(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: -)
علم المعاني   (عبد العزيز عتيق)

القسم: البلاغة


الكتاب: علم المعاني

المؤلف: عبد العزيز عتيق (ت 1396 هـ)

الناشر: دار النهضة العربية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 205

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شوّال 1436

ইলমুল মাআনি   (আবদুল আজিজ আতিক)

বিভাগ: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)


কিতাব: ইলমুল মাআনি

লেখক: আবদুল আজিজ আতিক (ওফাত ১৩৯৬ হিজরি)

প্রকাশক: দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাওয়াল ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: -)
علم المعاني

 

تأليف

الدكتور عبد العزيز عتيق

 

دار النهضة العربية
ইলমুল মাআনী

 

রচনায়

ডক্টর আব্দুল আজিজ আতীক

 

দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدّمة

هذه محاضرات في علم المعاني ألقيتها على طلبة الصف الأول في قسم اللغة العربية وآدابها بجامعة بيروت العربية.

والقسم الأول من هذه المحاضرات يتضمن بحثا في مفهوم كل من البلاغة والفصاحة لدى علماء البلاغة العربية، مع بيان اتفاقهما واختلافهما.

والقسم الثاني منها عرض تاريخي لنشأة علم المعاني ومراحل التطور والنمو التي مر بها في العصور المختلفة حتى صار علما مستقلا بذاته على يد عبد القاهر الجرجاني والبلاغيين من بعده، مع بيان أثر هذا العلم في بلاغة الكلام.

أما القسم الثالث والأخير فيشتمل على دراسة تفصيلية لمباحث علم المعاني وفنونه، مع الإكثار من الأمثلة والشواهد التي توضحها وتيسرها للطالبين.

وإني لآمل أن يجد الدارس في هذا البحث ما يعينه على تذوق جانب من البلاغة العربية والإفادة منه، وما يكشف له كذلك عن دور علم المعاني في فن القول وبلاغته.

المؤلف
ভূমিকা

এগুলো হলো ইলমুল মা’আনি (অর্থবিজ্ঞান) বিষয়ক কিছু বক্তৃতা, যা আমি বৈরুত আরব বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রদান করেছি।

এই বক্তৃতাগুলোর প্রথম অংশে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট বালাগাত (অলঙ্কারতত্ত্ব) ও ফাসাহাত (বাগ্মিতা) উভয়ের ধারণা সংক্রান্ত আলোচনা এবং তাদের পারস্পরিক ঐক্য ও পার্থক্যের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর দ্বিতীয় অংশটি হলো ইলমুল মা’আনির উদ্ভব এবং বিভিন্ন যুগে এর ক্রমবিকাশ ও প্রবৃদ্ধির পর্যায়ক্রমিক ঐতিহাসিক উপস্থাপন, যতক্ষণ না এটি আব্দুল কাহের আল-জুরজানি এবং তাঁর পরবর্তী অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের হাতে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞানে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বক্তব্যের অলঙ্কারিক সুষমা বৃদ্ধিতে এই শাস্ত্রের প্রভাবও এখানে বর্ণিত হয়েছে।

আর তৃতীয় ও শেষ অংশটি ইলমুল মা’আনির বিভিন্ন আলোচ্য বিষয় ও শৈলীসমূহের বিস্তারিত অধ্যয়ন সম্বলিত, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়গুলো স্পষ্ট ও সহজ করার লক্ষ্যে প্রচুর উদাহরণ ও প্রমাণাদি ব্যবহার করা হয়েছে।

আমি আশা করি যে, শিক্ষার্থীরা এই গবেষণার মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পাবেন যা তাদের আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের স্বাদ আস্বাদনে ও তা থেকে উপকৃত হতে সহায়তা করবে এবং যা তাদের কাছে বাকশিল্প ও তার অলঙ্কারিক সৌন্দর্যে ইলমুল মা’আনির ভূমিকা উন্মোচন করবে।

লেখক
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل الأوّل بين‌‌ البلاغة والفصاحة

[البلاغه]

البلاغة مأخوذة من قولهم: بلغت الغاية إذا انتهيت إليها وبلّغتها غيري، والمبالغة في الأمر: أن تبلغ فيه جهدك وتنتهي إلى غايته، وقد سميت البلاغة بلاغة لأنها تنهي المعنى إلى قلب سامعه فيفهمه. ويقال بلغ الرجل بلاغة، إذا صار بليغا، ورجل بليغ: حسن الكلام، يبلغ بعبارة لسانه كنه ما في قلبه (1)، ويقال أبلغت في الكلام إذا أتيت بالبلاغة فيه.

والبلاغة من صفة الكلام لا من صفة المتكلم، وتسميتنا المتكلم بأنه بليغ نوع من التوسع، وحقيقته أن كلامه بليغ، فحذف الموصوف وأقيمت الصفة مقامه، كما تقول: فلان رجل محكم وتعني أن أفعاله محكمة. قال الله تعالى: حِكْمَةٌ بالِغَةٌ فجعل البلاغة صفة الحكمة ولم يجعلها من صفة الحكيم، إلا أن كثرة الاستعمال جعلت تسمية المتكلم بأنه بليغ كالحقيقة، كما أن كثرة الاستعمال أيضا جعلت تسمية كلمة مثل المزادة (2) راوية كالحقيقة،

--------------------------------------------

(1) قد يعبر عن العقل بالقلب. قال تعالى: إِنَّ فِي ذلِكَ لَذِكْرى لِمَنْ كانَ لَهُ قَلْبٌ.

(2) المزادة: القربة التي يحمل فيها الماء.
বালাগত ও ফাসাহাতের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কিত প্রথম পরিচ্ছেদ

[বালাগত]

বালাগত শব্দটি তাদের এই কথা থেকে গৃহীত: "আমি লক্ষ্যে পৌঁছেছি" যখন আপনি সেখানে সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং অন্যকেও সেখানে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। আর কোনো বিষয়ে 'মুবালগা' করা হলো—তাতে আপনার সর্বোচ্চ শ্রম ব্যয় করা এবং তার শেষ সীমায় পৌঁছানো। আর বালাগতকে বালাগত নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অর্থকে শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে দেয়, ফলে সে তা বুঝতে পারে। বলা হয়, "লোকটি বালাগত অর্জন করেছে" যখন সে অলংকারবিদ বা বাগ্মী হয়ে ওঠে। আর বাগ্মী ব্যক্তি হলো সেই, যার কথা সুন্দর, যে তার রসনার অভিব্যক্তির মাধ্যমে তার অন্তরের গূঢ় রহস্যকে পৌঁছে দিতে পারে (১)। আরও বলা হয়, "আমি কথায় অলংকার নিয়ে এসেছি" যখন আপনি তাতে বালাগত প্রয়োগ করেন।

আর বালাগত হলো কথার বৈশিষ্ট্য, বক্তার বৈশিষ্ট্য নয়। বক্তাকে বাগ্মী বলে আমাদের অভিহিত করা এক প্রকার রূপক বর্ণনা বা ভাষাগত প্রশস্ততা। এর প্রকৃত বিষয় হলো তার কথাটি অলংকারপূর্ণ বা বালিগ; এখানে বিশেষ্যকে উহ্য রেখে গুণকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। যেমন আপনি বলেন: "অমুক ব্যক্তি একজন সুসংহত লোক", অথচ আপনি বুঝাতে চান যে তার কাজগুলো সুসংহত। মহান আল্লাহ বলেছেন: "সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা।" এখানে তিনি বালাগতকে প্রজ্ঞার গুণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, প্রজ্ঞাবানের গুণ হিসেবে নয়। তবে অধিক ব্যবহারের ফলে বক্তাকে বাগ্মী বলাটা এখন প্রকৃত অর্থের মতোই হয়ে গেছে, যেমন অধিক ব্যবহারের ফলে 'মাজাদাহ' (২)-এর মতো শব্দকে 'রাবিয়াহ' নামকরণ করাটা প্রকৃত অর্থের মতো হয়ে গেছে।

--------------------------------------------

(১) কখনো কখনো আকল বা বুদ্ধিকে কলব বা হৃদয় দ্বারা প্রকাশ করা হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই এতে তার জন্য উপদেশ রয়েছে, যার হৃদয় আছে।"

(২) মাজাদাহ: চামড়ার তৈরি বড় মশক বা থলি যাতে পানি বহন করা হয়।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৮)
وكان الراوية في الأصل حامل المزادة، وهو البعير وما يجري مجراه، ولهذا سمي حامل الشعر راوية.

ذلك مفهوم البلاغة لغة، وقديما اختلف أهل العلم في مفهومها ووصفها بيانيا، وقد أورد ابن رشيق القيراوني في كتابه العمدة (1) طائفة من أقوال البلغاء في تحديد مفهوم البلاغة كما تصوّرها من وردت هذه الأقوال على ألسنتهم، بيد أن النظر في كل قول من هذه الأقوال لا يعطينا مفهوما جامعا مانعا للبلاغة، ولكن ربما التمس مفهوم البلاغة المنشود من ثنايا بعض هذه الأقوال، فلنحاول. سئل بعض البلغاء: ما البلاغة؟ فقال:

قليل يفهم وكثير لا يسأم. وسئل آخر فقال: معان كثيرة في ألفاظ قليلة.

وقيل لأحدهم: ما البلاغة؟ فقال: إصابة المعنى وحسن الإيجاز. وسئل بعض الأعراب: من أبلغ الناس؟ فقال: أسهلهم لفظا، وأحسنهم بديهة.

وقال خلف الأحمر: البلاغة لمحة دالة.

وقال الخليل بن أحمد: البلاغة كلمة تكشف عن البقية.

وقال المفضل الضبي: قلت لأعرابي: ما البلاغة عندكم؟ فقال:

الإيجاز من غير عجز، والإطناب من غير خطل.

وكتب جعفر بن يحيى بن خالد البرمكي إلى عمرو بن مسعدة:

إذا كان الإكثار أبلغ كان الإيجاز تقصيرا، وإذا كان الإيجاز كافيا كان الإكثار عيا.

وقيل لبعضهم: ما البلاغة؟ فقال: إبلاغ المتكلم حاجته بحسن إفهام السامع، ولذلك سميت بلاغة.

وقثال آخر: البلاغة معرفة الفصل من الوصل.

وقيل البلاغة: حسن العبارة، مع صحة الدلالة.

--------------------------------------------

(1) كتاب العمدة ج: 1 ص 213. وابن رشيق: هو أبو علي الحسن بن رشيق الأزدي القيرواني (385 - 465 هـ).
মূলত ‘রাবিয়াহ’ বলা হতো মশকের বাহককে, যা ছিল উট বা অনুরূপ কিছু; এ কারণেই কবিতা বহনকারীকেও ‘রাবিয়াহ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

এটি হলো আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বালাগাতের ধারণা। প্রাচীনকালে আলিমগণ এর সংজ্ঞা এবং আলঙ্কারিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায় বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। ইবনে রাশীক আল-কাইরাওয়ানি তাঁর ‘আল-উমদাহ’ (১) গ্রন্থে বালাগাতের সংজ্ঞা নির্ধারণে বালাগাতবিদদের একগুচ্ছ উক্তি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি সেসব ব্যক্তির নিকট প্রতিভাত হয়েছিল যাদের মুখে এই উক্তিগুলো উচ্চারিত হয়েছে। তবে এই উক্তিগুলোর প্রত্যেকটি পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বালাগাতের কোনো সর্বজনীন ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায় না; তবে সম্ভবত কাঙ্ক্ষিত বালাগাতের ধারণাটি এই উক্তিগুলোর মধ্য থেকেই খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। তো চলুন, আমরা চেষ্টা করে দেখি। জনৈক বালাগাতবিদকে জিজ্ঞেস করা হলো: বালাগাত কী? তিনি বললেন:

অল্প কথায় যা বোঝা যায় এবং দীর্ঘ হলেও যা বিরক্তির উদ্রেক করে না। অন্য একজনকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: স্বল্প শব্দে বহু অর্থের সমাহার।

তাঁদের একজনকে বলা হলো: বালাগাত কী? তিনি বললেন: সঠিক অর্থ উপস্থাপন এবং চমৎকার সংক্ষিপ্ততা। জনৈক বেদুইনকে জিজ্ঞেস করা হলো: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় বালাগাতবিদ কে? তিনি বললেন: যাঁর শব্দচয়ন অত্যন্ত সহজ এবং যাঁর উপস্থিত বুদ্ধি অত্যন্ত প্রখর।

খালাফ আল-আহমার বলেন: বালাগাত হলো একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত।

আল-খলিল ইবনে আহমাদ বলেন: বালাগাত হলো এমন এক শব্দ যা বাকি বিষয়ের রহস্য উন্মোচন করে দেয়।

আল-মুফায্যাল আদ-যাব্বি বলেন: আমি এক বেদুইনকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাদের নিকট বালাগাত কী? তিনি বললেন:

অক্ষমতাহীন সংক্ষিপ্ততা এবং অসারতাহীন দীর্ঘায়ন।

জাফর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ আল-বারমাকি আমর ইবনে মাসআদাহর নিকট লিখেছিলেন:

যদি দীর্ঘায়ন অধিক বালাগাতপূর্ণ হয়, তবে সংক্ষিপ্ত করা হবে ত্রুটিপূর্ণ; আর যদি সংক্ষিপ্তকরণই যথেষ্ট হয়, তবে দীর্ঘায়ন হবে বাকজড়তা বা অক্ষমতা।

তাঁদের একজনকে জিজ্ঞেস করা হলো: বালাগাত কী? তিনি বললেন: শ্রোতাকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বক্তার উদ্দেশ্য সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া; আর এ কারণেই একে ‘বালাগাত’ (পৌঁছে দেওয়া) নামকরণ করা হয়েছে।

অন্য একজন বলেন: বিচ্ছেদ ও সংযোগের স্থানগুলো জানাই হলো বালাগাত।

আবার বলা হয়েছে: বালাগাত হলো নির্দেশনার সঠিকতাসহ বাক্যরীতির সৌন্দর্য।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল উমদাহ, ১ম খণ্ড, ২১৩ পৃষ্ঠা। ইবনে রাশীক হলেন: আবু আলী হাসান ইবনে রাশীক আল-আযদি আল-কাইরাওয়ানি (৩৮৫ - ৪৬৫ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৯)
وقيل البلاغة: القوة على البيان مع حسن النظام.

وقالوا: البلاغة ضد العيّ، والعيّ: العجز عن البيان.

وقيل لأرسطاطاليس: ما البلاغة؟ قال: حسن الاستعارة.

وقيل لخالد بن صفوان: ما البلاغة؟ قال: إصابة المعنى والقصد إلى الحجة.

وقيل لإبراهيم الإمام: ما البلاغة؟ قال: الجزالة والإطالة.

وقال البحتري يمدح محمد بن عبد الملك بن الزيات حين استوزر ويصف بلاغته:

ومعان لو فصّلتها القوافي … هجّنت شعر جزول (1) ولبيد

حزن مستعمل الكلام اختيارا … وتجنبن ظلمة التعقيد

وركبن اللفظ القريب فأدركن … به غاية المراد البعيد

وقال العتابي: قيّم الكلام العقل، وزينته الصواب، وحليته الإعراب، ورائضه اللسان، وجسمه القريحة، وروحه المعاني. وسئل ابن المقفع: ما البلاغة؟ فقال: اسم لمعان تجري في وجوه كثيرة: فمنها ما يكون في السكوت، ومنها يكون في الاستماع، ومنها ما يكون في الإشارة، ومنها ما يكون شعرا، ومنها ما يكون سجعا، ومنها ما يكون ابتداء، ومنها ما يكون جوابا، ومنها ما يكون في الحديث، ومنها ما يكون في الاحتجاج، ومنها ما يكون خطبا، ومنها ما يكون رسائل، فعامة هذه الأبواب الوحي فيها والإشارة إلى المعنى، والإيجاز هو البلاغة.

وقال أبو الحسن علي بن عيسى الرماني: أصل البلاغة الطبع، ولها مع ذلك آلات تعين عليها وتوصل للقوة فيها، وتكون ميزانا لها، وفاصلة بينها وبين غيرها وهي ثمانية أضرب: الإيجاز، والاستعارة، والتشبيه، والبيان، والنظم، والتصرف، والمشاكلة، والمثل.

--------------------------------------------

(1) الشاعر الحطيئة.
বলা হয়েছে যে, অলঙ্কারশাস্ত্র হলো সুন্দর বিন্যাসের সাথে প্রাঞ্জল বর্ণনার সক্ষমতা।

তাঁরা বলেছেন: অলঙ্কারশাস্ত্র হলো বাকজড়তার বিপরীত; আর বাকজড়তা হলো বর্ণনা করতে অক্ষম হওয়া।

এরিস্টটলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: অলঙ্কারশাস্ত্র কী? তিনি বললেন: রূপকের সুন্দর প্রয়োগ।

খালিদ বিন সাফওয়ানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: অলঙ্কারশাস্ত্র কী? তিনি বললেন: সঠিক অর্থ উপস্থাপন এবং প্রমাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

ইবরাহিম আল-ইমামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: অলঙ্কারশাস্ত্র কী? তিনি বললেন: শব্দের সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতা।

আল-বুহতুতি যখন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বিন আল-যাইয়াত উজির হিসেবে নিযুক্ত হলেন, তখন তাঁর প্রশংসা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:

এমন কিছু অর্থ, যা যদি ছন্দবদ্ধ করা হয়... তবে তা জারওয়াল (১) ও লাবীদের কবিতাকেও ম্লান করে দেবে।

সেগুলো সুচিন্তিতভাবে চয়নকৃত শব্দের সমাবেশ... এবং জটিলতার অন্ধকার থেকে মুক্ত।

সেগুলো সহজবোধ্য শব্দের ওপর সওয়ার হয়েছে, ফলে তার মাধ্যমে... সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য হাসিল করেছে।

আল-আত্তাবি বলেছেন: কথার মূল্য হলো বুদ্ধি, তার সৌন্দর্য হলো সঠিকতা, তার অলঙ্কার হলো ব্যাকরণ, তার নিয়ন্ত্রক হলো জিহ্বা, তার অবয়ব হলো মেধা এবং তার প্রাণ হলো অর্থসমূহ। ইবনুল মুকাফফাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: অলঙ্কারশাস্ত্র কী? তিনি বললেন: এটি এমন সব অর্থের নাম যা নানাবিধ পন্থায় প্রকাশ পায়: কোনোটি নীরবতার মাঝে থাকে, কোনোটি শ্রবণের মাঝে থাকে, কোনোটি ইঙ্গিতের মাঝে থাকে, কোনোটি কবিতা হয়, কোনোটি অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য হয়, কোনোটি প্রারম্ভিক কথা হয়, কোনোটি উত্তর হয়, কোনোটি সাধারণ আলোচনায় থাকে, কোনোটি যুক্তিতর্কে থাকে, কোনোটি ভাষণে থাকে, আবার কোনোটি চিঠিপত্রের মাঝে থাকে। এই সবকটি অধ্যায়ের মূল বৈশিষ্ট্য হলো ইঙ্গিত ও অর্থের দিকে নির্দেশ করা; আর সংক্ষেপণই হলো অলঙ্কারশাস্ত্র।

আবুল হাসান আলী বিন ঈসা আল-রুমমানি বলেছেন: অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল ভিত্তি হলো স্বভাবজাত দক্ষতা; তবে এর সাথে এমন কিছু উপকরণ রয়েছে যা একে সহায়তা করে এবং পূর্ণতা দান করে, আর তা অলঙ্কারশাস্ত্রের মানদণ্ড এবং অন্যান্য বিষয় থেকে পার্থক্যকারী হিসেবে কাজ করে। এই উপকরণগুলো আট প্রকার: সংক্ষেপণ, রূপক, উপমা, বর্ণনা, বিন্যাস, শব্দের রূপান্তর, সাদৃশ্য বিধান এবং প্রবাদ।

--------------------------------------------

(১) কবি আল-হুতাইয়া।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১০)
وقال عبد الله بن محمد بن جميل المعروف بالباحث: البلاغة الفهم والإفهام، وكشف المعاني، ومعرفة الإعراب، والاتساع في اللفظ، والسداد في النظم، والمعرفة بالقصد، والبيان في الأداء، وصواب الإشارة، وإيضاح الدلالة، والمعرفة بالقول، والاكتفاء بالاختصار عن الإكثار، وإمضاء العزم على حكومة الاختيار … قال: وكل هذه الأبواب محتاج بعضها إلى بعض، كحاجة بعض أعضاء البدن إلى بعض: لا غنى لفضيلة أحدها عن الآخر، فمن أحاط معرفة بهذه الخصال فقد كمل كل الكمال، ومن شذ عنه بعضها لم يبعد من النقص بما اجتمع فيه منها … قال: والبلاغة

تخير اللفظ في حسن إفهام.

تلك طائفة من أقوال البلغاء في تحديد مفهوم البلاغة كما تصوّرها كل واحد منهم، ومنها يمكن تحديد مفهوم البلاغة بأنها: وضع الكلام في موضعه من طول وإيجاز، وتأدية المعنى أداء واضحا بعبارة صحيحة فصيحة، لها في النفس أثر خلاب، مع ملاءمة كل كلام للمقام الذي يقال فيه، وللمخاطبين به.

ولعل تعريف عبد الله بن محمد بن جميل للبلاغة هو الأقرب إلى هذا التعريف، كما أن مفهوم أبي الحسن الرماني للبلاغة متصل أكثر بأصلها ومباحثها.

ولكن البلاغة قبل هذا وبعد هذا فن قولي يعتمد على الموهبة وصفاء الاستعداد، ودقة إدراك الجمال، وتبين الفروق الخفية بين شتى الأساليب. ولا بد لطالب البلاغة من أمرين: قراءة عميقة متصلة لروائع الأدب وحفظ ما يستجيده منه، ومران على التعبير من وقت لآخر عن بعض ما يجول في الخاطر وتحبش به النفس. ولا شك أن تضافر هذين الأمرين معا يعينان على تكوين الذوق الأدبي ونقد الأعمال الأدبية والحكم عليها.

ومن السهل أيضا أن نلتمس في أقوال البلغاء السابقة عناصر
আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন জামিল, যিনি ‘আল-বাহিস’ নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) হলো উপলব্ধি ও উপলব্ধি করানো, অর্থের উন্মোচন, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত জ্ঞান, শব্দের প্রশস্ততা, রচনার সঠিকতা, লক্ষ্যের জ্ঞান, উপস্থাপনার স্পষ্টতা, ইঙ্গিতের যথার্থতা, নির্দেশনার বিশদ ব্যাখ্যা, বাণীর জ্ঞান, বাহুল্য বর্জন করে সংক্ষেপণে তুষ্ট থাকা এবং পছন্দের ওপর সংকল্পকে কার্যকর করা … তিনি বলেন: এই সকল শাখা একটি অপরটির মুখাপেক্ষী, যেমন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একে অপরের মুখাপেক্ষী; একটির শ্রেষ্ঠত্ব অন্যটি ছাড়া পূর্ণ হয় না। অতএব, যে ব্যক্তি এই গুণাবলি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করল, সে পূর্ণাঙ্গ পূর্ণতা লাভ করল। আর যার মধ্য থেকে এর কিছু অংশ ছুটে গেল, তার মাঝে যা বিদ্যমান তা থাকা সত্ত্বেও সে অপূর্ণতা থেকে মুক্ত হতে পারল না … তিনি বলেন: আর বালাগাত হলো

উত্তমভাবে বোঝানোর জন্য শব্দ নির্বাচন করা।

এগুলো হলো আলঙ্কারিকদের একদল মনীষীর উক্তি, যেখানে তাঁরা প্রত্যেকে নিজের ধারণা অনুযায়ী বালাগাতের স্বরূপ নির্ধারণ করেছেন। এসব থেকে বালাগাতের সংজ্ঞাকে এভাবে নির্ধারণ করা যায় যে: প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘায়ন বা সংক্ষেপণের মাধ্যমে কথাকে তার উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা, এবং সঠিক ও প্রাঞ্জল ভাষার মাধ্যমে অর্থের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটানো, যা মনের ওপর এক মনোমুগ্ধকর প্রভাব বিস্তার করে, সাথে সাথে প্রতিটি কথাকে তার প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট এবং শ্রোতাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

সম্ভবত আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন জামিলের প্রদত্ত বালাগাতের সংজ্ঞাটিই এই সংজ্ঞার অধিকতর নিকটবর্তী। অনুরূপভাবে আবুল হাসান আর-রুম্মানির বালাগাত সংক্রান্ত ধারণাটি এর মূল ও আলোচনার বিষয়বস্তুর সাথে অধিকতর নিবিড়ভাবে যুক্ত।

তবে বালাগাত এর আগে ও পরে মূলত একটি বাচনিক শিল্প, যা প্রতিভা, সহজাত যোগ্যতা, সৌন্দর্যের সূক্ষ্ম উপলব্ধি এবং বিভিন্ন প্রকাশভঙ্গির মধ্যকার লুকায়িত পার্থক্য নিরূপণের ওপর নির্ভরশীল। বালাগাতের শিক্ষার্থীর জন্য দুটি বিষয় অপরিহার্য: সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কীর্তিগুলোর গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন পাঠ এবং সেখান থেকে উত্তম অংশগুলো মুখস্থ রাখা, আর সময় সময় মনে যা উদিত হয় বা মনে যে ভাবের উদ্রেক ঘটে তা প্রকাশের অনুশীলন করা। কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দুটি বিষয়ের সমন্বয় সাহিত্যিক রুচি গঠন এবং সাহিত্যকর্মের সমালোচনা ও মূল্যায়নে সহায়তা করে।

পূর্বোক্ত আলঙ্কারিকদের উক্তিগুলোর মধ্যে বালাগাতের উপাদানসমূহ অন্বেষণ করাও অত্যন্ত সহজ।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১১)
البلاغة، وهذه العناصر هي: اللفظ، والمعنى، وتأليف الألفاظ على نحو يمنحها قوة وتأثيرا حسنا، ثم الدقة في اختيار الكلمات والأساليب على حسب مواطن الكلام، وموضوعاته، وحال السامعين، والنزعة النفسية التي تسيطر عليهم.

وعلى هذا فلا بد للبليغ من التفكير في المعاني التي تموج في نفسه على أن تكون صادقة قوية يتجلى فيها أثر الابتكار وسلامة الذوق في تنسيقها وحسن ترتيبها، فإذا تحقق له ذلك اختار لها من الألفاظ الواضحة المؤثرة ما يتلاءم وطبيعتها ويعبر عنها أجمل تعبير. ومع ذلك ينبغي أن نتذكر دائما أن البلاغة ليست في اللفظ وحده، وليست في المعنى وحده، وإنما هي في الارتباط العضوي بينهما، وأثر لازم لسلامتهما وانسجامهما.

هذا عن البلاغة، أما بلاغة الكلام فهي مطابقته لمقتضى الحال مع فصاحته، ومقتضى الحال مختلف تبعا لتفاوت مقامات الكلام، فمقام كل من التنكير، والإطلاق، والتقديم، والذكر يباين عكسه من التعريف، والقصر، والتأخير، والحذف، ومقام الفصل يباين مقام الوصل، ومقام الإيجاز يباين مقام الإطناب ومقام المساواة.

وارتفاع شأن الكلام في الحسن والقبول يكون بمطابقته للاعتبار المناسب، وانحطاط شأن الكلام يكون بعدم ذلك. فمقتضى الحال إذن هو الاعتبار المناسب.

وللبلاغة طرفان: طرف أعلى وهو حد الإعجاز وما يقرب منه، وطرف أسفل وهو ما إذا غير الكلام عنه إلى ما

دونه التحق عند البلغاء بأصوات الحيوانات، وبين هذين الطرفين مراتب كثيرة.

ولعلنا ندرك من كل ما تقدم أن البلاغة مرجعها إلى أمرين: تمييز الفصيح من غيره، والاحتراز عن الخطأ في تأدية المعنى المراد.

أما تمييز الفصيح من غيره فمنه ما يبين في علم متن اللغة، أو الصرف، أو
অলংকারশাস্ত্র; আর এর উপাদানগুলো হলো: শব্দ, অর্থ এবং শব্দগুলোকে এমনভাবে বিন্যস্ত করা যা সেগুলোকে শক্তি ও সুন্দর প্রভাব দান করে। অতঃপর বক্তব্যের স্থান-কাল, বিষয়বস্তু, শ্রোতাদের অবস্থা এবং তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী মানসিক ঝোঁক অনুযায়ী শব্দ ও শৈলী নির্বাচনে সূক্ষ্মতা বজায় রাখা।

আর এই প্রেক্ষিতে একজন বাগ্মী ব্যক্তির জন্য অবশ্যই তার মনে উথলে ওঠা অর্থগুলো নিয়ে এমনভাবে চিন্তা করতে হবে যেন সেগুলো সত্য ও শক্তিশালী হয় এবং সেগুলোর সমন্বয় ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রভাব ও সুরুচির বিশুদ্ধতা প্রকাশ পায়। যখন তার জন্য এটি অর্জিত হবে, তখন সে সেই অর্থের জন্য এমন স্পষ্ট ও প্রভাবশালী শব্দ নির্বাচন করবে যা তার প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং তাকে সর্বোত্তমভাবে ব্যক্ত করে। তা সত্ত্বেও আমাদের সর্বদা মনে রাখা উচিত যে, বাগ্মিতা কেবল শব্দের মধ্যে নয় এবং কেবল অর্থের মধ্যেও নয়, বরং তা হলো উভয়ের মধ্যকার এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক এবং তাদের বিশুদ্ধতা ও সুসমন্বয়ের এক অনিবার্য ফল।

এটি বাগ্মিতা সম্পর্কে; আর বক্তব্যের বাগ্মিতা হলো শব্দের সাবলীলতার সাথে পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী হওয়া। আর পরিস্থিতির চাহিদা বক্তব্যের প্রেক্ষাপটের ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন: অনির্দিষ্টকরণ, সাধারণীকরণ, অগ্রাধিকার দান এবং উল্লেখ করার প্রেক্ষাপটগুলো এর বিপরীত বিষয় অর্থাৎ নির্দিষ্টকরণ, সীমাবদ্ধকরণ, বিলম্বে আনয়ন এবং বিলোপের প্রেক্ষাপট থেকে ভিন্ন। তদ্রূপ পৃথকীকরণের প্রেক্ষাপটটি সংযোগের প্রেক্ষাপট থেকে এবং সংক্ষেপনের প্রেক্ষাপটটি দীর্ঘ আলোচনা ও সমতার প্রেক্ষাপট থেকে ভিন্ন।

বক্তব্যের সৌন্দর্য ও গ্রহণযোগ্যতার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় পরিস্থিতির উপযুক্ত বিবেচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে, আর বক্তব্যের মান ক্ষুণ্ণ হয় তার অভাবে। সুতরাং পরিস্থিতির চাহিদা হলো উপযুক্ত বিবেচনা।

বাগ্মিতার দুটি প্রান্ত রয়েছে: একটি উচ্চতর প্রান্ত যা হলো অলৌকিকত্বের সীমা বা তার নিকটবর্তী অবস্থা। আর একটি নিম্নতর প্রান্ত; বক্তব্য যদি তার থেকে নিচে পরিবর্তিত হয়ে যায় তবে বাগ্মীদের নিকট তা পশুর আওয়াজের সমতুল্য হয়ে যায়। এই দুই প্রান্তের মাঝে অনেক স্তর বিদ্যমান।

সম্ভবত পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি যে, বাগ্মিতার মূল ভিত্তি দুটি বিষয়ের ওপর: সাবলীল শব্দকে অন্য শব্দ থেকে পৃথক করা এবং উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশে ভুল থেকে বেঁচে থাকা।

সাবলীল শব্দকে অন্য শব্দ থেকে পৃথক করার বিষয়টি ভাষা তত্ত্ব, রূপতত্ত্ব অথবা... এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১২)
النحو، أو يدرك بالحس، وأما الاحتراز عن الخطأ في تأدية المعنى المراد فيكون عن طريق علم المعاني باستثناء المعنوي الذي يحترز عنه بعلم البيان.

 

‌‌الفصاحة:

وإذا ما انتقلنا من البلاغة إلى الفصاحة فإننا نرى أن الفصاحة في أصل الوضع اللغوي: الظهور والبيان، فهي من قولهم: أفصح فلان عما في نفسه إذا أظهره، والدليل على ذلك قول العرب: أفصح الصبح إذا ظهر وأضاء، وأفصح اللبن إذا انجلت عنه رغوته فظهر، وأفصح الأعجمي إذا أبان بعد أن لم يكن يفصح ويبين، وفصح اللحّان، أي كثير اللحن والخطأ، إذا عبر عما في نفسه وأظهره على جهة الصواب دون الخطأ.

وإذا كان الأمر كذلك فالفصاحة والبلاغة ترجعان إذن إلى معنى واحد وإن اختلف أصلاهما، لأن كل واحد منهما إنما هو الإبانة عن المعنى وإظهاره.

ويذكر أبو هلال العسكري نقلا عن بعض علماء العربية، أن الفصاحة تمام آلة البيان، فلهذا لا يجوز أن يسمى الله تعالى فصيحا، إذ كانت الفصاحة تتضمن معنى الآلة، ولا يجوز على الله تعالى الوصف بالآلة، وإنما يوصف كلامه بالفصاحة، لما يتضمن من تمام البيان.

والدليل على ذلك عنده أن الألثغ والتمتام لا يسميان فصيحين لنقصان آلتهما عن إقامة الحروف. وسمي الشاعر الأموي زياد بن سليمان مولى عبد القيس «زيادا الأعجم» لنقصان آلة نطقه عن إقامة الحروف (1).

فقد كان كسائر الأعاجم لا يستطيع لفظ العين والخاء، والصاد، فكان ينطق كلمات مثل «الحمار» «الهمار» و «دعوتك» «دأوتك» و «تصنع»

--------------------------------------------

(1) كتاب الصناعتين ص: 7 - 8.
নাহু (ব্যাকরণ), অথবা যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয়। আর উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশে ভুল থেকে বেঁচে থাকা ইলমুল মা'আনী-র মাধ্যমে অর্জিত হয়, তবে অর্থগত বিচ্যুতি থেকে ইলমুল বয়ান-এর মাধ্যমে রক্ষা পাওয়া যায়।

 

‌‌আল-ফাসাহাত (বাকপটুতা):

আমরা যখন বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) থেকে ফাসাহাত (বাকপটুতা)-এর দিকে দৃষ্টিপাত করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে, আভিধানিক উৎপত্তি অনুযায়ী ফাসাহাতের অর্থ হলো: প্রকাশ হওয়া এবং স্পষ্ট হওয়া। এটি আরবদের এই উক্তি থেকে এসেছে: 'অমুক ব্যক্তি তার মনের কথা ফাসাহাতের সাথে প্রকাশ করেছে' যখন সে তা ব্যক্ত করে। এর প্রমাণ হিসেবে আরবদের বক্তব্য হলো: 'ভোর স্পষ্ট হয়েছে' যখন তা প্রকাশিত ও আলোকিত হয়েছে। 'দুধ স্বচ্ছ হয়েছে' যখন তার ফেনা দূর হয়ে গেছে এবং তা দৃশ্যমান হয়েছে। 'অনারব ব্যক্তি স্পষ্টভাবে কথা বলেছে' যখন সে অস্পষ্টতার পর স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। আর 'ভুল উচ্চারণকারী শুদ্ধভাবে কথা বলেছে'—অর্থাৎ যে ব্যক্তি অত্যন্ত বেশি ভুল ও বিচ্যুতি করত—যখন সে তার মনের ভাব প্রকাশ করেছে এবং ভুলের পরিবর্তে সঠিক পদ্ধতিতে তা প্রকাশ করেছে।

যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে ফাসাহাত ও বালাগাত—উভয়ের মূল উৎপত্তি ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও—একই অর্থের দিকে ফিরে যায়। কারণ এদের প্রতিটিই হলো অর্থের স্পষ্টীকরণ এবং তা প্রকাশ করা।

আবু হিলাল আল-আসকারী কতিপয় ভাষাবিদের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ফাসাহাত হলো প্রকাশভঙ্গির উপকরণের পূর্ণতা। এই কারণে মহান আল্লাহ তাআলাকে 'ফাসিহ' (বাকপটু) হিসেবে অভিহিত করা জায়েজ নয়। কেননা ফাসাহাত শব্দটি 'আলাহ' বা উপকরণের (অঙ্গ/যন্ত্র) অর্থ অন্তর্ভুক্ত করে, অথচ মহান আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে উপকরণের বিশেষণ প্রদান করা জায়েজ নয়। তবে তাঁর কালাম বা বাণীকে ফাসাহাতের গুণে গুণান্বিত করা যায়, কারণ তা পূর্ণাঙ্গ সুস্পষ্টতা বজায় রাখে।

তার নিকট এর প্রমাণ হলো, যার উচ্চারণ জড়তা বা তোতলামি আছে, তাদের 'ফাসিহ' বলা হয় না; কারণ বর্ণ উচ্চারণে তাদের উপকরণের (বাগযন্ত্রের) অপূর্ণতা রয়েছে। উমাইয়া যুগের কবি যিয়াদ ইবনে সুলাইমান—যিনি আব্দুল কায়েসের আযাদকৃত গোলাম ছিলেন—তাকে 'যিয়াদুল আজাম' (অনারব যিয়াদ) বলা হতো, কারণ বর্ণ উচ্চারণে তার বাগযন্ত্রের সীমাবদ্ধতা ছিল (১)।

কেননা তিনি অন্যান্য অনারবদের মতো 'আইন', 'খা' এবং 'সোয়াদ' বর্ণগুলো উচ্চারণ করতে পারতেন না। তিনি 'আল-হিমার' শব্দের পরিবর্তে 'আল-হামার', 'দা'ওয়াতুকা' শব্দের পরিবর্তে 'দাআতুকা' এবং 'তাসনা' শব্দকে...

--------------------------------------------

(১) কিতাবু সিনাআতাইন, পৃষ্ঠা: ৭ - ৮।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১৩)
«تسنأ». ومع ما في هذه الألفاظ من القبح واللكنة فهو أعجم وشعره فصيح لتمام بيانه، كقوله في رثاء المهلب بن المغيرة:

قل للقوافل والقريّ إذا قروا … والباكرين وللمجدّ الرائح (1)

إن المروءة والسماحة ضمنا … قبرا بمرو على الطريق الواضح

فإذا مررت بقبره فاعقر به … كوم الهجان وكل طرف سابح (2)

فعلى هذا- كما يقول أبو هلال العسكري- تكون الفصاحة والبلاغة مختلفتين، وذلك أن الفاصحة تمام آلة البيان فهي مقصورة على اللفظ، لأن الآلة تتعلق باللفظ دون المعنى، والبلاغة إنما هي إنهاء المعنى إلى القلب، فكأنها مقصورة على المعنى.

وقد استدل أبو هلال على أن الفصاحة تتضمن اللفظ والبلاغة تتناول المعنى بالببغاء، فالببغاء يسمى فصيحا ولا يسمى بليغا، إذ هو مقيم الحروف، وليس له قصد إلى المعنى الذي يؤديه.

ويرى أبو هلال كذلك أنه يجوز أن يسمى الكلام الواحد فصيحا بليغا إذا كان واضح المعنى، سهل اللفظ، جيد السبك، غير مستكره فجّ ولا متكلف وخم، ولا يمنعه من أحد الاسمين شيء، لما فيه من إيضاح المعنى وتقويم الحروف.

ويذهب قوم إلى أن الكلام لا يسمى فصيحا حتى يجمع مع نعوت الجودة فخامة وشدة جزالة، فإذا جمع الكلام نعوت الجودة ولم يكن فيه فخامة وفضل جزالة سمي بليغا ولم يسم فصيحا، ويضربون لذلك مثلا قول إبراهيم بن العباس الصولي:

--------------------------------------------

(1) القري: كل شيء على طريق واحد. إذا قروا: إذا ساروا في الأرض.

(2) العقر: قطع قوائم الفرس أو البعير أو الشاة بالسيف تمكينا من نحرها وذبحها. وكان العرب يعقرون الإبل على قبور الموتى، أي ينحرونها، ويقولون: إن صاحب القبر كان يعقر للأضياف أيام حياته فنكافئه بمثل صنيعه بعد وفاته. كوم الهجان: الإبل الكريمة البيضاء الضخمة السنام. الطرف: الكريم من الخيل.
«তাসনা' (Tasnā')»। এই শব্দগুলোর মধ্যে যে কুশ্রীতা ও উচ্চারণ জড়তা রয়েছে, তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন একজন অ-আরব (আজাম), তবে তাঁর কাব্য ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সুপষ্ট, যেমন আল-মুহাল্লাব ইবনে আল-মুগিরার শোকগাথায় তিনি বলেছেন:

কাফেলা এবং পথচারীদের বলে দাও যখন তারা পথ চলে … এবং যারা ভোরে রওনা দেয় আর যারা বিকেলে দ্রুত চলে (১)

নিশ্চয়ই মনুষ্যত্ব ও বদান্যতা সমাহিত হয়েছে … মার্ভ (Marv) শহরের একটি কবরে, যা সুষ্পষ্ট রাস্তার পাশেই অবস্থিত

সুতরাং তুমি যখনই তার কবরের পাশ দিয়ে যাবে, তখন সেখানে উৎসর্গ করো … সাদা ও উঁচু কুঁজবিশিষ্ট উট এবং প্রতিটি দ্রুতগামী অভিজাত ঘোড়া (২)

সেই অনুযায়ী—যেমন আবু হিলাল আল-আসকারি বলেন—ফাসাহাত (বাকপটুতা) ও বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। কারণ, ফাসাহাত হলো বাচনভঙ্গির পূর্ণতা, যা শুধুমাত্র শব্দের সাথেই সংশ্লিষ্ট; যেহেতু বাকযন্ত্র শব্দের সাথে সম্পৃক্ত, অর্থের সাথে নয়। আর বালাগাত হলো অন্তরে অর্থ পৌঁছে দেওয়া, তাই এটি কেবল অর্থের সাথেই সংশ্লিষ্ট বলে গণ্য হয়।

আবু হিলাল ফাসাহাত যে শব্দের সাথে এবং বালাগাত যে অর্থের সাথে সম্পৃক্ত, তার প্রমাণ হিসেবে তোতাপাখির উদাহরণ দিয়েছেন। তোতাপাখিকে 'ফাসিহ' (স্পষ্টভাষী) বলা হয় কিন্তু 'বালিগ' (বাগ্মী/আলঙ্কারিক) বলা হয় না, কারণ সে বর্ণগুলো সঠিকভাবে উচ্চারণ করে ঠিকই, কিন্তু যে অর্থ সে প্রকাশ করে তা সে উদ্দেশ্য করে না।

আবু হিলাল আরও মনে করেন যে, একই বক্তব্যকে 'ফাসিহ' ও 'বালিগ' উভয়ই বলা যেতে পারে যদি তার অর্থ স্পষ্ট হয়, শব্দগুলো সহজ হয়, গাঁথুনি চমৎকার হয়, কোনো শ্রুতিকটুতা বা রুক্ষতা না থাকে এবং কৃত্রিম বা বিরক্তিকর না হয়। অর্থের স্পষ্টতা ও বর্ণের সঠিক বিন্যাসের কারণে একে কোনো একটি নাম থেকে বঞ্চিত করার কোনো কারণ নেই।

একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, গুণগত উৎকর্ষের সাথে শব্দের গাম্ভীর্য ও উচ্চমার্গের দৃঢ়তা যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বাক্যকে 'ফাসিহ' বলা যায় না। যখন কোনো বাক্যে গুণগত উৎকর্ষ থাকে কিন্তু তাতে শব্দের গাম্ভীর্য ও বিশেষ দৃঢ়তা থাকে না, তখন তাকে 'বালিগ' বলা হয় কিন্তু 'ফাসিহ' বলা হয় না। তারা এর উদাহরণ হিসেবে ইব্রাহিম ইবনে আল-আব্বাস আস-সুলি-র এই উক্তিটি পেশ করেন:

--------------------------------------------

(১) আল-কুরিয়্যি: যা একই পথে চলে। ইযা ক্বারও: যখন তারা জমিনে ভ্রমণ করে।

(২) আল-আক্বর: ঘোড়া, উট বা বকরির পা তরবারি দিয়ে কেটে ফেলা যাতে সেগুলোকে নহর বা যবেহ করা সহজ হয়। আরবরা মৃত ব্যক্তিদের কবরের পাশে উট যবেহ করত এবং বলত: কবরের অধিবাসী তার জীবদ্দশায় মেহমানদের জন্য পশু যবেহ করত, তাই আমরা তার মৃত্যুর পর তার সেই কাজের প্রতিদান দিচ্ছি। কুমুল হিজান: সাদা রঙের বড় কুঁজবিশিষ্ট উৎকৃষ্ট উট। আত-তরফ: দ্রুতগামী অভিজাত ঘোড়া।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১৪)
تمر الصبا صفحا بساكنة الغضى … ويصدع قلبي أن يهب هبوبها (1)

قريبة عهد بالحبيب وإنما … هوى كل نفس حيث حل حبيبها

فالبيت الأول عندهم فصيح وبليغ لاشتماله على نعوت الجودة مع الفخامة والجزالة، والبيت الثاني بليغ وليس بفصيح، لتضمنه نعوت الجودة دون الفخامة والجزالة.

وربما كان ضياء الدين بن الأثير (2) أكثر من غيره تصورا وفهما لمعنى الفصاحة، وذلك حيث يقول: «لم يزل العلماء من قديم الوقت وحديثه يكثرون القول في الفصاحة والبحث عنها، ولم أجد من ذلك ما يعوّل عليه إلا القليل، وغاية ما يقال من هذا الباب أن الفصاحة هي الظهور والبيان في أصل الوضع اللغوي، يقال: أفصح الصبح إذا ظهر، ثم إنهم يقفون عند ذلك ولا يكشفون عن السر فيه، وبهذا القول لا تبين حقيقة الفصاحة، لأنه يعترض عليه بوجوه من الاعتراضات:

أحدها أنه إذا لم يكن اللفظ ظاهرا بينا لم يكن فصيحا، ثم إذا ظهر وتبين صار فصيحا.

الوجه الآخر أنه إذا كان اللفظ الفصيح هو الظاهر البين فقد صار ذلك بالنسب والإضافات إلى الأشخاص، فإن اللفظ قد يكون ظاهرا لزيد ولا يكون ظاهرا لعمرو، فهو إذن فصيح عند هذا غير فصيح عند هذا، وليس الأمر كذلك بل الفصيح هو الفصيح عند الجميع، لا خلاف فيه بحال من الأحوال، لأنه إذا تحقق حد الفصاحة وعرف ما هي، لم يبق في اللفظ الذي يختص به خلاف.

الوجه الأخير أنه إذا جيء بلفظ قبيح ينبو عنه السمع، وهو مع ذلك ظاهر بيّن ينبغي أن يكون فصيحا، وليس كذلك لأن الفصاحة وصف حسن

--------------------------------------------

(1) الصبا: الريح تهب من مطلع الشمس. الغضى: شجر من نبات الرمل. يصدع: يشق.

(2) كتاب المثل السائر لابن الأثير ص 26 - 27.
পূর্বালী বাতাস গাযা বৃক্ষের অধিবাসীদের পাশ দিয়ে অলসভাবে বয়ে যায় … আর তার প্রবাহিত হওয়া আমার হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেয়। (১)

এটি প্রিয়জনের সান্নিধ্যের খুব কাছের সময়ের, আর মূলত … প্রতিটি প্রাণের অনুরাগ সেখানেই থাকে যেখানে তার প্রিয়জন অবস্থান করে।

তাদের মতে প্রথম পঙক্তিটি বিশুদ্ধ (ফাসিহ) ও সাবলীল (বালিগ), কারণ এতে গাম্ভীর্য ও দৃঢ়তার সাথে উৎকর্ষের গুণাবলী বিদ্যমান। আর দ্বিতীয় পঙক্তিটি সাবলীল কিন্তু বিশুদ্ধ (ফাসিহ) নয়, কারণ এতে গাম্ভীর্য ও দৃঢ়তা ছাড়াই কেবল উৎকর্ষের গুণাবলী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সম্ভবত জিয়াউদ্দীন ইবনুল আসীর (২) বিশুদ্ধভাষিতার (ফাসাহাত) অর্থ অনুধাবন ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় অধিকতর অগ্রগামী ছিলেন। আর তা সেখানে প্রকাশ পেয়েছে যেখানে তিনি বলেন: «প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেমগণ নিরন্তর বিশুদ্ধভাষিতা সম্পর্কে অনেক কথা বলেছেন এবং এ নিয়ে গবেষণা করেছেন, কিন্তু আমি তার মধ্যে খুব সামান্যই নির্ভরযোগ্য বিষয় পেয়েছি। এই পরিচ্ছেদে যা কিছু বলা হয় তার সারকথা হলো— ভাষাগত বুৎপত্তি অনুযায়ী ফাসাহাত বা বিশুদ্ধতা হলো স্পষ্টতা ও প্রকাশ। বলা হয়ে থাকে: ‘ভোর স্পষ্ট হয়েছে’ যখন তা প্রকাশিত হয়। এরপর তারা সেখানেই থমকে যান এবং এর রহস্য উন্মোচন করেন না। এই সংজ্ঞার মাধ্যমে বিশুদ্ধভাষিতার প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট হয় না, কারণ এর ওপর কয়েক ধরনের আপত্তি উত্থাপিত হয়:

প্রথমত: যদি শব্দটি স্পষ্ট ও ব্যক্ত না হয় তবে তা বিশুদ্ধ হবে না, আবার যখন তা স্পষ্ট ও ব্যক্ত হবে তখন তা বিশুদ্ধ হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত: যদি বিশুদ্ধ শব্দ মানেই ‘স্পষ্ট ও ব্যক্ত’ হওয়া হয়, তবে তা ব্যক্তিভেদে আপেক্ষিক ও সম্বন্ধযুক্ত হয়ে পড়বে। কারণ একটি শব্দ একজনের কাছে স্পষ্ট হতে পারে কিন্তু অন্যজনের কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে। এমতাবস্থায় তা একজনের কাছে বিশুদ্ধ কিন্তু অন্যজনের কাছে অশুদ্ধ হবে। অথচ বিষয়টি এমন নয়; বরং যা বিশুদ্ধ তা সবার কাছেই বিশুদ্ধ, এতে কোনো অবস্থাতেই কোনো দ্বিমত থাকে না। কেননা যখন বিশুদ্ধতার সীমা সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি কী তা জানা যায়, তখন সেই শব্দের ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ অবশিষ্ট থাকে না।

শেষ আপত্তিটি হলো, যদি এমন কোনো কদর্য শব্দ আনা হয় যা শ্রবণে কটু লাগে, কিন্তু তা সত্ত্বেও যদি তা স্পষ্ট ও ব্যক্ত হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিশুদ্ধ হওয়া উচিত। অথচ বিষয়টি সেরূপ নয়, কারণ বিশুদ্ধতা হলো একটি সৌন্দর্যের গুণ।

--------------------------------------------

(১) আস-সবা: সূর্যোদয়ের দিক থেকে প্রবাহিত বাতাস। আল-গাযা: বালুময় ভূমিতে জন্মানো এক প্রকার উদ্ভিদ। ইয়াসদাউ: বিদীর্ণ করা বা বিদীর্ণ হওয়া।

(২) ইবনুল আসীর রচিত কিতাব ‘আল-মাসালুস সায়েব’, পৃষ্ঠা ২৬ - ২৭।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১৫)
للفظ لا وصف قبح. فهذه الاعتراضات الثلاثة واردة على قول القائل:

«إن اللفظ الفصيح هو الظاهر البين من غير تفصيل» ثم يستطرد ابن الأثير فيقول: «ولما وقفت على أقوال الناس في هذا الباب ملكتني الحيرة ولم يثبت عندي منها ما أعول عليه. ولكثرة ملابستي هذا الفن ومعاركتي إياه انكشف لي السر فيه، وسأوضحه في كتابي هذا وأحقق القول فيه فأقول: إن الكلام الفصيح هو الظاهر البين، وأعني بالظاهر البين أن تكون ألفاظه مفهومة، لا يحتاج في فهمها إلى استخراج من كتاب لغة. وإنما كانت بهذه الصفة لأنها تكون مألوفة الاستعمال بين أرباب النظم والنثر دائرة في كلامهم، وإنما كانت مألوفة في الاستعمال

دائرة في الكلام دون غيرها من الألفاظ لمكان حسنها، وذلك أن أرباب النظم والنثر غربلوا اللغة باعتبار ألفاظها وسبروا … فاختاروا الحسن من الألفاظ فاستعملوه، ونفوا القبيح منها فلم يستعملوه، فحسن الاستعمال سبب استعمالها دون غيرها، واستعمالها دون غيرها سبب ظهورها وبيانها، فالفصيح إذن من الألفاظ هو الحسن».

«فإن قيل: من أي وجه علم أرباب النظم والنثر الحسن من الألفاظ حتى استعملوه، وعلموا القبيح منها حتى نفوه ولم يستعملوه؟.

قلت في الجواب: إن هذا من الأمور المحسوسة التي شاهدها من نفسها، لأن الألفاظ داخلة في حيز الأصوات، فالذي يستلذه السمع منها ويميل إليه هو الحسن، والذي يكرهه وينفر عنه هو القبيح. ألا ترى أن السمع يستلذ صوت البلبل من الطير وصوت الشحرور ويميل إليهما، ويكره صوت الغراب وينفر عنه، وكذلك يكره نهيق الحمار ولا يجد ذلك في صهيل الفرس؟».

«والألفاظ جارية هذا المجرى، فإنه لا خلاف في أن لفظة المزنة (1) والديمة حسنة يستلذها السمع وأن لفظة البعاق قبيحة يكرهها السمع،

--------------------------------------------

(1) المزنة: السحابة ذات الماء.
শব্দের জন্য কোনো কুৎসিত বর্ণনা নেই। এই তিনটি আপত্তি ওই ব্যক্তির বক্তব্যের ওপর প্রযোজ্য হবে যে বলে:

«নিশ্চয়ই প্রাঞ্জল শব্দ হচ্ছে তা, যা কোনো প্রকার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই সুস্পষ্ট» এরপর ইবনুল আসির বিস্তারিত আলোচনা করে বলেন: «যখন আমি এই বিষয়ে মানুষের বক্তব্যগুলো অবগত হলাম, তখন আমি বিভ্রান্তিতে পড়ে গেলাম এবং এগুলোর মধ্যে আমার কাছে এমন কিছু স্থির হলো না যার ওপর আমি নির্ভর করতে পারি। এই শিল্পের সাথে আমার গভীর সংশ্লিষ্টতা এবং এ নিয়ে দীর্ঘকাল চর্চা করার ফলে এর রহস্য আমার কাছে উন্মোচিত হয়েছে। আমি আমার এই গ্রন্থে তা স্পষ্ট করব এবং এই বিষয়ে সুনিশ্চিত কথা বলব। আমি বলছি: প্রাঞ্জল কথা হচ্ছে তা যা সুস্পষ্ট। আর সুস্পষ্ট বলতে আমি বুঝাচ্ছি যে, তার শব্দগুলো হবে সহজবোধ্য, যা বোঝার জন্য অভিধানের কিতাব খুঁজার প্রয়োজন হবে না। এই শব্দগুলো এই গুণের অধিকারী হয়েছে কেবল এ কারণেই যে, এগুলো কাব্য ও গদ্য রচয়িতাদের নিকট ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচিত এবং তাদের কথার মধ্যে বহুল প্রচলিত। আর এই শব্দগুলো সৌন্দর্যমণ্ডিত হওয়ার কারণেই এগুলো অন্য সব শব্দের পরিবর্তে ব্যবহারে সুপরিচিত ও কথায় প্রচলিত হয়েছে।

এর কারণ এই যে, কাব্য ও গদ্য রচয়িতাগণ শব্দের নিরিখে ভাষাকে ছাঁকন করেছেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন … অতঃপর তারা শব্দাবলির মধ্য থেকে সুন্দরগুলো বেছে নিয়ে ব্যবহার করেছেন এবং কুৎসিতগুলোকে বর্জন করে তা ব্যবহার করেননি। সুতরাং সুশ্রী ব্যবহারের কারণেই অন্যান্য শব্দের পরিবর্তে এগুলো ব্যবহৃত হয়েছে এবং এগুলোর ব্যবহারই এদের স্পষ্টতা ও প্রকাশের কারণ হয়েছে। অতএব, শব্দের মধ্যে যা সুন্দর তাই হচ্ছে প্রাঞ্জল»।

«যদি প্রশ্ন করা হয়: কাব্য ও গদ্য রচয়িতাগণ শব্দের সৌন্দর্য কোন দিক থেকে জানতে পারলেন যার কারণে তারা তা ব্যবহার করলেন, আর এগুলোর কুৎসিত দিকটিই বা তারা কীভাবে জানলেন যার কারণে তারা তা বর্জন করলেন এবং ব্যবহার করলেন না?।

উত্তরে আমি বলব: এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যা মানুষ নিজের মধ্যেই প্রত্যক্ষ করে। কারণ শব্দাবলি হচ্ছে ধ্বনির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং শ্রবণেন্দ্রিয় যার মধ্যে তৃপ্তি পায় এবং যার প্রতি ঝুঁকে পড়ে তা-ই হচ্ছে সুন্দর। আর যা সে অপছন্দ করে এবং যা থেকে দূরে সরে যায় তা-ই হচ্ছে কুৎসিত। আপনি কি দেখেন না যে, শ্রবণেন্দ্রিয় পাখিদের মধ্যে বুলবুলি এবং শাহরুর পাখির কণ্ঠে তৃপ্তি পায় এবং সেগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়ে, আর কাকের ডাক অপছন্দ করে এবং তা থেকে দূরে সরে যায়? তদ্রূপ সে গাধার ডাক অপছন্দ করে কিন্তু ঘোড়ার ডাকের ক্ষেত্রে তেমনটি পায় না?»।

«শব্দাবলিও এই নিয়মেই চলে। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, মুজনা (১) এবং দাইমাহ শব্দ দুটি সুন্দর যা শ্রবণেন্দ্রিয় উপভোগ করে, আর বাআক শব্দটি কুৎসিত যা শ্রবণেন্দ্রিয় অপছন্দ করে,

--------------------------------------------

(১) মুজনা: পানিপূর্ণ মেঘমালা।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذه اللفظات الثلاثة من صفة المطر، وهي تدل على معنى واحد، ومع هذا فإنك ترى لفظتي المزنة والديمة وما جرى مجراهما مألوفة الاستعمال، وترى لفظ البعاق وما جرى مجراه متروكا لا يستعمل، وإن استعمل فإنما يستعمله جاهل بحقيقة الفصاحة أو من ذوقه غير سليم …

وإذن ثبت أن الفصيح من الألفاظ هو الظاهر البين، وإنما كان ظاهرا بينا لأنه مألوف الاستعمال، وإنما كان مألوف الاستعمال لمكان حسنه، وحسنه مدرك بالسمع، والذي يدرك بالسمع إنما هو اللفظ، لأنه صوت يأتلف عن مخارج الحروف.

فما استلذه السمع منه فهو الحسن، وما كرهه فهو القبيح، والحسن هو الموصوف بالفصاحة، والقبيح غير موصوف بفصاحة لأنه ضدها لمكان قبحه.

وقد مثلت ذلك في المتقدم بلفظة المزنة والديمة ولفظة البعاق، ولو كانت الفصاحة أمرا يرجع إلى المعنى لكانت هذه الألفاظ في الدلالة عليه سواء، ليس منها حسن وليس منها قبيح، ولما لم يكن كذلك علمنا أن «الفصاحة» تخص اللفظ دون المعنى.

وليس لقائل ههنا أن يقول: لا لفظ إلا بمعنى، فكيف فصلت أنت بين اللفظ والمعنى؟ فإني لم أفصل بينهما وإنما خصصت اللفظ بصفة هي له، والمعنى يجيء ضمنا وتبعا».

وتدعيما لرأيه السابق في قضية الحسن والقبح في اللفظ، وردا على من ينكر ذلك ويزعم أن كل الألفاظ حسن وأن الواضع لم يضع إلا حسنا، يقول ابن الأثير (1) في موضع آخر من كتابه: «ومن له أدنى بصيرة يعلم أن للألفاظ في الأذن نغمة لذيذة كنغمة أوتار وصوتا منكرا كصوت حمار، وأن لها في الفم أيضا حلاوة كحلاوة العسل ومرارة كمرارة الحنظل، وهي على

--------------------------------------------

(1) المثل الثائر ص 59.
এই তিনটি শব্দ বৃষ্টির গুণবাচক শব্দ এবং এগুলো একই অর্থ প্রকাশ করে। তা সত্ত্বেও আপনি দেখবেন যে, 'আল-মুজনা' ও 'আদ-দিমাহ' এবং এদের সদৃশ শব্দগুলো ব্যবহারে সুপরিচিত। অন্যদিকে 'আল-বুয়াক' এবং এর সদৃশ শব্দগুলো পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত। যদি এগুলো ব্যবহার করাও হয়, তবে তা কেবল অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অজ্ঞ কোনো ব্যক্তি অথবা যার রুচি সঠিক নয় সে-ই করে থাকে …

সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, শব্দাবলীর মধ্যে প্রাঞ্জল (ফাসিহ) হলো সেই শব্দ যা সুস্পষ্ট ও প্রকট। আর এটি সুস্পষ্ট ও প্রকট হওয়ার কারণ হলো এটি ব্যবহারে সুপরিচিত। আর ব্যবহারে সুপরিচিত হওয়ার কারণ হলো এর সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্য শ্রবণের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। আর শ্রবণের মাধ্যমে যা অনুভূত হয় তা হলো শব্দ, কারণ এটি বর্ণের উচ্চারণস্থল থেকে নির্গত একটি ধ্বনিসমষ্টি।

অতএব, শ্রবণ যার দ্বারা তৃপ্ত হয় তা-ই সুন্দর, আর যা সে অপছন্দ করে তা-ই কদর্য। সুন্দর শব্দকেই প্রাঞ্জলতা গুণে গুণান্বিত করা হয়। আর কদর্য শব্দকে প্রাঞ্জল বলা হয় না, কারণ এটি তার কদর্যতার কারণে প্রাঞ্জলতার বিপরীত।

ইতিপূর্বে আমি 'আল-মুজনা', 'আদ-দিমাহ' এবং 'আল-বুয়াক' শব্দের মাধ্যমে এর উদাহরণ দিয়েছি। যদি প্রাঞ্জলতা কেবল অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হতো, তবে অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই শব্দগুলো সমান হতো; এদের মধ্যে কোনটি সুন্দর আর কোনটি কদর্য হতো না। যেহেতু বিষয়টি তেমন নয়, তাই আমরা জানতে পারলাম যে 'প্রাঞ্জলতা' (ফাসাহাত) বিশেষত শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থের সাথে নয়।

এখানে কোনো বক্তার এমনটি বলার সুযোগ নেই যে: 'অর্থ ছাড়া কোনো শব্দ নেই, তাহলে আপনি শব্দ ও অর্থের মধ্যে কীভাবে পার্থক্য করলেন?' কারণ আমি তাদের মধ্যে পার্থক্য করিনি, বরং আমি শব্দকে এমন একটি গুণের সাথে সুনির্দিষ্ট করেছি যা তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, আর অর্থ সেখানে আনুষঙ্গিক ও অনুগামী হিসেবে আসে।

শব্দের সৌন্দর্য ও কদর্যতা বিষয়ে তাঁর পূর্ববর্তী মতের সমর্থনে এবং যারা এটি অস্বীকার করে দাবি করে যে সকল শব্দই সুন্দর এবং ভাষানির্মাতা কেবল সুন্দর শব্দই তৈরি করেছেন, তাদের প্রতিবাদে ইবনুল আসির (১) তাঁর কিতাবের অন্য স্থানে বলেন: "সামান্যতম অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিও জানেন যে, কানে শব্দের একটি সুমধুর সুর রয়েছে যেমন তন্তুর সুর, আবার একটি বিকট শব্দও রয়েছে যেমন গাধার ডাক। মুখগহ্বরেও এর মিষ্টতা রয়েছে যেমন মধুর মিষ্টতা, আবার তিক্ততাও রয়েছে যেমন মাকাল ফলের তিক্ততা। আর তা..."

--------------------------------------------

(১) আল-মাসালুস সাইর, পৃ. ৫৯।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১৭)
ذلك تجري مجرى النغمات والطعوم».

«ومن يبلغ جهله إلى أن لا يفرق بين لفظة الغصن ولفظة العسلوج (1)، وبين لفظة المدامة ولفظة الإسفنط (2)، وبين لفظة السيف ولفظة الخنشليل، وبين لفظة الأسد ولفظة الفدوكس (3)، فلا ينبغي أن يخاطب بخطاب، ولا يجاوب بجواب، بل يترك وشأنه».

…

 

ولعل من المفيد أن نفرق منذ البدء بين البلاغة العربية والنقد الأدبي حيث لكل منهما ميدانه الخاص وفلكه الذي يدور فيه. فالبلاغة العربية تقف عند حدود البحث في مظاهر الجمال الحسي والمعنوي في المفردات والجمل، أما البحث في القيمة الجمالية للنص الأدبي المتكامل في أي صورة من صوره، فهذا من وظيفة النقد الأدبي.

وعلى هذا المفهوم فإن البلاغة العربية تقدم بنظرياتها للناقد أهم الأدوات التي تعينه على تقييم الأعمال الأدبية والحكم عليها.

وما دام ميدان البلاغة العربية قاصرا على البحث في مظاهر الجمال الحسي والمعنوي في المفردات والجمل، وما دمنا نحاول دراسة علم المعاني الذي هو أحد علوم البلاغة العربية، فإن الأمر يستأدينا قبل الانتقال إلى مباحث هذا العلم تفصيلا أن نستكمل الكلام عن الفصاحة والبلاغة.

…

 

لقد عرفنا مما سبق حد كل من الفصاحة والبلاغة، وخلاصته أن الفصاحة يوصف بها المفرد والكلام والمتكلم، فيقال: لفظة فصيحة، وكلام فصيح، ورجل فصيح. أما البلاغة فيوصف بها الكلام والمتكلم فقط، فيقال: كلام بليغ، ورجل بليغ. وبين الاثنين عموم وخصوص مطلق،

--------------------------------------------

(1) العسلوج: الغصن الناعم لسنته.

(2) الإسفنط: اسم من أسماء الخمر فارسي معرب، وقيل رومي معرب.

(3) الفدوكس: الأسد.
এগুলো সুর ও স্বাদের ন্যায় বহমান।

«আর যার অজ্ঞতা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সে শাখা এবং কোমল শাখার (১) মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, মদিরা এবং সুরার (২) মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, তলোয়ার এবং তীক্ষ্ণ তলোয়ারের মধ্যে পার্থক্য জানে না, এবং সিংহ ও কেশরীর (৩) মধ্যে পার্থক্য বোঝে না, তবে তার সাথে কোনো কথা বলা অনুচিত, তাকে কোনো উত্তর প্রদান করাও সমীচীন নয়; বরং তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া উচিত।»

…

 

সম্ভবত শুরুতেই আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) এবং সাহিত্য সমালোচনার (নাকদ আদবি) মধ্যে পার্থক্য করা ফলপ্রসূ হবে, যেহেতু এগুলোর প্রত্যেকটির নিজস্ব ক্ষেত্র এবং বিচরণ পরিমণ্ডল রয়েছে। আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র শব্দ ও বাক্যের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অর্থগত সৌন্দর্যের দিকগুলো অনুসন্ধানের সীমানায় অবস্থান করে। আর যেকোনো রূপের একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্মের নান্দনিক মান নিয়ে গবেষণা করা সাহিত্য সমালোচনার দায়িত্ব।

এই ধারণা অনুযায়ী, আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র তার তত্ত্বগুলোর মাধ্যমে সমালোচকের সম্মুখে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ উপস্থাপন করে যা তাকে সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন ও বিচার করতে সহায়তা করে।

যেহেতু আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্র শব্দ ও বাক্যের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অর্থগত সৌন্দর্যের অনুসন্ধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এবং যেহেতু আমরা 'ইলমুল মাআনি' (অর্থবিজ্ঞান) অধ্যয়নের প্রয়াস পাচ্ছি—যা আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যতম শাখা—তাই এই শাস্ত্রের বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে ফাসাহাত (বাকপটুতা) ও বালাগাত (অলঙ্কারতত্ত্ব) সম্পর্কে আলোচনা সমাপ্ত করা আমাদের জন্য আবশ্যক।

…

 

আমরা পূর্বের আলোচনা থেকে ফাসাহাত এবং বালাগাত উভয়ের সংজ্ঞা জেনেছি। এর সারকথা হলো, ফাসাহাত গুণটি একক শব্দ, বাক্য এবং বক্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ফলে বলা হয়: প্রাঞ্জল শব্দ, প্রাঞ্জল বাক্য এবং প্রাঞ্জল বক্তা। অন্যদিকে বালাগাত গুণটি কেবল বাক্য এবং বক্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ফলে বলা হয়: আলঙ্কারিক বাক্য এবং আলঙ্কারিক বক্তা। এই দুইয়ের মধ্যে সাধারণ ও বিশেষত্বের (উমুম ওয়া খুসুস মুতলাক) সম্পর্ক বিদ্যমান...

--------------------------------------------

(১) আসলাজ: বছরের নতুন কোমল শাখা।

(২) ইসফিন্ত: এটি মদের নামগুলোর মধ্যে একটি নাম, যা ফারসি থেকে আরবিকৃত, আবার বলা হয়েছে এটি রোমান থেকে আরবিকৃত।

(৩) ফাদুকস: সিংহ।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১৮)
فالفصاحة أعم والبلاغة أخص، فكل فصيح بليغ، وليس كل بليغ فصيحا.

وتتمثل فصاحة اللفظ أو المفرد في خلوه من ثلاثة أمور: تنافر الحروف، والغرابة، ومخالفة القياس.

فتنافر الحروف هو في مثل لفظة «مستشزرات» من قول امرئ القيس:

غدائره مستشزرات إلى العلا … تضل العقاص في مثنّى ومرسل

فالشاعر هنا يصف غزارة شعر حبيبته، فيقول: إن حبيبته لكثرة شعرها بعضه مرفوع، وبعضه مثنى، وبعضه مرسل، وبعضه معقوص ملوى بين المثنى والمرسل.

وموضع الشاهد على التنافر هنا هو لفظة «مستشزرات» بمعنى «مرتفعات» فهي لفظة مستكرهة لثقلها على اللسان وعسر النطق بها. فتنافر الحروف فيها أدى إلى ثقلها وصعوبة التلفظ بها، وهذا بدوره أنقص من فصاحتها وقلل من فصاحة البيت وجماله. ولا ضابط لمعرفة الثقل والصعوبة في اللفظ سوى الذوق السليم المكتسب بطول النظر في كلام البلغاء وممارسة أساليبهم.

وغرابة اللفظ أو المفرد مثل لفظة «مسرجا» بتشديد الراء التي وردت في بيت من أرجوزة طويلة لرؤبة بن العجاج يقول فيها:

والسخط قطاع رجاء من رجا … أزمان أبدت واضحا مفلّجا

أغر براقا وطرفا أبرجا … ومقلة وحاجبا مزججا

وفاحما ومرسنا مسرّجا … وكفلا وعثا إذا ترجرجا

فالفاحم هنا الأسود، وأراد به الشاعر شعرا أسود فاحما، والمرسن الأنف الذي يشد بالرسن ثم استعير لأنف الإنسان، أما مسرجا وهي اللفظة الغريبة هنا فمختلف في تخريجها، فقيل من سرّجه تسريجا، أي
ফাসাহাত (শব্দগত প্রাঞ্জলতা) হলো ব্যাপক এবং বালাগাত (ভাবগত সাবলীলতা) হলো বিশেষ; অতএব প্রত্যেক ফাসিহ ব্যক্তিই বালিগ, কিন্তু প্রত্যেক বালিগ ব্যক্তি ফাসিহ নয়।

শব্দ বা একক পদের ফাসাহাত তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত হওয়ার মধ্যে নিহিত: বর্ণের কর্কশতা, শব্দের অপরিচিতি এবং ভাষাগত নিয়মের লঙ্ঘন।

বর্ণের কর্কশতা হলো ইমরুল কায়েসের উক্তিতে ব্যবহৃত ‘মুস্তাশযিরাত’ শব্দের ন্যায়:

তার কেশগুচ্ছগুলো ঊর্ধ্বমুখী করে বিন্যস্ত … চুলের ভাঁজ ও বিন্যাসের মাঝে চুলের কাঁটাগুলো হারিয়ে যায়।

এখানে কবি তার প্রেমিকার চুলের প্রাচুর্যের বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলছেন যে, তার প্রেমিকার চুল এতই ঘন যে তার কিছু অংশ উপরে উঠানো, কিছু অংশ ভাঁজ করা, কিছু অংশ এলানো এবং কিছু অংশ ভাঁজ ও এলানো অংশের মাঝে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে।

এখানে বর্ণের কর্কশতার উদাহরণ হলো ‘মুস্তাশযিরাত’ শব্দটি, যার অর্থ হলো ‘উন্নত বা উচ্চে অবস্থিত’। জিহ্বার কাছে শব্দটির ভারিক্কি ভাব এবং উচ্চারণের কঠিনতার কারণে এটি একটি শ্রুতিকটু শব্দ। এতে বিদ্যমান বর্ণের পারস্পরিক সংঘাত শব্দটিকে ভারী করে তুলেছে এবং উচ্চারণকে দুঃসাধ্য করেছে, যা শব্দটির ফাসাহাত বা প্রাঞ্জলতা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং কবিতার চরণের সৌন্দর্য কমিয়ে দিয়েছে। শব্দের এই ভারিক্কি ভাব এবং কাঠিন্য অনুধাবনের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণিক নিয়ম নেই, বরং অলঙ্কারবিদদের বাণী দীর্ঘকাল ধরে পর্যবেক্ষণ এবং তাদের রচনাশৈলী অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জিত নির্মল রুচিবোধই এর একমাত্র মানদণ্ড।

শব্দের অপরিচিতি বা অস্পষ্টতার উদাহরণ হলো ‘মুসাররাজান’ শব্দটি (রা বর্ণে তাশদিদসহ), যা রুবা বিন আল-আজজাজের একটি দীর্ঘ কবিতার চরণে এসেছে, যেখানে তিনি বলেন:

ক্রোধ হলো আশাবাদীর আশার বিচ্ছেদকারী … সেই সময়ের, যখন সে তার উজ্জ্বল ও ফাঁকবিশিষ্ট দাঁত উন্মোচন করেছিল।

জ্যোতির্ময় ললাট ও ডাগর চোখ … আর আঁখিপল্লব ও নিখুঁত দীর্ঘ ভ্রু।

কুচকুচে কালো কেশ এবং প্রদীপ্ত নাসিকা … আর মাংসল নিতম্ব যা নড়াচড়ার সময় কম্পিত হয়।

এখানে ‘ফাহিম’ অর্থ হলো কালো, কবি এর দ্বারা কুচকুচে কালো চুল বুঝিয়েছেন। ‘মারসান’ অর্থ হলো নাক, যা মূলত পশুর নাকের লাগাম বাঁধার স্থানকে বলা হয়, পরবর্তীতে মানুষের নাকের জন্য রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ‘মুসাররাজান’ শব্দটি এখানে একটি অপরিচিত শব্দ, যার বুৎপত্তিগত বিশ্লেষণে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়ে থাকে এটি ‘সাররাজাহু তাসরিজান’ থেকে আগত, অর্থাৎ—
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১৯)
حسّنه وبهّجه، وقيل من قولهم: سيوف سريجية منسوبة إلى قين يقال له سريج، شبه بها (السيوف) الأنف في الدقة والاستواء، وقيل من السراج، وهو قريب من قولهم: سرج وجهه بكسر الراء أي حسن، والزجج دقة الحاجبين.

والمعنى أن لهذه المرأة الموصوفة ثنايا بيضاء مفلجة، ومقلة واسعة حسنة سوداء، وحاجبا مدققا مقوسا،

وشعرا أسود فاحما، وأنفا كالسيف السريجي في دقته واستوائه، أو كالسراج في بريقه وضيائه. وشاهد الغرابة فيه هو في لفظة «مسرجا» للاختلاف في تخريجها. فاللفظة إذا دلت على أكثر من معنى، واختلف في تحديد المعنى المراد منها في موضعها فإنها تكتسب بذلك صفة الغرابة التي تنتقص من درجة فصاحتها.

أما مخالفة القياس فمثل لفظة «الأجلل» التي وردت في بيت من أرجوزة طويلة أيضا لأبي النجم الفضل بن قدامة العجلي، أحد رجاز الإسلام والتي منها:

الحمد لله العلي الأجلل … الواهب الفضل الوهوب المجزل

أعطى فلم يبخل ولما يبخل

فالشاهد هنا هو مخالفة القياس اللغوي في قوله «الأجلل» إذ القياس القياس «الأجل» بالادغام. هذا كله بالنسبة إلى فصاحة المفرد.

أما فصاحة الكلام أو التركيب فتتمثل في خلوصه، وسلامته من ثلاثة أمور أيضا هي: ضعف التأليف، وتنافر الألفاظ، والتعقيد لفظيا ومعنويا مع فصاحة المفردات التي يتألف منها.

فضعف التأليف في الكلام خروجه عن قواعد اللغة المطردة كرجوع الضمير على متأخر لفظا ورتبة في قول حسان بن ثابت:

ولو أن مجدا أخلد الدهر واحدا … من الناس أبقى مجده الدهر مطعما
তিনি এটিকে সৌন্দর্যমন্ডিত ও উজ্জ্বল করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি তাদের এই উক্তি থেকে গৃহীত: 'সুরাইজি তলোয়ার', যা সুরাইজ নামক জনৈক কর্মকারের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। সূক্ষ্মতা ও সমান্তরালতার দিক থেকে নাকের সাদৃশ্য দেওয়া হয়েছে সেই তলোয়ারের সাথে। আবার বলা হয়েছে যে, এটি 'সিরাজ' (প্রদীপ) থেকে এসেছে, যা তাদের উক্তি 'সারিজা ওয়াজহুহু' (র-এর নিচে কাসরা যোগে, অর্থাৎ তার মুখমন্ডল সুন্দর হয়েছে) এর কাছাকাছি। আর 'আয-যাজাজ' হলো ভ্রূদ্বয়ের সূক্ষ্মতা।

এর অর্থ হলো, এই বর্ণিত মহিলার সামনের দাঁতগুলো শুভ্র ও সুবিন্যস্তভাবে পৃথকীকৃত, তার চোখের মণি প্রশস্ত, সুন্দর ও কালো এবং ভ্রূ সূক্ষ্ম ও ধনুকাকৃতি।

তার কেশরাশি কুচকুচে কালো এবং নাকটি তার সূক্ষ্মতা ও সমান্তরালতায় সুরাইজি তলোয়ারের ন্যায় অথবা উজ্জ্বলতা ও দীপ্তিতে প্রদীপের ন্যায়। এখানে শব্দের দুর্বোধ্যতার (গারাবাত) বিষয়টি হলো 'মুসাররাজান' শব্দটিতে, কারণ এর ব্যুৎপত্তিগত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। কোনো শব্দ যখন একাধিক অর্থ প্রকাশ করে এবং প্রেক্ষাপট অনুযায়ী উদ্দিষ্ট অর্থটি নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন তা দুর্বোধ্যতার (গারাবাত) বৈশিষ্ট্য লাভ করে, যা সেই শব্দের সাবলীলতার (ফাসাহাত) মান কমিয়ে দেয়।

আর ব্যাকরণগত নিয়মের লঙ্ঘনের (মুখালাফাতুল কিয়াস) উদাহরণ হলো 'আল-আঝলাল' শব্দটি, যা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজয কবি আবু নাজম আল-ফাদল ইবনে কুদামাহ আল-ইজলির একটি দীর্ঘ কবিতার চরণে এসেছে, যার একাংশ হলো:

সকল প্রশংসা মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর জন্য … যিনি শ্রেষ্ঠত্ব দানকারী এবং অঢেল অনুগ্রহ বর্ষণকারী।

তিনি দান করেছেন তাই কৃপণতা করেননি, আর তিনি কখনো কৃপণতা করেন না।

এখানে প্রমাণের বিষয়টি হলো 'আল-আঝলাল' শব্দে ভাষাগত নিয়মের বিরুদ্ধাচরণ; কারণ ব্যাকরণ অনুযায়ী ইদগাম বা সন্ধিযুক্ত করে এটি 'আল-আঝাল্লু' হওয়া আবশ্যক ছিল। এ সব কিছুই একক শব্দের বিশুদ্ধতা বা ফাসাহাত সম্পর্কিত।

আর বাক্যের বিশুদ্ধ অলঙ্কারিতা (ফাসাহাতুল কালাম) বা গাঠনিক বিশুদ্ধতা তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে অর্জিত হয়: দুর্বল বাক্যগঠন, শব্দের শ্রুতিকটুতা এবং শাব্দিক ও অর্থগত জটিলতা; যদিও বাক্যটি গঠনকারী প্রতিটি শব্দ পৃথকভাবে সাবলীল হয়।

বাক্যের দুর্বল গঠন (দা’ফুত তালিফ) বলতে ভাষার প্রচলিত ও সঠিক ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী হওয়াকে বোঝায়; যেমন শব্দ বা পদের মর্যাদার দিক থেকে পরে আসা কোনো বিষয়ের দিকে সর্বনামের প্রত্যাবর্তন করা, যেমনটি হাসান বিন সাবিতের কবিতায় দেখা যায়:

যদি মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব কালপ্রবাহে কাউকে অমরত্ব দান করত … তবে তার মহিমা মুত’আমকে চিরকাল জীবিত রাখত।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২০)
فالضمير في «مجده» يعود إلى «مطعما» وهو متأخر في اللفظ كما نرى في البيت، وفي الرتبة لأنه مفعول به، ورتبة المفعول متأخرة على رتبة الفاعل.

فالبيت لهذا غير فصيح.

وتنافر الألفاظ في الكلام أو التركيب، يعني أن يسبب اتصال بعض ألفاظ الكلام ببعض ثقلا على السمع وصعوبة في النطق بها، لأن النطق بالحروف المتقاربة في مخارجها أشبه بالمشي المقيد. ومثال ذلك قول الشاعر:

وقبر حرب بمكان قفر … وليس قرب قبر حرب قبر

ويقال إنه لا يتهيأ لأحد أن ينشد هذا البيت ثلاث مرات متواليات دون أن يتعتع (1)، أي يتلعثم. والسبب بطبيعة الحال واضح، لأن اجتماع كلمات البيت وقرب مخارج حروفها، يحدثان ثقلا ظاهرا على اللسان والسمع معا، مع أن

كل لفظة أو مفردة منه لو أخذت وحدها كانت غير مستكرهة ولا ثقيلة.

ومن تنافر الألفاظ في الكلام أو التركيب أيضا قول أبي تمام، حبيب ابن أوس الطائي، من قصيدة له يمدح بها أبا الغيث موسى بن إبراهيم ويعتذر إليه:

كريم متى أمدحه أمدحه والورى … معي، وإذا ما لمته لمته وحدي

فالتنافر هنا قد ولّده ما في قوله «أمدحه» من الثقل لقرب مخرج الحاء، من مخرج الهاء، لأن مخارج الحروف كلما قربت كانت الألفاظ مكدودة قلقة غير مستقرة في أماكنها، وإذا بعدت كانت بعكس الأول. ولهذا لم يوجد في كلام العرب اجتماع العين مع الغين ولا مع الحاء ولا مع الخاء، ولا اجتماع الطاء مع التاء حذرا من عسر النطق. وفي البيت أيضا ثقل آخر من جهة التكرار في «أمدحه» و «لمته».

ومن قبيح التنافر الناشئ عن التكرار قول الشاعر:

--------------------------------------------

(1) انظر شرح شواهد التلخيص ص: 13.
«মাজদাহু» (তার মর্যাদা) শব্দের সর্বনামটি «মুতইমান» এর দিকে ফিরেছে, যা এই পঙক্তিতে আমরা যেমন দেখছি শব্দগতভাবেও পরে এসেছে এবং পদমর্যাদাগতভাবেও পরে; কেননা এটি কর্ম (মাফউল বিহি), আর কর্মের স্থান সাধারণত কর্তার (ফায়েল) পরে হয়ে থাকে।

এই কারণে এই পঙক্তিটি বাগ্মীতা সম্পন্ন বা প্রাঞ্জল (ফাসিহ) নয়।

বাক্য বা বাচনে শব্দের অসামঞ্জস্যতা (তানাফুরুল আলফাজ) বলতে বোঝায় যে, বাক্যের কিছু শব্দ অন্যগুলোর সাথে এমনভাবে মিলিত হওয়া যা শ্রবণে ভারি বোধ হয় এবং উচ্চারণে কঠিন ঠেকে। কারণ উচ্চারণস্থলের (মাখরাজ) কাছাকাছি থাকা হরফগুলোর উচ্চারণ অনেকটা শৃঙ্খলিত অবস্থায় হাঁটার মতো কষ্টকর। এর উদাহরণ হলো কবির এই উক্তি:

আর হারবের কবর এক নির্জন স্থানে অবস্থিত … এবং হারবের কবরের নিকটে অন্য কোনো কবর নেই।

বলা হয়ে থাকে যে, তোতলামি বা জিব জড়ানো (১) ব্যতীত কেউ এই পঙক্তিটি টানা তিনবার পাঠ করতে সক্ষম নয়। এর কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট; কেননা পঙক্তিটির শব্দগুলোর সমাবেশ এবং তাদের হরফগুলোর উচ্চারণস্থলের নৈকট্য জিহ্বা ও শ্রবণ উভয়ের ওপর স্পষ্ট ভারিভাব সৃষ্টি করে, যদিও

এর প্রতিটি শব্দ বা একক পদ যদি আলাদাভাবে নেওয়া হতো, তবে তা অপছন্দনীয় বা ভারি মনে হতো না।

বাক্য বা বাচনে শব্দের অসামঞ্জস্যতার আরেকটি উদাহরণ হলো আবু তাম্মাম হাবিব ইবনে আউস আত-তাঈ-এর একটি কাসিদা, যেখানে তিনি আবুল গাইস মুসা বিন ইবরাহিমের প্রশংসা করছেন এবং তাঁর কাছে ওজর পেশ করছেন:

তিনি এমন এক মহানুভব যে, যখনই আমি তাঁর প্রশংসা করি, সৃষ্টির সকল জীব আমার সাথে প্রশংসা করে; আর যখন আমি তাঁকে তিরস্কার করি, কেবল আমি একাই তা করি।

এখানে অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়েছে তাঁর «আমদাহুহু» (আমি তাঁর প্রশংসা করি) উক্তির মধ্যে থাকা ভারিভাবের কারণে, যা 'হা' (حاء) এবং 'হা' (هاء) এর উচ্চারণস্থলের নৈকট্যের দরুন সৃষ্টি হয়েছে। কেননা হরফের উচ্চারণস্থলগুলো যখনই কাছাকাছি হয়, শব্দগুলো শ্রান্তিকর, অস্থির এবং নিজ স্থানে বিন্যস্ত থাকা কঠিন হয়ে পড়ে; আর যদি সেগুলো দূরবর্তী হয়, তবে বিষয়টি এর বিপরীত (সহজ) হয়। এই কারণেই আরবদের বাচনে 'গাইন', 'হা' বা 'খা' এর সাথে 'আইন' এর সমাবেশ দেখা যায় না, তেমনি উচ্চারণ কষ্টসাধ্য হওয়ার ভয়ে 'তা' এর সাথে 'ত্বা' এর মিলনও দেখা যায় না। এছাড়া পঙক্তিটিতে «আমদাহুহু» এবং «লুমতুহু» শব্দ দুটির পুনরাবৃত্তির কারণেও এক ধরনের ভারিভাব তৈরি হয়েছে।

পুনরাবৃত্তি থেকে উৎপন্ন কুৎসিত অসামঞ্জস্যতার আরেকটি উদাহরণ হলো কবির উক্তি:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শারহু শাওয়াহিদিত তালখিস, পৃষ্ঠা: ১৩।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২১)
وازورّ من كان له زائرا … وعاف عافي العرف عرفانه (1)

كذلك يشترط في فصاحة الكلام أو التركيب أن يسلم من التعقيد اللفظي الذي يترتب عليه خفاء الدلالة على المعنى المراد في الكلام بسبب تأخير الكلمات أو تقديمها عن مواطنها الأصلية، أو بالفصل بين الكلمات التي يجب أن تتجاوز ويتصل بعضها ببعض، وذلك كقول الفرزدق من قصيدة يمدح بها إبراهيم المخزومي خال هشام بن عبد الملك بن مروان:

ما مثله في الناس إلا مملكا … أبو أمه حيّ أبوه يقاربه

فالبيت كما ترى غير فصيح لضعف تأليفه الناشئ عن تعقيد ألفاظه وصعوبة استخلاص معناه. فالمعنى الذي حاول الفرزدق أن يعبر عنه في هذا البيت هو: وما مثله- يعني الممدوح- في الناس حي يقاربه- أي أحد يشبهه في الفضائل إلا مملكا- يعني هشام بن عبد الملك بن أخت الممدوح- أبو أمه- أي أبو أم هشام- أبوه- أي أبو الممدوح. فالضمير في «أمه» للمملّك، وفي «أبوه» للمدوح.

فالشاعر في البيت قد فصل بين «أبو أمه» وهو مبتدأ، و «أبوه» وهو خبر المبتدأ بأجنبي وهو «حي». وكذلك فصل بين النعت والمنعوت «حي يقاربه» بأجنبي وهو «أبوه»، ثم قدم المستثنى وهو «مملكا» على المستثنى منه، وهو «حي يقاربه».

فنظم البيت كما نرى في غاية التعقيد اللفظي، وكان من حق الناظم أن يقول: وما مثله في الناس أحد يقاربه إلا مملكا أبو أمه أبوه. فالخلل في نظم كلمات البيت بالتقديم والتأخير، وبالفصل بين الكلمات التي يجب تجاورها واتصال بعضها ببعض قد جعل الكلام غير ظاهر الدلالة على المعنى المراد.

--------------------------------------------

(1) ازور عن الشيء: انحرف عنه وعدل. عاف: كره. عافي العرف: المحتاج إلى المعروف.

العرف والعرفان: المعروف.
যে ব্যক্তি তার পরিদর্শক ছিল সে মুখ ফিরিয়ে নিল … আর অনুগ্রহপ্রার্থী তার অনুগ্রহকে অপছন্দ করল (১)

অনুরূপভাবে বাক্যের প্রাঞ্জলতা বা রচনার ক্ষেত্রে শর্ত হলো এটি শাব্দিক জটিলতা (আত-তাকিদ আল-লাফজি) থেকে মুক্ত থাকবে, যার ফলে শব্দের মূল স্থান থেকে আগে বা পিছে সরিয়ে নেওয়ার কারণে কিংবা যে শব্দগুলো পরস্পর মিলিত থাকা আবশ্যক সেগুলোর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানোর কারণে উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশ অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। যেমন হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের মামা ইবরাহিম আল-মাখজুমির প্রশংসায় ফারাজদাকের একটি কাসিদার চরণ:

মানুষের মাঝে তার মতো কেউ নেই একজন শাসক ব্যতীত … যার মায়ের পিতা হলেন তার (প্রশংসিত ব্যক্তির) পিতা, আর এমন কোনো জীবিত ব্যক্তি নেই যে তার সমকক্ষ হতে পারে।

সুতরাং আপনি যেমনটি দেখছেন, কবিতাটি রচনার দুর্বলতার কারণে প্রাঞ্জল নয়, যা মূলত এর শাব্দিক জটিলতা এবং এর অর্থ উদ্ধার করার কাঠিন্য থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ফারাজদাক এই চরণে যে অর্থটি প্রকাশ করতে চেয়েছেন তা হলো: মানুষের মাঝে এমন কোনো জীবিত ব্যক্তি নেই যে তার (প্রশংসিত ব্যক্তির) সমকক্ষ হতে পারে—অর্থাৎ গুণাবলিতে তার সদৃশ কেউ নেই—সেই শাসক ব্যতীত—অর্থাৎ প্রশংসিত ব্যক্তির ভাগ্নে হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক। যার মায়ের পিতা—অর্থাৎ হিশামের নানাজি—হলেন তার পিতা—অর্থাৎ প্রশংসিত ব্যক্তির পিতা। এখানে 'মায়ের' সর্বনামটি শাসকের দিকে এবং 'পিতা' সর্বনামটি প্রশংসিত ব্যক্তির দিকে ফিরেছে।

কবি এই চরণে 'তার মায়ের পিতা' যা মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং 'তার পিতা' যা মুবতাদার খবর (বিধেয়)-এর মাঝে একটি বাহ্যিক শব্দ 'জীবিত' দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। অনুরূপভাবে তিনি সিফাত (গুণ) ও মাউসুফ (গুণান্বিত)-এর মাঝে অর্থাৎ 'এমন জীবিত ব্যক্তি যে তার সমকক্ষ' এর মাঝে 'তার পিতা' শব্দ দিয়ে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। অতঃপর তিনি মুস্তাসনা (ব্যতিক্রম) অর্থাৎ 'শাসক' শব্দটিকে মুস্তাসনা মিনহু অর্থাৎ 'জীবিত সমকক্ষ ব্যক্তি' এর আগে নিয়ে এসেছেন।

সুতরাং কবিতার বিন্যাসটি আমরা যেমনটি দেখতে পাচ্ছি তা চরম শাব্দিক জটিলতায় পূর্ণ। কবির জন্য উচিত ছিল এভাবে বলা: 'মানুষের মাঝে এমন কেউ নেই যে তার সমকক্ষ হতে পারে সেই শাসক ব্যতীত, যার মায়ের পিতা হলেন তার পিতা'। সুতরাং শব্দের আগে-পিছে করার মাধ্যমে এবং যে শব্দগুলো পরস্পর সংলগ্ন ও যুক্ত থাকা আবশ্যক সেগুলোর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানোর মাধ্যমে কবিতার বিন্যাসে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা বক্তব্যটিকে উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর অস্পষ্ট করে দিয়েছে।

--------------------------------------------

(১) কোনো বস্তু থেকে বিমুখ হওয়া এবং সরে যাওয়া। ঘৃণা করা। যার সাহায্যের প্রয়োজন।

দান ও অনুগ্রহ।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২২)
وكما يشترط في فصاحة الكلام أن يسلم من التعقيد اللفظي فإنه يشترط فيه كذلك أن يسلم من التعقيد المعنوي، وهو استعمال الكلمات عند إرادة التعبير عن معنى خاص في غير معانيها الحقيقية، وبذلك يضطرب التعبير، ويصعب الوصول إلى المعنى المراد. مثال ذلك قول العباس ابن الأحنف:

سأطلب بعد الدار عنكم لتقربوا … وتسكب عيناي الدموع لتجمدا

فالمعنى الذي قصد الشاعر التعبير عنه في هذا البيت هو: أطلب وأريد البعد عنكم أيها الأحبة لتقربوا، إذ من عادة الزمان الإتيان بضد المراد، فإذا أريد البعد يأتي الزمان بالقرب، وكذلك أطلب الحزن الذي هو لازم البكاء ليحصل السرور بما هو من عادة الزمان.

فالشاعر أراد هنا أن يكني عما يوجبه دوام التلاقي من السرور بالجمود، لظنه أن الجمود هو خلو العين من البكاء مطلقا من غير اعتبار شيء آخر. وقد أخطأ الشاعر في مراده إذ جمود العين هو خلوها من الدمع أو بخلها بالدمع الذي هو لازم البكاء عند إرادة البكاء منها، كقول أبي عطاء يرثى ابن هبيرة:

ألا إن عينا لم تجد يوم واسط … عليك بجاري دمعها لجمود

إذن فالجمود لا يكون كناية عن السرور بل عن البخل، وبهذا يكون الانتقال من جمود العين إلى بخلها بالدموع، لا إلى ما قصده الشاعر من السرور.

فالشاعر، كما نرى، استعمل الكلمات في غير معانيها الحقيقية، أو بعبارة أخرى لم يكن موفقا في اختيار الكلمات المعبرة عن معناه تعبيرا جليا واضحا، ومن ثم عقد المعنى أو وقع في التعقيد المعنوي الذي أخلّ بفصاحة البيت.

ولعلنا أدركنا على ضوء هذا الشرح كيف أن فصاحة الكلام لا تتأتى
যেমনভাবে বাক্যের প্রাঞ্জলতার (ফাসাহাত) জন্য এটি শাব্দিক জটিলতা থেকে মুক্ত হওয়া শর্ত, তেমনিভাবে শর্ত হলো এটি অর্থগত জটিলতা থেকেও মুক্ত থাকবে। অর্থগত জটিলতা হলো কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশের ইচ্ছার সময় শব্দসমূহকে তাদের প্রকৃত অর্থ ব্যতিরেকে অন্য অর্থে ব্যবহার করা; যার ফলে প্রকাশভঙ্গি বিঘ্নিত হয় এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর উদাহরণ হলো আব্বাস ইবনুল আহনাফের উক্তি:

আমি তোমাদের থেকে গৃহের দূরত্ব কামনা করব যাতে তোমরা নিকটবর্তী হও … আর আমার দুই চোখ অশ্রু বিসর্জন দেবে যাতে তারা জমাটবদ্ধ হয়।

কবি এই পঙক্তিতে যে অর্থটি ব্যক্ত করতে চেয়েছেন তা হলো: হে প্রিয়জনরা, আমি তোমাদের থেকে দূরত্ব চাইছি এবং কামনা করছি যেন তোমরা নিকটে আসো; কেননা সময়ের রীতি হলো কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের বিপরীতটি নিয়ে আসা। সুতরাং যখন দূরত্ব চাওয়া হয়, সময় তখন নৈকট্য দান করে। একইভাবে আমি সেই দুঃখ কামনা করছি যা ক্রন্দনের জন্য অপরিহার্য, যেন সময়ের রীতি অনুযায়ী এর মাধ্যমে আনন্দ অর্জিত হয়।

এখানে কবি নিরন্তর মিলনের ফলে যে আনন্দ অর্জিত হয়, তাকে 'জমূদ' (জমাটবদ্ধতা) শব্দ দ্বারা রূপক হিসেবে প্রকাশ করতে চেয়েছেন। কারণ তিনি ধারণা করেছিলেন যে, 'জমূদ' হলো অন্য কোনো কিছু বিবেচনা ছাড়াই চোখ সম্পূর্ণ অশ্রুশূন্য হওয়া। অথচ কবি তাঁর উদ্দেশ্য নির্ধারণে ভুল করেছেন; কেননা চোখের 'জমূদ' বা জমাটবদ্ধতা হলো অশ্রুহীন হওয়া অথবা অশ্রু বিসর্জনে কার্পণ্য করা, যা কান্নার প্রয়োজনে চোখের কান্নায় অনীহা প্রকাশ করাকে বুঝায়। যেমন আবু আতা ইবনে হুবায়রার শোকগাঁথায় বলেছেন:

সাবধান! নিশ্চয়ই যে চোখ ওয়াসিতের দিনে তোমার জন্য … প্রবহমান অশ্রু বিসর্জন দেয়নি, তা অবশ্যই জমাটবদ্ধ (কৃপণ)।

অতএব, 'জমূদ' বা জমাটবদ্ধতা আনন্দের রূপক হতে পারে না, বরং তা কৃপণতার রূপক। আর এভাবেই চোখের জমাটবদ্ধতা থেকে কেবল অশ্রুর কার্পণ্যই বুঝা যায়, কবির উদ্দিষ্ট আনন্দ নয়।

সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কবি শব্দগুলোকে তাদের প্রকৃত অর্থ ছাড়া অন্য অর্থে ব্যবহার করেছেন। অন্য কথায়, তিনি তাঁর মনের ভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্য সঠিক শব্দ নির্বাচনে সফল হতে পারেননি। ফলে অর্থের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে অথবা তিনি এমন অর্থগত জটিলতায় নিপতিত হয়েছেন যা পঙক্তিটির প্রাঞ্জলতাকে নষ্ট করে দিয়েছে।

সম্ভবত এই ব্যাখ্যার আলোকে আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, কীভাবে বাক্যের প্রাঞ্জলতা অর্জিত হয় না।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৩)
إلا إذا سلم من ضعف التأليف، وتنافر الكلمات، والتعقيد اللفظي والمعنوي. أما الفصاحة في المتكلم فملكة يقتدر

بها على التعبير عن المقصود بلفظ فصيح.

…
ব্যতিক্রম হলো যখন তা রচনার দৌর্বল্য, শব্দের কর্কশতা এবং শাব্দিক ও অর্থগত জটিলতা থেকে মুক্ত থাকে। আর বক্তার বাগ্মিতা হলো এমন একটি সহজাত অনুষদ যার দ্বারা তিনি সক্ষম হন

সাবলীল শব্দের মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বিষয় ব্যক্ত করতে।

…
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الثاني علم المعاني- نشأته وتطوّره

علم المعاني هو أحد علوم البلاغة الثلاثة المعروفة: المعاني والبيان والبديع. وقد كانت البلاغة العربية في أول الأمر وحدة شاملة لمباحث هذه العلوم بلا تحديد أو تمييز. وكتب المتقدمين من علماء العربية خير شاهد على ذلك، ففيها تتجاور مسائل علوم البلاغة ويختلط بعضها ببعض من غير فصل بينها.

وشيئا فشيئا أخذ المشتغلون بالبلاغة العربية ينحون بها منحى التخصص والاستقلال، كما أخذت مسائل كل فن بلاغيّ تتبلور وتتلاحق واحدة بعد الأخرى. وظل الأمر كذلك حتى جاء عبد القاهر الجرجاني في القرن الخامس الهجري «471 هـ» ووضع نظرية علم المعاني في كتابه «دلائل الإعجاز» ونظرية علم البيان في كتابه «أسرار البلاغة»، كما وضع ابن المعتز من قبله أساس علم البديع.

عبد القاهر الجرجاني إذن هو واضع أصول علمي المعاني والبيان ومؤسسهما في العربية، وقد جعل من مباحث كلا العلمين وحدة يمكن النظر فيها نظرة شاملة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলমুল মাআনি—এর উদ্ভব ও বিকাশ

ইলমুল মাআনি হলো অলঙ্কারশাস্ত্র বা বালাগাতের সুপরিচিত তিনটি শাখার অন্যতম: মাআনি, বায়ান ও বদি। আরবি বালাগাত শাস্ত্র প্রারম্ভিক সময়ে কোনো প্রকার পৃথকীকরণ বা বিশেষীকরণ ছাড়াই এই জ্ঞানসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির এক ব্যাপক ও অখণ্ড রূপ ছিল। প্রাচীন আরবি ভাষাবিদদের রচিত গ্রন্থাবলি এর সর্বোত্তম সাক্ষী; সেখানে বালাগাতের বিভিন্ন বিষয় পাশাপাশি আলোচিত হয়েছে এবং কোনো প্রকার বিভাজন ছাড়াই একটি অপরটির সাথে মিশে আছে।

ক্রমান্বয়ে বালাগাত গবেষকগণ একে বিশেষীকরণ ও স্বতন্ত্র রূপদানের দিকে ধাবিত করেন এবং প্রতিটি অলঙ্কারিক শিল্পের বিষয়াবলি একের পর এক স্বচ্ছ ও সুসংহত হতে থাকে। পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে (৪৭১ হি.) ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানি আগমনের পূর্ব পর্যন্ত বিষয়টি এই রূপেই বিদ্যমান ছিল। তিনি তাঁর ‘দালাইলুল ইজায’ গ্রন্থে ইলমুল মাআনি এবং ‘আসরারুল বালাগাহ’ গ্রন্থে ইলমুল বায়ান-এর তাত্ত্বিক রূপরেখা প্রণয়ন করেন; ঠিক যেভাবে তাঁর পূর্বে ইবনুল মুতায ইলমুল বদি-র ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

সুতরাং আব্দুল কাহির আল-জুরজানিই হলেন আরবিতে ইলমুল মাআনি ও ইলমুল বায়ান-এর মূলনীতি প্রণেতা ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এই উভয় শাস্ত্রের বিষয়সমূহকে এমন এক সুশৃঙ্খল অবয়ব দান করেছেন যা সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৬)
والعجيب أنه لم يحدث بعده تغيير يذكر في هذين العلمين، لأنه استطاع أن يستنبط من ملاحظات البلاغيين قبله كل القواعد البلاغية فيهما، وكان ذلك إيذانا بأن تتحول تلك القواعد من بعده إلى قوانين جامدة. وقد فتن البلاغيون بعمله فراحوا يرددون كلامه ويقفون عنده لا يتجاوزونه إلى عمق أو ابتكار، كأنما البحث في البلاغة قد انتهى بعبد القاهر الجرجاني.

نقول ذلك لأن جهود البلاغيين من بعده انحصرت في جمع قواعد علوم البلاغة التي وضعها، وفي ترتيب أبوابها، واختصارها. وكان هذا الاختصار يصل أحيانا من الغموض والصعوبة إلى حيث يحتاج إلى شرح يوضح غامضه، ويذلل صعابه، فيقبل عليه الشراح، ومنهم من يتوسع في الشرح إلى الحد الذي يجعل الإلمام بحقائق العلم أمرا عسيرا. وهكذا وصلت البلاغة نتيجة لذلك إلى أقصى ما يمكن من اختصارات وأقصى ما يمكن من شروح.

ومن أوائل من اتجهوا إلى الاختصار والتلخيص الفخر الرازي «606 هـ» في كتابه «نهاية الإيجاز في دراية الإعجاز»، فقد اختصر فيه كتابي «دلائل الإعجاز» و «أسرار البلاغة» لعبد القاهر. وفي ذلك يقول: «لما وفقني الله

لمطالعة كتابي دلائل الإعجاز، وأسرار البلاغة، التقطت منهما معاقد فوائدهما، وجمعت متفرقات الكلم/ في الضوابط العقلية».

وظهر بجانب الرازي وفي عصره عالم ضرب بسهم وافر في الفلسفة والمنطق وأصول الفقه والاعتزال واللغة والبلاغة، وكان له تأثير خطير على البلاغة العربية.

ذلك العالم هو سراج الدين أبو يعقوب يوسف بن محمد السكاكي المتوفى سنة 626 للهجرة، صاحب كتاب «مفتاح العلوم» الذي جعله أربعة أقسام: قسما في علم الصرف، وقسما في علم النحو، وقسما في علوم البلاغة، وقسما في علم الشعر.
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো যে, তাঁর পরে এই দুই বিজ্ঞানে (অলঙ্কারশাস্ত্রে) উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি; কারণ তিনি তাঁর পূর্ববর্তী অলঙ্কারবিদদের পর্যবেক্ষণ থেকে এই দুই শাস্ত্রের যাবতীয় অলঙ্কারশাস্ত্রীয় মূলনীতি উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এটি এই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, তাঁর পরবর্তী সময়ে সেই নিয়মগুলো নিথর বা অনমনীয় আইনে পরিণত হবে। অলঙ্কারবিদগণ তাঁর কর্মে বিমোহিত হয়ে পড়েছিলেন, ফলে তারা তাঁর কথারই পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন এবং সেখানেই থমকে যান। তারা গভীরতর কোনো গবেষণা বা উদ্ভাবনের দিকে অগ্রসর হননি, যেন অলঙ্কারশাস্ত্রের গবেষণা আব্দুল কাহির আল-জুরজানীর মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে।

আমরা এটি একারণে বলছি যে, তাঁর পরবর্তী অলঙ্কারবিদদের প্রচেষ্টা তাঁর প্রবর্তিত অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ সংগ্রহ, সেগুলোর অধ্যায় বিন্যাস এবং সংক্ষিপ্তকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই সংক্ষিপ্তকরণ কখনও কখনও এতই অস্পষ্ট ও কঠিন রূপ ধারণ করত যে, তা ব্যাখ্যা করার জন্য এমন ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থের প্রয়োজন হতো যা এর অস্পষ্টতাকে স্পষ্ট করবে এবং কাঠিন্যকে সহজ করবে। ফলে ভাষ্যকারগণ এর প্রতি ঝুঁকে পড়েন, এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যাখ্যায় এমনভাবে বিস্তৃতি ঘটান যে, ইলমের মূল সত্যগুলো আয়ত্ত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এভাবেই অলঙ্কারশাস্ত্র এর ফলে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংক্ষিপ্তকরণ এবং সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে গিয়ে উপনীত হয়।

যারা সংক্ষিপ্তকরণ ও সারসংক্ষেপ তৈরির দিকে ঝুঁকেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফখরুদ্দীন আল-রাজি (৬০৬ হিজরি)। তিনি তাঁর 'নিহায়াতুল ইজায ফি দিরায়াতিল ইজায' গ্রন্থে আব্দুল কাহিরের 'দালাইলুল ইজায' এবং 'আসরারুল বালাগাহ' গ্রন্থদ্বয় সংক্ষেপ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "যখন আল্লাহ আমাকে

'দালাইলুল ইজায' এবং 'আসরারুল বালাগাহ' গ্রন্থ দুটি পাঠ করার তৌফিক দান করলেন, তখন আমি সে দুটি থেকে তাদের উপকারের সার নির্যাসগুলো গ্রহণ করলাম এবং বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা কথাগুলোকে যৌক্তিক নিয়মের অধীনে সংকলিত করলাম।"

রাজির পাশাপাশি তাঁর সমসাময়িককালে এমন একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে, যিনি দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, উসুলুল ফিকহ, মুতাযিলা মতবাদ, ভাষা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে প্রভূত পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন এবং আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর যাঁর সুগভীর প্রভাব ছিল।

সেই মনীষী হলেন সিরাজুদ্দীন আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আস-সাক্কাকী (মৃত্যু: ৬২৬ হিজরি)। তিনি 'মিফতাহুল উলুম' গ্রন্থের রচয়িতা, যা তিনি চারটি ভাগে বিন্যস্ত করেছেন: একটি অংশ ইলমে সরফ (শব্দতত্ত্ব) বিষয়ে, একটি অংশ ইলমে নাহু (বাক্যতত্ত্ব) বিষয়ে, একটি অংশ বালাগাহ (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ে এবং একটি অংশ কবিতা সংক্রান্ত জ্ঞানে।
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৭)
لقد سارت دراسة البلاغة قبل السكاكي على منهاج من عدم الفصل بين فنونها، لما في ذلك من خدمة الأدب وإمداده بأسباب القوة والجمال والوضوح. وكان لهذا المنهاج أثره وقيمته في إيقاظ المواهب وإرهاف الملكات الفنية لصناعة الأدب، وإقدار أصحابها على التذوق الأدبي والتمييز بين جيد الكلام ورديئه.

ذلك كان مسار الدراسات البلاغية قبل السكاكي: تنبيه إلى مواطن الحسن والجمال من الكلام، وشحذ لملكات صنّاعه الفنية، ومحاولات للكشف عن العناصر الجمالية في البيان العربي، وتربية لملكة الذوق، وتمكين كل ذي موهبة أدبية من أن يقرأ ويفهم، ويستحسن ويستقبح، ويوازن ويفضل، أو بعبارة أخرى من أن ينقد العمل الأدبي ويحكم عليه.

في هذا المنهاج لم تكن محاولة الاهتداء إلى العناصر الجمالية في البيان العربي غاية في حد ذاتها بمقدار ما كانت وسيلة لشحذ الملكات، وتنمية الذوق، وإرهاف الحس، وتكوين البلغاء والنقاد.

وعلى العكس من ذلك كان منهاج السكاكي في دراسة البلاغة، فقد أصّل منهاجه فيها على أسس منطقية حولت البلاغة من فن إلى علم له قواعده ونظرياته التي إن نجحت في تكوين طبقات من البلاغيين فقد فشلت في تكوين البلغاء.

ومن هنا كانت خطورة منهاج السكاكي الذي يعد في تاريخ البلاغة بداية طور الجمود في دراستها. لقد خيل إليه أنه بمنهاجه المنظم المقنن يصلح من شأن البلاغة فإذا به من حيث لا يدري يفسدها ويسيء إليها.

وشهرة السكاكي في البلاغة مصدرها القسم الثالث من كتابه «مفتاح العلوم»، فقد أفرد هذا القسم من كتابه للكلام عن علمي المعاني والبيان ولواحقهما من البلاغة والفصاحة والمحسنات البديعية بنوعيها اللفظي والمعنوي.

فمن خلال مجهودات البلاغيين من قبله وبخاصة عبد القاهر
সাক্কাকীর পূর্বে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাহ) অধ্যয়ন এর বিভিন্ন শিল্পের মধ্যে বিভাজন না করার পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতো; কারণ এতে সাহিত্যের সেবা এবং একে শক্তি, সৌন্দর্য ও স্পষ্টতার উপকরণ দিয়ে সমৃদ্ধ করার অবকাশ ছিল। এই পদ্ধতির প্রভাব ও মূল্য ছিল মেধা বা প্রতিভাকে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে, সাহিত্য নির্মাণের শৈল্পিক গুণাবলিকে সূক্ষ্মতর করার ক্ষেত্রে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাহিত্যিক রসাস্বাদন ও ভালো-মন্দের মাঝে পার্থক্য করতে সক্ষম করে তোলার ক্ষেত্রে।

সাক্কাকীর পূর্বে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার গতিপথ ছিল এমনই: কথার সৌন্দর্য ও সুষমার স্থানগুলো সম্পর্কে সচেতন করা, সাহিত্য নির্মাতাদের শৈল্পিক দক্ষতাকে শাণিত করা, আরবি বর্ণনার (বায়ান) নান্দনিক উপাদানগুলো উন্মোচন করার প্রচেষ্টা চালানো, রুচিবোধের লালন করা এবং প্রতিটি সাহিত্যিক প্রতিভাধর ব্যক্তিকে পড়তে ও বুঝতে, ভালো বা মন্দ হিসেবে গ্রহণ করতে, এবং ভারসাম্য রক্ষা ও শ্রেষ্ঠত্ব বিচারে সক্ষম করে তোলা; অথবা অন্য কথায়, সাহিত্যকর্মের সমালোচনা ও বিচার করতে সক্ষম করা।

এই পদ্ধতিতে আরবি বর্ণনার নান্দনিক উপাদানগুলো খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা নিজেই কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল না, বরং তা ছিল দক্ষতাকে শাণিত করা, রুচিবোধের বিকাশ ঘটানো, সংবেদনশীলতাকে সূক্ষ্মতর করা এবং বাগ্মী ও সমালোচক তৈরির একটি মাধ্যম।

এর বিপরীতে অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়নে সাক্কাকীর পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন; তিনি এতে তাঁর পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এমন কিছু যৌক্তিক ভিত্তির ওপর, যা অলঙ্কারশাস্ত্রকে একটি শিল্প থেকে এমন একটি বিজ্ঞানে রূপান্তরিত করেছিল যার নিজস্ব নিয়ম ও তত্ত্ব রয়েছে। এই পদ্ধতি যদিও একদল অলঙ্কারবিদ (তাত্ত্বিক) তৈরি করতে সফল হয়েছিল, তবে তা প্রকৃত বাগ্মী (সাহিত্য প্রয়োগকারী) তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

এখান থেকেই সাক্কাকীর পদ্ধতির বিপজ্জনক দিকটি স্পষ্ট হয়, যা অলঙ্কারশাস্ত্রের ইতিহাসে এর অধ্যয়নে স্থবিরতার যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, তাঁর এই সুশৃঙ্খল ও নীতিবদ্ধ পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের সংস্কার করছেন, অথচ তিনি নিজের অজান্তেই এর ক্ষতি সাধন করছিলেন এবং এর মর্যাদাহানি করছিলেন।

অলঙ্কারশাস্ত্রে সাক্কাকীর খ্যাতির উৎস হলো তাঁর 'মিফতাহুল উলূম' গ্রন্থের তৃতীয় অংশ। তিনি তাঁর গ্রন্থের এই অংশটি 'ইলমুল মাআনী' ও 'ইলমুল বায়ান' এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বাগ্মিতা (ফাসাহাত) ও অলঙ্কারশাস্ত্রের সৌন্দর্যবর্ধক গুণাবলি (মুহাসসিনাত বাদিয়্যাহ) —এর শাব্দিক ও অর্থগত উভয় প্রকার নিয়ে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।

তাঁর পূর্ববর্তী অলঙ্কারবিদদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে, বিশেষ করে আব্দুল কাহিরের...
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৮)
الجرجاني «471 هـ»، والزمخشري محمود بن عمر «538 هـ» والفخر الرازي «606 هـ» استطاع السكاكي تحقيق أمرين: أحدهما أن ينفذ إلى عمل ملخص دقيق لما نثره أولئك البلاغيون في كتبهم من آراء، وكذلك لما توصل إليه هو من أفكار، وثانيهما أن يصوغ كل ذلك في صيغ مضبوطة محكمة، مستعينا فيها بقدرته المنطقية في التعليل والتعريف والتقسيم والتفريع والتشعيب. وبهذا تحولت البلاغة في مفهومه أولا وفي تلخيصه ثانيا إلى علم بأدق المعاني لكلمة علم، فهي عنده قوانين وقواعد صبت في قوالب منطقية جافة باعدت بينها وبين وظيفتها الأساسية من إمتاع النفس، وإرهاف الحس، وتنمية الذوق، والتمكين لذوي المواهب الأدبية من القدرة على الخلق والإبداع.

وقد عرّف السكاكي علم المعاني بقوله: «إنه تتبع خواص تراكيب الكلام في الإفادة وما يتصل بها من الاستحسان وغيره، ليحترز بالوقوف عليها عن الخطأ في تطبيق الكلام على ما يقتضي الحال ذكره».

وهذا التعريف وحده نموذج لتأليف السكاكي الذي أفرغه في أسلوب علمي منطقي بعيد كل البعد عن جلاء العبارة ووضوح التأليف عند من تقدموه من البلاغيين.

فهو مثلا في هذا التعريف لا يقصد «بتراكيب الكلام» مطلق تراكيب، وإنما يقصد تراكيب البلغاء لا التراكيب الصادرة عمن لا حظ لهم من البلاغة. وهو كذلك يقصد «بخواص التراكيب» ما يسبق إلى الفهم منها عند سماعها لكونها صادرة عن البليغ، كما يقصد أيضا «بالإفادة» «الفهم» من قبل ذي الفطرة السليمة.

فالتعريف كما ترى لا يجود بمعناه في سهولة ويسر، وإنما هو بعنّي طالبه عناء شديدا حتى يصل إليه، إن وصل. ومن أجل هذا كثر شراح السكاكي وملخصو بلاغته كما سنبين فيما بعد، وكأن البلاغة عند كل من تصدى لشرح أو تلخيص ما ورد عنها في كتاب «مفتاح العلوم» للسكاكي أقول كان
আল-জোরজানি (৪৭১ হি.), মাহমূদ বিন উমর আল-যামাখশারি (৫৩৮ হি.) এবং আল-ফখর আর-রাযি (৬০৬ হি.)-এর পর আস-সাক্কাকি দুটি বিষয় অর্জনে সক্ষম হন: একটি হলো সেই অলঙ্কারবিদগণ তাদের কিতাবসমূহে যে সকল মতামত ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তার একটি সূক্ষ্ম সারসংক্ষেপ তৈরি করা এবং সাথে সাথে নিজের অর্জিত চিন্তাধারাগুলোকেও তাতে অন্তর্ভুক্ত করা। দ্বিতীয়টি হলো যুক্তিবিদ্যার সক্ষমতা—যেমন কারণ দর্শানো, সংজ্ঞা প্রদান, শ্রেণিবিভাগ, শাখাবিন্যাস এবং উপশাখাকরণ—ব্যবহার করে এই সব কিছুকে সুসংহত ও সুশৃঙ্খল ছাঁচে রূপদান করা। এর মাধ্যমে অলঙ্কারশাস্ত্র প্রথমে তার ধারণায় এবং পরবর্তীতে তার সারসংক্ষেপে 'বিজ্ঞান' (ইলম) শব্দের সূক্ষ্মতম অর্থে একটি বিজ্ঞানে রূপান্তরিত হয়। তার নিকট এটি ছিল এমন কিছু আইন ও নিয়মাবলি যা শুষ্ক যৌক্তিক ছাঁচে ঢালাই করা হয়েছে, যা অলঙ্কারশাস্ত্রকে তার মৌলিক কাজ—যেমন আত্মিক প্রশান্তি প্রদান, অনুভূতিকে শাণিত করা, সুরুচির বিকাশ ঘটানো এবং সাহিত্যিক প্রতিভাবানদের সৃজনশীলতার সক্ষমতা দান—থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল।

আস-সাক্কাকি ইলমুল মাআনি-এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেন: "এটি হলো অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে বাক্যের গঠনশৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সৌন্দর্য ও অন্যান্য বিষয়াবলি অনুসরণ করা, যাতে সেগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুযায়ী বক্তব্য প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভুল থেকে বেঁচে থাকা যায়।"

এই সংজ্ঞাই আস-সাক্কাকির রচনার একটি নিদর্শন, যা তিনি এমন এক বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক শৈলীতে ব্যক্ত করেছেন যা তার পূর্ববর্তী অলঙ্কারবিদদের সাবলীল অভিব্যক্তি ও রচনার স্পষ্টতা থেকে বহু দূরে।

উদাহরণস্বরূপ, এই সংজ্ঞায় তিনি 'বাক্যের গঠনশৈলী' বলতে সাধারণ কোনো গঠনকে বোঝাননি, বরং অলঙ্কারবিদদের গঠনশৈলীকে বুঝিয়েছেন, তাদের গঠন নয় যাদের অলঙ্কারশাস্ত্রে কোনো অংশ নেই। একইভাবে তিনি 'গঠনশৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহ' বলতে এমন কিছু বুঝিয়েছেন যা শোনার সাথে সাথে বোঝার স্তরে উপনীত হয়, যেহেতু তা একজন অলঙ্কারবিদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি 'উপকারিতা' বলতে সুস্থ স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে 'উপলব্ধি' করাকে বুঝিয়েছেন।

সুতরাং আপনি যেমনটা দেখছেন, এই সংজ্ঞাটি তার অর্থ সহজে বা অনায়াসে প্রকাশ করে না, বরং এটি এর অনুসন্ধানকারীকে তা অর্জন করতে কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করে, যদি আদৌ সে তা অর্জন করতে পারে। এই কারণেই আস-সাক্কাকির ব্যাখ্যাকারী এবং তার অলঙ্কারশাস্ত্রের সারসংক্ষেপকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেমনটা আমরা পরবর্তীতে বর্ণনা করব। মনে হয় যেন অলঙ্কারশাস্ত্র তাদের প্রত্যেকের নিকট যারা আস-সাক্কাকির 'মিফতাহুল উলুম' কিতাবে বর্ণিত বিষয়াবলির ব্যাখ্যা বা সারসংক্ষেপ করার উদ্যোগ নিয়েছেন—আমি বলছি যে এটি ছিল...
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৯)
البلاغة عند أولئك الشراح والملخصين أصبحت تنحصر في أمرين: أحدهما الالتزام ببلاغة السكاكي على أنها ختام البلاغة والذروة التي ليس بعدها مجال لمستزيد أو مجتهد. وثاني الأمرين إظهار المقدرة والبراعة في شرح كتاب «المفتاح» أو تلخيصه.

ويمكن حصر موضوعات علم المعاني التي وردت في القسم الثالث من كتاب «المفتاح» للسكاكي على النحو التالي:

1 - الخبر والطلب.

2 - الإسناد الخبري باختلاف السامع من حيث خلو الذهن، أو الشك، أو الإنكار.

3 - الإسناد، وبيان أحوال المسند إليه والمسند، من حيث: الحذف والذكر، والتنكير والتعريف، والتقديم والتأخير، والتخصيص والمقتضيات البلاغية لذلك.

4 - الفعل ومتعلقاته.

5 - الفصل والوصل.

6 - الإيجاز والإطناب، وبيان كيف أنهما نسبيان.

7 - القصر، وأنواعه، وطرقه.

8 - الطلب، ويندرج تحته:

أ- مقدمة عن الطلب مستمدة من كلام المناطقة عن التصور والتصديق وما يحصل في الذهن، وما يحصل في الخارج.

ب- أنواع الطلب الخمسة: التمني، والاستفهام، والأمر، والنهي، والنداء، وأدوات كل نوع منها، ووظائفها.

ج- الأغراض البلاغية أو المعاني الإضافية التي يخرج الطلب عن معانيه الأصلية من أجل الدلالة عليها، وذلك مثل: التعجب، والإنكار، والاستبطاء، والنفي.

ولما كانت عنايتنا في هذا البحث مقصورة على علم المعاني وحده،
সেই সকল ব্যাখ্যাকারী ও সংক্ষিপ্তকারীগণের নিকট অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) এখন দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে: একটি হলো সাক্কাকীর অলঙ্কারশাস্ত্রকে অলঙ্কারশাস্ত্রের চূড়ান্ত সমাপ্তি এবং এমন এক শিখর হিসেবে গ্রহণ করা যার পরে আর কোনো গবেষক বা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির নতুন কিছু সংযোজনের অবকাশ নেই। আর দ্বিতীয়টি হলো 'আল-মিফতাহ' গ্রন্থের ব্যাখ্যা প্রদান বা তা সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে স্বীয় পারদর্শিতা ও নৈপুণ্য প্রদর্শন করা।

সাক্কাকীর 'আল-মিফতাহ' গ্রন্থের তৃতীয় অংশে বর্ণিত 'ইলমুল মাআনি' (অর্থবিজ্ঞান)-এর বিষয়বস্তুগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব:

১ - খবর (সংবাদ) ও তলব (অনুজ্ঞা/আকাঙ্ক্ষা)।

২ - শ্রোতার মানসিক অবস্থার ভিন্নতা অনুযায়ী (যেমন: সংশয়মুক্ত মন, সন্দেহ বা অস্বীকারকারী হওয়া সাপেক্ষে) সংবাদমূলক সম্বন্ধ (আল-ইসনান্দুল খাবারি)।

৩ - সম্বন্ধ (ইসনান্দ), এবং মুসনাদ ইলাইহি ও মুসনাদ-এর অবস্থাসমূহের বর্ণনা; যথা: বিলুপ্তি ও উল্লেখ, অনির্দিষ্টকরণ ও নির্দিষ্টকরণ, অগ্রবর্তিতা ও পশ্চাদবর্তিতা, বিশেষায়ন এবং এ সংক্রান্ত আলঙ্কারিক প্রয়োজনীয়তাসমূহ।

৪ - ক্রিয়া এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।

৫ - বিচ্ছেদ (ফাসল) ও সংযোগ (ওয়াসল)।

৬ - সংক্ষিপ্ততা (ঈজায) ও বিস্তৃতি (ইতনাব), এবং এই উভয়টি কীভাবে আপেক্ষিক তার বর্ণনা।

৭ - সীমাবদ্ধকরণ (কাসর), এর প্রকারভেদ ও পদ্ধতিসমূহ।

৮ - অনুজ্ঞা (তলাব), যার অধীনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

ক- অনুজ্ঞা সম্পর্কিত এমন এক ভূমিকা যা যুক্তিবিদদের 'তাসাওয়ুর' (ধারণা) ও 'তাসদিক' (প্রত্যয়ন) এবং যা মনে উদিত হয় ও যা বাস্তবে ঘটে—সেই সংক্রান্ত আলোচনা থেকে সংগৃহীত।

খ- অনুজ্ঞার পাঁচটি প্রকার: আকাঙ্ক্ষা, জিজ্ঞাসা, আদেশ, নিষেধ ও আহ্বান; এবং এগুলোর প্রত্যেক প্রকারের অব্যয়সমূহ ও তাদের কার্যাবলি।

গ- আলঙ্কারিক উদ্দেশ্যসমূহ বা অতিরিক্ত অর্থসমূহ, যেগুলোর নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুজ্ঞা তার মৌলিক অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়; যেমন: বিস্ময় প্রকাশ, অস্বীকৃতি, মন্থরতা প্রকাশ এবং নেতিবাচকতা।

যেহেতু এই গবেষণায় আমাদের মনোযোগ কেবল 'ইলমুল মাআনি'-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ,
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩০)
فتلك هي موضوعاته كما وردت في كتاب «مفتاح العلوم» للسكاكي، أو بمعنى أدق كما وردت في القسم الثالث منه، والذي تكلم فيه عن علمي المعاني والبيان، ولواحقهما من البلاغة والفصاحة، والمحسنات البديعية بنوعيها اللفظي والمعنوي.

وكما قلت آنفا لقد نال هذا الكتاب شهرة فائقة في ميدان البلاغة بالذات، ولقد فتن العلماء به إلى الحد الذي جعلهم ينسون أنفسهم وينكرون ملكاتهم. ولهذا ظلوا قرابة خمسة قرون ابتداء من القرن السابع الهجري عاكفين على شرحه وتلخيصه، وكأنه لم يؤلف في البلاغة العربية غير هذا الكتاب الذي استأثر باهتمامهم وعنايتهم.

وعلى سبيل المثال لا الحصر نذكر هنا بعض من توفروا على كتاب «مفتاح العلوم» للسكاكي شرحا وتلخيصا. فممن عنوا بشرحه:

1 - قطب الدين محمود الشيرازي «710 هـ» شرحه في كتاب سماه «مفتاح المفتاح».

2 - محمد بن مظفر الخلخالي «745 هـ» شرحه في كتاب سماه «شرح المفتاح».

3 - السيد الشريف الجرجاني «816 هـ» شرح القسم الثالث من المفتاح.

4 - ابن كمال باشا «940 هـ» ألف شرح المفتاح.

وممن عنوا بتلخيصه:

1 - بدر الدين بن مالك «668 هـ»، اختصره في كتاب سماه «المصباح في اختصار المفتاح». وقد نال هذا المختصر شهرة واسعة لدى طلاب البلاغة في بلاد المغرب.

2 - أبو عبد الله محمد بن عبد الرحمن الخطيب القزويني «739 هـ»، وقد اختصره في كتاب سماه «تلخيص المفتاح».

3 - عبد الرحمن الشيرازي «756 هـ» وسمى تلخيصه لكتاب المفتاح
এগুলোই হলো এর আলোচ্য বিষয়সমূহ যেমনটি সাক্কাকীর ‘মিফতাহুল উলুম’ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, অথবা আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে এর তৃতীয় খণ্ডে যেমনটি এসেছে, যাতে তিনি ইলমুল মাআনী ও ইলমুল বয়ান এবং এ দুটির অনুষঙ্গ হিসেবে বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও ফাসাহাত (বাগ্মিতা), এবং শব্দগত ও অর্থগত উভয় প্রকারের বাদিয়ি সৌন্দর্যসমূহ (মুহাসসিনাত) নিয়ে আলোচনা করেছেন।

যেমনটি আমি পূর্বে বলেছি, এই কিতাবটি বিশেষ করে বালাগাতের ময়দানে অত্যন্ত খ্যাতি অর্জন করেছে। পণ্ডিতগণ এর প্রতি এতটাই বিমোহিত হয়েছিলেন যে, তা তাঁদেরকে নিজেদের সত্তা ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তাঁদের নিজস্ব প্রতিভাকে অস্বীকার করতে বাধ্য করেছিল। এই কারণেই হিজরি সপ্তম শতাব্দী থেকে শুরু করে প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে তাঁরা এর ব্যাখ্যা ও সংক্ষিপ্তকরণে নিমগ্ন ছিলেন, যেন মনে হয় আরবি বালাগাত শাস্ত্রে এই কিতাবটি ছাড়া আর কোনো গ্রন্থই রচিত হয়নি যা তাঁদের পূর্ণ মনোযোগ ও যত্ন লাভ করতে পেরেছিল।

উদাহরণস্বরূপ—তবে এটিই চূড়ান্ত নয়—আমরা এখানে তাঁদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি যাঁরা সাক্কাকীর ‘মিফতাহুল উলুম’ কিতাবটির ব্যাখ্যা ও সারসংক্ষেপ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। যাঁরা এর ব্যাখ্যা রচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - কুতুবুদ্দিন মাহমুদ আশ-শিরাজী (৭১০ হি.), তিনি এটি ‘মিফতাহুল মিফতাহ’ নামক কিতাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

২ - মুহাম্মাদ বিন মুজাফফর আল-খালখালী (৭৪৫ হি.), তিনি এটি ‘শারহুল মিফতাহ’ নামক কিতাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

৩ - আস-সায়্যিদ আশ-শরীফ আল-জুরুজানী (৮১৬ হি.), তিনি মিফতাহ-এর তৃতীয় খণ্ডের ব্যাখ্যা করেছেন।

৪ - ইবনে কামাল পাশা (৯৪০ হি.), তিনি শারহুল মিফতাহ রচনা করেছেন।

এবং যাঁরা এর সংক্ষিপ্তকরণে মনোনিবেশ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - বদরুদ্দিন ইবনে মালিক (৬৬৮ হি.), তিনি এটিকে ‘আল-মিসবাহ ফি ইখতিসারিল মিফতাহ’ নামক কিতাবে সংক্ষিপ্ত করেছেন। মাগরেব অঞ্চলের অলঙ্কারশাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেছিল।

২ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খাতিব আল-কাজভিনী (৭৩৯ হি.), তিনি এটিকে ‘তালখিসুল মিফতাহ’ নামক কিতাবে সংক্ষিপ্ত করেছেন।

৩ - আব্দুর রহমান আশ-শিরাজী (৭৫৬ হি.) এবং তিনি মিফতাহ কিতাবের তাঁর সারসংক্ষেপটির নামকরণ করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩১)
«الفوائد الغياثية في علوم المعاني والبيان والبديع».

ولعل أوسع هذه الكتب أو التلخيصات شهرة بين المشارقة في كل العصور هو كتاب «تلخيص المفتاح» في المعاني والبيان والبديع للخطيب القزويني الآنف الذكر.

فهذا الكتاب قد تنوع اهتمام العلماء به، فمنهم من شرحه، ومن نظمه، ومن لخصه. فممن شرحه:

1 - الخطيب القزويني نفسه، فقد وضع له شرحا سماه «إيضاح التلخيص» قصد به إيضاح ما أبهم واستغلق منه كما ضم إليه بعض ما فاته في التلخيص مما تضمنه المفتاح، وبعض زيادات أخرى من كتابي عبد القاهر «دلائل الإعجاز» و «أسرار البلاغة».

2 - محمد بن مظفر الخلخالي «745 هـ» وضع له شرحا سماه «مفتاح تلخيص المفتاح».

3 - بهاء الدين السبكي «773 هـ» وضع له شرحا سماه «عروس الأفراح في شرح تلخيص المفتاح».

4 - محمد بن يوسف ناظر الجيش «778 هـ» وضع له شرحا سماه «شرح تلخيص القزويني».

5 - محمد البايرتي «786 هـ»، وشمس الدين القونوي «788 هـ» وضع له كل منهما شرحا سماه «شرح تلخيص المفتاح للقزويني».

6 - سعد الدين التفتازاني «792 هـ» وضع له شرحين: الشرح الكبير، والشرح الصغير للتلخيص.

7 - ابن يعقوب المغربي «1110 هـ» صاحب كتاب «مواهب المفتاح في شرح تلخيص المفتاح».

وممن نظموه شعرا: خضر بن محمد مفتي أماسية، وسمى نظمه «أنبوب البلاغة»، وجلال الدين السيوطي، وسمى نظمه «عقود الجمان»،
«আল-ফাওয়াইদ আল-গিয়াসিয়্যাহ ফী উলূমিল মাআনি ওয়াল বায়ান ওয়াল বাদী»।

সম্ভবত এই বইগুলো বা সারসংক্ষেপগুলোর মধ্যে সর্বযুগের প্রাচ্যবাসীদের নিকট সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো আল-মাআনি, আল-বায়ান এবং আল-বাদী শাস্ত্রের উপর রচিত খতীব আল-কাজউইনী (যার উল্লেখ ইতিপূর্বে করা হয়েছে)-এর কিতাব «তালখীসুল মিফতাহ»।

এই কিতাবটির প্রতি আলেমদের নানাবিধ আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়েছে; কেউ এটি ব্যাখ্যা করেছেন, কেউ কাব্যরূপে গেঁথেছেন এবং কেউ একে সংক্ষিপ্ত করেছেন। যারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

১ - খতীব আল-কাজউইনী স্বয়ং; তিনি এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন «ইজাহুত তালখীস»। এর মাধ্যমে তিনি কিতাবটির অস্পষ্ট ও জটিল অংশগুলো স্পষ্ট করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছেন। পাশাপাশি তিনি «আল-মিফতাহ» কিতাবটির এমন কিছু বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা «তালখীস»-এ বাদ পড়েছিল এবং আব্দুল কাহের-এর «দালাইলুল ইজায» ও «আসরারুল বালাগাহ» কিতাবদ্বয় থেকে আরও কিছু অতিরিক্ত অংশ এতে সংযোজন করেছেন।

২ - মুহাম্মদ ইবনে মুজাফফর আল-খালখালী (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরী); তিনি এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন «মিফতাহু তালখীসিল মিফতাহ»।

৩ - বাহাউদ্দীন আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৭৩ হিজরী); তিনি এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন «আরুসুল আফরাহ ফী শারহি তালখীসিল মিফতাহ»।

৪ - মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ নাজিরুল জাইশ (মৃত্যু ৭৭৮ হিজরী); তিনি এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন «শারহু তালখীসিল কাজউইনী»।

৫ - মুহাম্মদ আল-বায়ারতী (মৃত্যু ৭৮৬ হিজরী) এবং শামসুদ্দীন আল-কুনাবী (মৃত্যু ৭৮৮ হিজরী); তাদের প্রত্যেকেই এর একটি করে ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন এবং নাম দিয়েছেন «শারহু তালখীসিল মিফতাহ লিল-কাজউইনী»।

৬ - সা'দুদ্দীন আত-তাফতাযানী (মৃত্যু ৭৯২ হিজরী); তিনি «তালখীস»-এর জন্য দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন: আশ-শারহুল কাবীর এবং আশ-শারহুস সাগীর।

৭ - ইবনে ইয়াকুব আল-মাগরিবী (মৃত্যু ১১১০ হিজরী); তিনি «মাওয়াহিবুল মিফতাহ ফী শারহি তালখীসিল মিফতাহ» কিতাবের রচয়িতা।

আর যারা এটিকে কাব্যরূপ দান করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আমাসিয়ার মুফতি খিজির ইবনে মুহাম্মদ, তিনি তার কাব্যের নাম রেখেছেন «আনবূবুল বালাগাহ» এবং জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী, তিনি তার কাব্যের নাম রেখেছেন «উকূদুল জুমান»,
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩২)
ثم عاد فوضع لمنظومته شرحا، وعبد الرحمن الأخضري، وسمى نظمه «الجوهر المكنون في الثلاثة الفنون».

وممن قام باختصاره: عز الدين بن جماعة، وأبرويز الرومي، وزكريا الأنصاري.

وتلك الشروح والتلخيصات والمنظومات إن دلت على شيء فعلى جمود الفكر البلاغي وعقمه منذ عصر السكاكي. نقول ذلك لأن كل ما ظهر من شروح وتلخيصات لكتاب المفتاح لا تخرج عن كونها ترديدا وتكرارا لمادته، ومحاولات قصد بها الإيضاح بالشرح أو التقريب والتبسيط عن طريق الإيجاز والتلخيص والنظم، وإذا هي من حيث لا يريد ولا يدري أصحابها قد زادت المفتاح صعوبة على صعوبة.

وإنه ليخيل لمن يقرأ هذه الشروح والمتون أن واضعيها لم يكونوا علماء في البلاغة بمقدار ما كانوا معلمين لها، يذكرون الكلمة أو العبارة من الأصل ثم يتبعونها بشرح المراد منها، ولا يتجاوزون ذلك. كلهم في ذلك سواء، وصدق فيهم بهاء الدين السبكي: «يتناولون المعنى الواحد بالطرق المختلفة، ويتناوبون المشكل والواضح على أسلوب واحد … لا يخالف المتأخر المتقدم إلا بتغيير العبارة، ولا يجد له على حل ما استشكل على غيره جسارة … قصارى أحدهم أن يعزو أبياتا من الشواهد لقائليها، ويوسع الدائرة بما لا يقام له وزن من تكميل ناقصها، وإنشاد ما قبلها وما يليها … فلو نطق «التلخيص» لتلا ما جئتم به؟ «هذه بضاعتنا ردت إلينا».

فهذه الكتب الكثيرة التي أريد بها خدمة البلاغة والنقد قد عجزت عن أن تعلم نقدا أو بلاغة، وهي إن دلت على شيء فعلى جمود عقول أصحابها وفقدانها القدرة على التجديد والابتكار.

والمقارنة بين ما كانت عليه البلاغة العربية في العصور الأولى وما صارت إليه في العصور المتأخرة ترينا كيف ازدهرت وتوهجت شعلتها على
অতঃপর আব্দুর রহমান আল-আখদারি পুনরায় ফিরে এলেন এবং তাঁর কাব্যগ্রন্থের জন্য একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করলেন এবং তাঁর কাব্যের নাম দিলেন ‘আল-জাওহারুল মাকনুন ফিস সালাসাতিল ফুনুন’।

আর যারা এটি সংক্ষেপ করার দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইজ্জুদ্দিন বিন জামাআহ, আবরুয়েজ আল-রুমি এবং জাকারিয়া আল-আনসারি।

আর এই সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সারসংক্ষেপ ও কাব্যগাঁথা যদি কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয়, তবে তা সাক্কাকির যুগ থেকে আলঙ্কারিক চিন্তাধারার স্থবিরতা ও বন্ধ্যাত্বেরই ইঙ্গিত দেয়। আমরা এটি বলছি কারণ ‘আল-মিফতাহ’ গ্রন্থের যত ব্যাখ্যা ও সারসংক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে, তা এর মূল উপাদানের পুনরাবৃত্তি ও রোমন্থন ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলি ছিল ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়বস্তু স্পষ্ট করা অথবা সংক্ষিপ্তকরণ, সারসংক্ষেপ ও কাব্যাকারে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়টিকে সহজবোধ্য করার প্রচেষ্টা; অথচ এই গ্রন্থসমূহের রচয়িতারা অনিচ্ছাসত্ত্বেও ও অজ্ঞাতসারেই ‘মিফতাহ’কে কঠিনের ওপর আরও কঠিন করে তুলেছেন।

আর যে ব্যক্তি এই সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও মূল পাঠ (মতন) পাঠ করবে, তার মনে হতে পারে যে এগুলির রচয়িতারা অলঙ্কার শাস্ত্রের পণ্ডিত হওয়ার চেয়ে অলঙ্কার শাস্ত্রের শিক্ষক হিসেবেই বেশি আবির্ভূত হয়েছেন; তাঁরা মূল গ্রন্থ থেকে কোনো শব্দ বা বাক্য উল্লেখ করেন এবং এরপর তার উদ্দিষ্ট অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান করেন, এর বাইরে তাঁরা আর অগ্রসর হন না। এ ক্ষেত্রে তারা সবাই সমান, আর বাহাউদ্দিন আস-সুবকি তাদের সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন: “তারা একই অর্থকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে গ্রহণ করে এবং জটিল ও সহজ বিষয়কে একই রীতিতে আবর্তন করে … পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের সাথে কেবল ভাষার পরিবর্তন ছাড়া আর কোনো ভিন্নমত পোষণ করেন না, আর অন্যের কাছে যা অস্পষ্ট ছিল তা সমাধানের জন্য নিজের মাঝে কোনো সাহসিকতা খুঁজে পান না … তাদের একজনের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা হলো কাব্যের উদাহরণগুলোকে সেগুলির রচয়িতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং সেগুলোর অপূর্ণ অংশ পূর্ণ করা ও সেগুলোর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পংক্তিগুলো পাঠ করার মতো গুরুত্বহীন কাজের মাধ্যমে পরিধি বিস্তৃত করা … সুতরাং ‘আত-তালখিস’ যদি কথা বলতে পারত, তবে তোমরা যা নিয়ে এসেছ সে সম্পর্কে এই বাক্যটি পাঠ করত: ‘এ তো আমাদেরই পণ্য যা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে’।”

সুতরাং এই অসংখ্য কিতাব, যার মাধ্যমে অলঙ্কার শাস্ত্র ও সমালোচনা সাহিত্যের সেবা করার ইচ্ছা করা হয়েছিল, তা সমালোচনা বা অলঙ্কার শাস্ত্র শিক্ষা দিতে অক্ষম হয়েছে। এগুলি যদি কোনো কিছুর প্রমাণ দেয়, তবে তা রচয়িতাদের বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা এবং নতুনত্ব ও সৃজনশীলতার ক্ষমতা হারানোরই প্রমাণ দেয়।

আর প্রাথমিক যুগগুলোতে আরবি অলঙ্কার শাস্ত্রের অবস্থা এবং পরবর্তী যুগে এর পরিণতির মধ্যকার তুলনা আমাদের দেখায় যে, কীভাবে এর শিখা প্রোজ্জ্বল ও বিকশিত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أيدي علمائها الأوائل، ثم كيف جفّت وخبت شعلتها على أيدي المتأخرين منهم.

وقد ظل أمرها هكذا جمودا على جمود حتى قيّض لها من أدباء العربية وعلمائها في العصر الحديث من يعملون على إحيائها ونهضتها.

…
তাদের পূর্বসূরী আলেমগণের হাতে, অতঃপর তাদের পরবর্তী প্রজন্মের আলেমদের হাতে তা কীভাবে শুষ্ক হয়ে গিয়েছিল এবং এর শিখা নির্বাপিত হয়েছিল।

এবং এর অবস্থা এভাবেই স্থবিরতার ওপর স্থবিরতায় আচ্ছন্ন ছিল, যতক্ষণ না আধুনিক যুগে আরবি সাহিত্যিক ও আলেমগণের মধ্য থেকে এমন একদলকে এর জন্য নির্ধারিত করা হলো যারা এর পুনর্জাগরণ ও নবজাগরণের লক্ষ্যে কাজ করছেন।

…
(খণ্ড: ১) ইলমুল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الفصل الثالث علم المعاني وأثره في بلاغة الكلام

بعد أن فصّلنا القول عن البلاغة والفصاحة وأوجه اتفاقهما واختلافها، وبعد الكلام عن نشأة علم المعاني، وبيان كيف كانت أساليبه المختلفة مختلطة في أول الأمر بأساليب علمي البيان والبديع، وكيف كان ينظر إليها جميعا

على أنها وحدة تؤلف بمجموعها أصول البلاغة العربية، وبعد أن عرفنا كيف أخذت كل هذه الأساليب على مر العصور تتبلور وتنحو منحى التميز والاستقلال، حتى صارت أساليب البديع علما على يد ابن المعتز، والأساليب المتصلة بكل من المعاني والبيان علما واضح المعالم والمباحث على يد كل من عبد القاهر الجرجاني والزمخشري والسكاكي …

أقول بعد ذلك كله نحاول الآن أن نتبين أثر علم المعاني في بلاغة الكلام.

وتوطئة للحديث عن هذا الموضوع يجدر بنا أن نتذكر أن الباحثين في البلاغة العربية منذ صدر الإسلام لم يكونوا مدفوعين إلى ذلك بباعث الشغف العلمي والبحث النظري المجرد في البلاغة، وإنما حفزهم في الواقع إلى الاشتغال بها رغبة ملحة في تحقيق هدفين: هدف خاص وآخر عام.

أما الهدف الخاص فكان هدفا دينيا يرمي إلى معرفة إعجاز كتاب
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলমুল মা’আনি এবং বাক্যের অলঙ্কারশাস্ত্রে এর প্রভাব

বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও ফাসাহাত (বাগ্মিতা), তাদের পারস্পরিক সাদৃশ্য ও পার্থক্যের দিকসমূহ বিস্তারিত আলোচনার পর, এবং ইলমুল মা’আনির উদ্ভব ও এর প্রাথমিক পর্যায়ে এর বিভিন্ন পদ্ধতিগুলো কীভাবে ইলমুল বায়ান ও ইলমুল বাদী’-এর পদ্ধতির সাথে মিশে ছিল, এবং কীভাবে সেগুলোকে একত্রে দেখা হতো—এসব আলোচনার পর

একটি একক সত্তা হিসেবে যা সামগ্রিকভাবে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতিগুলো গঠন করে; এবং যুগ যুগ ধরে কীভাবে এই সকল পদ্ধতি সুসংহত হতে শুরু করেছিল এবং স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার দিকে ধাবিত হয়েছিল তা জানার পর; এমনকি ইবনুল মু’তায-এর হাতে ‘বাদী’ শাস্ত্রের পদ্ধতিগুলো একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয় এবং আব্দুল কাহির আল-জুরজানি, যামাখশারি ও সাক্কাকি-এর হাতে মা’আনি ও বায়ান সংশ্লিষ্ট পদ্ধতিগুলো সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য ও আলোচনার বিষয়বস্তু সম্বলিত একটি সুনিশ্চিত শাস্ত্রে রূপ লাভ করে …

এই সমস্ত আলোচনার পর আমি বলছি, এখন আমরা বাক্যের অলঙ্কারশাস্ত্রে ইলমুল মা’আনির প্রভাব স্পষ্ট করার চেষ্টা করব।

এই বিষয়টি আলোচনার ভূমিকা স্বরূপ আমাদের স্মরণ করা উচিত যে, ইসলামের প্রারম্ভিক কাল থেকে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের গবেষকগণ কেবল বৈজ্ঞানিক কৌতূহল বা অলঙ্কারশাস্ত্রের নিছক তাত্ত্বিক গবেষণার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এতে প্রবৃত্ত হননি; বরং বাস্তবে দুটি লক্ষ্য অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাদের এই কাজে নিয়োজিত হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল: একটি বিশেষ লক্ষ্য এবং অন্যটি সাধারণ লক্ষ্য।

বিশেষ লক্ষ্যটি ছিল একটি ধর্মীয় লক্ষ্য, যার উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর কিতাবের অলৌকিকতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।