(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: -)
الشفا بتعريف حقوق المصطفى - وحاشية الشمني   (القاضي عياض)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الشفا بتعريف حقوق المصطفى - مذيلا بالحاشية المسماة مزيل الخفاء عن ألفاظ الشفاء

المؤلف: أبو الفضل القاضي عياض بن موسى اليحصبي (ت 544 هـ)

الحاشية: أحمد بن محمد بن محمد الشمنى (ت 873 هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

عام النشر: 1399 هـ - 1979 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আশ-শিফা বিতারিফি হুকুকিল মুস্তাফা - এবং শুমুননির হাশিয়া   (কাযী আইয়ায)

বিভাগ: সীরাতুন নবী (সা.)


কিতাব: আশ-শিফা বিতারিফি হুকুকিল মুস্তাফা - মুযিলুল খাফা আন আলফাযিশ শিফা নামক হাশিয়া সংযুক্ত

লেখক: আবুল ফযল কাযী আইয়ায বিন মুসা আল-ইয়াহসুবি (মৃত ৫৪৪ হিজরি)

হাশিয়া: আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আশ-শুমুননি (মৃত ৮৭৩ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

প্রকাশের বছর: ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: -)
الشفا بِتَعْرِيفِ حُقُوقِ المُصْطَفَى

للعلامة القاضي أبي الفضل عياض اليحصبي 544 هـ

مذيلا بالحاشية المسماة مزيل الخفاء عن ألفاظ الشفاء

للعلامة أحمد بن محمد بن محمد الشمنى 873

 

دار الفكر الطباعة والنشر والتوزيع
আশ-শিফা বি-তারীফি হুকূকিল মুস্তফা (নির্বাচিত নবীর অধিকারের পরিচয়ে আরোগ্য লাভ)

আল্লামা কাযী আবু আল-ফযল আয়ায আল-ইয়াহসুবি (৫৪৪ হিজরী)

‘মুযিলুল খাফা আন আলফাযিশ শিফা’ নামক টীকা সংবলিত

আল্লামা আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আশ-শুমুন্নী (৮৭৩ হিজরী)

 

দারুল ফিকর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: -)
جميع حقوق إعادة الطبع محفوظة

للناشر 1409 هـ - 1988 م

دار الفكر بيروت لبنان

المكاتب: البناية المركزية - هاتف: 244739 -

ص ب: 7061 / 11 المطابع والمعمل: حارة حريك - شارع عبد النور -

هاتف: 390663 (838202 - 837898) برقيا: فكسى.

تلكس: 41392 فكر 41392 LE FIKR
পুনঃমুদ্রণের সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

প্রকাশকের অনুকূলে ১৪০৯ হিজরী - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

দার আল-ফিকর, বৈরুত, লেবানন

কার্যালয়সমূহ: কেন্দ্রীয় ভবন - টেলিফোন: ২৪৪৭৩৯ -

পো. বক্স: ৭০৬১ / ১১ মুদ্রণালয় ও কারখানা: হারাত হুরেইক - আব্দুল নূর সড়ক -

টেলিফোন: ৩৯০৬৬৩ (৮৩৮২০২ - ৮৩৭৮৯৮) টেলিগ্রাফ: ফিক্সি।

টেলেক্স: ৪১৩৯২ ফিকর ৪১৩৯২ এলই ফিকর
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌كلمة الناشر:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرحيم وَالْحَمْد لله رَبّ العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد سيد الأولين والآخرين، وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين.

أما بعد: فلما كان نشر العلم فضيلة وكانت السنة الشريفة من أجل علوم الشريعة وأرفعها قدرا) وكان على المسلم أن يتخذ من أقوال وأفعال رسول الله صلى الله عليه وسلم نورا وضياء ينير له الطريق لفهم دينه وأحكامه، ومحركا لسلوكه في عاجلته وذخرا لآخرته، فقد اهتمت دار الفكر منذ تأسيسها بطبع كتب السنة المحمدية والحديث الشريف، مثل: صحيح البخاري وشرحه فتح الباري وصحيح مسلم وشروحاته وتصنيفاته، والموطأ وكافة كتب الصحاح وشروحا إلى جانب أعظم تفاسير القرآن الكريم وأنفعها مثل: الدر المنثور في التفسير بالمأثور ومعالم التنزيل في التفسير والتأويل للبغوي، والتفسير الكبير للفخر الرازي، وجامع اليبان عن تأويل آي القرآن للطبري وغير ذلك من أمهات الكتب في التفسير وعلوم القرآن والحديث والفقه على مختلف المذاهب والتاريخ واللغة وسائر العلوم والفنون الاسلامية.

وتقدم اليوم احياء للسنة المحمدية كتاب: شفاء القاضي عياض المسمى: الشفا بِتَعْرِيفِ حُقُوقِ المُصْطَفَى في طبعة جديدة ومصححة ومتقنة، واتماما للفائدة أضفنا للكتاب كحاشية له.

درة مفيدة هي: حاشية العلامة الشمنى المسماة: مزيل الخفاء عن ألفاظ الشفاء التي لم تطبع قبل الآن.

وفيما يلي نبذة يسيرة للتعريف بمؤلفي الكتاب والحاشية:
প্রকাশকের কথা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সরদার, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর প্রদর্শিত পথে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে তাদের সকলের ওপর।

অতঃপর: যেহেতু জ্ঞান প্রচার একটি মহৎ গুণ এবং সুন্নাহ শরীফ শরীয়তের ইলমসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ বিষয়; এবং একজন মুসলমানের উচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও কাজকে এমন এক নূর ও আলোকবর্তিকা হিসেবে গ্রহণ করা যা তার দ্বীন ও বিধান বোঝার পথকে আলোকিত করবে, এবং যা তার ইহকালীন আচরণের চালিকাশক্তি ও পরকালীন পাথেয় হবে; তাই 'দারুল ফিকর' তার প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই মুহাম্মাদী সুন্নাহ ও হাদিস শরীফের কিতাবসমূহ মুদ্রণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আসছে। যেমন: সহীহ বুখারী ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারী, সহীহ মুসলিম ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ ও বিন্যাসসমূহ, মুয়াত্তা ও সকল সিহাহ কিতাব ও সেগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ। এর পাশাপাশি পবিত্র কুরআনের মহান ও অত্যন্ত উপকারী তাফসীরসমূহ, যেমন: আদ-দুররুল মানসুর ফিত-তাফসীর বিল মাসুর, আল-বাগাওয়ী রচিত মাআলিমুত তানযীল ফিত-তাফসীর ওয়াত-তাওয়ীল, ফখর রাযী রচিত তাফসীরে কাবীর, তাবারী রচিত জামিউল বায়ান আন তাওয়ীলি আয়িল কুরআন এবং তাফসীর, উলূমুল কুরআন, হাদিস, বিভিন্ন মাযহাবের ফিকহ, ইতিহাস, ভাষা ও অন্যান্য সকল ইসলামী জ্ঞান ও কলার আকর গ্রন্থসমূহ।

আজ আমরা মুহাম্মাদী সুন্নাহর পুনর্জাগরণকল্পে কাযী ইয়ায-এর কিতাব 'আশ-শিফা বি-তা’রীফি হুকুকিল মুস্তফা' একটি নতুন, সংশোধিত ও নিপুণ সংস্করণে পেশ করছি। আর বিষয়টির উপকারিতাকে পূর্ণতা দিতে আমরা মূল কিতাবের সাথে একটি টীকা যুক্ত করেছি।

এই মূল্যবান মুক্তাসদৃশ সংযোজনটি হলো: আল্লামা শুমুননী রচিত টীকা, যার নাম 'মুযীলুল খফা আন আলফাযিশ শিফা', যা এর আগে কখনো মুদ্রিত হয়নি।

নিম্নে মূল কিতাব ও টীকার রচয়িতাদ্বয়ের পরিচিতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হলো:
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌ترجمة القاضى عياض (1)

هو أبو الفضل عياض بن موسى بن عِيَاضِ بن عمرون بن موسى بن عِيَاضِ بن محمد بن عبد الله بن موسى بن عياض اليحصبي، الإمام العلامة، يكنى أبا الفضل، ستى الدار والميلاد: أندلسى الأصل.

قال ولده محمد: كان أجدادنا في القديم بالأندلس، ثم انتقلوا إلى مدينة فاس وكان لهم استقرار بالقيروان لا أدرى قبل حلولهم بالأندلس أو بعد ذلك.

وانتقل عمرون إلى سبتة بعد سكنى فاس.

وَكَان الْقَاضِي أَبُو الفضل إمام وقته في الحديث وعلومه، عالما بالتفسير

وجميع علومه، فقيها أصوليا عالما بالنحو واللغة وكلام العرب وأيامهم وأنسابهم، بصيرا بالأحكام، عاقدا للشروط، بصيرا حافظ لمذهب مَالِك رَحِمَه اللَّه تعالى، شاعرا مجيدا ويا نا من علم الأدب، خطيبا بليغا صبورا حليما جميل العشرة، جوادا سمحا كثير الصدقة، دؤوبا على العمل، صلبا في الحق.

رحل إلى الأندلس سنة تسع وخمسمائة طالبا العلم، فأخذ بقرطبة عَنِ الْقَاضِي أَبِي عبد الله محمد بن علي بن حمدين، وأبى الحسين بن سراج، وَعَن أَبِي مُحَمَّد بن عتاب وغيرهم وأجاز له أبو علي الغساني، وأخذ بالمشرق عَنِ الْقَاضِي أَبِي على حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصدفى وغيره، وعنى بلقاء الشيوخ والأخذ عنهم، وأخذ عن أَبِي عَبْد اللَّه المازينى: كتب إليه يستجيزه، وأجاز له الشَّيْخ أَبُو بَكْر الطرطوشى.

ومن شيوخه.

القاضي أبو الوليد بن رشد.

قال صاحب الصلة البشكوالية: وأظنه سمع عن أبى زيد، وقد إجتمع له من الشيوخ بين من سمع منه وبين من أجاز له مائة شيخ وذكر ولده محمد منهم: أَحْمَدُ بن بَقِيٍّ، وأحمد بن محمد بن محمد ابن مكحول، وأبو الطاهر أحمد بن محمد السلفي، والحسن بن محمد بن سكره، والقاضى أبو بكر بن العربي، والحسن بن علي بن طريف، وخلف بْنِ إبْرَاهِيمَ بْنِ النحاس، ومحمد بن أحمد بن الحاج القرطبى، وعبد الله بن محمد الخشنى وغيرهم ممن يطول ذكرهم.

--------------------------------------------

(1) نقلت هذه الترجمة من كتاب الديباج الذهب في معرفة أعيان علماء المذهب للعلامة برهان الدين ابن فرحون المالكى.

(*)
কাজী ইয়াজের জীবনী (১)

তিনি হলেন আবুল ফজল ইয়াজ ইবনে মুসা ইবনে ইয়াজ ইবনে আমরুন ইবনে মুসা ইবনে ইয়াজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুসা ইবনে ইয়াজ আল-ইয়াহসুবি; ইমাম ও মহাজ্ঞানী। তাঁর উপনাম (কুনিয়া) আবু ফজল। তিনি জন্ম ও আবাসস্থলের দিক থেকে সাবতী এবং মূলে আন্দালুসিয়ান।

তাঁর পুত্র মুহাম্মদ বলেন: প্রাচীনকালে আমাদের পূর্বপুরুষগণ আন্দালুসে ছিলেন, অতঃপর তাঁরা ফাস শহরে স্থানান্তরিত হন। কাইরোয়ানেও তাঁদের বসতি ছিল; তবে আমি জানি না তা আন্দালুসে আসার আগে না কি পরে।

ফাসে বসবাসের পর আমরুন সাবতাহ শহরে চলে যান।

কাজী আবু ফজল হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানে তাঁর সময়ের ইমাম ছিলেন। তিনি তাফসির

এবং এর যাবতীয় জ্ঞানে পণ্ডিত ছিলেন। তিনি একজন ফকিহ, উসুলবিদ এবং নাহু (ব্যাকরণ), ভাষা, আরবদের ইতিহাস ও তাঁদের বংশলতিকা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি বিচারিক বিধানে দূরদর্শী, চুক্তি সম্পাদনে দক্ষ এবং ইমাম মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এর মাযহাবের প্রাজ্ঞ হাফেজ ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে উচ্চমানের কবি, সাহিত্যবোদ্ধা, বাগ্মী খতিব, ধৈর্যশীল, সহনশীল, সদালাপী, উদার, দানশীল, কর্মতৎপর এবং সত্যের পথে আপসহীন।

তিনি ইলম অন্বেষণে পাঁচশত নয় হিজরিতে আন্দালুস সফর করেন। সেখানে কর্ডোভায় তিনি কাজী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হামদিন, আবুল হুসাইন ইবনে সিরাজ, আবু মুহাম্মদ ইবনে আত্তাব ও অন্যদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। আবু আলী আল-গাসসানি তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন। তিনি প্রাচ্যে কাজী আবু আলী হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদাফি ও অন্যদের নিকট থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁদের থেকে জ্ঞান অর্জনে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-মাজিরির নিকট ইজাজত চেয়ে পত্র লিখেছিলেন এবং তিনি তাঁকে ইজাজত দেন। শায়খ আবু বকর আত-তোরতুশিও তাঁকে ইজাজত প্রদান করেছিলেন।

তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:

কাজী আবুল ওয়ালিদ ইবনে রুশদ।

আস-সিলাহ আল-বাশকুওয়ালিয়াহ গ্রন্থের লেখক বলেন: আমার ধারণা তিনি আবু যায়েদ থেকেও শুনেছেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে যাঁরা সরাসরি পাঠদান করেছেন এবং যাঁরা ইজাজত দিয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা ছিল একশত। তাঁর পুত্র মুহাম্মদ তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন: আহমদ ইবনে বাকি, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাকহুল, আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সিলাফি, হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুক্কারাহ, কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবি, হাসান ইবনে আলী ইবনে তারিফ, খালাফ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আন-নাহাস, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আল-হাজ্জ আল-কুরতুবি, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-খুশানি এবং আরও অনেকে, যাঁদের নাম উল্লেখ করলে তালিকা দীর্ঘ হবে।

--------------------------------------------

(১) এই জীবনীটি আল্লামা বুরহানুদ্দিন ইবনে ফারহুন আল-মালিকি রচিত 'আদ-দিবাজ আল-জাহাব ফি মারিফাতি আয়ান উলামা আল-মাজহাব' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৩)
قال صاحب الصلة: وجمع من الحديث كثيرا وله عناية كبيرة به واهتمام بجمعه وتقييده وهو من أهل التفنن في العلم واليقظة والفهم، وبعد عودته من الأندلس أجله أهل سبتة للناظرة عليه في المدونة وهو ابن ثلاثين سنة أو ينيف عنها، ثم أجلس للشورى ثم ولى قضاء بلده مدة طويلة حمدت سيرته فيها، ثم نقل إلى قضاء غرناطة في سنة إحدى وثلاثين وخمسمائة ولم يطل أمره بها، ثم ولى قضاء سبتة ثانيا.

قال صاحب الصلة: وقدم علينا قرطبة فأخذنا عنه بعض ما عنده.

قال الخطيب: وبنى الزيادة الغربية في الجامع الأعظم وبنى في جانب المينا

الراتبة الشهيرة وعظم صيته.

ولما ظهر أمر الموحدين بادر إلى المسابقة بالدخول في طاعتهم ورحل إلى لقاء أميرهم بمدينة سلا، فأجزل صلته، وأوجب بره، إلى أن اضطربت أمور الموحدين عام ثلاثة وأربعين وخمسمائة فتلاشت حاله، ولحق بمراكش مشردا به عن وطنه فكانت بها وفاته.

وله التصانيف المفيدة البديعة منها كمال المعلم: في شرح صحيح مسلم، ومنها كتاب الشفا: بِتَعْرِيفِ حُقُوقِ المُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم أبدع فيه كل الإبداع، وسلم له أكفاؤه كفاءته فيه ولم ينازعه أحد في الانفراد به ولا أنكروا مزية السبق إليه بل تشوفوا للوقوف عليه، وأنصفوا في الاستفادة منه، وحمله الناس عنه، وطارت نسخه شرقا وغربا، وكتاب مشارق الأنوار فِي تَفْسِيرِ غَرِيبِ حديث الموطأ والبخاري ومسلم وضبط الألفاظ والتنبيه على مواضع الأوهام والتصحيفات وضبط أسماء الرجال وهو كتاب لو كتب بالذهب أو وزن بالجوهر لكان قليلا في حقه، وفيه أنشد بعضهم: مشارق أنوار تبدت بسبتة * ومن عجب كون المشارق بالغرب وكتاب التنبيهات المستنبطة على الكتب المدونة: جمع فيه غرائب من ضبط الألفاظ وتحرير المسائل، وكتاب ترتيب المدارك وتقريب المسالك لمعرفة أعلام مذهب مالك وكتاب الإعلام بحدود قواعد الإسلام، وكتاب الإلماع في ضبط الرواية وتقييد السماع، وكتاب بغية الرائد لما تضمنه حديث أم زرع من الفوائد، وكتاب الغنيمة في شيوخه، وكتاب المعجم في شيوخ ابن سكره، وكتاب نظم البرهان على حجة جزم الأذان، وكتاب مسألة الأهل المشروط بينهم التزاور، ومما لم يكمله: المقاصد الحسان فيما يلزم الإنسان، وكتاب العيون الستة في أخبار سبتة، وكتاب غنية الكاتب وبغية الطالب في الصدور
'সিলাহ' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: তিনি প্রচুর হাদিস সংগ্রহ করেছেন এবং হাদিস সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাপক যত্ন ও বিশেষ মনোযোগ ছিল। তিনি ছিলেন বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী, অত্যন্ত সতর্ক ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের একজন। আন্দালুস থেকে ফেরার পর 'মুদাওওয়ানা'র ওপর তাঁর পাণ্ডিত্য ও পর্যালোচনার কারণে সেউটার অধিবাসীরা তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদান করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশ বছর বা তার কিছু বেশি। এরপর তাঁকে পরামর্শ সভার সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অতঃপর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিজ শহরের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে তাঁর কর্মপদ্ধতি প্রশংসিত হয়। এরপর ৫৩১ হিজরি সনে তাঁকে গ্রানাডার বিচারপতির পদে স্থানান্তরিত করা হয়, তবে সেখানে তাঁর দায়িত্বকাল দীর্ঘ হয়নি। পরবর্তীতে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সেউটার বিচারপতির দায়িত্ব লাভ করেন।

'সিলাহ' গ্রন্থের লেখক আরও বলেন: তিনি কর্ডোভায় আমাদের নিকট এসেছিলেন এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে কিছু ইলম অর্জন করেছি।

খতিব বলেছেন: তিনি জামে আজমের পশ্চিম দিকের বর্ধিত অংশ নির্মাণ করেন এবং বন্দর এলাকায় নির্মাণ করেন—

সেই সুপ্রসিদ্ধ স্থায়ী ইমারত, এবং তাঁর খ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

যখন মুওয়াহহিদুনদের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করল, তখন তিনি দ্রুত তাঁদের আনুগত্য গ্রহণে এগিয়ে গেলেন এবং সালা শহরে তাঁদের আমিরের সাথে সাক্ষাত করতে যান। আমির তাঁকে অনেক দান-উপহার প্রদান করেন এবং তাঁর প্রতি সদাচরণ করাকে অপরিহার্য গণ্য করেন। ৫৪৩ হিজরি সালে যখন মুওয়াহহিদুনদের অবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে পড়ল, তখন তাঁর অবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তিনি স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে মারাকেশে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর অনেক উপকারী ও চমৎকার সব রচনা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ইকমালুল মুয়াল্লিম'। আরও রয়েছে 'কিতাবুশ শিফা বি-তারিফি হুকুকিল মুস্তফা' (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক), যাতে তিনি চরম মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। তাঁর সমসাময়িক যোগ্য আলেমরাও এই কিতাবে তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং এই বিষয়ে তাঁর একক শ্রেষ্ঠত্বের সাথে কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি। এর অনন্য অগ্রযাত্রার শ্রেষ্ঠত্ব কেউ অস্বীকার করেনি, বরং মানুষ এটি দেখার জন্য উদগ্রীব ছিল। তাঁরা এটি থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রদর্শন করেছেন এবং অসংখ্য মানুষ এটি তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন। এই কিতাবের পাণ্ডুলিপিগুলো পূর্ব থেকে পশ্চিমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। আর তাঁর কিতাব 'মাশারিকুল আনওয়ার', যা মুয়াত্তা, বুখারি ও মুসলিমের কঠিন হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা, শব্দের সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ, ভুল ধারণা ও ভুল লিপির বিষয়ে সতর্কতা প্রদান এবং বর্ণনাকারীদের নাম নির্ভুল করার বিষয়ে রচিত। এটি এমন একটি কিতাব, যা যদি সোনা দিয়ে লেখা হতো কিংবা জহরত দিয়ে ওজন করা হতো, তবে তাও এর উচ্চমর্যাদার তুলনায় সামান্যই মনে হতো। এই কিতাব সম্পর্কে কেউ কেউ কবিতা পাঠ করেছেন: "সেউটায় 'মাশারিকুল আনওয়ার' (নূরের উদয়স্থল) প্রকাশিত হয়েছে; আর আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, উদয়স্থল আজ পশ্চিমে অবস্থিত।" আরও আছে 'কিতাবুত তানবিহাতুল মুস্তানবাতা আলাল কুতুবিল মুদাওওয়ানা', যাতে তিনি শব্দের উচ্চারণ ও মাসআলা তাহকিকের দুর্লভ সব বিষয় একত্রিত করেছেন। 'কিতাবুত তারতিবিল মাদারিক ওয়া তাকরিবুল মাসালিক লি-মারিফাতি আলামি মাজহাবি মালিক', 'কিতাবুল ইলাম বি-হুদুদি কাওয়াইদিল ইসলাম', 'কিতাবুল ইলমা ফি দাপ্তির রিওয়ায়া ওয়া তাকিয়িদিস সামা', 'কিতাব বুকইয়াতুর রায়িদ' যা উম্মে জার’র হাদিসের উপকারী দিকগুলোর বর্ণনায় রচিত, তাঁর উস্তাদদের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ 'আল-গানিমাহ', ইবনে সুকরার উস্তাদদের পরিচয় নিয়ে গ্রন্থ 'আল-মুজাম', আজানের ক্ষেত্রে জযম হওয়ার দলিলের ওপর 'নাযমুল বুরহান', আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে পারস্পরিক সাক্ষাত বিষয়ক মাসআলা। যেসব কিতাব তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি তার মধ্যে রয়েছে 'আল-মাকাসিদুল হাসান ফিমা ইয়ালযামুল ইনসান', সেউটার ইতিহাস নিয়ে 'কিতাবুল উয়ুনুস সিত্তা ফি আখবারি সাবতাহ' এবং 'কিতাব গনিয়াতুল কাতিব ওয়া বুকইয়াতুত তালিব' যা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের জীবনী বিষয়ক।
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৪)
والترسل، وكتاب الأجوبة المحبرة على الأسئلة المتخيرة، وكتاب أجوبة القرطبيين، وكتاب أجوبته عما نزلت في أيام قضائه من نوازل الأحكام في سفر، وكتاب سر السراة في أدب القضاة، وكتاب خطبه وكان لا يخطب إلا بإنشائه، وله شعر كثير حسن رائق فمنه قوله:

يا من تحمل عنى غير مكترث * لكنه للضنى والسقم أوصى بى

تركتني مسهام القلب ذا حرق * أخا جوى وتباريح وأوصاب

أراقب النجم في جنح الدجى سمرا * كأننى راصد للنجم أو صابى

وله رحمه الله تعالى:

الله يعلم أنى منذ لم أركم * كطائر خانه ريش الجناحين

ولو قدرت ركبت الريح نحوكم * فإن بعدكم عنى جنى حينى

وله من أبيات:

إن البخيل بلحظه أو لفظه * أو عطفه أو رفقه لبخيل وله في خامات الزرع بينها شقائق النعمان هبت عليها أرياح: انظر إلى الزرع وخاماته * تحكى وقد ماست أمام الرياح كتيبة خضراء مهزومة * شقائق النعمان فيها جراح

وله غير ذلك.

كان مولد القاضى عياض بسبتة في شهر شعبان سنة ست وتسعين وأربعمائة، وتوفى بمراكش في شهر جمادى الأخيرة وقيل فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سنة أربع وأربعين وخمسمائة، وقيل إنه مات مسموما سمه يهودى.

ودفن رحمه الله تعالى بباب إيلان داخل المدينة.

و (عياض) بكسر العين المهملة وفتح الياء المثناة التحتية وبعد الألف ضاد معجمة و (اليحصبى) بفتح الياء المثناة التحتية وسكون الحاء المهملة وضم الصاد المهملة وفتحها وكسرها وبعدها ياء موحدة نسبة إلى يحصب بن مالك قبيلة من حمير، وسبتة مدينة مشهورة، وغرناطة: مدينة بالأندلس وهى بفتح الغين المعجمة وسكون الراء المهملة ثم نون مفتوحة بعدها ألف وبعد الألف طاء مهملة ثم هاء ويقال فيها أغرناطة بألف قبل الغين.
এবং পত্রলিখন শিল্প, আর নির্বাচিত প্রশ্নাবলির সুশোভিত উত্তরমালা নামক গ্রন্থ, কর্ডোভা অধিবাসীদের জন্য উত্তরমালা নামক গ্রন্থ, তাঁর বিচারিক দায়িত্ব পালনকালে উদ্ভূত সমসাময়িক বিধানাবলির সমাধান সংবলিত গ্রন্থ (এক খণ্ডে), বিচারকদের শিষ্টাচার বিষয়ক ‘সিররুস সারাত’ নামক গ্রন্থ এবং তাঁর খুতবাসমূহ; তিনি কেবল নিজের রচিত খুতবাই পাঠ করতেন। তাঁর প্রচুর সুন্দর ও চমৎকার কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিটি অন্যতম:

হে আমার থেকে ভ্রুক্ষেপহীনভাবে প্রস্থানকারী * অথচ আমাকে ব্যাধি ও জরাগ্রস্ত হওয়ার অসিয়ত করে গিয়েছ।

তুমি আমাকে দগ্ধ হৃদয়ে বিলাপকারী হিসেবে ছেড়ে গিয়েছ * আমি যাতনা, দুঃখ ও বেদনার সাথী হয়ে পড়েছি।

আমি নিশীথ রাতের আঁধারে তারকারাজি পর্যবেক্ষণ করি * যেন আমি নক্ষত্র পর্যবেক্ষক বা কোনো সাবায়ি (নক্ষত্র উপাসক)।

তাঁর (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) আরও কবিতা:

আল্লাহ জানেন যে, যখন থেকে আমি আপনাদের দেখিনি * তখন থেকে আমি সেই পাখির ন্যায় যার ডানার পালক তাকে ধোঁকা দিয়েছে।

যদি আমি সক্ষম হতাম, তবে বাতাসের পিঠে সওয়ার হয়ে আপনাদের পানে ছুটে আসতাম * কেননা আপনাদের বিচ্ছেদই আমার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে।

তাঁর কিছু পঙক্তি নিম্নরূপ:

নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি প্রকৃত কৃপণ, যে তার দৃষ্টিতে, বাক্যে, সহানুভূতিতে কিংবা মমতায় কার্পণ্য করে। আর শস্যক্ষেতের কচি ডগাগুলোর মাঝে যখন ‘শাকাইকুন্নুমান’ (লাল পপি ফুল) ফুটে থাকে এবং তার ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যায়, সে সম্পর্কে তিনি বলেন: শস্যক্ষেত ও তার কচি ডগাগুলোর দিকে তাকাও * যখন তারা বাতাসের সামনে দুলতে থাকে, তখন তারা যেন এক পরাজিত সবুজ সৈন্যবাহিনী * যার মাঝে ‘শাকাইকুন্নুমান’ ফুলগুলো হলো একেকটি ক্ষত বা জখম।

এ ছাড়া তাঁর আরও কবিতা ও রচনা রয়েছে।

কাজ্বী আয়াজ ৪৯৬ হিজরি সনের শাবান মাসে সাবতাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৫৪৪ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে মারাক্কেশ শহরে ইন্তেকাল করেন। কারো মতে তা রমজান মাস ছিল। বলা হয় যে, তিনি বিষক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন, জনৈক ইহুদি তাঁকে বিষ প্রয়োগ করেছিল।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে রহম করুন, তাঁকে শহরের ভেতরে ‘বাব ইইলান’ নামক স্থানে দাফন করা হয়।

‘আয়াজ’ শব্দটি আইন বর্ণে কাসরা (ই-কার), ইয়া বর্ণে ফাতহা (আ-কার), এরপর আলিফ এবং শেষে দ্বদ বর্ণ দিয়ে গঠিত। ‘আল-ইয়াহসুবি’ শব্দটি ইয়াহসুব ইবনে মালিক-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা হিমইয়ার গোত্রের একটি শাখা। সাবতাহ একটি প্রসিদ্ধ শহর। গ্রানাডা: এটি আন্দালুসের একটি শহর। এর উচ্চারণ হলো গাইন বর্ণে ফাতহা, রা বর্ণে সুকুন, এরপর নুন বর্ণে ফাতহা, তার পরে আলিফ, এরপর ত্ব বর্ণ এবং শেষে হা। কেউ কেউ একে গাইনের আগে আলিফ যোগ করে ‘আগারনাতাহ’ও বলে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة العلامة الشمني (1) صاحب الحاشية

هو أحمد بن محمد بن محمد حسن بن علي بن يحيى بن محمد التقى السكندرى المولد القاهرى المنشأ الحنفي ويعرف بالشمنى بضم المعجمة والميم ثم نون مشددة نسبة لمزرعة ببلاد المغرب أو لقرية بها ولد في العشر الأخير من رمضان سنة إحدى وثمانمائة واشتغل أولا مالكيا ثم تحول حنفيا لكون البساطى فيما قيل قدم عليه بعض من هو دونه من رفقائه وبرع في الفقه والأصلين والعربية والمعاني والبيان والمنطق والصرف والهندسة والهيئة والحساب وسمع الحديث على جماعة وبحث على شيخنا دروسا من شرح ألفية العراقى ولازمه بعد والده فأحسن إليه وساعده في استخلاص مبلغ ممن وثب عليه في بعض وظائف أبيه وزاد إقبالا عليه حين وقع السؤال عن حكمة الترقي من الذرة إلى الحبة إلى الشعيرة في حديث ومن أظلم ممن ذهب يخلق كخلق فليخلقوا ذرة الحديث.

وأجاب التقى بديهة بأن صنع الأشياء الدقيقة فيه صعبوة والأمر بمعنى التعجيز فناسب التدلى من الأعلى إلى الأدنى فاستحسنه شيخنا فزاد في إكرامه والتعريف بفضيلة وتصدى للإقراء، وصنف حاشية على المغنى لخصها من حاشية الدماميني وزاد عليها أشياء نفيسة سماها المنصف من الكلام على مغنى ابن هشام، وتعليقا لطيفا في ضبط ألفاظ الشفاء لخصه من شرح البرهان الحلبي وأتى بتتمات يسيرة فيها تحقيقات دقيقة سماه (مزيل الخفاء عن ألفاظ الشفاء) وغير ذلك وأقراء في العقليات بدون ملاحظة كراس ولا حاشية وقد اتفق دخول اثنين من فضلاء العجم الجمالية فوجداه يقرئ في المطول بدون كراس فجلسا عنده وبحثا معه واستشكلا عليه فلم ينقطع منهما بل أفحمهما بحيث امتلأت أعينهما من جلالته وصرحا بعد انفصالهما عنه لبعض أخصائه بأنهما لم يظنا أن في أبناء العرب من ينهض فحكاه للشيخ فتبسم وقال بذلك قد أقرأته اثنى عشر مرة بغير مطالعة وكان إماما علامة سنيا متين الديانة ممن ينسب إلى التصوف لم يتدنس بما يحط مقداره وقد عم النفع به حتى بقى جل الفضلاء من سائر المذاهب من اهل مصر بل وغيرها من تلامذته

--------------------------------------------

من البدر الطالع المنتخب من الضوء اللامع لأهل القرن التاسع.

(*)
আল্লামা শুমুন্নীর (১) জীবনী, যিনি হাশিয়া (টিকা) এর রচয়িতা।

তিনি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ হাসান বিন আলী বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ আত-তাকি। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কায়রোতে লালিত-পালিত হন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী। তিনি ‘শুমুন্নী’ (শীন ও মীম অক্ষরে পেশ এবং নুন অক্ষরে তাশদীদসহ) নামে পরিচিত ছিলেন। এই নামটি মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) অঞ্চলের একটি কৃষি খামার বা একটি গ্রামের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ৮০১ হিজরী সনের রমজান মাসের শেষ দশকে জন্মগ্রহণ করেন। শুরুতে তিনি মালিকী মাযহাবের জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন, তবে পরবর্তীতে হানাফী মাযহাবে স্থানান্তরিত হন। কারণ হিসেবে বলা হয় যে, আল-বিসাতী তার ওপর তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের এক সহপাঠীকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তিনি ফিকহ, উসূলাইন (আকীদা ও ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি), আরবি ভাষা, অলংকারশাস্ত্র (মাআনী ও বায়ান), যুক্তিবিদ্যা, সারফ (শব্দরূপান্তর), জ্যামিতি, জ্যোতির্বিদ্যা এবং গণিতশাস্ত্রে বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি একদল উলামার নিকট হাদিস শ্রবণ করেন এবং আমাদের শায়খের (ইবনে হাজার আল-আসকালানী) নিকট আল্লামা ইরাকীর ‘শরহু আলফিয়্যাহ’ এর পাঠ গ্রহণ ও গবেষণা করেন। তার পিতার ইন্তেকালের পর তিনি শায়খের সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে থাকেন। শায়খও তার প্রতি অত্যন্ত সদয় আচরণ করেন এবং তার পিতার কিছু পদ যারা দখল করেছিল, তাদের নিকট থেকে পাওনা অর্থ উদ্ধারে তাকে সহায়তা করেন। শায়খের নিকট তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়ে যায় যখন একটি হাদিসের হিকমত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়—কেন সেখানে ধূলিকণা থেকে শস্যদানা এবং তারপর যব-এর দিকে ক্রমান্বয়ে উর্ধ্বগামী হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে? হাদিসটি হলো: “তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করার প্রয়াস পায়? তারা যেন একটি ধূলিকণা সৃষ্টি করে দেখায়...।”

আত-তাকি তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর দেন যে, অতি সূক্ষ্ম বস্তু তৈরি করা অধিক কঠিন, আর এই নির্দেশটি দেওয়া হয়েছে মানুষকে অক্ষম প্রমাণের উদ্দেশ্যে। তাই উচ্চতর পর্যায় থেকে নিম্নতর পর্যায়ের দিকে আসাই এখানে যুক্তিযুক্ত। আমাদের শায়খ এই উত্তরটি পছন্দ করেন এবং তার সম্মান ও মর্যাদাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরেন। এরপর তিনি শিক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ‘আল-মুগনী’র ওপর একটি হাশিয়া (টীকা) রচনা করেন, যা তিনি আল্লামা দামামীনীর হাশিয়া থেকে সংক্ষেপ করেছেন এবং তাতে অনেক মূল্যবান বিষয় যোগ করেছেন। তিনি এর নাম দেন ‘আল-মুনসিফ মিনাল কালাম আলা মুগনী ইবনে হিশাম’। এছাড়া তিনি ‘আশ-শিফা’র শব্দাবলি বিন্যাসের ওপর একটি চমৎকার ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখেন, যা তিনি বুরহান আল-হালাবীর শরহ থেকে সংক্ষেপ করে কিছু সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ যোগ করেছেন। এর নাম দেন ‘মুযীলুল খাফা আন আলফাযিশ শিফা’। এছাড়াও তিনি অন্যান্য গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি কোনো পাণ্ডুলিপি বা টিকা ছাড়াই বুদ্ধিভিত্তিক শাস্ত্রসমূহ (আকলিয়াত) পাঠ দান করতেন। একবার জ্যামালিয়া মাদরাসায় অনারবদের দুইজন বিশিষ্ট আলেম সেখানে প্রবেশ করেন। তারা দেখতে পান যে, তিনি কোনো কিতাব ছাড়াই ‘আল-মুতাল্লাল’ এর পাঠ দিচ্ছেন। তারা তার মজলিসে বসেন এবং তার সাথে তর্কে লিপ্ত হন। কিন্তু তিনি তাদের সামনে দমে যাননি, বরং তাদের যুক্তি খণ্ডন করে এমনভাবে নিরুত্তর করে দেন যে, তারা তার পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে যান। সেখান থেকে বিদায়ের পর তারা তার এক ঘনিষ্ঠ জনের কাছে স্বীকার করেন যে, তারা কল্পনাও করেননি যে আরবদের সন্তানদের মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারে যে এতোটা দক্ষ। বিষয়টি শায়খকে জানানো হলে তিনি মুচকি হাসেন এবং বলেন যে, এই কিতাবটি তিনি পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই বারোবার পড়িয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ ইমাম, সুন্নী এবং সুদৃঢ় দ্বীনদার ব্যক্তি। তিনি তাসাউউফের অনুসারী ছিলেন এবং কোনো প্রকার হীনতা তাকে কলুষিত করেনি। তার শিক্ষা ও জ্ঞান দ্বারা ব্যাপক উপকার সাধিত হয়েছে, এমনকি মিসর ও অন্যান্য অঞ্চলের সকল মাযহাবের অধিকাংশ শ্রেষ্ঠ আলেমই তার ছাত্র ছিলেন।

--------------------------------------------

আল-বদরুত তালি' গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত, যা নবম শতাব্দীর ব্যক্তিবর্গের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ ‘আদ-দউউল লামি’ থেকে চয়ন করা হয়েছে।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৬)
واشتدت رغبتهم في الأخذ عنه وتزاحموا عليه وهرعوا صباحا ومساء إليه، وامتدحه من الشعراء: الشهاب المنصوري وغيره كل ذلك من الشهامة وحسن الشكالة والأبهة وبشاشة الوجه ومحبة الحديث وأهله وقد حضرت كثيرا من دروسه وتقنعه بخلوة في الجمالية يسكنها وأمة سوداء لقضاء وطره وغير ذلك وقد استقر به قانباى الجركسى في خطابة تربته ومشيخة الصوفية بها وتحول إليها ولم يكن يحابى في الدين أحدا بحيث التمس منه بعض الشبان من ذوى البيوت إذنه له في التدريس بعد أن أهدى إليه شيئا فبادر لرد الهدية وامتنع من الإذن وربما كتب فيما لا يرتضيه لقصد جميل ككتابته على كراس من تفسير البقاعي الذى سماه المناسبات فإنه قال لى حين عاتبتة على ذلك إنما كتبت لصونه عما رام تمريغا أن يوقعه به ووالله ما طالعته وليس هو عندي في زمرة العلماء ولم تَكُن لَه رغبة في الكتابة على الفتوى مع سؤالهم له ولا في حضور عقود المجالس وقد خطبه الشهاب ابن العينى أيام ضخامته للحضور عنده وأح عليه وكان قرره متصدرا فيما جده بمدرسة جده فلم يجد بدا من إجابته وجاء العبادي ليجلس فوقه بينه وبين الحنفي فما مكنه الشهاب وحول العبادي إلى جهة يمينه، بل خطب لقضاء الحنفية فأبى بعد مجئ كاتب السر إليه وإخباره بأنه إن لم يجب نزل إليه السلطان فصمم وقال الاختفاء ممكن فقال له كاتب السر فبماذا تجيب إذا سألك الله تعالى عن امتناعك بعد تعينه عليك فقال يفتح الله تعالى حينئذ بالجواب ولم يزل على وجاهته إلى أن تعلل ومات في ليلة الأحد سابع عشر ذى الحجة سنة اثنين وسبعين وثمانمائة بمنزل سكنه من التربة المشار إليها وصلى عليه عند بابها ودفن بها وخلف ذكرين وأنثى من جارية وألف دينار وحفظت جهاته لولديه رحمه الله تعالى وإيانا.

তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হলো এবং তারা তাঁর চারপাশে ভিড় জমাতে লাগল; তারা সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর নিকট ছুটে আসত। শিহাব আল-মানসুরি এবং অন্যান্য কবিগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন। এসবই ছিল তাঁর বীরত্ব, সুন্দর অবয়ব, গাম্ভীর্য, হাস্যোজ্জ্বল চেহারা এবং হাদিস ও হাদিসবিদদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণে। আমি তাঁর অনেক দরসে উপস্থিত হয়েছি। তিনি জামালিয়াতে একটি নির্জন স্থানে বসবাস করতেন এবং নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য তাঁর একজন কৃষ্ণাঙ্গ দাসী ছিল। কানিবায় আল-জারকাসি তাঁকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সমাধি-সংলগ্ন মসজিদের খতিব এবং সেখানকার সুফিদের শাইখ হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হন। দ্বীনের বিষয়ে তিনি কাউকেই তোষামোদ করতেন না। এমনকি সম্ভ্রান্ত পরিবারের কিছু যুবক শিক্ষকতার অনুমতির জন্য তাঁর নিকট কিছু উপহার পাঠালে তিনি তৎক্ষণাৎ সেই উপহার ফেরত দেন এবং অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। মাঝেমধ্যে তিনি কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে এমন বিষয়েও লিখতেন যা তিনি নিজে পছন্দ করতেন না; যেমন আল-বিকাঈর তাফসির—যার নাম 'আল-মুনাসাবাত'—তার একটি পাণ্ডুলিপির ওপর তাঁর মন্তব্য। আমি যখন এ বিষয়ে তাঁকে অনুযোগ করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, 'আমি কেবল তাকে এমন একজনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য লিখেছি যে তাকে লাঞ্ছিত করতে চেয়েছিল। আল্লাহর শপথ, আমি এটি পড়িনি এবং আমার নিকট সে আলেমদের অন্তর্ভুক্ত নয়।' মানুষ তাঁর কাছে ফাতাওয়া চাইলেও ফাতাওয়া প্রদানের প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ ছিল না এবং তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থিত হতেও পছন্দ করতেন না। শিহাব ইবনুল আইনি তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তির সময় তাঁকে নিজের নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য জোরাজুরি করেন। তিনি তাঁকে তাঁর দাদার মাদরাসায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন, ফলে তাঁর আহবানে সাড়া দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। সেখানে আল-আব্বাদি এসে তাঁর উপরে তাঁর ও হানাফি বিচারকের মাঝে বসার চেষ্টা করলে শিহাব (ইবনুল আইনি) তাঁকে সেই সুযোগ দেননি এবং আব্বাদিকে তাঁর ডান দিকে সরিয়ে দেন। এমনকি তাঁকে হানাফি মাজহাবের প্রধান বিচারপতির পদের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রধান সচিব তাঁর নিকট এসে সংবাদ দেন যে, তিনি যদি রাজি না হন তবে সুলতান স্বয়ং তাঁর নিকট হেঁটে আসবেন; তবুও তিনি স্বীয় সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং বলেন যে, 'আত্মগোপন করা সম্ভব'। তখন সচিব তাঁকে বললেন, 'আপনার ওপর এই দায়িত্ব অবধারিত হওয়ার পর কেন আপনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন—এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা যখন আপনাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তখন আপনি কী উত্তর দেবেন?' তিনি বললেন, 'আল্লাহ তাআলা তখন সঠিক উত্তরের পথ খুলে দেবেন।' তিনি আজীবন মর্যাদার সাথে অতিবাহিত করেন, পরিশেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ৮৭২ হিজরি সালের ১৭ই জিলহজ রবিবার রাতে উক্ত সমাধিস্থলের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জানাজা সেই সমাধিস্থলের প্রবেশপথে অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি তাঁর এক দাসীর গর্ভজাত দুই পুত্র ও এক কন্যা এবং এক হাজার দিনার রেখে যান। তাঁর পদ ও সুবিধাসমূহ তাঁর দুই পুত্রের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং আমাদের ওপর রহম করুন।

(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: -)
الشفا بتعريف حقوق المصطفى - وحاشية الشمني   (القاضي عياض)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الشفا بتعريف حقوق المصطفى - مذيلا بالحاشية المسماة مزيل الخفاء عن ألفاظ الشفاء

المؤلف: أبو الفضل القاضي عياض بن موسى اليحصبي (ت 544 هـ)

الحاشية: أحمد بن محمد بن محمد الشمنى (ت 873 هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

عام النشر: 1399 هـ - 1979 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আশ-শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুস্তফা - এবং শুমনি-র হাশিয়া   (আল-কাজী আয়াজ)

বিভাগ: সিরাতুন নবী (সা.)


বই: আশ-শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুস্তফা - 'মুজিলুল খাফা আন আলফাজিশ শিফা' নামক হাশিয়া সহ

লেখক: আবুল ফজল আল-কাজী আয়াজ বিন মুসা আল-ইয়াহসুবি (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরি)

হাশিয়া (টীকা): আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আশ-শুমনি (মৃত্যু ৮৭৩ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

প্রকাশকাল: ১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইয়ের নম্বরকরণ মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرحيم اللهم صلى على محمد وآله وسلم.

قال الفقيه القاضي الإمام الحافظ أبو الفضل عياض بن موسى بن عياض اليحصبى رحمة الله عليه:

الْحَمْدُ لِلَّهِ المُنْفَرِدِ بِاسْمِهِ الأَسْمَى، المُخْتَصِّ بِالْعِزِّ الأَحْمَى، الَّذِي لَيْسَ دُونَهُ مُنْتَهًى وَلَا وَرَاءَهُ مَرْمًى، الظَّاهِرِ لَا تَخَيُّلا وَلَا وَهْمًا، الْبَاطِنِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرحيم أما بعد حمد الله على إفضاله.

وصلواته عَلَى نَبِيّه مُحَمَّد وآله، فيقول الفقير إلى الله تعالى: أحمد بن محمد بن محمد بن حسن الشمنى، ختم الله بالسعادة أغماله، وجعل الجنة منقلبه ومآله: قد يسر اللَّهَ تَعَالَى عِنْدَ إقرائي للشفاء شيئا من تفسير مفرداته، ونبذا من فتح مغلقاته، وحل مشكلاته، فجمعت ذلك نفعا لطالبيه، وإعانة لمحصليه وقارئيه، وسميته

بمزيل الخفاء عن الفاظ الشفاء

ومن الله أطلب التوفيق، والهداية إلى سواء الطريق.

(قوله المختص) أي المنفرد والممتاز (قوله لَيْسَ دُونَهُ مُنْتَهًى) في الصحاح دون نقيض فوق وهو تقصير عن الغاية، ويقال هذا دون ذاك أي أقرب منه انتهى.

والمعنى هنا أنه تعالى ليس في جهة وحيز، ولا على مسافة وامتداد لأن كل ذى جهة ومسافة للقرب منه نهاية، وليس للقرب منه تعالى نهاية، فليس في جهة، فهو من باب نفى الشئ بنفى لازمه (قوله ولا ورائه مرمى) قال ابن الأثير في النهاية: أي ليس بعد الله لطالب مطلب، فإليه انتهت العقول فليس وراء معرفته والإيمان به غاية تقصد.

والمرمى في الأصل: الغرض الذى ينتهى إليه سهم الرامى (قوله الظاهر) أي بالدلالة الدالة على وجوده قطعا ويقينا لا تخيلا ووهما (قوله الباطن) أي بحقيقته فلا تدرك كنهه العقول.

(*)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

ফকিহ, কাজি, ইমাম, হাফেজ আবুল ফজল আয়াজ বিন মুসা বিন আয়াজ আল-ইয়াহসুবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর শ্রেষ্ঠতম নামের মাধ্যমে অদ্বিতীয়, অজেয় সম্মানের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; যাঁর আগে কোনো সীমা নেই এবং যাঁর পরে কোনো লক্ষ্য নেই; তিনি প্রকাশ্য, তবে তা কোনো কল্পনা বা অনুমানের মাধ্যমে নয়; তিনি গুপ্ত। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। অতঃপর আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা করার পর—

এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ বর্ষণের পর, আল্লাহ তাআলার প্রতি মুখাপেক্ষী আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শামানি বলছেন (আল্লাহ তাঁর কর্মসমূহকে সৌভাগ্যের সাথে সমাপ্ত করুন এবং জান্নাতকে তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থল ও ঠিকানা বানিয়ে দিন): আল্লাহ তাআলা আমার 'আশ-শিফা' পাঠদানকালে এর শব্দাবলির কিছু ব্যাখ্যা, এর দুর্বোধ্য বিষয়গুলোর রহস্য উন্মোচন এবং এর জটিলতাসমূহ সমাধানের পথ সহজ করে দিয়েছেন। তাই আমি অন্বেষণকারীদের উপকারের জন্য এবং জ্ঞান অর্জনকারী ও পাঠকদের সহায়তার জন্য তা একত্রিত করেছি এবং এর নাম দিয়েছি:

মুজিলুল খাফা আন আলফাজিশ শিফা

আর আল্লাহর কাছেই আমি তাওফিক এবং সঠিক পথের হিদায়াত প্রার্থনা করি।

(তাঁর বাণী: আল-মুখতাস) অর্থাৎ যিনি অদ্বিতীয় ও স্বতন্ত্র। (তাঁর বাণী: তাঁর সম্মুখে কোনো সীমা নেই) 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে আছে, 'দুন' হলো 'ফাওক' (উপরে)-এর বিপরীত এবং এটি গন্তব্যের চেয়ে কম হওয়া বা সংক্ষিপ্ত হওয়া বোঝায়। বলা হয়, 'এটি ওটির নিচে', অর্থাৎ এটি ওটির তুলনায় অধিক নিকটবর্তী। সমাপ্ত।

আর এখানে অর্থ হলো—মহান আল্লাহ কোনো দিক বা স্থানের অন্তর্ভুক্ত নন এবং কোনো দূরত্ব বা বিস্তৃতির ওপরও নন। কারণ প্রতিটি দিক ও দূরত্বের ক্ষেত্রে তার নিকটবর্তী হওয়ার একটি শেষ সীমা থাকে, কিন্তু আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী হওয়ার কোনো শেষ সীমা নেই। সুতরাং তিনি কোনো নির্দিষ্ট দিকে নেই। এটি কোনো বিষয়ের আবশ্যিক অনুষঙ্গকে অস্বীকার করার মাধ্যমে মূল বিষয়টিকে অস্বীকার করার অন্তর্ভুক্ত। (তাঁর বাণী: এবং যাঁর ঊর্ধ্বে কোনো লক্ষ্য নেই) ইবনুল আসির 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: অর্থাৎ আল্লাহর পরে কোনো অন্বেষণকারীর আর কোনো প্রার্থিত বস্তু নেই। তাঁর দিকেই জ্ঞান ও বুদ্ধির পরিসমাপ্তি ঘটে, সুতরাং তাঁর পরিচয় এবং তাঁর প্রতি ঈমানের পরে লক্ষ্য করার মতো আর কোনো চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নেই।

মূলত 'মারমা' হলো সেই লক্ষ্যবস্তু যেখানে তিরন্দাজের তির গিয়ে শেষ হয়। (তাঁর বাণী: আল-জহির/প্রকাশ্য) অর্থাৎ যা তাঁর অস্তিত্বের ওপর অকাট্য ও নিশ্চিত প্রমাণের মাধ্যমে প্রতীয়মান, কোনো কল্পনা বা অনুমানের মাধ্যমে নয়। (তাঁর বাণী: আল-বাতিন/গুপ্ত) অর্থাৎ তাঁর প্রকৃত সত্তার দিক থেকে, তাই মানবীয় বুদ্ধি তাঁর প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করতে পারে না।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ২)
تَقَدُّسًا لا عُدْمًا، وسع كل شئ رَحْمَةً وَعِلْمًا، وَأَسْبَغَ عَلَى أَوْلِيَائِهِ نِعَمًا عُمًّا، وَبَعَثَ فِيهِمْ رَسُولا مِنْ أَنْفُسِهِمْ أَنْفُسِهِمْ عَرَبًا وَعَجَمًا، وَأَزْكَاهُمْ مَحْتِدًا وَمَنْمًى، وَأَرْجَحِهِمْ عَقْلا وَحِلْمًا، وَأَوْفَرِهِمْ عِلْمًا وَفَهْمًا، وَأَقْوَاهُمْ يَقِينًا وَعَزْمًا، وَأَشَدِّهِمْ بِهِمْ رَأْفَةً وَرُحْمًا، زَكَّاهُ رُوحًا وَجِسْمًا، وَحَاشَاهُ

عَيْبًا وَوَصْمًا وَآتَاهُ حِكْمَةً وَحُكْمًا، وَفَتَحَ بِهِ أَعْيُنًا عُمْيًا وَقُلُوبًا غُلْفًا وآذَانًا صُمًّا، فَآمَنَ بِهِ وَعَزَّرَهُ وَنَصَرَهُ مَنْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ فِي مَغْنَمِ السَّعَادَةِ قَسْمًا، وَكَذَّبَ بِهِ وَصَدَفَ عَنْ آيَاتِهِ مَنْ كَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِ الشقاء حتما،

--------------------------------------------

(قوله تقدسا) أي تنزها وتعاليا (قوله عما) بضم المهملة وتشديد الميم جمع عميمة أي تامة يقال نخلة عميمة ونخل عم إذا كانت طوالا وامرأة عميمة تامة القوام والخلقة (قوله من أنفسهم أنفسهم) الأول بضم الفاء جمع نفس بسكون الفاء، والثانى بفتحها من النفاسة أي أعلاهم وأشرفهم (قوله عربا وعجما) العرب بضم المهملة وسكون الراء وبفتحهما جيل من الناس وهم أهل الأمصار، والأعراب منهم سكان البادية خاصة والعجم بضم المهملة وسكون الجيم وبفتحهما خلاف العرب (قوله وأزكاهم) أي أطهرهم (قوله محتدا) هو بميم مفتوحة فمهملة ساكنة فمثناة فوقية مكسورة فدال مهملة: الأصل والطبع كذا في القاموس (قوله ومنمى) هو بميم مفتوحة فنون ساكنة مصدر ميمى بمعنى النمو (قوله وأوفرهم) أي أزيدهم (قوله رأفة) هي أشد الرحمة (قوله ورحما) هو بضم الراء فسكون المهملة الرحمة قال الله تعالى (وأقرب رحما) (قوله وحاشاه عيبا ووصما) يقال حاشيته بمعنى استثنيته والمعنى أنه تعالى استثناه وأخرجه من العيب والوصم أي العار (قوله وآتاه) بمد الهمزة أي أعطاه (قوله حكمة وحكما) الحكمة علم الشرائع وقيل كل كلام وافق الحق والحكم بضم المهلة القضاء (قوله وعزره) بمهملة مفتوحة فزاى مشددة فراء أي وقره وعظمه (قوله وصدف) بمهلتين مفتوحتين ففاء: أي أعرض (قوله حتما) أي لازما (*)
তিনি পবিত্রতা ও মাহাত্ম্যের অধিকারী, অভাবের বশবর্তী হয়ে নয়; তিনি জ্ঞান ও রহমত দ্বারা প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছেন। তিনি তাঁর ওলীদের উপর পূর্ণ নেয়ামতরাজি ঢেলে দিয়েছেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে তাঁদেরই এক রাসূল প্রেরণ করেছেন যিনি আরব ও অনারবদের মধ্যে তাঁদেরই শ্রেষ্ঠ ও অভিজাত ব্যক্তি। তিনি বংশমর্যাদা ও বেড়ে ওঠার দিক থেকে তাঁদের মাঝে সর্বাধিক পবিত্র; বুদ্ধি ও সহনশীলতায় তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য; জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক সমৃদ্ধ; একীন ও সংকল্পে তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক শক্তিশালী এবং তাঁদের প্রতি দয়া ও মমতায় তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রগাঢ়। আল্লাহ তাঁকে রূহ ও দেহগতভাবে পবিত্র করেছেন এবং তাঁকে

সকল দোষ ও ত্রুটি থেকে মুক্ত রেখেছেন। তিনি তাঁকে হিকমত ও শাসনক্ষমতা প্রদান করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চোখ, আবৃত অন্তর এবং বধির কানসমূহ খুলে দিয়েছেন। অতঃপর যার জন্য আল্লাহ সৌভাগ্যের গণিমতে অংশ রেখেছেন, সে তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান ও সাহায্য করেছে। আর যার জন্য আল্লাহ দুর্ভাগ্য অবধারিত করেছেন, সে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং তাঁর নিদর্শনাবলী থেকে বিমুখ হয়েছে।

--------------------------------------------

(তাঁর উক্তি: পবিত্রতা) অর্থাৎ পবিত্রতা ও উচ্চতা। (তাঁর উক্তি: উম্মা) মীম বর্ণে তাশদীদ সহকারে, এটি 'আমীমা' এর বহুবচন যার অর্থ পূর্ণাঙ্গ। বলা হয় 'পূর্ণাঙ্গ খেজুর গাছ' যখন তা দীর্ঘ হয় এবং 'পূর্ণাঙ্গ নারী' যখন তার দেহসৌষ্ঠব ও অবয়ব নিখুঁত হয়। (তাঁর উক্তি: তাঁদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠজন) প্রথম শব্দটি 'ফ' বর্ণে পেশ যোগে 'নাফস' এর বহুবচন, আর দ্বিতীয় শব্দটি 'ফ' বর্ণে জবর যোগে আভিজাত্য থেকে উদ্ভূত, অর্থাৎ তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক উচ্চমর্যাদাশীল ও সম্মানিত। (তাঁর উক্তি: আরব ও অনারব) আরব হলো একদল মানুষ যারা জনপদবাসী, আর তাঁদের মধ্যে যারা মরুভূমিতে বাস করে তারা হলো 'আরাব'; আর আজম হলো আরবের বিপরীত। (তাঁর উক্তি: সর্বাধিক পবিত্র) অর্থাৎ সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন। (তাঁর উক্তি: বংশমূল) এটি মীম বর্ণে জবর, হা বর্ণে সাকিন এবং তা বর্ণে জের সহকারে; কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে এর অর্থ হলো মূল ও স্বভাব। (তাঁর উক্তি: বর্ধনস্থল) এটি মীম বর্ণে জবর ও নূন বর্ণে সাকিন সহকারে বৃদ্ধির অর্থে মাসদারে মীমী। (তাঁর উক্তি: সর্বাধিক সমৃদ্ধ) অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি। (তাঁর উক্তি: করুণা) এটি হলো দয়ার তীব্রতম রূপ। (তাঁর উক্তি: মমতা) এটি রহমত বা দয়া অর্থে ব্যবহৃত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, (এবং মমতায় অধিক নিকটবর্তী)। (তাঁর উক্তি: তাঁকে দোষ ও কলঙ্ক থেকে মুক্ত রেখেছেন) 'হাশাইতুহু' মানে আমি তাকে ব্যতিরেকে রেখেছি, এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা তাঁকে যাবতীয় দোষ ও কলঙ্ক তথা লজ্জা থেকে পৃথক রেখেছেন। (তাঁর উক্তি: প্রদান করেছেন) হামজা দীর্ঘ করে পাঠ করতে হয়, যার অর্থ দান করেছেন। (তাঁর উক্তি: প্রজ্ঞা ও ফয়সালা) হিকমত হলো শরীয়তের জ্ঞান, আবার কেউ বলেন সত্যের অনুসারী প্রতিটি কথাই হিকমত; আর হুকম হলো বিচারকার্য। (তাঁর উক্তি: সম্মান করেছেন) যার অর্থ তাঁকে মর্যাদা ও মহিমা দান করেছেন। (তাঁর উক্তি: বিমুখ হওয়া) যার অর্থ মুখ ফিরিয়ে নেয়া। (তাঁর উক্তি: অবধারিত) অর্থাৎ যা অনিবার্য। (*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৩)
(وَمَنْ كَانَ فِي هَذِهِ أَعْمَى فَهُوَ فِي الآخِرَةِ أَعْمَى) صلى الله عليه وسلم صَلاةً تَنْمُو وَتُنْمَى، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا.

(أَمَّا بَعْدُ) أَشْرَقَ اللَّهُ قَلْبِي وَقَلْبَكَ بِأَنْوَارِ الْيَقِينِ، وَلَطَفَ لي وَلَكَ بِما لَطَفَ بأَوْلِيَائِهِ الْمُتَّقِينَ: الَّذِينَ شَرَّفَهُمُ اللَّهُ بِنُزُلِ قُدْسِهِ، وَأَوْحَشَهُمْ من الخليفة بِأُنْسِهِ، وَخَصَّهُمْ مِنْ مَعْرفَتِهِ، وَمُشَاهَدَةِ عَجَائِبِ

--------------------------------------------

(قوله وَمَنْ كَانَ فِي هَذِهِ أَعْمَى فَهُوَ فِي الآخِرَةِ أَعْمَى) أي مَنْ كَانَ فِي الدنيا لا يبصر رشده كَانَ فِي الآخِرَةِ لا يرى طريق النجاة، وقيل أعمى الثاني للتفصيل ولذلك عطف عليه أضل وأمال الأول ولم يمله أبو عمر ويعقوب لأن أفعل التفضيل تمامه بمن فكانت ألفه في حكم المتوسطة كما في أعمالهم (قوله تنمو) كذا في غالب النسخ.

وفى بعضها تنمى بفتح المثناة الفوقية وكسر الميم (قوله تنمى) بضم المثناة الفوقية وفتح الميم في الصحاح: نمى المال وغيره ينمى نماء وربما.

قالوا ينمو نموا وأنماه الله قال الكسائي ولم أسمعه بالواو إلا من أخوين من بنى سليم ثم سألت عنه بنى سليم فلم يعرفوه بالواو والمعنى أنها تزيد عددا ويزيدها الله نوابا.

(قوله أما لعد) ذكر النووي في باب الجمعة من شرح مسلم أنه اختلف العلماء في أول من تكلم بأما بعد: فقيل داود عليه السلام وقيل يعرب بن قحطان وقيل قيس ابن ساعدة وقيل بعض المفسرين أو كثير منهم إنه فصل الخطاب الذى أوتيه داود وقال المحققون فصل الخطاب: الفصل بين الحق والباطل انتهى، وفي الكشاف ويدخل فيه يعنى في فصل الخطاب أما بعد فإن المتكلم إذا أراد أن يخرج إلى الغرض المسوق إليه فصل بينه وبين ذكر الله تعالى بقوله أما بعد انتهى.

وفي غريب مالك لدار قطني بسند ضعيف أن يعقوب عليه السلام لما جاءه ملك الموت قال كان من جملة كلامه أما بعد فإنا أهل بيت موكل بنا البلاء وهذا يدل على أن أول من تكلم به يعقوب عليه السلام (قوله أشرق) بالمعجمة والقاف أي أضاء (قوله ولطف لى) في الصحاح اللطف من الله التوفيق والعصمة وفي المجمل: اللطف من الله الرأفة والرفق (قوله بنزل قدسه) النزل بضم النون والزاى الطعام الذى يهيأ للضيف.

(*)
(আর যে ব্যক্তি এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে আখিরাতেও অন্ধ হবে) তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক এমন এক দরূদের মাধ্যমে যা বৃদ্ধি পায় ও বর্ধিত হয়, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপরও পূর্ণ শান্তি বর্ষিত হোক।

(অতঃপর) আল্লাহ আমার ও আপনার অন্তরকে ইয়াকীনের (দৃঢ় বিশ্বাস) নূর দ্বারা উদ্ভাসিত করুন, এবং আমার ও আপনার প্রতি সেই রূপ অনুগ্রহ করুন যা তিনি তাঁর মুত্তাকী ওলীগণের (বন্ধু) প্রতি করেছেন: আল্লাহ যাদেরকে তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যের আতিথ্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, এবং তাঁর সাহচর্যের মাধ্যমে অন্য সৃষ্টি থেকে তাঁদের একাকী ও নিঃসঙ্গ করেছেন, এবং তাঁদেরকে তাঁর মারিফাত (পরিচয়) এবং তাঁর সৃষ্টির আশ্চর্যের পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষায়িত করেছেন—

--------------------------------------------

(উক্তি: আর যে ব্যক্তি এই দুনিয়ায় অন্ধ, সে আখিরাতেও অন্ধ হবে) অর্থাৎ যে ব্যক্তি এই দুনিয়ায় সঠিক পথ দেখতে পায় না, সে আখিরাতে মুক্তির পথ দেখতে পাবে না। বলা হয়েছে যে, দ্বিতীয় 'অন্ধ' শব্দটি আধিক্য বুঝানোর জন্য, আর এ কারণেই এর ওপর 'অধিকতর পথভ্রষ্ট' শব্দটিকে সংযুক্ত করা হয়েছে। আবু আমর এবং ইয়াকুব প্রথম শব্দটিতে ইমালাহ করেননি, কারণ 'ইসমে তাফদীল' 'মিন' যোগে পূর্ণ হয়, ফলে এর আলিফ মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকার হুকুমে গণ্য হয়েছে যেমনটি তাদের আমলের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। (উক্তি: 'তানমু' - বৃদ্ধি পায়) অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে।

কিছু পাণ্ডুলিপিতে এটি 'তানমা' (ত-তে যবর এবং মিম-এ যের সহকারে) রয়েছে। (উক্তি: 'তানুমা' - বর্ধিত করা হয়) 'ত' বর্ণে পেশ এবং 'মিম' বর্ণে যবর সহকারে; 'সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: সম্পদ ও অন্যান্য বিষয় বৃদ্ধি পাওয়া অর্থে 'নামা-ইনামি-নামআন' ব্যবহৃত হয়, কখনো কখনো তারা একে 'ওয়াও' সহকারে 'ইনামু-নুমাওয়ান' বলে থাকে।

বলা হয় আল্লাহ সেটাকে বৃদ্ধি দিয়েছেন। আল-কিসায়ি বলেন: বনু সুলাইম গোত্রের দুই ভাই ছাড়া আমি আর কারো থেকে এটি 'ওয়াও' যোগে শুনিনি, এরপর আমি বনু সুলাইম গোত্রকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা এটি 'ওয়াও' যোগে চিনতে পারেনি। এর অর্থ হলো, এটি সংখ্যায় বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহ এর সওয়াব বৃদ্ধি করেন।

(উক্তি: অতঃপর) ইমাম নববী মুসলিমের শরহে জুমুআ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, আলেমগণ 'আম্মা বাদু' বাক্যটি প্রথম কে ব্যবহার করেছেন তা নিয়ে মতভেদ করেছেন: বলা হয়েছে দাউদ (আলাইহিস সালাম), বলা হয়েছে ইয়ারুব বিন কাহতান, বলা হয়েছে কায়িস ইবনে সায়েদা। কোনো কোনো মুফাসসির বা তাদের অনেকেই বলেছেন এটিই হলো সেই 'ফাসলুল খিতাব' (মীমাংসাকারী ভাষণ) যা দাউদ (আলাইহিস সালাম)-কে দান করা হয়েছিল। মুহাক্কিকগণ বলেন, ফাসলুল খিতাব হলো সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা। ইতি। 'কাশশাফ' গ্রন্থে আছে, 'ফাসলুল খিতাব'-এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'আম্মা বাদু'; কারণ বক্তা যখন নির্দিষ্ট কোনো উদ্দিষ্ট বিষয়ে প্রবেশ করতে চান, তখন তিনি আল্লাহর যিকির এবং সেই বিষয়ের মাঝে 'আম্মা বাদু' বাক্যটি দ্বারা পৃথক করেন। ইতি।

দারাকুতনির 'গারীব মালিক' গ্রন্থে দুর্বল সনদে বর্ণিত আছে যে, ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট যখন মালাকুল মাউত আসলেন, তখন তাঁর বক্তব্যের মধ্যে 'আম্মা বাদু' বাক্যটি ছিল যে, 'অতঃপর আমরা এমন এক পরিবার যাদের ওপর পরীক্ষা অর্পণ করা হয়েছে'। এটি প্রমাণ করে যে, সর্বপ্রথম এটি ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন। (উক্তি: আশরাকা) শীন এবং কাফ বর্ণযোগে, অর্থাৎ আলোকিত করা। (উক্তি: ওয়া লাতাফা লী) সিহাহ গ্রন্থে আছে: আল্লাহর পক্ষ থেকে 'লুতফ' মানে হলো তাওফীক (সফলতা) এবং ইসমাহ (সুরক্ষা)। মুজমাল গ্রন্থে আছে: আল্লাহর পক্ষ থেকে 'লুতফ' হলো দয়া ও কোমলতা। (উক্তি: নুজুলি কুদসিহি) নুন এবং যা-তে পেশ সহকারে 'নুজুল' মানে হলো সেই খাবার যা মেহমানের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৪)
مَلَكُوتِهِ وَآثَارِ قُدْرَتِهِ: بِمَا مَلَأَ قُلُوبَهُمْ حَبْرَةً، وَوَلَّهَ عُقُولَهُمْ فِي عَظَمَتِهِ حَيْرَةً، فَجَعَلُوا هَمَّهُمْ بِهِ وَاحِدًا، وَلَمْ يَرَوْا فِي الدَّارَيْنِ غَيْرَهُ مُشَاهَدًا، فَهُمْ بِمُشَاهَدَةِ جَمَالِهِ وَجَلَالِهِ يَتَنَعَّمُونَ، وَبَيْنَ آثاري قُدْرَتِهِ وَعَجَائِبِ عَظَمَتِهِ يَتَرَدَّدُونَ، وَبالانْقِطَاعِ إِلَيْهِ وَالتَّوَكُّلِ عَلَيْهِ يَتَعَزَّزُونَ، لَهِجِينَ بِصَادِقِ قَوْلِهِ قل اللهم ثُمَّ ذَرْهُمْ فِي خوضهم يلعبون، فَإِنَّكَ كَرَّرْتَ عَلَيَّ السُّؤَالَ فِي مَجْمُوعٍ يَتَضَمَّنُ التَّعْرِيفَ بِقَدْرِ الْمُصْطَفَى عليه الصلاة والسلام، وَمَا يَجِبُ لَهُ مِنْ تَوْقِيرٍ وَإكْرَامٍ، وَمَا حُكْمُ مَنْ لَمْ يُوَفِّ وَاجِبَ عَظِيمِ ذَلِكَ الْقَدْرِ، أوْ قَصَّرَ فِي حَقِّ مَنْصِبِهِ الْجَلِيلِ قُلَامَةَ ظُفْرٍ، وَأنْ أَجْمَعَ لَكَ مَا لأَسْلافِنَا وَأَئِمَّتِنَا فِي ذَلِكَ مِنْ مَقَالٍ، وَأُبَيِّنَهُ بِتَنْزِيلِ صُوَرٍ وَأَمْثَالٍ، فَاعْلَمْ أكْرَمَكَ اللَّهُ أَنَّكَ حَمَّلْتَنِي مِنْ ذَلِكَ أمْرًا إِمْرًا، وَأَرْهَقْتَنِي فِيمَا نَدَبْتَنِي إِلَيْهِ عُسْرًا، وَأَرْقَيْتَنِي بِمَا كلفتني مر تقى صعبا، ملأ قلى رُعْبًا، فَإِنَّ الْكَلَامَ فِي ذَلِكَ يَسْتَدْعِي تَقْدِيرَ

--------------------------------------------

قوله ملكوته) الملكوت فعلوت من الملك (قوله مَلَأَ قُلُوبَهُمْ حَبْرَةً) الحبرة بفتح المهملة وسكون الموحدة السرور، قال الله تعالى (فهم في روضة يحبرون) أي ينعمون ويسرون (قوله فِي عَظَمَتِهِ حَيْرَةً) الحيرة بالمهملة والمثناة التحتية والراء: مصدر حار يحار (قوله قلامة ظفر) القلامة بضم القاف: ما سقط من الظفر والعرب تكفى به عن الشئ الحقير.

قال أبو البقاء: الجمهور على ضم الظاء والفاء من ظفر ويقرأ بإسكان الفاء، ويقرأ بكسر الظاء وإسكان الفاء (قوله أمرا إمرا) الأول بفتح الهمزة بمعنى شئ والثانى بكسرها بمعنى شديد وقوله تعالى (لقد جئت شيئا إمرا) أي منكرا ويقال عجبا كذا في الصحاح (قوله وأرهقتني) في الصحاح أرهقه عسرا أي كلفه إياه (قوله وأرقيتني) أي أصعدتني.

(*)
তাঁর রাজত্ব ও তাঁর কুদরতের নিদর্শনসমূহ: যার মাধ্যমে তিনি তাদের অন্তরসমূহকে আনন্দে পরিপূর্ণ করেছেন এবং তাঁর মহত্ত্বের সামনে তাদের বুদ্ধিকে হতবিহ্বল করে দিয়েছেন। ফলে তারা তাদের যাবতীয় চিন্তাকে কেবল তাঁরই অভিমুখে নিবদ্ধ করেছে এবং ইহকাল ও পরকালে তিনি ব্যতীত আর কাউকে প্রত্যক্ষ করেনি। তারা তাঁর সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য দর্শনের মাধ্যমে পরম সুখ লাভ করে এবং তাঁর কুদরতের নিদর্শনাবলি ও মহত্ত্বের বিস্ময়কর বিষয়সমূহের মাঝে বিচরণ করে। তাঁর প্রতি একনিষ্ঠতা ও তাঁর ওপর তাওয়াক্কুলের মাধ্যমেই তারা মর্যাদা লাভ করে; তাঁর সেই সত্য বাণী সর্বদা তাদের মুখে উচ্চারিত হয়: “বলুন: আল্লাহ; তারপর তাদেরকে তাদের অসার ক্রীড়ায় মত্ত থাকতে ছেড়ে দিন।” আপনি আমার নিকট বারবার এমন একটি সংকলন রচনার অনুরোধ করেছেন, যাতে নবী মুস্তাফা (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সুউচ্চ মর্যাদার পরিচয় এবং তাঁর প্রতি আবশ্যকীয় সম্মান ও শ্রদ্ধার বিবরণ থাকবে। সাথে সাথে সেই মহান মর্যাদার হক আদায়ে যে ব্যক্তি ব্যর্থ হবে কিংবা তাঁর সুউচ্চ পদের হকের ক্ষেত্রে নখের অগ্রভাগ পরিমাণও ত্রুটি করবে, তার বিধান কী হবে তাও জানতে চেয়েছেন। আরও চেয়েছেন যে, আমি যেন আপনার জন্য এ বিষয়ে আমাদের পূর্বসূরি ও ইমামগণের বক্তব্যসমূহ সংগ্রহ করি এবং বিভিন্ন চিত্র ও উদাহরণের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করে তুলি। অতএব জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, আপনি আমাকে একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং যে কার্যে আমাকে আহ্বান করেছেন তাতে আমাকে কঠিন সংকটে ফেলেছেন। আপনি আমাকে যে কাজের ভার দিয়েছেন তার মাধ্যমে আমাকে এক দুর্গম উচ্চতায় আরোহণ করিয়েছেন, যা আমার অন্তরকে শঙ্কিত করে তুলেছে। কেননা এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজন...

--------------------------------------------

তাঁর উক্তি (রাজত্ব): মালাকুত শব্দটি মুলক ধাতু থেকে গঠিত। তাঁর উক্তি (তাদের অন্তরকে আনন্দে পরিপূর্ণ করেছেন): হাবরাহ অর্থ আনন্দ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন (ফলে তারা উদ্যানে আনন্দিত হবে) অর্থাৎ তারা নিয়ামত ও আনন্দ লাভ করবে। তাঁর উক্তি (তাঁর মহত্ত্বের সামনে হতবিহ্বল): হাইরাহ শব্দটি একটি ক্রিয়ামূল। তাঁর উক্তি (নখের অগ্রভাগ): কুলামাহ অর্থ নখের কর্তিত অংশ। আরবরা এর মাধ্যমে কোনো অতি তুচ্ছ বস্তু বুঝিয়ে থাকে।

আবু আল-বাকা বলেছেন: অধিকাংশের মতে 'যুফুর' শব্দের 'জো' এবং 'ফা' উভয় বর্ণে পেশ হবে। তবে 'ফা' বর্ণে সাকিন দিয়েও পড়া যায়। আবার 'যিফ্‌র' অর্থাৎ 'জো' বর্ণে যের এবং 'ফা' বর্ণে সাকিন দিয়েও পড়ার রীতি আছে। তাঁর উক্তি (অত্যন্ত গুরুতর বিষয়): প্রথমটি হামযাহর জবর দিয়ে যার অর্থ 'বিষয়' এবং দ্বিতীয়টি হামযাহর যের দিয়ে যার অর্থ 'কঠিন'। আল্লাহ তাআলার বাণী (নিশ্চয়ই তুমি এক গুরুতর কাজ করেছ) অর্থাৎ গর্হিত কাজ। 'সাহাহ' অভিধানে একে 'বিস্ময়কর' অর্থেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর উক্তি (আমাকে সংকটে ফেলেছেন): সাহাহ অভিধানে আছে, কাউকে কষ্টে ফেলা মানে তাকে তা পালনে বাধ্য করা। তাঁর উক্তি (আমাকে আরোহণ করিয়েছেন): অর্থাৎ আমাকে উপরে উঠিয়েছেন।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৫)
أُصُولٍ، وَتَحْرِيرَ فُصُولٍ، وَالْكَشْفَ عَنْ غَوَامِضَ وَدَقَائَقَ، مِنْ عِلْمِ الْحَقَائِقِ، مِمَّا يَجِبُ لِلنَّبِيِّ وَيُضَافُ إِلَيْهِ، أوْ يَمْتَنِعُ أَوْ يَجُوزُ عَلَيْهِ، وَمَعْرِفَةَ النَّبِيِّ والرَّسُولِ وَالرّسَالَةِ وَالنُّبُوَّةِ، وَالْمَحَبَّةِ وَالْخِلَّةِ وَخَصَائِصِ هَذِهِ الدَّرَجَةِ الْعَلِيَّةِ، وَهَهُنَا مَهَامِهُ فِيحٌ تَحَارُ فِيهَا الْقَطَا، وَتَقْصُرُ بِهَا الخطا، وَمَجَاهِلُ تَضِلُّ فِيهَا الأَحْلَامُ إنْ لَمْ تَهْتَدِ بِعَلَمِ عِلْمٍ وَنَظَرٍ سَدِيدٍ) وَمَداحِضُ تَزِلُّ بِهَا الْأَقْدَامُ إنْ لَمْ تَعْتَمِدْ عَلَى تَوْفِيقٍ مِنَ اللَّهِ وَتَأْيِيدٍ، لَكِنِّي لِمَا رَجَوْتُهُ لِي وَلَكَ فِي هَذَا السُّؤَالِ وَالْجَوَابِ، مِنْ نَوَالٍ وثَوَابٍ، بِتَعْرِيفِ قَدْرِهِ الْجَسِيمِ، وَخُلُقِهِ الْعَظِيمِ، وَبَيَانِ خَصَائِصِهِ الَّتِي لَمْ تَجْتَمِعْ قَبْلُ فِي مَخْلُوقٍ، وَمَا يُدَانُ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ مِنْ حَقَّهِ الَّذِي هُوَ أرْفَعُ الْحُقُوقِ (لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إيمانا)

--------------------------------------------

(قوله مهامه) جمع مهمه بميمين مفتوحتين بينهما هاء ساكنة وفى آخره هاء وهى المفازة (قوله فيح) بكسر الفاء فالمثناة التحتية الساكنة فالمهملة جمع فيحاء بفتح الفاء والمد بمعنى واسعة (قوله القطا) بالقاف والهملة والقصر جمع قطاة: طائر يضرب به المثل في الهداية قال ابن ظفر القطا يترك فراخه ثم يطلب الماء من مسيرة عشرة أيام وأكثر فيرده فيما بعد طلوع الفجر إلى طلوع الشمس ثم يرجع فلا يخطئ لا صادرا ولا واردا (قوله ومجاهل) بفتح الميم جمع مجهل وهو المفازة لا علامة فيها (قوله تضل) بفتح الأول وكسر الثاني أي تضيع (قوله بعلم) بفتحتين العلامة والجبل (قوله ومداحض) جمع مدحض اسم مكان من الدحض وهو الزلق (قوله لما رجوته) بكسر اللام وتخفيف الميم وكذلك ما عطف عليه من قوله وَلِمَا أَخَذَ اللَّهُ، وقوله لما حدثنا، وكل من اللامات الثلاث متعلق بمحذوف مؤخر أي لهذه الأمور الثلاثة عزمت على ما ذكرت على السؤال فيه فبادرت (قوله الجسيم) يقال جسم الرجل إذا عظم.

(*)
মূলনীতিসমূহ এবং পরিচ্ছেদসমূহের বিন্যাস, এবং হাকিকত বা গূঢ় তত্ত্বের জ্ঞানের জটিল ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উন্মোচন করা; যা নবীর জন্য আবশ্যক এবং যা তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, অথবা যা তাঁর ক্ষেত্রে অসম্ভব কিংবা সম্ভব। নবী, রাসূল, রিসালাত ও নবুওয়ত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, এবং মহব্বত, নিবিড় বন্ধুত্ব ও এই সুউচ্চ মর্যাদার বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবন করা। এখানে এমন কিছু বিশাল মরুপ্রান্তর রয়েছে যেখানে কাতা পাখিও দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং সেখানে পদক্ষেপসমূহ ছোট হয়ে আসে। সেখানে এমন সব অজ্ঞাত প্রান্তর রয়েছে যেখানে বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়, যদি কোনো সঠিক জ্ঞানের নিদর্শন এবং নির্ভুল দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পথনির্দেশ লাভ না হয়। আর রয়েছে এমন সব পিচ্ছিল পথ যেখানে পদস্খলন ঘটে, যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক এবং সাহায্যের ওপর নির্ভর করা না হয়। কিন্তু আমি আমার এবং আপনার জন্য এই প্রশ্নোত্তর থেকে যে কল্যাণ ও সওয়াবের আশা করেছি—তাঁর সুমহান মর্যাদা ও সুউচ্চ চরিত্রের পরিচয় দান এবং তাঁর এমন সব বৈশিষ্ট্যের বর্ণনার মাধ্যমে যা ইতিপূর্বে কোনো সৃষ্টিজীবের মধ্যে একত্রিত হয়নি, এবং আল্লাহর নিকট তাঁর সেই হকের মাধ্যমে আনুগত্য নিবেদন করা যা সকল হকের ঊর্ধ্বে—(যাতে কিতাবধারীরা দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে এবং মুমিনদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়)।

--------------------------------------------

(তাঁর কথা: মাহামিহ) এটি ‘মাহমাহ’ শব্দের বহুবচন যা দুটি যবরযুক্ত ‘মীম’ এবং মাঝে সাকিন ‘হা’ যোগে গঠিত, এর অর্থ হলো বিশাল জনমানবহীন মরুপ্রান্তর। (তাঁর কথা: ফাইহ) ফা বর্ণের নিচে যের, এরপর সাকিন ‘ইয়া’ এবং ‘হা’ যোগে গঠিত; এটি ‘ফাইহা’ শব্দের বহুবচন যার অর্থ প্রশস্ত। (তাঁর কথা: আল-কাতা) এটি ‘কাতাহ’ শব্দের বহুবচন; এটি এমন এক প্রকার পাখি যার পথ চেনার ক্ষমতা প্রবাদতুল্য। ইবন জাফর বলেন: কাতা পাখি তার বাচ্চাদের রেখে দশ দিন বা তার বেশি দূরত্বের পথ অতিক্রম করে পানির তালাশে যায় এবং সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ফিরে আসে। যাওয়ার সময় বা ফেরার সময় সে কখনো পথ ভুল করে না। (তাঁর কথা: মাজাহিল) মীম বর্ণের যবরসহ এটি ‘মাজহাল’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ এমন মরুভূমি যার কোনো চিহ্ন নেই। (তাঁর কথা: তাদিল্লু) প্রথম বর্ণে যবর এবং দ্বিতীয় বর্ণে যেরসহ, যার অর্থ হলো পথ হারানো বা বিনষ্ট হওয়া। (তাঁর কথা: বিআলামিন) আইন ও লাম উভয় বর্ণে যবরসহ, এর অর্থ চিহ্ন বা পাহাড়। (তাঁর কথা: মাদাহিদ) এটি ‘মাদহাদ’ শব্দের বহুবচন, যা পিচ্ছিল হওয়ার স্থান বুঝায়। (তাঁর কথা: লিমা রাজাওতুহু) লাম বর্ণের নিচে যের এবং মীম বর্ণে তাশদিদ ছাড়া; অনুরূপভাবে ‘ওয়ালিমা আখাযাল্লাহ’ এবং ‘লিমা হাদ্দাসানা’ বাক্যাংশেও একই নিয়ম। এই তিনটি ‘লাম’ পরবর্তী একটি উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ: এই তিনটি বিষয়ের কারণে আমি এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যাপারে সংকল্প করেছি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। (তাঁর কথা: আল-জাসিম) যখন কোনো ব্যক্তি মহান বা বিশাল হয় তখন বলা হয় ‘জাসুমার রাজুলু’।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৬)
وَلِمَا أَخَذَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ، وَلِمَا حَدَّثَنَا بِهِ أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامُ بنُ أَحْمَدَ الْفَقِيهُ رحمه الله بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أبُو عُمَرَ النَّمَرِيُّ حَدَّثَنَا أبو محمد بن عبد المؤمن حدثنا أبو بكر محمد بن بَكْرٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ ابن الأَشْعَثِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ أخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَكَمِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ أَلْجَمَهُ اللَّهُ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ يَوْمَ القِيَامَةِ، فَبَادَرْتُ إِلَى نُكَتٍ سَافِرَةٍ عَنْ وَجْهِ الْغَرَضِ، مُؤَدِّيًا مِنْ ذَلِكَ الْحَقَّ الْمُفْتَرَضَ، اخْتَلَسْتُهَا عَلَى اسْتِعْجَالٍ، لِمَا الْمَرْءُ بِصَدَدِهِ مِنْ شُغْلِ الْبَدَنِ وَالْبَالِ، بِمَا قُلَّدَهُ مِنْ مَقَالِيدِ الْمِحْنَةِ الَّتِي ابْتُلِيَ بِهَا

--------------------------------------------

(قوله النمري) بفتح النون والميم نسبة إنى نمر بفتح النون كسر الميم أي قبيلة، فتحوا ميمه في النسبة كراهية توالى الكسرات كذا في الصحاح (قوله أبو بكر) هو ابن داسة بمهملتين أحد رواة أبى داود (قوله سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ) هو الحافظ أبو داود صاحب السنن كانت وفاته يوم الجمعة سادس عشر شوال سنة خمس وسبعين ومائتين وكان مولده فيما حكاه أبو بيدة الأجرى سنة ثنتين ومائتين (قوله حدثنا حماد) هو أَبُو سَلَمَةَ بْنُ دينار أحد الأعلام (قوله مَنْ سُئِلَ عَنْ علم) المراد علم يلزم ويتعين تعليمه (قوله فبادرت) عطف على ما قدرناه آنفا متعلقا للامات الثلاث (قوله والنكت) بضم النون وفتح الكاف وبالمثناة الفوقية جمع نكتة بضم النون وسكون الكاف وهي كل نقطة من بياض في سواد وعكسه، ونكت الكلام: لطائفه ودقائقه الى تفتقر إلى تفكر ونكت في الأرض (قوله اختلستها) الاختلاس بالخاء المعجمة: اختطاف الشئ بسرعة (قوله والبال) بالموحدة القلب والحال، والمراد الأول.

(*)
যেহেতু আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না; এবং যেহেতু আমাদের নিকট আবু ওয়ালিদ হিশাম বিন আহমদ আল-ফকিহ (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন, যা আমি তাঁর সামনে পাঠ করেছি; তিনি বলেন, আমাদের নিকট হুসাইন বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু উমর আন-নামারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ বিন বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনুল আশআশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুসা বিন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আলি বিন আল-হাকাম আতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যাকে কোনো ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে এবং সে তা গোপন করেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন"; তাই আমি সেই উদ্দেশ্যের চেহারা থেকে আবরণ উন্মোচনকারী কিছু সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক আলোচনার দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়েছি, এর মাধ্যমে আমি অর্পিত হক আদায় করছি। শরীর ও মনের ব্যস্ততার কারণে আমি দ্রুততার সাথে এগুলো চয়ন করেছি, যে পরীক্ষার চাবিকাঠি আমাকে অর্পণ করা হয়েছে তার কারণে।

--------------------------------------------

(তাঁর কথা: আন-নামারি) নুন এবং মীম-এর ফাতাহর সাথে। এটি ‘নামার’ (নুনের ফাতাহ ও মীমের কাসরাহ সহ) নামক একটি গোত্রের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। নেসবত বা সম্বন্ধ করার সময় তারা পর পর কাসরাহ আসা এড়ানোর জন্য মীমকে ফাতাহ দিয়ে পড়েছেন; যেমনটি 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে। (তাঁর কথা: আবু বকর) তিনি হলেন ইবনু দাসা (উভয় বর্ণ নুকতাহীন), আবু দাউদের অন্যতম বর্ণনাকারী। (তাঁর কথা: সুলাইমান বিন আশআশ) তিনি হলেন হাফেজ আবু দাউদ, সুনান গ্রন্থের লেখক। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ২৭৫ হিজরির ১৬ই শাওয়াল জুমার দিনে। আবু উবাইদাহ আল-আজুরি যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী তাঁর জন্ম ছিল ২০২ হিজরিতে। (তাঁর কথা: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ) তিনি হলেন আবু সালামাহ বিন দিনার, অন্যতম ইমাম। (তাঁর কথা: যাকে কোনো ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে) এর উদ্দেশ্য হলো এমন ইলম যা শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক এবং নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। (তাঁর কথা: অতঃপর আমি দ্রুত অগ্রসর হয়েছি) এটি আমরা পূর্বে যা অনুমান করেছি তার ওপর সমম্বিত হয়েছে যা তিনটি 'লাম'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। (তাঁর কথা: আন-নুকাত) নুনের পেশ এবং কাফ-এর জবর এবং উপরে দুই নুকতাহওয়ালা 'তা' এর সাথে। এটি 'নুকতাহ' এর বহুবচন (নুনের পেশ এবং কাফ-এর সাকিন সহ)। এটি হলো সাদার মাঝে কালো দাগ বা কালোর মাঝে সাদা দাগ। আর কথার সূক্ষ্ম নির্যাস (নুকাতুল কালাম) হলো তার সূক্ষ্ম ও জটিল বিষয়াবলি যা চিন্তাভাবনার দাবি রাখে। (তাঁর কথা: আমি সেগুলো চয়ন করেছি) 'আল-ইখতিলাস' (নুকতাহযুক্ত খা বর্ণসহ) অর্থ হলো দ্রুত কোনো কিছু কেড়ে নেওয়া বা সংগ্রহ করা। (তাঁর কথা: আল-বাল) এক নুকতাহওয়ালা 'বা' এর সাথে, এর অর্থ হলো অন্তর এবং অবস্থা; আর এখানে প্রথমটি (অন্তর) উদ্দেশ্য।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৭)
فَكَادَتْ تَشْغَلُ عَنْ كُلِّ فَرْضٍ وَنَفْلٍ، وَتَرُدُّ بَعْدَ حُسْنِ التَّقْوِيمِ إِلَى أسْفَلِ سَفْلٍ، وَلَوْ أَرَادَ اللَّهُ بِالْإِنْسَانِ خَيْرًا لَجَعَلَ شُغْلَهُ وَهَمَّهُ كُلَّهُ، فِيمَا يُحْمَدُ غَدًا وَلَا يُذَمُّ مَحَلُّهُ، فَلَيْسَ ثَمَّ سِوَى نَضْرَةِ النَّعِيمِ أوْ عَذَابِ الْجَحِيمِ، وَلَكَانَ عَلَيْهِ بِخُوَيْصَتِهِ، وَاسْتِنْقَاذِ مُهْجَتِهِ، وَعَمَلٍ صَالِحٍ يَسْتَزِيدُهُ، وَعِلْمٍ نَافِعٍ يُفِيدُهُ أوْ يستفيد، جَبَرَ اللَّهُ تَعَالَى صَدْعَ قُلُوبِنَا، وَغَفَرَ عَظِيمَ ذُنُوبِنَا، وَجَعَلَ جَمِيعَ اسْتِعْدَادِنَا لِمَعَادِنَا، وَتَوَفُّرِ دَوَاعِينَا فِيمَا يُنْجِينَا وَيُقَرِّبُنَا إِلَيْهِ زُلْفَى، وَيُحْظِينَا بِمَنِّهِ وَرَحْمَتِهِ.

وَلَمَّا نَوَيْتُ تقريبه، ودجت تَبْوِيبَهُ، وَمَهَّدْتُ تَأْصِيلَهُ وَخَلَّصْتُ تَفْصِيلَهُ، وَانْتَحَيْتُ حَصْرَهُ

--------------------------------------------

(قوله سفل) هو بضم المهملة وكسرها وسكون الفاء (قوله لَجَعَلَ شُغْلَهُ وَهَمَّهُ كُلَّهُ فِيمَا يُحْمَدُ غَدًا وَلَا يُذَمُّ محله) بمعنى فيما يحمد بفعله واجبا كان أو نفلا أو فيما يذم بتركه وهو الواجب وكل من يحمد ويذم مبنى للفاعل وفاعله مستتر فيه عائد على العبد في قوله ولو أراد بعبد خيرا والظاهر أن المراد بما يذم محله الحرام.

فَإِنْ قِيلَ: كَيْفَ يكون شغل العبد الذى يريد به خيرا في الحرام، أجيب بأن الشغل أعم من الشغل بالفعل والشغل بالترك فشغل العبد الذى يريد اللَّهُ بِهِ خَيْرًا فيما يحمد محله بفعله وشغله فيما يذم محله بتركه (قوله بخوبصة) بضم المعجمة وتشديد الصاد المهملة تصغير خاصة والمراد هنا نفسه أو الأمر الذى يختص به (قوله واستنقاذ) بالقاف والذال المعجمة أي تخليص، والمهجة الروح والدم (قوله ويحظينا) بضم المثناة التحتية وسكون المهملة وكسر المعجمة أي يفضلنا (قوله ولما نويت) لما هذه بفتح اللام وتشديد الميم (قوله ودرجت) بفتح الدال المهملة وتشديد الراء، وفى الصحاح: درجه إلى كذا واستدرجه.

أي أدناه منه على التدريج (قوله وانتحيت) بالحاء المهملة بعدها مثناة تحتية بمعنى قصدت.

(*)
ফাহেতু তা প্রায় প্রতিটি ফরজ ও নফল ইবাদত থেকে বিমুখ করে দিচ্ছিল এবং সর্বোত্তম গঠনের পর সর্বনিম্নে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। যদি আল্লাহ মানুষের মঙ্গল চাইতেন, তবে তিনি তার সমগ্র ব্যস্ততা ও চিন্তাকে এমন বিষয়ে নিবদ্ধ করে দিতেন যা আগামীকালে (পরকালে) প্রশংসিত হবে এবং যার স্থান নিন্দিত হবে না। কারণ সেখানে তো কেবল নিয়ামতের উজ্জ্বলতা অথবা জাহান্নামের শাস্তি ছাড়া আর কিছু নেই। তার জন্য উচিত ছিল নিজের বিশেষ সত্তার প্রতি মনোযোগী হওয়া, নিজ প্রাণের মুক্তি অন্বেষণ করা এবং এমন নেক আমল করা যা সে বৃদ্ধি করতে চায় এবং এমন উপকারী ইলম অর্জন করা যা দ্বারা সে অন্যকে উপকৃত করবে অথবা নিজে উপকৃত হবে। মহান আল্লাহ আমাদের হৃদয়ের ভাঙন জোড়া দিন, আমাদের গুরুতর পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের সকল প্রস্তুতিকে আমাদের পরকালীন প্রত্যাবর্তনস্থলের জন্য নির্দিষ্ট করে দিন; আর যা আমাদের মুক্তি দেবে এবং তাঁর নৈকট্য লাভে সহায়ক হবে তাতে আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতের মাধ্যমে আমাদের ধন্য করুন।

আর যখন আমি একে সহজবোধ্য করার নিয়ত করলাম, এর অধ্যায় বিন্যাসকে সুশৃঙ্খল করলাম, এর মূলনীতিসমূহ প্রস্তুত করলাম, এর বিস্তারিত ব্যাখ্যাকে পরিচ্ছন্ন করলাম এবং একে সীমাবদ্ধ করার সংকল্প করলাম—

--------------------------------------------

(তাঁর উক্তি: সুফল): এটি সিন বর্ণের পেশ অথবা যের এবং ফা বর্ণের সুকুন যোগে। (তাঁর উক্তি: তিনি তার সমগ্র ব্যস্ততা ও চিন্তাকে এমন বিষয়ে নিবদ্ধ করে দিতেন যা আগামীকালে প্রশংসিত হবে এবং যার স্থান নিন্দিত হবে না): এর অর্থ হলো এমন বিষয়ে যা তার কার্যাবলীর মাধ্যমে প্রশংসিত হবে—তা ফরজ হোক বা নফল; অথবা এমন বিষয়ে যা বর্জনের মাধ্যমে নিন্দিত হওয়া থেকে বাঁচায়—আর তা হলো ওয়াজিব বিধান। 'প্রশংসিত' এবং 'নিন্দিত' প্রতিটি শব্দই কর্তৃবাচ্য হিসেবে গঠিত এবং এর কর্তা ওই বান্দার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী উহ্য সর্বনাম, যা "যদি আল্লাহ কোনো বান্দার মঙ্গল চাইতেন" বাক্যাংশে উল্লিখিত হয়েছে। স্পষ্টত এখানে "যার স্থান নিন্দিত হবে" বলতে হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বোঝানো হয়েছে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: যার মঙ্গল চাওয়া হয়েছে সেই বান্দার ব্যস্ততা কীভাবে হারামের মধ্যে হতে পারে? উত্তরে বলা হবে যে, ব্যস্ততা শব্দটি সম্পাদন এবং বর্জন—উভয়টিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং যে বান্দার জন্য আল্লাহ মঙ্গল চান, তার ব্যস্ততা হলো প্রশংসিত বিষয়সমূহ সম্পাদন করা এবং নিন্দিত বিষয়সমূহ বর্জন করা। (তাঁর উক্তি: বিখুওয়াইসাহ): এটি খ বর্ণের পেশ এবং সোয়াদ বর্ণের তাশদীদ যোগে, যা 'খাসসাহ' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ। এখানে উদ্দেশ্য হলো তার নিজের সত্তা বা তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ বিষয়। (তাঁর উক্তি: ইস্তিনকায): ক্বাফ এবং যাল বর্ণ যোগে, যার অর্থ হলো উদ্ধার করা। আর 'মুহজাহ' অর্থ হলো আত্মা ও রক্ত। (তাঁর উক্তি: ইউহযীনা): ইয়া বর্ণের পেশ, হা বর্ণের সুকুন এবং যা বর্ণের যের যোগে, যার অর্থ হলো তিনি আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব বা অনুগ্রহ দান করবেন। (তাঁর উক্তি: লাম্মা নাওয়াইতু): এই 'লাম্মা' শব্দটি লাম বর্ণের যবর এবং মীম বর্ণের তাশদীদ যোগে। (তাঁর উক্তি: দরাজতু): দাল বর্ণের যবর এবং রা বর্ণের তাশদীদ যোগে। 'সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে: তিনি তাকে অমুক বিষয়ের দিকে ধাপে ধাপে নিয়ে গেছেন এবং তাকে ক্রমোন্নতি দিয়েছেন।

অর্থাৎ তিনি তাকে পর্যায়ক্রমে তার নিকটবর্তী করেছেন। (তাঁর উক্তি: ইনতাহাইতু): হা এবং তার পরে ইয়া বর্ণ যোগে, যার অর্থ হলো আমি সংকল্প করেছি।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৮)
وَتَحْصِيلَهُ.

تَرْجَمْتُهُ (بِالشِّفَا بِتَعْرِيفِ حُقُوقِ المُصْطَفَى) وَحَصَرْتُ الْكَلَامَ فِيهِ فِي أرْبَعَةِ أَقْسَامٍ:

(الْقِسْمُ الأَوَّلُ) فِي تَعْظِيمِ الْعَلِيِّ الأَعْلَى، لِقَدْرِ هَذَا النَّبِيِّ قَوْلًا وَفِعْلًا

وَتَوَجَّهَ الْكَلَامُ فِيهِ فِي أرْبَعَةِ أبْوَابٍ:

الْبَابُ الأَوَّلُ: فِي ثَنَائِهِ تَعَالَى عَلَيْهِ وَإظْهَارِهِ عَظِيمَ قَدْرِهِ لَدَيْهِ، وَفِيهِ عَشَرَةُ فُصُولٍ.

الْبَابُ الثَّانِي: فِي تَكْمِيلِهِ تَعَالَى لَهُ الْمَحَاسِنَ خَلْقًا وَخُلُقًا وقرانه جميع الفضائل الدِّينِيَّةِ وَالدُّنْيَوِيَّةِ فِيهِ نَسَقًا، وَفيهِ سَبْعَةٌ وعشرين فَصْلًا.

الْبَابُ الثَّالِثُ: فِيمَا وَرَدَ مِنْ صَحِيحِ الأخبار ومشهورها بِعَظِيمِ قَدْرِهِ عِنْدَ ربه ومنزلته وَمَا خَصَّهُ اللَّهُ بِهِ فِي الدَّارَيْنِ مِنْ كرامته، وَفِيهِ اثْنَا عَشَرَ فَصْلًا.

الْبَابُ الرَّابعُ: فِيمَا أَظْهَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى يَدَيْهِ مِنَ الآيَاتِ وَالْمُعْجِزَاتِ وَشَرَّفَهُ بِهِ منَ الْخَصَائِصِ وَالْكَرَامَاتِ، وَفِيهِ ثَلاثُونَ فَصْلًا.

 

(الْقِسْمُ الثَّانِي) فِيمَا يَجِبُ عَلَى الْأَنَامِ مِنْ حُقُوقِهِ عليه الصلاة والسلام

وَيَتَرَتَّبُ الْقَوْلُ فِيهِ فِي أَرْبَعَةِ أَبْوَابٍ:

الْبَابُ الأَوَّلُ: في فرض الإيمان به ووجوب طاعته وَاتِّبَاعِ سُنَّتِهِ، وَفِيهِ خَمْسَةُ فَصُولٍ.

الْبَابُ الثَّانِي: فِي لُزُومِ مَحَبَّتِهِ وَمُنَاصَحَتِهِ، وَفِيهِ سِتَّةُ فُصُولٍ.

الْبَابُ الثَّالِثُ: فِي تَعْظِيمِ أَمْرِهِ وَلُزُومِ تَوْقِيرِهِ وَبِرِّهِ، وَفِيهِ سَبْعَةُ فَصُولٍ
এবং এর অর্জন।

আমি এর নামকরণ করেছি (মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিকারের বর্ণনায় আরোগ্য) এবং এতে আলোচনাকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছি:

(প্রথম ভাগ) সুউচ্চ মহান আল্লাহ কর্তৃক এই নবীর সুমহান মর্যাদা বর্ণনায় তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে

এতে আলোচনাকে চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: তাঁর প্রতি মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর নিকট নবীর সুমহান মর্যাদা প্রকাশ প্রসঙ্গে; এতে দশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক সৌন্দর্য পূর্ণ করা এবং তাঁর মধ্যে সমস্ত দ্বীনি ও দুনিয়াবি শ্রেষ্ঠত্ব সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশ করা প্রসঙ্গে; এতে সাতাশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর রবের নিকট তাঁর সুমহান মর্যাদা ও উচ্চ মাকাম সম্পর্কে বর্ণিত সহিহ ও প্রসিদ্ধ সংবাদসমূহ এবং উভয় জাহানে আল্লাহ তাঁকে যে বিশেষ সম্মাননা দান করেছেন সে প্রসঙ্গে; এতে বারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: মহান আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে যেসব নিদর্শন ও মুজিজা প্রকাশ করেছেন এবং যেসব বৈশিষ্ট্য ও অলৌকিকতা দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করেছেন সে প্রসঙ্গে; এতে ত্রিশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

 

(দ্বিতীয় ভাগ) সৃষ্টির ওপর তাঁর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) যেসব অধিকার ওয়াজিব সে প্রসঙ্গে

এতে আলোচনা চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: তাঁর ওপর ঈমান আনা ফরজ হওয়া এবং তাঁর আনুগত্য ও সুন্নাহর অনুসরণ ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে; এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁকে ভালোবাসা ও তাঁর প্রতি একনিষ্ঠতা বজায় রাখার আবশ্যকতা প্রসঙ্গে; এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর বিষয়াবলীকে মহান গণ্য করা এবং তাঁর প্রতি সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শনের আবশ্যকতা প্রসঙ্গে; এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الرابع: في حكم الصلاة عليه والتسليم وَفَرْضِ ذَلِكَ وَفَضِيلَتِهِ، وَفِيهِ عَشَرَةُ فُصُولٍ.

 

(الْقِسْمُ الثَّالِثُ) فِيمَا يَسْتَحِيلُ فِي حَقِّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا يَجُوزُ عَلَيْهِ وَمَا يَمْتَنِعُ وَيَصِحُّ مِنَ الْأُمُورِ الْبَشَرِيَّةِ أنْ يُضَافَ إِلَيْهِ

وَهَذَا القِسْمُ - أَكْرَمَكَ اللَّهُ تَعَالَى - هُوَ سِرُّ الْكِتَابِ، وَلُبَابُ ثَمَرَةِ هَذِهِ الْأَبْوَابِ، وَمَا قَبْلَهُ لَهُ كَالْقَوَاعِدِ وَالتَّمْهِيدَاتِ، وَالدَّلَائِلِ عَلَى مَا نُورِدُهُ فِيهِ مِنَ النُّكَتِ البَيِّنَاتِ، وَهُوَ الْحَاكِمُ عَلَى مَا بَعْدَهُ، وَالْمُنْجِزُ مِنْ غَرَضِ هَذَا التَّأْلِيفِ وَعْدَهُ، وَعِنْدَ التقصى لموهدته، وَالتَّفَصِّي عَنْ عُهْدَتِهِ، يَشْرَقُ صَدْرُ العَدُوِّ اللَّعِينِ، وَيُشْرِقُ قَلْبُ الْمُؤْمِنِ بِالْيَقِينِ، وَتَمْلأُ أنواره جوانح صَدْرِهِ، وَيَقْدُرُ الْعَاقِلُ النَّبِيَّ حَقَّ قَدْرِهِ، وَيَتحَرَّرُ الْكَلَامُ فِيهِ فِي بَابَيْنِ:

الْبَابُ الأَوَّلُ: فِيمَا يَخْتَصُّ بِالْأُمُورِ الدِّينِيَّةِ وَيَتشَبَّثُ بِهِ الْقَوْلُ فِي الْعِصْمَةِ وَفِيهِ سِتَّةَ عشر فصلا.

--------------------------------------------

(قوله وَعِنْدَ التَّقَصِّي لِمَوْعِدَتِهِ وَالتَّفَصِّي عَنْ عُهْدَتِهِ) كلاهما بالصاد المهملة والأول بالقاف يقال استقصى فلان في المسألة وتقصى بمعنى والثانى بالفاء يقال تفصى عن كذا أي تخلص عنه (قوله يشرق) بفتح أوله وثالثه يقال شرق صدره بكذا بكسر الراء أي ضاق به حسدا (قوله ويشرق) بضم أوله وكسر ثالثه أي يضئ (قوله جوانح صدره) الجوانح جمه جانحة وهى الأضلاع التى تحت الترائب مما يلى الصدر كالضلوع مما يلى الظهر، والترائب عظام الصدر ما بين الترقوة إلى السرة، كذا في الصحاح (قوله ويقدر) بفتح أوله وضم ثالثه.

(*)
চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর উপর দরুদ ও সালাম পাঠের বিধান, এর আবশ্যকতা ও ফযীলত প্রসঙ্গে; এতে দশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

 

(তৃতীয় অংশ) তাঁর (আল্লাহ তাঁর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) ক্ষেত্রে যা অসম্ভব, যা জায়েয এবং মানবিক বিষয়াবলীর মধ্যে যা তাঁর প্রতি আরোপ করা নিষিদ্ধ বা সঠিক, সে প্রসঙ্গে।

আর এই অংশটি—আল্লাহ তাআলা আপনাকে সম্মানিত করুন—হলো কিতাবের রহস্য এবং এই অধ্যায়সমূহের মূল নির্যাস। এর পূর্ববর্তী আলোচনাগুলো এর জন্য ভিত্তি ও উপক্রমণিকা স্বরূপ এবং এতে আমরা যে সুস্পষ্ট সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উল্লেখ করব সেগুলোর প্রমাণস্বরূপ। এটি পরবর্তী বিষয়গুলোর জন্য বিচারক এবং এই রচনার উদ্দেশ্যের প্রতিশ্রুতি পূরণকারী। এর পূর্ণ অনুসন্ধান ও দায়বদ্ধতা থেকে উত্তরণের সময় অভিশপ্ত শত্রুর বক্ষ (হিংসায়) সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং মুমিনের অন্তর ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাসের আলোয় উদ্ভাসিত হয়। এর নূরসমূহ তার বক্ষপিঞ্জরকে পূর্ণ করে দেয় এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তি নবীকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে পারে। এই অংশের আলোচনা দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: যা দ্বীনী বিষয়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা মাসুমিয়াত বা পাপমুক্ততার আলোচনার সাথে সম্পৃক্ত; এতে ষোলোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

--------------------------------------------

(তাঁর উক্তি: "এর পূর্ণ অনুসন্ধান ও দায়বদ্ধতা থেকে উত্তরণের সময়") উভয়টিই 'সাদ' বর্ণ দিয়ে; প্রথমটি 'কাফ' বর্ণযোগে, বলা হয় অমুক ব্যক্তি মাসআলাটির 'ইস্তিকা-সা' করেছে এবং 'তাকাস্সা' একই অর্থবোধক। দ্বিতীয়টি 'ফা' বর্ণযোগে, বলা হয় অমুক বিষয় থেকে 'তাফাস্সা', অর্থাৎ তা থেকে মুক্তি পেয়েছে বা নিষ্কৃতি পেয়েছে। (তাঁর উক্তি: "ইয়াশরাকু") এর প্রথম এবং তৃতীয় বর্ণে ফাতহা বা যবর হবে। বলা হয়: "শারিকা সাদরুহু বিকাজা", রা বর্ণে কাসরা বা যের সহযোগে, অর্থাৎ হিংসার কারণে তার বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে গেছে। (তাঁর উক্তি: "ওয়াইউশরিকু") এর প্রথম বর্ণে দম্মা বা পেশ এবং তৃতীয় বর্ণে কাসরা বা যের হবে, অর্থাৎ আলোকিত হওয়া। (তাঁর উক্তি: "তার বক্ষপিঞ্জর") 'জাওয়ানিহ' হলো 'জানিহা'-এর বহুবচন। এগুলো হলো পাজরের সেই হাড় যা বুকের উপরিভাগের নিচের দিকে অবস্থিত এবং যা বুকের সাথে সংলগ্ন, যেমন পিঠের দিকের হাড়গুলো। 'তারা-ইব' হলো কণ্ঠনালী থেকে নাভি পর্যন্ত বুকের হাড়সমূহ। 'সিহাহ' গ্রন্থে এমনই উল্লেখ আছে। (তাঁর উক্তি: "ওয়াইয়াকদুরু") এর প্রথম বর্ণে ফাতহা বা যবর এবং তৃতীয় বর্ণে দম্মা বা পেশ হবে।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১০)
الْبَابُ الثَّانِي: فِي أَحْوَالِهِ الدُّنْيَوِيَّةِ وَمَا يَجُوزُ طُرُوُّهُ عَلَيْهِ مِنَ الْأَعْرَاضِ الْبَشَرِيَّةِ، وَفِيهِ تِسْعَةُ فُصُولٍ.

 

(الْقِسْمُ الرَّابِعُ) فِي تَصَرُّفِ وُجُوهِ الْأَحْكَامِ عَلَى مَنْ تَنَقَّصَهُ أَوْ سَبَّهُ

صلى الله عليه وسلم، وَيَنْقَسِمُ الْكَلَامُ فِيهِ فِي بَابَيْنِ:

الْبَابُ الأول: في بيان ما هو في حقه سب وَنَقْصٌ مِنْ تَعْرِيضٍ أوْ نَصٍّ وَفِيهِ عَشَرَةُ فُصُولٍ.

الْبَابُ الثَّانِي: فِي حُكْمِ شَانِئِهِ وَمُؤْذِيهِ وَمُنْتَقِصِهِ وَعُقُوبَتِهِ وَذِكْرِ اسْتِتَابَتِهِ وَالصَّلاةِ عَلَيْهِ ووِرَاثَتِهِ، وَفِيهِ عَشَرَةُ فُصُولٍ

وَخَتَمْنَاهُ بِبَابٍ ثَالِثٍ جَعَلْنَاهُ تكْمِلَةً لِهَذِهِ الْمَسْأَلَةِ وَوُصْلَةً لِلْبَابَيْنِ اللَّذَيْنِ قَبْلَهُ فِي حُكْمِ مَنْ سَبَّ اللَّهَ تَعَالَى وَرسُلَهُ وَمَلائِكَتَهُ وَكُتُبَهُ وَآلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَصَحْبَهُ، وَاخْتُصِرَ الْكَلَامُ فِيهِ فِي خَمْسَةِ فُصُولٍ

وَبِتَمَامِهَا يَنْتَجِزُ الْكِتَابُ، وَتَتِمُّ الْأَقْسَامُ وَالْأَبْوَابُ، وَيَلُوحُ فِي غُرَّةِ الإيمان لمعة

--------------------------------------------

(قوله وَمَا يَجُوزُ طُرُوُّهُ) قال ابن القطاع طرأ على القوم طروا قدم وطرا طروا بلا هنز كذلك (قوله وَالصَّلاةِ عَلَيْهِ ووِرَاثَتِهِ وَفِيهِ عَشَرَةُ فُصُولٍ) كذا في الأصل وصوابه خمسة فصول لأنا لم نر فيما يأتي إلا خمسة فصول (قوله وَاخْتُصِرَ الْكَلَامُ فِيهِ فِي خَمْسَةِ فُصُولٍ) كذا في الأصل وصوابه عشرة فصول لأنه فيما يأتي ذكر عشرة (قوله ينتجز) بالجيم والزاى مطاوع نجزت الحاجة قضيتها (قوله فِي غُرَّةِ الإِيمَانِ) الغرة في الأصل بياض في وجه الفرس فوق الدرهم والفرجة في وجه الفرس دون الدرهم ثم استعيرت الغرة للشرف والاشتهار حتى صار ذلك عند العرب على الحقيقة ويقال أيضا الأغر للأبيض.

(*)
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর পার্থিব অবস্থা এবং তাঁর ওপর আপতিত হওয়া সম্ভব এমন মানবীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গে; এতে নয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

 

(চতুর্থ অংশ) যারা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেয় প্রতিপন্ন করে বা গালি দেয়, তাদের ওপর প্রযোজ্য বিভিন্ন বিধানের প্রয়োগ প্রসঙ্গে; এই আলোচনাটি দুইটি অধ্যায়ে বিভক্ত:

প্রথম অধ্যায়: তাঁর শানে গালি ও অবমাননাকর বিষয়গুলোর বর্ণনা—তা ইশারা-ইঙ্গিতে হোক বা সরাসরি স্পষ্টভাবে হোক—এবং এতে দশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী, কষ্টদানকারী এবং অবমাননাকারীর বিধান, তার শাস্তি, তওবা করানোর বিষয়টি উল্লেখ করা, তার জানাজার নামাজ এবং তার উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আলোচনা; এতে দশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

এবং আমি এটি একটি তৃতীয় অধ্যায়ের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি, যা আমি এই মাসআলার পরিপূরক এবং পূর্ববর্তী অধ্যায় দুটির সাথে সংযোগকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছি। এটি আল্লাহ তা'আলা, তাঁর রাসূলগণ, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণকে গালি প্রদানকারীর বিধান প্রসঙ্গে; এতে সংক্ষেপে পাঁচটি পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।

এর সমাপ্তির মাধ্যমে কিতাবটি সম্পূর্ণ হবে, এবং এর সকল অংশ ও অধ্যায় পূর্ণ হবে; আর ঈমানের ললাটে এক দীপ্তি প্রতিভাত হবে।

--------------------------------------------

(তাঁর উক্তি: "এবং যা আপতিত হওয়া সম্ভব") ইবনুল কাত্তাহ বলেন: "তরাআ আলাল কাওমি তুরুওয়ান" মানে তাদের নিকট আসা, আর "তরা তুরুওয়ান" হামজা ছাড়াও একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। (তাঁর উক্তি: "তাঁর জানাজার নামাজ ও উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে এবং এতে দশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে") মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই আছে, তবে সঠিক হলো "পাঁচটি পরিচ্ছেদ", কারণ সামনে আমরা পাঁচটি পরিচ্ছেদই পেয়েছি। (তাঁর উক্তি: "এবং এতে সংক্ষেপে পাঁচটি পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে") মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই আছে, তবে সঠিক হলো "দশটি পরিচ্ছেদ", কারণ সামনে দশটি পরিচ্ছেদের উল্লেখ রয়েছে। (তাঁর উক্তি: "সম্পূর্ণ হবে") জিম ও ঝা সহযোগে; এর অর্থ কোনো কাজ সম্পন্ন করা। (তাঁর উক্তি: "ঈমানের ললাটে") 'গুররাহ' মূলত ঘোড়ার কপালে মুদ্রার চেয়ে বড় সাদা চিহ্নকে বোঝায়, আর মুদ্রার চেয়ে ছোট হলে তাকে 'ফারজাহ' বলা হয়। এরপর 'গুররাহ' শব্দটি মর্যাদা ও সুখ্যাতির অর্থে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে, এমনকি আরবদের নিকট তা আক্ষরিক অর্থে রূপ নেয়। সাদা বর্ণকেও 'আগার' বলা হয়।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১১)
منيرة أو في تَاجِ التَّرَاجِمِ دُرَّةٌ خَطِيرَةٌ، تُزِيحُ كُلَّ لَبْسٍ، وَتُوَضِّحُ كُلَّ تَخْمِينٍ وَحَدْسٍ: وَتَشْفِي صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَتَصْدَعُ بِالْحَقِّ وَتُعْرِضُ عَنِ الْجَاهِلِينَ، وَبِاللَّهِ تَعَالَى - لَا إِلَهَ سِوَاهُ - أَسْتَعِينُ.

 

‌‌الْقِسْمُ الأَوَّلُ (فِي تَعْظِيمِ الْعَلِيِّ الأَعْلَى لِقَدْرِ النَّبِيِّ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم قَوْلًا وَفِعْلًا)

 

قَالَ الْفَقِيهُ الْقَاضِي الْإِمَامُ أبُو الْفَضْلِ وَفَّقَهُ اللَّهُ تَعَالَى وسَدَّدَهُ: لاخفاء عَلَى مَنْ مَارَسَ شَيْئًا مِنَ الْعِلْمِ، أوْ خُصَّ بِأَدْنَى لَمْحَةٍ مِنَ الْفَهْمِ: بِتَعْظِيمِ اللَّهِ قَدْرَ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم وخُصُوصِهِ إيَّاهُ بِفَضَائِلَ وَمَحَاسِنَ وَمَنَاقِبَ لَا تَنْضَبِطُ لِزِمَامٍ: وَتَنويِهِهِ مِنْ عَظِيمِ قَدْرِهِ بِمَا تَكِلُّ عَنْهُ الْأَلْسِنَةُ وَالْأَقْلَامُ، فَمِنْهَا مَا صَرَّحَ بِهِ تَعَالَى في كتاب: وَنَبَّهَ بِهِ عَلَى جليل

--------------------------------------------

(قوله خطيرة) بمعجمة مفتوحة بعدها مهملة مكسورة أي ذات خطر وقدر (قوله تزيح) بالزاى والحاء المهملة أي تذهب واللبس الاختلاط (قوله تخمين وحدس) التخمين بالمعجمة القول بالحدس والحدس مصدر حدس بفتح الدال المهملة يحدث بكسرها: قال شيئا برأيه.

(القسم الأول) (قوله لمحة) بفتح اللام هي النظرة الخفيفة (قوله لزمام) أي لضابط استعير من زمام النعل وهو ما يشد به شسع النعل أو استعير من زمام الناقة وَهُوَ الخِيطُ الَّذِي يشد في البرة بضم الموحدة وفتح الراء الخفيفة وهى حلقة من نحاس تجعل في أنف البعير أو يشد في الخشاش بكسر الخاء المعجمة وبشينين معجمتين بينهما ألف حلقة من حديد تجعل في أنف البعير.

(*)
উজ্জ্বল অথবা জীবনীগ্রন্থের মুকুটে এক অমূল্য মুক্তা, যা সকল সংশয় দূর করে এবং প্রতিটি অনুমান ও ধারণাকে স্পষ্ট করে; এটি মুমিন সম্প্রদায়ের অন্তরসমূহকে প্রশান্ত করে, সত্যকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে এবং মূর্খদের থেকে বিমুখ থাকে। আর আমি মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি—তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।

 

‌‌প্রথম অংশ (কথায় ও কাজে মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদাকে মহান সুউচ্চ আল্লাহর সম্মান প্রদর্শন প্রসঙ্গে)

 

ফকীহ, কাজী, ইমাম আবুল ফজল (আল্লাহ তাআলা তাকে তাওফীক দান করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন) বলেন: যারা সামান্যতম ইলম বা জ্ঞান চর্চা করেছেন অথবা যাদেরকে সামান্যতম বোধশক্তি দান করা হয়েছে, তাদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, আল্লাহ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদাকে সুমহান করেছেন। তিনি তাঁকে এমন সব ফযিলত, সৌন্দর্য ও গুণাবলি দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন যা কোনো পরিসীমায় আবদ্ধ করা অসম্ভব। তিনি তাঁর মহান শান ও মানকে এমনভাবে উচ্চকিত করেছেন যা বর্ণনা করতে গিয়ে জিহ্বা ও লেখনী ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে কিছু বিষয় আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর মাধ্যমে সুমহান বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন

--------------------------------------------

(তাঁর উক্তি: খতীরাহ) এর অর্থ অত্যন্ত মর্যাদাবান ও গুরুত্বপূর্ণ। (তাঁর উক্তি: তুযীহু) এর অর্থ দূর করে দেয়; আর 'লাব্স' অর্থ অস্পষ্টতা বা গোলমাল। (তাঁর উক্তি: তাখমীন ও হাদস) 'তাখমীন' অর্থ অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলা, আর 'হাদস' শব্দটি 'হাদাসা' এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল, যার অর্থ নিজের মতানুসারে কিছু বলা।

(প্রথম অংশ) (তাঁর উক্তি: লামহাহ) এর অর্থ ক্ষণিকের দৃষ্টি। (তাঁর উক্তি: লি-যিমাম) অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণকারী বা সংকলক। এটি জুতোর ফিতা থেকে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা দিয়ে জুতোর তলা বাঁধা হয়। অথবা এটি উটের নাসারজ্জু (লগাম) থেকে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি এমন একটি সুতো যা উটের নাকে লাগানো তামার আংটার সাথে বাঁধা হয়। অথবা একে উটের নাকে লাগানো লোহার আংটার সাথেও বাঁধা হয়।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১২)
نِصَابِهِ، وَأَثْنَى بِهِ عَلَيْهِ مِنْ أَخْلَاقِهِ وَآَدَابِهِ، وَحَضَّ الْعِبَادَ عَلَى الْتِزَامِهِ وَتَقَلُّدِ إِيجَابِهِ: فَكَانَ جل جلاله هُوَ الَّذِي تَفَضَّلَ وَأَوْلَى.

ثُمَّ طَهَّرَ وَزَكَّى، ثُمَّ مَدَحَ بِذَلِكَ وَأَثْنَى، ثُمَّ أَثَابَ عَلَيْهِ الْجَزَاءَ الْأَوْفَى، فَلَهُ الفضل بدأ وَعَوْدًا، وَالْحَمْدُ أُولَى وأُخْرَى، وَمِنْهَا مَا أَبْرَزَهُ لِلْعَيَانِ مِنْ خَلْقِهِ عَلَى أَتَمِّ وُجُوهِ الْكَمَالِ وَالْجَلَالِ، وَتَخْصِيصِهِ بِالْمَحَاسِنِ الْجَمِيلَةِ وَالْأَخلَاقِ الْحمِيدَةِ وَالْمَذَاهِبِ الْكَرِيمَةِ وَالْفَضَائِلِ الْعَدِيدَةِ وَتَأْيِيدِهِ بِالْمُعْجِزَاتِ الْبَاهِرَةِ وَالْبَرَاهِينِ الْوَاضِحَةِ وَالْكَرَامَاتِ البَيِّنَةِ: الَّتِي شَاهَدَهَا مَنْ عَاصَرَهُ، وَرَآهَا مَنْ أَدْرَكَهُ، وَعَلِمَهَا عِلْمَ يَقِينٍ مَنْ جَاءَ بَعْدَهُ، حَتَى انْتَهَى عِلْمُ حَقِيقَةِ ذَلِكَ إِلَيْنَا، وَفَاضَتْ أَنْوَارُهُ عَلَيْنَا: صلى الله عليه وسلم كَثِيرًا * حَدَّثَنَا الْقَاضِي الشَّهِيدُ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ قِرَاءَةً مِنِّي عَلَيْهِ، قَالَ حَدَّثَنَا أبُو الْحُسَيْنِ الْمُبَارَكُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ وَأبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ خَيْرُونَ، قَالا حَدَّثَنَا أبُو يَعْلَى الْبَغْدَادِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أبُو عَلِيٍّ السِّنْجِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أبُو عِيسَى بْنُ سَوْرَةَ الْحَافِظُ.

قَالَ حَدَّثَنَا إسْحَاقُ بنُ مَنْصُورٍ،

--------------------------------------------

(قوله نصابه) بكسر أوله أي منصبه (قوله من خلقه) هو بفتح المعجمة وسكون اللام (قوله الباهرة) أي العالية (قوله القاضى الشهيد) هو ابن سكرة الأندلسى (قوله أبو يعلى البغدادي) هو المعروف بزوج الحرة (قوله أبو علي السنجي) هو بكسر المهملة وسكون النون وبالجيم نسبة إلى سنج مرو (قوله ابن سورة) بفتح المهملة وسكون الواو وفتح الراء الترمذي الضرير صاحب الجامع: قيل ولد أكمه توفى بترمذ سنة تسع وسبعين ومائتين قاله ابن ماكولا في الإكمان وترمذ بفتح = (*)
তাঁর মর্যাদা, এবং আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করেছেন তাঁর চরিত্র ও শিষ্টাচারের কারণে, এবং বান্দাদেরকে তা আঁকড়ে ধরতে ও তার অনুসরণকে আবশ্যক করতে উৎসাহিত করেছেন। মহান আল্লাহ তিনিই, যিনি অনুগ্রহ ও দান করেছেন।

অতঃপর তিনি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করেছেন, এরপর তার মাধ্যমে প্রশংসা ও স্তুতি করেছেন, অতঃপর তার ওপর পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করেছেন। সুতরাং শুরু ও শেষে সব অনুগ্রহ তাঁরই এবং প্রথম ও শেষ সব প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। আর এগুলোর মধ্যে রয়েছে সেই সব বৈশিষ্ট্য যা তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মানুষের সামনে প্রকাশ করেছেন পূর্ণাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমার সাথে এবং তাঁকে সুশোভিত করেছেন সুন্দর গুণাবলি, প্রশংসনীয় চরিত্র, মহান রীতিনীতি ও অসংখ্য ফযিলতের মাধ্যমে। আর তাঁকে সাহায্য করেছেন বিস্ময়কর মুজিযা, সুস্পষ্ট প্রমাণ ও প্রকাশ্য কারামতের মাধ্যমে, যা তাঁর সমসাময়িকরা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং যারা তাঁকে পেয়েছেন তারা দেখেছেন, আর যারা তাঁর পরে এসেছেন তারা নিশ্চিত জ্ঞানের মাধ্যমে তা জেনেছেন। অবশেষে সেগুলোর প্রকৃত জ্ঞান আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তাঁর নূর আমাদের ওপর বিচ্ছুরিত হয়েছে। তাঁর ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শহীদ কাজী আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-হাফিয, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হুসাইন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার এবং আবুল ফজল আহমদ ইবনে খাইরুন; তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা আল-বাগদাদী; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আস-সিনজি; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহবুব; তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা ইবনে সাওরা আল-হাফিয।

তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে মনসুর,

--------------------------------------------

(তাঁর কথা: নিসাবিহি) প্রথম বর্ণে কাসরা যোগে, অর্থাৎ তাঁর মর্যাদা। (তাঁর কথা: মিন খালকিহি) এটি খ বর্ণে ফাতহা এবং লাম বর্ণে সাকিন যোগে। (তাঁর কথা: আল-বাহিরাহ) অর্থাৎ উচ্চতর। (তাঁর কথা: আল-কাজী আশ-শহীদ) তিনি হলেন ইবনে সুকরা আল-আন্দালুসী। (তাঁর কথা: আবু ইয়ালা আল-বাগদাদী) তিনি যাওজুল হুররা নামে পরিচিত। (তাঁর কথা: আবু আলী আস-সিনজি) এটি সিন বর্ণে কাসরা, নুন বর্ণে সাকিন এবং জিম বর্ণসহ, মার্ভের সাঞ্জ নামক স্থানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। (তাঁর কথা: ইবনে সাওরা) সিন বর্ণে ফাতহা, ওয়াও বর্ণে সাকিন এবং রা বর্ণে ফাতহা যোগে; তিনি হলেন তিরমিযী, যিনি দৃষ্টিহীন ও জামি‘ গ্রন্থের সংকলক। বলা হয় যে তিনি জন্মান্ধ ছিলেন। হিজরি দুইশ উনআশি সালে তিরমিয শহরে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইবনে মাকুলা ‘আল-ইকমাল’ গ্রন্থে এ কথা বলেছেন। আর তিরমিয শব্দটি ফাতহা যোগে... (*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১৩)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ.

أَنْبَأنَا مَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أتى بانبراق لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ مُلْجَمًا مُسْرَجًا، فاسْتَصْعَبَ عَلَيْهِ، فَقَالَ لَهُ جبرئيل: أَبِمُحَمَّدٍ تَفْعَلُ هَذا، فَمَا رَكِبَكَ أحَدٌ أَكْرَمُ على الله منه؟ قال فافرض عَرَقًا.

 

‌‌الْبَابُ الأَوَّلُ فِي ثَنَاءِ اللَّهِ تَعَالَى عَلَيْهِ وَإِظْهَارِهِ عَظِيمَ قَدْرِهِ لَدَيْهِ

 

اعْلَمْ أَنَّ فِي كتاب الله العزيز آيات كثيرة مفصخة بجميل ذكر

--------------------------------------------

= المثناة من فوق وكسر الميم وبكسرهما وبضمهما قاله النووي في التهذيب في الكنى في أبى جعفر الترمذي (قوله عبد الرزاق) هو الحافظ ابن همام بن نافع للصغانى أحد الأعلام (قوله معمر) بفتح الميم وإسكان المهملة وفتح الميم وبالراء (قوله بالبراق) هو دابة فَوْقَ الْحِمَارِ وَدُونَ البغل: وَرَد فِي الصَّحِيح: سمى براقا لسرعته وقيل لشدة صفائه وقيل لكونه أبيض وقال المصنف لكونه ذا لونين من قولهم شاة برقاء إذا كان في خلال صوفها الأبيض طاقات سود وفى كتاب الاحتفال لابن أبى خالد في أسماء خيل النبي صلى الله عليه وسلم أن البراق دون البغل وفوق الحمار ووجهه كوجه الإنسان وجسده كجسد الفرس وقوائمه كقوائم الثور وذنبه كذنب الغزال لا ذكر ولا أنثى (قوله فاستصعب عليه) قيل استصعابه لبعد عهده بالأنبياء لطول الفترة بين عيسى ومحمد صلى الله عليه وسلم.

وقيل لأنه لم يذلل قبل ذلك ولم يركبه أحد والقول الأول مبنى على أن الأنبياء عليهم السلام ركبوه قبل النبي صلى الله عليه وسلم والقول الثاني مبنى على أنه لم يركبه أحد قبل النبي صلى الله عليه وسلم، وفى ذلك خلاف وقيل استصعابه تيها وزهوا بركوب النبي صلى الله عليه وسلم عليه (قوله فارفض) بفاءين بينهما راء ساكنة وبضاد معجمة مشددة أي جرى وسال وفاعله مستتر عائد على البراق وعرقا تمييز.

(*)
আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

মা’মার আমাদের কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ইসরা বা মেরাজের রাতে লাগামযুক্ত ও জিন পরানো অবস্থায় বুরাক নিয়ে আসা হলো। তখন সেটি তাঁর সামনে আরোহণে অবাধ্যতা প্রদর্শন করল। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাকে বললেন, "তুমি কি মুহাম্মাদের সাথে এরূপ করছ? অথচ আল্লাহর নিকট তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কেউ ইতিপূর্বে তোমার ওপর আরোহণ করেনি।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন সেটি ঘামে ভিজে গেল।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর নিকট তাঁর মহান মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ সম্পর্কে

 

জেনে রাখুন যে, আল্লাহর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা অত্যন্ত সুন্দর প্রশংসার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছে

--------------------------------------------

= এটি ত-এর ওপর দুই নুকতা এবং মিমের কাসরা দিয়ে, অথবা উভয়ের কাসরা বা উভয়ের দম্মা দিয়ে পড়া যায়; ইমাম নববী 'তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত' গ্রন্থের কুনিয়াত অংশে আবু জাফর তিরমিজি সম্পর্কে এমনটিই বলেছেন। (আব্দুর রাজ্জাক): তিনি হলেন প্রখ্যাত আলেমগণের অন্যতম হাফেজ ইবনে হাম্মাম বিন নাফে' আস-সাগানি। (মা’মার): মিম-এ ফাতহা, সাকিনযুক্ত আইন, মিম-এ ফাতহা এবং সবশেষে রা। (বুরাক): এটি গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট একটি প্রাণী। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: এর গতির কারণে একে 'বুরাক' নামকরণ করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেন এর স্বচ্ছতার আধিক্যের কারণে, আবার কেউ কেউ বলেন এটি ধবধবে সাদা হওয়ার কারণে। গ্রন্থকার বলেন, এর গায়ের বর্ণ দুই রঙের সংমিশ্রণ হওয়ার কারণে একে বুরাক বলা হয়; যেমন তারা 'বারকা' বকরি বলে থাকে যখন তার সাদা পশমের ভেতরে কালো পশমের গুচ্ছ থাকে। ইবনে আবি খালিদের 'আল-ইহতিফাল' গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘোড়াগুলোর নামের বর্ণনায় এসেছে যে, বুরাক খচ্চরের চেয়ে ছোট ও গাধার চেয়ে বড়, তার মুখমণ্ডল মানুষের মতো, দেহ ঘোড়ার মতো, পা ষাঁড়ের মতো এবং লেজ হরিণের মতো; এটি পুরুষও নয়, স্ত্রীও নয়। (সেটি অবাধ্যতা করল): বলা হয়েছে যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মধ্যবর্তী দীর্ঘ বিরতির কারণে নবীদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকায় এটি অবাধ্যতা করেছিল।

আবার কেউ কেউ বলেন, ইতিপূর্বে তাকে বশ করা হয়নি এবং কেউ তার ওপর আরোহণ করেনি। প্রথম উক্তিটি এই ভিত্তির ওপর যে, ইতিপূর্বে নবীরা (আলাইহিমুস সালাম) এর ওপর আরোহণ করেছিলেন। আর দ্বিতীয় উক্তিটি এই ভিত্তির ওপর যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্বে কেউ এর ওপর আরোহণ করেনি; এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওপর আরোহণ করবেন এই আনন্দে ও গর্বে সেটি অস্থির হয়ে উঠেছিল। (ঘাম ঝরল): এটি দুটি 'ফা' এবং এর মাঝে সাকিনযুক্ত 'রা' ও তাশদিদযুক্ত 'দাদ' দিয়ে গঠিত; এর অর্থ হলো প্রবাহিত হওয়া বা ঝরা। এর কর্তা (ফায়েল) উহ্য রয়েছে যা বুরাকের দিকে ফিরছে, আর 'ঘাম' শব্দটি এখানে অবস্থা বর্ণনাকারী।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১৪)
الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم وَعَدِّ مَحَاسِنِهِ وَتَعْظِيمِ أَمْرِهِ وَتَنْوِيهِ قَدْرِهِ، اعْتَمَدْنَا مِنْهَا عَلَى مَا ظَهَرَ مَعْنَاهُ وَبَانَ فَحْوَاهُ، وَجَمَعْنَا ذَلِكَ فِي عَشَرَةِ فُصُولٍ:

 

‌‌(الْفَصْلُ الأَوَّلُ) فِيمَا جَاءَ مِنْ ذَلِكَ مجئ الْمَدْحِ وَالثَّنَاءِ وَتَعْدَادِ الْمَحَاسِنِ

كَقَوْلِهِ تَعَالَى (لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ من أنفسكم) الآية.

قَالَ السَّمَرْقَنْدِيُّ: وَقَرَأَ بَعْضُهُمْ (مِنْ أَنْفَسِكُمْ) بِفَتْحِ الْفَاءِ.

وَقِراءَةُ الْجُمْهُورِ بِالضَّمِّ، قَالَ الْفَقِيهُ الْقَاضِي أَبُو الْفَضْلِ وَفَّقَهُ اللَّهُ تَعَالَى: أَعْلَمَ اللَّهُ تَعَالَى الْمُؤْمِنِينَ أَوِ الْعَرَبَ أَوْ أَهْلَ مَكَّةَ أَوْ جَمِيعَ النَّاسِ عَلَى اخْتِلافِ الْمُفَسِّرينَ مَنِ الْمُوَاجَهُ بِهَذَا الْخِطَابِ: أَنَّهُ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَعْرِفُونَهُ وَيَتَحَقَّقُونَ مَكَانَهُ وَيَعْلَمُونَ صِدْقَهُ وَأَمَانَتَهُ فَلَا يَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ وَتَرْكِ النَّصِيحَةِ لَهُمْ: لِكَوْنِهِ مِنْهُمْ، وَأَنَّهُ لَمْ تَكُنْ فِي الْعَرَبِ قَبِيلَةٌ إِلا وَلَهَا على رسول اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وِلَادَةٌ أَوْ قَرَابَةٌ، وَهُوَ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَغَيْرِهِ مَعْنَى قَوْلِهِ تَعَالَى (إِلا الْمَوَدَّةَ في القربى) وَكَوْنِهِ مِنْ أَشْرَفِهِمْ وَأَرْفَعِهِمْ وَأَفْضَلِهِمْ عَلَى قِرَاءَةِ الْفَتْحِ هَذِهِ نِهَايَةُ الْمَدْحِ، ثُمَّ وَصَفَهُ بَعْدُ بِأَوْصَافٍ حَمِيدَةٍ، وَأثْنَى عَلَيْهِ بمحامد كثيرة:

--------------------------------------------

(الفصل الأول) (قوله السمرقندى) هو الامام الجليل الحنفي أبو الليث المعروف بإمام الهدى: تفقه على أبى جعفر الهندوانى وتوفى سنة ثلاث وسبعين وثلاثمائة ولهم أبو الليث السمرقندي متقدم يلقب بالحافظ وهو الفرق بينهما، ذكره السمعاني.

(*)
মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর গুণাবলি গণনা করা, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা এবং তাঁর উচ্চ মর্যাদার বিবরণ প্রদান করা প্রসঙ্গে। আমরা এর মধ্য থেকে সেই বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করেছি যার অর্থ সুস্পষ্ট এবং মর্মার্থ প্রকাশিত, এবং আমরা সেগুলোকে দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

 

‌‌(প্রথম অধ্যায়) সেই প্রশংসা, স্তুতি এবং গুণাবলি বর্ণনার বিবরণ প্রসঙ্গে যা অবতীর্ণ হয়েছে

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

সমরকান্দি বলেছেন: তাঁদের কেউ কেউ 'ফা' বর্ণে ফাতহাহ যোগে 'মিন আনফাসিকুম' (তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমের পক্ষ হতে) পড়েছেন।

আর জমহুর বা অধিকাংশের পাঠ হচ্ছে দম্মাহ (পেশ) যোগে। ফকিহ কাজি আবু ফজল (আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাওফিক দান করুন) বলেন: মুফাসসিরগণের মতপার্থক্য অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে অথবা আরবদেরকে অথবা মক্কাবাসীদেরকে অথবা সকল মানুষকে এই সম্বোধনের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে: তিনি তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যাকে তারা চেনে, যাঁর অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত এবং যাঁর সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা সম্পর্কে তারা জানে। ফলে তাদেরই স্বগোত্রীয় হওয়ার কারণে তারা তাঁকে মিথ্যাচার বা তাদের প্রতি শুভকামনা ত্যাগের অভিযোগে অভিযুক্ত করবে না। আর আরবদের মধ্যে এমন কোনো গোত্র ছিল না যাদের সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মসূত্রীয় বা নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না। ইবনে আব্বাস এবং অন্যদের মতে এটিই মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ: (নিকটাত্মীয়তার ভালোবাসা ব্যতীত)। আর ফাতহাহ যোগে পাঠ অনুযায়ী তিনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত, উচ্চমর্যাদাশীল এবং শ্রেষ্ঠ হওয়াটি চরম প্রশংসার পরিচায়ক। অতঃপর তিনি এরপর তাঁকে প্রশংসনীয় গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করেছেন এবং অনেক স্তুতিবাক্য দ্বারা তাঁর প্রশংসা করেছেন:

--------------------------------------------

(প্রথম অধ্যায়) (সমরকান্দি উক্তিটি প্রসঙ্গে) তিনি হলেন হানাফি মাযহাবের মহান ইমাম আবুল লাইস, যিনি ইমামুল হুদা নামে পরিচিত। তিনি আবু জাফর হিন্দওয়ানির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তিনশত তেহাত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের মধ্যে আরও একজন পূর্ববর্তী আবুল লাইস সমরকান্দি রয়েছেন যার উপাধি হলো 'হাফিজ', এবং এটিই তাঁদের উভয়ের মধ্যে পার্থক্য; যা সামআনি উল্লেখ করেছেন।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১৫)
مِنْ حِرْصِهِ عَلَى هِدَايَتِهمْ وَرُشْدِهِمْ وَإسْلَامِهِمْ وَشِدَّةِ مَا يُعْنِتُهُمْ وَيَضُرُّ بِهِمْ فِي دُنْيَاهُمْ وَأُخْرَاهُمْ وَعِزَّتِهِ عَلَيْهِ وَرَأْفَتِهِ وَرَحْمتِهِ بِمُؤْمِنِيهِمْ، قَالَ بَعْضُهُمْ أَعْطَاهُ اسْمَيْنِ مِنْ أسمائه رؤف رَحِيمٌ وَمِثْلُهُ فِي الآيَةِ الْأُخْرَى قَوْلُهُ تَعَالى (لفد مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولا مِنْ أنفسهم) الآية وَفِي الآيَةِ الْأُخْرَى (هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الأُمِّيِّينَ رَسُولا منهم) الآية وَقَوْلُهُ تَعَالى (كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولا مِنْكُمْ) الآية، وَرُوي عَن عَلِيّ بن أبي طالب رضي الله عنه عَنْهُ صلى الله عليه وسلم فِي قوله تعالى (من أنفسكم) قَالَ نَسَبًا وَصِهْرًا وَحَسَبًا لَيْسَ فِي آبَائِي مِنْ لَدُنْ آدَمَ سِفَاحٌ كُلُّهَا نِكَاحٌ قَالَ ابْنُ الْكَلْبِيِّ كَتَبْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خمسمائة أُمٍّ فَمَا وَجَدْتُ فيهم سِفَاحًا وَلَا شَيْئًا مِمَّا كَانَ عَلَيْهِ الْجَاهِليَّةُ، وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما فِي قَوْلِهِ تَعَالَى (وَتَقَلُّبَكَ فِي الساجدين) قَالَ مِنْ نَبِيٍّ إِلَى نَبِيٍّ حَتَّى

--------------------------------------------

(قوله وشده) هو بالجر والتأنيث عطف على حرصه، وعزته عطف على شدة والضمير لما والجار والمجرور أعنى عليه متعلق بالشدة أو بالعزة على طريق التنازع، والضمير المجرور فيه وفى رأفته وفى رحمته للنبي صلى الله عليه وسلم كالضمير في حرصه (قوله يعنتهم) بضم أوله وسكون ثانيه وكسر ثالثه مخففا وبضم أوله وفتح ثانيه وكسر ثالثه مشددا.

في القاموس: أعنته غيره وعنته شدد عليه وألزمه ما يصعب عليه أداؤه (قوله وحسبا) الحسب ما يعده الإنسان من مفاخر آبائه (قوله سفاح) السفاح بكسر السين المهملة الزنا.

(*)
তাদের হিদায়াত, সঠিক পথ প্রাপ্তি ও ইসলাম গ্রহণের প্রতি তাঁর প্রচণ্ড আগ্রহ এবং যা তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে কষ্ট দেয় ও ক্ষতি করে তার দুঃসহ ভার তাঁর ওপর অর্পিত হওয়া এবং মুমিনদের প্রতি তাঁর সম্মান, মমতা ও দয়ার কারণে; তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, আল্লাহ তাঁকে নিজের নামসমূহের মধ্য থেকে দুটি নাম দান করেছেন: 'রউফ' (মমতাময়) ও 'রাহিম' (দয়ালু)। এর অনুরূপ অন্য একটি আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন) - আয়াতাংশ। অন্য আয়াতে রয়েছে: (তিনিই সেই সত্তা যিনি নিরক্ষরদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন) - আয়াতাংশ। এবং মহান আল্লাহর বাণী: (যেমন আমি তোমাদের মাঝে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনকে রাসূল পাঠিয়েছি) - আয়াতাংশ। আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, মহান আল্লাহর বাণী (তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে) সম্পর্কে নবী (সা.) বলেছেন: অর্থাৎ বংশমর্যাদা, আত্মীয়তা এবং আভিজাত্যের দিক থেকে। আদম (আ.) থেকে শুরু করে আমার পিতৃপুরুষদের মধ্যে কোনো ব্যভিচার ছিল না, বরং তাদের সবই ছিল বৈধ বিবাহের মাধ্যমে। ইবনুল কালবি বলেন, আমি নবী (সা.)-এর পাঁচশত পূর্বনারী (মা)-এর তালিকা লিপিবদ্ধ করেছি, তাদের মধ্যে আমি কোনো ব্যভিচার বা জাহেলি যুগের কোনো (নিকৃষ্ট) প্রথা খুঁজে পাইনি। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মহান আল্লাহর বাণী (এবং সেজদাকারীদের মধ্যে আপনার আবর্তন) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: এক নবী থেকে অন্য নবী পর্যন্ত যতক্ষণ না...

--------------------------------------------

(তাঁর বাণী 'এবং কঠোরতা'): এটি মাজরুর (জেরযুক্ত) এবং স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দ যা 'তাঁর আগ্রহ' শব্দের ওপর সমম্বিত হয়েছে। আর 'তাঁর মর্যাদা' শব্দটি 'কঠোরতা' শব্দের ওপর সমম্বিত। 'যা' শব্দের সাথে সর্বনাম যুক্ত হয়েছে এবং 'তাঁর ওপর' অংশটি 'তানাযু' (বিরোধ) নিয়মানুযায়ী 'কঠোরতা' বা 'মর্যাদা' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে 'তাঁর ওপর', 'তাঁর মমতা' ও 'তাঁর দয়া' শব্দগুলোর সর্বনাম নবী (সা.)-এর দিকে ফিরেছে, যেমনটি 'তাঁর আগ্রহ' শব্দের সর্বনামটি ফিরেছে। (তাঁর বাণী 'ইউ'নিতুহুম'): এটি প্রথম বর্ণে পেশ, দ্বিতীয়টিতে সাকিন এবং তৃতীয়টিতে জেরসহ লঘু উচ্চারণে অথবা প্রথম বর্ণে পেশ, দ্বিতীয়টিতে জবর এবং তৃতীয়টিতে তাশদীদ ও জেরসহ উচ্চারিত হয়।

আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: কেউ কাউকে কষ্টে ফেলা বা কঠোরতা করার অর্থ হলো তার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া যা সম্পাদন করা তার জন্য কঠিন। (তাঁর বাণী 'আভিজাত্য'): হাসাব বা আভিজাত্য হলো সেই গৌরবময় বিষয়গুলো যা মানুষ তার পিতৃপুরুষদের গৌরব হিসেবে গণনা করে থাকে। (তাঁর বাণী 'ব্যভিচার'): সিফাহ হলো ব্যভিচার।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১৬)
أَخْرَجْتُكَ نَبِيًّا، وَقَالَ جَعْفَرُ بنُ مُحَمَّدٍ عَلِمَ اللَّهُ تَعَالَى عَجْزَ خَلْقِهِ عَنْ طَاعَتِهِ فَعَرَّفَهُمْ ذَلِكَ لِكَيْ يَعْلَمُوا أنَّهُمْ لَا يَنَالُونَ الصَّفْوَ مِنْ خِدْمَتِهِ، فأَقَامَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ مَخْلُوقًا مِنْ جلسهم فِي الصُّورَةِ، أَلْبَسَهُ مِنْ نَعْتِهِ الرَّأْفَةَ وَالرَّحْمَةَ، وَأَخْرَجَهُ إِلَى الْخَلْقِ سَفِيرًا صَادِقًا، وَجَعَلَ طَاعَتَهُ طَاعَتَهُ، ومَوَافَقَتَهُ مَوَافَقَتَهُ فَقَالَ تَعَالَى (مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ) وَقَالَ اللَّه تَعَالَى (وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ) قَالَ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ طَاهِرٍ: زَيَّنَ اللَّه تَعَالَى مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم بِزِينَةِ الرَّحْمَةِ فَكَانَ كَوْنُهُ رَحْمَةً وَجَمِيعُ شَمَائِلِهِ وَصِفَاتِهِ رَحْمَةً عَلَى الْخَلْقِ، فمن أصابه شئ مَنْ رَحْمَتِهِ فَهُوَ النَّاجِي فِي الدَّارَيْنِ مِنْ كُلَّ مَكْرُوهٍ وَالْوَاصِلُ فِيهِمَا إِلَى كُلِّ مَحْبُوبٍ، أَلَا تَرَى أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ (وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلا رَحْمَةً للعالمين) فَكَانَتْ حَيَاتُهُ رَحْمَةً وَممَاتُهُ رَحْمَةً كَمَا قَالَ صلى الله عليه وسلم (حَيَاتِي خَيْرٌ لَكُمْ وَمَوْتِي خَيْرٌ لَكُمْ) وَكَمَا قَالَ عليه الصلاة والسلام (إِذَا أرَادَ اللَّهُ رَحْمَةً بِأُمَّةٍ قَبَضَ نَبِيَّهَا قَبْلَهَا فَجَعَلَهُ لَهَا فَرَطًا وَسَلَفًا) وقَالَ

--------------------------------------------

(قوله جعفر بن محمد) هو جعفر الصادق بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ علي بن أبى طالب (قوله سفيرا) في الصحاح السفير الرسول والمصلح بين الخلق (قوله قال أبو بكر بن طاهر) هو ابن مفوز بن أحمد بن مغور المعافرى الشاطبي (قوله فكان كونه) أي وجود النبي صلى الله عليه وسلم فيكون مصدر كان التامة اسم لكان الناقصة ورحمة خبر لها (قوله شمائله) الشمائل جمع شمال بكسر المعجمة وهو الخلق بضم الخاء وسكون اللام (قوله فرطا) بفتح الفاء والراء وهو الذى يتقدم الواردين فيهئ لهم ما يحتاجون إليه.

(*)
আমি আপনাকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেছি। এবং জাফর বিন মুহাম্মাদ বলেন, মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির তাঁর আনুগত্য করার ক্ষেত্রে অক্ষমতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তাই তিনি তাদের তা জানিয়ে দিলেন যেন তারা জানতে পারে যে তারা তাঁর সেবায় (আনুগত্যে) পূর্ণতা লাভ করতে পারবে না। অতঃপর তিনি তাঁর এবং তাদের মাঝে তাদেরই আকৃতির একজন সৃষ্টিকে দাঁড় করালেন, যাঁকে তিনি তাঁর দয়া ও করুণার গুণে ভূষিত করলেন। এবং তাঁকে সৃষ্টির কাছে একজন সত্যবাদী দূত হিসেবে পাঠালেন, এবং তাঁর আনুগত্যকে নিজের আনুগত্য সাব্যস্ত করলেন এবং তাঁর অনুসরণকে নিজের অনুসরণ সাব্যস্ত করলেন। মহান আল্লাহ বলেন: (যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: (আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি)। আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে তাহির বলেন: মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রহমতের অলংকারে সজ্জিত করেছেন। ফলে তাঁর অস্তিত্ব ছিল রহমত এবং তাঁর সমস্ত চরিত্র ও গুণাবলি ছিল সৃষ্টির জন্য রহমত। সুতরাং যার কাছে তাঁর রহমতের সামান্য কিছু পৌঁছেছে, সে উভয় জগতেই সকল অপছন্দনীয় বিষয় থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত এবং উভয় জগতে সকল প্রিয় বস্তুর অধিকারী হবে। আপনি কি দেখেন না যে মহান আল্লাহ বলেন: (আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি)? সুতরাং তাঁর জীবন ছিল রহমত এবং তাঁর মৃত্যুও রহমত, যেমনটি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং আমার মৃত্যুও তোমাদের জন্য কল্যাণকর)। এবং যেমনটি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: (যখন আল্লাহ কোনো উম্মতের প্রতি রহমত বর্ষণ করতে চান, তখন তিনি সেই উম্মতের আগেই তাদের নবীর মৃত্যু দান করেন এবং তাঁকে তাদের জন্য অগ্রগামী ও পথপ্রদর্শক সাব্যস্ত করেন)। এবং তিনি বললেন...

--------------------------------------------

(তাঁর উক্তি: জাফর বিন মুহাম্মাদ) তিনি হলেন জাফর আস-সাদিক বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব। (তাঁর উক্তি: দূত) 'সিহাহ' গ্রন্থে আছে, দূত অর্থ হলো প্রেরিত ব্যক্তি এবং মানুষের মাঝে সমঝোতাকারী। (তাঁর উক্তি: আবু বকর বিন তাহির) তিনি হলেন ইবনে মুফাওওয়ায বিন আহমাদ বিন মুগাওওয়ার আল-মাআফিরি আশ-শাতিবি। (তাঁর উক্তি: ফলে তাঁর সত্তা ছিল) অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অস্তিত্ব; এখানে 'কানা' এর মাসদারটি 'কানা তাম্মাহ' এর ইসম এবং রহমত শব্দটি 'কানা নাকিসাহ' এর খবর হয়েছে। (তাঁর উক্তি: তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ) 'শামায়েল' হলো 'শিমাল' শব্দের বহুবচন (শীন বর্ণে যের সহ), যার অর্থ হলো চরিত্র। (তাঁর উক্তি: অগ্রগামী) ফা এবং রা বর্ণে জবর সহ; এর অর্থ হলো এমন ব্যক্তি যে আগন্তুকদের আগে পৌঁছে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করে দেয়।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১৭)
السَّمَرْقَنْدِيُّ (رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ) يَعْنِي لِلْجِنِّ وَالْإِنْسِ، قِيلَ لِجَميعِ الْخَلْقِ: لِلْمُؤْمِنِ رَحْمَةً بِالْهِدَايَةِ، وَرَحْمَةً لِلْمُنَافِقِ بِالْأَمَانِ مِنَ الْقَتْلِ، وَرَحَمةً لِلْكَافِرِ بِتَأْخِيرِ الْعَذَابِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: هُوَ رَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْكَافِرِينَ، إذْ عُوفُوا مِمَّا أصَابَ غَيْرَهُمْ مِنَ الْأُمَمِ الْمُكَذِّبَةِ، وَحُكِيَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِجِبْرِيلَ عليه السلام (هَلْ أَصَابَكَ مِنْ هَذِهِ الرحمة شئ) قَالَ: نَعَمْ، كُنْتُ أَخْشَى الْعَاقِبَةَ فَأَمِنْتُ لِثَنَاءِ اللَّهِ عز وجل عَلَيَّ بِقَوْلِهِ (ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ. مُطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ) وَرُوِيَ عَنْ جَعْفَرِ بنِ مُحَمَّدٍ الصَّادِقِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى (فَسَلامٌ لَكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ) أَيْ بِكَ إِنَّما وَقَعَتْ سَلَامَتُهُمْ مِنْ أَجْلِ كَرَامَةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ الله تَعَالَى (اللَّهُ نُورُ السماوات والأرض) - الآية قَالَ كَعْبُ الْأَحْبَارِ وَابْنُ جُبَيْرٍ: الْمُرادُ بِالنُّورِ الثَّانِي هُنَا: مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم، وَقَوْلُهُ تَعَالَى (مَثَلُ نُورِهِ) أَيْ نُورُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ سَهْلُ بنُ عَبْدِ اللَّهِ: الْمَعْنَى اللَّهُ هَادِي أَهْلِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، ثُمَ قَالَ مَثَلُ نور

--------------------------------------------

(قوله كعب الأحبار) هو كعب بن ماتع - بالمثناة من فوق - ابن هينوع أدرك زمن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يره وأسلم في خلافة أبى بكر وقيل في خلافة عمر رضي الله عنهما وكان قبل إسلامه على دين اليهود وسكن الين، توفى بحمص سنة اثنين وثلاثين (قوله وقال سهل بن عبد الله) يعنى التسترى، وتسر قال ابن خلكان: بلد من كورة الأهواز ويقول الناس لها (شستر) وبها قبر البراء بن مالك، وقال النووي - هو بمثناتين من فوق الأولى مضمومة والثانية مفتوحة بينهما سين مهملة - مدينة بخوزستان.

(2 - 1) (*)
আস-সামারকান্দি (বলেন): '(বিশ্বজগতের জন্য রহমত)' অর্থাৎ জিন ও মানুষের জন্য। বলা হয়েছে: সমস্ত সৃষ্টির জন্য। মুমিনের জন্য (তিনি) হিদায়াতের মাধ্যমে রহমত, মুনাফিকের জন্য হত্যার হাত থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার মাধ্যমে রহমত এবং কাফিরের জন্য আযাব বিলম্বিত হওয়ার মাধ্যমে রহমত। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: তিনি মুমিন ও কাফির উভয়ের জন্যই রহমত। কেননা মিথ্যাচারী অন্যান্য উম্মতদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল, তা থেকে তারা রেহাই পেয়েছে। বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, 'এই রহমত থেকে কি আপনি কিছু লাভ করেছেন?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, আমি পরিণতির ব্যাপারে ভীত ছিলাম, কিন্তু মহান আল্লাহ আমার প্রশংসায় তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন: (যিনি শক্তিশালী এবং আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাবান। সেখানে তিনি মান্যবর ও বিশ্বস্ত)।' জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক থেকে মহান আল্লাহর বাণী '(তবে তোমার জন্য শান্তি, যেহেতু তুমি ডানদিকের অন্তর্ভুক্ত)' সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: অর্থাৎ আপনার মাধ্যমেই। মূলত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মর্যাদার কারণেই তাদের নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনের নূর) - আয়াতাংশ। কাব আল-আহবার ও ইবনে জুবাইর বলেন: এখানে দ্বিতীয় 'নূর' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আর মহান আল্লাহর বাণী: (তাঁর নূরের উপমা) অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নূর। সাহল ইবনে আবদুল্লাহ বলেন: এর অর্থ হলো আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনবাসীর পথপ্রদর্শক। অতঃপর তিনি বলেন: 'নূরের উপমা...'

--------------------------------------------

(উনার উক্তি কাব আল-আহবার) তিনি হলেন কাব ইবনে মাতি—উপরে দুই নুকতাহওয়ালা 'তা' দিয়ে—ইবনে হাইনু। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ পেয়েছেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি এবং আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে ইসলাম গ্রহণ করেন। বলা হয় যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি ইয়াহুদি ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং ইয়েমেনে বসবাস করতেন। তিনি বত্রিশ হিজরিতে হিমসে ইন্তেকাল করেন। (উনার উক্তি এবং সাহল ইবনে আবদুল্লাহ বলেন) অর্থাৎ আত-তুস্তারি। আর তুস্তার সম্পর্কে ইবনে খাল্লিকান বলেন: এটি আহওয়াজ অঞ্চলের একটি শহর এবং মানুষ একে 'শুস্তার' বলে। সেখানে বারা ইবনে মালিকের কবর রয়েছে। ইমাম নববী বলেন—এটি উপরে দুই নুকতাহওয়ালা 'তা' যোগে, প্রথমটি পেশ বিশিষ্ট এবং দ্বিতীয়টি জবর বিশিষ্ট এবং উভয়ের মাঝে একটি নুকতাহীন 'সীন' রয়েছে—এটি খুজিস্তানের একটি শহর।

(২ - ১) (*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১৮)
مُحَمَّدٍ إذْ كَانَ مُسْتَوْدَعًا فِي الأَصْلابِ كَمِشْكَاةٍ صِفَتُهَا كَذَا، وَأَرَادَ بِالْمِصْبَاحِ قَلْبَهُ، وَالزُّجَاجَةِ صَدْرَهُ: أيْ كَأنَّهُ كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ لِمَا فِيهِ مِنَ الْإِيمَانِ وَالْحِكْمَةِ، يُوقَدُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ: أَيْ مِنْ نُورِ إبْرَاهِيمَ عليه الصلاة والسلام، وَضُرِبَ الْمَثَلُ بِالشَّجَرَةِ الْمُبَارَكَةِ، وَقَوْلُهُ: يَكَادُ زَيْتُهَا يضئ: أَيْ تَكَادُ نُبُوَّةُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم تَبِينُ لِلنَّاسِ قَبْلَ كَلامِهِ كَهَذا الزَّيْتِ، وَقَد قِيل فِي هَذِه الآيَة غَيْر هَذَا وَاللَّهُ أَعْلَمُ، وَقَدْ سَمَّاهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ نُورًا وَسِرَاجًا مُنِيرًا فَقَالَ تَعَالَى (قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ) وَقَالَ تَعَالَى (إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا منيرا) وَمِنْ هَذَا قَوْلُهُ تَعَالَى (أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صدرك) إِلَى آخِرِ السُّورَةِ، شَرَحَ: وَسَّعَ، وَالمُرَادُ بِالصَّدْرِ هُنَا: الْقَلْبُ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: شَرَحَهُ بِنُورِ الْإِسلَامِ، وَقَالَ سَهْلٌ: بِنُورِ الرِّسَالَةِ، وَقَالَ الْحَسَنُ: مَلأَهُ حُكْمًا وَعِلْمًا، وَقِيلَ مَعْنَاهُ: أَلَمْ يُطَهِّرْ قَلْبَكَ حَتَّى لَا يَقْبَلَ الْوَسْوَاسَ؟ (وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ، الذى أنقض

--------------------------------------------

(قوله كمشكاة) المشكاة الكوة في الحائط التى ليست بنافذة وقيل المراد بها في الآية القنديل وبالمصباح الفتيلة وقيل المراد بها معلاق القنديل وبالمصباح القنديل وقيل المراد بها موضع الفتيلة وبالمصباح الفتيلة الموقودة (قوله تبين) بفتح المثناة الفوقية وكسر الموحدة أي تظهر (قوله وقال الحسن) هو ابن أبى الحسن البصري مات سنة عشر ومائة.

(*)
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন পূর্বপুরুষদের পৃষ্ঠদেশে গচ্ছিত ছিলেন, তখন তিনি ছিলেন একটি চেরাগদানির ন্যায় যার বৈশিষ্ট্য এরূপ। আর 'প্রদীপ' দ্বারা তাঁর অন্তর এবং 'কাঁচ' দ্বারা তাঁর বক্ষ উদ্দেশ্য করা হয়েছে; অর্থাৎ তা যেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাতে বিদ্যমান ঈমান ও হিকমতের কারণে। এটি একটি বরকতময় বৃক্ষ থেকে প্রজ্বলিত হয়: অর্থাৎ ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নূর থেকে। আর বরকতময় বৃক্ষের মাধ্যমে এই উদাহরণ পেশ করা হয়েছে। এবং তাঁর বাণী: "তার তেল যেন আলোকিত হয়": অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত তাঁর কথা বলার পূর্বেই মানুষের নিকট সুস্পষ্ট হয়ে যায়, যেমন এই তেল। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় এর বাইরেও কিছু বলা হয়েছে এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর মহান আল্লাহ কুরআনের অন্যান্য স্থানে তাঁকে নূর এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে নামকরণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নূর এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।" এবং তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।" এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: "আমি কি আপনার জন্য আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি?" সূরার শেষ পর্যন্ত। প্রশস্ত করা বলতে বিস্তৃত করা বোঝায়। আর এখানে 'বক্ষ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'অন্তর'। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: তিনি একে ইসলামের নূরের মাধ্যমে প্রশস্ত করেছেন। সাহল বলেন: রিসালাতের নূরের মাধ্যমে। হাসান বলেন: তিনি একে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দ্বারা পূর্ণ করেছেন। আবার বলা হয়েছে এর অর্থ হলো: তিনি কি আপনার অন্তরকে পবিত্র করেননি যাতে তা কোনো কুমন্ত্রণা গ্রহণ না করে? "আর আমি আপনার ওপর থেকে আপনার বোঝা নামিয়ে দিয়েছি, যা আপনার পিঠকে নুয়ে দিয়েছিল..."

--------------------------------------------

(তাঁর কথা: চেরাগদানির ন্যায়) মিশকাত হলো দেয়ালের মধ্যকার এমন ছিদ্রপথ যা এপার-ওপার দেখা যায় না। কেউ কেউ বলেছেন, আয়াতে এর দ্বারা ঝাড়বাতি উদ্দেশ্য এবং 'প্রদীপ' দ্বারা সলতে উদ্দেশ্য। আবার বলা হয়েছে এর দ্বারা ঝাড়বাতি ঝোলানোর শিকল বা হুক উদ্দেশ্য এবং 'প্রদীপ' দ্বারা স্বয়ং ঝাড়বাতি উদ্দেশ্য। আবার বলা হয়েছে এর দ্বারা সলতে রাখার জায়গা এবং 'প্রদীপ' দ্বারা প্রজ্বলিত সলতে উদ্দেশ্য। (তাঁর কথা: সুস্পষ্ট হয়ে যায়) অর্থাৎ প্রকাশিত হয়ে যায়। (হাসান বলেন) তিনি হলেন হাসান ইবনুল হাসান বসরী, তিনি ১১০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ১৯)
ظهرك) : قِيلَ مَا سَلَفَ مِنْ ذَنْبِكَ يَعْنِي قَبْلَ النُّبُوَّةِ، وَقِيلَ أَرَادَ ثِقَلَ أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ، وَقِيلَ أَرَادَ مَا أثْقَلَ ظَهْرَهُ مِنَ الرِّسَالَةِ حَتَى بَلَّغَهَا.

حَكَاهُ الْمَاوَرْدِيُّ وَالسُّلَمِيُّ، وَقِيلَ عَصَمْنَاكَ وَلَوْلَا ذَلِكَ لَأثْقَلَتِ الذُّنُوبُ ظَهْرَكَ.

حَكَاهُ السَّمَرْقَنْدِيُّ، (وَرَفَعْنَا لَكَ ذكرك) : قالَ يَحْيَى بْنُ آدَمَ: بِالنُّبُوَّةِ، وَقِيلَ إِذَا ذُكِرْتُ ذُكِرْتَ مَعِي فِي قَوْلِ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، وَقِيلَ فِي الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ، قَالَ الْفَقِيهُ الْقَاضِي أَبُو الْفَضْلِ: هَذَا تَقْرِيرٌ مِنَ اللَّهِ جَلَّ اسْمُهُ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عَظِيمِ نِعَمِهِ لَدَيْهِ وَشَرِيفِ مَنْزِلَتِهِ عِنْدَهُ وَكَرَامَتِهِ عَلَيْهِ بِأَنْ شَرَحَ قَلْبَهُ لِلإِيمَانِ وَالْهِدَايَةِ وَوَسَّعَهُ لِوَعْيِ الْعِلْمِ وَحَمْلِ الْحِكْمَةِ وَرَفَعَ عَنْهُ ثِقَلَ أُمُورِ الْجَاهِلِيَّةِ عَلَيْهِ وَبَغَّضَهُ لِسَيْرِهَا وَمَا كَانَتْ عَلَيْهِ بِظُهُورِ دِينِهِ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَحَطَّ عَنْهُ عُهْدَةَ أَعْبَاءِ الرِّسَالَةِ وَالنُّبُوَّةِ لِتَبْلِيغِهِ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إلَيْهِمْ وَتَنْوِيهِهِ بِعَظِيمِ مَكَانِهِ وَجَليلِ رُتْبَتِهِ وَرِفْعَةِ ذِكْرِهِ وَقِرَانِهِ مَعَ اسْمِهِ اسْمَهُ، قَالَ قَتَادَةُ: رَفَعَ الله تعالى ذِكْرَهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، فَلَيْسَ خَطِيبٌ وَلَا مُتَشَهِّدٌ وَلَا صَاحِبُ صَلَاةٍ إِلا يَقُولُ أَشْهَدُ أن لا إله إلا الله وأن محمدا رَسُولُ اللَّهِ: وَرَوَى أبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ رضي الله عنه أن النبي صلى

--------------------------------------------

(قوله ثقل) هو بكسر المثلثة وفتح القاف ضد الخفة، وبكسر المثلثة وسكون القاف

واحد الأثقال، وبفتحهما متاع المسافر وحشمه (قوله السلمى) هو بضم المهملة وفتح اللام أبو عبد الرحمن النيسابوري شيخ الصوفية وصاحب تاريخهم وطبقاتهم (قوله أعباء الرسالة) جمع عبء بكسر العين المهملة وسكون الموحدة بعدها همزة، في القاموس هو الحمل والثقل من أي شئ كان والعدل.

(*)
(আপনার পিঠ): বলা হয়েছে, আপনার পূর্ববর্তী গুনাহ অর্থাৎ নবুওয়াতের আগের বিষয়। আবার বলা হয়েছে, তিনি জাহেলিয়াতের দিনগুলোর বোঝা বুঝিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, এর দ্বারা রিসালাতের সেই বোঝা উদ্দেশ্য যা তাঁর পিঠকে ভারী করে দিয়েছিল যতক্ষণ না তিনি তা পৌঁছে দিয়েছেন।

মাওয়ার্দি ও সুলামি এটি বর্ণনা করেছেন। এবং বলা হয়েছে, আমি আপনাকে সুরক্ষা দান করেছি, অন্যথায় গুনাহসমূহ আপনার পিঠকে ভারী করে দিত।

সমরকান্দি এটি বর্ণনা করেছেন। (এবং আমি আপনার জন্য আপনার স্মরণকে সুউচ্চ করেছি): ইয়াহইয়া ইবনে আদম বলেছেন: নবুওয়াতের মাধ্যমে। আরও বলা হয়েছে, যখনই আমার কথা উল্লেখ করা হয়, তখনই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' বাক্যে আমার সাথে আপনার কথাও উল্লেখ করা হয়। আবার বলা হয়েছে, আযান ও ইকামতের মধ্যে। ফকিহ কাজি আবু ফজল বলেছেন: এটি আল্লাহ জাল্লা শানুহুর পক্ষ থেকে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর মহান নিয়ামতসমূহ, তাঁর নিকট নবীর সম্মানিত মর্যাদা এবং তাঁর কাছে নবীর উচ্চ সম্মানের স্বীকৃতিস্বরূপ; যেহেতু আল্লাহ তাঁর অন্তরকে ঈমান ও হিদায়াতের জন্য উন্মুক্ত করেছেন, এবং জ্ঞান সংরক্ষণ ও প্রজ্ঞা ধারণের জন্য একে প্রশস্ত করেছেন। আর জাহেলিয়াতের বিষয়াদির যে বোঝা তাঁর ওপর ছিল তা সরিয়ে নিয়েছেন এবং জাহেলিয়াতের রীতিনীতি ও অবস্থার প্রতি তাঁর মনে ঘৃণা সৃষ্টি করেছেন তাঁর দ্বীনকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করার মাধ্যমে। আর নবুওয়াত ও রিসালাতের দায়িত্বের যে বোঝা মানুষের কাছে ওহি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিল, তা তিনি লাঘব করেছেন। এবং তাঁর সুউচ্চ অবস্থান, মহান মর্যাদা ও উচ্চ সম্মানের ঘোষণা দিয়েছেন এবং নিজের নামের সাথে তাঁর নামকে যুক্ত করেছেন। কাতাদাহ বলেছেন: আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর স্মরণকে সুউচ্চ করেছেন। তাই কোনো খতিব, তাশাহহুদ পাঠকারী বা নামাজ আদায়কারী এমন নেই যে 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ' বলে না। আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু...

--------------------------------------------

(তাঁর উক্তি 'সিকল' বা বোঝা): এটি 'ছা' বর্ণে কাসরা এবং 'ক্বাফ' বর্ণে ফাতহা যোগে হালকা এর বিপরীত অর্থ দেয়। আর 'ছা' বর্ণে কাসরা ও 'ক্বাফ' বর্ণে সুকুন যোগে এটি 'আসকাল' (বোঝাসমূহ) এর একবচন। আর উভয়ের ফাতহা যোগে এর অর্থ মুসাফিরের মালপত্র ও আসবাবপত্র। (তাঁর উক্তি 'আস-সুলামি'): এটি 'সিন' বর্ণে পেশ এবং 'লাম' বর্ণে জবর যোগে গঠিত; তিনি হলেন আবু আবদুর রহমান আন-নিসাবুরি, সুফিদের শায়খ এবং তাদের ইতিহাস ও স্তরের রচয়িতা। (তাঁর উক্তি 'রিসালাতের বোঝা'): এটি 'ইব্উন' শব্দের বহুবচন, যা 'আইন' বর্ণে কাসরা এবং 'বা' বর্ণে সুকুন ও পরবর্তী হামজা যোগে গঠিত। 'কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে, এটি যেকোনো জিনিসের ভার বা বোঝা এবং সমতা।

(*)
(খণ্ড: ১) আশ শিফা বিতারিফি হুক্বুক্বিল মুসতাফা - ওয়া হাশিয়াতুশ শুমুনী (পৃষ্ঠা: ২০)
اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (أَتَانِي جِبْرِيلُ عليه السلام فَقَالَ إنَّ رَبِّي وَرَبَّكَ يَقُولُ: تَدْرِي كَيْفَ رَفَعْتُ ذِكْرَكَ؟ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: إِذَا ذُكِرْتُ ذُكِرْتَ مَعِي) قَالَ ابْنُ عَطَاءٍ: جَعَلْتُ تَمَامَ الْإِيمَانِ بِذِكْرِكَ مَعِي، وَقَالَ أَيْضًا: جَعَلْتُكَ ذِكْرًا مِنْ ذِكْرِي فَمَنْ ذَكَرَكَ ذَكَرَنِي.

وَقَالَ جَعْفَرُ بنُ مُحَمَّدٍ الصَّادِقُ: لَا يَذْكُرُكَ أحَدٌ بِالرِّسَالَةِ إِلا ذَكَرَنِي بِالرُّبُوبِيَّةِ، وَأشَارَ بَعْضُهُمْ فِي ذَلِكَ إِلَى مَقَامِ الشَّفَاعَةِ، وَمِنْ ذِكْرِهِ مَعَهَ تَعَالَى أَنْ قَرَنَ طَاعَتَهُ بطَاعَتِهِ وَاسْمَهُ بِاسْمِهِ فَقَالَ تَعَالَى (وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ) ، (وآمنوا بالله ورسوله) فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا بِوَاوِ الْعَطْفِ الْمُشْرِكَةِ، وَلَا يَجُوزُ جَمْعُ هَذَا الْكَلَامِ فِي غَيْرِ حَقِّهِ صلى الله عليه وسلم.

حَدَّثَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَيَّانِيُّ الْحَافِظُ فِيمَا أَجَازَنِيهِ وَقَرَأْتُهُ عَلَى الثِّقَةِ عَنْهُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ النَّمَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أبُو مُحَمَّدِ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاسَةَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّجْزِيُّ حَدَّثَنَا أبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ عَبْدِ الله ابن يَسَارٍ عَنْ حُذَيْفَةَ رضي الله عنه عَنِ النبي صلى الله عليه وسلم قال

--------------------------------------------

(قوله قال ابن عطاء) هو أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بن محمد بن سهل بن عطاء الآدمى الزاهد البغدادي أحد مشايخ الصوفية (قوله الجيانى) بالجيم المفتوحة والمثناة التحتية المشددة والنون: نسبة إلى بلد بالأندلس (قوله السجزى) بكسر المهملة وسكون الجيم

وكسر الزاى.

قال ابن ما كولا هي نسبة إلى سجستان على غير قياس وهو إقليم ذو مدائن بين خراسان والسند وكرمان.

(*)
আল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (জিবরীল আলাইহিস সালাম আমার নিকট আসলেন এবং বললেন, নিশ্চয়ই আমার রব এবং আপনার রব বলছেন: আপনি কি জানেন আমি কীভাবে আপনার সম্মানকে সমুন্নত করেছি? আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: যখনই আমার আলোচনা করা হয়, তখনই আমার সাথে আপনারও আলোচনা করা হয়।) ইবনে আতা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: আমি ঈমানের পূর্ণতাকে আমার সাথে আপনার আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করেছি। তিনি আরও বলেছেন: আমি আপনাকে আমার আলোচনারই এক অংশে পরিণত করেছি, সুতরাং যে আপনাকে স্মরণ করল সে আমাকেই স্মরণ করল।

এবং জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাদিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: কেউ যখনই আপনাকে রিসালাতের মাধ্যমে স্মরণ করে, তখনই সে আমাকে রুবুবিয়্যাতের মাধ্যমে স্মরণ করে। তাঁদের কেউ কেউ এর দ্বারা শাফায়াতের মাকামের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। মহান আল্লাহর সাথে রাসূলের আলোচনার অন্যতম দিক হলো তিনি তাঁর আনুগত্যের সাথে রাসূলের আনুগত্যকে এবং তাঁর নামের সাথে রাসূলের নামকে যুক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: (তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো), (এবং আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো)। এভাবে আল্লাহ সংযোগকারী 'ওয়াও' অব্যয়ের মাধ্যমে উভয়কে একত্রে উল্লেখ করেছেন, যা অন্য কারো ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায় হওয়া জায়েয নয়।

আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শায়খ আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-জায়্যানী আল-হাফিয যা তিনি আমাকে ইজাযত দিয়েছেন এবং যা আমি তাঁর নির্ভরযোগ্য ছাত্রের কাছে পাঠ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু উমর আন-নামারী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মুমিন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে দাসা। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আস-সিজিজী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শু’বা, মানসূর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন

--------------------------------------------

(তাঁর বক্তব্য: ইবনে আতা বলেছেন) তিনি হলেন আবু আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাহল ইবনে আতা আল-আদামী, যিনি বাগদাদী যাহিদ এবং সূফী মাশায়েখদের অন্তর্ভুক্ত। (তাঁর বক্তব্য: আল-জায়্যানী) জীম বর্ণে ফাতহা, নিচে দুই নুকতা বিশিষ্ট ইয়া বর্ণে তাশদীদ এবং নুন বর্ণের সাথে: এটি আন্দালুসের একটি শহরের নামানুসারে। (তাঁর বক্তব্য: আস-সিজিজী) সীন বর্ণে কাসরা, জীম বর্ণে সুকুন

এবং যা বর্ণে কাসরার সাথে।

ইবনে মাকূলা বলেছেন, এটি ব্যাকরণগত নিয়মের বাইরে সিজিস্তান অঞ্চলের প্রতি সম্পৃক্ত, যা খুরাসান, সিন্ধু ও কিরমানের মধ্যবর্তী অনেক শহর সমৃদ্ধ একটি এলাকা।

(*)