1)
ويجوز هذا بابا علم ما الكلم، فيكون " هذا " مبتدأ، وبابا منصوبا على الحال، والخبر علم، و " بابا " في معنى مبوّبا، والعامل في نصبه ما في هذا من التنبيه والإشارة، كقول الشاعر:
أترضى بأنا لم تجف دماؤنا
… وهذا عروسا باليمامة خالد (2)
وأما " الكلم " فقد يسأل السائل فيقول: لم لم يقل: الكلام، أو الكلمات؟ لجواب أن الكلام يقع على القليل والكثير، والواحد والاثنين والجمع، والكلم: جماعة كلمة، كما
--------------------------------------------
"ইলম" (জ্ঞান) শব্দটিকে "মা" (যা) - যা একটি প্রশ্নবোধক শব্দ - এর দিকে ইজাফাত বা সম্বন্ধ করার বিশুদ্ধতার বিষয়ে সংশয় রয়েছে; কারণ হারফে জার বা জের প্রদানকারী অব্যয় প্রশ্নবোধক শব্দের ওপর আসা এবং নাসব প্রদানকারী বা যবর দানকারী আমেল আসার মধ্যে পার্থক্য করা বৈধ। আর তা হলো, নাসব প্রদানকারী আমেলের আমল অনেক সময় স্থগিত (তালিক) হয়ে যায় এবং এর কার্যকারিতা বাতিল হয়ে যায়। আপনি কি দেখেন না যে আমরা বলি: "আমি জেনেছি যায়েদ ঘরে আছে নাকি আমর" এবং "আমি জেনেছি তাদের মধ্যে কে ঘরে আছে" এবং "আমি তাদের কাছে এসেছি যারা ঘরে আছে"। কিন্তু আমরা বলি না: "আমাকে জানানো হয়েছে তাদের মধ্যে কে ঘরে আছে" (হারফে জার যোগে) এবং "আমাকে জানানো হয়েছে তাদের মধ্যে কে ঘরে আছে" (সরাসরি)।
"বাব" (অধ্যায়) শব্দটিতে তানভীন প্রদান করা বৈধ; যখন এতে তানভীন প্রদান করা হবে, তখন "ইলম" শব্দটিতে রাফা (পেশ) এবং নাসব (যবর) উভয়ই পড়া জায়েজ হবে। যদি আপনি নাসব পড়েন, তবে তা তামিয (পার্থক্যকারী) হিসেবে গণ্য হবে। বিষয়টি এমন যে, আপনি যখন বললেন: "এটি একটি অধ্যায়", তখন এটি জ্ঞান বা অন্য কোনো বিষয়ের অধ্যায় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ঠিক যেমন আপনি যখন বলেন: "আমি বিশটি গ্রহণ করেছি", তখন এটি দিরহাম বা অন্য কোনো বস্তু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতঃপর আপনি যখন সেই সম্ভাব্য প্রকারগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রকার উল্লেখ করেন, তখন তাতে নাসব প্রদান করেন। একইভাবে, যখন আপনি "বাব" শব্দের সম্ভাব্য প্রকারসমূহের কোনো একটি উল্লেখ করবেন, তখন তাতে নাসব প্রদান করবেন।
আর যদি আপনি একে রাফা (পেশ) প্রদান করেন, তবে তাতে তিনটি পছন্দনীয় পদ্ধতি রয়েছে:
প্রথমত: "হাযা" (এটি) মুবতাদা বা উদ্দেশ্য হবে, "বাব" হবে তার খবর বা বিধেয়, আর "ইলম" হবে একটি উহ্য মুবতাদার খবর। যেন আপনি বললেন: এটি একটি অধ্যায়, এটি জ্ঞান। অথবা বললেন: এটি এমন একটি অধ্যায় যা শব্দসমূহের জ্ঞান।
দ্বিতীয়ত: "বাব" শব্দটি "হাযা"-এর খবর হবে, আর "ইলম" শব্দটি তার বদল (পরিবর্তক) হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হবে। যেন আপনি বললেন: এটি শব্দসমূহের "জ্ঞান"।
তৃতীয়ত: "বাব" এবং "ইলম" উভয়ই "হাযা"-এর দুটি খবর হবে, যেমন আপনি বলে থাকেন: "এটি মিষ্টি টক", যার অর্থ হলো এতে উভয় স্বাদের সমন্বয় ঘটেছে। এর অনুরূপ হলো কবির উক্তি:
যার পশমী চাদর রয়েছে, এটিই আমার চাদর
… যা গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীতের উপযোগী।
আমি এটি সংগ্রহ করেছি ছয়টি ভেড়া থেকে
… দাস্ত অঞ্চলের কালো এবং কোঁকড়ানো পশমের ভেড়া থেকে। (১)
আবার "হাযা বাবান ইলমু মা আল-কালিম" পড়াও বৈধ। এমতাবস্থায় "হাযা" হবে মুবতাদা, "বাবান" শব্দটি হাল বা অবস্থা হিসেবে মানসুব (যবরযুক্ত), আর খবর হবে "ইলমু"। এখানে "বাবান" শব্দটি "বিন্যস্তকৃত" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে নাসব প্রদানকারী আমেল হলো "হাযা"-এর মধ্যে নিহিত সতর্কীকরণ এবং ইশারা বা ইঙ্গিতমূলক অর্থ। যেমন কবির উক্তি:
তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে আমাদের রক্ত এখনও শুকায়নি
… অথচ খালিদ ইয়ামামাতে বর সেজে বসে আছে? (২)
আর "কালিম" (শব্দসমূহ) সম্পর্কে কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে বলতে পারেন: কেন "কালাম" বা "কালিমাত" বলা হলো না? এর উত্তর হলো, "কালাম" শব্দটি অল্প, বিস্তর, একবচন, দ্বিবচন এবং বহুবচন সবার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। আর "কালিম" হলো "কালিমাহ" এর বহুবচন, যেমন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১২)
تقول: خلفة وخلف وخربة وخرب، وإنما أراد سيبويه أن يبين الاسم والفعل والحرف، وهي جمع، فأراد أن يعبر عنها بأشكل الألفاظ بها وأشبهها بحقيقتها، ولم يقل " الكلمات "؛ لأنها جمع مثل الكلم. والكلم أخف منها في اللفظ، فاكتفى بالأخف عن الأثقل، إذ لم يكن في أحدهما مزية على الآخر.
ووجه ثان: أن الكلم اسم ذات الشيء، والكلام اسم الفعل المصرّف من الكلم، كما أن النعل الملبوسة اسم ذات الملبوس، والانتعال والتنعيل والإنعال، وما أشبهه اسم الفعل المصرّف منها، والفعل قبل ما صرّف منها، فكذلك الكلم قبلما يصرّف منها، وأقدمها في الرتبة اسم الذات، فذكره دون اسم الحدث، والمصدر الذي هو فرع، ولو ذكر الكلام، ما كان معيبا، ولكنه اختار الأفصح الأجود لمعناه الذي أراده.
وفي ذكرنا هذا ونحوه، والبحث عنه، مما يدرّب به المتعلم، وينشرح به صدر العالم.
وللسائل أن يسأل فيقول: لم قال: " الكلم من العربية "، والكلم أعمّ من العربية، لأنها تشملها والعجمية، وبعض الشيء أقل من جمعه، والذي يتصل بمن هو المبعّض لا البعض، وهو الكثير الذي يذكر منه القليل؟ قيل له: في ذلك جوابان:
أحدهما: أنه ذكر " الكلم " التي هي شاملة على جميع موضع الكلام، وأراد بعضها، لأنه رائز سائغ ذكر اللفظ العام وإرادة البعض، ثم بيّن البعض المراد، خشية اللبس، فكأنه لما قال: " ما الكلم " وهو مريد لبعضها خشي ألا يفهم المعنى الذي هو مراده، فقال: " من العربية "، تبيينا لما أراد، وتلخيصا لما قص!، لئلا يبقى للسائل مسألة ولا
للطاعن متعلّقا، ومثله قوله عز وجل: فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثانِ (1) لما كان الرجس يقع على الأوثان وغيرها بين الذي أراد بالنهي من ضروب الرجس.
والوجه الثاني: أن يكون أراد بالكلم الاسم والفعل والحرف الذي جاء لمعنى، وهو ما ضمنه هذا الباب الذي ترجمه به، وهذه الجملة هي اسم وفعل وحرف، هن بعض العربية؛ لأن العربية جملة وتفصيل، وليست هذه الجملة كل العربية، والدليل على ذلك أنه ليس من أحاط علما بحقيقة الاسم والفعل والحرف أحاط علما بالعربية كلها، والدليل
--------------------------------------------
আপনি বলেন: খিলফাতুন ও খিলাফ এবং খিরবাতুন ও খিরাব। সিবওয়াইহ মূলত বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয় স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, আর এগুলো সমষ্টিবাচক। তাই তিনি এগুলোর জন্য এমন শব্দ ব্যবহার করতে চেয়েছেন যা এগুলোর গঠনশৈলীর সাথে সর্বাধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এগুলোর প্রকৃত অবস্থার সাথে সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি "কালিমাত" বলেননি; কারণ এটিও "কালিম"-এর মতো একটি সমষ্টিবাচক শব্দ। আর "কালিম" শব্দটি উচ্চারণের দিক থেকে "কালিমাত"-এর চেয়ে হালকা। তাই তিনি ভারী শব্দের পরিবর্তে হালকা শব্দটিই যথেষ্ট মনে করেছেন, যেহেতু একটির ওপর অন্যটির বিশেষ কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
দ্বিতীয় একটি কারণ হলো: "কালিম" হলো কোনো বস্তুর সত্তার নাম, আর "কালাম" হলো "কালিম" থেকে উদ্ভূত ক্রিয়ার নাম। যেমন পরিহিত জুতো হলো পরিধেয় বস্তুর সত্তার নাম, আর পরিধান করা বা জুতো পরানো এবং এ জাতীয় শব্দগুলো তা থেকে উদ্ভূত ক্রিয়ার নাম। ক্রিয়াটি তা থেকে যা উদ্ভূত হয় তার পূর্ববর্তী। অনুরূপভাবে, "কালিম" হলো তা থেকে যা উদ্ভূত হয় তার পূর্ববর্তী। পদমর্যাদার দিক থেকে সত্তার নামই অগ্রগণ্য, তাই তিনি ক্রিয়ার নাম এবং মূল উৎস যা কি না একটি শাখা, তা উল্লেখ না করে সত্তার নাম উল্লেখ করেছেন। যদি তিনি "কালাম" উল্লেখ করতেন তবে তাতে কোনো ত্রুটি হতো না, কিন্তু তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত অর্থের জন্য অধিকতর সাবলীল ও উৎকৃষ্ট শব্দটিই বেছে নিয়েছেন।
আমাদের এই বর্ণনা ও আলোচনা এবং এ সংক্রান্ত গবেষণা এমন বিষয় যা দ্বারা শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয় এবং জ্ঞানীর অন্তর বিকশিত হয়।
কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন যে: তিনি কেন বলেছেন "আরবি ভাষার কালিম (শব্দসমষ্টি)", অথচ "কালিম" তো আরবি অপেক্ষা অধিক ব্যাপক? কারণ এটি আরবি ও অনারবি উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর কোনো বস্তুর অংশ তার সমষ্টির চেয়ে কম হয়। আর "মিন" (থেকে/মধ্য হতে) হরফটি যার সাথে যুক্ত হয় তা হলো মূল সমষ্টি যার থেকে অংশ নেওয়া হয়েছে, অংশ নিজে নয়; যা হলো এমন আধিক্য যা থেকে সামান্য কিছু উল্লেখ করা হয়েছে। এর উত্তরে দুটি কথা বলা যায়:
প্রথমত: তিনি "কালিম" উল্লেখ করেছেন যা বক্তব্যের সকল ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু তিনি এর একটি নির্দিষ্ট অংশ বুঝিয়েছেন। কারণ সাধারণ শব্দ উল্লেখ করে বিশেষ অংশ বোঝানো একটি প্রচলিত ও বৈধ রীতি। এরপর তিনি বিভ্রান্তি এড়াতে কাঙ্ক্ষিত অংশটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। যেন তিনি যখন বললেন "কালিম কী" এবং এর দ্বারা একটি অংশ বোঝাতে চাইলেন, তখন তিনি আশঙ্কা করলেন যে তাঁর কাঙ্ক্ষিত অর্থটি হয়তো বোঝা যাবে না। তাই তিনি যা চেয়েছেন তা স্পষ্ট করতে এবং যা উদ্দেশ্য করেছেন তার সারসংক্ষেপ করতে "আরবি ভাষা হতে" কথাটি বলেছেন; যাতে প্রশ্নকারীর কোনো প্রশ্ন না থাকে এবং কোনো সমালোচকের জন্য কোনো অবকাশ না থাকে। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তোমরা মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক।" (১) যেহেতু "অপবিত্রতা" শব্দটি মূর্তি ও অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, তাই তিনি অপবিত্রতার বিভিন্ন প্রকারের মধ্য থেকে যা দ্বারা নিষেধ করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় কারণ হলো: "কালিম" দ্বারা তিনি বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং এমন অব্যয় বুঝিয়েছেন যা কোনো অর্থ প্রকাশ করে—যা এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত এবং যা দ্বারা তিনি শিরোনাম দিয়েছেন। আর এই সমষ্টিটি হলো বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়, যা আরবি ভাষার একটি অংশ। কারণ আরবি ভাষা হলো সামগ্রিক ও বিস্তারিত বিষয়ের সমষ্টি। এই সমষ্টিটি পুরো আরবি ভাষা নয়। এর প্রমাণ হলো, যে ব্যক্তি বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়ের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছে, সে পুরো আরবি ভাষার ওপর জ্ঞান লাভ করেনি। আর এর প্রমাণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
على هذا التأويل الثاني من قول سيبويه قوله: " هذا باب علم ما الكلم من العربية " ولم يقل: هذا كتاب علم، فقد أنبأك هذا عن صحة ما بينا، فجملة اللفظ في ترجمة هذا الباب:
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا باب علم ما الكلم من العربية.
هذا بابا علم ما الكلم من العربية
هذا بابا علم ما الكلم من العربية
هذا بابا علم ما الكلم من العربية
هذا بابا علم ما الكلم من العربية
هذا بابا علم ما الكلم من العربية
فذلك خمسة عشر لفظا.
وأما إدخال الفاء في " الكلم " فلوجهين: أحدهما أن يكون جوابا للتنبيه الذي في قوله: " هذا " لأن التنبيه في معنى انظر وتنبه، فكأنه قال: انظر، فالكلم: اسم وفعل وحرف.
والوجه الثاني: أن كل جملة فهي مفيدة معنى ما، وعلى ذلك موضوعها، وقوله:
" هذا باب علم ما الكلم " إلى آخر السطر، جملة مفيدة معنى، والجمل كلها يجوز أن تكون أجوبتها بالفاء كقولك: " زيد أبوك فقم إليه " فكأن الفاء في قوله: " فالكلم " جواب الفائدة التي في الترجمة، ودخول الفاء هاهنا كدخولها في الجواب من المجازاة وغيرها.
وإن سأل سائل فقال: لم قال: وحرف جاء لمعنى، وقد علمنا أن الأسماء والأفعال جئن لمعان؟
সিবওয়াইহ-এর উক্তি থেকে এই দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী তাঁর বক্তব্য হলো: "এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়", এবং তিনি "এটি জ্ঞানের কিতাব" বলেননি। এটি আপনাকে আমরা যা বর্ণনা করেছি তার সঠিকতা সম্পর্কে অবহিত করেছে। সুতরাং এই অধ্যায়ের শিরোনামের পূর্ণাভিব্যক্তি হলো:
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়।
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার দুটি অধ্যায়
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার দুটি অধ্যায়
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার দুটি অধ্যায়
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার দুটি অধ্যায়
এটি আরবির শব্দসমূহ কী তা জানার দুটি অধ্যায়
সুতরাং তা হলো পনেরোটি শব্দ।
আর "শব্দসমূহ" (আল-কালিম) এর শুরুতে 'ফা' বর্ণটি যুক্ত করার বিষয়টি দুটি কারণে হতে পারে: একটি হলো, এটি তাঁর উক্তি "এটি" (হাযা)-তে বিদ্যমান সতর্কবার্তার (তানবিহ) জবাব হওয়া, কারণ সতর্কবার্তা প্রদান করা দেখা ও সচেতন হওয়ার অর্থে আসে। ফলে বিষয়টি যেন এমন যে তিনি বলেছেন: "দেখুন, সুতরাং শব্দ হলো: বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়।"
আর দ্বিতীয় কারণটি হলো: প্রতিটি পূর্ণ বাক্যই কোনো না কোনো অর্থ প্রদান করে এবং এর মূল কাঠামো সেই অনুযায়ীই হয়। আর তাঁর উক্তি:
"এটি শব্দসমূহ কী তা জানার অধ্যায়" লাইনের শেষ পর্যন্ত, একটি অর্থবহ পূর্ণ বাক্য। আর সকল পূর্ণ বাক্যের জবাব 'ফা' দিয়ে আসা বৈধ, যেমন আপনার উক্তি: "যায়েদ তোমার পিতা, সুতরাং তার কাছে যাও।" ফলে তাঁর উক্তি "সুতরাং শব্দসমূহ"-এ 'ফা' বর্ণটি যেন শিরোনামে নিহিত উপকারের জবাব স্বরূপ। এখানে 'ফা'-এর ব্যবহার বিনিময় বা প্রতিফল (মুজাযাত) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জবাব হিসেবে ব্যবহারের মতোই।
যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন যে: কেন তিনি বলেছেন: "এবং এমন অব্যয় যা কোনো অর্থের জন্য এসেছে", অথচ আমরা জানি যে বিশেষ্য এবং ক্রিয়াও বিভিন্ন অর্থের জন্যই আসে?
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قيل له: إنما أراد: وحرف جاء لمعنى، في الاسم والفعل، وذلك أن الحروف إنما تجيء للتأكيد، كقولك: " إن زيدا أخوك "، وللنفي كقولك: " ما زيد أخاك " و " لم يقم أبوك "، وللعطف كقولنا: " قام زيد وعمرو " ولغير ذلك من المعاني التي تحدث في الأسماء والأفعال، وإنما تجيء الحروف مؤثرة في غيرها بالنفي والإثبات، والجمع والتفريق، وغير ذلك من المعاني.
والأسماء والأفعال معانيها في أنفسها، قائمة صحيحة، والدليل على ذلك أنه إذا قيل: ما الإنسان؟ كان الجواب عن ذلك أن يقال: الذي يكون حيّا ناطقا كاتبا، وإذا قيل ما الفرس؟ قال: الذي يكون حيّا له أربع قوائم وصهيل، وغير ذلك من الأوصاف، التي تخص المسمى.
وإذا قيل: ما معنى " قام "؟ قيل: وقوع قيام في زمان ماض فعقل معناه في نفسه قبل أن يتجاوز به إلى غيره، وليس كذلك الحروف؛ لأنه إذا قيل ما معنى " من "؟ كان الجواب:
أنه يبعّض بها الجزء من الكل، الجزء غير " من " وكذلك الكل، ولم يعقل معنى تحتها غير الجزء والكل، فعلمنا أنها
تؤثر في المعاني، ولا يعقل معناها إلا بغيرها.
ووجه آخر، وهو أن قوله: وحرف جاء لمعنى ليس باسم ولا فعل.
أي جاء لمعنى ذلك المعنى ليس باسم، أي: ليس بدال عليه الاسم، " ولا فعل " أي:
بدال عليه الفعل.
وفيه جواب آخر، وهو أن حروف المعاني، لما كانت تدخل لتغيير معنى ما تدخل عليه، أو إحداث معنى لم يكن فيه، فإذا انفردت لم تدل على ذلك، صارت بمنزلة الياء والتاء والنون والهمزة، اللاتي يدللن على الاستقبال، والألف التي تدخل في " ضارب " زائدة على حروف " ضرب " وتدل على اسم الفاعل، وحروف المضارعة، وألف ضارب وما يجري مجراه- كبعض حروف ما دخلن عليه، لتغييرها معنى إلى معنى كتغيير حروف المضارعة، وألف " ضارب ".
وأما " الاسم " فإن سيبويه لم يحده بحد ينفصل به عن غيره، وينماز من الفعل والحرف، وذكر منه مثالا اكتفى به عن غيره، فقال: " الاسم رجل وفرس ".
وإنما اختار هذا؛ لأنه أخف الأسماء الثلاثية، وأخفها ما كان نكرة للجنس، وهذا نحو " رجل وفرس ".
তাকে বলা হয়েছে: তিনি আসলে বুঝিয়েছেন: এবং এমন একটি হরফ যা কোনো অর্থের জন্য আসে, বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার মধ্যে; আর তা হলো এই যে, হরফসমূহ কেবল নিশ্চয়তা প্রদানের জন্যই আসে, যেমন আপনার কথা: "নিশ্চয়ই জায়েদ আপনার ভাই", এবং না-বোধক অর্থের জন্য যেমন আপনার কথা: "জায়েদ আপনার ভাই নয়" এবং "আপনার পিতা দাঁড়ায়নি", এবং সংযোজক হিসেবে যেমন আমাদের কথা: "জায়েদ ও আমর দাঁড়িয়েছে" এবং এছাড়া আরও অনেক অর্থের জন্য যা বিশেষ্য ও ক্রিয়াগুলোর মধ্যে তৈরি হয়। হরফসমূহ কেবল না-বোধক ও হ্যাঁ-বোধক, একত্রীকরণ ও পৃথকীকরণ এবং এছাড়া অন্যান্য অর্থের মাধ্যমে অন্য শব্দের ওপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য আসে।
বিশেষ্য ও ক্রিয়াগুলোর অর্থ তাদের নিজেদের মধ্যেই বিদ্যমান এবং সুপ্রতিষ্ঠিত। এর প্রমাণ হলো এই যে, যখন জিজ্ঞাসা করা হয়: মানুষ কী? তখন এর উত্তরে বলা হয়: যে জীবিত, বাকশক্তি সম্পন্ন এবং লিখনক্ষম। আর যখন জিজ্ঞাসা করা হয়: ঘোড়া কী? তখন বলা হয়: যা জীবিত, যার চারটি পা আছে এবং যা হ্রেষাধ্বনি দেয় এবং এছাড়া অন্যান্য গুণাবলী যা নামকৃত বস্তুর জন্য নির্দিষ্ট।
আর যখন জিজ্ঞাসা করা হয়: "ক্বামা" (সে দাঁড়িয়েছে) এর অর্থ কী? তখন বলা হয়: অতীতকালে দাঁড়ানোর কাজ সঙ্ঘটিত হওয়া; ফলে অন্য কিছুর দিকে যাওয়ার আগেই তার অর্থ নিজের মধ্যেই অনুভূত হয়। কিন্তু হরফ বা অব্যয়গুলো তেমন নয়; কেননা যখন জিজ্ঞাসা করা হয় "মিন" (থেকে) এর অর্থ কী? তখন উত্তর হয়:
এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বস্তু থেকে আংশিক বস্তুকে পৃথক করা হয়; অংশটি "মিন" থেকে ভিন্ন এবং পূর্ণাঙ্গটিও ভিন্ন, আর এর অধীনে অংশ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ অনুভূত হয় না। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে, এটি
অর্থের ওপর প্রভাব ফেলে, কিন্তু অন্য শব্দ ব্যতীত এর অর্থ অনুভূত হয় না।
অন্য একটি দিক হলো, তাঁর কথা: "এবং এমন একটি হরফ যা কোনো অর্থের জন্য আসে যা বিশেষ্য বা ক্রিয়া নয়।"
অর্থাৎ এটি এমন একটি অর্থের জন্য এসেছে যে অর্থটি বিশেষ্য নয়, অর্থাৎ বিশেষ্য তার ওপর নির্দেশ করে না, এবং "ক্রিয়া নয়" অর্থাৎ:
ক্রিয়া তার ওপর নির্দেশ করে না।
এতে আরও একটি উত্তর রয়েছে, আর তা হলো অর্থের হরফগুলো যখন কোনো শব্দের ওপর প্রবেশ করে তখন তার অর্থ পরিবর্তন করার জন্য অথবা তাতে এমন অর্থ তৈরি করার জন্য প্রবেশ করে যা আগে ছিল না। সুতরাং যখন এগুলো পৃথক থাকে তখন তা সেই অর্থের ওপর নির্দেশ করে না। এগুলো তখন ইয়া, তা, নুন এবং হামজার মর্যাদায় পরিণত হয়, যেগুলো ভবিষ্যৎ কাল নির্দেশ করে, এবং সেই আলিফের মতো যা "দারিব" শব্দে "দারা-বা" এর মূল অক্ষরগুলোর ওপর অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয় এবং যা কর্তাবাচক বিশেষ্য নির্দেশ করে। মুদারে'র হরফসমূহ, "দারিব" এর আলিফ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো—যা সেগুলোর ওপর প্রবেশ করেছে সেগুলোরই অংশ হিসেবে গণ্য হয়, যাতে একটি অর্থ থেকে অন্য অর্থে পরিবর্তন করা যায়, যেমন মুদারে'র হরফসমূহ এবং "দারিব" এর আলিফের মাধ্যমে পরিবর্তন সাধিত হয়।
আর "বিশেষ্য" (ইসম) প্রসঙ্গে কথা হলো, সিবওয়াইহ এটিকে এমন কোনো সংজ্ঞার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করেননি যা দ্বারা এটি অন্য বিষয় থেকে পৃথক হতে পারে এবং ক্রিয়া ও হরফ থেকে আলাদা হতে পারে। বরং তিনি এর থেকে এমন উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যা অন্য সব কিছুর জন্য যথেষ্ট। তিনি বলেছেন: "বিশেষ্য হলো যেমন- মানুষ এবং ঘোড়া।"
তিনি এগুলোই পছন্দ করেছেন; কারণ এগুলো তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দগুলোর মধ্যে সবচেয়ে হালকা, আর শব্দগুলোর মধ্যে সবচেয়ে হালকা হলো সেগুলো যা অনির্দিষ্ট জাতিবাচক বিশেষ্য, আর এটি হলো "মানুষ এবং ঘোড়া" এর মতো।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إن سأل سائل عن حد الاسم، فإن الجواب في ذلك أن يقال: كل شيء دل لفظه على معنى غير مقترن بزمان محصّل، من مضىّ أو غيره فهو اسم.
فهذا الحد الذي لا يخرج منه اسم البتة، ولا يدخل فيه غير اسم. وتوهم بعض الناس أن " مضرب الشّول "، وما جرى مجراه، قد دل على الضّراب، وعلى الزمان الذي يقع فيه، وأراد بذلك إفساد ما ذكرناه من حد الفعل بدلالته على الحدث والزمان، وقد وهم فيما توهم؛ لأن الذي أردناه من الدلالة على الزمان، هو ما يدل عليه الفعل بلفظه من زمان ماض أو غير ماض، كقولك: " قام، ويقوم " و " مضرب " اسم للزمان الذي يقع فيه الضّراب دون الضرّاب، كقولنا: مشتى ومصيف، وقولك: " أتى مضرب الشول "، و " انقضى مضرب الشول ". كما يقال: جاء وقته، وذهب وقته. ولو كانت الأسماء المشتقة توجب ألا ينفرد المشتق له بالاسم إلا أن ينضم إليه المعنى الذي اشتق منه اللفظ، لكان الزاني يقتضي الرجل والزنى جميعا، وكنا إذا قلنا لعن الله الزاني فقد أدخلنا الزنى معه في اللعن، وهذا بيّن الفساد.
وأما الفعل فللسائل أن يسأل فيقول: لم لقّب هذا بالفعل وقد علمنا أن الأشياء كلها أفعال لله تعالى ولخلقه:
فالجواب في ذلك أن الفعل في حقيقته ما فعله فاعله فأحدثه، وإنما لقّب النحويون أشياء من ألفاظهم ليرتاض بها
المتعلمون ويتناولوها من قرب، وجعلوا لكل شيء مما خالف معناه معنى غيره من الألفاظ التي يحتاجون إلى استعمالها كثيرا لقبا يرجع إليه: لئلا تتسع عليهم الألفاظ، فيدخل الشيء في غير بابه احتياطا، فلقبوا بالفعل كل ما دل لفظه على حدث مقترن بزمان، ماض، أو مستقبل، أو مبهم في الاستقبال والحال، لينماز مما لقبوه بالاسم والحرف.
فقال سيبويه: " وأما الفعل فأمثلة ":
وقصد إلى هذا الجنس الذي ذكرناه، وقوله: " أمثلة " أراد به: أبنية؛ لأن أبنية الأفعال مختلفة، فمنها على " فعل " نحو " ضرب " ومنها على " فعل " نحو " علم " و " فعل " نحو " ظرف " وغير ذلك من الأبنية، وهي تسعة عشر بناء لما سمّي فاعله، ولا يعد فيها ما يلحق من الثلاثي بالرباعي كبيطر وحوقل وسلقى ونحو ذلك، وإنما بعد الثلاثة غير الملحقة، والرباعية يدخل فيها ما ألحق بها.
যদি কোনো প্রশ্নকারী বিশেষ্যের সংজ্ঞা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে তার উত্তর হলো: যার শব্দার্থ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের (অতীত বা অন্য কিছু) সাথে যুক্ত না হয়ে কোনো অর্থ প্রকাশ করে, তা-ই বিশেষ্য।
এটি এমন এক সংজ্ঞা যা থেকে কোনো বিশেষ্যই বাদ পড়ে না এবং বিশেষ্য ছাড়া অন্য কিছু এতে প্রবেশ করে না। কিছু লোক ধারণা করেছেন যে, "মাদরাবুশ শাউল" এবং এই জাতীয় শব্দগুলো প্রজননক্রিয়া এবং তা সংঘটিত হওয়ার সময়ের ওপর দলালত করে। এর মাধ্যমে তারা ক্রিয়ার সংজ্ঞা—যা কাজ ও সময়ের ওপর দলালত করার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে—তা বাতিল করতে চেয়েছেন। অথচ তারা যা ধারণা করেছেন তাতে ভুল করেছেন; কারণ সময়ের ওপর দলালত করার দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো সেই সময়, যা ক্রিয়া তার নিজস্ব শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করে—তা অতীত হোক বা অনাগত; যেমন আপনার কথা: "ক্বামা" এবং "ইয়াক্বুমু"। আর "মাদরাব" হলো সেই সময়ের নাম যাতে প্রজননক্রিয়া ঘটে, স্বয়ং প্রজননক্রিয়া নয়। যেমন আমাদের কথা: "মাশতা" এবং "মাসাইফ", অথবা আপনার কথা: "আতা মাদরাবুশ শাউল" এবং "ইনক্বাদা মাদরাবুশ শাউল"। যেমন বলা হয়: "তার সময় এসেছে" এবং "তার সময় চলে গেছে"। যদি ব্যুৎপন্ন বিশেষ্যগুলোর ক্ষেত্রে এমন হতো যে, যার জন্য শব্দটি গঠিত হয়েছে তার সাথে যে অর্থ থেকে শব্দটি নির্গত হয়েছে সেটিও যুক্ত থাকা অপরিহার্য, তবে "ব্যভিচারী" শব্দটি দ্বারা পুরুষ এবং ব্যভিচার উভয়ই বোঝাত। তখন আমরা যখন বলতাম "আল্লাহ ব্যভিচারীকে লানত করুন", তখন আমরা ব্যভিচারকেও লানতের অন্তর্ভুক্ত করতাম। আর এটি স্পষ্টতই ভ্রান্তিকর।
আর ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন যে: একে কেন "ফেল" উপাধিতে ভূষিত করা হলো, অথচ আমরা জানি যে সমস্ত বিষয়ই আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর সৃষ্টির কাজ:
এর উত্তর হলো, ফেল বা কাজ প্রকৃতপক্ষে তা-ই যা তার কর্তা সম্পাদন করেছে এবং নতুনভাবে সৃষ্টি করেছে। ব্যাকরণবিদগণ তাঁদের শব্দসমষ্টির কিছু অংশকে বিশেষ নামে অভিহিত করেছেন যাতে তার মাধ্যমে অনুশীলন করতে পারে
শিক্ষার্থীরা এবং সহজে তা আয়ত্ত করতে পারে। তারা প্রতিটি বিষয়ের জন্য—যার অর্থ অন্য শব্দের অর্থ থেকে ভিন্ন এবং যা তাদের প্রচুর ব্যবহারের প্রয়োজন হয়—একটি করে বিশেষ উপাধি নির্ধারণ করেছেন যার দিকে তা প্রত্যাবর্তন করে: যাতে তাদের নিকট শব্দের পরিধি অত্যধিক বিস্তৃত না হয়ে যায় এবং সতর্কতাবশত একটি বিষয় যেন অন্য অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে পড়ে। তাই তারা এমন প্রতিটি শব্দকে "ফেল" উপাধি দিয়েছেন যা সময়ের (অতীত, ভবিষ্যৎ কিংবা বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে অস্পষ্ট) সাথে যুক্ত কোনো কাজের ওপর দলালত করে, যাতে তা বিশেষ্য ও অব্যয় থেকে পৃথক হয়ে যায়।
সিবাওয়াইহ বলেছেন: "আর ক্রিয়া হলো কিছু উদাহরণ":
তিনি আমাদের উল্লিখিত এই প্রকারটিই উদ্দেশ্য করেছেন। আর "উদাহরণ" বলে তিনি শব্দের গঠন কাঠামো বুঝিয়েছেন; কারণ ক্রিয়ার গঠন কাঠামো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তার মধ্যে কিছু "ফাআলা" ওজনে যেমন "দারাবা", কিছু "ফাইলা" ওজনে যেমন "আলিমা", এবং কিছু "ফাউলা" ওজনে যেমন "যারুফা" এবং এর বাইরেও অন্যান্য গঠন রয়েছে। যার কর্তা উল্লেখিত হয় এমন ক্রিয়ার গঠন কাঠামো হলো উনিশটি। এতে তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া যা চার অক্ষরবিশিষ্টের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করা হয়েছে (যেমন: বাইতারা, হাওকালা, সালকা এবং এই জাতীয়) সেগুলোকে গণনা করা হয়নি। বরং সাদৃশ্যহীন তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়াগুলোকে গণনা করা হয়েছে, আর চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার মধ্যে সেগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ক্রিয়াগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال: " أخذت من لفظ أحداث الأسماء ".
يعني أن هذه الأبنية المختلفة أخذت من المصادر التي تحدثها الأسماء وإنما أراد بالأسماء أصحاب الأسماء وهم الفاعلون. فإن سأل سائل، فقال ما الدليل على أن الأفعال مأخوذة من المصادر؟ قيل له في ذلك ثلاثة أوجه:
أولها: أن الفعل دال على مصدر وزمان والمصدر يدل على نفسه فقط، وقد علمنا أن المصدر أحد الشيئين اللذين دل عليهما الفعل وقد صح في الترتيب أن الواحد قبل الاثنين، فقد صح أن المصدر قبل الفعل؛ لأنه أحد الشيئين اللذين دل عليهما الفعل.
والوجه الثاني: أن الفعل يصاغ بأمثلة مختلفة، نحو " ضرب ويضرب واضرب " والمصدر في جميع ذلك واحد فصار المصدر هو الذي يصاغ منه أمثلة الفعل المختلفة؛ لأنه واحد يوجد فيها كلّها، ويبين ذلك أن الفضة والذهب وغيرهما، مما يصاغ منه الصور الكثيرة المختلفة أصل للصور لوجوده في كل واحد منها، وكذلك المصدر أصل الأفعال؛ لوجوده في كل واحد من أمثلتها المختلفة.
والوجه الثالث: أن الفعل أثقل من الاسم، وهو فرع عليه، من قبل أنه لا يقوم بنفسه، والفرع لا بد له من أصل يؤخذ منه، يكون حكم ذلك الأصل أن يكون قائما بنفسه، غير محتاج إلى سواه، فعلمنا بذلك أن الفعل فرع، ولا أصل له غير المصدر.
فإن قال قائل: إذا كان المصدر قد يعتل باعتلال الفعل ويصح بصحته، فهلا دلكم ذلك على أن المصدر فرع على الفعل الذي يعتل باعتلاله ويصح بصحته قيل له في ذلك جوابان: أحدهما: أن الأصل قد يعتل باعتلال الفرع إذا كان
كل واحد منهما يؤول إلى الآخر، وينبئ كل واحد منهما على صاحبه؛ ليتسق ولا يختلف؛ من ذلك أنا قد بنينا الفعل المضارع في فعل المؤنث نحو " يضربن " وأشباه ذلك على " ضربن "، وهو فرع؛ لأن المستقبل قبل الماضي. ومنه ما زعم " الفراء "، الذي ينازعنا أصحابه- في هذا الأصل- أن فعل الواحد الماضي فتح لانفتاح فعل الاثنين، والواحد أصل الاثنين، فحمل الأصل على الفرع.
والوجه الثاني، أن أصل المصادر التي لا علة فيها ولا زيادة لا يجيء إلا صحيحا، وهو " فعل " نحو " ضربته ضربا " و " وعدته وعدا ". وإنما يجيء معتلا ما لحقته الزيادة، وإنما الكلام في أصول المصادر، لا في فروعها، فتبين ذلك.
তিনি বলেন: "আমি এগুলো আসমায়ে আহদাসের (নামসমূহের কার্যাবলীর) শব্দ থেকে গ্রহণ করেছি।"
অর্থাৎ, এই ভিন্ন ভিন্ন গঠনগুলো সেই সকল মাসদার (ক্রিয়ামূল) থেকে নেওয়া হয়েছে যা নামসমূহ (কর্তা) সম্পাদন করে। আর তিনি নাম বলতে নামের অধিকারীদের তথা ফায়েল বা কর্তাদের উদ্দেশ্য করেছেন। এখন যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে এবং বলে যে, ফেল (ক্রিয়া) যে মাসদার (ক্রিয়ামূল) থেকে গৃহীত—এর দলীল বা প্রমাণ কী? তাকে এর উত্তরে তিনটি দিক থেকে বলা হবে:
প্রথমত: ফেল (ক্রিয়া) মাসদার এবং কাল—এই উভয়টি নির্দেশ করে, কিন্তু মাসদার কেবল নিজেকেই (কাজের অর্থকে) নির্দেশ করে। আর আমরা জানি যে, ফেল যে দুটি বিষয়কে নির্দেশ করে মাসদার তার একটি। ধারাক্রমের দিক থেকে এটি প্রমাণিত যে, দুইয়ের পূর্বে এক আসে। সুতরাং এটিও প্রমাণিত হলো যে, ফেল-এর পূর্বে মাসদারের অবস্থান; কারণ ফেল যে দুটি বিষয়কে নির্দেশ করে মাসদার তার অন্যতম একটি।
দ্বিতীয়ত: ফেল বা ক্রিয়া বিভিন্ন রূপে গঠিত হয়, যেমন—"সে প্রহার করেছে", "সে প্রহার করছে বা করবে" এবং "তুমি প্রহার করো"। কিন্তু এই সবগুলোর ক্ষেত্রে মাসদার (প্রহার করা) একই থাকে। ফলে মাসদারই এমন এক বিষয় যা থেকে ফেল-এর বিভিন্ন রূপ গঠিত হয়; কারণ এটি একটি মূল যা সবগুলোর মধ্যেই বিদ্যমান। এর স্পষ্ট উদাহরণ হলো—রূপা ও সোনা ইত্যাদি, যা থেকে অনেক ভিন্ন ভিন্ন আকৃতি তৈরি করা হয়, সেগুলোই ঐ সকল আকৃতির মূল; যেহেতু সেগুলো প্রত্যেকটি আকৃতির মধ্যেই বিদ্যমান থাকে। তদ্রূপ মাসদার হলো ফেলগুলোর মূল; কেননা এটি ফেল-এর বিভিন্ন রূপের প্রত্যেকটির মধ্যেই বিদ্যমান।
তৃতীয়ত: ফেল (ক্রিয়া) ইসম (বিশেষ্য)-এর চেয়ে ভারী এবং এটি ইসম-এর একটি শাখা; যেহেতু ক্রিয়া স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর প্রতিটি শাখার জন্য একটি মূল থাকা অপরিহার্য যা থেকে সেটি গৃহীত হবে। সেই মূলের বিধান হলো—সেটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং অন্য কারো মুখাপেক্ষী হবে না। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে ফেল একটি শাখা, আর মাসদার ছাড়া এর অন্য কোনো মূল নেই।
এখন যদি কেউ বলে: যদি মাসদার কখনো ফেল-এর মতো পরিবর্তনের শিকার হয় এবং ফেল-এর অপরিবর্তনীয়তার সাথে অপরিবর্তিত থাকে, তবে এটি কি প্রমাণ করে না যে মাসদার সেই ফেল-এর একটি শাখা—যেহেতু এটি ফেল-এর পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় এবং অপরিবর্তনীয়তার সাথে অপরিবর্তিত থাকে? তাকে এর উত্তরে দুটি জবাব দেওয়া হবে: প্রথমত, মূল কখনো শাখার পরিবর্তনের কারণে পরিবর্তিত হতে পারে যখন তাদের একটি অন্যটির দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং একে অপরকে জ্ঞাপন করে; যেন সামঞ্জস্য বজায় থাকে এবং বৈসাদৃশ্য না ঘটে। এর একটি উদাহরণ হলো—আমরা স্ত্রীবাচক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে মুজারি ফেল-কে (যেমন: 'তারা প্রহার করছে') মাজি ফেল-এর ('তারা প্রহার করেছে') ওপর ভিত্তি করে গঠন করেছি, অথচ এটি (মাজি) একটি শাখা; কারণ ভবিষ্যৎ কাল অতীতের পূর্বে আসে। এর আরেকটি উদাহরণ হলো যা 'আল-ফাররা' ধারণা করেছেন—যার অনুসারীরা এই মূলনীতি নিয়ে আমাদের সাথে বিতর্ক করেন—যে, একবচনের মাজি ক্রিয়ায় ফাতহা (জবর) হয়েছে দ্বিবচন ক্রিয়ার ফাতহার কারণে, অথচ একবচন হলো দ্বিবচনের মূল; এক্ষেত্রে মূলকে শাখার অনুগামী করা হয়েছে।
আর দ্বিতীয় জবাবটি হলো, সেই সকল মাসদারের মূল—যাতে কোনো পরিবর্তন বা অতিরিক্ত অক্ষর নেই—তা সর্বদাই সুস্থ বা অপরিবর্তিত হিসেবে আসে, যেমন 'আমি তাকে প্রহার করেছি' এবং 'আমি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি' বাক্য দুটির মাসদারগুলো। কেবল তখনই পরিবর্তন আসে যখন তাতে কোনো অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয়। আর এখানে আলোচনা হচ্ছে মাসদারের মূল নিয়ে, এর শাখাগুলো নিয়ে নয়। বিষয়টি এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فإن قال قائل: إذا كان الفعل يعمل في المصادر، وحكم العامل أن يكون قبل المعمول فيه، فهلا دلّكم ذلك على أن الفعل قبل المصدر؟
قيل له هذا ساقط من وجهين: أحدهما: أنه لا فعل إلا وهو عامل في اسم، ومع هذا فالأسماء قبل الأفعال في الرتبة، لقيامها بأنفسها، واستغنائها عن الأفعال، ولا يعمل اسم في فعل، فلو كان جنس عمل العامل في المعمول فيه في غير ترتيب عمله، يوجب أن يكون العامل قبل المعمول فيه، لوجب أن تكون الأفعال قبل الأسماء، ووجب من ذلك ما هو أقبح من ذلك، وهو أن تكون الحروف قبل الأسماء والأفعال؛ لأنها تكون عاملة في الأسماء والأفعال، ولا يعملان فيها، وهذا محال فاسد؛ لأن الحروف جاءت لمعان في الأسماء والأفعال، ولا يقمن بأنفسهن.
والوجه الثاني: أن قولنا: " ضربت ضربا " معناه أوقعت ضربا، وفعلت ضربا كقولك: " قتلت زيدا " أعني من جهة أنهما مفعولان.
وإن كان " زيد " موجودا قبل قتلك إياه، والضرب معدوما، قبل إيقاعك إياه: إلا أنك تعرفه وتقصد إليه وتأمر به، فلما كان معناها أوقعت ضربا وقد كان الضرب معقولا مقصودا إليه مذكورا، يصح الأمر به- صح أنه- قبل إيقاعك معلوم، فإذا صح ذلك فهو الفعل.
فإن قال قائل: إذا قلنا: " ضربت زيدا ضربا " فالمصدر تأكيد للفعل، وإذا كان تأكيدا له فهو بعده، وما كان بعد الشيء فالأول أصل له، إذ كان الثاني متعلقا به.
قيل له: قد قلنا إن معنى ضربت ضربا أوقعت ضربا. وليس في ذلك دليل على أن الفعل قبل الاسم، كما لم يكن في قولك " ضربت زيدا " ما يدل على أن زيدا بعد " ضربت " وكذلك الأسماء كلها.
ومما يدل على صحة قولنا في المصدر، اجتماع النحويين على تلقيبه مصدرا، والمصدر المفهوم في اللغة هو
الموضع الذي يصدر عنه كقولهم: " مصدر الإبل وموردها " وللموضع الذي تصدر عنه وترده، فعقلنا بذلك أن الفعل قد صدر عن المصدر، حين استوجب بذلك، أن يسمى مصدرا، كما وصفنا في المصدر وبالله التوفيق.
وأما قوله: " وبنيت لما مضى، ولما يكون ولم يقع، ولما هو كائن لم ينقطع ".
اعلم أن " سيبويه " ومن نحا نحوه يقسم الفعل على ثلاثة أزمنة: ماض ومستقبل
যদি কেউ বলে: যদি ক্রিয়া মাসদারের ওপর আমল করে, আর আমেলের নিয়ম হলো মামুলের পূর্বে থাকা, তবে কি এটি আপনাদের নিকট একথার প্রমাণ বহন করে না যে ক্রিয়া মাসদারের পূর্বে?
এর উত্তরে তাকে বলা হবে, এটি দুটি কারণে বাতিল: প্রথমত, এমন কোনো ক্রিয়া নেই যা কোনো ইসিমের ওপর আমল করে না। এতদসত্ত্বেও, পদমর্যাদার দিক থেকে ইসিমসমূহ ক্রিয়াগুলোর পূর্বে; কারণ ইসিম স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অবস্থান করতে পারে এবং ক্রিয়ার মুখাপেক্ষী নয়। আর কোনো ইসিম ক্রিয়ার ওপর আমল করে না। সুতরাং যদি আমেলের আমল করার ধরনই এটি অবধারিত করত যে আমেলকে মামুলের পূর্বে হতে হবে, তবে ক্রিয়াকে ইসিমের পূর্বে হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ত। আর তা থেকে আরও জঘন্য বিষয় আবশ্যক হয়ে পড়ত, আর তা হলো অব্যয়সমূহ (হরফ) ইসিম ও ক্রিয়ার পূর্বে হওয়া; কারণ হরফসমূহ ইসিম ও ক্রিয়ার ওপর আমল করে, কিন্তু ইসিম ও ক্রিয়া হরফের ওপর আমল করে না। আর এটি অসম্ভব ও ভ্রান্ত; কারণ হরফসমূহ ইসিম ও ক্রিয়ার মধ্যে অর্থের প্রয়োজনে আসে এবং সেগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অবস্থান করতে পারে না।
দ্বিতীয়ত: আমাদের কথা "আমি প্রহার করেছি প্রহার করা" এর অর্থ হলো আমি প্রহার সংঘটিত করেছি এবং আমি প্রহারের কাজটি করেছি, যেমন আপনার কথা "আমি জায়েদকে হত্যা করেছি"; অর্থাৎ উভয়ে মাফউল (কর্ম) হওয়ার দিক থেকে।
যদিও আপনার তাকে হত্যা করার পূর্বে "জায়েদ" বিদ্যমান ছিল এবং আপনার প্রহার সংঘটিত করার পূর্বে "প্রহার" অনুপস্থিত ছিল; তবুও আপনি তা জানতেন, তার সংকল্প করতেন এবং তার নির্দেশ দিতেন। সুতরাং যখন এর অর্থ হলো "আমি প্রহার সংঘটিত করেছি" এবং প্রহারের বিষয়টি বুদ্ধিগ্রাহ্য, সংকল্পিত ও আলোচিত ছিল যার নির্দেশ প্রদান শুদ্ধ—তখন এটি শুদ্ধ যে আপনার সংঘটিত করার পূর্বেই তা জ্ঞাত ছিল। আর যখন এটি শুদ্ধ হলো, তবে সেটিই ক্রিয়া।
যদি কেউ বলে: যখন আমরা বলি "আমি জায়েদকে প্রহার করেছি প্রহার করা", তখন মাসদারটি ক্রিয়ার জন্য তাকিদ (দৃঢ়তা) স্বরূপ আসে। আর যখন এটি তাকিদ, তখন এটি ক্রিয়ার পরে। আর যা কোনো কিছুর পরে আসে, তবে প্রথমটিই তার জন্য মূল (আসল); যেহেতু দ্বিতীয়টি তার সাথে সংশ্লিষ্ট।
তাকে বলা হবে: আমরা ইতিপূর্বেই বলেছি যে, "আমি প্রহার করেছি প্রহার করা" এর অর্থ হলো আমি প্রহার সংঘটিত করেছি। এর মধ্যে ক্রিয়া বিশেষ্যের (ইসিম) পূর্বে হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই, যেমন আপনার কথা "আমি জায়েদকে প্রহার করেছি" এর মধ্যে এমন কিছু নেই যা প্রমাণ করে যে জায়েদ "আমি প্রহার করেছি" এর পরে; আর সকল ইসিমের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।
মাসদার সম্পর্কে আমাদের বক্তব্যের সঠিকতার অন্যতম প্রমাণ হলো ব্যাকরণবিদদের একে "মাসদার" (উৎসমূল) হিসেবে নামকরণ করার ব্যাপারে ঐকমত্য। আভিধানিক ভাষায় মাসদার বলতে বোঝায়
এমন স্থান যেখান থেকে কোনো কিছু নির্গত হয়; যেমন তাদের কথা: "উটসমূহের মাসদার (প্রস্থানস্থল) ও মাওরিদ (আগমনস্থল)"। এটি সেই স্থানকে বোঝায় যেখান থেকে তারা নির্গত হয় এবং যেখানে তারা ফিরে আসে। এর মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করলাম যে, ক্রিয়া মাসদার থেকেই নির্গত হয়েছে, যখন এটি মাসদার হিসেবে নাম পাওয়ার উপযুক্ত হলো, যেমনটি আমরা মাসদারের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহর তাওফীকেই সব কিছু সম্পন্ন হয়।
আর তার কথা: "এবং এটি গঠিত হয়েছে যা গত হয়েছে তার জন্য, যা হবে কিন্তু এখনো ঘটেনি তার জন্য এবং যা চলমান ও বিচ্ছিন্ন হয়নি তার জন্য।"
জেনে রাখুন যে, "সিবওয়াইহি" এবং যারা তার পথ অনুসরণ করেছেন তারা ক্রিয়াকে তিন সময়ে বিভক্ত করেন: অতীত ও ভবিষ্যৎ
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وكائن في وقت النطق وهو الزمان الذي يقال عليه الآن الفاصل بين ما مضى ويمضي.
وأما الماضي فإنه يختص مثالا واحدا والحال والمستقبل الذي ليس بأمر يختصان بناء واحدا، إلا أن يدخل عليه حرف يخلص له الاستقبال وهو سوف والسين وأن الخفيفة.
إن طعن طاعن في هذا فقال: أخبرونا عن الحال الكائن، أوقع وكان، فيكون موجودا في حيز ما يقال عليه: كان، أم لم يوجد بعد فيكون في حيز ما يقال عليه: " لم يكن "؟ فإن قلتم: هو في حيز ما يقال عليه: لم يكن، فهو مستقبل، وإن كان قد وقع ووجد فهو في حيز الماضي، ولا سبيل إلى ثالث، فدلوا على صحة هذا.
فالجواب في ذلك- وبالله التوفيق- أن الماضي هو الذي أتى عليه زمانان:
أحدهما: الزمان الذي قد وجد فيه، وزمان ثان يخبر أنه قد وجد وحدث وكان، ونحو ذلك، فالزمان الذي يقال: وجد الفعل فيه وحدث غير زمان وجوده، فكل فعل صح الإخبار عن حدوثه في زمان بعد زمان حدوثه فهو فعل ماض، والفعل المستقبل هو الذي يحدّث عن وجوده، في زمان لم يكن فيه ولا قبله.
فقد تحصل لنا الماضي والمستقبل، وبقى قسم ثالث، وهو الفعل الذي يكون زمان الإخبار عن وجوده هو زمان وجوده، وهو الذي قال سيبويه: " وما هو كائن لم ينقطع ".
فإن سأل سائل فقال: أي الأفعال أقدم في الرتبة؟ فإن لأصحابه في ذلك قولين، أحدهما: إن المستقبل أول الأفعال، ثم الحال، ثم الماضي، وهذا شيء كان يذهب إليه الزجاج (1) وغيره، والحجة فيه أن الأفعال المستقبلة تقع بها العدات، ثم توجد بعد تقدم الميعاد وانتظار الموعود، فيكون حالا، ثم يأتي عليه غير زمان وجوده، فيكون ماضيا.
والقول الثاني: إن الحال هو أول الأفعال، ويكون الأقرب إليه في الترتيب المستقبل، وتاليه الماضي. والحجة في ذلك أن الميعاد بما يستقبل لا يصح إلا بما عرف وشوهد، حتى يتصوره الموعود، ويكون على ثقة مما وعد، وإلا فليس وراء العدة معنى يرغب فيه ولا يرهب منه؛ لأن القلب لا يتعلق منه برغبة ولا رهبة، ويكون المستقبل أقرب إلى الحال، من قبل أن المستقبل يجوز مصيره إلى الحال الذي هو أول، والماضي قد بعد، حتى
--------------------------------------------
এবং এটি উচ্চারণের সময় বিদ্যমান, আর তা হলো সেই সময় যাকে ‘এখন’ বলা হয়, যা গত হওয়া এবং অনাগত সময়ের মধ্যে পার্থক্যকারী।
আর অতীতকাল একটি নির্দিষ্ট উদাহরণের জন্য নির্ধারিত, এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল (যা আদেশবাচক নয়) একটি কাঠামোর জন্য নির্ধারিত, যদি না তাতে এমন কোনো বর্ণ যুক্ত হয় যা তাকে ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়, আর তা হলো ‘সাওফা’, ‘সীন’ এবং লঘু ‘আন’।
যদি কোনো আপত্তিকারী এতে আপত্তি তুলে বলে: আমাদের বর্তমান সময় সম্পর্কে সংবাদ দিন; তা কি সংঘটিত হয়েছে এবং গত হয়েছে—ফলে তা এমন এক সীমায় বিদ্যমান থাকবে যাকে ‘ছিল’ বলা হয়, নাকি তা এখনও সংঘটিত হয়নি—ফলে তা এমন এক সীমায় থাকবে যাকে ‘ছিল না’ বলা হয়? যদি আপনারা বলেন: এটি ‘ছিল না’ বলা হয় এমন সীমায় রয়েছে, তবে তা ভবিষ্যৎ; আর যদি তা সংঘটিত ও বিদ্যমান হয়ে থাকে, তবে তা অতীতের সীমায় অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরে তৃতীয় কোনো পথ নেই। সুতরাং আপনারা এর সঠিকতা প্রমাণ করুন।
এর উত্তর হলো—এবং আল্লাহর কাছেই তাওফীক—অতীত হলো তা যার ওপর দিয়ে দুটি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে:
প্রথমটি: সেই সময় যখন তা সংঘটিত হয়েছিল। দ্বিতীয়টি: এমন একটি সময় যখন সংবাদ দেওয়া হয় যে তা বিদ্যমান ছিল, সংঘটিত হয়েছিল এবং ছিল ইত্যাদি। সুতরাং যে সময়ে ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়েছিল বলা হয়, তা তার অস্তিত্বের সময়ের চেয়ে ভিন্ন। অতএব, যে ক্রিয়াটি তার সংঘটিত হওয়ার সময়ের পরবর্তী সময়ে সংবাদ দেওয়া সঠিক হয়, তাই অতীতকাল। আর ভবিষ্যৎ কাল হলো তা যার অস্তিত্ব সম্পর্কে এমন এক সময়ে সংবাদ দেওয়া হয় যখন তা বিদ্যমান ছিল না এবং তার পূর্বেও ছিল না।
ফলে আমাদের কাছে অতীত ও ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হলো, এবং তৃতীয় একটি বিভাগ বাকি রইল; আর তা হলো সেই ক্রিয়া যার অস্তিত্বের সংবাদ দেওয়ার সময় এবং অস্তিত্বের সময় অভিন্ন। এটিই সেই বিষয় যার সম্পর্কে সীবওয়াইহ বলেছেন: "এবং যা বিদ্যমান তা বিচ্ছিন্ন হয়নি।"
যদি কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করে: মর্যাদার ক্রমে কোন ক্রিয়াটি অগ্রবর্তী? এ বিষয়ে পণ্ডিতদের দুটি অভিমত রয়েছে। প্রথমটি হলো: ভবিষ্যৎ ক্রিয়াটি প্রথম, এরপর বর্তমান, তারপর অতীত। এটি আয-যাজ্জাজ (১) এবং অন্যদের অভিমত। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো যে, ভবিষ্যৎ ক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, অতঃপর প্রতিশ্রুত সময়ের আগমন ও প্রতীক্ষার পর তা বিদ্যমান হয়, তখন তা বর্তমান হয়। এরপর তার অস্তিত্বের সময় অতিক্রান্ত হলে তা অতীতে পরিণত হয়।
দ্বিতীয় মতটি হলো: বর্তমান হলো ক্রিয়াগুলোর মধ্যে প্রথম, এবং ক্রমবিন্যাসে তার নিকটতম হলো ভবিষ্যৎ, আর তার পরবর্তী হলো অতীত। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো, ভবিষ্যৎ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হয় না যতক্ষণ না তা পরিচিত ও দৃশ্যমান হয়, যাতে প্রতিশ্রুতিগ্রহীতা তা কল্পনা করতে পারে এবং যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারে। অন্যথায় প্রতিশ্রুতির পেছনে এমন কোনো অর্থ থাকে না যার প্রতি আগ্রহ বা ভীতি কাজ করে; কারণ অন্তর কোনো আগ্রহ বা ভীতিতে লিপ্ত হয় না। আর ভবিষ্যৎ বর্তমানের নিকটতর, কারণ ভবিষ্যৎ বর্তমানে রূপান্তর হওয়ার যোগ্যতা রাখে যা প্রথম স্তরে বিদ্যমান, আর অতীত তো অনেক দূরে চলে গেছে, এমনকি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لا يجوز مساواته الحال في شيء من الأزمنة.
فإن قال قائل: فلم يخصّ الماضي ببناء واحد، لا يشركه فيه غيره، وشورك بين الحال والمستقبل فجعل اللفظ الواحد لفعلين في زمانين؟
فإن الجواب في ذلك: أن الأفعال التي في أوائلها الزوائد الأربع، لما شابهت الأسماء وضارعتها في أشياء، شبّهن من بعد بالأسماء وصرفت تصريف الاسم، فجعل اللفظ الواحد لأكثر من معنى، كما أن اللفظ الواحد في الاسم لأكثر من معنى، فمن ذلك أن " العين " عين الإنسان، وعين الركبة، وعين القبلة، وعين الميزان، وعين من عيون الماء وغير ذلك، " والرّجل " رجل الإنسان والرّجل القطعة من الجراد، وأشياء غير ذلك كثيرة من هذا النحو، فجعل ما ضارع من الأفعال الأسماء مضارعة تامة في اللفظ لزمانين.
فإن قال قائل: فهلا كان أحد الزمانين الماضي؟
فالجواب في ذلك: أن أول الأفعال يكون إما أن يكون المستقبل وإما أن يكون الحال، على القولين اللذين ذكرنا، فلا بد أن يكون أحد هذين اللفظين اللفظ الذي في أوله الزوائد الأربع، ويكون الآخر أقرب الباقين منه، وكل واحد من المستقبل والحال أقرب إلى صاحبه من الماضي إليه فاعرفه إن شاء الله.
وأما قول سيبويه: " وأما ما جاء لمعنى ليس باسم ولا فعل ". فإن جملة الحروف تجيء لمعان أنا أذكرها.
فأولها: للإشراك بين اسمين أو فعلين، وذلك حروف العطف التي تدخل الثاني في إعراب لفظ الأول ومعناه، وهي الواو، والفاء، وثم، وغيرها، كقولك: " قام زيد وعمرو " و " انطلق بكر فخالد "، و " لقيت أخاك ثم أباك ".
والثاني: أن تكون لتعيين اسم أو فعل، فأما تعيين الاسم فبالألف واللام، كقولك:
الرجل والغلام، وأما تعيين الفعل، فبالسين وسوف، وتكون لنفي الاسم والفعل هو: " ما، ولا، ولن، ولم، وما أجري مجراهن، تقول: ما زيد أخاك، ولا يقوم عبد الله، ولم يقم عمرو، ولن يذهب أخوك.
وتجيء لتأكيد الاسم والفعل، فأما تأكيد الاسم، فنحو " إن زيدا أخوك ". وأما تأكيد الفعل فلتقومنّ، ولأنطلقن وتدخل لربط الاسم بالفعل، وإيصال الفعل إلى الاسم، كقولك: " مررت بزيد " وقمت إلى أخيك.
কোনো সময়েই একে বর্তমান কালের সমান করা বৈধ নয়।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন অতীত কালকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যাতে অন্য কেউ অংশীদার নয়, অথচ বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালকে একই কাঠামোর অংশীদার করা হয়েছে এবং একটি শব্দকে দুই সময়ের দুটি ক্রিয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে?
এর উত্তর হলো: যেসব ক্রিয়ার শুরুতে চারটি অতিরিক্ত বর্ণ থাকে, সেগুলো যেহেতু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ্যের (ইসম) সদৃশ এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে, তাই পরবর্তীতে সেগুলোকে বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করা হয়েছে এবং বিশেষ্যের ন্যায় রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে একটি শব্দকে একাধিক অর্থের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে একটি শব্দ একাধিক অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন ‘আইন’ শব্দটি দ্বারা মানুষের চোখ, হাঁটুর সন্ধিস্থল, কিবলার দিক, দাঁড়িপাল্লার কাঁটা, পানির ঝর্ণা ইত্যাদি বোঝায়। আর ‘রিজল’ দ্বারা মানুষের পা এবং পঙ্গপালের একটি বড় দলকে বোঝায়, এবং এই জাতীয় আরও অনেক কিছু। সুতরাং যেসব ক্রিয়া বিশেষ্যের সাথে শব্দগতভাবে পূর্ণ সাদৃশ্য রাখে, সেগুলোকে দুই সময়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: তবে কেন এই দুই সময়ের একটি অতীত কাল হলো না?
এর উত্তর হলো: আমাদের উল্লিখিত দুই মত অনুযায়ী, ক্রিয়ার সূচনা হয় হয় ভবিষ্যৎ কাল অথবা বর্তমান কাল দিয়ে। তাই অনিবার্যভাবে এই দুই শব্দের একটি হবে সেই শব্দ যার শুরুতে চারটি অতিরিক্ত বর্ণ থাকে। আর অন্যটি হবে এর নিকটতম অবশিষ্ট কাল। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের প্রতিটি তার সঙ্গীর নিকটবর্তী হয় অতীত কাল অপেক্ষা। অতএব এটি জেনে নিন, ইনশাআল্লাহ।
আর সিবওয়াইহ-এর উক্তি: “আর যা কোনো অর্থের জন্য আসে তা বিশেষ্য নয় এবং ক্রিয়া নয়।” নিশ্চয়ই অব্যয়সমূহ (হরফ) বিভিন্ন অর্থের জন্য আসে যা আমি উল্লেখ করছি।
তার মধ্যে প্রথমটি হলো: দুটি বিশেষ্য বা দুটি ক্রিয়ার মধ্যে অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করা। এগুলো হলো সংযোজক অব্যয় (আতাফ) যা দ্বিতীয় শব্দটিকে প্রথম শব্দের শাব্দিক ও অর্থগত কারক বিভক্তির অন্তর্ভুক্ত করে। এগুলো হলো: ওয়াও, ফা, ছুম্মা এবং অন্যান্য। যেমন আপনার উক্তি: “জায়েদ ও আমর দাঁড়িয়েছে”, “বকর রওনা হলো, অতঃপর খালিদ”, এবং “আমি তোমার ভাইয়ের সাথে এবং তারপর তোমার বাবার সাথে সাক্ষাৎ করেছি।”
দ্বিতীয়টি হলো: বিশেষ্য বা ক্রিয়াকে নির্দিষ্ট করা। বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট করা হয় আলিফ ও লাম যোগে, যেমন আপনার উক্তি:
লোকটি এবং বালকটি। আর ক্রিয়াকে নির্দিষ্ট করা হয় সীন এবং সাওফা দ্বারা। আর বিশেষ্য ও ক্রিয়াকে নেতিবাচক করার অব্যয়গুলো হলো: মা, লা, লান, লাম এবং এগুলোর সমপর্যায়ভুক্ত অব্যয়সমূহ। আপনি বলেন: জায়েদ তোমার ভাই নয়, আবদুল্লাহ দাঁড়াচ্ছে না, আমর দাঁড়ায়নি এবং তোমার ভাই কখনই যাবে না।
এগুলো বিশেষ্য ও ক্রিয়াকে দৃঢ়তা প্রদানের (তাকিদ) জন্যও আসে। বিশেষ্যকে তাকিদ দেওয়ার উদাহরণ হলো: “নিশ্চয়ই জায়েদ তোমার ভাই।” আর ক্রিয়াকে তাকিদ দেওয়ার উদাহরণ হলো: “তুমি অবশ্যই দাঁড়াবে” এবং “আমি অবশ্যই রওনা হব।” এছাড়া এগুলো বিশেষ্যকে ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য এবং ক্রিয়াকে বিশেষ্যের সাথে যুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: “আমি জায়েদকে অতিক্রম করেছি” এবং “আমি তোমার ভাইয়ের কাছে দাঁড়িয়েছি।”
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وتدخل لإخراج الكلام عن الواجب إلى غيره، مثل حروف الاستفهام كقولك: هل زيد قائم؟
وتدخل أيضا لعقد الجملة بالجملة كقولك: " إن يقم أقم " فإن " يقم " جملة، " وأقم " جملة، وانعقدت إحداهما
بالأخرى بدخول حرف الشرط.
وما لم نذكره فهو يجري مجراه.
هذا باب مجاري أواخر الكلم من العربيةأما قوله: " مجاري " فإنما أراد به الحركات، حركات أواخر الكلم، والدليل على ذلك قوله: " وهي تجري على ثمانية مجار على النصب والرفع ".
فأبدل " النصب والرفع " وما بعدهما من " ثمانية "، والبدل هو المبدل منه في هذا الموضع، وأبدل بإعادة العامل، كما قال الله تعالى: قالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِمَنْ آمَنَ مِنْهُمْ (1) فأبدل من " الذين " وأعاد اللام.
وقوله: " وهي " كناية عن أواخر الكلم، كأنه قال: باب حركات أواخر الكلم، وأواخر الكلم تجري على ثماني حركات.
فإن قال قائل: فلم سمى الحركات " مجاري "، وهنّ يجرين، والمجاري يجرى فيهن؟
ففي ذلك جوابان:
أحدهما: أن الحركات- لما كانت أواخر الكلم قد تنتقل من بعضها إلى بعض، كما تنتقل الحركة من حرف إلى حرف- جاز أن يسمّي الحركات مجاري، من حيث تنتقل فيهن أواخر الكلم، وجعل كل واحدة منهن " مجرى "، ثم جمعها على " مجار ".
والوجه الثاني: أن يكون " مجرى " في معنى جرى، وهو مصدر، والمصادر قد يلحق أوائلها الميم، كما يقول: " مضرب " في معنى الضرب و " مفر " في معنى الفرار، فكأن واحد المجاري في هذا الوجه " مجرى " في معنى " جري ".
فإن قال قائل: فلم جمع، والمصادر لا تجمع؟ قيل له: قد تجمع المصادر إذا كانت مختلفة أو ذهب بها مذهب الخلاف، وقال الله عز وجل: وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا (2) أراد:
--------------------------------------------
এবং এটি কথাকে আবশ্যিক অর্থ থেকে অন্য অর্থে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়, যেমন প্রশ্নবোধক অব্যয়সমূহ, যেমন তোমার কথা: যায়েদ কি দণ্ডায়মান?
এবং এটি একটি বাক্যকে অন্য বাক্যের সাথে সংযুক্ত করতেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তোমার কথা: "যদি সে দাঁড়ায়, তবে আমি দাঁড়াব।" এখানে "সে দাঁড়ায়" একটি বাক্য এবং "আমি দাঁড়াব" একটি বাক্য, আর শর্তবোধক অব্যয় যুক্ত হওয়ার কারণে একটি অন্যটির সাথে সংযুক্ত হয়েছে।
আর যা আমরা উল্লেখ করিনি, তাও এরই অনুরূপ নিয়মে পরিচালিত হবে।
এটি আরবি ভাষার শব্দের শেষাংশের অবস্থাসমূহের অধ্যায়তার উক্তি: "মাজারি" দ্বারা তিনি মূলত হরকত বা স্বরচিহ্নসমূহকে বুঝিয়েছেন, যা শব্দের শেষাংশের হরকত। এর প্রমাণ হলো তার এই উক্তি: "আর তা আটটি গতিপথ বা অবস্থার উপর চলে, যেমন নসব এবং রফ’।"
তিনি "আটটি" শব্দ থেকে "নসব ও রফ’" এবং তার পরবর্তী শব্দগুলোকে 'বদল' হিসেবে এনেছেন। আর এই স্থানে বদল হলো মূলত মুবদ্যাল মিনহুরই প্রতিরূপ। তিনি আমিল বা প্রভাবকের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে বদলটি সম্পন্ন করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তার কওমের দাম্ভিক প্রধানরা সেই দুর্বলদের বলেছিল যারা তাদের মধ্যে ঈমান এনেছিল।" (১) এখানে তিনি "যাদেরকে" শব্দ থেকে বদল করেছেন এবং 'লাম' অব্যয়টি পুনরায় উল্লেখ করেছেন।
তার কথা: "আর তা" শব্দটি শব্দের শেষাংশের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে, যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: শব্দের শেষাংশের হরকতের অধ্যায়, আর শব্দের শেষাংশ আটটি হরকতের উপর পরিচালিত হয়।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: তিনি কেন হরকতগুলোকে "মাজারি" (গতিপথ) নামে অভিহিত করলেন, অথচ হরকতগুলো নিজেই গতিশীল, আর গতিপথের তো ভেতরে গতি থাকে?
এর উত্তরে দুটি দিক রয়েছে:
প্রথমটি হলো: যেহেতু হরকতগুলোর ক্ষেত্রে শব্দের শেষাংশ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়—যেমন এক বর্ণ থেকে অন্য বর্ণে হরকত স্থানান্তরিত হয়—তাই হরকতগুলোকে "মাজারি" নামকরণ করা বৈধ হয়েছে, কারণ এগুলোর মধ্য দিয়েই শব্দের শেষাংশ পরিবর্তিত হয়। তিনি এগুলোর প্রত্যেকটিকে একটি করে "মাজরা" বা গতিপথ গণ্য করেছেন এবং পরে সেটির বহুবচন "মাজারি" ব্যবহার করেছেন।
দ্বিতীয় দিকটি হলো: "মাজরা" শব্দটি "চলা" বা "প্রবাহ" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল। মাসদারের শুরুতে অনেক সময় 'মীম' যুক্ত হয়, যেমন আঘাত করা অর্থে "মাদরাব" এবং পলায়ন করা অর্থে "মাফার" ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এই বিবেচনায় মাজারি-এর একবচন "মাজরা" হবে যা "চলা" বা "প্রবাহ" অর্থ প্রদান করে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: তিনি কেন বহুবচন ব্যবহার করলেন, যেখানে মাসদারের সচরাচর বহুবচন হয় না? তাকে বলা হবে: মাসদার যখন ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের হয় অথবা বৈচিত্র্যের অর্থ প্রদান করে, তখন তার বহুবচন হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানাবিধ ধারণা করছিলে।" (২) তিনি বুঝিয়েছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২১)
ظنونا مختلفة، ويقال: العلوم والأفهام، في أشباه لذلك كثيرة، فجعل جري كل واحدة من الحركات خلاف جري صواحبها؛ لأن جريها ليس شيئا أكثر منها، وهي مختلفات في ذواتها، فكأنه قال: هذا باب جري أواخر الكلم وهي تعني أواخر الكلم تجري على ثمانية أنحاء من الجري، ثم بين ذلك بما بعده.
فإن قال قائل: فقد يروى عن المازني (1) أنه غلّط سيبويه في قوله: " على ثمانية مجار "، وزعم أن المبنيات حركات أواخرها كحركات أوائلها؛ وإنما الجري لما يكون مرة في شيء يزول عنه، والمبني لا يزول عن بنائه، وكان ينبغي أن يقول: على أربعة مجار على الرفع والنصب والجر والجزم، ويدع ما سواهن.
فالجواب في ذلك- وبالله التوفيق- أن أواخر الكلم لا يوقف على حركاتهن، وإنما تلزمهن الحركات في الدّرج، وليس كذا صدور الكلام وأوساطها فجاز أن تصنف حركات أواخر الكلم من الجري بما لا تصنف به أوائلها وأوساطها؛ لأن حركات الأوائل والأوساط لوازم في الأحوال كلها.
ووجه ثان: أن أواخر الكلم هن مواضع التغير، فيجوز إطلاق لفظ المجاري عليهن، وإن كان بعض حركاتهن لازما في حال، ومثل ذلك تسمية " سيبويه " لأواخر الكلم عامة " حروف الإعراب ". وقد علمت أن المبنيات لا يعربن، وإنما سماهن حروف الإعراب لأن الإعراب يكون فيهن إذا أجريت الكلمة.
وقوله: " وإنما ذكرت لك ثمانية مجار، لأفرق بين ما يدخله ضرب من هذه الأربعة، لما يحدث فيه العامل، وليس شيء منها إلا وهو يزول عنه، وبين ما بني عليه الحرف بناء لا يزول " إلى آخر الفصل.
قال أبو سعيد: اعلم أن سيبويه لقّب الحركات والسكون هذه الألقاب الثمانية- وإن كانت في الصورة أربعا- ليفرق بين المبني الذي لا يزول، وبين المعرب الذي يزول- وإنما أراد بالمخالفة بين تلقيب ما يزول وما لا يزول إبانة الفرق بينهما؛ لأن في ذلك فائدة جسيمة تقريبا وإيجازا، لأنه متى قال: هذا الاسم مرفوع، أو منصوب، أو
--------------------------------------------
বিভিন্ন ধারণা পোষণ করেছেন, এবং বলা হয়: জ্ঞান ও বোধশক্তি, এই জাতীয় অনেক বিষয়। তাই তিনি প্রতিটি হরকতের গতিবিধিকে তার অন্য সাথীদের গতির বিপরীত করেছেন; কারণ তাদের গতিবিধি তাদের সত্তার চেয়ে অতিরিক্ত কিছু নয় এবং তারা তাদের স্বীয় সত্তায় ভিন্ন ভিন্ন। সুতরাং মনে হয় যেন তিনি বলেছেন: এটি শব্দের শেষাংশের গতির অধ্যায়, অর্থাৎ শব্দের শেষাংশসমূহ আট প্রকারের গতির ওপর পরিচালিত হয়। এরপর তিনি পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে তা ব্যাখ্যা করেছেন।
যদি কেউ প্রশ্ন করেন: আল-মাযিনী (১) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সিবওয়াইহকে তাঁর "আটটি গতিপথের ওপর" কথাটির জন্য ভুল সাব্যস্ত করেছেন। তিনি মনে করতেন যে, মাবনী (অপরিবর্তনীয়) শব্দগুলোর শেষাংশের হরকতসমূহ তাদের প্রথমাংশের হরকতসমূহের মতোই। কেননা, 'গতি' (জারী) কেবল তখনই হয় যখন কোনো কিছু ক্ষণস্থায়ী হয় এবং তা অপসারিত হয়; কিন্তু মাবনী তার মূল গঠন থেকে বিচ্যুত হয় না। সুতরাং তাঁর বলা উচিত ছিল: চারটি গতিপথের ওপর—রাফা (পেশ), নাসাব (যবর), জার (যের) এবং জাযম (সুকুন)—এবং অন্যগুলোকে বাদ দেওয়া উচিত ছিল।
এর উত্তরে বলা যায়—এবং আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক আসে—যে, শব্দের শেষাংশের হরকতসমূহের ওপর থামা হয় না, বরং বাক্যের প্রবাহে (মিলিয়ে পড়ার সময়) হরকতগুলো তাদের সাথে যুক্ত থাকে। কিন্তু শব্দের প্রথমাংশ বা মধ্যাংশ এমন নয়। সুতরাং শব্দের শেষাংশের হরকতগুলোকে এমন এক প্রকারের গতিশীলতা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা বৈধ হয়েছে, যে গুণে প্রথমাংশ বা মধ্যাংশকে শ্রেণীবদ্ধ করা যায় না; কারণ শব্দের প্রথমাংশ ও মধ্যাংশের হরকতসমূহ সব অবস্থাতেই অপরিহার্য।
দ্বিতীয়ত: শব্দের শেষাংশ হলো পরিবর্তনের স্থান, তাই সেগুলোর ক্ষেত্রে 'গতিপথ' (মাজারী) শব্দটির ব্যবহার বৈধ। যদিও সেগুলোর কিছু হরকত বিশেষ অবস্থায় অপরিহার্য থাকে। এর উদাহরণ হলো, সিবওয়াইহ সাধারণভাবেই শব্দের শেষাংশগুলোকে "ই'রাবের বর্ণসমূহ" হিসেবে নামকরণ করেছেন। আপনি জানেন যে, মাবনী শব্দগুলো ই'রাব গ্রহণ করে না, তবে তিনি সেগুলোকে "ই'রাবের বর্ণসমূহ" নামকরণ করেছেন কারণ শব্দটি যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন ই'রাব সেগুলোর মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।
এবং তাঁর উক্তি: "আমি তোমার কাছে আটটি গতিপথের কথা উল্লেখ করেছি এই জন্য যেন এই চারটির কোনো প্রকার—যেগুলোর মধ্যে আমিল (কারক নির্ধারক) কাজ করার ফলে পরিবর্তন ঘটে এবং যা অপসারিত হয়—এবং যার ওপর বর্ণটি স্থায়ীভাবে গঠিত এবং যা অপসারিত হয় না—এদের মধ্যে পার্থক্য করা যায়" পরিচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত।
আবু সাঈদ বলেন: জেনে রাখুন যে, সিবওয়াইহ হরকত ও সুকুনকে এই আটটি উপাধিতে অভিহিত করেছেন—যদিও বাহ্যিক আকৃতিতে এগুলো চার প্রকার—যাতে যা অপসারিত হয় না এমন মাবনী এবং যা অপসারিত হয় এমন মু'রাব-এর মধ্যে পার্থক্য করা যায়। যা অপসারিত হয় এবং যা অপসারিত হয় না তাদের নামকরণে ভিন্নতা আনার মাধ্যমে তিনি মূলত এদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করতে চেয়েছেন; কারণ এর মধ্যে সহজীকরণ এবং সংক্ষেপনের ব্যাপক উপকারিতা রয়েছে। কারণ তিনি যখনই বলেন: এই ইসমটি মারফু (পেশযুক্ত), বা মানসুব (যবরযুক্ত), অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২২)
مخفوض، علم بهذا اللفظ أن عاملا عمل فيه يجوز زواله، ودخول عامل آخر يحدث خلاف عمله، فيكتفي " بمرفوع " عن أن تقول هذه ضمة تزول، أو تقول: عمل فيه عامل فرفعه، ففي هذا حكمة وإيجاز فاعرفه؛ فإن كثيرا من النحويين الكوفيين يخالفونه، ويسمون الضمة اللازمة رفعا، وقد عرفتك وجه الحكمة في تسمية هذا رفعا.
وقال جماعة من النحويين: غلط سيبويه في قوله " وإنما ذكرت لك ثمانية مجار؛ لأفرق بين ما يدخله ضرب من
هذه الأربعة "، قالوا: من قبل أن ما يدخله ضرب من هذه الأربعة هو حرف، لأن هذه الأربعة أراد بها الحركات والسكون، وما يدخله ضرب منها حرف، لأن الحركات لا تدخل إلا على الحروف، ثم قال: " وبين ما بني عليه الحرف بناء لا يزول ". والذي بني عليه الحرف هو الحركة، فكأنه في التمثيل قال: لا فرق بين الحرف والحركة، وهذا بعيد جدّا؛ لأن الفرق واقع بين الحروف والحركات بلا لبس ولا شبهة، ولا يشك في الفرق بينهن أحد، ولا يلتبس عليه، إنما الوجه أن يفرق بين الحركة والحركة، ألا ترى أن قائلا لو قال، لا فرق بين جسم زيد وحركة عمرو، لكان واضعا للفرق في غير موضع الحاجة إليه، وإنما يفرق بين زيد وعمرو أو بين حركة زيد وحركة عمرو.
فالجواب في ذلك: أن " سيبويه " إنما أراد: لأفرق بين إعراب ما يدخله ضرب هذه الأربعة وبين الحركة التي يبنى عليها الحرف بناء لا يزول، فحذف المضاف وأقام المضاف إليه مقامه كقوله: وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ الَّتِي كُنَّا فِيها (1). وتصحيح اللفظ فإنما ذكرت لك ثمانية مجار، يعني: النصب والجر والرفع والجزم والفتح والضم والكسر والوقف، لأفرق بين حركات ما يدخله ضرب من هذه الضروب الأربعة: يعني بين حركة ما يدخله رفع أو نصب أو جرّ أو جزم، فكأنه قال: لأفرق بين المرفوع والمنصوب والمخفوض والمجزوم، وهو ما يتغير من الكلم بالعوامل التي تثبت مرة وتزول مرة أخرى، وبين ما بني عليه الحرف بناء لا يزول، يعني صيغت عليه الكلمة صياغة لا يزيلها شيء من العوامل المختلفة، نحو: فتحة " أين "، وضمة " حيث "، وكسرة " هؤلاء " ووقف " من " فاعرف ذلك، إن شاء الله.
--------------------------------------------
মখফূয; এই শব্দটির মাধ্যমে জানা গেল যে, কোনো একটি আমিল এতে আমল করেছে যা অপসারিত হওয়া সম্ভব এবং অন্য কোনো আমিল প্রবেশ করা সম্ভব যা তার আমলের বিপরীত কাজ করবে। সুতরাং 'মরফূ' শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে 'এটি এমন একটি যম্মাহ যা অপসারিত হবে' বা 'এতে কোনো আমিল আমল করেছে ফলে তাকে রফ প্রদান করেছে'—এ জাতীয় কথা বলা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। এতে প্রজ্ঞা ও সংক্ষিপ্ততা রয়েছে, তাই এটি জেনে রাখুন। কেননা কূফী ব্যাকরণবিদদের অনেকেই এর বিরোধিতা করেন এবং তারা স্থায়ী যম্মাহকেও রফ বলে অভিহিত করেন। আমি আপনাকে এই নামকরণকে রফ বলার প্রজ্ঞার দিকটি বুঝিয়ে বলেছি।
ব্যাকরণবিদদের একটি দল বলেছেন: সীবাওয়াইহ তার এই উক্তিতে ভুল করেছেন—"আমি আপনার কাছে আটটি প্রকার উল্লেখ করেছি যাতে আমি সেই সব বিষয়ের মাঝে পার্থক্য করতে পারি যাতে এই চারটির কোনো একটির প্রকার প্রবেশ করে।" তারা বলেন: এর কারণ হলো, যাতে এই চারটির কোনো একটির প্রকার প্রবেশ করে তা হলো বর্ণ (হরফ); কেননা এই চারটি দ্বারা তিনি হরকত ও সুকূনকে উদ্দেশ্য নিয়েছেন। আর যাতে এগুলো প্রবেশ করে তা হলো বর্ণ, কারণ হরকত কেবল বর্ণের উপরেই আসে। অতঃপর তিনি বলেছেন: "এবং যার ওপর বর্ণটি এমনভাবে ভিত্তি লাভ করেছে যা অপসারিত হয় না।" আর যার ওপর বর্ণটি ভিত্তি লাভ করে তা হলো হরকত। সুতরাং উদাহরণের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যেন তিনি বলেছেন: বর্ণ এবং হরকতের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এটি অত্যন্ত অবাস্তব কথা; কারণ বর্ণ এবং হরকতের মাঝে পার্থক্য কোনো সংশয় বা অস্পষ্টতা ছাড়াই অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে কেউ সন্দেহ করে না এবং এটি কারো কাছে অস্পষ্টও নয়। বরং সঠিক পদ্ধতি হলো হরকত ও হরকতের মাঝে পার্থক্য করা। আপনি কি দেখেন না যে, কোনো বক্তা যদি বলে—যায়েদ-এর দেহ এবং আমর-এর নড়াচড়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তবে সে এমন স্থানে পার্থক্যের অবতারণা করল যেখানে তার প্রয়োজন ছিল না। মূলত পার্থক্য করা হয় যায়েদ ও আমর-এর মধ্যে অথবা যায়েদ-এর নড়াচড়া ও আমর-এর নড়াচড়ার মধ্যে।
এর উত্তর হলো: 'সীবাওয়াইহ' মূলত এটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে—যাতে এই চার প্রকারের প্রভাব প্রবেশ করে তার ইরাব এবং যে হরকতের ওপর বর্ণটি স্থায়ীভাবে ভিত্তি লাভ করে তার মধ্যে পার্থক্য করা। এখানে তিনি মুযাফ বিলুপ্ত করেছেন এবং মুযাফ ইলাইহি-কে তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনি সেই জনপদকে জিজ্ঞাসা করুন যেখানে আমরা ছিলাম" (১)। আর বাক্যের সঠিক রূপ হলো—আমি আপনার কাছে আটটি গতিপথ উল্লেখ করেছি, অর্থাৎ: নসব, জর, রফ, জজম, ফাতহা, যম্মাহ, কাসরা এবং ওয়াকফ; যাতে আমি সেই হরকতসমূহের মাঝে পার্থক্য করতে পারি যাতে এই চার প্রকারের কোনো একটির প্রভাব প্রবেশ করে। অর্থাৎ মরফূ, মানসূব, মখফূয এবং মাজযূম-এর মধ্যে পার্থক্য করা; আর এগুলো হলো সেই শব্দ যা বিভিন্ন আমিলের কারণে পরিবর্তিত হয়, যে আমিলগুলো কখনো উপস্থিত থাকে আবার কখনো অপসারিত হয়। আর (পার্থক্য করা) সেই বিষয়ের সাথে যার ওপর বর্ণটি এমনভাবে ভিত্তি লাভ করেছে যা অপসারিত হয় না। অর্থাৎ শব্দটিকে এমনভাবে গঠন করা হয়েছে যা বিভিন্ন আমিল পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয় না। যেমন: 'আইনা'-এর ফাতহা, 'হাইসু'-এর যম্মাহ, 'হাউলায়ি'-এর কাসরা এবং 'মান'-এর ওয়াকফ। ইনশাআল্লাহ, এটি জেনে রাখুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قال سيبويه " فالنصب والرفع والجزم والجر لحروف الإعراب " إن سأل سائل فقال: ما حروف الإعراب؟ فإن مذهب سيبويه يحتمل وجهين:
أحدهما: أن حروف الإعراب ما كان الإعراب فيه ظاهرا أو مقدرا، فالظاهر كقولك: الرجل، والفرس، والغلام، والمقدر نحو قولنا: هذه الرحى والعصا، ورأيت الرحى والعصا.
والوجه الآخر: أن حروف الإعراب هي أواخر الكلم، معربة كانت أم غير معربة، وإنما سميت حروف الإعراب لأن الإعراب متى كان لم يوجد إلا فيها، ومثال هذا قولنا:
الحروف الزوائد عشرة يجمعها (اليوم تنساه)، والزوائد ما زيد على أصل الكلمة في موضعها مثل قولنا: " كوثر " للرجل الكثير العطية، الواو زائدة لأنه من الكثرة، وليس في الكثرة واو بعد الكاف، و " ضارب " الألف زائدة لأنه
مشتق من الضرب، وقد تكون هذه الحروف أصولا غير زائدة، وإنما يراد أن الزوائد منها تكون دون غيرها، فسميت الحروف الزوائد وإن لم تكن زوائد على كل حال، وكذلك سميت أواخر الكلم حروف الإعراب وإن لم تكن معربة على كل حال، لأن الإعراب يكون فيها دون غيرها، ومثل ذلك حروف المد واللين، وهي الواو والياء والألف، وقد يكون بعض هذه الحروف في مواضع لغير المد واللين. وإنما سميت حروف المد واللين؛ لأن المد فيها دون غيرها، وإنما المد لازم في الألف منها وشرط المد في الواو والياء اللتين للمد أن يكونا ساكنين، وقبل الواو ضمة وقبل الياء كسرة، مثل " كافور " و " قنديل ". والواو والباء إذا حركتا فليستا للمد، كقولك غزو وظبي ووحوحته (1) ويهيّرى (2). وكذلك الكلام في حروف البدل وما جانس ذلك.
فإن قال قائل: فإذا كانت حروف الإعراب هي ما ذكرتم، فلم قال سيبويه: فالرفع والنصب والجر والجزم لحروف الإعراب، وحروف الإعراب للأسماء المتمكنة والأفعال المضارعة، كيف خص ذلك من جملة الكلم، وقد زعمتم أن حروف الإعراب للكلم كلها معربها ومبنيها؟ قيل: قد يحتمل ذلك الوجهين اللذين ذكرناهما، فإن حمل الكلام على
--------------------------------------------
সিবওয়াইহ বলেন, "নাসব, রাফ, জাযম এবং জার হলো ইরাবের বর্ণসমূহের জন্য।" যদি কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করে যে, ইরাবের বর্ণসমূহ কী কী? তবে সিবওয়াইহ-এর মাযহাব বা মতবাদে এর দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে:
একটি হলো: ইরাবের বর্ণসমূহ হলো সেগুলো যেগুলোতে ইরাব প্রকাশ্য বা উহ্য থাকে। প্রকাশ্য হলো যেমন আপনার বলা: আর-রাজুলু (ব্যক্তিটি), আল-ফারাসু (ঘোড়াটি) এবং আল-গুলামু (বালকটি)। আর উহ্য হলো আমাদের বলার মতো: হাযিহির রাহা ওয়াল আসা (এটি যাতা ও লাঠি), এবং রাআইতুর রাহা ওয়াল আসা (আমি যাতা ও লাঠি দেখেছি)।
অন্য দিকটি হলো: ইরাবের বর্ণসমূহ হলো শব্দের শেষ বর্ণসমূহ, চাই সেগুলো পরিবর্তনশীল (মুরাব) হোক বা অপরিবর্তনীয় (মাবনি) হোক। এগুলোকে ইরাবের বর্ণ এই কারণে নামকরণ করা হয়েছে যে, ইরাব যখনই বিদ্যমান থাকে তা কেবল এগুলোর মধ্যেই পাওয়া যায়। এর উদাহরণ হলো আমাদের কথা:
অতিরিক্ত বর্ণসমূহ দশটি যা 'আল-ইয়াওমা তানসাহু' (আজ তুমি তা ভুলে যাবে) বাক্যটিতে একত্রিত হয়েছে। অতিরিক্ত বর্ণ হলো সেই বর্ণ যা শব্দের মূল রূপের ওপর তার স্বস্থানে বৃদ্ধি করা হয়। যেমন আমাদের কথা: অনেক দানশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'কাওসার', এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি অতিরিক্ত, কারণ এটি 'কাসরাহ' (প্রাচুর্য) শব্দ থেকে এসেছে, আর 'কাসরাহ' শব্দে 'কাফ' বর্ণের পর কোনো 'ওয়াও' নেই। আবার 'দারিব' (আঘাতকারী) শব্দে 'আলিফ' বর্ণটি অতিরিক্ত, কারণ এটি 'দারব' (আঘাত করা) থেকে নির্গত। কখনো কখনো এই বর্ণগুলো অতিরিক্ত না হয়ে মূল বর্ণও হতে পারে। তবে এখানে উদ্দেশ্য হলো যে, অতিরিক্ত বর্ণগুলো কেবল এগুলোর মধ্য থেকেই হয়, অন্য কোনো বর্ণ থেকে নয়। তাই এগুলোকে অতিরিক্ত বর্ণ নামকরণ করা হয়েছে যদিও সব ক্ষেত্রে এগুলো অতিরিক্ত নয়। একইভাবে শব্দের শেষ বর্ণগুলোকে ইরাবের বর্ণ বলা হয়েছে যদিও সব ক্ষেত্রে সেগুলো পরিবর্তনশীল নয়, কারণ ইরাব কেবল এগুলোর মধ্যেই হয়, অন্য কোথাও নয়। এর উদাহরণ হলো মাদ্দ ও লীন-এর বর্ণসমূহ; আর সেগুলো হলো ওয়াও, ইয়া এবং আলিফ। কখনো কখনো এই বর্ণগুলোর কিছু অংশ মাদ্দ ও লীন ব্যতীত অন্য স্থানেও ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলোকে মাদ্দ ও লীন-এর অক্ষর বলা হয়েছে কারণ মাদ্দ কেবল এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, অন্য কোথাও নয়। মাদ্দ কেবল আলিফ বর্ণের ক্ষেত্রে আবশ্যকীয়, আর ওয়াও এবং ইয়া-এর ক্ষেত্রে মাদ্দ হওয়ার শর্ত হলো সে দুটি সাকিন হতে হবে এবং ওয়াও-এর আগে পেশ (যম্মাহ) ও ইয়া-এর আগে যের (কাসরাহ) থাকতে হবে। যেমন 'কাফুর' এবং 'কানদীল'। ওয়াও এবং ইয়া যখন হরকতযুক্ত হয় তখন সেগুলো মাদ্দের জন্য হয় না, যেমন আপনার বলা 'গাযউ', 'যাবিউ', 'ওয়াহওয়াহাতুহু' (১) এবং 'ইউহাইয়ারা' (২)। অনুরূপভাবে 'বাদল' (বিনিময়) এর বর্ণসমূহ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: ইরাবের বর্ণসমূহ যদি তাই হয় যা আপনারা উল্লেখ করেছেন, তবে সিবওয়াইহ কেন বললেন যে, রাফ, নাসব, জার এবং জাযম হলো ইরাবের বর্ণসমূহের জন্য, আর ইরাবের বর্ণসমূহ হলো সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (আসমায়ে মুতামাক্কিনাহ) এবং মুদারি ক্রিয়ার জন্য? তিনি কীভাবে শব্দের সামগ্রিক প্রকারভেদ থেকে এগুলোকে নির্দিষ্ট করলেন, অথচ আপনারা দাবি করেছেন যে ইরাবের বর্ণ সকল শব্দের জন্যই, চাই তা মুরাব হোক বা মাবনি? বলা হবে: এটি আমাদের উল্লেখ করা ঐ দুটি দিকের ব্যাখ্যাই রাখে। যদি বক্তব্যটিকে এর ওপর প্রয়োগ করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الوجه الأول- وهو أقواهما- كان ذلك على أن حروف الإعراب ما كان فيه إعراب لفظا أو مقدرا، والمقدر ما كان مستحقا للإعراب ومنه من اللفظ به استثقال اللفظ به، أو تعذره، فالاستثقال نحو: القاضي، ومررت بالقاضي، والتعذر نحو: العصا، والرحى، لأنه يستثقل الضم والكسر في القاضي وتتعذر الحركة في ألف عصا ورحى.
وإن حمل كلامه على الوجه الثاني، احتمل ذلك معنيين:
أحدهما: أن يكون سيبويه أراد بقوله: " لحروف الإعراب ": لإعراب حروف الإعراب، فحذف المضاف وأقام المضاف إليه مقامه، وقوله: وحروف الإعراب للأسماء المتمكنة أراد: وإعراب حروف الإعراب للأسماء المتمكنة.
والوجه الثاني: أن يكون أراد بقوله: فالرفع والنصب والجر والجزم لحروف الإعراب أي لحروف الإعراب التي فيها الإعراب، ويكون اللفظ عاما والمراد به البعض، كما تقول الناس بنو تميم وأنت تريد بعضهم مجازا واتساعا.
وقوله: " وحروف الإعراب للأسماء المتمكنة ".
إن سأل سائل فقال: ما الأسماء المتمكنة؟ قيل له: كل اسم مستحق للإعراب فهو متمكن، ثم ينقسم قسمين: قسم مستوف للتمكن كله، وهو ما تعتقب عليه الحركات الثلاث: الضم، والفتح، والكسر، ويدخله التنوين، وقسم ناقص
عن هذا وهو ما منع التنوين والخفض فلم يعتقب عليه إلا الرفع والنصب.
وكان بعض أصحابنا يسمي الاسم المستوفي للحركات الثلاث، الاسم الأمكن، فيخصه بذلك، ويجعل كل ما استحق الإعراب متمكنا.
وقوله: " والأفعال المضارعة لأسماء الفاعلين التي في أوائلها الزوائد الأربع:
الهمزة والتاء والنون والياء: مثل أفعل، وتفعل، ونفعل، ويفعل ".
والألف التي في " أفعل " هي في الحقيقة همزة؛ لأن الألف لا تكون متحركة في حال، وإنما سمى النحويين الهمزة ألفا لأنها تصور صورة الألف في الخط إذا كانت أوله، والهمزة لا صورة لها، وإنما تصور بصورة غيرها.
فإن سأل سائل فقال: كيف صارت هذه الحروف أولى بالأفعال المضارعة من غيرها؟
قيل له: أولى الحروف بالزيادة في أوائل هذه الأفعال حروف المد واللين، وهي
প্রথম দিকটি—যা তাদের মধ্যে অধিক শক্তিশালী—তা হলো এই যে, ই'রাবের বর্ণসমূহ হচ্ছে তা-ই যার মধ্যে শাব্দিক অথবা উহ্যভাবে ই'রাব বিদ্যমান থাকে। আর উহ্য হলো তা যা ই'রাব পাওয়ার যোগ্য, কিন্তু উচ্চারণে কষ্টদায়ক হওয়ার কারণে অথবা তা অসম্ভব হওয়ার কারণে অনুচ্চারিত থাকে। কষ্টের উদাহরণ যেমন: 'আল-ক্বাদী' এবং 'মারারতু বিল-ক্বাদী'। আর অসম্ভব হওয়ার উদাহরণ যেমন: 'আল-আসা' এবং 'আর-রাহা'। কারণ 'আল-ক্বাদী' শব্দে দ্বম্মাহ ও কাসরাহ উচ্চারণ করা কষ্টকর, আর 'আসা' ও 'রাহা' শব্দের আলিফে হরকত প্রদান করা অসম্ভব।
যদি তার বক্তব্যকে দ্বিতীয় দিকের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে তা দুটি অর্থ বহন করতে পারে:
প্রথমটি: সিবওয়াইহ তার উক্তি "ই'রাবের বর্ণসমূহের জন্য" দ্বারা বুঝিয়েছেন "ই'রাবের বর্ণসমূহের ই'রাবের জন্য"। এখানে তিনি মুদাফ (সম্বন্ধ পদ) বিলুপ্ত করেছেন এবং মুদাফ ইলাইহকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর তার উক্তি: "এবং ই'রাবের বর্ণসমূহ আসমায়ে মুতামাক্কিনাহ-এর জন্য" দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন: "এবং ই'রাবের বর্ণসমূহের ই'রাব আসমায়ে মুতামাক্কিনাহ-এর জন্য"।
দ্বিতীয় দিক: তার উক্তি "রাফ', নাসব, জার এবং জাযম ই'রাবের বর্ণসমূহের জন্য" দ্বারা তিনি সেই সব ই'রাবের বর্ণ বুঝিয়েছেন যাতে ই'রাব প্রকাশ পায়। এখানে শব্দটি ব্যাপক, কিন্তু তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আংশিক; যেমন আপনি বলেন "মানুষ হলো বনু তামীম", অথচ আপনি রূপকভাবে এবং বর্ণনার প্রসারের উদ্দেশ্যে তাদের কিছু অংশকে বোঝাতে চান।
এবং তার উক্তি: "এবং ই'রাবের বর্ণসমূহ আসমায়ে মুতামাক্কিনাহ-এর জন্য"।
যদি কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করে: আসমায়ে মুতামাক্কিনাহ কী? তাকে বলা হবে: প্রত্যেক ই'রাব পাওয়ার যোগ্য বিশেষ্যই হলো মুতামাক্কিন। এরপর তা দুই ভাগে বিভক্ত: এক প্রকার যা পূর্ণ মুতামাক্কিন, যাতে তিনটি হরকতই পর্যায়ক্রমে আসে: দ্বম্মাহ, ফাতহাহ ও কাসরাহ, এবং তাতে তানভীন প্রবেশ করে। অন্য প্রকারটি এর চেয়ে অপূর্ণ,
যা তানভীন এবং যের গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে, ফলে তাতে কেবল রাফ' এবং নাসব পর্যায়ক্রমে আসে।
আমাদের কোনো কোনো সাথী যে বিশেষ্যটি তিনটি হরকতই পূর্ণরূপে গ্রহণ করে তাকে 'ইসমুল আমকান' নামে অভিহিত করতেন এবং তাকে এই বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত করতেন, আর ই'রাব পাওয়ার যোগ্য সকল বিশেষ্যকেই 'মুতামাক্কিন' গণ্য করতেন।
এবং তার উক্তি: "এবং মুদারে' ক্রিয়াগুলো সেই সব ইসমে ফায়েলের সদৃশ যার শুরুতে অতিরিক্ত চারটি বর্ণ রয়েছে:
হামজাহ, তা, নূন এবং ইয়া: যেমন আফ'আলু, তাফ'আলু, নাফ'আলু এবং ইয়াফ'আলু"।
"আফ'আলু" শব্দে যে আলিফটি রয়েছে তা মূলত হামজাহ; কারণ আলিফ কোনো অবস্থাতেই হরকতযুক্ত হয় না। ব্যাকরণবিদগণ হামজাহকে আলিফ বলে নামকরণ করেছেন কারণ শব্দের শুরুতে থাকলে তা লিখনের সময় আলিফের রূপ ধারণ করে। মূলত হামজাহর নিজস্ব কোনো রূপ নেই, বরং তা অন্য বর্ণের রূপ ধারণ করে চিত্রিত হয়।
যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: কেন এই বর্ণগুলো অন্যান্য বর্ণের তুলনায় মুদারে' ক্রিয়ার শুরুতে আসার অধিক যোগ্য হলো?
তাকে বলা হবে: এই ক্রিয়াগুলোর শুরুতে অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে আসার সবচেয়ে যোগ্য বর্ণ হলো হুরুফে মাদ্দ ও লীন (প্রলম্বিত ও কোমল বর্ণ), আর সেগুলো হলো-
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الحروف المأخوذة منها الحركات: الواو، والياء والألف، فأما الألف فلا سبيل إلى جعلها أولا، من قبل أنها لا تكون إلا ساكنة، والأول لا يكون ساكنا؛ فجعل مكانها أقرب الحروف منها، وهي الهمزة، فاجتمع فيها- أعني الهمزة- قربها من الألف، وكثرة وقوعها زائدة أولا، فكانت أولى الحروف بالوضع مكان الألف.
وأما الواو فإنها لا تقع زائدة أولا في حكم التصريف، فأبدل منها حرف يبدل من الواو كثيرا، وهو التاء، ومواضع بدلها من الواو كثير، منها قولهم: " تخمة " وهي من الوخامة وتهمة، وتقي، وتراث، واتعد، إذا أردت " افتعل " من الوعد، وقولهم: " تالله " مكان " والله ".
واحتاجوا بعد هذه الحروف إلى حرف رابع، فكان أقرب الحروف من حروف المد واللين " النون "؛ وذلك أنها غنة في الخيشوم تجري فيه كما تجري حروف المد واللين في مواضعها، وتكون إعرابا في قولك: تفعلان، ويفعلون، وتفعلين، تكون لضمير جماعة المؤنث في قولك: " قعدن " في مكان " قعدوا "، و " قمن " في مكان " قاموا "، وتبدل منها الألف في الوقف، في قولك: " رأيت زيدا " فجعلوا النون هو الحرف الرابع والله أعلم.
قال: " وليس في الأسماء جزم؛ لتمكنها، وإلحاق التنوين بها فإذا ذهب التنوين لم يجمعوا عليه ذهابه، وذهاب الحركة ".
إن سأل سائل فقال: لم دخل التنوين الاسم؟ قيل له من قبل أن الأسماء على ثلاثة أقسام: منها أن تكون على خفتها غير داخل عليها ما ينقلها إلى شبه الفعل، ومنها ما يشبه الأفعال، ومنها ما يشبه الحروف، فوجب أن ترتب على هذه المراتب الثلاث، فنون أخفها ليكون حذف التنوين علامة لما يشبه الفعل عندهم، وحذف الحركة والتنوين،
ولزوم طريقة واحدة علامة لما يشبه الحرف. وسنبين كل ما يشبه الحرف في موضعه إن شاء الله.
فإن قال قائل: فهلا اقتصروا على الإعراب في الاسم الأخف وسكنوا ما يشبه الفعل؟ قيل له: لو فعلوا ذلك لم يكن فرق بين ما يشبه الفعل أو بين ما يشبه الحرف.
فإن قال قائل: فكيف صارت النون أولى بذلك من سائر الحروف؟ قيل له: لأن النون غنه في الخيشوم، وهي أقرب الحروف وأشبهها بحروف المد واللين.
فإن قال: فلم لم يدخل الجزم الاسم؟ فإن الذي قال " سيبويه " في ذلك: أنه لو دخل
যে সকল বর্ণ হতে স্বরচিহ্নসমূহ (হারাকাত) গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো: ওয়াও, ইয়া এবং আলিফ। আলিফের ক্ষেত্রে একে শুরুতে নিয়ে আসার কোনো উপায় নেই, কারণ এটি কেবল সাকিন (স্থির) হিসেবেই ব্যবহৃত হয়, আর শুরুর বর্ণ কখনো সাকিন হয় না। তাই এর পরিবর্তে এর নিকটতম বর্ণকে নির্ধারণ করা হয়েছে, আর সেটি হলো হামযা। হামযার মধ্যে আলিফের সাথে এর নৈকট্য এবং শুরুতে অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে এর আধিক্য—উভয় বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটেছে। ফলে আলিফের স্থলে ব্যবহারের জন্য এটিই ছিল সর্বাধিক উপযোগী বর্ণ।
আর ওয়াও-এর ক্ষেত্রে ব্যাকরণিক রূপান্তরের নিয়মানুযায়ী এটি শুরুতে অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে আসে না। ফলে এর পরিবর্তে এমন একটি বর্ণ আনা হয়েছে যা প্রায়ই ওয়াও-এর স্থলাভিষিক্ত হয়, আর সেটি হলো 'তা'। ওয়াও-এর পরিবর্তে এর ব্যবহারের ক্ষেত্র অনেক। যেমন তাদের উক্তি: 'তুখমাহ', যা মূলত 'ওয়াখামাহ' থেকে আগত; এবং তুহমাহ, তাক্বি, তুরাস ও ইত্তা'আদা—যখন আপনি ওয়াদা থেকে 'ইফতা'আলা' ওযনে শব্দ গঠন করতে চাইবেন। আর তাদের উক্তি: 'তাল্লাহি', যা 'ওয়াল্লাহি'-এর স্থলে ব্যবহৃত হয়।
এই বর্ণগুলোর পর তাদের একটি চতুর্থ বর্ণের প্রয়োজন হলো। তাই মাদ্দ ও লীন এর বর্ণগুলোর সবচেয়ে নিকটবর্তী বর্ণ হিসেবে 'নূন'কে গ্রহণ করা হলো। কারণ এটি নাসিকা গহ্বরের গুন্নাহ (নাসিক্য ধ্বনি), যা সেখানে সেভাবেই প্রবাহিত হয় যেভাবে মাদ্দ ও লীন এর বর্ণসমূহ নিজ নিজ মাখরাজে প্রবাহিত হয়। এছাড়া এটি ইরাব (শব্দবিভক্তি) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'তাফআলা-নি', 'ইয়াফআলু-না' এবং 'তাফআলী-না'। এটি স্ত্রীবাচক বহুবচনের সর্বনাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন 'কাআদনা' শব্দটি 'কাআদু'-এর স্থলে এবং 'কুমনা' শব্দটি 'ক্বামু'-এর স্থলে। আবার ওয়াকফ (থামা) করার সময় এর বদলে আলিফ আসে, যেমন 'রাইতু যায়দান'। তাই তারা নূনকে চতুর্থ বর্ণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তিনি বলেন: "ইসম বা বিশেষ্যের মধ্যে জজম (সুঁকুন) নেই; কারণ এটি একটি শক্তিশালী পদ এবং এর সাথে তানউইন যুক্ত হয়। যখন তানউইন বিলুপ্ত হয়, তখন তারা তানউইনের বিলুপ্তি ও স্বরচিহ্নের বিলুপ্তি—এই উভয় বিষয়কে একত্রিত করে না।"
যদি কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করে যে: বিশেষ্যে কেন তানউইন প্রবেশ করল? তাকে বলা হবে যে, বিশেষ্য তিন প্রকার: এক প্রকার হলো যা তার সাবলীলতায় থাকে এবং এর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করে না যা একে ক্রিয়ার (ফিল) সদৃশ করে দেয়। দ্বিতীয় প্রকার হলো যা ক্রিয়ার সদৃশ। আর তৃতীয় প্রকার হলো যা অব্যয়ের (হরফ) সদৃশ। ফলে এই তিনটি স্তরের ওপর ভিত্তি করে পদগুলোকে বিন্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তাই তারা সবচেয়ে হালকা পদের জন্য তানউইন নির্দিষ্ট করেছেন যাতে তাদের নিকট তানউইন বিলোপ হওয়াটা ক্রিয়ার সদৃশ হওয়ার আলামত হয়, আর স্বরচিহ্ন ও তানউইন—উভয়ই বিলোপ হওয়া,
এবং একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অপরিবর্তিত থাকাটা অব্যয়ের সদৃশ হওয়ার আলামত হয়। অব্যয়ের সদৃশ সকল বিষয় আমরা যথাস্থানে বর্ণনা করব, ইনশাআল্লাহ।
যদি কেউ বলে: তবে কেন তারা হালকা বিশেষ্যগুলোতে কেবল ইরাব (বিভক্তি) দিয়ে সীমাবদ্ধ থাকল না এবং যা ক্রিয়ার সদৃশ তাকে সাকিন করল না? তাকে বলা হবে: তারা যদি তা করত তবে ক্রিয়ার সদৃশ এবং অব্যয়ের সদৃশ শব্দগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না।
যদি কেউ বলে: কেন নূন অন্যান্য বর্ণের তুলনায় এর জন্য অধিক যোগ্য হলো? তাকে বলা হবে: কারণ নূন হলো নাসিকা গহ্বরের গুন্নাহ, এবং এটি মাদ্দ ও লীন এর বর্ণগুলোর সবচেয়ে নিকটবর্তী ও সদৃশ।
যদি সে বলে: তবে কেন বিশেষ্যে জজম প্রবেশ করল না? এ বিষয়ে সিবওয়াইহি যা বলেছেন তা হলো: যদি তা প্রবেশ করত...
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الجزم الاسم لأبطل الحركة، وإذا أبطل الحركة زال بدخوله التنوين الذي هو لاحق بالاسم.
فإن قال: فهلا حذفوا بدخول الجزم التنوين دون الحركة، لأنه أول ما يصادف فحذف، إن صادف حركة حذفها، وإن صادف حرفا ساكنا حذفه؟ قيل له: يمنع من هذا شيئان:
أحدهما: أن التنوين لو حذفه الجزم لالتبس ما ينصرف بما لا ينصرف.
والوجه الثاني: أن التنوين شيء يصحب الحركات كلها، والعوامل إنما تغير الحركات التي يختلف بها الكلم، والدليل على ذلك أنك تقول: " رأيت زيدا " و " مررت بزيد " " وهذا زيد "، فالتنوين موجود في الأحوال كلها.
واختلفت الحركات باختلاف العوامل، فلو جاز دخول الجزم على الاسم لكان لا بد من تأثير في الاسم بإزالة الحركة التي تختلف باختلاف العوامل، ولا يؤثر فيما لا يختلف باختلاف العوامل، وهو التنوين.
فإن قال قائل في العلة الأولى: فهلا أذهب الجزم التنوين في المنصرف وحذف الحركة مما لا ينصرف؟ قيل له: لأنه لو فعل ذلك لكان الاسم الذي لا ينصرف في حال دخول الجزم عليه مشبها للمبنى.
فإن قال قائل: فقد رأينا الفعل المجزوم يشبه في الصورة الفعل المبني على السكون وهو فعل الأمر- فإذا جاز ذلك، فلم لا يجوز أن يدخل الجزم في الأسماء المعربة، فيستوي لفظها ولفظ الأسماء المبنية، كما استوى لفظ الأفعال المجزومة، والمبنية على السكون؟
قيل له: بينهما فرق ظاهر واضح، وذلك أن الموضع الذي ينجزم فيه الفعل لا يقع فيه الفعل المبني، والفعل المبني لا يقع في الموضع الذي ينجزم فيه الفعل فإذا كان كل واحد منهما لا يقع في موضع صاحبه لم يضر تشابه لفظيهما، والأسماء المبنية تقع مواقع الأسماء المعربة، فمتى تشابه لفظاهما اختلطا والتبسا.
فإن قال قائل: فهلا حذفتم الحركة وحدها، بدخول الجزم، وبقيتم التنوين، ثم حركتم الحرف المجزوم، لالتقاء الساكنين؟
قيل له: هذا يفسد من وجهين:
أحدهما: أن التنوين فرع، وإنما أتى به لقوة المتحرك ومزيته على غيره، فإذا دخل
জযম হলো হরকত বিলোপের নাম, আর যখন এটি হরকত বিলোপ করে তখন এর প্রবেশের কারণে তানউইন বিলুপ্ত হয়ে যায়, যা ইসম বা বিশেষ্যের অনুগামী।
যদি বলা হয়: তবে জযমের প্রবেশের কারণে কেন তারা হরকতের পরিবর্তে তানউইনকে বিলোপ করল না? যেহেতু এটিই প্রথম বিষয় যার সম্মুখীন হওয়া যায়, তাই একেই বিলোপ করা সংগত ছিল; এটি যদি হরকতের সম্মুখীন হতো তবে হরকতকে বিলোপ করত, আর যদি এটি সাকিন বর্ণের সম্মুখীন হতো তবে তাকে বিলোপ করত। এর উত্তরে বলা হয়: দুটি বিষয় একে বাধা প্রদান করে:
প্রথমত: জযম যদি তানউইনকে বিলোপ করত, তবে রূপান্তরযোগ্য ইসম যা রূপান্তরযোগ্য নয় এমন ইসমের সাথে সংশয়যুক্ত হয়ে পড়ত।
দ্বিতীয়ত: তানউইন এমন একটি বিষয় যা সকল প্রকার হরকতের সঙ্গেই থাকে, আর আমেলসমূহ কেবল সেই হরকতগুলোকেই পরিবর্তন করে যার মাধ্যমে শব্দের রূপের ভিন্নতা ঘটে। এর প্রমাণ হলো আপনি বলেন: "আমি যায়দকে দেখেছি", "আমি যায়দের নিকট দিয়ে গিয়েছি" এবং "এটি যায়দ", সুতরাং তানউইন সকল অবস্থাতেই বিদ্যমান থাকে।
আমেলের ভিন্নতার কারণে হরকতসমূহে ভিন্নতা দেখা দেয়। সুতরাং যদি ইসমের ওপর জযম প্রবেশ করা বৈধ হতো, তবে ইসমের ওপর অবশ্যই সেই হরকত বিলোপের প্রভাব পড়ত যা আমেল পরিবর্তনের কারণে পরিবর্তিত হয়; আর যা আমেল পরিবর্তনের কারণে পরিবর্তিত হয় না—অর্থাৎ তানউইন—তাতে এর কোনো প্রভাব পড়ত না।
যদি কেউ প্রথম কারণটির প্রেক্ষিতে বলে: জযম কেন রূপান্তরযোগ্য ইসমের ক্ষেত্রে তানউইনকে বিলোপ করল না এবং রূপান্তরহীন ইসমের ক্ষেত্রে হরকতকে বিলোপ করল না? তাকে বলা হয়: কারণ যদি তা করা হতো, তবে জযম প্রবেশের অবস্থায় রূপান্তরহীন ইসমটি মাবনি বা অপরিবর্তনীয় ইসমের সদৃশ হয়ে যেত।
যদি কেউ বলে: আমরা তো মজযুম ফে'ল বা ক্রিয়াকে বাহ্যিক আকৃতিতে সুকুনের ওপর মাবনি ফে'লের (যেমন আমরের ফে'ল) সদৃশ হতে দেখি; সুতরাং যদি এটি জায়েয হয়, তবে কেন মু'রাব ইসমসমূহে জযম প্রবেশ করা জায়েয হবে না? যাতে তাদের উচ্চারণ এবং মাবনি ইসমের উচ্চারণ এক হয়ে যায়, যেমনটি মজযুম ফে'ল এবং সুকুনের ওপর মাবনি ফে'লের উচ্চারণ এক হয়ে গেছে?
তাকে বলা হয়: এই দুইয়ের মধ্যে একটি স্পষ্ট ও প্রকাশ্য পার্থক্য রয়েছে। তা হলো, যে স্থানে ফে'ল মজযুম হয় সেখানে মাবনি ফে'ল ব্যবহৃত হয় না, আর মাবনি ফে'ল সেই স্থানে ব্যবহৃত হয় না যেখানে ফে'ল মজযুম হয়। সুতরাং যখন তাদের কোনোটিই অন্যের স্থানে ব্যবহৃত হয় না, তখন তাদের উচ্চারণের সাদৃশ্য কোনো বিভ্রান্তি তৈরি করে না। কিন্তু মাবনি ইসমসমূহ মু'রাব ইসমের স্থানে ব্যবহৃত হয়, তাই যখন তাদের উভয়ের উচ্চারণ এক হয়ে যাবে, তখন তারা মিশ্রিত ও সংশয়যুক্ত হয়ে পড়বে।
যদি কেউ বলে: তবে জযম প্রবেশের কারণে আপনারা কেন কেবল হরকতকে বিলোপ করলেন না এবং তানউইনকে বহাল রাখলেন না, অতঃপর দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে মজযুম বর্ণটিকে হরকতযুক্ত করলেন না?
তাকে বলা হয়: এটি দুটি দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ:
তার একটি হলো: তানউইন হলো একটি শাখা, আর এটি কেবল হরকতযুক্ত বর্ণের শক্তি ও অন্যের ওপর তার বিশেষত্ব বুঝাতে আনা হয়, সুতরাং যখন প্রবেশ করল...
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ما يحذف الحركة ويزيلها، كان أولى بحذف التنوين. والوجه الثاني: أنا لو حذفنا الحركة ثم حركنا، لالتقاء الساكنين لعاد لفظه إلى لفظ غير المجزوم فلم يصح الجزم فيه؛ لأنه لا يسلم سكونه، لما يوجبه التنوين من الحركة إذا سكنا، ولم نكن لندخل عاملا على اسم فيحدث فيه ما لا يسلم له أبدا.
فإن قال قائل: أليس المجزوم قد يتحرك لالتقاء الساكنين إذا قلت: " لم يقم الرجل "؟
قيل له: بلى، وليست هذه الحركة بموجودة في كل حال، وإنما هي عارضة توجد فيه إذا وليه ما فيه الألف واللام، أو ساكن غير ذلك، ولو فصلت بينهما سلم الجزم، ولم يضطر إلى تحريكه.
والتنوين لازم للاسم في أوليته، فلو دخل الجازم وحذف الحركة لم يسلم السكون؛ لما يوجبه التنوين من الحركة فلم يصح دخوله؛ لأنه لا يصح تأثيره في أولية الأسماء.
واحتج بعض أصحابنا، وحكى عن " المازني " أنه قال: لم يدخل الأسماء الجزم؛ لأنه لا يكون إلا بعوامل، يمتنع دخولها على الأسماء من جهة المعنى، نحو: " لم " و " لما " و " إن " للمجاز وما جرى مجراهن فاعرف ذلك إن شاء الله.
قال سيبويه: " والنصب في المضارع من الأفعال " لن يفعل "، والرفع " سيفعل "، والجزم " لم يفعل " وليس في الأفعال المضارعة جر، كما أنه ليس في الأسماء جزم لأن المجرور داخل في المضاف إليه معاقب للتنوين، وليس ذلك في هذه الأفعال ".
قال أبو سعيد: قد اشتمل هذا الفصل على أشياء محتاجة إلى تفسير وتعليل، فنبدأ منها بشرح إعراب الأفعال المضارعة، وبالله التوفيق.
اعلم أن الأفعال كلها حكمها التسكين ووقف الأواخر، من قبل أن العلة التي من أجلها وجب إعراب الأسماء غير موجودة فيها؛ لأن العلة في إعراب الأسماء هي الفصل بين فاعليها ومفعوليها الذين يجوز أن يكونوا فاعلين ولغير ذلك من الفصول لا توجد في الأفعال إلا أن الأفعال، تنقسم ثلاثة أقسام:
منها: الفعل المضارع الذي قصدنا إلى إبانة علة إعرابه وقد شابه الأسماء من جهات:
منها أنك إذ قلت: " زيد يقوم " فهذا يصلح لأحد زمانين مبهما فيهما، كما أنك إذا قلت: " رأيت رجلا " فهو لواحد من هذا الجنس مبهما فيهم غير متحصل على معين، ثم
যা হরকতকে বিলুপ্ত ও দূরীভূত করে, তা তানভীন বিলুপ্ত করার জন্য অধিকতর উপযুক্ত। দ্বিতীয় কারণ হলো: যদি আমরা হরকত বিলুপ্ত করি এবং পরে দুই সুকুন একত্রিত হওয়ার কারণে পুনরায় হরকত প্রদান করি, তবে এর উচ্চারণ সেই শব্দের মতো হয়ে যাবে যাতে জযম নেই; ফলে এতে জযম হওয়া সঠিক হবে না। কারণ এতে সুকুন অবশিষ্ট থাকে না, যেহেতু সুকুন করার সময় তানভীন হরকত প্রদান করাকে অপরিহার্য করে দেয়। আর আমরা এমন কোনো আমেল (প্রভাবক) বিশেষ্যের ওপর প্রবেশ করাতে পারি না যা তাতে এমন পরিবর্তন আনবে যা তার জন্য কখনোই স্থায়ী হবে না।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: ‘লাম ইয়াকুমির রাজুলু’ বলার সময় দুই সুকুন একত্রিত হওয়ার কারণে কি মজযূম (জযমযুক্ত শব্দ) হরকতবিশিষ্ট হয় না?
তাকে বলা হবে: হ্যাঁ, তবে এই হরকত সব অবস্থায় থাকে না। বরং এটি একটি আপতিক অবস্থা যা তখনই পাওয়া যায় যখন এর পরে আলিফ-লাম যুক্ত শব্দ বা অন্য কোনো সাকিন আসে। যদি আপনি এই দুইয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটান, তবে জযম অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং তাকে হরকত দিতে বাধ্য হতে হবে না।
আর তানভীন হলো বিশেষ্যের মূল সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্য, তাই যদি জাযেম প্রবেশ করে এবং হরকত বিলুপ্ত করে, তবে সুকুন বজায় থাকবে না; কারণ তানভীন হরকত হওয়াকে অপরিহার্য করে। ফলে জাযেমের প্রবেশ করা সঠিক হবে না; কারণ বিশেষ্যের মূল অবস্থায় এর প্রভাব খাটা সঠিক নয়।
আমাদের কোনো কোনো সহকর্মী দলিল পেশ করেছেন এবং ‘মাযিনী’ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: বিশেষ্যসমূহে জযম প্রবেশ করে না; কারণ জযম কেবল নির্দিষ্ট কিছু আমেলের মাধ্যমেই হয়, যেগুলোর অর্থগত কারণে বিশেষ্যের ওপর প্রবেশ করা অসম্ভব। যেমন: ‘লাম’, ‘লাম্মা’ এবং শর্তের জন্য ‘ইন’ এবং এ জাতীয় অন্যান্য শব্দ। সুতরাং আল্লাহ চাহেন তো এটি জেনে রাখুন।
সিবওয়াইহ বলেন: “মুদারি ক্রিয়াসমূহে নসব হয় যেমন ‘লান ইয়াফআলা’, রফা হয় যেমন ‘সাইয়াফআলু’ এবং জযম হয় যেমন ‘লাম ইয়াফআল’। আর মুদারি ক্রিয়াসমূহে কোনো জর (জের) নেই, যেমন বিশেষ্যসমূহে কোনো জযম নেই। কারণ মাজরুর শব্দ মুদাফ ইলাইহি-এর অন্তর্ভুক্ত যা তানভীনের স্থলাভিষিক্ত হয়, আর এই ক্রিয়াসমূহ তেমন নয়।”
আবু সাঈদ বলেন: এই পরিচ্ছেদটি এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে যা ব্যাখ্যা এবং কারণ দর্শানোর মুখাপেক্ষী। সুতরাং আমরা মুদারি ক্রিয়াসমূহের ইরাব (কারক বিভক্তি) বর্ণনার মাধ্যমে তা শুরু করছি, আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।
জেনে রাখুন যে, সকল ক্রিয়ার মূল বিধান হলো সাকিন হওয়া এবং শেষাক্ষর স্থির থাকা। কারণ বিশেষ্যসমূহের ইরাব হওয়ার পেছনে যে কারণটি বিদ্যমান, তা ক্রিয়াসমূহে নেই। বিশেষ্যসমূহের ইরাব হওয়ার কারণ হলো ফায়েল (কর্তা) এবং মাফউল (কর্ম)-এর মধ্যে পার্থক্য করা, যাদের ক্ষেত্রে ফায়েল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; এছাড়াও অন্যান্য পার্থক্যের কারণেও ইরাব হয় যা ক্রিয়াসমূহে পাওয়া যায় না। তবে ক্রিয়াসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত:
তার মধ্যে একটি হলো: মুদারি ক্রিয়া যার ইরাব হওয়ার কারণ স্পষ্ট করাই আমাদের উদ্দেশ্য। এটি কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ্যসমূহের সদৃশ হয়েছে:
একটি দিক হলো এই যে, যখন আপনি বলেন: “যাইদুন ইয়াকূমু”, তখন এটি অস্পষ্টভাবে দুটি কালের (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ) যেকোনো একটির সম্ভাবনা রাখে। ঠিক যেমন আপনি যখন বলেন: “রাইতু রাজুলান”, তখন এটি এই শ্রেণির যেকোনো একজনের জন্য অস্পষ্টভাবে ব্যবহৃত হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝায় না। এরপর...
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يدخل على الفعل المضارع المبهم في الزمانين ما يقصره على أحدهما ويخلصه له كقولك:
" زيد سيقوم " و " سوف يقوم " كما أنك إذا أدخلت على الواحد المبهم في جنسه من الأسماء الألف واللام قصراه على واحد بعينه واشتبها بوقوعهما أولا مبهمين وتعينهما بحروف تبينهما.
ووجه ثان من المضارعة: وهو أن الفعل المضارع إذا وقع خبرا صلح دخول اللام عليه كقولك " إن زيدا ليذهب " كما صلح دخول اللام على الاسم إذا قلت: " إن زيدا لذاهب ". فإذا كان الخبر فعلا ماضيا امتنع ذلك فيه، لا تقول " إن زيدا لذهب " فلما اشترك الاسم والفعل المضارع في دخول اللام في هذا الموضع وامتنع دخولها على غيره من الأفعال، علمنا أن بين الفعل المضارع والاسم ملابسة غير موجودة لسائر الأفعال.
ووجه ثالث: وهو أن الفعل توصف به النكرات كقولك: " مررت برجل يقوم " ويكون خبرا كقولك: " إن زيدا يقوم " و " كان زيد ينطلق " كما يكون ذلك في الاسم إذا قلت: " مررت برجل قائم " " كان زيد منطلقا " فلما وقع موقعه صار مثله في هذا الوجه.
فاجتمع للفعل المضارع مشابهة الاسم من هذه الوجوه التي ذكرناها دون غيره من الأفعال ففضل على سائر الأفعال، بأن أعرب، لما بان به من هذه المشاركة للاسم واختص به دون نظائره.
هذه ثلاثة أوجه من المضارعة، وبقى وجهان: المساواة في العدة والرتبة، وأن ألف الوصل لا تدخل على المضارع كما دخلت على الماضي والأمر.
فإن قال قائل: كيف صار الفعل أولى بالإعراب لمشاركة الأسماء المعربة دون أن تبنى الأسماء التي حقها أن تعرب لمشاركة الأفعال المبنية؟ فإن الجواب في ذلك: أن الأفعال إنما شاركت الأسماء في معان هي للأسماء دونها؛ لأن الأصل في الصفات والأخبار إذا قلت: " مررت برجل يقوم " و " إن زيدا لا يقوم "، هو الاسم، والأفعال داخلة عليه، فلما شابهت الأفعال الأسماء فيما للأسماء دونها، أعطيت ما للأسماء ولم تعط الأسماء ما للأفعال.
ووجه آخر: وهو أنا لو بنينا الأسماء على السكون، لمضارعة الأفعال بطل الإعراب الذي يضطرنا إليه الفصل بين المعاني في الأسماء.
فإن قال قائل: فإذا أعطيتم الأفعال الإعراب لمضارعتها الأسماء، فلم أعربتموها في المواضع التي لا تقع الأسماء فيها، إذا قلتم: " لن يقوم " " ولم يذهب "، وغير ذلك من
দ্বিকালবাচক অস্পষ্ট মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালবাচক) ক্রিয়ার পূর্বে এমন কিছু বর্ণ বা অব্যয় যুক্ত হয় যা তাকে নির্দিষ্ট একটি কালের সাথে সীমাবদ্ধ করে দেয় এবং সেই কালের জন্যই তাকে নির্দিষ্ট করে ফেলে। যেমন আপনার উক্তি:
"জায়েদ শীঘ্রই দাঁড়াবে" এবং "সে ভবিষ্যতে দাঁড়াবে"। যেমনটি আপনি যখন লিঙ্গ-সাধারণ কোনো অস্পষ্ট বিশেষ্য পদের শুরুতে আলিফ এবং লাম যুক্ত করেন, তখন তারা তাকে নির্দিষ্ট একজনের মাঝে সীমাবদ্ধ করে দেয়। এই উভয় ক্ষেত্র (মুদারে ক্রিয়া ও বিশেষ্য) প্রথমে অস্পষ্ট থাকা এবং পরবর্তীতে নির্দিষ্টকারী বর্ণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সাদৃশ্যের দ্বিতীয় দিক: মুদারে ক্রিয়া যখন সংবাদ (খবর) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তার ওপর 'লাম' যুক্ত হওয়া বৈধ হয়। যেমন আপনার উক্তি: "নিশ্চয় জায়েদ যাচ্ছে"। যেমনটি বিশেষ্যের ওপর 'লাম' যুক্ত হওয়া বৈধ হয় যখন আপনি বলেন: "নিশ্চয় জায়েদ গমনকারী"। তবে সংবাদটি যদি মাজি (অতীতকালবাচক) ক্রিয়া হয়, তবে তাতে এটি (লাম যুক্ত হওয়া) নিষিদ্ধ। আপনি বলতে পারবেন না: "নিশ্চয় জায়েদ গেল"। সুতরাং যখন এই স্থানে 'লাম' যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ্য ও মুদারে ক্রিয়া উভয়ই অংশীদার হলো এবং অন্য ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে তা নিষিদ্ধ হলো, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে মুদারে ক্রিয়া ও বিশেষ্যের মাঝে এমন এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে যা অন্য কোনো ক্রিয়ার মাঝে নেই।
তৃতীয় দিক: ক্রিয়া দ্বারা অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকেরা) গুণ বর্ণনা করা যায়। যেমন আপনার উক্তি: "আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে দণ্ডায়মান হচ্ছে"। আবার এটি সংবাদ (খবর) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: "নিশ্চয় জায়েদ দাঁড়াচ্ছে" এবং "জায়েদ প্রস্থান করছিল"। যেমনটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে যখন আপনি বলেন: "আমি একজন দণ্ডায়মান ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম" এবং "জায়েদ প্রস্থানকারী ছিল"। যখন এটি (মুদারে ক্রিয়া) বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হলো, তখন এই দিক থেকে সেটি বিশেষ্যেরই অনুরূপ হয়ে গেল।
সুতরাং মুদারে ক্রিয়ার মাঝে বিশেষ্যের সাদৃশ্যের এই দিকগুলো একত্রিত হয়েছে যা অন্য কোনো ক্রিয়ার মাঝে নেই। ফলে অন্য সব ক্রিয়ার ওপর একে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এই মর্মে যে, এটি মু'রাব (পরিবর্তনশীল) হবে; কারণ বিশেষ্যের সাথে এর এই অংশীদারিত্ব স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং এটি তার সমজাতীয় অন্য ক্রিয়াগুলোর তুলনায় এই বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত হয়েছে।
এগুলো হলো সাদৃশ্যের তিনটি দিক, আর বাকি রইল আরও দুটি দিক: অক্ষরের সংখ্যা ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে সমতা, এবং 'আলিফ আল-ওয়াসল' (সংযোজক আলিফ) মুদারে ক্রিয়ার শুরুতে প্রবেশ না করা, যেমনটি মাজি ও আমর (আদেশসূচক) ক্রিয়ার শুরুতে প্রবেশ করে থাকে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: মু'রাব বিশেষ্য পদের সাথে সাদৃশ্যের কারণে ক্রিয়াটি কেন ই'রাব (রূপান্তর) গ্রহণের অধিক যোগ্য হলো? বিপরীতে মাবনি (অপরিবর্তনীয়) ক্রিয়াগুলোর সাথে সাদৃশ্যের কারণে বিশেষ্যগুলো কেন মাবনি হলো না, অথচ সেগুলোর মূল স্বভাব ছিল মু'রাব হওয়া? এর উত্তরে বলা হবে: ক্রিয়াগুলো বিশেষ্যের সাথে এমন সব অর্থের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে যা মূলত বিশেষ্যেরই মৌলিক বৈশিষ্ট্য, ক্রিয়ার নয়। কারণ গুণাবলী ও সংবাদের ক্ষেত্রে মূল হলো বিশেষ্য, যেমন যখন আপনি বলেন: "আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে দণ্ডায়মান হচ্ছে" এবং "নিশ্চয় জায়েদ দাঁড়াচ্ছে না"। এখানে বিশেষ্যই মূল এবং ক্রিয়াগুলো তার সদৃশ হিসেবে গণ্য হয়েছে। সুতরাং যখন ক্রিয়াগুলো বিশেষ্যের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে বিশেষ্যের অনুরূপ হলো, তখন সেগুলোকে বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্য (ই'রাব) প্রদান করা হয়েছে; কিন্তু বিশেষ্যগুলোকে ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য (মাবনি হওয়া) প্রদান করা হয়নি।
অন্য আরেকটি দিক হলো: আমরা যদি ক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্যের কারণে বিশেষ্য পদগুলোকে সুকুনের ওপর মাবনি (অপরিবর্তনীয়) করতাম, তবে সেই ই'রাব (শব্দরূপান্তর) বিলুপ্ত হয়ে যেত যার প্রয়োজনীয়তা আমাদের বিশেষ্যগুলোর বিভিন্ন অর্থের মাঝে পার্থক্য করার জন্য অবধারিতভাবে পড়ে থাকে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনারা যখন বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্যের কারণে মুদারে ক্রিয়াগুলোকে ই'রাব প্রদান করেছেন, তবে এমন সব স্থানে কেন সেগুলোকে মু'রাব হিসেবে ব্যবহার করেন যেখানে বিশেষ্যগুলো ব্যবহৃত হয় না? যেমন যখন আপনারা বলেন: "সে কখনই দাঁড়াবে না", "সে যায়নি" এবং এই জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المواضع التي لا يحسن وقوع الأسماء فيها؟ فإن الجواب في ذلك: أن عوامل الأفعال في كل موضع مخالفة لعوامل
الأسماء في المواضع كلها، فإذا وجب إعراب الأفعال، فليس يجوز أن تعربها بما أعربنا به الاسم، وإذا كان ذلك كذلك، فلا بد من عوامل لها، لا تقع الأسماء بعدها.
ووجه ثان: أن الفعل المضارع قد شابه الاسم بالزوائد التي في أوله، فاستحق بذلك أن يكون معربا، وأين وجد على هذه الصورة وبهذه الصيغة استحق الإعراب، للزوائد في أوله، وليس الزائد هو الذي أعربه، ولكن هو الذي سوغ أن يدخل عليه العوامل فتعربه، ونظير هذا أنا نقول: إن ما لا ينصرف إذا دخل عليه الألف واللام، أو أضيف، حرك بالحركات الثلاث، فليس الألف واللام والإضافة هن اللاتي حركنه، ولكنهن سوغن دخول الحركات الثلاث عليه، وهيأنه لذلك.
فإن قيل: فهلا أعطيتم الفعل جميع ما للاسم، من الرفع والنصب والجر، والتنوين، لمضارعته الاسم، كما أعطيتم الأسماء المبنية، لمضارعة الحروف- السكون الذي للحرف- نحو " من " و " كم " وأشباه ذلك؟ فإن الجواب في ذلك: أن الحروف هي ساكنة فقط، والسكون هو وجه واحد، فإذا ضارعها اسم، أعطى بحق المضارعة شيئا هو في الحروف، وليس فيه إلا السكون، فسكن فقط، والأسماء فيها ثلاث حركات وتنوين، فإذا ضارعها الفعل أعطى بحق المضارعة بعض ما في الاسم، ولم يبلغ من قوته، وهو فرع على الاسم، ومشبه به أن يكون مثله في جميع أحواله، وقد أمكن أن يعطي بعض ما فيه، ليدل على موضع المشابهة.
فإن قال قائل: فبماذا ترفع الأفعال المضارعة؟ قيل له: لوقوعها في موقع الأسماء، سواء كانت الأسماء التي وقعت موقعها، مرفوعة، أو منصوبة، أو مخفوضة، وذلك قولك:
" جاءني رجل يضحك " و " رأيت رجلا يضحك "، و " مررت برجل يضحك ".
فإن قال قائل: فلم كانت الأفعال مرفوعة بوقوعها موقع أشياء مختلفة الإعراب، من مرفوع، ومنصوب، ومخفوض؟ قيل له: من قبل أن العوامل التي للأسماء، لا تعمل في الأفعال، ولا تسلط عليها، فلم يعتبر اختلاف إعراب الأسماء في إعراب الأفعال، إذ كان لا تأثير لذلك في الأفعال، ورفع الفعل، لوقوعه موقع الاسم.
فإن قال قائل: فلم صار الرفع أولى به؛ بوقوعه موقع الاسم؟
যেসব স্থানে বিশেষ্য (ইসিম) আসা সমীচীন নয়? এর উত্তর হলো: সব স্থানেই ক্রিয়ার কারকসমূহ (আওয়ামিল) বিশেষ্যের কারকসমূহ হতে ভিন্ন। সুতরাং যখন ক্রিয়ার রূপান্তর (ই’রাব) আবশ্যক হয়, তখন আমরা বিশেষ্যকে যা দ্বারা রূপান্তর করি তা দ্বারা ক্রিয়াকে রূপান্তর করা বৈধ নয়। আর বিষয়টি যখন এমন, তখন অবশ্যই ক্রিয়ার জন্য এমন কিছু কারক থাকতে হবে যার পরে বিশেষ্য অবস্থান করে না।
দ্বিতীয় কারণ: বর্তমানকালীন ক্রিয়া (ফে’লে মুদারে) তার শুরুতে অতিরিক্ত অক্ষরের কারণে বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য রাখে, ফলে সে রূপান্তরযোগ্য হওয়ার অধিকার লাভ করে। যেখানেই একে এই রূপে এবং এই ছাঁচে পাওয়া যাবে, সেখানে তার শুরুতে অতিরিক্ত অক্ষরের কারণে সে রূপান্তরযোগ্য হওয়ার দাবি রাখে। তবে অতিরিক্ত অক্ষরটি তাকে রূপান্তর করে না, বরং এটি তার ওপর কারকসমূহের প্রবেশের পথ সুগম করে দেয় এবং এরপর কারকসমূহ তাকে রূপান্তর করে। এর উদাহরণ হলো আমরা বলি: যখন অপরিবর্তনীয় বিশেষ্য (গাইরে মুনসারিফ)-এর ওপর আলিফ-লাম যুক্ত হয় অথবা সেটি সম্বন্ধযুক্ত (ইদাফাত) হয়, তখন এটি তিনটি স্বরচিহ্ন (হরকত) গ্রহণ করে। আসলে আলিফ-লাম বা ইদাফাত তাকে স্বরচিহ্ন প্রদান করেনি, বরং তারা তার ওপর তিনটি স্বরচিহ্ন প্রবেশের পথ সুগম করেছে এবং তাকে সে জন্য প্রস্তুত করেছে।
যদি বলা হয়: বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে আপনারা কেন ক্রিয়াকে বিশেষ্যের মতো রফ (পেশ), নাসব (যবর), জার (জের) এবং তানভীন—সবকিছুই দিলেন না? যেমনটি আপনারা অব্যয়ের (হরফ) সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে অপরিবর্তনীয় বিশেষ্যসমূহকে (ইসমে মাবনি) অব্যয়ের সুকুন প্রদান করেছেন—যেমন "কে" এবং "কত" এবং এর সমজাতীয় শব্দসমূহ। এর উত্তর হলো: অব্যয়সমূহ শুধুমাত্র সুকুনবিশিষ্ট হয় এবং সুকুন হলো মাত্র একটি অবস্থা। তাই যখন কোনো বিশেষ্য তার সাদৃশ্য গ্রহণ করে, তখন সাদৃশ্যের কারণে তাকে এমন কিছু দেওয়া হয় যা অব্যয়ের মধ্যে রয়েছে, আর অব্যয়ের মধ্যে সুকুন ছাড়া আর কিছুই নেই, তাই সেটি কেবল সুকুনই লাভ করে। অন্যদিকে বিশেষ্যের মধ্যে তিনটি স্বরচিহ্ন এবং তানভীন রয়েছে। তাই ক্রিয়া যখন তার সাথে সাদৃশ্য রাখে, তখন সাদৃশ্যের কারণে তাকে বিশেষ্যের গুণাবলির কিয়দংশ প্রদান করা হয়, কিন্তু তা বিশেষ্যের শক্তির সমপর্যায়ে পৌঁছায় না। ক্রিয়া হলো বিশেষ্যের একটি শাখা, আর সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের জন্য সব অবস্থায় মূলের মতো হওয়া আবশ্যক নয়। সাদৃশ্যের দিকটি নির্দেশ করার জন্য তার কিছু অংশ প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: বর্তমানকালীন ক্রিয়াগুলো কীসের ভিত্তিতে রফ প্রাপ্ত হয়? তাকে বলা হবে: বিশেষ্যের স্থানে তাদের অবস্থানের কারণে, চাই সেই বিশেষ্যটি রফ, নাসব বা জার যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন। যেমন আপনার কথা:
"আমার কাছে এমন একজন লোক এল যে হাসছে", "আমি হাসছে এমন একজন লোককে দেখলাম", এবং "আমি হাসছে এমন একজন লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম"।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: বিশেষ্যের ভিন্ন ভিন্ন রূপান্তরের (ই’রাব) স্থানে অবস্থান করা সত্ত্বেও ক্রিয়াগুলো কেন কেবল রফ প্রাপ্ত হলো? তাকে বলা হবে: কারণ বিশেষ্যের কারকসমূহ (আওয়ামিল) ক্রিয়ার ওপর কাজ করে না এবং তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে না। সুতরাং বিশেষ্যের ই’রাবের ভিন্নতাকে ক্রিয়ার ই’রাবের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়নি, যেহেতু ক্রিয়ার ওপর এর কোনো প্রভাব নেই। আর ক্রিয়ার রফ প্রাপ্ত হওয়া মূলত বিশেষ্যের স্থানে তার অবস্থানের কারণেই হয়েছে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: বিশেষ্যের স্থানে অবস্থান করার কারণে রফ প্রাপ্ত হওয়া কেন তার জন্য অধিকতর উপযোগী হলো?
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قيل له: من قبل أن وقوعه موقع الاسم، ليس بعامل لفظي، فأشبه الابتداء الذي ليس بعامل لفظي.
فإن قال قائل: فإذا زعمتم أن الأفعال ترتفع بوقوعها مواقع الأسماء، فلم قلتم: " كاد زيد يقوم "، و " جعل زيد يقول "، و " أخذ زيد يقول كذا وكذا "، وهذه مواضع لا تقع الأسماء موقعها، لا تقول: " كاد زيد قائما " ولا " جعل زيد قائلا "، ولا " أخذ زيد ذاهبا "؟
قيل له في ذلك وجوه: منها أن " كاد زيد يقوم " في موضع " كاد زيد قائما "، وإن كان لا يستعمل الاسم بعده، كما أن قولك: " عسى زيد أن يقوم " في تقدير " عسى زيد القيام "؛ لأن أن الخفيفة والفعل، بمنزلة المصدر، وفي تقديره وإن كان المصدر غير مستعمل في " عسى "، وكما أن قولك: " لا تأتني فأشتمك " ينتصب على تقدير: فأن أشتمك ولا يجوز إظهاره والتكلم به، وإن كان الفعل معربا على تقديره، كذلك الفعل في " كاد " مرفوع على تقدير وقوعه موقع الاسم، وإن كان الاسم لا يجوز استعماله وإظهاره فيه.
ومنها أن ارتفاع الفعل- في هذه المواضع التي ذكرناها- غير ناقض لما أصّلناه؛ وذلك أنا إذا قلنا: إن الفعل يرتفع، بوقوعه موقع الاسم فلا يلزمنا بهذا ألا يرتفع إلا بوقوعه موقع الاسم، كما أن نقول: إن الفعل ينجزم بلم، وينتصب بلن، ولا يلزمنا ألا ينجزم إلا بلم ولا ينتصب إلا بلن، وذلك إنا إذا ذكرنا أحد العوامل في رفع، أو نصب، أو جزم، لم يلزم ألا يكون في الكلام عامل غيره لذلك الشيء، ولكن يجب متى جعلنا عاملا لشيء من الإعراب في حال، أن نجعله عاملا أين وجد على تلك الشريطة، وبذلك الوصف.
فإن قال قائل: فهبكم غير ناقضين لما أصلتم، ولا تاركين لما قلتم، فلم رفعتم الفعل بعد " كاد " وأخواته اللاتي ذكرناها؟ قيل له في ذلك- غير ما تقدم- وجهان آخران:
أحدهما: أن " كاد " لما لم يكن عاملا في الفعل تعرّى الفعل من العوامل اللفظية، فناسب الأفعال التي تقع مواقع الأسماء، في تعرّيها من ذلك، فرفع بهذه المناسبة.
والوجه الثاني: أن " كاد " لا تستغنى باسمها- إذا أردت هذا المعنى- ولا أخواتها، فأشبه " كان " وأخواتها، و " إن " وأخواتها، وكل ما يحتاج إلى خبر، فرفع الفعل الذي لا يستغني اسم " كاد " عنه، كما رفع في " كان " وأخواتها، وسائر ما ذكرنا.
তাকে বলা হবে: যেহেতু এটি বিশেষ্যের স্থানে অবস্থান করছে, যা কোনো শাব্দিক আমিল নয়, তাই এটি ইবতিদা (বাক্য শুরু করা)-র সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে যা কোনো শাব্দিক আমিল নয়।
যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: আপনারা যদি দাবি করেন যে ক্রিয়াগুলো বিশেষ্যের স্থানে বসার কারণে মারফু হয়, তবে কেন আপনারা বলেন: "কাদা যাইদুন ইয়াকুমু" (যাইদ প্রায় দাঁড়ালো), "জাআলা যাইদুন ইয়াকুলু" (যাইদ বলতে লাগল) এবং "আখাযা যাইদুন ইয়াকুলু কাযা ওয়া কাযা" (যাইদ এই এই বলতে লাগল)? অথচ এগুলি এমন স্থান যেখানে বিশেষ্য বসতে পারে না; কেননা আপনারা বলেন না: "কাদা যাইদুন কায়িমান", কিংবা "জাআলা যাইদুন কায়িলান", অথবা "আখাযা যাইদুন যাহিবান"।
এর উত্তরে কয়েকটি দিক রয়েছে: এর মধ্যে একটি হলো— "কাদা যাইদুন ইয়াকুমু" বাক্যটি মূলত "কাদা যাইদুন কায়িমান"-এর স্থলাভিষিক্ত, যদিও এর পরে বিশেষ্য ব্যবহৃত হয় না। যেমন আপনার কথা: "আসা যাইদুন আন ইয়াকুমা" বাক্যটি "আসা যাইদুন আল-কিয়ামা"-এর সম্ভাব্য অর্থে রয়েছে; কারণ 'আন' এবং ক্রিয়া মিলে মাসদারের (ক্রিয়ামূল) মর্যাদায় থাকে এবং সেই অর্থই প্রদান করে, যদিও মাসদারটি 'আসা'-র ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। এবং যেমন আপনার কথা: "লা তা'তিনী ফা-আশতুমাকা" (আমার কাছে এসো না নতুবা আমি তোমাকে গালি দেব)—এখানে ক্রিয়াটি মানসুব হয়েছে "ফা-আন আশতুমাকা" উহ্য থাকার ভিত্তিতে, যদিও তা প্রকাশ করা বা মুখে উচ্চারণ করা বৈধ নয়; তথাপি ক্রিয়াটি সেই উহ্য অবস্থার ভিত্তিতেই বিভক্তি গ্রহণ করেছে। অনুরূপভাবে, 'কাদা'-র পরবর্তী ক্রিয়াটি বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ভিত্তিতেই মারফু হয়েছে, যদিও সেখানে বিশেষ্য ব্যবহার করা বা প্রকাশ করা জায়েয নয়।
এর মধ্যে আরেকটি দিক হলো— আমরা যে স্থানগুলো উল্লেখ করেছি সেখানে ক্রিয়ার মারফু হওয়া আমাদের মূলনীতির পরিপন্থী নয়। কারণ, আমরা যখন বলি যে ক্রিয়া বিশেষ্যের স্থানে বসার কারণে মারফু হয়, তখন এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে বিশেষ্যের স্থানে বসা ছাড়া তা অন্য কোনোভাবে মারফু হতে পারবে না। যেমন আমরা বলি— ক্রিয়া 'লাম' দ্বারা মাজযুম হয় এবং 'লান' দ্বারা মানসুব হয়; কিন্তু এর মানে এই নয় যে ক্রিয়া কেবল 'লাম' দ্বারাই মাজযুম হবে অথবা কেবল 'লান' দ্বারাই মানসুব হবে। এর কারণ হলো, যখন আমরা রাফা, নাসাব বা জাযম-এর ক্ষেত্রে কোনো একটি আমিল (কারক) উল্লেখ করি, তখন এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে উক্ত বিষয়ের জন্য বাক্যে অন্য কোনো আমিল থাকতে পারবে না। বরং নিয়ম হলো, যখন আমরা কোনো একটি অবস্থাতে কোনো বিষয়কে ইরাবের আমিল হিসেবে নির্ধারণ করি, তখন সেই শর্ত ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে যেখানেই তাকে পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে আমিল হিসেবে গণ্য করতে হবে।
যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: ধরে নিলাম আপনারা আপনাদের মূলনীতি ভঙ্গ করেননি এবং আপনাদের বক্তব্য ত্যাগ করেননি, তবে আপনারা 'কাদা' এবং এর সমগোত্রীয় যে শব্দগুলো আমরা উল্লেখ করেছি সেগুলোর পরে ক্রিয়াকে কেন মারফু করেছেন? এর উত্তরে—পূর্বে যা বলা হয়েছে তা ছাড়াও—আরও দুটি দিক রয়েছে:
একটি হলো: যেহেতু 'কাদা' সরাসরি ক্রিয়ার ওপর আমিল নয়, তাই ক্রিয়াটি শাব্দিক আমিলসমূহ থেকে মুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে শাব্দিক আমিল থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সেইসব ক্রিয়ার সদৃশ হয়েছে যেগুলো বিশেষ্যের স্থানে বসে থাকে। এই সাদৃশ্যের কারণেই একে মারফু করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দিকটি হলো: যখন আপনি এই অর্থটি প্রকাশ করতে চাইবেন, তখন 'কাদা' বা এর সমগোত্রীয় ক্রিয়াগুলো কেবল তাদের ইসিমের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় না; ফলে এটি 'কানা' ও এর সমগোত্রীয় এবং 'ইন্না' ও এর সমগোত্রীয় শব্দসমূহের সদৃশ হয়েছে, যাদের প্রত্যেকেরই খবরের (সংবাদ) প্রয়োজন হয়। সুতরাং যে ক্রিয়াটি ছাড়া 'কাদা'-র ইসিমটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না তাকে মারফু করা হয়েছে, যেমনটি 'কানা' ও এর সমগোত্রীয় এবং আমাদের উল্লিখিত অন্যান্য ক্ষেত্রে মারফু করা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কিতাবি সীবওয়াইহ লিস-সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ووجه ثالث أيضا: وهو أن " كاد زيد يفعل " إنما أصله: " يفعل زيد "، ودخلت كاد تقريبا لهذا بعينه، ومشارفة له، ولم يكن مما يجوز أن يعمل فيه فبقي على أصله.
فإن قال قائل: فلم رفعتم الفعل بعد السين وسوف ولا يقع الاسم بعدها؟ قيل له:
السين وسوف إذا دخلا على الفعل صارا من صيغة الفعل بمنزلة الألف واللام إذا دخلا على الاسم، وذلك أنهما إذا دخلا على الفعل خلصاه للمستقبل بعينه كتخليص الألف واللام الاسم لواحد بعينه، ولم يدخلا لتغيير معنى فيما دخلا عليه، وإنما دخلا لتحصيل المعنى لنا، وتعريفه إيانا، ولم يتغير المعنى في نفسه، وإنما العوامل هي الأشياء التي تدخل على الألفاظ بعد حصول معانيها، فتقرها على ما كان يعرفه المخاطب من معانيها، فاعرف ذلك إن شاء
الله.
فإن قال قائل: بماذا تنصبون الأفعال المضارعة؟ قيل له: جملة ما ينصب به الأفعال المضارعة أربعة أحرف، وهي: أن الخفيفة، ولن، وكي، وإذن، أما أن الخفيفة فهي أم الحروف في هذا الباب، والغالبة عليه، والقوية فيه، وهي إذا وقعت على الأفعال المضارعة خلصتها للاستقبال ونصبتها، فأما علة نصبها، فمن قيل أن " أن " وما بعدها من الفعل بمنزلة المصدر كما أن " إنّ " المشددة وما بعدها من الاسم والخبر، بمنزلة اسم واحد، فلما كانت المشددة ناصبة للاسم جعلت هذه ناصبة الفعل.
فإن قال قائل: فلم لا تنصبون بما، إذا جعلتموها والفعل كالمصدر في قولك:
" يعجبني ما تصنع "؟ فإن الجواب في ذلك: أن أصحابنا قد اختلفوا في " ما " إذا كان الفعل بعدها، فكان الأخفش (1) لا يجيز أن تكون " ما " إلا اسما، إذا كانت كذلك، فإن كانت معرفة فهي بمنزلة " الذي " عنده والفعل في صلتها، كما يكون في صلة " التي " فترفع كما يرفع الفعل إذا وقع صلة للذي، أو تكون نكرة في تقدير شيء، فيكون الفعل صفة لها فيرتفع كما يرتفع الفعل إذا كان صفة لشيء لا يجعلها حرفا، مثل " أن " فلا يلزمه هذا السؤال.
وأما سيبويه فقد أجاز أن تكون " ما " بمنزلة " أن " ويكون الفعل الذي بعدها صلة
--------------------------------------------
একটি তৃতীয় দিকও রয়েছে: আর তা হলো, "যাইদ করতে উদ্যত হয়েছে" এর মূল রূপ হলো: "যাইদ করছে", আর 'উদ্যত হওয়া' শব্দটি এখানে কেবল আসন্নতা এবং নিকটবর্তী হওয়া বোঝাতে যুক্ত হয়েছে। এটি এমন কোনো বিষয় ছিল না যা আমল (প্রভাব বিস্তার) করার যোগ্যতা রাখে, তাই এটি তার মূল অবস্থাতেই রয়ে গেছে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: তবে আপনারা 'সিন' এবং 'সাওফা' এর পরে ক্রিয়াকে কেন রফ' (পেশ) প্রদান করেন, অথচ এগুলোর পরে কোনো বিশেষ্য (ইসম) বসে না? তাকে বলা হবে:
'সিন' এবং 'সাওফা' যখন ক্রিয়ার ওপর যুক্ত হয়, তখন সেগুলো ক্রিয়ার গঠনের এমন অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয় যেমনটি 'আলিফ-লাম' বিশেষ্যের ওপর যুক্ত হলে হয়। বিষয়টি হলো, তারা যখন ক্রিয়ার ওপর প্রবেশ করে তখন তারা ক্রিয়াটিকে নির্দিষ্টভাবে ভবিষ্যতের জন্য সুনির্দিষ্ট করে দেয়, ঠিক যেমন 'আলিফ-লাম' কোনো বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিতে সীমাবদ্ধ করে। তারা যে শব্দের ওপর প্রবেশ করেছে তার অর্থ পরিবর্তনের জন্য প্রবেশ করেনি, বরং আমাদের কাছে অর্থের স্পষ্টতা অর্জন এবং আমাদের তা জানানোর জন্য প্রবেশ করেছে; অর্থের নিজস্ব সত্তায় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। মূলত আমেল (প্রভাব বিস্তারকারী) হলো সেই সব বস্তু যা শব্দের অর্থ নির্ধারিত হওয়ার পর তার ওপর প্রযুক্ত হয়, এবং সম্বোধিত ব্যক্তি অর্থের যে রূপটি চেনে সে অনুযায়ী তা বহাল রাখে। ইনশাআল্লাহ, আপনি এটি জেনে নিন।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনারা কীসের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াগুলোকে (মুজারি) নসব (যবর) প্রদান করেন? তাকে বলা হবে: মুজারি ক্রিয়াকে নসব প্রদানকারী মোট বর্ণ হলো চারটি, সেগুলো হলো: হালকা 'আন', 'লান', 'কাই' এবং 'ইযান'। হালকা 'আন' হলো এই অধ্যায়ের মূল ভিত্তি, এর ওপর প্রভাবশালী এবং এতে শক্তিশালী। এটি যখন মুজারি ক্রিয়ার ওপর বসে তখন তাকে ভবিষ্যতের জন্য সুনির্দিষ্ট করে এবং নসব প্রদান করে। এর নসব প্রদানের কারণ সম্পর্কে বলা হয় যে, 'আন' এবং তার পরবর্তী ক্রিয়াটি একটি মাসদারের (ক্রিয়ামূল) স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমনটি তাশদীদযুক্ত 'ইন্না' এবং তার পরবর্তী বিশেষ্য ও খবর একটি বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়। যেহেতু তাশদীদযুক্ত 'ইন্না' বিশেষ্যকে নসব প্রদানকারী, তাই একেও ক্রিয়ার নসব প্রদানকারী করা হয়েছে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: তবে আপনারা 'মা' (মাসদারিয়া) এর মাধ্যমে কেন নসব প্রদান করেন না, যখন আপনারা তাকে এবং তার পরবর্তী ক্রিয়াকে মাসদারের মতো গণ্য করেন? যেমন আপনার উক্তি:
"তোমার কাজ আমাকে মুগ্ধ করে"। এর উত্তর হলো: আমাদের পণ্ডিতগণ 'মা' এর পরে ক্রিয়া থাকলে তার প্রকৃতি নিয়ে মতভেদ করেছেন। আখফাশ (১) মনে করতেন যে, এই অবস্থায় 'মা' কেবলমাত্র একটি বিশেষ্য (ইসম) হতে পারে। যদি এটি এমন হয়, তবে সেটি মারেফা (নির্দিষ্ট) হলে তার নিকট তা 'আল্লাযি'-এর সমপর্যায়ভুক্ত হবে এবং ক্রিয়াটি তার সিলাহ (সংযোজক অংশ) হবে, যেমনটি 'আল্লাতি'-এর ক্ষেত্রে হয়। ফলে ক্রিয়াটি রফ' প্রাপ্ত হবে যেমন 'আল্লাযি'-এর সিলা হলে ক্রিয়া রফ' প্রাপ্ত হয়। অথবা সেটি নাকেরা (অনির্দিষ্ট) হিসেবে কোনো কিছুর স্থলাভিষিক্ত হবে এবং ক্রিয়াটি তার গুণ (সিফাত) হবে; ফলে ক্রিয়াটি রফ' প্রাপ্ত হবে যেমন কোনো কিছুর গুণ হলে ক্রিয়া রফ' প্রাপ্ত হয়। তিনি একে 'আন'-এর মতো বর্ণ (হরফ) হিসেবে গণ্য করেন না, তাই তার ওপর এই প্রশ্নটি আসে না।
আর সিবওয়াইহ এটিকে জায়েয রেখেছেন যে, 'মা' শব্দটি 'আন'-এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে এবং তার পরবর্তী ক্রিয়াটি সিলাহ হবে।
--------------------------------------------