(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: -)
وسائل معالجة الفقر في العهد النبوي (أهل الصفة أنموذجا)   (ماجد بن مشعان الموقد)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: وسائل معالجة الفقر في العهد النبوي (أهل الصفة أنموذجا)

المؤلف: ماجد بن صالح بن مشعان الموقد

الناشر: رسالة ماجستير بالجامعة الإسلامية - كلية الشريعة - قسم الاقتصاد الإسلامي

المشرف: أ. د. عز الدين بن مالك الطيب محمد

العام: 1435 - 1436 هـ

عدد الصفحات: 136

مصدر الكتاب: إهداء من المؤلف للمكتبة الشاملة، جزاه الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للرسالة المطبوعة]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 صفر 1437

নবীযুগে দারিদ্র্য বিমোচনের উপায় (আহলুস সুফফাহ একটি দৃষ্টান্ত)   (মাজিদ বিন মাশআন আল-মুওয়াক্কিদ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

বই: নবীযুগে দারিদ্র্য বিমোচনের উপায় (আহলুস সুফফাহ একটি দৃষ্টান্ত)

লেখক: মাজিদ বিন সালেহ বিন মাশআন আল-মুওয়াক্কিদ

প্রকাশক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স থিসিস - শরীআহ অনুষদ - ইসলামী অর্থনীতি বিভাগ

তত্ত্বাবধায়ক: প্রফেসর ড. ইযযুদ্দীন বিন মালিক আত-তাইয়িব মুহাম্মাদ

বছর: ১৪৩৫ - ১৪৩৬ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৬

বইয়ের উৎস: মাকতাবাতুশ শামিলার প্রতি লেখকের পক্ষ থেকে উপহার, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত থিসিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ২)
وسائلُ معالجةِ الفقرِ في العهدِ النبويِّ (أهلُ الصُّفَّةِ أنموذجًا)

مشروعٌ بحثيٌّ لإكمال متطلَّبات الحُصولِ على درجة العالميَّة (الماجستير)

 

إعداد الطالب:

ماجد بن صالح بن مشعان الموقد

 

إشراف

الأستاذ الدكتور:

عز الدين بن مالك الطيب محمد

 

العام الجامعي 1435 ــ 1436 هـ
নবুওয়াতের যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের উপায়সমূহ (আহলুস সুফফাহ একটি দৃষ্টান্ত)

আলমিয়্যাহ (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের আবশ্যিক শর্তাবলি পূরণের লক্ষ্যে প্রণীত একটি গবেষণা প্রকল্প

 

ছাত্রের উপস্থাপনা:

মাজিদ বিন সালিহ বিন মাশআন আল-মুওয়াক্কিদ

 

তত্ত্বাবধান:

প্রফেসর ডক্টর:

ইজ্জুদ্দীন বিন মালিক আত-তইয়্যিব মুহাম্মাদ

 

শিক্ষাবর্ষ ১৪৩৫ ــ ১৪৩৬ হিজরি
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৫)
- د -

 

‌‌ملخَّص البَحث

هذا بحثٌ تَكميليٌّ معدٌّ لنَيْلِ دَرجة الماجستير في الاقتصادِ الإسلاميِّ للعام الدِّراسي 1435 هـ- 1436 هـ، وقد تقدَّم به الطَّالب ماجد بن صالح الموقد، وأشرف عليه فضيلةُ الأستاذ الدكتور عز الدين بن مالك الطيب محمد الأستاذ بقسم الاقتصاد الإسلامي بالجامعة الإسلامية.

عنوان البحث: وسائل معالجة الفقر في العهد النبوي (الصُّفَّة نموذجًا)، واحتوى على مقدِّمة، وفصل تمهيدي، وفصلين يندرج تحتَها عددٌ من المباحث والمطالب، وخاتمة، وتوصيات.

يُناقش البحث وسائلَ معالجة الفقر في العهد النبوي، وبالتطبيق على أحد أهمِّ هذه الوسائل، وهو نموذج أهل الصُّفَّة الذي تطلَّبتْه مرحلة ما بعد الهجرة من مكَّة إلى المدينة وما نتَج عن ذلك من أسباب أدَّت إلى الفقر، وجاء نموذج الصُّفَّة كأحد أهمِّ الحلول النبويَّة لمعالجته، وتظهر مشكلةُ البحث من خلال طرْح التساؤلات التالية:

أ- كيف تمَّت محاربةُ الفقر في العهد النبويِّ عبْرَ نموذج الصُّفَّة؟

ب- هل أثبت نموذجُ الصُّفَّة فعاليتَه في محاربةِ الفقر في العهد النبويِّ؟

ج- هل يُمكِن تطبيقُ نموذج الصُّفَّة في العصر الحاضر؟ وبأيِّ كيفيَّة ووسيلةٍ؟

ويقوم البحثُ- بعون الله وتوفيقه- على المنهجِ الوصفيِّ والتحليليِّ والاستنباطي، الذي يعتمد على دراسة نموذج أهل الصُّفَّة بِوَصْفِه كما كان في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، ومعرفة كيفيَّة مُعالَجَة النموذج للفقر، وتحليل مدى نجاحه وكفاءته؛ ليتمَّ الاستنباطُ عن مدى إمكانية التطبيقِ المُعاصِرِ له

وخلَص الباحثُ إلى نجاحِ نموذج أهل الصُّفَّة في تحقيق أهدافه، وتحقيقه لأهمِّ مقاصد الشريعة، وكفاءته الاقتصاديَّة والتوظيفية والتنظيمية، وتحقيقه لنموذجٍ فريدٍ للمعادلة الرياضية المتضمِّنة وجودَ علاقة طردية بين زيادة الموارد وتحقق الأهداف، بينما حقَّق نموذجُ أهل الصُّفَّة إمكانية تحقق معادلة طردية بين نقص الموارد وتحقق الأهداف، وإمكانية تطبيق
- দ -

 

গবেষণার সারসংক্ষেপ

এটি ১৪৩৫ হিজরি- ১৪৩৬ হিজরি শিক্ষাবর্ষের ইসলামি অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রস্তুতকৃত একটি পরিপূরক গবেষণা গ্রন্থ। এটি পেশ করেছেন ছাত্র মাজেদ বিন সালেহ আল-মাওকিদ এবং এটি তত্ত্বাবধান করেছেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক فضيلة الأستاذ الدكتور (সম্মানিত অধ্যাপক ডক্টর) ইজজুদ্দিন বিন মালিক আত-তাইয়িব মুহাম্মদ।

গবেষণার শিরোনাম: নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমসমূহ (সুফফা একটি মডেল হিসেবে), এবং এটি একটি ভূমিকা, একটি প্রাথমিক অধ্যায় এবং দুইটি মূল অধ্যায় নিয়ে গঠিত যার অধীনে বেশ কিছু পরিচ্ছেদ ও উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে; এছাড়া রয়েছে একটি উপসংহার ও সুপারিশমালা।

গবেষণায় নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যমকে বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়েছে, যা হলো 'আহলে সুফফা' মডেল। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত পরবর্তী পর্যায়ে এই মডেলটির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল এবং হিজরতের ফলে দারিদ্র্য সৃষ্টির যেসব কারণ তৈরি হয়েছিল, সুফফা মডেলটি ছিল তা সমাধানের অন্যতম প্রধান নববী সমাধান। গবেষণার মূল সমস্যাটি নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে ফুটে ওঠেছে:

অ- সুফফা মডেলের মাধ্যমে নববী যুগে কীভাবে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়েছিল?

আ- সুফফা মডেল কি নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পেরেছে?

ই- বর্তমান যুগে কি সুফফা মডেলটি প্রয়োগ করা সম্ভব? আর তা কোন পদ্ধতিতে বা উপায়ে?

আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিকে গবেষণাটি বর্ণনামূলক, বিশ্লেষণধর্মী এবং অবরোহী পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আহলে সুফফা মডেলটি যেমন ছিল তা বর্ণনার মাধ্যমে অধ্যয়ন করা, সেই মডেলটি কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করেছিল তা জানা এবং এর সাফল্য ও দক্ষতার মাত্রা বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে; যাতে বর্তমান সময়ে এর প্রয়োগযোগ্যতার সীমা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।

গবেষক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, আহলে সুফফা মডেলটি তার লক্ষ্য অর্জনে এবং শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যসমূহ পূরণে সফল হয়েছে। এটি এর অর্থনৈতিক, কর্মসংস্থানগত এবং সাংগঠনিক দক্ষতারও প্রমাণ দিয়েছে। এটি একটি গাণিতিক সমীকরণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে; যেখানে সাধারণ নিয়মে সম্পদ বৃদ্ধি ও লক্ষ্য অর্জনের মধ্যে একটি সমানুপাতিক সম্পর্ক থাকে, সেখানে আহলে সুফফা মডেল সম্পদের স্বল্পতা সত্ত্বেও লক্ষ্য অর্জনের মধ্যে একটি সমানুপাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করেছে এবং এর প্রয়োগযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৬)
- هـ -

 

النموذج في العصر الحاضر وممَّا أوصى به الباحث:

‌‌1. ضرورة التأصيل العلمي لمناهج الاقتصاد الإسلامي بالرجوع للقرآن الكريم والهدي النبوي.

‌‌2. القيام بالمزيد من الأبحاث التطبيقية الاقتصادية للعهد النبوي.

‌‌3. ربط الدراسات الاقتصادية بالعقيدة الإسلامية الصحيحة.

‌‌4. أن تتضمَّن بحوث قياس الكفاءة الاقتصادية معايير النجاح الأخروي وما يحقِّقُه الفرد لدينه ووطنه وأمَّته.

‌‌5. إعداد دراسات تتعلَّق بمدى تحقق العلاقة الطردية بين نقص الموارد وتحقيق الأهداف.

‌‌6. حث الدعاة وطلبة العلم توضيح الفرق بين التصوف وأهل الصُّفَّة.

‌‌7. إعداد دراسات تطبيقية للوسائل الأخرى لمعالجة الفقر في العهد النبوي وكيفيَّة تطبيقها في العصر الحاضر.

‌‌8. التوصية بتطبيق النموذج في المساجد بشكل مباشر وإعداد دراسات أخرى عن إمكانية تطبيق النموذج في معسكرات اللاجئين والسجون والأسواق المركزية وتهيئتها للتطبيق أسوة بالنموذج.

‌‌9. دراسة واستخلاص النظريات الاقتصادية من أقول الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم.

‌‌10. دراسة واستخلاص النظريات الاقتصادية للصحابة رضوان الله عليهم، كونها نتاج تربية وتنمية فكرية رعاها الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم.
- হ -

 

বর্তমান যুগে এই মডেল এবং গবেষক যা সুপারিশ করেছেন:

‌‌১. কুরআনুল কারীম এবং নববী হিদায়াতের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ইসলামী অর্থনীতির পদ্ধতিসমূহের ইলমী বা তাত্ত্বিক ভিত্তি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা।

‌‌২. নববী যুগের ওপর আরও বেশি প্রায়োগিক অর্থনৈতিক গবেষণা পরিচালনা করা।

‌‌৩. অর্থনৈতিক অধ্যয়নসমূহকে সঠিক ইসলামী আকীদার সাথে সম্পৃক্ত করা।

‌‌৪. অর্থনৈতিক দক্ষতা পরিমাপের গবেষণাসমূহে পরকালীন সফলতার মানদণ্ড এবং একজন ব্যক্তি তার দ্বীন, দেশ ও জাতির জন্য যা অর্জন করে, তা অন্তর্ভুক্ত করা।

‌‌৫. সম্পদের স্বল্পতা এবং লক্ষ্য অর্জনের মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের কার্যকারিতার পরিধি সংক্রান্ত গবেষণা প্রস্তুত করা।

‌‌৬. দাঈ এবং ইলম অন্বেষণকারীদের তাসাউফ এবং আহলে সুফফাহ-এর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করার জন্য উৎসাহিত করা।

‌‌৭. নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যান্য উপায়সমূহ এবং বর্তমান যুগে সেগুলো প্রয়োগের পদ্ধতির ওপর প্রায়োগিক গবেষণা প্রস্তুত করা।

‌‌৮. মসজিদসমূহে সরাসরি এই মডেল প্রয়োগের সুপারিশ এবং শরণার্থী শিবির, কারাগার ও কেন্দ্রীয় বাজারগুলোতে এই মডেল প্রয়োগের সম্ভাব্যতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রস্তুত করা এবং এই মডেলের অনুসরণে সেগুলো প্রয়োগের উপযোগী করে গড়ে তোলা।

‌‌৯. সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীসমূহ থেকে অর্থনৈতিক তত্ত্বসমূহ অধ্যয়ন ও আহরণ করা।

‌‌১০. সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) অর্থনৈতিক তত্ত্বসমূহ অধ্যয়ন ও আহরণ করা, যেহেতু তা ছিল সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ফল।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৭)
- و -

 

‌‌إهداء

إلى والديَّ أطال الله في عمرهما على طاعته

وإلى زوجتي وأولادي

الذين تحمَّلوا تقصيري في حقِّهم طيلةَ أيام الدِّراسة والبحث

إلى إخوتي وأخواتي

إلى مشايخي

إلى أقاربي

إلى زُملائي

إلى كل مسلم ومسلمة

وإلى كلِّ مَن ساعدني في إنجاز هذا البحث

أُهدي هذا الجهدَ المتواضِع
- ও -

 

‌‌উৎসর্গ

আমার পিতামাতার প্রতি, আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের ওপর তাঁদের দীর্ঘায়ু দান করুন

এবং আমার স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি

যারা অধ্যয়ন ও গবেষণার দিনগুলোতে তাদের অধিকারের ক্ষেত্রে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি সহ্য করেছেন

আমার ভাই ও বোনদের প্রতি

আমার শায়খদের প্রতি

আমার আত্মীয়স্বজনের প্রতি

আমার সহকর্মীদের প্রতি

প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও নারীর প্রতি

এবং এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে যারা আমাকে সাহায্য করেছেন তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি

আমি এই বিনম্র প্রচেষ্টাটি উৎসর্গ করছি
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৮)
- ز -

 

‌‌شكرٌ وتقديرٌ

إذا لم يكُن عونٌ من الله للفتَى … فأوَّلُ ما يجني عليه اجتهادُه

فالحمدُ لله العليم الكريم، والشُّكر والفضل والمنَّة له وحْدَه،

أحمده حمدًا وثناءً يليق بجلالِ وجهه وعظيم سُلطانه

والصَّلاة والسلام على خيرِ البريَّة نبينا محمَّد عليه أفضل الصلاة والسلام

والشُّكر بعدَ شُكر الله للجامعة الإسلامية وكلية الشريعة وقسم الإقتصاد الإسلامي

ورئيسه الشيخ الدكتور /مسلم الفزي، وللمشرِف على هذا البحث

الدكتور الفاضل/ عز الدين بن مالك الطيب محمد

أستاذ الاقتِصاد الإسلامي في كليَّة الشريعة بالجامعة الإسلاميَّة

والشُّكر موصولٌ لأعضاء لجنة المناقشة الموقَّرين

أسال اللهَ الكريم أن يحفظَهم ويُديم عليهم الصحةَ والعافية، وأن يبارك في عمرِهم وعملِهم

والشُّكر والتقديرُ موصولٌ لكل مَن أسهم في إنجاز هذا البحثِ بأيِّ إسهام كان

فجزَى اللهُ الجميعَ خيرَ الجزاء.
- জ -

 

‌‌কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি

যদি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যুবকের জন্য কোনো সাহায্য না থাকে … তবে তার নিজস্ব প্রচেষ্টাই তার ক্ষতির প্রথম কারণ হয়ে দাঁড়ায়

সকল প্রশংসা মহাজ্ঞানী ও পরম দয়ালু আল্লাহর জন্য; এবং সকল কৃতজ্ঞতা, অনুগ্রহ ও দান কেবল তাঁরই প্রাপ্য,

আমি তাঁর এমন প্রশংসা ও গুণকীর্তন করছি যা তাঁর চেহারার মহিমা এবং তাঁর মহান রাজত্বের উপযুক্ত

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর, যাঁর ওপর সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক

আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের পর, কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, শরিয়াহ অনুষদ এবং ইসলামি অর্থনীতি বিভাগকে

এবং এর বিভাগীয় প্রধান শেখ ডক্টর মুসলিম আল-ফাযযী এবং এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ককে

শ্রদ্ধেয় ডক্টর ইযযুদ্দীন বিন মালিক আত-তাইয়িব মুহাম্মাদ

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়স্থ শরিয়াহ অনুষদের ইসলামি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক

শ্রদ্ধেয় প্রতিরক্ষা কমিটির সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদেরকে হিফাযত করেন, তাঁদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা দীর্ঘায়িত করেন এবং তাঁদের হায়াত ও আমলে বরকত দান করেন

আরও কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জানাচ্ছি তাঁদের প্রতি, যাঁরা এই গবেষণা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যে কোনোভাবে অবদান রেখেছেন

আল্লাহ সবাইকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৯)
- حـ -

 

‌‌المقدِّمة

الحمدُ لله ربِّ العالَمين، والعاقبةُ للمتَّقين، ولا عُدوانَ إلَّا على الظالمين، وأشهد أنْ لا إله إلَّا الله، وحْده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدًا عبدُه ورسوله، صلَّى الله عليه وآله وصحبه وسلَّم.

وبعدُ فيُعاني المجتمعُ العالميُّ من مشكلةِ الفقر، ويُحاول جاهدًا البحثَ عن حلول جادَّة للقضاء عليه أو التقليل من آثارِه، كما أنَّ الإحصائيات الرسميَّة للمنظَّمات الدوليَّة تُنذر بوقوعِ كارثةٍ إنسانيَّة جرَّاءَ النموِّ المطَّرد لأعداد الفُقراء في العالم، وفي خِضَمِّ هذا البحث كان لزامًا علينا- كمُسلمين- أنْ نبحثَ عن هذه الحلول في التراث الإسلاميِّ العظيم، وفي هَدْي الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم، الذي أقام في صدْر الإسلام دولةً متطوِّرة مكتملةَ الأركان، وكان من أهمِّ الأُسس الاقتصادية التي أقامها محاربةُ الفقر عبْرَ نماذجَ عِدَّة؛ منها: (المؤاخاة، والتوزيع العادِل للثروة، ونموذج الصُّفَّة محلُّ بحثنا هذا)، ونماذج أخرى كثيرة اتَّسمتْ بالطَّابع الاقتصادي الإسلامي، ممَّا يَفرِض علينا الغوصَ في أعماقِ هذا الفِكر الاقتصاديِّ المتقدِّم.

ولَمَّا كان لزامًا عليَّ البحثُ عن موضوع لإكمالِ مُتطلَّبات الحصولِ على درجة العالميَّة في قِسم الاقتصاد الإسلامي، وبعد البحث في النموذج الاقتصاديِّ الإسلامي الأصيل، وبعدَ استشارة مشايخي وأساتذتي؛ وقَع اختياري على موضوع أسميتُه:

«وسائِل مُعالَجة الفقرِ في العهدِ النبويِّ (الصُّفَّة نموذجًا)»

كإحدى وسائل مُحاربةِ الفقر؛ لدِراسته من جميع جوانبِه، وتقييمه، ومعرفة إمكانية تطبيقه في العصرِ الحاضر وَفقَ التقسيم المشار له أدناه.

 

‌‌الأهميَّة العِلميَّة للموضوع:

يُسهِمُ البحث الحالي في:

‌‌1 - إبراز الفِكر الاقتصاديِّ الإسلاميِّ، وقُدرته على حلِّ المشاكِل الاقتصادية وتحليلها.
- হ -

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য, আর জালিম ব্যতীত কারো ওপর কোনো শত্রুতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর, বিশ্ব সমাজ আজ দারিদ্র্য সমস্যার সম্মুখীন এবং এটি নির্মূল করতে অথবা এর প্রভাব হ্রাস করতে গুরুত্বের সাথে সমাধান খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দাপ্তরিক পরিসংখ্যানসমূহ বিশ্বজুড়ে দরিদ্র মানুষের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার ফলে এক মানবিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে। আর এই অনুসন্ধানের মাঝেই মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আমরা আমাদের মহান ইসলামি ঐতিহ্য এবং প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়াতের মাঝে এই সমাধানগুলো খুঁজে বের করি; যিনি ইসলামের সূচনালগ্নে একটি উন্নত ও পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি যে সকল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিভিন্ন নমুনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন; যেমন: (মুআখাত বা ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং সুফফাহ-র নমুনা, যা আমাদের এই গবেষণার মূল বিষয়)। এ ছাড়াও আরও বহু নমুনা রয়েছে যা ইসলামি অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল, যা আমাদের এই অগ্রগামী অর্থনৈতিক চিন্তাধারার গভীরে অবগাহন করতে বাধ্য করে।

যেহেতু ইসলামি অর্থনীতি বিভাগে আলমিয়্যাহ (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজনীয় শর্তাদি পূরণের লক্ষ্যে আমাকে একটি বিষয় অনুসন্ধান করতে হতো, তাই মৌলিক ইসলামি অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে গবেষণা এবং আমার শায়খ ও উস্তাদদের সাথে পরামর্শ করার পর আমি একটি বিষয় নির্বাচন করেছি যার নামকরণ করেছি:

«নবীযুগে দারিদ্র্য বিমোচনের উপায়সমূহ (মডেল হিসেবে ‘সুফফাহ’)»

দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম একটি মাধ্যম হিসেবে এর সকল দিক নিয়ে গবেষণা, মূল্যায়ন এবং নিচে উল্লিখিত বিন্যাস অনুযায়ী বর্তমান যুগে এর প্রয়োগযোগ্যতা যাচাই করার জন্য আমি এটি নির্বাচন করেছি।

 

‌‌বিষয়ের তাত্ত্বিক গুরুত্ব:

বর্তমান গবেষণাটি নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে অবদান রাখবে:

‌‌১ - ইসলামি অর্থনৈতিক চিন্তাধারা এবং অর্থনৈতিক সমস্যা বিশ্লেষণ ও সমাধানে এর সক্ষমতাকে ফুটিয়ে তোলা।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১০)
- ط -

 

‌‌2 - مَعرِفة طُرُق محاربةِ الفقر في العهد النبويِّ.

‌‌3 - إمكانية التطبيق المعاصِر لهذه الطُّرُق؛ ومنها: نموذج أهل الصُّفَّة.

أسبابُ اختيارِ الموضوع:

‌‌1 - العملُ على إبرازِ مزايا الفِكر الاقتصاديِّ النبويِّ، وإظهارها للمجتمع.

‌‌2 - انصراف الاقتصاديِّين في بُحوثهم إلى النظريات الاقتصاديَّة الحديثة، دون الاتِّجاهِ إلى ما في الإسلامِ من حلول.

‌‌3 - زيادة عددِ الفقراء في العالَم. (1)

 

‌‌الدراسات السابقة:

‌‌1 - أصحاب الصُّفَّة: أبو تراب الظاهري، دار القبلة للثقافة الإسلامية، جدة، اقتصر المؤلف رحمه الله على تعداد أسماء أهل الصفة فقط.

‌‌2 - رجحان الكفَّة في بيان نُبذة من أخبار أهل الصُّفَّة: الحافظ محمد بن عبدالرحمن السخاوي، تحقيق: مشهور بن حسن آل سلمان، وأحمد الشقيرات، دار السلف، الرياض، الطبعة الأولى 1415 هـ، تضمن أخبار أهل الصُّفَّة إلا إنها لم تكن ذات طابع اقتصادي.

‌‌3 - أهل الصُّفَّة ودورهم في انتشار الإسلام: تنيضب الفايدي، مكتبة المغامسي، المدينة، 1435 هـ، تضمن شرح لأدوار أهل الصُّفَّة في نشر الاسلام وترجمة لعدد كبير منهم.

‌‌4 - أهل الصُّفَّة بعيدًا عن الوَهْم والخيال؛ صالح احمد الشامي، دار القلم، دمشق 1412 هـ، (ص: 59)، تضمن نقض الاوهام والأخبار غير الصحيحة عن أهل الصُّفَّة وشرح لبعض أحوالهم.

--------------------------------------------

(1) تشير إحصائية منظمة الامم المتحدة المنشورة على موقع المنظمة على شبكة الإنرنت على الرابط http://www.un.org/ar/zerohunger/#&panel 1 - 1 بأن عدد الجياع في العالم يقارب 800 مليون وقد أنشئء على الموقع قسم خاص للقضاء على الجوع بعنوان (تحدي القضاء على الجوع) باعتباره أحد أهداف المنظمة للألفية الحالية
- ত্বা -

 

‌‌২ - নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ।

‌‌৩ - এই পদ্ধতিগুলোর সমকালীন প্রয়োগের সম্ভাবনা; যার মধ্যে রয়েছে: আহলে সুফফার মডেল।

বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ:

‌‌১ - নববী অর্থনৈতিক চিন্তাধারার বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটিয়ে তোলা এবং সমাজের সামনে তা প্রকাশ করার লক্ষ্যে কাজ করা।

‌‌২ - অর্থনীতিবিদদের তাদের গবেষণায় আধুনিক অর্থনৈতিক তত্ত্বগুলোর দিকে মনোনিবেশ করা এবং ইসলামের সমাধানগুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ না করা।

‌‌৩ - বিশ্বে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া। (১)

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

‌‌১ - আসহাবে সুফফা: আবু তুরাব আল-জাহেরি, দারুল কিবলাহ লিল সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, জেদ্দা; লেখক (রহিমাহুল্লাহ) কেবল আহলে সুফফার নামসমূহ গণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

‌‌২ - রুজহানুল কাফফাহ ফি বায়ানি নুবযাতিম মিন আখবারি আহলিস সুফফা: হাফেজ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাভী, সম্পাদনা: মাশহুর বিন হাসান আল সালমান এবং আহমদ আল-শুকাইরাত, দারুস সালাফ, রিয়াদ, প্রথম প্রকাশ ১৪১৫ হিজরি; এটি আহলে সুফফার ঘটনাবলি অন্তর্ভুক্ত করলেও তা অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ছিল না।

‌‌৩ - আহলে সুফফা ওয়া দাওরুহুম ফি ইনতিশারিল ইসলাম: তানিদ্বাব আল-ফায়েদি, মাকতাবাতুল মুগামিসি, মদিনা, ১৪৩৫ হিজরি; এতে ইসলাম প্রচারে আহলে সুফফার ভূমিকার ব্যাখ্যা এবং তাদের একটি বড় অংশের জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‌‌৪ - আহলে সুফফা বা'ইদান আনিল ওয়াহমি ওয়াল খিয়াল: সালেহ আহমদ আল-শামি, দারুল কলাম, দামেস্ক ১৪১২ হিজরি, (পৃষ্ঠা: ৫৯); এতে আহলে সুফফা সম্পর্কে অমূলক ধারণা ও ভিত্তিহীন সংবাদসমূহের খণ্ডন এবং তাদের কিছু অবস্থার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যান (লিঙ্ক: http://www.un.org/ar/zerohunger/#&panel 1 - 1) নির্দেশ করে যে, বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮০ কোটি। বর্তমান সহস্রাব্দের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ক্ষুধা নির্মূলের জন্য ওয়েবসাইটে 'ক্ষুধা নির্মূলের চ্যালেঞ্জ' শিরোনামে একটি বিশেষ বিভাগ খোলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১১)
- ي -

 

5 ـ الصُّفة تاريخها- أصحابها، دراسة تاريخية توثيقية، محمود محمد حمو، بحث منشور في مجلة مركز بحوث ودراسات المدينة المنورة-العدد (29)، وهي دراسة متميزة جداً عن أهل الصُّفَّة وقد كانت مرجعاً هاماً لهذا البحث وساعدت الباحث في الوصول للمراجع الأخرى لا سيما في تراجم أهل الصفة وتعريفها ومكانها وتاريخها، وتختلف عن بحثنا هذا بكونها ليست دراسة إقتصادية متخصصة ولم تتضمن جميع المصادر الاقتصادية لأهل الصُّفَّة إضافة إلى عدم تطرقها لتقويم نموذج أهل الصُّفَّة من الناحية الاإقتصادية.

كما يوجد دراسات أخرى قديمة وحديثة تناولت أهل الصُّفَّة إلا أننا لم نجد من خلال بحثنا أي دراسة إقتصادية متخصصة لأهل الصُّفَّة، بينما ستختصُّ هذه الدراسة بالجانبِ الاقتصاديِّ للموضوع بعون الله وتوفيقه.

وتتحدد المشكلة في محاولة الإجابة عن التساؤلات التالية:

‌‌1 - كيف تَمَّتْ مُحاربة الفقر في العهد النبوي عبر نموذج الصُّفَّة؟

‌‌2 - هل أثبت نموذج الصُّفَّة فعاليته في محاربة الفقر في العهد النبوي؟

‌‌3 - هل يمكن تطبيق نموذج الصُّفَّة في العصر الحاضر؟ وبأي كيفيَّةٍ ووسيلةٍ؟

 

‌‌حدود البحث:

الحدود الزمانية: دراسة نموذج أهل الصُّفَّة في العهد النبوي.

الحدود المكانية: دراسة الحالة الاقتصادية للمسلمين بعد الهجرة في المدينة المنورة وخصوصاً أهل الصُّفَّة منهم.

 

‌‌أهداف الدراسة:

‌‌1 - الكَشْف عن محاسن الاقتصاد الإسلامي، وصلاحيته للتطبيق في كل زمان ومكان.
- ই -

 

৫ ـ আস-সুফফাহ: এর ইতিহাস ও অধিবাসীগণ—একটি ঐতিহাসিক ও দালিলিক অধ্যয়ন, মাহমুদ মুহাম্মাদ হাম্মু, মদিনা মুনাওয়ারা গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধ—সংখ্যা (২৯)। এটি আহলে সুফফাহ সম্পর্কে একটি অত্যন্ত চমৎকার অধ্যয়ন এবং এই গবেষণার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করেছে। এটি গবেষককে অন্যান্য উৎসগুলোতে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে, বিশেষ করে আহলে সুফফাহর জীবনী, সংজ্ঞা, স্থান ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে। তবে এটি আমাদের বর্তমান গবেষণা থেকে ভিন্ন, কারণ এটি কোনো বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অধ্যয়ন নয় এবং এতে আহলে সুফফাহর সমস্ত অর্থনৈতিক উৎসসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তদুপরি, এতে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আহলে সুফফাহর মডেলটির মূল্যায়নের বিষয়েও কোনো আলোচনা করা হয়নি।

এ ছাড়াও আরও অনেক প্রাচীন ও আধুনিক অধ্যয়ন রয়েছে যেগুলোতে আহলে সুফফাহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তবে আমরা আমাদের গবেষণার মাধ্যমে আহলে সুফফাহর ওপর বিশেষায়িত কোনো অর্থনৈতিক অধ্যয়ন খুঁজে পাইনি। অন্যদিকে, এই অধ্যয়নটি আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিকে এই বিষয়ের অর্থনৈতিক দিকটির প্রতি বিশেষভাবে নিবদ্ধ থাকবে।

গবেষণার সমস্যাটি নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার প্রচেষ্টার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে:

‌‌১ - নববী যুগে সুফফাহ মডেলের মাধ্যমে কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করা হয়েছিল?

‌‌২ - সুফফাহ মডেল কি নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পেরেছিল?

‌‌৩ - বর্তমান যুগে কি সুফফাহ মডেল প্রয়োগ করা সম্ভব? এবং তা কোন পদ্ধতিতে ও উপায়ে হতে পারে?

 

‌‌গবেষণার পরিধি:

কালগত পরিধি: নববী যুগে আহলে সুফফাহ মডেলের অধ্যয়ন।

স্থানগত পরিধি: হিজরতের পর মদিনা মুনাওয়ারায় মুসলিমদের, বিশেষ করে আহলে সুফফাহর অর্থনৈতিক অবস্থার অধ্যয়ন।

 

‌‌গবেষণার লক্ষ্যসমূহ:

‌‌১ - ইসলামি অর্থনীতির সৌন্দর্যসমূহ উন্মোচন করা এবং সকল কাল ও পাত্রে এর প্রয়োগযোগ্যতা তুলে ধরা।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১২)
- ك -

 

‌‌2 - الكَشْف عن نموذج الصُّفَّة كأحد الحُلول لمُحارَبة الفَقْر في العَهْد النبَوي، ودراسته بشكل متعمِّقٍ.

‌‌3 - معرفة إمكانية التطبيق المعاصر لنموذج الصُّفَّة، كأحد وسائل مُحارَبة الفقرِ.

خطة البحث:

تتكوَّن خُطة البحث مِن: مقدمة، وتمهيد، وثلاثة فصول، وخاتمة، وفهارس، وذلك على النحو التالي:

المقدمة: وتشتمل على الافتِتاحِيَّة، والأهمية العِلْمِيَّة للموضوع، وأسباب اختيار الموضوع، والدِّراسات السابقة، ومشكلة البحث، وحُدود البحث، وأهداف البحث، وخُطَّة البحث، ومنهج البحث.

الفصل التمهيدي: في شرح مفردات العنوان (الفقر، وسائل معالجته في العَهْد النبَوي، أهل الصُّفَّة):

المبحث الأول: حالة الفقر في العَهْد النبَوي، وفيه ثلاثةُ مَطالب:

المَطْلَب الأولُ: مَاهِيَّة الفقر في الإسلام.

المَطْلَب الثاني: أسباب الفقر في العَهْد النبَوي.

المَطْلَب الثالث: الحالة الاقتِصاديَّة للمسلمين في المجتمع المَدَني.

المبحث الثاني: وسائل مُعالَجَة الفقر في العَهْد النبَوي، وفيه ستةُ مَطالب:

المَطْلَب الأول: المُؤاخاة.

المَطْلَب الثاني: الزَّكاة.

المَطْلَب الثالث: الحَثُّ على الصدقة والتبَرُّع.
- ক -

 

‌‌২ - নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম সমাধান হিসেবে সুফফাহর মডেল উন্মোচন এবং এটি নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করা।

‌‌৩ - দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে সুফফাহর মডেলের সমকালীন প্রয়োগযোগ্যতার সম্ভাবনা যাচাই করা।

গবেষণা পরিকল্পনা:

গবেষণা পরিকল্পনাটি ভূমিকা, উপক্রমনিকা, তিনটি অধ্যায়, উপসংহার এবং নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত, যা নিম্নরূপ:

ভূমিকা: এতে রয়েছে প্রারম্ভিকা, বিষয়ের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব, বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ, পূর্ববর্তী গবেষণা পর্যালোচনা, গবেষণার সমস্যা, গবেষণার পরিধি, গবেষণার উদ্দেশ্যসমূহ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণা পদ্ধতি।

প্রারম্ভিক অধ্যায়: শিরোনামের শব্দাবলির ব্যাখ্যা (দারিদ্র্য, নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমসমূহ, সুফফাহর অধিবাসী):

প্রথম পরিচ্ছেদ: নববী যুগে দারিদ্র্যের অবস্থা, এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: ইসলামে দারিদ্র্যের স্বরূপ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নববী যুগে দারিদ্র্যের কারণসমূহ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মদীনার সমাজে মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমসমূহ, এতে ছয়টি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: ভ্রাতৃত্ব বন্ধন (মুয়াখাত)।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: জাকাত।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: সদকা ও অনুদানে উৎসাহ প্রদান।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১৩)
- ل -

 

المَطْلَب الرابع: الحَثُّ على العمل.

المَطْلَب الخامس: الوقف.

المَطْلَب السادس: نموذج أهل الصُّفَّة.

المبحث الثالث: التعريف بنموذج الصُّفَّة، وفيه أربعةُ مَطالب:

المَطْلَب الأول: التعريف باسم الصُّفَّة.

المَطْلَب الثاني: تاريخ الصُّفَّة (بدايتها ونهايتها).

المَطْلَب الثالث: مكان الصُّفَّة.

المَطْلَب الرابع: أصحاب الصُّفَّة.

الفصل الأول: الموارد الاقتِصاديَّة لأهل الصُّفَّة، وفيه ثلاثةُ مَباحِث:

المبحث الأول: المصادر الذاتيَّة:

المَطْلَب الأول: العمل.

المَطْلَب الثاني: الغنائم.

المبحث الثاني: المَصادر الرسمية:

المَطْلَب الأول: مَصادر بيت المال.

المَطْلَب الثاني: الزَّكاة.

المبحث الثالث: المَصادر غير الرسميَّة.

المَطْلَب الأول: الصدَقات والهِبات.
- ল -

 

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কর্মে উৎসাহ প্রদান।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ওয়াকফ (উৎসর্গ)।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: আহলে সুফফার আদর্শ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুফফার আদর্শের পরিচিতি, এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ‘সুফফা’ নামের পরিচিতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুফফার ইতিহাস (সূচনা ও সমাপ্তি)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সুফফার স্থান।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আসহাবে সুফফা।

প্রথম অধ্যায়: আহলে সুফফার অর্থনৈতিক সম্পদসমূহ, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নিজস্ব উৎসসমূহ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কর্ম।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: গনিমত (রণলব্ধ সম্পদ)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দাপ্তরিক উৎসসমূহ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: বায়তুল মালের উৎসসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জাকাত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বেসরকারি উৎসসমূহ।

প্রথম অনুচ্ছেদ: সদকা ও উপহারসমূহ।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১৪)
- م -

 

المَطْلَب الثاني: الأوقاف.

الفصل الثاني: تقويم نموذج الصُّفَّة وإمكانية تطبيقه، وفيه مَبحثان:

المبحث الأول: تقويم كفاءة نموذج الصُّفَّة، وفيه ثلاثةُ مَطالب:

المَطْلَب الأول: الكَفاءَة الاقتِصاديَّة.

المَطْلَب الثاني: الكَفاءَة التَّوْظيفيَّة.

المَطْلَب الثالث: الكَفاءَة التنظيمية.

المبحث الثاني: إمكانية التطبيق المُعاصِر، وفيه ثلاثةُ مَطالب:

المَطْلَب الأول: المساجد.

المَطْلَب الثاني: مُعَسْكَرات اللَاّجئين.

الخاتمة: وفيها ذكرُ أهم النتائج والتوصيات.
- ম -

 

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ওয়াকফসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সুফফাহ মডেলের মূল্যায়ন এবং এর প্রয়োগযোগ্যতা, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুফফাহ মডেলের দক্ষতার মূল্যায়ন, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: অর্থনৈতিক দক্ষতা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কর্মসংস্থানমূলক দক্ষতা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সাংগঠনিক দক্ষতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সমকালীন প্রয়োগযোগ্যতা, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মসজিদসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শরণার্থী শিবিরসমূহ।

উপসংহার: এতে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১৫)
- ن -

 

الفهارس:

أولًا: فهرس الآيات القرآنيَّة.

ثانيًا: فهرس الأحاديث والآثار.

ثالثًا: قائمة المَصادر والمراجع.

رابعًا: فهرس الموضوعات.

 

‌‌منهج البحث:

أولًا: يقوم البحثُ- بعون الله وتوفيقه- على منهج دراسة الحالة والمنهج الاستنباطي، الذي يعتمد على دراسة نموذج أهل الصُّفَّة بِوَصْفِه كما كان في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم، ومعرفة كيفيَّة مُعالَجَة النموذج للفقر، وتحليل مدى نجاحه وكفاءته؛ ليتمَّ الاستنباطُ عن مدى إمكانية التطبيقِ المُعاصِرِ له.

 

ثانيًا: منهج التعليق والتهميش سيكون على النحو التالي:

• عزْوُ الآيات القرآنيَّة إلى سُوَرِها؛ بذِكْر اسم السورة، ورقْمِ الآية، مع كتابتها بالرَّسْم العُثماني.

• وضع الأحاديث الشريفة بين قوسين مزدوجين هكذا «…».

• تخريجُ الأحاديثِ الشريفةِ الواردة في البحث مِن كُتُب السُّنَّة، فإن كان في الصحيحين أو أحدهما فإني أكتفي بتخريجه منهما؛ بذِكْرِ الكتاب، والباب، ورقْم الحديث، والجزء والصفحة، وإن لم يكنْ فيهما اجتهدتُ بتخريجه من مَظَانِّه، مع ذِكْر كلام أهل العلم عليه صِحَّةً وضَعْفًا.

• ترجمة مختصرة للأعلام الذين تَرِدُ أسماؤهم في صُلْبِ البحث.
- ন -

 

সূচিপত্র:

প্রথমত: কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

দ্বিতীয়ত: হাদীস ও আছারের নির্ঘণ্ট।

তৃতীয়ত: উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা।

চতুর্থত: বিষয়সূচি।

 

‌‌গবেষণার পদ্ধতি:

প্রথমত: আল্লাহর সাহায্য ও তাওফীকে এই গবেষণাটি ‘কেস স্টাডি’ (সুনির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক গবেষণা) ও ‘অনুমানমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ (ডিডাক্টিভ) পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ‘আহলুস সুফফাহ’-এর নমুনা যেমন ছিল, সেই বর্ণনার ভিত্তিতে তা পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করে। এছাড়া এই মডেলটি কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করত তা নিরূপণ করে এবং এর সফলতার মাত্রা ও দক্ষতার বিশ্লেষণ করে; যাতে বর্তমান যুগে এর প্রয়োগযোগ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।

 

দ্বিতীয়ত: টীকা ও পাদটীকা প্রদানের পদ্ধতি নিম্নরূপ হবে:

• কুরআনের আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা; এক্ষেত্রে সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করার সাথে সাথে তা ওসমানী লিপিতে লেখা হবে।

• হাদীসসমূহকে এমন দ্বৈত বন্ধনীর «…» মধ্যে স্থাপন করা হবে।

• গবেষণায় উল্লেখিত হাদীসসমূহ সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে সূত্রায়ন (তাখরীজ) করা। যদি হাদীসটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা এ দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু তা উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত থাকব; এক্ষেত্রে কিতাব, অধ্যায়, হাদীস নম্বর, খণ্ড ও পৃষ্ঠা উল্লেখ করা হবে। আর যদি তা সহীহাইনে না থাকে, তবে আমি মূল উৎসসমূহ থেকে তা খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করব এবং হাদীসের বিশুদ্ধতা (সহীহ) ও দুর্বলতা (যঈফ) বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করব।

• গবেষণার মূল পাঠে যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নাম আসবে, তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১৬)
-س -

 

• توثيق نُصوص العلماء وآرائهم مِن كُتُبِهم مباشرةً.

• توثيق الإحْصائيَّات المُتَعَلِّقة بالمشروع، وعمل الجداول اللازمة، حسب ما تَقْتَضِيه طبيعةُ البحث.

• التعريف بالمُصْطَلَحات والكلمات الغريبة الورادة في البحث.

• الالْتِزامِ بعلامات الترقيم، وضبط ما يحتاج إلى ضبطٍ.

• ذِكْر خاتمة البحث.

• وَضْع الفهارس الفنِّيَّة اللازمة- كما في الخطة.

• وَضْع المَلاحق ذات العلاقة بالدراسة- إنْ وُجِدَتْ.
-প্রশ্ন -

 

• আলেমগণের উদ্ধৃতি এবং তাঁদের মতামত সরাসরি তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে যাচাই ও নথিভুক্ত করা।

• প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানসমূহ নথিভুক্ত করা এবং গবেষণার প্রকৃতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ছকসমূহ তৈরি করা।

• গবেষণায় উল্লিখিত পারিভাষিক এবং অপরিচিত শব্দসমূহের পরিচয় প্রদান করা।

• বিরামচিহ্নসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং যেখানে চিহ্ন বা হরকত প্রদান প্রয়োজন তা নিশ্চিত করা।

• গবেষণার উপসংহার উল্লেখ করা।

• পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্রসমূহ সংযোজন করা।

• গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো পরিশিষ্ট থাকলে তা যুক্ত করা।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: -)
وسائل معالجة الفقر في العهد النبوي (أهل الصفة أنموذجا)   (ماجد بن مشعان الموقد)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: وسائل معالجة الفقر في العهد النبوي (أهل الصفة أنموذجا)

المؤلف: ماجد بن صالح بن مشعان الموقد

الناشر: رسالة ماجستير بالجامعة الإسلامية - كلية الشريعة - قسم الاقتصاد الإسلامي

المشرف: أ. د. عز الدين بن مالك الطيب محمد

العام: 1435 - 1436 هـ

عدد الصفحات: 136

مصدر الكتاب: إهداء من المؤلف للمكتبة الشاملة، جزاه الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للرسالة المطبوعة]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 صفر 1437

নবুওয়াতী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের উপায়সমূহ (আহলে সুফফাহ একটি দৃষ্টান্ত)   (মাজিদ বিন মাশআন আল-মাওকাদ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

বই: নবুওয়াতী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের উপায়সমূহ (আহলে সুফফাহ একটি দৃষ্টান্ত)

লেখক: মাজিদ বিন সালেহ বিন মাশআন আল-মাওকাদ

প্রকাশক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স থিসিস - শরীআহ অনুষদ - ইসলামী অর্থনীতি বিভাগ

তত্ত্বাবধায়ক: প্রফেসর ড. ইজ্জুদ্দিন বিন মালিক আত-তৈয়্যিব মুহাম্মদ

বর্ষ: ১৪৩৫ - ১৪৩৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৬

বইয়ের উৎস: লেখকের পক্ষ থেকে আল-মাকতাবাতুশ শামেলার প্রতি উপহার, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত থিসিসের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الفصل التمهيدي: في شرح مفردات العنوان

(الفقر، وسائل معالجته في العَهْد النبَوي، أهل الصُّفَّة):

المبحث الأول: حالةُ الَفْقر في العَهْد النبَوي، وفيه ثلاثةُ مَطالب:

المَطْلَب الأول: مَاهِيَّةُ الفقر في الإسلام.

المَطْلَب الثاني: أسباب الفقر في العَهْد النبَوي.

المَطْلَب الثالث: الحالةُ الاقتِصاديَّة للمسلمين في المجتمع المَدَني.

المبحث الثاني: وسائل مُعالَجَة الفقر في العَهْد النبَوي، وفيه سِتَّةُ مَطالب:

المَطْلَب الأول: المُؤاخاة.

المَطْلَب الثاني: الزَّكاة.

المَطْلَب الثالث: الحَثُّ على الصدَقة والتبَرُّع.

المَطْلَب الرابع: الحَثُّ على العمل.

المَطْلَب الخامس: الوقف.

المَطْلَب السادس: نموذج أهل الصُّفَّة.

المبحث الثالث: التعريف بنموذج الصُّفَّة، وفيه أربعةُ مَطالب:

المَطْلَب الأول: التعريف باسم الصُّفَّة.

المَطْلَب الثاني: تاريخ الصُّفَّة (بدايتها ونهايتها).

المَطْلَب الثالث: مكان الصُّفَّة.

المَطْلَب الرابع: أصحاب الصُّفَّة.
প্রাথমিক পরিচ্ছেদ: শিরোনামের শব্দাবলির ব্যাখ্যায়

(দারিদ্র্য, নবুওয়াতের যুগে তার প্রতিকারের উপায়সমূহ, আসহাবে সুফফাহ):

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবুওয়াতের যুগে দারিদ্র্যের অবস্থা, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলামে দারিদ্র্যের স্বরূপ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবুওয়াতের যুগে দারিদ্র্যের কারণসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মাদানি সমাজে মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবুওয়াতের যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের উপায়সমূহ, এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ভ্রাতৃত্ব বন্ধন (মুআখাত)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জাকাত।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দান-সদকা ও অনুদানে উৎসাহ প্রদান।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কর্মে উৎসাহ প্রদান।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ওয়াকফ।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: আসহাবে সুফফাহর দৃষ্টান্ত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুফফাহর নমুনার পরিচিতি, এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: 'সুফফাহ' নামের পরিচিতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুফফাহর ইতিহাস (এর সূচনা ও সমাপ্তি)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সুফফাহর স্থান।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আসহাবে সুফফাহ।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المبحث الأول: حالةُ الَفْقر في العَهْد النبَوي

وفيه ثلاثةُ مَطالب:

 

‌‌المَطْلَب الأول: مَاهِيَّة الفقر في الإسلام

الفقيرُ هو: مَن ليس له مالٌ ولا كَسْبٌ لائق به، يقَع مَوْقِعًا مِن كفايته؛ مِن مَطْعَمٍ ومَشْرَبٍ، ومَلْبَسٍ ومَسْكَنٍ، وسائر ما لا بُدَّ منه لنفسه، وما تَلْزَمُه نَفَقَتُه مِن غير إسرافٍ ولا تَقْتيرٍ، كمَن يحتاج إلى عشرة ريالات كلَّ يوم، ولا يجد إلا أربعةً أو ثلاثةً أو ريالين، أما المسكينُ فقد اختلف العلماءُ في تعريفه على أقوالٍ، ومِن أشهرها: أنه الذي يَمْلِك قوت يومه، ولكن لا يَكْفِيه، وذَكَر بعضُهم أن المسكين والفقير بمعنًى واحدٍ، وهذا له حظٌّ مِنَ النظر لو ورَد لفْظُ المسكين في سياقٍ مُنفردًا عن الفقير، أما لو اجتمع لفظُ المسكينِ والفقيرِ فلا بد من التفريق بينهما في المعنى، وقد اختلف العلماءُ حول الفقير والمسكين اختلافًا كثيرًا؛ فذهب أبو يوسف صاحبُ أبي حَنِيفَةَ، وابنُ القاسم مِن أصحاب مالك إلى أنهما صِنْفٌ واحدٌ، وخالَفَهما الجمهورُ (1).

وذَكَر الطَّبَرِيُّ في تفسيره أن المراد بالفقير: المحتاج المُتَعَفِّفُ عن المسألة، والمسكينُ: المحتاجُ السائل (2)؛ كما قال تعالى في شأن اليهود: {وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ} (3).

وذكَر "شيخي زَادَهْ" في كتابه مَجْمَع الأَنْهُر أنَّ الفقيرَ والمسكينَ عند الحَنَفِيَّة والشافِعِيَّة هو

--------------------------------------------

(1) حاشية الدُّسُوقي على الشرح الكبير؛ محمد بن أحمد بن عَرَفَة الدُّسُوقي المالكي، دار الفكر، (1/ 492).

‌‌(2) جامع البيان في تأويل القرآن؛ محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي، أبو جعفر الطبري، مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى 1420 هـ، (14/ 305).

‌‌(3) سورة البقرة: 61.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: নবীযুগে দারিদ্র্যের অবস্থা

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলামে দারিদ্র্যের স্বরূপ

ফকির হলেন তিনি: যার কোনো সম্পদ নেই এবং এমন কোনো উপযুক্ত উপার্জনও নেই যা তার প্রয়োজনের সংকুলান করতে পারে; যেমন আহার্য, পানীয়, পোশাক, বাসস্থান এবং নিজের জন্য অপরিহার্য অন্যান্য বিষয়াদি, আর যাদের ভরণপোষণ তার জিম্মায় রয়েছে—কোনো প্রকার অপব্যয় বা কৃপণতা ছাড়াই। উদাহরণস্বরূপ, যার প্রতিদিন দশ রিয়াল প্রয়োজন কিন্তু সে পায় মাত্র চার, তিন বা দুই রিয়াল। অন্যদিকে ‘মিসকিন’-এর সংজ্ঞার ব্যাপারে আলেমগণ বিভিন্ন মতে বিভক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হলো: মিসকিন হলেন তিনি যার কাছে একদিনের আহার আছে কিন্তু তা তার জন্য যথেষ্ট নয়। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, মিসকিন ও ফকির একই অর্থবোধক। এই মতটি তখন বিচার্য হতে পারে যখন ‘মিসকিন’ শব্দটি ‘ফকির’ শব্দ থেকে আলাদাভাবে এককভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যখন ফকির ও মিসকিন শব্দ দুটি একত্রে ব্যবহৃত হয়, তখন অবশ্যই তাদের অর্থের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। ফকির ও মিসকিন নিয়ে আলেমগণ প্রচুর মতভেদ করেছেন; ইমাম আবু হানিফার সঙ্গী আবু ইউসুফ এবং মালিকি ফকিহদের মধ্যে ইবনুল কাসিম মনে করেন যে তারা একই শ্রেণিভুক্ত, তবে জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমগণ তাদের বিরোধিতা করেছেন (১)।

তাবারী তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, ফকির বলতে সেই অভাবীকে বোঝানো হয়েছে যিনি যাচনা করা থেকে বিরত থাকেন এবং মিসকিন হলেন সেই অভাবী ব্যক্তি যিনি যাচনা করেন (২); যেমন মহান আল্লাহ ইহুদিদের প্রসঙ্গে বলেছেন: {এবং তাদের ওপর লাঞ্ছনা ও দীনতা (অভাব) চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে} (৩)।

"শাইখিজাদাহ" তাঁর ‘মাজমাউল আনহুর’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হানাফি ও শাফিঈদের নিকট ফকির ও মিসকিন হলেন

--------------------------------------------

(১) হাশিয়াতুদ দসুতি আলাশ শারহিল কাবির; মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আরাফাহ আদ-দসুতি আল-মালিকি, দারুল ফিকর, (১/ ৪৯২)।

‌‌(২) জামিউল বায়ান ফী তাওয়ীলিল কুরআন; মুহাম্মদ বিন জারির বিন ইয়াজিদ বিন কাসির বিন গালিব আল-আমুলি, আবু জাফর তাবারী, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, প্রথম সংস্করণ ১৪২০ হিজরি, (১৪/ ৩০৫)।

‌‌(৩) সূরা আল-বাকারাহ: ৬১।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৩)
مَن يَمْلِك شيئًا دون النِّصابِ الشرعيِّ في الزَّكاة (1).

والمِسْكين مَنْ قَدَر على مالٍ أو كَسْبٍ حلالٍ لائقٍ (يقَع موقعًا مِن كِفايته)، وكفايةِ مُمَوِّنِه مِن مَطْعَمٍ وغيرِه، (ولا يَكْفِيه)، كمَنْ يحتاج عشرةً فيجد سبعةً أو ثمانيةً، وإن ملَك نِصابًا أو أنصباء، ومِن ثَمَّ قال في الإحياء: قد يَمْلِك ألفًا وهو فقيرٌ! وقد لا يَمْلِك إلا فأسًا وحَبْلاً وهو غنيٌّ! ولا يَمْنَع المسكنةَ المَسْكَنُ، والمُعْتَمَدُ أنَّ المرادَ بالكفاية هنا كفايةُ العُمر الغالب، نظير ما يأتي في الإعطاء، وإن فَرَّقَ بينهما فلا يقال: يَلْزَم على ذلك أخْذُ أكثر الأغنياء بل الملوك مِن الزَّكاة! لأنَّا نقول: مَن معه مالٌ يَكْفيه رِبْحُه، أو عقارٌ يكفيه دَخْلُه- غَنِيٌّ، والأغنياءُ غالِبُهم كذلك فضلاً عن الملوك، فلا يلزم ما ذُكِرَ، وقد عُلِمَ مِن ذلك أن المِسْكينَ أحسنُ حالاً مِن الفقير، خِلافًا لِمَنْ عكَس، واحتجوا بقوله تعالى: {أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ} (2)؛ حيث سَمَّى مالكيها مَساكينَ؛ فدَلَّ على أن المِسْكينَ مَنْ يَمْلِك ما لا يكْفيه (3).

ولا يُخْرِجُ الفقيرَ أو المِسْكينَ عن فَقْرِه ومَسْكَنَتِه أن يكونَ له مَسْكَنٌ لائقٌ به، مُحتاجٌ إليه، ولا يُكلَّف بيعه لِيُنفقَ منه، ومَن له عَقارٌ يَنْقُص دَخْله عن كفايته فهو فقيرٌ أو مِسكينٌ، نعم لو كان نفيسًا بحيثُ لو باعه استطاع أن يشتريَ به ما يَكْفيه دَخْلَه- لَزِمَهُ بيعُه فيما يظهر، ومِثْل المسكنِ فإنِ اعتاد السكنَ بالأُجرة ومعه ثمنُ مسكنٍ، أو له مسكنٌ: هل يَخْرُج عن الفقر بما معه؟ أجاب في نهاية المحتاج بالإيجاب، وخالفَهُ غيرُه، وكذلك حُليّ المرأة اللائقِ بها، المحتاجة للتزيُّن به عادةً، لا يُخرجها عن الفقر والمسكنة، وكذا كُتُب العلم التي يحتاج إليها ولو نادرًا كمرَّةٍ في السنة، سواء أكانتْ كتبَ عِلْمٍ شرعيٍّ؛ كالفقه، والتفسير،

--------------------------------------------

(1) مجمع الأَنْهُر في شرح مُلْتَقَى الأبْحُر، عبد الرحمن بن محمد بن سليمان المدعو بشيخي زاده، يعرف بداماد أفندي (المتوفى: 1078 هـ)، دار إحياء التراث العربي، (1/ 220).

‌‌(2) الكهف: 79.

‌‌(3) نهاية المحتاج إلى شرح المنهاج، شمس الدين محمد بن أبي العباس أحمد بن حمزة شهاب الدين الرملي (المتوفى: 1004 هـ)، دار الفكر، بيروت، الطبعة 1404 هـ/1984 م، كتاب الصدقات (6/ 155).
যে ব্যক্তি যাকাতের শারয়ী নিসাব অপেক্ষা কম পরিমাণের মালিক (১)।

আর মিসকীন হলো সেই ব্যক্তি যে সম্পদ বা উপযুক্ত হালাল উপার্জনে সক্ষম (যা তার প্রয়োজনের কিছুটা মেটায়) এবং খাদ্য বা অন্যান্য বিষয়ে তার পোষ্যদের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম, (তবে তা পর্যাপ্ত নয়), যেমন যার দশ প্রয়োজন অথচ সে সাত বা আট পায়, যদিও সে নিসাব বা একাধিক নিসাবের মালিক হয়। এ কারণেই 'ইহয়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কখনও কেউ এক হাজারের মালিক হয়েও ফকীর হতে পারে! আবার কখনও কেউ কেবল একটি কুঠার ও একটি রশির মালিক হয়েও ধনী হতে পারে! আর বাসস্থান থাকা মিসকীন হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় নয়। নির্ভরযোগ্য মত হলো, এখানে 'পর্যাপ্ততা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল পর্যন্ত পর্যাপ্ত হওয়া, যেমনটি যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে সামনে আসবে। যদিও দুটির মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে, তবুও এমনটি বলা যাবে না যে: এর ফলে অধিকাংশ ধনী এমনকি রাজাদেরও যাকাত গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়বে! কারণ আমরা বলি: যার কাছে এমন সম্পদ রয়েছে যার মুনাফা তার জন্য যথেষ্ট, অথবা এমন স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে যার আয় তার জন্য যথেষ্ট, সে ধনী। আর রাজাদের কথা তো দূরে থাক, অধিকাংশ ধনীরাই তো এমন। সুতরাং উল্লেখিত বিষয়টি অবধারিত হয় না। এ থেকে জানা গেল যে, মিসকীনের অবস্থা ফকীরের চেয়ে ভালো, যারা এর বিপরীত মত পোষণ করেন তাদের বিপরীতে। তারা মহান আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: {নৌকাটির কথা যদি বলি, তা ছিল কয়েকজন মিসকীনের} (২); এখানে নৌকা মালিকদের 'মিসকীন' বলা হয়েছে; যা প্রমাণ করে যে, মিসকীন হলো সে-ই যে এমন কিছুর মালিক যা তার জন্য পর্যাপ্ত নয় (৩)।

আর ফকীর বা মিসকীনের যদি তার উপযোগী ও প্রয়োজনীয় একটি বাসস্থান থাকে, তবে তা তাকে ফকীর বা মিসকীন হওয়া থেকে বের করে দেয় না। তাকে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য করা হবে না। আর যার স্থাবর সম্পত্তি আছে কিন্তু তার আয় তার প্রয়োজনের তুলনায় কম, সে ফকীর বা মিসকীন। তবে হ্যাঁ, যদি তা অত্যন্ত মূল্যবান হয় এবং তা বিক্রি করে এমন কিছু ক্রয় করা সম্ভব হয় যার আয়ে তার প্রয়োজন পূরণ হবে, তবে প্রকাশ্য মত অনুযায়ী তা বিক্রি করা তার জন্য আবশ্যক। বাসস্থানের অনুরূপ হলো, যদি কেউ ভাড়ায় থাকায় অভ্যস্ত হয় এবং তার কাছে বাসস্থানের মূল্য থাকে অথবা তার একটি বাসস্থান থাকে: তবে তার নিকট যা আছে তা কি তাকে ফকীর হওয়া থেকে বের করে দেবে? 'নিহায়াতুল মুহতাজ' গ্রন্থে এর উত্তর হ্যাঁ-বোধক দেওয়া হয়েছে, তবে অন্যরা এর বিরোধিতা করেছেন। একইভাবে নারীর জন্য উপযোগী অলঙ্কার, যা তার স্বাভাবিক সাজসজ্জার জন্য প্রয়োজন, তা তাকে ফকীর বা মিসকীন হওয়া থেকে বের করে দেয় না। অনুরূপভাবে ইলমী কিতাবাদি যা তার প্রয়োজন হয়, যদিও তা কদাচিৎ বা বছরে একবারও হয়, চাই তা শারয়ী ইলমের কিতাব হোক যেমন ফিকহ ও তাফসীর,

--------------------------------------------

(১) মাজমাউল আনহুর ফী শারহি মুলতাকাল আবহুর, আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, যিনি শায়খী জাদা নামে পরিচিত এবং দামাদ আফেন্দি হিসেবে সমধিক খ্যাত (মৃত্যু: ১০৭৮ হিজরি), দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, (১/ ২২০)।

‌‌(২) আল-কাহাফ: ৭৯।

‌‌(৩) নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ, শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবিল আব্বাস আহমদ বিন হামজাহ শিহাবুদ্দীন আর-রামলি (মৃত্যু: ১০০৪ হিজরি), দারুল ফিকর, বৈরুত, সংস্করণ ১৪০৪ হিজরি/১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ, কিতাবুস সাদাকাত (৬/ ১৫৫)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৪)
والحديث، واللغة، والأدب، أو علمًا دنيويًّا نافعًا؛ كالطبِّ لِمَنْ كان مِن أهله، ونحو ذلك، وكذا آلاتُ الحِرْفة، وأدوات الصنعة، التي يحتاج إلى استعمالها في صَنْعتِه، كما لا يخرجه عن الفقر والمسكنة مالُه الذي لا يَقْدِر على الانتفاع به، كأن يكونَ في بلدٍ بعيدٍ، لا يتمكَّن مِن الحصول عليه. أو يكون حاضرًا ولكن حِيلَ بينه وبينه، كالذي تَحْجزه الحكوماتُ المُسْتَبِدَّةُ، أو تَضَعُه تحت الحراسة، وما شابه ذلك. ومثل ذلك دُيُونُه المُؤَجَّلة، لأنه الآن مُعْسرٌ، إلى أن يحلَّ الأَجَلُ (1).

 

‌‌المَطْلَب الثاني: أسباب الفقر في العَهْد النبَوي

إنَّ القارئ لكُتُب السِّيرة يعلم أنَّ الأنصارَ قدَّموا كلَّ ما يستطيعون لإخوانهم المهاجرين ومن ذلك مؤاخاتهم لهم في الأهل والمال، ولقد استمرَّ عطاؤعم طيلةَ حياة النبي صلى الله عليه وسلم، حتى جاء الخيرُ وعَمَّ في أواخرها، وشهد الله سبحانه بكرمهم وإيثارهم قال تعالى: {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (2).

ولقد أسهم القادرون من المهاجرين- مِن أمثال: أبي بكرٍ وعُمَر وعثمان وعبدالرحمن بن عوف- وبَذَلُوا، وقدَّموا الشيءَ الكثيرَ، مما هو مذْكورٌ في كُتُب السيرة، بل قد أسهم كلُّ قادرٍ حتى ولو كان الشيء الذي يُقَدِّمُه قليلاً؛ فكان النبيُّ صلى الله عليه وسلم عندما يَحُضُّ على الصدقة- كما يقول ابنُ مسعود-: ((ينطلق أحدُنا إلى السُّوق، فيحامل فيُصيب المدَّ …)) (3)، ثم يأتي ليتبَرَّع به (4).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (6/ 152).

‌‌(2) الحشر: 9.

‌‌(3) أخرجه ابن ماجه في سننه، بابُ مَعِيشَةِ أصحابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم (5/ 260) حديث (4155)، مسند أحمد (37/ 34) حديث (22346).

‌‌(4) أهل الصُّفَّة بعيدًا عن الوَهْم والخيال؛ صالح احمد الشامي، دار القلم، دمشق 1412 هـ، (ص: 59).
এবং হাদিস, ভাষা, সাহিত্য অথবা কোনো উপকারী পার্থিব জ্ঞান; যেমন পেশাজীবীদের জন্য চিকিৎসাবিদ্যা এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ। তদ্রূপ কোনো পেশার সরঞ্জাম ও কারিগরি উপকরণসমূহ, যা তার কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। ঠিক একইভাবে ওই সম্পদ কাউকে দারিদ্র্য ও অভাবগ্রস্ততা থেকে মুক্ত করে না, যা থেকে উপকৃত হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়; যেমন সম্পদটি কোনো দূর দেশে থাকা এবং তা হস্তগত করতে সক্ষম না হওয়া। অথবা সম্পদটি কাছেই আছে কিন্তু তার ও সম্পদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমন কোনো স্বৈরাচারী সরকার তা আটকে রেখেছে অথবা পাহারার অধীনে রেখেছে এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। অনুরূপভাবে তার পাওনা ঋণসমূহ যার পরিশোধের মেয়াদ এখনো আসেনি; কারণ মেয়াদ আসার পূর্ব পর্যন্ত বর্তমানে সে অসচ্ছল হিসেবেই গণ্য হবে (১)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী যুগে দারিদ্র্যের কারণসমূহ

নিশ্চয়ই সীরাত গ্রন্থসমূহের পাঠক মাত্রই জানেন যে, আনসারগণ তাঁদের মুহাজির ভাইদের জন্য তাঁদের সামর্থ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছিলেন। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল পরিবার ও সম্পদের ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। তাঁদের এই দানের ধারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমগ্র জীবনব্যাপী অব্যাহত ছিল, যতক্ষণ না তাঁর জীবনের শেষভাগে প্রাচুর্য আসে এবং তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁদের উদারতা ও আত্মত্যাগের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর যারা মুহাজিরদের আসার আগে এ ঘরে (মদিনায়) বসবাস করেছিল এবং ঈমান এনেছিল, তারা তাদের ভালোবাসে যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে। আর মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে, তার জন্য তারা অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না এবং তারা নিজেদের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়। আর যাদেরকে মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম} (২)।

মুহাজিরদের মধ্যে যারা সামর্থ্যবান ছিলেন—যেমন: আবু বকর, উমর, উসমান এবং আবদুর রহমান বিন আউফ—তাঁরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং অনেক বেশি ব্যয় ও উৎসর্গ করেছিলেন, যা সীরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত রয়েছে। বরং প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিই এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন, এমনকি তার দেওয়া বস্তুটি যদি সামান্যও হতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সদকার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন—যেমনটি ইবনে মাসউদ বলেন—: ((আমাদের কেউ বাজারে যেতেন এবং বোঝা বহন করতেন, ফলে তিনি এক মুদ (শস্য) উপজাত হিসেবে লাভ করতেন...)) (৩), এরপর তিনি তা নিয়ে আসতেন দান করার জন্য (৪)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (৬/ ১৫২)।

‌‌(২) আল-হাশর: ৯।

‌‌(৩) ইবনে মাজাহ এটি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জীবন যাপন (৫/ ২৬০), হাদিস (৪১৫৫); মুসনাদে আহমাদ (৩৭/ ৩৪), হাদিস (২২৩৪৬)।

‌‌(৪) আহলুস সুফফাহ বাইদান আনিল ওয়াহমি ওয়াল খিয়াল; সালিহ আহমাদ আল-শামি, দারুল কলাম, দামেস্ক ১৪১২ হিজরি, (পৃষ্ঠা: ৫৯)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৫)
وعليه، فقد قدَّم كلُّ قادر على العطاء ما يستطيع، ولم يكن الضيقُ ناتجًا عن تقصيرٍ أو كسلٍ أو بُخْلٍ، وإنما هي ظروفٌ اقتَضَتْها طبيعةُ هذه المرحلة مِن حركة الدعوة (1)، ومِن ذلك ما أخرجه محمد بن سعد، عن مَخْرَمة بن سليمان الوالبي، أخبرني الأَعْرَج، عن أبي هريرة: «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يجوع، قلتُ لأبي هُرَيْرَة: وكيف ذلك الجوعُ؟ قال: «لكثرة مَنْ يَغْشاهُ وأضيافه، وقومٌ يَلْزَمُونه لذلك، فلا يأكل طعامًا أبدًا إلا ومعه أصحابُه، وأهلُ الحاجة يتتبَّعُون من المسجد، فلما فتح الله خَيْبَرَ اتسع الناسُ بعضَ الاتِّساع، وفي الأمر بعدُ ضيقٌ، والمعاشُ شديدٌ فهي بلادُ ظلَفٍ لا زرع فيها، إنما طعامُ أهلِها التمرُ، وعلى ذلك أقاموا، قال مَخْرَمَةُ بنُ سليمانَ: وكانت جَفْنَةُ (2) سعدٍ تَدُور على رسول الله صلى الله عليه وسلم منذ يوم نزل المدينة في الهجرة إلى يوم تُوُفِّي، وغيرُ سعد بن عُبادة من الأنصار يَفْعَلُونَ ذلك، فكان أصحابُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم كثيرًا يتواسون، ولكن الحقوق تَكْثُر، والقُدَّامُ للمدينة يَكْثُرون، والبلادُ ضيقةٌ، ليس فيها مَعاشٌ إنما تخرج ثَمرتُهم من ماءٍ ثمرٍ يحمِلُه الرجالُ على أكتافهم أو على الإبلُ،، وربما أصاب نَخْلَهم القُشامُ (3)،

فيُذهِبُ ثَمرتَهُم تلك السنة» (4).

فإنَّ هذا النصَّ لَيَصِفُ أسبابَ الشِّدَّة، ويؤكِّد عدم التقصير في البذْل والعطاء، ومن الأسباب ما يلي:

‌‌1 - أن المدينةَ بلد زراعيٌّ، وزراعتُه تقوم على النَّخيل بالدرجة الأولى، وإن المَزَارِعَ تُسقى بالماء الذي يَحْمِلُه الرجال على أكتافهم أو تَحْمِلُه الإبل، وهو أمرٌ صعبٌ؛ فليس هناك مِن أنهار

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، ص 59

‌‌(2) الجفنة قيل: بمعنى القصعة الكبيرة، وقيل وعاءٌ يصنع عادةً من الخزف ويستعمل للتبخير أَو لتسخين الموادّ، ونرجح بأنها وعاء يستعمل لحفظ الطعام والإبقاء على مادته وخصائصه أطول فترة ممكنة.

‌‌(3) القشام: قيل بمعنى الموت وقيل اليبس ونرجح بأنها: آفة تصيب البلح فتذهب به ..

‌‌(4) الطبقات الكبرى، أبو عبد الله محمد بن سعد بن منيع الهاشمي بالولاء، البصري البغدادي، المعروف بابن سعد (المتوفى: 230 هـ)، تحقيق (إحسان عباس)، دار صادر، بيروت، الطبعة الأولى، 1968 م، (1/ 409).
সেই অনুযায়ী, সামর্থ্যবান প্রত্যেকেই তাদের সাধ্যমতো দান করেছিলেন। এই অনটন কোনো অবহেলা, অলসতা বা কৃপণতা থেকে সৃষ্টি হয়নি, বরং এটি ছিল দাওয়াহ আন্দোলনের সেই পর্যায়ের পরিস্থিতির অনিবার্য দাবি (১)। মুহাম্মদ ইবনে সাদ, মাখরামা ইবনে সুলাইমান আল-ওয়ালিবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আরাজ থেকে, আর তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুধার্ত থাকতেন।" আমি আবু হুরায়রাকে জিজ্ঞাসা করলাম, সেই ক্ষুধা কেমন ছিল? তিনি বললেন: "তাঁর কাছে আসা মানুষের আধিক্য ও মেহমানদের কারণে, এবং একদল মানুষ এ কারণেই তাঁর সাথে লেগে থাকত। তিনি কখনোই তাঁর সাহাবীগণ ছাড়া খাবার খেতেন না। অভাবী লোকেরা মসজিদের দিক থেকে তাঁর অনুসরণ করত। যখন আল্লাহ খায়বার বিজয় দান করলেন, তখন মানুষের জন্য কিছুটা প্রশস্ততা এলো, তবে এরপরও কিছুটা অনটন ছিল এবং জীবনযাত্রা কঠিন ছিল। কারণ এটি ছিল অনুর্বর পাথুরে জমি যেখানে কোনো চাষাবাদ হতো না। সেখানকার মানুষের খাবার ছিল শুধু খেজুর এবং তারা এর ওপরই জীবন অতিবাহিত করত।" মাখরামা ইবনে সুলাইমান বলেন: সাদ ইবনে উবাদার পক্ষ থেকে খাবারের বড় পাত্র (২) হিজরতের পর মদিনায় পৌঁছানোর দিন থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসত। সাদ ইবনে উবাদা ছাড়া আনসারদের অন্যান্যরাও এটি করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ একে অপরের সাথে অনেক সহমর্মিতা প্রদর্শন করতেন, তবে দায়দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছিল এবং মদিনায় আগতদের সংখ্যাও বাড়ছিল। শহরটি ছিল সংকীর্ণ, সেখানে জীবনযাত্রার উপকরণ ছিল না। তাদের ফসল উৎপন্ন হতো কেবল সেই পানি থেকে যা পুরুষরা তাদের কাঁধে করে বা উটের পিঠে করে বয়ে নিয়ে আসত। কখনও কখনও তাদের খেজুর গাছে কুশাম (৩) নামক রোগ দেখা দিত,

ফলে সেই বছরের ফলন নষ্ট হয়ে যেত (৪)।

এই পাঠটি মদিনার কঠিন পরিস্থিতির কারণ বর্ণনা করে এবং দান ও ত্যাগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলার অনুপস্থিতি নিশ্চিত করে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌১ - মদিনা ছিল একটি কৃষিপ্রধান এলাকা, আর এর কৃষি প্রধানত খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বাগানগুলোতে পানি সেচ দেওয়া হতো সেই পানি দিয়ে যা পুরুষরা কাঁধে করে বা উট বয়ে নিয়ে আসত, যা ছিল অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ; কারণ সেখানে কোনো নদী ছিল না।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র, পৃ. ৫৯।

‌‌(২) জাফনাহ: বলা হয়েছে এটি বড় পাত্র বা গামলা। কেউ বলেছেন এটি মাটির তৈরি পাত্র যা সাধারণত ধূপ দেওয়ার বা কোনো কিছু গরম করার কাজে ব্যবহৃত হয়। আমরা মনে করি এটি এমন একটি পাত্র যা দীর্ঘক্ষণ খাবার সংরক্ষণ ও তার গুণমান বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো।

‌‌(৩) কুশাম: কেউ বলেছেন এর অর্থ মৃত্যু, কেউ বলেছেন শুষ্কতা। আমরা মনে করি এটি এমন একটি রোগ যা কাঁচা খেজুরকে আক্রান্ত করে এবং তা নষ্ট করে দেয়।

‌‌(৪) আত-তাবাকাতুল কুবরা, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সাদ ইবনে মানি আল-হাশিমি আল-বাসরি আল-বাগদাদি, যিনি ইবনে সাদ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ২৩০ হিজরি), তাহকিক: ইহসান আব্বাস, দার সাদির, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ, (১/৪০৯)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৬)
تَسقي المَزارع كما في البلاد الزراعية الأخرى، وإذا أصاب القُشامُ الثمرةَ فقد ذهب موسمُ ذلك العام، والميدانُ الزِّراعيُّ مجالُه مَحدودٌ، والأيدي العاملةُ التي يستهلكها قليلةٌ، خاصة وأن الزراعة الأولى هي النَّخيل، والعمل فيها مواسمُ محدودة (1).

‌‌2 - كثرة الوافدين والقادمين؛ مما ينشأ عنه كثرةُ الحقوق والالْتِزامات، وكلُّ قادمٍ يحتاج إلى أمرين تامَّيْن: السكنِ له ولأسرتِه، وتأمينِ مَوْرِد رزقٍ له، ولم يكنْ هذا بالأمرِ بالسَّهْل، وكمثالٍ لكثْرة أعداد القادمين وعدم قُدرة المدينة على استيعابهم ومثال ذلك قصةُ وفْدِ مُزَيْنَةَ؛ فقد كان أول مَن وفَد على رسول الله صلى الله عليه وسلم مِن مُضَر أربعمائة مِن مُزَيْنَةَ، وذاك في رجب سنة خمس، فجعل لهم رسولُ الله صلى الله عليه وسلم الهجرةَ في دارهم: «أنتم مهاجرون؛ حيثُ كنتم فارجعوا إلى أموالكم» (2)، فقد ردَّهم رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إلى بلادهم وهو أحْوَجُ ما يكون لهم؛ مِن أجْلِ الدفاع عن المدينة، وما ذاك إلا لأنه رأى عدم القدرة الاستيعابيَّة للمدينة على تقبُّل تلك الأعداد الكبيرة دفعةً واحدةً للظُّروف الاقتِصاديَّة القائمة (3).

‌‌3 - أنَّ المهاجرين- وغالبيَّتُهم مِن قريش- لا يُتقنون غير التجارة عملاً، ولم يكن فيهم مَن يُحْسِنُ الصنعات المختلفة؛ وذلك لاحتقار العربي يومئذٍ للصنعة، وأنه يرى فيها عملَ الأرِقَّاء والعبيد، وهذا يجعل من القادمين عاطلين عن العمل لفترة من الزمن على الأقل، ريثما يتعرَّفون على أوضاع البلد، ومع هذا فالمدينة ليست البلد الكبير الذي يستوعب ذلك العدد مِن التجَّار (4).

‌‌4 - أن المدينةَ عاشتْ في أكثر أيام الرسول صلى الله عليه وسلم في حالة حرب، والحربُ تُنهك الاقتصاد،

--------------------------------------------

(1) أهل الصُّفَّة بعيدًا عن الوَهْم والخيال، مرجع سابق، (ص: 61).

‌‌(2) الطبقات الكبرى، مرجع سابق، (1/ 291).

‌‌(3) أهل الصُّفَّة بعيدًا عن الوَهْم والخيال، مرجع سابق (ص: 62).

‌‌(4) المرجع نفسه والصفحة نفسها.
অন্যান্য কৃষিপ্রধান দেশের মতো খামারগুলোতে সেচ দেওয়া হতো। আর যদি রোগবালাই ফলের ক্ষতি করত, তবে সেই বছরের মৌসুম বিফলে যেত। কৃষিক্ষেত্রটি ছিল সীমিত পরিসরের এবং এতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যাও ছিল কম; বিশেষ করে যেহেতু প্রধান কৃষি ছিল খেজুর চাষ, আর সেখানে কাজের মৌসুম ছিল সীমিত (১)।

‌‌২ - আগন্তুক ও অভিবাসীদের আধিক্য; যার ফলে অনেক অধিকার ও বাধ্যবাধকতার সৃষ্টি হয়। প্রত্যেক আগন্তুকের দুটি পূর্ণাঙ্গ বিষয়ের প্রয়োজন ছিল: নিজের ও পরিবারের জন্য আবাসন এবং জীবিকার উৎসের নিশ্চয়তা বিধান। এটি কোনো সহজ কাজ ছিল না। আগন্তুকদের বিশাল সংখ্যা এবং তাদের ধারণ করার ক্ষেত্রে মদীনার সক্ষমতার অভাবের উদাহরণ হিসেবে মুযাইনাহ গোত্রের প্রতিনিধিদলের কাহিনীটি উল্লেখযোগ্য; মুদার গোত্রগুলোর মধ্যে মুযাইনাহ গোত্রের চারশ জন লোক প্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করেন, আর তা ছিল পঞ্চম হিজরির রজব মাসে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিজেদের ভূখণ্ডেই হিজরতের বিধান দিয়ে বলেন: "তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমরা মুহাজির; সুতরাং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদের কাছে ফিরে যাও" (২)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছিলেন অথচ মদীনা রক্ষার জন্য তখন তাদের প্রয়োজনীয়তা ছিল সবচেয়ে বেশি। এটি কেবল এ কারণেই ছিল যে, তিনি বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মদীনার ধারণক্ষমতা একবারে এত বিশাল সংখ্যক মানুষকে গ্রহণ করার অনুকূলে নয় বলে দেখেছিলেন (৩)।

‌‌৩ - মুহাজিরগণ—যাদের অধিকাংশ ছিল কুরাইশ বংশীয়—ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো কাজে পারদর্শী ছিলেন না। তাদের মধ্যে বিভিন্ন কারিগরি পেশায় দক্ষ কেউ ছিলেন না; এর কারণ ছিল তৎকালীন আরবদের কারিগরি পেশাকে অবজ্ঞা করা এবং একে দাস ও গোলামদের কাজ হিসেবে গণ্য করা। এর ফলে আগন্তুকদের অন্তত কিছু সময়ের জন্য বেকার থাকতে হতো, যতক্ষণ না তারা শহরের পরিস্থিতির সাথে পরিচিত হতে পারতেন। তা সত্ত্বেও, মদীনা এত বড় কোনো শহর ছিল না যা এত বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ীকে ধারণ করতে পারত (৪)।

‌‌৪ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনা জীবনের অধিকাংশ সময় যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, আর যুদ্ধ অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দেয়,

--------------------------------------------

(১) আহলুস সুফফাহ: কল্পনা ও বিভ্রমের ঊর্ধ্বে, পূর্বোক্ত সূত্র, (পৃষ্ঠা: ৬১)।

‌‌(২) আত-তাবাকাতুল কুবরা, পূর্বোক্ত সূত্র, (১/ ২৯১)।

‌‌(৩) আহলুস সুফফাহ: কল্পনা ও বিভ্রমের ঊর্ধ্বে, পূর্বোক্ত সূত্র (পৃষ্ঠা: ৬২)।

‌‌(৪) একই সূত্র ও একই পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৭)
وتُذْهِبُ بالثروات، وفي كثيرٍ مِن الأحيان كان يتوفر وجودُ مُقاتلين ولا يوجد المال الذي يُجَهِّزهم للوصول إلى أرض المعركة؛ كما قال تعالى: {وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوْا وَأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنْفِقُونَ} (1).

‌‌5 - كان للمدينةِ مع مكةَ حركةٌ تجارية قبل الهجرة وتوقفتْ هذه الحركةُ بعد الهجرة،، مما أثَّرَ بِدَوْرِه على النشاط الاقتصاديِّ (2).

‌‌6 - الهِجرةُ مِن مكة إلى المدينة بحدِّ ذاتها، وترْكُ المهاجرين لأموالهم، أو غالب أموالهم في مكةَ، إما لعدم استِطاعَة حَمْلها كلها، أو لمساومة كفار قريش على أموالهم ليخلوا سبيلهم للهجرة، ومِن ذلك الحديثُ الذي رواه عبد الرحمن بن زيد بن أسلم: «قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للأنصار: إن إخوانكم قد تركوا الأموالَ والأولادَ وخرجوا إليكم؛ فقالوا: أموالنا بيننا قطائع؛ قال رسول الله: أوغير ذلك؟ قالوا: وما ذاك يا رسول الله؟ قال: هم قوم لا يعرفون العلم، فتكفونهم وتقاسمونهم التمر؛ قالوا: نعم» (3).

 

‌‌المَطْلَب الثالث: الحالة الاقتِصاديَّة للمسلمين في المجتمع المَدَني

تُظهر كُتُب السيرة أن الحالة الاقتِصاديَّة العامة في المدينة كان فيها مِن ضيقِ العيش الشيءُ الكثيرُ، ويتضح ذلك مِما يلي:

--------------------------------------------

(1) سورة التوبه: 92.

‌‌(2) أهل الصُّفَّة بعيدًا عن الوَهْم والخيال، مرجع السايق (ص: 63).

‌‌(3) الحديث أخرجه ابن شبة في تاريخ المدينة (2/ 488).

وينظر: السيرة النبوية والدعوة في العهد المدني، أحمد أحمد غلوش، مؤسسة الرسالة للطباعة والنشر والتوزيع، الطبعة الأولى 1424 هـ- 2004 م، (ص: 113)، وانظر كذلك: البداية والنهاية، أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي البصري ثم الدمشقي (المتوفى: 774 هـ)، تحقيق: عبد الله بن عبد المحسن التركي، دار هجَر للطباعة والنشر والتوزيع والإعلان، الطبعة: الأولى، 1418 هـ- 1997 م، (4/ 565).
এবং সম্পদ নিঃশেষ করে দেয়। অনেক সময় দেখা যেত যে যোদ্ধা উপস্থিত রয়েছে, কিন্তু তাদের যুদ্ধের ময়দানে পৌঁছানোর মতো সাজ-সরঞ্জাম প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয় অর্থ নেই; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {আর তাদের ওপরও কোনো গুনাহ নেই, যারা আপনার কাছে এসেছিল যাতে আপনি তাদের সওয়ারির ব্যবস্থা করে দেন, আপনি বলেছিলেন: 'তোমাদের জন্য সওয়ারি করার মতো কিছুই আমি পাচ্ছি না।' তখন তারা ফিরে গেল এবং ব্যথিত হৃদয়ে তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল যে, তারা ব্যয় করার মতো কিছু পাচ্ছে না} (১)।

‌‌৫ - হিজরতের আগে মক্কার সাথে মদিনার একটি বাণিজ্যিক লেনদেন ছিল এবং হিজরতের পর এই লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়, যা স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলেছিল (২)।

‌‌৬ - মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করা এবং মুহাজিরদের তাদের সম্পদ বা অধিকাংশ সম্পদ মক্কায় রেখে আসা—হয়তো সেগুলো বহন করে আনা সম্ভব ছিল না অথবা কুরাইশ কাফেরদের সাথে তাদের সম্পদের বিনিময়ে হিজরতের পথ সুগম করার চুক্তির কারণে। এর মধ্যে রয়েছে সেই হাদিসটি যা আব্দুর রহমান বিন জায়েদ বিন আসলাম বর্ণনা করেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের উদ্দেশ্য করে বললেন: তোমাদের ভাইয়েরা তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি ছেড়ে তোমাদের কাছে চলে এসেছে; তারা বলল: আমাদের সম্পদ আমাদের মধ্যে ভাগ করা আছে; রাসূলুল্লাহ বললেন: নাকি অন্য কিছু? তারা বলল: সেটি কী, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: তারা এমন এক কওম যারা কৃষিকাজ জানে না, সুতরাং তোমরা তাদের পক্ষ হয়ে কাজ করে দেবে এবং খেজুরগুলো তাদের সাথে ভাগ করে নেবে; তারা বলল: হ্যাঁ» (৩)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মদিনার সমাজে মুসলমানদের অর্থনৈতিক অবস্থা

সিরাতগ্রন্থগুলো থেকে জানা যায় যে, মদিনার সাধারণ অর্থনৈতিক অবস্থায় জীবনযাত্রার অনেক সংকীর্ণতা ও কষ্ট ছিল, যা নিচের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়:

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ: ৯২।

‌‌(২) আহলে সুফফাহ বাঈদান আনিল ওয়াহমি ওয়াল খিয়াল, পূর্বোক্ত উৎস (পৃ. ৬৩)।

‌‌(৩) হাদিসটি ইবনে শাব্বাহ 'তারিখে মদিনা' গ্রন্থে (২/৪৮৮) বর্ণনা করেছেন।

আরও দেখুন: আস-সিরাহ আন-নাবাউইয়্যাহ ওয়াদ দাওয়াহ ফিল আহদিল মাদানি, আহমদ আহমদ গালুশ, মুআসসাসাতুর রিসালাহ লিল তিবায়া ওয়ান নাশর ওয়াত তাওজি, প্রথম প্রকাশ ১৪২৪ হিজরি- ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ, (পৃ. ১১৩), এবং আরও দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসির আল-কুরাশি আল-বাসরি অতপর আদ-দামেশকি (মৃত্যু: ৭৭৪ হিজরি), তাহকিক: আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি, দারু হাজার লিল তিবায়া ওয়ান নাশর ওয়াত তাওজি ওয়াল ই'লান, প্রথম প্রকাশ, ১৪১৮ হিজরি- ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ, (৪/৫৬৫)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৮)
أولًا: حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: (مكث النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه يحفرون الخندق ثلاثًا ما ذاقوا طعامًا؛ فقالوا: يا رسول الله، إن ها هنا كُدْيَةً من الجبل، فقال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «رشُّوا عليها الماء» فرشوها؛ ثم جاء النبي صلى الله عليه وسلم فأخذ المِعْوَلَ أو المِسْحاة، ثم قال: «بسم الله»، ثم ضَرَبَ ثلاثًا، فصارتْ كثيبًا يُهال، قال جابر: فحانتْ مني الْتِفاتة، فرأيتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قد شَدَّ على بطنه حجرًا)!

وفي لفظٍ آخرَ: (لما حفر النبيُّ وأصحابه الخندق أصاب النبي والمسلمين جهدٌ شديدٌ، فمَكثوا ثلاثًا لا يجدون طعامًا؛ حتى ربط النبيُّ على بطنه حجرًا من الجوع) (1).

وفي رواية الطبَراني قال: (لما حفر النبيُّ صلى الله عليه وسلم الخندق أصاب المسلمين جوعٌ شديدٌ، حتى ربط النبيُّ صلى الله عليه وسلم على بطنه صخرةً مِن الجوع، فانطلقتُ إلى أهلي فقلتُ: قد رأيتُ في وجه رسولِ الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه الجوعَ، فذبحتُ عَناقًا لنا؛ وأمرتُ أهلي فخبزوا شيئًا مِن شعير كان عندهم، وطبخوا العَناقَ، ثم دعوتُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم فأخبرتُه بالذي صنعتُ، فقال: «فانْطَلِقْ فهَيِّئ ما عندك حتى آتيك»، فذهبتُ فهَيَّأْتُ ما كان عندنا، فجاء رسولُ الله صلى الله عليه وسلم والجيشُ جميعًا؛ فقلتُ: يا رسول الله، إنما هي عَناقٌ جعلتُها لك ولنفرٍ مِن أصحابك، فقال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «ائتِ بقَصْعةٍ»، فأتيتُه بقَصْعَةٍ؛ ثم قال: «ائدِمْ فيها»، ثم دعا عليها بالبركة؛ ثم قال: «بسم الله»، ثم قال: «أدْخِلْ عشرةَ رجالٍ» ففعلْتُ، فإذا طعِمُوا وشبِعُوا خرَجُوا، وأدخلتُ عشرةً أخرى، حتى

--------------------------------------------

(1) مسند الإمام أحمد بن حنبل، أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني (المتوفى: 241 هـ)، تحقيق شعيب الأرنؤوط وعادل مرشد وآخرين، مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى، 1421 هـ- 2001 م، (22/ 129) رقم الحديث: 14221، وقال في الحاشية ما نصه: إسناده صحيح على شرط البخاري، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أيمن المكي والد عبد الواحد، فمن رجال البخاري.

وهو في «زهد» وكيع (124)، ومن طريق وكيع أخرجه هنَّاد في «الزهد» (765)، وأبو عوانة (4/ 354 - 355، والبيهقي في «دلائل النبوة» (3/ 422).
প্রথমত: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস, তিনি বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ পরিখা খননকালে তিন দিন এমন অবস্থায় অতিবাহিত করলেন যে, তাঁরা কোনো খাদ্য আস্বাদন করেননি। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এখানে পাহাড়ের একটি অত্যন্ত শক্ত অংশ দেখা দিয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «তোমরা এর ওপর পানি ছিটিয়ে দাও»; তারা পানি ছিটালেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন এবং একটি কুঠার বা কোদাল নিলেন, এরপর বললেন: «বিসমিল্লাহ» (আল্লাহর নামে), তারপর তিনবার আঘাত করলেন। ফলে তা নরম বালির স্তূপে পরিণত হয়ে গেল যা ঝরঝর করে পড়ে যাচ্ছিল। জাবির বলেন: সে সময় আমি আড়চোখে তাকালাম এবং দেখলাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষুধার তাড়নায় তাঁর পেটে একটি পাথর বেঁধে রেখেছেন)!

অন্য একটি শব্দে বর্ণিত হয়েছে: (যখন নবী ও তাঁর সাহাবীগণ পরিখা খনন করছিলেন, তখন নবী ও মুসলিমগণ চরম কষ্টের শিকার হন। তাঁরা তিন দিন অতিবাহিত করেন এই অবস্থায় যে, তাঁরা কোনো খাবার পাচ্ছিলেন না; এমনকি নবী ক্ষুধার কারণে তাঁর পেটে একটি পাথর বেঁধে নিয়েছিলেন) (১)।

তাবারানির এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি (জাবির) বলেন: (যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিখা খনন করছিলেন, তখন মুসলিমগণ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হন, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষুধার কারণে পেটে একটি পাথরখণ্ড বেঁধেছিলেন। তখন আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের চেহারায় ক্ষুধার চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। এরপর আমি আমাদের একটি ছোট ছাগল জবেহ করলাম এবং আমার স্ত্রীকে নির্দেশ দিলাম, ফলে তাঁরা তাঁদের কাছে থাকা সামান্য যব দিয়ে রুটি তৈরি করলেন এবং ছাগলটি রান্না করলেন। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাঁকে আমার প্রস্তুতির কথা জানালাম। তিনি বললেন: «তুমি যাও এবং আমি না আসা পর্যন্ত তোমার কাছে যা আছে তা প্রস্তুত রাখো।» আমি গিয়ে আমাদের যা ছিল তা প্রস্তুত করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র সেনাবাহিনী নিয়ে উপস্থিত হলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি তো মাত্র একটি ছোট ছাগল যা আমি আপনার এবং আপনার কয়েকজন সাহাবীর জন্য তৈরি করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «একটি বড় পাত্র নিয়ে এসো।» আমি তাঁর কাছে একটি বড় পাত্র নিয়ে এলাম। এরপর তিনি বললেন: «এতে ঝোল ও গোশত ঢালো।» তারপর তিনি তাতে বরকতের দোয়া করলেন এবং বললেন: «বিসমিল্লাহ»। অতঃপর তিনি বললেন: «দশজন লোককে ভেতরে প্রবেশ করাও।» আমি তাই করলাম। তারা তৃপ্তিসহকারে খাওয়ার পর বেরিয়ে গেল, এরপর আমি আরও দশজনকে প্রবেশ করালাম, এভাবে...

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ আশ-শাইবানী (মৃত্যু: ২৪১ হিজরি), তাহকিক: শুআইব আল-আরনাউত, আদিল মুরশিদ ও অন্যান্য, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, প্রথম প্রকাশ, ১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ, (২২/ ১২৯) হাদীস নং: ১৪২২১; এবং তিনি টীকায় উল্লেখ করেছেন: এর সনদ বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তাঁরা শাইখাইনের (বুখারী ও মুসলিমের) বর্ণনাকারী, কেবল আব্দুল ওয়াহিদের পিতা আয়মান আল-মাক্কী ব্যতীত, তিনিও বুখারীর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

এটি ওয়াকি'-এর «যুহদ» (১২৪) গ্রন্থে রয়েছে এবং ওয়াকি'-এর সূত্র ধরে হান্নাদ তাঁর «যুহদ» (৭৬৫) গ্রন্থে, আবু আওয়ানা (৪/ ৩৫৪ - ৩৫৫) এবং বায়হাকী তাঁর «দালাইলুন নুবুওয়াহ» (৩/ ৪২২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ৯)
بلَغ الجيشُ جميعًا، والطعامُ كما هو) (1).

ثانيًا: حديث أنس بن مالك رضي الله عنه الذي جاء فيه: أنَّ أبو طَلْحَة قال لأُمِّ سُلَيْمٍ: لقد سمعتُ صوتَ رسول الله صلى الله عليه وسلم ضعيفًا، أعرف فيه الجوع، فهل عندك من شيءٍ؟ قالتْ: نعم، فأخرجَتْ أقراصًا مِن شعير، ثم أخرجتْ خِمارًا لها، فلفَّت الخبزَ ببعضه، ثم دسَّتْه تحت يدي ولاثَتْنِي ببعضه، ثم أرسلتْني إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: فذهبتُ به، فوجدتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم في المسجد، ومعه الناس، فقمتُ عليهم، فقال لي رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «أأرسلك أبو طَلْحَة» فقلتُ: نعم، قال: «بطعام»، فقلت: نعم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمن معه: «قوموا»، فانطلق وانطلقتُ بين أيديهم، حتى جئتُ أبا طَلْحَة فأخبرتُه، فقال أبو طَلْحَة: يا أم سليم، قد جاء رسولُ الله صلى الله عليه وسلم بالناس، وليس عندنا ما نُطعمهم؟ فقالتْ: الله ورسوله أعلم، فانطلق أبو طَلْحَة حتى لقيَ رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأقبل رسولُ الله صلى الله عليه وسلم وأبو طَلْحَة معه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هلمِّي يا أُمَّ سُلَيْمٍ، ما عندك» فأتت بذلك الخبز، فأمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم فَفُتّ، وعصرتْ أُمُّ سُلَيْمٍ عُكَّةً فأدْمَتْهُ، ثم قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم فيه ما شاء الله أن يقول، ثم قال: «ائذَنْ لعشرة» فأذِنَ لهم، فأكلوا حتى شبعوا ثم خرجوا، ثم قال: «ائذنْ لعشرة» فأذِن لهم، فأكلوا حتى شبعوا، ثم خرجوا، ثم قال: «ائذنْ لعَشَرة» فأذِنَ لهم، فأكلوا حتى شبعوا ثم خرجوا، ثم قال: «ائذَنْ لعشرة» فأكل القومُ كلُّهم وشبعوا، والقومُ سبعون أو ثمانون رجلاً!» (2).

ثالثًا: حديث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قال: كان أهل الصُّفَّة أضياف أهل الإسلام، لا يأوون على أهل ولا مال، والله الذي لا إله إلا هو، إن كنتُ لأعْتَمِدُ بكَبِدي على الأرض مِن الجوع، وأشدُّ الحجَر على بطني من الجوع، ولقد قعدتُ يومًا على طريقهم الذي يخرجون منه، فمَرَّ بي

--------------------------------------------

(1) المعجم الأوسط، سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الشامي، أبو القاسم الطبراني (المتوفى: 360 هـ)، تحقيق طارق بن عوض الله بن محمد وعبد المحسن بن إبراهيم الحسيني، دار الحرمين، القاهرة، (3/ 318).

‌‌(2) صحيح البخاري، محمد بن إسماعيل أبو عبدالله البخاري الجعفي، تحقيق محمد زهير بن ناصر الناصر، دار طوق النجاة، الطبعة الأولى، 1422 هـ، (4/ 193)، رقم الحديث 3578.
সমগ্র সৈন্যদল খেয়ে পরিতৃপ্ত হলো, অথচ খাবার যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেল (১)।

দ্বিতীয়: আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস যাতে এসেছে যে, আবু তালহা উম্মে সুলাইমকে বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কণ্ঠস্বর দুর্বল শুনতে পেয়েছি, আমি তাতে ক্ষুধার চাপ বুঝতে পেরেছি, তোমার কাছে কি কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি যবের কয়েকটি রুটি বের করলেন, তারপর তাঁর একটি ওড়না বের করলেন এবং রুটিগুলো তাঁর কিছু অংশ দিয়ে পেঁচালেন। এরপর সেটি আমার হাতের নিচে গুঁজে দিলেন এবং ওড়নার বাকি অংশ দিয়ে আমাকে জড়িয়ে দিলেন। তারপর তিনি আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পাঠালেন। তিনি (আনাস) বলেন: আমি তা নিয়ে গেলাম এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মসজিদে বসা অবস্থায় পেলাম, তাঁর সাথে অনেক মানুষ ছিল। আমি তাদের সামনে দাঁড়ালে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: «তোমাকে কি আবু তালহা পাঠিয়েছে?» আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «খাবার দিয়ে?» আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সঙ্গীদের বললেন: «ওঠো (চলো)»। অতঃপর তিনি চললেন এবং আমি তাঁদের আগে আগে চললাম, যতক্ষণ না আবু তালহার কাছে এসে তাঁকে খবর দিলাম। তখন আবু তালহা বললেন: হে উম্মে সুলাইম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো অনেক মানুষ নিয়ে এসেছেন, অথচ আমাদের কাছে তাঁদের খাওয়ানোর মতো পর্যাপ্ত খাবার নেই? তিনি (উম্মে সুলাইম) বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। এরপর আবু তালহা এগিয়ে গিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং আবু তালহাও তাঁর সাথে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে উম্মে সুলাইম, তোমার কাছে যা আছে তা নিয়ে এসো»। তখন তিনি সেই রুটি নিয়ে আসলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে তা টুকরো টুকরো করা হলো। উম্মে সুলাইম একটি ঘিয়ের পাত্র নিংড়ে তাতে তরকারি দিলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই খাবারের ওপর আল্লাহ যা চাইলেন তা পাঠ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «দশজনকে আসার অনুমতি দাও»। তাদেরকে অনুমতি দেওয়া হলো, তারা তৃপ্তিভরে খেলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেন: «দশজনকে অনুমতি দাও»। তাদেরকেও অনুমতি দেওয়া হলো, তারা তৃপ্তিভরে খেলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেন: «দশজনকে অনুমতি দাও»। তারা তৃপ্তিভরে খেলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। এরপর তিনি বললেন: «দশজনকে অনুমতি দাও»। এভাবে সবাই খেয়ে তৃপ্ত হলেন এবং তারা সংখ্যায় সত্তর বা আশি জন লোক ছিলেন! (২)।

তৃতীয়: আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: আহলে সুফফাহ ছিল ইসলামের মেহমান, তারা কোনো পরিবার বা সম্পদের কাছে আশ্রয় নিত না। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি ক্ষুধার তাড়নায় আমার কলিজা মাটির সাথে ঠেসে ধরে রাখতাম এবং ক্ষুধার কারণে পেটে পাথর বাঁধতাম। একদিন আমি তাঁদের যাতায়াতের রাস্তায় বসেছিলাম যেখান দিয়ে তাঁরা বের হতেন, তখন আমার পাশ দিয়ে...

--------------------------------------------

(১) আল-মুজাম আল-আওসাত, সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব ইবনে মুতাইর আল-লাখমি আশ-শামি, আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরি), তাহকিক: তারিক ইবনে আওয়াদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ এবং আব্দুল মুহসিন ইবনে ইব্রাহিম আল-হুসাইনি, দারুল হারামাইন, কায়রো, (৩/ ৩১৮)।

‌‌(২) সহীহ বুখারী, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী আল-জুফি, তাহকিক: মুহাম্মদ যুহাইর ইবনে নাসির আন-নাসির, দারু তাওকিন নাজাত, প্রথম সংস্করণ, ১৪২২ হিজরি, (৪/ ১৯৩), হাদীস নং ৩৫৭৮।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১০)
أبو بكر، فسألتُه عن آيةٍ مِن كتاب الله، ما أسأله إلا ليَسْتتبعني، فمَرَّ ولم يفعلْ، ثم مَرَّ بي عمرُ، فسألتُه عن آية من كتاب الله ما أسأله إلا ليستتبعني، فمَرَّ ولم يفعلْ، ثم مَرَّ أبو القاسم صلى الله عليه وسلم فتَبَسَّم حين رآني وقال: «أبا هُرَيْرَة»، قلتُ: لبيك يا رسول الله قال: «الْحَقْ»، ومضى فاتبعتُه، ودخل منزله فاستأذنتُ فأذِن لي، فوجد قدَحًا مِن لبن، فقال: «مِن أين هذا اللبن لكم»؟ قيل: أهداه لنا فلان، فقال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «أبا هُرَيْرَة» قلتُ: لبيك، فقال: «الْحَقْ أهل الصُّفَّة فادْعُهم، وهم أضيافُ أهل الإسلام، لا يأوون على أهل ومال»، إذا أتته صدقة بعث بها إليهم، ولم يتناولْ منها شيئًا، وإذا أتته هدية أرسل إليهم، فأصاب منها وأشركهم فيها، فساءني ذلك، وقلتُ: ما هذا القدح بين أهل الصُّفَّة وأنا رسوله إليهم، فسيأمرني أن أُديرَه عليهم، فما عسى أن يُصيبَني منه، وقد كنت أرجو أن أصيبَ منه ما يُغنيني! ولم يكن بُدٌّ مِن طاعة الله وطاعة رسوله، فأتيتهم فدعوتهم، فلما دخلوا عليه فأخذوا مجالسهم، فقال: «أبا هُرَيْرَة، خُذ القدح وأعطِهم»، فأخذتُ القدَح، فجعلتُ أُناوله الرجل، فيشرب حتى يُروى، ثم يرده فأناوله الآخر حتى انتهيتُ به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد روى القوم كلهم، فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم القدح، فوضعه على يديه ثم رفع رأسه فتبسم، فقال: «أبا هُرَيْرَة، اشربْ»، فشربتُ ثم قال: «اشربْ»، فلم أزَل أشرب، ويقول: «اشربْ»، حتى قلتُ: والذي بَعَثَكَ بالحق ما أجد له

مَسْلكًا، فأخذ القدح فحمد الله وسَمَّى ثم شرب؛ والحديث حسن صحيح (1).

--------------------------------------------

(1) سنن الترمذي، محمد بن عيسى بن سَوْرة بن موسى بن الضحاك، الترمذي، أبو عيسى (المتوفى: 279 هـ)، تحقيق إبراهيم عطوة عوض، مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي مصر، (4/ 648)، رقم الحديث: 2477، وقال في الحاشية: حكم الألباني صحيح.
আবু বকর, আমি তাকে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাকে এই উদ্দেশ্যেই জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাতে তিনি আমাকে তাঁর সাথে নিয়ে যান (খাওয়ানোর জন্য), কিন্তু তিনি চলে গেলেন এবং তা করলেন না। এরপর উমর আমার পাশ দিয়ে গেলেন, আমি তাকেও আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাকেও এই উদ্দেশ্যেই জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাতে তিনি আমাকে তাঁর সাথে নিয়ে যান, কিন্তু তিনিও চলে গেলেন এবং তা করলেন না। অতঃপর আবু আল-কাসেম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতিক্রান্ত হলেন। তিনি যখন আমাকে দেখলেন, মুচকি হাসলেন এবং বললেন: «হে আবু হুরায়রা!» আমি বললাম: «লাব্বাইক (আমি হাজির), হে আল্লাহর রাসূল!» তিনি বললেন: «আমার সাথে আসো»। তিনি চলতে থাকলেন এবং আমিও তাঁর অনুসরণ করলাম। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমি অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। তিনি এক পেয়ালা দুধ দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন: «তোমাদের কাছে এই দুধ কোথা থেকে এলো?» বলা হলো: «অমুক ব্যক্তি এটি আপনাকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন»। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে আবু হুরায়রা!» আমি বললাম: «লাব্বাইক!» তিনি বললেন: «আহলে সুফ্ফাদের কাছে যাও এবং তাদের ডেকে আনো»। তাঁরা ছিলেন ইসলামের মেহমান, তাঁদের কোনো পরিবার বা সম্পদ ছিল না যেখানে তাঁরা আশ্রয় নিতে পারতেন। যখন তাঁর (রাসূলুল্লাহর) কাছে কোনো সদকা আসত, তিনি তা তাঁদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং নিজে তা থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না। আর যখন তাঁর কাছে কোনো হাদিয়া (উপহার) আসত, তিনি তাঁদের ডেকে পাঠাতেন এবং নিজে তা থেকে অংশ নিতেন ও তাঁদেরকেও তাতে শরিক করতেন। এ বিষয়টি আমাকে কিছুটা চিন্তিত করল, আমি মনে মনে বললাম: «আহলে সুফ্ফাদের এত বড় দলের মধ্যে এই সামান্য এক পেয়ালা দুধ কী কাজে আসবে? অথচ আমিই তাদের ডেকে আনার জন্য প্রেরিত হয়েছি!» তিনি অবশ্যই আমাকে আদেশ করবেন যেন আমি পেয়ালাটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাঁদের পান করতে দিই। সম্ভবত এই দুধ থেকে আমার ভাগ্যে কিছুই জুটবে না, অথচ আমি আশা করছিলাম যে এটি পান করে আমি আমার ক্ষুধা দূর করব! কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। সুতরাং আমি তাঁদের কাছে গেলাম এবং তাঁদের ডেকে আনলাম। যখন তাঁরা তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন এবং নিজ নিজ আসনে বসে পড়লেন, তখন তিনি বললেন: «হে আবু হুরায়রা, পেয়ালাটি নাও এবং তাঁদের দাও»। আমি পেয়ালাটি নিলাম এবং একেকজন ব্যক্তিকে দিতে শুরু করলাম; তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করতেন, তারপর পেয়ালাটি আমাকে ফেরত দিতেন। এরপর আমি অন্যজনকে দিতাম, এভাবে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছলাম। ইতোমধ্যে দলের সবাই তৃপ্ত হয়ে পান করেছেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেয়ালাটি নিলেন এবং তা নিজের হাতের ওপর রাখলেন। এরপর মাথা তুলে মুচকি হেসে বললেন: «হে আবু হুরায়রা, পান করো»। আমি পান করলাম। তিনি আবার বললেন: «পান করো»। আমি পান করতে থাকলাম এবং তিনি বলতে থাকলেন: «পান করো», যতক্ষণ না আমি বললাম: «সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এটি পান করার আর কোনো পথ (জায়গা) খুঁজে পাচ্ছি না»। অতঃপর তিনি পেয়ালাটি নিলেন, আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) স্মরণ করলেন, তারপর পান করলেন। হাদিসটি হাসান ও সহিহ (১)।

--------------------------------------------

(১) সুনানে তিরমিযী, মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা বিন মুসা বিন দাহহাক আত-তিরমিযী, আবু ঈসা (মৃত্যু: ২৭৯ হিজরি), সম্পাদনা: ইবরাহীম আতওয়া আওয়াদ, মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি লাইব্রেরি ও প্রেস, মিশর, (৪/৬৪৮), হাদিস নম্বর: ২৪৭৭; এবং টীকায় বলা হয়েছে: আলবানীর মতে হাদিসটি সহিহ।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الثاني: وسائل مُعالَجَة الفقر في العَهْد النبَوي

وفيه ستةُ مَطالب:

 

‌‌المَطْلَب الأول: المُؤاخاة

ورد في السِّيَر أن المواخاة كانتْ مرتين؛ الأولى: بين المهاجرين بعضهم وبعض قبل الهجرة على الحق والمواساة، آخى بينهم النبيُّ صلى الله عليه وسلم، فآخى بين أبي بكر وعمر، وبين حمزة وزيد بن حارثة، وبين عثمان وعبد الرحمن بن عوف، وبين الزُّبير وابن مسعود، وبين عُبيدة بن الحارث وبلال، وبين مصعب بن عمير وسعد بن أبي وقَّاص، وبين أبي عُبيدة وسالم مولى أبي حذيفة، وبين سعيد بن زيد وطَلْحَة بن عبيد الله، وبين علي ونفسه صلى الله عليه وسلم (1).

ومن العلماء مَن يُنكر مواخاة المهاجرين لبعضهم، قال الحافظ ابن كثير: (أما مؤاخاة النبي صلى الله عليه وسلم وعلي، فإن مِن العلماء مَن يُنكر ذلك، ويَمنع من صحته، ومستنده في ذلك أن هذه المُؤاخاة إنما شُرعتْ لأجل ارتفاق بعضهم من بعض، وليتألف قلوب بعضهم على بعض، فلا معنى لمؤاخاة النبي لأحد منهم، ولا مهاجري لمهاجري، كما ذكره من مؤاخاة حمزة وزيد بن حارثة، اللهم إلا أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يجعلْ مصلحة عليٍّ إلى غيره، فإنه كان ممن ينفق عليه من صغره في حياة أبيه، وكذلك أن يكونَ حمزة التزم بمصالح مولاه زيد، وكذلك ذِكْره مؤاخاة جعفر ومعاذ فيه نظَرٌ، لأن جعفرَ كان مهاجرًا بالحبشة) (2).

وقد مدح الله الأنصار في إيثارهم لإخوانهم المهاجرين، وأثنى عليهم بقرآنٍ يُتلى بسبب إيثارهم لإخوانهم المهاجرين ومواخاتهم لهم، فقال: {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ

--------------------------------------------

(1) عيون الأثر في فنون المغازي والشمائل والسير، محمد بن محمد بن محمد بن أحمد، ابن سيد الناس، اليَعْمُري الربعي، أبو الفتح، فتح الدين (المتوفى: 734 هـ)، تعليق إبراهيم محمد رمضان، دار القلم- بيروت، الطبعة: الأولى، 1414/ 1993، (1/ 230).

‌‌(2) السيرة النبوية لابن كثير (2/ 326).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নববী যুগে দারিদ্র্য বিমোচনের উপায়সমূহ

এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: ভ্রাতৃত্ব বন্ধন (আল-মুয়াখাত)

সীরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, ভ্রাতৃত্ব বন্ধন দুইবার সংঘটিত হয়েছিল; প্রথমবার: হিজরতের পূর্বে মুহাজিরগণের একে অপরের মধ্যে সত্য ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে দেন। তিনি আবু বকর ও উমর, হামযাহ ও যায়দ বিন হারিসাহ, উসমান ও আবদুর রহমান বিন আউফ, যুবাইর ও ইবনে মাসউদ, উবাইদাহ বিন হারিস ও বিলাল, মুসআব বিন উমাইর ও সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস, আবু উবাইদাহ ও আবু হুযাইফার মুক্তদাস সালিম, সাঈদ বিন যায়দ ও তালহা বিন উবাইদুল্লাহ এবং আলী ও তাঁর নিজের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেন (১)।

আলেমগণের মধ্যে কেউ কেউ মুহাজিরগণের একে অপরের সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। হাফেয ইবনে কাসীর বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আলীর মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে কেউ কেউ তা অস্বীকার করেন এবং এর বিশুদ্ধতা নাকচ করেন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের দলিল হলো, এই ভ্রাতৃত্ব মূলত একে অপরের সহযোগিতার জন্য এবং তাঁদের অন্তরসমূহকে একে অপরের প্রতি অনুরাগী করার জন্য প্রবর্তন করা হয়েছিল। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কারো সাথে অথবা একজন মুহাজিরের অন্য মুহাজিরের সাথে ভ্রাতৃত্বের কোনো অর্থ হয় না, যেমনটি হামযাহ ও যায়দ বিন হারিসাহর ভ্রাতৃত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলীর স্বার্থ অন্য কারো ওপর ন্যস্ত না করে নিজের কাছেই রেখেছিলেন, কারণ তিনি তাঁর পিতার জীবদ্দশায় শৈশব থেকেই তাঁর ভরণপোষণ করতেন। তদ্রূপ হামযাহ তাঁর মুক্তদাস যায়দের স্বার্থ দেখাশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। একইভাবে জাফর ও মুয়াযের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের বর্ণনার বিষয়টিও পর্যালোচনার অবকাশ রাখে, কেননা জাফর তখন হাবশায় হিজরতকারী হিসেবে অবস্থান করছিলেন) (২)।

আল্লাহ তাআলা আনসারগণের তাদের মুহাজির ভাইদের প্রতি আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের মুহাজির ভাইদের অগ্রাধিকার প্রদান ও তাদের সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের কারণে তিলাওয়াতকৃত কুরআনের মাধ্যমে তাদের গুণকীর্তন করেছেন। তিনি বলেন: {আর যারা মুহাজিরদের আসার আগে এ নগরীতে বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে...

--------------------------------------------

(১) উয়ুনুল আসার ফি ফুনুনিল মাগাযি ওয়াশ শামায়িল ওয়াস সিয়ার, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ, ইবনে সাইয়্যিদুন নাস, আল-ইয়া’মুরি আর-রিবয়ি, আবুল ফাতহ, ফাতহুদ্দীন (মৃত্যু: ৭৩৪ হি.), টীকা: ইব্রাহিম মুহাম্মদ রামাদান, দারুল কলাম- বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৪/ ১৯৯৩, (১/ ২৩০)।

‌‌(২) আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ইবনে কাসীর (২/ ৩২৬)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১২)
يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (1)، وروى البخاريُّ في صحيحه عن أبي هُرَيْرَة قال: «قالت الأنصار: اقسمْ بيننا وبين إخواننا النخيلَ؟ قال: لا؛ قالوا: أفتكفوننا المؤونة ونشرككم في الثمرة؟ قالوا: سمعنا وأطعنا» (2)، وقال عبد الرحمن بن زيد بن أسلم: «قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم للأنصار: إن إخوانكم قد تركوا الأموال والأولاد وخرجوا إليكم، فقالوا: أموالنا بيننا قطائع، قال رسول الله: أوَغير ذلك؟ قالوا: وما ذاك يا رسول الله؟ قال: هم قوم لا يعرفون العلم، فتكفونهم وتقاسمونهم التمر، قالوا: نعم» (3).

وذكر ابن عبد البَرِّ في قوله تعالى: {وَالَّذِينَ آمَنُوا مِنْ بَعْدُ وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا مَعَكُمْ فَأُولَئِكَ مِنْكُمْ وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ} (4) أنَّ بدرًا قطعت المواخاة بين الصحابة رضي الله عنهم، فتكون هذه الآية ناسخة آية (بعضهم أولياء بعض)، وتكون تلك حينئذٍ مُبينة أمر ما كان قبل غزوة بدر (5)، وكما هو معلومٌ أن نموذج المواخاة نموذجٌ اقتصاديٌّ لغرض إعادة توزيع الثروة، وأغراض التكافل الاجتماعي، اقتضتْه مرحلة ما بعد الهجرة، فكان الأنصاري يقسم شطر ماله لأخيه من المهاجرين، ويتضح بذلك أن هذا النموذج كان فعَّالاً في القضاء على الفقر في تلك المرحلة.

 

‌‌المَطْلَب الثاني: الزَّكاة

الزَّكاة في اللُّغة: الزيادة والنَّماء، فكلُّ شيء زاد عددًا، أو نما حجمًا؛ فإنه يقال: زكا، فيقال: زكا الزرع: إذا نما وطال، وأما في الشرع: فهي التعبُّد لله تعالى، بإخراج قدر واجبٍ شرعًا

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر: 9.

‌‌(2) صحيح البخاري، كتاب: المزارعة، باب إذا قال: اكفني مؤونة النخل وغيره، وتُشركني في الثَّمر (3/ 104)، حديث رقم (2325).

‌‌(3) سبق تخريجه (ص: 7).

‌‌(4) الأنفال: 75.

‌‌(5) نظم الدرر في تناسُب الآيات والسوَر، إبراهيم بن عمر بن حسن الرباط بن علي بن أبي بكر البقاعي (المتوفى: 885 هـ)، دار الكتاب الإسلامي، القاهرة، (8/ 349).
তারা তাদেরকে ভালোবাসে যারা তাদের দিকে হিজরত করে চলে এসেছে এবং যা তাদেরকে (মুহাজিরদেরকে) দেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে তারা নিজেদের অন্তরে কোনো অভাববোধ করে না, আর তারা নিজেদের ওপর তাদেরকে প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা নিজেরা অনটনগ্রস্ত থাকে। আর যারা নিজেদের মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত থাকে, তারাই সফলকাম} (১), এবং ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আনসারগণ বললেন: আমাদের এবং আমাদের ভাইদের মধ্যে খেজুরের বাগানগুলো বণ্টন করে দিন। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: না। তারা বললেন: তাহলে আপনারা কি আমাদের শ্রমের দায়িত্ব নেবেন এবং আমরা আপনাদের ফলের অংশীদার হবো? তারা (মুহাজিরগণ) বললেন: আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম» (২), এবং আব্দুল রহমান ইবনে যায়দ ইবনে আসলাম বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের উদ্দেশ্য করে বললেন: তোমাদের ভাইয়েরা ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি ত্যাগ করে তোমাদের কাছে এসেছে। তারা বললেন: আমাদের সম্পদ আমাদের মাঝে খণ্ড খণ্ড করে বিভক্ত। রাসূলুল্লাহ বললেন: এছাড়া অন্য কিছু হবে কি? তারা বললেন: সেটা কী হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা কৃষি কাজ জানে না, সুতরাং তোমরা তাদের পক্ষ থেকে শ্রমের দায়িত্ব নাও এবং তাদের সাথে খেজুর ভাগ করে নাও। তারা বললেন: হ্যাঁ» (৩)।

ইবনে আব্দুল বার আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন: {এবং যারা পরবর্তীতে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে জিহাদ করেছে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহর বিধানে আত্মীয়রা একে অপরের বেশি হকদার; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত} (৪) যে, বদরের যুদ্ধ সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্যকার উত্তরাধিকার ভিত্তিক ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। ফলে এই আয়াতটি (তারা একে অপরের বন্ধু) আয়াতের রহিতকারী হবে, এবং সেই সময় এটি বদর যুদ্ধের পূর্ববর্তী বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদানকারী হিসেবে গণ্য হবে (৫)। যেমনটি সুবিদিত যে, ভ্রাতৃত্বের (মুয়াখাত) এই আদর্শটি ছিল সম্পদ পুনবণ্টন এবং সামাজিক সংহতির উদ্দেশ্যে একটি অর্থনৈতিক মডেল, যা হিজরত পরবর্তী সময়ের প্রয়োজনীয়তা ছিল। ফলে একজন আনসারী তাঁর সম্পদের অর্ধেক তাঁর মুহাজির ভাইকে ভাগ করে দিতেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, তৎকালীন সময়ে দারিদ্র্য বিমোচনে এই মডেলটি অত্যন্ত কার্যকর ছিল।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাকাত

অভিধানে জাকাত শব্দের অর্থ হলো: বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি। সুতরাং যে জিনিসেরই সংখ্যা বৃদ্ধি পায় বা আয়তন বৃদ্ধি পায়, তাকেই বলা হয়: জাকাত। যেমন বলা হয়: শস্যের জাকাত হয়েছে: যখন তা বৃদ্ধি পায় ও দীর্ঘ হয়। আর শরীয়তের পরিভাষায়: তা হলো শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত একটি ওয়াজিব পরিমাণ প্রদানের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদত করা...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর: ৯।

‌‌(২) সহীহ বুখারী, কিতাব: আল-মুজারাআহ, অধ্যায়: যখন কেউ বলে: আপনি আমার খেজুর বাগান ও অন্যান্য কাজের ভার নিন এবং আমাকে ফলে অংশীদার করুন (৩/ ১০৪), হাদিস নং (২৩২৫)।

‌‌(৩) পূর্বে এর তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে (পৃষ্ঠা: ৭)।

‌‌(৪) আল-আনফাল: ৭৫।

‌‌(৫) নাযমুদ দুরার ফী তানাসুবিল আয়াতি ওয়াস সুওয়ার, ইব্রাহিম ইবনে উমর ইবনে হাসান আর-রিবাত ইবনে আলী ইবনে আবু বকর আল-বিকাঈ (মৃত্যু: ৮৮৫ হিজরি), দারুল কিতাব আল-ইসলামী, কায়রো, (৮/ ৩৪৯)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১৩)
في أموال مخصوصة لطائفة أو جهة مخصوصة (1).

والعلاقةُ بين المعنى اللغوي والمعنى الشرعي: أن الزَّكاة وإن كان ظاهرُها النقصَ- نقْص كمية المال- لكن آثارها زيادة المال، زيادة المال بركة، وزيادة المال كمية، فإنَّ الإنسان قد يفتح الله له من أبواب الرزق ما لا يخطُر على باله إذا قام بما أوجب الله عليه في ماله؛ قال الله تعالى: {وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ} (2)، وقال تعالى: {وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُخْلِفُهُ وَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ} (3)، يُخْلِفُه: أي يأتي بخلفه وبدله.

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ما نقصت صدقة من مال» 1، وهذا أمرٌ مُشاهَدٌ، فإن الموفقين لأداء ما يجب عليهم في أموالهم يجدون بركةً فيما ينفقونه، وبركة فيما يبقى عندهم، وربما يفتح الله لهم أبواب رزقٍ يُشاهدونها رأي العين، بسبب إنفاقهم أموالهم في سبيل الله (4).

ولهذا كانت الزَّكاة في الشرع مُلاقية للزكاة في اللُّغة؛ منْ حيثُ النَّماءُ والزِّيادةُ.

ثم إنَّ في الزَّكاة أيضًا زيادة أخرى، وهي زيادة الإيمان في قلب صاحبها، فإن الزَّكاة من الأعمال الصالحة، والأعمالُ الصالحة تزيد في إيمان الرجل؛ لأن مذهب أهل السنة والجماعة أن الأعمال الصالحة من الإيمان، وأن الإيمان يزداد بزيادتها، وينقُص بنَقْصها، وهي أيضًا تزيد الإنسان في خلقه، فإنها بذْلٌ وعطاء، والبذلُ والعطاء يدل على الكرم والسخاء، والكرَمُ والسخاء لا شك أنه خُلُقٌ فاضل كريم، بل إن له آثارًا بالغةً في انشراح الصدر، ونور القلب

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه - باب استحباب العفو (4/ 2001) حديث (2588)، وابن ابن خزيمة في صحيحه - باب ذكر نماء المال بالصدقة منه، وإعطاء الرب عز وجل المتصدقَ الخُلفَ (2/ 1168)، حديث (2438)، وغيرهما من حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، وتمامه: «… وما زَادَ اللهُ عَبدًا بِعَفوٍ، إلَّا عِزًّا، وما تَواضَعَ أحَدٌ لِلَّه إلَّا رَفَعَهُ اللهُ».

‌‌(2) الروم: 39.

‌‌(3) سبأ: 39.

‌‌(4) فقه العبادات، محمد بن صالح بن محمد العثيمين (المتوفى: 1421 هـ)، اللجنة العلمية في مؤسسة الشيخ محمد بن صالح العثمين الخيرية، (ص: 183).
নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য বা নির্দিষ্ট খাতের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদে (১)।

শাব্দিক অর্থ ও শরয়ি অর্থের মধ্যে সম্পর্ক হলো: জাকাত বাহ্যিকভাবে সম্পদের স্বল্পতা—সম্পদের পরিমাণ কমা—মনে হলেও এর প্রভাব হলো সম্পদের বৃদ্ধি; বরকতের মাধ্যমে বৃদ্ধি এবং পরিমাণের মাধ্যমে বৃদ্ধি। কেননা, মানুষ যখন তার সম্পদে আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করে, তখন আল্লাহ তার জন্য রিজিকের এমন সব দরজা খুলে দেন যা তার কল্পনাতেও আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: “মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমরা যে জাকাত দাও, তারাই হলো অধিক পরিমাণ লাভকারী” (২)। তিনি আরও বলেন: “তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেন এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা” (৩)। ‘তিনি তার প্রতিদান দেন’ অর্থ: তিনি তার স্থলাভিষিক্ত বা বিনিময় প্রদান করেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সদকা করলে সম্পদ কমে না” ১, এটি একটি প্রত্যক্ষকৃত বিষয়। কেননা, যারা তাদের সম্পদের ওপর অর্পিত ওয়াজিব আদায় করার তাওফিক পায়, তারা যা ব্যয় করে তাতে যেমন বরকত পায়, তেমনি যা অবশিষ্ট থাকে তাতেও বরকত পায়। এমনকি আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয়ের কারণে আল্লাহ তাদের জন্য এমন সব রিজিকের দরজা খুলে দেন যা তারা স্বচক্ষে দেখতে পায় (৪)।

এই কারণেই শরয়ি পরিভাষার জাকাত শাব্দিক অর্থের জাকাতের সাথে প্রবৃদ্ধি ও বৃদ্ধির দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তাছাড়া জাকাতের মাধ্যমে অন্য এক ধরনের বৃদ্ধিও ঘটে, আর তা হলো দাতার অন্তরে ইমানের বৃদ্ধি। কারণ জাকাত হলো নেক আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর নেক আমল মানুষের ইমানকে বাড়িয়ে দেয়। কেননা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা হলো: নেক আমল ইমানের অন্তর্ভুক্ত, আর আমল বাড়লে ইমান বৃদ্ধি পায় এবং আমল কমলে ইমান হ্রাস পায়। এটি মানুষের চরিত্রকেও উন্নত করে, কারণ এটি হলো দান ও উদারতা। আর দান ও উদারতা মহানুভবতা ও বদান্যতার প্রমাণ বহন করে। নিঃসন্দেহে মহানুভবতা ও বদান্যতা একটি অতি উত্তম চরিত্র, বরং বক্ষ প্রশস্ত হওয়া এবং হৃদয়ে নূর অর্জনের ক্ষেত্রে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে—ক্ষমার মুস্তাহাব হওয়া অধ্যায় (৪/২০০১), হাদিস (২৫৮৮); এবং ইবনে খুজাইমা তার সহিহ গ্রন্থে—সদকার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়া এবং রব আযযা ওয়া জাল সদকাকারীকে প্রতিদান দেওয়া অধ্যায় (২/১১৬৮), হাদিস (২৪৩৮) এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত অন্যান্য গ্রন্থে এটি সংকলিত হয়েছে। এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো: “… আল্লাহ কোনো বান্দাকে ক্ষমার বিনিময়ে মর্যাদা ছাড়া আর কিছুই বাড়িয়ে দেন না। আর কেউ আল্লাহর জন্য বিনয়ী হলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই উন্নত করেন।”

‌‌(২) আর-রুম: ৩৯।

‌‌(৩) সাবা: ৩৯।

‌‌(৪) ফিকহুল ইবাদাত, মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু: ১৪২১ হিজরি), শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমিন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের বৈজ্ঞানিক কমিটি, (পৃষ্ঠা: ১৮৩)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১৪)
وراحته، ومَن أراد أن يطَّلع على ذلك فليجربِ الإنفاق فسيجد الآثار الحميدة التي تحصُل له بهذا الإنفاق، ولا سيما فيما إذا كان الإنفاقُ واجبًا مؤكدًا كالزَّكاة، فإن الزَّكاة أحد أركان الإسلام ومَبانيه العِظام، وهي التي تأتي كثيرًا مَقْرُونة بالصلاة التي هي عَمود الإسلام، وهي في الحقيقة محكُّ تبين كون الإنسان محبًّا لما عند الله عز وجل، لأن المال محبوب إلى النفوس، وبذل المحبوب لا يمكن أن يكونَ إلا مِن أجل محبوبٍ يؤمن به الإنسانُ وبِحُصوله، ويكون هذا المحبوب أيضًا أحب مما بذَلَهُ (1).

ومَصالح الزَّكاة وزيادةُ الإيمان بها وزيادة الأعمال وغير ذلك- أمرٌ مَعلوم، يحصُل بالتأمل فيه أكثر مما ذكَرْنا، وآثارُها على المجتمع وعلى الاقتصاد الإسلامي ظاهرةٌ أيضًا؛ فإن فيها من مواساة الفقراء والقيام بمصالح العامة ما هو معلوم ظاهرٌ مِن مَصارف هذه الزَّكاة، فإنَّ الله سبحانه وتعالى قال في مَصارف هذه الزَّكاة: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ} (2) وهؤلاءِ الأصنافُ الثمانية منهم مَن يأخذها لدفع حاجته، ومنهم مَن يأخذها لحاجة المسلمين إليه، فالفقراءُ والمساكين والغارمون لأنفسهم هؤلاء يأخذون لحاجتهم، وكذلك ابن السبيل والرِّقاب، ومنهم من يأخذ لحاجة الناس إليه، كالغارم لإصلاح ذات البَيْن، والعاملين عليها، والمجاهدين في سبيل الله.

فإذا عرَفنا أن توزيع الزَّكاة على هذه الأصناف يَحْصُل به دفع الحاجة الخاصة لمن يُعطاها، ويحصُل به دفْع الحاجة العامة للمسلمين، عرَفنا مدى نفعها للمجتمع، وفي الاقتصاد تتوزَّع الثروات بين الأغنياء والفقراء؛ بحيث يؤخذ من أموال الأغنياء هذا القدْر ليصرفَ إلى الفقراء، ففيه توزيعٌ للثروة؛ حتى لا يحدثَ التضخُّم من جانب، والبؤس والفقر من جانب آخر (3).

وفيها أيضًا مِن صلاح المجتمع ائتلافُ القلوب، فإن الفقراء إذا رأوا مِن الأغنياء أنهم

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (ص: 185).

‌‌(2) التوبة: 60.

‌‌(3) المرجع السابق والصفحة نفسها.
...এবং তার স্বস্তি; যে ব্যক্তি তা প্রত্যক্ষ করতে চায় সে যেন দান করার অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে, তবেই সে এই দানের মাধ্যমে অর্জিত প্রশংসনীয় প্রভাবগুলো খুঁজে পাবে। বিশেষ করে যদি সেই দান যাকাতের মতো কোনো সুনিশ্চিত ওয়াজিব (আবশ্যক) দান হয়। কেননা যাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন এবং এর সুমহান ভিত্তিগুলোর একটি। এটি প্রায়শই সালাতের সাথে যুক্ত হয়ে আসে, যা ইসলামের স্তম্ভ। প্রকৃতপক্ষে এটি আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তার প্রতি মানুষের ভালোবাসার সত্যতা নিরূপণের এক কষ্টিপাথর। কেননা সম্পদ মনের কাছে অত্যন্ত প্রিয়, আর প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করা কেবল তখনই সম্ভব যখন তার চেয়েও অধিক প্রিয় কোনো কিছুর প্রতি মানুষের বিশ্বাস থাকে এবং তা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা থাকে, আর সেই প্রিয় বিষয়টি যেন তার ব্যয়কৃত সম্পদের চেয়েও অধিক প্রিয় হয় (১)।

যাকাতের কল্যাণসমূহ, এর মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি এবং আমলের আধিক্য ও অন্যান্য বিষয়গুলো সর্বজনবিদিত। এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার চেয়েও অধিক কল্যাণ পাওয়া যাবে। সমাজ ও ইসলামী অর্থনীতির ওপর এর প্রভাবও সুস্পষ্ট। কেননা এতে দরিদ্রদের প্রতি সমবেদনা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যাদি আঞ্জাম দেওয়ার বিষয়টি বিদ্যমান, যা যাকাতের খাতগুলো থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা যাকাতের খাতসমূহের বর্ণনায় বলেছেন: {নিশ্চয়ই সদাকা কেবল দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত, যাকাত সংশ্লিষ্ট কাজে নিযুক্ত কর্মচারী, যাদের অন্তর জয় করা হয়, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য} (২)। এই আট শ্রেণির মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যাকাত গ্রহণ করে, আবার এমন লোকও রয়েছে যারা মুসলমানদের প্রয়োজনে যাকাত গ্রহণ করে। সুতরাং দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত এবং নিজেদের জন্য ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাদের অভাব পূরণের জন্য গ্রহণ করে, অনুরূপভাবে মুসাফির ও দাসমুক্তির ক্ষেত্রেও। আর কেউ কেউ মানুষের উপকারের জন্য গ্রহণ করে, যেমন সামাজিক বিবাদ মেটানোর জন্য ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারীগণ।

যখন আমরা জানতে পারলাম যে, এই শ্রেণিগুলোর মধ্যে যাকাত বণ্টনের মাধ্যমে যাকে তা দেওয়া হয় তার ব্যক্তিগত অভাব দূর হয় এবং মুসলমানদের সামষ্টিক প্রয়োজনও পূরণ হয়, তখন আমরা সমাজের জন্য এর উপযোগিতার পরিধি অনুধাবন করতে পারলাম। আর অর্থনীতির ক্ষেত্রে সম্পদ ধনী ও দরিদ্রদের মাঝে বণ্টিত হয়; যাতে ধনীদের সম্পদ থেকে এই পরিমাণ গ্রহণ করে দরিদ্রদের মাঝে ব্যয় করা হয়। ফলে এতে সম্পদের সুষম বণ্টন হয়; যাতে একাধারে সম্পদের পাহাড় না গড়ে ওঠে এবং অন্যদিকে দুর্দশা ও দারিদ্র্য চরম আকার ধারণ না করে (৩)।

এতে সমাজের সংশোধনের জন্য হৃদয়ের মেলবন্ধনও রয়েছে। কারণ দরিদ্ররা যখন ধনীদের মাঝে দেখে যে তারা

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ১৮৫)।

‌‌(২) আত-তাওবাহ: ৬০।

‌‌(৩) পূর্বোক্ত উৎস এবং একই পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ওয়াসায়িলু মুআলাজাতিল ফাকরি ফিল আহদিন নাবাবি (আহলুস সুফফাহ উনমুযাজান) (পৃষ্ঠা: ১৫)
يَمُدونهم بالمال، ويتصدقون عليهم بهذه الزَّكاة التي لا يجدون فيها مِنَّةً عليهم، لأنها مفروضة عليهم من قِبَل الله- فإنهم بلا شك يحبُّون الأغنياء، ويألفونهم، ويرجون ما أمرهم الله به مِن الإنفاق والبذْل، بخلاف ما إذا شحَّ الأغنياء بالزَّكاة، وبَخِلوا بها، واستأثروا بالمال، فإن ذلك قد يولد العداوة والضغينة في قلوب الفقراء، ويشير إلى هذا ختْمُ الآيات الكريمة التي فيها بيان مصارف الزَّكاة بقوله تعالى: {فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} (1).

وبهذا يتضح دورُها الفَّعال في مُعالَجَة مشكلة الفقر في العَهْد النبَوي، واستجابة الصحابة رضوان الله عليهم لأمر الله ورسوله صلى الله عليه وسلم في دفْعِها واضحةً وجلِيَّةً في السِّيَر.

 

‌‌المَطْلَب الثالث: الحَثُّ على الصدقة والتبَرُّع

ا. تعريف الصدقة:

جاء في مُختار الصَّحاح: المتصدِّق الذي يُعطي الصدقة، والصدقة ما تُصُدِّق به على الفقراء (2).

وقد ورَدت في القرآن الكريم آياتٌ كثيرة في الحَثُّ على الإنفاق التطوعي، وجزاء المنفقين، من ذلك قوله تعالى: {مَثَلُ الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ} (3).

وقوله تعالى: {لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا} (4)

وقوله تعالى: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنْفِقُوا خَيْرًا لِأَنْفُسِكُمْ

--------------------------------------------

(1) التوبة: 60.

‌‌(2) مختار الصحاح، زين الدين أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن عبد القادر الحنفي الرازي (المتوفى: 666 هـ)، تحقيق يوسف الشيخ محمد، المكتبة العصرية- الدار النموذجية، بيروت- صيدا، الطبعة: الخامسة، 1420 هـ/ 1999 م، (1/ 174) (ص د ق).

‌‌(3) البقرة: 261.

‌‌(4) النساء 114.
তারা তাদের সম্পদ দিয়ে সাহায্য করে এবং তাদের প্রতি এই জাকাত সদকা করে যাতে তারা কোনো অনুগ্রহের বোঝা অনুভব করে না, কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর নির্ধারিত করা হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা (দরিদ্ররা) ধনীদের ভালোবাসবে, তাদের প্রতি হৃদ্যতা অনুভব করবে এবং আল্লাহ তাদের যে ব্যয় ও দানের আদেশ দিয়েছেন তার আশা করবে। এর বিপরীতে যদি ধনীরা জাকাত দানে কার্পণ্য করে, কৃপণতা দেখায় এবং সম্পদ নিজেদের জন্য কুক্ষিগত করে রাখে, তবে তা দরিদ্রদের অন্তরে শত্রুতা ও বিদ্বেষের জন্ম দিতে পারে। আর জাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ বর্ণনার শেষে মহান আল্লাহর এই বাণী এর দিকেই ইঙ্গিত করে: {এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} (১)।

এর মাধ্যমে নবীজির যুগে দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের কার্যকর ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদেশের প্রতি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সাড়া দেওয়ার বিষয়টি জীবনী গ্রন্থসমূহে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সদকা ও দানের প্রতি উৎসাহ প্রদান

ক. সদকার সংজ্ঞা:

মুখতারুস সিহাহ গ্রন্থে এসেছে: ‘মুতাসাদদিক’ হলো সেই ব্যক্তি যে সদকা দেয়, আর ‘সদকা’ হলো সেই বস্তু যা দরিদ্রদের দান করা হয় (২)।

পবিত্র কুরআনে ঐচ্ছিক দান-সদকার উৎসাহ এবং দানকারীদের প্রতিদান সম্পর্কে অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে তাদের উপমা একটি শস্যবীজের মতো, যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে, প্রত্যেক শীষে একশটি দানা থাকে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন; আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ} (৩)।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে ব্যক্তি সদকা, নেক কাজ কিংবা মানুষের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনের নির্দেশ দেয় তার কথা ভিন্ন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তা করবে, তাকে আমি অবশ্যই মহাপুরস্কার দান করব} (৪)।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তোমরা যথাসম্ভব আল্লাহকে ভয় করো, শ্রবণ করো, আনুগত্য করো এবং ব্যয় করো, যা তোমাদের নিজেদের জন্য কল্যাণকর...

--------------------------------------------

(১) আত-তাওবাহ: ৬০।

‌‌(২) মুখতারুস সিহাহ, জয়নুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আব্দুল কাদির আল-হানাফি আর-রাজি (মৃত্যু: ৬৬৬ হি.), সম্পাদনা: ইউসুফ আল-শাইখ মুহাম্মাদ, আল-মাকতাবাতুল আশরিয়াহ- আদ-দারুন নামুজাজিয়াহ, বৈরুত-সাইদা, সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪২০ হি./ ১৯৯৯ খ্রি., (১/ ১৭৪) (স দ ক)।

‌‌(৩) আল-বাকারাহ: ২৬১।

‌‌(৪) আন-নিসা: ১১৪।