(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
علم البيان القسم: البلاغة
الكتاب: علم البيان
المؤلف: عبد العزيز عتيق (ت 1396 هـ)
الناشر: دار النهضة العربية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: بدون
عام النشر: 1405 هـ - 1982 م
عدد الصفحات: 227
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 شوّال 1436
ইলমুল বায়ান বিভাগ: বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র)
গ্রন্থ: ইলমুল বায়ান
লেখক: আবদুল আজিজ আতিক (মৃত্যু ১৩৯৬ হিজরি)
প্রকাশক: দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: নেই
প্রকাশকাল: ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাওয়াল ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: -)
علم البيان
تأليف
الدكتور عبد العزيز عتيق
دار النهضة العربية
অলঙ্কারশাস্ত্র (ইলমুল বায়ান)
রচনায়
ডক্টর আব্দুল আজিজ আতীক
দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدّمةهذا الكتاب يضم بين دفتيه محاضرات في «علم البيان» ألقيتها على طلبة الصف الثاني في قسم اللغة العربية وآدابها بجامعة بيروت العربية.
والقسم الأول من هذه المحاضرات يعالج تاريخ علم البيان ويتابع نشأته وتطوره في العصور المختلفة، أي منذ بدأت مباحثه في صورة ملاحظات بلاغية حتى صارت علما واضح المعالم قائما بذاته على يد عبد القاهر الجرجاني والزمخشري والسكاكي ومن بعدهم من رجال البلاغة.
وقد حرصنا في هذا العرض التاريخي على التعريف بعلماء البلاغة وأعمالهم، مسلطين الضوء بوجه خاص على ما ورد في كتبهم متصلا بفنون علم البيان موضوع بحثنا. كذلك حرصنا على بيان منهاج كل منهم في بحثة ومدى تأثره بمن قبله وتأثيره فيمن بعده، مع الإشارة إلى من أدّت مساهمته منهم في هذا الميدان إلى نهضة البلاغة العربية أو جمودها.
أما القسم الثاني من المحاضرات فدراسة مفصلة تحليلية تعززها النماذج والشواهد لفنون علم البيان من التشبيه، والحقيقة والمجاز بأنواعه، والكناية.
والله أسأل أن ينفع بهذه المحاضرات بمقدار الجهد الذي بذل فيها.
المؤلف
ভূমিকাএই গ্রন্থটি বৈরুত আরব বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আমার প্রদত্ত ‘ইলমুল বয়ান’ বিষয়ক বক্তৃতামালা সংবলিত।
এই বক্তৃতামালার প্রথম অংশ ইলমুল বয়ানের ইতিহাস পর্যালোচনা করে এবং বিভিন্ন যুগে এর উদ্ভব ও বিকাশ অনুসরণ করে। অর্থাৎ, এর আলোচ্য বিষয়সমূহ যখন থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পর্যবেক্ষণ হিসেবে শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে শুরু করে আব্দুল কাহের আল-জুরজানী, আল-জামাখশারী, আস-সাক্কাকী এবং তাঁদের পরবর্তী অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের হাতে এটি একটি স্বতন্ত্র ও সুনির্দিষ্ট শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করা পর্যন্ত পর্যায়সমূহ এখানে আলোচিত হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক বর্ণনায় আমরা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এবং তাঁদের রচনাবলির সাথে পরিচিত করানোর বিষয়ে যত্নবান হয়েছি; বিশেষ করে তাঁদের গ্রন্থাবলীতে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ‘ইলমুল বয়ান’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট যে সকল শিল্পকলা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেছি। একইভাবে আমরা তাঁদের প্রত্যেকের গবেষণার পদ্ধতি এবং তাঁদের পূর্ববর্তীদের দ্বারা তাঁদের প্রভাবিত হওয়া ও পরবর্তীদের ওপর তাঁদের প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। সেই সঙ্গে এই ক্ষেত্রে তাঁদের কার অবদান আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের নবজাগরণে কিংবা এর স্থবিরতায় ভূমিকা রেখেছে, তাও নির্দেশ করা হয়েছে।
বক্তৃতামালার দ্বিতীয় অংশটি হলো ইলমুল বয়ানের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শাখা—যেমন: তাশবিহ (উপমা), হাক্বিকাত ও মাজাযের (রূপক) বিভিন্ন প্রকার এবং কিনায়াহ (পরোক্ষ উক্তি)—এর একটি বিস্তারিত ও বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন, যা বিভিন্ন উদাহরণ ও প্রমাণাদি দ্বারা সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই বক্তৃতামালাকে এতে নিয়োজিত শ্রমের সমপরিমাণ উপকারী করেন।
লেখক
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ৭)
نشأة علم البيان وتطوّرهترتبط «البلاغة العربية» في الأذهان عند ذكرها بعلومها الثلاثة المعروفة لنا اليوم وهي: علم المعاني، وعلم البيان، وعلم البديع.
وقد يتبادر إلى بعض الأذهان أنّ هذه العلوم الثلاثة البلاغية قد نشأ كل واحد منها مستقلا عن الآخر بمباحثه ونظرياته، ولكن الواقع غير ذلك.
فالواقع أنّ البلاغة العربية قد مرّت بتاريخ طويل من التطور حتى انتهت إلى ما انتهت إليه، وكانت مباحث علومها مختلطا بعضها ببعض منذ نشأة الكلام عنها في كتب السابقين الأولين من علماء العربية، وكانوا يطلقون عليها «البيان».
وقد أخذت الملاحظات البيانات تنشأ عند العرب منذ العصر الجاهلي، ثمّ مضت هذه الملاحظات تنمو بعد ظهور
الإسلام لأسباب شتّى، منها تحضر العرب، واستقرارهم في المدن والأقطار المفتوحة، ونهضتهم العقلية، ثمّ الجدل الشديد الذي قام بين الفرق الدينية المختلفة
ইলমুল বায়ানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ'আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র' (বালাগাত) যখনই উল্লেখ করা হয়, তখন মানুষের মনে এর বর্তমানে আমাদের কাছে পরিচিত তিনটি ইলমের কথা ভেসে ওঠে, সেগুলো হলো: ইলমুল মাআনি, ইলমুল বায়ান এবং ইলমুল বাদি।
কারো কারো মনে হতে পারে যে, অলঙ্কারশাস্ত্রের এই তিনটি ইলম এদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র আলোচ্য বিষয় ও তত্ত্ব নিয়ে একে অপরের থেকে স্বাধীনভাবে গড়ে উঠেছে, কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত।
বাস্তবতা হলো এই যে, আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র বিবর্তনের এক দীর্ঘ ইতিহাস অতিক্রম করেছে যতক্ষণ না এটি তার বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে। আরবি ভাষার পূর্ববর্তী আলেমদের কিতাবসমূহে এ সংক্রান্ত আলোচনার সূচনালগ্ন থেকেই এর বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনাগুলো একটি অন্যটির সাথে মিশ্রিত ছিল এবং তারা একে 'আল-বায়ান' নামে অভিহিত করতেন।
জাহেলি যুগ থেকেই আরবদের মাঝে বায়ান সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণসমূহের সূচনা হতে শুরু করে। এরপর ইসলামের আবির্ভাবের পর বিভিন্ন কারণে এই পর্যবেক্ষণগুলো আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম হলো আরবদের সভ্যতাায়ন, বিজিত নগরী ও দেশসমূহে তাদের স্থায়ী বসবাস, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ফেরকাগুলোর মধ্যে সংঘটিত তীব্র বিতর্ক।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ৮)
في شؤون العقيدة والسياسة. فكان طبيعيا لذلك كله أن تكثر الملاحظات البيانية والنقدية تلك التي نلتقي بها في تراجم بعض الشعراء الجاهليين والإسلاميين في كتاب مثل كتاب الأغاني.
وإذا انتقلنا إلى العصر العباسي فإننا نجد بالإضافة إلى نمو الملاحظات البلاغية محاولات أولية لتدوين هذه الملاحظات وتسجيلها، كما هو الشأن في كتب الجاحظ، وبخاصة كتاب «البيان والتبيين». وقد أدّى إلى هذه النقلة الجديدة عوامل منها تطور الشعر والنثر بتأثير الحضارة العباسية، ورقي الحياة العقلية فيها، ومنها ظهور طائفتين من العلماء المعلمين عنيتا بشؤون اللغة والبيان، إحداهما طائفة محافظة هي طائفة اللغويين، وهؤلاء كانوا يعلمون رواية الأدب وأصوله اللغوية والنحوية، وكان اهتمامهم بالشعر الجاهلي والإسلامي أكثر من اهتمامهم بالشعر العباسي، وقد هداهم البحث في أساليب الشعر القديم من ناحيتيها اللغوية والنحوية إلى استنباط بعض الخصائص الأسلوبية على نحو ما نجد في كتاب سيبويه من مثل كلامه عن التقديم والتأخير، والحذف والذكر، والتعريف والتنكير، ونحو ذلك.
كذلك نلتقي بكتاب «معاني القرآن» للفرّاء «207 هـ»، والذي يعنى فيه بالتأويل وتصوير خصائص بعض التراكيب، والإشارة إلى ما في آي الذكر الحكيم من الصور البيانية.
ثمّ نلتقي بكتاب «مجاز القرآن» لأبي عبيدة معمر بن المثنى «211 هـ» الذي كان معاصرا للفراء، وهذا الكتاب لا يبحث في مجاز القرآن من الجانب البلاغي، وإنّما هو بحث في تأويل بعض الآيات القرآنية، وأبو عبيدة هذا هو أوّل من تكلم بلفظ المجاز، كما ذكر ابن تيمية في كتابه «الإيمان» ولكنه لم يتكلّم عن المجاز الذي هو قسيم الحقيقة، وإنّما المجاز
আকিদা ও রাজনীতির বিষয়াবলীতে। ফলে এ সবকিছুর কারণে এটিই স্বাভাবিক ছিল যে, আল-আঘানি-র মতো গ্রন্থে জাহেলি ও ইসলামি যুগের কিছু কবির জীবনীতে আমরা সেই সকল অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও সমালোচনাধর্মী মন্তব্যের আধিক্য দেখতে পাই যেগুলোর সম্মুখীন আমরা হই।
এবং আমরা যদি আব্বাসীয় যুগে পদার্পণ করি, তবে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পর্যবেক্ষণের বিকাশের পাশাপাশি এই পর্যবেক্ষণগুলোকে সংকলন ও লিপিবদ্ধ করার প্রাথমিক প্রচেষ্টা দেখতে পাই, যেমনটি আল-জাহিজের গ্রন্থসমূহে পরিলক্ষিত হয়, বিশেষ করে ‘আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন’ গ্রন্থে। এই নতুন রূপান্তরের মূলে বেশ কিছু কারণ নিহিত ছিল, যার মধ্যে রয়েছে আব্বাসীয় সভ্যতার প্রভাবে কবিতা ও গদ্যের বিবর্তন এবং সে সময়ের বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের উৎকর্ষ। এছাড়াও শিক্ষক-উলামাদের দুটি দলের আবির্ভাব ঘটেছিল যারা ভাষা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয়াবলী নিয়ে নিবিষ্ট ছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল রক্ষণশীল ভাষাবিদদের দল; তারা সাহিত্যের বর্ণনা এবং এর ভাষাগত ও ব্যাকরণগত মূলনীতিসমূহ শিক্ষা দিতেন। আব্বাসীয় কবিতার চেয়ে জাহেলি ও ইসলামি যুগের কবিতার প্রতিই তাদের আগ্রহ ছিল অধিক। প্রাচীন কবিতার শৈলী নিয়ে ভাষাগত ও ব্যাকরণগত উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের গবেষণা কিছু আলঙ্কারিক বৈশিষ্ট্য উদ্ভাবনে পথপ্রদর্শন করে, যেমনটি আমরা সিবওয়াইহ-র কিতাবে দেখতে পাই; উদাহরণস্বরূপ—শব্দের অগ্রায়ন ও পশ্চাৎায়ন, উহ্য রাখা ও উল্লেখ করা, নির্দিষ্টকরণ ও অনির্দিষ্টকরণ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।
একইভাবে আমরা আল-ফাররা (২০৭ হিজরি) রচিত ‘মাআনী আল-কুরআন’ গ্রন্থটি পাই, যেখানে তিনি ব্যাখ্যা এবং কিছু বাক্যগঠনের বৈশিষ্ট্যের চিত্রায়ণ এবং প্রজ্ঞাময় মহিমান্বিত কালামের আয়াতসমূহে বিদ্যমান আলঙ্কারিক রূপকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।
এরপর আমরা আল-ফাররার সমসাময়িক আবু উবাইদাহ মুয়াম্মার ইবনুল মুসান্না (২১১ হিজরি) রচিত ‘মাজায আল-কুরআন’ গ্রন্থটি পাই। এই গ্রন্থটি অলঙ্কারশাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনের মাজায নিয়ে আলোচনা করে না, বরং এটি কুরআনের কিছু আয়াতের ব্যাখ্যার একটি গবেষণা। এই আবু উবাইদাহ-ই সর্বপ্রথম ‘মাজায’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, যেমনটি ইবনে তাইমিয়া তাঁর ‘আল-ঈমান’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সেই মাজায নিয়ে কথা বলেননি যা হাকিকত বা প্রকৃত অর্থের সমান্তরাল (বিপরীত শব্দ), বরং এই মাজায...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ৯)
عنده يعني بيان المعنى. ومع هذا فقد وردت في كتابه «مجاز القرآن» إشارات إلى بعض الأساليب البيانية كالتشبيه والاستعارة والكناية، وبعض خصائص التعبير النحوية التي لها دلالات معنوية من مثل الذكر والحذف والالتفات والتقديم والتأخير.
ومع ما اهتدى إليه كل من الفراء وأبي عبيدة من السمات والخصائص البيانية فإنّ مدلولاتها البلاغية لم تتبلور وتحدد في ذهن أي منهما أو أي من اللغويين والنحاة المعاصرين لهما.
أما طائفة العلماء المعلمين الأخرى التي ظهرت في العصر العباسي فهي طائفة علماء الكلام وفي طليعتهم المعتزلة الذين كانوا يدربون تلاميذهم على فنون الخطابة والجدل والبحث والمناظرة في الموضوعات المتصلة بفكرهم الاعتزالي. وكان هذا التدريب يعمق ويمتد حتى يشمل الكلام وصناعته وقيمته البلاغية والجمالية.
وقد حفظ لنا كتاب البيان والتبيين للجاحظ قدرا كبيرا من ملاحظات المعتزلة المتصلة بالبلاغة العربية، وهذه قد استقوها من مصدرين هما: التقاليد العربية، والثقافات الأجنبية التي شاعت في عصرهم واطلعوا عليها. فالثقافات الأجنبية التي أخذوا أنفسهم بدراستها وتعمّقوا في فلسفتها ومنطقها قد عادت عليهم بفائدتين لهما أثرهما في شؤون البلاغة: فائدة عقلية بحتة مصدرها دراسة الفلسفة الإغريقية التي نظمت عقولهم تنظيما دقيقا أعانهم على استنباط القضايا البلاغية، وفائدة أخرى ترجع إلى طلبهم معرفة ما في ثقافات الأمم الأخرى التي وصلت إليهم من قواعد البلاغة والبيان.
ويتضح ذلك حين نجد الجاحظ المعتزلي يورد في كتابه البيان والتبيين تعاريف اليونان والفرس والهند للبلاغة وهذا يعني أنّ المعتزلة
তাঁর মতে এর অর্থ হলো অর্থের বর্ণনা। তা সত্ত্বেও তাঁর ‘মাজাযুল কুরআন’ গ্রন্থে কিছু আলঙ্কারিক রীতির প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যেমন: উপমা, রূপক ও পরোক্ষোক্তি। এছাড়া এমন কিছু ব্যাকরণিক বৈশিষ্ট্যেরও উল্লেখ রয়েছে যার অর্থগত তাৎপর্য রয়েছে, যেমন: উল্লেখকরণ, উহ্য রাখা, মোড় পরিবর্তন এবং আগে-পিছে করা বা পদক্রম পরিবর্তন।
আল-ফাররা এবং আবু উবাইদাহ যে সকল আলঙ্কারিক বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি চিহ্নিত করেছিলেন, তা সত্ত্বেও সেগুলোর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় তাৎপর্য তাঁদের কারো মনে কিংবা তাঁদের সমসাময়িক ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদদের মনে সুসংহত বা সুনির্ধারিত হয়নি।
আব্বাসীয় যুগে আবির্ভূত অন্য একদল শিক্ষক-বিদ্বান ছিলেন ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ, যাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন মুতাজিলাগণ। তাঁরা তাঁদের ছাত্রদের বাগ্মিতা, বিতর্ক, গবেষণা এবং তাঁদের মুতাজিলা চিন্তাধারার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির ওপর বিতর্কের শিল্পকলায় প্রশিক্ষণ দিতেন। এই প্রশিক্ষণ এতটাই গভীর ও বিস্তৃত ছিল যে, তা ভাষা, এর গঠনশৈলী এবং এর আলঙ্কারিক ও নান্দনিক মূল্যকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
আল-জাহিজের ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন’ গ্রন্থটি আমাদের জন্য আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র সম্পর্কিত মুতাজিলাদের প্রচুর পর্যবেক্ষণ সংরক্ষণ করেছে। তাঁরা এগুলো দুটি উৎস থেকে গ্রহণ করেছিলেন: আরবি ঐতিহ্য এবং তাঁদের যুগে প্রচলিত বিদেশী সংস্কৃতিসমূহ যা তাঁরা গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন। যে সকল বিদেশী সংস্কৃতি তাঁরা অধ্যয়ন করেছিলেন এবং যেগুলোর দর্শন ও যুক্তিবিদ্যায় তাঁরা বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন, তা অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁদের দুটি উপকার বয়ে এনেছিল: প্রথমটি হলো সম্পূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক উপকার, যার উৎস ছিল গ্রিক দর্শন। এটি তাঁদের চিন্তাশক্তিকে এমন সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করেছিল যা তাঁদের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় মাসআলাসমূহ উদ্ভাবনে সহায়তা করেছিল। দ্বিতীয় উপকারটি ছিল অন্যান্য জাতির সংস্কৃতি থেকে অলঙ্কারশাস্ত্র ও ভাষাশৈলীর নিয়মাবলি জানার আগ্রহ থেকে প্রাপ্ত।
বিষয়টি তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন আমরা দেখি মুতাজিলা পণ্ডিত আল-জাহিজ তাঁর ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন’ গ্রন্থে অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে গ্রিক, পারস্য এবং ভারতীয়দের দেওয়া সংজ্ঞাসমূহ উল্লেখ করেছেন। এর অর্থ হলো মুতাজিলাগণ...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১০)
أخذوا يضيفون إلى ملاحظات العرب الخاصة في البلاغة ملاحظات الأمم الأجنبية وخاصة اليونان، ومضوا من خلال ذلك ينفذون إلى وضع المقدمات الأولى لقواعد البلاغة العربية.
وأوّل معتزلي خطا خطوة ملحوظة في هذا السبيل هو رئيس المعتزلة ببغداد بشر بن المعتمر المتوفى سنة 210 للهجرة، فعنه نقل الجاحظ صفحات نثر فيها بشر ملاحظات دقيقة في البلاغة، تلقفها من جاء بعده من العلماء، واستعانوا بها على بلورة بعض أصول البلاغة وقواعدها.
ولعلّ أكبر معتزلي جاء بعد بشر بن المعتمر وأولى البلاغة العربية عناية فائقة هو أبو عثمان عمرو بن بحر الجاحظ المتوفى سنة 255 للهجرة. فقد ألّف في البلاغة كتابه «البيان والتبيين» في أربعة مجلدات ضخام جمع فيها معظم ما انتهى إلى عصره من ملاحظات بلاغية، سواء ما اهتدى إليه علماء العربية بأنفسهم أو ما جاء إليهم منقولا عن آداب الفرس والهند واليونان وغيرهم أو عن طريق ما قاله بشر (1) بن المعتمر وكان به سابقا لعصره في ميدان البلاغة. هذا بالإضافة إلى آراء الجاحظ وملاحظاته الخاصة في القضايا البلاغية، ولا سيما ما يتصل بالتشبيهات والاستعارات والمجازات التي هي موضوع «علم البيان».
وقد خطا الجاحظ خطوة غير مسبوقة في ملاحظاته البلاغية، وذلك بالكلام عن التشبيه والاستعارة عن طريق النماذج، مع التفريق بينهما، كما استعمل «المثل» مرادفا للمجاز، وجعله مقابلا للحقيقة، وذلك إذ يقول عند حديثه
عن «نار الحرب» (2): «ويذكرون نارا أخرى، وهي على طريق
--------------------------------------------
তারা অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) বিষয়ে আরবদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের সাথে বিদেশি জাতিগোষ্ঠীগুলোর, বিশেষ করে গ্রিকদের পর্যবেক্ষণসমূহ যুক্ত করতে শুরু করেন। এর মাধ্যমে তারা আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের নিয়মনীতির প্রাথমিক প্রস্তাবনাগুলো স্থাপনের পথে অগ্রসর হন।
এই পথে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণকারী প্রথম মুতাজিলি হলেন বাগদাদের মুতাজিলি প্রধান বিশর ইবনুল মুতামির (মৃত্যু: ২১০ হিজরি)। আল-জাহিজ তাঁর কাছ থেকে এমন কিছু পৃষ্ঠা উদ্ধৃত করেছেন যেখানে বিশর অলঙ্কারশাস্ত্রের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। পরবর্তীকালের আলেমগণ সেগুলো লুফে নেন এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের কিছু মূলনীতি ও নিয়মাবলিকে সুসংহত করতে সেগুলো থেকে সহায়তা গ্রহণ করেন।
সম্ভবত বিশর ইবনুল মুতামিরের পরে আসা সবচেয়ে বড় মুতাজিলি ব্যক্তিত্ব, যিনি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন, তিনি হলেন আবু উসমান আমর ইবনে বাহর আল-জাহিজ (মৃত্যু: ২৫৫ হিজরি)। তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর তাঁর ‘আল-বায়ান ওয়াত তিবয়িন’ গ্রন্থটি চারটি বিশাল খণ্ডে রচনা করেছেন। এতে তিনি তাঁর সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত অলঙ্কারশাস্ত্রীয় অধিকাংশ পর্যবেক্ষণ সংগ্রহ করেছেন; চাই তা আরবি ভাষাবিদদের নিজস্ব উদ্ভাবন হোক অথবা পারস্য, ভারত, গ্রিস ও অন্যান্য জাতির সাহিত্য থেকে আসা অনূদিত বিষয় হোক, কিংবা বিশর (১) ইবনুল মুতামিরের বক্তব্য হোক, যিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের ময়দানে নিজ যুগের চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিষয়াদিতে জাহিজের নিজস্ব মতামত ও পর্যবেক্ষণ, বিশেষ করে উপমা (তাশবিহ), রূপক (ইস্তি'আরা) ও শব্দালঙ্কার (মাজায) সম্পর্কিত বিষয়গুলো, যা মূলত ‘ইলমুল বায়ান’-এর আলোচ্য বিষয়।
জাহিজ তাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পর্যবেক্ষণে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন; আর তা হলো উদাহরণের মাধ্যমে উপমা (তাশবিহ) ও রূপক (ইস্তি'আরা)-এর আলোচনা এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ। এছাড়া তিনি ‘মাজায’-এর প্রতিশব্দ হিসেবে ‘মাসাল’ শব্দটিও ব্যবহার করেছেন এবং একে ‘হাকিকত’ (প্রকৃত অর্থ)-এর বিপরীত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি যখন আলোচনা করছিলেন
‘যুদ্ধের আগুন’ (২) সম্পর্কে: “তারা অন্য এক আগুনের কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১১)
المثل لا على طريق الحقيقة. قال ابن ميادة:
يداه يد تنهلّ بالخير والندى
… وأخرى شديد بالأعادي ضريرها
وناراه: نار نار كل مدفّع
… وأخرى يصيب المجرمين سعيرها» (1)
فالمثل المرادف عنده للمجاز قد استعمله مقابلا للحقيقة، وبهذا كان أوّل من فطن إلى تقسيم اللفظ إلى حقيقة ومجاز. ولا شك أنّ هذا ينفي ما زعمه ابن تيمية في كتابه «الإيمان» (2) من أنّ تقسيم اللفظ إلى حقيقة ومجاز تقسيم حادث بعد القرن الثالث الهجري.
ولعلّ خير من أفاد من ملاحظات الجاحظ البلاغية وبنى عليها وطورها هو ضياء الدين بن الأثير المتوفى سنة 637 للهجرة، في كتابه «المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر»، كما سنرى فيما بعد.
ومجمل القول في الجاحظ من جهة البلاغة أنّه ألّم في كتبه بالأساليب البيانية من تشبيه واستعارة وكناية وحقيقة ومجاز، ولكنه لم يوردها في تعريفات اصطلاحية، وإنّما جاء تعريفه لها والدلالة عليها عن طريق الأمثلة والنماذج لا عن طريق القواعد البلاغية.
والمقارنة بينه وبين من تقدموه في هذا الميدان تظهر أنّه كان بلا شك أقدرهم على إدراك أسرار البلاغة، وأكثرهم اهتداء عن طريق النماذج إلى شتى العناصر أو الأساليب البيانية التي عرفت وحدّدت فيما بعد، وأصبحت تؤلف مباحث البلاغة وموضوعاتها. ولهذا فهو يعدّ بحق مؤسس
--------------------------------------------
এটি উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আক্ষরিক অর্থে নয়। ইবনে মাইয়াদা বলেছেন:
তাঁর দুই হাত; একটি হাত কল্যাণ ও দাক্ষিণ্য বর্ষণ করে
… আর অন্যটি শত্রুদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ও প্রলয়ংকরী।
তাঁর দুই আগুন: একটি আগুন প্রত্যেক সহায়সম্বলহীন ব্যক্তির আশ্রয়ের আগুন
… আর অন্যটির উত্তাপ অপরাধীদের স্পর্শ করে।» (১)
সুতরাং তাঁর কাছে 'উপমা' ছিল 'রূপক' (মাজায)-এর সমার্থক, যা তিনি 'আক্ষরিক' (হাকিকাত)-এর বিপরীতে ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমেই তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে শব্দকে হাকিকাত ও মাজাযে বিভক্ত করার বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন। নিঃসন্দেহে এটি ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর ‘আল-ঈমান’ (২) গ্রন্থে যা দাবি করেছেন তা খণ্ডন করে; তিনি দাবি করেছিলেন যে, শব্দকে হাকিকাত ও মাজাযে বিভক্ত করার বিষয়টি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর পরে উদ্ভাবিত একটি নতুন বিষয়।
সম্ভবত জাহিজের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পর্যবেক্ষণগুলো থেকে যিনি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন, সেগুলোকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সেগুলোর উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, তিনি হলেন ৬৩৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী জিয়াউদ্দিন ইবনুল আসির, তাঁর ‘আল-মাসালুস সায়ির ফি আদাবিল কাতিব ওয়াস শায়ির’ গ্রন্থে, যা আমরা পরবর্তীতে দেখব।
অলঙ্কারশাস্ত্রের দিক থেকে জাহিজের সম্পর্কে সারকথা হলো এই যে, তিনি তাঁর বইগুলোতে বর্ণনাশৈলীর বিভিন্ন শাখা যেমন উপমা (তাশবিহ), রূপক (ইস্তিআরাহ), ইঙ্গিত (কিনায়াহ), আক্ষরিকতা (হাকিকাত) ও রূপকতা (মাজায) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে তিনি এগুলোকে পারিভাষিক সংজ্ঞার আকারে উপস্থাপন করেননি; বরং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় নিয়মনীতির পরিবর্তে উদাহরণ ও নিদর্শনের মাধ্যমে সেগুলোর সংজ্ঞা ও পরিচয় প্রদান করেছেন।
এই ক্ষেত্রে তাঁর এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের মধ্যে তুলনা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি নিঃসন্দেহে অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্য অনুধাবনে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্ষম ছিলেন। নিদর্শনের মাধ্যমে তিনি সেই সব বিচিত্র উপাদান ও বর্ণনাশৈলী সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে সংজ্ঞায়িত ও নির্ধারিত হয়েছে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল আলোচ্য বিষয় ও অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। একারণেই তাঁকে যথার্থভাবেই অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১২)
البلاغة العربية الأول، ومعبّد الطريق أمام من أتى بعده من رجالها.
ثمّ جاء من بعده متأثرا خطاه وإن لم يكن معتزليا (1) مثله ابن قتيبة الدينوري «276 هـ» ففي كتابه «تأويل مشكل القرآن» يتحدّث أولا عن إعجاز القرآن كرد على الطاعنين في أسلوبه، جهلا منهم بأساليب البيان العربي، ثمّ ينتقل من ذلك إلى الحديث المبوب عن موضوعات «علم البيان» من حقيقة ومجاز وتشبيه واستعارة وكناية.
وبعد ابن قتيبة يأتي معاصره أبو العباس المبرد «285 هـ» بكتابه «الكامل» الذي يجمع بين الشعر والنثر، ويعدّ من كتب اللغة الممهدة للمعاجم بما تضمنه من تفسير كل ما يقع في نصوصه من كلام غريب أو معنى مغلق.
ومع أنّ «الكامل» في الأصل كتاب لغة فإنّ المبرد تعرض فيه عند شرح النصوص الأدبية لبعض موضوعات البيان مثل المجاز والاستعارة والكناية والتشبيه الذي توسع في بحثه وقسمه إلى أربعة أقسام: تشبيه مفرط، وتشبيه مصيب، وتشبيه مقارب، وتشبيه بعيد. وقد استوحى هذا التقسيم مما كتبه الجاحظ عن التشبيه دون أن يضيف هو إليه جديدا من عنده.
… وأوّل كتاب يلقانا من كتب علماء الكلام الذين اهتموا بالمباحث البلاغية من أجل تفسير الإعجاز البلاغي للقرآن هو كتاب «النكت في
--------------------------------------------
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রথম পথিকৃৎ এবং তার পরবর্তী বিদগ্ধজনদের জন্য পথ সুগমকারী।
অতঃপর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর পরবর্তী সময়ে আগমন করেন ইবনে কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারি (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি), যদিও তিনি তাঁর মতো মুতাজিলি (১) ছিলেন না। তিনি তাঁর ‘তাউয়িলু মুশকিলিল কুরআন’ গ্রন্থে প্রথমে কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজাজ) নিয়ে আলোচনা করেছেন তাদের জবাব হিসেবে, যারা কুরআনের বাচনভঙ্গির প্রতি তাদের অজ্ঞতাবশত আপত্তি উত্থাপন করেছিল। এরপর তিনি সেখান থেকে ‘ইলমে বয়ান’-এর বিষয়বস্তু যেমন হাকিকত (প্রকৃত অর্থ), মাজায (রূপক অর্থ), তাশবিহ (উপমা), ইস্তি’আরাহ (রূপক অলঙ্কার) এবং কিনায়াহ (ইঙ্গিত) সম্পর্কে পরিচ্ছেদ অনুযায়ী আলোচনায় প্রবেশ করেন।
ইবনে কুতায়বার পর তাঁর সমসাময়িক আবু আব্বাস আল-মুবররাদ (মৃত্যু ২৮৫ হিজরি) তাঁর ‘আল-কামিল’ গ্রন্থটি নিয়ে আসেন, যা কবিতা এবং গদ্যের সমন্বয়। একে অভিধান রচনার পথপ্রদর্শক ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থগুলোর একটি বিবেচনা করা হয়, কারণ এতে পাঠ্যলিপিতে থাকা প্রতিটি অপরিচিত শব্দ বা অস্পষ্ট অর্থের ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যদিও ‘আল-কামিল’ মূলত একটি ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থ, তবুও আল-মুবররাদ এতে সাহিত্যিক পাঠ্যসমূহ ব্যাখ্যা করার সময় ইলমে বয়ানের কিছু বিষয় যেমন মাজায, ইস্তি’আরাহ, কিনায়াহ এবং তাশবিহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে তাশবিহ বা উপমার ক্ষেত্রে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং একে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন: অতিশয়োক্তিমূলক উপমা, যথাযথ উপমা, নিকটবর্তী উপমা এবং দূরবর্তী উপমা। তিনি এই বিভাজনটি উপমা সম্পর্কে আল-জাহিজের লেখা থেকে গ্রহণ করেছেন এবং নিজস্ব কোনো নতুন কিছু যোগ করেননি।
... আর কুরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যারা আলঙ্কারিক বিষয়াদি নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন, সেই ইলমে কালাম শাস্ত্রবিদদের লিখিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে আমরা প্রথমে যে গ্রন্থটি পাই তা হলো ‘আন-নুকাত ফি’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إعجاز القرآن» للرماني المعتزلي «386 هـ».
وقد تحدّث الرماني فيه عن البلاغة وجعلها في عشرة أبواب يعنينا منها هنا اثنان من أبواب «علم البيان»، هما التشبيه والاستعارة. أمّا التشبيه فقد قسّمه إلى حسي وعقلي، ثمّ فصّل القول في العقلي منه تفصيلا أفاد منه فيما بعد عبد القاهر الجرجاني في كتاب «أسرار البلاغة». وكذلك توسع في الكلام عن الاستعارة مبينا قيمتها البيانية، وأنّها أبلغ في الدلالة على المعنى من الحقيقة. وكل ما قاله الرماني عن الاستعارة كان رصيدا جديدا انتفع به أيضا فيما بعد عبد القاهر وغيره من البلاغيين إلى حد كبير.
وكتاب «النكت في إعجاز القرآن» بمشتملاته ومضمونه والجديد فيه له أثر واضح في تاريخ البلاغة العربية، فقد عرّف فيه بعض ألوانها تعريفا نهائيا، وميّز أقسامها وأفاض في شرحها.
… تلك نبذة عن مسائل «علم البيان» التي وردت في كتب بعض المتكلمين ممن عنوا بدراسة بلاغة القرآن وأسرار إعجازه. وبالإضافة إلى ذلك ظهرت في القرن الرابع الهجري دراسات نقدية على أسس بلاغية تعرّض فيها أصحابها إلى مباحث من علم البيان.
كتاب الموازنة:من هذه الدراسات النقدية على أسس بلاغية كتاب «الموازنة بين أبي تمام والبحتري» لأبي القاسم الحسن بن بشر الآمدي البصري المتوفى سنة 370 للهجرة.
والكتاب كما يدل عليه اسمه موازنة بين شعر شاعرين، أو موازنة
মুতাজিলী আল-রুম্মানী (৩৮৬ হি.) এর ‘ইজাজুল কুরআন’।
রুম্মানী এতে অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং একে দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন, যার মধ্যে আমাদের জন্য এখানে ‘ইলমুল বায়ান’-এর দুটি অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো হলো উপমা (তাশবিহ) এবং রূপক (ইস্তিআরা)। উপমাকে তিনি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও বুদ্ধিগ্রাহ্য—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন, এরপর বুদ্ধিগ্রাহ্য উপমার বিষয়ে এমন বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যা পরবর্তীতে আব্দুল কাহের আল-জুরজানী তাঁর ‘আসরারুল বালাগাহ’ গ্রন্থে ব্যবহার করেছেন। একইভাবে তিনি রূপক সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন এবং এর আলঙ্কারিক মূল্য ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন যে, এটি অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থের চেয়েও বেশি কার্যকর। রূপক সম্পর্কে রুম্মানী যা কিছু বলেছেন তা ছিল একটি নতুন সঞ্চয়, যা পরবর্তীতে আব্দুল কাহের এবং অন্যান্য অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছেন।
‘আন-নুকাত ফি ইজাজিল কুরআন’ বইটির বিষয়বস্তু এবং এতে থাকা নতুনত্ব আরবী অলঙ্কারশাস্ত্রের ইতিহাসে এক স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে; কারণ তিনি এতে অলঙ্কারের কিছু প্রকারের চূড়ান্ত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, এর শাখাগুলোকে পৃথক করেছেন এবং সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
… এগুলো ছিল ‘ইলমুল বায়ান’-এর সেসব বিষয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, যা আল-কুরআনের অলঙ্কারশৈলী এবং এর অলৌকিকত্বের রহস্য নিয়ে গবেষণাকারী কয়েকজন কালামশাস্ত্রবিদের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। এর পাশাপাশি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ভিত্তির ওপর কিছু সমালোচনামূলক গবেষণা আবির্ভূত হয়, যেখানে লেখকরা ইলমুল বায়ানের বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা করেছেন।
কিতাবুল মুওয়াজানা:অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ভিত্তির ওপর রচিত এসব সমালোচনামূলক গবেষণার মধ্যে অন্যতম হলো আবু কাসিম হাসান বিন বিশর আল-আমিদী আল-বসরী (মৃত্যু ৩৭০ হিজরি) রচিত ‘আল-মুওয়াজানা বাইনা আবি তাম্মাম ওয়াল বুহতুুরি’ গ্রন্থটি।
বইটি এর নাম থেকেই যেমনটা বোঝা যায়—দুইজন কবির কবিতার মধ্যে একটি তুলনা, অথবা তুলনা...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بين مذهبين في الشعر متقابلين من حيث صنع الشعر ونقده. والمذهب الأول هو مذهب أبي عبادة البحتري ودعاة البلاغة العربية «ممن يفضلون سهل الكلام وقريبه، ويؤثرون صحة السبك، وحسن العبارة، وحلو اللفظ، وكثرة الماء والرونق» (1). والمذهب الثاني هو مذهب أبي تمام وأصحابه ممن «يميلون إلى الصنعة، والمعاني الغامضة التي تستخرج بالغوص والفكرة، ولا تلوي على غير ذلك» (2).
ومنهاج الآمدي في الموازنة ألا يفصح بتفضيل أحد الشاعرين على الآخر، وإنّما يعرض بالنقد لحجج المتعصبين لكل منهما، ثمّ يقارن بين قصيدتين من شعرهما إذا اتّفقتا في الوزن والقافية وإعراب القافية، وبين معنى ومعنى، مع بيان أيهما أشعر في تلك القصيدة، وفي ذلك المعنى، ثمّ بترك الحكم حينئذ للقارئ على جملة ما لكل واحد منهما، إذا أحاط علما بالجيد والرديء (3). فالموازنة في الواقع دراسة تطبيقية للصورة والمحسنات في شعر الشاعرين.
وليس يعنينا من الموازنة هنا إلّا ما جاء فيها متصلا بعلم البيان، وهو الباب الذي عقده الآمدي لما عيب من الاستعارة عند أبي تمام، فهو في هذا الباب يذكر القبيح من استعارات أبي تمام، ومصدر هذا القبح في نظره هو غلوّ أبي تمام وإغراقه في استعاراته، ويقول: «إنّ للاستعارة حدا تصلح فيه، فإذا جاوزته فسدت وقبحت». ثمّ يشير إلى الاستعارة إشارات عامة من غير تحديد لها كقوله: «وإنّما استعارت العرب المعنى لما ليس له إذا
--------------------------------------------
কবিতা রচনা ও সমালোচনার দিক থেকে কাব্যের দু’টি বিপরীতমুখী মতাদর্শের মধ্যে। প্রথম মতাদর্শটি হলো আবু উবাদা আল-বুহতারি এবং আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রবক্তাদের, যারা ‘সহজ ও নিকটবর্তী কথাকে পছন্দ করেন এবং গাঁথুনির সঠিকতা, সুন্দর প্রকাশভঙ্গি, মিষ্ট শব্দ এবং রচনার সাবলীলতা ও উজ্জ্বলতাকে প্রাধান্য দেন’ (১)। দ্বিতীয় মতাদর্শটি হলো আবু তাম্মাম ও তাঁর অনুসারীদের, যারা ‘কারুকার্য এবং সেই সমস্ত জটিল অর্থের দিকে ঝুঁকে থাকেন যা গভীর চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে আহরণ করতে হয় এবং তা ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না’ (২)।
‘আল-মুওয়াযানা’ গ্রন্থে আল-আমাদির পদ্ধতি হলো—তিনি দুই কবির একজনের ওপর অন্যজনের শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্পষ্ট করে বলেন না। বরং তিনি উভয়ের অন্ধ সমর্থকদের যুক্তিগুলো সমালোচনার দৃষ্টিতে তুলে ধরেন। এরপর যদি দুই কবির কোনো কবিতার ছন্দ, অন্ত্যমিল এবং অন্ত্যমিলের ব্যাকরণগত অবস্থান এক হয়, তবে তিনি সেই দুই কবিতার মধ্যে এবং একটি ভাবের সাথে অন্য ভাবের তুলনা করেন। সেই সাথে তিনি সেই নির্দিষ্ট কবিতা ও নির্দিষ্ট ভাবের ক্ষেত্রে কে অধিক কবিপ্রতিভার অধিকারী তা বর্ণনা করেন। অতঃপর যখন পাঠক ভালো ও মন্দ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন, তখন তিনি প্রত্যেকের সামগ্রিক কার্যের ওপর বিচারের ভার পাঠকের ওপর ছেড়ে দেন (৩)। প্রকৃতপক্ষে, ‘আল-মুওয়াযানা’ হলো দুই কবির কাব্যে রূপক ও অলঙ্কারের একটি ফলিত অধ্যয়ন।
‘আল-মুওয়াযানা’ গ্রন্থের সেই অংশটুকুই এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয় যা ইলমুল বয়ানের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর তা হলো সেই অধ্যায় যা আল-আমাদি আবু তাম্মামের রূপক ব্যবহারের ত্রুটিগুলো নিয়ে রচনা করেছেন। এই অধ্যায়ে তিনি আবু তাম্মামের রূপক ব্যবহারের নিকৃষ্ট দিকগুলো উল্লেখ করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে এই নিকৃষ্টতার উৎস হলো রূপক ব্যবহারে আবু তাম্মামের অতিরঞ্জন ও অতিশয়োক্তি। তিনি বলেন: ‘নিশ্চয়ই রূপক ব্যবহারের একটি সীমা রয়েছে যাতে সেটি শুদ্ধ হয়; যখন তা সেই সীমা অতিক্রম করে, তখন তা নষ্ট ও কদর্য হয়ে যায়।’ এরপর তিনি রূপকের কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান ছাড়াই এর প্রতি সাধারণ ইঙ্গিত প্রদান করে বলেন: ‘আরবগণ মূলত একটি অর্থকে অন্যটির জন্য রূপক হিসেবে ব্যবহার করে যখন...’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كان يقاربه أو يدانيه أو يشبهه في بعض أحواله، أو كان سببا من أسبابه، فتكون اللفظة المستعارة حينئذ لائقة بالشيء الذي استعيرت له وملائمة لمعناه».
وكان يعنينا من الموازنة أيضا باب آخر متصل بعلم البيان ذكره الآمدي في منهاج بحثه، ولكنه مفقود من الكتاب، وأعني به الباب الذي أفرده لما وقع في شعر أبي تمام والبحتري من التشبيه والمفاضلة بينهما فيه.
وإذا كان هدفنا الأول من وراء هذا التمهيد هو تتبع فنون علم البيان منذ نشأتها حتى أصبحت علما مستقلا بذاته، فإنّ ذلك لا يمنع من التعليق على رأي الآمدي في الاستعارة بأنّ التمييز بين الاستعارة الجيدة والاستعارة القبيحة أمر يرجع إلى الذوق المكتسب بالمران والنظر في أقوال الشعراء المجيدين أكثر مما يرجع إلى القواعد التي وضعها لذلك علماء البيان.
كتاب الوساطة:ومن كتب الدراسات النقدية على أسس بلاغية كتاب «الوساطة بين المتنبي وخصومه» لأبي الحسن علي بن عبد العزيز الشهير بالقاضي الجرجاني، المتوفى سنة 366 للهجرة.
ومع أنّ الوساطة كتاب نقد أكثر منه كتاب بلاغة، فإنّ الجرجاني قد عالج فيه الاستعارة بتوسع، مفرقا بينها وبين التشبيه البليغ. وفي حديثه عن الاستعارة يقول: «فأمّا الاستعارة فهي أحد أعمدة الكلام، وعليها المعول في التوسع والتصرف، وبها يتوصل إلى تزيين اللفظ، وتحسين النظم والنثر، وقد قدمنا عند ذكرنا البديع نبذا منها مثلنا بها المستحسن والمستقبح، وفصلنا بين المقتصد والمفرط. وقد كانت الشعراء تجري على
...এর নিকটবর্তী হত অথবা এর সদৃশ হত অথবা এর কোনো কোনো অবস্থায় এর সাদৃশ্য রাখত, কিংবা এটি এর অন্যতম কারণ হত; ফলে সেই রূপক শব্দটি তখন সেই বস্তুর জন্য উপযুক্ত হত যার জন্য সেটি রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তার অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হত।»
'আল-মুওয়াজানা' (ভারসাম্য রক্ষা) থেকে আমাদের কাছে ইলমে বয়ানের সাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটি অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল যা আমেদি তাঁর গবেষণার পদ্ধতিতে উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু তা কিতাবটি থেকে হারিয়ে গেছে। আমি সেই অধ্যায়টির কথা বোঝাচ্ছি যা তিনি আবু তাম্মাম ও বুহতুরির কবিতায় আসা উপমা এবং এ বিষয়ে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব বিচারের জন্য স্বতন্ত্রভাবে রেখেছিলেন।
যদিও এই ভূমিকার মূল লক্ষ্য হলো ইলমে বয়ানের শাখা-প্রশাখাগুলোর উৎপত্তি থেকে শুরু করে তা একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত এর গতিপথ অনুসরণ করা, তবুও এটি রূপক (ইসতি’য়ারা) সম্পর্কে আমেদির মতামতের ওপর মন্তব্য করতে বাধা দেয় না। তাঁর মতে, উৎকৃষ্ট রূপক ও নিকৃষ্ট রূপকের মধ্যে পার্থক্য করা এমন একটি বিষয় যা ইলমে বয়ানের পণ্ডিতদের নির্ধারিত নিয়মনীতির চেয়ে বরং অনুশীলন এবং শ্রেষ্ঠ কবিদের বাণীর পর্যালোচনার মাধ্যমে অর্জিত রুচিবোধের ওপর অধিক নির্ভরশীল।
কিতাবুল ওয়াসাতাহ:অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ভিত্তির ওপর রচিত সমালোচনাধর্মী গবেষণামূলক গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল আজিজ, যিনি কাজী জুরজানি নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৩৬৬ হিজরি), তাঁর রচিত 'আল-ওয়াসাতাহ বাইনাল মুতানাব্বি ওয়া খুসুমুহু' (মুতানাব্বি ও তাঁর বিরোধীদের মধ্যে মধ্যস্থতা) গ্রন্থটি।
যদিও 'আল-ওয়াসাতাহ' অলঙ্কারশাস্ত্রের চেয়ে একটি সমালোচনামূলক গ্রন্থ হিসেবে বেশি পরিচিত, তবুও জুরজানি এতে রূপক (ইসতি’য়ারা) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং একে পূর্ণ উপমা (তাশবিহে বালিগ) থেকে পৃথক করেছেন। রূপক সম্পর্কে আলোচনায় তিনি বলেন: «আর রূপক হলো বাক্যের অন্যতম স্তম্ভ, এবং এর ওপরই প্রসারণ ও ভাব পরিবর্তনের নির্ভরতা। এর মাধ্যমেই শব্দের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পদ্য ও গদ্যের উৎকর্ষ সাধন করা সম্ভব হয়। ইতিপূর্বে 'বাদী' (অলঙ্কার) আলোচনার সময় আমরা এর কিছু উদাহরণ পেশ করেছি যার মাধ্যমে আমরা প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় রূপক তুলে ধরেছি এবং পরিমিত ও অতিশয়োক্তির মধ্যে পার্থক্য করেছি। কবিরা মূলত এর ওপর ভিত্তি করেই চলতেন...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৬)
نهج منها قريب من الاقتصاد، حتى استرسل فيها أبو تمام ومال إلى الرخصة فأخرجه إلى التعدي، وتبعه أكثر المحدثين بعده، فوقفوا عند مراتبهم من الإحسان والإساءة، والتقصير والإصابة. وأكثر هذا الصنف من الباب الذي قدمت لك القول فيه، وأقمت لك الشواهد عليه، وأعلمتك أنّه مما يميز بقبول النفس ونفورها، وينتقد بسكون القلب ونبوه، وربما تمكنت الحجج من إظهار بعضه، واهتدت إلى الكشف عن صوابه أو غلطه» (1).
ولعلّنا ندرك من هذا القول أنّ مردّ الحكم على جودة الاستعارة أو قبحها عند الجرجاني هو «قبول النفس أو نفورها» وأنّ ذلك أكثر من الحجج الدالة على جودة الاستعارة أو قبحها، فقد يجد الناقد حججا يستدل بها على
جودة الاستعارة، ومع ذلك تنفر منها النفس، أو يجد حججا يستدل بها على قبح الاستعارة، ومع ذلك تقبل عليها النفس.
ولا ريب أنّه في ذلك يلتقي مع الآمدي في أنّ الحكم على جودة الاستعارة أو رداءتها يرجع أكثر ما يرجع إلى الذوق الذي هو وليد المران والدربة وإطالة النظر والتأمل في أقوال الشعراء المجيدين.
كتاب العمدة:وفي القرن الخامس الهجري نلتقي بأبي علي الحسن بن رشيق القيرواني «456 هـ» في كتابه «العمدة» الذي يعدّ أيضا من الدراسات النقدية على أسس بلاغية.
ويحدّثنا ابن رشيق في مقدمة كتابه العمدة عن الدافع الذي حفزه
--------------------------------------------
একটি পদ্ধতি যা পরিমিতিবোধের কাছাকাছি, যতক্ষণ না আবু তাম্মাম এতে নিজেকে সমর্পণ করলেন এবং শিথিলতার দিকে ঝুঁকলেন, যা তাকে সীমা লঙ্ঘনের দিকে নিয়ে গেল। তাঁর পরে অধিকাংশ আধুনিক কবি তাকে অনুসরণ করেছেন, ফলে তারা তাদের উৎকর্ষ ও অপকর্ষ এবং ত্রুটি ও নির্ভুলতার নিজ নিজ স্তরে অবস্থান করেছেন। এই প্রকারের অধিকাংশই সেই অধ্যায়ভুক্ত যা সম্পর্কে আমি আপনাকে পূর্বে বলেছি এবং আপনার সামনে এর প্রমাণাদি পেশ করেছি, আর আপনাকে জানিয়েছি যে এটি এমন বিষয় যা আত্মার গ্রহণযোগ্যতা বা বিকর্ষণ দ্বারা পৃথক করা হয় এবং অন্তরের প্রশান্তি বা অস্বস্তি দ্বারা সমালোচনা করা হয়। সম্ভবত যুক্তিগুলো এর কিছু অংশ প্রকাশ করতে সক্ষম হবে এবং এর সঠিকতা বা ভুল উন্মোচন করার পথ খুঁজে পাবে (১)।
সম্ভবত আমরা এই বক্তব্য থেকে উপলব্ধি করতে পারি যে, জুরজানির নিকট রূপকের (ইস্তিআরা) উৎকর্ষ বা অপকর্ষের বিচারের মানদণ্ড হলো ‘আত্মার গ্রহণযোগ্যতা বা বিকর্ষণ’ এবং এটি রূপকের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ নির্দেশকারী যুক্তির চেয়েও অধিক প্রভাবশালী। কারণ, একজন সমালোচক হয়তো রূপকের উৎকর্ষ প্রমাণের জন্য যুক্তি পেতে পারেন, তবুও আত্মা তা থেকে বিমুখ হতে পারে; অথবা তিনি রূপকের অপকর্ষ প্রমাণের যুক্তি পেতে পারেন, তবুও আত্মা তা গ্রহণ করতে পারে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ক্ষেত্রে তিনি আমেদির সাথে একমত হয়েছেন যে, রূপকের উৎকর্ষ বা মন্দ হওয়ার বিচার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রুচিবোধের (জাওক) ওপর নির্ভর করে, যা ক্রমাগত চর্চা, অনুশীলন এবং দক্ষ কবিদের কাব্য নিয়ে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাভাবনার ফসল।
কিতাবুল উমদাহ:আর পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে আমরা আবু আলি আল-হাসান বিন রাশিক আল-কায়রাওয়ানি (৪৫৬ হি.)-এর সাক্ষাৎ পাই তাঁর ‘আল-উমদাহ’ গ্রন্থে, যা অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ভিত্তির ওপর রচিত একটি সমালোচনামূলক গবেষণা হিসেবেও গণ্য হয়।
ইবনে রাশিক তাঁর আল-উমদাহ গ্রন্থের ভূমিকায় আমাদের সেই অনুপ্রেরণা সম্পর্কে বলেন যা তাঁকে উদ্দীপ্ত করেছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৭)
على تصنيفه فيقول: «.... فقد وجدت الشعر أكبر علوم العرب، وأوفر حظوظ الأدب، وأحرى أن تقبل شهادته، وتتمثل إرادته، لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنّ من الشعر لحكما» وروي «لحكمة»، وقول عمر بن الخطاب رضي الله عنه: «نعم ما تعلمته العرب الأبيات من الشعر يقدمها الرجل أمام حاجته، فيستنزل بها الكريم ويستعطف بها اللئيم»، مع ما للشعر من عظم المزية، وشرف الأبية، وعز الأنفة، وسلطان القدرة».
«وجدت الناس مختلفين فيه، متخلفين عن كثير منه: يقدمون ويؤخرون، ويقلون ويكثرون، قد بوّبوه أبوابا مبهمة، ولقبوه ألقابا متهمة (1)، وكل واحد منهم قد ضرب في جهة، وانتحل مذهبا هو فيه إمام نفسه، وشاهد دعواه، فجمعت أحسن ما قاله كل واحد منهم في كتابه، ليكون «العمدة في محاسن الشعر وآدابه» «إن شاء الله تعالى».
«وعولت في أكثره على قريحة نفسي ونتيجة خاطري خوف التكرار ورجاء الاختصار، إلّا ما تعلق بالخبر، وضبطته الرواية، فإنّه لا سبيل إلى تغيير شيء من لفظه ولا معناه، ليؤتى بالأمر على وجهه».
«فكل ما لم أسنده إلى رجل معروف باسمه، ولا أحلت فيه على كتاب بعينه، فهو من ذلك، إلّا أن يكون متداولا بين العلماء، لا يختص به واحد منهم دون الآخر، وربما نحلته أحد العرب، وبعض أهل الأدب، تسترا بينهم، ووقوعا دونهم، بعد أن قرنت كل شكل بشكله ورددت كل فرع إلى أصله، وبينت للناشئ المبتدئ وجه الصواب فيه،
وكشفت عنه لبس الارتياب به، حتى أعرّف باطله من حقه وأميز كذبه من صدقه» (2).
--------------------------------------------
তিনি তার রচনার বিষয়ে বলেন: «.... আমি কাব্যকে আরবদের সর্ববৃহৎ জ্ঞান এবং সাহিত্যের সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে পেয়েছি। এটি সাক্ষ্য গ্রহণের সবচেয়ে যোগ্য এবং এর উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হওয়ার দাবি রাখে। কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিছু কাব্য প্রজ্ঞাপূর্ণ।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "নিশ্চয়ই কিছু কাব্য হিকমতপূর্ণ।" এছাড়া উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি রয়েছে: "আরবরা কাব্যের যে পঙক্তিমালা শেখে তা কতই না উত্তম! কোনো ব্যক্তি তার প্রয়োজনের আগে তা পেশ করে, যার মাধ্যমে সে দাতা ব্যক্তির দানকে সহজ করে নেয় এবং কৃপণ ব্যক্তির সহানুভূতি অর্জন করে।" এর পাশাপাশি কাব্যের রয়েছে মহান বৈশিষ্ট্য, আত্মমর্যাদার গৌরব, আভিজাত্যের সম্মান এবং ক্ষমতার প্রভাব।»
«আমি মানুষকে এ বিষয়ে মতভেদ করতে দেখেছি এবং এর অনেক কিছু থেকে পিছিয়ে থাকতে দেখেছি: তারা কিছু বিষয়কে সামনে আনে আবার কিছুকে পিছনে ঠেলে দেয়, কোথাও কম করে আবার কোথাও বেশি করে। তারা একে অস্পষ্ট অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছে এবং সন্দেহজনক উপাধিতে ভূষিত করেছে (১)। তাদের প্রত্যেকেই একেক দিকে ধাবিত হয়েছে এবং এমন মতবাদ গ্রহণ করেছে যাতে সে নিজেই নিজের ইমাম এবং নিজের দাবির সাক্ষী। তাই আমি তাদের প্রত্যেকের কিতাবে বর্ণিত শ্রেষ্ঠ কথাগুলো একত্রিত করেছি, যেন তা "ইনশাআল্লাহ তায়ালা" কাব্যের সৌন্দর্য ও শিষ্টাচার বিষয়ে "আল-উমদাহ" (নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ) হয়।»
«পুনরাবৃত্তির ভয় এবং সংক্ষেপ করার আশায় আমি এর অধিকাংশ বিষয়েই আমার নিজস্ব প্রজ্ঞা ও চিন্তালব্ধ ফলাফলের ওপর নির্ভর করেছি; তবে সংবাদ বা ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং যা বর্ণনার মাধ্যমে সুনির্ধারিত হয়েছে তার কথা ভিন্ন। কেননা সেগুলোর শব্দ বা অর্থে কোনো পরিবর্তন করার সুযোগ নেই, যেন বিষয়টি তার প্রকৃত রূপেই উপস্থাপিত হয়।»
«সুতরাং যা কিছু আমি নামসহ কোনো পরিচিত ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করিনি এবং নির্দিষ্ট কোনো কিতাবের উদ্ধৃতি দেইনি, তা মূলত আমার নিজস্ব চিন্তালব্ধ; তবে যদি তা আলেমদের মধ্যে বহুল প্রচলিত হয় এবং তাদের একজনের পরিবর্তে অন্যজনের জন্য তা নির্দিষ্ট না হয় (তাহলে ভিন্ন কথা)। কখনো কখনো আমি তা কোনো আরবের কিংবা কোনো সাহিত্যিকের প্রতি নিসবত করেছি তাদের মাঝে সংগুপ্ত রাখার জন্য এবং তাদের প্রেক্ষাপট হিসেবে, প্রতিটি বিষয়কে তার সমগোত্রীয় বিষয়ের সাথে যুক্ত করার পর এবং প্রতিটি শাখাকে তার মূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর। আর আমি নতুন শিক্ষার্থীর জন্য এতে সঠিক পথ স্পষ্ট করে দিয়েছি,
এবং আমি তা থেকে সন্দেহের আবরণ উন্মোচন করেছি, যাতে আমি এর মিথ্যা থেকে সত্যকে চিনতে পারি এবং এর ভ্রান্তি থেকে সঠিককে পৃথক করতে পারি» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تلك نبذة من مقدمة كتاب «العمدة في محاسن الشعر وآدابه» توضح غرض ابن رشيق من وراء تصنيفه، والمنهاج الذي رسمه لنفسه في إخراجه، مع بيان مقدار ما له وما لغيره فيه.
وما دمنا نتحدث عن نشأة علم البيان والجهود التي أسهمت في تطويره من ملاحظات بيانية متناثرة هنا وهناك إلى علم بلاغي قائم بذاته، فإنّ موضع اهتمامنا من كتاب العمدة معلّق بالأبواب التي عرض فيها بشيء من التفصيل لفنون علم البيان، من مجاز واستعارة وتشبيه وكناية.
حقا إنّه جمع تحت كل باب من هذه الأبواب أقوال السابقين فيه وعرضها عرضا حسنا ييسرها للطالبين، وليس هذا الجهد في حد ذاته بقليل. ولكن من الحق أيضا أنّ له إضافات جديدة في هذه الأبواب تدل على غزارة علمه، ودقّة فهمه، وسلامة ذوقه الأدبي.
كتاب الصناعتين:ومن كتب الدراسات النقدية التي قامت على أسس بلاغية، وإن كانت أكثر تخصصا من سابقتها كتاب «الصناعتين- الكتابة والشعر» لأبي هلال الحسن بن عبد الله بن سهل العسكري المتوفى سنة 395 للهجرة.
فأبو هلال في كتاب الصناعتين يدرس البلاغة دراسة دقيقة هي مزيج من علمه الخاص بها وعلم من سبقوه إليها، مع الإكثار من الأمثلة والشواهد.
وهو يعني بالصناعتين الكتابة والشعر، فالكتاب ينبئ من عنوانه عن موضوعه الذي يبحث بحثا مستفيضا في أصول هاتين الصناعتين وأدواتهما التي تتضافر على صنع الكاتب والشاعر.
والكتاب يشتمل على عشرة أبواب: باب في الإبانة عن موضوع
এটি 'আল-উমদাহ ফি মাহাসিনিশ শে'রি ওয়া আদাবিহি' গ্রন্থের ভূমিকার একটি সংক্ষিপ্ত অংশ, যা এটি রচনার পেছনে ইবনে রশিকের উদ্দেশ্য এবং এর বিন্যাসে তিনি নিজের জন্য যে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন তা ব্যাখ্যা করে। সেইসাথে এতে তাঁর নিজস্ব অবদান এবং অন্যদের অবদানের পরিমাণও বর্ণনা করা হয়েছে।
যেহেতু আমরা ইলমুল বয়ানের উৎপত্তি এবং একে এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত ভাষাগত পর্যবেক্ষণ থেকে একটি স্বতন্ত্র অলঙ্কারশাস্ত্রে রূপান্তর করার পেছনে অবদান রাখা প্রচেষ্টাগুলো নিয়ে আলোচনা করছি, তাই 'আল-উমদাহ' গ্রন্থ থেকে আমাদের আগ্রহের বিষয় হলো সেই অধ্যায়গুলো যেখানে তিনি ইলমুল বয়ানের বিভিন্ন শিল্পরীতি যেমন মাজায (রূপক), ইস্তিআরাহ (উপমা), তাশবিহ (তুলনা) এবং কিনায়াহ (ইঙ্গিত) সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে তিনি এই প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে পূর্ববর্তীদের বক্তব্যসমূহ সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন যা শিক্ষার্থীদের জন্য সহজসাধ্য করে তোলে। আর এই প্রচেষ্টাটি কোনোভাবেই নগণ্য নয়। তবে এটিও অনস্বীকার্য যে, এই অধ্যায়গুলোতে তাঁর কিছু নতুন সংযোজন রয়েছে যা তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য, সূক্ষ্ম অনুধাবন ক্ষমতা এবং সঠিক সাহিত্যরুচির পরিচয় দেয়।
কিতাবুস সিনাআতাইনি:অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত সমালোচনামূলক গবেষণাধর্মী গ্রন্থসমূহের মধ্যে—যদিও এটি পূর্ববর্তী গ্রন্থের তুলনায় অধিকতর বিশেষায়িত—হলো আবু হিলাল আল-হাসান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাহল আল-আসকারি (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি) রচিত 'আস-সিনাআতাইনি: আল-কিতাবাহ ওয়াশ শে'র' (দুই শিল্প: গদ্য ও কাব্য) গ্রন্থটি।
আবু হিলাল 'কিতাবুস সিনাআতাইনি'-তে অলঙ্কারশাস্ত্র নিয়ে এমন এক সূক্ষ্ম গবেষণা করেছেন যা তাঁর নিজস্ব জ্ঞান এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের জ্ঞানের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ; সাথে প্রচুর উদাহরণ ও প্রমাণাদিও উল্লেখ করেছেন।
তিনি 'সিনাআতাইনি' বা দুই শিল্প বলতে গদ্য ও কাব্যকে বুঝিয়েছেন। গ্রন্থটির শিরোনাম থেকেই এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, যা এই শিল্পদ্বয়ের মূলনীতি এবং এগুলোর উপকরণসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে, যা একজন লেখক ও কবি তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
গ্রন্থটি দশটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত: বিষয়বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ১৯)
البلاغة وحدودها، وباب في تمييز جيد الكلام من رديئه، وباب في معرفة صنعة الكلام وترتيب الألفاظ، وباب في البيان عن حسن النظم وجودة الرصف، وباب في ذكر الإيجاز والإطناب، وباب في حسن الأخذ وحل المنظوم،
وباب في التشبيه، وباب في ذكر الاسجاع والازدواج، وباب في شرح البديع، وباب في ذكر مبادئ الكلام ومقاطعه. ويندرج تحت كل باب من هذه الأبواب فصول تتراوح من فصل إلى خمسة وثلاثين فصلا.
وفي الباب الأول الذي عقده أبو هلال للإبانة عن موضوع البلاغة وحدودها ينوّه بشأن البلاغة، ويقرر أنّ العلم بها ضروري لمعرفة إعجاز القرآن الكريم، ولتربية الذوق الأدبي، والتمييز بين جيّد الكلام ورديئه.
وأبو هلال لا يخفي تأثره بالجاحظ وإعجابه بكتابه البيان والتبيين، واقتباسه الكثير منه، ولكنه مع ذلك يشير إلى ما يأخذه على منهجه التأليفي بقوله: «إنّ الإبانة عن حدود البلاغة، وأقسام البيان والفصاحة مبثوثة في تضاعيفه، ومنتشرة في أثنائه، فهي ضالة بين الأمثلة لا توجد إلّا بالتأمل الطويل والتصفح الكثير، فرأيت أن أعمل كتابي هذا مشتملا على جميع ما يحتاج إليه في صنعة الكلام نثره ونظمه» (1).
فهذا المأخذ على منهاج الجاحظ التأليفي ورغبته في تلافيه وعلاجه كان أحد الأسباب التي دفعت أبا هلال على تأليف كتاب الصناعتين، أمّا الأسباب الأخرى فهي معرفته بقيمة علم صناعة الكلام، وشعوره بشدّة الحاجة إليه، وتخبط العلماء وتخليطهم فيما راموا منه، ثمّ قلّة الكتب المصنفة فيه، والتي كان أكبرها وأشهرها كتاب البيان والتبيين لأبي عثمان عمرو بن بحر الجاحظ.
--------------------------------------------
অলঙ্কারশাস্ত্র ও তার সীমারেখা, এবং উৎকৃষ্ট বাক্য থেকে নিকৃষ্ট বাক্যকে পৃথকীকরণ বিষয়ক অধ্যায়, এবং বাকশিল্প ও শব্দবিন্যাস জানা বিষয়ক অধ্যায়, এবং রচনার সৌন্দর্য ও গাঁথুনির শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা বিষয়ক অধ্যায়, এবং সংক্ষিপ্তকরণ ও দীর্ঘায়ন আলোচনা বিষয়ক অধ্যায়, এবং সুন্দরভাবে গ্রহণ ও পদ্যকে গদ্যে রূপান্তর বিষয়ক অধ্যায়,
এবং উপমা বিষয়ক অধ্যায়, এবং অনুপ্রাস ও জোড়া শব্দের আলোচনা বিষয়ক অধ্যায়, এবং অলঙ্কার-শৈলীর ব্যাখ্যা বিষয়ক অধ্যায়, এবং বাক্যের আরম্ভ ও সমাপ্তি আলোচনা বিষয়ক অধ্যায়। এই অধ্যায়গুলোর প্রত্যেকটির অধীনে একাধিক পরিচ্ছেদ রয়েছে, যা এক থেকে পঁয়ত্রিশটি পরিচ্ছেদ পর্যন্ত বিস্তৃত।
আবু হিলাল অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয়বস্তু ও তার সীমারেখা সুস্পষ্ট করার জন্য যে প্রথম অধ্যায়টি রচনা করেছেন, তাতে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, কুরআনুল কারীমের অলৌকিকত্ব অনুধাবন করার জন্য, সাহিত্যরুচি পরিশীলিত করার জন্য এবং উত্তম ও অধম বাক্যের মাঝে পার্থক্য করার জন্য এই শাস্ত্রের জ্ঞান অপরিহার্য।
আর আবু হিলাল জাহিজের দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়া এবং তাঁর 'আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন' গ্রন্থের প্রতি মুগ্ধতা ও তা থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণের বিষয়টি গোপন করেন না। তবে এতদসত্ত্বেও তিনি তাঁর সংকলন পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন: «নিশ্চয় অলঙ্কারশাস্ত্রের সীমারেখা এবং বর্ণনাশৈলী ও বাগ্মিতার প্রকারভেদসমূহ সেই গ্রন্থের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এবং তার অভ্যন্তরে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে তা উদাহরণগুলোর মাঝে এমনভাবে হারিয়ে গেছে যে, দীর্ঘ চিন্তা-গবেষণা ও অধিক পাঠ ব্যতীত তা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই আমি আমার এই গ্রন্থটি গদ্য ও পদ্য উভয় প্রকার বাকশিল্পের প্রয়োজনীয় সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে সংকলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি» (১)।
জাহিজের সংকলন পদ্ধতির এই ত্রুটি এবং তা সংশোধন ও প্রতিকারের আকাঙ্ক্ষা ছিল আবু হিলালকে 'কিতাবুস সিনাআতাইনি' রচনায় উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম কারণ। আর অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে ছিল বাকশিল্প বিদ্যার গুরুত্ব সম্পর্কে তাঁর অবগতি, এর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করা, আলেমগণের এই বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করতে গিয়ে বিভ্রান্তি ও সংমিশ্রণ ঘটানো, এবং এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থের স্বল্পতা; যার মধ্যে সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছিল আবু উসমান আমর ইবন বাহর আল-জাহিজের 'আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقد صرّح بأنّه لم يؤلف كتابه على طريقة المتكلمين، وإنّما ألّفه على طريقة صنّاع الكلام من الشعراء والكتاب.
والمتصفح لكتاب الصناعتين يرى أنّ المؤلف قد ألّم فيه تقريبا بكل مباحث علوم البلاغة الثلاثة: المعاني والبيان والبديع، ولكن مباحث كل علم لا تأتي في موضع معين من الكتاب، وإنّما تأتي في ثناياه وتضاعيفه على حسب مقتضيات المنهاج الذي رسمه أبو هلال لنفسه في تأليفه.
ولما كنا نعرض هنا بإيجاز لتاريخ البيان وتطوره حتى صار علما قائما بذاته، فإنّ ما يعنينا من كتاب الصناعتين هو معرفة ما ورد فيه من موضوعات علم البيان وطريقة المؤلف في معالجتها، وهذه الموضوعات هي التشبيه، والاستعارة، والكناية.
وقد عقد أبو هلال للتشبيه في كتابه بابا (1) من فصلين، تحدّث في أولهما عن حد التشبيه، ووجوه التشبيه المختلفة، وأدوات التشبيه، والطريقة المسلوكة في التشبيه، وإخراج ما لا يعرف بالبديهة إلى ما يعرف بها، وإخراج ما لا قوّة له إلى ما له قوة، وتشبيه ما يرى بالعيان بما ينال بالفكر، وغريب التشبيه وبديعه ومليحه،
وشرف التشبيه وموقعه من البلاغة.
وفي الفصل الثاني تحدّث عن قبح التشبيه وعيوبه، مثل خطأ التشبيه، والتشبيه الكريه، والتشبيه الرديء اللفظ، وبعيد التشبيه، والتشبيه المتنافر.
أمّا الاستعارة فعقد لها فصلا (2) تكلّم فيه عن: الاستعارة والمجاز،
--------------------------------------------
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি তাঁর বইটি মুতাকাল্লিমদের (ধর্মতাত্ত্বিকদের) পদ্ধতিতে রচনা করেননি, বরং কবি ও লেখকদের মতো বাচনভঙ্গির কারিগরদের পদ্ধতিতে রচনা করেছেন।
'কিতাবুস সিনাআতাইনি' এর পাঠক দেখতে পাবেন যে, লেখক এতে অলঙ্কারশাস্ত্রের তিনটি শাখার প্রায় সকল বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন: ইলমুল মাআনি, ইলমুল বায়ান এবং ইলমুল বাদি। তবে প্রতিটি শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়গুলো বইয়ের কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে আসেনি, বরং তা আবু হিলাল তাঁর রচনার জন্য যে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিলেন, সেই চাহিদা অনুযায়ী বইয়ের বিভিন্ন স্থানে ও ভাঁজে ছড়িয়ে রয়েছে।
যেহেতু আমরা এখানে ইলমুল বায়ানের ইতিহাস এবং একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে এর বিবর্তনের কথা সংক্ষেপে বর্ণনা করছি, তাই 'কিতাবুস সিনাআতাইনি' থেকে আমাদের উদ্দেশ্য হলো এতে ইলমুল বায়ানের যে বিষয়গুলো এসেছে এবং সেগুলো নিয়ে লেখকের আলোচনার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা। আর এই বিষয়গুলো হলো: তাশবিহ (উপমা), ইস্তিআরাহ (রূপক) এবং কিনায়াহ (পরোক্ষ উক্তি)।
আবু হিলাল তাঁর বইয়ে তাশবিহ (উপমা) নিয়ে একটি অধ্যায় (১) বিন্যস্ত করেছেন যা দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত। প্রথমটিতে তিনি তাশবিহ-এর সংজ্ঞা, তাশবিহ-এর বিভিন্ন রূপ, তাশবিহ-এর উপাদানসমূহ, তাশবিহ-এর প্রচলিত পদ্ধতি, অস্পষ্ট বিষয়কে স্বাভাবিকভাবে পরিচিত বিষয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা, দুর্বল বিষয়কে সবল বিষয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করা, চাক্ষুষ দৃশ্যমান বিষয়কে চিন্তাপ্রসূত বিষয়ের সাথে উপমা দেওয়া এবং বিরল, চমৎকার ও সুন্দর তাশবিহ নিয়ে আলোচনা করেছেন,
এবং তাশবিহ-এর মর্যাদা ও অলঙ্কারশাস্ত্রে এর অবস্থান সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।
আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তিনি তাশবিহ-এর কদর্যতা ও ত্রুটিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন: তাশবিহ-এর ভুল, কুরুচিপূর্ণ তাশবিহ, শব্দশৈলীগত নিম্নমানের তাশবিহ, দূরবর্তী তাশবিহ এবং সামঞ্জস্যহীন তাশবিহ।
ইস্তিআরাহ (রূপক) প্রসঙ্গে তিনি একটি পরিচ্ছেদ (২) উৎসর্গ করেছেন যেখানে তিনি আলোচনা করেছেন: ইস্তিআরাহ ও মাজাজ (রূপক অর্থ) সম্পর্কে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২১)
والغرض من الاستعارة، والاستعارة المصيبة ووقعها، وفضل الاستعارة على الحقيقة، ولا بدّ لكل استعارة ومجاز من حقيقة، ولا بدّ من معنى مشترك بين المستعار والمستعار منه، والاستعارة أبلغ من الحقيقة، والاستعارة في كلام العرب والنبي والصحابة والأعراب، والاستعارة في أشعار المتقدمين، وفي كلام المحدثين.
وقد عدّ أبو هلال الكناية ضمن فنون البديع، وعقد لها فصلا عرّفها فيه وذكر نماذج من الجيد والمعيب منها، مع أنّها من مباحث علم البيان، وليس المهم إلى أي علوم البلاغة قد نسبها، وإنّما المهم أنّه أتى على ذكرها في كتابه.
وطريقته في معالجة هذه الموضوعات البيانية ليست طريقة عالم البلاغة المعنيّ بدقائقها وتفاصيلها، وإنما هي طريقة من يمزج البلاغة بالأدب والنقد، وإذا القارئ أمام مزيج ترتاح إليه نفسه، ويستدرجه إلى الاسترسال في تحصيله طلبا للمزيد من المتعة العقلية والأدبية.
… وبعد فلعلنا أدركنا من ثنايا عرضنا التاريخي للبيان منذ نشأة البحث فيه حتى الآن كيف تطور على مرّ العصور، وكيف تضافرت جهود الباحثين فيه تدريجيا على كشف أصوله من تشبيه وحقيقة ومجاز واستعارة وكناية، وكيف أخذت معالم هذه الأصول تتضح وتتلاحق واحدة بعد الأخرى.
وقد ظلّ الأمر كذلك حتى ظهر عبد القاهر الجرجاني في القرن الخامس الهجري فاقتطف ثمار هذه الجهود واتّخذ منها مادة استعان بها في وضع نظرية علم البيان.
রূপকের (ইস্তিআরা) উদ্দেশ্য, সার্থক রূপক ও তার প্রভাব, আক্ষরিক প্রয়োগের ওপর রূপকের শ্রেষ্ঠত্ব, প্রতিটি রূপক ও অলঙ্কারধর্মী প্রয়োগের (মাজায) জন্য একটি আক্ষরিক ভিত্তি থাকা অপরিহার্য, রূপককৃত বস্তু ও যেখান থেকে রূপক গ্রহণ করা হয়েছে তাদের মধ্যে একটি সাধারণ অর্থ থাকা আবশ্যক, রূপক আক্ষরিক অর্থের চেয়ে অধিক বাগ্মিতাপূর্ণ, আরবদের কথা, নবী, সাহাবী ও বেদুইনদের কথায় রূপকের ব্যবহার এবং প্রাচীন ও আধুনিক কবিদের কবিতায় রূপকের প্রয়োগ।
আবু হিলাল কিনায়াহ-কে (পরোক্ষ উক্তি) বাদি' শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর জন্য একটি পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছেন যেখানে তিনি এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং এর উৎকৃষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ উদাহরণসমূহ উল্লেখ করেছেন; যদিও এটি বায়ান শাস্ত্রের আলোচনার বিষয়। তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি তাঁর গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন।
বায়ান শাস্ত্রের এই বিষয়গুলো পর্যালোচনায় তাঁর পদ্ধতি কোনো অলঙ্কারবিদের মতো নয় যিনি সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত বিষয় নিয়ে মগ্ন থাকেন, বরং এটি এমন একজনের পদ্ধতি যিনি অলঙ্কারশাস্ত্রকে সাহিত্য ও সমালোচনার সাথে মিশ্রিত করেন। ফলে পাঠক এমন এক সংমিশ্রণের মুখোমুখি হয় যা তার মনকে প্রফুল্ল করে এবং তাকে অধিকতর বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক আনন্দ লাভের আশায় এর পাঠ অব্যাহত রাখতে প্রলুব্ধ করে।
… পরিশেষে, বায়ান শাস্ত্রের উৎপত্তিকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত আমাদের এই ঐতিহাসিক উপস্থাপনার মাধ্যমে সম্ভবত আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, যুগের পর যুগ এটি কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে। কীভাবে গবেষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ধীরে ধীরে এর মূলনীতিসমূহ—যেমন উপমা (তাশবিহ), আক্ষরিক অর্থ (হাকিকা), অলঙ্কারধর্মী অভিব্যক্তি (মাজায), রূপক (ইস্তিআরা) এবং পরোক্ষ উক্তি (কিনায়াহ)—উন্মোচন করতে সহায়ক হয়েছে এবং কীভাবে এই মূলনীতিগুলোর বৈশিষ্ট্যগুলো একে একে স্পষ্ট ও সুসংবদ্ধ হতে শুরু করেছে।
হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে আব্দুল কাহির আল-জুরজানির আবির্ভাব পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে। তিনি এই পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাসমূহের ফসল আহরণ করেন এবং সেগুলোকে উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে বায়ান শাস্ত্রের তত্ত্ব গঠনে ব্যবহার করেন।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২২)
عبد القاهر الجرجاني:هو أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجاني الإمام النحوي وأحد علماء الكلام على مذهب الأشاعرة. ولد وعاش بجرجان ولم يفارقها حتى توفي سنة 471 للهجرة، وله مؤلفات فيّمة في النحو والصرف والعروض،
وإعجاز القرآن، والتفسير، والبلاغة، ولكنه اشتهر أكثر ما اشتهر بكتابه «أسرار البلاغة» الذي وضع فيه نظرية علم البيان، وكتابه «دلائل الإعجاز» الذي وضع فيه نظرية علم المعاني.
وهو لهذا يعدّ بحق واضع أسس البلاغة العربية والمشيد لأركانها، والموضح لمشكلاتها، والذي على نهجه سار المؤلفون من بعده، وأتموا البنيان الذي وضع أسسه.
ومن العجيب أنّ الضعف بدأ يدب إلى اللغة في القرن الخامس وهي في أوج نهضتها، وكان أوّل مرض ألّم بها في هذا العصر هو الوقوف عند ظواهر قوانين النحو، ومدلول الألفاظ المفردة والجمل المركبة، والانصراف عن معاني الأساليب، وعدم الاهتمام بمناحي القول، وضروب التجوز والكناية فيه.
وكان ذلك ما أشفق منه عبد القاهر على اللغة، فعكف على تأليف «دلائل الإعجاز» و «أسرار البلاغة» اللذين دوّن فيهما علم البلاغة، ووضع قوانين للبيان والمعاني، كما وضعت قوانين النحو عند ظهور الخطأ في الإعراب. ومن مقدمة كتابه «أسرار البلاغة» يشعر القارئ أنّ مدرسة الألفاظ كانت قد تحكمت في عصره وغطّت على مدرسة المعاني، ومن أجل ذلك حاول هو بكتابه تأييد المعاني وبيان أثرها ودورها في بلاغة القول.
وعلى هذا فالذي يعنينا من كتبه فيما نحن بسبيله هنا هو كتاب
আব্দুল কাহের আল-জুরজানি:তিনি হলেন আবু বকর আব্দুল কাহের ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরজানি; একজন প্রখ্যাত ব্যাকরণবিদ ইমাম এবং আশআরি মাযহাবের ইলমুল কালামের অন্যতম আলিম। তিনি জুরজানে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বসবাস করেন। ৪৭১ হিজরিতে ইন্তেকাল করার আগ পর্যন্ত তিনি এই শহর ত্যাগ করেননি। নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব) এবং আরুজ (ছন্দশাস্ত্র) বিষয়ে তাঁর অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থাবলি রয়েছে।
পাশাপাশি ইজাযুল কুরআন (কুরআনের অলৌকিকত্ব), তাফসির এবং বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়েও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তবে তিনি সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তাঁর ‘আসরারুল বালাগাহ’ গ্রন্থের মাধ্যমে, যাতে তিনি ইলমুল বায়ানের তত্ত্ব প্রদান করেছেন; এবং তাঁর ‘দালাইলুল ইজায’ গ্রন্থের মাধ্যমে, যাতে তিনি ইলমুল মা’আনি তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছেন।
এ কারণেই তাঁকে যথার্থই আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল ভিত্তি স্থাপনকারী, এর স্তম্ভসমূহের নির্মাতা এবং এর জটিল বিষয়সমূহের বিশদ ব্যাখ্যাকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। পরবর্তীকালের লেখকগণ তাঁরই প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হয়েছেন এবং তিনি যে ইমারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, তাঁরা তাকেই পূর্ণতা দান করেছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, পঞ্চম শতাব্দীতে ভাষা যখন তার উন্নতির চরম শিখরে ছিল, তখনই তাতে দুর্বলতা দেখা দিতে শুরু করে। সেই যুগে ভাষাকে আক্রান্ত করা প্রথম ব্যাধিটি ছিল কেবল নাহুর নিয়মনীতির বাহ্যিক রূপ, একক শব্দাবলির আভিধানিক অর্থ এবং যৌগিক বাক্যের কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা। শৈলীর সূক্ষ্ম অর্থসমূহ থেকে বিমুখ হওয়া এবং বাচনভঙ্গির বৈচিত্র্য ও এতে ব্যবহৃত রূপক ও ইঙ্গিতধর্মী প্রয়োগের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া ছিল সেই সময়ের প্রধান সমস্যা।
ভাষার এই অবনতি দেখে আব্দুল কাহের শঙ্কার্ত হয়ে পড়েন। ফলে তিনি ‘দালাইলুল ইজায’ এবং ‘আসরারুল বালাগাহ’ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন, যে গ্রন্থদ্বয়ে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রকে বিধিবদ্ধ করেন। ই’রাব বা কারক-বিভক্তিতে ভুলত্রুটি প্রকাশ পাওয়ার পর যেভাবে নাহুর নিয়মাবলি প্রণীত হয়েছিল, ঠিক তেমনি তিনি বায়ান ও মা’আনি শাস্ত্রের নিয়মাবলি নির্ধারণ করেন। তাঁর ‘আসরারুল বালাগাহ’ গ্রন্থের ভূমিকা থেকে পাঠক অনুভব করতে পারেন যে, তাঁর সময়ে ‘শব্দকেন্দ্রিক ধারা’ (মাদরাসাতুল আলফাজ) বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিল এবং তা ‘অর্থকেন্দ্রিক ধারাকে’ (মাদরাসাতুল মা’আনি) প্রায় আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। এ কারণেই তিনি তাঁর গ্রন্থের মাধ্যমে অর্থের শ্রেষ্ঠত্ব সমর্থন করার এবং বক্তব্যের অলঙ্কার ও প্রভাব বৃদ্ধিতে অর্থের ভূমিকা বর্ণনা করার প্রয়াস পেয়েছেন।
সেই সূত্রে, আমরা বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি, সে ক্ষেত্রে তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্য থেকে আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক হলো তাঁর গ্রন্থ
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৩)
«أسرار البلاغة» الذي وضع فيه نظرية علم البيان بقواعده وشعبه وتفريعاته الكثيرة. والحق يقال إنّه فريد في بابه، فهو بحث في البيان العربي غير مسبوق ولا ملحوق، وإنّه ليدل فيما يدل على ألمعية صاحبه، وغزارة علمه، وسلامة ذوقه، وعقليته الجبارة المبتكرة.
و «أسرار البلاغة» باستثناء ما ورد فيه عن الجناس، والسجع، والاتفاق في الأخذ والسرقة عند الشعراء، هو بحث أصيل عميق في أصول علم البيان من حقيقة ومجاز، واستعارة، وتشبيه. وإذا كان لم يتكلم فيه عن الكناية، فإنّه قد استوفى الكلام عنها في كتابه الآخر «دلائل الإعجاز»، كما عرض فيه أيضا لبعض جوانب من الاستعارة، وللمجاز الحكمي «العقلي» الذي اهتدى إليه بذوقه الكلامي وعدّه ضربا جديدا من المجاز.
وعبد القاهر ينظر إلى المجاز والاستعارة والتشبيه والكناية على أنّها عمد الإعجاز وأركانه، والأقطاب التي تدور البلاغة عليها. وعنها يقول:
«ولم يتعاط أحد من الناس القول في الإعجاز إلّا ذكرها، وجعلها العمد والأركان فيما يوجب الفضل والمزية، وخصوصا الاستعارة والمجاز، فإنّك تراهم يجعلونهما عنوان ما يذكرون، وأوّل ما يوردون» (1).
وليس من غرضنا هنا التوسع بعرض مجمل آراء عبد القاهر في مباحث علم البيان فهذا أمر يطول شرحه، وإن
كنّا سنعرض فيما بعد لبعض آرائه عند دراستنا التفصيلية لفنون البيان من مجاز واستعارة وتشبيه وكناية.
إنّما الغرض الآن أن نبين المنهاج الذي رسمه لنفسه في البحث
--------------------------------------------
‘আসরারুল বালাগাহ’ সেই কিতাব যাতে তিনি ইলমে বায়ানের তত্ত্বকে এর মূলনীতি, শাখা-প্রশাখা ও বহুবিধ প্রয়োগসহ উপস্থাপন করেছেন। সত্য বলতে কী, এটি নিজ বিষয়ে অনন্য; এটি আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন এক গবেষণা যার পূর্বসূরি নেই এবং যার সমকক্ষ পরবর্তীকালেও কেউ নেই। এটি লেখকের মেধা, অগাধ ইলম, বিশুদ্ধ রুচি এবং তাঁর সৃজনশীল শক্তিশালী মানসিকতার অকাট্য প্রমাণ দেয়।
‘আসরারুল বালাগাহ’—এতে জিনাছ (শব্দালঙ্কার), সাজা (অনুপ্রাস) এবং কবিদের কাব্যচুরির বিষয়গুলো বাদ দিলে—হলো ইলমে বায়ানের মূলনীতিসমূহ তথা হাকিকত, মাজায (রূপক), ইস্তিআরাহ ও তাশবিহ (উপমা) সংক্রান্ত একটি মৌলিক ও গভীর গবেষণা। যদি তিনি এখানে কিনায়া (লক্ষণা) সম্পর্কে আলোচনা না-ও করে থাকেন, তবে তাঁর অন্য কিতাব ‘দালাইলুল ইজায’-এ তিনি এ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি সেখানে তিনি ইস্তিআরাহ বা রূপকের কিছু দিক এবং মাজাযে হুকমি (মানসিক রূপক) সম্পর্কেও আলোকপাত করেছেন যা তিনি তাঁর অলঙ্কারিক রুচির মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছিলেন এবং একে মাজাযের একটি নতুন প্রকার হিসেবে গণ্য করেছিলেন।
আব্দুল কাহের মাজায, ইস্তিআরাহ, তাশবিহ ও কিনায়াকে কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজায) ভিত্তি ও স্তম্ভ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন:
“কুরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে যারাই আলোচনা করেছেন তারা এগুলো উল্লেখ করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে এগুলোকেই স্তম্ভ ও রুকন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে ইস্তিআরাহ ও মাজায; আপনি দেখবেন তারা এগুলোকেই তাদের আলোচনার শিরোনাম এবং প্রারম্ভিক বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করেন।” (১)
এখানে আমাদের উদ্দেশ্য আব্দুল কাহেরের ইলমে বায়ানের সকল মতামতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা নয়, কারণ এটি দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। যদিও আমরা পরবর্তীতে বায়ানের বিভিন্ন শিল্প যেমন মাজায, ইস্তিআরাহ, তাশবিহ ও কিনায়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় তাঁর কিছু মতামত তুলে ধরব।
বর্তমান উদ্দেশ্য হলো কেবল গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি নিজের জন্য যে কর্মপন্থা বা মানহাজ নির্ধারণ করেছিলেন তা স্পষ্ট করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والذي يكاد يكون أوّل منهاج علمي منظم في البلاغة، ثمّ نشفع ذلك بذكر الجوانب التي تطرق لبحثها في كل موضوع، الأمر الذي يدل على سعة علمه وتفوقه على غيره، وأخيرا نشير بإيجاز إلى طريقته في التأليف.
أمّا عن منهاجه في البحث فاستمع إليه يعرضه في كلماته: «واعلم أنّ الذي يوجبه ظاهر الأمر، وما يسبق إليه الفكر: أن نبدأ بجملة من القول في الحقيقة والمجاز، ونتبع ذلك القول في التشبيه والتمثيل، ثمّ ننسق ذكر الاستعارة عليهما، ونأتي بها في أثرهما، وذلك أنّ المجاز أعم من الاستعارة، والواجب في قضايا المراتب: أن نبدأ بالعام قبل الخاص.
والتشبيه كالأصل في الاستعارة، وهي شبيهة بالفرع له أو صورة مقتضبة من صوره. إلّا أنّ ههنا أمورا اقتضت أن تقع البداية بالاستعارة وبيان صدر منها، والتنبيه على طريق الانقسام فيها، حتى إذا عرّف بعض ما يكشف عن حالها، ويقف على سعة مجالها، عطف عنان الشرح إلى الفصلين الآخرين، فوفّي حقوقهما، وبيّن فروقهما، ثمّ ننصرف إلى استقصاء القول في الاستعارة» (1).
ذلك هو المنهاج الذي أخذ به نفسه، وجمع فيه لأوّل مرة مباحث علم البيان بعضها إلى بعض، ورتّبها من حيث الكلام عنها ترتيبا منطقيا منظما، يبدأ فيه بالعام قبل الخاص، وبالأصل يتلوه الفرع، مع العناية بتوضيح ما بين التشبيه والتمثيل من فروق، وباستقصاء القول في الاستعارة.
أمّا الجوانب التي تطرق لبحثها في كل مبحث من مباحث علم البيان فلا سبيل هنا إلى سردها جملة لكثرتها، ولكنا نكتفي بذكر طائفة منها
--------------------------------------------
যা অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রথম সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কাছাকাছি, এরপর আমরা প্রতিটি বিষয়ে তিনি যেসব দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন তা উল্লেখ করব। এটি তাঁর জ্ঞানের প্রশস্ততা এবং অন্যের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। পরিশেষে আমরা সংক্ষেপে তাঁর গ্রন্থ রচনার পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করব।
তাঁর গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর নিজের ভাষ্যে শুনুন: «জেনে রাখুন, বাহ্যিক অবস্থা যা দাবি করে এবং চিন্তা যা প্রথমে আসে তা হলো: আমাদের উচিত হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) ও মাজায (রূপক অর্থ) সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে শুরু করা। এরপর আমরা তা তশবিহ (উপমা) এবং তামসিল (দৃষ্টান্ত)-এর আলোচনার অনুগামী করব। তারপর আমরা এ দুটির বিন্যাস অনুযায়ী ইস্তিআরাহ (রূপক অলঙ্কার)-এর কথা উল্লেখ করব এবং সেগুলোর পর এটি নিয়ে আসব। কারণ, মাজায ইস্তিআরাহ অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; আর বিন্যাসের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো যে, বিশেষের পূর্বে সাধারণের আলোচনা শুরু করা।
তশবিহ বা উপমা হলো ইস্তিআরাহ-এর মূলের মতো, আর ইস্তিআরাহ হলো তার শাখার মতো অথবা তার রূপগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে এখানে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা ইস্তিআরাহ-এর মাধ্যমে শুরু করার এবং তার প্রারম্ভিক অংশ বর্ণনা করার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে, সেই সাথে এর প্রকারভেদগুলোর প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যাতে করে যখন এর অবস্থা উন্মোচনকারী কিছু বিষয় জানা হয়ে যাবে এবং এর প্রশস্ত ক্ষেত্র সম্পর্কে অবগত হওয়া যাবে, তখন ব্যাখ্যার লাগাম অন্য দুটি পরিচ্ছেদের দিকে ফেরানো হবে এবং তাদের হক আদায় করা হবে ও তাদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো স্পষ্ট করা হবে। অতঃপর আমরা ইস্তিআরাহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় ফিরে যাব» (১)।
এটিই সেই পদ্ধতি যা তিনি নিজের জন্য গ্রহণ করেছিলেন। এতে তিনি প্রথমবারের মতো ইলমুল বয়ানের আলোচ্য বিষয়গুলোকে একে অপরের সাথে সমন্বয় করেছেন এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি সুশৃঙ্খল ও যৌক্তিক বিন্যাসে সাজিয়েছেন। যেখানে তিনি বিশেষের পূর্বে সাধারণের মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং মূলের পর শাখা নিয়ে এসেছেন। এর সাথে তিনি তশবিহ ও তামসিলের মধ্যকার পার্থক্যগুলো স্পষ্ট করার এবং ইস্তিআরাহ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
ইলমুল বয়ানের প্রতিটি বিষয়ে তিনি যেসব দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন, সেগুলো অধিক হওয়ার কারণে এখানে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা এর একটি অংশ উল্লেখ করার মাধ্যমে ক্ষান্ত হচ্ছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لبيان أهميتها والدلالة بها على عقلية عبد القاهر التي تنحو منحى الابتكار والإبداع.
1 - الحقيقة والمجاز: حدّ كلّ منهما، المجاز العقلي واللغوي والفرق بينهما، معنى المجاز وحقيقته، وكونه أعم
من الاستعارة، ومكان الاستعارة منه، تقسيم المجاز إلى لغوي وعقلي، واللغوي إلى الاستعارة، والمجاز المرسل، كون المجاز العقلي في الجمل لا المفردات، الحذف والزيادة، وهل هما من المجاز أم لا.
2 - التشبيه: التشبيه وأقسامه، وجوه الشبه المنتزعة من شيء أو أشياء، التشبيه المتوقف على دقّة الفكر، التفصيل لدقائق التشبيه المركب، التشبيه في الهيئة التي تقع عليها الحركات، الجمع بين الشكل وهيئة الحركة في التشبيه، قلب التشبيه، القلب أو العكس في طرق التشبيه، القياس في التشبيه، تشبيه الحقيقة والمجاز، جعل الفرع أصلا في التشبيه وعكسه، تأثير اختلاف الجنس بين المشبه والمشبه به.
3 - التمثيل: الفرق بين التشبيه والتمثيل: التشبيه عام والتمثيل أخص منه، فكل تمثيل تشبيه، وليس كل تشبيه تمثيلا، وجوه الشبه في جمل من التمثيل، التمثيل في المدح والذم والحجاج والافتخار والاعتذار والوعظ، الفرق بين تأثر الكلام في التمثيل وعدمه، أسباب قوّة تأثير التمثيل وعلله النفسية بسبب تأثير التمثيل في ضربيه، تعليل في فلسفة التمثيل، جعل التمثيل الشيء كضده أو عدمه، مآخذ التمثيل من الموجودات، الفرق بين التمثيل الدقيق والتعقيد.
4 - الاستعارة: حدها، أقسامها، الاستعارة المفيدة وأقسامها، الاستعارة المختلفة الجنس والأنواع، الاستعارة القريبة من الحقيقة، التفرقة
এর গুরুত্ব বর্ণনা করতে এবং এর দ্বারা আব্দুল কাহিরের সেই মানসিকতার ইঙ্গিত দিতে যা উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার দিকে ধাবিত হয়।
১ - হাকিকত ও মাজাজ: উভয়ের সংজ্ঞা, আকলি ও লুগাভি মাজাজ এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য, মাজাজের অর্থ ও বাস্তবতা, এবং এটি ইস্তিয়ারা অপেক্ষা ব্যাপকতর হওয়া, এবং এর মধ্যে ইস্তিয়ারার স্থান, মাজাজকে লুগাভি ও আকলি-তে বিভক্তকরণ, এবং লুগাভি-কে ইস্তিয়ারা ও মাজাজে মুরসাল-এ বিভক্তকরণ; আকলি মাজাজ যে বাক্যের ক্ষেত্রে হয়, একক শব্দের ক্ষেত্রে নয়; বিলোপ ও আধিক্য, এবং সেগুলো মাজাজের অন্তর্ভুক্ত কি না।
২ - তাশবিহ (উপমা): তাশবিহ ও এর প্রকারভেদ, এক বা একাধিক বস্তু হতে গৃহীত উপমার দিকসমূহ, সূক্ষ্ম চিন্তার ওপর নির্ভরশীল তাশবিহ, যৌগিক উপমার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিবরণ, নড়াচড়ার অবস্থার ওপর ভিত্তি করে উপমা, উপমার ক্ষেত্রে আকৃতি ও নড়াচড়ার অবস্থার সমন্বয়, উপমা উল্টে দেওয়া, উপমার পদ্ধতিতে পরিবর্তন বা বিপরীতকরণ, উপমায় কিয়াস (অনুমান), হাকিকত ও মাজাজের উপমা, উপমায় শাখাকে মূলে রূপান্তর ও এর বিপরীতকরণ, যাকে তুলনা করা হয় ও যার সাথে তুলনা করা হয় তাদের মধ্যে শ্রেণি পার্থক্যের প্রভাব।
৩ - তামসিল (দৃষ্টান্ত): তাশবিহ ও তামসিলের মধ্যে পার্থক্য: তাশবিহ হলো সাধারণ এবং তামসিল তার চেয়ে বিশেষ, সুতরাং প্রত্যেক তামসিলই তাশবিহ, কিন্তু প্রত্যেক তাশবিহ তামসিল নয়; তামসিলের বাক্যসমূহে উপমার দিকসমূহ; প্রশংসা, নিন্দা, বিতর্ক, গর্ব, ক্ষমা প্রার্থনা এবং নসিহতের ক্ষেত্রে তামসিল; তামসিলের ক্ষেত্রে কথার প্রভাব সৃষ্টি হওয়া ও না হওয়ার মধ্যে পার্থক্য; তামসিলের প্রভাবের শক্তির কারণ এবং এর উভয় প্রকারের প্রভাবের কারণে মনস্তাত্ত্বিক কারণসমূহ; তামসিলের দর্শনের ব্যাখ্যা; তামসিলের মাধ্যমে কোনো বস্তুকে তার বিপরীত বা অবর্তমান হিসেবে উপস্থাপন করা; বিদ্যমান বস্তুসমূহ হতে তামসিল গ্রহণের উৎসসমূহ; সূক্ষ্ম তামসিল ও জটিলতার মধ্যে পার্থক্য।
৪ - ইস্তিয়ারা (রূপক অলঙ্কার): এর সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ, ফলপ্রসূ ইস্তিয়ারা ও এর প্রকারভেদ, বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রকারের ইস্তিয়ারা, হাকিকতের নিকটবর্তী ইস্তিয়ারা, পার্থক্য নিরূপণ।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بين نوعي الاستعارة في الجنس، وجه الشبه العقلي في الاستعارة، الاستعارة والمبالغة في التشبيه، وقوع الاسم مستعارا بحسب الحس وهو ليس كذلك، بيان أنّ الاستعارة ليست من التخييل، بناء الاستعارة والتخييل على تناسي التشبيه، الفرق بين التشبيه والاستعارة.
ومن جوانب الاستعارة الأخرى التي ذكرها في كتابه دلائل (1) الإعجاز: شرح معنى الاستعارة، الاستعارة التمثيلية، فضل الاستعارة والتمثيل، أمثلة من بديع الاستعارات، المستعار هو معنى اللفظ لا اللفظ نفسه، لا يعار اللفظ إلّا بعد أن يعار المعنى.
5 - الكناية: تكلّم عبد القاهر في كتابه «دلائل (2) الإعجاز» عن الجوانب التالية من الكناية: الكناية والاستعارة، السبب في قبح الكناية، شعب الكناية وصورها ليس لها حد ولا غاية، في الكناية إثبات يصحبه البرهان، الاستعارة والكناية والمجاز من عمد البلاغة وأركانها.
أمّا الطريقة التي سار عليها عبد القاهر في تأليف كتابيه «أسرار البلاغة» و «دلائل الإعجاز» وامتاز بها على كتب البيان الأخرى فهي طريقة تجمع بين العلم والعمل الذي يثبّت به العلم.
أما العلم فيتمثل في القواعد الكلية، وأمّا العمل فيتمثل في الأمثلة والشواهد. فإذا كانت القاعدة الكلية هي صورة إجمالية للمعلومات الجزئية، فإنّ الأمثلة والشواهد صور تفصيلية لها.
تلك هي طريقة عبد القاهر: يذكر القاعدة الكلية ثمّ يردفها
--------------------------------------------
প্রজাতির মধ্যে রূপকের প্রকারদ্বয়ের মধ্যকার পার্থক্য, রূপকের ক্ষেত্রে বুদ্ধিগ্রাহ্য সাদৃশ্যের ভিত্তি, রূপক এবং উপমার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন, বাহ্যিকভাবে কোনো বিশেষ্যের রূপক হিসেবে ব্যবহার অথচ প্রকৃতপক্ষে তা তেমন নয়, রূপক যে নিছক কল্পনাপ্রসূত (তাখয়িল) নয় তার বর্ণনা, রূপক ও কল্পনাকে উপমা বিস্মৃত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠা করা, উপমা এবং রূপকের মধ্যে পার্থক্য।
এবং রূপকের অন্যান্য দিক যা তিনি তাঁর 'দালাইলুল ইজায' (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: রূপকের অর্থের ব্যাখ্যা, রূপকধর্মী উপমা (ইস্তিয়ারা তামসিলিয়া), রূপক ও উপমার শ্রেষ্ঠত্ব, চমৎকার রূপকসমূহের উদাহরণ, রূপক হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা হলো শব্দের অর্থ, স্বয়ং শব্দ নয়; অর্থের রূপক হওয়ার পরেই কেবল শব্দের রূপক হওয়া সম্ভব।
৫ - কিনায়াহ (পরোক্ষোক্তি): আব্দুল কাহের তাঁর 'দালাইলুল ইজায' (২) গ্রন্থে কিনায়াহর নিম্নলিখিত দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন: কিনায়াহ ও রূপক, কিনায়াহর কদর্যতার কারণ, কিনায়াহর শাখা-প্রশাখা ও রূপসমূহের কোনো সীমা বা অন্ত নেই, কিনায়াহর মধ্যে এমন সাব্যস্তকরণ রয়েছে যা প্রমাণের সাথে যুক্ত, রূপক, কিনায়াহ ও মাজায হলো অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রধান স্তম্ভ ও ভিত্তি।
আব্দুল কাহের তাঁর 'আসরারুল বালাগাহ' ও 'দালাইলুল ইজায' গ্রন্থদ্বয় রচনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং যার মাধ্যমে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থ থেকে বিশিষ্টতা লাভ করেছেন, তা হলো এমন এক পদ্ধতি যা জ্ঞান (তত্ত্ব) ও কর্মের (প্রয়োগ) সমন্বয় ঘটায়, যার মাধ্যমে জ্ঞান সুদৃঢ় হয়।
এখানে জ্ঞান বলতে মূলত সামগ্রিক মূলনীতিসমূহকে বোঝানো হয়েছে, আর কর্ম বলতে উদাহরণ ও প্রমাণসমূহকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং যদি সামগ্রিক মূলনীতি আংশিক তথ্যাবলীর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র হয়, তবে উদাহরণ ও প্রমাণসমূহ হলো সেগুলোর বিস্তারিত চিত্র।
এটাই আব্দুল কাহেরের পদ্ধতি: তিনি সামগ্রিক মূলনীতি উল্লেখ করেন এবং এরপর তার অনুগামী করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بالأمثلة والشواهد التي تفصّلها وتوضحها، إدراكا منه بأنّ التعليم النافع إنما يكون بقرن الصور المفصلة بالصورة المجملة، إذ بالتفصيل تعرف المسائل، وبالإجمال تحفظ في العقل.
وبهذه الطريقة امتاز كتاباه على كتب البلاغة الأخرى التي اقتصرت على سرد القواعد بعبارات اصطلاحية تأباها بلاغة الأساليب العربية، والتي لا تذكر من الشواهد والأمثلة إلّا القليل النادر الذي أدلى به السابق إلى اللاحق.
الزمخشري:ثمّ ظهر بعد عبد القاهر الجرجاني عالم آخر كان له أثر كبير في ميدان البلاغة العربية ونهضتها.
ذلك هو العالم المعتزلي جار الله محمود بن عمر الزمخشري المتوفى سنة 538 للهجرة، والذي ضرب بسهم وافر في علوم العربية والتفسير، وله فيها المؤلفات القيّمة التي تشهد بفطنته وسعة علمه.
ومن مؤلفاته التي وصلت إلينا «المفصل» في علم النحو، و «مقات الزمخشري» في التصوف، و «أساس البلاغة» وهو معجم لغوي يورد فيه المعاني اللغوية للكلمة، موضحا إياها في عبارات، ومردفا ذلك بمعانيها المجازية، ولكن أهم كتاب اشتهر به منذ عصره هو «الكشاف» الذي قدّم فيه صورة رائعة لتفسير القرآن، وأشاد به حتى أهل السنة على الرغم من اعتزال مؤلفه.
واهتمام المعتزلة بتفسير الإعجاز البلاغي للقرآن اهتمام قديم، فقد كتب فيه من رجالهم الجاحظ والرماني وعبد الجبار المعتزلي ثمّ الزمخشري الذي أقبل بشغف على الدراسات البلاغية ولا سيما كتابات عبد القاهر
উদাহরণ ও দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তিনি বিষয়গুলোকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করেছেন। তাঁর উপলব্ধি ছিল যে, উপকারী শিক্ষা তখনই অর্জিত হয় যখন বিস্তারিত রূপরেখাকে সংক্ষিপ্ত রূপরেখার সাথে মিলিয়ে পেশ করা হয়; কারণ বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমেই মাসআলাসমূহ জানা যায় এবং সংক্ষিপ্ত সারমর্মের মাধ্যমে সেগুলো মস্তিষ্কে সংরক্ষিত থাকে।
এই পদ্ধতির কারণেই তাঁর গ্রন্থদ্বয় অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে, যে গ্রন্থগুলো কেবল এমন কিছু পারিভাষিক শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে নিয়মনীতি বর্ণনায় সীমাবদ্ধ ছিল যা আরবি শৈল্পিক অলঙ্কারশাস্ত্রের পরিপন্থী। অধিকন্তু ঐ গ্রন্থগুলোতে এমন যৎসামান্য উদাহরণ বা প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে যা পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের থেকে পরম্পরাক্রমে নকল করে আসছিলেন।
যামাখশারী:অতঃপর আব্দুল কাহের আল-জুরজানির পর এমন এক আলেমের আবির্ভাব ঘটে, আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র ও এর নবজাগরণের ক্ষেত্রে যাঁর বিশাল প্রভাব ছিল।
তিনি হলেন মুতাযিলা আলেম জারুল্লাহ মাহমুদ ইবনে উমর আল-যামাখশারী (মৃত্যু ৫৩৮ হিজরি)। আরবি ভাষা ও তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে এবং এ বিষয়ে তাঁর এমন সব মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে যা তাঁর প্রজ্ঞা ও অগাধ পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দেয়।
আমাদের নিকট পৌঁছানো তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে নাহু শাস্ত্রের ওপর ‘আল-মুফাসসাল’, তাসাউফ বিষয়ক ‘মাক্বামাতুল যামাখশারী’ এবং ‘আসাসুল বালাগাত’, যা মূলত একটি শব্দকোষ; এতে তিনি শব্দের আভিধানিক অর্থ বিভিন্ন বাক্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন এবং সাথে সাথে সেগুলোর রূপক অর্থও উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর সমকাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনি যে গ্রন্থটির জন্য সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তা হলো ‘আল-কাশশাফ’। এতে তিনি কুরআনের তাফসীরের এক চমৎকার রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন, যার প্রশংসা লেখক মুতাযিলা হওয়া সত্ত্বেও এমনকি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলেমগণও করেছেন।
কুরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকত্বের তাফসীর নিয়ে মুতাযিলাদের আগ্রহ অনেক পুরনো। তাঁদের মধ্য থেকে আল-জাহিয, আর-রুম্মানি এবং আব্দুল জব্বার আল-মুতাযিলি এ বিষয়ে লিখেছেন। অতঃপর যামাখশারী আসেন, যিনি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অলঙ্কারশাস্ত্রীয় অধ্যয়ন, বিশেষ করে আব্দুল কাহেরের রচনাবলির প্রতি নিবিষ্ট হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الجرجاني في «دلائل الإعجاز» و «أسرار البلاغة».
أجل لقد تتلمذ على عبد القاهر في هذين الكتابين وعمق في فهمهما واستيعابهما إلى الحد الذي جعله يؤمن بأنّ
المعرفة بالبلاغة وأساليبها لا تكشف فقط عن وجوه الإعجاز البلاغي في القرآن، بل تكشف أيضا عن خفايا معانيه وأسرارها.
وفي مقدمة «الكشاف» يقرر أنّ تفسير القرآن لا يكفي فيه أن يكون المفسر من أئمة الفقه، أو النحو، أو اللغة، أو علم الكلام، أو القصص والإخبار. وإنّما ينبغي فيمن يتصدى له أن يكون بارعا في علمين مختصين بالقرآن هما: علم المعاني، وعلم البيان، وهذان، في نظره، أهم عدّة لمن يريد أن يفسر القرآن، إذ بدونهما لا تستقيم له الدلالات، ولا تتضح له الإشارات، ولا لطائف ما في الذكر الحكيم من الجمال المعجز الذي عنت له وجوه العرب وخروا له ساجدين.
إذن فالتفسير عنده ليس قاصرا على معرفة معاني القرآن فحسب، وإنّما هو أيضا بيان لأسرار إعجازه، بل إنّ معرفة معانيه لا تتم إلّا لمن تمّت له آلة البلاغة، وعرف وجوه الأساليب وخصائصها المعنوية، وأدرك الأسباب المعينة على تمييز صور الكلام البيانية.
… والذي يدرس بإمعان تفسير «الكشاف» يخرج منه بحقيقتين:
إحداهما أنّه استوعب كل ما كتبه عبد القاهر في «دلائل الإعجاز» و «أسرار البلاغة» قبل أن يشرع في تفسيره. والحقيقة الثانية أنّ «الكشاف» هو في الواقع خير تطبيق على كل ما اهتدى إليه عبد القاهر من قواعد المعاني والبيان، فقد اتّخذ الزمخشري من آي الذكر الحكيم أمثلة وشواهد يوضح
আল-জুরাজনী ‘দালাইলুল ইজায’ এবং ‘আসরারুল বালাগাহ’ গ্রন্থে।
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি এই দুটি কিতাবে আব্দুল কাহিরের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এ দুটির অনুধাবন ও আত্মস্থকরণে এমন এক পর্যায় পর্যন্ত গভীরতা অর্জন করেছেন যা তাঁকে এই বিশ্বাসে উপনীত করেছে যে,
অলঙ্কারশাস্ত্র ও এর শৈলী সম্পর্কে জ্ঞান কেবল কুরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকতার দিকগুলোই উন্মোচন করে না, বরং এর নিগূঢ় অর্থ ও রহস্যসমূহকেও প্রকাশ করে।
এবং ‘কাশশাফ’-এর ভূমিকায় তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, কুরআনের তাফসিরের জন্য মুফাসসির ফিকহ, নাহু, লুগাত, ইলমুল কালাম অথবা ইতিহাস ও সংবাদের ইমাম হওয়াই যথেষ্ট নয়। বরং যে ব্যক্তি এর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তাঁকে কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ দুটি বিদ্যায় পারদর্শী হতে হবে, আর তা হলো: ইলমুল মাআনি এবং ইলমুল বায়ান। তাঁর দৃষ্টিতে, যিনি কুরআনের তাফসির করতে চান, তাঁর জন্য এ দুটি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম; কারণ এ দুটি ব্যতীত তাঁর নিকট অর্থের নির্দেশনাগুলো সুসংগত হবে না, ইঙ্গিতগুলো স্পষ্ট হবে না এবং মহাগ্রন্থ কুরআনের সেই অলৌকিক সৌন্দর্যের সূক্ষ্ম রহস্যগুলো উন্মোচিত হবে না, যার সামনে আরবদের অহংকার অবনত হয়েছিল এবং তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়েছিল।
সুতরাং তাঁর নিকট তাফসির কেবল কুরআনের অর্থ জানবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা এর অলৌকিকত্বের রহস্যেরও বর্ণনা। বস্তুত, কুরআনের অর্থের পরিচয় কেবল তখনই পূর্ণতা পায়, যখন কারো নিকট অলঙ্কারশাস্ত্রের উপকরণগুলো পূর্ণতা পায়, সে রচনাশৈলীর বিভিন্ন দিক ও সেগুলোর অর্থগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হয় এবং কালামের আলঙ্কারিক রূপসমূহকে পৃথক করার সহায়ক কারণসমূহ অনুধাবন করতে পারে।
… আর যে ব্যক্তি গভীর মনোযোগের সাথে ‘তাফসিরে কাশশাফ’ অধ্যয়ন করবেন, তিনি দুটি সত্য উপলব্ধি করতে পারবেন:
প্রথমটি হলো, তিনি তাঁর তাফসির শুরু করার পূর্বেই আব্দুল কাহির ‘দালাইলুল ইজায’ এবং ‘আসরারুল বালাগাহ’ গ্রন্থে যা কিছু লিখেছেন, তার সবটুকু আত্মস্থ করেছিলেন। এবং দ্বিতীয় সত্যটি হলো, ‘কাশশাফ’ বাস্তবে আব্দুল কাহির কর্তৃক উদ্ভাবিত মাআনি ও বায়ানের সকল নিয়মনীতির সর্বোত্তম প্রয়োগ। যামাখশারি মহাগ্রন্থ কুরআনের আয়াতসমূহকে এমন উদাহরণ ও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন যা স্পষ্ট করে...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بها كل قواعد عبد القاهر البلاغية، سواء ما اتصل منها بعلم المعاني أو علم البيان.
ولم تقف جهود الزمخشري في البلاغة عند حد تطبيق آراء عبد القاهر في تفسيره تطبيقا مستقصيا، ولكنه وصل هذا التطبيق بكثير من آرائه التي تدل على تعمقه، وفطنته في تصوير الدلالة البلاغية، وإحاطته بخواص العبارات والأساليب.
ولو أنّه اكتفى بذلك لكان حسبه مساهمة في تطوير علمي المعاني والبيان، ولكنا نراه يضيف إلى مباحث هذين العلمين ما عنّ له من آراء، ويستكمل كثيرا من شعبها ودقائقها ومقاييسها.
ولما كان بحثنا هنا هو في المحل الأول عن علم البيان، فإنّ الجديد الذي أضافه الزمخشري إلى مباحثه كثير. وتتمثل إضافاته إليه في استكمال صور الكناية والاستعارة والمجاز المرسل والمجاز العقلي، وإحكام وضع قواعدها إحكاما دقيقا. وإذا كان عبد القاهر هو مؤسس علم المعاني وعلم البيان، وهو من استنبط من جزئيات كلا العلمين أكثر قواعده فإنّ الزمخشري هو الذي أكمل قواعدهما، وهي وإن جاءت مفرقة في تضاعيف تفسيره،
فإنّها دائما مقرونة بأمثلة من القرآن الكريم توضحها وتكشف عن دقائقها.
وهكذا بمنهاج عبد القاهر الذي أجملت أهم عناصره آنفا، وبطريقته التعليمية الواضحة، وكذلك بتطبيق الزمخشري لآراء عبد القاهر في تفسيره «الكشاف» وبالإضافات الجديدة التي استكمل بها قواعده- أقول بكل ذلك استطاع الرجلان أن يضعا ويكملا قواعد علم المعاني وعلم البيان، وكل ما هناك أنّه بقي من يستقصي هذه القواعد عندهما وينظمها في كتاب يجمع متفرقها ويضم منثورها.
এতে আবদুল কাহিরের সমস্ত অলঙ্কারশাস্ত্রীয় (বালাগাত) নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা 'ইলমুল মা'আনি (শব্দার্থতত্ত্ব) বা 'ইলমুল বায়ান (বিবৃতিবিদ্যা) সম্পর্কিত যা-ই হোক না কেন।
অলঙ্কারশাস্ত্রে আজ-জামাখশারির প্রচেষ্টা কেবল তাঁর তাফসিরে আবদুল কাহিরের মতামতের পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তিনি এই প্রয়োগের সাথে তাঁর এমন অনেক নিজস্ব মতামত যুক্ত করেছেন যা অলঙ্কারশাস্ত্রীয় অর্থের চিত্রায়নে তাঁর গভীরতা ও বিচক্ষণতা এবং বাক্যাংশ ও শৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহের ওপর তাঁর ব্যাপক দখলকে প্রমাণ করে।
তিনি যদি কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন, তবে 'ইলমুল মা'আনি ও 'ইলমুল বায়ানের উন্নয়নে তাঁর এই অবদানই যথেষ্ট হতো। কিন্তু আমরা দেখি যে, তিনি এই দুই শাস্ত্রের আলোচনায় তাঁর মনে আসা বিভিন্ন মতামত যুক্ত করছেন এবং এর অনেক শাখা, সূক্ষ্মতা ও মানদণ্ড পরিপূর্ণ করছেন।
যেহেতু আমাদের বর্তমান আলোচনাটি প্রাথমিকভাবে 'ইলমুল বায়ান সম্পর্কে, তাই আজ-জামাখশারি এর আলোচনায় যা কিছু নতুন যোগ করেছেন তা অনেক। তাঁর এই সংযোজনগুলো কিনায়াহ (পরোক্ষ উক্তি), ইসতি'আরাহ (রূপক), মাজাযে মুরসাল এবং মাজাযে 'আকলি-র রূপগুলোকে পূর্ণতা দান এবং এগুলোর নিয়মাবলী অত্যন্ত সুনিপুণভাবে নির্ধারণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আবদুল কাহির যদি 'ইলমুল মা'আনি ও 'ইলমুল বায়ানের প্রতিষ্ঠাতা হন এবং তিনি যদি এই দুই শাস্ত্রের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ থেকে এর অধিকাংশ নিয়ম উদ্ভাবন করে থাকেন, তবে আজ-জামাখশারিই সেই ব্যক্তি যিনি এগুলোর নিয়মাবলীকে পূর্ণতা দিয়েছেন, যদিও সেগুলো তাঁর তাফসিরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে,
তবুও সেগুলো সর্বদা পবিত্র কুরআনের এমন সব উদাহরণের সাথে যুক্ত যা সেগুলোকে সুস্পষ্ট করে এবং সেগুলোর সূক্ষ্ম রহস্য উন্মোচন করে।
এভাবে আবদুল কাহিরের সেই মানহাজ বা পদ্ধতির মাধ্যমে—যার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহ আমি ইতিপূর্বে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি—এবং তাঁর সুস্পষ্ট শিক্ষাদান পদ্ধতির মাধ্যমে, সেইসাথে আজ-জামাখশারি কর্তৃক তাঁর তাফসির 'আল-কাশশাফ'-এ আবদুল কাহিরের মতামতের প্রয়োগ এবং নতুন সংযোজন যার মাধ্যমে তিনি এর নিয়মাবলী পূর্ণ করেছেন—আমি বলব যে, এই সবকিছুর মাধ্যমেই এই দুই ব্যক্তি 'ইলমুল মা'আনি ও 'ইলমুল বায়ানের নিয়মাবলি প্রণয়ন ও পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন কেবল সেটুকুই বাকি রয়ে গেছে যা এই নিয়মগুলোকে তাঁদের নিকট থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করবে এবং এমন একটি গ্রন্থে বিন্যস্ত করবে যা এর বিক্ষিপ্ত ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অংশগুলোকে একত্রিত করবে।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وكان ذلك العمل على يد
السكاكي الذي دخلت البلاغة به في طور الجمود، كما سنرى.
السكاكي:
هو سراج الدين أبو يعقوب يوسف بن محمد السكاكي المتوفى سنة 626 للهجرة، احترف صناعة المعادن حتى الثلاثين من عمره، ثمّ خطر له أن يخلص للعلم فتفرّغ له وأكبّ على دراسة الفلسفة والمنطق والاعتزال والفقه وأصوله، وعلوم اللغة والبلاغة حتى أتقنها.
وللسكاكي مؤلفات مختلفة، منها كتاب «مفتاح العلوم» الذي يعدّ أهم كتبه، وقد قسّمه ثلاثة أقسام رئيسية، خص الأول منها بعلم الصرف والاشتقاق بأنواعه، والثاني بعلم النحو، وخص القسم الثالث بعلم المعاني وعلم البيان وألحق بهما مبحثا عن البلاغة والفصاحة، وآخر عن المحسنات البديعية اللفظية منها والمعنوية.
وشهرة السكاكي العلمية ترجع في الواقع إلى هذا القسم من كتابه الذي أعطى فيه للمعاني والبيان والفصاحة والبلاغة والبديع الصيغة النهائية التي عكف عليها العلماء من بعده يدرسونها ويشرحونها مرارا وتكرارا. وما أعطاه لعلوم البلاغة ليس ابتكارا خالصا له، وإنّما هو تلخيص دقيق يجمع بين أفكاره الخاصة وأفكار البلاغيين من قبله.
وقد صاغ ذلك كله صياغة مضبوطة محكمة بقدرته المنطقية في التعليل والتجريد والتعريف والتقسيم والتفريع والتشعيب. وأهم الكتب التي اعتمد عليها في النهوض بهذا العمل كتاب «نهاية الإيجاز في دراية الإعجاز» للفخر الرازي المتوفى سنة 606 للهجرة، وكتابا «دلائل
এবং সেই কাজটি
সাক্কাকীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল, যাঁর ফলে অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) স্থবিরতার যুগে প্রবেশ করেছিল, যেমনটি আমরা সামনে দেখতে পাব।
সাক্কাকী:
তিনি হলেন সিরাজুদ্দীন আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-সাক্কাকী, যিনি ৬২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত ধাতুশিল্পের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, এরপর তাঁর মনে ইলম বা জ্ঞান অর্জনের জন্য একনিষ্ঠ হওয়ার সংকল্প জাগে। ফলে তিনি এর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন এবং দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, মুতাজিলা মতবাদ, ফিকহ ও উসূলে ফিকহ এবং ভাষাবিজ্ঞান ও অলঙ্কারশাস্ত্র অধ্যয়নে নিবিষ্ট হন, যতক্ষণ না তিনি এগুলোতে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন।
সাক্কাকীর বিভিন্ন রচনা রয়েছে, যার মধ্যে 'মিফতাহুল উলূম' গ্রন্থটি তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই হিসেবে বিবেচিত। তিনি এটিকে প্রধান তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন; প্রথম ভাগটি তিনি ইলমুস সরফ (শব্দতত্ত্ব) এবং এর বিভিন্ন প্রকারের ইসতিশাক (শব্দমূলতত্ত্ব) এর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, দ্বিতীয় ভাগটি ইলমুন নাহু (বাক্যতত্ত্ব) এর জন্য, এবং তৃতীয় ভাগটি ইলমুল মাআনী ও ইলমুল বয়ানের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং এই দুটির সাথে অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) ও বাগ্মিতা (ফাসাহাত) বিষয়ক একটি আলোচনা এবং শব্দগত ও অর্থগত আল-মুহাসসিনাতুল বাদীইয়াহ (সৌন্দর্যবর্ধক অলঙ্কার) বিষয়ক অপর একটি আলোচনা যুক্ত করেছেন।
বাস্তবে সাক্কাকীর বৈজ্ঞানিক খ্যাতি তাঁর গ্রন্থের এই অংশের ওপরই নির্ভরশীল, যেখানে তিনি মাআনী, বয়ান, ফাসাহাত, বালাগাত এবং বাদী-কে এমন এক চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন, যার ওপর তাঁর পরবর্তী ওলামাগণ নিবিষ্ট হয়েছেন এবং বারবার তা অধ্যয়ন ও ব্যাখ্যা করেছেন। অলঙ্কারশাস্ত্রে তিনি যা প্রদান করেছেন তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবন নয়, বরং এটি একটি সূক্ষ্ম সারসংক্ষেপ যা তাঁর নিজস্ব চিন্তাধারা এবং তাঁর পূর্ববর্তী অলঙ্কারবিদদের চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটিয়েছে।
তিনি তাঁর যৌক্তিক সামর্থ্য—যেমন কারণ দর্শানো (তালীল), বিমূর্তকরণ (তাজরীদ), সংজ্ঞায়ন (তারীফ), শ্রেণিবিন্যাস (তাকসীম), শাখা-প্রশাখায় বিন্যাস (তাফরী ও তাশঈব)—এর মাধ্যমে এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুদৃঢ়ভাবে সংকলন করেছেন। এই কাজটির উৎকর্ষ সাধনে তিনি যেসব গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো ফখরুদ্দীন আল-রাযী (মৃত ৬০৬ হিজরি)-এর 'নিহায়াতুল ইজায ফী দিরায়াতিল ইজায' গ্রন্থটি এবং 'দালাইল' (গ্রন্থদ্বয়)...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الإعجاز» و «أسرار البلاغة» لعبد القاهر الجرجاني، وكتاب «الكشاف» للزمخشري.
وقد سبقه الفخر الرازي إلى تلخيص كتابي عبد القاهر، ولكن تلخيص السكاكي أدق وأشمل. والمقارنة بين
التلخيص تظهر أنّ السكاكي كان أكثر ضبطا وتنظيما للمسائل، مع ترتيب المقدمات وإحكام القياس.
ومع ذلك فقد خلا تلخيصه من تحليلات عبد القاهر والزمخشري التي تبهر القارئ، وتحولت البلاغة في تلخيصه إلى علم طغت فيه القواعد والقوانين على روح البيان وومضاته التي تمتع النفس. وهو في سبيل استنباط القواعد والقوانين قد استخدم المنطق بأصوله وألفاظه وأسلوبه الجاف الذي لا يحوي أي جمال. ولا عجب في ذلك فقد كان همه أن يقنن البلاغة ويقعّدها كسائر العلوم الأخرى، وهذا أمر يستعان عليه بالمنطق.
وما يعنينا هنا هو كلام السكاكي عن علم البيان، وقد عرفه بقوله:
«إيراد المعنى الواحد بطرق مختلفة بالزيادة في وضوح الدلالة عليه». وفي مقدمة تلخيصه لقضايا علم البيان تعرض للكلام عن الدلالات وكان في كلامه عنها متأثرا برأي الفخر الرازي فيها. وقد قسمها إلى الدلالة الوضعية للألفاظ، والدلالة العقلية أو الالتزامية، وعن الدلالة الأولى يقول إنّه لا يجوز إرجاع الفصاحة والبلاغة إلى الدلالة اللفظية، غير أنّه قد يلابسها ما يفيد الكلام جمالا وزينة.
أمّا الدلالة العقلية أو الالتزامية فهي التي تجري في الصور البيانية وهي تختلف عن الدلالة الوضعية.
আব্দুল কাহের আল-জুরজানির ‘দালায়িলুল ইজায’ ও ‘আসরারুল বালাগাহ’ এবং যামাখশারির ‘আল-কাশশাফ’ গ্রন্থ।
ফখর রাযী আব্দুল কাহেরের গ্রন্থদ্বয়ের সংক্ষিপ্তসার রচনায় তাঁর অগ্রগামী ছিলেন, তবে সাক্কাকির সারসংক্ষেপ অধিকতর সূক্ষ্ম ও ব্যাপক। সারসংক্ষেপগুলোর তুলনামূলক আলোচনা এটাই প্রকাশ করে যে, ভূমিকার বিন্যাস ও কিয়াসের সুনিপুণ প্রয়োগের মাধ্যমে মাসয়ালাসমূহ সুসংহত ও সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে সাক্কাকি অধিকতর পারদর্শী ছিলেন।
তাসত্ত্বেও তাঁর সারসংক্ষেপ আব্দুল কাহের ও যামাখশারির সেই বিশ্লেষণগুলো থেকে মুক্ত ছিল যা পাঠককে মুগ্ধ করে। তাঁর সারসংক্ষেপে অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাহ) এমন একটি বিজ্ঞানে রূপান্তরিত হয়েছে যেখানে বিধি-বিধান ও নিয়মকানুনগুলো বর্ণনাভঙ্গির মূল চেতনা ও হৃদয়ানন্দদায়ক বিচ্ছুরণের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে। নিয়মকানুন ও বিধি-বিধান উদ্ভাবনের পথে তিনি যুক্তিশাস্ত্রের মূলনীতি, শব্দাবলি এবং শুষ্ক রচনাশৈলী ব্যবহার করেছেন, যাতে কোনো সৌন্দর্য নেই। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল অলঙ্কারশাস্ত্রকে অন্যান্য বিজ্ঞানের ন্যায় বিধিবদ্ধ ও নিয়মশৃঙ্খলায় আবদ্ধ করা, আর এটি এমন এক বিষয় যাতে যুক্তিশাস্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়।
এখানে আমাদের উদ্দেশ্য হলো ইলমে বায়ান সম্পর্কে সাক্কাকির আলোচনা; তিনি এর সংজ্ঞায় বলেছেন:
‘একই অর্থকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা, যাতে অর্থের নির্দেশনার স্পষ্টতা বৃদ্ধি পায়।’ ইলমে বায়ানের বিষয়সমূহের সারসংক্ষেপের ভূমিকায় তিনি দালালাত (নির্দেশনা) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি ফখর রাযীর মতামতের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তিনি একে শব্দের দালালাতে ওয়াদইয়াহ (শাব্দিক নির্দেশনা) এবং দালালাতে আকলিয়াহ বা ইলতিযামিয়াহ (বুদ্ধিবৃত্তিক বা আনুষঙ্গিক নির্দেশনা)—এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম প্রকারের দালালাত সম্পর্কে তিনি বলেন যে, ফাসাহাত ও বালাগাহ-কে শাব্দিক দালালাতের দিকে প্রত্যাবর্তিত করা বৈধ নয়, তবে এর সাথে এমন কিছু বিষয় যুক্ত হতে পারে যা বাক্যের সৌন্দর্য ও অলঙ্করণ বৃদ্ধি করে।
আর দালালাতে আকলিয়াহ বা ইলতিযামিয়াহ হলো সেটি যা আলঙ্কারিক উপমাদির (সুয়ার বায়ানীয়াহ) ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয় এবং এটি দালালাতে ওয়াদইয়াহ থেকে ভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وهذه الدلالة العقلية أو الالتزامية إمّا أن تكون من باب دلالة اللازم على الملزوم كدلالة كثرة الرماد على الكرم في الكناية، وإما من باب دلالة الملزوم على اللازم، أي دلالة المسبب على السبب كقوله تعالى:
وَيُنَزِّلُ لَكُمْ مِنَ السَّماءِ رِزْقاً فالرزق لا ينزل من السماء ولكن الذي ينزل مطر ينشأ عنه النبات الذي منه طعامنا ورزقنا، فالرزق هو المسبب أو الملزوم الذي دلّ على السبب أو اللازم، وذلك على نحو ما هو معروف في المجاز المرسل.
ثمّ يخلص من هذه المقدمة التي يغلب عليها أسلوب المنطق إلى أن علم البيان يتناول التشبيه والمجاز والكناية.
ومباحث التشبيه عند السكاكي تتناول أربعة موضوعات هي:
طرفاه، ووجهه، والغرض منه، وأحواله في القرب والغرابة، والقبول والرفض.
فطرفا التشبيه إما أن يدركا بالحس كتشبيه الوجه بالقمر، وإما أن يدركا بالخيال كتشبيه شقائق النعمان (1) على أغصانها بأعلام ياقوت على رماح من زبرجد. فالتشبيه الخيالي هو المعدوم الذي فرض مجتمعا من أمور كل واحد منها يدرك بالحس، فإنّ الأعلام الياقوتية المنشورة على الرماح الزبرجدية مما لا يدرك بالحس، لأنّه لا وجود لها في عالم الواقع، ولكن المادة التي تركب منها التشبيه، أي الأعلام والياقوت والرماح والزبرجد كل منها محسوس بالبصر. وإما أن يدرك طرفا التشبيه بالوهم كما إذا قدرنا
--------------------------------------------
আর এই বুদ্ধিবৃত্তিক বা আবশ্যিক (ইলতিজামি) অর্থবোধকতা হয় ‘লাজিম’ (অবিচ্ছেদ্য গুণ) দ্বারা ‘মালজুম’ (যাকে গুণটি আবশ্যক করে) বুঝানোর অন্তর্ভুক্ত—যেমন ‘কিনায়েহ’ বা পরোক্ষ উক্তিতে ভস্মের আধিক্য দ্বারা দানশীলতাকে বুঝানো; অথবা এটি ‘মালজুম’ দ্বারা ‘লাজিম’ বুঝানোর অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ ‘মুসাববাব’ (ফলাফল) দ্বারা ‘সাবাব’ (কারণ) বুঝানো। যেমন মহান আল্লাহর বাণী:
“আর তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে রিজিক অবতীর্ণ করেন।” মূলত আকাশ থেকে রিজিক বর্ষিত হয় না, বরং যা বর্ষিত হয় তা হলো বৃষ্টি। তা থেকে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যা আমাদের খাদ্য ও রিজিকের উৎস। সুতরাং এখানে রিজিক হলো ‘মুসাববাব’ বা ‘মালজুম’, যা ‘সাবাব’ বা ‘লাজিম’-এর প্রতি ইঙ্গিত করছে। আর এটি ‘মাজাযে মুরসাল’-এর সুপরিচিত নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।
এরপর তিনি যুক্তিবিদ্যার প্রভাবপুষ্ট এই ভূমিকা থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ‘ইলমুল বায়ান’ মূলত তাশবিহ (উপমা), মাজায (রূপক) এবং কিনায়েহ (পরোক্ষ উক্তি) নিয়ে আলোচনা করে।
সাক্কাকীর মতে তাশবিহ বা উপমার আলোচনা চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, সেগুলো হলো:
এর দুই পক্ষ, এর ভিত্তি (ওয়াজহুশ শাবহ), এর উদ্দেশ্য এবং এর নৈকট্য ও বিস্ময়করতা এবং গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের অবস্থাসমূহ।
উপমার দুই পক্ষ কখনো ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয়, যেমন মুখমণ্ডলকে চাঁদের সাথে তুলনা করা। আবার কখনো তা কল্পনার মাধ্যমে অনুভূত হয়, যেমন বৃক্ষশাখার উপর ‘শাকাইকুন নুমান’ (১)-কে পান্নার বর্শার ওপর ইয়াকুত পাথরের পতাকার সাথে তুলনা করা। কাল্পনিক উপমা হলো এমন এক অবিদ্যমান বিষয় যা একাধিক বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত বলে ধরে নেওয়া হয়, যার প্রতিটি অংশ ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত। কেননা পান্নাখচিত বর্শার উপর ইয়াকুত পাথরের উড়ন্ত পতাকা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হওয়ার মতো বিষয় নয়, কারণ বাস্তব জগতে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু যে উপাদানগুলো দিয়ে এই উপমা গঠিত হয়েছে, অর্থাৎ পতাকা, ইয়াকুত, বর্শা এবং পান্না—এর প্রতিটিই চাক্ষুষ ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত। আবার কখনো উপমার দুই পক্ষ নিছক ধারণার মাধ্যমে অনুভূত হয়, যেমন যদি আমরা কল্পনা করি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল বয়ান
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
صورة وهمية للموت وشبهناها بالمخلب أو الناب، وإما أن يدركا بالعقل كتشبيه العلم بالحياة، وإما أن يدركا بالوجدان كاللذة والألم والشبع والجوع. وهذه تقسيمات للتشبيه واستحدثها السكاكي متأثرا بكلام الفلاسفة وعلماء الكلام في صور الإدراك.
… وأقسام وجه الشبه عند السكاكي كثيرة:
فوجه الشبه عنده إمّا أن يكون واحدا أو غير واحد، وغير الواحد إما أن يكون في حكم الواحد لكونه هيئة مركبة أو لا يكون. والواحد إما أن يكون حسيا أو عقليا، ولا بد في الحسي من أن يكون طرفاه حسيين.
أما وجه الشبه العقلي فيجري في جميع صور التشبيه، فقد يكون طرفاه حسيين. كتشبيه الشجاع بالأسد في الجراءة، وقد يكون طرفاه عقليين كتشبيه الجهل بالموت في عدم النفع، وقد يكون أحدهما حسيا والآخر عقليا كتشبيه العلم بالنور في النفع والفائدة.
وهكذا يمضي السكاكي في تقسيم وجه الشبه أقساما أخرى قد نعرض لها عند الكلام عن التشبيه تفصيليا.
… ثمّ يتحدّث السكاكي عن أغراض التشبيه، ويقسمها إلى ما يعود إلى المشبه أو إلى المشبه به. ويقسم الأول إلى بيان حال، وبيان مقدار حال، وبيان إمكان حال، وزيادة تقرير حال، وتزيين، وتقبيح واستطراف.
أما الأغراض التي تعود إلى المشبه به فمرجعها إلى إيهام كونه أتم من المشبه في وجه الشبه، أو بيان أنّه أهم عند مريد التشبيه.
মৃত্যুর একটি কাল্পনিক রূপ, যাকে আমরা নখর বা শ্বদন্তের সাথে তুলনা করেছি। আবার কখনও তা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উপলব্ধি করা হয়, যেমন জ্ঞানকে জীবনের সাথে তুলনা করা। অথবা তা অনুভূতির মাধ্যমে উপলব্ধি করা হয়, যেমন স্বাদ, বেদনা, পরিতৃপ্তি ও ক্ষুধা। এগুলো হলো উপমার প্রকারভেদ, যা সাক্কাকি দার্শনিক ও ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের উপলব্ধির স্বরূপ সংক্রান্ত আলোচনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে উদ্ভাবন করেছেন।
… সাক্কাকির নিকট উপমার সাধারণ গুণের প্রকারভেদ অনেক:
তাঁর মতে উপমার সাধারণ গুণ হয় একক হবে অথবা একাধিক হবে। যা একাধিক, তা হয় এককের পর্যায়ভুক্ত হবে কোনো যৌগিক কাঠামোর কারণে, অথবা তা হবে না। একক গুণটি হয় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হবে অথবা বুদ্ধিবৃত্তিক হবে। আর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হওয়ার জন্য এর উভয় পক্ষ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হওয়া আবশ্যক।
পক্ষান্তরে বুদ্ধিবৃত্তিক সাধারণ গুণের বিষয়টি উপমার সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। এক্ষেত্রে উভয় পক্ষ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হতে পারে, যেমন সাহসিকতার ক্ষেত্রে সাহসী ব্যক্তিকে সিংহের সাথে তুলনা করা। আবার উভয় পক্ষ বুদ্ধিবৃত্তিক হতে পারে, যেমন উপকারহীনতার ক্ষেত্রে মূর্খতাকে মৃত্যুর সাথে তুলনা করা। আবার একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং অন্যটি বুদ্ধিবৃত্তিক হতে পারে, যেমন উপকারিতা ও সুফলের ক্ষেত্রে জ্ঞানকে আলোর সাথে তুলনা করা।
এভাবেই সাক্কাকি উপমার সাধারণ গুণের আরও কিছু প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন, যা আমরা উপমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় উপস্থাপন করব।
… এরপর সাক্কাকি উপমার উদ্দেশ্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলোকে এমনভাবে বিভক্ত করেন যা হয় উপমেয় অথবা উপমানের সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি প্রথম প্রকারকে অবস্থা বর্ণনা করা, অবস্থার পরিমাণ বর্ণনা করা, অবস্থার সম্ভাবনা বর্ণনা করা, অবস্থার নিশ্চয়তা বৃদ্ধি করা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা, কুৎসিত করা এবং নতুনত্ব প্রকাশের লক্ষ্যে বিভক্ত করেছেন।
আর যেসব উদ্দেশ্য উপমানের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেগুলোর মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ গুণের ক্ষেত্রে উপমানটি উপমেয় অপেক্ষা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ—এমন ধারণা দেওয়া, অথবা উপমাকারীর নিকট উপমানটির গুরুত্ব বর্ণনা করা।