(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: -)
شرح المكودي على الألفية في علمي الصرف والنحو   (المكودي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرح المكودي على الألفية في علمي النحو والصرف للإمام جمال الدين محمد بن عبد الله بن مالك الطائي الجياني الأندلسي المالكي (ت 672 هـ)

المؤلف: أبو زيد عبد الرحمن بن علي بن صالح المكودي (ت 807 هـ)

المحقق: الدكتور عبد الحميد هنداوي (مدرس البلاغة والنقد الأدبي والأدب المقارن بكلية دار العلوم - جامعة القاهرة)

الناشر: المكتبة العصرية، بيروت - لبنان

عام النشر: 1425 هـ - 2005

عدد الصفحات: 402

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 12 محرم 1438

সারফ ও নাহু শাস্ত্রে আলফিয়্যাহ-র ওপর আল-মাকুদীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ   (আল-মাকুদী)

বিভাগ: নাহু ও সারফ


গ্রন্থ: ইমাম জামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক আত-তায়ি আল-জাইয়ানি আল-আন্দালুসি আল-মালিকি (মৃত্যু ৬৭২ হি.) এর নাহু ও সারফ শাস্ত্রের আলফিয়্যাহ-র ওপর আল-মাকুদীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ

লেখক: আবু যাইদ আব্দুর রহমান বিন আলী বিন সালিহ আল-মাকুদী (মৃত্যু ৮০৭ হি.)

সম্পাদক: ডক্টর আব্দুল হামিদ হিন্দাভি (অলঙ্কারশাস্ত্র, সাহিত্য সমালোচনা এবং তুলনামূলক সাহিত্যের শিক্ষক, দারুল উলুম অনুষদ - কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়)

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

প্রকাশকাল: ১৪২৫ হি. - ২০০৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১২ মুহররম ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: -)
شرح المكودي على الألفية في علمي النحو والصرف

للإمام جمال الدين محمد بن عبد الله بن مالك الطائي الجياني الأندلسي المالكي

 

تأليف

أبي زيد عبد الرحمن بن علي بن صالح المكودي المتوفى سنة 807 هـ

 

تحقيق

الدكتور عبد الحميد هنداوي

مدرس البلاغة والنقد الأدبي والأدب المقارن بكلية دار العلوم - جامعة القاهرة

 

المكتبة العصرية
নাহু ও সরফ শাস্ত্রের আলফিয়্যাহর ওপর আল-মাকুদীর ব্যাখ্যা

ইমাম জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আত-তাঈ আল-জাইয়্যাহনি আল-আন্দালুসী আল-মালিকী-এর মূল পাঠের

 

রচনায়

আবু যায়েদ আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে সালিহ আল-মাকুদী, মৃত্যু ৮০৭ হিজরি

 

সম্পাদনায়

ডক্টর আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ী

কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম অনুষদের অলঙ্কারশাস্ত্র, সাহিত্য সমালোচনা ও তুলনামূলক সাহিত্যের শিক্ষক

 

আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ (আধুনিক প্রকাশনী)
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة المحقق

بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله الذى أنزل الكتاب تبيانا، وأصلى وأسلم على أفصح الخلق بيانا، محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان.

وبعد ..

فإن ألفية الإمام محمد بن مالك قد بلغت شهرتها الآفاق، وانتهت إليها همة الطلاب والحذّاق، فلا غرو أن تكثر شروحها وتتعدد مناهج شراحها ما بين مطول ومقصر، وما بين مسهب ومختصر، ومفرط ومقتصد.

وإذا كان خير الأمور أوسطها؛ فإن شرح المكودى «*» هذا يعد من أوسط هذه الشروح حيث سلك صاحبه طريقة وسطا بين الإسهاب الممل والاختصار المخل، فكان شرحه قصدا وسطا بين شروح الألفية على كثرتها.

هذا، ولم نأل جهدا فى ضبط هذا الكتاب، وتخريج شواهده فى مظانها من كتب اللغة والنحو، مع الاجتهاد فى توجيهها وبيان محل الشاهد فيها، فيما تدعو الحاجة إلى بيانه.

وقد اعتمدنا فى تخريج شواهد هذا الكتاب وتوجيهها بصورة كلية على المعجم المفصل فى شواهد النحو.

--------------------------------------------

(*) هو أبو زيد عبد الرحمن بن على بن صالح المكودى الفاسى المالكى، نحوى، صرفى، لغوى، توفى بفاس فى الحادى عشر من شعبان سنة ثمانمائه وسبع من الهجرة، وذكر فى الضوء اللامع أن وفاته كانت سنة ثمانمائة وواحدة، وفى الشذرات والنور السافر أنه توفى سنة تسعمائة وواحدة. ومن مصنفاته: كتابه هذا فى شرح الألفية، ونظم المعرب والألفاظ، والبسط والتعريف فى التصريف، والمقصورة فى مدحه صلى الله عليه وسلم، وعمدة البيان فى معرفة فرائض الأعيان. انظر ترجمته فى بغية الوعاة للسيوطى ص 300، والضوء اللامع للسخاوى 4/ 97، والنور السافر للعيدروسى ص 13، وشذرات الذهب لابن العماد الحنبلى 8/ 4، وكشف الظنون لحاجى خليفة ص 152 - 1166، وهدية العارفين 1/ 529.
গবেষকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যারূপে, এবং আমি সালাত ও সালাম পেশ করছি সৃষ্টির সবচেয়ে বাকপটু ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন সবার উপর।

অতঃপর...

নিশ্চয়ই ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ্-এর খ্যাতি দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থী ও বিদগ্ধজনদের একাগ্রতা এর প্রতি নিবদ্ধ হয়েছে। সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ অনেক এবং সেগুলোর ব্যাখ্যাকারীদের পদ্ধতিও বহুবিধ—দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্তের মাঝে, বিশদ ও সারসংক্ষেপের মাঝে এবং অতিশয় ও মিতাচারের মাঝে।

যদি সর্বোত্তম বিষয় হয় মধ্যমপন্থা; তবে মাকূদীর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সেই মধ্যমপন্থার অন্তর্ভুক্ত। কারণ এর লেখক এক মধ্যম পথ অবলম্বন করেছেন, যা বিরক্তিজনক দীর্ঘায়ন এবং অসম্পূর্ণ সংক্ষিপ্তকরণের মাঝামাঝি। তাই আলফিয়্যাহর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থের মধ্যে এটি একটি মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী ব্যাখ্যা।

এই কিতাবটির বিশুদ্ধ পাঠ নিশ্চিত করতে এবং ভাষা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রের মূল উৎসসমূহ থেকে এর উদাহরণগুলোর (শাওয়াহিদ) তথ্যসূত্র উদ্ধারে আমরা কোনো ত্রুটি করিনি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর দিকনির্দেশনা প্রদান এবং উদাহরণের মূল লক্ষ্য ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।

এই কিতাবের উদাহরণগুলোর উৎস নির্ধারণ এবং সেগুলোর দিকনির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা মূলত 'আল-মু'জামুল মুফাসসাল ফী শাওয়াহিদিল নাহু'-এর ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করেছি।

--------------------------------------------

(*) তিনি হলেন আবু যায়েদ আবদুর রহমান ইবনে আলী ইবনে সালিহ আল-মাকূদী আল-ফাসী আল-মালিকী; একজন নাহুবিদ, সরফবিদ ও ভাষাবিদ। তিনি হিজরী ৮০৭ সালের ১১ই শাবান ফাস নগরীতে ইন্তেকাল করেন। 'আদ-দাওউল লামি' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৮০১ হিজরীতে, আবার 'আশ-শাযারাত' ও 'আন-নূরুস সাফির' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে তিনি ৯০১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: আলফিয়্যাহর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি, নাযমুল মু'রাব ওয়াল আলফায, আল-বাসত ওয়াত তারিফ ফিত তাসরিফ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় আল-মাকসূরাহ এবং উমদাতুল বায়ান ফী মা'রিফাতি ফারাইযিল আইয়ান। তাঁর জীবনী দেখুন: সুয়ূতী রচিত বুগয়াতুল উয়াত পৃষ্ঠা ৩০০, সাখাবী রচিত আদ-দাওউল লামি ৪/৯৭, আইদারুসী রচিত আন-নূরুস সাফির পৃষ্ঠা ১৩, ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী রচিত শাযারাতুয যাহাব ৮/৪, হাজী খলীফা রচিত কাশফুয যুনুন পৃষ্ঠা ১৫২ - ১১৬৬ এবং হাদিয়াতুল আরিফীন ১/৫২৯।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ৪)
هذا، والله نسأل أن يجزل لنا المثوبة على عملنا كله دقّه وجلّه، وأن ينفع به عباده، وأن يثيب عنّا كل من ساعد فى إخراجه بجهد مشكور فى ضبطه أو مراجعته أو تخريجه أو غير ذلك، إنه سبحانه وتعالى واسع الفضل، وإنه سميع مجيب.

الجيزة فى 27 ربيع الثانى 1421 هـ

والموافق 28 أغسطس 2000 م

الدكتور عبد الحميد هنداوى
এটিই পরিশেষ, আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সমস্ত কাজের—তার ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সবটুকুর জন্য—বিপুল সওয়াব দান করেন, এবং এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের উপকৃত করেন। আর আমাদের পক্ষ থেকে তিনি যেন সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রতিদান দান করেন, যিনি এর প্রকাশনায় প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে এর সম্পাদনা, পর্যালোচনা, তথ্যসূত্র যাচাই অথবা অন্য কোনো কাজে সহায়তা করেছেন; নিশ্চয়ই তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা অসীম অনুগ্রহের অধিকারী এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

গিজা, ২৭ রবিউস সানি ১৪২১ হিজরি

মোতাবেক ২৮ আগস্ট ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

ড. আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ি
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة الشارح]

قال الشيخ الأستاذ النحوى المحقق المقرئ اللغوى أبو زيد عبد الرحمن بن على بن صالح المكودى أبقى الله بركته بمنه وفضله وكرمه ونفعنا الله به آمين.

الحمد لله رب العالمين وصلاته وسلامه على سيدنا محمد خاتم النبيين وإمام المرسلين والرضا عن آله وأصحابه الهادين المهتدين.

أما بعد فهذا شرح مختصر على ألفية ابن مالك مهذب المقاصد، واضح المسالك، تفهم به ألفاظها، ويحظى بمعانيها حفاظها، معرب عن إعراب أبياتها، ومقرب لما شرد من عباراتها من غير تعرض للنقل عليها ولا إضافة غيرها إليها ولا إنشاد شواهد إلا ما لا بد منه ولا إيراد مذاهب إلا ما لا مندوحة عنه يستفيد به البادى ويستحسنه الشادى والباعث على ذلك أن بعض الطلبة المبتدئين والفئة المجتهدين المعتنين بحفظها القانعين بمعرفة لفظها طلب منى أن أضع شرحا على نحو ما ذكرته وأبين ألفاظها ومعانيها على حسب ما وصفته فأجبته إلى ما اقترح على وأسعفته بما أمّل لدى.

والله سبحانه وتعالى ينفعنا وإياه بالعلم ويرزقنا وإياه سلامة الإدراك والفهم بمنّه وكرمه آمين.
[ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা]

শেখ, উস্তাদ, ব্যাকরণবিদ, গবেষক, কারী ও ভাষাতত্ত্ববিদ আবু যায়েদ আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে সলিহ আল-মাকুদী (আল্লাহ তাঁর করুণা, অনুগ্রহ ও বদান্যতায় তাঁর বরকত অবশিষ্ট রাখুন এবং আমাদের তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন, আমিন) বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ—নবীগণের মোহর ও রাসূলগণের ইমামের ওপর। আর তাঁর পরিবার-পরিজন ও হিদায়েতদানকারী ও হিদায়েতপ্রাপ্ত সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, এটি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার উদ্দেশ্যসমূহ পরিমার্জিত এবং পথসমূহ স্পষ্ট। এর দ্বারা এর শব্দগুলো বোঝা যাবে এবং যারা এটি মুখস্থকারী তারা এর অর্থসমূহ দ্বারা ধন্য হবে। এটি এর পংক্তিগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ই’রাব) বর্ণনাকারী এবং এর জটিল অভিব্যক্তিগুলোকে সহজবোধ্যকারী। এতে অতিরিক্ত কোনো উদ্ধৃতি আনা হয়নি, অন্য কিছু যুক্ত করা হয়নি, এবং একান্ত অপরিহার্য না হলে কোনো কাব্যিক প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি এবং বিকল্প না থাকলে কোনো মতভেদ উপস্থাপন করা হয়নি। এর মাধ্যমে শিক্ষানবিশরা উপকৃত হবে এবং জ্ঞানান্বেষীগণ একে পছন্দ করবে। এর কারণ হলো, কতিপয় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী এবং পরিশ্রমী একদল—যারা এটি মুখস্থ করার প্রতি মনোযোগী এবং এর শব্দগুলো জানার মাধ্যমেই তুষ্ট—আমার কাছে অনুরোধ করেছিল যেন আমি বর্ণিত পদ্ধতিতে একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি এবং এর শব্দ ও অর্থসমূহ সুস্পষ্ট করি। ফলে আমি তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছি এবং আমার নিকট তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেছি।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের এবং তাদেরকে ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করুন এবং আমাদের ও তাদেরকে সঠিক উপলব্ধি ও বুঝ দান করুন। আমীন।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ৬)
قال محمّد هو ابن مالك … أحمد ربّى الله خير مالك

مصلّيا على النّبىّ المصطفى … وآله المستكملين الشّرفا

وأستعين الله فى ألفيّه … مقاصد النّحو بها محويّه

تقرّب الأقصى بلفظ موجز … وتبسط البذل بوعد منجز

وتقتضى رضا بغير سخط … فائقة ألفيّة ابن معط

وهو بسبق حائز تفضيلا … مستوجب ثنائى الجميلا

والله يقضى بهبات وافره … لى وله فى درجات الآخره

قال فعل ماض لفظا والمراد به الاستقبال، ووضع الماضى فى موضع المستقبل وارد فى كلام العرب كقوله عز وجل: أَتى أَمْرُ اللَّهِ [النحل: 1] ومحمد اسم الناظم- رحمه الله وهو جمال الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن مالك الطائى النسب الأندلسى الإقليم الجيانى المنشأ الدمشقى الدار، وبها توفى لاثنتى عشرة ليلة خلت من شعبان سنة اثنتين وسبعين وستمائة وهو ابن خمس وسبعين سنة. وقوله هو ابن مالك جملة من مبتدأ وخبر معترضة بين قال ومحكيه، وأحمد فعل مضارع من حمد وربى مفعول والله بدل منه وخير مالك بدل بعد بدل

ومصليا حال من فاعل أحمد وعلى الرسول متعلق به والمصطفى مفتعل من الصفو وهو الخالص والمستكملين صفة لآله والشرفا مفعول بالمستكملين وأستعين جملة معطوفة على أحمد وما بعده محكى يقال إلى آخر الرجز. وقوله فى ألفية أى فى نظم قصيدة ألفية والظاهر أن فى بمعنى على فإن الاستعانة وما تصرف منها إنما جاءت متعدية بعلى كقوله تعالى: وَأَعانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ [الفرقان: 4]؛ وَاللَّهُ الْمُسْتَعانُ عَلى ما تَصِفُونَ [يوسف: 18]؛ إلا أن يجعل أستعين مضمنا معنى فعل يتعدى بفى كأستخير وشبهه. ومقاصد النحو أى معظم النحو وجل مهماته والقصد فى الشئ عدم الإفراط فيه ومحوية أى مجموعة وهو خبر عن مقاصد وبها متعلق به والباء بمعنى فى وتقرب الأقصى أى تقرب البعيد للأفهام والموجز الكلام الكثير المعانى القليل الألفاظ وتبسط البذل أى توسع العطاء والوعد المنجز الموفى بسرعة وتقتضى رضا أى تطلب الرضا من قارئها غير المشوب بالسخط وفائقة منصوب على الحال من فاعل تقتضى وألفية منصوب بفائقة وهو مبتدأ مخبر عنه بخبرين وهما حائز ومستوجب وثنائى مفعول بمستوجب والجميلا صفته والله يقضى أى يحكم والهبات العطايا والوافرة الكثيرة والدرجات الطبقات من المراتب.
মুহাম্মদ বললেন, যিনি মালিকের পুত্র … আমি আমার রব আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক।

মনোনীত নবীর ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায় … এবং তাঁর পরিবারের ওপর যারা পূর্ণ মর্যাদা লাভ করেছেন।

এবং আমি এই আলফিয়্যার বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি … যাতে নাহুর (ব্যাকরণের) উদ্দেশ্যসমূহ সংকলিত হয়েছে।

এটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে দূরবর্তী জটিল বিষয়কে নিকটবর্তী করে দেয় … এবং দ্রুত প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দানকে প্রশস্ত করে।

এটি অসন্তুষ্টিহীন সন্তুষ্টি দাবি করে … যা ইবনে মু'তির আলফিয়্যার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

আর তিনি অগ্রগামী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী … এবং আমার পক্ষ থেকে সুন্দর প্রশংসার দাবিদার।

আল্লাহ যেন আমাকে এবং তাঁকে আখিরাতের উচ্চতর স্তরে … প্রচুর পুরস্কার প্রদান করেন।

'বললেন' (ক্বলা) শব্দটি শাব্দিক দিক থেকে অতীতকালীন ক্রিয়া, তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যৎকাল। ভবিষ্যৎকালের স্থলে অতীতকালীন ক্রিয়া ব্যবহার করা আরবদের বাকরীতিতে প্রচলিত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'আল্লাহর আদেশ এসে পড়েছে' [নাহল: ১]। আর 'মুহাম্মদ' হলো গ্রন্থকারের নাম—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—তিনি হলেন জামালুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক আত-ত্বয়ী বংশীয়, আন্দালুস অঞ্চলের, জিয়ান নগরীতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং দামেশক ছিল তাঁর আবাসস্থল। তিনি দামেশকেই ৬৬৭ হিজরি সালের ১২ই শাবান রাতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর। তাঁর উক্তি 'তিনি মালিকের পুত্র' বাক্যটি মুক্তাদা ও খবর নিয়ে গঠিত একটি মধ্যবর্তী বাক্য (জুমলা মু'তারিযা), যা 'বললেন' এবং তার বক্তব্যের মাঝে অবস্থিত। 'আমি প্রশংসা করছি' (আহমাদু) শব্দটি 'হামদ' থেকে উৎপন্ন বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, 'আমার রব' (রাব্বি) হলো এর কর্ম (মাফউল), 'আল্লাহ' শব্দটি এর থেকে বদল এবং 'সর্বোত্তম মালিক' হলো দ্বিতীয় বদল।

'দরুদ পাঠরত অবস্থায়' (মুসাল্লিয়ান) শব্দটি 'আহমাদু' এর কর্তার অবস্থা (হাল), এবং 'রাসূলের ওপর' এর সাথে সম্পর্কিত। 'মনোনীত' (আল-মুস্তাফা) শব্দটি 'সাফউ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ খাঁটি। 'পূর্ণ অর্জনকারী' (আল-মুস্তাকমিলিন) শব্দটি তাঁর পরিবারের গুণবাচক শব্দ এবং 'মর্যাদা' (আশ-শারাফা) হলো 'আল-মুস্তাকমিলিন' এর কর্ম। 'আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি' (আস্তাইন) বাক্যটি 'আহমাদু' এর ওপর সমিলিত এবং পরবর্তী অংশটি বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত, যা এই পদ্যের শেষ পর্যন্ত পঠিত হয়। তাঁর উক্তি 'আলফিয়্যার মধ্যে' অর্থাৎ এক হাজার চরণের কবিতা রচনার বিষয়ে। প্রকাশ্যত এখানে 'মধ্যে' (ফি) অব্যয়টি 'উপরে/ব্যাপারে' (আলা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ সাহায্য প্রার্থনা এবং এর থেকে উৎপন্ন শব্দগুলো সাধারণত 'আলা' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'অন্য এক সম্প্রদায় তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে' [ফুরকান: ৪]; 'তোমরা যা বর্ণনা করছ সে বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল' [ইউসুফ: ১৮]। তবে যদি 'আস্তাইন' শব্দটিকে এমন কোনো ক্রিয়ার অর্থভুক্ত করা হয় যা 'ফি' দ্বারা ব্যবহৃত হয়, যেমন 'আমি কল্যাণ প্রার্থনা করছি' বা এই জাতীয়, তবে তা ভিন্ন। 'নাহুর উদ্দেশ্যসমূহ' বলতে নাহুর অধিকাংশ এবং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি বোঝানো হয়েছে। কোনো বিষয়ে 'কাসদ' মানে তাতে বাড়াবাড়ি না করা। 'সংকলিত' (মাহবিয়্যাহ) মানে একত্রিত, এটি 'উদ্দেশ্যসমূহ' এর সংবাদ (খবর) এবং 'তার মাধ্যমে' অংশটি এর সাথে সম্পর্কিত, যেখানে 'বা' অক্ষরটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত। 'দূরবর্তীকে নিকটবর্তী করে' অর্থাৎ যা বুঝা কঠিন তা বোধগম্য করে তোলে। 'সংক্ষিপ্ত' (মউজিয) হলো এমন কথা যার শব্দ কম কিন্তু অর্থ অনেক। 'দানকে প্রশস্ত করে' অর্থাৎ প্রদানের ব্যাপকতা বৃদ্ধি করে। 'ত্বরিত প্রতিশ্রুতি' মানে যা দ্রুত পূর্ণ করা হয়। 'সন্তুষ্টি দাবি করে' অর্থাৎ এর পাঠকের নিকট থেকে এমন সন্তুষ্টি চায় যা অসন্তুষ্টির সংমিশ্রণহীন। 'শ্রেষ্ঠ' (ফায়িক্বাতান) শব্দটি 'দাবি করে' এর কর্তার অবস্থা হিসেবে 'নাসব' প্রাপ্ত। 'আলফিয়্যাহ' শব্দটি 'শ্রেষ্ঠ' এর কর্ম হিসেবে 'নাসব' প্রাপ্ত। 'তিনি' (হুয়া) হলো মুক্তাদা, যার দুটি খবর রয়েছে—'অর্জনকারী' এবং 'দাবিদার'। 'আমার প্রশংসা' হলো 'দাবিদার' এর কর্ম এবং 'সুন্দর' হলো তার গুণবাচক শব্দ। 'আল্লাহ ফয়সালা করেন' অর্থাৎ তিনি হুকুম দেন। 'পুরস্কারসমূহ' (হিবাত) হলো দানসমূহ, 'প্রচুর' (ওয়াফিরাহ) হলো অধিক, এবং 'স্তরসমূহ' (দারাজাত) হলো মর্যাদার বিভিন্ন ধাপ।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الكلام وما يتألف منه

الكلام خبر مبتدأ مضمر وهو على حذف مضاف وما موصولة واقعة على الكلم والضمير العائد عليها من الصلة هو المجرور بمن وفاعل يتألف ضمير عائد على الكلام والتقدير هذا باب الكلام والأشياء التى يتألف منها الكلام وهى الكلم ولو قال وما يتألف منها مراعاة لما وقعت عليه ما جاز ثم قال:

كلامنا لفظ مفيد كاستقم … واسم وفعل ثم حرف الكلم

قوله كلامنا يعنى الكلام عند النحويين فاكتفى عن ذلك بإضافته إلى الضمير الدال على المتكلم ومعه غيره وهو نا وقوله لفظ مخرج لما ليس بلفظ كالإشارة وقوله مفيد مخرج لما لا فائدة فيه كقولنا النار حارة وشمل قوله مفيد الفائدة التى يحسن السكوت عليها وهى التركيبية وفائدة دلالة الاسم على مسماه كزيد ولذلك احتاج إلى إخراج الثانى بقوله كاستقم فالمثال تتميم للحد وفاقا للشارح لا مثال بعد تمام الحد خلافا للمرادى وقوله واسم وفعل ثم حرف الكلم. الكلم مبتدأ وخبره مقدم عليه وهو اسم وفعل ثم حرف والمراد أسماء وأفعال وحروف وثم بمعنى الواو وليست على بابها من المهلة لتأخر رتبة الحرف عن الاسم والفعل كما قيل وقد بسطت الكلام على ذلك فى غير هذا المختصر ثم قال:

واحده كلمة والقول عمّ … وكلمة بها كلام قد يؤمّ

أى واحد الكلم كلمة والكلم اسم جنس مما يفرق بينه وبين مفرده بسقوط التاء وهذا النوع يجوز تذكيره وتأنيثه فلذلك قال واحده وقال ابن معطى واحدها. قوله والقول عم يعنى أن القول يطلق على ما ذكر من الكلام والكلم والكلمة وهو مبتدأ وعم فعل ماضى فى موضع الخبر وحذف مفعوله اختصارا وتقديرا عم جميع ما ذكر. وقوله وكلمة بها كلام قد يؤم يعنى أن الكلمة يقصد بها الكلام ويعنى بذلك فى اللغة لا فى الاصطلاح كقوله فى لفظ الشهادة كلمة وهو من باب تسمية الشئ باسم بعضه وجاز الابتداء بكلمة للتنويع لأنه نوعها إلى كونها إحدى الكلم وإلى كونها يقصد بها الكلام وخبرها فى الجملة بعدها وبها متعلق بيؤم ومعنى يؤم يقصد ثم قال:
কালাম এবং যা দ্বারা এটি গঠিত হয়

এখানে 'কালাম' শব্দটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর। এটি একটি উহ্য মুদাফ হিসেবে আছে। আর 'মা' (ما) শব্দটি ইসমে মাওসুল যা 'কালিম' (শব্দসমূহ) বুঝাচ্ছে। 'মিন' (من) হরফে জরের মাধ্যমে যে যমীরটি ফিরেছে তা 'মা' এর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। আর 'ইয়াতাআল্লাফু' (يتألف) ক্রিয়ার ফায়েলটি 'কালাম' এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী যমীর। এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো: "এটি কালাম এবং যেসব বস্তু দ্বারা কালাম গঠিত হয় তাদের অধ্যায়", আর সেই বস্তুগুলো হলো 'কালিম'। যদি তিনি 'যা দ্বারা সেগুলো গঠিত হয়' (وَمَا يَتَأَلَّفُ مِنْهَا) বলতেন, তবে 'মা' যে বস্তুর ওপর পতিত হয়েছে তার প্রতি লক্ষ্য রেখে তা ব্যাকরণগতভাবে জায়েয হতো। অতঃপর তিনি বললেন:

আমাদের কালাম হলো এমন অর্থপূর্ণ শব্দ যেমন ‘ইস্তাকিম’ (তুমি সোজা হও)... আর ইসম, ফে’ল ও হরফ মিলেই কালিম গঠিত হয়।

তাঁর উক্তি "কালামুনা" (আমাদের কালাম) এর অর্থ হলো নাহুবিদদের পরিভাষায় কালাম। তিনি 'না' (نا) যমীরের দিকে মুদাফ করার মাধ্যমে (যা বক্তা এবং তার সঙ্গীদের বুঝায়) নাহুবিদদের প্রসঙ্গের আবশ্যকতা পূরণ করেছেন। তাঁর উক্তি 'লাফয' (শব্দ) এমন বিষয়গুলোকে বাদ দেয় যা শব্দ নয়, যেমন ইশারা বা সংকেত। আর তাঁর উক্তি 'মুফীদ' (অর্থপূর্ণ) এমন বিষয়কে বাদ দেয় যাতে কোনো উপকার বা ফায়দা নেই, যেমন আমাদের কথা 'আগুন গরম' (যদি তা শ্রোতার জানা থাকে)। 'মুফীদ' শব্দটি এমন ফায়দাকে অন্তর্ভুক্ত করে যার ওপর চুপ থাকা সমীচীন, আর তা হলো গঠনগত (তারকিবি) ফায়দা। আবার এটি কোনো নামের দ্বারা তার সত্তাকে বুঝানোর ফায়দাকেও শামিল করে, যেমন 'যায়েদ' শব্দটি। একারণেই তিনি 'কাসতাকিম' (যেমন: তুমি সোজা হয়ে দাঁড়াও) বলার মাধ্যমে দ্বিতীয় প্রকারটিকে (একক শব্দের অর্থ) বাদ দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছেন। সুতরাং উদাহরণটি এখানে সংজ্ঞার পূর্ণতা দানকারী হিসেবে এসেছে—যেমনটি শারহ্-কার বা ব্যাখ্যাকার একমত হয়েছেন—এটি সংজ্ঞা পূর্ণ হওয়ার পরের কোনো সাধারণ উদাহরণ নয়, যা মুরাদী-র মতের বিপরীত। আর তাঁর উক্তি "ইসমুন ওয়া ফি'লুন ছুম্মা হারফুনিল কালিম" এখানে 'কালিম' শব্দটি মুবতাদা এবং এর খবরটি তার আগে এসেছে, যা হলো 'ইসম, ফে'ল এবং হরফ'। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অনেকগুলো ইসম, অনেকগুলো ফে'ল এবং অনেকগুলো হরফ। আর এখানে 'ছুম্মা' (ثم) শব্দটি 'ওয়াও' (و) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; এটি তার মূল আভিধানিক অর্থ 'বিলম্ব' বা 'পর্যায়ক্রম' বুঝানোর জন্য আসেনি, যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন যে ইসম ও ফে'ল এর তুলনায় হরফের মর্যাদা পরে হওয়ার কারণে এটি আনা হয়েছে। আমি এই সংক্ষিপ্তসার ছাড়া অন্য গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। অতঃপর তিনি বললেন:

কালিমের একক হলো কালিমা এবং কাওল (কথা) সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে... আর কালিমা দ্বারা কখনো কালাম (পুরো বক্তব্য) উদ্দেশ্য হতে পারে।

অর্থাৎ কালিম-এর একক হলো কালিমা। 'কালিম' শব্দটি ইসমে জিনস, যার একক থেকে একে পার্থক্য করা হয় শেষে গোল 'তা' (ة) বিলুপ্ত করার মাধ্যমে। এই প্রকার শব্দ মুযাক্কার (পুরুষবাচক) এবং মুয়ান্নাস (স্ত্রীবাচক) উভয়ই হতে পারে, একারণেই তিনি 'ওয়াহিদুহু' (واحده) বলেছেন, অন্যদিকে ইবনে মু'তী 'ওয়াহিদুহা' (واحدها) বলেছেন। তাঁর উক্তি "ওয়াল কাওলু আম্মা" (আর কাওল ব্যাপক) এর অর্থ হলো 'কাওল' শব্দটি উপরে উল্লিখিত কালাম, কালিম এবং কালিমা সবগুলোর ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। এটি মুবতাদা এবং 'আম্মা' শব্দটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা খবরের স্থানে রয়েছে। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এর মাফউলকে উহ্য রাখা হয়েছে, যার পূর্ণ রূপ হলো 'এটি উল্লিখিত সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে'। আর তাঁর উক্তি "ওয়াকালিমাতুন বিহা কালামুন ক্বাদ ইউআম্মু" এর অর্থ হলো কালিমা দ্বারা কখনো কালাম বা পূর্ণ বক্তব্য উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। এটি লোগাত বা ভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পরিভাষার ক্ষেত্রে নয়; যেমন শাহাদাত বাক্যকে একটি কালিমা বলা হয়। এটি কোনো বস্তুকে তার আংশিক নামে নামকরণ করার রীতি। এখানে 'কালিমাতুন' শব্দটি দ্বারা বাক্য শুরু করা জায়েয হয়েছে প্রকারভেদ বুঝানোর জন্য; কারণ তিনি একে দুই প্রকারে ভাগ করেছেন—একটি হলো কালিম-এর একক হওয়া, আর অন্যটি হলো যার দ্বারা কালাম বা বক্তব্য উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। এর খবর পরবর্তী বাক্যে রয়েছে। 'বিহা' শব্দটি 'ইউআম্মু' এর সাথে সংশ্লিষ্ট, আর 'ইউআম্মু' মানে হলো 'উদ্দেশ্য নেওয়া হয়'। অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮)
بالجرّ والتّنوين والنّدا وأل … ومسند للاسم تمييز حصل

يعنى أن الاسم يمتاز ويتبين بخمسة أشياء الأول الجر وهو عبارة البصريين وعبارة الكوفيين الخفض وشمل الجر بحرف الجر وبالإضافة وبالتبعية الثانى التنوين وهو نون ساكنة زائدة بعد كمال الاسم تفصله عما بعده والمراد به التنوين الخاص بالأسماء وهو تنوين التمكين كرجل وتنوين التنكير كصه وتنوين العوض كيومئذ وتنوين المقابلة كمسلمات.

الثالث النداء وهو الدعاء بيا أو إحدى أخواتها الرابع أل وهى الألف واللام وأل عبارة الخليل وشملت الزائدة نحو اليزيد وغير الزائدة نحو الرجل. الخامس الإسناد وهو المعبر عنه بمسند فإن مسندا يطلق على المصدر وهو اسم مفعول والتقدير وإسناد إليه ويحتمل هذا البيت وجوها كثيرة من الإعراب أظهرها أن يكون تمييز مبتدأ وحصل فى موضع الصفة له وخبره للاسم وبالجر متعلق بحصل والتقدير للاسم تمييز حاصل بكذا ثم قال:

بتا فعلت وأتت ويا افعلى … ونون أقبلنّ فعل ينجلى

يعنى أن الفعل ينجلى أى يظهر بأربعة أشياء الأول تاء فعلت والمراد بها تاء الضمير اللاحقة للفعل الماضى ويجوز ضبطه بالضم على أنها للمتكلم وبالفتح على أنها للمخاطب وبالكسر على أنها للمخاطبة وجميعها خاص بالفعل. الثانى تاء أتت وهى تاء لتأنيث فاعله الثالث ياء افعلى وهى ياء المخاطبة وتلحق الأمر والمضارع الرابع نون أقبلن وهى نون التوكيد وتكون مشددة ومخففة وتلحق أيضا الأمر والمضارع وفعل مبتدأ وسوغ الابتداء به ما ذكر فى كلمة وينجلى خبره وبتا فعلت متعلق بينجلى ثم قال:

سواهما الحرف كهل وفى ولم … فعل مضارع يلى لم كيشم

وماضى الأفعال بالتّا مز وسم … بالنّون فعل الأمر إن أمر فهم

(سواهما الحرف) يعنى أن ما لا يقبل العلامات المذكورة هو حرف فسواهما مبتدأ والحرف خبره ويجوز عكسه وهو الأظهر فإن سوى عند الناظم بمعنى غير فإضافتها لا تعرف ولما كانت الحروف على ثلاثة أقسام مشترك بين الأسماء والأفعال ومختص بالأسماء ومختص بالأفعال أتى لكل واحد من الأقسام بمثال فقال: (كهل وفى ولم) فهل مثال للمشترك وفى مثال للمختص بالاسم ولم مثال للخاص بالفعل ثم قال (فعل مضارع يلى لم
জের, তানউইন, আহ্বান (নিদা), আলিফ-লাম … এবং ইসনাদ-এর মাধ্যমে ইসমের (বিশেষ্যের) স্বাতন্ত্র্য অর্জিত হয়।

এর অর্থ হলো, ইসম বা বিশেষ্য পাঁচটি বিষয়ের মাধ্যমে অন্য শব্দ থেকে পৃথক হয় এবং চেনা যায়। প্রথমটি হলো ‘জার’। এটি বসরী ব্যাকরণবিদদের পরিভাষা, আর কূফী ব্যাকরণবিদদের পরিভাষা হলো ‘খাফদ’। এই ‘জার’ হরফে জারের মাধ্যমে আসা জার, ইদাফাত বা সম্বন্ধের কারণে আসা জার এবং তبعিয়্যাত বা অনুসরণের কারণে আসা জার—সবই অন্তর্ভুক্ত করে। দ্বিতীয়টি হলো ‘তানউইন’। এটি হলো ইসমের পূর্ণতাপ্রাপ্তির পর শেষে যুক্ত হওয়া একটি অতিরিক্ত সাকিনযুক্ত ‘নূন’, যা ইসমকে তার পরবর্তী শব্দ থেকে পৃথক করে। এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই তানউইন যা কেবল ইসমের সাথেই বিশিষ্ট; যেমন: তানউইনে তামকীন (যেমন: রাজুলুন), তানউইনে তানকীর (যেমন: সাহিন), তানউইনে ইওয়াদ (যেমন: ইয়াওমাইযিন) এবং তানউইনে মুকাবালাহ (যেমন: মুসলিমাতুন)।

তৃতীয়টি হলো নিদা বা আহ্বান; অর্থাৎ ‘ইয়া’ বা এর সমজাতীয় কোনো হরফ দ্বারা ডাকা। চতুর্থটি হলো ‘আল’, যা আলিফ ও লাম-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ‘আল’ শব্দটি খলীল ইবনে আহমদের পরিভাষা। এটি অতিরিক্ত ‘আল’ (যেমন: আল-ইয়াযীদ) এবং অ-অতিরিক্ত বা মৌলিক ‘আল’ (যেমন: আর-রাজুলু) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। পঞ্চমটি হলো ইসনাদ, যাকে এখানে ‘মুসনাদ’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। কেননা ‘মুসনাদ’ শব্দটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আবার এটি ইসমে মাফউলও হতে পারে। এর মূল অর্থ হলো তার (ইসমের) দিকে কোনো বিষয়কে সম্বন্ধ করা। এই কবিতাটির ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (ইরাব) অনেকগুলো দিক হতে পারে; তার মধ্যে অধিক স্পষ্ট হলো ‘তাময়্যীয’ শব্দটিকে মুবতাদা ধরা এবং ‘হাসালা’ শব্দটিকে তার সিফাত বা বিশেষণ ধরা, আর ‘লিল-ইসম’ হলো তার খবর। আর ‘বিল-জাররি’ অংশটি ‘হাসালা’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। তখন অর্থ হবে: ইসমের জন্য এমন এক স্বাতন্ত্র্য রয়েছে যা এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে অর্জিত হয়। এরপর তিনি বলেন:

‘ফাআলতা’-এর তা, ‘আতাত’-এর তা, ‘ইফআলী’-এর ইয়া … এবং ‘আকবিলান্না’-এর নূন-এর মাধ্যমে ফেল (ক্রিয়া) সুস্পষ্ট হয়।

এর অর্থ হলো, ফেল বা ক্রিয়া চারটি বিষয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত বা স্বতন্ত্র হয়। প্রথমটি হলো ‘ফাআলতা’-এর ‘তা’। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফেল-এ মাযী বা অতীতকালীন ক্রিয়ার শেষে যুক্ত হওয়া জমির বা সর্বনামের ‘তা’। একে পেশযুক্ত পড়া যায় যখন তা উত্তম পুরুষের (মুতাকাল্লিম) জন্য হয়, যবরযুক্ত পড়া যায় যখন তা নাম পুরুষের (মুখাতব) জন্য হয় এবং যেরযুক্ত পড়া যায় যখন তা স্ত্রীলিঙ্গ নাম পুরুষের জন্য হয়। এই সবগুলোই ফেল-এর সাথে বিশিষ্ট। দ্বিতীয়টি হলো ‘আতাত’-এর ‘তা’। এটি হলো ফায়েল বা কর্তাকে স্ত্রীলিঙ্গ বোঝানোর জন্য যুক্ত হওয়া ‘তা’। তৃতীয়টি হলো ‘ইফআলী’-এর ‘ইয়া’। এটি হলো স্ত্রীলিঙ্গ সম্বোধনের ‘ইয়া’, যা আমর (আদেশসূচক) এবং মুযারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) উভয় ক্রিয়াতেই যুক্ত হয়। চতুর্থটি হলো ‘আকবিলান্না’-এর ‘নূন’। এটি হলো তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের ‘নূন’। এটি তাশদীদযুক্তও হতে পারে আবার সাকিনযুক্তও হতে পারে। এটিও আমর এবং মুযারে ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়। এখানে ‘ফেলুন’ শব্দটি মুবতাদা এবং এর শুরুতে ‘নাকেরা’ হওয়া সত্ত্বেও ইবতিদা করা জায়েয হয়েছে কারণ এর পূর্বে কিছু গুণবাচক শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। আর ‘ইয়ানজালী’ হলো তার খবর। ‘বিতা-ই ফাআলতা’ অংশটি ‘ইয়ানজালী’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এরপর তিনি বলেন:

এই দুটি (ইসম ও ফেল) ব্যতীত অন্যগুলো হলো হরফ (অব্যয়), যেমন ‘হাল’, ‘ফী’ এবং ‘লাম’ … আর মুযারে ফেল হলো সেটি যা ‘লাম’-এর পরে আসে, যেমন ‘ইয়াশাম’।

অতীতকালীন ক্রিয়াগুলোকে ‘তা’ দ্বারা পৃথক করো, আর … ‘নূন’ দ্বারা আমরের ফেলকে চিহ্নিত করো যদি সেখানে আদেশের অর্থ বোঝা যায়।

(এই দুটি ব্যতীত অন্যগুলো হরফ) এর অর্থ হলো, যে শব্দগুলো উল্লিখিত চিহ্নসমূহ গ্রহণ করে না, সেগুলোই হলো হরফ বা অব্যয়। এখানে ‘সিওয়াহুমা’ হলো মুবতাদা এবং ‘আল-হারফু’ হলো তার খবর। এর বিপরীত হওয়াও সম্ভব এবং সেটিই অধিক স্পষ্ট; কারণ গ্রন্থকারের মতে ‘সিওয়া’ শব্দটি ‘গাইর’ (ব্যতীত) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাই এর ইদাফাত বা সম্বন্ধটি পরিচয় নির্ধারক নয়। যেহেতু হরফ বা অব্যয় তিন প্রকার: ইসম ও ফেল-এর মধ্যে সাধারণ (উভয়টির সাথেই ব্যবহৃত হয়), কেবল ইসমের সাথে বিশিষ্ট এবং কেবল ফেল-এর সাথে বিশিষ্ট; তাই তিনি প্রত্যেক প্রকারের একটি করে উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: ‘যেমন হাল, ফী এবং লাম’। এখানে ‘হাল’ হলো সাধারণের উদাহরণ, ‘ফী’ হলো ইসমের সাথে বিশিষ্টের উদাহরণ এবং ‘লাম’ হলো ফেল-এর সাথে বিশিষ্টের উদাহরণ। এরপর তিনি বলেন: (মুযারে ফেল হলো সেটি যা ‘লাম’-এর অনুগামী হয়...।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ৯)
كيشم) لما أتى فى تعريف الفعل بالعلامات التى تخصه على الجملة وكانت الأفعال على ثلاثة أقسام بين المضارع من قسيميه بما يختص به وهو لم أو إحدى أخواتها ففعل مبتدأ ومضارع نعت له وخبره الجملة وقوله كيشم مثال للمضارع فهو متأخر من تقديم والتقدير فعل مضارع كيشم يلى لم لا مثال للمضارع المقترن بلم إذ لو كان كذلك لقال كلم يشم والماضى شمم بالكسر لأنك تقول شممت هذه اللغة الفصيحة ويقال شممت بالفتح ومضارعه على هذه اللغة أشم بالضم ثم قال: (وماضى الأفعال بالتا مز) يعنى أن الفعل الماضى يمتاز عن المضارع والأمر بصلاحيته للتاء وأل فى التاء للعهد وشملت التاءين المذكورتين وهما تاء الضمير وتاء التأنيث الساكنة. ثم قال: (وسم * بالنون فعل الأمر إن أمر فهم) يعنى أن فعل الأمر يمتاز بشيئين صلاحيته لنونى التوكيد وهو معنى قوله وسم بالنون وإفهام الأمر وهو معنى قوله إن أمر فهم وأل فى النون للعهد وهى نون التوكيد المتقدمة ثم قال:

والأمر إن لم يك للنّون محلّ … فيه هو اسم نحو صه وحيّهل

يعنى أن اللفظ إذا أفهم الأمر ولم يكن صالحا للنون فهو اسم فعل ولذلك مثله بصه ومعناه اسكت وحيهل معناه أقبل أو عجل أو أقدم وليس فى هذا البيت زيادة على ما أفهم البيت الذى قبله إلا كون غير القابل للنون مما أفهم الأمر يقال فيه اسم فعل لأنه صرح بأنه اسم فى قوله هو اسم وفهم كونه اسم فعل من تمثيله بصه وحيهل.
(ইয়াশাম্মু) যেহেতু তিনি সাধারণ চিহ্নের মাধ্যমে ক্রিয়াকে সংজ্ঞায়িত করেছেন, আর ক্রিয়া যেহেতু তিন প্রকার, তাই তিনি মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন) ক্রিয়াকে তার অপর দুই প্রকার থেকে এমন একটি চিহ্নের মাধ্যমে পৃথক করেছেন যা কেবল মুদারে-এর জন্যই নির্দিষ্ট, আর তা হলো 'লাম' বা এর সমগোত্রীয় কোনো বর্ণ। এখানে 'ফে'ল' (ক্রিয়া) শব্দটি মুক্তাদা (উদ্দেশ্য), 'মুদারে' শব্দটি তার সিফাত (গুণবাচক শব্দ), এবং পরবর্তী বাক্যটি তার খবর (সংবাদ)। তাঁর বক্তব্য 'যেমন: ইয়াশাম্মু' হলো মুদারে-এর একটি উদাহরণ, যা মূলত পরে আসার কথা থাকলেও আগে উল্লেখ করা হয়েছে; এর বিন্যাস হবে: 'একটি মুদারে ক্রিয়া যা লাম-এর পরে আসে, যেমন ইয়াশাম্মু'। এটি 'লাম' যুক্ত মুদারে-এর উদাহরণ নয়, কারণ সেরূপ হলে তিনি 'লাম ইয়াশাম' বলতেন। আর এর মাজি (অতীতকাল) হলো 'শামিমা' (মীম বর্ণে কাসরা বা যের সহকারে), কারণ আপনি বলেন 'শামিমতু'; এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ ভাষা। তবে মীম বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে 'শামামতু'ও বলা হয় এবং সেই উপভাষা অনুযায়ী এর মুদারে হলো 'আশুম্মু' (মীম বর্ণে পেশ যোগে)। এরপর তিনি বলেছেন: (এবং অতীতকালীন ক্রিয়াকে 'তা' এর মাধ্যমে পৃথক করো)। অর্থাৎ অতীতকালীন ক্রিয়া মুদারে ও আমর থেকে 'তা' গ্রহণ করার যোগ্যতার মাধ্যমে স্বতন্ত্র হয়। এখানে 'তা' শব্দের আলিফ-লামটি নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যা পূর্বে আলোচিত দুই প্রকারের 'তা'-কে (সর্বনামের 'তা' এবং স্থির স্ত্রীলিঙ্গবোধক 'তা') অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর তিনি বলেছেন: (এবং আদেশসূচক ক্রিয়াকে নূন দ্বারা চিহ্নিত করো যদি আদেশের অর্থ প্রকাশ পায়)। অর্থাৎ আদেশসূচক ক্রিয়া (আমর) দুটি বিষয়ের মাধ্যমে স্বতন্ত্র হয়: দৃঢ়তাসূচক নূন গ্রহণের যোগ্যতা—যা 'নূন দ্বারা চিহ্নিত করো' বাক্যের মর্ম, এবং আদেশের অর্থ প্রদান করা—যা 'যদি আদেশের অর্থ প্রকাশ পায়' বাক্যের মর্ম। এখানে 'নূন' শব্দের আলিফ-লামটি পূর্বে উল্লিখিত দৃঢ়তাসূচক নূনকে নির্দেশ করছে। এরপর তিনি বলেছেন:

আর আদেশ যদি নূন গ্রহণের স্থান না হয় … তবে সেটি বিশেষ্য (ইসম), যেমন: সাহ এবং হাইয়াহাল

অর্থাৎ কোনো শব্দ যদি আদেশের অর্থ প্রদান করে কিন্তু নূন গ্রহণের যোগ্যতা না রাখে তবে তা 'ইসমু ফে'ল' (ক্রিয়াসদৃশ বিশেষ্য)। এই কারণেই তিনি উদাহরণ হিসেবে 'সাহ' শব্দটি এনেছেন যার অর্থ 'চুপ করো' এবং 'হাইয়াহাল' যার অর্থ 'এগিয়ে এসো' বা 'দ্রুত করো' বা 'অগ্রসর হও'। এই চরণে পূর্ববর্তী চরণের তুলনায় অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই, কেবল এটি ছাড়া যে—যা আদেশের অর্থ দেয় কিন্তু নূন গ্রহণ করে না তাকে 'ইসমু ফে'ল' বলা হয়। কারণ তিনি 'এটি হলো বিশেষ্য (ইসম)' বলার মাধ্যমে একে বিশেষ্য হিসেবে স্পষ্ট করেছেন এবং 'সাহ' ও 'হাইয়াহাল' এর উদাহরণের মাধ্যমে এটি যে 'ইসমু ফে'ল' তাও স্পষ্ট হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المعرب والمبنى

قوله:

والاسم منه معرب ومبنى … لشبه من الحروف مدنى

يعنى أن الاسم على قسمين منه معرب ومنه مبنى وقدم المعرب لأنه الأصل ومعرب مبتدأ خبره منه ومبنى مبتدأ

خبره محذوف تقديره ومنه ولما كان المبنى من الأسماء على خلاف الأصل وأنه لا يبنى إلا لعلة نبه على ذلك بلام التعليل فقال لشبه من الحروف ولما كان الشبه منه مقرب من الحروف وغير مقرب نبه على المقرب بقوله مدنى والشبه غير المدنى ما عارضه معارض كأى فى الاستفهام والشرط فإنها أشبهت الحرف فى المعنى لكن عارض شبه الحرف لزومها الإضافة لأن الإضافة من خصائص الأسماء فألغى شبه الحرف ثم قال:

كالشّبه الوضعىّ فى اسمى جئتنا … والمعنوىّ فى متى وفى هنا

وكنيابة عن الفعل بلا … تأثّر وكافتقار أصّلا

فنوع شبه الحرف إلى أربعة أنواع الأول الشبه الوضعى وهو ما أشبه الحرف فى كونه موضوعا على حرف واحد أو على حرفين وهو المشار إليه بقوله كالشبه الوضعى فى اسمى جئتنا أى فى الاسمين من قولك جئتنا وهما التاء ونا فالتاء مبنية لشبهها بالحرف فى وضعها على حرف واحد ونا مبنى أيضا لشبهه بالحرف فى وضعه على حرفين الثانى المعنوى وهو ما أشبه الحرف فى المعنى وهو المسار إليه بقوله والمعنوى أى والشبه المعنوى فى متى وفى هنا أما متى فأشبهت همزة الاستفهام إذا كانت استفهاما وإن الشرطية إذا كانت شرطا وأما هنا فأشبهت معنى حرف لم يستعمل لأن هنا اسم إشارة والإشارة معنى من معانى الحروف فحقها أن يوضع لها حرف كالتنبيه والخطاب الثالث الشبه الاستعمالى والمراد به أن الاسم يبنى إذا أشبه بعض الحروف كأسماء الأفعال فلأنها أشبهت إن فى كونها عاملة غير معمولة وهو المشار إليه بقوله وكنيابة عن الفعل بلا تأثر فعبر عن هذا الشبه بالنيابة عن الفعل لأن الفعل عامل غير معمول فيه وما ناب عنه كذلك ولم يرد أن الشبه هو النيابة عن الفعل فكون أسماء الأفعال نائبة عن الفعل يستلزم أن تكون عاملة غير معمول فيها وكونها كذلك يستلزم أن تكون شبيهة بإن واحترز بقوله بلا تأثر من المصدر النائب عن الفعل فإنه مؤثر للفعل الذى
মু'রাব ও মাবনি

তাঁর উক্তি:

বিশেষ্য (ইসম)-এর মধ্যে রয়েছে মু'রাব এবং মাবনি … অক্ষরের (হরফের) সাথে নিকটবর্তী সাদৃশ্যের কারণে।

অর্থাৎ ইসম দুই প্রকার: এর মধ্যে রয়েছে মু'রাব এবং রয়েছে মাবনি। তিনি মু'রাবকে আগে উল্লেখ করেছেন কারণ এটিই মূল অবস্থা। এখানে 'মু'রাব' হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), যার খবর (বিধেয়) হলো 'মিনহু' (এর মধ্য থেকে)। আর 'মাবনি' হলো মুবতাদা

যার খবর উহ্য রয়েছে, যার আনুমানিক রূপ হলো 'ওয়া মিনহু' (এবং এর মধ্য থেকে)। যেহেতু ইসমের ক্ষেত্রে মাবনি হওয়া মূল নিয়মের পরিপন্থী এবং এটি কোনো কারণ ছাড়া মাবনি হয় না, তাই তিনি 'লামে তালীলি' (কারণবাচক লাম) যোগ করে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন। সুতরাং তিনি বলেছেন: অক্ষরের (হরফের) সাথে সাদৃশ্যের কারণে। যেহেতু এই সাদৃশ্য কখনো হরফের নিকটবর্তী হয় আবার কখনো হয় না, তাই তিনি 'মাদনা' (নিকটবর্তী) শব্দ দ্বারা নিকটবর্তী সাদৃশ্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। আর যা নিকটবর্তী সাদৃশ্য নয় তা হলো এমন যা কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়; যেমন প্রশ্নবোধক ও শর্তবাচক অর্থে 'আইয়ুন' (أى)। কারণ এটি অর্থের দিক থেকে হরফের সাদৃশ্য রাখে, কিন্তু এর হরফ সদৃশ হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক হলো এর ইদাফাত (সম্বন্ধ) হওয়া আবশ্যকীয় হওয়া। কারণ ইদাফাত হলো ইসমের অনন্য বৈশিষ্ট্য। ফলে হরফের সাদৃশ্য বাতিল হয়ে গেছে। এরপর তিনি বললেন:

যেমন 'জি'তানা' (جئتنا) এর দুটি ইসমের মধ্যে গঠনগত সাদৃশ্য … এবং 'মাতা' (متى) ও 'হুনা' (هنا)-র মধ্যে অর্থগত সাদৃশ্য।

আর কোনো প্রতিক্রিয়া গ্রহণ ছাড়াই ক্রিয়ার (ফেল) স্থলাভিষিক্ত হওয়া … এবং মৌলিক মুখাপেক্ষিতা।

সুতরাং হরফের সাথে সাদৃশ্য চার প্রকার। প্রথমটি হলো গঠনগত সাদৃশ্য (শাবহে ওয়াজয়ী), আর তা হলো হরফের সাথে সাদৃশ্য হওয়া কেবল এক অক্ষর বা দুই অক্ষরের ওপর গঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে। এটিই তাঁর উক্তি 'যেমন জি'তানা-র দুটি ইসমের মধ্যে গঠনগত সাদৃশ্য' দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। অর্থাৎ আপনার কথা 'জি'তানা' এর অন্তর্গত দুটি ইসম; সেগুলো হলো 'তা' (ت) এবং 'না' (نا)। এখানে 'তা' মাবনি কারণ এটি এক অক্ষরের ওপর গঠিত হওয়ায় হরফের সাদৃশ্য রাখে। আর 'না' ও মাবনি কারণ এটি দুই অক্ষরের ওপর গঠিত হওয়ায় হরফের সাদৃশ্য রাখে। দ্বিতীয়টি হলো অর্থগত সাদৃশ্য (শাবহে মানাভী), আর তা হলো যা অর্থের দিক থেকে হরফের সাদৃশ্য রাখে। এটিই তাঁর উক্তি 'এবং অর্থগত' দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। অর্থাৎ 'মাতা' (متى) এবং 'হুনা' (هنا)-র মধ্যে অর্থগত সাদৃশ্য। 'মাতা' যখন প্রশ্নবোধক হয় তখন তা প্রশ্নবোধক হামজার (همزة الاستفهام) সাদৃশ্য রাখে, আর যখন শর্তবাচক হয় তখন শর্তবাচক 'ইন' (إن الشرطية)-এর সাদৃশ্য রাখে। আর 'হুনা' এমন একটি হরফের অর্থের সাদৃশ্য রাখে যা ব্যবহৃত হয়নি। কারণ 'হুনা' হলো ইশারা সূচক ইসম (ইসমুল ইশারা), আর ইশারা হলো হরফসমূহের অর্থগুলোর মধ্য থেকে একটি অর্থ। তাই নিয়ম অনুযায়ী এর জন্য একটি হরফ নির্ধারিত হওয়া উচিত ছিল যেমনটি রয়েছে সতর্কীকরণ (তানবিহ) ও সম্বোধনের (খিতাব) জন্য। তৃতীয়টি হলো ব্যবহারিক সাদৃশ্য (শাবহে ইস্তেমালী)। এর অর্থ হলো, ইসম তখন মাবনি হয় যখন তা কিছু হরফের সাদৃশ্য রাখে যেমন আসমাউল আফআল (ক্রিয়া-বিশেষ্য)। কারণ এগুলো 'ইন্না' (إن)-এর সাদৃশ্য রাখে এই দিক থেকে যে, সেগুলো আমলকারী (আমিল) কিন্তু তাতে অন্য কিছু আমল করে না (মামুল নয়)। এটিই তাঁর উক্তি 'কোনো প্রতিক্রিয়া গ্রহণ ছাড়াই ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়া' দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। তিনি এই সাদৃশ্যকে 'ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়া' দ্বারা ব্যক্ত করেছেন কারণ ক্রিয়া হলো আমলকারী কিন্তু তাতে অন্য কিছু আমল করে না, আর যা এর স্থলাভিষিক্ত হয় তাও অনুরূপ। তিনি এটি বুঝাতে চাননি যে সাদৃশ্যটিই হলো ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়া। বরং আসমাউল আফআল ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ফলে এটি অপরিহার্য হয়ে যায় যে সেগুলো আমলকারী হবে কিন্তু মামুল হবে না। আর এমনটি হওয়া অপরিহার্য করে দেয় যে তা 'ইন্না'-র সদৃশ হবে। তিনি 'প্রতিক্রিয়া গ্রহণ ছাড়াই' (বিলা তাআছুর) কথাটি দ্বারা সেই মাসদারকে (ক্রিয়াগুণ) বাদ দিয়েছেন যা ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়, কারণ সেটি এমন ক্রিয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয় যা...
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১১)
ناب عنه الرابع الشبه الافتقارى وهو أن يكون الاسم مفتقرا إلى غيره افتقارا مؤصلا كالموصولات وهو المشار إليه بقوله: وكافتقار أصلا واحترز به من الافتقار غير المؤصل كافتقار النكرة الموصوفة بالجملة إلى ما بعدها فإنه غير مؤصل إذ لا يلزم ذكر الجملة بعدها ثم قال:

ومعرب الأسماء ما قد سلما … من شبه الحرف كأرض وسما

إنما أخر المعرب وإن كان الأصل لأن المبنى محصور فيما ذكر وما عداه معرب. وقوله:

ومعرب الأسماء ما قد سلما يعنى أن ما سلم من شبه الحرف فى الأوجه المذكورة هو معرب ولما كان المعرب على

قسمين ظاهر الإعراب ومقدره أتى بمثال ظاهر من الإعراب وهو أرض ومثال من المقدر وهو سما مقصورا وهى لغة من اللغات الواردة فى الاسم.

وفعل أمر ومضىّ بنيا

ثم قال: (وفعل أمر ومضى بنيا) لما فرغ من مبنى الأسماء ومعربها شرع فى مبنى الأفعال ومعربها وبدأ بالمبنى منها وهو فعل الأمر والماضى فالماضى مبنى على الفتح نحو ضرب والأمر مبنى على السكون إن كان صحيح الآخر نحو اضرب أو على حذف آخره إن كان معتل الآخر نحو اغز وارم واخش ويجوز فى قوله ومضى الرفع والجر والرفع أقيس لأن التقدير وفعل أمر وفعل مضى فحذف المضاف وأقام المضاف إليه مقامه ووجه الجر أنه حذف المضاف وترك المضاف إليه على جره لدلالة ما تقدم عليه وعلى كلا الوجهين فالألف فى قوله بنيا للتثنية ثم أشار إلى المعرب من الأفعال بقوله:

وأعربوا مضارعا إن عريا … من نون توكيد مباشر ومن

نون إناث كيرعن من فتن

يعنى أن الفعل المضارع يعرب بشرط أن يعرى من نون الإناث نحو الهندات يرعن ونون التوكيد نحو هل تقومن ولما كان نون الإناث لا يكون إلا مباشرا للفعل لما يقيده ولما كان نون التوكيد يوجد مباشرا للفعل وغير مباشر وأنه لا يمنع من الإعراب إلا إذا كان مباشرا نبه على ذلك بقوله مباشر، وفهم منه أنه إذا كان غير مباشر كان الفعل معربا سواء فصل من الفعل بملفوظ به نحو هل تقومان أو مقدر نحو هل تقومنّ يا زيدون وعلامة رفع الفعل غير المباشر نون محذوفة لاجتماع الأمثال.
চতুর্থ প্রকারটি হলো মুখাপেক্ষী হওয়ার সাদৃশ্য। আর তা হলো ইসম বা বিশেষ্যটি অন্য কিছুর প্রতি মৌলিকভাবে মুখাপেক্ষী হওয়া, যেমন ইসম মাউসুল (সংযুক্ত সর্বনাম)। একেই তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: ‘এবং মৌলিকভাবে মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে’। এর মাধ্যমে তিনি অ-মৌলিক মুখাপেক্ষিতা থেকে বিরত থেকেছেন, যেমন সেই অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ) যা গুণবাচক বাক্য (জুমলা সিফাত) এর পরবর্তী অংশের প্রতি মুখাপেক্ষী হয়। কারণ এটি মৌলিক মুখাপেক্ষিতা নয়, যেহেতু এর পরে বাক্য উল্লেখ করা অনিবার্য নয়। অতঃপর তিনি বলেন:

বিশেষ্যসমূহের মধ্যে মোরব বা পরিবর্তনশীল হলো সেইগুলো যা মুক্ত থাকে … হারফ বা অব্যয়ের সাদৃশ্য থেকে, যেমন ‘আরদ’ (জমিন) এবং ‘সুমা’ (আকাশ)।

মোরব (পরিবর্তনশীল) শব্দকে দেরিতে আলোচনা করা হয়েছে যদিও এটিই মূল বিষয়, কারণ মাবনি (অপরিবর্তনীয়) শব্দগুলো সীমিত যা ইতিপূর্বেই আলোচিত হয়েছে, আর তদ্ব্যতীত অবশিষ্ট সবকিছুই মোরব। তাঁর উক্তি:

‘বিশেষ্যসমূহের মধ্যে মোরব বা পরিবর্তনশীল হলো সেইগুলো যা মুক্ত থাকে’ এর অর্থ হলো—উল্লিখিত দিকগুলো থেকে যা হারফের সাদৃশ্য থেকে মুক্ত থাকে তা-ই মোরব। যেহেতু মোরব দুই

প্রকার: প্রকাশ্য ই'রাব এবং উহ্য বা প্রচ্ছন্ন ই'রাব, তাই তিনি একটি প্রকাশ্য ই'রাবের উদাহরণ দিয়েছেন যা হলো ‘আরদ’ (জমিন), আর একটি উহ্য ই'রাবের উদাহরণ দিয়েছেন যা হলো ‘সুমা’—এটি মাকসুর (সংক্ষিপ্ত) হিসেবে—আর এটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিভিন্ন ভাষারীতির একটি।

আদেশবাচক এবং অতীতকালীন ক্রিয়া উভয়ই মাবনি (অপরিবর্তনীয়)।

অতঃপর তিনি বলেন: (আদেশবাচক এবং অতীতকালীন ক্রিয়া উভয়ই মাবনি)। যখন তিনি বিশেষ্যের মাবনি ও মোরব হওয়ার আলোচনা শেষ করলেন, তখন ক্রিয়ার মাবনি ও মোরব হওয়ার আলোচনা শুরু করলেন। তিনি মাবনি ক্রিয়া দিয়েই শুরু করেছেন আর তা হলো আদেশবাচক ক্রিয়া ও অতীতকালীন ক্রিয়া। অতীতকালীন ক্রিয়া জবর (ফাতহা) এর ওপর মাবনি হয়, যেমন ‘দারাবা’ (সে প্রহার করল)। আর আদেশবাচক ক্রিয়া সাকিন এর ওপর মাবনি হয় যদি তার শেষ বর্ণটি সহীহ (ব্যঞ্জনবর্ণ) হয়, যেমন ‘ইদরিব’ (তুমি প্রহার করো), অথবা শেষ বর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে মাবনি হয় যদি তার শেষ বর্ণটি মো’তাল (স্বরবর্ণ বা দুর্বল বর্ণ) হয়, যেমন ‘উগজু’, ‘ইরমি’ এবং ‘ইখশা’। তাঁর উক্তি ‘মাদি’ শব্দটিতে রফা এবং জর উভয়টি পড়া জায়েজ। রফা হওয়াটি অধিকতর ব্যাকরণসম্মত, কারণ এখানে মূলত ছিল ‘এবং আমরের ক্রিয়া ও মাদির ক্রিয়া’, অতঃপর মুদাফকে বিলুপ্ত করে মুদাফ ইলাইহকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আর জর হওয়ার কারণ হলো, তিনি মুদাফকে বিলুপ্ত করেছেন এবং মুদাফ ইলাইহকে তার পূর্ববর্তী অবস্থার ওপর জরেই রেখে দিয়েছেন, যেহেতু পূর্বের শব্দটি এর ওপর ইঙ্গিত প্রদান করে। উভয় অবস্থাতেই তাঁর উক্তি ‘বানিয়া’-তে আলিফটি দ্বিবচনের জন্য। অতঃপর তিনি ক্রিয়ার মোরব হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন:

এবং তারা মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎ) ক্রিয়াকে মোরব হিসেবে গণ্য করেছেন যদি তা মুক্ত থাকে … সরাসরি তাকিদ বা গুরুত্বজ্ঞাপক নুন থেকে এবং

নারীবোচক নুন থেকে, যেমন ‘ইয়ারুনা’ শব্দটি যা ‘ফিতান’ থেকে আগত।

এর অর্থ হলো মুদারে ক্রিয়া মোরব হবে এই শর্তে যে, তা নারীবোচক নুন থেকে মুক্ত থাকবে যেমন ‘আল-হিন্দাতু ইয়ারুনা’ (মহিলাগণ বিমোহিত করে) এবং তাকিদ বা গুরুত্বজ্ঞাপক নুন থেকে মুক্ত থাকবে যেমন ‘হাল তাকুমান্না’ (তুমি কি অবশ্যই দাঁড়াবে?)। যেহেতু নারীবোচক নুন কেবল ক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়া ছাড়া আর কোনোভাবে ব্যবহৃত হয় না তার অর্থগত সীমাবদ্ধতার কারণে, এবং যেহেতু তাকিদ বা গুরুত্বজ্ঞাপক নুন কখনো সরাসরি আবার কখনো পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়, আর এটি কেবল সরাসরি যুক্ত হলেই ক্রিয়াকে মোরব হওয়া থেকে বিরত রাখে, তাই তিনি ‘সরাসরি’ (মুবাশির) শব্দ দ্বারা সেদিকে সজাগ করেছেন। এ থেকে বোঝা যায় যে, এটি যদি সরাসরি না হয়ে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয় তবে ক্রিয়াটি মোরব হবে, চাই ক্রিয়া থেকে তার বিচ্ছেদ স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হোক যেমন ‘হাল তাকুমানি’ (তোমরা দুইজন কি অবশ্যই দাঁড়াবে?) অথবা উহ্য বা প্রচ্ছন্নভাবে হোক যেমন ‘হাল তাকুমান্না ইয়া যাইদুন’ (হে যাইদগণ! তোমরা কি অবশ্যই দাঁড়াবে?)। আর পরোক্ষভাবে যুক্ত হওয়া ক্রিয়ার রফা হওয়ার চিহ্ন হলো নুন বিলুপ্ত হওয়া, যা মূলত সমজাতীয় বর্ণের আধিক্য পরিহার করার জন্য বিলুপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১২)
وكلّ حرف مستحقّ للبنا … والأصل فى المبنى أن يسكّنا

ثم انتقل إلى الحرف فقال: (وكلّ حرف مستحق للبنا) يعنى أن الحروف كلها مبنية وعبارته غير موفية بذلك لأنه لا يلزم من استحقاق شئ لشئ وجوده فيه فإن الشئ قد يكون مستحقا للشئ ويمنع منه ثم قال: (والأصل فى المبنىّ أن يسكّنا) أصل كل مبنى اسما كان أو فعلا أو حرفا أن يبنى على السكون ولا ينتقل عنه للحركة إلا لموجب من تعذر أو غيره، وقوله:

ومنه ذو فتح وذو كسر وضم … كأين أمس حيث والساكن كم

أى ومن المبنى ما يبنى على الفتح كأين أو على الكسر كأمس أو على الضم كحيث أما أين فاسم مبنى وبنيت

لشبهها بالحرف فى المعنى وهو الهمزة إن كانت استفهاما أو إن الشرطية إن كانت شرطا وبنيت على حركة لتعذر السكون وكانت فتحة إما لخفتها وإما إتباعا لحركة الهمزة وأما أمس فاسم وبنيت لشبهها بالحروف لتضمن معنى أل وبنيت على حركة لتمكنها باستعمالها معربة فى نحو ذهب أمسنا لا لتعذر السكون خلافا لبعضهم وكانت كسرة على أصل التقاء الساكنين وأما حيث فاسم وبنيت لشبهها بالحرف فى الافتقار إلى الجملة افتقارا لازما وبنيت على حركة لتعذر السكون وكانت ضمة لشبهها بقبل وبعد. قوله: (والسّاكن كم) مثال للمبنى على السكون وهو المنبه عليه قبل بقوله: (والأصل فى المبنى أن يسكّنا)، وبنيت لتضمنها معنى همزة الاستفهام إن كانت استفهامية أو لشبهها بالحرف فى الوضع على حرفين إن كانت خبرية أو بالحمل على رب أو لشبهها بكم الاستفهامية، ثم قال:

والرّفع والنّصب اجعلن إعرابا … لاسم وفعل نحو لن أهابا

والاسم قد خصّص بالجرّ كما … قد خصّص الفعل بأن ينجزما

هذا الفصل تكلم فيه على ألقاب الإعراب بالنسبة إلى الأسماء والأفعال وهى على ثلاثة أقسام: مشترك بين الاسم والفعل وهو الرفع والنصب وإليه أشار بقوله: والرفع والنصب اجعلن إعرابا. لاسم وفعل، ومثل للفعل فقال: نحو لن أهابا وهو مضارع هاب من الهيبة.

ومختص بالاسم وهو الجر وإليه أشار بقوله: (والاسم قد خصص بالجرّ). ومختص بالفعل وهو الجزم وإليه أشار بقوله: (كما. قد خصّص الفعل بأن ينجزما) وقوله:
প্রতিটি বর্ণই মাবনি (অব্যয়) হওয়ার যোগ্য … আর মাবনির মূল নিয়ম হলো সুকুন হওয়া।

এরপর তিনি বর্ণ (হরফ) প্রসঙ্গে গিয়ে বলেন: (প্রতিটি বর্ণই মাবনি হওয়ার যোগ্য)। অর্থাৎ সকল বর্ণই মাবনি; তবে তার এই অভিব্যক্তিটি বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করে না, কারণ কোনো কিছুর যোগ্য হওয়া মানেই যে তাতে সেটি বিদ্যমান থাকবে তা অপরিহার্য নয়। কেননা কোনো বিষয় কোনো কিছুর যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এরপর তিনি বলেন: (আর মাবনির মূল নিয়ম হলো সুকুন হওয়া)। প্রতিটি মাবনির মূল ভিত্তি—তা বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল) বা বর্ণ (হরফ) যাই হোক না কেন—হলো সুকুনের ওপর ভিত্তি করা। কোনো অনিবার্য কারণ ছাড়া—যেমন সুকুন উচ্চারণ অসম্ভব হওয়া বা অন্য কোনো কারণ—সুকুন থেকে হরকতের (স্বরচিহ্নের) দিকে পরিবর্তন করা হবে না। আর তার উক্তি:

আর মাবনির মধ্যে কোনটি ফাতহযুক্ত, কোনটি কাসরাযুক্ত এবং কোনটি যম্মাযুক্ত … যেমন আইনা, আমসি, হাইসু এবং সুকুনযুক্ত কাম।

অর্থাৎ মাবনির মধ্যে কিছু ফাতহ-এর ওপর মাবনি যেমন 'আইনা' (أين), অথবা কাসরার ওপর যেমন 'আমসি' (أمس), অথবা যম্মার ওপর যেমন 'হাইসু' (حيث)। 'আইনা' হলো একটি মাবনি ইসম; এটি অর্থের দিক থেকে বর্ণের (হরফ) সাথে সাদৃশ্য রাখার কারণে মাবনি হয়েছে। সেই অর্থটি হলো প্রশ্নবোধক বুঝালে 'হামজাহ' এর অর্থ, অথবা শর্তবাচক বুঝালে শর্তবাচক 'ইন' (إن) এর অর্থ। এটি সুকুন উচ্চারণের অসম্ভবতার কারণে হরকতের ওপর মাবনি হয়েছে। আর সেই হরকতটি ফাতাহ হয়েছে হয় উচ্চারণের সহজতার জন্য, অথবা হামজাহ-এর হরকতের অনুবর্তিতার কারণে। আর 'আমসি' হলো একটি ইসম; এটি 'আলিফ-লাম' (ال) এর অর্থ অন্তর্ভুক্ত করায় বর্ণের সাদৃশ্য রাখার কারণে মাবনি হয়েছে। এটি হরকতের ওপর মাবনি হয়েছে এর ব্যবহারের সক্ষমতার কারণে, যেমন 'যাহাবা আমসুনা' (আমাদের গতকালটি চলে গেছে) এর মতো বাক্যে এটি ই'রাব (পরিবর্তনশীলতা) গ্রহণ করতে পারে। কারো কারো ভিন্নমত থাকলেও এটি সুকুন উচ্চারণের অসম্ভবতার জন্য মাবনি হয়নি। আর এটি কাসরা হয়েছে দুই সুকুনের মিলনের মূল নিয়ম অনুযায়ী। 'হাইসু' হলো একটি ইসম; এটি বাক্যের (জুমলা) প্রতি সর্বদা মুখাপেক্ষী থাকার কারণে বর্ণের সাদৃশ্য রাখায় মাবনি হয়েছে। সুকুন অসম্ভব হওয়ার কারণে এটি হরকতের ওপর মাবনি হয়েছে এবং 'কাবলু' ও 'বাদু' এর সাথে সাদৃশ্য থাকায় এটি যম্মা হয়েছে। তার উক্তি: (সুকুনযুক্ত কাম) এটি সুকুনের ওপর মাবনি হওয়ার উদাহরণ, যার প্রতি তিনি আগে ইঙ্গিত করেছিলেন এই বলে যে: (আর মাবনির মূল নিয়ম হলো সুকুন হওয়া)। এটি প্রশ্নবোধক 'হামজাহ' এর অর্থ অন্তর্ভুক্ত করার কারণে মাবনি হয়েছে যদি তা প্রশ্নবোধক হয়। অথবা দুই বর্ণের ওপর গঠিত হওয়ার দিক থেকে বর্ণের সাথে সাদৃশ্য রাখার কারণে যদি তা সংবাদবাচক হয়, অথবা 'রুব্বা' (رب) বর্ণের ওপর কিয়াস করার কারণে, কিংবা প্রশ্নবোধক 'কাম'-এর সাথে সাদৃশ্যের কারণে। এরপর তিনি বলেন:

রফ্ এবং নাসবকে ই'রাব হিসেবে নির্ধারণ করো … বিশেষ্য ও ক্রিয়ার জন্য, যেমন: আমি কখনো ভয় পাব না।

আর বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে জার (জের) দ্বারা, যেমনভাবে … ক্রিয়াকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে জজম্ হওয়ার দ্বারা।

এই পরিচ্ছেদে তিনি বিশেষ্য (ইসম) এবং ক্রিয়ার (ফেল) ই'রাবের পরিভাষা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি তিন প্রকার: বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার মধ্যে সাধারণ বা যৌথ, যা হলো রফ্ ও নাসব। তিনি তার উক্তি—'রফ্ এবং নাসবকে ই'রাব হিসেবে নির্ধারণ করো বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার জন্য'—দ্বারা এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি ক্রিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন: যেমন 'লান আহাবা' (আমি কখনো ভয় পাব না); এটি 'হায়বাতুন' (ভীতি) শব্দ থেকে নির্গত মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল) ক্রিয়া।

আর যা বিশেষ্যের সাথে নির্দিষ্ট তা হলো 'জার', যার প্রতি তিনি ইঙ্গিত করেছেন: (আর বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে জার দ্বারা)। আর যা ক্রিয়ার সাথে নির্দিষ্ট তা হলো 'জজম্', যার প্রতি তিনি ইঙ্গিত করেছেন: (যেমনভাবে ক্রিয়াকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে জজম্ হওয়ার দ্বারা)। এবং তার উক্তি:
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১৩)
فارفع بضمّ وانصبن فتحا وجرّ … كسرا كذكر الله عبده يسرّ

واجزم بتسكين وغير ما ذكر … ينوب نحو جا أخو بنى نمر

يعنى أن أصل الإعراب أن يكون بالضمة رفعا وبالفتحة نصبا وبالكسرة جرا ثم مثل بقوله:

كذكر الله عبده يسر. فذكر مبتدأ وهو مرفوع بالضمة والله مضاف إليه وهو مجرور بالكسرة وعبده مفعول بذكر وهو منصوب بالفتحة ويسر خبر عن ذكر الله وهو أيضا مرفوع بالضمة ووقف عليه بالسكون ثم تمم علامات الإعراب الأصول بعلامة الجزم فقال: (واجزم بتسكين) هذه العلامات التى ذكرها هى الأصول فى علامات الإعراب وغيرها من العلامات إنما هو بالنيابة وإلى ذلك أشار بقوله: (وغير ما ذكر ينوب) ثم أتى بمثال وهو: (نحو جا أخو بنى نمر) فأخو فاعل والواو فيه نائبة عن الضمة وبنى مضاف إليه والياء فيه نائبة عن الكسرة.

ثم شرع فى مواضع النيابة فقال:

وارفع بواو وانصبنّ بالألف … واجرر بياء ما من الأسما أصف

يعنى أن الواو تنوب عن الضمة والألف عن الفتحة والياء عن الكسرة فيما أصف لك، أى فيما أذكر لك بعد هذا البيت، وهو ستة أسماء أشار إلى اثنين منها بقوله:

من ذاك ذو إن صحبة أبانا … والفم حيث الميم منه بانا

أب أخ حم كذاك وهن

فقوله: إن صحبة أبانا، أى إن أظهر صحبة نحو جاءنى ذو مال، أى صاحب مال ورأيت ذا مال ومررت بذى مال واحترز به من ذو بمعنى الذى فى لغة طيئ، فإن الأشهر فيها ذو بالواو فى جميع الأحوال. وقوله: (والفم حيث الميم منه بانا) أى إذا ذهب منه الميم نحو هذا فوك ورأيت فاك ونظرت إلى فيك واحترز به من فم بالميم فإنه يعرب بالحركة نحو هذا فمك ورأيت فمك ونظرت إلى فمك، ثم أشار إلى الأربعة الباقية من الأسماء الستة فقال: (أب أخ حم كذاك وهن) فأب مبتدأ وأخ وحم معطوفان عليه بحذف العاطف، وكذاك خبر المبتدأ وهن مبتدأ وخبره محذوف لدلالة خبر أب عليه أى وهن كذاك فتقول هذا أبوك ورأيت أخاك ومررت بحميك وهذا هنوك ورأيت هناك ونظرت إلى هنيك، والحم أبو زوج المرأة والهن كناية عما يستقبح كالفرج ثم أشار إلى أن هذه الأسماء الأربعة فيها لغات أخر غير الإعراب بالحروف فقال:
রফ প্রদান করুন দম্মা দ্বারা, নাসব প্রদান করুন ফাতহা দ্বারা এবং যার প্রদান করুন কাসরা দ্বারা; যেমন: আল্লাহর জিকির তাঁর বান্দাকে আনন্দিত করে। …

এবং সুকুন দ্বারা জাযম করুন। আর যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যতীত অন্যগুলো স্থলাভিষিক্ত হয়; যেমন: বনু নামিরের ভাই এসেছে। …

অর্থাৎ ইরাবের মূল নিয়ম হলো রফ হবে দম্মার মাধ্যমে, নাসব হবে ফাতহার মাধ্যমে এবং যার হবে কাসরার মাধ্যমে। অতঃপর তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে উদাহরণ দিয়েছেন:

আল্লাহর জিকির তাঁর বান্দাকে আনন্দিত করে। এখানে 'জিকির' শব্দটি মুবতাদা এবং এটি দম্মার মাধ্যমে মারফু। 'আল্লাহ' শব্দটি মুদাফ ইলাইহি এবং এটি কাসরার মাধ্যমে মাজরুর। 'আবদুহু' শব্দটি 'জিকির'-এর মাফউল এবং এটি ফাতহার মাধ্যমে মানসুব। 'ইউসাররু' শব্দটি 'আল্লাহর জিকির' সম্পর্কে খবর এবং এটিও দম্মার মাধ্যমে মারফু, তবে এখানে সুকুনের মাধ্যমে থামা হয়েছে। অতঃপর তিনি মূল ইরাবের চিহ্নসমূহকে জাযমের চিহ্নের মাধ্যমে পূর্ণ করেছেন এবং বলেছেন: (এবং সুকুন দ্বারা জাযম করুন)। তিনি যে চিহ্নগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলোই হলো ইরাবের মূল চিহ্ন। আর এগুলো ছাড়া অন্যান্য চিহ্ন মূলত স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর সেদিকেই তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: (আর যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যতীত অন্যগুলো স্থলাভিষিক্ত হয়)। এরপর তিনি একটি উদাহরণ নিয়ে এসেছেন: (যেমন: বনু নামিরের ভাই এসেছে)। এখানে 'আখু' শব্দটি ফায়েল এবং এতে বিদ্যমান 'ওয়াও' দম্মার স্থলাভিষিক্ত। আর 'বনী' শব্দটি মুদাফ ইলাইহি এবং এতে বিদ্যমান 'ইয়া' কাসরার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

অতঃপর তিনি স্থলাভিষিক্ত হওয়ার স্থানসমূহ বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং বললেন:

আর আমি যে সকল বিশেষ্য বর্ণনা করব, সেগুলোতে আপনি ওয়াও-এর মাধ্যমে রফ, আলিফ-এর মাধ্যমে নাসব … এবং ইয়া-এর মাধ্যমে যার প্রদান করুন।

অর্থাৎ আমি আপনার কাছে যা বর্ণনা করব তাতে দম্মার স্থলে ওয়াও, ফাতহার স্থলে আলিফ এবং কাসরার স্থলে ইয়া স্থলাভিষিক্ত হবে। অর্থাৎ এই পঙক্তির পর আমি যা উল্লেখ করব। আর সেগুলো হলো ছয়টি বিশেষ্য। তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে এর দুটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন:

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে 'জু', যদি তা সাহচর্যের অর্থ প্রকাশ করে … এবং 'ফাম' (মুখ), যখন তা থেকে 'মীম' বর্ণটি পৃথক হয়ে যায়।

'আবু', 'আখু', 'হামু' এবং একইভাবে 'হানু'।

তাঁর বাণী: (যদি তা সাহচর্যের অর্থ প্রকাশ করে) অর্থাৎ যদি তা সাহচর্যের অর্থকে প্রকাশ করে, যেমন: আমার কাছে সম্পদশালী ব্যক্তি এসেছে (অর্থাৎ সম্পদের অধিকারী), আমি সম্পদশালী ব্যক্তিকে দেখেছি এবং আমি সম্পদশালী ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি। এর মাধ্যমে তিনি তায়্যি গোত্রের ভাষায় ব্যবহৃত 'জু' থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যা 'আল্লাজি' (যিনি/যা) অর্থে ব্যবহৃত হয়। কারণ সেই গোত্রের ভাষায় সকল অবস্থায় 'ওয়াও' যুক্ত 'জু' ব্যবহার করাই অধিক প্রসিদ্ধ। আর তাঁর বাণী: (এবং ফাম যখন তা থেকে মীম আলাদা হয়ে যায়) অর্থাৎ যখন তা থেকে 'মীম' বর্ণটি বিলুপ্ত হয়। যেমন: এটি তোমার মুখ, আমি তোমার মুখ দেখেছি এবং আমি তোমার মুখের দিকে তাকিয়েছি। এর মাধ্যমে তিনি 'মীম' যুক্ত 'ফাম' শব্দ থেকে সতর্ক করেছেন, কারণ তখন সেটি হরকতের মাধ্যমে ইরাব গ্রহণ করবে। যেমন: এটি তোমার মুখ, আমি তোমার মুখ দেখেছি এবং আমি তোমার মুখের দিকে তাকিয়েছি। এরপর তিনি ছয়টি বিশেষ্যের অবশিষ্ট চারটির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: (আবু, আখু, হামু এবং একইভাবে হানু)। এখানে 'আবু' মুবতাদা, আর 'আখু' ও 'হামু' অব্যয় উহ্য থাকার কারণে এর ওপর মাতুফ। 'কাজালিকা' হলো মুবতাদার খবর। আর 'হানু' মুবতাদা এবং এর খবর উহ্য রয়েছে, যা 'আবু'-এর খবর দ্বারা বুঝা যায়। অর্থাৎ 'হানু'-ও তদ্রূপ। সুতরাং আপনি বলবেন: এটি তোমার পিতা, আমি তোমার ভাইকে দেখেছি, আমি তোমার শ্বশুরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি, এটি তোমার হানু, আমি তোমার হানু দেখেছি এবং আমি তোমার হানু-র দিকে তাকিয়েছি। 'হামু' হলো মহিলার স্বামীর পিতা (শ্বশুর)। আর 'হানু' হলো এমন বিষয়ের ইঙ্গিত যা সরাসরি উল্লেখ করা অশোভন, যেমন গুপ্তাঙ্গ। এরপর তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, এই চারটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রে হরফের মাধ্যমে ইরাব হওয়া ছাড়াও অন্য ভাষাভঙ্গি রয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১৪)
والنّقص فى هذا الأخير أحسن … وفى أب وتالييه يندر

وقصرها من نقصهنّ أشهر

يعنى أن النقص فى هن وهو الإعراب بالحركات الثلاث فى النون أحسن من إعرابه بالواو رفعا وبالألف نصبا وبالياء جرا وأن النقص فى أب وأخ وحم يقل والقصر فيها أشهر من النقص، فمن النقص قوله:

بأبه اقتدى عدىّ فى الكرم … ومن يشابه أبه فما ظلم (1)

ومن القصر قولهم فى المثل: مكره أخاك لا بطل فأخاك مبتدأ ومكره خبر مقدم. وقوله:

(وفى أب وتالييه يندر)، يعنى أن النقص يقلّ فى تاليى أب وهما أخ وحم وفاعل يندر ضمير يعود على النقص وقصرها مبتدأ وخبره أشهر ومن نقصهن متعلق بأشهر وهو من تقديم من على أفعل التفضيل وذلك قليل.

وشرط ذا الإعراب أن يضفن لا … للياكجا أخو أبيك ذا اعتلا

ثم قال: (وشرط ذا الإعراب أن يضفن لا. لليا) الإشارة بذا إلى الإعراب بالحروف يعنى أن هذه الأسماء يشترط فى إعرابها بالواو رفعا وبالألف نصبا وبالياء جرا أن تكون مضافة إلى غير ياء المتكلم نحو قام أبو زيد ورأيت أخاه

ومررت بحميك فإن كانت غير مضافة كانت منقوصة معربة بالحركات نحو قام أب ورأيت أخا ومررت بحم، وإن كانت مضافة إلى ياء المتكلم كانت معربة بحركات مقدرة كسائر الأسماء الظاهرة المضافة إلى ياء المتكلم وشرط مبتدأ وخبره أن وصلتها ولا عاطفة والمعطوف عليه محذوف والتقدير أن يضفن لسائر الأسماء لا للياء ثم مثل بقوله: (كجا أخو أبيك ذا اعتلا) فأخو مضاف إلى أبيك وأبى مضاف لكاف الضمير وذا مضاف إلى اعتلا وهذه الأمثلة محتوية على أنواع غير ياء المتكلم لأن غير ياء المتكلم إما ظاهر أو مضمر والظاهر إما معرفة أو نكرة ومن مواضع النيابة نيابة الألف عن

--------------------------------------------

(1) الرجز لرؤبة فى ملحق ديوانه ص 182، والدرر 1/ 106، وشرح التصريح 1/ 64، والمقاصد النحوية 1/ 129، وبلا نسبة فى أوضح المسالك 1/ 44، وتخليص الشواهد ص 57، وشرح الأشمونى 1/ 29، وشرح ابن عقيل ص 32، وهمع الهوامع 1/ 39.

والشاهد فيه قوله: «بأبه»، و «يشابه أبه»؛ حيث أعرب الشاعر هاتين الكلمتين بالحركات الظاهرة، فجر الأولى بالكسرة الظاهرة، ونصب الثانية بالفتحة الظاهرة، مع أنهما مضافتان إلى ضمير الغائب، وذلك على لغة من لغات العرب، والأشهر الجر بالياء والنصب بالألف.
এবং শেষোক্তটির (অর্থাৎ 'হান' শব্দের) ক্ষেত্রে 'নাক্বস' (সংক্ষিপ্ত রূপ) ব্যবহার করাই উত্তম … এবং 'আব' (পিতা) ও তার পরবর্তী দুইটির (আখ ও হাম) ক্ষেত্রে এটি বিরল।

এবং এগুলোর ক্ষেত্রে 'ক্বাসর' (আলিফ দ্বারা প্রকাশ) তাদের 'নাক্বস' (সংক্ষিপ্ত রূপ) অপেক্ষা অধিক প্রসিদ্ধ।

অর্থাৎ 'হান' শব্দের ক্ষেত্রে 'নাক্বস'—যা হলো নুন বর্ণে তিনটি হারাকাত (যবর, যের, পেশ) দ্বারা ই’রাব প্রদান করা—তা রাফা অবস্থায় 'ওয়াও', নাসাব অবস্থায় 'আলিফ' এবং জার অবস্থায় 'ইয়া' দ্বারা ই’রাব প্রদানের চেয়ে উত্তম। আর 'আব' (পিতা), 'আখ' (ভাই) এবং 'হাম' (শ্বশুর) এর ক্ষেত্রে 'নাক্বস' হওয়া দুর্লভ এবং এগুলোতে 'ক্বাসর' হওয়া 'নাক্বস' হওয়ার চেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ। 'নাক্বস'-এর উদাহরণ হলো কবির এই বাণী:

আদী তার পিতার অনুসরণে উদারতা দেখিয়েছে … এবং যে তার পিতার সদৃশ হয়, সে কোনো অবিচার করেনি। (১)

আর 'ক্বাসর'-এর উদাহরণ হলো আরবদের প্রবাদ: "তোমার ভাই অনন্যোপায় হয়েই যুদ্ধে এসেছে, বীরত্ব দেখাতে নয়।" এখানে 'আখাকা' শব্দটি মুক্তাদা এবং 'মুকরাহুন' শব্দটি খবর মুকাদ্দাম। এবং তাঁর উক্তি:

(এবং 'আব' ও তার পরবর্তী দুইটির ক্ষেত্রে এটি বিরল), এর অর্থ হলো 'আব'-এর পরবর্তী দুইটি অর্থাৎ 'আখ' ও 'হাম'-এর ক্ষেত্রে 'নাক্বস' খুব কম হয়। 'ইয়ান্দুরু' ক্রিয়ার ফায়েল বা কর্তা হলো একটি সর্বনাম যা 'নাক্বস'-এর দিকে ফিরে যায়। 'ক্বাসরুহা' শব্দটি মুক্তাদা এবং 'আশহারু' তার খবর। আর 'মিন নাক্বসিহিন্না' অংশটি 'আশহারু'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি হলো 'আফআলুত তাফদীল' (অধিকতর অর্থবোধক শব্দ)-এর ওপর 'মিন'-কে অগ্রবর্তী করার উদাহরণ, যা বিরল।

এই ই’রাবের শর্ত হলো এগুলোকে মুদাফ হতে হবে, তবে 'ইয়া' (প্রথম পুরুষের সর্বনাম) এর দিকে নয়। যেমন: "তোমার পিতার ভাই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী।"

এরপর তিনি বলেন: (এবং এই ই’রাবের শর্ত হলো এগুলোকে মুদাফ হতে হবে, 'ইয়া'-এর দিকে নয়)। এখানে 'যা' দ্বারা হরফ (অক্ষর) এর মাধ্যমে ই’রাব প্রদানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এই বিশেষ্যগুলোর রাফা অবস্থায় 'ওয়াও', নাসাব অবস্থায় 'আলিফ' এবং জার অবস্থায় 'ইয়া' দ্বারা ই’রাব হওয়ার শর্ত হলো এগুলোকে 'ইয়াউল মুতাকাল্লিম' (প্রথম পুরুষের সর্বনাম) ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে মুদাফ হতে হবে। যেমন: "আবু যায়েদ দাঁড়িয়েছে" এবং "আমি তার ভাইকে দেখেছি।"

এবং "আমি তোমার শ্বশুরের পাশ দিয়ে গিয়েছি।" যদি সেগুলো মুদাফ না হয়, তবে সেগুলো 'মানকুস' (অপূর্ণ) হিসেবে গণ্য হবে এবং হারাকাত দ্বারা ই’রাব প্রাপ্ত হবে। যেমন: "একজন পিতা দাঁড়িয়েছে", "আমি একজন ভাইকে দেখেছি" এবং "আমি একজন শ্বশুরের পাশ দিয়ে গিয়েছি।" আর যদি সেগুলো 'ইয়াউল মুতাকাল্লিম'-এর দিকে মুদাফ হয়, তবে অন্যান্য প্রকাশ্য বিশেষ্য যেগুলো 'ইয়াউল মুতাকাল্লিম'-এর দিকে মুদাফ হয় তাদের মতো এগুলোর ই’রাবও উহ্য হারাকাতের মাধ্যমে হবে। এখানে 'শারতুন' শব্দটি মুক্তাদা এবং 'আন' ও তার পরবর্তী অংশটি তার খবর। 'লা' হলো অব্যয় এবং এর মা’তুফ আলাইহি (যার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে) এখানে উহ্য রয়েছে। এর মূল রূপ হলো: যেন সেগুলো অন্যান্য বিশেষ্যের দিকে মুদাফ হয়, 'ইয়া' এর দিকে নয়। অতঃপর তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উদাহরণ পেশ করেছেন: (যেমন তোমার পিতার ভাই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী)। এখানে 'আখু' শব্দটি 'আবিকা'-এর দিকে মুদাফ, 'আবী' শব্দটি 'কাফ' সর্বনামের দিকে মুদাফ এবং 'যা' শব্দটি 'ইতিলা'-এর দিকে মুদাফ। এই উদাহরণগুলো 'ইয়াউল মুতাকাল্লিম' ব্যতীত অন্যান্য প্রকারের মুদাফকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কারণ 'ইয়াউল মুতাকাল্লিম' ব্যতীত অন্য মুদাফ ইলাইহি হয় প্রকাশ্য বিশেষ্য হবে অথবা সর্বনাম হবে। আর প্রকাশ্য বিশেষ্যটি হয় নির্দিষ্ট হবে অথবা অনির্দিষ্ট হবে। প্রতিনিধিত্ত্বের স্থানগুলোর মধ্যে একটি হলো আলিফের প্রতিনিধিত্ব...

--------------------------------------------

(১) রাজায ছন্দের এই কবিতাটি রু’বার, যা তাঁর দীওয়ানের পরিশিষ্টের ১৮২ পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য। এছাড়াও আদ-দুরার ১/১০৬, শারহুত তাসরীহ ১/৬৪, আল-মাকাসিদুন নাহবিয়্যাহ ১/১২৯ এবং কোনো নাম উল্লেখ ছাড়া আওদাহুল মাসালিক ১/৪৪, তাখলীসুশ শাওয়াাহিদ পৃষ্ঠা ৫৭, শারহুল আশমুনি ১/২৯, শারহু ইবনে আকীল পৃষ্ঠা ৩২ এবং হামউল হামাওয়া ১/৩৯ গ্রন্থে এটি বর্ণিত হয়েছে।

এখানে প্রমাণের বিষয় হলো কবির উক্তি: "বিআবিহী" এবং "ইউশাবিহু আবাহু"; যেখানে কবি এই শব্দ দুটিকে প্রকাশ্য হারাকাতের মাধ্যমে ই’রাব দিয়েছেন। প্রথমটিকে প্রকাশ্য কাসরা (যের) দ্বারা জার প্রদান করেছেন এবং দ্বিতীয়টিকে প্রকাশ্য ফাতহা (যবর) দ্বারা নাসাব প্রদান করেছেন, অথচ সেগুলো নাম পুরুষের সর্বনামের দিকে মুদাফ হয়েছে। এটি আরবদের বিভিন্ন উপভাষার একটি রূপ, তবে ইয়া দ্বারা জার এবং আলিফ দ্বারা নাসাব প্রদান করাই অধিক প্রসিদ্ধ।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১৫)
الضمة والياء عن الكسرة والفتحة وذلك فى المثنى وما ألحق به وهو كلا وكلتا واثنان واثنتان وإلى هذا أشار بقوله:

بالألف ارفع المثنّى وكلا … إذا بمضمر مضافا وصلا

كلتا كذاك اثنان واثنتان … كابنين وابنتين يجريان

وتخلف اليا فى جميعها الألف … جرا ونصبا بعد فتح قد ألف

المثنى هو الاسم الدال على اثنين بزيادة فى آخره صالح للتجريد وعطف مثله عليه فقوله بالألف ارفع المثنى يعنى أن الألف تكون علامة للرفع فى المثنى نحو قال رجلان والزيدان قائمان. وقوله وكلا يعنى أن كلا يرفع أيضا بالألف كالمثنى لكن بشرط إضافته إلى المضمر والى هذا أشار بقوله: (إذا بمضمر مضافا وصلا) وفهم من عطفه كلا على المثنى أن كلا ليس بمثنى حقيقة تقول قام الزيدان كلاهما وقيد بإضافته إلى المضمر احترازا من المضاف إلى الظاهر فإنه يعرب حينئذ بحركة مقدرة فى الألف ومضافا حال من الضمير المستتر فى وصل وبمضمر متعلق بوصل والتقدير إذا وصف بمضمر فى حال كونه مضافا إليه أى إلى المضمر.

وقوله: (كلتا كذاك) أى كلتا مثل كلا فى أنه يرفع بالألف بشرط إضافته إلى مضمر، وفهم أيضا من قوله كلتا

كذاك أن كلتا ليس بمثنى حقيقة على مقتضى التشبيه وكلتا مبتدأ وكذاك خبره. وقوله: (اثنان واثنتان) كابنين وابنتين يجريان. يعنى أن اثنين واثنتين يرفعان بالألف كالمثنى من غير شرط ولذلك شبههما بالمثنى الحقيقى وهو ابنان وابنتان وإنما حكم على كلا وكلتا واثنين واثنتين أنها ليست مثناة حقيقة لأنها لا تصلح للتجريد وعطف مثلها عليها.

وقوله: (وتخلف اليا فى جميعها الألف)، البيت يعنى أن الياء تخلف الألف فى الجر والنصب فى جميع ما ذكر فتكون الياء علامة للجر والنصب نحو مررت بالزيدين والاثنين كليهما ورأيت الهندين والاثنتين كلتيهما. وقوله: (بعد فتح قد ألف): يعنى أن الياء فى الجر والنصب يفتح ما قبلها كالفتح المعهود فى الرفع وهو المراد بقوله: بعد فتح قد ألف، واليا فاعل بتخلف والألف مفعول به وقصر الياء ضرورة ونصب جرا ونصبا على إسقاط حرف الجر، أى فى جر ونصب ويجوز أن يكونا مصدرين فى موضع الحال والتقدير فى حال كون هذه الأشياء مجرورة ومنصوبة وفى جميعها وبعد فتح متعلقان بتخلف. ومن مواضع النيابة نيابة الواو عن الضمة والياء عن الكسرة والفتحة وذلك فى جمع المذكر السالم وما ألحق به وإلى ذلك أشار بقوله:
পেশ এবং যের ও জবরের পরিবর্তে ইয়া হওয়ার বিষয়টি দ্বিবচন এবং এর সাথে যা সংযুক্ত হয় তার ক্ষেত্রে ঘটে। সেগুলো হলো কিলা, কিলতা, ইছনানি এবং ইছনাতানি। এই দিকেই তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:

আলিফ দ্বারা দ্বিবচনকে রফ করো, আর ‘কিলা’কেও; যখন তা সর্বনামের সাথে মুদাফ হয়ে যুক্ত হয়।

‘কিলতা’ও অনুরূপ। ‘ইছনানি’ ও ‘ইছনাতানি’ শব্দ দুটিও ‘ইবনাইনি’ ও ‘ইবনাতাইনি’ এর মতো (দ্বিবচনের নিয়মে) পরিচালিত হয়।

আর এই সকল ক্ষেত্রে যার ও নসবের অবস্থায় আলিফের স্থলাভিষিক্ত হয় ইয়া, যা পূর্ববর্তী একটি পরিচিত জবরের পরে আসে।

দ্বিবচন হলো এমন বিশেষ্য যা শেষে অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে দুই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, এবং যা ওই অতিরিক্ত অংশ থেকে মুক্ত হওয়ার ও তার মতো অন্য একটি শব্দের সাথে যুক্ত হওয়ার যোগ্য। সুতরাং তাঁর উক্তি ‘আলিফ দ্বারা দ্বিবচনকে রফ করো’ এর অর্থ হলো—দ্বিবচনের ক্ষেত্রে আলিফ হবে রফ-এর চিহ্ন। যেমন: ‘দুইজন লোক বলল’ এবং ‘দুইজন যায়েদ দণ্ডায়মান’। আর তাঁর উক্তি ‘এবং কিলা’ এর অর্থ হলো—‘কিলা’ শব্দটিও দ্বিবচনের মতো আলিফ দ্বারা রফ হবে, তবে শর্ত হলো এটি সর্বনামের দিকে মুদাফ হতে হবে। আর এই দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে: (যখন তা সর্বনামের সাথে মুদাফ হয়ে যুক্ত হয়)। ‘কিলা’ শব্দটিকে দ্বিবচনের সাথে যুক্ত করা থেকে এটি বোঝা যায় যে, ‘কিলা’ প্রকৃতপক্ষে দ্বিবচন নয়। আপনি বলবেন: ‘উভয় যায়েদ দাঁড়িয়েছে’। সর্বনামের দিকে মুদাফ হওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে প্রকাশ্য বিশেষ্যের দিকে মুদাফ হওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য; কারণ সেক্ষেত্রে তা আলিফের ওপর একটি উহ্য হরকত দ্বারা অনূদিত হবে। ‘মুদাফান’ শব্দটি ‘ওয়াসিলা’ এর অন্তর্ভুক্ত উহ্য সর্বনাম থেকে হাল হিসেবে এসেছে এবং ‘বি-মুদমাইরিন’ শব্দটি ‘ওয়াসিলা’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এর অর্থ হলো: যখন সর্বনামের সাথে এর গুণ বর্ণনা করা হয় এমতাবস্থায় যে তা মুদাফ ইলাইহি হয়েছে অর্থাৎ সর্বনামের দিকে।

আর তাঁর উক্তি: (কিলতাও অনুরূপ) অর্থাৎ ‘কিলতা’ শব্দটিও ‘কিলা’ এর মতো এই শর্তে আলিফ দ্বারা রফ হবে যে, তাকে সর্বনামের দিকে মুদাফ হতে হবে। ‘কিলতাও অনুরূপ’—এই উক্তি থেকে সাদৃশ্যের দাবি অনুযায়ী আরও বোঝা যায় যে, ‘কিলতা’ প্রকৃতপক্ষে দ্বিবচন নয়। ‘কিলতা’ এখানে মুবতাদা এবং ‘কাযালিকা’ তার খবর। আর তাঁর উক্তি: (ইছনানি ও ইছনাতানি ইবনাইনি ও ইবনাতাইনি এর মতো পরিচালিত হয়) এর অর্থ হলো—‘ইছনানি’ ও ‘ইছনাতানি’ কোনো শর্ত ছাড়াই দ্বিবচনের মতো আলিফ দ্বারা রফ হবে। এ কারণেই তিনি এদেরকে প্রকৃত দ্বিবচন ‘ইবনানি’ ও ‘ইবনাতান’ এর সাথে তুলনা করেছেন। ‘কিলা’, ‘কিলতা’, ‘ইছনানি’ এবং ‘ইছনাতানি’ শব্দগুলো প্রকৃত দ্বিবচন নয় বলে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে তার কারণ হলো—এগুলো অতিরিক্ত অংশ থেকে মুক্ত হওয়া এবং তাদের মতো অন্য একটি শব্দের সাথে যুক্ত হওয়ার যোগ্য নয়।

আর তাঁর উক্তি: (আর এই সকল ক্ষেত্রে আলিফের স্থলাভিষিক্ত হয় ইয়া), এই পঙক্তিটির অর্থ হলো—উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে যার ও নসবের অবস্থায় আলিফের বদলে ইয়া আসে। সুতরাং ইয়া হবে যার ও নসবের চিহ্ন। যেমন: ‘আমি দুইজন যায়েদ এবং দুইজন ব্যক্তি উভয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’ এবং ‘আমি দুইজন হেন্দা এবং দুইজন নারী উভয়ের দিকে তাকালাম’। আর তাঁর উক্তি: (পরিচিত একটি জবরের পরে), এর অর্থ হলো—যার ও নসবের ক্ষেত্রে ইয়ার পূর্বের বর্ণে জবর হবে, যেমনটি রফ-এর ক্ষেত্রে জবর হওয়া পরিচিত। এটিই তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন: ‘পরিচিত একটি জবরের পরে’। এখানে ‘আল-ইয়া’ শব্দটি ‘তাখলুফু’ এর ফায়েল এবং ‘আল-আলিফা’ মাফউল। ছন্দগত প্রয়োজনে ‘আল-ইয়া’ এর শেষে হামযা বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘যার ও নসব’ শব্দ দুটি হরফে যার উহ্য রেখে নসব হয়েছে, অর্থাৎ ‘যার ও নসবের ক্ষেত্রে’। আবার শব্দ দুটি হাল হিসেবে মাজদার হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে, এমতাবস্থায় অর্থ হবে—এই বিষয়গুলো মাজরুর ও মানসুব হওয়া অবস্থায়। ‘এই সবগুলোর মধ্যে’ এবং ‘জবরের পরে’ শব্দগুলো ‘তাখলুফু’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট। স্থলাভিষিক্ত হওয়ার অন্যতম ক্ষেত্র হলো পেশের পরিবর্তে ওয়াও এবং যের ও জবরের পরিবর্তে ইয়া আসা। আর এটি জমা মুযাক্কার সালেম এবং তার সাথে যা সংযুক্ত হয় তার ক্ষেত্রে ঘটে। আর সেই দিকেই তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১৬)
وارفع بواو وبيا اجرر وانصب … سالم جمع عامر ومذنب

وشبه ذين وبه عشرونا … وبابه ألحق والأهلونا

أولو وعالمون علّيّونا … وأرضون شذّ والسّنونا

وبابه ومثل حين قد يرد … ذا الباب وهو عند قوم يطّرد

يعنى أن جمع المذكر السالم يرفع بالواو ويجر وينصب بالياء ولما كان على نوعين أحدهما اسم ويشترط فى مفرده أن يكون علما لمذكر عاقل خاليا من تاء التأنيث ومن التركيب، والآخر وصف ويشترط فى مفرده أن يكون مذكرا عاقلا خاليا من تاء التأنيث لا يمتنع مؤنثه من الجمع بالألف والتاء أتى بمثال من الأول للأول وهو عامر والثانى للثانى وهو مذنب. قوله: (وشبه ذين) يعنى شبه عامر ومذنب فى كونهما على ما ذكر بواو متعلق بارفع وبيا متعلق باجرر أو بانصب وهو من باب التنازع وفيه تقديم المتنازع فيه وهو جائز عند بعضهم وسالم جمع منصوب بأحد العاملين فهو أيضا من باب التنازع، وقوله: وشبه ذين مجرور بالعطف على عامر ومذنب والتقدير جمع هذين الاسمين وما أشبههما وقوله: (وبه عشرونا) هذه هى الكلم التى ألحقت بجمع المذكر السالم فى الإعراب وذكر منها سبعة ألفاظ عشرون وهو اسم جمع لأنه لا مفرد له من لفظه وبابه يعنى ثلاثين إلى

التسعين ويتضمن أيضا سبعة ألفاظ والأهلون وهو جمع غير مستوف الشروط لأنه ليس بعلم ولا صفة وأولو وهو اسم جمع لأنه لا مفرد له من لفظه وعالمون وهو أيضا اسم جمع لا مفرد له من لفظه وليس جمعا لعالم لأن عالما أعم وعليون اسم لأعلى الجنة فهو مفرد فى المعنى جمع فى اللفظ وأرضون جمع أرض وقوله شذ راجع لأرضون ووجه شذوذه أنه من باب سنين وباب سنين مطرد فيما حذف من مفرده حرف أصلى وعوض منه تاء التأنيث كسنة وعدة ولم يحذف من أرض حرف أصلى فيعوض منه بل حذف منه تاء التأنيث بدليل رجوعها فى التصغير فى قولهم أريضة فشذ على هذا جملة فى موضع الحال من أرضين والتقدير وأرضون فى حال كونه شاذا والسنون وبابه يعنى كل ما حذف من مفرده حرف أصلى وعوض منه تاء التأنيث كعزين وثبين وسنين ومئين وقوله: (ومثل حين قد يرد ذا الباب) الإشارة بذا إلى سنين وبابه يعنى أنه قد يستعمل باب سنين استعمال حين فيلزم فيه الياء ويعرب بالحركات الثلاث فى النون ولا تحذف النون للإضافة وفهم من قوله قد يرد أن ذلك قليل ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: «اللهم اجعلها عليهم سنينا كسنين يوسف» فى إحدى الروايتين وقوله: (وهو عند قوم يطرد) يعنى أن هذا الاستعمال المذكور يطرد عند قوم من العرب كقوله:
'ওয়াও' দ্বারা রফ' করো এবং 'ইয়া' দ্বারা জর ও নাসব করো ... 'আমির' এবং 'মুযনিব' শব্দের সুস্থ পুংলিঙ্গ বহুবচনকে।

এই দুইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দগুলো এবং 'ইশরূনা' (বিশ) ... ও তার অধ্যায়ভুক্ত শব্দসমূহ এবং 'আহলূনা' শব্দটিকে এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

'উলূ', 'আলামূনা', 'ইল্লিয়্যূনা' ... এবং 'আরদূনা'—যা ব্যতিক্রম—ও 'সিনূনা' শব্দগুলোকেও (সংযুক্ত করা হয়েছে)।

এবং এর অধ্যায়ভুক্ত শব্দসমূহ। কখনো কখনো এই অধ্যায়টি 'হীন' শব্দের মতো ব্যবহৃত হয় ... আর কোনো কোনো সম্প্রদায়ের নিকট এটি নিয়মিতভাবে প্রযোজ্য।

এর অর্থ হলো, সুস্থ পুংলিঙ্গ বহুবচন 'ওয়াও' দ্বারা রফ' প্রাপ্ত হয় এবং 'ইয়া' দ্বারা জর ও নাসব প্রাপ্ত হয়। যেহেতু এটি দুই প্রকারের হয়: প্রথমটি হলো বিশেষ্য, যার একবচনের জন্য শর্ত হলো সেটি কোনো বিবেকসম্পন্ন পুরুষের নাম হতে হবে এবং তা স্ত্রীবাচক 'তা' ও যৌগিক গঠন থেকে মুক্ত হতে হবে। আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো গুণবাচক শব্দ, যার একবচনের জন্য শর্ত হলো সেটি কোনো বিবেকসম্পন্ন পুরুষের গুণ হতে হবে এবং তা স্ত্রীবাচক 'তা' মুক্ত হতে হবে, যার স্ত্রীবাচক রূপটি 'আলিফ ও তা' যোগে বহুবচন করার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হবে না। লেখক প্রথম প্রকারের জন্য উদাহরণ দিয়েছেন 'আমির' এবং দ্বিতীয় প্রকারের জন্য উদাহরণ দিয়েছেন 'মুযনিব'। লেখকের উক্তি: (এই দুইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ) অর্থাৎ 'আমির' এবং 'মুযনিব'-এর সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দসমূহ যা পূর্বে বর্ণিত শর্তাবলি পূরণ করে। 'ওয়াও দ্বারা' অংশটি 'রফ' করো' ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত এবং 'ইয়া দ্বারা' অংশটি 'জর করো' অথবা 'নাসব করো' ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। এটি 'তানাযু' (বিরোধপূর্ণ সম্বন্ধ)-এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে সম্বন্ধীয় বিষয়টি আগে চলে এসেছে এবং এটি কারো কারো মতে বৈধ। আর 'সুস্থ বহুবচন' শব্দটি দুটি আমিলের যেকোনো একটি দ্বারা নাসব প্রাপ্ত হয়েছে, তাই এটিও 'তানাযু'-এর অন্তর্ভুক্ত। আর লেখকের উক্তি: (এই দুইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ) শব্দটি 'আমির' এবং 'মুযনিব'-এর ওপর সংযোজিত হওয়ার কারণে মাজরুর হয়েছে। এর মূল অর্থ হলো: এই দুটি নাম এবং এদের সাদৃশ্যপূর্ণ নামসমূহের বহুবচন। লেখকের উক্তি: (এর সাথে 'ইশরূনা') এগুলো হলো সেই শব্দগুলো যা সুস্থ পুংলিঙ্গ বহুবচনের রূপান্তরের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। লেখক এখানে সাতটি শব্দের কথা উল্লেখ করেছেন: 'ইশরূনা', যা একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, কারণ এর নিজ শব্দমূল থেকে কোনো একবচন নেই। 'তার অধ্যায়' বলতে 'ছালাছূনা' (ত্রিশ) থেকে

'তিসঊনা' (নব্বই) পর্যন্ত বোঝানো হয়েছে এবং এটি আরও সাতটি শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করে। 'আহলূনা' শব্দটি এমন একটি বহুবচন যা শর্তাবলি পূর্ণ করে না, কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট নাম নয় এবং গুণবাচক শব্দও নয়। 'উলূ' শব্দটি একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, কারণ এর নিজ শব্দমূল থেকে কোনো একবচন নেই। 'আলামূনা' শব্দটিও একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, যার নিজস্ব কোনো একবচন নেই। এটি 'আলম' (জগত)-এর বহুবচন নয়, কারণ 'আলম' শব্দটি অধিক ব্যাপক। 'ইল্লিয়্যূনা' হলো জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানের নাম, যা অর্থের দিক থেকে একবচন কিন্তু গঠনের দিক থেকে বহুবচন। 'আরদূনা' হলো 'আরদ' (জমিন) শব্দের বহুবচন। লেখকের 'ব্যতিক্রম' উক্তিটি 'আরদূনা' শব্দের দিকে ফিরে যায়। এর ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ হলো, এটি 'সিনীন' অধ্যায়ভুক্ত। আর 'সিনীন' অধ্যায়টি নিয়মিতভাবে সেই শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার একবচন থেকে কোনো মূল অক্ষর বিলুপ্ত হয়েছে এবং তার পরিবর্তে স্ত্রীবাচক 'তা' যুক্ত হয়েছে, যেমন: 'সানাতুন' এবং 'ইদাতুন'। কিন্তু 'আরদ' শব্দ থেকে কোনো মূল অক্ষর বিলুপ্ত হয়নি যার পরিবর্তে কিছু যুক্ত হবে, বরং এখান থেকে স্ত্রীবাচক 'তা' বিলুপ্ত হয়েছে। এর প্রমাণ হলো তাসগির (ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ) করার সময় 'উরাইদাতুন' শব্দে 'তা' ফিরে আসে। তাই এটি ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়েছে। এখানে 'ব্যতিক্রম' শব্দটি 'আরদীনা' থেকে অবস্থা (হাল) হিসেবে এসেছে। এর মূল অর্থ হলো: 'আরদূনা' ব্যতিক্রম হওয়া অবস্থায়। 'সিনূনা' এবং এর অধ্যায় বলতে বোঝায়—যার একবচন থেকে কোনো মূল অক্ষর বিলুপ্ত হয়েছে এবং তার বদলে স্ত্রীবাচক 'তা' যুক্ত হয়েছে, যেমন: 'ইযীনা', 'ছুবীনা', 'সিনীনা' এবং 'মিঈনা'। লেখকের উক্তি: (কখনো কখনো এই অধ্যায়টি 'হীন'-এর মতো ব্যবহৃত হয়)। এখানে 'এই' দ্বারা 'সিনীন' ও তার অধ্যায়কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ কখনো কখনো 'সিনীন' অধ্যায়ের শব্দগুলো 'হীন' শব্দের মতো ব্যবহৃত হয়, ফলে এতে সর্বদা 'ইয়া' অপরিহার্য থাকে এবং নূন-এর ওপর তিনটি হরকত দ্বারা রূপান্তর প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে সম্বন্ধের কারণে নূন বিলুপ্ত হয় না। 'কখনো কখনো ব্যবহৃত হয়' কথাটি থেকে বোঝা যায় যে, এর ব্যবহার খুবই কম। এর উদাহরণ হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "হে আল্লাহ! তাদের ওপর ইউসুফ (আ.)-এর বছরগুলোর মতো বছর চাপিয়ে দাও" (একটি বর্ণনা অনুযায়ী)। লেখকের উক্তি: (আর কোনো কোনো সম্প্রদায়ের নিকট এটি নিয়মিতভাবে প্রযোজ্য)। অর্থাৎ আরবদের কোনো কোনো গোত্রের নিকট এই ব্যবহারটি নিয়মিত, যেমনটি বলা হয়েছে:
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১৭)
- دعانى من نجد فإن سنينه … لعبن بنا شيبا وشيّبننا مردا (2)

ثم قال:

ونون مجموع وما به التحق … فافتح وقلّ من بكسره نطق

يعنى أن نون الجمع وما ألحق به مفتوحة وكسرها قليل، قيل وهو مخصوص بالضرورة كقوله:

-وماذا يدرى الشعراء منى … وقد جاوزت حد الأربعين (3)

ثم قال:

ونون ما ثنّى والملحق به … بعكس ذاك استعملوه فانتبه

يعنى أن نون المثنى وما ألحق به بالعكس من نون الجمع فكسرها كثير وفتحها قليل وهو لغة مع الياء وقيل مطلقا، ومنه قوله:

- أعرف منها الجيد والعينانا … ومنخرين أشبها ظبيانا (4)

--------------------------------------------

(2) البيت من الطويل، وهو للصمة بن عبد الله القشيرى فى تخليص الشواهد ص 71، وخزانة الأدب 8/ 58، 59، 61، 62، 76، وشرح

التصريح 1/ 77، وشرح شواهد الإيضاح ص 597، وشرح المفصل 5/ 11، 12، والمقاصد النحوية 1/ 169، وبلا نسبة فى أوضح المسالك 1/ 57، وجواهر الأدب ص 157، وشرح الأشمونى 1/ 37، وشرح ابن عقيل ص 39، ولسان العرب 3/ 413 (نجد)، 13/ 501 (سنه)، ومجالس ثعلب ص 177، 320.

والشاهد فيه قوله: «فإن سنينه» حيث نصب «سنين» بالفتحة على لغة بعض تميم وبنى عامر، ولم يعاملها معاملة جمع المذكر السالم فى رفعها بالواو ونصبها وجرها بالياء.

(3) البيت من الوافر، وهو لسحيم بن وثبل فى إصلاح المنطق ص 156، وتخليص الشواهد ص 74، وتذكرة النحاة ص 480، وخزانة الأدب 8/ 61، 62، 65، 67، 68، وحماسة البحترى ص 13، والدرر 1/ 140، وسر صناعة الإعراب 2/ 627، وشرح التصريح 1/ 77، وشرح ابن عقيل ص 41، وشرح المفصل 5/ 11، ولسان العرب 3/ 513 (نجذ)، 8/ 99 (ربع)، 14/ 255 (درى)، والمقاصد النحوية 1/ 191، وبلا نسبة فى الأشباه والنظائر 7/ 248، وأوضح المسالك 1/ 61، وجواهر الأدب ص 155، وشرح الأشمونى 1/ 38، 39، والمقتضب 3/ 332، وهمع الهوامع 1/ 49.

والشاهد فيه قوله: «الأربعين» حيث أعربه بالحركات، فجره بالكسرة، ولم يعربه إعراب جمع المذكر السالم على اللغة الأشيع. وقيل: إن كسرة النون، هنا، لغة من لغات العرب، وقيل: كسرت النون على ما هو الأصل فى التخلص من التقاء الساكنين.

(4) الرجز لرؤبة فى ملحق ديوانه ص 187، ولرؤبة أو لرجل من ضبة فى الدرر 1/ 139، والمقاصد النحوية 1/ 184، ولرجل فى نوادر أبى زيد ص 15، وبلا نسبة فى أوضح المسالك 1/ 64، وتخليص الشواهد ص 80، وخزانة الأدب 7/ 452، 453، 456، 457، ورصف المبانى ص 24، وسر صناعة الإعراب ص 489، 705، وشرح الأشمونى 1/ 39، وشرح التصريح 1/ 78، وشرح ابن عقيل ص 42، وشرح المفصل 3/ 129، 4/ 64، 67، 143، وهمع الهوامع 1/ 49.
আমাকে নজদ থেকে ছেড়ে দাও, কারণ এর বছরগুলো … আমাদের প্রৌঢ়াবস্থায় আমাদের নিয়ে খেলেছে এবং আমাদের যৌবনকে বার্ধক্যে পরিণত করেছে (২)

অতঃপর তিনি বলেন:

এবং বহুবচনের নূন এবং তার সাথে যা কিছু যুক্ত হয়েছে … সেটিতে ফাতহা দাও, আর খুব কম লোকই একে কাসরা দিয়ে উচ্চারণ করেছে

অর্থাৎ বহুবচনের নূন এবং এর সাথে যা কিছু সংযুক্ত, তা ফাতহা যুক্ত হবে এবং এর কাসরা হওয়া দুর্লভ। বলা হয়েছে যে, এটি কাব্যের প্রয়োজনের (জরুরত) সাথে নির্দিষ্ট, যেমন তাঁর উক্তি:

- আর কবিরা আমার সম্পর্কে কী-ই বা জানবে … অথচ আমি চল্লিশের সীমা অতিক্রম করেছি (৩)

অতঃপর তিনি বলেন:

দ্বিবচনের নূন এবং তার সাথে যা যুক্ত হয়েছে … সেটিকে তারা এর বিপরীতে ব্যবহার করেছে, অতএব লক্ষ্য করুন

অর্থাৎ দ্বিবচনের নূন এবং এর সাথে যা সংযুক্ত, তা বহুবচনের নূনের বিপরীত। তাই এর কাসরা হওয়া অধিক প্রচলিত এবং ফাতহা হওয়া দুর্লভ। এটি 'ইয়া'-এর সাথে একটি উপভাষা, এবং কেউ কেউ বলেছেন এটি সাধারণভাবে প্রযোজ্য। এরই অন্তর্ভুক্ত তাঁর উক্তি:

- আমি তার ঘাড় ও চোখ দুটিকে চিনি … এবং দুটি নাসারন্ধ্র যা একটি হরিণের সদৃশ (৪)

--------------------------------------------

(২) কবিতাটি 'তাবিল' ছন্দের। এটি সিম্মাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-কুশাইরির। এটি পাওয়া যাবে: তাখলিসুশ শাওয়াহিদ পৃ. ৭১; খিজানাতুল আদাব ৮/৫৮, ৫৯, ৬১, ৬২, ৭৬; শারহুত

তাসরিহ ১/৭৭; শারহু শাওয়াহিল ইদাহ পৃ. ৫৯৭; শারহুল মুফাসসাল ৫/১১, ১২; আল-মাকাসিদুন নাহউইয়্যাহ ১/১৬৯; এবং নামহীনভাবে আওদাহুল মাসালিক ১/৫৭; জাওয়াহিরুল আদাব পৃ. ১৫৭; শারহুল আশমুনি ১/৩৭; শারহু ইবনু আকিল পৃ. ৩৯; লিসানুল আরব ৩/৪১৩ (নজদ), ১৩/৫০১ (সিনাহ); মাজালিসু সা'লাব পৃ. ১৭৭, ৩২০।

এর মধ্যে কাব্যপ্রমাণ (শাহেদ) হলো তাঁর উক্তি: "ফা ইন্না সিনিনাহু", যেখানে তামীম ও বনু আমেরের কারো কারো উপভাষা অনুযায়ী "সিনিন" শব্দটিকে ফাতহা দিয়ে মানসুব করা হয়েছে। একে জমা মুজাক্কার সালেম হিসেবে গণ্য করে 'ওয়াও' দ্বারা রাফা এবং 'ইয়া' দ্বারা নাসব ও জার দেওয়া হয়নি।

(৩) কবিতাটি 'ওয়াফির' ছন্দের। এটি সুহাইম বিন ওয়াসিলের। এটি পাওয়া যাবে: ইসলাহুল মানতিক পৃ. ১৫৬; তাখলিসুশ শাওয়াহিদ পৃ. ৭৪; তাযকিরাতুন নুহাত পৃ. ৪৮০; খিজানাতুল আদাব ৮/৬১, ৬২, ৬৫, ৬৭, ৬৮; হামাসাতুল বুহতুুরি পৃ. ১৩; আদ-দুরার ১/১৪০; সিররু সিনাআতিল ই'রাব ২/৬২৭; শারহুত তাসরিহ ১/৭৭; শারহু ইবনু আকিল পৃ. ৪১; শারহুল মুফাসসাল ৫/১১; লিসানুল আরব ৩/৫১৩ (নাজাজ), ৮/৯৯ (রাব'), ১৪/২৫৫ (দারা); আল-মাকাসিদুন নাহউইয়্যাহ ১/১৯১; এবং নামহীনভাবে আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ির ৭/২৪৮; আওদাহুল মাসালিক ১/৬১; জাওয়াহিরুল আদাব পৃ. ১৫৫; শারহুল আশমুনি ১/৩৮, ৩৯; আল-মুকতাদাব ৩/৩৩২; হামউল হাওয়ামি ১/৪৯।

এর মধ্যে কাব্যপ্রমাণ হলো তাঁর উক্তি: "আল-আরবা'ঈনি", যেখানে তিনি হরকতের মাধ্যমে ই'রাব দিয়েছেন এবং কাসরা দিয়ে জার করেছেন, সর্বাধিক প্রচলিত উপভাষা অনুযায়ী জমা মুজাক্কার সালেমের ই'রাব দেননি। বলা হয়েছে যে, নূনের এই কাসরা আরবদের একটি উপভাষা; আবার বলা হয়েছে যে, দুই সাকিন একত্র হওয়া থেকে বাঁচার মূল নিয়মের ভিত্তিতে নূনে কাসরা দেওয়া হয়েছে।

(৪) এই রাজায ছন্দটি রু'বার, যা তাঁর দীউয়ানের পরিশিষ্টের ১৮৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে। এটি রু'বা অথবা দাব্বাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তির বলে উল্লেখ আছে আদ-দুরার ১/১৩৯ এবং আল-মাকাসিদুন নাহউইয়্যাহ ১/১৮৪-এ। নাওয়াদিরু আবি যায়েদ-এর ১৫ পৃষ্ঠায় এটি জনৈক ব্যক্তির নামে বর্ণিত। এছাড়া নামহীনভাবে এটি রয়েছে আওদাহুল মাসালিক ১/৬৪; তাখলিসুশ শাওয়াহিদ পৃ. ৮০; খিজানাতুল আদাব ৭/৪৫২, ৪৫৩, ৪৫৬, ৪৫৭; রাছফুল মাবানি পৃ. ২৪; সিররু সিনাআতিল ই'রাব পৃ. ৪৮৯, ৭০৫; শারহুল আশমুনি ১/৩৯; শারহুত তাসরিহ ১/৭৮; শারহু ইবনু আকিল পৃ. ৪২; শারহুল মুফাসসাল ৩/১২৯, ৪/৬৪, ৬৭, ১৪৩; হামউল হাওয়ামি ১/৪৯।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقوله: فانتبه أى لما استعملته العرب من الفرق بين نون الجمع ونون التثنية ومن مواضع النيابة أيضا نيابة الكسرة عن الفتحة وذلك فى جمع المؤنث السالم وما ألحق به وإليه أشار بقوله:

وما بتا وألف قد جمعا … يكسر فى الجرّ وفى النّصب معا

كذا أولات والذى اسما قد جعل … كأذر عات فيه ذا أيضا قبل

وجرّ بالفتحة ما لا ينصرف … ما لم يضف أو يك بعد أل ردف

يعنى أن المجموع بالألف والتاء وهو جمع المؤنث السالم يجر وينصب بالكسرة فتقول:

مررت بالهندات ورأيت الهندات وإنما نصب بالكسرة مع تأتى الفتحة حملا على جمع المذكر السالم لأنه فرع عنه وقدم الجر لأن النصب محمول عليه. وقوله: (كذا أولات) البيت. هذا هو الملحق بجمع المؤنث السالم وهو نوعان الأول: أولات وهو اسم جمع بمعنى ذوات ولا مفرد له من لفظه وإليه أشار بقوله كذا أولات يعنى أن أولات يلحق بجمع المؤنث السالم فيجر وينصب بالكسرة كقوله تعالى: وَإِنْ كُنَّ أُولاتِ حَمْلٍ [الطلاق: 6] الثانى ما سمى به من جمع المؤنث السالم فيجر وينصب بالكسرة وإليه أشار بقوله: (والذى اسما قد جعل) إلخ فتقول فى رجل اسمه

هندات هذا هندات ورأيت هندات ومررت بهندات كما كان قبل التسمية ومنه أذرعات اسم موضع بالشام وذاله معجمة فأولات مبتدأ وخبره كذا والذى مبتدأ وصلته اسما قد جعل وفى جعل ضمير مستتر عائد على الموصول واسما مفعول ثان بجعل وكأذرعات متعلق بجعل أو فى موضع الحال من الضمير المستتر فى جعل وذا مبتدأ وهو إشارة إلى الحكم المتقدم فى جمع المؤنث السالم وهو حمل منصوبه على مجروره وقبل خبره وفيه متعلق بقبل والجملة من المبتدأ الثانى وخبره خبر عن الأول والرابط الضمير المجرور بفى وهو متعلق بقبل وتقديره والذى جعل اسما من جمع المؤنث السالم كأذرعات قبل فيه هذا الاستعمال وهو حمل منصوبه على مجروره. ومن مواضع النيابة نيابة الفتحة عن الكسرة وإليه أشار بقوله: (وجر بالفتحة ما لا ينصرف) يعنى أن الاسم الذى لا ينصرف يجر بالفتحة ولم يذكر الرفع والنصب لأنه على الأصل السابق ولما كان جره بالفتحة مشروطا بأن لا يضاف ولا يدخل عليه أل وأشار إلى ذلك بقوله: (ما لم يضف أو يك بعد أل ردف) فشمل أل الزائدة نحو اليزيد وغير الزائدة نحو الأحسن ومعنى ردف تبع. وقوله وجر يحتمل أن يكون فعلا ماضيا مبنيا للمفعول وما فى موضع رفع نيابة عن الفاعل ويحتمل أن يكون فعل أمر وما فى موضع نصب على أنه مفعول به وما فى قوله ما لم يضف ظرفية مصدرية والتقدير مدة كونه
এবং তাঁর কথা: "অতঃপর মনোযোগী হও", অর্থাৎ আরবরা বহুবচনের নুন এবং দ্বিবচনের নুনের মধ্যে যে পার্থক্য ব্যবহার করেছে সে বিষয়ে। প্রতিনিধিত্বের স্থানসমূহের মধ্যে আরেকটি হলো ফাতহার পরিবর্তে কাসরা হওয়া। আর এটি হলো জামউ মুয়ান্নাস সালিম (পরিপূর্ণ স্ত্রীবাচক বহুবচন) এবং এর সাথে যা সংযুক্ত করা হয়েছে সে ক্ষেত্রে। এই দিকেই তিনি তাঁর এই কথার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:

আর যা আলিফ ও তা যোগে বহুবচন করা হয়েছে … তা জার ও নাসব উভয় অবস্থায় কাসরা প্রাপ্ত হয়।

অনুরূপভাবে 'উলাত' শব্দটিও, এবং যাকে নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে … যেমন 'আযরিআত'; এতেও এই নিয়মটি গৃহীত হয়েছে।

এবং গাইরে মুনসারিফকে ফাতহা দ্বারা জার প্রদান করো … যতক্ষণ না তা মুদাফ হয় অথবা আলিফ-লামের অনুগামী হয়।

অর্থাৎ আলিফ ও তা যোগে গঠিত বহুবচন, যা জামউ মুয়ান্নাস সালিম, তা কাসরা দ্বারা জার ও নাসব প্রাপ্ত হয়। সুতরাং আপনি বলবেন:

আমি হিন্দাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং আমি হিন্দাদের দেখলাম। ফাতহা গ্রহণের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এটি কাসরা দ্বারা নাসব প্রাপ্ত হয়েছে জামউ মুযাক্কার সালিমের সাদৃশ্যে, কারণ এটি তার একটি শাখা। আর জারের আলোচনা আগে আনা হয়েছে কারণ নাসব জারের অনুবর্তী। এবং তাঁর কথা: (অনুরূপভাবে উলাত) এই পঙ্‌ক্তিটি। এটি হলো জামউ মুয়ান্নাস সালিমের সাথে সংযুক্ত শব্দ। এটি দুই প্রকার। প্রথমটি: 'উলাত' (أولات); এটি একটি ইসমে জাম' (সমষ্টিবাচক বিশেষ্য) যা 'যাওয়াত' (অধিকারী) অর্থে ব্যবহৃত হয়, এর নিজস্ব শব্দ থেকে কোনো একবচন নেই। এই দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন 'অনুরূপভাবে উলাত' কথাটি দিয়ে। অর্থাৎ 'উলাত' শব্দটিকে জামউ মুয়ান্নাস সালিমের সাথে সংযুক্ত করা হয়, ফলে এটি কাসরা দ্বারা জার ও নাসব প্রাপ্ত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর যদি তারা গর্ভবতী হয়।" [সূরা আত-তালাক: ৬] দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: জামউ মুয়ান্নাস সালিম থেকে যা নাম হিসেবে রাখা হয়েছে, সেটিও কাসরা দ্বারা জার ও নাসব প্রাপ্ত হবে। এই দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন: (এবং যাকে নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে) ইত্যাদি কথা দিয়ে। সুতরাং আপনি এমন এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার নাম 'হিন্দাত' বলবেন:

এই হয় হিন্দাত, আমি হিন্দাতকে দেখলাম এবং আমি হিন্দাতের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, যেমনটি নামকরণের পূর্বে ছিল। সিরিয়ার একটি স্থানের নাম 'আযরিআত' (أذرعات) এই পর্যায়ভুক্ত; এর 'যাল' বর্ণটি নুকতাযুক্ত। এখানে 'উলাত' হলো মুবতাদা এবং এর খবর হলো 'কাযা'। 'আল্লাযী' হলো মুবতাদা এবং এর সিলাহ হলো 'ইসমান কদ জুয়িলা'। 'জুয়িলা' ক্রিয়ার মধ্যে একটি উহ্য সর্বনাম রয়েছে যা মাউসুলের দিকে ফিরেছে, আর 'ইসমান' শব্দটি 'জুয়িলা' এর দ্বিতীয় মাফউল। 'কাআযরিআত' অংশটি 'জুয়িলা' এর সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা 'জুয়িলা' এর উহ্য সর্বনাম থেকে 'হাল' হিসেবে রয়েছে। 'যা' হলো মুবতাদা যা জামউ মুয়ান্নাস সালিমের পূর্বে বর্ণিত বিধানের দিকে ইশারা করছে, আর তা হলো নাসবকে জারের অনুবর্তী করা। 'কুবিলা' হলো এর খবর এবং 'ফীহি' অংশটি 'কুবিলা' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। দ্বিতীয় মুবতাদা ও খবরের বাক্যটি প্রথম মুবতাদার খবর। এদের মধ্যকার সংযোগকারী হলো 'ফী' এর সাথে যুক্ত মাজরুর সর্বনামটি যা 'কুবিলা' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এর অর্থ দাঁড়াবে: জামউ মুয়ান্নাস সালিম থেকে যাকে নাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে—যেমন আযরিআত—তাতে এই ব্যবহারটি গৃহীত হয়েছে, আর তা হলো এর নাসবকে জারের অনুবর্তী করা। প্রতিনিধত্ব বা বদলির স্থানসমূহের মধ্যে আরেকটি হলো কাসরার পরিবর্তে ফাতহা হওয়া। এই দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন এই কথার মাধ্যমে: (এবং গাইরে মুনসারিফকে ফাতহা দ্বারা জার প্রদান করো)। অর্থাৎ যে ইসমটি গাইরে মুনসারিফ (অব্যয়ী), সেটি ফাতহা দ্বারা জার প্রাপ্ত হয়। তিনি রাফা এবং নাসবের কথা উল্লেখ করেননি কারণ তা পূর্বের মূল নিয়ম অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়। যেহেতু এর ফাতহা দ্বারা জার হওয়ার বিষয়টি শর্তযুক্ত যে, তা মুদাফ হতে পারবে না এবং তাতে আলিফ-লাম যুক্ত হতে পারবে না, তাই তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই কথার মাধ্যমে: (যতক্ষণ না তা মুদাফ হয় অথবা আলিফ-লামের অনুগামী হয়)। এটি অতিরিক্ত আলিফ-লাম যেমন 'আল-ইয়াযীদ' এবং অতিরিক্ত নয় এমন আলিফ-লাম যেমন 'আল-আহসান' উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'রাদাফা' শব্দের অর্থ হলো অনুসরণ করা বা অনুগামী হওয়া। এবং তাঁর কথা 'জুরা' (বা জুর্রা) শব্দটি কর্মবাচ্যের অতীতকালীন ক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, এমতাবস্থায় 'মা' শব্দটি নায়েবে ফায়ল হিসেবে রফআর স্থানে থাকবে। আবার এটি আদেশসূচক ক্রিয়া হওয়ারও সম্ভাবনা রাখে, সেক্ষেত্রে 'মা' শব্দটি কর্মপদ হিসেবে নাসবের স্থানে থাকবে। আর 'মা লাম ইউদাফ' বাক্যে 'মা' শব্দটি হলো 'যারফিয়্যাহ মাসদারিয়্যাহ' এবং এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো: "যতক্ষণ পর্যন্ত তা থাকবে..."
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ১৯)
غير مضاف ولا تابع لأل. ومن مواضع النيابة نيابة النون عن الضمة ونيابة حذفها عن السكون والفتحة وذلك فى خمسة أمثلة من الفعل وإليه أشار بقوله:

واجعل لنحو يفعلان النّونا … رفعا وتدعين وتسألونا

وحذفها للجزم والنّصب سمه … كلم تكونى لترومى مظلمه

يعنى أن علامة الرفع فى هذه الأمثلة الثلاثة هى النون وهذه الأمثلة ثلاثة فى اللفظ وفهم من قوله لنحو أنها أكثر وتبلغ بالاستقراء إلى ثمانية لأن يفعلان شامل لما كان ألفه ضميرا نحو الزيدان يفعلان ولما كان ألفه علامة التثنية نحو يفعلان الزيدان على لغة أكلونى البراغيث، ويتضمن أيضا تفعلان بالتاء فإنه شبيه بيفعلان وتكون ألفه أيضا ضميرا نحو أنتما تفعلان وعلامة التثنية نحو تفعلان الهندان وأما تسألون فيكون واوه ضميرا نحو أنتم تسألون وهو متضمن ليفعلون لأنه شبهه وواو يفعلون يكون ضميرا نحو الزيدون يسألون وعلامة جمع نحو يسألون الزيدون وأما تدعين فلا تكون ياؤه إلا ضميرا فهذه ثمانية أمثلة التقدير وإن كانت ثلاثة فى اللفظ والنون مفعول أول باجعل ورفعا مفعول ثان وهو على حذف مضاف أى علامة رفع والتقدير واجعل النون علامة رفع لنحو

يفعلان وتدعين وتسألون. وقوله: (وحذفها للجزم والنصب سمه)، أى علامة وقدم الجزم على النصب لأن النصب محمول عليه ثم أتى بمثال للجزم وهو قوله: (كلم تكونى) ومثال للنصب وهو قوله: (لترومى مظلمه) يجوز فى لامه الفتح والكسر والقياس الفتح. واعلم أن علامات الإعراب تكون ظاهرة كما تقدم ومقدرة وذلك فى الأسماء والأفعال المعتلة، وبدأ بالأسماء المعتلة فقال:

وسمّ معتلا من الأسماء ما … كالمصطفى والمرتقى مكارما

فالأوّل الإعراب فيه قدّرا … جميعه وهو الذى قد قصرا

والثّان منقوص ونصبه ظهر … ورفعه ينوى كذا أيضا يجرّ

يعنى أن ما كان من الأسماء حرف إعرابه ألف قبلها فتحة لازمة كالمصطفى أو ياء قبلها كسرة لازمة كالمرتقى يسمى معتلا وليس من الأسماء ما حرف إعرابه واو قبلها ضمة لازمة وما موصولة مفعول أول بسم ومعتلا مفعول ثان وصلة ما كالمصطفى ومكارما مفعول من أجله أو تمييز أو ظرف أو مفعول به ومن الأسماء متعلق بسم ثم إن القسم الأول من المعتل وهو ما حرف إعرابه ألف لازمة يقدر فيه جميع الإعراب أعنى الضمة والفتحة والكسرة لتعذر
এটি মুদাফ নয় এবং আল-এর অনুগামীও নয়। আর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার স্থানগুলোর একটি হলো যম্মাহর স্থলে নূন-এর স্থলাভিষিক্ত হওয়া এবং সুকূন ও ফাতহাহর স্থলে নূন বিলুপ্ত হওয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়া। আর এটি ক্রিয়ার পাঁচটি উদাহরণের ক্ষেত্রে ঘটে, যার দিকে তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইশারা করেছেন:

রাফ্-এর অবস্থায় ইয়াফ‘আলানি-এর ন্যায় শব্দের ক্ষেত্রে নূনকে চিহ্ন সাব্যস্ত করো … আর তাদ‘ঈনা ও তাসআলুনা-এর ক্ষেত্রেও।

আর জাযম ও নাসব-এর চিহ্ন হিসেবে নূন বিলুপ্ত হওয়াকে নির্ধারণ করো … যেমন: ‘লাম তাকুনী লিতারূমী মাজলামাহ’।

অর্থাৎ এই তিনটি উদাহরণের ক্ষেত্রে রাফ্-এর আলামত হলো নূন। এই উদাহরণগুলো শব্দগতভাবে তিনটি, তবে তাঁর উক্তি ‘নাও’ (লি-নাও) থেকে বুঝা যায় যে এগুলো আরও বেশি। পর্যালোচনার মাধ্যমে এগুলো আটে পৌঁছায়। কারণ ‘ইয়াফ‘আলানি’ এমন শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করে যার আলিফ হলো যমীর (সর্বনাম), যেমন: ‘আয-যাইদানি ইয়াফ‘আলানি’। আবার যার আলিফ দ্বিবচনের আলামত তাকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন: ‘ইয়াফ‘আলানি আয-যাইদানি’ (আকালুনিল বারগিস উপভাষা অনুযায়ী)। এটি ‘তা’ দিয়ে গঠিত ‘তাফ‘আলানি’কেও অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ এটি ‘ইয়াফ‘আলানি’-এর সদৃশ। এর আলিফও যমীর হতে পারে, যেমন: ‘আনতুমা তাফ‘আলানি’; আবার দ্বিবচনের আলামতও হতে পারে, যেমন: ‘তাফ‘আলানি আল-হিনদানি’। আর ‘তাসআলুনা’র ক্ষেত্রে ওয়াও হবে যমীর, যেমন: ‘আনতুমা তাসআলুনা’। এটি ‘ইয়াফ‘আলুনা’কে অন্তর্ভুক্ত করে কারণ এটি তার সদৃশ। ‘ইয়াফ‘আলুনা’-এর ওয়াও যমীর হতে পারে, যেমন: ‘আয-যাইদুনা ইয়াসআলুনা’ এবং বহুবচনের আলামত হতে পারে যেমন: ‘ইয়াসআলুনা আয-যাইদুনা’। আর ‘তাদ‘ঈনা’র ক্ষেত্রে ইয়া কেবল যমীরই হয়। সুতরাং এগুলো অনুমানের দিক থেকে আটটি উদাহরণ, যদিও শব্দগতভাবে তিনটি। ‘নূন’ শব্দটি ‘ইজ‘আল’ ক্রিয়ার প্রথম কর্ম (মাফ‘উল) এবং ‘রাফ‘আন’ দ্বিতীয় কর্ম; যা একটি উহ্য মুদাফের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থাৎ রাফ্-এর আলামত। মূল বাক্যটি হলো: নূনকে ‘ইয়াফ‘আলানি’, ‘তাদ‘ঈনা’ এবং ‘তাসআলুনা’-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে রাফ্-এর আলামত বানাও।

ইয়াফ‘আলানি, তাদ‘ঈনা এবং তাসআলুনা। আর তাঁর উক্তি: (আর জাযম ও নাসব-এর জন্য নূন বিলোপকে চিহ্ন নির্ধারণ করো), অর্থাৎ আলামত হিসেবে। তিনি নাসব-এর আগে জাযমকে উল্লেখ করেছেন কারণ নাসব জাযমের অনুগামী। এরপর তিনি জাযমের উদাহরণ দিয়েছেন, যা হলো তাঁর উক্তি: (লাম তাকুনী)। আর নাসব-এর উদাহরণ হলো তাঁর উক্তি: (লিতারূমী মাজলামাহ)। ‘মাজলামাহ’ শব্দের লাম বর্ণে ফাতহাহ ও কাসরাহ উভয়ই বৈধ, তবে নিয়ম অনুযায়ী ফাতহাহ হওয়াই উত্তম। জেনে রাখুন যে, ই‘রাবের আলামতগুলো কখনো প্রকাশ্য হয় যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে, আবার কখনো উহ্য হয়; আর তা ইসম ও ফিয়েলের মু‘তাল (দুর্বল) হওয়ার ক্ষেত্রে ঘটে। তিনি মু‘তাল ইসম দিয়ে শুরু করেছেন এবং বলেছেন:

ইসমসমূহের মধ্যে যেগুলোর শেষে … আল-মুস্তফা এবং আল-মুরতাকি মাকারিমা-এর মতো অক্ষর থাকে, সেগুলোকে ‘মু‘তাল’ নামে অভিহিত করো।

প্রথমটির ক্ষেত্রে সকল প্রকার ই‘রাব উহ্য থাকে … এবং একেই ‘মাকসূর’ বলা হয়।

দ্বিতীয়টি হলো ‘মানকূস’, যার নাসব প্রকাশ্য হয় … এবং রাফ্ ও জার উহ্য রাখার সংকল্প করা হয়।

অর্থাৎ ইসমসমূহের মধ্যে যেটির ই‘রাবের বর্ণ হলো আলিফ এবং তার পূর্বে একটি আবশ্যিক ফাতহাহ থাকে, যেমন: ‘আল-মুস্তফা’; অথবা যার শেষে ইয়া থাকে এবং তার পূর্বে একটি আবশ্যিক কাসরাহ থাকে, যেমন: ‘আল-মুরতাকি’, তাকে ‘মু‘তাল’ বলা হয়। ইসমসমূহের মধ্যে এমন কোনো শব্দ নেই যার ই‘রাবের বর্ণ ওয়াও এবং তার পূর্বে আবশ্যিক যম্মাহ থাকে। এখানে ‘মা’ শব্দটি ‘সাম্মি’ (নামকরণ করো) ক্রিয়ার প্রথম মাফ‘উল এবং ‘মু‘তাল্লা’ দ্বিতীয় মাফ‘উল। ‘মা’-এর সিলাহ হলো ‘কাল মুস্তফা’। ‘মাকারিমা’ শব্দটি মাফ‘উল লাহু অথবা তামীয অথবা যরফ অথবা মাফ‘উল বিহি। ‘মিনাল আসমা’ অংশটি ‘সাম্মি’ ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। অতঃপর মু‘তালের প্রথম প্রকার—যার ই‘রাবের বর্ণ হলো আবশ্যিক আলিফ—তাতে সকল প্রকার ই‘রাব অর্থাৎ যম্মাহ, ফাতহাহ ও কাসরাহ উহ্য থাকে, অপারগতার কারণে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২০)
النطق بها نحو قام الفتى ورأيت الفتى ومررت بالفتى ويسمى مقصورا وقد نبه على ذلك بقوله: (فالأول الإعراب فيه قدّرا جميعه) البيت ثم نبه على القسم الثانى بقوله: (والثان منقوص) البيت يعنى أن القسم الثانى من المعتل يسمى منقوصا وتظهر فيه الفتحة فى حال النصب لخفتها فى الياء نحو رأيت القاضى وتنوى فيها الضمة والكسرة فى حال رفعه وجره لثقلهما فى الياء نحو قام القاضى ومررت بالقاضى ثم أشار إلى المعتل من الأفعال بقوله:

وأىّ فعل آخر منه ألف … أو واو أو ياء فمعتلا عرف

فالألف انو فيه غير الجزم … وأبد نصب ما كيدعو يرمى

والرّفع فيهما انو واحذف جازما … ثلاثهنّ تقض حكما لازما

يعنى أن المعتل من الأفعال ثلاثة أقسام: ما آخره ألف نحو يخشى، وما آخره واو نحو يغزو، وما آخره ياء نحو يرمى، وجميع ذلك يسمى معتلا، وأى فعل شرط وهو مرفوع بالابتداء وكان بعده مقدرة ويحتمل أن تكون شانية وآخر منه ألف جملة من مبتدأ وخبره مفسرة للضمير المستكن فى كان الشانية المقدرة ويحتمل أن تكون ناقصة وآخر منه اسمها وألف خبرها ووقف عليه بالسكون على لغة ربيعة والفاء جواب الشرط وفى عرف

ضمير مستتر عائد على فعل ومعتلا حال منه مقدم على عامله. وقوله: (فالألف انو فيه غير الجزم)، يعنى أن ما آخره ألف من الأفعال المعتلة ينوى فيه غير الجزم وهو الرفع والنصب لتعذر ظهورهما فى الألف نحو زيد يرضى ولن يخشى والألف مفعول بفعل مقدر من باب الاشتغال تقديره اقصد ويجوز رفعه على الابتداء. وقوله: وأبد نصب ما كيدعو يرمى يعنى أن ما آخره واو كيدعو أو ياء كيرمى يظهر نصبه بالفتحة لخفتها نحو لن يدعو ولن يرمى ومعنى أبد أظهر وما موصولة وصلتها كيدعو ويرمى معطوف على يدعو بحذف حرف العطف وقوله والرفع فيهما انو يعنى أن الرفع ينوى فى الواو والياء لثقل الضمة فى الواو والياء والرفع مفعول مقدم بانو وقوله: (واحذف جازما ثلاثهن) إلى آخره يعنى أن هذه الأحرف الثلاثة أعنى الألف والواو والياء تحذف فى الجزم نحو لم يخش ولم يغز ولم يرم وجازما حال من الفاعل المستتر فى احذف وثلاثهن مفعول باحذف ومفعول جازما محذوف تقديره الأفعال وتقض مجزوم على جواب الأمر وحكما مفعول به إن جعلت تقض بمعنى تؤدّ أو مفعول مطلق إن جعلت تقض بمعنى تحكم كأنه قال تحكم حكما لازما.
এগুলোর উচ্চারণ যেমন: 'কামাল ফাতা' (যুবকটি দাঁড়াল), 'রাআইতুল ফাতা' (আমি যুবকটিকে দেখলাম) এবং 'মারারতু বিল ফাতা' (আমি যুবকটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)। একে 'মাকসূর' (সীমাবদ্ধ) বলা হয়। আর তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন: (প্রথম প্রকারের সবগুলোতে ইরাব অনুমিত হবে) - কবিতার এই চরণে। এরপর তিনি দ্বিতীয় প্রকার সম্পর্কে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: (আর দ্বিতীয়টি হলো মানকূস) - কবিতার চরণে। এর অর্থ হলো, মু'তাল শব্দের দ্বিতীয় প্রকারকে 'মানকূস' (হ্রস্বীকৃত) বলা হয়। ইয়া-এর ওপর উচ্চারণের লঘুতার কারণে নাসব অবস্থায় এতে ফাতাহ (যবর) প্রকাশ পায়, যেমন: 'রাআইতুল কাদি' (আমি বিচারককে দেখলাম)। আর রাফ এবং জার অবস্থায় এতে দাম্মাহ (পেশ) ও কাসরাহ (জের)-কে অনুমিত ধরা হয়, কারণ ইয়া-এর ওপর এগুলোর উচ্চারণ ভারী হয়; যেমন: 'কামাল কাদি' (বিচারক দাঁড়ালেন) এবং 'মারারতু বিল কাদি' (আমি বিচারকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)। এরপর তিনি মু'তাল ক্রিয়াপদগুলোর দিকে ইশারা করে বলেছেন:

আর যে ক্রিয়াপদের শেষে আলিফ … অথবা ওয়াও অথবা ইয়া থাকে, তাকে মু'তাল হিসেবে অভিহিত করা হয়

সুতরাং আলিফের ক্ষেত্রে জাযম ব্যতীত অন্যগুলোতে (রাফ ও নাসব) অনুমিত ধরো … আর 'ইয়াদ'উ' ও 'ইয়ারমি'-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে নাসব প্রকাশ করো

আর ওই দুটিতে রাফ অনুমিত ধরো এবং জাযম অবস্থায় … তিনটিকে বিলোপ করো, তবেই তুমি একটি অকাট্য বিধান পালন করবে

এর অর্থ হলো, মু'তাল ক্রিয়াপদ তিন প্রকার: যার শেষে আলিফ আছে, যেমন 'ইয়াখশা' (সে ভয় পায়); যার শেষে ওয়াও আছে, যেমন 'ইয়াগযু' (সে যুদ্ধ করে); এবং যার শেষে ইয়া আছে, যেমন 'ইয়ারমি' (সে নিক্ষেপ করে)। এই সবগুলোকে মু'তাল বলা হয়। আর 'আইয়ু' শব্দটি শর্তবাচক এবং তা ইবতিদা (শুরু) হওয়ার কারণে মারফু হয়েছে এবং এর পরবর্তী অংশটি অনুমিত হতে পারে। এটি 'শানিয়াহ' হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং এর পরে 'আখিরুন মিনহু আলিফুন' অংশটি মুবতাদা ও খবরের সমন্বয়ে গঠিত জুমলা, যা অনুমিত 'কানা শানিয়াহ'-এর ভেতরের গোপন সর্বনামের ব্যাখ্যা প্রদান করে। আবার এটি 'নাকিসাহ' হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে, সেক্ষেত্রে 'আখিরুন' তার ইসিম এবং 'আলিফুন' তার খবর হবে। রাবিয়া গোত্রের উপভাষা অনুযায়ী এখানে সুকুন দিয়ে থামা হয়েছে। 'ফা' অক্ষরটি শর্তের উত্তর (জাওয়াব) হিসেবে এসেছে। আর 'উরিফা' শব্দটিতে একটি গোপন সর্বনাম রয়েছে

যা 'ফেইল' (ক্রিয়াপদ)-এর দিকে ফিরেছে এবং 'মু'তালান' শব্দটি এখান থেকে 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে তার আমেলের আগে এসেছে। তাঁর বাণী: (সুতরাং আলিফের ক্ষেত্রে জাযম ছাড়া বাকিগুলো অনুমিত ধরো) - এর অর্থ হলো, মু'তাল ক্রিয়াপদগুলোর মধ্যে যার শেষে আলিফ রয়েছে, তাতে জাযম ব্যতীত বাকি সব অর্থাৎ রাফ এবং নাসব অনুমিত হবে; কারণ আলিফে এগুলো প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব, যেমন: 'যাইদুন ইয়ারদা' এবং 'লান ইয়াখশা'। এখানে 'আলিফ' শব্দটি 'ইশতিগাল' পরিভাষা অনুযায়ী একটি অনুমিত ক্রিয়ার মাফউল, যার মূল রূপ হলো 'ইকসিদ'। আবার এটিকে মুবতাদা হিসেবে রাফ প্রদান করাও জায়েজ। তাঁর বাণী: (আর 'ইয়াদ'উ' ও 'ইয়ারমি'-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে নাসব প্রকাশ করো) - এর অর্থ হলো, যার শেষে ওয়াও রয়েছে যেমন 'ইয়াদ'উ' অথবা ইয়া রয়েছে যেমন 'ইয়ারমি', সেগুলোতে নাসব অবস্থায় ফাতাহ প্রকাশ পাবে এর লঘুতার কারণে; যেমন: 'লান ইয়াদ'উ' এবং 'লান ইয়ারমি'। 'আবদি' শব্দের অর্থ হলো প্রকাশ করো। আর 'মা' শব্দটি মাউসূলাহ এবং 'কাইয়াদ'উ' হলো তার সিলাহ। 'ইয়ারমি' শব্দটি আতফ করার হরফ বিলোপ করে 'ইয়াদ'উ'-এর ওপর আতফ করা হয়েছে। তাঁর বাণী: (আর ওই দুটিতে রাফ অনুমিত ধরো) - এর অর্থ হলো ওয়াও এবং ইয়া-এর ওপর দাম্মাহ ভারী হওয়ার কারণে সেগুলোতে রাফ অনুমিত হবে। 'রাফ' শব্দটি 'ইনউ' ক্রিয়ার পূর্বে আসা মাফউল। তাঁর বাণী: (আর জাযম দানকারী অবস্থায় তিনটিকে বিলোপ করো) - শেষ পর্যন্ত; এর অর্থ হলো এই তিনটি বর্ণ অর্থাৎ আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া জাযম অবস্থায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। যেমন: 'লাম ইয়াখশা', 'লাম ইয়াগযু' এবং 'লাম ইয়ারমি'। এখানে 'জাযিমান' শব্দটি 'উহযুফ' ক্রিয়ার ভেতর থাকা গোপন কর্তার হাল হয়েছে। 'সালাসাহুন্না' শব্দটি 'উহযুফ'-এর মাফউল। আর 'জাযিমান'-এর মাফউলটি উহ্য আছে যার মূল রূপ হলো 'আল-আফ'আল'। 'তাকদি' শব্দটি আমর-এর জাওয়াব হওয়ার কারণে মাজযুম হয়েছে। 'হুকমান' শব্দটি মাফউলে বিহি হবে যদি 'তাকদি' শব্দটিকে 'তুআদ্দি' (সম্পাদন করা) অর্থে ধরা হয়, অথবা এটি মাফউলে মুতলাক হবে যদি 'তাকদি' শব্দটিকে 'তাহকুম' (ফয়সালা করা) অর্থে ধরা হয়; যেন তিনি বললেন: তুমি একটি অকাট্য ফয়সালা প্রদান করলে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌النكرة والمعرفة

النكرة هى الأصل والمعرفة فرع عنها ولذلك ابتدأ بالنكرة فقال:

نكرة قابل أل مؤثّرا … أو واقع موقع ما قد ذكرا

يعنى أن النكرة هى ما تقبل أل وهى الألف واللام وقوله مؤثرا أى مؤثرة التعريف واحترز بذلك من أل التى لا تؤثر التعريف كالألف واللام الزائدة كاللاتى والتى للمح الصفة كالحرث فإن كلا منهما لم يؤثر فيما دخل عليه تعريفا. وقوله: (أو واقع موقع ما قد ذكرا) يعنى أن من النكرات ما لا يقبل أل كذى بمعنى صاحب وما الموصوفة فهما نكرتان لا يقبلان أل لكنهما فى معنى ما يقبلها فذو بمعنى صاحب وما بمعنى شئ وكلاهما يقبل أل ثم قال:

وغيره معرفة كهم وذى … وهند وابنى والغلام والّذى

يعنى أن غير النكرة معرفة فالمعرفة هو ما لا يقبل أل ولا واقع موقع ما يقبلها وذكر من المعارف ستة الضمير كهم واسم الإشارة كذى والعلم كهند والمضاف إلى المعرفة كابنى والمعرف بأل كالغلام والموصول كالذى، ولم يذكر المقصود فى النداء نحو يا رجل وهو من المعارف لأنه داخل كما قيل فى المعرف بأل أو فى اسم الإشارة ولم يرتبها فى المثل ورتبها فى الفصول. ثم شرع فى أول المعارف وأعرفها وهو الضمير فقال:

فما لذى غيبة أو حضور … كأنت وهو سمّ بالضّمير

يعنى أن ما دل على غيبة نحو هو أو حضور نحو أنت وأنا يسمى ضميرا ودخل فى قوله أو حضور اسم الإشارة لأنه حاضر لكنه أخرجه بالمثال ولما كان الضمير متصلا ومنفصلا أشار إلى المتصل منه بقوله:

وذو اتّصال منه ما لا يبتدا … ولا يلى إلّا اختيارا أبدا

كالياء والكاف من ابنى أكرمك … والياء والها من سليه ما ملك

يعنى أن الضمير المتصل هو ما لا يصح الابتداء به أى وقوعه فى أول الكلام ولا يلى إلا فى الاختيار وفهم منه أنه يلى إلا فى غير الاختيار كقول الشاعر:

- وما نبالى إذا ما كنت جارتنا … أن لا يجاورنا إلاك ديّار (5)

--------------------------------------------

(5) البيت من البسيط، وهو بلا نسبة فى الأشباه والنظائر 2/ 129، وأمالى ابن الحاجب ص 385، وأوضح المسالك =
অনির্দিষ্ট ও নির্দিষ্ট বিশেষ্য

অনির্দিষ্ট বিশেষ্যই মূল এবং নির্দিষ্ট বিশেষ্য তার একটি শাখা। এ কারণেই তিনি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য দ্বারা শুরু করেছেন এবং বলেছেন:

অনির্দিষ্ট হলো তাই যা কার্যকরভাবে ‘আলিফ-লাম’ গ্রহণ করে... অথবা যা এমন শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয় যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

অর্থাৎ অনির্দিষ্ট বিশেষ্য হলো তাই যা ‘আল’ তথা আলিফ ও লাম গ্রহণ করে। তাঁর ‘কার্যকরভাবে’ কথাটির অর্থ হলো নির্দিষ্টতা দানে প্রভাব বিস্তারকারী হওয়া। এর মাধ্যমে তিনি সেই ‘আল’ থেকে বেঁচেছেন যা নির্দিষ্টতা দানে প্রভাব ফেলে না, যেমন অতিরিক্ত আলিফ ও লাম— যা ‘আল-লাতি’ এবং ‘আল-তি’ তে থাকে; অথবা গুণের অর্থের দিকে ইঙ্গিত করতে যে ‘আল’ আসে, যেমন ‘আল-হারিস’। কারণ এদের কোনটিই যার ওপর প্রবেশ করেছে তাকে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। আর তাঁর কথা: (অথবা যা এমন শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয় যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে) এর অর্থ হলো অনির্দিষ্ট বিশেষ্যসমূহের মধ্যে এমন কিছু আছে যা ‘আল’ গ্রহণ করে না, যেমন ‘সাহিব’ (মালিক) অর্থে ব্যবহৃত ‘যু’ এবং সেই ‘মা’ যার গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। এই দুটিই অনির্দিষ্ট বিশেষ্য যা ‘আল’ গ্রহণ করে না, কিন্তু এরা এমন শব্দের অর্থে ব্যবহৃত হয় যা ‘আল’ গ্রহণ করে। সুতরাং ‘যু’ শব্দটি ‘সাহিব’ এর অর্থে এবং ‘মা’ শব্দটি ‘শাই’ (বস্তু) এর অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং উভয় মূল শব্দই ‘আল’ গ্রহণ করে। এরপর তিনি বলেছেন:

এছাড়া অন্য সব নির্দিষ্ট, যেমন ‘হুম’ (তারা), ‘যি’ (এটি), ‘হিন্দ’, ‘ইবনি’ (আমার পুত্র), ‘আল-গুলাম’ (বালকটি) এবং ‘আল্লাযি’ (যে)।

অর্থাৎ অনির্দিষ্ট ছাড়া অন্য সব বিশেষ্যই নির্দিষ্ট। সুতরাং নির্দিষ্ট বিশেষ্য হলো যা ‘আল’ গ্রহণ করে না এবং ‘আল’ গ্রহণকারী শব্দের স্থলাভিষিক্তও হয় না। তিনি ছয়টি নির্দিষ্ট বিশেষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন: সর্বনাম যেমন ‘হুম’, নির্দেশক বিশেষ্য যেমন ‘যি’, নামবাচক বিশেষ্য যেমন ‘হিন্দ’, নির্দিষ্ট বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত শব্দ যেমন ‘ইবনি’, ‘আল’ দ্বারা নির্দিষ্টকৃত শব্দ যেমন ‘আল-গুলাম’ এবং সংযোগবাচক বিশেষ্য যেমন ‘আল্লাযি’। তিনি সম্বোধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা ব্যক্তিকে (যেমন: হে ব্যক্তি!) উল্লেখ করেননি, যা নির্দিষ্ট বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত। কারণ একে বলা হয়েছে যে এটি ‘আল’ দ্বারা নির্দিষ্টকৃত শব্দের অন্তর্ভুক্ত অথবা নির্দেশক বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত। তিনি উদাহরণগুলোতে এদের ক্রম বজায় রাখেননি, তবে পরিচ্ছেদগুলোতে ক্রম রক্ষা করেছেন। এরপর তিনি নির্দিষ্ট বিশেষ্যগুলোর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে নির্দিষ্ট তথা সর্বনাম নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন এবং বলেছেন:

যা অনুপস্থিতি বা উপস্থিতির অর্থ প্রদান করে... যেমন ‘আনতা’ (তুমি) এবং ‘হুয়া’ (সে), তাকে সর্বনাম বলা হয়।

অর্থাৎ যা অনুপস্থিতির প্রমাণ দেয় যেমন ‘হুয়া’, অথবা উপস্থিতির প্রমাণ দেয় যেমন ‘আনতা’ ও ‘আনা’, তাকে সর্বনাম বলা হয়। তাঁর ‘উপস্থিতি’ কথাটির মধ্যে নির্দেশক বিশেষ্যও অন্তর্ভুক্ত হয় কারণ সেটিও উপস্থিত থাকে, তবে তিনি উদাহরণের মাধ্যমে তাকে বের করে দিয়েছেন। যেহেতু সর্বনাম সংযুক্ত এবং বিযুক্ত— এই দুই প্রকারের হয়ে থাকে, তাই তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সংযুক্ত সর্বনামের দিকে ইঙ্গিত করেছেন:

সংযুক্ত সর্বনাম হলো সেটি যা দ্বারা বাক্য শুরু করা যায় না... এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ‘ইল্লা’ (ব্যতীত)-এর পর কখনো আসে না।

যেমন ‘ইবনি’ ও ‘আকরামা-কা’ এর ‘ইয়া’ ও ‘কাফ’... এবং ‘সালি-হি মা মালাক’ এর ‘ইয়া’ ও ‘হা’।

অর্থাৎ সংযুক্ত সর্বনাম হলো সেই সর্বনাম যা দ্বারা বাক্য শুরু করা সঠিক নয় অর্থাৎ কথার শুরুতে আসতে পারে না, এবং স্বাভাবিক অবস্থায় এটি ‘ইল্লা’ এর পরে আসে না। এখান থেকে বোঝা যায় যে স্বাভাবিক অবস্থার বাইরে (অপরিহার্যতা বা কবিতায়) এটি ‘ইল্লা’ এর পরে আসতে পারে, যেমন কবির উক্তি:

- আমরা পরোয়া করি না যখন আপনি আমাদের প্রতিবেশী হন... যে আপনি ছাড়া অন্য কেউ আমাদের প্রতিবেশী হোক। (৫)

--------------------------------------------

(৫) পংক্তিটি বাসিত ছন্দের, এটি আশবাহ ও নাযাইর ২/১২৯ এবং ইবনুল হাজিবের আমালি পৃষ্ঠা ৩৮৫-এ কোনো নির্দিষ্ট কবির নাম ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে, এবং আওদাহুল মাসালিক...
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২২)
وقوله كالياء البيت أتى بهذه المثل محتوية على أربعة ألفاظ من الضمائر المتصلة وهى ياء المتكلم من ابنى وهى مجرورة بالإضافة وكاف الخطاب من أكرمك وهو منصوب بأكرم وياء المخاطبة وهاء الغائب من سليه والياء من سليه مرفوعة بسل والهاء منصوبة به، ثم قال:

وكلّ مضمر له البنا يجب … ولفظ ما جرّ كلفظ ما نصب

يعنى أن الضمائر كلها مبنية وقوله ولفظ ما جر كلفظ ما نصب يعنى أن كل ضمير نصب صالح للجر وأن كل ضمير جر صالح للنصب ففهم منه أن الياء من ابنى تصلح للنصب لأنها مجرورة وأن الكاف من أكرمك تصلح للجر لأنها منصوبة وأن الهاء من سليه تصلح للجر لأنها منصوبة وأن الياء من سليه لا تصلح لا للجر ولا للنصب بل تختص بالرفع، ثم قال:

للرّفع والنّصب وجرّ ناصلح … كاعرف بنا فإنّنا نلنا المنح

هذا هو اللفظ الخامس من ألفاظ الضمائر المتصلة وهو نا الدال على المتكلم ومعه غيره أو المتكلم المعظم نفسه وهو صالح للإعراب كله رفعه ونصبه وجره وقد مثل به مجرورا فى قوله كاعرف بنا ومنصوبا فى قوله فإننا ومرفوعا فى قوله نلنا المنح جمع منحة وهى العطية وفهم منه أن الياء من سليه مرفوعة وما لم يذكر من الضمائر المتصلة خاص بالرفع لأنه لما ذكر ما يشترك فيه الجر والنصب وهو ياء المتكلم والكاف والهاء وما يستعمل

فى الإعراب كله وهو نا علم أن ما عدا القسمين خاص بالرفع وهو ياء المخاطبة وتاء الضمير متكلما كان أو مخاطبا وواو الضمير وألف الاثنين ونون الإناث فمجموع الضمائر المتصلة تسعة ألفاظ، ثم قال:

وألف والواو والنون لما … غاب وغيره كقاما واعلما

يعنى أن ألف الاثنين وواو الجمع ونون الإناث للغائب والمخاطب فمثالها للغائب الزيدان قاما والزيدون قاموا والهندات قمن ومثالها للمخاطب قوما وقوموا وقمن إلا أن قوله وغيره شامل للمتكلم والمخاطب ولا تكون هذه الضمائر للمتكلم لكن تمثيله بقاما وهو للغائب واعلما وهو للمخاطب يرشد إلى مراده ولو قال عوض وغيره وخوطب لكان أنص وقوله وألف مبتدأ والواو والنون معطوفان عليه وسوغ الابتداء بالألف عطف المعرفة عليه ولما

--------------------------------------------

= 1/ 83، وتخليص الشواهد ص 100، وخزانة الأدب 5/ 278، 279، 325، والخصائص 1/ 307، 2/ 195، والدرر 1/ 176، وشرح الأشموني 1/ 48، وشرح شواهد المغنى ص 844، وشرح ابن عقيل ص 52، وشرح المفصل 3/ 101، ومغنى اللبيب 2/ 441، والمقاصد النحوية 1/ 253، وهمع الهوامع 1/ 57.
তার বক্তব্য "যেমন ইয়া" কবিতাটির চরণে, তিনি এমন সব উদাহরণ নিয়ে এসেছেন যা সংযুক্ত সর্বনামের (দামায়িরে মুত্তাসিলা) চারটি শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেগুলো হলো: 'ইবনী' (আমার পুত্র) শব্দের উত্তম পুরুষের 'ইয়া', যা ইদাফাত বা সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে মাজরুর। 'আকরাওমাকা' (তিনি তোমাকে সম্মানিত করেছেন) শব্দের সম্বোধনসূচক 'কাফ', যা 'আকরামা' ক্রিয়া দ্বারা মানসুব। এবং 'সালিহি' (তুমি তার কাছে চাও) শব্দের সম্বোধনসূচক স্ত্রীলিঙ্গীয় 'ইয়া' এবং নাম পুরুষের 'হা'। এখানে 'সালিহি' শব্দের 'ইয়া' পদটি 'সাল' ক্রিয়া দ্বারা মারফু এবং 'হা' পদটি মানসুব। এরপর তিনি বললেন:

সকল সর্বনামই মাবনী হওয়া আবশ্যক … এবং মাজরুর পদের রূপ মানসুব পদের রূপের মতোই হয়।

অর্থাৎ সকল সর্বনামই গঠনগতভাবে অপরিবর্তনীয় (মাবনী)। আর তার বক্তব্য "মাজরুর পদের রূপ মানসুব পদের রূপের মতোই" এর অর্থ হলো প্রতিটি মানসুব সর্বনাম মাজরুর হওয়ার যোগ্য এবং প্রতিটি মাজরুর সর্বনাম মানসুব হওয়ার যোগ্য। এ থেকে বোঝা গেল যে, 'ইবনী' শব্দের 'ইয়া' পদটি মানসুব হওয়ার যোগ্য কারণ এটি মাজরুর। 'আকরাওমাকা' শব্দের 'কাফ' পদটি মাজরুর হওয়ার যোগ্য কারণ এটি মানসুব। 'সালিহি' শব্দের 'হা' পদটি মাজরুর হওয়ার যোগ্য কারণ এটি মানসুব। তবে 'সালিহি' শব্দের 'ইয়া' পদটি মাজরুর বা মানসুব কোনোটির জন্যই উপযুক্ত নয়, বরং এটি কেবল রাফা বা কর্তৃকারকের জন্য নির্দিষ্ট। এরপর তিনি বললেন:

রাফা, নাসব ও জারের জন্য 'না' উপযুক্ত … যেমন: 'ইরিফ বিনা' (আমাদের মাধ্যমে জানো), নিশ্চয়ই আমরা দানসমূহ লাভ করেছি।

এটি সংযুক্ত সর্বনামের শব্দগুলোর মধ্যে পঞ্চম শব্দ, আর তা হলো 'না' যা উত্তম পুরুষ বহুবচন অথবা আত্মমর্যাদাবোধক উত্তম পুরুষ একবচন নির্দেশ করে। এটি ই'রাবের সকল অবস্থার (রাফা, নাসব ও জার) জন্য উপযুক্ত। তিনি একে মাজরুর হিসেবে উদাহরণ দিয়েছেন 'ইরিফ বিনা' বাক্যে, মানসুব হিসেবে 'ফাইন্নানা' বাক্যে এবং মারফু হিসেবে 'নিলনাল মিনাহ' বাক্যে। 'মিনাহ' শব্দটি 'মিনহা' এর বহুবচন, যার অর্থ দান বা উপহার। এ থেকে আরও বোঝা গেল যে, 'সালিহি' শব্দের 'ইয়া' মারফু। আর সংযুক্ত সর্বনামের মধ্যে যেগুলো উল্লেখ করা হয়নি সেগুলো কেবল রাফার জন্য নির্দিষ্ট। কারণ যখন তিনি জার ও নাসবের মধ্যে সাধারণ সর্বনামগুলো (উত্তম পুরুষের ইয়া, কাফ এবং হা) এবং ই'রাবের তিন অবস্থাতেই ব্যবহৃত সর্বনাম (না) উল্লেখ করেছেন, তখন জানা গেল যে এই দুই প্রকার ব্যতীত বাকিগুলো রাফার জন্য নির্দিষ্ট। সেগুলো হলো: সম্বোধনসূচক স্ত্রীলিঙ্গীয় 'ইয়া', উত্তম পুরুষ বা মধ্যম পুরুষের সর্বনাম 'তা' (তু, তা, তি), সর্বনামের 'ওয়াও', দ্বিবচনের 'আলিফ' এবং স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'নুন'। সুতরাং সংযুক্ত সর্বনামের মোট শব্দ সংখ্যা নয়টি। এরপর তিনি বললেন:

আর আলিফ, ওয়াও এবং নুন—নাম পুরুষ ও অন্যের জন্য … যেমন: তারা দুইজন দাঁড়িয়েছে এবং তোমরা দুইজন জানো।

অর্থাৎ দ্বিবচনের আলিফ, বহুবচনের ওয়াও এবং স্ত্রীলিঙ্গবাচক নুন—নাম পুরুষ (গায়েব) এবং মধ্যম পুরুষ (মুখাতাব) উভয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়। নাম পুরুষের ক্ষেত্রে এগুলোর উদাহরণ হলো: 'আয-যাইদানি ক-মা' (যাইদদ্বয় দাঁড়িয়েছে), 'আয-যাইদুনা ক-মু' (যাইদগণ দাঁড়িয়েছে) এবং 'আল-হিন্দাতু কুমনা' (হিন্দগণ দাঁড়িয়েছে)। আর মধ্যম পুরুষের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো: 'কু-মা' (তোমরা দুইজন দাঁড়াও), 'কু-মু' (তোমরা সকলে দাঁড়াও) এবং 'কুমনা' (তোমরা মহিলারা দাঁড়াও)। তবে তার কথা "এবং অন্যান্য" উত্তম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করলেও এই সর্বনামগুলো উত্তম পুরুষের জন্য ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু তার উদাহরণ প্রদান—যেমন 'ক-মা' যা নাম পুরুষের জন্য এবং 'ই'লামা' যা মধ্যম পুরুষের জন্য—তার উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে দেয়। তিনি যদি "অন্যান্য" শব্দের পরিবর্তে "যাকে সম্বোধন করা হয়" শব্দটি ব্যবহার করতেন, তবে তা আরও সুস্পষ্ট হতো। তার বাক্যে "আলিফ" হলো মুবতাদা, আর "ওয়াও" ও "নুন" তার ওপর আতফ বা সংযোজিত হয়েছে। আলিফ দ্বারা বাক্য শুরু করা বৈধ হয়েছে কারণ তার ওপর মারেফা বা নির্দিষ্ট বিশেষ্য আতফ করা হয়েছে। এবং যখন

--------------------------------------------

= ১/ ৮৩, তাখলিসুশ শাওয়াহিদ পৃষ্ঠা ১০০, খিজানাতুল আদাব ৫/ ২৭৮, ২৭৯, ৩২৫, আল-খাসায়িস ১/ ৩০৭, ২/ ১৯৫, আদ-দুরার ১/ ১৭৬, শারহুল আশমুনি ১/ ৪৮, শারহু শাওয়াহিদুল মুগনি পৃষ্ঠা ৮৪৪, শারহু ইবনু আকিল পৃষ্ঠা ৫২, শারহুল মুফাসসাল ৩/ ১০১, মুগনিল লাবিব ২/ ৪৪১, আল-মাকাসিদুন নাহউইয়্যাহ ১/ ২৫৩, হামউল হাওয়া-মি' ১/ ৫৭।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২৩)
غاب خبر المبتدأ وقد ذكر الضمائر المتصلة كلها إلا التاء وإنما استغنى عنها لتقدم ذكرها فى قوله: بتا فعلت، ثم قال:

ومن ضمير الرّفع ما يستتر … كافعل أوافق نغتبط إذ تشكر

يعنى أن من ضمائر الرفع ما يجب استتاره وفهم من قوله ومن ضمير الرفع أن ذلك لا يكون فى ضمائر النصب ولا فى ضمائر الجر وذكر أربعة مواضع يجب فيها استتار الضمير:

الأول فعل الأمر للواحد المذكر وهو المشار إليه بقوله كافعل. الثانى الفعل المضارع المفتتح بهمزة المتكلم وهو المشار إليه بقوله «أوافق». الثالث الفعل المضارع المفتتح بنون المتكلم ومعه غيره أو المعظم نفسه وهو المشار إليه بقوله نغتبط. الرابع الفعل المضارع المفتتح بتاء المخاطب وهو المشار إليه بقوله إذ تشكر وما موصولة فى موضع رفع بالابتداء، وخبرها فى المجرور، وأوافق مجزوم على جواب الأمر ونغتبط معطوف على أوافق على حذف حرف العطف، ولما فرغ من الضمير المتصل شرع فى بيان المنفصل وهو ضربان مرفوع ومنصوب وقد أشار إلى المرفوع بقوله:

وذو ارتفاع وانفصال أنا هو … وأنت والفروع لا تشتبه

ضمائر الرفع المنفصلة اثنا عشر للمتكلم منها اثنان أنا ونحن، وللمخاطب خمسة أنت أنت أنتما أنتم أنتنّ وللغائب خمسة هو هى هما هم هن وقد اكتفى منها بذكر ثلاثة لأنها موصول لما لم يذكره ولذلك قال والفروع لا تشتبه فأنا فرعه نحن لأن المفرد أصل للجمع وأنت فروعه أنت وأنتما وأنتم وأنتن لأن أنت لها فرعان فرع من جهة الإفراد وهو أنتما وأنتم وأنتن وفرع من جهة التذكير وهو أنت، وكذلك هو أيضا فروعه من جهة الإفراد هما وهم وهن ومن جهة التذكير هو. ثم أشار إلى المنصوب من المنفصل بقوله:

وذو انتصاب فى انفصال جعلا … إياى والتّفريع ليس مشكلا

فاكتفى بذكر ضمير المتكلم وكان حقه أن يذكر الأصول الثلاثة كما فعل فى المرفوع لكنه اكتفى بإياى عما سواه لوضوحه ولذكره ذلك فى المرفوع وثبت فى بعض النسخ وذو انتصاب بالواو وإعرابه مبتدأ وجعل إلى آخر البيت خبره وفى جعل ضمير يعود على المبتدأ وإياى مفعول ثان بجعل وفى بعض النسخ وذا انتصاب بالألف وإعرابه مفعول ثان بجعل مقدم وإياى مفعول لما لم يسم فاعله بجعل، ثم قال:
মুবতাদার (উদ্দেশ্য) খবরটি উহ্য রয়েছে। তিনি ‘তা’ ব্যতীত সমস্ত সংযুক্ত সর্বনামগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি এটি উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন কারণ তাঁর পূর্ববর্তী উক্তি ‘বা-তা ফাআলতা’-তে (বাতা দিয়ে তুমি করেছ) এর উল্লেখ চলে এসেছে। অতঃপর তিনি বলেন:

এবং কর্তৃকারক সর্বনামের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা উহ্য থাকে... যেমন ‘ইফআল’ (তুমি করো), ‘আওয়াফিকু’ (আমি সম্মত হই), ‘নাগতাবিতু’ (আমরা আনন্দিত হই), যখন ‘তাশকুরু’ (তুমি শুকরিয়া আদায় করো)।

অর্থাৎ কর্তৃকারক সর্বনামের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার উহ্য থাকা ওয়াজিব বা আবশ্যক। তাঁর উক্তি ‘এবং কর্তৃকারক সর্বনামের মধ্যে’ থেকে বোঝা যায় যে, এটি কর্মকারক বা সম্বন্ধপদীয় সর্বনামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি চারটি স্থান উল্লেখ করেছেন যেখানে সর্বনাম উহ্য থাকা আবশ্যক:

প্রথমত: একবচন পুংলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়া, যা তাঁর ‘ইফআল’ উক্তি দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত: উত্তম পুরুষের হামযা দ্বারা শুরু হওয়া বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া, যা তাঁর ‘আওয়াফিকু’ উক্তি দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। তৃতীয়ত: উত্তম পুরুষের ‘নুন’ দ্বারা শুরু হওয়া বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া, যা বক্তার সাথে অন্য কেউ থাকা অথবা বক্তার নিজের সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, এটি তাঁর ‘নাগতাবিতু’ উক্তি দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। চতুর্থত: মধ্যম পুরুষের ‘তা’ দ্বারা শুরু হওয়া বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া, যা তাঁর ‘ইজ তাশকুরু’ উক্তি দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। ‘মা’ শব্দটি এখানে সম্বন্ধসূচক অব্যয় হিসেবে মুবতাদা হওয়ার কারণে রাফ অবস্থায় রয়েছে এবং এর খবর রয়েছে যার-মাজরুর অংশে। ‘আওয়াফিকু’ শব্দটি অনুজ্ঞার উত্তর হওয়ার কারণে মাজজুম হয়েছে এবং ‘নাগতাবিতু’ শব্দটি অব্যয় উহ্য রেখে ‘আওয়াফিকু’র ওপর সংযুক্ত হয়েছে। যখন তিনি সংযুক্ত সর্বনামের আলোচনা সমাপ্ত করলেন, তখন বিযুক্ত সর্বনামের বর্ণনা শুরু করলেন, যা দুই প্রকার: কর্তৃকারক ও কর্মকারক। তিনি কর্তৃকারক সর্বনামের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন:

এবং কর্তৃকারক ও বিযুক্ত সর্বনাম হলো ‘আনা’ (আমি), ‘হুয়া’ (সে)... এবং ‘আন্তা’ (তুমি), আর শাখাগুলো অস্পষ্ট নয়।

বিযুক্ত কর্তৃকারক সর্বনাম বারোটি। উত্তম পুরুষের জন্য এর মধ্যে দুটি হলো: ‘আনা’ (আমি) ও ‘নাহনু’ (আমরা)। মধ্যম পুরুষের জন্য পাঁচটি: ‘আন্তা’ (তুমি-পুং), ‘আন্তি’ (তুমি-স্ত্রী), ‘আন্তুমা’ (তোমরা দুইজন), ‘আন্তুম’ (তোমরা সকল পুরুষ), ‘আন্তুন্না’ (তোমরা সকল নারী)। নাম পুরুষের জন্য পাঁচটি: ‘হুয়া’ (সে-পুং), ‘হিয়া’ (সে-স্ত্রী), ‘হুমা’ (তারা দুইজন), ‘হুম’ (তারা সকল পুরুষ), ‘হুন্না’ (তারা সকল নারী)। তিনি এগুলোর মধ্য থেকে তিনটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন, কারণ সেগুলো অনুক্তগুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই কারণেই তিনি বলেছেন, ‘শাখাগুলো অস্পষ্ট নয়’। সুতরাং ‘আনা’-এর শাখা হলো ‘নাহনু’, কারণ একবচন হলো বহুবচনের মূল। আর ‘আন্তা’-এর শাখাগুলো হলো ‘আন্তি’, ‘আন্তুমা’, ‘আন্তুম’ ও ‘আন্তুন্না’। কারণ ‘আন্তা’-এর দুটি দিক থেকে শাখা রয়েছে: সংখ্যার দিক থেকে শাখা হলো ‘আন্তুমা’, ‘আন্তুম’ ও ‘আন্তুন্না’; আর লিঙ্গের দিক থেকে শাখা হলো ‘আন্তি’। একইভাবে ‘হুয়া’-এর ক্ষেত্রেও সংখ্যার দিক থেকে শাখা হলো ‘হুমা’, ‘হুম’ ও ‘হুন্না’, আর লিঙ্গের দিক থেকে শাখা হলো ‘হিয়া’। অতঃপর তিনি বিযুক্ত কর্মকারক সর্বনামের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন:

এবং বিযুক্ত অবস্থায় যা কর্মকারক হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে... তা হলো ‘ইয়্যয়া’ (আমাকে), আর এর শাখাবিন্যাস করা কোনো কঠিন বিষয় নয়।

তিনি কেবল উত্তম পুরুষের সর্বনাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। যদিও তাঁর উচিত ছিল তিনটি মূল সর্বনামই উল্লেখ করা, যেমনটি তিনি কর্তৃকারকের ক্ষেত্রে করেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণে এবং ইতিপূর্বে কর্তৃকারকের বর্ণনায় তা উল্লেখ করার কারণে তিনি ‘ইয়্যয়া’ উল্লেখ করেই অন্যগুলো থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছেন। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘ওয়া জু ইনতিসাবিন’ (ওয়াও দিয়ে) শব্দগুচ্ছটি স্থির হয়েছে, এমতাবস্থায় এর ব্যাকরণগত অবস্থান হলো মুবতাদা এবং ‘জুয়িলা’ থেকে পংক্তির শেষ পর্যন্ত এর খবর। ‘জুয়িলা’ ক্রিয়ার ভেতরে একটি সর্বনাম রয়েছে যা মুবতাদার দিকে ফিরেছে এবং ‘ইয়্যয়া’ হলো ‘জুয়িলা’-এর দ্বিতীয় কর্ম। আবার কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘ওয়া যা ইনতিসাবিন’ (আলিফ দিয়ে) বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে এর অবস্থান হবে ‘জুয়িলা’-এর অগ্রবর্তী দ্বিতীয় কর্ম এবং ‘ইয়্যয়া’ হবে ‘জুয়িলা’ ক্রিয়ার কর্মবাচ্যের কর্তা। অতঃপর তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২৪)
وفى اختيار لا يجئ المنفصل … إذا تأتّى أن يجئ المتّصل

يعنى أن الضمير إذا تأتى اتصاله بما قبله لا يجئ منفصلا فى الاختيار وفهم منه أنه يجئ فى غير الاختيار منفصلا مع تأتى الاتصال كقول الشاعر:

6 - بالباعث الوارث الأموات قد ضمنت … إياهم الأرض فى دهر الدهارير

لأنه يتأتى الاتصال فتقول: قد ضمنتهم لكنه فصله لضرورة الوزن وفى اختيار متعلق بيجئ. ثم قال:

وصل أو افصل هاء سلنيه وما … أشبهه فى كنته الخلف انتمى

كذاك خلتنيه واتّصالا … أختار غيرى اختار الانفصالا

يعنى أنه يجوز اتصال الضمير وانفصاله فى الهاء من سلنيه وما أشبهه وهو كل ثانى ضميرين منصوبين بفعل غير ناسخ للابتداء مع تقديم الأخص منهما نحو الدرهم أعطيتكه وأعطيتك إياه والمختار فى ذلك الاتصال عند الجميع ولذلك قدمه فى قوله وصل وقوله فى كنته الخلف انتمى، أى انتسب ويعنى به خبر كان أو إحدى أخواتها إذا كان اسمها ضميرا متصلا أخص من خبرها وقوله: (كذاك خلتنيه) أى مثل كنته فى الخلف المذكور يعنى فخلتنيه وما أشبهه وهو كل ثانى ضميرين منصوبين بفعل ناسخ للابتداء من باب ظن الأول منهما أخص وظاهر قوله الخلف انتمى أن الخلاف فى جواز الاتصال والانفصال فيما ذكر وليس كذلك لأنه لا خلاف فى جواز

الاتصال والانفصال فيما ذكر وإنما المراد الخلف انتمى فى الاختيار ويدل على أن المراد ما ذكر قوله: (واتصالا * أختار غيرى اختار الانفصالا).

وهو موافق فى ذلك لابن الطراوة والرمانى وأو فى قوله أو افصل للتخيير وهاء سلنيه مفعول بافصل فهو من باب التنازع وقد أعمل الثانى ولو أعمل الأول لقال وصل أو افصله واتصالا مفعول مقدم باختار، ثم قال:

وقدّم الأخصّ فى اتّصال … وقدّمن ما شئت فى انفصال

الأخص هو الأعرف فضمير المتكلم أخص من ضمير المخاطب والغائب وضمير المخاطب أخص من ضمير الغائب فإذا أريد اتصال الضمير الثانى قدم الأخص لأنه لا يتوصل إلى اتصاله إلا بتقديم الأخص وعلى ذلك نبه بقوله وقدم الأخص فى اتصال وإذا أريد انفصاله قدم ما شئت من الأخص وغيره لأنه إذا تقدم غير الأخص وجب انفصال الثانى وعلى
স্বাভাবিক অবস্থায় (পছন্দের ক্ষেত্রে) পৃথক সর্বনাম আসে না … যদি সংযুক্ত সর্বনাম আসা সম্ভব হয়।

অর্থাৎ, যখন সর্বনামটি তার পূর্ববর্তী শব্দের সাথে সংযুক্ত হওয়া সম্ভব হয়, তখন স্বাভাবিক অবস্থায় (পছন্দনীয় পদ্ধতিতে) তা পৃথকভাবে আসে না। এর থেকে বোঝা যায় যে, স্বাভাবিক অবস্থার বাইরে (যেমন কবিতার ছন্দে) তা সংযুক্ত করা সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও পৃথকভাবে আসতে পারে, যেমন কবির উক্তি:

৬ - সেই পুনরুত্থানকারী ও মৃতদের উত্তরাধিকারীর শপথ; নিশ্চয়ই পৃথিবী … তাদের ধারণ করেছে কঠিন সময়ের দিনগুলোতে।

কারণ এখানে সর্বনামটি সংযুক্ত করা সম্ভব ছিল, তখন বলা যেত: "দ্বমানাতহুম" (তাদের ধারণ করেছে), কিন্তু কবি ছন্দের প্রয়োজনে একে পৃথক করেছেন। আর "স্বাভাবিক অবস্থায়" (ফিল ইখতিয়ার) কথাটি "আসে না" (লা ইয়াজি)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। অতঃপর তিনি বলেন:

"সালনিহি"-এর হা (هاء) বর্ণটিকে যুক্ত করুন অথবা পৃথক করুন; আর … এর সদৃশ শব্দাবলীতে এবং "কুনতুহু"-এর ক্ষেত্রে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়।

তদ্রূপ "খালতানিহি"-এর ক্ষেত্রেও; তবে আমি সংযোগ করাকে … পছন্দ করি, আর অন্যরা পৃথক করাকে পছন্দ করেছেন।

অর্থাৎ, "সালনিহি" এবং এর সদৃশ শব্দাবলীতে সর্বনামের সংযোগ ও বিচ্ছেদ উভয়ই জায়েজ। আর সদৃশ শব্দাবলী বলতে এমন প্রতিটি দ্বিতীয় সর্বনামকে বোঝায় যা এমন ক্রিয়া দ্বারা মানসুব (কর্মপদ) হয়েছে যা প্রারম্ভিক অবস্থাকে (মুক্তাদা-খবরকে) পরিবর্তনকারী নয়, যেখানে দু’টি সর্বনামের মধ্যে অপেক্ষাকৃত অধিক নির্দিষ্ট (আখাস) সর্বনামটিকে আগে আনা হয়েছে। যেমন: "আতাইতুকা-হু" (আমি তোমাকে এটি দিয়েছি) এবং "আতাইতুকা ইয়্যাহু"। এক্ষেত্রে সকলের নিকট উত্তম হলো সংযোগ করা, একারণেই তিনি তার কবিতায় "যুক্ত করুন" শব্দটিকে আগে উল্লেখ করেছেন। আর তার উক্তি "কুনতুহু-তে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়" এর অর্থ হলো এতে মতভেদ রয়েছে। এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন "কানা" বা এর কোনো স্বগোত্রীয় ক্রিয়ার "খবর"-কে, যখন তার "ইসম"টি তার "খবর" অপেক্ষা অধিক নির্দিষ্ট একটি সংযুক্ত সর্বনাম হয়। আর তার উক্তি: (তদ্রূপ খালতানিহি) অর্থাৎ উল্লিখিত মতভেদের ক্ষেত্রে এটি "কুনতুহু"-এর ন্যায়। অর্থাৎ "খালতানিহি" এবং এর সদৃশ শব্দসমূহ, যা হলো এমন প্রতিটি দ্বিতীয় সর্বনাম যা "যান্না" অধ্যায়ের (পরিবর্তনকারী) ক্রিয়া দ্বারা মানসুব হয়েছে এবং যার প্রথম সর্বনামটি অধিক নির্দিষ্ট। আর তার উক্তি "মতভেদ পরিলক্ষিত হয়"-এর বাহ্যিক অর্থ হলো উল্লিখিত বিষয়গুলোতে সংযোগ বা বিচ্ছেদ জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ আছে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। কারণ উল্লিখিত ক্ষেত্রে সংযোগ বা বিচ্ছেদ জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই, বরং মতভেদটি হলো কোনটি উত্তম বা পছন্দনীয় সে বিষয়ে। আর এর প্রমাণ হলো তার পরবর্তী উক্তি: (আমি সংযোগ করা পছন্দ করি, অন্যরা পৃথক করা পছন্দ করেছেন)।

এক্ষেত্রে তিনি ইবনে তরাওয়াহ এবং রুম্মানির মতের সাথে একমত হয়েছেন। আর তার উক্তি "অথবা পৃথক করুন"-এ "অথবা" (আও) শব্দটি ঐচ্ছিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। "সালনিহি"-এর "হা" বর্ণটি "পৃথক করুন" (ইফসিল)-এর কর্ম, ফলে এটি "তানাযু" (বিরোধ) অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। এখানে দ্বিতীয় ক্রিয়াটিকে কার্যকর করা হয়েছে, যদি প্রথমটিকে করা হতো তবে তিনি বলতেন "একে যুক্ত করুন অথবা পৃথক করুন"। আর "সংযোগ" শব্দটি "আমি পছন্দ করি" (আখতারু)-এর অগ্রবর্তী কর্ম। অতঃপর তিনি বলেন:

সংযোগের ক্ষেত্রে অধিক নির্দিষ্টটিকে আগে আনুন … আর পৃথক করার ক্ষেত্রে আপনার ইচ্ছানুযায়ী যে কোনোটিকে আগে আনুন।

অধিক নির্দিষ্ট (আখাস) বলতে অধিক পরিচিত বা পরিচয়বাহী সর্বনামকে বোঝায়। সুতরাং উত্তম পুরুষ বা বক্তার সর্বনাম, মধ্যম পুরুষ ও নাম পুরুষের সর্বনাম অপেক্ষা অধিক নির্দিষ্ট। আবার মধ্যম পুরুষের সর্বনাম, নাম পুরুষের সর্বনাম অপেক্ষা অধিক নির্দিষ্ট। তাই যখন দ্বিতীয় সর্বনামটিকে সংযুক্ত করার ইচ্ছা করা হবে, তখন অধিক নির্দিষ্টটিকে আগে আনতে হবে; কারণ অধিক নির্দিষ্টটিকে আগে আনা ব্যতীত দ্বিতীয়টিকে সংযুক্ত করা সম্ভব হয় না। এই বিষয়টির প্রতিই তিনি তার উক্তি "সংযোগের ক্ষেত্রে অধিক নির্দিষ্টটিকে আগে আনুন"-এর মাধ্যমে সতর্ক করেছেন। আর যখন পৃথক করার ইচ্ছা করা হবে, তখন আপনি চাইলে অধিক নির্দিষ্ট বা অন্য যে কোনোটিকে আগে আনতে পারেন। কারণ যখন অধিক নির্দিষ্ট ব্যতীত অন্যটি আগে আসে, তখন দ্বিতীয়টিকে পৃথক করা আবশ্যক হয়ে যায়। আর...
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২৫)
ذلك نبه بقوله: (وقد من ما شئت فى انفصال) فإذا تقدم غير الأخص وجب انفصال الثانى وإذا تقدم الأخص جاز اتصال الثانى وانفصاله وقد اجتمع الأمران فى قوله صلى الله عليه وسلم: «إن الله ملككم إياهم ولو شاء لملكهم إياكم» فانفصال الضمير فى قوله ملككم إياهم جائز لتقدم الأخص وهو ضمير المخاطب على غير الأخص وهو ضمير الغائب وانفصال الضمير فى ملكهم إياكم واجب لتقدم غير الأخص، ثم قال:

وفى اتّحاد الرّتبة الزم فصلا … وقد يبيح الغيب فيه وصلا

يعنى أن الضميرين إذا اتحدا فى الرتبة كأن يكونا لمتكلم أو لمخاطب أو لغائب لزم انفصال الثانى نحو ظننتنى إياى وحسبتك إياك والدرهم إن جاء زيد فأعطه إياه وقوله وقد يبيح الغيب فيه وصلا يعنى أن الضميرين إذا اتحدا فى الغيبة قد يتصل الثانى منهما لكن بشرط أن يختلفا اختلافا ما كأن يكون أحدهما مفردا والآخر مثنى أو مجموعا أو يكون مذكرا والآخر مؤنثا كقوله:

- لوجهك فى الإحسان بسط وبهجة … أنا لهماه قفو أكرم والد (7)

وظاهر كلام الناظم عدم اشتراط الاختلاف واعتذر عنه ولده فى شرحه بأن قوله وصلا بلفظ التنكير على معنى نوع من الوصل تعريض بأنه لا يستباح الاتصال مع الاتحاد فى الغيبة مطلقا بل بقيد وهو الاختلاف فى اللفظ وفيه بعد وهذا يقتضى أن البيت الواقع بعد هذا البيت فى بعض النسخ وهو مع اختلاف ما غير ثابت فى الألفية وهو من أبيات الكافية، ثم قال:

وقبل يا النّفس مع الفعل التزم … نون وقاية وليسى قد نظم

وليتنى فشا وليتى ندرا … ومع لعلّ اعكس وكن مخيّرا

فى الباقيات واضطرارا خفّفا … منّى وعنّى بعض من قد سلفا

وفى لدنّى لدنى قلّ وفى … قدنى وقطنى الحذف أيضا قد يفى

قد تقدم أن من جملة الضمائر ياء المتكلم وهى تتصل بالاسم والفعل والحرف فإذا اتصلت بالفعل لزم أن يفصل بينها وبينه بنون تسمى نون الوقاية لأنها تقى الفعل من الكسر الذى لا

--------------------------------------------

(7) البيت من الطويل، وهو بلا نسبة فى أوضح المسالك 1/ 105، وتخليص الشواهد ص 97، وتذكرة النحاة ص 50، والدرر 1/ 203، وشرح الأشمونى 1/ 54، وشرح التصريح 1/ 109، والمقاصد النحوية 1/ 342، وهمع الهوامع 1/ 63.

والشاهد فيه قوله: «أنا لهماه» وكان القياس أن يقال: «أنا لهما إياه» بالانفصال، فجاء متصلا، وذلك لأن الضميرين اتحدا رتبة.
এটি তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন: (এবং বিযুক্তির ক্ষেত্রে যা ইচ্ছা তুমি প্রদান করতে পারো)। সুতরাং যখন কম বিশিষ্ট সর্বনামটি আগে আসে, তখন দ্বিতীয়টির বিযুক্তি আবশ্যক হয়। আর যখন অধিক বিশিষ্ট সর্বনামটি আগে আসে, তখন দ্বিতীয়টির সংযুক্তি এবং বিযুক্তি উভয়ই বৈধ হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীতে উভয় বিষয়ই একত্রিত হয়েছে: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের মালিক করে দিয়েছেন, আর তিনি চাইলে তাদেরকে তোমাদের মালিক করে দিতেন»। এখানে 'তোমাদেরকে তাদের' (মাল্লাকাকুম ইয়্যাহুম) অংশে সর্বনামের বিযুক্তি বৈধ হয়েছে, কারণ অধিক বিশিষ্ট সর্বনাম—যা হলো সম্বোধনবাচক সর্বনাম—কম বিশিষ্ট সর্বনাম তথা অনুপস্থিতবাচক সর্বনামের পূর্বে এসেছে। আর 'তাদেরকে তোমাদের' (মাল্লাকাহুম ইয়্যাহুকুম) অংশে সর্বনামের বিযুক্তি আবশ্যক হয়েছে, কারণ কম বিশিষ্ট সর্বনামটি আগে এসেছে। অতঃপর তিনি বলেন:

আর পদের অভিন্নতার ক্ষেত্রে বিযুক্তি আবশ্যক করো … তবে নাম পুরুষের ক্ষেত্রে কখনো কখনো সংযুক্তি বৈধ করা হয়

এর অর্থ হলো, যখন দুটি সর্বনাম পদের দিক থেকে অভিন্ন হয়, যেমন উভয়টিই উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ কিংবা নাম পুরুষ হয়, তখন দ্বিতীয়টির বিযুক্তি আবশ্যক হয়। যেমন: 'আমি আমাকে এমন মনে করেছি', 'আমি তোমাকে তুমিই ভেবেছি', এবং দিরহামের ক্ষেত্রে 'যদি জায়েদ আসে তবে তাকে সেটি দিয়ে দাও'। তাঁর বক্তব্য 'নাম পুরুষের ক্ষেত্রে কখনো কখনো সংযুক্তি বৈধ করা হয়' এর অর্থ হলো, যখন উভয় সর্বনাম নাম পুরুষ হিসেবে অভিন্ন হয়, তখন তাদের দ্বিতীয়টি সংযুক্ত হতে পারে; তবে শর্ত হলো তাদের মধ্যে কোনো না কোনো পার্থক্য থাকতে হবে। যেমন একটি একবচন এবং অন্যটি দ্বিবচন বা বহুবচন হওয়া, অথবা একটি পুংলিঙ্গ এবং অন্যটি স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া। যেমন কবির উক্তি:

- তোমার চেহারা অনুগ্রহের ক্ষেত্রে প্রফুল্ল ও আনন্দময় … আমি সেই দুই গুণের জন্য শ্রেষ্ঠ পিতার অনুসারী (৭)

গ্রন্থকারের বাহ্যিক বক্তব্য অনুযায়ী এই পার্থক্যের শর্ত নেই। তাঁর পুত্র তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর সপক্ষে এই ওজর পেশ করেছেন যে, 'সংযুক্তি' শব্দটি অনির্দিষ্টভাবে ব্যবহারের অর্থ হলো এক বিশেষ ধরণের সংযুক্তি। এটি এই ইঙ্গিত বহন করে যে, নাম পুরুষের ক্ষেত্রে অভিন্নতা থাকলে ঢালাওভাবে সংযুক্তি বৈধ নয়, বরং শব্দের পার্থক্যের শর্ত যুক্ত। তবে এই ব্যাখ্যাটি কিছুটা দূরহ। এটি দাবি করে যে, কিছু পাণ্ডুলিপিতে এই পঙক্তির পরে যে পঙক্তিটি রয়েছে—অর্থাৎ 'এবং সামান্য পার্থক্য থাকলেও'—তা আলফিয়্যাহ-র মূল অংশ নয়, বরং তা আল-কাফিয়্যাহ-র পঙক্তি। অতঃপর তিনি বলেন:

ক্রিয়ার সাথে উত্তম পুরুষের 'ইয়া' আসার আগে আবশ্যক করো … নূনে বিকায়া; তবে 'লাইসি' কাব্যিক ছন্দে এসেছে

'লাইতানি' বহুল প্রচলিত এবং 'লাইতি' বিরল … আর 'লাআল্লা'-র ক্ষেত্রে এর বিপরীত করো এবং ইখতিয়ার রাখো

অবশিষ্টাংশের ক্ষেত্রে; এবং কাব্যিক প্রয়োজনে লঘু করেছেন … 'মিন্নি' ও 'আন্নি'-কে পূর্বসূরিদের কেউ কেউ

'লাদুন্নি'-র স্থলে 'লাদুনি' ব্যবহার কম হয়, আর … 'কাদনি' ও 'কাতনি'-র নূন বিলোপও কখনো পূর্ণতা পায়

পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, সর্বনামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো উত্তম পুরুষের 'ইয়া'। এটি বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়—সবার সাথেই যুক্ত হয়। যখন এটি ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়, তখন এর ও ক্রিয়ার মাঝখানে একটি 'নূন' দিয়ে বিচ্ছেদ করা আবশ্যক হয়, যাকে 'নূনে বিকায়া' (সুরক্ষামূলক নূন) বলা হয়। কারণ এটি ক্রিয়াকে সেই কাসরা (জের) থেকে রক্ষা করে যা...

--------------------------------------------

(৭) পঙক্তিটি তবিল ছন্দের। এটি নির্দিষ্ট কোনো কবির নাম ছাড়াই 'আওদাহুল মাসালিক' (১/১০৫), 'তাখলিসুশ শাওয়াহিদ' (পৃ. ৯৭), 'তাজকিরাতুন নুহাও' (পৃ. ৫০), 'আদ-দুরার' (১/২০৩), 'শারহুল আশমুনি' (১/৫৪), 'শারহুত তাসরিহ' (১/১০৯), 'আল-মাকাসিদুন নাহউইয়্যাহ' (১/৩৪২) এবং 'হাময়ুল্ হাওয়া মি' (১/৬৩)-এ বর্ণিত হয়েছে।

এতে প্রমাণের বিষয় হলো তাঁর উক্তি: 'আমি সেই দুই গুণের অধিকারী (আনা লাহুমাহু)'। এখানে নিয়ম অনুযায়ী বিযুক্তভাবে 'আনা লাহুমা ইয়্যাহু' হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এটি সংযুক্ত অবস্থায় এসেছে। এর কারণ হলো এখানে দুটি সর্বনামই পদের দিক থেকে অভিন্ন।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২৬)
يكون نظيره فيه وهو الجر ويستوى فى ذلك الماضى والمضارع والأمر وإلى ذلك أشار بقوله:

(وقبل يا النفس مع الفعل التزم * نون وقاية)، وقد حذفت للضرورة مع ليس كقوله:

- إذ ذهب القوم الكرام ليسى (8)

وإلى ذلك أشار بقوله: (وليسى قد نظم)، يعنى أن نون الوقاية حذفت مع ليس فى النظم لضرورة الوزن وقال يا النفس وهو مخالف لعبارات النحويين فإنهم يسمونها ياء المتكلم وقبل متعلق بالتزم ومع الفعل كذلك وإذا اتصلت أعنى ياء المتكلم بالحروف لم تلحق نون الوقاية إلا مع ثمانية أحرف أشار إلى ستة منها وهى إن وأخواتها بقوله:

(وليتنى فشا وليتى ندرا * ومع لعلّ اعكس وكن مخيرا * فى الباقيات)

يعنى أن لحاق نون الوقاية لليت كثير وعدم لحاقها قليل فليتنى أكثر من ليتى ولم يجئ فى القرآن إلا بالنون كقوله تعالى: يا لَيْتَنِي كُنْتُ مَعَهُمْ [النساء: 73] ومن حذفها قول الشاعر:

- كمنية جابر إذ قال ليتى … أصادفه وأفقد جلّ مالى (9)

وقوله: ومع لعل اعكس يعنى أن عدم لحاق النون للعل كثير ولحاقها لها قليل فهى بالعكس من ليت ولم تأت فى القرآن إلا بدون نون كقوله تعالى: لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبابَ [غافر: 36] ومن لحاق نون الوقاية لها قول الشاعر:

- فقلت أعيرانى القدوم لعلّنى … أخطّ بها قبرا لأبيض ماجد (10)

--------------------------------------------

(8) الرجز لرؤبة فى ملحق ديوانه ص 175، وخزانة الأدب 5/ 324، 325، والدرر 1/ 204، وشرح التلويح 1/ 110، وشرح شواهد المغنى 2/ 488، 769، ولسان العرب 6/ 128 (طيس)، والمقاصد النحوية 1/ 344. وبلا نسبة فى أوضح المسالك 1/ 108، وتخليص الشواهد ص 99، والجنى الدانى ص 150، وجواهر الأدب ص 15، وخزانة الأدب 5/ 396، 9/ 266، وسرّ صناعة الإعراب 2/ 32، وشرح الأشمونى 1/ 55، وشرح ابن عقيل ص 60، وشرح المفصل 3/ 108، ولسان العرب 6/ 211 (ليس)، ومغنى اللبيب 1/ 171، 2/ 344، همع الهوامع 1/ 64، 233.

والشاهد فيه قوله: «ليسى» حيث حذف نون الوقاية التى تلحق الأفعال عند اتصالها بياء المتكلم لتقيها الجر، وهذا الحذف شاذ.

(9) البيت من الوافر، وهو لزيد الخيل فى ديوانه ص 87، وتخليص الشواهد ص 100، وخزانة الأدب 5/ 375، 377، والدرر 1/ 205، وشرح أبيات سيبويه 2/ 97، وشرح المفصل 3/ 123، والكتاب 2/ 370، ولسان العرب 2/ 87 (ليت)، والمقاصد النحوية 1/ 346، ونوادر أبى زيد ص 68، وبلا نسبة فى جواهر الأدب ص 153، ورصف المبانى ص 300، ص 361، وسر صناعة الإعراب 2/ 550، وشرح الأشمونى 1/ 56، وشرح ابن عقيل ص 61، ومجالس ثعلب ص 129، والمقتضب 1/ 250، وهمع الهوامع 1/ 64.

والشاهد فيه قوله: «ليتى» والقياس: ليتنى، فحذف نون الوقاية للضرورة.

(10) البيت من الطويل، وهو بلا نسبة فى تخليص الشواهد ص 105، والدرر 1/ 212، وشرح الأشمونى 1/ 56، وشرح ابن عقيل ص 62، وهمع الهوامع 1/ 64.

والشاهد فيه قوله: «لعلنى» حيث لحقت «لعلّ» نون الوقاية، وحذفها أشهر.
এতে তার অনুরূপ বিষয় বিদ্যমান রয়েছে, আর তা হলো জের (কাসরাহ্)। আর এক্ষেত্রে অতীতকাল (মাযী), বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল (মুযারে) এবং আদেশসূচক (আমর) ক্রিয়া সমান। লেখক তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন:

(আর নফসের ইয়া-এর পূর্বে ক্রিয়ার সাথে নুনে বিকায়া অপরিহার্য করো), আর 'লাইসা' (ليس) এর সাথে কাব্যিক প্রয়োজনে তা বিলুপ্ত হয়েছে, যেমন কবির উক্তি:

- যখন সম্মানিত কওম চলে গেল, আমি ছিলাম না (লাইসি) (৮)

আর লেখক তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: (আর 'লাইসি' পদ্যে ব্যবহৃত হয়েছে), অর্থাৎ ছন্দের প্রয়োজনে পদ্যে 'লাইসা'-এর সাথে নুনে বিকায়া বিলুপ্ত হয়েছে। তিনি 'ইয়াউন নাফস' (নফসের ইয়া) বলেছেন, যা ব্যাকরণবিদদের পরিভাষার পরিপন্থী; কেননা তাঁরা একে 'ইয়াউল মুতাকাল্লিম' (বক্তার ইয়া) নামে অভিহিত করেন। আর 'কাবলা' (পূর্বে) শব্দটি 'ইলতাযিম' (অপরিহার্য করো)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং 'মা'আল ফিলি' (ক্রিয়ার সাথে) শব্দটিও তদ্রূপ। আর যখন এই 'ইয়াউল মুতাকাল্লিম' হরফ বা অব্যয়ের সাথে যুক্ত হয়, তখন আটটি হরফ ব্যতীত অন্য কোথাও নুনে বিকায়া যুক্ত হয় না। তিনি তার মধ্য থেকে ছয়টি হরফ অর্থাৎ 'ইন্না' ও তার সমজাতীয় অব্যয়গুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন:

(আর 'লাইতানি' বহুল প্রচলিত এবং 'লাইতি' দুর্লভ; আর 'লায়াল্লা'-এর ক্ষেত্রে এর বিপরীত করো এবং অবশিষ্টগুলোর ক্ষেত্রে স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী হও)

অর্থাৎ 'লাইতা'-এর সাথে নুনে বিকায়া যুক্ত হওয়া অধিক প্রচলিত এবং যুক্ত না হওয়া বিরল। সুতরাং 'লাইতানি' শব্দটি 'লাইতি'-এর চেয়ে অধিক ব্যবহৃত। আর পবিত্র কুরআনে এটি নুনসহই এসেছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: হায়, আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম! [আন-নিসা: ৭৩]। আর এটি বিলুপ্ত করার উদাহরণ হলো কবির উক্তি:

- জাবিরের কামনার মতো, যখন সে বলেছিল: হায় আমি যদি (লাইতি) … তার দেখা পেতাম এবং আমার অধিকাংশ সম্পদ হারিয়ে ফেলতাম (৯)

আর তাঁর উক্তি: "আর 'লায়াল্লা'-এর ক্ষেত্রে বিপরীত করো" এর অর্থ হলো, 'লায়াল্লা'-এর সাথে নুন যুক্ত না হওয়া অধিক প্রচলিত এবং যুক্ত হওয়া কম। সুতরাং এটি 'লাইতা'-এর বিপরীত। আর পবিত্র কুরআনে এটি নুন ছাড়াই এসেছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: যাতে আমি পৌঁছাতে পারি অবলম্বনসমূহের কাছে। [গাফির: ৩৬]। আর এতে নুনে বিকায়া যুক্ত হওয়ার উদাহরণ হলো কবির উক্তি:

- আমি বললাম, তোমরা আমাকে কুঠারটি ধার দাও, যাতে আমি (লায়াল্লানি) … এর দ্বারা এক মহৎ ব্যক্তির জন্য কবর খনন করতে পারি (১০)

--------------------------------------------

(৮) রাজয ছন্দের এই কবিতাটি রু'বার, যা তাঁর দিওয়ানের পরিশিষ্টের ১৭৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে। এছাড়াও খাযানাতুল আদাব ৫/৩২৪, ৩২৫; আদ-দুরার ১/২০৪; শারহুত তালবীহ ১/১১০; শারহু শাওয়াাহিদিল মুগনী ২/৪৮৮, ৭৬৯; লিসানুল আরব ৬/১২৮ (ত্বাইস); আল-মাকাসিদুন নাহবিয়্যাহ ১/৩৪৪। কবি বা বক্তার নাম উল্লেখ ছাড়া এটি আওযাহুল মাসালিক ১/১০৮; তাখলীসুশ শাওয়াাহিদ পৃ. ৯৯; আল-জানিল দানি পৃ. ১৫০; জাওয়াহিরুল আদাব পৃ. ১৫; খাযানাতুল আদাব ৫/৩৯৬, ৯/২৬৬; সিররু সিনাআতিল ই'রাব ২/৩২; শারহুল আশমুনি ১/৫৫; শারহু ইবনে আকীল পৃ. ৬০; শারহুল মুফাসসাল ৩/১০৮; লিসানুল আরব ৬/২১১ (লাইসা); মুগনিল লাবীব ১/১৭১, ২/৩৪৪ এবং হামউল খাওয়াামে ১/৬৪, ২৩৩ এ বর্ণিত হয়েছে।

এখানে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হলো তাঁর উক্তি: "লাইসি", যেখানে নুনে বিকায়া বিলুপ্ত করা হয়েছে যা ইয়াউল মুতাকাল্লিমের সাথে যুক্ত ক্রিয়াকে কাসরাহ্ বা জের থেকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়। আর এই বিলুপ্তি বিরল বা শায।

(৯) কবিতাটি ওয়াফির ছন্দের, যা যায়েদ আল-খাইলের দিওয়ানের ৮৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে। এছাড়াও তাখলীসুশ শাওয়াাহিদ ১০০; খাযানাতুল আদাব ৫/৩৭৫, ৩৭৭; আদ-দুরার ১/২০৫; শারহু আবইয়াতি সীবওয়াইহ ২/৯৭; শারহুল মুফাসসাল ৩/১২৩; আল-কিতাব ২/৩৭০; লিসানুল আরব ২/৮৭ (লাইত); আল-মাকাসিদুন নাহবিয়্যাহ ১/৩৪৬; নাওয়াদিরু আবি যায়েদ পৃ. ৬৮। নাম উল্লেখ ছাড়া জাওয়াহিরুল আদাব পৃ. ১৫৩; রাফসুল মাবানি পৃ. ৩০০, ৩৬১; সিররু সিনাআতিল ই'রাব ২/৫৫০; শারহুল আশমুনি ১/৫৬; শারহু ইবনে আকীল পৃ. ৬১; মাজালিসু ছা'লাব পৃ. ১২৯; আল-মুকতাদাব ১/২৫০ এবং হামউল খাওয়াামে ১/৬৪ এ বর্ণিত হয়েছে।

এখানে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হলো তাঁর উক্তি: "লাইতি", অথচ নিয়ম অনুযায়ী হওয়ার কথা ছিল "লাইতানি"। এখানে কাব্যিক প্রয়োজনে নুনে বিকায়া বিলুপ্ত করা হয়েছে।

(১০) কবিতাটি তওয়ীল ছন্দের, যা নাম উল্লেখ ছাড়া তাখলীসুশ শাওয়াাহিদ ১০৫; আদ-দুরার ১/২১২; শারহুল আশমুনি ১/৫৬; শারহু ইবনে আকীল পৃ. ৬২ এবং হামউল খাওয়াামে ১/৬৪ এ বর্ণিত হয়েছে।

এখানে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হলো তাঁর উক্তি: "লায়াল্লানি", যেখানে "লায়াল্লা"-এর সাথে নুনে বিকায়া যুক্ত হয়েছে, যদিও এটি বিলুপ্ত করাই অধিক প্রসিদ্ধ।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقوله: وكن مخيرا فى الباقيات. يعنى بالباقيات ما بقى من الأحرف الستة وهى إنّ وأن وكأن ولكن فيجوز أن تلحقها نون الوقاية وأن لا تلحقها وقد جاءت فى القرآن بالوجهين كقوله عز وجل: إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ، أَنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ [هود: 54] وإنما جاز لحاق نون الوقاية لهذه الأحرف لشبهها بالأفعال وكان لحاقها غالبا فى ليت لقوة شبهها بالفعل لأنها تغير معنى الابتداء وكان عدم لحاقها غالبا مع لعل لأنها بعدت عن شبه الفعل فإنها شبيهة بحرف الجر فى تعلق ما بعدها بما قبلها فى نحو تب لعلك تفلح ومخيرا خبر كن ويجوز كسر يائه وفتحها وهو أظهر وفى الباقيات متعلق به ثم أشار إلى الحرفين الباقيين من الثمانية وهما من وعن بقوله: (واضطرارا خففا منى وعنى) البيت، يعنى أن الوجه فى من وعن إذا دخلا على ياء المتكلم أن يقال منى وعنى بتشديد النون لأنهما لما لحقتهما نون الوقاية وقبلها نون ساكنة أدغمت فيها وأشار بقوله: واضطرارا خففا منى وعنى إلى آخره إلى قول الشاعر:

- أيها السائل عنهم وعنى … لست من قيس ولا قيس منى (11)

وقد تلحق نون الوقاية بعض الأسماء المبنية على السكون وإلى ذلك أشار بقوله: (وفى لدنى لدنى قل) البيت يعنى أن لحاق نون الوقاية للدن كثير وعدم لحاقها قليل ولذلك قرأ أكثر القراء من لدنى بالتشديد وقرأ نافع وشعبة بالتخفيف وقوله وفى قدنى وقطنى الحذف أيضا قد يفى يعنى أن قد وقط مثل لدن فى أن لحاقها أكثر من عدم لحاقها وذلك مفهوم من قوله يفى وقد وقط اسما فعل بمعنى حسب وقد جمع الراجز بين لحاقها وعدم لحاقها فى قوله:

- قدنى من نصر الخبيبين قدى (12)

--------------------------------------------

(11) البيت من المديد، وهو بلا نسبة فى الأشباه والنظائر 1/ 90، وأوضح المسالك 1/ 118، وتخليص الشواهد ص 106، والجنى الدانى ص 151، وجواهر الأدب ص 152، وخزانة الأدب 5/ 380، 381، ورصف المبانى ص 361، والدرر 1/ 210، وشرح الأشمونى 1/ 56، وشرح التصريح 1/ 112، وشرح ابن عقيل ص 63، وشرح المفصل 3/ 125، والمقاصد النحوية 1/ 352، وهمع الهوامع 1/ 64.

والشاهد فيه قوله: «عنى» و «منى» حيث حذف النون للضرورة الشعرية والقياس: «عنّى» و «منّى».

(12) الرجز لحميد بن مالك الأرقط فى خزانة الأدب 5/ 382، 383، 385، 389، 391، 392، والدرر 1/ 207، وشرح شواهد المغنى 1/ 487، ولسان العرب 1/ 344 (خبب)، والمقاصد النحوية 1/ 357، ولحميد بن ثور فى لسان العرب 3/ 489 (لحد)، وليس فى ديوانه، ولأبى بجدلة فى شرح المفصل 3/ 124، وبلا نسبة فى الأشباه والنظائر 4/ 241، وأوضح المسالك 1/ 120، وتخليص الشواهد ص 108، والجنى الدانى ص 253، وخزانة الأدب 6/ 246، 7/ 431، ورصف المبانى ص 362، وشرح ابن عقيل ص 64، والكتاب 2/ 371، ومغنى اللبيب 1/ 170، ونوادر أبى زيد ص 205.

والشاهد فيه قوله «قدنى» و «قدى» حيث أثبت النون فى الأول، على اللغة المشهورة، وحذفها فى الثانى، وهذا قليل.
এবং তাঁর কথা: "অবশিষ্টগুলোর ক্ষেত্রে তুমি পছন্দের অধিকারী হও।" এখানে "অবশিষ্টগুলো" বলতে ছয়টি অক্ষরের মধ্যে যা বাকি রয়েছে সেগুলোকে বুঝিয়েছেন, আর সেগুলো হলো: ইন্না, আন্না, কাআন্না এবং লাকিন্না। সুতরাং এগুলোর সাথে নুনে বিকায়া যুক্ত হওয়া জায়েজ, আবার যুক্ত না হওয়াও জায়েজ। কুরআনে উভয় পদ্ধতিই এসেছে, যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার বাণী: "নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ", "নিশ্চয় আমি তোমরা যা শরিক করো তা থেকে মুক্ত" [হূদ: ৫৪]। এই অক্ষরগুলোর সাথে নুনে বিকায়া যুক্ত হওয়া জায়েজ হওয়ার কারণ হলো ক্রিয়ার সাথে এগুলোর সাদৃশ্য থাকা। 'লাইতা'-এর ক্ষেত্রে এর যুক্ত হওয়াটাই প্রবল বা অধিক, কারণ ক্রিয়ার সাথে এর সাদৃশ্য অত্যন্ত শক্তিশালী; কেননা এটি প্রারম্ভিক অর্থের পরিবর্তন ঘটায়। আর 'লাআল্লা'-এর সাথে এটি যুক্ত না হওয়াটাই প্রবল, কারণ এটি ক্রিয়ার সাদৃশ্য থেকে দূরে। এটি পরবর্তী অংশকে পূর্ববর্তী অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে হরফে জরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেমন: "তাওবা করো যাতে তুমি সফলকাম হতে পারো"। এখানে 'মুখাইয়্যারান' শব্দটি 'কুন'-এর খবর। এর 'ইয়া' বর্ণটিতে কাসরা (জের) এবং ফাতহা (জবর) উভয়ই জায়েজ, তবে ফাতহা হওয়াই অধিক স্পষ্ট। আর 'ফিল বাকিয়াতি' অংশটি এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এরপর তিনি আটটি হরফের মধ্যে অবশিষ্ট দুটি হরফ অর্থাৎ 'মিন' এবং 'আন' এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: (এবং কবিতার প্রয়োজনের খাতিরে 'মানী' ও 'আনী'-কে হালকা করা হয়েছে)। অর্থাৎ নিয়ম হলো 'মিন' এবং 'আন' যখন ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম-এর পূর্বে আসে, তখন নুনের তাশদীদের সাথে 'মিন্নী' ও 'আন্নী' বলা। কারণ যখন এগুলোর সাথে নুনে বিকায়া যুক্ত হয় এবং এর পূর্বে একটি সাকিন নুন থাকে, তখন একটিকে অন্যটির মধ্যে সন্ধি বা ইদগাম করা হয়। তিনি তাঁর উক্তি "এবং কবিতার প্রয়োজনের খাতিরে মানী ও আনী-কে হালকা করা হয়েছে" দ্বারা কবির নিম্নোক্ত বাণীর দিকে ইশারা করেছেন:

- হে তাদের এবং আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী... আমি কায়স গোত্রের নই এবং কায়স গোত্রও আমার নয় (১১)

কখনও কখনও সাকিন-যুক্ত মাবনী কিছু ইসিমের সাথেও নুনে বিকায়া যুক্ত হয়। আর সেদিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন এই বলে: (এবং লাদুনী-এর ক্ষেত্রে লাদুনী বলাটাই কম)। অর্থাৎ লাদুন শব্দের সাথে নুনে বিকায়া যুক্ত হওয়াটা অধিক আর যুক্ত না হওয়াটা কম। এই কারণেই অধিকাংশ ক্বারী 'মিন লাদুননী' তাশদীদের সাথে পাঠ করেছেন, আর নাফে ও শু'বাহ হালকাভাবে পাঠ করেছেন। আর তাঁর কথা "এবং কাদনী ও কাতনী এর ক্ষেত্রে বিলুপ্তি বা বাদ দেওয়াও কখনও পূর্ণতা পায়"। অর্থাৎ কাদ এবং কাত শব্দ দুটি লাদুন-এর মতোই; এগুলোর সাথে নুন যুক্ত হওয়াটাই অধিক, যুক্ত না হওয়ার চেয়ে। আর এটি 'ইয়াফী' শব্দ থেকে বোঝা যায়। কাদ এবং কাত হলো 'যথেষ্ট' অর্থে ইসমে ফে'ল। কবি তাঁর কবিতায় নুন যুক্ত হওয়া এবং না হওয়া উভয়কে একত্রে নিয়ে এসেছেন এভাবে:

- খুবাইবিয়াইন-দের সাহায্য থেকে আমার জন্য যথেষ্ট, আমার জন্য যথেষ্ট (১২)

--------------------------------------------

(১১) কবিতাটি মাদীদ ছন্দে রচিত। আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর ১/৯০, আওদাহুল মাসালিক ১/১১৮, তাখলিসুশ শাওয়াহিদ পৃষ্ঠা ১০৬, আল-জানিল দানি পৃষ্ঠা ১৫১, জাওয়াহিরুল আদাব পৃষ্ঠা ১৫২, খিজানাতুল আদাব ৫/৩৮০, ৩৮১, রাফসুল মাবানি পৃষ্ঠা ৩৬১, আদ-দুরার ১/২১০, শারহুল আশমুনি ১/৫৬, শারহুত তাসরিহ ১/১১২, শারহু ইবনে আকিল পৃষ্ঠা ৬৩, শারহুল মুফাসসাল ৩/১২৫, আল-মাকাসিদুন নাহউইয়্যাহ ১/৩৫২ এবং হামাউল হাওয়া মি ১/৬৪-এ এটি কোনো রচয়িতার নাম উল্লেখ ছাড়াই উদ্ধৃত হয়েছে।

এখানে প্রমাণের বিষয় হলো তাঁর উক্তি: "আনী" এবং "মানী", যেখানে কবিতার প্রয়োজনের খাতিরে নুনকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, অথচ নিয়ম বা কিয়াস হলো: "আন্নী" এবং "মিন্নী"।

(১২) কবিতাটি হুমাইদ ইবনে মালিক আল-আরকাত এর, যা খিজানাতুল আদাব ৫/৩৮২, ৩৮৩, ৩৮৫, ৩৮৯, ৩৯১, ৩৯২, আদ-দুরার ১/২০৭, শারহু শাওয়াহিদিল মুগনি ১/৪৮৭, লিসানুল আরব ১/৩৪৪ (খাবাব), আল-মাকাসিদুন নাহউইয়্যাহ ১/৩৫৭-এ বর্ণিত। আবার লিসানুল আরব ৩/৪৮৯ (লাহাদ)-এ এটি হুমাইদ ইবনে সাওর এর বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এটি তাঁর দিওয়ানে নেই। আবার শারহুল মুফাসসাল ৩/১২৪-এ আবু বাজদালাহর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর ৪/২৪১, আওদাহুল মাসালিক ১/১২০, তাখলিসুশ শাওয়াহিদ ১০৮, আল-জানিল দানি ২৫৩, খিজানাতুল আদাব ৬/২৪৬, ৭/৪৩১, রাফসুল মাবানি ৩৬২, শারহু ইবনে আকিল ৬৪, আল-কিতাব ২/৩৭১, মুগনিল লাবিব ১/১৭০ এবং নাওয়াদিরু আবি যায়দ ২০৫-এ এটি কোনো রচয়িতার নাম ছাড়াই উল্লিখিত হয়েছে।

এখানে প্রমাণের বিষয় হলো তাঁর উক্তি "কাদনী" এবং "কাদী", যেখানে প্রথমটিতে প্রসিদ্ধ ভাষা অনুযায়ী নুনকে বহাল রাখা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে বিলুপ্ত করা হয়েছে, আর এটি খুবই বিরল।
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولم يصرح الناظم بلحاق نون الوقاية فى الحروف والأسماء التى ذكر وإنما صرح بذلك فى الأفعال لكنه اكتفى بالنطق بها مقترنة بالنون فى معرض لحاقها وتجردها منها فى معرض عدم لحاقها والوزن يحفظ جميع ذلك. واضطرارا منصوب على المفعول له وعنى مفعول على حذف مضاف تقديره خفف نون عنى.

 

‌‌العلم

هذا هو النوع الثانى من المعارف وهو العلم وهو ضربان علم شخص وعلم جنس وقد أشار إلى الأول بقوله:

اسم يعيّن المسمّى مطلقا … علمه كجعفر وخرنقا

وقرن وعدن ولاحق … وشذقم وهيلة وواشق

فقوله اسم جنس ويعين المسمى مخرج للنكرة، ومطلقا مخرج لما سوى العلم من المعارف لأن كل معرفة غير العلم يعين مسماه لكن بقرينة إما لفظية كأل والصلة وإما معنوية كالحضور والغيبة بخلاف العلم فإنه يعين مسماه بغير قرينة ولما كان العلم الشخصى لا يختص بأولى العلم بل يكون لأولى العلم وغيرهم مما يؤلف نوع المثل فقال كجعفر وهو اسم رجل وخرنق وهو اسم امرأة وقرن وهو اسم قبيلة وعدن وهو اسم بلدة ولاحق وهو اسم فرس وشذقم وهو اسم جمل وهيلة وهو اسم شاة وواشق وهو اسم كلب. واسم مبتدأ ويعين المسمى جملة فى موضع الصفة له ومطلقا حال من الضمير المستتر فى يعين وعلمه خبر والضمير فى علمه عائد على المسمى ويجوز أن يكون علمه مبتدأ وخبره اسم يعين المسمى ويكون حينئذ الخبر واجب التقديم لالتباس المبتدأ بضميره ويحتمل غير هذين الوجهين من الإعراب فلا نطيل بها.

واسما أتى وكنية ولقبا … وأخّرن ذا إن سواه صحبا

ثم قال: (واسما أتى وكنية ولقبا) يعنى أن العلم ينقسم إلى اسم ويقال فيه الاسم الخاص كجعفر وإلى كنية وهو كل ما صدر بأب أو أم كأبى زيد وأم كلثوم، وإلى لقب وهو ما دل على رفعة مسماه كالصديق والفاروق أو ضعة كقفة وأنف الناقة. ثم قال: (وأخرن ذا إن سواه صحبا) الإشارة بذا إلى اللقب يعنى أن اللقب إذا صحب سواه يجب تأخيره وسواه شامل للاسم والكنية نحو هذا زيد قفة وأبو عبد الله أنف الناقة ثم قال:
কাব্যকার (নাজিম) তাঁর উল্লিখিত হরফ এবং ইসিমসমূহের সাথে 'নুন-এ-ওয়িকায়াহ' যুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি; তিনি কেবল ক্রিয়ার (ফেল) ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি যেখানে নুন যুক্ত হয় সেখানে নুনের সাথে উচ্চারণ করে এবং যেখানে যুক্ত হয় না সেখানে নুন ছাড়া উচ্চারণ করে এ বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদানকেই যথেষ্ট মনে করেছেন, আর কাব্যের ছন্দ বা ওজন এই সবকিছুকে সংরক্ষণ করে। 'ইদতিরাকান' (অনিবার্যতা বা ছন্দ রক্ষার খাতিরে) শব্দটি 'মাফউল লাহু' হিসেবে মানসুব হয়েছে এবং 'আন্নি' শব্দটি একটি উহ্য মুদাফ সাপেক্ষে মাফউল হয়েছে, যার পূর্ণ تقدير (উহ্য রূপ) হলো: 'আন্নি'-এর নুনকে হালকা করো।

 

‌‌বিশেষ্য (আল-আলাম)

এটি মারেফার (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) দ্বিতীয় প্রকার, আর তা হলো 'আলাম' (সংজ্ঞাবাচক নাম)। এটি দুই প্রকার: ব্যক্তিবাচক নাম (আলমে শাখস) এবং জাতিবাচক নাম (আলমে জিনস)। কাব্যকার প্রথম প্রকারের দিকে তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:

এমন নাম যা তার নামধারী বিষয়কে কোনো শর্ত ছাড়াই নির্দিষ্ট করে দেয় … সেটিই হলো আলাম, যেমন: জাফর এবং খারনাক।

এবং কারান, আদান, লাহিক … এবং শাদগাম, হায়লাহ ও ওয়াশিক।

তাঁর উক্তি 'ইসিম' হলো সাধারণ পদ (জিনস) এবং 'নামধারীকে নির্দিষ্ট করে দেয়'—এই অংশটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যকে (নাকিরা) এর সংজ্ঞার বাইরে নিয়ে যায়। আর 'নিঃশর্তভাবে' (মুতলাকান) কথাটি আলাম ব্যতীত অন্যান্য মারেফাকে সংজ্ঞার বাইরে নিয়ে যায়; কারণ আলাম ছাড়া অন্য সকল মারেফা তার নামধারীকে নির্দিষ্ট করে ঠিকই, তবে তা কোনো না কোনো প্রতীকের (কারিনা) মাধ্যমে—চাই তা শাব্দিক প্রতীক হোক যেমন 'আলিফ-লাম' ও 'সিলাহ', অথবা অর্থগত প্রতীক হোক যেমন উপস্থিত থাকা (হুজুর) বা অনুপস্থিত থাকা (গাইবাত)। আলামের বিষয়টি এর বিপরীত; এটি কোনো প্রতীক ছাড়াই তার নামধারীকে নির্দিষ্ট করে দেয়। যেহেতু ব্যক্তিবাচক আলাম (আলমে শাখস) কেবল জ্ঞানসম্পন্নদের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং জ্ঞানসম্পন্ন ও অন্যান্যদের জন্যও হতে পারে যাদেরকে নাম দেওয়া হয়, তাই তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেছেন: যেমন জাফর (একজন পুরুষের নাম), খারনাক (একজন মহিলার নাম), কারান (একটি গোত্রের নাম), আদান (একটি শহরের নাম), লাহিক (একটি ঘোড়ার নাম), শাদগাম (একটি উটের নাম), হায়লাহ (একটি বকরির নাম) এবং ওয়াশিক (একটি কুকুরের নাম)। এখানে 'ইসমুন' শব্দটি মুবতাদা, 'ইউআইয়িনুল মুসাম্মা' বাক্যটি তার গুণবাচক পদ (সিফাত), 'মুতলাকান' শব্দটি 'ইউআইয়িনু'-এর মধ্যে থাকা উহ্য সর্বনাম (জমির) থেকে হাল হয়েছে এবং 'আলামুহু' শব্দটি তার খবর। 'আলামুহু' শব্দের সর্বনামটি নামধারীর (মুসাম্মা) দিকে ফিরেছে। এটিও জায়েজ যে, 'আলামুহু' মুবতাদা হবে এবং 'ইসমুন ইউআইয়িনুল মুসাম্মা' তার খবর হবে; এমতাবস্থায় খবরের অংশটি আগে আনা ওয়াজিব হবে, কারণ মুবতাদার সাথে তার সর্বনামের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের আরও কিছু দিক থাকতে পারে, তবে দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় আমরা তা আলোচনা করছি না।

এটি নাম (ইসিম), উপনাম (কুনিয়া) এবং পদবি (লাকাব) হিসেবে আসে … আর পদবিকে পরে আনো যদি এটি অন্যটির সাথে একত্রে আসে।

অতঃপর তিনি বলেন: (এটি ইসিম, কুনিয়া এবং লাকাব হিসেবে আসে) অর্থাৎ আলাম তিন ভাগে বিভক্ত: 'ইসিম' (নাম)—যাকে ইসমে খাস বলা হয় যেমন জাফর; 'কুনিয়া' (উপনাম)—যা পিতা (আবু) বা মাতা (উম্মু) শব্দ দিয়ে শুরু হয় যেমন আবু যায়েদ ও উম্মে কুলসুম; এবং 'লাকাব' (পদবি)—যা তার অধিকারীর উচ্চ মর্যাদা নির্দেশ করে যেমন সিদ্দিক ও ফারুক, অথবা হীনতা নির্দেশ করে যেমন কুফফাহ ও আনফুন নাকাহ। অতঃপর তিনি বলেন: (আর পদবিকে পরে আনো যদি এটি অন্যটির সাথে একত্রে আসে)। এখানে 'যা' (ذا) দ্বারা পদবি বা লাকাবের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ লাকাব যদি ইসিম বা কুনিয়ার সাথে একত্রে আসে, তবে লাকাবকে পরে আনা ওয়াজিব। এখানে 'অন্যটি' (সাওয়াহু) বলতে ইসিম এবং কুনিয়া উভয়কেই বোঝানো হয়েছে। যেমন: এই হয় যায়েদ কুফফাহ এবং আবু আব্দুল্লাহ আনফুন নাকাহ। অতঃপর তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ২৯)
وإن يكونا مفردين فأضف … حتما وإلّا أتبع الّذى ردف

يعنى أن اللقب إذا اجتمع مع الاسم وكانا مفردين أى غير مضافين ولا أحدهما فأضف الاسم إلى اللقب وجوبا نحو هذا سعيد كرز ولا مدخل هنا للكنية فإنها من قبيل المضاف ويلزم حينئذ أن يكون اللقب هو المضاف إليه لأنه قد ذكر قبل أنه يجب تأخيره وقوله وإلا أتبع الذى ردف أى وإن لم يكونا مفردين أتبع الآخر للأول أى اجعله تابعا له فى الإعراب وتبعيته له إما على البدل أو عطف البيان وشمل قوله وإلا ثلاث صور أن يكونا مضافين نحو هذا عبد الله أنف الناقة أو الأول مضافا والثانى مفردا نحو عبد الله كرز أو الأول مفردا والثانى مضافا نحو هذا زيد أنف الناقة والإتباع فى جميع ذلك واجب وحتما منصوب على أنه نعت لمصدر محذوف والتقدير إضافة حتما وأتبع جواب الشرط وحذفت منه الفاء للضرورة. ثم قال:

ومنه منقول كفضل وأسد … وذو ارتجال كسعاد وأدد

يعنى أن العلم ضربان منقول ومرتجل فالمنقول ما تقدم له استعمال قبل العلمية ويكون منقولا من المصدر كفضل ومن اسم العين كأسد ومن الصفة كعباس ومن الجملة كشاب قرناها ومن الفعل المضارع كيزيد ومن الماضى كشمر اسم الفرس. والمرتجل ما لم يتقدم له استعمال قبل العلمية كسعاد اسم امرأة وأدد اسم رجل. ومنه منقول مبتدأ وخبر وذو ارتجال مبتدأ محذوف الخبر والتقدير ومنه ذو ارتجال. ثم قال:

وجملة وما بمزج ركّبا … ذا إن بغير ويه تمّ أعربا

أى ومن العلم جملة كبرق نحره. وقوله وما بمزج ركبا يعنى أن المركب تركيب مزج والمزج الخلط وهو ما ختم بغير ويه كبعلبك وما ختم بويه كسيبويه فالأول يعرب آخره إعراب ما لا ينصرف والثانى يبنى آخره على الكسر وإلى ذلك أشار بقوله: (ذا إن بغير ويه تم أعربا) فذا اسم إشارة للمركب تركيب مزج وأطلق هنا الإعراب ومراده إعراب ما لا ينصرف على ما ينبه عليه فى باب ما لا ينصرف وما بمزج مبتدأ خبره محذوف أى من العلم وذا مبتدأ خبره أعرب وجواب الشرط محذوف ويحتمل أن يكون جملة الشرط والجواب خبرا عن ذا.

ثم قال:
আর যদি তারা উভয়ই মুফরাদ হয় তবে অবশ্যই ইদাফাত করো … অন্যথায় পরবর্তীটিকে অনুগামী করো

এর অর্থ হলো, উপাধি যখন নামের সাথে একত্রিত হয় এবং উভয়ই যদি মুফরাদ হয়—অর্থাৎ তারা মুদাফ নয় এবং তাদের কোনোটিই মুদাফ-এর অংশ নয়—তবে নামটিকে উপাধির দিকে ইদাফাত করা ওয়াজিব। যেমন: এটি সাঈদ কুরয। আর এখানে কুনিয়াত বা উপনামের কোনো সুযোগ নেই, কারণ তা মুদাফ-এর অন্তর্ভুক্ত। এমতাবস্থায় উপাধিটি মুদাফ ইলাইহি হওয়া আবশ্যক, কারণ ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উপাধি বিলম্বে আসা ওয়াজিব। আর তাঁর উক্তি: "অন্যথায় পরবর্তীটিকে অনুগামী করো"—অর্থাৎ যদি তারা উভয়ই মুফরাদ না হয়, তবে দ্বিতীয়টিকে প্রথমটির অনুগামী করো। অর্থাৎ ই’রাবের ক্ষেত্রে তাকে প্রথমটির অনুসারী করো। আর এই অনুসারী হওয়া হয় বদল হিসেবে অথবা আত্বফে বায়ান হিসেবে। তাঁর উক্তি "অন্যথায়" তিনটি অবস্থাকে শামিল করে: ১. উভয়ই মুদাফ হওয়া, যেমন: এটি আবদুল্লাহ আনফুন নাকাহ। ২. প্রথমটি মুদাফ এবং দ্বিতীয়টি মুফরাদ হওয়া, যেমন: আবদুল্লাহ কুরয। ৩. প্রথমটি মুফরাদ এবং দ্বিতীয়টি মুদাফ হওয়া, যেমন: এটি যাইদ আনফুন নাকাহ। এই সকল অবস্থায় অনুগামী করা ওয়াজিব। "হাতমান" শব্দটি এখানে উহ্য মাজদারের সিফাত হওয়ার কারণে মানসুব হয়েছে, যার মূল রূপ হলো "ইদাফাতান হাতমান" (অবশ্যই ইদাফাত করা)। আর "আতবি’" শব্দটি শর্তের জওয়াব, যা থেকে কাব্যিক প্রয়োজনে "ফা" বিলুপ্ত করা হয়েছে। এরপর তিনি বলেন:

আর তার কিছু হলো মানকুল যেমন ফাদল ও আসাদ … এবং কিছু মুরতাজাল যেমন সুয়াদ ও আদাদ

এর অর্থ হলো, আলম বা বিশেষ্য দুই প্রকার: মানকুল এবং মুরতাজাল। মানকুল হলো তা, যার বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহারের পূর্বে অন্য কোনো ব্যবহার ছিল। এটি মাজদার থেকে স্থানান্তরিত হতে পারে যেমন "ফাদল"; বস্তুবাচক বিশেষ্য থেকে হতে পারে যেমন "আসাদ"; গুণবাচক শব্দ থেকে হতে পারে যেমন "আব্বাস"; বাক্য থেকে হতে পারে যেমন "শাবা ক্বরনাহা"; মুযারে ক্রিয়া থেকে হতে পারে যেমন "ইয়াযিদ"; এবং মাজি ক্রিয়া থেকে হতে পারে যেমন ঘোড়ার নাম "শাম্মার"। আর মুরতাজাল হলো তা, যার বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহারের পূর্বে অন্য কোনো ব্যবহার ছিল না, যেমন মহিলার নাম "সুয়াদ" এবং পুরুষের নাম "আদাদ"। "মিনহু মানকুলুন"-এর মধ্যে মানকুলুন মুবতাদা এবং মিনহু খবর। আর "যু ইরতিজালিন" হলো মুবতাদা যার খবর উহ্য, আর তার মূল রূপ হলো "ওয়া মিনহু যু ইরতিজালিন"। এরপর তিনি বলেন:

আর জুমলা এবং যা মিশ্রণের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে … তা যদি ওয়াইহি ব্যতীত পূর্ণ হয় তবে ই’রাব গ্রহণ করবে

অর্থাৎ বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো জুমলা বা বাক্য, যেমন "বারাক্বা নাহরুহু"। আর তাঁর উক্তি "যা মিশ্রণের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে"—এর অর্থ হলো তারকিবে মাজজি। মাজজ মানে হলো মিশ্রিত করা। এটি হলো তা যা "ওয়াইহি" শব্দ ছাড়া শেষ হয় যেমন "বালবাক্কু", অথবা যা "ওয়াইহি" দিয়ে শেষ হয় যেমন "সিবওয়াইহি"। প্রথমটির শেষভাগে গাইরে মুনসারিফের ই’রাব প্রদান করা হয় এবং দ্বিতীয়টির শেষভাগ কাসরার ওপর মাবনি হয়। এই দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: "তা যদি ওয়াইহি ব্যতীত পূর্ণ হয় তবে ই’রাব গ্রহণ করবে"। এখানে "যা" শব্দটি তারকিবে মাজজির দিকে ইশারা করার জন্য ইসমু ইশারা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি এখানে সাধারণভাবে ই’রাবের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁর উদ্দেশ্য হলো গাইরে মুনসারিফের ই’রাব, যা তিনি গাইরে মুনসারিফ অধ্যায়ে আলোচনা করবেন। "ওয়া মা বিমাযজিন" হলো মুবতাদা যার খবর উহ্য, অর্থাৎ "বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত"। আর "যা" হলো মুবতাদা যার খবর হলো "আ’রাবা" এবং শর্তের জওয়াব উহ্য রয়েছে। এটিও সম্ভব যে, শর্ত ও জওয়াবের বাক্যটি "যা"-এর খবর হবে।

এরপর তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) শারহুল মাকুদী আলাল আলফিয়্যাহ ফী ইলমাইস সারফি ওয়ান নাহবি (পৃষ্ঠা: ৩০)
وشاع فى الأعلام ذو الإضافه … كعبد شمس وأبى قحافه

أى من العلم المركب المضاف وهو أكثر المركبات لأن منه الكنى وغيرها ولذلك قال وشاع ومثل بمثال من غير الكنى وهو عبد شمس ومثال من الكنى وهو أبو قحافة. ثم أشار إلى النوع الثانى من العلم وهو علم الجنس فقال:

ووضعوا لبعض الأجناس علم … كعلم الأشخاص لفظا وهو عمّ

يعنى أن العرب وضعت لبعض الأجناس أعلاما هى فى اللفظ كعلم الأشخاص فتأتى منه الحال فى فصيح الكلام ويمنع من الصرف إن وجدت فيه علة زائدة على العلمية من العلل المانعة للصرف ويوصف بالمعرفة وهذا معنى قوله كعلم الأشخاص لفظا ومدلوله مع ذلك شائع كمدلول النكرة وهذا معنى قوله وهو عم أى ومدلوله شائع وفهم من قوله لبعض الأجناس أنها لم تضع ذلك لجميع الأجناس ووقف على علم بالسكون على لغة ربيعة وعمّ فعل ماض فى موضع خبر هو ويجوز أن يكون مفردا فقصره بحذف ألفه نحو قولهم برّ فى بارّ. ولما كان علم الجنس على ضربين أحدهما جنس ما لا يؤلف كالسباع والحشرات والآخر المعانى أشار إلى الأول بقوله:

من ذاك أمّ عريط للعقرب … وهكذا ثعالة للثّعلب

يعنى من ذاك أى من العلم الجنسى أمّ عريط وهو علم لجنس العقرب ومن علم جنسها أيضا شبوة وهكذا ثعالة أى وكذا أيضا ثعالة علم لجنس الثعلب وهو غير منصرف للعلمية وتاء التأنيث إلا أنه صرفه للضرورة ثم أشار

إلى النوع الثانى من علم الجنس، بقوله:

ومثله برّة للمبرّه … كذا فجار علم للفجره

أى ومثل أم عريط وثعالة فى كونهما علمى جنس برة وهو للمبرة بمعنى البر وفجار علم للفجرة بمعنى الفجور، وبرة أيضا غير منصرف للعلمية وتاء التأنيث وفجار مبنى على الكسر لشبهه بنزال وقد جمع الشاعر بينهما فى قوله:
সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের মধ্যে ইদাফাতযুক্ত বা সমাসবদ্ধ নামগুলোর ব্যাপক প্রচলন রয়েছে … যেমন আবদু শামস ও আবু কুহাফাহ।

অর্থাৎ মুরাক্কাবে মুদাফ (সমাসবদ্ধ আলাম) আলাম বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত, আর এটি এই জাতীয় শব্দগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত। কারণ কুনইয়াত (উপনাম) এবং অন্যান্য বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই তিনি ‘ব্যাপক প্রচলিত’ বলেছেন। তিনি কুনইয়াত ব্যতীত একটি উদাহরণ দিয়েছেন, যা হলো আবদু শামস; এবং কুনইয়াতের একটি উদাহরণ দিয়েছেন, যা হলো আবু কুহাফাহ। এরপর তিনি আলামের দ্বিতীয় প্রকারের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যা হলো আলমে জিনস (শ্রেণিবাচক সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য)। তিনি বলেছেন:

তারা (আরবগণ) কিছু শ্রেণির জন্য আলাম বা নাম নির্ধারণ করেছেন … যা শব্দগতভাবে ব্যক্তিবাচক সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের মতো, তবে এর অর্থ ব্যাপক।

অর্থাৎ আরবরা কিছু প্রজাতির বা শ্রেণির জন্য এমন কিছু নাম নির্ধারণ করেছে যা শব্দগত বিচারে আলমে শাখস-এর (ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য) মতো। তাই বিশুদ্ধ আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী এটি থেকে ‘হাল’ (অবস্থা) আসতে পারে এবং যদি আলাম হওয়ার পাশাপাশি অন্য কোনো কারণ পাওয়া যায় যা শব্দটিকে ‘গাইরে মুনসারিফ’ (অপরিবর্তনীয়) করে, তবে তা অপরিবর্তনীয় হবে। এটি ‘মারেফা’ (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) হিসেবেও বিশেষিত হয়। এটিই তাঁর এই বাণীর মর্ম: ‘শব্দগতভাবে আলমে শাখস-এর মতো’। তবে এর অর্থ বা উদ্দেশ্য সাধারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকিরাহ) মতো ব্যাপক। এটিই তাঁর বাণীর উদ্দেশ্য: ‘তা ব্যাপক’, অর্থাৎ এর অর্থ সাধারণ ও ব্যাপক। ‘কিছু শ্রেণির জন্য’ কথাটি থেকে বোঝা যায় যে, তারা সকল শ্রেণির জন্য এমন নাম নির্ধারণ করেনি। রাবিআহ গোত্রের উপভাষা অনুযায়ী তিনি ‘আলাম’ শব্দটির শেষে সুকুন দিয়ে থেমেছেন। আর ‘আম্ম’ শব্দটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা ‘হুয়া’ সর্বনামের সংবাদ (খবর) হিসেবে এসেছে। এটি একবচন হিসেবেও ধরা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে আলিফ বিলুপ্ত করে একে সংক্ষেপ করা হয়েছে; যেমন ‘বাররুন’ শব্দের স্থলে ‘বারর’। আলমে জিনস যেহেতু দুই প্রকার—এক প্রকার হলো যা পোষ মানে না এমন প্রাণী, যেমন হিংস্র পশু ও কীটপতঙ্গ; এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো বিমূর্ত ধারণা (মাআনি)—সেহেতু তিনি প্রথম প্রকারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন:

এর মধ্যে রয়েছে বিচ্ছুর জন্য ‘উম্মু আরীত’ … এবং শেয়ালের জন্য ‘সুআলাহ’।

অর্থাৎ এর মধ্য থেকে, তথা আলমে জিনসের মধ্য থেকে হলো ‘উম্মু আরীত’, যা বিচ্ছু প্রজাতির নাম। বিচ্ছু প্রজাতির আরেকটি নাম হলো ‘শাবওয়াহ’। অনুরূপভাবে ‘সুআলাহ’, অর্থাৎ সুআলাহ হলো শেয়াল প্রজাতির নাম। এটি আলাম হওয়া এবং শেষে তায়-এ তানিছ (স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা) থাকার কারণে ‘গাইরে মুনসারিফ’, তবে ছন্দের প্রয়োজনে লেখক একে ‘মুনসারিফ’ (পরিবর্তনশীল) হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এরপর তিনি আলমে জিনসের দ্বিতীয় প্রকারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন:

অনুরূপভাবে সদাচরণের জন্য ‘বাররাহ’ … এবং পাপাচারের জন্য ‘ফাজারা’ নাম নির্ধারিত।

অর্থাৎ আলমে জিনস হওয়ার ক্ষেত্রে উম্মু আরীত ও সুআলাহর মতোই হলো ‘বাররাহ’, যা ‘মাবাররাহ’ বা পুণ্য অর্থে ব্যবহৃত। আর ‘ফাজারা’ হলো ‘ফাজরাহ’ বা পাপাচার অর্থে ব্যবহৃত একটি নাম। ‘বাররাহ’ শব্দটিও আলাম এবং শেষে তায়-এ তানিছ হওয়ার কারণে গাইরে মুনসারিফ। আর ‘ফাজারা’ শব্দটি ‘নাযালি’ শব্দের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে কাসরা (জের) যোগে মাবনি (অপরিবর্তনীয়)। কবি তাঁর নিম্নোক্ত চরণে এ দুটিকে একত্রে ব্যবহার করেছেন: