(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: -)
ألفية السيوطي نظم الدرر في علم الأثر - ت شاكر   (الجلال السيوطي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: ألفية السيوطي في علم الحديث

المؤلف: [جلال الدين السيوطي (ت 911 هـ)]

صحَّحه وشرحه: الأستاذ أحمد محمد شاكر

تنبيه: كل ما كان بين قوسين، هو من زيادات المؤلف [السيوطي] على ألفيَّة العراقي

الناشر: المكتبة العلمية (مكتبة السنة) بمصر

فائدة: حَقّق الشيخ أحمد شاكر «الألفية» وطُبعَتْ (أولا) عام 1332 هـ لدى مكتبة المنار بشارع عبد العزيز بالقاهرة، ثم أعاد تحقيها (ثانيًا) عام 1353 هـ مع مزيد من التعليق والشرح وطُبعَتْ بمطبعة عيسى البابي الحلبي بالقاهرة 1934 م، ثم أعادتْ طباعتَها (لاحقًا) مكتبةُ ابن تيمية بالقاهرة ومكتبةُ السُّنة (المكتبة العلمية) بالقاهرة، وغيرهم.

عدد الصفحات: 146

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 شوّال 1447

সুয়ূতী-র আলফিয়া: নাযমুত দুরার ফি ইলমিল আসার - তাহকিক: শাকির   (জালালুদ্দিন সুয়ূতী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: হাদিস শাস্ত্রের ওপর সুয়ূতী-র আলফিয়া

লেখক: [জালালুদ্দিন সুয়ূতী (ওফাত: ৯১১ হিজরি)]

সম্পাদনা ও ব্যাখ্যায়: ওস্তাদ আহমদ মুহাম্মদ শাকির

সতর্কবার্তা: বন্ধনীভুক্ত প্রতিটি অংশই হলো ইরাকীর আলফিয়ার ওপর লেখক [সুয়ূতী]-র অতিরিক্ত সংযোজন।

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ (মাকতাবাতুস সুন্নাহ), মিশর

জ্ঞাতব্য: শায়খ আহমদ শাকির «আলফিয়া» গ্রন্থটি তাহকিক করেন এবং এটি ১৩৩২ হিজরিতে কায়রোর আব্দুল আজিজ রোডের মাকতাবাতুল মানার থেকে (প্রথমত) মুদ্রিত হয়; অতঃপর তিনি ১৩৫৩ হিজরিতে অধিকতর টীকা ও ব্যাখ্যাসহ এটি পুনরায় তাহকিক করেন এবং ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে কায়রোর ঈসা আল-বাবী আল-হালাবী প্রেসে মুদ্রিত হয়। পরবর্তীতে কায়রোর মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ, মাকতাবাতুস সুন্নাহ (আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ) এবং অন্যান্যরা এটি পুনরায় মুদ্রণ করে।

পৃষ্ঠা সংখ্যা: 146

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ শাওয়াল ১৪৪৭

(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

(وبه ثقتي)

لِلَّهِ حَمْدِي وَإِلَيْهِ أَسْتَنِدْ … وَمَا يَنُوبُ فَعَلَيْهِ أَعْتَمِدْ

ثُمَّ عَلَى نَبِيِّهِ مُحَمَّدِ … خَيْرُ صَلَاةٍ وَسَلَامٍ سَرْمَدِ

وَهذِهِ أَلْفِيَّةٌ تَحْكِي الدُّرَرْ … مَنْظُومَةٌ ضَمَّنْتُهَا عِلْمَ الأَثَرْ

فَائِقَةٌ أَلْفِيَّةَ الْعِرَاقِي … فِي الْجَمْعِ وَالإِيجَازِ وَاتِّسَاقِ

وَاللهُ يُجْرِي سَابِغَ الإِحْسَانِ … لِيْ وَلَهُ وَلِذَوِيْ الإِيْمَان

 

‌‌حَدُّ الحديث، وأقسامه

(عِلْمُ الْحَديثِ: ذُو قَوَانِينَ تُحَدْ … يُدْرَى بِهَا أَحْوَالُ مَتْنٍ وَسَنَدْ

فَذَانِكَ الْمَوضُوعُ، وَالمَقْصُودُ … أَنْ يُعْرَفَ الْمَقبُولُ والْمَرْدُودُ

وَالسَّنَدُ الإِخْبَارُ عنْ طَرِيقِ … مَتْنٍ كَاْلإِسْنادِ لَدَى فَرِيقِ

وَالْمَتْنُ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ السَّنَدُ … مِنَ الْكَلَامِ، وَالْحَدِيثَ قَيَّدُوا(1)

بِمَا أُضِيفَ لِلنَّبِيِّ قَوْلًا أَوْ … فِعْلًا وَتَقْرِيرًا وَنَحْوَهَا حَكَوْا(2)

وَقِيلَ: لا يَخْتَصُّ بِالْمَرْفُوعِ … بَلْ جَاءَ لِلْمَوْقُوفِ وَالْمَقْطُوعِ

فَهُوَ عَلَى هَذَا مُرَادِفُ الْخَبَرْ) … وَشَهَّرُوا شُمُولَ هَذَيْنِ الأَثَرْ(3)

--------------------------------------------

(1) خ: حددوا.

(2) خ: رووا.

(3) في المتن الذي شرحه الشيخ محمد محفوظ الترمسي (المطبوع بالمطبعة الجمالية سنة 1332) "وَشَهَّرُوا رِدْفَ الْحدِيثِ وَالْأَثَرْ" أي اشتهر عند العلماء ترادف الحديث والخبر والأثر. والمراد بالنسختين واحد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

(তাঁরই ওপর আমার ভরসা)

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমি তাঁরই নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি … আর যা কিছু আপতিত হয়, সেক্ষেত্রে আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি।

অতঃপর তাঁর নবী মুহাম্মদের ওপর বর্ষিত হোক … সর্বশ্রেষ্ঠ এবং চিরন্তন দরুদ ও সালাম।

আর এটি একটি আলফিয়্যাহ যা মুক্তার ন্যায় সৌন্দর্য প্রকাশ করে … এটি এমন এক কাব্য যাতে আমি আসর সংক্রান্ত জ্ঞান (علم الأثر) সন্নিবেশিত করেছি।

যা ইরাকির আলফিয়্যাহ-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে … বিষয়বস্তু সংকলন, সংক্ষিপ্তকরণ এবং সুশৃঙ্খল বিন্যাসের দিক থেকে।

আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর অফুরন্ত অনুগ্রহ ধারা প্রবাহিত করেন … আমার ওপর, তাঁর ওপর এবং সকল ঈমানদারের ওপর।

 

‌‌হাদিসের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ

(হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান: এটি এমন কিছু মূলনীতি (قوانين) সমৃদ্ধ শাস্ত্র … যার মাধ্যমে মূলপাঠ (متن) এবং সূত্র (سند)-এর অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।

আর এই দুটিই হলো এর আলোচ্য বিষয়, আর উদ্দেশ্য হলো … গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং বর্জনীয় (مردود) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

আর সূত্র (سند) হলো মূলপাঠ (متن)-এর পথ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া … যা একদল বিশেষজ্ঞের নিকট ইসনাদ (إسناد)-এরই সমার্থক।

আর মূলপাঠ (متن) হলো কথার সেই অংশ যেখানে সূত্র (سند) গিয়ে শেষ হয় … আর তাঁরা হাদিসকে সীমাবদ্ধ করেছেন(১)

এমন বিষয়ের সাথে যা নবী (সা.)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; চাই তা কথা (قول), … কাজ (فعل), মৌন সম্মতি (تقرير) বা অনুরূপ বিষয় হোক—তাঁরা এভাবেই বর্ণনা করেছেন।(২)

আবার বলা হয়েছে: এটি কেবল মারফু (مرفوع) হাদিসের সাথে নির্দিষ্ট নয় … বরং তা মাওকুফ (موقوف) এবং মাকতু (مقطوع) হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং এই মতানুসারে এটি খবরের (الخبر) সমার্থক) … আর তাঁরা আসর (الأثر)-এর ব্যাপকতার মধ্যে এই উভয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করাকে প্রসিদ্ধ করেছেন।(৩)

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি ভেদে: তারা নির্ধারণ করেছেন।

(২) পাণ্ডুলিপি ভেদে: তারা বর্ণনা করেছেন।

(৩) শায়খ মুহাম্মদ মাহফুজ তিরমিসি (যিনি ১৩৩২ হিজরিতে আল-জামালিয়্যাহ প্রেস থেকে এটি মুদ্রণ করেন) কর্তৃক ব্যাখ্যাত মূলপাঠ (متن)-এ রয়েছে: "আর তাঁরা হাদিস ও আসরকে সমার্থক হিসেবে প্রসিদ্ধ করেছেন"। অর্থাৎ বিদ্বানগণের নিকট হাদিস, খবর ও আসর সমার্থক হওয়া প্রসিদ্ধ। উভয় পাণ্ডুলিপির উদ্দেশ্য এক।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٤)
(وَالأَكْثَرُونَ) قَسَّمُوا هَذِي السُّنَنْ … إِلَى صَحِيحٍ وَضَعِيفٍ وَحَسَنْ

 

‌‌الصحيح

حَدُّ الصَّحِيحِ: مُسْنَدٌ بِوَصْلِهِ … بِنَقْلِ عَدْلٍ ضَابِطٍ عَنْ مِثْلِهِ

ولَمْ يَكُنْ شَذًّا(1) وَلَا مُعَلَّلَا، … والْحُكْمُ بِالصِّحَةِ وَالضَّعْفِ عَلَى

ظَاهِرِهِ، لَا القَطْعِ، إِلَّا مَا حَوَى … كِتَابُ مُسْلِمٍ أَوِ الْجُعْفِي (سِوى

مَا انْتَقَدُوا) فَابْنُ الصَّلَاحِ رَجَّحَا … قَطْعًا بِهِ، (وَكَمْ إِمَامٍ جَنَحَا)

والنَّوَوِي رَجَّحَ فِي التَّقْرِيبِ … ظَنًّا بِهِ، (وَالقَطْعُ ذُو تَصْوِيبِ(2)

وَلَيْسَ شَرْطًا عَدَدٌ، وَمَنْ شَرَطْ … رِوَايَةَ اثْنَيْنِ فَصَاعِدًا غَلَطْ)

--------------------------------------------

(1) الأصل "شاذا". وحذفت الألف الأولى لضرورة البحر.

(2) بعد أن عرف المؤلف الحديث الصحيح أراد أن يبين أثره وحكمه، وهل هو يوجب العلم القطعي اليقيني أو الظن، وهذه مسئلة فيها خلاف معروف، أما الحديث المتواتر لفظًا أو معنى، فإنه قطعي الثبوت، لا خلاف في هذا بين أهل العلم، وأما غيره من الصحيح فذهب بعضهم إلى أنه لا يفيد القطع، بل هو ظني الثبوت، وهو الذي رجحه النووي في التقريب، وذهب غيرهم إلى أنه يفيد العلم اليقيني، وهو مذهب داود الظاهري والحسين بن علي الكرابيسي والحارث بن أسد المحابسي وحكاه ابن خويذ منذاد عن مالك، وهو الذي اختاره وذهب إليه ابن حزم، قال في الأحكام: "إن خبر الواحد العدل عن مثله إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يوجب العلم والعمل معا" ثم أطال في الاحتجاج له والرد على مخالفيه في بحث نفيس (ج 1 ص 119 - 1307).

واختار ابن الصلاح أن ما أخرجه الشيخان - البخاري ومسلم - في صحيحيهما أو رواه أحدهما: مقطوع بصحته، والعلم اليقيني النظري واقع به. واستثنى من ذلك أحاديث قليلة تكلم عليها بعض أهل النقد من الحفاظ، كالدارقطني وغيره، وهي معروفة عند أهل هذا الشأن. هكذا قال في كتابه (علوم الحديث) ونقل مثله العراقي في شرحه على ابن الصلاح عن الحافظ أبي الفضل محمد بن طاهر المقدسي وأبي نصر عبد الرحيم بن عبد الخالق بن يوسف، ونقله البلقيني عن أبي إسحاق وأبي حامد الاسفرائينيين والقاضي أبي الطيب والشيخ أبي إسحاق الشيرازي من الشافعية، وعن السرخسي من الحنفية، وعن القاضي عبد الوهاب من المالكية، وعن أبي يعلى وأبي الخطاب وابن الزاغوني من الحنابلة وعن أكثر أهل الكلام من الأشعرية، وعن أهل الحديث قاطبة، وهو الذي اختاره الحافظ ابن حجر والمؤلف. والحق الذي ترجحه الأدلة الصحيحة ما ذهب إليه ابن حزم ومن قال بقوله: من أن الحديث الصحيح يفيد العلم القطعي، سواء أكان في أحد الصحيحين أم في غيرهما، وهذا العلم اليقيني علم نظري برهاني لا يحصل إلا للعالم المتبحر في الحديث العارف بأحوال الرواة والعلل، وأكاد أوقن أنه هو مذهب من نقل عنهم البلقيني ممن سبق ذكرهم، وأنهم لم يريدوا بقولهم ما أراد ابن الصلاح من تخصيص أحاديث الصحيحين بذلك. وهذا العلم اليقيني النظري يبدو ظاهرًا لكل من تبحر في علم من العلوم وتيقنت نفسه بنظرياته واطمأن قلبه إليها، ودع عنك تفريق المتكلمين في اصطلاحاتهم بين العلم والظن، فإنما يريدون بهما معنى آخر غير ما=
(অধিকাংশ আলিম) এই সুন্নাহসমূহকে বিভক্ত করেছেন … সঠিক (صحيح), দুর্বল (ضعيف) এবং উত্তম (حسن) শ্রেণিতে।

 

‌‌সঠিক (صحيح)

সঠিক (صحيح) হাদিসের সংজ্ঞা: এটি হলো সংযুক্ত (مسند) সনদযুক্ত বর্ণনা … যা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও নির্ভুল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) রাবি তার অনুরূপ রাবি থেকে বর্ণনা করেন।

তা অস্বাভাবিক (شاذ) হবে না এবং ত্রুটিযুক্ত (معلل) হবে না, … আর বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতার (ضعف) হুকুম প্রদান করা হয়

বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে, নিশ্চিতভাবে নয়; তবে যা সংকলিত হয়েছে … মুসলিম বা আল-জুফী (বুখারি)-র গ্রন্থে (তা ব্যতীত

যা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে) ইবনে আস-সালাহ প্রাধান্য দিয়েছেন … সেগুলোর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিকে, (আর অনেক ইমামই এদিকে ঝুঁকেছেন)।

আন-নববী 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে প্রাধান্য দিয়েছেন … এর দ্বারা প্রবল ধারণা (ظن) উৎপন্ন হওয়ার বিষয়টিকে, (তবে নিশ্চিত হওয়ার মতটিই সঠিক)।

আর (রাবিদের নির্দিষ্ট) সংখ্যা কোনো শর্ত নয়; আর যারা শর্তারোপ করেছেন … যে রাবি দুইজন বা ততোধিক হতে হবে, তা ভুল।

--------------------------------------------

(১) মূল শব্দ ছিল "শায্যান" (شاذًا)। ছন্দের প্রয়োজনে প্রথম আলিফটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

(২) লেখক সঠিক (صحيح) হাদিসের সংজ্ঞা দেওয়ার পর এর প্রভাব ও বিধান বর্ণনা করতে চেয়েছেন। তা নিশ্চিত ও অকাট্য জ্ঞান (علم) প্রদান করে কি না নাকি কেবল প্রবল ধারণা (ظن) দেয়—এটি একটি সুপরিচিত মতভেদের বিষয়। শব্দগত বা অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিসের ক্ষেত্রে তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত (قطعي الثبوت), এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। তবে সঠিক (صحيح) পর্যায়ের অন্য হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে কেউ কেউ মনে করেন যে তা অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে না, বরং তা ধারণাপ্রসূতভাবে প্রমাণিত (ظني الثبوت); ইমাম নববী 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। অন্যরা মনে করেন যে এটি নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقيني) প্রদান করে; এটি দাউদ আজ-জাহিরি, হুসাইন বিন আলী আল-কারাবিসি, হারিস বিন আসাদ আল-মুহাসিবি-র মত এবং ইবনে খুয়াইজ মানদাদ এটি ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজমও এই মতটি গ্রহণ করেছেন। তিনি 'আল-ইহকাম' গ্রন্থে বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) রাবির অনুরূপ রাবি থেকে বর্ণিত একক বর্ণনা (خبر الواحد) একই সাথে জ্ঞান (علم) এবং আমল (عمل) উভয়ই অপরিহার্য করে।" এরপর তিনি দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এর সপক্ষে দলিল পেশ করেন এবং বিরোধীদের খণ্ডন করেন (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৯ - ১৩০৭)।

ইবনে আস-সালাহ পছন্দ করেছেন যে, শায়খাইন—বুখারি ও মুসলিম—তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে যা বর্ণনা করেছেন বা তাঁদের কোনো একজন যা বর্ণনা করেছেন, তা নিশ্চিতভাবে বিশুদ্ধ (مقطوع بصحته) এবং এর মাধ্যমে তাত্ত্বিক নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقيني نظري) অর্জিত হয়। তবে তিনি এমন অল্প কিছু হাদিসকে এর ব্যতিক্রম বলেছেন যা নিয়ে দারাকুতনি ও অন্যান্য সমালোচক বিশেষজ্ঞ (أهل النقد) হাফেজগণ (الحفاظ) আপত্তি তুলেছেন; এই বিষয়ের পণ্ডিতদের কাছে সেগুলো সুপরিচিত। তিনি তাঁর 'উলুমুল হাদিস' গ্রন্থে এমনটিই বলেছেন। হাফেজ আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন তাহির আল-মাকদিসি এবং আবু নাসর আবদুর রহিম বিন আবদুল খালিক বিন ইউসুফ থেকে আল-ইরাকি তাঁর ইবনে আস-সালাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল-বুলকিনি শাফেয়ি মাযহাবের আবু ইসহাক ও আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনি, কাজি আবু তাইয়িব এবং শাইখ আবু ইসহাক আশ-শিরাজি থেকে; হানাফি মাযহাবের সারাখসি থেকে; মালিকি মাযহাবের কাজি আবদুল ওয়াহহাব থেকে; হাম্বলি মাযহাবের আবু ইয়ালা, আবু আল-খাত্তাব ও ইবনে আজ-জাগুনি থেকে; আশআরী কালাম শাস্ত্রবিদদের অধিকাংশ থেকে এবং হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) প্রায় সকলের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার এবং গ্রন্থকার এটিই গ্রহণ করেছেন। সঠিক দলিলসমূহের আলোকে যে সত্যটি প্রাধান্য পায় তা হলো ইবনে হাজম ও তাঁর অনুসারীদের মত: সঠিক (صحيح) হাদিস অকাট্য জ্ঞান (علم قطعي) প্রদান করে, তা সহিহাইন-এর অন্তর্ভুক্ত হোক বা না হোক। আর এই নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقيني) হলো একটি তাত্ত্বিক ও প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান যা কেবল হাদিস শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্যসম্পন্ন এবং রাবিদের অবস্থা ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের পক্ষেই অর্জন করা সম্ভব। আমি প্রায় নিশ্চিত যে, এটিই তাঁদের মত ছিল যাঁদের নাম বুলকিনি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা ইবনে আস-সালাহর মতো কেবল সহিহাইন-এর হাদিসের মধ্যে একে সীমাবদ্ধ করতে চাননি। এই তাত্ত্বিক নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقيني نظري) প্রতিটি শাস্ত্রের সেই ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যিনি সেই শাস্ত্রে গভীর বুৎপত্তি অর্জন করেছেন এবং তাঁর নফস সেই শাস্ত্রের তাত্ত্বিক বিষয়গুলোতে নিশ্চিত হয়েছে ও প্রশান্তি পেয়েছে। কালাম শাস্ত্রবিদরা তাঁদের পরিভাষায় জ্ঞান (علم) এবং প্রবল ধারণার (ظن) মধ্যে যে পার্থক্য করেন তা বর্জন করুন, কারণ তাঁরা এর দ্বারা অন্য অর্থ উদ্দেশ্য করেন...
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٥)
وَالْوَقْفُ عَنْ حُكْمٍ (لِمَتْنٍ أَوْ) سَنَدْ … بِأَنَّهُ أَصَحُّ مُطْلَقًا أَسَدّ

وآخَرُونَ حَكَمُوا فَاضْطَرَبُوا … (لِفَوْقِ عَشْرٍ ضُمِّنَتْهَا الْكُتُبُ).

فَمَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَيِّدِهْ(1) … وَزِيدَ مَا لِلشَّافِعِي فَاحْمَدِه(2)

وَابْنُ شِهابٍ عَنْ عَلِيٍّ عَنْ أَبِهْ … عَنْ جَدِّهِ، أَوْ سَالِمٍ عَمَّنْ نَبَه

(أَوْ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ حَبْرِ البَشَرْ … هُوَ ابْنُ عَباسٍ وَهَذَا عَنْ عُمَرْ

وَشُعْبَةٌ عَنْ عَمْرٍ وبْنِ مُرَّهْ … عَنْ مُرَّةٍ عَنِ ابْنِ قَيْسٍ كَرَّهْ

أَوْ مَا رَوَى شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَهْ … إِلَى سَعِيدٍ عَنْ شُيُوخٍ سَادَهْ)

ثُمَّ ابْنُ سِيرِينَ عَنِ الْحَبْرِ الْعَلِي … عبِيدَةٍ بِما رَوَاهُ عَنْ عَلِي

كَذَا ابْنُ مِهْرَانَ عَنِ ابْرَاهِيمَ عَنْ … عَلْقَمَةٍ عَنِ ابْنِ مَسعُودِ الْحَسَنْ

(وَوَلَدُ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ … عائِشَةٍ، وَقَالَ قَوْمٌ ذُو فِطَنْ):

لا يَنْبَغِي التَّعْمِيمُ فِي الإِسْنادِ … (بَلْ خُصَّ بِالصَّحْبِ أَوِ البِلادِ

فَأَرْفَعُ الإِسْنَادِ لِلصِّدِّيقِ مَا … إِبْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ نَمَا

وَعُمَرٌ فَابْنَ شَهَابٍ بَدِّهِ … عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِهِ عَنْ جَدِّهِ

وَأَهْلُ بَيْتِ الْمُصْطَفَى جَعْفَرُ عَنْ … آبَائِهِ، إِنْ عَنْهُ رَاومَا وَهَنْ

وَلأَبِي هُرَيرَةَ الزُّهْرِيُّ عَنْ … سَعِيدٍ أوْ أَبُو الزِّنَادِ حَيْثُ عَنْ

عَنْ أَعْرَجٍ، وَقيلَ: حَمَّادٌ بِمَا … أَيُّوبُ عَنْ مُحَمَّدٍ لَهُ نَمَى

لِمَكَّةٍ سُفْيانُ عَنْ عَمْرٍو، وَذَا … عَنْ جَابِرٍ، وَلِلْمَدِينَةِ خُذَا:

ابْنُ أَبِي حَكِيمٍ عَنْ عَبَيْدَةِ … الْحَضْرَمِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيرَةِ

وَمَا رَوَى مَعْمَرُ عَنْ هَمَّامِ عَنْ … أَبِي هُرَيرَةٍ أَصَحُّ لِلْيَمَنْ

لِلشَّامِ الأَوْزَاعِيُّ عَنْ حَسَّانَا … عَنِ الصِّحَابِ فَائِقٌ إِتْقَانَا

وَغَيْرُ هَذَا مِنْ تَراجِمٍ تُعَدّ … ضَمَّنْتُهَا شَرْحِيَ عَنْها لَا تُعَدّ)(3)

--------------------------------------------

= نريد، ومنه زعم الزاعمين أن الإيمان لا يزيد ولا ينقص، إنكارًا لما يشعر به كل. واحد من الناس من اليقين بالشيء ثم ازدياد هذا اليقين. {قال: أولم تؤمن؟ قال: بلى، ولكن ليطمئن قلبي} [البقرة: 260]، وإنما الهدى هدى الله.

(1) يعني ابن عمر رضي الله عنهما.

(2) يعني أحمد بن حنبل عن الشافعي.

(3) الذي انتهى إليه التحقيق في أصح الأسانيد أنه لا يحكم لإسناد بذلك مطلقًا من غير قيد، بل يقيد=
কোনো মতন (متন) বা সনদ (سند) সম্পর্কে এটিই নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح مطلقا) - এমন সিদ্ধান্ত প্রদান করা থেকে বিরত থাকাই অধিক সমীচীন।

অন্যান্যরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন, ফলে তারা মতভেদ করেছেন; (এ বিষয়ে) দশটিরও বেশি সনদ কিতাবসমূহে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

যেমন নাফি' থেকে মালিক, তিনি তার মনিব (ইবনে উমর) থেকে বর্ণনা করেছেন।(১) আর এর সাথে ইমাম শাফিঈ যা আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন তা যুক্ত করে প্রশংসা করো।(২)

এবং ইবনে শিহাব আলী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে; অথবা সালিম থেকে, যিনি সচেতন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন।

(অথবা উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি মানবজাতির মাঝে বিজ্ঞ আলিম ইবনে আব্বাস থেকে এবং এটি উমর থেকে বর্ণিত।

এবং শু'বাহ আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি মুররাহ থেকে, তিনি ইবনে কাইস থেকে বর্ণনা করেছেন।

অথবা শু'বাহ যা কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যা সাঈদ থেকে হয়ে মর্যাদাবান শায়খদের (شيوخ) মাধ্যমে বর্ণিত)।

অতঃপর ইবনে সিরীন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন বিজ্ঞ আলিম উবাইদাহ থেকে, যা তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে ইবনে মিহরান ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে উত্তমরূপে বর্ণনা করেছেন।

(এবং কাসিমের সন্তান তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন; আর একদল প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছেন):

সনদ (إسناد) এর ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ করা সমীচীন নয়; (বরং একে নির্দিষ্ট সাহাবী (صحابة) বা অঞ্চলের সাথে সুনির্দিষ্ট করা উচিত)।

সিদ্দীক (আবু বকর) এর জন্য সর্বোচ্চ সনদ (إسناد) হলো যা ইবনে আবি খালিদ কাইস থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর উমরের ক্ষেত্রে ইবনে শিহাবকে অগ্রাধিকার দাও, যিনি সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহলে বাইতের বর্ণনায় জাফর তাঁর পিতৃপুরুষদের থেকে, যদি না তাঁর থেকে বর্ণিত কোনো দুর্বলতা (وهن) পাওয়া যায়।

আবু হুরাইরাহ-এর বর্ণনায় যুহরী সাঈদ থেকে, অথবা আবুয যিনাদ যেখানে আ'রাজ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং বলা হয়েছে: হাম্মাদ যা আইয়ুব হতে মুহাম্মাদ (ইবনে সিরীন) এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

মক্কার বর্ণনার ক্ষেত্রে সুফিয়ান আমর থেকে, আর তিনি জাবির থেকে; এবং মদিনার জন্য এটি গ্রহণ করো:

ইবনে আবি হাকিম উবাইদাহ আল-হাদরামি থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে।

আর যা মা'মার হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তা ইয়ামেনের জন্য সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح)।

শামের জন্য আওযাঈ হাসান থেকে, তিনি সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেছেন, যা বর্ণনার দৃঢ়তার (إتقان) দিক থেকে শ্রেষ্ঠ।

এবং এগুলো ছাড়াও আরও বহু জীবনীমূলক সনদ (تراجم) রয়েছে, যা আমি আমার ব্যাখ্যাগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং তা গণনা করা যায় না)।(৩)

--------------------------------------------

= আমরা এটাই চাই, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল দাবিদারদের বক্তব্য যারা মনে করে যে ঈমান বাড়ে না এবং কমে না; এটি মূলত মানুষের প্রত্যেকের উপলব্ধিকৃত কোনো বিষয়ে নিশ্চিত বিশ্বাস এবং অতঃপর সেই বিশ্বাসের উত্তরোত্তর বৃদ্ধির বিষয়টিকে অস্বীকার করার নামান্তর। {তিনি বললেন: তবে কি আপনি বিশ্বাস করেননি? তিনি বললেন: অবশ্যই, কিন্তু আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য} [বাক্বারা: ২৬০], আর মূলত হেদায়াত হলো আল্লাহরই হেদায়াত।

(১) অর্থাৎ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)।

(২) অর্থাৎ শাফিঈ থেকে আহমাদ বিন হাম্বল।

(৩) সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) সম্পর্কে গবেষণালব্ধ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, কোনো প্রকার শর্ত ছাড়া কোনো সনদ (إسناد) সম্পর্কে নিরঙ্কুশভাবে এমন সিদ্ধান্ত প্রদান করা উচিত নয়, বরং তা শর্তযুক্ত করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٦)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= بالصحابي أو البلد. وقد نصوا على أسانيد جمعتها وزدت عليها قليلًا، وهي.

أصح الأسانيد عن أبي بكر: إسماعيل بن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم عن أبي بكر.

وأصح الأسانيد عن عمر: الزهري عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن ابن عباس عن عمر. والزهري عن السائب بن يزيد عن عمر.

(ويزاد عليهما عندي ما سيأتي في أصح الأسانيد عن ابن عمر وهي أربعة أسانيد؛ لأنه إذا كان الإسناد إلى ابن عمر من أصح الأسانيد ثم روى عن أبيه كان ما يرويه داخلًا تحت أصح الأسانيد أيضًا).

وأصح الأسانيد عن علي: محمد بن سيرين عن عبيدة - بفتح العين - السلماني عن علي. والزهري عن علي بن الحسين عن أبيه عن علي. وجعفر بن محمد بن علي بن الحسين عن أبيه عن جده عن علي.

ويحيى بن سعيد الفطان عن سفيان الثوري عن سليمان التيمي عن الحارث بن سويد عن علي.

وأصح الأسانيد عن عائشة: هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة. وأفلح بن حميد عن القاسم عن عائشة. وسفيان الثوري عن إبراهيم عن الأسود عن عائشة. وعبد الرحمن بن القاسم عن أبيه عن عائشة.

ويحيى بن سعيد عن عبيد الله بن عمر عن القاسم عن عائشة. والزهري عن عروة بن الزبير عن عائشة.

وأصح الأسانيد عن سعد بن أبي وقاص: علي بن الحسين بن علي عن سعيد بن المسيب عن سعد بن أبي وقاص.

وأصح الأسانيد عن ابن مسعود: الأعمش عن إبراهيم عن علقمة عن ابن مسعود. وسفيان الثوري عن منصور عن إبراهيم عن علقمة عن ابن مسعود.

وأصح الأسانيد عن ابن عمر: مالك عن نافع عن ابن عمر. والزهري عن سالم عن أبيه ابن عمر، وأيوب عن نافع عن ابن عمر. ويحيى بن سعيد القطان عن عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر.

وأصح الأسانيد عن أبي هريرة. يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أبي هريرة. والزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة. ومالك عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة. وحماد بن زيد عن أيوب عن محمد بن سيرين عن أبي هريرة. إسماعيل بن أبي حكيم عن عبيدة - بفتح العين - بن سفيان الحضرمي عن أبي هريرة. ومعمر عن همام عن أبي هريرة.

وأصح الأسانيد عن أم سلمة: شعبة عن قتادة عن سعيد عن عامر أخي أم سلمة عن أم سلمة.

وأصح الأسانيد عن عبد الله بن عمرو بن العاص: عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده (وفي هذا الإسناد خلاف معروف. والحق أنه من أصح الأسانيد).

وأصح الأسانيد عن أبي موسى الأشعري: شعبة عن عمرو بن مرة عن أبيه مرة عن أبي موسى الأشعري.

وأصح الأسانيد عن أنس بن مالك: مالك عن الزهري عن أنس. وسفيان بن عيينة عن الزهري عن أنس.

ومعمر عن الزهري عن أنس.

(وهذان الأخيران زدتهما أنا، فإن ابن عيينة ومعمرًا ليسا بأقل من مالك في الضبط والإتقان عن الزهري).

وحماد بن زيد عن ثابت عن أنس. وحماد بن سلمة عن ثابت عن أنس. وشعبة عن قتادة عن أنس.

وهشام الدستوائي عن قتادة عن أنس.

وأصح الأسانيد عن ابن عباس: الزهري عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن ابن عباس.

وأصح الأسانيد عن جابر بن عبد الله: سفيان بن عيينة عن عمرو بن دينار عن جابر.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= সাহাবী অথবা দেশের সাথে সম্পৃক্ত। উলামায়ে কিরাম এমন কিছু সনদ (أسانيد) এর কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যা আমি সংকলন করেছি এবং তাতে সামান্য কিছু বৃদ্ধি করেছি। সেগুলো হলো:

আবু বকর হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: কায়স বিন আবি হাজিম হতে ইসমাঈল বিন আবি খালিদ, তিনি আবু বকর হতে।

উমর হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: ইবনে আব্বাস হতে উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা হতে আয-যুহরি, তিনি উমর হতে। এবং সায়েব বিন ইয়াযিদ হতে আয-যুহরি, তিনি উমর হতে।

(আমার মতে এই দুটির সাথে ইবনে উমর হতে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) এর চারটি সনদও যুক্ত হবে যা সামনে আসবে; কেননা যদি ইবনে উমর পর্যন্ত সনদটি সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) এর অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এরপর তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তবে তিনি যা বর্ণনা করবেন তাও সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) এর অন্তর্ভুক্ত হবে)।

আলী হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: উবায়দাহ —আইন বর্ণে ফাতহাহ যোগে— আস-সালমানি হতে মুহাম্মদ বিন সিরিন, তিনি আলী হতে। এবং আলী বিন আল-হুসাইন হতে আয-যুহরি, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আলী হতে। এবং জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে, তিনি আলী হতে।

এবং হারিস বিন সুওয়াইদ হতে সুলাইমান আত-তাইমি হতে সুফিয়ান আস-সাওরি হতে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, তিনি আলী হতে।

আয়েশা হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: তাঁর পিতা হতে হিশাম বিন উরওয়া হতে আয়েশা হতে। আল-কাসিম হতে আফলাহ বিন হুমাইদ হতে আয়েশা হতে। আল-আসওয়াদ হতে ইবরাহিম হতে সুফিয়ান আস-সাওরি হতে আয়েশা হতে। এবং তাঁর পিতা হতে আব্দুর রহমান বিন আল-কাসিম হতে আয়েশা হতে।

এবং আল-কাসিম হতে উবায়দুল্লাহ বিন উমর হতে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ হতে আয়েশা হতে। এবং উরওয়া বিন আয-যুবাইর হতে আয-যুহরি হতে আয়েশা হতে।

সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব হতে আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী হতে সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস হতে।

ইবনে মাসউদ হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: আলকামা হতে ইবরাহিম হতে আল-আমাশ হতে ইবনে মাসউদ হতে। এবং আলকামা হতে ইবরাহিম হতে মানসুর হতে সুফিয়ান আস-সাওরি হতে ইবনে মাসউদ হতে।

ইবনে উমর হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: নাফে হতে মালিক হতে ইবনে উমর হতে। এবং তাঁর পিতা ইবনে উমর হতে সালিম হতে আয-যুহরি। এবং নাফে হতে আইয়ুব হতে ইবনে উমর হতে। এবং নাফে হতে উবায়দুল্লাহ বিন উমর হতে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান হতে ইবনে উমর হতে।

আবু হুরায়রা হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: আবু সালামাহ হতে ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির হতে আবু হুরায়রা হতে। সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব হতে আয-যুহরি হতে আবু হুরায়রা হতে। আল-আ'রাজ হতে আবুয যিনাদ হতে মালিক হতে আবু হুরায়রা হতে। মুহাম্মদ বিন সিরিন হতে আইয়ুব হতে হাম্মাদ বিন যায়েদ হতে আবু হুরায়রা হতে। উবায়দাহ —আইন বর্ণে ফাতহাহ যোগে— বিন সুফিয়ান আল-হাদরামি হতে ইসমাঈল বিন আবি হাকিম হতে আবু হুরায়রা হতে। এবং হাম্মাম হতে মা'মার হতে আবু হুরায়রা হতে।

উম্মে সালামাহ হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: উম্মে সালামাহ-এর ভাই আমির হতে সাঈদ হতে কাতাদাহ হতে শু'বা হতে উম্মে সালামাহ হতে।

আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: তাঁর দাদা হতে তাঁর পিতা হতে আমর বিন শুয়াইব হতে (এই সনদে একটি প্রসিদ্ধ মতভেদ (خلاف) রয়েছে। তবে সত্য কথা হলো এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) এর অন্তর্ভুক্ত)।

আবু মুসা আল-াশআরী হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: তাঁর পিতা মুররাহ হতে আমর বিন মুররাহ হতে শু'বা হতে আবু মুসা আল-াশআরী হতে।

আনাস বিন মালিক হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: আয-যুহরি হতে মালিক হতে আনাস হতে। আয-যুহরি হতে সুফিয়ান বিন উয়াইনা হতে আনাস হতে।

এবং আয-যুহরি হতে মা'মার হতে আনাস হতে।

(এই শেষোক্ত দুটি আমি নিজে বৃদ্ধি করেছি, কেননা ইবনে উয়াইনা এবং মা'মার আয-যুহরির বর্ণনার ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি ও নিখুঁততায় (الضبط والإتقان) মালিক-এর চেয়ে কোনো অংশে কম নন)।

এবং সাবিত হতে হাম্মাদ বিন যায়েদ হতে আনাস হতে। সাবিত হতে হাম্মাদ বিন সালামাহ হতে আনাস হতে। কাতাদাহ হতে শু'বা হতে আনাস হতে।

এবং কাতাদাহ হতে হিশাম আদ-দুস্তুওয়াই হতে আনাস হতে।

ইবনে আব্বাস হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা হতে আয-যুহরি হতে ইবনে আব্বাস হতে।

জাবির বিন আব্দুল্লাহ হতে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: আমর বিন দিনার হতে সুফিয়ান বিন উয়াইনা হতে জাবির হতে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مسألة

(أَوَّلُ جامِع الْحَدِيثِ والأَثَرْ … ابْنُ شِهَابٍ آمِرًا لَهُ عُمَرُ(1)

وَأَوَّلُ الجَامِعِ لِلأَبْوَابِ … جَمَاعَةٌ فِي العَصْرِ ذُو اقْترَابِ

كَابْنِ جُرَيْجٍ وَهُشَيْمٍ مَالِكِ … وَمَعْمَرٍ وَوَلَدِ المُبَارَكِ)

وَأَوَّلُ الْجَامِعِ بِاقْتِصَارِ … عَلَى الصَّحِيحِ فَقَطِ الْبُخَارِي

وَمُسْلِمٌ مِنْ بَعْدِهِ، وَالأَوَّلُ … عَلَى الصَّوَابِ فِي الصَّحِيحِ أَفْضَلُ

(وَمَنْ يُفَضِّلْ مُسْلِمًا فَإِنَّمَا … تَرْتِيبَهُ وَصُنْعَهُ قَدْ أَحْكَمَا

وَانْتَقَدُوا عَلَيْهِمَا يَسِيرَا … (فَكَمْ تَرَى نَحْوَهُمَا نَصِيرَا)

وَلَيْسَ فِي الْكُتْبِ أَصَحُّ مِنْهُمَا … بَعْدَ الْقُرَانِ وَلِهَذَا قُدِّمَا(2)

مَرْوِيُّ ذَيْنِ، فَالبُخَارِيِّ، فَمَا … لِمُسْلِمٍ، فَمَا حَوَى شَرْطَهُمَا

فَشَرْطَ أَوَّلٍ، فَثَانٍ، ثُمَّ مَا … كانَ عَلَى شَرْطِ فَتًى غَيْرِهِمَا

(وَرُبَّمَا يَعْرِضَ لِلْمَفُوقِ(3) مَا … بِجَعْلِهِ مُسَاوِيًا أَوْ قُدِّمَا

وَشَرْطُ ذَيْنِ كَوْنُ ذَا الإِسْنَادِ … لَدَيْهِمَا بِالجَمْعِ وَالإِفْرَادِ)

--------------------------------------------

= وأصح الأسانيد عن عقبة بن عامر: الليث بن سعد عن يزيد بن أبي حبيب عن أبي الخير عن عقبة بن عامر.

وأصح الأسانيد عن بريدة: الحسين بن واقد عن عبد الله بن بريدة عن أبيه بريده.

وأصح الأسانيد عن أبي ذر: سعيد بن عبد العزيز عن ربيعة بن يزيد عن أبي إدريس الخولاني عن أبي ذر.

هذا ما قالوه في أصح الأسانيد عن أفراد من الصحابة وما زدناه عليهم.

وقد ذكروا إسنادين عن إمامين من التابعين يرويان عن الصحابة، فإذا جاءنا حديث بأحد هذين الإسنادين وكان التابعي منهما يرويه عن صحابي كان إسناده من أصح الأسانيد أيضًا. وهما:

شعبة عن قتادة عن سعيد بن المسيب عن شيوخه من الصحابة. والأوزاعى عن حسان بن عطية عن الصحابة والله أعلم.

(1) يعني عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه.

(2) الحق الذي لا مرية فيه عند أهل العلم بالحديث من المحققين، وممن اهتدى يهديهم وتبعهم على بصيرة من الأمر -: أن أحاديث الصحيحين صحيحة كلها، ليس في واحد منها مطعن أو ضعف، وإنما انتقد الدارقطني وغيره من الحفاظ بعض الأحاديث على معنى أن ما انتقدوه لم يبلغ في الصحة الدرجة العليا التي التزمها كل واحد منهما في كتابه، وأما صحة الحديث في نفسه فلم يخالف أحد فيها، فلا يهولنك إرجاف المرجفين وزعم الزاعمين أن في الصحيحين أحاديث غير صحيحة. وتتبع الأحاديث التي تكلموا فيها وانقدها على القواعد الدقيقة التي سار عليها أئمة أهل العلم واحكم عن بينة. والله الهادي إلى سواء السبيل.

(3) المفوق: المرجوح.
বিষয়

(হাদিস ও বর্ণনার (أثر) প্রথম সংকলক হলেন ইবনে শিহাব (আল-জুহরি), যাকে উমর (১) এই আদেশ দিয়েছিলেন।

আর অধ্যায়ভিত্তিক প্রথম সংকলক হলেন সমসাময়িক একদল ব্যক্তি।

যেমন ইবনে জুরাইজ, হুশাইম, মালিক, মা'মার এবং ইবনুল মুবারক।)

শুধুমাত্র বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের ওপর ভিত্তি করে প্রথম সংকলক হলেন বুখারি।

এবং এরপর মুসলিম; তবে সঠিক মতানুসারে বিশুদ্ধতার (صحيح) বিচারে প্রথমজনই (বুখারি) শ্রেষ্ঠ।

(আর যিনি মুসলিমকে শ্রেষ্ঠত্ব দেন, তিনি মূলত তাঁর বিন্যাস ও সংকলন পদ্ধতির সুনিপুণতার কারণেই তা করেন।

তাঁদের উভয়ের ওপর যৎসামান্য সমালোচনা করা হয়েছে; অথচ আপনি দেখবেন কতজন তাঁদের সাহায্যকারী রয়েছেন।

কুরআনের পর এই দুই কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) আর কোনো কিতাব নেই, আর এই কারণেই তাঁদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। (২)

উভয় কর্তৃক বর্ণিত হাদিস, এরপর বুখারি, এরপর মুসলিম, এরপর যা উভয়ের শর্ত (شرط) পূরণ করে।

অতঃপর প্রথমজনের শর্ত (شرط), এরপর দ্বিতীয়জনের, এরপর যা তাঁদের দুজন ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির শর্তের (شرط) ওপর ভিত্তি করে সংকলিত।

(কখনো কখনো নিম্নমানের (مرجوح) (৩) বিষয়ের ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটে যা তাকে সমপর্যায়ের বা অগ্রগণ্য করে তোলে।

আর এই দুজনের শর্ত (شرط) হলো সমষ্টিগত বা এককভাবে তাঁদের নিকট এই সনদ (إسناد) বিদ্যমান থাকা।)

--------------------------------------------

= উকবাহ ইবনে আমির থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: লাইস ইবনে সাদ, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আমির থেকে।

বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ, আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা বুরাইদাহ থেকে।

আবু যর থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো: সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ, রাবিয়াহ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি আবু যর থেকে।

ব্যক্তিগতভাবে সাহাবীদের থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) সম্পর্কে এটিই তাঁদের বক্তব্য এবং আমরা যা এর সাথে যুক্ত করেছি।

তাঁরা তাবিঈদের দুইজন ইমামের ক্ষেত্রে দুটি সনদের (إسناد) কথা উল্লেখ করেছেন যারা সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেন। সুতরাং যখন আমাদের কাছে এই দুটি সনদের (إسناد) কোনো একটির মাধ্যমে হাদিস পৌঁছায় এবং তাবিঈ সরাসরি কোনো সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তবে তাঁর সেই সনদটিও (إسناد) বিশুদ্ধতম সনদের (أصح الأسانيد) অন্তর্ভুক্ত হবে। সেই দুটি হলো:

শু'বাহ, কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি তাঁর সাহাবী শিক্ষকদের থেকে। এবং আওজায়ি, হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি সাহাবীদের থেকে। আল্লাহ ভালো জানেন।

(১) অর্থাৎ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।

(২) মুহাক্কিক হাদিস বিশারদদের নিকট এবং যারা তাঁদের হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের নিকট এটিই সংশয়হীন সত্য যে: সহীহাইন-এর সকল হাদিসই বিশুদ্ধ (صحيحة), এগুলোর একটিতেও কোনো ত্রুটি (مطعن) বা দুর্বলতা (ضعف) নেই। মূলত দারাকুতনি ও অন্যান্য হাফেজগণ কিছু হাদিসের ওপর যে সমালোচনা করেছেন, তার অর্থ হলো—তাঁরা যেগুলোর সমালোচনা করেছেন তা সেই উচ্চতর বিশুদ্ধতার (صحة) স্তরে পৌঁছায়নি যা বুখারি ও মুসলিম তাঁদের কিতাবে বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আর হাদিসের মূল বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে কেউ দ্বিমত করেননি। সুতরাং সংশয়বাদীদের সংশয় বা দাবি আপনাকে আতঙ্কিত না করুক যে, সহীহাইন-এ এমন হাদিস আছে যা বিশুদ্ধ (صحيحة) নয়। আপনি সেই হাদিসগুলো অনুসন্ধান করুন যেগুলোর ব্যাপারে তাঁরা কথা বলেছেন এবং বিজ্ঞ ইমামগণ যে সূক্ষ্ম মূলনীতি অনুসরণ করেছেন তার ভিত্তিতে সেগুলো পর্যালোচনা করুন এবং স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন। আল্লাহ সোজা পথের দিশারী।

(৩) মুফাওওয়াক (المفوق): নিম্নমানের (مرجوح)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٨)
وَعِدَّةُ الأَوَّل بِالتَّحْرِيرِ: … أَلْفَانِ وَالرُّبْعُ بِلَا تَكْرِيرِ(1)

(وَمُسْلِمٌ أَرْبَعَةُ الآلافِ) … وَفِيهِمَا التَّكْرَارُ جَمًّا وَافِي

مِنَ الصَّحِيحِ فَوَّتَا كَثِيرَا … وَقَالَ نَجْلُ أَخْرَمٍ: يَسِيرَا

(مُرَادُهُ أَعْلَى الصَّحِيحِ فَاحْمِلِ … أَخْذًا مِنَ الْحَاكِمِ أَيْ فِي الْمَدْخَلِ)

النَّوَوِي: لَمْ يَفُتِ الخَمْسَةَ مِنْ … مَا صَحَّ إِلَّا النَّزْرُ، فَاقْبَلْهُ وَدِنْ

وَاحْمِلْ مَقَالَ عُشْرِ أَلْفِ أَلْفِ … أَحْوِي عَلَى مُكَرَّرٍ وَوَقْفِ(2)

وَخُذْهُ حَيْثُ حَافِظٌ عَلَيْهِ نَصْ … وَمِنْ مُصَنَّفٍ بِجَمْعِهِ يخُصْ

كَابْنِ خُزَيْمَةٍ (وَيتْلُو مُسْلِمًا … وَأَوْلِهِ) البُسْتِيَّ (ثُمَّ) الحَاكِمَا

وَكَمْ بِهِ تَسَاهُلٌ (حَتَّى وَرَدْ … فِيهِ مَناكِرٌ وَمَوْضُوعٌ يُرَدّ(3))

وَابْنُ الصَّلَاحِ قَالَ: مَا تَفَرَّدَا … فَحَسَنٌ إِلَّا لِضَعْفٍ فَارْدُدَا

جَرْيًا عَلَى) امْتِناعِ أَنْ يُصَحَّحَا … فِي عَصْرِنَا(4) كَمَا إِلَيْهِ جَنَحَا

--------------------------------------------

(1) الذر حرر الحافظ ابن حجر في مقدمة فتح الباري أن عدة ما في البخاري من المتون الموصولة بلا تكرار (2602) ومن المتون المعلقة المرفوعة (159) فمجموع ذلك (2761) وأن عدة أحاديثه بالمكرر وبما فيه من التعليقات والمتابعات واختلاف الروايات (9082) وهذا غير ما فيه من الموقوف على الصحابة وأقوال التابعين. انظر المقدمة (ص 470، 478 طبع بولاق).

(2) قال البخاري: "أحفظ مائة ألف حديث صحيح، ومائتي ألف حديث غير صحيح" وهو يريد بهذا العدد اختلاف طرق الحديث باختلاف رواته، ويدخل فيه أيضًا الأحاديث الموقوفة. فإن الحديث الواحد قد يرويه عن الصحابي عدد من التابعين، ثم يرويه عن كل واحد منهم عدد من أتباع التابعين، وهكذا، فيكون الحديث الواحد أحاديث كثيرة متعددة بهذا الاعتبار.

(3) اختلفوا في تصحيح الحاكم الأحاديث في المستدرك: فبالغ بعضهم فزعم أنه لم ير فيه حديثًا على شرط الشيخين، وهذا - كما قال الذهبي - إسراف وغلو. وبعضهم اعتمد تصحيحه مطلقًا، وهو تساهل. والحق ما قاله الحافظ ابن حجر: "إنما وقع للحاكم التساهل لأنه سوّد الكتاب لينقحه فأعجلته المنية، وقد وجدت قريب نصف الجزء الثاني من تجزئة ستة من المستدرك: إلى هنا انتهى إملاء الحاكم. قال: وما عدا ذلك من الكتاب لا يؤْخذ منه إلا بطريق الإجازة، والتساهل في القدر المملي قليل جدًّا بالنسبة إلى ما بعده". وقد اختصر الحافظ الذهبي مستدرك الحاكم وتعقبه في حكمه على الأحاديث فوافقه وخالفه، وله أيضًا أغلاط، وقد طبع الكتابان في (حيدر آباد). والمتتبع لهما لإنصاف وروية يجد أن ما قاله ابن حجر صحيح، وأن الحاكم لم ينقح كتابه قبل إخراجه للناس، وأن الصحيح فيه كثير جدًّا، والضعيف قليل بالنسبة له، أما الموضوع فهو نادر. وقد رأيت نقلًا عن الحافظ الذهبي أنه جمع جزءًا فيه الأحاديث التي في المستدرك، وهي موضوعة، فبلغت نحو مائة حديث. وهو عدد ضئيل في كتاب ضخم كبير.

(4) خ: في عصره.
ওَعِدَّةُ الأَوَّل بِالتَّحْرِيرِ: … প্রথমটির (বুখারি) সংখ্যা সুক্ষ্ম যাচাই অনুসারে: দুই হাজার এবং এক চতুর্থাংশ (অর্থাৎ ২৬০০ এর কাছাকাছি) পুনরাবৃত্তি ছাড়া(১)

(ওَمُسْلِمٌ أَرْبَعَةُ الآلافِ) … (আর মুসলিম চার হাজার) এবং এই উভয় গ্রন্থেই প্রচুর ও পর্যাপ্ত পুনরাবৃত্তি রয়েছে

مِنَ الصَّحِيحِ فَوَّتَا كَثِيرَا … সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ থেকে তারা অনেক কিছু বাদ দিয়েছেন; ইবনে আখরাম বলেছেন: সামান্য

(مُرَادُهُ أَعْلَى الصَّحِيحِ فَاحْمِلِ … أَخْذًا مِنَ الْحَاكِمِ أَيْ فِي الْمَدْخَلِ)

(তার উদ্দেশ্য হলো সর্বোচ্চ স্তরের সহিহ (صحيহ), সুতরাং এটি সেভাবেই গ্রহণ করুন; আল-হাকিম থেকে এটি গৃহীত হয়েছে অর্থাৎ আল-মাদখাল গ্রন্থে)

النَّوَوِي: لَمْ يَفُتِ الخَمْسَةَ مِنْ … আন-নববী: পাঁচটি (মূল গ্রন্থ) থেকে সহিহ (صحيح) হওয়ার বিষয়টি সামান্য পরিমাণ ছাড়া আর ছুটে যায়নি, সুতরাং তা গ্রহণ করো এবং সে অনুযায়ী দ্বীন পালন করো

وَاحْمِلْ مَقَالَ عُشْرِ أَلْفِ أَلْفِ … আর দশ লক্ষের (এক মিলিয়ন) বক্তব্যের ক্ষেত্রে ধরে নাও যে, এটি পুনরাবৃত্তি এবং স্থগিত (موقوف) বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে(২)

وَخُذْهُ حَيْثُ حَافِظٌ عَلَيْهِ نَصْ … আর তা গ্রহণ করো যেখানে কোনো হাফিজ তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং এমন সংকলন থেকে যা কেবল তা (সহিহ হাদিস) সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে

كَابْنِ خُزَيْمَةٍ (وَيتْلُو مُسْلِمًا … যেমন ইবনে খুজাইমাহ (এবং তিনি মুসলিমের অনুসারী; এবং অগ্রাধিকার দাও) আল-বুস্তি অর্থাৎ ইবনে হিব্বানকে, (অতঃপর) আল-হাকিমকে

وَكَمْ بِهِ تَسَاهُلٌ (حَتَّى وَرَدْ … আর তাতে (আল-হাকিমের গ্রন্থে) কতই না শিথিলতা (تساهل) রয়েছে! (এমনকি তাতে অপরিচিত (منكر) এবং জাল (موضوع) বর্ণনাও বর্ণিত হয়েছে যা প্রত্যাখ্যানযোগ্য(৩))

وَابْنُ الصَّلَاحِ قَالَ: مَا تَفَرَّدَا … ইবনুস সালাহ বলেছেন: তিনি যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন তা গ্রহণযোগ্য (حسن), যদি না তা দুর্বল (ضعيف) হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়

جَرْيًا عَلَى) امْتِناعِ أَنْ يُصَحَّحَا … (এ কথাটি) আমাদের যুগে সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করার অসম্ভবতার রীতির উপর ভিত্তি করে(৪) যেমনটি তারা সেদিকে ঝুঁকেছেন

--------------------------------------------

(১) হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীর মুকাদ্দিমায় সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছেন যে, সহিহ বুখারিতে পুনরাবৃত্তি ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন (موصول) মূল পাঠের সংখ্যা ২,৬০২টি। আর ঝুলে থাকা (معلق) উন্নত (مرفوع) হাদিসের সংখ্যা ১৫৯টি। সুতরাং এই সব মিলিয়ে মোট সংখ্যা হলো ২,৭৬১টি। আর পুনরাবৃত্তি, সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة) এবং বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনা সহ মোট হাদিস সংখ্যা ৯,০৮২টি। এটি সাহাবীদের স্থগিত (موقوف) বক্তব্য এবং তাবেয়ীদের উক্তি ছাড়া। দেখুন: আল-মুকাদ্দিমাহ (পৃষ্ঠা ৪৭০, ৪৭৮, বুলাক মুদ্রণ)।

(২) ইমাম বুখারি বলেছেন: "আমি এক লক্ষ সহিহ (صحيح) হাদিস এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ হাদিস মুখস্থ রাখি।" এই সংখ্যার মাধ্যমে তিনি বর্ণনাকারীদের ভিন্নতার কারণে হাদিসের সূত্রের ভিন্নতাকে বুঝিয়েছেন। এর মধ্যে স্থগিত (موقوف) বর্ণনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত। কেননা একটি হাদিস একজন সাহাবী থেকে বেশ কয়েকজন তাবেয়ী বর্ণনা করতে পারেন, আবার তাদের প্রত্যেকের থেকে বেশ কয়েকজন তাবে-তাবেয়ী বর্ণনা করতে পারেন। এভাবে একটি হাদিসই এই বিবেচনায় অনেকগুলো হাদিসে পরিণত হয়।

(৩) মুস্তাদরাক গ্রন্থে আল-হাকিমের সহিহ (صحيহ) সাব্যস্ত করার বিষয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন: তাদের কেউ কেউ অতিরঞ্জন করে দাবি করেছেন যে, এতে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী কোনো হাদিসই নেই। ইমাম জাহাবি যেমনটি বলেছেন—এটি একটি বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থা। আবার কেউ কেউ নিঃশর্তভাবে তার সহিহ (صحيহ) সাব্যস্ত করাকে গ্রহণ করেছেন, যা একটি শিথিলতা (تساهل)। সঠিক হলো হাফিজ ইবনে হাজার যা বলেছেন: "আল-হাকিমের ক্ষেত্রে শিথিলতা (تساهل) ঘটার কারণ হলো, তিনি গ্রন্থটি পরিমার্জনের উদ্দেশ্যে খসড়া তৈরি করেছিলেন কিন্তু মৃত্যু তাকে অবকাশ দেয়নি। আমি মুস্তাদরাকের ছয় ভাগের দ্বিতীয় ভাগের প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত পেয়েছি যেখানে আল-হাকিমের শ্রুতলিপি (ইমলা) শেষ হয়েছে। তিনি বলেছেন: গ্রন্থটির এই অংশ ছাড়া বাকি অংশ কেবল অনুমতি (إجازة) প্রদানের মাধ্যমেই গ্রহণ করা যায়। আর শ্রুতিলিপি প্রদানকৃত অংশে শিথিলতা (تساهل) পরবর্তী অংশের তুলনায় খুবই নগণ্য।" হাফিজ জাহাবি আল-হাকিমের মুস্তাদরাককে সংক্ষেপ করেছেন এবং হাদিসের হুকুমের ক্ষেত্রে তার সমালোচনা করেছেন; কখনো তার সাথে একমত হয়েছেন আবার কখনো দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাঁরও কিছু ভুল রয়েছে। গ্রন্থ দুটি হায়দ্রাবাদে মুদ্রিত হয়েছে। যে ব্যক্তি নিরপেক্ষতা ও গভীর চিন্তার সাথে গ্রন্থ দুটি পর্যবেক্ষণ করবে, সে দেখতে পাবে যে ইবনে হাজারের বক্তব্যই সঠিক। আল-হাকিম মানুষের কাছে প্রকাশের আগে তার কিতাবটি পরিমার্জন করতে পারেননি। এতে সহিহ (صحيح) হাদিস অনেক বেশি, সেই তুলনায় দুর্বল (ضعيف) হাদিস কম, আর জাল (موضوع) হাদিস অত্যন্ত বিরল। হাফিজ জাহাবি থেকে একটি বর্ণনা পাওয়া যায় যে, তিনি মুস্তাদরাকের সেই হাদিসগুলো একত্র করে একটি অংশ তৈরি করেছেন যা জাল (موضوع), যার সংখ্যা প্রায় একশ’র মতো। বিশাল বড় একটি গ্রন্থের তুলনায় এই সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।

(৪) কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তাঁর যুগে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٩)
وَغِيْرُهُ جَوَّزَهُ (وَهْوَ الأَبَرّ) … فَاحْكُمْ هُنَا بِمَا لَهُ أَدَّى النَّظَرْ(1)

(مَا سَاهَلَ البُسْتِيُّ فِي كِتَابِهِ … بَلْ شَرْطُهُ خَفَّ وَقَدْ وَفَّى بِهِ)

وَاسْتَخْرَجُوا عَلَى الصَّحِيحَيْنِ (بِأَنْ … يَرْوِي أَحَادِيثَ كِتَابٍ حَيْثُ عَنّ

لَا مِنْ طَرِيقِ مَنْ إِلَيْهِ عَمَدَا … مُجْتَمِعًا فِي شَيْخِهِ فَصَاعِدَا)

فَرُبَّمَا تَفَاوَتَتْ مَعْنًى، وَفِي … لَفْظٍ كَثِيرًا، فَاجْتَنِبْ أَنْ تُضِفِ

إِلَيْهِمَا، وَمَنْ عَزَا أَرَادَا … بِذَلِكَ الأَصْلَ (وَمَا أَحَادَا)

وَاحْكُمْ بِصِحَّةٍ لِمَا يَزِيدُ … فَهُوَ مَعَ العُلُوِّ ذَا يُفِيدُ(2)

(وَكَثْرَةَ الطُّرْقِ وَتَبْيِينَ الَّذِي … أُبْهِمَ أَوْ أُهْمِلَ أَوْ سَمَاعَ ذِي

تَدْلِيسٍ أَوْ مُخْتَلِطٍ، وَكُلُّ مَا … أُعِلَّ فِي الصَّحِيحِ مِنْهُ سَلِمَا(3))

--------------------------------------------

(1) ذهب ابن الصلاح إلى أنه قد تعذر في هذه الأعصار الاستقلال بإدراك الصحيح بمجرد اعتبار الأسانيد، ومنع بناء على هذا من الجزم بصحة حديث لم نجده في أحد الصحيحين ولا منصوصًا على صحته في شيء من مصنفات أئمة الحديث المعتمدة المشهورة. وبني على قوله هذا أن ما صححه الحاكم من الأحاديث ولم نجد فيه لغيره من المعتمدين تصحيحًا ولا تضعيفًا حكمنا بأنه حسن إلا أن يظهر فيه علة توجب ضعفه. وقد رد العراقي وغيره قول ابن الصلاح هذا، وأجازوا لمن تمكن وقويت معرفته أن يحكم بالصحة أو بالضعف على الحديث بعد الفحص عن إسناده وعلله، وهو الصواب. والذي أراه أن ابن الصلاح ذهب إلى ما ذهب إليه بناء على القول بمنع الاجتهاد بعد الأئمة، فكما حظروا الاجتهاد في الفقه أراد ابن الصلاح أن يمنع الاجتهاد في الحديث. وهيهات. فالقول بمنع الاجتهاد قول باطل، ولا برهان عليه من كتاب ولا سنة، ولا تجد له شبه دليل.

(2) يعني أن المستخرجات على الصحيحين قد يأتي فيها ألفاظ كثيرة تخالف رواية الأصل، فالأحوط أن لا ينسب ما ينقل عن المستخرج إلى الأصل، وأن من نقل عن المستخرج حديثًا ونسبه إلى الأصل المستخرج عليه فإنما يريد أصل الحديث لا هذا اللفظ بعينه، ولكنه لم يحسن صنعًا بهذا العزو، على أن الزيادة التي في المستخرج لها حكم الصحة؛ لأنها رويت بإسناد صحيح.

(3) لم يذكر المؤلف (موطأ مالك) في الصحاح، مع أنه في شرحه عليه قال (ص 8): "الصواب إطلاق أن الموطأ صحيح لا يستثنى منه شيء" وهذا غير صواب، والحق أن ما في الموطأ من الأحاديث الموصولة المرفوعة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم صحاح كلها، بل هي في الصحة كأحاديث الصحيحين، وأن ما فيه من المراسيل والبلاغات وغيرها يعتبر فيها ما يعتبر في أمثالها مما تحويه الكتب الأخرى، وإنما لم يعد في الكتب الصحاح لكثرتها وكثرة الآراء الفقهية لمالك وغيره، نم إن الموطأ رواه عن مالك كثير من الأئمة وأكبر رواياته - فيما قالوه - رواية القعنبي. والذي في أيدينا منه رواية يحيى بن يحيى الليثي، وهي المشهورة الآن، ورواية محمد بن الحسن صاحب أبي خيفة، وهي مطبوعة في الهند وعليها شرح نفيس للعلامة اللكنوي.
অন্যান্যরা এটি বৈধ বলেছেন (আর এটিই অধিকতর সঠিক) … সুতরাং এখানে সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দাও যা গভীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় সাব্যস্ত হয়েছে।(১)

(ইমাম বুস্তি (ইবনে হিব্বান) তাঁর কিতাবে শিথিলতা করেননি … বরং তাঁর হাদিস গ্রহণের শর্তসমূহ কিছুটা শিথিল ছিল এবং তিনি তা পূর্ণ করেছেন।)

আর তারা দুই সহিহ (বুখারি ও মুসলিম)-এর ওপর ভিত্তি করে মুস্তাখরাজ (استخرجوا) রচনা করেছেন এভাবে যে … তিনি কোনো কিতাবের হাদিসসমূহ বর্ণনা করবেন যেখান থেকে তা পাওয়া যায়।

তবে সেই ব্যক্তির সূত্রের মাধ্যমে নয় যার দিকে তিনি মূল কিতাবে লক্ষ্য করেছিলেন … বরং তাঁর শায়খ বা তার উপরের স্তরের কারো সনদে মিলিত হয়ে।

ফলে অনেক সময় অর্থের ভিন্নতা দেখা দেয়, আর … শব্দের ক্ষেত্রে তো অনেক বেশি; তাই সেই শব্দগুলোকে সরাসরি ওই দুই কিতাবের (বুখারি ও মুসলিম) দিকে সম্বন্ধ করা থেকে বিরত থাকো।

আর যে ব্যক্তি সম্বন্ধ করেছে, সে মূলত … হাদিসের মূল বিষয়টিই বুঝিয়েছে (এবং সে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়নি)।

আর এই অতিরিক্ত অংশগুলোকে সহিহ (صحة) হিসেবে গণ্য করো … কেননা সনদের উচ্চতা (علو)-এর পাশাপাশি এটি আরও বহু উপকার প্রদান করে।(২)

(যেমন: অধিক সংখ্যক সূত্র (طرق), অস্পষ্ট বা উপেক্ষিত বিষয়সমূহ স্পষ্টকরণ, অথবা … কোনো তাদলিস (تدليس) কারীর কিংবা স্মৃতিভ্রষ্ট (مختلط) ব্যক্তির শ্রবণ (سماع) নিশ্চিত করা। আর সহিহ কিতাবদ্বয়ে যা কিছু ত্রুটিযুক্ত (أعل) হিসেবে চিহ্নিত, তা এখানে নিরাপদ থাকে।)(৩)

--------------------------------------------

(১) ইবনেস সালাহ এই মত পোষণ করেছেন যে, বর্তমান যুগে শুধুমাত্র সনদ (أسانيد) পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনো হাদিসের সহিহ (صحيح) হওয়ার ব্যাপারে স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে তিনি এমন কোনো হাদিসের সহিহ (صحيح) হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত দিতে নিষেধ করেছেন, যা দুই সহিহ (বুখারি ও মুসলিম)-এর কোনোটিতে নেই অথবা হাদিস শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ ইমামদের কোনো কিতাবে যা সহিহ (صحيح) বলে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি। তাঁর এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে বলা হয় যে, ইমাম হাকেম যে হাদিসগুলোকে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামের পক্ষ থেকে সেটির সহিহ (تصحيح) বা দুর্বল (تضعيف) হওয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না, সেটিকে আমরা হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করব; যদি না তাতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) প্রকাশ পায় যা হাদিসটির দুর্বলতা (ضعفه) সাব্যস্ত করে। আল্লামা ইরাকি এবং অন্যান্যরা ইবনেস সালাহ-এর এই মতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা সক্ষম এবং গভীর জ্ঞানের অধিকারীদের জন্য হাদিসের সনদ (إسناد) ও ত্রুটিসমূহ (علل) পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পর তার সহিহ (صحة) বা দুর্বল (ضعف) হওয়ার হুকুম দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং এটিই সঠিক মত। আমি মনে করি, ইবনেস সালাহ এই মত ব্যক্ত করেছেন আইম্মায়ে মুজতাহিদিনের পর ইজতিহাদ (اجتهاد) নিষিদ্ধ হওয়ার মতামতের ওপর ভিত্তি করে। যেভাবে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তারা ইজতিহাদ (اجتهاد) নিষিদ্ধ করেছিলেন, ইবনেস সালাহ-ও তেমনি হাদিসের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা অসম্ভব! ইজতিহাদ (اجتهاد) নিষিদ্ধ হওয়ার দাবিটি একটি বাতিল কথা; কুরআন বা সুন্নাহ থেকে এর কোনো প্রমাণ নেই এবং এর সপক্ষে কোনো দালিলিক সাদৃশ্যও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

(২) এর অর্থ হলো, দুই সহিহ-এর মুস্তাখরাজ (المستخرجات) গ্রন্থগুলোতে এমন অনেক শব্দ আসতে পারে যা মূল কিতাবের বর্ণনার বিপরীত। তাই সতর্কতা হলো, মুস্তাখরাজ থেকে যা উদ্ধৃত করা হয় তা যেন সরাসরি মূল কিতাবের (বুখারি বা মুসলিম) দিকে সম্বন্ধ না করা হয়। আর যারা মুস্তাখরাজ থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করে তা মূল কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করেন, তারা মূলত হাদিসের মূল বিষয়টি বুঝাতে চান, হুবহু ওই শব্দগুলোকে নয়। তবে এই পদ্ধতিতে উদ্ধৃতি প্রদান করাটা উত্তম কাজ নয়। তবে মুস্তাখরাজ-এর অতিরিক্ত অংশগুলো সহিহ (صحة) হওয়ার মর্যাদা রাখে; কারণ তা সহিহ (صحيح) সনদের মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে।

(৩) লেখক এখানে সহিহ গ্রন্থসমূহের বর্ণনায় 'মুয়াত্টা মালিক'-এর উল্লেখ করেননি, যদিও তিনি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৮) বলেছেন: "সঠিক কথা হলো—মুয়াত্টা ব্যাপকভাবে সহিহ (صحيح), এর কোনো কিছুই ব্যতিক্রম নয়।" কিন্তু এই বক্তব্যটি সঠিক নয়। সত্য কথা হলো, মুয়াত্তার যে হাদিসগুলো মুত্তাসিল (الموصولة) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (مرفوعة), তার সবই সহিহ (صحاح)। বরং বিশুদ্ধতার দিক থেকে সেগুলো দুই সহিহ (বুখারি ও মুসলিম)-এর হাদিসগুলোর মতোই। আর এতে যে সকল মুরসাল (المراسيل) ও বালাগাত (البلاغات) বা সরাসরি পৌঁছানো বর্ণনা রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ডই বিবেচিত হবে যা অন্যান্য কিতাবের অনুরূপ বর্ণনার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এটিকে মূলত সহিহ হাদিসগ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি তার বিশাল আকার এবং ইমাম মালিক ও অন্যান্যদের ফিকহি মতামতের আধিক্যের কারণে। মুয়াত্টা গ্রন্থটি ইমাম মালিক থেকে অনেক ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং তাদের মতে এর সবচেয়ে বড় বর্ণনা হলো কানাবি-র বর্ণনা। বর্তমানে আমাদের কাছে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-লাইসি-র বর্ণনাটি বিদ্যমান, যা বর্তমানে সর্বাধিক পরিচিত। এছাড়া আবু হানিফার ছাত্র মুহাম্মদ বিন হাসানের বর্ণনাও রয়েছে, যা ভারতে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর ওপর আল্লামা লাখনভির একটি চমৎকার ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌خاتمة

لأَخْذِ مَتْنٍ مِنْ مُصَنَّفٍ يَجِبْ … عَرْضٌ عَلَى أَصْلٍ، وَعِدَّةٍ نُدِبْ

وَمَنْ لِنَقْلٍ فِي الْحَدِيثِ شَرَطَا … رِوَايَةً وَلَوْ مُجَازًا (غُلِّطَا)

 

‌‌الحسن

المُرْتَضَى فِي حَدِّهِ مَا اتَّصَلا … بِنَقْلِ عَدْلٍ قَلَّ ضَبْطُهُ وَلَا

شَذَّ وَلا عُلِّلَ (وَلْيُرَتَّبِ … مَرَاتِبًا) والاحْتِجَاجِ يَجْتَبِي

أَلْفُقَهَا وَجُلُّ أَهْلِ الْعِلْمِ … فَإِنْ أَتَى مِنْ طُرْقٍ أُخْرَى يُنْمِي

إِلَى الصَّحِيحِ، أَيْ لِغَيْرِهِ، كَمَا … يَرْقَى إِلَى الْحُسْنِ الَّذِي قَدْ وُسِمَا

ضَعْفًا لِسُوءِ الحِفْظِ (أَوْ إِرْسَالٍ أَوْ … تَدْلِيسٍ أَوْ جَهَالَةٍ) إِذَا رَأَوْا

مَجِيئَهُ مِنْ جِهَةٍ أُخْرَى، وَمَا … كَانَ لِفِسْقٍ أَوْ يُرَى مُتَّهَمَا

(يَرْقَى عَنِ الإِنْكَارِ بِالتَّعَدُّدِ … بَلْ رُبَّمَا يَصِيرُ كَالَّذِي بُدِي(1)

وَالْكُتُبُ الأَرْبَعُ ثَمَّتَ السُّنَنْ … لِلدَّارَقُطْنِي مِنْ مَظِنَّاتِ الحَسَنْ)

قَالَ أَبُو دَاوُدَ عَنْ كِتَابِهْ: … ذَكَرْتُ مَا صَحَّ وَمَا يُشَابِهْ

وَمَا بِهِ وَهْنٌ أَقُلْ وَحَيْثُ لَا … فَصَالِحٌ(2)، فَابْنُ الصَّلاحِ جَعَلا

مَا لَمْ يُضَعِّفْهُ وَلا صَحَّ حَسَنْ … لَدَيْهِ (مَعْ جَوَازِ أَنَّهُ وَهَنْ)

فَإِنْ يَقُلْ: قَدْ يَبْلُغُ الصِّحَّةَ لَهْ … (قُلْنَا: احْتِيَاطًا حَسَنًا قَدْ جَعَلَهْ)

--------------------------------------------

(1) أما إذا كان ضعف الحديث لسوء حفظ الراوي أو نحو ذلك فإنه يرقى إلى درجة الحسن أو الصحة بتعدد طرقه إن كانت كذلك. وأما إذا كان ضعف الحديث لفسق الراوي أو اتهامه بالكذب ثم جاء من طرق أخرى من هذا النوع، فإنه لا يرقى إلى الحسن، بل يزداد ضعفًا إلى ضعف، إذ أن تفرد المتهمين بالكذب أو المجروحين في عدالتهم بحديث لا يرويه غيرهم -: يرجح عند الباحث المحقق التهمة، ويؤيد ضعف روايتهم. وبذلك يتبين خطأ المؤلف هنا وخطؤه في كثير من كتبه في الحكم على أحاديث ضعاف بالترقي إلى الحسن مع هذه العلة القوية.

(2) اختصر الحافظ عبد العظيم المنذري سنن أبي داود، وتكلم على أحاديثها وأبان عن ضعف الضعيف منها مما لم يبينه أبو داود، ولذلك قال كثير من العلماء بالحديث: إن ما سكت عنه أبو داود والمنذري فهو صالح للاحتجاج، وهذا لا بأس به. ومع ذلك فقد فاتهما بعض الأحاديث لم يذكرا عنها ضعفًا. فعلى المنصف أن يدقق النظر ويحتاط في تصحيح الأحاديث. والتوفيق من الله سبحانه.
‌উপসংহার (خاتمة)

কোনো সংকলিত গ্রন্থ হতে পাঠ (متن) গ্রহণের জন্য আবশ্যক হলো মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা; আর একাধিক পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা পছন্দনীয়।

হাদিস স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যিনি বর্ণনা (رواية) করার শর্তারোপ করেছেন, এমনকি তা অনুমতিপত্রের (مجازا) মাধ্যমে হলেও, তাকে ভুল সাব্যস্ত করা হয়েছে।

 

‌হাসান (حسن)

হাসান (حسن) এর সংজ্ঞায় পছন্দনীয় মত হলো—যা নিরবচ্ছিন্ন (متصل) এবং এমন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত যার স্মরণশক্তি বা হেফজ (ضبط) কিছুটা কম;

এবং তা শায (شاذ) কিংবা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয়। হাসান (حسن) হাদিসকে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা উচিত। ফকিহগণ এবং অধিকাংশ বিজ্ঞ আলেম একে দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করার জন্য মনোনীত করেন।

যদি তা অন্য কোনো সূত্র (طرق) থেকে বর্ণিত হয়, তবে তা লি-গাইরিহি (لغيره) সহিহ (صحيح) স্তরে উন্নীত হয়। ঠিক যেমন সেই হাদিসটিও হাসান (حسن) স্তরে উন্নীত হয় যা মূলত...

স্মরণশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ), কিংবা মুরসাল (مرسل), তাদলিস (تدليس) অথবা বর্ণনাকারীর পরিচয় অজ্ঞাত (جهالة) হওয়ার কারণে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে চিহ্নিত ছিল; যখন তারা (মুহাদ্দিসগণ)...

তা অন্য কোনো দিক বা সূত্র থেকে বর্ণিত হতে দেখেন। তবে যা বর্ণনাকারীর পাপাচার (فسق) কিংবা বর্ণনাকারীকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত (متهم) করার কারণে দুর্বল হয়—

(তা বর্ণনার আধিক্যের কারণে মুনকার (منكر) হওয়া থেকে মুক্তি পায় ঠিকই, বরং কখনো কখনো তা প্রথমে আলোচিত হাসান (حسن) হাদিসের মতো স্তরেও পৌঁছে যায়)।

(চারটি কিতাব তথা সুনান গ্রন্থসমূহ এবং দারা কুতনির সুনান হাসান (حسن) হাদিস পাওয়ার সম্ভাব্য স্থান)।

আবু দাউদ তার কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: আমি এতে যা সহিহ (صحيح) এবং যা তার কাছাকাছি তা উল্লেখ করেছি।

আর যাতে চরম দুর্বলতা (وهن) রয়েছে তা আমি বলে দিয়েছি। আর যে বিষয়ে আমি কিছু বলিনি তা গ্রহণযোগ্য (صالح)। তাই ইবনুল সালাহ সাব্যস্ত করেছেন যে—

যে হাদিসকে তিনি (আবু দাউদ) দুর্বল (ضعيف) বলেননি এবং সহিহ (صحيح) হিসেবেও উল্লেখ করেননি, তা তার নিকট হাসান (حسن); (যদিও তাতে দুর্বলতা (وهن) থাকার সম্ভাবনা বিদ্যমান)।

যদি কেউ বলে: তার নিকট কোনো কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) স্তরে পৌঁছাতে পারে, (তবে আমরা বলব: তিনি সতর্কতা হিসেবে সেগুলোকে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছেন)।

--------------------------------------------

(১) তবে যদি হাদিসের দুর্বলতা (ضعيف) বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) বা অনুরূপ কোনো কারণে হয়, তবে বর্ণনার একাধিক সূত্রের (طرق) কারণে তা হাসান (حسن) বা সহিহ (صحيহ) স্তরে উন্নীত হয়। আর যদি হাদিসের দুর্বলতা (ضعيف) বর্ণনাকারীর পাপাচার (فسق) বা তাকে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (اتهام بالكذب) করার কারণে হয় এবং এরপর এই ধরণের অন্য কোনো সূত্র থেকেও বর্ণনা আসে, তবে তা হাসান (حسن) স্তরে উন্নীত হয় না। বরং তা দুর্বলতার উপর দুর্বলতা বৃদ্ধি করে। কেননা, মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা যাদের ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নবিদ্ধ, তাদের মাধ্যমে কোনো হাদিস এককভাবে বর্ণিত হওয়া—যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি—তা একজন গবেষক ও যাচাইকারীর নিকট তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকেই জোরালো করে এবং তাদের বর্ণনার দুর্বলতাকে (ضعف) সমর্থন করে। এর মাধ্যমে এখানে লেখকের ভুল এবং তার অনেক কিতাবে এমন সব দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ক্ষেত্রে হাসান (حسن) হওয়ার হুকুম প্রদানের ভুলটি স্পষ্ট হয় যেগুলোতে এই ধরণের শক্তিশালী ত্রুটি বিদ্যমান ছিল।

(২) হাফিজ আব্দুল আজিম আল-মুনজিরি সুনানে আবু দাউদকে সংক্ষেপ করেছেন এবং এর হাদিসগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। আবু দাউদ যে সমস্ত দুর্বল হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট করেননি, তিনি সেগুলো স্পষ্ট করেছেন। এই কারণেই অনেক হাদিস বিশারদ বলেন: আবু দাউদ এবং মুনজিরি যে হাদিসগুলো সম্পর্কে নীরব থেকেছেন, সেগুলো দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) জন্য উপযুক্ত (صالح)। এতে কোনো ক্ষতি নেই। তা সত্ত্বেও কিছু হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) উল্লেখ করতে তারা উভয়েই ব্যর্থ হয়েছেন। অতএব, একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির উচিত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং হাদিস সহিহ (صحيح) করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা। আর তাওফিক তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকেই আসে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١١)
فَإِنْ يَقُلْ: فَمُسْلِمٌ يَقُولُ: لَا … يَجْمَعُ جُمْلَةَ الصَّحِيحِ النُّبَلا

فَاحْتَاجَ أَنْ يَنْزِلَ لِلْمُصَدَّقِ … وَإِنْ يَكُنْ فِي حِفْظِهِ لا يَرْتَقِي

هَلَّا قَضَى فِي الطَّبَقَاتِ الثَّانِيَهْ … بِالحُسْنِ مِثْلَ مَا قَضَى فِي المَاضِيَهْ؟

أَجِبْ بِأَنَّ مُسْلِمًا فِيهِ شَرَطْ … مَا صَحَّ فَامْنَعْ أَنْ لِذِي الحُسْنِ يُحَطْ)

فَإِنْ يُقَلْ: فِي السُّنَنِ الصِّحَاحُ مَعْ … ضَعِيفِهَا وَالبَغَوِيُّ قَدْ جَمَعْ

مَصَابِحًا وَجَعَلَ الحِسَانَ مَا … فِي سُنَنٍ (قُلْنَا: اصْطِلاحٌ يُنْتَمَى)(1)

يَرْوِي أَبُو دَاوُدَ أَقْوَى مَا وَجَدْ … ثُمَّ الضَّعِيفَ حَيْثُ غَيْرَهُ فَقَدْ

وَالنَّسَائِي مَنْ لَمْ يَكُونُوا اتَّفَقُوا … تَرْكًا لَهُ (وَالآخِرُونَ أَلْحَقُوا

بِالْخَمْسَةِ ابْنَ مَاجَةٍ، قِيلَ: وَمَنْ … مَازَ بِهِمْ فَإِنَّ فِيهِمُ وَهَنْ)

تَسَاهَلَ الَّذِي عَلَيْهَا أَطْلَقَا … صَحِيحَةً (وَالدَّارِمِي وَالْمُنْتَقَى)(2)

وَدُونَهَا مَسَانِدٌ (وَالْمُعْتَلِيْ … مِنْهَا الَّذِي لِأَحْمَدٍ وَالحَنْظَلِيْ)(3)

 

‌‌مسألة

الْحُكْمُ بِالصِّحَّةِ وَالْحُسْنِ(4) عَلَى … مَتْنٍ رَوَاهُ التِّرْمِذِي، وَاسْتَشْكَلا

--------------------------------------------

(1) ألف البغوي كتاب (مصابيح السنة) وجعل كل باب منه قسمين: الصحاح والحسان، وأراد بالصحاح ما في الصحيحين أو أحدهما، وبالحسان ما في أحد السنن الأربعة، وقد اعترضوا عليه في صنيعه هذا؛ لأنه اصطلاح لا يعرف عند أهل الحديث، فإن في السنن الصحيح والحسن والضعيف. وأجاب عنه المؤلف هنا بأن هذا اصطلاح خاص له. ولكن ضعف الجواب ظاهر؛ لأن هذا الاصطلاح يوهم الناظر في كتابه بأن ما سماه من الحسان ينطبق عليه تعريف الحسن عند المحدثين.

(2) أما الدارمي فإنه يريد به كتاب السنن للإمام أبي محمد عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، وقد اشتهر باسم (مسند الدارمي) وأظن ذلك خطأ - 2 - وأن المسند كتاب آخر له لم يوجد. وسنن الدارمي كتاب جيد، طبع في الهند مرارًا، قال الحافظ ابن حجر: "ليس دون السنن في الرتبة، بل لو ضم إلى الخمسة لكان أولى من ابن ماجه، فإنه أمثل منه بكثير". وأما المنتقى فهو للإمام أبي محمد عبد الله بن علي بن الجارود النيسابوري، وهو كتاب جيد أيضًا، وقد طبع في الهند سنة 1309 هـ، ولو جعل سادس الكتب الستة - بدلًا من ابن ماجه - لكان أقرب إلى الصواب.

(3) يريد مسند الإمام أحمد بن حنبل ومسند الإمام إسحاق بن إبراهيم بن راهويه، والثاني مهما لم يطبع، ويوجد منه قطعة مخطوطة أوراقها 306 في دار الكتب المصرية. وأما مسند الإمام أحمد فإنه مطبوع، وقد شرعت منذ سنين في وضع فهارس منظمة له، على أحدث الطرق وأدقها، مع الكلام على أسانيده من جهة الصحة والضعف، وأسال الله أن يوفقني لإكماله. إنه سميع الدعاء.

(4) خ: مع حسن.
যদি বলা হয়: ইমাম মুসলিম বলেন: আমি সকল মহান সহিহ (صحيح) হাদিস সংকলন করিনি...

তাই তাকে নির্ভরযোগ্য (مصدق) রাবিদের স্তরে নামতে হয়েছে... যদিও তাদের হিফজ বা মুখস্থশক্তির দিক থেকে তারা উচ্চস্তরে উন্নীত নয়...

দ্বিতীয় স্তরের রাবিদের ক্ষেত্রে তিনি কেন হাসান (حسن) হওয়ার ফয়সালা দিলেন না, যেমনটি তিনি পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে দিয়েছিলেন?

উত্তরে বলুন যে, ইমাম মুসলিম এতে সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তারোপ করেছেন; সুতরাং একে হাসান (حسن) এর স্তরে নামিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

যদি বলা হয়: সুনান গ্রন্থসমূহে দুর্বল (ضعيف) এর পাশাপাশি সহিহ (صحيহ) হাদিসও রয়েছে; আর ইমাম বাগাবী সংকলন করেছেন...

মাসাবিহ গ্রন্থটি, যেখানে তিনি সুনান গ্রন্থসমূহের হাদিসগুলোকে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছেন (আমরা বলি: এটি একটি বিশেষ পরিভাষা (اصطلاح))।(১)

আবু দাউদ তার কাছে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হাদিসটি বর্ণনা করেন, এরপর অন্য কিছু না পেলে দুর্বল (ضعيف) হাদিসটি বর্ণনা করেন।

এবং ইমাম নাসাঈ এমন রাবিদের থেকে বর্ণনা করেন যাদের পরিত্যক্ত (متروك) হওয়ার বিষয়ে সকলে একমত হননি (এবং পরবর্তীগণ যুক্ত করেছেন...

পাঁচটি গ্রন্থের সাথে ইবনে মাজাহকে; বলা হয়েছে: যারা তাদের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন তাদের মধ্যে দুর্বলতা (وهن) রয়েছে)।

যিনি এগুলোর ওপর ঢালাওভাবে সহিহ (صحيح) শব্দ প্রয়োগ করেছেন তিনি শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন করেছেন (যেমনটি সুনান দারেমি ও আল-মুনতাকা গ্রন্থের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য)।(২)

আর এর নিচের স্তরে রয়েছে মুসনাদ গ্রন্থসমূহ (যার মধ্যে সুউচ্চ হলো ইমাম আহমাদ ও আল-হানজালি তথা ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ-এর মুসনাদ)।(৩)

 

‌‌মাসআলা (مسألة)

ইমাম তিরমিযী বর্ণিত কোনো মূলপাঠ (متن) এর ওপর সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হওয়ার হুকুম প্রদান এবং একে জটিল ও সমস্যাকর হিসেবে গণ্য করা।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বাগাবী (মাসাবিহুস সুন্নাহ) গ্রন্থটি রচনা করেছেন এবং এর প্রতিটি অধ্যায়কে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن)। সহিহ (صحيح) দ্বারা তিনি সেই হাদিসগুলোকে বুঝিয়েছেন যা সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম গ্রন্থে অথবা উভয়ের কোনো একটিতে রয়েছে। আর হাসান (حسن) দ্বারা তিনি চার সুনান গ্রন্থের হাদিসগুলোকে বুঝিয়েছেন। উলামায়ে কেরাম তার এই কর্মপদ্ধতির ওপর আপত্তি জানিয়েছেন; কারণ এটি এমন এক পরিভাষা (اصطلاح) যা হাদিস বিশারদদের নিকট পরিচিত নয়। কেননা সুনান গ্রন্থসমূহে সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف) হাদিস বিদ্যমান রয়েছে। লেখক এখানে এর উত্তরে বলেছেন যে, এটি তার একান্ত নিজস্ব পরিভাষা (اصطلاح)। তবে এই উত্তরের দুর্বলতা সুস্পষ্ট; কারণ এই পরিভাষাটি কিতাব পাঠকারীর মনে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যে, তিনি যাকে হাসান (حسن) বলেছেন তা মুহাদ্দিসগণের নিকট হাসান (حسن) এর সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(২) দারেমি বলতে তিনি ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দারেমির সুনান গ্রন্থটি বুঝিয়েছেন। এটি (মুসনাদ দারেমি) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তবে আমি মনে করি এটি ভুল, এবং মুসনাদ তার অন্য একটি গ্রন্থ যা বর্তমানে পাওয়া যায় না। সুনান দারেমি একটি উৎকৃষ্ট গ্রন্থ, যা ভারতে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "এটি মর্যাদার দিক থেকে সুনান গ্রন্থসমূহের চেয়ে কম নয়, বরং একে যদি পাঁচটি গ্রন্থের সাথে যুক্ত করা হতো তবে তা ইবনে মাজাহর চেয়ে অগ্রগণ্য হতো, কারণ এটি তার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।" আর আল-মুনতাকা গ্রন্থটি ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আলি ইবনুল জারুদ আন-নিশাপুরির রচনা, এটিও একটি উৎকৃষ্ট গ্রন্থ যা ১৩০৯ হিজরিতে ভারতে মুদ্রিত হয়েছে। যদি একে ইবনে মাজাহর পরিবর্তে ষষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হতো, তবে তা সত্যের অধিক নিকটবর্তী হতো।

(৩) তিনি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মুসনাদ এবং ইমাম ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন রাহাওয়াইহ-এর মুসনাদ বুঝিয়েছেন। দ্বিতীয়টি এখনো মুদ্রিত হয়নি, তবে মিসরের দারুল কুতুব-এ এর ৩০৬ পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে। আর মুসনাদ ইমাম আহমাদ মুদ্রিত হয়েছে। আমি কয়েক বছর আগে থেকে আধুনিক ও সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে এর সুশৃঙ্খল নির্ঘণ্ট তৈরির কাজ শুরু করেছি, যার সাথে এর সনদসমূহের সহিহ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) হওয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে এটি সম্পন্ন করার তাওফিক প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।

(৪) পাণ্ডুলিপিভেদে: হাসান (حسن) সহ।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١٢)
فَقِيلَ: يَعْنِي اللَغَوِي، وَيَلْزَمُ … وَصْفُ الضَّعِيفِ، وَهْوَ نُكْرٌ لَهُمُ

وَقِيلَ: بِاعْتِبَارِ تَعْدَادِ السَّنَدْ … وَفِيهِ شَيْءٌ، حَيْثُ وَصْفُ مَا انْفَرَدْ

وَقِيلَ: مَا تَلْقَاهُ يَحْوِي الْعُلْيَا … فَذَاكَ حَاوٍ أَبَدًا لِلدُّنْيَا

كُلَّ صَحِيحٍ حَسَنٌ لا يَنْعَكِسْ … (وَقِيلَ: هَذَا حَيِثُ رَأْيٌ يَلْتَبِسْ

وَصَاحِبُ النُّخْبَةِ: ذَا إِنْ انْفَرَدْ … إِسْنَادُهُ، وَالثَّانِ حَيْثُ ذُو عَدَدْ)

وَقَدْ بَدَا لِي فِيهِ مَعْنَيَانِ … لَمْ يُوجَدَا لأَهْلِ هَذَا الشَّانِ:

أَيْ حَسَنٌ لِذَاتِهِ صَحِيحُ … لِغَيْرِهِ، لَمَّا بَدَا التَّرْجِيحُ

أَوْ حَسَنٌ عَلَى الَّذِي بِهِ يُحَدّ … وَهُو أَصَحُّ مَا هُنَاكَ قَدْ وَرَدْ(1)

وَالْحُكْمُ بِالصَّحِّةِ لِلإِسْنَادِ … وَالحُسْنِ دُونَ المَتْنِ لِلنُّقَادِ

(لِعِلَّةٍ أَوْ لِشُذُوذٍ) وَاحْكُمِ … لِلْمَتْنِ إِنْ أُطْلَقَ ذُو حِفْظٍ نُمِي

(وَلِلْقَبُولِ يُطْلِقُونَ جَيِّدَا … وَالثَّابِتَ الصَّالِحَ وَالمُجَوَّدَا

وَهَذِهِ بَيْنَ الصَّحِيحِ وَالْحَسَنْ … وَقَرَّبُوا مُشَبَّهَاتٍ مِنْ حَسَنْ

وَهَلْ يُخَصُّ بِالصَّحِيحِ الثَّابِتُ … أَوْ يَشْمَلُ الْحُسْنَ؟ نِزَاعٌ ثَابِتُ)

 

‌‌الضعيف

هُوَ الَّذِي عَنْ صِفَةِ الحُسْنِ خَلَا … (وَهْوَ عَلَى مَرَاتِبٍ قَدْ جُعِلَا)

وَابْنُ الصَّلاحِ فَلَهُ تَعْدِيدُ … إِلَى كَثِيرٍ (وَهْوَ لا يُفِيدُ)

ثُمَّ عَنِ الصِّدِّيقِ الأَوْهَى كَرَّهْ: … صَدَقَةٌ عَنْ فَرْقَدٍ عَنْ مُرَّة(2)

وَالْبَيْتِ. عَمْرٌ وَذَا عَنِ الْجُعْفِيِّ … عَنْ حَارِثِ الأَعْوَرِ عَنْ عَلِيِّ(3)

--------------------------------------------

(1) الذي أراه أن كل هذه الأجوبة عن قول الترمذي: "حسن صحيح" عقب أحاديث كثيرة في سننه -؛ فيها تكلف ظاهر، وتقييد له باصطلاح لعله لم يتقيد به، وما أظنه يريد بهذا إلا تأكيد صحة الحديث: بالترقي به من الحسن إلى الصحة. والله أعلم بالصواب.

(2) أوهى الأسانيد عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه: ما رواه صدقة بن موسى الدقيقي عن أبي يعقوب فرقد بن يعقوب السبخي - بسين مهملة وباء موحدة مفتوحتين وكسر الخاء المعجمة - عن مرة الطيب بن شراحيل الهمداني عن أبي بكر، وضعف الإسناد من أجل الكلام في صدقة وفرقد، ولم يحسن المؤلف في هذا، إذ أنه يوهم أن الإسناد من أوهى الأسانيد، مع أن ضعفهما محتمل، بل قد وثقهما بعض الأئمة.

(3) أوهى أسانيد أهل البيت: عمرو بن شمر الجعفي الشيعي عن جابر بن يزيد الجعفي عن الحارث بن =
বলা হয়েছে: অর্থাৎ এর অর্থ ভাষাগত; আর এতে দুর্বল (ضعيف) এর বিশেষণ যুক্ত হওয়া আবশ্যক হয়, যা তাদের নিকট একটি অপছন্দনীয় বিষয়।

আবার বলা হয়েছে: এটি সনদ (سند) এর সংখ্যার আধিক্যের বিবেচনায়; তবে এতে কিছুটা আপত্তি আছে, যেহেতু তা একক বর্ণনার ক্ষেত্রেও বর্ণিত হয়েছে।

বলা হয়েছে: আপনি যা পাবেন তা উচ্চতর গুণাবলি ধারণ করে; সুতরাং তা সর্বদা নিম্নতর গুণাবলিকেও ধারণ করে।

প্রত্যেক বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসই হাসান (حسن), এর বিপরীতটি নয়। (বলা হয়েছে: এটি সেখানে প্রযোজ্য যেখানে দৃষ্টিভঙ্গি অস্পষ্ট হয়ে যায়।

নুখবাহ-এর লেখক বলেছেন: এটি তখন হয় যখন এর সনদ (إسناد) একক হয়, আর দ্বিতীয়টি তখন হয় যখন তা একাধিক হয়)।

এ বিষয়ে আমার কাছে দুটি অর্থ প্রতিভাত হয়েছে, যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট পাওয়া যায়নি:

অর্থাৎ, যা মূলত নিজস্ব সত্ত্বায় হাসান (حسن لذاته) এবং অন্যের কারণে বিশুদ্ধ (صحيح لغيره), যখন কোনো একটির প্রাধান্য প্রকাশ পায়।

অথবা হাসান (حسن) সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী যা দ্বারা একে সংজ্ঞায়িত করা হয়; এবং সেখানে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح)।(১)

সমালোচকদের নিকট বিশুদ্ধতা (صحة) এবং হাসান (حسن) হওয়ার হুকুম কেবল সনদ (إسناد) এর জন্য, মতন (متن) এর জন্য নয়।

(কোনো ত্রুটি (علة) বা বিচ্যুতি (شذوذ) এর কারণে)। আর মতনের (متن) হুকুম তখনই প্রদান করো যখন তা অসংকোচে কোনো মুখস্থকারী হাফেজ থেকে বর্ণিত হয়।

(এবং গ্রহণযোগ্যতার (قبول) জন্য তারা উত্তম (جيد), সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت), উপযোগী (صالح) এবং পরিমার্জিত (مجود) শব্দগুলো ব্যবহার করেন।

আর এগুলো বিশুদ্ধ (صحيح) এবং হাসান (حسن) এর মধ্যবর্তী পর্যায়; এবং তারা হাসান (حسن) এর সদৃশ শব্দগুলোকে এর নিকটবর্তী করেছেন।

আর সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) শব্দটি কি কেবল বিশুদ্ধ (صحيح) এর জন্য নির্দিষ্ট, নাকি তা হাসান (حسن) কেও অন্তর্ভুক্ত করে? এ নিয়ে মতভেদ বিদ্যমান রয়েছে।)

 

‌‌দুর্বল (الضعيف)

এটি তা-ই যা হাসান (حسن) এর বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত; (এবং একে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে)।

ইবনুল সালাহ এর অনেকগুলো প্রকারভেদ করেছেন (তবে তা খুব একটা ফলপ্রসূ নয়)।

অতঃপর আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে দুর্বলতম (الأوهى) বর্ণনাসূত্র সম্পর্কে তারা অপছন্দ প্রকাশ করেছেন: যা মুররাহ থেকে ফারকাদ হয়ে সাদাকাহ বর্ণনা করেছেন।(২)

এবং আহলে বাইত থেকে: আমর, আর তিনি জু'ফী থেকে, তিনি হারিস আল-আওয়ার থেকে এবং তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।(৩)

--------------------------------------------

(১) আমি যা মনে করি তা হলো, ইমাম তিরমিযী তার সুনান গ্রন্থে অনেক হাদিসের শেষে যে "হাসান সহিহ" বলেছেন—সে সম্পর্কে এই সব উত্তরগুলোতে স্পষ্ট কৃত্রিমতা রয়েছে এবং একে এমন এক পরিভাষার সাথে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যার প্রতি হয়তো তিনি দায়বদ্ধ ছিলেন না। আমি মনে করি না যে তিনি এর মাধ্যমে হাদিসটির বিশুদ্ধতাকে হাসান থেকে বিশুদ্ধ স্তরে উন্নীত করার মাধ্যমে কেবল সুনিশ্চিত করতে চেয়েছেন। আর আল্লাহই সঠিক জ্ঞান রাখেন।

(২) আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে দুর্বলতম সনদ (أوهى الأسانيد) হলো: যা সাদাকাহ ইবনে মুসা আদ-দাকিকি আবু ইয়াকুব ফারকাদ ইবনে ইয়াকুব আস-সাবখি থেকে—যা সিন এবং বা বর্ণে জবর এবং খা বর্ণে যের যোগে গঠিত—তিনি মুররাহ আত-তৈয়্যিব ইবনে শুরাহবিল আল-হামদানি থেকে, তিনি আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। সাদাকাহ ও ফারকাদ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে এই সনদটি (إسناد) দুর্বল (ضعيف); লেখক এটি উল্লেখ করে ভালো করেননি, কারণ এটি ধারণা দেয় যে এই সনদটি দুর্বলতম বর্ণনাসূত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত, অথচ তাদের উভয়ের দুর্বলতা (ضعف) সহনীয় পর্যায়ের, বরং কোনো কোনো ইমাম তাদের নির্ভরযোগ্য (وثق) বলেও অভিহিত করেছেন।

(৩) আহলে বাইতের দুর্বলতম সনদ (أوهى أسانيد) হলো: শিয়া আমর ইবনে শামির আল-জু'ফী, জাবির ইবনে ইয়াজিদ আল-জু'ফী থেকে, তিনি হারিস থেকে...
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١٣)
وَلأَبِي هُرَيْرَةَ: السَّرِيُّ عَنْ … دَاوُدَ عَنْ وَالِدِهِ أَيَّ وَهَن(1)

لأَنَسٍ: دَاوُدُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ … أَبَانَ(2)، وَاعْدُدْ لأَسَانِيدِ اليَمَنْ:

حَفْصٌ عَنَيْتُ العَدَنِيْ عَنِ الحَكَمْ(3) … وَغَيْرُ ذَاكَ مِنْ تَرَاجِمٍ تُضَمّ)

 

‌‌المُسند

الْمُسْنَدُ: الْمَرْفُوعُ ذَا اتِّصَالِ … وَقِيلَ: أَوَّلٌ، وَقِيلَ: التَّالِي(4)

 

‌‌المرفوع والموقوف والمقطوع

وَمَا يُضَافُ لِلنَّبِي الْمَرْفُوعُ لَوْ … مِنْ تَابِعٍ، أَوْ صَاحِبٍ وَقْفًا رَأَوْا

سَوَاءٌ الْمَوْصُولُ وَالْمَقْطُوعُ فِي … ذَيْنِ، وَجَعْلُ الرَّفْعِ لِلْوَصْلِ قُفِي(5)

--------------------------------------------

= عبد الله الأعور الهمداني عن علي عليه السلام، وأشدهم ضعفًا عمرو بن شمر، فإنه رافضي كذاب يشتم الصحابة، وأما جابر والحارث ففيهما خلاف قديم معروف. وللشيعة أسانيد أوهى من هذا جدًّا، يراها من يقرأ في كتبهم ويعجب منها.

(1) أوهى الأسانيد عن أبي هريرة: السري بن إسماعيل عن داود بن يزيد الأودى عن أبيه عن أبي هريرة. والسري: بفتح السين المهملة وكسر الراء، وفي الأصل "السدي" بالدال. وفي المتن الذي شرحه الشيخ محمد محفوظ "البسري" وزاد الشارح أنه "ابن سليمان"، وفي التدريب للناظم (ص 59) "البسري بن إسماعيل" وكل هذا خطأ، والصواب "السري بن إسماعيل" كما قلنا.

(2) أوهى الأسانيد عن أنس: داود بن المحبر - بفتح الحاء المهملة وتشديد الباء الموحدة المفتوحة - بن قحذم - بفتح القاف وإسكان الحاء المهملة وفتح الذال المعجمة - عن أبيه عن أبان بن أبي عياش.

(3) أوهى أسانيد اليمانيين: حفص بن عمر بن ميمون العدني عن الحكم بن أبان العدني عن عكرمة عن ابن عباس.

(4) المسند هو المرفوع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمسند المتصل ولو ظاهرًا. وذهب ابن عبد البر إلى أن المسند هو المرفوع، سواء أكان متصلًا أم غير متصل، وذهب الخطيب وغيره إلى أن المسند هو المتصل إلى المروي عنه، سواء أكان إلى النبي صلى الله عليه وسلم أم إلى غيره من الصحابة والتابعين، فيدخل فيه الموقوف والمقطوع. والصواب الأول، وهو الذي ارتضاه أكثر العلماء بالحديث، وعليه عملهم في كتبهم.

(5) ما نسب للنبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير - يسمى المرفوع، سواء حكاه عنه صحابي أو تابعي. وما نسب للصحابي من قول أو فعل أو غيره يسمى موقوفًا. وسواء فيهما أكان الإسناد موصولًا أم منقطعًا. وبعض المحدثين يستعمل المرفوع في مقابلة المرسل، يقول: رفعه فلان وأرسله فلان، فهو يريد بالمرفوع المتصل، وهذا تعبير بشيء من التساهل، لا يقصد منه التزام الاصطلاح.
وَلأَبِي هُرَيْرَةَ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে দুর্বলতম (أوهى) সনদ: সারী... দাউদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে - এটি অত্যধিক দুর্বল (أوهى)(1)

আনাস (রা.) থেকে: দাউদ তার পিতা থেকে, তিনি আবান(2) থেকে। আর ইয়েমেনি সনদগুলোর (أسانيد) গণনা করো:

হাফস - আমি আদানিকে বুঝিয়েছি - হাকাম(3) থেকে... এ জাতীয় আরও অনেক জীবনী বা বর্ণনা রয়েছে যা একত্রিত করা হয়েছে।

 

‌‌মুসনাদ

মুসনাদ: এটি এমন মারফু (مرفوع) হাদিস যা নিরবচ্ছিন্ন (اتصال) সনদযুক্ত... কেউ বলেছেন: এটি প্রথম মত, আর কেউ বলেছেন: পরবর্তীটি(4)

 

‌‌মারফু, মাওকুফ ও মাকতু

নবী (সা.)-এর দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তা মারফু (مرفوع), চাই তা তাবেয়ী থেকে হোক অথবা সাহাবী থেকে; তারা একে মাওকুফ (موقوف) হিসেবে গণ্য করেছেন।

এই দুই প্রকারের ক্ষেত্রে সনদ সংযুক্ত (موصول) হোক বা বিচ্ছিন্ন (مقطوع) - উভয়ই সমান; তবে 'রাফ' বা মারফু (رفع) শব্দটি সাধারণত সংযুক্ত (وصل) হওয়ার অর্থেই অনুসরণ করা হয়েছে(5)

--------------------------------------------

= আবদুল্লাহ আল-আওয়ার আল-হামদানি, আলী (আ.) থেকে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্বল (ضعفًا) হলেন আমর ইবনুল শামির; তিনি একজন রাফিজি (رافضي) ও চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) যিনি সাহাবীদের গালি দেন। আর জাবির ও হারিস সম্পর্কে প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে। শিয়াদের নিকট এর চেয়েও অত্যধিক দুর্বল (أوهى) সনদ (أسانيد) রয়েছে, যা তাদের কিতাবসমূহে পাঠ করলে বিস্ময় জাগে।

(1) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে দুর্বলতম (أوهى) সনদ (أسانيد): সারী ইবনে ইসমাইল, দাউদ ইবনে ইয়াজিদ আল-আওদি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। 'সারী' শব্দটি সিন বর্ণের ওপর ফাতহা এবং রা বর্ণের নিচে কাসরা সহযোগে। মূল পাঠে 'সুদ্দী' (দাল সহযোগে) রয়েছে। শেখ মুহাম্মদ মাহফুজ যে মত ব্যাখ্যা করেছেন তাতে 'বুসরী' আছে এবং ব্যাখ্যাকারক এটি 'ইবনে সুলাইমান' বলে উল্লেখ করেছেন। নাযিমের 'তদরীবে' (পৃ. ৫৯) 'বুসরী ইবনে ইসমাইল' রয়েছে, কিন্তু এ সবই ভুল। সঠিক হলো 'সারী ইবনে ইসমাইল'।

(2) আনাস (রা.) থেকে দুর্বলতম (أوهى) সনদ (أسانيد): দাউদ ইবনুল মুহাব্বার - হা বর্ণের ফাতহা এবং বা বর্ণের তাশদীদ ও ফাতহা সহযোগে - ইবনে কাহযাম থেকে - কাফ বর্ণের ফাতহা, হা বর্ণের সুকুন এবং যাল বর্ণের ফাতহা সহযোগে - তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে।

(3) ইয়েমেনিদের দুর্বলতম (أوهى) সনদ (أسانيد): হাফস ইবনে ওমর ইবনে মাইমুন আল-আদানি, হাকাম ইবনে আবান আল-আদানি থেকে, তিনি ইকরামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে।

(4) মুসনাদ হলো সেই হাদিস যা রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হিসেবে পৌঁছেছে এবং যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (اتصال), যদিও তা বাহ্যিকভাবে হয়। ইবনে আবদিল বার-এর মতে, মুসনাদ হলো মারফু (مرفوع), চাই তা নিরবচ্ছিন্ন (اتصال) হোক বা না হোক। আল-খাতিব ও অন্যান্যদের মতে, মুসনাদ হলো এমন বর্ণনা যা বর্ণনাকারী পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (اتصال), চাই তা নবী (সা.) পর্যন্ত হোক অথবা অন্য কোনো সাহাবী বা তাবেয়ী পর্যন্ত; ফলে এতে মাওকুফ (موقوف) এবং মাকতু (مقطوع) হাদিসও অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে প্রথম মতটিই সঠিক, যা অধিকাংশ হাদিস বিশারদগণ পছন্দ করেছেন এবং তাদের কিতাবসমূহে এর ওপর আমল করেছেন।

(5) নবী (সা.)-এর দিকে যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়—চাই তা কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি হোক—তাকে মারফু (مرفوع) বলা হয়; চাই তা সাহাবী বর্ণনা করুন বা তাবেয়ী। আর সাহাবীর দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তাকে মাওকুফ (موقوف) বলা হয়। এই দুই প্রকারের ক্ষেত্রেই সনদ সংযুক্ত (موصول) বা বিচ্ছিন্ন (منقطع) উভয়ই হতে পারে। কোনো কোনো মুহাদ্দিস মুরসাল (مرسل)-এর বিপরীতে মারফু (مرفوع) শব্দটি ব্যবহার করেন। যেমন তারা বলেন: "অমুক একে মারফু (رفع) করেছেন এবং অমুক একে মুরসাল (أرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।" এখানে মারফু (مرفوع) বলতে তারা সংযুক্ত (متصل) হওয়া বুঝিয়েছেন। এটি একটি শিথিল অভিব্যক্তি, এখানে পারিভাষিক অর্থের বাধ্যবাধকতা উদ্দেশ্য নয়।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١٤)
وَمَا يُضَفْ لِتَابِعٍ مَقْطُوعُ … وَالْوَقْفُ إِنْ قَيَّدْتَهُ مَسْمُوعُ(1)

وَلْيُعْطَ حُكْمَ الرَّفْعِ فِي الصَّوابِ … نَحْوُ: مِنَ السُّنَّةِ، مِنْ صَحَابِي

كَذَا: أُمِرْنَا، وَكَذَا: كُنَّا نَرَى … فِي عَهْدِهِ، أَوْ عَنْ إِضَافَةٍ عَرَا

(ثَالِثُهَا: إِنْ كَانَ لا يَخْفَى، وَفِي … تَصْرِيحِهِ بِعِلْمِهِ الْخُلْفُ نُفِي)

وَنَحْوُ: كَانُوا يَقْرَعُونَ بَابَهُ … بِالظُّفْرِ، فِيمَا قَدْ رَأَوْا صَوَابَهْ

وَمَا أَتَى وَمِثْلُهُ بِالرَّأْيِ لَا … يُقَالُ (إِذْ عَنْ سَالِفٍ مَا حُمِلَا)

وَهكَذَا تَفْسِيرُ مَنْ قَدْ صَحِبَا … فِي سَبَبِ النُّزُولِ (أَوْ رَأْيًا أَبَى

وَعَمَّمَ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ … وَخَصَّ فِي خِلافِهِ كَمَا حُكِي)

وَقَالَ: لَا، مِنْ قَائِلٍ مَذْكُورِ … (وَقَدَ عَصَى الْهَادِيَ فِي الْمَشْهُورِ)

وَهَكَذَا: يَرْفَعُهُ، يَنْمِيهِ، … رِوَايَةً، يَبْلُغْ بِهِ، يَرْوِيهِ(2)

وَكُلُّ ذَا مِنْ تَابِعِيٍّ مُرْسَلُ … (لا رَابِعٌ جَزْمًا) لَهُمْ، وَالأَوَّلُ

صَحَّحَ فِيهِ (النَّوَوِيُّ) الْوَقْفَ … (وَالْفَرْقُ فِيهِ وَاضِحٌ لا يَخْفَى)(3)

--------------------------------------------

(1) أما ما كان موقوفًا على التابعي فإنه يسمى "المقطوع" وهو غير "المنقطع" الذي سيأتي. وقد يعبر عنه بعضهم بالموقوف، ولكن يقيده فيقول: هذا موقوف على ابن المسيب أو على نافع مثلًا.

(2) خ: وهكذا يرفعه يبلغ به * رواية ينميه والذي سبه.

(3) من أول البيت (123) إلى هنا ألفاظ ترد كثيرًا في الأحاديث يريد أن يبين حكمها، وهل تعتبر الأحاديث بها مرفوعة أولًا، وفيها تفصيل كثير في كتب المصطلح. والحق الذي نذهب إليه أن الصحابي إذا روى حديثًا وقال التابعي الذي رواه عنه: "يرفعه" أو "ينميه" أو "رواية" أو "يبلغ به" أو "يرويه" أو قال الصحابي: "من السنة كذا" أو "أمرنا بكذا" أو "نهينا عن كذا" أو "كنا نفعل كذا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، سواء أصرح بأنه علم أم لم يصرح، أو "من فعل كذا فقد عصى رسول الله صلى الله عليه وسلم " أو حكى شيئًا من أسباب نزول القرآن، وكذلك قول أنس - فيما رواه البخاري في الأدب المفرد - والمغيرة بن شعبة - فيما رواه البيهقي في المدخل -: "كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يفرعون بابه بالأظافير". كل هذا ونحوه مرفوع، وإن خالف في بعضه بعض أهل العلم. وأن قول الصحابي: "كنا نفعل كذا" ولم يضفه إلى عهد النبي صلى الله عليه وسلم -: مرفوع أيضًا فيما رجحه الحاكم والرازي والآمدي والنووي في المجموع والعراقي وابن حجر وغيرهم، وأما تفسير الصحابي لآية من القرآن فإنا نرجح أنه لا يعطى حكم الرفع، وإن كان مما لا يقال بالرأي، لأن الصحابة اجتهدوا كثيرًا في تفسير القرآن. وأما ما يحكيه بعض الصحابة عن أخبار الأمم قبلنا فإنه لا يكون مرفوعًا حكمًا؛ لأن كثيرًا منهم رضي الله عنهم كان يروي الإسرائيليات عن أهل الكتاب على سبيل الموعظة والذكرى، لا بمعنى أنهم يعتقدون صحتها أو يستجيزون نسبتها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، حاشا وكلا، وأما التابعون فإن المثل الأولى التي لها حكم الرفع من الصحابي -: إذا جاءت عن تابعي كانت أحاديث مرسلة، وأما تفسيرهم وحكاياتهم عن الأمم قبلنا فإنها أشد بعدًا من أن تعطى حكم المرفوع. كما هو واضح. ولله الحمد.
যা তাবেয়ীর (تابعي) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তা হলো মাকতু (مقطوع) … আর মওকুফ (موقوف) শব্দটিকে যদি আপনি সীমাবদ্ধ করে ব্যবহার করেন তবে তা গ্রহণযোগ্য(১)

সঠিক মতানুযায়ী একে মারফু (الرفع) এর বিধান প্রদান করা হবে … যেমন: সাহাবীর (صحابي) উক্তি "সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত"।

অনুরূপভাবে: "আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে", এবং অনুরূপভাবে: "আমরা মনে করতাম" … তাঁর যুগে, অথবা যদি সম্বন্ধের কথা উল্লেখ না থাকে।

(তৃতীয়টি: যদি বিষয়টি গোপন না থাকে, এবং … তাঁর জ্ঞানের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনার ক্ষেত্রে মতবিরোধ নিরসন করা হয়েছে।)

এবং অনুরূপ: "তারা তাঁর দরজায় করাঘাত করত" … নখ দিয়ে, যে বিষয়ে তারা সঠিক মনে করত।

এবং যা এসেছে এবং যার অনুরূপ বিষয়ে ব্যক্তিগত রায় (الرأي) চলে না … তাকে বলা হয় (যেহেতু তা পূর্ববর্তীদের থেকে গ্রহণ করা হয়নি)।

আর এভাবেই সেই সাহাবীর (صحبا) তাফসীর... যা শানে নুযূল বা নাযিলের প্রেক্ষাপট (سبب النزول) সম্পর্কে (অথবা যা রায় (رأيا) বহির্ভূত)।

আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে একে সাধারণ রূপ দিয়েছেন … এবং এর বিপরীতে কেউ কেউ একে খাস বা নির্দিষ্ট করেছেন যেমনটি বর্ণিত হয়েছে।

এবং তিনি বলেছেন: না, জনৈক নির্দিষ্ট বক্তার পক্ষ থেকে … (এবং প্রসিদ্ধ মতে তিনি হেদায়েতকারীর অবাধ্যতা (عصى) করেছেন)।

এবং অনুরূপ শব্দাবলি: "তিনি একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন (يرفعه)", "তিনি একে সম্বন্ধযুক্ত করেন (ينميه)", … "বর্ণনা (رواية) হিসেবে", "তিনি এর মাধ্যমে পৌঁছেছেন (يبلغ به)", "তিনি এটি বর্ণনা করেন (يرويه)"।(২)

এবং তাবেয়ীর (تابعي) পক্ষ থেকে এই সবগুলিই মুরসাল (مرسل) … (দৃঢ়ভাবে তাদের নিকট চতুর্থ কোনো প্রকার নেই), এবং প্রথমটি-

ইমাম নববী তাতে মওকুফ (الوقف) হওয়াকে সঠিক বলেছেন … (এবং এ ক্ষেত্রে পার্থক্যটি স্পষ্ট, যা গোপন নয়)।(৩)

--------------------------------------------

(১) যা তাবেয়ীর (تابعي) ওপর মওকুফ (موقوف) হয়, তাকে মাকতু (مقطوع) বলা হয়। এটি মুনকাতি বা বিচ্ছিন্ন (المنقطع) থেকে ভিন্ন যা সামনে আসবে। তবে কেউ কেউ একে মওকুফ (موقوف) হিসেবেও ব্যক্ত করেন, কিন্তু তা সীমাবদ্ধ করে বলেন: যেমন এটি ইবনুল মুসায়্যিব বা নাফে-এর ওপর মওকুফ (موقوف)।

(২) পাণ্ডুলিপি সংস্করণ: এভাবে তিনি একে মারফু (يرفعه) করেন, একে পৌঁছে দেন (يبلغ به) * বর্ণনা (رواية) হিসেবে, একে সম্বন্ধযুক্ত করেন (ينميه) এবং যা তার সদৃশ।

(৩) ১২৩ নম্বর কবিতা থেকে এখান পর্যন্ত এমন কিছু শব্দাবলি যা হাদিসে প্রচুর ব্যবহৃত হয়, লেখক সেগুলোর বিধান স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, এগুলোর মাধ্যমে হাদিসগুলো মারফু (مرفوعة) হিসেবে গণ্য হবে কি না। পরিভাষা শাস্ত্রের (المصطلح) বইসমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। আমরা যে সত্য মতটি গ্রহণ করি তা হলো—সাহাবী যখন কোনো হাদিস বর্ণনা করেন এবং তাবেয়ী (التابعي) তাঁর থেকে বর্ণনা করার সময় বলেন: "তিনি একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন (يرفعه)", "তিনি একে সম্বন্ধযুক্ত করেন (ينميه)", "বর্ণনা (رواية) হিসেবে", "তিনি এর মাধ্যমে পৌঁছেছেন (يبلغ به)", "তিনি এটি বর্ণনা করেন (يرويه)"; অথবা সাহাবী (الصحابي) বলেন: "সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত এমন", "আমাদের এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (أمرنا)", "আমাদের এমন নিষেধ করা হয়েছে (نهينا)", অথবা "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এমনটি করতাম (كنا نفعل)"—তিনি তা অবগত হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন বা না করুন—অথবা "যে এমনটি করল সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্যতা (عصى) করল", অথবা কুরআনের শানে নুযূল বা নাযিলের প্রেক্ষাপট (أسباب نزول) বর্ণনা করা—অনুরূপভাবে আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি (যা ইমাম বুখারী আল-আদাব আল-মুফরাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন) এবং মুগীরা ইবনে শু'বাহর উক্তি (যা ইমাম বায়হাকী আল-মাদখাল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন): "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ নখ দিয়ে তাঁর দরজায় করাঘাত করতেন"—এই সবই এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো মারফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য হবে, যদিও কোনো কোনো আলেম এর কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আর সাহাবীর উক্তি: "আমরা এমনটি করতাম" কিন্তু তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেননি—তাও মারফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য হবে যা আল-হাকিম, রাযী, আমেদী, আল-মাজমু গ্রন্থে ইমাম নববী, ইরাকী, ইবনে হাজার এবং অন্যান্যরা প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে কুরআনের আয়াত সম্পর্কে সাহাবীর তাফসীরকে আমরা প্রাধান্য দিই যে, তা মারফু (الرفع) এর বিধান পাবে না, যদিও তা এমন বিষয় হয় যা ব্যক্তিগত রায় (الرأي) দিয়ে বলা সম্ভব নয়; কারণ সাহাবীগণ কুরআনের তাফসীরে প্রচুর ইজতিহাদ করেছেন। আর সাহাবীগণ আমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের খবর সম্পর্কে যা বর্ণনা করেন, তা বিধানগতভাবে মারফু (مرفوعًا حكمًا) হবে না; কারণ তাঁদের অনেকে রাযিয়াল্লাহু আনহুম উপদেশ ও স্মারক হিসেবে আহলে কিতাবদের থেকে ইসরাঈলী বর্ণনা (الإسرائيليات) বর্ণনা করতেন। এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সেগুলোকে সহীহ মনে করতেন বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা বৈধ মনে করতেন, কক্ষনোই না। আর তাবেয়ীদের (التابعون) ক্ষেত্রে কথা হলো—সাহাবীর পক্ষ থেকে যে উদাহরণগুলো মারফু (الرفع) এর বিধান পায়, সেগুলো যদি তাবেয়ীর পক্ষ থেকে আসে তবে তা মুরসাল (مرسلة) হাদিস হিসেবে গণ্য হবে। আর তাদের তাফসীর ও পূর্ববর্তী জাতিদের কাহিনীগুলো মারফু (المرفوع) এর বিধান পাওয়ার থেকে আরও বেশি দূরে থাকবে, যেমনটি স্পষ্ট। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌الموصول والمنقطع والمعضل

مَرْفُوعًا أَوْ مَوْقُوفًا إِذْ يَتَّصِلُ … إِسْنَادُهُ: الْمَوْصُولُ وَالمُتَّصِل

وَوَاحِدٌ قَبْلَ الصَّحابِيِّ سَقَطْ … مُنْقَطِعٌ، قِيلَ: أَوِ الصَّاحِبِ قَطْ

(مُنْقَطِعٌ مِنْ مَوْضِعَيْنِ اثْنَيْنِ لا … تَوَالِيًا) وَمُعْضَلٌ حَيْثُ وَلا

وَمِنْهُ حَذْفُ صَاحِبٍ وَالْمُصْطَفَى … وَمَتْنُهُ بِالتَّابِعِيِّ وُقِفَا(1)

 

‌‌المرسل

الْمُرْسَلُ الْمَرْفُوعُ بِالتَّابِعِ، أَوْ … ذِي كِبَرٍ، أَوْ سَقْطُ رَاوٍ، قَدْ حَكَوْا

أَشْهَرُهَا الأَوَّلُ، ثُمَّ الْحُجَّةُ … بِهِ رَأَي الأَئِمَّةُ (الثَّلاثَةُ)

وَرَدُّهُ الأَقْوَى، وَقَوْلُ الأَكْثَرِ … كَالشَّافِعِي، وَأَهْلِ عِلْمِ الْخَبَرِ

نَعَمْ بِهِ يُحْتَجُّ إِنْ يَعْتَضِدِ … بِمُرْسَلٍ آخَرَ أَوْ بِمُسْنَدِ

(أَوْ قَوْلِ صَاحِبٍ أَوْ الْجُمْهُورِ أَوْ … قَيْسٍ(2) وَمِنْ شُرُوطِهِ كَمَا رَأَوْا

--------------------------------------------

(1) ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم مرفوعًا، أو عن صحابي موقوفًا، وكان إسناده متصلًا -: يسمى "الموصول" أو "المتصل". وأما إذا كان المروي من كلام التابعين فمن دونهم واتصل إسناده فلا يسمى بذلك من غير قيد، وإنما يجوز أن يقال: "هذا متصل إلى فلان". وإذا سقط من الإسناد واحد قبل الصحابي سمي "منقطعًا". وقيل: يسمى بذلك أيضًا إذا سقط الصحابي، فكأن هذا القائل جعل المرسل داخلًا في المنقطع، وهو غير جيد. وإذا سقط من الإسناد اثنان: فإن لم يكونا متواليين سمي "منقطعًا" أيضًا، وإن كانا متواليين سمي "معضلا". ومما اعتبره المؤلف من المعضل ما يرويه تابع التابعي عن التابعي موقوفًا عليه؛ لأنه حذف منه الصحابي ولم يذكر فيه النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا على إطلاقه غير جيد، فإن ما يقوله التابعي كلام من كلامه فقط، حتى ولو كان مما ليس للرأي فيه مجال، فإنه لعله نقله عن ضعيف أو عن الإسرائيليات، أو لعله رأى أن ما يقوله يدخل تحت الاجتهاد. والصحيح ما عبر به النووي في التقريب، قال:"وإذا روى تابع التابعي عن التابعي حديثًا وقفه عليه وهو عند ذلك التابعي مرفوع متصل فهو معضل وهذا الرأي رأي الحاكم، وقد ذكر له مثالًا حديث الأعمش عن الشعبي قال: "يقال للرجل يوم القيامة: عملت كذا وكذا؟ فيقول: ما عملته، فيختم على فيه الحديث، أعضله الأعمش، ووصله فضيل بن عمرو عن الشعبي عن أن قال: "كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم " فذكر الحديث. وقد رواه مسلم من طريق فضيل بن عمرو، وهذه الصورة بأنس "المرسل" أولى، بل هي داخلة فيه. وإطلاق اسم "المعضَل" عليها جائز أيضًا، كما هو ظاهر.

(2) أي قيس، قال الجوهري: وقست الشيء بغيره وعلى غيره أقيسه قيسًا وقياسًا
‌সংযুক্ত (الموصول), বিচ্ছিন্ন (المنقطع) এবং অতি-বিচ্ছিন্ন (المعضل)

নবিজি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া (مرفوعًا) হোক কিংবা সাহাবি পর্যন্ত থেমে যাওয়া (موقوفًا), যখন তার... সনদটি অবিচ্ছিন্ন থাকে, তখন তাকে বলা হয়: মওসুল (الموصول) এবং মুত্তাসিল (المتصل)।

আর সাহাবির আগে যদি একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়ে... তবে তাকে বিচ্ছিন্ন (منقطع) বলা হয়। বলা হয়েছে: অথবা কেবল সাহাবি বাদ পড়লেও তাকে এই নামেই ডাকা হয়।

(বিচ্ছিন্ন (منقطع) যদি দুটি ভিন্ন স্থান থেকে হয় এবং... তা ধারাবাহিক না হয়)। আর যেখানে ধারাবাহিক (দুজন) বাদ পড়ে, তাকে অতি-বিচ্ছিন্ন (معضل) বলা হয়।

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো সাহাবিকে বাদ দেওয়া এবং নবিজি পর্যন্ত পৌঁছানো... আবার হাদিসের মূল পাঠটি (متن) তাবেয়ি (تابعي) পর্যন্ত গিয়ে থেমে যাওয়া (وُقف)।(১)

 

‌‌মুরসাল (المرسل)

অপ্রসিদ্ধ-বিচ্ছিন্ন (المرسل) হলো সেই হাদিস যা তাবেয়ি (تابعي) সরাসরি নবিজির দিকে সম্পর্কিত (مرفوع) করেছেন, অথবা... কোনো প্রবীণ তাবেয়ি থেকে বর্ণিত হওয়া, কিংবা কোনো বর্ণনাকারী বাদ পড়া—এমনটি উলামাগণ উল্লেখ করেছেন।

এর মধ্যে প্রথমটিই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, এরপর এটি দলিল (حجة) হিসেবে গৃহীত হওয়ার বিষয়টি... তিন ইমামের (মালিক, আবু হানিফা ও আহমদ) নিকট পছন্দনীয় মত।

তবে একে প্রত্যাখ্যান করাই অধিক শক্তিশালী এবং অধিকাংশের অভিমত... যেমন ইমাম শাফেয়ি এবং হাদিস বিশারদগণের (أهل علم الخبر) মত।

হ্যাঁ, এটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে যদি তা সমর্থিত হয়... অন্য কোনো অপ্রসিদ্ধ-বিচ্ছিন্ন (بمرسل) বর্ণনা কিংবা কোনো মুসনাদ হাদিসের মাধ্যমে।

(অথবা কোনো সাহাবির বক্তব্য অথবা জমহুর উলামার মত কিংবা... কিয়াস (قيس) দ্বারা)। আর এর শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো যেমনটি তারা অভিমত দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) যা নবিজি (صلى الله عليه وسلم) থেকে নবিজি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, অথবা কোনো সাহাবি থেকে সাহাবি পর্যন্ত থেমে যাওয়া (موقوفًا) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং তার সনদটি অবিচ্ছিন্ন ছিল—তাকে "সংযুক্ত (الموصول)" বা "অবিচ্ছিন্ন (المتصل)" বলা হয়। আর যদি বর্ণিত বিষয়টি তাবেয়িদের বক্তব্য হয় এবং তার পরবর্তী স্তরের কারো ক্ষেত্রে সনদটি অবিচ্ছিন্ন থাকে, তবে তাকে কোনো শর্ত ছাড়া উক্ত নামে ডাকা যাবে না। বরং সেক্ষেত্রে বলা জায়েজ যে: "এটি অমুক পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন (متصل)"। আর যদি সনদ থেকে সাহাবির আগে একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়ে, তবে তাকে "বিচ্ছিন্ন (منقطع)" বলা হয়। কেউ কেউ বলেন: সাহাবি বাদ পড়লেও তাকে এই নামে অভিহিত করা হয়; যেন এই প্রবক্তা অপ্রসিদ্ধ-বিচ্ছিন্ন (المرسل) হাদিসকে বিচ্ছিন্ন (المنقطع)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা সঠিক নয়। আর যদি সনদ থেকে দুজন বর্ণনাকারী বাদ পড়ে: তবে তারা যদি ধারাবাহিক না হন, তবে তাকেও "বিচ্ছিন্ন (منقطع)" বলা হয়। আর যদি তারা ধারাবাহিক হন, তবে তাকে "অতি-বিচ্ছিন্ন (معضل)" বলা হয়। লেখক যার অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা হলো: তাবে-তাবেয়ি কর্তৃক তাবেয়ি থেকে কোনো বর্ণনা তার ওপর থেমে যাওয়া (موقوفًا) অবস্থায় বর্ণনা করা; কারণ এতে সাহাবিকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নবিজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়নি। এই মতটি সাধারণভাবে সঠিক নয়, কারণ তাবেয়ি যা বলেন তা কেবল তারই বক্তব্য, এমনকি যদি তা এমন বিষয় হয় যাতে ব্যক্তিগত মতামতের সুযোগ নেই; তবুও হতে পারে তিনি তা কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন বা ইসরায়েলি বর্ণনা থেকে নিয়েছেন, অথবা হতে পারে তিনি মনে করেছেন তার বক্তব্যটি ইজতিহাদের অন্তর্ভুক্ত। সঠিক সেটি যা ইমাম নববী আত-তাকরীব গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "যখন তাবে-তাবেয়ি কোনো তাবেয়ি থেকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করেন যা তার ওপর থেমে যায় (وقفه عليه), অথচ সেই তাবেয়ির নিকট তা নবিজি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া (مرفوع) ও অবিচ্ছিন্ন (متصل) ছিল, তবে সেটি অতি-বিচ্ছিন্ন (معضل)।" এই অভিমতটি ইমাম হাকেমের। তিনি এর উদাহরণ হিসেবে আমাশ-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন যা শাবি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন মানুষকে বলা হবে: তুমি কি অমুক অমুক কাজ করেছিলে? সে বলবে: আমি তা করিনি। তখন তার মুখে মোহর মেরে দেওয়া হবে..."। আমাশ একে অতি-বিচ্ছিন্ন (أعضله) করেছেন, আর ফুদাইল ইবনে আমর একে শাবি থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে অবিচ্ছিন্ন (وصله) করে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা নবিজি (صلى الله عليه وسلم)-এর নিকট ছিলাম...", এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। ইমাম মুসলিম এটি ফুদাইল ইবনে আমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সুরতটি "অপ্রসিদ্ধ-বিচ্ছিন্ন (المرسل)" হিসেবে অভিহিত করাই অধিক উত্তম, বরং এটি তার অন্তর্ভুক্ত। একে "অতি-বিচ্ছিন্ন (المعضَل)" নাম দেওয়াও জায়েজ, যেমনটি স্পষ্ট।

(২) অর্থাৎ কিয়াস (قيس)। জাওহারি বলেন: আমি এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে পরিমাপ করেছি, আমি তাকে পরিমাপ করি পরিমাপ (قيسًا) ও অনুমান (قياسًا) হিসেবে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١٦)
كَوْنُ الَّذِي أَرْسَلَ مِنْ كِبَارِ … وَإِنْ مَشَى مَعْ حَافِظٍ يُجَارِي

وَلَيْسَ مِنْ شُيُوخِهِ مَنْ ضُعِّفَا … (كَنَهْيِّ بَيْعِ اللَّحْمِ بِالأَصْلِ وَفَا)

وَمُرْسَلُ الصَّاحِبِ وَصْلٌ فِي الأَصَحّ … (كَسَامِعٍ فِي كُفْرِهِ ثُمَّ اتَّضَحْ

إِسْلامُهُ بَعْدَ وَفَاةٍ، وَالَّذِي … رَآهُ لا مُمَيِّزًا لَا تَحْتَ ذِي)(1)

وَقَوْلُهُمْ: عَنْ رَجُلٍ (مُتَّصِلُ) … وَقِيلَ: بَلْ مُنْقَطِعٌ أَوْ مُرْسَلُ

(كَذَّاكَ فِي الأَرْجَحِ كُتْبٌ لَمْ يُسَمْ … حَامِلُهَا أَوْ لَيْسَ يُدْرَى مَا اتَّسَمْ

وَرَجُلٌ مِنَ الصِّحَابِ، وَأَبَى … كَالصَّيْرَفِيْ مُعَنْعَنًا، وَلْيُجْتَبَى)(2)

--------------------------------------------

(1) الحديث المرسل هو ما رواه التابعي - صغيرًا أو كبيرًا - عن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يذكر من حدثه به، وكذلك ما رواه من رأى النبي صلى الله عليه وسلم ولكنه كان غير مميز حين الرؤية، كمحمد بن أبي بكر الصديق، فإنه وإن كان يدخل في تعريف الصحابي إلا أن روايته مرسلة. وأما من سع من النبي صلى الله عليه وسلم شيئًا قبل إسلامه ثم أسلم بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم - كالتنوخي رسول هرقل، وقيل رسول قيصر - فإنه وإن كان تابعيًا إلا أن حديثه موصول ليس بمرسل؛ لأن العبرة في كل هذا بالرواية، أعني أن هذا روى عن النبي صلى الله عليه وسلم وهو يدرك الرواية، وإن كان غير عدل حين التحمل، ولكنه صار عدلًا حين الأداء. وأما غير المميز حين الرؤية إنه لم يكن أهلًا للتحمل، فروايته حقيقتها أنها عن غير النبي صلى الله عليه وسلم، فكانت لذلك مرسلة. هذا هو الصحيح في ذلك كله. وذهب بعضهم إلى أن المرسل إنما هو رواية التابعي الكبير فقط، كسعيد بن المسيب وغيره، وأما رواية التابعي الصغير كالزهري ونحوه فإنها عنده لا تدخل في المرسل بل هي من باب "المنقطع"؛ لأن أكثر رواية صغار التابعين عن كبارهم، وأطلق بعضهم "المرسل" على كل ما سقط منه راوٍ أو أكثر من راوٍ، واشتهر هذا عند الأصولين والفقهاء، وهو اختلاف في الاصطلاح فقط.

والراجح عند العلماء والمختار أن المرسل - أعني على التعريف الأول - ليس بحجة؛ لأنه حذف منه راو غير معروف، وقد يكون غير ثقة، والعبرة في الرواية بالثقة واليقين، ولا حجة في المجهول.

وذهب بعضهم إلى الاحتجاج بالمرسل مطلقًا، وبعضهم إلى الاحتجاج به إن اعتضد بحديث مسند - وهذا غير جيد؛ لأن المسند إن كان صحيحًا فهو الحجة، وإن كان ضعيفًا فلا حجة فيه - أو اعتضد بمرسل آخر، أو بقول صحابي. أو بقول الجمهور، أو بالقياس. وكل هذه أقوال ضعيفة عند المحققين.

وأما مرسل الصحابي، أي ما يرويه صحابي عن النبي صلى الله عليه وسلم وتدل الدلائل على أنه لم يسمعه منه، كما إذا كان متأخر الإسلام وروى حكاية عن صدر الإسلام، أو غير ذلك من الدلائل -: فإنه حجة؛ لأن الصحابة كلهم عدول، ويبعد جدا أن يروي الصحابي عن تابعي، وإن حصل فإنه يبينه ويظهره. قال المؤلف في التدريب (ص 71): "وفي الصحيحين من ذلك ما لا يحصى؛ لأن أكثر رواياتهم عن الصحابة، وكلهم عدول، ورواياتهم عن غيرهم. نادرة، وإذا رووها بينوها. بل أكثر ما رواه الصحابة عن التابعين ليس أحاديث مرفوعة، بل إسرائيليات أو حكايات أو موقوفات".

(2) إذا قال الراوي في الإسناد: "عن رجل" فإن أصح الأقوال فيه أنه منقطع؛ لأن هذا الرجل مبهم مجهول، فكأنه لم يذكر، وقيل: إنه مرسل، وقيل: إنه متصل، وهو أبعدها عن الصواب. هذا كله إذا كان الرجل المبهم غير صحابي، أما إذا قال التابعي: "عن رجل من الصحابة" فالصحيح أنه متصل، روى=
বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাকারী যদি জ্যেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত হন … যদিও তিনি একজন হাফিজ (حافظ)-এর সাথে সমান্তরালভাবে চলেন।

তার উস্তাদদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে দুর্বল (ضعيف) বলা হয়েছে … (যেমন গোশত কেনাবেচার ক্ষেত্রে মূলের সাথে নিষেধাজ্ঞার পূর্ণতা)।

সাহাবীর মুরসাল (مرسل الصحابي) বিশুদ্ধতম মতে সংযুক্ত (موصول) … (যেমন সেই শ্রোতা যে কুফরি অবস্থায় শুনেছে অতঃপর স্পষ্ট হয়েছে

তার ইসলাম রাসূলের ইন্তেকালের পর; আর যে তাকে (রাসূলকে) … দেখেছে কিন্তু বিবেচনাবোধ সম্পন্ন (مميز) নয়, সে এর অন্তর্ভুক্ত নয়।)(1)

তাদের বক্তব্য: 'জনৈক ব্যক্তি থেকে' এটি সংযুক্ত (متصل) … আর বলা হয়েছে: বরং এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) অথবা বিচ্ছিন্ন (مرسل)।

(তেমনিভাবে অগ্রগণ্য মত অনুযায়ী ঐ সকল কিতাব যার বাহকের নাম … উল্লেখ করা হয়নি অথবা যার বৈশিষ্ট্য জানা যায়নি।

এবং সাহাবীদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি; আর সয়রাফি … মুআনআন (معنعن) বর্ণনাকে অস্বীকার করেছেন, যা বর্জনীয়।)(2)

--------------------------------------------

(1) বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস হলো যা কোনো তাবেয়ি (تابعي) - ছোট হোক বা বড় - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন এবং যার কাছ থেকে তিনি এটি শুনেছেন তার নাম উল্লেখ করেন না। অনুরূপভাবে, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন কিন্তু দেখার সময় বিবেচনাবোধ সম্পন্ন (مميز) ছিলেন না, যেমন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর সিদ্দিক। যদিও তিনি সাহাবীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হন, তবুও তার বর্ণনা বিচ্ছিন্ন (مرسل)। আর যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের আগে কিছু শুনেছেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন - যেমন হিরাক্লিয়াসের দূত তানুখি, বলা হয় তিনি কায়সারের দূত ছিলেন - তিনি তাবেয়ি (تابعي) হওয়া সত্ত্বেও তার হাদিস সংযুক্ত (موصول), বিচ্ছিন্ন (مرسل) নয়। কারণ এসকল ক্ষেত্রে বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতাই মূল বিষয়; অর্থাৎ, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন এমতাবস্থায় যখন তিনি বর্ণনা অনুধাবনে সক্ষম ছিলেন, যদিও তা গ্রহণের সময় তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) ছিলেন না, তবে বর্ণনার সময় তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) হয়েছিলেন। আর যিনি দেখার সময় বিবেচনাবোধ সম্পন্ন (مميز) ছিলেন না, তিনি বর্ণনা গ্রহণের যোগ্য (أهلًا للتحمل) ছিলেন না, তাই তার বর্ণনা মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো থেকে হওয়া সত্ত্বেও একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) গণ্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে এটিই বিশুদ্ধ মত। কেউ কেউ মনে করেন বিচ্ছিন্ন (مرسل) কেবল বড় তাবেয়িদের (تابعي كبير) বর্ণনা, যেমন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও অন্যান্যরা। আর ছোট তাবেয়িদের (تابعي صغير) বর্ণনা যেমন ইমাম যুহরি ও তাঁর সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে তাদের নিকট তা বিচ্ছিন্ন (مرسل) নয় বরং বিচ্ছিন্ন (منقطع) পর্যায়ের; কারণ ছোট তাবেয়িদের অধিকাংশ বর্ণনা বড়দের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। কেউ কেউ 'বিচ্ছিন্ন' (مرسل) শব্দটিকে এমন সব বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন যেখানে এক বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন। এটি উসুলশাস্ত্রবিদ ও ফকিহদের নিকট সুপরিচিত, তবে এটি কেবল পরিভাষাগত পার্থক্য।

ওলামায়ে কেরামের নিকট অগ্রগণ্য ও মনোনীত মত হলো বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস - অর্থাৎ প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী - দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নয়; কারণ এতে একজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যিনি অনির্ভরযোগ্য (غير ثقة) হতে পারেন। আর বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও নিশ্চয়তাই মূল বিষয়, অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তির বর্ণনায় কোনো দলিল (حجة) নেই।

কেউ কেউ বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসকে নিরঙ্কুশভাবে দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আবার কেউ কেউ শর্ত দিয়েছেন যে, যদি তা অন্য কোনো মুসনাদ (مسند) হাদিস দ্বারা সমর্থিত হয় - তবে এটি তেমন জোরালো মত নয়; কারণ মুসনাদ (مسند) হাদিসটি যদি সহিহ হয় তবে সেটিই দলিল, আর যদি দুর্বল (ضعيف) হয় তবে তাতে কোনো দলিল নেই - অথবা অন্য কোনো বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস, সাহাবীর বক্তব্য, জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামাদের বক্তব্য কিংবা কিয়াসের মাধ্যমে সমর্থিত হয়। এসকল অভিমত মুহাক্কিক বা গবেষক আলেমদের নিকট দুর্বল (ضعيف)।

আর সাহাবীর মুরসাল (مرسل الصحابي), অর্থাৎ কোনো সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেন যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে তিনি তা সরাসরি শোনেননি, যেমন তিনি যদি শেষ বয়সে ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামের শুরুর দিকের কোনো ঘটনা বর্ণনা করেন অথবা অন্য কোনো প্রমাণ থাকে - তবে তা দলিল (حجة); কারণ সাহাবীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)। কোনো সাহাবী তাবেয়ি (تابعي) থেকে বর্ণনা করবেন তা অত্যন্ত সুদূরপরাহত, আর যদি এমনটি ঘটেও তবে তিনি তা স্পষ্ট করে দেন। লেখক তাদরিব গ্রন্থে (পৃ. ৭১) বলেন: "সহিহায়ন (বুখারি ও মুসলিম)-এ এমন অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে; কারণ তাদের অধিকাংশ বর্ণনা সাহাবীদের থেকে, আর তারা সকলেই ন্যায়পরায়ণ (عدول)। অন্যদের থেকে তাদের বর্ণনা বিরল, আর বর্ণনা করলে তারা তা স্পষ্ট করে দেন। বরং সাহাবীগণ তাবেয়িদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার অধিকাংশ মারফু (مرفوع) হাদিস নয়, বরং ইসরায়েলি বর্ণনা, কিচ্ছা-কাহিনী বা মওকুফ (موقوف) বর্ণনা।"

(2) বর্ণনাকারী যদি সনদে বলেন: "জনৈক ব্যক্তি থেকে", তবে এ বিষয়ে সবচেয়ে সঠিক মত হলো এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع); কারণ এই ব্যক্তি অস্পষ্ট (مبهم) ও অজ্ঞাত (مجهول), যেন তার উল্লেখই করা হয়নি। কেউ বলেছেন এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل), আবার কেউ বলেছেন এটি সংযুক্ত (متصل), যা সঠিকতা থেকে অনেক দূরে। এই সবই তখন প্রযোজ্য যখন সেই অস্পষ্ট ব্যক্তি সাহাবী না হন। কিন্তু তাবেয়ি যদি বলেন: "সাহাবীদের মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি থেকে", তবে সঠিক মত হলো এটি সংযুক্ত (متصل)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١٧)
وَقَدِّمِ الرَّفْعَ كَالاتِّصَالِ … مِنْ ثِقَةٍ لِلْوَقْفِ وَالإِرْسَالِ

وَقِيلَ: عَكْسُهُ، وَقِيلَ: الأَكْثَرُ، … وَقِيلَ: قَدِّمْ أَحْفَظًا. وَالأَشْهَرُ

عَلَيْهِ لا يَقْدَحُ هَذَا مِنْهُ فِي … أَهْلِيَّةِ الْوَاصِلِ وَالَّذِي يَفِي

وَإِنْ يَكُنْ مِنْ وَاحِدٍ تَعَارَضَا … فَاحْكُمْ لَهُ بِالْمُرْتَضَى بِمَا مَضَى(1)

 

‌‌المعلق

مَا أَوَّلُ الإِسْنَادِ مِنْهُ يُطْلَقُ … -وَلَوْ إِلَى آخِرِهِ- مُعَلَّقُ

وَفِي الصَّحِيحِ ذَا كَثِيرٌ، فَالَّذِي … أُتِيْ بِهِ بِصِيغَةِ الْجَزْمِ خُذِ

صِحَّتَهُ عَنِ الْمُضَافِ عَنْهُ … وَغَيْرَهُ ضَعِّفْ وَلا تُوهِنْهُ

وَمَا عَزَى لِشَيْخِهِ بِقَالَا … فَفِي الأَصَحِّ احْكُمْ لَهُ اتِّصَالا

--------------------------------------------

= البخاري عن الحميدي قال: "إذا صح الإسناد عن الثقات إلى رجل من الصحابة فهو حجة، وإن لم يسم ذلك الرجل وقال الأثرم: (قلت لأحمد بن حنبل: إذا قال رجل من التابعين حدثني رجل من الصحابة ولم يسمه فالحديث صحيح؟ قال: نعم" وهذا النوع الأخير - أعني ما فيه إبهام الصحابي - سماه البيهقي مرسلًا، قال العلائي: "وليس بجيد، اللهم إلا إن كان يسيه مرسلا ويجعله حجة كمراسيل الصحابة، فهو قريب. وقيد الصيرفي هذا النوع بما إذا صرح التابعي بالسماع من الصحابي المبهم، وأبى أن يحتج بالمعنعن، واختاره المؤلف هنا، ولكن هذا القيد غير جيد عندي؛ لأنه يرجع إلى حكم المعنعن، فإن كان الراوي معروفًا بالتدليس أو لم يعاصر من روى عنه كانت روايته منقطعة، فكذا ما هنا، وإن كان الراوي غير مدلس وقد عاصر من روى عنه كانت روايته بالعنعنة محكومًا باتصالها ومحتجًّا بها، كما سيأتي في أحكام (المعنعن). وأما كتب النبي صلى الله عليه وسلم التي لم يسم حاملها فإن الأكثرين على أنها متصلة، وبعضهم جعلها مرسلة. والعبرة في هذا بتحقيق ثبوت نسبتها إليه.

(1) قد يروي الثقات الحديث الواحد من طريق واحد ثم يختلفون فيه: فبعضهم يرويه مرسلًا وبعضهم موصولًا، أو يرويه بعضهم مرفوعًا وبعضهم موقوفًا، فالقول الراجح في هذا، وهو الصحيح عند المحدثين والفقهاء والأصوليين: أن تقدم الرواية التي فيها الزيادة، من الوصل والرفع. لأن الزيادة من الثقة واجب قبولها، إذ أنه حفظ ما غاب عن غيره، ومن حفظ حجة على من لم يحفظ. وذهب بعضهم إلى تقديم الوقف والإرسال. وذهب بعضهم إلى تقديم رواية أكثر، كأن يرسله أو يقفه إثنان أو ثلاثة من الثقات ويصله أو يرفعه واحد. وقيل: يقدم الأحفظ. وهذه الأقوال ضعيفة، والصحيح الأول كما قلنا. وعلى القول الأخير - قول من رأى تقديم الأحفظ - لا تقدح رواية الأحفظ في ضبط الذي خالفه وفي حفظه على القول الأشهر، وذهب بعضهم إلى أن ذلك قادح فيه، وهو ضعيف جدًّا.

إذا روى الراوي الحديث واختلف على نفسه: فرواه مرة مرفوعًا ومرة موقوفًا، أو مرة موصولًا ومرة مرسلًا، فحكمه حكم ما إذا اختلف الراويان، والخلاف فيه كالخلاف في ذاك، والصحيح تقديم الرواية الزائدة، إذ قد ينشط الشيخ فيأتي بالحديث على وجهه، وقد يعرض له ما يدعوه إلى وقفه أو إرساله لمناسبة خاصة. فلا يقدح النقص في الزيادة.
এবং মারফূ (رفع) বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দাও যেমন দেওয়া হয় সংযুক্ত (اتصال) বর্ণনাকে … মাওকূফ (وقف) ও মুরসাল (إرسال) বর্ণনার বিপরীতে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে।

বলা হয়েছে: এর বিপরীতটিই নিয়ম; আবার বলা হয়েছে: অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারীর বর্ণনা (অগ্রগণ্য); … এবং বলা হয়েছে: যিনি অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أحفظ) তাকে অগ্রাধিকার দাও। আর অধিক প্রসিদ্ধ মত হলো—

এরূপ বৈচিত্র্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার যোগ্যতায় কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না … যিনি পূর্ণাঙ্গভাবে সংযুক্ত (اتصال) করেছেন এবং যিনি যথাযথভাবে বর্ণনা করেছেন।

আর যদি একই ব্যক্তি থেকে পরস্পর বিরোধী দু’টি বর্ণনা পাওয়া যায় … তবে পূর্বোক্ত গ্রহণযোগ্য নিয়ম অনুযায়ী ফয়সালা করো।(১)

 

‌‌মুআল্লাক (معلق)

সনদ (إسناد)-এর শুরু থেকে যাকে বাদ দেওয়া হয়েছে … -চাই তা শেষ পর্যন্তই হোক না কেন- তাকে মুআল্লাক (معلق) বলা হয়।

সহিহ গ্রন্থে (অর্থাৎ সহিহ বুখারিতে) এর ব্যবহার অনেক, সুতরাং যে বর্ণনাটি … সুনিশ্চিত শব্দ (صيغة الجزم) দ্বারা করা হয়েছে, সেটি গ্রহণ করো—

যিনি এটি বর্ণনা করেছেন তার পক্ষ থেকে উক্ত বর্ণনার বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত হিসেবে; আর এছাড়া অন্যগুলোকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে গণ্য করো, তবে সেগুলোকে একেবারে গুরুত্বহীন করো না।

আর বর্ণনাকারী তার শায়খের পক্ষ থেকে যে বর্ণনা ‘তিনি বলেছেন’ (قال) শব্দে উদ্ধৃত করেন, … অধিক বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সেটিকে সংযুক্ত (اتصال) হিসেবে গণ্য করো।

--------------------------------------------

= আল-হুমাইদি থেকে আল-বুখারি বলেন: "যদি সনদ (إسناد) নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে কোনো সাহাবি পর্যন্ত সহিহ (صحيح) হয়, তবে তা দলিল (حجة), যদিও সেই সাহাবির নাম উল্লেখ করা না হয়। আর আল-আছরাম বলেন: (আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করলাম: যদি কোনো তাবিঈ বলেন যে, তাকে একজন সাহাবি হাদিস শুনিয়েছেন কিন্তু তিনি তার নাম উল্লেখ করেননি, তবে কি হাদিসটি সহিহ (صحيح) হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ)। আর এই শেষোক্ত প্রকারটি—যেখানে সাহাবির নাম উহ্য থাকে—তাকে আল-বায়হাকি মুরসাল (مرسل) বলেছেন। আল-আলাঈ বলেন: "এটি সঠিক নয়, তবে তিনি যদি সাহাবিদের মুরসাল (مرسل) বর্ণনার মতো এটিকে মুরসাল (مرسل) এবং দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করেন, তবে তা কাছাকাছি। আর আল-সায়রাফি এই প্রকারটিকে শর্তযুক্ত করেছেন যে, তাবিঈ কর্তৃক নাম উহ্য থাকা সাহাবি থেকে সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে; তিনি মুআনআন (معنعن) বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন এবং লেখক এখানে এটিই পছন্দ করেছেন। তবে আমার মতে এই শর্তটি সঠিক নয়; কারণ এটি মুআনআন (معنعن) বর্ণনার হুকুমের দিকেই ফিরে যায়। যদি বর্ণনাকারী তাদলিস (تدليس) করার জন্য পরিচিত হন অথবা যার থেকে বর্ণনা করছেন তার সমসাময়িক না হন, তবে তার বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) হিসেবে গণ্য হবে, এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। আর যদি বর্ণনাকারী তাদলিসকারী (مدلس) না হন এবং যার থেকে বর্ণনা করছেন তার সমসাময়িক হন, তবে তার মুআনআন (معنعن) বর্ণনাটি সংযুক্ত (اتصال) হিসেবে গণ্য হবে এবং তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে, যেমনটি সামনে মুআনআন (معنعن) এর আলোচনায় আসবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরিত চিঠিপত্র যেগুলোর বাহকের নাম উল্লেখ নেই, অধিকাংশের মতে সেগুলো সংযুক্ত (اتصال); তবে কেউ কেউ সেগুলোকে মুরসাল (مرسل) বলেছেন। এই ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো নবীজির সাথে সেগুলোর নিসবত বা সম্পর্কের সত্যতা যাচাই করা।

(১) কখনও কখনও নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীগণ একটি হাদিস একই সূত্রে বর্ণনা করেন কিন্তু তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়: কেউ সেটি মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেন আবার কেউ সংযুক্ত (موصুল) হিসেবে, অথবা কেউ মারফূ (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেন এবং কেউ মাওকূফ (موقوف) হিসেবে। এই ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য এবং মুহাদ্দিস, ফকিহ ও উসুলবিদদের নিকট বিশুদ্ধ মত হলো: যে বর্ণনায় অতিরিক্ত তথ্য (زيادة) আছে সেটিই অগ্রাধিকার পাবে—চাই তা সংযুক্ত (وصل) করার ক্ষেত্রে হোক বা মারফূ (رفع) করার ক্ষেত্রে। কারণ নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) গ্রহণ করা ওয়াজিব, কারণ তিনি এমন কিছু সংরক্ষণ করেছেন যা অন্যজন করতে পারেননি; আর যিনি সংরক্ষণ করেছেন তিনি সংরক্ষণ না করতে পারাদের ওপর প্রমাণস্বরূপ। কেউ কেউ মুরসাল (إرسال) ও মাওকূফ (وقف) বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার কেউ অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারীর বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যেমন দুই বা তিনজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি যদি হাদিসটিকে মুরসাল (إرسال) বা মাওকূফ (وقف) করেন আর একজন মাত্র রাবি সেটিকে সংযুক্ত (وصل) বা মারফূ (رفع) করেন। আবার বলা হয়েছে: যিনি অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أহفظ) তার বর্ণনা অগ্রাধিকার পাবে। তবে এই মতগুলো দুর্বল (ضعيف) এবং প্রথম মতটিই বিশুদ্ধ যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর শেষোক্ত মত অনুযায়ী—যিনি অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন রাবির বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন—বিখ্যাত মত অনুসারে এটি তার বিপরীত বর্ণনাকারীর হেফজ বা নির্ভরযোগ্যতায় কোনো দোষ সৃষ্টি করে না; তবে কেউ কেউ মনে করেন এটি দোষণীয়, যা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف) মত।

যদি বর্ণনাকারী নিজেই হাদিস বর্ণনায় মতভেদ করেন: কখনও মারফূ (مرفوع) আবার কখনও মাওকূফ (موقوف) হিসেবে বর্ণনা করেন, অথবা কখনও সংযুক্ত (موصول) আবার কখনও মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে এর হুকুম দুজন বর্ণনাকারীর মতভেদের হুকুমের মতোই হবে এবং এতেও একই রূপ মতভেদ রয়েছে। বিশুদ্ধ মত হলো অতিরিক্ত অংশ সম্বলিত (زيادة) বর্ণনাটি গ্রহণ করা, কারণ শায়খ কখনও প্রাণবন্ত থাকায় পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেন, আবার কখনও বিশেষ কোনো কারণে সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে মুরসাল (إرسال) বা মাওকূফ (وقف) করেন। সুতরাং কম বর্ণনা বেশি বর্ণনার ক্ষেত্রে ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে না।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١٨)
وَمَا لَهَا لَدَى سِوَاهُ ضَابِطْ … فَتَارَةً وَصْلٌ وَأُخْرَى سَاقِطُ(1)

 

‌‌المعنعن

وَمَنْ رَوَى بِـ"عَنْ" وَ"أَنَّ" فَاحْكُمِ … بِوَصْلِهِ إِنِ اللِّقَاءُ يُعْلَمِ

وَلَمْ يَكُنْ مُدَلّسًا، وَقِيلَ: لَا … وَقِيلَ "أَنَّ" اقْطَعْ وَأَمَّا "عَنْ" فلا

وَمُسْلِمٌ يَشْرِطْ تَعَاصُرًا فَقَطْ … وَبَعْضُهُمْ طُولَ صَحَابَةٍ شَرَطْ

وَبَعْضُهُمْ عِرْفَانَهُ بِالأَخْذِ عَنْ(2) … وَاسْتُعْمِلَا إِجَازَةً فِي ذَا الزَّمَنْ(3)

--------------------------------------------

(1) المعلق هو ما حذف أول إسناده، سواء كان المحذوف من الإسناد واحدًا أو أكثر، ويشمل ما إذا حذف الإسناد جميعه. كما إذا قال بعض المؤلفين: "قال رسول صلى الله عليه وسلم " أو "قال ابن عباس" أو "قال عطاء" مثلًا، فكل هذا معلق؛ لأنه حذف الإسناد من المؤلف إلى المروي عنه. وهذا النوع كثير في صحيح البخاري، فتارة يأتي به بصيغة الجزم نحو "قال فلانًا ويعطى حكم الصحيح؛ لأنه حزم بنسبته إلى قائله في كتاب التزم فيه الصحة. وتارة يأتي بصيغة التمريض، نحو "يذكر ويحكى ويقال" فإذا جاء هكذا لم يحكم به بالصحة، ولكن وروده في أحد الصحيحين يجعل له أصلًا، فلا يحكم عليه بالوهن الشديد.

وأما ما يرويه أصحاب الكتب التي لا تلتزم الصحة بغير إسناد، فلا يحكم له بالصحة، سواء أجاء بصيغة الحزم أم جاء بغيرها، بل يفحص عن إسناده أولًا:

واعلم أن البخاري كثيرًا ما يذكر حديثًا عن شيوخه بصيغة التعليق فيقول: "قال عفان" أو "قال القعنبي" فهذا من البخاري محمول على الاتصال؛ لأن حكمه حكم العنعنة: لثبوت اللقاء بين البخاري وبين شيخه، ولأن البخاري لي مدلسًا. وأما غير البخاري فليس لعمله ضابط معروف في ذلك، فلا يحكم له بالاتصال، بل يفحص عنه من الطرق الأخرى، ويحكم له بما يظهر من صحة أو ضعف.

(2) إذا قال الراوي: "عن فلان" أو "أن فلانًا قال كذا" فإن كان يروي ذلك عن شخص لم يعاصره، أو عاصره وثبت أنه لم يلاقه أصلًا -: جزمنا بان روايته منقطعة. وإن كان معاصرًا له - ولم نعلم إن كان لقيه أولا، أو علمنا أنه لقيه ولكن كان الراوي مدلسًا -: توقفنا في روايته، ولم نحكم لها بالاتصال، إلا إن ثبت أنه لقي من روى عنه وحدثه به. وإن كان الراوي غير مدلس، فالصحيح الراجح أنه يحكم لروايته بالاتصال وإن لم نعلم أنه لقي من روى عنه، فلعله لقيه ولم ينقل إلينا. وهذا هو الذي انتصر له مسلم بن الحجاج في صحيحه، ورد على من خالفه أشد ردّ وأقواه.

وذهب ابن المديني والبخاري وغيرهما إلى اشتراط اللقاء، وقيل: إن البخاري لا يشترط ذلك في أصل صحة الحديث، وإنما التزمه في الجامع الصحيح فقط.

وهناك أقوال أخرى في هذا غير جيدة: فبعضهم حكم بعدم الاتصال مطلقًا، وبعضهم حكم بأن "عن" للاتصال و "أن" لغير الاتصال، وبعضه شرط طول صحبة الراوي لشيخه، وبعضهم شرط أن يكون معروفًا بالرواية عن شيخه. وهذه أقوال لا دليل عليها، ولا تثبت تحت التمحيص.

(3) الذي سبق من حكم "عن" و "أنّ" هو في روايات المتقدمين، وأما المتأخرون فقد كثر =
অন্য কারও নিকট এর কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই … ফলে তা কখনো সংযুক্ত (متصل) আবার কখনো বিচ্ছিন্ন (ساقট) হিসেবে বিবেচিত হয়(১)

 

‌‌আন'আনাহকৃত (المعنعن) হাদিস

যে রাবি 'আন' (عن) এবং 'আন্না' (أن) শব্দযোগে বর্ণনা করেন, তার বর্ণনার ওপর … সংযুক্ত (متصل) হওয়ার হুকুম প্রদান করো, যদি উভয়ের মাঝে সাক্ষাৎ (لقاء) হওয়া জানা থাকে

এবং তিনি মুদাল্লিস (مدلس) না হন। আর কেউ বলেছেন: না (তা সংযুক্ত হবে না); … আবার কেউ বলেছেন 'আন্না' (أن) শব্দে বর্ণিত হাদিসকে বিচ্ছিন্ন (منقطع) হিসেবে গণ্য করো, কিন্তু 'আন' (عن)-কে নয়

ইমাম মুসলিম কেবল সমসাময়িকতা (تعاصر)-কে শর্ত করেছেন … আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘ সাহচর্যের (صحابة) শর্তারোপ করেছেন

আবার কেউ কেউ নির্দিষ্ট শাইখ থেকে হাদিস গ্রহণের সুখ্যাতি থাকা শর্ত করেছেন … আর বর্তমান যুগে এ শব্দ দুটি অনুমতি (إجازة) প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়(৩)

--------------------------------------------

(১) মুআল্লাক (معلق) হলো সেই হাদিস যার সনদের শুরু থেকে রাবি বিলুপ্ত হয়েছে, চাই বিলুপ্ত রাবি একজন হোক বা একাধিক, এমনকি পুরো সনদ বিলুপ্ত হওয়াকেও এটি অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন যদি কোনো লেখক বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন" অথবা "ইবনে আব্বাস বলেছেন" অথবা "আতা বলেছেন" উদাহরণস্বরূপ, তবে এ সবই মুআল্লাক (معلق); কারণ লেখক থেকে মূল বর্ণনাকারী পর্যন্ত সনদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই প্রকারটি সহীহ বুখারীতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। কখনো কখনো এটি দৃঢ়তার শব্দ (صيغة الجزم) যেমন "অমুক বলেছেন" আকারে আসে এবং সেক্ষেত্রে এটি সহীহ (صحيح) এর হুকুম প্রাপ্ত হয়; কারণ তিনি এমন কিতাবে এটি দৃঢ়তার সাথে কোনো ব্যক্তির দিকে নিসবত করেছেন যেখানে তিনি কেবল সহীহ (صحيহ) হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আবার কখনো তা দুর্বলতার শব্দ (صيغة التمريض) যেমন "বর্ণিত হয়েছে", "বলা হয়ে থাকে", "বলা হয়" ইত্যাদি শব্দে আসে। যদি এভাবে বর্ণিত হয় তবে তা সহীহ (صحيহ) বলে হুকুম করা হয় না, তবে দুই সহীহ গ্রন্থের (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম) কোনো একটিতে এর উপস্থিতি এর একটি ভিত্তি প্রদান করে, ফলে একে অত্যন্ত দুর্বল (وهن شديد) বলে গণ্য করা হয় না।

আর যে সকল কিতাবের লেখকগণ সহীহ (صحيহ) হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি দেননি, তারা যদি সনদ ছাড়াই কোনো হাদিস বর্ণনা করেন, তবে তাকে সহীহ (صحيহ) বলা যাবে না, চাই তা দৃঢ়তার শব্দ (صيغة الجزم) দিয়ে বর্ণিত হোক বা অন্য কোনো শব্দে; বরং সর্বাগ্রে তার সনদ অনুসন্ধান করতে হবে।

জেনে রাখা আবশ্যক যে, ইমাম বুখারী প্রায়শই তার শাইখদের থেকে কোনো হাদিস মুআল্লাক (تعليق) হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন: "আফফান বলেছেন" অথবা "আল-কানাবী বলেছেন"। ইমাম বুখারীর ক্ষেত্রে এটি সংযুক্ত (متصل) হিসেবেই গণ্য হবে; কারণ এর হুকুম আন'আনাহ (عنعنة)-এর হুকুমের অনুরূপ: ইমাম বুখারী এবং তার শাইখের মাঝে সাক্ষাৎ (لقاء) সাব্যস্ত হওয়ার কারণে এবং ইমাম বুখারী মুদাল্লিস (مدلس) না হওয়ার কারণে। কিন্তু ইমাম বুখারী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই, তাই সেটিকে সংযুক্ত (متصل) বলে হুকুম করা যাবে না, বরং অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে তা অনুসন্ধান করতে হবে এবং এর সহীহ (صحيح) বা দুর্বল (ضعيف) হওয়ার বিষয়ে যা প্রকাশ পাবে সেই অনুযায়ী হুকুম প্রদান করতে হবে।

(২) যদি রাবি বলেন: "অমুক থেকে" অথবা "অমুক এই কথা বলেছেন", তবে তিনি যদি এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যার তিনি সমসাময়িক (عاصر) ছিলেন না, অথবা সমসাময়িক হওয়া সত্ত্বেও প্রমাণিত যে তাদের আদৌ সাক্ষাৎ হয়নি—তবে আমরা নিশ্চিতভাবে বলব যে তার বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)। আর যদি তিনি তার সমসাময়িক হন—কিন্তু আমাদের জানা নেই যে তাদের সাক্ষাৎ (لقاء) হয়েছে কি না, অথবা আমরা জানি যে সাক্ষাৎ হয়েছে কিন্তু রাবি ছিলেন মুদাল্লিস (مدلس)—তবে আমরা তার বর্ণনার ক্ষেত্রে বিরত থাকব এবং একে সংযুক্ত (متصل) হওয়ার হুকুম দেব না, যতক্ষণ না প্রমাণিত হয় যে তিনি যার থেকে বর্ণনা করছেন তার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তিনি তার থেকে হাদিসটি শুনেছেন। আর যদি রাবি মুদাল্লিস (مدلس) না হন, তবে সঠিক ও অগ্রগণ্য (راجح) মত হলো তার বর্ণনাকে সংযুক্ত (متصل) হিসেবে গণ্য করা হবে, যদিও আমাদের জানা না থাকে যে তার সাথে সাক্ষাৎ (لقاء) হয়েছে; কারণ সম্ভবত সাক্ষাৎ হয়েছে কিন্তু তা আমাদের নিকট বর্ণিত হয়ে আসেনি। এটিই সেই মত যা ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তার সহীহ গ্রন্থে জোরালো সমর্থন করেছেন এবং এর বিরোধীদের কঠোরভাবে প্রতিবাদ করেছেন।

ইমাম ইবনুল মাদিনী, ইমাম বুখারী এবং অন্যান্যরা সাক্ষাৎ (لقاء)-এর শর্তারোপ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, ইমাম বুখারী হাদিসের মূল বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য এটি শর্ত করেননি, বরং তিনি কেবল তার জামে সহীহ অর্থাৎ সহীহ বুখারী কিতাবের জন্য এটি আবশ্যক করে নিয়েছেন।

(৩) 'আন' (عن) এবং 'আন্না' (أن) এর হুকুম বিষয়ে যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে তা পূর্ববর্তী মুতাকাদ্দিমীন (متقدمين) আলিমদের বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে পরবর্তী মুতাকাদ্দিমীন (متأخرون) আলিমদের বর্ণনায় এর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে =
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ١٩)
وَكُلُّ مَنْ أَدْرَكَ مَالَهُ رَوَى … مُتَّصِلٌ، وَغَيْرُهُ قَطْعًا حَوَى(1)

 

‌‌التدليس

تَدْليسُ الإِسْنَادِ بِأَنْ يَرْوِيَ عَنْ … مُعَاصِرٍ مَّا لَمْ يُحَدِّثْهُ بِأَنْ

يَأْتِي بِلَفْظٍ يُوهِمُ اتِّصَالَا … "كَعَنْ" وَ "أَنَّ" وكذَاكَ "قَالا"

(وَقِيلَ: أَنْ يَرْوِيَ مَا لَمْ يَسْمَعِ … بِهِ وَلَوْ تَعَاصُرًا لَمْ يَجْمَعِ

وَمِنْهُ أَنْ يُسَمِّي الشَّيخَ فَقَطْ … قَطْعٌ بِهِ الأَدَاةُ مُطْلَقًا سَقَطْ

وَمِنْهُ عَطْفٌ، وَكَذَا أَنْ يَذْكرَا … "حَدَّثَنَا" وَفَصْلُهُ الاِسْمَ طَرَا)

وَكُلّهُ ذَمٌّ، وَقِيلَ: بَلْ جَرَحْ … فَاعِلَهُ، وَلَوْ بِمَرَّةٍ وَضَحْ

وَالْمُرْتَضَى قَبُولُهُمْ إِنْ صَرَّحُوا … بِالْوَصْلِ، فَالأَكْثَرُ هَذَا صَحَّحُوا

وَمَا أَتَانَا فِي الصَّحِيحَيْنِ بِـ"عَنْ" … فَحَمْلُهُ عَلَى ثُبُوتِه قَمَنْ)(2)

--------------------------------------------

= استعمالهم لهما في الرواية بالإجازة، والرواية بالإجازة محمولة على الاتصال عند العلماء. ونقل المؤلف في التدريب أن هذا استعمال المشارقة، وأنها المغاربة فيستعملونها في السماع وفي الإجازة سواء.

(1) إذا روى أحد الرواة قصة لم يدركها كانت روايته منقطعة، فإن كان الراوي صحابيًا، قبلت روايته؛ لأنها تكون من مراسيل الصحابة، وهي حجة كما تقدم وإن كان غير صحابي لم تقبل، إذ لا حجة في المرسل. مثال ذلك: رواية قيس بن سعد عن عطاء بن أبي رباح عن محمد بن الحنفية "أن عمارًا مر بالنبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي" إلخ، فهذه رواية منقطعة، لأن ابن الحنفية لم يدرك ذلك، ولكن وصله أبو الزبير فقال: "عن محمد بن الحنفية عن عمار قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو يصلي" الخ، فهذه رواية موصولة غير مرسلة. روى الخطيب في الكفاية عن أبي داود صاحب السنن قال: "سمعت أحمد - يعني ابن حنبل - قيل له: إن رجلًا قال: قال عروة إن عائشة قالت يا رسول الله، وعن عروة عن عائشة -: سواء؟ قال: كيف هذا سواء؟ " ليس هذا بسواء"، قال ابن المواق: "فإنما فرق أحمد بين اللفظين لأن عروة في اللفظ الأول لم يسند إلى عائشة ولا أدرك القصة، فكانت مرسلة، وأنها اللفظ الثاني فأسند إليها بالعنعنة فكانت متصلة".

(2) إذا روى الراوي شيئًا لم يسمعه من المروي عنه وصرح في روايته بالتحديث والسماع كان كاذبًا فاسقًا، وفرغ من أمره. أما إذا روى ذلك بصيغة لا تقتضي السماع كان يقول "عن فلان" أو "قال فلان" أو نحو هذا، فإن كان المروي عنه لم يعاصره الراوي ولم يلقه كان ما يرويه منقطعًا كما مضى، وزعم بعضهم أن هذا من باب التدليس، وهو قول مرجوح غير مشهور، قال ابن عبد البر: "وعلى هذا فما سلم أحد من التدليس، لا مالك ولا غيره" أي لأنهم كثيرًا ما يروون عمن لم يعاصروه بغير إسناد، ثقة منهم=
وَكُلُّ مَنْ أَدْرَكَ مَالَهُ رَوَى … নিরবচ্ছিন্ন (متصل), এবং তা ব্যতীত অন্য বর্ণনাগুলো নিশ্চিতভাবে বিচ্ছিন্নতা (قطع) ধারণ করে।(1)

 

‌‌তাদলিস (التدليس)

ইসনাদগত তাদলিস (تدليس الإسناد) হলো সমসাময়িক এমন কোনো রাবীর পক্ষ থেকে বর্ণনা করা যা সে তার নিকট থেকে শ্রবণ করেনি; এভাবে যে,

সে এমন শব্দ ব্যবহার করবে যা ধারাবাহিকতা (اتصال) এর ভ্রম সৃষ্টি করে … যেমন- 'হতে' (عن), 'নিশ্চয়ই' (أن) এবং তদ্রূপ 'তিনি বলেছেন' (قال)।

(বলা হয়ে থাকে: এমন কিছু বর্ণনা করা যা সে শ্রবণ করেনি … যদিও তাদের মধ্যে সমসাময়িকতা না থাকে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো কেবল শাইখের নাম উল্লেখ করা … যার ফলে বর্ণনার মাধ্যমটি বা সূত্রটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো আতিফ বা সংযোগমূলক বর্ণনা, এবং তদ্রূপ 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) শব্দ উল্লেখ করা … অথচ রাবীর নামের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা পরিলক্ষিত হওয়া।)

এর পুরোটাই নিন্দনীয়, এবং বলা হয়েছে: বরং এটি এর সম্পাদনকারীকে … জারহ বা আহত (جرح) করে, যদিও তা একবারই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

পছন্দনীয় মত হলো তাদের বর্ণনা গ্রহণ করা যদি তারা স্পষ্টভাবে … নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) এর শব্দ উচ্চারণ করেন; অধিকাংশ মুহাদ্দিস একেই সহীহ (صحح) বলে গণ্য করেছেন।

সহীহাইন-এ আমাদের নিকট 'হতে' (عن) শব্দে যা বর্ণিত হয়েছে … তা সাব্যস্ত ও নিরবচ্ছিন্ন হিসেবে গ্রহণ করাই সমীচীন।)(2)

--------------------------------------------

= ইজাজাহ (إجازة) এর মাধ্যমে বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহার, এবং আলেমদের নিকট ইজাজাহ (إجازة) এর মাধ্যমে বর্ণনা ধারাবাহিকতা (اتصال) এর ওপর নির্ভরশীল। গ্রন্থকার 'তাদরিব'-এ উল্লেখ করেছেন যে, এটি মাশরিকবাসীদের পরিভাষা, আর মাগরিববাসীরা এটি শ্রবণ (سماع) এবং ইজাজাহ (إجازة) উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে ব্যবহার করেন।

(1) যদি কোনো রাবী এমন কোনো ঘটনা বর্ণনা করেন যা তিনি প্রত্যক্ষ করেননি, তবে তার বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) হিসেবে গণ্য হবে। যদি বর্ণনাকারী সাহাবী হন, তবে তা গ্রহণ করা হবে; কারণ তা সাহাবীদের মুরসাল (مرسل) হিসেবে বিবেচিত এবং তা পূর্বেই উল্লিখিত দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। আর যদি তিনি সাহাবী না হন, তবে তা গ্রহণ করা হবে না; যেহেতু মুরসাল (مرسل) কোনো দলিল নয়। এর উদাহরণ হলো: কায়স বিন সা'দ-এর বর্ণনা আতা বিন আবি রাবাহ হতে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ হতে যে, "আম্মার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন" ইত্যাদি। এটি একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) বর্ণনা, কারণ ইবনুল হানাফিয়্যাহ সেই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি। কিন্তু আবু যুবায়র একে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ হতে, তিনি আম্মার হতে বর্ণনা করেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন" ইত্যাদি। এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন (موصول) বর্ণনা, মুরসাল (مرسل) নয়। খতিব আল-বাগদাদি 'আল-কিফায়াহ' গ্রন্থে সুনান গ্রন্থকার আবু দাউদ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি—তাঁকে বলা হলো: এক ব্যক্তি বলেছে, উরওয়াহ বলেছেন যে আয়েশা (রা.) বলেছেন 'হে আল্লাহর রাসুল', আবার উরওয়াহ হতে আয়েশা (রা.) হতে—উভয়টি কি সমান? তিনি বললেন: এটি কীভাবে সমান হতে পারে? এটি সমান নয়।" ইবনুল মুওয়াক্ক বলেন: "ইমাম আহমাদ এই দুই শব্দের মধ্যে পার্থক্য করেছেন কারণ উরওয়াহ প্রথম শব্দে আয়েশার দিকে সরাসরি ইসনাদ করেননি এবং ঘটনাটি প্রত্যক্ষও করেননি, ফলে তা মুরসাল (مرسل) ছিল। আর দ্বিতীয় শব্দে তিনি আনআনা (العنعنة) এর মাধ্যমে তাঁর দিকে ইসনাদ করেছেন, ফলে তা নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হিসেবে গণ্য হয়েছে।"

(2) রাবী যদি এমন কিছু বর্ণনা করেন যা তিনি তাঁর শাইখ থেকে শ্রবণ করেননি, অথচ তিনি তাঁর বর্ণনায় স্পষ্টভাবে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' বা 'শুনেছি' শব্দ উল্লেখ করেন, তবে তিনি মিথ্যাবাদী ও ফাসিক (فاسق) হিসেবে গণ্য হবেন এবং তার বিষয়টি সেখানেই শেষ। কিন্তু যদি তিনি এমন শব্দে বর্ণনা করেন যা সরাসরি শ্রবণকে আবশ্যক করে না, যেমন—'অমুক হতে' বা 'অমুক বলেছেন' বা এই জাতীয় শব্দ, এমতাবস্থায় যদি বর্ণনাকারী তাঁর সমসাময়িক না হন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ না ঘটে থাকে, তবে তাঁর বর্ণিত হাদিসটি ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন (منقطع) হবে। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি তাদলিস (تدليس) এর অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি একটি মারজুহ বা অগ্রহণযোগ্য (مرجوح) মত যা প্রসিদ্ধ নয়। ইবনে আব্দুল বার বলেন: "যদি এই মত গ্রহণ করা হয়, তবে তাদলিস (تدليس) হতে কেউ রক্ষা পাবে না, এমনকি মালিক বা অন্য কেউও নয়।" অর্থাৎ—যেহেতু তাঁরা নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়ার কারণে প্রায়ই এমন ব্যক্তিদের থেকে কোনো ইসনাদ ছাড়াই বর্ণনা করেন যাদের সমসাময়িক তাঁরা ছিলেন না।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَشَرُّهُ "التَّجْوِيدُ" وَالتَّسْوِيَةُ … (إِسْقَاطُ غَيْرِ شَيْخِهِ وَيُثْبِت

كَمِثْلِ "عَنْ" وَذَاكَ قَطْعًا يَجْرَحُ(1)) … وَدُونَهُ تَدْلِيسُ شَيْخٍ يُفْصِحُ

--------------------------------------------

= بمعرفة أهل العلم أنه منقطع وأنهم قصدوا إلى روايته بغير إسناد. وإذا كان الراوي معاصرًا لمن روى عنه وثبت أنه لقيه وأتى في روايته بصيغة لا تقتضي السماع وروى بها ما لم يسمع كان هذا تدليسا، وسمي الراوي "مدلسًا". ومن ألفاظ التدليس وصيغه أن يسقط أداة الرواية ويسمي الشيخ فقط فيقول: "فلان عن فلان كما حكى علي بن خشرم قال: "كنا عند ابن عيينة فقال: الزهري، فقيل له: حدثكم الزهري؟ فسكت، ثم قال: الزهري، فقيل له: سمعته من الزهري؟ فقال: لا، ولا ممن سعه من الزهري، حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن الزهري"، وهذا يسمى "تدليس القطع". ومنها أن يحدث عن شيخ بما سمعه منه ويعطف عليه شيخًا آخر لم يسمعه منه، مثل ما نقل الحاكم والخطيب عن هشيم: "أن أصحابه قالوا له: نريد أن تحدثنا اليوم شيئًا لا يكون فيه تدليس! فقال: خذوا، ثم أملى عليهم مجلسًا، يقول في كل حديث منه: حدثنا فلان وفلان، ثم يسوق السند والمتن، فلما فرغ قال: هل دلست لكم اليوم شيئًا؟! قالوا: لا، قال: بلى، كل ما قلت "وفلان" فإني لم أسمعه منه!! " ويسمى هذا "تدليس العطف" ومنه أن يقول: "حدثنا" ثم يسكت وينوي القطع ثم يذكر اسم الشيخ، كما نقل ابن سعد عن أبي حفص عمر بن علي المقدمي "أنه كان يدل تدليسًا شديدًا، يقول: سمعت وحدثنا، ثم يسكت، ثم يقول: هشام بن عروة، الأعمش" وهذا قبيح جدًّا.

وللتدليس أنواع كيرة ذكرها المؤلف في التدريب؛ وألف الحافظ برهان الدين سبط ابن العجمي المتوفى سنة 841 رسالة فيه وفي الرواة المدلسين طبعت في حلب، وكذلك الحافظ ابن حجر العسقلاني رسالة طبعت في مصر.

وحكم التدليس أنه مذموم كله على الإطلاق، حتى بالغ شعبة بن الحجاج - أمام أهل الجرح والتعديل - فقال: "لأن أزني أحب إليّ من أن أدلس" وقال أيضًا: "التدليس أخو الكذب" قال ابن الصلاح: "وهذا منه إفراط محمول على المبالغة في الزجر عنه والتنفير" وذهب بعضهم إلى أن من عرف به صار مجروحًا مردود الرواية مطلقًا، وإن صرح بالسماع بعد ذلك. والصحيح الذي رجحه علماء الحديث أن ما رواه المدل بلفظ محتمل - لم يصرح فيه بالسماع - لا يقبل؛ بل يكون منقطعًا، وما صرح فيه بالسماع يقبل، وهذا كله إذا كان الراوي ثقة في روايته كما هو معروف بداهة، وفصل بعضهم تفصيلا آخر فقال: "إن كان الحامل له على التدليس تغطية الضعيف فهو جرح له؛ لأن ذلك حرام وغش، وإلا فلا".

وقد وقع في الصحيحين أحاديث كثيرة من رواية بعض المدلسين الثقات، ولم يصرحوا فيها بالسماع، كقتادة وسفيان الثوري وسفيان بن عيينة وعبد الرزاق، وهو محمول على ثبوت السماع من جهة أخرى غير التي ذكرها صاحب الصحيح.

(1) هناك نوع آخر سماه المتقدمون "التجويد" وسماه المتأخرون "تدليس التسوية" لما فيه من تجويد الإسناد وتسويته. وذلك بأن الراوي يذكر شيخه الذي سمع منه، ولكن يسقط أحد الرواة في الإسناد، لضعفه أو لصغره، تحسينًا للحديث، ويأتى به بصيغة محتملة للسماع، نحو "عن"، فيكون أصل الحديث عن ضعيف بين ثقتين لقي أحدهما الآخر، فيسقط الضعيف، ويروي الحديث عن شيخه الثقة عن الثقة الثاني فيستوي الإسناد كله.

وهذا شر الأقسام وأفحشها؛ لأن الثقة الأول قد لا يكون معروفًا بالتدليس، ويجده الواقف على السند =
এবং এর মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো "তাজউয়িদ" (التجويد) এবং "তাসউয়িয়াহ" (التسوية) ... (নিজের উস্তাদ ব্যতীত অন্য কাউকে মাঝখান থেকে বাদ দেওয়া এবং "হতে" (عن) সদৃশ শব্দ ব্যবহার করা; আর এটি নিশ্চিতভাবেই বর্ণনাকারীকে দোষযুক্ত (يجرح) করে(1)) ... আর এর নিম্নস্তরের হলো শায়খের তাদলিস (تدليس شيخ) যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়।

--------------------------------------------

= ইলমধারীগণের নিকট এটি পরিচিত যে, তা বিচ্ছিন্ন (منقطع) এবং তারা এর মাধ্যমে সনদ ছাড়াই বর্ণনা করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। যখন বর্ণনাকারী তার সমসাময়িক কারো পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন যার সাথে তার সাক্ষাতের বিষয়টি প্রমাণিত, অথচ তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা সরাসরি শ্রবণ করা বোঝায় না এবং এমন কিছু বর্ণনা করেন যা তিনি শোনেননি, তবে তাকে তাদলিস (تدليس) বলা হবে এবং বর্ণনাকারীকে তাদলিসকারী (مدلس) বলা হবে। তাদলিসের অন্যতম শব্দ ও পদ্ধতি হলো বর্ণনার মাধ্যমটি বাদ দিয়ে কেবল শায়খের নাম উল্লেখ করা। যেমন তিনি বলেন: "অমুক অমুকের নিকট হতে", যেমনটি আলি ইবনে খাশরাম বর্ণনা করেছেন: "আমরা ইবনে উইয়াইনাহর নিকট ছিলাম, তিনি বললেন: জুহরি; তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: জুহরি কি আপনাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন? তিনি চুপ থাকলেন। পুনরায় বললেন: জুহরি; তাকে বলা হলো: আপনি কি তা জুহরির নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: না, এমনকি তার কাছ থেকেও শুনিনি যে জুহরির নিকট থেকে শুনেছে। আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক মা’মার এর সূত্রে জুহরি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।" একে তাদলিস আল-কাত (تدليس القطع) বা বিচ্ছিন্নকরণ মূলক প্রতারণা বলা হয়। এর আরেকটি প্রকার হলো শায়খের নিকট থেকে যা শুনেছেন তা বর্ণনা করা এবং তার সাথে এমন অন্য একজন শায়খকে যুক্ত করে দেওয়া যার নিকট থেকে তিনি তা শোনেননি। যেমন হাকেম ও খাতিব হুশাইম থেকে বর্ণনা করেছেন: "তার সাথীরা তাকে বললেন: আমরা চাই আজ আপনি আমাদের নিকট এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করবেন যাতে কোনো তাদলিস (تدليس) থাকবে না! তিনি বললেন: গ্রহণ করো। এরপর তিনি তাদের নিকট একটি মজলিসের হাদিসগুলো লিপিবদ্ধ করালেন এবং প্রতিটি হাদিসে বললেন: আমাদের নিকট অমুক ও অমুক বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি সনদ ও মতন (متن) উল্লেখ করলেন। যখন তিনি শেষ করলেন, বললেন: আজ কি আমি তোমাদের নিকট কোনো তাদলিস করেছি? তারা বললেন: না। তিনি বললেন: হ্যাঁ, যে কটি হাদিসে আমি 'ও অমুক' বলেছি, তাদের নিকট থেকে আমি তা শুনিনি!!" একে তাদলিস আল-আতিফ (تدليس العطف) বা সংযোজনমূলক প্রতারণা বলা হয়। এর আরেকটি পদ্ধতি হলো "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" বলে চুপ হয়ে যাওয়া এবং মনে মনে বিচ্ছিন্ন করার নিয়ত করা, এরপর শায়খের নাম নেওয়া। যেমন ইবনে সাদ আবু হাফস ওমর ইবনে আলী আল-মুকাদ্দামি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি কঠোরভাবে তাদলিস করতেন। তিনি বলতেন: আমি শুনেছি এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এরপর চুপ থাকতেন, তারপর বলতেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ, আল-আ’মাশ।" এটি অত্যন্ত জঘন্য পদ্ধতি।

তাদলিসের অনেক প্রকার রয়েছে যা লেখক 'তাদরিব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ বুরহানউদ্দিন সিবত ইবনুল আজমি (মৃত্যু ৮৪১ হিজরি) এ বিষয়ে এবং তাদলিসকারী (مدلس) বর্ণনাকারীদের নিয়ে একটি রিসালা লিখেছেন যা হালাবে মুদ্রিত হয়েছে। অনুরূপভাবে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানিও একটি রিসালা লিখেছেন যা মিসরে মুদ্রিত হয়েছে।

তাদলিসের বিধান হলো এটি সর্বাবস্থায় নিন্দনীয়। এমনকি জারহ ওয়া তাদিল (الجرح والتعديل) এর ইমাম শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ তো অতিশয়োক্তি করে বলেছেন: "ব্যভিচার করা আমার নিকট তাদলিস করার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।" তিনি আরও বলেছেন: "তাদলিস হলো মিথ্যার ভাই।" ইবনে সালাহ বলেন: "এটি তার পক্ষ থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করার জন্য অতিশয়োক্তি হিসেবে গণ্য।" কেউ কেউ মনে করেন, যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে পরিচিত হবে সে দোষযুক্ত (مجروح) হিসেবে গণ্য হবে এবং তার বর্ণনা সর্বাবস্থায় প্রত্যাখ্যাত (مردود) হবে, যদিও পরবর্তীতে তিনি সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করেন। হাদিস বিশারদগণ যে মতটিকে সঠিক হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছেন তা হলো: তাদলিসকারী (مدلس) যদি এমন শব্দে বর্ণনা করে যাতে সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্ট নয়, তবে তা কবুল করা হবে না; বরং তা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, তবে তা কবুল করা হবে। এটি তখনই প্রযোজ্য যখন বর্ণনাকারী তার বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন, যা স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। কেউ কেউ আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন: "যদি তাদলিসের উদ্দেশ্য হয় কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীকে গোপন করা, তবে তা তার জন্য একটি দোষ (جرح); কারণ তা হারাম ও প্রতারণা। অন্যথায় তা দোষ হিসেবে গণ্য হবে না।"

সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে অনেক নির্ভরযোগ্য (ثقة) তাদলিসকারী (مدلس) বর্ণনাকারীর হাদিস রয়েছে যেখানে তারা সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করেননি, যেমন কাতাদাহ, সুফিয়ান সাওরি, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং আব্দুর রাজ্জাক। এগুলো সহিহ গ্রন্থের লেখকগণ যে সূত্রের কথা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে শ্রবণ প্রমাণিত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

(1) এখানে অন্য একটি প্রকার রয়েছে যাকে প্রাচীনগণ "তাজউয়িদ" (التجويد) এবং পরবর্তীগণ "তাদলিসুত তাসউয়িয়াহ" (تدليس التسوية) নামে অভিহিত করেছেন; কারণ এতে সনদকে উত্তম ও সমতাপূর্ণ করা হয়। এর পদ্ধতি হলো: বর্ণনাকারী তার ঐ শায়খের নাম উল্লেখ করেন যার নিকট থেকে তিনি শুনেছেন, কিন্তু সনদের পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারীকে তার দুর্বলতা (ضعف) বা অল্প বয়সের কারণে বাদ দিয়ে দেন যাতে হাদিসটি সুন্দর দেখায়। তিনি এক্ষেত্রে শ্রবণের সম্ভাবনা আছে এমন শব্দ ব্যবহার করেন যেমন "হতে" (عن)। মূলত হাদিসটি ছিল দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর মাঝে একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর সূত্রে, যাদের একজন অন্যজনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এমতাবস্থায় তিনি দুর্বল বর্ণনাকারীকে বাদ দিয়ে সরাসরি তার নির্ভরযোগ্য শায়খের বরাতে পরবর্তী নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেন, ফলে পুরো সনদটি সমতাপূর্ণ ও ত্রুটিমুক্ত (ثقة عن ثقة) মনে হয়।

এটি তাদলিসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম প্রকার; কারণ প্রথম নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী হয়তো তাদলিসের জন্য পরিচিত নন, ফলে সনদের পর্যালোচনাকারী তাকে...
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢١)
بِوَصْفِهِ بِغَيْرِ وَصْفٍ يُعْرَفُ … فَإِنْ يَكُنْ لِكَوْنِهِ يُضَعَّفُ

(فَقِيلَ: جَرْحٌ) أَوْ لِلاسْتِصْغَارِ … فَأَمْرُهُ أَخَفُّ كَاسْتِكْثَارِ

(وَمِنْهُ إِعْطَاءُ شُيُوخٍ فِيهَا … اسْمَ مُسَمًّى آخَرٍ تَشْبِيهَا(1))

 

‌‌الإرسال الخفي والمزيد في متصل الأسانيد

وَيُعْرَفُ الإِرْسَالُ ذُو الْخَفَاءِ … بِعَدَمِ السَّمَاعِ وَاللِّقَاءِ

--------------------------------------------

= - بعد التسوية - قد رواه عن ثقة آخر، فيحكم له بالصحة أو يتحير، وربما لصق البلاء بالثقة مع براءته منه، وفيه غرر شديد. وممن اشتهر بهذا النوع "بقية بن الوليد" و"الوليد بن مسلم" مثال ذلك: أن بقية روى حديثًا عن عبيد الله بن عمرو بن أبي الوليد الأسدي الجزري الرقي عن إسحاق بن أبي فروة عن نافع عن ابن عمر، وكل هؤلاء ثقات، إلا إسحاق بن عبد الله بن أبي فروة، فإنه ضعيف جدًّا، فجاء بقية فقال: "حدثني أبو وهب الأسدي عن نافع عن ابن عمر" وأبو وهب الأسدي هو عبيد الله بن عمرو؛ لأنه يكنى أبا وهب وينسب لبني أسد، فغيره بهذه الصفة كيلا يفطن له، وحذف من الإسناد "إسحاق بن أبي فروة" وجعل ظاهر الإسناد الصحة، فلا يفطن له إلا دقيق النظر من الحفاظ.

قال العلائي: "هذا النوع أفحش أنواع التدليس مطلقًا وشرها" وقال العراقي: "وهو قادح فيمن تعمد فعله" وقال شيخ الإسلام ابن حجر: "لا شك أنه جرح".

(1) تدليس الشيوخ: هو أن يسمي الراوي شيخه أو شيخ شيخه باسم أو كنية أو لقب غير ما اشتهر به وعرف، وهو عمل غير جيد أيضًا، فإن كان عمل هذا سترًا لضعف الشيخ، فقد قال بعضهم: إن هذا جرح فيمن فعله، والأصح أنه ليس بجرح، إلا إن قصد إلى إخفاء ضعف الحديث وإظهاره في مظهر الصحيح. وبعضهم يفعل هذا لأن شيخه صغير في السن أو متأخر الوفاة أو سع منه كثيرًا فامتنع من تكراره على صورة واحدة إيهامًا لكثرة الشيوخ، وكل هذه الصور غير مستحسنة، لما فيها من صعوبة معرفة الشيخ لمن لم يعرفه، فقد لا يفطن له الناظر فيحكم عليه بالجهالة. وهذا يحصل كثيرًا من الخطيب البغدادي وابن الجوزي وغيرهما. ومنع بعضهم إطلاق اسم "التدليس" على هذا النوع، والمسألة اصطلاح.

ثم إن لهم صورة أخرى عكس هذه: بأن يذكر الراوي شيخه بكنية أو لقب أو صفة تتفق مع صفة شيخ آخر مشهور تشبيهًا له به، كما يفعل ابن السبكي إذ يقول: "أخبرنا أبو عبد الله الحافظ" يريد "الذهبي" تشبهًا بالبيهقي إذ يقول هذا، ويريد به الحاكم، وكذا إبهام اللقي والرحلة، كان يقول "حدثنا من وراء النهر" يوهم أنه جيحون، ويريد نهر عيسى ببغداد أو الجيزة بمصر، وليس هذا بجرح قطعًا؛ لأنه من المعاريض، لا من الكذب، قاله الآمدي وابن دقيق العيد.

فائدة: نقل المؤلف في التدريب عن الحاكم قال: "أهل الحجاز والحرمين ومصر والعوالي وخراسان وإصبهان وبلاد فارس وخوزستان وما وراء النهر -: لا نعلم أحدًا من أئمتهم دلسوا، وأكثر المحدثين تدليسا أهل الكوفة ونفر يسير من أهل البصرة، وأما أهل بغداد فلم يذكر عن أحد من أهلها التدليس إلى أبي بكر محمد بن محمد بن محمد بن سليمان الباغندي الواسطي، فهو أول من أحدث التدليس بها".
তাকে এমন কোনো বর্ণনায় ভূষিত করা যা দিয়ে তাকে চেনা যায় না … যদি তা করা হয় তাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করা হয়েছে বিধায়।

(বলা হয়েছে: এটি জারহ (جرح)) অথবা যদি তা ছোট বয়সের কারণে হয় … তবে তার বিষয়টি তূলনামূলক লঘু, যেমন শাইখের সংখ্যাধিক্য দেখানোর জন্য করা হলে।

(এর একটি প্রকার হলো শাইখদের সেখানে এমন নাম দেওয়া … যা সাদৃশ্য বজায় রেখে অন্য কোনো ব্যক্তির নামের সাথে মিলে যায়(1))

 

‌অপ্রকাশ্য বিচ্ছিন্নতা (الإرسال الخفي) এবং সংযুক্ত সনদে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী (المزيد في متصل الأسانيد)

আর অপ্রকাশ্য বিচ্ছিন্নতা (الإرسال الخفي) চেনা যায় … শ্রবণ (سماع) এবং সাক্ষাতের (لقاء) অভাব দ্বারা।

--------------------------------------------

= - সমতাকরণ (تسوية) করার পর—তিনি এটি অন্য একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, ফলে একে সহিহ (صحيح) বলে হুকুম দেওয়া হয় অথবা সংশয়ে নিপতিত হতে হয়। কখনো কখনো নির্দোষ হওয়ার সত্ত্বেও নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর ওপর অপবাদ চলে আসে, আর এতে মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। এই প্রকারের জন্য প্রসিদ্ধ হলেন "বাকিয়্যাহ ইবনে আল-ওয়ালিদ" এবং "ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম"। উদাহরণস্বরূপ: বাকিয়্যাহ একটি হাদিস উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আবিল ওয়ালিদ আল-আসাদি আল-জাজারি আল-রাক্কি থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আবি ফারওয়া থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। এঁরা সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ফারওয়া অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً)। তখন বাকিয়্যাহ এসে বললেন: "আমার কাছে আবু ওয়াহাব আল-আসাদি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।" আর আবু ওয়াহাব আল-আসাদি হলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর; কারণ তার কুনিয়াত বা উপনাম আবু ওয়াহাব এবং তিনি আসাদ গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। বাকিয়্যাহ তাকে এই গুণাবলির মাধ্যমে পরিবর্তন করেছেন যাতে তাকে চেনা না যায়, এবং সনদ থেকে "ইসহাক ইবনে আবি ফারওয়া"-কে বাদ দিয়েছেন। ফলে সনদের বাহ্যিক রূপটি সহিহ (صحيح) হয়ে গেছে। হাফেজদের (حفاظ) মধ্যে সূক্ষ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া এটি কেউ বুঝতে পারবে না।

আল-আলাই বলেন: "এই প্রকারটি সাধারণভাবে তাদলিসের (تدليس) প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য ও নিকৃষ্ট।" আল-ইরাকি বলেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করবে, তার জন্য এটি ত্রুটিযুক্তকারী (قادح)।" শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজার বলেন: "নিঃসন্দেহে এটি একটি জারহ (جرح)।"

(1) শাইখদের ক্ষেত্রে তাদলিস (تدليس الشيوخ): এটি হলো বর্ণনাকারী (راوي) তার শাইখকে অথবা তার শাইখের শাইখকে এমন নাম, উপনাম বা উপাধিতে সম্বোধন করা যা দ্বারা তিনি প্রসিদ্ধ বা পরিচিত নন। এটিও উত্তম কাজ নয়। যদি এটি শাইখের দুর্বলতা (ضعف) গোপন করার জন্য করা হয়, তবে কেউ কেউ বলেছেন: যে এটি করে তার ক্ষেত্রে এটি জারহ (جرح) হিসেবে গণ্য। তবে সঠিক মত হলো, এটি জারহ (جرح) নয়, যদি না এর উদ্দেশ্য হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) গোপন করে তাকে সহিহ (صحيح) রূপে উপস্থাপন করা হয়। কেউ কেউ এটি করেন কারণ তার শাইখ বয়সে ছোট অথবা তিনি দেরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন অথবা বর্ণনাকারী তার থেকে প্রচুর হাদিস শুনেছেন, তাই শাইখদের আধিক্য বোঝানোর জন্য একই নামে বারবার বর্ণনা করতে বিরত থাকেন। এই সবকটি সুরতই অপছন্দনীয়, কারণ এতে শাইখকে চেনা কঠিন হয়ে পড়ে। পাঠক হয়তো বিষয়টি বুঝতে পারবেন না এবং তার ওপর অজ্ঞাত (جهالة) হওয়ার হুকুম দিয়ে দেবেন। খতিব আল-বাগদাদী, ইবনুল জাওযি এবং অন্যদের থেকে এটি প্রচুর ঘটে থাকে। কেউ কেউ এই প্রকারের ক্ষেত্রে "তাদলিস" (تدليس) শব্দটি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন, বিষয়টি পরিভাষাগত (اصطلاح)।

অতঃপর এর বিপরীত আরেকটি রূপ তাদের কাছে রয়েছে: রাবী তার শাইখকে এমন কুনিয়াত, উপাধি বা গুণের মাধ্যমে উল্লেখ করেন যা অন্য কোনো প্রসিদ্ধ শাইখের গুণের সাথে মিলে যায়, যাতে তাকে সেই প্রসিদ্ধ ব্যক্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করা যায়। যেমন ইবনুস সুবকি করেন, তিনি বলেন: "আমাদেরকে আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফেজ সংবাদ দিয়েছেন" এবং এর দ্বারা তিনি "আয-যাহাবি"-কে উদ্দেশ্য করেন, যা তিনি আল-বায়হাকির অনুকরণে করেন (কারণ বায়হাকি এটি বলে আল-হাকিমকে বোঝাতেন)। তেমনিভাবে দেখা করা এবং ভ্রমণের বিষয়টি অস্পষ্ট রাখা, যেমন বলা "নদীর ওপার থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে" যা দ্বারা ভ্রান্তি তৈরি হয় যে এটি জাইহুন নদী, অথচ তিনি বাগদাদের ঈসা নদী অথবা মিসরের গিজা নদী বোঝাতে চেয়েছেন। এটি নিশ্চিতভাবেই জারহ (جرح) নয়; কারণ এটি দ্ব্যর্থবোধক কথার (معاريض) অন্তর্ভুক্ত, মিথ্যার (كذب) অন্তর্ভুক্ত নয়। আল-আমিদি এবং ইবনু দাকীক আল-ঈদ এ কথা বলেছেন।

জ্ঞাতব্য: লেখক 'তাদরিব' গ্রন্থে আল-হাকিম থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: "হিজাজ, হারামাঈন, মিসর, আওয়ালি, খুরাসান, ইস্পাহান, পারস্য দেশসমূহ, খুজিস্তান এবং মা ওরাউন নাহার-এর অধিবাসী—তাদের ইমামদের মধ্যে কেউ তাদলিস (تدليس) করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মুহাদ্দিসদের (محدثين) মধ্যে কুফার অধিবাসীরা এবং বসরার স্বল্পসংখ্যক লোক সবচেয়ে বেশি তাদলিস (تدليس) করতেন। আর বাগদাদবাসীর ক্ষেত্রে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-বাগিন্দি আল-ওয়াসিতি-এর আগ পর্যন্ত কারো থেকে তাদলিসের (تدليس) কথা বর্ণিত হয়নি; তিনিই সর্বপ্রথম সেখানে তাদলিসের (تدليس) প্রচলন করেন।"
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢٢)
[وَمِنْهُ مَا يُحْكَمُ بِانْقِطَاعِ … مِنْ جِهَةٍ بِزيْدِ شَخْصٍ وَاعِ(1)]

وَبِزِيَادَةٍ تَجِي، وَرُبَّمَا … يُقْضَى عَلَى الزَّائِدِ أَنْ قَدْ وَهِمَا

(حَيْثُ قَرِينَةٌ) وَإِلَّا احْتَمَلا … سَمَاعُهُ مِنْ ذَيْنِ لَمَّا حَمَلا(2)

(وَإِنَّمَا يُعْرَفُ بِالإِخْبَارِ … عَنْ نَفْسِهِ وَالنَّصِّ مِنْ كِبَارِ(3))

 

‌‌الشاذّ والمحفوظ

وَذُو الشُّذُوذِ مَا رَوَى الْمَقْبُولُ … مُخَالِفًا أَرْجَحَ، وَالمَجْعُولُ

(أَرْجَحَ مَحْفُوظٌ)، وَقِيلَ: مَا انْفَرَدْ … لَوْ لَمْ يُخَالِفْ، قِيلَ: أَوْ ضَبْطًا فَقَدْ

--------------------------------------------

(1) هذا البيت زيادة في المتن الذي شرحه الترمسي، ولم يوجد في الأصل، وأرى أنه لا داعي له، لفهم معناه مما في الأبيات بعده، ولعله من مسودة المؤلف ثم حذفه في النسخة الأخيرة.

(2) في المتن الذي شرحه الترمسي "من ذين ما قد حملا" والمعنى واحد.

(3) قد يجيء الحديث الواحد بإسناد واحد من طريقين، ولكن في أحدهما زيادة راو، وهذا يشتبه على كثير من أهل الحديث، ولا يدركه إلا النقاد، فتارة تكون الزيادة راجحة، بكثرة الراوين لها أو بضبطهم وإتقانهم، وتارة يحكم بأن راوي الزيادة وهم فيها، تبعًا للترجيح والنقد، فإذا رجحت الزيادة كان الناقص من نوع الإرسال الخفي، وإذا رجح النفص كان الزائد من المزيد في متصل الأسانيد.

مثال الأول: حديث عبد الرزاق عن الثوري عن أبي إسحاق عن زيد بن ييشع - بضم الياء التحتية المثناة وفتح الثاء المثلثة وإسكان الياء التحتية المثناة وآخره عين مهملة - عن حذيفة مرفوعًا: "إن وليتموها أبا بكر فقوي أمين" فهو منقطع في موضعين: لأنه روي عن عبد الرزاق قال: حدثني النعمان بن أبي شيبة عن الثوري، وروي أيضًا عن الثوري عن شريك عن أبي إسحاق. ومثال الثاني: حديث ابن المبارك قال: حدثنا سفيان عن عبد الرحمن بن يزيد حدثني بسر بن عبيد الله قال سمعت أبا إدريس الخولاني قال سمعت واثلة يقول سمعت أبا مرثد يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لا تجلسوا على القبور ولا تصلوا إليها" فزيادة "سفيان" و"أبي إدريس" وهم: فالوهم في زيادة سفيان من الراوي عن ابن المبارك، فقد رواه ثقات عن ابن المبارك عن عبد الرحمن بن يزيد بغير واسطة، مع تصريح بعضهم بالسماع، والوهم في زيادة أبي إدريس من ابن المبارك، فقد رواه ثقات عن عبد الرحمن بن يزيد عن بسر بغير واسطة مع تصريح بعضهم بالسماع.

ويعرف الإرسال الخفي أيضًا بعدم لقاء الراوي لشيخه وإن عاصره، أو بعدم سماعه منه أصلًا، أو بعدم سماعه الخبر الذي رواه وإن كان سمع منه غيره، وإنما يحكم بهذا إما بالقرائن القوية، وإما بإخبار الشخص عن نفسه، وإما بمعرفة الأئمة الكبار والنص منهم على ذلك.

وقد يجيء الحديث من طريقين في أحدهما زيادة راو في الإسناد، ولا توجد قرينة ولا نص على ترجيح أحدهما على الآخر، فيحمل هذا على أن الراوي سمعه من شيخه وسمعه من شيخ شيخه، فرواه مرة هكذا، ومرة هكذا.
[এবং এর অন্তর্ভুক্ত এমন যা কোনো সচেতন ব্যক্তির আধিক্যের কারণে এক দিক থেকে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) হিসেবে বিচার করা হয় … (১)]

এবং এমন আধিক্য আসে যা কখনো কখনো … অতিরিক্ত বর্ণনাকারীর উপর ভ্রম (وهم)-এর ফয়সালা দেওয়া হয়

(যেখানে কোনো সূত্র বিদ্যমান থাকে) অন্যথায় উভয়টির সম্ভাবনা থাকে … যখন তারা তা বহন করেন তখন এই দুইজনের থেকেই তার শ্রবণ (سماع) সম্ভব হয় (২)

(এবং এটি কেবল নিজের পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে … এবং বিজ্ঞ ইমামদের সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) থেকেই জানা যায় (৩))

 

‌ব্যতিক্রমী (شاذ) এবং সংরক্ষিত (محفوظ)

ব্যতিক্রমী (شاذ) হলো কোনো গ্রহণযোগ্য (مقبول) ব্যক্তির এমন বর্ণনা … যা অধিকতর অগ্রগণ্য বর্ণনার বিপরীত, আর যেটি...

(অধিকতর অগ্রগণ্য তা হলো সংরক্ষিত (محفوظ)), এবং বলা হয়েছে: যা একক (منفرد) ভাবে বর্ণিত হয়েছে … যদিও তা বিরোধিতা না করে, আবার বলা হয়েছে: অথবা যার স্মৃতিশক্তির (ضبط) অভাব রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এই পংক্তিটি সেই মূল পাঠের (متن) অতিরিক্ত যা আল-তারমাসি ব্যাখ্যা করেছেন এবং এটি মূলে পাওয়া যায়নি। আমি মনে করি এর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ পরবর্তী পংক্তিগুলো থেকে এর অর্থ অনুধাবন করা যায়। সম্ভবত এটি লেখকের খসড়া ছিল যা পরবর্তীতে তিনি চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ দিয়েছেন।

(২) আল-তারমাসি কর্তৃক ব্যাখ্যাত মূল পাঠে (متن) "من ذين ما قد حملا" রয়েছে এবং এর অর্থ একই।

(৩) কখনো একটি হাদিস একটি সনদে (إسناد) দুটি ভিন্ন পথে আসতে পারে, কিন্তু তাদের একটিতে একজন বর্ণনাকারীর আধিক্য থাকে। এটি হাদিস শাস্ত্রের অনেক পণ্ডিতের কাছেই অস্পষ্ট মনে হয় এবং পারদর্শী সমালোচক (نقاد) ব্যতীত কেউ তা অনুধাবন করতে পারেন না। কখনো আধিক্যটি অধিকতর অগ্রগণ্য হয় বর্ণনাকারীদের আধিক্য অথবা তাদের স্মৃতিশক্তি (ضبط) ও নিপুণতার কারণে। আবার কখনো الترجيح (অগ্রাধিকার দান) এবং النقد (সমালোচনা) অনুযায়ী আধিক্য প্রদানকারী রাবি ভ্রম (وهم) করেছেন বলে রায় দেওয়া হয়। সুতরাং যখন আধিক্যটি অগ্রগণ্য হয়, তখন কম বর্ণনাকারীবিশিষ্ট সনদটি প্রচ্ছন্ন বিচ্ছিন্নতা (إرسال خفي) হিসেবে গণ্য হয়। আর যখন কম বর্ণনাকারীবিশিষ্ট সনদটি অগ্রগণ্য হয়, তখন অতিরিক্ত বর্ণনাকারীবিশিষ্ট অংশটি সংযুক্ত সনদে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী (مزيد في متصل الأسانيد) হিসেবে গণ্য হয়।

প্রথমটির উদাহরণ: আবদুর রাজ্জাক থেকে সাওরি থেকে আবু ইসহাক থেকে জায়েদ ইবনে ইউশাই -ইয়াম এর উপর পেশ, সায়ের উপর জবর, ইয়াম সাকিন এবং শেষে আইন- থেকে হুজাইফা রা. সূত্রে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিস: "যদি তোমরা আবু বকরকে দায়িত্ব দাও তবে সে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।" এটি দুটি স্থানে বিচ্ছিন্ন (منقطع): কারণ এটি আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণিত হয়েছে যিনি বলেছেন: আমাকে নুমান ইবনে আবি শায়বাহ সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার এটি সাওরি থেকে শরিক থেকে আবু ইসহাক সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয়টির উদাহরণ: ইবনুল মুবারকের হাদিস, তিনি বলেন: আমাদের সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি বলেছেন আমাকে বুসর ইবনে উবাইদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন আমি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন আমি ওয়াসিলাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন আমি আবু মারসাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমরা কবরের উপর বসো না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করো না।" এখানে "সুফিয়ান" এবং "আবু ইদ্রিস"-এর আধিক্য হলো ভ্রম (وهم): সুফিয়ানের আধিক্যের ভ্রমটি ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে হয়েছে, কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (ثقات) এটি ইবনুল মুবারক থেকে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ সূত্রে কোনো মাধ্যম ছাড়াই বর্ণনা করেছেন, যেখানে তাদের কেউ কেউ সরাসরি শ্রবণ (سماع) করার কথা স্পষ্ট করেছেন। আর আবু ইদ্রিসের আধিক্যের ভ্রমটি ইবনুল মুবারকের পক্ষ থেকে হয়েছে, কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (ثقات) এটি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ থেকে বুসর সূত্রে কোনো মাধ্যম ছাড়াই বর্ণনা করেছেন, যেখানে তাদের কেউ কেউ সরাসরি শ্রবণ (سماع) করার কথা স্পষ্ট করেছেন।

প্রচ্ছন্ন বিচ্ছিন্নতা (إرسال خفي) আরও চেনা যায় রাবি তার শাইখের সমসাময়িক হওয়া সত্ত্বেও তার সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া দ্বারা, অথবা তার থেকে আদৌ শ্রবণ (سماع) না থাকার দ্বারা, অথবা বর্ণিত খবরটি তার থেকে না শোনার দ্বারা যদিও তিনি তার থেকে অন্য কিছু শুনেছেন। তবে এই রায় কেবল শক্তিশালী প্রমাণাদি (قرائن), অথবা ব্যক্তির নিজের স্বীকারোক্তি, অথবা বড় ইমামদের জানাশোনা এবং তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্যের (نص) মাধ্যমে দেওয়া হয়।

কখনো একটি হাদিস দুটি পথে আসতে পারে যার একটির সনদে (إسناد) একজন বর্ণনাকারীর আধিক্য থাকে, কিন্তু সেখানে কোনো একটিকে অন্যটির উপর প্রাধান্য দেওয়ার মতো প্রমাণ (قرينة) বা সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে একে এভাবে ধরা হয় যে, বর্ণনাকারী এটি তার শাইখের কাছ থেকে শুনেছেন এবং তার শাইখের শাইখের কাছ থেকেও শুনেছেন, ফলে তিনি একবার এভাবে এবং একবার ওভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌المنكر والمعروف

(المُنْكَرُ الَّذِي رَوَى غَيْرُ الثِّقَهْ … مُخَالِفًا، فِي نُخْبَةٍ قَدْ حَقَّقَهْ

قَابَلَهُ المَعْرُوفُ، وَالَّذِي رَأَى … تَرَادُفَ المُنْكَرِ وَالشَّاذِ نَأَى)

 

‌‌المتروك

(وَسَمِّ بِالْمَتْرُوكِ فَرْدًا تُصِبِ … رَاوٍ لَهُ مُتَّهَمٌ بِالْكَذِبِ

أَوْ عَرَفُوهُ مِنْهُ فَي غَيْرِ الأَثَرْ … أَوْ فِسْقٍ أَوْ غَفْلَةٍ أَوْ وَهْمٍ كَثُرْ(1))

 

‌‌الأفراد

الْفَرْدُ إِمَّا مُطْلَقٌ مَا انْفَرَدَا … رَاوٍ بِهِ فَإِنْ لِضَبْطٍ بَعُدَا

--------------------------------------------

(1) هذه الأنواع الخمسة كلها مرجعها إلى تفرد الراوي بما روى، وكذلك ما سيأتي في "الأفراد" و"الغريب". فالراوي إذا انفرد بالحديث وكان متهمًا بالكذب، سواء في الحديث وفي غيره، أو بالفسق، أو كان ذا غفلة، أو كثير الوهم -: سمى ما انفرد به "المتروك". وإن كان لم ينفرد بأصل الحديث وإنما انفرد بشيء فيه في المتن أو السند وخالفه غيره من الثقات -: كان ما انفرد به "منكرًا والآخر "معروفًا". أن روى الثقة حديثًا وخالفه فيه أرجح منه، لمزيد ضبط أو كثرة عدد -: كان ما انفرد به "شاذًا" والآخر "محفوظًا". وذهب الحاكم إلى أن الشاذ "هو ما انفرد به ثقة وليس له أصل متابع لذلك الثقة، ويغاير المعلل بأن ذلك وقف على علته الدالة على جهة الوهم فيه، والشاذ لم يوقف فيه على علة كذلك، وينقدح في نفس الناقد أنه غلط، ولا يقدر على إقامة الدليل على ذلك قال الحافظ ابن حجر: "وهذا أدق من المعلل بكثير، فلا يتمكن من الحكم به إلا من مارس الفن غاية الممارسة، وكان في الذروة من الفهم الثاقب ورسوخ القدم في الصناعة نقله المؤلف في التدريب (ص 81) ثم قال: "ولعسره لم يفرده أحد بالتصنيف، ومن أوضح أمثلته ما أخرجه في المستدرك من طريق عبيد بن غنام عن علي بن حكيم عن شريك عن عطاء بن السائب عن أبي الضحى عن ابن عباس قال: في كل أرض نبي كنبيكم وآدم كآدم ونوح كنوح إبراهيم كإبراهيم وعيسى كعيسى. وقال: صحيح الإسناد، ولم أزل أتعجب من تصحيح الحاكم له! حتى رأيت البيهقي قال: إسناده صحيح ولكنه شاذ بمرة". والحديث في المستدرك (ج 2 ص 493) ووافقه الذهبي على تصحيحه، ولست أرى أنه من الشاذ كما ذهب إليه البيهقي؛ لأن الحاكم روى بعده قطعة منه من طريق شعبة عن عمرو بن مرة عن أبي الضحى عن ابن عباس، إنما علة الحديث، أنه موقوف على ابن عباس في الطريقين، فيحتمل - بل يرجح - أنه من الإسرائيليات التي كان الصحابة لا يرون بأسًا بنقلها عن اليهود. والله أعلم.

ثم إن كل ما سبق في هذه الأنواع إنما هو في انفراد الراوي الذي ليس صحابيًا، وأما الصحابي فإن انفراده يرواية لا يدخل تحت أي نوع منها.
‌মুনকার (المنكر) এবং মা'রুফ (المعروف)

(মুনকার (المُنْكَرُ) হলো সেই বর্ণনা যা অ-নির্ভরযোগ্য (غير الثقة) বর্ণনাকারী বর্ণনা করে … এবং নির্ভরযোগ্যদের বিরোধিতা করে; যেমনটি 'নুখবাতুল ফিকার'-এ সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এর বিপরীত হলো মা'রুফ (المَعْرُوفُ); আর যারা মনে করেন … মুনকার (المُنْكَرِ) এবং শাজ (الشَّاذِ) উভয়টি সমার্থক, তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত।)

 

‌মাতরুক (المتروك)

(যেই একক (فَرْدًا) বর্ণনার বর্ণনাকারী … মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (مُتَّهَمٌ بِالْكَذِبِ) হয়, তাকে মাতরুক (المَتْرُوكِ) হিসেবে নামকরণ করলে তুমি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।

অথবা যদি তারা তাকে হাদিস ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে মিথ্যার জন্য চিনে থাকে … অথবা তার মধ্যে পাপাচার (فِسْقٍ), চরম অসতর্কতা (غَفْلَةٍ) কিংবা প্রচুর ভ্রান্তি (وَهْمٍ) বিদ্যমান থাকে(1)।)

 

‌আফরাদ (الأفراد)

ফারদ (الْفَرْدُ) বর্ণনার ক্ষেত্রে তা হয় নিরঙ্কুশ বা মুতলাক (مُطْلَقٌ) যখন বর্ণনাকারী তাতে একক হয়ে যায় … তবে যদি তার নির্ভুলতা বা স্মৃতিশক্তি (ضَبْطٍ) মানদণ্ড থেকে দূরে থাকে।

--------------------------------------------

(1) এই পাঁচটি প্রকারের সবকটির মূল ভিত্তি হলো বর্ণনাকারীর এককভাবে বর্ণনা করা (تفرد); তেমনিভাবে সামনে যা 'আফরাদ' এবং 'গারিব' অধ্যায়ে আসবে তার ক্ষেত্রেও একই কথা। সুতরাং বর্ণনাকারী যদি হাদিস বর্ণনায় একক (انفرد) হয় এবং সে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهمًا بالكذب) হয়—চাই তা হাদিসের ক্ষেত্রে হোক বা অন্য ক্ষেত্রে—অথবা পাপাচার (الفسق), কিংবা চরম অসতর্কতা (غفلة), বা অধিক ভ্রান্তি (كثير الوهم) সম্পন্ন হয়, তবে তার সেই একক বর্ণনাকে মাতরুক (المتروك) বলা হয়। আর যদি সে হাদিসের মূলে একক না হয়ে বরং এর মতন বা সনদের কোনো অংশে একক হয় এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীরা তার বিরোধিতা করেন, তবে তার সেই একক বর্ণনাটি মুনকার (منكرًا) এবং অপরটি মা'রুফ (معروفًا) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি কোনো নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারী কোনো হাদিস বর্ণনা করেন এবং তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য কেউ—অধিক স্মৃতিশক্তি বা বর্ণনাকারীর আধিক্যের কারণে—তার বিরোধিতা করেন, তবে তার সেই একক বর্ণনাটি শাজ (شاذًا) এবং অপরটি মাহফুজ (محفوظًا) হবে। ইমাম আল-হাকিম মনে করেন যে, শাজ (الشاذ) হলো "এমন হাদিস যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর কোনো সমর্থিত মূল ভিত্তি নেই; এটি মুআল্লাল (المعلل) থেকে ভিন্ন, কারণ মুআল্লাল (المعلل)-এর ক্ষেত্রে এমন ত্রুটি পাওয়া যায় যা তার ভ্রান্তির দিকটি নির্দেশ করে, কিন্তু শাজ (الشاذ)-এর ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রকাশ্য ত্রুটি পাওয়া যায় না। তবে একজন সমালোচকের মনে এটি খটকা তৈরি করে যে এটি ভুল, যদিও তিনি এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করতে সক্ষম হন না।" হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "এটি মুআল্লাল (المعلل) অপেক্ষা অনেক বেশি সূক্ষ্ম বিষয়; এই শাস্ত্রের চরম অনুশীলন এবং তীক্ষ্ণ মেধা ও গভীর বুৎপত্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ব্যতীত কেউ এর ওপর হুকুম লাগাতে সক্ষম হয় না।" গ্রন্থকার এটি 'তাদরিবুর রাবি' (পৃষ্ঠা ৮১) থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "এটি অত্যন্ত কঠিন হওয়ার কারণে কেউ একে একক কোনো শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেননি। এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো যা ইমাম আল-হাকিম 'আল-মুস্তাদরাক'-এ উবাইদ বিন গাননাম থেকে, তিনি আলী বিন হাকিম থেকে, তিনি শারিক থেকে, তিনি আতা বিন সাইব থেকে, তিনি আবু দুহা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: 'প্রত্যেক জমিনে তোমাদের নবীর মতো একজন নবী আছেন, আদমের মতো আদম, নূহের মতো নূহ, ইব্রাহিমের মতো ইব্রাহিম এবং ঈসার মতো ঈসা আছেন।' আল-হাকিম বলেছেন: এর সনদ সহিহ (صحيح الإسناد)। আমি সর্বদা আল-হাকিমের এই হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) বলাতে আশ্চর্য হতাম! যতক্ষণ না আমি ইমাম আল-বাইহাকির বক্তব্য দেখলাম; তিনি বলেছেন: এর সনদ সহিহ (صحيح), কিন্তু এটি চরমভাবে বিচ্যুত বা শাজ (شاذ)।" হাদিসটি 'আল-মুস্তাদরাক' (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৯৩)-এ রয়েছে এবং আল-দাহাবি একে সহিহ (صحيحه) বলার ক্ষেত্রে একমত পোষণ করেছেন। তবে আমার মতে এটি ইমাম আল-বাইহাকির ধারণার মতো শাজ (الشاذ) নয়; কারণ ইমাম আল-হাকিম এর পরেই এই হাদিসের একটি অংশ শু’বা থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি আবু দুহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। মূলত হাদিসটির ত্রুটি হলো এটি উভয় সূত্রেই ইবনে আব্বাসের উক্তি হিসেবে মাওকুফ (موقوف)। সুতরাং এটি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে—এটি ইসরাঈলি বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা সাহাবীগণ ইহুদিদের থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে কোনো দোষ মনে করতেন না। আল্লাহই ভালো জানেন।

অতঃপর উপরে উল্লেখিত প্রকারভেদগুলো কেবলমাত্র সেই বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা (انفراد) সম্পর্কে আলোচনা করে যিনি সাহাবী (صحابي) নন; আর সাহাবীর একক বর্ণনা (انفراده) এর কোনো প্রকারের অধীনে পড়বে না।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢٤)
رُدَّ، وَإِذْ يَقْرُبُ مِنْهُ فَحَسَنْ … أَوْ بَلَغَ الضَّبْطَ فَصَحِّحْ حَيْثُ عَنّ(1)

وَمِنْهُ نِسْبِيٌّ بِقَيْدٍ يُعْتَمَدْ … بِثِقَةٍ أَوْ عَنْ فُلانٍ أَوْ بَلَدْ

فَيَقْرُبُ الأَوَّلُ مِنْ فَرْدٍ وَرَدْ … وَهَكَذَا الثَّالِثُ إِنْ فَرْدًا يُرَدّ(2)

 

‌‌الغريب، والعزيز، والمشهور، والمستفيض، والمتواتر

الأَوَّلُ الْمُطْلَقُ فَرْدًا، وَالَّذِي … لَهُ طَرِيقَانِ فَقَطْ لَهُ خُذِ

وَسْمَ الْعَزِيزِ، وَالَّذِي رَوَاهُ … ثَلاثَةٌ مَشْهُورُنَا، (رَآهُ

قَوْمٌ يُسَاوِي الْمُسْتَفِيضَ وَالأَصَحّ … هَذَا بِأَكْثَرٍ، وَلَكِنْ مَا وَضَحْ

حَدُّ تَوَاتُرٍ)، وَكُلٌّ يَنْقَسِمْ … لِمَا بِصِحَّةٍ وَضَعْفٍ يَتَّسِمْ

(وَالْغَالِبُ الضَّعْفُ عَلَى الْغَرِيبِ) … وَقُسِّمَ الْفَرْدُ إِلَى غَرِيبِ

فِي مَتْنِهِ وَسَنَدٍ، وَالثَّانِ قَدْ(3) … (وَلا تَرَى غَرِيبَ مَتْنٍ لا سَنَدْ

وَيُطْلَقُ الْمَشْهُورُ لِلَّذِي اشْتَهَرْ … فِي النَّاسِ مِنْ غَيْرِ شُرُوطٍ تُعْتَبَرْ(4)

--------------------------------------------

(1) هذه أنواع من انفراد الراوي بالحديث، وهي تكميل للأنواع الخمسة السابقة، فالحديث الفرد - بالإطلاق من غير قيد - هو ما انفرد به راو واحد، وإن تعددت الطرق إليه، وحكمه أنه إذا كان الراوي ثقة ضابطًا كان الحديث صحيحًا، أن كان متوسطًا في الضبط والحفظ كان الحديث حسنًا، وإن كان غير ضابط كان الحديث مردودًا. وقد سبق في نوعا "الشاذ" أن الحاكم يسمي ما ينفرد به الثقة شاذًا وإن لم يخالفه غيره.

(2) من الفرد أيضًا "الفرد النسبي"، وهو المقيد بنسبة خاصة، فأما أن يقال: لم يروه ثقة إلا فلان، وهذا حكمه حكم الفرد المطلق؛ لأن غير الثقة لا تعتبر روايته، فكان الثقة انفرد به انفرادًا مطلقًا. وإما أن يقال: لم يروه عن فلان إلا فلان، وهذا يعتبر فيه ما يعتبر في الروايات الأخرى: فن كان الإسناد صحيحًا كان صحيحًا، وإن خالف غيره كان شاذًا، وهكذا. وإما أن يقال: هذا الحديث من أفراد البصريين مثلًا، وهذا حكمه حكم الفرد المطلق.

(3) أي فقط.

(4) الحديث "الفرد المطلق" - وهو الذي تقدم في الأفراد أنه ما رواد واحد فقط - يسمى أيضًا "الغريب"، فإذا انفرد بالحديث راويان سمي "عزيرًا"، فإذا رواه أكثر من اثنين سمي "مشهورًا".

هذا هو الذي رجحه ابن حجر وغيره من المتأخرين. وذهب ابن الصلاح إلى أن العزيز ما انفرد به اثنان أو ثلاثة. والمستفيض يطلق أيضًا على المشهور، ولكن المؤلف ذهب إلى أن المشهور ما رواه ثلاثة، والمستفيض ما رواه أكثر من ثلاثة. والظاهر من عبارات المتقدمين أنهما واحد، وأن المتواتر قسم من المشهور، وسيأتي الكلام عليه.

ثم إن الغالب على الحديث الغريب أن يكون ضعيفًا، ومنه الصحيح والحسن كما مضى، والغرابة تكون =
প্রত্যাখ্যাত (مردود), আর যখন তার (নির্ভরযোগ্যতার) নিকটবর্তী হয় তখন তা হাসান (حسن) … অথবা যদি বর্ণনাকারী পূর্ণ স্মৃতিশক্তির (ضبط) অধিকারী হয় তবে তাকে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করো যখন তা প্রকাশিত হয়(১)

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো আপেক্ষিক (نسبي) যা এমন শর্তের ওপর নির্ভরশীল … যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির সাথে অথবা অমুক ব্যক্তি থেকে বা কোনো নির্দিষ্ট শহরের সাথে সম্পৃক্ত

প্রথম প্রকারটি নিরঙ্কুশ একক (فرد) বর্ণনার নিকটবর্তী … আর অনুরূপভাবে তৃতীয় প্রকারটিও যদি একক (فرد) হিসেবে বর্ণিত হয় তবে তা প্রত্যাখ্যাত (يُردّ) হয়(২)

 

‌‌বিরল (الغريب), শক্তিশালী (العزيز), প্রসিদ্ধ (المشهور), মুস্তাফিদ (المستفيض) এবং মুতাওয়াতির (المتواتر)

প্রথম প্রকারটি হলো নিরঙ্কুশ একক (فردًا مطلقا), আর যার … কেবল দুটি সূত্র রয়েছে সেটি গ্রহণ করো

আজিজ (عزيز) নামে, আর যা বর্ণনা করেছেন … তিনজন তা আমাদের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور), (কেউ কেউ

একে মুস্তাফিদ (المستفيض) এর সমান মনে করেন, আর বিশুদ্ধতম মত হলো … এটি অধিক বর্ণনাকারী দ্বারা হয়, তবে যা স্পষ্ট নয়

তাহলো মুতাওয়াতির (تواتر) এর সীমা), আর এগুলোর প্রত্যেকটিই বিভক্ত হয় … সহিহ (صحة) এবং দুর্বল (ضعف) হওয়ার বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে

(বিরল (الغريب) হাদিসের ক্ষেত্রে সাধারণত দুর্বলতাই (الضعف) প্রবল থাকে) … আর একক (الفرد) হাদিসকে বিরল (غريب) হিসেবে ভাগ করা হয়

তার মূল পাঠ (متن) এবং সনদে (سند), আর দ্বিতীয় প্রকারটিই কেবল পাওয়া যায়(৩) … (তুমি এমন কোনো হাদিস দেখবে না যা কেবল মূল পাঠের (متن) দিক থেকে বিরল (غريب) কিন্তু সনদের (سند) দিক থেকে নয়)

আর প্রসিদ্ধ (المشهور) শব্দটি তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যা মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে … কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বিবেচনা করা ছাড়াই(৪)

--------------------------------------------

(১) এগুলো হলো বর্ণনাকারীর একক বর্ণনার (انفراد) প্রকারভেদ, যা পূর্ববর্তী পাঁচটি প্রকারের পরিপূরক। সুতরাং একক (فرد) হাদিস - কোনো শর্তহীনভাবে - হলো তা যা কেবল একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যদিও তার পরবর্তী স্তরে সূত্র একাধিক হয়। এর হুকুম হলো: যদি বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং পূর্ণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী (ضابط) হন, তবে হাদিসটি সহিহ (صحيح) হবে। আর যদি তিনি স্মৃতিশক্তি ও হেফজ করার ক্ষেত্রে মধ্যম মানের হন, তবে হাদিসটি হাসান (حسن) হবে। আর যদি তিনি স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (ضابط) না হন, তবে হাদিসটি প্রত্যাখ্যাত (مردود) হবে। 'শায (شاذ)' এর প্রকারভেদে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, হাকেম নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির একক বর্ণনাকেও শায (شاذ) নামে অভিহিত করেন, যদিও অন্য কেউ তার বিরোধিতা না করে।

(২) একক (فرد) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হলো 'আপেক্ষিক একক' (فرد نسبي), যা নির্দিষ্ট নিসবতের সাথে সম্পৃক্ত। হয় তো বলা হবে: অমুক ছাড়া কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেননি; এর হুকুম 'নিরঙ্কুশ একক' (فرد مطلق) এর মতোই, কারণ অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বর্ণনা গণ্য করা হয় না, ফলে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিই এটি বর্ণনায় একক হিসেবে সাব্যস্ত হন। অথবা বলা হবে: অমুক থেকে অমুক ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি; এর ক্ষেত্রে অন্যান্য বর্ণনার ন্যায় নিয়ম প্রযোজ্য হবে: যদি সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح) হয় তবে তা সহিহ (صحيح), আর যদি অন্যের বিরোধিতা করে তবে তা শায (شاذ), এবং এভাবেই চলবে। অথবা বলা হবে: এই হাদিসটি কেবল বসরবাসীদের একক (أفراد) বর্ণনা, এর হুকুমও 'নিরঙ্কুশ একক' (فرد مطلق) এর মতো।

(৩) অর্থাৎ কেবল।

(৪) 'নিরঙ্কুশ একক' (فرد مطلق) হাদিস - যা এককদের আলোচনায় পূর্বে গত হয়েছে যে এটি কেবল একজন বর্ণনা করেন - একে বিরল (غريب) হাদিসও বলা হয়। যদি হাদিসটি দুইজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন তবে তাকে আজিজ (عزيز) বলা হয়। আর যদি দুইজনের বেশি বর্ণনা করেন তবে তাকে প্রসিদ্ধ (مشهور) বলা হয়।

ইবনে হাজার এবং পরবর্তী যুগের অন্যান্য আলেমগণ এটিই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে ইবনে সালাহ এর মতে, আজিজ (عزيز) হলো যা দুই বা তিনজন বর্ণনা করেন। মুস্তাফিদ (مستفيض) শব্দটিও প্রসিদ্ধ (مشهور) এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে লেখক মনে করেন প্রসিদ্ধ (مشهور) হলো যা তিনজন বর্ণনা করেন আর মুস্তাফিদ (مستفيض) হলো যা তিনজনের বেশি বর্ণনা করেন। পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে উভয়ই এক, এবং মুতাওয়াতির (متواتر) হলো প্রসিদ্ধ (مشهور) এর একটি প্রকার, যার আলোচনা সামনে আসবে।

এরপর বিরল (غريب) হাদিসের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় দুর্বলতা (ضعف) প্রকাশ পায়, তবে এর মধ্যে সহিহ (صحيح) এবং হাসান (حسن) হাদিসও রয়েছে যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে। বিরলতা (غرابة) কখনো হয়...
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَمَا رَوَاهُ عَدَدٌ جَمٌّ يَجِبْ … إِحَالَةُ اجْتِمَاعِهِمْ عَلَى الْكَذِبْ

فَالْمُتَوَاتِرُ، وَقَوْمٌ حَدَّدُوا … بِعَشْرَةٍ، وَهُوَ لَدَيَّ أَجْوَدُ

وَالْقَوْلُ بِاثْنَيْ عَشْرٍ أَوْ عِشْرِينَا … يُحْكَى وَأَرْبَعِينَ أَوْ سَبْعِينَا

وَبَعْضُهُمْ قَدِ ادَّعَى فِيهِ الْعَدَمْ … وَبَعْضُهُمْ عِزَّتَهُ، وَهُوَ وَهَمْ

بَلِ الصَّوابُ أَنَّهُ كَثِيرُ … وَفِيهِ لِي مُؤَلَّفٍ نَضِيرُ

خَمْسٌ وَسَبْعُونَ رَوَوْا "مَنْ كَذَبَا" … وَمِنْهُمُ الْعَشْرَةُ ثُمَّ انْتَسَبَا

لَهَا حَدِيثُ "الرَّفْعِ لِلْيَدَيْنِ" … (وَ"الْحَوْضِ") وَ"الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ(1)

--------------------------------------------

= في المتن والسند معًا، وتكون في السند وحده، وقد تكون بأصل الحديث، وقد تكون بزيادة في المتن، وقد تكون بزيادة في السند، ولا تكون الغرابة في المتن كله وحده دون السند؛ لأن المتن إذا كان غريبًا بإسناد معين كان الإسناد إلى هذا المتن إسنادًا غريبًا، فيكون غريب المتن والإسناد معًا، وأما غرابة الإسناد وحده فتكون في حديث معروف بأسانيد أخرى، ويأتي بإسناد انفرد به راو واحد، فيكون هذا الإسناد غريبًا.

وأمثلة هذه الأنواع كثيرة معروفة في كتب السنة وكتب المصطلح، وإنما نريد أن ننبه هنا على مثال واحد يخطئ فيه الناس، وهو حديث "إنما الأعمال بالنيات" فقد زعم بعضهم أنه مشهور، بل غالى غيره فادعى أنه متواتر، والحق أنه حديث غريب، أي فرد مطلق، فإنه تفرد به عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم، وتفرد به علقمة عن عمر، وتفرد به محمد بن إبراهيم التيمي عن علقمة، وتفرد به يحيى بن سعيد عن التيمي، ثم اشتهر بعد ذلك - بل تواتر - عن يحيى بن سعيد، وقد ورد بأسانيد أخر من غير حديث عمر، ولكنها كلها أسانيد ضعاف.

وقد يطلق بعض العلماء اسم "المشهور" على الأحاديث التي اشتهرت على ألسنة الناس، سواء كانت صحيحة أم ضعيفة أم مكذوبة. ولا يريدون بها "المشهور" في اصطلاح المحدثين. وفي هذا كتب جمة مفيدة، تبين الصحيح منها من غيره، من أنفعها كتاب "تمييز الطيب من الخبيث" لابن الديبع الشيباني مؤلف تيسير الوصول، وكتاب "كشف الخفاء ومزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس" لإسماعيل بن محمد العجلوني المتوفى سنة 1162، وهو في مجلدين.

(1) من الحديث المشهور نوع يدعى "المتواتر" وهو اصطلاح يغلب في ألفاظ الفقهاء والأصوليين، وجاء أيضًا في كلام بعض العلماء بالحديث. وهو ما نقله رواة كثيرون - لا يمكن تواطؤهم على الكذب - عن مثلهم من أول الإسناد إلى آخره، فيحصل العلم الضروري بصدقهم، ويجب العمل به من غير بحث عن رجاله. وهؤلاء الرواة الكثيرون لا دليل على حصر عددهم، وزعم بعضهم أن بكون أقلهم عشرة، وقيل: أقلهم اثنا عشر، وقيل: عشرون، وقيل: أربعون، وقيل: سبعون، وقيل غير ذلك، واختار المؤلف الأول.

والصحيح أنه لا حد لذلك، وأن العبرة بما يقع في نفس السامع من صدق الخبر وعدم احتمال تواطئ هؤلاء الناقلين على الكذب، من ظروفهم وأحوالهم وكيفية نقلهم الخبر. وقد يطمئن السامع لرواية خمسة، ويقع في نفسه استحالة تواطئهم على الكذب، وقد لا يطمئن لرواية عشرة لملابسات أخرى.=
ওমা যা একটি বিশাল দল বর্ণনা করেছে, যাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব (إِحَالَةُ اجْتِمَاعِهِمْ عَلَى الْكَذِبْ) … তা হলো বহুসূত্রীয় (متواتر); আর কিছু লোক এর সংখ্যা নির্ধারণ করেছেন … দশ জন দিয়ে, যা আমার নিকট অধিকতর উত্তম।

বারো জন বা বিশ জনের কথা … বর্ণনা করা হয়; অথবা চল্লিশ বা সত্তর জনের কথাও বর্ণিত আছে।

কারো কারো মতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই … আবার কেউ কেউ এর বিরলতা (عزة) দাবি করেছেন, অথচ এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা।

বরং সঠিক কথা হলো এটি প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান … এবং এ বিষয়ে আমার একটি চমৎকার সংকলন রয়েছে।

পঁচাত্তর জন রাবি "যে ব্যক্তি মিথ্যা আরোপ করল" হাদিসটি বর্ণনা করেছেন … তাদের মধ্যে সেই দশজনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন যারা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো "দুই হাত উত্তোলন", … "হাউয" এবং "চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ" সংক্রান্ত হাদিস।(1)

--------------------------------------------

= মতন (متن) ও সনদ (سند) উভয় ক্ষেত্রে হতে পারে, আবার শুধু সনদ (سند) এর ক্ষেত্রেও হতে পারে। কখনো কখনো মূল হাদিসের ক্ষেত্রে হয়, কখনো মতন (متن) এর অতিরিক্ত অংশের ক্ষেত্রে, আবার কখনো সনদ (سند) এর অতিরিক্ত অংশের ক্ষেত্রে। পুরো মতন (متن) এর ক্ষেত্রে সনদ (سند) ব্যতীত বিরলতা (غرابة) হয় না; কারণ মতন (متن) যখন কোনো নির্দিষ্ট সনদ (سند) এর মাধ্যমে বিরল (غريب) হয়, তখন ওই মতন (متن) এর প্রতি সনদটি বিরল (غريب) হিসেবেই গণ্য হয়। এমতাবস্থায় সেটি মতন (متن) ও সনদ (سند) উভয় দিক থেকেই বিরল (غريب) বলে বিবেচিত হয়। আর শুধু সনদ (سند) এর বিরলতা (غرابة) হলো এমন কোনো হাদিস যা অন্যান্য সনদে সুপরিচিত কিন্তু এমন একটি সনদে বর্ণিত হয়েছে যা কেবল একজন রাবি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, ফলে সেই সনদটি বিরল (غريب) হয়।

এই প্রকারগুলোর উদাহরণ হাদিসের কিতাবসমূহ এবং উসুলুল হাদিসের কিতাবসমূহে সুপরিচিত। আমরা এখানে কেবল একটি উদাহরণ বিষয়ে সতর্ক করতে চাই যেটিতে মানুষ ভুল করে থাকে, আর তা হলো— "নিশ্চয়ই আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি। কেউ কেউ মনে করেন এটি প্রসিদ্ধ (مشهور), এমনকি কেউ কেউ একে বহুসূত্রীয় (متواتر) দাবি করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করেছেন। অথচ সত্য হলো এটি একটি বিরল (غريب) হাদিস, অর্থাৎ এটি নিরঙ্কুশ একক (فرد مطلق)। কেননা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উমর (রা.) এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন, উমর (রা.) থেকে আলকামা, আলকামা থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি এবং আত-তাইমি থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। এরপর এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে প্রসিদ্ধ (مشهور) হয়েছে—বরং বহুসূত্রীয় (متواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে। উমর (রা.)-এর হাদিস ছাড়াও অন্য সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর সবগুলোই দুর্বল (ضعاف) সনদ।

কখনো কখনো কোনো কোনো আলেম মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত হাদিসগুলোর ওপর "প্রসিদ্ধ" (مشهور) নাম ব্যবহার করেন, চাই সেগুলো বিশুদ্ধ (صحيحة) হোক, দুর্বল (ضعيفة) হোক কিংবা মিথ্যা (مكذوبة) হোক। তারা এর দ্বারা মুহাদ্দিসগণের পরিভাষার "প্রসিদ্ধ" (مشهور) উদ্দেশ্য করেন না। এ বিষয়ে অনেক উপকারী কিতাব রয়েছে যা এগুলোর মধ্য থেকে সহিহ এবং গায়রে সহিহ হাদিসকে স্পষ্ট করে দেয়। সেগুলোর মধ্যে ইবনে দাইবা আশ-শাইবানি (যিনি তায়সিরুল উসুল-এর লেখক) রচিত "তাময়িজুত তায়্যিব মিনাল খাবিস" এবং ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আল-আজলুনি (মৃত্যু ১১৬২ হিজরি) রচিত দুই খণ্ডের কিতাব "কাশফুল খাফা ওয়া মুযিলুল ইলবাস আম্মা ইশতাহারা মিনাল আহাদিসি আলা আলসিনাতিন নাস" সবচেয়ে বেশি উপকারী।

(1) প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসের একটি প্রকারকে বহুসূত্রীয় (متواتر) বলা হয়। এটি এমন একটি পরিভাষা যা ফকিহ এবং উসুলবিদগণের বক্তব্যে অধিক ব্যবহৃত হয়, আর হাদিস বিশারদগণের কথাতেও এটি এসেছে। এটি এমন হাদিস যা এমন এক বিশাল সংখ্যক রাবি বর্ণনা করেছেন—যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব—সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের অনুরূপ রাবিগণ থেকে। ফলে তাদের সত্যবাদিতার বিষয়ে অকাট্য জ্ঞান অর্জিত হয় এবং রাবিদের অবস্থা যাচাই ছাড়াই এর ওপর আমল করা ওয়াজিব হয়ে যায়। এই বিপুল সংখ্যক রাবিদের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণের দলিল নেই। তবে কেউ কেউ মনে করেন তাদের সর্বনিম্ন সংখ্যা দশ; কারো মতে বারো, কারো মতে বিশ, আবার কারো মতে চল্লিশ কিংবা সত্তর। এছাড়াও অন্যান্য মত রয়েছে, তবে লেখক প্রথমটিকেই গ্রহণ করেছেন।

সঠিক মত হলো এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। মূল বিষয় হলো সংবাদদাতার সত্যতা এবং তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়ার অসম্ভবতা সম্পর্কে শ্রবণকারীর মনে যে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে—তা রাবিদের অবস্থা ও তাদের সংবাদ আদান-প্রদানের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। কখনো শ্রবণকারী পাঁচ জনের বর্ণনায় আশ্বস্ত হতে পারেন এবং তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব বলে মনে করতে পারেন, আবার কখনো অন্যান্য পারিপার্শ্বিক কারণে দশ জনের বর্ণনায়ও আশ্বস্ত না-ও হতে পারেন।=
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢٦)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= ثم إن التواتر نوعان: تواتر معنوي، وتواتر لفظي، أما المعنوي: فإنه اشتراك الرواة الذين يؤمن كذبهم على رواية معنى واحد في ضمن ألفاظ مختلفة يشترك هذا المعنى فيها جميعًا، وهو كثير جدًّا في الشريعة، ويضربون له مثل: كرم حاتم، فإن الرواة روت قصصًا كثيرة جدًّا في حوادث له دلت كلها على أنه جواد كريم. وضرب له المؤلف في التدريب مثلًا من الحديث "أحاديث رفع اليدين في الدعاء" قال: "فقد روي عنه صلى الله عليه وسلم نحو مائة حديث فيه: رفع يديه في الدعاء، وقد جمعتها في جزء، لكنها قضايا مختلفة، فكل قضية مها لم تتواتر، والقدر المشترك فيها - وهو الرفع عند الدعاء -: تواتر باعتبار المجموع". وهو مثال جيد جدًّا.

ومن المتواتر المعنوي عندي: المتواتر العملي، وهو ما علم من الدين بالضرورة وتواتر عند المسلمين أن النبي صلى الله عليه وسلم فعله أو أمر به أو غير ذلك، وهو الذي ينطبق عليه تعريف الإجماع انطباقًا صحيحًا. مثل مواقيت الصلوات وأعداد ركعاتها وصلاة الجنازة والعيدين وحجاب النساء عن غير ذي محرم لها ومقادير زكاة المال، إلى ما لا يعد ولا يحصى من شرائع الإسلام.

وأما المتواتر اللفظي: فهو أن يتواتر لفظ الحديث نفسه بالصفة التي شرحناها في تعريف المتواتر، وهو قليل بالنسبة لغيره في الحديث. بل ادعى بعضهم أنه غير موجود، وادعى ابن الصلاح أنه "لا يكاد يوجد في رواياتهم" ورد الحافظ ابن حجر على هاتين الدعويين، فقال: "ما ادعاه ابن الصلاح من عزة المتواتر وكذا ما ادعاه غيره من العدم -: ممنوع، لأن ذلك نشأ عن قلة الاطلاع على كثرة الطرق وأحوال الرجال وصفاتهم المقتضية لإبعاد العادة أن يتواطؤا على الكذب أو يحصل منهم اتفاقًا. ومن أحسن ما يقرر به كون المتواتر موجودًا وجود كثرة في الأحاديث أن الكتب المشهورة المتداولة بأيدي أهل العلم شرقًا وغربًا - المقطوع عندهم بصحة نسبتها إلى مؤلفيها - إذا اجتمعت على إخراج حديث وتعددت طرقه تعددًا تحيل العادة تواطؤهم على الكذب -: أفاد العلم اليقيني بصحته إلى قائله. ومثل ذلك في الكتب المشهورة كثير" وأوضح مثال له حديث "من كذب علي متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار" فإنه رواه خمس وسبعون صحابيًا، وقيل أكثر من ذلك.

قال المؤلف في التدريب: "لقد ألفت في هذا النوع كتابًا لم أُسبق إلى مثله، سميته: الأزهار المتناثرة في الأخبار المتواترة مرتبًا على الأبواب، أوردت فيه كل حديث بأسانيد من خرجه وطرقه، ثم لخصته في جزء لطيف سميته: قطف الأزهار، اقتصرت فيه على عزو كل طريق لمن أخرجها من الأئمة، وأوردت فيه أحاديث كثيرة. منها: حديث (الحوض) من رواية نيف وخمسين صحابيًا. وحديث (المسح على الخفين) من رواية سبعين صحابيًا. وحديث (رفع اليدين في الصلاة) من رواية نحو خمسين. وحديث (نضر الله امرأ سمع مقالتي) من رواية نحو ثلاثين. وحديث (نزل القرآن على سبعة أحرف) من رواية سبع وعشرين. وحديث (من بنى لله مسجدًا بنى الله له بيتًا في الجنة) من رواية عشرين. وحديث (كل مسكر حرام). وحديث (بدأ الإسلام غريبًا) وحديث (سؤال منكر ونكير). وحيث (كل ميسر لما خلق له). وحديث (المرء مع من أحب). وحديث (إن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة). وحديث (بشر المشائين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة) -: كلها متواترة، في أحاديث جمة أودعناها كتابنا المذكور. ولله الحمد".

تنبيه: أخطأ الحافظ السيوطي خطأ غريبًا في النقل عن نفسه، إذ سمى كتابه الأول في الأخبار المتواترة "الأزهار المتناثرة" وسمى ما اختصره منه "قطف الأزهار". وليس كذلك، بل كتابه الأول اسمه: "الفوائد =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এরপর মুতাওয়াতির (متواتر) দুই প্রকার: অর্থগত মুতাওয়াতির (تواتر معنوي) এবং শাব্দিক মুতাওয়াতির (تواتر لفظي)। অর্থগত মুতাওয়াতির (معنوي) হলো: এমন বর্ণনাকারীদের (رواة) একটি সাধারণ অর্থের বর্ণনায় অংশ নেওয়া যাদের মিথ্যার (كذب) ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব বলে মনে করা হয়, যদিও এই অর্থটি বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যাতে ওই সাধারণ অর্থটি বিদ্যমান থাকে। শরিয়তের বিধানে এটি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে 'হাতেম তায়ীর দানশীলতা'-র কথা উল্লেখ করা হয়; কেননা বর্ণনাকারীরা (رواة) তার জীবনের অসংখ্য ঘটনা বর্ণনা করেছেন যা সবই প্রমাণ করে যে তিনি একজন দানবীর ও মহানুভব (جواد كريم) ছিলেন। লেখক 'আত-তাদরিব' গ্রন্থে হাদিস থেকে এর একটি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, "দোয়ার সময় হাত তোলার হাদিসসমূহ"। তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এই বিষয়ে প্রায় একশত হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি দোয়ার সময় হাত তুলেছেন। আমি এই হাদিসগুলো একটি পুস্তিকায় একত্রিত করেছি। তবে এগুলো ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা, ফলে এর প্রতিটি ঘটনা এককভাবে মুতাওয়াতির (متواتর) নয়। কিন্তু এদের সাধারণ বিষয়টি—যা হলো দোয়ার সময় হাত তোলা—তা সমষ্টিগত বিচারে মুতাওয়াতির (متواتر) হিসেবে গণ্য।" আর এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি উদাহরণ।

আমার মতে অর্থগত মুতাওয়াতির (متواتر معنوي)-এর অন্তর্ভুক্ত হলো: কর্মগত মুতাওয়াতির (متواتر عملي), যা দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে জ্ঞাত এবং মুসলমানদের নিকট নিরবচ্ছিন্নভাবে (تواتر) প্রমাণিত যে নবী (সা.) তা করেছেন বা নির্দেশ দিয়েছেন অথবা এই জাতীয় কিছু। এটিই মূলত ইজমার (إجماع) সংজ্ঞার সাথে সঠিকভাবে মিলে যায়। যেমন—নামাজের ওয়াক্তসমূহ, রাকাত সংখ্যা, জানাজার নামাজ, দুই ঈদের নামাজ, মাহরাম ব্যতীত অন্য পুরুষদের থেকে নারীদের পর্দা করা এবং জাকাতের নিসাব ও পরিমাণসহ ইসলামের অসংখ্য বিধিবিধান যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়।

আর শাব্দিক মুতাওয়াতির (تواتر لفظي) হলো: হাদিসের মূল শব্দগুলোই মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়া, যেভাবে আমরা মুতাওয়াতিরের (متواتر) সংজ্ঞায় ব্যাখ্যা করেছি। অন্যান্য হাদিসের তুলনায় এটি সংখ্যায় কম। বরং কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। ইবনুল সালাহ দাবি করেছেন যে এটি "বর্ণনাগুলোর মধ্যে পাওয়াই যায় না"। হাফেজ ইবনে হাজার এই উভয় দাবির খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেছেন: "ইবনুল সালাহ মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস দুর্লভ হওয়ার যে দাবি করেছেন এবং অন্য কেউ এর অস্তিত্বহীনতার যে দাবি করেছেন—তা অগ্রহণযোগ্য। কারণ, অধিক সংখ্যক সনদ (طرق) এবং বর্ণনাকারীদের (رجال) অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অপর্যাপ্ত জ্ঞানের কারণেই এমনটি মনে হয়েছে। বর্ণনাকারীদের সংখ্যা ও আধিক্য সাধারণত তাদের মিথ্যার (كذب) ওপর একমত হওয়া বা আকস্মিকভাবে সবার একই ভুল হওয়াকে অসম্ভব করে তোলে। মুতাওয়াতির (متواتر) বিদ্যমান থাকার এবং হাদিসে এর প্রাচুর্য থাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ হলো—বর্তমানে প্রচলিত প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ, যেগুলোর লেখকত্ব সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। এই কিতাবগুলো যদি কোনো হাদিস বর্ণনায় একমত হয় এবং এর সনদ (طرق) এত অধিক হয় যা বর্ণনাকারীদের মিথ্যার (كذب) ওপর একমত হওয়াকে অসম্ভব করে তোলে, তবে তা বক্তার পক্ষ থেকে হাদিসটি সুনিশ্চিত (يقيني) ও সহিহ (صحيح) হওয়ার জ্ঞান প্রদান করে। প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে এমন উদাহরণ প্রচুর রয়েছে।" এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো—"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়" হাদিসটি। এটি পঁচাত্তরজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন, কারো মতে এর চেয়েও বেশি।

লেখক 'আত-তাদরিব' গ্রন্থে বলেছেন: "আমি এই বিষয়ে এমন একটি কিতাব রচনা করেছি যার আগে এমনটি আর রচিত হয়নি। আমি এর নামকরণ করেছি 'আল-আজহার আল-মুতানাসিরাহ ফিল আখবার আল-মুতাওয়াতিরাহ'। এটি অধ্যায়ভিত্তিক সাজানো হয়েছে এবং এতে প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারী ও সনদ (طرق) উল্লেখ করেছি। পরবর্তীতে আমি এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ তৈরি করেছি যার নাম দিয়েছি 'কাতাফুল আজহার'। এতে আমি মূল কিতাবের সনদগুলোকে (طرق) সংক্ষেপে আইম্মায়ে কেরামের উদ্ধৃতিতে সীমাবদ্ধ করেছি এবং এতে প্রচুর হাদিস উল্লেখ করেছি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: (হাউজের) হাদিস যা পঞ্চাশের অধিক সাহাবী বর্ণনা করেছেন। (মোজা মাসেহ করার) হাদিস যা সত্তরজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। (নামাজে হাত তোলার) হাদিস যা প্রায় পঞ্চাশজন বর্ণনা করেছেন। 'আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব রাখুন যে আমার কথা শুনেছে' হাদিসটি যা প্রায় ত্রিশজন বর্ণনা করেছেন। 'কুরআন সাত উপভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে' হাদিসটি যা সাতাশজন বর্ণনা করেছেন। 'যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে' হাদিসটি যা বিশজন বর্ণনা করেছেন। এছাড়া 'সকল নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম', 'ইসলামের সূচনা হয়েছে অপরিচিত অবস্থায়', 'মুনকার ও নাকিরের (منكر ونكير) সওয়াল-জওয়াব', 'প্রত্যেককে যার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য কাজ সহজ করে দেওয়া হয়েছে', 'মানুষ যাকে ভালোবাসে তার সাথেই থাকবে', 'তোমাদের কেউ জান্নাতবাসীদের আমল করবে' এবং 'অন্ধকারের মধ্যে মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া ব্যক্তিদের কেয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও'—এই সব হাদিসই মুতাওয়াতির (متواتر)। এমন অসংখ্য হাদিস আমরা আমাদের উল্লিখিত কিতাবে যুক্ত করেছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।"

সতর্কীকরণ: হাফেজ সুয়ূতী নিজের কিতাবের তথ্য দিতে গিয়ে এক অদ্ভুত ভুল করেছেন। তিনি মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস নিয়ে রচিত তার প্রথম কিতাবটির নাম 'আল-আজহার আল-মুতানাসিরাহ' বলেছেন এবং এর সংক্ষিপ্ত রূপের নাম দিয়েছেন 'কাতাফুল আজহার'। বিষয়টি আসলে তেমন নয়, বরং তার প্রথম কিতাবটির নাম হলো 'আল-ফাওয়াইদ'...
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وَلابْنِ حِبَّانَ: الْعَزِيزُ مَا وُجِدْ … بِحَدِّهِ السَّابِقِ، لَكِنْ لَمْ يُجِدْ

وَلِلْعَلائِي جَاءَ فِي الْمَأْثُورِ … ذُو وَصْفَي الْعَزِيزِ وَالْمَشْهُورِ(1))

 

‌‌الاعتبار والمتابعات والشواهد

الاعْتِبَارُ سَبْرُ مَا يَرْوِيهِ … هَلْ شَارَكَ الرَّاوِي سِوَاهُ فِيهِ؟

--------------------------------------------

= المتكاثرة" ثم اختصره في آخر سماه: "الأزهار المتناثرة". والأزهار موجودة بدار الكتب المصرية، وهو مختصر ليس فيه الأسانيد، وقد صرح في مقدمته بأنه ألف كتاب "الفوائد المتكاثرة" بالأسانيد تفصيلًا، ثم اختصره في هذا الكتاب - يعني الأزهار - وكذلك ذكر الكتابين صاحب كشف الظنون، فذكر عن الأول أنه "كتاب أورد فيه ما رواه من الصحابة عشرة فصاعدًا، مستوعبًا فيه، فجاء كتابًا حافلًا، ثم جرد مقاصده وسماه "الأزهار المتكاثرة". وأما "قطف الأزهار" فهو كتاب آخر للسيوطي، ذكره في كشف الظنون باسم "قطف الأزهار في كشف الأسرار" وأنه في أسرار التنزيل في مجلد ضخم، كتب منه إلى آخر سورة براءة.

(1) بعد أن تكلم المؤلف على المتواتر عاد إلى شيء يتعلق بنوع "العزيز" الذي سبق ذكره، فنقل عن ابن حبان إنكار وجوده، ورده بأنه قول غير جيد. وسبقه الحافظ ابن حجر إلى ذلك قال: "وقد ادعى ابن حبان أن رواية اثنين عن اثنين لا توجد أصلًا. فإن أراد رواية اثنين فقط عن اثنين فقط فمسلم، وأما صورة العزيز التي جوزوها فموجودة، بأن لا يرويه أقل من اثنين عن أقل من اثنين، مثاله: ما رواه الشيخان من حديث أنس، والبخاري من حديث أبي هريرة: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده. الحديث، ورواه عن أنس: قتادة وعبد العزيز بن صهيب، ورواه عن قتادة شعبة وسعيد، ورواه عن عبد العزيز إسماعيل بن علية وعبد الوارث، ورواه عن كل جماعة".

والمتتبع لأسانيد الأحاديث وطرقها يجد العزيز كثيرًا على معنى أن ينفرد بروايته راويان فقط في أي طبقة من الإسناد، وأما ما يظن من ظاهر كلامهم - أنه يرويه اثنان عن اثنين وهكذا -: فإنه من العسير جدًّا أن يوجد وإنما المقصد أن الحديث إذا انفرد به واحد كان فردًا أو غريبًا سواء رواه عن واحد آخر أو عن جماعة، وسواء رواه عن هذا المنفرد واحد أيضًا أو جماعة، لأن انفراد راو بالحديث في أثناء الإسناد يجعل الإسناد فردًا كما هو ظاهر، وكذلك إذا انفرد به اثنان في أي طبقة من طبقات الإسناد كان عزيزًا، وإن اشتهر بعد ذلك بكثرة الرواة، كالحديث الذي نقلناه عن الحافظ ابن حجر آنفًا، فإنه عزيز في طبقتين: التابعين وأتباعهم، ثم رواه كثيرون بعد ذلك، فاشتهر، ولكنه لم يخرج عن أنه من نوع "العزيز". وبهذا يعلم خطأ الحافظ العلائي فيما نقله المؤلف عنه هنا وفي التدريب قال: "حديث (نحن الآخرون السابقون يوم القيامة) الحديث، عزيز عن النبي صلى الله عليه وسلم، رواه عنه حذيفة بن اليمان وأبو هريرة وهو مشهور عن أبي هريرة، رواه عنه سبعة: أبو سلمة بن عبد الرحمن، وأبو حازم، وطاوس، والأعرج، وهمام، وأبو صالح، وعبد الرحمن مولى أم برثن".

واعلم أن هذين البيتين، من أول قوله: "ولابن حبان" الخ وقعا في الطبعة السابقة قبل قوله "خمس وسبعون رووا من كذبا". والصواب تأخيرهما إلى هذا الموضع، تبعًا لنسخة الشرح، ولأن قوله "خمس وسبعون" الخ أمثلة للمتواتر، فالمتعين أن تذكر عقبه ولا يفصل بينها وبينه بشيء آخر.
এবং ইবনে হিব্বানের মতে: আযীয (العزيز) হাদিস পাওয়া যায় না … তার পূর্ববর্তী সংজ্ঞায়, কিন্তু তিনি সঠিক বলেননি (অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য যুতসই নয়)

এবং আল-আলাই-এর মতে যা বর্ণিত হয়েছে … তা আযীয (العزيز) এবং মশহুর (المشهور) উভয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী(1))

 

‌ই’তিবার (الاعتبار), মুতাবাআত (المتابعات) এবং শাওয়াাহিদ (الشواهد)

ই’তিবার (الاعتبار) হলো রাবীর বর্ণিত হাদিসসমূহ অনুসন্ধান করা … সেখানে কি অন্য কোনো রাবী তাঁর সাথে শরিক হয়েছে?

--------------------------------------------

= المتكاثرة" (আল-ফাওয়াইদ আল-মুতাকাছিরাহ) এরপর তিনি এটিকে সংক্ষেপ করে অন্য একটি কিতাব লিখেন যার নাম দিয়েছেন: "الأزهار المتناثرة" (আল-আযহার আল-মুতানাছিরাহ)। আল-আযহার কিতাবটি মিশরের দারুল কুতুবে বিদ্যমান রয়েছে, এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যাতে সনদ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি এর ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি "আল-ফাওয়াইদ আল-মুতাকাছিরাহ" কিতাবটি বিস্তারিত সনদসহ রচনা করেছিলেন, এরপর এই কিতাবে—অর্থাৎ আল-আযহারে—তার মূল উদ্দেশ্যগুলো সংক্ষেপ করেছেন। একইভাবে কাশফুয যুনুন-এর লেখক এই দুটি কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রথমটি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, এটি এমন একটি কিতাব যাতে তিনি দশ জন বা তার অধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো সংকলন করেছেন এবং একে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থে পরিণত করেছেন। এরপর তিনি এর সারসংক্ষেপ বের করে তার নাম দিয়েছেন "আল-আযহার আল-মুতানাছিরাহ"। আর "قطف الأزهار" (কাতফুল আযহার) এটি সুয়ুতির অন্য একটি কিতাব, যা কাশফুয যুনুন-এ "কাতফুল আযহার ফি কাশফিল আসরার" নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কুরআনের রহস্য বা তাফসীর বিষয়ক একটি বিশাল গ্রন্থ, যা তিনি সূরা তাওবার শেষ পর্যন্ত লিখেছিলেন।

(1) লেখক মুতাওয়াতির (المتواتر) সম্পর্কে আলোচনার পর 'আযীয (العزيز)' প্রকারের একটি বিষয়ের দিকে ফিরে এসেছেন যা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। তিনি ইবনে হিব্বান থেকে এর অস্তিত্ব অস্বীকারের বিষয়টি উদ্ধৃত করেছেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছেন যে এটি সঠিক কথা নয়। হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর আগে এই বিষয়ে বলেছেন: "ইবনে হিব্বান দাবি করেছেন যে দুই জন থেকে দুই জন বর্ণনার ভিত্তিই মূলত নেই। তিনি যদি কেবল দুই জন থেকে কেবল দুই জনই উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু আযীয (العزيز)-এর যে রূপটি মুহাদ্দিসগণ বৈধ বলেছেন তা বিদ্যমান, আর তা হলো—দুই জনের কম রাবী থেকে দুই জনের কম রাবী যেন বর্ণনা না করে। এর উদাহরণ হলো: যা শাইখাইন আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে এবং বুখারি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে অধিক প্রিয় হই। হাদিসটি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: কাতাদাহ ও আব্দুল আযীয বিন সুহাইব। কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন শু'বা ও সাঈদ। আর আব্দুল আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে উলাইয়্যাহ ও আব্দুল ওয়ারিস। এরপর তাদের প্রত্যেকের থেকে একদল রাবী এটি বর্ণনা করেছেন।"

যারা হাদিসের সনদ এবং এর বিভিন্ন সূত্র অনুসন্ধান করেন, তারা আযীয (العزيز) হাদিস প্রচুর পরিমাণে পান। এর অর্থ হলো সনদের যেকোনো স্তরে কেবল দুই জন রাবী এককভাবে এটি বর্ণনা করবেন। আর তাদের বাহ্যিক বক্তব্য থেকে যা ধারণা হতে পারে যে—দুই জন থেকে দুই জন এভাবেই চলতে থাকবে—এমনটি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। মূলত উদ্দেশ্য হলো, যদি কোনো হাদিস এক জন রাবী এককভাবে বর্ণনা করেন তবে তা ফারদ (فرد) বা গরীব (غريب) হিসেবে গণ্য হবে, চাই তিনি অন্য এক জন থেকে বর্ণনা করুন বা একদল থেকে, এবং চাই তাঁর থেকে এক জন বর্ণনা করুক বা একদল। কারণ সনদের মাঝখানে কোনো একজন রাবীর একক হওয়া সনদটিকে ফারদ (فرد) বানিয়ে দেয়। অনুরূপভাবে সনদের যেকোনো স্তরে যদি দুই জন রাবী এককভাবে এটি বর্ণনা করেন তবে তা আযীয (العزيز) হবে, যদিও এর পরে রাবীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে তা মশহুর হয়ে যায়। যেমন হাফিজ ইবনে হাজার থেকে আমরা যে হাদিসটি ইতিপূর্বে বর্ণনা করলাম। এটি দুটি স্তরে (তাবিঈন (التابعين) এবং তাদের পরবর্তী স্তরে) আযীয (العزيز), এরপর অনেকে এটি বর্ণনা করায় তা মশহুর হয়ে গেছে, কিন্তু এটি আযীয (العزيز) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বের হয়ে যায়নি। এর মাধ্যমে হাফিজ আলাই-এর ভুলটি স্পষ্ট হয় যা লেখক এখানে এবং 'তাদরীব' গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন: "(আমরা কিয়ামতের দিন সবশেষে আসব তবে বিচারে অগ্রগামী হব) হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আযীয (العزيز), এটি তাঁর থেকে হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন। এটি আবু হুরায়রা থেকে মশহুর, তাঁর থেকে সাত জন রাবী এটি বর্ণনা করেছেন: আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান, আবু হাযিম, তাউস, আল-আ’রাজ, হাম্মাম, আবু সালিহ এবং আব্দুর রহমান মাওলা উম্মে বুরসান।"

জেনে রাখুন যে, "ইবনে হিব্বানের মতে" থেকে শুরু করে এই দুটি পংক্তি পূর্ববর্তী সংস্করণে "পঁচাত্তর জন বর্ণনা করেছেন যারা মিথ্যা বলেছে" এই কথার আগে ছিল। সঠিক হলো একে এই স্থানে পিছিয়ে আনা, শরাহ-এর পাণ্ডুলিপি অনুসরণ করে। কারণ "পঁচাত্তর জন" ইত্যাদি কথাটি মুতাওয়াতির (المتواتر)-এর উদাহরণ, তাই এটি তার পরপরই উল্লেখ করা আবশ্যক এবং এর মাঝে অন্য কিছু দিয়ে বিচ্ছিন্ন করা অনুচিত।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢٨)
فَإِنْ يُشَارِكْهُ الَّذِي بِهِ اعْتُبِرْ … أَوْ شَيْخُهُ أَوْ فَوْقُ: تَابِعٌ أُثِرْ

وَإِنْ يَكُنْ مَتْنٌ بِمَعْنَاهُ وَرَدْ … فَشَاهِدٌ، وَفَاقِدٌ ذَيْنِ انْفَرَدْ

وَرُبَّمَا يُدْعَى الَّذِي بِالْمَعْنَى … مُتَابِعًا، وَعَكْسُهُ قَدْ يُعْنَى(1)

 

‌‌زيادة الثقات

وَفِي زِيَادَاتِ الثِّقَاتِ الْخُلْفُ جَمّ … مِمَّنْ رَوَاهُ نَاقِصًا أَوْ مَنْ أَتَمّ

--------------------------------------------

(1) تجد أهل الحديث يبحثون عما يرويه الراوي ليتعرفوا ما إذا كان قد انفرد به أولا، وهذا البحث يسمى عندهم "الاعتبار" فإذا لم يجدوا ثقة رواه غيره كان الحديث "فردًا مطلقًا" أو "غريبًا" كما مضى، مثال ذلك: أن يروي حماد بن سلمة حديثًا عن أيوب عن ابن سيرين عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم، فينظر: هل رواه ثقة آخر عن أيوب؟ فإن وجد كان ذلك متابعة تامة، وإن لم يوجد فينظر: هل رواه ثقة آخر عن ابن سيرين غير أيوب؟ فإن وجد كان متابعة قاصرة، وإن لم يوجد فينظر: هل رواه ثقة آخر عن أبي هريرة غير ابن سيرين؟ فإن وجد كان متابعة قاصرة، وإن لم يوجد فينظر: هل رواه صحابي آخر عن النبي صلى الله عليه وسلم غير أبي هريرة؟ فإن وجد كان متابعة قاصرة أيضًا، وإن لم يوجد كان الحديث فردًا غريبًا. كحديث "أحبب حبيبك هونًا ما" فإنه رواه الترمذي من طريق حماد بن سلمة بالإسناد السابق وقال: "غريب لا نعرفه بهذا الإسناد إلا من هذا الوجه" قال المؤلف في التدريب: "أي من وجه يثبت، وإلا فقد رواه الحسن بن دينار عن ابن سيرين، والحسن متروك الحديث لا يصلح للمتابعات".

وإذا وجدنا الحديث غريبًا بهذه المثابة، ثم وجدنا حديثًا آخر بمعناه، كان الثاني شاهدًا للأول، قال الحافظ ابن حجر: "قد يسمى الشاهد متابعة أيضًا والأمر سهل، مثال ما اجتمع فيه المتابعة التامة والقاصرة والشاهد: ما رواه الشافعي في الأم عن مالك بن عبد الله بن دينار عن ابن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "الشهر تسع وعشرون، فلا تصوموا حتى تروا الهلال، ولا تفطروا حتى تروه، فإن غم عليكم فأكملوا العدة ثلاثين". فهذا الحديث بهذا اللفظ ظن قوم أن الشافعي تفرد به عن مالك فعدوه في غرائبه، لأن أصحاب مالك رووه عنه بهذا الإسناد بلفظ: "فإن غم عليكم فاقدروا له". لكن وجدنا للشافعي متابعًا، وهو عبد الله بن مسلمة القعنبي، كذلك أخرجه البخاري عنه عن مالك، وهذه متابعة تامة. ووجدنا له متابعة قاصرة في صحيح ابن خزيمة من رواية عاصم بن محمد عن أبيه محمد بن زيد عن جده عبد الله بن عمر بلفظ: "فأكملوا ثلاثين" وفي صحيح مسلم من رواية عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر بلفظ: "فاقدروا ثلاثين". ووجدنا له شاهدًا رواه النسائي من رواية محمد بن حنين عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم، فذكر مثل حديث عبد الله بن دينار عن ابن عمر بلفظه سواء، ورواه البخاري من رواية محمد بن زياد عن أبي هريرة بلفظ: "فإن أغمي عليكم فأكملوا عدة شعبان ثلاثين" وذلك شاهد بالمعنى.

وظاهر صنيع ابن الصلاح والنووي يوهم أن الاعتبار قسيم للمتابعات الشواهد، وأنها أنواع ثلاثة. وقد تبين لك مما سبق أن الاعتبار ليس نوعًا بعينه، وإنما هو هيئة التوصل للنوعين: المتابعات والشواهد، وسبر طرق الحديث لمعرفتهما فقط.
যদি তার (বর্ণনাকারীর) সাথে এমন কেউ শরিক হয় যার মাধ্যমে বিবেচনা (اعتبار) করা হয় … অথবা তার উস্তাদ (شيخ) বা তার উপরের স্তরে কেউ থাকে: তবে তা অনুগামী (تابع) হিসেবে বর্ণিত হয়।

আর যদি সমার্থক কোনো মতন (متن) বর্ণিত হয় … তবে তা সাক্ষী (شاهد), আর এই দুইটির অনুপস্থিতিতে তা একক (انفرد) হিসেবে গণ্য হবে।

কখনও কখনও সমার্থবোধক বর্ণনাকেও … সমর্থনকারী (متابعا) বলা হয়, এবং এর বিপরীতটিও উদ্দেশ্য হতে পারে।(১)

 

‌‌নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقات)

নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقات) গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে … তাদের মধ্যে যারা তা অপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন অথবা যারা তা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আপনি দেখবেন যে হাদিস বিশারদগণ রাবির বর্ণিত হাদিসগুলো অনুসন্ধান করেন এটি জানার জন্য যে, তিনি এটি বর্ণনায় একক (انفرد) কি না। এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে তাদের পরিভাষায় বিবেচনা (الاعتبار) বলা হয়। যদি তারা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিকে না পান যিনি এটি বর্ণনা করেছেন, তবে হাদিসটি নিরঙ্কুশ একক (فردًا مطلقًا) বা অপরিচিত (غريبًا) হিসেবে গণ্য হয়, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এর উদাহরণ হলো: হাম্মাদ বিন সালামাহ আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করলেন। তখন দেখা হয়: আইয়ুব থেকে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি কি এটি বর্ণনা করেছেন? যদি পাওয়া যায়, তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন (متابعة تامة) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি না পাওয়া যায়, তবে দেখা হবে: ইবনে সিরিন থেকে আইয়ুব ছাড়া অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি কি এটি বর্ণনা করেছেন? যদি পাওয়া যায়, তবে সেটি অপূর্ণাঙ্গ সমর্থন (متابعة قاصرة) হিসেবে গণ্য হবে। যদি তাও না পাওয়া যায়, তবে দেখা হবে: আবু হুরায়রা থেকে ইবনে সিরিন ছাড়া অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি কি এটি বর্ণনা করেছেন? যদি পাওয়া যায়, তবে সেটিও অপূর্ণাঙ্গ সমর্থন (متابعة قاصرة) হবে। আর যদি তাও না পাওয়া যায়, তবে দেখা হবে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবু হুরায়রা ছাড়া অন্য কোনো সাহাবী (صحابي) কি এটি বর্ণনা করেছেন? যদি পাওয়া যায়, তবে সেটিও অপূর্ণাঙ্গ সমর্থন (متابعة قاصرة) হবে। আর যদি কিছুই না পাওয়া যায়, তবে হাদিসটি একক অপরিচিত (فردًا غريبًا) হিসেবে গণ্য হবে। যেমন: "তোমার প্রিয়জনকে পরিমিতভাবে ভালোবাসো" হাদিসটি। এটি তিরমিজি ইতিপূর্বে উল্লিখিত সনদে হাম্মাদ বিন সালামাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "হাদিসটি অপরিচিত (غريب), আমরা এই সনদ ছাড়া অন্য কোনোভাবে এটি জানি না।" লেখক 'তাদরিব' গ্রন্থে বলেছেন: "অর্থাৎ এমন কোনো সূত্রে যা প্রমাণিত, অন্যথায় হাসান বিন দিনার এটি ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু হাসান হলেন হাদিস বর্জিত (متروك الحديث), তিনি সমর্থন (المتابعات)-এর জন্য উপযুক্ত নন।"

আর আমরা যদি হাদিসটিকে এভাবে অপরিচিত (غريبًا) হিসেবে পাই, অতঃপর এর সমার্থক অন্য কোনো হাদিস খুঁজে পাই, তবে দ্বিতীয় হাদিসটি প্রথমটির জন্য সাক্ষী (شاهدًا) হিসেবে গণ্য হবে। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "সাক্ষী (الشاهد)-কেও কখনও সমর্থন (متابعة) বলা হয়ে থাকে, বিষয়টি সহজ। পূর্ণাঙ্গ সমর্থন (المتابعة التامة), অপূর্ণাঙ্গ সমর্থন (القاصرة) এবং সাক্ষী (الشاهد)-এর সমন্বিত উদাহরণ হলো: যা ইমাম শাফেয়ি 'আল-উম্ম' গ্রন্থে মালেক বিন আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মাস হয় উনত্রিশ দিনে, সুতরাং তোমরা চাঁদ না দেখে রোজা রেখো না এবং চাঁদ না দেখে ইফতার করো না (রোজা ভাঙবে না); যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে গণনা ত্রিশ পূর্ণ করো।" এই হাদিসটি এই শব্দে একদল লোক মনে করেছিলেন যে শাফেয়ি এটি মালেক থেকে বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন, তাই তারা একে তার বিরল বর্ণনা (غرائবে)-র অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কেননা মালেকের অন্যান্য ছাত্ররা তার থেকে এই সনদে "তোমরা তার জন্য পরিমাণ নির্ধারণ করো" শব্দে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমরা শাফেয়ির একজন সমর্থনকারী (متابعًا) পেয়েছি, তিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কানাবি; অনুরূপভাবে বুখারি এটি তার সূত্রে মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন (متابعة تامة)। আমরা এর জন্য একটি অপূর্ণাঙ্গ সমর্থন (متابعة قاصرة) পেয়েছি সহিহ ইবনে খুজাইমাহ-তে আসেম বিন মুহাম্মদ-এর বর্ণনায়, তিনি তার পিতা মুহাম্মদ বিন জায়েদ থেকে, তিনি তার দাদা আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে "তোমরা ত্রিশ পূর্ণ করো" শব্দে বর্ণনা করেছেন। আবার সহিহ মুসলিম-এ উবাইদুল্লাহ বিন উমর-এর বর্ণনায় নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে "তোমরা ত্রিশের পরিমাণ করো" শব্দে বর্ণিত হয়েছে। আমরা এর জন্য একটি সাক্ষী (شاهدًا) পেয়েছি যা নাসায়ি মুহাম্মদ বিন হুনাইন-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; সেখানে আব্দুল্লাহ বিন দিনারের হাদিসের অনুরূপ শব্দে বর্ণিত হয়েছে। বুখারি এটি মুহাম্মদ বিন জিয়াদ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে "যদি তোমাদের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে শাবানের গণনা ত্রিশ পূর্ণ করো" শব্দে বর্ণনা করেছেন; আর এটি একটি ভাবগত সাক্ষী (شاهد بالمعنى)।

ইবনে সালাহ ও নববীর বর্ণনাভঙ্গি থেকে মনে হতে পারে যে, বিবেচনা (الاعتبار) হলো সমর্থন (المتابعات) ও সাক্ষী (الشواهد)-এর সমান্তরাল কোনো প্রকারভেদ এবং এরা তিনটি প্রকার। কিন্তু পূর্বের আলোচনা থেকে আপনার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিবেচনা (الاعتبار) স্বতন্ত্র কোনো প্রকার নয়, বরং এটি হলো এই দুই প্রকার—সমর্থন (المتابعات) ও সাক্ষী (الشواهد)—অন্বেষণের একটি পদ্ধতি মাত্র, এবং তাদের জানার জন্য হাদিসের বিভিন্ন সূত্র অনুসন্ধান করা মাত্র।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٢٩)
ثَالِثُهَا: تُقْبَلُ لَا مِمَّنْ خَزَلْ … (وَقِيلَ: إِنْ فِي كُلِّ مَجْلِسٍ حَمَلْ

بَعْضًا، أَوِ النِّسْيَانَ يَدَّعِيهِ … تُقْبَلْ، وَإِلَّا يُتَوَقَّفْ فِيهِ

وَقِيلَ: إِنْ أَكْثَرَ حَذْفَهَا تُرَدّ … وَقِيلَ: فِيمَا إِنْ رَوَى كُلًّا عَدَدْ

إِنْ كَانَ مَنْ يَحْذِفُهَا لا يَغْفُلُ … عَنْ مِثْلِهَا فِي عَادَةٍ لا تُقْبَلُ

وَقِيلَ: لَا، إِذْ لا تُفِيدُ حُكْمَا … وَقِيلَ: خُذْ مَا لَمْ تُغَيِّرْ نَظْمَا)

وَابْنُ الصَّلاحِ قَالَ -وَهُوَ الْمُعْتَدْ- … : إِنْ خَالَفَتْ مَا لِلثِّقَاتِ فَهِيَ رَدّ

أَوْلَا، فَخُذْ تِلْكَ بِإِجْمَاع وَضَحْ … أَوْ خَالَفَ الإِطْلَاقَ فَاقْبَلْ فِي الأَصَحِّ(1)

--------------------------------------------

(1) هذا باب دقيق من أبواب التعارض والترجيح بين الأدلة، وهو من البحوث الهامة عند المحدثين والفقهاء والأصوليين.

فإذا روى العدل الثقة حديثًا وزاد فيه زيادة لم يروها غيره من العدول الذين رووا نفس الحديث -: فالقول الصحيح الراجح أن الزيادة مقبولة، سواء وقعت ممن رواه ناقصًا - كأن يروي الثقة الحديث مرة ناقصًا ومرة زائدًا - أم من غيره، وسواء تعلق بها حكم شرعي أم لا، وسواء غيرت الحكم الثابت أم لا، وسواء أوجبت نقض أحكام ثبتت بخبر ليست هي فيه أم لا. وهذا هو مذهب الجمهور من الفقهاء والمحدثين، وادعى ابن طاهر الاتفاق على هذا القول.

وقد عقد الإمام الحجة أبو محمد علي بن حزم في هذه المسألة فصلا هامًا بالأدلة الدقيقة في كتابه الأحكام في الأصول (ج 2 ص 90 - 96) ومما قاله فيها: "إذا روى العدل زيادة على ما روى غيره فسواء انفرد بها أو شاركه فيها غيره، مثله أو دونه أو فوقه -: فالأخذ بتلك الزيادة فرض، ومن خالفنا في ذلك فإنه يتناقض أقبح تناقض، فيأخذ بحديث رواه واحد ويضيفه إلى ظاهر القرآن - الذي نقله أهل الدنيا كلهم - أو يخصه به، وهم بلا شك أكثر من رواة الخبر الذي زاد عليهم آخر حكمًا لم يروه غيره، وفي هذا التناقض من القبح ما لا يستجيزه ذو فهم وذو ورع" ثم قال: "ولا فرق بين أن يروي الراوي العدل حديثًا فلا يرويه أحد غيره، أو يرويه غيره مرسلًا أو يرويه ضعفاء، وبين أن يروي الراوي العدل لفظة زائدة لم يروها غيره من رواة الحديث، وكل ذلك سواء واجب قبوله بالبرهان الذي قدمناه في وجوب قبول خبر الواحد العدل الحافظ، وهذه الزيادة وهذا الإسناد هما خبر واحد عدل حافظ، ففرض قبولهما، ولا نبالي روى مثل ذلك غيره أو لم يروه سواه، ومن خالفنا فقد دخل في باب ترك قبول خبر الواحد، ولحق بمن أبى ذلك من المعتزلة، وتناقض في مذهبه. وانفراد العدل باللفظة كانفراده بالحديث كله، ولا فرق".

ثم إن في المسألة أقوالا أخرى كثيرة أشار المؤلف إلى بعضها هنا، وذكرها في التدريب تفصيلا، ولا نرى لشيء منها دليلًا يركن إليه. والحق ما قلناه. والحمد لله. نعم، قد يتبين للناظر المحقق من الأدلة والقرائن القوية أن الزيادة التي زادها الراوي الثقة زيادة شاذة أخطأ فيها، فهذا له حكمه، وهو من النادر الذي لا تبنى عليه القواعد.
ثَالِثُهَا: تُقْبَلُ لَا مِمَّنْ خَزَلْ … (وَقِيلَ: إِنْ فِي كُلِّ مَجْلِسٍ حَمَلْ

بَعْضًا، أَوِ النِّسْيَانَ يَدَّعِيهِ … تُقْبَلْ، وَإِلَّا يُتَوَقَّفْ فِيهِ

وَقِيلَ: إِنْ أَكْثَرَ حَذْفَهَا تُرَدّ … وَقِيلَ: فِيمَا إِنْ رَوَى كُلًّا عَدَدْ

إِنْ كَانَ مَنْ يَحْذِفُهَا لا يَغْفُلُ … عَنْ مِثْلِهَا فِي عَادَةٍ لا تُقْبَلُ

وَقِيلَ: لَا، إِذْ لا تُفِيدُ حُكْمَا … وَقِيلَ: خُذْ مَا لَمْ تُغَيِّرْ نَظْمَا)

وَابْنُ الصَّلاحِ قَالَ -وَهُوَ الْمُعْتَدْ- … : إِنْ خَالَفَتْ مَا لِلثِّقَاتِ فَهِيَ رَدّ

أَوْلَا، فَخُذْ تِلْكَ بِإِجْمَاع وَضَحْ … أَوْ خَالَفَ الإِطْلَاقَ فَاقْبَلْ فِي الأَصَحِّ(1)

--------------------------------------------

(1) এটি দলিলাদির পারস্পরিক বৈপরীত্য ও অগ্রাধিকার প্রদানের অধ্যায়সমূহের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম অধ্যায়, যা মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং উসুলবিদদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়।

যদি কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কোনো হাদিস বর্ণনা করেন এবং তাতে এমন কোনো সংযোজন (زيادة) করেন যা অন্য ন্যায়পরায়ণ (عدول) বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেননি—যারা একই হাদিস বর্ণনা করেছেন—তবে সঠিক ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (راجح) মত হলো সেই সংযোজন (زيادة) গ্রহণযোগ্য (مقبولة); চাই তা তার পক্ষ থেকে ঘটুক যে হাদিসটি অপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছিল—যেমন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী হাদিসটি একবার অপূর্ণ এবং একবার অতিরিক্তসহ বর্ণনা করেন—অথবা অন্য কারও পক্ষ থেকে হোক। চাই এর সাথে কোনো শরয়ি বিধান যুক্ত থাকুক বা না থাকুক, তা প্রমাণিত কোনো বিধানকে পরিবর্তন করুক বা না করুক, এবং তা এমন বিধানকে রহিত করা আবশ্যক করুক বা না করুক যা সেই খবর দ্বারা প্রমাণিত হয়েছিল যাতে এই অতিরিক্ত অংশটি নেই। এটিই অধিকাংশ ফকিহ এবং মুহাদ্দিসদের মাযহাব, আর ইবনে তাহির এই মতের ওপর ঐকমত্যের (إتفاق) দাবি করেছেন।

ইমাম হুজ্জাহ আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে হাজম এই মাসআলায় তাঁর আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ৯০-৯৬ পৃষ্ঠা) সূক্ষ্ম দলিলাদিসহ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন। সেখানে তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "যখন কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী অন্য বর্ণনাকারীদের তুলনায় অতিরিক্ত কিছু বর্ণনা করেন, চাই তিনি তাতে একাকী হন অথবা অন্য কেউ—তার সমপর্যায়ের বা নিম্ন বা উচ্চ পর্যায়ের কেউ—তাতে অংশীদার হন: তবে সেই সংযোজন (زيادة) গ্রহণ করা ফরজ। যারা আমাদের এই মতের বিরোধিতা করে তারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হয়; তারা এমন হাদিস গ্রহণ করে যা একজন মাত্র ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং সেটিকে কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের (ظاهر القرآن) সাথে যুক্ত করে—যা গোটা দুনিয়ার মানুষ বর্ণনা করেছে—অথবা তার মাধ্যমে তাকে বিশেষিত (تخصيص) করে। অথচ তারা নিঃসন্দেহে সেই খবরের বর্ণনাকারীদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি যেখানে অন্য একজন এমন একটি বিধান অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি। এই স্ববিরোধিতার মধ্যে এমন কদর্যতা রয়েছে যা কোনো বোধসম্পন্ন ও পরহেজগার ব্যক্তি বৈধ মনে করতে পারে না।" তারপর তিনি বলেন: "কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী এমন হাদিস বর্ণনা করা যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি, অথবা অন্য কেউ তা বিচ্ছিন্ন (مرسلاً) হিসেবে বর্ণনা করা কিংবা দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের বর্ণনা করা, আর একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর এমন একটি অতিরিক্ত শব্দ বর্ণনা করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই যা হাদিসের অন্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেননি। এই সবকিছুরই গ্রহণযোগ্যতা ওয়াজিব সেই প্রমাণের ভিত্তিতে যা আমরা একক ন্যায়পরায়ণ হাফিজ (حافظ) বর্ণনাকারীর খবর (خبر الواحد العدل الحافظ) কবুল করার ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে উপস্থাপন করেছি। এই সংযোজন (زيادة) এবং এই সনদটি (إسناد) একজন ন্যায়পরায়ণ হাফিজের (حافظ) একক খবর (خبر واحد), তাই তা গ্রহণ করা ফরজ। অন্য কেউ অনুরূপ বর্ণনা করল কি না তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। যারা আমাদের বিরোধিতা করে তারা মূলত একক খবর (خبر الواحد) গ্রহণ না করার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং মুতাজিলাদের সেই দলের সাথে যুক্ত হয়েছে যারা এটি অস্বীকার করে, এবং তারা তাদের নিজেদের মাযহাবে স্ববিরোধিতা করেছে। একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারীর একক শব্দ বর্ণনা করা পুরো হাদিস একাকী বর্ণনা করার মতোই, এতে কোনো পার্থক্য নেই।"

পরিশেষে, এই বিষয়ে আরও অনেক মতামত রয়েছে যার কয়েকটির দিকে লেখক এখানে ইঙ্গিত করেছেন এবং তাদরিবুর রাবি গ্রন্থে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। আমরা এগুলোর কোনোটির মধ্যেই নির্ভর করার মতো দলিল দেখি না। সত্য সেটিই যা আমরা বলেছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। তবে হ্যাঁ, একজন দক্ষ গবেষকের নিকট শক্তিশালী দলিল ও পারিপার্শ্বিক আলামত দ্বারা এটি স্পষ্ট হতে পারে যে, নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী যে সংযোজনটি (زيادة) করেছেন তা একটি অস্বাভাবিক (شاذة) বর্ণনা যাতে তিনি ভুল করেছেন। এমতাবস্থায় সেটির বিধান ভিন্ন হবে, আর এটি একটি বিরল বিষয় যার ওপর মূলনীতিসমূহ ভিত্তি করে না।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌المعل

وَعِلَّةُ الْحَدِيثِ: أَسْبَابٌ خَفَتْ … تَقْدَحُ فِي صِحَّتِهِ، حِينَ وَفَتْ

مَعْ كَوْنِهِ ظَاهِرُهُ السَّلَامَهْ … فَلْيَحْدُدِ الْمُعَلَّ مَنْ قَدْ رَامَهْ

مَا رُئِي فِيهِ عِلَّةٌ تَقْدَحُ فِي … صِحَّتِهِ بَعْدَ سَلَامَةٍ تَفِي

يُدْرِكُهَا الْحَافِظُ بِالتَّفَرُّدِ … وَالْخُلْفِ مَعْ قَرَائِنٍ، فَيَهْتَدِي

لِلْوَهْمِ بِالإِرْسَالِ أَوْ بِالْوَقْفِ أَوْ … تَدَاخُلٍ بَيْنَ حَدِيثَيْنِ حَكَوْا

بِحَيْثُ يَقْوَى مَا يَظُنُّ، فَقَضَى … بِضَعْفِهِ أَوْ رَابَهُ فَأَعْرَضَا

(وَالْوَجْهُ فِي إِدْرَاكِهَا جَمْعُ الطُّرُقْ … وَسَبْرُ أَحْوَالِ الرُّوَاةِ وَالْفِرَقْ)

وَغَالِيًا وُقُوعُهَا فِي السَّنَدِ … وَكَحَدِيثِ "الْبَسْمَلَهْ" فِي الْمُسْنَدِ(1)

--------------------------------------------

(1) المعل: اسم مفعول من "أعل" ويقع كثيرًا في كلام المتقدمين بلفظ "المعلول" وزعم النووي أنه لحن، واعترض عليه بأنه حكاه جماعة من أهل اللغة، منهم قطرب والجوهري في الصحاح والمطرزي في المغرب، كما نقله العراقي في شرح مقدمة ابن الصلاح (96). وانظر لسان العرب أيضًا، وأظنه من قولهم "عل يعل" أي مرض، فقياس اسم المفعول منه "معلول".

وهذا الفن من أدق فنون الحديث وأعوصها، بل هو رأس علومه وأشرفها، ولا يتمكن منه إلا أهل الحفظ والخبرة والفهم الثاقب، ولهذا لم يتكلم فيه إلا القليل، كابن المديني وأحمد والبخاري ويعقوب بن شيبة وأبي حاتم وأبي زرعة والترمذي والدارقطني. وقد ألفت فيه كتب خاصة، فمنها "كتاب العلل" في آخر سنن الترمذي، وهو مختصر، ومنها "كتاب العلل" لابن أبي حاتم، وقد طبع في مصر في مجلدين، وأكبرها وأنفعها كتاب الدارقطني، وقد فكرنا مرارًا في طبعه، ولكنا لم نجد منه نسخة كاملة، فإن الموجود في دار الكتب المصرية غير تام. وقد حكى المصنف في التدريب أن الحافظ ابن حجر ألف فيه كتابًا سماه "الزهر المطلول في الخبر المعلول" ولم أره، ولو وجد لكان في رأيي جديرًا بالنشر. لأن الحافظ ابن حجر دقيق الملاحظة واسع الاطلاع، ويظن أنه يجمع كل ما تكلم فيه المتقدمون من الأئمة من الأحاديث المعلولة. وتجد الكلام على علل الأحاديث مفرقًا في كتب كثيرة، من أهمها "نصب الراية في تخريج أحاديث الهداية" للحافظ الزيلعي و"التلخيص" و"فتح الباري" كلاهما للحافظ ابن حجر، و"نيل الأوطار" للشوكاني، و"المحلى" للإمام الحجة أبي محمد بن حزم الظاهري، وكتاب "تهذيب سنن أبي داود" للعلامة المحقق ابن قيم الجوزية.

وعلة الحديث: سبب غامض خفي قادح في الحديث مع أن الظاهر السلامة منه. والحديث المعلول: هو الحديث الذي اطلع فيه على علة تقدح في صحته مع أن الظاهر سلامته منها، ويتطرق ذلك إلى الإسناد الذي رجاله ثقات الجامع شروط الصحة من حيث الظاهر.

والطريق إلى معرفة العلل جمع طرق الحديث والنظر في اختلاف رواته وفي ضبطهم وإتقانهم. فيقع في =
ত্রুটিযুক্ত (المعل)

হাদিসের ত্রুটি (علة) হলো এমন কিছু সুপ্ত কারণ... যা এর বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, যখন তা পূর্ণরূপে পাওয়া যায়।

যদিও বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিমুক্ত (السلامة) মনে হয়; অতএব যে তা অন্বেষণ করতে চায় সে যেন ত্রুটিযুক্ত (المعل) হাদিসের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

যাতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) পরিলক্ষিত হয় যা এর বিশুদ্ধতায় (صحة) আঘাত হানে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিহীনতার (سلامة) মানদণ্ড পূর্ণ করে।

একজন হাফিজ (الحافظ) তা অনুধাবন করেন বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা (التفرد), মতভেদ (الخلف) এবং পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن) দ্বারা; ফলে তিনি সঠিক পথ পান।

বিভ্রান্তিজনিত (الوهم) কারণে বিচ্ছিন্নতা (الإرسال), সূত্র স্থগিত হওয়া (الوقف) অথবা দুই হাদিসের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটার মতো বিষয়গুলো তাঁরা বর্ণনা করেছেন।

যার ফলে তাঁর ধারণা প্রবল হয়, অতঃপর তিনি এর দুর্বলতার (ضعف) ফয়সালা দেন অথবা সংশয় জাগলে তা এড়িয়ে চলেন।

(আর তা অনুধাবনের উপায় হলো বর্ণনার সমস্ত পথ বা সূত্র (الطرق) একত্রিত করা এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও শ্রেণিভেদ যাচাই-বাছাই করা।)

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি সনদে (السند) ঘটে থাকে; যেমন মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণিত 'বিসমিল্লাহ' সংক্রান্ত হাদিস।(1)

--------------------------------------------

(1) 'মুয়াল' (المعل) শব্দটি 'আআল্লা' (أعل) ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্মবাচ্য বিশেষ্য (اسم مفعول)। পূর্ববর্তী ইমামগণের বক্তব্যে 'মা'লুল' (المعلول) শব্দের ব্যবহার অনেক বেশি দেখা যায়। ইমাম নববী এটাকে ভাষাগত ভুল বলে দাবি করেছেন, কিন্তু তাঁর এই দাবির বিরোধিতা করা হয়েছে এই বলে যে, একদল ভাষাবিদ এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে কুতরুব, সাহাহ গ্রন্থে জওহরি এবং আল-মাগরিব গ্রন্থে মুতাররিজি রয়েছেন, যেমনটি ইরাকি শারহু মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ (৯৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। লিসানুল আরব অভিধানটিও দেখা যেতে পারে। আমার মনে হয় এটি তাঁদের 'আল্লা ইয়াউিল্লু' (عل يعل) অর্থাৎ অসুস্থ হওয়া শব্দ থেকে এসেছে, তাই এর নিয়ম অনুযায়ী কর্মবাচ্য বিশেষ্য (اسم مفعুল) হিসেবে 'মা'লুল' (معلول) হওয়াই যুক্তিযুক্ত।

এই শাস্ত্রটি হাদিস বিজ্ঞানের অন্যতম সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়, বরং এটি এর মূল ও শ্রেষ্ঠ শাখা। গভীর মুখস্থ শক্তি (الحفظ), অভিজ্ঞতা এবং তীক্ষ্ণ ধীশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া এতে পারদর্শী হওয়া সম্ভব নয়। এই কারণেই ইবনুল মাদিনি, আহমাদ, বুখারি, ইয়াকুব বিন শাইবাহ, আবু হাতিম, আবু যুরআহ, তিরমিযি এবং দারা কুতনির মতো অল্প কয়েকজন ইমামই এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে বিশেষ গ্রন্থাদি রচিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সুনান তিরমিযি-র শেষে কিতাবুল ইলাল, যা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। আরও রয়েছে ইবনে আবু হাতিমের কিতাবুল ইলাল, যা মিশরে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। আর এ বিষয়ে সবচাইতে বড় ও উপকারী গ্রন্থ হলো দারা কুতনির কিতাব। আমরা বারবার এটি ছাপানোর কথা চিন্তা করেছি, কিন্তু এর কোনো পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি পাইনি; কারণ মিশরের দারুল কুতুব-এ যা সংরক্ষিত আছে তা অসম্পূর্ণ। গ্রন্থকার 'তাদরিব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হাফিজ ইবনে হাজার এ বিষয়ে 'আয-যাহরুল মাতলুল ফিল খবরিল মা'লুল' নামে একটি বই লিখেছেন, যা আমি দেখিনি। সেটি পাওয়া গেলে আমার মতে তা প্রকাশের যোগ্য হতো। কারণ হাফিজ ইবনে হাজার সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং ধারণা করা হয় যে, তিনি পূর্ববর্তী ইমামগণ যেসব ত্রুটিযুক্ত (المعلولة) হাদিস নিয়ে আলোচনা করেছেন, তার সবটুকুই এতে জমা করেছেন। আপনি হাদিসের ত্রুটি (علل) সংক্রান্ত আলোচনা বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাবেন, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো: হাফিজ যায়লায়ি-র নাসবুর রাইয়াহ ফী তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়াহ, হাফিজ ইবনে হাজারের আল-তালখিস ও ফাতহুল বারি, শাওকানির নায়লুল আওতার, ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম জাহিরির আল-মুহাল্লা এবং আল্লামা মুহাক্কিক ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ-র তাহযিবু সুনানি আবি দাউদ।

হাদিসের ত্রুটি (علة): এমন একটি অস্পষ্ট ও গোপন কারণ যা হাদিসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিমুক্ত (السلامة) মনে হয়। আর ত্রুটিযুক্ত হাদিস (الحديث المعلول) হলো: সেই হাদিস যাতে এমন ত্রুটি (علة) উদ্ঘাটিত হয়েছে যা এর বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষুণ্ণ করে, অথচ বাহ্যিকভাবে তা এর থেকে মুক্ত (سلامة) মনে হয়। এটি সাধারণত এমন সনদের (الإسناد) ক্ষেত্রে ঘটে যার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং যা বাহ্যিকভাবে বিশুদ্ধতার (صحة) সকল শর্ত পূরণ করে।

ত্রুটি (علل) চেনার উপায় হলো হাদিসের সমস্ত সূত্র (طرق) একত্রিত করা এবং বর্ণনাকারীদের মতভেদ, তাদের স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতার (ضبط) বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা। এর মাধ্যমেই উদ্ঘাটিত হয়...
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সুয়ূতী নাযমুত দুরারি ফী ইলমিল আসার - তা শাকির (পৃষ্ঠা: ٣١)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= نفس العالم العارف بهذا الشأن أن الحديث معلول، ويغلب على ظنه فيحكم بعدم صحته، أو يتردد فيتوقف فيه. وربما تقصر عبارته عن إقامة الحجة على دعواه، قال عبد الرحمن بن مهدي: "معرفة علل الحديث إلهام، لو قلت للعالم بعلل الحديث: من أين قلت هذا؟ لم يكن له حجة، وكم من شخص لا يهتدي لذلك" وقيل له أيضًا: "إنك تقول للشيء: هذا صحيح، وهذا لم يثبت، فعمن تقول ذلك؟ فقال: أرأيت لو أتيت الناقد فأريته دراهمك، فقال: هذا جيد، وهذا بهرج، أكنت تسأل عمن ذلك، أو تسلم له الأمر؟ قال: بل أسلم له الأمر، قال: فهذا كذلك، لطول المجالسة والمناظرة والخبرة" وسئل أبو زرعة: "ما الحجة في تعليلكم الحديث؟ فقال: الحجة أن تسألني عن حديث له علة، فأذكر علته، ثم تقصد ابن دارة، فتسأله عنه، فيذكر علته، ثم تقصد أبا حاتم، فيعلله، ثم تميز كلامنا على ذلك الحديث، فإن وجدت بيننا خلافًا فاعلم أن كلًّا منَّا تكلم على مراده، وإن وجدت الكلمة متفقة فاعلم حقيقة هذا العلم. ففعل الرجل ذلك، فاتفقت كلمتهم، فقال: أشهد أن هذا العلم إلهام".

والعلة قد تكون بالإرسال في الموصول أو الوقف في المرفوع أو بدخول حديث في حديث أو وهم واهم أو غير ذلك، مما يتبين للعارف بهذا الشأن من جمع الطرق ومقارنتها، ومن قرائن تنضم إلى ذلك.

وأكثر ما تكون العلل في أسانيد الأحاديث، فتقدح في الإسناد والمتن معًا، إذا ظهر منها ضعف الحديث، وقد تقدح في الإسناد وحده، إذا كان الحديث مرويًا بإسناد آخر صحيح، مثل الحديث الذي رواه يعلى بن عبيد الطنافسي أحد الثقات عن سفيان الثوري عن عمرو بن دينار عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "البيعان بالخيار" الحديث، فهذا الإسناد متصل بنقل العدل عن العدل، وهو معلول، وإسناده غير صحيح، والمتن صحيح على كل حال، لأن يعلى بن عبيد غلط على سفيان في قوله "عمرو بن دينار" وإنما صوابه "عبد الله بن دينار" هكذا رواه الأئمة من أصحاب سفيان، كأبي نعيم الفضل بن دكين ومحمد بن يوسف الفريابي ومخلد بن يزيد وغيرهم، رووه عن سفيان عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر.

وقد تقع العلة في متن الحديث. وذكر له المؤلف مثالًا حديث "البسملة" ونسبه للمسند، وأراد به صحيح مسلم فيما أسنده إلى النبي صلى الله عليه وسلم وتعبيره عنه بالمسند تعبير غير جيد، وإنما حكم عليه الوزن والقافية. وحديث البسملة هو الحديث الذي أخرجه مسلم في صحيحه من رواية الوليد بن مسلم: "حدثنا الأوزاعي عن قتادة أنه كتب إليه يخبره عن أنس بن مالك أنه حدثه قال: صليت خلف النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر وعثمان فكانوا يستفتحون بالحمد لله رب العالمين، لا يذكرون بسم الله الرحمن الرحيم في أول قراءة ولا في آخرها" ثم رواه مسلم أيضًا من رواية الوليد عن الأوزاعي: أخبرني إسحق بن عبد الله بن أبي طلحة أنه سمع أنسًا يذكر ذلك. قال ابن الصلاح في كتاب علوم الحديث: (فعلل قوم رواية اللفظ المذكور - يعني التصريح بنفي قراءة البسملة - لما رأوا الأكثرين إنما قالوا فيه: "فكانوا يستفتحون القراءة بالحمد لله رب العالمين" من غير تعرض لذكر البسملة، وهو الذي اتفق البخاري ومسلم على إخراجه في الصحيح، ورأوا أن من رواه باللفظ المذكور رواه بالمعنى الذي وقع له. ففهم من قوله: "كانوا يستفتحون بالحمد لله" أنهم كانوا لا يبسملون، فرواه على ما فهم، وأخطأ، لأن معناه أن السورة التي كانوا يفتتحون بها من السور هي الفاتحة، وليس فيه تعرض لذكر التسمية، وانضم إلى ذلك أمور: منها أنه ثبت عن أنس أنه سئل عن الافتتاح بالتسمية، فذكر أنه لا يحفظ فيه شيئًا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم والله أعلم). وقد أطال =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= একজন বিশেষজ্ঞ আলেম যিনি এই বিষয়ে পারদর্শী, তিনি বুঝতে পারেন যে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معلول)। তার প্রবল ধারণা হয়, ফলে তিনি এর বিশুদ্ধতা না থাকার (عدم صحته) সিদ্ধান্ত দেন অথবা তিনি দ্বিধান্বিত হয়ে এ বিষয়ে থমকে যান (توقف)। সম্ভবত তার বক্তব্য এই দাবির সপক্ষে দলিল উপস্থাপনে অপূর্ণ থেকে যায়। আবদুর রহমান ইবনে মাহদি বলেছেন: "হাদিসের ত্রুটি (علل) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা একটি ইলহাম (ঐশ্বরিক প্রেরণা)। যদি আপনি হাদিসের ত্রুটি (علل) সম্পর্কে পারদর্শী কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করেন: 'আপনি এটি কিসের ভিত্তিতে বললেন?' তবে তার কাছে সম্ভবত কোনো অকাট্য দলিল থাকবে না। কত লোকই আছে যারা এই বিষয়ে সঠিক পথ খুঁজে পায় না।" তাকে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি কোনো বিষয় সম্পর্কে বলেন: এটি সহিহ (صحيح), আর এটি সাব্যস্ত হয়নি; তবে আপনি কার পক্ষ থেকে এটি বলেন? তিনি উত্তরে বললেন: আপনি কি মনে করেন যদি আপনি কোনো মুদ্রাপারখীর কাছে যান এবং তাকে আপনার দিরহামগুলো দেখান, আর তিনি বলেন: এটি ভালো, আর এটি ভেজাল; তখন কি আপনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে এটি কার পক্ষ থেকে বলছেন, নাকি তার সিদ্ধান্ত মেনে নেন? তিনি বললেন: বরং আমি তার সিদ্ধান্ত মেনে নিই। ইবনে মাহদি বললেন: দীর্ঘকাল এই শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্টতা, আলোচনা এবং অভিজ্ঞতার কারণে এটিও তেমনই।" আবু জুরআহ-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (تعليل) করার ক্ষেত্রে আপনাদের দলিল কী? তিনি বললেন: এর দলিল হলো—আপনি আমাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন যাতে ত্রুটি (علة) রয়েছে, আমি তার ত্রুটি (علة) উল্লেখ করব। এরপর আপনি ইবনে দারার কাছে যাবেন এবং তাকে তা জিজ্ঞাসা করবেন, তিনিও তার ত্রুটি (علة) উল্লেখ করবেন। এরপর আপনি আবু হাতিমের কাছে যাবেন, তিনিও হাদিসটির ত্রুটি (يعلله) বর্ণনা করবেন। তারপর আপনি সেই হাদিস সম্পর্কে আমাদের বক্তব্যের তুলনা করবেন; যদি আমাদের মাঝে পার্থক্য পান তবে জানবেন যে আমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ খেয়ালখুশি মতো কথা বলেছি। আর যদি দেখেন আমাদের বক্তব্য মিলে গেছে, তবে এই শাস্ত্রের বাস্তবতা উপলব্ধি করবেন। এরপর সেই ব্যক্তি তা-ই করলেন এবং সবার বক্তব্য মিলে গেল। তখন তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে এই জ্ঞান একটি ইলহাম।"

আর এই ত্রুটি (العلة) হতে পারে কোনো সংযুক্ত (موصول) হাদিসের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা (إرسال) প্রদর্শনের মাধ্যমে, কিংবা কোনো মারফু (مرفوع) হাদিসকে মাওকুফ (وقف) হিসেবে বর্ণনা করার মাধ্যমে, অথবা এক হাদিসের অংশ অন্য হাদিসে ঢুকে পড়ার মাধ্যমে কিংবা বর্ণনাকারীর নিছক বিভ্রান্তির (وهم) কারণে অথবা অন্য কোনো কারণে; যা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সূত্র একত্র করে এবং সেগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে ও তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত (قرائن) দেখে নির্ণয় করতে পারেন।

হাদিসের ত্রুটিসমূহ (العلل) অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাদিসের সনদে (أسانيد) দেখা দেয়, ফলে এটি সনদ (إسناد) ও মতন (متن) উভয়কে ত্রুটিযুক্ত করে যখন এর মাধ্যমে হাদিসের দুর্বলতা (ضعف) প্রকাশ পায়। কখনো এটি কেবল সনদকেই (إسناد) ত্রুটিযুক্ত করে, যদি হাদিসটি অন্য কোনো সহিহ সনদে বর্ণিত থাকে। যেমন—নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের একজন ইয়ালা ইবনে উবাইদ আল-তানাফিসি একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য (চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে তা বাতিলের) ইখতিয়ার রয়েছে..." (পর্যন্ত হাদিস)। এই সনদটি একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত হওয়ার মাধ্যমে আপাতদৃষ্টিতে সংযুক্ত (متصل), কিন্তু এটি ত্রুটিযুক্ত (معلول) এবং এর সনদটি সহিহ নয় (غير صحيح)। তবে মতনটি সব অবস্থাতেই সহিহ, কারণ ইয়ালা ইবনে উবাইদ সুফিয়ানের উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে 'আমর ইবনে দিনার' বলে ভুল করেছেন; প্রকৃতপক্ষে এর সঠিক নাম হলো 'عبد الله بن دينار' (আবদুল্লাহ ইবনে দিনার)। সুফিয়ানের ছাত্র ইমামগণ যেমন—আবু নুআইম ফাদল ইবনে দুকাইন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি, মাখলাদ ইবনে ইয়াজিদ প্রমুখ এভাবেই বর্ণনা করেছেন। তারা সুফিয়ান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন।

কখনও কখনও হাদিসের মতনেও (متن) ত্রুটি (العلة) প্রকাশ পেতে পারে। লেখক এর জন্য 'বাসমালাহ' (বিসমিল্লাহ পাঠ) সংক্রান্ত হাদিসটিকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন এবং এটিকে মুসনাদের দিকে নিসবত করেছেন। এর দ্বারা তিনি সহিহ মুসলিম-কে বুঝিয়েছেন যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সনদসহ বর্ণনা করেছেন; তবে এর জন্য 'মুসনাদ' শব্দটির ব্যবহার যথাযথ নয়, বরং তিনি পদ্যের ছন্দ ও অন্ত্যমিলের (قافية) খাতিরে এটি ব্যবহার করেছেন। বাসমালাহ সংক্রান্ত হাদিসটি হলো সেটি যা মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের সূত্রে সংকলন করেছেন: "আওজায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি তাকে লিখে জানিয়েছেন আনাস ইবনে মালিক থেকে যে, তিনি তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর, উমর ও উসমানের পেছনে সালাত আদায় করেছি; তারা 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' দিয়ে কিরাত শুরু করতেন। তারা কিরাতের শুরুতে বা শেষে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' উল্লেখ করতেন না।" এরপর মুসলিম হাদিসটি ওয়ালিদ থেকে আওজায়ির সূত্রে পুনরায় বর্ণনা করেছেন: ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি তালহা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আনাসকে এটি উল্লেখ করতে শুনেছেন। ইবনে আল-সালাহ তার উলুমুল হাদিস কিতাবে বলেন: (একদল আলেম উক্ত শব্দের বর্ণনার ক্ষেত্রে—অর্থাৎ স্পষ্ট করে বাসমালাহ পাঠ না করার বিষয়টি—ত্রুটি (علل) তালাশ করেছেন। কারণ তারা দেখেছেন যে অধিকাংশ বর্ণনাকারী কেবল এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তারা আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন দিয়ে কিরাত শুরু করতেন", সেখানে বাসমালাহ-এর ব্যাপারে কোনো উল্লেখ নেই। আর এটিই বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে বর্ণনার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তারা মনে করেন যে, যারা হাদিসটি উল্লিখিত শব্দে বর্ণনা করেছেন, তারা একে অর্থগতভাবে বর্ণনা করেছেন। "তারা আলহামদুলিল্লাহ দিয়ে শুরু করতেন"—এই বক্তব্য থেকে বর্ণনাকারী বুঝেছেন যে তারা বিসমিল্লাহ পড়তেন না, ফলে তিনি নিজের বুঝ অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন এবং ভুল করেছেন। কেননা এর অর্থ হলো—তারা যে সুরা দিয়ে নামাজ শুরু করতেন তা হলো সুরা ফাতিহা, সেখানে বিসমিল্লাহ উল্লেখ করার বা না করার ব্যাপারে কোনো বক্তব্য ছিল না। এর সাথে আরও কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে: তার মধ্যে একটি হলো আনাস থেকে এটি প্রমাণিত যে তাকে বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার কিছু মুখস্থ নেই। আল্লাহই ভালো জানেন)। এটি দীর্ঘ আলোচনা =