(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع في أحكام صفة الصلاة - الدبيان القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الجامع في أحكام صفة الصلاة من الخروج إليها حتى الانصراف منها [قسم من الكتاب الأم «أحكام الصلاة»]
المؤلف: أبو عمر دبيان بن محمد الدبيان
الناشر: (بدون)
الطبعة: الأولى، 1441 هـ
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1442
সালাতের পদ্ধতির বিধানাবলি বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ সংকলন - আদ-দুবাইয়ান বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া থেকে তা শেষ করা পর্যন্ত সালাতের পদ্ধতির বিধানাবলি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ সংকলন [মূল গ্রন্থ «আহকামুস সালাত বা সালাতের বিধানাবলি»-এর একটি অংশ]
লেখক: আবু উমর দুবাইয়ান বিন মুহাম্মাদ আদ-দুবাইয়ান
প্রকাশক: (নেই)
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪১ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الكتاببسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، وأصلي وأسلم على المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد.
فمنذ ما يقرب من ربع قرن تقريبًا، وأنا أعمل على هذا المشروع، حتى انقطعت له وقَصَرْتُ عليه عملي، مقدمًا له على غيره من درس، أو خطابة، أو موعظة، وفي كلٍ خير، إلا أني رأيت الكتاب أبقى، وشرطه أعلى، فهو وعاء لحفظ العلم، وتحرير المسائل، وضبط الأقوال، وتوثيقها من مصادرها، ومساحة رحبة لدراسة الأدلة ومناقشة دلالتها، وبيان صحيحها من ضعيفها، ومحاورة الأقوال والأفكار ليتمحص الأقوى منها حسب توفيق الله للعبد، ويكفي الكتاب بأنك تخاطب به الشاهد والغائب، فهو لا يحده زمان، ولا يحتويه مكان، يرثه الخلف عن السلف، فالكتاب أطول عمرًا من صاحبه، وما من صاحب درس، أو خطيب أو واعظ إلا ويستمد مادته من الكتاب، وقد اندرس علم أئمة كانوا ملء السمع والبصر في حياتهم، لأنهم لم يدونوا كتابًا في حياتهم، ولم يُسَخَّر لهم من يكتب علمهم، فانقطع عملهم، وخمل ذكرهم، ولولا بعض كتب التراجم ما كنت لتسمع بهم.
وفي المقابل رب كتاب أدخل صاحبه في الخالدين وجعل له لسان صدق في الآخرين.
ولقد أثمر هذا الانقطاع أول ما أثمر كتاب الطهارة في عشرة مجلدات، ثم انتقلت منه إلى مشروع المعاملات المالية أصالة ومعاصرة في عشرين مجلدًا، ثم رجعت إلى مشروع الصلاة لاستكمال العبادات، وقسمت مشروع الصلاة إلى قسمين: أحكام
গ্রন্থের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি। অতঃপর:
দীর্ঘ প্রায় পঁচিশ বছর যাবৎ আমি এই প্রকল্পের ওপর কাজ করছি, এমনকি আমি নিজেকে এর জন্য পূর্ণ নিবেদিত করেছি এবং আমার সকল কর্মতৎপরতাকে এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছি; একে আমি অন্য সকল পাঠদান, খুতবা বা নসিহতের ওপর প্রাধান্য দিয়েছি। যদিও এই সবকিছুর মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে, তবে আমি দেখেছি যে গ্রন্থই অধিক স্থায়িত্বশীল এবং এর মানদণ্ড উচ্চতর। এটি জ্ঞান সংরক্ষণের আধার, মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, বিভিন্ন মতামতের সংকলন এবং মূল উৎস হতে সেগুলোর প্রামাণিকীকরণের নির্ভরযোগ্য স্থান। এটি দলীলসমূহ অধ্যয়ন, সেগুলোর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা এবং বিশুদ্ধ ও দুর্বল বর্ণনা স্পষ্ট করার এক প্রশস্ত ক্ষেত্র। এটি বিভিন্ন মতামত ও চিন্তাধারার মধ্যে পর্যালোচনার একটি মাধ্যম, যাতে আল্লাহর তাওফীকে অধিক শক্তিশালী মতটি পরিস্ফুটিত হয়। একটি গ্রন্থের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আপনি এর মাধ্যমে উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলের সাথে কথা বলছেন; এটি কোনো কালের দ্বারা সীমাবদ্ধ নয় এবং কোনো স্থানও একে আবদ্ধ করতে পারে না। উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের থেকে এর উত্তরাধিকার লাভ করে। গ্রন্থের আয়ু তার লেখকের চেয়েও দীর্ঘ হয়। এমন কোনো শিক্ষক, খতিব বা ওয়ায়েজ নেই যারা গ্রন্থ থেকে তাদের পাঠ্য উপাদান গ্রহণ করেন না। এমন অনেক ইমাম ছিলেন যারা জীবদ্দশায় অত্যন্ত খ্যাতিমান ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ছিলেন, কিন্তু তাদের জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে কারণ তারা কোনো গ্রন্থ রচনা করে যাননি এবং তাদের জ্ঞান লিপিবদ্ধ করার মতো কাউকেও পাননি। ফলে তাদের কর্মের ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তাদের নাম মুছে গিয়েছে; যদি কিছু জীবনীগ্রন্থ না থাকত তবে আপনি তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই জানতে পারতেন না।
পক্ষান্তরে, অনেক ক্ষেত্রে একটি গ্রন্থই তার লেখককে অমরদের অন্তর্ভুক্ত করে দেয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের নিকট তার জন্য সুখ্যাতি ও সত্যবাদিতার সাক্ষ্য রেখে যায়।
আর এই একাগ্রতার প্রথম ফসল হিসেবে দশ খণ্ডে 'কিতাবুত তাহারাহ' (পবিত্রতা অধ্যায়) প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আমি সেখান থেকে 'মুআমালাত মালিয়া: আসলাত ওয়া মুআসিরাহ' (আর্থিক লেনদেন: মূলনীতি ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট) প্রকল্পের দিকে মনোনিবেশ করি যা বিশ খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে। অতঃপর ইবাদতের বিষয়গুলো পূর্ণ করার জন্য আমি পুনরায় 'সালাত' প্রকল্পের দিকে ফিরে আসি এবং সালাত প্রকল্পটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করি: আহকাম (বিধানাবলী)
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ৪)
الصلاة المكتوبة، وأحكام صلاة التطوع، وحين انتهيت من صفة الصلاة كنت قد أنجزت من مشروع أحكام الصلاة عشرة مجلدات، ليكون مجموع ما أنجز من المشروع حتى الآن بتوفيق الله سبحانه أربعين مجلدًا، ولله الحمد.
ولقد اقترح عليَّ بعض الإخوة طباعة صفة الصلاة مفردًا لما له من أهمية في بابه، ولأن بعض الناس قد لا يرغب في شراء كتاب الصلاة كاملًا، فلا نُحَمِّلُه شراءه كاملًا، ولا نحرمه من شراء ما يحتاج إليه.
من أجل هذا رغبت في إفراده، وسميته: الجامع في أحكام صفة الصلاة، وتركت تسلسل المسائل وأرقام الأحاديث والآثار كما هي في كتاب الأم.
أسأل الله سبحانه وتعالى أن يرزقني شكر نعمته، وأن يتقبله مني، وأن يجعل العمل خالصًا لوجهه، مقربًا إليه، زلفى إلى رضوانه، والنجاة من عذابه، والحمد لله رب العالمين.
وكتبه
أبو عمر دبيان بن محمد الدبيان
القصيم - بريدة
ফারজ সালাত এবং নফল সালাতের বিধানসমূহ। আর যখন আমি সালাতের পদ্ধতির (সিফাতুস সালাত) বর্ণনা সমাপ্ত করলাম, তখন সালাতের বিধান সংক্রান্ত প্রকল্প থেকে আমি দশটি খণ্ড সম্পন্ন করেছি। ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহে এই প্রকল্পের এখন পর্যন্ত সমাপ্ত হওয়া মোট খণ্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চল্লিশটি। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
কিছু ভাই আমাকে এই বিষয়ের গুরুত্বের কারণে সালাতের পদ্ধতি অংশটি পৃথকভাবে মুদ্রণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া যেহেতু কিছু লোক হয়তো সালাত সম্পর্কিত পুরো বইটি ক্রয় করতে আগ্রহী নাও হতে পারেন, তাই আমরা তাদের ওপর পুরো বইটি কেনার বোঝা চাপিয়ে দিই না, আবার তাদের যা প্রয়োজন তা ক্রয় করা থেকেও তাদের বঞ্চিত করি না।
এই কারণে আমি একে পৃথক করতে চেয়েছি এবং এর নাম দিয়েছি: ‘আল-জামি ফি আহকামি সিফাতিস সালাত’। আমি মাসআলাগুলোর ধারাবাহিকতা এবং হাদিস ও আসারসমূহের (সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনা) নম্বরসমূহ মূল গ্রন্থে যেমন ছিল তেমনই রেখে দিয়েছি।
আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করেন, আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করেন, যা তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম হবে এবং তাঁর সন্তুষ্টির নৈকট্য ও তাঁর আযাব থেকে মুক্তির উপায় হবে। আর সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
আবু উমর দুবইয়ান বিন মুহাম্মদ আদ-দুবইয়ান
আল-কাসিম - বুরাইদাহ
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ৫)
الباب الأول في صفة الصلاة
الفصل الأول في الأحكام المرتبطة بالخروج إلى الصلاة
المبحث الأول في استحباب الخروج متطهرًا بنية الصلاةالمدخل إلى المسألة:
• الاستحباب حكم شرعي يتوقف على دليل شرعي.
• فضائل العمل لا تثبت بالقياس.
• الخروج إلى الصلاة متطهرًا وإحسان الطهور بنية الصلاة سنة متفق عليها.
• الباعث إذا خلص لله كان أكمل، فنية الخروج إذا تمحضت خالصة لإرادة الصلاة كانت أكمل من الخروج لها ولغيرها ولو كانت نية مباحة.
[م-438] يسن الخروج إلى الصلاة متطهرًا، والإحسان في الطهارة بنية الصلاة. وهذه السنة متفق عليها
(1).
• والأدلة على هذه السنن الثلاث:
الدليل الأول:
(ح-1032) ما رواه البخاري ومسلم من طريق الأعمش، قال: سمعت
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: সালাতের বিবরণ প্রসঙ্গেপ্রথম পরিচ্ছেদ: সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানপ্রথম অনুচ্ছেদ: সালাতের নিয়তে পবিত্র অবস্থায় বের হওয়া মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গেবিষয়টির ভূমিকা:
• মুস্তাহাব হওয়া একটি শরয়ি হুকুম যা শরয়ি দলিলের ওপর নির্ভরশীল।
• আমলের ফজিলত কিয়াসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না।
• পবিত্র অবস্থায় সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া এবং সালাতের নিয়তে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করা একটি সর্বসম্মত সুন্নত।
• কাজের প্রেরণা যখন আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয় তখন তা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হয়। সুতরাং বের হওয়ার নিয়ত যখন কেবল সালাত আদায়ের ইচ্ছায় নিবেদিত হয়, তখন তা সালাত ও অন্য কোনো উদ্দেশ্যে (যদিও তা বৈধ হয়) বের হওয়ার চেয়ে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।
[ম-৪৩৮] পবিত্র অবস্থায় সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া এবং সালাতের নিয়তে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নত। আর এই সুন্নতটি সর্বসম্মত
(১)।
• এই তিনটি সুন্নতের সপক্ষে দলিলসমূহ:
প্রথম দলিল:
(হা-১০৩২) ইমাম বুখারি ও মুসলিম আমাশ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শুনেছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ৬)
أبا صالح، يقول:
سمعت أبا هريرة، يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: صلاة الرجل في الجماعة تضعف على صلاته في بيته، وفي سوقه، خمسًا وعشرين ضعفًا، وذلك أنه: إذا توضأ، فأحسن الوضوء، ثم خرج إلى المسجد، لا يخرجه إلا الصلاة، لم يَخْطُ خطوة، إلا رفعت له بها درجة، وحُطَّ عنه بها خطيئة، فإذا صلى، لم تزل الملائكة تصلي عليه، ما دام في مصلاه: اللهم صَلِّ عليه، اللهم ارحمه، ولا يزال أحدكم في صلاة ما انتظر الصلاة. هذا لفظ البخاري
(1).
وفي رواية لهما: ثم أتى المسجد لا يريد إلا الصلاة، لا ينهزه إلا الصلاة
(2).
وفي رواية للبخاري: لم يَخْطُ خطوة إلا رفعه الله بها درجة، وحط عنه خطيئة حتى يدخل المسجد
(3).
وجه الاستدلال:
قوله صلى الله عليه وسلم: (وذلك أنه إذا توضأ، فأحسن الوضوء، ثم خرج إلى المسجد لا يخرجه إلا الصلاة).
فقوله: (وذلك أنه إذا توضأ) التقدير: وذلك لأنه إذا توضأ فتكون الجملة تعليلية للحكم السابق، فكان هذا الفضل مرتبًا على الوضوء في البيت، والإحسان فيه، والخروج بنية الصلاة، والمشي إليها ليحصل له هذا الفضل من رفع الدرجات وتكفير السيئات وصلاة الملائكة عليه ما دام في مصلاه، فالأصل ألا يترتب هذا الفضل إلا لمن جمع هذه الأمور، والله أعلم
(4).
وقوله: (لا ينهزه إلا الصلاة، لا يريد إلا الصلاة) أي لا يحركه ولا ينهضه ولا يبعثه على الخروج إلا الصلاة، وفيه فضيلة أن تتمحض نية الخروج خالصة لإرادة الصلاة، لاستخدامه النفي والإثبات وهو دليل على الحصر، فلا يكون
--------------------------------------------
আবু সালিহ বলেন: আমি আবু হুরাইরাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির জামাতের সাথে সালাত আদায় করা তার নিজের ঘরে বা বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি সওয়াব রাখে। আর এটি এজন্য যে, যখন সে উত্তমরূপে ওযু করে, অতঃপর মসজিদের দিকে বের হয় এবং সালাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য তাকে বের করে না, তখন সে যে পদক্ষেপই ফেলে তার বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মোচন করা হয়। অতঃপর যখন সে সালাত আদায় করে, যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে থাকে, ফেরেশতারা তার জন্য এই বলে দু'আ করতে থাকে: 'হে আল্লাহ, আপনি তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন; হে আল্লাহ, আপনি তাকে দয়া করুন'। আর তোমাদের কেউ ততক্ষণ সালাতের মধ্যেই গণ্য হয় যতক্ষণ সে সালাতের জন্য অপেক্ষা করে।" এটি বুখারীর শব্দ।
(১).
উভয় ইমামের অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর সে মসজিদে আসল এবং সালাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না, সালাত ব্যতীত অন্য কিছুই তাকে উদ্বুদ্ধ করেনি।"
(২).
বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "সে প্রতিটি যে পদক্ষেপ ফেলে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি গুনাহ মোচন করেন, যতক্ষণ না সে মসজিদে প্রবেশ করে।"
(৩).
দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: (আর এটি এজন্য যে, যখন সে ওযু করে এবং উত্তমরূপে ওযু করে, অতঃপর মসজিদের দিকে বের হয়, আর সালাত ব্যতীত অন্য কিছু তাকে বের করে না)।
তাঁর বাণী: (আর এটি এজন্য যে, যখন সে ওযু করে) এর সারমর্ম হলো: "আর এটি একারণেই যে, যখন সে ওযু করে", ফলে বাক্যটি পূর্ববর্তী হুকুমের কারণ হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এই ফযীলতটি অর্জিত হবে বাড়িতে ওযু করা, তা উত্তমরূপে সম্পন্ন করা, সালাতের নিয়তে বের হওয়া এবং সেদিকে পায়ে হেঁটে যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে; যাতে করে সে মর্যাদা বৃদ্ধি, গুনাহ মাফ এবং যতক্ষণ সালাতের স্থানে থাকে ততক্ষণ ফেরেশতাদের দু'আ পাওয়ার ফযীলত লাভ করতে পারে। মূল কথা হলো, যে ব্যক্তি এই বিষয়গুলো একত্রে পালন করবে কেবল তারই এই ফযীলত অর্জিত হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(৪).
এবং তাঁর বাণী: (সালাত ব্যতীত অন্য কিছুই তাকে উদ্বুদ্ধ করেনি, সালাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না) অর্থাৎ সালাত ছাড়া অন্য কিছুই তাকে নড়াচড়া করতে, দাঁড়াতে বা বের হতে প্ররোচিত করেনি। এতে এই ফযীলত রয়েছে যে, বের হওয়ার নিয়তটি শুধুমাত্র সালাতের উদ্দেশ্যেই একনিষ্ঠ হতে হবে; কারণ এখানে না-বাচক ও হ্যাঁ-বাচক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে। ফলে এমন হবে না যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ৭)
الباعث على نيته الصلاة وغاية أخرى معها من شغل وغيره، حتى ولو كانت هذه النية مباحة لا تؤثر في صحة الصلاة، فإن الباعث إذا خلص لله كان أكمل، وما كان أكمل استحق مزية فضل على غيره.
الدليل الثاني:
(ح-1033) ما رواه مسلم من طريق عبيد الله يعني ابن عمرو (الرقي)، عن زيد بن أبي أنيسة، عن عدي بن ثابت، عن أبي حازم الأشجعي،
عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من تطهر في بيته، ثم مشى إلى بيت من بيوت الله ليقضي فريضة من فرائض الله، كانت خطوتاه إحداهما تحط خطيئة، والأخرى ترفع درجة
(1).
وجه الاستدلال:
قوله صلى الله عليه وسلم (من تطهر في بيته، ثم مشى إلى بيت من بيوت الله ليقضي فريضة) فجملة (تطهر، ومشى، ليقضي) فعل الشرط وما عطف عليه في حكمه، وجملة (كانت خطوتاه .. ) جواب الشرط، وإذا رتب الفضل عن طريق الشرط لم يحصل إلا بحصول شرطه وهو تطهر في البيت، ثم خرج إلى المسجد ماشيًا بنية الصلاة.
قوله: (ثم مشى) ظاهر الحديث أن هذا الجزاء للماشي دون الراكب، وأن الراكب لا يحصل له هذا الفضل، ففي حديث الصحيحين قال: (لم يُخْطُ خطوة) والخطوة خاصة بالماشي، وفي لفظ مسلم، (من تطهر في بيته ثم مشى).
ويؤيد ذلك ما جاء في نفي الركوب للخروج إلى الجمعة، وهو فرد من أفراد الخروج إلى المسجد.
(ح-1034) فقد روى أحمد من طريق ابن المبارك، عن الأوزاعي، عن حسان بن عطية، عن أبي الأشعث الصنعاني،
عن أوس بن أوس الثقفي، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من غسل واغتسل يوم الجمعة، وبكر وابتكر، ومشى، ولم يركب، فدنا من الإمام،
--------------------------------------------
সালাতের নিয়তের সাথে পার্থিব কোনো কর্মব্যস্ততা বা অন্য কোনো লক্ষ্য থাকা—এমনকি সেই উদ্দেশ্য যদি বৈধও হয়—তা সালাতের শুদ্ধতায় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে কর্মের চালিকাশক্তি বা নিয়ত যদি কেবল আল্লাহর জন্য নিবেদিত হয়, তবে তা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হয়। আর যা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, তা অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে।
দ্বিতীয় দলিল:
(হা-১০৩৩) ইমাম মুসলিম উবাইদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে আমর (আর-রাক্কি) থেকে, তিনি যায়েদ বিন আবি আনিসাহ থেকে, তিনি আদি বিন সাবিত থেকে, তিনি আবু হাযেম আল-আশজাঈ থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য হতে কোনো এক ঘরের দিকে হেঁটে গেল যেন সে আল্লাহর নির্ধারিত ফরযসমূহের কোনো একটি ফরয আদায় করতে পারে, তবে তার এক পদক্ষেপ একটি পাপ মোচন করবে এবং অন্যটি একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবে
(১)।
দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী (যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো এক ঘরের দিকে হেঁটে গেল ফরয আদায় করতে)—এখানে (পবিত্রতা অর্জন করল, হেঁটে গেল, এবং আদায় করতে গেল) বাক্যগুলো শর্ত এবং এর ওপর যা কিছু সমজাতীয় হিসেবে যুক্ত হয়েছে তা একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত। আর (তার পদক্ষেপদ্বয়...) বাক্যটি হলো শর্তের প্রতিদান। যখন কোনো ফযিলত বা মর্যাদা শর্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়, তখন সেই নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হওয়া ছাড়া তা অর্জিত হয় না। আর এখানে শর্ত হলো—ঘরে পবিত্রতা অর্জন করা এবং অতঃপর সালাতের নিয়তে হেঁটে মসজিদের দিকে বের হওয়া।
তাঁর বাণী: (অতঃপর হেঁটে গেল) হাদিসের বাহ্যিক অর্থ নির্দেশ করে যে, এই প্রতিদান কেবল হেঁটে গমনকারীর জন্য, আরোহীর জন্য নয়। আর আরোহী ব্যক্তি এই ফযিলত লাভ করবে না। সহীহাইন-এর হাদিসে এসেছে: (সে কোনো পদক্ষেপ ফেলে না), আর পদক্ষেপ বা কদম ফেলা কেবল পদব্রজে গমনকারীর বৈশিষ্ট্য। মুসলিমের শব্দে রয়েছে, (যে নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর হেঁটে গেল)।
আর জুমার সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সওয়ারিতে আরোহণ করাকে যে নাকচ করা হয়েছে, তা এই মতকেই সমর্থন করে; আর জুমার উদ্দেশ্যে বের হওয়া মসজিদে গমনেরই একটি প্রকার।
(হা-১০৩৪) ইমাম আহমাদ ইবনুল মুবারকের সূত্রে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি হাসসান বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু আশআছ আস-সানআনি থেকে, তিনি আওস বিন আওস আস-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি জুমার দিন ধৌত করল ও গোসল করল, অতি প্রত্যুষে প্রস্তুত হলো ও দ্রুত গেল, এবং হেঁটে গেল, কোনো সওয়ারিতে আরোহণ করল না, অতঃপর ইমামের নিকটবর্তী হলো,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ৮)
فاستمع، ولم يَلْغُ، كان له بكل خطوة عمل سنة أجر صيامها وقيامها
(1).
[اختلف على أبي الأشعث بذكر (ومشى ولم يركب)، والأكثر على عدم ذكرها]
(2).
--------------------------------------------
অতঃপর মনোযোগ দিয়ে শুনল এবং কোনো অনর্থক কাজ করল না, তার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের আমলের সওয়াব রয়েছে—তার রোজা ও কিয়ামের (রাতের ইবাদত) সমপরিমাণ।
(১).
[আবু আশআস থেকে বর্ণিত বর্ণনায় '(এবং সে হেঁটে গেল, সওয়ার হয়ে নয়)' কথাটি উল্লেখ করা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; তবে অধিকাংশ বর্ণনায় এটি উল্লিখিত হয়নি।]
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২)
فإن كان نفي الركوب محفوظًا في الحديث كان ذلك مقصودًا للشارع.
(ح-1035) ويؤيد ذلك ما رواه مسلم من طريق زكرياء بن إسحاق، حدثنا أبو الزبير،
قال: سمعت جابر بن عبد الله، قال: كانت ديارنا نائية عن المسجد، فأردنا أن نبيع بيوتنا، فنقترب من المسجد، فنهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إن لكم بكل خطوة درجة
(1).
وإن كان لفظ (مشى ولم يركب) ليس محفوظًا من الحديث كان ترتيب الفضل لا يختص بالماشي ويكون وصف المشي لا مفهوم له وإنما خرج مخرج الغالب، فإن الغالب أن من يخرج إلى المسجد هم من يسمع النداء، ومثلهم لا يحتاج للركوب؛ ولأن المشي والركوب من باب الوسائل لا تقصد لذاتها، والغاية هي الوصول إلى المسجد للصلاة فيه جماعة، سواء أجاء ماشيًا أم راكبًا، ولو كان المشي مقصودًا لذاته لقيل باستحباب قَصْدِ المسجد الأبعد، وحديث أوس ظاهره الصحة، والأجر المرتب عليه مبالغ فيه جدًّا، فإن كل خطوة يكتب فيها أجر سنة صيامها وقيامها كثير على عمل يسير، وفضل الله واسع فإن كان أحد من الأئمة قد أعله بهذا قلت به بلا تردد، وإلا بقيت على اعتقاد صحة الحديث حتى يثبت العكس.
وقد خالف حديث أوس حديث سلمان وحديث أبي هريرة، والأول في البخاري، والآخر في مسلم.
(ح-1036) فقد روى البخاري من طريق ابن أبي ذئب، عن سعيد المقبري، قال: أخبرني أبي، عن ابن وديعة،
عن سلمان الفارسي، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا يغتسل رجل يوم الجمعة، ويتطهر ما استطاع من طهر، ويدهن من دهنه، أو يمس من طيب بيته، ثم يخرج فلا يفرق بين اثنين، ثم يصلي ما كتب له، ثم ينصت إذا تكلم الإمام، إلا غفر له ما بينه وبين الجمعة الأخرى
(2).
--------------------------------------------
যদি হাদিসে আরোহণ না করার বিষয়টি সংরক্ষিত হয়ে থাকে, তবে তা শরিয়তদাতার উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হবে।
(হা-১০৩৫) এটি মুসলিম বর্ণিত সেই হাদিস দ্বারা সমর্থিত হয় যা জাকারিয়া ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু যুবাইর থেকে,
তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের ঘরগুলো মসজিদ থেকে দূরে ছিল। তাই আমরা আমাদের ঘরগুলো বিক্রি করে মসজিদের কাছে চলে আসতে চেয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিষেধ করলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে মর্যাদা রয়েছে
(১)।
আর যদি (হেঁটেছেন এবং আরোহণ করেননি) শব্দগুলো হাদিসে সংরক্ষিত না হয়ে থাকে, তবে ফজিলতের এই বিন্যাস কেবল পদব্রজে চলাচলকারীর সাথে নির্দিষ্ট হবে না। সেক্ষেত্রে হাঁটার বর্ণনাটি কোনো বিশেষ তাৎপর্য (মাফহুম) বহন করবে না, বরং তা সাধারণত যা ঘটে তার প্রেক্ষিতে বর্ণিত হয়েছে। কারণ সাধারণত যারা মসজিদের দিকে বের হয় তারা আযান শ্রবণকারী হয়ে থাকে এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের আরোহণের প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া হাঁটা বা আরোহণ করা হলো মাধ্যমের অন্তর্ভুক্ত, যা নিজস্ব সত্তার জন্য উদ্দেশ্য নয়। বরং মূল লক্ষ্য হলো জামাতে সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে পৌঁছানো—সেটি হেঁটে হোক বা আরোহণ করে। যদি হাঁটা স্বতন্ত্রভাবে উদ্দেশ্য হতো, তবে দূরবর্তী মসজিদের সংকল্প করা মুস্তাহাব বলা হতো। আউসের হাদিসটি বাহ্যিকভাবে সহিহ, তবে এর জন্য নির্ধারিত সওয়াব অত্যন্ত বেশি বলে মনে হয়। প্রতিটি কদমে এক বছরের রোজা ও কিয়ামের সওয়াব লেখা হওয়া সামান্য আমলের তুলনায় অনেক বেশি। তবে আল্লাহর অনুগ্রহ প্রশস্ত। যদি ইমামদের মধ্য থেকে কেউ এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলে চিহ্নিত করে থাকেন তবে আমি বিনাদ্বিধায় তা মেনে নেব; অন্যথায় বিপরীত কিছু সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি হাদিসটি সহিহ হওয়ার বিশ্বাসের ওপরই অটল থাকব।
আউসের হাদিসটি সালমান এবং আবু হুরাইরা বর্ণিত হাদিসদ্বয়ের পরিপন্থী। প্রথমটি বুখারিতে এবং অন্যটি মুসলিমে রয়েছে।
(হা-১০৩৬) ইমাম বুখারি ইবনে আবু জিব-এর সূত্রে সাঈদ মাকবুরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা ইবনে ওয়াদিয়াহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন,
তিনি সালমান আল-ফারিসি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যদি জুমার দিন গোসল করে এবং সাধ্যমতো পবিত্রতা অর্জন করে, নিজের তেল ব্যবহার করে অথবা নিজ ঘরের সুগন্ধি মাখে, এরপর (মসজিদের উদ্দেশ্যে) বের হয় এবং দু'জনের মাঝে বিচ্ছিন্নতা তৈরি না করে, এরপর তার ভাগ্যে যতটুকু (সালাত) লেখা আছে তা আদায় করে, অতঃপর ইমাম যখন কথা বলেন তখন চুপ থাকে, তবে তার এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(ح-1037) وروى مسلم من طريق أبي معاوية، عن الأعمش، عن أبي صالح،
عن أبي هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ فأحسن الوضوء، ثم أتى الجمعة، فاستمع وأنصت، غفر له ما بينه وبين الجمعة، وزيادة ثلاثة أيام، ومن مس الحصى فقد لغا
(1).
ورواه مسلم من طريق سهيل، عن أبيه،
عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: من اغتسل، ثم أتى الجمعة، فصلى ما قدر له، ثم أنصت حتى يفرغ من خطبته، ثم يصلي معه، غفر له ما بينه وبين الجمعة الأخرى، وفضل ثلاثة أيام
(2).
فهذا الفضل قريب، وأما حديث أوس بن أوس فهو فضل مبالغ فيه لعمل يسير، فإذا كان شهود الجمعة نفسها، وهي المقصودة يكفر من الجمعة إلى التي تليها، فإذا اغتسل وأنصت، ولم يفرق بين اثنين زاد فضل ثلاثة أيام، فما الذي زاده العامل في حديث أوس حتى يكون له بكل خطوة عمل سنة بصيامها وقيامها، وكل ما زاده على ذلك ليس من الواجبات، وإنما هو من السنن، وليس بمقصود، وإنما هو من باب الوسائل كالذهاب ماشيًا إلى الجمعة، وحديث سلمان وأبي هريرة في الصحيح، وحديث أوس خارج الصحيح، وهو من وسائل الترجيح، وكنت قد ترددت في تضعيف الحديث طلبًا لإمام معتبر يضعفه لأني لا أحب معارضة الحديث بمجرد الفهم ما دام الإسناد ظاهره الصحة، ثم وجدت الإمام الترمذي قد حكم عليه بالحسن، فقال في سننه: حديث أوس بن أوس حديث حسن، وهذا ذهاب منه إلى تضعيف الحديث، فإن الحسن عند الترمذي هو كل حديث ليس في إسناده متهم (يعني أنه ليس شديد الضعف) ولا يكون شاذً، ويروى من غير وجه، وهذا يصدق على الحديث الضعيف إذا روي من أكثر من وجه، فلا يمكن حديث هذا حكم الترمذي فيه، وهو غريب الإسناد، غريب المتن لا يعرف هذا الفضل إلا من هذا الوجه، وينفرد بهذا الفضل المخالف لأحاديث الصحيحين، ويكون مقبولًا، والله أعلم.
وفي الباب أحاديث أخرى، وقد تركتها اقتصارًا على أحاديث الصحيحين فإن فيها غنية.
* * *
--------------------------------------------
(হা-১০৩৭) এবং মুসলিম আবু মুআবিয়াহর সূত্রে আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে,
তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওযু করল এবং উত্তমরূপে ওযু সম্পন্ন করল, অতঃপর জুমুআয় এল এবং মনোযোগ দিয়ে নিঃশব্দে খুতবা শুনল, তার সেই জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি কঙ্কর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কাজ করল"
(১)।
এবং মুসলিম এটি সুহায়লের সূত্রে তাঁর পিতা থেকে,
তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি গোসল করল, অতঃপর জুমুআয় এল এবং তার তকদিরে যতটুকু ছিল ততটুকু সালাত আদায় করল, এরপর ইমামের খুতবা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকল, অতঃপর তাঁর সাথে সালাত আদায় করল, তার এই জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়"
(২)।
এই ফযীলতটি যুক্তিযুক্ত বা স্বাভাবিকের কাছাকাছি; কিন্তু আউস ইবনে আউসের হাদীসটিতে একটি সামান্য আমলের জন্য অত্যধিক ফযীলতের কথা বলা হয়েছে। যদি খোদ জুমুআয় উপস্থিত হওয়াই মূল লক্ষ্য হয় এবং তা এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত গুনাহের কাফফারা হয়, আর যখন সে গোসল করে, চুপ থাকে এবং দুই ব্যক্তির মাঝে ফাঁক না করে তখন আরও তিন দিনের ফযীলত বৃদ্ধি পায়—তবে আউসের হাদীসের আমলকারী এমন কী অতিরিক্ত করল যার কারণে তার প্রতিটি কদমে এক বছরের সিয়াম পালন ও কিয়াম করার (নফল সালাত পড়ার) সওয়াব অর্জিত হবে? সে যা কিছু অতিরিক্ত করেছে তা ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নাত মাত্র, এবং তা মূল উদ্দেশ্যও নয়; বরং তা কেবল জুমুআয় পায়ে হেঁটে যাওয়ার মতো একটি মাধ্যম বা উপায় মাত্র। সালমান ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-র হাদীস 'সহীহ' গ্রন্থে (বুখারী ও মুসলিমে) রয়েছে, আর আউসের হাদীসটি 'সহীহ'-এর বাইরে। এটিও একটি অগ্রাধিকার দেওয়ার মানদণ্ড। আমি এই হাদীসটিকে দুর্বল বলতে দ্বিধাবোধ করছিলাম এই আশায় যে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামকে পাব যিনি এটিকে দুর্বল বলেছেন; কারণ আমি নিছক নিজের বুঝের ওপর ভিত্তি করে হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করা পছন্দ করি না যতক্ষণ না সনদের বাহ্যিক দিকটি সহীহ প্রতীয়মান হয়। অতঃপর আমি দেখলাম যে ইমাম তিরমিযী একে 'হাসান' বলে হুকুম দিয়েছেন। তিনি তাঁর সুনানে বলেছেন: "আউস ইবনে আউসের হাদীসটি হাসান হাদীস"। আর এটি তাঁর পক্ষ থেকে হাদীসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করারই নামান্তর, কারণ তিরমিযীর নিকট 'হাসান' হলো সেই হাদীস যার সনদে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি নেই (অর্থাৎ তা অত্যন্ত দুর্বল নয়) এবং তা শায (পরস্পরবিরোধী) নয় এবং একাধিক সূত্রে বর্ণিত। এটি সেই যঈফ বা দুর্বল হাদীসের ওপর প্রযোজ্য হয় যা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এমন একটি হাদীস যার ব্যাপারে তিরমিযীর সিদ্ধান্ত এরূপ, এবং যা সনদে গরিব ও মতনেও গরিব—যেখানে এই ফযীলত এই একটি সূত্র ছাড়া আর কোথাও জানা যায় না এবং এটি এমন এক ফযীলত বর্ণনায় একক যা 'সহীহাইন'-এর হাদীসসমূহের পরিপন্থী—তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? আল্লাহই ভালো জানেন।
এই অনুচ্ছেদে আরও অনেক হাদীস রয়েছে, তবে আমি বুখারী ও মুসলিমের হাদীসগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকে সেগুলো পরিহার করেছি, কারণ তাতেই যথেষ্টতা রয়েছে।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثاني لا يستحب دعاء خاص للخروج إلى الصلاةالمدخل إلى المسألة:
• لا يستحب دعاء خاص في الخروج إلى الصلاة.
• الاستحباب حكم شرعي يتوقف على دليل شرعي.
• ما ورد من دعاء خاص في الخروج إلى الصلاة كحديث ابن عباس، وكذا ما ورد من أدعية للخروج من المنزل، وعمومها يدخل فيه الخروج إلى الصلاة لا يصح منها شيء يمكن الاعتماد عليه في الباب.
• إذا لم يثبت الحديث فالأصل في العبادة عدم المشروعية.
• فضائل العمل لا يثبت بالقياس.
• إذا تردد في استحباب العبادة كان الاحتياط في جانب الترك حتى تثبت؛ لأن التارك لا يلحقه لوم؛ لعدم الوجوب بخلاف الفاعل فهو متردد بين السنة والبدعة.
[م-439] لا يستحب دعاء خاص في الخروج من المنزل للصلاة، وما ورد من حديث خاص في الخروج إلى الصلاة كحديث ابن عباس.
وكذلك ما ورد من أدعية للخروج من المنزل، وعمومها يدخل فيه الخروج إلى الصلاة فلا يصح منها شيء يمكن أن يعتمد عليه في الباب.
(ح-1038) فقد روى مسلم من طريق حبيب بن أبي ثابت، عن محمد بن علي بن عبد الله بن عباس، عن أبيه،
عن عبد الله بن عباس في قصة مبيته عند خالته ميمونة ليشاهد صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالليل .... وذكر فيه .... فأذن المؤذن فخرج إلى الصلاة، وهو يقول: اللهم اجعل في قلبي نورًا، وفي لساني نورًا، واجعل في سمعي نورًا، واجعل في بصري نورًا، واجعل من خلفي نورًا، ومن أمامي نورًا، واجعل من فوقي
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার জন্য কোনো বিশেষ দুআ মুস্তাহাব নয়মাসআলার ভূমিকা:
• সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় কোনো বিশেষ দুআ পাঠ করা মুস্তাহাব নয়।
• ইস্তিহবাব (মুস্তাহাব হওয়া) একটি শরয়ী বিধান, যা শরয়ী দলিলের ওপর নির্ভরশীল।
• সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিষয়ে ইবনে আব্বাসের হাদিসের মতো যেসব বিশেষ দুআ বর্ণিত হয়েছে, এবং ঘর থেকে বের হওয়ার যেসব সাধারণ দুআ বর্ণিত হয়েছে—যার অন্তর্ভুক্ত সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়াও পড়ে—সেগুলোর কোনোটিই এই ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হওয়ার মতো সহিহ নয়।
• যদি হাদিস প্রমাণিত না হয়, তবে ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তা শরিয়তসম্মত না হওয়া।
• আমলের ফজিলত কিয়াসের (তূলনামূলক অনুমান) মাধ্যমে প্রমাণিত হয় না।
• কোনো ইবাদত মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে যদি সংশয় দেখা দেয়, তবে তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বর্জন করাই হলো সতর্কতা। কারণ, ওয়াজিব না হওয়ার কারণে বর্জনকারীকে তিরস্কার করা হবে না; পক্ষান্তরে সম্পাদনকারী সুন্নাত ও বিদআতের মাঝে দোদুল্যমান থাকে।
[মাসআলা-৪৩৯] সালাতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কোনো বিশেষ দুআ পাঠ করা মুস্তাহাব নয়। আর সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিষয়ে ইবনে আব্বাসের হাদিসের মতো যে বিশেষ হাদিস বর্ণিত হয়েছে তা সহিহ নয়।
একইভাবে ঘর থেকে বের হওয়ার যেসব দুআ বর্ণিত হয়েছে—যার সাধারণ অর্থের অন্তর্ভুক্ত সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়াও পড়ে—সেগুলোর কোনোটিই এই ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হওয়ার মতো সহিহ নয়।
(হাদিস-১০৩৮) ইমাম মুসলিম হাবিব ইবনে আবি সাবিত-এর সূত্রে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন,
তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের সালাত দেখার উদ্দেশ্যে তাঁর খালা মাইমুনাহ (রা.)-এর ঘরে তাঁর রাত্রিযাপনের ঘটনায়... এবং তাতে উল্লেখ করেছেন যে... অতঃপর মুয়াজ্জিন আযান দিলেন এবং তিনি সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং বলছিলেন: হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দান করুন, আমার কানে নূর দান করুন, আমার চোখে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন এবং আমার উপরে নূর দান করুন...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
نورًا، ومن تحتي نورًا، اللهم أعطني نورًا
(1).
[رواه علي بن عبد الله بن عباس في دعاء الخروج، ورواه كريب عن ابن عباس في الدعاء في صلاة الليل، وهو المحفوظ]
(2).
--------------------------------------------
জ্যোতি, এবং আমার নিচ থেকে জ্যোতি, হে আল্লাহ! আমাকে জ্যোতি দান করুন
(১)।
[এটি আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বের হওয়ার সময়ের দোয়ার বর্ণনায় বর্ণনা করেছেন, এবং কুরাইব ইবনে আব্বাস থেকে রাতের নামাযের দোয়ার বর্ণনায় বর্ণনা করেছেন, আর এটিই সংরক্ষিত (মাহফুজ)]
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الدليل الثاني:
(ح-1039) ما رواه ابن ماجه من طريق أبي الجهم، قال: حدثنا فضيل بن مرزوق، عن عطية،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় দলিল:
(হ-১০৩৯) ইবনে মাজাহ আবুল জাহামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ফুদাইল ইবনে মারযুক আতিয়্যাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عن أبي سعيد الخدري، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من خرج من بيته إلى الصلاة، فقال: اللهم إني أسألك بحق السائلين عليك، وأسألك بحق ممشاي هذا، فإني لم أخرج أشرًا، ولا بطرًا، ولا سمعة، وخرجت اتقاء سخطك، وابتغاء مرضاتك، فأسألك أن تعيذني من النار، وأن تغفر لي ذنوبي، إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت، أقبل الله عليه بوجهه، واستغفر له سبعون ألف ملك
(1).
[ضعيف موقوفًا ومرفوعًا]
(2).
الدليل الثالث:
(ح-1040) ما رواه أحمد من طريق سفيان (الثوري)، عن منصور، عن الشعبي،
عن أم سلمة، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا خرج من بيته، قال: «بسم الله، توكلت على الله، اللهم إني أعوذ بك من أن نَزِلَّ أو نَضِلَّ، أو نَظْلِمَ أو نُظْلَمَ، أو نَجْهَلَ أو يُجْهَلَ علينا
(3).
--------------------------------------------
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের উদ্দেশ্যে তার ঘর থেকে বের হয়ে বলে: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আবেদনকারীদের হকের উসিলায় এবং আমার এই চলার হকের উসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি; কারণ আমি কোনো ঔদ্ধত্য, অহংকার, লোক দেখানো বা সুখ্যাতি অর্জনের জন্য বের হইনি, বরং আমি আপনার ক্রোধ থেকে বাঁচতে এবং আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বের হয়েছি। তাই আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন; নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না'—তবে আল্লাহ তাঁর চেহারা মুবারক দিয়ে তার প্রতি নিবদ্ধ হন এবং সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন"
(১)।
[বর্ণনাটি মাওকুফ এবং মারফু উভয় সূত্রেই যঈফ বা দুর্বল]
(২)।
তৃতীয় দলীল:
(হাদিস-১০৪০) ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান (সাওরী)-এর সূত্রে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আল-শা’বী থেকে,
উম্মে সালামাহ (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঘর থেকে বের হতেন, তখন বলতেন: "আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যেন আমি পদস্খলিত না হই অথবা পথভ্রষ্ট না হই, কিংবা আমি জুলুম না করি অথবা কারো দ্বারা জুলুমের শিকার না হই, কিংবা আমি মূর্খতা না করি অথবা আমার প্রতি মূর্খতা প্রদর্শন না করা হয়"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[صححه الترمذي والحاكم، وأُعِلَّ بالانقطاع]
(1).
--------------------------------------------
[তিরমিযী ও হাকেম একে সহীহ বলেছেন, তবে ইনকিতা (সূত্রবিচ্ছিন্নতা)-এর কারণে এর ত্রুটি বর্ণনা করা হয়েছে]
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২০)
الدليل الرابع:
(ح-1041) ما رواه أبو داود من طريق حجاج بن محمد، عن ابن جريج، عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة،
عن أنس بن مالك، أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: إذا خرج الرجل من بيته فقال بسم الله توكلت على الله، لا حول ولا قوة إلا بالله، قال: يقال حينئذ: هديت، وكفيت، ووقيت، فتتنحى له الشياطين، فيقول له شيطان آخر: كيف لك برجل قد هدي وكفي ووقي؟
(1).
[إسناده ضعيف]
(2).
--------------------------------------------
চতুর্থ দলিল:
(হাদিস-১০৪১) আবু দাউদ হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদের সূত্রে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে,
আর তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে—'আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ও শক্তি ছাড়া কোনো উপায় নেই', তখন তাকে বলা হয়: তোমাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে, তোমার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হয়েছেন এবং তোমাকে রক্ষা করা হয়েছে। ফলে শয়তানরা তার থেকে দূরে সরে যায়। তখন অন্য এক শয়তান তাকে বলে: তুমি এমন এক ব্যক্তির কী (ক্ষতি) করতে পারবে যাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে, যার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হয়েছেন এবং যাকে রক্ষা করা হয়েছে?
(১).
[এর সনদ দুর্বল]
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
• الراجح:
أنه لا يصح في الباب شيء، والأصل عدم التعبد حتى يصح في المسألة سنة، ومن يتساهل في باب الفضائل فإنه يرى أنه لا مانع من التعبد ببعض هذه الأذكار مما ضعفه ليس شديدًا، وفي التعبد بما صَحَّ غنية عن التماس الأحاديث الضعيفة، ولأن الاحتياط للعبادة إذا لم تكن واجبة، هو في الترك؛ لأن الأصل في العبادات الحضر، ولأن التارك لا تثريب عليه، بخلاف الفاعل فإن الناس منقسمون في حقه إلى قسمين: أحد يصحح فعله، والآخر يبدع فعله، فكون المتعبد يلزم طريقة لا يُلَامُ عليها على كل الأقوال أسلم، والله أعلم.
* * *
--------------------------------------------
প্রধান অভিমত:
এই বিষয়ে কোনো কিছুই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়। আর মূল নীতি হলো, কোনো বিষয়ে সুন্নাহ সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না। যারা ফাযায়েলের (ফযিলত) ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করেন, তাদের মতে যেসব যিকিরের দুর্বলতা খুব বেশি নয়, সেগুলো দ্বারা ইবাদত করাতে কোনো বাধা নেই। অথচ বিশুদ্ধ হাদীসের ভিত্তিতে ইবাদত করাই যথেষ্ট, যা দুর্বল হাদীস অনুসন্ধানের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্তি দেয়। তদুপরি, ইবাদত যদি ওয়াজিব না হয়, তবে সতর্কতার দাবি হলো তা বর্জন করা; কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তা নিষিদ্ধ বা স্থগিত থাকা (যতক্ষণ না প্রমাণ পাওয়া যায়)। তাছাড়া বর্জনকারীকে কোনো তিরস্কার করা হবে না, পক্ষান্তরে পালনকারীর ব্যাপারে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত: একদল তার কাজকে সঠিক বলবে, আর অন্য দল তার কাজকে বিদআত বলবে। সুতরাং একজন ইবাদতকারী এমন পথ অবলম্বন করা যাতে সকল মতানুসারে তিনি নিন্দার ঊর্ধ্বে থাকেন, তা-ই অধিক নিরাপদ। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الثالث في الوقت الذي يجب الذهاب فيه للصلاةالمدخل إلى المسألة:
• سماع النداء يوجب الإجابة على الصحيح،، قال: أتسمع النداء، قال: نعم، قال: فأجب، فعلق الأمر بالإجابة على سماع النداء، والمعتبر إمكان السماع.
• إجابة النداء واجب موسع إلى حين سماع الإقامة إلا في الجمعة فإن السعي يجب بمجرد سماع النداء الثاني.
• قال صلى الله عليه وسلم: إذا سمعتم الإقامة فامشوا، منطوقه وجوب السعي بسماع الإقامة، ومفهومه: لا يجب السعي قبل سماع الإقامة.
[م-440] يستحب التبكير للصلاة من حين سماع النداء.
وأما وجوب السعي: فإن كان لصلاة الجمعة وجب السعي إليها عند سماع النداء، والمعتبر إمكان السماع. وإنما وجب بمجرد النداء من أجل سماع الذكر (الخطبة)، وسوف يأتي بحثها إن شاء الله تعالى في صلاة الجمعة
(1).
وإن كان الذهاب للصلوات الخمس وجب السعي إليها بسماع الإقامة.
قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} [الجمعة: 9].
فأمر بالسعي عند سماع النداء، والأمر يقتضي الوجوب.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার ওয়াজিব সময় প্রসঙ্গেমাসআলার ভূমিকা:
• বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী আযান শোনা উত্তর প্রদান (সালাতে উপস্থিত হওয়া) ওয়াজিব করে। তিনি বলেছেন: "তুমি কি আযান শুনতে পাও?", সে বলল: "হ্যাঁ", তিনি বললেন: "তবে উত্তর দাও"। এখানে উত্তর দেওয়ার নির্দেশকে আযান শোনার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, আর শোনার সক্ষমতা থাকাকেই মানদণ্ড ধরা হয়েছে।
• আযানের উত্তর দেওয়া ইকামাত শোনা পর্যন্ত ওয়াজিবে মুওয়াসসা (প্রশস্ত ওয়াজিব), তবে জুমুআর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় আযান শোনার সাথে সাথেই ধাবিত হওয়া ওয়াজিব।
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমরা ইকামাত শুনবে, তখন (সালাতের দিকে) হেঁটে যাও"। এর দ্বারা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ইকামাত শোনার মাধ্যমে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব। আর এর মর্মার্থ হলো: ইকামাত শোনার পূর্বে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব নয়।
[ম-৪৪০] আযান শোনার পর থেকেই সালাতের জন্য আগেভাগে যাওয়া মুস্তাহাব।
আর ধাবিত হওয়ার ওয়াজিবের বিষয়টি হলো: যদি তা জুমুআর সালাতের জন্য হয়, তবে আযান শোনার সময় ধাবিত হওয়া ওয়াজিব এবং এক্ষেত্রে আযান শোনা সম্ভব হওয়া ধর্তব্য। কেবল আযান শোনার মাধ্যমে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব করা হয়েছে যিকির (খুতবা) শোনার জন্য। ইনশাআল্লাহ জুমুআর সালাত অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে
(১)।
আর যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়া হয়, তবে ইকামাত শোনার মাধ্যমে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! যখন জুমুআর দিনে সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও} [জুমুআ: ৯]।
এখানে আযান শোনার সময় ধাবিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال الجمهور: والمراد بالنداء النداء الثاني؛ لأنه الأذان الذي كان على عهده وعهد أبي بكر وعمر، وهو أحد القولين في مذهب الحنفية
(1).
وقال الحنفية، وهو رواية عن أحمد: المراد به الأذان الأول الذي على المنارة
(2).
وقيل: يجب السعي للجمعة بدخول الوقت، وإن لم يؤذن لها أحد، وهو قول في مذهب الحنفية
(3).
• حجة الحنفية:
أن المصلي لو انتظر الأذان الذي عند المنبر لفاته سماع الخطبة، وربما يُفَوِّت الجمعة إذا كان بيته بعيدًا من الجامع
(4).
والأول أرجح؛
(ح-1042) لما رواه البخاري من طريق الزهري،
عن السائب بن يزيد، قال: كان النداء يوم الجمعة أوله إذا جلس الإمام على المنبر على عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وأبي بكر، وعمر رضي الله عنهما، فلما كان عثمان رضي الله عنه، وكثر الناس زاد النداءَ الثالثَ على الزوراء
(5).
فالأذان الثاني الذي كان على عهد النبي صلى الله عليه وسلم هو الإقامة سميت أذانًا من باب التغليب، كما قال صلى الله عليه وسلم: بين كل أذانين صلاة
(6). أي بين كل أذان وإقامة.
وقيل: المراد: «معنى قوله تعالى: {إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ} [الجمعة: 9]، أي: إذا قرب
--------------------------------------------
জমহুর উলামাগণ বলেন: আযান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দ্বিতীয় আযান; কারণ এটিই সেই আযান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং উমর (রা.)-এর যুগে প্রচলিত ছিল। এটি হানাফী মাযহাবের দুটি মতের একটি।
(১).
হানাফীগণ বলেন, এবং এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মিনারের ওপর দেওয়া প্রথম আযান।
(২).
বলা হয়েছে: জুমার ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথেই এর জন্য প্রচেষ্টা করা (গমন করা) ওয়াজিব, যদিও এর জন্য কেউ আযান না দেয়। এটি হানাফী মাযহাবের একটি অভিমত।
(৩).
• হানাফীগণের দলীল:
যদি মুসল্লি মিম্বারের নিকটবর্তী আযানের জন্য অপেক্ষা করে, তবে তার খুতবা শোনা ছুটে যাবে এবং তার ঘর যদি জামে মসজিদ থেকে দূরে হয়, তবে সম্ভবত তার জুমাও ছুটে যেতে পারে।
(৪).
আর প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ;
(হা-১০৪২) কারণ বুখারী যুহরী সূত্রে বর্ণনা করেছেন,
সায়িব ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং উমর (রা.)-এর যুগে জুমার দিনের আযানের শুরু হতো যখন ইমাম মিম্বারে বসতেন। অতঃপর উসমান (রা.)-এর যুগে যখন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি জাওরা নামক স্থানে তৃতীয় আযানটি বৃদ্ধি করেন।
(৫).
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যে দ্বিতীয় আযানটি ছিল, তা হলো ইকামাত। প্রাধান্য প্রদানের (তাগলীব) ভিত্তিতে একে আযান বলা হয়েছে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক দুই আযানের মাঝে সালাত রয়েছে।"
(৬). অর্থাৎ আযান ও ইকামাতের মাঝে।
বলা হয়েছে: উদ্দেশ্য হলো: মহান আল্লাহর বাণী: {যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয়} [জুমুআ: ৯]-এর অর্থ হলো: যখন নিকটবর্তী হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقت النداء لها بمقدار ما يدركها كل ساعٍ إليها، فاسعوا، وليس على تقدير أنه لا يجب السعي إليها إلا حين ينادى لها، والعرب قد تضع البلوغ بمعنى المقاربة كقوله: (إن ابن أم مكتوم لا ينادي حتى يقال له: أصبحت أصبحت)
(1)، أي: قارب الصباح.
ومثله: {فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ} [الطلاق: 2].
يريد إذا قاربن البلوغ؛ لأنه إذا بلغت آخر أجلها لم يكن له إمساكها.
وفى إجماع العلماء على أن من كان في طرف المصر العظيم، وإن لم يسمع النداء يلزمه السعي دليل واضح أنه لم يرد بالسعي حين النداء خاصة، وإنما أريد قربه»
(2).
• وأما الدليل على وجوب السعي للصلوات الخمس عند سماع الإقامة:
الدليل الأول:
(ح-1043) ما رواه البخاري ومسلم من طريق الزهري، عن سعيد بن المسيب وأبي سلمة،
عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: إذا سمعتم الإقامة، فامشوا إلى الصلاة، وعليكم بالسكينة والوقار، ولا تسرعوا، فما أدركتم فصلوا، وما فاتكم فأتموا
(3).
فرتب الشارع وجوب السعي إلى الصلاة على سماع الإقامة، ولا يجب عليه السعي إلى الصلاة قبل ذلك إلا في صلاة الجمعة حيث أوجب السعي بسماع النداء.
الدليل الثاني:
(ح-1044) ما رواه البخاري من حديث جابر رضي الله عنه، كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي الظهر بالهاجرة .... وفيه: والعشاء أحيانًا وأحيانًا، إذا رآهم اجتمعوا عجل، وإذا رآهم أبطؤوا أَخَّر
… الحديث
(4).
فإذا كان الناس تارة يعجلون الحضور، وتارة يتأخرون في الحضور فإن هذا
--------------------------------------------
আজানের সময়টি এমনভাবে নির্ধারিত যাতে প্রত্যেক চেষ্টাকারী (সালাতে পৌঁছাতে ইচ্ছুক ব্যক্তি) সেখানে পৌঁছাতে পারে। সুতরাং তোমরা ধাবিত হও। এর অর্থ এই নয় যে, আজান না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে যাওয়া ওয়াজিব নয়। আর আরবরা 'পৌঁছানো' শব্দটিকে 'নিকটবর্তী হওয়া' অর্থেও ব্যবহার করে, যেমন তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই ইবনে উম্মে মাকতুম আজান দেন না যতক্ষণ না তাকে বলা হয়: আপনি সকালে উপনীত হয়েছেন, আপনি সকালে উপনীত হয়েছেন)
(১), অর্থাৎ: সকাল নিকটবর্তী হয়েছে।
আর এর অনুরূপ হলো: {অতঃপর যখন তারা তাদের মেয়াদের (ইদ্দত পূর্তির) নিকটবর্তী হয়, তখন তোমরা তাদেরকে বিধিমতো রেখে দাও} [তালাক: ২]।
এখানে উদ্দেশ্য হলো যখন তারা মেয়াদের শেষ সময়ের নিকটবর্তী হয়; কারণ যদি সে মেয়াদের একদম শেষ সীমায় পৌঁছে যায় (অতিক্রম করে), তবে তাকে আর বিবাহবন্ধনে আটকে রাখার সুযোগ থাকে না।
আর আলেমদের ঐকমত্য (ইজমা) যে, যে ব্যক্তি কোনো বিশাল নগরের প্রান্তে অবস্থান করে, সে যদি আজান নাও শুনতে পায় তবুও তার জন্য জুমার উদ্দেশ্যে ধাবিত হওয়া আবশ্যক—এটি একটি স্পষ্ট দলিল যে, কেবল আজানের সময়ই ধাবিত হওয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো আজানের সময় হওয়ার নিকটবর্তী হওয়া।»
(২)।
• আর পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য একামাত শোনার সময় ধাবিত হওয়া ওয়াজিব হওয়ার দলিল প্রসঙ্গে:
প্রথম দলিল:
(হাদিস-১০৪৩) ইমাম বুখারি ও মুসলিম জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও আবু সালামাহ থেকে,
তারা আবু হুরাইরা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যখন তোমরা একামাত শুনতে পাও, তখন সালাতের দিকে হেঁটে এসো। তোমাদের ওপর শান্ত ও ধীরস্থির থাকা আবশ্যক। তাড়াহুড়ো করো না। সালাতের যতটুকু অংশ পাও তা আদায় করো, আর যা তোমাদের থেকে ছুটে যায় তা পূর্ণ করো
(৩)।
সুতরাং শরিয়ত প্রণেতা সালাতের দিকে ধাবিত হওয়াকে একামাত শোনার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আর এর আগে সালাতের দিকে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব নয়, তবে জুমার সালাত এর ব্যতিক্রম, যেখানে আজান শোনার সাথে সাথে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দলিল:
(হাদিস-১০৪৪) ইমাম বুখারি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুপুরের প্রচণ্ড খরতাপে জোহরের সালাত আদায় করতেন... আর তাতে আছে: এশার সালাত কখনো আগে পড়তেন আবার কখনো দেরিতে। যখন তিনি দেখতেন যে সবাই সমবেত হয়েছে তখন জলদি করতেন, আর যখন দেখতেন যে তারা আসতে বিলম্ব করছে তখন দেরি করতেন
… হাদিস
(৪)।
সুতরাং মানুষ যখন কখনো উপস্থিত হতে জলদি করে এবং কখনো উপস্থিত হতে দেরি করে, তখন এটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
دليل على أن الحضور لا يجب بمجرد سماع النداء، فسماع النداء يوجب على المصلي الحضور؛ لحديث: أتسمع النداء؟ قال: نعم، قال فأجب، وهو واجب موسع، ويضيق إذا سمع الإقامة، لأمره بالمشي عند سماع الإقامة، والله أعلم.
* * *
এটি এই বিষয়ের দলীল যে, কেবল আজান শোনার মাধ্যমেই উপস্থিত হওয়া ওয়াজিব হয় না। তবে আজান শোনা মুসল্লির ওপর উপস্থিত হওয়াকে ওয়াজিব করে দেয়; কারণ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "তুমি কি আজান শুনতে পাও?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তবে তুমি উত্তর দাও।" এটি একটি প্রশস্ত ওয়াজিব, যা ইকামত শোনার সময় সংকীর্ণ হয়ে যায়; কারণ ইকামত শোনার সময় হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المبحث الرابع في الخروج إلى الصلاة بسكينة ووقارالمدخل إلى المسألة:
• الأصل في المشي إلى العبادة أن يكون بسكينة ووقار، إلا ما ورد فيه النص كالرَّمَلِ في موضعه، والإسراع بين العلمين في السعي.
قال تعالى: {وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ} [لقمان: 19] وإذا كان هذا في المشي المباح فالمشي إلى العبادة أولى.
• التزام السكينة والوقار في السعي للصلاة سبب في التزامه بالصلاة، فالاستعجال في السعي يؤثر على قراءة المصلي وخشوعه، أو يحدث جلبة فيؤثر على خشوع عموم المصلين.
• إدراك الركعة ليس بأفضل من الالتزام بالسنة، والنص العام لا يقيده إلا نص مثله.
• إذا اجتمع الأمر والنهي بقوله صلى الله عليه وسلم: (وعليكم السكينة ولا تسرعوا) فإن ذلك لا يعني إلا توكيد الالتزام بهذا الأدب، وإلا فالأمر بالشيء نهي عن ضده.
• أَمَرَ الشرع بالمشي، ونَهَى عن الإسراع عند سمع الإقامة، وليس سماع الإقامة شرطًا للنهي، وإنما خرج مخرج الغالب؛ لأن الغالب أن الاستعجال إنما يقع عند سماع الإقامة خوف فوات إدراك التكبيرة أو الركعة.
[م-441] اختلف العلماء في حكم الإسراع لمن سمع الإقامة، وخشي فوات الركعة:
فقيل: يستحب السكينة والوقار مطلقًا، سواء أكانت الصلاةُ الجمعةَ أم غيرها، وسواء أخاف فوات تكبيرة الإحرام أم لا، وهذا مذهب الحنفية، والشافعية، ورواية
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ামাসআলার ভূমিকা:
• ইবাদতের উদ্দেশ্যে গমনের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা, তবে যে ক্ষেত্রে ভিন্ন নির্দেশ সম্বলিত পাঠ (নস) রয়েছে তা এর ব্যতিক্রম; যেমন নির্দিষ্ট স্থানে 'রমল' (দ্রুত পদচারণা) করা এবং সা'য়ি করার সময় দুই চিহ্নের মাঝে দ্রুত দৌড়ানো।
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমার পদচারণায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো} [লুকমান: ১৯]। যদি এটি সাধারণ হাঁটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তবে ইবাদতের উদ্দেশ্যে হাঁটার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য।
• সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা সালাতে একাগ্রতা বজায় রাখার একটি মাধ্যম। কারণ দ্রুত পথ চলা মুসল্লির কিরাত পাঠ ও খুশু-খুযুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, অথবা এটি এমন শোরগোল সৃষ্টি করে যা সাধারণ মুসল্লিদের খুশু-খুযুর ব্যাঘাত ঘটায়।
• রাকআত পাওয়া সুন্নাহ পালনের চেয়ে উত্তম নয়; আর সাধারণ কোনো বর্ণনাকে (নস) সমপর্যায়ের অন্য কোনো বর্ণনা ছাড়া সীমাবদ্ধ করা যায় না।
• যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা প্রশান্তি বজায় রাখো এবং দ্রুত চলো না"-এর মাধ্যমে আদেশ ও নিষেধ একত্রিত হয়েছে, তখন এটি এই শিষ্টাচার পালনের গুরুত্বের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা ছাড়া আর কিছু নয়। অন্যথায়, কোনো বিষয়ের আদেশ দেওয়া মানেই তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করা।
• শরিয়ত হাঁটার নির্দেশ দিয়েছে এবং ইকামত শোনার সময় দ্রুত চলা থেকে নিষেধ করেছে। তবে ইকামত শোনা এই নিষেধের জন্য কোনো শর্ত নয়, বরং এটি অধিকাংশ সময়ের অবস্থার প্রেক্ষিতে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ সাধারণত ইকামতের আওয়াজ শুনলেই তাকবীরে তাহরীমা বা রাকআত ছুটে যাওয়ার ভয়ে দ্রুত ছোটাছুটি করার প্রবণতা তৈরি হয়।
[ম-৪৪১] ইকামত শোনার পর যার রাকআত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে, তার দ্রুত গমনের বিধান নিয়ে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন:
বলা হয়েছে: সর্বাবস্থায় প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য মুস্তাহাব, সালাত জুমুআ হোক বা অন্য কিছু, আর সে তাকবীরে তাহরীমা ছুটে যাওয়ার ভয় করুক বা না করুক। এটি হানাফি ও শাফিয়ি মাযহাবের মত এবং একটি বর্ণনা অনুযায়ী...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عن أحمد
(1).
وخالف المالكية، فقالوا: الإسراع بلا خَبَب جائز، ولا ينافي الوقار والسكينة، وتكره الهرولة، ولو خاف فوات الجمعة، فإن خاف فوات الوقت وجبت الهرولة
(2).
وقيل: يكره الإسراع الشديد مطلقًا، ويكره الإسراع اليسير إلا إذا خاف فوات تكبيرة الإحرام، وطمع في إدراكها، وهذا منصوص الإمام أحمد، وهو المشهور من مذهبه
(3).
قال أحمد في رواية مهنَّا: ولا بأس، إذا طمع أن يدرك التكبيرة الأولى أن يسرع شيئًا، ما لم يكن عجلة تقبح؛ جاء عن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أنهم كانوا يعجلون شيئًا إذا تخوفوا فوت التكبيرة الأولى، وطمعوا في إدراكها
(4).
وقال إسحاق بن راهويه: إذا خاف فوات الركعة الأولى سعى
(5).
فخص ذلك بفوات الركعة، لا فوات تكبيرة الإحرام.
وقال ابن تيمية في شرح العمدة: إذا خشي أن تفوته الجماعة، أو الجمعة فلا يكره له الإسراع
(6).
وظاهر قوله: إذا خشي أن تفوته الجماعة أن ذلك مقيد بتعذر جماعة ثانية، قال في الإنصاف: «وقد ظهر مما تقدم أنه يعجل لإدراك الركعة الأخيرة، لكن هل تقيد
--------------------------------------------
আহমদ থেকে বর্ণিত
(১)।
মালিকিগণ এর বিরোধিতা করেছেন, তারা বলেছেন: ক্ষিপ্রগতি (খাবাব) ব্যতীত দ্রুত চলা বৈধ এবং এটি গাম্ভীর্য ও প্রশান্তির পরিপন্থী নয়; তবে দৌড়ানো মাকরুহ, এমনকি যদি জুমার নামাজ ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে তবুও। কিন্তু যদি ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে দৌড়ানো ওয়াজিব
(২)।
বলা হয়েছে: অত্যধিক দ্রুত চলা নিঃশর্তভাবে মাকরুহ। আর সামান্য দ্রুত চলাও মাকরুহ, তবে যদি তাকবিরে তাহরিমা ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে এবং তা পাওয়ার আশা থাকে তবে ভিন্ন কথা। এটি ইমাম আহমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য এবং তাঁর মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত
(৩)।
মুহান্নার বর্ণনায় আহমদ বলেছেন: প্রথম তাকবির পাওয়ার আশা থাকলে কিছুটা দ্রুত চলাতে কোনো অসুবিধা নেই, যতক্ষণ না তা কুৎসিত তাড়াহুড়োতে পরিণত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা প্রথম তাকবির ছুটে যাওয়ার ভয় করলে এবং তা পাওয়ার আশা থাকলে কিছুটা দ্রুততা অবলম্বন করতেন
(৪)।
ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেন: যদি প্রথম রাকাত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে দৌড়াবে
(৫)।
সুতরাং তিনি একে রাকাত ছুটে যাওয়ার সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন, তাকবিরে তাহরিমা ছুটে যাওয়ার সাথে নয়।
ইবনে তাইমিয়্যাহ শারহুল উমদাহ গ্রন্থে বলেন: যদি জামাত বা জুমা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য দ্রুত চলা মাকরুহ নয়
(৬)।
তাঁর বক্তব্য—'যদি জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে'—এর বাহ্যিক অর্থ হলো এটি দ্বিতীয় কোনো জামাত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকার সাথে শর্তযুক্ত। আল-ইনসাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: «পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, শেষ রাকাত পাওয়ার জন্য সে তড়িঘড়ি করবে, কিন্তু এটি কি সীমাবদ্ধ হবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المسألتان بتعذر الجماعة؟ فيه تردد»
(1).
هذا مجموع الأقوال في المسألة، وملخصها كالتالي:
فالإسراع الشديد مكروه مطلقًا عند الجمهور، ولو خاف فوات الجمعة والجماعة.
واستثنى المالكية إذا خاف فوات الوقت فإنه يجب، ولا أظن المسألة هذه محل خلاف مع غيرهم.
وقال بعض الحنابلة: لا يكره الإسراع الشديد إذا خاف فوات الجمعة، أو الجماعة.
وأما الإسراع اليسير:
فقيل: يكره مطلقًا، وهو مذهب الحنفية، والشافعية، ورواية عن أحمد.
وقيل: لا يكره مطلقًا، وهو مذهب المالكية.
وقيل: يكره إلا إذا طمع في إدراك التكبيرة الأولى (تكبيرة الإحرام)، وهو مذهب الحنابلة.
وقيل: يكره إلا إذا طمع في إدراك الركعة الأولى، وهو قول إسحاق.
• سبب الخلاف:
الاختلاف في الإسراع اليسير، هل ينافي السكينة والوقار المأمور بهما في الحديث الصحيح: (وعليكم السكينة والوقار ولا تسرعوا).
ولأن سبب توجيه النهي كان مرتبطًا بإسراع حدثت معه جلبة دعت النبي صلى الله عليه وسلم ليسأل، ما شأنكم؟ قالوا: استعجلنا إلى الصلاة، فقال: لا تفعلوا
… وذكر الحديث، فمن لم ينظر إلى خصوص السبب، قال العبرة بعموم اللفظ.
ومن يرى أن السبب وصف مؤثر ارتبط بسببه توجيه النهي، فيقيد الحكم بالحال التي توجَّه فيها النهي؛ لأنه المتيقن، وغيره لا يساويه، فلا يلحق به.
كما أن قوله صلى الله عليه وسلم: (فما أدركتم فصلوا
… ) هذا الشرط يبين أن النهي عن الإسراع متوجه لمن يدرك الصلاة، ويخشى أن يفوته بعضها، وأما إذا خاف فوات الصلاة جملة، فهل يشمله النهي؟ فالنهي عن الإسراع مكروه، فهل الحاجة إلى إدراك الصلاة ترفع الكراهة؟ لأن فوات الجمعة أو الجماعة لا يجبر، ولأن فضيلة
--------------------------------------------
জামাআত অসম্ভব হয়ে যাওয়ার ভিত্তিতে কি এ দুটি মাসআলা প্রযোজ্য? এ ব্যাপারে দ্বিধা রয়েছে
(১)।
এই মাসআলায় সকল মতামতের সমষ্টি এটিই এবং তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
জুমুআ এবং জামাআত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকলেও জমহুর (অধিকাংশ) আলিমদের মতে অত্যধিক দ্রুত চলা সর্বাবস্থায় মাকরূহ।
মালিকি মাযহাবের আলিমগণ ব্যতিক্রম বর্ণনা করেছেন যে, যদি ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে তবে দ্রুত চলা ওয়াজিব; আর আমি মনে করি না যে এই বিষয়টি অন্যদের সাথে মতভেদের ক্ষেত্র।
জনৈক হাম্বলি আলিম বলেন: যদি জুমুআ বা জামাআত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে তবে অত্যধিক দ্রুত চলা মাকরূহ নয়।
আর সামান্য দ্রুত চলার ব্যাপারে:
বলা হয়েছে যে: এটি সর্বাবস্থায় মাকরূহ; এটি হানাফি ও শাফিয়ি মাযহাবের মত এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি রেওয়াত।
আবার বলা হয়েছে যে: এটি সর্বাবস্থায় মাকরূহ নয়; এটি মালিকি মাযহাবের মত।
আরও বলা হয়েছে যে: এটি মাকরূহ, তবে প্রথম তাকবির (তাকবিরে তাহরিমা) পাওয়ার আশা থাকলে তা মাকরূহ নয়; এটি হাম্বলি মাযহাবের মত।
এবং বলা হয়েছে যে: এটি মাকরূহ, তবে প্রথম রাকাত পাওয়ার আশা থাকলে তা মাকরূহ নয়; এটি ইসহাকের বক্তব্য।
• মতভেদের কারণ:
সামান্য দ্রুত চলার ব্যাপারে মতভেদটি হলো—তা কি সহিহ হাদিসে নির্দেশিত গাম্ভীর্য ও স্থিরতার পরিপন্থী কি না? (হাদিসে এসেছে: "তোমরা গাম্ভীর্য ও স্থিরতা বজায় রাখো এবং দ্রুত দৌড়াবে না।")।
কারণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এমন এক দ্রুত চলার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল যার ফলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছিল, যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যে, "তোমাদের কী হয়েছে?" তারা বলল, "আমরা সালাতের জন্য তাড়াহুড়ো করেছি।" তখন তিনি বললেন, "এমনটি করো না..." (হাদিসটি উল্লেখ করলেন)। সুতরাং যারা এই বিশেষ কারণের দিকে দৃষ্টি দেননি, তারা বলেছেন যে শব্দের ব্যাপকতাই বিবেচ্য।
আর যারা মনে করেন যে কারণটি একটি প্রভাববিস্তারকারী বৈশিষ্ট্য যার প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞাটি এসেছে, তারা হুকুমটিকে সেই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ রাখেন যাতে নিষেধাজ্ঞাটি দেওয়া হয়েছিল। কারণ এটিই নিশ্চিত বিষয়, আর অন্য বিষয়গুলো এর সমপর্যায়ের নয়, তাই এর সাথে যুক্ত হবে না।
তেমনিভাবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা যা পাও তা আদায় করো..." এই শর্তটি স্পষ্ট করে যে, দ্রুত চলার নিষেধাজ্ঞাটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা সালাত পাবে কিন্তু কিছু অংশ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। তবে যদি কেউ সালাত পুরোপুরি ছুটে যাওয়ার ভয় করে, তবে কি সে এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে? দ্রুত চলার নিষেধাজ্ঞা তো মাকরূহ পর্যায়ের, এখন সালাত পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কি এই মাকরূহ হওয়াকে দূর করে দেবে? যেহেতু জুমুআ বা জামাআত ছুটে গেলে তা পূরণ করা যায় না এবং যেহেতু ফজিলত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
إدراك الجمعة أو الجماعة تربو على تحصيل أجر ترك المكروه؛ فالمفسدة في ارتكاب المكروه مغمورة في فضل تحصيل الواجب إلا أن يقال: ترك النهي مقدم على فعل المأمور؛ لحديث: إذا نهيتكم عن شيء فاجتنبوه، وإذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم. متفق عليه
(1).
ومن قال: يغتفر الإسراع اليسير لإدراك تكبيرة الإحرام أو لإدراك الركعة استشهد ببعض الآثار عن الصحابة، وهي معارضة بآثار أخرى بعدم الإسراع مطلقًا، سنأتي على تخريجها إن شاء الله تعالى.
• دليل من قال: يكره الإسراع مطلقًا:
الدليل الأول:
(ح-1045) ما رواه البخاري ومسلم من طريق شيبان، عن يحيى، عن عبد الله بن أبي قتادة،
عن أبيه، قال: بينما نحن نصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم إذ سمع جلبة رجال، فلما صلى قال: ما شأنكم؟ قالوا: استعجلنا إلى الصلاة؟ قال: فلا تفعلوا، إذا أتيتم الصلاة فعليكم بالسكينة، فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فأتموا
(2).
الدليل الثاني:
(ح-1046) ما رواه البخاري ومسلم من طريق الزهري، عن سعيد بن المسيب وأبي سلمة،
عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: إذا سمعتم الإقامة، فامشوا إلى الصلاة، وعليكم بالسكينة والوقار، ولا تسرعوا، فما أدركتم فصلوا، وما فاتكم فأتموا
(3).
وجه الاستدلال:
• اشتمل حديث أبي هريرة على ثلاثة أمور:
الأمر الأول: الأمر بالمشي إلى الصلاة، وهو ينافي السعي، ولأن الأمر
--------------------------------------------
জুমুআ বা জামাআত পাওয়া মাকরূহ কাজ বর্জনের সওয়াব হাসিল করার চেয়েও শ্রেষ্ঠ; কেননা মাকরূহ কাজে লিপ্ত হওয়ার ক্ষতি ওয়াজিব পালনের ফযিলতের মধ্যে নিমজ্জিত। তবে যদি বলা হয় যে, কোনো নির্দেশ পালন করার চেয়ে নিষেধ বর্জন করা অগ্রগণ্য; এই হাদিসের কারণে: "আমি যখন তোমাদের কোনো বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো; আর যখন কোনো বিষয়ে আদেশ করি, তখন তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী তা পালন করো।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।
(১).
আর যারা বলেন: তাকবীরে তাহরীমা বা রুকু পাওয়ার জন্য সামান্য দ্রুত চলা মার্জনীয়, তারা সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত কিছু আছারের মাধ্যমে দলীল পেশ করেন। তবে এগুলো অন্য কিছু আছারের বিরোধী যেখানে কোনোভাবেই দ্রুত না চলার কথা বলা হয়েছে; আমরা ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই সেগুলোর সূত্র (তাখরীজ) উল্লেখ করব।
• যারা বলেন যে কোনোভাবেই দ্রুত চলা মাকরূহ, তাদের দলীল:
প্রথম দলীল:
(হাদিস-১০৪৫) ইমাম বুখারী ও মুসলিম শায়বান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন,
তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করছিলাম, হঠাৎ তিনি কিছু লোকের শোরগোল শুনতে পেলেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের কী হয়েছে?" তারা বলল: "আমরা সালাত পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেছিলাম।" তিনি বললেন: "এমনটি করো না। যখন তোমরা সালাতে আসবে, তখন ধীরস্থিরভাবে আসবে। সালাতের যতটুকু অংশ তোমরা পাও তা আদায় করো, আর যতটুকু অংশ তোমাদের ছুটে যায় তা পূর্ণ করো।"
(২).
দ্বিতীয় দলীল:
(হাদিস-১০৪৬) ইমাম বুখারী ও মুসলিম যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ও আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন,
তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন তোমরা ইকামাহ শুনতে পাও, তখন হেঁটে সালাতে আসো; তোমাদের ওপর ধীরস্থিরতা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা আবশ্যক। তাড়াহুড়ো করো না। সালাতের যতটুকু অংশ তোমরা পাও তা আদায় করো, আর যতটুকু অংশ তোমাদের ছুটে যায় তা পূর্ণ করো।"
(৩).
দলীলের যৌক্তিকতা:
• আবু হুরায়রার হাদিসটি তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে:
প্রথম বিষয়: সালাতের দিকে হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ, যা দ্রুত বেগে ছুটে চলার বিপরীত, আর যেহেতু নির্দেশ...
--------------------------------------------