(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: -)
سيماء المرأة في الإسلام بين النفس والصورة   (فريد الأنصاري)

القسم: كتب عامة


الكتاب: سيماء المرأة في الإسلام بين النفس والصورة

المؤلف: فريد الأنصاري المغربي (ت 1430 هـ)

الناشر: ألوان مغربية

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 96

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 16 شوّال 1436

ইসলামে নারীর রূপরেখা: আত্মা ও অবয়বের মাঝে   (ফরিদ আল-আনসারি)

বিভাগ: সাধারণ বই


বই: ইসলামে নারীর রূপরেখা: আত্মা ও অবয়বের মাঝে

লেখক: ফরিদ আল-আনসারি আল-মাগরিবি (মৃ. ১৪৩০ হিজরি)

প্রকাশক: আলওয়ান মাগরিবিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ শাওয়াল ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১)
د. فريد الأنصاري

 

سيماءُ المرأة في الإسلام بين النفس والصورة

 

منشورات ألوان مغربية
ড. ফরিদ আল-আনসারী

 

ইসলামে নারীর স্বরূপ: আত্মা ও অবয়বের মাঝে

 

আলওয়ান মাগরিবিয়া পাবলিকেশনস
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

آية السِّيماء

 

قال تعالى: {يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْءَاتِكُمْ وَرِيشًا. وَلِبَاسُ التَّقْوَىَ ذَلِكَ خَيْرٌ. ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ. يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ. يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَاتِهِمَا. إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ. إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ} (الأعراف:26).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সিমা (السِّيماء) বা বৈশিষ্ট্যের আয়াত

 

আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং যা সৌন্দর্য ও শোভাবর্ধক। আর তাকওয়ার পোশাক—এটিই সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল; সে তাদের পোশাক ছিনিয়ে নিচ্ছিল যেন তাদের নিকট তাদের লজ্জাস্থান উন্মোচিত করতে পারে। নিশ্চয়ই সে এবং তার দল তোমাদের এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। আমি শয়তানদের তাদের অভিভাবক বানিয়েছি যারা ঈমান আনে না।} (আল-আরাফ: ২৬)।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، بلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده حتى أتاه اليقين.

أما بعد؛ فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد؛ فهذه رسالة صغيرة، في سلسلتنا الدعوية: (من القرآن إلى العمران)، أسرعت بإخراجها بهذا الاختصار، وقد كان العزم معقودا على بحث أطول، يستوعب قضايا ومباحث أوسع، لكن شدة الصدمة، وسرعة الانهيار التي آل إليها وضع المرأة المسلمة في هذه الأيام، والسقوط الخلقي الذي تعدى الشباب إلى الأطفال، والتسابق نحو إعلان الفواحش في الشوارع والطرقات على الملأ، رغبة من الصناع الكبار للفجور السياسي -كما سميناه من قبل (1) - في تطبيع المجتمع الإسلامي على التعهر، وفقدان الشعور بالقيم الأخلاقية الأصيلة، وسلخه من هويته، وتجريده من كل مقومات المقاومة والصمود؛ تجاه الحضارات الأخرى الغازية؛ كل ذلك جعلني أسرع

--------------------------------------------

(1) الفجور السياسي للمؤلف، صدر عن منشورات الفرقان الدار البيضاء: 2000 م.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন যে পর্যন্ত না তাঁর নিকট মৃত্যু (يقين) এসেছে।

অতঃপর; নিশ্চয়ই সর্বোত্তম হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثات); এবং প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে।

অতঃপর; এটি একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা, যা আমাদের দাওয়াহ সিরিজ: ‘আল-কুরআন থেকে আল-উমরান (সভ্যতা)’-এর অন্তর্ভুক্ত। আমি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে এটি প্রকাশে ত্বরান্বিত করেছি, যদিও একটি দীর্ঘ গবেষণার পরিকল্পনা ছিল, যা আরও ব্যাপক বিষয় ও আলোচনা ধারণ করবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে মুসলিম নারীর অবস্থার যে চরম বিপর্যয় ও দ্রুত পতন ঘটেছে, এবং যে নৈতিক অবক্ষয় যুব সমাজ ছাড়িয়ে শিশুদের পর্যন্ত গ্রাস করেছে, সেই তীব্র আঘাত এবং রাজপথে জনসমক্ষে অশ্লীলতা প্রকাশের প্রতিযোগিতা—যা মূলত রাজনৈতিক পাপাচার (যেমনটি আমি আগে নামকরণ করেছি (১))-এর হোতাদের ইচ্ছা থেকেই উৎসারিত—যাতে ইসলামি সমাজকে চারিত্রিকহীনতায় অভ্যস্ত করা যায়, মৌলিক নৈতিক মূল্যবোধের অনুভূতি বিলুপ্ত করা যায়, একে নিজস্ব পরিচয় থেকে বিচ্যুত করা যায় এবং আক্রমণাত্মক অন্যান্য সভ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও অটল থাকার সমস্ত শক্তি থেকে একে নিঃস্ব করা যায়; এই সবকিছুই আমাকে এটি প্রকাশে ত্বরান্বিত করেছে।

--------------------------------------------

(১) লেখকের আল-ফুজুর আস-সিয়াসি (রাজনৈতিক পাপাচার), কাসাব্লাঙ্কার আল-ফুরকান প্রকাশনী থেকে ২০০০ সালে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بإخراج هذه الورقات في كلمات قلائل، لكنها إن شاء الله كافية شافية، ولكن {لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ} (ق:37)!

لقد جعلت عنوان هذه الرسالة: (سِيمَاء المرأة في الإسلام بين النفس والصورة). -و (السِّيمَاء) و (السِّيمِيَاء) هما بمعنى واحد كما سترى- وذلك لمحاولة الكشف عما ترمز إليه المرأة في الإسلام؛ نفساً وصورةً. فأما (نفسا) فباعتبارها (أنثى الإنسان) من الناحية الوجودية، وأما (صورةً) فباعتبارها هيأة خِلْقِيَّة، ذات تجليات مظهرية خاصة، وما حلاها -لذلك- الإسلام به من لباس، تتحقق إسلاميته بشروطه ومقاصده الشرعية. وما معنى ذلك كله (النفس والصورة) من الناحية السيميائية، وما دلالته التعبيرية من الناحية التعبدية؟ إننا ننطلق من مبدأ قرآني عظيم: وهو أن لا شيء من موجودات هذا الكون الفسيح إلا له دلالة سيميائية، ومعنى رمزي لوجوده. وهو مسمى (حكمته) الخِلقية. قال تعالى: {وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ. لَوْ أَرَدْنَا أَن نَّتَّخِذَ لَهْوًا لَّاتَّخَذْنَاهُ مِن لَّدُنَّا إِن كُنَّا فَاعِلِينَ. بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ} (الأنبياء:16 - 18). فما خلق الله شيئا، وما جعله، ولا شرعه؛ إلا لحكمة، هي مغزى وجوده، أو جَعْلِه، أو تشريعه. ومن هنا كان من أسماء الله الحسنى اسمه تعالى: (الحكيم). فهو سبحانه (حكيم) خَلْقاً وتشريعا. فإرادته الخلقية التكوينية، وإرادته التشريعية التكليفية؛ كلتاهما لا تتصرف إلا بحكمة بالغة. فخلق الأنثى على هيئتها كان بإرادته التكوينية، وسترها -تكليفا بحدود معلومة من اللباس- كان بإرادته التشريعية. وكل ذلك من حمكة الخالق جل وعلا. وجماع ذلك كله أنه سيماء ربانية لحكمة بالغة. فكم هو شنيع خطأ أولئك الذين يظنون أن مسألة اللباس في الإسلام مسألة شكلية! وأي شكل في الوجود لا يعبر عن مضمون؟ بدءا بأبسط الأشياء حتى أعقدها! ودونك العلوم والفلسفات والحضارات عبر التاريخ، فانظر!
এই ক্ষুদ্র কয়েক পৃষ্ঠার লেখাটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে উপস্থাপন করছি, তবে ইনশাআল্লাহ তা যথেষ্ট ও নিরাময়স্বরূপ হবে। তবে তা কেবল {তার জন্য যার অন্তর আছে অথবা যে উপস্থিত হৃদয়ে মনোনিবেশ করে} (ক্বাফ: ৩৭)!

আমি এই পুস্তিকাটির শিরোনাম নির্ধারণ করেছি: (ইসলামে নারীর বৈশিষ্ট্য: আত্মা ও অবয়বের প্রেক্ষাপটে)। —এবং (সিমাহ) ও (সিমিয়াহ) শব্দ দুটি একই অর্থ বহন করে, যা আপনি সামনে দেখতে পাবেন— এর উদ্দেশ্য হলো ইসলামে নারী কীসের প্রতীক তা উন্মোচন করার চেষ্টা করা; তার আত্মা এবং অবয়ব উভয় দিক থেকে। তবে ‘আত্মা’ হিসেবে তা হলো অস্তিত্বগত দিক থেকে ‘মানবী’ হওয়ার বিচারে, আর ‘অবয়ব’ হিসেবে তা হলো সৃষ্টিগত কাঠামোর বিচারে, যার রয়েছে বিশেষ কিছু বাহ্যিক প্রকাশভঙ্গি। আর এ কারণেই ইসলাম তাকে যে পোশাক দ্বারা সজ্জিত করেছে, তার ইসলামি স্বরূপটি তার সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি ও শরয়ি লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। লক্ষণতাত্ত্বিক দিক থেকে এই সবকিছুর (আত্মা ও অবয়ব) অর্থ কী, এবং ইবাদতগত দিক থেকে এর অভিব্যক্তিমূলক তাৎপর্যই বা কী? আমরা এক মহান কুরআনি মূলনীতি থেকে যাত্রা শুরু করছি: আর তা হলো, এই বিশাল মহাবিশ্বের এমন কোনো অস্তিত্ব নেই যার কোনো লক্ষণতাত্ত্বিক তাৎপর্য বা তার অস্তিত্বের কোনো প্রতীকী অর্থ নেই। আর একেই বলা হয় তার সৃষ্টিগত প্রজ্ঞা। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী কোনো কিছুই খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি যদি কোনো ক্রীড়া-কৌতুক গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমি নিজের পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করতাম, যদি আমি তা করতামই। বরং আমি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আর তোমরা যা বর্ণনা করছ তার জন্য তোমাদের দুর্ভোগ} (আল-আম্বিয়া: ১৬-১৮)। সুতরাং আল্লাহ কোনো কিছুই সৃষ্টি করেননি, কোনো কিছু নির্ধারণ করেননি এবং কোনো বিধানও দেননি কেবল কোনো প্রজ্ঞা ব্যতীত; যা হলো তার অস্তিত্ব, নির্ধারণ বা বিধান প্রণয়নের নিহিত তাৎপর্য। এখান থেকেই মহান আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অন্যতম হলো: আল-হাকীম। তিনি সৃষ্টি ও বিধান প্রণয়ন উভয় ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান। তাঁর সৃষ্টিগত গঠনমূলক ইচ্ছা এবং তাঁর বিধানিক দায়বদ্ধতামূলক ইচ্ছা—উভয়টিই কেবল সুগভীর প্রজ্ঞার সাথেই পরিচালিত হয়। সুতরাং নারীকে তার নির্দিষ্ট অবয়বে সৃষ্টি করা ছিল তাঁর গঠনমূলক ইচ্ছার প্রতিফলন, আর তাকে আবৃত করা—পোশাকের সুনির্দিষ্ট সীমার মাধ্যমে—ছিল তাঁর বিধানিক ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। আর এর সবকিছুই মহান স্রষ্টার প্রজ্ঞার অংশ। এই সবকিছুর সারকথা হলো, এটি এক সুগভীর প্রজ্ঞাপ্রসূত একটি ঐশ্বরিক নিদর্শন। যারা মনে করেন যে ইসলামে পোশাকের বিষয়টি নিছক একটি বাহ্যিক বা আনুষ্ঠানিক বিষয়, তাদের ভুল কতই না জঘন্য! জগতের কোন রূপ বা অবয়ব আছে যা কোনো সারবস্তুকে প্রকাশ করে না? অতি সাধারণ বস্তু থেকে শুরু করে সবচেয়ে জটিল বস্তু পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এটি সত্য! ইতিহাসের পরিক্রমায় বিজ্ঞান, দর্শন ও সভ্যতাগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করুন এবং লক্ষ্য করুন!
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ৬)
إن منطلق البحث السيميائي في اللباس الإسلامي، ونتيجته أيضا، كلاهما مرتبط بأصول العقيدة أساسا! سواء تعلق ذلك بالرجال أو بالنساء على السواء، لكن لكل منهما سيماؤه الخاصة. وغلط من يحصر ذلك في مجال التشريع فقط!

ومن هنا يتبين مدى الخطر الذي تؤدي إليه (حركة التعري) من تدمير عقدي للإسلام! كما سترى بحول الله. إن واقع الأمة اليوم، في هذا المقتل الجوهري على جانب من الخطر عظيم. فلقد رأينا أن قضية اللباس بما ترمز إليه من دلالات سيميائية؛ هي حرب حضارية تشن على الإسلام؛ لتدمير مواقعه الوجدانية في بنية التدين الاجتماعي. إن ذلك يعني سحب البساط من تحت كل أشكال العمل الديني التجديدي في البلاد الإسلامية، وجعله يضرب في الفراغ سدى! فإنْ كان في هذه الورقة من جديد تكشف عنه؛ فهو هذا! (1)

نعم، لقد سبق أن حذرنا من هذا الوضع من قبل، منذ أن كانت ملامحه الأولى في بداية تشكلها؛ عسى أن ينتبه أهل الشأن الدعوي إلى خطورة ما هم مقبلون عليه من تحديات، لكن عندما يختل ميزان الأولويات، ويضطرب تناسق التكامل في العمل الإسلامي؛ يكون توجيه الجهود إلى الجبهات الوهمية، وتكون النتيجة: خسارة في بنية التدين الاجتماعي كما نرى ونشاهد! ولذلك فإننا الآن نفضحه! ونربطه بفلسفته وأيديولوجيته القائمة على نوع من (الزندقة العقدية)، هي أشبه ما تكون (بحركة الزندقة) التي ظهرت في تاريخ الإسلام قديما. ولكننا الآن ههنا لن نعنى بهذا أصالة؛ بقدر ما نعنى ببيان

--------------------------------------------

(1) لقد سبق إلى هذا المعنى -بوجه آخر- فضيلة الدكتور أحمد الأبيض التونسي، في كتابه الرائد (فلسفة الزي الإسلامي) (الطبعة الثانية بالمغرب/الدار البيضاء، ضمن سلسلة الحوار رقم:2 سنة: 1990)، بيد أننا ههنا ركزنا أكثر على بيان (سيماء المرأة) من خلال النصوص الشرعية، على المستويين: النفسي والصوري، وبيان مقاصد الأحكام الشرعية من كل ذلك.
ইসলামী পোশাকের সংকেততাত্ত্বিক গবেষণার গতিপথ এবং এর ফলাফল—উভয়ই মূলত আকিদার মূলনীতির (أصول العقيدة) সাথে সম্পৃক্ত! এটি পুরুষ বা নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য, তবে প্রত্যেকের জন্য রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। যারা একে কেবল শরয়ি বিধানের (التشريع) গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেন, তারা ভুল করছেন।

এখান থেকেই ইসলামের আকিদাগত ধ্বংস সাধনে (নগ্নতা আন্দোলন)-এর ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়! যা আল্লাহর শক্তিতে আপনি অচিরেই দেখতে পাবেন। এই মৌলিক মরণফাঁদে উম্মাহর বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা দেখেছি যে, পোশাকের বিষয়টি তার সংকেততাত্ত্বিক নির্দেশনার (دلالات سيميائية) কারণে মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সভ্যতাগত যুদ্ধ; যার উদ্দেশ্য হলো সামাজিক ধর্মীয় কাঠামোর আবেগীয় ভিত্তিগুলোকে ধ্বংস করা। এর অর্থ হলো মুসলিম দেশগুলোতে চলমান সকল প্রকার সংস্কারমূলক ধর্মীয় কার্যক্রমের ভিত্তি উপড়ে ফেলা এবং সেগুলোকে লক্ষ্যহীন শূন্যতায় পর্যবসিত করা! যদি এই গবেষণাপত্রে নতুন কিছু উন্মোচিত হয়ে থাকে, তবে তা এটাই! (১)

হ্যাঁ, আমরা ইতিপূর্বেও এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম, যখন এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল; যাতে দাওয়াতি অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ তাদের সম্মুখবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। কিন্তু যখন অগ্রাধিকারের মানদণ্ড (ميزان الأولويات) বিঘ্নিত হয় এবং ইসলামি কর্মতৎপরতার সমন্বিত ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন প্রচেষ্টাগুলো কাল্পনিক ফ্রন্টের দিকে পরিচালিত হয়। এর ফলাফল হয় সামাজিক ধর্মীয় কাঠামোর ক্ষতি, যা আমরা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করছি! সেই কারণেই আমরা এখন একে উন্মোচিত করছি! এবং একে তার সেই দর্শন ও আদর্শের সাথে যুক্ত করছি যা এক প্রকার আকিদাগত জিন্দিকপনা বা ধর্মদ্রোহিতার (الزندقة العقدية) ওপর প্রতিষ্ঠিত; যা প্রাচীন ইসলামের ইতিহাসে আবির্ভূত 'জিন্দিক আন্দোলনের (حركة الزندقة)' সদৃশ। তবে আমরা এখানে প্রাথমিকভাবে এটি নিয়ে আলোচনা করব না; বরং আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বর্ণনা করা—

--------------------------------------------

(১) শ্রদ্ধেয় ডক্টর আহমদ আল-আবইয়াদ আল-তিউনিসি তার অগ্রগামী গ্রন্থ 'ফালসাফাতুল জাই আল-ইসলামি' (মরক্কো/কাসাব্লাঙ্কা থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণ, আল-হিওয়ার সিরিজ নং: ২, ১৯৯০ সাল)-এ ভিন্ন আঙ্গিকে এই বিষয়টি ইতিপূর্বে ব্যক্ত করেছেন। তবে আমরা এখানে মনস্তাত্ত্বিক ও দৃশ্যমান উভয় স্তরে শরয়ি দলিলের (النصوص الشرعية) আলোকে 'নারীর বৈশিষ্ট্য' এবং এসবের ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الأحكام الشرعية) বর্ণনার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছি।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ৭)
النموذج الراشد لسيماء المرأة في الإسلام. ولنا بحول الله عودة في دراسة مقبلة، لظاهرة (الزندقة المعاصرة) تعريفا وتوصيفا. والله المستعان.

من هنا إذن؛ انطلقنا لتقديم هذه الورقة/النذير، لكشف خطورة ظاهرة التعري الجسمي والنفسي، التي تلتهم نارها اليوم الأخضر واليابس في المجتمع، حتى امتدت ألسنة لهيبها إلى لباس الفتاة المحجبة ذاتها مسخا وتحريفا؛ لتشكله على وفق الموضات والصيحات الإعلامية المتفجرة من معابد الشيطان في كل مكان!

إنني أخشى -إذا استمر صناع الخراب في صناعتهم- من نتائج عكسية لسياسة التفسيق، لكنها نتائج لا توازن لها ولا انضباط، هي الآن تتخمر في النفسية الاجتماعية. إنني أنذر برد فعل خطير، رد فعل شعبي غير محكوم ولا موزون، يطبعه الجهل، وتغمره الفوضى! ينطلق على مدى متوسط؛ ضد موجة التفسيق المفروضة على البلاد والعباد، التي تقودها الشرذمة المتطرفة، من اللادينيين الفرنكوفونيين، والشيوعيين، المدسوسين في بنية المؤسسات الرسمية والحزبية؛ استجابة لرغبة الفجور السياسي العالمي؛ واستجابة لنزوة الاستمتاع الشيطاني في الثقافة والمجتمع!

إن دراسة (سيمياء العري) ليست عملا سطحيا، كلا! بل إن لها في الإسلام ارتباطا وثيقا بجوهر النفس الإنسانية. كما أن لها جذورا قديمة في قصة الدين، أي منذ بدء الخلق البشري كما وردت في القرآن العظيم، مما في مثل قول الله تعالى: {يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَاتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ} (الأعراف:26). فالعري له دلالة خاصة في الإسلام، كما أن اللباس له دلالة خاصة. فكلاهما تعبير عن حضارة معينة؛ عقيدةً ومنهجَ حياة! كما سيأتي تفصيله بحول الله بهذه الورقات.
ইসলামে নারীর অবয়বের আদর্শ নমুনা। মহান আল্লাহর শক্তিতে আমরা একটি পরবর্তী গবেষণায় 'সমসাময়িক ধর্মদ্রোহিতার' (زندقة) সংজ্ঞায়ন ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনার ওপর ফিরে আসব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহই সাহায্যকারী।

এখান থেকেই আমরা এই গবেষণাপত্র তথা সতর্কবার্তা পেশ করার সংকল্প করেছি, যাতে শারীরিক ও মানসিক নগ্নতার রূপের ভয়াবহতা উন্মোচন করা যায়। এই নগ্নতার আগুন আজ সমাজের সব কিছুকে গ্রাস করছে, এমনকি তার লেলিহান শিখা হিজাব পরিহিত তরুণীর পোশাক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে তাকে বিকৃত (تحريف) ও রূপান্তর করে ফেলেছে; যাতে একে সর্বত্র শয়তানের উপাসনালয় থেকে বিচ্ছুরিত ফ্যাশন ও মিডিয়ার জোয়ারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করা যায়!

আমি আশঙ্কা করি—যদি ধ্বংসের কারিগররা তাদের কাজ চালিয়ে যায়—তবে পাপাচার বিস্তারের (تفسيق) নীতির এক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে, যার কোনো ভারসাম্য বা নিয়ন্ত্রণ থাকবে না এবং যা এখন সামাজিক মনস্তত্ত্বে দানা বাঁধছে। আমি এক ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সতর্কবার্তা দিচ্ছি—এক অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিপক্ক গণ-প্রতিক্রিয়া, যা মূর্খতা দ্বারা রঞ্জিত এবং বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হবে! এটি মধ্যমেয়াদে দেশ ও জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া পাপাচারের (تفسيق) তরঙ্গের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। এই তরঙ্গ পরিচালনা করছে কট্টরপন্থী একদল লোক—যাদের মধ্যে রয়েছে ফরাসি ভাবধারার ধর্মহীন ও কমিউনিস্টরা, যারা বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অনৈতিকতার (فجور) আকাঙ্ক্ষা মেটাতে এবং সংস্কৃতি ও সমাজে শয়তানি লালসা চরিতার্থ করতে সরকারি ও দলীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোয় অনুপ্রবেশ করেছে!

'নগ্নতার বাহ্যিক রূপ' (سيمياء العري) সংক্রান্ত এই অধ্যয়ন কোনো অগভীর কাজ নয়, মোটেও না! বরং ইসলামে মানবাত্মার সারসত্তার সাথে এর গভীর যোগসূত্র রয়েছে। এর প্রাচীন শেকড় রয়েছে দ্বীনের ইতিহাসে, অর্থাৎ মানব সৃষ্টির শুরু থেকে যেমনটি সুমহান কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলার বাণীর ন্যায়: {হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল—সে তাদের পোশাক উন্মোচন করেছিল যাতে তাদের লজ্জাস্থানগুলো তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। নিশ্চয়ই সে এবং তার দলবল তোমাদের এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। নিশ্চয়ই আমি শয়তানদেরকে তাদের অভিভাবক (أولياء) করেছি যারা বিশ্বাস করে না} (আল-আরাফ: ২৬)। ইসলামে নগ্নতার যেমন বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, তেমনি পোশাকেরও রয়েছে বিশেষ অর্থ। উভয়ই এক বিশেষ সভ্যতার বহিঃপ্রকাশ; যা আকিদা (عقيدة) এবং জীবনপদ্ধতির অংশ! আল্লাহ চাহেন তো এই গবেষণাপত্রে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ৮)
يخطئ كثيرا أولئك السذج من المسلمين، الذين يظنون أن ظاهرة التعري هي نوع من التحولات الاجتماعية البسيطة، التي لا تمس جوهر الأمة بشيء من التغيير. بل إنها - كما سترى إن شاء الله بدليله - سيمياء فلسفية، ترجع إلى تصور أيديولوجي معين، مناقض لأصول المنهج الإسلامي في عرض مفهوم الحياة (1).

إن سيمياء التعري سيل من الحرب الحضارية، التي تشنها اليهودية العالمية، والمسيحية الصهيونية على الإسلام لتعريته ثم تدميره!

إن هذا الخطر الخلقي الداهم ليس له علاقة بتفسيق الشباب فقط، ولكنه مدمر لبنية التدين كلها! إنه استراتيجية عالمية خبيثة لغزو العالم الإسلامي على مستويات متعددة، واحتلال الوجدان الإنساني فيه، وتدمير شخصيته على المستويين النفسي والاجتماعي معا! وذلك أخطر أنواع الاحتلال، وأشد وجوه الاستخراب!

إن المسلمين المشاركين في صناعة (الفجور السياسي)، والمتعاونين مع سدنته الكبار، من الأمريكان والفرنكوفونيين واليهود؛ إنما هم خونة! ففي مثلهم قال الله عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} (النور:19). لقد خانوا الله ورسوله، وخانوا الأمة كلها! وتعاونوا مع العدو لتدميرها من داخلها! لقد باعوا عرضها في سوق المزاد العولمي بدراهم معدودات وكانوا فيه من الزاهدين! والأمة لاهية ساهية، والشباب - ذكرانا وإناثا - غافل، ضائع بين الملاهي والخمارات، سارب في الطرقات، هائم على وجهه، يملأ

--------------------------------------------

(1) كتب الأستاذ مصطفى المرابط مقالا متميزا في بيان هذه الحقيقة جعله بعنوان: " المرأة/المرأة: مقاربة حضارية" منشور بمجلة المنعطف المغربية، ص:40 - 53. عدد مزدوج:15 - 16 - 1421/ 2000)
সেই সব অর্বাচীন মুসলমানরা বড়ই ভুল করেন, যারা মনে করেন যে নগ্নতার প্রাদুর্ভাব কেবল সাধারণ কিছু সামাজিক পরিবর্তনের অংশ, যা উম্মাহর সারসত্তার কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। বরং এটি—যেমনটি আপনি ইনশাআল্লাহ প্রমাণসহ দেখতে পাবেন—একটি দার্শনিক সংকেতবিজ্ঞান, যা একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শগত ধারণার দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং জীবনের ধারণা উপস্থাপনে ইসলামী পদ্ধতির মূলনীতি (أصول)-র পরিপন্থী (১)।

নগ্নতার এই সংকেতবিজ্ঞান মূলত একটি সভ্যতাগত যুদ্ধের প্রবল স্রোত, যা বিশ্ব ইহুদিবাদ এবং জায়নবাদী খ্রিস্টবাদ ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালনা করছে, তাকে নগ্ন করার জন্য এবং অতঃপর তাকে ধ্বংস করার জন্য!

এই আসন্ন নৈতিক বিপদের সম্পর্ক কেবল যুবসমাজকে পাপাচারী বানানোর সাথেই নয়, বরং এটি সামগ্রিক ধর্মীয় কাঠামোর ধ্বংসকারী! এটি মুসলিম বিশ্বকে বহুমুখী স্তরে আক্রমণ করার, এর মানবিক বিবেক দখল করার এবং মানসিক ও সামাজিক উভয় স্তরে এর ব্যক্তিত্বকে ধ্বংস করার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী বিদ্বেষপূর্ণ কৌশল! আর এটি দখলদারিত্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরন এবং ধ্বংসাত্মকতার সবচেয়ে কঠোর রূপ!

(রাজনৈতিক পাপাচার) তৈরিতে অংশগ্রহণকারী এবং এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক যেমন আমেরিকান, ফ্রাঙ্কোফোন ও ইহুদিদের সাথে সহযোগিতাকারী মুসলমানরা মূলত বিশ্বাসঘাতক! তাদের ব্যাপারেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়া পছন্দ করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না} (আন-নূর: ১৯)। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং পুরো উম্মাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে! তারা উম্মাহকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার জন্য শত্রুর সাথে সহযোগিতা করেছে! তারা বিশ্বায়নের নিলাম বাজারে সামান্য কয়েক দিরহামের বিনিময়ে উম্মাহর সম্মান বিক্রি করে দিয়েছে এবং তারা এর প্রতি ছিল অনাগ্রহী! এদিকে উম্মাহ আমোদ-প্রমোদে মত্ত ও উদাসীন, আর যুবসমাজ—নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে—গাফিল, চিত্তবিনোদন কেন্দ্র ও মদের আড্ডায় বিভ্রান্ত, পথে পথে উদ্দেশ্যহীনভাবে বিচরণশীল, তারা পূর্ণ করছে...

--------------------------------------------

(১) উস্তাদ মুস্তাফা আল-মুরাবিত এই সত্যটি স্পষ্ট করার জন্য একটি চমৎকার প্রবন্ধ লিখেছেন, যার শিরোনাম দিয়েছেন: "নারী/নারী: একটি সভ্যতাগত দৃষ্টিভঙ্গি", যা মরক্কোর 'আল-মুনআতাফ' সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, পৃষ্ঠা: ৪০-৫৩। দ্বৈত সংখ্যা: ১৫-১৬ - ১৪২১/২০০০।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أذنيه بموسيقى الراقصين على جراحنا، ولتذهب البلاد والعباد بعدها إلى الجحيم!

وقبل الدخول في التأصيل الفقهي لسيمياء المرأة في الإسلام؛ لا بد من وضع سؤال مبدئي، عليكِ أختي القارئة، باعتباركِ أنت موضوع الخطاب الإسلامي في الشأن النسوي خاصة؛ وأيضا عليكَ أنتَ أخي القارئ، باعتباركَ أخا لها، أو أبا، أو زوجا، أو ابنا، أي باعتبارك جزءا لا يتجزأ منها، فإنما الأسرة المسلمة -في القرآن العظيم- جسم واحد لا يتجزأ، ولا يتبعض! قال عز وجل: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء:1).

والسؤال هو: هل تؤمنين بالله حقا؟

سلي نفسك: هل تعرفين الله؟ هل تعرفين معنى كونه خالقا لكل شيء، وأنه خَلَقَكِ أنتِ؟ أنت بالذات! فما مقتضى ذلك، وما نتيجته عليك إذن؟ هل تملكين أمر نفسك في هذا الكون؛ ولادةً وموتا؟ ما حقيقة هذا العمر الذي تملكينه ولا تملكينه؟ من أنتِ إذن؟ وما موقعك في كونٍ واسع رهيب، يملكه رب عظيم؟ كون يمتد من عالم الشهادة إلى عالم الغيب! ما طبيعة وجودك أنت فيه وما معناه؟

تلك أسئلة لابد من تقريرها، ثم تحقيقها؛ لفهم طبيعة الخطاب القرآني عموما، والمتعلق منه بذاتكِ أنتِ خصوصا! (1)

إن أوَّلَ حقيقةٍ قرآنيةٍ تُعْرَضُ في سياق الآيات المتعلقة بالنساء -كما سترين بحول الله- هي أن القصد التشريعي من رسم معالم صورة المرأة في القرآن والسنة؛ إنما هو لتكون قناةً أساسيةً لاستمرا التدين في المجتمع! تلك

--------------------------------------------

(1) لتَدَبُّرِ هذه الأسئلة وتأملها؛ اقرئي -إن شئت- كتابنا: بلاغ الرسالة القرآنية.
আমাদের ক্ষতের ওপর নৃত্যরতদের সংগীত তার কর্ণকুহরে ধ্বনিত হোক, আর দেশ ও জাতি এরপর জাহান্নামে যাক!

ইসলামে নারীর অবয়বের ফিকহী মূলনীতি নির্ধারণের আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে একটি প্রাথমিক প্রশ্ন রাখা আবশ্যক; হে পাঠিকা বোন, আপনার প্রতি, যেহেতু আপনি বিশেষভাবে নারী সংক্রান্ত বিষয়ে ইসলামি সম্বোধনের মূল বিষয়বস্তু; এবং হে পাঠক ভাই, আপনার প্রতিও, যেহেতু আপনি তার ভাই, অথবা পিতা, অথবা স্বামী, কিংবা পুত্র। অর্থাৎ আপনি তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেননা সুমহান কুরআনের দৃষ্টিতে মুসলিম পরিবার একটি একক সত্তা যা অবিভাজ্য এবং খণ্ডনযোগ্য নয়! মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (আন-নিসা: ১)।

আর প্রশ্নটি হলো: আপনি কি সত্যিই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস পোষণ করেন?

নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন: আপনি কি আল্লাহকে চেনেন? সবকিছুর স্রষ্টা হওয়া এবং বিশেষ করে আপনাকে সৃষ্টি করার অর্থ কি আপনি জানেন? আপনার নিজের ক্ষেত্রে এর দাবি কী এবং এর পরিণামই বা কী? এই মহাবিশ্বে জন্ম ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে আপনার কি নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে? এই জীবনের প্রকৃত রহস্য কী, যা আপনার হয়েও আপনার নয়? তাহলে আপনি কে? এক মহান রবের মালিকানাধীন এই সুবিশাল ও রহস্যময় মহাবিশ্বে আপনার অবস্থান কোথায়? এমন এক মহাবিশ্ব যা দৃশ্যমান জগত থেকে অদৃশ্য জগত পর্যন্ত বিস্তৃত! এতে আপনার অস্তিত্বের প্রকৃতি ও তাৎপর্য কী?

সাধারণভাবে কুরআনী সম্বোধন এবং বিশেষভাবে আপনার সত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির প্রকৃতি অনুধাবনের জন্য এই প্রশ্নগুলো স্থির করা এবং এরপর তা নিরূপণ করা অপরিহার্য! (১)

নারী সংক্রান্ত আয়াতসমূহের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত প্রথম কুরআনী সত্যটি হলো—যেমনটি আল্লাহর রহমতে আপনি দেখতে পাবেন—কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নারীর অবয়বের রূপরেখা অঙ্কনের ক্ষেত্রে বিধানগত উদ্দেশ্য হলো তাকে সমাজে ধর্মপরায়ণতা অব্যাহত রাখার মূল মাধ্যমে পরিণত করা! সেই

--------------------------------------------

(১) এই প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা ও গবেষণার জন্য আপনি চাইলে আমাদের গ্রন্থ 'বালাগুর রিসালাতিল কুরআনিয়া' পড়তে পারেন।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وظيفتها الاجتماعية الكبرى، فَأَعْظِمْ بها من وظيفة! ولذلك كانت شخصيتها -نفساً وصورةً- موطنَ زحام الفلسفات، وتدافع الأيديولوجيات، وتصارع الحضارات! فتأملي هذه الحقيقة إن كنت مبصرة! ولكونها كذلك؛ أي قناة التدين الكبرى؛ جعلها الإسلام رمزا سيميائيا للعفة والكرامة، وموردا تربويا للأجيال.

ومن هنا فهي لا تخرج إلى الشوارع عارية الأطراف والصدور والنحور! إن عفتها تمنعها من أن تعرض لحمها في سوق الشهوات الحيوانية! فالمرأة المسلمة -التي ما تزال تحتفظ بجمالها النفسي، وطهرها البدني- تسعى لاكتساب كمالها الروحي، ولا تتردى في مهاوي السقوط الأخلاقي، ولا تتعهر في الشوارع والطرقات؛ ولا تكشف للناس عن تفاصيل بدنها، ورسومات عورتها! ولا تخالل الشباب الضال، الضارب في متاهات العمى! شباب لا يدرك من مسؤوليته تجاه أمته شيئا، شباب يعتبر وجوده ثقلا زائدا على كاهل الأمة، وكأنه ما وجد إلا ليبتليه الله ويبتلي به! شباب غبي يلهث وراء الشهوات العفنة.

ففي حين تخوض الأمة أشرس معاركها التاريخية ضد الفجور العولمي، والتدمير الشمولي لقيمها؛ قصد إذلالها وتركيعها، وفي حين يموت أبناؤها البررة شهداء في كل مكان، في مدافعة حركة تهويد العالم؛ ينغمس هو بكل شره وغباوة في تناول الطُّعم الصهيوني مما يعرض عليه في موائد الحرام! والدكَّاكة الأمريكية تحطم نخوته وعرضه فوق رأس أمه، ليل نهار، وهو يرى لكنه لا يبصر شيئا! قد صدق عليه قول الله تعالى في القرآن العظيم: {وَتَرَاهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ!} (الأعراف:198) أين يعيش هذا الشباب؟ إنه يعيش خارج التاريخ!

ألا شتان شتان بين شباب يعيش في القمة؛ وشباب يعيش في القمامة!
এর সামাজিক দায়িত্ব অত্যন্ত সুমহান, আর এ কতই না শ্রেষ্ঠ দায়িত্ব! আর এই কারণেই তার ব্যক্তিত্ব—মানসিক ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকেই—নানা দর্শনের ভিড়, আদর্শিক সংঘাত এবং সভ্যতার লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। সুতরাং তুমি যদি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হও, তবে এই ধ্রুব সত্যটি উপলব্ধি করো। আর নারী যেহেতু দ্বীনদারির প্রধান পথ, তাই ইসলাম তাকে পবিত্রতা ও মর্যাদার এক প্রতীকী নিদর্শন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য এক শিক্ষামূলক উৎস হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

আর এই কারণেই সে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বক্ষ ও গ্রীবা উন্মুক্ত করে রাস্তায় বের হয় না। তার পবিত্রতা তাকে পশুসুলভ লালসার হাটে নিজের দেহ প্রদর্শনী থেকে বিরত রাখে। ফলে যে মুসলিম নারী এখনও তার মানসিক সৌন্দর্য ও শারীরিক পবিত্রতা ধরে রেখেছে, সে তার আধ্যাত্মিক পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টায় রত থাকে। সে চারিত্রিক স্খলনের অতল গহ্বরে নিজেকে নিপতিত করে না এবং রাস্তাঘাটে অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় না; সে মানুষের সামনে তার দেহের গঠন ও আবরুর (عورة) খুঁটিনাটি উন্মোচন করে না। সে সেই পথভ্রষ্ট যুবকদের সাথে বন্ধুত্ব করে না যারা অন্ধত্বের গোলকধাঁধায় দিশেহারা। এমন যুবক, যারা নিজ জাতির প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না; যারা নিজেদের অস্তিত্বকে উম্মাহর কাঁধে এক বাড়তি বোঝা মনে করে—যেন আল্লাহ তাদের কেবল পরীক্ষার জন্যই সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মাধ্যমে অন্যদের পরীক্ষায় ফেলেছেন। তারা এক নির্বোধ যুবসমাজ, যারা কলুষিত লালসার পেছনে হন্যে হয়ে ছুটে বেড়ায়।

এমন এক সময়ে যখন উম্মাহ তার মূল্যবোধের বিনাশী ও একে অবদমিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত বিশ্বব্যাপী পাপাচারের বিরুদ্ধে ইতিহাসের এক ভয়াবহতম যুদ্ধে লিপ্ত; যখন তার সৎকর্মশীল সন্তানরা বিশ্বকে ইহুদিকরণের হাত থেকে রক্ষার লড়াইয়ে সর্বত্র শহীদ (شهيد) হিসেবে প্রাণ দিচ্ছে, তখন সে অত্যন্ত নির্লজ্জতা ও নির্বুদ্ধিতার সাথে হারামের দস্তরখানে পরিবেশিত জায়নবাদী টোপ গিলতে নিমগ্ন। আমেরিকান চূর্ণকারী শক্তি দিনরাত তার মায়ের মাথার ওপর তার বীরত্ব ও সম্ভ্রম ধূলিসাৎ করছে, সে দেখছে কিন্তু তার প্রকৃত দৃষ্টিশক্তি নেই! মহান আল্লাহর বাণী তাদের ক্ষেত্রে সত্য প্রমাণিত হয়েছে: "তুমি দেখবে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু তারা দেখতে পায় না" (আল-আরাফ: ১৯৮)। এই যুবকরা কোথায় বাস করছে? তারা তো ইতিহাসের বাইরে বাস করছে!

আহ! সেই যুবকদের মাঝে কতই না আকাশ-পাতাল ব্যবধান যারা শিখরে বাস করে, আর যারা আবর্জনার স্তূপে বাস করে!
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১১)
إن الفتاة المؤمنة تدرك قيمة شرفها، ولا تبيعه رخيصا في سوق النخاسة! إنها تصون نفسها، وتعتز بانتمائها الديني، وتميزها الحضاري.

إن المرأة التي تحرص على إبراز مفاتنها؛ عبر منعطفات جسمها، وحركة لحمها، وتعصر غلائل ثوبها على بدنها؛ إمعانا في استعراض مسالك عورتها وحجم وَرِكِهَا! وتفاصيل أنوثتها مُقْبِلَةً ومُدْبِرَةً، تشتهي سماع كلمة ساقطة من شاب ساقط! أو كما قالت العرب: (لا تَرُدُّ يَدَ لَامِس!) لهي امرأة غبية حقا! إنها تختزل إنسانيتها في صورة حيوان! بل أضل من ذلك! إنها أشبه ما تكون بتماثيل البلاستيك المهيأة لعرض الأزياء على زجاج المعارض التجارية في الشوارع الكبرى، إلا أنها -مع الأسف- تعرض لحمها وكرامتها للناس، لكل الناس! إنها تقع في مصيدة اليهود العالمية، مصيدة التعري، لتجريد حضارة الإسلام من مصدر قوتها: العفة والكرامة!

إن التي تختزل (حرية المرأة) في حرية الفروج، وفي حرية التعهر على الملأ؛ قد أذنت لإنسانيتها أن تتردى في درك البَهَمِيَّة، ونزلت عن شرف الخطاب الإلهي في قوله تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنا بَنِي آدَمَ} (الإسراء:70).

وإنما حرية المرأة -لو تبصرين، بنيتي- هي كسر أغلال العبودية التي تربطك إلى شهوات النفس البَهَمِيَّة، والتمرد على النموذج الغربي للحياة! ورفع راية الإسلام، راية العفة والكرامة في اللباس الإسلامي العالي! إن الحرية هي أن تطئي بقدمك رغبات التعري الشيطانية، والتعهر الحيواني، وتمرغي طغيانها الشهواني في التراب! فتنتقمي بذلك لشرفك ولشرف الأمة الإسلامية كلها؛ من الإذلال الأمريكي والصهيوني العالمي لقيمها وحضارتها! ومن قبل نطقت العرب بحكمتها الرفيعة: (تجوع الحرة ولا تأكل بثدييها!)

بنيتي! مصيرك الوجودي أقوله لك في كلمة واحدة: (أنت متحجبة؛ إذن أنت موجودة!)

وإلا فعلى دينك السلام!
একজন মুমিন নারী তার আত্মমর্যাদার মূল্য উপলব্ধি করে এবং দাস বিক্রির বাজারে তা সস্তায় বিক্রি করে দেয় না! সে নিজেকে হেফাযত করে এবং তার ধর্মীয় পরিচয় ও সভ্যতার স্বাতন্ত্র্য নিয়ে গৌরব বোধ করে।

যে নারী তার রূপ-সৌন্দর্য প্রদর্শনে ব্যতিব্যস্ত থাকে; দেহের ভাঁজ, অঙ্গভঙ্গি এবং আটসাঁট পোশাকের মাধ্যমে শরীরের গোপনীয়তা ও অবয়ব ফুটিয়ে তোলার চেষ্টায় মগ্ন থাকে—যাতে সে সম্মুখভাগ ও পশ্চাৎভাগের নারীত্বের সূক্ষ্ম বিবরণ প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো এক নিচু স্বভাবের যুবকের কাছ থেকে কোনো এক কুরুচিপূর্ণ কথা শোনার আকাঙ্ক্ষা করে! কিংবা আরবরা যেমনটি বলত: (সে কোনো স্পর্শকারীর হাত ফিরিয়ে দেয় না!) সে তো প্রকৃতপক্ষে এক নির্বোধ নারী! সে তার মানবতাকে কেবল একটি পশুসুলভ অবয়বে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে! বরং তার চেয়েও অধম! সে যেন জনাকীর্ণ রাস্তার কাঁচের প্রদর্শনীতে পোশাক প্রদর্শনের জন্য সাজিয়ে রাখা প্লাস্টিকের মূর্তির মতো; তবে আক্ষেপের বিষয় হলো—সে তার রক্ত-মাংস আর সম্মান সবার কাছে, প্রত্যেকের কাছে বিলিয়ে দিচ্ছে! সে মূলত ইহুদিদের বিশ্বব্যাপী পাতা সেই নগ্নতার ফাঁদে পা দিচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হলো ইসলামের সভ্যতাকে তার শক্তির মূল উৎস—পবিত্রতা ও মর্যাদা—থেকে বঞ্চিত করা!

যে নারী 'নারীর স্বাধীনতা'কে কেবল কামনার স্বাধীনতা এবং জনসমক্ষে নির্লজ্জতার স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে; সে মূলত তার মানবতাকে পশুত্বের নিম্নস্তরে নামিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে এবং আল্লাহ তাআলার সেই বাণীর সম্মানজনক সম্বোধন থেকে বিচ্যুত হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি বনী আদমকে সম্মানিত করেছি} (আল-ইসরা: ৭০)।

হে আমার বৎসা! তুমি যদি অনুধাবন করতে, তবে জানতে যে নারীর প্রকৃত স্বাধীনতা হলো প্রবৃত্তির দাসত্বের সেই শিকলগুলো ভেঙে ফেলা যা তোমাকে পাশবিক লালসার সাথে বেঁধে রাখে এবং পশ্চিমা জীবনরীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা! ইসলামের সুউচ্চ পোশাকের মাধ্যমে পবিত্রতা ও মর্যাদার ঝাণ্ডা উড্ডীন করা! প্রকৃত স্বাধীনতা হলো শয়তানি নগ্নতা আর পশুসুলভ কামনার আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা এবং তার পঙ্কিলতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া! এর মাধ্যমে তুমি তোমার নিজের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সম্মানের প্রতিশোধ গ্রহণ করবে সেই আমেরিকান ও জায়নবাদী লাঞ্ছনা থেকে, যা তারা আমাদের মূল্যবোধ ও সভ্যতার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। ইতিপূর্বে আরবরা তাদের সুউচ্চ প্রজ্ঞায় বলেছিল: (স্বাধীন নারী ক্ষুধার্ত থাকবে তবুও স্তন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবে না!)

হে আমার প্রিয় কন্যা! তোমার অস্তিত্বের গন্তব্য আমি তোমাকে একটি কথাতেই বলে দিচ্ছি: (তুমি হিজাব পরিহিতা; অতএব তোমার অস্তিত্ব বিদ্যমান!)

নতুবা তোমার দ্বীনের ওপর কেবল শান্তিই বর্ষিত হোক (অর্থাৎ তোমার দ্বীন বিলুপ্ত হয়ে যাবে)!
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১২)
هل فكرت يوما: كم تدوم نضارة جسمك؟ وكم تدوم حياتك كلها بهذه الدنيا الفانية؟ إن اليوم الذي تستزيدينه من عيشك ينقص من عمرك، ويقربك من أجلك! فما قيمة اللذة الدنيوية إذا كانت تنتهي بمجرد بدايتها؟ ما قيمة المتعة -أي متعة- إذا كانت غاية فرحتها الكاذبة إلى سويعات تنتهي؟ ثم تتحول إلى ندم سرمدي، وغم أبدي، لا تطيق حمله الجبال الرواس! {فَكَيْفَ تَتَّقُونَ إِن كَفَرْتُمْ يَوْمًا يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا. السَّمَاءُ مُنفَطِرٌ بِهِ كَانَ وَعْدُهُ مَفْعُولاً. إِنَّ هَذِهِ تَذْكِرَةٌ فَمَن شَاء اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا} (المزمل:17 - 19). العمر البشري محدود، وفرصته واحدة، ولا يمكنكِ أن تعيشي اللحظة الواحدة مرتين! فهي إما لك وإما عليك! ففكري بنيتي .. ! فكري قبل الغروب!

هذه هي الحقيقة الوجودية للإنسان لو كنت تبصرين! فلماذا التسابق نحو الهاوية إذن؟ أي عمى هذا الذي ضرب على عينيك، فلم تبصري من حقائق الوجود غير بدنك؟

إن الذين يبصرون حقا يدركون أن العري والتعري لعبة يهودية! فهل تبصرين؟

بنيتي! إن الأمة تنهار فهلا شاركت في البناء؟

الحجاب العاري:

ثم بعد هذا وذاك نقول: إن الفتاة التي احتجبت حقا وصدقا، لا تفتنها إغواءات الشيطان، وإغراءات الموضات المتدفقة بالفتن! فلا ترتد على أدبارها لتتحايل على حجابها، بالتشكيل والتجميل؛ مما يفقد اللباس الإسلامي مقصده الشرعي من التستر والتخفي، وحفظ الكرامة والحياء! إن المرأة المؤمنة بالله واليوم الآخر تعبد ربها بلباسها، ولا يقبل الله من العبادة إلا ما كان على شرطين. الأول: أن يكون خالصا له تعالى، والثاني: أن يكون صوابا، أي منضبطا لحدود الله، كما وردت في كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، بلا تبديل ولا تحريف!
আপনি কি কখনো ভেবেছেন: আপনার দেহের সজীবতা কতদিন স্থায়ী হবে? আর এই নশ্বর পৃথিবীতে আপনার সমগ্র জীবনই বা কতদিন স্থায়ী হবে? আপনার জীবনের যে দিনটি আপনি বর্ধিত মনে করছেন, তা মূলত আপনার আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে এবং আপনাকে আপনার অন্তিম সময়ের (أجل) নিকটবর্তী করছে! পার্থিব স্বাদের মূল্য কী যদি তা শুরু হতেই শেষ হয়ে যায়? আনন্দের—যেকোনো আনন্দের—মূল্যই বা কী যদি তার ক্ষণস্থায়ী মিথ্যা উল্লাসের সমাপ্তি ঘটে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে? অতঃপর তা চিরন্তন অনুশোচনা এবং অন্তহীন বিষাদে পরিণত হয়, যা সুউচ্চ পাহাড়সমূহও বহন করতে সক্ষম নয়! {সুতরাং তোমরা যদি কুফরি করো, তবে সেই দিন থেকে কীভাবে আত্মরক্ষা করবে, যা শিশুদের বৃদ্ধ করে দেবে? আকাশ সেদিন বিদীর্ণ হবে; তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ। অতএব যার ইচ্ছা, সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ অবলম্বন করুক} (আল-মুয্যাম্মিল: ১৭ - ১৯)। মানুষের আয়ু সীমিত এবং এর সুযোগ কেবল একবারই আসে; আপনি একই মুহূর্ত দুইবার যাপন করতে পারবেন না! এটি হয় আপনার সপক্ষে থাকবে, নয়তো আপনার বিপক্ষে যাবে! অতএব ভেবে দেখো হে আমার কন্যা...! সূর্যাস্তের পূর্বেই ভেবে দেখো!

আপনি যদি চাক্ষুষ করতেন তবে জানতেন যে, এটিই মানুষের অস্তিত্বগত বাস্তবতা! তবে কেন এই ধ্বংসের গহ্বরের দিকে প্রতিযোগিতামূলক ধাবমান হওয়া? আপনার চোখে এ কেমন অন্ধত্ব জেঁকে বসেছে যে, অস্তিত্বের বাস্তবতার মধ্যে কেবল নিজের দেহ ছাড়া আপনি আর কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না?

প্রকৃত চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা উপলব্ধি করেন যে, উলঙ্গপনা ও নগ্নতা হলো ইহুদিদের একটি চক্রান্ত! আপনি কি তা দেখতে পাচ্ছেন?

হে আমার কন্যা! উম্মাহ আজ পতনের মুখে, আপনি কি এর বিনির্মাণে অংশ নেবেন না?

নগ্ন হিজাব:

অতঃপর এরপরে আমরা বলি: যে তরুণী যথাযথভাবে এবং একনিষ্ঠতার সাথে পর্দা (حجاب) গ্রহণ করেছে, শয়তানের প্রলোভন এবং ফিতনায় পরিপূর্ণ আধুনিক ফ্যাশনের হাতছানি তাকে প্রলুব্ধ করতে পারে না! সে কখনো পিছু হটে না এবং হরেক রকম কারুকাজ ও রূপসজ্জার মাধ্যমে পর্দার বিষয়ে চাতুর্য অবলম্বন করে না; যা মূলত লজ্জা ও আবৃত থাকার শরয়ি (شرعي) উদ্দেশ্য এবং মর্যাদা ও হায়া রক্ষার মূল চেতনাকে নষ্ট করে দেয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসী নারী তার পোশাকের মাধ্যমেই তার প্রতিপালকের ইবাদত করে। আর আল্লাহ কোনো ইবাদত কবুল করেন না যতক্ষণ না তাতে দুটি শর্ত বিদ্যমান থাকে। প্রথমটি: তা হতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ (خالص) এবং দ্বিতীয়টি: তা হতে হবে সঠিক (صواب), অর্থাৎ আল্লাহর নির্ধারিত সীমার অনুগত, যেমনটি আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ-তে কোনো পরিবর্তন (تبديل) ও বিকৃতি (تحريف) ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে!
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
إن الفتاة المؤمنة لا تخرج بالبنطلونات والمعاطف القصيرة! والسراويل التي لا يسترها جلباب! وإن الفتاة المؤمنة لا تخرج على الناس بالبذلات الأوروبية، متشبهة بالرجال على طريقة اليهوديات والنصرانيات، ثم تضع على رأسها خرقة لتوهم نفسها أنها متحجبة! وإنما الحجاب عبادة، ولا يعبد الله إلا بما شرع، لا بأهواء الناس وموضاتهم. وإن الفتاة المؤمنة لا تضع خرقة قصيرة فوق رأسها ثم تعري كعابها للناس! ولا خلاف في أن القدم مما يجب على المرأة ستره؛ إلا خلافا ليس له حظ من النظر! ولا صلاة لمن صلت وكعبها عارٍ، كاشفة ظهور قدميها! (1)

وإن الفتاة المؤمنة لا تخرج بالثياب الناعمة المتموجة، التي تلتصق بالجسم، لتكشف عن فتنته عبر كل خطوة وحركة! وإن الفتاة المؤمنة لا تملأ الساحات بالصخب والقهقهات! ولا تمازح الذكور بلا حياء! ولا تزاحم الفتيان بأكتافها وصدورها! وإن الفتاة المؤمنة لا تُخْضِع لباسها الشرعي لموضات الألوان، مما تتفتق عنه عبقرية الشيطان! ولا تقتدي بمحجبات التلفزيون، المتزينات بكل ألوان الطيف! كما يقتضيه ذوق الإخراج والماكياج، ونصائح مهندس الديكور، ومدير التصوير! ذلك (حجاب) ولكن على مقاييس التلفزيون، وشهوة الميكروفون! إنه إذن؛ الحجاب العاري!

--------------------------------------------

(1) روى مالك رحمه الله في موطئه أن امرأة (سألت أم سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم: ماذا تصلي فيه المرأة من الثياب؟ فقالت تصلي في الخمار والدرع السابغ إذا غيب ظهور قدميها) الموطأ: 1/ 142 ورواه أيضا أبو داود والبيهقي والدارقطني وعبد الرزاق في مصنفه. وروى مالك مثل ذلك عن عائشة وميمونة في الموطأ أيضا.

وقال ابن عبد البر في التمهيد: (وقد أجمعوا أنه من صلى مستور العورة فلا إعادة عليه. وإن كانت امرأة فكل ثوب يغيب ظهور قدميها ويستر جميع جسدها وشعرها فجائز لها الصلاة فيه؛ لأنها كلها عورة إلا الوجه والكفين. على هذا أكثر أهل العلم) التمهيد:6/ 364.
নিশ্চয়ই মুমিন তরুণী প্যান্ট এবং ছোট কোট পরে বের হয় না! এবং এমন সালোয়ার পরে না যা জিলবাব দ্বারা আবৃত নয়! নিশ্চয়ই মুমিন তরুণী ইহুদি ও খ্রিস্টান নারীদের রীতিতে পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে ইউরোপীয় পোশাকে মানুষের সামনে বের হয় না, এরপর নিজের মাথায় এক টুকরো কাপড় রাখে নিজেকে হিজাব পরিহিতা বলে ভ্রম সৃষ্টি করতে! মূলত হিজাব হলো একটি ইবাদত, আর আল্লাহর ইবাদত কেবল তা দিয়েই করা হয় যা তিনি বিধিবদ্ধ করেছেন, মানুষের খেয়ালখুশি ও ফ্যাশন অনুযায়ী নয়। আর মুমিন তরুণী মাথার ওপর ছোট এক টুকরো কাপড় রাখে না এবং এরপর মানুষের সামনে নিজের গোড়ালি উন্মুক্ত করে দেয় না! আর এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই যে, পা এমন একটি অঙ্গ যা নারীর জন্য আবৃত রাখা আবশ্যক (واجب); কেবল এমন মতভেদ (خلاف) ব্যতীত যার কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নেই! আর তার সালাত হবে না যে সালাত আদায় করেছে অথচ তার গোড়ালি উন্মুক্ত এবং পায়ের উপরিভাগ অনাবৃত! (১)

নিশ্চয়ই মুমিন তরুণী এমন মসৃণ ও ঢেউ খেলানো কাপড় পরে বের হয় না যা শরীরের সাথে লেপ্টে থাকে, যাতে প্রতিটি কদম ও নড়াচড়ায় তার শরীরের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে! আর মুমিন তরুণী কোলাহল ও অট্টহাসি দিয়ে জনসমাস্থল মুখরিত করে না! এবং লজ্জাহীনভাবে পুরুষদের সাথে কৌতুক করে না! আর কাঁধ ও বুক দিয়ে যুবকদের ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করে না! নিশ্চয়ই মুমিন তরুণী তার শরয়ী পোশাককে রঙের ফ্যাশনের বশবর্তী করে না, যা শয়তানের প্রখর মেধা থেকে উদ্ভাবিত হয়! আর সে টেলিভিশনের হিজাব পরিহিতাদের অনুসরণ করে না, যারা বর্ণচ্ছটার সব রঙে সুসজ্জিত! যেমনটি পরিচালনা ও মেকআপের রুচি এবং ডেকোরেশন ইঞ্জিনিয়ার ও চিত্রগ্রাহক পরিচালকের পরামর্শ অনুযায়ী হয়ে থাকে! তা হলো (হিজাব), তবে তা টেলিভিশনের মানদণ্ডে এবং মাইক্রোফোনের লালসায়! সুতরাং এটি হলো—নগ্ন হিজাব!

--------------------------------------------

(১) ইমাম মালেক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, একজন নারী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী উম্মে সালামাহকে জিজ্ঞাসা করলেন: নারী কোন ধরনের পোশাকে সালাত আদায় করবে? তিনি বললেন: সে ওড়না এবং এমন পূর্ণাঙ্গ কামিজে সালাত আদায় করবে যা তার পায়ের উপরিভাগ ঢেকে রাখে)। মুয়াত্তা: ১/ ১৪২ এবং এটি আবু দাউদ, বায়হাকি, দারাকুতনি এবং আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। মালেক অনুরূপ বর্ণনা আয়েশা এবং মায়মুনা থেকেও মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবনে আব্দুল বার আত-তামহিদ গ্রন্থে বলেছেন: (তারা ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি সতর (عورة) আবৃত অবস্থায় সালাত আদায় করেছে, তাকে আর তা পুনরায় আদায় করতে হবে না। আর যদি নারী হয়, তবে প্রতিটি এমন পোশাক যা তার পায়ের উপরিভাগ ঢেকে রাখে এবং তার পুরো শরীর ও চুল আবৃত করে, তাতে সালাত আদায় করা তার জন্য বৈধ (جائز); কেননা মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি ব্যতীত তার পুরো শরীরই সতর (عورة)। অধিকাংশ আলেম (أهل العلم) এই মতের ওপর রয়েছেন)। আত-তামহিদ: ৬/ ৩৬৪।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وإن الفتاة المؤمنة لا تنتف حاجبيها، ولا تنمقهما بما لم يخلق الله فيها! فذلك هو (النَّمْصُ) الملعون في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم! والنَّمْصُ -بتسكين الميم- هو في اللغة: نتف شعر الوجه بالملقط أو المنقاش. والنَّمَصُ بفتحتين، هو في الأصل: الريش الصغير والشعر الرقيق. فكأن المرأة إذ تَنْمِصُ حاجبَها توهم أنها على تلك الصورة طبيعةً وخِلْقَةً. وهو علة التحريم أي تغيير خلق الله، وإظهاره بما ليس فيه. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لعن الله الواشمات! والمسْتَوْشِمَاتِ! والنَّامِصَاتِ! والْمُتَنَمِّصَاتِ! والْمُتَفَلِّجَاتِ للحُسْنِ، المغيراتِ خلق الله!) (1) وهذا حديث شديد، ووعيد رهيب! لعن فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم الواشمة: وهي التي تنقش الوشم للنساء، والمستوشمة: وهي التي تطلب ذلك لنفسها، ولعن النامصة: وهي التي تقوم بالنمص للنساء وتنميق حواجبهن! والمتنمصة: هي التي تطلب ذلك لنفسها! وأما المتفلجة: فهي التي تحاول إحداث فلجات بين أسنانها بالمبرد الطبي أو غيره؛ لتحسين منظرها. (2)

والغريب أنه رغم هذا الوعيد الشديد ينتشر النمص بين بعض المتحجبات! اقتداءً بمن لا خلاق لهن من دُمَى التلفزيون! ألا شتان شتان بين الناهضات والعارضات!

وإن ذلك كله لعمري أشبه ما يكون بحيل اليهود مع رب العالمين! إذ حرم عليهم الصيد يوم السبت فوضعوا الشباك مساء الجمعة، ثم جمعوها صباح الأحد! أمع الله رب العالمين يمارس العبد الضعيف لعبة التحيل؟ وهو تعالى {يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ} (غافر:19).

--------------------------------------------

(1) متفق عليه

(2) ولا يدخل فيه طبعا عملية تقويم الاعوجاج للأسنان، أو لأي عضو من الأعضاء به عيب معلوم. فذلك تطبيب مشروع وعلاج مأذون، وليس تغييرا لخلق الله.
একজন মুমিন নারী তার ভ্রু উপড়াবে না এবং সেগুলোকে এমনভাবে সজ্জিত করবে না যা আল্লাহ তার মাঝে সৃষ্টি করেননি! এটিই হলো সেই অভিশপ্ত ভ্রু উপড়ানো, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে! আর ‘নামস’ —মীম বর্ণে সুকুনসহ— এর আভিধানিক অর্থ হলো: চিমটা বা চিমটি দিয়ে মুখের পশম উপড়ানো। আর ‘নামাস’ —উভয় বর্ণে ফাতহাহসহ— এর মূল অর্থ হলো: ছোট পালক এবং সূক্ষ্ম পশম। যেন নারী যখন তার ভ্রু উপড়ায়, তখন সে কৃত্রিমভাবে এমন ধারণা দেয় যে তার ভ্রু প্রাকৃতিকভাবেই এমন সূক্ষ্ম। আর এটিই হলো এই কাজ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ, অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনা এবং যা নিজের মাঝে নেই তা কৃত্রিমভাবে প্রকাশ করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন সেই সব নারীদের যারা শরীরে উল্কি অঙ্কন করে, যারা উল্কি গ্রহণ করে, যারা ভ্রু উপড়ায়, যারা ভ্রু উপড়াতে সাহায্য করে এবং যারা সৌন্দর্যের খাতিরে দাঁতের মাঝে কৃত্রিমভাবে ফাঁক সৃষ্টি করে; যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে!” (১) এটি একটি কঠোর হাদিস এবং ভয়াবহ সতর্কবাণী! এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন উল্কি অঙ্কনকারীকে: যে নারীদের জন্য উল্কি খোদাই করে দেয়, আর উল্কি গ্রহণকারীকে: যে নিজের জন্য তা প্রার্থনা করে। এবং তিনি অভিশাপ দিয়েছেন ভ্রু উপড়ানোকারীকে: যে নারীদের ভ্রু উপড়ে দেয় এবং তাদের ভ্রু সজ্জিত করে দেয়! আর ভ্রু উপড়াতে সাহায্যকারীকে: যে নিজের জন্য তা প্রার্থনা করে! আর দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টিকারী হলো: যে নিজের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের যন্ত্র বা অন্য কিছুর সাহায্যে দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করার চেষ্টা করে। (২)

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কঠোর সতর্কবাণী সত্ত্বেও কিছু হিজাব পরিহিতাদের মাঝে এই ভ্রু উপড়ানোর প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে! যা টেলিভিশন পর্দার সেই সব পুতুলদের অন্ধ অনুসরণে করা হচ্ছে যাদের পরকালে কোনো অংশ নেই! হায়, আদর্শিক জাগরণ সৃষ্টিকারী নারী এবং নিছক প্রদর্শনীতে লিপ্ত নারীদের মধ্যে কতই না ব্যবধান!

আমার জীবনের কসম! এই সবকিছু রব্বুল আলামীনের সাথে ইহুদিদের কূটকৌশলের মতোই এক বিষয়! যখন তাদের ওপর শনিবার দিন শিকার করা হারাম করা হয়েছিল, তখন তারা শুক্রবার সন্ধ্যায় জাল পেতে রাখত এবং রবিবার সকালে তা সংগ্রহ করত! রব্বুল আলামীন আল্লাহর সাথে কি এই দুর্বল বান্দা প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করবে? অথচ তিনি সুমহান, যিনি “চোখের খিয়ানত এবং অন্তর যা গোপন রাখে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।” (গাফির: ১৯)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه)

(২) অবশ্য এর মধ্যে দাঁত সোজা করার প্রক্রিয়া অথবা কোনো অঙ্গে দৃশ্যমান কোনো ত্রুটি সংশোধনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা তা শরয়ি চিকিৎসা এবং অনুমোদিত প্রতিবিধানের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন নয়।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وإنما الفتاة المؤمنة هي التي تمر كما تمر الملائكة، ستيرة حيية، تزينها السكينة ويجللها الوقار! فإذا مزحت مزحت بأدب، وإذا جدت كان لجِدِّها قوة الشمس في تبديد الظلام!

وإنما الفتاة المؤمنة هي التي ترفع راية الإسلام بلباسها الشرعي، وخلقها الاجتماعي، فلا تفتنها الأضواء الفاضحة، ولا الدعايات الكاشفة، بل تجاهد في الله من أجل بناء قيم الإسلام في المجتمع من جديد، وتسعى لطلب العلم بدينها، وتعلم شرائع ربها، للعمل بها في نفسها أولا، ثم تعليمها لغيرها؛ دعوة وتربية لأبنائها وعشيرتها وكل محيطها. وإن الفتاة المؤمنة هي التي تعلقت بالله رغبة ورهبة؛ فكانت مثال الصلاح والتقوى والعفاف. ومنار الهداية لجيلها، وللجيل الذي يتربى على يدها.

وإن الفتاة المؤمنة هي التي لا تتحايل على ربها بلباسها؛ فتظهر زينتها من حيث هي تزعم التدين والانتماء لأهل الصلاح، بل الفتاة المؤمنة هي التي تلبس جلبابها الشرعي ثوبا هادئا ساكنا، خاشعا على بدنها. يسترها ولا يفضحها، ويرفعها ولا يضعها، ويكرمها ولا يمسخها! ثم يقربها من ربها ولا يبعدها، ويرفعها في الجنة إلى منازل الصالحين والصالحات، والصديقين والصديقات.

وليس معنى ذلك أن تلبس أرذل الثياب، وألا تهتم بنظافتها، وإصلاحها بالمكواة، كلا! فليس الإسلام أن تتبذل المؤمنة في مظهرها؛ حتى تبدو كالعجوز التي لا يناسبها ثوب البتة! أو كما كان أهل المرقعات من جهال العُبَّاد أو الصعاليك! فتخرج على الناس في مزق من الأثواب، بادية التجاعيد والانكماشات! إن الفتاة المؤمنة لا يريد لها الإسلام أن يكون منظرها بشعا، ولا منفرا، بل يجب أن يكون محترما، يوحي بالجد، ويفرض على الناظرين الإجلال لها، والتقدير والتوقير. وإنما يحرم عليها أن يكون لباسها إغواء، أو إغراء. وذلك حقا هو دور الشيطان!
প্রকৃত মুমিন তরুণী সেই যে ফেরেশতাদের মতো পথ চলে, সে পর্দানশীন ও লজ্জাশীল, প্রশান্তি তাকে সুশোভিত করে এবং গাম্ভীর্য তাকে আবৃত করে রাখে! সে যদি কৌতুক করে তবে তা আদবের সাথেই করে, আর যদি সে গুরুত্বের সাথে কোনো কাজে আত্মনিয়োগ করে তবে তার সেই দৃঢ়তা অন্ধকার দূরীকরণে সূর্যের তেজস্বিতার মতো কাজ করে!

নিশ্চয়ই মুমিন তরুণী সেই যে তার শরয়ী পোশাক এবং সামাজিক চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামের পতাকা সমুন্নত রাখে; নির্লজ্জ জৌলুস তাকে প্রলুব্ধ করে না এবং আবরণ উন্মোচনকারী প্রচারণা তাকে বিভ্রান্ত করে না। বরং সে সমাজে ইসলামের মূল্যবোধ নতুন করে গড়ে তোলার জন্য আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং নিজ দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানার্জনে সচেষ্ট হয়। সে তার রবের শরীয়তসমূহ শেখে প্রথমে নিজের ওপর আমল করার জন্য, অতঃপর অন্যদের শেখানোর জন্য; যা তার সন্তান, পরিবার এবং তার চারপাশের সবার জন্য দাওয়াত ও তরবিয়ত হিসেবে কাজ করে। নিশ্চয়ই মুমিন তরুণী সেই যে আশা ও ভীতি নিয়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকে; ফলে সে নেক আমল, তাকওয়া ও পবিত্রতার এক মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে। সে তার প্রজন্মের জন্য এবং তার হাতে লালিত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হয়ে থাকে।

আর মুমিন তরুণী সেই যে তার পোশাকের মাধ্যমে রবের সাথে চাতুরী করে না; যেখানে সে ধার্মিকতা ও নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি করা সত্ত্বেও নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করে দেয়। বরং মুমিন তরুণী সেই যে তার শরয়ী জিলবাব পরিধান করে এমন এক শান্ত ও স্থিতধী বসন হিসেবে, যা তার শরীরের ওপর বিনম্রভাবে থাকে। যা তাকে আবৃত রাখে কিন্তু উন্মোচিত করে না, তাকে মর্যাদাবান করে কিন্তু অবনমিত করে না, তাকে সম্মানিত করে কিন্তু বিকৃত করে না! অতঃপর তা তাকে রবের নিকটবর্তী করে, দূরবর্তী করে না এবং জান্নাতে তাকে সৎকর্মশীল (صالحين) পুরুষ ও সৎকর্মশীলা (صالحات) নারী এবং সত্যনিষ্ঠ (صديقين) পুরুষ ও সত্যনিষ্ঠা (صديقات) নারীদের স্তরে উন্নীত করে।

এর অর্থ এই নয় যে, সে অতি জীর্ণ পোশাক পরিধান করবে এবং পরিচ্ছন্নতা ও ইস্ত্রি করার মাধ্যমে পোশাক পরিপাটি করার প্রতি গুরুত্ব দেবে না; কক্ষনো নয়! ইসলাম এটা নয় যে, একজন মুমিন নারী তার বাহ্যিক অবয়বে নিজেকে এমন অবহেলিত অবস্থায় রাখবে যে তাকে এমন এক বৃদ্ধার মতো দেখাবে যার জন্য কোনো পোশাকই মানানসই নয়! অথবা তালি দেওয়া ত্যানা পরিহিত সেই মূর্খ ইবাদতকারী বা ভবঘুরেদের মতো হবে! ফলে সে মানুষের সামনে ছিঁড়ে যাওয়া কুঁচকানো পোশাকে বের হবে! ইসলাম চায় না যে মুমিন তরুণীর অবয়ব কুৎসিত বা বিকর্ষণীয় হোক, বরং তা হওয়া উচিত সম্মানজনক, যা গাম্ভীর্য প্রকাশ করবে এবং দর্শকদের বাধ্য করবে তাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করতে। তার ওপর কেবল তখনই তা নিষিদ্ধ (حرام) হয় যখন তার পোশাক প্রলোভন বা প্ররোচনার উদ্রেক করে। আর সেটিই মূলত শয়তানের ভূমিকা!
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأما إن كانت تريد الله والدار الآخرة، وتريد التعبير السيميائي الصادق عن مقاصد التعبد، ورفع راية الانتماء العقدي للإسلام بريش اللباس؛ فإنما يجزئها على العموم جلباب واسع ساتر، هادئ اللون، لا يصف ولا يشف، ولا يخطف الأنظار من بعيد بألوانه وبريقه، كما سيأتي بدليله بحول الله في متن هذه الرسالة. وذلك معنى قول الفقهاء: (ولا يكون زينة في نفسه). وخمار على وزانه وشرطه، هدوءا وسكينة مما ذكرناه، لا تشتعل ألوانه، ولا تخلله صاحبته بذهب، ولا بما يلمع من الحلي والخلالات، ولا تضفر طرفَيْه على جبينها، بصورة الضفيرة من الشعر، كما يفعله بعضهن من تشكيله وتزيينه؛ حتى ليكاد يصرخ في الملأ بمنظره وبريقه: ها أنا ذي انظروني! ولكنه خمارٌ ضافٍ وافٍ، شاسعٌ كافٍ، يضرب على جيوب العنق والنحر، ويغطي هيأة الصدر. ولا تعقده صاحبته على رأسها من جهة القفا؛ بما يظهر هيأة الشعر وحجمه، كما يفعله بعض الجاهلات من المتحجبات! ولا يشترط فيه أن يغطي الوجه. وإن كان ذلك من كمال الورع، كما سيأتي بيانه.

ثم جوارب للقدمين في غير لون الجسم البشري؛ حتى لا توهم العري الجزئي، ولا الرغبة الخفية في إظهار الزينة. وتكون الفتاة المؤمنة بذلك على أكمل ما تكون العفة الظاهرة (1). وعليها آنئذ أن تجاهد نفسها في الله للرقي بكمالات العفة الباطنة، وإنما الموفقة من وفقها الله.

إن أغلب ما يلبسه كثير من المَوْسُومَات بـ (المتحجبات) في هذا الزمان الرديء؛ لم يكن -في خصائصه العامة- إلا ألبسة داخلية لدى نساء السلف الصالح -كما سترين بدليله بحول الله- فما بالك بالعاريات من المتبرجات والمتمجنات؟

فانظري بنيتي أي هوة تفصل بيننا وبين قيمنا الحقيقية؟

--------------------------------------------

(1) انظري ذلك مفصلا بأدلته في المبحث الثاني من الفصل الثاني (التأصيل الفقهي لسيماء الصورة في الإسلام).
আর যদি সে আল্লাহ ও পরকাল কামনা করে এবং ইবাদতের উদ্দেশ্যসমূহের সত্য সংকেতবাহী বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চায় এবং পোশাকের শৈলীর মাধ্যমে ইসলামের আকিদাগত (عقدي) নিশান সমুন্নত করতে চায়; তবে সাধারণভাবে তার জন্য একটি প্রশস্ত ও আবরক জিলবাবই যথেষ্ট হবে, যা হবে শান্ত রঙের, দেহের গঠন বর্ণনা করবে না এবং স্বচ্ছ হবে না, আর তার রং ও চাকচিক্য দিয়ে দূর থেকে দৃষ্টি কেড়ে নেবে না, যেমনটি আল্লাহর শক্তিতে এই পুস্তিকার মূল পাঠে (متن) তার দলিল (دليل) সহ সামনে আসবে। আর এটিই ফকিহদের (فقهاء) এই কথার মর্ম: (তা যেন নিজেই কোনো সৌন্দর্য না হয়)। আর তার সমমান ও শর্ত অনুযায়ী একটি খিমার বা ওড়না থাকতে হবে, যা আমাদের উল্লিখিত প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের গুণসম্পন্ন হবে; তার রং যেন চটকদার না হয়, পরিধানকারী তাতে স্বর্ণ বা ঝকঝকে কোনো অলঙ্কার ও কাঁটা ব্যবহার করবে না এবং তার দুই প্রান্ত কপালে চুলের বেনুনীর মতো করে পেঁচিয়ে রাখবে না, যেমনটি তাদের কেউ কেউ রূপদান ও সৌন্দর্যমন্ডিত করার ক্ষেত্রে করে থাকে; এমনকি তার অবয়ব ও জৌলুস জনসমক্ষে চিৎকার করে বলতে থাকে: এই যে আমি, আমাকে দেখো! বরং তা হবে একটি ঝুলন্ত ও পূর্ণাঙ্গ খিমার, প্রশস্ত ও পর্যাপ্ত, যা ঘাড় ও গলার উপরিভাগকে আবৃত করবে এবং বক্ষদেশ ঢেকে রাখবে। আর পরিধানকারী যেন তা মাথার পেছনের দিক থেকে এমনভাবে না বাঁধে যাতে চুলের অবয়ব ও আয়তন প্রকাশ পায়, যেমনটি হিজাবধারীদের মধ্য থেকে কিছু অজ্ঞ নারী করে থাকে! আর এতে মুখমণ্ডল ঢাকা শর্ত নয়, যদিও তা পরহেজগারির (ورع) পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত, যা সামনে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।

এরপর পায়ের জন্য মানুষের গায়ের রঙের বহির্ভূত মোজা পরিধান করতে হবে; যাতে আংশিক নগ্নতা বা সৌন্দর্য প্রকাশের কোনো গোপন আকাঙ্ক্ষার ভ্রম তৈরি না হয়। এর মাধ্যমে মুমিন তরুণী বাহ্যিক পবিত্রতার পূর্ণতম অবস্থায় থাকবে। তখন তার উচিত হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে অভ্যন্তরীণ পবিত্রতার উৎকর্ষ সাধনে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা; আর কেবল সেই তাওফিকপ্রাপ্ত যাকে আল্লাহ তাওফিক দান করেছেন।

এই মন্দ সময়ে 'হিজাবধারী' হিসেবে পরিচিত অনেকের অধিকাংশ পোশাকই—তার সাধারণ বৈশিষ্ট্যে—সালাফে সালেহীনের (سلف صالح) নারীদের অন্তর্বাস ছাড়া আর কিছু ছিল না—যেমনটি আল্লাহর শক্তিতে আপনি দলিলের (دليل) মাধ্যমে দেখতে পাবেন—তাহলে বেপর্দা ও নির্লজ্জ নারীদের অবস্থা আর কী হবে?

অতএব হে আমার কন্যা! দেখো, আমাদের এবং আমাদের প্রকৃত মূল্যবোধের মধ্যে কত বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়ে আছে?

--------------------------------------------

(১) বিস্তারিত দলিলের (دليل) জন্য দ্বিতীয় অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (ইসলামে অবয়ব-সংক্রান্ত নিদর্শনের ফিকহী (فقهي) মূলনীতি) দেখুন।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأحب أن أسجل ههنا أنني كنت -في سياق إعداد مادة هذا الكتاب- أطالع صفحات من كتاب (الحجاب)، الذي ألفه العلامة أبو الأعلى المودودي رحمه الله، وأجزل له الثواب! ذلك الكتاب الرفيع مادةً وتحليلا! فكنت أقرأ ما كتبه رحمه الله، وهو ينعى ما وصلت إليه المرأة المسلمة في البلاد العربية، من دركات الانحطاط الخلقي، مقارنا لها بالمرأة المسلمة في الهند والباكستان. قال رحمه الله في مقدمة الترجمة العربية: (إن حضارة أهل الغرب ومدنيتهم لم تتغلغل في بلادنا، ولم تؤثر في حياتنا؛ مثلما قد تغلغلت في بلاد العرب، وأثرت في حياتهم، في مدة لا تكاد تذكر بالنسبة لامتداد وطأة الاستعمار علينا، وخاصة أن النساء في بلدنا (…) قلما توجد واحدة من ألف امرأة تتبرج في الطرق والأسواق، وتتعرض للرجال، وجسدها مكشوف فوق كعبيها، أو يداها مكشوفتان إلى منكبيها!) (1).

قرأت هذا وتبسمت مرارة! فهذا مستوى العري الذي نعاه المودودي على المرأة العربية آنذاك، فكيف لو عاش لزماننا هذا؟ بأي لغة يمكنه وصف عري النساء والفتيات اليوم؟

وإنما الحاصل أن البلاد العربية عموما باعتبارها مجال التداول الاجتماعي لكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وأقرب إلى فهمهما من غيرها؛ كانت معاول الهدم عليها أشد!

إنني أدعو إلى حركة تصحيحية في مجال المرأة - كما في غيره من المجالات - حركة تنفي عنها تحريف الغَالِين، وانتحال المُبْطِلين، وتأويل الجاهلين! وترتقي بنموذج التدين في النساء المسلمات؛ إلى قمة الإنتاج الرفيع جودةً ووفرةً! على مستوى النفس وعلى مستوى الصورة؛ عسى أن يكون ذلك بدء ميلاد جديد، لجيل النصر القرآني، فقها وتدينا. ذلك

--------------------------------------------

(1) الحجاب للمودودي: 6.
আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই যে—এই বইটির উপাদান প্রস্তুতির প্রসঙ্গে—আমি আল্লামা আবু আল-আ'লা মওদুদী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত 'আল-হিজাব' বইটির কিছু পৃষ্ঠা পড়ছিলাম, আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন! বিষয়বস্তু এবং বিশ্লেষণের দিক থেকে সেটি এক অনন্য উচ্চমানের গ্রন্থ! তিনি সেখানে যা লিখেছেন আমি তা পড়ছিলাম; যেখানে তিনি আরব দেশগুলোর মুসলিম নারীদের নৈতিক অবক্ষয়ের যে স্তরে তারা পৌঁছেছে তা নিয়ে আক্ষেপ করছিলেন এবং তাদের তুলনা করছিলেন ভারত ও পাকিস্তানের মুসলিম নারীদের সাথে। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরবি অনুবাদের ভূমিকায় লিখেছেন: (পাশ্চাত্যবাসীদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি আমাদের দেশগুলোতে সেভাবে অনুপ্রবেশ করেনি এবং আমাদের জীবনে তেমন প্রভাব ফেলেনি, যেভাবে তা আরব দেশগুলোতে অনুপ্রবেশ করেছে এবং তাদের জীবনে প্রভাব ফেলেছে; আমাদের ওপর সাম্রাজ্যবাদের দীর্ঘস্থায়ী শাসনের তুলনায় সেটি অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশের নারীদের ক্ষেত্রে (…) এক হাজার নারীর মধ্যে খুব কমই এমন একজনকে পাওয়া যায় যে রাস্তাঘাটে এবং বাজারে সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) করে বেড়ায় এবং পুরুষদের সামনে নিজেকে উন্মোচিত করে, যার শরীরের গোড়ালি পর্যন্ত অনাবৃত থাকে কিংবা কাঁধ পর্যন্ত দুই হাত খোলা থাকে!) (১)।

আমি এটি পড়লাম এবং বিষাদমাখা হাসলাম! তৎকালীন আরব নারীদের সম্পর্কে মওদুদী যে পর্যায়ের নগ্নতার আক্ষেপ করেছিলেন, তিনি যদি আমাদের এই সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতেন তবে কী হতো? আজকের যুগের নারী ও তরুণীদের নগ্নতাকে তিনি কোন ভাষায় বর্ণনা করতেন?

প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি হলো, আরব দেশগুলো সাধারণভাবে যেহেতু আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة)-এর সামাজিক চর্চার ক্ষেত্র এবং অন্যদের তুলনায় এই দুইটির মর্ম অনুধাবনের ক্ষেত্রে অধিক নিকটবর্তী; তাই সেগুলোর ওপর ধ্বংসের কুঠারাঘাতও ছিল অত্যন্ত তীব্র!

আমি নারী প্রসঙ্গে—অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো—একটি সংস্কারমূলক আন্দোলনের আহ্বান জানাচ্ছি; এমন এক আন্দোলন যা নারীদের থেকে অতিবাদীদের বিকৃতি (تحريف), বাতিলপন্থীদের মিথ্যারোপ (انتحال) এবং অজ্ঞদের অপব্যাখ্যা (تأويل)-কে দূর করবে! এবং মুসলিম নারীদের ধার্মিকতার আদর্শকে গুণগত মান ও প্রাচুর্যের দিক থেকে উৎপাদনের এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত করবে! তা হবে আত্মিক পর্যায়ে এবং বাহ্যিক রূপ—উভয় ক্ষেত্রেই; যেন এটি ফিকহ (فقه) এবং ধর্মপালনের দিক থেকে কুরআনিক বিজয়ের প্রজন্মের এক নতুন জন্মলগ্ন হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-হিজাব, মওদুদী: ৬।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
الجيل الذي ذكره الله في القرآن الكريم، وأخبر بسيمائه ودلالاتها التعبيرية العظيمة، في التوراة وفي الإنجيل، ثم في القرآن، فقال سبحانه: {مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ. تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا. سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ. ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ. وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ. وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا} (الفتح:29). تلك سيماء جيل النصر، فاقرأ وتدبر!

من هنا إذن؛ وباعتبار هذه الحيثيات وغيرها؛ أسرعت في إخراج هذه الورقات؛ إسهاما مني في إنقاذ الأمة، وضربا في اتجاه إعادة التوازن للعمل الديني، ورغبة في فضح خلفيات الفجور السياسي، في مجال المرأة خاصة، وكشف جذوره الشيطانية، وطبيعته العدوانية، ثم التعاون على بناء النموذج الإسلامي للفتاة المؤمنة، وللجيل الراشد الصالح تبعا بحول الله. فكانت لذلك هذه الورقة تتضمن - بعد هذه المقدمة - مدخلا اصطلاحيا في مفهوم السيماء، وفصلين اثنين: الأول في المرأة وسيماء النفس، ناقشت فيه قضيتين في مبحثين: المبحث الأول في المرأة والنفس الواحدة، والمبحث الثاني في السيماء التربوية لنفسية المرأة. وأما الفصل الثاني فكان في المرأة وسيماء الصورة. ناقشت فيه هو أيضا قضيتين في مبحثين: المبحث الأول حاولت أن أدرس فيه سيماء الصورة في التدافع الحضاري، والمقصود بـ (الصورة) هنا: الشكل الظاهري للمرأة، مما يشكل هيأتها الخارجية، من أمور لباسها وتصرفها الصوري، كلاما وحركة في المجتمع. والمبحث الثاني لخصت فيه التأصيل الفقهي لسيماء الصورة في الإسلام. ثم جمعت خلاصة الورقة كلها في خاتمة قصيرة.
সেই প্রজন্ম যাদের কথা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন এবং যাদের বৈশিষ্ট্য ও মহান অভিব্যক্তিপূর্ণ তাৎপর্য সম্পর্কে তাওরাত, ইঞ্জিল ও পরবর্তীতে কুরআনে সংবাদ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়াশীল। আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণরত দেখবেন। তাদের চিহ্ন তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারার মতো, যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা শক্ত হয় ও পুষ্ট হয় এবং পরে তা কান্ডের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়ায়, যা চাষীদেরকে মুগ্ধ করে, যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহা প্রতিদানের ওয়াদা করেছেন} (আল-ফাতহ: ২৯)। এটিই হলো বিজয়ী প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য, অতএব পড়ুন এবং চিন্তা করুন!

এখান থেকেই এবং এসব দিক ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে আমি এই পৃষ্ঠাগুলো প্রকাশে দ্রুত সচেষ্ট হয়েছি; যা উম্মাহর উদ্ধারে আমার পক্ষ থেকে একটি ক্ষুদ্র অবদান, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা এবং বিশেষ করে নারী সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক পাপাচারের নেপথ্য কারণগুলো উন্মোচন করার আকাঙ্ক্ষা। সেই সাথে এর শয়তানি মূল ও আক্রমণাত্মক প্রকৃতি উন্মোচিত করা এবং আল্লাহর শক্তিতে মুমিন তরুণীদের জন্য ও পরবর্তীতে যোগ্য সৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইসলামি আদর্শ নির্মাণে পারস্পরিক সহযোগিতা করা। তাই এই গবেষণাপত্রটিতে—এই ভূমিকার পর—সিমা বা বৈশিষ্ট্যের (السيماء) ধারণা নিয়ে একটি পারিভাষিক প্রবেশিকা এবং দুটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রথম অধ্যায়: নারী ও আত্মার বৈশিষ্ট্য, এতে আমি দুটি পরিচ্ছেদে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি: প্রথম পরিচ্ছেদ: নারী ও এক আত্মা এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর মনস্তত্ত্বের শিক্ষামূলক বৈশিষ্ট্য। আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি ছিল নারী ও অবয়বের (الصورة) বৈশিষ্ট্য নিয়ে। এতেও আমি দুটি পরিচ্ছেদে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি: প্রথম পরিচ্ছেদে আমি সভ্যতাগত দ্বন্দ্বে অবয়বের বৈশিষ্ট্য নিয়ে পর্যালোচনার চেষ্টা করেছি; আর এখানে 'অবয়ব' বলতে নারীর বাহ্যিক রূপ বোঝানো হয়েছে, যা তার পোশাক ও আচরণগত বিষয় যেমন—সমাজে তার কথা ও চলাফেরার মাধ্যমে তার বাহ্যিক কাঠামো গঠন করে। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি ইসলামে অবয়বের বৈশিষ্ট্যের শরয়ি মূলনীতি (التأصيل الفقهي) সংক্ষেপে তুলে ধরেছি। সবশেষে একটি সংক্ষিপ্ত উপসংহারে পুরো গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ একত্রিত করেছি।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
هذا وقد آلينا على أنفسنا في ذلك كله -كما هو معهود منهجنا- أن نستثمر الخطاب القرآني أولا؛ لتعبير (سيمياء) المرأة وكشف دلالته. فالقرآن هو مصدر تعبير الرموز السيميائية في الإسلام؛ إذ هو مرتكز الرسالة الإلهية وأساس مقاصدها، وأن نشفعه بالبيانات السنية المكيفة للنموذج البشري على وفقه. فإنما (كان خلقه صلى الله عليه وسلم القرآن) (1)، وألا نورد لذلك من الحديث إلا ما صح سنده، فلا نبني حكما شرعيا على حديث ضعيف؛ بله أن يكون موضوعا. والله المستعان.

وكتبه عبد ربه راجي عفوه وغفرانه، الفقير إلى رحمته ورضوانه: فريد بن الحسن الأنصاري الخزرجي السجلماسي، غفر الله له ولوالديه وللمؤمنين. وقد وافق تمام تبييضه وتصحيحه -بمكناسة الزيتون، من حواضر المغرب الأقصى- ليلة الجمعة 24 من شهر رمضان المعظم، لعام: 1423 هـ/ 29/ 11/2002 م.

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم
আমরা এই সবকিছুর ক্ষেত্রে নিজেদের ওপর অঙ্গীকার করেছি—যেমনটি আমাদের অনুসৃত পদ্ধতিতে পরিচিত—যে, আমরা প্রথমে কুরআনিক সম্বোধনকে কাজে লাগাব; যেন নারীর বহিঃপ্রকাশ (চিহ্নতত্ত্ব) এবং তার তাৎপর্য উন্মোচন করা যায়। কেননা কুরআনই হলো ইসলামে চিহ্নতাত্ত্বিক রূপকসমূহের প্রকাশের উৎস; যেহেতু এটিই ঐশী বার্তার কেন্দ্রবিন্দু এবং এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মূল ভিত্তি। আর আমরা একে সুন্নাহর সেই সব বর্ণনা দ্বারা সংযুক্ত করব যা মানবীয় আদর্শকে কুরআনের ছাঁচে গঠন করে। কেননা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চরিত্র ছিল কুরআন। (১) আর এ বিষয়ে আমরা কেবল সেই হাদিসই উল্লেখ করব যার সনদ বিশুদ্ধ (صحيح); সুতরাং আমরা কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ওপর ভিত্তি করে কোনো শারঈ বিধান প্রদান করব না; জাল (موضوع) হাদিস হওয়া তো বহুদূরের কথা। আল্লাহর কাছেই সাহায্য কাম্য।

এটি লিখেছেন তাঁর প্রতিপালকের বান্দা, তাঁর ক্ষমা ও মার্জনার প্রত্যাশী, তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টির মুখাপেক্ষী: ফরিদ বিন আল-হাসান আল-আনসারি আল-খাজরাজি আস-সিজিলমাসি, আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন। এর পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তকরণ ও সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে—সুদূর মরক্কোর অন্যতম প্রধান শহর মিকনাসাতুজ জাইতুনে—২৪ শে রমজানুল মুয়াজ্জম, ১৪২৩ হিজরি মোতাবেক ২৯ নভেম্বর ২০০২ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার রাতে।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌مدخل اصطلاحي في مفهوم السِّيمَاء

السِّيمَاء والسِّيمِيَاء، بياء زائدة: لفظان مترادفان لمعنى واحد، كما سيأتي بيانه. لكنا اخترنا عنونة هذا الكتاب بالسِّيمَاء، لأنه اللفظ القرآني أساسا. فقد ورد في كتاب الله، لكن مقصورا غير ممدود، أي بلا همز هكذا: (سِيمَى). قال تعالى: {سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّن أَثَرِ السُّجُودِ} (الفتح:29). وقال سبحانه: {تَعْرِفُهُم بِسِيمَاهُم} (البقرة:273). إذ هو يقصر ويمد. لكنا قد نستعمل أحدهما بدل الآخر على سبيل الترادف اللغوي والمفهومي، في السياق العام من هذه الدراسة. وفي مثل هذا قيل: "لا مشاحة في الاصطلاح".

والإنسان من حيث هو كائن وجودي له سيماؤه الخاصة. وداخل هذا المفهوم (للإنسان) نجد المرأة كالرجل، لها نفس وصورة، ولكل منهما سيماء خاصة! وللإسلام تصوير متميز لسيماء النفس، ولسيماء الصورة. وذلك ما أحببنا أن نعرض من خلاله قضية المرأة في الإسلام. لكن لابد قبل ذلك من بيان المفهوم الخاص بمصطلح السيماء، في التراث اللغوي العربي والإسلامي، الذي نصوغ من خلاله قضايا هذه الورقة. ولن نُعْنىَ بالسيمياء في الاصطلاح اللساني الغربي الحديث، فذلك مجال آخر. وهو - علاوة على أننا لسنا مؤهلين للبحث فيه نظريا - ليس قصد هذا البحث أصالة، وإن كانت تربط بيننا وبينه صلة ما تبعا، هي صلة (العلامة) من حيث المفهوم الوجودي العام. ولذلك فسنبقى بعيدين عنه، قريبين منه؛ بما نمارسه من تطبيقات للنصوص الشرعية، في بيان دلالة المرأة الرمزية في الإسلام، على المستوى النفسي والجسمي.

ويرجع لفظ السيماء أو السيمياء في اللغة العربية إلى معنى العلامة، أو الرمز، الموضوع للتخاطب قصدا. وهو يستعمل -كما ذكرت- بياء
সিমার ধারণার ওপর একটি পারিভাষিক ভূমিকা

সিমা এবং সিমিয়া (অতিরিক্ত ‘ইয়া’ সহযোগে): একই অর্থের দুটি সমার্থক শব্দ, যা সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে আমরা এই গ্রন্থের শিরোনাম হিসেবে ‘সিমা’ শব্দটিকে বেছে নিয়েছি, কারণ এটি মূলত একটি কুরআনিক শব্দ। এটি আল্লাহর কিতাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে তা মাকসুর (সংক্ষিপ্ত) রূপে, মমদুদ (দীর্ঘায়িত) রূপে নয়; অর্থাৎ হামজা ব্যতীত এভাবে: (সিম্যা)। মহান আল্লাহ বলেন: “তাদের চিহ্নের আলামত তাদের চেহারাগুলোতে রয়েছে সিজদার প্রভাবে” (আল-ফাতহ: ২৯)। তিনি আরও বলেন: “তুমি তাদের চিনতে পারবে তাদের লক্ষণ দেখে” (আল-বাকারাহ: ২৭৩)। কেননা এটি সংক্ষিপ্ত এবং দীর্ঘ উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। তবে আমরা বর্তমান অধ্যয়নের সাধারণ প্রেক্ষাপটে আভিধানিক ও ধারণাগত সমার্থবোধকতার ভিত্তিতে একটির পরিবর্তে অন্যটি ব্যবহার করতে পারি। আর এই ধরনের ক্ষেত্রে বলা হয়: “পরিভাষার ব্যবহারে কোনো বিবাদ নেই।”

মানুষ এক অস্তিত্বশীল সত্তা হিসেবে তার নিজস্ব বিশেষ সিমা বা স্বকীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মানুষের এই ধারণার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে আমরা দেখতে পাই যে, পুরুষের মতো নারীরও আত্মা এবং অবয়ব আছে এবং উভয়েরই বিশেষ সিমা বিদ্যমান। আত্মা ও অবয়বের সিমার ক্ষেত্রে ইসলামের একটি স্বতন্ত্র চিত্রায়ণ রয়েছে। আর সে মাধ্যমেই আমরা ইসলামে নারী প্রসঙ্গটি উপস্থাপন করতে চেয়েছি। তবে এর আগে আরবি ও ইসলামি ভাষাতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের আলোকে সিমা পরিভাষাটির বিশেষ ধারণাটি স্পষ্ট করা আবশ্যক, যার মাধ্যমে আমরা এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তুগুলো বিন্যস্ত করছি। আমরা আধুনিক পশ্চিমা ভাষাতাত্ত্বিক পরিভাষার ‘সিমিয়া’ বা সেমিওটিকস নিয়ে আলোচনা করব না, কারণ সেটি ভিন্ন একটি ক্ষেত্র। তদুপরি, আমরা কেবল সেখানে তাত্ত্বিকভাবে গবেষণার যোগ্য নই বলেই নয়, বরং এটি এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্যও নয়; যদিও সাধারণ অস্তিত্বগত ধারণার দিক থেকে ‘আলামত’ বা নিদর্শনের মাধ্যমে এর সঙ্গে আমাদের একটি গৌণ সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই আমরা তা থেকে দূরে অবস্থান করেও তার নিকটবর্তী থাকব; আর তা হলো মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক পর্যায়ে ইসলামে নারীর রূপক তাৎপর্য বর্ণনায় শরয়ি নসসমূহের প্রয়োগের মাধ্যমে।

আরবি ভাষায় সিমা বা সিমিয়া শব্দটির মূল আলামত বা প্রতীক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভাববিনিময়ের জন্য নির্ধারিত। আমি যেমনটি উল্লেখ করেছি, এটি ‘ইয়া’ যোগে ব্যবহৃত হয়...
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২১)
مفتوحة وممدودة بعد الميم المكسورة، فينطق (سِيمِيَاء)، ويستعمل بدونها فينطق (سِيمَاء)، وكلاهما في المعنى رديف صاحبه. يقول ابن فارس في مادة (وسم): (الواو والسين والميم: أَصْلٌ واحدٌ، يدل على أثَرٍ ومَعْلَمٍ. ووَسَمْتُ الشيءَ وَسْماً: أثَّرْتُ فيه بِسِمَة. والوَسْمَى: أول المطر؛ لأنه يَسِمُ الأرضَ بالنبات (…) وسمي مَوْسِمُ الحج موسما؛ لأنه مَعْلَمٌ يجتمع إليه الناس. وفلان مَوْسُومٌ بالخير. وفلانة ذات مِيسَمٍ: إذا كان عليها أثر الجمال. والوَسَامَةُ: الجمال (…) وقوله تعالى: {إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِّلْمُتَوَسِّمِينَ} (الحجر:75): الناظرين في السِّمَةِ الدَّالَّة.) (1) وقال الراغب الأصفهاني: (السيماء والسيمياء: العلامة. قال الشاعر:

"له سِيمِيَاءٌ لا تشق على البصر"

وقال تعالى: {سيماهم في وجوههم من أثر السجود} (الفتح:29)، وقد سَوَّمْتُه أي: أعلمته. وقوله عز وجل في الملائكة: {مُسَوَّمين} (آل عمران:125)، أي: معلَّمين. و"مسوِّمين" معلِّمين لأنفسهم، أو لخيولهم، أو مُرسِلين لها، وروي عنه عليه السلام أنه قال: "تَسَوَّمُوا فإن الملائكة قد تَسَوَّمَتْ") (2).

وجاء في مختار الصحاح: (السَّوْمَةُ بالضم: العلامة تجعل على الشاة، وفي الحرب أيضا. تقول منه تَسَوَّمَ. وفي الحديث "تسوموا فإن الملائكة قد تسومت". والخيلُ المُسَوَّمةُ: المرعية، والمسَوَّمَةُ أيضا: المعلَّمَةُ. وقوله تعالى: "مسوِّمين" قال الأخفش: يكون معلِّمين، ويكون مرسِلين، من قولك: سَوَّمَ فيها الخيل أي أرسلها. ومنه السَّائِمةُ (…) وقوله تعالى: "حجارةً من طين

--------------------------------------------

(1) المقاييس: (وسم).

(2) المفردات في: (سام). والحديث الذي أورده الأصفهاني هو عن عمير بن إسحق قال: إن أول ما كان الصوف ليوم بدر. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (تسوموا فإن الملائكة قد تسومت، فهو أول يوم وضع الصوف) أخرجه ابن أبي شيبة في مصنفه وابن جرير الطبري في تفسيره: 4/ 82. قلت: وهو ضعيف فعمير تابعي وفيه جهالة وقد أرسل الحديث!
জেরযুক্ত 'মীম' অক্ষরের পর জবর এবং দীর্ঘ স্বর (মদ্দ) সহকারে এটি 'সিমিয়া' (سِيمِيَاء) উচ্চারিত হয়, আবার এটি ছাড়াও 'সিমা' (سِيمَاء) উচ্চারিত হয় এবং উভয়ই একে অপরের সমার্থক। ইবনে ফারিস 'ওয়াসাম' (وسم) মূলধাতুর আলোচনায় বলেন: (ওয়াও, সীন এবং মীম: এটি একটিই মূল উৎস, যা কোনো চিহ্ন বা নিদর্শনের ওপর দلالত করে। আমি কোনো বস্তুকে চিহ্নিত (وَسْمًا) করেছি অর্থ হলো—আমি তাতে একটি চিহ্নের (بِسِمَة) প্রভাব রেখেছি। আর 'ওয়াসমি' (الوَسْمَى) হলো মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি; কারণ এটি উদ্ভিদের মাধ্যমে জমিনকে চিহ্নিত করে (…) হজের সময়কে 'মাউসিম' (موسم) বলা হয়; কারণ এটি এমন এক নিদর্শন যেখানে মানুষ একত্রিত হয়। অমুক ব্যক্তি কল্যাণের গুনাগুণে চিহ্নিত। অমুক নারী লাবণ্যময়ী (ذات مِيسَمٍ): যখন তার ওপর সৌন্দর্যের ছাপ বিদ্যমান থাকে। আর 'ওয়াসামাহ' (الوَسَامَةُ) হলো সৌন্দর্য (…) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই এতে নিদর্শনাদি রয়েছে পর্যবেক্ষণকারীদের (لِّلْمُتَوَسِّمِينَ) জন্য} (হিজর: ৭৫): অর্থাৎ যারা নির্দেশক চিহ্নের প্রতি দৃষ্টিপাত করে।) (১) রাগিব আল-আসফাহানি বলেন: (সিমা (سيماء) এবং সিমিয়া (سيمياء) অর্থ হলো চিহ্ন। জনৈক কবি বলেন:

"তার এমন এক লক্ষণ (سِيمِيَاءٌ) রয়েছে যা দৃষ্টির জন্য কষ্টকর নয়"

মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের মুখমন্ডলে সিজদাহর চিহ্ন বিদ্যমান} (ফাতহ: ২৯), আর আমি তাকে চিহ্নিত (سَوَّمْتُه) করেছি অর্থাৎ আমি তাকে চিহ্ন দিয়েছি। ফেরেশতাদের বিষয়ে মহান রবের বাণী: {চিহ্নিত (مُسَوَّمين)} (আলে ইমরান: ১২৫), অর্থাৎ নিশানাধারী। 'মুসাউয়্যিমীন' অর্থ হলো তারা নিজেদের জন্য অথবা তাদের ঘোড়াগুলোর জন্য চিহ্ন নির্ধারণকারী, অথবা ঘোড়াগুলোকে প্রেরণকারী (مرسِلين), এবং নবী কারিম (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা চিহ্ন নির্ধারণ করো, কেননা ফেরেশতারাও চিহ্ন নির্ধারণ করেছিল") (২)।

মুখতারুস সাহাহ-তে এসেছে: (পেশ যুক্ত 'সাওমাহ' (السَّوْمَةُ): অর্থ হলো সেই চিহ্ন যা ভেড়ার ওপর দেওয়া হয়, এমনকি যুদ্ধের ক্ষেত্রেও। এ থেকে 'তাসাউয়্যামা' (تَسَوَّمَ) বলা হয়। হাদিসে এসেছে: "তোমরা চিহ্ন নির্ধারণ করো, কেননা ফেরেশতারাও চিহ্ন নির্ধারণ করেছিল"। আর 'মুসাউওয়ামাহ' (المُسَوَّمةُ) ঘোড়া বলতে চারণভূমিতে বিচরণকারী ঘোড়া বোঝায়, আবার এর অর্থ চিহ্নিত করাও হয়। মহান আল্লাহর বাণী "মুসাউয়্যিমীন" (مسوِّمين) সম্পর্কে আখফাশ বলেন: এর অর্থ চিহ্নিতকারী হতে পারে, আবার প্রেরণকারী (مرسِلين) হতে পারে; যেমন বলা হয়: তিনি ঘোড়াগুলোকে চারণভূমিতে ছেড়ে দিয়েছেন (سَوَّمَ فيها الخيل) অর্থাৎ প্রেরণ করেছেন। এখান থেকেই চারণভূমিতে বিচরণকারী পশু (السَّائِمةُ) শব্দটি এসেছে (…) এবং মহান আল্লাহর বাণী: "কাদামাটির পাথর..."

--------------------------------------------

(১) আল-মাকায়িস: (ওয়াসাম)।

(২) আল-মুফরাদাত: (সাম)। আল-আসফাহানি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা উমাইর ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বদরের যুদ্ধের দিনই প্রথম পশমি কাপড় (চিহ্ন হিসেবে) ব্যবহার করা হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (তোমরা চিহ্ন ব্যবহার করো, কেননা ফেরেশতারাও চিহ্ন ব্যবহার করেছিল; আর সেটিই ছিল পশমি কাপড় পরিধানের প্রথম দিন) এটি ইবনে আবি শাইবাহ তার মুসান্নাফ গ্রন্থে এবং ইবনে জারির তবারি তার তাফসিরে: ৪/ ৮২ বের করেছেন। আমি বলছি: এটি দুর্বল (ضعيف), কারণ উমাইর একজন তাবেয়ি (تابعي) এবং তার মাঝে অজ্ঞাত পরিচয় (جهالة) হওয়ার দোষ রয়েছে এবং তিনি হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) ভাবে বর্ণনা করেছেন!
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২২)
مسوَّمةً": أي عليها أمثال الخواتيم. والسِّيمَى مقصور من الواو، قال الله تعالى: "سيماهم في وجوههم" وقد يجيء السِّيمَاءُ والسِّيمِيَاءُ ممدودين) (1)

وقال ابن منظور: (السُّومَةُ والسِّيمةُ والسِّيماء والسِّيمِيَاءُ: العلامة. وسَوَّمَ الفرسَ: جعل عليه السِّيمة. وقوله عز وجل: {حجارةً من طينٍ مُسَوَّمَةً عند ربك للمُسْرفين} (الذاريات:34): قال الزجاج: روي عن الحسن أَنها مُعَلَّمة ببياض وحمرة، وقال غيره: مُسَوَّمة بعلامة يعلم بها أَنها ليست من حجارة الدنيا، ويعلم بسيماها أَنها مما عَذَّبَ اللهُ بها. [قال] الجوهري: مُسَوَّمة أَي عليها أَمثال الخواتيم (…) قال أَبو بكر: قولهم عليه سِيما حَسَنَةٌ معناه علامة، وهي مأخوذة من وَسَمْتُ أَسِمُ، قال: والأَصل في سيما وِسْمَى، فحُوِّلت الواو من موضع الفاء، فوضعت في موضع العين، كما قالوا ما أَطْيَبَهُ وأَيْطَبَه، فصار سِوْمى، وجعلت الواو ياء لسكونها وانكسار ما قبلها (…) وقيل: الخيل المُسَوَّمة: هي التي عليها السِّيما والسُّومةُ، وهي العلامة. وقال ابن الأَعرابي: السِّيَمُ: العلاماتُ على صُوف الغنم) (2)

وفي القاموس: (السِّيمَةُ والسِّيمَاءُ والسِّيمِيَاءُ، بكسرِهِنَّ: العَلامَةُ. وسَوَّمَ الفَرَسَ تَسْوِيماً: جَعَلَ عليه سِيمَةً). (3).

والخلاصة: أن السِّيمِيَاء في اللغة، أو السِّيمَاء: هي العلامة، أو الرمز الدال على معنى مقصود؛ لربط تواصل ما. فهي إرسالية إشارية للتخاطب بين جهتين أو أكثر. فلا صدفة فيها ولا اعتباط.

تلك هي الدلالة اللغوية إذن. ومن هنا كان كل موجود -في المنظومة الإسلامية- له سيمياء وجودية، أي أنه علامة في ذاته. علامة على معنى يدل

--------------------------------------------

(1) مختار الصحاح: (سوم).

(2) اللسان: (سوم).

(3) القاموس: (سوم)
"মুসাউয়ামাহ": অর্থাৎ যার ওপর মোহরের মতো চিহ্ন রয়েছে। 'আস-সিমা' শব্দটি 'ওয়াও' বর্ণ থেকে রূপান্তরিত হ্রস্ব রূপ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তাদের চেহারায় তাদের চিহ্ন রয়েছে।" কখনো কখনো 'আস-সিমাউ' এবং 'আস-সিমিয়াউ' দীর্ঘ রূপেও ব্যবহৃত হয়। (১)

ইবন মানজুর বলেছেন: (আস-সুমাহ, আস-সিমাহ, আস-সিমা এবং আস-সিমিয়া: অর্থ হলো চিহ্ন বা নিদর্শন। আর ঘোড়াকে 'সাওয়ামা' করার অর্থ হলো তার ওপর চিহ্ন প্রদান করা। মহান আল্লাহর বাণী: {পোড়ামাটির পাথর, যা আপনার প্রতিপালকের কাছে সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য চিহ্নিত (মুসাউয়ামাহ)} (আদ-যারিয়াত: ৩৪): আজ-জাজ্জাজ বলেন: হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এগুলো সাদা ও লাল রঙের মাধ্যমে চিহ্নিত ছিল। অন্য অনেকে বলেছেন: 'মুসাউয়ামাহ' অর্থ এমন একটি চিহ্ন যা দ্বারা চেনা যায় যে এগুলো পার্থিব কোনো পাথর নয়, এবং এর চিহ্নের মাধ্যমে জানা যায় যে এটি সেই বস্তু যার মাধ্যমে আল্লাহ আজাব প্রদান করেছেন। [জাওহারি বলেন]: 'মুসাউয়ামাহ' অর্থাৎ যার ওপর মোহরের মতো চিহ্ন রয়েছে (…) আবু বকর বলেন: তাদের বক্তব্য 'তার ওপর উত্তম সিমা রয়েছে'—এর অর্থ হলো আলামত বা চিহ্ন। এটি 'ওয়াসামতু আসিমু' থেকে উদ্ভূত। তিনি বলেন: 'সিমা' শব্দের মূল রূপ ছিল 'উইসমা', এরপর 'ওয়াও' বর্ণটি 'ফা' বর্ণের স্থান থেকে পরিবর্তিত হয়ে 'আইন' বর্ণের স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেমনটি আরবরা 'মা আতয়াবাহু' এবং 'আইতাবাহু' শব্দের ক্ষেত্রে করে থাকে। ফলে এটি 'সাওমা' রূপে রূপান্তরিত হয়, এবং 'ওয়াও' বর্ণটি সাকিন হওয়ার কারণে এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণে কাসরা (জের) থাকায় তা 'ইয়া' তে পরিণত হয় (…) আরও বলা হয়েছে: 'চিহ্নিত ঘোড়া' (আল-خাইলুল মুসাউয়ামাহ) হলো সেই ঘোড়া যার ওপর 'সিমা' বা 'সুমাহ' রয়েছে, যা মূলত একটি আলামত বা চিহ্ন। ইবনুল আরাবি বলেন: 'আস-সিয়াম' হলো ভেড়ার পশমের ওপর দেওয়া চিহ্নসমূহ।) (২)

আর আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: (আস-সিমাহ, আস-সিমা এবং আস-সিমিয়া—প্রত্যেকটি সীন বর্ণে কাসরা সহ—এর অর্থ হলো চিহ্ন। আর ঘোড়াকে 'তাসউয়িম' করা মানে হলো তার ওপর চিহ্ন বা আলামত প্রদান করা।) (৩)।

সারসংক্ষেপ: ভাষাগতভাবে 'আস-সিমিয়া' বা 'আস-সিমা' হলো সেই চিহ্ন বা প্রতীক যা কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থের প্রতি নির্দেশ করে; যা কোনো সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এটি দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা। এর মধ্যে কোনো আকস্মিকতা বা লক্ষ্যহীনতা নেই।

এটিই হলো ভাষাগত তাৎপর্য। আর এখান থেকেই ইসলামী জীবনদর্শনে প্রতিটি বিদ্যমান সত্তার একটি অস্তিত্ববাচক 'সিমিয়া' বা লক্ষণ রয়েছে, অর্থাৎ যা নিজেই একটি নিদর্শন। এমন এক অর্থের নিদর্শন যা নির্দেশ করে...

--------------------------------------------

(১) মুখতার আস-সিহাহ: (সাওয়ামা)।

(২) আল-লিসান: (সাওয়ামা)।

(৩) আল-কামুস: (সাওয়ামা)
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عليه وجوده، وتلك حكمته الخَلْقية، ومعناه التكويني، وغايته الوظيفية، من حيث كينونته ومصيره. وهو قول الله تعالى: {وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاء وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ. لَوْ أَرَدْنَا أَن نَّتَّخِذَ لَهْوًا لَّاتَّخَذْنَاهُ مِن لَّدُنَّا إِن كُنَّا فَاعِلِينَ. بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ} (الأنبياء:16 - 18)، وقوله سبحانه: {وَمَا مِن دَآبَّةٍ فِي الأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَاّ أُمَمٌ أَمْثَالُكُم مَّا فَرَّطْنَا فِي الكِتَابِ مِن شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ} (الأنعام:38). والإنسان ترجع سيمياؤه إلى قوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَة} (البقرة:30). وقوله عز وجل: {إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا} (الأحزاب:72). فهو إذن رمز الخلافة التعبدية لله الواحد القهار، حامل أمانة التكليف الرسالي في الإسلام.

إلا أن السيمياء الإنسانية في القرآن تتفرع -داخليا- على حسب جنس الإنسان من ذكورة وأنوثة، لكن في إطار السيمياء الكلية التي بيناها آنفا. فكان للرجل سيمياء خاصة، وكان للمرأة سيمياء أخرى خاصة، وكلاهما مندرج في السيمياء الإنسانية الكبرى. وورقتنا هذه خاصة بسيمياء المرأة في الإسلام. أي خواصها الرمزية والدلالية في الوجود، وعلاماتها الوظيفية في الكون نفسا وصورة. وهو قصدنا بسيماء المرأة في هذا الكتيب. وتفصيل ذلك هو كما يلي:
তার অস্তিত্ব এর ওপরই নির্ভরশীল; আর তা-ই তাঁর সৃষ্টিগত হিকমত, তাঁর অস্তিত্বগত তাৎপর্য এবং তাঁর সত্তা ও পরিণতির নিরিখে তাঁর কার্যগত লক্ষ্য। এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা আসমান, জমিন এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী কোনো কিছু ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। যদি আমরা ক্রীড়া-কৌতুক গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমরা তা আমাদের কাছে যা আছে তা থেকেই গ্রহণ করতাম, যদি আমাদের তা করতে হতো। বরং আমরা সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর তোমরা যা বর্ণনা করছ, তার জন্য তোমাদের দুর্ভোগ} (আল-আম্বিয়া: ১৬-১৮), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর জমিনে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং এমন কোনো পাখি নেই যা তার দুই ডানা দিয়ে ওড়ে, যারা তোমাদের মতো একেকটি উম্মত নয়। আমরা কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি, অতঃপর তাদের সকলকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে} (আল-আনআম: ৩৮)। আর মানুষের স্বরূপতত্ত্ব (سيمياء) মহান আল্লাহর এই বাণীর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়: {আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমি জমিনে একজন প্রতিনিধি (خليفة) নিযুক্ত করছি} (আল-বাকারা: ৩০)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি আসমানসমূহ, জমিন ও পাহাড়ের ওপর আমানত (الأمانة) পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং তাতে ভীত হলো; আর মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয়ই সে ছিল অতিশয় জালেম ও অতিশয় জাহেল} (আল-আহজাব: ৭২)। সুতরাং সে (মানুষ) হলো এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ইবাদতকেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্বের (خلافة) প্রতীক, যে ইসলামে রিসালতভিত্তিক শরয়ি দায়িত্বের (التكليف) আমানত (الأمانة) বহনকারী।

তবে কুরআনে বর্ণিত মানুষের এই স্বরূপতত্ত্ব (سيمياء) অভ্যন্তরীণভাবে মানুষের লিঙ্গভেদে—পুরুষত্ব ও নারীত্ব অনুযায়ী—শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়; কিন্তু তা আমাদের পূর্বে বর্ণিত সামগ্রিক স্বরূপতত্ত্বের (سيمياء) কাঠামোর মধ্যেই। ফলে পুরুষের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য (سيمياء) এবং নারীর জন্য রয়েছে অন্য একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য (سيمياء), আর উভয়ই বৃহৎ মানবীয় স্বরূপতত্ত্বের (سيمياء) অন্তর্ভুক্ত। আমাদের এই প্রবন্ধটি মূলত ইসলামে নারীর স্বরূপ (سيمياء) সংক্রান্ত। অর্থাৎ অস্তিত্বের জগতে নারীর প্রতীকি ও অর্থবোধক বৈশিষ্ট্য এবং বিশ্বজগতে তার সত্তা ও অবয়বের কার্যগত নিদর্শনসমূহ। এই ক্ষুদ্র পুস্তিকায় নারীর স্বরূপ (سيمياء) বলতে আমরা এটিই উদ্দেশ্য নিয়েছি। এর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الفصل الأول: المرأة وسيماء النفس

‌‌المبحث الأول: المرأة والنفس الواحدة

ما حد المرأة؟

سؤال نضعه اليوم ـ على منهجنا الجديد ـ في بحث الحقائق التي يسميها الناس (بدهيات)، والعود إلى تحقيق مفاهيم (المسَلَّمَات) التي رسخت في ذاكرة المجتمع الإنساني كذلك. ومشروعنا هذا قائم على مراجعة هذه البدهيات، التي تبين لنا أنها تحمل كثيرا من الأسرار التي يغطيها عنا الإلف الوجودي وعادة الحياة. نسأل: (ما) المرأة؟ لنجيب الجواب البدهي أيضا بأن المرأة هي أنثى الإنسان.

(أنثى الإنسان) .. وتلك ضميمة اصطلاحية تضرب في عمق الغيب! وإنما الإنسان كل الإنسان (نفس). و (النفس) هي أساس الخلق البشري، كما هو نص القرآن الكريم: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء:1). (النفس الواحدة) إذن هي أساس الخلق، التي منها خلق الإنسان، كل الإنسان: ذكرانا وإناثا. والعجيب، الجدير بالتدبر والتأمل؛ أن مرجع آدم إلى (النفس الواحدة) مساوٍ لمرجع زوجه حواء. فهما في ذلك سواء. فالنفس مرجع كل منهما، وكل من كان من ذريتهما إلى يوم القيامة. وقصة خلق حواء من ضلع آدم كما هو مدلول
প্রথম পরিচ্ছেদ: নারী ও প্রাণের স্বরূপ

প্রথম অনুচ্ছেদ: নারী ও একক সত্তা

নারীর সংজ্ঞা কী?

আমাদের নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী আজ আমরা একটি প্রশ্ন উত্থাপন করছি সেই সব সত্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে, যাকে মানুষ ‘স্বতঃসিদ্ধ’ বলে অভিহিত করে। একইভাবে আমরা ফিরে যাচ্ছি সেই সব ‘স্বীকৃত বিষয়াবলির’ ধারণার বিশ্লেষণে, যা একইভাবে মানব সমাজের স্মৃতিতে বদ্ধমূল হয়ে আছে। আমাদের এই প্রকল্পটি সেই সব স্বতঃসিদ্ধ বিষয়াবলি পর্যালোচনার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট করে যে, এগুলো এমন অনেক রহস্য বহন করে যা অস্তিত্বের সাথে আমাদের চিরাচরিত অভ্যাস এবং প্রাত্যহিক জীবনের অভ্যস্ততা আমাদের চোখের সামনে আড়াল করে রেখেছে। আমরা প্রশ্ন করি: নারী ‘কী’? যাতে আমরা সেই স্বতঃসিদ্ধ উত্তরটিও দিতে পারি যে, নারী হলো মানুষের স্ত্রীসত্তা।

‘মানুষের স্ত্রীসত্তা’.. এটি এমন একটি পরিভাষাগত সংযুক্তি যা অদৃশ্যের গভীরে প্রোথিত! প্রকৃতপক্ষে মানুষ—সমগ্র মানুষই হলো এক ‘সত্তা’। আর ‘সত্তা’ হলো মানব সৃষ্টির মূল ভিত্তি, যেমনটি পবিত্র কুরআনের অকাট্য ভাষ্যে বর্ণিত হয়েছে: {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (আন-নিসা: ১)। সুতরাং ‘একক সত্তা’-ই হলো সৃষ্টির মূল ভিত্তি, যা থেকে সৃষ্টি হয়েছে মানুষ—সমগ্র মানুষ: নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে। বিস্ময়কর এবং গভীর চিন্তা ও ধ্যানের বিষয় হলো; ‘একক সত্তা’র দিকে আদমের প্রত্যাবর্তনের উৎস ঠিক তেমনই, যেমনটি তাঁর স্ত্রী হাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ বিষয়ে তাঁরা উভয়েই সমান। অর্থাৎ, সত্তাই হলো তাঁদের প্রত্যেকের এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের বংশধর হিসেবে আগত প্রত্যেকেরই মূল উৎস। আর আদমের পাঁজরের হাড় থেকে হাওয়া সৃষ্টির কাহিনী, যেমনটি নির্দেশিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الحديث النبوي الصحيح (1) دالة -في نهاية المطاف- على الوحدة المصدرية نفسا وبدنا. فهما في ذلك سواء! وتدبر الآية مرة أخرى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً}.

النفس الواحدة:

تلك النفس، التي ذكرها الله جل علاه في غير ما موضع من القرآن العظيم، التي لا تحمل في الأصل صفة جنسية، لا ذكورة ولا أنوثة. وهذا أمر عجيب حقا. فلا الرجل ولا المرأة يمكنه أن يزعم أنه الأصل. وكون آدم عليه السلام أسبق في الخلق لا يعنى أنه الأصل. فهو الأصل بالمعنى الزمني، وليس الأصل بالمعنى الوجودي، ولا كذلك حواء. وليس الأمر كما زعم بعضهم أن المرأة فرع عن الرجل، ولا أن الرجل فرع عن المرأة، كما جاء عند صاحبة كتاب (الأنثى هي الأصل) (2)! وإنما هي النفس التي لا تحمل أي سيماء جنسية. إنها (نفس واحدة) على حد تعبير القرآن كما رأيت: (مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ). وفي هذا من التساوي الوجودي ما فيه. وأما التأنيث الوارد في صيغتها فإنما هو على عادة الاستعمال اللغوي العربي، ليس إلا. على نحو ما تقصده العرب في صيغها الصرفية، التي قد تؤنث وتذكر؛ لغير أنوثة جنسية ولا ذكورة. كما في تأنيثهم الشمس وتذكيرهم القمر. والقرآن نزل بلغة

--------------------------------------------

(1) وهو قوله صلى الله عليه وسلم: (استوصوا بالنساء خيرا؛ فإن المرأة خلقت من ضلع أعوج، وإن أعوج شيء في الضلع أعلاه، فإن ذهبت تقيمه كسرته، وإن تركته لم يزل أعوج، فاستوصوا بالنساء خيرا) (متفق عليه). وليس الاعوجاج في هذا السياق وصمة ذم كما يظنه بعض العوام، بل هو بيان الطبع العاطفي الجارف للمرأة، وما يعتريه من تقلب وميلان، كما اقتضته حكمة الله في خلق الأنثى؛ لتكون زوجة وأُمّاً تفيض بالحب والحنان. ولذلك جاء في سياق (الاستيصاء بالخير)، ولا يستوصى إلا بمحبوب، فتأمل!

(2) الدكتورة نوال السعداوي
সঠিক (صحيح) নববী হাদিস (১) চূড়ান্ত বিচারে আত্মা ও দেহের উৎসগত ঐক্যের প্রমাণ প্রদান করে। এক্ষেত্রে উভয়ই সমান! আয়াতটি পুনরায় গভীরভাবে অনুধাবন করুন: {হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন।}

একক সত্তা (নফস):

সেই সত্তা, যা মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ কুরআনের একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন, যা মূলত কোনো লিঙ্গীয় বৈশিষ্ট্য বহন করে না—পুরুষত্বও নয়, নারীত্বও নয়। এটি সত্যিই এক বিস্ময়কর বিষয়। পুরুষ বা নারী কেউই দাবি করতে পারে না যে সে-ই মূল ভিত্তি। আদম (আলাইহিস সালাম) সৃষ্টিতে অগ্রবর্তী হওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনিই মূল। তিনি কালানুক্রমিক অর্থে মূল, কিন্তু অস্তিত্বগত অর্থে মূল নন; হাওয়া (আলাইহাস সালাম)-এর বিষয়টিও তেমন। বিষয়টি এমন নয় যা কেউ কেউ দাবি করেছেন যে নারী পুরুষের একটি শাখা, কিংবা পুরুষ নারীর একটি শাখা; যেমনটি 'নারীই মূল' (২) গ্রন্থের লেখিকার বক্তব্যে এসেছে! বরং এটি এমন এক সত্তা যা কোনো প্রকার লিঙ্গগত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে না। কুরআনের ভাষায় এটি হলো 'একক সত্তা'—যেমনটি আপনি লক্ষ্য করেছেন: (একই সত্তা থেকে)। এর মধ্যে অস্তিত্বগত সমতার বিষয়টি পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান। আর এর শব্দগত রূপায়ণে যে স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে, তা কেবল আরবি ভাষার ভাষাতাত্ত্বিক ব্যবহারের রীতি অনুযায়ী, অন্য কিছু নয়। যেমনটি আরবরা তাদের ব্যাকরণগত রূপকাঠামোতে প্রয়োগ করে থাকে, যা জৈবিক নারীত্ব বা পুরুষত্ব ছাড়াই স্ত্রীলিঙ্গ বা পুংলিঙ্গ হতে পারে। যেমন তারা সূর্যকে স্ত্রীলিঙ্গ এবং চাঁদকে পুংলিঙ্গ হিসেবে গণ্য করে। আর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এমন এক ভাষায়—

--------------------------------------------

(১) আর তা হলো নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণের অসিয়ত গ্রহণ করো; কারণ নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে, আর পাঁজরের হাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বক্র হলো তার উপরিভাগ। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও তবে তা ভেঙে ফেলবে, আর যদি তা ছেড়ে দাও তবে তা বক্রই থেকে যাবে। সুতরাং নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের অসিয়ত গ্রহণ করো) [এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)]। এই প্রসঙ্গে 'বক্রতা' কোনো নিন্দনীয় বিষয় নয় যেমনটি অনেক সাধারণ মানুষ মনে করে থাকে, বরং এটি নারীর প্রবল আবেগপ্রবণ স্বভাব এবং তার মধ্যে যে পরিবর্তন ও ঝোঁক তৈরি হয় তারই বর্ণনা, যা আল্লাহ তাআলা নারী সৃষ্টির হিকমত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; যাতে সে প্রেম ও মমতায় পূর্ণ একজন স্ত্রী ও মা হতে পারে। এ কারণেই এটি 'উত্তম অসিয়ত' করার প্রেক্ষাপটে এসেছে, আর অসিয়ত কেবল প্রিয়পাত্রের জন্যই করা হয়; অতএব ভেবে দেখুন!

(২) ডা. নওয়াল আল-সাদাউই
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
العرب. قال سبحانه: {هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا فَلَمَّا تَغَشَّاهَا حَمَلَتْ حَمْلاً خَفِيفًا فَمَرَّتْ بِهِ فَلَمَّا أَثْقَلَت دَّعَوَا اللهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحاً لَّنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ} (الأعراف:189). وتدبر قوله تعالى: {خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَأَنزَلَ لَكُم مِّنْ الْأَنْعَامِ ثَمَانِيَةَ أَزْوَاجٍ يَخْلُقُكُمْ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ خَلْقًا مِن بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلَاثٍ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَأَنَّى تُصْرَفُونَ} (الزمر:6).

النفس إذن؛ هي جوهر كينونة الإنسان، ذكرا كان أو أنثى. ومن هنا سَوَّى الله بين الجنسين في عموم التكليف إلا ما استثناه الدليل لخصوص المحل. أما الأصل التكليفي فهو قوله تعالى: {فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى بَعْضُكُم مِّن بَعْض} (آل عمران:195). فهذه الآية نص -باصطلاح الأصوليين- في تساوي التكليف الإلهي للإنسان، من حيث المبدأ الكلي، بغض النظر عن الفروق الجنسية العارضة من ذكورة وأنوثة. وإنما الصفة التي ينظر إليه بها ههنا هي كونه (عاملا) أم لا؟

فالإنسان له صورتان: الأولى نفسانية، والثانية جسمانية. ولكل صورة سيماء أو سيمياء. أي علامات ومواصفات منها تتشكل ما نسميه بـ (الشخصية). تماما كما تتميز كل صورة جسمانية بعلامات فارقة، هي سيماء ذلك الشخص المميزة له.

ذلك أن النفس مفارقة للجسم. وكينونتها هي على صورة نفسانية. قال عز وجل: {وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا} (الشمس:7). فالتسوية هي تمام الخلق. ولهذا قال بعد مباشرة في السياق: {فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا}. ويؤيد هذا التفسير من القرآن والسنة: أولا قوله تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتَ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَن تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ. أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِن قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِّن بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ} (الأعراف:172 - 173).
আরব। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া তৈরি করেছেন যাতে সে তার নিকট প্রশান্তি লাভ করে। অতঃপর যখন সে তাকে স্পর্শ করল, তখন সে হালকা গর্ভধারণ করল এবং তা নিয়ে চলাফেরা করতে লাগল। তারপর যখন সে গর্ভভারাক্রান্ত হলো, তখন তারা উভয়ে তাদের পালনকর্তা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করল, আপনি যদি আমাদের একটি নেক সন্তান দান করেন তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব} (আল-আরাফ: ১৮৯)। এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন: {তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে, অতঃপর তা থেকে তার জোড়া বানিয়েছেন এবং তিনি তোমাদের জন্য আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু অবতীর্ণ করেছেন। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে একের পর এক পর্যায়ে তিন অন্ধকার স্তরে। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের পালনকর্তা, সার্বভৌমত্ব তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় বিচ্যুত হচ্ছ?} (আজ-জুমার: ৬)।

নফস তাহলে হলো মানুষের অস্তিত্বের সারসত্তা, সে পুরুষ হোক বা নারী। এ কারণেই আল্লাহ উভয় লিঙ্গের মধ্যে সাধারণ দায়বদ্ধতার (التكليف) ক্ষেত্রে সমতা বিধান করেছেন, তবে যেখানে দলিলের (الدليل) ভিত্তিতে বিশেষ ক্ষেত্রের কারণে কোনো বিষয়কে ব্যতিক্রম করা হয়েছে তা ভিন্ন। আর বিধানগত মূলনীতি (الأصل) হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, আমি তোমাদের মধ্যে কোনো আমলকারীর আমল নষ্ট করি না, সে পুরুষ হোক বা নারী; তোমরা একে অপরের অংশ} (আল ইমরান: ১৯৫)। এই আয়াতটি উসুলবিদদের (الأصوليين) পরিভাষায়—একটি স্পষ্ট বক্তব্য (نص)—যা সামগ্রিক মূলনীতির বিচারে মানুষের উপর আরোপিত ঐশী বিধানের সমতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, লিঙ্গগত পার্থক্যের কারণে উদ্ভূত পুরুষত্ব বা নারীত্বের ঊর্ধ্বে। বরং এখানে যে গুণটির দিকে নজর দেওয়া হয়েছে তা হলো সে ‘আমলকারী’ কি না?

মানুষের দুটি রূপ রয়েছে: প্রথমটি মনস্তাত্ত্বিক এবং দ্বিতীয়টি শারীরিক। প্রতিটি রূপেরই নির্দিষ্ট চিহ্ন বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অর্থাৎ এমন কিছু নিদর্শন ও গুণাবলী যার মাধ্যমে আমরা যাকে ‘ব্যক্তিত্ব’ বলি তা গঠিত হয়। ঠিক যেমন প্রতিটি শারীরিক রূপ কিছু স্বতন্ত্র চিহ্নের মাধ্যমে পৃথক করা যায়, যা সেই ব্যক্তির বিশেষ পরিচয় বা নিদর্শন।

এর কারণ হলো নফস বা আত্মা দেহ থেকে ভিন্ন। আর এর সত্তা হলো মনস্তাত্ত্বিক রূপের ওপর। মহান আল্লাহ বলেছেন: {শপথ নফসের এবং যিনি তাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন} (আশ-শামস: ৭)। এখানে ‘সুসামঞ্জস্য করা’ হলো সৃষ্টির পূর্ণতা। এজন্যই তিনি প্রসঙ্গের সাথে মিলিয়ে এর পরপরই বলেছেন: {অতঃপর তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন}। কুরআন ও সুন্নাহর এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে: প্রথমত মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষ্য রাখলেন যে, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? তারা বলল, হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। পাছে তোমরা কিয়ামতের দিন বলো যে, আমরা তো এ বিষয়ে অসচেতন ছিলাম। অথবা বলো যে, ইতিপূর্বে আমাদের পিতৃপুরুষরা শিরক করেছিল এবং আমরা তাদের পরবর্তী বংশধর ছিলাম; তবে কি আপনি পথভ্রষ্টদের কর্মের কারণে আমাদের ধ্বংস করবেন?} (আল-আরাফ: ১৭২ - ১৭৩)।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن هنا قول شيخ الإسلام ابن تيمية: (فالنفس بفطرتها إذا تركت كانت مقرة لله بالالهية؛ محبةً له، تعبده لا تشرك به شيئا. ولكن يفسدها ما يزين لها شياطين الإنس والجن، بما يوحى بعضهم إلى بعض من الباطل. قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتَ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا} … الآية) (1).

ثانيا: قول الرسول صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: (لما خلق الله آدم مسح ظهره؛ فسقط من ظهره كل نسمة هو خالقها إلى يوم القيامة، ثم جعل بين عيني كل إنسان منهم وبيصا من نور، ثم عرضهم على آدم، فقال: أي رب! من هؤلاء؟ قال: هؤلاء ذريتك! فرأى رجلا منهم أعجبه نور ما بين عينيه، فقال: أي رب! من هذا؟ قال: رجل من ذريتك في آخر الأمم يقال له داود، قال: أي رب كم عمره؟ قال: ستون سنة، قال: فزده من عمري أربعين سنة! قال: إذن؛ يكتب ويختم، ولا يبدل! فلما انقضى عمر آدم جاء ملك الموت، فقال [يعني آدم]: أوَ لم يبق من عمري أربعون سنة؟ قال: أوَ لم تعطها ابنَك داود؟ [وجَحَد آدمُ] فجحدت ذريته، ونسي آدم فنسيت ذريته، وخطئ آدم فخطئت ذريته!) (2).

فالحديث دال على أن الله خاطب الأنفس، وهي آنئذ لا تزال في عالم الذَّرِّ، أي نسمات في صلب آدم عليه السلام. وذلك قوله صلى الله عليه وسلم في النص: (فسقط من ظهره كل نسمة هو خالقها إلى يوم القيامة). فاسم الفاعل (خالقها) دال في هذا السياق على الاستقبال. كأنه قال: (سيخلقها)، والمقصود بالخلق هنا الخلق النهائي بخلق النفس في الجسم. لأن النفس آنئذ لا تزال في عالم الذر نسمةً. كما أنه دال على أن لها صورة نفسانية لا جسمية. ودليله من النص قوله: (ثم جعل بين عيني كل إنسان منهم وبيصا من نور، ثم

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى: 14/ 296.

(2) رواه الترمذي والحاكم، وصححه الألباني انظر حديث رقم: 5208 في صحيح الجامع.
এখান থেকেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার উক্তি: (মানুষের আত্মা স্বভাবগতভাবে যখন স্বীয় ফিতরাতের ওপর থাকে, তখন সে আল্লাহর উলুহিয়্যাতের স্বীকৃতি দেয়; তাঁকে ভালোবাসে, তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না। কিন্তু জিন ও মানুষের শয়তানরা বাতিল বা অলীক কথার মাধ্যমে যা তাদের সামনে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলে, তা তাদের কলুষিত করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আপনার রব আদম সন্তানের পিঠ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষ্য রাখলেন যে, আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিলাম} … আয়াতটি শেষ পর্যন্ত) (১)।

দ্বিতীয়ত: সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর পিঠ স্পর্শ করলেন; ফলে তাঁর পিঠ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত তিনি যত আত্মা সৃষ্টি করবেন তার প্রতিটি বের হয়ে আসল। এরপর তিনি তাদের প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের একটি উজ্জ্বল আভা স্থাপন করলেন এবং তাদের আদমের সামনে পেশ করলেন। আদম বললেন: হে আমার রব! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা তোমার বংশধর। তখন তিনি তাদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার দুই চোখের মাঝখানের নূরের জ্যোতি তাঁকে মুগ্ধ করল। তিনি বললেন: হে আমার রব! এ কে? আল্লাহ বললেন: এ তোমার বংশধরদের মধ্যে শেষ দিকের উম্মতদের একজন লোক, যাকে দাউদ বলা হয়। আদম বললেন: হে রব! তাঁর বয়স কত? আল্লাহ বললেন: ষাট বছর। আদম বললেন: তবে তাকে আমার বয়স থেকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দিন। আল্লাহ বললেন: তাহলে তা লিপিবদ্ধ হবে এবং সিলমোহর করে দেওয়া হবে, যা আর পরিবর্তন করা হবে না। অতঃপর যখন আদমের আয়ু শেষ হলো, তখন তাঁর কাছে মৃত্যুর ফেরেশতা এলেন। আদম বললেন [অর্থাৎ আদম]: আমার আয়ুর কি আরও চল্লিশ বছর বাকি নেই? ফেরেশতা বললেন: আপনি কি তা আপনার পুত্র দাউদকে দান করেননি? [আদম অস্বীকার করলেন] ফলে তাঁর বংশধরেরাও অস্বীকার করল, আদম ভুলে গিয়েছিলেন ফলে তাঁর বংশধরেরাও ভুলে গেল এবং আদম ভুল করেছিলেন ফলে তাঁর বংশধরেরাও ভুল করল) (২)।

সুতরাং এই হাদিসটি নির্দেশ করে যে, আল্লাহ তাআলা রুহ বা আত্মাদের সাথে কথা বলেছেন যখন তারা তখনও 'আলমে জার' বা অণু-জগতে ছিল, অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালামের পৃষ্ঠদেশে অবস্থানকারী প্রাণসমূহ। এটিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মর্ম: (তাঁর পিঠ থেকে প্রতিটি প্রাণ নির্গত হলো যা তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সৃষ্টি করবেন)। এখানে ইসমে ফায়েল বা কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) 'সৃষ্টিকারী (خالقها)' শব্দটি এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ অর্থ প্রদান করছে। যেন তিনি বললেন: (অচিরেই তিনি সৃষ্টি করবেন)। আর এখানে সৃষ্টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরীরে আত্মা ফুঁকে দেওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সৃষ্টি; কারণ আত্মা তখন পর্যন্ত অণু-জগতে কেবল প্রাণ হিসেবে বিদ্যমান ছিল। তদ্রূপ এটি এ কথারও প্রমাণ দেয় যে, আত্মার একটি আত্মিক অবয়ব আছে, যা দৈহিক নয়। এর সপক্ষে হাদিসের পাঠ হতে দলিল হলো তাঁর বাণী: (অতঃপর তাদের প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের একটি জ্যোতি স্থাপন করলেন, এরপর...

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া: ১৪/২৯৬।

(২) তিরমিজি ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। দেখুন: সহিহুল জামে-এর ৫২০৮ নম্বর হাদিস।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
عرضهم على آدم، فقال: أي رب! من هؤلاء؟ قال: هؤلاء ذريتك! فرأى رجلا منهم أعجبه نور ما بين عينيه، فقال: أي رب! من هذا؟ … إلخ) فما كان ذلك ليكون؛ لو لم تكن الأنفس صورا أظهرها الله تعالى لآدم عليه السلام فأراه إياها بما شاء وكما شاء. فدل ذلك كله على وجود النفس مستقلة عن البدن، ودل أيضا على أن لها صورة غير جسمانية، ذات سيماء خاصة.

ومن النصوص العجيبة الدالة على ذلك أيضا قوله عليه الصلاة والسلام في الحديث الصحيح: (كنت نبيا وآدم بين الروح والجسد!) (1) وقوله صلى الله عليه وسلم: (إن النفس المخلوقة لكائنة) (2).

وقد نجم عن هذه النصوص إشكال بين علماء الإسلام فيمَ خُلِقَ أولا: النفس أم البدن؟ وذلك نظرا لما دلت عليه ظواهرها من مخاطبة الأنفس في استقلال عن الأبدان، ومن إبصار بعضها لبعض في عالم الأرواح. وهذا خلاف نقله الإمام الرباني ابن قيم الجوزية رحمه الله تعالى. قال في شفاء العليل: (وكذلك في خلق الأرواح قبل الأجساد قولان معروفان) (3). فقد كان شيخ الإسلام تقي الدين بن تيمية رحمه الله تعالى من أبرز القائلين بسبق الجسم على النفس. بينما كان قبله الإمام ابن حزم الظاهري الأندلسي من القائلين بسبق النفس على البدن؛ انسجاما مع ظاهريته. وذلك ما نقله ابن القيم مفصلا في كتاب الروح قال: (وقالت طائفة أخرى منهم ابن حزم مستقرها حيث كانت قبل خلق أجسادها. وقال: والذي نقول به في مستقر

--------------------------------------------

(1) رواه أبو نعيم في الحلية عن ميسرة الفجر، ورواه ابن سعد عن أبي الجدعاء، وابن حبان عن ابن عباس. وصححه الألباني. انظر حديث رقم: 4581 في صحيح الجامع.

(2) رواه الطبراني عن عبادة بن الصامت مرفوعا. وصححه الألباني. انظر حديث رقم: 1985 في صحيح الجامع.

(3) شفاء العليل لابن القيم:1/ 294.
তাদের আদম (আ.)-এর সামনে উপস্থাপন করা হলো, তখন তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা তোমার বংশধর! তখন তিনি তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার দুই চোখের মধ্যবর্তী নূর তাকে মুগ্ধ করল, তিনি বললেন: হে প্রতিপালক! ইনি কে? … ইত্যাদি) এটি ঘটা সম্ভব হতো না; যদি না আত্মাগুলো এমন প্রতিচ্ছবি হতো যা আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-এর নিকট প্রকাশ করেছিলেন এবং যেভাবে ও যেমনভাবে চেয়েছিলেন তাঁকে তা দেখিয়েছিলেন। এ সবকিছুই দেহের বাইরে আত্মার স্বতন্ত্র অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় এবং এটিও প্রমাণ করে যে, আত্মার একটি অভৌতিক রূপ রয়েছে, যার রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

এ বিষয়ে প্রমাণদানকারী বিস্ময়কর দলিলসমূহের মধ্যে সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীও অন্তর্ভুক্ত: (আমি তখনও নবী ছিলাম যখন আদম রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন!) (১) এবং তাঁর (সা.) বাণী: (নিশ্চয়ই সৃষ্ট আত্মা অস্তিত্বশীল হবেই) (২)।

এই দলিলগুলোর বাহ্যিক অর্থ থেকে ইসলামি পণ্ডিতগণের মধ্যে একটি জটিল প্রশ্ন উদ্ভূত হয়েছে যে, আগে কোনটি সৃষ্টি হয়েছে: আত্মা নাকি দেহ? কারণ এই বর্ণনাগুলোর বাহ্যিক দিক দেহ থেকে স্বতন্ত্র অবস্থায় আত্মার সাথে সম্বোধন এবং রুহের জগতে একে অপরের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি নির্দেশ করে। এটি এমন একটি মতভেদ যা ইমাম রব্বানি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়াহ (রহ.) বর্ণনা করেছেন। তিনি 'শিফাউল আলিল' গ্রন্থে বলেছেন: (অনুরূপভাবে দেহের পূর্বে রুহ সৃষ্টির বিষয়ে দুটি প্রসিদ্ধ অভিমত রয়েছে) (৩)। শাইখুল ইসলাম তাক্বিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.) ছিলেন আত্মার পূর্বে দেহের সৃষ্টির প্রবক্তাদের মধ্যে অন্যতম। অপরদিকে তাঁর পূর্বে ইমাম ইবনে হাজম আল-জাহিরি আল-আন্দালুসি তাঁর জাহিরি (প্রকাশ্যবাদী) মতাদর্শের সাথে সংগতি রেখে দেহের পূর্বে আত্মা সৃষ্টির প্রবক্তা ছিলেন। ইবনুল কাইয়্যিম এটি 'কিতাবুর রুহ'-এ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে বলেন: (অন্য একটি দল, যাদের মধ্যে ইবনে হাজম রয়েছেন, তারা বলেছেন যে আত্মার অবস্থান সেখানেই যেখানে তারা দেহ সৃষ্টির পূর্বে ছিল। তিনি বলেন: আত্মার অবস্থান সম্পর্কে আমরা যা বলি...)

--------------------------------------------

(১) আবু নুআইম 'হিলয়াহ' গ্রন্থে মাইসারা আল-ফজর থেকে, ইবনে সাদ 'আবু আল-জাদআ' থেকে এবং ইবনে হিব্বান 'ইবনে আব্বাস' থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলে আখ্যায়িত করেছেন। দেখুন সহিহ আল-জামি, হাদিস নং: ৪৫৮১।

(২) তাবারানি উবাদাহ ইবনে সামিত থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। দেখুন সহিহ আল-জামি, হাদিস নং: ১৯৮৫।

(৩) ইবনুল কাইয়্যিমের শিফাউল আলিল: ১/২৯৪।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الأرواح، هو ما قاله الله عز وجل ونبيه صلى الله عليه وسلم، لا نتعداه. فهو البرهان الواضح، وهو أن الله عز وجل قال: "وإذ أخذ ربك من بني آدم من ظهورهم ذريتهم وأشهدهم على أنفسهم ألست بربكم قالوا بلى شهدنا أن تقولوا يوم القيامة إنا كنا عن هذا غافلين". وقال تعالى: {ولقد خلقناكم ثم صورناكم ثم قلنا للملائكة اسجدوا لآدم} (الأعراف:11). فصح أن الله تعالى خلق الأرواح جملة، وكذلك أخبر أن "الأرواح جنود مجندة فما تعارف منها ائتلف وما تناكر منها اختلف" (1) وأخذ الله عهدها وشهادتها له بالربوبية، وهي مخلوقة مصورة عاقلة، قبل أن يأمر الملائكة بالسجود لآدم، وقبل أن يدخلها في الأجساد. والأجساد يومئذ تراب وماء! ثم أقرها حيث شاء. وهو البرزخ، الذي ترجع إليه عند الموت. ثم لا يزال يبعث منها الجملة بعد الجملة، فينفخها في الأجساد المتولدة من المني. إلى أن قال: فصح أن الأرواح أجساد حاملة لأغراضها من التعارف والتناكر، وأنها عارفة مميزة، فيبلوهم الله في الدنيا كما يشاء، ثم يتوفاها، فيرجع إلى البرزخ الذي رآها فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلةَ أسري به عند سماء الدنيا، أرواح أهل السعادة عن يمين آدم، وأرواح أهل الشقاوة عن يساره. وذلك عند منقطع العناصر، ويعجل أرواح الأنبياء والشهداء إلى الجنة. قال: وقد ذكر محمد بن نصر المروزي عن إسحاق بن راهويه أنه ذكر هذا الذي قلنا بعينه، قال: وعلى هذا أجمع أهل العلم. قال ابن حزم: وهو قول جميع أهل الإسلام) (2).

إلا أن ابن القيم رحمه الله رد ذلك كله، وذهب إلى ما ذهب إليه أستاذه شيخ الإسلام ابن تيمية، فقال في كتابه القيم "أحكام أهل الذمة": (والذين قالوا إن الأرواح خلقت قبل الأجساد ليس معهم نص من كتاب الله ولا سنة رسوله. وغاية ما معهم قوله: "وإذ أخذ ربك من بني آدم" الآية. وقد عُلِم أنها

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري عن عائشة ورواه مسلم عن أبي هريرة.

(2) الروح لابن القيم:91 - 92.
রূহ বা আত্মা সম্পর্কে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন, আমরা তা অতিক্রম করব না। এটিই সুস্পষ্ট প্রমাণ। আর তা হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "আর যখন আপনার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদেরকে নিজেদের সম্বন্ধে সাক্ষী করলেন যে, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? তারা বলেছিল, হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। পাছে তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে শুরু কর যে, আমরা তো এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর তোমাদের রূপ দান করেছি, এরপর ফেরেশতাদের বলেছি যে, আদমকে সেজদা কর} (আল-আরাফ: ১১)। সুতরাং এটি সাব্যস্ত (صح) হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা রূহসমূহকে একত্রে সৃষ্টি করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, "রূহসমূহ সুসংবদ্ধ সৈন্যবাহিনীর মতো; তাদের মধ্যে যাদের পরিচয় ঘটে তারা পরস্পর পরিচিত হয় এবং যাদের মধ্যে পরিচয় ঘটে না তারা পরস্পর পৃথক থাকে" (১)। আল্লাহ তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার এবং তাঁর রুবুবিয়্যাতের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। ফেরেশতাদের আদম (আ.)-কে সেজদা করার নির্দেশ দেওয়ার পূর্বে এবং রূহসমূহকে দেহে প্রবেশ করানোর পূর্বেই তারা সৃষ্টিপ্রাপ্ত, আকৃতিপ্রাপ্ত ও জ্ঞানসম্পন্ন ছিল। সেদিন দেহসমূহ ছিল মাটি ও পানির স্তূপ! এরপর তিনি সেগুলোকে যেখানে ইচ্ছা সেখানে অবস্থান করিয়েছেন। আর তা হলো বরজখ, মৃত্যুর সময় যেখানে রূহসমূহ ফিরে যায়। অতঃপর তিনি পর্যায়ক্রমে একদল করে পাঠাতে থাকেন এবং বীর্য থেকে উৎপন্ন দেহের মধ্যে তা ফুঁকে দেন। তিনি (ইবনে হাযম) আরও বলেন: সুতরাং এটি সাব্যস্ত (صح) যে, রূহসমূহ এমন সত্তা যা একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়া বা অপছন্দ করার উদ্দেশ্য বহন করে এবং তারা পরিচয় দানকারী ও পার্থক্যকারী। আল্লাহ দুনিয়াতে তাদের যেভাবে ইচ্ছা পরীক্ষা করেন। এরপর তিনি তাদের মৃত্যু দান করেন, ফলে তারা পুনরায় সেই বরজখে ফিরে যায় যেখানে মিরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার আসমানে তাদের দেখেছিলেন। আদমের ডানে ছিল সৌভাগ্যবানদের রূহ এবং বামে ছিল দুর্ভাগাদের রূহ। আর তা জড়পদার্থের শেষ সীমানায়। তবে নবী ও শহীদদের রূহসমূহ দ্রুত জান্নাতে পৌঁছে যায়। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হুবহু আমাদের এই বক্তব্যের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং তিনি বলেছেন: আলেমগণ এর ওপর ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। ইবনে হাযম বলেন: এটি সকল মুসলিমের অভিমত (২)।

তবে ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) এ সমস্ত কিছু প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর উস্তাদ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যে মত গ্রহণ করেছিলেন, তিনিও সেই মতের দিকে গিয়েছেন। তিনি তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "আহকামু আহলিয যিম্মাহ"-তে বলেছেন: (যারা বলেন যে, রূহসমূহ দেহের পূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাদের কাছে আল্লাহর কিতাব বা তাঁর রাসুলের সুন্নাহর কোনো অকাট্য দলীল (نص) নেই। আর তাদের সর্বোচ্চ দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন আপনার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে..." এই আয়াত। অথচ এটি জানা কথা যে...

--------------------------------------------

(১) এটি আয়েশা (রা.) থেকে বুখারি বর্ণনা (رواه) করেছেন এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মুসলিম বর্ণনা (رواه) করেছেন।

(২) ইবনুল কায়্যিমের আর-রূহ: ৯১ - ৯২।
(খণ্ড: ১) সীমাউল মারআতি ফিল ইসলামি বাইনান নাফসি ওয়াস সূরহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
لا تدل على ذلك. وأما الأحاديث التي فيها أنه أخرجهم مثل الذر؛ فهذا هل هو أشباحهم أو أمثالهم؟ فيه قولان. وليس فيها صريح بأنها أرواحهم. والذي دل عليه القرآن والسنة والاعتبار أن الأرواح إنما خلقت مع الأجساد، أو بعدها. فإن الله سبحانه خلق جسد آدم قبل روحه، فلما سواه وأكمل خلقه نفخ فيه من روحه، فكان تعلق الروح به بعد خلق جسده. … وكذلك سنته سبحانه في خلق أولاده، كما دل عليه حديث عبد الله بن مسعود المتفق على صحته. قال: "سمعت رسول الله يقول: إن خلق أحدكم يجمع في بطن أمه أربعين يوما نطفة، ثم يكون علقة مثل ذلك، ثم يكون مضغة مثل ذلك، ثم ينفخ فيه الروح" (1). وقد غلط بعض الناس حيث ظن أن نفخ الروح إرسال الروح وبعثها إليه، وأنها كانت موجودة قبل ذلك، ونفخها تعلقها به. وليس ذلك مراد الحديث! بل إذا تكامل خلق الجنين أرسل الله إليه الملك، فنفخ فيه نفخة فتحدث الروح بتلك النفخة، فحينئذ حدثت له الروح بواسطة النفخة!) (2)

إلا أن المتحصل من ذلك كله، والذي عليه العمل في ورقتنا هذه؛ أنه لا خلاف بين المذهبين في أن النفس أو الروح مخلوقة، سواء كان ذلك قبل البدن أو بعده أو معه. وأنه لا يقول بقدمها إلا أصحاب المقالات الإلحادية. وأنها جوهر كينونة الإنسان، وأنها مفارقة للبدن. وأنها محل الوعي الإنساني. فالوجود البرزخي إذن؛ إنما هو وجود نفساني؛ لأن الجسم يأكله التراب، لكنه وجود عاقل واع. قال عز وجل: {حَتَّى إِذَا جَاء أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ} (المؤمنون:99 - 100)، وفي الحديث: عن أنس بن مالك (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ترك قتلى بدر ثلاثا. ثم أتاهم فقام عليهم فناداهم

--------------------------------------------

(1) هذا مختصر حديث متفق عليه

(2) أحكام أهل الذمة: 2/ 1058 - 1059.
এগুলো তা নির্দেশ করে না। আর সেই সব হাদিস যাতে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি তাদেরকে অণুর ন্যায় বের করেছেন; এটি কি তাদের অবয়ব নাকি প্রতিচ্ছবি? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। সেগুলোতে তারা যে রূহ ছিল এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। আর কুরআন, সুন্নাহ ও যুক্তিনির্ভর বিচার-বিশ্লেষণ যা নির্দেশ করে তা হলো, রূহসমূহ মূলত দেহের সাথেই সৃষ্টি করা হয়েছে অথবা তার পরে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আদম (আ.)-এর দেহ তাঁর রূহের পূর্বে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁকে সুঠাম করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টিকে পূর্ণতা দিয়েছেন, তখন তাঁর মধ্যে নিজের পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। ফলে তাঁর দেহের সৃষ্টির পরেই রূহের সংযোগ ঘটেছিল। … তদ্রূপ তাঁর সন্তানদের সৃষ্টির ক্ষেত্রেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সুন্নাহ বা নিয়ম একই, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিসটি নির্দেশ করে যার বিশুদ্ধতা (صحيح) সর্বসম্মত (متفق عليه)। তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন শুক্রাণু হিসেবে জমা থাকে, এরপর তা অনুরূপ সময়কাল রক্তপিণ্ড হয়ে থাকে, এরপর তা অনুরূপ সময়কাল গোশতপিণ্ড হয়ে থাকে, অতঃপর তাতে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়" (১)। কিছু লোক এখানে ভুল করেছে যখন তারা ধারণা করেছে যে, রূহ ফুঁকে দেওয়ার অর্থ হলো রূহকে প্রেরণ করা ও তথায় পাঠানো, এবং রূহ তার পূর্বেই বিদ্যমান ছিল আর ফুঁ দেওয়া মানে কেবল তার সাথে যুক্ত হওয়া। অথচ হাদিসের উদ্দেশ্য তা নয়! বরং যখন ভ্রূণের গঠন পূর্ণতা পায়, তখন আল্লাহ তার নিকট ফেরেশতা প্রেরণ করেন; অতঃপর তিনি তাতে ফুঁ দেন এবং সেই ফুঁ দেওয়ার মাধ্যমেই রূহ সৃষ্টি হয়। সুতরাং সেই মুহূর্তে ফুঁ দেওয়ার অসিলায় তাতে রূহ সৃষ্টি হয়!) (২)

তবে এই সবকিছুর সারসংক্ষেপ এবং আমাদের এই প্রবন্ধে যা অনুসৃত তা হলো; নফস বা রূহ যে মাখলুক বা সৃষ্ট—এ ব্যাপারে উভয় মাযহাবের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই, তা দেহের পূর্বে হোক বা পরে কিংবা সাথে। আর নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শের ধারক-বাহকরা ছাড়া অন্য কেউ এর অনাদিত্বের কথা বলে না। রূহ মানুষের অস্তিত্বের সারসত্তা এবং এটি দেহ থেকে পৃথক হতে পারে। এটিই মানুষের চেতনার আধার। সুতরাং বারযাখি জীবন মূলত আত্মিক অস্তিত্ব; কারণ দেহকে মাটি খেয়ে ফেলে, তবে সেটি একটি বুদ্ধিমান ও সচেতন অস্তিত্ব। মহান আল্লাহ বলেন: {অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, 'হে আমার রব! আমাকে পুনরায় (দুনিয়ায়) ফেরত পাঠান, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকাজ করতে পারি।' কখনই নয়, এটি তো একটি বাক্য যা সে বলবেই; আর তাদের সামনে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত এক অন্তরাল (বারযাখ) থাকবে} (আল-মুমিনুন: ৯৯-১০০)। আর হাদিসে এসেছে: আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে নিহতদের তিন দিন ফেলে রাখলেন। এরপর তাদের নিকট এসে দাঁড়ালেন এবং তাদের সম্বোধন করে ডাকলেন...

--------------------------------------------

(১) এটি একটি সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসের সংক্ষিপ্ত রূপ।

(২) আহকামু আহলিয যিম্মাহ: ২/ ১০৫৮ - ১০৫৯।