(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: -)
كشف الإيهام لما تضمنه «تحرير التقريب» من الأوهام القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: كشف الإيهام لما تضمنه «تحرير التقريب» من الأوهام
المؤلف: ماهر ياسين الفحل
الناشر: دار الميمان للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 644
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 شوّال 1447
‘তহরীরুত তাকরীব’-এ বিদ্যমান বিভ্রান্তি সমূহের স্বরূপ উন্মোচন বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
কিতাব: ‘তহরীরুত তাকরীব’-এ বিদ্যমান বিভ্রান্তি সমূহের স্বরূপ উন্মোচন
লেখক: মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল
প্রকাশক: দারুল মায়মান পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪৪
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ শাওয়াল ১৪৪৭
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلفإنَّ الحمد للَّه نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له.
"وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله، وأمينه على وحيه، وخيرته من خلقه وسفيره بينه وبين عباده، المبعوث بالدين القويم، والمنهج المستقيم، أرسله اللَّه رحمة للعالمين، وإمامًا للمتقين، وحجةً على الخلائق أجمعين"
(1).
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].
أما بعد:
فلقد اصطفى اللَّه تعالى هذه الأمة؛ إذ شرفها بأن اختار لها هذا الدين القويم، وجعل أساسها المشيد وركنها الركين "كتابه العزيز"، وهيَّأ هذه الأمة لتضطلع بتلك المهمة، ألا وهي حفظ هذا الكتاب الذي تعهد اللَّه تبارك وتعالى
--------------------------------------------
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
লেখকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
"এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত। তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং সঠিক জীবনবিধানসহ প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ, মুত্তাকীদের ইমাম এবং সমস্ত সৃষ্টির জন্য হুজ্জাত (প্রমাণ) হিসেবে প্রেরণ করেছেন।"
(১){হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু নর ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (১)} [আন-নিসা: ১]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল (৭১)} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে মনোনীত করেছেন; কেননা তিনি তাদের জন্য এই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন নির্বাচন করে তাদের সম্মানিত করেছেন এবং এর সুদৃঢ় ভিত্তি ও মজবুত স্তম্ভ বানিয়েছেন তাঁর "মহাগ্রন্থকে"। আর তিনি এই উম্মতকে প্রস্তুত করেছেন সেই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য, যা হলো এই কিতাব সংরক্ষণ করা, যার দায়িত্ব আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা স্বয়ং গ্রহণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٦)
سلفًا بحفظه، فقال: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9)}، فرزقها جودة الفهم وقوة الحافظة، ووفور الذهن، فلم يتمكن أحد -بحمد اللَّه- من أن يجرأ فيزيد أو ينقص حرفًا أو حركةً من القرآن الكريم.
ولما تعهد اللَّه تعالى بحفظ القرآن الكريم، كان مما احتواه هذا العهد ضمنًا حفظ سنة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ومن ذلك حفظ أحاديث المصطفى صلى الله عليه وسلم بأسانيدها، فكان الإسناد أحد الخصائص التي اختص اللَّه تعالى بها أمة صفيِّه صلى الله عليه وسلم.
ولقد أدرك الصدر الأول أهمية ذلك، فروى الإمام مسلم
(1) وغيره عن محمد بن سيرين أنه قال: "إنَّ هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم" وروى أيضًا
(2) عنه أنه قال: "لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة، قالوا: سمّوا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم".
ومن ثم افتقر الأمر إلى معرفة ضبط الراوي وصدقه، فكانت الحاجة ماسة إلى استكمال هذا الأمر، فكان نشوء "علم الجرح والتعديل" أو "علم الرجال".
وعلى الرغم من أن هذا العلم لم يكن فجائي الظهور، إلا أنه لا مناص من القول بأنه كان مبكر الظهور جدًّا، وينجلي ذلك مما نقلناه سالفًا عن ابن سيرين، وقد كان المسلمون مطمئنين إلى أن اللَّه تعالى يهيئ لهذا الأمر من يقوم به، ويتحمل أعباء هذه المهمة الجسيمة، فقد أسند ابن عدي في مقدمة "الكامل"
(3)، وابن الجوزي في مقدمة "الموضوعات"
(4) أنه قيل لعبد اللَّه بن المبارك: هذه الأحاديث المصنوعة؟ فقال: تعيش لها الجهابذة، {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9)}.
--------------------------------------------
তিনি পূর্বেই এর সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অতঃপর বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী (৯)"। ফলে তিনি এই উম্মতকে প্রখর অনুধাবন শক্তি, শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি ও মেধার প্রাচুর্য দান করেছেন। আল্লাহর প্রশংসায়, পবিত্র কুরআনের একটি বর্ণ বা স্বরচিহ্ন বৃদ্ধি বা হ্রাস করার দুঃসাহস কেউ দেখাতে পারেনি।
আর যেহেতু মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন সংরক্ষণের অঙ্গীকার করেছেন, তাই এই অঙ্গীকারের অন্তর্নিহিত বিষয় ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর সংরক্ষণ। আর এর অংশ হিসেবেই মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহ সেগুলোর সনদসহ সংরক্ষিত হয়েছে। সুতরাং সনদ হলো সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর মনোনীত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতকে বিশিষ্টতা দান করেছেন।
প্রথম যুগের ব্যক্তিবর্গ এর গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। ইমাম মুসলিম
(১) ও অন্যান্যরা মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম (জ্ঞান) হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার কাছ থেকে তোমরা তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ।" তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে
(২) যে, তিনি বলেছেন: "আগে তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা দেখা দিল, তখন তারা বললেন: আমাদের নিকট তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো। তখন আহলে সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।"
অতঃপর বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা ও সত্যবাদিতা যাচাই করার আবশ্যকতা দেখা দিল এবং এই বিষয়টি পূর্ণতা দানের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে উঠল। এরই ফলশ্রুতিতে "ইলমুল জারহ ওয়াত তা'দীল" বা "ইলমুর রিজাল" (বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞান)-এর উদ্ভব ঘটে।
যদিও এই ইলম হঠাৎ করে আত্মপ্রকাশ করেনি, তবুও এ কথা বলাই সংগত যে এটি অত্যন্ত দ্রুত ও শুরুর দিকেই বিকাশ লাভ করেছিল। ইবনে সিরীন থেকে পূর্বে বর্ণিত উক্তি থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। মুসলমানরা এ বিষয়ে আশ্বস্ত ছিলেন যে, মহান আল্লাহ এই কাজের জন্য এমন উপযুক্ত লোক তৈরি করবেন যারা এর দায়িত্ব পালন করবেন এবং এই মহান কর্তব্যের গুরুভার বহন করবেন। ইবনে আদী তাঁর "আল-কামিল" গ্রন্থের ভূমিকায়
(৩) এবং ইবনে আল-জাওযী "আল-মাওজুআত" গ্রন্থের ভূমিকায়
(৪) বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: এই জাল হাদীসগুলোর কী হবে? তিনি বললেন: এগুলোর (মোকাবিলার) জন্য দক্ষ ও সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিতগণ বেঁচে আছেন, (কেননা আল্লাহ বলেছেন) "নিশ্চয়ই আমি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী (৯)"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٧)
ولم يخلُ عصر من العصور من إمام يقوم بواجب هذه الصنعة، إلا أن المنهج -وكما يعرفه المختصون- اختلف من المتقدمين إلى المتأخرين. فبعد أنْ كان عند المتقدمين قائمًا على الاجتهاد والأصالة والسبر والاستقراء، أصبح عند المتأخرين قائمًا على الترتيب والجمع والتصنيف، ومن خلال التطور الزمني للتصنيف في علم الجرح والتعديل، كان "الكمال في أسماء الرجال"
(1) للحافظ عبد الغني المقدسي أحد حلقات تطوره، والذي نال من الاهتمام ما لا ينكره عاقل، ومن ثم تكاثرت فروعه، فكان أحد تلك الفروع كتاب: "تقريب التهذيب" لحافظ عصره بلا مدافع، وإمام وقته بلا منازع أبو الفضل شهاب الدين أحمد بن علي بن حجر العسقلاني -رحمه اللَّه تعالى-.
وقد برزت في هذا الكتاب -كما في غيره من كتبه- شخصية الحافظ الناقد الخبير البصير بمواضع الكلام، ومراتب الرواة، وعلل أحاديثهم، فكان خير تعبير عن علم جمٍّ وافر، وذوق ناقد ماهر، فلقي من القبول ما لم يكد يلقه كتاب آخر في موضوعه، ولم يجرأ أحد من الناس على رد أحكام الحافظ -بل: غاية ما كان استدراكات لا يخلو عمل بشري من العوز لها- منذ تأليفه في النصف الأول من القرن التاسع الهجري حتى وقت قريب.
وبينما المسلمون اليوم يعيشون بين صفعة حاقد، وزمجرة جامد، وتسلط كاسد، ظهر في أسواقهم كتاب أسماه مؤلفاه الأستاذ الدكتور بشار عواد معروف والشيخ شعيب الأرنؤوط: "تحرير تقريب التهذيب"، ادعيا فيه تعقب الحافظ في أحكامه، وأنه أخطأ في خُمس الكتاب، ولم يكن صاحب منهج و. . . و. . . و. . .، مما وصفا الحافظ من أوصاف شديدة.
ومن هنا أخذت على عاتقي التصدي لهذا الكتاب، وبيان ما فيه من زيف وزلل وخطأ ووهم، وليس تجمعني والمؤلفَينِ كراهةٌ، لكن مقالة الحق لا تبقي
--------------------------------------------
কোনো যুগই এমন কোনো ইমাম থেকে শূন্য ছিল না যিনি এই শিল্পের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে পদ্ধতিগত দিক থেকে—যা বিশেষজ্ঞরা জানেন—পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পূর্ববর্তীদের নিকট যেখানে এই জ্ঞান ইজতিহাদ, মৌলিকত্ব, পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা ও আরোহী পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, সেখানে পরবর্তীদের নিকট তা বিন্যাস, সংকলন ও শ্রেণিবিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ‘জারহ ওয়া তাদিল’ (দোষগুণ বিচার) শাস্ত্রের সংকলনের কালানুক্রমিক বিবর্তনের ধারায় হাফেজ আব্দুল গণি আল-মাকদিসির ‘আল-কামাল ফি আসমাইর রিজাল’
(১) ছিল এর বিবর্তনের অন্যতম একটি ধাপ, যা এমন গুরুত্ব লাভ করেছে যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারবে না। অতঃপর এর শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পায়, যার অন্যতম একটি শাখা হলো তাঁর যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী হাফেজ এবং নিজ সময়ের অবিসংবাদিত ইমাম আবু আল-ফজল শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি—আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—কর্তৃক রচিত কিতাব ‘তাক্রিবুত তাহজিব’।
তাঁর অন্যান্য কিতাবের মতো এই কিতাবেও হাফেজের সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক সত্তা ফুটে উঠেছে, যিনি শব্দের প্রয়োগস্থল, বর্ণনাকারীদের স্তর এবং তাদের বর্ণিত হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। এটি ছিল বিপুল জ্ঞান ও নিপুণ সমালোচকের রুচির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। ফলে এটি এমন গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে যা এই বিষয়ের অন্য কোনো কিতাব পায়নি। নবম হিজরি শতকের প্রথমার্ধে এর রচনার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোনো মানুষ হাফেজের রায়ের ওপর আপত্তি তোলার সাহস করেনি—বরং বড়জোর কিছু সম্পূরক টীকা যুক্ত হয়েছে, যা মানুষের তৈরি যেকোনো কাজের জন্যই স্বাভাবিক।
বর্তমান সময়ে যখন মুসলমানরা বিদ্বেষীদের আঘাত, অনড় গোঁড়ামি এবং অকেজোদের আধিপত্যের কবলে দিন কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই বাজারে একটি কিতাব প্রকাশিত হয় যার নাম লেখকদ্বয় প্রফেসর ড. বাশার আওয়াদ মারুফ এবং শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত রেখেছেন: ‘তাহরিরু তাক্রিবিত তাহজিব’। সেখানে তারা হাফেজের দেওয়া রায়গুলোর সমালোচনা করার দাবি করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি কিতাবটির এক-পঞ্চমাংশে ভুল করেছেন। এছাড়া তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির অনুসারী ছিলেন না এবং আরও অনেক কিছু... এভাবে তারা হাফেজকে বিভিন্ন কঠোর বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন।
এখান থেকেই আমি এই কিতাবটির পর্যালোচনার এবং এতে থাকা অসারতা, পদস্খলন, ভুল ও ভ্রান্তিগুলো স্পষ্ট করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি। লেখকদের সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই, কিন্তু সত্যের দাবি কাউকে ছাড় দেয় না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٨)
لصاحبٍ صاحبًا، وتدخلك مع من لست تعرف في غير صحبة ودٍّ، ولكن كثرةُ الدعاء لهما بالسداد وحسن الخاتمة كان ديدني طوال صحبتي لهما في كتابة هذا العمل، وكل يؤخذ منه ويردُّ عليه إلا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.
وربما كتب القلم غاضبًا، فقال حينًا -في الحقِّ- ما ليس كلُّ الناس ترضى عنه وتقبلُ، فهذا مما أستغفر اللَّه منه -على اعتقادي بصوابه- وأعتذر للمحررين عنه -وإن كان مما جنته أيديهم- وأقول لمن قد لا يرتضي:
مُرَّانِ كَمْ قَضَّا مَضَاجِعَ عَالِمٍ
… الحَقُّ مُرٌّ والسُّكُوتُ مَرَارُ
فَلَئِنْ سكَتَّ فَأَنْتَ تَخْذُلُ حَافِظًا
… وَلَئِنْ كَتَبْتَ فَضَجَّةٌ سَتُثَارُ
عَتِبٌ عَلَى قَلَمِ الحَقِيقَةِ أَخْرَسٌ
… فَمَتَى وَقَدْ هُدِمَتْ رُؤَاكَ تَغَارُ؟
وَمَتَى سَتَكْتُبُ أَنْتَ أَوَّلُ صَارخٍ
… يُرْجَى إِذَا قَتَلَ الهَوَاءَ غُبَارُ
فَكَتَبْتُ مَوْجُوعَ الفُؤَادِ، مَرَارَةً
… أَلَّا يُرَى غَيْرَ السُّكُوتِ خَيَارُ
يَا دَوْلَةَ "التَّحْرِيرِ" لَسْتِ بِدَوْلَةٍ
… قَدْ آنَ يَقْتُلُ لَيْلَتَيْكِ نَهَارُ
فجاء هذا الكتابُ غضبةً في اللَّه لابن حجر، وما علي من شيءٍ بعد هذا سوى طلب السداد من اللَّه عز وجل، في زمنٍ قليلًا ما رأينا فيه غضبة للَّه ولعلماء الأمة، الذين أحرقوا أعمارهم شموعًا أنارت دروب حياتنا المظلمة، فلم أر قلمًا تعقب المحررين في كتابهما هذا غير قلم شيخي العلامة الدكتور هاشم جميل -حفظه اللَّه- على كثرةٍ لهذه الأقلام لكن في غير ما غضبةٍ.
ورحم اللَّه القائل:
مَا أكثَرَ النَّاسَ بَلْ ما أقَلَّهُمُ
… واللَّهُ يَشْهَدُ أَنِّي لَمْ أَقُلْ فَنَدا
و:
إِنِّي لَأَفْتَحُ عَيْنِي حِين أَفْتَحُهَا
… علَى كَثِيرٍ وَلَكِنْ لَا أَرَى أَحَدَا
এক সাথী অন্য সাথীর পরিপূরক হয় এবং এটি আপনাকে এমন ব্যক্তিদের সাথে যুক্ত করে যাদের সাথে আপনার হয়তো বন্ধুত্বের হৃদ্যতা নেই। তবে এই গ্রন্থটি রচনার পুরোটা সময় জুড়ে তাদের উভয়ের জন্য সঠিক পথপ্রদর্শন এবং উত্তম পরিণতির (হুসনে খাতেমা) জন্য দোয়া করাই ছিল আমার নিরন্তর অভ্যাস। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে কিংবা বর্জন করা যেতে পারে।
সম্ভবত কলমটি কখনও রাগান্বিত অবস্থায় লিখেছে, তাই সত্যের খাতিরে কখনও এমন কথা বলেছে যা সকল মানুষ সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করবে না। আমি এই জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি—যদিও আমি বিশ্বাস করি যে তা সঠিক ছিল—এবং এ জন্য সম্পাদকদের কাছেও ক্ষমা চাইছি—যদিও এটি তাদের নিজেদের হাতেরই অর্জন—আর যারা এটি হয়তো পছন্দ করবেন না তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলি:
দুটি তিক্ত বিষয় কতই না আলেমের নিদ্রা হারাম করেছে
… সত্য তিক্ত আর নীরবতা হলো তীব্র তিক্ততা।
যদি তুমি নীরব থাকো তবে তুমি একজন হাফেজকে (সংরক্ষণকারীকে) লাঞ্ছিত করলে
… আর যদি তুমি লেখো তবে এক হট্টগোল সৃষ্টি হবে।
সত্যের কলম যখন বোবা হয়ে যায় তখন তা নিন্দনীয়
… যখন তোমার দৃষ্টিভঙ্গিগুলো ধূলিসাৎ হয়ে গেছে তখন তুমি কবে আত্মমর্যাদাবোধ দেখাবে?
আর তুমিই তো প্রথম আর্তনাদকারী হিসেবে কবে লিখবে
… যখন ধূলিকণা বাতাসকে রুদ্ধ করে দেয় তখন তোমাকেই প্রত্যাশা করা হয়।
তাই আমি ব্যথিত হৃদয়ে লিখেছি, সেই তিক্ততা নিয়ে
… যে নীরবতা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্পই অবশিষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
হে "সম্পাদনার" রাজত্ব, তুমি কোনো স্থায়ী রাষ্ট্র নও
… এখন সময় এসেছে যে তোমার রাতগুলোকে দিন এসে বিনাশ করবে।
ফলে এই গ্রন্থটি ইবনে হাজারের পক্ষ নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে একটি ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এরপর আল্লাহর কাছে সঠিক পথপ্রদর্শন প্রার্থনা করা ব্যতীত আমার আর কিছুই করার নেই। এটি এমন এক সময়ে রচিত হয়েছে যখন আল্লাহর জন্য এবং উম্মতের আলেমদের সম্মানে ক্রোধ প্রকাশ করতে খুব কমই দেখা যায়—সেই আলেমগণ যারা মোমবাতির মতো নিজেদের জীবন পুড়িয়ে আমাদের জীবনের অন্ধকার পথগুলোকে আলোকিত করেছেন। আমি আমার শায়খ আল্লামা ডক্টর হাশেম জামিল—আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন—এর কলম ছাড়া আর কোনো কলম দেখিনি যা এই গ্রন্থে সম্পাদকদের ভুলগুলো চিহ্নিত করেছে, যদিও কলমের সংখ্যা অনেক কিন্তু তাতে কোনো ক্রোধ বা তেজ ছিল না।
আর আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যিনি বলেছেন:
মানুষ কতই না বেশি, অথচ তারা সংখ্যায় কতই না নগণ্য
… আর আল্লাহ সাক্ষী যে আমি কোনো নিরর্থক কথা বলিনি।
এবং:
আমি যখন আমার চোখ খুলি, তখন অনেকের ওপরই তা নিবদ্ধ হয়
… কিন্তু আমি (প্রকৃত গুণের) কাউকে দেখতে পাই না।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٩)
و:
مَا أَكْثَرَ "الْأَقْلَامَ" حِينَ "تَعُدُّها"
… لَكِنَّهَا فِي النَّائِبَاتِ قَلِيلُ
وكان دافعي الرئيس الذب عن سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم، والدفاع عن علم الجرح والتعديل الذي هو أصعب العلوم، والدفاع عن الصحيحين.
ثم ليس أمر الكلام في الرواة شيئًا يسيرًا أو هينًا، لذا اشترطت في المجرح والمعدل: العدالة، والدين المتين، والورع، لذا قال الإمام السبكي رحمه الله وهو يتحدث عن صنوف العلماء: "ومنهم المؤرخون وهم على شفا جرفٍ هارٍ؛ لأنهم يتسلطون على أعراض الناس، وربما نقلوا مجرد ما يبلغهم من صادقٍ أو كاذبٍ، فلابد أن يكون المؤرخ عالمًا عادلًا، عارفًا بحال من يترجمه، ليس بينه وبينه من الصداقة ما قد يحمل على التعصب ولا من العداوة ما قد يحمله على الغض منه"
(1).
فشمرت عن ساعد الجد، لنقد هذا الكتاب وبيان فحواه، واللَّه أسأل أن يجعل عملي هذا خالصًا لوجهه الكريم.
واقتضت طبيعة هذا الكتاب أن أقسمه بعد هذه المقدمة إلى قسمين:
القسم الأول: في المقدمات، واحتوى على خمسة فصول:
الفصل الأول: الحافظ ابن حجر، وكتابه التقريب.
الفصل الثاني: أنظار في تحرير التقريب.
الفصل الثالث: فرائد الفوائد.
الفصل الرابع: طبعات التقريب.
الفصل الخامس: نقد مقدمة التحرير.
--------------------------------------------
:
গণনার সময় "কলম" কতই না বেশি
… কিন্তু বিপদ-আপদে তা খুবই সামান্য।
আর আমার প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করা, জারাহ ও তা'দীল ইলমের পক্ষাবলম্বন করা—যা ইলমের কঠিনতম শাখাগুলোর একটি—এবং সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর মর্যাদা রক্ষা করা।
অতঃপর বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সমালোচনা করা কোনো সহজ বা সাধারণ বিষয় নয়। একারণে জারাহ ও তা'দীলকারীর (সমালোচক ও সংশোধনকারী) জন্য শর্তারোপ করা হয়েছে: ন্যায়পরায়ণতা, সুদৃঢ় দ্বীনদারী এবং তাকওয়া। তাই ইমাম সুবকী (রাহিমাহুল্লাহ) ওলামাদের বিভিন্ন শ্রেণী নিয়ে আলোচনার সময় বলেছেন: "তাদের মধ্যে রয়েছেন ইতিহাসবিদগণ, আর তারা এক পতনোন্মুখ গর্তের কিনারায় অবস্থান করছেন; কারণ তারা মানুষের মান-সম্মান নিয়ে নাড়াচাড়া করেন। সম্ভবত তারা সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী—উভয়ের কাছ থেকেই যা পৌঁছায় তা-ই বর্ণনা করেন। সুতরাং ইতিহাসবিদকে অবশ্যই একজন ন্যায়পরায়ণ আলেম হতে হবে, যার জীবনী তিনি লিখছেন তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হবে। তাদের মধ্যে এমন কোনো বন্ধুত্ব থাকা চলবে না যা তাকে পক্ষপাতের দিকে ধাবিত করবে, আর না এমন কোনো শত্রুতা থাকবে যা তাকে অবজ্ঞা করতে প্রবৃত্ত করবে"
(১)।
তাই আমি এই কিতাবটির সমালোচনা ও এর মূল বিষয়বস্তু বিশ্লেষণের জন্য সচেষ্ট হয়েছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন।
এই কিতাবটির বিষয়বস্তু অনুযায়ী আমি এই ভূমিকার পর একে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অংশ: প্রাক-আলোচনা প্রসঙ্গে, যা পাঁচটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাফেজ ইবনে হাজার এবং তাঁর রচিত 'তাকরীব' কিতাব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'তাহরীরুত তাকরীব' গ্রন্থটির ওপর পর্যবেক্ষণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অনন্য ও মূল্যবান জ্ঞাতব্যসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: 'তাকরীব' কিতাবের মুদ্রণসমূহ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: 'তাহরীর'-এর ভূমিকার সমালোচনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ١٠)
أما القسم الثاني: وهو الأهم، فقد ذكرت فيه أوهام المحررين وأخطاءهما، وقد سرت فيه على النهج الآتي:
أذكر الترجمة من نص التحرير (وقد حرصت على ذكر نصهما بحروفه)، وأصدر الترجمة برقم متسلسل لتراجم الكتاب، ثم أضع رقم الترجمة من التحرير بين هلالين، ثم أسوق تعقب المعترضين، ثم بعد ذلك أناقشهما في ذلك.
وقد تتبعت المحررين -الدكتور بشار عواد معروف والشيخ شعيب الأرنؤوط- في نصهما الذي أثبتاه للتقريب وفي أحكامهما وفي نقولاتهما فكانت دراسة استقرائية تامة شاملة -إن شاء اللَّه-.
وقد وجدت عدد الأخطاء والأوهام وغير ذلك التي وقع فيها المحرران كثيرًا جدًّا، وأن مسألة ذكرها بجملتها في صلب الكتاب، ربما يجعل الكتاب ذا مجلدات عدة، فارتأيت أن أضع تلك الأخطاء في جداول طلبًا للاختصار وألحقتها في نهاية الكتاب.
وقد أجملت بعضها في القسم الأول خشية التكرار والإطالة، وقد تم تعقب المحررين في أكثر من ألفي موضع، توزعت على (1420) موضعًا في مقدمة الكتاب، و (585) موضعًا في القسم الثاني، و (399) موضعًا في ملاحق الكتاب.
وكان من منهج عملي في كتابي هذا: أنني قابلت النص على المطبوعات واستعنت في مواطن الاختلاف بالنسخ الخطية
(1) وما أعزها علينا في بلدنا الذي يئن تحت وطئة الحصار منذ عقد من السنين، ثم تحت الاحتلال المقيت، وتتبعت المحررين الفاضلين في تخريجاتهما وأحكامهما في غير هذا الكتاب؛ ليصبح بيان منهجهما في باقي كتبهما أوضح، وليكون إيراد تناقض أبلغ، واستفدت في مواضع من تخريجات وتنبيهات المُحْدَثين بعد سبرها وتمحيصها.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ প্রসঙ্গে: এটিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ, এতে আমি দুই সম্পাদকের বিভ্রান্তি ও ভুলত্রুটিসমূহ উল্লেখ করেছি এবং এতে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
আমি 'তাহরীর'-এর মূল পাঠ থেকে জীবনীটি উল্লেখ করি (এবং আমি তাদের ব্যবহৃত মূল পাঠটি হুবহু উল্লেখ করার বিষয়ে সচেষ্ট থেকেছি), জীবনীটি কিতাবের জীবনীসমূহের ধারাবাহিক নম্বর অনুযায়ী বিন্যস্ত করি, এরপর বন্ধনীর মাঝে 'তাহরীর' থেকে নেওয়া জীবনী নম্বরটি প্রদান করি, অতঃপর আপত্তিকারীদের পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরি এবং সবশেষে সে বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা করি।
আমি দুই সম্পাদক—ডক্টর বাশার আওয়াদ মারূফ এবং শায়খ শুয়াইব আরনাউত—কর্তৃক 'তাকরীব'-এর জন্য সাব্যস্তকৃত পাঠ্য, তাদের সিদ্ধান্তসমূহ এবং তাদের উদ্ধৃতিসমূহ যাচাই করেছি। ফলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক গবেষণামূলক পর্যালোচনায় পরিণত হয়েছে—ইনশাআল্লাহ।
আমি দুই সম্পাদকের করা ভুল ও বিভ্রান্তি এবং অন্যান্য ত্রুটির সংখ্যা অনেক বেশি পেয়েছি। আর সেগুলো কিতাবের মূল অংশে একত্রে উল্লেখ করলে কিতাবটি সম্ভবত কয়েক খণ্ডে বিন্যস্ত হতো। তাই সংক্ষিপ্ত করার লক্ষ্যে সেই ভুলগুলো আমি ছক আকারে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং কিতাবের শেষে সেগুলো যুক্ত করেছি।
পুনরুক্তি ও দীর্ঘায়নের ভয়ে আমি এগুলোর কিছু অংশ প্রথম পরিচ্ছেদে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি। দুই সম্পাদকের দুই হাজারেরও বেশি স্থানে পর্যালোচনা করা হয়েছে, যা কিতাবের ভূমিকায় ১৪২০টি স্থানে, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে ৫৮৫টি স্থানে এবং কিতাবের পরিশিষ্টে ৩৯৯টি স্থানে বিন্যস্ত।
আমার এই কিতাবের কর্মপদ্ধতি ছিল: আমি মুদ্রিত কপিগুলোর সাথে মূল পাঠের তুলনা করেছি এবং মতপার্থক্যের জায়গাগুলোতে পাণ্ডুলিপির
(১) সাহায্য নিয়েছি। আমাদের দেশে সেগুলো পাওয়া কতই না দুষ্কর, যা এক দশক ধরে অবরোধের যাঁতাকলে এবং এরপর ঘৃণ্য দখলের কবলে পিষ্ট হয়ে কাতরাচ্ছে। এছাড়া আমি এই দুই সম্মানিত সম্পাদকের অন্যান্য কিতাবেও তাদের তাহকীক ও সিদ্ধান্তগুলো অনুসরণ করেছি; যাতে তাদের অন্যান্য কিতাবেও তাদের অনুসৃত পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হয় এবং তাদের বৈপরীত্য তুলে ধরা আরও জোরালো হয়। এছাড়া আধুনিক মুহাদ্দিসদের তাহকীক ও সতর্কবার্তাগুলো গভীরভাবে পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর কিছু স্থানে আমি তা থেকে উপকৃত হয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ١١)
وسيجد القارئ الكريم أني أغلظت القول في بعض المواطن للمحررين غضبة للَّه ولرسوله، وإنني موقنٌ أن هناك كثيرًا ممن يشاركني ذلك، واللَّه من وراء القصد، وهو يتولى السرائر.
وقد بذلت جهدي وما وسعتني طاقتي في هذا الكتاب، ولم آلُ بتعب أو وقت عليه، راجيًا اللَّه تعالى أن يجعله نورًا لي إنه سميع عليم.
وآخر دعوانا أن الحمد للَّه رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
* * *
সম্মানিত পাঠক লক্ষ্য করবেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসার খাতিরে এবং তাঁদের জন্য ক্রোধবশত আমি কিছু স্থানে সম্পাদকদের প্রতি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছি; আমি নিশ্চিত যে, এমন অনেকেই আছেন যারা এই বিষয়ে আমার সাথে একমত পোষণ করবেন। আল্লাহই সকল উদ্দেশ্যের লক্ষ্যস্থল এবং তিনিই গোপন বিষয়সমূহের তত্ত্বাবধায়ক।
আমি এই কিতাবে আমার যথাসাধ্য চেষ্টা ও সামর্থ্য ব্যয় করেছি এবং এর পেছনে শ্রম বা সময়ের কোনো ত্রুটি করিনি; মহান আল্লাহর কাছে আশা করছি যে তিনি এটিকে আমার জন্য নূর হিসেবে কবুল করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আমাদের সর্বশেষ নিবেদন এই যে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।
* * *
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
القسم الأولوفيه خمسة فصول:
الفصل الأول: الحافظ ابن حجر وكتابه التقريب.
الفصل الثاني: أنظار في تحرير التقريب.
الفصل الثالث: فرائد القواعد وشرائد الفوائد.
الفصل الرابع: طبعات التقريب.
الفصل الخامس: نقد مقدمة التحرير.
প্রথম অংশএবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাফেজ ইবনে হাজার এবং তাঁর গ্রন্থ ‘তাকরিব’।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘তাহরিরুত তাকরিব’ পর্যালোচনায় কিছু দৃষ্টিভঙ্গি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দুর্লভ মূলনীতিসমূহ এবং বিক্ষিপ্ত উপকারিতাসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ‘তাকরিব’-এর মুদ্রণসমূহ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ‘তাহরির’-এর ভূমিকার সমালোচনা।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الفصل الأول ابن حجر وكتابه التقريبوفيه مبحثان:
المبحث الأول: حياته
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: حياته.
المطلب الثاني: مؤلفاته.
المبحث الثاني: كتاب تقريب التهذيب.
প্রথম অধ্যায়: ইবনে হাজার ও তাঁর গ্রন্থ আত-তাকরীবএতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন
এতে দুইটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাকরীবুত তাহজীব গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ١٧)
تمهيدلما كان الحافظ ابن حجر يمتاز بالمكانة العلمية المرموقة، فقد ترجم له كثير من المؤلفين القدماء، كما عني بعض المحدثين بأخباره ومكانته ومؤلفاته
(1).
وقد وردت ترجمة ابن حجر في أكثر من ثلاثين
(2) مصدرًا ما بين قديم وحديث ونظرًا لتوافر التراجم القديمة والحديثة، فقد اقتصرنا في التعريف به على مبحثين موجزين:
تحدثت في المبحث الأول عن بعض ملامح حياته العلمية، وفي المبحث الثاني تحدثت عن التقريب.
فكانت خطة البحث على النحو الآتي:
المبحث الأول: حياته ومؤلفاته وفيه مطلبان:
المطلب الأول: حياته.
والمطلب الثاني: في مؤلفاته.
--------------------------------------------
উপক্রমণিকাযেহেতু হাফিজ ইবনে হাজার অনন্য পাণ্ডিত্যপূর্ণ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, তাই প্রাচীন লেখকদের অনেকেই তাঁর জীবনী রচনা করেছেন। তেমনিভাবে আধুনিক লেখকদের কেউ কেউ তাঁর জীবনবৃত্তান্ত, মর্যাদা ও রচনাবলি নিয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন
(১)।
প্রাচীন ও আধুনিক মিলিয়ে ত্রিশটিরও
(২) বেশি উৎসে ইবনে হাজারের জীবনী বর্ণিত হয়েছে। প্রাচীন ও আধুনিক জীবনীগ্রন্থের পর্যাপ্ততা বিবেচনায় আমরা তাঁর পরিচিতি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দুটি সংক্ষিপ্ত পরিচ্ছেদে সীমাবদ্ধ থেকেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদে আমি তাঁর ইলমি জীবনের কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে 'আত-তাকরিব' সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
গবেষণা পরিকল্পনাটি নিম্নরূপ বিন্যস্ত হয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন ও রচনাবলি, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর জীবন।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি প্রসঙ্গে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ١٩)
المبحث الأول
المطلب الأول حياتهوفيها:
1 - اسمهُ ونسبه ونسبتُه وكنيته:هو شهاب الدين، أبو الفضل، أحمد بن علي بن محمد بن محمد بن علي بن محمود بن حجر الكناني العسقلاني.
وكنانة: هي قبيلته، وعسقلان: هي المدينة التي جاءت منها أصوله.
وأما حجر: فهو اسم أحد أجداده أو لقب له واشتهر هو بـ (ابن حجر) وكناه والده أبا الفضل، ولقب بشهاب الدين
(1).
2 - ولادته ونشأته وطلبه للعلم ورحلاته:ولد في شهر شعبان سنة ثلاث وسبعين وسبع مائة، على شاطئ النيل بمصر ونشأ يتيمًا؛ إذ مات أبوه وله من العمر أربع سنوات، وكانت أمه قد ماتت قبل ذلك
(2). وقد دخل الكُتَّابَ وهو ابن خمس سنين، وأكمل حفظ القرآن وهو في التاسعة من عمره، وصلَّى بالناس التراويح في الحرم المكي سنة خمس وثمانين وسبع مائة، وله من العمر اثنا عشر عامًا، وكان مع وصيه زكي الدين الخرُّوبي
(3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর জীবনএর অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ:
১ - তাঁর নাম, বংশপরিচয়, সম্পৃক্তি ও উপনাম:তিনি হলেন শিহাবুদ্দিন, আবুল ফজল, আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন হাজার আল-কিনানী আল-আসকালানী।
কিনানা হলো তাঁর গোত্র, আর আসকালান হলো সেই শহর যেখান থেকে তাঁর পূর্বপুরুষগণ এসেছেন।
আর হাজার হলো তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষের নাম অথবা উপাধি, আর তিনি 'ইবনে হাজার' নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তাঁর পিতা তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম রেখেছিলেন আবুল ফজল এবং তাঁর উপাধি ছিল শিহাবুদ্দিন
(১)।
২ - তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, জ্ঞান অর্জন ও সফরসমূহ:তিনি ৭৭৩ হিজরির শাবান মাসে মিসরের নীল নদের তীরে জন্মগ্রহণ করেন এবং এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন; কেননা যখন তাঁর পিতার মৃত্যু হয় তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র চার বছর এবং তাঁর মাতা এর আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন
(২)। তিনি পাঁচ বছর বয়সে মক্তবে প্রবেশ করেন এবং নয় বছর বয়সে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। ৭৮৫ হিজরিতে বারো বছর বয়সে তিনি তাঁর অভিভাবক জাকিউদ্দীন আল-খাররুবীর সাথে মক্কার হারামে লোকদের নিয়ে তারাবিহ সালাত আদায় করেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وكان له من النهمة العلمية الشيء الكثير، فبعد حفظه القرآن حفظ كتبًا من مختصرات العلوم، وعرضها -كما هي العادة- على جماعة من أئمة عصره وكتبوا له خطوطهم بذلك.
فلما قارب العشرين فاق أقرانه في فنون الأدب، ونظم الشعر الرائق، وكتب النثر الفائق، واهتم بالتاريخ والحديث وعلومهما
(1). وقد رحل تحصيلًا للعلم إلى كثير من البلدان، فسافر إلى اليمن، والشام والحجاز وغيرها، وأخذ العلم عن مشاهير علمائها
(2).
3 - شيوخه:تلقى ابن حجر العلم عن شيوخ كثيرين في مختلف العلوم والفنون، وقد خصص لشيوخه كتابين:
الأول: (المجمع المؤسس للمعجم المفهرس) ترجم فيه لشيوخه، وذكر مروياتهم بالسماع أو بالإجازة أو الإفادة عنهم.
والثاني: المعجم المفهرس، وهو فهرس لمرويات الحافظ، ذكر فيه شيوخه خلال ذكره لأسانيده في الكتب والمسانيد، والكتابان محققان. وكذلك ذكر شيوخ الحافظ تلميذه النجيب السخاوي في كتابه: (الجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر)
(3)، وفصَّل القول عنهم، وفيما يأتي ذكر لبعض المشهورين منهم.
فمن شيوخه في الحديث:
1 - عبد الرحيم بن الحسين العراقي ت (806) هـ
(4).
--------------------------------------------
তাঁর জ্ঞানার্জনের প্রতি প্রচুর ব্যাকুলতা ছিল। কুরআন হিফয করার পর তিনি বিভিন্ন বিষয়ের সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহ মুখস্থ করেন এবং প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী তৎকালীন একদল ইমামের কাছে তা উপস্থাপন করেন এবং তাঁরা এ বিষয়ে তাঁর জন্য প্রত্যয়নপত্র লিখে দেন।
যখন তিনি বিশ বছরের কাছাকাছি পৌঁছালেন, তখন তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেলেন। তিনি চমৎকার কবিতা এবং উচ্চমানের গদ্য রচনা করেন। এছাড়া তিনি ইতিহাস, হাদীস ও হাদীসশাস্ত্রের প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেন
(১)। তিনি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে অনেক দেশে ভ্রমণ করেন। তিনি ইয়ামেন, শাম, হিজায ও অন্যান্য অঞ্চলে সফর করেন এবং সেসব স্থানের খ্যাতিমান আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন
(২)।
৩ - তাঁর শিক্ষকগণ:ইবনে হাজার বিভিন্ন শাস্ত্র ও কলায় অসংখ্য শিক্ষকের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি তাঁর শিক্ষকদের জন্য দুটি গ্রন্থ উৎসর্গ করেছেন:
প্রথমটি: (আল-মুজামুল মুয়াসসিস লিল মুজামিল মুফাহরাস), এতে তিনি তাঁর শিক্ষকদের জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং শ্রবণ, ইজাযত বা তাঁদের থেকে প্রাপ্ত উপকারের ভিত্তিতে তাঁদের বর্ণিত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়টি: আল-মুজামুল মুফাহরাস, যা হাফিযের বর্ণিত বর্ণনাগুলোর একটি নির্ঘণ্ট। এতে তিনি কিতাব ও মুসনাদসমূহের সনদ বর্ণনার পাশাপাশি তাঁর শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করেছেন। এই দুটি কিতাবই সম্পাদিত। একইভাবে হাফিযের কৃতি ছাত্র সাখাভী তাঁর গ্রন্থ: (আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার ফি তারজামাতি শায়খিল ইসলাম ইবনে হাজার)-এ হাফিযের শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করেছেন
(৩) এবং তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। নিম্নে তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজন প্রসিদ্ধ শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হলো।
হাদীস শাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী, মৃত্যু (৮০৬) হিজরি
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٢١)
2 - علي بن أبي بكر الهيثمي ت (807) هـ
(1).
ومن شيوخه في الفقه:
3 - عمر بن علي بن الملقن ت (804) هـ
(2).
4 - عمر بن رسلان البلقيني ت (805) هـ
(3).
ومن شيوخه في العربية:
5 - محمد بن محمد الغماري ت (802) هـ
(4).
6 - مجد الدين محمد بن يعقوب الفيروزآبادي ت (817) هـ
(5).
ومن شيوخه في القراءات:
7 - إبراهيم بن أحمد بن عبد الواحد التنوخي ت (800) هـ
(6).
4 - وظائفه:تقلد ابن حجر وظائف متعددة وهي:
1 - التدريس: وقد تولى تدريس التفسير والحديث والفقه في مدارس كثيرة منها
--------------------------------------------
২ - আলী বিন আবু বকর আল-হাইসামি মৃ. (৮০৭) হিজরি
(১).
এবং ফিকহশাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেন:
৩ - উমর বিন আলী বিন আল-মুলাক্কিন মৃ. (৮০৪) হিজরি
(২).
৪ - উমর বিন রাসলান আল-বুলকিনি মৃ. (৮০৫) হিজরি
(৩).
এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেন:
৫ - মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-গুমারি মৃ. (৮০২) হিজরি
(৪).
৬ - মাজদুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-ফাইরুজাবাদি মৃ. (৮১৭) হিজরি
(৫).
এবং কিরাআত শাস্ত্রে তাঁর শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেন:
৭ - ইব্রাহিম বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-তানুখি মৃ. (৮০০) হিজরি
(৬).
৪ - তাঁর দায়িত্বসমূহ:ইবনে হাজার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন, সেগুলো হলো:
১ - অধ্যাপনা: তিনি অনেক মাদরাসায় তাফসির, হাদিস এবং ফিকহ শাস্ত্রে অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
(المدرسة الجمالية) و (المدرسة الشريفية) و (المدرسة الحسنية) وغيرها.
وقد أملى من خلال هذه الوظيفة أكثر من ألف مجلس حديثي
(1).
2 - الإفتاء: وتولى منصب الإفتاء أكثر من ثلاثين سنة.
3 - القضاء: وتولى القضاء مدة تزيد على إحدى وعشرين سنة.
4 - وهناك وظائف أخرى كالخطابة بالجامع الأزهر، وجامع عمرو بن العاص وخزن كتب المدرسة المحمودية وغير ذلك
(2).
5 - تلاميذه:أما تلاميذه، فقد توافدوا على مجالسه من كل حدب، وصوب حتى ضاقت مجالسه، وامتلأت بجموعهم مدارسه، وقد أخذوا عنه من أقطار شتى وأماكن مختلفة
(3)، ومن أبرزهم وأشهرهم:
1 - ابن فهد المكي، تقي الدين محمد بن محمد ت (871) هـ
(4).
2 - محمد بن سليمان الكافيجي ت (879) هـ
(5).
3 - إبراهيم بن عمر البقاعي ت (885) هـ
(6).
1 - محمد بن محمد الخيضري ت (894) هـ
(7).
2 - محمد بن عبد الرحمن السخاوي ت (902) هـ
(8).
--------------------------------------------
(আল-মাদরাসা আল-জামালিয়া), (আল-মাদরাসা আশ-শারিফিয়া), (আল-মাদরাসা আল-হাসানিয়া) এবং অন্যান্য।
আর তিনি এই পদের মাধ্যমে এক হাজারেরও বেশি হাদিসের মজলিস পাঠ করিয়েছেন বা শ্রুতলিপি প্রদান করেছেন
(১)।
২ - ইফতা (ফতোয়া প্রদান): তিনি তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ইফতার পদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
৩ - বিচার বিভাগ (কাজা): তিনি একুশ বছরেরও বেশি সময় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
৪ - এছাড়াও অন্যান্য দায়িত্ব ছিল যেমন জামে আল-আযহার ও জামে আমর ইবনে আল-আসে খুতবা প্রদান এবং আল-মাদরাসা আল-মাহমুদিয়ার গ্রন্থসমূহ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি
(২)।
৫ - তাঁর ছাত্রবৃন্দ:তাঁর ছাত্রদের কথা বলতে গেলে, তারা চতুর্দিক থেকে তাঁর মজলিসগুলোতে ভিড় জমাত, এমনকি তাঁর মজলিসগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়ত এবং তাঁর মাদরাসাগুলো তাদের সমাগমে পরিপূর্ণ হয়ে যেত। তারা বিভিন্ন অঞ্চল ও ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন
(৩)। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও প্রসিদ্ধ হলেন:
১ - ইবন ফাহদ আল-মাক্কি, তাকিউদ্দীন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ, মৃত্যু (৮৭১) হিজরি
(৪)।
২ - মুহাম্মাদ ইবন সুলায়মান আল-কাফিয়াজি, মৃত্যু (৮৭৯) হিজরি
(৫)।
৩ - ইবরাহিম ইবন উমর আল-বিকায়ি, মৃত্যু (৮৮৫) হিজরি
(৬)।
১ - মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-খাইদারি, মৃত্যু (৮৯৪) হিজরি
(৭)।
২ - মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান আস-সাখাবি, মৃত্যু (৯০২) হিজরি
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
3 - زكريا بن محمد الأنصاري ت (926) هـ
(1).
6 - وفاته:ثم توفي بعد حياة حافلة بالعلم والعمل الصالح في أواخر شهر ذي الحجة سنة (852) اثنتين وخمسين وثمانمائة، وقد رثاه غير واحد
(2).
7 - صفاته وأخلاقه:قال ابن تغري بردي في بيان صفاته: "شيخ الإسلام، حافظ المشرق والمغرب أمير المؤمنين في الحديث، علامة الدهر، شيخ مشايخ الإسلام، حامل لواء سنة سيد الأنام، قاضي القضاة أوحد الحفاظ والرواة، شهاب الدين أبو الفضل أحمد بن الشيخ نور الدين علي بن محمد بن محمد بن علي بن أحمد بن حجر المصري المولد والمنشأ والدار والوفاة، العسقلاني الأصل، الشافعي، قاضي قضاة الديار المصرية وعالمها وحافظها وشاعرها. . . لم يخلف بعده مثله شرقًا ولا غربًا، ولا نظر هو مثل نفسه في علم الحديث.
وكان -رحمه اللَّه تعالى- إمامًا عالمًا حافظًا شاعرًا أديبًا مصنفًا مليح الشكل منور الشيبة، حلو المحاضرة إلى الغاية والنهاية عذب المذاكرة، مع وقار وأبهة وعقل وسكون وحلم وسياسة ودرية بالأحكام ومداراة الناس، قل أن كان يخاطب الرجل بما يكره، بل كان يحسن إلى من يسيء إليه، ويتجاوز عمن قدر عليه هذا مع كثرة الصوم ولزوم العبادة والبر والصدقات، وبالجملة فإنه أحد من أدركنا من الأفراد"
(3).
وقال ابن فهد: "لم ترَ العيون مثله، ولا رأى مثل نفسه"
(4).
--------------------------------------------
৩ - জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী মৃত্যু (৯২৬) হিজরি
(১).
৬ - তাঁর মৃত্যু:অতঃপর ইলম এবং নেক আমলে পরিপূর্ণ এক জীবনের পর তিনি ৮৫২ (আটশত বায়ান্ন) হিজরি সনের যিলহজ মাসের শেষ দিকে মৃত্যুবরণ করেন। একাধিক ব্যক্তি তাঁর শোকগাথা রচনা করেছেন
(২).
৭ - তাঁর গুণাবলী ও চরিত্র:ইবনে তাগরি বারদি তাঁর গুণাবলীর বর্ণনায় বলেছেন: "শাইখুল ইসলাম, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের হাফেজ, হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন, যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম, ইসলামের শাইখদের শাইখ, মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম সত্তার (সা.) সুন্নতের পতাকাবাহী, প্রধান বিচারপতি, হাফেজ ও বর্ণনাকারীদের মধ্যে অনন্য, শিহাব উদ্দিন আবুল ফضل আহমদ বিন শাইখ নূর উদ্দিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন হাজার আল-মিসরি। তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, আবাস এবং মৃত্যু মিশরে; তাঁর আদি বংশ আসকালানি; তিনি শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি মিশরীয় ভূখণ্ডের প্রধান বিচারপতি, তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম, হাফেজ এবং কবি ছিলেন... তাঁর পরে প্রাচ্যে বা পাশ্চাত্যে তাঁর মতো কেউ আসেনি এবং তিনিও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর নিজের মতো কাউকে দেখেননি।
তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— একজন ইমাম, আলেম, হাফেজ, কবি, সাহিত্যিক এবং গ্রন্থকার ছিলেন। তিনি সুদর্শন ও উজ্জ্বল শ্মশ্রুধারী ছিলেন। তাঁর আলোচনা ছিল অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং কথোপকথন ছিল অত্যন্ত মাধুর্যপূর্ণ। তাঁর মধ্যে ছিল গাম্ভীর্য, প্রতাপ, প্রজ্ঞা, প্রশান্তি, সহিষ্ণুতা, বিচক্ষণতা, আইনি বিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং মানুষের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার ক্ষমতা। তিনি সচরাচর কাউকে এমন কথা বলতেন না যা সে অপছন্দ করে, বরং যে তাঁর প্রতি মন্দ আচরণ করত তিনি তার প্রতি সদাচরণ করতেন এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাকে ক্ষমা করে দিতেন। এর সাথে সাথে তিনি প্রচুর রোজা রাখতেন, নিয়মিত ইবাদত করতেন এবং দান-খয়রাত ও নেক কাজে লিপ্ত থাকতেন। সংক্ষেপে, তিনি ছিলেন সেই সব অনন্য ব্যক্তিদের একজন যাঁদেরকে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।"
(৩).
ইবনে ফাহদ বলেন: "চোখ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি, আর তিনি নিজেও তাঁর মতো কাউকে দেখেননি।"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
المطلب الثاني مؤلفاتهيعد الحافظ ابن حجر العسقلاني من المكثرين في التصنيف، إذ له من المؤلفات والتحقيقات ما يزيد على مائتين وسبعين مؤلفًا، وهي متفاوتة في أحجامها فمنها الكبير، ومنها المتوسط، ومنها الصغير، ويغلب عليها التصنيف في الحديث والجرح والتعديل. وقد استقصاها عدد من الباحثين المعاصرين
(1) وفصَّلوا القول فيها، فبينوا مطبوعها من مخطوطها من مفقودها، ولا داعي لتكرار ما ذكره الباحثون من سرد مؤلفاته، ولكنني سأكتفي ببعض ذلك:
1 - إتحاف المهرة (وقد طبع منه أربع عشرة مجلدًا).
2 - الإصابة في تمييز الصحابة (مطبوع في أربع مجلدات).
3 - إنباء الغمر بأبناء العمر (مطبوع).
4 - بلوغ المرام (طبع عدة طبعات).
5 - تبصير المنتبه في تحرير المشتبه (مطبوع في أربع مجلدات).
6 - تعجيل المنفعة بزوائد رجال الأئمة الأربعة (مطبوع).
7 - تغليق التعليق (مطبوع في أربع مجلدات).
8 - التلخيص الحبير (طبع عدة طبعات).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলীআল-হাফিয ইবনে হাজার আল-আসকালানী সেই সকল লেখকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছেন। কেননা তাঁর রচিত ও তাহকীককৃত গ্রন্থের সংখ্যা দুইশত সত্তরটিরও অধিক। এগুলোর কলেবর বিভিন্ন প্রকারের; কিছু বৃহৎ, কিছু মাঝারি এবং কিছু ক্ষুদ্র। এগুলোর অধিকাংশ গ্রন্থই হাদীস এবং ‘জারহ ও তা’দীল’ (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) বিষয়ক। সমকালীন একদল গবেষক
(১) এই গ্রন্থগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করেছেন এবং সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁরা গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোনটি মুদ্রিত, কোনটি পাণ্ডুলিপি এবং কোনটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। গবেষকদের কৃত তাঁর রচনাবলীর সেই দীর্ঘ তালিকার পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই, তবে আমি এখানে কেবল তাঁর কিছু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করছি:
১ - ইতহাফুল মাহারা (এর চৌদ্দটি খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে)।
২ - আল-ইসাবাহ ফী তামীযিস সাহাবাহ (চার খণ্ডে মুদ্রিত)।
৩ - ইনবাউল গুমর বি-আবনাউল উমর (মুদ্রিত)।
৪ - বুলুগুল মারাম (বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে)।
৫ - তাবসীরুল মুনতাবিহ ফী তাহরীরিল মুশতাবিহ (চার খণ্ডে মুদ্রিত)।
৬ - তা’জীলুল মানফাআ বি-যাওয়াইদি রিজালিল আইম্মাতিল আরবাআ (মুদ্রিত)।
৭ - তাগলীকুত তালীক (চার খণ্ডে মুদ্রিত)।
৮ - আত-তালখীসুল হাবীর (বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
9 - تهذيب التهذيب (طبع عدة طبعات، أولها في الهند في اثني عشر مجلدًا).
10 - الدراية في تلخيص تخريج أحاديث الهداية (مطبوع).
11 - فتح الباري شرح صحيح البخاري (مطبوع في أربعة عشر مجلدًا).
12 - لسان الميزان (مطبوع في سبع مجلدات).
13 - المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية (مطبوع في خمس مجلدات).
14 - نزهة الألباب في الألقاب (مطبوع في مجلدين)
(1).
* * *
--------------------------------------------
9 - তাহযীবুত তাহযীব (এটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার প্রথম সংস্করণটি ভারতে বারো খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে)।
10 - আদ-দিরায়াহ ফী তালখীস তাখরীজ আহাদীসিল হিদায়াহ (মুদ্রিত)।
11 - ফাতহুল বারী শারহ সহীহুল বুখারী (চৌদ্দ খণ্ডে মুদ্রিত)।
12 - লিসানুল মীযান (সাত খণ্ডে মুদ্রিত)।
13 - আল-মাতালিবুল আলিয়া বি যাওয়াইদিল মাসানীদিস সামানিয়াহ (পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত)।
14 - নুযহাতুল আলবাব ফিল আলকাব (দুই খণ্ডে মুদ্রিত)
(১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
المبحث الثاني كتاب تقريب التهذيبوفيه تمهيد ومطلبان:
المطلب الأول: الطبقات عند الحافظ ابن حجر.
المطلب الثاني: العلامات والرقوم.
* * *
تمهيداهتم العلماء منذ وقت مبكر بتأليف الكتب التي تتكلم عن الرواة، وتحكم عليهم، وتبين مراتبهم من التوثيق والتضعيف وغير ذلك، وفائدة هذا: التوصل إلى معرفة صحة الحديث من سُقْمِه؛ لذا زخرت المكتبة الإسلامية بالجم الغفير من الكتب منذ نهاية عصر التدوين حتى يوم الناس هذا، وكانت من الكثرة بحيث أصبحت عملية عدها مستعصية على العادِّ ويكاد يكون أمرًا غير ممكن، إلا أن هناك بعضًا من المصنفات نالت حظوة لدى الباحثين، وقيمة عليا عند المحققين منها: تاريخ يحيى بن معين (برواياته المختلفة) وكتب السؤالات التي وجهت للإمام أحمد، وتواريخ البخاري، ومصنفات ابن أبي حاتم وثقات ابن حبان وابن شاهين، ومؤلفات الدارقطني وغيرها الكثير الكثير.
ولما كان كلام أئمة الجرح والتعديل متناثرًا في كتبهم، تلفه طويات صفحاتها كان أمر جمع أقوال النقاد في كل راوٍ على حدة حلمًا ساور الكثير من المصنفين، إلى أن جاء الحافظ الكبير عبد الغني بن عبد الواحد الجماعيلي المقدسي الحنبلي (544 - 600 هـ) فصنف سفره العظيم: "الكمال في أسماء الرجال" فكان بحق كتابًا نافعًا ماتعًا، ويكفيك للدلالة على علو كعب هذا الكتاب إقدام المزي على تهذيبه.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাকরিবুত তাহজিব গ্রন্থএতে একটি ভূমিকা ও দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: হাফিজ ইবনু হাজারের নিকট রাবিগণের স্তরসমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: প্রতীক ও চিহ্নসমূহ।
* * *
ভূমিকাআলেমগণ প্রাচীনকাল থেকেই বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আলোচনা, তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান এবং তাদের বিশ্বস্ততা ও দুর্বলতাসহ অন্যান্য স্তর বর্ণনা সম্বলিত গ্রন্থ রচনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এর উপকারিতা হলো: হাদিসের বিশুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হওয়া। এই কারণেই সংকলন যুগের শেষভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইসলামি পাঠাগারগুলো অগণিত গ্রন্থে সমৃদ্ধ হয়েছে। এই কিতাবগুলোর সংখ্যা এত বেশি যে, তা গণনা করা গণনাকারীর জন্য দুঃসাধ্য এবং প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার। তবে কিছু কিতাব গবেষকদের নিকট বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা এবং মুহাক্কিকদের নিকট উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ইয়াহইয়া ইবনু মায়িনের তারিখ (বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী), ইমাম আহমাদের নিকট করা প্রশ্নোত্তরের সংকলনসমূহ, বুখারির তারিখসমূহ, ইবনু আবি হাতিমের গ্রন্থাবলি, ইবনু হিব্বান ও ইবনু শাহিনের সিকাত, দারাকুতনির রচনাবলি এবং আরও অনেক অনেক গ্রন্থ।
যেহেতু জারহ ও তাদিল (সমালোচনা ও গুণাবলি বর্ণনা) ইমামগণের বক্তব্যসমূহ তাঁদের কিতাবসমূহের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, তাই প্রত্যেক বর্ণনাকারী সম্পর্কে সমালোচকগণের বক্তব্যগুলো পৃথকভাবে সংগ্রহ করা বহু লেখকের স্বপ্ন ছিল। অবশেষে মহান হাফিজ আবদুল গনি ইবনু আবদুল ওয়াহিদ আল-জামায়িলি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (৫৪৪ - ৬০০ হিজরি) আগমন করেন এবং তাঁর বিশাল গ্রন্থ: 'আল-কামাল ফি আসমাইর রিজাল' রচনা করেন। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি অত্যন্ত উপকারী ও চমৎকার গ্রন্থ ছিল। এই গ্রন্থের উচ্চমর্যাদা বুঝাতে এতটুকুই যথেষ্ট যে, ইমাম মিযযি একে সংস্কার ও সংক্ষেপ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقد تناول الحافظ عبد الغني في كتابه هذا رجال الكتب الستة من خلال بيان أسمائهم، وما قيل فيها من اختلاف وبيان شيوخهم وتلامذتهم، وما قيل في كلٍّ منهم من جرح وتعديل، وما عرف من وفيات أكثرهم. ومع حرصه الشديد على الشمول والاستقصاء، فقد فاته بعض الرواة الذين لم يقف عليهم، فشاب -وما شان- كتابه شيء من النقص، كان بحاجة إلى إكمال.
فقيض اللَّه تعالى لهذا العمل العظيم رجله بحق الإمام الحافظ أبا الحجاج المزي (654 - 742 هـ)، فعمل على تهذيب كتاب الكمال طلبًا لاختصاره، وأضاف تراجم كثير من الرواة الذين فات الحافظ عبد الغني ذكرهم طلبًا للاستيفاء، وحذف منه وأضاف له، وسمَّاه: "تهذيب الكمال في أسماء الرجال"، فكان بحق كمالًا للكمال، ومكملًا لفوائد اقتضاها الحال.
ومن الناس من يظن أن عمل الحافظ المزي إنما هو اختصار للكمال، وهو خطأ لطالما سمعته من كثير من المشايخ، والذي يظهر أن التهذيب هنا بمعنى: التصحيح والاستدراك.
ولقد تجمع من جهد هذين الحافظين عمل فذ كان الذروة في بابه، إلا أن الكتاب طال جدًّا، وصعبت على الناس مراجعته، مع بعد الزمان وتقاصر الهمم، الأمر الذي حدا بكثير من العلماء إلى اختصاره طلبًا للتيسير ودفعًا للمشقة المتوقعة، فكان أحد هؤلاء الحافظ ابن حجر، إذ اختصره في كتابه "تهذيب التهذيب" فكان كتابًا عظيمًا نافعًا.
ويتلخص تهذيب الحافظ ابن حجر فيما يأتي:
1 - لم يحذف من رجال "تهذيب الكمال" أحدًا، وإنما زاد فيهم من هو على شرطه.
2 - أعاد التراجم التي حذفها المزي من أصل "الكمال" وكان الحافظ عبد الغني قد ذكرها بناءً على أن بعض الستة أخرج لهم، وكان المزي قد حذفهم بسبب عدم وقوفه على روايتهم في شيء من الكتب الستة.
হাফেয আবদুল গনী তাঁর এই কিতাবে কুতুবে সিত্তার বর্ণনাকারীদের নাম, সেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান মতভেদ, তাঁদের শিক্ষক ও ছাত্রদের বিবরণ, তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বর্ণিত জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও প্রশংসা), এবং তাঁদের অধিকাংশের মৃত্যুর তারিখ বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। ব্যাপকতা ও অনুসন্ধানের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও, কিছু বর্ণনাকারী তাঁর নজর এড়িয়ে গেছে যাদের সন্ধান তিনি পাননি। ফলে তাঁর কিতাবে কিছুটা অপূর্ণতা থেকে গেছে - যা একে ত্রুটিযুক্ত করেনি - যা পূর্ণ করার প্রয়োজন ছিল।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই মহান কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি ইমাম হাফেয আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযীকে (৬৫৪ - ৭৪২ হি.) নির্ধারিত করেন। তিনি 'কিতাবুল কামাল'-কে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে পরিমার্জনের কাজ করেন। হাফেয আবদুল গনী যে সকল বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করতে সক্ষম হননি, পূর্ণতা প্রদানের লক্ষ্যে তিনি তাঁদের অনেককে এতে যুক্ত করেন। তিনি এতে যেমন কিছু বিষয় বাদ দিয়েছেন, তেমনি কিছু যোগ করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: "তাহযীবুল কামাল ফী আসমাইর রিজাল"। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল 'কামাল'-এর জন্য একটি পূর্ণতা এবং পরিস্থিতির চাহিদানুযায়ী উপযোগিতার পরিপূরক।
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, হাফেয মিযযীর কাজটি কেবল 'কামাল'-এর সংক্ষিপ্তকরণ মাত্র। এটি একটি ভুল ধারণা যা আমি অনেক শায়খের কাছ থেকে দীর্ঘকাল ধরে শুনে আসছি। স্পষ্ট বিষয় হলো, এখানে 'তাহযীব' (পরিমার্জন) শব্দটি সংশোধন ও সংযোজন (ইস্তিদরাক) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
এই দুই হাফেযের প্রচেষ্টায় একটি অনন্য কাজ সম্পন্ন হয়েছে যা এই বিষয়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। তবে কিতাবটি অত্যন্ত দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ফলে এবং সময়ের ব্যবধান ও মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে এটি অধ্যয়ন করা মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিষয়টি অনেক আলেমকে সহজ করার উদ্দেশ্যে এবং সম্ভাব্য কষ্ট দূর করার জন্য এটিকে সংক্ষিপ্ত করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন হাফেয ইবনে হাজার, যিনি তাঁর "তাহযীবুত তাহযীব" কিতাবে এটিকে সংক্ষিপ্ত করেন এবং এটি একটি মহান ও উপকারী কিতাবে পরিণত হয়।
হাফেয ইবনে হাজারের পরিমার্জনের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
১ - তিনি "তাহযীবুল কামাল"-এর বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে কাউকে বাদ দেননি, বরং তাঁর শর্তানুযায়ী যারা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য ছিল, তাঁদের এতে বৃদ্ধি করেছেন।
২ - মিযযী মূল "কামাল" থেকে যে সকল জীবনী বাদ দিয়েছিলেন, তিনি সেগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনেন। হাফেয আবদুল গনী সেগুলো উল্লেখ করেছিলেন এই ভিত্তিতে যে কুতুবে সিত্তার কেউ কেউ তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মিযযী কুতুবে সিত্তার কোথাও তাঁদের বর্ণনা খুঁজে না পাওয়ার কারণে তাঁদের বাদ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
3 - حذف من الترجمة الأحاديث التي خرجها المزي من مروياته العالية الموافقات والأبدال، وغير ذلك من أنواع العلو.
4 - لم يستوعب شيوخ وتلاميذ المترجم له، بل اقتصر على المشهورين منهم وحذف الباقين.
5 - لم يلتزم نهج المزي في ترتيب شيوخ صاحب الترجمة والرواة عنه على حروف المعجم، بل قدم المشهورين على غيرهم.
6 - حذف من الترجمة أغلب الأخبار التي لا تدل على توثيق ولا تجريح.
7 - حذف كثيرًا من الاختلافات المذكورة في وفاة المترجم له.
8 - ميز ما أضافه إلى الترجمة بـ "قلت"
(1) ثم يسوق قوله.
ومن فوائد هذا الكتاب العظيم أنه جمع ما استدرك على المزي، فوضعه في محاله، وقد ذكر الحافظ استفادته من زوائد الذهبي في "تذهيب تهذيب الكمال"، ثم قال: "وقد انتفعت في هذا الكتاب المختصر بالكتاب الذي جمعه الإمام العلامة علاء الدين مغلطاي على تهذيب الكمال، مع عدم تقليدي له في شيء مما ينقله، وإنما استعنت به في العاجل، وكشفت الأصول التي عزا النقل إليها في الآجل، فما وافق أثبته، وما باين أهملته، فلو لم يكن في هذا الكتاب المختصر إلا الجمع بين هذين الكتابين الكبيرين في حجم لطيف لكان معنًى مقصودًا، هذا مع الزيادات التي لم تقع لهما، والعلم مواهب، واللَّه الموفق"
(2).
ولما كان الكتاب يمتاز بهذه الزيادات النافعة الماتعة، أصبح على نفاسته مَدْرَسَ الناس ومرجعهم، ينهلون منه العلم والمعرفة في تفحص أحوال الرجال التي
--------------------------------------------
৩ - তিনি জীবনী থেকে সেই হাদিসগুলো বাদ দিয়েছেন যা আল-মিযযি তাঁর উচ্চতর সনদ (মাকামাতুল আলিয়া), মুওয়াফাকাত, আবদাল এবং অন্যান্য ধরণের উচ্চতর সনদ থেকে উদ্ধৃত করেছিলেন।
৪ - তিনি জীবনীভুক্ত ব্যক্তিদের (যাদের জীবনী আলোচিত হচ্ছে) সকল শিক্ষক ও ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত করেননি, বরং কেবল তাদের মধ্যে বিখ্যাত ব্যক্তিদের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং বাকিদের বাদ দিয়েছেন।
৫ - জীবনীভুক্ত ব্যক্তিদের শিক্ষক এবং তাঁদের থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানোর ক্ষেত্রে তিনি আল-মিযযির পদ্ধতি অনুসরণ করেননি, বরং বিখ্যাত ব্যক্তিদের অন্যদের আগে স্থান দিয়েছেন।
৬ - তিনি জীবনী থেকে অধিকাংশ এমন সংবাদ বাদ দিয়েছেন যা নির্ভরযোগ্যতা (তাউসিক) বা অনির্ভরযোগ্যতা (তাজরিহ) নির্দেশ করে না।
৭ - তিনি জীবনীভুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর তারিখ নিয়ে উল্লিখিত অনেক মতভেদ বাদ দিয়েছেন।
৮ - তিনি জীবনীতে যা যোগ করেছেন তা "আমি বলছি"
(১) দ্বারা চিহ্নিত করেছেন এবং এরপর নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
এই মহান গ্রন্থের অন্যতম একটি উপকারিতা হলো, এটি আল-মিযযির কাজের ওপর যে সকল সংশোধন বা সংযোজন করা হয়েছিল তা সংগ্রহ করে যথাযথ স্থানে সন্নিবেশিত করেছে। হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-যাহাবির "তাযহিবু তাহযিবিল কামাল"-এর অতিরিক্ত অংশগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "আমি এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে ইমাম আল্লামা আলাউদ্দিন মুঘলতাই 'তাহযিবুল কামাল'-এর ওপর যা কিছু সংকলন করেছেন তা থেকে উপকৃত হয়েছি। তবে তিনি যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার কোনোটিতেই আমি তাঁর অন্ধ অনুসরণ করিনি। বরং আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর থেকে সাহায্য নিয়েছি এবং পরবর্তী সময়ে সেই মূল উৎসগুলো যাচাই করেছি যেগুলোর দিকে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন। অতঃপর যা সঠিক পেয়েছি তা গ্রহণ করেছি এবং যা ভিন্ন পেয়েছি তা বর্জন করেছি। যদি এই সংক্ষিপ্ত কিতাবে কেবল এই বিশাল দুটি কিতাবের সারসংক্ষেপ এমন চমৎকার পরিমার্জিত আকারে পেশ করা ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবে সেটিই একটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হিসেবে গণ্য হতো। তদুপরি এতে এমন কিছু সংযোজন রয়েছে যা ওই দুটি গ্রন্থে পাওয়া যায় না। জ্ঞান তো মহান আল্লাহর দান এবং আল্লাহই তাওফিক দানকারী।"
(২)যেহেতু গ্রন্থটি এই ধরনের উপকারী ও চমৎকার সংযোজনগুলোর কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, তাই এর অনন্যতার দরুণ এটি মানুষের অধ্যয়ন ও রেফারেন্সের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনায় মানুষ এখান থেকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আহরণ করে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
إليها المرجع في معرفة صحيح الحديث من ضعيفه، ثم أراد الحافظ ابن حجر أن يقرب فوائد هذا الكتاب إلى الناس، فاختصر "تهذيب التهذيب" في كتابه "تقريب التهذيب"، راعى فيه الفائدة والاختصار بحيث تكون الترجمة تشمل اسم الرجل واسم أبيه وجده، ونسبه ونسبته وكنيته ولقبه، مع ضبط المشكل بالحروف، ثم الحكم على كل راوٍ من المترجمين لهم بحكم وجيز، ثم التعريف بعصر كل راوٍ؛ حيث قسَّمهم على طبقات، جعلها اثنتي عشرة طبقة، ثم ذكر الرموز لكل راوٍ والتي تنبئ عن مكان وجود أحاديث المترجم له في الكتب
(1).
وقد بين الحافظ نفسه سبب اختصاره للتهذيب بالتقريب، فقال: "فإني لما فرغت من تهذيب "تهذيب الكمال في أسماء الرجال" الذي جمعت فيه مقصود التهذيب لحافظ عصره أبي الحجاج المزي، من تمييز أحوال الرواة المذكورين فيه، وضَمَمْتُ إليه مقصود إكماله، للعلامة علاء الدين مغلطاي، مقتصرًا منه على ما اعتبرته، وصحَّحته من مظانه من بيان أحوالهم أيضًا وزدت عليهما في كثير من التراجم ما يُتَعَجَّبُ من كثرته لديهما، ويستغرب خفاؤه عليهما، وقع الكتاب المذكور من طلبة الفن موقعًا حسنًا عند المميز البصير، إلا أنه طال إلى أن جاوز ثلث الأصل. . . والثلث كثير، فالتمس مني بعض الأخوان أن أجرد له الأسماء خاصة، فلم أوثر ذلك لقلة جدواه على طالبي هذا الفن، ثم رأيت أن أجيبه إلى مسألته، وأسعفه بطلبته على وجه يحصل مقصوده بالإفادة ويتضمن الحسنى التي أشار إليها وزيادة، وهي: أنني أحكم على كل شخص منهم بحكم يشمل أصح ما قيل فيه، وأعدل ما وصف به، بألخص عبارة وأخلص إشارة بحيث لا تزيد كل ترجمة على سطر واحد غالبًا يجمع اسم الرجل واسم أبيه وجده، ومنتهى أشهر نسبته ونسبه، وكنيته ولقبه، مع ضبط ما يشكل من ذلك بالحروف، ثم صفته التي يختص بها من جرح أو تعديل، ثم التعريف بعصر كل راوٍ منهم، بحيث يكون قائمًا مقام ما حذفته من ذكر شيوخه والرواة عنه، إلا من لا يؤمن لبسه"
(2).
--------------------------------------------
সহীহ হাদীসকে যঈফ থেকে আলাদা করার ক্ষেত্রে এটিই হলো মূল মাপকাঠি। এরপর হাফেয ইবনে হাজার এই কিতাবটির উপকারিতাকে মানুষের নিকট আরও সহজলভ্য করতে চাইলেন। ফলে তিনি ‘তাহযীবুত তাহযীব’ কিতাবটিকে সংক্ষেপ করে ‘তাকরীবুত তাহযীব’ রচনা করেন। এতে তিনি উপকারিতা এবং সংক্ষিপ্ততার প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন, যাতে প্রতিটি জীবনীতে ব্যক্তির নাম, তার পিতা ও দাদার নাম, বংশপরিচয়, নিসবত, উপনাম এবং লকব অন্তর্ভুক্ত থাকে। সেই সাথে কঠিন শব্দগুলোর উচ্চারণ অক্ষরের মাধ্যমে সুস্পষ্ট করেছেন। অতঃপর যাদের জীবনী উল্লেখ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে একটি সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। এরপর প্রত্যেক বর্ণনাকারীর যুগ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন; যেখানে তিনি তাদের বারোটি স্তরে বিভক্ত করেছেন। অতঃপর প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জন্য কিছু সংকেত চিহ্ন উল্লেখ করেছেন, যা কিতাবসমূহে উক্ত বর্ণনাকারীর হাদীস পাওয়ার স্থান সম্পর্কে অবহিত করে
(১)।
হাফেয ইবনে হাজার নিজেই ‘তাহযীব’ কিতাবকে সংক্ষেপ করে ‘তাকরীব’ রচনার কারণ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "যখন আমি ‘তাহযীবুল কামাল ফী আসমাইর রিজাল’ এর পরিমার্জন (তাহযীব) সমাপ্ত করলাম—যাতে আমি সেই সময়ের হাফেয আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযীর সংকলিত তাহযীবের মূল উদ্দেশ্যসমূহ অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের অবস্থার পার্থক্য নিরূপণ একত্রিত করেছি এবং এর সাথে আল্লামা আলাউদ্দীন মুগলতাই-এর ‘ইকমাল’ এর সারাংশও যোগ করেছি; তবে তা কেবল আমার কাছে যা নির্ভরযোগ্য ও সঠিক মনে হয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি এবং তাদের অবস্থার বিবরণে এই দুই কিতাবের বাইরেও অনেক জীবনীতে এমন সব তথ্য বৃদ্ধি করেছি যা তাদের কাছে না থাকায় বিস্ময়কর মনে হতে পারে এবং তাদের কাছে এটি অজানা থাকাটাও আশ্চর্যের বিষয়—তখন কিতাবটি এই শাস্ত্রের সূক্ষ্মদর্শী শিক্ষার্থীদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত হলো। তবে কিতাবটি দীর্ঘ হতে হতে মূল কিতাবের এক-তৃতীয়াংশ ছাড়িয়ে গেল... আর এক-তৃতীয়াংশ তো অনেক বেশি। ফলে কোনো কোনো ভাই আমার কাছে অনুরোধ করলেন যেন আমি শুধুমাত্র নামগুলো আলাদা করে দিই। কিন্তু এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের নিকট এর কার্যকারিতা কম হবে ভেবে আমি প্রথমে তাতে সায় দিইনি। পরবর্তীতে আমি তার অনুরোধ রক্ষা করা এবং এমনভাবে তার দাবি পূরণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম, যাতে শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যও সফল হয় এবং তিনি যে কল্যাণের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা ও তার চেয়েও বেশি কিছু অর্জিত হয়। আর তা হলো: আমি তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে এমন একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করব যা তাদের সম্পর্কে বলা সবচেয়ে বিশুদ্ধ বক্তব্য এবং সবচেয়ে ন্যায়সংগত বর্ণনার ধারক হবে। এটি হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ভাষা ও সুস্পষ্ট ইশারার মাধ্যমে, যাতে প্রতিটি জীবনী সাধারণত এক লাইনের বেশি না হয়। এতে ব্যক্তির নাম, তার পিতা ও দাদার নাম, বংশ ও নিসবতের শেষ সীমা, উপনাম ও লকব সংকলিত থাকবে। সেই সাথে অস্পষ্ট নামগুলো অক্ষরের মাধ্যমে উচ্চারণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। এরপর তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ জারাহ (সমালোচনা) বা তা’দীল (প্রশংসা) উল্লেখ করা হবে। অতঃপর তাদের প্রত্যেকের যুগের পরিচয় দেওয়া হবে, যা তাদের উস্তাদ ও ছাত্রের নামের দীর্ঘ তালিকার বিকল্প হিসেবে কাজ করবে, কেবল যেখানে বিভ্রান্তির আশঙ্কা রয়েছে সেখানে ব্যতীত"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وهذا ملخص جيد عن المنهج الذي سار عليه الحافظ ابن حجر في كتابه "التقريب". ثم إن كتاب تقريب التهذيب هو خلاصة جهود الحافظ ابن حجر في علم الجرح والتعديل، وآخر اجتهاداته، وقد فرغ من تأليفه عام (827 هـ) فظلَّ يحرر فيه، وينقح فيه، ويضيف إليه وينقص حتى عام (850 هـ) أي قبيل وفاته بعامين، قال الشيخ الفاضل محمد عوامة: "إذا كان الحافظ رحمه الله قد أنهى شرحه "فتح الباري" عام (842 هـ)، فإنه ظلَّ يشتغل ويصقل كتابه "التقريب" ويعمل يده فيه إلى عام (850 هـ)، كما هو واضح من تواريخ الإلحاقات، والإضافات على النسخة التي بين يدي، وقد أرخ عشرين إلحاقًا منها مؤرخة سنة (848 هـ) وإحالة واحدة مؤرخة سنة (850 هـ)، ثم قال: "فلا مجال لاحتمال زيادة إطلاع الحافظ على زيادة في الجرح والتعديل، أهمل خلاصتها فلم يلحقها في "التقريب" خلال هذه السنوات الطويلة من عام (827 - 850 هـ) وعلى احتمال اطلاعه على أشياء جديدة، فإنها أقوال لا تغيِّر من أحكامه"
(1).
* * *
--------------------------------------------
এটি হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর "তাকরীব" গ্রন্থে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, সে সম্পর্কে একটি চমৎকার সারসংক্ষেপ। বস্তুত "তাকরীবুত তাহযীব" গ্রন্থটি হলো জারহ ও তা'দীল (রাবী যাচাই-বাছাই) বিজ্ঞানে হাফেজ ইবনে হাজারের দীর্ঘ সাধনার নির্যাস এবং তাঁর সর্বশেষ গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত। তিনি ৮২৭ হিজরিতে এর রচনা সমাপ্ত করেন, এরপরও ৮৫০ হিজরি অর্থাৎ তাঁর ইন্তেকালের মাত্র দুই বছর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এতে সম্পাদনা, পরিমার্জন এবং সংযোজন-বিয়োজন অব্যাহত রাখেন। বিজ্ঞ শায়খ মুহাম্মদ আওয়ামাহ বলেন: "হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ) যদিও ৮৪২ হিজরিতে তাঁর বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফাতহুল বারী' সম্পন্ন করেছিলেন, তবুও তিনি তাঁর 'তাকরীব' গ্রন্থটি নিয়ে কাজ করে গেছেন এবং ৮৫০ হিজরি পর্যন্ত একে পরিশীলিত করেছেন ও এতে স্বহস্তে শ্রম দিয়েছেন। আমার হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিতে বিভিন্ন টীকা ও সংযোজনীর তারিখ থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়; যেখানে তিনি ২০টি সংযোজনীর তারিখ লিখেছেন ৮৪৮ হিজরি এবং একটি উদ্ধৃতির তারিখ দিয়েছেন ৮৫০ হিজরি।" এরপর তিনি বলেন: "সুতরাং ৮২৭ থেকে ৮৫০ হিজরি পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে হাফেজ ইবনে হাজার জারহ ও তা'দীল বিষয়ে নতুন কোনো তথ্যের দেখা পেয়েছেন অথচ সেটির সারসংক্ষেপ 'তাকরীব' গ্রন্থে যুক্ত করতে অবহেলা করেছেন—এমনটি ঘটার কোনো অবকাশ নেই। আর নতুন কিছু অবগত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেগুলো এমন বক্তব্য ছিল যা তাঁর পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনেনি"
(১).
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
المطلب الأول الطبقات عند الحافظ ابن حجرسبق أن قلت أن الحافظ ابن حجر عرَّفَ بعصر كل راوٍ؛ إذ قسم الرواة على طبقات، قال الحافظ ابن حجر رحمه الله في المقدمة: ". . . بحيث لا تزيد كل ترجمة على سطر واحد غالبًا، يجمع اسم الرجل. . . ثم التعريف بعصر كل راوٍ منهم، بحيث يكون قائمًا مقام ما حذفته من ذكر شيوخه والرواة عنه، إلا من لا يؤمن لبسه.
وباعتبار ما ذكرت انحصر لي. . . طبقاتهم في اثنتي عشرة طبقة. . .
وأما الطبقات: فالأولى: الصحابة. . .، الثانية: طبقة كبار التابعين. . . الثالثة: الطبقة الوسطى من التابعين. . .، الرابعة: طبقة تليها، جل روايتهم عن كبار التابعين. . .، الخامسة: الطبقة الصغرى منهم. . .، السادسة: طبقة عاصروا الخامسة؛ لكن لم يثبت لهم لقاء أحد من الصحابة. . . السابعة: كبار أتباع التابعين. . .، الثامنة: الطبقة الوسطى منهم. . .، التاسعة: الطبقة الصغرى من أتباع التابعين. . . العاشرة: كبار الآخذين عن تبع الأتباع ممن لم يلقَ التابعين. الحادي عشرة: الطبقة الوسطى من ذلك. الثانية عشرة: صغار الآخذين عن تبع الأتباع كالترمذي، وألحقت بها باقي شيوخ الأئمة الستة الذين تأخرت وفاتهم قليلًا. . .
وذكرت وفاة من عرفت سنة وفاته منهم، فإن كان من الأولى والثانية: فهم قبل المائة، وإن كان من الثالثة إلى آخر الثامنة: فهم بعد المائة، وإن كان من التاسعة إلى آخر الطبقات: فهم بعد المائتين، ومن ندر عن ذلك بيَّنته".
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাফিজ ইবনে হাজারের নিকট তবাকাত (স্তরসমূহ)আমি আগেই বলেছি যে হাফিজ ইবনে হাজার প্রত্যেক বর্ণনাকারীর যুগ সম্পর্কে পরিচয় প্রদান করেছেন; যেহেতু তিনি বর্ণনাকারীদের বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) মুখবন্ধে বলেছেন: ". . . যাতে করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিটি জীবনী এক লাইনের বেশি না হয়, যা ব্যক্তির নামকে একত্রিত করবে. . . অতঃপর তাদের প্রত্যেকের যুগ সম্পর্কে পরিচয় থাকবে, যা তাদের শিক্ষক ও তাদের থেকে বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করার যে অংশটুকু আমি বাদ দিয়েছি তার স্থলাভিষিক্ত হবে, তবে যাদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির ভয় থাকে তাদের বিষয়টি ভিন্ন।
এবং যা আমি উল্লেখ করেছি সেই বিবেচনায় তাদের স্তরসমূহ আমার নিকট বারোটি স্তরে সীমাবদ্ধ হয়েছে. . .
আর স্তরগুলো হলো: প্রথম: সাহাবীগণ. . . , দ্বিতীয়: বড় তাবেঈদের স্তর. . . তৃতীয়: তাবেঈদের মধ্যম স্তর. . . , চতুর্থ: এর পরবর্তী স্তর, যাদের অধিকাংশ বর্ণনা বড় তাবেঈদের থেকে. . . , পঞ্চম: তাদের মধ্যে ছোট স্তর. . . , ষষ্ঠ: এমন স্তর যারা পঞ্চম স্তরের সমসাময়িক ছিলেন; কিন্তু কোনো সাহাবীর সাথে তাদের সাক্ষাৎ প্রমাণিত নয়. . . সপ্তম: বড় তাবে-তাবেঈগণ. . . , অষ্টম: তাদের মধ্যম স্তর. . . , নবম: তাবে-তাবেঈদের ছোট স্তর. . . দশম: তাবে-তাবেঈদের থেকে গ্রহণকারী বড় আলেমগণ যারা তাবেঈদের সাক্ষাৎ পাননি। একাদশ: এরই মধ্যম স্তর। দ্বাদশ: তাবে-তাবেঈদের থেকে গ্রহণকারী ছোট আলেমগণ যেমন তিরমিযী, এবং আমি এর সাথে ছয় ইমামের অবশিষ্ট শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করেছি যাদের মৃত্যু সামান্য পরে হয়েছে. . .
আর তাদের মধ্যে যাদের মৃত্যুর বছর আমি জানতে পেরেছি, তাদের মৃত্যু আমি উল্লেখ করেছি। সুতরাং যদি তারা প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের হন: তবে তারা একশ হিজরির পূর্বে। আর যদি তৃতীয় থেকে অষ্টম স্তরের শেষ পর্যন্ত হন: তবে তারা একশ হিজরির পরে। আর যদি নবম থেকে স্তরগুলোর শেষ পর্যন্ত হন: তবে তারা দুইশ হিজরির পরে। আর এর ব্যত্যয় যা বিরল তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি।"
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وخلاصة ذلك
(1):
1 - بيَّن الباعث له على هذا الاصطلاح الخاص بكتابه هذا -وهو الطبقات- أنه أراد استدراك ما حذفه من تسمية شيوخ المترجم له والرواة عنه، فإنه بهذا التحديد الزمني يقرِّب للباحث أن هذا المترجم له هو مراده لا غيره.
وهو استدراك جيد بديع؛ ولكنه نبَّه إلى أن تحديد الطبقة يفيد غالبًا -لا دائمًا- فاستدرك وقال لبيان الأغلبية: "إلا من لا يؤمن لبسه".
2 - ثم بيَّن أنه:
- جعل الصحابة طبقة واحدة على اختلاف طبقاتهم.
- وجعل للتابعين خمس طبقات: كبرى، ووسطى، وملحقة بها وصغرى، وملحقة بها.
- وجعل لأتباع التابعين ثلاث طبقات: كبرى، ووسطى، وصغرى.
- ولأتباعهم ثلاث طبقات أخرى: كبرى، ووسطى، وصغرى، وألحق بالصغرى نفرًا قليلًا من شيوخ بعض الأئمة، كبعض شيوخ النسائي فلقلة عددهم لم يفردهم بطبقة خاصة بهم.
3 - ثم بين مصطلحه في الوفيات: فمن كانت وفاته خلال القرن الأول قال عنه: من الثانية، ولا ينسب أحدًا إلى الأولى، فإن أهلها من الصحابة وهو يستغني بوصفهم بالصحبة عن تحديد طبقتهم وقوله عنهم: من الأولى.
ومن كانت وفاته في المائة الثانية: وصفه بما يليق به: من الثالثة، من الرابعة. . . من الثامنة، ولا يزيد.
--------------------------------------------
এর সারসংক্ষেপ হলো
(১):
১ - তিনি তাঁর এই কিতাবে -যা হলো 'আত-তাবাকাত'- বিশেষ পারিভাষিক শব্দ প্রয়োগের কারণ বর্ণনা করেছেন। তিনি যা বাদ দিয়েছিলেন তা পূরণ করতে চেয়েছেন, যেমন যাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে তাদের উস্তাদদের নাম এবং তাদের থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের নাম। এই সময়কাল নির্ধারণের মাধ্যমে তিনি গবেষকদের জন্য এটা সহজ করে দিয়েছেন যে, যার জীবনী বর্ণিত হচ্ছে সেই কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি, অন্য কেউ নয়।
এটি একটি চমৎকার ও সূক্ষ্ম সংযোজন; তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, 'তাবাকা' (স্তর) নির্ধারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর হয়—সব সময় নয়। তাই তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে অধিকাংশ সময়ের ক্ষেত্রে বলেছেন: "তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যার ব্যাপারে বিভ্রান্তি থেকে নিরাপদ থাকা যায় না।"
২ - অতঃপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে তিনি:
- সাহাবীদের বিভিন্ন স্তর থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সকলকে এক স্তরে রেখেছেন।
- তাবিঈদের জন্য পাঁচটি স্তর নির্ধারণ করেছেন: বড়, মধ্যম, এর সাথে সংযুক্ত, ছোট এবং এর সাথে সংযুক্ত।
- তাবি-তাবিঈদের জন্য তিনটি স্তর নির্ধারণ করেছেন: বড়, মধ্যম এবং ছোট।
- তাঁদের পরবর্তীদের জন্য আরও তিনটি স্তর নির্ধারণ করেছেন: বড়, মধ্যম এবং ছোট। ছোট স্তরের সাথে তিনি কোনো কোনো ইমামের অল্প সংখ্যক উস্তাদকে সংযুক্ত করেছেন, যেমন ইমাম নাসায়ীর কিছু উস্তাদ। তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে তিনি তাঁদের জন্য পৃথক স্তর নির্ধারণ করেননি।
৩ - অতঃপর তিনি মৃত্যুসন সংক্রান্ত তাঁর পরিভাষা বর্ণনা করেছেন: যাঁর মৃত্যু প্রথম শতাব্দীর মধ্যে হয়েছে, তাঁর ব্যাপারে তিনি বলেছেন: 'দ্বিতীয় স্তর থেকে'। তিনি কাউকে প্রথম স্তরের দিকে সম্বোধন করেননি। কারণ প্রথম স্তরের ব্যক্তিবর্গ হলেন সাহাবী। তাঁদের 'সাহাবী' হওয়ার গুণের কারণেই তিনি তাঁদের স্তর নির্ধারণ করা বা তাঁদের সম্পর্কে 'প্রথম স্তর থেকে' বলা থেকে বিরত থেকেছেন।
আর যাঁর মৃত্যু দ্বিতীয় শতাব্দীতে হয়েছে, তাঁকে তাঁর উপযোগী গুণাবলী দ্বারা বর্ণনা করেছেন: 'তৃতীয় স্তর থেকে', 'চতুর্থ স্তর থেকে'... 'অষ্টম স্তর থেকে', এর বেশি নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
ومن كانت وفاته بعد المائتين: فهو من التاسعة فما بعدها إلى الثانية عشرة.
ثم قال: "ومن ندر عن ذلك بينته" وهو شامل:
- لمن تأخرت وفاته عن المائة قليلًا أو المائتين، وهو ملحق بمن دونها.
- مثال ذلك: أبو الطفيل عامر بن واثلة، آخر الصحابة وفاة، وكانت وفاته سنة (110 هـ)، أي جاوز المائة، ورسم ما مضى يقضي أن يكون من الثالثة، مع أنه صحابي من أهل الطبقة الأولى.
- ولمن تقدمت وفاته على المائة والمائتين، وهو ملحق بمن بعدها.
مثال ذلك: عروة بن الزبير: "من الثالثة، مات سنة أربع وتسعين على الصحيح"، فكونه "من الثالثة" يقتضي أنه توفي بعد المائة، وإلا خالف الاصطلاح فاقتضى البيان والاستثناء؛ لذلك قال: "ومن ندر عن ذلك بينته".
وهنا لا بد من بيان معنى الطبقة عند ابن حجر في كتابه "تقريب التهذيب"؛ إذ أن مصطلحه كان مثار انتقاده ممن غفل عنه.
تقدم أنه جعل للمائة الأولى طبقتين: الأولى والثانية، وللمائة الثانية ست طبقات: من الثالثة إلى آخر الثامنة، وللمائة الثالثة أربع طبقات: من التاسعة إلى آخر الثانية عشرة.
فيكون قد توسع في القدر الزمني لرجال المائة الأولى، وتوسط في المائة الثالثة، وضيَّق المسافة الزمنية لكل طبقة من أهل المائة الثانية.
فهو في كتاب واحد لم يمشِ على وتيرة واحدة، وهذا لا يؤثر على منهجه؛ إذ أنه اصطلح وبيَّن ما اصطَلَحَ عليه، ولا مشاحة في الاصطلاح.
إنما ينبغي للناظر في كتابه أن يحفظ مصطلحاته، ويفهم مراده، ويوفق بين ما رسمه وبين تطبيقه له.
আর যাঁর মৃত্যু দুইশত হিজরির পরে হয়েছে: তিনি নবম স্তর থেকে পরবর্তী দ্বাদশ স্তর পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর তিনি বললেন: "আর এর বাইরে যা বিরল তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি," যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
- যাঁদের মৃত্যু একশত বা দুইশত হিজরির সামান্য পরে হয়েছে, অথচ তাঁরা পূর্ববর্তী স্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট।
- এর উদাহরণ: আবু আল-তুফাইল আমির বিন ওয়াসিলা, সাহাবীদের মধ্যে যাঁর মৃত্যু সর্বশেষ হয়েছে; তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১১০ হিজরিতে, অর্থাৎ একশত বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর। পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁর তৃতীয় স্তরের হওয়ার কথা ছিল, অথচ তিনি প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত একজন সাহাবী।
- এবং যাঁদের মৃত্যু একশত বা দুইশত হিজরির আগে হয়েছে, অথচ তাঁরা পরবর্তী স্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট।
উদাহরণস্বরূপ: উরওয়াহ বিন আল-যুবাইর: "তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, সঠিক মতানুসারে তিনি চুরানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন"। তাঁর "তৃতীয় স্তরভুক্ত" হওয়াটি দাবি করে যে তিনি একশত হিজরির পরে মারা গিয়েছেন, অন্যথায় এটি পরিভাষার পরিপন্থী হতো, যা ব্যাখ্যা ও ব্যতিক্রমের দাবি রাখে; এই কারণেই তিনি বলেছিলেন: "আর এর বাইরে যা বিরল তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি"।
আর এখানে ইবনে হাজারের "তাক্বরীবুত তাহযীব" গ্রন্থে 'ত্বাবাক্বাহ' বা স্তরের অর্থ স্পষ্ট করা প্রয়োজন; কেননা তাঁর এই পরিভাষাটি তাঁদের সমালোচনার শিকার হয়েছে যাঁরা এ সম্পর্কে অসাবধান ছিলেন।
ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি প্রথম একশত বছরের জন্য দুটি স্তর নির্ধারণ করেছেন: প্রথম ও দ্বিতীয়; দ্বিতীয় একশত বছরের জন্য ছয়টি স্তর: তৃতীয় থেকে অষ্টম স্তরের শেষ পর্যন্ত; এবং তৃতীয় একশত বছরের জন্য চারটি স্তর: নবম থেকে দ্বাদশ স্তরের শেষ পর্যন্ত।
ফলে তিনি প্রথম শতাব্দীর ব্যক্তিদের জন্য সময়ের পরিধি প্রশস্ত করেছেন, তৃতীয় শতাব্দীর জন্য মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন এবং দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রতিটি স্তরের ব্যক্তিদের জন্য সময়ের ব্যবধান সংকুচিত করেছেন।
সুতরাং তিনি একই গ্রন্থে একই ধারায় চলেননি, তবে এটি তাঁর পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না; কারণ তিনি একটি পরিভাষা নির্ধারণ করেছেন এবং যা নির্ধারণ করেছেন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আর পরিভাষা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই।
বরং তাঁর গ্রন্থ পাঠকারীর উচিত তাঁর পরিভাষাগুলো আত্মস্থ করা, তাঁর উদ্দেশ্য অনুধাবন করা এবং তাঁর নির্ধারিত নিয়ম ও প্রয়োগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
فالمائة الثانية: قسمها على ست طبقات، فيكون للطبقة الواحدة تقريبًا نحو (17 سنة)، أي: من يقول عنه: من الثالثة، فوفاته في حدود سنة (120 هـ)، ومن الرابعة: بين (135 - 140)، وهكذا.
ومن قال عنه: من الثامنة، فوفاته أواخر القرن الثاني.
ومن كانت وفاته في الربع الأول من القرن الثالث: كان من التاسعة، ومن توفي في الربع الثاني منه، فهو من العاشرة، ومن توفي خلال الربع الثالث منه: عدَّه من الحادية عشرة، والمتوفى أواخر القرن: كان من الثانية عشرة.
لكن ليست هذه التحديدات حدودًا منطقية لا يجوز الخروج عنها، إنما هي مرتبطة بأمر آخر هام، هو المقياس الدقيق الذي لا يجوز تجاوزه بحال، وهو: الشيوخ الذين أدركهم وأخذ عنهم، ثم بعد ذلك قد يطول عمر هذا الراوي فتكون وفاته في عصر الطبقة التي بعده، لتأخرها، وقد يقصر عمره، فيتوفى في عصر الطبقة التي قبله.
فلا يصح النظر في تاريخ الوفاة والطبقة التي حددها له، فإن اختل التناسب بينهما خطَّأنا المصنف، لا إنما الطبقة -عنده- ملاحظ فيها ثلاثة أمور: أهمها الشيوخ الذين أخذ عنهم، ثم ولادته، ثم وفاته.
وإنما أخرت معرفة الولادة عن معرفة الشيوخ؛ لأنه قد تتقدم ولادته؛ ولكنه يتأخر في الطلب والسماع -وإن كان بينهما تلازم في غالب الأحيان-.
فإن تأخر في السماع: فاته فلان وفلان من المتقدمين، وأخذ عن فلان وفلان من المتأخرين، ويشاركه حينئذ من تأخرت ولادته عنه، في السماع من هؤلاء المتأخرين.
والأمثلة توضح منهجه:
أحمد بن عبد اللَّه بن ميمون. . . ابن أبي الحواري، قال عنه: "من العاشرة مات سنة ست وأربعين".
দ্বিতীয় শতাব্দী: তিনি একে ছয়টি স্তরে বিভক্ত করেছেন, ফলে প্রতি স্তরের সময়সীমা দাঁড়ায় প্রায় (১৭ বছর)। অর্থাৎ, যার সম্পর্কে তিনি বলেন যে তিনি তৃতীয় স্তরের, তার মৃত্যু ১২০ হিজরির আশেপাশে; আর যিনি চতুর্থ স্তরের, তার মৃত্যু ১৩৫-১৪০ হিজরির মধ্যে, এবং এভাবেই চলবে।
আর যার সম্পর্কে তিনি বলেন যে তিনি অষ্টম স্তরের, তার মৃত্যু দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে।
যার মৃত্যু তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশে, তিনি নবম স্তরের অন্তর্ভুক্ত; আর যিনি এর দ্বিতীয় চতুর্থাংশে মৃত্যুবরণ করেন, তিনি দশম স্তরের; এবং যিনি এর তৃতীয় চতুর্থাংশে মারা যান, তাকে তিনি একাদশ স্তরের গণ্য করেছেন; আর শতাব্দীর শেষভাগে মৃত্যুবরণকারী দ্বাদশ স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
তবে এই সময়সীমাগুলো এমন কোনো যৌক্তিক সীমানা নয় যা থেকে বের হওয়া যাবে না, বরং এটি অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত, যা হলো সেই সূক্ষ্ম মানদণ্ড যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা বৈধ নয়। আর তা হলো: সেই সকল শাইখ যাদের তিনি পেয়েছেন এবং যাদের থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। এরপর হতে পারে এই বর্ণনাকারীর বয়স দীর্ঘ হয়েছে, ফলে তার মৃত্যু বিলম্বিত হওয়ার কারণে পরবর্তী স্তরের যুগে হয়েছে, আবার হতে পারে তার বয়স কম হয়েছে, ফলে তার মৃত্যু পূর্ববর্তী স্তরের যুগে হয়েছে।
তাই মৃত্যুর তারিখ এবং তার জন্য নির্ধারিত স্তরের দিকে তাকিয়েই যদি উভয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা যায় তবে গ্রন্থকারকে ভুল সাব্যস্ত করা সঠিক হবে না। না, বরং তার নিকট স্তরের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় লক্ষ্য রাখা হয়েছে: তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই শাইখগণ যাদের নিকট থেকে তিনি ইলম গ্রহণ করেছেন, তারপর তার জন্ম, এবং তারপর তার মৃত্যু।
আর জন্মের বিষয়টিকে শাইখদের পরিচয়ের পরে রাখা হয়েছে; কারণ হতে পারে তার জন্ম আগে হয়েছে, কিন্তু তিনি ইলম অন্বেষণ ও শ্রবণে বিলম্ব করেছেন—যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই দুইয়ের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক থাকে।
ফলে যদি তিনি শ্রবণে বিলম্ব করেন, তবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে অমুক অমুক তার থেকে ছুটে যাবে এবং তিনি পরবর্তী স্তরের অমুক অমুকের থেকে ইলম গ্রহণ করবেন। এমতাবস্থায় যার জন্ম তার পরে হয়েছে, সেও এই পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের থেকে শ্রবণে তার সাথে অংশীদার হবে।
উদাহরণসমূহ তার পদ্ধতিকে স্পষ্ট করে:
আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন... ইবনুল আবি আল-হাওয়ারি, তার সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "তিনি দশম স্তরের এবং ছেচল্লিশ (২৪৬) সালে মৃত্যুবরণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
وأحمد بن عبد الرحمن بن وهب المصري، ابن أخي عبد اللَّه بن وهب، قال عنه: "من الحادية عشرة مات سنة أربع وستين" أي: كلاهما بعد المائتين.
وهذان مثالان منطبقان على الطبقة وتاريخ الوفاة، ولا إشكال فيهما"
(1).
* * *
--------------------------------------------
এবং আহমাদ বিন আবদুর রহমান বিন ওয়াহাব আল-মিসরি, যিনি আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র, তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তিনি একাদশ স্তরের অন্তর্ভুক্ত, দুইশ চৌষট্টি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।" অর্থাৎ: তাঁরা উভয়ই দুইশ হিজরির পরবর্তী সময়ের।
আর এই উদাহরণ দুটি স্তর এবং মৃত্যু তারিখের সাথে সংগতিপূর্ণ, এবং এ নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই"
(১)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
المطلب الثاني العلامات والرقوم التي استخدمها الحافظ (1)"قال المصنف رحمه الله في مقدمة كتابه: "وقد اكتفيت بالرقم -أي: الرمز- على أول اسم كل راوٍ، إشارة إلى من أخرج حديثه من الأئمة.
فالبخاري: في صحيحه: خ، فإن كان حديثه عنده معلقًا: خت. وللبخاري في الأدب المفرد: بخ، وفي خلق أفعال العباد: عخ، وفي جزء القراءة خلف الإمام: ر، وفي رفع اليدين: ي.
ولمسلم. م
(2).
ولأبي داود: د، وفي المراسيل: مد، وفي فضائل الأنصار: صد، وفي الناسخ: خد، وفي القدر: قد، وفي التفرد: ف، وفي المسائل: ل، وفي مسند مالك: كد.
وللترمذي: ت، وفي الشمائل له: تم.
وللنسائي: س، وفي مسند علي له: عس، وفي مسند مالك: كن.
ولابن ماجة: ق، وفي التفسير له: فق.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাফিজ (ইবনে হাজার) কর্তৃক ব্যবহৃত চিহ্ন ও সংকেতসমূহ(১)"গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "আমি প্রত্যেক রাবীর নামের শুরুতে কেবল সংকেত ব্যবহারের ওপরই নির্ভর করেছি, যা দ্বারা সেই ইমামদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যারা তাঁর বর্ণিত হাদিসটি সংকলন করেছেন।
ইমাম বুখারী: তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে: খ; যদি তাঁর নিকট হাদিসটি 'মুআল্লাক' (ঝুলন্ত সূত্র) হয়: খত। ইমাম বুখারীর 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এর জন্য: বখ; 'খালকু আফআলিল ইবাদ'-এর জন্য: আখ; 'জুযউল কিরাআত খালফাল ইমাম'-এর জন্য: র; এবং 'রাফউল ইয়াদাইন'-এর জন্য: য়।
ইমাম মুসলিমের জন্য: ম
(২)।
আবু দাউদের জন্য: দ; 'আল-মারাসিল'-এ: মদ; 'ফাদায়িলুল আনসার'-এ: সদ; 'আন-নাসিখ'-এ: খদ; 'আল-কাদার'-এ: কদ; 'আত-তাফাররুদ'-এ: ফ; 'আল-মাসাইল'-এ: ল এবং 'মুসনাদে মালিক'-এ: কদ।
তিরমিযীর জন্য: ত; তাঁর 'আশ-শামায়িল'-এ: তম।
নাসায়ীর জন্য: স; তাঁর 'মুসনাদে আলী'-তে: আস; 'মুসনাদে মালিক'-এ: কন।
ইবনে মাজাহর জন্য: ক; তাঁর 'তাফসির'-এ: ফক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাশফুল ঈহাম লিমা তাদামানাহু তাহরীরুত তাক্বরীব মিনাল আওহাম
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
فإن كان حديث الرجل في أحد الأصول الستة أكتفي برقمه ولو أخرج له في غيرها، وإذا اجتمعت فالرقم: ع، وأما علامة 4 فهي لهم سوى الشيخين.
ومن ليست له عندهم رواية مرقوم عليه: تمييز، إشارة إلى أنه ذكر ليتميز عن غيره، ومن ليست عليه علامة نبه عليه وترجم قبل أو بعد".
فهذه واحد وعشرون كتابًا وتزيد الرموز عليها أربعة: خت، لمعلقات البخاري وللستة: ع، وللسنن الأربعة: 4، و (تمييز) لمن ليست له رواية في الكتب المذكورة.
1 - وقد أضاف المصنف في ثنايا الكتاب ثلاثة رموز، وهي: مق، ص، سي (مق): لمقدمة مسلم في صحيحه، (ص): لخصائص سيدنا علي رضي الله عنه، (سي): لعمل اليوم والليلة وكلاهما للنسائي.
فيكون مجموع الرموز ثمانية وعشرين رمزًا، لثلاثة وعشرين كتابًا"
(1).
* * *
--------------------------------------------
যদি কোনো ব্যক্তির বর্ণিত হাদিস কুতুবে সিত্তাহর কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল তার নম্বর উল্লেখ করার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব, যদিও অন্য কিতাবেও তার বর্ণনা সংকলিত হয়ে থাকে। আর যদি সবগুলোতে থাকে তবে প্রতীক হলো: ‘আইন’। আর চিহ্ন ‘৪’ দ্বারা শাইখাইন ব্যতীত বাকি চার ইমামকে বোঝানো হয়েছে।
যাদের কোনো বর্ণনা তাদের নিকট নেই, তাদের নামের ওপর ‘তাময়িজ’ লিখে দেওয়া হয়েছে। এটি ইঙ্গিত করে যে, তাকে অন্যদের থেকে পৃথক করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। আর যার ওপর কোনো চিহ্ন নেই, তার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে এবং তার জীবনী আগে বা পরে বর্ণনা করা হয়েছে।
সুতরাং এগুলো হলো একুশটি কিতাব এবং এর সাথে আরও চারটি প্রতীক যুক্ত হয়েছে: ‘খাত’ বুখারির মুআল্লাক বর্ণনাগুলোর জন্য, ‘আইন’ ছয়টি কিতাবের জন্য, ‘৪’ হলো চারটি সুনান গ্রন্থের জন্য, এবং ‘তাময়িজ’ হলো তাদের জন্য যাদের উল্লিখিত কিতাবগুলোতে কোনো বর্ণনা নেই।
১ - গ্রন্থকার কিতাবের বিভিন্ন স্থানে আরও তিনটি প্রতীক যোগ করেছেন, সেগুলো হলো: ‘মাক’, ‘সদ’, ‘সিন-ইয়া’। ‘মাক’ হলো সহিহ মুসলিমের ভূমিকার জন্য, ‘সদ’ হলো সাইয়্যিদিনা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর গুণাবলি বিষয়ক গ্রন্থের জন্য এবং ‘সিন-ইয়া’ হলো আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ-এর জন্য; শেষের কিতাব দুটিই নাসায়ীর সংকলন।
এভাবে প্রতীকের মোট সংখ্যা আটাশটি হয়, যা তেইশটি কিতাবের জন্য নির্ধারিত।
(১)* * *
--------------------------------------------