(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: -)
شرح ألفية ابن مالك المسمى تحرير الخصاصة في تيسير الخلاصة القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح ألفية ابن مالك المسمى «تحرير الخصاصة في تيسير الخلاصة»
المؤلف: زين الدين أبو حفص عمر بن مظفر بن الوردي (691 - 749 هـ)
تحقيق ودراسة: الدكتور عبد الله بن علي الشلال
الناشر: مكتبة الرشد، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (مؤسسة سليمان الراجحي الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الآخر 1440
আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম ‘তাহরিরুল খাসসাহ ফি তাইসিরিল খুলাসাও’ বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম «তাহরিরুল খাসসাহ ফি তাইসিরিল খুলাসাও»
লেখক: যাইনুদ্দীন আবু হাফস ওমর বিন মুজাফফর বিন আল-ওয়ারদি (৬৯১ - ৭৪৯ হিজরি)
সম্পাদনা ও গবেষণা: ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আলী আল-শাল্লাল
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ، রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ক্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নাসসাখ، বাস্তবায়নে (মারকাযুল নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (সুলাইমান আল-রাজিহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন)
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউস সানি ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: -)
شرح ألفية ابن مالك المسمى «تحرير الخصاصة في تيسير الخلاصة»
تأليف
زين الدين أبي حفص عمر بن مظفر بن الوردي (691 هـ - 749 هـ)
تحقيق ودراسة
الدكتور عبد الله بن علي الشلال
[الجزء الأول]
مكتبة الرشد
আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম «তাহরিরুল খাসসাহ ফি তাইসিরিল খুলাসসাহ»
রচনা
যাইনুদ্দীন আবি হাফস উমর বিন মুজাফফর বিন আল-ওয়ারদী (৬৯১ হি. - ৭৪৯ হি.)
সম্পাদনা ও গবেষণা
ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আলী আশ-শাল্লাল
[প্রথম খণ্ড]
মাকতাবাতুর রুশদ
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسّلام على آله وصحبه الطيبين الطاهرين.
أما بعد:
فقد حظيت مؤلفات ابن مالك رحمه الله من اهتمام العلماء، دراسة وشرحا وتعليقا، قديما وحديثا - بما لم تحظ به مصنفات غيره، وتنافسوا في تقديم مصنفاته للمتعلمين بأيسر الطرق وأسهلها.
ولعلّ انقطاع ابن مالك للعلم، وصلاح نيته وإخلاصه، وما رزق من توفيق الله، ومن سهولة الأسلوب، وقرب المأخذ، وتفرغه للعلم والتعليم، كان سببا في تميز مؤلفاته، وإقبال الناس عليها.
وفي مقدمة ما اهتم به العلماء من مؤلفاته: (الخلاصة) المشتهرة بالألفية، فقد أقبلوا عليها حفظا، ودراسة، وشرحا، وإعرابا، وتيسيرا لطلاب العلم في مختلف العصور حتى يومنا هذا، فهي لا تزال تدرّس في الجامعات والكليات المتخصصة، من خلال شروحها المتعددة التي زادت على الخمسين (1)، فضلا عن النظم والاختصار والحواشي على تلك الشروح التي زادت
--------------------------------------------
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর পবিত্র ও উত্তম সাথীবর্গের ওপর বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
ইমাম ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলী প্রাচীন ও আধুনিক কালে আলেমদের বিশেষ মনোযোগ, অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা এবং টীকা বিন্যাসের যে সৌভাগ্য লাভ করেছে, তা অন্যের কোনো রচনার ক্ষেত্রে ঘটেনি। তাঁরা শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর গ্রন্থসমূহকে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন।
সম্ভবত ইলমের জন্য ইবনে মালিকের একনিষ্ঠতা, তাঁর নেক নিয়ত ও ইখলাস, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাওফিক, সহজ বর্ণনাশৈলী, সহজলভ্য উৎস এবং জ্ঞান ও শিক্ষাদানের প্রতি তাঁর পূর্ণ একাগ্রতা ছিল তাঁর রচনাবলীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের কাছে তা ব্যাপক সমাদৃত হওয়ার মূল কারণ।
আলেমগণ তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে যেটির প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন তা হলো: ‘আল-খুলাসাহ’, যা ‘আলফিয়্যাহ’ নামে সুপ্রসিদ্ধ। বিভিন্ন যুগে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তা মুখস্থকরণ, অধ্যয়ন, ব্যাখ্যা, ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ এবং সহজবোধ্য করার মাধ্যমে তাঁরা এর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এটি এখনও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে এর অসংখ্য ব্যাখ্যার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, যার সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক (১)। এছাড়াও সেই ব্যাখ্যাগুলোর ওপর রচিত কাব্যগ্রন্থ, সংক্ষিপ্তসার এবং টীকা তো রয়েছেই, যার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
على العشرين حاشية (1)، ومن تلك الشروح شرح ابن الوردي الموسوم ب: (تحرير الخصاصة في تيسير الخلاصة) الذي نحن بصدد دراسته وإخراجه للقراء والدارسين.
وقد تعرّفت على ابن الوردي ومؤلفاته من خلال دراستي لكتابه (شرح التحفة الوردية) فوجدته عالما فذّا، وأديبا متميزا، له أسلوبه الخاص في طرح القضايا النحوية والصرفية، ولم تحظ مؤلفاته في اللغة بالنشر، لغلبة شهرته الأدبية على غيرها. لذا عقدت العزم على متابعة دراسة ما أمكن لي من مؤلفاته، وإخراجها للقراء ومحبي العربية، فكان أن اطلعت في أثناء عملي في شرح التحفة على شرحه ألفية ابن مالك، وما يتميّز به هذا الشرح من الوسطية في تناول أبيات المنظومة، فتح به مغلقها، وفصّل مجملها، وقيّد مطلقها، فلا هو بالطويل الممل، ولا بالمختصر
المخل، مما يحتاجه طالب العلم، فيشفي غلته، ويشبع نهمته، إضافة لما يتميز به من سهولة العرض، ونصاعة الأسلوب، فهو الأديب العالم، البارع في جميع فنون عصره، إضافة إلى أن ابن الوردي من أوائل شرّاح الألفية.
كل ذلك شجعني على دراسة هذا الكتاب الجليل ونشره، وضمه إلى ما سبقه من شروح الألفية الثلاثة عشر التي نشرت حتى الآن؛ ليستفيد منه العالم، وينهل منه المتعلم.
--------------------------------------------
বিশটিরও বেশি টীকা (১) রয়েছে, আর সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে ইবনুল ওয়ার্দীর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অন্যতম, যার শিরোনাম হলো: (তাহরিরুল খাসাসাহ ফি তাইসিরিল খুলাসাহ), যা আমরা বর্তমানে অধ্যয়ন করছি এবং পাঠক ও গবেষকদের জন্য প্রকাশের কাজ করছি।
আমি ইবনুল ওয়ার্দী এবং তাঁর রচনাবলির সাথে পরিচিত হয়েছি তাঁর (শারহুত তুহফাতিল ওয়ারদিয়্যাহ) গ্রন্থটি অধ্যয়নের মাধ্যমে। আমি তাঁকে একজন অনন্য পণ্ডিত এবং অসামান্য সাহিত্যিক হিসেবে পেয়েছি, যাঁর ব্যাকরণগত ও রূপতত্ত্বীয় বিষয়গুলো উপস্থাপনের নিজস্ব বিশেষ শৈলী রয়েছে। তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রবল হওয়ার কারণে ভাষাবিষয়ক তাঁর রচনাবলি তেমন একটা প্রকাশিত হয়নি। তাই আমি তাঁর যতটা সম্ভব রচনাবলি অধ্যয়ন চালিয়ে যাওয়ার এবং সেগুলো পাঠক ও আরবি ভাষা অনুরাগীদের জন্য তুলে ধরার সংকল্প করেছি। 'শারহুত তুহফা' নিয়ে কাজ করার সময় আমি ইবন মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দেখতে পাই। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি কাব্যগ্রন্থটির পঙ্ক্তিগুলো বর্ণনায় মধ্যপন্থা অবলম্বনের জন্য অনন্য। এটি এর জটিল বিষয়গুলোকে উন্মোচন করেছে, সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং শর্তহীন বিষয়গুলোকে শর্তযুক্ত করেছে। এটি বিরক্তি জাগানো দীর্ঘও নয়, আবার অসম্পূর্ণ রাখা সংক্ষিপ্তও
নয়; যা একজন জ্ঞানপিপাসুর প্রয়োজন মেটায়, তার পিপাসা নিবারণ করে এবং জ্ঞানের ক্ষুধা তৃপ্ত করে। এর পাশাপাশি এটি সহজ উপস্থাপনা ও সাবলীল শৈলীর জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। কারণ তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক পণ্ডিত, যিনি তাঁর যুগের সকল বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। এর পাশাপাশি ইবনুল ওয়ার্দী আলফিয়্যাহর প্রাথমিক ব্যাখ্যাকারদের অন্যতম।
এই সবকিছুই আমাকে এই মহান গ্রন্থটি অধ্যয়ন ও প্রকাশ করতে এবং এখন পর্যন্ত প্রকাশিত আলফিয়্যাহর তেরোটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাথে এটিকেও যুক্ত করতে উৎসাহিত করেছে; যাতে আলেমগণ এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন এবং শিক্ষার্থীরা এখান থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
وإذا كان لاسم الكتاب دلالة على مضمونه، فإن ابن الوردي قصد إلى ذلك عند ما سمّى شرحه للخلاصة ب (تحرير الخصاصة في تيسير الخلاصة) فقد برز في عمله هذا المعنى، فهو لا يقف في شرحه عند تحليل ألفاظ الخلاصة وعباراتها كما فعل كثير من شرّاحها، بل تجاوزه إلى الاستدراك على عبارات الناظم، ووضع البديل، وإكمال ما يراه من نقص تدعو الحاجة إليه، بما يضيفه من شروط ومحترزات، وتتمات، إضافة إلى مناقشة بعض المسائل النحوية والرد على الناظم وابنه في شرحه لألفية والده.
وقد تمت دراسة هذا العمل الجليل من خلال ثلاثة أقسام:
القسم الأول: الدراسة وتشتمل على فصلين:
الفصل الأول: ابن الوردي: حياته وآثاره.
الفصل الثاني: دراسة الكتاب، وتشمل: منهجه في الشرح، مصادره، استدراكاته على آراء ابن مالك في الألفية وغيرها، وكذا على شرح ابن الناظم، ثم مذهبه النحوي، وتوثيق اسم الكتاب.
القسم الثاني: إلمامة مختصرة عن ابن مالك: حياته وآثاره.
القسم الثالث: تحقيق كتاب (تحرير الخصاصة في تيسير الخلاصة)
ويشمل: مقدمة التحقيق، وصف نسخ الكتاب، عملي في التحقيق.
وتفصيل ذلك ما يلي:
যদি কোনো গ্রন্থের নাম তার বিষয়বস্তুর পরিচায়ক হয়, তবে ইবনুল ওয়ারদী তাঁর 'খুলাসা'র ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম 'তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাহ' রাখার মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্যই পোষণ করেছেন; ফলে তাঁর এই কর্মে সেই অর্থটিই পরিস্ফুটিত হয়েছে। তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে কেবল 'খুলাসা'র শব্দ ও বাক্য বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি—যেমনটি এর অনেক ব্যাখ্যাকার করেছেন—বরং তিনি মূল রচয়িতার বাক্যগুলোর ওপর পর্যালোচনা করা, বিকল্প উপস্থাপন করা এবং প্রয়োজনীয় অসম্পূর্ণতাগুলো পূরণ করার ক্ষেত্রেও অগ্রসর হয়েছেন। এর সাথে তিনি বিভিন্ন শর্তাবলি, সতর্কতামূলক বিষয় এবং পরিশিষ্ট যোগ করেছেন। তদুপরি তিনি ব্যাকরণগত কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং মূল রচয়িতা ও তাঁর পুত্রের (যিনি পিতার আলফিয়ার ব্যাখ্যা করেছেন) মতামতের প্রত্যুত্তর প্রদান করেছেন।
এই মহান কর্মটি তিনটি অংশে বিভক্ত করে অধ্যয়ন করা হয়েছে:
প্রথম অংশ: গবেষণা ও অধ্যয়ন, যা দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনুল ওয়ারদী: তাঁর জীবন ও রচনাবলি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটি নিয়ে পর্যালোচনা; যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: তাঁর ব্যাখ্যা পদ্ধতি, উৎসসমূহ, 'আলফিয়া' ও অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে মালিকের মতামতের ওপর তাঁর পর্যালোচনা, এবং ইবনে নাজিমের ব্যাখ্যার ওপর তাঁর মন্তব্য। এরপর তাঁর ব্যাকরণগত মাযহাব এবং গ্রন্থের নামের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই।
দ্বিতীয় অংশ: ইবনে মালিক সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত: তাঁর জীবন ও রচনাবলি।
তৃতীয় অংশ: 'তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাহ' গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (তাহকীক)।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: সম্পাদনার ভূমিকা, গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ এবং সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি।
এর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الأول [الدراسة]
প্রথম অংশ [গবেষণা]
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول ابن الوردي: حياته وآثاره (1):
نسبه:هو زين الدين (2) أبو حفص، عمر بن مظفر بن عمر بن محمد ابن أبي الفوارس بن علي بن أحمد بن عمر بن سعيد بن القاسم ابن النضر بن محمد بن طلحة بن عبد الرحمن بن أبي بكر الصديق رضي الله عنه (3).
وكان رحمه الله يفتخر باتصال نسبه إلى أبي بكر الصديق رضي الله عنه، ويذكره في أشعاره يقول:
مع أني أحمد الله على
… نسبي إذ بأبي بكر أتّصل (4)
ويقول:
جدّي هو الصدّيق واسمي عمر
… وابني أبو بكر وبنتي عائشه (5)
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ ইবনুল ওয়ারদী: তাঁর জীবন ও কর্ম (১):
তাঁর বংশপরিচয়:তিনি হলেন জাইনুদ্দীন (২) আবু হাফস, উমর ইবনে মুজাফফর ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনু আবিল ফাওয়ারিস ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে উমর ইবনে সাঈদ ইবনুল কাসিম ইবনুন নাদর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে তালহা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু (৩)।
তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে নিজের বংশীয় সম্পর্কের জন্য গর্ব বোধ করতেন এবং তাঁর কবিতায় তা উল্লেখ করে বলতেন:
যদিও আমি আল্লাহর প্রশংসা করি ... আমার বংশ নিয়ে, যেহেতু আমি আবু বকরের সাথে সম্পর্কযুক্ত (৪)
তিনি আরও বলেন:
আমার পিতামহ হলেন সিদ্দিক আর আমার নাম উমর ... আমার পুত্র আবু বকর আর আমার কন্যা আয়েশা (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
أسرته:لم تسعف المصادر التي كتبت عن ابن الوردي، حتى ما كتب هو نفسه، بالتعرّف على أسرة ابن الوردي إلا باليسير، فوالده توفي في معرة النعمان في يوم الجمعة منتصف شهر رمضان سنة (723 هـ (1) وقد خلّف سبعة أولاد، عرف منهم أحمد ويوسف، وأنهما من أهل العلم والفضل، عملا في القضاء والتدريس (2)، وأن والدته ينتهي نسبها إلى أويس القرني، رضي الله عنه، وقد توفيت في الثالث من المحرم سنة (720 هـ) (3).
ولابن الوردي من الأبناء شرف الدين أبو بكر، تفقه على أبيه وعمه، ودرّس بالبهائية بدمشق، وناب في الحكم، وله نظم ونثر، ومات في حلب سنة (787 هـ) (4).
وقد رزق عددا من البنات لم يذكر من هنّ إلا واحدة اسمها عائشة (5)، ويظهر أن اسم الأخرى (ثريّا) وقد توفيت في حياته فرثاها (6).
--------------------------------------------
তাঁর পরিবার:ইবনুল ওয়ারদী সম্পর্কে লিখিত উৎসসমূহ, এমনকি তিনি নিজে যা লিখেছেন তাও, তাঁর পরিবার সম্পর্কে সামান্যই তথ্য প্রদান করে। তাঁর পিতা ৭২৩ হিজরি সনের রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এক শুক্রবারে মা'আররাত আল-নু’মানে ইন্তেকাল করেন (১)। তিনি সাতজন সন্তান রেখে যান, যাদের মধ্যে আহমদ ও ইউসুফ পরিচিত ছিলেন; তাঁরা উভয়েই জ্ঞান ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং বিচার বিভাগ ও শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন (২)। তাঁর মাতার বংশধারা উওয়াইস আল-কারনী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তিনি ৭২০ হিজরি সনের ৩রা মহররম ইন্তেকাল করেন (৩)।
ইবনুল ওয়ারদীর পুত্রদের মধ্যে ছিলেন শরফুদ্দিন আবু বকর; তিনি তাঁর পিতা ও চাচার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, দামেস্কের বাহাইয়া মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন এবং বিচারকার্যে প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর কাব্য ও গদ্য রচনা রয়েছে এবং তিনি ৭৮৭ হিজরি সনে আলেপ্পোতে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।
তিনি বেশ কয়েকজন কন্যাসন্তান লাভ করেছিলেন, যাদের মধ্যে কেবল আয়েশা (৫) নাম্নী একজনের নামই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতীয়মান হয় যে, অন্যজনের নাম ছিল ‘সুরাইয়া’, যিনি তাঁর জীবদ্দশাতেই মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি তাঁর স্মরণে শোকগাথা রচনা করেছিলেন (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مولده ووفاته:ولد في معرة النعمان بسوريا سنة (691 هـ) على الصحيح، فقد قال في كتابه (تتمة المختصر) عن أحداث سنة (691 هـ): «وفيها والملك الأشرف نازل على معرة النعمان متوجها إلى قلعة الروم، كان مولدي (1)» وقيل: غير ذلك (2).
وتوفي رحمه الله في حلب بمرض الطاعون في السابع والعشرين من ذي الحجة سنة تسع وأربعين وسبع مئة من الهجرة (27/ 12 / 749 هـ) كما ذكر أكثر المؤرخين (3). ورثاه الصفدي (4).
--------------------------------------------
জন্ম ও মৃত্যু:সঠিক মতানুসারে তিনি ৬৯১ হিজরি সালে সিরিয়ার মা’আররাত আন-নু’মানে জন্মগ্রহণ করেন। কেননা তিনি তাঁর ‘তাতিন্মাতুল মুখতাসার’ গ্রন্থে ৬৯১ হিজরির ঘটনাবলি সম্পর্কে বলেছেন: “এই বছরেই, যখন সুলতান আল-আশরাফ মা’আররাত আন-নু’মানে অবস্থান করে রোম দুর্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন আমার জন্ম হয়েছিল (১)।” এবং এর ভিন্ন মতও বর্ণিত হয়েছে (২)।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৪৯ হিজরি সালের ২৭শে জিলহজ সিরিয়ার হালাবে (আলেপ্পো) মৃত্যুবরণ করেন (২৭/১২/৭৪৯ হি.), যেমনটি অধিকাংশ ইতিহাসবিদ উল্লেখ করেছেন (৩)। আস-সাফাদি তাঁর স্মরণে শোকগাথা রচনা করেছেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
شيوخه:ولد ابن الوردي وقضى حياته، في إقليم الشام من الدولة الإسلامية المملوكية، وتنقّل بين مسقط رأسه معرة النعمان، وسرجة، والفوعة، ومنبج، وشيزر، وحماة، ودمشق، وغيرها من حواضر وقرى الشام، متعلما ومعلما وقاضيا، واستقر به المقام في حلب.
وقد انتقل لطلب العلم من المعرة مبكرا، فقد ذكر أنه أخذ عن شيخه عبس السرجاوي المتوفى بسرجة سنة (707 هـ) (1)، وكان موجودا بحلب سنة (711 هـ) حيث شارك في استقبال (قرة سنقر) مع شيخه ابن الوكيل (2)، كما أن شيخه هبة الله بن البارزي حدّثه سنة (713 هـ) عن اختلاف العلماء في صوم الدهر (3)، وذلك في حماة. ويظهر أنه لم يزر دمشق قبل سنة (715 هـ) حيث حضر فيها مجلس بيع ملك عند القاضي نجم الدين بن صرصرى (4).
وقد ذكر من مشايخه من طالت ملازمته له، أو اشتهرت محاورته له في قضايا الفقه والفرائض والنحو والأدب، ودوّن بنفسه في تتمة المختصر أشهرهم، ورثى عددا منهم، مثل:
1 - عبس بن عيسى بن علي بن علوان السرجاوي العليمي،
--------------------------------------------
তাঁর শিক্ষকগণ:ইবনুল ওয়ারদী মামলুক ইসলামি সালতানাতের শাসনামলে সিরিয়া (শাম) অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি তাঁর জন্মস্থান মা’আররাতুন নু’মান, সারজা, আল-ফু’আহ, মানবিজ, শায়জার, হামাত, দামেস্ক এবং শামের অন্যান্য শহর ও গ্রামে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিচারক হিসেবে পরিভ্রমণ করেন এবং পরিশেষে আলেপ্পোতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
তিনি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে খুব অল্প বয়সেই মা’আররা ত্যাগ করেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর শিক্ষক আবস আস-সারজাওয়ী (মৃত্যু ৭০৭ হিজরি, সারজায়) থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। ৭১১ হিজরিতে তিনি আলেপ্পোতে অবস্থান করছিলেন, যেখানে তিনি তাঁর শিক্ষক ইবনুল ওয়াকিলের সাথে (কারা সুনকুর)-কে অভ্যর্থনা জানানোর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর শিক্ষক হিবাতুল্লাহ ইবনুল বারীযী ৭১৩ হিজরিতে হামাতে তাঁর কাছে ‘সাওমুত দাহর’ বা সারাবছর রোজা রাখার ব্যাপারে আলেমদের মতভেদ সম্পর্কে বর্ণনা করেন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ৭১৫ হিজরির পূর্বে দামেস্ক সফর করেননি, সেখানে তিনি কাজী নাজমুদ্দীন ইবনে সরসরীর নিকট একটি সম্পত্তি বিক্রয়ের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি তাঁর ঐসকল শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করেছেন যাঁদের সান্নিধ্যে তিনি দীর্ঘকাল অবস্থান করেছেন অথবা যাঁদের সাথে ফিকহ, ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), নাহু (ব্যাকরণ) এবং সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রসিদ্ধ আলোচনা হয়েছে। তিনি স্বয়ং তাঁর ‘তাতিন্মাতুল মুখতাসার’ গ্রন্থে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধদের নাম লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁদের কয়েকজনের শোকগাথা রচনা করেছেন, যেমন:
১ - আবস বিন ঈসা বিন আলী বিন আলওয়ান আস-সারজাওয়ী আল-আলীমী,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المتوفى في الخامس والعشرين من جمادى الآخرة سنة سبع وسبع مئة من الهجرة (25/ 6 / 707 هـ) وقد رثاه ابن الوردي (1).
2 - صدر الدين أبو عبد الله محمد بن زين الدين عثمان المعروف بابن الوكيل، وبابن المرحل، فقد انتقل مع أبيه من مصر إلى دمشق، وأقام مدة بحلب، وتوفي في القاهرة سنة ستّ عشرة وسبع مئة من الهجرة (716 هـ) (2) وأثنى عليه ابن الوردي ثناءا عظيما.
3 - شهاب الدين أحمد بن محمد بن عبد الولي بن جبارة المرادي الحنبلي، الفقيه الأصولي المقرئ النحوي، تلقى عنه ابن الوردي في حلب. توفي بالقدس في جمادى الآخرة سنة ثمان وعشرين وسبع مئة (728 هـ) (3).
4 - برهان الدين إبراهيم بن الشيخ تاج الدين عبد الرحمن بن إبراهيم بن سباع الفزاري، تصدى للاشتغال والفتوى
في المذهب الشافعي، توفي بدمشق في جمادى الأولى سنة تسع وعشرين وسبع مئة من الهجرة (729 هـ) (4).
5 - مهنا بن إبراهيم بن مهنا الفوعي المتوفى في الخامس عشر
--------------------------------------------
হিজরি ৭০৭ সনের ২৫শে জুমাদাল আখিরাহ মৃত্যুবরণ করেন (২৫/৬/৭০৭ হিজরি) এবং ইবনুল ওয়ারদি তার শোকগাথা রচনা করেছেন (১)।
২ - সদরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জয়নুদ্দীন উসমান, যিনি ইবনুল ওয়াকিল এবং ইবনুল মুরাহহাল নামে পরিচিত। তিনি তার পিতার সাথে মিসর থেকে দামেস্কে স্থানান্তরিত হন এবং কিছুকাল আলেপ্পোতে অবস্থান করেন। তিনি হিজরি ৭১৬ সনে (৭১৬ হিজরি) কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন (২) এবং ইবনুল ওয়ারদি তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
৩ - শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়ালি বিন জাব্বারাহ আল-মুরাদি আল-হাম্বলি; তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, উসুলবিদ, ক্বারি এবং ব্যাকরণবিদ। ইবনুল ওয়ারদি আলেপ্পোতে তার নিকট শিক্ষালাভ করেন। তিনি হিজরি ৭২৮ সনের জুমাদাল আখিরাহ মাসে (৭২৮ হিজরি) কুদসে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।
৪ - বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম বিন শায়খ তাজউদ্দীন আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম বিন সিবা আল-ফাজারি। তিনি শাফেয়ি মাজহাবের জ্ঞানচর্চা ও ফতোয়া প্রদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি হিজরি ৭২৯ সনের জুমাদাল উলা মাসে (৭২৯ হিজরি) দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।
৫ - মুহান্না বিন ইব্রাহিম বিন মুহান্না আল-ফুয়ি, যিনি পনেরো তারিখে মৃত্যুবরণ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
من شوال سنة ست وثلاثين وسبع مئة من الهجرة (736 هـ) ورثاه ابن الوردي (1).
6 - قاضي قضاة حماة، شرف الدين أبو القاسم هبة الله بن عبد الرحيم بن إبراهيم البارزي الجهني الحموي الشافعي المتوفى في ذي القعدة سنة ثمان وثلاثين وسبع مئة من الهجرة (738 هـ) (2) وهو أكثر من أخذ عنه العلم، وقد أجاز ابن الوردي في الفقه، وفي الخلاصة لابن مالك، ورثاه ابن الوردي (3).
7 - قاضي قضاة حلب، فخر الدين أبو عمرو عثمان بن زين الدين علي بن عثمان المعروف بابن خطيب جبرين، اشتهر بالفقه والأصول والنحو والتصريف والقراءات. توفي في المحرم سنة تسع وثلاثين وسبع مئة من الهجرة بمصر (739 هـ) ورثاه ابن الوردي (4).
8 - يوسف بن مظفر بن عمر جمال الدين بن الوردي، شقيق ابن الوردي الأكبر، قاض وفقيه، ولد سنة (680 هـ) ومات في
--------------------------------------------
হিজরি সাতশ ছত্রিশ সালের (৭৩৬ হি.) শাওয়াল মাসে এবং ইবনুল ওয়ারদী তাঁর জন্য শোকগাথা রচনা করেছেন (১)।
৬ - হামার প্রধান বিচারপতি, শরফুদ্দীন আবুল কাসেম হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম বিন ইবরাহীম আল-বারযী আল-জুহানী আল-হামাবী আশ-শাফিঈ, যিনি হিজরি সাতশ আটত্রিশ সালের (৭৩৮ হি.) জিলকদ মাসে ইন্তেকাল করেন (২)। তিনি সেই ব্যক্তি যার কাছ থেকে তিনি (ইবনুল ওয়ারদী) সবচেয়ে বেশি ইলম হাসিল করেছেন। তিনি ইবনুল ওয়ারদীকে ফিকহশাস্ত্রে এবং ইবনে মালিকের 'আল-খুলাসা' গ্রন্থে অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন এবং ইবনুল ওয়ারদী তাঁর জন্য শোকগাথা রচনা করেছেন (৩)।
৭ - আলেপ্পোর প্রধান বিচারপতি, ফখরুদ্দীন আবু আমর উসমান বিন যাইনুদ্দীন আলী বিন উসমান, যিনি 'ইবনে খতীব জিবরীন' নামে পরিচিত। তিনি ফিকহ, উসুল, নাহু (ব্যাকরণ), তাসরীফ (রূপান্তর) এবং কিরাতশাস্ত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি হিজরি সাতশ উনচল্লিশ সালের (৭৩৯ হি.) মহরম মাসে মিশরে ইন্তেকাল করেন এবং ইবনুল ওয়ারদী তাঁর জন্য শোকগাথা রচনা করেছেন (৪)।
৮ - ইউসুফ বিন মুজাফফর বিন উমর জামালুদ্দীন ইবনুল ওয়ারদী, ইবনুল ওয়ারদীর বড় ভাই, একজন বিচারক ও ফকিহ। তিনি (৬৮০ হি.) সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইন্তেকাল করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
العشر الوسطى من ذي القعدة سنة تسع وأربعين وسبع مئة من الهجرة (749 هـ) قبل أخيه فرثاه (1).
9 - إبراهيم بن عيسى بن عبد السّلام، ولعله أول من تلقى عنه ابن الوردي بمعرة النعمان، ولم أقف على شيء من أخباره، إلا أنه قال في تتمة المختصر في حوادث (739 هـ): «وفيها في أوائل رجب توفي بمعرة النعمان ابن شيخنا العابد إبراهيم .. (2)».
10 - الشيخ تاج الدين جعفر السراج الحلبي (3).
واستفاد ابن الوردي من غير هؤلاء من علماء عصره في شتى العلوم والفنون فقد جالس الكثير وسمع منهم وحاورهم، ومنهم:
أ - شيخ الإسلام أبو العباس، تقي الدين ابن تيمية، أحمد ابن عبد الحليم الدمشقي الحنبلي (4)، المتوفى سنة (728 هـ) بدمشق (5).
--------------------------------------------
হিজরি সাতশত ঊনপঞ্চাশ (৭৪৯ হি.) সালের যিলকদ মাসের মধ্য দশকে তাঁর ভাইয়ের পূর্বে (ইন্তেকাল করেন), ফলে তিনি তাঁর শোকগাথা রচনা করেন (১)।
৯ - ইব্রাহিম ইবনে ঈসা ইবনে আব্দুস সালাম; সম্ভবত তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর নিকট ইবনুল ওয়ারদি মা’আরাত আন-নু’মানে ইলম অর্জন করেছিলেন। আমি তাঁর জীবনী সম্পর্কে কিছুই জানতে পারিনি, তবে তিনি 'তাতিন্মাতুল মুখতাসার'-এ ৭৩৯ হিজরির ঘটনাবলীতে বলেছেন: «এবং এই বছরেই রজব মাসের শুরুতে মা’আরাত আন-নু’মানে আমাদের শায়খ আবেদ ইব্রাহিমের পুত্র ইন্তেকাল করেন... (২)»।
১০ - শায়খ তাজউদ্দীন জাফর আস-সাররাজ আল-হালাবি (৩)।
ইবনুল ওয়ারদি তাঁর যুগের অন্যান্য আলেমদের কাছ থেকেও বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে উপকৃত হয়েছেন। তিনি অনেকের সাহচর্য লাভ করেছেন, তাঁদের নিকট থেকে শুনেছেন এবং তাঁদের সাথে আলোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
ক - শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস, তাক্বিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া, আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি (৪), যিনি ৭২৮ হিজরিতে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ب - نجم الدين اللخمي القبائي الحنبلي المتوفى بحماة سنة سبع مئة وأربعة وثلاثين (734 هـ) سأل ابن الوردي عن المسألة الأكدرية إذا كان بدل الأخت خنثى، فأعجب نجم الدين بجوابه، وذلك في بلدة الفوعة (1).
ج - العلامة فخر الدين محمد بن علي المصري الشافعي، المعروف بابن كاتب قطلوبك، المتوفى سنة سبع مئة وواحد وخمسين (751 هـ) (2) سمع منه وباحثه عند ما قدم حلب سنة (738 هـ) (3).
د - التاج اليماني، تاج الدين أبو المحاسن عبد الباقي بن عبد المجيد بن عبد الله اليمني المخزومي المكي، النحوي اللغوي الكاتب العروضي الشاعر، المتوفى سنة سبع مئة وثلاثة وأربعين (743 هـ) باحثه، وأنشده التاج من شعره، عند ما قدم حلب سنة (741 هـ) (4).
هـ - الشيخ شهاب الدين أحمد بن المرحّل الحرّاني النحوي المتوفى في مصر سنة سبع مئة وأربعة وأربعين 744 هـ،
ذكر ابن الوردي أنه لقيه في حلب، وتحاورا في مسائل نحوية (5).
--------------------------------------------
খ - নাজমুদ্দিন আল-লাখমি আল-কাবায়ি আল-হাম্বলি, যিনি ৭৩৪ হিজরি সনে হামায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইবনুল ওয়ার্দিকে 'আল-মাসআলা আল-আকদারিয়া' (উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একটি মাসআলা) সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন যে, বোনের পরিবর্তে যদি উভয়লিঙ্গ (খুনসা) ব্যক্তি থাকে তবে সমাধান কী হবে; নাজমুদ্দিন তার উত্তরে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং এটি ফুআহ নামক জনপদে সংঘটিত হয়েছিল (১)।
গ - আল্লামা ফখরুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি, যিনি ইবনে কাতিব কুতলুবাক নামে পরিচিত, মৃত্যু ৭৫১ হিজরি (২)। তিনি যখন ৭৩৮ হিজরি সনে আলেপ্পোতে আগমন করেন তখন তিনি (ইবনুল ওয়ার্দি) তার নিকট থেকে শ্রবণ করেন এবং তার সাথে শিক্ষা-গবেষণা করেন (৩)।
ঘ - আত-তাজ আল-ইয়ামানি, তাজউদ্দিন আবুল মাহাসিন আব্দুল বাকি ইবনে আব্দুল মজিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইয়ামানি আল-মাখজুমি আল-মাক্কি; যিনি ছিলেন একজন ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, লেখক, ছন্দবিশারদ ও কবি। তিনি ৭৪৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার সাথে আলোচনা-গবেষণা করেন এবং তাজ তাকে নিজের কবিতা শুনিয়েছিলেন যখন তিনি ৭৪১ হিজরি সনে আলেপ্পোতে আগমন করেন (৪)।
ঙ - শায়খ শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনুল মুরাহহাল আল-হাররানি আন-নাহবি, যিনি ৭৪৪ হিজরি সনে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।
ইবনুল ওয়ার্দি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আলেপ্পোতে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তারা ব্যাকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
و - القاضي محمد بن أبي بكر شمس الدين بن النقيب المتوفى في ذي القعدة سنة سبع مئة وخمس وأربعين (745 هـ) ذكر أنه جرت معه مذاكرة ومجالسة في حلب في مشكلات وقضايا فقهية (1).
ز - الشيخ صافي بن نبهان، سمع منه في (جبرين) في الحديث (2).
والمتتبع لديوانه ولتتمة المختصر يقف على غير هؤلاء من علماء الشام، وعلماء مصر الذين قدموا الشام.
إجازات ابن الوردي لتلاميذه وعلماء عصره:سمع من ابن الوردي كثير من علماء عصره، وتلقى عليه الكثير من طلاب العلم ومحبي الأدب، وأجاز عددا من هؤلاء وهؤلاء رواية مؤلفاته في مختلف الفنون والعلوم، ذكر عددا منهم في ديوانه، إلا أنه لا يذكر أحيانا اسم المجاز كاملا، وممن ذكرهم:
1 - القاضي أبو المحاسن نور الدين يوسف بن محمد بن منصور الأنصاري الفيومي الخزرجي الشافعي، أجازه ابن الوردي في رواية مؤلفاته، وكان ذلك سنة (743 هـ) وأثنى على علمه وشعره، وقال: إنه استجازه، وكان الحق الاستجازة منه (3).
--------------------------------------------
উ - বিচারক (কাযী) মুহাম্মদ বিন আবি বকর শামস উদ্দিন বিন আন-নাকিব, যিনি ৭৪৫ হিজরি সনের যিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আলেপ্পোতে (হালাব) তাঁর সাথে জটিল মাসআলা এবং ফিকহী বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল (১)।
য - শায়খ সাফি বিন নাবহান, তাঁর নিকট থেকে জিবরিনে হাদিস শ্রবণ করেছেন (২)।
কেউ যদি তাঁর ‘দিওয়ান’ এবং ‘তাতিন্মাতুল মুখতাসার’ অনুসন্ধান করেন, তবে তিনি শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের আরও অনেক আলেম এবং শামে আগমনকারী মিশরের আলেমদের কথা জানতে পারবেন।
শিষ্য ও সমসাময়িক আলেমদের প্রতি ইবনে আল-ওয়ার্দীর ইজাযাতসমূহ:ইবনে আল-ওয়ার্দীর নিকট থেকে তাঁর সমসাময়িক অনেক আলেম ইলম শ্রবণ করেছেন এবং অসংখ্য জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থী ও সাহিত্যপ্রেমী তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি তাদের অনেককে বিভিন্ন শিল্প ও বিজ্ঞানে তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো বর্ণনা করার অনুমতি (ইজাযাত) প্রদান করেছেন। তিনি তাঁর ‘দিওয়ান’-এ তাদের অনেকের কথা উল্লেখ করেছেন, যদিও কখনও কখনও তিনি ইজাযাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির পূর্ণ নাম উল্লেখ করেননি। যাদের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - বিচারক (কাযী) আবু আল-মাহাসিন নূর উদ্দিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর আল-আনসারি আল-ফায়ুমি আল-খাজরাজি আল-শাফিঈ; ইবনে আল-ওয়ার্দী তাঁকে তাঁর গ্রন্থসমূহ বর্ণনা করার ইজাযাত প্রদান করেন। এটি ৭৪৩ হিজরি সালের ঘটনা। তিনি তাঁর জ্ঞান ও কবিতার প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি (নূর উদ্দিন) তাঁর কাছে ইজাযাত চেয়েছিলেন, অথচ প্রকৃতপক্ষে তাঁর নিকট থেকেই ইজাযাত গ্রহণ করা সমীচীন ছিল (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال في الدرر: توفى سنة بضع وأربعين وسبع مئة من الهجرة (1).
2 - العلامة صلاح الدين خليل بن أيبك بن عبد الله، الصفدي المولد، الدمشقي الوفاة سنة 764 هـ، له زهاء مئتي مصنف، أجازه في رواية ما له من منقول ومقول، وفروع وأصول، ونظم ونثر، وأدب وعلم، وشرح وتأليف، وأثنى ابن الوردي على أدبه وعلمه (2).
3 - كمال الدين عمر بن محمد بن الضياء بن شهاب الدين محمد ابن العجمي الحلبي، المتوفى سنة 744 هـ، باحثه في شرح الشافية الكافية (3).
4 - القاضي شهاب الدين أحمد بن ريان، قرأ عليه (الخلاصة) لابن مالك وشرحها لابنه (4).
5 - الفقيه الفاضل محمد بن عمر بن علي اليمني، قرأ عليه منظومته (بهجة الحاوي) وكان وفد عليه من اليمن (5).
--------------------------------------------
এবং আদ-দুরার গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি হিজরি সাতশত চল্লিশের কিছু পরে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
২ - আল্লামা সালাহউদ্দিন খলিল ইবন আইবাক ইবন আব্দুল্লাহ, জন্মসূত্রে সাফাদি এবং মৃত্যুসূত্রে দামেস্কি, মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি। তাঁর প্রায় দুইশত রচনা রয়েছে। তিনি তাঁকে তাঁর বর্ণিত ও কথিত বিষয়াবলি, শাখা ও মূলনীতি, পদ্য ও গদ্য, সাহিত্য ও জ্ঞান এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও রচনার বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেন। ইবনুল ওয়ার্দি তাঁর সাহিত্য ও জ্ঞানের প্রশংসা করেছেন (২)।
৩ - কামালুদ্দিন উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-জিয়া ইবন শিহাবুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনুল আজমি আল-হালাবি, মৃত্যু ৭৪৪ হিজরি। তিনি তাঁর সাথে 'শারহুশ শাফিয়াহ আল-কাফিয়াহ' বিষয়ে আলোচনা-গবেষণা করেছেন (৩)।
৪ - কাযি শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবন রাইয়ান; তিনি তাঁর কাছে ইবন মালিকের 'আল-খুলাসাহ' এবং তাঁর পুত্রের করা এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ করেছেন (৪)।
৫ - বিজ্ঞ ফকিহ মুহাম্মদ ইবন উমর ইবন আলি আল-ইয়ামানি; তিনি তাঁর কাছে তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'বাহজাতুল হাভি' পাঠ করেছেন এবং তিনি ইয়েমেন থেকে তাঁর নিকট এসেছিলেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
6 - ضياء الدين سليمان الفارسي، قرأ عليه (البهجة) وأجازه في رواية ما له من منقول ومقول (1).
7 - الفقيه الجليل ابن شجرة، قرأ عليه كتابي: (الجمل) لعبد القاهر الجرجاني، و (الخلاصة) لابن مالك (2).
8 - كمال الدين إبراهيم بن بهاء الدين حسين بن جمال الدين بن سليمان بن ريان، المعروف بابن ناظر الجيش، عرض عليه (الوافية) في نظم الكافية لابن الحاجب (3).
9 - ابن العطار، عرض عليه كتاب التنبيه في الفقه الشافعي للشيرازي (4).
10 - محمد بن الحسن الحنفي، عرض عليه مواضع من كتاب:
(بداية المبتدي) لأبي الحسن المرغيناني الحنفي (5).
11 - تقي الدين أبو بكر، قرأ عليه مواضع من كتابه: (بهجة الحاوي) وأثنى عليه كثيرا (6).
ابن الوردي والعمل في القضاء:عمل ابن الوردي في القضاء مدة تزيد على اثنتي عشرة سنة ما
--------------------------------------------
৬ - জিয়াউদ্দীন সুলায়মান আল-ফারিসি; তিনি তাঁর নিকট (আল-বাহজাহ) পাঠ করেছেন এবং তাঁকে তাঁর বর্ণিত ও সংকলিত সকল বিষয় বর্ণনার অনুমতি (ইজাজাহ) দিয়েছেন (১)।
৭ - সম্মানিত ফকীহ ইবনে শাজরাহ; তিনি তাঁর নিকট দুটি কিতাব পাঠ করেছেন: আব্দুল কাহের আল-জুরজানির (আল-জুমাল) এবং ইবনে মালিকের (আল-খুলাসাহ) (২)।
৮ - কামালুদ্দীন ইবরাহিম বিন বাহাউদ্দীন হুসাইন বিন জামালুদ্দীন বিন সুলায়মান বিন রাইয়ান, যিনি ইবনে নাজির আল-জাইশ নামে পরিচিত; তিনি তাঁর নিকট ইবনুল হাজিব রচিত আল-কাফিয়ার কাব্যরূপ (আল-ওয়াফিয়াহ) পেশ করেছেন (৩)।
৯ - ইবনুল আত্তার; তিনি তাঁর নিকট আশ-শিরাজির শাফিঈ ফিকহের কিতাব (আত-তানবিহ) পেশ করেছেন (৪)।
১০ - মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-হানাফি; তিনি তাঁর নিকট নিম্নোক্ত কিতাবটির বিভিন্ন অংশ পেশ করেছেন:
আবুল হাসান আল-মারগিনানি আল-হানাফির (বিদায়াতুল মুবতাদি) (৫)।
১১ - তাকিউদ্দীন আবু বকর; তিনি তাঁর নিকট তাঁর কিতাব (বাহজাতুল হাভি) এর বিভিন্ন অংশ পাঠ করেছেন এবং তিনি তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন (৬)।
ইবনুল ওয়ারদি এবং বিচার বিভাগে তাঁর কর্মজীবন:ইবনুল ওয়ারদি বারো বছরেরও অধিক সময় বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
بين 724 هـ إلى 736 هـ في دمشق (1)، وحلب، والقرى التابعة لها كمنبج، وقرى أعمال حمص كشيزر، ولم يرق له العمل في البرّ، وكتب في ذلك أشعارا إلى قضاة حلب يعاتبهم على إقصائه وتقريب من هو أقل منه، ويطلب إقالته، رغبة منه في القرب من مراكز العلم ومجالس العلماء.
قال يخاطب كمال الدين محمد بن علي الزملكاني قاضي قضاة حلب (2):
أمنقذها (3) من بؤسها وعنائها
… فديتك أنقذني فقد نفد العمر
فإني أرى عيبا بأني مضيّع
… وكسي من الحكم الخصومات والوزر
مقيما بأرض الحرث جارا لمعشر
… وجوههم غبر وأثوابهم حمر
تقدمني من كان خلفي وساءني
… خمولي ولكن هكذا يفعل البرّ
بليت بحجر الحكم من زمن الصبا
… فهل بكمال الحجر يرتفع الحجر
على أنني راض بأن ألي القضا
… وأعزل عنه لا أثام ولا أجر
--------------------------------------------
৭২৪ হিজরি থেকে ৭৩৬ হিজরির মধ্যে দামেস্ক (১), আলেপ্পো এবং এর অন্তর্ভুক্ত গ্রামসমূহ যেমন মানবিজ, এবং হিমস অঞ্চলের গ্রামসমূহ যেমন শাইজারে (তিনি বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন)। পল্লী অঞ্চলে কাজ করা তাঁর কাছে প্রীতিকর ছিল না। এ বিষয়ে তিনি আলেপ্পোর বিচারকদের নিকট কবিতা লিখেছিলেন, যেখানে তিনি তাঁকে দূরে সরিয়ে রাখা এবং তাঁর চেয়ে কম যোগ্য ব্যক্তিদের নিকটবর্তী করার জন্য তাঁদের অনুযোগ করেন। তিনি জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র এবং আলেমদের মজলিসের নিকটে থাকার আকাঙ্ক্ষায় নিজের অব্যাহতি প্রার্থনা করেছিলেন।
আলেপ্পোর প্রধান বিচারপতি কামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আলী আজ-জামলকানিকে (২) সম্বোধন করে তিনি বলেছিলেন:
হে তার (৩) দুর্দশা ও কষ্ট থেকে উদ্ধারকারী
… আপনার জন্য আমার জীবন উৎসর্গ হোক, আমাকে উদ্ধার করুন, কেননা জীবন শেষ হয়ে আসছে।
নিশ্চয়ই আমি এতে ত্রুটি দেখছি যে আমাকে অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে
… আর বিচারকার্য থেকে আমার প্রাপ্তি কেবল বিবাদ আর পাপের বোঝা।
কৃষিজমিতে অবস্থান করছি এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতিবেশী হয়ে
… যাদের চেহারা ধূলিধূসরিত এবং পোশাক লাল বর্ণের।
যে আমার পেছনে ছিল সে আজ আমার অগ্রবর্তী হয়েছে, আর আমার এই বিস্মৃতি আমাকে ব্যথিত করেছে
… কিন্তু পল্লী অঞ্চল এমনই করে থাকে।
শৈশব থেকেই আমি বিচারের কঠিন বিধি-নিষেধে পরীক্ষিত
… তবে কি কামালের (পূর্ণতার) মাধ্যমে এই পাথর (বাধা) অপসারিত হবে?
যদিও আমি বিচারকার্য পরিচালনা এবং তা থেকে বরখাস্ত হওয়ার বিষয়ে সন্তুষ্ট
… যাতে কোনো পাপও নেই, কোনো প্রতিদানও নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لئن زاد مال المرء مع نقص علمه
… فذلك خسر لا يقابله خسر
أيا أوحد الإسلام إني معوّل
… عليك وما المملوك في قصده غرّ
أقلني من الأحكام في البرّ محسنا
… إليّ بفصلي عنه، يا من هو البحر
شغلت بحبّ العلم عن رفعة القضا
… أيلوي على الأصداف من قصده الدّرّ
تعجب قوم كيف أترك منصبي
… وأرفضه عمدا وما أنا مضطرّ
وقالوا: ترى من حلّ في رتبة القضا
… وفارقها حتى يواريه القبر
أرى العلم أعلى رتبة لي من القضا
… ولو لم يكن إلّا فوائدك الزّهر
وفيّ لتحصيل العلوم بقيّة
… فلا كبر عنها يصدّ ولا كبر
ولم يستجب الزملكاني لرغبة ابن الوردي في الإقالة من القضا في البر.
وعند ما تولى الشيخ فخر الدين أبو عمرو عثمان بن خطيب جبرين، قضاء قضاة حلب وما يتبعها في جمادى الآخرة سنة 736 هـ، طلب منه ابن الوردي الإعفاء من القضاء فاستجاب لطلبه، وبذلك تحققت رغبته في التفرغ للبحث والتدريس في حلب، وقد عبّر عن ذلك في إحدى قصائده، قال (1):
إني تركت عقودهم وفسوخهم
… وفروضهم والحكم بين اثنين
ولزمت بيتي قانعا ومطالعا
… كتب العلوم وذاك زين الزين (2)
--------------------------------------------
যদি কোনো ব্যক্তির সম্পদ বৃদ্ধি পায় আর তার ইলম বা জ্ঞান হ্রাস পায়
… তবে তা এমন এক ক্ষতি যার সমতুল্য কোনো ক্ষতি নেই।
হে ইসলামের অনন্য ব্যক্তিত্ব! আমি আপনার ওপরই
… ভরসা করছি; আর এই দাসের উদ্দেশ্য কোনো বিভ্রান্তি বা প্রতারণা নয়।
আমাকে গ্রামাঞ্চলের বিচারকার্য থেকে অব্যাহতি দিয়ে আমার ওপর অনুগ্রহ করুন
… আমাকে তা থেকে পৃথক করে, হে ঐ ব্যক্তি যিনি জ্ঞানের সমুদ্র স্বরূপ।
আমি ইলমের প্রতি মহব্বতে মগ্ন হয়ে বিচারালয়ের উচ্চপদ থেকে বিমুখ হয়েছি
… যার লক্ষ্য হলো মুক্তো আহরণ করা, সে কি ঝিনুকের মোহে পড়ে থাকে?
একদল লোক বিস্ময় প্রকাশ করে যে, কীভাবে আমি আমার পদমর্যাদা ছেড়ে দিচ্ছি
… এবং স্বেচ্ছায় তা বর্জন করছি অথচ আমি কোনোভাবেই বাধ্য নই।
তারা বলল: তুমি কি এমন কাউকে দেখেছ যে বিচারপতির পদে আসীন হয়েছে
… আর কবর তাকে ঢেকে ফেলার আগে তা স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করেছে?
আমি ইলম অর্জনকে বিচারকার্যের চেয়ে আমার জন্য উচ্চতর মর্যাদা মনে করি
… যদি তাতে আপনার প্রস্ফুটিত জ্ঞানগর্ভ শিক্ষা ছাড়া আর কিছুই না থাকত।
আমার মাঝে জ্ঞান হাসিল করার জন্য এখনো অবশিষ্ট স্পৃহা রয়েছে
… কোনো অহংকার তা থেকে বিমুখ করে না, আর না বার্ধক্য বাধা প্রদান করে।
আর আল-যামলকানী গ্রামাঞ্চলের বিচারকার্য থেকে অব্যাহতির ব্যাপারে ইবনে আল-ওয়ার্দীর আকাঙ্ক্ষায় সাড়া দেননি।
যখন শাইখ ফখরউদ্দীন আবু আমর উসমান বিন খতীব জিবরীন ৭৩৬ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাসে আলেপ্পো ও এর অধীনস্থ অঞ্চলসমূহের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ইবনে আল-ওয়ার্দী তাঁর কাছে বিচার বিভাগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন এবং তিনি তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর মাধ্যমে আলেপ্পোতে গবেষণা ও পাঠদানে নিমগ্ন হওয়ার তাঁর আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়। তিনি তাঁর একটি কবিতায় এ বিষয়ে ব্যক্ত করেছেন, তিনি বলেন (১):
নিশ্চয়ই আমি তাদের চুক্তি ও চুক্তিভঙ্গসমূহ
… তাদের বিধিনিষেধ এবং দুই পক্ষের মাঝে বিচার ফয়সালা করা ত্যাগ করেছি।
আমি নিজ গৃহে সন্তুষ্টচিত্তে অবস্থান করছি এবং ইলমি কিতাবসমূহ
… অধ্যয়ন করছি, আর এটিই হলো সৌন্দর্যের ভূষণ (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أهوى من الفقه الفروق دقيقة
… فيها يصح تفرّز النصين
وأحبّ في الإعراب ما هو غامض
… عن نصف نحوي وعابر عين
وأقول في علم البديع معانيا
… مقسومة بين البيان وبيني
وتركت نظم الشعر إلا نادرا
… كالبيت في سنة أو البيتين
ما الشعر كالعلم الشريف نباهة
… فالعلم فيه سعادة الدارين
منزلته العلمية والأدبية:لئن طغت شهرة ابن الوردي الأدبية على مكانته العلمية، بما اشتهر به من نظم ونثر أدبي متميز، فإن الدارس لحياته وتراثه العلمي، وعمله في القضاء، وتفرغه للتدريس، وقصد العلماء مجلسه، ودراستهم مؤلفاته، وطلبهم الإجازة منه، فضلا عن تلاميذه الذين يصعب حصرهم، ليعلم أن ابن الوردي كان عالما متميزا في كل الفنون التي ألّف فيها، من نحو وفقه وفرائض وتصوف وتاريخ وتفسير أحلام وجغرافيا، وأن ما ترك من منظوم ومنثور في هذه الفنون، يشهد بعمق فكره وتنوع ثقافته، فقد نظم الفقه الشافعي، وألف في النحو تسعة مؤلفات بين منظوم ومنثور، ففاق بذلك كثيرا ممن سبقه، ومن جاء من بعده. وأثنى عليه علماء عصره، ومن جاء بعدهم ممن اطلع على مصنفاته.
قال الصفدي رحمه الله: «أحد فضلاء العصر، وفقهائه، وأدبائه، وشعرائه، تفنن في علومه، وأجاد في منثوره ومنظومه، وعربيته تلافيها ما أنّس غريبها بتلافيها، وقربها إلى التعقل بعد تجانفها
আমি ফিকহের সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো পছন্দ করি
… যাতে দুটি মূল ভাষ্যের স্বাতন্ত্র্য সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।
আর আমি ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে তাকেই ভালোবাসি যা অস্পষ্ট
… আধা-নাহুবিদ এবং সাধারণ পথচারীর দৃষ্টির নিকট।
আমি ইলমে বদি'-তে এমন সব অর্থ বর্ণনা করি
… যা অলঙ্কারশাস্ত্র এবং আমার মাঝে বন্টিত।
আর আমি কবিতা রচনা করা বর্জন করেছি, খুব সামান্য ব্যতীত
… যেমন বছরে একটি বা দুটি পঙক্তি।
মর্যাদার দিক থেকে কবিতা মহান ইলমের সমতুল্য নয়
… কারণ ইলমের মধ্যেই রয়েছে ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য।
তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক মর্যাদা:যদিও ইবনুল ওয়ার্দির অনন্য পদ্য ও গদ্য সাহিত্যের খ্যাতির কারণে তাঁর ইলমি (জ্ঞানতাত্ত্বিক) মর্যাদা আড়ালে পড়ে গেছে, তথাপি তাঁর জীবন, ইলমি ঐতিহ্য, বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালন, পাঠদানে আত্মনিয়োগ, আলেমদের তাঁর মজলিসে আগমন, তাঁদের তাঁর গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন এবং তাঁর থেকে ইজাজত গ্রহণের বিষয়টি পর্যালোচনা করলে এবং তাঁর অগুনিত ছাত্রদের কথা বিবেচনা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইবনুল ওয়ার্দি যেসব বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন—যেমন নাহু (ব্যাকরণ), ফিকহ (আইনশাস্ত্র), ফারায়িজ (উত্তরাধিকার আইন), তাসাউফ, ইতিহাস, স্বপ্নের ব্যাখ্যা এবং ভূগোল—তার প্রতিটি শাখায় তিনি ছিলেন একজন অনন্য আলেম। এবং এই শাখাগুলোতে তাঁর রেখে যাওয়া পদ্য ও গদ্যসমূহ তাঁর চিন্তার গভীরতা এবং সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের সাক্ষ্য দেয়। তিনি শাফেয়ি ফিকহকে ছন্দবদ্ধ করেছেন এবং নাহু শাস্ত্রে পদ্য ও গদ্য মিলিয়ে নয়টি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অনেকের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর সমসাময়িক আলেমগণ এবং পরবর্তীকালের যারা তাঁর গ্রন্থাবলী পাঠ করেছেন, তারা সকলেই তাঁর উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
আস-সাফাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তিনি সমকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী, ফকিহ, সাহিত্যিক ও কবি। তিনি বিভিন্ন ইলমে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন এবং তাঁর গদ্য ও পদ্যে চমৎকার মুন্সিয়ানা ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর আরবী গদ্যশৈলী এমন সূক্ষ্ম যে তা অপরিচিত শব্দকেও সাবলীল করে তোলে এবং জটিল বিষয়গুলোকে অত্যন্ত বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবনের নিকটে নিয়ে আসে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وتجافيها (1)». وقال: «فقهه للطلبة روضة، ولأصحاب الفتاوى قد شرّع حوضه، نظم الحاوي وزاده مسائل، وجعله بعد وحشة الأذهان منه خمائل (2)».
وقال ابن حجر: «من نظم الفقه بعد ابن الوردي فقد أتعب نفسه (3)».
مصنفاته العلمية:1 - البهجة الوردية (4)، وتسمى (بهجة الحاوي) نظمها في فروع الفقه الشافعي في ثلاثة وستين وخمسة آلاف بيت (5063)، ظمنها (الحاوي الصغير) للشيخ نجم الدين عبد الغفار القزويني المتوفى سنة (665 هـ) وقال ابن حجر عنه: «أقسم بالله لم ينظم أحد بعده الفقه إلا قصر دونه (5)». وقد حظيت البهجة بعدة شروح (6).
2 - الوسائل المهذبة في المسائل الملقبة (7)، وتسمى (الملقبات
--------------------------------------------
এবং তাঁর থেকে বিমুখ হওয়া (১)। তিনি বলেছেন: "শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর ফিকহ হলো একটি উদ্যান, আর ফতোয়া প্রদানকারীদের জন্য তিনি এর জলাধার উন্মুক্ত করেছেন; তিনি 'আল-হাউয়ি' ছন্দবদ্ধ করেছেন এবং এতে মাসআলা বৃদ্ধি করেছেন, আর মেধার জন্য তা অনুধাবনের কঠিন ক্লান্তির পর তিনি একে ছায়াশীতল বাগানে পরিণত করেছেন (২)।"
এবং ইবনে হাজার বলেন: "ইবনে আল-ওয়ার্দীর পর যে ব্যক্তি ফিকহকে ছন্দবদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছে, সে নিজেকেই কেবল পরিশ্রান্ত করেছে (৩)।"
তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক রচনাবলি:১ - আল-বাহজাতুল ওয়ারদিয়্যাহ (৪), একে 'বাহজাতুল হাউয়ি'-ও বলা হয়। তিনি শাফেয়ী ফিকহের শাখা-প্রশাখার উপর এটি পাঁচ হাজার তেষট্টি (৫০৬৩) পঙ্ক্তিতে ছন্দবদ্ধ করেছেন। এতে তিনি শায়খ নাজমুদ্দিন আব্দুল গাফফার আল-কাজভিনি (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি) রচিত 'আল-হাউয়ি আস-সাগির' অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আল্লাহর কসম, তাঁর পরে আর কেউই ফিকহকে ছন্দবদ্ধ করেনি, বরং তাঁর তুলনায় সবাই অপূর্ণ রয়ে গিয়েছে (৫)।" 'আল-বাহজা' গ্রন্থটি বেশ কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ লাভ করেছে (৬)।
২ - আল-ওয়াসায়িলুল মুহাদ্দাবাহ ফিল মাসায়িলিল মুলাক্কাবাহ (৭), যা 'আল-মুলাক্কাবাত' নামেও পরিচিত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الوردية) منظومة في علم الفرائض على المذاهب الأربعة.
شرحها الشيخ عبد الله بن محمد العجمي الشّنشوري، المتوفى سنة (999 هـ) وسماه (الفوائد المرضية في شرح الملقبات الوردية (1).
3 - منطق الطير لإرادة الخير (2)، في التصوف، نظما ونثرا.
4 - الشهاب الثاقب والعذاب الواصب في التصوف (3).
5 - التحفة الوردية، منظومة في النحو في (153) بيتا (4)
6 - شرح التحفة الوردية (5).
7 - تحرير الخصاصة في تيسير الخلاصة (6)، وعبر عنه في إجازاته ب (شرح الخلاصة الألفية في علم العربية) (7). وهو
--------------------------------------------
আল-ওয়ারদিয়্যাহ) চার মাযহাব অনুযায়ী উত্তরাধিকার বিজ্ঞানের (ইলমে ফারায়েজ) ওপর একটি কাব্যগ্রন্থ।
এটি শেখ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আজামী আল-শানশূরী (মৃত্যু ৯৯৯ হিজরী) ব্যাখ্যা করেছেন এবং তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘আল-ফাওয়ায়িদ আল-মারদিয়্যাহ ফী শারহিল মুলাক্কাবাতিল ওয়ারদিয়্যাহ’ (১)।
৩ - মানতিকুত তায়র লি-ইরাদাতিল খায়র (২), তাসাউউফ বিষয়ক, কবিতা ও গদ্যে রচিত।
৪ - আল-শিহাব আল-সাকিব ওয়াল আযাব আল-ওয়াসিব, তাসাউউফ বিষয়ক (৩)।
৫ - আল-তুহফাতুল ওয়ারদিয়্যাহ, নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের ওপর (১৫৩) লাইনের একটি কাব্যগ্রন্থ (৪)।
৬ - শারহুত তুহফাতিল ওয়ারদিয়্যাহ (৫)।
৭ - তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তাইসীরিল খুলাসাসাহ (৬), এবং তিনি তাঁর ইজাজাতনামায় একে ‘শারহুল খুলাসাতিল আলফিয়্যাহ ফী ইলমিল আরাবিয়্যাহ’ (৭) নামে ব্যক্ত করেছেন। আর এটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
محط الدراسة والتحقيق.
8 - ضوء الدرة، في شرح ألفية ابن معطي (1).
9 - قصيدة اللباب في علم الإعراب (2).
10 - شرح قصيدة اللباب في علم الإعراب (3).
11 - تذكرة الغريب في النحو نظما (4).
12 - شرح تذكرة الغريب (5).
13 - أحاج في النحو على حروف المعجم (6).
14 - تتمة المختصر في أخبار البشر (7)، ويعرف بتاريخ ابن الوردي، لخص فيه تاريخ أبي الفداء، إسماعيل بن علي الأيوبي ملك حماة، المتوفى سنة (732 هـ) وذيّل عليه من حيث وقف أبو الفداء سنة (709 هـ) إلى وفاة ابن الوردي سنة (749 هـ) (8).
--------------------------------------------
গবেষণা ও তাহকিকের কেন্দ্রবিন্দু।
৮ - জাওউ আদ-দুররাহ, ইবনে মু'তির আলফিয়্যার ব্যাখ্যাগ্রন্থ (১)।
৯ - কাসিদাতুল লুবাব ফি ইলমিল ই'রাব (২)।
১০ - শারহু কাসিদাতিল লুবাব ফি ইলমিল ই'রাব (৩)।
১১ - তাজকিরাতুল গারিব ফিন নাহবি নাজমান (৪)।
১২ - শারহু তাজকিরাতিল গারিব (৫)।
১৩ - আহাজি ফিন নাহবি আলা হুরুফিল মু'জাম (৬)।
১৪ - তাতিন্মাতুল মুখতাসার ফি আখবারিল বাশার (৭), যা তারীখে ইবনুল ওয়ারদী নামে পরিচিত। এতে তিনি হামার অধিপতি আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে আলী আল-আইয়ুবীর (মৃত্যু ৭৩২ হি.) ইতিহাসের সংক্ষিপ্তসার করেছেন এবং আবুল ফিদা ৭০৯ হিজরীতে যেখানে সমাপ্ত করেছিলেন সেখান থেকে ইবনুল ওয়ারদীর মৃত্যু (৭৪৯ হি.) পর্যন্ত পরিশিষ্ট সংযোজন করেছেন (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
15 - المسائل المهذبة في المسائل الملقبة، منظوم في (71) بيتا من الرجز في الأنساب (1).
16 - أرجوزة في علم الأحجار والجواهر (2).
17 - ضوء درة الأحلام في تعبير المنام، ويسمى الألفية الوردية (3).
18 - خريدة العجائب وفريدة الغرائب (4)، في تقويم البلدان وغيره.
19 - أحوال القيامة، وهو مستخلص من (خريدة العجائب) (5).
آثاره الأدبية:سبق أن أشرنا إلى أن ابن الوردي اشتهر أديبا أكثر منه عالما، ولقد كان لقصيدته اللامية التي سارت بها الركبان،
منذ عصر ابن
--------------------------------------------
১৫ - আল-মাসায়িলুল মুহাযযাবাহ ফিল মাসায়িলিল মুলাক্কাবাহ, এটি বংশবিদ্যা বিষয়ে রাজায ছন্দে রচিত (৭১) পঙক্তির একটি কাব্য (১)।
১৬ - পাথর ও রত্ন বিজ্ঞান বিষয়ক একটি উরজুযাহ বা রাজায ছন্দে রচিত কাব্য (২)।
১৭ - যউউ দুররাতিল আহলাম ফি তাবীরিল মানাম, যা আল-আলফিয়্যাতুল ওয়ারদিয়্যাহ নামেও পরিচিত (৩)।
১৮ - খারীদাতুল আজায়িব ওয়া ফারীদাতুল গারায়িব (৪), এটি দেশসমূহের ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য বিষয়ে রচিত।
১৯ - আহওয়ালুল কিয়ামাহ, এটি 'খারীদাতুল আজায়িব' থেকে সংক্ষেপিত (৫)।
তার সাহিত্যিক কর্মসমূহ:আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি যে, ইবনুল ওয়ারদি একজন আলিমের চেয়ে সাহিত্যিক হিসেবেই অধিক খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তাঁর 'লামিয়্যাহ' কাসিদাটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এবং যা দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল,
ইবনু... এর যুগ থেকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الوردي إلى يومنا هذا، أثر في شهرته تلك، وتتبّع الناس لأدبه، المنظوم والمنثور، وقد صوّر أدبه الحالة الدينية والاجتماعية والسياسية في العصر المملوكي خير تصوير، وطرق أغراض الشعر بعيدا عن المدح المتزلف، والهجاء المذموم. كما أجاد في أغراض النثر من رسائل وإجازات وتهان وتعاز وخطب، ومحاورات وإجابات لعلماء عصره وأدبائه، بأسلوب رقيق، وسبك جيد.
ومن آثاره الأدبية:
1 - ديوان ابن الوردي:
وقد جمعت فيه معظم أدبياته، فشمل إلى جانب شعره خمس مقامات (1)، و (رسالة السيف والقلم) و (رسالة الزلزلة) الحادثة في بلاد الشام سنة (744 هـ) و (رسالة النبأ عن الوبأ) في الطاعون الذي أصاب الشام وتوفي فيه، و (رسالة الحرقة للخرقة) في القاضي الرباحي، و (الكلام على مئة غلام، مئة مقطوع) و (الدراري السارية في مئة جارية، مئة مقطوع) و (نصيحة الإخوان ومرشدة الخلّان)، وتعرف بلامية ابن
--------------------------------------------
ইবনুল ওয়ারদী থেকে আজ পর্যন্ত তার সেই খ্যাতি প্রভাব বিস্তার করেছে এবং মানুষ তার পদ্য ও গদ্য সাহিত্যের অনুসরণ করেছে। তার সাহিত্য মামলুক যুগের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থাকে সর্বোত্তমভাবে চিত্রিত করেছে এবং চাটুকারিতামূলক প্রশংসা ও নিন্দনীয় বিদ্রূপ থেকে দূরে থেকে কবিতার বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেছে। পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত মার্জিত শৈলী ও চমৎকার গাঁথুনিতে তার সমসাময়িক আলেম ও সাহিত্যিকদের কাছে প্রেরিত পত্রাবলি, ইজাজত (অনুমতিপত্র), অভিনন্দন বার্তা, শোকবার্তা, ভাষণ, সংলাপ ও উত্তরের মাধ্যমে গদ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন।
তার সাহিত্যিক রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
১ - দিওয়ান ইবনুল ওয়ারদী:
এতে তার অধিকাংশ সাহিত্যকর্ম সংকলিত হয়েছে। তার কবিতার পাশাপাশি এতে পাঁচটি মাকামাহ (১), 'রিসালাতুস সাইফ ওয়াল কালাম' (তরবারি ও কলমের পত্র), হিজরি ৭৪৪ সনে শাম দেশে সংঘটিত ভূমিকম্প বিষয়ক 'রিসালাতুয যালযালাহ' (ভূমিকম্পের পত্র), শামে ছড়িয়ে পড়া প্লেগ মহামারি—যাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন—সে বিষয়ক 'রিসালাতুন নাবা আনিল ওয়াবা' (মহামারির সংবাদ বিষয়ক পত্র), কাজি রাবাহি সম্পর্কে 'رিসালাতুল হুরকাহ লিল খিরকাহ', 'আল-কালামু আলা মিআতি গুলাম, মিআতু মাকতু' (একশত বালক বিষয়ক আলোচনা, একশত খণ্ড), 'আদ-দারারিস সারিয়াহ ফি মিআতি জারিয়াহ, মিআতু মাকতু' (একশত দাসী বিষয়ক প্রবহমান নক্ষত্ররাজি, একশত খণ্ড) এবং 'নাসিহাতুল ইখওয়ান ওয়া মুরশিদাতুল খিললান' (ভাইদের উপদেশ ও বন্ধুদের পথপ্রদর্শক) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইবনুল ওয়ারদীর 'লামিয়াহ' নামে পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الوردي، وقد عني الأدباء بشرحها (1) وترجمتها (2).
2 - أبكار الأفكار في مشكل الأخبار (3).
3 - تحفة الأحباب من ملحة الإعراب (4).
* * *
--------------------------------------------
আল-ওয়ারদী; সাহিত্যিকগণ এর ব্যাখ্যা (১) ও অনুবাদের (২) প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
২ - আবকারুল আফকার ফি মুশকিলিল আখবার (৩)।
৩ - তুহফাতুল আহবাব মিন মুলহাতিল ই'রাব (৪)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الفصل الثاني تحرير الخصاصة في تيسير الخلاصة دراسة تحليلية منهجه في الشرح:رسم ابن الوردي في مقدمته دوافع شرح الخلاصة (الألفية) ومنهجيته في هذا الشرح، فذهب إلى تحليل أبيات الألفية تحليلا ميسرا، فصّل فيه مجملها، وقيّد مطلقها، وفك مغلقها، مستخدما في ذلك غالب أمثلة ابن مالك في الألفية، ولم يكن مسترسلا في ذكر أقوال النحاة وخلافاتهم، وإن كان يذكر منها ما يعضده الدليل، بأسلوب مختصر غير مخل، وقال: إنه وضع هذا الشرح ليكتفي به من أراد دراسة النحو دون توسع وتخصص، وأنه مع شموله واختصاره جاء مقاربا لربع شرح ابن الناظم لألفية والده، مع أنه حلّ ما لم يحله في شرحه وذكر ما لم يذكره، وأورد شواهد لم يوردها، وزاد قيودا لم يزدها (1).
وأضاف في شرحه فوائد وتتمّات، لم يوردها الناظم في الألفية ولا ولده في شرحه، مما تقتضيه بعض المسائل النحوية، التي يحتاجها دارس علم النحو.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাহরিরুল খাসাসাহ ফী তায়সিরিল খুলাসাত-এর বিশ্লেষণমূলক আলোচনা: শরহ রচনার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি:ইবনুল ওয়ারদী তাঁর ভূমিকায় খুলাসাত (আলফিয়্যাহ)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার প্রেষণা এবং এই শরহ রচনায় তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তিনি আলফিয়্যার কবিতাগুলোকে সহজভাবে বিশ্লেষণ করার প্রয়াস পেয়েছেন, যেখানে তিনি এর সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিস্তারিত করেছেন, নিঃশর্ত বিষয়গুলোকে শর্তযুক্ত করেছেন এবং এর অস্পষ্ট ও জটিল অংশগুলো উন্মোচন করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি আলফিয়্যায় ইবনে মালিকের ব্যবহৃত অধিকাংশ উদাহরণই ব্যবহার করেছেন। তিনি ব্যাকরণবিদদের মতামত ও তাঁদের মতপার্থক্য বর্ণনায় দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন করেননি, তবে সংক্ষেপে ও মূল বিষয় ক্ষুণ্ণ না করে এমন সব বিষয় উল্লেখ করেছেন যা দলিল দ্বারা সমর্থিত। তিনি বলেছেন যে, তিনি এই শরহটি এমনভাবে প্রণয়ন করেছেন যাতে যারা গভীর পাণ্ডিত্য বা বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন ছাড়াও নাহু শাস্ত্র অধ্যয়ন করতে চান, তাদের জন্য এটি যথেষ্ট হয়। এটি ব্যাপকতা এবং সংক্ষিপ্ততার সাথে সাথে তাঁর পিতার আলফিয়্যার উপর ইবনু নাযিমের করা শরহের প্রায় এক চতুর্থাংশের সমান হয়েছে; অথচ তিনি ইবনু নাযিম তাঁর শরহে যা সমাধান করতে পারেননি তা সমাধান করেছেন, যা উল্লেখ করেননি তা উল্লেখ করেছেন, এমন সব কাব্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন যা তিনি আনেননি এবং এমন সব শর্ত যুক্ত করেছেন যা তিনি যুক্ত করেননি (১)।
তিনি তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমন সব জ্ঞানগর্ভ তথ্য ও পরিশিষ্ট যোগ করেছেন, যা মূল গ্রন্থকার (নাযিম) আলফিয়্যায় উল্লেখ করেননি এবং তাঁর পুত্রও তাঁর শরহে উল্লেখ করেননি; অথচ নাহু শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য কিছু ব্যাকরণিক মাসআলার প্রয়োজনে এগুলোর গুরুত্ব রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فابن الوردي إذا له طريقة خاصة في شرح الألفية تختلف عن ابن الناظم أول شرّاح الألفية، فابن الوردي لا يذكر أبيات الألفية قبل الشرح، ولا يحلل جملها كما عمل أكثر شراحها، وإنما يعرض مضمون البيت أو الأبيات التي تخص قضية من قضايا النحو، ويمثّل لذلك، ويكثر من الاستشهاد بالقرآن الكريم، والحديث الشريف، وبالشعر العربي، منها ثلاثة أبيات (1) لم أطلع على من أوردها في كتب النحو قبله، وهي:
1 - أقلّ فعالي بله أكثره مجد
… وذا الجدّ فيه نلت أم لم أنل جدّ
وهو للمتنبي، وقد مثل به على أنه إذا جرّ ما بعد (بله) فهو مصدر.
2 - أقبلت لا سعيا ذي اعتراض
… لست بغضبان ولا براضي
وهذا البيت لم أقف على قائله، وأورده في الاستشهاد على أن (من) تأتي بمعنى (إلى) وليس فيه شاهد على ذلك لعدم ورود من في البيت.
3 - أرى الصبر محمودا وعنه مذاهب
… فكيف إذا ما لم يكن عنه مذهب
وهذا البيت لابن ارومي، وقد مثل به ابن الوردي في شرح التحفة الوردية، وأورده البغدادي في شرحه شواهد شرح التحفة الوردية ولم يذكرا قائله.
--------------------------------------------
সুতরাং ইবনুল ওয়ার্দির আলফিয়ার ব্যাখ্যায় এক বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে যা আলফিয়ার প্রথম ব্যাখ্যাকার ইবনুন নাযিমের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। ইবনুল ওয়ার্দি ব্যাখ্যার পূর্বে আলফিয়ার পঙক্তিগুলো উল্লেখ করেন না এবং অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারদের মতো এর বাক্যগুলোও বিশ্লেষণ করেন না; বরং তিনি নাহুর (ব্যাকরণ) কোনো একটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট পঙক্তি বা পঙক্তিগুলোর মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন, তার উদাহরণ পেশ করেন এবং পবিত্র কুরআন, হাদিস শরিফ ও আরবি কবিতা থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেন। এর মধ্যে তিনটি পঙক্তি (১) এমন রয়েছে যা তাঁর আগে নাহুর গ্রন্থাবলিতে অন্য কাউকে উল্লেখ করতে আমি দেখিনি, সেগুলো হলো:
১ - আমার সামান্য কাজ -তার আধিক্যের কথা ছেড়েই দিন- এক বিরাট সম্মান... আর এই প্রচেষ্টায় আমি সাফল্য লাভ করি বা না করি, তা-ই মর্যাদাশীল।
এটি মুতানাব্বির কবিতা। তিনি এটি দ্বারা উদাহরণ দিয়েছেন যে, 'বলাহ্' শব্দের পরবর্তী অংশ যদি মাজরুর (জেরযুক্ত) হয়, তবে তা মাসদার হিসেবে গণ্য হবে।
২ - আমি অগ্রসর হয়েছি, কোনো বাধা দানকারীর প্রচেষ্টায় নয়... আমি ক্রুদ্ধও নই, আবার সন্তুষ্টও নই।
এই পঙক্তিটির রচয়িতা কে তা আমি জানতে পারিনি। তিনি এটি এই দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, 'মিন' অব্যয়টি 'ইলা' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়; অথচ এই পঙক্তিতে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, কারণ এতে 'মিন' শব্দটির কোনো উল্লেখই নেই।
৩ - আমি ধৈর্যকে প্রশংসনীয় মনে করি এবং তা থেকে উত্তরণের পথও আছে... কিন্তু কী অবস্থা হবে যদি তা থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায়ই না থাকে?
এই পঙক্তিটি ইবনে আরুমির। ইবনুল ওয়ার্দি তাঁর 'শরহুত তুহফাতিল ওয়ারদিয়্যাহ' গ্রন্থে এটি উদাহরণ হিসেবে এনেছেন এবং বাগদাদিও তাঁর 'শরহু শাওয়াহিদি শরহিত তুহফাতিল ওয়ারদিয়্যাহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁরা এর রচয়িতার নাম উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
كما أنه يورد أقوال العرب وأمثالهم للاحتجاج على مسألة من المسائل، ويعرض لبعض اختلاف النحاة ويختار ويردّ، ويعرض رأي ابن مالك ويختاره على غيره أحيانا، وينتقده أحيانا، ويستدرك على ابن مالك بعض ألفاظ الألفية، فيذكر حينئذ بيت الناظم أو جزأه، ويضع بيتا بديلا له، ويعلق على ما يراه تناقضا بين بعض كتب ابن مالك، مما سيأتي تفصيله.
كما ينتقد في مواضع شرح ابن الناظم للألفية، ويذكر النقص فيه، ويذكر ما لم يذكره في بعض المسائل النحوية الواردة في الألفية، مما سيرد ذكره، وذلك بأسلوب العالم الذي ينشد الحق، دون استنقاص غيره، أو تعال عليه. قال: «ولم أرد بذلك طعنا عليهما (يعني ابن مالك وولده) ولم أسئ ظنّا بأحدهما أو كليهما (1)». بل أثنى عليهما في مقدمته، قال: «وهما لفضيلة السبق من الحائزين، فالله يكتبنا جميعا من الفائزين (2)».
مصادره:صدر ابن الوردي في (تحرير الخصاصة وتيسير الخلاصة) عن كتب ابن مالك كثيرا، وفي مقدمتها الكافية الشافية وشرحها، وعمدة الحافظ وعدة اللافظ وشرحها، وكتاب التسهيل، وكذا صدر عن شرح ابن الناظم للألفية، ولا غرو في ذلك، فهو يشرح
--------------------------------------------
একইভাবে তিনি বিভিন্ন বিষয়ের সপক্ষে দলিল হিসেবে আরবদের বক্তব্য ও প্রবাদসমূহ উল্লেখ করেন। তিনি বৈয়াকরণদের কিছু মতভেদ তুলে ধরেন এবং তা থেকে কোনোটি গ্রহণ বা বর্জন করেন। তিনি ইবনে মালিকের মতামত তুলে ধরেন এবং কখনো কখনো অন্যের মতের তুলনায় সেটিকেই পছন্দ করেন, আবার কখনো তাঁর সমালোচনাও করেন। তিনি আলফিয়্যার কিছু শব্দের বিষয়ে ইবনে মালিকের ওপর আপত্তি উত্থাপন করেন; তখন তিনি মূল গ্রন্থকারের পঙ্ক্তি বা তার অংশবিশেষ উল্লেখ করেন এবং তার পরিবর্তে একটি বিকল্প পঙ্ক্তি প্রদান করেন। এছাড়া ইবনে মালিকের কিছু কিতাবের মধ্যে তিনি যা বৈপরীত্য হিসেবে দেখেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করেন, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
তেমনিভাবে তিনি বিভিন্ন স্থানে আলফিয়্যার ওপর ইবনে নাজিমের ব্যাখ্যারও সমালোচনা করেন, তাতে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো তুলে ধরেন এবং আলফিয়্যায় বর্ণিত কিছু নাহু সংক্রান্ত মাসআলায় তিনি যা উল্লেখ করেননি তা উল্লেখ করেন, যা সামনে বর্ণিত হবে। আর এসব তিনি করেছেন একজন সত্যসন্ধানী আলেমের পন্থায়, অন্যকে ছোট না করে বা অহমিকা প্রদর্শন না করে। তিনি বলেন: «এর মাধ্যমে আমি তাঁদের উভয়ের (অর্থাৎ ইবনে মালিক ও তাঁর পুত্র) প্রতি কোনো কটাক্ষ করতে চাইনি এবং তাঁদের কারো প্রতি বা উভয়ের প্রতি কুধারণাও পোষণ করিনি (১)।’ বরং তিনি তাঁর ভূমিকায় তাঁদের উভয়ের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন: ‘তাঁরা উভয়েই অগ্রগামী হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত; আল্লাহ আমাদের সকলকে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত করুন (২)।’
তাঁর উৎসসমূহ:ইবনুল ওয়ারদী তাঁর (তাহরীরুল খাসাসাহ ওয়া তাইসীরুল খুলাসাহ) গ্রন্থে ইবনে মালিকের কিতাবসমূহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন। সেগুলোর অগ্রভাগে রয়েছে আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, উমদাতুল হাফিজ ওয়া উদদাতুল লাফিজ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং কিতাবুত তাসনীল। একইভাবে তিনি ইবনে নাজিমের আলফিয়্যার ব্যাখ্যার ওপরও নির্ভর করেছেন। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তিনি ব্যাখ্যা করছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহু আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক আল-মুসাম্মা তাহরীরুল খাসাসাহ ফী তায়সীরিল খুলাসাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الألفية أحد مصنفات ابن مالك التي سبقه ابنه إلى شرحها، ويعمل على أن يكون مختصرا بحيث يقارب ربع شرح ابن الناظم.
وأخذ من غير كتبهما كثيرا، فأخذ من أقوال إمام النحاة (1)، وما ورد في كتابه من أقوال العرب (2)، والعلماء السابقين، كالخليل (3) ويونس (4).
كما أخذ من كتب وأقوال العلماء الآخرين، كالفراء، والمبرد، والأخفش، وأبي علي الفارسي، وغيرهم كثير، إضافة إلى احتفاله بالقراءات للاستشهاد بها على المسائل النحوية التي يرى الأخذ بها، وإن خالف بذلك كبار علماء النحو، مع أنه يقدم رأي البصريين على غيرهم في الغالب.
ابن الوردي وابن مالك:درس ابن الوردي ألفية ابن مالك على يد شيخه شرف الدين أبي القاسم هبة الله بن عبد الرحمن البارزي الجهني، الذي صنفت الخلاصة له وفي داره كما ذكر ابن الوردي (5)، وقد أجازه فيها، فكانت علاقته بها مبكرة، وقد اهتم بها ابن الوردي فمنحها
--------------------------------------------
আলফিয়্যাহ হলো ইবনে মালিকের অন্যতম রচনা, যা তাঁর পুত্র তাঁর পূর্বেই ব্যাখ্যা করেছেন এবং এটি এমনভাবে সংক্ষিপ্ত করার কাজ করা হয়েছে যাতে তা ইবনে নাযিমের ব্যাখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ হয়।
তিনি তাদের কিতাব ছাড়াও অন্য উৎস থেকে প্রচুর তথ্য গ্রহণ করেছেন। তিনি ব্যাকরণবিদদের ইমামের (ইমামুন নুহাত) উক্তি (১), তাঁর কিতাবে বর্ণিত আরবদের কথা (২) এবং পূর্ববর্তী আলেমদের—যেমন খলিল (৩) ও ইউনুসের (৪)—মত গ্রহণ করেছেন।
তিনি অন্যান্য আলেমদের কিতাব ও উক্তি থেকেও গ্রহণ করেছেন, যেমন আল-ফাররা, আল-মুবররাদ, আল-আখফাশ, আবু আলী আল-ফারিসি এবং আরও অনেকের থেকে। এর পাশাপাশি তিনি ব্যাকরণিক মাসআলাসমূহে কিরাআতসমূহের মাধ্যমে দলিল পেশ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন যা তিনি গ্রহণ করা সমীচীন মনে করেন, যদিও এক্ষেত্রে তিনি বড় বড় ব্যাকরণবিদদের মতের বিরোধিতা করেছেন। তবে তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অন্যদের মতের ওপর বসরীয়দের (বসরাবাসীদের) মতকে প্রাধান্য দেন।
ইবনুল ওয়ারদী ও ইবনে মালিক:ইবনুল ওয়ারদী ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ অধ্যয়ন করেছেন তাঁর শাইখ শরফুদ্দীন আবুল কাসেম হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-বারযি আল-জুহানির নিকট। ইবনুল ওয়ারদী যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এই ‘আল-খুলাসা’ (আলফিয়্যাহ) তাঁর জন্যই এবং তাঁর বাড়িতেই সংকলিত হয়েছিল (৫)। তিনি তাঁকে এর ওপর ইজাজাহ বা অনুমতি প্রদান করেছিলেন, ফলে এটির সাথে তাঁর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল অনেক আগে থেকেই। ইবনুল ওয়ারদী এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন এবং একে প্রদান করেছিলেন...
--------------------------------------------