(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: -)
مفتاح الوصول إلى علم الأصول في شرح خلاصة الأصول   (محمد الطيب الفاسي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: مفتاح الوصول إلى علم الأصول في شرح خلاصة الأصول

المؤلف: الشيخ محمد الطيب الفاسي

تقديم وتحقيق: الدكتور إدريس الفاسي الفهري

الناشر: دار البحوث للدراسات الإسلامية وإحياء التراث، دبي - الإمارات العربية المتحدة

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الصفحات: 372

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1442

মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল   (মুহাম্মদ তাইয়্যেব আল-ফাসি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


বই: মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল

লেখক: শেখ মুহাম্মদ তাইয়্যেব আল-ফাসি

উপস্থাপনা ও সম্পাদনা: ডক্টর ইদরিস আল-ফাসি আল-ফিহরি

প্রকাশক: দারুল বুহুস লিন-দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়া ইহ্য়ায়িত তুরাস, দুবাই - সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরা ১৪৪২

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الدراسات الأصولية (21)

 

مفتاح الوصول إلى علم الأصول

للشيخ محمد الطيب الفاسي

 

في شرح خلاصة الأصول

للشيخ عبد القادر الفاسي

 

تقديم وتحقيق

الدكتور إدريس الفاسي الفهري
উসুল শাস্ত্রীয় গবেষণা সিরিজ (২১)

 

ইলমে উসুলে উপনীত হওয়ার চাবিকাঠি

শায়খ মুহাম্মাদ আত-তাইয়্যিব আল-ফাসি-এর

 

‘খুলাসাতুল উসুল’-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে

শায়খ আব্দুল কাদির আল-ফাসি-এর

 

উপস্থাপনা ও সম্পাদনা

ডক্টর ইদ্রিস আল-ফাসি আল-ফিহরি
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌افتتاحية

 

نستفتح بالذي هو خير، حمدا لله، وصلاة وسلاما على عباده الذين اصطفى.

وبعد:

فيسر دار البحوث للدراسات الإسلامية وإحياء التراث بدبي أن تقدم للباحثين كتابها الحادي والعشرين في «سلسلة الدراسات الأصولية» تحت عنوان «مفتاح الوصول شرح خلاصة الأصول».

وهذا التقديم مقرون بالشكر والعرفان لأسرة «آل مكتوم» حفظها الله تعالى، التي ترعى العلم، وتشيد نهضته، وتحيي تراثه، وتؤازر قضايا العروبة والإسلام، وعلى رأسها صاحب السمو الشيخ مكتوم بن راشد آل مكتوم، نائب رئيس الدولة، رئيس مجلس الوزراء، حاكم دبي، الذي أنشأ هذه الدار لتكون منار خير، ومنبر حق على درب العلم والمعرفة، تجدد ما اندثر من تراث هذه الأمة، وتبرز محاسن الإسلام فيما سطره الأوائل، وفيما يمتد من ثماره، مما تجود به القرائح، في شتى مجالات البحوث الإسلامية، والدراسات الجادة، التي تعالج قضايا العصر، وتؤصل أسس المعرفة، على مفاهيم الإسلام السمحة: عقيدة، وشريعة، وآدابا، وأخلاقا، ومناهج حياة، مستلهمة الأدب القرآني، في الدعوة إلى الله على بصيرة {اُدْعُ إِلى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ. . .}.

وكذلك مؤازرة سمو الشيخ حمدان بن راشد آل مكتوم، نائب حاكم دبي، وزير المالية والصناعة، والفريق أول سمو الشيخ محمد بن راشد آل مكتوم، ولي عهد دبي، وزير الدفاع.
প্রারম্ভিকা

 

আমরা সর্বোত্তম সত্তার স্মরণে শুরু করছি—আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা, এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি দরূদ ও সালাম।

অতঃপর:

দুবাইস্থ ‘দারুল বুহুস লিন-দিরাসাতিল ইসলামিয়া ওয়া ইহয়ায়িত তুরাস’ (ইসলামি গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ কেন্দ্র) গবেষকদের নিকট তাদের ‘উসুল সংক্রান্ত গবেষণা সিরিজ’-এর একুশতম গ্রন্থ ‘মিফতাহুল উসুল শারহু খুলাসাতিল উসুল’ পেশ করতে পেরে আনন্দিত।

এই নিবেদন ‘আল মাকতুম’ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট, আল্লাহ তাআলা তাদের রক্ষা করুন। এই পরিবার ইলমের পৃষ্ঠপোষকতা করে, এর নবজাগরণ ঘটায়, এর ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং আরবীয় ও ইসলামি স্বার্থে সমর্থন প্রদান করে। যার শীর্ষে রয়েছেন মহামান্য শেখ মাকতুম বিন রশিদ আল মাকতুম—রাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী পরিষদের প্রধান এবং দুবাইয়ের শাসক। তিনি এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন যেন এটি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথে কল্যাণের মিনার এবং সত্যের মিম্বর হয়ে ওঠে। এটি এই উম্মাহর বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং পূর্বসূরিরা যা লিপিবদ্ধ করেছেন এবং এর থেকে পরবর্তী যে চিন্তার ফসল ফলেছে, তার মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। এটি ইসলামি গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং সেই সব ঐকান্তিক অধ্যয়নে কাজ করে যা যুগের সমস্যাবলি সমাধান করে এবং ইসলামের উদার আদর্শের ওপর ভিত্তি করে জ্ঞানের মূলভিত্তি স্থাপন করে: আকিদা, শরীয়াহ, আদব, আখলাক ও জীবনপদ্ধতি। এটি আল্লাহর দিকে দূরদর্শিতার সাথে আহ্বানের ক্ষেত্রে কুরআনি শিষ্টাচার থেকে অনুপ্রাণিত: {তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সেই পন্থায় যা সর্বোত্তম...}।

তদ্রূপ দুবাইয়ের উপ-শাসক এবং অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী মহামান্য শেখ হামদান বিন রশিদ আল মাকতুম এবং দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল মহামান্য শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সমর্থনও অনস্বীকার্য।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬)
ولا يفوت الدار أن تشكر من أسهم في خدمة هذا العمل العلمي من العاملين بالدار، وهو:

- مساعد باحث: الشيخ/سامح علي ناصر الناخبي، الذي قام بتصحيح هذا الكتاب، ومراجعة تجارب الطبع والتنفيذ.

سائلين الله العون والسداد، والهداية والتوفيق، ونرجو من الله سبحانه وتعالى أن يعين على السير في هذا الدرب، وأن يتواصل هذا العطاء من حسن إلى أحسن.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على خير خلقه سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

دار البحوث
এই বৈজ্ঞানিক কর্মের সেবায় প্রতিষ্ঠানের যে সকল কর্মী অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে প্রতিষ্ঠানটি বিস্মৃত হচ্ছে না; তিনি হলেন:

- গবেষণা সহকারী: শায়খ সামেহ আলী নাসের আল-নাখিবী, যিনি এই বইটি সংশোধন করেছেন এবং মুদ্রণ ও বাস্তবায়নের পরীক্ষাগুলো পর্যালোচনা করেছেন।

আমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য, সঠিকতা, হিদায়াত ও তাওফিক প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহর নিকট আমাদের প্রত্যাশা এই যে, তিনি যেন এই পথে চলার সামর্থ্য দান করেন এবং এই খেদমত যেন উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হতে থাকে।

আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির সেরা আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

দার আল-বুহুস (গবেষণা প্রতিষ্ঠান)
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৭)
التقديم

ويشمل:

- التعريف بالمصنف والشارح.

الشيخ: عبد القادر بن علي الفاسي الفهري.

الشيخ: محمد الطيب بن محمد الفاسي.

- التعريف بكتاب مفتاح الوصول.

- ورقة وصفية لعملية التحقيق.

- اصطلاحات التحقيق.
উপস্থাপনা

এবং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

- গ্রন্থকার ও ব্যাখ্যাকারকের পরিচিতি।

শায়খ: আব্দুল কাদির বিন আলী আল-ফাসি আল-ফিহরি।

শায়খ: মুহাম্মাদ আত-তাইয়্যিব বিন মুহাম্মাদ আল-ফাসি।

- মিফতাহুল উসুল গ্রন্থের পরিচিতি।

- সম্পাদনা প্রক্রিয়ার বর্ণনামূলক বিবরণ।

- সম্পাদনার পরিভাষাসমূহ।
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯)
تقديم:

 

1 -‌‌ التعريف بالمصنف والشارح

جمعت المصنف والشارح الذين نترجم لهما(1) فيما يلي خمسة وعشرون عاما؛ حضر الشارح خلالها منذ تفتق وعيه مجالس المصنف ودروسه. ويتعدى الرابط بينهما حد المعاصرة، والمجاورة، والمشيخة، فالشيخ محمد الطيب بالنسبة للشيخ عبد القادر هو: «. . . حفيده المباشر، وقريبه المعاشر»(2).

وقد انتسب سيدي محمد الطيب إلى جده وتولد منه روحيا وسلوكيا فضلا عن الولادة الأولى. حيث جمعهما رابط الزاوية التي تعرف إلى اليوم باسم المصنف سيدي عبد القادر الفاسي، والتي تصدرها الشارح في فترة لا حقة لموت جده: يعلم العلوم، ويفتي في المعضلات، ويرشد الأصحاب، كما كان جده ثم عمه ثم أبوه.

فهذه بيئات ثلاث ربطت بين المصنف والشارح: العصر، والزاوية، والأسرة؛ وما يقال في التمهيد لترجمة كل واحد منهما في موضوعها؛ يقال في التمهيد لترجمة الآخر. ولذلك فإنني سأجعل الكلام عنها بالنسبة إليهما معا كلاما واحدا مجتمعا.

--------------------------------------------

(1) ما يأتي في ترجمتيهما هو تلخيص لما كتبته في تقديم فهرستيهما. وأرجو أن يتم العمل فيه قريبا بحول الله. وهو ما يبرر وجود بعض المعلومات من غير ذكر لمصادرها.

(2) نشر المثاني: 2/ 290.

উপস্থাপনা:

 

১ -‌‌ মূল লেখক ও ব্যাখ্যাকারকের পরিচিতি

গ্রন্থকার এবং ব্যাখ্যাকারক—যাঁদের জীবনী আমরা নিম্নে তুলে ধরছি—তাঁদেরকে পঁচিশটি বছর একত্রিত করে রেখেছিল; এই সময়ে, নিজের চেতনার উন্মেষের পর থেকেই ব্যাখ্যাকারক গ্রন্থকারের মজলিস ও পাঠদানগুলোতে উপস্থিত হতেন। তাঁদের মধ্যকার বন্ধন সমসাময়িকতা, প্রতিবেশী হওয়া এবং উস্তাদ-শিষ্য সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল; কেননা শায়খ আব্দুল কাদিরের কাছে শায়খ মুহাম্মদ আল-তাইয়িব ছিলেন: «. . . তাঁর সরাসরি পৌত্র এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়»(২)।

সিদি মুহাম্মদ আল-তাইয়িব তাঁর দাদার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন এবং প্রথম জন্মের অতিরিক্ত হিসেবে আধ্যাত্মিক ও আচরণগতভাবে তাঁর মাধ্যমেই বিকাশ লাভ করেছিলেন। তাঁরা উভয়ে সেই 'জাউইয়া'র (খানকাহ) বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন যা আজও গ্রন্থকার সিদি আব্দুল কাদির আল-ফাসির নামে পরিচিত। তাঁর দাদার মৃত্যুর পরবর্তী এক সময়ে ব্যাখ্যাকারক সেখানে প্রধান হিসেবে আসীন হন: তিনি জ্ঞান শিক্ষা দিতেন, জটিল বিষয়গুলোতে ফতোয়া প্রদান করতেন এবং সাথীদের পথনির্দেশনা দিতেন; ঠিক যেমনটি তাঁর দাদা, এরপর তাঁর চাচা এবং এরপর তাঁর পিতা করেছিলেন।

সুতরাং এই তিনটি পরিবেশ গ্রন্থকার ও ব্যাখ্যাকারকের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে: সময় বা যুগ, জাউইয়া এবং পরিবার। তাঁদের প্রত্যেকের জীবনীর ভূমিকায় যা কিছু বলা হয়, তা অন্যজনের জীবনীর ভূমিকা হিসেবেও প্রযোজ্য। তাই আমি তাঁদের উভয়ের আলোচনার ক্ষেত্রে একই সম্মিলিত বক্তব্য প্রদান করব।

--------------------------------------------

(১) তাঁদের জীবনীতে যা আসছে তা মূলত তাঁদের নির্ঘণ্টের (ফিহরিস্ট) ভূমিকায় আমি যা লিখেছি তারই সারসংক্ষেপ। আল্লাহর শক্তিতে আশা করি শীঘ্রই সেই কাজটির কাজ সম্পন্ন হবে। আর এটিই কোনো কোনো তথ্যের উৎস উল্লেখ না করার কারণ স্পষ্ট করে।

(২) নাশরুল মাসানি: ২/ ২৯০।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌البيئات الثلاث للمصنف والشارح

‌‌الأولى: عصر المصنف والشارح:

ما بين ولادة المصنف في 2 رمضان 1007 هـ الموافق 29 مارس 1599 م إلى وفاة الشارح في 19 ربيع الثاني 1113 هـ الموافق 23 سبتمبر 1701 م زهاء قرن من الزمان. هو جملة القرن السابع عشر الميلادي والحادي عشر الهجري مع طرف من بداية الثاني عشر.

وقد شهد مطلع هذا القرن بقية من عهد الاستقرار والرخاء الذي عرفه المغرب أيام المنصور الذهبي. ثم استغرقت معظمه أي زهاء ثمانية عقود منه، فتن متلاحقة، ومخاض طويل. ولكننا لا نكاد نصل إلى العقود الأخيرة من هذا القرن حتى نشهد انتهاء ذلك العهد العصيب، وتوحيد مجموع التراب المغربي تحت راية الدولة العلوية.

ومن أوفى النصوص التاريخية التي تختصر أحداث هذا القرن ما جاء في رسالة السلطان المولى إسماعيل بن الشريف إلى علماء المشرق. حيث قال:

«وحين جاء الله بنا لهذا المغرب(1)، وولانا أمره، وأقامنا فيه بمحض فضله واختياره؛ جئناه على حين فترة من الملوك، ووجدناه فارغا من الجيش

--------------------------------------------

(1) هذه إشارة إلى قدوم جد المولى إسماعيل مولاي الحسن بن قاسم من بنبوع النخل بالحجاز إلى سجلماسة أوائل المائة السابعة بدعوة من أهلها وقد قسم الشيخ عبد القادر الفاسي شرفاء المغرب بحسب القوة والضعف إلى خمسة أقسام، الأول المتفق على صحته، ومثّله بجملة من الأسر في طليعتهم السادة السجلماسيون.

গ্রন্থকার এবং ব্যাখ্যাকারকের তিনটি পরিবেশ

‌‌প্রথমত: গ্রন্থকার এবং ব্যাখ্যাকারকের যুগ:

২ রমজান ১০০৭ হিজরি মোতাবেক ২৯ মার্চ ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থকারের জন্ম থেকে শুরু করে ১৯ রবিউস সানি ১১১৩ হিজরি মোতাবেক ২৩ সেপ্টেম্বর ১৭০১ খ্রিস্টাব্দে ব্যাখ্যাকারকের মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় এক শতাব্দীর সময়কাল। এটি মূলত খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দী এবং হিজরি একাদশ শতাব্দীসহ দ্বাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকের কিছু অংশ।

এই শতাব্দীর সূচনালগ্নে মরক্কো আল-মানসুর আল-দাহাবির শাসনামলের সেই স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির অবশিষ্টাংশ প্রত্যক্ষ করেছিল। এরপর এর অধিকাংশ সময় জুড়ে, অর্থাৎ প্রায় আট দশক ধরে, একের পর এক ফিতনা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকে। তবে এই শতাব্দীর শেষ দশকগুলোতে পৌঁছাতে না পৌঁছাতে আমরা সেই কঠিন সময়ের সমাপ্তি এবং আলওয়ী সালতানাতের পতাকাতলে সমগ্র মরক্কোর ভূখণ্ডের একত্রীকরণ দেখতে পাই।

এই শতাব্দীর ঘটনাবলি সংক্ষেপে তুলে ধরে এমন একটি অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক পাঠ হলো প্রাচ্যের আলেমদের প্রতি সুলতান মাওলা ইসমাইল বিন শরীফের প্রেরিত পত্র। সেখানে তিনি বলেছেন:

«আর যখন আল্লাহ আমাদের এই মরক্কোতে নিয়ে আসলেন(১), এর দায়িত্বভার আমাদের ওপর ন্যস্ত করলেন এবং স্রেফ তাঁর অনুগ্রহ ও ইচ্ছায় আমাদের এখানে প্রতিষ্ঠিত করলেন; তখন আমরা এমন এক সময়ে এসেছি যখন রাজাদের শাসনকাল বিচ্ছিন্ন ছিল এবং আমরা একে সেনাবাহিনীশূন্য অবস্থায় পেয়েছি...»

--------------------------------------------

(১) এটি মাওলা ইসমাইলের দাদা মাওলাই হাসান বিন কাসিমের হিজাজের ইয়ানবু আন-নাখল থেকে সপ্তম শতাব্দীর শুরুর দিকে সেখানকার অধিবাসীদের আমন্ত্রণে সিজিলমাসায় আগমনের দিকে ইঙ্গিত। শেখ আব্দুল কাদির আল-ফাসি মরক্কোর শরীফদের (বংশীয় মর্যাদা) শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার ভিত্তিতে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রথম ভাগটি হলো যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সকলে একমত, এবং তিনি এর উদাহরণ হিসেবে বেশ কিছু পরিবারের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন সিজিলমাসি সায়্যিদগণ।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১)
والعيش؛ وخفيف العمارة، بعيد العهد بالخلافة والإمارة. فبسبب تلك الفترة التي اعترته، ودامت فيه نحو الثمانين سنة، حتى تنوسي فيها أمور المملكة وسياستها، واضمحلت فيها الأوضاع الملكية وتوالت فتن وأوجاع وهرج كثير لا أعاد الله ذلك على المسلمين. فصرنا نحن - حيث أقامنا الله، ونصبنا لهذا المنصب المبارك، المحفوف بالخير المتدارك - نبتدئ السيرة والطريقة من أولها، ونعقدها من أصلها»(1).

فقد توالدت الحروب بين أبناء أحمد المنصور الذهبي وأبنائهم حتى صار ملكهم الذي كان يمتد من البحر الأبيض المتوسط إلى أقاصي الصحراء الإفريقية الكبرى مجرد إمارة صغيرة في حدود أسوار مدينة مراكش.

وافتقد الناس الأمن على أنفسهم وأموالهم في الحواضر والبوادي.

وسقطت كثير من الثغور في أيدي الإمبريالية الأوربية. وتردت الأحوال الاقتصادية والاجتماعية إلى درك سحيق.

وقد تأثرت الحواضر والبوادي بحالة التمزق في السلطة، والحروب المستمرة بين طلابها من وجوه :

أحدها : فقد الأمن الذي كان في حد ذاته من أهم أسباب المعاناة التي عاشها الناس، فقد انتشرت أعمال السلب والنهب والقتل من غير رادع.

--------------------------------------------

(1) كتاب «الفقيه أبو علي اليوسي : نموذج من الفكر المغربي في فجر الدولة العلوية» للدكتور الوزير عبد الكبير العلوي المدغري : ص 42، عن مخطوط الرسالة بالخزانة الملكية برقم 3984.

এবং জীবনযাপন; জনবসতিহীন, খিলাফত ও শাসনের সাথে দীর্ঘকাল সম্পর্কহীন। সেই সময়ের কারণে যা তাকে গ্রাস করেছিল এবং প্রায় আশি বছর ধরে স্থায়ী হয়েছিল, এমনকি সেখানে রাজ্যের বিষয়াবলী ও রাজনীতি বিস্মৃত হয়েছিল, রাজকীয় অবস্থা বিলীন হয়েছিল এবং একের পর এক ফিতনা, দুঃখ-কষ্ট ও ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল—আল্লাহ মুসলিমদের ওপর তা আর ফিরিয়ে না আনুন। তাই আমরা—যেহেতু আল্লাহ আমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং এই বরকতময় পদে আসীন করেছেন, যা ক্রমাগত কল্যাণে পরিবেষ্টিত—জীবনচরিত্র ও কর্মপদ্ধতি শুরু থেকেই আরম্ভ করছি এবং এর মূল ভিত্তি থেকেই একে সুসংহত করছি»(১).

আহমদ আল-মানসুর আদ-দাহাবির পুত্র ও তাদের বংশধরদের মধ্যে একের পর এক যুদ্ধ বিগ্রহ চলতেই থাকে, ফলে তাদের রাজত্ব—যা একসময় ভূমধ্যসাগর থেকে সাহারা মরুভূমির শেষপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল—তা কেবল মারাকেশ শহরের প্রাচীরের সীমানার মধ্যে একটি ক্ষুদ্র আমিরাতে পরিণত হয়।

শহর ও গ্রামগুলোতে মানুষ তাদের জান ও মালের নিরাপত্তা হারিয়ে ফেলে।

অনেক সীমান্ত বন্দর ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের হাতে চলে যায়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা চরম অবনতির অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়।

ক্ষমতার বিভাজন এবং ক্ষমতা প্রত্যাশীদের মধ্যে নিরন্তর যুদ্ধের কারণে শহর ও গ্রামগুলো বিভিন্ন দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় :

প্রথমত : নিরাপত্তার অভাব, যা নিজেই মানুষের কষ্টের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল; কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই লুটতরাজ, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছিল।

--------------------------------------------

(১) ড. উজির আব্দুল কাবির আল-আলাউই আল-মাদঘারি রচিত «আল-ফকিহ আবু আলি আল-ইউসি : আলাউই রাষ্ট্রের সূচনালগ্নে মরক্কোর চিন্তাধারার একটি নমুনা» গ্রন্থ : পৃষ্ঠা ৪২, রাজকীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ৩৯৮৪ নম্বর পাণ্ডুলিপির রিসালাহ থেকে উদ্ধৃত।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১২)
ثانيها : ما يتولد عن فقد الأمن من انقطاع الطرق مما عاق الحركة التجارية وأنواع الصناعات التي تمدها. ومن أهم ذلك التجارة عبر الصحراء التي كانت إلى عهد قريب الشريان الأكبر للازدهار الاقتصادي في عهد المنصور. وقد تحولت هذه التجارة ذاتها عبر الطريق البحري لصالح الأوربيين، وساعدهم على انتظامها وتدفق خيراتها تمركزهم بالشواطئ المغربية، مما أمد سفنهم بمرافئ ومحطات للتزود باحتياجاتهم وتأمين رحلاتهم.

ثالثها : تعطل الفلاحة بسبب تجنيد الرجال في الحروب الدائرة، وإهمال المزارع. وهو من الأسباب التي أدت إلى مجاعات متكررة.

وقد نبتت في هذا المناخ نوابت لم يعد ما يمنع من ظهورها : كترؤس ابن مشعل اليهودي بتازة؛ وظهور طائفة العكاكزة(1) المارقة عن الدين؛ وادعاء ابن محلي المهدوية. . . .

وتحركت في المقابل جهود المصلحين ممن تأهل للرئاسة وتوفرت فيه شروطها : فنهض بجبال الأطلس محمد الحاج الدلائي؛ وبالجنوب سيدي محمد ابن الشريف؛ وبالغرب المجاهد أبو عبد الله العياشي؛ كل على حدته.

وإلى جوار هذه الزعامات الثلاث الكبرى كانت هنالك إمارات صغيرة متفرقة كبقايا دولة السعديين بمراكش، وإمارة أبي حسون السملالي

--------------------------------------------

(1) كتب بشأنهم الفقيه العلامة أبو الحسن اليوسي رسالة إلى المولى إسماعيل يستدل فيها على كفرهم، ومما جاء فيها : «. . . ومن ذلك ما ارتكبوه من رفض المأمورات من الصلاة والصيام والضحية ونحوها، واقتحام المنهيات كالزنا وأكل الميتة وقتل المسلمين ونهب أموالهم ونحو ذلك» (رسائل أبي علي الحسن اليوسي : 1/ 280).

দ্বিতীয়ত: নিরাপত্তা না থাকার ফলে রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে যা উদ্ভূত হয়েছিল, যা বাণিজ্যিক গতিশীলতা এবং একে পুষ্টকারী বিভিন্ন শিল্পসমূহকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল সাহারা মরুভূমির মধ্য দিয়ে পরিচালিত বাণিজ্য, যা মানসুরের আমল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। এই বাণিজ্যই সমুদ্রপথের মাধ্যমে ইউরোপীয়দের অনুকূলে চলে যায়। মরক্কোর উপকূলে তাদের অবস্থান সুসংহত হওয়া এই বাণিজ্যকে সুশৃঙ্খল করতে এবং এর সুফল লাভে সহায়তা করেছিল, যা তাদের জাহাজগুলোকে প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহের বন্দর ও স্টেশন প্রদান এবং তাদের সমুদ্রযাত্রাকে নিরাপদ করেছিল।

তৃতীয়ত: চলমান যুদ্ধবিগ্রহে পুরুষদের সৈন্য হিসেবে নিয়োগ এবং খামারগুলোর প্রতি অবহেলার কারণে কৃষিকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। এটিই ছিল বারবার সংঘটিত দুর্ভিক্ষের অন্যতম কারণ।

এই অস্থির পরিবেশে এমন কিছু অশুভ শক্তির উত্থান ঘটেছিল যাদের প্রকাশে বাধা দেওয়ার মতো কেউ ছিল না: যেমন তাজায় ইহুদি ইবনে মাশআলের নেতৃত্ব লাভ; ধর্মচ্যুত আকাকাযা(১) সম্প্রদায়ের আবির্ভাব; এবং ইবনে মাহাল্লির নিজেকে মাহদি বলে দাবি করা। . . .

এর বিপরীতে সেই সব সংস্কারকদের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল যারা নেতৃত্বের যোগ্য ছিলেন এবং যাদের মধ্যে এর শর্তাবলি বিদ্যমান ছিল: ফলে এটলাস পর্বতমালায় মুহাম্মদ আল-হাজ আদ-দিলায়ি, দক্ষিণে সিদি মুহাম্মদ ইবনে আশ-শরিফ এবং পশ্চিমে মুজাহিদ আবু আবদুল্লাহ আল-আইয়াশি— প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে জেগে উঠেছিলেন।

এই তিনটি প্রধান নেতৃত্বের পাশাপাশি মাররাকেশে সাদী সালতানাতের অবশিষ্টাংশ এবং আবু হাসুন আস-সামলালির ইমারতের মতো কিছু ক্ষুদ্র ও বিচ্ছিন্ন ইমারতও বিদ্যমান ছিল।

--------------------------------------------

(১) প্রাজ্ঞ ফকিহ আল্লামা আবু হাসান আল-ইউসি তাদের সম্পর্কে মাওলা ইসমাইলের নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন যেখানে তিনি তাদের কুফরির প্রমাণ পেশ করেন। সেই পত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তার অংশবিশেষ হলো: «. . . এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের কর্তৃক সালাত, সিয়াম, কোরবানি ও এই জাতীয় আদেশকৃত কার্যাবলি বর্জন করা এবং ব্যভিচার, মৃত জন্তু ভক্ষণ, মুসলিম হত্যা ও তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করার মতো নিষিদ্ধ কাজগুলোতে লিপ্ত হওয়া» (রাসায়েলু আবি আলি আল-হাসান আল-ইউসি: ১/ ২৮০)।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৩)
في سوس، وأبي محمد عبد الله أعراس في الريف، وأحمد النقسيس في تطوان، والخضر غيلان بالفحص.

وظهر في خضم هذه الأحداث والصراعات أحد القواد البارزين في التاريخ المغربي، وهو المولى الرشيد الأخ الأصغر لمولاي الشريف. وقد انعقد النصر برايته حتى وحد الدولة المغربية تحت إمرته. وكان أبرز انتصاراته هو نصره على الدلائيين سنة 1079 هـ، ثم تداعت الإمارات الصغيرة المتعددة بأنحاء المغرب بعد ذلك أمام جيوشه. ولكن المنية لم تمهله حيث توفي سنة 1082 هـ وبويع بالخلافة من بعده لأخيه المولى إسماعيل.

وواجهت المولى إسماعيل مهام لا تقل شأنا عما مهده أخوه من أمر الملك. فقد تصور كثير ممن انهزم بين يدي أخيه المولى الرشيد أنهم قد ينالون منه ما لم يستطيعوا من أخيه. كما واجهته صراعات عائلية على السلطة عانى منها مثل ما عاناه من غيرها.

وواجهته في أثناء ذلك مهام كبرى أبلى فيها أحسن البلاء منها مهمة استرداد الثغور من يد الأجانب، ومهمة تأمين البلاد، ومهمة صياغة نظام مالي وإداري محكم للدولة، ومهمة تكوين جيش نظامي، وغيرها من المهام. . . .
সুস অঞ্চলে, রিফ অঞ্চলে আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আরাস, তেতুয়ানে আহমদ আল-নাকসিস এবং আল-ফাহসে আল-খিদর গাইলান।

এই সকল ঘটনা ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে মরক্কোর ইতিহাসের অন্যতম বিশিষ্ট নেতা মাওলা আল-রশীদ আবির্ভূত হন, যিনি ছিলেন মাওলাই আল-শরীফের কনিষ্ঠ ভ্রাতা। তাঁর পতাকাতলে বিজয় সুসংহত হয় এবং তিনি মরক্কো রাষ্ট্রকে তাঁর অধীনে ঐক্যবদ্ধ করেন। তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিজয় ছিল ১০৭৯ হিজরিতে দালাঈদের বিরুদ্ধে অর্জিত বিজয়। এরপর মরক্কোর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমিরাতগুলো তাঁর বাহিনীর সামনে একে একে ভেঙে পড়ে। কিন্তু মৃত্যু তাঁকে অবকাশ দেয়নি; তিনি ১০৮২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং এরপর তাঁর ভাই মাওলা ইসমাইল খেলাফতের বাইআত লাভ করেন।

মাওলা ইসমাইল এমন সব গুরুদায়িত্বের সম্মুখীন হন যা তাঁর ভাইয়ের প্রস্তুতকৃত রাজকীয় কার্যাবলীর চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তাঁর ভাই মাওলা আল-রশীদের কাছে যারা পরাজিত হয়েছিল, তাদের মধ্যে অনেকেই ধারণা করেছিল যে, তারা তাঁর (ইসমাইলের) কাছ থেকে এমন কিছু আদায় করতে পারবে যা তারা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে সক্ষম হয়নি। এছাড়াও তাঁকে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পারিবারিক কোন্দলের মোকাবিলা করতে হয়, যা থেকে তিনি অন্যান্য সমস্যার মতোই প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন।

সেই সাথে তিনি আরও কিছু মহান দায়িত্বের সম্মুখীন হন যাতে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দেন। এর মধ্যে ছিল বিদেশিদের দখল থেকে সীমান্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের জন্য একটি সুসংহত আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রণয়ন করা, একটি নিয়মিত সেনাবাহিনী গঠন করা এবং আরও অন্যান্য দায়িত্ব। . . .
(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الثانية: الزاوية الفاسية:

‌‌أولا: مفهوم الزاوية:

تعد الزاوية في العصر والمصر الذي نتحدث عنه ضمن المساجد التي تؤدى فيها الصلوات الخمس. ولا تكون مسجدا جامعا تقام بها صلاة الجمعة إلا إذا لم يكن بالبلدة مسجد غيرها، تجنبا للطائفية والتحزب.

ويمكن تحديد المقومات الظاهرة للفضاء الروحي الذي يعبر عنه بالزاوية في أربع:

طرفان: وهما: أولا: الشيخ، وثانيا: المريدون.

ورابطتان: وهما: أولا: الطريقة، أي: المنهج أو المقومات النظرية؛ وثانيا: السلوك، أي: التربية العملية اليومية.

 

‌‌ثانيا: الزوايا المغربية في القرن الحادي عشر:

اضطلعت الزوايا في العصر الذي نتحدث عنه بأدوار روحية وعلمية واجتماعية وسياسية في غاية الأهمية. ولعل أهم الزوايا التي تعايشت في هذه الفترة هي:

1 - الزاوية الشرقاوية بأبي الجعد(1).

--------------------------------------------

(1) أسسها سيدي محمد الشرقي، في حدود سنة 960 هـ ولينظر تفصيل في تاريخ تأسيسها فيما حرره د. أحمد بوكاري في كتاب «الزاوية الشرقاوية: زاوية أبي الجعد، إشعاعها الديني والعلمي» ص 68 وما بعدها.

দ্বিতীয়: ফাসিয়া ঝাওয়িয়া:

‌প্রথম: ঝাওয়িয়ার ধারণা:

আমরা যে যুগ এবং জনপদ নিয়ে আলোচনা করছি, সেখানে ঝাওয়িয়াকে সেই সব মসজিদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। সাম্প্রদায়িকতা ও দলাদলি পরিহার করার লক্ষ্যে এটি এমন কোনো জামে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না যেখানে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যদি না সেই জনপদে এটি ছাড়া অন্য কোনো মসজিদ না থাকে।

ঝাওয়িয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলের দৃশ্যমান উপাদানগুলোকে চার ভাগে চিহ্নিত করা যেতে পারে:

দুইটি পক্ষ: যথা: প্রথমত: শায়খ, এবং দ্বিতীয়ত: মুরিদগণ।

এবং দুইটি যোগসূত্র: যথা: প্রথমত: তরিকা, অর্থাৎ: কর্মপদ্ধতি বা তাত্ত্বিক ভিত্তি; এবং দ্বিতীয়ত: সুলুক, অর্থাৎ: দৈনন্দিন ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ।

 

‌দ্বিতীয়: একাদশ শতাব্দীর মরক্কোর ঝাওয়িয়াগুলো:

আমরা যে সময়ের কথা বলছি, সেই যুগে ঝাওয়িয়াগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক, বৈজ্ঞানিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেছিল। সম্ভবত এই যুগে বিদ্যমান থাকা প্রধান ঝাওয়িয়াগুলো হলো:

১ - আবি আল-জাদের শারকাউয়িয়া ঝাওয়িয়া(১)।

--------------------------------------------

(১) সিদি মুহাম্মদ আল-শারকি এটি আনুমানিক ৯৬০ হিজরি সালের দিকে প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের বিস্তারিত বিবরণের জন্য ড. আহমদ বুকারি সম্পাদিত ‘আয-ঝাওয়িয়াহ আশ-শারকাউইয়্যাহ: ঝাওয়িয়াতু আবি আল-জাদ, ইশআউহা আদ-দিনি ওয়াল-ইলমি’ গ্রন্থের ৬৮ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো দেখা যেতে পারে।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - الزاوية الفاسية بفاس وتطوان والقصر الكبير(1).

3 - الزاوية الدلائية بالأطلس المتوسط(2).

4 - الزاوية الناصرية بدرعة(3).

5 - الزاوية الحمزوية بسفح جبل العياشي(4).

وكانت عامتها متصلة السند بالإمامين : سيدي محمد بن سليمان الجزولي (ت 870 هـ)(5)، وسيدي أحمد زروق (ت 899 هـ)(6). ويتصل

--------------------------------------------

(1) قدمت في موضوعها رسالة لنيل الدكتوراه في التاريخ بجامعة محمد الخامس بالرباط بعنوان : «الزاوية الفاسية : التطور والأدوار حتى نهاية العهد العلوي الأول» أنجزتها الدكتورة نفيسة الذهبي، واعتنت بطبعها رابطة أبي المحاسن ابن الجد.

(2) أسسها أبو بكر بن محمد بن سعيد الدلائي حوالي 974 هـ ولينظر تفصيل خبر تأسيسها وموقعها في كتاب الزاوية الدلائية : ص 30 وما بعدها.

(3) أسسها أبو حفص عمر بن أحمد الأنصاري سنة 983 هـ بتامكرت. وقد نسبت الزاوية إلى سيدي محمد بن ناصر الدرعي الذي تولى مشيختها بعد قتل حفيد المؤسس سنة 1052 هـ. (م. س. ص 57 وما بعدها).

(4) أسسها سيدي محمد بن أبي بكر العياشي عام 1044 هـ، وقد عرفت الزاوية نشاطا علميا كبيرا على يد ولده أبي سالم، ثم على يد حمزة بن أبي سالم الذي تعرف الزاوية إلى اليوم باسمه (م. س. ص 64 وما بعدها).

(5) خصص سيدي محمد المهدي بن أحمد بن يوسف الفاسي (ت 1109 هـ) كتاب «ممتع الأسماع في ذكر الجزولي والتباع ومن لهما من الأتباع» لترجمة الإمام الجزولي وأتباعه كما هو واضح من عنوانه.

(6) خصص سيدي محمد المهدي كتاب «تحفة أهل الصديقية بأسانيد الطريقة الجزولية والزروقية» لذكر طرق هذين الإمامين كما هو واضح من عنوان الكتاب. وتوجد منه عدة نسخ، ومنها نسخة الخزانة العامة بالرباط تحت رقم : 76 ج.

২ - ফাস, তেতুয়ান এবং কাসার আল-কবিরে অবস্থিত আল-যাবিয়া আল-ফাসিয়া(১)।

৩ - মধ্য এটলাসে অবস্থিত আল-যাবিয়া আদ-দিলাইয়্যাহ(২)।

৪ - দারা’তে অবস্থিত আল-যাবিয়া আন-নাসিরিয়্যাহ(৩)।

৫ - জাবাল আল-আয়্যাশি পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত আল-যাবিয়া আল-হামযাবিয়্যাহ(৪)।

এবং এগুলোর অধিকাংশেরই সিলসিলা বা সূত্র দুই ইমামের সাথে সম্পৃক্ত: সিদি মুহাম্মদ বিন সুলায়মান আল-জাযুলি (মৃত্যু ৮৭০ হি.)(৫) এবং সিদি আহমাদ যাররুক (মৃত্যু ৮৯৯ হি.)(৬)। এবং এটি সংযুক্ত হয়...

--------------------------------------------

(১) রাবাতের মুহাম্মদ আল-খামিস (পঞ্চম মুহাম্মদ) বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য এই বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র পেশ করা হয়েছে, যার শিরোনাম: «আল-যাবিয়া আল-ফাসিয়া: প্রথম আলাউয়ি যুগের শেষ পর্যন্ত এর বিবর্তন ও ভূমিকা»; এটি প্রস্তুত করেছেন ড. নাফিসা আয-যাহাবি এবং এটি প্রকাশের তত্ত্বাবধান করেছে রাবিতা আবু মাহাসিন ইবনুল জাদ্দ।

(২) এটি আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ আদ-দিলাই প্রায় ৯৭৪ হিজরি সনে প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রতিষ্ঠা ও অবস্থানের বিস্তারিত বিবরণ দেখুন 'কিতাব আল-যাবিয়া আদ-দিলাইয়্যাহ': পৃষ্ঠা ৩০ এবং পরবর্তী অংশ।

(৩) এটি আবু হাফস উমর বিন আহমাদ আল-আনসারি ৯৮৩ হিজরি সনে তামগারতে প্রতিষ্ঠা করেন। এই যাবিয়াটি সিদি মুহাম্মদ বিন নাসির আদ-দারয়ির নামে পরিচিতি লাভ করেছে, যিনি ১০৫২ হিজরি সনে প্রতিষ্ঠাতার নাতি নিহত হওয়ার পর এর শায়খ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫৭ এবং পরবর্তী)।

(৪) এটি সিদি মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-আয়্যাশি ১০৪৪ হিজরি সনে প্রতিষ্ঠা করেন। এই যাবিয়াটি তার পুত্র আবু সালিমের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে হামযাহ বিন আবু সালিমের মাধ্যমে ব্যাপক ইলমি তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেছে, যার নামেই আজ পর্যন্ত এই যাবিয়াটি পরিচিত। (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৬৪ এবং পরবর্তী)।

(৫) সিদি মুহাম্মদ আল-মাহদি বিন আহমাদ বিন ইউসুফ আল-ফাসি (মৃত্যু ১১০৯ হি.) তাঁর «মুমতিউল আসমা ফি যিকরিল জাযুলি ওয়াত তাব্বা' ওয়া মান লাহুম মিনাল আতবা» গ্রন্থটি ইমাম জাযুলি ও তাঁর অনুসারীদের জীবনীর জন্য উৎসর্গ করেছেন, যা এর শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট।

(৬) সিদি মুহাম্মদ আল-মাহদি এই দুই ইমামের তরিকার বর্ণনার জন্য «তুহফাতু আহলিস সিদ্দিকিয়্যাহ বি আসানিদিত তরিকাতিল জাযুলিয়্যাহ ওয়াজ যাররুকিয়্যাহ» গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন, যা গ্রন্থের শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট। এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে, যার মধ্যে একটি রাবাতের আল-খিজানাতুল আম্মাহ-তে ৭৬-জ নম্বরে সংরক্ষিত।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৬)
سندهما بالإمام أبي الحسن الشاذلي (ت 656 هـ)(1).

ولا أملك أن أذكر تلك الزوايا في هذه الورقات ولا تفصيلات تلك الطرق، والتعريف برجالاتها، ولكنني أكتفي بتسجيل ثلاث ملاحظات :

أ - توحد الطريقة الصوفية في أنحاء المغرب في ذلك العصر. ويمكننا أن نطلع عند مراجعة أسانيد رجالات الزاوية الفاسية مثلا على اتصال أسانيد متصوفة المغرب بمختلف الطرق المعروفة في العالم الإسلامي(2)، ولكن أخذهم بتلك الطرق لم يتجاوز قصد التبرك، ومعنى التسليم للرجالات السالكين.

ب - الالتئام على نهج السنة، والنفور من تعقيدات التصوف الفلسفي. في انسجام مع التشبث بالمذهب المالكي في الفروع، والمذهب الأشعري في الأصول. وكانت هذه من أعظم المهمات التي أبلى فيها مشايخ تلك الزوايا من علماء الإسلام البلاء الحسن. إذ لا يمكننا اليوم أن

--------------------------------------------

(1) يمكن الاطلاع على عامة طرق الشاذلية بالمغرب من خلال كتاب سيدي عبد الحفيظ بن محمد الطاهر بن عبد الكبير الفاسي (ت 1383 هـ) والذي سماه : «الترجمان المعرب عن أشهر فروع الشاذلية بالمغرب». وتوجد نسخة المؤلف بخطه في الخزانة بالرباط تحت رقم : 4400 د.

(2) بلغت تلك الطرق ستة وسبعين طريقا في فهرسة سيدي محمد الصغير بن عبد الرحمن بن عبد القادر الفاسي التي سماها «المنح البادية في الأسانيد العالية والمسلسلات الزاهية والطرق الهادية الكافية» وقد قام بتحقيقها الدكتور سيدي محمد بن عبد الرحمن بن جعفر الصقلي الحسيني - حفظه الله تعالى - وهي أطروحته لنيل دكتوراه الدولة من جامعة محمد الخامس بالرباط سنة 1416 هـ/1995 م.

তাদের উভয়ের সনদ ইমাম আবুল হাসান আশ-শাজিলি (মৃ. ৬৫৬ হি.)-এর সাথে সম্পৃক্ত।(১).

আমি এই সংক্ষিপ্ত পাতাসমূহে সেই সব জাউইয়া (খানকাহ) এবং তরীকাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ অথবা তাদের ব্যক্তিত্বদের পরিচয় উল্লেখ করতে সক্ষম নই, তবে আমি তিনটি পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব:

ক - সেই যুগে মাগরিবের (মরক্কো ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল) বিভিন্ন প্রান্তে সূফী তরীকার ঐক্য। উদাহরণস্বরূপ, আল-জাওয়িয়া আল-ফাসিয়ার ব্যক্তিবর্গের সনদসমূহ পর্যালোচনার সময় আমরা মাগরিবের সূফীদের সনদের সাথে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন পরিচিত তরীকার সংযোগ দেখতে পাই(২), কিন্তু তাদের সেই তরীকাগুলো গ্রহণ করার বিষয়টি বরকত অর্জন এবং তরীকার পথিক (সালেকীন) ব্যক্তিদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের ঊর্ধ্বে ছিল না।

খ - সুন্নাহর আদর্শের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং দার্শনিক তাসাউউফের জটিলতা থেকে বিমুখ থাকা। এটি ফুরু (শাখা বিষয়) বা মাসআলা-মাসায়েলে মালিকি মাযহাব এবং উসুল (আকিদা) বা মূলনীতিতে আশআরি মাযহাব আঁকড়ে ধরার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এটি ছিল অন্যতম মহান দায়িত্ব যা পালনে ওইসব জাউইয়ার শায়খ ও ইসলামী আলেমগণ অত্যন্ত চমৎকার অবদান রেখেছেন। কেননা বর্তমান সময়ে আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় যে

--------------------------------------------

(১) মরক্কোর শাজিলি তরীকার সাধারণ শাখাগুলো সম্পর্কে সিদি আব্দুল হাফিজ বিন মুহাম্মদ আল-তাহির বিন আব্দুল কাবীর আল-ফাসি (মৃ. ১৩৮৩ হি.)-এর লিখিত গ্রন্থ 'আত-তারজুমান আল-মু'রিব আন আশহারি ফুরুয়িশ শাজিলিয়্যাহ বিল মাগরিব' থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। লেখকের স্বহস্তে লিখিত একটি কপি রাবাতের লাইব্রেরিতে ৪৪০০ ডি নম্বরাধীনে সংরক্ষিত আছে।

(২) সিদি মুহাম্মদ আস-সাগীর বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল কাদির আল-ফাসি-এর সংকলিত 'আল-মিনাহুল বাদিয়্যাহ ফিল আসানিদিল আলিয়্যাহ ওয়াল মুসালসালাতিয যাহিয়্যাহ ওয়াত তুরুকিল হাদিয়াতি কাফিয়্যাহ' নামক সূচিপত্রে এই তরীকাগুলোর সংখ্যা ৭৬টি পর্যন্ত পৌঁছেছে। ডক্টর সিদি মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাফর আস-সিকাল্লি আল-হুসাইনি—আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাজত করুন—এটি সম্পাদনা ও গবেষণা করেছেন এবং এটি ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ/১৪১৬ হিজরি সালে রাবাতের পঞ্চম মুহাম্মদ বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য তার থিসিস ছিল।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৭)
نتصور ما راج في ذلك العصر من البدع والخرافات والانحرافات وضروب الشعوذة، وما كان يلزم في حربها من التبصر والجهد.

ج - وهو في حكم الناتج عن الملاحظتين السابقتين: تمهيد قاعدة سلوكية وروحية لتوحيد الدولة المغربية، واستقرار خلفية ثقافية لتميزها كأمة قائمة.

 

‌‌ثالثا: الزوايا الفاسية:

هنالك مجموعة من الزوايا الفاسية يمكن تقسيمها إلى قسمين: مجموعة الزوايا الفاسية القديمة، وزاوية حديثة نسبيا.

أما الزاوية الحديثة فهي زاوية الدور الجدد بحي القلقليين من مدينة فاس الإدريسية(1)، وتنسب لمؤسسها الإمام العارف أبو محمد عبد القادر بن أبي جيدة بن أحمد بن محمد بن عبد القادر الفاسي (1171 - 1213 هـ)(2). وهي زاوية نقشبندية.

--------------------------------------------

(1) لما كان جل الدارسين الذين تعرضوا لتاريخ الزوايا الفاسية قد أغفلوا ذكر هذه الزاوية فقد أردت أن أشير إليها هنا وإن كان تاريخها لا حقا للفترة التي نتحدث عنها.

(2) ظهر عليه الفتح العميم منذ حال الصبا، ونبغ في أصناف العلوم، من شيوخه أبو عبد الله القادري، ومحمد بن عبد السلام الفاسي، وعبد الرحمن حسين وعبد الكريم اليازغي، ومحمد بناني، واختص بزين العابدين العراقي، وتلقى الذكر عن مولاي إدريس بن علال الدباغ. حج مرتين والتقى بجملة شيوخ المشرق في عصره. خلف تآليف متعددة منها «ذوق البداية ولمحة النهاية» وشرح على فصوص ابن العربي، وشرح على مسند السلطان سيدي محمد بن عبد الله. وله شرح على الصلاة -

আমরা সেই যুগে প্রচলিত বিদআত, কুসংস্কার, বিচ্যুতি এবং নানাবিধ জাদুটোনার কথা কল্পনা করতে পারি এবং এগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যে দূরদর্শিতা ও প্রচেষ্টার প্রয়োজন ছিল, তাও উপলব্ধি করতে পারি।

গ - এবং এটি পূর্ববর্তী দুটি পর্যবেক্ষণের ফলাফলের অন্তর্ভুক্ত: মরক্কো রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য একটি আচরণগত ও আধ্যাত্মিক ভিত্তি প্রস্তুত করা এবং একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে এর সাংস্কৃতিক পটভূমিকে স্থিতিশীল করা।

 

‌‌তৃতীয়ত: ফাসের জাউইয়া (খানকাহ) সমূহ:

ফাসের একগুচ্ছ জাউইয়া রয়েছে যেগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে: প্রাচীন ফাসি জাউইয়া সমূহের একটি গুচ্ছ এবং একটি অপেক্ষাকৃত আধুনিক জাউইয়া।

আধুনিক জাউইয়াটি হলো ইদ্রিসি ফাস শহরের কলকলিয়্যিন পাড়ার আদ্-দুরুল জুদুদ জাউইয়া(১)। এটি এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আরিফ আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন আবি জাইদাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাদির আল-ফাসি (১১৭১ - ১২১৩ হি.)-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত(২)। এটি একটি নকশবন্দি জাউইয়া।

--------------------------------------------

(১) যেহেতু ফাসের জাউইয়াগুলোর ইতিহাস নিয়ে কাজ করা অধিকাংশ গবেষকই এই জাউইয়াটির কথা উল্লেখ করতে অবহেলা করেছেন, তাই আমি এখানে এটির প্রতি ইঙ্গিত করতে চেয়েছি, যদিও এর ইতিহাস আমরা যে সময়ের কথা বলছি তার পরবর্তী সময়ের।

(২) শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে ব্যাপক আধ্যাত্মিক উন্মেষ লক্ষ্য করা গিয়েছিল এবং তিনি বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-কাদিরি, মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম আল-ফাসি, আব্দুর রহমান হুসাইন, আব্দুল কারিম আল-ইয়াযগি এবং মুহাম্মদ বান্নানি। তিনি যয়নুল আবেদিন আল-ইরাকির বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেন এবং মাওলাই ইদ্রিস বিন আল্লাল আদ-দাব্বাগের নিকট জিকির গ্রহণ করেন। তিনি দুইবার হজ সম্পন্ন করেন এবং তাঁর যুগের প্রাচ্য দেশীয় বহু শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করে গিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘যাওকুল বিদায়া ওয়া লামহাতুন নিহায়া’, ইবনুল আরাবির ‘ফুসুস’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং সুলতান সিদি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর ‘মুসনাদ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এছাড়া নামাজের উপরও তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে -

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما الزوايا القديمة فهي تنقسم إلى مجموعتين :

ترجع المجموعة الأولى إلى نفس التاريخ تقريبا، بل يمكننا أن نرجعها جميعا إلى نفس المؤسس وهو الشيخ أبو المحاسن يوسف الفاسي. وتضم هذه المجموعة ثلاث زوايا :

الأولى : بحي المخفية من عدوة الأندلس بفاس. وقد باشر تأسيسها أبو المحاسن بنفسه في حدود سنة 989 هـ.

والثانية : بحي القطانين بمدينة الكبير لا نعرف تاريخ تأسيسها على وجه التحديد وإن كنا نعلم أن تاريخ تأسيسها مقارب لتاريخ تأسيس الزاوية السابقة، وأن المباشر لتأسيسها هو سيدي علي بن أبي المحاسن بأمر من والده.

وتعرف اليوم باسم ولده سيدي محمد أبي عسرية لأن مدفنه بها.

والثالثة : بحي العيون بتطوان أسست بأمر من أبي المحاسن أيضا سنة 1003 هـ.

وتضم المجموعة الثانية ثلاث زوايا بنفس المدن الثلاثة المذكورة، في مواقع قريبة من مواقع الزوايا الثلاثة السابقة. وترجع جميعها إلى فترة واحدة لاحقة لتاريخ المجموعة الأولى، وإن لم يكن يفصلها عن المجموعة الأولى إلا بضعة عقود :

--------------------------------------------

- المشيشية. ولعل أهم مخلفاته تصليته على رسول الله صلى الله وسلم عليه وعلى آله، والتي مطلعها : «اللهم صل بكمال سعتك في إطلاقك. . .» ولينظر ما ترجم له به السلطان مولاي سليمان في عناية أولي المجد : ص 69. والدراسة التي قام بها الزعيم علال الفاسي في كتابه «التصوف الإسلامي في المغرب» : ص 55 وما بعدها.

প্রাচীন জাউইয়াগুলোর (মরমী কেন্দ্র) ক্ষেত্রে বলা যায় যে, সেগুলো দুটি ভাগে বিভক্ত:

প্রথম গোষ্ঠীটি প্রায় একই সময়ের, এমনকি আমরা এই সবগুলোকে একই প্রতিষ্ঠাতার সাথে সম্পর্কিত করতে পারি এবং তিনি হলেন শেখ আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ আল-ফাসি। এই গোষ্ঠীটি তিনটি জাউইয়া ধারণ করে:

প্রথমটি: ফাস শহরের আন্দালুস তীরের আল-মাখফিয়া পাড়ায় অবস্থিত। আবু আল-মাহাসিন নিজেই ৯৮৯ হিজরি নাগাদ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

দ্বিতীয়টি: আল-কাবির শহরের আল-কাত্তানিন পাড়ায়; আমরা এর প্রতিষ্ঠার সঠিক তারিখ নিশ্চিতভাবে জানি না, যদিও আমরা জানি যে এর প্রতিষ্ঠার তারিখ পূর্ববর্তী জাউইয়াটির প্রতিষ্ঠার সময়ের কাছাকাছি ছিল এবং এটি সরাসরি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সিদি আলী বিন আবি আল-মাহাসিন তাঁর পিতার আদেশে।

বর্তমানে এটি তাঁর পুত্র সিদি মুহাম্মদ আবু আসরিয়ার নামে পরিচিত, কারণ সেখানে তাঁর সমাধিস্থল অবস্থিত।

তৃতীয়টি: তেতুয়ান শহরের আল-উয়ুন পাড়ায়, এটিও ১০০৩ হিজরিতে আবু আল-মাহাসিনের আদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

দ্বিতীয় গোষ্ঠীতে উল্লিখিত তিনটি শহরেই তিনটি জাউইয়া রয়েছে, যা পূর্ববর্তী তিনটি জাউইয়ার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। এগুলো সবই প্রথম গোষ্ঠীর সময়ের পরবর্তী একটি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পর্কিত, যদিও প্রথম গোষ্ঠী থেকে এগুলো মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে পৃথক হয়েছে:

--------------------------------------------

- আল-মাশিশিয়া। সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের মধ্যে রয়েছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সালাত (দুরুদ) পাঠ, যার সূচনা হলো: «হে আল্লাহ! আপনার অবারিত পূর্ণতার সাথে সালাত বর্ষণ করুন...»। আর সুলতান মুলায় সুলেমান তাঁর জীবনীতে 'ইনায়াতু উলিল মাজদ' গ্রন্থের ৬৯ পৃষ্ঠায় যা লিখেছেন এবং নেতা আল্লাল আল-ফাসি তাঁর 'মরক্কোর ইসলামি তাসাউফ' গ্রন্থের ৫৫ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে যে গবেষণা করেছেন তা দেখা যেতে পারে।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأولى: بفاس وقد أسسها الأخ الأصغر لأبي المحاسن وهو الشيخ عبد الرحمن العارف، ولكنها اشتهرت باسم حفيد أخيه سيدي عبد القادر بن علي بن أبي المحاسن.

والثانية: بالقصر وتعرف باسم سيدي أحمد بن أحمد بن أبي المحاسن (1021 - 1094 هـ).

والثالثة: بتطوان أسسها سيدي عبد العزيز بن علي بن أبي المحاسن (999 - 1089 هـ).

 

‌‌رابعا: ملامح من أحوال مشايخ الزوايا الفاسية:

كان مشايخ الزوايا الفاسية انطلاقا من شيخ مشايخها سيدي عبد الرحمن المجذوب «ملامتيون» أي أنهم يعتنون بإصلاح الباطن ويتسترون على أحوال القلب. بحيث لا يظهر الملامتي للناس من الأحوال الخاصة شيء بل إن من سلوك بعض الملامتية التستر على الأحوال بإظهار ما يخالفها. وينبني سلوك الملامتية على أصلين هما: مجانبة الرياء، وتطلب الخمول. جاء في ترجمة سيدي عبد الرحمن المجذوب أنه كان: «. . . كثير الفرار واللجوء إلى الله، شديد الميل إلى الانفراد به عما سواه. مبالغا في كتم الأسرار، مولعا بخمول الذكر وعدم الاشتهار، ويقول:

الخمول كله نعمة … والنفوس كلها تأباه

والظهور كله نقمة … والنفوس كلها تهواه»(1)

--------------------------------------------

(1) ابتهاج القلوب بأخبار الشيخ أبي المحاسن وشيخه المحذوب لأبي زيد عبد الرحمن -

প্রথমটি: ফাসে, যা আবু আল-মাহাসিনের ছোট ভাই শেখ আবদুর রহমান আল-আরিফ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে এটি তার ভাইয়ের নাতি সিদি আব্দুল কাদির বিন আলী বিন আবু আল-মাহাসিনের নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

এবং দ্বিতীয়টি: কাসরে, যা সিদি আহমদ বিন আহমদ বিন আবু আল-মাহাসিন (১০২১ - ১০৯৪ হিজরি) নামে পরিচিত।

এবং তৃতীয়টি: তিতওয়ানে, যা সিদি আব্দুল আজিজ বিন আলী বিন আবু আল-মাহাসিন (৯৯৯ - ১০৮৯ হিজরি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

 

‌‌চতুর্থ: ফাসি জাউইয়াগুলোর শায়খদের অবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য:

ফাসি জাউইয়াগুলোর শায়খগণ তাদের প্রধান শায়খ সিদি আবদুর রহমান আল-মাজজুব থেকে শুরু করে 'মালামাতি' ছিলেন; অর্থাৎ তারা তাদের অভ্যন্তরীণ সংশোধনের যত্ন নিতেন এবং হৃদয়ের আধ্যাত্মিক অবস্থাকে গোপন রাখতেন। যাতে মালামাতি ব্যক্তির বিশেষ আধ্যাত্মিক অবস্থার কোনো কিছুই মানুষের কাছে প্রকাশ না পায়, বরং কোনো কোনো মালামাতির আচরণ ছিল এর বিপরীত কিছু প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থাকে গোপন রাখা। মালামাতিয়াদের আচরণ দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদত বর্জন করা এবং অখ্যাতি বা নিভৃতচারিতা অন্বেষণ করা। সিদি আবদুর রহমান আল-মাজজুবের জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি ছিলেন: «. . . আল্লাহর দিকে অত্যধিক পলায়নকারী ও আশ্রয় গ্রহণকারী, অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ হয়ে কেবল তাঁর সাথে নির্জনতার প্রতি প্রবল অনুরাগী। আধ্যাত্মিক রহস্য গোপন রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নবান, অখ্যাতি ও প্রসিদ্ধিহীনতার প্রতি আসক্ত এবং তিনি বলতেন:

অখ্যাতি বা নিভৃতচারিতা সম্পূর্ণই নেয়ামত … আর সকল নফসই তা অস্বীকার করে

প্রকাশ বা প্রসিদ্ধি সম্পূর্ণই বিপদ … আর সকল নফসই তাকে ভালোবাসে»(১)

--------------------------------------------

(১) ইবতিহাজুল কুলুব বি আখবারিশ শায়খ আবিল মাহাসিন ওয়া শায়খিহিল মাজজুব, আবু জায়েদ আবদুর রহমান প্রণীত -

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২০)
وكان مشايخ الزاوية الفاسية في عمومهم جماليون يأخذون الناس من باب سعة الرحمة، ويذيعون مبشرات قبول التوبة، ويدخلون الحضرة من باب المحبة؛ ولكنهم يستعملون الخشية لاتقاء الخيبة، ويركبون نجائب الخائفين لاتقاء هول يوم الدين. ويسمعون مقطعات الأشعار لترقيق الطبع وتجيب الخير؛ ولكنهم لا يأذنون باستماع الأشعار إلا بعد استيفاء كل لورده من القرآن وحزبه من الأذكار(1). وينبني سلوك الجمالية على أصلين هما: التبشير من غير تنفير، والتيسير من غير تعسير.

 

‌‌خامسا: ملامح من سلوك مشايخ الزاوية الفاسية:

قال الشيخ أبو المحاسن مؤسس الزاوية الفاسية الأولى: «رتب الأئمة الوظائف والأحزاب لما قصرت المقاصد، وذهبت المشارب والموارد. ولو كانوا على القدم الأولى من سلامة الدين، والرسوخ في اليقين، لم تر لهم أورادا موظفة، وأحزابا مكلفة. هذا هو الأصل»(2).

وكذلك كان الشيخ عبد القادر:

قال ولده الحافظ عبد الرحمن في أثناء ترجمته: «. . . ومتابعته للسنة في الأقوال والأفعال والأحوال إلى الغاية، وكثرة صلاته على النبي صلى الله عليه وسلم، وأمره

--------------------------------------------

- الفاسي: ص 23 مخطوط الخزانة العامة برقم: 2302 ك.

(1) قال سيدي عبد الرحمن بن عبد القادر (تحفة الأكابر: 2/ 321) يحكي عن الزاوية الفاسية في عهد والده، وعن نشاط أصحابه بها: «. . . ولا يستعملون شيئا من السماع حتى يقدموا قبله قراءة قرآن أو بعده أو فيهما».

(2) تحفة الأكابر: 1/ 48.

ফাসি জাউয়িয়ার মাশায়েখগণ সাধারণত 'জামালি' (সৌন্দর্যপন্থী) ছিলেন, যারা রহমতের প্রশস্ততার দ্বার দিয়ে মানুষকে গ্রহণ করতেন, তওবা কবুল হওয়ার সুসংবাদ প্রচার করতেন এবং মহব্বতের দ্বার দিয়ে (আল্লাহর) সান্নিধ্যে প্রবেশ করতেন। তবে তারা ব্যর্থতা থেকে বাঁচতে খোদাভীতি অবলম্বন করতেন এবং কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে ভীতদের বাহনে চড়তেন। তারা স্বভাবের কোমলতা ও কল্যাণের আকর্ষণে খণ্ড-কবিতা শ্রবণ করতেন; কিন্তু কুরআন থেকে নির্ধারিত অজিফা এবং জিকিরের হিজব সম্পন্ন করার আগে তারা কবিতা শোনার অনুমতি দিতেন না(১)। জামালিয়া আচরণের ভিত্তি দুটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত: বিদ্বেষ না জাগিয়ে সুসংবাদ প্রদান এবং কাঠিন্য আরোপ না করে সহজীকরণ।

 

‌‌পঞ্চম: ফাসি জাউয়িয়ার মাশায়েখদের আচরণের বৈশিষ্ট্যসমূহ:

প্রথম ফাসি জাউয়িয়ার প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবু আল-মাহাসিন বলেন: «ইমামগণ অজিফা ও হিজবসমূহ তখন বিন্যস্ত করেছেন যখন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সংকুচিত হয়ে গেছে এবং উৎস ও পানের ধারাগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। তারা যদি দ্বীনের বিশুদ্ধতা এবং দৃঢ় বিশ্বাসের (ইয়াকিন) ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের পদাঙ্কে অটল থাকতেন, তবে আপনি তাদের জন্য কোনো নির্ধারিত অজিফা বা অর্পিত হিজব দেখতে পেতেন না। এটাই হলো মূল রীতি»(২)।

শায়খ আব্দুল কাদিরও ঠিক তেমনি ছিলেন:

তার পুত্র হাফেজ আব্দুর রহমান তার জীবনী বর্ণনায় বলেন: «. . . এবং কথা, কাজ ও অবস্থার ক্ষেত্রে চরমভাবে সুন্নাহর অনুসরণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অধিক হারে দরুদ পাঠ এবং তাঁর আদেশ

--------------------------------------------

- আল-ফাসি: পৃষ্ঠা ২৩, সাধারণ গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপি নং: ২৩০২ কাফ।

(১) সায়্যিদী আব্দুর রহমান বিন আব্দুল কাদির বলেন (তুহফাতুল আকাবির: ২/৩২১), তিনি তাঁর পিতার যুগে ফাসি জাউয়িয়া এবং সেখানে তাঁর অনুসারীদের কার্যক্রম সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: «. . . এবং তারা কোনো সামা (আধ্যাত্মিক সঙ্গীত) পরিবেশন করতেন না যতক্ষণ না এর পূর্বে, পরে অথবা উভয় সময়ে কুরআন তেলাওয়াত করতেন»।

(২) তুহফাতুল আকাবির: ১/৪৮।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২১)
بها، مما يحقق أن طريقته محمدية، إلا أنه كان لا يتقيد بورد معين إلا ما عينته آداب السنة، والعمل على المحبة، وكثرة تلاوة القرآن بالحضور مع الحق والغيبة عما سواه (. . .) وعدم التميز بشيء زائد على الفرض والسنة المعتادة»(1).

وقال الشيخ أبو العباس أحمد بن يعقوب الولالي في كتابه «مباحث الأنوار في أخبار بعض الأخيار» عن الشيخ عبد القادر أيضا: «لم يقبل تلقين الذكر على عادة مشايخ الفقراء، إلا أن يكون ذلك على وجه الرواية»(2).

 

‌‌سادسا: المدرسة العلمية بزاوية الشيخ عبد القادر الفاسي:

كانت مجالس العلم بالزاوية حافلة تستغرق أغلب أوقات أصحابها.

ويمكننا أن نلحظ أهم السمات لهذه المدرسة العلمية من خلال ثلاث مميزات:

أولا: كانت المعارف التي تلقن بالزاوية في غاية الكثرة والتنوع.

والبرنامج التعليمي المنظوم الذي يوجد بين أيدينا من ذلك العهد يثير الدهشة فعلا. وهو كتاب ضخم يسمى ب «الأقنوم» من نظم الحافظ أبي زيد عبد الرحمن بن عبد القادر الفاسي. ويشتمل على أربعة عشر ومائة علم(3).

--------------------------------------------

(1) تحفة الأكابر: 1/ 82.

(2) عن كتاب «ناطح صخرة» ص 98 عن مخطوط الكتاب المذكور.

(3) عددت في نسختي الخاصة من هذا الكتاب قريبا من سبعة عشر ألف بيت.

এর মাধ্যমে, যা এটি নিশ্চিত করে যে তাঁর পদ্ধতি ছিল মুহাম্মদী, তবে তিনি সুন্নাহর আদব দ্বারা নির্ধারিত বিষয় ব্যতীত নির্দিষ্ট কোনো ওজিফায় সীমাবদ্ধ থাকতেন না। (তাঁর মূল ভিত্তি ছিল) ভালোবাসার সাথে আমল করা এবং হকের উপস্থিতিতে ও তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ হয়ে অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা (...) এবং ফরজ ও প্রচলিত সুন্নাহর অতিরিক্ত কোনো কিছু দিয়ে নিজেকে স্বতন্ত্র না করা।(১).

শাইখ আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াকুব আল-ওয়ালালি তাঁর «মাবাহিছুল আনোয়ার ফি আখবারি বা’দিল আখইয়ার» গ্রন্থে শাইখ আব্দুল কাদির সম্পর্কে আরও বলেন: «তিনি ফকীরদের শাইখদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী জিকিরের তালকিন বা দীক্ষা গ্রহণ করেননি, তবে তা বর্ণনার (রেওয়ায়েত) পন্থায় হলে গ্রহণ করতেন»(২).

 

‌‌ষষ্ঠত: শাইখ আব্দুল কাদির আল-ফাসির জাভিয়ায় ইলমি মাদ্রাসা:

জাভিয়ার ইলমি মজলিসগুলো ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত যা এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকাংশ সময় জুড়ে থাকত।

আমরা এই ইলমি মাদ্রাসার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তিনটি বিশেষত্বের মাধ্যমে লক্ষ্য করতে পারি:

প্রথমত: জাভিয়ায় যে জ্ঞানসমূহ শিক্ষা দেওয়া হতো তা ছিল অত্যন্ত ব্যাপক এবং বৈচিত্র্যময়।

সেই যুগের কাব্যিক আকারে রচিত যে শিক্ষা পাঠ্যক্রম আমাদের হাতে রয়েছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যার নাম «আল-আকনুম», যা হাফেজ আবু জায়েদ আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল কাদির আল-ফাসি কাব্যিক ছন্দে রচনা করেছেন। এতে একশত চৌদ্দটি ইলম বা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে(৩).

--------------------------------------------

(১) তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৮২।

(২) «নাতিহ সাখরা» গ্রন্থ থেকে, পৃষ্ঠা ৯৮, যা উক্ত গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত।

(৩) এই গ্রন্থের আমার নিজস্ব কপিতে আমি প্রায় সতের হাজার পঙ্ক্তি গণনা করেছি।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২২)
ثانيا: أن المدرسة العلمية للزاوية قد امتد أثرها العلمي في عصرها إلى سائر أنحاء المغرب. قال القادري: «قلما تجد عالما أو متعلما بإفريقية والمغرب إلا من تلامذته [أي الشيخ عبد القادر الفاسي]، أو من تلامذتهم، أو يروم التمسك في الانتساب إليه بأي وجه أمكنه»(1).

ثالثا: العناية الخاصة بالسنة المشرفة وعلومها قال أبو محمد عبد السلام ابن الخياط القادري في معرض الترجمة للشيخ عبد القادر الفاسي: «. . . اعتنى [يعني الشيخ عبد القادر الفاسي] بتدريس علوم الحديث، والمغازي والسير، فإن أهل فاس كانوا اشتغلوا بطلب علم الفقه والعلوم العقلية وتركوا علوم الحديث، فاعتنى المترجم بها حتى أحياها»(2).

 

‌‌الثالثة: الأسرة الفاسية:

نسب هذه الأسرة «فهري» باتفاق النسابين والمؤرخين في المغرب والأندلس. يقول في ذلك الملك المغربي العلامة مولاي سليمان العلوي (ت 1238 هـ): «. . . ولم يزل وصفهم الذاتي من النسب إلى فهر ملازما لهم فيما استوطنوه بالعدوة [يعني المغرب الأقصى] من حاضرة فاس والقصر، يحوزونه بما تحاز به الأنساب، في السؤال والجواب، والكتابة والخطاب؛ والرسوم والظواهر، والكراسي والمنابر؛ حتى تواتر فيهم هنا [يعني بالمغرب] تواتره في أسلافهم هناك [يعني بالأندلس]»(3).

--------------------------------------------

(1) نشر المثاني: 2/ 271.

(2) عن فهرس الفهارس للشيخ عبد الحي الكتاني: 2/ 767.

(3) عناية أولي المجد بذكر آل الفاسي ابن الجد: ص: 6. وقال النسابة الشريف مولاي -

দ্বিতীয়ত: জাউইয়ার জ্ঞানতাত্ত্বিক মাদরাসার প্রভাব তার সমসাময়িক যুগে সমগ্র মাগরিব অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল। আল-কাদিরি বলেন: «ইফ্রিকিয়া এবং মাগরিবে খুব কমই এমন আলেম বা শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে, যে তাঁর [অর্থাৎ শায়খ আব্দুল কাদির আল-ফাসি] ছাত্র নয়, অথবা তাঁর ছাত্রদের ছাত্র নয়, অথবা যে কোনো উপায়ে তাঁর সাথে সম্পৃক্ততা বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না»(১).

তৃতীয়ত: সুন্নাহ এবং এর জ্ঞানসমূহের প্রতি বিশেষ যত্ন। আবু মুহাম্মাদ আবদুস সালাম ইবনুল খাইয়াত আল-কাদিরি শায়খ আব্দুল কাদির আল-ফাসির জীবনী বর্ণনাকালে বলেন: «. . . তিনি [অর্থাৎ শায়খ আব্দুল কাদির আল-ফাসি] হাদিস শাস্ত্র, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং সিরাত (জীবনী) শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করেছিলেন। কারণ ফাস-এর অধিবাসীরা ফিকহ শাস্ত্র ও আকলি (যৌক্তিক) শাস্ত্রসমূহ নিয়ে ব্যস্ত ছিল এবং হাদিস শাস্ত্র বর্জন করেছিল। অতঃপর এই জীবনীকার সেগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন এবং তা পুনরুজ্জীবিত করেন»(২).

 

‌‌তৃতীয়: আল-ফাসি পরিবার:

মাগরিব এবং আন্দালুসের বংশবিদ ও ঐতিহাসিকদের ঐকমত্য অনুযায়ী এই পরিবারের বংশ পরিচয় হলো «ফিহরি»। মরক্কোর সম্রাট আল্লামা মাওলা সুলায়মান আল-আলাওয়ি (মৃত্যু ১২৩৮ হিজরি) এই বিষয়ে বলেন: «. . . ফিহরের সাথে তাদের মৌলিক বংশীয় পরিচয়টি আদুওয়াতে [অর্থাৎ সুদূর মাগরিব] তাদের বসতি ফাস ও কাসর অঞ্চলে সর্বদা অবিচ্ছেদ্য ছিল। প্রশ্ন-উত্তর, লেখালেখি ও ভাষণ, দাপ্তরিক দলিল ও প্রকাশ্য কার্যাদি এবং ইলমি আসন ও মিম্বরসমূহের ক্ষেত্রে তারা এই বংশীয় মর্যাদা সেভাবেই ধরে রেখেছেন যেভাবে অন্যান্য আভিজাত্যপূর্ণ বংশের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে; এমনকি এখানেও [অর্থাৎ মাগরিবে] তাদের এই পরিচয় সেভাবেই মুতাওয়াতির (সর্বজনবিদিত) হয়ে যায়, যেভাবে সেখানে [অর্থাৎ আন্দালুসে] তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এটি মুতাওয়াতির ছিল»(৩).

--------------------------------------------

(১) নাশরুল মাসানি: ২/ ২৭১।

(২) শায়খ আব্দুল হাই আল-কাত্তানি রচিত ফিহরিসুল ফাহারিস থেকে: ২/ ৭৬৭।

(৩) ইনায়াতু উলিল মাজদ বি জিকর আলি ফাসি ইবনুল জাদ্দ: পৃষ্ঠা: ৬। এবং বংশবিদ শরীফ মাওলা - বলেন...

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد عرفوا في الأندلس بلقب «ابن الجد» مع النسبة الفهرية. قال المقري (ت 1041 هـ) : «وفي الأندلس (. . .) كثير من قريش المعروفون بالفهريين من بني محارب بن فهر، وهم من قريش الظواهر، ومنهم عبد الملك بن قطن سلطان الأندلس، ومن ولده بنو القاسم الأمراء الفضلاء، وبنو الجد الأعيان العلماء»(1).

وقد انتقل عبد الرحمن وأحمد ابنا أبي بكر ابن الجد الملقب ب «الحفيد» عن مالقة بالأندلس في حدود سنة ثمانين وثمانمائة بسبب الفتنة الناشئة بها(2). واستقرا بمدينة فاس.

وأبو الحجاج يوسف بن عبد الرحمن المذكور هو أول من لقب ب «الفاسي» من هذه الأسرة : كان يتردد من فاس إلى مدينة القصر الكبير بقصد التجارة، ثم تزوج بالقصر واستوطنه. فعرف هناك لقدومه من مدينة فاس بلقب «الفاسي»(3). وقد اشتهرت أسرته في المغرب بهذا اللقب إلى

--------------------------------------------

= إدريس الفضيلي : «. . . وأما نسبهم فإلى فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بلا خلاف» (الدرر البهية : 2/ 252).

(1) نفح الطيب من غصن الأندلس الرطيب : 1/ 290 - 291. وقد وقع خلاف قديم في الفرع الذي ينتسب إليه بنو الجد من فروع فهر بن مالك بن النضر بن كنانة. وليس هنا متسع لتفصيله.

(2) نشأت تلك الفتنة عن ثورة القائد القرسوطي، وكانت آخر النزاعات على الحكم بالأندلس، حيث سقطت مالقة بيد النصارى أواخر شعبان سنة 892 هـ. ثم أجلي المسلمون عن غرناطة آخر معاقلهم بالأندلس بعد مالقة بخمس سنين. ولله الأمر من قبل ومن بعد، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

(3) عن «مرآة المحاسن من أخبار الشيخ أبي المحاسن»، للعلامة المجتهد أبي حامد محمد العربي الفاسي الفهري (ت 1052 هـ) : ص 202.

তারা আন্দালুসে ফিহরি নিসবতের (বংশীয় পরিচিতি) পাশাপাশি 'ইবনুল জাদ্দ' উপাধিতে পরিচিত ছিলেন। আল-মাক্কারি (মৃ. ১০৪১ হি.) বলেন: "এবং আন্দালুসে (...) কুরাইশ বংশের অনেক লোক রয়েছেন যারা বনু মুহারিব ইবনে ফিহরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে ফিহরি হিসেবে পরিচিত। তারা কুরাইশ আজ-জাওয়াহিরের বংশোদ্ভূত। তাদের মধ্যে ছিলেন আন্দালুসের সুলতান আব্দুল মালিক ইবনে কাতান। তাঁর সন্তানদের মধ্যে রয়েছেন বনু আল-কাসিম যারা ছিলেন শ্রেষ্ঠ আমীর এবং বনু আল-জাদ্দ যারা ছিলেন বিশিষ্ট আলেম।"(১).

'আল-হাফিদ' উপাধিতে ভূষিত আবু বকর ইবনুল জাদ্দ-এর দুই পুত্র আব্দুর রহমান ও আহমদ আন্দালুসের মালাগাহ থেকে সেখানে উদ্ভূত ফিতনার কারণে আনুমানিক আটশত আশি হিজরি সনের দিকে হিজরত করেন(২) এবং ফাস শহরে বসতি স্থাপন করেন।

আর উল্লিখিত আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে আব্দুর রহমান হলেন এই পরিবারের প্রথম ব্যক্তি যিনি 'আল-ফাসি' উপাধিতে ভূষিত হন: তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে ফাস থেকে কাসর আল-কাবির শহরে যাতায়াত করতেন, এরপর তিনি কাসরে বিবাহ করেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ফাস শহর থেকে আসার কারণে তিনি সেখানে 'আল-ফাসি' উপাধিতে পরিচিতি লাভ করেন(৩)। মরক্কোতে তাঁর পরিবার এই উপাধিতেই প্রসিদ্ধি লাভ করে...

--------------------------------------------

= ইদ্রিস আল-ফুদাইলি বলেন: "...আর তাদের বংশের ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, তারা ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানার বংশধর" (আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ: ২/ ২৫২)।

(১) নাফহুত তীব মিন গুসনিল আন্দালুস আর-রাতীব: ১/ ২৯০ - ২৯১। ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে কিনানার কোন শাখা থেকে বনু আল-জাদ্দ বংশোদ্ভূত, এ নিয়ে একটি প্রাচীন মতভেদ রয়েছে। এখানে তার বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই।

(২) সেই ফিতনাটি সেনাপতি আল-কারসুতির বিদ্রোহ থেকে সৃষ্টি হয়েছিল, যা ছিল আন্দালুসের শাসন ক্ষমতা নিয়ে শেষ পর্যায়ের দ্বন্দ্বগুলোর একটি। এরপর ৮৯২ হিজরি সনের শাবান মাসের শেষের দিকে মালাগাহ খ্রিস্টানদের হস্তগত হয়। মালাগাহ পতনের পাঁচ বছর পর আন্দালুসে মুসলমানদের শেষ আশ্রয়স্থল গ্রানাডা থেকেও তাদের উচ্ছেদ করা হয়। পূর্বাপর সকল সিদ্ধান্ত আল্লাহরই হাতে, আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।

(৩) আল্লামা মুজতাহিদ আবু হামিদ মুহাম্মদ আল-আরাবি আল-ফাসি আল-ফিহরি (মৃ. ১০৫২ হি.) রচিত 'মিরআতুল মাহাসিন মিন আখবারিশ শাইখ আবিল মাহাসিন' থেকে: পৃষ্ঠা ২০২।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৪)
الآن، واكتفى رجالاتها به في توقيعاتهم غالبا استغناء بما اشتهر(1).

وولد لمحمد بن أبي الحجاج يوسف (912 - 974 هـ) بمدينة القصر أبو المحاسن يوسف (937 - 1013 هـ)(2) الذي انتقل إلى فاس وأسس بها زاويته، وبقي بها إلى حين وفاته، وانتشر منها علمه وأثره، وبها مدفنه. وهو الذي تشعبت منه فروع هذه الأسرة بالمغرب، فكان - رحمه الله تعالى - قعددها المبارك : نسبا، وعلما، وسلوكا. قال المولى سليمان : «هذا الشيخ هو قطب رحى بني الفاسي، وطود مجدهم الراسي، وبيت عددهم، وأصل مددهم»(3).

--------------------------------------------

(1) قال في مرآة المحاسن (ص 202) : «. . . كما جرت كثيرا النسبة إلى الأوطان - كما ذكره المحدثون - قالوا : ولا سيما في المتأخرين. وهو نوع من أنواع علوم الحديث، وبه ختم ابن الصلاح ومن تبعه في الترتيب كتابه، وجعله الشراطي والسمعاني وغيرهما من مقاصد كتبهم. ولما وقعت المعرفة والشهرة بهذا [يعني بلقب الفاسي] تنوسي ما كان قبله، لأن المقصود إنما هو ما يحصل به التعارف».

(2) خصصت لترجمته مؤلفات منها : «مرآة المحاسن من أخبار الشيخ أبي المحاسن» المذكور في هامش سابق. وكتاب «ابتهاج القلوب بخبر الشيخ أبي المحاسن وشيخه المجذوب» لحفيد ولده أبي زيد عبد الرحمن بن عبد القادر بن علي، اعتنت بتحقيقه الباحثة حفيظة الدازي ضمن رسالة جامعية تحت إشراف الدكتور محمد حجي نوقشت بكلية الآداب بجامعة محمد الخامس بالرباط خلال السنة الجامعية 1991 - 1992 م. وكتاب «روضة المحاسن الزهية بمآثر أبي المحاسن البهية» لحفيد ولده أبي عيسى المهدي بن أحمد بن علي (ت 1109 هـ) واختصره في نحو كراستين بعنوان «الجواهر الصفية من المحاسن اليوسفية»، وله عدة نسخ خطية بمختلف الخزانات المغربية، وبيدي منها نسختان.

(3) عناية أولي المجد : ص.16.

বর্তমানে, তার পরিবারের ব্যক্তিবর্গ তাদের স্বাক্ষরসমূহে এর মাধ্যমেই সন্তুষ্ট থাকেন, যা প্রসিদ্ধি লাভের কারণে যথেষ্ট মনে করা হয়(১)।

মুহাম্মদ ইবনে আবি আল-হাজ্জাজ ইউসুফের (৯১২ - ৯৭৪ হিজরি) ঘরে কাসর শহরে আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ (৯৩৭ - ১০১৩ হিজরি)(২) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফেজ শহরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে তার খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। সেখান থেকেই তার জ্ঞান ও প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানেই তার সমাধিস্থল অবস্থিত। তার মাধ্যমেই মরক্কোতে এই পরিবারের শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত হয়েছে। তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বংশপরম্পরা, জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক আচরণের ক্ষেত্রে এই পরিবারের বরকতময় ভিত্তি ছিলেন। মাওলা সুলাইমান বলেছেন: «এই শায়খ হলেন বনু ফাসি গোত্রের কেন্দ্রবিন্দু, তাদের সুদৃঢ় মর্যাদার পাহাড়, তাদের শক্তির আধার এবং তাদের সাহায্যের মূল উৎস»(৩)।

--------------------------------------------

(১) 'মিরআত আল-মাহাসিন' (পৃষ্ঠা ২০২) গ্রন্থে বলা হয়েছে: «. . . যেমনটি জন্মভূমির দিকে নিসবাহ বা সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার প্রচলন অধিক—যেমনটি মুহাদ্দিসগণ উল্লেখ করেছেন—তাঁরা বলেন: বিশেষ করে পরবর্তী প্রজন্মের আলেমদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। এটি ইলমে হাদিসের অন্যতম একটি প্রকার, এবং এর মাধ্যমেই ইবনে আস-সালাহ এবং যারা তাঁর বিন্যাস অনুসরণ করেছেন তারা নিজ নিজ গ্রন্থ সমাপ্ত করেছেন। আর আশ-শারাতী, আস-সামআনী এবং অন্যান্যরা একে তাঁদের কিতাবের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যখন এই উপাধির [অর্থাৎ আল-ফাসি] মাধ্যমে পরিচিতি ও প্রসিদ্ধি লাভ হলো, তখন এর পূর্বের বিষয়গুলো বিস্মৃত হয়ে গেল, কারণ প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করা»।

(২) তাঁর জীবনীর জন্য বেশ কিছু গ্রন্থ নিবেদিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: পূর্বোক্ত টীকায় উল্লিখিত ‘মিরআত আল-মাহাসিন মিন আখবার আশ-শায়খ আবি আল-মাহাসিন’। এবং তাঁর নাতির ঘরের নাতি আবু যায়েদ আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে আলীর রচিত ‘ইবতিহাজ আল-কুলুব বি-খাবার আশ-শায়খ আবি আল-মাহাসিন ওয়া শায়খিহি আল-মাজযুব’ কিতাবটি; গবেষক হাফিজা আদ-দাজি ডক্টর মুহাম্মদ হাজ্জির তত্ত্বাবধানে ১৯৯১ - ১৯৯২ শিক্ষাবর্ষে রাবাতের মুহাম্মদ আল-খামিস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য অনুষদে একটি একাডেমিক থিসিসের অংশ হিসেবে এটি সম্পাদনা করেছেন। এছাড়া তাঁর নাতির ঘরের নাতি আবু ঈসা আল-মাহদি ইবনে আহমদ ইবনে আলীর (মৃত্যু ১১০৯ হিজরি) রচিত ‘রওদাত আল-মাহাসিন আজ-যাহিয়্যাহ বি-মাআসির আবি আল-মাহাসিন আল-বাহিয়্যাহ’ গ্রন্থটি, যা তিনি প্রায় দুই খাতার সমপরিমাণে সংক্ষিপ্ত করেছেন যার শিরোনাম ‘আল-জাওয়াহির আস-সাফিয়্যাহ মিন আল-মাহাসিন আল-ইউসুফিয়্যাহ’। মরক্কোর বিভিন্ন লাইব্রেরিতে এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে এবং আমার নিকট এর দুটি পাণ্ডুলিপি আছে।

(৩) ইনায়াতু উলিল মাজদ: পৃ. ১৬।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৫)
والشيخ عبد القادر صاحب الخلاصة هو حفيده من ولده الفقيه العلامة الشيخ المربي سيدي علي (960 - 1030 هـ).

وقد أعقب الشيخ عبد القادر ابنين عالمين جليلين حافظين هما : سيدي عبد الرحمن (1040 - 1096 هـ)، وشيخ الجماعة الحافظ سيدي محمد - بفتح الميم - (1042 - 1116 هـ).

وأعقب سيدي محمد ثلاثة أبناء، هم : محمد الطيب وهو صاحب الشرح، وأبو مدين، وقد توفاهما الله تعالى في حياة والدهما عن غير عقب(1)، وأحمد ومنه جميع عقب الشيخ عبد القادر الموجودين اليوم(2). ومنهم كاتب هذه الكلمات أصلح الله حاله.

والمجال هنا ضيق عن ذكر أسماء علماء الأسرة الفاسية المتعاصرين في ذلك العهد، فبالأحرى عن التعريف بمكانتهم العلمية التي كان لها من غير شك أثر كبير على كل من المصنف والشارح. وأجتزئ من ذلك بطرف من الخاتمة التي كتبها السلطان مولاي سليمان في مؤلفه الذي كتبه للتعريف بأعلام هذه الأسرة. حيث قال : «فلله كم في هذا البيت من العلماء العاملين، وأولياء الله الصالحين! قد ساق(3) الله بهم، منذ نزلوا

--------------------------------------------

(1) يعني عن غير عقب ذكر، وإلا فقد خلف سيدي محمد الطيب بنتا اسمها «منانة» تزوجت وخلفت بنين وبنات، كما يعلم من رسم إراثتها، وهو بيدي.

(2) توفي مؤخرا آخر من بقي من ذرية سيدي عبد الرحمن بن عبد القادر وهو سيدي عبد المالك عن غير عقب مطلقا.

(3) في المطبوع منها (سبق) بتوسط الباء، ولا يستقيم سياق الكلام بسببه، والمثبت من نسخة خطية خاصة منقولة عن خط المؤلف.

'খুলাসা' গ্রন্থের লেখক শায়খ আবদুল কাদির হলেন তাঁর নাতি, যিনি তাঁর পুত্র ফকিহ, আল্লামা, শায়খ ও মুরব্বি সিদি আলীর (৯৬০ - ১০৩০ হিজরি) সন্তান।

শায়খ আবদুল কাদির দুই জন মহান আলেম ও হাফেজ পুত্র রেখে গিয়েছেন, তাঁরা হলেন: সিদি আবদুর রহমান (১০৪০ - ১০৯৬ হিজরি) এবং শাইখুল জামায়াত হাফেজ সিদি মুহাম্মদ —মীমে ফাতহাহ যোগে— (১০৪২ - ১১১৬ হিজরি)।

সিদি মুহাম্মদ তিন জন পুত্র সন্তান রেখে গিয়েছেন, তাঁরা হলেন: মুহাম্মদ তাইয়্যিব—যিনি এই ব্যাখ্যার (শারহ) লেখক—এবং আবু মাদইয়ান; আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়কে তাঁদের পিতার জীবদ্দশায় নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যু দান করেছেন(১)। আর অপরজন হলেন আহমদ, বর্তমান সময়ে শায়খ আবদুল কাদিরের সকল বংশধর তাঁর মাধ্যমেই এসেছে(২)। এই কথাগুলোর লেখকও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাঁর অবস্থার সংশোধন করে দিন।

সেই যুগে বিদ্যমান 'ফাসি' পরিবারের সমসাময়িক আলেমদের নাম উল্লেখ করার জন্য এখানে পরিসর অত্যন্ত সংক্ষেপ, আর তাঁদের ইলমি মর্যাদা সম্পর্কে পরিচিতি প্রদান তো আরও সুদূরপরাহত, যা নিঃসন্দেহে গ্রন্থকার ও ব্যাখ্যাকার—উভয়ের ওপরই ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। আমি এর মধ্য থেকে সুলতান মাওলে সুলাইমানের তাঁর সেই রচনার উপসংহারের একটি অংশ উদ্ধৃত করছি, যা তিনি এই পরিবারের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রদানের জন্য লিখেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছেন: «আল্লাহর কসম! এই পরিবারে কত আমলকারী আলেম এবং আল্লাহর নেককার ওলিগণ রয়েছেন! তাঁরা যখন থেকে এখানে বসতি স্থাপন করেছেন, আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে (মানুষকে) পরিচালনা করেছেন(৩)...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ কোনো পুত্র সন্তান রেখে যাননি, অন্যথায় সিদি মুহাম্মদ তাইয়্যিব 'মান্নানা' নাম্নী এক কন্যা সন্তান রেখে গিয়েছিলেন, যাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তিনি পুত্র-কন্যা সন্তান রেখে গিয়েছেন, যেমনটা তাঁর উত্তরাধিকারের দলিল থেকে জানা যায় যা আমার নিকট রয়েছে।

(২) সম্প্রতি সিদি আবদুর রহমান বিন আবদুল কাদিরের বংশধরদের মধ্যে সর্বশেষ জীবিত ব্যক্তি সিদি আবদুল মালিক সম্পূর্ণ নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

(৩) এর মুদ্রিত কপিতে 'সাবাকা' (ب সহযোগে) এসেছে, যার ফলে বাক্যের প্রাসঙ্গিকতা ঠিক থাকে না। পাঠ্যে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা লেখকের স্বহস্তে লিখিত কপি থেকে নকলকৃত একটি বিশেষ পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া হয়েছে।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৬)
بهذه العدوة المغربية، ما كان لهم من الفضل في الجزيرة الأندلسية؛ بل زادوا مزية أخرى، بتكرير الولاية الكبرى؛ حتى انتشرت في الأولياء مناقبهم، وارتفعت بين العلماء مناصبهم. فمزيتهم في العلم والصلاح شائعة، وأحوالهم في الخيرات بين الناس ذائعة. منذ قدموا على فاس، وهم يبثون العلوم في صدور الناس؛ وذلك نحو ثلاثمائة سنة أو أكثر؛ والأول لمن بعده كالصبح إذا أسفر. فما منهم إلا من قرأ العلم فحققه، وأحكم قياسه وحرر طرقه؛ وعم الانتفاع به في العباد، وشاعت فضائله في البلاد. وقلما تجد في المغرب من أحد، عالما أو صالحا، إلا ومنهم صار له المدد؛ وعليهم عول في طريقه واعتمد»(1).

--------------------------------------------

(1) عناية أولي المجد : ص.80.

এই মরক্কীয় ভূখণ্ডে, আন্দালুস উপদ্বীপে তাদের যে শ্রেষ্ঠত্ব ছিল তা বজায় রয়েছে; বরং তারা মহা বেলায়েতের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে আরও একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি করেছেন; এমনকি ওলীদের মাঝে তাদের মহিমা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আলেমদের মাঝে তাদের মর্যাদা উচ্চকিত হয়েছে। জ্ঞান ও নেককারিতে তাদের বিশেষত্ব সুবিদিত এবং মানুষের মাঝে কল্যাণকর কাজে তাদের অবস্থা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। যখন থেকে তারা ফেজ-এ এসেছেন, তখন থেকেই তারা মানুষের অন্তরে ইলম প্রচার করে চলেছেন; আর তা প্রায় তিনশ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে; তাদের প্রথম প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উজ্জ্বল প্রভাতের ন্যায়। তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি ইলম পাঠ করে তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেননি এবং এর যুক্তিকে সুদৃঢ় ও এর পদ্ধতিসমূহকে পরিমার্জিত করেননি; ফলে বান্দাদের মাঝে এর উপকারিতা ব্যাপক হয়েছে এবং দেশজুড়ে এর শ্রেষ্ঠত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। মরক্কোতে এমন কোনো আলেম বা নেককার ব্যক্তি খুব কমই পাওয়া যাবে, যার নিকট তাদের পক্ষ থেকে সাহায্য পৌঁছেনি; এবং তিনি তার পথে তাদের ওপরই নির্ভর করেছেন ও ভরসা রেখেছেন।(১)

--------------------------------------------

(১) ইনায়াতু উলিল মাজদ: পৃ. ৮০।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌2 - المصنف: الشيخ عبد القادر الفاسي

الاثنين 2 رمضان 1007 هـ/29 مارس 1599 م الأربعاء 8 رمضان 1091 هـ/2 أكتوبر 1680 م

 

‌‌تقديم:

إن التعريف بالشيخ عبد القادر هو صفحة من صفحات التعريف بدور علماء الإسلام في الزوايا الصوفية بأرض المغرب الأقصى في الحفاظ على توقد جذوة هذا الدين في النفوس، وتألق علوم الشريعة الغراء خلال أحلك الظروف وأشد النكبات.

«ومن الجاري على الألسنة - وحكاه لي بعضهم عن شيخنا أورع أهل زمانه سيدي الكبير بن محمد السرغيني رضي الله عنه قولهم: لولا ثلاثة لا نقطع العلم من المغرب في القرن الحادي عشر لكثرة الفتن التي ظهرت فيه، وهم: سيدي محمد - فتحا - بن ناصر في درعة، وسيدي محمد بن أبي بكر الدلائي في الدلاء، وسيدي عبد القادر الفاسي بفاس»(1).

وهؤلاء الثلاثة هم شيوخ الزوايا الناصرية والدلائية والفاسية، وهذا القول المتواتر على ألسنة أهل العلم، المعلوم على التحقيق لمن تدبر أحداث هذه الفترة من التاريخ، هو من قبيل التعيين لما أطلقت، والتفصيل لما أجملت. وكفى به شاهدا على ما ذكرت.

--------------------------------------------

(1) نشر المثاني: 2/ 274 - 275.

২ - গ্রন্থকার: শায়খ আব্দুল কাদির আল-ফাসি

সোমবার ২ রমজান ১০০৭ হিজরি / ২৯ মার্চ ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দ - বুধবার ৮ রমজান ১০৯১ হিজরি / ২ অক্টোবর ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দ

 

ভূমিকা:

নিশ্চয়ই শায়খ আব্দুল কাদির সম্পর্কে পরিচিতি প্রদান করা হলো সুদূর মাগরিবের (মরক্কো) সুফি জাউইয়াসমূহে (খানকাহ) ইসলামের আলেমদের সেই ভূমিকার একটি দিক উন্মোচন করা, যা অন্ধকারতম পরিস্থিতি এবং চরম দুর্যোগের সময় মানুষের হৃদয়ে এই দ্বীনের শিখাকে প্রজ্জ্বলিত রাখতে এবং উজ্জ্বল শরীয়ত বিজ্ঞানের দীপ্তি সমুন্নত রাখতে সহায়ক হয়েছিল।

«মানুষের মুখে মুখে যা প্রচলিত — এবং তাদের কেউ কেউ আমাদের সময়ের অন্যতম পরহেজগার ব্যক্তি আমাদের শায়খ সিদি আল-কবির বিন মুহাম্মদ আল-সারগিনি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন — তাদের উক্তি: যদি তিনজন ব্যক্তি না থাকতেন, তবে একাদশ শতাব্দীতে মাগরিব থেকে ইলম বা জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে যেত, কারণ তখন সেখানে অসংখ্য ফিতনা বা গোলযোগের প্রকাশ ঘটেছিল। তাঁরা হলেন: দারা অঞ্চলে সিদি মুহাম্মদ বিন নাসির, দিলা অঞ্চলে সিদি মুহাম্মদ বিন আবি বকর আদ-দিলায়ি এবং ফেজ অঞ্চলে সিদি আব্দুল কাদির আল-ফাসি»(১)।

এই তিনজন হলেন যথাক্রমে নাসিরিয়া, দিলাইয়া এবং ফাসিয়া জাউইয়াসমূহের শায়খগণ। আলেমদের মুখে মুখে ব্যাপকভাবে প্রচলিত এই উক্তিটি — যা ইতিহাসের এই সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে গবেষণাকারীদের নিকট নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত — আমার ইতিপূর্বে করা সাধারণ বক্তব্যের নির্দিষ্টকরণ এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ। আমি যা উল্লেখ করেছি তার সাক্ষী হিসেবে এটিই যথেষ্ট।

--------------------------------------------

(১) নাশরুল মাসানি: ২/ ২৭৪ - ২৭৫।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌أ - الاسم والنسب واللقب والحلى:

هو عبد القادر بن علي بن يوسف الفاسي الفهري ابن الجد. وقد تقدم الكلام عن هذه النسب وأصلها عند الحديث عن الأسرة الفاسية.

يلقب ب «أبي محمد» رغم أن محمدا أصغر ولديه، وهي عادة جارية تتعلق بالاسم لا بالولد.

ويكنى كثيرا على لسان مترجميه وغيرهم ب «أبي السعود» وأصل هذه الكنية من وضع ولده الحافظ أبي زيد عبد الرحمن، قال: «وإنما كنيته بأبي السعود لكثرة ما يميل إلى حال أبي السعود بن الشبل، وكثرة شبهه به في قوة أدبه مع ربه، وما شهد له الجمهور من مشايخه فمن دونهم به، من وفور العقل. وكان كلما نسب إلى شيء زهد فيه، وإذا ذكر له عن أحد تصرف أو نسبة حال أو مقام يقول له: قل له يأخذ حقي وحقه»(1).

ويكنيه حفيده محمد الصغير بن عبد الرحمن ب «أبي البركات»(2)، وهو واضح المناسبة لمن عرف كثرة بركات الشيخ عبد القادر.

--------------------------------------------

(1) تحفة الأكابر: 1/ 37. وابن الشبل هو أبو علي الحسين بن عبد الله بن شبل المتوفى سنة 474 هـ (عيون الأنباء: 1/ 247، كشف الظنون: 1/ 766). وهو من تلاميذ الشيخ عبد القادر الجيلاني. ووجه التشبيه بين حال ابن الشبل وحال الشيخ عبد القادر هو أمران: وفور العقل والحكمة، والزهد في المقامات العالية مع استحقاقها استغناء بالعبودية لله تعالى. وهذا من ذاك.

(2) هي كنية خاصة مطردة في فهرسته «المنح البادية» كما لاحظه محققها الدكتور سيدي محمد الصقلي الحسيني ص 109.

ক - নাম, বংশপরিচয়, উপাধি ও ভূষণ:

তিনি হলেন আব্দুল কাদির বিন আলী বিন ইউসুফ আল-ফাসি আল-ফিহরি ইবনুল জাদ্দ। ফাসি পরিবার সম্পর্কে আলোচনার সময় ইতিপূর্বে এই বংশধারা এবং এর উৎস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

তাকে ‘আবু মুহাম্মদ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, যদিও মুহাম্মদ তার দুই ছেলের মধ্যে ছোট। এটি একটি প্রচলিত রীতি যা নামের সাথে সংশ্লিষ্ট, সন্তানের জ্যেষ্ঠতার সাথে নয়।

জীবনীকার ও অন্যদের ভাষায় তিনি প্রায়ই ‘আবুস সুউদ’ উপনামে অভিহিত হন। এই উপনামের মূল প্রবর্তক হলেন তার পুত্র হাফেজ আবু জাইদ আব্দুর রহমান। তিনি বলেন: “আমি তাকে আবুস সুউদ উপনামে অভিহিত করেছি কারণ তিনি আবুস সুউদ বিন আল-শিবলের অবস্থার প্রতি অধিক অনুরক্ত ছিলেন এবং তার রবের সাথে শিষ্টাচার বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। এছাড়া সর্বস্তরের উস্তাদ ও আলেমদের নিকট তিনি প্রখর বুদ্ধিমত্তার জন্য স্বীকৃত ছিলেন। যখনই তার সাথে কোনো কিছুর কৃতিত্বের সম্পর্ক স্থাপন করা হতো, তিনি তা থেকে বিমুখ থাকতেন। আর যদি কারো আধ্যাত্মিক কারিশমা বা কোনো অবস্থা কিংবা মাকামের কথা তার কাছে উল্লেখ করা হতো, তখন তিনি বলতেন: তাকে বলো সে যেন আমার ও তার উভয় অধিকার গ্রহণ করে নেয়”(১)।

তার নাতি মুহাম্মদ আল-সাগির বিন আব্দুর রহমান তাকে ‘আবুল বারাকাত’ উপনামে ভূষিত করেছেন(২)। যারা শায়খ আব্দুল কাদিরের বরকতের প্রাচুর্য সম্পর্কে অবগত, তাদের কাছে এই নামকরণের যথার্থতা অত্যন্ত স্পষ্ট।

--------------------------------------------

(১) তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৩৭। ইবনুল শিবল হলেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন শিবল, মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি (উয়ুনুল আনবা: ১/ ২৪৭, কাশফুয যুনুন: ১/ ৭৬৬)। তিনি শায়খ আব্দুল কাদির জিলানির অন্যতম ছাত্র ছিলেন। ইবনুল শিবল ও শায়খ আব্দুল কাদিরের অবস্থার মধ্যে সাদৃশ্যের কারণ দুটি: বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার পূর্ণতা এবং উচ্চ মাকামের যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর দাসত্বের ওপর তুষ্ট থেকে সেই মাকামসমূহের প্রতি নির্লিপ্ততা বা যুহদ। এটি মূলত একটি থেকে অন্যটিরই প্রতিফলন।

(২) এটি একটি বিশেষ উপনাম যা তার ‘আল-মিনাহুল বাদিয়াহ’ নামক ফিহরিস্টে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি এর গবেষক ডক্টর সিদি মুহাম্মদ আস-সাকলি আল-হুসাইনি ১০৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويحلى ب «شيخ الجماعة»، وب «إمام الأئمة»، نظرا لأن الله تعالى قد نسأ في عمره، وبارك في علمه، حتى ألحق الأصاغر بالأكابر، فكان سائر علماء القطر المغربي من تلامذته بالتعلم أو بالإجازة. وقد تقدم قريبا كلام القادري في هذا الشأن. وقد صار الشيخ عبد القادر في العصور الموالية قعددا للإسناد في المغرب والمشرق على حد سواء.

ويحلى أيضا ب «شيخ الإسلام»، وصاحب هذه الحلية في الدولة العثمانية هو متولي خطة الإفتاء. وأما في المغرب فلم تكن الفتوى ضمن الخطط المعتبرة في نطاق التراتيب الإدارية في أي عصر من العصور، وإنما ظلت الفتوى عملا تطوعيا. فلعل هذه الحلية إنما أطلقت على الشيخ عبد القادر تقليدا لما كان مصطلحا عليه بالنسبة للعثمانيين الذي كانوا في أدنى الحدود الشرقية من المغرب. ويزكي هذا ما كان لفتاوى الشيخ عبد القادر من الاعتبار عند حكام عصره على مختلف مستوياتهم من السلطان فمن دونه، كما في سائر الأوساط العلمية في عصره فما بعده.

ويحلى ب «العارف بالله» كما في عدد لا أحصيه من المصنفات والوثائق.

ويحلى ب «القطب» كما سنقف عليه في صدر نسخة خلاصة الأصول لا حقا، وكما في غيرها. وهي حلية ابتدأها بالنسبة للشيخ عبد القادر تلميذه الشيخ أبو سالم العياشي بنقل عن بعض أكابر الوقت، «وشاع ذلك في الألسنة ولهج به العموم والخصوص، ولم ينكر ذلك الشيخ رضي الله عنه»(1).

--------------------------------------------

(1) تحفة الأكابر : 1/ 107.

তাকে 'শাইখুল জামাআ' (সম্প্রদায়ের শাইখ) এবং 'ইমামুল আইম্মাহ' (ইমামদের ইমাম) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এর কারণ হলো, মহান আল্লাহ তাঁর আয়ু দীর্ঘ করেছিলেন এবং তাঁর ইলমের মধ্যে বরকত দান করেছিলেন, যার ফলে তিনি নবীনদের প্রবীণদের স্তরে উন্নীত করেছিলেন। ফলে মরক্কো অঞ্চলের সমস্ত আলেমই প্রত্যক্ষ শিক্ষাগ্রহণ অথবা ইজাজতের মাধ্যমে তাঁর ছাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। এ বিষয়ে আল-কাদরীর বক্তব্য ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। পরবর্তী যুগগুলোতে শাইখ আবদুল কাদির মাগরিব (পশ্চিম) ও মাশরিক (পূর্ব) উভয় অঞ্চলেই সমভাবে সনদের সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিতে পরিণত হন।

তাঁকে 'শাইখুল ইসলাম' হিসেবেও ভূষিত করা হয়। উসমানীয় সাম্রাজ্যে এই উপাধির অধিকারী হতেন ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ব্যক্তি। পক্ষান্তরে মরক্কোতে কোনো যুগেই ফতোয়া প্রদান প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পদ ছিল না, বরং তা একটি স্বেচ্ছামূলক ইলমী কাজ হিসেবেই অব্যাহত ছিল। সম্ভবত শাইখ আবদুল কাদিরের ক্ষেত্রে এই উপাধিটি উসমানীয়দের পরিভাষার অনুকরণে ব্যবহার করা হয়েছিল, যারা মরক্কোর নিকটতম পূর্ব সীমান্তে অবস্থান করত। সুলতান থেকে শুরু করে তাঁর অধস্তন পর্যায়ের সমকালীন শাসকদের কাছে শাইখ আবদুল কাদিরের ফতোয়ার যে গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল, তা এই বিষয়টিকে আরও জোরালো করে। অনুরূপভাবে তাঁর সমসাময়িক এবং পরবর্তী সময়ের সকল ইলমী মহলেও তাঁর এই গ্রহণযোগ্যতা বিদ্যমান ছিল।

অসংখ্য গ্রন্থ ও নথিপত্রে তাঁকে 'আরিফ বিল্লাহ' (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) হিসেবেও ভূষিত করা হয়েছে।

তাঁকে 'কুতুব' হিসেবেও অভিহিত করা হয়, যেমনটি আমরা পরবর্তীতে 'খুলাসাতুল উসুল' গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির শুরুতে এবং অন্যান্য গ্রন্থে দেখতে পাব। শাইখ আবদুল কাদিরের ক্ষেত্রে এই উপাধিটি সর্বপ্রথম তাঁর ছাত্র শাইখ আবু সালেম আল-আইয়াশী সমকালীন কিছু মহান ব্যক্তির উদ্ধৃতিতে ব্যবহার শুরু করেন। এরপর এটি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ ও বিশেষ সকল স্তরের মানুষ এটি বলতে শুরু করে। আর শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিজেও তা অস্বীকার করেননি।(১).

--------------------------------------------

(১) তুহফাতুল আকাবির: ১/ ১০৭।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌ب - ولادته ونشأته ودراسته بالقصر الكبير:

«ولد رضي الله عنه بالقصر الكبير عند زوال يوم الاثنين ثاني رمضان سنة سبعة وألف. ونشأ في حجر والده مصونا عن عبث الصبيان، وعن لهو الأقران، ملازما لدار جده، وبها ولد وربي محفوفا بالتدريج الرحماني، والتوفيق الرباني»(1).

وقد وهبه الله تعالى في طلب العلم استعدادات خاصة «. . . فيسر الله له القراءة والتعلم حتى كان يحفظ دون كثير قراءة. حدثنا من كان يقرأ معه في الصغر أنه كان ينظر في اللوح، ويحرك شفتيه من غير أن يسمع له صوت، ثم يعرض لوحه كما ينبغي»(2).

وقد كان الشيخ عبد القادر يوم غادر القصر الكبير إلى فاس لطلب العلم عن شيوخها ابن ثمانية عشر عاما آخذا بحظ وافر في عدد من العلوم.

فقد ابتدأ على العادة بحفظ القرآن على يد معلمه «الرجل الصالح سيدي غانم السفياني»(3).

ويأتي في طليعة شيوخه بالقصر والده سيدي علي (960 - 1030 هـ)، وأخواه أحمد (997 - 1062 هـ) ومحمد - بالفتح - أبو عسرية (995 - 1048 هـ). ونجد في تحفة الأكابر من شيوخه بالقصر أيضا،

--------------------------------------------

(1) نفسه: 1/ 58.

(2) نفسه: 1/ 79.

(3) تحفة الأكابر: 1/ 58.

খ - তাঁর জন্ম, লালন-পালন এবং আল-কাসর আল-কাবিরে তাঁর শিক্ষা:

«তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) ১০০৭ হিজরি সনের ২রা রমজান সোমবার দ্বিপ্রহরের সময় আল-কাসর আল-কাবিরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে বালকদের অনর্থক কাজ এবং সমবয়সীদের খেল-তামাশা থেকে সুরক্ষিত থেকে বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর দাদার ঘরেই অবস্থান করতেন, সেখানেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং দয়াময় আল্লাহর অনুগ্রহ ও ঐশী তাওফিকের আবহে ধাপে ধাপে লালিত-পালিত হন»(১)।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইলম অন্বেষণে বিশেষ যোগ্যতা দান করেছিলেন «... আল্লাহ তাঁর জন্য পড়া ও শেখা সহজ করে দিয়েছিলেন, এমনকি তিনি খুব বেশি পড়া ছাড়াই মুখস্থ করতে পারতেন। বাল্যকালে তাঁর সাথে যারা পড়তেন তারা আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, তিনি লওহ বা ফলকের দিকে তাকাতেন এবং কোনো শব্দ না করেই তাঁর ঠোঁট নাড়াতেন, এরপর তিনি তাঁর পড়াটি যথাযথভাবে শুনিয়ে দিতেন»(২)।

শেখ আব্দুল কাদির যখন ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে ফেজ শহরের শায়খদের কাছে যাওয়ার জন্য আল-কাসর আল-কাবির ত্যাগ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর এবং তিনি ইতোমধ্যেই বেশ কিছু শাস্ত্রে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

তিনি প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী তাঁর শিক্ষক পুণ্যবান ব্যক্তি «সিদি গানিম আস-সুফিয়ানি»-র নিকট কুরআন মুখস্থ করার মাধ্যমে শিক্ষা জীবন শুরু করেন(৩)।

আল-কাসরে তাঁর শায়খদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন তাঁর পিতা সিদি আলী (৯৬০ - ১০৩০ হি.), এবং তাঁর দুই ভাই আহমদ (৯৯৭ - ১০৬২ হি.) ও মুহাম্মদ —জবর যোগে— আবু আসরিয়াহ (৯৯৫ - ১০৪৮ হি.)। এছাড়া ‘তুহফাতুল আকাবির’ গ্রন্থে আল-কাসরে অবস্থানকারী তাঁর আরও কিছু শায়খদের নাম পাওয়া যায়,

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত: ১/ ৫৮।

(২) প্রাগুক্ত: ১/ ৭৯।

(৩) তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৫৮।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩১)
«الفقيه سيدي محمد أزيات، وسيدي محمد الرفاس، وسيدي عبد القوي»(1).

ولم يأت في إجازته الإسناد من بينهم إلا عن والده في علمي الفقه والنحو(2)، وعن أخيه أحمد في علم الحساب(3). ويفيدنا ولده سيدي عبد الرحمن في تحفة الأكابر أنه «لازم القراءة على أخيه الفقيه الإمام أبي العباس أحمد مدة»(4).

 

‌‌ج - إجازاته العامة عن شيوخه الثلاثة:

احتل مكان الصدارة من إجازة الشيخ عبد القادر ثلاثة من الشيوخ هم: عم أبيه أبو زيد عبد الرحمن بن محمد المشهور بالعارف بالله (972 - 1036 هـ)(5)، والقاضي ابن أبي النعيم الغساني (952 -

--------------------------------------------

(1) نفسه: ص س.

(2) مخطوط الخزانة العامة من إجازة سيدي عبد القادر على التوالي: ص 37 ثم 53. ومن مصادر ترجمة والده سيدي علي: مرآة المحاسن: ص 210 وص.289، تحفة الأكابر: 1/ 60، صفوة من انتشر: ص 166، نشر المثاني: 1/ 139، التقاط الدرر: ص 77، عناية أولي المجد: ص 24، زهرة الآس: 2/ 71.

(3) إجازة الشيخ عبد القادر: ص 47.

(4) 1/ 58. من مصادر ترجمته: عناية أولي المجد: ص 32.

(5) من مصادر ترجمته: «أزهار البستان في أخبار الشيخ أبي محمد عبد الرحمن» لحفيده من ابنته فاطمة سيدي عبد الرحمن بن عبد القادر (مخطوط الخزانة العامة بالرباط رقم: 2074 د. ابتهاج القلوب بخبر الشيخ أبي المحاسن وشيخه المجذوب لنفس المؤلف (تحقيق حفيظة الدازي). وممتع الأسماع: ص 190، ومرآة المحاسن: ص 207. والصفوة: ص 34، ونشر المثاني: 1/ 266. والتقاط الدرر: ص 85، وعناية أولي المجد: ص 25.

«ফকীহ সিদি মুহাম্মদ আজইয়াত, সিদি মুহাম্মদ আর-রাফ্ফাস এবং সিদি আব্দুল ক্বাউয়ি»(১).

তাঁর ইজাজাহর বর্ণনাসূত্রে তাঁদের মধ্য থেকে কেবল ফিকহ ও নাহু শাস্ত্রে তাঁর পিতার পক্ষ থেকে(২) এবং হিসাব বিজ্ঞানে তাঁর ভাই আহমদের পক্ষ থেকে বর্ণনা এসেছে(৩)। তাঁর পুত্র সিদি আব্দুর রহমান 'তুহফাতুল আকাবির'-এ আমাদের জানান যে, তিনি «দীর্ঘদিন তাঁর ভাই ফকীহ ইমাম আবুল আব্বাস আহমদের নিকট পঠন-পাঠনে রত ছিলেন»(৪).

 

‌‌গ - তাঁর তিন শাইখের পক্ষ থেকে তাঁর সাধারণ ইজাজাহসমূহ:

শাইখ আব্দুল কাদিরের ইজাজাহর ক্ষেত্রে তিনজন শাইখ অগ্রগণ্য স্থান দখল করে আছেন, তাঁরা হলেন: তাঁর পিতার চাচা আবু যায়েদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ, যিনি আরিফ বিল্লাহ হিসেবে প্রসিদ্ধ (৯৭২ - ১০৩৬ হিজরি)(৫), এবং কাযী ইবনে আবি নুয়াইম আল-গাসসানি (৯৫২ -

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত: পৃষ্ঠা স।

(২) সিদি আব্দুল কাদিরের ইজাজাহ থেকে আল-খিজানাহ আল-আম্মাহ-এর পাণ্ডুলিপি ধারাবাহিকভাবে: পৃষ্ঠা ৩৭ এরপর ৫৩। তাঁর পিতা সিদি আলীর জীবনীর উৎসসমূহের মধ্যে: মিরাতুল মাহাসিন: পৃষ্ঠা ২১০ ও ২৮৯, তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৬০, সাফওয়াতু মান ইনতাশার: পৃষ্ঠা ১৬৬, নাশরুল মাসানি: ১/ ১৩৯, ইলতিকাতুদ দুরার: পৃষ্ঠা ৭৭, ইনায়েতু উলিল মাজদ: পৃষ্ঠা ২৪, জাহরাতুল আস: ২/ ৭১।

(৩) শাইখ আব্দুল কাদিরের ইজাজাহ: পৃষ্ঠা ৪৭।

(৪) ১/ ৫৮। তাঁর জীবনীর উৎসসমূহের মধ্যে: ইনায়েতু উলিল মাজদ: পৃষ্ঠা ৩২।

(৫) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহের মধ্যে: তাঁর কন্যা ফাতিমার পুত্র সিদি আব্দুর রহমান বিন আব্দুল কাদিরের রচিত «আযহারুল বুস্তান ফি আখবারিশ শাইখ আবি মুহাম্মদ আব্দুর রহমান» (রাবাতের আল-খিজানাহ আল-আম্মাহ-এর পাণ্ডুলিপি নম্বর: ২০৭৪ দ)। একই লেখকের «ইবতিহাজুল কুলুব বি-খাবারিশ শাইখ আবিল মাহাসিন ওয়া শাইখিহিল মাজজুব» (হাফিজাহ আদ-দাজি কর্তৃক সম্পাদিত)। এবং মুমতিউল আসমা: পৃষ্ঠা ১৯০, মিরাতুল মাহাসিন: পৃষ্ঠা ২০৭, আস-সাফওয়াহ: পৃষ্ঠা ৩৪, নাশরুল মাসানি: ১/ ২৬৬, ইলতিকাতুদ দুরার: পৃষ্ঠা ৮৫, ইনায়েতু উলিল মাজদ: পৃষ্ঠা ২৫।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩২)
1032 هـ)(1)، وعمه أبو حامد محمد العربي بن أبي المحاسن (988 - 1052 هـ)(2).

وقد أجازه ثلاثتهم بسائر ما أجازهم به شيوخهم من حديث وتفسير وأصول ونحو وبيان وعقائد ولغة وشعر وأنساب وتعبير وعروض ومنطق وحساب وهندسة وتوقيت وطب وفرائض ورسم وتاريخ وكتب القوم من الصوفية.

ويمكننا أن نعتبر إجازة الشيخ عبد القادر جمعا بين برامج شيوخ هؤلاء الأئمة الثلاث، بحيث يمكن أن تستنبط منها فهرسة لكل واحد منهم. ولا نعلم أن لأصل ذلك وجودا في غيرها مثلها أو أعلى منها سندا. إلا ما كان من شيوخ التصوف فقد ذكر سيدي محمد العربي شيوخه في ترجمته لنفسه بختام مرآة المحاسن.

 

‌‌د - بقية شيوخه وما أخذه عن كل واحد منهم:

يأتي في الدرجة اللاحقة لأولئك الثلاثة شيخه «الفقيه المشارك أبو

--------------------------------------------

(1) من مصادر ترجمته مرآة المحاسن: ص 223. نشر المثاني: 1/ 254، والتقاط الدرر: ص 80. والمنح البادية: 2/ 151 وشجرة النور الزكية:.298.

(2) من مصادر ترجمته: ترجمته لنفسه في مرآة المحاسن: ص 159 إلى آخر الكتاب، صفوة من انتشر: ص 71، نشر المثاني: 2/ 10، التقاط الدرر: ص 114، مناقب الحضيكي: 2/ 226، عناية أولي المجد: ص 29، الدرر البهية: 2/ 279، سلوة الأنفاس: 2/ 313، تاريخ تطوان: 2/ 278، الأعلام: 6/ 265، تقديم تحقيق عقد الدرر في نظم نخبة الفكر له، للدكتور محمد بن عزوز، تقديم تحقيق مرآة المحاسن للدكتور سيدي حمزة الكتاني.

১০৩২ হি.)(১), এবং তাঁর চাচা আবু হামিদ মুহাম্মদ আল-আরাবি বিন আবিল মাহাসিন (৯৮৮ - ১০৫২ হি.)(২)।

তাঁদের এই তিনজনই তাঁকে সেই সকল বিষয়ে ইজাজত প্রদান করেছেন যেগুলোতে তাঁদের শায়খগণ তাঁদেরকে ইজাজত দিয়েছিলেন; যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হাদিস, তাফসির, উসুল, নাহু (ব্যাকরণ), বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র), আকিদা, ভাষা, কবিতা, বংশতালিকা, স্বপ্নতত্ত্ব, ছন্দপ্রকরণ, যুক্তিবিদ্যা, পাটিগণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান (সময় নির্ধারণ বিদ্যা), চিকিৎসাশাস্ত্র, ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), অঙ্কন, ইতিহাস এবং সুফি সাধকদের কিতাবসমূহ।

আমরা শায়খ আব্দুল কাদিরের এই ইজাজতকে উক্ত তিন ইমামের শায়খদের শিক্ষা কার্যক্রমের একটি সমষ্টি হিসেবে গণ্য করতে পারি, যা থেকে তাঁদের প্রত্যেকের একটি নির্ঘণ্ট বা তালিকা তৈরি করা সম্ভব। আমাদের জানামতে এর সমতুল্য বা এর চেয়ে উচ্চতর সনদের অন্য কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে তাসাউফের শায়খদের বিষয়টি ভিন্ন, কেননা সাইয়্যেদি মুহাম্মদ আল-আরাবি ‘মিরআত আল-মাহাসিন’ গ্রন্থের শেষে তাঁর স্বীয় জীবনীতে তাঁর শায়খদের কথা উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌দাল - তাঁর অন্যান্য শায়খ এবং তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি যা গ্রহণ করেছেন:

পূর্বোক্ত তিনজনের পরবর্তী স্তরে রয়েছেন তাঁর শায়খ «ফকিহ আল-মুশারিক আবু

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে: মিরআত আল-মাহাসিন: পৃষ্ঠা ২২৩; নাশরুল মাসানি: ১/২৫৪; আলতিকাত আদ-দুরার: পৃষ্ঠা ৮০; আল-মিনাহ আল-বাদিয়া: ২/১৫১ এবং শাজারাতুন নুর আজ-জাকিয়া: পৃষ্ঠা ২৯৮।

(২) তাঁর জীবনীর অন্যতম উৎসসমূহ: মিরআত আল-মাহাসিন গ্রন্থের শেষে তাঁর নিজের লেখা জীবনী: পৃষ্ঠা ১৫৯ থেকে গ্রন্থের শেষ পর্যন্ত; সাফওয়াতু মান ইনতাশার: পৃষ্ঠা ৭১; নাশরুল মাসানি: ২/১০; আলতিকাত আদ-দুরার: পৃষ্ঠা ১১৪; মানাকিবুল হাদিজি: ২/২২৬; ইনায়াতি উলিল মাজদ: পৃষ্ঠা ২৯; আদ-দুরার আল-বাহিয়্যাহ: ২/২৭৯; সালওয়াতুল আনফাস: ২/৩১৩; তারিখু তিতওয়ান: ২/২৭৮; আল-আ'লাম: ৬/২৬৫; তাঁর রচিত 'আকদ আদ-দুরার ফি নাযমি নুখবাতিল ফিকার' গ্রন্থের ড. মুহাম্মদ বিন আজজুয সম্পাদিত সংস্করণের ভূমিকা; ড. সাইয়্যেদি হামজা আল-কাত্তানি সম্পাদিত 'মিরআত আল-মাহাসিন' গ্রন্থের ভূমিকা।

(খণ্ড: ১) মিফতাহুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল ফী শারহি খুলাসাতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الحسن علي بن أبي القاسم ابن القاضي» (999 - 1082 هـ)(1) فقد أخذ عنه جملة من العلوم منها في علوم القرآن علم الرسم، والدرر اللوامع، والعشر لنافع(2). ومنها العروض(3) والحساب(4).

وأخذ عن شيخه «الفقيه المشارك النظار أبي محمد عبد الواحد بن أحمد ابن عاشر» (ت 1040 هـ)(5) الفقه(6) والأصول(7) كما أخذ عنه الشاطبية(8).

وأخذ عن «الفقيه المسن أبي عبد الله محمد بن أحمد الجنان الغرناطي المدجن» (953 - 1050 هـ)(9) الفقه(10) والبيان(11).

--------------------------------------------

(1) تحفة الأكابر : 1/ 59، ومن مصادر ترجمته : مرآة المحاسن : ص 221 وص.223، وتحفة الأكابر : 1/ 63، ونشر المثاني : 2/ 194، والتقاط الدرر : ص 188، والمنح البادية : 2/ 158.

(2) إجازة الشيخ عبد القادر : ص 45.

(3) نفسها : ص 46.

(4) نفسها : ص 47.

(5) تحفة الأكابر : 1/ 59، ومن مصادر ترجمته : تحفة الأكابر : 1/ 64، والمنح البادية : 2/ 152، ونشر المثاني : 1/ 283، والتقاط الدرر : ص 91.

(6) إجازة الشيخ عبد القادر الفاسي : ص 56.

(7) نفسها : ص 37.

(8) نفسها : ص 45.

(9) تحفة الأكابر : 1/ 59، ومن مصادر ترجمته : تحفة الأكابر : 1/ 63، والمنح البادية : 2/ 152، ونشر المثاني : 1/ 379، والتقاط الدرر : ص 111.

(10) إجازة الشيخ عبد القادر الفاسي : ص 59.

(11) نفسها : ص 39.

আল-হাসান আলী ইবনে আবি আল-কাসিম ইবনুল কাদি (৯৯৯ - ১০৮২ হিজরি)(১); তিনি তাঁর নিকট থেকে বেশ কিছু শাস্ত্র শিক্ষা করেছেন, যার মধ্যে কুরআন সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের অন্তর্গত ইলমুর রাসম, আদ-দুরারুল লাওয়ামি এবং ইমাম নাফে-এর দশ কিরাত অন্তর্ভুক্ত।(২) আর অন্যান্য শাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ছন্দতত্ত্ব (আরুজ)(৩) এবং গণিতশাস্ত্র।(৪)

তিনি তাঁর শায়খ 'ফকিহ, বহুবিদ্যায় পারদর্শী গবেষক আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ ইবনে আশির' (মৃত্যু ১০৪০ হিজরি)(৫)-এর নিকট থেকে ফিকহ(৬) ও উসুল (মূলনীতিশাস্ত্র)(৭) শিক্ষা করেন, যেমনটি তিনি তাঁর নিকট থেকে শাতবিয়াহ-ও গ্রহণ করেছিলেন।(৮)

তিনি 'বর্ষীয়ান ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-জানান আল-গারনাতি আল-মুদাজ্জান' (৯৫৩ - ১০৫০ হিজরি)(৯)-এর নিকট থেকেও ফিকহ(১০) ও অলঙ্কারশাস্ত্র (বায়ান)(১১) শিক্ষা করেন।

--------------------------------------------

(১) তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৫৯; তাঁর জীবনীগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: মিরআতুল মাহাসিন: পৃ. ২২১ ও পৃ. ২২৩, তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৬৩, নাশরুল মাসানি: ২/ ১৯৪, ইলিতিকাতুদ দুরার: পৃ. ১৮৮, আল-মিনাহুল বাদিয়াহ: ২/ ১৫৮।

(২) শায়খ আব্দুল কাদিরের ইজাজাহ: পৃ. ৪৫।

(৩) প্রাগুক্ত: পৃ. ৪৬।

(৪) প্রাগুক্ত: পৃ. ৪৭।

(৫) তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৫৯; তাঁর জীবনীগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৬৪, আল-মিনাহুল বাদিয়াহ: ২/ ১৫২, নাশরুল মাসানি: ১/ ২৮৩, ইলিতিকাতুদ দুরার: পৃ. ৯১।

(৬) শায়খ আব্দুল কাদির আল-ফাসির ইজাজাহ: পৃ. ৫৬।

(৭) প্রাগুক্ত: পৃ. ৩৭।

(৮) প্রাগুক্ত: পৃ. ৪৫।

(৯) তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৫৯; তাঁর জীবনীগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: তুহফাতুল আকাবির: ১/ ৬৩, আল-মিনাহুল বাদিয়াহ: ২/ ১৫২, নাশরুল মাসানি: ১/ ৩৭৯, ইলিতিকাতুদ দুরার: পৃ. ১১১।

(১০) শায়খ আব্দুল কাদির আল-ফাসির ইজাজাহ: পৃ. ৫৯।

(১১) প্রাগুক্ত: পৃ. ৩৯।