(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: -)
الحاشية العثيمينية على زاد المستقنع   (حازم خنفر)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: الحاشية العثيمينية على زاد المستقنع

المؤلف: حازم خنفر

عدد الصفحات: 674

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 رمضان 1436

জাদুল মুস্তাকনির ওপর আল-উসাইমিনীয় টীকা   (হাযেম খানফার)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


গ্রন্থ: জাদুল মুস্তাকনির ওপর আল-উসাইমিনীয় টীকা

গ্রন্থকার: হাযেম খানফার

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭৪

[গ্রন্থটি মুদ্রিত নয়]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১)
الحاشية العثيمينية

على كتاب

«زاد المستقنع»

 

وهي جمعٌ

لتعليقات الشيخ العلامة ابن عثيمين واختياراته

التي خالف فيها قول «الزاد» من كتابه «الشرح الممتع»

 

جمعها وأعدها

حازم خنفر
আল-হাশিয়া আল-উসাইমিনিয়্যাহ

কিতাবটির ওপর

«যাদুল মুস্তাকনি»

 

এটি একটি সংকলন

শাইখ আল্লামা ইবনে উসাইমীনের টীকা ও তাঁর সেই সকল পছন্দসমূহের (ইখতিয়ারাত)

যাতে তিনি তাঁর গ্রন্থ «আশ-শারহুল মুমতি»-তে «যাদ»-এর বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন

 

সংগ্রহ ও প্রস্তুত করেছেন

হাযেম খানফার
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৩)
الحاشية العثيمينية

على كتاب «زاد المستقنع»
উসাইমিনী টীকা

‘যাদুল মুস্তাকনি’ কিতাবের ওপর
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع

مبذولةٌ لكل مسلمٍ يبتغي الأجر والعمل الصالح

 

1435 هـ - 2014 م
প্রকাশনা স্বত্ব

সওয়াব এবং নেক আমল প্রত্যাশী প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এটি উন্মুক্ত

 

১৪৩৫ হিজরী - ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه.

أما بعد:

فهذا سفرٌ جامعٌ لاختيارات العلامة محمد بن صالحٍ العثيمين رحمه الله، وذلك من كتابه «الشرح الممتع».

وقد اقتصرت فيه على آرائه الفقهية التي خالف فيها قول الحجاوي في كتابه «زاد المستقنع»، وأضربت عما هو متعلقٌ بتفريعات المسائل المذكورة في الشرح، وربما أثبت نزرًا منها لمزيد فائدةٍ، وكذلك أثبت شيئًا مما وافقه في بعض مسائل لجللها، حتى طوي هذا السفر على (1950) حاشيةً.

ولما كان الشيخ رحمه الله تقصى في تحقيق المسائل وذكر أقوال العلماء والأدلة وترجيح الآراء؛ كان لا محالة من اختصار قوله دون المس بأصل اللفظ وتركيبه؛ إلا فيما ألجئت إليه من إثبات حرف استئنافٍ أو تبديل كلمةٍ أو تعديل جملةٍ - أو ما أشبه -؛ سبكًا لمختصر النص:

- فما كان ظاهرًا جدا من زيادةٍ وتصرفٍ بكلام الشيخ رحمه الله فرمزته بمحصورتين [].

- وما أسقطته من كلام الشيخ رحمه الله فرمزته بثلاث نقاطٍ … .
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছে তাদের ওপর।

অতঃপর:

এটি আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফিকহী পছন্দসমূহের একটি সংকলন, যা তাঁর ‘আশ-শারহুল মুমতি’ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

এতে আমি কেবল সেই ফিকহী মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যেগুলোতে তিনি ‘যাদুল মুসতাকনি’ গ্রন্থের লেখক হিজাউয়ীর মতের বিরোধিতা করেছেন। আর উক্ত শারহ্-এ বর্ণিত মাসআলাসমূহের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত আলোচনাগুলো আমি বর্জন করেছি। তবে অধিক উপকারের স্বার্থে কখনো কখনো তার সামান্য অংশ উল্লেখ করেছি। একইভাবে, গুরুত্বের কারণে কিছু মাসআলায় যেখানে তিনি একমত হয়েছেন তাও আমি সাব্যস্ত করেছি, যার ফলে এই গ্রন্থটি (১৯৫০) টি টীকা সম্বলিত হয়েছে।

যেহেতু শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) মাসআলাগুলোর তাহকীক, উলামায়ে কেরামের মতামত ও দলিল উপস্থাপন এবং নির্দিষ্ট মত প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, তাই মূল শব্দের গঠন ও বিন্যাস অক্ষুণ্ণ রেখে তাঁর বক্তব্য সংক্ষেপ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। কেবল টেক্সটের সংক্ষেপায়নের প্রয়োজনে কোনো অব্যয় যোগ করা, শব্দ পরিবর্তন করা বা বাক্য পরিমার্জন করা—অথবা এই জাতীয় যা প্রয়োজন ছিল—তা ছাড়া অন্য কোথাও পরিবর্তন করা হয়নি:

- শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যে যা কিছু অতিরিক্ত বা পরিমার্জন করা হয়েছে এবং তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান, সেগুলোকে আমি বন্ধনী [] দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

- শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে যা আমি বাদ দিয়েছি, সেখানে তিনটি বিন্দু … দ্বারা চিহ্ন দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৬)
ولما كانت مقاصد هذا الكتاب هي اختيارات الشيخ دون النظر في تحقيق نص المتن وضبطه؛ كان الأحرى أن أبقيه على أصله الوارد في كتاب «الشرح الممتع» تطابقًا للفظ المتن مع مادة الشرح.

وبقدر ما نشطت لجمع هذه الاختيارات واستخراجها على هذا الضرب؛ إلا أني لا أنزه ما خطه قلمي في بابات هذا الكتاب من سهوةٍ عن إثبات رمزٍ، أو نسوةٍ من ذكر اختيارٍ، أو هفوةٍ في نقل مسألةٍ؛ فإن الكمال عزيزٌ.

وأسأله - سبحانه - أن يقر هذا العمل في ميزان الأعمال الصالحات، إنه سميعٌ مجيبٌ.

 

كتبه

أبو البهاء

حازم خنفر

28/ 4 / 1435 هـ-

28/ 2 / 2014 م
যেহেতু এই কিতাবের উদ্দেশ্য হলো শাইখের চয়নসমূহ উপস্থাপন করা, মূল পাঠ্যের (মাতন) তাহকীক ও বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য করা নয়; তাই একে ‘আশ-শারহুল মুমতি’ গ্রন্থে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই বহাল রাখাকেই আমি শ্রেয় মনে করেছি, যাতে মূল পাঠ্যের শব্দের সাথে ব্যাখ্যার বিষয়বস্তুর মিল থাকে।

এই পদ্ধতি অনুসারে এই চয়নসমূহ সংগ্রহ ও তা বের করার জন্য আমি যথেষ্ট চেষ্টা করা সত্ত্বেও, আমি এই কিতাবের অধ্যায়গুলোতে আমার কলম যা লিখেছে তাকে কোনো প্রতীক বসাতে ভুল করা, কোনো চয়ন উল্লেখ করতে ভুলে যাওয়া বা কোনো মাসআলা বর্ণনায় বিচ্যুতি থেকে মুক্ত মনে করি না; কেননা পূর্ণতা এক দুর্লভ বিষয়।

আমি তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলকে নেক আমলের পাল্লায় কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।

 

এটি লিখেছেন

আবু আল-বাহা

হাযেম খানফার

২৮/ ০৪ / ১৪৩৫ হিজরি-

২৮/ ০২ / ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌كتاب الطهارة

وهي: ارتفاع الحدث - وما في معناه -، وزوال الخبث.

المياه ثلاثةٌ (1):

طهورٌ لا يرفع الحدث (2) ولا يزيل النجس الطارئ غيره (3)، وهو الباقي على خلقته.

فإن تغير بغير ممازجٍ - كقطع كافورٍ، أو دهنٍ، أو بملحٍ مائي، أو سخن بنجسٍ - (4): كره (5).

وإن تغير بمكثه، أو بما يشق صون الماء عنه - من نابتٍ فيه وورق شجرٍ -، أو

--------------------------------------------

(1) الصحيح: أن الماء قسمان فقط: طهورٌ ونجسٌ، فما تغير بنجاسةٍ فهو نجسٌ، وما لم يتغير بنجاسةٍ فهو طهورٌ، وأن الطاهر قسمٌ لا وجود له في الشريعة.

(2) التراب في التيمم - على المذهب - لا يرفع الحدث، والصواب: أنه يرفع الحدث.

(3) أي: لا يزيل النجس إلا الماء … والصواب: أنه إذا زالت النجاسة بأي مزيلٍ كان؛ طهر محلها.

(4) الصواب: أنه إذا كان محكم الغطاء لا يكره، فإن دخل فيه دخانٌ وغيره فإنه ينبني على القول بأن الاستحالة تصير النجس طاهرًا، فإن قلنا بذلك لم يضر، وإن قلنا بأن الاستحالة لا تطهر وتغير أحد أوصاف الماء بهذا الدخان؛ كان نجسًا.

(5) الصواب في هذه المسائل كلها: أنه لا يكره؛ لأن الكراهة حكمٌ شرعي يفتقر إلى دليلٍ.
পবিত্রতা অধ্যায়

আর এটি হলো: অপবিত্রতা (হাদাস) দূর হওয়া—এবং যা এর সমার্থবোধক—এবং নাপাকি (খাবাস) দূরীভূত হওয়া।

পানি তিন প্রকার (১):

পবিত্র ও পবিত্রকারী পানি যা ছাড়া অন্য কিছু অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করে না (২) এবং অন্য কোনো মাধ্যমে আপতিত নাপাকিও দূর হয় না (৩); আর এটি হলো সেই পানি যা তার আদি প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট রয়েছে।

অতঃপর যদি তা এমন কোনো বস্তুর দ্বারা পরিবর্তিত হয় যা পানির সাথে মিশে যায় না—যেমন কর্পূরের টুকরো, অথবা তেল, অথবা খনিজ লবণযুক্ত পানি, অথবা নাপাকি দ্বারা উত্তপ্ত করা পানি— (৪): তবে তা ব্যবহার করা অপছন্দনীয় (৫)।

আর যদি তা দীর্ঘক্ষণ একস্থানে আবদ্ধ থাকার কারণে পরিবর্তিত হয়, অথবা এমন কিছুর দ্বারা যা থেকে পানিকে রক্ষা করা দুঃসাধ্য—যেমন তাতে জন্মানো উদ্ভিদ এবং গাছের পাতা—অথবা

--------------------------------------------

(১) সঠিক অভিমত হলো: পানি কেবল দুই প্রকার: পবিত্র ও পবিত্রকারী (তুহুর) এবং অপবিত্র (নাজিস)। সুতরাং যা নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয় তা অপবিত্র, আর যা নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয় না তা পবিত্র ও পবিত্রকারী। আর কেবল 'পবিত্র' (তাহার) নামক পানির এমন কোনো প্রকারের শরীয়তে অস্তিত্ব নেই যা পবিত্রকারী নয়।

(২) তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে মাটি—মাযহাব অনুযায়ী—অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করে না। তবে সঠিক অভিমত হলো: এটি অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করে।

(৩) অর্থাৎ: পানি ছাড়া অন্য কিছু নাপাকি দূর করে না... তবে সঠিক অভিমত হলো: যেকোনো নাপাকি দূরকারী বস্তু দ্বারা যদি নাপাকি দূরীভূত হয়ে যায়, তবে সেই স্থানটি পবিত্র হয়ে যাবে।

(৪) সঠিক অভিমত হলো: যদি পাত্রের মুখ শক্তভাবে আটকানো থাকে তবে তা অপছন্দনীয় নয়। যদি তাতে ধোঁয়া বা অন্য কিছু প্রবেশ করে, তবে বিষয়টি এই মতের ওপর নির্ভরশীল যে, রূপান্তর (ইস্তিহালাহ) কি অপবিত্র বস্তুকে পবিত্র করে? আমরা যদি বলি যে রূপান্তর পবিত্র করে, তবে তা ক্ষতিকর হবে না। আর যদি বলি রূপান্তর পবিত্র করে না এবং এই ধোঁয়ার কারণে পানির কোনো একটি বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা অপবিত্র হবে।

(৫) এই সকল মাসআলার ক্ষেত্রে সঠিক অভিমত হলো: এটি অপছন্দনীয় নয়; কারণ অপছন্দনীয় (কারাহাত) হওয়া একটি শরঈ বিধান যার জন্য দলীল বা প্রমাণের প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৮)
بمجاورة ميتةٍ (1)، أو سخن بالشمس، أو بطاهرٍ: لم يكره.

وإن استعمل في طهارةٍ مستحبةٍ؛ كتجديد وضوءٍ، وغسل جمعةٍ، وغسلةٍ ثانيةٍ وثالثةٍ: كره (2).

وإن بلغ قلتين - وهو الكثير، وهما خمس مئة رطلٍ عراقي تقريبًا - فخالطته نجاسةٌ غير بول آدمي أو عذرته المائعة فلم تغيره، أو خالطه البول أو العذرة ويشق نزحه - كمصانع طريق مكة -: فطهورٌ (3).

ولا يرفع حدث رجلٍ طهورٌ يسيرٌ خلت به امرأةٌ لطهارةٍ كاملةٍ عن حدثٍ (4).

وإن تغير لونه أو طعمه أو ريحه - بطبخٍ أو ساقطٍ فيه - (5)، أو رفع بقليله

--------------------------------------------

(1) بعض العلماء حكى الإجماع على أنه لا ينجس بتغيره بمجاورة ميتةٍ … ، ولا شك أن الأولى التنزه عنه - إن أمكن -.

(2) الصواب في هذه المسائل كلها: أنه لا يكره؛ لأن الكراهة حكمٌ شرعي يفتقر إلى دليلٍ.

(3) [قولٌ آخر]، - وهو اختيار شيخ الإسلام، وجماعةٍ من أهل العلم -: أنه لا ينجس إلا بالتغير مطلقًا؛ سواءٌ بلغ القلتين أم لم يبلغ، لكن ما دون القلتين يجب على الإنسان أن يتحرز إذا وقعت فيه النجاسة، لأن ما دونهما يتغير، وهذا هو الصحيح للأثر والنظر.

(4) ليس على سبيل التحريم؛ بل على سبيل الأولوية وكراهة التنزيه … ، فالصواب: أن الرجل لو تطهر بما خلت به المرأة؛ فإن طهارته صحيحةٌ ويرتفع حدثه، وهذا اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

(5) التعليل لكون هذا طاهرًا غير مطهرٍ: أنه ليس بماءٍ مطلقٍ، وإنما يقال: (ماء كذا) فيضاف؛ كما يقال: (ماء وردٍ).

ولكن يقال: هذا لا يكفي في نقله من الطهورية إلى الطهارة إلا إذا انتقل اسمه انتقالًا كاملًا؛ فيقال - مثلًا -: (هذا مرقٌ) و (هذه قهوةٌ)؛ فحينئذٍ لا يسمى ماءً، وإنما يسمى شرابًا؛ يضاف إلى ما تغير به.
মৃতদেহের পার্শ্ববর্তী হওয়ার কারণে (১), অথবা রোদে গরম হওয়ার কারণে, অথবা পবিত্র কোনো বস্তুর কারণে পরিবর্তিত হলে: তা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) নয়।

আর যদি তা মুস্তাহাব পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহৃত হয়; যেমন ওযু নবায়ন করা, জুমার গোসল এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা: তবে তা মাকরূহ (২)।

আর পানি যদি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়—যা অনেক পানি হিসেবে গণ্য এবং যা প্রায় পাঁচশ ইরাকি রতল—অতঃপর তাতে মানুষের প্রস্রাব বা তরল বিষ্ঠা ছাড়া অন্য কোনো অপবিত্রতা মিশে যায় কিন্তু পানির গুণাগুণ পরিবর্তন না করে, অথবা তাতে প্রস্রাব বা বিষ্ঠা মিশে যায় কিন্তু তা অপসারণ করা কষ্টসাধ্য হয়—যেমন মক্কার রাস্তার পানির আধারসমূহ—তবে তা পবিত্রকারী পানি হিসেবে গণ্য হবে (৩)।

আর এমন অল্প পবিত্রকারী পানি দ্বারা কোনো পুরুষের অপবিত্রতা দূর হবে না, যা কোনো নারী নির্জনে তার পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য ব্যবহার করেছে (৪)।

আর যদি রান্নার মাধ্যমে অথবা তাতে কিছু পড়ে যাওয়ার কারণে তার রং, স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যায় (৫), অথবা অল্প পানির মাধ্যমে যদি অপবিত্রতা দূর করা হয়—

--------------------------------------------

(১) কোনো কোনো আলেম ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, মৃতদেহের পার্শ্ববর্তী হওয়ার কারণে পানির পরিবর্তন ঘটলে তা অপবিত্র হয় না... আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সম্ভব হলে তা থেকে বেঁচে থাকাই উত্তম।

(২) এই সকল মাসআলার ক্ষেত্রে সঠিক মত হলো: এটি মাকরূহ নয়; কারণ মাকরূহ হওয়া একটি শরয়ি বিধান যার জন্য দলিলের প্রয়োজন।

(৩) [অন্য একটি মত],—যা শায়খুল ইসলাম এবং একদল আলেম পছন্দ করেছেন—হলো: পানি কোনোভাবেই অপবিত্র হবে না যতক্ষণ না তার গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়; চাই তা দুই কুল্লা হোক বা না হোক। তবে দুই কুল্লার কম পানিতে অপবিত্রতা পড়লে মানুষের সতর্ক থাকা ওয়াজিব, কারণ দুই কুল্লার কম পানি দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে যায়। আর দলিল ও যুক্তির বিচারে এটিই সঠিক মত।

(৪) এটি হারামের পর্যায়ে নয়; বরং উত্তম বর্জন করা এবং মাকরূহে তানজিহি হিসেবে গণ্য... সুতরাং সঠিক মত হলো: যদি কোনো পুরুষ এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে যা নারী নির্জনে ব্যবহার করেছে, তবে তার পবিত্রতা অর্জন সঠিক হবে এবং তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে। এটিই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ.-এর পছন্দের মত।

(৫) এটি পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়—এই যুক্তির কারণ হলো: এটি সাধারণ পানি নয়, বরং একে অমুক পানি হিসেবে সম্বোধন ও সম্বন্ধ করা হয়; যেমন বলা হয়: (গোলাপ জল)। কিন্তু বলা হয়ে থাকে যে, কোনো পানি পবিত্রকারী স্তর থেকে কেবল পবিত্র হওয়ার স্তরে নেমে আসার জন্য এটি যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ না তার নাম পুরোপুরিভাবে বদলে যায়। যেমন বলা হয়—উদাহরণস্বরূপ—: (এটি ঝোল) এবং (এটি কফি); তখন একে আর পানি বলা হয় না, বরং পানীয় বলা হয়; যা যে জিনিসের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে তার দিকে সম্বন্ধ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৯)
حدثٌ (1)، أو غمس فيه يد قائمٍ من نوم ليلٍ ناقضٍ لوضوءٍ (2)، أو كان آخر غسلةٍ زالت بها النجاسة: فطاهرٌ.

والنجس: ما تغير بنجاسةٍ، أو لاقاها وهو يسيرٌ (3)، أو انفصل عن محل نجاسةٍ قبل زوالها.

فإن أضيف إلى الماء النجس: طهورٌ كثيرٌ - غير ترابٍ ونحوه -، أو زال تغير النجس الكثير بنفسه، أو نزح منه فبقي بعده كثيرٌ غير متغيرٍ: طهر (4).

وإن شك في نجاسة ماءٍ أو غيره أو طهارته: بنى على اليقين.

وإن اشتبه طهورٌ بنجسٍ: حرم استعمالهما ولم يتحر (5).

ولا يشترط للتيمم إراقتهما ولا خلطهما (6).

--------------------------------------------

(1) الصواب: أن ما رفع بقليله حدثٌ: طهورٌ؛ لأن الأصل بقاء الطهورية، ولا يمكن العدول عن هذا الأصل إلا بدليلٍ شرعي يكون وجيهًا.

(2) هذا القول ضعيفٌ أثرًا ونظرًا … ، والصواب: أنه طهورٌ.

(3) أي: لاقى النجاسة وهو دون القلتين … ، والصحيح: أن هذا ليس من قسم النجس إلا أن يتغير.

(4) الصحيح: أنه إذا زال تغير الماء النجس بأي طريقٍ كان فإنه يكون طهورًا … وأي فرقٍ بين أن يكون كثيرًا أو يسيرًا فالعلة واحدةٌ، متى زالت النجاسة فإنه يكون طهورًا.

(5) قال الشافعي رحمه الله: يتحرى، وهو الصواب.

(6) إذا أمكن تطهير أحدهما بالآخر وجب التطهير، ولا يحتاج إلى التيمم.
অপবিত্রতা দূর করা হয়েছে (১), অথবা যাতে রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত এমন ব্যক্তির হাত ডুবানো হয়েছে যার ঘুম ওযু ভঙ্গকারী ছিল (২), অথবা যা নাপাকি দূরকারী সর্বশেষ ধৌত পানি: তা পবিত্র।

আর অপবিত্র হলো: যা অপবিত্রতার কারণে পরিবর্তিত হয়েছে, অথবা অল্প পানি থাকা অবস্থায় অপবিত্রতার সাথে মিশেছে (৩), অথবা অপবিত্রতা দূর হওয়ার আগে নাপাকির স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

যদি অপবিত্র পানির সাথে অধিক পরিমাণ পবিত্র ও পবিত্রতা দানকারী পানি যোগ করা হয় - মাটি বা অনুরূপ কিছু নয় -, অথবা অধিক পরিমাণ অপবিত্র পানির পরিবর্তনটি নিজে থেকেই দূর হয়ে যায়, অথবা তা থেকে কিছু পানি তুলে ফেলার পর অবশিষ্ট অধিক পানি পরিবর্তিত না থাকে: তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে (৪)।

আর যদি পানি বা অন্য কিছুর অপবিত্রতা বা পবিত্রতা সম্পর্কে সন্দেহ হয়: তবে নিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করবে।

যদি পবিত্র ও পবিত্রতা দানকারী পানির সাথে অপবিত্র পানি মিশে অস্পষ্ট হয়ে যায়: তবে উভয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং সে অনুসন্ধান করবে না (৫)।

তায়াম্মুম করার জন্য সেগুলো ঢেলে ফেলা বা মিশ্রিত করে ফেলা শর্ত নয় (৬)।

--------------------------------------------

(১) সঠিক মত হলো: অল্প পানি দ্বারা যা দিয়ে অপবিত্রতা দূর করা হয়েছে তা পবিত্র ও পবিত্রতা দানকারী; কারণ মূল হলো পবিত্রতা অবশিষ্ট থাকা, আর কোনো গ্রহণযোগ্য শারঈ দলিল ছাড়া এই মূলনীতি থেকে সরে আসা সম্ভব নয়।

(২) এই বক্তব্যটি বর্ণনা এবং যুক্তি উভয় দিক থেকেই দুর্বল... , আর সঠিক হলো: তা পবিত্র ও পবিত্রতা দানকারী।

(৩) অর্থাৎ: দুই কুল্লা-র কম পানি হওয়া অবস্থায় নাপাকির সংস্পর্শে আসা... , আর সঠিক হলো: এটি অপবিত্রের অন্তর্ভুক্ত হবে না যতক্ষণ না তা পরিবর্তিত হয়।

(৪) সঠিক হলো: যখনই অপবিত্র পানির পরিবর্তন যে কোনো উপায়েই দূর হবে, তখনই তা পবিত্র ও পবিত্রতা দানকারী হয়ে যাবে... আর পানি অধিক বা অল্প হওয়ার মধ্যে পার্থক্যের কী আছে যখন কারণটি একই, যখনই অপবিত্রতা দূর হবে তখনই তা পবিত্র ও পবিত্রতা দানকারী হবে।

(৫) ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: সে অনুসন্ধান করবে, আর এটিই সঠিক।

(৬) যদি একটির মাধ্যমে অপরটিকে পবিত্র করা সম্ভব হয় তবে পবিত্র করা আবশ্যক, এবং তায়াম্মুমের প্রয়োজন হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১০)
وإن اشتبه بطاهرٍ: توضأ منهما وضوءًا واحدًا - من هذا غرفةً ومن هذا غرفةً - وصلى صلاةً واحدةً (1).

وإن اشتبهت ثيابٌ طاهرةٌ بنجسةٍ أو بمحرمةٍ: صلى في كل ثوبٍ صلاةً بعدد النجس أو المحرم وزاد صلاةً (2).

--------------------------------------------

(1) هذه المسألة لا ترد على ما صححناه؛ لعدم وجود الطاهر غير المطهر - على القول الصحيح -.

(2) الصحيح: أنه يتحرى، وإذا غلب على ظنه طهارة أحد الثياب صلى فيه، والله لا يكلف نفسًا إلا وسعها، ولم يوجب الله على الإنسان أن يصلي الصلاة مرتين.

و [كذلك في الثياب المحرمة]؛ فيتحرى ويصلي بما يغلب على ظنه أنه الثوب المباح.

ولو فرضنا أنه لم يمكنه التحري لعدم وجود القرينة؛ فإنه يصلي فيما شاء؛ لأنه في هذه الحال مضطر إلى الصلاة في الثوب المحرم، ولا إعادة عليه.
আর যদি (পবিত্র পানি) পবিত্র (কিন্তু অপবিত্রকারী নয় এমন) পানির সাথে মিশে যায়: তবে উভয়টি থেকে একবার অজু করবে—এ থেকে এক আঁজলা এবং ওটি থেকে এক আঁজলা নিয়ে—এবং একবারই সালাত আদায় করবে (১)।

আর যদি পবিত্র পোশাক নাপাক বা হারাম পোশাকের সাথে মিশে যায়: তবে সে নাপাক বা হারাম পোশাকের সংখ্যার সমান সংখ্যক সালাত আদায় করবে এবং অতিরিক্ত একটি সালাত বৃদ্ধি করবে (২)।

--------------------------------------------

(১) এই মাসআলাটি আমরা যা বিশুদ্ধ বলেছি তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ বিশুদ্ধ মতানুসারে—পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়—এমন কোনো পানির অস্তিত্ব নেই।

(২) বিশুদ্ধ মত হলো: সে অনুসন্ধান (তাহারি) করবে, আর যখন কোনো একটি পোশাকের পবিত্রতার ব্যাপারে তার প্রবল ধারণা হবে, তখন সেটিতেই সালাত আদায় করবে। আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না, আর আল্লাহ মানুষের ওপর একই সালাত দুবার আদায় করা আবশ্যক করেননি।

এবং [হারাম পোশাকের ক্ষেত্রেও অনুরূপ]; তাই সে অনুসন্ধান করবে এবং সালাত আদায় করবে এমন পোশাকে যা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে তার প্রবল ধারণা জন্মে।

আর যদি আমরা ধরে নিই যে, কোনো আলামত না থাকার কারণে তার পক্ষে অনুসন্ধান করা সম্ভব নয়; তবে সে যে কোনোটিতে ইচ্ছা সালাত আদায় করবে; কেননা সে এই অবস্থায় হারাম পোশাকে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে নিরুপায়, আর তার ওপর সালাত পুনরায় আদায়ের কোনো আবশ্যকতা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌باب الآنية

كل إناءٍ طاهرٍ (1) - ولو ثمينًا -: يباح اتخاذه واستعماله إلا آنية ذهبٍ وفضةٍ ومضببًا بهما؛ فإنه يحرم اتخاذها واستعمالها - ولو على أنثى - (2).

وتصح الطهارة منها إلا ضبةً يسيرةً من فضةٍ لحاجةٍ، وتكره مباشرتها لغير حاجةٍ (3).

وتباح آنية الكفار - ولو لم تحل ذبائحهم -، وثيابهم إن جهل حالها.

ولا يطهر جلد ميتةٍ بدباغٍ (4)، ويباح استعماله بعد الدبغ في يابسٍ من حيوانٍ طاهرٍ في الحياة (5).

--------------------------------------------

(1) هذا احترازٌ من النجس … ، وفيما قال المؤلف نظرٌ؛ لأن النجس يباح استعماله إذا كان على وجهٍ لا يتعدى.

(2) الصحيح: أن الاتخاذ والاستعمال في غير الأكل والشرب ليس بحرامٍ.

(3) الصواب: أنه ليس بمكروهٍ، وله مباشرتها.

(4) قالوا: لأن الميتة نجسة العين، ونجس العين لا يمكن أن يطهر … وهذا القياس واضحٌ جدا، إلا أنه في مقابلة النص - وهو حديث ميمونة - فهذا صريحٌ في أنه يطهر بالدبغ.

(5) أفادنا المؤلف أن استعماله قبل الدبغ لا يجوز في يابسٍ ولا غيره؛ لأنه نجسٌ، وظاهر كلامه أن الاستعمال لا يجوز ولو بعد أن نشف الجلد وصار يابسًا، وهذا فيه نظرٌ.

وإذا قلنا بالقول الراجح - وهو طهارته بالدباغ -؛ فإنه يباح استعماله في الرطب واليابس.
পাত্র অধ্যায়

প্রতিটি পবিত্র পাত্র (১) - এমনকি তা মূল্যবান হলেও - তা সংগ্রহ করা এবং ব্যবহার করা বৈধ, তবে সোনা ও রুপার পাত্র এবং এই দুই ধাতুর তালিযুক্ত পাত্র ব্যতীত; কারণ এগুলো সংগ্রহ করা এবং ব্যবহার করা হারাম - এমনকি নারীদের জন্যও - (২)।

সেগুলো থেকে পবিত্রতা অর্জন (অজু-গোসল) শুদ্ধ হবে, তবে প্রয়োজনে সামান্য রুপার তালি লাগানো থাকলে তা ব্যবহার করা যাবে, আর প্রয়োজন ছাড়া সরাসরি তালিযুক্ত স্থান স্পর্শ করা মাকরুহ (৩)।

অমুসলিমদের পাত্র ব্যবহার করা বৈধ - এমনকি যদি তাদের জবাইকৃত পশু হালাল নাও হয় - এবং তাদের পোশাকও বৈধ যদি সেগুলোর অবস্থা (অপবিত্রতা সম্পর্কে) অজানা থাকে।

মৃত পশুর চামড়া চামড়া পাকা করার (দাবাগাত) মাধ্যমে পবিত্র হয় না (৪), তবে জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল এমন প্রাণীর চামড়া পাকা করার পর শুকনো বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা বৈধ (৫)।

--------------------------------------------

(১) এটি নাপাক বস্তু থেকে সতর্কতাস্বরূপ ..., তবে লেখকের বক্তব্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ নাপাক বস্তু ব্যবহার করা বৈধ যদি তা এমনভাবে হয় যাতে নাপাক ছড়িয়ে না পড়ে।

(২) সঠিক মত হলো: পানাহার ব্যতীত অন্য প্রয়োজনে সংগ্রহ করা এবং ব্যবহার করা হারাম নয়।

(৩) সঠিক কথা হলো: এটি মাকরুহ নয় এবং তা সরাসরি স্পর্শ করার অবকাশ রয়েছে।

(৪) তাঁরা বলেছেন: কারণ মৃত পশু সত্তাগতভাবে অপবিত্র (নাজিসুল আইন), আর যা সত্তাগতভাবে অপবিত্র তা পবিত্র হওয়া সম্ভব নয় ... এই কিয়াস বা অনুমানটি অত্যন্ত স্পষ্ট, তবে এটি সরাসরি দলিলের বিপরীত - আর তা হলো মায়মুনা (রা.)-এর হাদিস - যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে চামড়া পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হয়।

(৫) লেখক আমাদের বুঝিয়েছেন যে, পাকা করার আগে শুকনো বা অন্য কোনো কিছুতে এর ব্যবহার জায়েজ নেই; কারণ তা অপবিত্র। তাঁর কথার বাহ্যিক অর্থ হলো, চামড়াটি শুকিয়ে যাওয়ার পরও এর ব্যবহার জায়েজ নয়, তবে এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।

আর আমরা যদি অধিকতর গ্রহণযোগ্য মতটি গ্রহণ করি - যা হলো পাকা করার মাধ্যমে চামড়া পবিত্র হওয়া - তবে আর্দ্র এবং শুষ্ক উভয় ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বৈধ হবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১২)
ولبنها، وكل أجزائها نجسةٌ غير شعرٍ - ونحوه -.

وما أبين من حي فهو كميتته.
এবং তার দুধ এবং তার সমস্ত দেহাংশ অপবিত্র, চুল এবং এ জাতীয় বস্তু ব্যতীত।

আর জীবন্ত প্রাণী হতে যা বিচ্ছিন্ন করা হয়, তা তার মৃতদেহের ন্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌باب الاستنجاء

يستحب:

عند دخول الخلاء: قول: (بسم الله، أعوذ بالله من الخبث والخبائث).

وعند الخروج منه: (غفرانك، الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني) (1).

وتقديم رجله اليسرى دخولًا، واليمنى خروجًا - عكس مسجدٍ ونعلٍ -.

واعتماده على رجله اليسرى (2).

وبعده في فضاءٍ.

واستتاره.

وارتياده لبوله مكانًا رخوًا.

ومسحه بيده اليسرى إذا فرغ من بوله - من أصل ذكره إلى رأسه ثلاثًا - (3).

--------------------------------------------

(1) الحديث الوارد في هذا فيه ضعفٌ.

[أما (غفرانك)]؛ فللحديث الصحيح عن عائشة رضي الله عنها، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا خرج من الغائط قال: (غفرانك).

(2) [الحديث الوارد في هذا] ضعيفٌ.

(3) هذا قولٌ ضعيفٌ جدا؛ لأنه لم يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولضرره بمجاري البول، فربما تتمزق بهذا المسح.
ইস্তিঞ্জা (শৌচকার্য) পরিচ্ছেদ

মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় হলো:

শৌচাগারে প্রবেশের সময় বলা: (আল্লাহর নামে, আমি অপবিত্র নর ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি)।

এবং তা থেকে বের হওয়ার সময় বলা: (হে আল্লাহ, আমি আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার কষ্ট দূর করেছেন এবং আমাকে আরোগ্য দান করেছেন) (১)।

প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া এবং বের হওয়ার সময় ডান পা—যা মসজিদ এবং জুতা পরিধানের বিপরীত নিয়ম।

এবং (বসার সময়) বাম পায়ের ওপর ভর দেওয়া (২)।

উন্মুক্ত স্থানে লোকচক্ষুর অন্তরালে দূরে যাওয়া।

নিজেকে আড়ালে রাখা।

প্রস্রাবের জন্য নরম স্থান নির্বাচন করা (যাতে ছিটে না আসে)।

প্রস্রাব শেষ করার পর বাম হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গের গোড়া থেকে অগ্রভাগ পর্যন্ত তিনবার মুছে নেওয়া (৩)।

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসটি দুর্বল।

[তবে 'গুফরানাকা' শব্দটির কথা বললে]; এটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন তখন বলতেন: (গুফরানাকা - আমি আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।

(২) [এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসটি] দুর্বল।

(৩) এটি অত্যন্ত দুর্বল একটি মত; কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহভাবে প্রমাণিত নয় এবং এটি মূত্রনালীর জন্য ক্ষতিকর, কারণ এই মোছার ফলে তা ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১৪)
ونتره ثلاثًا (1).

وتحوله من موضعه ليستنجي في غيره - إن خاف تلوثًا -.

ويكره:

دخوله بشيءٍ فيه ذكر الله - تعالى - إلا لحاجةٍ (2).

ورفع ثوبه قبل دنوه من الأرض (3).

وكلامه فيه (4).

--------------------------------------------

(1) [الحديث الوارد في النتر] ضعيفٌ لا يعتمد عليه … ، والنتر من باب التنطع المنهي عنه.

(2) [الحديث الوارد في هذا] معلولٌ وفيه مقالٌ كثيرٌ، ومن صحح الحديث أو حسنه قال بالكراهة، ومن قال: إنه لا يصح؛ قال بعدم الكراهة، لكن الأفضل أن لا يدخل.

وفرقٌ بين قولنا: (الأفضل)، والقول: (إنه مكروهٌ)؛ لأنه لا يلزم من ترك الأفضل الوقوع في المكروه.

(3) هذا له حالان:

الأولى: أن يكون حوله من ينظره، فرفع ثوبه هنا قبل دنوه من الأرض محرمٌ؛ لأنه كشفٌ للعورة …

الثانية: كشفه وهو خالٍ ليس عنده أحدٌ، فهل يكره أم لا؟ هذا ينبني على جواز كشف العورة والإنسان خالٍ.

(4) أما إذا كان قاضيا الحاجة اثنين؛ ينظر أحدهما إلى عورة الآخر ويتحدثان فهو حرامٌ بلا شك.
এবং তিনি তিনবার (লিঙ্গ) ঝাড়বেন (১)।

এবং অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ইস্তিনজা করার জন্য নিজ স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যাবেন।

আর মাকরূহ হলো:

প্রয়োজন ব্যতীত এমন কিছু সাথে নিয়ে প্রবেশ করা যাতে মহান আল্লাহর যিকর রয়েছে (২)।

মাটির কাছাকাছি হওয়ার পূর্বেই কাপড় উঠানো (৩)।

এবং সেখানে কথা বলা (৪)।

--------------------------------------------

(১) [ঝাড়ার বিষয়ে বর্ণিত হাদিসটি] দুর্বল, এর ওপর নির্ভর করা যাবে না ..., আর (লিঙ্গ) ঝাড়া হলো ধর্মীয় বিষয়ে অতিরঞ্জনের অন্তর্ভুক্ত, যা নিষিদ্ধ।

(২) [এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসটি] ত্রুটিযুক্ত এবং এটি নিয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে। যারা হাদিসটিকে সহীহ বা হাসান বলেছেন, তারা একে মাকরূহ বলেছেন। আর যারা বলেছেন এটি সহীহ নয়, তারা মাকরূহ না হওয়ার কথা বলেছেন; তবে উত্তম হলো তা নিয়ে প্রবেশ না করা।

আর আমাদের "উত্তম" বলা এবং "মাকরূহ" বলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কারণ উত্তম বর্জন করলেই মাকরূহে লিপ্ত হওয়া আবশ্যক হয় না।

(৩) এর দুটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথমত: যদি তার আশেপাশে এমন কেউ থাকে যে তাকে দেখছে, তবে মাটির কাছাকাছি হওয়ার আগে কাপড় উঠানো হারাম; কারণ এটি সতর উন্মোচন করা ...

দ্বিতীয়ত: নির্জনে একাকী থাকা অবস্থায় কাপড় খোলা; এটি মাকরূহ কি না? এটি নির্জনে মানুষের সতর খোলার বৈধতার বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

(৪) তবে যদি প্রয়োজন পূরণকারী (পেশাব-পায়খানা রত) দুইজন হয় এবং তারা একে অপরের সতরের দিকে তাকায় ও কথা বলে, তবে তা নিঃসন্দেহে হারাম।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১৫)
وبوله في شق - ونحوه - (1).

ومس فرجه بيمينه (2).

واستنجاؤه واستجماره بها (3).

واستقبال النيرين (4).

ويحرم:

استقبال القبلة واستدبارها في غير بنيانٍ (5).

ولبثه فوق حاجته (6).

--------------------------------------------

(1) الكراهة تزول بالحاجة؛ كأن لم يجد إلا هذا المكان المتشقق.

(2) الجزم بالكراهة إنما هو في حال البول - للحديث الوارد -، وفي غير حال البول محل احتمالٍ، فإذا لم يكن هناك داعٍ ففي اليد اليسرى غنيةٌ عن اليد اليمنى.

(3) أما إذا احتاج إلى الاستنجاء أو الاستجمار بيمينه - كما لو كانت اليسرى مشلولةً - فإن الكراهة تزول، وكذا إن احتاج إلى الاستجمار باليمين - مثل أن لا يجد إلا حجرًا صغيرًا -.

(4) الصحيح: عدم الكراهة؛ لعدم الدليل الصحيح؛ بل ولثبوت الدليل الدال على الجواز.

(5) الراجح: أنه يجوز في البنيان استدبار القبلة دون استقبالها؛ لأن النهي عن الاستقبال محفوظٌ ليس فيه تفصيلٌ ولا تخصيصٌ، والنهي عن الاستدبار خصص بما إذا كان في البنيان؛ لفعل النبي صلى الله عليه وسلم.

(6) تحريم اللبث مبني على التعليل، ولا دليل فيه عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولهذا قال أحمد في روايةٍ عنه: (إنه يكره، ولا يحرم).
এবং ফাটল বা অনুরূপ স্থানে প্রস্রাব করা (১)।

এবং ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা (২)।

এবং তা (ডান হাত) দিয়ে ইস্তিঞ্জা ও পাথর ব্যবহার করে শৌচকার্য করা (৩)।

এবং চন্দ্র-সূর্যের দিকে মুখ করা (৪)।

এবং হারাম:

দালানকোঠা বা ঘেরাটোপ ছাড়া কিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ দিয়ে বসা (৫)।

এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় সেখানে অবস্থান করা (৬)।

--------------------------------------------

(১) প্রয়োজন দেখা দিলে মাকরূহ বা অপছন্দনীয় হওয়ার বিধানটি দূর হয়ে যায়; যেমন সেই ফাটল বিশিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য কোনো জায়গা না পাওয়া।

(২) মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত অভিমত কেবল প্রস্রাব করার সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট—বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে—আর প্রস্রাব ছাড়া অন্য সময়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্ভাবনার স্তরে। সুতরাং যখন কোনো আবশ্যকতা নেই, তখন ডান হাতের পরিবর্তে বাম হাতই যথেষ্ট।

(৩) তবে যদি ডান হাত দিয়ে ইস্তিঞ্জা বা পাথর ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে—যেমন বাম হাত অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া—তবে মাকরূহ হওয়ার বিধানটি দূর হয়ে যায়। তদ্রূপ ডান হাতে পাথর ব্যবহারের প্রয়োজন হলে—যেমন ছোট পাথর ছাড়া অন্য কিছু না পাওয়া গেলে।

(৪) সঠিক মত হলো: এটি মাকরূহ নয়; কারণ কোনো সহিহ দলিল নেই, বরং এর বৈধতার স্বপক্ষে দলিল সাব্যস্ত রয়েছে।

(৫) অগ্রগণ্য মত হলো: দালানকোঠার ভেতরে কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে বসা জায়েজ হলেও কিবলার দিকে মুখ করে বসা জায়েজ নয়; কারণ কিবলার দিকে মুখ করার নিষেধাজ্ঞাটি সংরক্ষিত এবং এতে কোনো বিস্তারিত বিবরণ বা বিশেষ ছাড় নেই। আর পিঠ দিয়ে বসার নিষেধাজ্ঞাটি দালানকোঠার ভেতরে হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত হয়েছে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলের কারণে।

(৬) অবস্থান করা হারাম হওয়ার বিষয়টি যৌক্তিক ব্যাখ্যার (ইলাল) ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো দলিল নেই। এজন্যই ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে: (এটি মাকরূহ, হারাম নয়)।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১৬)
وبوله في طريقٍ، وظل نافعٍ، وتحت شجرةٍ عليها ثمرةٌ (1).

ويستجمر، ثم يستنجي بالماء.

ويجزئه الاستجمار (2) إن لم يعد الخارج موضع العادة (3).

ويشترط للاستجمار بأحجارٍ - ونحوها -: أن يكون طاهرًا، منقيًا، غير عظمٍ وروثٍ، وطعامٍ، ومحترمٍ، ومتصلٍ بحيوانٍ.

ويشترط ثلاث مسحاتٍ منقيةٍ فأكثر - ولو بحجرٍ ذي شعبٍ -.

ويسن قطعه على وترٍ (4).

ويجب الاستنجاء لكل خارجٍ إلا الريح (5).

--------------------------------------------

(1) أطلق المؤلف رحمه الله الثمرة، ولكن يجب أن تقيد، فيقال: ثمرةٌ مقصودةٌ، أو ثمرةٌ محترمةٌ.

(2) هذا هو الأفضل، وليس على سبيل الوجوب، ولهذا قال: (ويجزئه الاستجمار).

(3) ليس هناك دليلٌ على هذا الشرط؛ بل تعليلٌ، وهو أن الاقتصار على الأحجار - ونحوها - في إزالة البول أو الغائط خرج عن نظائره؛ فيجب أن يقتصر فيه على ما جرت العادة به، فما زاد عن العادة فالأصل أن يزال بالماء.

(4) الدليل: ما ثبت في «الصحيحين» أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من استجمر فليوتر» … ، فإن أريد بالإيتار: الثلاث؛ فالأمر للوجوب … وإن أريد ما زاد على الثلاث فالأمر للاستحباب؛ بدليل قوله صلى الله عليه وسلم: «من استجمر فليوتر، من فعل فقد أحسن، ومن لا فلا حرج»؛ فبين النبي صلى الله عليه وسلم أن هذا على سبيل الاستحباب.

(5) يستثنى من ذلك - أيضًا - المني، وهو خارجٌ من السبيل، فهو داخلٌ في عموم قوله: (لكل خارجٍ)، لكنه طاهرٌ، والطاهر لا يجب الاستنجاء له.

ويستثنى - أيضًا - غير الملوث ليبوسته، فإذا خرج شيءٌ لا يلوث - ليبوسته - فلا يستنجى له؛ لأن المقصود من الاستنجاء الطهارة، وهنا لا حاجة إلى ذلك.
এবং রাস্তায়, উপকারী ছায়ায় এবং ফলযুক্ত গাছের নিচে প্রস্রাব করা (নিষিদ্ধ) (১)।

এবং সে ইস্তিজমার (পাথর বা সমজাতীয় বস্তু দিয়ে পবিত্রতা অর্জন) করবে, অতঃপর পানি দিয়ে ইস্তিনজা করবে।

এবং তার জন্য ইস্তিজমারই যথেষ্ট হবে (২) যদি নির্গত বস্তু স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম না করে (৩)।

পাথর—এবং এই জাতীয় বস্তু—দ্বারা ইস্তিজমার করার জন্য শর্ত হলো: তা পবিত্র হওয়া, পরিষ্কারকারী হওয়া, হাড় ও গোবর না হওয়া, খাদ্যদ্রব্য না হওয়া, সম্মানীয় বস্তু না হওয়া এবং কোনো প্রাণীর সাথে সংযুক্ত না হওয়া।

এবং তিনটি পরিষ্কারকারী মোছ প্রদান করা শর্ত বা তার অধিক—যদিও তা তিন কোণা বিশিষ্ট একটি পাথর দ্বারা হয়।

এবং বিজোড় সংখ্যায় তা শেষ করা সুন্নাত (৪)।

এবং প্রতিটি নির্গত বস্তুর জন্য ইস্তিনজা করা ওয়াজিব, বায়ু ব্যতীত (৫)।

--------------------------------------------

(১) লেখক (রহিমাহুল্লাহ) ফল শব্দটিকে সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন, তবে একে শর্তযুক্ত করা আবশ্যক। সুতরাং বলা হবে: উদ্দেশ্যমূলক ফল বা সম্মানীয় ফল।

(২) এটিই উত্তম, এবং এটি ওয়াজিব হিসেবে নয়, এজন্যই তিনি বলেছেন: (এবং তার জন্য ইস্তিজমার যথেষ্ট হবে)।

(৩) এই শর্তের কোনো দলিল নেই; বরং এটি একটি যৌক্তিক কারণ দর্শানো, আর তা হলো প্রস্রাব বা পায়খানা দূর করার ক্ষেত্রে কেবল পাথর বা এই জাতীয় বস্তুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এর সদৃশ বিষয়গুলো থেকে ব্যতিক্রম; তাই এটি সেই জায়গাতেই সীমাবদ্ধ রাখা ওয়াজিব যা সাধারণত অপবিত্র হয়। সুতরাং যা সাধারণ সীমার বাইরে চলে যাবে, মূল বিধান হলো তা পানি দিয়ে দূর করা।

(৪) দলিল: 'সহীহাইন'-এ যা সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইস্তিজমার করবে সে যেন বিজোড় সংখ্যা অবলম্বন করে"...। যদি বিজোড় দ্বারা তিন উদ্দেশ্য হয়, তবে নির্দেশটি ওয়াজিব হওয়ার জন্য... আর যদি তিনের অতিরিক্ত উদ্দেশ্য হয়, তবে নির্দেশটি মুস্তাহাব হওয়ার জন্য; যার দলিল হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "যে ইস্তিজমার করবে সে যেন বিজোড় করে, যে তা করবে সে উত্তম কাজ করবে, আর যে করবে না তার কোনো অসুবিধা নেই"; সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এটি মুস্তাহাব হিসেবে।

(৫) এ থেকে বীর্যকেও ব্যতিক্রম করা হবে, যা রাস্তা দিয়ে নির্গত হয়। ফলে তা তাঁর সাধারণ উক্তি "প্রতিটি নির্গত বস্তুর জন্য" এর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এটি পবিত্র, আর পবিত্র বস্তুর জন্য ইস্তিনজা করা ওয়াজিব নয়।

শুষ্ক হওয়ার কারণে যা অপবিত্র করে না তাও এর ব্যতিক্রম হবে। সুতরাং যদি শুষ্ক হওয়ার কারণে এমন কিছু নির্গত হয় যা শরীরকে মাখিয়ে দেয় না, তবে তার জন্য ইস্তিনজা করা হবে না; কারণ ইস্তিনজার উদ্দেশ্য হলো পবিত্রতা অর্জন করা, আর এখানে তার কোনো প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا يصح قبله وضوءٌ ولا تيممٌ (1).

--------------------------------------------

(1) إذا كان الإنسان في حالة السعة فإننا نأمره أولًا بالاستنجاء ثم بالوضوء - وذلك لفعل النبي صلى الله عليه وسلم، وأما إذا نسي أو كان جاهلًا فإنه لا يجسر الإنسان على إبطال صلاته، أو أمره بإعادة الوضوء والصلاة.
এবং এর আগে ওযু ও তায়াম্মুম সহীহ হবে না (১)।

--------------------------------------------

(১) যদি মানুষের পর্যাপ্ত সময় বা সুযোগ থাকে, তবে আমরা তাকে প্রথমে ইস্তিনজা করার এবং তারপরে ওযু করার নির্দেশ প্রদান করি - আর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলের কারণে। কিন্তু যদি সে ভুলে যায় অথবা অজ্ঞ থাকে, তবে কোনো ব্যক্তির পক্ষে তার সালাত বাতিল বলে গণ্য করা বা তাকে ওযু ও সালাত পুনরায় করার নির্দেশ দেওয়ার দুঃসাহস দেখানো উচিত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌باب السواك وسنن الوضوء

التسوك بعودٍ لينٍ منقٍ غير مضر لا يتفتت، لا بأصبعٍ أو خرقةٍ (1): مسنونٌ كل وقتٍ لغير صائمٍ بعد الزوال (2).

متأكدٌ عند صلاةٍ، وانتباهٍ، وتغير فمٍ.

ويستاك عرضًا (3)، مبتدئًا بجانب فمه الأيمن، ويدهن غبا، ويكتحل وترًا (4).

--------------------------------------------

(1) قال بعض العلماء - ومنهم الموفق صاحب «المقنع» وابن أخيه شارح «المقنع» -: إنه يحصل من السنية بقدر ما حصل من الإنقاء.

وقد روي عن علي بن أبي طالبٍ رضي الله عنه في صفة الوضوء، أن النبي صلى الله عليه وسلم أدخل بعض أصابعه في فيه.

وهذا يدل على أن التسوك بالأصبع كافٍ، ولكنه ليس كالعود؛ لأن العود أشد إنقاءً، لكن قد لا يكون عند الإنسان في حال الوضوء شيءٌ من العيدان يستاك به، فنقول له: يجزئ بالأصبع.

[أما الخرقة؛ فهي] أبلغ في التنظيف، فمن قال: إن الأصبع تحصل به السنة قال: إن الخرقة من باب أولى.

(2) الراجح: أن السواك سنةٌ حتى للصائم - قبل الزوال وبعده -.

(3) يحتمل أن يقال: يرجع إلى ما تقتضيه الحال، فإذا اقتضت الحال أن يستاك طولًا استاك طولًا، وإذا اقتضت أن يستاك عرضًا استاك عرضًا؛ لعدم ثبوت سنةٍ بينةٍ في ذلك.

(4) أما الاكتحال الذي لتجميل العين فهل هو مشروعٌ للرجل أم للأنثى فقط؟ الظاهر أنه مشروعٌ للأنثى فقط، أما الرجل فليس بحاجةٍ إلى تجميل عينيه.

وقد يقال: إنه مشروعٌ للرجل - أيضًا -؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لما سئل: إن أحدنا يحب أن يكون نعله حسنًا وثوبه حسنًا، فقال: «إن الله جميلٌ يحب الجمال».

وقد يقال: إذا كان في عين الرجل عيبٌ يحتاج إلى الاكتحال فهو مشروعٌ له، وإلا فلا يشرع.
মেসওয়াক এবং ওযুর সুন্নতসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়

নরম, পরিষ্কারক, ক্ষতিকর নয় এবং ভেঙে যায় না এমন কাষ্ঠখণ্ড (ডাল) দিয়ে মেসওয়াক করা—আঙুল বা ন্যাকড়া দিয়ে নয় (১): সর্বদা সুন্নত, তবে রোজা পালনকারীর জন্য দ্বিপ্রহরের পর নয় (২)।

এটি নামাজের সময়, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় এবং মুখের গন্ধ পরিবর্তনের সময় বিশেষভাবে তাকিদপূর্ণ।

মেসওয়াক করতে হয় আড়াআড়িভাবে (৩), মুখের ডান দিক থেকে শুরু করে। আর একদিন পরপর তেল ব্যবহার করবে এবং বেজোড় সংখ্যায় সুরমা লাগাবে (৪)।

--------------------------------------------

(১) কিছু আলেম—যাদের মধ্যে 'আল-মুকনি'র লেখক মুওয়াফ্ফাক এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র 'আল-মুকনি'র ব্যাখ্যাকার রয়েছেন—বলেছেন: পরিষ্কার করার মাধ্যমে যতটুকু পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়, ততটুকু সুন্নতের সওয়াব অর্জিত হবে।

আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে ওযুর বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কিছু আঙুল মুখের ভেতর প্রবেশ করিয়েছিলেন।

এটি প্রমাণ করে যে আঙুল দিয়ে মেসওয়াক করা যথেষ্ট, তবে তা কাষ্ঠখণ্ডের (ডালের) মতো নয়; কারণ ডাল অধিকতর পরিষ্কারক। কিন্তু কখনো ওযুর সময় মানুষের কাছে কোনো ডাল নাও থাকতে পারে মেসওয়াক করার জন্য, তখন আমরা তাকে বলব: আঙুল দিয়েই যথেষ্ট হবে।

[আর ন্যাকড়ার বিষয়টি]; এটি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর। সুতরাং যারা বলেন আঙুল দিয়ে সুন্নত অর্জিত হবে, তারা বলেন ন্যাকড়া দিয়ে তা আরও উত্তমরূপে হবে।

(২) অগ্রগণ্য মত হলো: রোজা পালনকারীর জন্য মেসওয়াক করা সুন্নত—দ্বিপ্রহরের আগে এবং পরে।

(৩) এটি বলা সম্ভব যে: বিষয়টি পরিস্থিতির চাহিদার ওপর নির্ভর করে। যদি পরিস্থিতি দাবি করে যে লম্বালম্বিভাবে মেসওয়াক করা প্রয়োজন, তবে লম্বালম্বিভাবে করবে। আর যদি আড়াআড়িভাবে করার প্রয়োজন হয়, তবে আড়াআড়িভাবে করবে; কারণ এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো সুন্নত প্রমাণিত নেই।

(৪) চোখের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সুরমা লাগানো কি পুরুষের জন্য বিধিবদ্ধ নাকি শুধু নারীর জন্য? স্পষ্টত এটি শুধু নারীর জন্যই বিধিবদ্ধ। আর পুরুষের চোখের সৌন্দর্যের প্রয়োজন নেই।

আবার এটিও বলা যেতে পারে যে: এটি পুরুষের জন্যও বিধিবদ্ধ; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমাদের কেউ পছন্দ করে যে তার জুতো সুন্দর হোক এবং তার পোশাক সুন্দর হোক, তখন তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।"

আবার এটিও বলা যেতে পারে যে: যদি পুরুষের চোখে কোনো ত্রুটি থাকে যার জন্য সুরমা লাগানো প্রয়োজন, তবে তা তার জন্য বিধিবদ্ধ, অন্যথায় বিধিবদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ২০)
وتجب التسمية في الوضوء مع الذكر (1).

ويجب الختان ما لم يخف على نفسه (2).

ويكره القزع (3).

ومن سنن الوضوء: السواك، وغسل الكفين ثلاثًا - ويجب من نوم ليلٍ ناقضٍ لوضوءٍ -، والبداءة بمضمضةٍ ثم استنشاقٍ (4)، والمبالغة فيهما لغير صائمٍ، وتخليل

--------------------------------------------

(1) المذهب أنها واجبةٌ فقط وليست شرطًا، وكأنهم عدلوا عن كونها شرطًا لصحة الوضوء؛ لأن الحديث فيه نظرٌ؛ ولهذا ذهب الموفق رحمه الله إلى أنها ليست واجبةً بل سنةٌ؛ لأن الإمام أحمد رحمه الله قال: (لا يثبت في هذا الباب شيءٌ)، وإذا لم يثبت فيه شيءٌ فلا يكون حجةً.

ولأن كثيرًا من الذين وصفوا وضوء النبي صلى الله عليه وسلم لم يذكروا فيه التسمية، ومثل هذا لو كان من الأمور الواجبة التي لا يصح الوضوء بدونها لذكرت.

(2) أقرب الأقوال: أنه واجبٌ في حق الرجال، سنةٌ في حق النساء.

(3) القزع مكروهٌ … ، إلا إذا كان فيه تشبهٌ بالكفار؛ فهو محرمٌ.

(4) لم يذكر المؤلف الاستنثار؛ لأن الغالب أن الإنسان إذا استنشق الماء أنه يستنثره، وإلا فلا بد من الاستنثار؛ إذ لا تكتمل السنة إلا به.
স্মরণ থাকলে ওযুতে বিসমিল্লাহ বলা ওয়াজিব (১)।

নিজের প্রাণের ভয় না থাকলে খতনা করা ওয়াজিব (২)।

মাথার কিছু অংশ মুণ্ডানো এবং কিছু অংশ রেখে দেওয়া (আল-কাযা) মাকরুহ (৩)।

ওযুর সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: মেসওয়াক করা, উভয় কব্জি তিনবার ধৌত করা—তবে ওযু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগলে তা ধৌত করা ওয়াজিব—এবং কুলি করা ও তারপর নাকে পানি দেওয়ার মাধ্যমে শুরু করা (৪), রোযাদার না হলে এ দুটিতে গুরুত্বের সাথে পানি পৌঁছানো, এবং আঙ্গুল খিলাল করা

--------------------------------------------

(১) মাযহাবের অভিমত হলো এটি কেবল ওয়াজিব, শর্ত নয়। সম্ভবত তারা ওযুর বৈধতার জন্য এটিকে শর্ত গণ্য করা থেকে বিরত হয়েছেন; কারণ এ বিষয়ের হাদীসটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। এই কারণেই আল-মুওয়াফফাক (রহিমাহুল্লাহ) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি ওয়াজিব নয় বরং সুন্নাত; কারণ ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই বিষয়ে কোনো হাদীসই প্রমাণিত নয়।" আর যদি কোনো কিছু প্রমাণিত না হয়, তবে তা দলিল হতে পারে না। তাছাড়া যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওযুর বর্ণনা দিয়েছেন, তাদের অনেকেই বিসমিল্লাহর কথা উল্লেখ করেননি। এটি যদি এমন কোনো ওয়াজিব হতো যার অনুপস্থিতিতে ওযু শুদ্ধ হয় না, তবে অবশ্যই তারা তা বর্ণনা করতেন।

(২) সবচেয়ে নিকটতর মত হলো: এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে ওয়াজিব এবং নারীদের ক্ষেত্রে সুন্নাত।

(৩) মাথার চুল আংশিক মুণ্ডানো মাকরুহ..., তবে এতে যদি কাফেরদের সদৃশ হওয়ার বিষয়টি থাকে, তবে তা হারাম।

(৪) লেখক নাক ঝাড়ার কথা উল্লেখ করেননি; কারণ সাধারণত মানুষ নাকে পানি দিলে তা ঝেড়ে ফেলে। অন্যথায় নাক ঝাড়া অপরিহার্য; কারণ এটি ব্যতীত সুন্নাত পূর্ণ হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ২১)
اللحية الكثيفة والأصابع (1)، والتيامن، وأخذ ماءٍ جديدٍ للأذنين (2)، والغسلة الثانية والثالثة.

--------------------------------------------

(1) أي: من سنن الوضوء: تخليل أصابع اليدين والرجلين، وهو في الرجلين آكد.

(2) الصواب: أنه لا يسن أن يأخذ ماءً جديدًا للأذنين؛ [لأن الحديث الوارد في ذلك] شاذ؛ لأنه مخالفٌ لما رواه مسلمٌ: أن النبي صلى الله عليه وسلم مسح برأسه بماءٍ غير فضل يديه، ولأن جميع من وصف وضوءه صلى الله عليه وسلم لم يذكروا أنه أخذ ماءً جديدًا للأذنين.

وأما التعليل لمشروعية أخذ ماءٍ جديدٍ للأذنين أنهما كعضوٍ مستقل؛ فجوابه: أنهما يمسحان مع الرأس مرةً واحدةً؛ فليسا عضوًا مستقلا.
ঘন দাড়ি এবং আঙ্গুলসমূহ (১), ডান দিক থেকে শুরু করা, কানের জন্য নতুন পানি নেওয়া (২), এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: ওজুর সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো হাত ও পায়ের আঙ্গুলসমূহের খিলাল করা, আর পায়ের আঙ্গুলের ক্ষেত্রে এটি অধিক তাকিদপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ।

(২) সঠিক কথা হলো: কানের জন্য নতুন পানি নেওয়া সুন্নাত নয়; [কেননা এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটি] শায (বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল); কারণ এটি ইমাম মুসলিম বর্ণিত হাদীসের পরিপন্থী যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাতের অবশিষ্ট পানি ব্যতীত নতুন পানি দিয়ে মাথা মাসাহ করেছেন। তদুপরি, যাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওজুর পদ্ধতির বর্ণনা দিয়েছেন, তাঁদের কেউই উল্লেখ করেননি যে তিনি কানের জন্য নতুন পানি নিয়েছেন।

আর কানের জন্য নতুন পানি নেওয়ার বিধানের সপক্ষে এই যে যুক্তি দেওয়া হয় যে কান দুটি স্বতন্ত্র অঙ্গ; এর উত্তর হলো: কান দুটি মাথার সাথেই একবার মাসাহ করা হয়; সুতরাং সেগুলো স্বতন্ত্র কোনো অঙ্গ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌باب فروض الوضوء وصفته

فروضه ستةٌ: غسل الوجه - والفم والأنف منه (1) -، وغسل اليدين (2)، ومسح الرأس - ومنه الأذنان -، وغسل الرجلين (3)، والترتيب، والموالاة - وهي: أن لا يؤخر غسل عضوٍ حتى ينشف الذي قبله (4) -.

والنية شرطٌ لطهارة الأحداث كلها، فينوي رفع الحدث، أو الطهارة لما لا يباح إلا بها.

فإن نوى ما تسن له الطهارة - كقراءةٍ، أو تجديدًا مسنونًا - ناسيًا حدثه: ارتفع.

وإن نوى غسلًا مسنونًا أجزأ عن واجبٍ (5)، وكذا عكسه.

--------------------------------------------

(1) على هذا: فالمضمضة والاستنشاق من فروض الوضوء، لكنهما غير مستقلين.

(2) أطلق المؤلف رحمه الله لفظ اليدين، ولكن يجب أن يقيد ذلك بكونه إلى المرفقين؛ لأن اليد إذا أطلقت لا يراد بها إلا الكف.

(3) أطلق رحمه الله هنا الرجلين، لكن لا بد أن يقال: إلى الكعبين.

(4) هذا بشرط أن يكون ذلك بزمنٍ معتدلٍ خالٍ من الريح أو شدة الحر والبرد …

وقولنا: (في زمنٍ معتدلٍ)؛ احترازًا من الزمن غير المعتدل؛ كزمن الشتاء والرطوبة الذي يتأخر في النشاف، وزمن الحر والريح الذي يسرع فيه النشاف.

(5) ظاهر كلام المؤلف - وهو المذهب -: ولو ذكر أن عليه غسلًا واجبًا. وقيده بعض الأصحاب بما إذا كان ناسيًا حدثه …

وهذا القول - وهو تقييده بأن يكون ناسيًا - له وجهةٌ من النظر … ، [وبهذا فإنه] إذا علم ونوى هذا الغسل المسنون فقط؛ فإن القول بالإجزاء: في النفس منه شيءٌ.
ওযুর ফরযসমূহ ও এর পদ্ধতির অধ্যায়

এর ফরয ছয়টি: মুখমণ্ডল ধৌত করা—মুখ ও নাক এর অন্তর্ভুক্ত (১)—, দুই হাত ধৌত করা (২), মাথা মাসাহ করা—কানদ্বয় এর অন্তর্ভুক্ত—, দুই পা ধৌত করা (৩), ধারাবাহিকতা রক্ষা করা (তরতীব), এবং বিরতিহীনতা (মুওয়ালাত)—আর তা হলো: এক অঙ্গ শুকানোর আগে পরবর্তী অঙ্গ ধৌত করতে দেরি না করা (৪)—।

সকল প্রকার অপবিত্রতা (হাদাস) থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত। সুতরাং সে অপবিত্রতা দূর করার অথবা এমন কাজের জন্য পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করবে যা পবিত্রতা ছাড়া বৈধ নয়।

যদি সে এমন কাজের জন্য ওযুর নিয়ত করে যার জন্য ওযু করা সুন্নাত—যেমন তিলাওয়াত বা সুন্নাত অনুযায়ী ওযু নবায়ন—অথচ সে তার অপবিত্রতার (হাদাস) কথা ভুলে গিয়েছিল, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে।

আর যদি সে সুন্নাত গোসলের নিয়ত করে, তবে তা ফরয গোসলের জন্য যথেষ্ট হবে (৫), অনুরূপভাবে এর বিপরীতটিও (অর্থাৎ ফরযের নিয়ত করলে সুন্নাত আদায় হবে)।

--------------------------------------------

(১) এর ওপর ভিত্তি করে: কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ওযুর ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তবে সেগুলো স্বতন্ত্র অঙ্গ নয়।

(২) লেখক (রহিমাহুল্লাহ) 'দুই হাত' শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহার করেছেন, কিন্তু একে 'কনুই পর্যন্ত' বলে সীমাবদ্ধ করা আবশ্যক; কারণ 'হাত' শব্দটিকে যখন কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়া ব্যবহার করা হয়, তখন তা দ্বারা কেবল কবজি পর্যন্ত উদ্দেশ্য হয়।

(3) তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এখানে 'দুই পা' সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন, তবে অবশ্যই বলতে হবে: 'টাখনু পর্যন্ত'।

(4) এটি এই শর্তে যে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে হবে এবং বাতাস কিংবা প্রচণ্ড গরম বা শীত থাকতে পারবে না …

আমাদের কথা: (স্বাভাবিক সময়ে); এটি অস্বাভাবিক সময়কে বাদ দেওয়ার জন্য; যেমন শীতকাল ও আর্দ্রতার সময় যাতে শুকিয়ে যেতে দেরি হয়, এবং গরম ও বাতাসের সময় যাতে দ্রুত শুকিয়ে যায়।

(5) লেখকের বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ—এবং এটিই মাযহাব—হলো: যদিও তার স্মরণে থাকে যে তার ওপর ফরয গোসল রয়েছে। আর মাযহাবের কোনো কোনো অনুসারী এটিকে ঐ অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন যখন সে তার অপবিত্রতার (হাদাস) কথা ভুলে যায় …

আর এই বক্তব্যটি—অর্থাৎ ভুলে যাওয়ার সাথে সীমাবদ্ধ করা—বিবেচনাযোগ্য … [আর এর ভিত্তিতে] যদি সে অবগত থাকা সত্ত্বেও কেবল এই সুন্নাত গোসলের নিয়ত করে, তবে তা যথেষ্ট হওয়ার বিষয়ে সংশয় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ২৪)
وإن اجتمعت أحداثٌ توجب وضوءًا أو غسلًا، فنوى بطهارته أحدها: ارتفع سائرها.

ويجب الإتيان بها عند أول واجبات الطهارة - وهو التسمية - (1).

وتسن عند أول مسنوناتها إن وجد قبل واجبٍ، واستصحاب ذكرها في جميعها.

ويجب استصحاب حكمها.

وصفة الوضوء: أن ينوي، ثم يسمي، ويغسل كفيه ثلاثًا، ثم يتمضمض ويستنشق (2)، ويغسل وجهه - من منابت شعر الرأس (3) إلى ما انحدر من اللحيين والذقن طولًا (4)، ومن الأذن إلى الأذن عرضًا، وما فيه من شعرٍ خفيفٍ، والظاهر

--------------------------------------------

(1) هذا على المذهب من أن التسمية واجبةٌ مع الذكر، وقد سبق بيان حكم التسمية … وبيان أن الصحيح أنها سنةٌ.

(2) وهل يجب الاستنثار؟

قالوا: الاستنثار سنةٌ، ولا شك أن طهارة الأنف لا تتم إلا بالاستنثار بعد الاستنشاق حتى يزول ما في الأنف من أذًى.

(3) هكذا حده المؤلف رحمه الله، وقال بعض العلماء: (من منحنى الجبهة من الرأس)؛ لأن المنحنى هو الذي تحصل به المواجهة، وهذا أجود.

(4) البياض الذي بين العارض والأذن من الوجه، والشعر الذي فوق العظم الناتئ يكون تابعًا للرأس.
আর যদি এমন একাধিক অপবিত্রতা একত্রিত হয় যা ওযু বা গোসলকে আবশ্যক করে, আর সে তার পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে তার যে কোনো একটির নিয়ত করে, তবে বাকিগুলোও দূর হয়ে যাবে।

আর পবিত্রতার প্রথম ওয়াজিব কাজের সময় এটি (নিয়ত) করা ওয়াজিব—আর তা হলো তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ বলা)—(১)।

আর যদি ওয়াজিবের পূর্বে কোনো সুন্নাত কাজ পাওয়া যায়, তবে তার প্রথম সুন্নাত আমলের সময় এটি করা সুন্নাত; এবং পুরো পবিত্রতা অর্জনের সময় এর স্মরণ বজায় রাখা (সুন্নাত)।

এবং এর হুকুম (নিয়ত ভঙ্গ না করা) বজায় রাখা ওয়াজিব।

ওযুর পদ্ধতি হলো: নিয়ত করবে, তারপর বিসমিল্লাহ বলবে, এরপর তার দুই কবজি তিনবার ধৌত করবে, এরপর কুলি করবে ও নাকে পানি দিবে (২), এবং তার মুখমণ্ডল ধৌত করবে—দৈর্ঘ্যের দিক থেকে মাথার চুলের স্বাভাবিক উৎপত্তিস্থল (৩) হতে দুই চোয়ালের নিম্নভাগ ও চিবুক পর্যন্ত (৪), আর প্রস্থের দিক থেকে এক কান হতে অন্য কান পর্যন্ত; এবং তাতে যে পাতলা চুল রয়েছে তা এবং চুলের বহির্ভাগ...

--------------------------------------------

(১) এটি মাযহাবের এই মতের ভিত্তিতে যে, স্মরণে থাকা অবস্থায় তাসমিয়াহ বলা ওয়াজিব। ইতিপূর্বে তাসমিয়াহর বিধানের বর্ণনা অতিক্রান্ত হয়েছে... এবং এই বর্ণনাও যে, সঠিক মতানুসারে এটি সুন্নাত।

(২) আর নাক ঝাড়া কি ওয়াজিব?

তারা বলেছেন: নাক ঝাড়া সুন্নাত। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নাকে পানি দেওয়ার পর নাক ঝাড়া ব্যতিরেকে নাকের পবিত্রতা পূর্ণ হয় না, যাতে নাকের ভেতরের ময়লা দূর হয়ে যায়।

(৩) লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এভাবেই এর সীমানা নির্ধারণ করেছেন। আর কোনো কোনো আলেম বলেছেন: (মাথার কপালের ঢালু অংশ থেকে); কারণ ঢালু অংশ দ্বারাই সম্মুখভাগ বা চেহারা গঠিত হয়, আর এটিই অধিকতর উত্তম।

(৪) গালের পাশের দাড়ি ও কানের মধ্যবর্তী সাদা অংশটুকু মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত, আর উঁচু হাড়ের উপরের চুল মাথার অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ২৫)
الكثيف مع ما استرسل منه -، ثم يديه مع المرفقين، ثم يمسح كل رأسه مع الأذنين مرةً واحدةً، ثم يغسل رجليه مع الكعبين - ويغسل الأقطع بقية المفروض، فإن قطع من المفصل غسل رأس العضد منه -، ثم يرفع بصره إلى السماء (1)، ويقول ما ورد.

وتباح معونته، وتنشيف أعضائه.

--------------------------------------------

(1) هذا سنةٌ إن صح الحديث … ، وفي سنده مجهولٌ، والمجهول لا يعلم حاله: هل هو حافظٌ، أو عدلٌ، أو ليس كذلك، وإذا كان في السند مجهولٌ حكم بضعف الحديث.
ঘন দাড়ি এবং তার ঝুলে থাকা অংশসহ -, এরপর কনুইসহ উভয় হাত, তারপর কানসহ পুরো মাথা একবার মাসেহ করবে, এরপর টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করবে - আর যার অঙ্গ কাটা হয়েছে সে ফরজের অবশিষ্ট অংশ ধৌত করবে, যদি জোড়া থেকে কাটা থাকে তবে সেখান থেকে বাহুর অগ্রভাগ ধৌত করবে -, এরপর আসমানের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করবে (১), এবং যা বর্ণিত হয়েছে তা বলবে।

এবং তাকে সাহায্য করা ও তার অঙ্গসমূহ মুছে ফেলা বৈধ।

--------------------------------------------

(১) যদি হাদীসটি সহীহ হয় তবে এটি সুন্নাত … , এবং এর সনদে অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে, আর অজ্ঞাত ব্যক্তির অবস্থা জানা যায় না: সে কি হাফিয, নাকি ন্যায়পরায়ণ, নাকি তা নয়; আর যখন সনদে অজ্ঞাত ব্যক্তি থাকে তখন হাদীসটি দুর্বল হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌باب مسح الخفين

يجوز لمقيمٍ يومًا وليلةً، ولمسافرٍ ثلاثةً بلياليها؛ من حدثٍ بعد لبسٍ (1) على طاهرٍ مباحٍ ساترٍ للمفروض (2) يثبت بنفسه (3) من خف وجوربٍ صفيقٍ (4) - ونحوهما -، وعلى عمامةٍ لرجلٍ محنكةٍ أو ذات ذؤابةٍ (5)، وعلى خمر نساءٍ (6) مدارةٍ

--------------------------------------------

(1) الصواب: أن العبرة بالمسح وليس بالحدث.

(2) قال بعض العلماء: إنه لا يشترط أن يكون ساترًا للمفروض … ، وهذا اختيار شيخ الإسلام …

وما اختاره شيخ الإسلام هو الراجح؛ لأن هذه الخفاف لا تسلم غالبًا من الخروق، فكيف نشق على الناس ونلزمهم بذلك؟! …

إذن: هذا الشرط محل خلافٍ بين أهل العلم، والصحيح: عدم اعتباره.

(3) هذا هو الشرط الخامس لجواز المسح على الخفين، فإن كان لا يثبت إلا بشده فلا يجوز المسح عليه، هذا المذهب … ، والصحيح: أنه يصح؛ فما دام أنه ينتفع به ويمشي فيه، فما المانع؟! ولا دليل على المنع.

(4) اشترط المؤلف أن يكون صفيقًا؛ لأنه لا بد أن يكون ساترًا للمفروض - على المذهب -، [وقد تقدم بيان أن اشتراط الستر غير معتبرٍ].

(5) عارض شيخ الإسلام رحمه الله في هذا الشرط، وقال: إنه لا دليل على اشتراط أن تكون محنكةً أو ذات ذؤابةٍ؛ بل النص جاء (العمامة)، ولم يذكر قيدًا آخر، فمتى ثبتت العمامة جاز المسح عليها.

(6) اختلف العلماء في جواز مسح المرأة على خمارها وعلى كل حالٍ: إذا كان هناك مشقةٌ إما لبرودة الجو أو لمشقة النزع واللف مرةً أخرى؛ فالتسامح في مثل هذا لا بأس به، وإلا فالأولى ألا تمسح، ولم ترد نصوصٌ صريحةٌ في هذا الباب.
চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার অধ্যায়

একজন মুকিমের (স্বস্থানে অবস্থানকারীর) জন্য এক দিন ও এক রাত এবং একজন মুসাফিরের (ভ্রমণকারীর) জন্য তিন দিন ও তিন রাত [মাসেহ করা] জায়েজ; যা শুরু হবে [মোজাদ্বয়] পরিধান করার পর ওজু ভঙ্গ হওয়ার সময় থেকে (১), পবিত্র, বৈধ এবং ওয়াজিব (ধৌত করার নির্দিষ্ট) স্থান আবরণকারী (২), যা নিজে নিজেই স্থির থাকে (৩)—এমন চামড়ার মোজা ও পুরু সুতির মোজা (৪) এবং এ জাতীয় বস্তুর ওপর। আর পুরুষের এমন পাগড়ির ওপর যা থুতনির নিচ দিয়ে প্যাঁচানো অথবা যার পেছনে ঝোলানো অংশ রয়েছে (৫), এবং মহিলাদের সেই ওড়নার ওপর (৬) যা মাথার চারপাশে প্যাঁচানো থাকে।

--------------------------------------------

(১) সঠিক মত হলো: সময় গণনা শুরু হবে মাসেহ করার সময় থেকে, ওজু ভঙ্গ হওয়ার সময় থেকে নয়।

(২) কোনো কোনো আলেম বলেছেন: ওয়াজিব (ধৌত করার নির্দিষ্ট) স্থান পুরোপুরি আবৃত করা শর্ত নয়... এবং এটিই শায়খুল ইসলামের পছন্দনীয় মত...

শায়খুল ইসলাম যা পছন্দ করেছেন সেটিই অগ্রগণ্য; কারণ এই চামড়ার মোজাগুলো সাধারণত ছিদ্রমুক্ত থাকে না, এমতাবস্থায় আমরা কীভাবে মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য করব এবং তাদের এটি মেনে চলতে বাধ্য করব?!...

অতএব: এই শর্তটি আলেমদের মাঝে মতভেদের বিষয়, আর সঠিক মত হলো: একে শর্ত হিসেবে গণ্য না করা।

(৩) চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার বৈধতার জন্য এটি পঞ্চম শর্ত। যদি এটি ফিতা দিয়ে বাঁধা ছাড়া স্থির না থাকে, তবে এর ওপর মাসেহ করা জায়েজ নয়—এটিই মাজহাবের মত... আর সঠিক মত হলো: এটি সহিহ; যতক্ষণ পর্যন্ত এর দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং এতে হাঁটাচলা করা যায়, ততক্ষণ বাধা কোথায়?! আর এটি নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো দলিল নেই।

(৪) লেখক একে পুরু হওয়ার শর্ত দিয়েছেন; কারণ মাজহাব অনুযায়ী একে অবশ্যই ওয়াজিব স্থানটি আবরণকারী হতে হবে— [আর আবৃত করার শর্তটি যে গ্রহণযোগ্য নয় তা আগেই বর্ণনা করা হয়েছে]।

(৫) শায়খুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) এই শর্তের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: পাগড়ি থুতনির নিচ দিয়ে প্যাঁচানো বা ঝুলন্ত অংশবিশিষ্ট হওয়ার শর্তের পক্ষে কোনো দলিল নেই; বরং দলিলে সাধারণভাবে 'পাগড়ি' শব্দটি এসেছে এবং অন্য কোনো শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। সুতরাং যতক্ষণ একে পাগড়ি হিসেবে গণ্য করা যাবে, ততক্ষণ এর ওপর মাসেহ করা জায়েজ হবে।

(৬) মহিলারা তাদের ওড়নার ওপর মাসেহ করতে পারবে কি না সে বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তবে যাই হোক: যদি আবহাওয়ার প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে অথবা ওড়না খোলা ও পুনরায় প্যাঁচানোর ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য কিছু থাকে, তবে এই ধরনের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করাতে কোনো অসুবিধা নেই। অন্যথায় মাসেহ না করাই উত্তম, আর এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দলিল বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ২৮)
تحت حلوقهن في حدثٍ أصغر، وجبيرةٍ لم تتجاوز قدر الحاجة (1) - ولو في أكبر - إلى حلها؛ إذا لبس ذلك بعد كمال الطهارة (2).

ومن مسح في سفرٍ ثم أقام، أو عكس، أو شك في ابتدائه: فمسح مقيمٍ (3).

وإن أحدث ثم سافر قبل مسحه: فمسح مسافرٍ.

ولا يمسح:

- قلانس (4).

--------------------------------------------

(1) [أي]: إن تجاوزت قدر الحاجة لم يمسح عليها، لكن إن أمكن نزعها بلا ضررٍ نزع ما تجاوز قدر الحاجة، فإن لم يمكن فقيل: يمسح على ما كان قدر الحاجة ويتيمم عن الزائد.

والراجح: أنه يمسح على الجميع بلا تيممٍ؛ لأنه لما كان يتضرر بنزع الزائد صار الجميع بمنزلة الجبيرة.

(2) المشار إليه: الأنواع الأربعة: الخف، والعمامة، والخمار، والجبيرة …

أما اشتراط كمال الطهارة في الجبيرة فضعيفٌ.

(3) الصحيح في هذه المسائل الثلاث: أنه إذا مسح مسافرًا ثم أقام فإنه يتم مسح مقيمٍ، وإذا مسح مقيمًا ثم سافر أو شك في ابتداء مسحه فإنه يتم مسح مسافرٍ؛ ما لم تنته مدة الحضر قبل سفره، فإن انتهت فلا يمكن أن يمسح.

(4) قال بعض الأصحاب: يمسح على القلانس إذا كانت مثل العمامة يشق نزعها، أما ما لا يشق نزعه - كالطاقية المعروفة - فلا يمسح عليها، ففرق بين ما يشق نزعه وما لا يشق …

وهذا القول قوي … ، وما دام أن الشرع قد أجاز المسح على العمامة؛ فكل ما كان مثلها في مشقة النزع فإنه يعطى حكمها.
তাদের কণ্ঠনালীর নিচ পর্যন্ত ছোট অপবিত্রতার ক্ষেত্রে, এবং এমন ব্যান্ডেজ যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা ব্যাপ্ত করেনি (১) - এমনকি বড় অপবিত্রতার ক্ষেত্রেও - তা খোলা পর্যন্ত; যদি তা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের পর পরিধান করা হয়ে থাকে (২)।

আর যে ব্যক্তি সফরে থাকা অবস্থায় মাসেহ করল অতঃপর মুকিম হলো, অথবা এর বিপরীত ঘটল, কিংবা মাসেহ শুরুর সময় সম্পর্কে সন্দেহ করল: তবে সে মুকিমের মাসেহ পূর্ণ করবে (৩)।

আর যদি অপবিত্র হওয়ার পর মাসেহ করার পূর্বেই সফরে বের হয়: তবে তা মুসাফিরের মাসেহ হবে।

আর মাসেহ করা যাবে না:

- টুপির ওপর (৪)।

--------------------------------------------

(১) [অর্থাৎ]: যদি ব্যান্ডেজ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা ব্যাপ্ত করে, তবে তার ওপর মাসেহ করা যাবে না। তবে যদি ক্ষতি ছাড়া তা খুলে ফেলা সম্ভব হয়, তবে অতিরিক্ত অংশটুকু খুলে ফেলতে হবে। আর যদি সম্ভব না হয়, তবে বলা হয়েছে: প্রয়োজনের সমপরিমাণ অংশের ওপর মাসেহ করবে এবং অতিরিক্ত অংশের জন্য তায়াম্মুম করবে।

আর বিশুদ্ধ মত হলো: তায়াম্মুম ছাড়াই সম্পূর্ণ অংশের ওপর মাসেহ করবে; কারণ যেহেতু অতিরিক্ত অংশ খোলা ক্ষতিকারক, তাই সম্পূর্ণ অংশই ব্যান্ডেজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গেছে।

(২) এখানে নির্দেশিত বিষয়গুলো হলো চারটি প্রকার: চামড়ার মোজা, পাগড়ি, ওড়না এবং ব্যান্ডেজ ...

তবে ব্যান্ডেজের ক্ষেত্রে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের শর্ত করা দুর্বল মত।

(৩) এই তিনটি বিষয়ে সঠিক মত হলো: যদি কেউ মুসাফির অবস্থায় মাসেহ করে অতঃপর মুকিম হয়, তবে সে মুকিমের মাসেহের সময়সীমা পূর্ণ করবে। আর যদি মুকিম অবস্থায় মাসেহ করে অতঃপর সফরে বের হয় অথবা মাসেহ শুরুর সময় নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে, তবে সে মুসাফিরের মাসেহ পূর্ণ করবে; যতক্ষণ না সফরে বের হওয়ার আগেই মুকিম অবস্থায় মাসেহের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। যদি সময় শেষ হয়ে যায়, তবে আর মাসেহ করা সম্ভব হবে না।

(৪) কোনো কোনো ফকিহ বলেছেন: টুপির ওপর মাসেহ করা যাবে যদি তা পাগড়ির মতো হয় যা খোলা কষ্টকর। কিন্তু যা খোলা কষ্টকর নয় - যেমন সুপরিচিত টুপি - তার ওপর মাসেহ করা যাবে না। সুতরাং যা খোলা কষ্টকর এবং যা কষ্টকর নয়, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে ...

এই মতটি শক্তিশালী ... এবং যেহেতু শরিয়ত পাগড়ির ওপর মাসেহ করা বৈধ করেছে; তাই যা কিছু পাগড়ির মতো খোলা কষ্টকর, তাকে পাগড়ির বিধানই প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ২৯)
- ولا لفافةً (1).

- ولا ما يسقط من القدم (2).

- أو يرى منه بعضه (3).

فإن لبس خفا على خف قبل الحدث: فالحكم للفوقاني (4).

ويمسح أكثر العمامة، وظاهر قدم الخف - من أصابعه إلى ساقه دون أسفله وعقبه -، وعلى جميع الجبيرة.

ومتى ظهر بعض محل الفرض بعد الحدث، أو تمت مدته: استأنف الطهارة (5).

--------------------------------------------

(1) اختار شيخ الإسلام رحمه الله جواز المسح على اللفافة، وهو الصحيح.

(2) هذا بناءً على أنه يشترط لجواز المسح على الخف ثبوته بنفسه أو بنعلين إلى خلعهما [كما تقدم] … والناس لا يلبسون خفافًا تسقط عند المشي، ولا فائدة في مثل هذا، وهذا ظاهرٌ فيمن يمشي فإنه لا يلبسه، لكن لو فرض أن مريضًا مقعدًا لبس مثل هذا الخف للتدفئة فلا يجوز له المسح على كلام المؤلف.

(3) هذا مبني على ما سبق من اشتراط أن يكون الخف ساترًا للمفروض … ، وسبق بيان أن الصحيح جواز ذلك.

(4) هذا لبيان الجواز؛ فإنه يجوز أن يمسح على التحتاني حتى لو كان الحكم للفوقاني.

(5) ما ثبت بمقتضى دليلٍ شرعي فلا ينتقض إلا بدليلٍ شرعي آخر … ، والأصل بقاء الطهارة، وهذا اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى -.
- এবং কাপড়ের পট্টি নয় (১)।

- এবং এমন কিছু নয় যা পা থেকে খসে পড়ে (২)।

- অথবা যার মধ্য দিয়ে কোনো অংশ দেখা যায় (৩)।

যদি কোনো ব্যক্তি অপবিত্র হওয়ার পূর্বে মোজার ওপর মোজা পরিধান করে, তবে বিধানটি উপরের মোজার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে (৪)।

আর সে পাগড়ির অধিকাংশ স্থানে মাসাহ করবে, এবং মোজার উপরিভাগে—পায়ের আঙুল থেকে নলার দিক পর্যন্ত, তার নিচের অংশ ও গোড়ালি ব্যতিরেকে—এবং সম্পূর্ণ জাবীরার (ব্যান্ডেজ) ওপর।

আর যখন অপবিত্র হওয়ার পর ফরয অঙ্গের কোনো অংশ প্রকাশ হয়ে পড়ে, অথবা মাসাহ-এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে সে পুনরায় নতুন করে পবিত্রতা অর্জন করবে (৫)।

--------------------------------------------

(১) শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) কাপড়ের পট্টির ওপর মাসাহ করা বৈধ হওয়ার অভিমত গ্রহণ করেছেন এবং এটিই সঠিক।

(২) এটি এই শর্তের ওপর ভিত্তি করে যে, মোজার ওপর মাসাহ বৈধ হওয়ার জন্য তা পায়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকে থাকতে হবে অথবা জুতা খোলা পর্যন্ত তা স্থির থাকতে হবে [যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে]... আর মানুষ এমন কোনো মোজা পরিধান করে না যা হাঁটার সময় খসে পড়ে, এবং এ জাতীয় জিনিসের কোনো সার্থকতাও নেই। এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্পষ্ট যে চলাফেরা করে, কারণ সে তা পরিধান করবে না। কিন্তু যদি ধরে নেওয়া হয় যে, কোনো শয্যাশায়ী রোগী উষ্ণতা লাভের জন্য এমন মোজা পরেছে, তবে লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী তার জন্য মাসাহ করা বৈধ হবে না।

(৩) এটি পূর্বে বর্ণিত সেই শর্তের ওপর ভিত্তি করে যে, মোজা অবশ্যই ফরয অঙ্গের আবৃতকারী হতে হবে... আর পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে সঠিক মত হলো এটি বৈধ।

(৪) এটি বৈধতা বর্ণনার জন্য; কেননা নিচের মোজার ওপর মাসাহ করা বৈধ যদিও বিধানটি উপরেরটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

(৫) যা শরয়ী দলিলের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়েছে, তা অন্য কোনো শরয়ী দলিল ব্যতীত বাতিল হয় না... আর মূলনীতি হলো পবিত্রতা অবশিষ্ট থাকা। এটিই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পছন্দকৃত অভিমত।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌باب نواقض الوضوء

ينقض:

- ما خرج من سبيلٍ.

- وخارجٌ من بقية البدن إن كان بولًا أو غائطًا (1) أو كثيرًا نجسًا غيرهما (2).

- وزوال العقل؛ إلا يسير نومٍ من قاعدٍ أو قائمٍ (3).

- ومس ذكرٍ متصلٍ أو قبلٍ بظهر كفه أو بطنه (4)، ولمسهما من خنثى مشكلٍ،

--------------------------------------------

(1) قال بعض أهل العلم: إن كان المخرج من فوق المعدة فهو كالقيء، وإن كان من تحتها فهو كالغائط، وهذا اختيار ابن عقيلٍ رحمه الله، وهذا قولٌ جيدٌ …

ويستثنى مما سبق: من حدثه دائمٌ؛ فإنه لا ينتقض وضوءه بخروجه؛ كمن به سلس بولٍ أو ريحٍ أو غائطٍ، وله حالٌ خاصةٌ في التطهر.

(2) ذهب الشافعي والفقهاء السبعة … إلى أن الخارج من غير السبيلين لا ينقض الوضوء - قل أم كثر - إلا البول والغائط، وهذا هو القول الثاني في المذهب، وهو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية … ، وهذا هو القول الراجح.

(3) اختلف العلماء رحمهم الله في النوم: هل هو ناقضٌ، أو مظنة النقض؟ على أقوالٍ؛ منها … - وهو اختيار شيخ الإسلام، وهو الصحيح -: أن النوم مظنة الحدث؛ فإذا نام بحيث لو انتقض وضوءه أحس بنفسه فإن وضوءه باقٍ، وإذا نام بحيث لو أحدث لم يحس بنفسه فقد انتقض وضوءه.

(4) الإنسان إذا مس ذكره استحب له الوضوء مطلقًا، سواءٌ بشهوةٍ أم بغير شهوةٍ، وإذا مسه لشهوةٍ فالقول بالوجوب قوي جدا، لكني لا أجزم به، والاحتياط أن يتوضأ.
ওজু ভঙ্গের কারণসমূহের পরিচ্ছেদ

ওজু ভঙ্গ হয়:

- যা দুটি পথ (মলদ্বার ও মূত্রদ্বার) দিয়ে বের হয়।

- শরীরের বাকি অংশ থেকে যা বের হয়, যদি তা প্রস্রাব বা পায়খানা হয় (১) অথবা এ দুটি ছাড়া অন্য কোনো অপবিত্র বস্তু যদি পরিমাণে বেশি হয় (২)।

- বিবেক বা চেতনার বিলুপ্তি; তবে বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সামান্য ঘুম বাদে (৩)।

- হাতের পিঠ বা তালু দিয়ে শরীরের সাথে সংযুক্ত পুরুষাঙ্গ বা স্ত্রী-অঙ্গ স্পর্শ করা (৪), এবং খুনসা মুশকিলে (জটিল উভলিঙ্গ) ক্ষেত্রে উভয়টি স্পর্শ করা।

--------------------------------------------

(১) কিছু আলেম বলেছেন: যদি নির্গমন পথ পাকস্থলীর উপরের অংশে হয় তবে তা বমির মতো গণ্য হবে, আর যদি এর নিচের অংশে হয় তবে তা পায়খানার মতো গণ্য হবে। এটি ইবনে আকীল (রহিমাহুল্লাহ)-এর পছন্দ এবং এটি একটি উত্তম অভিমত...

পূর্বোক্ত বিষয় থেকে একটি ব্যতিক্রম হলো: যার অপবিত্রতা (হাদাস) নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে; তার ওজু সেটি নির্গত হওয়ার দ্বারা ভঙ্গ হবে না; যেমন যার প্রস্রাব ঝরা, বায়ু নির্গত হওয়া বা মল ঝরার রোগ আছে। তার পবিত্রতা অর্জনের বিশেষ নিয়ম রয়েছে।

(২) ইমাম শাফেয়ী এবং সাত ফকীহ... এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, মলদ্বার ও মূত্রদ্বার ব্যতিরেকে শরীরের অন্য কোনো স্থান থেকে যা বের হয় তা ওজু ভঙ্গ করে না - চাই তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি - প্রস্রাব এবং পায়খানা ব্যতীত। এটি মাযহাবের দ্বিতীয় অভিমত এবং এটিই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ... পছন্দ করেছেন। আর এটিই অগ্রগণ্য অভিমত।

(৩) আলেমগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) ঘুমের বিষয়ে মতভেদ করেছেন: ঘুম কি নিজে ওজু ভঙ্গকারী, নাকি এটি ওজু ভঙ্গের প্রবল সম্ভাবনা মাত্র? এ বিষয়ে কয়েকটি মতামত রয়েছে; তন্মধ্যে... - যা শায়খুল ইসলামের পছন্দ এবং এটিই সঠিক - হলো: ঘুম হচ্ছে ওজু ভঙ্গের (হাদাস হওয়ার) প্রবল সম্ভাবনা। সুতরাং যদি কেউ এমনভাবে ঘুমায় যে, তার ওজু ভঙ্গ হলে সে নিজে অনুভব করতে পারবে, তবে তার ওজু অবশিষ্ট থাকবে। আর যদি সে এমনভাবে ঘুমায় যে, অপবিত্রতা নির্গত হলে সে নিজে অনুভব করতে পারবে না, তবে তার ওজু ভঙ্গ হয়ে যাবে।

(৪) মানুষ যখন তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে, তখন সাধারণভাবে তার জন্য ওজু করা মুস্তাহাব, চাই তা কামভাবের সাথে হোক বা কামভাব ছাড়া। আর যদি সে তা কামভাবের সাথে স্পর্শ করে, তবে ওজু ওয়াজিব হওয়ার অভিমতটি অত্যন্ত শক্তিশালী, তবে আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলছি না। আর সতর্কতা হলো ওজু করে নেওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৩২)
ولمس ذكرٍ ذكره، أو أنثى قبله لشهوةٍ فيهما.

- ومسه امرأةً بشهوةٍ (1) أو تمسه بها (2).

- ومس حلقة دبرٍ (3) - لا مس شعرٍ وظفرٍ وأمرد (4)، ولا مع حائلٍ، ولا ملموسٍ بدنه ولو وجد منه شهوةٌ (5) -.

وينقض: غسل ميتٍ (6)، وأكل اللحم خاصةً من الجزور.

وكل ما أوجب غسلًا أوجب وضوءًا (7)؛ إلا الموت (8).

--------------------------------------------

(1) الراجح: أن مس المرأة لا ينقض الوضوء مطلقًا إلا إذا خرج منه شيءٌ، فيكون النقض بذلك الخارج.

(2) سبق أن القول الراجح أن مس المرأة لا ينقض الوضوء مطلقًا ما لم يخرج منه شيءٌ، فما تفرع عنه فهو مثله.

(3) هذا فرعٌ من حكم مس الذكر، فليرجع إليه لمعرفة الراجح في ذلك.

(4) الصواب: أن مس الأمرد كمس الأنثى سواءٌ.

(5) القول الصحيح في هذه المسألة: أن الملموس إذا وجد منه شهوةٌ انتقض وضوءه.

(6) هذا الذي مشى عليه المؤلف هو المذهب، وهو من مفردات مذهب أحمد.

والقول الثاني: أن غسل الميت لا ينقض الوضوء.

(7) هذا الضابط في النفس منه شيءٌ؛ لقوله - تعالى -: {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا}؛ فأوجب الله في الجنابة الغسل فقط، ولم يوجب علينا غسل الأعضاء الأربعة، فما أوجب غسلًا لم يوجب إلا الغسل، إلا إن دل إجماعٌ على خلاف ذلك، أو دليلٌ.

(8) هذا من غرائب العلم؛ كيف ينفون وجوب الوضوء في تغسيل الميت مع أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «ابدأن بميامنها ومواضع الوضوء منها»؟! …

ونحن نوافق أن الموت موجبٌ للغسل ولا يوجب الوضوء؛ لعدم الدليل الصريح على وجوب الوضوء وإن كان يحتمل أن الوضوء واجبٌ؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: «ومواضع الوضوء منها».

فالظاهر: أن موجبات الغسل لا توجب إلا الغسل؛ لعدم الدليل على إيجاب الوضوء.
এবং পুরুষের নিজ লিঙ্গ স্পর্শ করা, অথবা নারীর নিজ যোনি কামভাবের সাথে স্পর্শ করা।

- এবং কামভাবের সাথে কোনো নারীকে স্পর্শ করা (১) অথবা কোনো নারীর তাকে (পুরুষকে) কামভাবের সাথে স্পর্শ করা (২)।

- এবং পায়ুপথ স্পর্শ করা (৩) - তবে চুল, নখ এবং দাড়িহীন বালক স্পর্শ করলে অযু ভাঙবে না (৪), আর পর্দার আড়াল থাকলে অযু ভাঙবে না, এবং যাকে স্পর্শ করা হয়েছে তার শরীর স্পর্শের কারণে অযু ভাঙবে না যদিও তার কামভাব জাগ্রত হয় (৫) -।

আর যা অযু ভঙ্গ করে: মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো (৬), এবং বিশেষভাবে উটের মাংস ভক্ষণ করা।

এবং যা কিছু গোসল ওয়াজিব করে, তা অযুও ওয়াজিব করে (৭); মৃত্যু ব্যতীত (৮)।

--------------------------------------------

(১) অধিকতর সঠিক মত হলো: নারীকে স্পর্শ করলে সাধারণভাবে অযু নষ্ট হয় না, যতক্ষণ না তা থেকে কোনো কিছু নির্গত হয়; সেক্ষেত্রে অযু সেই নির্গত বস্তুর কারণেই নষ্ট হবে।

(২) পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অগ্রগণ্য মতানুসারে নারীকে স্পর্শ করলে সাধারণভাবে অযু নষ্ট হয় না যতক্ষণ না কিছু নির্গত হয়, সুতরাং এর থেকে যা কিছু উৎসারিত হবে তার বিধানও একই হবে।

(৩) এটি পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করার বিধানের একটি শাখা, তাই এ বিষয়ে সঠিক মত জানতে সেদিকে লক্ষ্য করা উচিত।

(৪) সঠিক কথা হলো: দাড়িহীন বালককে স্পর্শ করা ঠিক নারীকে স্পর্শ করার মতোই।

(৫) এ বিষয়ে সঠিক বক্তব্য হলো: যাকে স্পর্শ করা হয়েছে তার যদি কামভাব জাগ্রত হয়, তবে তার অযু নষ্ট হয়ে যাবে।

(৬) লেখক এখানে যা অনুসরণ করেছেন তা হলো মাযহাবের (হাম্বলি) অবস্থান, এবং এটি ইমাম আহমাদের মাযহাবের একক বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় মতটি হলো: মৃতকে গোসল করালে অযু নষ্ট হয় না।

(৭) এই মূলনীতিটি নিয়ে সংশয় রয়েছে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে পবিত্রতা অর্জন করো}; এখানে আল্লাহ জানাবাতের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গোসল ফরজ করেছেন এবং আমাদের ওপর অযুর চারটি নির্দিষ্ট অঙ্গ ধোয়া ওয়াজিব করেননি। সুতরাং যা গোসল ওয়াজিব করে তা কেবল গোসলই ওয়াজিব করে, যদি না এর বিপরীতে কোনো ইজমা বা দলিল থাকে।

(৮) এটি ইলমের এক বিস্ময়কর বিষয়; তারা কীভাবে মৃতকে গোসল করানোর ক্ষেত্রে অযুর আবশ্যকতা অস্বীকার করেন অথচ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তার ডান দিক থেকে এবং তার অযুর অঙ্গসমূহ থেকে শুরু করো»?! ...

আর আমরা এ বিষয়ে একমত যে মৃত্যু গোসল ওয়াজিব করে কিন্তু অযু ওয়াজিব করে না; কারণ অযু ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট দলিল নেই, যদিও অযু ওয়াজিব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: «এবং তার অযুর অঙ্গসমূহ থেকে শুরু করো»।

সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে: গোসল ওয়াজিবকারী বিষয়সমূহ কেবল গোসলই ওয়াজিব করে; কারণ অযু ওয়াজিব করার পক্ষে কোনো শক্তিশালী দলিল নেই।
(খণ্ড: ১) আল-হাশিয়াতুল উসাইমিনিয়্যাহ আলা যাদিল মুস্তাকনি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومن تيقن الطهارة وشك في الحدث أو بالعكس: بنى على اليقين.

فإن تيقنهما وجهل السابق: فهو بضد حاله قبلهما (1).

ويحرم على المحدث: مس المصحف (2)، والصلاة، والطواف (3).

--------------------------------------------

(1) القول بوجوب الوضوء أحوط.

(2) الذي تقرر عندي أخيرًا: أنه لا يجوز مس المصحف إلا بوضوءٍ.

(3) وقال بعض العلماء: إن الطواف لا تشترط له الطهارة، ولا يحرم على المحدث أن يطوف، وإنما الطهارة فيه أكمل …

ولا شك أن الأفضل أن يطوف بطهارةٍ بالإجماع، ولا أظن أن أحدًا قال: إن الطواف بطهارةٍ وغير طهارةٍ سواءٌ؛ لأنه من الذكر، ولفعله صلى الله عليه وسلم.
যে ব্যক্তি পবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত কিন্তু অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান, অথবা এর বিপরীত: সে তার নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করবে।

যদি সে উভয় বিষয়ের (পবিত্রতা ও অপবিত্রতা) ব্যাপারে নিশ্চিত হয় কিন্তু কোনটি আগে ঘটেছে তা না জানে: তবে সে এই দুই অবস্থার পূর্ববর্তী অবস্থার বিপরীত অবস্থায় রয়েছে বলে গণ্য হবে (১)।

অপবিত্র ব্যক্তির জন্য হারাম: কুরআন (মুসহাফ) স্পর্শ করা (২), সালাত এবং তাওয়াফ (৩)।

--------------------------------------------

(১) অযু ওয়াজিব হওয়ার মতটিই অধিকতর সতর্কতামূলক।

(২) আমার নিকট সর্বশেষ যা স্থির হয়েছে তা হলো: অযু ব্যতীত কুরআন স্পর্শ করা জায়েয নয়।

(৩) কোনো কোনো আলিম বলেছেন: তাওয়াফের জন্য পবিত্রতা শর্ত নয় এবং অপবিত্র ব্যক্তির জন্য তাওয়াফ করা হারাম নয়, বরং এতে পবিত্রতা রক্ষা করাই অধিকতর পূর্ণাঙ্গ বা উত্তম কাজ...

নিঃসন্দেহে ঐকমত্যের ভিত্তিতে পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করা উত্তম। আর আমি মনে করি না যে কেউ বলেছেন: পবিত্র অবস্থায় এবং অপবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করা সমান; কারণ এটি যিকরের অন্তর্ভুক্ত এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমলের কারণে।