(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: -)
علوم البلاغة «البديع والبيان والمعاني» القسم: البلاغة
الكتاب: علوم البلاغة «البديع والبيان والمعاني»
المؤلف: الدكتور محمد أحمد قاسم، الدكتور محيي الدين ديب
الناشر: المؤسسة الحديثة للكتاب، طرابلس - لبنان
الطبعة: الأولى، 2003 م
عدد الصفحات: 375
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 شوّال 1436
অলংকার শাস্ত্র «আল-বাদি, আল-বায়ান এবং আল-মাআনি» বিভাগ: অলংকার শাস্ত্র (বালাগাত)
গ্রন্থ: অলংকার শাস্ত্র «আল-বাদি, আল-বায়ান এবং আল-মাআনি»
লেখক: ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ কাসিম، ডক্টর মুহিউদ্দিন দিব
প্রকাশক: আল-মুয়াসসাসাতুল হাদিসা লিল-কিতাব، ত্রিপোলি - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাওয়াল ১৪৩৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: -)
علوم البلاغة «البديع والبيان والمعاني»
تأليف
الدكتور محمد أحمد قاسم
الدكتور محيي الدين ديب
المؤسسة الحديثة للكتاب
طرابلس - لبنان
বালাগাত শাস্ত্র «আল-বাদি‘, আল-বায়ান ও আল-মা‘আনি»
রচনা
ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ কাসিম
ডক্টর মুহিউদ্দিন দিব
আল-মুয়াসসাসাতুল হাদিসা লিল কিতাব
ত্রিপোলি - লেবানন
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدّمةعلوم البلاغة ثلاثة من علوم العربية تتداخل معها وتتكامل؛ إذ من شروط البلاغة «توخّي الدّقة في انتقاء الكلمات والأساليب على حسب مواطن الكلام ومواقعه وموضوعات من يكتب لهم أو يلقى إليهم» ومردّ البلاغة عموما إلى الذّوق. وتعنى الفصاحة بالمفرد عنايتها بالتركيب، لهذا روعيت قواعد الصرف والنحو والصوّت في سلامة النطق، وخلوّ المفرد من تنافر الحروف، وبعده عن الحوشيّة والغرابة ومخالفة القياس اللغوي. وكان من شروط فصاحة المركّب سلامته من ضعف التأليف، ومن التعقيد اللفظي والمعنوي، بهذا كلّه عدّت البلاغة أكمل علوم اللغة وأغناها وأدقّها فائدة.
نشأت هذه العلوم لخدمة النصّ القرآني المعجز الذي كان- ولا يزال- شغل الدارسين الشاغل؛ فهو النصّ الذي تحدّى بلاغة القوم فاحتاج إلى دراسات تشرح إعجازه، وتبيّن مجازه، وتجلو حقيقته وكناياته ولطيف إشاراته. من هنا هذا الكمّ من الكتب البلاغية التي تناولت النصّ الشريف ككتاب مجاز القرآن لأبي عبيدة، ومعاني القرآن للفرّاء، وكتاب تأويل مشكل القرآن لابن قتيبة، وكتاب النكت في إعجاز القرآن للرمّاني، وكتاب بيان إعجاز القرآن للخطّابي، وكتاب إعجاز القرآن للباقلّاني، وآخر بالعنوان نفسه للقاضي عبد الجبّار، وصولا إلى كتاب دلائل الإعجاز للجرجاني. هكذا شغل القرآن الكريم الدارسين.
ولهذا جعل أبو هلال العسكري تعلّم البلاغة فرضا على من يريد التعرّف إلى بلاغة القرآن وإعجازه، وذهب إلى القول: «إن أحق العلوم بالتعلم، وأولاها بالتحفظ- بعد المعرفة بالله جل ثناؤه- علم البلاغة، ومعرفة الفصاحة، الذي به يعرف إعجاز كتاب الله».
ভূমিকাঅলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাহ) শাখাগুলো হলো আরবি ভাষার তিনটি বিষয় যা অন্যান্য ভাষাগত বিদ্যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং একে অপরের পরিপূরক; যেহেতু অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যতম শর্ত হলো কথার স্থান-কাল-পাত্র এবং যাদের উদ্দেশ্যে লেখা বা বলা হচ্ছে তাদের বিষয়বস্তু ও অবস্থা অনুযায়ী শব্দ ও শৈলী নির্বাচনে সূক্ষ্মতা বজায় রাখা। অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল ভিত্তি সাধারণত উন্নত রুচিবোধের ওপর নির্ভরশীল। প্রাঞ্জলতা (ফাসাহাত) যেমন একক শব্দের প্রতি গুরুত্ব দেয়, তেমনি বাক্যের গঠনের প্রতিও মনোযোগ দেয়। এই কারণেই উচ্চারণের নির্ভুলতা বজায় রাখা, একক শব্দকে অক্ষরের কর্কশতা থেকে মুক্ত রাখা এবং অপ্রচলিত, অদ্ভুত ও ভাষাগত নিয়মের লঙ্ঘন থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরফ (শব্দতত্ত্ব), নাহু (বাক্যতত্ত্ব) ও ধ্বনিতত্ত্বের নিয়মগুলো বিবেচনা করা হয়। আর বাক্য বিন্যাসের প্রাঞ্জলতার শর্ত হলো একে রচনার দুর্বলতা এবং শব্দগত ও অর্থগত জটিলতা থেকে মুক্ত রাখা। এই সবকিছুর কারণেই অলঙ্কারশাস্ত্রকে ভাষাবিজ্ঞানের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, সমৃদ্ধ এবং সূক্ষ্মতম উপকারী শাস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই শাস্ত্রসমূহের উদ্ভব হয়েছিল কুরআনের অলৌকিক বাণীর খিদমতের জন্য, যা গবেষকদের প্রধান আগ্রহের বিষয় ছিল এবং আজও রয়েছে। এটি এমন এক বাণী যা তৎকালীন মানুষের বাগ্মিতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, ফলে এর অলৌকিকত্ব ব্যাখ্যা করার, এর রূপক বর্ণনা করার এবং এর প্রকৃত অর্থ, ইঙ্গিত ও সূক্ষ্ম ইশারাগুলো স্পষ্ট করার জন্য গবেষণার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। এখান থেকেই অলঙ্কারশাস্ত্রের অসংখ্য কিতাব রচিত হয়েছে যা এই পবিত্র পাঠকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যেমন— আবু উবাইদাহর 'মাজাযুল কুরআন', আল-ফাররার 'মা'আনিল কুরআন', ইবনে কুতায়বার 'তাউয়ীলু মুশকিলিল কুরআন', আর-রুম্মানীর 'আন-নুকাত ফী ই'জাযিল কুরআন', আল-খাত্তাবীর 'বায়ান ই'জাযিল কুরআন', আল-বাকিল্লানীর 'ই'জাযুল কুরআন' এবং কাযী আব্দুল জাব্বারের একই শিরোনামের গ্রন্থ থেকে শুরু করে আল-জুরজানীর 'দালাইলুল ই'জায' পর্যন্ত। এভাবেই কুরআন মাজীদ গবেষকদের ব্যাপৃত রেখেছে।
এই কারণেই আবু হিলাল আল-আসকারী সেই ব্যক্তির জন্য অলঙ্কারশাস্ত্র শিক্ষাকে ফরয (আবশ্যক) করেছেন যে কুরআনের অলঙ্কার ও অলৌকিকত্ব সম্পর্কে পরিচয় লাভ করতে চায়। তিনি এ কথা পর্যন্ত বলেছেন যে: "আল্লাহ তাআলার পরিচয়ের পরে শিক্ষা করার জন্য সবচেয়ে যোগ্য এবং ধারণ করার জন্য সবচেয়ে উত্তম বিষয় হলো অলঙ্কারশাস্ত্র ও প্রাঞ্জলতা বিষয়ক জ্ঞান, যার মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবের অলৌকিকত্ব অনুধাবন করা যায়।"
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ৬)
من علوم البلاغة تتشكّل الصورة الفنّية في الشعر كما في النّثر.
لهذا كانت البلاغة زاد الناقد في عملية تفكيك النّصوص بحثا عن جماليّة الصورة وعناصر التخييل. والخطبة كالقصيدة لا تخلو من الصور الجمالية، يلجأ صاحبها إلى التحسين والتزيين شأن الشاعر الذي ينفر من المباشرة ويفزع إلى التشكيل الجميل.
من أجل هذا التكامل سلكنا في كتابنا هذا مسلكا خاصا؛ فقدّمنا مادّته من باب النقد، ولم نجعل التقعيد هدفا أسمى، بل سعينا إلى توظيف القاعدة في الكشف عن أسرار الصورة، وتبيّن عناصرها، وكشف جماليّتها لتقوية الذائقة الفنّية والنقدية عند المتلقّي. فالقاعدة لم تعد جسدا بلا روح بل جعلتها الأمثلة المشروحة جسما نابضا فاعلا من
طريق الاستقراء الذي يعمل على جلاء اللعبة الفنّية التي اعتمدها المبدع.
لهذا كلّه تميّز الكتاب بجملة من المزايا والصفات، نذكر منها:
أ. عنايته بالجانب التراثي من علوم البلاغة إذ لا يجوز أن يبقى الدرس البلاغي بمنأى عن جهود الروّاد الأوائل، وأن تبقى مصنّفاتهم مغيّبة عن أجيالنا.
ب. تأمين التواصل بين التراث والدراسات اللسانية الحديثة التي انتحت منحى جديدا في الكشف عن أسرار الصور البلاغية، فعمدنا إلى الاستفادة من هذه الدراسات بالقدر الذي يغني ولا يعقّد.
ج. احتفاله بالمصطلح البلاغي، إذ توقّف باستمرار عند حدّه اللغوي القاموسي فالاصطلاحي وربط بين الدلالتين محدّثا التحليل والتعليل معصرنا الدرس البلاغي.
د. وفرة شواهده المنتقاة بدقّة لتكون مختلفة مبنى ومعنى، ولنقع على ما يأسر الأسماع، ويخلب القلوب، ويحبّب بالدرس البلاغي. هذه الشواهد هي في الأساس أسّ الدراسة ومفتاحها. لقد حرصنا على تكثيفها لأنّ الشاهد البلاغي كالشاهد النحوي منطلق الدراسة. وكم
অলঙ্কার শাস্ত্র (বালাঘাত) থেকেই কবিতার মতো গদ্যেও শৈল্পিক চিত্রকল্প গঠিত হয়।
এ কারণেই পাঠ বিশ্লেষণের প্রক্রিয়ায় চিত্রকল্পের সৌন্দর্য ও কল্পনার উপাদান অনুসন্ধানে সমালোচকের প্রধান পাথেয় হলো অলঙ্কার শাস্ত্র। ভাষণও কবিতার মতো নান্দনিক চিত্রকল্প বর্জিত নয়; এর প্রণেতা কবির মতোই সরাসরি প্রকাশভঙ্গি পরিহার করে অলঙ্করণ ও সুশোভিতকরণের আশ্রয় নেন এবং সুন্দর রূপায়নের দিকে ধাবিত হন।
এই পূর্ণাঙ্গতা অর্জনের লক্ষ্যে আমরা আমাদের এই গ্রন্থে একটি বিশেষ পথ অনুসরণ করেছি; আমরা এর বিষয়বস্তু সমালোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছি এবং কেবল নীতি-নিয়ম নির্ধারণকেই সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে স্থির করিনি, বরং পাঠকদের শৈল্পিক ও সমালোচনামূলক রুচি বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিত্রকল্পের রহস্য উন্মোচন, এর উপাদানসমূহ স্পষ্টকরণ এবং এর সৌন্দর্য বিকাশে অলঙ্কার শাস্ত্রের নিয়মের প্রয়োগ ঘটাতে সচেষ্ট হয়েছি। ফলে নিয়মগুলো আর প্রাণহীন কাঠামো রইল না, বরং ব্যাখ্যাসহ উদাহরণগুলো আরোহী পদ্ধতির মাধ্যমে সেগুলোকে একটি স্পন্দিত ও কার্যকর অবয়ব দান করেছে, যা
স্রষ্টার অবলম্বিত শৈল্পিক কলাকৌশলকে স্পষ্ট করতে কাজ করে।
এসব কারণে বইটি বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণের দ্বারা স্বতন্ত্র হয়েছে, যার মধ্য থেকে আমরা উল্লেখ করছি:
ক. অলঙ্কার শাস্ত্রের ঐতিহ্যগত দিকের প্রতি বিশেষ যত্ন প্রদান; কারণ অলঙ্কার শাস্ত্রের পাঠ পূর্বসূরি অগ্রজদের প্রচেষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থসমূহ আমাদের বর্তমান প্রজন্মের নিকট অনুপস্থিত থাকা সমীচীন নয়।
খ. ঐতিহ্য এবং আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার মধ্যে সংযোগ নিশ্চিত করা, যা আলঙ্কারিক চিত্রকল্পের রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তাই আমরা এই গবেষণাগুলো থেকে এমন মাত্রায় উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেছি যা বিষয়টিকে সমৃদ্ধ করে কিন্তু জটিল করে তোলে না।
গ. আলঙ্কারিক পরিভাষার প্রতি গুরুত্বারোপ; কারণ এটি ধারাবাহিকভাবে শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার ওপর আলোকপাত করেছে এবং উভয় অর্থের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে, যা বিশ্লেষণ ও কার্যকরণ বর্ণনাকে আধুনিক করেছে এবং অলঙ্কার শাস্ত্রের পাঠকে করেছে যুগোপযোগী।
ঘ. অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্বাচিত উদাহরণের প্রাচুর্য, যাতে সেগুলো গঠন ও অর্থের দিক থেকে বৈচিত্র্যময় হয় এবং আমরা এমন কিছুর সন্ধান পাই যা শ্রবণকে মুগ্ধ করে, অন্তরকে আকর্ষণ করে এবং অলঙ্কার শাস্ত্রের পাঠের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে। এই উদাহরণগুলোই মূলত এই গবেষণার ভিত্তি ও চাবিকাঠি। আমরা এগুলোর আধিক্য নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়েছি, কারণ ব্যাকরণিক উদাহরণের মতো আলঙ্কারিক উদাহরণও গবেষণার প্রারম্ভবিন্দু। এবং কত...
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ৭)
حاولنا جاهدين ألّا نكتفي بالشواهد التقليدية المستهلكة المبثوثة والمكرورة في معظم كتب البلاغة، إذا لم تكن فيها كلّها حتى باتت كمّا تراكميا يشبه أيّ منها الآخر إن لم يكن نسخة طبق الأصل عنه.
هذه الشواهد فيها من القديم المتداول والجديد المتفرّد في بابه.
وكانت النصوص في التمرينات آيات قرآنية أوّلا وأبياتا شعرية ثانيا. وكان تكثيفها هادفا إلى التطبيق المتكامل الذي يتناول الكلّي كما الجزئي من القاعدة. امتزج فيها التّليد بالطارف محاولين- قدر المستطاع- أن تكون نصوصا متماسكة ما وسعنا إلى ذلك.
هـ. تنمية الحسّ البلاغي والنّقدي من طريق وضع علوم البلاغة في خدمة النّص وكشف جمالية الصورة، لننسخ من أذهان الناس آليّة التمرينات البلاغية التي تكتفي بالتطبيق الجافّ وتهمل تأثير التركيب في جمالية الصورة. لهذا أولينا التحليل عنايتنا الفائقة وكشفنا عن نقاب المعاني، ودرّبنا القارئ على ولوج الصورة من باب الجمالية لا من باب القاعدة الجوفاء والتطبيق المتسرّع.
و. جمعه التطبيق إلى التنظير والتكافؤ ما بين النظري والعملي من حيث الأهمية والفائدة.
ز. التّخفّف من الفهارس التي تضخّم الكتاب من غير فائدة تذكر، والاكتفاء بفهرس المصادر والمراجع، وفهرس المحتويات.
وفي الختام، نرجو أن نكون قد قدّمنا فائدة تذكر لأجيالنا وأبناء لغتنا التي شرّفها الله تعالى عندما حمّلها وحيه إلى نبيّه المصطفى، وإنّنا نشهده على اجتهادنا الصادق في الحصول على الأجرين، ولكنّننا راضون بالأجر الواحد. إنّه نعم المولى ونعم النصير.
المؤلفان
طرابلس في 2/ 3 / 2003
আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি কেবল অলঙ্কারশাস্ত্রের অধিকাংশ কিতাবে ছড়িয়ে থাকা এবং বারবার ব্যবহৃত গতানুগতিক উদাহরণগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ না থাকতে, যা শেষ পর্যন্ত এক স্তূপীকৃত পুঞ্জি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি উদাহরণ অন্যটির মতো, এমনকি একে অপরের হুবহু অনুলিপি হয়ে গেছে।
এই উদাহরণগুলোর মধ্যে প্রচলিত প্রাচীন নিদর্শনের পাশাপাশি নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য নতুন দৃষ্টান্তও রয়েছে।
অনুশীলনীগুলোতে ব্যবহৃত পাঠসমূহ ছিল প্রথমত কুরআনের আয়াত এবং দ্বিতীয়ত কাব্য পঙ্ক্তি। এই উদাহরণগুলোর আধিক্যের উদ্দেশ্য ছিল এমন এক পূর্ণাঙ্গ প্রায়োগিক রূপ দান করা, যা নিয়মের সামগ্রিক এবং আংশিক উভয় দিককেই অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে সুপ্রাচীন ও নতুন ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে এবং যথাসম্ভব চেষ্টা করা হয়েছে যেন পাঠগুলো আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সংহতিপূর্ণ হয়।
ঙ. অলঙ্কারশাস্ত্রের জ্ঞানকে মূল পাঠের সেবায় নিয়োজিত করা এবং অলঙ্কারিক সৌন্দর্যের স্বরূপ উন্মোচনের মাধ্যমে অলঙ্কারিক ও সমালোচনামূলক বোধের বিকাশ ঘটানো, যাতে মানুষের মন থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের অনুশীলনের সেই যান্ত্রিকতা মুছে ফেলা যায় যা কেবল শুষ্ক প্রয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং শৈল্পিক রূপের ওপর বাক্য গঠনের প্রভাবকে উপেক্ষা করে। এ কারণেই আমরা বিশ্লেষণের প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি এবং অর্থের নেকাব উন্মোচন করেছি। আমরা পাঠককে কোনো ফাঁপা নিয়ম বা তাড়াহুড়ো করা প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং সৌন্দর্যের দুয়ার দিয়ে অলঙ্কারের জগতে প্রবেশ করতে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করেছি।
চ. গুরুত্ব ও উপযোগিতার দিক থেকে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রয়োগের সাথে তত্ত্বের সমন্বয় ঘটানো।
ছ. যেসব নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র কোনো বিশেষ উপকার ছাড়াই কিতাবের কলেবর বৃদ্ধি করে তা পরিহার করা এবং কেবল উৎস ও তথ্যসূত্র এবং বিষয়সূচির ওপর নির্ভর করা।
পরিশেষে, আমরা আশা করি যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এবং আমাদের ভাষার সন্তানদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো উপকার করতে পেরেছি—যেই ভাষাকে মহান আল্লাহ তাঁর মনোনীত নবীর প্রতি ওহী নাযিলের বাহন হিসেবে নির্বাচন করে সম্মানিত করেছেন। দ্বিগুণ সওয়াব লাভের আশায় আমাদের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ব্যাপারে আমরা আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি; তবে আমরা একটি সওয়াবেই সন্তুষ্ট। তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না চমৎকার সাহায্যকারী।
লেখকদ্বয়
ত্রিপোলি, ২/৩/২০০৩
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ৮)
1 - البلاغة في اللغة والاصطلاح:
1 - 1 - البلاغة لغة:جاء في اللسان (بلغ): «بلغ الشيء يبلغ بلوغا وبلاغا: وصل وانتهى،
… وبلغت المكان بلوغا: وصلت إليه، وكذلك إذا شارفت عليه، ومنه قوله تعالى فَإِذا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ البقرة: 234 أي: قاربنه. وبلغ النّبت: انتهى.» وهكذا نرى أن الدلالة اللغوية تتمحور حول الوصول، أو مقاربة الوصول، والانتهاء إلى الشيء والإفضاء إليه.
وإذا عدنا إلى اللسان (بلغ)، وجدناه يقارب المعنى الاصطلاحي عند ما يقول: «والبلاغة: الفصاحة
… ورجل بليغ وبلغ وبلغ: حسن الكلام فصيحه يبلغ بعبارة لسانه كنه ما في قلبه، والجمع بلغاء، وقد بلغ بلاغة أي: صار بليغا» وهكذا نرى أن المعنى الإضافي (حسن الكلام) مرتبط بالمعنى الحقيقي (الوصول والانتهاء) لأنّ الكلام الحسن يوصّل ما في قلب المتكلم إلى المتلقّي بعبارة لسانه المشرقة الواضحة.
1 - 2 - البلاغة اصطلاحا:جاء في معجم المصطلحات العربية (1) «هي مطابقة الكلام الفصيح لمقتضى الحال، فلا بدّ فيها من التفكير في المعاني الصادقة القيّمة القوية المبتكرة منسّقة حسنة الترتيب، مع توخّي الدقّة في انتقاء الكلمات والأساليب على حسب مواطن الكلام ومواقعه وموضوعاته وحال من يكتب لهم أو يلقى إليهم».
--------------------------------------------
১ - আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র):১ - ১ - আভিধানিক অর্থে বালাগাত:লিসানুল আরব (ব-ল-গ) গ্রন্থে এসেছে: «কোনো বস্তু পৌঁছানো বা উপনীত হওয়া: তা পৌঁছেছে এবং সমাপ্ত হয়েছে,
… আর আমি স্থানটিতে পৌঁছেছি: আমি সেখানে উপনীত হয়েছি, অনুরূপভাবে যখন আমি তার নিকটবর্তী হয়েছি। আর এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: ‘অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করার নিকটবর্তী হয়’ (আল-বাকারাহ: ২৩৪) অর্থাৎ: তারা তার নিকটবর্তী হয়। আর উদ্ভিদ পূর্ণতায় পৌঁছেছে: অর্থাৎ তার বৃদ্ধি শেষ হয়েছে।’ এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, আভিধানিক অর্থ কোনো বস্তুর কাছে পৌঁছানো, অথবা পৌঁছানোর নিকটবর্তী হওয়া, এবং কোনো বস্তুর শেষ প্রান্তে উপনীত হওয়া ও সেখানে গিয়ে পৌঁছানোর চারপাশেই আবর্তিত হয়।
আমরা যদি পুনরায় লিসানুল আরব (ব-ল-গ)-এর দিকে ফিরে যাই, তবে তাকে পারিভাষিক অর্থের কাছাকাছি দেখতে পাই যখন সে বলে: «বালাগাত হলো ফাসাহাত বা বাকপটুতা
… আর বালিগ বা সুবক্তা হলো এমন ব্যক্তি যার কথা সুন্দর ও প্রাঞ্জল, যে তার জিহ্বার অভিব্যক্তির মাধ্যমে তার অন্তরের অন্তঃস্থলে যা আছে তা পৌঁছে দেয়। এর বহুবচন হলো বুলাগা। সে বালাগাত অর্জন করেছে অর্থাৎ সে সুবক্তা হয়েছে।’ এভাবে আমরা দেখি যে, অতিরিক্ত অর্থ (কথার সৌন্দর্য) মূল অর্থের (পৌঁছানো এবং সমাপ্ত হওয়া) সাথে সম্পৃক্ত; কারণ সুন্দর কথা বক্তার অন্তরের বিষয়বস্তুকে তার জিহ্বার উজ্জ্বল ও স্পষ্ট অভিব্যক্তির মাধ্যমে শ্রোতার নিকট পৌঁছে দেয়।
১ - ২ - পারিভাষিক অর্থে বালাগাত:আরবি পারিভাষিক অভিধানে (১) এসেছে: «এটি হলো প্রাঞ্জল কথা পরিস্থিতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া। সুতরাং এতে অবশ্যই সত্য, মূল্যবান, শক্তিশালী এবং উদ্ভাবনী ভাবসমূহ নিয়ে চিন্তা করতে হবে যা সুসংগঠিত ও সুবিন্যস্ত হবে। সাথে সাথে কথার প্রেক্ষিত, স্থান, বিষয়বস্তু এবং যাদের জন্য লেখা হচ্ছে বা যাদের উদ্দেশ্যে বলা হচ্ছে তাদের অবস্থা অনুযায়ী শব্দ ও শৈলী নির্বাচনে সূক্ষ্মতা বজায় রাখতে হবে।’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ৯)
لم يكتف المعجم بتعريف البلاغة، بل تعدّاه إلى شروط تحققها في الشكل والمضمون لتكون آسرة لعقل المخاطبين، فاعلة في قلوبهم، شاملة للمواقف الكلامية التي يقفها المتكلّمون. وأضاف معجم المصطلحات العربية
إلى الشروط المتقدم ذكرها شرطا أهم بقوله «والذّوق وحده هو العمدة في الحكم على بلاغة الكلام» وهذا يعني أن تباين الأذواق يجعل الحكم على بلاغة الكلام أمرا نسبيا، وتصبح البلاغة بلاغات.
1 - 3 - حدّ البلاغة في كتب التراث:روى الجاحظ تعريفات القدامى من شعراء وكتّاب عندما سئلوا عن مفهوم البلاغة. ومن هذه التعريفات نذكر ما يأتي:
1 - 3 - 1 - تفسير ابن المقفّع (ت 143 هـ):
وجاء فيه (1) «البلاغة: اسم جامع لمعان تجري في وجوه كثيرة؛
فمنها ما يكون في السكوت، ومنها ما يكون في الاستماع، ومنها ما يكون في الإشارة، ومنها ما يكون في الاحتجاج، ومنها ما يكون جوابا، ومنها ما يكون ابتداء، ومنها ما يكون شعرا، ومنها ما يكون سجعا وخطبا، ومنها ما يكون رسائل. فعامّة ما يكون من هذه الأبواب الوحي فيها، والإشارة إلى المعنى، والإيجاز، هو البلاغة».
لقد أحسن الجاحظ عند ما ذكر تفسير ابن المقفّع مستبعدا مصطلحي: الحدّ والتعريف؛ لأن ابن المقفع اكتفى بتقديم صفات البلاغة المتمثّلة في الإيجاز ومراعاة المقام. ولكن من حقّنا أن نتساءل عن علاقة السكوت والاستماع بالبلاغة. فبأي معيار نقيس بلاغة
--------------------------------------------
অভিধানটি কেবল অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) সংজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি শব্দরূপ ও বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার শর্তাবলি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যাতে তা শ্রোতাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে মুগ্ধ করতে পারে, তাদের অন্তরে প্রভাব ফেলতে পারে এবং বক্তাদের বিভিন্ন কথা বলার প্রেক্ষাপটকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। আরবি পরিভাষা অভিধানটি
উপরে উল্লিখিত শর্তাবলির সাথে একটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করে বলেছে যে, "কথার অলঙ্কার বা শ্রেষ্ঠত্বের বিচারের ক্ষেত্রে একমাত্র রুচিবোধই হলো মূল ভিত্তি।" এর অর্থ হলো রুচিবোধের ভিন্নতা কথার অলঙ্কার বিচারের বিষয়টি আপেক্ষিক করে তোলে এবং এর ফলে অলঙ্কারশাস্ত্র বহুবিধ অলংকারে পরিণত হয়।
১ - ৩ - ঐতিহ্যবাহী (তুরাছ) গ্রন্থাবলিতে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) সংজ্ঞা:আল-জাহিজ প্রাচীন কবি ও লেখকদের দেওয়া সংজ্ঞাসমূহ বর্ণনা করেছেন যখন তাদের অলঙ্কারশাস্ত্রের ধারণা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। সেই সংজ্ঞাসমূহ থেকে আমরা নিম্নে কিছু উল্লেখ করছি:
১ - ৩ - ১ - ইবনুল মুকাফ্ফার ব্যাখ্যা (মৃত্যু ১৪৩ হিজরি):এতে বর্ণিত হয়েছে (১) «বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্র হলো এমন এক ব্যাপক নাম যা বহুবিধ দিক দিয়ে প্রযুক্ত হয়; এর কিছু দিক নীরবতার মাঝে নিহিত, কিছু দিক শ্রবণের মাঝে, কিছু দিক ইশারা বা ইঙ্গিতের মাঝে, কিছু দিক তর্কের মাঝে, কিছু দিক উত্তরের মাঝে, কিছু দিক আলোচনার সূচনার মাঝে, কিছু দিক কবিতার মাঝে, কিছু দিক অনুপ্রাস ও ভাষণের মাঝে এবং কিছু দিক পত্রবিনিময়ের মাঝে। এই সকল ক্ষেত্রে যা ব্যাপকতা লাভ করে তা হলো ইঙ্গিত প্রদান, অর্থের প্রতি সংকেত করা এবং সংক্ষিপ্ততা; আর এটাই হলো অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)»।
আল-জাহিজ অত্যন্ত উত্তম কাজ করেছেন যখন তিনি ইবনুল মুকাফ্ফার ব্যাখ্যাটি উল্লেখ করেছেন এবং 'সীমানা' (হাদ) ও 'সংজ্ঞা' (তারিফ) শব্দ দুটি পরিহার করেছেন; কারণ ইবনুল মুকাফ্ফা কেবল অলঙ্কারশাস্ত্রের সেই গুণাবলি উপস্থাপনের ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন যা সংক্ষিপ্ততা এবং প্রেক্ষাপটের বিবেচনার মধ্যে প্রতিফলিত হয়। তবে আমাদের জিজ্ঞাসা করার অধিকার আছে যে, অলঙ্কারশাস্ত্রের সাথে নীরবতা ও শ্রবণের সম্পর্ক কী। আমরা কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে অলঙ্কার পরিমাপ করব?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১০)
الصّمت؟ وإذا كان الصمت أبلغ من الكلام في بعض المواقف المؤثرة حزنا أو فرحا، فهل يصحّ أن يسمّى العجز عن الإبلاغ عمّا يعتمل في النفس بلاغة؟ ألا يحقّ لنا أن نسمّي الصمت آنئذ حسن تخلص ارتباطه بالبلاغة واه لأن في الصمت مساواة بين البليغ وغيره. فهل يجوز أن يستوي في عين البلاغة الأبكم والفصيح؟
1 - 3 - 2 - مفهوم (العتّابي ت 220 هـ) للبلاغة:روى الجاحظ عن صديق له سأل العتّابي قائلا (1): «ما البلاغة؟
قال: كلّ من أفهمك حاجته من غير إعادة، ولا حبسة، ولا استعانة فهو بليغ»
لقد اخترنا عمدا لفظ (مفهوم) لأننا رأينا أن العتّابي لم يعرّف البلاغة بقدر ما أعطى صفات البليغ. ألا يرى القارئ أن العتّابي سئل عن البلاغة فأجاب معرفا البليغ من المتكلّمين المبرّأ من العيّ والحبسة وفساد القول؟
ونترك للجاحظ نفسه شرح كلام العتّابي الذي جاء فيه (2):
«والعتّابي حين زعم أن كل من أفهمك حاجته فهو بليغ لم يعن أن كل من أفهمنا من معاشر المولّدين والبلديين قصده ومعناه، بالكلام الملحون، والمعدول عن جهته، والمصروف عن حقه، أنه محكوم له بالبلاغة كيف كان بعد أن نكون قد فهمنا عنه» وكأن الجاحظ يقيّد الإفهام بالكلام الجاري على أنماط كلام الفصحاء من العرب.
--------------------------------------------
নীরবতা? যদি বিষাদ বা আনন্দের কোনো কোনো আবেগঘন পরিস্থিতিতে নীরবতা কথার চেয়েও অধিক সাবলীল হয়, তবে মনের ভেতর যা আলোড়িত হচ্ছে তা প্রকাশে অক্ষমতাকে কি সাবলীলতা বলা সঠিক হবে? তখন নীরবতাকে সুকৌশলী মুক্তি বলা কি আমাদের জন্য সমীচীন নয়? সাবলীলতার সাথে নীরবতার সম্পর্ক অত্যন্ত ক্ষীণ, কারণ নীরবতায় একজন বাগ্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমতা তৈরি হয়। তবে কি সাবলীলতার বিচারে একজন বাকপ্রতিবন্ধী এবং একজন বাগ্মী সমান হতে পারে?
১ - ৩ - ২ - সাবলীলতা (বা আল-বালাগা) সম্পর্কে (আত্তাবীর মৃত্যু ২২০ হি.) ধারণা:জাহিয তাঁর এক বন্ধুর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যিনি আত্তাবীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন (১): «সাবলীলতা কী?
তিনি বললেন: যে ব্যক্তি কোনো পুনরাবৃত্তি, জড়তা কিংবা অন্যের সাহায্য ছাড়াই তোমাকে তাঁর প্রয়োজনের কথা বুঝিয়ে দিতে পারে, সে-ই সাবলীল বাগ্মী।»
আমরা সচেতনভাবেই 'ধারণা' শব্দটি বেছে নিয়েছি কারণ আমরা দেখেছি যে আত্তাবী সাবলীলতার সংজ্ঞা দেওয়ার চেয়ে বরং একজন বাগ্মীর গুণাবলিই তুলে ধরেছেন। পাঠক কি লক্ষ্য করছেন না যে, আত্তাবীকে সাবলীলতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, অথচ তিনি এমন একজন বক্তার পরিচয় দিয়ে উত্তর দিয়েছেন যিনি বাকহীনতা, জড়তা এবং কথার অসংলগ্নতা থেকে মুক্ত?
আমরা জাহিযের নিজের ভাষ্যেই আত্তাবীর বক্তব্যের ব্যাখ্যাটি ছেড়ে দিচ্ছি যেখানে বলা হয়েছে (২):
«আত্তাবী যখন দাবি করেছেন যে, যে ব্যক্তি তোমাকে নিজের প্রয়োজন বুঝিয়ে দিতে পারে সেই সাবলীল বাগ্মী, তখন তাঁর অর্থ এই ছিল না যে, আধুনিক বা শহরবাসীদের মধ্য থেকে যারা ব্যাকরণগত ভুলযুক্ত কথা বা নিয়মবহির্ভূত ও বিকৃত বাচনের মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দেয়, তাদেরকেও সাবলীল হিসেবে গণ্য করা হবে— কেবল এই কারণে যে আমরা তাঁদের কথা বুঝতে পেরেছি।» মনে হচ্ছে জাহিয মনের ভাব বোঝানোর বিষয়টি কেবল আরবদের বিশুদ্ধ বাচনভঙ্গির সাথে সীমাবদ্ধ রেখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১১)
1 - 3 - 3 - حدّ البلاغة عند الرّماني (ت 386 هـ):
قال الرّماني (1) «البلاغة: إيصال المعنى إلى القلب في أحسن صورة من اللفظ» فالبلاغة تعني توصيل المعنى وتمكينه في قلوب المتلقين من طريق إلباسه الصورة الجميلة من اللفظ الذي يفتن الألباب.
وهكذا نرى أن المصطلح تطوّر في هذ التعريف ليكتسب خصوصية لم يكتسبها سابقا. فلم تعد البلاغة بأوصافها، بل أخذت تحديدا واضحا ودقيقا بقي متداولا في كتب اللاحقين، يضيفون عليه ولكنّهم حافظوا على كنهه وفحواه.
1 - 3 - 4 - أبو هلال العسكري (ت 395 هـ) يتوسّع في تعريفها:استعان العسكري بالدلالة اللغوية لفهم مصطلح البلاغة عند ما ذكر سبب التسمية قائلا: «سميّت البلاغة بلاغة لأنها تنهي المعنى إلى قلب السامع فيفهمه» (2) ورأى أنها (3) «من صفة الكلام لا من صفة المتكلّم
… وتسميتنا المتكلّم بأنه بليغ توسّع. وحقيقته أن كلامه بليغ».
وبعد توضيح الفصاحة معجميا ذهب إلى أن (4) «الفصاحة والبلاغة ترجعان إلى معنى واحد وإن اختلف أصلاهما؛ لأن كل واحد منهما إنما هو الإبانة عن المعنى والإظهار له» ويستهل الفصل الثاني من الصناعتين بتعريف واف للبلاغة جاء فيه «البلاغة كل ما تبلّغ به المعنى قلب السامع، فتمكّنه في نفسه كتمكّنه في نفسك مع صورة مقبولة ومعرض حسن».
--------------------------------------------
১ - ৩ - ৩ - আর-রুমমানী (মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি)-এর নিকট বালাগাতের সংজ্ঞা:আর-রুমমানী বলেন (১) «বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) হলো: শব্দের সর্বোত্তম রূপের মাধ্যমে অর্থকে হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া»। সুতরাং বালাগাত অর্থ হলো অর্থকে পৌঁছে দেওয়া এবং শব্দের এমন সুন্দর রূপ পরিধান করানোর মাধ্যমে শ্রোতাদের হৃদয়ে তা গেঁথে দেওয়া, যা বুদ্ধিকে মোহিত করে।
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, এই সংজ্ঞার মাধ্যমে পরিভাষাটি এমন এক বিবর্তন লাভ করেছে যা ইতিপূর্বে অর্জন করেনি। বালাগাত কেবল তার গুণাবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি একটি সুস্পষ্ট ও নিখুঁত রূপ লাভ করেছে যা পরবর্তী লেখকদের কিতাবসমূহে প্রচলিত থেকেছে; তাঁরা এতে সংযোজন করেছেন ঠিকই, কিন্তু এর মূল নির্যাস ও মর্মার্থকে সংরক্ষণ করেছেন।
১ - ৩ - ৪ - আবু হিলাল আল-আসকারি (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি) এর সংজ্ঞাকে বিস্তারিত করেন:আল-আসকারি বালাগাত পরিভাষাটি বোঝার জন্য ভাষাগত অর্থের সাহায্য নিয়েছেন যখন তিনি এই নামকরণের কারণ উল্লেখ করে বলেন: «বালাগাতকে বালাগাত নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অর্থকে শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে দেয়, ফলে সে তা বুঝতে পারে» (২)। তিনি মনে করতেন এটি (৩) «কথার গুণ, বক্তার গুণ নয়... আমাদের কোনো বক্তাকে বাগ্মী (বালীগ) বলাটা রূপক বা প্রশস্ত অর্থে। প্রকৃতপক্ষে তার কথাটিই হলো অলঙ্কারপূর্ণ (বালীগ)»।
অভিধান অনুযায়ী ফাসাহাত স্পষ্ট করার পর তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে (৪) «ফাসাহাত এবং বালাগাত একই অর্থের দিকে ফিরে যায়, যদিও তাদের মূল উৎস ভিন্ন; কারণ তাদের উভয়ের উদ্দেশ্যই হলো অর্থকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা এবং তা প্রকাশ করা»। তিনি 'আস-সিনাআতাইন' গ্রন্থের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের শুরুতে বালাগাতের একটি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা দেন যেখানে বলা হয়েছে, «বালাগাত হলো এমন প্রতিটি বিষয় যা অর্থকে শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে দেয় এবং তা তার অন্তরে সেভাবেই গেঁথে দেয় যেভাবে তা তোমার নিজের অন্তরে বিদ্যমান, সাথে গ্রহণযোগ্য অবয়ব ও সুন্দর উপস্থাপন বজায় থাকে»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد وجدنا في شرح هذا التعريف ما يمكن عدّه ردّا على تعريف ابن المقفّع. قال العسكري (1) «ومن قال: إن البلاغة إنما هي إفهام المعنى فقط، فقد جعل الفصاحة واللكنة والخطأ والصواب والإغلاق والإبانة سواء».
وإذا كان العسكري قد وقف الفصل الثاني لتعريفه الشخصي للبلاغة، فإنه قد جعل الفصل الثالث لتفسير ما جاء عن الحكماء والعلماء في حدود البلاغة. ثم وضع شروط اجتماع آلة البلاغة، وهي في ظنّه (2) «جودة القريحة وطلاقة اللسان» ومن تمام آلات البلاغة ما يأتي (3):
«التوسّع في معرفة العربية، ووجوه الاستعمال لها؛ والعلم بفاخر الألفاظ وساقطها، ومتخيّرها، ورديئها، ومعرفة المقامات، وما يصلح في كل واحد منها من الكلام» وقد شرح هذا القول بإسهاب فيما بعده من كلام متوقّفا عند الجزئيّات ليبسط فيها القول.
1 - 3 - 5 - مفهوم عبد القاهر الجرجاني (ت 471 هـ) للبلاغة:عقد الجرجاني في دلائل الإعجاز فصلا بعنوان (4): «في تحقيق القول على البلاغة والفصاحة، والبيان والبراعة، وكل ما شاكل ذلك» مبيّنا فيه أن «لا معنى لهذه العبارات وسائر ما يجري مجراها ممّا يفرد فيه اللفظ بالنعت والصفة، وينسب فيه الفضل والمزيّة إليه دون المعنى غير وصف الكلام بحسن الدّلالة، وتمامها فيما له كانت دلالة، ثم تبرّجها في صورة هي أبهى وأزين، وآنق وأعجب، وأحقّ بأن تستولي على هوى النفس، وتنال الحظ الأوفر من ميل القلوب، وأولى بأن تطلق
--------------------------------------------
এই সংজ্ঞার ব্যাখ্যায় আমরা এমন কিছু পেয়েছি যা ইবনে আল-মুকাফফার সংজ্ঞার একটি উত্তর বা খণ্ডন হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। আল-আসকারি (১) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলে: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) কেবল অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া, সে সাবলীলতা (ফাসাহাত), তোতলামি (লুকনা), ভুল, সঠিকতা, অস্পষ্টতা এবং স্পষ্টতাকে সমান করে দিল।"
আল-আসকারি যদি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি বালাগাতের নিজস্ব সংজ্ঞার জন্য নির্ধারিত করে থাকেন, তবে তিনি তৃতীয় পরিচ্ছেদটি বালাগাতের সংজ্ঞায় প্রাজ্ঞ ব্যক্তি ও আলেমদের থেকে বর্ণিত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যার জন্য রেখেছেন। এরপর তিনি বালাগাতের উপকরণসমূহ একত্রিত হওয়ার শর্তাবলি প্রদান করেছেন, যা তাঁর মতে (২) হলো "মেধার উৎকর্ষ এবং জিহ্বার সাবলীলতা"। আর বালাগাতের উপকরণের পূর্ণতা আসে নিম্নে উল্লিখিত বিষয়গুলো দ্বারা (৩):
"আরবি ভাষা সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান এবং এর ব্যবহারের পদ্ধতিসমূহ; উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট শব্দাবলি এবং নির্বাচিত ও ত্রুটিপূর্ণ শব্দসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা; এবং প্রেক্ষাপট (মাকামাত) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং প্রতিটি প্রেক্ষাপটে কোন ধরনের কথা উপযুক্ত তা জানা।" তিনি পরবর্তী আলোচনায় এই বক্তব্যটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করার জন্য সেখানে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
১ - ৩ - ৫ - বালাগাত সম্পর্কে আব্দুল কাহের আল-জোরজানির (মৃত্যু ৪৭১ হি.) ধারণা:আল-জোরজানি 'দালাইলুল ইজাজ' গ্রন্থে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যার শিরোনাম হলো (৪): "বালাগাত, ফাসাহাত, বয়ান, বারায়াত এবং এ জাতীয় সকল বিষয়ের আলোচনার তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ"। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, "এই শব্দগুলো এবং এ জাতীয় অন্যান্য পরিভাষাগুলোর—যাতে শব্দকে এককভাবে গুণান্বিত করা হয় এবং অর্থের পরিবর্তে শব্দের দিকেই শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্য আরোপ করা হয়—অন্য কোনো অর্থ নেই, কেবল কথাকে তার নির্দেশনার (দালালাত) সৌন্দর্যের মাধ্যমে বর্ণনা করা এবং যে বিষয়ের জন্য এই নির্দেশনা তা পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপন করা। এরপর সেই নির্দেশনাকে এমন এক রূপে সজ্জিত করা যা অত্যন্ত উজ্জ্বল, সুশোভিত, মার্জিত এবং বিস্ময়কর; যা মানুষের প্রবৃত্তিকে বশীভূত করার অধিক যোগ্য এবং অন্তরের ঝোঁক থেকে পূর্ণ অংশ লাভের দাবিদার, এবং যা প্রকাশের অধিক উপযোগী..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لسان الحامد، وتطيل رغم الحاسد، ولا جهة لاستعمال هذه الخصال غير أن يؤتى المعنى من الجهة التي هي أصحّ
لتأديته، ويختار له اللفظ الذي هو أخص به، وأكشف عنه، وأتمّ له، وأحرى بأن يكسبه نبلا، ويظهر فيه مزية».
لقد قلنا مفهوم الجرجاني ولم نقل حدّه لأنه أعطى صفات مشتركة لكل من البلاغة والفصاحة والبراعة والبيان أوّلا، ولأنه لم يحدّد البلاغة تحديدا وافيا ثانيا. فالكلام يجب أن يكون شديد الدلالة على المعنى، ثم إنه من المستحسن أن يرصف في جملة أنيقة متبرّجة لتأتي فائقة الأناقة تبلغ الأسماع فتطربها بجرسها، وتأسرها بجمال وسحر ألفاظها. ولتأتي العبارة بهذه الصفات على صاحبها أن يتخيّر اللفظ الذي يؤدي المعنى ولا يقصّر عنه لأن الكلام الذي تقصّر فيه الألفاظ عن تأدية المعاني كاملة وبدقة متناهية ليس كلاما بليغا.
1 - 3 - 6 - موقف ابن سنان الخفّاجي (422 - 466 هـ):
ذهب ابن سنان في كتابه (سرّ الفصاحة) إلى أن القدامى لم يحدّوا البلاغة، (لم يعرّفوها) لأنهم اكتفوا برصد صفاتها، وقد تعقب تعريفات السابقين مستبعدا أن تكون محاولاتهم هذه حدودا للبلاغة فشرحها مبيّنا أنها مجرّد صفات وليست حدودا صحيحة في نظره.
ولكن ابن سنان لم يفرق بين الفصاحة والبلاغة، وذهبت جهوده في ذلك أدراج الرياح، فبعد أن رأى أن الفصاحة مقصورة على وصف الألفاظ، وأن البلاغة لا تكون إلا وصفا للألفاظ مع المعاني، فلا يقال عن كلمة مفردة إنها بليغة، ينتهي إلى تعريف للفصاحة جاء فيه (1):
--------------------------------------------
প্রশংসাকারীর জিহ্বা হয়ে এবং হিংসুক থাকা সত্ত্বেও তা দীর্ঘায়িত হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যবহারের অন্য কোনো পন্থা নেই তবে অর্থকে এমন দিক থেকে উপস্থাপন করা যে দিকটি তা আদায়ের জন্য সর্বাধিক শুদ্ধ। আর তার জন্য এমন শব্দ চয়ন করা হবে যা তার জন্য সর্বাধিক বিশিষ্ট, তার ক্ষেত্রে সর্বাধিক উন্মোচনকারী, তার জন্য সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ এবং তাকে আভিজাত্য দানে অধিক উপযোগী, যাতে তার মধ্যে বিশেষত্ব প্রকাশিত হয়।
আমরা জুরজানির ধারণা বলেছি এবং তার সংজ্ঞা বলিনি। কারণ প্রথমত, তিনি ফাসাহাত, বালাগাত, বারাআত এবং বায়ানের প্রত্যেকটির জন্য সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন। আর দ্বিতীয়ত, তিনি বালাগাতের কোনো পরিপূর্ণ সংজ্ঞা প্রদান করেননি। সুতরাং বক্তব্যকে অর্থের ওপর অত্যন্ত জোরালো নির্দেশক হতে হবে। এরপর এটি বাঞ্ছনীয় যে, একে একটি মার্জিত ও অলংকৃত বাক্যে বিন্যস্ত করা হবে যাতে তা চরম আভিজাত্যের সাথে উপস্থাপিত হয়, যা শ্রবণেন্দ্রিয় পর্যন্ত পৌঁছালে তার ঝংকারে তাকে বিমোহিত করবে এবং তার শব্দের সৌন্দর্য ও জাদুতে তাকে বন্দি করবে। আর বক্তব্যকে এই সকল গুণাবলি মণ্ডিত করার জন্য বক্তাকে এমন শব্দ চয়ন করতে হবে যা অর্থকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করে এবং তাতে কোনো কমতি রাখে না। কারণ যে বক্তব্যে শব্দগুলো অর্থকে পূর্ণাঙ্গভাবে এবং সূক্ষ্ম নির্ভুলতার সাথে প্রকাশ করতে সক্ষম হয় না, তা বালিগ বা অলংকারপূর্ণ বক্তব্য নয়।
১ - ৩ - ৬ - ইবনে সিনান আল-খাফাজির (৪২২ - ৪৬৬ হিজরি) অবস্থান:
ইবনে সিনান তার 'সিররুল ফাসাহাহ' কিতাবে এই মত পোষণ করেছেন যে, প্রাচীনগণ বালাগাতের কোনো সংজ্ঞা (পরিচয়) প্রদান করেননি। কারণ তারা কেবল এর গুণাবলি পর্যবেক্ষণের ওপরই নির্ভর করেছেন। তিনি পূর্ববর্তীদের সংজ্ঞাগুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং এগুলো বালাগাতের সংজ্ঞা হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি এগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, এগুলো কেবল কতিপয় বৈশিষ্ট্য মাত্র এবং তার দৃষ্টিতে এগুলো সঠিক সংজ্ঞা নয়।
কিন্তু ইবনে সিনান ফাসাহাত এবং বালাগাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি এবং তার এই প্রচেষ্টাগুলো বৃথা গিয়েছে। কারণ তিনি যখন দেখলেন যে, ফাসাহাত কেবল শব্দের গুণাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং বালাগাত অর্থসহ শব্দের গুণাবলি হওয়া ছাড়া সম্ভব নয়—তাই কোনো একক শব্দকে 'বালিগ' বলা যায় না—তখন তিনি ফাসাহাতের এমন এক সংজ্ঞায় উপনীত হলেন যাতে বলা হয়েছে (১):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
«الفصاحة: عبارة عن حسن التأليف في الموضوع المختار» وهذا تعريف يليق بالبلاغة أيضا.
1 - 3 - 7 - موقف الخطيب القزويني (ت 734 هـ):
أما الخطيب القزويني فقد ذهب في مقدّمة (الإيضاح) إلى أنه لم يجد في أقوال المتقدّمين (1) «ما يصلح لتعريفهما (الفصاحة والبلاغة) به» غير أنّه انتهى بعد أن شرح الفصاحة إلى تعريف بلاغة الكلام بأنها (2) «مطابقته لمقتضى الحال مع فصاحته» وبعد شرح مسهب لكلام الجرجاني نفهم منه أنّه يتبنّى موقفه من إطلاق الفصاحة والبلاغة على أوصاف راجعة إلى المعاني، يتحدث عن بلاغة المتكلم التي يحدّها بقوله (3): «هي ملكة يقتدر بها على تأليف كلام بليغ».
--------------------------------------------
«বাকপটুতা (ফাসাহাত): এটি হলো নির্বাচিত বিষয়ে চমৎকার বাক্য বিন্যাসের একটি বহিঃপ্রকাশ» এবং এটি এমন একটি সংজ্ঞা যা অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) জন্যও উপযুক্ত।
১ - ৩ - ৭ - খতিব আল-কাজভিনি (মৃ. ৭৩৪ হিজরি)-র অবস্থান:খতিব আল-কাজভিনি তার ‘আল-ইদাহ’ গ্রন্থের ভূমিকায় অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি পূর্ববর্তীদের বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছুই পাননি (১) «যা এই দুইটিকে (বাকপটুতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র) সংজ্ঞায়িত করার জন্য উপযুক্ত হয়»; তবে তিনি বাকপটুতা ব্যাখ্যা করার পর বাক্যের অলঙ্কারকে (বালাগাতুল কালাম) এই বলে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো (২) «বাকপটুতার সাথে পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী হওয়া»। আল-জুরজানির বক্তব্যের বিস্তৃত ব্যাখ্যার পর আমরা বুঝতে পারি যে, তিনি অর্থ-সংশ্লিষ্ট গুণের ক্ষেত্রে বাকপটুতা ও অলঙ্কার শব্দদ্বয়ের প্রয়োগের বিষয়ে আল-জুরজানির অবস্থানকেই সমর্থন করেন। এরপর তিনি বক্তার অলঙ্কার (বালাগাতুল মুতাকাল্লিম) নিয়ে আলোচনা করেন, যাকে তিনি এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন (৩): «এটি এমন একটি বিশেষ যোগ্যতা (মাল্যাকা) যার মাধ্যমে অলঙ্কারপূর্ণ বাক্য রচনা করতে সক্ষম হওয়া যায়»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2 - نشأة البلاغة
2 - 1 - [علاقة البلاغة بالقرآن]قال تعالى في محكم آياته وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ الشعراء: 192
فالقرآن معجزة إلهية نزلت بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ الشعراء:
195
وجد فيه العرب أسلوبا مغايرا لأساليبهم، وفصاحة لم يرق إلى مثلها بشر، وبلاغة لم يوصف بمثلها كلام. تحدّى بلاغة العرب التي كانت موضع فخرهم وزهوهم بقوله تعالى قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً الإسراء: 88
لهذا تمحورت حوله الدراسات لدرس لغته نحوا وصرفا وبلاغة ونقدا
… ورأى الدارسون أن فيه إعجازا يجب التعرّف إلى أصوله، ومجازا يجب التطرّق إلى حقيقته، وإيجازا يجب الوقوف على أسراره؛ فكان هذا البيان الساطع حافزا للدراسات البلاغية التي كان القرآن موضوعها الوحيد. ولم تكن هذه الدراسات مطلبا تعليميا بقدر ما كانت مطلبا دينيا للذود عن حياض الدين وفضح أضاليل خصومه. ولا نغالي، إن ذهبنا إلى أن القرآن الكريم تسبّب بنشأة علوم البلاغة. وقد نشأت حوله دراسات كثيرة لا حصر لها ولا عدّ. نذكر منها:
2 - 1 - 1 - مجاز القرآن لأبي عبيدة معمر بن المثنّى (ت 210 هـ):
استخدم أبو عبيدة لأول مرة لفظ المجاز. وألّف كتابه هذا سنة 188 هـ وكشف فيه عن معاني الألفاظ في سياقها من القرآن الكريم،
২ - অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) উদ্ভব২ - ১ - [কুরআনের সাথে অলঙ্কারশাস্ত্রের সম্পর্ক]আল্লাহ তাআলা তাঁর সুদৃঢ় আয়াতে বলেন: "আর নিশ্চয়ই এটি (কুরআন) বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" (আশ-শুআরা: ১৯২)
সুতরাং কুরআন হলো একটি ঐশী অলৌকিকত্ব (মুজিজা), যা "সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়" অবতীর্ণ হয়েছে। (আশ-শুআরা:
১৯৫)
আরবরা এতে তাদের নিজস্ব রীতির চেয়ে এক ভিন্নতর রীতি খুঁজে পেয়েছিল, এবং এমন এক সাবলীলতা পেয়েছিল যার সমপর্যায়ে কোনো মানুষ পৌঁছাতে পারেনি, আর এমন এক অলঙ্কারশাস্ত্র দেখেছিল যার মতো কোনো বাণীর প্রশংসা করা হয়নি। এটি আরবদের সেই অলঙ্কারশাস্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করেছিল যা ছিল তাদের গর্ব ও অহংকারের বস্তু। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" (আল-ইসরা: ৮৮)
এই কারণেই একে কেন্দ্র করেই এর ভাষার নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) এবং সমালোচনা সংক্রান্ত গবেষণাসমূহ আবর্তিত হয়েছে
… গবেষকগণ দেখেছেন যে, এতে এমন অলৌকিকত্ব (ইজায) রয়েছে যার মূলনীতিগুলো জানা আবশ্যক, এমন রূপক (মাজায) রয়েছে যার বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন এবং এমন সংক্ষিপ্ততা (ইজায) রয়েছে যার রহস্যগুলো অনুধাবন করা জরুরি; ফলে এই উজ্জ্বল বর্ণনাভঙ্গি অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার জন্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে, যার একমাত্র বিষয়বস্তু ছিল কুরআন। এই গবেষণাগুলো কেবল শিক্ষামূলক চাহিদার চেয়ে বেশি একটি ধর্মীয় দাবি ছিল, যাতে দ্বীনের সীমানাকে রক্ষা করা যায় এবং এর বিরোধীদের বিভ্রান্তিগুলো উন্মোচন করা যায়। আমরা যদি বলি যে কুরআনুল কারীমই অলঙ্কারশাস্ত্রসমূহের উদ্ভবের কারণ হয়েছে, তবে তাতে কোনো অতিশয়োক্তি হবে না। একে কেন্দ্র করে অসংখ্য ও অগণিত গবেষণা গড়ে উঠেছে। আমরা তার মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করছি:
২ - ১ - ১ - আবু উবাইদাহ মুয়াম্মার ইবনুল মুসান্না (মৃত্যু ২১০ হিজরি) রচিত 'মাজাযুল কুরআন':আবু উবাইদাহ প্রথমবারের মতো 'মাজায' শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি ১৮৮ হিজরিতে এই গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এতে কুরআনুল কারীমের প্রেক্ষাপটে শব্দাবলির অর্থসমূহ উন্মোচন করেন।
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وبيّن طرائق القرآن في التعبير عن المعاني وما يستحسن قوله في تفسيره. وقد توقف فيه عند وجوه المعنى، والأوجه الإعرابية فبات شرحا إعرابيا لغويا بلاغيا في آن. ومن الظواهر البلاغية التي تطرق إليها نذكر على سبيل المثال لا الحصر: إيجاز الحذف أو المجاز المرسل بعلاقته المحلية عند ما فسّر قوله تعالى وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ يوسف: 82.
وقد سمّى فيه المجاز العقلي بالمجاز اللغوي حيث أسند الفعل إلى غير ما هو له في الظاهر. وعرض لعدد من صور الالتفات، ولمّح إلى ما يسمّى بالاستعارة التمثيلية. ويبدو أن مجاز أبي عبيدة صار سجلا مفتوحا إذ كتب فيه كل من:
1. قطرب، محمد بن المستنير (ت 206 هـ) وله: مجازات القرآن.
2. أبي زكريا الفرّاء (ت 207 هـ) وله: مجاز القرآن.
3. ثعلب، أبي العباس أحمد بن يحيى (ت 291 هـ) وله:
مجاز الكلام وتصاريفه.
وذكر ابن النديم أسماء عشرات الكتب المؤلفة في معاني القرآن ومشكله ومجازه للكسائي، والأخفش، والرؤاسي، ويونس بن حبيب، وابن الأنباري، والزجّاج، وثعلب وغيرهم (1)، كما ذكر أسماء عشرات الكتب التي ألّفت في غريب القرآن لكلّ من أبي عبيدة، ومؤرج السدّوسي، وابن قتيبة، واليزيدي، وابن سلّام، والطبري، والسجستاني، والعروضي، والبلخي، وابن خالويه (2).
هذا الفيض من الكتب التي تناولت معاني القرآن ومجازه ساعدت على نشأة البلاغة وتحديد بعض أبوابها.
--------------------------------------------
তিনি অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতিসমূহ এবং এর তাফসীরে যা বলা উত্তম তা বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে অর্থের বিভিন্ন দিক এবং ব্যাকরণিক (ইরাব) দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করেছেন, ফলে এটি একই সাথে একটি ব্যাকরণিক, ভাষাতাত্ত্বিক এবং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় পরিণত হয়েছে। তিনি যেসব অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বৈশিষ্ট্যের অবতারণা করেছেন, সীমিত না করে উদাহরণস্বরূপ তার মধ্য থেকে উল্লেখ করা যায়: উহ্যকরণসংক্ষেপণ (ঈজাযুল হাযফ) অথবা স্থানিক সম্পর্কের ভিত্তিতে রূপক অর্থ (মাজাযে মুরসাল), যখন তিনি মহান আল্লাহর বাণী "জনপদকে জিজ্ঞেস করো" (ইউসুফ: ৮২) এর ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি এতে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপককে (মাজাযে আকলি) ভাষাতাত্ত্বিক রূপক (মাজাযে লুগাভি) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে ক্রিয়াকে আপাতদৃষ্টে এর প্রকৃত কর্তার পরিবর্তে অন্যের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনি 'ইলতিফাত'-এর বেশ কিছু রূপ উপস্থাপন করেছেন এবং যাকে 'ইস্তিয়ারা তামসিলিয়্যাহ' (রূপক উপমা) বলা হয় তার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। প্রতীয়মান হয় যে, আবু উবাইদাহ-র 'মাজায' একটি উন্মুক্ত দলিলে পরিণত হয়েছিল, কারণ এতে নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ কিতাব রচনা করেছেন:
১. কুতরুব, মুহাম্মদ বিন আল-মুসতানির (মৃত্যু ২০৬ হি.), তাঁর গ্রন্থ: মাজাযাতুল কুরআন।
২. আবু যাকারিয়া আল-ফাররা (মৃত্যু ২০৭ হি.), তাঁর গ্রন্থ: মাজাযুল কুরআন।
৩. সা'লাব, আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া (মৃত্যু ২৯১ হি.), তাঁর গ্রন্থ:
মাজাযুল কালাম ওয়া তাসারিফুহু (বাক্যের রূপক ও এর বিবর্তন)।
ইবনুন নাদীম কিসায়ী, আখফাশ, রুয়াসি, ইউনুস বিন হাবীব, ইবনুল আম্বারি, যাজ্জাজ, সা'লাব এবং অন্যদের লেখা কুরআনের অর্থ (মা'আনিল কুরআন), এর জটিল বিষয়াবলি এবং এর রূপক সংক্রান্ত কয়েক ডজন কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন (১), তেমনিভাবে তিনি আবু উবাইদাহ, মুআররিজ আস-সাদ্দুসি, ইবনু কুতাইবাহ, আল-ইয়াযিদি, ইবনু সাল্লাম, তাবারী, সিজিস্তানি, আরুযি, বালখি এবং ইবনু খালওয়াইহ-র রচিত কুরআনের বিরল শব্দাবলি (গারিবুল কুরআন) সংক্রান্ত কয়েক ডজন কিতাবের নামও উল্লেখ করেছেন (২)।
কুরআনের অর্থ এবং এর রূপক নিয়ে রচিত কিতাবসমূহের এই প্রাচুর্য অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) উদ্ভব এবং এর কিছু অধ্যায় নির্ধারণে সহায়তা করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومن الدراسات القرآنية التي خاضت في قضايا البلاغة نذكر:
2 - 1 - 2 - كتاب معاني القرآن للفرّاء (ت 207 هـ):
هو كتاب في تفسير القرآن وإعراب ما أشكل إعرابه، وتوجيه الإعراب في خدمة المعاني، ومن أجل ذلك أشرب تفسيره بكثير من البحوث البلاغية. يمثل الكتاب ذروة النضج عند الفرّاء لأنه أملاه سنة 204 هـ، أي قبل وفاته بأعوام.
فلقد تحدّت فيه بشكل خاص عن الحذف الذي قاده إلى الكلام على الإيجاز. وكما قبل الحذف والإيجاز قبل كذلك الزيادة ولو عارض في ذلك موقف المتزمتين الذين ينكرون أيّ زيادة في النص القرآني.
وتوقّف عند ضروب التكرار والفائدة الدلالية والبلاغية منه. كما تناول فنّ التعريض في مواضع متفرقة وقد وجد
فيه بعدا عن المباشرة ومخاطبة لذكاء المتلقي وفطنته. واستوقفه ما يسمى بالفواصل القرآنية فدرس موسيقاها ونغميّة الإيقاع فيها.
نكتفي بذكر هذه القضايا البلاغية التي عرضها الفرّاء في كتابه لأنها كافية للتدليل على علاقة البلاغة بالدراسات القرآنية.
2 - 1 - 3 - كتاب تأويل مشكل القرآن لابن قتيبة (ت 276 هـ):
تحدّث ابن قتيبة في كتابه هذا عن المجاز ذاهبا إلى أن «للعرب المجازات في الكلام، ومعناها طرق القول ومآخذه» (1) وذكر من هذه المجازات كلا من الاستعارة، والتمثيل، والقلب، والتقديم، والتأخير، والحذف، والتكرار، والإخفاء، والإظهار، والتعريض، والإفصاح، وغيرها من أبواب البلاغة.
--------------------------------------------
কুরআনিক অধ্যয়নের মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এমন কিছু গ্রন্থের নাম আমরা উল্লেখ করছি:
২ - ১ - ২ - আল-ফাররার (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) কিতাব 'মাআনিল কুরআন':এটি কুরআনের তাফসীর এবং যে সকল আয়াতের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই'রাব) জটিল তার আলোচনার কিতাব; এতে অর্থের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণকে পরিচালনা করা হয়েছে। এই কারণেই তাঁর তাফসীর বহু অলঙ্কারশাস্ত্রীয় (বালাগাত) গবেষণায় পরিপূর্ণ। কিতাবটি আল-ফাররার চিন্তাধারার পূর্ণাঙ্গ পরিপক্কতার প্রতিনিধিত্ব করে, কারণ তিনি এটি ২০৪ হিজরিতে অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুর কয়েক বছর আগে লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন।
এতে তিনি বিশেষভাবে 'হাযফ' (উহ্যকরণ) নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা তাঁকে 'ঈজায' (সংক্ষিপ্ততা) সম্পর্কিত আলোচনার দিকে নিয়ে গেছে। হাযফ এবং ঈজাযকে যেভাবে তিনি গ্রহণ করেছেন, তেমনিভাবে তিনি 'যিয়াদাহ' (অতিরিক্ততা) বিষয়টিকেও গ্রহণ করেছেন, যদিও তিনি সেই সকল রক্ষণশীলদের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন যারা কুরআনের পাঠে কোনো ধরনের অতিরিক্ততাকে অস্বীকার করেন।
তিনি 'তাকরার' (পুনরাবৃত্তি)-এর প্রকারভেদ এবং এর অর্থগত ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন স্থানে 'তা'রীয' (ইঙ্গিত) শিল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তিনি একে প্রত্যক্ষ বক্তব্যের বাইরে থেকে শ্রোতার মেধা ও বুদ্ধিমত্তার প্রতি সম্বোধন হিসেবে দেখতে পেয়েছেন। 'ফাওয়াসিলে কুরআনী' (কুরআনের পংক্তি শেষ বা বিরতি) নামে পরিচিত বিষয়টি তাঁকে নিবিষ্ট করেছে, ফলে তিনি এর সুর ও ছন্দের ঝঙ্কার নিয়ে গবেষণা করেছেন।
আমরা আল-ফাররা তাঁর কিতাবে যে সকল অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিষয় উপস্থাপন করেছেন তার মধ্যে এই কয়টি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি, কারণ কুরআনিক অধ্যয়নের সাথে অলঙ্কারশাস্ত্রের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে এগুলোই যথেষ্ট।
২ - ১ - ৩ - ইবনে কুতায়বার (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি) কিতাব 'তাউয়ীলে মুশকিলিল কুরআন':ইবনে কুতায়বা তাঁর এই কিতাবে 'মাজায' (রূপক) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এই মত পোষণ করেছেন যে, «আরবদের কথাবার্তায় মাজায রয়েছে, আর এর অর্থ হলো কথা বলার ধরন ও পথসমূহ» (১)। তিনি এই মাজাযের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ইস্তি'আরাহ (রূপক), তামসীল (দৃষ্টান্ত), কালব (বিপরীতকরণ), তাকদীম ও তা'খীর (অগ্র-পশ্চাৎকরণ), হাযফ (উহ্যকরণ), তাকরার (পুনরাবৃত্তি), ইখফা (গোপন করা), ইযহার (প্রকাশ করা), তা'রীয (ইঙ্গিত), ইফসাহ (স্পষ্টকরণ) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যান্য অধ্যায়গুলো উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১৮)
لكن الموضوع البلاغي الذي شغله كثيرا هو موضوع المجاز الذي أفرد له بابا مستقلّا أكد فيه إيمانه بوجود المجاز في اللغة أولا وفي القرآن ثانيا، وعدّد الأمثلة التي تثبت شيوعه في اللغة. وكان بحثه في المجاز توطئة للكلام على الاستعارة جاعلا المجاز المرسل منضويا تحتها وكذلك الأمر بالنسبة إلى الكناية. ورأى أن الالتفات من أساليب البلاغة العربية.
2 - 1 - 4 - كتاب النكت في إعجاز القرآن للرّماني (ت 384 هـ):
من أهم موضوعات البلاغة في هذا الكتاب قول المؤلف (1) «والبلاغة على عشرة أقسام: الإيجاز، والتشبيه، والاستعارة، والتلاؤم، والفواصل، والتجانس، والتصريف، والتضمين، والمبالغة، وحسن البيان».
وقد جاء كلامه على هذه الأقسام متفاوتا إذ شغلت الأمثلة والشواهد حيّزا كبيرا من الكلام، أما التعريفات البلاغية فكانت غاية في الإيجاز.
وفي سياق الحديث عن الإيجاز تطرّق إلى الإطناب والتطويل، مثنيا على الإطناب لأنه يفصّل المعنى وفقا للمقام. أما التطويل فليس من البلاغة في شيء لأنه تكلف الكثير من الكلام للقليل من المعاني.
وقد ذهب الرماني إلى أن الشعراء يتفاضلون في باب التشبيه، وهو على كل حال على طبقات من الحسن. كما رأى أن الاستعارة أبلغ من الحقيقة نظرا لأثرها النفسي في المتلقّين. وقد فاضل بين الفواصل والسجع مشيدا بالفواصل لأنّها تابعة للمعاني في حين كانت المعاني تابعة للأسجاع.
--------------------------------------------
কিন্তু যে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিষয়টি তাকে অনেক বেশি ব্যাপৃত রেখেছিল তা হলো ‘মাজায’ (রূপক)। তিনি এর জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় নির্দিষ্ট করেছেন, যেখানে তিনি প্রথমত ভাষায় এবং দ্বিতীয়ত কুরআনে মাজাযের অস্তিত্বের ওপর তার বিশ্বাসের কথা জোর দিয়ে বলেছেন। তিনি ভাষায় এর ব্যাপকতার প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন উদাহরণও গণনা করেছেন। মাজায সংক্রান্ত তার এই আলোচনা ছিল ‘ইসতিআরাহ’ (রূপক) নিয়ে আলোচনার ভূমিকা স্বরূপ, যেখানে তিনি ‘মাজাযে মুরসাল’কে এর অধীনে গণ্য করেছেন এবং ‘কিনায়াহ’র (ব্যঞ্জনা) ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তিনি ‘ইলতিফাত’কে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করেছেন।
২ - ১ - ৪ - রুম্মানী (মৃত্যু ৩৮৪ হিজরি) রচিত কিতাব ‘আন-নুকাতি ফী ই’জাযিল কুরআন’:এই গ্রন্থের অলঙ্কারশাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো লেখকের বক্তব্য (১): “অলঙ্কারশাস্ত্র দশ প্রকার: ইজায (সংক্ষিপ্ততা), তাশবীহ (উপমা), ইসতিআরাহ (রূপক), তালায়ুম (সঙ্গতি), ফাওয়াসিল (পাদপ্রান্ত), তাজানুস (অনুপ্রাস), তাসরীফ (রূপান্তর), তাদমীন (অন্তর্ভুক্তি), মুবালাগা (অতিশয়োক্তি) এবং হুসনুল বয়ান (উৎকৃষ্ট বর্ণনা)।”
এই বিভাগগুলো নিয়ে তার আলোচনা ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার ছিল; কারণ উদাহরণ ও প্রমাণাদি আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল, আর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সংজ্ঞাগুলো ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।
ইজায (সংক্ষিপ্ততা) সংক্রান্ত আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি ইত্নাব (প্রসারিতকরণ) ও তাতবীল (দীর্ঘায়ন) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি ইত্নাবের প্রশংসা করেছেন কারণ এটি প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অর্থকে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে, তাতবীল অলঙ্কারশাস্ত্রের কোনো অংশই নয়, কারণ এতে সামান্য অর্থের জন্য অনর্থক দীর্ঘ বাক্য ব্যয় করা হয়।
রুম্মানী এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, কবিগণ তাশবীহ বা উপমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন এবং এটি সৌন্দর্যের বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। এছাড়াও তিনি মনে করতেন যে, শ্রোতাদের ওপর মানসিক প্রভাবের দিক থেকে হাকীকাহ (বাস্তব অর্থ) অপেক্ষা ইসতিআরাহ (রূপক) অধিক অলঙ্কারপূর্ণ। তিনি ফাওয়াসিল ও সাজ’-এর (অন্ত্যমিল) মধ্যে তুলনা করে ফাওয়াসিল-এর প্রশংসা করেছেন; কারণ ফাওয়াসিল অর্থের অনুগামী হয়, যেখানে সাজ’-এর ক্ষেত্রে অর্থই অন্ত্যমিলের অনুগামী হয়ে পড়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - 1 - 5 - كتاب بيان إعجاز القرآن للخطّابي (ت 388 هـ):
بنى كتابه على طريقة النظم حين ذهب فيه إلى أن الكلام (1) «إنّما يقوم بهذه الأشياء الثلاثة: لفظ حامل، ومعنى به قائم، ورباط لهما ناظم. وإذا تأمّلت القرآن وجدت هذه الأمور منه في غاية الشرف والفضيلة، حتى لا ترى شيئا من الألفاظ أفصح ولا أجزل ولا أعذب من ألفاظه، ولا ترى نظما أحسن تأليفا، وأشدّ تلاؤما وتشاكلا من نظمه».
وتحدّث بإسهاب عن فصاحة الكلمة لأنها في نظره جزء من فصاحة الكلام وبلاغته وحسن النظم. ووصف الكلمة بالفصاحة والجزالة البعيدة عن الغرابة ولأنّ البلاغة في نظره لا تعبأ بالغرابة.
2 - 1 - 6 - كتاب إعجاز القرآن للباقلّاني (ت 406 هـ):
من ركائز إعجاز القرآن عنده براعة النظم المتمثّلة في:
- مخالفته في الشكل والقالب ما عهد عن العرب في كلامها.
ولهذا عقد لنفي وجود الشعر والسّجع في القرآن الكريم فصلين كاملين من كتابه.
- آيات القرآن في سوره جميعا اعلى فصاحة وبلاغة من كلام العرب، وهي تتنقّل بين إيجاز وإطناب واقتصار، وبين صور مختلفة من الحقيقة والمجاز والاستعارة. ولهذا عقد فصلا للبديع أثبت فيه أن ضروب البديع الرائع عند العرب مقصّرة عن بلوغ ضروبه الواردة في محكم آياته. فلقد ذهب إلى القول (2): «
…والوجوه التي نقول إن إعجاز القرآن يمكن أن يعلم منها فليس مما يقدر البشر على التّصنع له، والتوصل إليه بحال».
--------------------------------------------
২ - ১ - ৫ - খাত্তাবি (মৃত্যু ৩৮৮ হিজরি) রচিত 'বয়ান ইজাজিল কুরআন' গ্রন্থ:তিনি তাঁর গ্রন্থটি শৈল্পিক বিন্যাসের (নাজম) পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন, যেখানে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, কালাম বা কথা (১) «মূলত তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত: বাহক শব্দ, শব্দাশ্রিত অর্থ এবং এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয়কারী যোগসূত্র। আপনি যখন কুরআন নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন দেখবেন যে এই বিষয়গুলো এতে সর্বোচ্চ আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে বিদ্যমান; এমনকি আপনি এমন কোনো শব্দ পাবেন না যা কুরআনের শব্দের চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল, শক্তিশালী কিংবা সুমিষ্ট। তেমনি এর বিন্যাসের চেয়ে সুন্দরতর কোনো রচনাশৈলী এবং এর কাঠামোর চেয়ে সুসংহত ও সুশৃঙ্খল কোনো গড়ন আর কোথাও দেখতে পাবেন না।»
তিনি শব্দের প্রাঞ্জলতা সম্পর্কে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন, কারণ তাঁর দৃষ্টিতে এটি বাক্যের সাবলীলতা, অলংকারিক গুণ ও শৈল্পিক বিন্যাসেরই অংশ। তিনি শব্দকে এমন প্রাঞ্জলতা ও বলিষ্ঠতার গুণে বিশেষায়িত করেছেন যা দুর্বোধ্যতা থেকে মুক্ত; কারণ তাঁর মতে অলংকারশাস্ত্র বা বালাগাত দুর্বোধ্যতার কোনো তোয়াক্কা করে না।
২ - ১ - ৬ - বাকিল্লানি (মৃত্যু ৪০৬ হিজরি) রচিত 'ইজাজুল কুরআন' গ্রন্থ:তাঁর মতে কুরআনের অলৌকিকত্বের অন্যতম ভিত্তি হলো শৈল্পিক বিন্যাসের চমৎকারিত্ব যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ফুটে ওঠে:
- আরবদের প্রচলিত বাকরীতির রূপ ও কাঠামোর সাথে এর বৈপরীত্য।
এই কারণে পবিত্র কুরআনে কবিতা এবং ছন্দোবদ্ধ গদ্যের (সাজ্) অস্তিত্ব নাকচ করার জন্য তিনি তাঁর গ্রন্থে দুটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় বিন্যস্ত করেছেন।
- কুরআনের সকল সূরার আয়াতসমূহ আরবদের কালামের চেয়ে উচ্চতর প্রাঞ্জলতা ও অলংকারিক গুণসম্পন্ন। এগুলোতে সংক্ষেপণ, সবিস্তার বর্ণনা ও পরিমিতিবোধের পাশাপাশি হাকিকত, মাজায এবং ইস্তিয়ারা বা রূপক অলংকারের বিভিন্ন রূপের সার্থক প্রয়োগ ঘটেছে। একারণেই তিনি 'বাদি' বা অভিনব অলংকার শৈলী নিয়ে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন, যেখানে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, আরবদের নিকট বিদ্যমান চমৎকার অলংকারের প্রকারভেদগুলো কুরআনের সুদৃঢ় আয়াতসমূহে বর্ণিত অলংকারসমূহের স্তরে পৌঁছাতে ব্যর্থ। তিনি বলেন (২): «...
আর সেই সকল দিক যেগুলোর মাধ্যমে আমরা বলি যে কুরআনের অলৌকিকত্ব অনুধাবন করা সম্ভব, সেগুলো এমন কিছু নয় যা কোনো মানুষ কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে পারে কিংবা কোনো উপায়ে তা অর্জন করা সম্ভব হতে পারে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومن الموضوعات البلاغية التي تحدث عنها بإسهاب نذكر:
السّجع والترصيع، والتشبيه، والاستعارة، والمماثلة، والكناية، والإيجاز، والإطناب، والحقيقة والمجاز،
…اختار الباقلّاني النظم طريقا للإعجاز.
ونظمه مختلف عن سجع الكهّان والعرب، وعن خطبهم. وكلامه «خارج عن الوحشيّ المستكره، والغريب المستنكر، وعن الصيغة المتكلّفة».
2 - 1 - 7 - كتاب إعجاز القرآن للقاضي عبد الجبّار (ت 415 هـ):
كتاب إعجاز القرآن للقاضي عبد الجبار أحد أجزاء كتابه الكبير (المغني في أبواب التوحيد والعدل). والقاضي معاصر للباقلّاني وكتابه يحمل التسمية نفسها التي أطلقها الباقلّاني على كتابه، غير أن القاضي تطرق في كتابه لموضوعات لم يتناولها الباقلّاني. تعرض القاضي في كتابه للفصاحة مبيّنا أسرارها وأسبابها، ووجد أنها تقوم على ركيزتين هما:- جزالة اللفظ.
- حسن المعنى.
ولكنّه خلص إلى أن النظم وحده يظهر ذلك. ولهذا ذهب إلى القول (1): «فلا معتبر في الفصاحة بقصر الكلام وطوله وبسطه وإيجازه لأن كل ضرب من ذلك ربما كان أدخل في الفصاحة في بعض المواضع من صاحبه» وكأنه يريد أن يثبت صحة القاعدة البلاغية القائلة: لكل مقام مقال.
ومن أبواب البلاغة التي تحدث عنها القاضي نذكر كلا من:
التكرار وأنواعه، والتطويل والإيجاز، ولم يعد التطويل عيبا بالمطلق،
--------------------------------------------
তিনি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন এমন আলঙ্কারিক বিষয়গুলোর মধ্যে আমরা উল্লেখ করছি:
সাজ' (অন্ত্যানুপ্রাস) এবং তারসি' (শব্দালঙ্কার), তাশবিহ (উপমা), ইস্তিআরা (রূপক), মুমাসালাহ (সাদৃশ্য), কিনায়া (ইঙ্গিত), ইজায (সংক্ষেপণ), ইত্নাব (প্রসারণ), হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) এবং মাজায (আলঙ্কারিক অর্থ),
…বাকিল্লানি ই'জাযের (অলৌকিকত্বের) মাধ্যম হিসেবে ‘নাযম’ বা শব্দবিন্যাসকে বেছে নিয়েছেন।
এবং তাঁর (কুরআনের) নাযম গণকদের ও আরবদের অন্ত্যানুপ্রাস এবং তাদের ভাষণসমূহ থেকে ভিন্ন। আর তাঁর কালাম (বক্তব্য) «অপ্রীতিকর কর্কশ শব্দ, বর্জনীয় অপরিচিত শব্দ এবং কৃত্রিম গঠনশৈলী থেকে মুক্ত»।
২ - ১ - ৭ - কাযী আব্দুল জাব্বারের (মৃত্যু ৪১৫ হিজরি) ই'জাযুল কুরআন গ্রন্থ:কাযী আব্দুল জাব্বারের ‘ই'জাযুল কুরআন’ গ্রন্থটি তাঁর বিশাল গ্রন্থ ‘আল-মুগনী ফী আবওয়াবিত তাওহীদ ওয়াল আদল’-এর অন্যতম অংশ। কাযী ছিলেন বাকিল্লানির সমসাময়িক এবং তাঁর গ্রন্থটির নামও বাকিল্লানির গ্রন্থের নামের মতোই, তবে কাযী তাঁর গ্রন্থে এমন কিছু বিষয় আলোচনা করেছেন যা বাকিল্লানি করেননি। কাযী তাঁর গ্রন্থে ফাসাহাত (বাকপটুতা) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর রহস্য ও কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন। তিনি দেখতে পেয়েছেন যে ফাসাহাত দুটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর সেগুলো হলো: - শব্দের বলিষ্ঠতা।
- অর্থের সৌন্দর্য।
কিন্তু তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কেবল নাযমই (শব্দবিন্যাস) তা প্রকাশ করে। এই কারণে তিনি বলেন (১): «ফাসাহাতের ক্ষেত্রে কালামের সংক্ষিপ্ততা বা দীর্ঘতা, কিংবা এর প্রসারণ বা সংক্ষেপণ ধর্তব্য নয়; কেননা এর প্রতিটি ধরণ কখনও কখনও নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে অন্যটির চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট হতে পারে»। যেন তিনি এই আলঙ্কারিক মূলনীতির সত্যতা প্রমাণ করতে চেয়েছেন: প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট বক্তব্য রয়েছে।
কাযী আলঙ্কারিক (বালাগত) যে সকল অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেছেন তার মধ্যে আমরা উল্লেখ করছি:
তিকরার (পুনরাবৃত্তি) ও এর প্রকারভেদ, তাতওয়ীল (দীর্ঘকরণ) ও ইজায (সংক্ষেপণ); এবং তিনি দীর্ঘকরণকে নিরঙ্কুশভাবে ত্রুটি হিসেবে গণ্য করেননি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولا الإيجاز مزيّة مطلوبة بالمطلق لأنه يقول (1): «وإنما يعد التطويل عيبا في المواضع التي يمكن الإيجاز، ويغني عن التطويل فيها. فأما إذا كان الإيجاز متعذرا أو ممكنا ولا يقع به المعنى، ولا يسدّ مسدّ التطويل، فالتطويل هو الأبلغ في الفصاحة».
2 - 1 - 8 - كتاب دلائل الإعجاز لعبد القاهر الجرجاني (ت 471 هـ):
رسّخ عبد القاهر نظرية النظم ووطّد دعائمها بعد أن كانت شتاتا مبعثرا في كتب سابقيه. وقدّم من الحجج والأدلة ما يدحض تفاضل الكلمات المفردات لأن (2) «الألفاظ تثبت لها الفضيلة وخلافها في ملاءمة معنى اللفظة لمعنى التي تليها أو ما أشبه ذلك مما لا تعلّق له بصريح اللفظ. ومما يشهد لذلك أنك ترى الكلمة تروقك وتؤنسك في
موضع، ثم تراها بعينها تثقل عليك وتوحشك في موضع آخر».
ألا تكفي حججه هذه للدلالة على أن النظم أساس التفاضل؟
ونفى عبد القاهر أن يكون الإيقاع الموسيقي دليلا على إعجاز القرآن لأنه قد يقع في حماقات مسيلمة الكذّاب. كما أنه رأى أن الفواصل (السجع) لا تنهض دليلا على الإعجاز. والإعجاز في نظره لا يقع في استعارة أو كناية أو تمثيل.
وقد ذهب إلى نفي كل هذه الاحتمالات ليبقي على جوهر الإعجاز في نظره وهو النظم. والنظم قاده إلى الكلام على أبواب البلاغة من مثل: التقديم والتأخير، والحذف والتقدير، والتعريف والتنكير، والاستعارة، والكناية، والتصريح، والإيجاز، والسجع
--------------------------------------------
এবং সংক্ষিপ্ততা (ইজায) নিরঙ্কুশভাবে কাঙ্ক্ষিত কোনো বৈশিষ্ট্য নয়, কারণ তিনি বলেন (১): «দীর্ঘতা (তাতওয়ীল) কেবল সেই সব স্থানেই ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয় যেখানে সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব এবং তা দীর্ঘতার অভাব পূরণ করে। পক্ষান্তরে, যদি সংক্ষিপ্ত করা দুঃসাধ্য হয় অথবা সম্ভব কিন্তু এর দ্বারা অর্থ প্রকাশ পায় না এবং তা দীর্ঘতার স্থান পূরণ করতে পারে না, তবে সেই ক্ষেত্রে দীর্ঘতাই অলঙ্কারশাস্ত্রে অধিকতর প্রাঞ্জল।»
২ - ১ - ৮ - আব্দুল কাহির আল-জুরজানীর (মৃত্যু ৪৭১ হিজরি) দালাইলুল ই'জায গ্রন্থ:আব্দুল কাহির বর্ণনাভঙ্গি বা নাজম তত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং এর ভিত্তিগুলোকে মজবুত করেন, অথচ তা তাঁর পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। তিনি এমন সব যুক্তি ও প্রমাণ পেশ করেন যা একক শব্দাবলির শ্রেষ্ঠত্বকে খণ্ডন করে, কারণ (২) «শব্দরাজির শ্রেষ্ঠত্ব বা তার বিপরীত অবস্থা নির্ধারিত হয় একটি শব্দের অর্থের সাথে তার পরবর্তী শব্দের অর্থের সামঞ্জস্যের মাধ্যমে অথবা অনুরূপ অন্য কোনো বিষয়ের মাধ্যমে, যার সাথে সরাসরি শব্দের কোনো সম্পর্ক নেই। এর একটি প্রমাণ হলো, আপনি দেখবেন যে একটি শব্দ কোনো এক স্থানে আপনাকে মুগ্ধ ও আনন্দিত করছে, আবার ঠিক সেই একই শব্দ অন্য কোনো স্থানে আপনার কাছে ভারী ও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।»
তাঁর এই যুক্তিগুলো কি এটি প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয় যে, বর্ণনাভঙ্গি (নাজম)-ই হলো শ্রেষ্ঠত্বের মূল ভিত্তি?
আব্দুল কাহির সাংগীতিক ছন্দ বা তালের বিষয়টিকে কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণ হিসেবে অস্বীকার করেছেন, কারণ এটি মুসাইলামা আল-কাযযাবের প্রলাপের মধ্যেও পাওয়া যেতে পারে। অনুরূপভাবে তিনি মনে করতেন যে, অন্ত্যমিল (সাজ') অলৌকিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। তাঁর দৃষ্টিতে অলৌকিকত্ব কেবল রূপক, পরোক্ষ উক্তি বা উপমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
তিনি এই সমস্ত সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন যাতে তাঁর দৃষ্টিতে অলৌকিকত্বের যে মূল নির্যাস, অর্থাৎ বর্ণনাভঙ্গি (নাজম), তা অটুট থাকে। আর এই 'নাজম' বা বর্ণনাভঙ্গিই তাকে অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায় সম্পর্কে আলোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেমন: শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ ব্যবহার (তাকদীম ও তা’খীর), উহ্য রাখা ও অনুমান করা (হাফয ও তাকদীর), নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট করা (তা’রীফ ও তানকীর), রূপক (ইস্তিআরাহ), পরোক্ষ উক্তি (কিনায়াহ), দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য (তাসরীহ), সংক্ষেপণ (ইজায) এবং অন্ত্যমিল (সাজ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২২)
والتجنيس، والإسناد وتحقيق معنى الخبر، وغيرها من موضوعات البلاغة.
ذكرنا أسماء هذه الكتب على سبيل المثال لا الحصر لأنّ المصنّفين ذكروا أيضا في هذا الباب كلا من كتاب: الجمان في تشبيهات القرآن لابن ناقيا البغدادي (ت 485 هـ)، والكشّاف عن حقائق غوامض التنزيل وعيون الأقاويل في وجوه التأويل للزمخشري (ت 538 هـ)، وبديع القرآن لابن أبي الأصبع المصري (ت 654 هـ)، والطراز المتضمن لأسرار البلاغة وعلوم حقائق الإعجاز للعلوي (ت 759 هـ) ومعترك الأقران في إعجاز القرآن للسيوطي (ت 911 هـ).
وهكذا يمكننا القول: إن القرآن الكريم كان الباعث على تصنيف هذا الكم الهائل من الكتب البلاغية المرتبطة بفهم وتفسير القرآن معنى ومبنى. ولقد جعل أبو هلال العسكري تعلّم البلاغة فرضا على من يريد التعرف إلى بلاغة القرآن وإعجازه عند ما قال (1): «إنّ أحقّ العلوم بالتعلم، وأولاها بالتحفظ- بعد المعرفة بالله جل ثناؤه- علم البلاغة، ومعرفة الفصاحة، الذي به يعرف إعجاز كتاب الله تعالى».
ألا يكون كلام العسكري هذا تفسيرا لوفرة المصنفات البلاغية التي تناولت إعجاز القرآن، وكانت ثمرة أسئلة بحثوا عن أجوبة لها فيما قدموه من جهود، وما بذلوه من آراء؟
2 - 2 - علاقة البلاغة بالشعر:عرف الشعر العربي في القرن الثاني للهجرة صراعا بين تيارين شعريين هما: تيار المحافظين، وتيار المجددين. وتكلم النقاد
--------------------------------------------
এবং তজনীস (সমজাতীয়তা), ইসনাদ (অন্বয়), সংবাদের অর্থের বিশ্লেষণ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যান্য বিষয়াবলি।
আমরা এই বইগুলোর নাম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছি, কোনো সীমাবদ্ধ তালিকা হিসেবে নয়; কারণ গ্রন্থকারগণ এই অধ্যায়ে ইবনে নাকিয়া আল-বাগদাদীর (মৃত্যু ৪৮৫ হিজরী) 'আল-জুমান ফি তাশবিহাতিল কুরআন', যামাখশারীর (মৃত্যু ৫৩৮ হিজরী) 'আল-কাশশাফ আন হাকায়িকি গাওয়ামিদিত তানযীল ওয়া উয়ুনিল আকাবীল ফি উজুহিত তাবীল', ইবনে আবিল আসবা আল-মিসরীর (মৃত্যু ৬৫৪ হিজরী) 'বাদিউল কুরআন', আল-আলাভীর (মৃত্যু ৭৫৯ হিজরী) 'আত-তিরাজ আল-মুতাযাম্মিন লি আসরারিল বালাগা ওয়া উলুমি হাকায়িকিল ইজায' এবং সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী) রচিত 'মুয়াতরাকুল আকরান ফি ইজাযিল কুরআন' বইগুলোকেও উল্লেখ করেছেন।
এভাবে আমরা বলতে পারি যে: পবিত্র কুরআনই ছিল অর্থ ও কাঠামোগত দিক থেকে কুরআনের উপলব্ধি ও ব্যাখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট অলঙ্কারশাস্ত্রের এই বিশাল সংখ্যক গ্রন্থ রচনার মূল উদ্দীপক। আর আবু হিলাল আল-আসকারী অলঙ্কারশাস্ত্র শিক্ষা করাকে সেই ব্যক্তির জন্য ফরয (অপরিহার্য) করেছেন যে কুরআনের অলঙ্কার ও মুজিযা সম্পর্কে জানতে চায়, যখন তিনি বলেছেন (১): «আল্লাহ তাআলার—তাঁর প্রশংসা অতি মহান—পরিচয়ের পর সবচেয়ে বেশি শেখার যোগ্য এবং সংরক্ষণের দাবিদার শাস্ত্র হলো অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) এবং বাকপটুতা (ফাসাহাত) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কিতাবের অলৌকিকত্ব (ইজায) জানা যায়।»
আল-আসকারীর এই উক্তিটি কি সেই অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গ্রন্থগুলোর প্রাচুর্যের ব্যাখ্যা নয় যা কুরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে আলোচনা করেছে এবং যা ছিল তাদের প্রচেষ্টায় ও তাদের পেশকৃত মতামতের মাধ্যমে সেইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ফসল?
২ - ২ - কবিতার সাথে অলঙ্কারশাস্ত্রের সম্পর্ক:হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীতে আরবি কবিতা দুটি কাব্যিক ধারার মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রত্যক্ষ করেছে, সেগুলো হলো: রক্ষণশীল ধারা এবং আধুনিকতাবাদী ধারা। আর সমালোচকরা কথা বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
على موجة الصراع بين أنصار المحافظة والتقليد من جهة، وأنصار التجديد من جهة ثانية. هذه الحقبة عرفت على صعيد الشعر مصطلحا جديدا هو: الخصومة بين القدامى والمحدثين.
هذه الخصومة وجهت الدارسين شطر دواوين الشعراء لدراسة ما فيها من بيان ساطع وقدرة على التخييل تسعف على ابتكار تشابيه جديدة وتفنّن في ضروب الاستعارة والمجاز، وراحوا يتقصون ما في دواوين هؤلاء من طباق وجناس وترصيع باحثين عن عناصر الصورة الشعرية واللغة الشعرية المميزة.
وما دمنا بصدد الخصومة بين القدامى والمحدثين، فإننا نجد أنفسنا مجبرين على الإشارة- ولو بسرعة- إلى عدد من المصنفات التي أفرزتها تلك الخصومة. فمن أبرز هذه المصنفات:
1. الوساطة بين المتنبي وخصومه لأبي الحسن علي بن عبد العزيز الجرجاني (ت 366 هـ).
2. الموازنة بين أبي تمام والبحتري لأبي القاسم الحسن بن بشر الآمدي (ت 371 هـ).
هذان المصنفان وازنا بين الشعراء، وذكر صاحباهما بحوثا في البلاغة اقتضاها حسن الشرح والتعليل لبيان ما في وجوه المفاضلة من تميّز هذا الشاعر على ذاك في التخييل، وعناصر الصورة الشعرية.
ولعله من المفيد هنا الإشارة إلى كتاب سبق عصر الخصومة هذه، هو كتاب البديع لأبي العباس عبد الله بن المعتز (ت 299 هـ).
لقد تعقّب ابن المعتز ظاهرة البديع فوجده في شعر السابقين لموجة الحداثة، غير أن المحدثين عرفوا به لأنهم أفرطوا في استخدامه وأسرفوا في تكلّفه. قال ابن المعتز (1) «قد قدمنا في أبواب كتابنا هذا
…--------------------------------------------
রক্ষণশীলতা ও অনুকরণের অনুসারী এবং অন্যদিকে নবায়নের অনুসারীদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের প্রবাহে; এই যুগটি কবিতার অঙ্গনে একটি নতুন পরিভাষার সাথে পরিচিত হয়েছিল, যা হলো: প্রাচীন ও আধুনিকদের মধ্যকার বিবাদ।
এই বিবাদ গবেষকদের দৃষ্টি কবিদের কাব্যসমগ্রের (দিওয়ান) দিকে নিবদ্ধ করেছিল, যাতে তারা সেখানে বিদ্যমান উজ্জ্বল অলঙ্কার এবং কল্পনাপ্রসূত সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করতে পারেন, যা নতুন নতুন উপমা উদ্ভাবন এবং রূপক ও অলঙ্কারের বিভিন্ন শাখায় নৈপুণ্য প্রদর্শনে সহায়ক হয়। তারা এই কাব্যসমগ্রগুলোতে বৈপরীত্য (তিবাক), অনুপ্রাস (জিনাস) এবং ছন্দময় বিন্যাস (তারসি) অন্বেষণ করতে থাকেন এবং কাব্যিক রূপকল্প ও স্বতন্ত্র কাব্যিক ভাষার উপাদানগুলো খুঁজতে শুরু করেন।
যেহেতু আমরা প্রাচীন ও আধুনিকদের মধ্যকার বিবাদ নিয়ে আলোচনা করছি, তাই আমরা সেই বিবাদের ফলশ্রুতিতে রচিত বেশ কিছু গ্রন্থের প্রতি—সংক্ষেপে হলেও—ইঙ্গিত করতে বাধ্য হচ্ছি। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-জুরজানী (মৃত্যু ৩৬৬ হিজরি) রচিত 'আল-ওয়াসাতাহ বাইনাল মুতানাব্বি ওয়া খুসুমেহ' (মুতানাব্বি ও তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে মধ্যস্থতা)।
২. আবুল কাসেম আল-হাসান বিন বিশর আল-আমিদী (মৃত্যু ৩৭১ হিজরি) রচিত 'আল-মুওয়াজানাহ বাইনা আবি তাম্মাম ওয়াল বুহতারি' (আবু তাম্মাম ও বুহতারির মধ্যে তুলনা)।
এই গ্রন্থ দুটি কবিদের মধ্যে তুলনা করেছে এবং গ্রন্থকারদ্বয় অলঙ্কার শাস্ত্রের এমন কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা উল্লেখ করেছেন যা যথাযথ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদানের জন্য প্রয়োজন ছিল, যাতে কল্পনাশক্তি ও কাব্যিক রূপকল্পের বিচারে এক কবির ওপর অন্য কবির শ্রেষ্ঠত্বের স্বরূপ উন্মোচিত হয়।
সম্ভবত এখানে এমন একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করা ফলপ্রসূ হবে যা এই বিবাদের যুগের পূর্বেই রচিত হয়েছিল; সেটি হলো আবুল আব্বাস আব্দুল্লাহ ইবনুল মুতায (মৃত্যু ২৯৯ হিজরি) রচিত 'কিতাবুল বাদি'।
ইবনুল মুতায 'বাদি' (অলঙ্কার শাস্ত্রীয় সৌন্দর্য) বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তিনি আধুনিকতার এই ঢেউয়ের পূর্ববর্তী কবিদের কাব্যেও এর অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। তবে আধুনিক কবিগণ এর মাধ্যমেই বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন কারণ তারা এর ব্যবহারে বাড়াবাড়ি করেছিলেন এবং এর কৃত্রিমতায় মাত্রাতিরিক্ত লিপ্ত হয়েছিলেন। ইবনুল মুতায বলেছেন (১): «আমরা আমাদের এই গ্রন্থের অধ্যায়গুলোতে ইতিপূর্বে উপস্থাপন করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الذي سمّاه المحدثون البديع، ليعلم أن بشّارا، ومسلما، وأبا نواس، ومن تقيّلهم (حذا حذوهم)، وسلك سبيلهم لم يسبقوا إلى هذا الفن ولكنه كثر في أشعارهم فعرف في زمانهم حتى سمّي بهذا الاسم، ثم إن حبيب بن أوس
الطائي من بعدهم شعف به حتى غلب عليه وتفرع فيه، وأكثر منه، فأحسن في بعض ذلك، وأساء في بعض، وتلك عقبى الإفراط وثمرة الإسراف».
لنا عودة إلى كتاب البديع نفصّل فيها الكلام على أهمية الكتاب وذلك في مقدّمة علم البديع.
2 - 3 - علاقة البلاغة بالخطابة:كتب د. طه حسين بحثا بالفرنسية ترجمه إلى العربية عبد الحميد العبادي، وتصدّر كتاب نقد النثر لأبي الفرج قدامة بن جعفر الكاتب البغدادي (ت 337 هـ). وهو بعنوان (تمهيد في البيان العربي من الجاحظ إلى عبد القاهر)، ذهب فيه إلى أن الجاحظ (1) وضع في كتابه البيان والتبيين أسس الخطابة البليغة قبل أن يطلع العرب على كتاب الخطابة لأرسطو. ولما ترجم كتاب الخطابة لأرسطو صار للعرب بيانان، أحدهما عربي والآخر يوناني.
والخطبة على علاقة وطيدة بالقصيدة لأن القصيدة كانت تلقى في حفل، ولأنها تهدف مثلها في كثير من الأحيان إلى الإقناع والتأثير. ألم تكن معلقة الحرث بن حلزة خطبة عصماء أقنعت الملك عمرو بن هند وأبعدت منافسه التغلبي عمرو بن كلثوم؟ والخطبة فيها كالقصيدة عناية بفنون التعبير. لهذا بسط النقاد كلامهم على ما فيها من سجع، وطباق، وجناس، ومقابلة، وتشبيه ومجاز
… الخ.
--------------------------------------------
আধুনিকগণ যাকে ‘আল-বদী’ (চমৎকারিত্ব) নামে অভিহিত করেছেন, যাতে এটি অবগত হওয়া যায় যে, বাশার, মুসলিম, আবু নুওয়াস এবং যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন ও তাদের পথে চলেছেন, তারা এই শিল্পের প্রবর্তক ছিলেন না; বরং এটি তাদের কবিতায় প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান ছিল যার ফলে তাদের যুগে এটি পরিচিতি লাভ করে এবং এই নামে নামাঙ্কিত হয়। অতঃপর তাদের পরে হাবিব বিন আউস
আত-তাঈ এর প্রতি অত্যন্ত অনুরক্ত হয়ে পড়েন, এমনকি এটি তার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং তিনি এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা তৈরি করেন ও এর অতিশয় ব্যবহার করেন। ফলে তিনি এর কিছু ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি করেছেন; আর এটিই হলো আতিশয্যের পরিণাম এবং বাড়াবাড়ির ফল।
‘কিতাবুল বদী’ প্রসঙ্গে আমাদের পুনরায় ফিরে আসার অবকাশ রয়েছে, যেখানে আমরা এই গ্রন্থের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব এবং সেটি হবে ‘ইলমুল বদী’র উপক্রমণিকায়।
২ - ৩ - অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) সাথে বাগ্মিতার (খতাবাত) সম্পর্ক:ড. তাহা হোসাইন ফরাসি ভাষায় একটি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছিলেন যা আব্দুল হামিদ আল-আব্বাদি আরবিতে অনুবাদ করেন এবং এটি আবু আল-ফারাজ কুদামা বিন জাফর আল-কাতিব আল-বাগদাদীর (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি) ‘নাকদুন নাছর’ (গদ্য সমালোচনা) গ্রন্থের শুরুতে স্থান পেয়েছে। এটি ‘(আল-জাহিজ থেকে আব্দুল কাহের পর্যন্ত আরবি বয়ানের ভূমিকা)’ শিরোনামে রচিত, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আরবরা এরিস্টটলের ‘রেটরিক’ (বাগ্মিতা শাস্ত্র) গ্রন্থের সাথে পরিচিত হওয়ার পূর্বেই আল-জাহিজ (১) তার ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন’ গ্রন্থে সাবলীল বাগ্মিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। আর যখন এরিস্টটলের বাগ্মিতা শাস্ত্রটি অনূদিত হলো, তখন আরবদের নিকট দুটি বয়ান বা প্রকাশরীতি তৈরি হলো—একটি আরবি এবং অন্যটি গ্রিক।
ভাষণ বা বক্তৃতার সাথে কবিতার এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, কারণ কবিতা কোনো অনুষ্ঠানে পাঠ করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রেই এর লক্ষ্য থাকত ভাষণের মতোই যৌক্তিক প্ররোচনা ও প্রভাব বিস্তার করা। হারিস বিন হিল্লিজার ‘মুয়াল্লাকা’ কি একটি তেজস্বী ভাষণ ছিল না, যা রাজা আমর বিন হিন্দকে প্রভাবিত করেছিল এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী তাগলিবী আমর বিন কুলসুমকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল? ভাষণেও কবিতার ন্যায় প্রকাশভঙ্গির শিল্পশৈলীর প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। এই কারণেই সমালোচকগণ ভাষণে ব্যবহৃত ছন্দবদ্ধ গদ্য (সাজঅ), বৈপরীত্য (তিবাক), শব্দালঙ্কার (জিনাস), সমান্তরালতা (মুকাবালা), উপমা (তাশবিহ) এবং রূপক (মাজায)
… ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن يراجع كتاب البيان والتبيين يجد الجاحظ غير مفرق بين البلاغة والخطابة فلقد ذهب إلى أن (1) «أول البلاغة اجتماع آلة البلاغة.
وذلك أن يكون الخطيب رابط الجأش
…» وقد جمع شروط الخطابة الناجحة والخطيب المفوّه متطرقا إلى مقولة: لكل مقام مقال، والبعد عن التكلف والغرابة. والإيجاز في نظره من مقومات الخطبة البليغة.
وتحدث الجاحظ عن عيوب الخطيب الخلقية، كما تحدث عن عيوب النطق وعدّها آفة في الخطيب تبعده عن بلاغة القول وحسن التأثير في المخاطبين. ثم عقد بابا ذكر فيه أسماء الخطباء والبلغاء والأبيناء وذكر قبائلهم وأنسابهم.
وفي الخطابة كلام على أنواع التشبيه والمجاز والاستعارة والكناية والإيجاز والإطناب والمساواة وغيرها من ضروب البلاغة التي تحدث عنها النقاد والبلاغيون في نقد الشعر وبيان فضائله التعبيرية وصوره التخييلية.
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি ‘আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন’ গ্রন্থটি পর্যালোচনা করবে, সে দেখবে যে আল-জাহিয অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাগ্মিতার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। তিনি মনে করতেন যে (১) «অলঙ্কারশাস্ত্রের সূচনা হলো অলঙ্কারশাস্ত্রের উপকরণসমূহের সমন্বয় ঘটা।
আর তা হলো বাগ্মী হবেন অবিচলিত
...» তিনি সফল বাগ্মিতা ও সুবক্তা হওয়ার শর্তাবলি একত্রিত করেছেন এবং ‘প্রত্যেক পরিস্থিতির জন্য উপযোগী বক্তব্য রয়েছে’—এই প্রবচনের অবতারণা করেছেন, সেই সাথে কৃত্রিমতা ও দুর্বোধ্যতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, সংক্ষিপ্ততা হলো সাবলীল ভাষণের অন্যতম উপাদান।
আল-জাহিয বাগ্মীর শারীরিক বা চারিত্রিক ত্রুটিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমনিভাবে তিনি উচ্চারণগত ত্রুটিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এগুলোকে বাগ্মীর জন্য এমন এক আপদ হিসেবে গণ্য করেছেন যা তাঁকে বক্তব্যের প্রাঞ্জলতা এবং শ্রোতাদের ওপর সুন্দর প্রভাব সৃষ্টি থেকে বিচ্যুত করে। অতঃপর তিনি একটি অধ্যায় রচনা করেছেন যেখানে বাগ্মী, আলঙ্কারিক ও স্পষ্টভাষীদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের গোত্র ও বংশপরিচয় বর্ণনা করেছেন।
বাগ্মিতার আলোচনায় উপমা, রূপক, রূপালঙ্কার, পরোক্ষ উক্তি, সংক্ষিপ্তকরণ, সবিস্তার বর্ণনা, সমতা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যান্য প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে, যা নিয়ে সমালোচক ও আলঙ্কারিকগণ কাব্য সমালোচনা এবং কাব্যের প্রকাশভঙ্গির শ্রেষ্ঠত্ব ও কল্পনাপ্রসূত চিত্রকল্পের বর্ণনায় আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3 - بين الفصاحة والبلاغة والأسلوب
3 - 1 - الفصاحة قاموسيا:جاء في اللسان (فصح)، «الفصاحة: البيان؛ فصح الرجل فصاحة فهو فصيح من قوم فصحاء وفصاح وفصح
… تقول: رجل فصيح أي بليغ، ولسان فصيح أي طلق
… وأفصح عن الشيء إفصاحا إذا بيّنه وكشفه.
وفصح الرجل وتفصّح إذا كان عربي اللسان فازداد فصاحة
…وكل ما وضح فقد أفصح».
من هذا الكلام نستدل على أن المعنى القاموسي متمحور حول معنيين: الوضوح والظهور. وهذا هو المعنى الوارد في القرآن الكريم وَأَخِي هارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِساناً القصص: 34، كما ورد بهذا المعنى نفسه في الحديث الشريف الذي جاء فيه: «أنا أفصح العرب بيد أني من قريش».
كما نستدل على أن الفصاحة والبلاغة شيء واحد إذ اللسان شرح (رجل فصيح) فقال: أي بليغ فكأن الفصاحة والبلاغة عنده سيّان.
3 - 2 - الفصاحة اصطلاحا:جاء في معجم المصطلحات العربية (1) «الفصاحة: أن تكون كل لفظة في الكلام بيّنة المعنى، مفهومة، عذبة، سلسة، متمشّية مع القواعد الصرفية» وجعل الفصاحة في ثلاثة أمور:
1 - فصاحة التركيب.
2 - فصاحة الكلمة.
3 - فصاحة المتكلّم.
فالفصاحة باختصار هي: الكلام
--------------------------------------------
৩ - ফাসাহাত, বালাগাত ও উসলুবের মধ্যকার সম্পর্ক
৩ - ১ - আভিধানিক অর্থে ফাসাহাত:লিসানুল আরব (ফ-স-হ মূল ধাতু) গ্রন্থে এসেছে, ‘ফাসাহাত হলো: স্পষ্টতা; জনৈক ব্যক্তি ফাসাহাত অর্জন করেছে অর্থাৎ সে ফাসিহ (সুভাষী) যা ফাসাহা, ফাসাহ ও ফুসাহ গোত্রীয়
… বলা হয়: ফাসিহ ব্যক্তি অর্থাৎ বালিগ (বাগ্মী), এবং ফাসিহ জিহ্বা অর্থাৎ প্রাঞ্জল
… আর কোনো বিষয় সম্পর্কে ইফসাহ করা মানে হলো তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা ও উন্মোচন করা।
আর ব্যক্তি ফাসিহ হয়েছে বা ফাসাহাত অবলম্বন করেছে যখন সে আরবি ভাষী হয় এবং তার বাকপটুতা বৃদ্ধি পায়
…আর যা কিছু স্পষ্ট হয়েছে, তা-ই মূলত প্রকাশিত হয়েছে।’
এই আলোচনা থেকে আমরা প্রমাণ পাই যে, আভিধানিক অর্থটি দুটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত: স্পষ্টতা ও প্রকাশ। পবিত্র কুরআনেও এই অর্থটি এসেছে: ‘এবং আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে বেশি প্রাঞ্জলভাষী’ (সূরা আল-কাসাস: ৩৪)। একইভাবে হাদীস শরীফেও এই অর্থটি বর্ণিত হয়েছে যেখানে এসেছে: ‘আমি আরবদের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী, কারণ আমি কুরাইশ বংশীয়’।
এছাড়াও আমরা প্রমাণ পাই যে, ফাসাহাত ও বালাগাত একই বিষয়, কারণ লিসানুল আরব গ্রন্থে (ফাসিহ ব্যক্তি)-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: অর্থাৎ বালিগ বা বাগ্মী ব্যক্তি; যেন তার নিকট ফাসাহাত ও বালাগাত একই স্তরের বিষয়।
৩ - ২ - পারিভাষিক অর্থে ফাসাহাত:মু'জামুল মুসতালাহাতিল আরাবিয়া (১)-তে এসেছে: ‘ফাসাহাত হলো: কথার প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট অর্থবোধক, বোধগম্য, শ্রুতিমধুর, সাবলীল এবং রূপতত্ত্বের (সরফ) নিয়মাবলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া’ এবং তিনি ফাসাহাতকে তিনটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন:
১ - বাক্যের ফাসাহাত বা প্রাঞ্জলতা।
২ - শব্দের ফাসাহাত বা প্রাঞ্জলতা।
৩ - বক্তার ফাসাহাত বা বাকপটুতা।
সুতরাং সংক্ষেপে ফাসাহাত হলো: কথা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الواضح المعنى، البيّن الغرض الذي تجري ألفاظه على قواعد اللغة.
وقد قسمها البلاغيون القدامى قسمين هما:
أولا- فصاحة المفرد:ويعني «المفرد» اللفظ الواحد مجردا من سياقه الذي انتظم فيه.
فهو إذا الكلمة.
ولا تكون الكلمة فصيحة في نظرهم إلا إذا خلت من عيوب ثلاثة هي:
أ- تنافر الحروف:ويعني البلاغيون بهذا المصطلح ما تكون الكلمة بسببه ثقيلة على اللسان، بحيث يصعب النطق بها، وثقيلة على السمع أيضا. وقد رأى البلاغيون ثقلا خفيفا في قول امرئ القيس (الطويل) (1):
غدائره مستشزرات إلى العلا
… تضلّ المدارى في مثنّى ومرسل
فكلمة مستشزرات غير فصيحة عندهم لصعوبة النطق بها دفعة واحدة، فيضطر القارئ إلى تجزئتها وقراءتها مقطعيا. ولكن هذه الكلمة تبقى أخف من كلمة (الهعخع) التي عدّها البلاغيون ثقيلة أو هي غاية في الثقل. وقد سمّى الجاحظ هذه الظاهرة ب (الاقتران) عند ما قال (2):
«
… فأما في اقتران الحروف فإن الجيم لا تقارن الظاء، ولا القاف، ولا الطاء، ولا الغين، بتقديم ولا تأخير. والزّاي لا تقارن الظّاء، ولا
--------------------------------------------
যার অর্থ স্পষ্ট, উদ্দেশ্য পরিষ্কার এবং যার শব্দগুলো ভাষার নিয়মানুযায়ী পরিচালিত হয়।
প্রাচীন অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ একে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো:
প্রথমত- একক শব্দের প্রাঞ্জলতা:এখানে "একক শব্দ" বলতে সেই স্বতন্ত্র শব্দকে বোঝায় যা তার প্রাসঙ্গিক বিন্যাস থেকে বিচ্ছিন্ন।
সুতরাং এটি হলো শব্দ।
তাদের মতে একটি শব্দ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রাঞ্জল হবে না, যতক্ষণ না সেটি তিনটি ত্রুটি থেকে মুক্ত হয়, সেগুলো হলো:
ক- বর্ণের অসংগতি:অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এই পরিভাষা দ্বারা এমন অবস্থাকে বুঝিয়েছেন যার কারণে শব্দটি জিহ্বার ওপর ভারী হয়ে যায়, ফলে তা উচ্চারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং শ্রবণেও তা অপ্রীতিকর ঠেকে। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ ইমরুল কায়েসের উক্তি (তওয়ীল ছন্দ) (১)-এ সামান্য জড়তা লক্ষ্য করেছেন:
তার কেশগুচ্ছ উপরের দিকে উঁচিয়ে রাখা হয়েছে
… চিরুনিগুলো তার বিনুনি করা ও ছেড়ে দেওয়া চুলে হারিয়ে যায়
তাদের মতে 'মুস্তাশযিরাত' শব্দটি প্রাঞ্জল নয় কারণ এটি একযোগে উচ্চারণ করা কঠিন, ফলে পাঠক এটি খণ্ড খণ্ড করে শব্দাংশ অনুযায়ী পড়তে বাধ্য হন। তবে এই শব্দটি 'আল-হা'খাক' শব্দটির তুলনায় কিছুটা হালকা, যাকে অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ অত্যন্ত ভারী বা চূড়ান্ত পর্যায়ের শ্রুতিকটু হিসেবে গণ্য করেছেন। জাহেয এই অবস্থাকে 'ইকতিরান' (সহাবস্থান) নামকরণ করেছেন যখন তিনি বলেন (২):
«
… আর বর্ণের সহাবস্থানের ক্ষেত্রে, জিম বর্ণের সাথে যা, কাফ, ত্বা কিংবা গাইন বর্ণের সহাবস্থান হয় না, চাই তা আগে আসুক বা পরে। আর যা বর্ণের সাথে যা বর্ণের সহাবস্থান হয় না, এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
السيّن، ولا الضاد، ولا الذّال، بتقديم ولا بتأخير. وهذا باب كبير. وقد يكتفى بذكر القليل حتى يستدلّ به على الغاية التي إليها يجرى».
ب- الغرابة:اللفظ الغريب: هو الذي مات استعماله، وغدا من الحوشي الذي يحتاج في التعرف إلى دلالته إلى المعجمات.
والحكم في قضية الغرابة الأدباء والشعراء لا العامة، وإلا صار مجمل اللغة غريبا غير فصيح. قال أبو الطيب (الكامل) (1):
جفخت وهم لا يجفخون بها بهم
… شيم على الحسب الأغرّ دلائل
فالفعل جفخ يعني قاموسيا تكبّر وفخر وقد لجأ إليه المتنبي ليتحدّى أعداءه في البلاط. وإذا كان النقاد قد ذهبوا إلى أن اللجوء إلى الغريب عجز في صاحبه فمن السهل على المتنبي إحلال (فخرت) مكان (جفخت) و (يفخرون)
محل (يجفخون) ليبتعد عن الغريب. ولهذا فإن الضرورة أو العجز لم يلجئاه إلى الغريب، ولكن الرغبة في التمايز والانفراد هي التي دفعته إلى اختيار اللفظ الغريب. ولعل البيت مصاب بعيب آخر غير الغرابة. ألا يصح اتهام اللفظ نفسه (جفخت) بتنافر الحروف؟ ألا يتهم البيت أيضا بالتعقيد اللفظي المتمثل في تكرار الضمائر الموقع في صعوبة ردها إلى أصحابها (بها، بهم). هذا التعقيد اللفظي أوقع في تعقيد معنوي حتى صار البيت بحاجة إلى شحذ الحس اللغوي، وإعادة صياغته لنظم البيت وصولا إلى المعنى. والنظم المعنوي للبيت هو: جفخت بهم شيم على الحسب الأغرّ دلائل، وهم لا يجفخون بها.
--------------------------------------------
সীন, না দদ, না যাল; আগে আসা বা পরে আসার ক্ষেত্রে। আর এটি একটি বিশাল অধ্যায়। কখনো কখনো অল্প কিছু উল্লেখ করাই যথেষ্ট হয় যাতে এর মাধ্যমে সেই চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যেদিকে এটি ধাবিত হচ্ছে।
খ- দুর্বোধ্যতা (আল-গরাবাহ):দুর্বোধ্য শব্দ: এটি এমন শব্দ যার ব্যবহার বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং যা এমন বিরল বা বুনো শব্দের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে যার অর্থ নির্ণয় করতে অভিধানের শরণাপন্ন হতে হয়।
আর দুর্বোধ্যতার বিষয়ে বিচারের মানদণ্ড হলেন সাহিত্যিক ও কবিগণ, সাধারণ জনগণ নন; অন্যথায় ভাষার অধিকাংশ শব্দই দুর্বোধ্য ও অপ্রাঞ্জল হয়ে পড়বে। আবু তায়্যিব (কামিল ছন্দে) বলেছেন:
আমি তাদের নিয়ে গর্ব করেছি অথচ তারা তা নিয়ে গর্ব করে না... যা উজ্জ্বল বংশমর্যাদার প্রমাণস্বরূপ মহৎ গুণাবলি।
অভিধান অনুযায়ী 'জাফাখা' ক্রিয়াপদটির অর্থ হলো অহংকার করা ও গর্ব করা। মুতানাব্বি রাজদরবারে তাঁর শত্রুদের চ্যালেঞ্জ করার জন্য এই শব্দের আশ্রয় নিয়েছেন। যদি সমালোচকরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, দুর্বোধ্য শব্দের আশ্রয় নেওয়া লেখকের অক্ষমতার প্রমাণ, তবে মুতানাব্বির জন্য দুর্বোধ্যতা এড়াতে 'জাফাখতু' এর স্থলে 'ফাখারতু' এবং 'ইয়াজফাখুনা' এর স্থলে 'ইয়াফখারুনা' ব্যবহার করা খুবই সহজ ছিল।
এই কারণে কোনো অপরিহার্যতা বা অক্ষমতা তাকে দুর্বোধ্যতার দিকে ধাবিত করেনি, বরং স্বাতন্ত্র্য এবং অনন্যতা বজায় রাখার ইচ্ছাই তাকে এই দুর্বোধ্য শব্দ চয়নে উদ্বুদ্ধ করেছে। সম্ভবত এই চরণে দুর্বোধ্যতা ছাড়াও অন্য ত্রুটি রয়েছে। স্বয়ং 'জাফাখতু' শব্দটিকে কি বর্ণের শ্রুতিকটুতা বা বৈসাদৃশ্যে অভিযুক্ত করা যায় না? এই চরণে কি শাব্দিক জটিলতার অভিযোগও আনা যায় না, যা সর্বনামের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে এবং যাদের মূল নির্দেশিত ব্যক্তির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে (বিহা, বিহিম)? এই শাব্দিক জটিলতা এমন এক অর্থগত জটিলতা সৃষ্টি করেছে যে, চরণটির মর্মার্থ অনুধাবনের জন্য ভাষাগত বোধকে শাণিত করার এবং অর্থের গভীরে পৌঁছানোর জন্য চরণটির বিন্যাসকে পুনরায় সাজানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। চরণটির অর্থগত বিন্যাস হলো: "জাফাখতু বিহিম শিয়ামুন 'আলাল হাসাবিল আগাররি দালাইল, ওয়ামুহুম লা ইয়াজফাখুনা বিহা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إن الكلام على غرابة اللفظ حمل النقاد على الحديث عن التفاضل بين لفظ وآخر. ورأى الجرجاني أن الكلمتين المفردتين لا تتفاضلان (1) «من غير أن ينظر إلى مكان تقعان فيه، من التأليف والنظم، بأكثر من أن تكون هذه مألوفة مستعملة، وتلك غريبة وحشيّة، أو أن تكون حروف هذه أخف، وامتزاجها أحسن».
وإذا كان الجرجاني قد فضل الكلمة المألوفة على الغريبة الوحشية، والخفيفة على اللسان على الثقيلة عليه، فإنه في الواقع قد أهمل الدوافع النفسية التي تحمل الشاعر على تفضيل الغريب مع قدرته على استخدام المألوف كتلك التي حملت المتنبي على تفضيل (جفخت) على (فخرت).
ولعل الجرجاني قد أدرك الخلل في نظرته هذه إلى التفاضل فقال: «فقد اتضح إذن اتضاحا لا يدع للشك مجالا أن الألفاظ لا تتفاضل من حيث هي ألفاظ مجردة، ولا من حيث هي كلمة مفردة، وأن الألفاظ تثبت لها الفضيلة وخلافها في ملاءمة معنى اللفظة لمعنى التي تليها، أو ما أشبه ذلك مما لا تعلق له بصريح اللفظ».
وهكذا يرى الجرجاني أن الفصاحة والبلاغة ليستا في اللفظ المفرد إلا إذا انتظم في سياق. وهو محقّ في ذلك لأن الكلمة بمفردها مشروع معنى يحدّده ويقيّده السياق. وإذا كان الجرجاني قد ذهب إلى أن (2) «الكلمة تروقك وتؤنسك في موضع، ثم تراها بعينها تثقل عليك وتوحشك في موضع آخر» فإنني أذهب إلى أن (جفخت) فصيحة في سياقها على الرغم من تنافر حروفها وحوشيتها؛ لأنها رصفت في سياق لا يليق به غيرها.
--------------------------------------------
শব্দের অপরিচিত হওয়ার (গরাবাতুল লফয) বিষয়ে আলোচনা সমালোচকদের একটি শব্দের ওপর অন্যটির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনার দিকে ধাবিত করেছে। আল-জুরজানী মনে করতেন যে, বিন্যাস ও রচনার মধ্যে শব্দদ্বয় কোন স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে তা লক্ষ্য করা ছাড়া কেবল দুটি একক শব্দের মধ্যে একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া যায় না; বড়জোর এটুকুই বলা যায় যে, এটি পরিচিত ও ব্যবহৃত আর সেটি অপরিচিত ও বন্য, অথবা এই শব্দটির বর্ণগুলো হালকা এবং এর সংমিশ্রণ অধিকতর সুন্দর।
আল-জুরজানী যদি অপরিচিত ও বন্য শব্দের তুলনায় পরিচিত শব্দকে এবং জিহ্বায় ভারী শব্দের চেয়ে হালকা শব্দকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন, তবে বাস্তবে তিনি সেই মনস্তাত্ত্বিক তাড়নাগুলোকে উপেক্ষা করেছেন যা একজন কবিকে পরিচিত শব্দ ব্যবহারের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অপরিচিত শব্দ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে; যেমনটি আল-মুতানাব্বীকে ‘ফাখারতু’-এর পরিবর্তে ‘জাফাখতু’ শব্দটিকে প্রাধান্য দিতে প্ররোচিত করেছিল।
সম্ভবত আল-জুরজানী শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির ত্রুটিটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, তাই তিনি বলেছেন: “সুতরাং এটি এমন স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো যাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, কেবল নিছক শব্দ হিসেবে কিংবা একক শব্দ হিসেবে শব্দাবলির মধ্যে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। বরং শব্দের শ্রেষ্ঠত্ব বা অন্য কিছু প্রমাণিত হয় একটি শব্দের অর্থের সাথে তার পরবর্তী শব্দের অর্থের সামঞ্জস্যতার মাধ্যমে, অথবা এমন কিছুর মাধ্যমে যার সাথে শব্দের প্রকাশ্য রূপের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।”
এভাবে আল-জুরজানী মনে করেন যে, একক শব্দের মধ্যে প্রাঞ্জলতা ও অলঙ্কারিতা নেই, যতক্ষণ না তা কোনো প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি সঠিক, কারণ একটি শব্দ এককভাবে একটি সম্ভাব্য অর্থ মাত্র, যাকে প্রসঙ্গ সুনির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ করে। আল-জুরজানী যেখানে বলেছেন যে, “একটি শব্দ কোনো এক স্থানে তোমাকে মুগ্ধ ও আশ্বস্ত করতে পারে, আবার সেই একই শব্দ অন্য স্থানে তোমার কাছে ভারী ও অস্বস্তিকর মনে হতে পারে”, সেখানে আমি মনে করি যে, ‘জাফাখতু’ শব্দটি তার নিজ অনুষঙ্গে অত্যন্ত প্রাঞ্জল, যদিও এর বর্ণগুলোর মধ্যে অসামঞ্জস্যতা ও বন্যতা রয়েছে; কারণ এটি এমন এক অনুষঙ্গে সাজানো হয়েছে যেখানে এটি ছাড়া অন্য কোনো শব্দ মানানসই হতো না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ج- مخالفة القياس اللغوي:قال أبو النّجم العجليّ (1) (الرّجز)
الحمد لله العليّ الأجلل
… الواهب الفضل الكريم المجزل
وقال المتنبي (2) (الطويل):
ولا يبرم الأمر الذي هو حالل
… ولا يحلل الأمر الذي هو مبرم
توافرت لأبي النجم والمتنبي شروط الإدغام ولكن الضرورة ألجأتهما إلى فكّه في كلّ من (الأجلل- الأجلّ) و (حالل- حالّ) و (يحلل- يحلّ) وفي هذه الضرورة مخالفة للقياس الصرّفي.
ومن مخالفة القياس الصرفي ما نجده من أخطاء شائعة على ألسنة الناس وفي كتابات بعض المحدثين كأن يقولوا: السيارة المباعة، ونضوج الفاكهة يزيدها حلاوة، وهذه عصاتي وغير ذلك. والقياس الصرفي يقضي بقول: السيارة المبيعة، ونضج الفاكهة ونضجها، وهذه عصاي. فالكاتب المبدع، والشاعر المفلق، يتحرى صحة الألفاظ وجريانها على قواعد الصرف والنحو، ويبتعد عن الألفاظ العامية المبتذلة.
ولقد خالف بعض النقاد القدامى هذا المبدأ، فابن الأثير ينبّه إلى أنه (3) «ينبغي لك أن تعلم أن الجهل بالنحو لا يقدح في فصاحة ولا بلاغة» وفي هذا الحكم ضرب من المغالاة- في رأينا- لأن الفصاحة وضوح وتبيين ورفع المفعول ونصب الفاعل لا يوضحان المعنى،
--------------------------------------------
গ- ভাষাগত নিয়মনীতির (কিয়াস) বিরোধিতা:আবু নাজম আল-ইজলি (১) বলেছেন (রজয ছন্দে):
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সুউচ্চ ও অতি মহান (আল-আজলাল) … অনুগ্রহ দানকারী, দয়ালু ও অঢেল দাতা।
আল-মুতানাব্বি (২) বলেছেন (তবিল ছন্দে):
তিনি সেই বিষয়কে সুদৃঢ় করেন না যা শিথিল (হালিল) … এবং তিনি সেই বিষয়কে শিথিল (ইয়াহলুল) করেন না যা সুদৃঢ়।
আবু নাজম এবং আল-মুতানাব্বির ক্ষেত্রে ইদগাম (বর্ণের সন্ধি) করার শর্তসমূহ বিদ্যমান ছিল, কিন্তু কাব্যিক প্রয়োজনে তারা (আল-আজলাল - আল-আজাল্ল), (হালিল - হাল্ল) এবং (ইয়াহলুল - ইয়াহুল্ল)-এর ক্ষেত্রে তা ভেঙে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা রূপতাত্ত্বিক নিয়মনীতির (সারফী কিয়াস) পরিপন্থী।
আর রূপতাত্ত্বিক নিয়মনীতির বিরোধিতার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আমরা মানুষের মুখে এবং কিছু আধুনিক লেখকদের লেখায় প্রচলিত ভুল হিসেবে দেখতে পাই; যেমন তারা বলে: ‘আস-সাইয়্যারাতুল মুবাআহ’ (বিক্রিত গাড়ি), ফলের ‘নুদুজ’ (পরিপক্কতা) তার মিষ্টতা বাড়িয়ে দেয়, ‘এটি আমার লাঠি’ (আসাতি) ইত্যাদি। অথচ রূপতাত্ত্বিক নিয়ম দাবি করে এভাবে বলা: ‘আস-সাইয়্যারাতুল মাবিআহ’, ফলের ‘নাদজ’ এবং ‘আসা-ইয়া’। একজন সৃজনশীল লেখক এবং প্রাজ্ঞ কবি শব্দের বিশুদ্ধতা এবং রূপতত্ত্ব ও ব্যাকরণের নিয়মানুযায়ী তার প্রয়োগের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকেন এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত তুচ্ছ শব্দাবলী থেকে দূরে থাকেন।
কিছু প্রাচীন সমালোচক এই মূলনীতির বিরোধিতা করেছেন। ইবনুল আসীর সতর্ক করেছেন যে, (৩) “আপনার জানা উচিত যে, ব্যাকরণ সংক্রান্ত অজ্ঞতা সাবলীলতা (ফাসাহাত) বা অলঙ্কারশাস্ত্রে (বালাগাত) কোনো দোষ সৃষ্টি করে না।” আমাদের মতে, এই রায়টি এক প্রকার অতিরঞ্জন; কারণ ফাসাহাত হলো স্পষ্টতা ও বিশদ বর্ণনা করা, অথচ কর্মকারককে (মাফউল) পেশ (রাফা) প্রদান করা এবং কর্তাকে (ফায়িল) জবর (নাসাব) প্রদান করা অর্থকে স্পষ্ট করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
علاوة على أن الأدب آلته اللغة فإذا كانت اللغة ركيكة ذهب رونق الأدب.
وذهب ابن خلدون إلى موقف شبيه بموقف ابن الأثير عندما رأى (1) «أن الإعراب لا دخل له في البلاغة، فالدلالة بحسب ما يصطلح عليه أهل الملكة. فإذا عرف اصطلاح في ملكة، واشتهر، صحّت الدلالة. وإذا طابقت تلك الدلالة المقصود ومقتضى الحال صحت البلاغة ولا عبرة بقوانين النحاة».
إن الاستخفاف بقوانين النحاة، لا يخدم الإبداع بل يعارضه.
والقدامى اشترطوا صحّة القياس ليبقى التواصل ولتتأصل الملكة ولأنهم أدركوا أن فشوّ اللحن قد عطّل آلة البلاغة كما عطّل حسن السليقة وتمكّن الملكة.
ونهض من بين المحدثين من يؤكد (2) «أهمية اتباع نظام موحد في التعامل مع اللغة حفاظا على سلامة النظام اللغوي في أبنيته ومفرداته، لكن لا ينبغي- في الوقت نفسه- التعويل دائما على القياس والخضوع المطلق لكل ما يفرضه» وردّنا على هذا لا يختلف كثيرا عن رأينا في ما تقدم من كلام على رأيي ابن الأثير وابن خلدون.
ثانيا- فصاحة المركب (فصاحة الكلام):وضع البلاغيون أربعة شروط لفصاحة الكلام هي:
--------------------------------------------
তদুপরি, সাহিত্যের বাহন হলো ভাষা; সুতরাং ভাষা যদি দুর্বল হয়, তবে সাহিত্যের সৌন্দর্য বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ইবনে খালদুন ইবনুল আসিরের অবস্থানের ন্যায় একটি অবস্থানের দিকে গিয়েছেন যখন তিনি মনে করেছেন (১) যে, «অলঙ্কারশাস্ত্রে ব্যাকরণিক কারকের (ই'রাব) কোনো ভূমিকা নেই; কারণ অর্থবোধকতা নির্ভর করে ভাষাজ্ঞানীদের পরিভাষার ওপর। যখন কোনো ভাষাগত দক্ষতায় একটি পরিভাষা পরিচিতি লাভ করে এবং প্রসিদ্ধ হয়, তখন তার অর্থবোধকতা সঠিক হয়ে যায়। আর যদি সেই অর্থবোধকতা উদ্দেশ্য এবং পরিস্থিতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবেই অলঙ্কারশাস্ত্র সার্থক হয় এবং এক্ষেত্রে ব্যাকরণবিদদের নিয়মনীতির কোনো গুরুত্ব নেই।»
ব্যাকরণবিদদের নিয়মনীতিকে অবজ্ঞা করা সৃজনশীলতার কোনো উপকার করে না, বরং এটি তার বিরোধিতা করে।
প্রাচীন পণ্ডিতগণ ব্যাকরণিক সাদৃশ্যের (কিয়াস) বিশুদ্ধতাকে শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন যাতে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে এবং ভাষাগত দক্ষতা সুদৃঢ় হয়। কারণ তাঁরা উপলব্ধি করেছিলেন যে, ব্যাকরণগত ভুলের (লাহন) বিস্তার অলঙ্কারশাস্ত্রের উপকরণকে যেমন বিকল করে দেয়, তেমনি তা স্বাভাবিক রুচি এবং ভাষাগত দক্ষতার বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করে।
আধুনিকদের মধ্য থেকে এমন কেউ কেউ আবির্ভূত হয়েছেন যারা জোর দিয়ে বলেন (২) «ভাষার গঠন ও শব্দভাণ্ডারের বিশুদ্ধতা রক্ষার স্বার্থে ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের গুরুত্ব রয়েছে; তবে একই সাথে সর্বদা কেবল ব্যাকরণিক সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করা এবং এটি যা কিছু আরোপ করে তার প্রতি নিঃশর্তভাবে অনুগত হওয়া উচিত নয়।» এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য ইবনুল আসির ও ইবনে খালদুনের মতামতের প্রেক্ষিতে পূর্বে যা বলা হয়েছে তার থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়।
দ্বিতীয়ত- বাক্যের প্রাঞ্জলতা (কালামের ফাসাহাত):অলঙ্কারবিদগণ বাক্যের প্রাঞ্জলতার জন্য চারটি শর্ত নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উলূমুল বালাগা (আল-বাদী ওয়াল বয়ান ওয়াল মাআনী)
(পৃষ্ঠা: ৩২)
1 - سلامته من ضعف التأليف:وتعني السلامة هذه خلو الكلام من الخطأ النحوي والصرفي، وجريانه على قواعد النحو المطردة، كقول حسان (الطويل) (1):
ولو أن مجدا أخلد الدّهر واحدا
… من الناس أبقى مجده الدّهر مطعما
أعاد الشاعر الضمير المتصل بالفاعل على متأخر لفظا ورتبة.
الهاء في مجده عائدة على (مطعما) وهو متأخر في اللفظ والرتبة لأنه مفعول به. وهذا ممنوع عند جمهور البصريين، ولكن بعض الكوفيين، وابن جنّي أجازوا ذلك. والمتتبّع لدواوين الشعراء القدامى، وكتابات المحدثين يرى أن هذه الظاهرة شاعت وليست من جنايات الترجمة كما ذهب إلى ذلك المخطّئون.
ويبدو أن شيوعها قد سبق لغة الصحافة لأن الشعراء الذين يحتج بشعرهم قد فعلوا ذلك. والأغرب أن واضع علم النحو قد فعل ذلك في شعره عند ما قال (2) (الطويل):
جزى ربّه عنّي عدّي بن حاتم
… جزاء الكلاب العاويات وقد فعل
فكيف تكون هذه الظاهرة ممنوعة عند النحويين وأبو النحو يستخدمها في شعره؟ وأين مصداقيّة المنظّر إذا
خالفت الممارسة التنظير؟
--------------------------------------------
১ - রচনার দুর্বলতা থেকে মুক্ত হওয়া:এই মুক্তি বা নিরাপত্তা বলতে বুঝায় বাক্য ব্যাকরণিক ও রূপমূলতাত্ত্বিক ভুল থেকে মুক্ত থাকা এবং প্রচলিত ব্যাকরণ বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া, যেমন হাস্সান (আত-তবিল ছন্দ) (১) এর উক্তি:
যদি কোনো গৌরব কোনো একজনকে চিরকাল অমর করে রাখত
… তবে তার গৌরব মুতঈমকে চিরকাল জীবিত রাখত।
কবি এখানে কর্তার সাথে যুক্ত সর্বনামকে শব্দগত ও পদমর্যাদাগতভাবে পরবর্তী শব্দের দিকে ফিরিয়েছেন।
'মাজদুহু' শব্দের 'হা' সর্বনামটি 'মুতঈম' শব্দের দিকে ফিরেছে, যা শব্দ ও পদের দিক থেকে পরে এসেছে কারণ এটি কর্ম (মাফউল বিহি)। এটি অধিকাংশ বসরাবাসীদের মতে নিষিদ্ধ, তবে কিছু কুফাবাসী এবং ইবনু জিন্নি একে বৈধ বলেছেন। প্রাচীন কবিদের কাব্যগ্রন্থ এবং আধুনিক লেখকদের লেখা পর্যালোচনাকারীরা দেখতে পান যে, এই প্রবণতাটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং এটি অনুবাদের কোনো ত্রুটি নয়, যেমনটি ভুল ঘোষণাকারীরা মনে করেছেন।
মনে হয় এর প্রচলন সাংবাদিকতার ভাষারও আগে থেকে ছিল, কারণ যেসব কবিদের কবিতা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয় তারা এটি করেছেন। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রবর্তক নিজেও তাঁর কবিতায় এটি করেছেন যখন তিনি বলেছেন (২) (আত-তবিল ছন্দ):
তার প্রতিপালক আদি বিন হাতিমকে আমার পক্ষ থেকে প্রতিদান দিন
… চিৎকারকারী কুকুরের প্রতিদান, আর তিনি তা করেছেন।
ব্যাকরণবিদদের নিকট এই বিষয়টি কীভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে যেখানে ব্যাকরণ শাস্ত্রের জনক স্বয়ং এটি তাঁর কবিতায় ব্যবহার করেছেন? আর যখন প্রয়োগ তত্ত্বের বিপরীত হয়, তখন তত্ত্বপ্রদানকারীর নির্ভরযোগ্যতা কোথায় থাকে?
--------------------------------------------