(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
حجية القياس والرد علي المخالفين   (يوسف بن عبد الرحمن)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: حجية القياس والرد علي المخالفين

المؤلف: يوسف بن عبد الرحمن

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 37

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিয়াসের (القياس) প্রামাণিকতা (حجية) এবং বিরোধীদের খণ্ডন   (ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)


গ্রন্থ: কিয়াসের (القياس) প্রামাণিকতা (حجية) এবং বিরোধীদের খণ্ডন

লেখক: ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة البحث

ان الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور انفسنا ومن سيئات اعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له

واشهد الا اله الا الله وحده لا شريك له لا رب غيره ولا اله سواه واشهد ان محمدا عبده ورسوله افضل نبي واشرفه وأزكاه

اما بعد

فهذا بحث مختصر في حجية القياس حاولت فيه قدر الطاقة الاختصار والايجاز والاقتصار علي موضوع البحث فم اتعرض لكثير من المسائل خشية الاطالة ،وقد قسمت البحث الي مقدمات تمهيدية:

الاولي في بيان اهمية العمل بالقياس، والثانية في تعريف القياس لغة واصطلاحا ،والثالثة في انواع القياس، والرابعة في بيان

أول من نقل عنه انكار القياس وتعريف موجز به. ثم شرعت في بيان ادلة نفاة القياس وذلك في المبحث الاول، ثم المبحث الثاني وهو في ادلة القائلين بالقياس ،ثم المبحث الثالث في مناقشة أدلة منكري القياس ثم خلاصة البحث.

وفي النهاية أسأل الله سبحانه بمنه وكرمه أن ينفعني وإخواني بهذا العمل ،وان يلهمنا رشدنا، وان يوحد صفنا، ويجمع كلمتنا علي الحق.
গবেষণার ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল; তিনি সর্বোত্তম, সবচেয়ে সম্মানিত ও পবিত্রতম নবী।

অতঃপর:

এটি কিয়াস (القياس)-এর বিধানগত প্রামাণ্যতা (حجية) বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা। এতে আমি যথাসাধ্য সংক্ষেপণ এবং কেবল গবেষণার মূল বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আমি অনেক মাসআলার অবতারণা করিনি। আমি গবেষণাপত্রটিকে কয়েকটি প্রাথমিক উপক্রমণিকায় বিভক্ত করেছি:

প্রথমটি হলো কিয়াস (القياس) অনুযায়ী আমল করার গুরুত্ব বর্ণনায়; দ্বিতীয়টি হলো কিয়াস (القياس)-এর শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحا) সংজ্ঞায়; তৃতীয়টি হলো কিয়াস (القياس)-এর প্রকারভেদ (أنواع) বর্ণনায়; এবং চতুর্থটি হলো যাদের থেকে সর্বপ্রথম কিয়াস (القياس) অস্বীকারের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বর্ণনায়। অতঃপর আমি প্রথম অনুচ্ছেদে (المبحث) কিয়াস (القياس) অস্বীকারকারীদের দলিলসমূহ (أدلة) বর্ণনা শুরু করেছি। এরপর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে (المبحث) কিয়াস (القياس)-এর প্রবক্তাদের দলিলসমূহ (أدلة) এবং তৃতীয় অনুচ্ছেদে (المبحث) কিয়াস (القياس) অস্বীকারকারীদের দলিলসমূহের (أدلة) পর্যালোচনা এবং সবশেষে গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছি।

পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও করুণার উসিলায় প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কর্মের মাধ্যমে আমাকে ও আমার ভাইদের উপকৃত করেন, আমাদের সঠিক পথের দিশা দান করেন, আমাদের কাতারগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং সত্যের ওপর আমাদের ঐক্য সুদৃঢ় করেন।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
‌‌مقدمات تمهيدية

‌‌المقدمة الاولي:أهمية القياس

القياس هو الدليل الرابع من ادلة اصول الفقه وهو اصل عظيم الشان جليل القدر فبه استنبطت اكثر الاحكام لان النصوص محصورة والحوادث متجددة غير محصورة ولذلك قال الامام احمد لا يستغني احد عن القياس وقال القياس ضرورة وقال (إمَامِ الْحَرَمَيْنِ: إنَّ أَكْثَرَ الْحَوَادِثِ لَا نَصَّ فِيهَا بِحَالٍ.وَلِذَا قَالَ غَيْرُهُ مِنْ الْأَئِمَّةِ: إنَّهُ لَوْ لَمْ يُسْتَعْمَلْ الْقِيَاسُ أَفْضَى إلَى خُلُوِّ كَثِيرٍ مِنْ الْحَوَادِثِ عَنْ الْأَحْكَامِ، لِقِلَّةِ النُّصُوصِ وَكَوْنِ الصُّوَرِ لَا نِهَايَةَ لَهَا.) انتهي من البحر المحيط للزركشي

ولقد أجمعت الامة علي العمل بالقياس ،وقد وردت بذلك الاثار ، وتواتر ذلك المعني عن الصحابة والتابعين وأئمة الهدي ، فقال به جماهير العلماء منهم الائمة الاربعة ،والمحققون من الاصوليين ،فجعلوه من الاصول المتفق عليها، إلي ان جاء النظام المعتزلي فقال بانكاره وتبعه علي ذلك كثير من المعتزلة وداود الظاهري واتباع المذهب الظاهري والامامية من الروافض. وأخذ باقوالهم بعض الفرق المنتسبة الي الاسلام اليوم كحزب التحرير وغيره

ولقد وقف الناس من القياس مواقف متباينة فمنهم من غلا في الاخذ به فعارض النصوص الصريحة الصحيحة برأيه

ومنهم من غلا في رفضه وانكاره فحرمه ، ومنهم من عمل به بشروطه وهم اهل التحقيق.فلم يلجأوا أليه الا عند الضرورة

اذا لم يجدوا حكم المسالة أو النازلة في الكتاب والسنة أوالاجماع.
‌প্রারম্ভিক উপক্রমণিকা

‌প্রথম উপক্রমণিকা: কিয়াসের (القياس) গুরুত্ব

কিয়াস (القياس) হলো উসূলুল ফিকহের দলিলসমূহের (أدلة) মধ্যে চতুর্থ দলিল (الدليل) এবং এটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদা ও গুরুত্বসম্পন্ন একটি মূলনীতি (أصل)। এর মাধ্যমেই অধিকাংশ বিধান উদ্ভাবন করা হয়েছে; কেননা নাসসমূহ (النصوص) সীমিত, পক্ষান্তরে ঘটনাবলি প্রতিনিয়ত নতুনভাবে ঘটে এবং তা অসীম। এই কারণেই ইমাম আহমাদ বলেছেন, কিয়াস (القياس) ব্যতীত কারও পক্ষে চলা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেছেন, কিয়াস (القياس) হলো একটি অপরিহার্যতা। ইমামুল হারামাইন বলেছেন: 'অধিকাংশ ঘটনার ক্ষেত্রেই কোনো নাস (نص) বিদ্যমান নেই। এই কারণেই অন্যান্য ইমামগণ বলেছেন: যদি কিয়াস (القياس) ব্যবহার করা না হতো, তবে নাসের (النصوص) স্বল্পতা এবং পরিস্থিতির অসীমতার কারণে অনেক ঘটনা শরয়ী বিধানশূন্য হয়ে পড়ত।' — যারকাশির আল-বাহরুল মুহিত থেকে সমাপ্ত।

নিশ্চয়ই উম্মত কিয়াসের (القياس) ওপর আমল করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ (أجمعت) করেছে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন আছার (الآثار) বর্ণিত হয়েছে। সাহাবী, তাবিঈ এবং হিদায়াতের ইমামগণের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি মুতাওয়াতির (تواتر) সূত্রে সাব্যস্ত। চার ইমামসহ জমহুর আলেম এবং উসূলবিদগণের মধ্যে যারা মুহাক্কিক, তারা এই মতই পোষণ করেছেন। তারা একে সর্বসম্মত মূলনীতিসমূহের (الأصول المتفق عليها) অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যতক্ষণ না মুতাজিলা মতাদর্শী নাজ্জাম একে অস্বীকার করেন। এরপর অনেক মুতাজিলা, দাউদ জাহিরি, জাহিরি মাযহাবের অনুসারী এবং রাফেজিদের মধ্য হতে ইমামিয়্যাহ সম্প্রদায় তাকে অনুসরণ করে। বর্তমানে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কিছু দল যেমন হিযবুত তাহরীর এবং আরও কিছু দল তাদের এই মত গ্রহণ করেছে।

কিয়াসের (القياس) ব্যাপারে মানুষের অবস্থান ছিল ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে কেউ একে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অতি বাড়াবাড়ি করেছে, ফলে তারা স্বীয় মতামতের (الرأي) মাধ্যমে সুস্পষ্ট ও সহিহ (صحيحة) নাসসমূহের (النصوص) বিরোধিতা করেছে।

আবার কেউ কেউ একে প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করার ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করে একে হারাম সাব্যস্ত করেছে। আর তাদের মধ্যে একদল এর যথাযথ শর্তানুসারে কিয়াসের (القياس) ওপর আমল করেছেন, যারা হলেন মুহাক্কিক আলেম। তারা কেবল তখনই এর আশ্রয় নিয়েছেন যখন তারা কোনো মাসআলা বা উদ্ভূত সমস্যার সমাধান কুরআন, সুন্নাহ অথবা ইজমার (الإجماع) মধ্যে খুঁজে পাননি।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدمة الثانية: تعريف القياس

‌‌تعريف القياس لغة

قال صاحب مختار الصحاح {ق ي س قَاسَ الشيءَ بالشيء قَدَّره على مِثاله. ويقال بينهما قِيسُ رمْح وقاسُ رُمْح أي قَدْرُ رُمْح.}

وقال صاحب لسان العرب { (قيس) : قاسَ الشيء يَقيسُه قَيْساً وقياساً واقْتاسه وقَيَّسه إِذا قدَّره على مثاله قال: فهنَّ بالأَيْدي مُقَيِّساتُهْ مُقَدَّرات ومُخْيّطاتُهْ والمِقياس: المِقدار. وقاسَ الشيء يَقوسُه قَوْساً: لغة في قاسَه يَقِيسه. ويقال: قِسْته وقُسْته أَقُوسُه قَوْساً وقِياساً ولا يقال أَقَسْته بالألف. والمِقْياس: ما قِيسَ به. والقِيسُ والقاسُ: القَدْر يقال: قِيسُ رُمْحٍ وقاسُه........... وقاس الطبيبُ قَعْرَ الجراحة قَيساً وأَنشد إِذا قاسَها الآسِي النِّطاسِيُّ أَدْبَرَتْ غَثِيثَتْها وازداد وَهْياً هُزُومُها وفي حديث الشعبي: أَنه قَضى بشهادة القائس مع يمين المَشْجوج أَي الذي يَقيس الشَّجَّة ويتعرَّف غَوْرها بالمِيل الذي يُدخله فيها ليعتبرَها وبينهما قِيس رُمْح وقاسُ رمح أَي قدر رُمح.}
দ্বিতীয় ভূমিকা: কিয়াসের (القياس) সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে কিয়াসের (القياس) সংজ্ঞা

মুখতারুস সিহাহ গ্রন্থের লেখক বলেন: {ক্ব-ইয়া-সিন; এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে তুলনা করা (ক্ব-সা) অর্থ হলো সেটিকে তার অনুরূপ পরিমাণে নির্ধারণ করা। বলা হয়ে থাকে, তাদের উভয়ের মাঝে এক বর্শার ব্যবধান (ক্বীসু রুমহিন বা ক্ব-সু রুমহিন) রয়েছে, অর্থাৎ এক বর্শা পরিমাণ।}

লিসানুল আরব গ্রন্থের লেখক বলেন: { (ক্ব-ইয়া-সিন): কোনো কিছু পরিমাপ করা (ক্ব-সা) বলতে বোঝায় যখন সেটিকে তার অনুরূপ কিছু দ্বারা পরিমাপ করা হয়। কবি বলেন: তারা হাত দিয়ে পরিমাপকারী, নির্ধারণকারী এবং সেলাইকারী। আর ‘মিকইয়াস’ হলো পরিমাণ। কিয়াস (القياس) করার ক্ষেত্রে ‘ক্ব-সা-ইয়াক্বীসু’ এর পাশাপাশি ‘ক্ব-সা-ইয়াক্বূসু’ হিসেবেও শব্দটির ব্যবহার আছে। বলা হয়: ‘ক্বিসতুহু’ এবং ‘ক্বুসতুহু’, আমি একে পরিমাপ করি ‘ক্বাওসান’ ও ‘ক্বিয়াসান’ রূপে; তবে আলিফ যোগ করে ‘আক্বসতুহু’ বলা হয় না। ‘মিকইয়াস’ হলো সেই যন্ত্র যা দিয়ে পরিমাপ করা হয়। ‘ক্বীস’ এবং ‘ক্ব-স’ অর্থ হলো পরিমাণ। বলা হয়: এক বর্শার পরিমাণ... এবং চিকিৎসক জখমের গভীরতা পরিমাপ করেছেন; কবি এ প্রসঙ্গে কবিতা আবৃত্তি করেছেন: যখন বিজ্ঞ চিকিৎসক এটি পরিমাপ করেন, তখন তার দূষিত মাংস দূরীভূত হয় এবং তার ক্ষত ও দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়। আশ-শা'বী বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে যে: তিনি আহত ব্যক্তির শপথের সাথে পরিমাপকারীর (القائس) সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ফয়সালা করেছিলেন। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি যখমের গভীরতা পরিমাপ করে এবং এর ভেতরে শলাকা প্রবেশ করিয়ে তার গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে যাতে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়। আর তাদের উভয়ের মাঝে এক বর্শার ব্যবধান রয়েছে অর্থাৎ এক বর্শা পরিমাণ।}
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
‌‌تعريف القياس اصطلاحا

اختلف الاصوليون في تعريفه نظرا لاختلافهم في مسألة هل القياس دليل شرعي نصبه الشارع أو هو عمل المجتهد فمن قال بان القياس دليل نصبه الشارع عبر عن القياس بانه استواء بين الفرع والاصل في العلة المستنبطة من حكم الاصل هذا تعريف الامدي سيف الدين في الاحكام

ومنهم من عبر بلفظ المساواة كابن الحاجب وابن عبد الشكور فقال ابن الحاجب: مساواة فرع لاصل في علة حكمه

اما من قال بان القياس هو عمل المجتهد كابي بكر الباقلاني وتبعه امام الحرمين والغزالي والرازي والامدي فقد عبروا عن القياس بأنه حمل معلوم علي معلوم في اثبات حكم لهما او نفيه عنهما بامر جامع بينهما

واختاره اكثر المحققين من الاصوليين

ولا نريد الاطالة في بحث الاعتراضات علي هذه التعريفات ولكنا نختار ما ختاره المحققون وهو ان القياس هو حمل معلوم علي ما علم حكمه لاستوائهما في علة الحكم لدي المجتهد

قال صاحب مراقي السعود

بحمل معلوم علي ما قد علم للاستوا في علة الحكم وُسم

وان ترد شموله لما فسد فزد لدي الحامل والزيد اسد
পারিভাষিক অর্থে কিয়াসের (القياس) সংজ্ঞা

উসুলবিদগণ (الاصوليون) কিয়াসের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। এর কারণ হলো—কিয়াস (القياس) কি বিধাতা (الشارع) কর্তৃক নির্ধারিত কোনো শারয়ি দলিল (دليل شرعي), নাকি এটি একজন মুজতাহিদের (المجتهد) কর্ম—এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যারা মনে করেন কিয়াস (القياس) বিধাতা (الشارع) কর্তৃক নির্ধারিত একটি দলিল (دليل), তারা কিয়াসকে (القياس) সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, মূল বিষয়ের (الاصل) হুকুম থেকে আহরিত কারণের (العلة المستنبطة) ভিত্তিতে শাখা (الفرع) ও মূলের (الاصل) মধ্যে সমতা (استواء) বিধান করা। আল-ইহকাম গ্রন্থে সাইফ উদ্দিন আমেদি এই সংজ্ঞাই প্রদান করেছেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ ‘সমতা’ (المساواة) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যেমন ইবনুল হাজিব এবং ইবনে আব্দুশ শাকুর। ইবনুল হাজিব বলেন: কোনো শাখার (فرع) হুকুমের কারণের (علة) ক্ষেত্রে তাকে মূলের (اصل) সমতুল্য (مساواة) করা।

আর যারা বলেন কিয়াস (القياس) হলো মুজতাহিদের (المجتهد) কর্ম, যেমন আবু বকর আল-বাকিল্লানি এবং তার অনুসারী ইমামুল হারামাইন, আল-গাজালি, আর-রাজি ও আল-আমেদি; তারা কিয়াসের (القياس) সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: কোনো একটি জ্ঞাত বিষয়কে অপর একটি জ্ঞাত বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা (حمل معلوم علي معلوم), যাতে তাদের উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যের (امر جامع) মাধ্যমে তাদের জন্য কোনো বিধান সাব্যস্ত করা যায় অথবা তাদের থেকে কোনো বিধান নাকচ (نفيه) করা যায়।

উসুলবিদদের (الاصوليون) মধ্যে অধিকাংশ গবেষক আলেম (المحققون) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

আমরা এই সংজ্ঞাগুলোর ওপর উত্থাপিত আপত্তিগুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে চাই না; বরং গবেষক আলেমগণ (المحققون) যা পছন্দ করেছেন আমরা সেটিই গ্রহণ করছি। আর তা হলো: কিয়াস (القياس) হলো—মুজতাহিদের (المجتهد) নিকট হুকুমের কারণের (علة الحكم) দিক থেকে দুটি বিষয় সমান হওয়ার কারণে একটি জ্ঞাত বিষয়কে এমন একটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা (حمل معلوم علي ما علم حكمه) যার হুকুম জানা আছে।

মারাকিস সাউদ গ্রন্থের লেখক বলেছেন:

কোনো একটি জ্ঞাত বিষয়কে অপর একটি জ্ঞাত বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করার মাধ্যমে একে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে হুকুমের কারণের (علة الحكم) ক্ষেত্রে উভয়ের সমতা (استواء) বজায় থাকে।

আর আপনি যদি এর মাধ্যমে ত্রুটিযুক্ত (فسد) কিয়াসকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চান, তবে ‘প্রয়োগকারীর (الحامل) নিকট’ কথাটি যোগ করুন; আর এই সংযোজনই হবে অধিক সঠিক।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
اذا فأركان القياس التي يقوم عليها اربعة هي الاصل والفرع والعلة والحكم ولابد لكل قياس من توفر هذه الاركان

فالاصل هو المعلوم الذي ثبت حكمه بالشرع وهوما يقاس عليه ويشبه الفرع به، والفرع هنا هو الامر الذي لم يرد حكمه في الشرع ابتداء وهو ما يطلب قياسه علي الاصل، والعلة هي الوصف الجامع بين الاصل والفرع، والحكم هو

ثمرة قياس الفرع علي الاصل.
অতএব কিয়াসের (القياس) ভিত্তি হিসেবে চারটি রুকন (أركان) রয়েছে, সেগুলো হলো: মূল (الأصل), শাখা (الفرع), কার্যকর কারণ (العلة) এবং বিধান (الحكم)। প্রতিটি কিয়াসের (القياس) জন্য এই রুকনগুলোর উপস্থিতি অপরিহার্য।

মূল (الأصل) হলো সেই জ্ঞাত বিষয় যার বিধান শরিয়ত দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে এবং যার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করা হয় এবং যার সাথে শাখাকে (الفرع) তুলনা করা হয়; আর শাখা (الفرع) বলতে এখানে সেই বিষয়কে বোঝায় যার বিধান শরিয়তে প্রাথমিকভাবে বর্ণিত হয়নি এবং যাকে মূলের (الأصل) সাথে কিয়াস করা প্রয়োজন। কার্যকর কারণ (العلة) হলো সেই সমন্বয়কারী বৈশিষ্ট্য যা মূল (الأصل) ও শাখার (الفرع) মধ্যে বিদ্যমান, এবং বিধান (الحكم) হলো

মূলের (الأصل) ওপর শাখাকে (الفرع) কিয়াস করার ফলশ্রুতি।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
‌‌المقدمة الثالثة: أنواع القياس

ينقسم القياس الي قسمين الاول هو قياس العكس والثاني هو قياس الطرد، فأما قياس العكس فعبارة عن اثبات عكس حكم الاصل للفرع لان علة الفرع عكس علة الاصل ومثله كما ذكر رسول الله صلي الله عليه وسلم (وفي بضع احدكم صدقة) قالوا اياتي احدنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ قال صلى الله عليه وسلم: (أرأيتم لو وضعها في حرام أكان عليه فيها وزر؟ قالوا: نعم. قال: كذلك إن وضعها في الحلال كان له فيها أجر) الحديث رواه مسلم عن ابي ذر الغفاري. اما النوع الثاني من القياس فهو قياس الطرد وينقسم الي ثلاثة اقسام ،قياس العلة وقياس الدلالة وقياس الشبه قال الامام الجويني في الورقات في اصول الفقه (فَقِيَاسُ الْعِلَّةِ: مَا كَانَتِ الْعِلَّةُ فِيهِ مُوجِبَةً لِلْحُكْمِ.

وَقِيَاسُ الدَّلَالَةِ: وَهُوَ الاِسْتِدْلَالُ بِأَحَدِ النَّظِيرَيْنِ عَلَى الآخَرِ، وَهُوَ أَنْ تَكُونَ الْعِلَّةُ دَالَّةً عَلَى الْحُكْمِ، وَلَا تَكُونُ مُوجِبَةً لِلْحُكْمِ.

وَقِيَاسُ الشَّبَهِ: وَهُوَ الْفَرْعُ الْمُتَرَدِّدُ بَيْنَ أَصْلَيْنِ، فَيُلْحَقُ بِأَكْثَرِهِمَا شَبَهًا، وَلَا يُصَارُ إِلَيْهِ مَعَ إِمْكَانِ مَا قَبْلَهُ. وَمِنْ شَرْطِ الْفَرْعِ: أَنْ يَكُونَ مُنَاسِبًا لِلأَصْلِ. وَمِنْ شَرْطِ الأَصْلِ: أَنْ يَكُونَ ثَابِتًا بِدَلِيلٍ مُتَّفَقٍ عَلَيْهِ بَيْنَ الْخَصْمَيْنِ.) انتهي

قال ابن القيم في اعلام الموقعين (وَالْأَقْيِسَةُ الْمُسْتَعْمَلَةُ فِي الِاسْتِدْلَالِ ثَلَاثَةٌ: قِيَاسُ عِلَّةٍ، وَقِيَاسُ دَلَالَةٍ، وَقِيَاسُ شَبَهٍ، وَقَدْ وَرَدَتْ كُلُّهَا فِي الْقُرْآنِ. {فَأَمَّا قِيَاسُ الْعِلَّةِ} فَقَدْ جَاءَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل فِي مَوَاضِعَ، مِنْهَا قَوْله تَعَالَى: {إنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} فَأَخْبَرَ تَعَالَى أَنَّ عِيسَى نَظِيرُ آدَمَ فِي التَّكْوِينِ بِجَامِعِ مَا يَشْتَرِكَانِ فِيهِ مِنْ الْمَعْنَى الَّذِي تَعَلَّقَ بِهِ وُجُودُ سَائِرِ الْمَخْلُوقَاتِ، وَهُوَ مَجِيئُهَا طَوْعًا لِمَشِيئَتِهِ وَتَكْوِينِهِ، فَكَيْفَ يُسْتَنْكَرُ وُجُودُ عِيسَى مِنْ غَيْرِ أَبٍ مَنْ يُقِرُّ بِوُجُودِ آدَمَ مِنْ غَيْرِ أَبٍ وَلَا أُمٍّ؟ وَوُجُودِ حَوَّاءَ مِنْ غَيْرِ أُمٍّ؟ فَآدَمُ وَعِيسَى نَظِيرَانِ يَجْمَعُهُمَا الْمَعْنَى الَّذِي يَصِحُّ تَعْلِيقُ الْإِيجَادِ وَالْخَلْقِ بِهِ.........وَأَمَّا {قِيَاسُ الدَّلَالَةِ} فَهُوَ الْجَمْعُ بَيْنَ الْأَصْلِ وَالْفَرْعِ بِدَلِيلِ الْعِلَّةِ وَمَلْزُومِهَا؛ وَمِنْهُ قَوْله تَعَالَى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّك تَرَى الْأَرْضَ خَاشِعَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ إنَّ الَّذِي أَحْيَاهَا لَمُحْيِي الْمَوْتَى إنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} فَدَلَّ سُبْحَانَهُ عِبَادَهُ بِمَا أَرَاهُمْ مِنْ الْإِحْيَاءِ الَّذِي تَحَقَّقُوهُ وَشَاهَدُوهُ عَلَى الْإِحْيَاءِ الَّذِي اسْتَبْعَدُوهُ، وَذَلِكَ قِيَاسُ إحْيَاءٍ عَلَى إحْيَاءٍ، وَاعْتِبَارُ الشَّيْءِ بِنَظِيرِهِ؛ وَالْعِلَّةُ الْمُوجِبَةُ هِيَ عُمُومُ قُدْرَتِهِ سُبْحَانَهُ، وَكَمَالُ حِكْمَتِهِ؛ وَإِحْيَاءُ الْأَرْضِ دَلِيلُ الْعِلَّةِ وَمِنْهُ قَوْله تَعَالَى: {يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنْ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنْ الْحَيِّ وَيُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَكَذَلِكَ تُخْرَجُونَ} فَدَلَّ بِالنَّظِيرِ عَلَى النَّظِيرِ، وَقَرَّبَ أَحَدَهُمَا مِنْ الْآخَرِ جِدًّا بِلَفْظِ الْإِخْرَاجِ، أَيْ يَخْرُجُونَ مِنْ الْأَرْضِ أَحْيَاءً كَمَا يَخْرُجُ الْحَيُّ مِنْ الْمَيِّتِ وَيَخْرُجُ الْمَيِّتُ مِنْ الْحَيِّ.
তৃতীয় ভূমিকা: কিয়াসের (قياس) প্রকারভেদ

কিয়াস (قياس) বা অনুমিতি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হলো বিপরীত অনুমিতি (قياس العكس) এবং দ্বিতীয়টি হলো অভিন্ন অনুমিতি (قياس الطرد)। বিপরীত অনুমিতি (قياس العكس) বলতে বোঝায় মূলের (أصل) বিধানের (حكم) বিপরীত বিধান শাখার (فرع) জন্য সাব্যস্ত করা; কেননা শাখার কার্যকারণ (علة) মূলের কার্যকারণের (علة) বিপরীত। এর উদাহরণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমাদের প্রত্যেকের যৌন মিলনেও সদকা রয়েছে।" সাহাবায়ে কেরাম বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ কি তার কামনাবাসনা পূর্ণ করবে আর তাতেও কি তার সওয়াব হবে? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা কি মনে করো, যদি সে তা হারামে লিপ্ত করত তবে কি তার গুনাহ হতো না? তারা বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: তেমনিভাবে সে যদি তা হালাল পথে ব্যয় করে তবে তার জন্য সওয়াব রয়েছে।" এই হাদিসটি মুসলিম আবু যার আল-গিফারি থেকে বর্ণনা করেছেন। কিয়াসের (قياس) দ্বিতীয় প্রকার হলো অভিন্ন অনুমিতি (قياس الطرد), যা তিন ভাগে বিভক্ত: কার্যকরণভিত্তিক অনুমিতি (قياس العلة), নির্দেশক অনুমিতি (قياس الدلالة) এবং সাদৃশ্যভিত্তিক অনুমিতি (قياس الشبه)। ইমাম জুওয়াইনি ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) বিষয়ক গ্রন্থ আল-ওয়ারাকাত-এ বলেছেন: "কার্যকরণভিত্তিক অনুমিতি (قياس العلة) হলো সেটি যাতে কার্যকারণটি (علة) বিধানের (حكم) জন্য আবশ্যককারী (موجبة) হয়।

নির্দেশক অনুমিতি (قياس الدلالة): এটি হলো দুই অনুরূপ (نظير) বিষয়ের একটির দ্বারা অন্যটির ওপর প্রমাণ উপস্থাপন করা, যেখানে কার্যকারণটি (علة) বিধানের (حكم) নির্দেশক (دالة) হয়, কিন্তু বিধানের (حكم) জন্য তা আবশ্যককারী (موجبة) হয় না।

সাদৃশ্যভিত্তিক অনুমিতি (قياس الشبه): এটি এমন একটি শাখা (فرع) যা দুটি মূলের (أصل) মাঝে দোদুল্যমান, তাই সাদৃশ্যের বিচারে যেটির সাথে অধিকতর মিল থাকে তার সাথে একে যুক্ত করা হয়। পূর্ববর্তী প্রকারগুলো সম্ভব হলে এর দিকে ধাবিত হওয়া যায় না। শাখার (فرع) শর্ত হলো এটি মূলের (أصل) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আর মূলের (أصل) শর্ত হলো এটি এমন দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে যা বিবাদমান দুই পক্ষের নিকট স্বীকৃত।" সমাপ্ত।

ইবনুল কায়্যিম ইলামুল মুওয়াক্কিঈন গ্রন্থে বলেছেন: "দলিল উপস্থাপনে ব্যবহৃত অনুমিতি (قياس) তিন প্রকার: কার্যকরণভিত্তিক অনুমিতি (قياس العلة), নির্দেশক অনুমিতি (قياس الدلالة) এবং সাদৃশ্যভিত্তিক অনুমিতি (قياس الشبه); আর এর সবগুলোই কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। কার্যকরণভিত্তিক অনুমিতি (قياس العلة) আল্লাহর কিতাবে বিভিন্ন স্থানে এসেছে, যার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্ত সদৃশ। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বললেন: 'হও', ফলে সে হয়ে গেল}। মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় ঈসা আদমের অনুরূপ (نظير); কারণ তারা এমন এক সাধারণ অর্থের (معنى) ওপর ভিত্তি করে একীভূত যার সাথে সমস্ত সৃষ্টির অস্তিত্ব জড়িত, আর তা হলো তাঁর ইচ্ছা ও সৃজনের প্রতি অনুগত থাকা। সুতরাং যে ব্যক্তি পিতা ও মাতা ব্যতিরেকে আদমের অস্তিত্ব এবং মাতা ব্যতিরেকে হাওয়ার অস্তিত্ব স্বীকার করে, সে কেন পিতা ব্যতিরেকে ঈসার অস্তিত্বকে অস্বীকার করবে? আদম ও ঈসা উভয়ই অনুরূপ (نظير), তারা এমন এক অর্থের (معنى) মাধ্যমে একত্রিত যাতে অস্তিত্ব দান ও সৃষ্টিকে যুক্ত করা সঠিক হয়... আর নির্দেশক অনুমিতি (قياس الدلالة) হলো কার্যকারণ (علة) এবং তার অপরিহার্য বিষয়ের (ملزوم) প্রমাণের মাধ্যমে মূল (أصل) ও শাখার (فرع) মধ্যে সমন্বয় করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, তুমি ভূমিকে শুষ্ক-ধূসর দেখতে পাও, অতঃপর যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয়ই যিনি একে জীবিত করেছেন, তিনি অবশ্যই মৃতদের জীবিতকারী। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান}। এখানে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সেই জীবনদানের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন যা তারা উপলব্ধি করেছে ও প্রত্যক্ষ করেছে, সেই জীবনদানের ওপর যা তারা অসম্ভব মনে করত। এটি হলো এক জীবনদানকে অন্য জীবনদানের ওপর অনুমিত করা এবং একটি বস্তুকে তার অনুরূপ (نظير) বস্তুর আলোকে বিবেচনা করা। এখানে আবশ্যককারী কার্যকারণ (علة موجبة) হলো মহান আল্লাহর সাধারণ সক্ষমতা ও তাঁর পূর্ণ প্রজ্ঞা। আর ভূমিকে জীবিত করা হলো সেই কার্যকারণের (علة) প্রমাণ (دليل)। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি মৃত থেকে জীবিতকে নির্গত করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে নির্গত করেন এবং ভূমিকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন; এভাবেই তোমরা পুনরুত্থিত হবে}। এখানে অনুরূপ (نظير) দিয়ে অনুরূপের (نظير) ওপর প্রমাণ দেওয়া হয়েছে এবং 'নির্গত করা' (إخراج) শব্দের মাধ্যমে একটিকে অন্যটির খুব নিকটবর্তী করা হয়েছে; অর্থাৎ তারা ভূমি থেকে জীবিত অবস্থায় নির্গত হবে যেমনভাবে মৃত থেকে জীবিত এবং জীবিত থেকে মৃত নির্গত হয়।"
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
وَمِنْهُ قَوْله تَعَالَى: {أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدًى أَلَمْ يَكُ نُطْفَةً مِنْ مَنِيٍّ يُمْنَى ثُمَّ كَانَ عَلَقَةً فَخَلَقَ فَسَوَّى فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى} .

فَبَيَّنَ سُبْحَانَهُ كَيْفِيَّةَ الْخَلْقِ وَاخْتِلَافِ أَحْوَالِ الْمَاءِ فِي الرَّحِمِ إلَى أَنْ صَارَ مِنْهُ الزَّوْجَانِ الذَّكَرُ وَالْأُنْثَى، وَذَلِكَ أَمَارَةُ وُجُودِ صَانِعٍ قَادِرٍ عَلَى مَا يَشَاءُ، وَنَبَّهَ سُبْحَانَهُ: عِبَادَهُ بِمَا أَحْدَثَهُ فِي النُّطْفَةِ الْمُهِينَةِ الْحَقِيرَةِ مِنْ الْأَطْوَارِ، وَسَوْقُهَا فِي مَرَاتِبِ الْكَمَالِ مِنْ مَرْتَبَةٍ إلَى مَرْتَبَةٍ أَعْلَى مِنْهَا، حَتَّى صَارَتْ بَشَرًا سَوِيًّا فِي أَحْسَنِ خَلْقٍ وَتَقْوِيمٍ - عَلَى أَنَّهُ لَا يَحْسُنُ بِهِ أَنْ يَتْرُكَ هَذَا الْبَشَرَ سُدًى مُهْمَلًا مُعَطَّلًا لَا يَأْمُرُهُ وَلَا يَنْهَاهُ وَلَا يُقِيمُهُ فِي عُبُودِيَّتِهِ، وَقَدْ سَاقَهُ فِي مَرَاتِبِ الْكَمَالِ مِنْ حِينِ كَانَ نُطْفَةً إلَى أَنْ صَارَ بَشَرًا سَوِيًّا، فَكَذَلِكَ يَسُوقُهُ فِي مَرَاتِبِ كَمَالِهِ طَبَقًا بَعْدَ طَبَقٍ وَحَالًا بَعْدَ حَالٍ إلَى أَنْ يَصِيرَ جَارَهُ فِي دَارِهِ يَتَمَتَّعُ بِأَنْوَاعِ النَّعِيمِ، وَيَنْظُرُ إلَى وَجْهِهِ، وَيَسْمَعُ كَلَامَهُ....... {وَأَمَّا قِيَاسُ الشَّبَهِ} فَلَمْ يَحْكِهِ اللَّهُ سُبْحَانَهُ إلَّا عَنْ الْمُبْطِلِينَ؛ فَمِنْهُ قَوْله تَعَالَى إخْبَارًا عَنْ إخْوَةِ يُوسُفَ أَنَّهُمْ قَالُوا لَمَّا وَجَدُوا الصُّوَاعَ فِي رَحْلِ أَخِيهِمْ: {إنْ يَسْرِقْ فَقَدْ سَرَقَ أَخٌ لَهُ مِنْ قَبْلُ} فَلَمْ يَجْمَعُوا بَيْنَ الْأَصْلِ وَالْفَرْعِ بِعِلَّةٍ وَلَا دَلِيلِهَا، وَإِنَّمَا أَلْحَقُوا أَحَدَهُمَا بِالْآخَرِ مِنْ غَيْرِ دَلِيلٍ جَامِعٍ سِوَى مُجَرَّدِ الشَّبَهِ الْجَامِعِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ يُوسُفَ، فَقَالُوا: هَذَا مَقِيسٌ عَلَى أَخِيهِ، بَيْنَهُمَا شَبَهٌ مِنْ وُجُوهٍ عَدِيدَةٍ، وَذَاكَ قَدْ سَرَقَ فَكَذَلِكَ هَذَا، وَهَذَا هُوَ الْجَمْعُ بِالشَّبَهِ الْفَارِغِ، وَالْقِيَاسِ بِالصُّورَةِ الْمُجَرَّدَةِ عَنْ الْعِلَّةِ الْمُقْتَضِيَةِ لِلتَّسَاوِي، وَهُوَ قِيَاسٌ فَاسِدٌ، وَالتَّسَاوِي فِي قَرَابَةِ الْأُخُوَّةِ لَيْسَ بِعِلَّةٍ لِلتَّسَاوِي فِي السَّرِقَةِ لَوْ كَانَتْ حَقًّا، وَلَا دَلِيلَ عَلَى التَّسَاوِي فِيهَا؛ فَيَكُونُ الْجَمْعُ لِنَوْعِ شَبَهٍ خَالٍ عَنْ الْعِلَّةِ وَدَلِيلِهَا.
এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষ কি মনে করে যে তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হবে? সে কি নির্গত বীর্যের একটি শুক্রকীট ছিল না? অতঃপর সে আলাকায় (পিণ্ড) পরিণত হয়েছিল, তারপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুঠাম করেছেন। অতঃপর তিনি তা থেকে জোড়া—পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন। তবে কি সেই সত্তা মৃতদের জীবিত করতে সক্ষম নন?}।

অতঃপর মহান আল্লাহ সৃষ্টির পদ্ধতি এবং জরায়ুতে বীর্যের বিভিন্ন অবস্থার পরিবর্তনের বর্ণনা দিয়েছেন, যতক্ষণ না তা থেকে পুরুষ ও নারীর জোড়া সৃষ্টি হয়। এটি এমন এক স্রষ্টার অস্তিত্বের নিদর্শন, যিনি যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে এই তুচ্ছ ও নগণ্য শুক্রাণুর মধ্যে যে বিবর্তনসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে পূর্ণতার স্তরে স্তরে এক ধাপ থেকে অন্য উচ্চতর ধাপে পরিচালিত করেছেন সে সম্পর্কে সচেতন করেছেন, যতক্ষণ না তা সর্বোত্তম অবয়ব ও গঠনে এক সুঠাম মানুষে পরিণত হয়েছে—এই যুক্তিতে যে, এই মানুষকে লক্ষ্যহীন, অকেজো ও অনর্থক ছেড়ে দেওয়া তাঁর জন্য সমীচীন নয়, যেখানে তাকে আদেশ করা হবে না, নিষেধ করা হবে না এবং তাঁর ইবাদতে নিয়োজিত করা হবে না। অথচ তিনি তাকে শুক্রাণু অবস্থা থেকে সুঠাম মানুষে পরিণত হওয়া পর্যন্ত পূর্ণতার বিভিন্ন ধাপে পরিচালিত করেছেন। একইভাবে তিনি তাকে পূর্ণতার স্তরে স্তরে এক ধাপের পর অন্য ধাপ এবং এক অবস্থার পর অন্য অবস্থায় পরিচালিত করবেন, যতক্ষণ না সে তাঁর সান্নিধ্যে জান্নাতে পৌঁছায়, যেখানে সে বিভিন্ন ধরণের নেয়ামত ভোগ করবে, তাঁর দিদার লাভ করবে এবং তাঁর কালাম শ্রবণ করবে... {আর সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমান (قياس الشبه) প্রসঙ্গে} মহান আল্লাহ বাতিলপন্থীদের উদ্ধৃতি ছাড়া এটি বর্ণনা করেননি। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী যা তিনি ইউসুফের ভাইদের সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেছেন; যখন তারা তাদের ভাইয়ের মালপত্রের মধ্যে পেয়ালাটি খুঁজে পেল, তখন তারা বলেছিল: {যদি সে চুরি করে থাকে, তবে ইতিপূর্বে তার এক ভাইও চুরি করেছিল}। ফলে তারা মূল (أصل) এবং শাখা (فرع)-এর মধ্যে কোনো কার্যকারণ (علة) বা তার প্রমাণের ভিত্তিতে সমন্বয় করেনি। বরং তারা কোনো সমন্বয়কারী দলিল (دليل جامع) ছাড়াই কেবল ইউসুফের সাথে তার নিছক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করেছিল। তারা বলেছিল: এটি তার ভাইয়ের ওপর অনুমানকৃত (مقياس), তাদের উভয়ের মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে; যেহেতু ওই ভাই চুরি করেছিল, তাই এটিও চুরি করেছে। আর এটি হলো অসার সাদৃশ্যের মাধ্যমে সমন্বয় করা এবং সমতা আনয়নের জন্য আবশ্যকীয় কার্যকারণ (علة) বর্জিত নিছক বাহ্যিক রূপের ভিত্তিতে অনুমান (القياس), যা একটি ভ্রান্ত অনুমান (قياس فاسد)। কেননা ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কের সমতা চুরির ক্ষেত্রে সমতার কার্যকারণ (علة) হতে পারে না, এমনকি যদি তা সত্যও হতো। আর এতে সমতার কোনো দলিল (دليل) নেই; ফলে এই সমন্বয়টি কার্যকারণ (علة) ও তার দলিল (دليل) বিহীন নিছক এক প্রকার সাদৃশ্যের ভিত্তিতে হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
وَمِنْهُ قَوْله تَعَالَى إخْبَارًا عَنْ الْكُفَّارِ أَنَّهُمْ قَالُوا: {مَا نَرَاكَ إلَّا بَشَرًا مِثْلَنَا} فَاعْتُبِرُوا صُورَةَ مُجَرَّدِ الْآدَمِيَّةِ وَشَبَهَ الْمُجَانَسَةِ فِيهَا، وَاسْتَدَلُّوا بِذَلِكَ عَلَى أَنَّ حُكْمَ أَحَدِ الشَّبَهَيْنِ حُكْمُ الْآخَرِ؛ فَكَمَا لَا نَكُونُ نَحْنُ رُسُلًا فَكَذَلِكَ أَنْتُمْ، فَإِذَا تَسَاوَيْنَا فِي هَذَا الشَّبَهِ فَأَنْتُمْ مِثْلُنَا لَا مَزِيَّةَ لَكُمْ عَلَيْنَا، وَهَذَا مِنْ أبطل الْقِيَاسِ؛ فَإِنَّ الْوَاقِعَ مِنْ التَّخْصِيصِ وَالتَّفْضِيلِ وَجَعْلِ بَعْضِ هَذَا النَّوْعِ شَرِيفًا وَبَعْضَهُ دَنِيًّا، وَبَعْضَهُ مَرْءُوسًا وَبَعْضَهُ رَئِيسًا، وَبَعْضَهُ مَلِكًا وَبَعْضَهُ سُوقَةً، يُبْطِلُ هَذَا الْقِيَاسَ، كَمَا أَشَارَ سُبْحَانَهُ إلَى ذَلِكَ فِي قَوْلِهِ: {أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَةَ رَبِّك نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سِخْرِيًّا وَرَحْمَةُ رَبِّك خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ} .

وَأَجَابَتْ الرُّسُلُ عَنْ هَذَا السُّؤَالِ بِقَوْلِهِمْ: {إنْ نَحْنُ إلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ} وَأَجَابَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ عَنْهُ بِقَوْلِهِ: {اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} .......وَمِنْ هَذَا قِيَاسُ الْمُشْرِكِينَ الرِّبَا عَلَى الْبَيْعِ بِمُجَرَّدِ الشَّبَهِ الصُّورِيِّ، وَمِنْهُ قِيَاسُهُمْ الْمَيْتَةَ عَلَى الْمُذَكَّى فِي إبَاحَةِ الْأَكْلِ بِمُجَرَّدِ الشَّبَهِ.

وَبِالْجُمْلَةِ فَلَمْ يَجِئْ هَذَا الْقِيَاسُ فِي الْقُرْآنِ إلَّا مَرْدُودًا مَذْمُومًا) انتهي من اعلام الموقعين باختصار ومن ارد المزيد من الامثلة فليرجع اليه
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী যা তিনি কাফিরদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন যে তারা বলেছিল: {আমরা তোমাকে কেবল আমাদের মতোই একজন মানুষ হিসেবে দেখতে পাচ্ছি}। তারা কেবল বাহ্যিক মানবিক রূপ এবং স্বজাতীয় সাদৃশ্যকেই বিবেচনায় নিয়েছিল। তারা এর মাধ্যমে এই দলিল পেশ করেছিল যে, সদৃশ দুটির একটির বিধান অপরটির বিধানের অনুরূপ হবে; অর্থাৎ আমরা যেহেতু রাসূল নই, তোমরাও তেমনি রাসূল নও। সুতরাং যখন আমরা এই সাদৃশ্যে সমান, তখন তোমরা আমাদের মতোই, আমাদের ওপর তোমাদের কোনো বিশেষত্ব নেই। এটি অত্যন্ত বাতিল কিয়াস (القياس); কেননা বাস্তবে যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিতকরণ ও শ্রেষ্ঠত্ব দান পরিলক্ষিত হয়—যার মাধ্যমে এই মানবজাতির কাউকে সম্মানিত এবং কাউকে হীন করা হয়েছে, কাউকে অনুসারী এবং কাউকে নেতা বানানো হয়েছে, কাউকে রাজা এবং কাউকে সাধারণ প্রজা করা হয়েছে—তা এই কিয়াসকে (القياس) বাতিল করে দেয়। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন: {তারা কি তোমার রবের রহমত বণ্টন করে? আমিই পার্থিব জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি এবং তাদের একজনকে অপরজনের ওপর মর্যাদায় উন্নত করি যাতে তারা একে অপরকে সেবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আর তোমার রবের রহমত তারা যা পুঞ্জীভূত করে তা অপেক্ষা উত্তম।}

রাসূলগণ তাদের এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন: {আমরা তোমাদের মতোই মানুষ ছাড়া আর কিছু নই, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার ওপর ইচ্ছা অনুগ্রহ দান করেন।} এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর উত্তর দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: {আল্লাহ ভালো জানেন কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করতে হবে।} ....... এর অন্তর্ভুক্ত হলো নিছক বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে মুশরিকদের সুদকে ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর কিয়াস (القياس) করা। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো কেবলমাত্র সাদৃশ্যের কারণে খাওয়ার বৈধতার ক্ষেত্রে মৃত প্রাণীকে জবেহকৃত প্রাণীর ওপর তাদের কিয়াস (القياس) করা।

সারকথা হলো, পবিত্র কুরআনে এই কিয়াস (القياس) কেবল প্রত্যাখ্যাত (مردود) এবং নিন্দিত (مذموم) রূপেই এসেছে।) ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন থেকে সংক্ষেপে সমাপ্ত। যারা আরও উদাহরণ চান তারা মূল কিতাবটির শরণাপন্ন হতে পারেন।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ৩)
أول من نقل عنه القول بالقياس

لقد عمل الصحابة والتابعون بالقياس وقد تواتر ذلك عنهم الي ان جاء النظام أبو إسحاق إبراهيم بن سيار (1) شيخ المعتزلة فقال بنفي القياس والاجتهاد في الاحكام

--------------------------------------------

(1) النظام:هوإبراهيم بن سيار بن هانئ النظام أبو إسحاق البصري مولى بني بحير بن الحارث بن عباد الضبعي من رؤوس المعتزلة متهم بالزندقة وكان شاعراً أديباً بليغاً وله كتب كثيرة في الاعتزال والفلسفة ذكرها النديم قال ابن قتيبة في اختلاف الحديث له كان شاطرا من الشطار مشهوراً بالفسق ثم ذكر من مفرداته أنه كان يزعم أن الله يحدث الدنيا وما فيها في كل حين من غير أن يفنيها وجوز أن يجتمع المسلمون على الخطأ وإن النبي صلى الله عليه وسلم لم يختص بأنه بعث إلى الناس كافة بل كل نبي قبله بعثته كانت إلى جميع الخلق لأن معجزة النبي صلى الله عليه وسلم تبلغ آفاق الأرض فيجب على كل من سمعها تصديقه واتباعه وأن جميع كتابات الطلاق لا يقع بها طلاق سواء نوى أو لم ينو وأن النوم لا ينقض الوضوء وأن السبب في اطباق الناس على وجوب الوضوء على النائم وأن العادة جرت أن نائم الليل إذا قام بادر إلى التخلي وربما كان لعينيه نهض فلما رأوا أوائلهم إذا انتبهوا توضئوا ظنوا أن ذلك لأجل النوم وعاب على أبي بكر وعمر وعلي وابن مسعود الفتوى بالرأي مع ثبوت النقل عنهم في ذم القول بالرأي. وقال عبد الجبار المعتزلي في طبقات المعتزلة كان أمياً لا يكتب وقال أبو العباس بن العاص في كتاب الانتصار كان أشد الناس إزراء على أهل الحديث وهو القائل زوائل الأسفار لا علم عندهم بما يحتوي إلا كعلم الأباعر مات في خلافة المعتصم سنة إحدى وثلاثين ومائتين.) انتهي من لسان الميزان لابن حجر باب من اسمه ابراهيم
যাদের থেকে কিয়াস (قياس) অস্বীকারের বিষয়টি প্রথম বর্ণিত হয়েছে

সাহাবী এবং তাবিঈগণ কিয়াস (قياس) অনুযায়ী আমল করেছেন এবং তাঁদের থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত (تواتر) হয়েছে। পরবর্তীতে মুতাজিলাদের শায়খ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন সাইয়্যার আন-নাজ্জাম (১) আবির্ভূত হন এবং তিনি শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে কিয়াস (قياس) এবং স্বাধীন গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) অস্বীকার করার মত প্রদান করেন।

--------------------------------------------

(১) আন-নাজ্জাম: তিনি হলেন ইবরাহিম বিন সাইয়্যার বিন হানি আন-নাজ্জাম আবু ইসহাক আল-বাসরি। তিনি বনু বুহাইর বিন আল-হারিস বিন আব্বাদ আদ-দুবায়ি-র আযাদকৃত গোলাম এবং মুতাজিলাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। তিনি ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالزندقة) ছিলেন। তিনি একাধারে কবি, সাহিত্যিক ও বাগ্মী ছিলেন। মুতাজিলা মতবাদ এবং দর্শন শাস্ত্রের ওপর তাঁর অনেক কিতাব রয়েছে, যা আন-নাদিম উল্লেখ করেছেন। ইবন কুতাইবা তাঁর 'ইখতিলাফুল হাদিস' গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি পাপাচারের জন্য প্রসিদ্ধ এক ধূর্ত (شاطر) ব্যক্তি ছিলেন। এরপর তিনি তাঁর কিছু একক মতবাদ উল্লেখ করেছেন। যেমন—তিনি দাবি করতেন যে, আল্লাহ প্রতি মুহূর্তে এই পৃথিবী ও এর মধ্যস্থিত সবকিছু নতুনভাবে সৃষ্টি করেন, অথচ আগের সৃষ্টিকে ধ্বংস করেন না। তিনি এটিও জায়েজ মনে করতেন যে, মুসলিম উম্মাহ ভুল বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। তাঁর মতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত মানুষের জন্য প্রেরিত হওয়ার বিষয়টি তাঁর জন্য একক কোনো বৈশিষ্ট্য নয়; বরং তাঁর পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবীই সমস্ত সৃষ্টির প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। কারণ নবীর মুজিজা পৃথিবীর দিগন্ত পর্যন্ত পৌঁছায়, তাই যার কাছেই তা পৌঁছাবে, তার জন্যই তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা ও অনুসরণ করা ওয়াজিব। তিনি আরও মনে করতেন যে, তালাকের লিখিত সব নথির মাধ্যমে তালাক কার্যকর হয় না, চাই তালাকের নিয়ত থাকুক বা না থাকুক। তিনি মনে করতেন যে, ঘুম অজু ভঙ্গ করে না। মানুষের মধ্যে ঘুমন্ত ব্যক্তির ওপর অজু ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে তার কারণ হিসেবে তিনি বলতেন যে, মানুষ সাধারণত রাতে ঘুমের পর ঘুম থেকে উঠলে মলমূত্র ত্যাগের দিকে ধাবিত হয় এবং অনেক সময় চোখে পিচুটি জমে থাকে; পূর্ববর্তীরা যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর অজু করতেন, পরবর্তী প্রজন্ম মনে করেছে যে এটি ঘুমের কারণেই ওয়াজিব হয়েছে। তিনি আবু বকর, উমর, আলী এবং ইবন মাসউদ (রা.)-এর ব্যক্তিগত মতের ভিত্তিতে ফতোয়া (فتوى بالرأي) প্রদানের সমালোচনা করেছেন, অথচ তাঁদের থেকেই ব্যক্তিগত মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত (القول بالرأي) প্রদানের নিন্দায় নির্ভরযোগ্য বর্ণনা (النقل) বিদ্যমান রয়েছে। আব্দুল জাব্বার মুতাজিলি 'তাবাকাতুল মুতাজিলা' গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি নিরক্ষর ছিলেন এবং লিখতে পারতেন না। আবু আব্বাস বিন আল-আস 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি আহলে হাদিসদের প্রতি চরম অবজ্ঞাকারী ছিলেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন যে, কিতাবের বোঝাগুলো সেগুলোর ভেতরে কী আছে তা জানে না, যেমনটি গাধারাও জানে না। তিনি খলিফা আল-মুতাসিমের শাসনামলে ২৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (ইবন হাজারের লিসানুল মিজান, ইবরাহিম নামের পরিচ্ছেদ থেকে সমাপ্ত।)
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ৪)
وتبعه علي قوله هذا داؤود بن علي بن خلف (2) مؤسس المذهب

الظاهري وتبعه علي ذلك الظاهرية، وقال بهذا القول ايضا الشيعة والامر كما تري فما خرج راي مخالف لما كان عليه السلف الصالح الا وكانت له جذور بدعة من البدع فانت تري ان اصل المسألة هو النظام المعتزلي والامر في غاية الاضطراب وعدم الفهم فهؤلاء بالذات يقدسون العقل ويقدمونه علي النقل بل يجعلونه حامكا عليه والقياس امر عقلي لانه استخراج علية الحكم او تنقيحها او تحقيقها في فرع لكنهم خالفوا اصولهم وكذلك الشيعة يعظمون العقل

فانت تري تلاعب الشيطان بهؤلاء يعظمون العقل فينفون الصفات ويتأولونها بحجة ان العقل لا يقبلها ويري فيها تشبيها للخالق بالمخلوق وتراهم هنا حيث يجب اعمل العقل في القياس يقولون بان العقل لا يمكن اعماله ههنا في اثبات علة للحكم او مصلحة لهذا الحكم ولابد لكل انسان ان يستدل علي ما يعتقد وما يفعل ولابد ان يجد دليلا او شبهة دليل ولو دققت الامر في الفرق التي خرجت عن اهل السنة لرأيت انهم يستدولون بالقران والسنة ولكنه استدلال في غير محله

--------------------------------------------

(2) داؤود بن علي: ولد سنة اثنتين ومائتين ومات سنة سبعين ومائتين وأخذ العلم عن إسحاق بن راهويه وأبي ثور وكان زاهداً متقللاً. قال أبو العباس أحمد بن يحيى ثعلب (1) : كان داود عقله أكثر من علمه. وقيل أنه (2) كان في مجلسه أربعمائة صاحب طيلسان أخضر وكان من المتعصبين للشافعي وصنف كتابين في فضائله والثناء عليه وانتهت إليه رياسة العلم ببغداد، وأصله من أصفهان ومولده بالكوفة، ومنشؤه ببغداد، وقبره بها في الشونيزية.) انتهي من طبقات الفقهاء لأبي اسحاق الشيرازي
এবং তাঁর এই বক্তব্যে জাহিরি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা দাউদ ইবনে আলী ইবনে খালাফ (২) তাঁর অনুসরণ করেছেন

এবং জাহিরিগণও এই বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। শিয়াগণও এই একই কথা বলেছেন। বিষয়টি যেমনটি আপনি দেখছেন যে, সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিদের অবস্থানের বিপরীতে যখনই কোনো মতের উদ্ভব হয়েছে, তখনই তার মূলে কোনো না কোনো বিদআত (بدعة) বিদ্যমান ছিল। আপনি দেখছেন যে, এই মাসআলার মূল ভিত্তি হলো মুতাযিলা মতাদর্শী ইব্রাহিম আন-নাজ্জাম, আর বিষয়টি অত্যন্ত অসংলগ্ন এবং বোধগম্যতাহীন। বিশেষ করে এই গোষ্ঠীটি জ্ঞান বা আকলকে অতি পবিত্র মনে করে এবং তারা শ্রুত দলিলের (নকল) ওপর আকলকে অগ্রাধিকার দেয়, এমনকি একে বিচারক হিসেবে সাব্যস্ত করে। অথচ কিয়াস (قياس) হলো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়, কারণ এটি হুকুমের কারণ বা ইল্লত (علة) উদ্ঘাটন, সংস্কার বা কোনো শাখায় তা নিশ্চিত করার সাথে সংশ্লিষ্ট; কিন্তু তারা তাদের নিজস্ব উসূল বা মূলনীতির বিরোধিতা করেছে। একইভাবে শিয়াগণও আকল বা বুদ্ধিকে অতিমূল্যায়ন করে।

আপনি এদের সাথে শয়তানের প্রবঞ্চনা দেখতে পাচ্ছেন যে, তারা আকলকে অতিমূল্যায়ন করে আল্লাহর গুণাবলী বা সিফাতসমূহকে অস্বীকার করে এবং আকল তা গ্রহণ করে না—এই অজুহাতে সেগুলোর অপব্যাখ্যা বা তাউইল (تأويل) করে। তারা মনে করে এর মধ্যে স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা বা তাশবিহ (تشبيه) রয়েছে। আবার এখানে যখন কিয়াসের ক্ষেত্রে আকল প্রয়োগ করা আবশ্যক, তখন আপনি তাদের দেখছেন যে তারা বলছে—হুকুমের ইল্লত (علة) বা কারণ অথবা এই হুকুমের পেছনে নিহিত মাসলাহাত (مصلحة) বা কল্যাণ প্রমাণের ক্ষেত্রে আকলের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না। প্রত্যেক মানুষের জন্য তার বিশ্বাস ও কার্যের স্বপক্ষে দলিল প্রদান (استدلال) করা আবশ্যক এবং তাকে কোনো দলিল বা দলিলের মতো কিছু একটা খুঁজে নিতেই হয়। আপনি যদি আহলে সুন্নতের পথ থেকে বিচ্যুত ফিরকা বা দলগুলোর ব্যাপারে গভীরভাবে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে তারাও কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলিল গ্রহণ (استدلال) করে, কিন্তু তাদের সেই দলিল গ্রহণ যথাযথ স্থানে নয়।

--------------------------------------------

(২) দাউদ ইবনে আলী: তিনি দুইশত দুই হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দুইশত সত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং আবু সাওর থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি একজন দুনিয়াবিমুখ বা জাহিদ (زاهد) ও অল্পেতুষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। আবু আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া সা’লাব (১) বলেন: দাউদের আকল বা বুদ্ধি তার ইলমের চেয়ে বেশি ছিল। বর্ণিত আছে যে, তিনি (২) তাঁর মজলিসে চারশত সবুজ চাদর পরিহিত ব্যক্তি উপস্থিত থাকতেন। তিনি ইমাম শাফেয়ীর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁর মর্যাদা ও প্রশংসায় দুটি কিতাব রচনা করেছেন। বাগদাদে ইলমের প্রধান নেতৃত্ব তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ইসফাহান, জন্ম কুফায়, বেড়ে ওঠা বাগদাদে এবং সেখানেই শাওনিজিয়ায় তাঁর কবর অবস্থিত। আবু ইসহাক আল-শিরাজির তাবাকাতুল ফুকাহা থেকে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الاول في أدلة نفاة القياس

استدل هؤلاء بادلة عديدة من الكتاب والسنة والاثار والمعقول فقالوا:

‌‌أولا:- أدلتهم من القران الكريم

اولا: ان القياس طريق غير مأمون لانه عمل بالظن وقد قال الله (ان الظن لا يغني م الحق شيئا) يونس 36 وقوله (إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ) الانعام 116 وقوله تعالي (ولا تقف ماليس لك به علم) الاسراء 36 وقول النبي صلي الله عليه وسلم {اياكم والظن فان الظن اكذب الحديث} متفق عليه من حديث أبي هريرة

ثانيا: قوله تعالي (إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلَا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا) النساء 105 قالوا بما أراك الله لا بما رأيت.وقال تعالي (قُلْ إِن ضَلَلْتُ فَإِنَّمَآ أَضِلُّ على نَفْسِي وَإِنِ اهتديت فَبِمَا يُوحِي إِلَيَّ رَبِّي) [سبأ: 50] فلو كان القياس هدى لم ينحصر الهدى في الوحي. نسب ذلك اليهم الشنقيطي في اضواء البيان

ثالثا: ان القياس فيه اختلاف كثير وهذا دليل بطلانه لانه لو كان من عند الله لم يكن فيه اختلاف واستدلوا بقوله تعالي (وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا) النساء 82

ثانيا: قالوا ان العمل بالقياس حكم بغير ما انزل الله وفي هذا ما فيه وقالوا انه تشريع في دين الله لم ياذن به الله ولا رسوله واستدلوا بقوله تعالي: (زمن لم يحكم بما أنزل الله فاولئك هم الكافرون) وقوله تعالي (ام لهم شركاء شرعوا لهم من الدين ما لم يأذن به الله) وغيرها من الايات التي في نفس المعني ، (قال أبو محمد فنص رسول الله صلى الله عليه وسلم على أن ما لم يوجبه فهو غير واجب وما أوجبه بأمره فواجب ما أستطيع منه وأن ما لم يحرمه فهو حلال وأن ما نهى عنه فهو حرام فأين للقياس مدخل والنصوص قد استوعبت كل ما اختلف الناس فيه وكل نازلة تنزل إلى يوم القيامة باسمها وبالله تعالى التوفيق

وقال تعالى {أم لهم شركاء شرعوا لهم من لدين ما لم يأذن به لله ولولا كلمة لفصل لقضي بينهم وإن لظالمين لهم عذاب أليم}

قال أبو محمد فصح بالنص أن كل ما لم ينص عليه فهو شيء لم يأذن به الله تعالى وهذه صفة القياس وهذا حرام

وقال تعالى {وإن منهم لفريقا يلوون ألسنتهم بلكتاب لتحسبوه من لكتاب وما هو من الكتاب ويقولون هو من عند الله وما هو من عند لله ويقولون على لله لكذب وهم يعلمون}

قال أبو محمد فكل ما ليس في القرآن والسنة منصوصا باسمه واجبا مأمورا به أو منهيا عنه فمن أوجبه أو جرمه أو خالف لما جاء به النص فهو من عند غير الله تعالى والقياس غير منصوص على الأمر به فيهما فهو من عند غير الله تعالى وما كان من عند غير الله تعالى فهو باطل)
প্রথম পরিচ্ছেদ: কিয়াস অস্বীকারকারীদের দলীলসমূহ

তারা কুরআন, সুন্নাহ, আছার (الاثار) এবং যুক্তি থেকে একাধিক দলীলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন এবং বলেছেন:

প্রথমত: পবিত্র কুরআন থেকে তাদের দলীলসমূহ

প্রথম: কিয়াস একটি অনিরাপদ পথ, কারণ এটি ধারণা বা অনুমানের (الظن) ওপর ভিত্তি করে আমল। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "নিশ্চয়ই ধারণা (الظن) সত্যের বিপরীতে কোনো উপকারে আসে না" (সূরা ইউনুস: ৩৬)। তিনি আরও বলেন, "তারা কেবল ধারণার (الظن) অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমানই করে" (সূরা আল-আনআম: ১১৬)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না" (সূরা আল-ইসরা: ৩৬)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা ধারণা (الظن) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ ধারণা (الظن) হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।" হাদিসটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এবং এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

দ্বিতীয়: আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করতে পারেন সে অনুযায়ী যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন এবং আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ অবলম্বনকারী হবেন না" (সূরা আন-নিসা: ১০৫)। তারা বলেন, এখানে 'যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন' বলা হয়েছে, 'আপনি যা রায় দিয়েছেন' তা বলা হয়নি। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "বলুন, যদি আমি পথভ্রষ্ট হই, তবে আমি আমার নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হব; আর যদি আমি সঠিক পথ পাই, তবে তা আমার প্রতিপালক আমার প্রতি যা ওহী করেন তার কারণে" (সূরা সাবা: ৫০)। সুতরাং কিয়াস যদি হেদায়েত হতো, তবে হেদায়েত কেবল ওহীর (الوحي) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না। আশ-শানকীতি আদওয়াউল বায়ান গ্রন্থে এটি তাদের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয়: কিয়াসের মধ্যে অনেক মতভেদ বিদ্যমান, আর এটিই এর অসারতার প্রমাণ। কারণ এটি যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হতো, তবে এতে কোনো মতভেদ থাকত না। তারা আল্লাহ তাআলার বাণী দ্বারা দলীল পেশ করেছেন: "যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা অবশ্যই এতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত" (সূরা আন-নিসা: ৮২)।

দ্বিতীয়ত: তারা বলেন যে, কিয়াসের ওপর আমল করা হলো আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা ব্যতিরেকে ফয়সালা করা, আর এর মধ্যে যা (ভয়াবহতা) থাকার তা রয়েছে। তারা আরও বলেন, এটি আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এমন এক বিধান প্রবর্তন, যার অনুমতি আল্লাহ বা তাঁর রাসূল দেননি। তারা আল্লাহ তাআলার বাণী দ্বারা দলীল পেশ করেছেন: "যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা দিয়ে ফয়সালা করে না, তারাই কাফির" এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "নাকি তাদের এমন কিছু শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" এবং একই অর্থবোধক অন্যান্য আয়াতসমূহ। আবু মুহাম্মদ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, যা তিনি ওয়াজিব করেননি তা ওয়াজিব নয়, আর যা তিনি তাঁর আদেশের মাধ্যমে ওয়াজিব করেছেন তা সাধ্যমতো পালন করা ওয়াজিব। আর যা তিনি হারাম করেননি তা হালাল এবং যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন তা হারাম। সুতরাং কিয়াসের প্রবেশের সুযোগ কোথায়? অথচ নস বা স্পষ্ট বর্ণনাসমূহ (النصوص) মানুষের সকল মতভেদপূর্ণ বিষয় এবং কিয়ামত পর্যন্ত উদ্ভূত প্রতিটি সমস্যার সমাধান সুনির্দিষ্টভাবে ধারণ করে আছে। আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্পন্ন হয়।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নাকি তাদের এমন কিছু শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি চূড়ান্ত ফয়সালার কথা আগে থেকে না থাকত, তবে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয়ই জালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।"

আবু মুহাম্মদ বলেন: নস বা স্পষ্ট বর্ণনার (النص) মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, যে বিষয়ে কোনো নস (النص) নেই, তা এমন কিছু যার অনুমতি আল্লাহ তাআলা দেননি; আর এটিই হলো কিয়াসের প্রকৃতি, সুতরাং এটি হারাম।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে এমন এক দল আছে যারা কিতাব পাঠ করার সময় তাদের জিহ্বা বাঁকায়, যাতে তোমরা মনে করো যে তা কিতাবের অংশ, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়; তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর ওপর মিথ্যা কথা বলে।"

আবু মুহাম্মদ বলেন: কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে যা সুনির্দিষ্টভাবে ওয়াজিব হিসেবে আদিষ্ট কিংবা নিষিদ্ধ হিসেবে বর্ণিত হয়নি, এমতাবস্থায় কেউ যদি তাকে ওয়াজিব করে কিংবা অপরাধ হিসেবে গণ্য করে অথবা নস বা স্পষ্ট বর্ণনার (النص) বিপরীত কাজ করে, তবে তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে। আর কিয়াস গ্রহণের ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহর কোথাও কোনো আদেশ বা নস (النص) নেই, সুতরাং এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে। আর যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হয়, তা বাতিল (باطل)।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
رابعا: (قالوا لا يجوز الحكم البتة في شيء من الأشياء كلها إلا بنص كلام الله تعالى أو نص كلام النبي صلى الله عليه وسلم أو بما صح عنه صلى الله عليه وسلم من فعل أو إقرار أو إجماع من جميع علماء الأمة كلها متيقن أنه قاله كل واحد منهم دون مخالف من أحد منهم أو بدليل من النص أو من الإجماع المذكور الذي لا يحتمل إلا وجها واحدا والإجماع عند هؤلاء راجع إلى توقيف من رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا بد من لا يجوز غير ذلك أصلا) انتهي من الاحكام لابن حزم

خامسا: قالوا ان الشريعة اشتملت علي جميع الاحكام قال تعالي (ما فرطنا في الكتاب من شئ) الانعام 38 وقوله تعالي (تبيانا لكل شيئ) النحل 89 وقوله تعالي (أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّآ أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الكتاب يتلى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذلك لَرَحْمَةً وذكرى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ) العنكبوت: 51 وقوله تعالي (اليوم اكملت لكم دينكم) المائدة 3 وقوله تعالى {ومن لإبل ثنين ومن لبقر ثنين قل ءآلذكرين حرم أم لأنثيين أما شتملت عليه أرحام لأنثيين أم كنتم شهدآء إذ وصاكم لله بهذا فمن أظلم ممن فترى على لله كذبا ليضل لناس بغير علم إن لله لا يهدي لقوم لظالمين} الانعام 144

(قال أبو محمد فصح أن كل ما لم يأتنا به وصية من عند الله عز وجل فهو افتراء على الله كذب وناسبه إلى الله تعالى ظالم ولم تأتنا وصية قط من قبله تعالى بالحكم بالقياس فهو افتراء وباطل وكذب بل جاءتنا وصاياه عز وجل بألا نتعدى كلامه وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم وألا نحرم ولا نوجب إلا ما أوجبا وحرما ونهيا فقط فبطل كل ما عدا ذلك والقياس مما عدا ذلك فهو باطل) انتهي من الاحكام لابن حزم
চতুর্থত: (তারা বলেন যে, কোনো বিষয়েই কোনোভাবেই বিধান প্রদান করা বৈধ নয়, কেবল আল্লাহ তাআলার বাণীর স্পষ্ট পাঠ (نص) অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর স্পষ্ট পাঠ (نص), অথবা তাঁর থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত হয়েছে—চাই তা কোনো কর্ম, মৌনসম্মতি (إقرار) কিংবা উম্মতের সকল আলিমের এমন সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) হোক যা নিশ্চিতভাবে তাদের প্রত্যেকের থেকে প্রমাণিত এবং যেখানে কারো কোনো ভিন্নমত নেই—তার মাধ্যমেই কেবল বিধান দিতে হবে। অথবা উক্ত স্পষ্ট পাঠ (نص) কিংবা উল্লিখিত ঐকমত্য (إجماع) হতে প্রাপ্ত এমন কোনো অকাট্য প্রমাণের (دليل) ভিত্তিতে ফয়সালা করতে হবে যার কেবল একটিই অর্থ হওয়া সম্ভব। তাদের নিকট ঐকমত্য (إجماع) মূলত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হতে প্রাপ্ত ওহি-নির্দেশিত (توقيف) বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং এটি অপরিহার্য; এর বাইরে অন্য কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা মোটেও বৈধ নয়।) — ইবনে হাজমের আল-ইহকাম থেকে সমাপ্ত।

পঞ্চমত: তারা বলেন যে, শরিয়ত সমস্ত বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি) [আল-আনআম: ৩৮] এবং তাঁর বাণী: (প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ) [আন-নাহল: ৮৯] এবং তাঁর বাণী: (তাদের জন্য কি এটাই যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়? নিশ্চয়ই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে) [আল-আনকাবুত: ৫১] এবং তাঁর বাণী: (আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম) [আল-মায়িদাহ: ৩] এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর উটের মধ্যে দুটি এবং গরুর মধ্যে দুটি; আপনি বলুন, তিনি কি পুরুষ দুটি হারাম করেছেন নাকি স্ত্রী দুটি? নাকি স্ত্রী দুটির গর্ভে যা আছে তা? অথবা তোমরা কি উপস্থিত ছিল যখন আল্লাহ তোমাদের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন? সুতরাং সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে মানুষকে জ্ঞান ছাড়াই বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।} [আল-আনআম: ১৪৪]

(আবু মুহাম্মদ বলেন: সুতরাং এটি বিশুদ্ধ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ عز وجل এর পক্ষ থেকে নির্দেশ হিসেবে আমাদের নিকট যা আসেনি, তা আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ ও মিথ্যার শামিল; আর যে ব্যক্তি একে আল্লাহর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে সে জালেম। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কিয়াস (قياس) বা অনুমানের ভিত্তিতে বিধান প্রদানের ব্যাপারে আমাদের কাছে কখনোই কোনো নির্দেশ আসেনি, সুতরাং তা মিথ্যা অপবাদ, বাতিল ও মিথ্যা। বরং মহান আল্লাহ عز وجل এর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট এই নির্দেশ এসেছে যে, আমরা যেন তাঁর এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর সীমা লঙ্ঘন না করি এবং তাঁরা যা ওয়াজিব ও হারাম করেছেন এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন কেবল তা ব্যতীত অন্য কিছুকে ওয়াজিব কিংবা হারাম না করি। সুতরাং এ ছাড়া অবশিষ্ট সবকিছুই বাতিল বলে গণ্য হবে এবং কিয়াসও (قياس) এর বহির্ভূত নয়, বিধায় তাও বাতিল।) — ইবনে হাজমের আল-ইহকাম থেকে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
خامسا: استدلوا بقوله تعالي (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ) قالوا ان الله نهانا ان نتقدم بين يديه ويدي رسوله برأي والقياس تقديم بين يدي الله ورسوله لانه حكم بغير قوليهما

سادسا: قالوا ان مالا نجد له حكما وجب علينا فيه استصحاب البراءة الاصليه واستدلوا بقوله تعالي (هو الذي خلق لكم ما في الارض جميعا) البقرة 29 وقوله تعالي (يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ) البقرة 168

وقالوا ان براءة الذمة متيقنة والقياس مظنون فكيف نترك المقطوع به لنعمل بالمظنون
পঞ্চম: তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: (হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ)। তারা বলেন যে, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর এবং তাঁর রাসূলের সামনে নিজস্ব মতামত (رأي) দ্বারা অগ্রণী হতে নিষেধ করেছেন; আর সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس) হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রণী হওয়া, কারণ এটি তাঁদের উভয়ের বক্তব্য ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বিধান প্রদান করা।

ষষ্ঠ: তারা বলেন যে, আমরা যে বিষয়ের কোনো বিধান খুঁজে পাই না, সেক্ষেত্রে আমাদের ওপর মৌলিক দায়মুক্তি বজায় রাখা (استصحاب البراءة الأصلية) আবশ্যক। তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: (তিনিই সেই সত্তা যিনি যমীনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন) আল-বাকারা: ২৯, এবং মহান আল্লাহর বাণী: (হে মানবজাতি, যমীনে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু) আল-বাকারা: ১৬৮।

তারা আরও বলেন যে, দায়মুক্তি (براءة الذمة) বিষয়টি সুনিশ্চিত (متيقن), আর সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس) হলো ধারণাপ্রসূত (مظنون); অতএব আমরা কীভাবে অকাট্য (مقطوع به) বিষয় বর্জন করে ধারণাপ্রসূত (مظنون) বিষয়ের ওপর আমল করতে পারি?
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ৬)
سابعا: قالوا ان الواجب عند التنازع في مسألة الرد الي كتاب الله وسنة رسوله صلي الله عليه وسلم وليس الي القياس الذي مرجعه الي الظنون قال تعالي (اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ) الاعراف 3 وقوله (وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ) الشوري 10 وقوله تعالي (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا) النساء 59 وقوله (وَأَنِ احكم بَيْنَهُمْ بِمَآ أَنزَلَ الله) المائدة 49 وقوله (فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا) النساء 65

সপ্তম: তাঁরা বলেন যে, কোনো বিষয়ে বিবাদ দেখা দিলে তা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া আবশ্যক (واجب); এমন অনুমাননির্ভর তুলনা (قياس) এর দিকে নয় যার ভিত্তি হলো ধারণা (ظنون)। আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো" (আল-আরাফ ৩)। এবং তাঁর বাণী, "তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা তো আল্লাহরই কাছে। তিনিই আল্লাহ, আমার রব; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হই" (আশ-শুরা ১০)। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলিল আমরের (কর্তৃত্বশীল)। যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে সর্বোত্তম" (আন-নিসা ৫৯)। এবং তাঁর বাণী, "আর আপনি তাদের মধ্যে বিচার করুন আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে" (আল-মায়েদাহ ৪৯)। এবং তাঁর বাণী, "না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যা ফয়সালা করবেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়" (আন-নিসা ৬৫)।

(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ثانيا:- أدلتهم من السنة

وردت بعض الاحاديث بذم الرأي واتباع المقاييس

كقوله صلي الله عليه وسلم فيما رواه ابن حزم بسنده في الاحكام حدثنا المهلب ثنا بن مناس نا ابن مسرور نا يونس بن عبد الأعلى ثنا ابن وهب أخبرني سعيد بن أبي أيوب عن أبي الأسود هو محمد بن عبد الرحمن بن نوفل يتيم عروة قال سمعت عروة بن الزبير يقول ما زال أمر بني إسرائيل معتدلا حتى نشأ المولدون أبناء سبايا الأمم فأخذوا فيهم بالرأي فأضلوهم) وأخرج ابن عبد البر عن عروة بن الزبير أنه قال لم يزل أمر بني إسرائيل مستقيما حتى أدركت فيهم المولدون أبناء سبايا الأمم فأخذوا فيهم بالرأي فأضلوا بني إسرائيل) وبما روي عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " تَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى بِضْعٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً أَشَدُّهَا فِتْنَةً عَلَى أُمَّتِي قَوْمٌ يَقِيسُونَ الأُمُورَ بِرَأْيِهِمْ فَيُحِلُّونَ الْحَرَامَ وَيُحَرِّمُونَ الْحَلالَ " انظر المحلي لابن حزم في قتل اهل البغي واخرجه ايضا الحاكم في المستدرك عن عوف بن مالك ثم قال (هذا حديث صحيح على شرط الشيخين، ولم يخرجاه) وكقوله عليه السلام: {تَعْمَلُ هَذِهِ الْأُمَّةُ بُرْهَةً بِالْكِتَابِ، وَبُرْهَةً بِالسُّنَّةِ، وَبُرْهَةً بِالْقِيَاسِ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ فَقَدْ ضَلُّوا} ) من المستصفي للغزالي واخرجه ايضا ابن حزم في الاحكام في فصل في ابطال القياس

واستدلوا بقوله صلي الله عليه وسلم عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ

أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ {إِنَّ أَعْظَمَ الْمُسْلِمِينَ جُرْمًا مَنْ سَأَلَ عَنْ شَيْءٍ لَمْ يُحَرَّمْ فَحُرِّمَ مِنْ أَجْلِ مَسْأَلَتِهِ} والحديث متفق عليه رواه البخاري ومسلم عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ

وقوله {إنَّ اللَّهَ فَرَضَ فَرَائِضَ فَلَا تُضَيِّعُوهَا وَحَدَّ حُدُودًا فَلَا تَعْتَدُوهَا، وَنَهَى عَنْ أَشْيَاءَ فَلَا تَنْتَهِكُوهَا، وَسَكَتَ عَنْ أَشْيَاءَ مِنْ غَيْرِ نِسْيَانٍ لَهَا رَحْمَةً لَكُمْ فَلَا تَبْحَثُوا عَنْهَا} من حديث ابي ثعلبة الخشني اخرجه الدارقطني والبيهقي وغيرهما وقال النووي في رياض الصالحين حديث حسن وقال الدكتور ماهر يسن الفحل محقق الكتاب حديث ضعيف
দ্বিতীয়ত:- সুন্নাহ থেকে তাঁদের দলিলাদি

ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) এবং কিয়াস বা অনুমানসমূহ (المقاييس) অনুসরণ করার নিন্দায় কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, যা ইবনে হাজম আল-ইহকাম গ্রন্থে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন: মুহাল্লাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে মানাস থেকে, তিনি ইবনে মাসরুর থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে আবদুল আলা থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি বলেন যে সাইদ ইবনে আবি আইয়ুব আমাকে আবু আল-আসওয়াদ (যিনি হলেন উরওয়ার এতিম মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে নওফল) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি উরওয়া ইবনে যুবাইরকে বলতে শুনেছি যে, বনী ইসরাঈলের বিষয়াদি সুসংহত ছিল যতক্ষণ না বিভিন্ন জাতির যুদ্ধবন্দিনীদের সন্তানরা বড় হলো; তারা ব্যক্তিগত অভিমতের (الرأي) ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করল এবং ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হলো এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করল। ইবনে আবদিল বারও উরওয়া ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: বনী ইসরাঈলের বিষয়াদি সঠিক পথে ছিল যতক্ষণ না আমি তাদের মধ্যে বিভিন্ন জাতির যুদ্ধবন্দিনীদের সন্তানদের পেলাম; তারা ব্যক্তিগত অভিমতের (الرأي) ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করল এবং বনী ইসরাঈলকে পথভ্রষ্ট করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: "আমার উম্মত সত্তরটিরও বেশি দলে বিভক্ত হবে, তাদের মধ্যে আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর ফিতনাবাজ হবে সেই সম্প্রদায়, যারা বিষয়গুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) দিয়ে কিয়াস (القياس) বা তুলনা করবে; ফলে তারা হারামকে হালাল করবে এবং হালালকে হারাম করবে।" ইবনে হাজমের আল-মুহাল্লা-তে 'বিদ্রোহীদের হত্যা' অধ্যায়টি দেখুন। হাকেমও এটি মুসতাদরাক গ্রন্থে আউফ ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, "এই হাদিসটি শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح على شرط الشيخين), যদিও তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি।" তদ্রূপ তাঁর (সা.) আরেকটি বাণী: "এই উম্মত কিছুকাল কিতাব অনুযায়ী আমল করবে, কিছুকাল সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করবে এবং কিছুকাল কিয়াস (القياس) অনুযায়ী আমল করবে। যখন তারা এটি করবে, তখন তারা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।" এটি গাজালির আল-মুসতাসফা থেকে নেওয়া হয়েছে এবং ইবনে হাজমও আল-ইহকাম গ্রন্থের কিয়াস বাতিলের অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁরা আমির ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তাঁর পিতার সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারাও দলিল দিয়েছেন:

নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বড় অপরাধী, যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করল যা হারাম ছিল না, অতঃপর তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম করে দেওয়া হলো।" হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه), যা বুখারি ও মুসলিম সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর এই বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কিছু ফরজ বিধান নির্ধারণ করেছেন, তোমরা তা নষ্ট করো না; তিনি কিছু সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তোমরা তা অতিক্রম করো না; তিনি কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করেছেন, তোমরা তা লঙ্ঘন করো না; আর তিনি কিছু বিষয়ে নীরব থেকেছেন বিস্মৃতিবশত নয় বরং তোমাদের প্রতি রহমত স্বরূপ, সুতরাং তোমরা সেগুলো নিয়ে খোঁজাখুঁজি করো না।" এটি আবু সা'লাবা আল-খুশানি বর্ণিত হাদিস যা দারা কুতনি, বায়হাকি ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী রিয়াদুস সলিহিন গ্রন্থে একে হাসান (حسن) হাদিস বলেছেন, আর গ্রন্থের মুহাক্কিক ড. মাহের ইয়াসিন আল-ফাহাল একে দুর্বল (ضعيف) হাদিস বলেছেন।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ৮)
تاسعا: ورد عن بعض السلف ذم القياس والعمل به كعمر بن الخطاب

(عن محمد بن إبراهيم قال قال عمر بن الخطاب إياكم والرأي فإن أصحاب الرأي أعداء السنن أعيتهم الأحاديث أن يعوها وتفلت منهم أن يحفظوه فقالوا في الدين برأيهم) الاحكام لابن حزم

(وقال علي رضي الله عنه لو كان الدين بالرأي لكان أسفل الخف أولى بالمسح من أعلاه وقال ابن مسعود رضي الله عنه قراؤكم وصلحاؤكم يذهبون ويتخذ الناس رؤساء جهالا فيقيسون مالم يكن بما كان وقوله إن حكمتم الرأي أحللتم كثيرا مما حرمه الله عليكم وحرمتم كثيرا مما أحله وقول ابن عباس إن الله لم يجعل لأحد أن يحكم برأيه وقال لنبيه لتحكم بين الناس بما أراك الله ولم يقل بما رأيت وقوله إياكم والمقاييس فما عبدت الشمس إلا بالمقاييس وقال ابن عمر ذروني من أرأيت وأرأيت) روضة الناظر لابن قدامة وأخرج ابن عبد البر بإسناده إلى ابن مسعود قال ليس عام إلا الذي بعده شر منه لا أقول عام أبتر من عام ولا عام أخصب من عام ولأمير خير من أمير ولكن ذهاب خياركم وعلمائكم ثم يحدث قوم يقيسون الأمور برأيهم فيهدم الإسلام وينثلم وأخرجه البيهقي بإسناد رجاله ثقات وأخرج أيضا عن الشعبي أنه قال إياكم والمقايسة فو الذي نفسي بيده لئن أخذتم بالمقايسة لتحلن الحرام ولتحرمن الحلال ولكن ما بلغكم ممن حفظ عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فاحفظوه) واخرجه أيضاالدارمي في السنن رقم 110 باب التَّوَرُّعِ عَنِ الْجَوَابِ فِيمَا لَيْسَ فِيهِ كِتَابٌ وَلَا سُنَّةٌ
নবম: সালাফদের (পূর্বসূরিদের) কারো কারো নিকট থেকে কিয়াস (القياس) এবং তার ওপর আমল করার নিন্দা বর্ণিত হয়েছে, যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব।

(মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: তোমরা ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) থেকে সাবধান থাকো; কেননা রায়-পন্থীরা সুন্নাহর (السنن) শত্রু। হাদিসগুলো আত্মস্থ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে এবং সেগুলো মুখস্থ রাখা তাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে, ফলে তারা দ্বীনের বিষয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) অনুযায়ী কথা বলেছে) ইবনে হাজমের আল-আহকাম।

(আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: দ্বীন যদি ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) অনুযায়ী হতো, তবে মোজার উপরিভাগের তুলনায় নিচের অংশ মাসাহ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত হতো। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তোমাদের ক্বারী এবং নেককার ব্যক্তিরা বিদায় নেবেন এবং মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে, অতঃপর তারা অপ্রচলিত বিষয়গুলোকে প্রচলিত বিষয়ের সাথে কিয়াস (القياس) করবে। তাঁর উক্তি: যদি তোমরা ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) দ্বারা ফয়সালা করো, তবে আল্লাহ তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তার অনেক কিছুকে হালাল করে ফেলবে এবং যা তিনি হালাল করেছেন তার অনেক কিছুকে হারাম করে ফেলবে। ইবনে আব্বাসের উক্তি: নিশ্চয়ই আল্লাহ কাউকে তার নিজের ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) অনুযায়ী বিধান দেওয়ার অধিকার দেননি; তিনি তাঁর নবীকে বলেছেন: "যাতে আপনি মানুষের মাঝে ফয়সালা করেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন", তিনি "যা আপনি সঠিক মনে করেছেন" তা বলেননি। তাঁর উক্তি: তোমরা কিয়াস (المقاييس) থেকে বেঁচে থাকো; কেননা সূর্যের উপাসনা তো কেবল কিয়াসের (المقاييس) মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল। ইবনে উমর বলেন: আমাকে ‘আপনার কী মনে হয়’ এবং ‘আপনার কী মনে হয়’ (আরআইতা) বলা থেকে অব্যাহতি দাও) ইবনে কুদামার রওদাতুন নাজির। ইবনে আবদিল বার তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এমন কোনো বছর আসে না যার পরবর্তী বছরটি তার চেয়ে মন্দ হয় না। আমি এ কথা বলছি না যে, এক বছর অন্য বছরের চেয়ে ফসলহীন বা এক বছর অন্য বছরের চেয়ে কম উর্বর, কিংবা একজন শাসক অন্য শাসকের চেয়ে উত্তম। বরং প্রকৃত বিষয় হলো তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি ও আলেমদের চলে যাওয়া। অতঃপর এমন এক কওমের উদ্ভব ঘটবে যারা বিষয়গুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) দিয়ে কিয়াস করবে, ফলে ইসলাম ধ্বংস হবে এবং তাতে ফাটল ধরবে। ইমাম বায়হাকি এটি এমন এক সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। তিনি শাবি থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তোমরা কিয়াস (المقايسة) থেকে সাবধান থাকো; সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি তোমরা কিয়াস (المقايسة) গ্রহণ করো তবে অবশ্যই তোমরা হারামকে হালাল করবে এবং হালালকে হারাম করে ফেলবে। তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের নিকট থেকে যারা (হাদিস) মুখস্থ রেখেছেন তাদের পক্ষ থেকে যা তোমাদের নিকট পৌঁছেছে, তা তোমরা আঁকড়ে ধরো।) এবং ইমাম দারেমিও এটি সুনান গ্রন্থে ১১০ নং ক্রমিকে ‘যে বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহর কোনো দলীল নেই সে বিষয়ে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা’ পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ثالثا:- أدلتهم من المعقول

عاشرا: قالوا أن الرسول صلى الله عليه وسلم قد أوتي جوامع الكلم فكيف يليق به أن يترك الوجيز المفهم إلى الطويل الموهم فيعدل عن قوله: حرمت الربا في كل مطعوم أو كل مكيل، إلى عد الأشياء الستة ليرتبك الخلق في ظلمات الجهل؟) انتهي من المستصفي

حادي عشر: قالوا ان الشرع مبني علي التعبد وقد جاء بالجمع بين المختلفات والتفريق بين المتماثلات وضربوا أمثلة لذلك منها أن القتل أكبر من الزنا ، ومع هذا فقد جعل الله في القتل شاهدين وفي الزنا أربعة ، وإن البول أنجس من المني ، ومع هذا جعل الله في البول وضوءا وفي المني غسلاً ، وأن الصلاة أعظم من الصيام ، ومع هذا فقد وجب على الحائض أن تقضي الصوم ولا تقضي الصلاة ومنها ان الشرع اوجب تطهير ما اصابه بول الجارية ولم يوجبه من بول الصبي وهما في سن واحدة اي ما لم ياكلا ومنها ان الشرع جعل الكفارة اليمين والظهار والقتل الخطأ وهي اشياء مختلفة وهذا دليل النظام في نفي القياس

مما مضي يتبين لك ان المانعين للقياس لهم ادلة يتمسكون بها والقارئ لهذه الادلة لاول وهلة يقتنع بها ان لم يكن له في العلم رسوخ ولذا حذر سلفنا الصالح من قراءة كتب اهل البدع كالمعتزلة والاشاعرة والمرجئة وغيرهم،

وباذن الله سناتي علي هذه الادلة بالنقض والرد حتي يتبين لك بطلانها وان الحق مع جماهير العلماء من الاصوليين القائلين بحجية القياس
তৃতীয়ত: যৌক্তিক প্রমাণের আলোকে তাঁদের দলিলসমূহ

দশম: তাঁরা বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা) দান করা হয়েছে। এমতাবস্থায় তাঁর জন্য কি এটি শোভনীয় যে, তিনি সুস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পরিত্যাগ করে দীর্ঘ ও অস্পষ্ট বর্ণনার আশ্রয় নেবেন? তিনি কি তাঁর এই বক্তব্যের পরিবর্তে—'আমি সকল খাদ্যদ্রব্য বা সকল পরিমাপযোগ্য বস্তুর ক্ষেত্রে সুদ (ربا) হারাম ঘোষণা করলাম'—ছয়টি বস্তুর নাম গণনা করার দিকে ফিরে যাবেন, যাতে সৃষ্টিজগত অজ্ঞতার অন্ধকারে বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়? (আল-মুস্তাসফা থেকে সমাপ্ত)

একাদশ: তাঁরা বলেন যে, শরিয়ত নিছক আনুগত্যের (تعبد) ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি ভিন্নধর্মী বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছে এবং সদৃশ বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছে। তাঁরা এর উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করেন যে, হত্যা ব্যভিচারের চেয়েও গুরুতর অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ হত্যার ক্ষেত্রে দুইজন সাক্ষী এবং ব্যভিচারের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষী নির্ধারণ করেছেন। আবার প্রস্রাব বীর্যের চেয়ে অধিক অপবিত্র; তা সত্ত্বেও আল্লাহ প্রস্রাবের কারণে ওজু এবং বীর্যপাতের কারণে গোসল (غسل) ফরয করেছেন। তদুপরি, সালাত সিয়ামের চেয়ে মহত্তর হওয়া সত্ত্বেও ঋতুবতী নারীর ওপর সিয়ামের কাজা করা ওয়াজিব করা হয়েছে কিন্তু সালাতের কাজা ওয়াজিব করা হয়নি। আরও একটি উদাহরণ হলো, শরিয়ত কন্যাশিশুর প্রস্রাব লাগলে তা পবিত্র করা ওয়াজিব করেছে কিন্তু পুত্রশিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে তা করেনি—অথচ তারা উভয়েই একই বয়সের (যতক্ষণ না তারা খাবার গ্রহণ শুরু করে)। একইভাবে শরিয়ত কসম, যিহার এবং ভুলবশত হত্যার ক্ষেত্রে কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব করেছে, অথচ এগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। কিয়াস (قياس) অস্বীকার করার ক্ষেত্রে এটিই নিয্যাম-এর দলিল।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, কিয়াস (قياس) অস্বীকারকারীদের এমন কিছু দলিল রয়েছে যা তারা আঁকড়ে ধরে। এ সকল দলিল পাঠকারী প্রথম দৃষ্টিতেই তাতে আশ্বস্ত হতে পারে যদি ইলমের ক্ষেত্রে তার সুগভীর পাণ্ডিত্য (رسوخ) না থাকে। এ কারণেই আমাদের সালাফে সালেহীন মুতাজিলা, আশায়েরা, মুরজিয়া এবং অন্যান্য বিদআতি সম্প্রদায়ের কিতাব পাঠ করা থেকে সতর্ক করেছেন।

আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা অচিরেই এই দলিলগুলোর খণ্ডন ও জবাব প্রদান করব যাতে আপনার কাছে তাদের অসারতা স্পষ্ট হয়ে যায় এবং এটিও প্রকাশ পায় যে, সত্য হলো সেই সকল জমহুর উসূলবিদ (أصوليون) আলেমদের সাথে, যারা কিয়াসের (قياس) প্রামাণিকতার (حجية) পক্ষে মত পোষণ করেন।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المبحث الثاني:في ادلة القائلين بحجية القياس

‌‌مقدمة

بداية اقول ان من الاصوليين من عبر بحجية القياس ومنهم من عبر بالتعبد بالقياس والا فرق بين التعبيرين لان مقتضاهما واحد فاذا كان القياس حجة جاز التعبد به فممن عبر (: ((بحجية القياس)) الفخر الرازي والشيرازي والزركشي وابن السبكي والأسنوي والشوكاني، وعبر آخرون بلفظ ((التعبد)) به نحو الغزالي، وابن قدامة وابن الحاجب والآمدي.

والحجة - هي الدليل والبرهان، والمراد بكون القياس حجة: أنه دليل من أدلة الأحكام الشرعية، نصبه الشارع للتعريف ببعض الأحكام.

وأما التعبد -فهو أن يوجب الشارع العمل بموجبه- بقطع النظر عن أن يكون ممتنعا عقلا أوجائزا أو واجبا.

وإيجاب الشارع العمل به إما أن يكون إيجابا لنفس القياس، فيكون بمثابة قول الشارع: ((إذا وجدتم مساواة بين أصل وفرع في علة حكمه فأثبتوا نفس حكم الأصل للفرع)) .

وإما أن يكون إيجابا للعمل بمقتضى القياس، وذلك كإيجاب العمل بمقتضى نصوص الكتاب والسنة.

وظاهر أن القياس -بحد ذاته- ليس عبادة: كالصلاة والصيام: فالتعبد به إنما يتم بطريق العمل بمقتضاه، وذلك أمر لا يتحقق إلا بعد القيام بإلحاق الفرع بالأصل، واعتبار أن هذا الإلحاق -بشروطه- حجة، فكونه حجة يقتضي وجوب

التعبدية: فالتعبد به ما هو إلا ثمرة لحجيته، والتلازم بين الأمرين واضح.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিয়াসের (قياس) প্রামাণিকতা (حجية) প্রবক্তাদের দলীলসমূহ প্রসঙ্গে

ভূমিকা

শুরুতে আমি বলছি যে, উসুলবিদদের (الأصوليون) মধ্যে কেউ কেউ কিয়াসের (قياس) প্রামাণিকতা (حجية) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, আবার কেউ কেউ কিয়াসের মাধ্যমে বিধান মানার আবশ্যকতা (التعبد بالقياس) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন। এই দুই অভিব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ উভয়ের সারমর্ম এক। কেননা কিয়াস (قياس) যখন দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয়, তখন তার মাধ্যমে বিধান পালন করা বৈধ হয়ে যায়। যারা ‘কিয়াসের প্রামাণিকতা’ (بحجية القياس) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ফখর আল-রাজি, আল-শিরাজি, আল-যারকাশি, ইবনুল সুবকি, আল-আসনাবি এবং আল-শাওকানি। আর অন্যরা ‘তাইন’ বা ‘ইবাদতগত বাধ্যবাধকতা’ (التعبد) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যেমন আল-গাজালি, ইবনে কুদামা, ইবনুল হাজিব এবং আল-আমিদি।

‘হুজ্জাহ’ (الحجة) অর্থ হলো দলিল ও প্রমাণ। আর কিয়াস (قياس) দলিল (حجة) হওয়ার অর্থ হলো: এটি শরিয়তের বিধানসমূহের (الأحكام الشرعية) অন্যতম একটি উৎস (دليل), যা শরিয়তদাতা কিছু বিধান চেনার জন্য নির্ধারণ করেছেন।

আর ‘তাইন’ বা ‘আমলগত বাধ্যবাধকতা’ (التعبد) হলো—শরিয়তদাতা কর্তৃক এর দাবি অনুযায়ী আমল করাকে আবশ্যক করা; তা বুদ্ধিগতভাবে অসম্ভব, জায়েজ কিংবা ওয়াজিব যা-ই হোক না কেন, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে।

শরিয়তদাতা কর্তৃক এর ওপর আমল করা আবশ্যক করার বিষয়টি হয় স্বয়ং কিয়াসের (قياس) জন্য আবশ্যক হওয়া—যা শরিয়তদাতার এই বাণীর সমতুল্য: “যখন তোমরা কোনো মূল ভিত্তি (أصل) এবং শাখার (فرع) মধ্যে বিধানের কারণের (علة حكمه) ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য পাবে, তখন মূলের বিধানটি শাখার জন্যও সাব্যস্ত করো।”

অথবা এটি কিয়াসের (قياس) দাবি অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক হওয়া বুঝায়, যা কুরআন ও সুন্নাহর নসের (نصوص) দাবি অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক হওয়ার মতো।

এটা স্পষ্ট যে, কিয়াস (قياس) স্বয়ং কোনো ইবাদত নয়, যেমন: সালাত ও সওম। বরং এর মাধ্যমে ইবাদত বা আনুগত্য সম্পন্ন হয় এর দাবি অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে। আর বিষয়টি তখনই বাস্তবায়িত হয় যখন শাখাকে (فرع) মূলের (أصل) সাথে সংযুক্ত করা হয় এবং এই সংযুক্তিকে—তার শর্তসাপেক্ষে—দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতরাং এটি দলিল (حجة) হওয়ার বিষয়টিই এর আমলগত আবশ্যকতাকে (التعبدية) দাবি করে। অতএব, কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে আমল করা তার প্রামাণিকতারই (حجية) একটি ফলশ্রুতি, আর এই দুই বিষয়ের মধ্যকার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক অত্যন্ত স্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
وقد قال الإمام الرازي: ((المراد من قولنا: القياس حجة أنه إذا حصل للمجتهد ظن أن حكم هذه الصورة مثل حكم تلك الصورة فهو مكلف بالعمل به في نفسه، ومكلف بأن يفتي به غيره

قال الباجي رحمه الله تعالى (أجمع الصحابة والتابعون ومن بعدهم من الفقهاء والمتكلمين وأهل القدوة على جواز التعبد بالقياس، وأنه قد ورد التعبد بالصحيح منه)

… وقال الرازي رحمه الله تعالى: (والذي نذهب إليه وهو قول الجمهور من علماء الصحابة والتابعين أن القياس حجة في الشرع)

… وكما أن القياس محل العمل والاعتبار عند الصحابة والتابعين فكذلك هو عند جمهور الأصوليين) انتهي من بحث العَقْلُ عند الأصوليين د. علي بن سعد الضويحي

اما الادلة في اثبات حجية القياس فهي
ইমাম আল-রাজি বলেছেন: "আমাদের এই উক্তির মর্মার্থ—কিয়াস (القياس) একটি দলিল (حجة)—হলো যখন একজন মুজতাহিদের (المجتهد) নিকট এই প্রবল ধারণা (ظن) অর্জিত হয় যে, এই প্রেক্ষিতের বিধান (حكم) অন্য সেই প্রেক্ষিতের বিধানের অনুরূপ, তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই অনুযায়ী আমল করতে বাধ্য এবং অন্যকে সেই বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করতেও আদিষ্ট।"

আল-বাজি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সাহাবিগণ (الصحابة), তাবেয়িগণ (التابعون) এবং তাঁদের পরবর্তী ফকিহগণ (الفقهاء), কালাম শাস্ত্রবিদগণ (المتكلمين) ও অনুসরণীয় ইমামগণ কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে ইবাদত বা শরয়ি বিধান পালনের বৈধতার (جواز) ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং এর মধ্যে যা সঠিক (الصحيح) তার মাধ্যমে বিধান পালন সাব্যস্ত হয়েছে।"

… এবং আল-রাজি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমরা যে মতটি গ্রহণ করি এবং যা সাহাবি ও তাবেয়ি উলামাদের অধিকাংশের (الجمهور) বক্তব্য, তা হলো শরিয়তের বিধানে কিয়াস (القياس) একটি দলিল (حجة)।"

… "যেভাবে কিয়াস সাহাবি ও তাবেয়িদের নিকট আমল ও বিবেচনার ক্ষেত্র ছিল, অনুরূপভাবে অধিকাংশ উসুলে ফিকহ শাস্ত্রবিদের (الأصوليين) নিকটও তা স্বীকৃত।" — ড. আলী বিন সা'দ আদ-দুওয়াইহির গবেষণা 'আল-আকলু ইনদাল উসুলিয়্যিন' থেকে সমাপ্ত।

আর কিয়াসের প্রামাণিকতা (حجية) প্রমাণের দলিলসমূহ (الادلة) নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أولا:- من الكتاب العزيز

أولا قووله تعالي (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا) النساء (59)

قال الفخر الرازي في تفسيره مفاتيح الغيب (المسألة الرابعة: اعلم أن قوله: {فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَىْء فَرُدُّوهُ إِلَى الله والرسول} يدل عندنا على أن القياس حجة، والذي يدل على ذلك أن قوله: {فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَىْء} إما أن يكون المراد فان اختلفتم في شيء حكمه منصوص عليه في الكتاب أو السنة أو الاجماع، أو المراد فان اختلفتم في شيء حكمه غير منصوص عليه في شيء من هذه الثلاثة، والأول باطل لأن على ذلك التقدير وجب عليه طاعته فكان ذلك داخلا تحت قوله: {أَطِيعُواْ الله وَأَطِيعُواْ الرسول وَأُوْلِى الأمر مِنْكُمْ} وحينئذ يصير قوله: {فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَىْء فَرُدُّوهُ إِلَى الله والرسول} إعادة لعين ما مضى، وإنه غير جائز. وإذا بطل هذا القسم تعين الثاني وهو أن المراد: فان تنازعتم في شيء حكمه غير مذكور في الكتاب والسنة والاجماع، واذا كان كذلك لم يكن المراد من قوله: {فَرُدُّوهُ إِلَى الله والرسول} طلب حكمه من نصوص الكتاب والسنة. فوجب أن يكون المراد رد حكمه إلى الأحكام المنصوصة في الوقائع المشابهة له، وذلك هو القياس، فثبت أن الآية دالة على الأمر بالقياس.

فان قيل: لم لا يجوز أن يكون المراد بقوله: {فَرُدُّوهُ إِلَى الله والرسول} أي فوضوا علمه إلى الله واسكتوا عنه ولا تتعرضوا له؟ وأيضاً فلم لا يجوز ان يكون المراد فردوا غير المنصوص إلى المنصوص في أنه لا يحكم فيه إلا بالنص؟ وأيضا لم يجوزلا أن يكون المراد فردوا هذه الأحكام إلى البراءة الأصلية؟
প্রথমত:- মহাগ্রন্থ থেকে

প্রথমত মহান আল্লাহর বাণী: (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরদের (কর্তৃত্বশীলদের)। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও; যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে অতি চমৎকার।) সূরা আন-নিসা (৫৯)

ফখরুদ্দীন আল-রাযী তাঁর তাফসির মাফাতিহুল গায়ব-এ বলেছেন: (চতুর্থ মাসআলা: জেনে রাখুন যে, তাঁর বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও} আমাদের নিকট নির্দেশ করে যে, কিয়াস (القياس) হলো একটি দলিল (حجة)। এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো, তাঁর বাণী: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও}—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় এমন বিষয় হবে যার বিধান কিতাব, সুন্নাহ বা ইজমা (الاجماع) দ্বারা স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص), অথবা এমন বিষয় হবে যার বিধান এই তিনটির কোনোটিতেই স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) নেই। প্রথম বিষয়টি বাতিল, কারণ সেই অবস্থায় তাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক ছিল এবং তা {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো ও তোমাদের উলুল আমরদের}—এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমতাবস্থায় তাঁর বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও} পূর্ববর্তী প্রসঙ্গেরই হুবহু পুনরাবৃত্তি হয়ে দাঁড়ায়, যা সমীচীন নয়। আর যখন এই অংশটি বাতিল হয়ে গেল, তখন দ্বিতীয়টিই নির্ধারিত হয়, আর তা হলো: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা এমন বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছ যার বিধান কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা (الاجماع)-তে উল্লেখ নেই। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন {তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও}—এই বাণীর উদ্দেশ্য কিতাব ও সুন্নাহর স্পষ্ট ভাষ্য (نصوص) থেকে এর বিধান অনুসন্ধান করা হতে পারে না। ফলে এটি আবশ্যক হয় যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হবে—তার বিধানকে সদৃশ ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্টভাবে বর্ণিত বিধানের (الأحكام المنصوصة) দিকে প্রত্যাবর্তন করানো, আর সেটিই হলো কিয়াস (القياس)। অতএব প্রমাণিত হলো যে, আয়াতটি কিয়াস (القياس)-এর আদেশের ওপর প্রমাণ বহন করে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন তাঁর বাণী {তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও}-এর অর্থ এটি হওয়া বৈধ নয় যে—এর জ্ঞান আল্লাহর ওপর সোপর্দ করো এবং সে বিষয়ে নীরব থাকো ও তাতে কোনো হস্তক্ষেপ করো না? আরও কেন এটি বৈধ নয় যে—বর্ণিত নয় এমন বিষয়কে বর্ণিত বিষয়ের দিকে এই অর্থে প্রত্যাবর্তন করানো হবে যে, তাতে নস (النص) ব্যতীত কোনো ফয়সালা দেওয়া হবে না? আরও কেন এটি বৈধ নয় যে—এই বিধানগুলোকে মৌলিক দায়মুক্তির (البراءة الأصلية) দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে?)
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১২)
قلنا: أما الأول فمدفوع، وذلك لأن هذه الآية دلت على أنه تعالى جعل الوقائع قسمين، منها ما يكون حكمها منصوصا عليه، ومنها ما لا يكون كذلك، ثم أمر في القسم الأول بالطاعة والانقياد، وأمر في القسم الثاني بالرد إلى الله وإلى الرسول، ولا يجوز أن يكون المراد بهذا الرد السكوت، لأن الواقعة ربما كانت لا تحتمل ذلك، بل لا بد من قطع الشغب والخصومة فيها بنفي أو إثبات، واذا كان كذلك امتنع حمل الرد إلى الله على السكوت عن تلك الواقعة، وبهذا الجواب يظهر فساد السؤال الثالث.

وأما السؤال الثاني: فجوابه أن البراءة الأصلية معلومة بحكم العقل، فلا يكون رد الواقعة اليها ردا إلى الله بوجه من الوجوه، أما إذا رددنا حكم الواقعة إلى الأحكام المنصوص عليها كان هذا ردا للواقعة على أحكام الله تعالى، فكان حمل اللفظ على هذا الوجه أولى.) انتهي

وقد قال نفس الكلام ابن عادل في تفسيره اللباب فقال (دلت هذه الآيةُ على أنَّ القياس حُجَّة)

ثانيا قوله تعالي (وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا) النساء83 قال ابن عادل في تفسير اللباب
আমরা বলি: প্রথম বিষয়টি খণ্ডনযোগ্য; আর তা এই কারণে যে, এই আয়াতটি নির্দেশ করে যে আল্লাহ তাআলা ঘটনাপ্রবাহকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: এক প্রকার হলো যার বিধান স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص عليه), আর দ্বিতীয় প্রকার হলো যার বিধান এমন নয়। অতঃপর তিনি প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে আনুগত্য ও অনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও রাসূলের নিকট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এই ‘পেশ করা’ বা ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ ‘মৌনতা’ হওয়া বৈধ নয়; কারণ ঘটনাটি অনেক সময় এমন হতে পারে যা মৌনতা সমর্থন করে না, বরং নেতিবাচক বা ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেখানে বিদ্যমান বিবাদ ও বিশৃঙ্খলা নিরসন করা আবশ্যক। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ উক্ত বিষয়ে মৌন থাকা হতে পারে না। আর এই উত্তরের মাধ্যমেই তৃতীয় প্রশ্নের অসারতা স্পষ্ট হয়ে যায়।

আর দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর হলো: মৌলিক দায়মুক্তি (البراءة الأصلية) বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে জানা যায়, তাই কোনো বিষয়কে সেদিকে ফিরিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হিসেবে গণ্য হবে না। কিন্তু আমরা যখন কোনো ঘটনার বিধানকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص عليه) বিধানসমূহের দিকে ফিরিয়ে নিই, তখন সেটি উক্ত বিষয়কে আল্লাহ তাআলার বিধানের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং শব্দটিকে এই অর্থে গ্রহণ করাই অধিকতর শ্রেয়।) সমাপ্ত

ইবন আদিল তাঁর তাফসির আল-লুবাব-এ একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, (এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে অনুমান (قياس) একটি দলিল (حجة))।

দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর যখন তাদের কাছে শান্তি বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা তা রাসূলের কাছে এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরদের কাছে পেশ করত, তবে তাদের মধ্যে যারা মাসয়ালা উদ্ঘাটন (استنباط) করতে সক্ষম, তারা অবশ্যই তা জানত। তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকত, তবে অল্পসংখ্যক ব্যতীত তোমরা সবাই শয়তানের অনুসরণ করতে।) নিসা ৮৩। ইবন আদিল তাফসির আল-লুবাব-এ বলেন:
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
(دلت هذه الآية على أنَّ القياس حُجَّة؛ لأن قوله: {الذين يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} صفة لأولي الأمْر، وقد أوْجَبَ الله على الذين يجيئُهُم أمْرَيْن: الأمن، أو الخوف أن يَرْجَعُوا في مَعْرِفَتِه إليهم ولا يَخْلُو إمَّا أن يَرْجِعُوا إليهم في مَعْرِفَة هذه الوَقَائِع مع حُصُول النَّصِّ فيها أوْ لا، والأوَّل باطل؛ لأن من استدلَّ بالنَّصِّ في واقِعَةٍ لا يُقَال: إنه استنبط الحكم؛ فثبت أنه - تعالى- أمَر المكَلَّف بِرَدِّ الوَقِعة إلى من يَسْتَنْبِط الحُكْم فيها، ولَوْلَا أن الاسْتِنبَاط حُجَّة، لما أمَر المُكَلَّف بذلك؛ فَثَبَت أن الاستِنْبَاط حُجَّة الي ان قال فإن قيل: لا نُسَلَّم أن المراد ب {الذين يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} أولي الأمْر، لكن هذه الآيَة إنَّما نزلت في بَيَان الوَقَائِع المُتَعَلِّقة بالحُرُوب والجِهَاد، فهَبْ أن الرُّجُوع إلى الاستنبَاط جَائِزٌ فيها، فَلِمَ قُلْتُم بجوازِه في الوَقَائِع الشَّرْعِيَّة؛ فإن قِيْسَ أحد البَابَيْن على الآخَر، كان ذَلِك إثْبَاتاً للقِيَاس الشَّرْعِيِّ بالقِياس، وأنَّه لا يجُوز أن الاسْتِنْبَاط في الأحْكَام الشَّرْعِيَّة داخل تحت الآية فلمَّا قُلْتُم يلزم أن يُكون القِيَاس حُجَّة، فإنَّه يمكنُ أن يكُون المُرادَ بالاسْتِنْبَاط: استخراج الأحْكَام من النُّصُوص الخَفِيَّة، أو مِنْ تركيبَات النُّصوصِ، أو المراد منه استخراج الأحكام من البَرَاءة، الأصليَّة، أو مما ثَبَت بحكم العَقْلِ، كما يقول الأكَثُرون إن الأصْل في المَنَافِع الإبَاحَة، وفي المَضَارِّ الحُرْمَة.سلمنا أنَّ القِيَاس الشَّرْعِي داخلٌ في الآية، لكن بِشَرْط أن يكون القياسُ مُفِيداً للعِلْم؛ لقوله - تعالى-: {لَعَلِمَهُ الذين يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} . فاعتبر حُصُول العِلْم من هذا الاستِنْبَاط، ونِزَاع في مثل هذا القِيَاس، إنما النِّزاع في

এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, অনুমাননির্ভর তুলনা (قياس) হলো একটি দলিল (حجة); কারণ আল্লাহর বাণী: {তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন (استنباط) করে}, এটি 'উলিল আমর' বা কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষণ। আর আল্লাহ সেই ব্যক্তিদের ওপর দুটি বিষয় অর্থাৎ নিরাপত্তা অথবা ভীতি সংক্রান্ত সংবাদ আসার পর তা জানার জন্য তাদের (উলিল আমর) কাছে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক করেছেন। আর এই ঘটনাবলী জানার জন্য তাদের কাছে ফিরে যাওয়া দুটি অবস্থার বাইরে হতে পারে না: হয় সেখানে সুস্পষ্ট পাঠ (نص) বিদ্যমান আছে অথবা নেই। প্রথমটি বাতিল; কারণ কেউ যখন কোনো ঘটনায় সুস্পষ্ট পাঠ (نص) দ্বারা দলিল পেশ করে, তখন তাকে বিধান উদ্ভাবনকারী (استنباط) বলা হয় না। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ তাআলা শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে (مكلف) নির্দেশ দিয়েছেন কোনো ঘটনাকে এমন ব্যক্তির কাছে ফিরিয়ে দিতে যিনি তা থেকে বিধান উদ্ভাবন (استنباط) করবেন। আর যদি উদ্ভাবন (استنباط) একটি দলিল (حجة) না হতো, তবে আল্লাহ দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে (مكلف) সেই নির্দেশ দিতেন না। অতএব প্রমাণিত হলো যে উদ্ভাবন (استنباط) একটি দলিল (حجة)। পরিশেষে বলা হয়েছে, যদি বলা হয়: আমরা এটি স্বীকার করি না যে, {তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন (استنباط) করে} বলতে 'উলিল আমর' বা কর্তৃপক্ষকে বোঝানো হয়েছে। বরং এই আয়াতটি কেবল যুদ্ধ ও জিহাদ সংক্রান্ত ঘটনাবলী বর্ণনার ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং ধরে নেওয়া হলো যে, সেখানে উদ্ভাবনের (استنباط) দিকে প্রত্যাবর্তন করা বৈধ, কিন্তু শরয়ি ঘটনাবলীর ক্ষেত্রে আপনারা এটিকে কেন বৈধ বললেন? কেননা যদি এক ক্ষেত্রকে অন্য ক্ষেত্রের ওপর অনুমান করা হয়, তবে তা হবে অনুমাননির্ভর তুলনা (قياس) দ্বারাই শরয়ি অনুমাননির্ভর তুলনাকে (قياس) প্রমাণ করা। আর শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন (استنباط) এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বৈধ নয়। তবে কেন আপনারা বললেন যে, অনুমাননির্ভর তুলনা (قياس) দলিল (حجة) হওয়া আবশ্যক? কারণ এমন হওয়া সম্ভব যে, উদ্ভাবন (استنباط) বলতে উদ্দেশ্য হলো অস্পষ্ট পাঠ (نصوص خفية) থেকে অথবা পাঠসমূহের সমন্বয় থেকে বিধান বের করা। অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে মূল দায়মুক্ততা (براءة أصلية) থেকে বিধান বের করা অথবা আকলি বা বুদ্ধিভিত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয়। যেমন অধিকাংশ আলিম বলেন যে, উপকারী বস্তুর ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো বৈধতা (إباحة) এবং ক্ষতিকারক বস্তুর ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো নিষিদ্ধতা (حرمة)। আমরা মেনে নিলাম যে, শরয়ি অনুমাননির্ভর তুলনা (قياس) এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত, তবে শর্ত হলো সেই তুলনাকে সুনিশ্চিত জ্ঞানের (علم) পরিচায়ক হতে হবে; কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাতে তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন (استنباط) করে তারা তা জানতে (علم) পারে}। সুতরাং এখানে এই উদ্ভাবন (استنباط) থেকে সুনিশ্চিত জ্ঞান (علم) অর্জনকে গণ্য করা হয়েছে। আর এই ধরণের অনুমাননির্ভর তুলনার (قياس) ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ নেই, বরং বিরোধ হলো...

(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
القِياس الَّذِي يفيد الظَّنَّ: هل هو حُجَّة في الشرع، أمْ لا.والجواب: أمَّا الأوَّل فلا يصح؛ لأنَّه يَصِيرُ التقدير: أو رَدُّوه إلى الرَّسُول وَإلى أولِي الأمْر مِنْهُم لَعَلِمُوه، وعَطْف المظهر على المُضْمَر، وهو قوله: «ولو ردوه» قَبِيح مستكره.

وأما الثَّاني فَمَدْفُوع من وَجْهَيْن:

أحدهما: أن قوله: {وَإِذَا جَآءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الأمن أَوِ الخوف} حاصل في كل ما يتعلَّق بباب التَّكْلِيف، فَلَيْس في الآيَة ما يوجِبُ تَخْصِيصها بأمر الحُرُوبِ.

وثانيها: هَبْ أن الأمْر كما ذكرْتم، لكن لمَّا ثَبَت تَعَرُّف أحْكَام الحروب بالقِيَاس الشَّرْعِي، وجب أن يتمسَّك بالقِيَاس الشَّرْعِيِّ في سَائِر لوَقَائِع، لأنه لا قائل بالفَرْق.

وأما الثَّالث: وهو حَمْل الاستِنْبَاط على اسْتِخْرَاج النُّصُوص الخَفِيَّة أو على تَرْكيبات النُّصوص الخَفِيَّة أو على تَرْكِيبات النُّصُوص، فكلُّ ذلك لا يُخْرِجُه عن كونه مَنْصُوصاً، والتَّمَسُّك بالنَّصِّ لا يُسَمَّى استِنْبَاطاً.

وأما قوله: لا يجوزُ حَملُه على التَّمسُّكِ بالبَرَاءة الأصْلِيَّة.

قلنا: لَيْسَ هذا استِنْبَاطاً، بل هذا إبقاء لما كان على ما كان، ومثل هذا لا يُسَمَّى استِنْبَاطاً.

وأما الرابع: وهو أن هذا الاستِنْبَاط إنَّما يجُوز عند حُصُول العِلْم، والقياس الشَّرْعِيِّ لا يفيد العِلْم.

فنقول: جوابُه من وجهين:
ধারণা (ظن) প্রদানকারী অনুমান (قياس): শরিয়তে কি তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে কি না? উত্তর: প্রথমটি সঠিক নয়; কারণ এর ফলে বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায়: 'অথবা তারা যদি তা রসূল এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমরের নিকট ফিরিয়ে দিত তবে তারা তা জানত'। এখানে সর্বনামের ওপর প্রকাশ্য বিশেষ্যের অন্বয় (عطف) ব্যাকরণগতভাবে অশোভন ও অপছন্দনীয়।

আর দ্বিতীয়টি দুই দিক থেকে খণ্ডনযোগ্য:

প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তাদের কাছে শান্তি বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে}—এটি শরয়ী বাধ্যবাধকতা (تكليف) সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং আয়াতে এমন কিছু নেই যা একে কেবল যুদ্ধের বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট (تخصيص) করাকে অপরিহার্য করে।

দ্বিতীয়ত: ধরে নিলাম বিষয়টি আপনারা যেমনটি উল্লেখ করেছেন তেমনই, কিন্তু যখন শরয়ী অনুমান (قياس) এর মাধ্যমে যুদ্ধের বিধানসমূহ (أحكام) নির্ণয় করা প্রমাণিত হয়েছে, তখন অন্যান্য সকল ঘটনার ক্ষেত্রেও শরয়ী অনুমান (قياس) অবলম্বন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ এদের মধ্যে পার্থক্যের কোনো প্রবক্তা নেই।

আর তৃতীয়টি হলো: গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) গ্রহণকে প্রচ্ছন্ন মূলপাঠের (نصوص) নিগূঢ় অর্থ উদ্ধার অথবা মূলপাঠের (نصوص) বিন্যাসের ওপর প্রয়োগ করা। এর কোনোটিই বিষয়টিকে সরাসরি বর্ণিত (منصوص) হওয়ার গণ্ডি থেকে বের করে দেয় না। আর সরাসরি মূলপাঠকে (نص) আঁকড়ে ধরাকে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) বলা হয় না।

আর তাঁর এই কথা যে: একে মূলগত দায়মুক্তির (براءة أصلية) ওপর প্রয়োগ করা বৈধ নয়।

আমরা বলি: এটি কোনো গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) নয়, বরং এটি কোনো বিষয়কে তার পূর্বাবস্থায় বহাল রাখা মাত্র; আর এ ধরনের বিষয়কে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) বলা হয় না।

আর চতুর্থটি হলো: এই গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (استنباط) কেবল নিশ্চিত জ্ঞান (علم) অর্জিত হলেই বৈধ হয়, অথচ শরয়ী অনুমান (قياس) নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে না।

আমরা বলি: এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
أحدُهُما: أنَّه عندنا يُفِيدُ العِلْم؛ أن ثُبُوت إن القِيَاسَ حجَّة يقطع بأنَّه مهما غَلَب على الظَّنِّ أنَّ حُكْم الله في الأصْل معلَّل بكذا، ثمَّ غَلَب على الظَّنِّ أنَّ ذلك المَعْنَى قَائِمٌ في الفَرْع، فهنا يحصل ظنُّ أنَّ حُكم الله في الفَرْعِ مُسَاوٍ لحُكْمِه في الأصْل، وعند هذا الظَّنِّ يُقْطَع بأنَّه مكَلَّفٌ بأن يعمل على وَفْق هذا الظَّنِّ؛ فالحاصل: أن الظَّنَّ واقع في طَرِيق الحُكْم، وأما الحُكْمُ فمقطوع به، وهو يجري مَجْرَى ما إذا قَالَ الله - تعالى-: مهما غَلَب عَلى ظنِّك كذَا، فاعلم أنَّ حُكْمِي في الوَاقِعَة كذا، فإذا غَلَب الظَّنُّ قَطَعْنَا بثُبُوت ذلك الحُكْمِ.انتهي من تفسير اللباب لابن عادل وهو كذلك نص كلام فخر الدين الرازي في تفسيره مفاتيح الغيب

ثالثا قوله تعالى: {فاعتبروا يا أولي الأبصار} (الحشر:2)

وجه الدلالة: أن الاعتبار هو لغة: مقايسة الشيء بغيره.

قال الزركشي في البحر المحيط (وَقَدْ سُئِلَ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى ثَعْلَبٌ وَهُوَ مِنْ أَئِمَّةِ اللِّسَانِ عَنْ " الِاعْتِبَارِ " فَقَالَ: أَنْ يَعْقِلَ الْإِنْسَانُ الشَّيْءَ فَيَعْقِلُ مِثْلَهُ.

فَقِيلَ: أَخْبِرْنَا عَمَّنْ رَدَّ حُكْمَ حَادِثَةٍ إلَى نَظِيرِهَا أَيَكُونُ مُعْتَبَرًا؟ قَالَ: نَعَمْ هُوَ مَشْهُورٌ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ.) قال الشوكاني في ارشاد الفحول
একটি হলো: এটি আমাদের নিকট জ্ঞান প্রদান করে; কিয়াস (قياس) যে একটি দলিল (حجة) তা এ কথা সুনিশ্চিত করে যে, যখন কোনো বিষয়ের মূল ভিত্তির (أصل) ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান কোনো নির্দিষ্ট কারণ দ্বারা সংজ্ঞায়িত (معلل) হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা (ظن) জন্মে, অতঃপর সেই একই কারণ শাখা বিষয়ের (فرع) মধ্যেও বিদ্যমান থাকার বিষয়ে প্রবল ধারণা সৃষ্টি হয়, তখন এখানে এই ধারণা জন্মে যে, শাখার ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মূল ভিত্তির বিধানের সমান। আর এই প্রবল ধারণার সময় এটি নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয় যে, ব্যক্তি উক্ত ধারণা অনুযায়ী আমল করতে আদিষ্ট (مكلف); সারকথা হলো: প্রবল ধারণাটি বিধান প্রাপ্তির পথে ঘটে থাকে, কিন্তু বিধানটি অকাট্য। এটি সে বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত, যেন মহান আল্লাহ বললেন—যখনি তোমার মনে এমন প্রবল ধারণা জন্মাবে, তখন জেনে রেখো যে, এই ঘটনায় আমার বিধান এইরূপ। সুতরাং যখন প্রবল ধারণা জন্মে, তখন আমরা সেই বিধান সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হই। ইবনে আদিলের তাফসিরে লুবাব থেকে সমাপ্ত, এবং এটি ফখরুদ্দিন রাযির তার তাফসির মাফাতিহুল গায়বেরও হুবহু বক্তব্য।

তৃতীয়ত, মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ (اعتبار) করো} (আল-হাশর: ২)

দলিলের দিক: আভিধানিকভাবে ইতিবার (اعتبار) অর্থ হলো এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে তুলনা করা।

যারকাশি আল-বাহরুল মুহিত গ্রন্থে বলেন: ভাষাবিদদের অন্যতম ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া সা’লাবকে "ইতিবার" (اعتبار) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: মানুষ কোনো একটি বিষয় অনুধাবন করবে এবং অতঃপর তার অনুরূপ বিষয়কেও অনুধাবন করবে।

অতঃপর বলা হলো: আমাদের সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলুন, যে কোনো ঘটনার বিধানকে তার সদৃশ বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তিত করে, সে কি মুতাবির (معتبر) বা বিবেচনাপ্রসূত হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি আরবদের কথাবার্তায় সুপ্রসিদ্ধ। শাওকানি ইরশাদুল ফুহুল গ্রন্থে বলেন...
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
(ووجه الاستدلال بهذه الآية أن الاعتبار مشتق من العبور وهو المجاوزة يقال عبرت على النهر والمعبر الموضع الذي يعبر عليه والمعبر السفينة التي يعبر فيها أداة العبور والعبرة الدمعة التي عبرت من الجفن وعبر الرؤيا جاوزها إلى ما يلازمها قالوا فثبت بهذه الاستعمالات أن الاعتبار حقيقة في المجاوزة فوجب أن لا يكون حقيقة في غيرها دفعا للاشتراك والقياس عبور من حكم الأصل إلى حكم الفرع فكان داخلا تحت الأمر) فالاعتبار هو تمثيل الشيء بغيره، وإجراء حكمه عليه، ومساواته به، وهذا هو القياس ومنه قولهم: " اعتبر الدينار بالصنجة " قس الدينار بالصنجة، وهو القياس

والاعتبار مأمورٌ به لقوله {فاعتبروا} فيكون القياس مأموراً به

وقال ابن رشد في كتابه فصل المقال (وهذا نص على وجوب استعمال القياس العقلي، أو العقلي والشرعي معاً.)

وقال (قَالَ ابْنُ مُفْلِحٍ: الْقِيَاسُ دِينٌ، وَعِنْدَ أَبِي الْهُذَيْلِ: لَا يُطْلَقُ عَلَيْهِ اسْمُ دِينٍ، وَهُوَ فِي بَعْضِ كَلَامِ الْقَاضِي.

وَعِنْدَ الْجُبَّائِيِّ: الْوَاجِبُ مِنْهُ دِينٌ.انْتَهَى.وَقَالَ الرُّويَانِيُّ فِي الْبَحْرِ: الْقِيَاسُ عِنْدَنَا دِينُ اللَّهِ وَحُجَّتُهُ وَشَرْعُهُ.انْتَهَى.) انتهي من شرح الكوكب المنير

وقال الزركشي في البحر المحيط (وَاعْتَمَدَ ابْنُ سُرَيْجٍ فِي إثْبَاتِهِ عَلَى قَوْلِهِ: {فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ} وَنَقَلَ الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ فِي " التَّقْرِيبِ " اتِّفَاقَ أَهْلِ اللُّغَةِ عَلَى أَنَّ الِاعْتِبَارَ اسْمٌ يَتَنَاوَلُ تَمْثِيلَ الشَّيْءِ بِغَيْرِهِ، وَاعْتِبَارَهُ بِهِ، وَإِجْرَاءَ حُكْمِهِ عَلَيْهِ، وَالتَّسْوِيَةَ بَيْنَهُمَا فِي ذَلِكَ.)

رابعا قوله تعالى {فجزاءٌ مثل ما قتل من النعم يحكم به ذوا عدلٍ منكم} (المائدة:95) قال الدكتور علي النملة في اتحاف ذوي البصائر ج7 ص 119
(এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি এই যে, বিবেচনা (اعتبار) শব্দটি 'উবুর' (অতিক্রম করা) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো পার হওয়া। বলা হয়: আমি নদী পার হয়েছি। 'মাবার' হলো পার হওয়ার স্থান এবং 'মিবার' হলো পার হওয়ার নৌকা যা পারাপারের উপকরণ। 'ইবরাহ' হলো সেই অশ্রুবিন্দু যা চোখের পাতা অতিক্রম করে বেরিয়ে আসে। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যাকে 'উবুর' বলা হয় কারণ এটি স্বপ্নের দৃশ্য থেকে তার সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থের দিকে অতিক্রম করাকে বুঝায়। ভাষাবিদগণ বলেন, এই ব্যবহারগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, বিবেচনা (اعتبار) শব্দটি মূলত অতিক্রম করার অর্থেই বাস্তবভাবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং অর্থের দ্ব্যর্থকতা পরিহারের জন্য একে অন্য কোনো অর্থে প্রয়োগ না করাই আবশ্যক। আর কিয়াস হলো মূল বিধানের হুকুম থেকে শাখা বিধানের হুকুমের দিকে অতিক্রম করা, তাই এটিও এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।) মূলত বিবেচনা (اعتبار) হলো কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে তুলনা করা, একটির বিধান অন্যটির ওপর প্রয়োগ করা এবং উভয়কে সমপর্যায়ে রাখা; আর এটিই হলো কিয়াস। এ থেকেই তাদের প্রচলিত উক্তি: "দিনারকে ওজনের পাথরের সাথে বিবেচনা (اعتبار) করো" অর্থাৎ দিনারকে ওজনের পাথরের সাথে কিয়াস করো; আর এটিই হলো কিয়াস।

এবং বিবেচনা (اعتبار) করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে মহান আল্লাহর বাণী {অতএব তোমরা বিবেচনা (اعتبار) করো} এর মাধ্যমে, ফলে কিয়াসও নির্দেশিত বিষয় হিসেবে গণ্য হবে।

ইবনে রুশদ তার ফাসলুল মাকাল গ্রন্থে বলেছেন: (এটি বুদ্ধিভিত্তিক কিয়াস, অথবা বুদ্ধিভিত্তিক ও শরয়ি কিয়াস উভয়টি একত্রে ব্যবহারের আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ।)

এবং তিনি বলেছেন (ইবনুল মুফলিহ বলেছেন: কিয়াস হলো দ্বীন। আবু আল-হুযায়লের মতে: একে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করা যাবে না; আর এটি কাজী আবু বকরের কোনো কোনো বক্তব্যেও পাওয়া যায়।

আর আল-জুব্বায়ীর মতে: এর ওয়াজিব অংশটুকু দ্বীন। সমাপ্ত। আল-রুয়ানি আল-বাহর গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট কিয়াস হলো আল্লাহর দ্বীন, তাঁর প্রমাণ (حجة) এবং তাঁর শরয়ি বিধান। সমাপ্ত।) শারহুল কাওকাব আল-মুনির থেকে সমাপ্ত।

আর আল-যারকাশি আল-বাহর আল-মুহিত গ্রন্থে বলেছেন: (ইবনে সুরাইজ কিয়াস প্রমাণের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী: {হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ, তোমরা বিবেচনা (اعتبار) করো} এর ওপর নির্ভর করেছেন। আর কাজী আবু বকর আত-তাকরিব গ্রন্থে ভাষাবিদদের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, বিবেচনা (اعتبار) এমন একটি পরিভাষা যা কোনো বিষয়কে অন্যটির সাথে তুলনা করা, তার মাধ্যমে যাচাই করা, এর বিধান তার ওপর প্রয়োগ করা এবং এই ক্ষেত্রে উভয়কে সমপর্যায়ে গণ্য করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।)

চতুর্থত: মহান আল্লাহর বাণী {যে পশু শিকার করা হয়েছে তার বিনিময় হবে অনুরূপ চতুষ্পদ জন্তু, যার ফয়সালা করবে তোমাদের মধ্যকার দুজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি} (আল-মায়িদাহ: ৯৫)। ডক্টর আলী আন-নামলাহ ইতহাফ যাবি আল-বাসাইর ৭ম খণ্ড, ১১৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
(وجه الدلالة: أن الله تعالى قد أقام مثل الشيء مقام الشيء، فدل ذلك على أن حكم الشيء يُعطى لنظيره، وأن المتماثلين حكمهما واحد، وذلك هو القياس الشرعي، وقد استدل بهذه الآية الإمام الشافعي في " الرسالة ") نقل ذلك الشوكاني في ارشاد الفحول وضعف الاستدلال بالاية علي القياس وقد ضعف ابو حنيفة هذا الاستدلال بالاية علي القياس

خامسا قوله تعالي (إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ) النحل 90 استدل بها شيخ الاسلام ابن تيمية علي حجية القياس قاله الدكتور علي النملة في اتحاف ذوي البصائر ج7 ص120

سادسا: ان القران جاءت به كثير من التشريعات والاحكام معللة مبينة حكمتها والمصلحة منها وهذا يدلنا اننا اينما وجدت امثال هذه المصالح والعلل فعلينا ان نعمل بمثل تلك الاحكام فمن هذه الاحكام القصاص قال تعالي (وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ) البقرة 179 فبين تعالي ان القصاص انما شرح للحفاظ علي حياتنا وكذلك قوله تعالي (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ) البقرة 183 فبين سبحانه ان الغاية من تشريع الصيام هي بلوغ درجة التقوي وليس هذا فقط بل حتي في الامور الكونية يبين اللله سبحانه أنه ما خلقها الا لعلة وحكمة قال سبحانه (هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الْآَيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ) يونس 5 فبين الحكمة وهو العلم بعدد السنين والحساب وختم الاية بقوله يفصل الايات لقوم يعلمون وقال سبحانه (مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ) الحشر 7 فبين العلة والحكمة من تشريعه لقسمة الفيئ علي هذه الاصناف وقال سبحانه (وَأَلْقَى فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَارًا وَسُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ) النحل 15 فبين ان الحكمة من خلق الجبال كيلا تميد الارض بمن عليها وقال سبحانه (رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا) النساء165 فبين ان الحكمة من ارسال الرسل الي الخلق الاعذار اليهم لانه يحب العذر سبحانه حتي لا يكون لاحد حجة بعد ذلك اضافة الي غير ذلك من الحكم كانذار الخلق وتزكيتهم وتعليمهم الكتاب والحكمة وقال سبحانه (فَرَجَعْنَاكَ إِلَى أُمِّكَ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ) طه 40 فبين علة ارجاعه موسي الي امه بالضافة الي تحقيقه سبحانه وعده لها بارجاعه وقال سبحانه

(لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ) الحديد 25 فبين الحكم من ارسال الرسل وانزال الحديد وهي القيام بالعد ل ونشره وحمايته وليعلم سبحانه من ينصره ورسله بالغيب وقال سبحانه (لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ) الحديد 29

قال ابن كثير (أي: ليتحققوا أنهم لا يقدرون على رَدّ ما أعطاه الله، ولا على إعطاء ما منع الله) فمن قرأ القران تبين له ذلك واستخرج من كنوزه ولا يجادل في هذه الاجاهل او مكابر جامد
(প্রমাণের ধরণ: মহান আল্লাহ এক বস্তুর সদৃশকে অন্য বস্তুর স্থলাভিষিক্ত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, একটি বস্তুর বিধান তার অনুরূপ বস্তুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এবং দুটি সদৃশ বস্তুর বিধান অভিন্ন হবে। আর এটিই হলো শরয়ী কিয়াস (القياس الشرعي)। ইমাম শাফেয়ী তাঁর 'আর-রিসালা' গ্রন্থে এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।) আশ-শাওকানি তাঁর 'ইরশাদুল ফুহুল' গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং কিয়াসের ক্ষেত্রে এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করাকে দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত করেছেন। ইমাম আবু হানিফাও কিয়াসের ক্ষেত্রে এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করাকে দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত করেছেন।

পঞ্চম: মহান আল্লাহর বাণী (নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেন; তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো) আন-নাহল: ৯০। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া কিয়াসের প্রামাণিকতার (حجية) পক্ষে এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। ড. আলী আন-নামলা 'ইতহাফু যাওয়িল বাসায়ের' (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১২০) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

ষষ্ঠ: কুরআনের অনেক আইন ও বিধানই কারণ দর্শানো (معللة) অবস্থায় এসেছে, যা সেগুলোর হিকমত (حكمة) ও জনকল্যাণ (المصلحة) বর্ণনা করে। এটি আমাদের এই নির্দেশনা দেয় যে, যেখানেই এই ধরণের জনকল্যাণ ও কারণ (العلل) পাওয়া যাবে, সেখানেই আমাদের সেই বিধান অনুযায়ী আমল করতে হবে। এই বিধানগুলোর মধ্যে একটি হলো কিসাস; মহান আল্লাহ বলেন: (হে বুদ্ধিমানগণ, কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো) আল-বাকারা: ১৭৯। এখানে মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, কিসাসের বিধান মূলত আমাদের জীবন রক্ষার জন্যই প্রবর্তন করা হয়েছে। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: (হে মুমিনগণ, তোমাদের জন্য সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো) আল-বাকারা: ১৮৩। এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বর্ণনা করেছেন যে, সিয়ামের বিধান প্রবর্তনের উদ্দেশ্য (الغاية) হলো তাকওয়ার স্তরে পৌঁছানো। শুধু তাই নয়, বরং মহাজাগতিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এগুলো নির্দিষ্ট কারণ (علة) ও হিকমত (حكمة) ব্যতীত সৃষ্টি করেননি। তিনি বলেন: (তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে উজ্জ্বল আলো এবং চাঁদকে স্নিগ্ধ আলো বানিয়েছেন এবং তার জন্য মানজিলসমূহ নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের গণনা ও হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ এগুলো সত্যতা ব্যতিরেকে সৃষ্টি করেননি। তিনি জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেন) ইউনুস: ৫। এখানে তিনি হিকমত (الحكمة) বর্ণনা করেছেন, যা হলো বছরের গণনা ও হিসাব সম্পর্কে জ্ঞান। তিনি আয়াতের শেষে বলেছেন যে, তিনি জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা (يفصل) করেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেন: (আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে 'ফায়' (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) হিসেবে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, নিকটাত্মীয়দের জন্য, এতিমদের জন্য, অভাবগ্রস্তদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য; যাতে তা তোমাদের মধ্যকার ধনীদের মধ্যেই কেবল আবর্তিত না হয়) আল-হাশর: ৭। এখানে তিনি এই শ্রেণীর মানুষের মাঝে ফায় বণ্টনের বিধানের কারণ (العللة) ও হিকমত (الحكمة) বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি আরও বলেন: (এবং তিনি জমিনের ওপর পাহাড় গেঁথে দিয়েছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে হেলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরি করেছেন যাতে তোমরা সঠিক পথ পাও) আন-নাহল: ১৫। এখানে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, পাহাড় সৃষ্টির হিকমত (الحكمة) হলো জমিন যেন তার ওপর অবস্থানকারীদের নিয়ে দুলতে না থাকে। এবং তিনি আরও বলেন: (রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত (حجة) না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়) আন-নিসা: ১৬৫। এখানে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, সৃষ্টিজগতের কাছে রাসূল প্রেরণের হিকমত (الحكمة) হলো তাদের ওজর (العذر) পেশ করা, কারণ তিনি ওজর (العذر) পছন্দ করেন, যাতে এরপর কারও কোনো অজুহাত (حجة) না থাকে। এর সাথে আরও অনেক হিকমত (الحكم) রয়েছে, যেমন সৃষ্টিজগতকে সতর্ক করা, তাদের পরিশুদ্ধ করা এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেওয়া। এবং তিনি আরও বলেন: (অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনলাম, যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং সে দুঃখ না পায়) ত্বহা: ৪০। এখানে তিনি মুসাকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ (علة) বর্ণনা করেছেন, যার সাথে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মায়ের প্রতি তাঁর ওয়াদা পূরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এবং তিনি আরও বলেন:

(নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। আর আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বহু কল্যাণ; আর যাতে আল্লাহ জেনে নেন কে তাঁকে ও তাঁর রাসূলগণকে অদৃশ্যে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী) আল-হাদিদ: ২৫। এখানে রাসূল প্রেরণ এবং লোহা অবতীর্ণ করার হিকমতসমূহ (الحكم) বর্ণনা করা হয়েছে, যা হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, এর প্রসার ঘটানো ও একে সুরক্ষা প্রদান করা এবং যেন আল্লাহ জেনে নেন কে অদৃশ্যে তাঁকে ও তাঁর রাসূলগণকে সাহায্য করে। এবং তিনি আরও বলেন: (যাতে আহলে কিতাবরা জানতে পারে যে, আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর তাদের কোনো হাত নেই এবং অনুগ্রহ আল্লাহরই হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল) আল-হাদিদ: ২৯।

ইবনে কাসির বলেছেন: (অর্থাৎ: যেন তারা নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যে, আল্লাহ যা দান করেছেন তা তারা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম নয় এবং আল্লাহ যা আটকে রেখেছেন তা তারা প্রদান করতে সক্ষম নয়)। সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করবে তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং সে এর ধনভাণ্ডার থেকে হাকিকত উন্মোচন করবে। কোনো জাহেল বা একগুঁয়ে রক্ষণশীল ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ এ বিষয়ে বিতর্ক করবে না।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
سابعا: ان في القران ضرب الامثال والمقاييس

قال ابن القيم في كتابه الماتع النافع اعلام الموقعين (قَالَ تَعَالَى: {وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إلَّا الْعَالِمُونَ} فَالْقِيَاسُ فِي ضَرْبِ الْأَمْثَالِ مِنْ خَاصَّةِ الْعَقْلِ، وَقَدْ رَكَّزَ اللَّهُ فِطَرَ النَّاسِ وَعُقُولَهُمْ عَلَى التَّسْوِيَةِ بَيْنَ الْمُتَمَاثِلَيْنِ وَإِنْكَارِ التَّفْرِيقِ بَيْنَهُمَا، وَالْفَرْقِ بَيْنَ الْمُخْتَلِفَيْنِ وَإِنْكَارِ الْجَمْعِ بَيْنَهُمَا) . وقد استشهد بكثير من الايات التي تدل علي القياس (مِنْهَا قَوْله تَعَالَى: {إنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} .... وَمِنْهَا قَوْله تَعَالَى: {أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ قَرْنٍ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ مَا لَمْ نُمَكِّنْ لَكُمْ وَأَرْسَلْنَا السَّمَاءَ عَلَيْهِمْ مِدْرَارًا وَجَعَلْنَا الْأَنْهَارَ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمْ فَأَهْلَكْنَاهُمْ بِذُنُوبِهِمْ وَأَنْشَأْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ قَرْنًا آخَرِينَ} فَذَكَرَ سُبْحَانَهُ إهْلَاكَ مَنْ قَبْلَنَا مِنْ الْقُرُونِ، وَبَيَّنَ أَنَّ ذَلِكَ كَانَ لِمَعْنَى الْقِيَاسِ، وَهُوَ ذُنُوبُهُمْ، فَهُمْ الْأَصْلُ وَنَحْنُ الْفَرْعُ، وَالذُّنُوبُ الْعِلَّةُ الْجَامِعَةُ، وَالْحُكْمُ الْهَلَاكُ؛ فَهَذَا مَحْضُ قِيَاسِ الْعِلَّةِ، وَقَدْ أَكَّدَهُ سُبْحَانَهُ بِضَرْبٍ مِنْ الْأَوْلَى، وَهُوَ أَنَّ مَنْ قَبْلَنَا كَانُوا أَقْوَى مِنَّا فَلَمْ تَدْفَعْ عَنْهُمْ قُوَّتُهُمْ وَشِدَّتُهُمْ مَا حَلَّ بِهِمْ، وَمِنْهُ قَوْله تَعَالَى: {كَاَلَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْكُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالًا وَأَوْلَادًا فَاسْتَمْتَعُوا بِخَلَاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلَاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ بِخَلَاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَاَلَّذِي خَاضُوا أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ هُمْ الْخَاسِرُونَ} ..... وَالْمَقْصُودُ أَنَّهُ سُبْحَانَهُ أَلْحَقَهُمْ بِهِمْ فِي الْوَعِيدِ، وَسَوَّى بَيْنَهُمْ فِيهِ كَمَا تُسَاوَوْا فِي الْأَعْمَالِ، وَكَوْنُهُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالًا وَأَوْلَادًا فَرْقٌ غَيْرُ مُؤَثِّرٍ، فَعَلَّقَ الْحُكْمَ بِالْوَصْفِ الْجَامِعِ الْمُؤَثِّرِ، وَأَلْغَى الْوَصْفَ الْفَارِقَ، ثُمَّ نَبَّهَ عَلَى أَنَّ مُشَارَكَتَهُمْ فِي الْأَعْمَالِ اقْتَضَتْ مُشَارَكَتَهُمْ فِي الْجَزَاءِ فَقَالَ: {فَاسْتَمْتَعُوا بِخَلَاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلَاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ بِخَلَاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَاَلَّذِي خَاضُوا} فَهَذِهِ هِيَ الْعِلَّةُ الْمُؤَثِّرَةُ وَالْوَصْفُ الْجَامِعُ، وَقَوْلُهُ: {أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ} هُوَ الْحُكْمُ، وَاَلَّذِينَ مِنْ قَبْلُ هُمْ الْأَصْلُ، وَالْمُخَاطَبُونَ الْفَرْعُ) انتهي من اعلام الموقعين
সপ্তমত: কুরআনে উদাহরণ পেশ করা এবং কিয়াস (القياس) বা তুলনামূলক পরিমাপের দৃষ্টান্ত বিদ্যমান।

ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর চমৎকার ও উপকারী গ্রন্থ ইলামুল মুওয়াক্কিইন-এ বলেছেন, (আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি মানুষের জন্য এ সকল দৃষ্টান্ত বর্ণনা করি, কিন্তু কেবল জ্ঞানীরাই তা অনুধাবন করতে পারে}। সুতরাং দৃষ্টান্ত পেশ করার ক্ষেত্রে কিয়াস (القياس) হলো বুদ্ধিবৃত্তিক বিশেষত্বের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বভাব ও বুদ্ধিকে দুটি সদৃশ বিষয়ের মধ্যে সমতা বিধান করা এবং তাদের মধ্যে পার্থক্যের বিরোধিতা করা, আর দুটি ভিন্ন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা এবং তাদের একত্রিত করার বিরোধিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন।) তিনি কিয়াস (القياس)-এর গুরুত্ব নির্দেশকারী অনেক আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, (তন্মধ্যে আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো; তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বললেন: হও, ফলে সে হয়ে গেল} .... এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা কি দেখেনি যে, তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, যাদেরকে আমি জমিনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যা তোমাদের করিনি; আর আমি তাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম এবং তাদের পাদদেশে নদী প্রবাহিত করেছিলাম; অতঃপর আমি তাদের পাপের কারণে তাদের ধ্বংস করেছি এবং তাদের পরে অন্য এক প্রজন্ম সৃষ্টি করেছি})। সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহের ধ্বংসের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, তা ছিল কিয়াস (القياس)-এর অর্থের ভিত্তিতে, আর তা হলো তাদের পাপ। সুতরাং তারা হলো মূল (الأصل) এবং আমরা হলাম শাখা (الفرع), আর পাপ হলো সমন্বয়কারী কার্যকারণ (العلة الجامعة) এবং বিধান (الحكم) হলো ধ্বংস; এটি বিশুদ্ধ ইল্লতভিত্তিক কিয়াস (قياس العلة)। আর সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে অগ্রাধিকারমূলক কিয়াস (القياس الأولى) দ্বারা সুদৃঢ় করেছেন, আর তা হলো—আমাদের পূর্ববর্তীরা আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ছিল, তা সত্ত্বেও তাদের সেই শক্তি ও কঠোরতা তাদের ওপর আপতিত আজাবকে প্রতিহত করতে পারেনি। আরও রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা তাদের মতো যারা তোমাদের পূর্বে ছিল, তারা তোমাদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল এবং ধন-সম্পদে ও সন্তান-সন্ততিতে অধিক ছিল। অতঃপর তারা তাদের প্রাপ্য অংশ ভোগ করেছে এবং তোমরাও তোমাদের প্রাপ্য অংশ ভোগ করেছ, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের প্রাপ্য অংশ ভোগ করেছিল এবং তোমরাও সেরূপ অনর্থক বিতর্কে মেতে উঠেছ যেরূপ তারা মেতেছিল। তারাই তারা যাদের আমল দুনিয়া ও আখিরাতে নিষ্ফল হয়েছে এবং তারাই ক্ষতিগ্রস্ত} ..... উদ্দেশ্য হলো, সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের শাস্তির প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাদের মধ্যে সমতা বিধান করেছেন ঠিক যেভাবে তারা আমলের ক্ষেত্রেও সমান ছিল। আর তাদের অধিক শক্তিশালী হওয়া এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বেশি হওয়া এমন একটি পার্থক্য (الوصف الفارق) যা কোনো প্রভাব ফেলে না। ফলে তিনি বিধানকে (الحكم) সমন্বয়কারী ও প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্যের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন এবং অপ্রাসঙ্গিক পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্যকে বাতিল করেছেন। অতঃপর তিনি সতর্ক করেছেন যে, আমলের ক্ষেত্রে তাদের অংশীদারিত্ব প্রতিদানের ক্ষেত্রেও তাদের অংশীদারিত্বকে অনিবার্য করে। তাই তিনি বলেছেন: {অতঃপর তারা তাদের প্রাপ্য অংশ ভোগ করেছে এবং তোমরাও তোমাদের প্রাপ্য অংশ ভোগ করেছ, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের প্রাপ্য অংশ ভোগ করেছিল এবং তোমরাও সেরূপ অনর্থক বিতর্কে মেতে উঠেছ যেরূপ তারা মেতেছিল}। এটিই হলো প্রভাবশালী কার্যকারণ (العلة المؤثرة) এবং সমন্বয়কারী বৈশিষ্ট্য (الوصف الجامع)। আর তাঁর বাণী: {তারাই সেই লোক যাদের আমল নিষ্ফল হয়েছে} হলো বিধান (الحكم), আর পূর্ববর্তীরা হলো মূল (الأصل) এবং যাদের সম্বোধন করা হয়েছে তারা হলো শাখা (الفرع))। ইলামুল মুওয়াক্কিইন থেকে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: -)
‌‌ثانيا:-الاستدلال بالسنة علي حجية القياس

أولا تقريره صلي الله عليه وسلم لمعاذ لما قال اجتهد رأيي قال ابن قدامة في روضة الناظر (قول النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ بم تقضي قال بكتاب الله قال فإن لم تجد قال بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فإن لم تجد قال أجتهد رأيي قال الحمد لله الذي وفق رسول رسول الله صلى الله عليه وسلم قالوا هذا الحديث يرويه الحارث بن عمرو عن رجال من أهل حمص) قال الحافظ ابن حجر في التلخيص الحبير (أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيُّ، وَابْنُ عَدِيٍّ وَالطَّبَرَانِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ، مِنْ حَدِيثِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ، عَنْ مُعَاذٍ.

قَالَ التِّرْمِذِيُّ: لَا نَعْرِفُهُ إلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَلَيْسَ إسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ.

وَقَالَ الْبُخَارِيُّ فِي تَارِيخِهِ: الْحَارِثُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ، وَعَنْهُ أَبُو عَوْنٍ لَا يَصِحُّ، وَلَا يُعْرَفُ إلَّا بِهَذَا، وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي الْعِلَلِ: رَوَاهُ شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ هَكَذَا، وَأَرْسَلَهُ ابْنُ مَهْدِيٍّ وَجَمَاعَاتٌ عَنْهُ، وَالْمُرْسَلُ أَصَحُّ.

قَالَ أَبُو دَاوُد: أَكْثَرُ مَا كَانَ يُحَدِّثُنَا شُعْبَةُ عَنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ، وَقَالَ مَرَّةً: عَنْ مُعَاذٍ، وَقَالَ ابْنُ حَزْمٍ: لَا يَصِحُّ، لِأَنَّ الْحَارِثَ مَجْهُولٌ وَشُيُوخَهُ لَا يُعْرَفُونَ.) وقال الشيخ علوي السقاف في تخريج احاديث في ظلال القران لشهيد الاسلام سيد قطب (لا يصح. رواه: أبو داود، والترمذي، وغيرهما. انظر: ((جامع الأصول)) (10/177) ، ((السلسلة الضعيفة)) (2/273) .) انتهي من تخريج كتاب في ظلال القران قلت: وقال عنه الألباني في " السلسلة الضعيفة والموضوعة " (2 / 273) :منكر) قال ابن قدامة في روضة الناظر
‌দ্বিতীয়ত:- কিয়াসের প্রামাণিকতার সপক্ষে সুন্নাহ দ্বারা দলিল প্রদান

প্রথমত, মুয়াজ (রা.) যখন বললেন "আমি আমার রায় দিয়ে ইজতিহাদ করব", তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর প্রতি মৌনসম্মতি প্রদান। ইবনে কুদামা তাঁর রাওদাতুন নাজির গ্রন্থে বলেন (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজকে বললেন: "তুমি কিসের মাধ্যমে বিচার করবে?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব দিয়ে।" তিনি বললেন: "যদি তা না পাও?" তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ দিয়ে।" তিনি বললেন: "যদি তা না পাও?" তিনি বললেন: "আমি আমার রায় দিয়ে ইজতিহাদ করব।" তিনি বললেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দূতকে তাওফিক দান করেছেন।" তারা বলেন: এই হাদিসটি হারেস ইবনে আমর হিমস অধিবাসী একদল লোক থেকে বর্ণনা করেছেন।) হাফেজ ইবনে হাজার আত-তালখিস আল-হাবির গ্রন্থে বলেন (আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে আদি, তাবারানি এবং বায়হাকি এটি হারেস ইবনে আমর থেকে, তিনি মুয়াজের একদল সাথী থেকে, তারা মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিজি বলেন: আমরা এটি কেবল এই সূত্রেই জানি, এবং এর সনদটি সংযুক্ত (متصل) নয়।

বুখারি তাঁর তারিখ গ্রন্থে বলেন: হারেস ইবনে আমর মুয়াজের সাথীদের থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর থেকে আবু আউন বর্ণনা করেছেন; এটি বিশুদ্ধ (صحيح) নয় এবং এটি ব্যতীত তিনি পরিচিত নন। দারাকুতনি আল-ইলাল গ্রন্থে বলেন: শু'বা এটি আবু আউন থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন, তবে ইবনে মাহদি এবং একদল বর্ণনাকারী এটি তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)।

আবু দাউদ বলেন: শু'বা অধিকাংশ সময় মুয়াজের সাথীদের সূত্রে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ..., এবং কখনো বলতেন মুয়াজ থেকে। ইবনে হাজম বলেন: এটি বিশুদ্ধ (صحيح) নয়; কারণ হারেস অজ্ঞাত (مجهول) এবং তাঁর উস্তাদগণ পরিচিত নন।) এবং শেখ আলউই আস-সাক্কাফ ইসলামি শহীদ সাইয়্যেদ কুতুবের 'ফি জিলালিল কুরআন'-এর হাদিসসমূহের তাখরিজ গ্রন্থে বলেন (এটি বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। আবু দাউদ, তিরমিজি এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন: জামিউল উসুল (১০/১৭৭), আস-সিলসিলাতাদ দয়িফাহ (২/২৭৩)।) ফি জিলালিল কুরআন গ্রন্থের তাখরিজ থেকে সমাপ্ত। আমি বলছি: আলবানি তাঁর 'আস-সিলসিলাতাদ দয়িফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ' (২/২৭৩) গ্রন্থে এটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি অগ্রহণযোগ্য (منكر)। ইবনে কুদামা রাওদাতুন নাজির গ্রন্থে বলেন
(খণ্ড: ১) হুজ্জিয়াতুল ক্বিয়াস ওয়ার রাদ্দু আলাল মুখালিফীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
(قلنا قد رواه عبادة بن نسي عن عبد الرحمن بن غنم عن معاذ ثم هذا الحديث تلقته الآمة بالقبول فلا يضره كونه مرسلا والثاني لا يصح لأنه بين أنه يجتهد فيما ليس فيه كتاب ولا سنة) انتهي من روضة الناظر. قال العلامة ابن القيم: (فَهَذَا حَدِيثٌ وَإِنْ كَانَ عَنْ غَيْرِ مُسَمَّيْنَ فَهُمْ أَصْحَابُ مُعَاذٍ فَلَا يَضُرُّهُ ذَلِكَ؛ لِأَنَّهُ يَدُلُّ عَلَى شُهْرَةِ الْحَدِيثِ وَأَنَّ الَّذِي حَدَّثَ بِهِ الْحَارِثُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ جَمَاعَةٍ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ لَا وَاحِدٍ مِنْهُمْ، وَهَذَا أَبْلَغُ فِي الشُّهْرَةِ مِنْ أَنْ يَكُونَ عَنْ وَاحِدٍ مِنْهُمْ لَوْ سُمِّيَ، كَيْفَ وَشُهْرَةُ أَصْحَابِ مُعَاذٍ بِالْعِلْمِ وَالدَّيْنِ وَالْفَضْلِ وَالصِّدْقِ بِالْمَحَلِّ الَّذِي لَا يَخْفَى؟ وَلَا يُعْرَفُ فِي أَصْحَابِهِ مُتَّهَمٌ وَلَا كَذَّابٌ وَلَا مَجْرُوحٌ، بَلْ أَصْحَابُهُ مِنْ أَفَاضِلِ الْمُسْلِمِينَ وَخِيَارِهِمْ، لَا يَشُكُّ أَهْلُ الْعِلْمِ بِالنَّقْلِ فِي ذَلِكَ، كَيْفَ وَشُعْبَةُ حَامِلُ لِوَاءِ هَذَا الْحَدِيثِ؟ وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ: إذَا رَأَيْتَ شُعْبَةَ فِي إسْنَادِ حَدِيثٍ فَاشْدُدْ يَدَيْكَ بِهِ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ: وَقَدْ قِيلَ إنَّ عُبَادَةَ بْنَ نُسَيٍّ رَوَاهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ عَنْ مُعَاذٍ، وَهَذَا إسْنَادٌ مُتَّصِلٌ، وَرِجَالُهُ مَعْرُوفُونَ بِالثِّقَةِ، عَلَى أَنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ قَدْ نَقَلُوهُ وَاحْتَجُّوا بِهِ، فَوَقَفْنَا بِذَلِكَ عَلَى صِحَّتِهِ عِنْدَهُمْ، كَمَا وَقَفْنَا عَلَى صِحَّةِ قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {لَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ} ، وَقَوْلِهِ فِي الْبَحْرِ {، هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ} ، وَقَوْلِهِ: {إذَا اخْتَلَفَ الْمُتَبَايِعَانِ فِي الثَّمَنِ وَالسِّلْعَةُ قَائِمَةٌ تَحَالَفَا وَتَرَادَّا الْبَيْعَ} ، وَقَوْلِهِ: {الدِّيَةُ عَلَى الْعَاقِلَةِ} ، وَإِنْ كَانَتْ هَذِهِ الْأَحَادِيثُ لَا تَثْبُتُ مِنْ جِهَةِ الْإِسْنَادِ، وَلَكِنْ لَمَّا تَلَقَّتْهَا الْكَافَّةُ عَنْ الْكَافَّةِ غَنُوا بِصِحَّتِهَا عِنْدَهُمْ عَنْ طَلَبِ الْإِسْنَادِ لَهَا، فَكَذَلِكَ حَدِيثُ مُعَاذٍ لَمَّا احْتَجُّوا بِهِ جَمِيعًا غَنُوا عَنْ طَلَبِ الْإِسْنَادِ لَهُ، انْتَهَى كَلَامُهُ.)

(আমরা বলেছি, এটি উবাদাহ ইবনে নুসাই আব্দুর রহমান ইবনে গানম থেকে এবং তিনি মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর এই হাদিসটি উম্মাহ কবুলিয়াতের সাথে গ্রহণ করেছে, ফলে এর বিচ্ছিন্ন (مرسلا) হওয়া কোনো ক্ষতি করবে না। দ্বিতীয়টি সঠিক নয়, কারণ এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে তিনি সেই বিষয়ে ইজতিহাদ করবেন যা কিতাব বা সুন্নাহর মধ্যে নেই) — রওজাতুন নাজির থেকে সমাপ্ত। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: (সুতরাং এই হাদিসটি যদিও নামোল্লেখহীন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, তবুও তারা মুয়াজ (রা.)-এর সঙ্গী ছিলেন, তাই এটি কোনো ক্ষতি করবে না; কারণ এটি হাদিসটির প্রসিদ্ধি নির্দেশ করে এবং হারিস ইবনে আমর এটি মুয়াজ (রা.)-এর একদল সঙ্গীর থেকে বর্ণনা করেছেন, কেবল একজন থেকে নয়। এটি কেবল একজন নামোল্লিখিত ব্যক্তির থেকে বর্ণিত হওয়ার চেয়েও অধিকতর প্রসিদ্ধ। তদুপরি মুয়াজ (রা.)-এর সঙ্গীদের ইলম, দ্বীনদারি, মর্যাদা ও সত্যবাদিতার বিষয়টি তো সর্বজনবিদিত। তাদের মধ্যে কোনো অভিযুক্ত (متهم), মিথ্যাবাদী (كذاب) কিংবা সমালোচিত (مجروح) ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত কেউ নেই। বরং তাঁর সঙ্গীরা মুসলমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম ব্যক্তিবর্গ। রেওয়ায়েত বিশারদ আলেমগণ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না। তদুপরি শু'বাহ এই হাদিসটির পতাকাবাহী। হাদিসের কতিপয় ইমাম বলেছেন: যখন তুমি কোনো হাদিসের সূত্রে (إسناد) শু'বাহকে দেখবে, তখন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে। আবু বকর আল-খাতিব বলেছেন: বলা হয়েছে যে, উবাদাহ ইবনে নুসাই এটি আব্দুর রহমান ইবনে গানম থেকে এবং তিনি মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি একটি অবিচ্ছিন্ন (متصل) সূত্র (إسناد), আর এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া ইলমধারীগণ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, ফলে আমরা তাদের নিকট এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে জানতে পেরেছি। যেমনটি আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে জানতে পেরেছি: {উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই}, এবং সমুদ্র সম্পর্কে তাঁর বাণী: {এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল}, এবং তাঁর বাণী: {যখন বিক্রেতা ও ক্রেতা দাম নিয়ে মতভেদ করে এবং পণ্য বর্তমান থাকে, তখন তারা উভয়ে শপথ করবে এবং ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করবে}, এবং তাঁর বাণী: {রক্তপণ আকিলাহ-এর ওপর বর্তাবে।} যদিও এই হাদিসগুলো সূত্রের (إسناد) দিক থেকে সাব্যস্ত নয়, কিন্তু যখন এক বৃহৎ দল অন্য বৃহৎ দল থেকে তা গ্রহণ করেছে, তখন তাদের নিকট এর বিশুদ্ধতার (صحة) কারণে তারা এর সূত্র (إسناد) তালাশ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছেন। একইভাবে মুয়াজ (রা.)-এর হাদিসটিও যখন তাঁরা সকলে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তখন তাঁরা এর সূত্র (إسناد) তালাশ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছেন। — তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।)