(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: -)
فتح الشكور في معرفة أعيان علماء التكرور القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: فتح الشكور في معرفة أعيان علماء التكرور
المؤلف: أبو عبد الله الطالب محمد بن أبي بكر الصديق البرتلي الولاتي
تحقيق: محمد إبراهيم الكتاني، محمد حجي
الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1981 م
عدد الصفحات: 299
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1442
ফাতহুল শাকুর ফী মা’রিফাতি আ’ইয়ানি উলামায়িত তাকরুর বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: ফাতহুল শাকুর ফী মা’রিফাতি আ’ইয়ানি উলামায়িত তাকরুর
লেখক: আবু আবদুল্লাহ আত-তালিব মুহাম্মদ বিন আবি বকর আস-সিদ্দিক আল-বুরতুলি আল-ওয়ালাতি
তাহকীক: মুহাম্মদ ইবরাহীম আল-কাত্তানি, মুহাম্মদ হাজ্জি
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: -)
فتح الشكور في معرفة أعيان علماء التكرور
تأليف
أبي عبد الله الطالب محمد بن أبي بكر الصديق البرتلي الولاتي
تحقيق
محمد إبراهيم الكتاني
(عضو أكاديمية المملكة المغربية)
محمد حجي
(عميد كلية الآداب بالرباط)
তাকরুর অঞ্চলের বরেণ্য আলেমগণের পরিচিতি লাভে ফাতহুল শাকুর (পরম কৃতজ্ঞদাতার বিজয় দান)
রচনা
আবু আবদুল্লাহ আত-তালিব মুহাম্মদ বিন আবু বকর আস-সিদ্দিক আল-বারতালি আল-ওয়ালাতি
তাহকীক
মুহাম্মদ ইবরাহিম আল-কাত্তানি
(মরক্কো রাজকীয় একাডেমির সদস্য)
মুহাম্মদ হাজ্জি
(রাবাতের কলা অনুষদের ডিন)
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٥)
تقديم
أ - التعريف بالكتابكتاب فتح الشكور، في معرفة أعيان علماء التكرور ذو أهمية بالغة في تاريخ الثقافة العربية في مكان وزمان معين لا يكاد المختصون يعرفون عنهما إلا قليلا، وبذلك يسد فراغا كبيرا في المكتبة العربية فهو يشتمل على مائتي ترجمة لعلماء عاشوا في هذه المنطقة مدة تقرب من مائة وستين سنة (1056 - 1215 - هـ/1650 - 1800 م).
يتضمن كثير من هذه التراجم تاريخ مولد المترجم، وأحيانا بتعيين اليوم والساعة، ومكان ولادته وتاريخ وفاته وتسمية أشياخه وما درسه عليهم من كتب وعلوم، وأحيانا أسانيده عنهم إلى مؤلفي هذه الكتب، وما درسه هو لطبته، وتسمية بعض من أخذوا عنه، ورحلته إن كانت له رحلة، وأسماء مؤلفاته إن كان مؤلفا، والوظائف التي تولاها من إمامة وقضاء وإفتاء، وصفاته الفاضلة من زهد وتقوى وصلاح واعتناء بالعلم وحرص على التعليم واهتمام بجمع الكتب إن كان له اعتناء بذلك وما أشبهه.
هكذا تقدم هذه التراجم معلومات قيمة للباحثين عن مراكز الدراسة وموضوعاتها وكتب الدراسة وصلة المشيخة والتلمذة بين الأجيال، والتأثر
উপস্থাপনাক - গ্রন্থ পরিচিতি‘ফাতহুল শাকুর ফি মারিফাতি আয়ান ওলামাইত তাকরুর’ গ্রন্থটি একটি নির্দিষ্ট স্থান ও কালের আরবি সংস্কৃতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে, যা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা খুব সামান্যই জানেন। এর মাধ্যমে এটি আরবি লাইব্রেরিতে একটি বড় শূন্যতা পূরণ করে। এতে এমন দুইশত আলেমের জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যারা এই অঞ্চলে প্রায় একশত ষাট বছর (১০৫৬ - ১২১৫ হিজরি / ১৬৫০ - ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) কাল অবস্থান করেছিলেন।
এই জীবনীগুলোর অনেকগুলোতে যার জীবনী লেখা হয়েছে তার জন্ম তারিখ, কখনও কখনও দিন ও সময় নির্ধারণসহ, তার জন্মস্থান, মৃত্যু তারিখ, তার উস্তাদদের নাম এবং তাদের নিকট তিনি যেসব কিতাব ও ইলম শিক্ষা করেছেন তার বর্ণনা রয়েছে। কখনও কখনও এই কিতাবগুলোর লেখক পর্যন্ত তার সনদসমূহ, তিনি নিজে তার ছাত্রদের যা পড়িয়েছেন, যারা তার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন তাদের কয়েকজনের নাম, যদি তিনি সফর করে থাকেন তবে তার সফরের বিবরণ, যদি তিনি লেখক হন তবে তার কিতাবসমূহের নাম এবং ইমামতি, বিচারকার্য ও ফতোয়া প্রদানের মতো যেসব দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন তার উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া তার উত্তম গুণাবলি যেমন—দুনিয়াবিমুখতা, তাকওয়া, নেককার হওয়া, ইলমের প্রতি যত্নশীলতা, শিক্ষাদানের প্রতি আগ্রহ এবং কিতাব সংগ্রহের প্রতি গুরুত্ব প্রদান—যদি এ বিষয়ে তার আগ্রহ থেকে থাকে—এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এভাবে এই জীবনীগুলো গবেষকদের নিকট শিক্ষা কেন্দ্র ও তার বিষয়বস্তু, পাঠ্যবইসমূহ এবং বিভিন্ন প্রজন্মের মাঝে শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক প্রভাব সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٦)
والتأثير بين مراكز الثقافة العربية المختلفة في هذه المرحلة، وأسماء كتب التراث العربي التي كانت موجودة في المنطقة والتي كان أهل العلم يستفيدون منها إذ ذاك، وأسماء مؤلفات علماء التكرور التي ساهموا بها في المحصول الضخم للمؤلفات العربية عبر القرون المتعاقبة في مختلف أقاليم آسيا وإفريقيا وأوروبا، والتي تتظافر جهود الباحثين منذ أجيال لمحاولة إحصائها والتعرف عليها وعلى مراكزها في العالم.
وإذا كانت الملاحظة العامة التي يخرج بها قارئ هذه التراجم هي أن أصحابها - في الأغلب الأعم - كانوا مرددين لما قاله من قبلهم حيث انحصرت معلوماتهم في المتون والشروح والحواشي والتعاليق، وكذلك كان إنتاجهم، فإن الذنب في ذلك كان ذنب العصر الذي اتسمت الثقافة العربية فيه في المشرق والمغرب على السواء بالجمود والركود والتقليد وتكرار ما قيل من قبل. على أنه يجب ألا ننسى فضل هؤلاء المقلدين المرددين لما قيل من قبل في مساهمتهم في مناطق نائية ومنعزلة عن مراكز الثقافة العربية الكبرى بفاس وتونس والقاهرة، حيث لم يستطع الاتصال بهذه المناطق من المترجمين في الكتاب إلا أفراد معدودون.
ولم يستفد من هذا المصدر القيم: لا كارل بروكلمان في تاريخ الأدب العربي وذيله بالألمانية، ولا إسماعيل باشا البغدادي في أي من كتابيه إيضاح المكنون، في الذيل على كشف الظنون، وهدية العارفين، إلى أسماء المؤلفين وآثار المصنفين، ولا صاحب فرس الفهارس - مع ما كان له من إطلاع واسع في هذا المجال -، ولا القاضي عباس بن إبراهيم المراكشي في الإعلام، بمن حل مراكش وأغمات من الأعلام، ولا صديقنا المرحوم خير الدين الزركلي في الأعلام، وفي آخر لقاء لي معه ببيروت حدثته عن فتح الشكور، فقال لي رحمه الله: ذلك عالم لا نكاد نعرف عنه شيئا؛ ولا رضا كحالة في معجم المؤلفين. ولا الدكتور حسن أحمد محمود في كتابه الحافل الثقافة العربية في إفريقيا. كما لا نعرف أحدا من
এবং এই পর্যায়ে বিভিন্ন আরবি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক প্রভাব, এবং সেই অঞ্চলে বিদ্যমান আরবি ঐতিহ্যের বইসমূহের নাম যা থেকে তৎকালীন জ্ঞানান্বেষীগণ উপকৃত হতেন, এবং তিকরুর অঞ্চলের আলেমদের রচিত সেইসব গ্রন্থের নাম যা তাঁরা এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরবি রচনার বিশাল ভাণ্ডারে অবদান হিসেবে যুক্ত করেছেন, যা গণনা করার এবং বিশ্বজুড়ে সেগুলোর অবস্থান শনাক্ত করার জন্য কয়েক প্রজন্ম ধরে গবেষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এই জীবনীগ্রন্থগুলোর পাঠকের সাধারণ পর্যবেক্ষণ যদি এই হয় যে—অধিকাংশ ক্ষেত্রেই—সেগুলোর লেখকগণ তাঁদের পূর্ববর্তীদের কথারই পুনরাবৃত্তি করেছেন, যেখানে তাঁদের জ্ঞান কেবল মূলপাঠ (মতন), ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ), পার্শ্বটীকা (হাশিয়া) এবং টিপ্পনী (তালিক)-এর গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং তাঁদের রচনাগুলোও তদ্রূপ ছিল; তবে এর দায় মূলত সেই যুগের, যখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয় প্রান্তের আরবি সংস্কৃতি স্থবিরতা, জড়তা, অন্ধ অনুকরণ এবং পূর্বের বচনের পুনরাবৃত্তির দ্বারা আক্রান্ত ছিল। তা সত্ত্বেও আমাদের সেইসব অনুকরণকারী ও পুনরাবৃত্তিদানকারীদের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয় যারা ফাস, তিউনিস ও কায়রোর মতো বৃহৎ আরবি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো থেকে বহু দূরে বিচ্ছিন্ন ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্ঞানচর্চায় অবদান রেখেছেন, যেখানে এই গ্রন্থের জীবনীকারদের মধ্যে মাত্র হাতেগোনা কয়েক ব্যক্তিই সেই অঞ্চলগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়েছিলেন।
এই মূল্যবান উৎস থেকে নিম্নোক্ত কেউই উপকৃত হননি: জার্মান ভাষায় রচিত ‘তারিখুল আদাব আল-আরাবি’ ও এর পরিশিষ্টে কার্ল ব্রোকেলম্যান; কিংবা ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদি তাঁর দুটি গ্রন্থ ‘ঈজাহুল মাকনুন ফিয যাইলি আলা কাশফিজ জুনুন’ এবং ‘হাদিয়াতুল আরিফিন ইলা আসমায়িল মুয়াল্লিফিন ওয়া আসারিল মুসান্নিফিন’-এর কোনোটিতেই নয়; এবং ‘ফিহরিসুল ফাহরিস’-এর লেখকও নন—যদিও এই ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য ছিল—; এবং কাজী আব্বাস বিন ইব্রাহিম আল-মাররাকুশি তাঁর ‘আল-ইলাম বিমান হাল্লা মাররাকুশ ওয়া আগমাত মিনাল আলাম’ গ্রন্থেও নন; এবং আমাদের বন্ধু মরহুম খাইরুদ্দিন আল-যিরিকলি তাঁর ‘আল-আলাম’ গ্রন্থেও নন। বৈরুতে তাঁর সাথে আমার শেষ সাক্ষাতে আমি তাঁকে ‘ফাতহুশ শাকুর’ সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম, তখন তিনি (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) আমাকে বলেছিলেন: "ওটি এমন এক জগত যার সম্পর্কে আমরা প্রায় কিছুই জানি না"; এবং রিদা কাহহালা তাঁর ‘মুজামুল মুয়াল্লিফিন’-এও এটি ব্যবহার করেননি। ডক্টর হাসান আহমদ মাহমুদ তাঁর সমৃদ্ধ গ্রন্থ ‘আস-সাকাফাতুল আরাবিয়্যাহ ফি ইফ্রিকিয়া’-তেও এটি ব্যবহার করেননি। তেমনিভাবে আমরা এমন কাউকেও জানি না যে...
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٧)
المؤلفين المغاربة اطلع عليه أو أشار إليه، بما فيهم المؤلفون الصحراويون أو مؤلفو غرب إفريقيا فيما وصل إلينا من مؤلفاتهم العديدة وإذا كان صاحب الوسيط في أدباء شنجيط قد ذكر بعض المترجمين في فتح الشكور، فإن اهتمامه من الدرجة الأولى كان بالأدباء بينما اهتمام الفتح بالعلماء.
وفي خريف سنة 1964 اطلعت - صدفة، - على العدد الأول من مجلة البحوث وهي فصليّة يصدرها بالانجليزية وقليل من العربية مركز تقييد المخطوطات العربية بمركز الدراسات الإفريقية بجامعة أبادن (نيجريا) وإذا بي أعثر على حديث قصير بالانجليزية عن مخطوط فتح الشكور بقلم الأستاذ الانجليزي المسلم، ج. أوهنويك الذي سمى نفسه بعد إسلامه عبد الرزاق هنويك، سكرتير مركز البحوث. وذكر في هذا المقال: أن الكتاب يعتبر ذيلا على كل من كتاب نيل الإبتهاج لأحمد بابا، وكتاب تاريخ السودان للسعدي، وأنه توجد منه مخطوطتان: إحداهما في مكتبة المعهد الفرنسي بباريس تحت رقم والأخرى في مكتبة الشيخ المختار. ولد حامدون بنواق الشط (موريطانيا) وأن معهد الدراسات الشرقية والإفريقية بجامعة لندن حصل على شريطين مصورين عن النسختين، ثم أورد في آخر العدد فهرسا بالعربية في 17 صفحة يتضمن أسماء ووفيات المترجمين في الكتاب. وقد تبين لي من قراءة هذا الفهرس الأهمية البالغة لهذا المخطوط في موضوعه، خصوصا فيما يتعلق بالصلات المغربية الصحراوية في المرحلة التي يؤرخ لها، وعلى الأخص بين المراكز الثقافية في الصحراء ومراكز كل من فاس ومراكش وسوس، وهي المراكز التي قامت بدور فعال في نشر الثقافة الإسلامية العربية في الصحراء وجنوبها، وطبعت ثقافتها بالطابع المغربي الصميم، كما هو معلوم، وكما تحدث عن ذلك بموضوعية وتفصيل ونزاهة وإنصاف العلامة المصري الكبير الدكتور حسن أحمد محمود في كتابه الحافل الإسلام والثقافة العربية
মরক্কোর লেখকদের মধ্যে যারা এটি দেখেছেন বা এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তাদের মধ্যে সাহারা অঞ্চলের লেখকগণ বা পশ্চিম আফ্রিকার লেখকগণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যা তাদের অসংখ্য রচনার মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। আর যদি 'আল-ওয়াসিত ফি আদাবায়ি শিনকিত' গ্রন্থের লেখক 'ফাতহুল শাকুর' গ্রন্থের কিছু জীবনীকারদের কথা উল্লেখ করে থাকেন, তবে তার প্রাথমিক আগ্রহ ছিল সাহিত্যিকদের প্রতি, যেখানে 'ফাতহ' গ্রন্থের মূল মনোযোগ ছিল আলেম বা বিদ্বানদের প্রতি।
এবং ১৯৬৪ সালের শরৎকালে আমি দৈবক্রমে 'মাজাল্লাতুল বুহুস' (গবেষণা সাময়িকী) এর প্রথম সংখ্যাটি দেখতে পাই। এটি একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা যা ইংরেজি এবং সামান্য আরবি ভাষায় নাইজেরিয়ার ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের আফ্রিকান স্টাডিজ সেন্টারের অধীনে থাকা আরবি পাণ্ডুলিপি নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত হতো। সেখানেই আমি 'ফাতহুল শাকুর' পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে ইংরেজিতে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা দেখতে পাই, যা লিখেছিলেন ইংরেজ মুসলিম অধ্যাপক জে. ও. হানউইক, যিনি ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নাম রেখেছিলেন আব্দুর রাজ্জাক হানউইক এবং তিনি ঐ গবেষণা কেন্দ্রের সচিব ছিলেন। তিনি এই প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে: এই গ্রন্থটি আহমদ বাবার 'নাইলুল ইবতিহাজ' এবং সাদীর 'তারিখুস সুদান' উভয় গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট হিসেবে বিবেচিত। এর দুটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে: একটি প্যারিসের ফরাসি ইনস্টিটিউট লাইব্রেরিতে একটি নির্দিষ্ট নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত, এবং অন্যটি মৌরিতানিয়ার নুওয়াকশুত-এর শায়খ আল-মুখতার উলদ হামেদুন-এর পাঠাগারে। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ এই দুটি পাণ্ডুলিপির দুটি মাইক্রোফিল্ম সংগ্রহ করেছে। এরপর তিনি উক্ত সংখ্যার শেষে ১৭ পৃষ্ঠার একটি আরবি সূচি প্রদান করেছেন যাতে গ্রন্থে উল্লিখিত ব্যক্তিদের নাম ও মৃত্যুসন অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সূচিটি পাঠ করার পর আমার কাছে এই পাণ্ডুলিপিটির বিষয়বস্তুর গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে, বিশেষ করে যে সময়ের ইতিহাস এটি বর্ণনা করে সেই সময়ে মরক্কো ও সাহারা অঞ্চলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে সাহারার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসমূহ এবং ফাস, মারাকেশ ও সুস-এর কেন্দ্রগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক, যা সাহারা ও এর দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামি আরবি সংস্কৃতি প্রসারে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল এবং তাদের সংস্কৃতিকে খাঁটি মরক্কান ছাঁচে রূপ দিয়েছিল। যেমনটি সুপরিচিত এবং যেমনটি বিজ্ঞ মিশরীয় পন্ডিত ডক্টর হাসান আহমদ মাহমুদ তার সমৃদ্ধ গ্রন্থ 'আল-ইসলাম ওয়াস সাকাফাতুল আরাবিয়্যাহ' তে বস্তুনিষ্ঠতা, বিস্তারিত বর্ণনা, সততা ও ন্যায়ের সাথে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٨)
في إفريقيا، القاهرة 1958، مكتبة النهضة المصرية ج أول، ص 489، وسنة 1963 دار النهضة العربية ص 516.
ولا أحصي كم بذلت خلال عدة سنوات من جهود مضنية للحصول على صورة للمخطوط لا فائدة من سردها هنا، وعندما نجحت في الحصول على شريط مفكك الأوصال عن مصور معهد لندرة، تبين لي بعد إخرجه على الورق أنه تنقصه كثير من الأوراق في محلات كثيرة، إلى جانب عدم إمكان ترتيب الموجود من أوراقه مع بعضها، لانعدام وجود ما يسميه الوراقون المغاربة بالرقاص، وهو الكلمة الأخيرة في الصفحة والتي تعاد في أوائل الصفحة الموالية.
ثم عندما حصلت على مصورة من مخطوط المعهد الفرنسي وجدت أن ناسخها أسقط من أثنائها ما يوازي 34 ورقة من مخطوطة نواق الشط، وهو نحو ثلث الكتاب.
وعندما عين الصديق الأستاذ قاسم الزهيري سفيرا للمغرب في نواق الشط زارني مودعا وسألني عما إذا كان لي غرض هناك، فحدثته بقصه فتح الشكور، فما عاد للمغرب إلا وهو يحمل - شكر الله له - مخطوطة الكتاب التي صور عنها شريط معهد لندن، وإذا بها ناقصة من أولها وآخرها وإذا بها قد ضاع منها أوراق كانت موجودة بها عند تصوير الشريط.
وهكذا تمكنت من إتمام مخطوطة الشيخ المختار ولد حامدون بإضافة ما ينقصها من الأول والأخير من مخطوطة المعهد الفرنسي وبإضافة الأوراق التي ضاعت منها بعد تصوير الشريط.
وعندما كان الأخ الدكتور محمد حجي يحضر أطروحة لنيل دكتوراه الدولة عن الحياة الثقافية في المغرب السعدي أعرته الكتاب ليستفيد منه في بحثه واتفقنا على التعاون على تحقيقه ونشره.
والتقيت في مؤتمر اتحاد كتاب المغرب العربي في طرابلس الغرب
আফ্রিকায়, কায়রো ১৯৫৮, মাকতাবাতুন নাহদাহ আল-মিসরিয়্যাহ ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮৯; এবং ১৯৬৩ সালে দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৫১৬।
পাণ্ডুলিপিটির একটি অনুলিপি পাওয়ার জন্য গত কয়েক বছরে আমি যে অমানুষিক পরিশ্রম করেছি তার ইয়ত্তা নেই, যা এখানে বর্ণনা করে কোনো লাভ হবে না। অবশেষে যখন আমি লন্ডনের একটি ইনস্টিটিউটের মাইক্রোফিল্ম থেকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি পেতে সফল হলাম, তখন কাগজে ছাপানোর পর আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, এর অনেক স্থানে প্রচুর পাতা নিখোঁজ রয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান পাতাগুলোও একটির সাথে আরেকটি ক্রমানুসারে সাজানো সম্ভব ছিল না; কারণ এতে তথাকথিত 'রাক্কাস' ছিল না—মরক্কোর লিপিকাররা পৃষ্ঠার শেষ শব্দটিকে পরবর্তী পৃষ্ঠার শুরুতে পুনরাবৃত্তি করাকে এই নামে অভিহিত করেন।
এরপর আমি যখন ফরাসি ইনস্টিটিউটের পাণ্ডুলিপি থেকে একটি অনুলিপি পেলাম, তখন দেখলাম যে এর লিপিকার নুয়াকশট পাণ্ডুলিপির প্রায় ৩৪টি পাতা বাদ দিয়ে দিয়েছেন, যা পুরো বইটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
যখন বন্ধু প্রফেসর কাসেম আজ-জুহাইরি নুয়াকশটে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হলেন, তিনি বিদায় নিতে আমার কাছে এলেন এবং সেখানে আমার কোনো বিশেষ প্রয়োজন আছে কি না তা জানতে চাইলেন। তখন আমি তাকে 'ফাতহুল শাকূর' গ্রন্থের কাহিনী শুনালাম। তিনি যখন মরক্কোতে ফিরে আসলেন, তখন তিনি সঙ্গে করে—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—বইটির সেই মূল পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে এলেন যেখান থেকে লন্ডন ইনস্টিটিউটের মাইক্রোফিল্মটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল যে, এটির শুরু এবং শেষ উভয় অংশই অপূর্ণ এবং মাইক্রোফিল্ম করার সময় যে পাতাগুলো বিদ্যমান ছিল, এখন সেগুলোও হারিয়ে গেছে।
এভাবে আমি শায়খ আল-মুখতার ওলদ হামদুন-এর পাণ্ডুলিপিটি পূর্ণ করতে সক্ষম হলাম। আমি এতে ফরাসি ইনস্টিটিউটের পাণ্ডুলিপি থেকে এর শুরুতে ও শেষে যা অপূর্ণ ছিল তা এবং মাইক্রোফিল্ম করার পর হারিয়ে যাওয়া পাতাগুলো যুক্ত করেছি।
আর যখন ভাই ড. মুহাম্মদ হাজ্জি সাদি মরক্কোর সাংস্কৃতিক জীবনের ওপর তার রাষ্ট্রীয় ডক্টরেট থিসিস প্রস্তুত করছিলেন, তখন আমি তাকে বইটি ধার দিয়েছিলাম যেন তিনি তার গবেষণায় এটি থেকে উপকৃত হতে পারেন। এবং আমরা এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছিলাম।
এবং আমি ত্রিপোলিতে মাগরেব লেখক ইউনিয়নের সম্মেলনে সাক্ষাৎ করেছি...
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٩)
سنة 1977 مع من أخبرني بوجود ثلاث مخطوطات من الكتاب بمركز المخطوطات العربيّة بنواق الشط، ووعدني بإرسال شريط منها، ولكنه كان وعد عرقوب. وعند عودتي للرباط أخبرت الدكتور محمد حجي فكتب لأحد طلبته الموريطانيين، وتوصلنا بالنسخة الثالثة.
ب - وصف نسخ المخطوطاتالنسخة الأولى، نسخة الشيخ المختار ولد حامدون بنواق الشط، تقع في 97 ورقة ومسطرتها 18 وقد ضاعت منها الورقة الأولى، والصفحات 66، 67، 68، 69، 70، 71، 190 و 191 و 192، كما أن الصفحات، 64، 65، 160، 161 ممزقة تمزيقا فادحا جعلها في حكم الضائعة. وهي بخط مغربي صحراوي واضح، كتبت فيه أسماء المترجمين وعناوين الحروف الهجائية بالأحمر أحيانا وبالأسود الغليظ أحيانا أخرى، وكذلك سنوات الوفيات بالأسود الغليظ دائما وتغلب عليها الصحة، ونظرا لضياع آخرها فأنا لا أعرف شيئا عن ناسخها ولا تاريخ نسخها.
والنسخة الثانية نسخة المعهد الفرنسي بباريس، تقع في 68 ورقة بخط مغربي جميل وواضح وهي خالية من تسمية الناسخ وتاريخ النسخ.
أما النسخة الثالثة فهي نسخة مركز المخطوطات العربية بنواق الشط، تقع في مائة صفحة، ومسطرتها 24 في الغالب، وتزيد أحيانا على ذلك حتى تبلغ 34 تامة لم يضع من أولها وآخرها شيء، كتبت بخط مغربي صحراوي مليح مدمج قليلا، أسماء المترجمين وعناوين الحروف الهجائية بلون مغاير، وفيها طرر قليلة مفيدة، ويشكل الناسخ - وهو صحراوي على ما يظهر - الكلمات الصعبة بالشكل التام، سواء منها الاعلام البشرية أو الجغرافية. . إلا أنه لم يذكر اسمه ولا تاريخ النسخ واكتفي في الأخير بكتابة هذه العبارة: «انتهت التراجم بحمد الله وحسن عونه، والحمد لله رب العالمين».
১৯৭৭ সালে এমন একজনের সাথে সাক্ষাৎ হয় যিনি আমাকে নুয়াকশতের আরবি পাণ্ডুলিপি কেন্দ্রে এই বইটির তিনটি পাণ্ডুলিপি থাকার কথা জানিয়েছিলেন এবং আমাকে তার একটি মাইক্রোফিল্ম পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটি ছিল আরকুবের প্রতিশ্রুতির মতো (মিথ্যা প্রতিশ্রুতি)। যখন আমি রাবাতে ফিরে এলাম, ডক্টর মুহাম্মদ হাজ্জীকে বিষয়টি জানালাম। তিনি তাঁর মৌরিতানীয় এক ছাত্রের কাছে লিখলেন এবং আমরা তৃতীয় অনুলিপিটি পেলাম।
খ - পাণ্ডুলিপির অনুলিপিগুলোর বিবরণপ্রথম অনুলিপিটি হলো নুয়াকশতের শায়খ আল-মুখতার উলদ হামদুনের কপি। এটি ৯৭টি ফর্মার সমন্বয়ে গঠিত এবং এর প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা ১৮। এর প্রথম পাতাটি হারিয়ে গেছে, এবং ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১, ১৯০, ১৯১ ও ১৯২ নম্বর পৃষ্ঠাগুলোও নিখোঁজ। এছাড়া ৬৪, ৬৫, ১৬০ ও ১৬১ নম্বর পৃষ্ঠাগুলো এমন মারাত্মকভাবে ছিঁড়ে গেছে যে সেগুলো হারিয়ে যাওয়ার শামিল। এটি স্পষ্ট মাগরেবি সাহারা লিপিতে লিখিত। এতে জীবনীকারদের নাম এবং বর্ণানুক্রমিক শিরোনামগুলো কখনও লাল রঙে এবং কখনও মোটা কালো অক্ষরে লেখা হয়েছে। একইভাবে মৃত্যুর সালগুলো সর্বদা মোটা কালো অক্ষরে লেখা হয়েছে এবং এটি সাধারণত নির্ভুল। এর শেষ অংশ হারিয়ে যাওয়ার কারণে আমি এর অনুলিপিকারক বা অনুলিপি করার তারিখ সম্পর্কে কিছুই জানি না।
দ্বিতীয় অনুলিপিটি হলো প্যারিসের ফরাসি ইনস্টিটিউটের কপি। এটি ৬৮টি ফর্মার সমন্বয়ে গঠিত, যা সুন্দর ও স্পষ্ট মাগরেবি লিপিতে লিখিত। এতে অনুলিপিকারকের নাম এবং অনুলিপি করার তারিখ উল্লেখ নেই।
আর তৃতীয় অনুলিপিটি হলো নুয়াকশতের আরবি পাণ্ডুলিপি কেন্দ্রের কপি। এটি একশত পৃষ্ঠার এবং এর প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা সাধারণত ২৪। কখনও কখনও এটি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ পর্যন্ত পৌঁছায়। এর শুরু বা শেষ থেকে কিছুই হারিয়ে যায়নি। এটি সামান্য ঠাসা ও সুন্দর মাগরেবি সাহারা লিপিতে লিখিত। জীবনীকারদের নাম এবং বর্ণানুক্রমিক শিরোনামগুলো ভিন্ন রঙে দেওয়া হয়েছে। এতে কিছু সংক্ষিপ্ত ও উপকারী টীকা রয়েছে। অনুলিপিকারক—যিনি দৃশ্যত একজন সাহারাবাসী—কঠিন শব্দগুলোতে পূর্ণ হরকত প্রদান করেছেন, তা হোক ব্যক্তির নাম কিংবা ভৌগোলিক স্থানের নাম। তবে তিনি তাঁর নাম বা অনুলিপি করার তারিখ উল্লেখ করেননি এবং শেষে শুধুমাত্র এই বাক্যটি লিখেই ক্ষান্ত হয়েছেন: «আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর উত্তম সাহায্যের মাধ্যমে জীবনীগুলো সমাপ্ত হলো, আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য»।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ج - الطابع المغربي للثقافة العربية في بلاد التكروريتجلى هذا الطابع في مظاهر متعددة:
1) - كتابة الكتروريين على طريقة المغاربة في الخط وإعجام الحروف وترتيبها، وعلى ذلك سار المؤلف، في فتح الشكور، ونبه عليه في المقدمة.
2) - في عقيدتهم الاشعرية، ومذهبهم المالكي، وانتمائهم لطريقة الجنيد.
3) - وإذا نحن رجعنا إلى كتب الدراسة عندهم، فإننا نجدها في الأغلب الأعم نفس كتب الدراسة في فاس وفي تونس وفي القاهرة، وهي في المشرق وفي المغرب لمؤلفين مشارقة وآخرين مغاربة، إذ لم تكن لها صبغة إقليمية كما هو معلوم، باستثناء بعض الكتب التي انفردت بعض المراكز بدراستها، وكذلك هم انفردوا بدراسة كتب قليلة.
ونجد من المؤلفات، الدراسية المغربية عندهم:
الشفا للقاضي عياض، وهو كتاب ملأ فراغا في المكتبة الإسلامية في العالم الإسلامي كله لم يملأه سواه. ودلائل الخيرات للجزولي، ومقدمة ابن آجروم، وشرح المكودي على ألفية ابن مالك، والبسط والتعريف في علم التصريف للمكودي أيضا، ولامية ابن المجراد السلوي في الجمل والمرشد المعين لابن عاشر الفاسي، ولامية الزقاق، والمنهج المنتخب في قواعد المذهب للزقاق أيضا، وشرح الشريف السبتي على الخزرجية في العروض، والدرر اللوامع في قراءة نافع لابن بري، وإضاءة الدجنة، في عقائد أهل السنة لأحمد المقري، والطرفة في مصطلح الحديث، لمحمد العربي الفاسي ونظم أبي مقرع، في التوقيت، ونظم
গ - তকরুর অঞ্চলে আরবি সংস্কৃতির মাগরেবি বৈশিষ্ট্যএই বৈশিষ্ট্যটি বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশ পায়:
১) - হস্তলিপি, বর্ণের নুকতা প্রদান ও তা বিন্যাসের ক্ষেত্রে তকরুরবাসীদের মাগরেবি (মরক্কী) পদ্ধতি অনুসরণ করা। 'ফাতহুল শাকুর' গ্রন্থে লেখক এই পথই অবলম্বন করেছেন এবং ভূমিকার শুরুতে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
২) - তাদের আশআরী আকিদা, মালিকি মাজহাব এবং জুনায়েদ বাগদাদীর তরিকাপন্থী হওয়ার ক্ষেত্রে।
৩) - আমরা যদি তাদের পাঠ্যপুস্তকগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখতে পাবো যে সেগুলোর অধিকাংশই ফেজ, তিউনিসিয়া ও কায়রোতে পঠিত বইগুলোর অনুরূপ। মাশরিক (পূর্ব) ও মাগরিব (পশ্চিম) উভয় অঞ্চলেই এই বইগুলো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের লেখকদের দ্বারা রচিত, কারণ জানা কথা যে সেগুলোর কোনো আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা ছিল না। তবে কিছু নির্দিষ্ট বই ব্যতিক্রম ছিল যা কেবল নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে অধ্যয়ন করা হতো, তেমনিভাবে তারাও অল্প কিছু স্বতন্ত্র বই অধ্যয়ন করতেন।
তাদের কাছে থাকা মাগরেবি পাঠ্যবইগুলোর মধ্যে আমরা পাই:
কাজী আয়াজের ‘আশ-শিফা’, যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ইসলামি লাইব্রেরিগুলোর এমন এক শূন্যতা পূরণ করেছে যা অন্য কোনো গ্রন্থ পারেনি। জাজুলির ‘দালাইলুল খাইরাত’, ইবনে আজুরুমের ‘মুকাদ্দিমা’, ইবনে মালিকের ‘আলফিয়্যাহ’-এর ওপর মাকুদির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইলমে তাসরিফের ওপর মাকুদির ‘আল-বিস্ত ওয়াত তারিফ’, বাক্যতত্ত্ব (জুমাল) বিষয়ক ইবনুল মাজরাদ আস-সালাওয়ির ‘লামিয়্যাহ’, ইবনে আশির আল-ফাসির ‘আল-মুরশিদ আল-মুইন’, জু কাকের ‘লামিয়্যাহ’, মাজহাবের মূলনীতির ওপর জু কাকের ‘আল-মানহাজ আল-মুনতাখাব’, ইলমে আরুজের ওপর খাজরাজিয়্যাহ গ্রন্থের জন্য শরীফ আস-সাবতির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইমাম নাফে’র কিরাত বিষয়ক ইবনে বাররির ‘আদ-দুরার আল-লাওয়ামি’, আহলে সুন্নতের আকিদা বিষয়ক আহমদ আল-মাক্কারির ‘ইদাআতুদ দুজুন্নাহ’, ইলমে হাদিসের পরিভাষা বিষয়ক মুহাম্মদ আল-আরাবি আল-ফাসির ‘আত-তুফাহ’ এবং সময় নির্ণয় (তাওকিত) বিষয়ক আবু মিকরার কাব্যগ্রন্থ।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١١)
المقنع للمرغيثي وشرح الحكم العطائية للشيخ زورق الفاسي، والمدخل لابن الحاج الفاسي، وجامع المعيار للونشريسي.
4) - ومن المراجع المغربية كذلك عندهم:
شرح أبي الحسن الصغير الفاسي على المدونة، وكتاب المراصد في التوحيد لمحمد العربي الفاسي، ومنظومة الذكاة له، ونوازل عبد القادر الفاسي، ونظم العمل الفاسي وشرحه لولده أبي زيد، وتكميل المرام في شرح شواهد ابن هشام لمحمد بن عبد القادر الفاسي، ومطالع المسرات في شرح دلائل الخيرات للمهدي الفاسي، والأنوار السنية للشريف أحمد بن محمد بن أحمد، ورحلة ابن بطوطة، ونوازل الورزازي، وفهرست ابن يعقوب الولالي المراكشي، وإشراق البدر على عدد أهل بدر لأحمد بن علي السوسي، ومختصر أبي عبد الله الفلالي، ونظم الدول للفاسي.
5) - وإلى جانب دراسة التكروربين لمؤلفات المغاربة وروايتهم لها بالسند والإعتماد وقد وضعوا الشروح والحواشي والتعاليق على بعضها أو اختصروها، وهكذا نجد الشريف محمد بن الإمام أحمد الإدريسي قد شرح كتاب البسط والتعريف للمكودي، وشرح عبد الله بن محمد البوحسني إضاءة الدجنة للمقري، وابن الحاج لمين التواتي الغلاوي نظم المقنع لابن سعيد المرغيثي السوسي بشرح سماه كشف الغمة في نفع الأمة. وشرح الآجرومية كل من: عبد الله اند عبد الله بن أحمد الولاتي، والقاضي أحمد بن اندغمحمد بالفتوح القومية، ونضيف أن هذا الشرح كان من كتب الدراسة بالقرويين بفاس وطبع بها مرتين. إحداهما بحاشية الشيخ المهدي الوزاني. كما أن شيخنا العلامة محمد بن عبد المجيد أقصبي له حاشية عليه، وقد نظم الحاج أحمد بن اند عبد الله بن علي الولاتي ثم المحجوبي أسماء النبي صلى الله عليه وسلم الواردة في دلائل الخيرات، وشرح قاضي ولاته اند عبد الله بن أحمد لولاتي المحجوبي لامية الزقاق بمجلد ضخم
মারগিসি-র আল-মুকনি এবং শাইখ জাররুক আল-ফাসি কর্তৃক আল-হিকাম আল-আতাইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা, এবং ইবনুল হাজ আল-ফাসি-র আল-মাদখাল এবং আল-ওয়ানশারিসি-র জামি আল-মিইয়ার।
৪) - এবং তাদের কাছে মরক্কোর আরও কিছু উৎসগ্রন্থ হলো:
আল-মুদাওয়ানাহ-এর ওপর আবুল হাসান আস-সগির আল-ফাসি-র ব্যাখ্যা, এবং মুহাম্মদ আল-আরাবি আল-ফাসি-র তাওহীদ বিষয়ক গ্রন্থ আল-মারাসিদ, এবং তাঁরই রচিত যাকাত বিষয়ক পদ্য, এবং আব্দুল কাদির আল-ফাসি-র নাওয়াযিল, এবং আল-আমাল আল-ফাসি-র কাব্যরূপ ও তাঁর পুত্র আবু যায়েদ কর্তৃক এর ব্যাখ্যা, এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাদির আল-ফাসি-র রচিত ইবনে হিশাম-এর উদ্ধৃতিসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাকমিলুল মারাম, এবং আল-মাহদি আল-ফাসি-র দলাইলুল খাইরাত-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ মাতালিউল মাসাররাত, এবং শরিফ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদের আল-আনওয়ার আস-সানিয়্যাহ, এবং ইবনে বতুতার সফরনামা, এবং আল-ওয়ারযাযি-র নাওয়াযিল, এবং ইবনে ইয়াকুব আল-ওয়ালালি আল-মাররাকুশি-র কিতাব তালিকা, এবং আহমদ বিন আলী আস-সুসি-র বাদ্রের যোদ্ধাদের সংখ্যা বিষয়ক গ্রন্থ ইশরাকুল বাদ্র, এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-ফিলালি-র সারসংক্ষেপ, এবং আল-ফাসি-র নাজমুদ দুওয়াল।
৫) - মরক্কোর পণ্ডিতদের রচনাবলি নিয়ে তাকরুরিদের অধ্যয়ন এবং সনদ ও নির্ভরযোগ্যতার সাথে তা বর্ণনা করার পাশাপাশি, তারা এগুলোর ওপর ব্যাখ্যা, টীকা ও পাদটীকা লিখেছেন অথবা সেগুলোকে সংক্ষেপ করেছেন। যেমন আমরা দেখি, শরিফ মুহাম্মদ বিন ইমাম আহমদ আল-ইদরিসি আল-মাকুদি-র গ্রন্থ আল-বাসত ওয়াত-তারিফ-এর ব্যাখ্যা লিখেছেন, এবং আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বুহাসানি আল-মাক্কারি-র ইদাআতুদ দুজান্নাহ-এর ব্যাখ্যা লিখেছেন, এবং ইবনুল হাজ লামিন আত-তুয়াতি আল-গালাওয়ি ইবনে সাঈদ আল-মারগিসি আস-সুসি-র নাজমুল মুকনি-র একটি ব্যাখ্যা লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন কাশফুল গুম্মাহ ফি নাফইল উম্মাহ। আর আল-আজরুমিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা করেছেন: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-ওয়ালাতি এবং বিচারক আহমদ বিন আন-দাগমুহাম্মাদ তাঁর আল-ফুতুহুল কাওমিয়্যাহ গ্রন্থের মাধ্যমে; উল্লেখ্য যে, এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ফেজ শহরের আল-কারাউয়িয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সেখানে এটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে। যার একটি ছিল শাইখ আল-মাহদি আল-ওয়াযযানি-র টীকাসহ। একইভাবে আমাদের শাইখ আল্লামা মুহাম্মদ বিন আব্দুল মাজিদ আকসাবি-রও এর ওপর একটি টীকা রয়েছে। আর হাজ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-ওয়ালাতি আল-মাহজুবি দলাইলুল খাইরাত-এ বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামসমূহ কাব্যাকারে সংকলন করেছেন এবং ওয়ালাতাহ-র বিচারক আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-ওয়ালাতি আল-মাহজুবি এক বিশাল খণ্ডে লামিয়াতুজ যুকাক-এর ব্যাখ্যা লিখেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١٢)
سماه فك الوثاق على لامية الزقاق، وشرح عبد الله بن أحمد بن المصطفى الغلاوي الأحمدي الشنجيطي الدرر اللوامع لابن بري، واختصرها في نظم جرى فيه على ما به الأخذ، ثم شرحه، كما نظم نوازل الوزاني وشرح اليوسفية فيما قبل؛ ونظم أحمد بن محمد بن موسى بن ايجل الزيدي وفيات التكروريين على روي الوفيات الفشتالية. وهناك غيره كثير من الصحراويين المعجبين بوفيات الفشتالي ينظمون أبياتا على نظمها في تراجم الشيوخ.
6) - وفي ميدان الأسانيد نجد - مثلا - شيخ الجماعة ببلاد التكرور أبا عبد الله محمد بن المختار بن الأعمش يجيز تلميذه محمد بن الحاج عثمان الجماني بقراءة نافع، كما أجازه الحاج المختار بن محمد، عن الإمام المحقق أستاذ المغرب كله بل أستاذ الدنيا كلها - حسب عبارته - أبي زيد عبد الرحمن بن القاسم ابن القاضي الفاسي، عن شيخه عبد الرحمن بن عبد الواحد عن الشريف المريني، عن القاسم بن إبراهيم الدكالي، عن الإمام ابن غازي، عن الصغير، عن أبي العباس أحمد الفلالي، عن أبي عبد الله الفخار، عن أبي العباس أحمد الزواوي، عن أبي الحسن بن سليمان الخ. وأجازه أن يروي عنه كتاب الشفا بتعريف حقوق المصطفى صلى الله عليه وسلم للقاضي عياض، كما سمعه منه بحق إجازته عن الحاج عبد الله بن محمد بن أحمد بن عيسى المغربي (البوحسني) عن الإمام الحافظ الجليل ذي التصانيف العجيبة ابي عبد الله محمد بن محمد بن أبي بكر الدلائي، عن والده عن الإمام محمد بن قاسم بن محمد بن علي القيسي الغرناطي الفاسي الشهير بالقصار الخ. وأخذ أحمد الشواف الوداني المصافحة والمشابكة سلسلة عن شيخه أحمد بن محمد بن خالد الجرسيفي السوسي عن أحمد بن أبي القاسم بن عبد الله الجرسيفي، عن سعيد بن عبد الله التملي عن عبد الرحمان بن محمد التلمساني نزيل تارودانت قاعدة السوس الأقصى، عن يحيى بن عبد الله بن
তিনি এর নামকরণ করেছেন 'ফাক্কুল উসাক আলা লামিয়াতিল জাক্কাক'। আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনুল মুস্তফা আল-গালাউয়ি আল-আহমাদি আশ-শিনকিতি ইবনে বাররির 'আদ-দুরারুল লাওয়ামি'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন এবং একে এমন এক কাব্যরূপে সংক্ষিপ্ত করেছেন যাতে অনুসৃত মতের প্রতিফলন ঘটেছে, অতঃপর তারও ব্যাখ্যা করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি ওয়াজ্জানির 'নাওয়াজিল' কাব্যিক রূপ দেন এবং 'ইউসুফিয়া'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখেন। আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে ইজল আজ-জাইদি 'ফিশতালি'-এর মৃত্যুসংবাদ বা জীবনীগ্রন্থের (ওয়াফিয়াত) ছন্দে তাকরুরিদের জীবনী (ওয়াফিয়াতুল তাকরুরিয়্যিন) রচনা করেন। সাহারা অঞ্চলের আরও অনেক আলিম রয়েছেন যারা ফিশতালির জীবনীগ্রন্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শায়খদের জীবনী বর্ণনায় এর ছন্দে কবিতা রচনা করেছেন।
৬) - সনদ বা বর্ণনাসূত্রের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই - উদাহরণস্বরূপ - তাকরুর ভূখণ্ডের শাইখুল জামায়াত আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল মুখতার ইবনুল আমাশ তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ ইবনুল হাজ উসমান আল-জুমানিকে নাফে-এর কিরাত পাঠের অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেন। অনুরূপভাবে তাকে হাজ মুখতার ইবনে মুহাম্মদ অনুমতি প্রদান করেন, যিনি অনুমতি পেয়েছেন ইমাম মুহাক্কিক, সমগ্র মরক্কোর উস্তাদ বরং তাঁর ভাষায় সমগ্র বিশ্বের উস্তাদ - আবু যায়েদ আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম ইবনুল কাজি আল-ফাসি থেকে; তিনি তাঁর শায়খ আবদুর রহমান ইবনে আবদুল ওয়াহিদ থেকে; তিনি শরিফ আল-মারিনি থেকে; তিনি কাসিম ইবনে ইবরাহিম আদ-দুক্কালি থেকে; তিনি ইমাম ইবনে গাজি থেকে; তিনি আস-সাগির থেকে; তিনি আবুল আব্বাস আহমদ আল-ফিলালি থেকে; তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-ফাখখার থেকে; তিনি আবুল আব্বাস আহমদ আজ-জাওয়াবি থেকে; তিনি আবুল হাসান ইবনে সুলায়মান প্রমুখ থেকে। এবং তিনি তাঁকে কাজী আইয়াজ রচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকারের পরিচায়ক 'আশ-শিফা' কিতাবটি তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করেন, যেভাবে তিনি তাঁর কাছ থেকে শুনেছেন; তিনি এর বর্ণনার ইজাজত পেয়েছেন হাজ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ঈসা আল-মাগরিবি (আল-বুহাসনি) থেকে; তিনি মহান হাফিজ ও বিস্ময়কর সব কিতাবের রচয়িতা ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আদ-দিলায়ি থেকে; তিনি তাঁর পিতা থেকে; তিনি আল-কাসসার নামে প্রসিদ্ধ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-কাইসি আল-গারনাতি আল-ফাসি প্রমুখ থেকে। এবং আহমদ আশ-শাওয়াফ আল-ওয়াদানি মুসাফাহা (করমর্দন) এবং মুশাবাকা (আঙ্গুলে আঙ্গুল মেলানো)-এর ধারাবাহিক সিলসিলা গ্রহণ করেন তাঁর শায়খ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল-জারসিফি আস-সুসি থেকে; তিনি আহমদ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-জারসিফি থেকে; তিনি সাঈদ ইবনে আবদুল্লাহ আত-তামলি থেকে; তিনি সুস আল-আকসার রাজধানী তারুদান্তের বাসিন্দা আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আত-তিলিমসানি থেকে; তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে... থেকে।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١٣)
سعيد بن عبد المنعم الحاحي المناني، عن أحمد بن محمد بن أحمد بن ءادفال السوساني الدرعي الخ وهؤلاء كلهم مغاربة.
7) - ومن مظاهر ذلك أيضا الرحلة لطلب العلم.
فعبد الرحمن التميمي المكي نزيل تمبكتو رحل إلى فاس لدراسة الفقه المالكي ثم عاد إلى تمبكتو، وأخذ أبو بكر التواجيوي عن أحمد الحبيب اللمطي السجلماسي، ورحل عبد الله بن بكر انتواجيوي عن أحمد الحبيب اللمطي السجلماسي؛ ورحل عبد الله بن أبي بكر التواجيوي إلى أحمد الحبيب وقرأ عليه وأتى بخزانة نفيسة. كما رحل عمر الخطاب البرتلي لزيارته أيضا. وأخذ عبد الله بن حم بن القاضي عبد الله الشنجيطي عن عدة من الأشياخ الجلة الذين أدركهم في المغرب الأقصى وسوس الأدنى، كأبي مدين القاضي الأكبر، وأحمد بن يعقوب الولالي، وتقدم قريبا ذكره.
وأخذ أحمد الشواف الواداني المصافحة والمشابكة مسلسلة عن شيخه أحمد بن محمد بن خالد الجرسيفي. وصحب أبو بكر بن الحاج عيسى بن أبي هريرة الغلاوي الشيخ أحمد بن محمد ابن ناصر في رحلته للحج، وأخذ عنه الورد، وكان يصلي به، ونهاه عن شرب الدخان فتخلى عن شربه.
ورحل عبد الله بن عبد الرحمن الشمشاوي الديماني الونكلي إلى الخليفة سيدي محمد بن مولاي عبد الله بن مولاي إسماعيل لطلب الكتب، فاختبره في العلم فأعجبه وعظمه وأعطاه خزانة كتب كبيرة نفيسة جدا. - وهو صاحب مراقي السعود المطبوع بالمغرب مرتين.
ولعبد الله بن معمر بن القاضي عبد الله الشنجيطي العلوي قصيدة في مدح مولاي محمد العالم بن أمير المؤمنين مولاي إسماعيل.
وذكر المؤلف أن أحمد الشواف بن حبيب الله الواداني الحاجي
সাঈদ বিন আব্দুল মুনয়িম আল-হাহি আল-মান্নানি, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আদফাল আস-সুসানি আদ-দারয়ি প্রমুখ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তারা সকলেই মরক্কোবাসী ছিলেন।
৭) - এরই একটি বহিঃপ্রকাশ হলো ইলম অন্বেষণের জন্য সফর করা।
সুতরাং মক্কী আবদুর রহমান আত-তামিমি, যিনি তিম্বাকতুতে বসবাস করতেন, তিনি মালিকি ফিকহ অধ্যয়নের জন্য ফেজ শহরে পাড়ি জমান এবং এরপর তিম্বাকতুতে ফিরে আসেন। আবু বকর আত-তাওয়াজিওয়ি আহমদ আল-হাবিব আল-লামতি আস-সিজিলমাসি থেকে (জ্ঞান) অর্জন করেছেন। আব্দুল্লাহ বিন বকর আত-তাওয়াজিওয়িও আহমদ আল-হাবিব আল-লামতি আস-সিজিলমাসির উদ্দেশ্যে সফর করেন। আর আব্দুল্লাহ বিন আবি বকর আত-তাওয়াজিওয়ি আহমদ আল-হাবিবের নিকট সফর করেন এবং তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেন ও একটি মূল্যবান কুতুবখানা সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। তদ্রূপ উমর আল-খাত্তাব আল-বারতালিও তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সফর করেছিলেন। আর আব্দুল্লাহ বিন হাম বিন আল-কাদি আব্দুল্লাহ আশ-শিনকিতি মাগরিবুল আকসা এবং সুসুল আদনা-তে প্রাপ্ত বেশ কয়েকজন প্রবীণ শায়খদের থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যেমন আবু মাদইয়ান আল-কাদি আল-আকবার এবং আহমদ বিন ইয়াকুব আল-ওয়ালালি, যাঁর কথা ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।
এবং আহমদ আশ-শাওয়াফ আল-ওয়াদানি তাঁর শায়খ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন খালিদ আল-জারসিফি থেকে মুসাফাহা এবং মুশাবাকা এর মুসালসাল হাদিস গ্রহণ করেন। আর আবু বকর বিন আল-হাজ ঈসা বিন আবি হুরায়রা আল-গালাওয়ি হজের সফরে শায়খ আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনে নাসেরের সাহচর্য লাভ করেন এবং তাঁর থেকে ওজিফা গ্রহণ করেন। তিনি তাঁকে সাথে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। শায়খ তাঁকে ধূমপান করতে নিষেধ করেছিলেন, ফলে তিনি তা বর্জন করেন।
এবং আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আশ-শামশাভি আদ-দাইমানি আল-ওয়াংকালি কিতাব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে খলিফা সিদি মুহাম্মদ বিন মুলাই আব্দুল্লাহ বিন মুলাই ইসমাইলের নিকট সফর করেন। তিনি তাঁর জ্ঞান পরীক্ষা করেন এবং তাঁর পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং একটি বিশাল ও অত্যন্ত মূল্যবান কুতুবখানা প্রদান করেন। - তিনি ‘মারাকিস সুউদ’ কিতাবটির রচয়িতা, যা মরক্কোতে দুইবার মুদ্রিত হয়েছে।
আর আব্দুল্লাহ বিন মুয়াম্মার বিন আল-কাদি আব্দুল্লাহ আশ-শিনকিতি আল-আলাওয়ির একটি কাসিদা রয়েছে যা তিনি আমিরুল মুমিনিন মুলাই ইসমাইলের পুত্র মুলাই মুহাম্মদ আল-আলিমের প্রশংসায় রচনা করেছেন।
এবং লেখক উল্লেখ করেছেন যে, আহমদ আশ-শাওয়াফ বিন হাবিবুল্লাহ আল-ওয়াদানি আল-হাজিও...
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الوتيدي أخبر في وادان بموت أمير المؤمنين إسماعيل في اليوم الذي مات فيه. كما ذكر المؤلف في ترجمة المختار بن سعيد المعروف بابن بون الجكاني، أنه لما ظهرت مقالات المجيدري بالمغرب الأقصى رد عليه وأنكرها.
والمجيدري هذا هو محمد بن حبيب الله المجيدري الشنجيطي، كان داعية للعمل بالقرآن والحديث ونبذ التقليد المذهبي، ولم يترجمه صاحب فتح الشكور، لأنه لم يعتبره من أعيان العلماء، وإن كان قد ورد ذكره عنده كثيرا أثناء تراجم معاصريه الذين ردوا عليه.
وترجمه أحمد بن الأمين الشنجيطي في الوسيط في تراجم أدباء شنجيط (ص 214 - 216) فقال عنه: إنه العالم الوحيد، الذي ما له من نديد، وإنه اتصل بالسلطان سيدي محمد بن عبد الله ونال الحظوة عنده.
انتهى. ومدحه المأمون بن محمد الصوفي اليعقوبي بقصيدة طنانة وصفه فيها بالمجدد ونوه بما حازه من تقدير في المشرق وقال بعد ما أشاد بفاس وأهلها الذين عرفوا فضله ونوهوا به.
بلاه أمير المؤمنين محمد
… وعاشره بالبحث حينا من الدهر
وقد كان للإسلام بالنهج راعيا
… وناهيك من ذي فطنة عالم حر
فنادى عليه في نوادي حضاره
… بما ضمن استحقاقة رتبة الصدر
8) - وأخذ الحاج أحمد بن علي بن الطالب الوافي الغلاوي الطريقة الناصرية الغازية عن أحمد بن عبد القادر. وممن أخذها عنه هو الطالب الأمين بن الطالب الحبيب، والفقيه محمد بن الطالب أعمر البرتلي.
وفي الكتاب ترجمة حافلة للشيخ مولاي عبد المالك بن مولاي عبد الله الركاني الناصري الطريقة. ولمولاي زيدان بن محمد بن أحمد الذي قدم إلى بلاد التكرور أربع مرات داعيا لشيخه مولاي عبد المالك الركاني، وكان مؤلف الكتاب نفسه منتسبا لهذه الطريقة.
আল-ওয়াতীদি ওয়াদানে আমীরুল মুমিনীন ইসমাইলের মৃত্যুর দিনে তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ প্রদান করেন। যেমনটি লেখক মুখতার ইবনে সাঈদ—যিনি ইবনে বুন আল-জাকানি নামে পরিচিত—তার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, যখন সুদূর মরক্কোতে (আল-মাগরিব আল-আকসা) আল-মাজিদরির প্রবন্ধসমূহ প্রকাশিত হয়, তখন তিনি তার প্রতিবাদ করেন এবং সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেন।
আর এই মাজিদরি হলেন মুহাম্মদ ইবনে হাবিবুল্লাহ আল-মাজিদরি আল-শিনকিতী। তিনি কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী আমল করা এবং মাযহাবী তাকলীদ বর্জনের আহ্বান জানাতেন। 'ফাতহুল শাকুর'-এর লেখক তার জীবনী উল্লেখ করেননি, কারণ তিনি তাকে বিশিষ্ট আলেমদের অন্তর্ভুক্ত মনে করেননি, যদিও তার সমসাময়িক আলেমদের জীবনী বর্ণনায় তার কথা বারবার এসেছে যারা তার প্রতিবাদ করেছিলেন।
আহমদ ইবনে আল-আমীন আল-শিনকিতী 'আল-ওয়াসীত ফী তারাজিম আদাবা শিনকিত' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২১৪ - ২১৬) তার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি এক অনন্য আলেম, যার কোনো সমকক্ষ নেই। তিনি সুলতান সিদি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন এবং তাঁর নিকট বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন।
সমাপ্ত। আল-মামুন ইবনে মুহাম্মদ আল-সুফী আল-ইয়াকুবী একটি উচ্চাঙ্গের কবিতার মাধ্যমে তার প্রশংসা করেছেন, যেখানে তিনি তাকে মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং প্রাচ্যে তিনি যে সম্মান লাভ করেছেন তার উল্লেখ করেছেন। ফাস এবং সেখানকার অধিবাসীদের প্রশংসা করার পর—যারা তার মর্যাদা অনুধাবন করেছিলেন এবং তার প্রশংসা করেছিলেন—তিনি বলেন:
আমীরুল মুমিনীন মুহাম্মদ তাকে পরীক্ষা করেছেন
… এবং দীর্ঘকাল গবেষণার মাধ্যমে তার সাথে সময় অতিবাহিত করেছেন।
ইসলামের সঠিক পথের জন্য তিনি ছিলেন একজন পাহারাদার
… আর একজন সচেতন স্বাধীন আলেমের পরিচয় হিসেবে এটাই আপনার জন্য যথেষ্ট।
তিনি তার রাজদরবারের মজলিসে তাকে উচ্চাসনে ঘোষণা করেছিলেন
… যা তার উচ্চ মর্যদাসম্পন্ন পদের যোগ্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
৮) - এবং আল-হাজ আহমদ ইবনে আলী ইবনে আল-তালিব আল-ওয়াফী আল-গালাওয়ী, আহমদ ইবনে আব্দুল কাদির থেকে তরীকা নাসীরিয়্যাহ গাযিয়্যাহ গ্রহণ করেন। আর যারা তার নিকট থেকে এটি গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল-তালিব আল-আমীন ইবনে আল-তালিব আল-হাবীব এবং ফকীহ মুহাম্মদ ইবনে আল-তালিব আম্মার আল-বার্তালি।
এবং এই কিতাবে তরীকা নাসীরিয়্যাহর শেখ মাওলাই আব্দুল মালিক ইবনে মাওলাই আব্দুল্লাহ আল-রুকানির একটি বিস্তারিত জীবনী রয়েছে। আরও রয়েছে মাওলাই যায়দান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদের কথা, যিনি তাঁর শায়খ মাওলাই আব্দুল মালিক আল-রুকানির দাওয়াত নিয়ে চারবার বিলেদুত তাকরুর (তাকরুর অঞ্চল) সফর করেছিলেন। এই গ্রন্থের লেখক নিজেও এই তরীকার অনুসারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١٥)
9) - ومن المترجمين في الكتاب من المغاربة:
أحمد البكاي بن محمد الكنتي، الذي يذكر الشيخ المختار الكنتي في كتابه الإرشاد وولده محمد في كتابه الطريقة أنه أول من انتقل من جدودهم من المغرب إلى الصحراء؛ وأحمد بابا التنبكتي، ومن المعلوم أنه عاش بمراكش مدة، ودرس فيها وأفتى وألف كثيرا من مؤلفاته، ومنها نيل الإبتهاج وكفاية المحتاج الذين ألفهما برسم خزانة السلطان أحمد المنصور السعدي؛ وأحمد التواتي والحاج أحمد الأمين التواتي، والفقيه أبو القاسم التواتي، وعلي الجزولي إمام مسجد تمبكتو، ومحمد بن عثمان بن عمر الولي دفين تارودانت قاعدة السوس الأقصى، وحرمة بن عبد الجليل بن القاضي العلوي المغربي، وابن بطوطة، والشريف محمد السني السجلماسي، والشريف محمد بن الإمام أحمد الحسني الإدريسي، وعبد الله بن محمد البوحسيني المغربي، والشريف المختار بن أحمد الإدريسي، وعبد الله بن محمد بهوجني المغربي، ومحمود بن عمر أقيت، وعمر بن الحاج أحمد أقيت، وعمر بن محمود أقيت، وعبد الرحمان بن محمود بن عمر، وأربعتهم مدفونون بمراكش، ومحمد بن الحاج عبد الله العلوشي المدرس بمراكش ودفينها.
وبلغ المؤلف قمة الطرافة عندما ترجم بين أعيان علماء التكرور أعلام الأسرة الفاسية الفهرية: أبي المحاسن، وولده محمد العربي، وأبي السعود، وولده أبي زيد، ومحمد المهدي، وقال إنه أراد بالترجمة لهم التبرك بذكرهم.
10) - وترد في الكتاب أسماء كثير من المغاربة، كعلي بن عبد الواحد الأنصاري السجلماسي، وعبد السلام بن مشيش، ومحمد بن سليمان الجزولي، ومحمد ميارة الفاسي، والحاج أحمد بن الحاج محمد مهدي التواتي ثم المراكشي، ومحمد الأمين بن عبد الوهاب الفلالي، ومحمد ابن أبي زيان، والإمام الزموري، ومبارك الغبري، وزيان
৯) - গ্রন্থটিতে উল্লেখিত মরক্কো অঞ্চলের জীবনীকারদের মধ্যে রয়েছেন:
আহমদ আল-বাক্কাই বিন মুহাম্মদ আল-কুনতি, যাঁর সম্পর্কে শায়খ আল-মুখতার আল-কুনতি তাঁর 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থে এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মদ তাঁর 'আত-তরিকা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনিই তাঁদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যিনি মরক্কো থেকে সাহারা অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন; এবং আহমদ বাবা আত-তিম্বুকতি, যা সুবিদিত যে তিনি দীর্ঘকাল মারাক্কেশে বসবাস করেছেন এবং সেখানে শিক্ষকতা করেছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং তাঁর অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন; যার মধ্যে 'নাইলুল ইবতিহাজ' এবং 'কিফায়াতুল মুহতাজ' অন্যতম, যা তিনি সুলতান আহমদ আল-মনসুর আস-সাদির কুতুবখানার (লাইব্রেরির) জন্য রচনা করেছিলেন; এবং আহমদ আত-তুওয়াতি, আল-হজ আহমদ আল-আমিন আত-তুওয়াতি, ফকিহ আবুল কাসিম আত-তুওয়াতি, তিম্বুকতু মসজিদের ইমাম আলী আল-জাজুলি, সুসুল আকসার কেন্দ্রবিন্দু তারুদান্তে সমাহিত মুহাম্মদ বিন উসমান বিন উমর আল-ওয়ালী, হুরমাহ বিন আব্দুল জলিল বিন আল-কাদি আল-আলাউয়ি আল-মাগরিবি, ইবনে বতুতা, আশ-শরিফ মুহাম্মদ আস-সুন্নি আস-সিজিলমাসি, আশ-শরিফ মুহাম্মদ বিন ইমাম আহমদ আল-হাসানি আল-ইদ্রিসি, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বুহাসাইনি আল-মাগরিবি, আশ-শরিফ আল-মুখতার বিন আহমদ আল-ইদ্রিসি, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বাহুজানি আল-মাগরিবি, মাহমুদ বিন উমর আকিত, উমর বিন আল-হজ আহমদ আকিত, উমর বিন মাহমুদ আকিত, এবং আব্দুর রহমান বিন মাহমুদ বিন উমর—এই চারজন মারাক্কেশে সমাহিত রয়েছেন—এবং মুহাম্মদ বিন আল-হজ আব্দুল্লাহ আল-আলুশি, যিনি মারাক্কেশের শিক্ষক ছিলেন এবং সেখানেই সমাহিত হয়েছেন।
লেখক যখন তাকরুর অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেমদের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে ফাসি আল-ফিহরি পরিবারের প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ—আবুল মাহাসিন, তাঁর পুত্র মুহাম্মদ আল-আরাবি, আবুস সুউদ, তাঁর পুত্র আবু জায়েদ এবং মুহাম্মদ আল-মাহদির জীবনী উল্লেখ করেন, তখন তা অনন্য এক চমৎকারিত্বে পৌঁছেছে; তিনি বলেছেন যে, তাঁদের জীবনী আলোচনার মাধ্যমে তিনি তাঁদের স্মরণে বরকত অর্জন করতে চেয়েছেন।
১০) - কিতাবটিতে অনেক মরক্কোবাসীর নাম এসেছে, যেমন আলী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আন-আনসারি আস-সিজিলমাসি, আব্দুস সালাম বিন মাশিশ, মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-জাজুলি, মুহাম্মদ মায়্যারা আল-ফাসি, আল-হজ আহমদ বিন আল-হজ মুহাম্মদ মাহদি আত-তুওয়াতি (পরবর্তীতে আল-মারাক্কেশি), মুহাম্মদ আল-আমিন বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-ফিলালি, মুহাম্মদ ইবনে আবি জায়ান, ইমাম আয-যাম্মুরি, মুবারক আল-গাবরি এবং জায়ান।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١٦)
المغربي، وعبد العزيز اللمطي، وقاضي الجماعة بفاس أبو القاسم بن أبي النعيم الغساني، وقاضي مكناسة أبو العباس ابن القاسم، وقاضي الجماعة بمراكش محمد بن عبد الرحمان الرجراجي، ومفتي مراكش الرجراجي، وأبو جمعة مسعود بن سعيد الماغوسي المراكشي، والشريف مولاي أحمد الذهبي، وأحمد الخياط الفاسي، والهشتوكي الخ.
د - عملنا في التحقيقلقد اهتممنا بإخراج نسخة تامة وصحيحة بقدر الإمكان، فاعتمدنا نسخة الشيخ المختار بن حامدون، ورمزنا لها بحرف ألف وقابلنا بينها وبين النسختين الأخيرتين، وأتممنا منها ما ينقصها من كلمات أو جمل، وسجلنا أسفل الصفحات الفروق بين النسخ إلا نادرا، ولم نرد أن نثقل النص بالتعاليق والاحالات حرصا على الإسراع بتقديمه للطبع ليستفيد منه القراء، وذلك ما جعلنا نلغي ما كنا عازمين عليه من الإشارة إلى مراجع تراجم بعض المترجمين.
ولما كان أحد تلامذة المؤلف قد كتب له ترجمة - بعد وفاته - وأضافها لتراجم الكتاب، فقد رأينا من الأنسب أن نجعلها في أول الكتاب حتى يستطيع القارئ التعرف أولا على مؤلف الكتاب.
الرباط في 25 ذي الحجة الحرام 1400
4 نوفمبر 1980
محمد إبراهيم الكتاني.
আল-মাগরিবী, আবদুল আজিজ আল-লামতী, ফাস-এর কাযীউল জামাআহ আবুল কাসিম বিন আবি আন-নুআইম আল-গাসসানী, মিকনাসা-র কাযী আবুল আব্বাস ইবনুল কাসিম, মারাকুশ-এর কাযীউল জামাআহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আর-রাজরাজী, মারাকুশ-এর মুফতী আর-রাজরাজী, আবু জুমুআ মাসউদ বিন সাঈদ আল-মাগুসী আল-মারাকুশী, আশ-শরীফ মাওলাই আহমাদ আদ-দাহাবী, আহমাদ আল-খাইয়াত আল-ফাসী এবং আল-হাশতুকী প্রমুখ।
দ - তাহকীক (সম্পাদনা) ক্ষেত্রে আমাদের কর্মপদ্ধতিআমরা যথাসম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছি। এজন্য আমরা শায়খ আল-মুখতার বিন হামদুন-এর কপির ওপর নির্ভর করেছি এবং সেটিকে 'আলিফ' (অ) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি। আমরা এই কপির সাথে শেষোক্ত দুটি কপির তুলনা করেছি এবং এতে কোনো শব্দ বা বাক্যের অপূর্ণতা থাকলে তা পূরণ করেছি। এছাড়া বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত আমরা পৃষ্ঠাগুলোর নিচে নুসখাসমূহের (পাণ্ডুলিপির পাঠভেদ) পার্থক্যগুলো লিপিবদ্ধ করেছি। পাঠকদের দ্রুত এটি মুদ্রণ করে উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা মূল পাঠ্যটিকে টীকা ও তথ্যসূত্র দিয়ে ভারাক্রান্ত করতে চাইনি, যাতে তারা দ্রুত এটি থেকে উপকৃত হতে পারেন। আর এই কারণেই আমরা জীবনীকারদের জীবনীর তথ্যসূত্র প্রদান করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা বাতিল করেছি।
যেহেতু লেখকের ইন্তেকালের পর তাঁর জনৈক ছাত্র তাঁর একটি জীবনী লিখেছিলেন এবং তা কিতাবের অন্যান্য জীবনীসমূহের সাথে যুক্ত করেছিলেন, তাই আমরা একে কিতাবের শুরুতে রাখাই অধিকতর উপযুক্ত মনে করেছি যাতে পাঠক প্রথমেই কিতাবের লেখক সম্পর্কে পরিচিত হতে পারেন।
রাবাত, ২৫ যিলহজ আল-হারাম ১৪০০ হিজরি
৪ নভেম্বর ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
মুহাম্মাদ ইবরাহীম আল-কাত্তানী।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ترجمة المؤلفبقلم أحد تلاميذههو محمد عبد الله (بن أبي بكر الصديق بن عبد الله)
(1) بن محمد ابن الطالب علي بنّان
(2) البرتلي، عرف بالطالب محمد بن أبي بكر الصديق.
وهو الإمام المشهور العلامة الحجة الحافظ المطلع المحقق الكبير الثقة الثبت الفقيه النظار المجتهد المصنف التقي النقي الصالح الزاهد الورع البركة الخاشع الأواب المفسر المحدث الحافظ المسند الرواية (كذا) الأصولي الفروعي الأستاذ المقرئ المجود النحوي اللغوي البياني العروضي المتفنن الصوفي المتخلق ولي الله تعالى العارف به الأوحد الآخذ من كل فن أوفر نصيب، الراتع من كل علم مرعى خصيب، المفتي الشهير السني سني الراحة، آخر السادات (كذا) الاعلام، سليل أكابر الأفضال، الآخذ من المنقول والمعقول والحقيقة البديعة، والأبحاث الأنيقة الغريبة، المتفق على علمه وصلاحه وهديه، ممن قل سماح الزمان بمثله. من الأفراد العلية في فنون الشرع وصلاح الأحوال، شيخ الإسلام الذي له القدم الراسخ والرحب الواسع في كل مشكل، حامل لواء السنة
--------------------------------------------
লেখকের জীবনীতাঁর এক ছাত্রের লেখনীতেতিনি হলেন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ (বিন আবি বকর আস-সিদ্দিক বিন আব্দুল্লাহ)
(১) বিন মুহাম্মদ ইবনুত তালিব আলী বান্নান
(২) আল-বারতালি, যিনি আত-তালিব মুহাম্মদ বিন আবি বকর আস-সিদ্দিক নামে পরিচিত।
তিনি একাধারে বিখ্যাত ইমাম, মহাজ্ঞানী (আল্লামা), অকাট্য প্রমাণপুরুষ (হুজ্জাহ), হাফেজ, সুবিজ্ঞ ও মহান গবেষক (মুহাক্কিক), পরম নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ব্যক্তিত্ব, প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন ফকিহ, মুজতাহিদ, গ্রন্থকার, মুত্তাকি, পবিত্র স্বভাবের অধিকারী, নেককার, দুনিয়াবিমুখ (জাহিদ), পরহেজগার, বরকতস্বরূপ, বিনীত ও তওবাকারী। তিনি একাধারে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, হাফেজে হাদিস, সনদধারী বর্ণনাকারী, মূলনীতি (উসুল) ও উপশাখা (ফুরু) শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, ক্বারি, তাজবিদ বিশারদ, ব্যাকরণবিদ, ভাষাতত্ত্ববিদ, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ, ছন্দবিদ, বহু বিদ্যায় পারদর্শী এবং সচ্চরিত্রবান সুফি। তিনি আল্লাহ তাআলার ওলি, তাঁর মারেফাত লাভে ধন্য অনন্য আরিফ, যিনি প্রতিটি বিদ্যা থেকে সর্বাধিক অংশ লাভ করেছেন এবং জ্ঞানের প্রতিটি উর্বর চারণভূমিতে বিচরণ করেছেন। তিনি প্রখ্যাত মুফতি, সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী, মহান মনীষীদের শেষ প্রতিনিধি, বরেণ্য গুণীজনদের সুযোগ্য উত্তরসূরি, এবং শ্রুত জ্ঞান (মানকুল), বুদ্ধিভিত্তিক জ্ঞান (মাকুল), চমৎকার হাকিকত ও সূক্ষ্ম-বিরল গবেষণার সমন্বয়কারী। তাঁর ইলম, সততা ও আদর্শের বিষয়ে সকলেই একমত, কালপ্রবাহে যাঁর মতো ব্যক্তিত্ব খুব কমই দেখা যায়। তিনি শরিয়তের বিভিন্ন বিদ্যায় এবং আত্মিক সংশোধনে এক অনন্য পুরুষ; তিনি শাইখুল ইসলাম, যাঁর প্রতিটি জটিল বিষয়ে সুদৃঢ় পা এবং প্রশস্ত জ্ঞান রয়েছে, এবং যিনি সুন্নতের ঝাণ্ডাবাহী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ومدحض البدعة، ذو الكرامات والاستقامات سيف الله على ذوي البدع، ممن عظمت بركة الله على خلقه، معدن الصدق والعلم، وزناد الفهم، وكيمياء السعادة، وكنز الإفادة، شيخنا أبو عبد الله الطالب محمد
(3) بن الشيخ العابد أبي بكر الصديق ابن الشيخ الصالح الزاهد محمد بن الولي التقي النقي الطالب علي بنّان رحمهم الله تعالى. وكان رحمه الله تعالى كثير الورع جدا، وله خصائل وتواليف عديدة، جعل على صغرى السنوسي شراحا الثاني والرابع (كذا) قبل وفاته ومنعه القدر وإنا لله وإنا إليه راجعون. وله شرح على أسماء الله تعالى الحسنى، وله شرح على السلّم، ونسب الشرفاء ذرية مولاي الشريف، وتأليف في تراجم علماء التكرور، وتأليف في علم السر، وتأليف في علم التاريخ. وله أنظام كثيرة، منها نظمه في ندب السواك. وفوائده أيضا وتصانيفه كثيرة، لا يعرفها إلا من أحاط بكتبه، لأنه ممن دفن وجوده في أرض الخمول.
أخذ التوحيد عن الشيخ العارف بالله الطالب أحمد بن عمر بن الوافي المحضري، والرسالة عن شيخ أشياخنا الطالب الأمين بن الطالب الحبيب الحرشي، وخليل عن الفقيه السيد الحسن بن الطالب أحمد بن علي دكان البرتلي، وألفية ابن مالك عن الإمام عمر مم المحجوبي. ولا أدري الأفضل مع أن كلا منهما (إمام) مسجد ودخلة أمن (كذا) وأخذ غير هذه التواليف عن غير هؤلاء الأفاضل، مع أنه لا يرد لوحا رحمه الله تعالى.
وكان معتكفا على الطاعة في حركاته وسكناته. وكان أبغض الخلق إليه من يشغله، ومن ذلك دخل عليه بعض تلاميذه يوما فوجده مشتغلا في غير الصلاة، فقال يا شيخنا قد أتى الخبر اليوم عن قبيلتين من المغافرة اقتتلا فغلبت إحداهما الأخرى، وكانت المغلوبة أضر لنا من الغالبة. فقال الشيخ يا ليت كلاهما قتلت من الأخرى مائتين. فقال له يا شيخي: ألم تعلم أن الفلانية أضر لنا، فقال الشيخ اصمت عني شغلتني. ومن ذلك
--------------------------------------------
এবং বিদআত অপনোদনকারী, কারামাত ও অবিচলতার অধিকারী, বিদআতপন্থীদের বিরুদ্ধে আল্লাহর তরবারি, সৃষ্টির ওপর যাঁর মাধ্যমে আল্লাহর বরকত সুমহান হয়েছে, সত্য ও জ্ঞানের খনি, প্রজ্ঞার স্ফুলিঙ্গ, সৌভাগ্যের পরশপাথর এবং উপকারের ভাণ্ডার; আমাদের শায়খ আবু আবদুল্লাহ আল-তালিব মুহাম্মাদ
(৩) ইবনে ইবাদতগুজার শায়খ আবু বকর আস-সিদ্দিক ইবনে নেককার ও জাহিদ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে মুত্তাকী ও পবিত্র ওলি আল-তালিব আলী বান্নান (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি দয়া করুন)। তিনি অত্যন্ত আল্লাহভীরু ছিলেন এবং তাঁর অনেক মহৎ গুণ ও রচনা ছিল। তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্বে সানূসীর সুগরা-এর ওপর দ্বিতীয় ও চতুর্থ (এরূপই বর্ণিত) ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু তাকদির তাঁকে বাধা প্রদান করে; নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে। আল্লাহর আসমাউল হুসনার ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, সুলাম-এর ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, মাওলায় শরীফের বংশধরদের আভিজাত্য ও নসবনামা নিয়ে একটি গ্রন্থ রয়েছে, তাকরুরের আলেমদের জীবনী নিয়ে একটি রচনা এবং ইলমে সির ও ইতিহাস শাস্ত্রের ওপর তাঁর রচনা রয়েছে। তাঁর অনেক কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে মেসওয়াক করার উৎসাহ প্রদান এবং এর উপকারিতা বিষয়ক কাব্যটি অন্যতম। তাঁর রচনা ও কিতাবসমূহ অসংখ্য, যা কেবল তারাই জানে যারা তাঁর কিতাবসমূহ আয়ত্ত করেছে; কারণ তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করে দিয়েছিলেন।
তিনি আরেফ বিল্লাহ শায়খ আল-তালিব আহমাদ বিন উমর বিন আল-ওয়াফি আল-মাহদরি-এর নিকট তাওহীদ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ আল-তালিব আল-আমীন বিন আল-তালিব আল-হাবীব আল-হারশি-এর নিকট 'রিসালা' পাঠ করেন। ফকিহ আস-সাইয়্যিদ আল-হাসান বিন আল-তালিব আহমাদ বিন আলী দুক্কান আল-বারতালি-এর নিকট 'খলিল' অধ্যয়ন করেন এবং ইমাম উমর মাম্ম আল-মাহজুবি-এর নিকট ইবনে মালিকের 'আলফিয়্যাহ' পাঠ করেন। আমি জানি না তাঁদের মধ্যে কে অধিক শ্রেষ্ঠ ছিলেন, যদিও তাঁদের প্রত্যেকেই মসজিদের ইমাম এবং নিরাপত্তার আশ্রয়স্থল (এরূপই বর্ণিত) ছিলেন। এই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও তিনি অন্যদের নিকট থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, কারণ তিনি কোনো শিক্ষার তখতিই প্রত্যাখ্যান করতেন না, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন।
তিনি তাঁর জীবনের সকল কর্মে ও বিশ্রামে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তাঁর নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় ব্যক্তি ছিল সে, যে তাঁকে তাঁর কাজে বিঘ্ন ঘটাত। এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা হলো, একদিন তাঁর জনৈক ছাত্র তাঁর নিকট প্রবেশ করে তাঁকে নামাজের বাইরে অন্য কাজে লিপ্ত পেল। ছাত্রটি বলল, "হে আমাদের শায়খ, আজ সংবাদ এসেছে যে মুগাফিরা গোত্রের দুটি দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে এবং একটি অন্যটির ওপর জয়ী হয়েছে। অথচ বিজিত দলটি আমাদের জন্য বিজয়ী দলের চেয়েও বেশি ক্ষতিকারক ছিল।" শায়খ তখন বললেন, "আফসোস! যদি উভয় পক্ষই একে অপরের দুইশ জন করে লোক হত্যা করত!" তখন ছাত্রটি বলল, "হে আমার শায়খ, আপনি কি জানেন না যে অমুক পক্ষটি আমাদের জন্য বেশি ক্ষতিকর?" শায়খ বললেন, "চুপ করো, তুমি আমার কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছ।" এবং এর থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ١٩)
أهدى له رجل بقرة فأتاه بعد ذلك يكتب له حكما في خصومة أو مثلها، فقال له الشيخ: أنت أحسنت إلي، ولكن إن كنت تريد بإحسانك إلي شغلي عما هو أنفع لي من هذا، فخذ بقرتك عني. وكان يحب أشياخه جميعا ويعظمهم ويمدحهم إذا ذكر عنده أحد من أهل الكرامات يقول هو:
حسبي بشيخي فلان. وكانت التلاميذ إذا أرادوا أن يشغلوه عن تفسير أحدهم، سأله أحدهم بصوت خفي فيبلغه التلاميذ بقولهم، قال فلان أحقا أن شيخك فلانا يعرف بعض الفن الفلاني، فيقول إنا لله وإنا إليه راجعون، ويضع الورقات من يده، وتارة يعطيهن لأحد، فيلتفت مسرعا يقول: من هذا؟ ما أحمقه! فإن شيخي فلانا يعرف كذا وكذا، وجعل يمدحه حتى يمكث ساعة من النهار. ومن ورعه كان لا يفسر إلا في الكتاب. وكان ذات يوم يفسر لأحد التلاميذ فسأله عن كلمة فلم يجاوبه، فسأله أيضا وهو ينظر الكتاب، ثم أعاد السؤال، قال الشيخ: دعني لم أرها في كتاب. وكان ذا جاه مهابا مطاعا. كان إذا خرج من المسجد لا يمر بقوم إلا قاموا بوجهه ليضعوا أيديهم على رأسه. وكان لا يصلي في المسجد إلا الظهر والعصر والعشاء لأن المغرب والصبح كثيرا ما تخلف فيهما الناس. وكان يؤذن، وأذانه هو آخر الأذان. قيل له في ذلك، قال غرضي من كان عازما على الصلاة في المسجد، إذا سمع أذاني علم أن الصلاة حانت فينهض مسرعا. وكان كثير الورع والإعراض عن الدنيا، لأنه كان لا يدخر شيئا لغد، وتأتيه الهدايا من كل جهة فيستريح منها حين إتيانها ولا يلتفت إليها. وكانت همته الكتب وكان منظرا لها، حتى حكى أنه كان يوما مع أصحابه يتحدثون إلى أن بلغوا نعيم، فكلهم قال منيتي كذا وكذا، فقال هو منيتي كثير من الكتب، فأكون بينهم تارة أنظر وتارة أقرا. وكان ورعا جميل الخلق، فقد أخذ من خلقه صلى الله عليه وسلم، دائم البشر متواصل الأحزان، وكان كثير الصمت مستعملا قوله تعالى {لا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْواهُمْ إِلاّ مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ} الآية. وكان مطاعا إذا أمر بشيء لا
এক ব্যক্তি তাঁকে একটি গরু উপহার দিল, অতঃপর সে তাঁর কাছে এল যেন তিনি কোনো বিবাদ বা সমজাতীয় বিষয়ে তাঁর জন্য একটি ফয়সালা লিখে দেন। তখন শাইখ তাকে বললেন: "তুমি আমার প্রতি সদাচরণ করেছ, কিন্তু যদি তোমার এই সদাচরণের মাধ্যমে তুমি আমাকে আমার জন্য এর চেয়ে অধিক উপকারী কাজ থেকে বিরত রাখতে চাও, তবে তোমার গরু আমার কাছ থেকে নিয়ে যাও।" তিনি তাঁর সকল উস্তাদকে ভালোবাসতেন, তাঁদের সম্মান করতেন এবং তাঁদের প্রশংসা করতেন। যখন তাঁর সামনে কোনো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হতো, তখন তিনি বলতেন:
"আমার জন্য অমুক শাইখই যথেষ্ট।" ছাত্ররা যখন তাঁকে কারও পাঠদান থেকে বিরত রাখতে চাইত, তখন তাদের একজন নিচু স্বরে প্রশ্ন করত এবং অন্য ছাত্ররা তা এই বলে তাঁর কাছে পৌঁছাত যে, অমুক ব্যক্তি বলেছে: "আপনার শাইখ অমুক কি অমুক শাস্ত্র সম্পর্কে আসলেই কিছু জানেন?" তখন তিনি বলতেন: "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী," এবং তাঁর হাত থেকে কাগজগুলো রেখে দিতেন, কখনও কখনও সেগুলো কাউকে দিয়ে দিতেন, অতঃপর দ্রুত ফিরে বলতেন: "কে সে? সে কতই না নির্বোধ! আমার শাইখ অমুক তো এই এই বিষয় জানেন।" এরপর তিনি তাঁর প্রশংসা করতে থাকতেন যতক্ষণ না দিনের একটি প্রহর অতিবাহিত হতো। তাঁর পরহেজগারির অবস্থা এই ছিল যে, তিনি কিতাব ছাড়া কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করতেন না। একদিন তিনি এক ছাত্রকে পাঠদান করছিলেন, তখন সে তাঁকে একটি শব্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। ছাত্রটি আবারও জিজ্ঞাসা করল যখন তিনি কিতাবের দিকে তাকাচ্ছিলেন, অতঃপর সে আবারও প্রশ্ন করল। তখন শাইখ বললেন: "আমাকে ছেড়ে দাও, আমি এটি কোনো কিতাবে দেখিনি।" তিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, প্রভাবশালী ও মান্যবর ছিলেন। তিনি যখন মসজিদ থেকে বের হতেন, তখন এমন কোনো দলের পাশ দিয়ে যেতেন না যারা তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে তাঁর মাথায় হাত রাখত না। তিনি মসজিদে কেবল যোহর, আসর এবং এশা সালাত আদায় করতেন; কারণ মাগরিব ও ফজর সালাতে অনেক সময় মানুষ পিছিয়ে থাকত। তিনি আজান দিতেন এবং তাঁর আজানই হতো সর্বশেষ আজান। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "আমার উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি মসজিদে সালাত আদায়ের সংকল্প করেছে, সে যখন আমার আজান শুনবে তখন বুঝবে যে সালাতের সময় হয়ে গেছে এবং সে দ্রুত উঠে আসবে।" তিনি অত্যন্ত পরহেজগার এবং দুনিয়াবিমুখ ছিলেন, কারণ তিনি পরদিনের জন্য কিছুই জমা রাখতেন না। সবদিক থেকে তাঁর কাছে উপহার আসত, কিন্তু সেগুলো আসা মাত্রই তিনি তা বিলিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতেন এবং সেগুলোর দিকে ফিরেও তাকাতেন না। তাঁর সমস্ত আগ্রহ ছিল কিতাব নিয়ে এবং তিনি কিতাব অন্বেষণকারী ছিলেন। এমনকি বর্ণিত আছে যে, একদিন তিনি তাঁর সঙ্গীদের সাথে আলাপচারিতা করছিলেন, এক পর্যায়ে তাঁরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের আলোচনায় পৌঁছালেন। তখন তাঁদের প্রত্যেকেই বললেন, "আমার আকাঙ্ক্ষা এই এই জিনিস।" তখন তিনি বললেন, "আমার আকাঙ্ক্ষা হলো প্রচুর কিতাব, যেন আমি সেগুলোর মাঝে থাকি—কখনও দেখি আবার কখনও পড়ি।" তিনি পরহেজগার ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, কেননা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সর্বদা প্রফুল্লমুখ অথচ নিরন্তর বিষণ্ণতায় (গভীর চিন্তায়) মগ্ন থাকতেন। তিনি অধিক নীরবতা পালন করতেন এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে ব্যক্তি সদকা করার আদেশ দেয়..."—এই আয়াতের ওপর আমল করতেন। তিনি এমন মান্যবর ছিলেন যে, যখন তিনি কোনো কিছুর আদেশ দিতেন, তখন তা...
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
يفعل إلا ما قال. وكان يدخل السرور على المذنبين ويدعو في كل ساعة وحين، وكان إذا حبس الممطر وذهب الناس لصلاة الاستسقاء، سمعته يوما يقول: لن تزالوا بخير ما دمتم على بعض سنته صلى الله عليه وسلم. حدثني بعض التلاميذ أنه كان ينام معه شهورا فقال: ينام أول الليل ويستيقظ جوفه، ومن ثم لا ينام إلى الصبح. فقال لي: قمت ليلة فوجدته مضطجعا في لحافه أحسب أنه نائم، فلما أصغيت سمعي له سمعته يذكر الله بقلب حزين مع التدبر، وكان فعله ديمة، لأنه يقرأ كل يوم من القرآن ربع حزب ثلاث مرات الأولى في مصحف. صحيح، والثانية في مصحف مهبط
(4)، والثالثة يقرؤه في رأسه. وكان لا تاخذه في الله لومة لائم، وإذا عزم توكل، وإذا حدّث صدق، وإذا عاهد وفى، وإذا غضب عفا، وإذا خاطبة الجاهل قال سلاما. وممن قال الله تعالى فيهم في كتابه العزيز {وَعِبادُ الرَّحْمنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْناً وَإِذا خاطَبَهُمُ الْجاهِلُونَ قالُوا سَلاماً} الآيات. وكان ورعا يبغض أعداء الله ويحب أولياءه، وقد قص قصته مع اليهوديين اللذين أتيا مع الشريف مولاي الحسن بن مولاي عبد القادر إمامي، وهي أنه لما رأى اليهوديين أبغضهما حق البغض، وأتى الشريف المذكور فقال له: خذ العشر من صاحبي الشيطان الذي عندك! قال إنهما ضيفاي، فقال له الشيخ: إن لم تأخذه منهما أغريت عليهما أحدا من المغافرة، فأقول له إنه أحلّ عليك من لبن أمك. فقبل الشريف أن يأخذه بنفسه، ولكن قال للشيخ: أحضرني لآخذ منهما ما قلت، قال الشيخ: نعم وأحل، والله ما أحب علي منهما شيء. فلما كان الغد أتى الشيخ ومعه رجلان من عشيرته، فعشّروا مال اليهوديين كلّه، فأعطوا عشره للشريف. فلما كان بعد ذلك بيومين أو ثلاثة أتى أحد اليهوديين للشيخ بجزية، فلما بلغ الدار أرسل إلى الشيخ رسولا فأتاه الشيخ يحسب أنه غيره. فلما رآه عبس في وجهه، قال: ما أتى بك يا
--------------------------------------------
তিনি যা বলতেন কেবল তা-ই করতেন। তিনি পাপীদের মনে আনন্দ প্রদান করতেন এবং প্রতিক্ষণ ও প্রতি মুহূর্তে দোয়া করতেন। যখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যেত এবং মানুষ বৃষ্টির প্রার্থনার (ইসতিসকা) জন্য বের হতো, তখন আমি একদিন তাঁকে বলতে শুনেছিলাম: “যতদিন তোমরা তাঁর (সালালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু সুন্নাহর ওপর অটল থাকবে, ততদিন তোমরা কল্যাণের ওপর থাকবে।” জনৈক ছাত্র আমাকে জানিয়েছে যে সে কয়েকমাস তাঁর সাথে রাত কাটিয়েছিল। সে বলেছে: তিনি রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন এবং মধ্যরাতে জেগে উঠতেন, অতঃপর সকাল পর্যন্ত আর ঘুমাতেন না। সে আমাকে আরও বলেছিল: এক রাতে আমি জেগে উঠলাম এবং তাঁকে তাঁর লেপের ভেতর শোয়া অবস্থায় পেলাম, ভাবলাম তিনি হয়তো ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু যখন আমি মনোযোগ দিয়ে কান পাতলাম, তখন শুনতে পেলাম তিনি অত্যন্ত চিন্তামগ্ন হয়ে ব্যথিত হৃদয়ে আল্লাহর যিকির করছেন। তাঁর এই আমলটি ছিল নিয়মিত, কারণ তিনি প্রতিদিন কুরআনের এক হিজবের চারভাগের একভাগ (রুবউ হিজব) তিনবার করে তিলাওয়াত করতেন; প্রথমবার একটি নির্ভুল মুসহাফ দেখে, দ্বিতীয়বার হাবতি
(৪) পদ্ধতিতে মুদ্রিত মুসহাফ দেখে এবং তৃতীয়বার স্মৃতি থেকে (মুখস্থ) পাঠ করতেন। আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দা তাঁকে বিচলিত করত না। যখন তিনি সংকল্প করতেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করতেন; যখন কথা বলতেন, সত্য বলতেন; যখন অঙ্গীকার করতেন, তা পূর্ণ করতেন; যখন রাগান্বিত হতেন, তখন ক্ষমা করে দিতেন; এবং যখন কোনো মূর্খ ব্যক্তি তাঁকে সম্বোধন করত, তখন তিনি বলতেন ‘সালাম’ (শান্তি)। তিনি ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাঁর সুমহান কিতাবে বলেছেন: “আর পরম করুণাময়ের বান্দা তারাই যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং মূর্খরা যখন তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে ‘সালাম’।”—আয়াত শেষ পর্যন্ত। তিনি অত্যন্ত পরহেযগার ছিলেন, আল্লাহর শত্রুদের ঘৃণা করতেন এবং তাঁর বন্ধুদের ভালোবাসতেন। তিনি সেই দুই ইহুদির সাথে তাঁর ঘটনা বর্ণনা করেছেন যারা শরীফ মাওলাই হাসান ইবনে মাওলাই আব্দুল কাদির ইমামির সাথে এসেছিল। ঘটনাটি হলো, যখন তিনি সেই ইহুদি দুজনকে দেখলেন, তখন তাঁদের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা পোষণ করলেন এবং উল্লিখিত শরীফের কাছে গিয়ে বললেন: “আপনার সাথে থাকা শয়তানের এই দুই সঙ্গীর কাছ থেকে ওশর (দশমাংশ) গ্রহণ করুন!” তিনি (শরীফ) বললেন: “ওরা দুজন তো আমার মেহমান।” তখন শায়খ তাঁকে বললেন: “যদি আপনি তাদের থেকে তা না নেন, তবে আমি মাগাফিরা গোত্রের কাউকে তাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেব এবং তাকে বলব যে তাদের ধন-সম্পদ তোমার জন্য তোমার মায়ের দুধের চেয়েও বেশি হালাল।” তখন শরীফ নিজেই তা গ্রহণ করতে সম্মত হলেন, কিন্তু শায়খকে বললেন: “আমাকে উপস্থিত রাখুন যাতে আমি তাদের থেকে আপনার কথামতো পাওনা আদায় করতে পারি।” শায়খ বললেন: “হ্যাঁ, এটি উত্তম। আল্লাহর কসম, আমার কাছে এর চেয়ে আনন্দদায়ক আর কিছু নেই।” পরদিন শায়খ তাঁর গোত্রের দুজন লোককে সাথে নিয়ে আসলেন এবং ইহুদিদের সমস্ত ধন-সম্পদের ওশর (দশমাংশ) আদায় করলেন, অতঃপর সেই দশমাংশ শরীফকে প্রদান করলেন। এর দুই বা তিন দিন পর, ইহুদিদের একজন শায়খের কাছে জিযিয়া নিয়ে আসল। যখন সে বাড়িতে পৌঁছাল, তখন শায়খের কাছে একজন সংবাদবাহক পাঠাল। শায়খ তাকে অন্য কেউ মনে করে দেখা করতে আসলেন। কিন্তু যখনই তাকে দেখলেন, তখন তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি বললেন: “হে ..., কেন এসেছ?”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ذمي؟ قال له اليهودي: أريد أن أقول لك شيئا. فلما أراد اليهودي الدخول إلى البيت، قال الشيخ له: إليك إليك! لا تدخل! فخرج إليه الشيخ مسرعا خيفة أن يدخل، فأجلسه في قدم الطريق، قيل له في ذلك، قال غرضي أن يؤذوه الناس بمرورهم لعلهم يطؤون ثيابه ويمزقوها. فلما اطمأنّ اليهودي في الأرض، كشف له عن هدية كبيرة.
فلما رآها الشيخ قال: لا أقبل هديتك. قال اليهودي: أريد بها وجه الله، قال: لا أقبلها لأن القلوب جلبت على حب من أحسن إليها، وأحذر على نفسي من أن تحب عدوا لله ورسوله، فذهب اليهودي منكسر الرأس خائبا لا يساوي نقيرا ولا قطميرا. وكان كثير الورع، وكان يحب أبناء النبي صلى الله عليه وسلم، فإذا أخذ يعدّ نعم الله عدّ من أعظمهم (كذا) عنده مجاورته لأبناء النبي صلى الله عليه وسلم. وكان إذا أخذ يد أحدهم يطأطئ لها ليقبلها مرة بعد مرة حتى لا يكاد يرسلها. ومن ذلك رأيته في مرضه الذي توفي فيه رحمه الله تعالى دخل عليه شريف من جاره، فلما رآه وهو حينئذ منع من الكلام، وأظن أنه في الاحتضار، أراد أن يقوم فلم يقدر، فأشار إلى الشريف أن يعطيه يده فأخذها وهو يرتعد من شدة ما هو فيه، فلم يزل يقبلها حتى عجز.
وكان كثير الورع كثير الحياء دائم الفكرة. ومن دعائه لنا إذا طلب أحدنا منه الدعاء: رزقك الله العلم والتقى. وكان يعبر الأحلام تعبيرا لا يتخلف في الغالب. وكان شيخا في السر والعلانية، يعطي ورد شيخنا وسيدنا مولاي عبد المالك بن مولاي عبد الله الركاني. وكان نابذا للدنيا وراء ظهره كما قدمنا، لأنه كان ما يأخذ منها إلاّ ما يجعله في الكتب. حدثني بعض التلاميذ أنه قد جاءه رجل من عشيرته يوما فأخبره بناقة له في البادية أصابها من الزكاة، فجعل الرجل يشتريها، فأعطاه ثمنا قليلا بخسا في الناقة، وهي حينئذ لا يؤخذ مثلها إلا بكثير من المال، فرضي الشيخ. قال له تلميذه ألم تعلم أن مثلها ثمنه كذا وكذا؟ قال الشيخ: يا بني! قال صلى الله عليه وسلم:
عليك بالسّوم الأوّل الحديث. وكان يهدي له من لا يعرف في أي جهة ما هو وما نسبه. نعم كررت الورع لأنه سيد العمل، وإني ما رأيت أحدا
জিম্মি? ইহুদিটি তাঁকে বলল: "আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই।" যখন ইহুদি ব্যক্তিটি ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার ইচ্ছা করল, তখন শায়খ তাকে বললেন: "দূরে থাকো, দূরে থাকো! প্রবেশ করো না!" সে যেন ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সেই ভয়ে শায়খ দ্রুত বেরিয়ে এলেন এবং তাকে রাস্তার এক প্রান্তে বসালেন। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "আমার উদ্দেশ্য হলো মানুষ যেন তাদের যাতায়াতের সময় তাকে কষ্ট দেয়, হয়তো তারা তার পোশাক মাড়িয়ে যাবে এবং তা ছিন্নভিন্ন করে দেবে।" ইহুদিটি যখন মাটিতে থিতু হয়ে বসল, তখন সে তাঁর জন্য একটি বড় উপহার প্রদর্শন করল।
শায়খ যখন সেটি দেখলেন, তখন বললেন: "আমি তোমার উপহার গ্রহণ করব না।" ইহুদিটি বলল: "আমি এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করছি।" তিনি বললেন: "আমি এটি গ্রহণ করব না, কারণ মানুষের অন্তর স্বভাবগতভাবেই তার প্রতি আকৃষ্ট হয় যে তার প্রতি অনুগ্রহ করে। আর আমি আমার নফস বা প্রবৃত্তির ব্যাপারে এই আশঙ্কা বোধ করছি যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কোনো শত্রুকে ভালোবেসে না ফেলে।" তখন ইহুদিটি অত্যন্ত লজ্জিত ও ব্যর্থ মনোরথে ফিরে গেল, যার গুরুত্ব এক কণা পরিমাণও ছিল না। তিনি অত্যন্ত পরহেজগার ছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধরদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি যখন আল্লাহর নেয়ামতসমূহ গণনা করতেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধরদের সান্নিধ্য লাভ করাকে তাঁর নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হিসেবে গণ্য করতেন। তিনি যখন তাঁদের কারো হাত ধরতেন, তখন বারবার মাথা নিচু করে তা চুম্বন করতেন এবং যেন হাতটি ছাড়তেই চাইতেন না। এ প্রসঙ্গে আমি তাঁকে তাঁর অন্তিম রোগশয্যায় দেখেছি—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন—তখন তাঁর এক প্রতিবেশী শরিফ (নবীর বংশধর) তাঁর কাছে এলেন। তিনি যখন তাঁকে দেখলেন, অথচ তখন তাঁর কথা বলার শক্তি ছিল না এবং আমার ধারণা তিনি তখন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন, তখন তিনি দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন কিন্তু সক্ষম হলেন না। অতঃপর তিনি শরিফ ব্যক্তির প্রতি তাঁর হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ইশারা করলেন। তিনি হাতটি নিলেন অথচ তখন তাঁর শারীরিক অবস্থার তীব্রতায় তিনি কাঁপছিলেন। তিনি অনবরত সেটি চুম্বন করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লেন।
তিনি অত্যন্ত মুত্তাকি, অত্যন্ত লজ্জাশীল এবং সর্বদা চিন্তামগ্ন থাকতেন। আমাদের কেউ যখন তাঁর কাছে দোয়ার আবেদন করত, তখন তিনি এই বলে দোয়া করতেন: "আল্লাহ তোমাকে জ্ঞান ও তাকওয়া দান করুন।" তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান করতেন যা সাধারণত নির্ভুল হতো। তিনি প্রকাশ্যে ও গোপনে একজন কামেল শায়খ ছিলেন; তিনি আমাদের শায়খ ও নেতা মাওলাই আব্দুল মালিক বিন মাওলাই আব্দুল্লাহ আল-রুকানি-এর অজিফা প্রদান করতেন। তিনি দুনিয়াকে নিজের পিঠের পেছনে ছুড়ে ফেলেছিলেন যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি, কারণ তিনি পার্থিব সম্পদ থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করতেন যা তিনি কিতাব সংগ্রহের কাজে ব্যয় করতেন। জনৈক ছাত্র আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তাঁর গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে সংবাদ দিল যে, মরুভূমিতে তাঁর একটি উষ্ট্রী রয়েছে যা জাকাত হিসেবে পাওয়া গেছে। লোকটি সেটি ক্রয় করতে চাইল এবং উষ্ট্রীটির জন্য অত্যন্ত নগণ্য ও তুচ্ছ মূল্য প্রস্তাব করল, অথচ তৎকালীন সময়ে প্রচুর অর্থ ব্যতীত তেমন উষ্ট্রী পাওয়া সম্ভব ছিল না। শায়খ তাতে সম্মত হলেন। তাঁর এক ছাত্র তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: "আপনি কি জানেন না যে এমন উষ্ট্রীর মূল্য এত এত হবে?" শায়খ বললেন: "হে বৎস! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
তোমাদের উচিত প্রথম প্রস্তাবিত মূল্যের ওপর অটল থাকা (হাদিস)। আর এমন অনেক ব্যক্তিও তাঁকে উপহার পাঠাত যাদের অবস্থান বা বংশ পরিচয় সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। হ্যাঁ, আমি বারবার তাকওয়ার কথা বলছি কারণ এটিই আমলের মূল ভিত্তি, আর আমি এমন কাউকে দেখিনি...
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
أورع منه قط. وكانت عبادته كلها خفية. وقال صلى الله عليه وسلم: من أسرّ سريرة ألبسه الله رداءها. وقال تعالى: {سِيماهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ}.
ولله درّ من قال.
ومهما تكن عند امرئ من خليقة
… ولو خالها تخفى على النّاس تعلم
وكان يخفي أمره عن كل حاف ومنتعل، ولا يذكر منه إلا ما أتى منه بغتة، كما حدثني به بعضهم أنه كان عنده ذات يوم أو ليلة، إذ ذكر عنده بعض أصحابه، فجعل يمدحه ويذم نفسه إلى أن قال: إنه أهم بشيء يأتيه وإنما كلما سألته أو أتيته (كذا) وكان يقول في بداية كل أمر خير:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وصلى الله على سيدنا ومولانا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما، ما شاء الله لا قوة إلا بالله العلي العظيم. وكان لا يحب من الطعام والشراب إلا اللبن، لأنه صلى الله عليه وسلم اختار الفطرة. وكان كثير التبارك، حدثني بعض أصحابه أنه كان يقرأ معه ليلة عند النار إذا بعود من القضا، فتعجب من صحة العود، فقال الشيخ ما شاء الله لا قوة إلا بالله، قال له في ذلك، فقال أخاف أن يطير من العود شيء فيضر أحدنا. وكان إذا كتب ورقة نظرها وقال ما شاء الله لا قوة إلا بالله. وهذا كله في حالة شيخوخته، فما ظنك بحالة شبابه.
وحاصل ما ذكرت عن بعض بعض البعض من مناقبه لا يبلغ نصف الساق مما لم أذكره، وبالله تعالى التوفيق. ولد عام أربعين ومائة ألف، وتوفي يوم الأحد لسبع ليال بقين من ذي الحجة، عام تسعة عشر ومائتين وألف، غفر الله له ونور ضريحه، وجعل الرحيق المختوم شرابه. وقد كنت قلت عليه قطعة، وهي هذه، والضمير في كنت وقلت لصاحب الترجمة الشيخ ابن الطالب الصغير فقال:
ألا عم ضريحا أيّها الذاهب الحبر
… ويا من به تزهي النخيل وتثمر
دعاك إله الخلق للخير كلّه
… فيا سعد من بقرب قبرك يقبر
তাঁর চেয়ে অধিক পরহেযগার ব্যক্তি আর কখনো দেখা যায়নি। তাঁর ইবাদত-বন্দেগির সবটুকুই ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো বিষয় গোপন রাখবে, আল্লাহ তাকে সেই বিষয়ের চাদর পরিয়ে দেবেন।" আল্লাহ তাআলা বলেন: "সাজদাহর চিহ্নের কারণে তাদের মুখমণ্ডলে তাদের লক্ষণ ফুটে উঠবে।"
আর কবি কতই না চমৎকার বলেছেন—
মানুষের স্বভাব যেমনই হোক না কেন
… যদিও সে মনে করে যে তা মানুষের নিকট গোপন থাকবে, তবুও তা প্রকাশ হয়ে পড়বে।
তিনি তাঁর অবস্থা সাধারণ-অসাধারণ নির্বিশেষে সকলের নিকট থেকে গোপন রাখতেন। তাঁর সম্পর্কে যা কিছু জানা যেত, তা কেবল আকস্মিকভাবেই প্রকাশিত হতো। যেমন তাঁর কোনো কোনো সঙ্গী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তিনি তাঁর নিকট দিনে অথবা রাতে উপস্থিত ছিলেন, তখন সেখানে তাঁর এক সাথীর কথা আলোচিত হলো। অতঃপর তিনি সেই সাথীর প্রশংসা করতে লাগলেন এবং নিজের দোষ বর্ণনা করতে শুরু করলেন, এমনকি তিনি বললেন যে, তিনি এমন কিছু করার সংকল্প করেছেন যা তাঁর নিকট আসবে। আর আমি যখনই তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছি বা তাঁর নিকট এসেছি... তিনি প্রতিটি কল্যাণকর কাজের শুরুতে বলতেন:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও যথাযথ শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ যা চেয়েছেন (তাহাই হয়েছে), সুউচ্চ সুমহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি নেই। তিনি পানাহারের মধ্যে কেবল দুধই পছন্দ করতেন, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতি (দুধ) পছন্দ করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত বরকতময় ছিলেন; তাঁর জনৈক সাথী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক রাতে তাঁর সাথে আগুনের কাছে বসে অধ্যয়ন করছিলেন, তখন সেখানে একটি মজবুত কাঠের লাঠি ছিল। তিনি লাঠিটির দৃঢ়তা দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন, তখন শাইখ বললেন: আল্লাহ যা চেয়েছেন (তাহাই হয়েছে), আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমি ভয় পাচ্ছি যে কাঠ থেকে কোনো টুকরো ছিটকে এসে আমাদের কারো ক্ষতি করতে পারে। তিনি যখনই কোনো কাগজ লিখতেন, সেটির দিকে তাকাতেন এবং বলতেন: আল্লাহ যা চেয়েছেন (তাহাই হয়েছে), আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই। আর এ সমস্ত কিছুই ছিল তাঁর বার্ধক্যকালের অবস্থা; তাহলে তাঁর যৌবনকালের অবস্থা কেমন ছিল তা আপনি অনুমান করুন!
আমি তাঁর যে যৎসামান্য গুণাবলি উল্লেখ করেছি, তা যা আমি উল্লেখ করিনি তার তুলনায় পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্তও পৌঁছাবে না। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তৌফিক কাম্য। তিনি এক হাজার একশত চল্লিশ (১১৪০) হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং এক হাজার দুইশত উনিশ (১২১৯) হিজরি সালের জিলহজ মাসের সাত দিন বাকি থাকতে রবিবার দিন ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে উদ্ভাসিত করুন এবং 'রাহীকুল মাখতূম' (মোহরকৃত সুধা)-কে তাঁর পানীয় বানিয়ে দিন। আমি তাঁর শানে একটি কাব্যখণ্ড রচনা করেছিলাম, যা নিম্নরূপ। এখানে 'আমি' বলতে এই জীবনীগ্রন্থের রচয়িতা শাইখ ইবনুত তালিব আল-সাগীরকে বোঝানো হয়েছে, তিনি বলেছেন:
হে প্রস্থানকারী বিদগ্ধ মনীষী! আপনার কবর চিরসুখী হোক
… হে সেই সত্তা! যার কল্যাণে খেজুর গাছ সজীব হয় ও ফল দান করে।
সৃষ্টির ইলাহ আপনাকে সকল কল্যাণের দিকে আহ্বান করেছেন
… কতই না সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যে আপনার কবরের সন্নিকটে সমাহিত হবে।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
لأنّك مقبول الشفاعة في الدّعا
… جزاؤك دار الخلد فيها تبشّر
فكنت نهارا تبصر الناس كلّها
… إذا الشمس غابت والكواكب تظهر
وكنت بروقا لا معات فصوبها
… يسرّ به من كان في الأرض يحفر
وكنت تباري البحر والبحر زاخر
… فعيناك صون ابن السبيل تحرّر
سقاك سقاك الله بدءا وعودة
… سحائب غفران بقبرك تمطر
وثمّ صلاة الله ثمّ سلامه
… عديد الحصى والرّمل ثمّ الجواهر
وعدّ الذي يحويه علم إلهنا
… على السّيّد المختار وهو المبشّر
যেহেতু প্রার্থনায় আপনার শাফায়াত কবুলযোগ্য
… আপনার প্রতিদান হলো চিরস্থায়ী জান্নাত, যাতে আপনাকে সুসংবাদ প্রদান করা হয়।
আপনি ছিলেন দিবালোকের ন্যায় যা সকল মানুষকে পথ দেখায়
… যখন সূর্য অস্তমিত হয় এবং নক্ষত্ররাজি দৃশ্যমান হয়।
আপনি ছিলেন উজ্জ্বল বিদ্যুৎ সদৃশ, যার বৃষ্টিপাতে
… ভূমিতে খননকারী ব্যক্তি আনন্দিত হয়।
আপনি সমুদ্রের সাথে পাল্লা দিতেন যখন সমুদ্র উত্তাল থাকত
… আপনার দৃষ্টি মুসাফিরদের হেফাযত ও মুক্তি নিশ্চিত করে।
আল্লাহ আপনাকে সিক্ত করুন, বারংবার সিক্ত করুন
… আপনার কবরে মাগফিরাতের মেঘমালা বর্ষিত হোক।
অতঃপর আল্লাহর সালাত ও তাঁর সালাম বর্ষিত হোক
… কঙ্কর, বালুকণা এবং মণি-মুক্তার সংখ্যা সমপরিমাণ।
এবং আমাদের ইলাহ-র ইলম যা কিছু পরিবেষ্টন করে আছে তার সংখ্যা সমপরিমাণ
… মনোনীত নেতার প্রতি, যিনি সুসংবাদদানকারী।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
[خطبة الكتاب]بسم الله الرّحمن الرّحيم وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما [قال الشيخ الفقيه الولي الصالح السالك السني الأسني أبو المعالي الطالب محمد بن أبي بكر الصديق بن عبد الله بن محمد بن الطالب علي بنان البرتلي الولاتي المالكي الأشعري اعتقادا، رحمه الله تعالى ونفعنا به وبعلومه آمين آمين]
(1).
الحمد لله الذي جعل التاريخ يفيد موعظة وعلما، ويزيد بيانا ويذهب هما، وأشهد أن لا إله إلا الله لا شريك له الملك الحق المبين، وأشهد أن سيدنا محمدا صلى الله عليه وسلم عبده ورسوله الصادق الأمين. والصلاة والسلام على سيدنا ومولانا محمد سيد العرب والعجم، المبعوث لسائر الأمم، صلى الله عليه وسلم. وشرف وكرم، عليه وعلى آله وصحبه أجمعين. والتابعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد، فلما كان جاهل علم التاريخ يركب عمياء، ويخبط خبط عشواء، ينسب خبر من تقدم لمن تأخر، ولا يميز بين من حضر ومن غبر، ورأيت سلفنا قد ألفوا تآليف عديدة في تعريف العلماء في كل نوع من التاريخ، فمنهم من ألف في رجال مذهبه، ومنهم من ألف في
--------------------------------------------
[গ্রন্থের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও অবারিত শান্তি বর্ষিত হোক। [সুন্নী মতাদর্শের অনুসারী, ফকীহ, আল্লাহর ওলী, নেককার, আধ্যাত্মিক পথচারী ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব আবু আল-মাআলি তালিব মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আস-সিদ্দিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আত-তালিব আলী বানান আল-বারতালি আল-ওয়ালাতি, যিনি মালেকী মাযহাবের অনুসারী এবং আকিদাগতভাবে আশআরি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন এবং আমাদের তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করুন, আমিন আমিন]
(১)।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইতিহাসকে উপদেশ ও জ্ঞান লাভের মাধ্যম বানিয়েছেন, যা বিষয়ের স্পষ্টতা বৃদ্ধি করে এবং দুশ্চিন্তা দূর করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, তিনি প্রকৃত সত্য অধিপতি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা এবং তাঁর সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত রাসূল। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি আরব ও অনারবদের সরদার এবং সকল জাতির প্রতি প্রেরিত। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে সম্মানিত ও উচ্চ মর্যাদা দান করুন। দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর; আর তাবিঈন এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
অতঃপর, ইতিহাস শাস্ত্রে অজ্ঞ ব্যক্তি যেহেতু অন্ধকারে পথ চলে এবং লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়ে বেড়ায়, ফলে সে পূর্ববর্তীদের সংবাদ পরবর্তীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে এবং যারা বর্তমানে আছে ও যারা গত হয়েছে তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। আর আমি দেখেছি যে, আমাদের পূর্বসূরিগণ ইতিহাসের প্রতিটি শাখা অনুযায়ী আলেমদের পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ স্বীয় মাযহাবের ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ লিখেছেন, আবার কেউ লিখেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
النحاة، وغير ذلك، ورأيتهم لم يذكروا علماء تكرور لبعد المسافة بينهم وبين علمائنا، وكان في تعريفهم صحة ما قالوا أو ضعفه بالإسناد إليهم.
وعد الإسناد من خصائص هذه الأمة، وكان في التعريف بهم تبرك بذكرهم كما هو معلوم، إلى غير ذلك من الثمرات، أردت أن آتي بتاريخ أعيان علماء التكرور لتعرف مراتبهم في الفقه والدين. وقد قال الفقيه سيدي أحمد بن أندغمحمد في أول الفتوح القيومية له: إن ما كان من العلم معقولا لا يحتاج إلى معرفة قائله إلا من حيث كون ذلك كمالا فيه، وما كان منه منقولا فموكول إلى أمانة ناقله، فلزم تعريفه والبحث عن حاله، لأن من اعتمد في نقله عمن لا يعرف حاله، كان كالباني على غير أساس في نقله. انتهى. ولم أذكر غير المشاهير من العلماء، لأن الإحاطة متعذرة، وربما تركت ذكر من كان مشتهرا منهم لبعد داره مني، أو لعدم معرفتي بأخباره، مرتبا لهم على حروف المعجم المغربية، مقدما عند اتفاق أسمائهم من سبقت وفاته على غيره، وذاكرا فيهم من دخل التكرور من غير أهله، وكان شيخا لهم مشتهرا رجاء بركته، وسميته فتح الشكور في معرفة أعيان علماء التكرور.
ولتكرور إقليم واسع ممتد شرقا إلى ادغاغ
(2)، ومغربا إلى بحر بني زناقية
(3) وجنوبا إلى بيط، وشمالا إلى آدرار، والله الموفق للصواب، وإليه المرجع والمآل. وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما، والحمد لله رب العالمين.
--------------------------------------------
ব্যাকরণবিদ এবং অন্যান্যরা; এবং আমি দেখেছি যে, তাঁরা আমাদের আলেমগণ এবং তকরুরের আলেমদের মধ্যকার দূরত্বের কারণে তাঁদের কথা উল্লেখ করেননি। তাঁদের সম্পর্কে পরিচিতি প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি সম্বন্ধ করার দ্বারা তাঁদের উক্তির বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা জানা যায়।
আর ইসনাদকে এই উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁদের পরিচিতি বর্ণনার মধ্যে তাঁদের স্মরণের মাধ্যমে বরকত লাভ করা নিহিত রয়েছে, যেমনটি সুবিদিত। এ ছাড়াও আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। আমি তকরুরের বিশিষ্ট আলেমদের ইতিহাস নিয়ে আসার ইচ্ছা করেছি, যাতে ফিকহ এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁদের মর্যাদা জানা যায়। ফকিহ সিদি আহমদ বিন আন্দাগমুহাম্মদ তাঁর ‘আল-ফুতুহ আল-কাইয়ুমিয়্যাহ’ গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: ইলমের যা কিছু আকলি (বিবেচনাপ্রসূত), তার প্রবক্তাকে জানার প্রয়োজন পড়ে না, কেবল তাঁর পূর্ণতা প্রমাণের ক্ষেত্র ছাড়া। আর যা কিছু মানকুল (বর্ণনানির্ভর), তা বর্ণনাকারীর আমানতদারির ওপর নির্ভরশীল। তাই তাঁর পরিচয় এবং অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করা আবশ্যক। কারণ যে ব্যক্তি তার বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে যার অবস্থা সম্পর্কে সে অবগত নয়, সে তার বর্ণনার ক্ষেত্রে ভিত্তিহীন গৃহ নির্মাণকারীর মতো। সমাপ্ত। আমি কেবল প্রসিদ্ধ আলেমদের কথা উল্লেখ করেছি, কারণ সকলকে পরিবেষ্টন করা অসম্ভব। কখনও আমি তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কাউকে বাদ দিয়েছি তাঁর বাসস্থান আমার থেকে দূরে হওয়ার কারণে, অথবা তাঁর সম্পর্কে সংবাদ আমার কাছে না পৌঁছানোর কারণে। আমি তাঁদেরকে মাগরিবি বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি এবং নাম মিলে যাওয়ার ক্ষেত্রে যাঁর মৃত্যু আগে হয়েছে তাঁকে অগ্রগণ্য করেছি। তাঁদের মধ্যে আমি এমন ব্যক্তিদেরও উল্লেখ করেছি যারা তকরুরের অধিবাসী না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁদের বরকতের আশায় তাঁদের প্রসিদ্ধ শায়খ হিসেবে গণ্য হয়েছেন। আমি এই গ্রন্থের নাম রেখেছি: ‘ফাতহুশ শাকুর ফি মারিফাতি আয়ান ওলামাইত তকরুর’।
তকরুর হলো একটি বিশাল অঞ্চল, যা পূর্ব দিকে আদগাগ
(২) পর্যন্ত, পশ্চিম দিকে বনু জানাকিয়া সাগর
(৩) পর্যন্ত, দক্ষিণ দিকে বিত এবং উত্তর দিকে আদ্রার পর্যন্ত বিস্তৃত। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনস্থল। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
حرف الألف
1 - [أحمد بن عمر بن محمد أقيت الصنهاجي التنبكتي]الحاج أحمد بن عمر
(4) بن محمد أقيت بن عمر
(5) بن يحيى أكدالة الصنهاجي التنبكتي، جد سيدي أحمد بابا، يعرف بالحاج أحمد، أكبر الإخوة الثلاثة الذين اشتهروا علما ودينا في قطرهم. من أهل الخير والفضل والعلم والدين، محافظا على السنة والمروءة والصيانة والتحري، محبا للنبي صلى الله عليه وسلم، ملازما لقراءة قصائد مدحه، وشفاء عياض على الدوام، فقيها، نحويا، لغويا عروضيا، محصلا. اعتنى بالعلم طوال عمره، فكتب كتبا عديدة بخطه، مع فوائد كثيرة، وترك نحو سبعمائة مجلد، أخذها عن جده لأمه الفقيه أندغمحمد، وعن خاله الفقيه المختار النحويّ وغيرهما. وحج في عام تسعين وثمانمائة، ولقي الجلال السيوطي، والشيخ خالدا الأزهري إمام النحو، وغيرهما من أهل بلاد السودان، ودرس العلم وأفاد، وانتفع به جمع كثير، أجلّهم الفقيه محمود، قرأ عليه المدونة وغيرها، واجتهد في العلم درسا وتحصيلا، وطلب للإمامة
--------------------------------------------
আলিফ বর্ণ১ - [আহমাদ বিন উমর বিন মুহাম্মাদ আকিত আল-সানহাজি আল-তিনবুকতি]আল-হাজ্জ আহমাদ বিন উমর
(৪) বিন মুহাম্মাদ আকিত বিন উমর
(৫) বিন ইয়াহইয়া আকদালা আল-সানহাজি আল-তিনবুকতি, তিনি সিদি আহমাদ বাবার দাদা; তিনি আল-হাজ্জ আহমাদ নামে পরিচিত এবং সেই তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় যারা তাদের অঞ্চলে ইলম ও দ্বীনদারির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি ছিলেন কল্যাণ, শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞান ও দ্বীনদারির অধিকারী; সুন্নাত, গাম্ভীর্য, চারিত্রিক পবিত্রতা ও সত্যানুসন্ধানে যত্নশীল; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী এবং সর্বদা তাঁর প্রশংসামূলক কাসিদাসমূহ ও ইয়াযের ‘আশ-শিফা’ পাঠে মগ্ন থাকতেন। তিনি ছিলেন একজন ফকীহ, নাহুবিদ (ব্যাকরণবিদ), ভাষাবিদ, ছন্দবিদ ও প্রাজ্ঞ ইলম অর্জনকারী। সারাজীবন তিনি ইলমের চর্চায় নিমগ্ন ছিলেন, নিজ হাতে অনেক মূল্যবান টীকা-সহ বহু কিতাব লিখেছেন এবং প্রায় সাতশ খণ্ড কিতাব রেখে গেছেন। তিনি তাঁর মাতামহ ফকীহ আন-দুগমুহাম্মাদ এবং তাঁর মামা ফকীহ আল-মুখতার আন-নাহুবি ও অন্যদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। ৮৯০ হিজরি সনে তিনি হজ পালন করেন এবং জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতি ও নাহু শাস্ত্রের ইমাম শাইখ খালিদ আল-আযহারি এবং সুদানের অন্যান্য জ্ঞানীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইলম শিক্ষা দিয়েছেন ও দ্বীনি খিদমত করেছেন এবং বহু মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে; তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন ফকীহ মাহমুদ, যিনি তাঁর কাছে ‘আল-মুদাওওয়ানাহ’সহ অন্যান্য কিতাব পাঠ করেছেন। তিনি ইলম চর্চা ও জ্ঞান অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং তাঁকে ইমামতের পদের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
في الجامع بالناس فأبى، فضلا عن غيرها. ومن مشهور كراماته أنه لما زار القبر الشريف طلب الدخول إلى داخله فمنعه الخدام منه، فجلس خارجة يمدحه صلى الله عليه وسلم، فانحل له الباب وحده بلا تسبب فبادروا لتقبيل يده، قال حفيده سيدي أحمد بابا: هكذا سمعت الحكاية من جماعة.
توفي رحمه الله ليلة الجمعة في ربيع الثاني عام ثلاثة وأربعين وتسعمائة عن نحو ثمانين سنة.
2 - [أحمد بري بن أحمد ندغمحمد]أبو العباس أحمد بري بن أحمد بن أندغمحمد العالم التقي المقلل من الدنيا المتواضع لله تعالى، أخذ العلم عنه جماعة كثيرة من شيوخ العلم من المتأخرين من أهل سكنه. لم أقف على تاريخ وفاته رحمه الله تعالى.
3 - [أحمد بن محمد بن سعيد]أحمد بن محمد بن سعيد سبط الفقيه محمود بن عمر، عالم فقيه محصل مدرس، حصل على جده المذكور الرسالة ومختصر خليل مرة، وأخذ عن غيره المختصر والمدونة، وانتفع الناس به من عام ستين إلى وفاته. قال سيدي أحمد بابا: ومنهم الأخوان الفقيهان شيخنا محمد بغيع، وأخوه أحمد. قرأت عليه الموطا والمدونة ومختصر خليل وغيرها. أدركته وأنا صغير، وحضرت دولته. ووصفه في تاريخ السودان بالعالم الرباني الولي الصالح، وله حاشية على خليل اعتمد فيها على البيان والتحصيل. مولده سنة إحدى وثلاثين.
وتوفي في المحرم فاتح سنة ست وسبعين وتسعمائة
(6).
5 - [أحمد بغيع بن محمود التنبكتي]أحمد بغيع بن محمود بن أبي بكر التنبكتي، أخو الفقيه محمد بغيع
--------------------------------------------
জামে মসজিদে জনগণের ইমামতি করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান, অন্য বিষয়ের তো প্রশ্নই আসে না। তাঁর সুপরিচিত অলৌকিক ঘটনাসমূহের (কারামত) মধ্যে একটি হলো, যখন তিনি সম্মানিত রওজা মোবারক যিয়ারত করতে যান, তখন তিনি ভেতরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করেন। কিন্তু খাদেমরা তাঁকে বাধা প্রদান করেন। তখন তিনি বাইরে বসে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা গীতি গাইতে থাকেন। অতঃপর কোনো বাহ্যিক কারণ ছাড়াই দরজাটি একা একাই খুলে যায়। তখন উপস্থিতরা দ্রুত তাঁর হাতে চুমু খেতে এগিয়ে আসে। তাঁর নাতি সাইয়্যিদি আহমদ বাবা বলেন: এভাবেই আমি এই ঘটনাটি একটি দলের কাছ থেকে শুনেছি।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) নয়শত তেতাল্লিশ হিজরির রবিউস সানি মাসের জুমার রাতে প্রায় আশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
২ - [আহমদ বাররি বিন আহমদ নুদগমুহাম্মদ]আবুল আব্বাস আহমদ বাররি বিন আহমদ বিন আন্দাগমুহাম্মদ; একজন আলেম, পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ এবং মহান আল্লাহর প্রতি বিনয়ী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর এলাকার পরবর্তী প্রজন্মের আলেমদের মধ্য থেকে একটি বড় দল তাঁর কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন। আমি তাঁর মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।
৩ - [আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ]আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ, তিনি ফকিহ মাহমুদ বিন উমরের দৌহিত্র; একজন আলেম, ফকিহ, সংগ্রাহক ও শিক্ষক। তিনি তাঁর উল্লিখিত দাদার কাছে একবার 'রিসালা' ও 'মুখতাসার খলিল' অধ্যয়ন করেন। অন্যদের কাছ থেকে তিনি 'মুখতাসার' ও 'মুদাওওয়ানা' গ্রহণ করেন। নয়শত ষাট হিজরি থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে। সাইয়্যিদি আহমদ বাবা বলেন: তাঁদের মধ্যে দুই ফকিহ ভাই ছিলেন—আমাদের শায়খ মুহাম্মদ বাগুয়াই এবং তাঁর ভাই আহমদ। আমি তাঁর কাছে মুয়াত্ত্তা, মুদাওওয়ানা, মুখতাসার খলিল এবং অন্যান্য কিতাব পড়েছি। আমি শৈশবে তাঁকে পেয়েছি এবং তাঁর পাঠদান মজলিসে উপস্থিত হয়েছি। 'তারিখে সুদান'-এ তাঁকে 'আলেমে রব্বানি ও নেককার ওলি' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মুখতাসার খলিলের ওপর তাঁর একটি টীকা রয়েছে, যেখানে তিনি 'আল-বায়ান ওয়াত তাহসিল' এর ওপর নির্ভর করেছেন। তাঁর জন্ম নয়শত একত্রিশ হিজরিতে।
তিনি নয়শত ছিয়াত্তর হিজরির মহররম মাসের শুরুতে ইন্তেকাল করেন
(৬)।
৫ - [আহমদ বাগুয়াই বিন মাহমুদ আত-তিম্বুকতি]আহমদ বাগুয়াই বিন মাহমুদ বিন আবু বকর আত-তিম্বুকতি, তিনি ফকিহ মুহাম্মদ বাগুয়াইয়ের ভাই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
شيخ سيدي أحمد بابا، شقيقه رحمهم الله تعالى. قطن مع أخيه في.
تنبكت، ولازما الفقيه أحمد بن محمد بن سعيد سبط الفقيه محمود في مختصر خليل، ورحلا للحج فلقيا الناصر اللقاني، والتاجوري والشريف يوسف الأرصوني
(7) والبرهمنودش
(8) الحنفي، والإمام محمدا البكري وغيرهم فاستفادا، ثم رجعا بعد حجهما فنزلا بتنبكت فأخذا عن ابن محمد بن سعيد المذكور الفقه والحديث، وقرآ عليه الموطا والمدونة والمختصر وغيرها ولازماه، وأخذا عن الحاج أحمد والد سيدي أحمد بابا الأصول والبيان والمنطق. قرآ عليه أصول السبكي وتلخيص المفتاح.
توفي يوم الخميس الثاني عشر من رمضان عام ثمانية وسبعين وتسعمائة، رحمه الله تعالى.
6 - [أحمد بن أحمد بن عمر]الحاج أحمد بن أحمد بن عمر بن محمد أقيت بن عمر بن علي بن يحيى، والد سيدي أحمد بابا، الفقيه العالم بن الفقيه العالم، كان ذكيا ذا رأي متفننا محدّثا أصوليا بيانيا منطقيا مشاركا في فنون من العلم، كان رقيق القلب عظيم الجاه وافر الحرمة عند الملوك وكافة الناس، نفاعا بجاهه، لا ترد له شفاعة، يغلظ على الملوك فمن دونهم وينقادون له أعظم الانقياد، ويزورونه في داره، ولما مرض في كاغ في بعض أسفاره كان السلطان أسكيا داود يأتيه بالليل ويسمر عنده حتى برئ تعظيما لقدره، وكان مشهور القدر والجلالة، وافر الجاه بحيث لا يعارض، محبا في أهل الخير، متواضعا لهم، لا ينطوي على حقد لأحد منصفا للناس، جماعا للكتب، وافر الخزانة، محتوية على كل علق نفيس، سموحا بإعارتها. قال في تاريخ السودان: جمع الله تعالى له أنواع الجمال خلقا ولونا وصوتا وخطا وفصاحة وإتقانا، بارعا في الأدب، محببا إلى جميع
--------------------------------------------
শায়খ সিদি আহমাদ বাবা এবং তাঁর ভাই, আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি তাঁর ভাইয়ের সাথে তিম্বাকতুতে বসবাস করতেন। তাঁরা দুজনেই মুখতাসার খলীল পাঠের জন্য ফকিহ মাহমুদ-এর দৌহিত্র ফকিহ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ-এর সান্নিধ্যে থাকতেন এবং হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে তাঁরা নাসির আল-লাক্কানি, আত-তাজুরি, শরীফ ইউসুফ আল-আরসুনি
(৭), আল-বারহামানুদশ
(৮) আল-হানাফি, ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকরি এবং অন্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হন। অতঃপর হজ শেষ করে তাঁরা তিম্বাকতুতে ফিরে আসেন এবং উল্লিখিত ইবনে মুহাম্মদ বিন সাঈদ-এর নিকট ফিকহ ও হাদিস শিক্ষা করেন। তাঁরা তাঁর কাছে মুয়াত্তা, আল-মুদাওয়ানা, আল-মুখতাসার এবং অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন এবং সর্বদা তাঁর সংস্পর্শে থাকেন। তাঁরা সিদি আহমাদ বাবার পিতা আল-হজ আহমাদ-এর নিকট উসুল, বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও যুক্তিবিদ্যা শিক্ষা করেন। তাঁরা তাঁর কাছে সুবকির উসুল এবং তালখিসুল মিফতাহ পাঠ করেন।
তিনি ৯৭৮ হিজরির ১২ই রমজান, বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
৬ - [আহমাদ বিন আহমাদ বিন উমর]আল-হজ আহমাদ বিন আহমাদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আকিত বিন উমর বিন আলি বিন ইয়াহিয়া, সিদি আহমাদ বাবার পিতা। তিনি ছিলেন এক আলেম ফকিহর পুত্র এবং নিজেও একজন আলেম ফকিহ। তিনি অত্যন্ত মেধাবী, প্রাজ্ঞ চিন্তাবিদ, বহুবিদ্যায় পারদর্শী, মুহাদ্দিস, উসুলবিদ, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ ও যুক্তিবিদ ছিলেন এবং জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর পদচারণা ছিল। তিনি অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। সুলতানদের নিকট এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর ছিল বিশাল প্রতিপত্তি ও অগাধ সম্মান। তিনি তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি দিয়ে মানুষের কল্যাণ করতেন। তাঁর কোনো সুপারিশই প্রত্যাখ্যান করা হতো না। তিনি সুলতান ও তাঁদের অধীনস্থদের প্রতি কঠোর ছিলেন, তবুও তাঁরা তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য প্রদর্শন করতেন এবং তাঁর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। একবার সফরের সময় কাগ নামক স্থানে তিনি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন সুলতান আসকিয়া দাউদ তাঁর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে রাতের বেলা তাঁর কাছে আসতেন এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সাথে রাত জেগে সময় অতিবাহিত করতেন। তিনি সুপ্রসিদ্ধ মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর প্রভাব ছিল অপরিসীম যা কেউ খণ্ডন করতে পারত না। তিনি নেককার লোকদের ভালোবাসতেন এবং তাঁদের প্রতি বিনয়ী ছিলেন। কারো প্রতি তাঁর মনে কোনো হিংসা বা বিদ্বেষ ছিল না এবং তিনি মানুষের প্রতি ইনসাফকারী ছিলেন। তিনি প্রচুর কিতাব সংগ্রহ করতেন। তাঁর কিতাবাগারটি ছিল সমৃদ্ধ এবং সেখানে প্রতিটি দুর্লভ ও মূল্যবান গ্রন্থ সংরক্ষিত ছিল। তিনি কিতাব ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদার ছিলেন। 'তারিখ আস-সুদান'-এ বলা হয়েছে: আল্লাহ তাআলা তাঁর মধ্যে চরিত্র, গায়ের রঙ, কণ্ঠস্বর, হস্তলিপি, বাগ্মিতা ও পারদর্শিতা—সব ধরনের সৌন্দর্যকে একত্রিত করেছিলেন। তিনি সাহিত্যে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
الخلق، عزيزا عندهم. أخذ عن عمه بركة عصره محمود بن عمر وغيره، ورحل للشرق سنة ست وخمسين فحج وزار واجتمع بجماعة كالناصر اللقاني والشريف يوسف تلميذ السيوطي، والجمال بن الشيخ زكرياء، والاجهوري والتاجوري؛ وبمكة وطيبة بأمين الدين الميمون والملاّي وابن حجر المكي، وعبد العزيز اللمطي، وعبد المعطي السخاوي، وعبد القادر الفاكهاني وغيرهم، وانتفع بهم ولازم أبا المكارم محمد البكري وتبرك به وقيد عنه فوائده، ثم قفل لبلده فدرس قليلا، وأسمع الصحيحين نيفا وعشرين سنة في شهر رجب وتالييه وغيرهما. وأخذ عنه جماعة، كالفقيهين الصالحين الأخوين محمد وأحمد إبني الفقيه محمود بغيغ، وحضر عليه إبنه سيدي أحمد بابا أشياء عدة، وأجازه جميع ما يجوز له وعنه، وسمع بقراءته الصحيحين والموطا والشفا، وعلق على صغرى السنوسي والقرطبية وشرح مخمسات العشرينيات الفزاريّة في مديح النبي صلى الله عليه وسلم، وشرح منظومة المغيلي في المنطق شرحا حسنا، وعلق على مواضيع السهو منه، وشرح جمل الخونجي، وألف في الأصول ولم يكمل.
ولد في فاتح المحرم عام تسعة وعشرين وتسعمائة، وثقل عليه لسانه وهو يقرأ صحيح مسلم في الجامع، فأشار عليه الشيخ العلامة محمد بغيع وهو جالس حذاءه بقطع القراءة، فتوفي ليلة الاثنين بغرة ليلة السابع والعشرين من شعبان عام واحد وتسعين وتسعمائة. قال سيدي أحمد بابا:
ورأيت له بعد وفاته رؤيا حسنة رحمه الله تعالى.
7 - [أحمد البكاي بن محمد التنبكتي]الشيخ سيدي أحمد البكاي الولي العارف بالله تعالى المتبرك به المشهور ابن سيدي محمد الكنتي رحمه الله تعالى.
كان من عباد الله الصالحين، والأولياء المعروفين المشهورين.
يزوره الناس من كل فج في كل ساعة، يزوره الشرفاء والأولياء والصالحون
সৃষ্টির কাছে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তিনি তাঁর চাচা, সমকালীন বরকত মাহমুদ ইবনে উমর ও অন্যদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ৯৫৬ হিজরিতে প্রাচ্যের সফরে বের হন, সেখানে হজ পালন করেন এবং জিয়ারত সম্পন্ন করেন। তিনি একদল মনীষীর সাথে মিলিত হন, যেমন নাসির আল-লাকানি, সুয়ুতির ছাত্র শরিফ ইউসুফ, জামাল ইবনুল শায়খ জাকারিয়া, আজহুরি ও তাজুরি। মক্কা ও মদিনায় তিনি আমিনুদ্দিন আল-মাইমুন, আল-মুল্লায়ি, ইবনে হাজার আল-মাক্কি, আব্দুল আজিজ আল-লামতি, আব্দুল মুতি আস-সাখাউই, আব্দুল কাদির আল-ফাকিহানি এবং অন্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের দ্বারা উপকৃত হন। তিনি আবু আল-মাকারিম মুহাম্মদ আল-বাকরির সান্নিধ্য গ্রহণ করেন এবং তাঁর থেকে বরকত হাসিল করেন ও তাঁর নিকট থেকে প্রাপ্ত ফায়েদাহসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। এরপর তিনি নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করে অল্পকাল পাঠদান করেন এবং রজব মাস ও পরবর্তী মাসগুলোতে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) শ্রবণ করান। একদল আলেম তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যেমন দুই পুণ্যবান ফকিহ ও দুই ভ্রাতা মুহাম্মদ ও আহমদ—ফকিহ মাহমুদ বাগেগের দুই পুত্র। তাঁর পুত্র সিদি আহমদ বাবা তাঁর নিকট অনেক বিষয় অধ্যয়ন করেন। তিনি তাকে তাঁর নিকট থেকে বর্ণিত এবং তাঁর জন্য বৈধ যাবতীয় বিষয়ের ইজাজত প্রদান করেন। তাঁর কিরাআতের মাধ্যমে তিনি সহিহাইন, মুয়াত্তা ও আশ-শিফা শ্রবণ করেন। তিনি সানউসির 'সুগরা' এবং 'কুরতুবিয়া'র ওপর টীকা রচনা করেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রশংসায় রচিত ফাজারির 'মুখাম্মাসাতুল ইশরিনিয়্যাহ'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। এছাড়াও তিনি মানতিক শাস্ত্রের ওপর মুগিলির মানজুমার একটি উত্তম ব্যাখ্যা লেখেন এবং এর ভুল-ভ্রান্তিজনিত স্থানগুলোতে টীকা প্রদান করেন। তিনি খুনাজির 'জুমাল'-এর ব্যাখ্যা করেন এবং উসুল শাস্ত্রের ওপর একটি গ্রন্থ শুরু করেন যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি।
তিনি ৯২৯ হিজরির পহেলা মহররম জন্মগ্রহণ করেন। জামে মসজিদে সহিহ মুসলিম তিলাওয়াত করার সময় তাঁর জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে আসছিল, এমতাবস্থায় তাঁর পাশে উপবিষ্ট আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বাগেগ তাঁকে তিলাওয়াত বন্ধ করার ইশারা দেন। তিনি ৯৯১ হিজরির শাবান মাসের সাতাশ তারিখ সোমবার রাতে ইন্তেকাল করেন। সিদি আহমদ বাবা বলেন:
তাঁর ইন্তেকালের পর আমি তাঁকে নিয়ে একটি উত্তম স্বপ্ন দেখেছি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
৭ - [আহমদ আল-বাক্কায়ি ইবনে মুহাম্মদ আত-তিম্বুক্তি]শায়খ সিদি আহমদ আল-বাক্কায়ি, যিনি ওলি, আরিফ বিল্লাহ, বরকতময় ও প্রসিদ্ধ; সিদি মুহাম্মদ আল-কুন্তির পুত্র, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
তিনি আল্লাহর নেক বান্দাদের এবং সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ ওলিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
প্রতিটি সময় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁকে দেখতে আসতেন; শরিফগণ, ওলিগণ এবং নেককারগণ তাঁর জিয়ারত করতেন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وغيرهم، وأكثر الناس زيارة له الغرباء وأهل التل والمسافرون الذين يأتون بالتجارة من جهة الشمال، لما رأوا من بركاته كثيرا. ويأتون بالفتوحات وينحرون عند قبره ويتصدقون به على الفقراء والمساكين، وهو جد كنتة كلها: كنتة الحجر وكنتة أزواد. وأخرج الله تعالى من نسله كثيرا من الأولياء والصالحين وربما أتاه بعض ذريته، وأقام يزار، وتظهر عليه بركته.
ولم أقف على تاريخ وفاته، ولعله من أهل القرن العاشر والله أعلم، وقبره بجبل ولاتة الغربي قريبا من الديار جدا، رحمه الله تعالى ونفعنا به، آمين.
8 - [أحمد بابا التنبكتي]سيدي أحمد بابا الفقيه بن الحاج أحمد بن الحاج أحمد بن عمر بن محمد أقيت بن عمر بن علي بن يحيى بن كدالة بن بكي بن نيق
(9) بن لف بن يحيى بن تشت بن تنفر بن جبراي بن أكنبر بن انص بن أبي بكر بن عمر الصنهاجي الماسني رحمهم الله تعالى. جدّ رحمه الله واجتهد في بداية أمره في خدمة العلم حتى فاق جميع معاصريه، ولا يناظره في العلم إلا أشياخه، وشهدوا له بالعلم. واشتهر في الغرب أمره، وانتشر ذكره، وسلم له علماء الأمصار في الفتوى، وكان وقوفا عند الحق، ولو كان من أدنى الناس، ولا يداهن فيه ولو الأمراء
(10) والسلاطين. وكان اسم محمد صلى الله عليه وسلم مكتوبا في عضده الأيمن خلقة بخط أبيض، قاله صاحب تاريخ السودان. وبيته بيت علم وصلاح، فشا فيهم العلم، ونشأ هو على ذلك فحفظ بعض الأمهات، وقرأ النحو على عمه أبي بكر الرجل الصالح، والتفسير والحديث والفقه والأصول والعربية والبيان وغيرها على شيخه العلامة محمد بغيع، ولازمه أكثر من عشرين سنة. وأخذ الحديث على
--------------------------------------------
এবং অন্যান্যরা। তাকে সবচেয়ে বেশি যিয়ারত করতে আসেন আগন্তুকগণ, টিলার অধিবাসীগণ এবং উত্তর দিক থেকে আসা ব্যবসায়ী মুসাফিরগণ, কারণ তারা তার অনেক বরকত প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা বিভিন্ন দান-সামগ্রী নিয়ে আসেন এবং তার কবরের নিকট পশু যবেহ করেন এবং তা দরিদ্র ও মিসকিনদের মাঝে সদকা করে দেন। তিনি সমগ্র কুন্তাহ বংশের আদিপিতা: কুন্তাহ আল-হাজর এবং কুন্তাহ আজওয়াদ। আল্লাহ তাআলা তার বংশধারা থেকে অনেক অলি ও নেককার মানুষ বের করেছেন। সম্ভবত তার বংশধরদের কেউ কেউ তার কাছে আসতেন এবং সেখানে অবস্থান করে যিয়ারত করতেন, আর তাদের ওপর তার বরকত প্রকাশ পেত।
আমি তার মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি; সম্ভবত তিনি দশম হিজরি শতাব্দীর লোক ছিলেন, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। তার কবর পশ্চিম ওয়ালাতা পাহাড়ে, যা লোকালয়ের খুবই কাছে অবস্থিত। আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন এবং তার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন, আমিন।
৮ - [আহমদ বাবা আত-তিম্বুকতি]সায়্যিদী আহমদ বাবা আল-ফকিহ ইবন আল-হাজ্জ আহমদ ইবন আল-হাজ্জ আহমদ ইবন উমর ইবন মুহাম্মদ আকিত ইবন উমর ইবন আলী ইবন ইয়াহইয়া ইবন কাদালাহ ইবন বাক্কি ইবন নাইক
(৯) ইবন লাফ ইবন ইয়াহইয়া ইবন তাশত ইবন তানফার ইবন জিবরাই ইবন আকানবার ইবন আনাস ইবন আবু বকর ইবন উমর আস-সিনহাজি আল-মাসিনি, আল্লাহ তাআলা তাদের সকলের ওপর রহম করুন। তিনি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) তার জীবনের শুরুর দিকে ইলমের খিদমতে অত্যন্ত পরিশ্রম ও সাধনা করেছিলেন, এমনকি তিনি তার সমসাময়িক সকলকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। ইলমের ক্ষেত্রে তার উস্তাদগণ ব্যতীত আর কেউ তার সমকক্ষ ছিল না, এবং তারা তার ইলমের পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। পশ্চিমে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তার আলোচনা সর্বত্র বিস্তৃত হয়। বিভিন্ন শহরের আলেমগণ ফতোয়ার ক্ষেত্রে তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেন। তিনি সর্বদা সত্যের ওপর অটল থাকতেন, চাই তা অতি সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষেই হোক না কেন। এ ব্যাপারে তিনি আমির ও সুলতানদের সাথেও কোনো তোষামোদ বা আপস করতেন না
(১০)। তার ডান বাহুতে জন্মগতভাবে সাদা অক্ষরে 'মুহাম্মদ' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামটি লেখা ছিল—এ কথা 'তারিখুস সুদান' (সুদানের ইতিহাস) গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন। তার পরিবার ছিল ইলম ও নেককারিতার আধার। তাদের মাঝে ইলমের ব্যাপক চর্চা ছিল এবং তিনি এই পরিবেশেই বেড়ে ওঠেন। তিনি কিছু মূল গ্রন্থ মুখস্থ করেন। তিনি তার চাচা নেককার ব্যক্তি আবু বকরের কাছে নাহু (ব্যাকরণ) এবং তার উস্তাদ আল্লামা মুহাম্মদ বাগিয়াআ এর কাছে তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুল, আরবি ভাষা ও অলংকারশাস্ত্রসহ অন্যান্য বিষয় অধ্যয়ন করেন। তিনি তার সান্নিধ্যে বিশ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেন। তিনি হাদিস গ্রহণ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
والده سماعا والمنطق، وقرأ الرسالة تفقها، ومقامات الحريري على غيرهما
(11)، واشتهر بين الطلبة بالمهارة على كلل وملل في الطلب.
قال في ترجمة شيخه المذكور: فختمت عليه مختصر خليل بقراءتي وقراءة غيري عليه نحو ثمان مرات، وختمت عليه الموطا قراءة تفهم، وتسهيل ابن مالك قراءة بحث وتدقيق مدة ثلاث سنوات، وأصول السبكى بشرح المحلّي ثلاث مرات، قراءة تحقيق، وألفية العراقي بشرح مؤلفها، وتلخيص المفتاح بمختصر السعد مرتين، وصغرى السنوسي، وشرح الجزائرية له، وحكم ابن عطاء الله، مع شرح زروق لها، ونظم أبي مقرع، والهاشمية في التنجيم، مع شرحها، ومقدمة التاجوري فيه، ورجز المغيلي في المنطق، والخزرجية في العروض، بشرح الشريف السبتي، وكثيرا من تحفة الحكّام لابن عاصم مع شرحها لابنه، كلها بقراءتي. وقرأت عليه فرعيّ ابن الحاجب قراءة بحث، جميعه، وحضرته في التوضيح كذلك لم يفتني منه إلا من الوديعة إلى الأقضية، وكثيرا من المنتقى للباحي، والمدونة بشرح أبي الحسن الزرويلي
(12)، وشفاء عياض، وقرأت عليه صحيح البخاري نحو النصف، وسمعته بقراءته، وكذلك صحيح مسلم كله، ودولا من مدخل ابن الحاج ودروسا من الرسالة والألفية وغيرها، وفسرت عليه القرآن العزيز، إلى أثناء سورة الأعراف، وسمعت بلفظه جامع المعيار للونشريسي كاملا، وهو في سفر كبير، ومواضع أخر منه، وباحثة كثيرا في المشكلات، وراجعته في المهمات، وأجازني بخطه [جميع ما يجوز له وعنه، وأوقفته على بعض تواليفي فسرّ به وقرّظ عليه بخطه]
(13) بل كتب عني أشياء من أبحاثي، وسمعته يقول بعضها في درسه لإنصافه وتواضعه وقبوله الحق حيث تعين انتهى.
--------------------------------------------
তাঁর পিতার নিকট শুনে এবং যুক্তিবিদ্যা শিক্ষা করেন। তিনি ফিকহ অনুধাবনের উদ্দেশ্যে 'আর-রিসালাহ' পাঠ করেন এবং অন্যদের নিকট 'মাকামাতে হারিরি' পড়েন
(১১)। ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে ক্লান্তি ও অবসাদ সত্ত্বেও তিনি ছাত্রদের মাঝে দক্ষতার জন্য সুপরিচিত হন।
তিনি তাঁর উক্ত শাইখের জীবনীতে বলেন: "আমি তাঁর নিকট আমার নিজের পাঠ এবং অন্যের পাঠের মাধ্যমে প্রায় আটবার 'মুখতাসার খলিল' সমাপ্ত করেছি। আমি তাঁর নিকট অনুধাবনসহ 'মুয়াত্তা' সমাপ্ত করেছি। তিন বছর যাবত গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সাথে ইবনে মালিকের 'তাসহিল' পাঠ করেছি। মাহাল্লির শারহসহ সুবকির 'উসুল' তিনবার তাহকিকের সাথে পাঠ করেছি। এছাড়া ইরাকির 'আলফিয়্যাহ' গ্রন্থকারের নিজস্ব শারহসহ, সা'দের মুখতাসারসহ 'তালখিসুল মিফতাহ' দুইবার, সানুসির 'সুগরা' এবং তাঁর কৃত 'জাযাইরিয়্যাহ'-এর শারহ, যাররুকের শারহসহ ইবনে আতাউল্লাহর 'হিকাম', আবু মিকরা-এর 'নাজম', শারহসহ জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর রচিত 'আল-হাশিমিয়্যাহ' এবং এই বিষয়ে তাজুরি-এর 'মুকাদ্দিমাহ' পাঠ করেছি। যুক্তিবিদ্যায় মুগিলির 'রাজায', শরিফ সাবতির শারহসহ ছন্দবিজ্ঞানের 'আল-খাযরাজিয়্যাহ' এবং ইবনে আসিমের 'তুহফাতুল হুক্কাম'-এর একটি বড় অংশ তাঁর পুত্রের শারহসহ পাঠ করেছি; এগুলোর সবই ছিল আমার নিজস্ব পাঠ। আমি তাঁর নিকট ইবনুল হাজিবের 'ফারয়ি' গবেষণামূলকভাবে সম্পূর্ণটি পাঠ করেছি এবং একইভাবে 'আত-তাওদিহ'-এর দরসেও উপস্থিত ছিলাম। আমানত (ওয়াদিয়াহ) অধ্যায় থেকে বিচারকার্য (আকদিয়াহ) অধ্যায় ব্যতীত এর কোনো অংশই আমার বাদ পড়েনি। বাজি-এর 'আল-মুনতাকা'-র একটি বড় অংশ এবং আবুল হাসান যারওয়িলির শারহসহ 'আল-মুদাওওয়ানাহ' পাঠ করেছি
(১২)। আয়াযের 'শিফা' পড়েছি। তাঁর নিকট সহিহ বুখারীর প্রায় অর্ধেক পাঠ করেছি এবং তাঁর নিজের পাঠে তা শুনেছি। একইভাবে সহিহ মুসলিম সম্পূর্ণটি এবং ইবনুল হাজ্জের 'মাদখাল'-এর কিছু অংশ, আর-রিসালাহ ও আলফিয়্যাহ এবং অন্যান্য গ্রন্থের কিছু দরস শুনেছি। আমি তাঁর নিকট পবিত্র কুরআনের তাফসির করেছি সূরা আল-আরাফের মধ্যভাগ পর্যন্ত। ওয়ানশারিসির 'জামেউল মিইয়ার' সম্পূর্ণটি তাঁর পবিত্র মুখনিসৃত শব্দে শুনেছি, যা একটি বিশাল খণ্ড। এছাড়া এর অন্যান্য অংশও শুনেছি। জটিল বিষয়াবলীতে অনেক গবেষণা করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর শরণাপন্ন হয়েছি। তিনি তাঁর নিজ হাতের লেখায় আমাকে ইজাযত প্রদান করেছেন [সেই সবকিছুর যা তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করা বৈধ। আমি আমার কিছু রচনা তাঁকে দেখিয়েছিলাম, যা দেখে তিনি আনন্দিত হন এবং নিজ হাতে সেগুলোর উপর প্রশংসা বাণী লিখে দেন]
(১৩)। বরং তিনি আমার গবেষণার কিছু বিষয় লিখে নিয়েছিলেন এবং তাঁর নিরপেক্ষতা, বিনয় ও সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তা গ্রহণ করার মানসিকতার কারণে আমি তাঁকে তাঁর দরসে সেগুলোর কিছু উল্লেখ করতে শুনেছি।" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুশ শাকুর ফী মারিফাতি আয়ানি উলামাইত তাকরুর
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
قال صاحبه الثقة أبو عبد الله محمد بن يعقوب الأيسي المراكشي في فهرسته: كان أخونا أحمد بابا من أهل العلم والفهم والإدراك التام الحسن، حسن التصنيف كامل الحظ من العلوم فقها وحديثا وعربية وأصولا وتاريخا منحيا
(14) للاهتداء لمقاصد العلماء، مثابرا على التقييد والمطالعة، مطبوعا على التأليف، ألّف تواليف مفيدة جامعة، فيها أبحاث عقلية ونقلية. قال: حدثني بحديث الرحمة المسلسل بالأولية عن والده بسنده، وحديث المصافحة عن والده أيضا، وسمعت عليه أكثر صحيح مسلم بلفظه، ولم يفتني منه إلا القليل، وقرأت عليه الشفاء وعشرينيات الفزاري، وتخميس ابن مهيب لها، وشيئا من صحيح البخاري وسنن الترمذي، والموطا، وسمعت ألفية الحديث للعراقي عليه تفقها إلا أبياتا، وأوائل مختصر خليل، وأشياء من الابى على مسلم، وغير ذلك، وأجازني، وذاكرته في الأسانيد والرجال والتاريخ، وكان من أوعية العلم رحمه الله تعالى، وناولني المسلسل بالمالكية انتهى. وقال فيه صاحبه السيد الأستاذ المتواضع الناظم الناثر ذو الأخلاق الطاهرة، والشيم الفاخرة، الحاج أحمد بن الحاج محمد فهدي
(15) بن أبي فهدي التواتي ثم المراكشي رحمه الله تعالى: لما
(16) فتح الله تعالى عليّ بملاقاة عالم الدنيا ومعلمها، حامل لواء الأحاديث ومفهمها، رافع رواية مذهب الإمام مالك ومقدمها، العالم العلامة، المقبول الفاضل الفهامة، سيدي وبغيتي وهداي، ومسرجي ومثواي، ومهجتي وإياي، أبا العباس سيدي أحمد بابا، جعل الله تعالى أيامه للخير أسبابا، وفتح به إلى العلوم أبوابا، تلقيت منه ما فتح الله لي بالقبول، وألفيته علقة الوصول، فلازمت بابه المبارك ليالي وأياما، وشهورا وأعواما، وتضلعت من زمزمه بما فيه مقنع، وكنت معه كالذي يأكل ولا يشبع، فقرأت عليه رحمه الله تعالى القرآن العظيم بتفسير ذي
--------------------------------------------
তাঁর বিশ্বস্ত সাথী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-আইসি আল-মাররাকুশি তাঁর 'ফিহরিস্ট'-এ বলেছেন: আমাদের ভাই আহমাদ বাবা ইলম, সমঝ এবং পূর্ণ ও সুন্দর উপলব্ধির অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন চমৎকার লেখক এবং ফিকহ, হাদিস, আরবি ভাষা, উসুল ও ইতিহাসে ইলমের পূর্ণ অংশের অধিকারী এবং আলেমদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রবণতাসম্পন্ন(১৪)। তিনি লিপিবদ্ধকরণ ও নিয়মিত অধ্যয়নে অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং গ্রন্থ রচনার স্বাভাবিক যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। তিনি অনেক উপকারী ও সংকলনমূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাতে যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক আলোচনা বিদ্যমান। তিনি বলেন: তিনি তাঁর পিতার সূত্রে প্রাপ্ত সনদে আমাকে 'হাদিসুর রহমাহ আল-মুসালসাল বিল আওয়ালিয়্যাহ' এবং মুসাফাহা সম্পর্কিত হাদিসও তাঁর পিতার সূত্রেই বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর কাছে তাঁর নিজ মুখে উচ্চারিত 'সহিহ মুসলিম'-এর অধিকাংশ শ্রবণ করেছি, যা থেকে আমার খুব সামান্যই বাদ পড়েছে। আমি তাঁর কাছে 'আশ-শিফা', ফাজারির 'ইশরিনিয়্যাত' এবং সেটির ওপর ইবনে মুহিবের 'তাখমিস' পাঠ করেছি। এছাড়াও সহিহ বুখারি, সুনান আত-তিরমিজি ও মুয়াত্তার কিছু অংশ পাঠ করেছি। আমি তাঁর কাছে সমঝ ও বুৎপত্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইরাকির 'আলফিয়াতুল হাদিস' শ্রবণ করেছি, শুধু অল্প কিছু পংক্তি বাদ ছিল। এছাড়াও 'মুখতাসার খালিল'-এর শুরুর দিকের অংশ এবং মুসলিমের ওপর আল-আবির ব্যাখ্যাগ্রন্থের কিছু অংশসহ আরও অনেক কিছু পড়েছি। তিনি আমাকে ইজাজত দিয়েছেন। আমি তাঁর সাথে সনদ, রাবি ও ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতাম। তিনি ছিলেন ইলমের ভাণ্ডার, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। তিনি আমাকে 'আল-মুসালসাল বিল মালিকিয়্যাহ' প্রদান করেছেন। সমাপ্ত। তাঁর সম্পর্কে তাঁর অপর সাথী বিনয়ী উস্তাদ, গদ্য ও পদ্য রচয়িতা, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ও শ্রেষ্ঠ স্বভাবের অধিকারী আল-হাজ আহমাদ ইবনে আল-হাজ মুহাম্মাদ ফাহদি(১৫) ইবনে আবি ফাহদি আত-তাওয়াতি অতঃপর আল-মাররাকুশি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: যখন(১৬) আল্লাহ তাআলা আমার জন্য দুনিয়ার এই আলেমের সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত করে দিলেন, যিনি হাদিসের ঝাণ্ডাবাহী ও তার প্রকৃত ব্যাখ্যাদাতা এবং ইমাম মালিকের মাযহাবের বর্ণনার ধারক ও অগ্রণী ব্যক্তিত্ব। তিনি মহাজ্ঞানী আলেম, সর্বজনগৃহীত শ্রেষ্ঠ বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব, আমার সাইয়্যেদ, আমার লক্ষ্য, আমার পথপ্রদর্শক, আমার প্রদীপ, আমার আশ্রয়স্থল এবং আমার সত্তার অংশ—আবু আব্বাস সাইয়্যেদ আহমাদ বাবা। আল্লাহ তাআলা তাঁর দিনগুলোকে কল্যাণের মাধ্যম করুন এবং তাঁর দ্বারা ইলমের বিভিন্ন দ্বার উন্মুক্ত করে দিন। আল্লাহ যা আমার জন্য সহজ করেছেন তা আমি তাঁর কাছ থেকে কবুলিয়াতের সাথে গ্রহণ করেছি এবং তাঁকে আমি প্রাপ্তির যোগসূত্র হিসেবে পেয়েছি। আমি রাত-দিন, মাস ও বছর জুড়ে তাঁর বরকতময় দরবারে পড়ে থাকতাম এবং তাঁর ইলমের ঝরনাধারা থেকে পরিতৃপ্ত হয়ে পান করেছি, তবুও আমি এমন এক ব্যক্তির ন্যায় ছিলাম যে আহার করার পরও তৃপ্ত হয় না। আমি তাঁর কাছে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মহান কুরআন তিলাওয়াত করেছি সেই তাফসিরের সাথে যার...
--------------------------------------------