(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: -)
الأفعال - سعيد المعافري   (المعافري، سعيد)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: كتاب الأفعال

المؤلف: سعيد بن محمد المعافري القرطبي ثم السرقسطي، أبو عثمان، ويعرف بابن الحداد (ت بعد 400 هـ)

المحقق: حسين محمد محمد شرف

مراجعة: محمد مهدي علام

الناشر: مؤسسة دار الشعب للصحافة والطباعة والنشر، القاهرة - جمهورية مصر العربية

الطبعة: بدون

عام النشر: 1395 هـ - 1975 م

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شوّال 1436

আল-আফ'আল - সাঈদ আল-মা'আফিরি   (আল-মা'আফিরি, সাঈদ)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


বই: কিতাবুল আফ'আল (ক্রিয়াসমূহের বই)

লেখক: সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-মা'আফিরি আল-কুরতুবি অতঃপর আস-সারাখুস্তি, আবু উসমান, এবং তিনি ইবনুল হাদ্দাদ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪০০ হিজরির পর)

সম্পাদক/গবেষক: হুসাইন মুহাম্মদ মুহাম্মদ শরাফ

পর্যবেক্ষক: মুহাম্মদ মাহদী আল্লাম

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু দারুশ শাব্বু লিস-সাহাফাহ ওয়াত-তিবাআহ ওয়ান-নাশর, কায়রো - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর

সংস্করণ: নেই

প্রকাশকাল: ১৩৯৫ হিজরি - ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাওয়াল ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: -)
كتاب الأفعال

 

تأليف

أبي عثمان سعيد بن محمد المعافري السرقسطي

 

تحقيق

دكتور حسين محمد محمد شرف

المدرس بكلية دار العلوم - جامعة القاهرة

 

مراجعة

دكتور محمد مهدي علام

عضو مجمع اللغة العربية - القاهرة

 

[الجزء الأول]

 

مؤسسة دار الشعب
কিতাবুল আফ'আল

 

রচনায়

আবু উসমান সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-মুআফিরি আস-সারাকুস্তি

 

সম্পাদনায়

ডক্টর হুসাইন মুহাম্মদ মুহাম্মদ শরাফ

শিক্ষক, কুল্লিয়াতু দারিল উলুম - কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়

 

পর্যালোচনায়

ডক্টর মুহাম্মদ মাহদি আল্লাম

সদস্য, আরবি ভাষা একাডেমি - কায়রো

 

[প্রথম খণ্ড]

 

মুআসসাসাতু দারুশ শাব
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة بقلم الدكتور مهدى علام، عضو مجمع اللغة العربية

«الفعل» فى كل لغة، وفى كل لغة راقية على وجه الخصوص، هو مصدر التعبير عن أفكار المتحدثين بهذه اللغة؛ هو اللفظ الذى يصور النشاط والحركة وكل ما تموج به حياة البشر من فكر ووجدان. ويدلنا على هذا أن اللغات البدائية:

التى لا تتعدد فيها صور الحياة المتطورة، تعتمد - أكثر ما تعتمد - على «الأسماء»، وتستعين بقدر قليل من «الأفعال». وحينما يرتفع مستوى تفكيرها إلى الحاجة إلى مزيد من التمييز بين صور نشاطها التى يعبر عنها بصيغ «الأفعال»، تستعين عندئذ بإضافة ألفاظ إلى مجموعة «الأفعال» التى لديها - ألفاظ تعدّل معانى هذه الأفعال، وتنوع دلالاتها، كإلحاق ما يقابل عندنا فى العربية «الظرف» أو «الحال». ومن أمثلة ذلك «الأفعال» التى تنتمى إلى أصل «أنجلوسكسونى» فى اللغة الإنجليزية، قبل أن تثرى هذه اللغة بالأفعال التى استعارتها من الغتين العريقتين، اللاتينية واليونانية ..

وإن نظرة سريعة إلى بعض تلك الأفعال «الأولية» فى أى معجم إنجليزى، لتدل على مدى تنوع الدلالات لفعل الواحد، بإضافة هذه المكملات النحوية إليه.

ففعل) Get (مثلا يعبر عن عشرة معان (أى ما يساوى عشرة أفعال مختلفة) بسبب الإضافات التى تلحقه، مثل) Away - out) N، IN (الخ. وفعل) L ck (يدل، بسبب مثل هذه الإضافات، على سبع دلالات. وفعل) Set (على سبع كذلك، وفعل) Put (على نحو عشرين.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌আরবী ভাষা একাডেমির সদস্য ডক্টর মাহদী আল্লামের লিখিত ভূমিকা

প্রতিটি ভাষায়, এবং বিশেষত প্রতিটি উন্নত ভাষায় ‘ক্রিয়া’ (Verb) হলো সেই ভাষার বক্তাদের চিন্তাভাবনা প্রকাশের উৎস; এটি এমন এক শব্দ যা মানুষের জীবনের চিন্তা ও অনুভূতিতে সঞ্চারিত সকল তৎপরতা, গতিশীলতা এবং যা কিছু আন্দোলিত হয় তাকে চিত্রিত করে। আদিম ভাষাগুলোর অবস্থা আমাদের এই বিষয়ের প্রতি পথপ্রদর্শন করে যে:

যেসব ভাষায় উন্নত জীবনের রূপগুলো বৈচিত্র্যময় নয়, সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘বিশেষ্য’ (Noun)-এর ওপর নির্ভর করে এবং খুব সামান্য পরিমাণে ‘ক্রিয়া’ (Verb)-এর সাহায্য গ্রহণ করে। আর যখন তাদের চিন্তার স্তর তাদের কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন রূপের মধ্যে অধিকতর পার্থক্যের প্রয়োজনে উন্নীত হয়, যা ‘ক্রিয়া’র রূপগুলোর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তখন তারা তাদের হাতে থাকা ‘ক্রিয়া’র সমষ্টির সাথে অতিরিক্ত কিছু শব্দ যুক্ত করার সহায়তা গ্রহণ করে—এমন সব শব্দ যা এই ক্রিয়াগুলোর অর্থকে পরিমার্জিত করে এবং সেগুলোর তাৎপর্যকে বৈচিত্র্যময় করে; যেমন আমাদের আরবী ভাষায় যা ‘যরফ’ (স্থান বা কালবাচক অব্যয়) অথবা ‘হাল’ (অবস্থা)-এর সমতুল্য, তা যুক্ত করার মতো। এর উদাহরণ হলো ইংরেজি ভাষার সেই ‘ক্রিয়া’গুলো যেগুলো ‘অ্যাংলো-স্যাক্সন’ মূলের অন্তর্ভুক্ত, এই ভাষাটি ল্যাটিন ও গ্রীক—এই দুই প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ভাষা থেকে ধার করা ক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে সমৃদ্ধ হওয়ার পূর্বের অবস্থা...

যেকোনো ইংরেজি অভিধানে সেই ‘প্রাথমিক’ ক্রিয়াগুলোর কয়েকটির ওপর এক নজর দৃষ্টিপাত করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই ব্যাকরণগত পরিপূরকগুলো যুক্ত করার ফলে একটি মাত্র ক্রিয়ার তাৎপর্য কতটা বৈচিত্র্যময় হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, Get ক্রিয়াটি তার সাথে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত শব্দগুলোর কারণে—যেমন Away, Out, In ইত্যাদি—দশটি অর্থ প্রকাশ করে (অর্থাৎ যা দশটি ভিন্ন ভিন্ন ক্রিয়ার সমতুল্য)। আর Look ক্রিয়াটি এই ধরনের সংযোজনের কারণে সাতটি তাৎপর্য প্রকাশ করে। অনুরূপভাবে Set ক্রিয়াটি সাতটি এবং Put ক্রিয়াটি প্রায় বিশটি অর্থ প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد كان اختيار النحاة العرب المصطلح «فعل» لهذا الجزء من الجملة اختيارا موفقا، وهو لا شك اختيار مستوحى من معناه ووظيفته فى اللغة، فهو - كما أشرت - مصدر الفعل والنشاط والحياة فى التعبير.

وشبيه بهذا التوفيق فى اختيار مصطلح ذى إيحاء لمعنى هذا اللفظ النحوى، أى «الفعل»، المصطلح الذى تستعمله له اللغات الأوربية جميعها، وهو لفظ (Verp) و (Verpe) المستعار من اللفظ اللاتينى (Verpuw)، ومعناه «الكلمة». كأن وظيفة «الفعل» فى الجملة هى «الكلمة المعبرة»، هى اللفظة المؤدية لأهم معنى فى الجملة.

وهنا أشعر بميل للمجازفة بهذه الدعوى: وهى أن الجملة الاسمية التى يقتصر عليها التعبير فى اللغات الهندية

الأوربية (فليس فى هذه اللغات ما يقابل الجملة الفعلية فى اللغات السامية) ليست فى جوهرها وأدائها إلا جملة فعلية ذات ترتيب خاص فى وضع ألفاظها، بحيث لا يبدأ فيها بالفعل، ولكنها لا تستغنى أبدا عن الفعل فى مناط الإسناد، حتى فى أبسط صورها، عند ما يكون مناط الإسناد هو مجرد فعل الكينونة، أو ما يسمى فى اصطلاحنا النحوى «الكون العام».

ونظرا لأهمية هذا الجزء من التركيب اللغوى، أى الجملة، وهو «الفعل»، قد اهتم به علماء اللغة والنحو فى جميع اللغات، حصرا وتوضيحا، وجدولة، وتأليفا.

ولكل لغة مواضع اهتمامها بضبط «الأفعال» فيها، من حيث اشتقاقها، وتصريفاتها، وما هو مطرد منها على نسق واحد (وهو قليل فى معظم اللغات)، وما هو غير مطرد على قياس، بل يختلف اختلافا قليلا أو كثيرا عن القياس، وما هو شاذ شذوذا كاملا.

وطلاب اللغات، من أهلها ومن غيرهم، يجدون أن أهم صعوبة تواجههم هى إتقان صيغ الأفعال وتصريفاتها. وحسبى أن أشير - تمثيلا لا حصرا - إلى الجداول
আরব ব্যাকরণবিদদের বাক্যের এই অংশের জন্য 'ক্রিয়া' পরিভাষাটি নির্বাচন করা একটি সার্থক নির্বাচন ছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই নির্বাচনটি ভাষার ক্ষেত্রে এর অর্থ ও উপযোগিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে। কারণ এটি—আমি যেমনটি উল্লেখ করেছি—প্রকাশভঙ্গিতে কর্মতৎপরতা, প্রাণচাঞ্চল্য ও জীবনের উৎস।

এই ব্যাকরণিক শব্দের অর্থাৎ 'ক্রিয়া'-র অর্থের ব্যঞ্জনা বহনকারী পরিভাষা নির্বাচনের এই সার্থকতা ইউরোপীয় সকল ভাষায় ব্যবহৃত পরিভাষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর তা হলো 'ভার্ব' (Verp) ও 'ভার্বে' (Verpe) শব্দসমূহ, যা লাতিন শব্দ 'ভার্বুম' (Verpuw) থেকে ধার করা হয়েছে, যার অর্থ হলো 'শব্দ'। যেন বাক্যের মধ্যে 'ক্রিয়া'-র ভূমিকা হলো 'অভিব্যক্তিমূলক শব্দ'; এটি এমন এক শব্দ যা বাক্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থটি প্রকাশ করে।

এখানে আমি এই দাবি করার ঝুঁকি নিতে প্রলুব্ধ হচ্ছি যে: ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগুলোতে যে নামবাচক বাক্য দ্বারা ভাব প্রকাশ সীমাবদ্ধ (কারণ এই ভাষাগুলোতে সেমিটিক ভাষাগুলোর মতো ক্রিয়াবাচক বাক্যের সমতুল্য কিছু নেই), তা তার সারবত্তা ও প্রয়োগের দিক থেকে মূলত একটি বিশেষ বিন্যাসের ক্রিয়াবাচক বাক্যই মাত্র। যেখানে বাক্যটি ক্রিয়া দ্বারা শুরু হয় না ঠিকই, কিন্তু তা সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে ক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে কখনই মুক্ত নয়; এমনকি তার সরলতম রূপেও, যখন সম্পর্কের ভিত্তি হয় কেবল অস্তিত্বমূলক ক্রিয়া, বা আমাদের ব্যাকরণিক পরিভাষায় যাকে 'সাধারণ অস্তিত্ব' বলা হয়।

ভাষাগত কাঠামোর অর্থাৎ বাক্যের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ অর্থাৎ 'ক্রিয়া'-র গুরুত্ব বিবেচনা করে সকল ভাষার ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণবিদগণ একে সীমাবদ্ধকরণ, ব্যাখ্যা প্রদান, সারণীবদ্ধকরণ এবং গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

প্রতিটি ভাষারই নিজস্ব গুরুত্বের জায়গা রয়েছে যেখানে তারা 'ক্রিয়া'গুলোকে সুসংহত করে—তার ব্যুৎপত্তি, রূপান্তর এবং এর মাঝে যা একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলে (যা অধিকাংশ ভাষায় খুব সামান্যই দেখা যায়), এবং যা নিয়ম বহির্ভূত, বরং নিয়ম থেকে কম বা বেশি বিচ্যুত হয়, আর যা সম্পূর্ণরূপে ব্যতিক্রমী।

ভাষা শিক্ষার্থীগণ, চাই তারা সেই ভাষার লোক হোন বা বিদেশি, তারা লক্ষ্য করেন যে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো ক্রিয়ার রূপ ও রূপান্তরগুলোয় দক্ষতা অর্জন করা। উদাহরণস্বরূপ—সবগুলো নয় বরং কয়েকটি—সারণীর প্রতি ইশারা করাই আমার জন্য যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ৫)
والمجموعات التى تحصر أنواع التصريفات المختلفة للأفعال فى كل من اللغات الإنجليزية والفرنسية والألمانية.

أما لغتنا العربية، بمالها من تطور عظيم، واتساع وتقدم، فلها نصيبها من هذه الميزة التى هى فى حقيقتها صعوبة - صعوبة المجد والرقى - فمن ذلك تحديد صيغ الفعل الثلاثى الذى هو أساس لصيغ الزيادة (إذا استثنينا القلة العددية للفعل الرباعى الأصل). وأفعالنا الثلاثية تحتاج إلى علم واسع، وجهد عظيم، لتحديدها - فى صيغتها ومعانيها - «فالبطاقة الشخصية» لكل فعل تحتوى على بنيته أو صيغته فى أحد الأبواب الستة المعروفة (وأحيانا خارج نطاقها)، كما تحتوى على تحديد وظيفته، لزوما وتعدّيا، ثم على الدلالات التى يعبر عنها.

وأشير هنا إلى ضبط بنية الفعل بقليل من الأمثلة التى تدل على مدى الحاجة إلى حصر الأفعال وتحديد ضبط كل منها، ولو لم يكن لكل فعل إلا بنية واحدة فى أحد الأبواب الستة للفعل الثلاثى لكان هذا كافيا فى وجوب تحديد هذه البنية أو الصيغة التى لا سبيل إلى معرفتها إلا بالتوقيف والتعليم، (وإن يكن هناك ما يشبه الضوابط للاهتداء إلى بعضها)، فكيف الحال ومئات الأفعال لها أكثر من صيغة واحدة فى أحد الأبواب الستة!.

فمما يأتى من بابين مثلا: نشأ ينشأ (من باب فتح)، ونشؤ ينشؤ (من باب شرف)؛ وهزئ يهزأ (من باب سمع)، وهزأ يهزأ (من باب منع)؛ وبصر يبصر (من باب شرف)، وبصر يبصر (من باب فرح).

ومما يأتى من ثلاثة أبواب: بطر (من باب فرح، ومن باب نصر، ومن باب ضرب)؛ وفطن (من باب فرح، ونصر،

وشرف)؛ ونعم (من باب فرح، ونصر، وضرب)؛ وفضل (من باب نصر، وفرح، ثم فضل يفضل من غير باب).
ইংরেজি, ফরাসি এবং জার্মান—প্রতিটি ভাষার ক্রিয়ার বিভিন্ন ধরনের রূপান্তরসমূহ সংগ্রহ ও সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে আমাদের আরবি ভাষা, তার সুমহান বিবর্তন, প্রশস্ততা ও অগ্রগতির কারণে এই বৈশিষ্ট্যের অংশীদার হয়েছে যা মূলত একটি কাঠিন্য—মর্যাদা ও উৎকর্ষের কাঠিন্য। আর তা হলো তিন অক্ষরের (সুলাসি) ক্রিয়ার রূপসমূহ নির্ধারণ করা, যা মূলত অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত (মাযিদ) রূপগুলোর ভিত্তি (যদি আমরা মূল চার অক্ষরের ক্রিয়ার স্বল্পতাকে বাদ দিই)। আমাদের সুলাসি ক্রিয়াগুলোকে তাদের গঠন ও অর্থের নিরিখে সুনির্দিষ্ট করার জন্য ব্যাপক জ্ঞান এবং বিশাল প্রচেষ্টার প্রয়োজন। প্রতিটি ক্রিয়ার ‘ব্যক্তিগত পরিচিতি’ তার গঠন বা রূপকে সুপরিচিত ছয়টি পরিচ্ছেদের (এবং কখনও কখনও এর বাইরে) কোনো একটির অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি তা ক্রিয়ার কর্মক্ষমতা—অকর্মক ও সকর্মক হওয়া—এবং এর মাধ্যমে প্রকাশিত অর্থগুলোকেও নির্ধারিত করে।

আমি এখানে ক্রিয়ার গঠন বিন্যাস শুদ্ধ করার লক্ষ্যে সামান্য কিছু উদাহরণের প্রতি ইঙ্গিত করছি, যা ক্রিয়াগুলোকে সীমাবদ্ধ করা এবং প্রত্যেকটির গঠন সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে। যদি সুলাসি ক্রিয়ার ছয়টি পরিচ্ছেদের মধ্যে প্রতিটি ক্রিয়ার কেবল একটিই গঠন থাকত, তবেই সেই গঠন বা রূপটি নির্ধারণ করা আবশ্যক হওয়ার জন্য যথেষ্ট হতো, যা কেবল শ্রবণ ও শিক্ষা গ্রহণ ব্যতীত জানার কোনো উপায় নেই (যদিও কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে পথনির্দেশের জন্য কিছু নিয়মনীতি সদৃশ বিষয় রয়েছে)। তবে সেই ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কেমন হবে যেখানে শত শত ক্রিয়ার জন্য ছয়টি পরিচ্ছেদের মধ্যে একাধিক রূপ বিদ্যমান!

উদাহরণস্বরূপ, যা দুটি পরিচ্ছেদ থেকে আসে: নাশা’আ ইয়ানশা’উ (ফাতাহা পরিচ্ছেদ থেকে), এবং নাশু’আ ইয়ানশু’উ (শারাফা পরিচ্ছেদ থেকে); হাজি’আ ইয়াহযা’উ (সামি’আ পরিচ্ছেদ থেকে), এবং হাযা’আ ইয়াহযা’উ (মানা’আ পরিচ্ছেদ থেকে); বাসুরা ইয়াবসুরু (শারাফা পরিচ্ছেদ থেকে), এবং বাসিরা ইয়াবসারু (ফারিহা পরিচ্ছেদ থেকে)।

এবং যা তিনটি পরিচ্ছেদ থেকে আসে: বাতিরা (ফারিহা পরিচ্ছেদ, নাসারা পরিচ্ছেদ এবং দরাবা পরিচ্ছেদ থেকে); ফাতিনা (ফারিহা, নাসারা এবং শারাফা পরিচ্ছেদ থেকে); না’ইমা (ফারিহা, নাসারা এবং দরাবা পরিচ্ছেদ থেকে); এবং ফাদ্বালা (নাসারা ও ফারিহা পরিচ্ছেদ থেকে, অতঃপর ফাদ্বালা ইয়াফদজুলু যা কোনো নির্দিষ্ট পরিচ্ছেদের বহির্ভূত)।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ৬)
ومما يأتى من أربعة أبواب: حسب (من باب نصر، وشرف، وفرح، وورث) ومثله برأ يبرأ (من باب فتح) وبرئ يبرأ (كفرح)، وبرأ يبرؤ (كنصر)، وبرئ يبرؤ (على غير باب)، وملح (كفتح، ونصر، وشرف، وفرح).

وقد تنبه علماء اللغة العربية لأهمية «الفعل» فى بنائه ومصدره ومعناه، فألفوا الرسائل ثم الكتب فى ذلك.

ومن أهم هذه الكتب:

كتاب الأفعال لأبى عثمان سعيد بن محمد المعافرى القرطبى ثم السرقسطى (المعروف بابن الحداد) الذى توفى فى حدود سنة أربعمائة هجرية، أى منذ نحو ألف سنة.

وكان من بين الأهداف التى من أجلها ألف ابن الحداد كتابه هذا وفاؤه لأستاذه ابن القوطية. فقد عرض فى هذا الكتاب أكبر قدر من أفعال اللغة العربية، وأوضح قياس تصاريفها، وبين الصحيح والمعتل منها، والمجرد والمزيد، والمتعدى واللازم.

ومصادر الفعل الثلاثى. وعددا آخر من المشتقات. وكان أساس المادة التى اختارها وكتب عنها هو «كتاب الأفعال» لابن القوطية. أستاذه الذى أثبت وفاءه له بهذه الطريقة العملية. بتأليف كتاب يستكمل فيه عمل أستاذه ويستدرك ما تركه.

وهذا الوفاء الذى يحمله التلاميذ لأساتذتهم معروف بين علماء العربية. فهناك مثال شبيه بهذا، عند ما ألف أبو الفتح عثمان بن جنى كتابه «المحتسب فى تبيين وجوه شواذ القراءات والإيضاح عنها». وقد ألفه وفاء لذكرى أستاذه أبى على الفارسى الذى كان ينوى أن يضع كتابا فى هذا الموضوع، ولكن منيته عاجلته.

وقد حقق الكتاب الذى أقدمه هنا الدكتور حسين محمد شرف، تحقيقا علميا، اعتمد فيه على مخطوطتين. وقد عرف بهما تعريفا دقيقا، وقارن بين نصيهما، وتعقب الشواهد التى فى النص فشرحها ونسب ما أمكنه منها إلى قائليها.
এবং যে সব শব্দ চারটি বাবে (ক্রিয়ার শ্রেণিতে) আসে: হাসিবাহ (নাসারা, শারাফা, ফারিহা এবং ওয়ারিসা বাব থেকে)। অনুরূপভাবে বারা-আ ইয়াবরা-উ (ফাতাহা বাব থেকে), বারি-আ ইয়াবরা-উ (ফারিহা বাবের মতো), বারা-আ ইয়াবরু-উ (নাসারা বাবের মতো), বারি-আ ইয়াবরু-উ (যা কোনো নির্দিষ্ট বাবে নয়) এবং মালুহা (ফাতাহা, নাসারা, শারাফা ও ফারিহা বাবের মতো)।

আরবি ভাষার পণ্ডিতগণ ‘ক্রিয়া’ (ফিল)-এর গঠন, এর ক্রিয়ামূল (মাসদার) এবং এর অর্থের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। ফলে তাঁরা এ বিষয়ে বিভিন্ন পুস্তিকা এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো: আবু উসমান সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-মাআফিরি আল-কুরতুবি অতঃপর আস-সারাকুস্তি (ইবনুল হাদ্দাদ নামে পরিচিত) রচিত ‘কিতাবুল আফআল’। তিনি হিজরি চারশত সালের দিকে মৃত্যুবরণ করেন, অর্থাৎ প্রায় এক হাজার বছর আগে।

ইবনুল হাদ্দাদ যে উদ্দেশ্যগুলোর জন্য এই গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন, তার মধ্যে একটি ছিল তাঁর শিক্ষক ইবনুল কুতিয়্যার প্রতি তাঁর আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি এই গ্রন্থে আরবি ভাষার ক্রিয়াগুলোর একটি বিশাল অংশ উপস্থাপন করেছেন, সেগুলোর রূপান্তরের (তাসরিফ) নিয়মাবলি স্পষ্ট করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে সহিহ (সুস্থ) ও মু'তাল (দুর্বল), মুজাররাদ (মৌলিক) ও মাজিদ (অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত), এবং মুতাআদ্দি (সকর্মক) ও লাজিম (অকর্মক) ক্রিয়াগুলো বর্ণনা করেছেন।

এবং তিন অক্ষরবিশিষ্ট (সুলাসি) ক্রিয়ার ক্রিয়ামূলগুলো এবং আরও অনেকগুলো ব্যুৎপন্ন রূপ (মুশতাক্কাত) আলোচনা করেছেন। তিনি যে উপাদানগুলো নির্বাচন করেছেন এবং যা লিখেছেন, তার ভিত্তি ছিল তাঁর শিক্ষক ইবনুল কুতিয়্যার ‘কিতাবুল আফআল’। তিনি এই ব্যবহারিক পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁর শিক্ষকের প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করেছেন; এমন একটি গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে যেখানে তিনি তাঁর শিক্ষকের কাজকে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং যা বাদ পড়েছিল তা সংশোধন ও সংযোজন করেছেন।

ছাত্রদের তাদের শিক্ষকদের প্রতি এই যে আনুগত্যের বোধ, তা আরবি ভাষার পণ্ডিতদের মধ্যে সুপরিচিত। এর একটি সদৃশ উদাহরণ পাওয়া যায়, যখন আবুল ফাতহ উসমান বিন জিন্নি তাঁর ‘আল-মুহতাসিব ফি তাবয়িনি উজুহি শাওয়াজ্জিল কিরাআতি ওয়াল ইদাহি আনহা’ গ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি এটি তাঁর শিক্ষক আবু আলি আল-ফারিসির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লিখেছিলেন, যিনি এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনার সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু তাঁর মৃত্যু তাকে সেই সুযোগ দেয়নি।

আমি এখানে যে গ্রন্থটি পেশ করছি, তা ডক্টর হুসাইন মুহাম্মদ শরাফ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্পাদনা করেছেন, যেখানে তিনি দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি সেই পাণ্ডুলিপি দুটির সূক্ষ্ম পরিচয় প্রদান করেছেন, মূল পাঠের মধ্যে তুলনা করেছেন এবং পাঠের অন্তর্ভুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো (শাওয়াহিদ) অনুসন্ধান করে সেগুলো ব্যাখ্যা করেছেন এবং যথাসম্ভব সেগুলোকে তাদের মূল প্রবক্তার দিকে নিসবত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ৭)
ويسرنى أن أقدم هذا الجزء من التحقيق للشادين والعلماء، فهو جزء عزيز عظيم من تراثنا اللغوى الذى يقوم على نشره مجمعنا للغة العربية، فى نطاق الأعمال العلمية التى ينشرها تحقيقا لرسالته.

مهدى علام

المعادى 19 من المحرم 1395

31 من يناير 1975
গবেষক ও আলেমদের নিকট তাহকিকের এই অংশটি উপস্থাপন করতে পেরে আমি আনন্দিত। এটি আমাদের ভাষাতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের এক অমূল্য ও মহান অংশ, যা আমাদের আরবি ভাষা একাডেমি তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে পরিচালিত বৈজ্ঞানিক কর্মতৎপরতার অংশ হিসেবে প্রকাশ করছে।

মাহদী আল্লাম

আল-মাআদি, ১৯ মুহাররম ১৩৯৫

৩১ জানুয়ারি ১৯৭৫
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ৮)
بسم‌‌ الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة التحقيق

(أ)

أحمد الله الذى علم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم، على آلائه ونعمه، وأثنى عليه بما لا يحصى من أفضاله فى خفى الأمر وظاهره.

وأشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدا عبده ورسوله سيد المرسلين وخاتم النبيين، صلّى الله عليه وعلى آله، وصحابته وسلم تسليما.

أما بعد فإن التصريف والاشتقاق من أبرز ظواهر العربية، وأشرف علومها، وقد أدرك النحويون واللغويون قيمة كل من هذين العلمين فى وقت مبكر، وأولوهما كل اهتمام.

ولما كانت أبنية الأسماء، وأبنية الأفعال هى مادة التصريف والاشتقاق، فقد ظفرت هذه الأبنية باهتمام علماء اللغة، والنحو، والتصريف، وألف فى هذه الأبنية جلة من العلماء، وكان للأفعال نصيب وافر من هذه الدراسات. وكان لنحاة الأندلس سبق إلى هذا الميدان، إذ شاركوا بباع طويل فيه، ولعلهم أرادوا بذلك أن يسجلوا لأنفسهم سبقا فى مجال من مجالات العلوم يقفون به مع العلماء المشارقة على قدم المساواة.

وتنصّ كتب التراجم وفهارس الكتب على كثير من الكتب التى ألفت فى أبنية الأفعال قبل كتب المدرسة الأندلسية، غير أنها إلى الرسائل أقرب منها إلى الكتب، ومن هذه التواليف القائم بنفسه مثل:

- كتاب فعلت وأفعلت للأصمعى، ومنه نسخة مخطوطة بالقاهرة ثانى 2/ 28
পরম করুণাময় আল্লাহর নামে

 

সম্পাদকের ভূমিকা

(ক)

আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না। তাঁর অজস্র দান ও নিয়ামতের জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অগণিত অনুগ্রহের জন্য তাঁর গুণগান করি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি সকল রাসূলের সরদার ও শেষ নবী। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর যথাযথভাবে শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।

অতঃপর, নিশ্চয়ই 'তাসরিফ' (শব্দরূপান্তর) এবং 'ইশতিকাক' (শব্দমূল হতে ব্যুৎপত্তি) আরবি ভাষার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং এর শ্রেষ্ঠতম শাস্ত্র। ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণ অনেক আগেই এই উভয় শাস্ত্রের গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন এবং এগুলোকে পূর্ণ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

যেহেতু বিশেষ্য ও ক্রিয়ার গঠনশৈলীই হলো তাসরিফ ও ইশতিকাকের মূল উপাদান, তাই এই গঠনশৈলী ভাষাবিদ, ব্যাকরণবিদ এবং শব্দরূপান্তর বিশেষজ্ঞদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বরেণ্য আলেমগণ এই গঠনশৈলী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এই গবেষণায় ক্রিয়ার গঠন এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে। আন্দালুসিয়ার ব্যাকরণবিদগণ এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাঁরা এতে দীর্ঘ পদচারণা করেছেন। সম্ভবত তাঁরা এর মাধ্যমে জ্ঞানের কোনো একটি শাখায় নিজেদের এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চেয়েছিলেন, যার মাধ্যমে তাঁরা প্রাচ্যের আলেমদের সাথে সমমর্যাদায় দাঁড়াতে পারেন।

জীবনীগ্রন্থ এবং গ্রন্থপঞ্জিগুলোতে আন্দালুসিয়ান ধারার গ্রন্থাবলির আগে ক্রিয়ার গঠনের ওপর রচিত অনেক গ্রন্থের বিবরণ পাওয়া যায়। তবে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থের চেয়ে ক্ষুদ্র পুস্তিকার (রিসালাহ) কাছাকাছি। এই স্বতন্ত্র রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

- আসমাঈ রচিত 'কিতাবু ফাউলতু ওয়া আফআলতু', যার একটি পাণ্ডুলিপি কায়রোতে (দ্বিতীয় ২/২৮) সংরক্ষিত আছে।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ৯)
- وكتاب فعلت وأفعلت لأبى عبيد، ومنه نسخة مخطوطة بالقاهرة ثا 3/ 281

- وكتاب فعلت وأفعلت لأبى حاتم السجستانى، ومنه عدة نسخ مخطوطة بالقاهرة.

- وكتاب فعلت وأفعلت لأبى إسحاق الزجاج، مطبوع فى القاهرة 1368 هـ.

ومن هذه التآليف الذى جاء فصولا وأبوابا فى تواليف أخرى مثل

- ما جاء عن فعلت وأفعلت فى «إصلاح المنطق» لابن السكيت، مطبوع فى القاهرة 1949 م.

- وما جاء عن أبنية الأفعال فى «أدب الكاتب» لابن قتيبة، مطبوع فى القاهرة 1328 هـ.

- وما جاء عن فعلت وأفعلت فى «فصيح ثعلب»، مطبوع فى القاهرة 1368 هـ.

- وما جاء عن فعلت وأفعلت فى «جمهرة ابن دريد»، مطبوع فى حيدرأباد 1345 هـ.

وإذا كانت المحاولات السابقة قد وقفت كتبها عند أبنية خاصة، فإن هناك كتبا أخرى تعرض أصحابها للأفعال عامة دون تخصيص بناء منها، وعلى رأس هولاء من المتقدمين «أبو عبيد»، «فابن السكيت»، ومن المتأخرين «ابن سيده».

وفتح «ابن القوطية» أحد علماء الأندلس ونحاته فى القرن الرابع الهجرى بتأليفه كتاب الأفعال الطريق أمام تلاميذه، ومن جاء بعدهم فحذوا حذوه، ووجدنا عدة مصنفات فى هذا الموضوع ترجع فى أغلبها لعلماء من الأندلس وهى:

- كتاب الأفعال لأبى بكر بن القوطية الذى توفى فى سنة سبع وستين وثلاثمائة هـ.

- وكتاب الأفعال لأبى مروان عبد الملك بن طريف الأندلسى تلميذ «ابن القوطية» ذكره «ابن خير» فى فهرسته، وصاحب «بغية الوعاة» فى ترجمة «ابن طريف» فقال: «وله كتاب حسن فى الأفعال (1)»، وتوفى «ابن طريف» سنة أربعمائة تقريبا

--------------------------------------------

(1) فهرسة ابن خير 356. وبغية الوعاة 2 - 111.
- এবং আবু উবাইদের 'ফাআলতু ওয়া আফআলতু' গ্রন্থ; এর একটি পাণ্ডুলিপি কায়রোতে (৩/ ২৮১) সংরক্ষিত রয়েছে।

- এবং আবু হাতেম আল-সিজিস্তানির 'ফাআলতু ওয়া আফআলতু' গ্রন্থ; কায়রোতে এর বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

- এবং আবু ইসহাক আল-যাজ্জাজের 'ফাআলতু ওয়া আফআলতু' গ্রন্থ; এটি ১৩৬৮ হিজরিতে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে।

এই সকল রচনার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা অন্যান্য গ্রন্থের অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ হিসেবে এসেছে, যেমন:

- ইবনুস সিক্কিতের 'ইসলাহুল মানতিক' গ্রন্থে 'ফাআলতু ওয়া আফআলতু' সংক্রান্ত আলোচনা; এটি ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে।

- ইবনু কুতাইবার 'আদাবুল কাতিব' গ্রন্থে ক্রিয়ার গঠনসমূহ সম্পর্কে যা এসেছে; এটি ১৩২৮ হিজরিতে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে।

- সা'লাবের 'ফাসিহ' গ্রন্থে 'ফাআলতু ওয়া আফআলতু' সংক্রান্ত আলোচনা; এটি ১৩৬৮ হিজরিতে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে।

- ইবনু দুরাইদের 'জামহারাহ' গ্রন্থে 'ফাআলতু ওয়া আফআলতু' সংক্রান্ত আলোচনা; এটি ১৩৪৫ হিজরিতে হায়দ্রাবাদে মুদ্রিত হয়েছে।

যদি পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাগুলোর গ্রন্থসমূহ নির্দিষ্ট কিছু গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে থাকে, তবে এমন আরও কিছু গ্রন্থ রয়েছে যেগুলোর লেখকগণ কোনো বিশেষ গঠন নির্দিষ্ট না করে সাধারণভাবে ক্রিয়াগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রাচীনদের মধ্যে এদের শীর্ষে রয়েছেন 'আবু উবাইদ' ও 'ইবনুস সিক্কিত' এবং পরবর্তীদের মধ্যে রয়েছেন 'ইবনু সিদাহ'।

চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর আন্দালুসের অন্যতম আলেম ও ব্যাকরণবিদ 'ইবনুল কুতিয়্যাহ' তার 'কিতাবুল আফআল' (ক্রিয়া-গ্রন্থ) রচনার মাধ্যমে তার ছাত্র এবং তাদের পরবর্তীদের জন্য পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন; ফলে তারা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। আমরা এই বিষয়ে বেশ কিছু রচনা খুঁজে পাই যেগুলোর অধিকাংশই আন্দালুসের আলেমদের রচিত, আর সেগুলো হলো:

- আবু বকর ইবনুল কুতিয়্যাহর 'কিতাবুল আফআল', যিনি ৩৬৭ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- 'ইবনুল কুতিয়্যাহর' ছাত্র আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক ইবনে তারিফ আল-আন্দালুসির 'কিতাবুল আফআল'। 'ইবনু খাইর' তার সূচিপত্রে (ফিহরিস্ত) এর উল্লেখ করেছেন এবং 'বুগয়াতুল উয়াত' গ্রন্থের লেখক 'ইবনে তারিফের' জীবনীতে বলেছেন: "ক্রিয়া বিষয়ে তার একটি চমৎকার গ্রন্থ রয়েছে (১)"। ইবনে তারিফ আনুমানিক ৪০০ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

(১) ফিহরিস্ত ইবনু খাইর ৩৫৬ এবং বুগয়াতুল উয়াত ২ - ১১১।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১০)
- وكتاب الأفعال لأبى منصور محمد بن على بن عمر بن الجبّان - أحد العلماء المشارقة - ذكره صاحب «بغية الوعاة» فى ترجمة أبى منصور، فقال: «وصنف أبنية الأفعال (1)» وقد توفى بعد سنة ست عشرة وأربعمائة هـ.

- وكتاب الأفعال لأبى القاسم على بن جعفر السعدى اللغوى المعروف بابن القطاع الصقلى، ذكره «ابن خلكان» فى ترجمته (2)، توفى سنة خمس عشرة وخمسمائة هـ.

- وكتاب الأفعال لأبى عبد الله محمد بن يحيى بن هشام الأنصارى الخزرجى الأندلسى، قال عنه صاحب البغية: «وصنف فصل المقال فى أبنية الأفعال (3)»، توفى سنة ست وأربعين وستمائة هـ.

وليس بين أيدينا من كتب هذه المدرسة غير:

- كتاب الأفعال لابن القوطية، طبع فى ليدن 1894 م، والقاهرة 1371 هـ - 1952 م.

- وكتاب الأفعال لابن القطاع، طبع فى حيدرأباد 1361 هـ

وكتاب الأفعال لأبى عثمان سعيد بن محمد المعافرى القرطبى ثم السرقسطى المعروف بابن الحداد، توفى فى

حدود سنة أربعمائة، شهيدا فى إحدى الغزوات. وهو الذى أقدّمه محققا لأول مرة، وسوف يتبين لنا أنه أتمّ وأكمل كتاب يقدم للمكتبة العربية فى هذا الموضوع بإذن الله.

--------------------------------------------

(1) بغية الوعاة 1 - 85.

(2) وفيات الأعيان 3 - 11 الترجمة 420.

(3) بغية الوعاة 1 - 267
- এবং আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আলী বিন উমর বিন আল-জাব্বান —মাশরিকি (পূর্বাঞ্চলীয়) উলামাদের একজন— এর ‘কিতাবুল আফআল’; ‘বুগইয়াতুল উয়াত’ এর লেখক আবু মনসুরের জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: “এবং তিনি ‘আবনিয়াতুল আফআল’ (১) রচনা করেছেন।” তিনি ৪১৬ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন।

- এবং ইবনুল কাত্তাহ আস-সিকিল্লি নামে পরিচিত ভাষাবিদ আবুল কাসিম আলী বিন জাফর আস-সাদীর ‘কিতাবুল আফআল’; ‘ইবনে খাল্লিকান’ তাঁর জীবনীতে (২) এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি ৫১৫ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হিশাম আল-আনসারি আল-খাজরাজি আল-আন্দালুসির ‘কিতাবুল আফআল’; বুগইয়াতুল উয়াত এর লেখক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “তিনি ‘ফাসলুল মাকাল ফি আবনিয়াতুল আফআল’ (৩) রচনা করেছেন।” তিনি ৬৪৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

এই ধারার (মাদরাসা) কিতাবগুলোর মধ্য থেকে আমাদের নিকট কেবল নিম্নোক্তগুলোই আছে:

- ইবনুল কুতিয়্যাহ-র ‘কিতাবুল আফআল’, যা ১৮৯৪ সালে লাইডেন এবং ১৩৭১ হিজরি—১৯৫২ সালে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে।

- এবং ইবনুল কাত্তাহ-র ‘কিতাবুল আফআল’, যা ১৩৬১ হিজরি সালে হায়দ্রাবাদে মুদ্রিত হয়েছে।

এবং ইবনুল হাদ্দাদ নামে পরিচিত আবু উসমান সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-মাআফিরি আল-কুরতুবি অতঃপর আস-সারাকুস্তি-র ‘কিতাবুল আফআল’। তিনি আনুমানিক ৪০০ হিজরি সালে একটি যুদ্ধে শহিদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। এটিই সেই গ্রন্থ যা আমি প্রথমবারের মতো সম্পাদিত আকারে পেশ করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হবে যে, এই বিষয়ে আরবি লাইব্রেরিতে এটিই হচ্ছে পেশকৃত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং ত্রুটিমুক্ত কিতাব।

--------------------------------------------

(১) বুগইয়াতুল উয়াত ১ - ৮৫।

(২) ওফায়াতুল আইয়ান ৩ - ১১, জীবনী ৪২০।

(৩) বুগইয়াতুল উয়াত ১ - ২৬৭
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌(ب) السرقسطى، ومكانته العلمية، ومؤلفاته

‌‌1 - نسب أبى عثمان

هو سعيد بن محمد المعافرى اللغوى، من أهل قرطبة، يكنى أبا عثمان، ويعرف بابن الحداد (1)، ولقّبه بالحمار كل من «حاجى خليفة» صاحب كشف الظنون، و «بروكلمان» فى تاريخ الأدب العربى.

وعبارة كشف الظنون: «ومنهم - أى ممن صنف فى الأفعال - أبو عثمان سعيد بن محمد السرقسطى المنبوز بالحمار (2) …

وعبارة «بروكلمان» - الترجمة العربية - «وكان أشهر تلاميذ ابن القوطية» أبا عثمان سعيد بن محمد المعافرى، القرطبى، السرقسطى المعروف بابن الحداد الحمار (3). ولم يكن أبو عثمان أول من لقب بالحمار. إذ لقب به الخليفة الأموى «مروان بن محمد بن مروان» آخر خلفاء بنى أمية، يتحدث الفخرى عنه، فيقول: «ويقال له الحمار وإنما لقب بالحمار، قالوا: لصبره فى الحرب، وكان شجاعا صاحب دهاء ومكر (4)».

«وأبو عثمان» هى الكنية التى اختارها «سعيد بن محمد» لنفسه، وآثر أن يصدر بها كلامه فى الأفعال.

وليس نسب المعافرى فى اسم أبى عثمان دليلا على أن أبا عثمان ينتمى إلى أصل عربى؛ لأنه يجوز أن يكون أحد الموالى الذين ينتسبون إلى قبيلة «معافر» بالولاء.

--------------------------------------------

(1) الصلة 1 - 213، وبغية الوعاة 1 - 589.

(2) كشف الظنون 1 - 133.

(3) «بروكلمان» الترجمة العربية 3 - 281

(4) الآداب السلطانية 109
(খ) আস-সারাখুস্তি, তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ মর্যাদা এবং তাঁর রচনাবলি

১ - আবু উসমানের বংশপরিচয়

তিনি হলেন সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাআফিরি আল-লুগাভি, কুরতুবার অধিবাসী, তাঁর উপনাম আবু উসমান এবং তিনি ইবনুল হাদ্দাদ (১) নামে পরিচিত। 'কাশফুয যুনুন' এর রচয়িতা 'হাজি খলিফা' এবং 'তারিখুল আদাব আল-আরাবি' গ্রন্থে 'ব্রুকলম্যান'—উভয়েই তাঁকে 'আল-হিমার' উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

কাশফুয যুনুন-এর বক্তব্য হলো: "এবং তাদের মধ্যে—অর্থাৎ যারা 'আল-আফআল' (ক্রিয়া) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন—আবু উসমান সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সারাখুস্তি অন্যতম, যাঁকে 'আল-হিমার' (২) উপনামে ডাকা হতো ...

'ব্রুকলম্যান'-এর বক্তব্য—আরবি অনুবাদ—"এবং ইবনুল কুতিয়্যাহ-র ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন" আবু উসমান সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাআফিরি, আল-কুরতুবি, আস-সারাখুস্তি, যিনি ইবনুল হাদ্দাদ আল-হিমার (৩) নামে পরিচিত। আবু উসমানই প্রথম ব্যক্তি নন যাঁকে 'আল-হিমার' উপাধি দেওয়া হয়েছে। কারণ, উমাইয়া খলিফা 'মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান', যিনি বনু উমাইয়াদের শেষ খলিফা ছিলেন, তাঁকেও এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। আল-ফাখরি তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "তাঁকে আল-হিমার বলা হয়; আর তাঁকে আল-হিমার উপাধি দেওয়ার কারণ সম্পর্কে তাঁরা বলেছে: যুদ্ধে তাঁর ধৈর্যের কারণে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, বিচক্ষণ ও কৌশলী (৪)।"

"আবু উসমান" হলো সেই উপনাম যা 'সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ' নিজের জন্য পছন্দ করেছিলেন এবং 'আল-আফআল' গ্রন্থে নিজের কথা শুরু করার ক্ষেত্রে এটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

আবু উসমানের নামের সাথে 'আল-মাআফিরি' সম্বন্ধ থাকা এই কথার প্রমাণ নয় যে আবু উসমান আরব বংশোদ্ভূত; কেননা এমন হওয়া সম্ভব যে তিনি সেই সকল মাওয়ালিদের (মুক্তদাস) একজন ছিলেন যারা আনুগত্যের (ওয়ালা) মাধ্যমে 'মাআফির' গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আস-সিলা ১ - ২১৩, এবং বুগইয়াতুল উআত ১ - ৫৮৯।

(২) কাশফুয যুনুন ১ - ১৩৩।

(৩) 'ব্রুকলম্যান' আরবি অনুবাদ ৩ - ২৮১

(৪) আল-আদাব আস-সুলতানিয়্যাহ ১০৯
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১২)
ولأبى عثمان سميان من نحاة الأندلس يشتر كان معه فى الاسم، واسم الأب والكنية، ويشترك أحدهما معه فى لقب الجد، هما:

«سعيد بن محمد الغسانى أبو عثمان بن الحداد .. عده الزّبيدى من نحاة الطبقة الثالثة الأندلسيين (1)، وذكر «الزبيدى» له يرجح أنه غير أبى عثمان صاحب الأفعال.

«وسعيد بن محمد النحوى القرطبى أبو عثمان» (2)، روى عنه أبو الحسن على بن أحمد بن سيده وغيره، ورواية ابن سيده الذى ولد فى حدود الأربعمائة من الهجرة عنه، ترجح أنه غير صاحب الأفعال كذلك.

 

‌‌2 - مولد أبى عثمان

والنصوص التى كتبت عن «أبى عثمان» فى كتب التراجم لا تساعد على تحديد تاريخ مولده، ومكانه، ومعرفة الفترة الأولى من حياته، ومراحل تلك الحياة، وعدم المعرفة بتواريخ محددة لميلاد كثير من العلماء ظاهرة شائعة.

والمدخل الذى يقربنا من فترة زمنية لمولد هذا العالم ما جاء فى «الصلة» و «بغية الوعاة» من أنه أخذ عن «أبى بكر بن القوطية»، وهو الذى بسط كتابه فى الأفعال، وزاد فيه، وتوفى بعد الأربعائة شهيدا (3).

وما جاء كذلك فى «تاريخ الأدب العربى» «لبروكلمان» من أنه «كان أشهر تلاميذ ابن القوطية … قتل فى إحدى الغزوات بعد سنة 400 هـ». (4)

--------------------------------------------

(1) طبقات الزبيدى 261، وبغية الوعاة 1 - 589

(2) بغية الوعاة 1 - 589

(3) الصلة 1 - 214، والبغية 1 - 589

(4) بروكلمان الترجمة العربية 3 - 281
আন্দালুসের নাহুবিদদের (ব্যাকরণবিদ) মধ্যে আবু উসমানের সমনামধারী দুইজন ব্যক্তি রয়েছেন, যারা তাঁর সাথে নাম, পিতার নাম এবং কুনিয়াত বা উপনামের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যপূর্ণ; আর তাদের একজন তাঁর সাথে দাদার উপাধিতেও সাদৃশ্যপূর্ণ। তাঁরা হলেন:

«সাঈদ বিন মুহাম্মাদ আল-গাসসানি আবু উসমান বিন আল-হাদ্দাদ... জুবাইদি তাঁকে আন্দালুসিয়ান নাহুবিদদের তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন (১), আর জুবাইদির এই বর্ণনা একথাই জোরালো করে যে, তিনি 'আফআল' (ক্রিয়া) বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা আবু উসমান নন।

«এবং সাঈদ বিন মুহাম্মাদ আন-নাহবি আল-কুরতুবি আবু উসমান» (২), তাঁর থেকে আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন সিদাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। ইবনে সিদাহর—যিনি হিজরি চারশত সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন—তাঁর থেকে এই বর্ণনা একথাই জোরালো করে যে, তিনিও একইভাবে 'আফআল' গ্রন্থের রচয়িতা নন।

 

‌‌২ - আবু উসমানের জন্ম

জীবনীগ্রন্থসমূহে «আবু উসমান» সম্পর্কে যা কিছু লিখিত হয়েছে, তা তাঁর জন্মের তারিখ, স্থান, তাঁর জীবনের প্রাথমিক সময়কাল এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায় নির্ধারণে সহায়তা করে না। আর অনেক আলেমের জন্মের সুনির্দিষ্ট তারিখ না জানা থাকা একটি সাধারণ বিষয়।

এই আলেমের জন্মের সময়কাল সম্পর্কে ধারণা দেয় এমন একটি সূত্র হলো 'আস-সিলাহ' এবং 'বুগয়াতুল উয়াত' গ্রন্থে বর্ণিত তথ্য যে, তিনি «আবু বকর ইবনুল কুতিয়াহ» থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন; আর তিনিই তাঁর 'আফআল' গ্রন্থটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন এবং তাতে পরিবর্ধন করেন, এবং চারশত হিজরির পর শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

অনুরূপভাবে ব্রোকলম্যানের «তারিখুল আদাবিল আরাবি» (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস) গ্রন্থে এসেছে যে, «তিনি ছিলেন ইবনুল কুতিয়াহর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছাত্রদের একজন... ৪০০ হিজরির পর কোনো এক যুদ্ধে তিনি নিহত হন।» (৪)

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুজ জুবাইদি ২৬১, এবং বুগয়াতুল উয়াত ১ - ৫৮৯

(২) বুগয়াতুল উয়াত ১ - ৫৮৯

(৩) আস-সিলাহ ১ - ২১৪, এবং আল-বুগয়াহ ১ - ৫৮৯

(৪) ব্রোকলম্যান, আরবি অনুবাদ ৩ - ২৮১
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وما جاء فى مقدمة «أبى عثمان» لكتابه من أنه روى أفعال ابن القوطية على مؤلفه رحمه الله (1).

وإذا قارنا تلمذته على ابن القوطية الذى توفى سنة سبع وستين وثلاثمائة (2)، وروايته كتابه عليه، واستشهاده

فى إحدى الغزوات بعد سنة أربعمائة هـ، وقدرته على الجهاد فى هذه الفترة، أمكننا أن نقول: إن مولده كان فيما حول سنة أربعين وثلاثمائة من الهجرة؛ لأن هذه البداية تصل بأبى عثمان عند وفاة شيخه إلى سن تسمح بتلمذة، وتمنح شهرة على الأقران من تلاميذ ابن القوطية، وتمكن من روايته كتاب شيخه عليه، وتصحيح تلك الرواية، وفى نفس الوقت تحتفظ لأبى عثمان بعد سنة أربعمائة هـ بقدرة تمكنه من المشاركة فى الجهاد، وجهاد عالم عامل قوى الإيمان، يتطوع للجهاد طمعا فى الاستشهاد، وهو فى الستين من عمره أمر كثير الحدوث.

 

‌‌3 - نشأة السرقسطى

تقف المصادر التى ترجمت لأبى عثمان، والنصوص التى بين أيدينا عنه - كما قلنا - قاصرة عن تزويد الباحث بما يمكنه من التعريف بنشأة هذا العالم فى سهولة، وقصور المصادر لا يعنى العجز، ولا يعفى الباحث من تتبع الظروف التى أحاطت بتلك الشخصية، وتحليلها، والربط بين نتائجها من أجل استنتاج ما يمكن أن يقترب من درجة الحقائق عن تلك الشخصية، والبيئة العلمية التى عاش فيها أبو عثمان، والخيوط الرفيعة التى بين أيدينا عن تلمذته، وكتابه «الأفعال»، ثم شهادته مجاهدا فى سبيل الله، يمكن أن تكون منابع نستقى منها بعض معارف هذه النشأة.

--------------------------------------------

(1) مقدمة أفعال أبى عثمان.

(2) تاريخ ابن الفرضى 1 - 370
আবু উসমানের কিতাবের ভূমিকায় যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইবনুল কুতিয়্যাহর 'আফআল' গ্রন্থটি এর লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) নিকট বর্ণনা করেছেন (১)।

আর আমরা যদি ৩৬৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী ইবনুল কুতিয়্যাহর (২) নিকট তাঁর ছাত্রত্ব গ্রহণ, তাঁর নিকট কিতাবটির বর্ণনা এবং ৪০০ হিজরীর পরবর্তী কোনো এক যুদ্ধে তাঁর শাহাদাত বরণ

ও এই সময়ে তাঁর জিহাদ করার সক্ষমতার তুলনা করি, তবে আমরা বলতে পারি যে: তাঁর জন্ম হয়েছিল ৩৪০ হিজরীর কাছাকাছি কোনো সময়ে; কারণ এই প্রারম্ভকাল আবু উসমানকে তাঁর শায়খের মৃত্যুর সময় এমন এক বয়সে উপনীত করে যা ছাত্রত্বের সুযোগ দেয় এবং ইবনুল কুতিয়্যাহর ছাত্রদের মধ্যে সমসাময়িকদের ওপর তাঁকে খ্যাতি দান করে, এবং তাঁর শায়খের নিকট থেকে কিতাবটি বর্ণনা করা ও সেই বর্ণনাটি সংশোধন করার সক্ষমতা দেয়। একই সাথে এটি ৪০০ হিজরীর পর আবু উসমানের জিহাদে অংশগ্রহণের সক্ষমতা বজায় রাখে; আর একজন আমলকারী আলেম ও সুদৃঢ় ঈমানের অধিকারীর জিহাদ করা, যিনি শাহাদাতের কামনায় স্বেচ্ছায় জিহাদে শরিক হন যখন তাঁর বয়স ষাট বছর—এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়।

 

‌‌৩ - সারাকুস্তির বেড়ে ওঠা

যেসব উৎস আবু উসমানের জীবনী বর্ণনা করেছে এবং তাঁর সম্পর্কে আমাদের হাতে যে সকল বর্ণনা রয়েছে—যেমনটি আমরা বলেছি—তা এই আলেমের বেড়ে ওঠা সম্পর্কে গবেষককে সহজে পরিচয় করিয়ে দিতে অপর্যাপ্ত। উৎসের এই অপর্যাপ্ততার অর্থ অক্ষমতা নয়, এবং এটি গবেষককে সেই ব্যক্তিত্বের চারপাশের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ এবং ফলাফলের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় না, যাতে সেই ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সত্যের কাছাকাছি কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। আবু উসমান যে ইলমি পরিবেশে বাস করতেন এবং তাঁর ছাত্রত্ব সম্পর্কে আমাদের হাতে থাকা সূক্ষ্ম সূত্রসমূহ, তাঁর গ্রন্থ ‘আল-আফআল’, অতঃপর আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদ হিসেবে তাঁর শাহাদাত বরণ—এগুলো এমন উৎস হতে পারে যেখান থেকে আমরা তাঁর জীবনের এই বেড়ে ওঠা সম্পর্কে কিছু জ্ঞান আহরণ করতে পারি।

--------------------------------------------

(১) আবু উসমানের আফআল গ্রন্থের ভূমিকা।

(২) তারিখু ইবনিল ফারাযী ১ - ৩৭০
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وإذا كانت «قرطبة» قد حققت فى النصف الأول من القرن الرابع الهجرى على يد الخليفة الأموى «عبد الرحمن الناصر «300: 350 هـ» نوعا من الاستقرار السياسى، وحقق لها هذا الخليفة النصر فى الداخل والخارج (1)، وأقبلت على «قرطبة» وفود ملوك الروم … وسائر الأمم خاضعة راغبة فى موادعته (2)، فإنها فى النصف الثانى من هذا القرن قد حققت فى عهد الخليفة الحكم المستنصر وعهد الحاجب «المنصور بن أبى عامر - الذى تسمى بالحاجب - سنة إحدى وسبعين وثلاثمائة هـ (3)» نهضة علمية، وفكرية، ولغوية واسعة، وأصبحت جامعتها من أشهر جامعات العالم.

وكان يدرس الحديث فيها «أبو بكر بن معاوية القرشى»، وفيها أملى «أبو على القالى» - ضيف الأندلس - دروسه عن العرب قبل الإسلام، وكان «ابن القوطية» يدرس النحو.، وكان يدرس بقية العلوم أساتذة من أعلام العصر،

وكان الطلبة يعدون بالآلاف (4).

وإذا كان «المعافرى» أشهر تلاميذ ابن القوطية» وكتاب الأفعال له بسط لكتاب شيخه بعد أن أفرد له عنايته، وجعل له حظا من نظره (5) حتى خرج أكمل وأشمل كتب الأفعال التى بين أيدينا، وأوفاها نحوا، وصرفا، ولغة، وأدبا، ثم آثر التطوع والجهاد فى سبيل الله، وفضل ما عنده، فإنى أقول مرجحا: إن أبا عثمان سعيد بن محمد المعافرى القرطبى السرقسطى ولد فى «قرطبة» أو رحل إليها صغيرا مع أسرته من «سرقسطة» حيث مجالات العمل فى «قرطبة» متوافرة، وأنه نشأ، وشب فى «قرطبة» يتمتع بقدرات فطرية طيبة من الذكاء، وملكة الحفظ، وروح التدين، والقدرة على الاستيعاب، والتقى بهذه القدرات مع شيوخ

--------------------------------------------

(1) تاريخ الأدب العربى فى الأندلس د - إحسان عباس 14

(2) نفح الطييب 1 - 343

(3) الدولة الإسلامية فى الأندلس محمد عبد الله عنان 2 - 552

(4) نفس المصدر 2 - 517

(5) مقدمة أفعال أبى عثمان.
যদি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধে উমাইয়া খলিফা ‘আবদুর রহমান আন-নাসির’ (৩০০-৩৫০ হিজরি)-এর হাতে ‘কুরতুবা’ এক প্রকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করে থাকে, এবং এই খলিফা দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে তার জন্য বিজয় নিশ্চিত করেন (১), আর রোমান সম্রাটদের প্রতিনিধি দল … ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী তার বশ্যতা স্বীকার করে ও সন্ধির আশায় কুরতুবায় আগমন করে (২); তবে এই শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে খলিফা আল-হাকাম আল-মুস্তানসিরের শাসনামলে এবং হাজিব ‘আল-মনসুর ইবনে আবি আমির—যিনি ৩৭১ হিজরিতে হাজিব উপাধি লাভ করেন (৩)’—এর যুগে এটি এক ব্যাপক জ্ঞানতাত্ত্বিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও ভাষাগত জাগরণ অর্জন করেছিল এবং এর বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছিল।

সেখানে ‘আবু বকর ইবনে মুয়াবিয়া আল-কুরাশি’ হাদিস শাস্ত্রের পাঠ দান করতেন। আর সেখানে ‘আবু আলি আল-কালি’—যিনি আন্দালুসের মেহমান ছিলেন—প্রাক-ইসলামী আরবদের সম্পর্কে তার পাঠগুলো প্রদান করতেন। ‘ইবনুল কুতিয়্যাহ’ নাহু (ব্যাকরণ) পড়াতেন। অন্যান্য বিজ্ঞানসমূহ সে যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষীগণ শিক্ষা দিতেন।

শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাজারে হাজার (৪)।

আর যদি ‘আল-মাআফিরি’ ইবনুল কুতিয়্যাহর সবচেয়ে বিখ্যাত ছাত্র হয়ে থাকেন এবং তার রচিত ‘কিতাবুল আফআল’ গ্রন্থটি তার শিক্ষকের কিতাবেরই এক বিস্তৃত রূপ হয়—যা তিনি গভীর মনোযোগ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন (৫) যাতে এটি আমাদের হাতে থাকা ‘আফআল’ সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং নাহু, সরফ, ভাষা ও সাহিত্যের দিক থেকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ হয়; অতঃপর তিনি আল্লাহর পথে স্বেচ্ছাসেবা ও জিহাদকে অগ্রাধিকার দেন এবং তার নিকট যা ছিল তাকেই শ্রেষ্ঠ মনে করেন, তবে আমি প্রবল মত হিসেবে বলছি: আবু উসমান সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাআফিরি আল-কুরতুবি আস-সারাগুস্তি কুরতুবাতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন অথবা শৈশবে তার পরিবারের সাথে ‘সারাগুস্তা’ থেকে সেখানে হিজরত করেছিলেন যেখানে কুরতুবাতে কাজের সুযোগ প্রচুর ছিল। তিনি কুরতুবাতেই বেড়ে ওঠেন এবং যৌবনে পদার্পণ করেন। তিনি সহজাত মেধা, মুখস্থ করার ক্ষমতা, ধর্মীয় চেতনা এবং আত্মস্থ করার সক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। এসব গুণাবলি নিয়েই তিনি শায়েখদের সাথে সাক্ষাৎ করেন...

--------------------------------------------

(১) আন্দালুসের আরবি সাহিত্যের ইতিহাস, ড. ইহসান আব্বাস, ১৪।

(২) নাফহুত তিব, ১ - ৩৪৩।

(৩) আন্দালুসে ইসলামি রাষ্ট্র, মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইনান, ২ - ৫৫২।

(৪) একই উৎস, ২ - ৫১৭।

(৫) আবু উসমানের ‘আফআল’ গ্রন্থের ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১৫)
عصره فى جامعة «قرطبة» ونهل من علومهم، وأنه اختص من بين هؤلاء العلماء أبا بكر بن القوطية، فلازمه، وقرأ عليه، واحتل مكان الصدارة بين طلبته، وتخرج عليه فى علوم اللغة، والنحو، والتصريف، كما تتلمذ على كتب مكتبة «قرطبة» التى جمع فيها الخليفة الحكم المستنصر ثروة زاخرة من الكتب فى مختلف فروع العلم والمعرفة، واتصل بالقرآن وعلومه، والحديث وشروحه، تدفعه إلى ذلك روح دينية تمكنت منه، فصرفته عن الدنيا، والبحث عن الشهرة فيها، وحببت إليه الآخرة، والعمل من أجل الفوز بها.

 

‌‌4 - شيوخ أبى عثمان

نصت المصادر التى ترجمت له على تلمذته لأبى بكر محمد بن عمر بن القوطية.

وكان أبو بكر هذا رأسا فى اللغة والنحو، حافظا للأخبار وأيام الناس، فقيها محدثا، متقنا، كثير التصانيف، صاحب عبادة ونسك، روى عن سعيد بن جابر، وطاهر بن عبد العزيز وسمع بإشبيلية من محمد بن عبيد الزبيدى، وبقرطبة من أبى الوليد الأعرج، مدحه «أبو على القالى»: بأنه أنبل من رأى بقرطبة فى اللغة، وقد تخرج عليه كثير

من علماء الأندلس، وكان أبو عثمان المعافرى أشهر تلاميذه.

توفى رحمه الله يوم الثلاثاء لسبع بقين من ربيع الأول سنة سبع وستين وثلاثمائة هـ (1).

وروى أبو عثمان فى كتابه عن شيخ من معاصريه هو:

أبو العلاء صاعد بن الحسن بن عيسى الربعى البغدادى اللغوى. صحب الفارسى والخطابى وروى عنهم، وكان متقدما فى علم اللغة، وكان أحضر الناس شاهدا، وأرواهم. لكلمة غريبة. دخل الأندلس سنة ثمانين وثلاثمائة، وأصبح من متقدمى ندامى المنصور بن أبى عامر … توفى رحمه الله بصقلية سنة سبع عشرة وأربعمائة هـ (2).

--------------------------------------------

(1) له ترجمة فى تاريخ علماء الأندلس 1 - 370، ومعجم الأدباء 18 - 272، وبغية الوعاه 1 - 198، وشذرات الذهب 13 - 62، وطبقات المالكية 99. وغيرها.

(2) له ترجمة فى وفيات الأعيان 1 - 229، ومعجم الأدباء 11 - 281، ونفح الطيب 2 - 86، والمعجب 19
তিনি তাঁর সময়ের ‘কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ে’ অধ্যয়ন করেন এবং তাঁদের জ্ঞান থেকে সিক্ত হন। তিনি এই আলেমদের মধ্য থেকে আবু বকর ইবনুল কূতিয়্যাহকে বিশেষভাবে বেছে নেন, ফলে তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন, তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেন এবং তাঁর ছাত্রদের মধ্যে শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত হন। তিনি তাঁর কাছে ভাষাবিজ্ঞান, ব্যাকরণ এবং শব্দরূপান্তর (সারফ) বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ‘কর্ডোভা’ গ্রন্থাগারের বইসমূহ থেকেও জ্ঞান অর্জন করেন, যেখানে খলিফা হাকাম আল-মুস্তানসির জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বইয়ের এক বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তুলেছিলেন। তিনি কুরআন ও কুরআনের জ্ঞান এবং হাদিস ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের সাথে সম্পৃক্ত হন। এক ধর্মীয় স্পৃহা তাঁকে এর প্রতি ধাবিত করেছিল যা তাঁর অন্তরে গেঁথে গিয়েছিল; ফলে এটি তাঁকে দুনিয়া ও সেখানে প্রসিদ্ধি অনুসন্ধান থেকে বিমুখ করে দেয় এবং তাঁর কাছে আখিরাত ও তা লাভের উদ্দেশ্যে আমল করাকে প্রিয় করে তোলে।

 

‌‌৪ - আবু উসমানের শায়খগণ

যাঁরা তাঁর জীবনী রচনা করেছেন সেই উৎসগুলোতে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনুল কূতিয়্যাহর কাছে তাঁর ছাত্রত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আবু বকর ছিলেন ভাষাবিজ্ঞান ও ব্যাকরণে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, ইতিহাস ও প্রাচীন যুদ্ধবিগ্রহের কাহিনীতে হাফেজ, একজন ফকিহ, মুহাদ্দিস, সুদক্ষ এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ও পরহেজগার ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সাঈদ ইবনে জাবির এবং তাহির ইবনে আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইশবিলিয়ায় মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আজ-জুবাইদী থেকে এবং কর্ডোভায় আবুল ওয়ালীদ আল-আরাজ থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। ‘আবু আলী আল-কালী’ তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন যে, ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কর্ডোভায় দেখা ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে মার্জিত। তাঁর কাছে আন্দালুসের বহু আলেম শিক্ষা লাভ করেছেন এবং আবু উসমান আল-মাআফিরী ছিলেন তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছাত্র।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৩৬৭ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের সাত দিন বাকি থাকতে মঙ্গলবারে ইন্তেকাল করেন (১)।

আবু উসমান তাঁর কিতাবে তাঁর সমসাময়িক একজন শায়খ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন:

আবু আল-আলা সায়েদ ইবনুল হাসান ইবনে ঈসা আর-রুবায়ি আল-বাগদাদী আল-লুগাভী। তিনি আল-ফারিসী ও আল-খাত্তাবীর সাহচর্য লাভ করেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা করেন। তিনি ভাষাবিজ্ঞানে অগ্রগামী ছিলেন এবং মানুষের নিকট দলিল উপস্থাপনে সবচেয়ে দক্ষ ও দুর্লভ শব্দাবলির বর্ণনায় সবচেয়ে পারদর্শী ছিলেন। তিনি ৩৮০ হিজরি সনে আন্দালুসে প্রবেশ করেন এবং মানসুর ইবনে আবি আমিরের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অগ্রগণ্য ব্যক্তিতে পরিণত হন... তিনি ৪১৭ হিজরি সনে সিসিলিতে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) (২)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রয়েছে: তারিখু উলামাইল আন্দালুস ১-৩৭০, মুজামুল উদাবা ১৮-২৭২, বুগয়াতুল উয়াত ১-১৯৮, শাজারাতুজ জাহাব ১৩-৬২, তাবাকাতুল মালিকিয়্যাহ ৯৯ এবং অন্যান্য গ্রন্থে।

(২) তাঁর জীবনী রয়েছে: ওয়াফায়াতুল আইয়ান ১-২২৯, মুজামুল উদাবা ১১-২৮১, নাফহুত তীব ২-৮৬, আল-মুজিব ১৯।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد نقل «أبو عثمان» عن «أبى العلاء» مصرحا بالرواية عنه فى سبعة أفعال من كتابه هى: أدا - أشر - أتم - أرم - ألق - هرّ - هبص.

ومع من التقى بهم «أبو عثمان سعيد المعافرى» من الشيوخ، وأخذ عنهم من العلماء يظل «أبو بكر بن القوطية» شيخه الأول، وصاحب الفضل الأكبر فى إذكاء نبوغه، وتخريجه عالما فى اللغة، والتصريف، والنحو، وأغلب الظن أن «أبا عثمان» ظل وفيا لشيخه، ملازما له، آخذا عنه حتى توفى الشيخ رحمه الله، وأن أفعال «ابن القوطية» كانت الدافع الأول الذى دفع أبا عثمان» لتأليف أثره الوحيد الباقى بين أيدينا، والذى كان سببا فى كشف شخصيته، ونشر أثره.

 

‌‌5 - مذهبه النحوى

إن الحركة اللغوية والنحوية التى عاش «أبو عثمان» فى كنفها، وتتلمذ على شيوخها وتخرج فيها جاءت ثمرة عدة عوامل، فى مقدمتها:

رحلة علماء من الأندلس إلى المشرق العربى، التقوا فيه بالعلماء المشارقة المتقدمين من بصريين وكوفيين، وتتلمذوا عليهم، ورووا عنهم، وتخرجوا على أيديهم، وعادوا إلى الأندلس يحملون علم البصريين، وعلم الكوفيين، وعلم من أخذ عن المدرستين، وجمع بين المذهبين، رواية ومؤلفات، وعلى هذا العلم تخرج النحاة واللغويون فى

الأندلس.

وإذا رجعنا إلى كتاب «أبى عثمان» وجدنا أنه روى عن شيوخ المدرستين، روى عن أبى زيد، والأصمعى، وابن دريد، وأبى حاتم من شيوخ البصريين، وروى عن ابن الأعرابى، وابن السكيت، وأبى عبيد من شيوخ الكوفيين، وروى عن غير هؤلاء من الفريقين، وأنه لم يرض لنفسه أن يكون أسير مذهب بعينه، أو يتعصب لقول، وإنما يأخذ عن المتقدمين، ويروى لكثير منهم، وينتصر للمحسن بعد أن يمحص ما روى عنه، ويتثبت من أنه الصواب. ولا عجب فى هذا فتلك خطة التآليف فى ذلك العصر الذى نضجت فيه العلوم وتحددت المذاهب.
وقد نقل «أبو عثمان» عن «أبى العلاء» مصرحا بالرواية عنه فى سبعة أفعال من كتابه هى: أدا - أشر - أتم - أرم - ألق - هرّ - هبص.আবু উসমান তাঁর কিতাবের সাতটি ক্রিয়ার বর্ণনার ক্ষেত্রে আবু আল-আলা থেকে স্পষ্ট উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেগুলো হলো: আদা - আশারা - আতাম্মা - আরামা - আলকা - হাররা - হাবাসা।

ومع من التقى بهم «أبو عثمان سعيد المعافرى» من الشيوخ، وأخذ عنهم من العلماء يظل «أبو بكر بن القوطية» شيخه الأول، وصاحب الفضل الأكبر فى إذكاء نبوغه، وتخريجه عالما فى اللغة، والتصريف، والنحو، وأغلب الظন أن «أبا عثمان» ظل وفيا لشيخه، ملازما له، آخذا عنه حتى توفى الشيخ رحمه الله، وأن أفعال «ابن القوطية» كانت الدافع الأول الذى دفع أبا عثمان» لتأليف أثره الوحيد الباقى بين أيدينا، والذى كان سببا فى كشف شخصيته، ونشر أثره।আবু উসমান সাঈদ আল-মাআফিরি যেসব শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং যেসব আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে আবু বকর ইবনুল কুতিয়্যাহ তাঁর প্রধান শিক্ষক হিসেবে গণ্য হন। তাঁর মেধা বিকাশে এবং তাকে ভাষা, রূপতত্ত্ব ও ব্যাকরণবিদ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানই সবচেয়ে বেশি। প্রবল ধারণা এই যে, আবু উসমান তাঁর শিক্ষকের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে থেকে ইলম অর্জন অব্যাহত রেখেছিলেন যতক্ষণ না সেই শায়খ মৃত্যুবরণ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) করেন। আর ইবনুল কুতিয়্যাহর 'আফ'আল' (ক্রিয়াসমূহ) বিষয়ক গ্রন্থটিই ছিল আবু উসমানকে তাঁর একমাত্র বিদ্যমান কীর্তিটি রচনার পেছনে মূল চালিকাশক্তি, যা তাঁর ব্যক্তিত্বকে উন্মোচন এবং তাঁর অবদান প্রসারের কারণ হয়েছিল।

 

‌‌৫ - তাঁর ব্যাকরণিক মাযহাব

إن الحركة اللغوية والنحوية التى عاش «أبو عثمان» فى كنفها، وتتلمذ على شيوخها وتخرج فيها جاءت ثمرة عدة عوامل، فى مقدمتها:আবু উসমান যে ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণিক আন্দোলনের আবহে জীবন অতিবাহিত করেছেন, যার শায়খদের নিকট তিনি পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং যেখান থেকে তিনি বুৎপত্তি অর্জন করেছেন, তা মূলত কয়েকটি উপাদানের ফসল ছিল, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে:

رحلة علماء من الأندلس إلى المشرق العربى، التقوا فيه بالعلماء المشارقة المتقدمين من بصريين وكوفيين، وتتلمذوا عليهم، ورووا عنهم، وتخرجوا على أيديهم، وعادوا إلى الأندلس يحملون علم البصريين، وعلم الكوفيين، وعلم من أخذ عن المدرستين، وجمع بين المذهبين، رواية ومؤلفات، وعلى هذا العلم تخرج النحاة واللغويون فى আন্দালুসের আলেমদের আরব প্রাচ্যে সফর, সেখানে তাঁরা বসরা ও কুফা ঘরানার প্রাচীন প্রাচ্যদেশীয় আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁরা তাঁদের থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁদের তত্ত্বাবধানেই শিক্ষা সমাপ্ত করেন। অতঃপর তাঁরা বসরা ও কুফাবাসীদের ইলম এবং যাঁরা উভয় ঘরানা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দুই মতবাদের সমন্বয় ঘটিয়েছেন, তাঁদের ইলম, বর্ণনা ও গ্রন্থাবলি সাথে নিয়ে আন্দালুসে ফিরে আসেন। এই ইলমের ওপর ভিত্তি করেই আন্দালুসের ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণ গড়ে ওঠেন।

الأندلس.আন্দালুসে।

وإذا رجعنا إلى كتاب «أبى عثمان» وجدنا أنه روى عن شيوخ المدرستين، روى عن أبى زيد، والأصمعى، ابن دريد، وأبى حاتم من شيوخ البصريين، وروى عن ابن الأعرابى، وابن السكيت، وأبى عبيد من شيوخ الكوفيين، وروى عن غير هؤلاء من الفريقين، وأنه لم يرض لنفسه أن يكون أسير مذهب بعينه، أو يتعصب لقول، وإنما يأخذ عن المتقدمين، ويروى لكثير منهم، وينتصر للمحسن بعد أن يمحص ما روى عنه، ويتثبت من أنه الصواب. ولا عجب فى هذا فتلك خطة التآليف فى ذلك العصر الذى نضجت فيه العلوم وتحددت المذاهب.আমরা যদি আবু উসমানের কিতাবটির দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাই যে তিনি উভয় ঘরানার শায়খদের থেকেই বর্ণনা করেছেন। তিনি বসরা ঘরানার শায়খদের মধ্যে আবু যায়েদ, আল-আসমাঈ, ইবনে দুরিদ ও আবু হাতিম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার কুফা ঘরানার শায়খদের মধ্যে ইবনুল আরাবি, ইবনুস সিক্কিত ও আবু উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি এই দুই দলের বাইরে অন্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের শিকলে বন্দি রাখতে কিংবা কোনো বিশেষ মতের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করতে পছন্দ করেননি। বরং তিনি পূর্বসূরিদের থেকে গ্রহণ করতেন, তাঁদের অনেকের থেকে বর্ণনা করতেন এবং যা বর্ণিত হয়েছে তা যাচাই-বাছাই করার পর যেটি সঠিক বলে প্রমাণিত হতো, সেই উত্তম মতের পক্ষাবলম্বন করতেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ এটি ছিল সেই যুগের রচনাশৈলী যখন জ্ঞান-বিজ্ঞান পূর্ণতা লাভ করেছিল এবং মাযহাবসমূহ সুনির্দিষ্ট রূপ পরিগ্রহ করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌6 - شخصية أبى عثمان العلمية

لم يظفر «أبو عثمان المعافرى» بما يستحق من اهتمام العلماء الذين ألفوا فى التراجم من المشارقة والمغاربة على السواء، قريبين من عصره، أو متأخرين، حتى علماء الأندلس الذين عاصروه، وتتلمذوا على «أبى بكر بن القوطية» شيخ أبى عثمان مثل أبى الوليد عبد الله بن محمد بن يوسف بن الفرضى صاحب تاريخ علماء الأندلس، ولم يكن «أبو عثمان» بدعا فى ذلك، بل كان هذا نصيب كثير من العلماء، وبخاصة علماء الأندلس، يقول «بروكلمان» عن علماء مصر، واليمن، والأندلس «والترجمة لهؤلاء العلماء محدودة فى كتب التراجم، فبينما نرى أن علماء البلاد الأخرى احتلت أسماؤهم الكثير من صفحات كتب التراجم أو معظمها، إذ بنا نرى أن علماء مصر، واليمن، والأندلس لم ترد تراجمهم إلا فى كتب قلة من كتب التراجم، وبعضهم لم يذكر فى شئ منها (1).

وإذا عزت النصوص المكتوبة التى تفيد فى تأكيد مكانة هذا العالم، فإن كتاب الأفعال - بما حوى من ثروة لغوية، ونحوية، وصرفية، وأدبية، ودراية بالقراءات، ونقول غير محدودة عن العلماء المتقدمين، ودقة تامة فى نسبة ما رواه عنهم، وإثبات كل هذا بشواهد من الشعر، والرجز، والقرآن، والحديث، والأمثال، وأقوال الأعراب يقف بنا أمام عالم يتميز فى إنتاجه العلمى بسمات من أبرزها:

- الصبر والأناة والاستقراء لآراء العلماء حول المعنى الواحد.

- تتبع آراء العالم فى أكثر من موضع وأكثر من كتاب.

- عرض الآراء، وتمحيصها، ونقدها إن كان للنقد مكان.

- الاستيثاق التام فى نقل الآراء ونسبة الرواية والاستشهاد إذا أدى ترك النّص إلى اللبس.

- ثقافة، وسعة معارف، وثروة من الفوائد التى يحفل بها الكتاب.

--------------------------------------------

(1) بروكلمان الترجمة العربية 3 - 274
৬ - আবু উসমানের জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব

‘আবু উসমান আল-মা‘আফিরি’ প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সেই সকল আলেমদের থেকে যথাযথ মনোযোগ পাননি যারা জীবনীগ্রন্থ (তারাজিম) রচনা করেছেন, চাই তারা তাঁর সমসাময়িক হোন বা পরবর্তী যুগের। এমনকি আন্দালুসিয়ার সেই আলেমগণও নয় যারা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং আবু উসমানের উস্তাদ ‘আবু বকর ইবনুল কুতিয়্যাহ’র নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছিলেন; যেমন ‘তারিখু উলামাইল আন্দালুস’ (আন্দালুসিয়ার আলেমদের ইতিহাস) গ্রন্থের রচয়িতা আবু আল-ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আল-ফারাদি। এক্ষেত্রে ‘আবু উসমান’ কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না, বরং এটি ছিল অনেক আলেমেরই ভাগ্য, বিশেষ করে আন্দালুসিয়ার আলেমদের ক্ষেত্রে। মিশর, ইয়েমেন এবং আন্দালুসিয়ার আলেমদের সম্পর্কে ‘ব্রোকলম্যান’ বলেন, “জীবনীগ্রন্থগুলোতে এই আলেমদের পরিচিতি অত্যন্ত সীমিত। যেখানে আমরা দেখি যে অন্যান্য অঞ্চলের আলেমদের নাম জীবনীগ্রন্থগুলোর অনেক পৃষ্ঠা বা অধিকাংশ জুড়ে স্থান পেয়েছে, সেখানে আমরা দেখি যে মিশর, ইয়েমেন এবং আন্দালুসিয়ার আলেমদের জীবনী কেবল হাতেগোনা কয়েকটি জীবনীগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের কেউ কেউ কোনো গ্রন্থেই উল্লিখিত হননি (১)।

যদি এই আলেমের মর্যাদা নিশ্চিত করার মতো লিখিত নথির অভাবও থেকে থাকে, তবে তাঁর ‘কিতাবুল আফআল’ (ক্রিয়াপদ সংকলন)—যা ভাষাতাত্ত্বিক, ব্যাকরণগত, রূপতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক সম্পদ, কিরাত বিষয়ক পাণ্ডিত্য, পূর্ববর্তী আলেমদের থেকে অগণিত উদ্ধৃতি এবং সেগুলোর নিখুঁত সূত্রায়ন দ্বারা সমৃদ্ধ এবং যা কবিতা, রাজায ছন্দ, কুরআন, হাদিস, প্রবাদ ও আরব বেদুঈনদের উক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত—আমাদের এমন একজন আলেমের সামনে দাঁড় করায় যার জ্ঞানতাত্ত্বিক সৃষ্টিশীলতা কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র:

- একটি নির্দিষ্ট অর্থের বিষয়ে আলেমদের মতামতের ক্ষেত্রে ধৈর্য, ধীরস্থিরতা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান।

- একাধিক স্থানে এবং একাধিক কিতাবে কোনো নির্দিষ্ট আলেমের মতামতের অনুসরণ করা।

- মতামতসমূহ উপস্থাপন করা, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা এবং সমালোচনার অবকাশ থাকলে সমালোচনা করা।

- মতামত বর্ণনা এবং উদ্ধৃতির সূত্রের ক্ষেত্রে পূর্ণ নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, যদি মূল পাঠ্য বাদ দিলে কোনো অস্পষ্টতা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।

- পাণ্ডিত্য, জ্ঞানের বিশালতা এবং কিতাবটিতে বিদ্যমান অগণিত জ্ঞানগর্ভ তথ্যের প্রাচুর্য।

--------------------------------------------

(১) ব্রোকলম্যান, আরবি অনুবাদ ৩ - ২৭৪
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১৮)
- عالم أديب ذواقة لا يقف عند البيت الذى يورده لإثبات القاعدة وإنما يروى المقطوعة الشعرية، والنادرة الطريفة التى تربى ذوقا، وتكسب تجربة.

- ثقافة دينية، ودراية واسعة بعلوم القرآن والحديث.

- أمانة علمية فائقة، ودقة تامة فى نسبة الأقوال لمن تقدم من العلماء.

 

‌‌7 - وفاته

لا نعرف على وجه التحديد تاريخ وفاة «أبى عثمان»، وتجمع الروايات التى بين أيدينا على أنه توفى بعد الأربعمائة، شهيدا فى إحدى الوقائع.

يقول «ابن بشكوال» (1) فى الصّلة: «وتوفى بعد الأربعمائة شهيدا فى إحدى الوقائع.

ونقل السيوطى فى البغية (2) عبارة ابن بشكوال».

ويقول «بروكلمان»: قتل فى إحدى الغزوات بعد سنة أربعمائة هـ ألف وعشر بعد الميلاد (3).

وإذا رجعنا إلى المصادر التاريخية للتعرف على الظروف التى مرت بها «قرطبة» مع خاتم المائة الرابعة، والسنوات التى تلتها، وحاولنا الاعتماد على هذه الظروف فى الاقتراب من تحديد تاريخ الوفاة على وجه التقريب وجدنا أن «قرطبة» عاشت فى حالة صراع عنيف حول الخلافة، وفتن ضارية عصفت بحضارتها، وشردت الكثير من أبنائها (4)، وعرفنا أن المسلمين شغلوا فى هذه الفترة عن الغزو الخارجى بالفتن الداخلية، ورجحنا أن «ابن الحداد السرقسطى» قد استشهد فى إحدى هذه الفتن وبخاصة فتن سنة أربعمائة، أو فتن سنة ثلاث وأربعمائة، وهو يدافع عن «قرطبة»، وعن حق الخليفة الذى آمن بأنّه صاحب الحق فى الخلافة من بين المطالبين.

--------------------------------------------

(1) الصلة 1 - 214

(2) بغية الوعاة 1 - 589

(3) بروكلمان الترجمة العربية 3 - 281

(4) انظر تاريخ ابن خلدون 4 - 326، ونفح الطيب 1 - 404، والكامل لابن الأثير 7 - 285
- তিনি একজন বিদগ্ধ আলিম, সাহিত্যিক ও সূক্ষ্ম রুচিবোধের অধিকারী ব্যক্তি, যিনি কোনো নিয়ম প্রমাণের জন্য কেবল উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিটির ওপরই থেমে থাকেন না; বরং তিনি পূর্ণাঙ্গ কাব্যখণ্ড এবং এমন সব চমৎকার বিরল ঘটনা বর্ণনা করেন যা রুচিবোধ তৈরি করে এবং অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করে।

- ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং কুরআন ও হাদিসের বিজ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য।

- অসাধারণ ইলমি আমানতদারি এবং পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্যের সূত্র প্রদানের ক্ষেত্রে নিখুঁত সতর্কতা।

 

‌‌৭ - তাঁর মৃত্যু

আমরা ‘আবু উসমান’-এর মৃত্যুর সঠিক তারিখ নির্দিষ্টভাবে জানি না। আমাদের হাতে থাকা বর্ণনাগুলো একমত যে, তিনি চারশ হিজরির পর কোনো এক যুদ্ধে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

‘ইবনে বাশকুওয়াল’ (১) ‘আস-সিলাহ’ গ্রন্থে বলেন: “এবং তিনি চারশ হিজরির পর কোনো এক যুদ্ধে শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

এবং আস-সুয়ূতী ‘আল-বুগইয়াহ’ (২) গ্রন্থে ইবনে বাশকুওয়ালের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন।”

‘ব্রোকলম্যান’ বলেন: তিনি ৪০০ হিজরি মোতাবেক ১০১০ খ্রিস্টাব্দের পর কোনো এক যুদ্ধে নিহত হন (৩)।

আর আমরা যদি চতুর্থ শতাব্দীর শেষভাগে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ‘কর্ডোবা’ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিল তা জানার জন্য ঐতিহাসিক উৎসগুলোর দিকে ফিরে তাকাই, এবং সেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুর তারিখটির কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করি, তবে আমরা দেখতে পাই যে, কর্ডোবা খিলাফত নিয়ে এক চরম দ্বন্দ্ব এবং বিধ্বংসী ফিতনার মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছিল যা এর সভ্যতাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল এবং এর অনেক অধিবাসীকে বাস্তুচ্যুত করেছিল (৪)। আমরা জানতে পারি যে, মুসলিমরা এই সময়ে অভ্যন্তরীণ ফিতনার কারণে বহির্দেশীয় যুদ্ধাভিযান থেকে বিরত ছিল। এর ফলে আমাদের কাছে এটিই প্রবল ধারণা হয় যে, ‘ইবনে আল-হাদ্দাদ আল-সারাউস্তি’ এই ফিতনাগুলোর কোনো একটিতে শহীদ হয়েছেন, বিশেষ করে ৪০০ হিজরি অথবা ৪০৩ হিজরির ফিতনায়, যখন তিনি ‘কর্ডোবা’ এবং সেই খলিফার অধিকার রক্ষায় লড়াই করছিলেন যাকে তিনি দাবিদারদের মধ্যে খিলাফতের প্রকৃত হকদার বলে বিশ্বাস করতেন।

--------------------------------------------

(১) আস-সিলাহ ১ - ২১৪

(২) বুগইয়াতুল উয়াত ১ - ৫৮৯

(৩) ব্রোকলম্যান, আরবি অনুবাদ ৩ - ২৮১

(৪) দেখুন: তারিখ ইবনে খালদুন ৪ - ৩২৬, নাফহুত তীব ১ - ৪০৪, এবং ইবনুল আসিরের আল-কামিল ৭ - ২৮৫।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌8 - مؤلفاته

لم تحتفظ المكتبة العربية لأبى عثمان إلا بكتاب الأفعال، ولم أقف - على كثرة ما رجعت إليه من التراجم، والفهارس، والتواريخ، وكتب الطبقات - على آثار أخرى له.

والسؤال الذى يفرض نفسه.

أوقف تأليف «أبى عثمان» عند هذا الكتاب؟ أم أن لهذا العالم تواليف أخرى غير أنها لم تصل إلينا بعد؟

الاحتمال الأول يقول: إن كتاب الأفعال كتابه الوحيد؛ لأن الذين ترجموا له لم يذكروا له كتبا أخرى، ولو كانت له كتب أخرى لذكروها.

وأن «أبا عثمان» لم يحل فى كتاب الأفعال إلى كتب أخرى له شأن كثير من المؤلفين الذين نعرف كثيرا من ثبت كتبهم من خلال تواليفهم.

الاحتمال الثانى يقول: إن لأبى عثمان كتبا أخرى، وأنها لم تصل إلينا بعد؛ لأن الذين ترجموا له قلة من العلماء، ومصدرها الذى استقت منه واحد.

وأن كتب «أبى عثمان» لم تقرأ عليه، وتروعنه لانصرافه إلى الجهاد، وأن من صار إليه مؤلف منها ضنّ به لنفاسته. يرجح هذا أن أبا بكر محمد بن خير الأموى الإشبيلىّ من علماء القرن السادس، وأحد المصادر المبكرة الذى ترك فهرسة بالدواوين والكتب التى رواها عن شيوخه دقق فى سند رواية كل مؤلف حتى وصل به إلى مؤلفه غير كتب قليلة انقطعت سلسلة روايتها قبل مؤلفها، وأحدها أفعال أبى عثمان، وأن كتاب الأفعال مع غزارة مادته العلمية، ومع أنه أوفى كتب الأفعال التى ظهرت - حتى الآن - لم يظفر بما يستحق من اهتمام.
৮ - তাঁর রচনাসমূহ

আরবি গ্রন্থাগার আবু উসমানের কেবল ‘কিতাবুল আফআল’ গ্রন্থটিই সংরক্ষণ করেছে। আমি জীবনীগ্রন্থ, সূচিপত্র, ইতিহাস এবং তাবাকাত বিষয়ক গ্রন্থাবলীতে বহুবার অনুসন্ধান করা সত্ত্বেও তাঁর অন্য কোনো নিদর্শনের সন্ধান পাইনি।

আর যে প্রশ্নটি অবধারিতভাবে সামনে আসে তা হলো।

আবু উসমানের রচনা কি কেবল এই একটি গ্রন্থেই সীমাবদ্ধ? নাকি এই পণ্ডিতের আরও অন্যান্য রচনা ছিল যা এখনও আমাদের নিকট পৌঁছায়নি?

প্রথম সম্ভাবনাটি বলছে: ‘কিতাবুল আফআল’-ই তাঁর একমাত্র গ্রন্থ; কারণ যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন তারা অন্য কোনো গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেননি। যদি তাঁর অন্য কোনো গ্রন্থ থাকত, তবে তারা অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন।

আর আবু উসমান তাঁর ‘কিতাবুল আফআল’ গ্রন্থে নিজের অন্য কোনো গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেননি, যেমনটি অনেক লেখকই করে থাকেন যাদের গ্রন্থের তালিকা আমরা তাদের নিজস্ব রচনার মাধ্যমেই জানতে পারি।

দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো: আবু উসমানের আরও অন্যান্য গ্রন্থ ছিল এবং সেগুলো এখনও আমাদের নিকট পৌঁছায়নি; কারণ যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন তারা সংখ্যায় অল্প ছিলেন এবং তাদের তথ্যের উৎসও ছিল অভিন্ন।

আর আবু উসমানের গ্রন্থগুলো তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করা হয়নি এবং তাঁর থেকে বর্ণিতও হয়নি, কারণ তিনি জিহাদে মনোনিবেশ করেছিলেন। আর যার নিকট তাঁর কোনো পাণ্ডুলিপি পৌঁছেছে, সে তার দুর্লভ মূল্যের কারণে তা অন্যের নিকট প্রকাশে কার্পণ্য করেছে। একে জোরালো করে এই তথ্যটি যে, ষষ্ঠ শতাব্দীর আলেম আবু বকর মুহাম্মদ বিন খাইর আল-উমাওয়ী আল-ইশবিলি—যিনি অন্যতম প্রাচীন উৎস এবং তাঁর শায়খদের নিকট থেকে বর্ণিত কাব্যগ্রন্থ ও বইসমূহের একটি সূচিপত্র রেখে গেছেন—তিনি প্রতিটি রচনার বর্ণনাসূত্র অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করে মূল লেখক পর্যন্ত পৌঁছেছেন। তবে অল্প কিছু কিতাব ছিল যেগুলোর বর্ণনাসূত্র মূল লেখক পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যার মধ্যে একটি হলো আবু উসমানের ‘আফআল’। তদুপরি, ‘কিতাবুল আফআল’ তার জ্ঞানগর্ভ উপকরণের প্রাচুর্য এবং আজ পর্যন্ত প্রকাশিত এই বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও এটি যেরূপ গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিল তা পায়নি।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২০)
وأشعر أن لأبى عثمان كتبا أخرى غير الأفعال إلا أنها قليلة، ويقوم هذا الشعور على مسوغات منها:

أن كتاب الأفعال لأبى عثمان مع قيمته العلمية فى موضوعه قد أغفله كثير من أصحاب التراجم، وأغفلوا صاحبه، واقتصروا على ذكر «ابن القوطية» و «ابن القطاع (1)».

وأن الفتنة الكبرى التى حلت بقرطبة سنة أربعمائة هجرية على يد البربر ألحقت دمارا، كبيرا بمكتبة «قرطبة» ودورها، وربما فقدت كتب أبى عثمان فيما فقد (2). وأن استشهاد «أبى عثمان» فى إحدى الوقائع كان عاملا من عوامل تعرض كتبه للضياع.

وأن هذه العقلية المستوعبة لآثار الفكر المتشعبة من معرفة بالأحكام، وإتقان للتراث الأدبى واللغوى، ومعرفة

غير يسيرة بأخبار الرجال، وطبقات العلماء والرواة، والمادة العلمية المتنوعة التى يفيض بها أثره الموجود الذى وصل إليها، كلها شواهد تدل على أن ثقافة هذا الرجل لم تكن محدودة بحدود اللغة وتصريفها، وربما كان للرجل آثار أخرى فى هذا الموضوع وفى غيره «2» من الحقول الثقافية التى رأينا شواهد منها، ولعل الأيام تصدق ذلك، وتظهر آثارا أخرى من آثاره فتنصف عالما جديرا بالإنصاف، وتزوّد المكتبة العربية بأثر آخر من آثار عالم عظيم.

--------------------------------------------

(1) انظر معجم الأدباء 18 - 282، وفيات الأعيان الترجمة 622، نفح الطيب المقرى 4 - 74 شذرات الذهب 2 - 62

(2) انظر الدولة الإسلامية فى الأندلس 2 - 509
আমি অনুভব করি যে, আবু উসমানের 'আল-আফআল' ব্যতীত আরও কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যদিও সেগুলো সংখ্যায় কম। এই অনুভূতির পেছনে কিছু যুক্তি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

আবু উসমানের 'কিতাবুল আফআল' এর বিষয়বস্তুর জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও অনেক জীবনীকার এটি উপেক্ষা করেছেন এবং এর লেখককেও উপেক্ষা করেছেন। তারা কেবল 'ইবনুল কুতিয়্যাহ' এবং 'ইবনুল কাত্তাহ (১)' এর উল্লেখে সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

আর হিজরি চারশত সালে বারবারদের হাতে কর্ডোভায় যে মহা বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তা কর্ডোভার লাইব্রেরি এবং এর ভবনসমূহের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছিল; সম্ভবত হারিয়ে যাওয়া বইগুলোর মধ্যে আবু উসমানের বইগুলোও হারিয়ে গেছে (২)। এছাড়া একটি যুদ্ধে 'আবু উসমানের' শাহাদাতবরণ তাঁর বইগুলো হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ ছিল।

আর এই প্রজ্ঞা যা চিন্তাধারার বহুমুখী নিদর্শনের ধারক—যেমন বিধি-বিধানের জ্ঞান, সাহিত্যিক ও ভাষাতাত্ত্বিক ঐতিহ্যে পারদর্শিতা, মনীষীদের জীবনী সম্পর্কে গভীর জ্ঞান, আলেম ও বর্ণনাকারীদের স্তরবিন্যাস এবং আমাদের কাছে পৌঁছানো তাঁর বর্তমান কর্মে বিদ্যমান বৈচিত্র্যময় জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান—এসবই প্রমাণ করে যে, এই ব্যক্তির জ্ঞান কেবল ভাষা এবং এর শব্দরূপান্তরের সীমানায় সীমাবদ্ধ ছিল না। সম্ভবত এই বিষয়ে এবং সাংস্কৃতিক অন্যান্য ক্ষেত্রেও—যেগুলোর নিদর্শন আমরা দেখেছি—এই ব্যক্তির আরও কর্ম ছিল। সম্ভবত অনাগত দিনগুলো এর সত্যতা প্রমাণ করবে এবং তাঁর অন্যান্য কাজগুলো প্রকাশ পাবে, যা ন্যায়বিচারের যোগ্য একজন আলেমের প্রতি ইনসাফ করবে এবং আরবি লাইব্রেরিকে একজন মহান আলেমের আরও কিছু অনন্য কর্ম উপহার দেবে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুজামুল উদাবা ১৮ - ২৮২, ওফায়াতুল আ’য়ান জীবনী নং ৬২২, নাফহুত তীব আল-মাক্কারি ৪ - ৭৪, শাযারাতুয যাহাব ২ - ৬২

(২) দেখুন: আদ-দাওলাতুল ইসলামিয়্যাহ ফিল আন্দালুস ২ - ৫০৯
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌(ج) التعريف بالكتاب

‌‌1 - اسم الكتاب

من الأمور التى لا يجد محقق كتاب ما مناصا من الوقوف عندها وتحقيقها اسم الكتاب موضوع التحقيق، وأفعال أبى عثمان قد ذكره كل من ترجم لصاحبه إلا أنهم لم يتفقوا على تسمية واحدة، فقد ذكره محمد ابن خير رحمه الله فى كتابه فهرسة ما رواه عن شيوخه من الدواوين المصنفة فى ضروب العلم، وأنواع المعرفة باسم.

«كتاب الأفعال»

تأليف أبى عثمان سعيد بن محمد المعافرى اللغوى، ويعرف بابن الحداد. (1)

وبهذا الاسم ذكره «ابن بشكوال» رحمه الله فى ترجمة «أبى عثمان»، فقال:

وهو الذى بسط كتابه - يعنى كتاب ابن القوطية - فى الأفعال وزاد فيه (2)، وقال مثل ذلك السيوطى فى بغية الوعاة (3)، وذكره بهذا الاسم كذلك أحمد فارس الشدياق بين المراجع التى اعتمدها فقال: وقال «أبو عثمان القرطبى» فى كتاب الأفعال (4)، وقال فى موضع آخر: «وفى كتاب الأفعال لأبى عثمان سعيد بن محمد المعافرى القرطبى (5)»

--------------------------------------------

(1) فهرسة ابن خير 356 ط إسبانيا 1893 م.

(2) الصلة 1 - 214

(3) بغية الوعاة 1 - 589

(4) الجاسوس على القاموس 63

(5) نفس المصدر 181
(গ) গ্রন্থ পরিচিতি

১ - গ্রন্থের নাম

কোনো পাণ্ডুলিপির গবেষক বা মুহাক্কিকের জন্য যে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা ও নিশ্চিত করা অপরিহার্য, তার মধ্যে একটি হলো সম্পাদিত গ্রন্থের নাম। আবু উসমানের 'আফআল' গ্রন্থের কথা যারা লেখকের জীবনী লিখেছেন তারা সবাই উল্লেখ করেছেন, তবে তারা একটি নির্দিষ্ট নামকরণের ওপর একমত হতে পারেননি। মুহাম্মদ ইবনে খাইর (রহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শাস্ত্রের ওপর সংকলিত যে গ্রন্থগুলো তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, তার তালিকায় এটি নিচের নামে উল্লেখ করেছেন:

«কিতাবুল আফআল»

ভাষাবিদ আবু উসমান সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-মাআফিরির রচনা, যিনি ইবনুল হাদ্দাদ নামে পরিচিত। (১)

এই একই নামে 'ইবনে বাশকুওয়াল' (রহিমাহুল্লাহ) 'আবু উসমান'-এর জীবনীতে উল্লেখ করে বলেছেন:

তিনি সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর গ্রন্থটিকে—অর্থাৎ ইবনুল কুতিয়্যাহ-র 'আফআল' বিষয়ক গ্রন্থটিকে—বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে সংযোজন করেছেন (২)। অনুরূপ কথা সুয়ূতীও 'বুগইয়াতুল উয়াত' গ্রন্থে বলেছেন (৩)। আহমদ ফারিস আশ-শিদইয়াকও তাঁর নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রগুলোর মধ্যে এই নামে এটিকে উল্লেখ করে বলেছেন: "আবু উসমান আল-কুরতুবী 'কিতাবুল আফআল'-এ বলেছেন (৪)।" তিনি অন্য স্থানে আরও বলেছেন: "আবু উসমান সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-মাআফিরি আল-কুরতুবীর 'কিতাবুল আফআল'-এ রয়েছে (৫)।"

--------------------------------------------

(১) ফিহরিস্ত ইবনে খাইর ৩৫৬, স্পেন সংস্করণ ১৮৯৩ খ্রি.।

(২) আস-সিলাহ ১ - ২১৪

(৩) বুগইয়াতুল উয়াত ১ - ৫৮৯

(৪) আল-জাসুস আলাল কামুস ৬৩

(৫) একই উৎস ১৮১
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২২)
وذكره حاجى خليفة بين كتب الأفعال (1).

وذكره «بروكلمان» باسم الأفعال وتصاريفها (2)، ولا نستطيع أن نجزم بأن «بروكلمان» يقصد بأن اسم الكتاب ما ذكره، وإنما يشير إلى موضوعه.

وذكر الكتاب باسم الأفعال فى النسختين اللتين استطعنا العثور عليهما منه، وقد اعتمدت تسمية الكتاب:

«الأفعال»

لذلك الإجماع الذى أجمع عليه كل الذين عرضوا للكلام عن المؤلف وذكر كتبه، أو نقلوا عنه، ولأن الاسم يتفق مع موضوع الكتاب، وأن صاحبه ذكر هذا الاسم صريحا فى خطبة كتابه (3).

أقول لكل هذا اعتمدت اسم «الأفعال»

 

‌‌2 - تاريخ تأليفه

ليس فى الكتاب ما يدل على تحديد زمن تأليفه بداية ونهاية، وليست هنالك قرينة تساعد على هذا التحديد كإحالة المؤلف فيه إلى كتب أخرى، إلا أن المؤلف ذكر صراحة، وجاء فى كتابه ضمنا ما قد يساعد فى تحديد فترة زمنية تم فيها تأليف هذا الكتاب.

قال المؤلف فى مقدمة «كتابه» أفردت له - أى لكتاب شيخه - عنايتى، وجعلت له حظا من نظرى بعد تصحيح روايتى إياه على مؤلفه رحمه الله (4) -».

--------------------------------------------

(1) كشف الظنون 1 - 133

(2) «بروكلمان» الترجمة العربية 3 - 281

(3) مقدمة كتاب الأفعال

(4) مقدمة أبى عثمان.
হাজী খলিফা এটিকে ক্রিয়াপদ সম্পর্কিত গ্রন্থসমূহের (আল-আফআল) অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন (১)।

'ব্রোকলম্যান' এটিকে 'আল-আফআল ওয়া তাসারিফুহা' (ক্রিয়াপদ ও এর রূপান্তরসমূহ) নামে উল্লেখ করেছেন (২), তবে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে ব্রোকলম্যান বইটির নাম হিসেবে এটিই উদ্দেশ্য করেছেন, বরং তিনি সম্ভবত এর বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

আমরা যে দুটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি, সেখানেও গ্রন্থটি 'আল-আফআল' নামেই উল্লিখিত হয়েছে। তাই আমি বইটির নাম হিসেবে 'আল-আফআল' গ্রহণ করেছি;

«আল-আফআল»

কারণ লেখক এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ নিয়ে যারা আলোচনা করেছেন অথবা তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তারা সকলেই এই নামের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এছাড়া এই নামটি বইটির বিষয়বস্তুর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং খোদ লেখকও তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় (৩) স্পষ্টভাবে এই নামের কথা উল্লেখ করেছেন।

এসকল কারণেই আমি 'আল-আফআল' নামটি গ্রহণ করেছি।

 

‌‌২ - গ্রন্থটি রচনার ইতিহাস

গ্রন্থটির রচনার শুরু ও শেষের সুনির্দিষ্ট সময় নির্দেশ করে এমন কিছু বইটিতে নেই। এমনকি লেখকের অন্য কোনো বইয়ের রেফারেন্সের মতোও কোনো সূত্র এখানে পাওয়া যায় না যা এই সময় নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। তবে লেখক স্পষ্টভাবে যা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বইয়ের বিষয়বস্তুর মধ্যে পরোক্ষভাবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা এই বইটি কোন সময়কালে রচিত হয়েছে তা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে।

লেখক তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন— "আমি সেটির প্রতি (অর্থাৎ তাঁর উস্তাদের গ্রন্থের প্রতি) আমার পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছি এবং তাঁর কাছে আমার পঠিত বর্ণনা সংশোধন করার পর আমি এটিকে আমার গভীর পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত করেছি, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (৪)।"

--------------------------------------------

(১) কাশফ উজ-জুনুন ১ - ১৩৩

(২) ‘ব্রোকলম্যান’ আরবি অনুবাদ ৩ - ২৮১

(৩) কিতাবুল আফআলের ভূমিকা

(৪) আবু উসমানের ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২৩)
هذا النص فى خطبة الكتاب يؤكد أن «أبا عثمان» ألف كتابه بعد وفاة شيخه الذى توفى سنة سبع وستين وثلاثمائة هـ.

وقال فى موضع آخر: «وكان الذى دعانا إلى هذا الكتاب ما علمته من الحاجب المنصور بن أبى عامر (1) - وفقه الله - ....

وهذا النص يؤكد أنه ألف الكتاب فى زمن حجابة المنصور بن أبى عامر، وقد تسمى المنصور بالحاجب سنة إحدى وسبعين وثلاثمائة (2) هـ.

وروى أبو عثمان فى باب الهمزة وباب العين، وهما أول بابين فى كتابه عن أبى العلاء صاعد بن الحسن بن عيسى الربعى البغدادى، وقد وفد أبو العلاء هذا إلى الأندلس سنة ثمانين وثلاثمائة من الهجرة (3).

وإذا علمنا أن أبا عثمان بدأ فى تأليف كتابه بعد وفاة شيخه الذى توفى سنة (367 هـ) وأنه ألفه للحاجب المنصور الذى تسمى بالحاجب سنة (371 هـ) وأنه روى فى أول بابين منه عن أبى العلاء صاعد الذى وفد إلى الأندلس سنة (380 هـ).

وعلمنا كذلك أن المنصور بن أبى عامر توفى سنة اثنتين وتسعين وثلاثمائة هـ.

وهو قافل من إحدى غزواته، أمكن أن نقول: إنّ «أبا عثمان» ألف كتابه فى الفترة ما بين سنة ثمانين وثلاثمائة، وتسعين وثلاثمائة، أى: بعد قدوم أبى العلاء صاعد الأندلس، وقبل وفاة المنصور أبى عامر محمد بن أبى عامر رحمه الله.

 

‌‌3 - دوافع تأليفه

وحدد أبو عثمان نفسه فى خطبة كتابه دوافع التأليف، وتبين لنا مما ذكره أن هناك دوافع أربعة وراء التأليف:

--------------------------------------------

(1) مقدمة أبى عثمان.

(2) تاريخ ابن خلدون 4 - 147، نفح الطيب 1 - 259

(3) المعجب فى تلخيص أخبار المغرب 76
কিতাবের ভূমিকার এই পাঠ্যটি নিশ্চিত করে যে, 'আবু উসমান' তার কিতাবটি রচনা করেছিলেন তার শাইখের মৃত্যুর পর, যিনি তিনশ সাতষট্টি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: «আমাদের এই কিতাবটি রচনার পেছনে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা হলো হাজিব আল-মানসুর বিন আবি আমির (১) - আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন - এর সম্পর্কে যা জেনেছি তা...

এবং এই পাঠ্যটি নিশ্চিত করে যে, তিনি কিতাবটি আল-মানসুর বিন আবি আমিরের হাজিব থাকাকালীন সময়ে রচনা করেছিলেন; আর মানসুর তিনশ একাত্তর (২) হিজরি সনে হাজিব উপাধি লাভ করেন।

আবু উসমান তার কিতাবের প্রথম দুটি অধ্যায়—হামজা অধ্যায় এবং আইন অধ্যায়ে—আবু আল-আলা সাঈদ বিন হাসান বিন ঈসা আল-রুবাই আল-বাগদাদি থেকে বর্ণনা করেছেন। এই আবু আল-আলা তিনশ আশি হিজরি সনে (৩) আন্দালুসে আগমন করেন।

আমরা যখন জানতে পারি যে, আবু উসমান তার কিতাব রচনা শুরু করেছিলেন তার শাইখের মৃত্যুর পর যিনি (৩৬৭ হিজরিতে) ইন্তেকাল করেন, এবং তিনি এটি হাজিব আল-মানসুরের জন্য লিখেছিলেন যিনি (৩৭১ হিজরিতে) হাজিব উপাধি পান, এবং তিনি এর প্রথম দুই অধ্যায়ে আবু আল-আলা সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি (৩৮০ হিজরিতে) আন্দালুসে এসেছিলেন;

এবং আমরা এও জানি যে, আল-মানসুর বিন আবি আমির তিনশ বিরানব্বই হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি যখন তাঁর এক যুদ্ধাভিযান থেকে ফিরছিলেন, তখন আমরা বলতে পারি যে: 'আবু উসমান' তার কিতাবটি ৩৮০ হিজরি থেকে ৩৯০ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে রচনা করেছিলেন, অর্থাৎ: আবু আল-আলা সাঈদের আন্দালুসে আসার পর এবং আল-মানসুর আবু আমির মুহাম্মদ বিন আবি আমির (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর মৃত্যুর পূর্বে।

 

‌‌৩ - গ্রন্থটি রচনার কারণসমূহ

স্বয়ং আবু উসমান তার কিতাবের ভূমিকায় গ্রন্থটি রচনার কারণসমূহ নির্ধারণ করেছেন, এবং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, এই রচনার পেছনে চারটি প্রধান কারণ ছিল:

--------------------------------------------

(১) আবু উসমানের ভূমিকা।

(২) তারিখ ইবনে খালদুন ৪ - ১৪৭, নাফহুত তীব ১ - ২৫৯

(৩) আল-মু'জিব ফি তালখিস আখবারিল মাগরিব ৭৬
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২৪)
دافعا أخلاقيا: يتمثل فى وفائه لشيخه، وإخلاصه له، ورغبته الصادقة فى استكمال عمله فى كتاب الأفعال، وشرح مختصره، وبسط تفسيره.

ودافعا علميا: يتمثل فى إيمان المؤلف بقيمة العلم بعامة، وإدراكه شرف البحث فى لغة العرب، وآدابها، وطرائفها، وإحكام قياس إعرابها، وتثقيف أفعالها بخاصة.

ودافعا تعليميا: يتمثل فى رغبة «المعافرى» فى تبسيط الكتاب للطالب، وتيسيره على الدارس، والوصول به إلى درجة من الكمال حتى يجد فيه كل راغب حاجته ومأربه.

ودافعا ذاتيا: يتمثل فى رغبة المؤلف فى كسب رضا الحاجب المنصور أبى عامر محمد ابن أبى عامر، والتقرب له، واستحقاق مكان التّجلة عنده، والزلفى لديه، إذ عرف حرصه على العلم، واقتناصه لفرائده، وعنايته بموارده.

 

‌‌4 - موضوع الكتاب

يبحث «أبو عثمان» فى كتابه أفعال العربية ومعرفة إحكام تثقيفها، وقياس تصاريفها، ويبين الصحيح منها والمعتل، وأقل أصول الفعل. والمجرد والمزيد، وأبواب الزيادة وأبنية الأفعال الثلاثية، والمتعدى منها واللازم، وأبواب الماضى مع المستقبل، ومصادر الفعل الثلاثى، والمصدر الميمى، وأسماء الفاعلين والمفعولين، والصفات (1)، ويقدم محاولة طيبة فى حصر أفعال العربية، والتعريف بأبنيتها، ودلالتها، ويؤيد كل ذلك بما نقله عن ثقات العلماء، وفصحاء الأعراب، وما أثبته من شواهد (2)، ويوضح أهمية الحاجة إلى دراسة الأفعال، ويطمئنّ إلى أنه ذكر كل ما يحتاج إليه الناظر فى الأفعال (3).

--------------------------------------------

(1) انظر باب علم الأفعال وتلخيص أبنيتها وقياس تصرفها 1/ 55.

(2) انظر أبواب الكتاب.

(3) انظر باب علم الأفعال 1/ 55.
নৈতিক প্রেরণা: এটি ফুটে উঠেছে তাঁর শায়খের প্রতি তাঁর আনুগত্যে, তাঁর প্রতি তাঁর একনিষ্ঠতায় এবং 'কিতাবুল আফআল'-এর কাজ সম্পন্ন করার, এর সংক্ষিপ্ত ভাষ্যের ব্যাখ্যা করার এবং এর ব্যাখ্যাকে বিস্তৃত করার তাঁর আন্তরিক আকাঙ্ক্ষায়।

জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রেরণা: এটি ফুটে উঠেছে সাধারণভাবে ইলমের মূল্যের প্রতি লেখকের বিশ্বাসে, এবং আরবি ভাষা, এর সাহিত্য, এর সূক্ষ্মতা, এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের পরিমাপ সুদৃঢ় করা এবং বিশেষ করে এর ক্রিয়াগুলোর সংশোধন ও পরিমার্জনের বিষয়ে গবেষণার মর্যাদা উপলব্ধি করার মাধ্যমে।

শিক্ষামূলক প্রেরণা: এটি ফুটে উঠেছে শিক্ষার্থীদের জন্য কিতাবটিকে সহজ করার এবং পাঠকদের জন্য তা সুগম করার 'মা'আফিরি'-র আকাঙ্ক্ষায়, এবং একে পূর্ণতার এমন স্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় যাতে প্রত্যেক আগ্রহী ব্যক্তি তার প্রয়োজন ও উদ্দেশ্য এতে খুঁজে পায়।

ব্যক্তিগত প্রেরণা: এটি ফুটে উঠেছে হাজিব আল-মানসুর আবু আমির মুহাম্মদ ইবনে আবু আমিরের সন্তুষ্টি অর্জন, তাঁর নৈকট্য লাভ এবং তাঁর কাছে উচ্চ মর্যাদা ও বিশেষ অবস্থান পাওয়ার লেখকের আকাঙ্ক্ষায়; কেননা তিনি ইলমের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ, এর দুর্লভ বিষয়গুলো আহরণ এবং এর উৎসগুলোর প্রতি তাঁর যত্নের কথা জানতেন।

 

‌‌৪ - কিতাবের বিষয়বস্তু

‘আবু উসমান’ তাঁর কিতাবে আরবির ক্রিয়াসমূহ এবং সেগুলোর সংশোধনের নিয়মাবলী জানা ও সেগুলোর রূপান্তরের পরিমাপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এগুলোর সহিহ ও মু'তাল রূপ এবং ক্রিয়ার ন্যূনতম মূলবর্ণসমূহ বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও মুজাররাদ ও মাজিদ, অতিরিক্ত বর্ণের পরিচ্ছেদসমূহ ও সুলাসি ক্রিয়ার গঠনসমূহ, সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া, ভবিষ্যৎকালসহ অতীতকালের পরিচ্ছেদসমূহ, সুলাসি ক্রিয়ার মাসদারসমূহ, মাসদারে মিমি, ইসমুল ফাঈল, ইসমুল মাফউল এবং গুণবাচক শব্দসমূহ (১) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি আরবি ক্রিয়াসমূহকে সুবিন্যস্ত করার এবং সেগুলোর গঠন ও অর্থ পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে একটি প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা পেশ করেছেন। এই সবকিছুর সমর্থনে তিনি নির্ভরযোগ্য আলেমগণ ও বিশুদ্ধভাষী আরবদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতি এবং তাঁর সাব্যস্তকৃত প্রমাণাদি (২) পেশ করেছেন। তিনি ক্রিয়া অধ্যয়নের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছেন এবং এই মর্মে আশ্বস্ত করেছেন যে, ক্রিয়া সম্পর্কে অনুসন্ধানকারীর যা কিছু প্রয়োজন হতে পারে তার সবই তিনি উল্লেখ করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ক্রিয়া বিজ্ঞান এবং এর গঠন ও রূপান্তরের পরিমাপের সারসংক্ষেপ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ১/৫৫।

(২) দেখুন: কিতাবের পরিচ্ছেদসমূহ।

(৩) দেখুন: ক্রিয়া বিজ্ঞান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ১/৫৫।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌5 - مادة الكتاب وطريقة عرضها

يحتوى كتاب المعافرى على قسمين رئيسين هما:

(أ) مقدمة الكتاب.

(ب) صلبه.

وقد صدّر «أبو عثمان» كتابه بمقدمة بدأها بخطبة بين فيها فضل العلم، وقيمته.

وأهمية علوم العربية بعامة والأفعال بخاصة، وحاجة بقية العلوم إليها، وأظهر إعجابه بكتاب شيخه واهتمامه به، ودوافعه لتأليف كتابه، والخطوط العريضه لخطته فى دراسة هذا الكتاب.

وذيّل الخطبة بباب خاص بعلم الأفعال، وتلخيص أبنيتها، وقياس تصريفها، أوجز فيه ما يحتاج إليه الناظر فى الأفعال، وقدم فى صلب كتابه المادة العلمية:

وقد جمع فى الكتاب أكبر قدر من الأفعال، وكان أساس مادته كتاب «ابن القوطية» وأقوال ومؤلفات العلماء الثقات من المتقدمين، والتزم ذكر الأبنية، ومعانى الأفعال، ومصادرها، وما يقتضى الحال ذكره من خواص الصيغ، والصفات، والجموع.، واهتم كثيرا بذكر لغات القبائل، والظواهر الأدبية، واللغوية، والنحوية، والتصريفية، والاشتقاقية، والعروضية، وأيد كل ما أتى بشواهد من الشعر - قصيده ورجزه - والقرآن، والحديث، والأمثال، وكلام العرب، وظفرت المقطوعات الأدبية والروايات الشعرية بنصيب كبير من شواهده.

 

‌‌التبويب

1 - رتب «أبو عثمان» كتابه على مخارج الحروف على النحو الذى اختاره «سيبويه» وجاء على الوجه الآتى:
‌‌৫ - গ্রন্থের বিষয়বস্তু এবং উপস্থাপনা পদ্ধতি

আল-মুআফিরির গ্রন্থটি দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত, সেগুলো হলো:

(ক) গ্রন্থের ভূমিকা।

(খ) মূল পাঠ।

‘আবু উসমান’ তাঁর গ্রন্থের প্রারম্ভে একটি ভূমিকা প্রদান করেছেন, যা তিনি একটি ভাষণ দিয়ে শুরু করেছেন। এতে তিনি ইলমের ফযিলত এবং এর গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন।

এবং সাধারণভাবে আরবি ভাষা বিজ্ঞানের গুরুত্ব এবং বিশেষভাবে ক্রিয়া (আফআল) বিজ্ঞানের গুরুত্ব এবং অন্যান্য শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর শায়খের গ্রন্থের প্রতি নিজের মুগ্ধতা ও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, গ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট এবং এটি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

তিনি তাঁর ভাষণটির শেষে ক্রিয়া বিজ্ঞান, সেগুলোর গঠনপ্রকৃতির সারাংশ এবং রূপান্তরের নিয়মাবলি নিয়ে একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছেন। এতে তিনি ক্রিয়া সম্পর্কে একজন পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি গ্রন্থের মূল অংশে ইলমি বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেছেন:

তিনি এই গ্রন্থে বিপুল সংখ্যক ক্রিয়া সংগ্রহ করেছেন। তাঁর এই বিষয়ের মূল ভিত্তি ছিল ‘ইবনুল কুতিয়্যাহ’ এর গ্রন্থ এবং পূর্বসূরি নির্ভরযোগ্য আলিমগণের উক্তি ও রচনাবলি। তিনি শব্দের গঠন, ক্রিয়ার অর্থ, সেগুলোর মাসদার (মূলরূপ), এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রূপের বৈশিষ্ট্য, গুণবাচক শব্দ ও বহুবচন উল্লেখ করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন। তিনি গোত্রীয় উপভাষা, সাহিত্যিক, ভাষাতাত্ত্বিক, ব্যাকরণগত, রূপান্তরগত, ব্যুৎপত্তিগত এবং ছন্দতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যসমূহের বর্ণনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তাঁর উপস্থাপিত প্রতিটি বিষয়ের সমর্থনে কবিতা—কাসিদা ও রাজায উভয়ই—এবং কুরআন, হাদিস, প্রবাদ-প্রবচন ও আরবদের কথোপকথন থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন। তাঁর উদ্ধৃতিগুলোর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে সাহিত্যিক খণ্ডকাব্য ও কাব্যিক বর্ণনা।

 

‌‌অধ্যায় বিন্যাস

১ - ‘আবু উসমান’ তাঁর গ্রন্থটি ‘সিবওয়াইহ’ কর্তৃক মনোনীত অক্ষরের মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন, যা নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - وجعل تحت كل حرف من هذه الحروف أربعة أقسام استقامت له فى كل الحروف، وقدمها على الترتيب الآتى:

- الثلاثى على فعل وأفعل باتفاق معنى

- الثلاثى على فعل وأفعل باختلاف معنى.

- الثلاثى المفرد.

- الرباعى المفرد وما جاوزه بالزيادة مما لم يستعمل ثلاثيه فى معناه.

ولم يضطرب عليه هذا التقسيم إلا فى حرف الخاء. إذ أضاف فيه قسما خامسا، هو الخماسى (1).

 

3 - وجعل تحت كل قسم من أقسام الثلاثى تقسيما آخر استقام له فى أكثر الحروف وقدمه على الوجه الآتى:

- المضاعف.

- الثلاثى الصحيح.

- الثلاثى المهموز.

- الثلاثى المعتل.

واستقام له هذا التقسيم، وما تخلف منه، إنما تخلف لعدم وجود أفعال تمثله فى الحرف الذى وقع تخلف القسم فيه (2).

 

4 - وجعل تحت كل قسم من أقسام الثلاثى السابقة أبوابا وفقا للصيغ المختلفة، والتزم فيها الترتيب الآتى:

فعل - بفتح العين -، فعل وفعل - بفتح العين وكسرها -، فعل وفعل - بفتح العين وضمها - فعل وفعل وفعل - بفتح

العين وكسرها وضمها -، فعل وفعل - بضم

--------------------------------------------

(1) يمكن اعتبار كل قسم من هذه الأقسام بابا داخل الحرف.

(2) يمكن اعتبار كل قسم من هذه الأقسام فصلا داخل التقسيم الذى انبثق منه.
২ - তিনি এই বর্ণগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে চারটি বিভাগ নির্ধারণ করেছেন যা প্রতিটি বর্ণের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে এবং তিনি সেগুলো নিম্নলিখিত ক্রমে উপস্থাপন করেছেন:

- 'ফা-আলা' এবং 'আফ-আলা' ওযনের সুলাসী (ত্রিবর্ণীয় শব্দ), যেগুলোর অর্থ অভিন্ন।

- 'ফা-আলা' এবং 'আফ-আলা' ওযনের সুলাসী, যেগুলোর অর্থ ভিন্ন।

- একক সুলাসী।

- একক রুবায়ী (চতুর্বর্ণীয় শব্দ) এবং অতিরিক্ত বর্ণযোগে যা এর চেয়ে বড় হয়েছে, যার সুলাসী মূল একই অর্থে ব্যবহৃত হয় না।

খ-বর্ণ ব্যতীত অন্য কোথাও এই বিভাজন প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। সেখানে তিনি একটি পঞ্চম বিভাগ যুক্ত করেছেন, যা হলো খুমাসী (পঞ্চবর্ণীয় শব্দ) (১)।

 

৩ - সুলাসীর প্রতিটি বিভাগের অধীনে তিনি আরও একটি উপ-বিভাগ করেছেন যা অধিকাংশ বর্ণের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে এবং তা নিম্নলিখিতভাবে পেশ করেছেন:

- মুদাআফ (দ্বিত্ববর্ণ বিশিষ্ট)।

- সুলাসী সহীহ।

- সুলাসী মাহমুয (হামযাযুক্ত)।

- সুলাসী মু'তাল (দুর্বল বর্ণযুক্ত)।

এই বিভাজনটি যথাযথভাবে অনুসৃত হয়েছে; আর যেখানে এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে, তা কেবল সেই বর্ণের অধীনে এই কাঠামোর সাথে মিলসম্পন্ন কোনো ক্রিয়াপদ না থাকার কারণেই ঘটেছে (২)।

 

৪ - তিনি সুলাসীর পূর্বোক্ত প্রতিটি বিভাগের অধীনে বিভিন্ন রূপ অনুযায়ী কতগুলো পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন এবং সেখানে নিম্নোক্ত ক্রম বজায় রেখেছেন:

ফা-আলা - আইন বর্ণে ফাতহা সহ -, ফা-আলা এবং ফা-ইলা - আইন বর্ণে ফাতহা ও কাসরা সহ -, ফা-আলা এবং ফা-উলা - আইন বর্ণে ফাতহা ও দাম্মা সহ -, ফা-আলা, ফা-ইলা এবং ফা-উলা - আইন বর্ণে ফাতহা,

কাসরা ও দাম্মা সহ -, ফা-উলা এবং ফা-ইলা - আইন বর্ণে দাম্মা সহ -

--------------------------------------------

(১) এই বিভাগগুলোর প্রত্যেকটিকে উক্ত বর্ণের অন্তর্ভুক্ত একটি পরিচ্ছেদ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

(২) এই বিভাগগুলোর প্রত্যেকটিকে যে মূল বিভাজন থেকে এটি উদ্ভূত হয়েছে, তার একটি শাখা-বিভাগ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২৭)
العين وكسرها، فعل - بضم العين -، فعل - بكسر العين - ولم يشذ عن هذا الترتيب إلا ما وقع سهوا، وهو نادر، وما تخلف من ذلك، إنما تخلف لعدم وجود أفعال تمثله فى الحرف، وقد سمى المؤلف هذا المستوى بابا، وذيل كثيرا منها بإضافاته التى استدركها على شيخه، وقدم لهذه الإضافات بالعبارة أو قريب منها: «ومما لم يرد منه شئ من هذا الباب فى الكتاب» (1).

 

5 - وجعل الرباعى المفرد وما جاوزه بالزيادة مما لم يستعمل منه ثلاثى فى معناه أبوابا على حسب الصيغ، وقدمها فى كل حرف على النحو الآتى غالبا:

أفعل - فعلل - تفعلل - فعّل - تفعّل - افعللّ - افعنلل - افعوعل - فعول - فيعل - استفعل - انفعل - افتعل - فاعل - فوعل - تفوعل - تفاعل - افعنلى - افوعّل.

غير أنه لم يلتزم هذا الترتيب فى كل الحروف، بل قدم وأخر، وجاءت كلها فى حروف، وسقط بعضها فى حروف لعدم وقوفه على أفعال تمثل الصيغ التى لم ترد وجعل كل صيغة من هذه الصيغ أصلا أورد تحته ما جاء منه:

مكررا - أو مهموزا - أو معتلا

 

‌‌6 - صنعة أبى عثمان فى كتابه ومنهجه

حدد «أبو عثمان» فى مقدمة كتابه الدور الذى قام به «ابن القوطية» فى كتابه «الأفعال» وحاجة هذا الكتاب إلى إعادة نظر ودراسة، كما حدد فيها السمات البارزة لمعالم شخصيته فى كتابه، وصنيعه فى هذا الكتاب، يقول: إن ابن القوطية قصد فى كتابه مقصد الغاية فى الاختصار، ولهذا تعسر على الطالب، وصعب على الدارس إلا من أعمل فيه الفكرة مع كل لفظ، وأتعب نفسه بالرجوع إلى الأصل الأول.

--------------------------------------------

(1) يمكن اعتبار كل قسم من أقسام هذا المستوى بناء أو صيغة داخل التقسيم الذى أخذ منه.
আঈন-এর যম্মাহ এবং এর কাসরাহ, ফাউলা (ফায়িল-এ আঈন-এর যম্মাহ সহ), ফাইলা (ফায়িল-এ আঈন-এর কাসরাহ সহ) - এবং এই বিন্যাস থেকে কেবল অসাবধানতাবশত যা ঘটেছে তা ছাড়া কোনো বিচ্যুতি ঘটেনি, যা খুবই বিরল। আর এর বাইরে যা রয়ে গেছে, তা মূলত সংশ্লিষ্ট বর্ণগুলোতে ওই ধরণের কোনো ক্রিয়া না থাকার কারণে রয়ে গেছে। লেখক এই স্তরকে 'বাব' (অধ্যায়) নামে অভিহিত করেছেন এবং এর অধিকাংশের শেষে তাঁর নিজ সংযোজনগুলো যুক্ত করেছেন যা তিনি তাঁর উস্তাদের থেকে সংশোধন করেছেন। তিনি এই সংযোজনগুলোর শুরুতে এই বাক্য বা এর কাছাকাছি কিছু ব্যবহার করেছেন: "এই অধ্যায়ে মূল বইটিতে যা উল্লেখ করা হয়নি তার মধ্যে রয়েছে..." (১)।

 

৫ - তিনি একাক্ষর বিশিষ্ট রুবায়ী (চার অক্ষরবিশিষ্ট মূল ধাতু) এবং এর অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত রূপগুলোকে—যেগুলোর কোনো সুলাসি (তিন অক্ষরবিশিষ্ট) রূপ একই অর্থে ব্যবহৃত হয় না—সেগুলোকে বিভিন্ন সিগাহ (গঠনরীতি) অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি প্রতিটি বর্ণের ক্ষেত্রে সেগুলোকে সাধারণত নিম্নোক্ত ক্রমে উপস্থাপন করেছেন:

আফআলা - ফাউলালা - তাফাউলালা - ফা'আলা - তাফা'আলা - ইফআল্লা - ইফআনলালা - ইফআওআলা - ফাউয়ালা - ফায়আলা - ইস্তাফআলা - ইনফআলা - ইফতাআলা - ফাআলা - ফাওআলা - তাফাওআলা - তাফাআলা - ইফআনলা - ইফআউয়ালা।

তবে তিনি সকল বর্ণের ক্ষেত্রে এই বিন্যাস বজায় রাখেননি, বরং আগে-পাছে করেছেন। কিছু বর্ণের ক্ষেত্রে সবগুলো সিগাহ এসেছে, আবার কিছু বর্ণের ক্ষেত্রে কিছু সিগাহ বাদ পড়েছে কারণ তিনি এমন কোনো ক্রিয়া পাননি যা ওই সিগাহগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি এই প্রতিটি সিগাহকে 'আসল' (মূল) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং এর অধীনে যা এসেছে তা উল্লেখ করেছেন:

পুনরাবৃত্ত - অথবা হামযাহযুক্ত - অথবা হারফে ইল্লাতযুক্ত

 

‌‌৬ - আবু উসমানের তাঁর কিতাবে কর্মপদ্ধতি ও তাঁর মানহাজ

'আবু উসমান' তাঁর কিতাবের ভূমিকায় 'ইবনুল কুতিয়্যাহ' তাঁর 'আল-আফআল' কিতাবে যে ভূমিকা পালন করেছেন এবং এই কিতাবটি পুনরায় পর্যালোচনা ও অধ্যয়নের যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি তাঁর কিতাবে নিজের ব্যক্তিত্বের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এই কিতাবে তাঁর কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইবনুল কুতিয়্যাহ তাঁর কিতাবে চরম সংক্ষিপ্তকরণের পথ অবলম্বন করেছেন, ফলে এটি শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে এবং গবেষকের জন্য দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে; কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে প্রতিটি শব্দের সাথে গভীর চিন্তা ও গবেষণাকে যুক্ত করেছে এবং মূল উৎসে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে নিজেকে ক্লান্ত করেছে।

--------------------------------------------

(১) এই স্তরের প্রতিটি অংশকে সেই বিভাজনের অন্তর্ভুক্ত একটি কাঠামো বা সিগাহ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে যেখান থেকে এটি নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২৮)
ويقول: كان غرض «ابن القوطية» فى كتابه «فعلت وأفعلت» خاصة، وترك ما جاوز ذلك من الأفعال الرباعية الأصلية، وما جاوزها بالزيادة.

ويقول فى شرح دوره، وبيان جهده فى الكتاب: «فتلافيت ما اختل منه بإلحاقه وترداد ذكره، وبسط تفسيره، وألحقت فيه الأفعال التى ترك ذكرها من الرباعية، وما جاوزها بالزيادة.

وألحقت فى كل باب منه ما لم يذكره إذ الإحاطة ممتنعة على البشر.

ولخصت ما وقع منها فى غير موضعه بنقله إلى الموضع الذى هو أحق به؛ ليخف على الدارس، ويسهل فيه وجدان لفظه على الطالب، وليكون الكتاب كاملا مقتضيا للمعنى الذى قصد به إليه.

وهكذا تعكس لنا شخصية «أبى عثمان» نفسها إلى جانب وفائه لشيخه، وإعجابه به، وإخلاصه له، واعترافه بفضله فى أربعة ملامح هى:

(ا) بسط الكتاب، وتفسير معانيه، وإعادة الفعل مع كل معنى، وذكر ما يرتبط به وبتصاريفه من فوائد نحوية، وصرفية، ولغوية، وغيرها، واستشهاد لكل ما يأتى به، وتذييل إضافته بلفظة «رجع» منبها إلى انتهاء إضافته، ومؤذنا برجوعه إلى كلام شيخه.

(ب) تدارك ما أهمله ابن القوطية فى كتابه، وإلحاق كل باب بما ندّ عن شيخه من أفعال هذا الباب.

(ج) عرض الأفعال الرباعية الصحيحة، وما جاوزها بالزيادة، وهى من الأبواب الجديدة التى اختص بها أبو عثمان.

(د) نقل ما ذكره ابن القوطية من أفعال فى غير موضعها إلى الموضع الذى ينبغى أن تكون فيه.

والواقع أن «أبا عثمان» قد وفىّ فى كتابه بما ألزم به نفسه إلى حد بعيد.
তিনি বলেন: ‘ইবনে আল-কুতিয়্যা’-র উদ্দেশ্য তাঁর ‘ফা‘আলতু ওয়া আফ‘আলতু’ গ্রন্থে বিশেষায়িত ছিল, এবং তিনি এর বাইরে থাকা মূল চতুর্মূলীয় ক্রিয়া এবং অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত ক্রিয়াগুলো বর্জন করেছিলেন।

তিনি গ্রন্থে তাঁর ভূমিকা এবং তাঁর প্রচেষ্টার বর্ণনায় বলেন: “আমি এতে যা কিছু ত্রুটিপূর্ণ ছিল তা সংযোজন ও পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে সংশোধন করেছি এবং এর ব্যাখ্যা প্রসারিত করেছি। আর আমি এতে সেই সব ক্রিয়া যুক্ত করেছি যা তিনি উল্লেখ করেননি, যেমন চতুর্মূলীয় ক্রিয়া এবং অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত ক্রিয়াগুলো।

আমি এর প্রতিটি অধ্যায়ে এমন সব বিষয় যুক্ত করেছি যা তিনি উল্লেখ করেননি, কেননা পূর্ণাঙ্গ পরিবেষ্টন করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব।

আমি ভুল স্থানে থাকা শব্দগুলোকে সংক্ষেপ করে সেগুলোকে যথাযথ ও উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করেছি; যাতে শিক্ষার্থীর জন্য তা সহজসাধ্য হয় এবং ছাত্রের জন্য কাঙ্ক্ষিত শব্দ খুঁজে পাওয়া সহজতর হয়, আর যাতে বইটি পূর্ণাঙ্গ হয় এবং যে উদ্দেশ্যে এটি রচিত হয়েছে তার দাবি পূরণ করে।”

এভাবে ‘আবু উসমান’-এর ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে, পাশাপাশি তাঁর শিক্ষকের প্রতি তাঁর আনুগত্য, মুগ্ধতা, একনিষ্ঠতা এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি এই চারটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেগুলো হলো:

(ক) গ্রন্থটির কলেবর বৃদ্ধি করা, এর অর্থসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করা, প্রতিটি অর্থের সাথে ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাকরণগত, রূপতাত্ত্বিক, ভাষাতাত্ত্বিক ও অন্যান্য উপকারিতা উল্লেখ করা। এছাড়াও প্রতিটি বিষয়ের সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করা এবং নিজের সংযোজন শেষে ‘রাজা‘আ’ শব্দটি যুক্ত করা, যা তাঁর নিজস্ব সংযোজন সমাপ্তি এবং তাঁর শিক্ষকের মূল বক্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

(খ) ইবনে আল-কুতিয়্যা তাঁর গ্রন্থে যা কিছু উপেক্ষা করেছিলেন তা সংশোধন করা এবং তাঁর শিক্ষক যে অধ্যায়ের যে ক্রিয়াগুলো ছেড়ে গিয়েছিলেন সেগুলো সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে যুক্ত করা।

(গ) শুদ্ধ চতুর্মূলীয় ক্রিয়া এবং অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত ক্রিয়াগুলো উপস্থাপন করা, যা আবু উসমানের বিশেষায়িত নতুন অধ্যায়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

(ঘ) ইবনে আল-কুতিয়্যা যেসব ক্রিয়া ভুল স্থানে উল্লেখ করেছিলেন সেগুলোকে সঠিক ও উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করা।

প্রকৃতপক্ষে ‘আবু উসমান’ তাঁর গ্রন্থে যা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বহুলাংশে পূরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌7 - قيمة الكتاب

عنى بكتاب الأفعال لابن القوطية من بين من عنى به عالمان كبيران: أحدهما «أبو عثمان السرقسطى» الذى نخرج كتابه محققا للمرة الأولى، والثانى عالم من علماء الأندلس كذلك جاء بعد «أبى عثمان»، وقد درس كل من العالمين كتاب الأفعال لابن القوطية، وهذباه، وتلافيا ما اختل على صاحبه فيه، ولا نعرف من كتب الأفعال التى استقلت بدراستها كتبا تحتفظ بها المكتبة العربية غير هذه الكتب الثلاثة، وقد طبع كتاب ابن القوطية مرة فى «ليدن» سنة (1894 م) وأخرى فى القاهرة سنة (1952 م)

وطبع كتاب ابن القطاع فى «حيدراباد» سنة (1360 هـ).

وقد تبين لنا من الموازنة بين هذه الكتب الثلاثة أن كتاب أبى عثمان المعافرى، وكتاب ابن القطاع أوسع وأشمل كتابين تحتفظ بهما المكتبة العربية فى الأفعال.

وأن كتاب «أبى عثمان» أوفى وأكمل كتاب فى الأفعال يقدم حتى الآن إلى مكتبتنا العربية، فقد بسط فيه كتاب ابن القوطية، وتلافى ما اختل منه، وألحق فيه ما ترك، ونقل كل فعل إلى حيث يجب أن يكون، ونسب كل قول إلى قائله، وكل رواية إلى صاحبها، وانفرد بما لا يحصى من شواهد الشعر قصيده ورجزه، والقرآن الكريم، والحديث، والأمثال، وفصيح الكلام العربى، وفسر الغريب، وشرح المعمّى، وحدد القراءات، وعنى بشروح الحديث، وروى مضرب الأمثال، والطرف والنوادر، وأغنى كتابه بالظواهر الأدبية، والفوائد اللغوية، والنحوية، والصرفية، والعروضية، والاشتقاقية، واهتم بذكر أيام العرب، ولغات قبائلها، واللغات الدخيلة عليها. كما تبين لنا أن «أبا عثمان سعيد بن محمد المعافرى القرطبى ثم السرقسطى المعروف بابن الحداد» كان رحمه الله عالما، حافظا، إماما فى اللغة، والنحو، والتصريف، والأدب وعلوم القرآن والحديث.
৭ - গ্রন্থের গুরুত্ব

ইবনুল কুতীয়ার ‘কিতাবুল আফআল’ (ক্রিয়া গ্রন্থ) নিয়ে যারা বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন, তাদের মধ্যে দুইজন মহান আলেম প্রসিদ্ধ: একজন হলেন ‘আবু উসমান আস-সারাকুস্তি’, যাঁর গ্রন্থটি আমরা প্রথমবারের মতো সম্পাদিত আকারে প্রকাশ করছি, এবং দ্বিতীয়জন আন্দালুসের অন্যতম আলেম, যিনি ‘আবু উসমান’-এর পরবর্তী সময়ে এসেছিলেন। এই উভয় আলেম ইবনুল কুতীয়ার ‘কিতাবুল আফআল’ অধ্যয়ন করেছেন, তা পরিমার্জন করেছেন এবং মূল লেখকের যে সকল ভুলভ্রান্তি বা ত্রুটি হয়েছিল তা নিরসন করেছেন। আরবি গ্রন্থাগারে বিদ্যমান স্বতন্ত্রভাবে ক্রিয়াপদ নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে এই তিনটি গ্রন্থ ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থের কথা আমাদের জানা নেই। ইবনুল কুতীয়ার গ্রন্থটি একবার ‘লাইডেন’-এ (১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দ) এবং আরেকবার কায়রোতে (১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দ) মুদ্রিত হয়েছে।

আর ইবনুল কাত্তায়ের গ্রন্থটি ‘হায়দ্রাবাদ’-এ (১৩৬০ হিজরি) মুদ্রিত হয়েছে।

এই তিনটি গ্রন্থের তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আবু উসমান আল-মাআফিরি এবং ইবনুল কাত্তায়ের গ্রন্থ দুটি ক্রিয়াপদ সম্পর্কে আরবি গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত সবচেয়ে বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ দুটি গ্রন্থ।

তদুপরি আবু উসমানের গ্রন্থটি এ পর্যন্ত আমাদের আরবি গ্রন্থাগারের জন্য উপস্থাপিত ক্রিয়াপদ বিষয়ক সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সমৃদ্ধ গ্রন্থ। কেননা এতে তিনি ইবনুল কুতীয়ার গ্রন্থটিকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, এর ত্রুটিগুলো সংশোধন করেছেন, যা বাদ পড়েছিল তা সংযোজন করেছেন, প্রতিটি ক্রিয়াপদকে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করেছেন এবং প্রতিটি উক্তিকে তার প্রবক্তার দিকে ও প্রতিটি বর্ণনাকে তার বর্ণনাকারীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। তিনি অসংখ্য কাব্যিক দৃষ্টান্ত (কাসিদা ও রাজায ছন্দ), পবিত্র কুরআন, হাদিস, প্রবাদ-প্রবচন এবং বিশুদ্ধ আরবি বাকভঙ্গি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন। তিনি বিরল ও কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন, অস্পষ্ট বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন, কিরাতসমূহ সুনির্দিষ্ট করেছেন, হাদিসের ব্যাখ্যায় মনোনিবেশ করেছেন এবং প্রবাদ-প্রবচনের পটভূমি, কৌতুক ও বিরল ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য এবং আভিধানিক, ব্যাকরণিক, রূপতাত্ত্বিক, ছন্দপ্রকরণীয় ও ব্যুৎপত্তিগত নানাবিধ তথ্য দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি তিনি আরবদের ঐতিহাসিক দিবসসমূহ, বিভিন্ন গোত্রের উপভাষা এবং তাতে অনুপ্রবেশকারী বিদেশি শব্দাবলি উল্লেখ করার প্রতিও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তদুপরি আমাদের নিকট এটি প্রতিভাত হয়েছে যে, ‘আবু উসমান সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাআফিরি আল-কুরতুবি অতঃপর আস-সারাকুস্তি—যিনি ইবনুল হাদ্দাদ নামে পরিচিত’ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)—একজন বিজ্ঞ আলেম, হাফেজ এবং ভাষা, ব্যাকরণ, রূপতত্ত্ব, সাহিত্য এবং কুরআন ও হাদিস বিজ্ঞানে একজন ইমাম ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আফআল - সাঈদ আল-মুয়াফিরী (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌8 - نسخ الكتاب

وصل إلينا بعد طول البحث، ومداومة التنقيب، وبذل جهد الطاقة فى مراجعة فهارس الكتب والمكتبات نسختان من أفعال أبى عثمان.

 

‌‌النسخة الأولى

نسخة مصورة عن النسخة المخطوطة المحفوظة بمكتبة «مراد ملّا» تحت رقم 1763، وهى نسخة نفيسة تقع فى مائتى لوحة ولوحة، كل لوحة من صفحتين متقابلتين فى حجم 22 * 30 سم، ومسطرتها سبعة وعشرون سطرا، متوسط كلمات السطر ثلاث وعشرون كلمة.

والنسخة مكتوبة بخط نسخ دقيق كل الدقة، وتمتاز بحسن الخط، وتناسق السطور، وقد أهمل الناسخ نظام التعقيبة فى ذيل الصفحات.

والنسخة مقسمة إلى عشرين كراسة كل كراسة عشر لوحات، ما عدا الكراسة الرابعة عشرة، فإنها تقع فى اثنتى عشرة لوحة، والكراسة العشرين فإنها تقع فى تسع لوحات، والنسخة مكتوبة بالمداد الأسود، وكتبت الأبواب والفصول والأفعال بنفس المداد، إلا أنها بخط أكثر وضوحا، وجاءت الأفعال فى صلب الصفحات.

وعلى حواشى النسخة تعليقات لعدد من العلماء، بعضها استقلت به، وبعضها جاء فى النسختين، وبخاصة تعليقات النصف الثانى من هذه النسخة، وكأن هذه الحواشى المشتركة من نسخة أبى عثمان رحمه الله وقد ذيلت الحواشى بلفظة «حاشية» حتى لا تلتبس بالأصل.

وقد تدارك الناسخ بعض ما ندّ عنه فكتبه فى الحواشى، وذيله بلفظة «صح» ليفرق بينه وبين الحواشى.
৮ - কিতাবের পাণ্ডুলিপি

দীর্ঘ অনুসন্ধান, নিরন্তর গবেষণা এবং বিভিন্ন গ্রন্থ ও গ্রন্থাগারের ক্যাটালগ পর্যালোচনায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পর আবু উসমানের ‘আফআল’ গ্রন্থের দুটি পাণ্ডুলিপি আমাদের হস্তগত হয়েছে।

 

‌‌প্রথম পাণ্ডুলিপি

এটি ‘মুরাদ মোল্লা’ লাইব্রেরিতে ১৭৬৩ নম্বরে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির একটি ছায়ালিপি (ফটোকপি)। এটি একটি অতি মূল্যবান অনুলিপি যা ২০১টি পত্রে সমাপ্ত। প্রতিটি পত্র ৩০ * ২২ সে.মি. আকারের দুটি মুখোমুখি পৃষ্ঠা নিয়ে গঠিত। এর পৃষ্ঠাপ্রতি লাইনের সংখ্যা সাতাশটি এবং প্রতি লাইনের গড় শব্দসংখ্যা তেইশটি।

পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম নাসখ লিপিতে লিখিত। এটি হাতের লেখার সৌন্দর্য এবং লাইনের সামঞ্জস্যের দিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তবে লিপিকার পৃষ্ঠার পাদদেশে ‘তাক্বিবা’ (পরবর্তী পৃষ্ঠার প্রথম শব্দের সংকেত) পদ্ধতি পরিহার করেছেন।

পাণ্ডুলিপিটি বিশটি কুরাসা বা খণ্ডে বিভক্ত। প্রতিটি খণ্ড দশটি করে পত্র বিশিষ্ট, তবে চৌদ্দতম খণ্ডটি বারোটি পত্রের এবং বিশতম খণ্ডটি নয়টি পত্রের সমন্বয়ে গঠিত। অনুলিপিটি কালো কালিতে লেখা হয়েছে। অধ্যায়, পরিচ্ছেদ এবং ক্রিয়াসমূহ একই কালিতে লেখা হলেও সেগুলো অধিকতর স্পষ্ট অক্ষরে লিখিত এবং ক্রিয়াসমূহ পৃষ্ঠার মূল অংশেই স্থান পেয়েছে।

পাণ্ডুলিপিটির পার্শ্বটিকায় বেশ কয়েকজন আলেমের মন্তব্য রয়েছে। এর মধ্যে কিছু মন্তব্য কেবল এই পাণ্ডুলিপিতেই স্বতন্ত্রভাবে রয়েছে, আবার কিছু উভয় পাণ্ডুলিপিতেই বিদ্যমান। বিশেষ করে এই পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয়ার্ধের টীকাগুলোর ক্ষেত্রে এটি লক্ষ্য করা যায়। মনে হয় যেন এই সাধারণ পার্শ্বটীকাগুলো আবু উসমান (রহ.)-এর পাণ্ডুলিপি থেকেই সংগৃহীত। মূল পাঠের সাথে যাতে বিভ্রান্তি না ঘটে, সেজন্য টীকাগুলোর শেষে ‘হাশিয়া’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে।

লিপিকার অসাবধানতাবশত মূল পাঠের যা কিছু বাদ পড়ে গিয়েছিল, তা পার্শ্বটিকায় লিখে সংশোধন করেছেন এবং সাধারণ টীকা থেকে একে আলাদা করার জন্য এর শেষে ‘সহ’ শব্দটি লিখে দিয়েছেন।