(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: -)
الجامع في أحكام صفة الصلاة - الدبيان   (دبيان الدبيان)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: الجامع في أحكام صفة الصلاة من الخروج إليها حتى الانصراف منها [قسم من الكتاب الأم «أحكام الصلاة»]

المؤلف: أبو عمر دبيان بن محمد الدبيان

الناشر: (بدون)

الطبعة: الأولى، 1441 هـ

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1442

সালাতের পদ্ধতির বিধানাবলি বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ সংকলন - আদ-দুবাইয়ান   (দুবাইয়ান আদ-দুবাইয়ান)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

গ্রন্থ: সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া থেকে তা শেষ করা পর্যন্ত সালাতের পদ্ধতির বিধানাবলি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ সংকলন [মূল গ্রন্থ «আহকামুস সালাত বা সালাতের বিধানাবলি»-এর একটি অংশ]

লেখক: আবু উমর দুবাইয়ান বিন মুহাম্মাদ আদ-দুবাইয়ান

প্রকাশক: (নেই)

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪১ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة الكتاب

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، وأصلي وأسلم على المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد.

فمنذ ما يقرب من ربع قرن تقريبًا، وأنا أعمل على هذا المشروع، حتى انقطعت له وقَصَرْتُ عليه عملي، مقدمًا له على غيره من درس، أو خطابة، أو موعظة، وفي كلٍ خير، إلا أني رأيت الكتاب أبقى، وشرطه أعلى، فهو وعاء لحفظ العلم، وتحرير المسائل، وضبط الأقوال، وتوثيقها من مصادرها، ومساحة رحبة لدراسة الأدلة ومناقشة دلالتها، وبيان صحيحها من ضعيفها، ومحاورة الأقوال والأفكار ليتمحص الأقوى منها حسب توفيق الله للعبد، ويكفي الكتاب بأنك تخاطب به الشاهد والغائب، فهو لا يحده زمان، ولا يحتويه مكان، يرثه الخلف عن السلف، فالكتاب أطول عمرًا من صاحبه، وما من صاحب درس، أو خطيب أو واعظ إلا ويستمد مادته من الكتاب، وقد اندرس علم أئمة كانوا ملء السمع والبصر في حياتهم، لأنهم لم يدونوا كتابًا في حياتهم، ولم يُسَخَّر لهم من يكتب علمهم، فانقطع عملهم، وخمل ذكرهم، ولولا بعض كتب التراجم ما كنت لتسمع بهم.

وفي المقابل رب كتاب أدخل صاحبه في الخالدين وجعل له لسان صدق في الآخرين.

ولقد أثمر هذا الانقطاع أول ما أثمر كتاب الطهارة في عشرة مجلدات، ثم انتقلت منه إلى مشروع المعاملات المالية أصالة ومعاصرة في عشرين مجلدًا، ثم رجعت إلى مشروع الصلاة لاستكمال العبادات، وقسمت مشروع الصلاة إلى قسمين: أحكام
গ্রন্থের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি। অতঃপর:

দীর্ঘ প্রায় পঁচিশ বছর যাবৎ আমি এই প্রকল্পের ওপর কাজ করছি, এমনকি আমি নিজেকে এর জন্য পূর্ণ নিবেদিত করেছি এবং আমার সকল কর্মতৎপরতাকে এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছি; একে আমি অন্য সকল পাঠদান, খুতবা বা নসিহতের ওপর প্রাধান্য দিয়েছি। যদিও এই সবকিছুর মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে, তবে আমি দেখেছি যে গ্রন্থই অধিক স্থায়িত্বশীল এবং এর মানদণ্ড উচ্চতর। এটি জ্ঞান সংরক্ষণের আধার, মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, বিভিন্ন মতামতের সংকলন এবং মূল উৎস হতে সেগুলোর প্রামাণিকীকরণের নির্ভরযোগ্য স্থান। এটি দলীলসমূহ অধ্যয়ন, সেগুলোর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা এবং বিশুদ্ধ ও দুর্বল বর্ণনা স্পষ্ট করার এক প্রশস্ত ক্ষেত্র। এটি বিভিন্ন মতামত ও চিন্তাধারার মধ্যে পর্যালোচনার একটি মাধ্যম, যাতে আল্লাহর তাওফীকে অধিক শক্তিশালী মতটি পরিস্ফুটিত হয়। একটি গ্রন্থের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আপনি এর মাধ্যমে উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলের সাথে কথা বলছেন; এটি কোনো কালের দ্বারা সীমাবদ্ধ নয় এবং কোনো স্থানও একে আবদ্ধ করতে পারে না। উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের থেকে এর উত্তরাধিকার লাভ করে। গ্রন্থের আয়ু তার লেখকের চেয়েও দীর্ঘ হয়। এমন কোনো শিক্ষক, খতিব বা ওয়ায়েজ নেই যারা গ্রন্থ থেকে তাদের পাঠ্য উপাদান গ্রহণ করেন না। এমন অনেক ইমাম ছিলেন যারা জীবদ্দশায় অত্যন্ত খ্যাতিমান ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ছিলেন, কিন্তু তাদের জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে কারণ তারা কোনো গ্রন্থ রচনা করে যাননি এবং তাদের জ্ঞান লিপিবদ্ধ করার মতো কাউকেও পাননি। ফলে তাদের কর্মের ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তাদের নাম মুছে গিয়েছে; যদি কিছু জীবনীগ্রন্থ না থাকত তবে আপনি তাদের সম্পর্কে কোনো কিছুই জানতে পারতেন না।

পক্ষান্তরে, অনেক ক্ষেত্রে একটি গ্রন্থই তার লেখককে অমরদের অন্তর্ভুক্ত করে দেয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের নিকট তার জন্য সুখ্যাতি ও সত্যবাদিতার সাক্ষ্য রেখে যায়।

আর এই একাগ্রতার প্রথম ফসল হিসেবে দশ খণ্ডে 'কিতাবুত তাহারাহ' (পবিত্রতা অধ্যায়) প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আমি সেখান থেকে 'মুআমালাত মালিয়া: আসলাত ওয়া মুআসিরাহ' (আর্থিক লেনদেন: মূলনীতি ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট) প্রকল্পের দিকে মনোনিবেশ করি যা বিশ খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে। অতঃপর ইবাদতের বিষয়গুলো পূর্ণ করার জন্য আমি পুনরায় 'সালাত' প্রকল্পের দিকে ফিরে আসি এবং সালাত প্রকল্পটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করি: আহকাম (বিধানাবলী)
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ৪)
الصلاة المكتوبة، وأحكام صلاة التطوع، وحين انتهيت من صفة الصلاة كنت قد أنجزت من مشروع أحكام الصلاة عشرة مجلدات، ليكون مجموع ما أنجز من المشروع حتى الآن بتوفيق الله سبحانه أربعين مجلدًا، ولله الحمد.

ولقد اقترح عليَّ بعض الإخوة طباعة صفة الصلاة مفردًا لما له من أهمية في بابه، ولأن بعض الناس قد لا يرغب في شراء كتاب الصلاة كاملًا، فلا نُحَمِّلُه شراءه كاملًا، ولا نحرمه من شراء ما يحتاج إليه.

من أجل هذا رغبت في إفراده، وسميته: الجامع في أحكام صفة الصلاة، وتركت تسلسل المسائل وأرقام الأحاديث والآثار كما هي في كتاب الأم.

أسأل الله سبحانه وتعالى أن يرزقني شكر نعمته، وأن يتقبله مني، وأن يجعل العمل خالصًا لوجهه، مقربًا إليه، زلفى إلى رضوانه، والنجاة من عذابه، والحمد لله رب العالمين.

 

وكتبه

أبو عمر دبيان بن محمد الدبيان

القصيم - بريدة
ফারজ সালাত এবং নফল সালাতের বিধানসমূহ। আর যখন আমি সালাতের পদ্ধতির (সিফাতুস সালাত) বর্ণনা সমাপ্ত করলাম, তখন সালাতের বিধান সংক্রান্ত প্রকল্প থেকে আমি দশটি খণ্ড সম্পন্ন করেছি। ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহে এই প্রকল্পের এখন পর্যন্ত সমাপ্ত হওয়া মোট খণ্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চল্লিশটি। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

কিছু ভাই আমাকে এই বিষয়ের গুরুত্বের কারণে সালাতের পদ্ধতি অংশটি পৃথকভাবে মুদ্রণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া যেহেতু কিছু লোক হয়তো সালাত সম্পর্কিত পুরো বইটি ক্রয় করতে আগ্রহী নাও হতে পারেন, তাই আমরা তাদের ওপর পুরো বইটি কেনার বোঝা চাপিয়ে দিই না, আবার তাদের যা প্রয়োজন তা ক্রয় করা থেকেও তাদের বঞ্চিত করি না।

এই কারণে আমি একে পৃথক করতে চেয়েছি এবং এর নাম দিয়েছি: ‘আল-জামি ফি আহকামি সিফাতিস সালাত’। আমি মাসআলাগুলোর ধারাবাহিকতা এবং হাদিস ও আসারসমূহের (সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনা) নম্বরসমূহ মূল গ্রন্থে যেমন ছিল তেমনই রেখে দিয়েছি।

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করেন, আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করেন, যা তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম হবে এবং তাঁর সন্তুষ্টির নৈকট্য ও তাঁর আযাব থেকে মুক্তির উপায় হবে। আর সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

 

এটি লিখেছেন

আবু উমর দুবইয়ান বিন মুহাম্মদ আদ-দুবইয়ান

আল-কাসিম - বুরাইদাহ
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الباب الأول في صفة الصلاة

‌‌الفصل الأول في الأحكام المرتبطة بالخروج إلى الصلاة

‌‌المبحث الأول في استحباب الخروج متطهرًا بنية الصلاة

المدخل إلى المسألة:

• الاستحباب حكم شرعي يتوقف على دليل شرعي.

• فضائل العمل لا تثبت بالقياس.

• الخروج إلى الصلاة متطهرًا وإحسان الطهور بنية الصلاة سنة متفق عليها.

• الباعث إذا خلص لله كان أكمل، فنية الخروج إذا تمحضت خالصة لإرادة الصلاة كانت أكمل من الخروج لها ولغيرها ولو كانت نية مباحة.

[م-438] يسن الخروج إلى الصلاة متطهرًا، والإحسان في الطهارة بنية الصلاة. وهذه السنة متفق عليها‌‌(1).

• والأدلة على هذه السنن الثلاث:

الدليل الأول:

(ح-1032) ما رواه البخاري ومسلم من طريق الأعمش، قال: سمعت

--------------------------------------------

‌‌(1). عمدة القارئ (5/ 166)، شرح المشكاة للطيبي (3/ 934)، تفسير القرطبي (12/ 276)، شرح الزرقاني على الموطأ (1/ 461)، إكمال المعلم (2/ 620)، معالم السنن (1/ 161)، شرح النووي على صحيح مسلم (3/ 116)، التوضيح لشرح الجامع الصحيح (6/ 421).
প্রথম অধ্যায়: সালাতের বিবরণ প্রসঙ্গে

প্রথম পরিচ্ছেদ: সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান

প্রথম অনুচ্ছেদ: সালাতের নিয়তে পবিত্র অবস্থায় বের হওয়া মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে

বিষয়টির ভূমিকা:

• মুস্তাহাব হওয়া একটি শরয়ি হুকুম যা শরয়ি দলিলের ওপর নির্ভরশীল।

• আমলের ফজিলত কিয়াসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না।

• পবিত্র অবস্থায় সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া এবং সালাতের নিয়তে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করা একটি সর্বসম্মত সুন্নত।

• কাজের প্রেরণা যখন আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয় তখন তা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হয়। সুতরাং বের হওয়ার নিয়ত যখন কেবল সালাত আদায়ের ইচ্ছায় নিবেদিত হয়, তখন তা সালাত ও অন্য কোনো উদ্দেশ্যে (যদিও তা বৈধ হয়) বের হওয়ার চেয়ে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।

[ম-৪৩৮] পবিত্র অবস্থায় সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া এবং সালাতের নিয়তে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নত। আর এই সুন্নতটি সর্বসম্মত‌‌(১)।

• এই তিনটি সুন্নতের সপক্ষে দলিলসমূহ:

প্রথম দলিল:

(হা-১০৩২) ইমাম বুখারি ও মুসলিম আমাশ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শুনেছি

--------------------------------------------

‌‌(১). উমদাতুল কারি (৫/ ১৬৬), তিব্বির শারহুল মিশকাত (৩/ ৯৩৪), তাফসিরে কুরতুবি (১২/ ২৭৬), মুয়াত্তার ওপর শারহুয যুরকানি (১/ ৪৬১), ইকমালুল মুলিম (২/ ৬২০), মাআলিমুস সুনান (১/ ১৬১), সহিহ মুসলিমের ওপর শারহে নববি (৩/ ১১৬), আত-তাওদিহ লি-শারহিল জামিইস সহিহ (৬/ ৪২১)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ৬)
أبا صالح، يقول:

سمعت أبا هريرة، يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: صلاة الرجل في الجماعة تضعف على صلاته في بيته، وفي سوقه، خمسًا وعشرين ضعفًا، وذلك أنه: إذا توضأ، فأحسن الوضوء، ثم خرج إلى المسجد، لا يخرجه إلا الصلاة، لم يَخْطُ خطوة، إلا رفعت له بها درجة، وحُطَّ عنه بها خطيئة، فإذا صلى، لم تزل الملائكة تصلي عليه، ما دام في مصلاه: اللهم صَلِّ عليه، اللهم ارحمه، ولا يزال أحدكم في صلاة ما انتظر الصلاة. هذا لفظ البخاري‌‌(1).

وفي رواية لهما: ثم أتى المسجد لا يريد إلا الصلاة، لا ينهزه إلا الصلاة‌‌(2).

وفي رواية للبخاري: لم يَخْطُ خطوة إلا رفعه الله بها درجة، وحط عنه خطيئة حتى يدخل المسجد‌‌(3).

وجه الاستدلال:

قوله صلى الله عليه وسلم: (وذلك أنه إذا توضأ، فأحسن الوضوء، ثم خرج إلى المسجد لا يخرجه إلا الصلاة).

فقوله: (وذلك أنه إذا توضأ) التقدير: وذلك لأنه إذا توضأ فتكون الجملة تعليلية للحكم السابق، فكان هذا الفضل مرتبًا على الوضوء في البيت، والإحسان فيه، والخروج بنية الصلاة، والمشي إليها ليحصل له هذا الفضل من رفع الدرجات وتكفير السيئات وصلاة الملائكة عليه ما دام في مصلاه، فالأصل ألا يترتب هذا الفضل إلا لمن جمع هذه الأمور، والله أعلم‌‌(4).

وقوله: (لا ينهزه إلا الصلاة، لا يريد إلا الصلاة) أي لا يحركه ولا ينهضه ولا يبعثه على الخروج إلا الصلاة، وفيه فضيلة أن تتمحض نية الخروج خالصة لإرادة الصلاة، لاستخدامه النفي والإثبات وهو دليل على الحصر، فلا يكون

--------------------------------------------

‌‌(1). صحيح البخاري (647)، وصحيح مسلم (272 - 649).

‌‌(2). صحيح البخاري (2119)، وصحيح مسلم (232).

‌‌(3). البخاري (477) ..

‌‌(4). انظر إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام (1/ 190).
আবু সালিহ বলেন: আমি আবু হুরাইরাহ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির জামাতের সাথে সালাত আদায় করা তার নিজের ঘরে বা বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি সওয়াব রাখে। আর এটি এজন্য যে, যখন সে উত্তমরূপে ওযু করে, অতঃপর মসজিদের দিকে বের হয় এবং সালাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য তাকে বের করে না, তখন সে যে পদক্ষেপই ফেলে তার বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মোচন করা হয়। অতঃপর যখন সে সালাত আদায় করে, যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে থাকে, ফেরেশতারা তার জন্য এই বলে দু'আ করতে থাকে: 'হে আল্লাহ, আপনি তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন; হে আল্লাহ, আপনি তাকে দয়া করুন'। আর তোমাদের কেউ ততক্ষণ সালাতের মধ্যেই গণ্য হয় যতক্ষণ সে সালাতের জন্য অপেক্ষা করে।" এটি বুখারীর শব্দ।‌‌(১).

উভয় ইমামের অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর সে মসজিদে আসল এবং সালাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না, সালাত ব্যতীত অন্য কিছুই তাকে উদ্বুদ্ধ করেনি।"‌‌(২).

বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "সে প্রতিটি যে পদক্ষেপ ফেলে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি গুনাহ মোচন করেন, যতক্ষণ না সে মসজিদে প্রবেশ করে।"‌‌(৩).

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: (আর এটি এজন্য যে, যখন সে ওযু করে এবং উত্তমরূপে ওযু করে, অতঃপর মসজিদের দিকে বের হয়, আর সালাত ব্যতীত অন্য কিছু তাকে বের করে না)।

তাঁর বাণী: (আর এটি এজন্য যে, যখন সে ওযু করে) এর সারমর্ম হলো: "আর এটি একারণেই যে, যখন সে ওযু করে", ফলে বাক্যটি পূর্ববর্তী হুকুমের কারণ হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এই ফযীলতটি অর্জিত হবে বাড়িতে ওযু করা, তা উত্তমরূপে সম্পন্ন করা, সালাতের নিয়তে বের হওয়া এবং সেদিকে পায়ে হেঁটে যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে; যাতে করে সে মর্যাদা বৃদ্ধি, গুনাহ মাফ এবং যতক্ষণ সালাতের স্থানে থাকে ততক্ষণ ফেরেশতাদের দু'আ পাওয়ার ফযীলত লাভ করতে পারে। মূল কথা হলো, যে ব্যক্তি এই বিষয়গুলো একত্রে পালন করবে কেবল তারই এই ফযীলত অর্জিত হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।‌‌(৪).

এবং তাঁর বাণী: (সালাত ব্যতীত অন্য কিছুই তাকে উদ্বুদ্ধ করেনি, সালাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না) অর্থাৎ সালাত ছাড়া অন্য কিছুই তাকে নড়াচড়া করতে, দাঁড়াতে বা বের হতে প্ররোচিত করেনি। এতে এই ফযীলত রয়েছে যে, বের হওয়ার নিয়তটি শুধুমাত্র সালাতের উদ্দেশ্যেই একনিষ্ঠ হতে হবে; কারণ এখানে না-বাচক ও হ্যাঁ-বাচক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে। ফলে এমন হবে না যে...

--------------------------------------------

‌‌(১). সহীহ বুখারী (৬৪৭), এবং সহীহ মুসলিম (২৭২ - ৬৪৯)।

‌‌(২). সহীহ বুখারী (২১১৯), এবং সহীহ মুসলিম (২৩২)।

‌‌(৩). বুখারী (৪৭৭) ..

‌‌(৪). দেখুন: ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (১/ ১৯০)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ৭)
الباعث على نيته الصلاة وغاية أخرى معها من شغل وغيره، حتى ولو كانت هذه النية مباحة لا تؤثر في صحة الصلاة، فإن الباعث إذا خلص لله كان أكمل، وما كان أكمل استحق مزية فضل على غيره.

الدليل الثاني:

(ح-1033) ما رواه مسلم من طريق عبيد الله يعني ابن عمرو (الرقي)، عن زيد بن أبي أنيسة، عن عدي بن ثابت، عن أبي حازم الأشجعي،

عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من تطهر في بيته، ثم مشى إلى بيت من بيوت الله ليقضي فريضة من فرائض الله، كانت خطوتاه إحداهما تحط خطيئة، والأخرى ترفع درجة‌‌(1).

وجه الاستدلال:

قوله صلى الله عليه وسلم (من تطهر في بيته، ثم مشى إلى بيت من بيوت الله ليقضي فريضة) فجملة (تطهر، ومشى، ليقضي) فعل الشرط وما عطف عليه في حكمه، وجملة (كانت خطوتاه .. ) جواب الشرط، وإذا رتب الفضل عن طريق الشرط لم يحصل إلا بحصول شرطه وهو تطهر في البيت، ثم خرج إلى المسجد ماشيًا بنية الصلاة.

قوله: (ثم مشى) ظاهر الحديث أن هذا الجزاء للماشي دون الراكب، وأن الراكب لا يحصل له هذا الفضل، ففي حديث الصحيحين قال: (لم يُخْطُ خطوة) والخطوة خاصة بالماشي، وفي لفظ مسلم، (من تطهر في بيته ثم مشى).

ويؤيد ذلك ما جاء في نفي الركوب للخروج إلى الجمعة، وهو فرد من أفراد الخروج إلى المسجد.

(ح-1034) فقد روى أحمد من طريق ابن المبارك، عن الأوزاعي، عن حسان بن عطية، عن أبي الأشعث الصنعاني،

عن أوس بن أوس الثقفي، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من غسل واغتسل يوم الجمعة، وبكر وابتكر، ومشى، ولم يركب، فدنا من الإمام،

--------------------------------------------

‌‌(1). صحيح مسلم (666).
সালাতের নিয়তের সাথে পার্থিব কোনো কর্মব্যস্ততা বা অন্য কোনো লক্ষ্য থাকা—এমনকি সেই উদ্দেশ্য যদি বৈধও হয়—তা সালাতের শুদ্ধতায় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে কর্মের চালিকাশক্তি বা নিয়ত যদি কেবল আল্লাহর জন্য নিবেদিত হয়, তবে তা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হয়। আর যা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, তা অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে।

দ্বিতীয় দলিল:

(হা-১০৩৩) ইমাম মুসলিম উবাইদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে আমর (আর-রাক্কি) থেকে, তিনি যায়েদ বিন আবি আনিসাহ থেকে, তিনি আদি বিন সাবিত থেকে, তিনি আবু হাযেম আল-আশজাঈ থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর আল্লাহর ঘরসমূহের মধ্য হতে কোনো এক ঘরের দিকে হেঁটে গেল যেন সে আল্লাহর নির্ধারিত ফরযসমূহের কোনো একটি ফরয আদায় করতে পারে, তবে তার এক পদক্ষেপ একটি পাপ মোচন করবে এবং অন্যটি একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবে‌‌(১)।

দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী (যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো এক ঘরের দিকে হেঁটে গেল ফরয আদায় করতে)—এখানে (পবিত্রতা অর্জন করল, হেঁটে গেল, এবং আদায় করতে গেল) বাক্যগুলো শর্ত এবং এর ওপর যা কিছু সমজাতীয় হিসেবে যুক্ত হয়েছে তা একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত। আর (তার পদক্ষেপদ্বয়...) বাক্যটি হলো শর্তের প্রতিদান। যখন কোনো ফযিলত বা মর্যাদা শর্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়, তখন সেই নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হওয়া ছাড়া তা অর্জিত হয় না। আর এখানে শর্ত হলো—ঘরে পবিত্রতা অর্জন করা এবং অতঃপর সালাতের নিয়তে হেঁটে মসজিদের দিকে বের হওয়া।

তাঁর বাণী: (অতঃপর হেঁটে গেল) হাদিসের বাহ্যিক অর্থ নির্দেশ করে যে, এই প্রতিদান কেবল হেঁটে গমনকারীর জন্য, আরোহীর জন্য নয়। আর আরোহী ব্যক্তি এই ফযিলত লাভ করবে না। সহীহাইন-এর হাদিসে এসেছে: (সে কোনো পদক্ষেপ ফেলে না), আর পদক্ষেপ বা কদম ফেলা কেবল পদব্রজে গমনকারীর বৈশিষ্ট্য। মুসলিমের শব্দে রয়েছে, (যে নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর হেঁটে গেল)।

আর জুমার সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সওয়ারিতে আরোহণ করাকে যে নাকচ করা হয়েছে, তা এই মতকেই সমর্থন করে; আর জুমার উদ্দেশ্যে বের হওয়া মসজিদে গমনেরই একটি প্রকার।

(হা-১০৩৪) ইমাম আহমাদ ইবনুল মুবারকের সূত্রে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি হাসসান বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবু আশআছ আস-সানআনি থেকে, তিনি আওস বিন আওস আস-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি জুমার দিন ধৌত করল ও গোসল করল, অতি প্রত্যুষে প্রস্তুত হলো ও দ্রুত গেল, এবং হেঁটে গেল, কোনো সওয়ারিতে আরোহণ করল না, অতঃপর ইমামের নিকটবর্তী হলো,

--------------------------------------------

‌‌(১). সহীহ মুসলিম (৬৬৬)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ৮)
فاستمع، ولم يَلْغُ، كان له بكل خطوة عمل سنة أجر صيامها وقيامها‌‌(1).

[اختلف على أبي الأشعث بذكر (ومشى ولم يركب)، والأكثر على عدم ذكرها]‌‌(2).

--------------------------------------------

‌‌(1). المسند (4/ 9).

‌‌(2). الحديث مداره على أبي الأشعث، عن أوس بن أوس الثقفي، ورواه عن أبي الأشعث جماعة، منهم على خلاف بينهم في ذكر (ومشى ولم يركب):

فرواه سليمان بن موسى، وراشد بن داود الصنعاني، وأبو قلابة، والعلاء بن الحارث، وعثمان بن أبي سودة، ولم يذكر أحد منهم (ومشى ولم يركب).

 

ورواه يحيى بن الحارث، وجزم بأنه لم يسمع هذا الحرف من أبي الأشعث، فهؤلاء ستة رواة يتفقون على عدم ذكر هذا الحرف.

ورواه حسان بن عطية، عن أبي الأشعث بذكر (ومشى ولم يركب).

وتابعه على هذا عبد الرحمن بن يزيد بن جابر على اختلاف عليه في ذكرها.

فرواه حسين بن علي الجعفي، عن ابن جابر، ولم يذكر هذا الحرف.

ورواه الوليد بن مسلم، وابن المبارك عن ابن جابر، بذكر (ومشى ولم يركب)، وإليك بيان مروياتهم فيما وقفت عليه من طرق الحديث، والله أعلم.

 

الطريق الأول: يحيى بن الحارث، عن أبي الأشعث.

رواه أحمد (4/ 9، 10) وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني (1575)، والنسائي في الكبرى (1720)، والطحاوي (1/ 368)، والطبراني في الكبير (1/ 214) ح 582، وفي مسند الشاميين (902)، وابن خزيمة (1767)، من طريق الثوري،

والترمذي (6)، ابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني (1574) من طريق أبي جناب يحيى بن أبي حية.

والطبراني في الكبير (1/ 214) ح 583 من طريق أبي الحكم الأعرج، ثلاثتهم (الثوري، وأبو جناب، وأبو الحكم الأعرج) عن عبد الله بن عيسى.

ورواه تمام في فوائده (2) من طريق محمد بن شعيب.

ورواه النسائي في المجتبى (1381)، وفي الكبرى (1697) والطحاوي في شرح معاني الآثار (1/ 368)، والطبراني في مسند الشاميين (340)، وتمام في فوائده (348)، من طريق سعيد بن عبد العزيز.

ورواه النسائي أيضًا في المجتبى (1398)، وفي الكبرى (1719) من طريق عمر يعني ابن عبد الواحد.

والدارمي (1588) وتمام في فوائده (1256)، من طريق صدقة بن خالد،

خمستهم (عبد الله بن عيسى، ومحمد بن شعيب، وسعيد بن عبد العزيز، وعمر بن عبد الواحد، وصدقة) رووه عن يحيى بن الحارث الذماري، عن أبي الأشعث، وقد اتفق هؤلاء كلهم عن يحيى بن الحارث على عدم ذكر لفظ (مشى ولم يركب). =
অতঃপর মনোযোগ দিয়ে শুনল এবং কোনো অনর্থক কাজ করল না, তার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের আমলের সওয়াব রয়েছে—তার রোজা ও কিয়ামের (রাতের ইবাদত) সমপরিমাণ।‌‌(১).

[আবু আশআস থেকে বর্ণিত বর্ণনায় '(এবং সে হেঁটে গেল, সওয়ার হয়ে নয়)' কথাটি উল্লেখ করা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; তবে অধিকাংশ বর্ণনায় এটি উল্লিখিত হয়নি।]‌‌(২).

--------------------------------------------

‌‌(১). আল-মুসনাদ (৪/ ৯)।

‌‌(২). হাদিসটি আবু আশআসের ওপর আবর্তিত, তিনি আওস ইবনে আওস আস-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন। একদল রাবী এটি আবু আশআস থেকে বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে '(এবং সে হেঁটে গেল, সওয়ার হয়ে নয়)' কথাটি উল্লেখ করা নিয়ে মতভেদ রয়েছে:

সুলাইমান ইবনে মুসা, রাশিদ ইবনে দাউদ আস-সানআনি, আবু কিলাবাহ, আল-আলা ইবনুল হারিস এবং উসমান ইবনে আবি সাওদাহ এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাদের কেউ '(এবং সে হেঁটে গেল, সওয়ার হয়ে নয়)' কথাটি উল্লেখ করেননি।

 

ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, তিনি আবু আশআস থেকে এই অংশটি শোনেননি। সুতরাং এই ছয়জন বর্ণনাকারী এই অংশটি উল্লেখ না করার ব্যাপারে একমত।

হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ এটি আবু আশআস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে '(এবং সে হেঁটে গেল, সওয়ার হয়ে নয়)' কথাটি উল্লেখ করেছেন।

আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির এ ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছেন, তবে এটি উল্লেখ করা নিয়ে তার বর্ণনায়ও মতভেদ রয়েছে।

হুসাইন ইবনে আলি আল-জুফি এটি ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এই অংশটি উল্লেখ করেননি।

আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম এবং ইবনুল মুবারক এটি ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে '(এবং সে হেঁটে গেল, সওয়ার হয়ে নয়)' কথাটি উল্লেখ করেছেন। আমি হাদিসের যেসব সূত্র অবগত হয়েছি, তার আলোকে তাদের বর্ণিত বর্ণনাগুলোর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

প্রথম সূত্র: ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস, আবু আশআস থেকে।

এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৪/ ৯, ১০), ইবনে আবি আসিম 'আল-আহাদ ওয়াল মাছানি' গ্রন্থে (১৫৭৫), নাসায়ি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (১৭২০), ত্বহাবি (১/ ৩৬৮), তাবারানি 'আল-কাবির' গ্রন্থে (১/ ২১৪) হাদিস নং ৫৮২, এবং 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন' গ্রন্থে (৯০২) এবং ইবনে খুজাইমা (১৭৬৭); সাওরির সূত্র থেকে,

এবং তিরমিজি (৬), ইবনে আবি আসিম 'আল-আহাদ ওয়াল মাছানি' গ্রন্থে (১৫৭৪); আবু জানাব ইয়াহইয়া ইবনে আবি হাইয়্যাহ-র সূত্র থেকে।

এবং তাবারানি 'আল-কাবির' গ্রন্থে (১/ ২১৪) হাদিস নং ৫৮৩; আবুল হাকাম আল-আরাজ-এর সূত্র থেকে। তারা তিনজনই (সাওরি, আবু জানাব এবং আবুল হাকাম আল-আরাজ) আব্দুল্লাহ ইবনে ঈসা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাম্মাম তার 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে (২) মুহাম্মাদ ইবনে শুআইব-এর সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং নাসায়ি 'আল-মুজতাবা' (১৩৮১) ও 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (১৬৯৭), ত্বহাবি 'শারহু মাআনিল আসার' গ্রন্থে (১/ ৩৬৮), তাবারানি 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন' গ্রন্থে (৩৪০) এবং তাম্মাম তার 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে (৩৪৮); সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ-এর সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন।

নাসায়ি আবারও 'আল-মুজতাবা' (১৩৯৮) ও 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (১৭১৯) এটি বর্ণনা করেছেন উমর—অর্থাৎ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ—এর সূত্র থেকে।

এবং দারেমি (১৫৮৮) ও তাম্মাম তার 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে (১২৫৬); সাদাকা ইবনে খালিদ-এর সূত্র থেকে,

তারা পাঁচজন (আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা, মুহাম্মাদ ইবনে শুআইব, সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ, উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ এবং সাদাকা) এটি ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস আজ-জিমারি থেকে, তিনি আবু আশআস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনুল হারিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা সবাই '(হেঁটে গেল এবং সওয়ার হয়নি)' শব্দগুলো উল্লেখ না করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

=

ورواه أحمد (4/ 10) من طريق عبد الله بن المبارك، أخبرنا عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، قال: حدثني أبو الأشعث به … فذكر الحديث، قال -أي ابن جابر- وزعم يحيى بن الحارث أنه حفظ عن أبي الأشعث، أنه قال له: بكل خطوة كأجر سنة: صيامها وقيامها. قال يحيى: ولم أسمعه يقول: مشى، ولم يركب.

وهذا جزم بنفي سماع هذا الحرف من أبي الأشعث.

وخالف كل هؤلاء الأوزاعي، فرواه عن يحيى بن الحارث به، وفيه: (ومشى ولم يركب) فرواه الطبراني في مسند الشاميين (901).

وهذا وهم من الأوزاعي، دخل عليه روايته للحديث عن حسان بن عطية، عن أبي الأشعث بروايته للحديث عن يحيى بن الحارث، عن أبي الأشعث.

كما أن فيه اختلافًا على سفيان:

فرواه عبيد الله الأشجعي، ومحمد بن يوسف، وعمرو بن محمد الأحمر، ووكيع عن سفيان بلفظ: (كان له بكل خطوة أجر سنة صيامها وقيامها).

ورواه أبو أحمد الزبيري، عن سفيان، واختلف على أبي أحمد:

فرواه أحمد عن أبي أحمد الزبيري بما يوافق رواية الجماعة.

ورواه أبو موسى الزمن في صحيح ابن خزيمة، عن أبي أحمد الزبيري، بلفظ: (كان له من الأجر أجر سنة صيامها وقيامها)، والمحفوظ أن هذا لفظ عبد الرحمن بن يزيد بن جابر وحده، وكل من رواه عن أبي الأشعث رواه بلفظ (كان له بكل خطوة عمل سنة: صيامها وقيامها). وقد وقعت مذاكرة بين يحيى بن الحارث وعبد الرحمن بن يزيد بن جابر حول هذا الحرف، سننقله إن شاء الله عند الكلام على طريق عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، والله أعلم.

 

الطريق الثاني: حسان بن عطية، عن أبي الأشعث.

رواه عبد ا لله بن المبارك كما في مسند أحمد (4/ 9، 104)، ومصنف ابن أبي شيبة (4990)، وسنن أبي داود (345)، وسنن ابن ماجه (1087)، وفي الآحاد والمثاني لابن أبي عاصم (1573)، والمعجم الكبير للطبراني (1/ 215) ح 585، وصحيح ابن حبان (2781)، وتمام في الفوائد (1530، 1531)، والحاكم في المستدرك (1042)، والسنن الكبرى للبيهقي (3/ 324)، وفي الشعب له (2728)، وفي فضائل الوقت له أيضًا (270)، وابن قانع في معجم الصحابة (1/ 27).

ومحمد بن مصعب كما في معرفة الصحابة لأبي نعيم (986).

وهقل بن زياد كما في معرفة الصحابة لأبي نعيم (1/ 307) رواه من طريق عبد الملك بن شعيب بن الليث، قال: حدثني أبي، عن جدي (الليث بن سعد)، عن هقل، ثلاثتهم (ابن المبارك، ومحمد بن مصعب، وهقل) عن الأوزاعي، عن حسان بن عطية، عن أبي الأشعث به. =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

=

ইমাম আহমদ এটি (৪/ ১০) বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সূত্রে, তিনি বলেছেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির, তিনি বলেন: আবু আল-আশআস আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন … অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। তিনি—অর্থাৎ ইবনে জাবির—বলেন: ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস দাবি করেছেন যে তিনি আবু আল-আশআস থেকে মুখস্থ করেছেন যে তিনি তাঁকে বলেছেন: প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছরের সওয়াব: তার রোজা ও তাহাজ্জুদ। ইয়াহইয়া বলেন: আমি তাঁকে 'সে হেঁটেছে, সওয়ার হয়নি' কথাটি বলতে শুনিনি।

এটি আবু আল-আশআস থেকে এই অংশটি শোনার ব্যাপারে একটি সুনিশ্চিত অস্বীকৃতি।

এই সবার বিরোধিতা করেছেন ইমাম আওজায়ি, তিনি এটি ইয়াহইয়া ইবনুল হারিসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: (এবং সে হেঁটেছে, সওয়ার হয়নি), তাবারানি এটি মুসনাদুশ শামিয়্যিন-এ (৯০১) বর্ণনা করেছেন।

এটি ইমাম আওজায়ির পক্ষ থেকে একটি ভুল (ওয়াহাম); হাসান ইবনে আতিয়্যার সূত্রে আবু আল-আশআস থেকে বর্ণিত তাঁর হাদিসটি ইয়াহইয়া ইবনুল হারিসের সূত্রে আবু আল-আশআস থেকে বর্ণিত তাঁর বর্ণনার সাথে মিশে গিয়েছে।

অনুরূপভাবে এতে সুফিয়ানের বর্ণনার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে:

উবাইদুল্লাহ আল-আশজায়ি, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, আমর ইবনে মুহাম্মদ আল-আহমার এবং ওয়াকি এটি সুফিয়ানের সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: (তার প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছরের সওয়াব ছিল: তার রোজা ও তাহাজ্জুদ)।

আবু আহমদ আজ-জুবাইরি এটি সুফিয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর আবু আহমদের বর্ণনার ক্ষেত্রেও মতভেদ হয়েছে:

আহমদ আবু আহমদ আজ-জুবাইরির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন যা জামাতের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আবু মুসা আজ-জামান সহিহ ইবনে খুজায়মায় এটি আবু আহমদ আজ-জুবাইরির সূত্রে বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: (তার জন্য সওয়াব ছিল এক বছরের সওয়াব: তার রোজা ও তাহাজ্জুদ)। তবে সংরক্ষিত (মাহফুজ) বিষয় হলো এটি কেবল আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবিরের একক শব্দ, আর আবু আল-আশআস থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তারা (তার প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছরের আমল: তার রোজা ও তাহাজ্জুদ) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস এবং আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবিরের মধ্যে এই অংশটি নিয়ে একটি আলোচনা (মুজাকারা) হয়েছিল, যা আমরা ইনশাআল্লাহ আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবিরের সূত্রের বর্ণনার সময় উল্লেখ করব। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

দ্বিতীয় সূত্র: হাসান ইবনে আতিয়্যা, আবু আল-আশআস থেকে।

আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি মুসনাদে আহমাদ (৪/ ৯, ১০৪), মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ (৪৯৯০), সুনানে আবু দাউদ (৩৪৫), সুনানে ইবনে মাজাহ (১০৮৭), ইবনে আবি আসিমের আল-আহাদ ওয়াল মাসানি (১৫৭৩), তাবারানির আল-মু'জামুল কবির (১/ ২১৫) হাদিস ৫৮৫, সহিহ ইবনে হিব্বান (২৭৮১), তাম্মাম রচিত আল-ফাওয়ায়েদ (১৫৩০, ১৫৩১), আল-হাকিম রচিত আল-মুসতাদরাক (১০৪২), বায়হাকির আস-সুনানুল কুবরা (৩/ ৩২৪), এবং তাঁর শুআবুল ইমান (২৭২৮), তাঁর ফাদায়েলুল ওয়াক্ত (২৭০) এবং ইবনে কানি'র মু'জামুস সাহাবায় (১/ ২৭) রয়েছে।

এবং মুহাম্মদ ইবনে মুসআব, যেমনটি আবু নুআইমের মা'রিফাতুস সাহাবায় (৯৮৬) রয়েছে।

এবং হিকল ইবনে জিয়াদ, যেমনটি আবু নুআইমের মা'রিফাতুস সাহাবায় (১/ ৩০৭) রয়েছে। তিনি এটি আবদুল মালিক ইবনে শুআইব ইবনুল লাইসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট আমার দাদা (লাইস ইবনে সাদ) থেকে, তিনি হিকল থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তিনজনই (ইবনুল মুবারক, মুহাম্মদ ইবনে মুসআব এবং হিকল) আওজায়ির সূত্রে, হাসান ইবনে আতিয়্যা থেকে, তিনি আবু আল-আশআস থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= وتابع عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان الأوزاعي، فرواه عن حسان بن عطية، سمع أبا الأشعث الصنعاني، يحدث عن أوس بن أوس الثقفي به.

أخرجه ابن عساكر في تاريخ دمشق (9/ 400).

 

الطريق الثالث: عبد الرحمن بن يزيد بن جابر.

رواه الوليد بن مسلم، واختلف عليه:

فرواه عمرو بن عثمان بن سعيد بن كثير، عن الوليد بن مسلم، أنه سمع أبا الأشعث يحدث أنه سمع أوس بن أوس به، وفيه: (كان له بكل خطوة عمل سنة).

رواه النسائي في المجتبى (1384)، وفي السنن الكبرى (1703، 1707)، والطبراني في مسند الشاميين (556).

ورواه محمود بن خالد، كما في السنن الكبرى للنسائي (1707).

وعلي بن المديني كما في المعجم الكبير (1/ 215) ح 584، كلاهما عن الوليد بن مسلم به بنحوه، وفيه: (كان له به عمل سنة، قال ابن جابر: فذاكرني يحيى بن الحارث هذا، فقال: أنا سمعت أبا الأشعث يحدث بهذا الحديث، وقال: بكل قدم عمل سنة: صيامها وقيامها. قال ابن جابر: حفظ يحيى، ونسيت.

زاد الطبراني: (قال الوليد: فذكرت ذلك لأبي عمرو الأوزاعي، فقال: ثبت الحديث أن له بكل قدم عمل سنة).

ورواه حسين بن علي الجعفي، عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، عن أبي الأشعث الصنعاني به وفيه: (كان له بكل خطوة كأجر سنة: صيامها وقيامها).

رواه أحمد (4/ 9، 104)، والنسائي في الكبرى (1741)، وابن خزيمة (1758)، والحاكم (1040)، والبيهقي في السنن (3/ 321)، وفي فضائل الأوقات له (269).

وهذه الرواية موافقة لرواية عمرو بن عثمان عن الوليد بن مسلم، عن ابن جابر.

فلفظ الجعفي عن ابن جابر، ولفظ عمرو بن عثمان عن الوليد بن مسلم، عن ابن جابر، أكان ذلك رجوعًا من عبد الرحمن بن يزيد بن جابر إلى رواية يحيى بن الحارث بعد أن ذاكره، أم كان هذا من الحفظ الأول قبل أن ينسى؟ محتمل، والله أعلم.

وخالف يزيد بن يوسف الوليد بن مسلم، وحسين بن علي الجعفي، فرواه عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، عن أبي الأشعث، عن أبي أسماء الرحبي، عن أوس بن أوس، فزاد يزيد بن يوسف في الإسناد أبا أسماء الرحبي، وهذا الإسناد منكر، تفرد به يزيد بن يوسف، وهو ضعيف.

رواه الطبراني في مسند الشاميين (557)، وفي المعجم الكبير (1/ 215) ح 586.

ورواه أحمد في المسند (4/ 10)، قال: حدثنا علي بن إسحاق، أخبرنا عبد الله بن المبارك، قال: أخبرنا عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، قال: حدثني عبد الرحمن الدمشقي، قال: حدثني أبو الأشعث، قال: حدثني أوس بن أوس الثقفي، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وذكر الجمعة، =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং আবদুর রহমান ইবনে সাবিত ইবনে সাওবান আল-আওজায়ীকে অনুসরণ করেছেন, তিনি এটি হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আশআছ আস-সানআনীকে আউস ইবনে আউস আস-সাকাফী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন।

ইবনে আসাকির তারিখু দিমাশক (৯/ ৪০০)-এ এটি উদ্ধৃত করেছেন।

 

তৃতীয় সূত্র: আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির।

এটি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনায় মতভেদ দেখা গেছে:

আমর ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে কাসির ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু আশআছকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি আউস ইবনে আউস থেকে এটি শুনেছেন, এবং এতে রয়েছে: (তার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের আমলের সওয়াব রয়েছে)।

নাসাঈ আল-মুজতাবা (১৩৮৪) ও আস-সুনানুল কুবরা (১৭০৩, ১৭০৭) এবং তাবারানী মুসনাদুশ শামিয়্যীন (৫৫৬)-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং মাহমুদ ইবনে খালিদ এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি নাসাঈর আস-সুনানুল কুবরা (১৭০৭)-এ রয়েছে।

এবং আলী ইবনুল মাদীনী আল-মুজামুল কাবীর (১/ ২১৫) হাদিস নং ৫৮৪-এ বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে: (এর বিনিময়ে তার এক বছরের আমলের সওয়াব হবে। ইবনে জাবির বলেন: ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস আমাকে এটি মনে করিয়ে দিলেন এবং বললেন: আমি আবু আশআছকে এই হাদিসটি বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন: প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছরের আমল: তার রোজা ও তাহাজ্জুদ। ইবনে জাবির বলেন: ইয়াহইয়া মনে রেখেছেন এবং আমি ভুলে গেছি।

তাবারানী আরও উল্লেখ করেছেন: (ওয়ালিদ বলেন: আমি আবু আমর আল-আওজায়ীকে এটি জানালে তিনি বলেন: হাদিসটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, তার প্রতিটি কদমের জন্য এক বছরের আমল রয়েছে)।

এবং হুসাইন ইবনে আলী আল-জুফী এটি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে, তিনি আবু আশআছ আস-সানআনী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে রয়েছে: (তার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য এক বছরের সওয়াবের মতো সওয়াব রয়েছে: তার রোজা ও তাহাজ্জুদ)।

আহমাদ (৪/ ৯, ১০৪), নাসাঈ আল-কুবরা (১৭৪১), ইবনে খুজাইমা (১৭৫৮), হাকেম (১০৪০), বাইহাকী আস-সুনান (৩/ ৩২১) এবং তাঁর ফাদাইলুল আওকাত (২৬৯)-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

এই বর্ণনাটি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের মাধ্যমে ইবনে জাবির থেকে আমর ইবনে উসমানের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সুতরাং ইবনে জাবির থেকে আল-জুফীর শব্দ এবং ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের মাধ্যমে ইবনে জাবির থেকে আমর ইবনে উসমানের শব্দসমূহ কি ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস কর্তৃক স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবিরের সেই বর্ণনার দিকে ফিরে আসা ছিল, নাকি এটি ভুলে যাওয়ার আগের প্রথম মুখস্থ অবস্থা থেকে ছিল? তা সম্ভব হতে পারে, আল্লাহই ভালো জানেন।

এবং ইয়াজিদ ইবনে ইউসুফ ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম ও হুসাইন ইবনে আলী আল-জুফীর বিরোধিতা করেছেন। তিনি এটি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে, তিনি আবু আশআছ থেকে, তিনি আবু আসমা আর-রাহাবী থেকে, তিনি আউস ইবনে আউস থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে ইয়াজিদ ইবনে ইউসুফ সনদে আবু আসমা আর-রাহাবীকে বৃদ্ধি করেছেন, এবং এই সনদটি মুনকার; ইয়াজিদ ইবনে ইউসুফ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দুর্বল।

তাবারানী এটি মুসনাদুশ শামিয়্যীন (৫৫৭) এবং আল-মুজামুল কাবীর (১/ ২১৫) হাদিস নং ৫৮৬-এ বর্ণনা করেছেন।

এবং আহমাদ আল-মুসনাদ (৪/ ১০)-এ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির, তিনি বলেন: আমার নিকট আবদুর রহমান আদ-দিমাশকী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবু আশআছ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আউস ইবনে আউস আস-সাকাফী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জুমার কথা আলোচনা করতে শুনেছি, =
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= فقال: من غسل أو اغتسل، ثم غدا وابتكر، وخرج ولم يَمْش ولم يركب، ثم دنا من الإمام، فأنصت له، ولم يَلْغُ، كان له كأجر سنة: صيامها وقيامها، قال: وزعم يحيى بن الحارث أنه حفظ عن أبي الأشعث أنه قال له: بكل خطوة كأجر سنة: صيامها وقيامها. قال: يحيى: ولم أسمعه يقول: مشى ولم يركب.

فإن كان عبد الرحمن الدمشقي هو عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، وكرر ذكره سهوًا، وإلا كانت رواية الوليد بن مسلم مقدمة على رواية ابن المبارك، لوجهين:

أحدهما: أن الأشعث شامي وكذا الوليد بن مسلم، ورواية أهل البلد مقدمة على رواية الغريب.

الثاني: أن الوليد بن مسلم، تابعه حسين بن علي الجعفي، ولم يتابع ابن المبارك، والله أعلم.

 

الطريق الرابع: أبو قلابة عبد الله بن زيد الجرمي، عن أبي الأشعث به، بلفظ: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من غسل واغتسل يوم الجمعة، وبكر وابتكر، ودنا من الإمام وأنصت، كان له بكل خطوة يخطوها صيام سنة وقيامها، وذلك على الله يسير).

وقوله: (وذلك على الله يسير) هذا الحرف تفرد به أبو قلابة، ولعله مدرج من كلام الراوي.

رواه عبد الرزاق في المصنف (5570)، ومن طريق عبد الرزاق أخرجه الطبراني في الكبير (1/ 214) ح 581، وأبو نعيم في معرفة الصحابة (988) عن معمر، عن يحيى بن أبي كثير، عن أبي قلابة به. وهذا إسناد رجاله كلهم ثقات.

 

الطريق الخامس: سليمان بن موسى، عن أبي الأشعث.

أخرجه الطبراني في الأوسط (1753)، وفي مسند الشاميين (1267) من طريق النعمان بن المنذر، عن سليمان بن موسى به، بلفظ: (من أدرك الجمعة، فغسل واغتسل، ثم غدا وابتكر، ثم دنا من الإمام، فأنصت واستمع، كان له في كل خطوة كعمل سنة: قيامها وصيامها).

ورجاله ثقات.

 

الطريق السادس: راشد بن داود الصنعاني، عن أبي الأشعث.

أخرجه أحمد (4/ 10)، قال: حدثنا الحكم بن نافع، قال: حدثنا إسماعيل بن عياش، عن راشد بن داود به.

وهذا إسناد صحيح، وأحاديث إسماعيل بن عياش عن أهل الشام مستقيمة، وهذا معدود منها.

 

الطريق السابع: العلاء بن الحارث عن أبي الأشعث.

أخرجه ابن عساكر في تاريخ دمشق (9/ 400) من طريق عبد الرحمن بن ثوبان، عن العلاء بن الحارث به.

 

الطريق الثامن: عثمان بن أبي سودة (ثقة)، عن أبي الأشعث.

رواه الدولابي في الكنى والأسماء (920) من طريق الضحاك بن مخلد.

ورواه أيضًا (921) من طريق بقية بن الوليد، كلاهما عن ثور بن يزيد أبي خالد الحميري، عن عثمان به، بلفظ: من غسل واغتسل، وغدا وابتكر، ودنا واقترب، وأنصت، كان له بكل خطوة صيام سنة وقيامها. وقد صرح بقية بالتحديث وهذا إسناد رجاله كلهم ثقات.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= অতঃপর তিনি বললেন: যে ব্যক্তি (মাথা) ধোয়ালো বা গোসল করল, এরপর খুব ভোরে যাত্রা করল ও সকালেই পৌঁছাল, এবং হেঁটে গেল ও কোনো যানে আরোহণ করল না, এরপর ইমামের নিকটবর্তী হলো ও মনোযোগ দিয়ে শুনল এবং কোনো অনর্থক কাজ করল না, তার জন্য এক বছরের আমলের সমান সওয়াব হবে: যার মধ্যে রয়েছে রোজা ও কিয়াম। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আল-হারিস ধারণা করেন যে, তিনি আবু আল-আশআস থেকে এটি মুখস্থ রেখেছেন যে তিনি তাকে বলেছিলেন: প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছরের আমলের সমান সওয়াব: তার রোজা ও কিয়ামের সমান। ইয়াহইয়া বলেন: আমি তাকে ‘হেঁটে গেল ও কোনো যানে আরোহণ করল না’ কথাটি বলতে শুনিনি।

যদি আবদুর রহমান আদ-দিমাশকিই আবদুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির হয়ে থাকেন এবং ভুলবশত তাঁর কথা পুনরায় উল্লেখ করা হয়ে থাকে (তবে ভিন্ন কথা), অন্যথায় ওয়ালিদ বিন মুসলিমের বর্ণনা ইবনুল মুবারকের বর্ণনার চেয়ে দুটি কারণে অগ্রগণ্য হবে:

প্রথমত: আল-আশআস সিরীয় এবং ওয়ালিদ বিন মুসলিমও সিরীয়; আর নিজ অঞ্চলের বর্ণনাকারীর বর্ণনা বহিরাগত বর্ণনাকারীর বর্ণনার ওপর অগ্রগণ্য।

দ্বিতীয়ত: ওয়ালিদ বিন মুসলিমকে হুসাইন বিন আলি আল-জুফি সমর্থন করেছেন, কিন্তু তিনি ইবনুল মুবারককে সমর্থন করেননি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

চতুর্থ পথ: আবু কিলাবা আবদুল্লাহ বিন জাইদ আল-জারমি, আবু আল-আশআস থেকে এই সূত্রে, নিম্নোক্ত শব্দে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি জুমার দিন [মাথা] ধোয়ালো ও গোসল করল, ভোরে যাত্রা করল ও সকালেই পৌঁছাল, ইমামের নিকটবর্তী হলো এবং মনোযোগ দিয়ে শুনল, তার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপে যা সে ফেলল, এক বছরের রোজা ও কিয়ামের সওয়াব হবে, আর এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ)।

আর তাঁর কথা: (আর এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ) — এই অংশটি বর্ণনায় আবু কিলাবা একক হয়ে গেছেন, এবং সম্ভবত এটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে সংযোজিত বক্তব্য।

আবদুর রাজ্জাক এটি ‘আল-মুসান্নাফ’ (৫৫৭০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এবং আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে তাবারানি ‘আল-কাবির’ (১/২১৪) হাদিস নং ৫৮১-এ এবং আবু নুআইম ‘মা'রিফাতুস সাহাবা’ (৯৮৮) গ্রন্থে মা'মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে এই সূত্রে এটি বের করেছেন। এই সনদের সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত।

 

পঞ্চম পথ: সুলাইমান বিন মুসা, আবু আল-আশআস থেকে।

তাবারানি এটি ‘আল-আওসাত’ (১৭৫৩) গ্রন্থে এবং ‘মুসনাদুশ শামিয়্যিন’ (১২৬৭) গ্রন্থে নুমান বিন মুনজিরের সূত্রে, তিনি সুলাইমান বিন মুসা থেকে এই সূত্রে নিম্নোক্ত শব্দে বের করেছেন: (যে ব্যক্তি জুমার সাক্ষাৎ পেল, অতঃপর [মাথা] ধোয়ালো ও গোসল করল, তারপর ভোরে যাত্রা করল ও সকালেই পৌঁছাল, এরপর ইমামের নিকটবর্তী হলো, অতঃপর মনোযোগ দিল ও শ্রবণ করল, তার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছরের আমলের মতো সওয়াব হবে: তার কিয়াম ও রোজা)। এর বর্ণনাকারীরা বিশ্বস্ত।

 

ষষ্ঠ পথ: রাশিদ বিন দাউদ আস-সানআনি, আবু আল-আশআস থেকে।

আহমাদ এটি বের করেছেন (৪/১০), তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাকাম বিন নাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাইল বিন আইয়্যাশ বর্ণনা করেছেন, তিনি রাশিদ বিন দাউদ থেকে এই সূত্রে। এটি একটি সহিহ সনদ এবং সিরিয়াবাসীদের সূত্রে ইসমাইল বিন আইয়্যাশের হাদিসসমূহ সঠিক, আর এটি সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

 

সপ্তম পথ: আল-আলা বিন আল-হারিস, আবু আল-আশআস থেকে।

ইবনে আসাকির ‘তারিখু দিমাশক’ (৯/৪০০) গ্রন্থে আবদুর রহমান বিন সাওবানের সূত্রে, তিনি আল-আলা বিন আল-হারিস থেকে এই সূত্রে এটি বের করেছেন।

 

অষ্টম পথ: উসমান বিন আবি সাওদা (বিশ্বস্ত), আবু আল-আশআস থেকে।

আদ-দুলাবি এটি ‘আল-কুনা ওয়াল আসমা’ (৯২০) গ্রন্থে দাহহাক বিন মাখলাদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তিনি ৯২১ নম্বরে বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ-এর সূত্রেও এটি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই সাওব বিন ইয়াজিদ আবু খালিদ আল-হিময়ারি থেকে, তিনি উসমান থেকে এই সূত্রে নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি [মাথা] ধোয়ালো ও গোসল করল, ভোরে যাত্রা করল ও সকালেই পৌঁছাল, নিকটবর্তী হলো ও কাছে অবস্থান করল এবং মনোযোগ দিয়ে শুনল, তার জন্য প্রতিটি কদমে এক বছরের রোজা ও কিয়ামের সওয়াব হবে। বাকিয়্যাহ এখানে সরাসরি শ্রবণের কথা স্পষ্ট করেছেন এবং এই সনদের সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১২)
فإن كان نفي الركوب محفوظًا في الحديث كان ذلك مقصودًا للشارع.

(ح-1035) ويؤيد ذلك ما رواه مسلم من طريق زكرياء بن إسحاق، حدثنا أبو الزبير،

قال: سمعت جابر بن عبد الله، قال: كانت ديارنا نائية عن المسجد، فأردنا أن نبيع بيوتنا، فنقترب من المسجد، فنهانا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إن لكم بكل خطوة درجة‌‌(1).

وإن كان لفظ (مشى ولم يركب) ليس محفوظًا من الحديث كان ترتيب الفضل لا يختص بالماشي ويكون وصف المشي لا مفهوم له وإنما خرج مخرج الغالب، فإن الغالب أن من يخرج إلى المسجد هم من يسمع النداء، ومثلهم لا يحتاج للركوب؛ ولأن المشي والركوب من باب الوسائل لا تقصد لذاتها، والغاية هي الوصول إلى المسجد للصلاة فيه جماعة، سواء أجاء ماشيًا أم راكبًا، ولو كان المشي مقصودًا لذاته لقيل باستحباب قَصْدِ المسجد الأبعد، وحديث أوس ظاهره الصحة، والأجر المرتب عليه مبالغ فيه جدًّا، فإن كل خطوة يكتب فيها أجر سنة صيامها وقيامها كثير على عمل يسير، وفضل الله واسع فإن كان أحد من الأئمة قد أعله بهذا قلت به بلا تردد، وإلا بقيت على اعتقاد صحة الحديث حتى يثبت العكس.

وقد خالف حديث أوس حديث سلمان وحديث أبي هريرة، والأول في البخاري، والآخر في مسلم.

(ح-1036) فقد روى البخاري من طريق ابن أبي ذئب، عن سعيد المقبري، قال: أخبرني أبي، عن ابن وديعة،

عن سلمان الفارسي، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا يغتسل رجل يوم الجمعة، ويتطهر ما استطاع من طهر، ويدهن من دهنه، أو يمس من طيب بيته، ثم يخرج فلا يفرق بين اثنين، ثم يصلي ما كتب له، ثم ينصت إذا تكلم الإمام، إلا غفر له ما بينه وبين الجمعة الأخرى‌‌(2).

--------------------------------------------

‌‌(1). صحيح مسلم (664).

‌‌(2). صحيح البخاري (883).
যদি হাদিসে আরোহণ না করার বিষয়টি সংরক্ষিত হয়ে থাকে, তবে তা শরিয়তদাতার উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হবে।

(হা-১০৩৫) এটি মুসলিম বর্ণিত সেই হাদিস দ্বারা সমর্থিত হয় যা জাকারিয়া ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু যুবাইর থেকে,

তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের ঘরগুলো মসজিদ থেকে দূরে ছিল। তাই আমরা আমাদের ঘরগুলো বিক্রি করে মসজিদের কাছে চলে আসতে চেয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিষেধ করলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে মর্যাদা রয়েছে‌‌(১)।

আর যদি (হেঁটেছেন এবং আরোহণ করেননি) শব্দগুলো হাদিসে সংরক্ষিত না হয়ে থাকে, তবে ফজিলতের এই বিন্যাস কেবল পদব্রজে চলাচলকারীর সাথে নির্দিষ্ট হবে না। সেক্ষেত্রে হাঁটার বর্ণনাটি কোনো বিশেষ তাৎপর্য (মাফহুম) বহন করবে না, বরং তা সাধারণত যা ঘটে তার প্রেক্ষিতে বর্ণিত হয়েছে। কারণ সাধারণত যারা মসজিদের দিকে বের হয় তারা আযান শ্রবণকারী হয়ে থাকে এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের আরোহণের প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া হাঁটা বা আরোহণ করা হলো মাধ্যমের অন্তর্ভুক্ত, যা নিজস্ব সত্তার জন্য উদ্দেশ্য নয়। বরং মূল লক্ষ্য হলো জামাতে সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে পৌঁছানো—সেটি হেঁটে হোক বা আরোহণ করে। যদি হাঁটা স্বতন্ত্রভাবে উদ্দেশ্য হতো, তবে দূরবর্তী মসজিদের সংকল্প করা মুস্তাহাব বলা হতো। আউসের হাদিসটি বাহ্যিকভাবে সহিহ, তবে এর জন্য নির্ধারিত সওয়াব অত্যন্ত বেশি বলে মনে হয়। প্রতিটি কদমে এক বছরের রোজা ও কিয়ামের সওয়াব লেখা হওয়া সামান্য আমলের তুলনায় অনেক বেশি। তবে আল্লাহর অনুগ্রহ প্রশস্ত। যদি ইমামদের মধ্য থেকে কেউ এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলে চিহ্নিত করে থাকেন তবে আমি বিনাদ্বিধায় তা মেনে নেব; অন্যথায় বিপরীত কিছু সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আমি হাদিসটি সহিহ হওয়ার বিশ্বাসের ওপরই অটল থাকব।

আউসের হাদিসটি সালমান এবং আবু হুরাইরা বর্ণিত হাদিসদ্বয়ের পরিপন্থী। প্রথমটি বুখারিতে এবং অন্যটি মুসলিমে রয়েছে।

(হা-১০৩৬) ইমাম বুখারি ইবনে আবু জিব-এর সূত্রে সাঈদ মাকবুরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা ইবনে ওয়াদিয়াহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন,

তিনি সালমান আল-ফারিসি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যদি জুমার দিন গোসল করে এবং সাধ্যমতো পবিত্রতা অর্জন করে, নিজের তেল ব্যবহার করে অথবা নিজ ঘরের সুগন্ধি মাখে, এরপর (মসজিদের উদ্দেশ্যে) বের হয় এবং দু'জনের মাঝে বিচ্ছিন্নতা তৈরি না করে, এরপর তার ভাগ্যে যতটুকু (সালাত) লেখা আছে তা আদায় করে, অতঃপর ইমাম যখন কথা বলেন তখন চুপ থাকে, তবে তার এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়‌‌(২)।

--------------------------------------------

‌‌(১). সহিহ মুসলিম (৬৬৪)।

‌‌(২). সহিহ বুখারি (৮৮৩)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১৩)
(ح-1037) وروى مسلم من طريق أبي معاوية، عن الأعمش، عن أبي صالح،

عن أبي هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من توضأ فأحسن الوضوء، ثم أتى الجمعة، فاستمع وأنصت، غفر له ما بينه وبين الجمعة، وزيادة ثلاثة أيام، ومن مس الحصى فقد لغا‌‌(1).

ورواه مسلم من طريق سهيل، عن أبيه،

عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: من اغتسل، ثم أتى الجمعة، فصلى ما قدر له، ثم أنصت حتى يفرغ من خطبته، ثم يصلي معه، غفر له ما بينه وبين الجمعة الأخرى، وفضل ثلاثة أيام‌‌(2).

فهذا الفضل قريب، وأما حديث أوس بن أوس فهو فضل مبالغ فيه لعمل يسير، فإذا كان شهود الجمعة نفسها، وهي المقصودة يكفر من الجمعة إلى التي تليها، فإذا اغتسل وأنصت، ولم يفرق بين اثنين زاد فضل ثلاثة أيام، فما الذي زاده العامل في حديث أوس حتى يكون له بكل خطوة عمل سنة بصيامها وقيامها، وكل ما زاده على ذلك ليس من الواجبات، وإنما هو من السنن، وليس بمقصود، وإنما هو من باب الوسائل كالذهاب ماشيًا إلى الجمعة، وحديث سلمان وأبي هريرة في الصحيح، وحديث أوس خارج الصحيح، وهو من وسائل الترجيح، وكنت قد ترددت في تضعيف الحديث طلبًا لإمام معتبر يضعفه لأني لا أحب معارضة الحديث بمجرد الفهم ما دام الإسناد ظاهره الصحة، ثم وجدت الإمام الترمذي قد حكم عليه بالحسن، فقال في سننه: حديث أوس بن أوس حديث حسن، وهذا ذهاب منه إلى تضعيف الحديث، فإن الحسن عند الترمذي هو كل حديث ليس في إسناده متهم (يعني أنه ليس شديد الضعف) ولا يكون شاذً، ويروى من غير وجه، وهذا يصدق على الحديث الضعيف إذا روي من أكثر من وجه، فلا يمكن حديث هذا حكم الترمذي فيه، وهو غريب الإسناد، غريب المتن لا يعرف هذا الفضل إلا من هذا الوجه، وينفرد بهذا الفضل المخالف لأحاديث الصحيحين، ويكون مقبولًا، والله أعلم.

وفي الباب أحاديث أخرى، وقد تركتها اقتصارًا على أحاديث الصحيحين فإن فيها غنية.

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1). صحيح مسلم (27 - 857).

‌‌(2). صحيح مسلم (26 - 857).
(হা-১০৩৭) এবং মুসলিম আবু মুআবিয়াহর সূত্রে আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে,

তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওযু করল এবং উত্তমরূপে ওযু সম্পন্ন করল, অতঃপর জুমুআয় এল এবং মনোযোগ দিয়ে নিঃশব্দে খুতবা শুনল, তার সেই জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি কঙ্কর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কাজ করল"‌‌(১)।

এবং মুসলিম এটি সুহায়লের সূত্রে তাঁর পিতা থেকে,

তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি গোসল করল, অতঃপর জুমুআয় এল এবং তার তকদিরে যতটুকু ছিল ততটুকু সালাত আদায় করল, এরপর ইমামের খুতবা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকল, অতঃপর তাঁর সাথে সালাত আদায় করল, তার এই জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়"‌‌(২)।

এই ফযীলতটি যুক্তিযুক্ত বা স্বাভাবিকের কাছাকাছি; কিন্তু আউস ইবনে আউসের হাদীসটিতে একটি সামান্য আমলের জন্য অত্যধিক ফযীলতের কথা বলা হয়েছে। যদি খোদ জুমুআয় উপস্থিত হওয়াই মূল লক্ষ্য হয় এবং তা এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত গুনাহের কাফফারা হয়, আর যখন সে গোসল করে, চুপ থাকে এবং দুই ব্যক্তির মাঝে ফাঁক না করে তখন আরও তিন দিনের ফযীলত বৃদ্ধি পায়—তবে আউসের হাদীসের আমলকারী এমন কী অতিরিক্ত করল যার কারণে তার প্রতিটি কদমে এক বছরের সিয়াম পালন ও কিয়াম করার (নফল সালাত পড়ার) সওয়াব অর্জিত হবে? সে যা কিছু অতিরিক্ত করেছে তা ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নাত মাত্র, এবং তা মূল উদ্দেশ্যও নয়; বরং তা কেবল জুমুআয় পায়ে হেঁটে যাওয়ার মতো একটি মাধ্যম বা উপায় মাত্র। সালমান ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-র হাদীস 'সহীহ' গ্রন্থে (বুখারী ও মুসলিমে) রয়েছে, আর আউসের হাদীসটি 'সহীহ'-এর বাইরে। এটিও একটি অগ্রাধিকার দেওয়ার মানদণ্ড। আমি এই হাদীসটিকে দুর্বল বলতে দ্বিধাবোধ করছিলাম এই আশায় যে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামকে পাব যিনি এটিকে দুর্বল বলেছেন; কারণ আমি নিছক নিজের বুঝের ওপর ভিত্তি করে হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করা পছন্দ করি না যতক্ষণ না সনদের বাহ্যিক দিকটি সহীহ প্রতীয়মান হয়। অতঃপর আমি দেখলাম যে ইমাম তিরমিযী একে 'হাসান' বলে হুকুম দিয়েছেন। তিনি তাঁর সুনানে বলেছেন: "আউস ইবনে আউসের হাদীসটি হাসান হাদীস"। আর এটি তাঁর পক্ষ থেকে হাদীসটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করারই নামান্তর, কারণ তিরমিযীর নিকট 'হাসান' হলো সেই হাদীস যার সনদে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি নেই (অর্থাৎ তা অত্যন্ত দুর্বল নয়) এবং তা শায (পরস্পরবিরোধী) নয় এবং একাধিক সূত্রে বর্ণিত। এটি সেই যঈফ বা দুর্বল হাদীসের ওপর প্রযোজ্য হয় যা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এমন একটি হাদীস যার ব্যাপারে তিরমিযীর সিদ্ধান্ত এরূপ, এবং যা সনদে গরিব ও মতনেও গরিব—যেখানে এই ফযীলত এই একটি সূত্র ছাড়া আর কোথাও জানা যায় না এবং এটি এমন এক ফযীলত বর্ণনায় একক যা 'সহীহাইন'-এর হাদীসসমূহের পরিপন্থী—তা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? আল্লাহই ভালো জানেন।

এই অনুচ্ছেদে আরও অনেক হাদীস রয়েছে, তবে আমি বুখারী ও মুসলিমের হাদীসগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকে সেগুলো পরিহার করেছি, কারণ তাতেই যথেষ্টতা রয়েছে।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১). সহীহ মুসলিম (২৭ - ৮৫৭)।

‌‌(২). সহীহ মুসলিম (২৬ - ৮৫৭)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المبحث الثاني لا يستحب دعاء خاص للخروج إلى الصلاة

المدخل إلى المسألة:

• لا يستحب دعاء خاص في الخروج إلى الصلاة.

• الاستحباب حكم شرعي يتوقف على دليل شرعي.

• ما ورد من دعاء خاص في الخروج إلى الصلاة كحديث ابن عباس، وكذا ما ورد من أدعية للخروج من المنزل، وعمومها يدخل فيه الخروج إلى الصلاة لا يصح منها شيء يمكن الاعتماد عليه في الباب.

• إذا لم يثبت الحديث فالأصل في العبادة عدم المشروعية.

• فضائل العمل لا يثبت بالقياس.

• إذا تردد في استحباب العبادة كان الاحتياط في جانب الترك حتى تثبت؛ لأن التارك لا يلحقه لوم؛ لعدم الوجوب بخلاف الفاعل فهو متردد بين السنة والبدعة.

[م-439] لا يستحب دعاء خاص في الخروج من المنزل للصلاة، وما ورد من حديث خاص في الخروج إلى الصلاة كحديث ابن عباس.

وكذلك ما ورد من أدعية للخروج من المنزل، وعمومها يدخل فيه الخروج إلى الصلاة فلا يصح منها شيء يمكن أن يعتمد عليه في الباب.

(ح-1038) فقد روى مسلم من طريق حبيب بن أبي ثابت، عن محمد بن علي بن عبد الله بن عباس، عن أبيه،

عن عبد الله بن عباس في قصة مبيته عند خالته ميمونة ليشاهد صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالليل .... وذكر فيه .... فأذن المؤذن فخرج إلى الصلاة، وهو يقول: اللهم اجعل في قلبي نورًا، وفي لساني نورًا، واجعل في سمعي نورًا، واجعل في بصري نورًا، واجعل من خلفي نورًا، ومن أمامي نورًا، واجعل من فوقي
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার জন্য কোনো বিশেষ দুআ মুস্তাহাব নয়

মাসআলার ভূমিকা:

• সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় কোনো বিশেষ দুআ পাঠ করা মুস্তাহাব নয়।

• ইস্তিহবাব (মুস্তাহাব হওয়া) একটি শরয়ী বিধান, যা শরয়ী দলিলের ওপর নির্ভরশীল।

• সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিষয়ে ইবনে আব্বাসের হাদিসের মতো যেসব বিশেষ দুআ বর্ণিত হয়েছে, এবং ঘর থেকে বের হওয়ার যেসব সাধারণ দুআ বর্ণিত হয়েছে—যার অন্তর্ভুক্ত সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়াও পড়ে—সেগুলোর কোনোটিই এই ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হওয়ার মতো সহিহ নয়।

• যদি হাদিস প্রমাণিত না হয়, তবে ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তা শরিয়তসম্মত না হওয়া।

• আমলের ফজিলত কিয়াসের (তূলনামূলক অনুমান) মাধ্যমে প্রমাণিত হয় না।

• কোনো ইবাদত মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে যদি সংশয় দেখা দেয়, তবে তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বর্জন করাই হলো সতর্কতা। কারণ, ওয়াজিব না হওয়ার কারণে বর্জনকারীকে তিরস্কার করা হবে না; পক্ষান্তরে সম্পাদনকারী সুন্নাত ও বিদআতের মাঝে দোদুল্যমান থাকে।

[মাসআলা-৪৩৯] সালাতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় কোনো বিশেষ দুআ পাঠ করা মুস্তাহাব নয়। আর সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার বিষয়ে ইবনে আব্বাসের হাদিসের মতো যে বিশেষ হাদিস বর্ণিত হয়েছে তা সহিহ নয়।

একইভাবে ঘর থেকে বের হওয়ার যেসব দুআ বর্ণিত হয়েছে—যার সাধারণ অর্থের অন্তর্ভুক্ত সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়াও পড়ে—সেগুলোর কোনোটিই এই ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হওয়ার মতো সহিহ নয়।

(হাদিস-১০৩৮) ইমাম মুসলিম হাবিব ইবনে আবি সাবিত-এর সূত্রে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন,

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের সালাত দেখার উদ্দেশ্যে তাঁর খালা মাইমুনাহ (রা.)-এর ঘরে তাঁর রাত্রিযাপনের ঘটনায়... এবং তাতে উল্লেখ করেছেন যে... অতঃপর মুয়াজ্জিন আযান দিলেন এবং তিনি সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং বলছিলেন: হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দান করুন, আমার কানে নূর দান করুন, আমার চোখে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন এবং আমার উপরে নূর দান করুন...
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১৫)
نورًا، ومن تحتي نورًا، اللهم أعطني نورًا‌‌(1).

[رواه علي بن عبد الله بن عباس في دعاء الخروج، ورواه كريب عن ابن عباس في الدعاء في صلاة الليل، وهو المحفوظ]‌‌(2).

--------------------------------------------

‌‌(1). صحيح مسلم (191 - 763).

‌‌(2). حديث ابن عباس وبياته عند خالته ميمونة رواه جماعة من أصحاب ابن عباس مختصرًا ومطولًا مثل سعيد بن جبير، وعكرمة، وكريب، وعلي بن عبد الله، وأبي المتوكل (علي بن داود الناجي)، والشعبي، وعطاء، وأبي نضرة، وطلحة بن نافع، وغيرهم، إلا أن الذي روى عنه هذا الدعاء (اللهم اجعل في قلبي نورًا .... ) اثنان من أصحابه، أبو كريب وروايته في الصحيحين، وفيها أن الدعاء كان في الصلاة، ورواه علي بن عبد الله بن عباس في مسلم وذكر أن الدعاء عند الخروج للصلاة، والمحفوظ رواية كريب مولى ابن عباس، وإليك بيان تخريج هذين الطريقين.

الطريق الأول: كريب مولى ابن عباس، عن ابن عباس.

رواه سلمة بن كهيل، عن كريب، واختلف على سلمة:

فرواه سفيان الثوري، عن سلمة بن كهيل به، فذكر صفة صلاته، ونومه حتى نفخ، فآذنه بلال بالصلاة، فصلى، ولم يتوضأ، وفيه: (وكان يقول في دعائه اللهم اجعل في قلبي نورًا .... ) فظاهره أنه من دعاء الصلاة؛ لأنه ذكر الدعاء مقرونًا بصفة صلاة الليل.

رواه البخاري (6316)، ومسلم (181 - 763)، وأكتفي بذكر الصحيحين.

ورواه شعبة، عن سلمة بن كهيل به، بنحوه، وفيه: (فجعل يقول في صلاته أو في سجوده: اللهم اجعل في قلبي نورًا .... ) إلخ الحديث، وعلى أي الاحتمالين فالدعاء في الصلاة.

رواه مسلم (187 - 763)، وابن خزيمة (1534)، وأبو نعيم في مستخرجه (1745) من طريق محمد بن جعفر. واختصره ابن خزيمة.

ورواه أبو عوانة في مستخرجه (2274، 792) من طريق حجاج بن محمد،

ورواه أبو داود الطيالسي (2829) ومن طريقه الطحاوي في شرح معاني الآثار (1/ 286)، وابن حبان (1445)، وأبو عوانة في مستخرجه (792)، وأبو نعيم في مستخرجه (1745).

وابن ماجه (508) من طريق يحيى بن سعيد.

 

وابن خزيمة (127) من طريق ابن أبي عدي، كلهم عن شعبة به، وبعضهم يختصره، وبعضهم يذكره بتمامه.

ورواه سعيد بن مسروق، عن سلمة بن كهيل به، وفيه: (كان يقول في سجوده: اللهم اجعل في قلبي نورًا، وفي سمعي نورًا ..... ) بالجزم أن الدعاء في السجود.

رواه ابن أبي شيبة في المصنف (29231)، والنسائي (1121) بتمامه. =
জ্যোতি, এবং আমার নিচ থেকে জ্যোতি, হে আল্লাহ! আমাকে জ্যোতি দান করুন‌‌(১)।

[এটি আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বের হওয়ার সময়ের দোয়ার বর্ণনায় বর্ণনা করেছেন, এবং কুরাইব ইবনে আব্বাস থেকে রাতের নামাযের দোয়ার বর্ণনায় বর্ণনা করেছেন, আর এটিই সংরক্ষিত (মাহফুজ)]‌‌(২)।

--------------------------------------------

‌‌(১)। সহীহ মুসলিম (১৯১ - ৭৬৩)।

‌‌(২)। ইবনে আব্বাসের হাদীস এবং তাঁর খালা মাইমুনার নিকট তাঁর রাত কাটানোর ঘটনা ইবনে আব্বাসের একদল ছাত্র সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, যেমন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের, ইকরিমাহ, কুরাইব, আলী ইবনে আবদুল্লাহ, আবু আল-মুতাওয়াক্কিল (আলী ইবনে দাউদ আল-নাজি), আল-শা’বী, আতা, আবু নাদরাহ, তালহা ইবনে নাফে এবং অন্যান্যরা। তবে তাঁর থেকে এই দোয়াটি (হে আল্লাহ! আমার অন্তরে জ্যোতি দান করুন....) তাঁর দুইজন ছাত্র বর্ণনা করেছেন: আবু কুরাইব, যাঁর বর্ণনা সহীহাইনে (বুখারী ও মুসলিম) রয়েছে এবং তাতে উল্লেখ আছে যে দোয়াটি নামাযের মধ্যে ছিল। আর আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এটি মুসলিমে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে দোয়াটি নামাযের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময়ের। তবে ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইবের বর্ণনাটিই সংরক্ষিত (মাহফুজ); নিচে এই দুই সূত্রের তাখরিজ (উৎস বিশ্লেষণ) প্রদান করা হলো:

প্রথম সূত্র: ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইব, ইবনে আব্বাস থেকে।

সালামাহ ইবনে কুহাইল এটি কুরাইব থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে সালামাহর বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে:

সুফিয়ান আস-সাওরী এটি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে তাঁর নামাযের বিবরণ এবং নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ হওয়া পর্যন্ত তাঁর ঘুমানোর কথা উল্লেখ করেছেন; এরপর বিলাল তাঁকে নামাযের সংবাদ দিলে তিনি ওযু না করেই নামায আদায় করেন। এতে বর্ণিত আছে: (তিনি তাঁর দোয়ায় বলতেন: হে আল্লাহ! আমার অন্তরে জ্যোতি দিন....), ফলে বাহ্যত মনে হয় এটি নামাযের দোয়া; কারণ তিনি রাতের নামাযের বিবরণের সাথেই দোয়াটি উল্লেখ করেছেন।

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৬৩১৬) ও মুসলিম (১৮১ - ৭৬৩), এবং আমি কেবল সহীহাইনের উল্লেখই যথেষ্ট মনে করছি।

শু’বাহ এটি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন, তাতে রয়েছে: (তিনি তাঁর নামাযে অথবা সিজদায় বলতে লাগলেন: হে আল্লাহ! আমার অন্তরে জ্যোতি দান করুন....) হাদীসের শেষ পর্যন্ত। উভয় সম্ভাবনা অনুযায়ীই দোয়াটি নামাযের মধ্যে ছিল।

এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (১৮৭ - ৭৬৩), ইবনে খুজায়মাহ (১৫৩৪), এবং আবু নুআয়ম তাঁর ‘মুসতাখরাজ’ গ্রন্থে (১৭৪৫) মুহাম্মদ ইবনে জাফরের সূত্র থেকে। ইবনে খুজায়মাহ এটি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন।

আবু আওয়ানাহ এটি তাঁর ‘মুসতাখরাজ’ গ্রন্থে (২২৭৪, ৭৯২) হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন।

এটি আরও বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আল-তায়ালিসি (২৮২৯) এবং তাঁর সূত্র থেকে আল-তাহাবী ‘শারহু মাআনিল আসার’ গ্রন্থে (১/ ২৮৬), ইবনে হিব্বান (১৪৪৫), আবু আওয়ানাহ তাঁর ‘মুসতাখরাজ’-এ (৭৯২) এবং আবু নুআয়ম তাঁর ‘মুসতাখরাজ’-এ (১৭৪৫)।

এবং ইবনে মাজাহ (৫০৮) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্র থেকে।

 

এবং ইবনে খুজায়মাহ (১২৭) ইবনে আবি আদীর সূত্র থেকে; তাঁরা সবাই শু’বাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কেউ এটি সংক্ষেপে এবং কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন।

সাঈদ ইবনে মাসরূক এটি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে আছে: (তিনি তাঁর সিজদায় বলতেন: হে আল্লাহ! আমার অন্তরে জ্যোতি দিন, আমার শ্রবণেন্দ্রিয়তে জ্যোতি দিন.....) এখানে নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে যে দোয়াটি সিজদার মধ্যে ছিল।

এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (২৯২৩১) এবং নাসায়ী (১১২১) পূর্ণাঙ্গভাবে। =
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১৬)
الدليل الثاني:

(ح-1039) ما رواه ابن ماجه من طريق أبي الجهم، قال: حدثنا فضيل بن مرزوق، عن عطية،

--------------------------------------------

= ورواه مسلم في صحيحه (188 - 763) مختصرًا بعد سياقه لرواية شعبة، واقتصر على الفرق بينه وبين رواية شعبة فقال في رواية سعيد بن مسروق: (أعظم لي نورًا) وقال في رواية شعبة (واجعل لي أو اجعلني نورًا).

وكذا رواه أبو عوانة مختصرًا في مستخرجه (2275).

وأما رواية عقيل بن خالد، عن سلمة بن كهيل فرواه مسلم في صحيحه (189 - 763) وفيه: (ودعا رسول الله ليلتئذ تسع عشرة كلمة .... ) الحديث. فذكر الدعاء في الليل، ولو كان عند خروجه للمسجد لكان الدعاء في الصبح.

فاتفقت رواية كريب في الصحيحين على أن الدعاء ليس في خروجه للصلاة، وقد وردت على أربعة ألفاظ: فرواية سفيان (فكان يقول في دعائه).

وفي رواية سعيد بن مسروق: (فكان يقول في سجوده).

وفي رواية شعبة: (فجعل يقول في صلاته أو في سجوده).

وفي رواية عقيل: (ودعا رسول الله ليلتئذ).

هذه رواية سلمة بن كهيل، عن أبي كريب، وقد رواه جماعة عن أبي كريب في الصحيحين ولم يذكروا الدعاء.

فقد رواه مخرمة بن سليمان كما في صحيح البخاري (183، 698، 992، 1198، 4570، 4571، 4572) مطولًا ومختصرًا على طريقة البخاري بتقطيع الحديث، ورواه مسلم (763)، وأكتفي بالصحيحين.

وعمرو بن دينار كما في صحيح البخاري (726، 859)، وصحيح مسلم (186 - 763)، وأكتفي بذكر الصحيحين.

وشريك بن عبد الله بن أبي نمر، كما في صحيح البخاري (4569، 6215، 7452)، وصحيح مسلم (190 - 763)، وأكتفي بالصحيحين.

وعطاء كما في صحيح مسلم (192 - 763)، أربعتهم (مخرمة، وعمرو بن دينار، وشريك، وعطاء) رووه عن أبي كريب به، من دون ذكر الدعاء.

 

الطريق الثاني: علي بن عبد الله بن عباس، عن أبيه.

رواه مسلم في صحيحه، وفيه: (فخرج إلى الصلاة، وهو يقول: اللهم اجعل في قلبي نورًا … ) وسياق مسلم له في صحيحه ليس تصحيحًا له؛ لأنه ذكره بعد رواية كريب المتفق عليها إيماءً إلى تعليله كما هي طريقة مسلم في الصحيح حيث يقدم الرواية المحفوظة، ثم يعقبها بالروايات المختلف عليها لبيان علتها، ويكتفي بإيرادها عن التصريح بعلتها؛ ويفهم هذا من طريقته في صحيحه.
দ্বিতীয় দলিল:

(হ-১০৩৯) ইবনে মাজাহ আবুল জাহামের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ফুদাইল ইবনে মারযুক আতিয়্যাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন,

--------------------------------------------

= এবং মুসলিম এটি তার সহীহ গ্রন্থে (১৮৮ - ৭৬৩) শু’বাহর বর্ণনা উল্লেখ করার পর সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। তিনি শু’বাহর বর্ণনার সাথে এর পার্থক্যের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন; ফলে সাঈদ ইবনে মাসরুকের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: (আমার জন্য নূরকে মহান করুন) এবং শু’বাহর বর্ণনায় বলেছেন (এবং আমার জন্য নূর সৃষ্টি করুন অথবা আমাকে নূর বানিয়ে দিন)।

অনুরূপভাবে আবু আওয়ানাহ তার মুস্তাখরাজ গ্রন্থে (২২৭৫) এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

আর উকাইল ইবনে খালিদের বর্ণনা যা সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে বর্ণিত, সেটি মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে (১৮৯ - ৭৬৩) বর্ণনা করেছেন, তাতে রয়েছে: (এবং আল্লাহর রাসুল সেদিন রাতে ঊনিশটি বাক্যে দোয়া করেছিলেন...) হাদিস। এখানে রাতে দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, আর যদি এটি মসজিদে যাওয়ার সময়ের হতো তবে দোয়াটি ভোরে হতো।

সুতরাং সহীহাইন-এ কুরাইবের বর্ণনা এই বিষয়ে একমত যে, দোয়াটি সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময়ের নয়। এটি চারটি শব্দে বর্ণিত হয়েছে: সুফিয়ানের বর্ণনায় এসেছে (তিনি তার দোয়ায় বলতেন)।

এবং সাঈদ ইবনে মাসরুকের বর্ণনায় এসেছে: (তিনি তার সাজদাহয় বলতেন)।

এবং শু’বাহর বর্ণনায় এসেছে: (তিনি তার সালাতে অথবা সাজদাহয় বলতেন)।

এবং উকাইলের বর্ণনায় এসেছে: (এবং আল্লাহর রাসুল সেদিন রাতে দোয়া করেছিলেন)।

এটি সালামাহ ইবনে কুহাইলের বর্ণনা, যা আবু কুরাইব থেকে বর্ণিত। একদল রাবী আবু কুরাইব থেকে সহীহাইন-এ এটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু তারা দোয়ার কথা উল্লেখ করেননি।

মাখরামা ইবনে সুলাইমান এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি সহীহ বুখারীতে (১৮৩, ৬৯৮, ৯৯২, ১১৯৮, ৪৫৭০, ৪৫৭১, ৪৫৭২) হাদিসকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করার বুখারীর পদ্ধতি অনুযায়ী দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্তাকারে এসেছে। এবং মুসলিম এটি (৭৬৩) বর্ণনা করেছেন; আমি কেবল সহীহাইন উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি।

এবং আমর ইবনে দীনার যেমনটি সহীহ বুখারীতে (৭২৬, ৮৫৯) এবং সহীহ মুসলিমে (১৮৬ - ৭৬৩) রয়েছে; আমি কেবল সহীহাইন উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি।

এবং শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি নামর যেমনটি সহীহ বুখারীতে (৪৫৬৯, ৬২১৫, ৭৪৫২) এবং সহীহ মুসলিমে (১৯০ - ৭৬৩) রয়েছে; আমি কেবল সহীহাইন উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি।

এবং আতা যেমনটি সহীহ মুসলিমে (১৯২ - ৭৬৩) রয়েছে। এই চারজনই (মাখরামা, আমর ইবনে দীনার, শারীক এবং আতা) এটি আবু কুরাইব থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে তারা দোয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

 

দ্বিতীয় সূত্র: আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, তার পিতার সূত্রে।

মুসলিম এটি তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তাতে রয়েছে: (অতঃপর তিনি সালাতের জন্য বের হলেন এবং বলছিলেন: হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দান করুন … ) এবং মুসলিমের তার সহীহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা এর শুদ্ধতার প্রমাণ নয়; কারণ তিনি এটি কুরাইবের সর্বসম্মত বর্ণনার পর উল্লেখ করেছেন এর ত্রুটি (ইল্লাত) নির্দেশ করার জন্য। এটিই সহীহ মুসলিমে ইমাম মুসলিমের পদ্ধতি, যেখানে তিনি প্রথমে সংরক্ষিত (মাহফুজ) বর্ণনাটি পেশ করেন, তারপর তার পেছনে বিতর্কিত বর্ণনাগুলো নিয়ে আসেন সেগুলোর ত্রুটি প্রকাশের জন্য এবং তিনি সেগুলোর বর্ণনা উল্লেখ করার মাধ্যমেই ত্রুটির সুস্পষ্ট বর্ণনা থেকে বিরত থাকেন; তাঁর সহীহ গ্রন্থের পদ্ধতি থেকে এটি বোঝা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১৭)
عن أبي سعيد الخدري، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من خرج من بيته إلى الصلاة، فقال: اللهم إني أسألك بحق السائلين عليك، وأسألك بحق ممشاي هذا، فإني لم أخرج أشرًا، ولا بطرًا، ولا سمعة، وخرجت اتقاء سخطك، وابتغاء مرضاتك، فأسألك أن تعيذني من النار، وأن تغفر لي ذنوبي، إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت، أقبل الله عليه بوجهه، واستغفر له سبعون ألف ملك‌‌(1).

[ضعيف موقوفًا ومرفوعًا]‌‌(2).

الدليل الثالث:

(ح-1040) ما رواه أحمد من طريق سفيان (الثوري)، عن منصور، عن الشعبي،

عن أم سلمة، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا خرج من بيته، قال: «بسم الله، توكلت على الله، اللهم إني أعوذ بك من أن نَزِلَّ أو نَضِلَّ، أو نَظْلِمَ أو نُظْلَمَ، أو نَجْهَلَ أو يُجْهَلَ علينا‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1). سنن ابن ماجه (778).

‌‌(2). مداره على فضيل بن مرزوق، عن عطية العوفي، عن أبي سعيد، واختلف على فضيل:

فرواه أبو الجهم الفضل بن موفق (ضعيف) كما في سنن ابن ماجه (778).

وعبد الله بن صالح العجلي (ثقة) كما في الدعاء للطبراني (421)، وعمل اليوم والليلة لابن السني (85).

ومحمد بن فضيل كما في أمالي ابن بشران (753).

ويحيى بن أبي بكير (ثقة) كما في الأوسط لابن المنذر (4/ 56)، والدعوات الكبير للبيهقي (65) أربعتهم (أبو الجهم، وعبد الله بن صالح، ومحمد بن فضيل، وابن أبي بكير) رووه عن فضيل بن مرزوق به، وجزموا برفعه.

ورواه يزيد بن هارون كما في مسند أحمد (3/ 21) أخبرنا فضيل بن مرزوق، عن عطية العوفي، قال يزيد: فقلت لفضيل: رفعه؟ قال: أحسبه قد رفعه. وهنا لم يتيقن الرفع، وإنما ظنه ظَنًّا.

ورواه وكيع كما في مصنف ابن أبي شيبة (29202) عن فضيل بن مرزوق، عن عطية به موقوفًا.

وتابعه على هذا أبو نعيم فيما ذكره ابن أبي حاتم في العلل (2048).

وقد سأل ابن أبي حاتم أباه عن هذا الحديث، فقال: موقوف أشبه. اهـ

فالمرفوع والموقوف مخرجه واحد، ومداره على عطية العوفي، وهو ضعيف.

‌‌(3). المسند (6/ 306).
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের উদ্দেশ্যে তার ঘর থেকে বের হয়ে বলে: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আবেদনকারীদের হকের উসিলায় এবং আমার এই চলার হকের উসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি; কারণ আমি কোনো ঔদ্ধত্য, অহংকার, লোক দেখানো বা সুখ্যাতি অর্জনের জন্য বের হইনি, বরং আমি আপনার ক্রোধ থেকে বাঁচতে এবং আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বের হয়েছি। তাই আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন; নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না'—তবে আল্লাহ তাঁর চেহারা মুবারক দিয়ে তার প্রতি নিবদ্ধ হন এবং সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন"‌‌(১)।

[বর্ণনাটি মাওকুফ এবং মারফু উভয় সূত্রেই যঈফ বা দুর্বল]‌‌(২)।

তৃতীয় দলীল:

(হাদিস-১০৪০) ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান (সাওরী)-এর সূত্রে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি আল-শা’বী থেকে,

উম্মে সালামাহ (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঘর থেকে বের হতেন, তখন বলতেন: "আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যেন আমি পদস্খলিত না হই অথবা পথভ্রষ্ট না হই, কিংবা আমি জুলুম না করি অথবা কারো দ্বারা জুলুমের শিকার না হই, কিংবা আমি মূর্খতা না করি অথবা আমার প্রতি মূর্খতা প্রদর্শন না করা হয়"‌‌(৩)।

--------------------------------------------

‌‌(১). সুনানে ইবনে মাজাহ (৭৭৮)।

‌‌(২). এর বর্ণনাসূত্র আবর্তিত হয়েছে ফুদাইল ইবনে মারযুক-কে কেন্দ্র করে, তিনি আতিয়্যাহ আল-আওফী থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে ফুদাইল-এর বর্ণনার ব্যাপারে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে:

আবু আল-জাহম আল-ফাযল ইবনে মুওয়াফফাক (যিনি দুর্বল) এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি সুনানে ইবনে মাজাহ-তে (৭৭৮) বর্ণিত হয়েছে।

এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-ইজলি (যিনি নির্ভরযোগ্য) এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি তাবারানির ‘আদ-দুআ’ (৪২১) এবং ইবনুস সুন্নির ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ (৮৫)-তে বর্ণিত হয়েছে।

এবং মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমালি ইবনে বিশরান-এ (৭৫৩) বর্ণিত হয়েছে।

এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর (যিনি নির্ভরযোগ্য) এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনুল মুনযিরের ‘আল-আওসাত’ (৪/ ৫৬) এবং বায়হাকির ‘আদ-দাওয়াতুল কাবীর’ (৬৫)-তে বর্ণিত হয়েছে। তারা চারজনই (আবু আল-জাহম, আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ, মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল এবং ইবনে আবি বুকাইর) এটি ফুদাইল ইবনে মারযুক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তারা এটিকে মারফু হিসেবে নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে ইয়াজিদ ইবনে হারুন এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মুসনাদে আহমাদ-এ (৩/ ২১) রয়েছে: ফুদাইল ইবনে মারযুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আতিয়্যাহ আল-আওফী থেকে। ইয়াজিদ বলেন: আমি ফুদাইলকে জিজ্ঞাসা করলাম, এটি কি মারফু? তিনি বললেন: আমি মনে করি তিনি এটি মারফু করেছেন। এখানে তিনি মারফু হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত নন, বরং কেবল ধারণা করেছেন।

এবং ওয়াকি এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ-তে (২৯২০২) ফুদাইল ইবনে মারযুক থেকে আতিয়্যাহর সূত্রে ‘মাওকুফ’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

আবু নুআইমও তাকে অনুসরণ করেছেন, যেমনটি ইবনে আবি হাতিম ‘আল-ইলাল’ (২০৪৮)-এ উল্লেখ করেছেন।

ইবনে আবি হাতিম এই হাদিস সম্পর্কে তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: এটি মাওকুফ হওয়াই অধিক সঠিক। (সমাপ্ত)

মূলত মারফু এবং মাওকুফ উভয় বর্ণনার উৎস এক, এবং এর কেন্দ্রবিন্দু হলো আতিয়্যাহ আল-আওফী, আর তিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী।

‌‌(৩). আল-মুসনাদ (৬/ ৩০৬)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১৮)
[صححه الترمذي والحاكم، وأُعِلَّ بالانقطاع]‌‌(1).

--------------------------------------------

‌‌(1). الحديث رواه أحمد (6/ 306، 318) وابن أبي شيبة في المصنف (29201) وعبد بن حميد كما في المنتخب (1536) والترمذي (3427)، والنسائي في المجتبى (5539) وفي الكبرى (7870، 9835)، والطبراني في الدعاء (411)، والحاكم في المستدرك (1907)، وابن السني في عمل اليوم والليلة (176)، من طريق سفيان الثوري.

وأخرجه أبو داود الطيالسي (1712)، وأحمد (6/ 321)، وأبو داود (5094)، والنسائي في الكبرى (9834)، والطبراني في الكبير (23/ 320) ح 726، وفي الدعاء (412)، عن شعبة.

وابن أبي شيبة في المصنف (29200)، وعنه ابن ماجه (3884) قال: حدثنا عبيدة بن حميد.

وأخرجه الحميدي (305)، والطبراني في الدعاء (413)، وأبو نعيم في الحلية (8/ 125) عن فضيل بن عياض.

وإسحاق في مسنده (1889، 1890)، والنسائي في المجتبى (5486)، وفي الكبرى (7868)، والبيهقي في السنن الكبرى (5/ 411) عن جرير بن عبد الحميد.

وأخرجه النسائي في الكبرى (7869)، والطبراني في الدعاء (414)، من طريق القاسم بن معن.

وأخرجه الطبراني في الدعاء (416)، وأبو نعيم في الحلية (7/ 264) من طريق مسعر بن كدام، كلهم (الثوري، وشعبة، وعبيدة بن حميد، وفضيل بن عياض، وجرير بن عبد الحميد، والقاسم بن معن) عن منصور بن المعتمر، عن عامر الشعبي، عن أم سلمة.

وتوبع منصور فيه:

تابعه مجاهد، فرواه عن الشعبي، عن أم سلمة.

أخرجه الطبراني في الدعاء (418) من طريق شعبة، عن الحكم بن عتيبة، عن مجاهد به.

وأخرجه البيهقي في السنن (5/ 411) من طريق عطاء، عن الشعبي به.

والحديث أُعِلَّ بعلتين:

 

الأولى: الانقطاع بين الشعبي وأم سلمة، وقد اخُتِلَف في سماع الشعبي من أم سلمة.

فذهب أبو داود والحاكم إلى القول بالسماع لإمكانه.

قال أبو عبيد الآجري في سؤالاته (171) «سمعت أبا داود، قال: الشعبي سمع من أم سلمة، وأم سلمة ماتت آخر أزواج النبي صلى الله عليه وسلم وقيل: صفية ماتت آخرهن». اهـ

وهو مقتضى تصحيح الترمذي له، فإنه قال عن الحديث: حسن صحيح.

وقال الحاكم: هذا حديث صحيح على شرط الشيخين، ولم يخرجاه، وربما توهم متوهم أن الشعبي لم يسمع من أم سلمة، وليس كذلك، فإنه دخل على عائشة، وأم سلمة جميعًا، ثم أكثر من الرواية عنهما جميعًا.

قال الحافظ ابن حجر في نتائج الأفكار متعقبًا قول الحاكم (1/ 159 - 160): هكذا قال، وقد خالف ذلك في علوم الحديث (ص: 111) له، فقال: لم يسمع الشعبي من عائشة». =
[তিরমিযী ও হাকেম একে সহীহ বলেছেন, তবে ইনকিতা (সূত্রবিচ্ছিন্নতা)-এর কারণে এর ত্রুটি বর্ণনা করা হয়েছে]‌‌(১).

--------------------------------------------

‌‌(১). হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৬/ ৩০৬, ৩১৮), ইবনে আবি শায়বাহ ‘আল-মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (২৯২০১), আবদ ইবনে হুমাইদ যেমনটি ‘আল-মুন্তাখাব’ গ্রন্থে রয়েছে (১৫৩৬), তিরমিযী (৩৪২৭), নাসায়ী ‘আল-মুজতাবা’ গ্রন্থে (৫৫৩৯) ও ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে (৭৮৭০, ৯৮৩৫), তাবারানী ‘আদ-দুআ’ গ্রন্থে (৪১১), হাকেম ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে (১৯০৭), এবং ইবনুস সুন্নি ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে (১৭৬); সুফিয়ান আস-সাওরীর সূত্রে।

এবং এটি বের করেছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (১৭১২), আহমাদ (৬/ ৩২১), আবু দাউদ (৫০৯৪), নাসায়ী ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে (৯৮৩৪), তাবারানী ‘আল-কাবীর’ গ্রন্থে (২৩/ ৩২০) হা. ৭২৬ এবং ‘আদ-দুআ’ গ্রন্থে (৪১২); শু’বাহর সূত্রে।

এবং ইবনে আবি শায়বাহ ‘আল-মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (২৯২০০), এবং তার থেকে ইবনে মাজাহ (৩৮৮৪) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদাহ বিন হুমাইদ বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি বের করেছেন হুমাইদি (৩০৫), তাবারানী ‘আদ-দুআ’ গ্রন্থে (৪১৩), এবং আবু নুয়াইম ‘আল-হিলইয়াহ’ গ্রন্থে (৮/ ১২৫); ফুদ্বাইল বিন ইয়াদ থেকে।

এবং ইসহাক তার মুসনাদে (১৮৮৯, ১৮৯০), নাসায়ী ‘আল-মুজতাবা’ গ্রন্থে (৫৪৮৬) ও ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে (৭৮৬৮), এবং বাইহাকী ‘আস-সুনানুল কুবরা’ গ্রন্থে (৫/ ৪১১); জারীর বিন আব্দুল হামিদ থেকে।

এবং এটি বের করেছেন নাসায়ী ‘আল-কুবরা’ গ্রন্থে (৭৮৬৯) এবং তাবারানী ‘আদ-দুআ’ গ্রন্থে (৪১৪); আল-কাসিম বিন মা’ন-এর সূত্রে।

এবং তাবারানী ‘আদ-দুআ’ গ্রন্থে (৪১৬) এবং আবু নুয়াইম ‘আল-হিলইয়াহ’ গ্রন্থে (৭/ ২৬৪) বের করেছেন মাসআর বিন কিদাম-এর সূত্রে; তারা সবাই (আস-সাওরী, শু’বাহ, উবাইদাহ বিন হুমাইদ, ফুদ্বাইল বিন ইয়াদ, জারীর বিন আব্দুল হামিদ এবং আল-কাসিম বিন মা’ন) মনসুর বিন আল-মুতামির থেকে, তিনি আমির আশ-শা’বী থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং এখানে মনসুরকে অনুসরণ করা হয়েছে:

মুজাহিদ তাকে অনুসরণ করেছেন, ফলে তিনি এটি শা’বী থেকে, তিনি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাবারানী ‘আদ-দুআ’ গ্রন্থে (৪১৮) এটি বের করেছেন শু’বাহর সূত্রে, তিনি হাকাম বিন উতাইবাহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং বাইহাকী ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে (৫/ ৪১১) আতা-এর সূত্রে বের করেছেন, তিনি শা’বী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

হাদীসটির ত্রুটি দুটি কারণে বর্ণনা করা হয়েছে:

 

প্রথমত: শা’বী এবং উম্মে সালামাহর মধ্যে ইনকিতা (সূত্রবিচ্ছিন্নতা); উম্মে সালামাহ থেকে শা’বীর শ্রবণের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

আবু দাউদ এবং হাকেম এটি সম্ভব হওয়ার কারণে শ্রবণ সাব্যস্ত করার মত দিয়েছেন।

আবু উবাইদ আল-আজুরি তার ‘সুয়ালাত’ গ্রন্থে (১৭১) বলেন: “আমি আবু দাউদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: শা’বী উম্মে সালামাহ থেকে শুনেছেন। উম্মে সালামাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আবার বলা হয়: সাফিয়্যাহ সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করেছিলেন।” সমাপ্ত।

আর ইমাম তিরমিযীর একে সহীহ বলার দাবিও এটিই, কেননা তিনি হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেন: হাসান সহীহ।

হাকেম বলেছেন: “এই হাদীসটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহীহ, কিন্তু তারা এটি বর্ণনা করেননি। হয়তো কোনো ধারণাকারী ধারণা করতে পারেন যে, শা’বী উম্মে সালামাহ থেকে শুনেননি, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং তিনি আয়েশা এবং উম্মে সালামাহ উভয়ের নিকটই প্রবেশ করেছেন, তারপর তাদের উভয়ের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন।”

হাফেজ ইবনে হাজার ‘নাতাইজুস আল-আফকার’ গ্রন্থে হাকেমের বক্তব্যের সমালোচনা করে (১/ ১৫৯ - ১৬০) বলেন: “তিনি এভাবেই বলেছেন, অথচ তিনি নিজেই তার ‘উলূমুল হাদীস’ (পৃষ্ঠা: ১১১) গ্রন্থে এর বিরোধিতা করে বলেছেন: শা’বী আয়েশা থেকে শুনেননি।” =
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ১৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= وإذا انتقض قول الحاكم في سماعه من عائشة انتقض في أم سلمة؛ لأنه مبني على دعوى أنه دخل على عائشة وأم سلمة جميعًا.

وقد جزم علي بن المديني بأنه لم يسمع منها، قال في العلل نقلًا من تهذيب التهذيب (5/ 68): «لم يسمع من زيد بن ثابت، ولمَ يلْقَ أبا سعيد الخدري، ولا أم سلمة».

ونقل ذلك ابن حجر في نتائج الأفكار (1/ 160)، فقال: «لم يسمع الشعبي من أم سلمة، وعلى هذا فالحديث منقطع ..... فعلل من صححه سهَّل الأمر فيه؛ لكونه من الفضائل، ولا يقال: اكتفى بالمعاصرة؛ لأن محل ذلك أن لا يحصل الجزم بانتفاء التقاء المتعاصرين إذا كان النافي واسع الاطلاع مثل ابن المديني، والله أعلم».

وقد اعتمد الحاكم في ثبوت السماع على أمرين:

أن الشعبي دخل على عائشة وأم سلمة جميعًا، ثم أنه أكثر من الرواية عنهما جميعًا.

فهل صح دخول الشعبي عليهما؟ وإن صح فهل يلزم منه سماع التحمل والرواية؟ فكم من رَاوٍ أثبت الأئمة لقياه لِرَاوٍ آخر، ونفوا عنه سماع التحمل والرواية، ولا أدل على ذلك من قول الحاكم نفسه عن عائشة: إنه لم يسمع منها في معرفة علوم الحديث.

وإذا جاء إثبات اللقاء ونفيه من إمامين، فالأصل أن المثبت مقدم على النافي؛ لأن معه زيادة علم إلا أن في مسألتنا هذه ما يعكر على تقديم المثبت: أن المثبت بنى حكمه على إمكان اللقيا، وهذا ليس إثباتًا في الحقيقة، فلا يقدم على من جزم بعدم اللقيا، فالظاهر من حكم أبي داود أنه بنى حكمه على تأخر وفاة أم سلمة رضي الله عنها، وهذا لا يلزم منه إلا إمكان اللقيا، فلا يعارض به كلام ابن المديني وقد جزم بنفي اللقيا، والله أعلم.

وقول الحاكم: ثم أكثر من الرواية عنهما لم يَصِلْ إلينا ما رواه عن أم سلمة إلا أربعة أحاديث، هذا أحدها.

والثاني: حديث كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول بعد الفجر: اللهم إني أسألك رزقًا طيبًا، وعلمًا نافعًا، وعملًا متقبلًا.

والثالث: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في آخر أمره، لا يقوم، ولا يقعد، ولا يذهب، ولا يجيء إلا قال: سبحان الله وبحمده، فقلت: يا رسول الله إنك تكثر من هذا الدعاء، فقال: إني أمرت بها، فقال: إذا جاء نصر الله والفتح إلى آخر السورة.

والرابع: حديث كان النبي صلى الله عليه وسلم يصبح جنبًا، ويخرج إلى المسجد، ولا يفطر، ثم يصبح صائمًا.

 

العلة الثانية: وهي الاختلاف في إسناده.

فقد رواه منصور، عن الشعبي، عن أم سلمة، ولم يختلف فيه على منصور.

وتابعه مجاهد، وعطاء كما سبق.

ورواه زبيد اليامي، واختلف على زبيد اليامي فيه:

فرواه الطبراني في الدعاء (417) من طريق أبي حذيفة، حدثنا سفيان الثوري، عن زبيد، …

عن الشعبي، عن أم سلمة كرواية الجماعة.

وأخرجه النسائي في السنن الكبرى (9836) وفي عمل اليوم والليلة (88)، أخبرنا محمد بن بشار من حديث عبد الرحمن (بن مهدي)، عن سفيان، عن زبيد اليامي، عن الشعبي، عن النبي صلى الله عليه وسلم، مرسلًا.

ورواه أبو بكر الهذلي، عن الشعبي، عن عبد الله بن شداد، عن ميمونة.

أخرجه الطبراني في الكبير (24/ 9) ح 11، وفي الدعاء (419)، والهذلي ضعيف.

ورواه مجالد، عن الشعبي، عن مسروق، عن عائشة مرفوعًا.

أخرجه الطبراني في الدعاء (420) من طريق عمر بن إسماعيل بن مجالد، حدثني أبي، عن مجالد به. وعمر بن إسماعيل بن مجالد متروك، وقال فيه ابن معين: كذاب.

ومجالد بن سعيد: ضعيف.

وهذا الاختلاف على الشعبي لا يضر رواية منصور عنه؛ لأنه لم يختلف على منصور في روايته، ولهذا قال الدارقطني في العلل (15/ 222) بعد أن ذكر الاختلاف فيه: والمحفوظ حديث منصور ومن تابعه.

وقال الحافظ في نتائج الأفكار (1/ 160): وهذه العلة -يعني الاختلاف في إسناده- غير قادحة، فإن منصورًا ثقة حافظ، ولم يختلف عليه فيه .... والهذلي ضعيف، ومجالد فيه لين، وزبيد وإن كان ثقة لكن اختلف عليه، فجاء عنه كرواية منصور بذكر أم سلمة، فما له علة سوى الانقطاع، فلعل من صححه سهل الأمر فيه لكونه من الفضائل .... ».
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং যদি আয়িশাহ থেকে আল-হাকিমের শোনার দাবিটি খণ্ডিত হয়ে যায়, তবে উম্মু সালামাহর ক্ষেত্রেও তা খণ্ডিত হবে; কারণ এটি এই দাবির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যে, তিনি আয়িশাহ ও উম্মু সালামাহ উভয়ের কাছেই প্রবেশ করেছিলেন।

আলী ইবনুল মাদীনী দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, তিনি তার থেকে শোনেননি। তাহযীবুত তাহযীব (৫/৬৮) থেকে উদ্ধৃত করে 'আল-ইলাল' গ্রন্থে তিনি বলেছেন: «তিনি যায়িদ ইবনে সাবিত থেকে শোনেননি এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী ও উম্মু সালামাহর সাথেও সাক্ষাত করেননি।»

ইবনে হাজার 'নাতাইজুল আফকার' (১/১৬০) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করে বলেছেন: «আশ-শা'বী উম্মু সালামাহ থেকে শোনেননি, আর এর ওপর ভিত্তি করে হাদীসটি মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন সূত্রবিশিষ্ট) ..... সুতরাং যারা এটিকে সহীহ বলেছেন তারা বিষয়টিকে সহজভাবে গ্রহণ করেছেন; কারণ এটি ফাযায়েল বা ফযীলত সংক্রান্ত বিষয়। আর এ কথা বলা যাবে না যে, কেবল সমসাময়িক হওয়াটুকুই যথেষ্ট; কেননা সমসাময়িকদের সাক্ষাতের বিষয়টি তখনই যথেষ্ট হিসেবে গণ্য হয় যখন তাদের মধ্যে সাক্ষাত না হওয়ার ব্যাপারে কোনো দৃঢ় সিদ্ধান্ত না পাওয়া যায়, বিশেষ করে যখন অস্বীকারকারী ব্যক্তি ইবনুল মাদীনীর মতো ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী হন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।»

আল-হাকিম শ্রবণ সাব্যস্ত করার জন্য দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছেন:

প্রথমত আশ-শা'বী আয়িশাহ ও উম্মু সালামাহ উভয়ের নিকট প্রবেশ করেছিলেন, দ্বিতীয়ত তিনি তাদের উভয়ের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু আশ-শা'বীর তাদের নিকট প্রবেশের বিষয়টি কি সহীহভাবে প্রমাণিত? আর যদি তা সঠিকও হয়, তবে তার দ্বারা কি সরাসরি শ্রবণ ও বর্ণনা করা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক? কেননা এমন অনেক বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদের ব্যাপারে ইমামগণ অন্য বর্ণনাকারীর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন কিন্তু তার থেকে শোনা ও বর্ণনা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর নেই যে, খোদ আল-হাকিমই 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস' গ্রন্থে আয়িশাহর ব্যাপারে বলেছেন: তিনি তার থেকে শোনেননি।

যখন দুজন ইমামের পক্ষ থেকে সাক্ষাতের সপক্ষে ও বিপক্ষে বক্তব্য আসে, তখন মূলনীতি হলো সাক্ষাত সাব্যস্তকারীর বক্তব্য অস্বীকারকারীর ওপর প্রাধান্য পাবে; কারণ তার কাছে অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে। কিন্তু আমাদের এই মাসআলায় সাব্যস্তকারীর বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি জটিলতা রয়েছে: তা হলো সাব্যস্তকারী তার হুকুমটি সাক্ষাতের সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে প্রদান করেছেন, যা প্রকৃতপক্ষে প্রমাণ নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি সাক্ষাত না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় মত দিয়েছেন তার ওপর একে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। আবু দাউদ-এর হুকুম থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি উম্মু সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র বিলম্বে মৃত্যু হওয়ার ওপর ভিত্তি করে তার হুকুম দিয়েছেন, যা থেকে কেবল সাক্ষাতের সম্ভাবনাটুকুই বোঝা যায়। সুতরাং এর মাধ্যমে ইবনুল মাদীনীর বক্তব্যের বিরোধিতা করা চলে না, যিনি সাক্ষাত না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর আল-হাকিমের বক্তব্য: «তিনি তাদের উভয়ের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন»—কিন্তু উম্মু সালামাহ থেকে তার বর্ণিত হাদীসের মধ্য থেকে মাত্র চারটি হাদীস আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে, এটি তার মধ্যে একটি।

দ্বিতীয়টি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর বলতেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পবিত্র রিযিক, উপকারী জ্ঞান এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।

তৃতীয়টি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষ দিকে দাঁড়াতে, বসতে, যেতে বা আসতে গেলেই বলতেন: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এই দুআটি খুব বেশি পাঠ করছেন। তিনি বললেন: আমাকে এর আদেশ দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: ইযা জা-আ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ—সূরার শেষ পর্যন্ত।

চতুর্থটি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র অবস্থায় ভোরে উপনীত হতেন, এরপর মসজিদের দিকে বের হতেন এবং রোযা ভঙ্গ করতেন না, বরং রোযাদার অবস্থায় ভোর করতেন।

 

দ্বিতীয় ত্রুটি: এটি হলো এর সনদে মতভেদ।

মানসূর এটি আশ-শা'বী থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মানসূরের ওপর এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ হয়নি।

মুজাহিদ ও আতা এ ব্যাপারে তাকে অনুসরণ করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর যুবাইদ আল-ইয়ামী এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার ওপর এ ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে:

আত-তাবারানী 'আদ-দুআ' (৪১৭) গ্রন্থে আবু হুযাইফার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি যুবাইদ থেকে, …

আশ-শা'বী থেকে, তিনি উম্মু সালামাহ থেকে—যেমনটি জামাআত বা অধিকাংশরা বর্ণনা করেছেন।

আন-নাসায়ী 'আস-সুনানুল কুবরা' (৯৮৩৬) এবং 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (৮৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান (ইবনে মাহদী)-র হাদীস থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি যুবাইদ আল-ইয়ামী থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে—মুরসাল হিসেবে।

আবু বকর আল-হুযালী এটি আশ-শা'বী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি মাইমুনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আত-তাবারানী 'আল-কাবীর' (২৪/৯) হাদীস নং ১১ এবং 'আদ-দুআ' (৪১৯) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আর আল-হুযালী দুর্বল।

মুজালিদ এটি আশ-শা'বী থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়িশাহ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আত-তাবারানী 'আদ-দুআ' (৪২০) গ্রন্থে উমার ইবনে ইসমাঈল ইবনে মুজালিদ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে মুজালিদ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আর উমার ইবনে ইসমাঈল ইবনে মুজালিদ মাতরুক বা পরিত্যক্ত, এবং ইবনে মাঈন তার ব্যাপারে বলেছেন: সে চরম মিথ্যাবাদী।

আর মুজালিদ ইবনে সাঈদ নিজেও দুর্বল।

আশ-শা'বীর ওপর এই মতভেদ মানসূরের বর্ণনার কোনো ক্ষতি করবে না; কারণ মানসূরের বর্ণনায় কোনো মতভেদ হয়নি। একারণেই আদ-দারা কুতনী 'আল-ইলাল' (১৫/২২২) গ্রন্থে এ বিষয়ে মতভেদ উল্লেখ করার পর বলেছেন: সংরক্ষিত বা সঠিক বর্ণনা হলো মানসূর ও যারা তাকে অনুসরণ করেছেন তাদের হাদীসটি।

আর হাফেজ (ইবনে হাজার) 'নাতাইজুল আফকার' (১/১৬০) গ্রন্থে বলেছেন: «এই ত্রুটি—অর্থাৎ এর সনদের মতভেদ—ক্ষতিকর নয়; কারণ মানসূর হলেন নির্ভরযোগ্য ও হাফেজ, আর এ ব্যাপারে তার বর্ণনায় কোনো মতভেদ হয়নি .... আল-হুযালী দুর্বল, মুজালিদ-এর মাঝে শিথিলতা রয়েছে, আর যুবাইদ যদিও নির্ভরযোগ্য কিন্তু তার ওপর মতভেদ হয়েছে। ফলে তার থেকে মানসূরের বর্ণনার মতোই উম্মু সালামাহর উল্লেখসহ বর্ণনাটি এসেছে। সুতরাং ইনকিতা বা বিচ্ছিন্নতা ছাড়া এতে আর কোনো ত্রুটি নেই। সম্ভবত যারা একে সহীহ বলেছেন তারা ফাযায়েল বা ফযীলত সংক্রান্ত বিষয় হওয়ার কারণে সহজভাবে গ্রহণ করেছেন .... »
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২০)
الدليل الرابع:

(ح-1041) ما رواه أبو داود من طريق حجاج بن محمد، عن ابن جريج، عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة،

عن أنس بن مالك، أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: إذا خرج الرجل من بيته فقال بسم الله توكلت على الله، لا حول ولا قوة إلا بالله، قال: يقال حينئذ: هديت، وكفيت، ووقيت، فتتنحى له الشياطين، فيقول له شيطان آخر: كيف لك برجل قد هدي وكفي ووقي؟‌‌(1).

[إسناده ضعيف]‌‌(2).

--------------------------------------------

‌‌(1). سنن أبي داود (5095).

‌‌(2). الحديث رواه أبو داود (5095) والنسائي في السنن الكبرى (9837)، والطبراني في الدعاء (407)، وابن حبان في صحيحه (822)، وابن السني في عمل اليوم والليلة (178)، من طريق حجاج بن محمد. =
চতুর্থ দলিল:

(হাদিস-১০৪১) আবু দাউদ হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদের সূত্রে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা থেকে,

আর তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে—'আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ও শক্তি ছাড়া কোনো উপায় নেই', তখন তাকে বলা হয়: তোমাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে, তোমার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হয়েছেন এবং তোমাকে রক্ষা করা হয়েছে। ফলে শয়তানরা তার থেকে দূরে সরে যায়। তখন অন্য এক শয়তান তাকে বলে: তুমি এমন এক ব্যক্তির কী (ক্ষতি) করতে পারবে যাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে, যার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হয়েছেন এবং যাকে রক্ষা করা হয়েছে?‌‌(১).

[এর সনদ দুর্বল]‌‌(২).

--------------------------------------------

‌‌(১). সুনানে আবু দাউদ (৫০৯৫)।

‌‌(২). হাদিসটি হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদের সূত্রে আবু দাউদ (৫০৯৫), নাসায়ি 'আস-সুনান আল-কুবরা' গ্রন্থে (৯৮৩৭), তাবারানি 'আদ-দুআ' গ্রন্থে (৪০৭), ইবনে হিব্বান তার 'সহিহ' গ্রন্থে (৮২২) এবং ইবনুস সুন্নি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে (১৭৮) বর্ণনা করেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= والترمذي في السنن (3426)، وفي العلل الكبير (673)، والبيهقي في السنن الكبرى (5/ 411) من طريق يحيى بن سعيد، كلاهما عن ابن جريج، عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة، عن أنس بن مالك.

قال الترمذي في السنن: هذا حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه. اهـ

وفي العلل الكبير (ص: 362) قال الترمذي: سألت محمَّدًا، يعني ابن إسماعيل البخاري، عن هذا الحديث. فقال: حدثوني عن يحيى بن سعيد، عن ابن جريج، بهذا الحديث، ولا أعرف لابن جريج عن إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة غير هذا الحديث، ولا أعرف له سماعًا منه. انظر ترتيب علل الترمذي الكبير (673).

وقال الدارقطني في العلل (12/ 13): «يرويه ابن جريج، واختلف عنه؛

فرواه يحيى بن سعيد الأموي، وحجاج بن محمد، عن ابن جريج، عن إسحاق بن عبد الله ابن أبي طلحة.

ورواه عبد المجيد بن أبي رواد، وهو أثبت الناس في ابن جريج، قال: حدثت عن إسحاق والصحيح أن ابن جريج لم يسمعه من إسحاق».

وصححه ابن حبان، قال ابن حجر تعليقًا: خفيت عليه علته، ثم استشهد بكلام البخاري والدارقطني على انقطاع الحديث.

وابن جريج مدلس فإذا رواه عنه عبد المجيد بن أبي رواد، وهو من أثبت الناس فيه، وبين أنه لم يسمعه من إسحاق فهو على الانقطاع.

وله شاهد من حديث أبي هريرة، رواه ابن ماجه (3886)، والطبراني في الدعاء (409) من طريق ابن أبي فديك، عن هارون بن هارون، عن الأعرج، عن أبي هريرة، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إذا خرج الرجل من باب بيته، أو من باب داره، كان معه ملكان موكلان به، فإذا قال: باسم الله قالا: هديت، وإذا قال: لا حول ولا قوة إلا بالله قالا: وقيت، وإذا قال: توكلت على الله قالا: كفيت، قال: فيلقاه قريناه فيقولان: ماذا تريدان من رجل قد هدي وكفي ووقي؟

وسنده ضعيف، في إسناده هارون بن هارون.

قال البخاري: لا يتابع في حديثه.

وقال النسائي: ضعيف.

وقد ساق له ابن عدي، في الكامل (8/ 437) جملة من منكراته، وقال: ولهارون بن هارون غير ما ذكرت، وأحاديثه عن الأعرج، وعن مجاهد، وعن غيرهما، مما لا يتابعه الثقات عليه.

وروى البخاري في الأدب المفرد (1197)، وابن ماجه (3885) من طريق حاتم بن إسماعيل، عن عبد الله بن حسين بن عطاء بن يسار، عن سهيل بن أبي صالح، عن أبيه،

عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان إذا خرج من بيته قال: باسم الله، التكلان على الله، لا حول ولا قوة إلا بالله. =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং তিরমিযী তাঁর সুনান (৩৪২৬) গ্রন্থে, এবং আল-ইলাল আল-কাবীর (৬৭৩) গ্রন্থে, এবং বায়হাকী তাঁর আস-সুনান আল-কুবরা (৫/ ৪১১) গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, এবং তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিযী সুনান গ্রন্থে বলেছেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদীস, আমরা শুধুমাত্র এই মাধ্যম ছাড়া এটি চিনি না। (সমাপ্ত)

এবং আল-ইলাল আল-কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩৬২) গ্রন্থে তিরমিযী বলেছেন: আমি মুহাম্মদকে (অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী) এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বললেন: তাঁরা ইয়াহইয়া বিন সাঈদ-এর সূত্রে ইবনে জুরাইজ থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আমি ইবনে জুরাইজ কর্তৃক ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে এই হাদীসটি ব্যতীত অন্য কোনো হাদীস সম্পর্কে জানি না, এবং তাঁর থেকে তাঁর (ইবনে জুরাইজের) সরাসরি শ্রবণের বিষয়টিও আমার জানা নেই। দেখুন: তারতীবু ইলালিত তিরমিযী আল-কাবীর (৬৭৩)।

এবং দারাকুতনী আল-ইলাল (১২/ ১৩) গ্রন্থে বলেছেন: «এটি ইবনে জুরাইজ বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে;

ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-উমাবী এবং হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ এটি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং আব্দুল মাজীদ বিন আবি রাওয়াদ এটি বর্ণনা করেছেন—তিনি ইবনে জুরাইজের বর্ণনার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য—তিনি বলেন: ইসহাক থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে। আর সঠিক কথা হলো ইবনে জুরাইজ এটি ইসহাক থেকে সরাসরি শোনেননি।»

এবং ইবনে হিব্বান এটিকে সহীহ বলেছেন। ইবনে হাজার মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: এর ত্রুটি তাঁর কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেছে; এরপর তিনি হাদীসটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার স্বপক্ষে বুখারী এবং দারাকুতনীর বক্তব্য পেশ করেছেন।

ইবনে জুরাইজ একজন মুদাল্লিস (বর্ণনাকারী), সুতরাং যখন আব্দুল মাজীদ বিন আবি রাওয়াদ (যিনি তাঁর ব্যাপারে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ইসহাক থেকে তা শোনেননি, তখন এটি বিচ্ছিন্নতার ওপরই গণ্য হবে।

আবু হুরায়রা-এর হাদীস থেকে এর একটি সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, যা ইবনে মাজাহ (৩৮৮৬) এবং তাবারানী আদ-দুআ (৪০৯) গ্রন্থে ইবনে আবি ফুদাইক-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি হারুন বিন হারুন থেকে, তিনি আরায থেকে, এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরের দরজা দিয়ে অথবা তার বাড়ির দরজা দিয়ে বের হয়, তখন তার সাথে দুজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা থাকে। যখন সে বলে: আল্লাহর নামে, তখন তারা বলে: তুমি হেদায়েত পেয়েছ। যখন সে বলে: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো সামর্থ্য ও শক্তি নেই, তখন তারা বলে: তুমি সুরক্ষা পেয়েছ। আর যখন সে বলে: আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, তখন তারা বলে: তোমার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে। তিনি বলেন: এরপর তার সঙ্গী শয়তানরা তার সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন তারা বলে: তোমরা এমন একজন ব্যক্তির সাথে কী করতে চাও যাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে, যার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে এবং যাকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে?

এর সনদটি দুর্বল, কারণ এর সনদে হারুন বিন হারুন রয়েছেন।

বুখারী বলেছেন: তার হাদীস অনুসরণযোগ্য নয়।

নাসাঈ বলেছেন: তিনি দুর্বল।

ইবনে আদী আল-কামিল (৮/ ৪৩৭) গ্রন্থে তাঁর কতিপয় মুনকার বর্ণনার অবতারণা করেছেন এবং বলেছেন: হারুন বিন হারুনের আমি যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও আরও বর্ণনা রয়েছে; এবং আরায, মুজাহিদ ও অন্যদের থেকে তাঁর বর্ণিত হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ তাঁর অনুসরণ করেন না।

এবং বুখারী আল-আদাবুল মুফরাদ (১১৯৭) গ্রন্থে এবং ইবনে মাজাহ (৩৮৮৫) হাতিম বিন ইসমাঈল-এর সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন হুসাইন বিন আতা বিন ইয়াসার থেকে, তিনি সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে,

তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখন তাঁর ঘর থেকে বের হতেন তখন বলতেন: আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপরই পূর্ণ ভরসা, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো সামর্থ্য ও শক্তি নেই। =
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= وهذا رفعه منكر، تفرد به عبد الله بن حسين بن عطاء، وهو ضعيف، وقد خالفه من هو أوثق منه، فقد رواه ابن أبي شيبة في المصنف (29204) من طريق شعبة،

ورواه أبو نعيم في الحلية (5/ 389) من طريق جرير،

وابن أبي الدنيا في التوكل على الله (21) من طريق أبي الأحوص، ثلاثتهم عن منصور، عن مجاهد، عن عبد الله بن ضمرة، عن كعب الأحبار، قال: إذا خرج من بيته، فقال: باسم الله، توكلت على الله، ولا قوة إلا بالله بلغت الشياطين بعضهم بعضًا، قالوا: هذا عبد قد هدي، وحفظ، وكفي، فلا سبيل لكم عليه، فيتصدعون عنه.

وهذا من قول كعب الأحبار.

وأخرجه عبد الرزاق في المصنف (19827) عن معمر، عن منصور، عن مجاهد، عن كعب من قوله، ليس فيه (عبد الله بن ضمرة)، ولفظه: إذا خرج الرجل من بيته، فقال: باسم الله، قال له الملك: هديت. وإذا قال: توكلت على الله. قال له الملك: كفيت. وإذا قال: لا حول ولا قوة إلا بالله: قال الملك: وقيت. قال: فتتفرق الشياطين، فتقول: لا سبيل لكم إليه، إنه قد هدي، وكفي، ووقي.

قال البرذعي كما في سؤالاته (453): «قلت لأبي زرعة الرازي: عبد الله بن حسين بن عطاء بن يسار؟ قال: ضعيف، حدث عن سهيل، عن أبيه، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم التكلان على الله، وإنما هو عن سهيل، عن أبيه، عن السلولي، عن كعب». اهـ

ورواه عون بن عبد الله بن عتبة، واختلف عليه:

فرواه المسعودي، عن عون، عن عبد الله بن مسعود موقوفًا عليه، وسنده منقطع.

رواه الطبراني في المعجم الكبير (9/ 180) رقم: 8889، وعنه أبو نعيم في حلية الأولياء (4/ 251)، حدثنا أبو مسلم (الكشي)، حدثنا عبد الله (هو ابن رجاء)، حدثنا المسعودي، عن عون، قال: كان عبد الله إذا خرج من بيته، قال: باسم الله توكلت على الله، لا حول ولا قوة إلا بالله. فقال محمد بن كعب القرظي: هذا في القرآن: اركبوا فيها باسم الله [هود: 41]، وقال: على الله توكلنا [الأعراف: 89].

وعبد الله بن رجاء ممن سمع من المسعودي قبل اختلاطه، انظر الكواكب النيرات (ص: 294).

والمسعودي عبد الرحمن بن عبد الله بن عتبة بن عبد الله بن مسعود وثقه أحمد، قال يحيى ابن معين: أحاديثه عن الأعمش مقلوبة … وأحاديثه عن عون وعن القاسم صحاح.

وهذا من حديثه عن عون.

وفي التقريب: صدوق.

فهذا الإسناد إلى عون إسناد حسن أو صحيح، ويبقى علة الانقطاع بين عون وعمه عبد الله بن مسعود رضي الله عنه.

ورواه داود بن أبي هند، عن عون، عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلًا. =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এটি মারফু (রাসূলুল্লাহর বাণী) হিসেবে বর্ণনা করা মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য; আব্দুল্লাহ ইবনে হুসাইন ইবনে আতা এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী। তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ তার বিরোধিতা করেছেন। ইবনে আবি শায়বাহ 'আল-মুসান্নাফ' (২৯২০৪) গ্রন্থে শু'বাহ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন;

আবু নুআয়ম 'আল-হিলয়াহ' (৫/ ৩৮৯) গ্রন্থে জারীরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন;

এবং ইবনে আবিদ দুনইয়া 'আত-তাওয়াক্কুল আলাল্লাহ' (২১) গ্রন্থে আবুল আহওয়াসের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তারা তিনজনই মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দামরাহ থেকে এবং তিনি কাব আল-আহবার থেকে বর্ণনা করেছেন, কাব বলেছেন: যখন কেউ তার ঘর থেকে বের হয় এবং বলে: 'আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই', তখন শয়তানরা একে অপরকে বলতে থাকে: এই বান্দাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে, তাকে রক্ষা করা হয়েছে এবং তার জন্য (আল্লাহই) যথেষ্ট হয়েছেন, সুতরাং তার ওপর তোমাদের কোনো পথ নেই। অতঃপর তারা তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এটি কাব আল-আহবারের নিজস্ব উক্তি (মাওকুফ)।

আব্দুর রাজ্জাক এটি 'আল-মুসান্নাফ' (১৯৮২৭) গ্রন্থে মা'মার থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি কাবের নিজস্ব উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন; সেখানে 'আব্দুল্লাহ ইবনে দামরাহ'-এর উল্লেখ নেই। তার শব্দবিন্যাস হলো: যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘর থেকে বের হয় এবং বলে: 'আল্লাহর নামে', তখন ফেরেশতা তাকে বলেন: তোমাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে। যখন সে বলে: 'আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম', তখন ফেরেশতা তাকে বলেন: তোমার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে। আর যখন সে বলে: 'আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো পরিবর্তন বা ক্ষমতা নেই', তখন ফেরেশতা বলেন: তোমাকে রক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন: তখন শয়তানরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বলে: তার ওপর তোমাদের কোনো পথ নেই, নিশ্চয়ই তাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে, তার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে এবং তাকে রক্ষা করা হয়েছে।

আল-বারযাঈ তার 'সুয়ালাত' (৪৫৩) গ্রন্থে বলেছেন: «আমি আবু যুরআহ আর-রাজিকে জিজ্ঞেস করলাম: আব্দুল্লাহ ইবনে হুসাইন ইবনে আতা ইবনে ইয়াসার সম্পর্কে আপনার মত কী? তিনি বললেন: সে দুর্বল। সে সুহাইল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে 'আল্লাহর ওপর নির্ভরতা' সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনা করেছে। অথচ এটি আসলে সুহাইল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আস-সালুলি থেকে এবং তিনি কাব থেকে বর্ণিত।» (উদ্ধৃতি শেষ)

আউন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তার সূত্রে বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে:

আল-মাসউদি এটি আউন থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে 'মাওকুফ' (তার নিজস্ব উক্তি) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি)।

তাবারানি এটি 'আল-মু'জামুল কাবীর' (৯/ ১৮০) গ্রন্থের ৮৮৮৯ নং ক্রমিকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আবু নুআয়ম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' (৪/ ২৫১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম (আল-কাশশি), আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ (তিনি হলেন ইবনে রাজা), আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-মাসউদি, তিনি আউন থেকে বর্ণনা করেন যে: আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) যখন তার ঘর থেকে বের হতেন, তখন বলতেন: 'আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই'। তখন মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি বললেন: এটি কুরআনেও আছে: 'তোমরা এতে আল্লাহর নামে আরোহণ করো' [হুদ: ৪১], এবং তিনি আরও বলেছেন: 'আমরা আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম' [আল-আরাফ: ৮৯]।

আর আব্দুল্লাহ ইবনে রাজা তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল-মাসউদি থেকে তার স্মৃতিভ্রম (ইখতিলাত) ঘটার আগে হাদিস শুনেছেন; দেখুন: 'আল-কাওয়াকিবুন নিইয়ারাত' (পৃষ্ঠা: ২৯৪)।

আল-মাসউদি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ। ইমাম আহমাদ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: আমাশ থেকে তার বর্ণিত হাদিসগুলো ওলটপালট (মাকলুব) … তবে আউন ও কাসিম থেকে তার বর্ণিত হাদিসগুলো সহিহ।

আর এটি আউন থেকে তার বর্ণিত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।

'আত-তাকরীব' গ্রন্থে তাকে 'সাদুক' (সত্যবাদী) বলা হয়েছে।

সুতরাং আউন পর্যন্ত এই সনদটি হাসান বা সহিহ, তবে আউন এবং তার চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাঝখানে সনদ বিচ্ছিন্ন থাকার ত্রুটিটি রয়ে গেছে।

দাউদ ইবনে আবি হিন্দ আউন থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি 'মুরসাল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। =
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২৩)
• الراجح:

أنه لا يصح في الباب شيء، والأصل عدم التعبد حتى يصح في المسألة سنة، ومن يتساهل في باب الفضائل فإنه يرى أنه لا مانع من التعبد ببعض هذه الأذكار مما ضعفه ليس شديدًا، وفي التعبد بما صَحَّ غنية عن التماس الأحاديث الضعيفة، ولأن الاحتياط للعبادة إذا لم تكن واجبة، هو في الترك؛ لأن الأصل في العبادات الحضر، ولأن التارك لا تثريب عليه، بخلاف الفاعل فإن الناس منقسمون في حقه إلى قسمين: أحد يصحح فعله، والآخر يبدع فعله، فكون المتعبد يلزم طريقة لا يُلَامُ عليها على كل الأقوال أسلم، والله أعلم.

 

* * *

--------------------------------------------

= رواه المحاملي في الدعاء (2) حدثنا الحسن بن أبي الربيع، حدثنا أبو عامر، حدثنا داود، عن عون بن عبد الله بن عتبة، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: … وذكر نحوه، وهذا مرسل.

وأخرجه مرسلًا ابن صَصَرَى في أماليه كما في كنز العمال (17532).

ونسبه السيوطي له في الجامع الكبير، وقال: حَسَّنه عن عون بن عبد الله بن عتبة مرسلًا (1847).

فمن يحسن بالمجموع مطلقًا سوف يحسنه خاصة أن الحديث في الفضائل، ومن يرى أن الضعيف لا يسند الضعيف إذا لم يكن المخرج واحدًا فسوف يتوقى الحذر من الذهاب لتحسين الحديث، وأميل إلى الثاني، والله أعلم.
প্রধান অভিমত:

এই বিষয়ে কোনো কিছুই বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়। আর মূল নীতি হলো, কোনো বিষয়ে সুন্নাহ সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না। যারা ফাযায়েলের (ফযিলত) ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করেন, তাদের মতে যেসব যিকিরের দুর্বলতা খুব বেশি নয়, সেগুলো দ্বারা ইবাদত করাতে কোনো বাধা নেই। অথচ বিশুদ্ধ হাদীসের ভিত্তিতে ইবাদত করাই যথেষ্ট, যা দুর্বল হাদীস অনুসন্ধানের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্তি দেয়। তদুপরি, ইবাদত যদি ওয়াজিব না হয়, তবে সতর্কতার দাবি হলো তা বর্জন করা; কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তা নিষিদ্ধ বা স্থগিত থাকা (যতক্ষণ না প্রমাণ পাওয়া যায়)। তাছাড়া বর্জনকারীকে কোনো তিরস্কার করা হবে না, পক্ষান্তরে পালনকারীর ব্যাপারে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত: একদল তার কাজকে সঠিক বলবে, আর অন্য দল তার কাজকে বিদআত বলবে। সুতরাং একজন ইবাদতকারী এমন পথ অবলম্বন করা যাতে সকল মতানুসারে তিনি নিন্দার ঊর্ধ্বে থাকেন, তা-ই অধিক নিরাপদ। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

* * *

--------------------------------------------

= আল-মুহামিলি 'আদ-দুআ' (২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন: হাসান বিন আবি আর-রবি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আমির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, দাউদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আউন বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: … এবং তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন, আর এটি একটি মুরসাল বর্ণনা।

এবং ইবনে সাসারা তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে এটি মুরসাল হিসেবে সংকলন করেছেন, যেমনটি 'কানজুল উম্মাল' (১৭৫৩২)-এ বর্ণিত হয়েছে।

সুয়ূতী 'আল-জামি আল-কাবীর' গ্রন্থে এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি আউন বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা থেকে মুরসাল হিসেবে একে 'হাসান' বলেছেন (১৮৪৭)।

সুতরাং যারা সামগ্রিকভাবে বর্ণনার সমষ্টির ভিত্তিতে হাদীসকে হাসান বলেন, তারা একে হাসান বলবেন, বিশেষত যেহেতু হাদীসটি ফাযায়েল সংক্রান্ত। আর যারা মনে করেন যে, দুর্বল বর্ণনা অন্য দুর্বল বর্ণনাকে শক্তিশালী করে না যদি তাদের উৎস এক না হয়, তারা এই হাদীসটিকে হাসান বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবেন। আমি দ্বিতীয় মতটির দিকেই ঝুঁকে আছি, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الثالث في الوقت الذي يجب الذهاب فيه للصلاة

المدخل إلى المسألة:

• سماع النداء يوجب الإجابة على الصحيح،، قال: أتسمع النداء، قال: نعم، قال: فأجب، فعلق الأمر بالإجابة على سماع النداء، والمعتبر إمكان السماع.

• إجابة النداء واجب موسع إلى حين سماع الإقامة إلا في الجمعة فإن السعي يجب بمجرد سماع النداء الثاني.

• قال صلى الله عليه وسلم: إذا سمعتم الإقامة فامشوا، منطوقه وجوب السعي بسماع الإقامة، ومفهومه: لا يجب السعي قبل سماع الإقامة.

[م-440] يستحب التبكير للصلاة من حين سماع النداء.

وأما وجوب السعي: فإن كان لصلاة الجمعة وجب السعي إليها عند سماع النداء، والمعتبر إمكان السماع. وإنما وجب بمجرد النداء من أجل سماع الذكر (الخطبة)، وسوف يأتي بحثها إن شاء الله تعالى في صلاة الجمعة‌‌(1).

وإن كان الذهاب للصلوات الخمس وجب السعي إليها بسماع الإقامة.

قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} [الجمعة: 9].

فأمر بالسعي عند سماع النداء، والأمر يقتضي الوجوب.

--------------------------------------------

‌‌(1). انظر المنتقى للباجي (1/ 195)، الفواكه الدواني (1/ 262)، فتح الباري لابن رجب (8/ 158)، فتح الباري لابن حجر (2/ 386)، مرقاة المفاتيح (2/ 578)، أحكام القرآن للجصاص (3/ 596)، تيسير البيان لأحكام القرآن (3/ 155)، منحة السلوك في شرح تحفة الملوك (ص: 175)، المغني (2/ 218).
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার ওয়াজিব সময় প্রসঙ্গে

মাসআলার ভূমিকা:

• বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী আযান শোনা উত্তর প্রদান (সালাতে উপস্থিত হওয়া) ওয়াজিব করে। তিনি বলেছেন: "তুমি কি আযান শুনতে পাও?", সে বলল: "হ্যাঁ", তিনি বললেন: "তবে উত্তর দাও"। এখানে উত্তর দেওয়ার নির্দেশকে আযান শোনার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, আর শোনার সক্ষমতা থাকাকেই মানদণ্ড ধরা হয়েছে।

• আযানের উত্তর দেওয়া ইকামাত শোনা পর্যন্ত ওয়াজিবে মুওয়াসসা (প্রশস্ত ওয়াজিব), তবে জুমুআর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় আযান শোনার সাথে সাথেই ধাবিত হওয়া ওয়াজিব।

• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমরা ইকামাত শুনবে, তখন (সালাতের দিকে) হেঁটে যাও"। এর দ্বারা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ইকামাত শোনার মাধ্যমে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব। আর এর মর্মার্থ হলো: ইকামাত শোনার পূর্বে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব নয়।

[ম-৪৪০] আযান শোনার পর থেকেই সালাতের জন্য আগেভাগে যাওয়া মুস্তাহাব।

আর ধাবিত হওয়ার ওয়াজিবের বিষয়টি হলো: যদি তা জুমুআর সালাতের জন্য হয়, তবে আযান শোনার সময় ধাবিত হওয়া ওয়াজিব এবং এক্ষেত্রে আযান শোনা সম্ভব হওয়া ধর্তব্য। কেবল আযান শোনার মাধ্যমে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব করা হয়েছে যিকির (খুতবা) শোনার জন্য। ইনশাআল্লাহ জুমুআর সালাত অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে‌‌(১)।

আর যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়া হয়, তবে ইকামাত শোনার মাধ্যমে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! যখন জুমুআর দিনে সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও} [জুমুআ: ৯]।

এখানে আযান শোনার সময় ধাবিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে।

--------------------------------------------

‌‌(১)। দেখুন: আল-বাজির আল-মুনতাকা (১/১৯৫), আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানি (১/২৬২), ইবনে রজবের ফাতহুল বারি (৮/১৫৮), ইবনে হাজারের ফাতহুল বারি (২/৩৮৬), মিরকাতুল মাফাতিহ (২/৫৭৮), আল-জাসসাসের আহকামুল কুরআন (৩/৫৯৬), তায়সীরুল বায়ান লি আহকামিল কুরআন (৩/১৫৫), মিনহাতুস সুলূক ফী শারহি তুহফাতিল মুলূক (পৃষ্ঠা: ১৭৫), আল-মুগনি (২/২১৮)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২৫)
قال الجمهور: والمراد بالنداء النداء الثاني؛ لأنه الأذان الذي كان على عهده وعهد أبي بكر وعمر، وهو أحد القولين في مذهب الحنفية‌‌(1).

وقال الحنفية، وهو رواية عن أحمد: المراد به الأذان الأول الذي على المنارة‌‌(2).

وقيل: يجب السعي للجمعة بدخول الوقت، وإن لم يؤذن لها أحد، وهو قول في مذهب الحنفية‌‌(3).

• حجة الحنفية:

أن المصلي لو انتظر الأذان الذي عند المنبر لفاته سماع الخطبة، وربما يُفَوِّت الجمعة إذا كان بيته بعيدًا من الجامع‌‌(4).

والأول أرجح؛

(ح-1042) لما رواه البخاري من طريق الزهري،

عن السائب بن يزيد، قال: كان النداء يوم الجمعة أوله إذا جلس الإمام على المنبر على عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وأبي بكر، وعمر رضي الله عنهما، فلما كان عثمان رضي الله عنه، وكثر الناس زاد النداءَ الثالثَ على الزوراء‌‌(5).

فالأذان الثاني الذي كان على عهد النبي صلى الله عليه وسلم هو الإقامة سميت أذانًا من باب التغليب، كما قال صلى الله عليه وسلم: بين كل أذانين صلاة‌‌(6). أي بين كل أذان وإقامة.

وقيل: المراد: «معنى قوله تعالى: {إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ} [الجمعة: 9]، أي: إذا قرب

--------------------------------------------

‌‌(1). تبيين الحقائق (1/ 223)، المسالك في شرح موطأ مالك (2/ 447)، تفسير القرطبي (18/ 100)، تفسير ابن جزي (2/ 374)، شرح البخاري لابن بطال (2/ 503)، المجموع (4/ 500)، تحفة المحتاج (2/ 480)، مغني المحتاج (1/ 566)، كشاف القناع (2/ 42)، شرح منتهى الإرادات (1/ 320)، مطالب أولي النهى (3/ 49)، الإنصاف (4/ 323).

‌‌(2). مجمع الأنهر شرح ملتقى الأبحر (1/ 171)، البحر الرائق (2/ 168)، مرقاة المفاتيح (3/ 1042)، الاختيار لتعليل المختار (1/ 81)، تبيين الحقائق (1/ 223)، الإنصاف (4/ 323).

‌‌(3). تبيين الحقائق (1/ 223).

‌‌(4). مجمع الأنهر (1/ 171).

‌‌(5). صحيح البخاري (912).

‌‌(6). صحيح البخاري (627)، وصحيح مسلم (383).
জমহুর উলামাগণ বলেন: আযান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দ্বিতীয় আযান; কারণ এটিই সেই আযান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং উমর (রা.)-এর যুগে প্রচলিত ছিল। এটি হানাফী মাযহাবের দুটি মতের একটি।‌‌(১).

হানাফীগণ বলেন, এবং এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মিনারের ওপর দেওয়া প্রথম আযান।‌‌(২).

বলা হয়েছে: জুমার ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথেই এর জন্য প্রচেষ্টা করা (গমন করা) ওয়াজিব, যদিও এর জন্য কেউ আযান না দেয়। এটি হানাফী মাযহাবের একটি অভিমত।‌‌(৩).

• হানাফীগণের দলীল:

যদি মুসল্লি মিম্বারের নিকটবর্তী আযানের জন্য অপেক্ষা করে, তবে তার খুতবা শোনা ছুটে যাবে এবং তার ঘর যদি জামে মসজিদ থেকে দূরে হয়, তবে সম্ভবত তার জুমাও ছুটে যেতে পারে।‌‌(৪).

আর প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ;

(হা-১০৪২) কারণ বুখারী যুহরী সূত্রে বর্ণনা করেছেন,

সায়িব ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং উমর (রা.)-এর যুগে জুমার দিনের আযানের শুরু হতো যখন ইমাম মিম্বারে বসতেন। অতঃপর উসমান (রা.)-এর যুগে যখন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি জাওরা নামক স্থানে তৃতীয় আযানটি বৃদ্ধি করেন।‌‌(৫).

সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যে দ্বিতীয় আযানটি ছিল, তা হলো ইকামাত। প্রাধান্য প্রদানের (তাগলীব) ভিত্তিতে একে আযান বলা হয়েছে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক দুই আযানের মাঝে সালাত রয়েছে।"‌‌(৬). অর্থাৎ আযান ও ইকামাতের মাঝে।

বলা হয়েছে: উদ্দেশ্য হলো: মহান আল্লাহর বাণী: {যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয়} [জুমুআ: ৯]-এর অর্থ হলো: যখন নিকটবর্তী হয়

--------------------------------------------

‌‌(১). তাবয়ীনুল হাকায়িক (১/ ২২৩), আল-মাসালিক ফী শারহি মুয়াত্তা মালিক (২/ ৪৪৭), তাফসীরে কুরতুবী (১৮/ ১০০), তাফসীরে ইবনে জুযাই (২/ ৩৭৪), ইবনে বাত্তালের শারহুল বুখারী (২/ ৫০৩), আল-মাজমু (৪/ ৫০০), তুহফাতুল মুহতাজ (২/ ৪৮০), মুগনীল মুহতাজ (১/ ৫৬৬), কাশশাফুল কিনা (২/ ৪২), শারহু মুনতাহাল ইরাদত (১/ ৩২০), মাতালিবু উলিন নুহা (৩/ ৪৯), আল-ইনসাফ (৪/ ৩২৩)।

‌‌(২). মাজমাউল আনহুর শারহু মুলতাকাল আবহুর (১/ ১৭১), আল-বাহরুর রায়িক (২/ ১৬৮), মিরকাতুল মাফাতীহ (৩/ ১০৪২), আল-ইখতিয়ার লি-তালীلیل মুখতার (১/ ৮১), তাবয়ীনুল হাকায়িক (১/ ২২৩), আল-ইনসাফ (৪/ ৩২৩)।

‌‌(৩). তাবয়ীনুল হাকায়িক (১/ ২২৩)।

‌‌(৪). মাজমাউল আনহুর (১/ ১৭১)।

‌‌(৫). সহীহ বুখারী (৯১২)।

‌‌(৬). সহীহ বুখারী (৬২৭), এবং সহীহ মুসলিম (৩৮৩)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقت النداء لها بمقدار ما يدركها كل ساعٍ إليها، فاسعوا، وليس على تقدير أنه لا يجب السعي إليها إلا حين ينادى لها، والعرب قد تضع البلوغ بمعنى المقاربة كقوله: (إن ابن أم مكتوم لا ينادي حتى يقال له: أصبحت أصبحت)‌‌(1)، أي: قارب الصباح.

ومثله: {فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ} [الطلاق: 2].

يريد إذا قاربن البلوغ؛ لأنه إذا بلغت آخر أجلها لم يكن له إمساكها.

وفى إجماع العلماء على أن من كان في طرف المصر العظيم، وإن لم يسمع النداء يلزمه السعي دليل واضح أنه لم يرد بالسعي حين النداء خاصة، وإنما أريد قربه»‌‌(2).

• وأما الدليل على وجوب السعي للصلوات الخمس عند سماع الإقامة:

الدليل الأول:

(ح-1043) ما رواه البخاري ومسلم من طريق الزهري، عن سعيد بن المسيب وأبي سلمة،

عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: إذا سمعتم الإقامة، فامشوا إلى الصلاة، وعليكم بالسكينة والوقار، ولا تسرعوا، فما أدركتم فصلوا، وما فاتكم فأتموا‌‌(3).

فرتب الشارع وجوب السعي إلى الصلاة على سماع الإقامة، ولا يجب عليه السعي إلى الصلاة قبل ذلك إلا في صلاة الجمعة حيث أوجب السعي بسماع النداء.

الدليل الثاني:

(ح-1044) ما رواه البخاري من حديث جابر رضي الله عنه، كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي الظهر بالهاجرة .... وفيه: والعشاء أحيانًا وأحيانًا، إذا رآهم اجتمعوا عجل، وإذا رآهم أبطؤوا أَخَّر … الحديث‌‌(4).

فإذا كان الناس تارة يعجلون الحضور، وتارة يتأخرون في الحضور فإن هذا

--------------------------------------------

‌‌(1). صحيح البخاري (617).

‌‌(2). شرح البخاري لابن بطال (2/ 494).

‌‌(3). صحيح البخاري (636)،.

‌‌(4). البخاري (560)، ومسلم (646).
আজানের সময়টি এমনভাবে নির্ধারিত যাতে প্রত্যেক চেষ্টাকারী (সালাতে পৌঁছাতে ইচ্ছুক ব্যক্তি) সেখানে পৌঁছাতে পারে। সুতরাং তোমরা ধাবিত হও। এর অর্থ এই নয় যে, আজান না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে যাওয়া ওয়াজিব নয়। আর আরবরা 'পৌঁছানো' শব্দটিকে 'নিকটবর্তী হওয়া' অর্থেও ব্যবহার করে, যেমন তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই ইবনে উম্মে মাকতুম আজান দেন না যতক্ষণ না তাকে বলা হয়: আপনি সকালে উপনীত হয়েছেন, আপনি সকালে উপনীত হয়েছেন)‌‌(১), অর্থাৎ: সকাল নিকটবর্তী হয়েছে।

আর এর অনুরূপ হলো: {অতঃপর যখন তারা তাদের মেয়াদের (ইদ্দত পূর্তির) নিকটবর্তী হয়, তখন তোমরা তাদেরকে বিধিমতো রেখে দাও} [তালাক: ২]।

এখানে উদ্দেশ্য হলো যখন তারা মেয়াদের শেষ সময়ের নিকটবর্তী হয়; কারণ যদি সে মেয়াদের একদম শেষ সীমায় পৌঁছে যায় (অতিক্রম করে), তবে তাকে আর বিবাহবন্ধনে আটকে রাখার সুযোগ থাকে না।

আর আলেমদের ঐকমত্য (ইজমা) যে, যে ব্যক্তি কোনো বিশাল নগরের প্রান্তে অবস্থান করে, সে যদি আজান নাও শুনতে পায় তবুও তার জন্য জুমার উদ্দেশ্যে ধাবিত হওয়া আবশ্যক—এটি একটি স্পষ্ট দলিল যে, কেবল আজানের সময়ই ধাবিত হওয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো আজানের সময় হওয়ার নিকটবর্তী হওয়া।»‌‌(২)।

• আর পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য একামাত শোনার সময় ধাবিত হওয়া ওয়াজিব হওয়ার দলিল প্রসঙ্গে:

প্রথম দলিল:

(হাদিস-১০৪৩) ইমাম বুখারি ও মুসলিম জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও আবু সালামাহ থেকে,

তারা আবু হুরাইরা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যখন তোমরা একামাত শুনতে পাও, তখন সালাতের দিকে হেঁটে এসো। তোমাদের ওপর শান্ত ও ধীরস্থির থাকা আবশ্যক। তাড়াহুড়ো করো না। সালাতের যতটুকু অংশ পাও তা আদায় করো, আর যা তোমাদের থেকে ছুটে যায় তা পূর্ণ করো‌‌(৩)।

সুতরাং শরিয়ত প্রণেতা সালাতের দিকে ধাবিত হওয়াকে একামাত শোনার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আর এর আগে সালাতের দিকে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব নয়, তবে জুমার সালাত এর ব্যতিক্রম, যেখানে আজান শোনার সাথে সাথে ধাবিত হওয়া ওয়াজিব করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দলিল:

(হাদিস-১০৪৪) ইমাম বুখারি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুপুরের প্রচণ্ড খরতাপে জোহরের সালাত আদায় করতেন... আর তাতে আছে: এশার সালাত কখনো আগে পড়তেন আবার কখনো দেরিতে। যখন তিনি দেখতেন যে সবাই সমবেত হয়েছে তখন জলদি করতেন, আর যখন দেখতেন যে তারা আসতে বিলম্ব করছে তখন দেরি করতেন … হাদিস‌‌(৪)।

সুতরাং মানুষ যখন কখনো উপস্থিত হতে জলদি করে এবং কখনো উপস্থিত হতে দেরি করে, তখন এটি

--------------------------------------------

‌‌(১). সহিহ বুখারি (৬১৭)।

‌‌(২). ইবনে বাত্তাল রচিত শারহু বুখারি (২/ ৪৯৪)।

‌‌(৩). সহিহ বুখারি (৬৩৬)।

‌‌(৪). বুখারি (৫৬০) এবং মুসলিম (৬৪৬)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২৭)
دليل على أن الحضور لا يجب بمجرد سماع النداء، فسماع النداء يوجب على المصلي الحضور؛ لحديث: أتسمع النداء؟ قال: نعم، قال فأجب، وهو واجب موسع، ويضيق إذا سمع الإقامة، لأمره بالمشي عند سماع الإقامة، والله أعلم.

 

* * *
এটি এই বিষয়ের দলীল যে, কেবল আজান শোনার মাধ্যমেই উপস্থিত হওয়া ওয়াজিব হয় না। তবে আজান শোনা মুসল্লির ওপর উপস্থিত হওয়াকে ওয়াজিব করে দেয়; কারণ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "তুমি কি আজান শুনতে পাও?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তবে তুমি উত্তর দাও।" এটি একটি প্রশস্ত ওয়াজিব, যা ইকামত শোনার সময় সংকীর্ণ হয়ে যায়; কারণ ইকামত শোনার সময় হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

* * *
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الرابع في الخروج إلى الصلاة بسكينة ووقار

المدخل إلى المسألة:

• الأصل في المشي إلى العبادة أن يكون بسكينة ووقار، إلا ما ورد فيه النص كالرَّمَلِ في موضعه، والإسراع بين العلمين في السعي.

قال تعالى: {وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ} [لقمان: 19] وإذا كان هذا في المشي المباح فالمشي إلى العبادة أولى.

• التزام السكينة والوقار في السعي للصلاة سبب في التزامه بالصلاة، فالاستعجال في السعي يؤثر على قراءة المصلي وخشوعه، أو يحدث جلبة فيؤثر على خشوع عموم المصلين.

• إدراك الركعة ليس بأفضل من الالتزام بالسنة، والنص العام لا يقيده إلا نص مثله.

• إذا اجتمع الأمر والنهي بقوله صلى الله عليه وسلم: (وعليكم السكينة ولا تسرعوا) فإن ذلك لا يعني إلا توكيد الالتزام بهذا الأدب، وإلا فالأمر بالشيء نهي عن ضده.

• أَمَرَ الشرع بالمشي، ونَهَى عن الإسراع عند سمع الإقامة، وليس سماع الإقامة شرطًا للنهي، وإنما خرج مخرج الغالب؛ لأن الغالب أن الاستعجال إنما يقع عند سماع الإقامة خوف فوات إدراك التكبيرة أو الركعة.

[م-441] اختلف العلماء في حكم الإسراع لمن سمع الإقامة، وخشي فوات الركعة:

فقيل: يستحب السكينة والوقار مطلقًا، سواء أكانت الصلاةُ الجمعةَ أم غيرها، وسواء أخاف فوات تكبيرة الإحرام أم لا، وهذا مذهب الحنفية، والشافعية، ورواية
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সাথে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া

মাসআলার ভূমিকা:

• ইবাদতের উদ্দেশ্যে গমনের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা, তবে যে ক্ষেত্রে ভিন্ন নির্দেশ সম্বলিত পাঠ (নস) রয়েছে তা এর ব্যতিক্রম; যেমন নির্দিষ্ট স্থানে 'রমল' (দ্রুত পদচারণা) করা এবং সা'য়ি করার সময় দুই চিহ্নের মাঝে দ্রুত দৌড়ানো।

মহান আল্লাহ বলেন: {তোমার পদচারণায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করো} [লুকমান: ১৯]। যদি এটি সাধারণ হাঁটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তবে ইবাদতের উদ্দেশ্যে হাঁটার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য।

• সালাতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা সালাতে একাগ্রতা বজায় রাখার একটি মাধ্যম। কারণ দ্রুত পথ চলা মুসল্লির কিরাত পাঠ ও খুশু-খুযুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, অথবা এটি এমন শোরগোল সৃষ্টি করে যা সাধারণ মুসল্লিদের খুশু-খুযুর ব্যাঘাত ঘটায়।

• রাকআত পাওয়া সুন্নাহ পালনের চেয়ে উত্তম নয়; আর সাধারণ কোনো বর্ণনাকে (নস) সমপর্যায়ের অন্য কোনো বর্ণনা ছাড়া সীমাবদ্ধ করা যায় না।

• যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা প্রশান্তি বজায় রাখো এবং দ্রুত চলো না"-এর মাধ্যমে আদেশ ও নিষেধ একত্রিত হয়েছে, তখন এটি এই শিষ্টাচার পালনের গুরুত্বের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা ছাড়া আর কিছু নয়। অন্যথায়, কোনো বিষয়ের আদেশ দেওয়া মানেই তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করা।

• শরিয়ত হাঁটার নির্দেশ দিয়েছে এবং ইকামত শোনার সময় দ্রুত চলা থেকে নিষেধ করেছে। তবে ইকামত শোনা এই নিষেধের জন্য কোনো শর্ত নয়, বরং এটি অধিকাংশ সময়ের অবস্থার প্রেক্ষিতে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ সাধারণত ইকামতের আওয়াজ শুনলেই তাকবীরে তাহরীমা বা রাকআত ছুটে যাওয়ার ভয়ে দ্রুত ছোটাছুটি করার প্রবণতা তৈরি হয়।

[ম-৪৪১] ইকামত শোনার পর যার রাকআত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে, তার দ্রুত গমনের বিধান নিয়ে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন:

বলা হয়েছে: সর্বাবস্থায় প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য মুস্তাহাব, সালাত জুমুআ হোক বা অন্য কিছু, আর সে তাকবীরে তাহরীমা ছুটে যাওয়ার ভয় করুক বা না করুক। এটি হানাফি ও শাফিয়ি মাযহাবের মত এবং একটি বর্ণনা অনুযায়ী...
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ২৯)
عن أحمد‌‌(1).

وخالف المالكية، فقالوا: الإسراع بلا خَبَب جائز، ولا ينافي الوقار والسكينة، وتكره الهرولة، ولو خاف فوات الجمعة، فإن خاف فوات الوقت وجبت الهرولة‌‌(2).

وقيل: يكره الإسراع الشديد مطلقًا، ويكره الإسراع اليسير إلا إذا خاف فوات تكبيرة الإحرام، وطمع في إدراكها، وهذا منصوص الإمام أحمد، وهو المشهور من مذهبه‌‌(3).

قال أحمد في رواية مهنَّا: ولا بأس، إذا طمع أن يدرك التكبيرة الأولى أن يسرع شيئًا، ما لم يكن عجلة تقبح؛ جاء عن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أنهم كانوا يعجلون شيئًا إذا تخوفوا فوت التكبيرة الأولى، وطمعوا في إدراكها‌‌(4).

وقال إسحاق بن راهويه: إذا خاف فوات الركعة الأولى سعى‌‌(5).

فخص ذلك بفوات الركعة، لا فوات تكبيرة الإحرام.

وقال ابن تيمية في شرح العمدة: إذا خشي أن تفوته الجماعة، أو الجمعة فلا يكره له الإسراع‌‌(6).

وظاهر قوله: إذا خشي أن تفوته الجماعة أن ذلك مقيد بتعذر جماعة ثانية، قال في الإنصاف: «وقد ظهر مما تقدم أنه يعجل لإدراك الركعة الأخيرة، لكن هل تقيد

--------------------------------------------

‌‌(1). الحجة على أهل المدينة (1/ 218)، تحفة الفقهاء (1/ 144)، بدائع الصنائع (1/ 218)، شرح مشكل الآثار (14/ 195)، شرح النووي على صحيح مسلم (5/ 99)، الحاوي الكبير (2/ 453) المهذب في فقه الإمام الشافعي (1/ 178)، المجموع (4/ 105)، كفاية النبيه (4/ 377)، الفروع (2/ 158).

جاء في مسائل أحمد وإسحاق رواية الكوسج (2/ 600) قلت: هل يسعى إلى الصلاة؟ قال: لا على حديث أبي هريرة. قال إسحاق: بلى، إذا خاف فوت التكبيرة الأولى. وانظر مسائل ابن هانئ (268).

‌‌(2). المنتقى للباجي (1/ 132)، الاستذكار (1/ 382)، شرح التلقين (2/ 725، 726)، مواهب الجليل (2/ 114)، الخرشي (2/ 33)، الشرح الكبير مع حاشية الدسوقي (1/ 334)،.

‌‌(3). المغني لابن قدامة (1/ 328)، شرح منتهى الإرادات (1/ 182)، كشاف القناع (1/ 326)، مطالب أولي النهى (1/ 414)، الإنصاف (2/ 40)، العدة شرح العمدة (ص: 75).

‌‌(4). فتح الباري لابن رجب (5/ 393)، المغني لابن قدامة (1/ 328).

‌‌(5). الأوسط لابن المنذر (4/ 147)، مسائل أحمد وإسحاق رواية الكوسج (2/ 601).

‌‌(6). شرح العمدة، كتاب الصلاة (ص: 598)، الإنصاف (2/ 40).
আহমদ থেকে বর্ণিত‌‌(১)।

মালিকিগণ এর বিরোধিতা করেছেন, তারা বলেছেন: ক্ষিপ্রগতি (খাবাব) ব্যতীত দ্রুত চলা বৈধ এবং এটি গাম্ভীর্য ও প্রশান্তির পরিপন্থী নয়; তবে দৌড়ানো মাকরুহ, এমনকি যদি জুমার নামাজ ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে তবুও। কিন্তু যদি ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে দৌড়ানো ওয়াজিব‌‌(২)।

বলা হয়েছে: অত্যধিক দ্রুত চলা নিঃশর্তভাবে মাকরুহ। আর সামান্য দ্রুত চলাও মাকরুহ, তবে যদি তাকবিরে তাহরিমা ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে এবং তা পাওয়ার আশা থাকে তবে ভিন্ন কথা। এটি ইমাম আহমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য এবং তাঁর মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত‌‌(৩)।

মুহান্নার বর্ণনায় আহমদ বলেছেন: প্রথম তাকবির পাওয়ার আশা থাকলে কিছুটা দ্রুত চলাতে কোনো অসুবিধা নেই, যতক্ষণ না তা কুৎসিত তাড়াহুড়োতে পরিণত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা প্রথম তাকবির ছুটে যাওয়ার ভয় করলে এবং তা পাওয়ার আশা থাকলে কিছুটা দ্রুততা অবলম্বন করতেন‌‌(৪)।

ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেন: যদি প্রথম রাকাত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে দৌড়াবে‌‌(৫)।

সুতরাং তিনি একে রাকাত ছুটে যাওয়ার সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন, তাকবিরে তাহরিমা ছুটে যাওয়ার সাথে নয়।

ইবনে তাইমিয়্যাহ শারহুল উমদাহ গ্রন্থে বলেন: যদি জামাত বা জুমা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য দ্রুত চলা মাকরুহ নয়‌‌(৬)।

তাঁর বক্তব্য—'যদি জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে'—এর বাহ্যিক অর্থ হলো এটি দ্বিতীয় কোনো জামাত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকার সাথে শর্তযুক্ত। আল-ইনসাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: «পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, শেষ রাকাত পাওয়ার জন্য সে তড়িঘড়ি করবে, কিন্তু এটি কি সীমাবদ্ধ হবে

--------------------------------------------

‌‌(১). আল-হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদিনাহ (১/ ২১৮), তুহফাতুল ফুকারহা (১/ ১৪৪), বাদায়িউস সানায়ি (১/ ২১৮), শারহু মুশকিলিল আসার (১৪/ ১৯৫), সহীহ মুসলিমের শারহু নববী (৫/ ৯৯), আল-হাভি আল-কাবির (২/ ৪৫৩), আল-মুহাজ্জাব ফি ফিকহিল ইমামিশ শাফিয়ি (১/ ১৭৮), আল-মাজমু (৪/ ১০৫), কিফায়াতুন নাবিহ (৪/ ৩৭৭), আল-ফুরু (২/ ১৫৮)।

কাউসাজের বর্ণনায় মাসাইলু আহমাদ ওয়া ইসহাক-এ এসেছে (২/ ৬০০), আমি বললাম: সে কি নামাজের দিকে দৌড়ে যাবে? তিনি বললেন: না, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের ভিত্তিতে। ইসহাক বলেন: অবশ্যই, যদি প্রথম তাকবির ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে। আরও দেখুন: মাসাইলু ইবনে হানি (২৬৮)।

‌‌(২). বাজির আল-মুনতাকা (১/ ১৩২), আল-ইস্তিজকার (১/ ৩৮২), শারহুত তালকিন (২/ ৭২৫, ৭২৬), মাওয়াহিবুল জলিল (২/ ১১৪), আল-খারশি (২/ ৩৩), হাশিয়াতুদ দিসুকি সহ আশ-শারহুল কাবির (১/ ৩৩৪)।

‌‌(৩). ইবনে কুদামার আল-মুগনি (১/ ৩২৮), শারহু মুনতাহাল ইরাদাত (১/ ১৮২), কাশশাফুল কিনা (১/ ৩২৬), মাতালিবু উলিন নুহা (১/ ৪১৪), আল-ইনসাফ (২/ ৪০), আল-উদ্দাহ শারহুল উমদাহ (পৃষ্ঠা: ৭৫)।

‌‌(৪). ইবনে রজবের ফাতহুল বারী (৫/ ৩৯৩), ইবনে কুদামার আল-মুগনি (১/ ৩২৮)।

‌‌(৫). ইবনুল মুনজিরের আল-আওসাত (৪/ ১৪৭), কাউসাজের বর্ণনায় মাসাইলু আহমাদ ওয়া ইসহাক (২/ ৬০১)।

‌‌(৬). শারহুল উমদাহ, কিতাবুস সালাত (পৃষ্ঠা: ৫৯৮), আল-ইনসাফ (২/ ৪০)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ৩০)
المسألتان بتعذر الجماعة؟ فيه تردد»‌‌(1).

هذا مجموع الأقوال في المسألة، وملخصها كالتالي:

فالإسراع الشديد مكروه مطلقًا عند الجمهور، ولو خاف فوات الجمعة والجماعة.

واستثنى المالكية إذا خاف فوات الوقت فإنه يجب، ولا أظن المسألة هذه محل خلاف مع غيرهم.

وقال بعض الحنابلة: لا يكره الإسراع الشديد إذا خاف فوات الجمعة، أو الجماعة.

وأما الإسراع اليسير:

فقيل: يكره مطلقًا، وهو مذهب الحنفية، والشافعية، ورواية عن أحمد.

وقيل: لا يكره مطلقًا، وهو مذهب المالكية.

وقيل: يكره إلا إذا طمع في إدراك التكبيرة الأولى (تكبيرة الإحرام)، وهو مذهب الحنابلة.

وقيل: يكره إلا إذا طمع في إدراك الركعة الأولى، وهو قول إسحاق.

• سبب الخلاف:

الاختلاف في الإسراع اليسير، هل ينافي السكينة والوقار المأمور بهما في الحديث الصحيح: (وعليكم السكينة والوقار ولا تسرعوا).

ولأن سبب توجيه النهي كان مرتبطًا بإسراع حدثت معه جلبة دعت النبي صلى الله عليه وسلم ليسأل، ما شأنكم؟ قالوا: استعجلنا إلى الصلاة، فقال: لا تفعلوا … وذكر الحديث، فمن لم ينظر إلى خصوص السبب، قال العبرة بعموم اللفظ.

ومن يرى أن السبب وصف مؤثر ارتبط بسببه توجيه النهي، فيقيد الحكم بالحال التي توجَّه فيها النهي؛ لأنه المتيقن، وغيره لا يساويه، فلا يلحق به.

كما أن قوله صلى الله عليه وسلم: (فما أدركتم فصلوا … ) هذا الشرط يبين أن النهي عن الإسراع متوجه لمن يدرك الصلاة، ويخشى أن يفوته بعضها، وأما إذا خاف فوات الصلاة جملة، فهل يشمله النهي؟ فالنهي عن الإسراع مكروه، فهل الحاجة إلى إدراك الصلاة ترفع الكراهة؟ لأن فوات الجمعة أو الجماعة لا يجبر، ولأن فضيلة

--------------------------------------------

‌‌(1). الإنصاف (2/ 40).
জামাআত অসম্ভব হয়ে যাওয়ার ভিত্তিতে কি এ দুটি মাসআলা প্রযোজ্য? এ ব্যাপারে দ্বিধা রয়েছে‌‌(১)।

এই মাসআলায় সকল মতামতের সমষ্টি এটিই এবং তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

জুমুআ এবং জামাআত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকলেও জমহুর (অধিকাংশ) আলিমদের মতে অত্যধিক দ্রুত চলা সর্বাবস্থায় মাকরূহ।

মালিকি মাযহাবের আলিমগণ ব্যতিক্রম বর্ণনা করেছেন যে, যদি ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে তবে দ্রুত চলা ওয়াজিব; আর আমি মনে করি না যে এই বিষয়টি অন্যদের সাথে মতভেদের ক্ষেত্র।

জনৈক হাম্বলি আলিম বলেন: যদি জুমুআ বা জামাআত ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে তবে অত্যধিক দ্রুত চলা মাকরূহ নয়।

আর সামান্য দ্রুত চলার ব্যাপারে:

বলা হয়েছে যে: এটি সর্বাবস্থায় মাকরূহ; এটি হানাফি ও শাফিয়ি মাযহাবের মত এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি রেওয়াত।

আবার বলা হয়েছে যে: এটি সর্বাবস্থায় মাকরূহ নয়; এটি মালিকি মাযহাবের মত।

আরও বলা হয়েছে যে: এটি মাকরূহ, তবে প্রথম তাকবির (তাকবিরে তাহরিমা) পাওয়ার আশা থাকলে তা মাকরূহ নয়; এটি হাম্বলি মাযহাবের মত।

এবং বলা হয়েছে যে: এটি মাকরূহ, তবে প্রথম রাকাত পাওয়ার আশা থাকলে তা মাকরূহ নয়; এটি ইসহাকের বক্তব্য।

• মতভেদের কারণ:

সামান্য দ্রুত চলার ব্যাপারে মতভেদটি হলো—তা কি সহিহ হাদিসে নির্দেশিত গাম্ভীর্য ও স্থিরতার পরিপন্থী কি না? (হাদিসে এসেছে: "তোমরা গাম্ভীর্য ও স্থিরতা বজায় রাখো এবং দ্রুত দৌড়াবে না।")।

কারণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এমন এক দ্রুত চলার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল যার ফলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছিল, যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যে, "তোমাদের কী হয়েছে?" তারা বলল, "আমরা সালাতের জন্য তাড়াহুড়ো করেছি।" তখন তিনি বললেন, "এমনটি করো না..." (হাদিসটি উল্লেখ করলেন)। সুতরাং যারা এই বিশেষ কারণের দিকে দৃষ্টি দেননি, তারা বলেছেন যে শব্দের ব্যাপকতাই বিবেচ্য।

আর যারা মনে করেন যে কারণটি একটি প্রভাববিস্তারকারী বৈশিষ্ট্য যার প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞাটি এসেছে, তারা হুকুমটিকে সেই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ রাখেন যাতে নিষেধাজ্ঞাটি দেওয়া হয়েছিল। কারণ এটিই নিশ্চিত বিষয়, আর অন্য বিষয়গুলো এর সমপর্যায়ের নয়, তাই এর সাথে যুক্ত হবে না।

তেমনিভাবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা যা পাও তা আদায় করো..." এই শর্তটি স্পষ্ট করে যে, দ্রুত চলার নিষেধাজ্ঞাটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা সালাত পাবে কিন্তু কিছু অংশ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। তবে যদি কেউ সালাত পুরোপুরি ছুটে যাওয়ার ভয় করে, তবে কি সে এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে? দ্রুত চলার নিষেধাজ্ঞা তো মাকরূহ পর্যায়ের, এখন সালাত পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কি এই মাকরূহ হওয়াকে দূর করে দেবে? যেহেতু জুমুআ বা জামাআত ছুটে গেলে তা পূরণ করা যায় না এবং যেহেতু ফজিলত...

--------------------------------------------

‌‌(১). আল-ইনসাফ (২/ ৪০)।
(খণ্ড: ১) আল-জামি ফী আহকামি সিফাতিস সালাত - আদ-দুবইয়ান (পৃষ্ঠা: ৩১)
إدراك الجمعة أو الجماعة تربو على تحصيل أجر ترك المكروه؛ فالمفسدة في ارتكاب المكروه مغمورة في فضل تحصيل الواجب إلا أن يقال: ترك النهي مقدم على فعل المأمور؛ لحديث: إذا نهيتكم عن شيء فاجتنبوه، وإذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم. متفق عليه‌‌(1).

ومن قال: يغتفر الإسراع اليسير لإدراك تكبيرة الإحرام أو لإدراك الركعة استشهد ببعض الآثار عن الصحابة، وهي معارضة بآثار أخرى بعدم الإسراع مطلقًا، سنأتي على تخريجها إن شاء الله تعالى.

• دليل من قال: يكره الإسراع مطلقًا:

الدليل الأول:

(ح-1045) ما رواه البخاري ومسلم من طريق شيبان، عن يحيى، عن عبد الله بن أبي قتادة،

عن أبيه، قال: بينما نحن نصلي مع النبي صلى الله عليه وسلم إذ سمع جلبة رجال، فلما صلى قال: ما شأنكم؟ قالوا: استعجلنا إلى الصلاة؟ قال: فلا تفعلوا، إذا أتيتم الصلاة فعليكم بالسكينة، فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فأتموا‌‌(2).

الدليل الثاني:

(ح-1046) ما رواه البخاري ومسلم من طريق الزهري، عن سعيد بن المسيب وأبي سلمة،

عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: إذا سمعتم الإقامة، فامشوا إلى الصلاة، وعليكم بالسكينة والوقار، ولا تسرعوا، فما أدركتم فصلوا، وما فاتكم فأتموا‌‌(3).

وجه الاستدلال:

• اشتمل حديث أبي هريرة على ثلاثة أمور:

الأمر الأول: الأمر بالمشي إلى الصلاة، وهو ينافي السعي، ولأن الأمر

--------------------------------------------

‌‌(1). البخاري (7288)، وصحيح مسلم (130 - 1337).

‌‌(2). البخاري (635)، وصحيح مسلم (155 - 603).

‌‌(3). صحيح البخاري (636)،.
জুমুআ বা জামাআত পাওয়া মাকরূহ কাজ বর্জনের সওয়াব হাসিল করার চেয়েও শ্রেষ্ঠ; কেননা মাকরূহ কাজে লিপ্ত হওয়ার ক্ষতি ওয়াজিব পালনের ফযিলতের মধ্যে নিমজ্জিত। তবে যদি বলা হয় যে, কোনো নির্দেশ পালন করার চেয়ে নিষেধ বর্জন করা অগ্রগণ্য; এই হাদিসের কারণে: "আমি যখন তোমাদের কোনো বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো; আর যখন কোনো বিষয়ে আদেশ করি, তখন তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী তা পালন করো।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।‌‌(১).

আর যারা বলেন: তাকবীরে তাহরীমা বা রুকু পাওয়ার জন্য সামান্য দ্রুত চলা মার্জনীয়, তারা সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত কিছু আছারের মাধ্যমে দলীল পেশ করেন। তবে এগুলো অন্য কিছু আছারের বিরোধী যেখানে কোনোভাবেই দ্রুত না চলার কথা বলা হয়েছে; আমরা ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই সেগুলোর সূত্র (তাখরীজ) উল্লেখ করব।

• যারা বলেন যে কোনোভাবেই দ্রুত চলা মাকরূহ, তাদের দলীল:

প্রথম দলীল:

(হাদিস-১০৪৫) ইমাম বুখারী ও মুসলিম শায়বান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন,

তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করছিলাম, হঠাৎ তিনি কিছু লোকের শোরগোল শুনতে পেলেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাদের কী হয়েছে?" তারা বলল: "আমরা সালাত পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেছিলাম।" তিনি বললেন: "এমনটি করো না। যখন তোমরা সালাতে আসবে, তখন ধীরস্থিরভাবে আসবে। সালাতের যতটুকু অংশ তোমরা পাও তা আদায় করো, আর যতটুকু অংশ তোমাদের ছুটে যায় তা পূর্ণ করো।"‌‌(২).

দ্বিতীয় দলীল:

(হাদিস-১০৪৬) ইমাম বুখারী ও মুসলিম যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব ও আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন,

তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন তোমরা ইকামাহ শুনতে পাও, তখন হেঁটে সালাতে আসো; তোমাদের ওপর ধীরস্থিরতা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা আবশ্যক। তাড়াহুড়ো করো না। সালাতের যতটুকু অংশ তোমরা পাও তা আদায় করো, আর যতটুকু অংশ তোমাদের ছুটে যায় তা পূর্ণ করো।"‌‌(৩).

দলীলের যৌক্তিকতা:

• আবু হুরায়রার হাদিসটি তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথম বিষয়: সালাতের দিকে হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ, যা দ্রুত বেগে ছুটে চলার বিপরীত, আর যেহেতু নির্দেশ...

--------------------------------------------

‌‌(১). বুখারী (৭২৮৮) এবং সহীহ মুসলিম (১৩০ - ১৩৩৭)।

‌‌(২). বুখারী (৬৩৫) এবং সহীহ মুসলিম (১৫৫ - ৬০৩)।

‌‌(৩). সহীহ বুখারী (৬৩৬)।