(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع الصحيح للسيرة النبوية القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الجامع الصحيح للسيرة النبوية
المؤلف: سعد المرصفي [ت 1439 هـ]
الناشر: دار ابن كثير، الكويت
الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م
عدد الأجزاء: 6 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 شوّال 1436
সীরাতুন্নাবাবীর নির্ভরযোগ্য সংকলন (আল-জামেউস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ) বিভাগ: সীরাতুন্নাবাবী (নবীর জীবনী)
কিতাব: সীরাতুন্নাবাবীর নির্ভরযোগ্য সংকলন (আল-জামেউস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ)
লেখক: সা'দ আল-মারসাফি [মৃত্যু: ১৪৩৯ হিজরি]
প্রকাশক: দার ইবনে কাসির, কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৬ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)
[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৬ শাওয়াল ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع الصحيح للسيرة النبوية [1]
«خصائص السيرة ودورها في تكوين الشخصية الإسلامية»تأليف
الدكتور سعد المرصفي
সিরাতে নববীর বিশুদ্ধ সংকলন [১]
«সিরাতের বৈশিষ্ট্য এবং ইসলামী ব্যক্তিত্ব গঠনে এর ভূমিকা»রচনায়
ডক্টর সাদ আল-মারসাফি
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة
الطَّبعة الأولى
1430 هـ - 2009 م
مكتبة ابْن كثير
ص. ب: 1106 حَولي 32012 الكويت
تليفون: 22631298 - فاكس: 22657046
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
মাকতাবাতু ইবনে কাসীর
পি. ও. বক্স: ১১০৬ হাওয়ালি ৩২০১২ কুয়েত
টেলিফোন: ২২৬৩১২৯৮ - ফ্যাক্স: ২২৬৫৭০৪৬
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الْجَامِع الصَّحِيح للسيرةِ النَّبَوِيَّة
সীরাতে নাবাবিয়্যাহর সহীহ সংকলন
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
{بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (1) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (3) مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (4) إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5) اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (7)}
(১) পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। (২) সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। (৩) পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। (৪) বিচার দিবসের মালিক। (৫) আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি। (৬) আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন। (৭) তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের পথ নয় যারা ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
{قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ (158)} [الأعراف: 158]
{وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ (107)} [الأنبياء: 107]
{لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [الأحزاب: 21]
{বলুন, হে মানবজাতি! নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল, যাঁর মালিকানাধীন আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূল—সেই নিরক্ষর নবীর প্রতি ঈমান আনো, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা সঠিক পথ প্রাপ্ত হও (১৫৮)} [আল-আরাফ: ১৫৮]
{আর আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি (১০৭)} [আল-আম্বিয়া: ১০৭]
{নিশ্চয় আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, ওই ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে (২১)} [আল-আহজাব: ২১]
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
(في علم المغازي خير الدنيا والآخرة)!
الزهري
(كنا نعلّم مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما نعلم السورة من القرآن الكريم)!
زين العابدين علي بن الحسين
(كان أبي يعلمنا المغازي والسرايا، ويقول:
يا بني هذه شرف آبائكم فلا تضيّعوا ذكرها)!
إسماعيل بن محمد بن سعد بن أبي وقاص
(মাগাজি তথা যুদ্ধাভিযানের জ্ঞানে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত রয়েছে)!
আয-যুহরী
(আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধাভিযানসমূহ শিখতাম, ঠিক যেভাবে আমরা পবিত্র কুরআনের সূরা শিখতাম)!
যয়নুল আবেদিন আলী ইবনুল হুসাইন
(আমার পিতা আমাদের যুদ্ধাভিযান ও ছোট ছোট সামরিক অভিযানসমূহ শিক্ষা দিতেন এবং বলতেন:
হে বৎস! এগুলো তোমাদের পিতৃপুরুষদের মর্যাদা, সুতরাং এগুলোর স্মরণকে তোমরা নষ্ট করো না)!
ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ বিন সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
إهداءإلى المهاجرين في سبيل الله:
{الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا} [الحشر: 8]
إلى أنصار الحق ودعاته، وجنده وحُماته .. الذين يرجون الشهادة في سبيل الله!
إلى أصحاب البصائر والأبصار .. الذين يتطلعون إلى آفاق النور والإخاء، والإيثار والفداء، والبذل والعطاء، والحب والنقاء، والود والصفاء، ليعيشوا في أجواء الروح الرفافة الندى والظلال!
إلى أهل القرآن .. أهل الله وخاصته .. الذين قال فيهم الرسول صلى الله عليه وسلم فيما
رواه أحمد وغيره بسند حسن عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ لله أَهلينَ من الناسِ". فقيل: منْ أَهلُ الله منهم؟ قال: "أهلُ القرآنِ
هُم أهلُ الله وخَاصّتُه" (1)!
--------------------------------------------
উৎসর্গআল্লাহর পথে হিজরতকারীদের প্রতি:
{যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির সন্ধান করে} [হাশর: ৮]
সত্যের সাহায্যকারী ও দাওয়াতদানকারী এবং এর সৈন্য ও রক্ষকদের প্রতি.. যারা আল্লাহর পথে শাহাদাত কামনা করে!
অন্তর্দৃষ্টি ও চাক্ষুষ দৃষ্টিসম্পন্নদের প্রতি.. যারা আলো ও ভ্রাতৃত্ব, আত্মত্যাগ ও উৎসর্গ, দান ও বদান্যতা, ভালোবাসা ও পবিত্রতা এবং মমতা ও স্বচ্ছতার দিগন্তের দিকে উন্মুখ হয়ে থাকে, যাতে তারা স্নিগ্ধ শিশির ও ছায়াময় রূহানি পরিবেশে বসবাস করতে পারে!
কুরআনের ধারক-বাহকদের প্রতি.. যারা আল্লাহর পরিজন ও তাঁর বিশেষ বান্দা.. যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যা আহমদ এবং অন্যরা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "মানুষের মধ্যে আল্লাহর কিছু পরিজন রয়েছে।" জিজ্ঞেস করা হলো: তাদের মধ্যে আল্লাহর পরিজন কারা? তিনি বললেন: "কুরআনের ধারক-বাহকরাই আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা" (১)!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
إلى الإخوة الأحبّة جُند الحق .. الذين صبروا وصابروا ورابطوا .. وزادتهم المِحنُ منحًا وثَبَاتاً: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا (23)} [الأحزاب: 23]!
أصدق الناس قولاً، وأجمعهم لُبًّا، وأقواهم عزماً، الجهاد شعارهم، واليقن دثارهم، لا تتغيّر بهم في خشية الله عادة، ولا تملكهم في مخافته هوادة: {الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ (173)} [آل عمران: 173]!
إلى البراعم المؤمنة، والأجيال القادمة، الذين يأتي الله بهم، على امتداد آباد الزمان، وأبعاد المكان: {فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ (54)} [المائدة: 54]!
إلى الأخُوَّة الزّكيّة، الصافية النقيّة، والمحبّة النديّة، والمودّة الرضيّة، والنفحة العلويَّة، والألفة القدسيّة، التي تنشئ في القلب إدراكاً كاملاً، ونورًا شاملاً، ونبضاً متصلاً، وحياة مباركة، هي سراج ما بطن، وملاك ما علن، تنطف نوراً كأنها قناع رحمة الله: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ} [الحجرات: 10]!
--------------------------------------------
সত্যের সৈনিক সেইসব প্রিয় ভাইদের প্রতি... যারা ধৈর্য ধারণ করেছে, ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছে এবং সদাপ্রস্তুত থেকেছে... আর পরীক্ষা যাদের জন্য উপহার এবং অবিচলতা বাড়িয়ে দিয়েছে: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের দায়িত্ব পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে) এবং কেউ কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করেনি (২৩)} [আল-আহযাব: ২৩]!
যারা কথায় অধিক সত্যবাদী, বুদ্ধিমত্তায় শ্রেষ্ঠ, সংকল্পে সুদৃঢ়, জিহাদ যাদের ভূষণ আর দৃঢ় বিশ্বাস যাদের পোশাক। আল্লাহর ভয়ে যাদের স্বভাবে পরিবর্তন ঘটে না এবং তাঁর ভীতির ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা যাদের বশীভূত করতে পারে না: {যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে; সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো। কিন্তু তা তাদের ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক (১৭৩)} [আলি ইমরান: ১৭৩]!
সেইসব মুমিন নবীনদের প্রতি এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি, যাদেরকে আল্লাহ সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় এবং স্থানের দূরদূরান্তে নিয়ে আসবেন: {অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালোবাসবে; তারা মুমিনদের প্রতি কোমল এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে; তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় পাবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা এটি দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ (৫৪)} [আল-মায়িদাহ: ৫৪]!
পবিত্র ও বিশুদ্ধ ভ্রাতৃত্বের প্রতি; নির্মল ভালোবাসা, সন্তোষজনক সৌহার্দ্য, উচ্চমার্গীয় অনুপ্রেরণা এবং পবিত্র সখ্যতার প্রতি, যা হৃদয়ে পূর্ণ উপলব্ধি, ব্যাপক নূর, অবিচ্ছিন্ন স্পন্দন এবং এক বরকতময় জীবনের জন্ম দেয়। যা গোপন বিষয়ের প্রদীপ এবং প্রকাশ্য বিষয়ের মূল চালিকাশক্তি। এটি নূরে প্রজ্জ্বলিত যেন তা আল্লাহর রহমতের আবরণ: {নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই} [আল-হুজুরাত: ১০]!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
{فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا} [آل عمران: 103]!
وهنا يقف الفكر سابحاً مستبحاً، والحسّ مشدوهاً، أمام وقع التصوير والتعبير، والإدراك والتَّقدير، في لمسات وجدانيّة عقليّة، روحيّة فكريّة، فطريّة، نفسيّة، لا يؤثّر فيها إلا الضمير، ولا يطلع عليها إلا اللطيف الخبير .. إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، وإلى أن يجمعنا الحق جل شأنه في مستقر رحمته: {إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ (47)} [الحجر: 47]!
آمين.
إلى هؤلاء وهؤلاء أهدي هذا الكتاب ..
{ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে} [আল ইমরান: ১০৩]!
এখানে এই চিত্রায়ন ও বাচনভঙ্গি এবং উপলব্ধি ও মূল্যায়নের অভিঘাতের সামনে চিন্তা মগ্ন হয়ে থমকে দাঁড়ায় আর অনুভূতি হয় বিমুগ্ধ; এটি এমন এক আবেগীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক, আধ্যাত্মিক ও তাত্ত্বিক এবং সহজাত ও মনস্তাত্ত্বিক পরশ, যা বিবেক ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং সুক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ সত্তা ছাড়া কেউ তা অবগত হতে পারে না.. আল্লাহ পৃথিবী ও তার ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত, এবং সত্য সত্তা—যাঁর মহিমা অতি মহান—আমাদেরকে তাঁর রহমতের চিরস্থায়ী নিবাসে একত্রিত করা পর্যন্ত: {তারা ভাই ভাই হয়ে একে অপরের মুখোমুখি আসনে অবস্থান করবে (৪৭)} [আল-হিজর: ৪৭]!
আমীন।
তাদের এবং এদের সবার প্রতি আমি এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করছি..
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمة
ভূমিকা
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مقدمة
1 - السيرة ومكانتها
2 - في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم
3 - مكانة النبوة والأنبياء
4 - النبوَّة وبناء الحضارة
5 - أعظم دوافع التطوّر
6 - الطفولة الفكريّة
7 - أعظم تراث إنساني
8 - أعظم شهادة
9 - فتح فكري جديد
10 - شمس الوجود الروحي
11 - في علم المغازي خير الدنيا والآخرة
12 - الله أكبر
ভূমিকা
১ - সীরাত ও এর মর্যাদা
২ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে
৩ - নবুওয়াত ও নবীগণের মর্যাদা
৪ - নবুওয়াত ও সভ্যতা বিনির্মাণ
৫ - অগ্রগতির সর্বশ্রেষ্ঠ চালিকাশক্তি
৬ - বুদ্ধিবৃত্তিক শৈশব
৭ - সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক ঐতিহ্য
৮ - সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষ্য
৯ - নতুন এক বুদ্ধিবৃত্তিক বিজয়
১০ - আধ্যাত্মিক অস্তিত্বের সূর্য
১১ - মাগাযী শাস্ত্রের মধ্যে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ
১২ - আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مقدمة
ما أحوجنا أن نبصر مكانة السيرة النبويّة .. وأنها تسع الحياة كلها، وأعظم تراث إنساني فريد، وفتح فكري جديد، على مدى التاريخ .. وما يجب أن ندرسه .. ونفقه في معالمها خيَريْ الدنيا والآخرة!
وما أحوجنا أن نبصر خصائص الرسالة والرسول صلى الله عليه وسلم .. ومصادر تلك الخصائص، ومناهج المؤلفين قديماً وحديثاً .. والمنهج الأمثل في الدراسة .. وأنه واسع الآفاق، متنوّع المعالم، غزير العوالم .. تسابقت الأقلام في حلبته، تنافست الأفكار في ديباجته!
وقد عشت أكثر من نصف قرن في تلك الرحاب .. وقمت بتدريس السيرة في الجامعة سنين؛ مما جعلني بعون الله وتوفيقه أكتب بعد طول مراجعة للمصادر الأصليّة، وفق أصول التحديث روايةً ودرايةً!
وسجل التاريخ منذ فجر الرسالة صيحات من هنا وهناك، تشكّل في إطارها سيل منهمر من الحقد الأعمى على خاتم النبين محمد صلى الله عليه وسلم، تحيطه جهالة جهلاء، وفوضى عمياء، وأصبحت تلك المفتريات غريزة موروثة، وخاصّة طبيعية، تقوم على المؤثرات التي خلفتها تلك الحرب الضروس في القديم والحديث سواء!
1 - السيرة ومكانتها:وإذا كانت السيرة في اللغة بمعنى الطريقة والسنة، فإنها يراد بها التعرّف على حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، منذ ظهور الإرهاصات التي مهّدت
ভূমিকা
সীরাতুন নববীর মর্যাদা উপলব্ধি করার জন্য আমরা কতই না মুখাপেক্ষী! এটি এমন এক বিষয় যা সমগ্র জীবনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং ইতিহাসের পরিক্রমায় এক অনন্য মহান মানবিক ঐতিহ্য ও এক নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক বিজয়ের দ্বার... এবং আমাদের যা অধ্যয়ন করা উচিত আর যার নিদর্শনাদীতে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ অনুধাবন করা আবশ্যক!
রিসালাত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উপলব্ধি করার জন্য আমরা কতই না মুখাপেক্ষী... এবং ঐ সকল বৈশিষ্ট্যের উৎসসমূহ, প্রাচীন ও আধুনিক লেখকদের কর্মপদ্ধতি আর অধ্যয়নের সর্বোত্তম পন্থা সম্পর্কে জানা! সীরাতের এই ক্ষেত্রটি দিগন্তবিস্তৃত, বৈচিত্র্যময় নিদর্শনে সমৃদ্ধ ও প্রভূত জ্ঞান জগতের আধার... যার ময়দানে কলমসমূহ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে এবং এর রূপরেখা অঙ্কনে চিন্তাসমূহ একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়েছে!
আমি এই অঙ্গনে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় অতিবাহিত করেছি এবং দীর্ঘ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সীরাত শিক্ষা দিয়েছি; যা আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিকে আমাকে দীর্ঘ সময় ধরে মূল উৎসসমূহ পর্যালোচনার পর বর্ণনা ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে!
রিসালাতের ঊষালগ্ন থেকেই ইতিহাস এখান-সেখান থেকে এমন কিছু আওয়াজ নথিবদ্ধ করেছে, যার কাঠামোর ভেতরে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি অন্ধ বিদ্বেষের এক প্রবল স্রোতধারা প্রবাহিত হয়েছে। একে ঘিরে রেখেছে চরম মূর্খতা ও অন্ধ বিশৃঙ্খলা। আর সেই অপবাদগুলো এক উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত মজ্জাগত স্বভাব এবং এক সহজাত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে, যা প্রাচীন ও আধুনিক উভয় সময়ে সেই বিধ্বংসী যুদ্ধের রেখে যাওয়া প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে!
১ - সীরাত ও এর মর্যাদা:শাব্দিক অর্থে সীরাত যদি হয় পদ্ধতি ও রীতি, তবে পারিভাষিক অর্থে এর দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন সম্পর্কে পরিচিতি লাভ করা উদ্দেশ্য, সেই সকল অলৌকিক নিদর্শনাবলি প্রকাশের সময় থেকে যা পথ সুগম করেছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لرسالته (1)، وما سبق مولده من سمات تلقي أضواء رحمانية على طريقة الدعوة المحمديّة، ومولد الرسول صلى الله عليه وسلم، ونشأته، حتى مبعثه .. وما جاء بعد ذلك من دعوة الناس إلى (الدّين القيّم) .. وما لقي في سبيل نشر هذا الذين من معارضة، وما جرى بينه صلى الله عليه وسلم وبين من عارضوه من صراع بالبيان والسنان، وذكر من استجاب له صلى الله عليه وسلم، حتى علت راية الحق، وأضاءت شعلة الإيمان!
إنها نور وهّاج، أفضى إلى ظلمات الجهل والوثنيّة، فانجابت كما ينجاب الغمام، وهدى من الله عز وجل أرسله إلى الإنسانيّة الضالّة، فانتشلها من ضياع، وانتاشها من هلاك، وأنقذها مما كانت تتخبّط فيه من دياجير الظلام، وعقابيل الضلال!
إن الله عز وجل خلق محمداً صلى الله عليه وسلم بشراً سويًّا، ولكنه فوق سائر البشر، وآثاره التي حملتها الأجيال من بعده فوق القُدَر، ونحن معشر المتبعين كان فينا شرف هذا الاتباع إنما ندرك بالتصوير أمثالنا، ومن خواطرنا ومنازع نفوسنا نتعرف نفوس غيرنا، ونحكم على أحوالهم، وإن حاولنا أن ندرك من هو أعلى منا فإنه يجب أن يكون علوه على مَرأى أنظارنا، وفي مطالع آفاقنا، وعندئذ نحاول، وقد نصل .. ولكن الحديث عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، في علو لا نصل إليه، وفي سماك لا نراه، وليس منّا من يقاربه حتى نتمثّله ونتخيّله، فأنّى لأمثالنا أن يكتب في شأنه، وأن يعلو إلى قدره؟!
إن ذلك لأمر فوق المنال، ويعلو على مدارك الخيال!
--------------------------------------------
তাঁর রিসালাতের জন্য (১), এবং তাঁর জন্মের পূর্বেকার সেই সকল বৈশিষ্ট্য যা মুহাম্মাদী দাওয়াতের পদ্ধতির ওপর রাহমানী আলোকপাত করে, এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম, তাঁর বেড়ে ওঠা, এমনকি তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি পর্যন্ত... এবং এরপরে মানুষকে (সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের) দিকে আহ্বান করার বিষয়াবলি... এবং এই দ্বীন প্রচারের পথে তিনি যে বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছেন, এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যারা তাঁর বিরোধিতা করেছিল তাদের মধ্যে প্রমাণ ও অস্ত্রের মাধ্যমে যে সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছে, এবং যারা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন তাদের আলোচনা, অবশেষে হকের পতাকা সমুন্নত হলো এবং ঈমানের মশাল প্রজ্জ্বলিত হলো!
নিশ্চয়ই তা এক উজ্জ্বল আলো, যা মূর্খতা ও মূর্তিপূজার অন্ধকারের ওপর আপতিত হয়েছে এবং মেঘের মতো সেই অন্ধকারকে বিদূরিত করেছে। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক হিদায়াত যা তিনি পথভ্রষ্ট মানবতার কাছে প্রেরণ করেছেন, অতঃপর একে লক্ষ্যহীনতা থেকে উদ্ধার করেছেন, ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন এবং অন্ধকারের অতল গহ্বর ও গোমরাহীর বিষময় পরিণতি থেকে মুক্তি দিয়েছেন যাতে তারা হাতড়ে বেড়াচ্ছিল!
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একজন সুঠাম মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু তিনি অন্য সকল মানুষের ঊর্ধ্বে। তাঁর যে সকল নিদর্শন পরবর্তী প্রজন্মসমূহ বহন করে আসছে তা মানুষের সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে। আমরা অনুসরণকারীদের দল, যাদের মধ্যে এই অনুসরণের সম্মান রয়েছে, আমরা কেবল আমাদের মতো মানুষদেরই চিত্রায়নের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পারি। আমাদের চিন্তা ও মনের প্রবৃত্তি থেকে আমরা অন্যদের মনের অবস্থা জানতে পারি এবং তাদের অবস্থা বিচার করি। আমরা যদি আমাদের চেয়ে উচ্চতর কাউকে উপলব্ধি করতে চাই, তবে তাঁর উচ্চতা আমাদের দৃষ্টিসীমার মধ্যে এবং আমাদের দিগন্তের উদয়স্থলে হতে হবে; তখন আমরা চেষ্টা করি এবং হয়তো সফল হই... কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন সম্পর্কে আলোচনা এমন এক উচ্চতায় যা আমরা স্পর্শ করতে পারি না এবং এমন এক গগনসীমায় যা আমরা দেখতে পাই না। আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাঁর নিকটবর্তী হতে পারে যেন আমরা তাঁকে চিত্রায়িত করতে পারি বা কল্পনা করতে পারি। সুতরাং আমাদের মতো মানুষের পক্ষে কীভাবে তাঁর শানে লেখা সম্ভব এবং কীভাবে তাঁর মর্যাদায় উন্নীত হওয়া সম্ভব?!
নিশ্চয়ই তা সাধ্যাতীত বিষয় এবং কল্পনার বোধশক্তিরও ঊর্ধ্বে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
من أجل هذا نضرع إلى الله -جلّ شأنه- أن يشملنا بغفرانه، إن تسامينا محاولين الوصول إلى الحديث عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، فالمعذرة قائمة، والقصور ثابت، ولا يكلف الله نفساً إلا وسعها!
وهنا نحسّ النور يغمر حياتنا، ونشعر بالضوء المنير يكفّ أبصارنا، فأنّى ندرك، وأنّى نرى، وقد صرنا كذي رمد غمره ضوء الشمس، أو ما هو أعلى، فأصابته الحيرة، ولا هادي له يخرجه منها، إلا أن يكون الهُدى من الله، والعون والرشاد، والتوفيق والسداد!
ومن ثم نسأل الله عز وجل أن يهدينا لتصوير حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، أو لتقريبها ما دام التصوير فوق الطاقة، والقاصر معذور، والله تبارك وتعالى عفوّ غفور!
ومعلوم أن وجوه عظمة الرسول صلى الله عليه وسلم قد تعدّدت، بحيث يعجز المحصي عن الإحصاء، والمستقري عن الاستقراء!
وإذا نفدت الطاقة كان الإقرار بالعجز، وبأن الله عز وجل قد صانه وحفظه، وتولاه بعنايته، ورعاه برعايته، حتى كان وحيداً بين الغلمان بما كلأه الله به وحماه، وصبيًّا فريدًا بين الصبيان، والشابّ الأمين البعيد عن رجس الجاهليّة بين الشباب، فكل شيء في حياته الأولى كان من الخوارق التي علت عن الأسباب والمسبّبات، فلم تكن أثر تربية موجهة، ولا أثر بيئة حاملة، ولا أثر شرف رفيع وإن كان محقّقاً؛ ولكنه كان صنع الله، تمثّلت فيه المعجزة بشخصه وكونه ووجوده، ففيه البشريّة، وفيه المعجزة الإلهيّة!
وصدق الله العظيم: {اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [الأنعام: 124]!
এজন্য আমরা মহান আল্লাহর সমীপে সবিনয় প্রার্থনা জানাই—তাঁর মহিমা উচ্চ হোক—তিনি যেন আমাদের তাঁর ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত করেন। যদি আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন নিয়ে আলোচনার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করি, তবে সেক্ষেত্রে আমাদের অক্ষমতা সুনিশ্চিত এবং ওজর বিদ্যমান; আর আল্লাহ কোনো আত্মাকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।
এখানে আমরা অনুভব করি যে নূর আমাদের জীবনকে প্লাবিত করছে, এবং আমরা সেই প্রদীপ্ত জ্যোতি অনুভব করি যা আমাদের দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। তবে কীভাবে আমরা উপলব্ধি করব, আর কীভাবেই বা দেখব? আমাদের অবস্থা তো সেই চক্ষুরোগাক্রান্ত ব্যক্তির মতো যাকে সূর্যের আলো অথবা তার চেয়েও তীব্র কোনো জ্যোতি আচ্ছন্ন করে ফেলেছে, ফলে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে; আর আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াত, সাহায্য, সঠিক পথপ্রদর্শন এবং তৌফিক ব্যতীত তাকে এই অবস্থা থেকে বের করার মতো কোনো পথপ্রদর্শক নেই।
অতঃপর আমরা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন চিত্রায়িত করার অথবা তার নিকটবর্তী হওয়ার পথ দেখান, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই চিত্রায়ন সাধ্যের অতীত থাকে; আর অক্ষম ব্যক্তি ক্ষমাপ্রাপ্ত, আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
এটি সুবিদিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহত্ত্বের দিকগুলো বহুমুখী, যা কোনো গণনাকারীর পক্ষে গণনা করা এবং কোনো অনুসন্ধানকারীর পক্ষে অনুসন্ধান করে শেষ করা অসম্ভব।
আর যখন মানুষের শক্তি ফুরিয়ে যায়, তখন স্বীয় অক্ষমতা স্বীকার করে নেওয়া এবং এটি মেনে নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁকে রক্ষা করেছেন, হেফাযত করেছেন এবং স্বীয় বিশেষ তদারকি ও যত্নে লালন করেছেন। এমনকি কিশোরদের মাঝে তিনি ছিলেন অনন্য, কারণ আল্লাহ তাঁকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা দান করেছিলেন। শিশুদের মাঝে তিনি ছিলেন এক অদ্বিতীয় বালক এবং যুবকদের মাঝে তিনি ছিলেন জাহেলিয়াতের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত এক পরম বিশ্বস্ত যুবক। তাঁর প্রাথমিক জীবনের প্রতিটি বিষয়ই ছিল অলৌকিক ঘটনাবলির অন্তর্ভুক্ত, যা স্বাভাবিক কার্যকারণ সম্পর্কের ঊর্ধ্বে ছিল। এটি কোনো পরিকল্পিত লালন-পালনের ফল ছিল না, না ছিল পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাব, কিংবা উচ্চ আভিজাত্যের ফলাফল—যদিও তা সুনিশ্চিতভাবেই বিদ্যমান ছিল। বরং এটি ছিল আল্লাহর সরাসরি সৃষ্টি, যাতে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও অস্তিত্বের মাঝে মুজিযা বা অলৌকিকতা মূর্ত হয়ে উঠেছিল। তাঁর মাঝে যেমন ছিল মানবীয় গুণাবলি, তেমনই ছিল খোদায়ী মুজিযার বহিঃপ্রকাশ।
মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {আল্লাহই ভালো জানেন কোথায় (কাকে) তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন।} [আল-আনআম: ১২৪]!
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والرسالة أمر هائل خطير (1)، أمر كونيّ تتّصل فيه الإرادة الأزليّة الأبديّة بحركة عبد مصطفى، ويتّصل فيه الملأ الأعلى بعالم الإنسان المحدود، وتتصل فيه السماء بالأرض، والدنيا بالآخرة، ويتمثّل فيه الحق الكليّ في قلب بشر، وفي واقع حياة، وفي حركة تاريخ، وتتجرّد فيه كينونة بشريّة من حظ ذاتها لتخلص لله، لا خلوص النيّة والعمل وكفى؛ ولكن خلوص المحلّ الذي يملؤه هذا الأمر الخطير، فذات الرسول صلى الله عليه وسلم تصبح موصولة بهذا الحق ومصدره صلة مباشرة كاملة، وهي لا تتّصل هذه الصلة إلا أن تكون من ناحية عنصرها الذاتي صالحة للتلقّي المباشر بلا عوائق ولا سدود، ولا قيود ولا حدود!
وهنا نبصر النبوة أمراً عظيماً حقًّا، ونتصوّر مجرّد تصوّر لحظة التلقّي عظيمة حقًّا (2)!
هذا الوحي .. هذا الاتصال العجيب .. هذا الاتصال المعجز الذي لا يملك إلا الله أن يجعله واقعاً يتحقق .. ولا يعرف إلا الله كيف يقع ويتحقّق؟!
تُرى، أيّة طبيعة هذه التي تتلقّى ذلك الاتصال العلويّ الكريم؟!
أيّ جوهر من جواهر الأرواح ذلك الذي يتّصل بهذا الوحي، ويختلط بذلك العنصر ويتّسق مع طبيعته وفحواه؟!
إنه إنسان ذو حدود وقيود، وتلك حقيقة .. ولكنها تتراءى هنالك بعيداً بعيداً على أفق عال، ومرتقى صاعد، لا تكاد المدارك تتملاّه!
روح هذا النبيّ .. روح هذا الإنسان الكريم .. تُرى، كيف كانت تحسّ بهذه الصلة؟! وهذا التلقّي؟! كيف كانت تتفتّح؟!
--------------------------------------------
আর রিসালাত (বার্তা) এক বিশাল ও গুরুতর বিষয় (১), একটি মহাজাগতিক বিষয় যাতে অনাদি-অনন্ত ইচ্ছা একজন মনোনীত দাসের কর্মতৎপরতার সাথে যুক্ত হয়, এবং এতে উচ্চতর পরিষদ (মালা-উল-আ'লা) মানুষের সসীম জগতের সাথে যুক্ত হয়, আসমান জমিনের সাথে এবং দুনিয়া আখিরাতের সাথে যুক্ত হয়। এতে এক মানবের হৃদয়ে, জীবনের বাস্তবতায় এবং ইতিহাসের পরিক্রমায় পূর্ণ সত্য মূর্ত হয়ে ওঠে এবং এতে মানবসত্তা নিজ স্বার্থ থেকে বিমুক্ত হয়ে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয়ে যায়; শুধু নিয়ত ও আমলের একনিষ্ঠতাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই আধারের একনিষ্ঠতা যা এই গুরুতর বিষয়টি দ্বারা পরিপূর্ণ হয়। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তা এই সত্য এবং এর উৎসের সাথে সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গভাবে সংযুক্ত হয়ে যায়। আর এই সত্তা ততক্ষণ পর্যন্ত এই সংযোগ স্থাপন করে না, যতক্ষণ না তা স্বীয় উপাদানের দিক থেকে কোনো প্রকার বাধা-বিপত্তি, প্রতিবন্ধকতা এবং কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা ও সীমানা ছাড়াই সরাসরি গ্রহণের উপযুক্ত হয়!
আর এখানেই আমরা নবুয়তকে প্রকৃতপক্ষে এক মহান বিষয় হিসেবে প্রত্যক্ষ করি এবং কেবল ভাবনার মাধ্যমেই ওহি গ্রহণের মুহূর্তটি যে প্রকৃতপক্ষে কত মহান তা কল্পনা করি (২)!
এই ওহি.. এই বিস্ময়কর সংযোগ.. এই অলৌকিক সংযোগ যা বাস্তবে রূপদান করার ক্ষমতা কেবল আল্লাহই রাখেন.. এবং এটি কীভাবে সংঘটিত ও বাস্তবায়িত হয় তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না?!
দেখা যাক, এটি কেমন প্রকৃতি যা সেই সুউচ্চ ও মহিমান্বিত সংযোগ গ্রহণ করে?!
রূহের সারসত্তাসমূহের মধ্য থেকে এটি কোন সারসত্তা যা এই ওহির সাথে যুক্ত হয় এবং সেই উপাদানের সাথে মিশ্রিত হয়ে তার প্রকৃতি ও মর্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়?!
তিনি তো সীমাবদ্ধতা ও সীমানা বিশিষ্ট একজন মানুষ, আর এটিই সত্য.. কিন্তু তা এক সুউচ্চ দিগন্তে বহুদূরে প্রতিভাত হয়, এক সমুন্নত উচ্চতায় যেখানে মানুষের বোধশক্তি পৌঁছাতে পারে না!
এই নবীর রূহ.. এই মহিমান্বিত মানবের রূহ.. দেখা যাক, তিনি কীভাবে এই সংযোগ ও ওহি গ্রহণকে অনুভব করতেন?! তা কীভাবে বিকশিত হতো?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كيف كان ينساب فيها ذلك الفيض؟!
كيف كانت تجد الوجود في هذه اللحظات العجيبة التي يتجلّى فيها الحق على الوجود، وتتجاوب جنباته كلها بكلمات الحق؟!
أيّة رعاية؟!
وأيّة رحمة؟!
وأيّة مكرمة؟!
والله العليّ الكبير يتلطّف فيكرم هذه الخليقة فيوحي إليها لإصلاح أمرها، وإنارة طريقها، وردّ شاردها، والله هو الغنيّ الحميد!
2 - حياة الرسول صلى الله عليه وسلم -:
وحياة الرسول صلى الله عليه وسلم صفحة عريضة فريدة وحيدة، من صفحات الجهاد لإنقاذ البشريّة، ومثلاً صادقاً فريداً وحيداً لمُثُلِ البرّ والمرحمة، وسيرة عالية، رفيعة الشأن، جليلة القدر، عظيمة النفع، كبيرة الفائدة، تلمع أضواؤها في الكتاب والسنّة وفق قواعد التحديث روايةً ودرايةً، متضمنة نفحات هذا الهُدى، وومضات ذلك الإشراق!
وما كان لباحث منصف يسعى إلى إيفاء حياة الرسول صلى الله عليه وسلم حقها من البحث والتحليل، إلا أن يدرك أنها غنيّة بأحداثها، من حيث كونها:
- واقعيّة مثاليّة!
- حركيّة أخلاقيّة!
- قياديّة روحيّة!
সেই করুণাধারা কীভাবে এর মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছিল?!
অস্তিত্ব কীভাবে সেই বিস্ময়কর মুহূর্তগুলোকে খুঁজে পাচ্ছিল, যখন সত্য অস্তিত্বের উপর প্রকাশিত হন এবং সত্যের বাণীতে এর সকল দিক প্রতিধ্বনিত হয়?!
কী অভূতপূর্ব তত্ত্বাবধান?!
এবং কী অসীম রহমত?!
এবং কী মহান অনুগ্রহ?!
আল্লাহ সুউচ্চ, সুমহান; তিনি সদয় হয়ে এই সৃষ্টিজগতকে সম্মানিত করেন, ফলে তিনি তাদের সংশোধনের জন্য, তাদের পথ আলোকিত করার জন্য এবং লক্ষ্যভ্রষ্টদের ফিরিয়ে আনার জন্য ওহী প্রেরণ করেন। অথচ আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত!
২ - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবন -:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবন হলো মানবজাতিকে উদ্ধারের সংগ্রামের এক সুবিস্তৃত, অনন্য ও অদ্বিতীয় অধ্যায়। এটি পুণ্য ও দয়ার এক সত্য ও অদ্বিতীয় আদর্শ এবং এক সুউচ্চ সীরাত, যা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, মহিমান্বিত, অত্যন্ত হিতকর ও বড়ই উপকারী। হাদীস শাস্ত্রের রিওয়ায়াত ও দিরায়াতের মূলনীতি অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর মাঝে এর আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হয়, যা এই হিদায়াতের সুবাস এবং সেই দিব্যজ্যোতির স্ফুলিঙ্গ ধারণ করে আছে!
একজন ন্যায়নিষ্ঠ গবেষক, যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনের যথাযথ গবেষণা ও বিশ্লেষণ করতে চান, তিনি উপলব্ধি না করে পারেন না যে, তাঁর জীবনের ঘটনাবলি অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যেহেতু তা:
- আদর্শবাদী বাস্তবধর্মী!
- নৈতিকভাবে গতিশীল!
- আধ্যাত্মিক নেতৃত্বপূর্ণ!
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
- فقهيّة حضاريّة (1)!
وقد شهد الرسول صلى الله عليه وسلم في هذا العالم تعليم الله وهدايته (2)، وبشّر الصالحين بالفوز والنجاح، والنجاة والفلاح، فهو (مبشّر)!
ونادى الغافلين، وأسمع الصمّ، وحذّر المذنبين عاقبة ذنوبهم، وأنذر المشرفين على الهلاك، وأيقظ النائمن، فهو (منذر)!
ودعا إلى الله من ضلّ عن سبيل الحق والهُدى والفوز، فهو (داع)!
وإن هو إلا نور يستضاء به إلى يوم القيامة، ونبراس يستنار بأشعّته في شعاب الحياة الملتوية، فتنكشف به الظلمات المتراكمة، فهو (السراج المنير) إلى الأبد!
وصدق الله العظيم: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45)} [الأحزاب: 45]!
نعم، إن جميع الأنبياء كانوا شهداء ودعاة ومبشّرين ومنذرين، بيد أن هذه الصفات لم تكن هكذا في جميع الرسل .. بل كان بعضها في بعضهم أظهر من أخواتها!
فقد غلبت على يعقوب وإسحاق وإسماعيل عليه السلام صفة الشهادة، فكانوا شهداء الحق!
--------------------------------------------
ফিকহি ও তামাদ্দুনিক (১)!
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই জগতে আল্লাহর শিক্ষা ও হিদায়াতের সাক্ষ্য দান করেছেন (২), এবং নেককারদের বিজয় ও সাফল্য এবং মুক্তি ও কল্যাণের সুসংবাদ দিয়েছেন; সুতরাং তিনি হলেন (সুসংবাদদাতা)!
তিনি গাফেলদের আহ্বান করেছেন, বধিরদের শ্রবণ করিয়েছেন, পাপাচারীদের তাদের পাপের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীতদের ভীতি প্রদর্শন করেছেন এবং নিদ্রিতদের জাগ্রত করেছেন; তাই তিনি হলেন (ভীতি প্রদর্শনকারী)!
সত্য, সঠিক পথ ও সফলতার পথ থেকে যারা বিচ্যুত হয়েছে, তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন; তাই তিনি হলেন (আহ্বায়ক)!
তিনি তো এক নূর বা জ্যোতি, যা দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত আলো গ্রহণ করা হবে, এবং এমন এক প্রদীপ, যার রশ্মি দ্বারা জীবনের আঁকাবাঁকা পথে আলো অন্বেষণ করা হবে এবং যার মাধ্যমে পুঞ্জীভূত অন্ধকার দূরীভূত হবে; সুতরাং তিনি অনন্তকালের জন্য (উজ্জ্বল প্রদীপ)!
আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে (৪৫)} [আল-আহযাব: ৪৫]!
হ্যাঁ, নিশ্চয় সকল নবীই সাক্ষ্যদাতা, আহ্বানকারী, সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী ছিলেন, তবে এই গুণাবলি সকল রাসূলের মধ্যে একই রূপে ছিল না... বরং তাদের কারো কারো মাঝে কোনো কোনো গুণ অন্যগুলোর তুলনায় অধিকতর সুস্পষ্ট ছিল!
নিশ্চয় ইয়াকুব, ইসহাক এবং ইসমাইল আলাইহিস সালামের ওপর সাক্ষ্যদানের গুণটি প্রবল ছিল, ফলে তাঁরা ছিলেন সত্যের সাক্ষ্যদাতা!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وغلبت على إبراهيم وعيسى عليهما السلام صفة التبشير، فكانا مبشّريْن!
ومن الأنبياء من غلب عليه وصف الإنذار لمن خالف الحق وجحده، فكانوا منذرين، كنوح، وموسى، وهود، وشعيب عليهم السلام!
ومنهم من غلبت عليه صفة الدعوة إلى الحق، وامتاز بها أكثر مما امتاز بسائر النعوت الأخرى، كيوسف ويونس عليهما السلام!
وأما من كان جامعاً لهذه الصفات كلها، واتصف بها جميعاً، وكان مبشّراً ونذيراً، وداعياً إلى الله بإذنه، وسراجاً منيراً، وكانت حياته ملأى بهذه النعوت والشؤون، وسيرته ممتازة بهذه الخصال وتلك الخلال، فهو محمد خاتم النبيين صلى الله عليه وسلم، المبعوث ليختم الله به النبوات؛ فأُعطي الرسالة الأخيرة ليبلغها إلى البشر كافة، وجاء بالشريعة الكاملة التي لا يحتاج البشر معها إلى غيرها، ولن تنزل من السماء إلى الأرض شريعة على قلب بشر بعد هذه الشريعة!
لقد حظيت الرسالة المحمديّة بالخلود، واختصّت بالبقاء والدوام إلى يوم القيامة، فكانت نفس محمد صلى الله عليه وسلم جامعةً لجميع الأخلاق العالية، والعادات السنيّة!
3 - مكانة النبوة والأنبياء:والذين يقرؤون كتاب الرسالة المحمديّة: (القرآن العظيم) (1) الذي هو أول مصدر من مصادر السيرة النبويّة، قراءة فهم وتدبّر، وبحث متعمّق في معانيه وحقائقه الكونيّة، وعقائده وتشريعاته، ونظمه الاجتماعيّة وأخلاقيّاته،
--------------------------------------------
ইব্রাহিম ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের ওপর সুসংবাদদানের বৈশিষ্ট্য প্রবল ছিল, ফলে তাঁরা ছিলেন সুসংবাদদাতা!
আর নবীদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি ছিলেন যাদের ওপর সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারী ও অস্বীকারকারীদের জন্য সতর্কীকরণের বৈশিষ্ট্য প্রবল ছিল, ফলে তাঁরা ছিলেন সতর্ককারী, যেমন নূহ, মুসা, হুদ ও শুআইব আলাইহিমাস সালাম!
আবার তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যাঁদের ওপর সত্যের দিকে আহ্বানের বৈশিষ্ট্য প্রবল ছিল এবং অন্যান্য গুণাবলির তুলনায় তাঁরা এই গুণেই অধিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন, যেমন ইউসুফ ও ইউনুস আলাইহিমাস সালাম!
তবে যিনি এই সমস্ত গুণের সমাহারকারী ছিলেন এবং এই সব কটি গুণে গুণান্বিত ছিলেন, আর তিনি ছিলেন সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ; যাঁর জীবন এই সব গুণ ও বিষয়াবলীতে পরিপূর্ণ ছিল এবং যাঁর সীরাত এই সব বৈশিষ্ট্য ও স্বভাবের কারণে শ্রেষ্ঠত্বমণ্ডিত ছিল, তিনি হলেন সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যাঁকে আল্লাহ নবুওয়াত সমাপ্ত করার জন্য প্রেরণ করেছেন; ফলে তাঁকে সর্বশেষ রিসালাত প্রদান করা হয়েছে যেন তিনি তা সমস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেন এবং তিনি এমন এক পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত নিয়ে এসেছেন যার পরে মানুষের অন্য কোনো শরীয়তের প্রয়োজন নেই। আর এই শরীয়তের পর আসমান থেকে জমিনে কোনো মানুষের অন্তরে আর কোনো শরীয়ত অবতীর্ণ হবে না!
নিশ্চয়ই মুহাম্মাদী রিসালাত অমরত্ব লাভ করেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকা ও স্থায়ী হওয়ার বিশেষত্ব লাভ করেছে। ফলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্তা ছিল সমস্ত উচ্চতর চরিত্র ও মহান অভ্যাসের আধার!
৩ - নবুওয়াত ও নবীদের মর্যাদা:আর যাঁরা মুহাম্মাদী রিসালাতের কিতাব: (মহাগ্রন্থ আল-কুরআন) (১) — যা সীরাতুন নববীর প্রধানতম উৎস — অনুধাবন ও গবেষণার সাথে এবং এর অর্থ, মহাজাগতিক সত্য, আকিদা, শরীয়ত, সামাজিক ব্যবস্থা ও নৈতিকতার বিষয়ে গভীর অনুসন্ধানের সাথে পাঠ করেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويقرؤون السيرة النبويّة في مصادرها الوثيقة -كما سيأتي- قراءة إمعان وإنصاف، يعلمون أن هذا الكتاب الحكيم، وهذه السيرة الكريمة عُنيا أكثر ما عُنيا في نصوصهما بالنبوّة والرسالات الإلهية، فأشادا بهما، وأعظما شأنهما، وجعلا معرفتهما والإيمان بهما شطر الإيمان الصحيح، فلا تكمل حقيقة إيمان مؤمن - في شرعة هذا الكتاب الكريم، وفي هدي سنة نبيّه الأمين صلى الله عليه وسلم إلا بصدق الرسالات الإلهية والإيمان بها، إيماناً لا يفرق بين أحد من رسل الله: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ (285)} [البقرة: 285]!
وإيمان الرسول صلى الله عليه وسلم هو إيمان التلقّي المباشر (2) .. تلقّي القلب النقي للوحي العلي، واتصاله المباشر بالحقيقة المباشرة .. الحقيقة التي تتمثل في كيانه بذاتها من غير كدّ ولا محاولة، وبلا أداة أو واسطة، وهي درجة من الإيمان لا مجال لوصفها، فلا يصفها إلا من ذاقها، ولا يدركها من الوصف -على حقيقتها- إلا من ذاقها كذلك!
فهذا الإيمان -إيمان الرسول صلى الله عليه وسلم هو الذي يكرم الله عباده المؤمنين فيجمعهم في الوصف مع الرسول الكريم، على فارق ما بين مذاقه في كيان الرسول صلى الله عليه وسلم بطبيعة الحال وكيان أي سواه، ممن لم يتلقّ الحقيقة من مولاه!
ترى، ما حقيقة هذا الإيمان وحدوده؟
{كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ (285)} [البقرة: 285]!
--------------------------------------------
এবং তারা যখন প্রামাণিক উৎসসমূহ থেকে সীরাতে নববী মনোযোগ ও নিরপেক্ষতার সাথে পাঠ করেন - যা সামনে আসবে - তখন তারা জানতে পারেন যে, এই হিকমতপূর্ণ কিতাব এবং এই সম্মানীত সীরাত তাদের বর্ণনায় নবুওয়াত ও ঐশী রিসালাতসমূহের প্রতিই সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। তারা এ দুটির প্রশংসা করেছে, এ দুটির মর্যাদা মহিমান্বিত করেছে এবং এগুলোর জ্ঞান অর্জন ও এদের প্রতি ঈমান আনাকে বিশুদ্ধ ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সুতরাং কোনো মুমিনের ঈমানের বাস্তবতা পরিপূর্ণ হয় না - এই সম্মানিত কিতাবের শরিয়ত এবং তাঁর আমানতদার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর হিদায়াত অনুযায়ী - যতক্ষণ না সে ঐশী রিসালাতসমূহের সত্যতা স্বীকার করে এবং সেগুলোর প্রতি ঈমান আনে; এমন ঈমান যা আল্লাহর রাসূলগণের মধ্যে কারো মাঝে কোনো পার্থক্য করে না: {রাসূল ঈমান এনেছেন যা তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। এবং তারা বলে: আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। (২৮৫)} [আল-বাকারা: ২৮৫]!
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঈমান হলো সরাসরি ওহী প্রাপ্তির ঈমান (২).. সুউচ্চ ওহীর প্রতি পবিত্র হৃদয়ের সরাসরি গ্রহণ, এবং পরম সত্যের সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ সংযোগ.. যে সত্য কোনো শ্রম বা চেষ্টা ছাড়াই এবং কোনো মাধ্যম বা উপকরণ ব্যতিরেকেই তাঁর সত্তায় স্বীয় মহিমায় মূর্ত হয়ে ওঠে। এটি ঈমানের এমন এক স্তর যা বর্ণনা করার অবকাশ নেই, কেবল তিনিই তা বর্ণনা করতে পারেন যিনি এর স্বাদ আস্বাদন করেছেন; আর এর বর্ণনা শুনে এর প্রকৃত রূপ অনুধাবন করাও সম্ভব নয় কেবল তিনি ব্যতীত যিনি এর স্বাদ আস্বাদন করেছেন!
সুতরাং এই ঈমান - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঈমান - এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের সম্মানিত করেন, ফলে তিনি তাদের এই গুণাবলীতে সম্মানিত রাসূলের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেন; যদিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্তায় এর যে স্বাদ তা স্বাভাবিকভাবেই অন্য কারো সত্তার অনুভূতির চেয়ে ভিন্ন, যারা তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে সরাসরি পরম সত্য লাভ করেনি!
দেখা যাক, এই ঈমানের প্রকৃত বাস্তবতা ও সীমা কী?
{প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। এবং তারা বলে: আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। (২৮৫)} [আল-বাকারা: ২৮৫]!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إنه الإيمان الشامل الكامل الذي جاء به (الدّين القيّم) .. الإيمان الذي يليق بهذه الأمّة الوارثة لدين الله، القائمة على دعوته في الأرض إلى يوم القيامة، الضاربة الجذور في أعماق الزمان، السائرة في موكب الدعوة في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، وموكب الإيمان الممتد في شعاب التاريخ البشري!
وهذا الإيمان قاعدة التصوّر، وقاعدة المنهج الذي يحكم الحياة، وقاعدة الخُلق، وقاعدة الاقتصاد، وقاعدة كل حركة يتحركها المؤمن هنا أو هناك!
والإيمان بالملائكة شأنه شأن الإيمان بالحقائق الغيبيّة المستيقنة التي جاءت من عند الله .. وهو يوسع آفاق الشعور الإنساني بالوجود، فلا تنكمش صورة الكون في تصوّر المؤمن حتى تقتصر على ما تدركه حواسه، وهو ضئيل، كما أنه يؤنس قلبه بهذه الأرواح المؤمنة من حوله، تشاركه إيمانه بربّه، وتستغفر له، وتكون في عونه على الخير بإذن الله، وهو شعور لطيف ندي مؤنس ولا شك .. ثم هناك المعرفة بهذه الحقيقة، وهي في ذاتها فضل يمنحه الله للمؤمنين به وبملائكته!
والإيمان بكتب الله ورسله بدون تفرقة بين أحد من رسله هو المقتضى الطبيعي الذي ينبثق من الإيمان بالله في الصورة التي يرسمها، فالإيمان يقتضي الاعتقاد بصحة كل ما جاء من عند الله، وصدق كل الرسل الذين بعثهم الله، ووحدة الأصل الذي تقوم عليه رسالتهم، وتتضمّنه الكتب التي نزلت عليهم!
ومن ثم لا تقوم التفرقة بين الرسل في ضمير المسلم؛ فكلهم جاء من عند الله بالإِسلام، في صورة من الصور المناسبة لحال القوم الذين أرسل إليهم، وكلهم مسلمون!
নিশ্চয়ই এটি সেই ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ ঈমান, যা এই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন (আদ-দ্বীনুল কাইয়্যিম) নিয়ে এসেছে। এটি এমন এক ঈমান যা আল্লাহর দ্বীনের উত্তরাধিকারী এই উম্মতের জন্য উপযুক্ত, যারা কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে তাঁর দাওয়াতের কার্যে নিয়োজিত, যার শিকড় সময়ের গভীর অতলে প্রোথিত, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় দাওয়াতের কাফেলায় এবং মানব ইতিহাসের পথে পথে বিস্তৃত ঈমানের কাফেলায় শামিল রয়েছে।
আর এই ঈমান হলো জীবনবীক্ষার ভিত্তি, জীবন নিয়ন্ত্রণকারী কর্মপদ্ধতির ভিত্তি, নৈতিকতার ভিত্তি, অর্থনীতির ভিত্তি এবং মুমিন এখানে-সেখানে যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তার প্রত্যেকটি নড়াচড়া ও কর্মতৎপরতার ভিত্তি।
ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনার বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সুনিশ্চিত অদৃশ্যের সত্যে বিশ্বাস স্থাপনেরই অন্তর্ভুক্ত। এটি অস্তিত্ব সম্পর্কে মানুষের অনুভূতির দিগন্তকে প্রসারিত করে, ফলে মুমিনের জীবনবীক্ষায় মহাবিশ্বের চিত্র এমনভাবে সংকুচিত হয়ে যায় না যে তা কেবল তার ইন্দ্রিয়লব্ধ ক্ষুদ্র বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তদুপরি, এটি তার চারপাশের এই মুমিন রুহগুলোর মাধ্যমে তার অন্তরে সখ্যতা ও প্রশান্তি জোগায়, যারা তার রবের প্রতি ঈমানে তার অংশীদার, তারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং আল্লাহর নির্দেশে কল্যাণকর কাজে তার সহযোগী হয়। নিঃসন্দেহে এটি এক সূক্ষ্ম, সতেজ ও আনন্দদায়ক অনুভূতি। তদুপরি এই সত্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাটা নিজেই একটি অনুগ্রহ, যা আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাসীদের দান করেন।
আল্লাহর রাসুলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে তাঁর কিতাবসমূহ ও রাসুলগণের প্রতি ঈমান আনা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমানের সেই রূপ থেকে উৎসারিত এক স্বাভাবিক দাবি যা এই দ্বীন চিত্রায়িত করে। কেননা ঈমানের দাবিই হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সবকিছুর সত্যতায় বিশ্বাস করা, আল্লাহ প্রেরিত সকল রাসুলের সত্যতা স্বীকার করা এবং তাদের রিসালাত যে অভিন্ন উৎসের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তাদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ যা ধারণ করে আছে, তার একত্বে বিশ্বাস করা।
ফলশ্রুতিতে, একজন মুসলমানের বিবেক-মানসে রাসুলগণের মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকে না; কারণ তারা সকলেই আল্লাহর পক্ষ থেকে 'ইসলাম' নিয়ে এসেছেন, যা ছিল তাদের কাছে প্রেরিত জাতির অবস্থার প্রেক্ষিতে এক একটি উপযুক্ত রূপমাত্র, আর তারা সকলেই ছিলেন মুসলিম।
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والمسلمون أولى الناس بهم إيمانًا وتصديقًا، وجاء خاتم النبيّين صلى الله عليه وسلم بالصورة الأخيرة لـ (الدّين القيّم) لدعوة البشريّة كلها إلى يوم القيامة!
وهكذا تتلفى الأمة المسلمة تراث الرسالة كله، وتقوم على دين الله في الحياة، ويشعر المسلمون -من ثم- بضخامة دورهم في هذه الأرض إلى أن تقوم الساعة، ويتوجهون إلى ربهم بالطاعة والتسليم، ويعرفون أنهم صائرون إليه، فيطلبون مغفرته من التقصير!
إنها الوحدة الكبرى التي هي طابع العقيدة الإسلامية:
الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، بلا تفريق بين الرسل .. والسمع والطاعة، والإنابة إلى الله .. واليقين بيوم الحساب!
وإنها العقيدة التي تصوّر موكب الإيمان الواحد، من مبتدأ الخليقة إلى منتهاها، وخط الهداية المتّصل الموصول بأيدي رسل الله جميعاً، المتدرجّ بالبشريّة في مراقي الصعود، الكاشف لها عن الناموس الواحد، بقدر ما تطيق، حتى كانت الرسالة الخاتمة التي أعلنت وحدة الناموس كاملة!
ونظرة إلى قصص الأنبياء والرسل في القرآن الكريم (1)، وفي أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم، وما أنزل الله عز وجل من الدعوة إلى التوحيد، وإخلاص العبوديّة لله تعالى وحده، وعرض ما جرى لهم من أممهم وأقوامهم، وبيان ما كان في أقوامهم من رذائل الشرك والوثنيّة، ومنكرات الأخلاق، وسفساف الاجتماع، وتحذير الأنبياء والرسل لهم من عواقب هذه الخبائث، وإنذارهم بطش الحق وبأسه، وما رمى الله به تلك الأمم من عذاب استأصل به الظالمين،
--------------------------------------------
আর ঈমান ও সত্যায়নের দিক থেকে মুসলিমরাই তাদের জন্য সর্বাধিক যোগ্য। সর্বশেষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতিকে দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের’ চূড়ান্ত রূপ নিয়ে এসেছেন!
এভাবেই মুসলিম উম্মাহ রিসালাতের সকল ঐতিহ্য গ্রহণ করে এবং জীবনে আল্লাহর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। ফলে কিয়ামত হওয়া পর্যন্ত এই জমিনে মুসলিমরা তাদের সুমহান ভূমিকার গুরুত্ব অনুভব করে। তারা আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের সাথে তাদের রবের দিকে অভিমুখী হয় এবং তারা জানে যে তারা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করবে; তাই তারা নিজেদের ত্রুটির জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে!
এটিই সেই মহা ঐক্য, যা ইসলামি আকিদার বৈশিষ্ট্য:
আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা, রাসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে... আর শোনা ও আনুগত্য করা, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা... এবং বিচার দিবসের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা!
আর এটিই সেই আকিদা যা সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসের একক কাফেলাকে চিত্রিত করে। এটি হিদায়াতের সেই অবিচ্ছিন্ন ধারা যা আল্লাহর সকল রাসূলের হাতের মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত। যা মানবজাতিকে ধাপে ধাপে উন্নতির শিখরে আরোহণ করিয়েছে এবং তাদের জন্য একক বিধান উন্মোচন করেছে—তাদের সাধ্যানুযায়ী—যতক্ষণ না সেই সমাপ্তি দানকারী রিসালাত আগমন করল, যা পূর্ণাঙ্গভাবে একক বিধানের ঘোষণা দিল!
আল-কুরআনে (১) বর্ণিত নবী ও রাসূলগণের কাহিনী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসসমূহ লক্ষ্য করলে দেখা যায়—আল্লাহ তাআলা তাওহীদের দাওয়াত এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠতার যে বিধান নাযিল করেছেন, তাদের উম্মত ও সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাদের ওপর যা ঘটেছিল তার বিবরণ, তাদের কওমের মধ্যে প্রচলিত শিরক ও মূর্তিপূজার কলুষতা, চারিত্রিক অনাচার ও সামাজিক অবক্ষয়ের বর্ণনা, এসকল নিকৃষ্ট কর্মের পরিণাম সম্পর্কে নবী ও রাসূলগণের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি, সত্যের পক্ষ থেকে কঠোর পাকড়াও ও শাস্তির ভীতি প্রদর্শন এবং সেই সকল অবাধ্য জাতির ওপর আল্লাহর নিক্ষিপ্ত আযাব—যার মাধ্যমে তিনি যালিমদের সমূলে উৎখাত করেছিলেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقطع دابر المعاندين، كما قال الله تعالى: {فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ خَسَفْنَا بِهِ الْأَرْضَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَغْرَقْنَا وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ (40)} [العنكبوت: 40]!
تبيّن مقدار العناية التي أضفاها القرآن الكريم، والسنة الصحيحة المطهرة، على النبوّة ومكانتها، وعلى حياة الأنبياء، ومقام الرسالات والرسل، من تعظيم وتقدير!
وقلما يجد الباحث سورة من سور القرآن الكريم في طِوَلَه، لا يجد فيها ذكراً للنبوّة والأنبياء، والرسل والرسالات .. وقد يطول الحديث عن بعضهم في إسهاب تقتضيه المناسبة، يكشف كثيراً من أحداث التاريخ، كما في قصص نوح، وإبراهيم، وموسى، وعيسى عليهم السلام .. وقد يختصر الحديث عن بعضهم في إيجاز معبّر أصدق تعبير .. وفي القرآن سورة تسمّى سورة الأنبياء!
والقرآن الكريم يقصد إلى استكمال الحجة والموعظة، عندما يتطلّب الحديث تنويع البرهان والموعظة، فيذكر شيئاً في موضع آخر من القصة، يجعله كالتمهيد، ليضيف إليه ما لم يذكر هناك، حتى تكتمل القصة في جوّها ومناسبتها، بما يقتضيه مقام الحديث عنها، ومن هنا قال علماء البلاغة:
(لكل مقام مقال)!
بيد أن الذين يقفون في سفح البحث ممن لا يستطيعون القدرة على السبح في محيطه، لا يرتفع نظرهم إلى حقيقة الأسلوب البياني في هذا الكتاب المبين، ولكنهم يرون لأول نظرة عابرة أنهم أمام قصص مكرّرة، وسير معادة،
এবং তিনি অবাধ্যদের মূলোৎপাটন করেছেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাদের প্রত্যেককেই আমি তার পাপের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারো ওপর আমি পাথরকুচি সম্বলিত প্রবল ঝঞ্ঝা পাঠিয়েছি, কাউকে প্রচণ্ড গর্জন আঘাত করেছে, কাউকে আমি মাটির নিচে ধসিয়ে দিয়েছি এবং কাউকে আমি ডুবিয়ে দিয়েছি। আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করছিল (৪০)} [আল-আনকাবুত: ৪০]!
পবিত্র কুরআন এবং সুসংরক্ষিত ও পবিত্র সুন্নাহ নবুওয়াত ও এর মর্যাদা, নবীদের জীবন এবং রিসালাত ও রাসুলগণের উচ্চ মর্যাদার প্রতি যে পরিমাণ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং তাঁদের প্রতি যে সম্মান ও মূল্যায়ন প্রদর্শন করেছে, তা এখান থেকেই স্পষ্ট হয়!
গবেষক পবিত্র কুরআনের দীর্ঘ সূরাগুলোর মধ্যে খুব কমই এমন সূরা পাবেন যেখানে নবুওয়াত, নবীগণ, রাসুলগণ এবং রিসালাতের উল্লেখ নেই। কোনো কোনো নবীর আলোচনা প্রসঙ্গের প্রয়োজনে দীর্ঘ ও বিস্তারিতভাবে করা হয়েছে, যা ইতিহাসের অনেক ঘটনাকে উন্মোচিত করে; যেমন নূহ, ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসা আলাইহিমুস সালামের কাহিনী। আবার কারো কারো আলোচনা অত্যন্ত সারগর্ভ ও সংক্ষিপ্তভাবে করা হয়েছে। এমনকি কুরআনের একটি সূরার নামই হলো 'সূরা আল-আম্বিয়া'!
পবিত্র কুরআন যখন দলীল ও উপদেশের বৈচিত্র্য দাবি করে, তখন প্রমাণাদি ও নসিহতকে পূর্ণাঙ্গ করাই এর লক্ষ্য থাকে। তাই এটি কোনো কাহিনীর কোনো অংশকে অন্য স্থানে উল্লেখ করে সেটিকে একটি ভূমিকা হিসেবে স্থাপন করে, যাতে সেখানে যা উল্লেখ করা হয়নি তা এখানে যোগ করা যায়। ফলে কাহিনীটি তার প্রেক্ষাপট ও প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী পূর্ণতা পায়। আর এখান থেকেই অলঙ্কারশাস্ত্রের পন্ডিতগণ বলেছেন:
(প্রত্যেক পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত কথা রয়েছে)!
তবে যারা গবেষণার পাদদেশে অবস্থান করে এবং এর সাগরে অবগাহন করার সামর্থ্য রাখে না, তাদের দৃষ্টি এই সুস্পষ্ট কিতাবের বর্ণনাশৈলীর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ পর্যন্ত পৌঁছায় না। বরং তারা প্রথম অগভীর দৃষ্টিতে মনে করে যে, তারা কিছু পুনরাবৃত্ত কাহিনী ও পুনরুক্ত জীবনীর সম্মুখীন,
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وآيات مردّدة .. وهذا عند التأمّل في سياق كل قصة، يبدو خيالاً واهماً، لا يركن إليه ويعتقده إلا من لم يكن له صبر على البحث لمعرفة الحقائق التاريخيّة في سير الأنبياء والمرسلين، وإلا من لم يعرف وسيق الوشائج التي تربط بين رسالة محمد صلى الله عليه وسلم بكافة نبوّات الأنبياء، وسائر رسالات الرسل عليهم السلام!
ألا ترى إلى هذا الكتاب الحكيم في صنيعه بقصة يوسف عليه السلام وقد نزلت -كما تقول روايات أسباب النزول- إجابة لطلب قصد القصة كاملة؛ فإنه لما استوفى أحداث القصة متكاملة في سورتها، تحقيقاً للمطلوب، وإعجازًا للمعاندين، وتصديقاً للرسول صلى الله عليه وسلم، لم يعد إليها في سورة أخرى إلا إشارة ورمزًا!
والقرآن الكريم، وهو كتاب هداية وعبرة، في وزنه للحياة، وتقديره لحقائقها، يقصد في قصص الأنبياء والرسل فيما يقصد إليه من معان وحقائق إلى تنبيه العقول والأفكار إلى ما وقع في التاريخ البشري من غمط ظالم لأعظم حقائق الحياة، وتقصير متعمّد فيما كان يجب أن يكون في موضوع الصدارة من صحائفه!
4 - النبوّة وبناء الحضارة:ومن ثم جعل القرآن الكريم حديثه في عقائده، وعباداته، وتشريعاته، وآدابه، وأخلاقيّاته، ونظمِه في بيان علاقات الناس الاجتماعية، متصلاً أكمل اتصال بسيرة الأنبياء والمرسلين؛ لأنهم جميعاً لبنات في بناء الحضارة المثلى الرفيعة، التي جاءت رسالة خاتم النبيّين صلى الله عليه وسلم لتكميلها، كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما رواه الشيخان وغيرهما عن أبي هريرة رضي الله عنه: "إِنَّ مثَلي
এবং পুনরাবৃত্ত আয়াতসমূহ... প্রতিটি কাহিনীর প্রসঙ্গের ওপর নিবিড়ভাবে চিন্তা করলে এটি একটি অলীক কল্পনা বলে প্রতীয়মান হয়; যা কেবল তারাই আঁকড়ে ধরে এবং বিশ্বাস করে যাদের নবী ও রাসূলগণের জীবনীর ঐতিহাসিক সত্যতা অনুসন্ধানে ধৈর্য নেই, অথবা যারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাতের সাথে পূর্ববর্তী সকল নবী ও রাসূলগণের নবুওয়াত এবং অন্যান্য রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) রিসালাতের সুদৃঢ় বন্ধন সম্পর্কে অবগত নয়!
আপনি কি এই প্রজ্ঞাময় কিতাবের ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনী বর্ণনার পদ্ধতিটি লক্ষ্য করেছেন না? যেমনটি শানে নুযূলের বর্ণনাসমূহ বলে থাকে—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কাহিনী বর্ণনার আবেদনের প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে। যেহেতু এটি উক্ত সূরায় কাম্য উদ্দেশ্য পূরণ, বিরোধীদের জন্য মুজিজা এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্যতা প্রমাণের লক্ষ্যে কাহিনীর ঘটনাপ্রবাহ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছে, তাই অন্য কোনো সূরায় ইঙ্গিত ও প্রতীক ছাড়া এটি পুনরায় উল্লেখ করা হয়নি!
আল-কুরআনুল কারীম একটি হিদায়াত ও উপদেশের কিতাব। জীবনকে মূল্যায়ন এবং এর বাস্তবতা অনুধাবনের ক্ষেত্রে এটি নবী ও রাসূলগণের কাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থ ও সত্য তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তাধারাকে সেইসব বিষয়ের প্রতি সতর্ক করতে চায়, যা মানব ইতিহাসে জীবনের শ্রেষ্ঠ সত্যগুলোর প্রতি অবিচারমূলক অবজ্ঞা এবং ইতিহাসের পাতায় যা অগ্রাধিকারে থাকা উচিত ছিল, সেই বিষয়ে ইচ্ছাকৃত অবহেলার মাধ্যমে ঘটেছিল!
৪ - নবুওয়াত ও সভ্যতা বিনির্মাণ:আর সেই কারণেই আল-কুরআনুল কারীম তার আকিদা, ইবাদত, বিধান, আদব, নৈতিকতা এবং মানুষের সামাজিক সম্পর্ক বিন্যাসের আলোচনাকে নবী ও রাসূলগণের সীরাতের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করেছে; কারণ তারা সকলেই সেই আদর্শ ও সুউচ্চ সভ্যতা বিনির্মাণের এক একটি ভিত্তিপ্রস্তর, যা পূর্ণতা প্রদানের লক্ষ্যে সর্বশেষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাত এসেছে। যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শায়খাইন ও অন্যান্যদের বর্ণিত আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার দৃষ্টান্ত"
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومثلَ الأنبياء مِنْ قبْلي كمثَل رجل بَنى بيتاً فأحسنَهُ وأجمله، إِلاّ موضِع لبِنة مِنْ زاويةٍ، فَجعَل الناسُ يطوفونَ بهِ، ويعجبون له، ويقولون: هلًا وُضِعَتْ هذه اللَّبنة؟ قال: فأنا اللَّبنةُ، وأنا خاتم النبيين" (1)!
وفي رواية عن جابر رضي الله عنه: "مثَلي ومثلُ الأنبياء كرجل بَنى دارًا فأكملَها وأحسَنها، إِلا موضع لبنة، فجعل الناس يدخلونها ويتعجّبون، ويقولون: لولا موضعُ اللَّبنة"!
زاد مسلم: "فأنا موضع اللّبنة جئت فختمت الأنبياء" (2)!
فهذا الحديث الشريف يضع النبوّة في أفقها الواقعي من آفاق الحياة، ويضع حملة لوائها من المصطفين لتلقّي كلمات الله في ذروة بناء الحضارة الإنسانية، حتى كأنهما حقيقة واحدة، هي التي تصنع الحياة، وتبني الحضارة الفكريّة والماديّة في صورة إنسانيّة موحّدة الإحساس والشعور والاتجاه!
فالحضارة الإنسانيّة الرفيعة، أو الحياة الإنسانيّة المهذّبة، في معنى هذا الحديث الشريف بناء وضع كل نبيّ من الأنبياء، وكل رسول من الرسل، لبنة في صرحه، حتى استقام مستعلياً سامقاً في أجواء الحياة، مزيّناً مجملاً، إلا موضع لبنة في زاوية من زواياه لم توضع، وبقي مكانها فارغاً، يُنْقِص من
--------------------------------------------
"আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাকে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশোভিত করল, কেবল এক কোণে একটি ইটের স্থান ছাড়া। ফলে মানুষ এর চারপাশ ঘুরে দেখতে লাগল এবং তারা এতে বিস্মিত হয়ে বলতে লাগল: কেন এই ইটটি এখানে রাখা হলো না? তিনি বললেন: আমিই সেই ইট এবং আমিই শেষ নবী" (১)!
জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে রয়েছে: "আমার এবং নবীদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির ন্যায় যে একটি ঘর নির্মাণ করল, অতঃপর তা পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর করল, কেবল একটি ইটের জায়গা ছাড়া। তখন মানুষ তাতে প্রবেশ করতে লাগল এবং অবাক হতে লাগল, আর তারা বলতে লাগল: যদি এই ইটের জায়গাটি পূর্ণ করা হতো!"
মুসলিম বর্ণনা করেছেন: "আমিই সেই ইটের স্থান, আমি এসেছি এবং নবীদের আগমন সমাপ্ত করেছি" (২)!
এই হাদিস শরীফ নবুওয়াতকে জীবনের দিগন্তসমূহের মধ্য থেকে তার বাস্তব দিগন্তে স্থাপন করে। এটি আল্লাহর বাণী গ্রহণের জন্য নির্বাচিত সেই ঝাণ্ডাবাহীদের মানব সভ্যতার অট্টালিকা নির্মাণের শিখরে স্থাপন করে, যেন এ দুটি অভিন্ন এক সত্য; যা জীবন গঠন করে এবং অনুভূতি, উপলব্ধি ও লক্ষ্যের দিক থেকে একীভূত এক মানবীয় অবয়বে বুদ্ধিবৃত্তিক ও বস্তুগত সভ্যতা গড়ে তোলে!
সুতরাং এই হাদিস শরীফের মর্ম অনুযায়ী সুউচ্চ মানব সভ্যতা বা মার্জিত মানব জীবন হলো এমন এক ইমারত, যার প্রাসাদে প্রত্যেক নবী ও রসূল একটি করে ইট স্থাপন করেছেন। ফলে তা জীবনের আবহে সুউচ্চ ও সুশোভিত হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু এর এক কোণে একটি ইটের জায়গা বাকি ছিল যা স্থাপন করা হয়নি এবং সেই স্থানটি শূন্য থেকে গিয়েছিল, যা এর পূর্ণতা হ্রাস করছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إعجاب الناس بالبناء، وهم يطوفون به في أطوار الحياة، ودورات الفلك، ويتمنّون لو أن هذه اللبنة جاءت بحقيقتها وصورتها، لتوضع في موضعها، ليتكامل حُسن البناء، ويتم الإعجاب به .. وجاءت اللبنة بحقيقتها الجامعة لكل ما في لبنات البناء من طبيعة وحقيقة، فكانت درّة البناء الفريدة، وكانت الرسالة الخالدة لخاتم النبيّين صلى الله عليه وسلم!
5 - أعظم دوافع التطوّر:وفي حديث آخر عن أبي هريرة وغيره: "إِنما بُعثتُ لأتمّم مكارم الأخلاق" وفي رواية: "صالح الأخلاق" (1)!
وفي هذا الحديث يبيّن الرسول صلى الله عليه وسلم ما قدّمه إخوانه أنبياء الله ورسله للحياة من إصلاح وتقدّم، يقوم على القيم الروحيّة، والفضائل الخلقيّة، ومبيّناً
--------------------------------------------
মানুষের ইমারতটি দেখে মুগ্ধ হওয়া, যখন তারা জীবনের বিভিন্ন স্তর ও মহাকালের আবর্তনে এর চারপাশ প্রদক্ষিণ করছে। তারা কামনা করছিল যদি এই ইটটি তার প্রকৃত সত্তা ও আকৃতি নিয়ে আসত, যেন তা তার যথাস্থানে স্থাপন করা যায় এবং এর মাধ্যমে ইমারতের সৌন্দর্য পূর্ণতা পায় ও মুগ্ধতা পূর্ণ হয়। পরিশেষে সেই ইটটি ইমারতের অন্যান্য সকল ইটের প্রকৃতি ও বাস্তবতার এক সার্থক সমন্বয়কারী হিসেবে স্বীয় স্বরূপ নিয়ে উপস্থিত হলো। আর তা ছিল ইমারতের এক অনন্য মণি এবং শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিরন্তন রিসালাত!
৫ - অগ্রগতির মহত্তম চালিকাশক্তি:আবু হুরায়রা (রা.) ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "সৎ চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য" (১)!
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ভাই অর্থাৎ আল্লাহর নবী ও রাসূলগণ আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে জীবনের সংস্কার ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে যা কিছু পেশ করেছেন তা বর্ণনা করছেন, এবং স্পষ্ট করছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مكانته منهم في رسالته الخاتمة، مكمّلاً ما أسّسوا، وما أقاموا من حضارات إنسانيّة رفيعة الشأن!
ويبيّن -أيضاً- أن بناء الحضارة الذي أقامته النبوّة بكلمات الله ووحيه ليس بناءً ماديًّا كأبنية الناس في حضاراتهم الماديّة، ولكنه بناء روحاني يقوم على دعائم الأخلاق والفضائل، ومحاسن الشيم والشمائل التي شيّدوا بها بناء الحضارة الفكريّة والاجتماعيّة!
وقد أبان الحديث عن عمل النبوة باعتبارها الحقيقة العظمى المسيطرة على التفكير في إقامة صرح البناء الحضاري، بإسهام كل نبيّ وكل رسول في إرساء هذا البناء حتى جاء خاتم النبيّين صلى الله عليه وسلم، وكمّله برسالته الخاتمة الخالدة!
وهذا المعنى الذي أبان عنه الحديث هو إجمال لمعنى الحديث الأول، وفيه بيان المعاني والحقائق التي أقيم بناء الحضارة الإنسانيّة من لبناتها!
والنبوّة في عمومها حرية أن تكون بمنزلة من التاريخ البشريّ ترفعها فوق كل منزلة من منازل حقائق الحياة وفضائلها .. ورسالاتُ الله تعالى إلى الناس لإخراجهم من ظلمات الضلالات إلى نور الهداية جديرة أن تكون بموضع من مسيرة الإنسانية، يسمو بها إلى أرفع مكان في ذروة تاريخ الحياة!
بيد أن التاريخ البشري لم ينصف النبوّة -وهي أعظم مراتب الحضارة الفكرية- ولم يعط الرسالات الإلهيّة حقها من التقدير، وهي أجل صور الحياة في العلم والمعرفة، بل هي أبلغ وأقوى وأثبت وأعظم دوافع التطوّر الاجتماعي في حياة الإنسانيّة!
তাঁর সর্বশেষ রিসালাতের মাধ্যমে তাদের মাঝে তাঁর অবস্থান, যা তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও নির্মিত সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মানব সভ্যতাসমূহকে পূর্ণতা দান করেছে!
এটি আরও স্পষ্ট করে যে, নবুওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর বাণী ও ওহীর ভিত্তিতে যে সভ্যতার ইমারত নির্মিত হয়েছে, তা মানুষের বস্তুতান্ত্রিক সভ্যতার ইমারতসমূহের মতো কোনো জড়বাদী নির্মাণ নয়। বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক নির্মাণ, যা নৈতিকতা, সচ্চরিত্রতা এবং উত্তম গুণাবলি ও স্বভাবের স্তম্ভসমূহের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার মাধ্যমে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক সভ্যতার প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন!
উক্ত হাদিস নবুওয়াতের কর্মপরিধিকে সভ্যতার বিশাল সৌধ নির্মাণে চিন্তার জগতে আধিপত্য বিস্তারকারী এক মহান সত্য হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে প্রত্যেক নবী ও রাসূল এই ভিত্তি স্থাপনে অবদান রেখেছেন, অবশেষে নবীগণের সমাপ্তি ঘটানো নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আগমন করেন এবং তাঁর সর্বশেষ শাশ্বত রিসালাতের মাধ্যমে একে পূর্ণতা দান করেন!
হাদিসে বর্ণিত এই ভাবার্থটি মূলত প্রথম হাদিসের মর্মার্থের সংক্ষিপ্ত সার; এতে ঐ সকল গূঢ়ার্থ ও সত্যের বর্ণনা রয়েছে, যা দিয়ে মানব সভ্যতার ইমারত ধাপে ধাপে নির্মাণ করা হয়েছে!
সাধারণভাবে নবুওয়াত মানব ইতিহাসে এমন এক মর্যাদার দাবিদার, যা তাকে জীবনের যাবতীয় সত্য ও গুণের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়। মানুষকে ভ্রষ্টতার অন্ধকার থেকে হিদায়াতের আলোর দিকে বের করে আনার জন্য মহান আল্লাহর প্রেরিত রিসালাতসমূহ মানবজাতির অগ্রযাত্রায় এমন এক সুউচ্চ অবস্থানের যোগ্য, যা একে জীবন-ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করে!
তবে মানব ইতিহাস নবুওয়াতের প্রতি সুবিচার করেনি—অথচ এটিই বুদ্ধিবৃত্তিক সভ্যতার মহানতম স্তর—এবং খোদায়ী রিসালাতসমূহকে তাদের প্রাপ্য মূল্যায়ন করেনি, যদিও তা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে জীবনের শ্রেষ্ঠতম প্রতিচ্ছবি। বরং এটি মানবজীবনে সামাজিক বিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর, শক্তিশালী, সুদৃঢ় ও মহান চালিকাশক্তি!
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
6 - الطفولة الفكريّة:ونستعرض التاريخ منذ بدأ يكتب ويسجّل أحداث الحياة في المجتمع البشري فنجده شغل -حتى أتخم- بالفلسفة الوضعيّة، التي هي في كثير من موضوعاتها وقضاياها حصيلة العقل الإنساني، وقد كان هذا العقل في مهد الطفولة الفكرية لا يزال يحبو، وحصيلة الهوس الخيالي الجامح في كثير من مسائلها وبحوثها التي شغلت بجدلها العقيم قسطاً كبيراً من عمر الحياة، وكانت هذه الفلسفات تعج بأوضار الوثنيات التي كانت أساساً لما يُسمّى (الفن)، ولا سيما في دائرة التصوير المجسّم والنحت!
لقد مضى على هذا العقل وهو يفكّر وينظر ويتحرك عشرات الألوف من السنين، ولكنه لم يصل إلى شيء في قضاياه التي استقل بها من شؤون الحياة والكون؛ بل إنه زادها تعقيداً وشتاتاً، ولم يستطع أن يحسم رأياً فيما شارك فيه من شؤون الحياة، ولم يقول على البت في قضايا الغيب التي جاءت النبوّات بحقائقها، إخباراً عن واقع مشهود؛ لأن النبوّات تطير إلى هذا الغيب بأجنحة الوحي والتلقّي عن الله تعالى، خالق الغيب والشهادة، والعقل تعبّد للحسّ وجعل منافذه وسيلة إلى إدراك الحقائق، والحسّ محدود الجوانب إذا تعدّاها سقط في هاوية الجحود والتشكيك!
ولو أن العقل خفّف من غلوائه، واستقام على نهج النبوّة يهتدي بهديها في موازين إدراكاته لكان له اليوم مع الحياة شأن غير شأنه الذي يعيش فيه، ويقود الحياة بزمامه، ولا يدري أحد ما تكون نهاية هذه القيادة القاصرة عن إدراك كثير من حقائق الحياة!
৬ - বুদ্ধিবৃত্তিক শৈশব:মানব সমাজে জীবনের ঘটনাবলি যখন থেকে লিখিত ও নথিভুক্ত হতে শুরু করেছে, সেই সূচনালগ্ন থেকে আমরা যদি ইতিহাসের পর্যালোচনা করি, তবে দেখতে পাই যে তা মানবীয় দর্শনে (পজিটিভিজম) আচ্ছন্ন—এমনকি ভারাক্রান্ত—হয়ে আছে। এই দর্শনের অধিকাংশ বিষয় ও সমস্যাই হলো মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির ফসল। এই বুদ্ধি যখন তার চিন্তাগত শৈশবের দোলনায় হামাগুড়ি দিচ্ছিল, তখনকার লাগামহীন কাল্পনিক উন্মাদনারই ফল হলো এর অনেক মাসআলা ও গবেষণা, যা তার নিস্ফল বিতর্কের মাধ্যমে জীবনের এক বিশাল অংশকে ব্যয় করে ফেলেছে। এই দর্শনগুলো পৌত্তলিকতার পঙ্কিলতায় পরিপূর্ণ ছিল, যা ছিল তথাকথিত ‘শিল্পকলা’র ভিত্তি; বিশেষ করে মূর্তিশিল্প ও ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে!
এই বুদ্ধিবৃত্তি চিন্তা-গবেষণা ও পথচলার মাধ্যমে হাজার হাজার বছর পার করে দিয়েছে, কিন্তু জীবন ও মহাবিশ্বের যে বিষয়গুলোতে সে স্বাধীনভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, তাতে কোনো কূলেই পৌঁছাতে পারেনি; বরং সেগুলোকে আরও জটিল ও লক্ষ্যহীন করে তুলেছে। এটি জীবনের যেসব ক্ষেত্রে অংশ নিয়েছে তাতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। তদ্রূপ অদৃশ্যের (গায়েব) বিষয়গুলোতেও কোনো অকাট্য কথা বলতে সক্ষম হয়নি, যেগুলোর বাস্তবতা নবুওয়াত চাক্ষুষ সংবাদের মতো করে নিয়ে এসেছিল; কেননা নবুওয়াত এই অদৃশ্যের পানে ডানা মেলে ওহী এবং দৃশ্য ও অদৃশ্যের স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বার্তার সাহায্যে। পক্ষান্তরে বুদ্ধি কেবল পঞ্চেন্দ্রিয়ের দাসত্ব করেছে এবং তার মাধ্যমগুলোকেই সত্য অনুধাবনের একমাত্র উপায় বানিয়েছে; অথচ পঞ্চেন্দ্রিয়ের পরিধি অত্যন্ত সীমিত, যা অতিক্রম করলে সে অস্বীকার ও সংশয়ের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হয়!
বুদ্ধি যদি তার চরমপন্থা পরিহার করত এবং নবুওয়াতের পথে অবিচল থেকে তার উপলব্ধির মানদণ্ড হিসেবে নবুওয়াতের হিদায়েতকে গ্রহণ করত, তবে জীবনের সাথে আজ তার সম্পর্ক এমন হতো না যেমনটি এখন আছে। সে আজ জীবনের লাগাম টেনে ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে বটে, কিন্তু জীবনের বহু বাস্তবতা অনুধাবনে অক্ষম এই ত্রুটিপূর্ণ নেতৃত্বের শেষ কোথায় হবে, তা কেউ জানে না!
(খণ্ড: ১)
আল-জামিঊস সহীহ লিস-সীরাতিন নাবাওয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وكان بحسب العقل أن يتفقّه فيما يقال له من وحي النبوّات مما هو وراء الحسّ المادّي، ويلائم بين مدركاته الماديّة وحقائق الوجود الكونيّة العظمى، ليظفر بلون من الشفافية والإشراق، يتيح له من معارف الغيب وحقائقه ما يتحرّر به من أغلال الحسّ ومنافذه!
وإلى جانب شغل التاريخ بتلك الفلسفة الوضعيّة نجده شغل بالمظاهر الماديّة في سائر جوانب الحياة، وملأ كثيراً من صفحاته بالحديث عن آثار الوثنيّات وأصنامها وتماثيلها وأساطيرها وخرافات أهلها، وتناسى النبوّات وآثارها الفكريّة والرّوحيّة وقيمها الأخلاقيّة!
وتناسى الرسالات الإلهيّة وعملها في دفع عجلة الحضارة الإنسانيّة إلى التقدّم الأدبي، والرقيّ الفكري، والسموّ الخلقي، وحفاظها على القيم الأصلية في توجيه العقل، وأقوم الطرق في تطوّر الفكر!
فكم من صفحات هذا التاريخ البشري الظالم -منذ كان- شغلها تاريخ النبوة؟
وكم من صفحات هذا التاريخ شغلها عمل الرسالات الإلهيّة في تقدّم المجتمع البشري؟ إنها أقل من القليل!
قد يقبل في منطق الوثنيّات وفنونها الأسطوريّة أن يُشغل التاريخ البشري - وهو من أوضاع تلك الوثنيّات- عن العناية بالنبوّة والرسالات الإلهيّة، ويتعوّض عنها الأباطيل والخرافات وأساطير الوثنيّات عند الإغريق والفراعنة والكنعانيّين، ومَن إليهم من الأمم الراسبة في قاع حمأة الوثنيّات؛ لأن النبوّة إنما جاءت لتصحيح أوضاع الحياة التي شوّهتها الوثنيّات بأباطيلها، وذلك
বুদ্ধিবৃত্তিক দাবি ছিল এই যে, জড় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের ঊর্ধ্বে নবুওয়াতের ওহীর মাধ্যমে যা বলা হয়েছে তা অনুধাবন করা এবং তার বৈষয়িক উপলব্ধির সাথে মহাজাগতিক অস্তিত্বের মহান সত্যগুলোর সমন্বয় সাধন করা; যাতে সে এক প্রকার স্বচ্ছতা ও ঔজ্জ্বল্য লাভ করতে পারে, যা তাকে অদৃশ্যের এমন জ্ঞান ও সত্য প্রদান করবে যার মাধ্যমে সে ইন্দ্রিয় ও তার সীমিত গণ্ডির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে পারে!
ইতিহাসের এই বস্তুবাদী দর্শনে নিমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই যে, এটি জীবনের অন্যান্য সকল ক্ষেত্রেও কেবল পার্থিব দিকগুলো নিয়েই মত্ত থেকেছে। ইতিহাসের পাতাগুলোর একটি বড় অংশ পৌত্তলিকতার নিদর্শন, প্রতিমা, মূর্তি, উপকথা এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর রূপকথা দ্বারা পূর্ণ করা হয়েছে; অথচ নবুওয়াত এবং এর বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাব এবং নৈতিক মূল্যবোধের কথা বিস্মৃত হওয়া হয়েছে!
তদ্রূপ ঐশী রিসালাতসমূহ এবং মানব সভ্যতার চাকাকে শিষ্টাচারগত অগ্রগতি, বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি এবং চারিত্রিক উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে ভুলে যাওয়া হয়েছে। তদুপরি বুদ্ধিবৃত্তিক দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং চিন্তার বিকাশে সবচেয়ে সঠিক পথ অনুসরণের বিষয়গুলোকেও উপেক্ষা করা হয়েছে!
এই যালেম মানব ইতিহাসের সূচনালগ্ন থেকে এর কতটুকু অংশ নবুওয়াতের ইতিহাসের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে?
মানব সমাজের অগ্রগতিতে ঐশী রিসালাতসমূহের ভূমিকার জন্য এই ইতিহাসের কতটি পৃষ্ঠা ব্যয় করা হয়েছে? তা যৎসামান্য থেকেও কম!
পৌত্তলিক যুক্তি ও তাদের পৌরাণিক শিল্পের ক্ষেত্রে হয়তো এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে যে, মানব ইতিহাস—যা কি না সেই পৌত্তলিকতারই সৃষ্টি—নবুওয়াত এবং ঐশী রিসালাতের প্রতি মনোযোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। আর তার পরিবর্তে গ্রিক, ফেরাউন, কেনানীয় এবং পৌত্তলিকতার পঙ্কিল আবর্তে নিমজ্জিত জাতিসমূহের বাতিল আকিদা, রূপকথা ও উপকথাগুলোকে স্থান করে দেবে; কারণ নবুওয়াত তো এসেছিল জীবনের সেই অবস্থাকে সংশোধন করার জন্য যা পৌত্তলিকতা তার মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিকৃত করেছিল, আর এটি—