(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: -)
أثر اختلاف الأسانيد والمتون في اختلاف الفقهاء   (ماهر الفحل)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: أثر اختلاف الأسانيد والمتون في اختلاف الفقهاء

المؤلف: ماهر ياسين فحل الهيتي

أصل الكتاب: رسالة دكتوراة، بغداد 2002 م

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

عام النشر: 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 535

أعده للشاملة: السيد خالد الشقه العلوي (إينغر-الجزائر)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফকিহগণের মতপার্থক্য নিরসনে সনদসমূহ (الأسانيد) ও মতনসমূহের (المتون) পার্থক্যের প্রভাব   (মাহের আল-ফাহল)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


গ্রন্থ: ফকিহগণের মতপার্থক্য নিরসনে সনদসমূহ (الأسانيد) ও মতনসমূহের (المتون) পার্থক্যের প্রভাব

লেখক: মাহের ইয়াসিন ফাহল আল-হিতি

মূল গ্রন্থ: ডক্টরেট থিসিস، বাগদাদ ২০০২ খ্রি.

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

প্রকাশকাল: ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৫

শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক: সাইয়্যেদ খালিদ আশ-শিক্কাহ আল-আলাভি (ইনঘর-আলজেরিয়া)

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১)
أثر اختلاف الأسانيد والمتون في اختلاف الفقهاء

 

الدكتور ماهر ياسين الفحل

 

دار الكتب العلمية

أسسها محمد علي بيضون سنة 1971 بيروت - لبنان
ফকিহগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে সনদসমূহের (أسانيد) ও মতনসমূহের (متون) ভিন্নতার প্রভাব

 

ডক্টর মাহের ইয়াসিন আল-ফাহাল

 

দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

মুহাম্মাদ আলী বায়দুন কর্তৃক ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত, বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২)
1430 هـ - 2009م
১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام عَلَى سيدنا مُحَمَّد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

وبعد:

فإن علم الْحَدِيْث النبوي الشريف من أشرف العلوم الشرعية، بَلْ هُوَ أشرفها عَلَى الإطلاق بَعْدَ العلم بكتاب الله تَعَالَى الَّذِيْ هُوَ أصل الدين ومنبع الطريق المستقيم؛ لذا نجد الْمُحَدِّثِيْنَ قَدْ أفنوا أعمارهم في تتبع طرق الْحَدِيْث ونقدها ودراستها، حَتَّى بالغوا أيما مبالغة في التفتيش والنقد والتمحيص عَنْ اختلاف الروايات وطرقها وعللها فأمسى علم مَعْرِفَة علل الْحَدِيْث رأس هَذَا العلم وميدانه الَّذِيْ تظهر فِيْهِ مهارات الْمُحَدِّثِيْنَ، ومقدراتهم عَلَى النقد.

ثُمَّ إن لعلم الْحَدِيْث ارتباطاً وثيقاً بالفقه الإسلامي؛ إِذْ إنا نجد جزءاً كبيراً من الفقه هُوَ في الأصل ثمرة للحديث، فعلى هَذَا فإن الْحَدِيْث أحد المراجع الرئيسة للفقه الإسلامي. ومعلوم أنَّهُ قَدْ حصلت اختلافات كثيرة في الْحَدِيْث، وهذه الاختلافات مِنْهَا ما هُوَ في السند، ومنها ما هُوَ في الْمَتْن، ومنها ما هُوَ مشترك بَيْنَ الْمَتْن والسند. وَقَدْ كَانَ لهذه الاختلافات دورٌ كبيرٌ في اختلاف الفقهاء؛ من هنا أصبح لدي دافع كبير إِلَى جمع هَذِهِ الاختلافات وتصنيفها وتبويبها وترتيبها مَعَ التنظير العلمي لكل نوع من الأنواع الَّتِي حصلت فِيْهَا الاختلافات؛ ثُمَّ ذِكْرُ خلاصة الحكم في تِلْكَ المسألة الحديثية بَعْدَ سوق أقوال الْعُلَمَاء. ثم بَعْدَ ذَلِكَ أذكر ما ترتب عَلَى هَذِهِ الاختلافات من تباين في وجهات نظر الفقهاء وآرائهم نتيجة هَذَا الاختلاف الحديثي.

من هنا جاء الربط بَيْنَ علم الْحَدِيْث وعلم الفقه، وأكدت هَذَا الربط بأن ذكرت بتفصيل مناسب نموذجاً أو أكثر - حسب الوسع - أبين فِيْهِ أثر هَذَا الاختلاف في اختلاف الفقهاء.

هَذَا وَقَد اقتضت طبيعة البحث تقسيمه بَعْدَ هَذِهِ المقدمة إِلَى أربعة فصول:

صدّرت الرسالة بفصلٍ تمهيديٍّ لبيان ماهية الاختلاف، وقضايا أخرى تتعلق بِهِ. وَقَدْ تضمن هَذَا الفصل أربعة مباحث:
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও অফুরন্ত সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই সম্মানিত নববী হাদিস শাস্ত্র অন্যতম শ্রেষ্ঠ শরয়ি বিজ্ঞান, বরং মহান আল্লাহর কিতাব—যা দ্বীনের মূল এবং সরল পথের উৎস—সংক্রান্ত ইলমের পরে এটিই হলো নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ। একারণেই আমরা দেখতে পাই যে, মুহাদ্দিসগণ হাদিসের সূত্রসমূহ অনুসন্ধান, সেগুলোর সমালোচনা (نقد) ও গবেষণায় তাঁদের জীবন অতিবাহিত করেছেন। এমনকি তাঁরা বর্ণনাশৈলীর বিভিন্নতা, সূত্র ও এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) অনুসন্ধান, সমালোচনা ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ফলে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) বিষয়ক জ্ঞান এই শাস্ত্রের শীর্ষস্থানীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং এটি এমন এক ক্ষেত্র যেখানে মুহাদ্দিসগণের পারদর্শিতা ও সমালোচনামূলক দক্ষতা প্রকাশ পায়।

অধিকন্তু, হাদিস শাস্ত্রের সাথে ইসলামি ফিকহের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে; কেননা আমরা দেখতে পাই যে ফিকহের একটি বড় অংশ মূলত হাদিসেরই ফলশ্রুতি। এই প্রেক্ষিতে হাদিস হলো ইসলামি ফিকহের অন্যতম প্রধান উৎস। এটি সর্বজনবিদিত যে, হাদিসের ক্ষেত্রে অনেক মতপার্থক্য ঘটেছে। এই মতপার্থক্যগুলোর কোনটি সনদে (سند), কোনটি মূল পাঠ বা মতনে (متن), আবার কোনটি মতন ও সনদ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিদ্যমান। ফকিহগণের মতভেদের ক্ষেত্রে এই মতপার্থক্যগুলোর একটি বড় ভূমিকা ছিল। এখান থেকেই আমার মাঝে এই মতভেদগুলোকে একত্রিত করা, সেগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ ও বিন্যস্ত করার পাশাপাশি যে সকল বিষয়ে মতভেদ ঘটেছে সেগুলোর প্রতিটি প্রকারের বৈজ্ঞানিক তাত্ত্বিক আলোচনার একটি বড় অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে। এরপর আলেমদের মতামত পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট হাদিসতাত্ত্বিক মাসআলায় বিধানের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি। অতঃপর এই হাদিসতাত্ত্বিক মতভেদের ফলে ফকিহগণের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতের ক্ষেত্রে যে বৈচিত্র্য তৈরি হয়েছে তা বর্ণনা করেছি।

এভাবেই হাদিস শাস্ত্র ও ফিকহ শাস্ত্রের মাঝে যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে। আমি এই যোগসূত্রটিকে যথাযথভাবে বিস্তারিত এক বা একাধিক উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে সুদৃঢ় করেছি, যার মাধ্যমে ফকিহগণের মতভেদের ওপর এই হাদিসতাত্ত্বিক পার্থক্যের প্রভাব স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি।

গবেষণার প্রকৃতি অনুযায়ী এই ভূমিকার পর একে চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়েছে:

গবেষণাপত্রটির শুরুতে মতভেদের স্বরূপ এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াদি বর্ণনার জন্য একটি প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদ রাখা হয়েছে। এই পরিচ্ছেদটি চারটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ৪)
المبحث الأول: عرّفت فِيْهِ الاختلاف لغة واصطلاحاً.

المبحث الثاني: ذكرت فِيْهِ الفرق بَيْنَ الاختلاف والاضطراب.

المبحث الثالث: بينت فِيْهِ أنواع الاختلاف.

المبحث الرابع: تكلمت فِيْهِ عن أسباب الاختلاف، وَقَدْ تفرع إِلَى أربعة مطالب:

المطلب الأول: تكلمت فِيْهِ عن مَعْرِفَة الاختلاف، ودخوله في علم العلل.

المطلب الثاني: ذكرت فِيْهِ أهمية مَعْرِفَة الاختلافات في المتون والأسانيد.

المطلب الثالث: تكلمت فِيْهِ عن الكشف عن الاختلاف.

المطلب الرابع: تكلمت فِيْهِ عن الاختلاف القادح وغير القادح.

أما الفصل الأول: فَقَدْ خصصته للكلام عن الاختلافات الواردة في السند، وَقَد اشتمل عَلَى تمهيد ومبحثين:

تكلمت في التمهيد عن تعريف الإسناد لغة واصطلاحاً، وبينت أهمية الإسناد.

وفي المبحث الأول: تكلمت عن التدليس، وأثره في اختلاف الْحَدِيْث، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.

وفي المبحث الثاني: ذكرت فِيْهِ التفرد وتكلمت عن أثره في اختلاف الْحَدِيْث، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.

أما الفصل الثاني: فَقَدْ خصصته للاختلافات الواردة في الْمَتْن، وَقَد اشتمل عَلَى ثمانية مباحث:

المبحث الأول: تكلمت فِيْهِ عن رِوَايَة الْحَدِيْث بالمعنى، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.

المبحث الثاني: تكلمت فِيْهِ عن مخالفة الْحَدِيْث للقرآن، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.

المبحث الثالث: ذكرت فِيْهِ الكلام عن مخالفة الْحَدِيْث لحديث أقوى مِنْهُ، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.

المبحث الرابع: تكلمت عن مخالفة الْحَدِيْث لفتيا راويه، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.

المبحث الخامس: ذكرت فِيْهِ الكلام عن مخالفة الْحَدِيْث للقياس، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.

المبحث السادس: تكلمت فِيْهِ عن مخالفة الْحَدِيْث لعمل أهل المدينة، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মতপার্থক্য (الاختلاف) সংজ্ঞায়িত করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি মতপার্থক্য (الاختلاف) ও অস্থিরতার (الاضطراب) মধ্যবর্তী পার্থক্য উল্লেখ করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি মতপার্থক্য (الاختلاف)-এর প্রকারভেদ বর্ণনা করেছি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এতে আমি মতপার্থক্য (الاختلاف)-এর কারণসমূহ আলোচনা করেছি, যা চারটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত হয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এতে আমি মতপার্থক্য (الاختلاف) চিহ্নিতকরণ এবং ইলমুল ইলাল (علم العلل)-এ এর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এতে আমি মতনসমূহ (المتون) ও সনদসমূহের (الأسانيد) মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যসমূহ (الاختلافات) জানার গুরুত্ব উল্লেখ করেছি।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এতে আমি মতপার্থক্য (الاختلاف) উন্মোচন সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: এতে আমি ত্রুটিযুক্তকারী (القادح) ও ত্রুটিহীন (غير القادح) মতপার্থক্য (الاختلاف) নিয়ে আলোচনা করেছি।

প্রথম অধ্যায়: এটি আমি সনদে (السند) বর্ণিত মতপার্থক্যসমূহ (الاختلافات) আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি, যা একটি ভূমিকা ও দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

ভূমিকা অংশে আমি ইসনাদ (الإسناد)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা আলোচনা করেছি এবং ইসনাদ (الإسناد)-এর গুরুত্ব বর্ণনা করেছি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি তাদলিস (التدليس) ও হাদিসের মতপার্থক্য সৃষ্টিতে এর প্রভাব এবং ফকিহগণের মতপার্থক্য তৈরিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি একক বর্ণনা (التفرد) উল্লেখ করেছি এবং হাদিসের মতপার্থক্য সৃষ্টিতে এর প্রভাব এবং ফকিহগণের মতপার্থক্য তৈরিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি আমি মতনে (المتن) বর্ণিত মতপার্থক্যসমূহের (الاختلافات) জন্য নির্ধারণ করেছি, যা আটটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি মর্মার্থ অনুযায়ী হাদিস বর্ণনা (رواية الحديث بالمعنى) এবং ফকিহগণের মতপার্থক্য তৈরিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি কুরআনের সাথে হাদিসের বৈপরীত্য (مخالفة) এবং ফকিহগণের মতপার্থক্য তৈরিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী হাদিসের সাথে হাদিসের বৈপরীত্য (مخالفة) এবং ফকিহগণের মতপার্থক্য তৈরিতে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এতে আমি বর্ণনাকারীর ফতোয়ার সাথে হাদিসের বৈপরীত্য (مخالفة) এবং ফকিহগণের মতপার্থক্য তৈরিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এতে আমি কিয়াস (القياس)-এর সাথে হাদিসের বৈপরীত্য (مخالفة) এবং ফকিহগণের মতপার্থক্য তৈরিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এতে আমি মদিনাবাসীদের আমলের (عمل أهل المدينة) সাথে হাদিসের বৈপরীত্য (مخالفة) এবং ফকিহগণের মতপার্থক্য তৈরিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث السابع: تكلمت فِيْهِ عن مخالفة الْحَدِيْث للقواعد العامة، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.

المبحث الثامن: ذكرت فِيْهِ اختلاف الْحَدِيْث بسبب الاختصار، وأثر ذَلِكَ في اختلاف الفقهاء.

أما الفصل الثالث: فَقَدْ خصصته للاختلافات المشتركة في السند والمتن، وَقَدْ تضمن ثمانية مباحث:

المبحث الأول: تكلمت فِيْهِ بتفصيل عن الاضطراب وما يتعلق بِهِ.

المبحث الثاني: فَقَدْ خصصته للزيادات الواقعة في المتون والأسانيد.

المبحث الثالث: تكلمت فِيْهِ عن اختلاف الثقة مَعَ الثقات.

المبحث الرابع: ذكرت فِيْهِ الكلام عن اختلاف الضعيف مَعَ الثقات.

المبحث الخامس: قَدْ تكلمت فِيْهِ بتفصيل عن الإدراج.

المبحث السادس: تكلمت فِيْهِ عن الاختلاف بسبب خطأ الرَّاوِي.

المبحث السابع: ذكرت فِيْهِ الاختلاف بسبب القلب.

المبحث الثامن: تكلمت فِيْهِ عن الاختلاف بسبب التصحيف والتحريف.

وَقَدْ خرّجت الأحاديث الواردة في الرسالة، وذلك بالرجوع إِلَى كتب الْحَدِيْث المعتمدة عِنْدَ المُحَدِّثِيْنَ؛ وأطلت التخريج في أكثر المواضع؛ لأن موضوع الاختلافات يستدعي ذَلِكَ؛ إذ إن الاختلافات الحاصلة في المتون والأسانيد لا تدرك إلا بجمع طرق الْحَدِيْث من مظانها.

وَقَدْ رتبت في التخريج والعزو المؤلفين عَلَى حسب الوفيات، واعتمدت عَلَى الطبعات المعتمدة المتداولة وَقَدْ حاولت جاهداً بَيَان درجة الأحاديث الواردة في الرسالة مهتدياً بأقوال الأئمة السابقين ومستعيناً بقواعد الْحَدِيْث الَّتِي وضعها الأئمة الأعلام.

وَقَدْ ترجمت للأعلام الواردين بالرسالة عِنْدَ ذَكَرَ العلم أول مرة.

أما الخاتمة فَقَدْ ضمنتها أهم نتائج البحث.

بَعْدَ هَذَا العرض أرى من الواجب عَليّ أن أعبر بالثناء الجميل عما يكنه صدري من عرفان بالفضل لكل من مدّ إليَّ يد العون في أثناء إعداد هَذِهِ الرسالة، سواء بإرشاد أو هداية لمصدر أو تشجيع أو دعاء وأخص بالذكر رفقائي في الطلب الأخوة المشايخ: هيثم عَبْد الوهاب وعَبْد الله كريم وحسن عَبْد الوهاب وعبد الحليم قاسم وعمر طارق وظافر إسماعيل وعماد عدنان وعبد الكريم مُحَمَّد، فجزاهم الله خير الجزاء ونفعهم بعلمهم في الدنيا والآخرة.
সপ্তম পরিচ্ছেদ: এতে আমি সাধারণ নীতিমালার সাথে হাদিসের বৈসাদৃশ্য এবং ফকিহগণের মতপার্থক্যের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: এতে আমি সংক্ষেপকরণের কারণে হাদিসের পাঠে ভিন্নতা এবং ফকিহগণের মতপার্থক্যের ওপর এর প্রভাব উল্লেখ করেছি।

আর তৃতীয় অধ্যায়: এটি আমি সনদ (سند) ও মতন (متن)-এর মধ্যে বিদ্যমান অভিন্ন মতপার্থক্যসমূহের জন্য সুনির্দিষ্ট করেছি, যা আটটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি ইযতিরাব (اضطراب) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি আমি মতন ও সনদসমূহে ঘটা যিয়াদাত বা অতিরিক্ত সংযোজনসমূহের (زيادات) জন্য নির্ধারিত করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবির সাথে অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবিদের মতপার্থক্য সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এতে আমি দুর্বল (ضعيف) রাবির সাথে নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবিদের মতপার্থক্য বিষয়ক আলোচনা উল্লেখ করেছি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এতে আমি ইদরাজ বা অনুপ্রবেশ (إدراج) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এতে আমি বর্ণনাকারীর ভুলের কারণে সৃষ্ট ভিন্নতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: এতে আমি কলব বা পরিবর্তন (قلب) জনিত ভিন্নতার কথা উল্লেখ করেছি।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: এতে আমি তাসহিফ বা বর্ণবিভ্রাট (تصحيف) এবং তাহরিফ বা বিকৃতি (تحريف) জনিত ভিন্নতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

আমি এই অভিসন্দর্ভে বর্ণিত হাদিসসমূহ তাখরিজ (تخريج) করেছি এবং এ ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের নিকট নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি অধিকাংশ স্থানে বিস্তারিতভাবে তাখরিজ (تخريج) করেছি; কারণ মতপার্থক্য বিষয়ক আলোচনার দাবিই হলো এটি। কেননা মতন ও সনদসমূহের মধ্যে ঘটা মতপার্থক্যগুলো হাদিসের উৎসসমূহ থেকে এর বর্ণনাসূত্রগুলো (طرق) একত্রিত করা ব্যতীত অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

আমি তাখরিজ (تخريজ) এবং উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে লেখকদের মৃত্যুসন অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজিয়েছি এবং বর্তমানে প্রচলিত নির্ভরযোগ্য সংস্করণসমূহের ওপর নির্ভর করেছি। আমি পূর্ববর্তী ইমামগণের বক্তব্যের আলোকে এবং প্রথিতযশা ইমামগণের প্রণীত হাদিসের নীতিমালা (قواعد الحديث) সমূহের সহায়তায় অভিসন্দর্ভে বর্ণিত হাদিসসমূহের মান (درجة) বর্ণনার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।

আমি এই অভিসন্দর্ভে উল্লিখিত মনীষীদের নাম প্রথমবার আসার সময় তাদের পরিচিতি বা জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করেছি।

আর উপসংহারে আমি গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ সন্নিবেশিত করেছি।

এই উপস্থাপনার পর আমি নিজের কর্তব্য মনে করছি যে, এই অভিসন্দর্ভ প্রস্তুতির সময় যারা আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন—তা কোনো দিকনির্দেশনা বা উৎসের সন্ধান দিয়ে হোক কিংবা উৎসাহ ও দোয়ার মাধ্যমে—তাদের প্রতি সুন্দর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। বিশেষভাবে আমি আমার সহপাঠী শাইখদের নাম উল্লেখ করছি: হাইসাম আব্দুল ওয়াহাব, আব্দুল্লাহ কারিম, হাসান আব্দুল ওয়াহাব, আব্দুল হালিম কাসেম, উমর তারিক, জাফির ইসমাইল, ইমাদ আদনান এবং আব্দুল কারিম মুহাম্মাদ। আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের অর্জিত জ্ঞান দ্বারা তাদের উপকৃত করুন।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ৬)
كَمَا أتوجه بالشكر الجزيل إِلَى أساتذتي الأفاضل الَّذِيْنَ تفضلوا بقبول مناقشة هَذِهِ الرسالة وتقويمها، وشرفوني بالنظر فِيْهَا، فجزاهم الله عني خير الجزاء.

وختاماً فإن هَذَا هُوَ جهدي المتواضع الَّذِي أرجو من الله تَعَالَى لَهُ القبول، فَقَدْ بذلت فِيْهِ ما وسعني من جهد، فإن وفّقت فِيْهِ فلله تَعَالَى الفضل والمنة، وإن كَانَ غَيْر ذَلِكَ فحسبي أني حاولت الوصول إِلَى خدمة هَذَا الدين عن طريق الربط بَيْنَ الفقه الإسلامي، وبين علمٍ من أهم علوم الْحَدِيْث النبوي الشريف.

والرب سبحانه وتعالى يثيب عَلَى القصد ويعفو عن الخطأ؛ فأساله سبحانه وتعالى أن يجنبنا الزلل ويرشدنا إِلَى الصواب ويوفقنا إِلَى ما يحبه ويرضاه.

والحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام عَلَى سيدنا مُحَمَّد المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه، والتابعين لَهُمْ بإحسان إِلَى يوم الدين
সেইসাথে আমি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা এই অভিসন্দর্ভটি পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের সদয় সম্মতি প্রদান করেছেন এবং এটি পাঠ করে আমাকে ধন্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

পরিশেষে, এটি আমার একটি বিনম্র প্রচেষ্টা, যার কবুলিয়াতের জন্য আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি। এতে আমি আমার সাধ্যমতো শ্রম ব্যয় করেছি। যদি আমি এতে সফল হয়ে থাকি, তবে সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ মহান আল্লাহর; আর যদি এর ব্যতিক্রম হয়, তবে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি ইসলামী ফিকহ এবং হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখার মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এই দ্বীনের খেদমত করার চেষ্টা করেছি।

আর প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিয়তের ওপর প্রতিদান দান করেন এবং ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করেন। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন, সঠিক পথের দিশা দেন এবং তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করেন।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাঁকে বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل التمهيدي

بيان ماهية الاختلاف

وفيه ثمانية مباحث:

المبحث الأول: الاختلاف لغة واصطلاحاً

- المطلب الأول: تعريف الاختلاف لغة

- المطلب الثاني: تعريف الاختلاف اصطلاحاً

المبحث الثاني: الفرق بَيْنَ الاضطراب والاختلاف

المبحث الثالث: أنواع الاختلاف

المبحث الرابع: أسباب الاختلاف

المبحث الخامس: معرفة الاختلاف ودخوله في علم العلل

المبحث السادس: أهمية مَعْرِفَة الاختلافات في المتون والأسانيد

المبحث السابع: الكشف عن الاختلاف

المبحث الثامن: الاختلاف القادح والاختلاف غَيْر القادح
প্রারম্ভিক অধ্যায়

মতভেদ (الاختلاف)-এর স্বরূপ বর্ণনা

এবং এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মতভেদ (الاختلاف)

- প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে মতভেদ (الاختلاف)-এর সংজ্ঞা

- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে মতভেদ (الاختلاف)-এর সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইজতিরাব (الاضطراب) এবং মতভেদ (الاختلاف)-এর মধ্যে পার্থক্য

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মতভেদ (الاختلاف)-এর প্রকারভেদ

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মতভেদ (الاختلاف)-এর কারণসমূহ

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মতভেদ (الاختلاف) পরিজ্ঞাত হওয়া এবং ইলমুল ইলাল (علم العلل)-এ এর অন্তর্ভুক্তি

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মতন (المتون) ও সনদ (الأسانيد)-এর মধ্যকার মতভেদসমূহ (الاختلافات) জানার গুরুত্ব

সপ্তম পরিচ্ছেদ: মতভেদ (الاختلاف) উদঘাটন করা

অষ্টম পরিচ্ছেদ: ত্রুটিযুক্তকারী মতভেদ (الاختلاف القادح) এবং ত্রুটিহীন মতভেদ (الاختلاف غَيْر القادح)
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المبحث الأول

الاختلاف لغة واصطلاحاً

‌‌المطلب الأول

تعريف الاختلاف لغة

الاختلاف: افتعال مصدر اختلف، واختلف ضد اتفق، ويقال: ((تخالف القوم واختلفوا، إذا ذهب كُلّ واحد مِنْهُمْ إلى خلاف ما ذهب إليه الآخر)).

ويقال: ((تخالف الأمران، واختلفا إذا لَمْ يتفقا وكل ما لَمْ يتساو: فَقَدْ تخالف واختلف)).

ومنه قولهم: اختلف الناس في كَذَا، والناس خلفة أي مختلفون؛ لأن كُلّ واحد مِنْهُمْ ينحي قَوْل صاحبه، ويقيم نفسه مقام الَّذِيْ نحّاه (1). ومنه حَدِيْث النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: ((سَوّوا صفوفكم ولا تختلفوا فتختلف قلوبكم)) (2).

وبعد أن ساق الزَّبِيديُّ (3) هَذَا الْحَدِيْث قَالَ في معناه: ((أي: إذا تقدّم بعضُهم عَلَى بَعضٍ في الصُّفُوفِ تأثرت قُلوبُهم، ونشأَ بينهم اختلافٌ في الأُلْفَةِ والموَدَّةِ)) (4).

ويستعمل الاختلاف عِنْدَ الفقهاء بمعناه اللُّغويِّ.

أمّا الخِلافُ - بالكسر - فهو المُضَادّةُ، وَقَدْ خالَفَهُ مُخالَفَةً وخِلافاً كَمَا في اللسان (5).

والخِلافُ: المُخَالَفَةُ، قَالَ تَعَالَى: {فَرِحَ الْمُخَلَّفُونَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلافَ رَسُولِ

--------------------------------------------

(1) مقاييس اللغة 2/ 213، والقاموس المحيط 3/ 143، ولسان العرب 9/ 91، والمصباح المنير: 179 (خلف).

(2) أخرجه الطيالسي (741)، وعبد الرزاق (2431)، وأحمد 4/ 285 و 297 و 304، والدارمي (1267)، وأبو داود (664)، والنسائي 2/ 89 - 90، وفي الكبرى لَهُ (885)، وابن خزيمة (1551) و (1552) و (1556) و (1557)، وابن حبان (2160) وفي طبعة الرسالة (2161)، والبيهقي 3/ 103، والبغوي (818) من حَدِيْث البراء بن عازب: وَهُوَ حَدِيْث صَحِيْح.

(3) هُوَ مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن عَبْد الرزاق الحسيني، الزبيدي، أبو الفيض، الملقب بالمرتضى، برع في اللغة والحديث والأنساب، لَهُ عدة مصنفات مِنْهَا: " تاج العروس "، و " إتحاف السادة المتقين " وغيرها. ولد سنة (1145 هـ)، وتوفي سنة (1205 هـ).

الأعلام 7/ 70،ومعجم المؤلفين 11/ 282.

(4) انظر: تاج العروس 23/ 275 (خلف).

(5) اللسان 9/ 90 (خلف)، طبعة دار صادر.
প্রথম পরিচ্ছেদ

আভিধানিক ও পারিভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইখতিলাফ (পার্থক্য/মতভেদ)

‌প্রথম অনুচ্ছেদ

আভিধানিক অর্থে ইখতিলাফ-এর সংজ্ঞা

ইখতিলাফ (الاختلاف): এটি ‘ইখতালাফা’ (اختلف) ক্রিয়ামূলের ইফতি‘আল (افتعال) ওজনের মাসদার বা বিশেষ্য। ‘ইখতালাফা’ শব্দটি ‘ইত্তিফাক’ (اتفاق) বা ঐক্যের বিপরীত। বলা হয়ে থাকে: "লোকেরা পরস্পরের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে এবং তাদের মধ্যে মতভেদ (তাকহালাফু ও ইখতালাফু) সৃষ্টি হয়েছে, যখন তাদের প্রত্যেকেই অন্যের মতের বিপরীতে অবস্থান গ্রহণ করেছে।"

আরও বলা হয়: "দুটি বিষয় পরস্পর বিরোধী হয়েছে এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য (তাকহালাফা ও ইখতালাফা) তৈরি হয়েছে যখন তারা একমত হয়নি। আর যা কিছুই সমান বা সদৃশ নয়, তা-ই পরস্পর ভিন্ন ও আলাদা।"

এর থেকেই তাদের উক্তি: অমুক বিষয়ে মানুষ ইখতিলাফ করেছে; আর ‘মানুষ খিলফাতুন (খলফাহ)’ অর্থাৎ তারা ভিন্ন ভিন্ন মতাবলম্বী। কারণ তাদের প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর বক্তব্যকে সরিয়ে দেয় এবং নিজেকে সেই অপসারিত ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত করে (১)। এরই প্রেক্ষাপটে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস রয়েছে: "তোমরা কাতারগুলো সমান করো এবং পরস্পর ভিন্ন হয়ো না, অন্যথায় তোমাদের অন্তরে বিভেদ সৃষ্টি হবে" (২)।

যুবাইদি (৩) এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর এর অর্থ সম্পর্কে বলেছেন: "অর্থাৎ: যখন তারা কাতারে একে অপরের চেয়ে আগে-পিছে থাকবে, তখন তাদের অন্তরে এর প্রভাব পড়বে এবং তাদের মাঝে হৃদ্যতা ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ ও বিভেদ দেখা দেবে" (৪)।

ফকিহগণের পরিভাষায় ‘ইখতিলাফ’ শব্দটি এর আভিধানিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে ‘খিলাফ’ (الخِلافُ) —‘খা’ বর্ণে কাসরা বা যের যোগে— এর অর্থ হলো বিরোধিতা। লিসানুল আরব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, সে তার সাথে বিরোধিতা বা দ্বিমত পোষণ করেছে (৫)।

আর খিলাফ অর্থ হলো বিরুদ্ধাচরণ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহর রাসূলের পেছনে থেকে যাওয়া (বিরুদ্ধাচরণকারী) লোকেরা তাদের বসে থাকাতে আনন্দিত হলো..."

--------------------------------------------

(১) মাকায়িসুল লুগাহ ২/২১৩, আল-কামুস আল-মুহিত ৩/১৪৩, লিসানুল আরব ৯/৯১, আল-মিসবাহুল মুনির: ১৭৯ (খলফ)।

(২) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তায়ালিসি (৭৪১), আবদুর রাজ্জাক (২৪৩১), আহমাদ ৪/২৮৫, ২৯৭ ও ৩০৪, দারেমি (১২৬৭), আবু দাউদ (৬৬৪), নাসায়ি ২/৮৯-৯০, এবং সুনানে কুবরা-তে (৮৮৫), ইবনে খুজাইমা (১৫৫১), (১৫৫২), (১৫৫৬), (১৫৫৭), ইবনে হিব্বান (২১৬০) এবং আর-রিসালা সংস্করণে (২১৬১), বায়হাকি ৩/১০৩, বাগাউয়ি (৮১৮); এটি বারা বিন আযিব-এর বর্ণিত হাদিস: আর এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস।

(৩) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রাজ্জাক আল-হুসাইনি, আল-যুবাইদি, আবু আল-ফায়দ, যার উপাধি মুর্তজা। তিনি ভাষা, হাদিস এবং বংশবিদ্যা শাস্ত্রে পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন। তার বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: "তাজুল আরুস" এবং "ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন" ইত্যাদি। তিনি ১১দ্য৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২০৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-আ'লাম ৭/৭০, মু'জামুল মুয়াল্লিফিন ১১/২৮২।

(৪) দেখুন: তাজুল আরুস ২৩/২৭৫ (খলফ)।

(৫) আল-লিসান ৯/৯০ (খলফ), দার সাদির বৈরুত সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১০)
اللَّهِ} (1) أي: مُخُالَفَةَ رَسُولِ اللهِ (2).

 

‌‌المطلب الثاني

تعريف الاختلاف اصطلاحاً

لَمْ أجد تعريفاً للعلماء في الاختلاف، لَكِنْ يمكنني أن أعرفه بأنه: ما اختلف الرُّوَاة فِيْهِ سنداً أو متناً.

وعلى هَذَا التعريف يمكننا أن نقسّم الاختلاف عَلَى ضربين:

الأول: اختلاف الرُّوَاة في السند: وَهُوَ أن يختلف الرُّوَاة في سند ما زيادة أو نقصاناً، بحذف راوٍ، أو إضافته، أَوْ تغيير اسم، أَوْ اختلاف بوصل وإرسال، أَوْ اتصال وانقطاع، أو اختلاف في الجمع والإفراد (3).

الثاني: اختلاف الرُّوَاة في الْمَتْن: زيادة ونقصاناً، أو رفعاً ووقفاً.

وَقَدْ أحسن وأجاد الإمام مُسْلِم بن الحجاج (4) إذ صوّر لنا الاختلاف تصويراً بديعاً فَقَالَ في كتابه العظيم "التمييز": ((اعلم، أرشدك الله، أن الَّذِيْ يدور بِهِ مَعْرِفَة الخطأ في رِوَايَة ناقل الْحَدِيْث - إذا هم اختلفوا فِيْهِ - من جهتين:

أحدهما: أن ينقل الناقل حديثاً بإسناد فينسب رجلاً مشهوراً بنسب في إسناد خبره خلاف نسبته الَّتِيْ هِيَ نسبته، أو يسميه باسم سوى اسمه، فيكون خطأ ذَلِكَ غَيْر خفيٍّ عَلَى أهل العلم حين يرد عليهم …

والجهة الأخرى: أن يروي نفر من حفّاظ الناس حديثاً عَنْ مثل الزهري (5) أو

--------------------------------------------

(1) التوبة: 8.

(2) تفسير القرطبي 4/ 3055، وانظر: الصحاح 4/ 1357، والتاج 23/ 274 (خلف).

(3) وذلك مثل أن يروي الْحَدِيْث قوم - مثلاً - عَنْ رجل عَنْ فُلَان وفلان، ويرويه غيرهم عَنْ ذَلِكَ الرجل عَنْ فُلَان مفرداً، وذلك قَدْ يؤدي إلى وهم من حَيْثُ إنه قَدْ يحمل رِوَايَة الجمع عَلَى رِوَايَة الفرد.

(4) مُسْلِم بن الحجاج بن مُسْلِم القشيري، أبو الحسين النيسابوري، الحافظ المجود، صاحب " الصَّحِيْح "، لَهُ: " الصَّحِيْح " و " التمييز " و " الكنى " وغيرها، ولد سنة (204 هـ)، وتوفي سنة (261 هـ).

طبقات الحنابلة 1/ 311، وتهذيب الكمال 7/ 95 (6515)، وسير أعلام النبلاء 12/ 557.

(5) هُوَ مُحَمَّد بن مُسْلِم بن عبيد الله بن شهاب الزهري، أحد الفقهاء والمحدثين والأعلام التَّابِعِيْنَ بالمدينة، رأى عشرة من الصَّحَابَة رضي الله عنهم أجمعين، توفي سنة (124 هـ)، وَقِيْلَ (123 هـ)،وَقِيْلَ سنة (125 هـ).

طبقات خليفة: 261، والتاريخ الكبير 1/ 220 و 221، ووفيات الأعيان 4/ 177 و 178.
আল্লাহর} (১) অর্থাৎ: আল্লাহর রাসূলের বিরোধিতা (مخالفة) (২)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

পরিভাষায় ইখতিলাফ-এর (الاختلاف) সংজ্ঞা

আলেমদের নিকট ইখতিলাফ-এর (الاختلاف) কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা আমি খুঁজে পাইনি, তবে আমি একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারি যে: যা বর্ণনাকারীবৃন্দ (الرواة) সনদের (سندا) অথবা মতনের (متنا) ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন।

এই সংজ্ঞা অনুযায়ী আমরা ইখতিলাফকে (الاختلاف) দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি:

প্রথমত: সনদের (السند) ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের (الرواة) ইখতিলাফ (اختلاف): আর তা হলো কোনো সনদে অতিরিক্ত বর্ণনা করা বা কমিয়ে বর্ণনা করা, কোনো বর্ণনাকারীকে (راوٍ) বাদ দেওয়া অথবা যোগ করা, কিংবা নাম পরিবর্তন করা, অথবা মুত্তাসিল (وصل) ও মুরসাল (إرسال), কিংবা নিরবচ্ছিন্ন (اتصال) ও বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) ক্ষেত্রে মতভেদ করা, অথবা বহুবচন ও একবচনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিন্নতা হওয়া (৩)।

দ্বিতীয়ত: মতনের (المتن) ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের (الرواة) ইখতিলাফ (اختلاف): শব্দ অতিরিক্ত বা কম হওয়া, অথবা মারফু (رفع) ও মাওকুফ (وقف) হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্নতা হওয়া।

ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ (৪) চমৎকারভাবে বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন এবং তাঁর মহান গ্রন্থ "তামীজ"-এ ইখতিলাফের (الاختلاف) একটি অপূর্ব চিত্র অঙ্কন করেছেন। তিনি বলেন: "জেনে রেখো—আল্লাহ তোমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—হাদিস বর্ণনাকারীর বর্ণনায় ভুল নির্ণয়ের বিষয়টি দুই দিকের ওপর আবর্তিত হয় যখন তারা বর্ণনার ক্ষেত্রে ভিন্নতা (اختلفوا) পোষণ করেন:

প্রথমটি: কোনো বর্ণনাকারী একটি হাদিস এমন একটি সনদের (إسناد) মাধ্যমে বর্ণনা করেন যেখানে তিনি একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিকে এমন বংশের দিকে সম্বন্ধ করেন যা তার প্রকৃত বংশ পরিচয়ের বিপরীত, অথবা তাকে তার নিজ নাম ব্যতিরেকে অন্য নামে নামকরণ করেন। ইলম অন্বেষীদের নিকট যখন এটি উপস্থাপিত হয় তখন এই ভুলটি গোপন থাকে না…

দ্বিতীয় দিকটি হলো: একদল হাফিজ (حفاظ) স্তরের বর্ণনাকারী যখন জুহরি (৫) বা তাঁর মতো কারো থেকে হাদিস বর্ণনা করেন অথবা

--------------------------------------------

(১) আত-তাওবাহ: ৮।

(২) তাফসীরে কুরতুবী ৪/৩০৫৫; আরও দেখুন: আস-সিহাহ ৪/১৩৫৭; এবং আত-তাজ ২৩/২৭৪ (খ-ল-ফ)।

(৩) যেমন একদল লোক একটি হাদিস বর্ণনা করলেন—উদাহরণস্বরূপ—অমুক ব্যক্তি থেকে, তিনি অমুক ও অমুক থেকে। কিন্তু অন্য কেউ ওই ব্যক্তি থেকে শুধুমাত্র একজনের নামে বর্ণনা করলেন। এর ফলে বিভ্রান্তি (وهم) সৃষ্টি হতে পারে, কারণ কেউ হয়তো সমষ্টির বর্ণনাকে একক ব্যক্তির বর্ণনার ওপর আরোপ করতে পারে।

(৪) মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম আল-কুশাইরি, আবু আল-হুসাইন আন-নাইসাবুরি, তিনি হাফিজ (الحافظ) ও পারদর্শী মুহাদ্দিস, "সহীহ" গ্রন্থের প্রণেতা। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "সহীহ", "তামীজ", "আল-কুনা" ইত্যাদি। তিনি ২০৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাবাকাতুল হানাবিলা ১/৩১১; তাহযীবুল কামাল ৭/৯৫ (৬৫১৫); এবং সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১২/৫৫৭।

(৫) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন উবাইদুল্লাহ বিন শিহাব আজ-জুহরি, মদিনার অন্যতম ফকিহ (الفقهاء), মুহাদ্দিস (المحدثين) এবং প্রখ্যাত তাবেয়ি (التابعين)। তিনি দশজন সাহাবীকে (الصحابة) দেখেছেন (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন)। তিনি ১২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ বলেন ১২৩ হিজরি, আবার কেউ বলেন ১২৫ হিজরি।

তাবাকাতু খলিফা: ২৬১; আত-তারিখুল কাবীর ১/২২০ ও ২২১; এবং ওফায়াতুল আইয়ান ৪/১৭৭ ও ১৭৮।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১১)
غيره من الأئمة بإسناد واحد ومتن واحد مجتمعون عَلَى روايته في الإسناد والمتن، لا يختلفون فِيْهِ في معنى، فيرويه آخر سواهم عمن حدث عَنْهُ النفر الَّذِيْنَ وصفناهم بعينه فيخالفهم في الإسناد أو يقلب الْمَتْن فيجعله بخلاف ما حكى من وصفنا من الحفاظ، فيعلم حينئذٍ أنَّ الصَّحِيْح من الروايتين ما حدّث الجماعة من الحفاظ، دون الواحد المنفرد وإن كَانَ حافظاً، عَلَى هَذَا المذهب رأينا أهل العلم بالحديث يحكمون في الْحَدِيْث، مثل شعبة (1) وسفيان بن عيينة (2) ويحيى بن سعيد (3) وعبد الرحمان بن مهدي (4) وغيرهم من أئمة أهل العلم)) (5).

 

‌‌المبحث الثاني

الفرق بَيْنَ الاضطراب والاختلاف

الْحَدِيْث المضطرب: هُوَ ما اختلف راويه فِيْهِ، فرواه مرة عَلَى وجه، ومرة عَلَى وجه آخر مخالف لَهُ. وهكذا إن اضطرب فِيْهِ راويان فأكثر فرواه كُلّ واحد عَلَى وجه مخالف للآخر (6).

--------------------------------------------

(1) شعبة بن الحجاج بن الورد العتكي مولاهم، أبو بسطام الواسطي، ثُمَّ البصري ولد سنة (80 هـ)، وَقِيْلَ سنة (82 هـ): ثقة حافظ متقن، قَالَ سفيان الثوري: شعبة أمير المؤمنين في الْحَدِيْث، توفي سنة (160هـ).

تهذيب الكمال 3/ 387 (2725)، وسير أعلام النبلاء 7/ 202، والتقريب (2790).

(2) سفيان بن عيينة بن أبي عمران ميمون الهلالي، أبو مُحَمَّد الكوفي، ثُمَّ المكي، ولد سنة (107 هـ): ثقة حافظ فقيه إمام حجة، توفي سنة (198 هـ).

تهذيب الكمال 3/ 223 (2397)، وسير أعلام النبلاء 8/ 454، والتقريب (2451).

(3) يحيى بن سعيد بن فروخ القطان التميمي، أبو سعيد البصري، ولد سنة (120 هـ): ثقة متقن حافظ إمام قدوة، توفي سنة (198 هـ).

تهذيب الكمال 8/ 38 (7429)، وسير أعلام النبلاء 9/ 175، والتقريب (7557).

(4) عَبْد الرحمان بن مهدي بن حسان العنبري، وَقِيْلَ الأزدي مولاهم، أبو سعيد البصري اللؤلؤي، ولد سنة (135 هـ): ثقة ثبت حافظ عارف بالرجال والحديث، توفي سنة (198 هـ).

تهذيب الكمال 4/ 476 (3957)، وسير أعلام النبلاء 9/ 192، والتقريب (4018).

(5) التمييز: 124 - 126.

(6) شرح التبصرة والتذكرة 1/ 240، وفي طبعتنا 1/ 290، وانظر: مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث: 192 طبعتنا، و 84 من طبعة نور الدين، وإرشاد طلاب الحقائق 1/ 249 - 253، والتقريب: 123 طبعتنا، و 77 من طبعة الخن، والاقتراح: 219، والمنهل الروي: 52، والخلاصة 76، والموقظة: 51، واختصار علوم الْحَدِيْث: 72، والتذكرة: 18، ومحاسن الاصطلاح: 204، والتقييد والإيضاح: 124، ونزهة النظر: 126، والنكت عَلَى كتاب ابن الصلاح: 2/ 772، والمختصر:

=
অন্যান্য ইমামগণ একটিমাত্র সনদ (إسناد) এবং একটিমাত্র মূল পাঠ (متن)-এর ভিত্তিতে এটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ঐক্যমত পোষণ করেছেন, যার অর্থের মধ্যে তারা কোনো পার্থক্য করেননি। এরপর আমরা যাদের বর্ণনা করলাম তাদের বাইরে অন্য কেউ যদি একই ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে তাদের বিপরীতে সনদ (إسناد)-এর ক্ষেত্রে ভিন্নতা তৈরি করে অথবা মূল পাঠ (متن) উল্টে দেয় এবং আমাদের বর্ণিত হাফেজদের (الحفاظ) বর্ণনার বিপরীতে কোনো বর্ণনা পেশ করে, তবে তখন এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, দুই বর্ণনার মধ্যে বিশুদ্ধ (الصحيح) হলো হাফেজদের (الحفاظ) জামাতের বর্ণনাটি, একক (المنفرد) ব্যক্তির বর্ণনাটি নয়, যদিও সে হাফেজ (حافظ) হয়ে থাকে। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই আমরা হাদিস বিশারদদের হাদিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেখেছি, যেমন শু'বাহ (১), সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ (২), ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (৩), আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি (৪) এবং অন্যান্য ইলমে হাদিসের ইমামগণ (৫)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

বিপর্যস্ততা (الاضطراب) এবং মতভেদের (الاختلاف) মধ্যে পার্থক্য

বিপর্যস্ত (مضطرب) হাদিস: এটি সেই হাদিস যার বর্ণনাকারী এতে মতভেদ করেছেন, ফলে তিনি এটি একবার একভাবে বর্ণনা করেছেন এবং অন্যবার তার বিপরীত অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে, যদি এতে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বর্ণনা (اضطرب) প্রদান করেন এবং প্রত্যেকেই অন্যের বিপরীতভাবে তা বর্ণনা করেন (৬)।

--------------------------------------------

(১) শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ ইবনুল ওয়ারদ আল-আতাকি তাদের মুক্তদাস, আবু বিসতাম আল-ওয়াসিতি, অতঃপর আল-বাসরি, জন্ম ৮০ হিজরি, মতান্তরে ৮২ হিজরি: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), সংরক্ষক (حافظ) এবং সুসংহতকারী (متقن)। সুফিয়ান আস-সাওরি বলেন: শু'বাহ হলেন হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন। তিনি ১৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাহজিবুল কামাল ৩/৩৮৭ (২৭২৫), সিয়ারু আলামিন নুবালা ৭/২০২, এবং তাকরিব (২৭৯০)।

(২) সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ ইবনে আবি ইমরান মায়মুন আল-হিলালি, আবু মুহাম্মদ আল-কুফি, অতঃপর আল-মাক্কি, জন্ম ১০৭ হিজরি: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), সংরক্ষক (حافظ), ফকিহ (فقيه), ইমাম (إمام) এবং প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (حجة)। তিনি ১৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাহজিবুল কামাল ৩/২২৩ (২৩৯৭), সিয়ারু আলামিন নুবালা ৮/৪৫৪, এবং তাকরিব (২৪৫১)।

(৩) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে ফাররুখ আল-কাত্তান আত-তামিমি, আবু সাঈদ আল-বাসরি, জন্ম ১২০ হিজরি: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুসংহতকারী (متقن), সংরক্ষক (حافظ), ইমাম (إمام) এবং অনুসরণীয় আদর্শ (قدوة)। তিনি ১৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাহজিবুল কামাল ৮/৩৮ (৭৪২৯), সিয়ারু আলামিন নুবালা ৯/১৭৫, এবং তাকরিব (৭৫৫৭)।

(৪) আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি ইবনে হাসান আল-আনবারি, মতান্তরে আল-আজদি তাদের মুক্তদাস, আবু সাঈদ আল-বাসরি আল-লু'লুয়ি, জন্ম ১৩৫ হিজরি: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), সংরক্ষক (حافظ) এবং বর্ণনাকারী ও হাদিস বিশারদ (عارف بالرجال والحديث)। তিনি ১৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাহজিবুল কামাল ৪/৪৭৬ (৩৯৫৭), সিয়ারু আলামিন নুবালা ৯/১৯২, এবং তাকরিব (৪০১৮)।

(৫) আত-তাময়িজ: ১২৪ - ১২৬।

(৬) শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ ১/২৪০, আমাদের প্রকাশিত সংস্করণে ১/২৯০, আরও দেখুন: মারিফাতু আনওয়াই ইলমিল হাদিস: ১৯২ (আমাদের সংস্করণ), এবং ৮৪ (নুরুদ্দিন সংস্করণ), ইরশাদু তুল্লাবিল হাকায়িক ১/২৪৯-২৫৩, আত-তাকরিব: ১২৩ (আমাদের সংস্করণ), এবং ৭৭ (আল-খানের সংস্করণ), আল-ইকতিরাহ: ২১৯, আল-মানহালুর রাওয়ি: ৫২, আল-খুলাসাহ: ৭৬, আল-মুউকিজাহ: ৫১, ইখতিসারু উলূমিল হাদিস: ৭২, আত-তাজকিরাহ: ১৮, মাহাসিনুল ইসতিলাহ: ২০৪, আত-তাকয়িদ ওয়াল ঈদহ: ১২৪, নুযহাতুন নাযার: ১২৬, আন-নুকাত আলা কিতাবিবনিস সালাহ: ২/৭৭২, আল-মুখতাসার:

=
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১২)
ومن شرط الاضطراب: تساوي الروايات المضطربة بحيث لا تترجح إحداها عَلَى الأخرى.

أما إذا ترجحت إحدى الروايات فلا يسمى مضطرباً، بَلْ هُوَ مطلق اختلافٍ، قَالَ العراقي (1): ((أما إذا ترجحت إحداهما بكون راويها أحفظ، أو أكثر صُحْبَة للمروي عَنْهُ، أو غَيْر ذَلِكَ من وجوه الترجيح؛ فإنه لا يطلق عَلَى الوجه الراجح وصف الاضطراب ولا لَهُ حكمه، والحكم حينئذ للوجه الراجح)) (2). وهذا أمر معروف بَيْنَ الْمُحَدِّثِيْنَ لا خلاف فِيْهِ؛ لذا نجد المباركفوري يَقُوْلُ: ((قَدْ تقرر في أصول الْحَدِيْث أنّ مجرد الاختلاف لا يوجب الاضطراب، بَلْ من شرطه استواء وجوه الاختلاف فمتى رجح أحد الأقوال قُدِّمَ)) (3).

فعلى هَذَا شرط الاضطراب تساوي الروايات، أما إذا ترجحت إحداهما عَلَى الأخرى فالحكم للراجحة، والمرجوحة شاذة أَوْ منكرة. وعليه فإن كَانَ أحد الوجوه مروياً مِنْ طريق ضعيف والآخر من طريق قوي فلا اضطراب والعمل بالطريق القوي، وإن لَمْ يَكُنْ كذلك، فإن أمكن الجمع بَيْنَ تِلْكَ الوجوه بحيث يمكن أن يَكُوْنَ المتكلم باللفظين الواردين عَنْ معنى واحد فلا إشكال أَيْضاً؛ مِثْل أن يَكُوْنَ في أحد الوَجْهَيْنِ قَدْ قَالَ الرَّاوِي: عَنْ رجل، وفي الوجه الآخر يسمي هَذَا الرجل، فَقَدْ يَكُوْن هَذَا المسمى هُوَ ذَلِكَ المبهم؛ فَلَا اضطراب إذن ولا تعارض، وإن لَمْ يَكُنْ كَذَلِكَ بأن يسمي مثلاً الرَّاوِي باسم معينٍ في رِوَايَة ويسميه باسم آخر في رِوَايَة أخرى فهذا محل نظر وَهُوَ اضطراب إِذْ يتعارض فِيْهِ أمران:

أحدهما: أنه يجوز أن يَكُوْن الْحَدِيْث عَنْ الرجلين معاً.

والثاني: أن يغلب عَلَى الظن أن الرَّاوِي واحد واختلف فِيْهِ (4). فههنا لا يخلو أن

--------------------------------------------

=

104 - ، وفتح المغيث 1/ 221، وألفية السيوطي: 67 - 68، وتوضيح الأفكار 2/ 34، وظفر الأماني: 392، وقواعد التحديث: 132.

(1) هُوَ زين الدين عَبْد الرحيم بن الحسين بن عَبْد الرحمان بن أبي بكر بن إبراهيم، المهراني المولد، العراقي الأصل الكردي، الشَّافِعِيّ المذهب، حافظ العصر، ولد سنة (725 هـ)، من مصنفاته: " شرح التبصرة والتذكرة " و " التقيد والإيضاح " وغيرهما، توفي سنة (806 هـ).

لحظ الألحاظ: 221، والضوء اللامع 4/ 171، وشذرات الذهب 7/ 55، والأعلام 3/ 344 و 345.

(2) شرح التبصرة والتذكرة 1/ 240، وفي طبعتنا 1/ 291.

(3) تحفة الأحوذي 2/ 91 - 92.

(4) قَدْ يقع الاضطراب والاختلاف من راو واحد لخلل طرأ في ضبط ذَلِكَ الشيء المضطرب فِيْهِ

=
বিসংগতির (اضطراب) অন্যতম শর্ত হলো বিসংগতিপূর্ণ (مضطربة) বর্ণনাগুলোর মাঝে সমতা থাকা, যেন একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব না হয়।

কিন্তু যদি বর্ণনাসমূহের কোনো একটি প্রাধান্য পায়, তবে তাকে বিসংগতিপূর্ণ (مضطرب) বলা হবে না; বরং এটি নিছক সাধারণ মতভেদ হিসেবে গণ্য হবে। ইরাকি (১) বলেন: ((যদি বর্ণনাকারী অধিক মুখস্থশক্তিসম্পন্ন (أحفظ) হওয়ার কারণে, অথবা যার থেকে বর্ণিত হচ্ছে তার সাথে অধিক সাহচর্যের কারণে কিংবা প্রাধান্য দেওয়ার অন্য কোনো উপায়ে বর্ণনার কোনো একটি দিক প্রাধান্য পায়, তবে প্রাধান্যপ্রাপ্ত বর্ণনাটির ক্ষেত্রে বিসংগতি (اضطراب) পরিভাষাটি প্রয়োগ করা হবে না এবং এর ওপর বিসংগতির বিধান (حكم) কার্যকর হবে না। এমতাবস্থায় প্রাধান্যপ্রাপ্ত বর্ণনার হুকুমই (حكم) কার্যকর হবে)) (২)। এটি মুহাদ্দিসগণের নিকট একটি সুপরিচিত বিষয় এবং এতে কোনো মতভেদ নেই। এই কারণে মুবারকপুরী বলেন: ((হাদিসের মূলনীতিতে (أصول الحديث) এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, কেবল মতভেদ থাকলেই বিসংগতি (اضطراب) সাব্যস্ত হয় না; বরং এর শর্ত হলো মতভেদের দিকগুলো সমান হওয়া। সুতরাং যখন কোনো একটি অভিমত প্রাধান্য পাবে, তখন তাকেই অগ্রগণ্য ধরা হবে)) (৩)।

এর ভিত্তিতে বিসংগতির (اضطراب) শর্ত হলো বর্ণনাসমূহের মাঝে সমতা থাকা। আর যদি একটি অন্যটির ওপর প্রাধান্য পায়, তবে প্রাধান্যপ্রাপ্ত বর্ণনাটির বিধানই (حكم) কার্যকর হবে, আর অপ্রধান বর্ণনাটি ব্যতিক্রম (شاذة) অথবা অগ্রহণযোগ্য (منكرة) হিসেবে গণ্য হবে। এর ভিত্তিতে, যদি বর্ণনার একটি দিক দুর্বল (ضعيف) সূত্র থেকে এবং অন্যটি শক্তিশালী সূত্র থেকে বর্ণিত হয়, তবে সেখানে কোনো বিসংগতি (اضطراب) থাকবে না এবং শক্তিশালী সূত্রের ওপরই আমল করা হবে। আর যদি বিষয়টি এমন না হয়, বরং সেই ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনাগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়—যেখানে বক্তা একটি অর্থেই দুটি শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে ধরা যায়—তবে সেখানেও কোনো সমস্যা নেই। যেমন, বর্ণনার এক জায়গায় বর্ণনাকারী বললেন: 'এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত', এবং অন্য বর্ণনায় সেই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেন। হতে পারে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনিই সেই নাম-অপ্রকাশিত (مبهم) ব্যক্তি। এমতাবস্থায় কোনো বিসংগতি (اضطراب) বা বৈপরীত্য থাকবে না। কিন্তু যদি এমনটি না হয়, যেমন বর্ণনাকারী এক বর্ণনায় একজনকে একটি নির্দিষ্ট নামে অভিহিত করলেন এবং অন্য বর্ণনায় তাকে ভিন্ন নামে অভিহিত করলেন, তবে এটি পর্যালোচনার বিষয় এবং এটিই হলো বিসংগতি (اضطراب); কারণ এতে দুটি বিষয় পরস্পর বিরোধী হয়ে দাঁড়ায়:

এক: হতে পারে হাদিসটি উভয় ব্যক্তির থেকেই বর্ণিত হয়েছে।

দুই: প্রবল ধারণা হওয়া যে বর্ণনাকারী একজনই এবং তাকে নিয়ে মতভেদ করা হয়েছে (৪)। সুতরাং এখানে বিষয়টি খালি নয় যে

--------------------------------------------

=

১০৪ - , এবং ফাতহুল মুগিস ১/ ২২১, আলফিয়্যাতুস সুয়ূতী: ৬৭ - ৬৮, তাওদিহুল আফকার ২/ ৩৪, যাফারুল আমানি: ৩৯২, এবং কাওয়ায়েদুত তাহদিস: ১৩২।

(১) তিনি হলেন যয়নুদ্দীন আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবু বকর বিন ইবরাহীম, মিহরান এলাকায় তার জন্ম, মূলে তিনি ইরাকি কুর্দি, শাফেয়ি মাজহাব অনুসারী এবং সমকালীন হাফিজ (حافظ)। তিনি ৭২৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ" এবং "আত-তাকয়িদ ওয়াল ঈদহ" ইত্যাদি। তিনি ৮০৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

লাহযুল আলহায: ২২১, আদ-দাওউল লামি' ৪/ ১৭১, শাযারাতুয যাহাব ৭/ ৫৫, এবং আল-আ'লাম ৩/ ৩৪৪ এবং ৩৪৫।

(২) শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ ১/ ২৪০, আমাদের প্রকাশিত সংস্করণে ১/ ২৯১।

(৩) তুহফাতুল আহওয়াযী ২/ ৯১ - ৯২।

(৪) কখনো কখনো একজন বর্ণনাকারীর থেকেই বিসংগতি (اضطراب) ও মতভেদ প্রকাশ পায়, যার কারণ হলো সেই বিসংগতিপূর্ণ (اضطراب) বিষয়ে তার মুখস্থশক্তির (ضبط) কোনো ত্রুটি।

=
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
يَكُوْن الرجلان كلاهما ثقة أو لا، فإن كانا ثقتين فهنا لا يضر الاختلاف عِنْدَ الكثير؛ لأنّ الاختلاف كيف دار فهو عَلَى ثقة، وبعضهم يقول: هَذَا اضطراب يضر؛ لأنه يدل عَلَى قلة الضبط (1).

إذن شرط الاضطراب الاتحاد في المصدر، وعدم إمكانية التوفيق بَيْنَ الوجوه المختلفة والترجيح عَلَى منهج النقاد وعلى ما تقدم يتبين لنا أنّ بَيْنَ الاضطراب والاختلاف عموماً وخصوصاً، وَهُوَ أن كُلّ مضطرب مختلف فِيْهِ، ولا عكس. فالاختلاف أعم من الاضطراب إِذْ شرط الاضطراب أن يَكُوْن قادحاً، أما الاختلاف فربما كَانَ قادحاً وربما لَمْ يَكُنْ قادحاً.

ثُمَّ إنه ليس كُلّ اختلاف يؤدي إلى وجود الاضطراب، إِذْ إن ما يشبه أن يَكُوْن اضطراباً ينتفي عَنْ الْحَدِيْث إذا جمع بَيْنَ الوجوه المختلفة أو رجح وجه مِنْهَا عَلَى طريقة النقاد لا عَلَى طريقة التجويز العقلي.

 

‌‌المبحث الثالث

أنواع الاختلاف

من البدهي أن يختلف الرُّوَاة سنداً ومتناً فِيْمَا يؤدونه من الأحاديث النبوية؛ ذَلِكَ لأن مواهب الرُّوَاة في حفظ الأحاديث تختلف اختلافاً جذرياً بَيْنَ راوٍ وآخر، فمن الرُّوَاة من بلغ أعلى مراتب الحفظ والضبط والإتقان، ومنهم أدنى وأدنى. ولا عجب أن يختلَّ ضبط الرُّوَاة من حال إلى حال ومن وقت إلى وقت مع تغيرات الزمان واختلاف الأحوال وتبدل الصحة. هَذَا مع اختلاف الرُّوَاة في عنايتهم في ضبط ما يتحملونه من الأحاديث فمنهم من يتعاهد حفظه ومنهم من لا يتعاهد، ومنهم من لا يحدّث إلا بصفاء الذهن ومراجعة الأصول (2) ومنهم دون ذَلِكَ. زيادة عَلَى الآفات الَّتِيْ تصيب

--------------------------------------------

=

وحفظه، ثُمَّ إنّ الاضطراب لا يعرف من ظاهر سياق الْحَدِيْث الواحد، بَلْ يعرف الاضطراب بجمع طرق الْحَدِيْث ودراستها دراسة منهجية مع الفهم والمعرفة والممارسة الحديثية.

(1) انظر: الاقتراح: 220 - 222، وهامش محاسن الاصطلاح: 204، وأثر علل الْحَدِيْث: 198.

(2) لذا نجد ابن المديني يمتدح الإمام أحمد؛ لأنه يحدث من أصوله، ويعدها من مكارمه، فيقول: ((ليس في أصحابنا أحفظ من أبي عَبْد الله أحمد بن حَنْبَل، وبلغني أنه لا يحدّث إلا من كتاب، ولنا فِيْهِ أسوة)) الجامع لأخلاق الرَّاوِي 2/ 12 (1030).

عَلَى أن الحافظ ابن حجر يرى أن نسبة الخطأ الواقع في مرويات من يحدث من أصوله أقل مِنْهَا في مرويات من يحدث من حفظه. انظر: النكت عَلَى كتاب ابن الصَّلَاحِ 1/ 269.
দুইজন বর্ণনাকারী কি উভয়ই নির্ভরযোগ্য (ثقة) নাকি নন? যদি তারা উভয়ই নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন, তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে এখানে মতভেদ (اختلاف) কোনো ক্ষতি করে না; কারণ মতভেদ (اختلاف) যেভাবেই আবর্তিত হোক না কেন, তা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর মাধ্যমেই হচ্ছে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: এটি এমন এক অস্থিরতা (اضطراب) যা ক্ষতিকর; কারণ এটি নির্ভুলতা বা ধারণক্ষমতার (ضبط) স্বল্পতা নির্দেশ করে (১)।

সুতরাং অস্থিরতার (اضطراب) শর্ত হলো উৎসের অভিন্নতা এবং সমালোচকদের (نقاد) মানহাজ অনুযায়ী বিভিন্ন দিকগুলোর মধ্যে সমন্বয় (توفيق) ও প্রাধান্য দান (ترجيح) করা অসম্ভব হওয়া। উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, অস্থিরতা (اضطراب) এবং মতভেদের (اختلاف) মধ্যে 'আম-খাস' (সাধারণ ও বিশেষ) সম্পর্ক বিদ্যমান। আর তা হলো, প্রত্যেক অস্থির (مضطرب) হাদিসই মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه), কিন্তু প্রত্যেক মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) হাদিস অস্থির (مضطرب) নয়। ফলে মতভেদ (اختلاف) বিষয়টি অস্থিরতার (اضطراب) চেয়ে অধিক ব্যাপক। কারণ অস্থিরতার (اضطراب) শর্ত হলো একে ত্রুটিযুক্ত (قادح) হতে হবে, আর মতভেদ (اختلاف) কখনো ত্রুটিযুক্ত (قادح) হতে পারে আবার কখনো নাও হতে পারে।

তাছাড়া, সব ধরনের মতভেদই (اختلاف) অস্থিরতা (اضطراب) সৃষ্টির দিকে নিয়ে যায় না। কারণ কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে যা অস্থিরতা (اضطراب) বলে মনে হয়, তা হাদিস থেকে দূর হয়ে যায় যদি বিভিন্ন দিকগুলোর মধ্যে সমন্বয় (توفيق) করা সম্ভব হয় অথবা কেবল যৌক্তিক অনুমানের ভিত্তিতে নয় বরং সমালোচকদের (نقاد) পদ্ধতি অনুযায়ী কোনো একটি দিককে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া যায়।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

মতভেদের (اختلاف) প্রকারভেদ

এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, বর্ণনাকারীগণ (رواة) তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহের সনদ (سند) এবং মতনের (متن) ক্ষেত্রে মতভেদ (اختلاف) করবেন; এর কারণ হলো হাদিস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের (رواة) প্রতিভা একে অপরের থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন হয়। বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে কেউ মুখস্থশক্তি (حفظ), নির্ভুলতা (ضبط) এবং পারদর্শিতার (إتقان) সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন, আবার কেউ এর চেয়ে অনেক নিচের স্তরের। সময়ের পরিবর্তন, অবস্থার ভিন্নতা এবং স্বাস্থ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্ণনাকারীদের (رواة) নির্ভুলতা বা ধারণক্ষমতা (ضبط) এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় এবং এক সময় থেকে অন্য সময়ে পরিবর্তিত হওয়াটা আশ্চর্যের কিছু নয়। এর সাথে সাথে বর্ণনাকারীদের (رواة) গ্রহণকৃত হাদিসগুলো সংরক্ষণের সচেতনতার মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ নিয়মিত মুখস্থ করার চর্চা করেন, আবার কেউ করেন না। কেউ কেউ কেবল মানসিক স্থিরতা এবং মূল পাণ্ডুলিপির (أصول) সাথে মিলিয়ে দেখার পরই হাদিস বর্ণনা করেন, আবার কেউ এর চেয়ে নিম্নস্তরের। এছাড়া বিভিন্ন আপদ যা আক্রান্ত করে...

--------------------------------------------

=

এবং তার মুখস্থশক্তি। উপরন্তু, কেবল একটি হাদিসের বাহ্যিক বর্ণনাভঙ্গি থেকে অস্থিরতা (اضطراب) চেনা যায় না, বরং হাদিসের বিভিন্ন সূত্রসমূহ (طرق) একত্রিত করার মাধ্যমে এবং হাদিস বিষয়ক বিশেষ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সাথে নিয়মতান্ত্রিক বিশ্লেষণের মাধ্যমেই অস্থিরতা (اضطراب) শনাক্ত করা সম্ভব।

(১) দেখুন: আল-ইকতিরাহ: ২২০ - ২২২, মাহাসিনুল ইসতিলাহ-এর টীকা: ২০৪ এবং আসারু ইলালিল হাদিস: ১৯৮।

(২) এজন্য আমরা দেখি ইবনুল মাদিনি ইমাম আহমদের প্রশংসা করছেন; কারণ তিনি তার মূল পাণ্ডুলিপি (أصول) থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং তিনি একে তার শ্রেষ্ঠত্বের একটি গুণ হিসেবে গণ্য করতেন। তিনি বলেন: "আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলের চেয়ে অধিক হাফেজ (أحفظ) কেউ নেই, এবং আমার কাছে পৌঁছেছে যে, তিনি কিতাব বা লিখিত কপি ছাড়া হাদিস বর্ণনা করেন না, আর এতে আমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ রয়েছে।" আল-জামি লি আখলাকির রাবি ২/১২ (১০৩০)।

তাছাড়া হাফেজ ইবনে হাজার মনে করেন যে, যারা মূল পাণ্ডুলিপি (أصول) থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তাদের বর্ণনায় ভুলের হার যারা কেবল মুখস্থশক্তি (حفظ) থেকে বর্ণনা করেন তাদের চেয়ে কম। দেখুন: আন-নুকাতি আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ ১/২৬৯।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
الإنسان مِمَّا تؤدي إلى اختلال مروياته ودخول بعض الوهم في حديثه. فهذا كله من الأسباب الرئيسة العامة في وجود الاختلاف.

ثُمَّ إن اختلاف الرُّوَاة يرجع إلى نوعين رئيسين: اختلاف تنوع، واختلاف تضاد (1).

فاختلاف التنوع: هُوَ أن يذكر كُلّ من المختلفين من الاسم أَوْ اللفظ بعض

أنواعه، كأن يختلف الرُّوَاة عَلَى راوٍ فبعضهم يذكره باسمه وبعضهم يذكره بكنيته وبعضهم بلقبه وبعضهم بوصف اشتهر بِهِ. وربما أطلق عَلَى هَذَا الاختلاف اختلاف في العبارة وَهُوَ: أن يعبر كُلّ من المختلفين عَنْ المراد بعبارة غَيْر عبارة صاحبه، والمعنى واحد عِنْدَ الْجَمِيْع (2).

والنوع الآخر من أنواع الاختلاف: اختلاف التضاد، وَهُوَ الاختلاف الحقيقي القادح، وَهُوَ: أن يختلف الرُّوَاة في متن حديثين أحدهما يخالف أَوْ ينافي الآخر أو أن يختلف الرُّوَاة في راوٍ أَوْ رواة مختلفين عَن الآخرين مع عدم إمكان الترجيح والتوفيق عَلَى طريقة النقاد؛ إِذْ تتساوى وجوه الروايات.

 

‌‌المبحث الرابع

أسباب الاختلاف

فطر الله تَعَالَى الناس عَلَى أن يختلفوا في مواهبهم وقدراتهم وتنوع قابلياتهم في الدقة والضبط والإتقان والحرص عَلَى الشيء، كَمَا أن الناس يختلفون في أحوالهم الأخرى قَالَ تَعَالَى: {فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَات} (3)، وهذه المواهب والمنح من الله يعطي من شاء ما شاء. والناس كذلك يختلفون في حرصهم واجتهادهم لِذَلِكَ عَدَّ الإمام الشَّافِعِيّ (4) الحرص من لوازم العلم فَقَالَ:

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح العقيدة الطحاوية 2/ 778.

(2) الاختلافات يعود غالبها إلى عدم التيقظ والى عدم الدقة والضبط إضافة إلى العوارض البشرية والنفسية، والعوارض الَّتِيْ تنتاب الإنسان فتضعف ضبطه وإتقانه، ويقع في وهم من نسيان أَوْ غفلة أَوْ خطأ، وَهِيَ متعددة مِنْهَا ما يَكُوْن في الجسم أو النفس أو المال أَوْ الولد أَوْ الصديق. وكل ذَلِكَ لَهُ مؤثرات عَلَى الإنسان في عقله وفكره وحفظه وضبطه.

(3) سورة فاطر: 32.

(4) هُوَ مُحَمَّد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع بن السائب القرشي المطلبي، فقيه العصر، صاحب المذهب، لَهُ: " الأم " و " اختلاف الْحَدِيْث " وغيرهما، ولد بغزة سنة (150 هـ) عَلَى

=
মানুষের [অবস্থা] যা তার বর্ণনাগুলোর ভারসাম্যহীনতা এবং তার হাদিসে কিছু বিভ্রমের (الوهم) অনুপ্রবেশ ঘটায়। এই সবকিছুই বিরোধের (الاختلاف) অস্তিত্বের প্রধান সাধারণ কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর বর্ণনাকারীদের বিরোধ মূলত দুই প্রকার: বৈচিত্র্যগত বিরোধ (اختلاف تنوع) এবং বিপরীতধর্মী বিরোধ (اختلاف تضاد) (১)।

বৈচিত্র্যগত বিরোধ (اختلاف تنوع) হলো: বিরোধে লিপ্তদের প্রত্যেকে নাম বা শব্দের কিছু প্রকার উল্লেখ করবেন; যেমন কোনো একজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে বর্ণনাকারীরা ভিন্নতা পোষণ করেন, ফলে তাদের কেউ তাকে তার নামে উল্লেখ করেন, কেউ তার উপনামে, কেউ তার উপাধিতে এবং কেউ এমন কোনো গুণের মাধ্যমে যা দ্বারা তিনি প্রসিদ্ধ। কখনো কখনো এই বিরোধকে শব্দগত বিরোধ বলা হয়, আর তা হলো: বিরোধে লিপ্তদের প্রত্যেকে উদ্দেশ্যকে তার সঙ্গীর ব্যবহৃত শব্দের বাইরে ভিন্ন শব্দে ব্যক্ত করবেন, যদিও সবার কাছে অর্থ অভিন্ন থাকে (২)।

বিরোধের অন্য প্রকারটি হলো: বিপরীতধর্মী বিরোধ (اختلاف تضاد), যা প্রকৃত ও ত্রুটিপূর্ণ (القادح) বিরোধ। এটি হলো: বর্ণনাকারীরা দুটি হাদিসের মতন (متن) বা মূল পাঠে এমনভাবে ভিন্নতা পোষণ করবেন যে, একটি অন্যটির বিরোধী বা পরিপন্থী হয়; অথবা বর্ণনাকারীরা কোনো একজন বা একাধিক বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে ভিন্ন বর্ণনা প্রদান করেন যেখানে সমালোচকদের (النقاد) পদ্ধতি অনুযায়ী প্রাধান্য দান (الترجيح) বা সমন্বয় (التوفيق) করা সম্ভব নয়; কেননা বর্ণনার দিকগুলো তখন সমান স্তরের হয়ে যায়।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ

বিরোধের কারণসমূহ

আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাদের মেধা, যোগ্যতা এবং কোনো কিছুর প্রতি নির্ভুলতা, সংরক্ষণ ক্ষমতা (الضبط), পারদর্শিতা (الإتقان) ও নিষ্ঠার সক্ষমতার বৈচিত্র্যের ওপর সৃষ্টি করেছেন, যেমন মানুষ তাদের অন্যান্য অবস্থার ক্ষেত্রেও ভিন্ন হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি জুলুমকারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ কল্যাণের কাজে অগ্রগামী} (৩)। এই প্রতিভা ও দান আল্লাহর পক্ষ থেকে, তিনি যাকে যা ইচ্ছা দান করেন। অনুরূপভাবে মানুষ তাদের নিষ্ঠা ও সাধনার ক্ষেত্রেও ভিন্ন হয়ে থাকে, তাই ইমাম শাফেয়ী (৪) নিষ্ঠাকে ইলম অর্জনের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ ২/ ৭৭৮।

(২) বিরোধের অধিকাংশই অসতর্কতা এবং নির্ভুলতা ও সংরক্ষণ ক্ষমতার (الضبط) অভাব থেকে উদ্ভূত হয়, এর সাথে যুক্ত হয় মানবিক ও মানসিক আপদসমূহ এবং সেই সব উপসর্গ যা মানুষের ওপর আপতিত হয়ে তার সংরক্ষণ ক্ষমতা (الضبط) ও পারদর্শিতাকে (الإتقان) দুর্বল করে দেয়। ফলে সে বিস্মৃতি, অসাবধানতা বা ভুলের মতো বিভ্রমে (الوهم) পতিত হয়। এই উপসর্গগুলো বহুমুখী, যার কিছু শরীর, মন, সম্পদ, সন্তান বা বন্ধুর ক্ষেত্রে হতে পারে। এই সবকিছুরই মানুষের বুদ্ধি, চিন্তা, মুখস্থশক্তি ও সংরক্ষণ ক্ষমতার (الضبط) ওপর প্রভাব রয়েছে।

(৩) সূরা ফাতির: ৩২।

(৪) তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস বিন আব্বাস বিন উসমান বিন শাফি বিন সায়েব কুরাশি মুত্তালিবী, সমকালীন ফকিহ, মাযহাবের ইমাম, তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "আল-উম্ম" ও "ইখতিলাফুল হাদিস" ইত্যাদি। তিনি ১৫০ হিজরি সনে গাজায় জন্মগ্রহণ করেন...

=
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
أخي لن تنال العلم إلا بستة … سأنبيك عَنْ تفصيلها ببيان

ذكاء وحرص واجتهاد وبلغة … وصحبة أستاذ وطول زمان (1)

فالحرص إذن من أساسيات العلم، وإن قَلَّ حفظ الرَّاوِي أو كلّت ذاكرته، فإن بوسعه الحِفاظ على مروياته بالمذاكرة والمتابعة والتعاهد لمحفوظه ومراجعة أصوله، حفظاً للسنة النبوية من الخطأ فِيْهَا - بزيادة أَوْ نقص أو تغيير -.

ومع هَذَا كله فإننا لَمْ نعدم في تاريخنا الحديثي بعض الرُّوَاة الَّذِيْنَ لَمْ يبالوا بمروياتهم، وَلَمْ يولوها الاهتمام الكافي، سواء أهمل الرَّاوِي نفسه تعاهد محفوظاته أَوْ مراجعته كتابه، أو تدخل عنصر بالعبث بمروياته (2)، أو غَيْر ذَلِكَ مِمَّا تكون نتيجته وقوع الوهم في حَدِيْث ذَلِكَ الرَّاوِي، ويؤول بالنهاية إلى حدوث الاختلاف مع روايات غيره، عَلَى أن الخطأ والوهم لَمْ يسلم مِنْهُ كبار الحفاظ مع شدة حرصهم وتوقيهم، لذا قَالَ ابن

معين (3): ((لست أعجب ممن يحدّث فيخطئ، إنما أعجب ممن يحدث فيصيب)) (4). غَيْر أنّ الأحاديث الَّتِيْ حصل فِيْهَا الوهم تعد قليلة مغمورة في بحر ما رووه عَلَى الصواب.

وبإمكاننا أن نفصل أسباب الاختلاف بما يأتي:

 

‌‌أولاً. الوهم والخطأ:

الخطأ والوهم أمران حاصلان وواقعان في أحاديث الثقات فضلاً عَنْ وقوعه في أحاديث الضعفاء، ونحن وإن نذكر في حد الصَّحِيْح كون راويه تام الضبط إلا أن ذَلِكَ أمر نسبيٌّ (5)، وإلا فكيف اشترطنا في الصَّحِيْح (6) أن لا يَكُوْن شاذاً ولا معللاً مع كون راويه ثقة فيتخرج عَلَى هَذَا أن الوهم والخطأ يدخل في أحاديث الثقات؛ لأن كلاً من

--------------------------------------------

=

الأصح، وتوفي بمصر سنة (204 هـ). مرآة الجنان 2/ 11 و 12، ووفيات الأعيان 4/ 163 و165.

(1) ديوان الشَّافِعِيّ: 164.

(2) كَمَا حصل لسفيان بن وكيع. انظر: ميزان الاعتدال 2/ 173 (3334).

(3) يحيى بن معين بن عون الغطفاني، مولاهم، أبو زكريا البغدادي، ثقة حافظ مشهور إمام الجرح

والتعديل، لَهُ: " التاريخ " و " السؤالات " وغيرهما، ولد سنة (158 هـ) وتوفي سنة (233 هـ).

تهذيب الكمال 8/ 89 و 95 (7521)، وميزان الاعتدال 4/ 410، والتقريب (7651).

(4) تاريخ ابن معين (رِوَايَة الدوري) 3/ 13 (52).

(5) انظر: مقدمة شرح علل الترمذي، لابن رجب: 7.

(6) هُوَ الَّذِيْ يتصل إسناده بنقل العدل الضابط عَنْ العدل الضابط إلى منتهاه ولا يَكُوْن شاذاً ولا معللاً. مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث طبعة نور الدين: 10، وفي طبعتنا:79.
ওহে আমার ভাই! তুমি ছয়টি বিষয় ব্যতীত জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না … আমি তোমাকে স্পষ্টভাবে সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করছি।

মেধা, গভীর আগ্রহ, পরিশ্রম, পর্যাপ্ত পাথেয় … শিক্ষকের সাহচর্য এবং দীর্ঘ সময় (১)।

সুতরাং গভীর আগ্রহ হলো জ্ঞানের অন্যতম মূল ভিত্তি। যদি বর্ণনাকারীর (الراوي) মুখস্থ করার ক্ষমতা কমে যায় অথবা তার স্মরণশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, তবুও সে জ্ঞানচর্চা (المذاكرة), পর্যবেক্ষণ (المتابعة), মুখস্থ রাখা বিষয়ের নিয়মিত অনুশীলন এবং তার মূল পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার মাধ্যমে তার বর্ণিত হাদিসসমূহকে সংরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়; যেন সুন্নাহর মধ্যে কোনো ভুল—যেমন কোনো কিছু বৃদ্ধি পাওয়া, হ্রাস পাওয়া বা পরিবর্তন হওয়া—থেকে রক্ষা করা যায়।

এতদসত্ত্বেও আমাদের হাদিসের ইতিহাসে আমরা এমন কিছু বর্ণনাকারীকে (الرواة) দেখতে পাই যারা তাদের বর্ণিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন এবং এগুলোর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেননি। বর্ণনাকারী (الراوي) নিজে তার মুখস্থ বিষয়গুলো অনুশীলনে বা তার কিতাব পর্যালোচনায় অবহেলা করেছেন, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি তার বর্ণনা নিয়ে কারসাজি করার সুযোগ পেয়েছে (২), কিংবা অন্য কোনো কারণ—যার ফলে উক্ত বর্ণনাকারীর (الراوي) হাদিসে ভ্রম (الوهم) সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিশেষে অন্যদের বর্ণনার সাথে তার বর্ণনার বৈসাদৃশ্য দেখা দিয়েছে। তবে এটি অনস্বীকার্য যে, বড় বড় হাফেজগণও (الحفاظ) তীব্র সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও ভুল ও ভ্রম (الوهم) থেকে পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। এজন্যই ইবন

মাঈন (৩) বলেছেন: "আমি তার প্রতি বিস্মিত হই না যে হাদিস বর্ণনা করে এবং ভুল করে, বরং আমি তার প্রতিই বিস্মিত হই যে হাদিস বর্ণনা করে এবং নির্ভুলভাবে বর্ণনা করে" (৪)। তবে যে হাদিসগুলোতে ভ্রম (الوهم) ঘটেছে, তা তাদের সঠিকভাবে বর্ণিত হাদিসসমূহের বিশাল সমুদ্রের মাঝে অত্যন্ত নগণ্য।

আমরা মতভেদের কারণগুলোকে নিম্নোক্তভাবে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি:

 

‌‌প্রথমত: ভ্রম (الوهم) ও ভুল:

দুর্বল বর্ণনাকারীদের (الضعفاء) হাদিসের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) হাদিসেও ভুল ও ভ্রম (الوهم) সংঘটিত হওয়া একটি বাস্তব ঘটনা। যদিও আমরা সহিহ (الصحيح) হাদিসের সংজ্ঞায় এর বর্ণনাকারীর 'পরিপূর্ণ ধারণক্ষমতা' (تام الضبط) থাকার কথা উল্লেখ করি, তবে এটি একটি আপেক্ষিক বিষয় (৫)। অন্যথায়, কেন আমরা সহিহ (الصحيح) হাদিসের ক্ষেত্রে (৬) এটি শাজ (شاذاً) বা মুয়াল্লাল (معللاً) না হওয়ার শর্ত আরোপ করলাম অথচ এর বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة)? এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) হাদিসেও ভ্রম (الوهم) ও ভুল প্রবেশ করতে পারে; কারণ প্রত্যেকেই...

--------------------------------------------

=

আল-আসাহ, এবং তিনি ২০৪ হিজরি সনে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। মিরআতুল জানান ২/১১ ও ১২, এবং ওফায়াতুল আইয়ান ৪/১৬৩ ও ১৬৫।

(১) দিওয়ানুশ শাফেয়ি: ১৬৪।

(২) যেমনটি সুফিয়ান ইবন ওয়াকি'র ক্ষেত্রে ঘটেছিল। দেখুন: মিজানুল ইতিদাল ২/১৭৩ (৩৩৩৪)।

(৩) ইয়াহইয়া ইবন মাঈন ইবন আউন আল-গাতফানি, তাদের মুক্তদাস, আবু জাকারিয়া আল-বাগদাদি; তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), প্রখ্যাত হাফেজ (حافظ) এবং জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমাম। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "আত-তারিখ" ও "আস-সুয়ালাত" ইত্যাদি। তিনি ১৫৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৩৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাজহিবুল কামাল ৮/৮৯ ও ৯৫ (৭৫২১), মিজানুল ইতিদাল ৪/৪১০, এবং তাকরিব (৭৬৫১)।

(৪) তারিখু ইবন মাঈন (রিওয়ায়াতুদ দুরি) ৩/১৩ (৫২)।

(৫) দেখুন: মুকাদ্দিমা শারহু ইলালিত তিরমিজি, ইবন রজব প্রণীত: ৭।

(৬) এটি এমন হাদিস যার সনদ (إسناد) ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও উত্তম ধারণক্ষমতাসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত এবং এটি শাজ (شاذاً) বা মুয়াল্লাল (معللاً) নয়। মারিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস, নুরউদ্দিন তাবারিক সংস্করণ: ১০, এবং আমাদের সংস্করণ: ৭৯।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
الشذوذ والعلة داخل بمعنى الوهم والخطأ. ثُمَّ إن الوهم والخطأ من الأسباب الرئيسة للاختلاف بَيْنَ الأحاديث. وبالسبر والنظر إلى كتب السنة النبوية نجد عدداً كبيراً من الرُّوَاة الثقات قَدْ أخطؤوا في بعض ما رووا، وَهُوَ أمر متفاوت بَيْنَ الرُّوَاة حسب مروياتهم قلة وكثرة وربما كَانَ حظ من أكثر من الرِّوَايَة أكبر خطأً من المقلين؛ لذا نجد غلطات عُدَّتْ عَلَى الأئمة العلماء الحفاظ لكنها لَمْ تؤثر عليهم في سعة ما رووه (1)، قَالَ الإمام أحمد بن حَنْبَل (2): ((ومن يعرى من الخطأ والتصحيف)) (3). وَقَالَ الإمام مُسْلِم بن الحجاج: ((فليس من ناقل خبر وحامل أثر من السلف الماضين إلى زماننا - وإن كَانَ من أحفظ الناس وأشدهم توقياً وإتقاناً لما يحفظ وينقل - إلا الغلط والسهو ممكن في حفظه ونقله)) (4).

وَقَالَ الإمام الترمذي (5): ((لَمْ يسلم من الخطأ والغلط كبير أحد من الأئمة مع حفظهم)) (6)، ثُمَّ ساق الترمذي عدداً وافراً من الروايات تدلل عَلَى تفاوت أهل العلم بالحفظ وتفاضلهم بالضبط وقلة الخطأ، ثُمَّ قَالَ: ((والكلام في هَذَا والرواية عَنْ أهل العلم تكثر، وإنما بيّنا شيئاً مِنْهُ عَلَى الاختصار ليُستدل بِهِ عَلَى منازل أهل العلم وتفاضل بعضهم عَلَى بعض في الحفظ والإتقان، ومن تُكلمَ فِيْهِ من أهل العلم لأي شيء تُكلمَ

فِيْهِ)) (7).

ولما كَانَ الخطأ في الرِّوَايَة أمرٌ بدهيٌّ، وأنه لا يسلم إنسان مِنْهُ نجد الأكابر قَدْ

--------------------------------------------

(1) وهكذا فإنا نجد أن الإمام علي بن المديني قَدْ خرّج علل حَدِيْث سفيان بن عيينة في ثلاثة عشر جزءاً. مع أن سفيان بن عيينة من أساطين هَذَا الفن وجهابذته وفحوله؛ لَكِنْ هَذَا الكم الكبير لَمْ يؤثر عَلَيْهِ لسعة ما رَوَى فهو كحبة القمح من البيدر. وانظر: مَعْرِفَة علوم الْحَدِيْث، للحاكم: 71.

(2) هُوَ أحمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل بن هلال بن أسد الشيباني المروزي ثُمَّ البغدادي، أبو عَبْد الله، أحد الأعلام، صاحب المذهب، لَهُ: " المسند " و " الزهد " و " العلل " وغيرها، ولد سنة (164 هـ)، وتوفي سنة (241 هـ).

حلية الأولياء 9/ 161 و 162، وطبقات الحنابلة 1/ 10، والعبر 1/ 435.

(3) مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث، لابن الصَّلَاحِ:: 252 طبعة نور الدين، و 448 طبعتنا.

(4) التمييز: 124.

(5) هُوَ مُحَمَّد بن عيسى بن سورة بن موسى بن الضحاك التِّرْمِذِيّ، أبو عيسى الضرير الحافظ، صاحب " الجامع " وغيره من المصنفات، وَهُوَ تلميذ البخاري، وشاركه في بعض شيوخه، توفي سنة (279 هـ). تهذيب الكمال 6/ 468 و 469 (6122)، ومرآة الجنان 2/ 144، والتقريب (6206).

(6) علل الترمذي الصغير 6/ 240 آخر الجامع.

(7) علل الترمذي الصغير 6/ 244 آخر الجامع.
বিচ্যুতি (الشذوذ) এবং ত্রুটি (العلة) ধারণাটি বিভ্রম ও ভুলের অর্থের অন্তর্ভুক্ত। আর বিভ্রম ও ভুল হলো হাদিসসমূহের মধ্যে মতপার্থক্য হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। সুন্নাহর কিতাবসমূহ বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, বিপুল সংখ্যক নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিও তাদের বর্ণিত কিছু কিছু বর্ণনায় ভুল করেছেন। এটি রাবিদের অধিক বা অল্প বর্ণনার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে; সম্ভবত যিনি বেশি বর্ণনা করেন তার ভুলের পরিমাণ কম বর্ণনাকারীদের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, বড় বড় ইমাম, আলেম এবং হাফেজ (الحفاظ)-দেরও কিছু ভুল চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে তাদের বর্ণিত বিশাল হাদিস ভাণ্ডারের তুলনায় তা তাদের মর্যাদায় কোনো প্রভাব ফেলেনি (১)। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (২) বলেন: "কে আছে এমন, যে ভুল এবং শব্দের বিকৃতি (التصحيف) থেকে মুক্ত থাকতে পারে?" (৩)। আর ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বলেন: "অতীতের উত্তরসূরিদের থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত এমন কোনো সংবাদ বর্ণনাকারী বা হাদিস বহনকারী নেই—যদিও তিনি মানুষের মধ্যে প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং তার মুখস্থ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সাবধানী ও পারদর্শী (الإتقان) হন—যার মুখস্থ করা ও বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল ও বিচ্যুতি ঘটা সম্ভব নয়" (৪)।

ইমাম তিরমিজি (৫) বলেন: "ইমামদের সুদৃঢ় মুখস্থশক্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে বড় মাপের কেউই ভুল ও ভ্রান্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারেননি" (৬)। এরপর তিরমিজি এমন অনেক বর্ণনা তুলে ধরেছেন যা হাফেজদের মুখস্থশক্তির স্তরভেদ এবং তাদের নির্ভুলতা (الضبط) ও ভুলের স্বল্পতার ক্ষেত্রে মর্যাদাগত পার্থক্য প্রমাণ করে। এরপর তিনি বলেন: "এ বিষয়ে আলোচনা এবং আলেমদের থেকে বর্ণিত বর্ণনা অনেক দীর্ঘ। আমি সংক্ষেপে এর কিছু অংশ বর্ণনা করেছি যেন এর মাধ্যমে আলেমদের মর্যাদা, তাদের মুখস্থশক্তি ও পারদর্শিতা (الإتقان)-এর স্তরের পার্থক্য এবং যাদের সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে, তা কেন করা হয়েছে—সে বিষয়ে ধারণা লাভ করা যায়

।" (৭)।

যেহেতু বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং কোনো মানুষই এ থেকে নিরাপদ নয়, তাই আমরা দেখি যে বড় বড় মনিষীগণও...

--------------------------------------------

(১) এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম আলী ইবনুল মাদিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার হাদিসের ত্রুটিসমূহ (علل) তেরটি খণ্ডে সংকলন করেছেন। অথচ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা ছিলেন এই শাস্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ, মহাবিজ্ঞ এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের একজন। কিন্তু তার বর্ণিত বিপুল সংখ্যক হাদিসের তুলনায় এই ভুলগুলো ছিল অত্যন্ত নগণ্য, যা খামারের বিশাল গমের স্তূপের একটি দানার মতো। দেখুন: হাকেম প্রণীত মারিফাতু উলুমিল হাদিস: ৭১।

(২) তিনি হলেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আল-শাইবানি আল-মারওয়াযি, অতঃপর আল-বাগদাদি, আবু আব্দুল্লাহ। তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম এবং একটি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: "মুসনাদ", "যুহদ", "আল-ইলাল" ইত্যাদি। তিনি ১৬৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

হিলইয়াতুল আউলিয়া ৯/১৬১ ও ১৬২, তাবাকাতুল হানাবিলা ১/১০, আল-ইবার ১/৪৩৫।

(৩) ইবনুস সালাহ প্রণীত মারিফাতু আনওয়া ইলমিল হাদিস: ২৫২ (নূরুদ্দিন সংস্করণ), এবং ৪৪৮ (আমাদের সংস্করণ)।

(৪) আত-তাময়িজ: ১২৪।

(৫) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা বিন মুসা বিন দাহহাক আত-তিরমিজি, আবু ঈসা। তিনি প্রখ্যাত হাফেজ (الحافظ) এবং "জামে" ও অন্যান্য কিতাবের রচয়িতা। তিনি ইমাম বুখারির ছাত্র ছিলেন এবং তার কিছু শিক্ষকের নিকট বুখারির সাথে তিনিও হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ২৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাহযিবুল কামাল ৬/৪৬৮ ও ৪৬৯ (৬১২২), মিরাতুল জানান ২/১৪৪, আত-তাকরিব (৬২০৬)।

(৬) ইলালুত তিরমিজি আস-সাগির ৬/২৪০ (জামে তিরমিজির শেষে)।

(৭) ইলালুত তিরমিজি আস-সাগির ৬/২৪৪ (জামে তিরমিজির শেষে)।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهمّوا الأكابر، فهذه أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها قَدْ وهّمت عدداً من الصَّحَابَة في عدد من الأحاديث، وَقَدْ جمع ذَلِكَ الزركشي (1) في جزءٍ (2)، لذا قَالَ الإمام عَبْد الله بن المبارك (3): ((ومن يسلم من الوهم، وَقَدْ وهّمت عائشة جَمَاعَة من الصَّحَابَة في رواياتهم للحديث)) (4).

وفيما نقلنا عَنْ الأئمة الأعلام كفاية ودليل عَلَى أن دخول الخطأ والوهم أمرٌ نسبيٌّ ممكن في أحاديث الرُّوَاة ثقاتً كانوا أو غَيْر ذَلِكَ، فالخطأ والوهم والنسيان سجية البشر، وَقَدْ قَالَ الشاعر:

نَسِيتُ وَعْدَكَ والنِّسْيَانُ مُغْتَفَرٌ … فَاغْفِرْ فَأوَّلُ نَاسٍ أوَّلُ النَّاسِ (5)

 

‌‌ثانياً. ظروف طارئة (6):

قَدْ يطرأ عَلَى الرَّاوِي حين تحمله (7) الْحَدِيْث أَوْ أدائه (8) ظروف تدخل الوهم في حديثه أو أحاديثه. وهذه الظروف ليست عامة بَلْ هِيَ خاصة تطرأ عَلَى بعض الرُّوَاة في بعض الأحيان دون بعضٍ، تبعاً لاختلاف الأحوال والأماكن والشيوخ؛ إِذْ قَدْ يطرأ الخلل في كَيْفِيَّة تلقّي الأحاديث كَمَا حصل لهشيم بن بشير (9)؛ إِذْ إنَّهُ دخل عَلَى الزهري

--------------------------------------------

(1) هُوَ مُحَمَّد بن بهادر بن عَبْد الله الزركشي، أبو عَبْد الله الشَّافِعِيّ، بدر الدين: عالم بالفقه والأصول، مشارك في الْحَدِيْث والعربية، من مصنفاته " البحر المحيط " و " البرهان في علوم القرآن "، ولد سنة (745 هـ)، وتوفي سنة (794 هـ).

الدرر الكامنة 3/ 397، وشذرات الذهب 6/ 335، والأعلام 6/ 60.

(2) أسماه: الإجابة لما استدركته عائشة عَلَى الصَّحَابَة، طبع مراراً بتحقيق سعيد الأفغاني.

(3) هُوَ عَبْد الله بن المبارك بن واضح الحنظلي التميمي، مولاهم، أبو عَبْد الرحمان المروزي، ثقة ثبت فقيه عالم جواد مجاهد، ولد سنة (118 هـ)، وتوفي سنة (181 هـ).

تهذيب الكمال 4/ 258 (3508)، ومرآة الجنان 1/ 294، والتقريب (3570).

(4) شرح علل الترمذي 1/ 436.

(5) قائله: أبو الفتح البُستي. انظر: الغيث المسجم في شرح لامية العجم، للصفدي 2/ 208، وانظر: نكت الزركشي 3/ 565، وفتح المغيث 2/ 148،وتعليقنا عَلَى مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث، لابن الصَّلَاحِ: 294.

(6) أعني بالظروف الطارئة ما يحصل عَنْ غَيْر اعتياد وتماثل، ولا يَكُوْن سنة خلقية تقع لعدد كبير من الناس.

(7) التحمل: هُوَ أخذ الْحَدِيْث عَنْ الشيخ بطريق من طرق التحمل. الاقتراح: 238.

(8) الأداء: هُوَ تبليغ الْحَدِيْث وأدائه لِمَنْ يسمعه. أصول الْحَدِيْث: 227.

(9) هُوَ هشيم بن بشير بن القاسم بن دينار السلمي، أبو معاوية بن أبي خازم الواسطي، ثقة ثبت كثير التدليس والإرسال الخفي، ولد سنة (104 هـ)، وتوفي سنة (183 هـ).

=
বড় বড় মনিষীরাও ভুল করেছেন। এই যে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বেশ কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সাহাবীকে ভ্রান্ত ধারণার (وهم) অধিকারী সাব্যস্ত করেছেন এবং ইমাম জারকাশি (১) এটি একটি পুস্তিকায় (২) সংকলন করেছেন। এইজন্যই ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (৩) বলেছেন: "ভ্রান্ত ধারণা (وهم) থেকে কে বেঁচে থাকতে পারে? অথচ আয়েশা (রা.) একদল সাহাবীকে তাদের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে ভ্রান্ত ধারণার (وهم) অধিকারী সাব্যস্ত করেছেন।" (৪)।

আমরা প্রখ্যাত ইমামদের থেকে যা বর্ণনা করেছি তা এই বিষয়ের পর্যাপ্ত প্রমাণ যে, বর্ণনাকারীদের (راوي) হাদিসের মধ্যে ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা (وهم) প্রবেশ করা একটি আপেক্ষিক ও সম্ভবপর বিষয়, তারা নির্ভরযোগ্য (ثقة) হোন কিংবা অন্য কিছু। কেননা ভুল, ভ্রান্ত ধারণা (وهم) এবং বিস্মৃতি মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আর কবি বলেছেন:

আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়েছি, আর বিস্মৃতি মার্জনীয় … অতএব ক্ষমা করুন, কেননা প্রথম মানুষই (আদম আ.) ছিলেন প্রথম বিস্মৃতকারী। (৫)

 

‌‌দ্বিতীয়ত: আকস্মিক পরিস্থিতি (ظروف طارئة) (৬):

বর্ণনাকারী (راوي) যখন হাদিস গ্রহণ (تحمل) করেন (৭) অথবা তা বর্ণনা (أداء) করেন (৮), তখন কখনো এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে যা তার হাদিস বা হাদিসসমূহের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা (وهم) সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিগুলো সাধারণ নয়, বরং এগুলো বিশেষ যা বিশেষ কিছু বর্ণনাকারীর (راوي) ক্ষেত্রে অবস্থা, স্থান ও উস্তাদদের ভিন্নতা অনুযায়ী মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে। কারণ কখনো হাদিস গ্রহণের পদ্ধতিতে ত্রুটি দেখা দিতে পারে, যেমনটি হুশাইম ইবনে বাশিরের (৯) ক্ষেত্রে ঘটেছিল; যখন তিনি ইমাম যুহরির নিকট গিয়েছিলেন...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন বাহাদুর বিন আবদুল্লাহ আজ-জারকাশি, আবু আবদুল্লাহ আশ-শাফিয়ি, বদরুদ্দিন: ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিত, হাদিস ও আরবি সাহিত্যেও তার বিশেষ অবদান রয়েছে। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে "আল-বাহরুল মুহিত" এবং "আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন"। তিনি ৭৪৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৩৯৭, শাযারাতুয যাহাব ৬/৩৩৫ এবং আল-আ'লাম ৬/৬০।

(২) তিনি এর নাম দিয়েছেন: আল-ইজাবাহ লিমা ইস্তাদরাকাতহু আয়েশা আলাস সাহাবাহ, এটি সাঈদ আল-আফগানির সম্পাদনায় একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে।

(৩) তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বিন ওয়াদিহ আল-হানজালি আত-তামিমি, তাদের মুক্তদাস, আবু আবদুর রহমান আল-মারওয়াযি, নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), ফকিহ, আলিম, অত্যন্ত দানবীর ও মুজাহিদ। তিনি ১১৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাহযিবুল কামাল ৪/২৫৮ (৩৫০৮), মিরআতুল জানান ১/২৯৪ এবং আত-তাকরিব (৩৫৭০)।

(৪) শারহু ইলালিত তিরমিযি ১/৪৩৬।

(৫) এর রচয়িতা: আবুল ফাতহ আল-বুস্তি। দেখুন: আল-গাইসুল মুসাজ্জাম ফি শারহি লামিয়াতিল আজম, সাফাদি রচিত ২/২০৮; আরও দেখুন: নুকাতুয জারকাশি ৩/৫৬৫, ফাতহুল মুগিস ২/১৪৮ এবং ইবনুস সালাহ রচিত মারেফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস-এর ওপর আমাদের টীকা: ২৯৪।

(৬) আকস্মিক পরিস্থিতি বলতে আমি তা বুঝিয়েছি যা অভ্যাস বা নিয়মিত অবস্থার বাইরে ঘটে থাকে এবং যা মানুষের ব্যাপক অংশের ক্ষেত্রে ঘটা কোনো স্বভাবজাত নিয়ম নয়।

(৭) হাদিস গ্রহণ (تحمل): এটি হলো হাদিস গ্রহণের কোনো একটি স্বীকৃত পদ্ধতির মাধ্যমে উস্তাদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করা। আল-ইকতিরাহ: ২৩৮।

(৮) হাদিস প্রদান (أداء): এটি হলো যারা শ্রবণ করেন তাদের নিকট হাদিস পৌঁছে দেওয়া এবং বর্ণনা করা। উসুলুল হাদিস: ২২৭।

(৯) তিনি হলেন হুশাইম ইবনে বাশির বিন আল-কাসিম বিন দিনার আস-সুলামি, আবু মুয়াবিয়া ইবনে আবি খাযিম আল-ওয়াসিতি, নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), তিনি অধিক মাত্রায় তাদলিস (تدليس) এবং প্রচ্ছন্ন বিচ্ছিন্নতা (إرسال خفي)-এর সাথে হাদিস বর্ণনা করতেন। তিনি ১০৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

=
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
فأخذ عَنْهُ عشرين حديثاً، فلقيه صاحبٌ لَهُ وَهُوَ راجع، فسأله رؤيتها، وَكَانَ ثمة ريح شديدة، فذهبت بالأوراق من يد الرجل، فصار هشيم يحدّث بِمَا علق مِنْهَا بذهنه، وَلَمْ يَكُنْ أتقن حفظها، فوهم في أشياء مِنْهَا، ضعف حديثه بسببها (1) خاصة في الزهري (2). فهذا أمر طارئ عَلَى هشيم وَهُوَ ثقةٌ من الثقات الكبار النبلاء أخرج حديثه أصحاب الكتب الستة (3) لكنه ضُعِّفَ خاصةً في الزهري لهذا الطارئ الَّذِيْ طرأ عَلَيْهِ حَتَّى قَالَ الحافظ ابن حجر (4): ((أما روايته عَنْ الزهري فليس في الصحيحين مِنْهَا شيءٌ)) (5).

وكذلك يختلف حال ضبط الرَّاوِي باختلاف الأحوال والأماكن والشيوخ لعدم توفر الوسائل الَّتِيْ تمكنه من ضبط ما سمعه من بعض شيوخه، أو بسبب حدوث ضياعٍ في بعضِ ما كتبه عَنْ بعض شيوخه حَتَّى وَلَوْ كَانَ من أثبت الناس في هَذَا الشيخ خاصة.

ومما يذكر في الظروف الطارئة ما حصل لمؤمل بن إسماعيل (6) إِذْ كَانَ قَدْ دفن كتبه، ثُمَّ حدث من حفظه فدخل الوهم والاختلاف في حديثه (7).

 

‌‌ثالثاً. الاختلاط:

الاختلاط لغة: يقال خلطت الشيء بغيره خَلْطاً فاختلط، وخالطهُ مخالطةً وخِلاطاً، واختلط فلانٌ، أي: فسد عقلُهُ، والتخليط في الأمر: الإفساد فِيْهِ والمختلط من الاختلاط، واختلط عقله إذا تغير، فهو مختلط، واختلط عقله: فسد (8).

--------------------------------------------

=

الْمَعْرِفَة والتاريخ 1/ 47، والجرح والتعديل 9/ 115، والتقريب (7312).

(1) هَذِهِ القصة ساقها الْخَطِيْب في تاريخ بغداد 14/ 87، والذهبي في الميزان 4/ 308، ونقلها السيوطي في تدريب الرَّاوِي 1/ 129.

(2) لذا قَالَ الذهبي في " الميزان " 4/ 306: ((هُوَ ليّن في الزهري)).

(3) تهذيب الكمال 7/ 418.

(4) هُوَ أحمد بن علي بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد الكناني العسقلاني الأصل، المصري المولد والمنشأ، علم الأعلام، حافظ العصر، لَهُ: " فتح الباري " و" تهذيب التهذيب " و " تقريبه " وغيرها، ولد سنة (773 هـ)، وتوفي سنة (852 هـ). طبقات الحفاظ: 552 (1190)، ونظم العقيان: 45 و 51، وشذرات الذهب 7/ 270.

(5) هدي الساري: 449.

(6) هُوَ مؤمل بن إسماعيل، أبو عَبْد الرحمان البصري، مولى آل عمر بن الخطاب رضي الله عنه، حافظ عالم يخطئ، قَالَ عَنْهُ أبو حاتم: صدوق، شديد في السنة، كثير الخطأ، توفي سنة (206 هـ).

التاريخ الكبير 8/ 49، وميزان الاعتدال 4/ 228، وسير أعلام النبلاء 10/ 110 و 111.

(7) تهذيب الكمال 7/ 284، والكاشف 2/ 309، وسيأتي الْحَدِيْث تفصيلاً عن أحد أوهامه.

(8) انظر: الصحاح 3/ 1124،وأساس البلاغة:172،واللسان 7/ 295، وتاج العروس 19/ 267 (خلط).

তিনি তাঁর কাছ থেকে বিশটি হাদিস গ্রহণ করলেন। ফেরার পথে তাঁর এক বন্ধুর সাথে দেখা হলো এবং তিনি সেগুলো দেখতে চাইলেন। তখন প্রচণ্ড বাতাস বইছিল, ফলে ওই ব্যক্তির হাত থেকে কাগজগুলো উড়ে গেল। এরপর হুশাইম তাঁর স্মৃতিতে যা অবশিষ্ট ছিল তা থেকেই হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। অথচ তিনি সেগুলো পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ত করতে পারেননি। ফলে এগুলোর মধ্যে তাঁর বিভ্রান্তি (وهم) প্রকাশ পেল এবং এর কারণেই তাঁর হাদিস দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত হয়, বিশেষ করে জুহরির বর্ণনার ক্ষেত্রে। এটি হুশাইমের ক্ষেত্রে একটি আকস্মিক ঘটনা মাত্র, অথচ তিনি মহান ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবী। ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থের সংকলকগণ তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই আকস্মিক পরিস্থিতির কারণে বিশেষত জুহরির বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁকে দুর্বল (ضُعِّفَ) বলা হয়েছে। এমনকি হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "জুহরির সূত্রে তাঁর বর্ণিত কোনো হাদিসই সহীহাইন-এ নেই।"

অনুরূপভাবে, রাবীর অবস্থা, স্থান ও উস্তাদভেদে তাঁর হেফজ ও নির্ভুলতার (ضبط) মানেও তারতম্য ঘটে। কারণ অনেক সময় কোনো কোনো উস্তাদের থেকে যা শুনেছেন তা যথাযথভাবে আয়ত্ত (ضبط) করার সুযোগ থাকে না, অথবা কোনো কোনো উস্তাদের নিকট থেকে যা লিখেছিলেন তার কিছু অংশ হারিয়ে যাওয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে—যদিও তিনি ওই উস্তাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন।

আকস্মিক পরিস্থিতির মধ্যে মুআম্মাল বিন ইসমাইলের ঘটনাটিও উল্লেখযোগ্য; তিনি তাঁর কিতাবগুলো দাফন করে দিয়েছিলেন এবং এরপর নিজের স্মৃতি থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন। ফলে তাঁর হাদিসে বিভ্রান্তি (الوهم) ও বৈচিত্র্য বা অসঙ্গতি (الاختلاف) ঢুকে পড়ে।

 

‌‌তৃতীয়ত: স্মৃতিবিভ্রম (الاختلاط):

স্মৃতিবিভ্রম (الاختلاط) এর শাব্দিক অর্থ: বলা হয়, আমি এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে মিশিয়ে দিয়েছি, ফলে তা মিশে গেছে। কারও সাথে মেলামেশা করাকেও 'মুখলাতাহ' বা 'খিলাত' বলা হয়। অমুক ব্যক্তি 'ইখতালাতা', অর্থাৎ তার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে বা বিকৃত হয়েছে। কোনো বিষয়ে 'তাখলিত' অর্থ তাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। 'মুখতালিত' শব্দটি 'ইখতিলাত' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ যার বুদ্ধি বিকৃত হয়ে গেছে। বুদ্ধি বিকৃত হওয়া বা লোপ পাওয়াকে 'ইখতিলাত' বলা হয়।

--------------------------------------------

=

আল-মারিফাতু ওয়াত তারিখ ১/৪৭, আল-জারহু ওয়াত তাদিল ৯/১১৫, আত-তাকরিব (৭৩১২)।

(১) এই ঘটনাটি খতিব বাগদাদি তারিখে বাগদাদ ১৪/৮৭ গ্রন্থে, জাহাবি মিজানুল ইতিদাল ৪/৩০৮ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং সুয়ূতি তাদরিবুর রাবী ১/১২৯ গ্রন্থে তা উদ্ধৃত করেছেন।

(২) এজন্যই জাহাবি মিজানুল ইতিদাল ৪/৩০৬ গ্রন্থে বলেছেন: "জুহরির বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি শিথিল (لين)।"

(৩) তেহজিবুল কামাল ৭/৪১৮।

(৪) তিনি হলেন আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-কিনানি, মূলে আসকালানি, জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরে। তিনি এক অনন্য ইমাম এবং সমসাময়িক হাফেজ। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ফাতহুল বারী, তেহজিবুত তেহজিব, তাকরিবুত তেহজিব ইত্যাদি। তিনি ৭৭৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাবাকাতুল হুফফাজ: ৫৫২ (১১৯০), নাজমুল উকইয়ান: ৪৫ ও ৫১, শাযারাতুয যাহাব ৭/২৭০।

(৫) হাদি আস-সারী: ৪৪৯।

(৬) তিনি হলেন মুআম্মাল বিন ইসমাইল, আবু আব্দুর রহমান আল-বসরী, উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর পরিবারের আযাদকৃত গোলাম। তিনি একজন হাফেজ ও আলেম ছিলেন তবে ভুল করতেন (يخطئ)। আবু হাতেম তাঁর সম্পর্কে বলেন: সত্যবাদী (صدوق), সুন্নাহর অনুসরণে কঠোর, কিন্তু প্রচুর ভুল করেন (كثير الخطأ)। তিনি ২০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আত-তারিখুল কাবীর ৮/৪৯, মিজানুল ইতিদাল ৪/২২৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/১১০ ও ১১১।

(৭) তেহজিবুল কামাল ৭/২৮৪, আল-কাশিফ ২/৩০৯। সামনে তাঁর একটি ভুল (أوهامه) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

(৮) দেখুন: আস-সিহাহ ৩/১১২৪, আসাসুল বালাগাহ: ১৭২, লিসানুল আরব ৭/২৯৫, তাজুল আরুস ১৯/২৬৭।

(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
أما في اصطلاح المحدثين: فَقَدْ قَالَ السخاوي (1): ((وحقيقته فساد العقل وعدم انتظام الأقوال والأفعال، إما بخرف، أو ضرر، أو مرض، أو عرضٍ من موت ابن وسرقة مالٍ كالمسعودي (2)، أو ذهاب كتب كابن لهيعة (3)، أَو احتراقها كابن الملقن (4))) (5).

إذن الاختلاط: آفة عقلية تورث فساداً في الإدراك، وتصيب الإنسان في آخر عمره، أو تعرض لَهُ بسبب حادث لفقد عزيز أو ضياع مالٍ؛ ومن تصبه هَذِهِ الآفة لكبر سِنّهِ يقال فِيْهِ: اختلط بأخرة، ويقال: بآخره (6).

فالاختلاط قَدْ يطرأ عَلَى كثير من رواة الْحَدِيْث النبوي مِمَّا يؤثر عَلَى روايته أحياناً فيدخل في رِوَايَته الوهم والخطأ مِمَّا يؤدي ذَلِكَ بالمحصلة النهائية إلى وجود الاختلاف بَيْنَ الروايات. ثُمَّ من كَانَ مختلطاً فدخل الوهم في حديثه لا تضر روايتُه رِوَايَةَ الثقات الأثبات؛ إِذْ إنّ الرِّوَايَة الصَّحِيْحَة لا تُعلُّ بالرواية الضعيفة، فرواية المختلط ضعيفة لا تقاوم رِوَايَة الثقات، ولا تصلح للحجية إلا إذا توبع المختلط في روايته أَوْ كَانَتْ روايته مِمَّا حدث بِهِ قَبْلَ الاختلاط. وعلماؤنا الأجلاء أحرقوا أعمارهم شموعاً تضيء لنا الطريق من أجل بَيَان كُلّ ما يدخل الْحَدِيْث من خطأ ووهم واختلاف، إِذْ إنّ مَعْرِفَة المختلطين لَيْسَ بالأمر السهل بَلْ هُوَ أمرٌ شاقٌ عَلَى الْمُحَدِّثِيْنَ للغاية، بَلْ كَانَ

--------------------------------------------

(1) هُوَ مُحَمَّد بن عَبْد الرحمان بن مُحمد السخاوي، المحدث المؤرخ، حضر إملاء الحافظ ابن حجر، أصله من " سخا " من قرى مصر، ولد سنة (831 هـ)، وتوفي سنة (902 هـ).

نظم العقيان: 152، وشذرات الذهب 8/ 15، والأعلام 6/ 194.

(2) هُوَ عَبْد الرحمان بن عَبْد الله بن عتبة بن عَبْد الله بن مسعود المسعودي الهذلي، أحد الأئمة الكبار: سيء الحفظ، توفي سنة (160هـ). التاريخ الكبير5/ 314، وتاريخ بغداد 10/ 218، وميزان الاعتدال 2/ 574.

(3) هُوَ عَبْد الله بن لهيعة بن عقبة الحضرمي، أبو عَبْد الرحمن المصري، القاضي: صدوق، خلط بَعْدَ احتراق كتبه. توفي سنة (174 هـ). طبقات ابن سعد 7/ 516 و 517، والضعفاء الكبير، للعقيلي 2/ 293، والتقريب (3563).

(4) هُوَ عمر بن علي بن أحمد الأنصاري الأندلسي، ثُمَّ المصري، ولد سنة (723 هـ)، كَانَ أكثر أهل زمانه تصنيفاً، من مصنفاته " طبقات الْمُحَدِّثِيْنَ " و " البدر المنير " وغيرهما، توفي سنة (804 هـ). طبقات الحفاظ: 542 (1173)، وشذرات الذهب 7/ 44و45، والأعلام 5/ 57.

(5) فتح المغيث 3/ 277.

(6) يقال: ((تغير بآخرهِ)) بمد الهمزة وكسر الخاء والراء، بعدها هاء. و ((تغيّر بآخِرَة)) بمد الهمزة أَيْضاً وكسر الخاء وفتح الراء، بعدها تاء مربوطة. و ((تغير بأخرة)) بفتح الهمزة والخاء والراء، بعدها تاء مربوطة. أي: اختل ضبطه وحفظه في آخر عمره وآخر أمره. إفادة من تعليق الشيخ عَبْد الفتاح أبو غدة رحمه الله عَلَى كتاب قواعد في علوم الْحَدِيْث: 249. وانظر: لسان العرب 4/ 14، وتاج العروس 10/ 36، والتعليق عَلَى مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث: 494.
পক্ষান্তরে হাদিস শাস্ত্রবিদদের (المحدثين) পরিভাষায় (اصطلاح): সাখাভী (১) বলেন: ((এর প্রকৃত অর্থ হলো বুদ্ধিবৃত্তিক বৈকল্য এবং কথা ও কাজের অসংলগ্নতা; যা বার্ধক্যজনিত জরাগ্রস্ততা, কোনো ক্ষতি, অসুস্থতা অথবা সন্তান বিয়োগ বা সম্পদ চুরির মতো কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে হতে পারে—যেমনটি মাসউদী (২)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল; কিংবা কিতাবাদি হারিয়ে যাওয়ার কারণে হতে পারে—যেমন ইবনে লাহিয়া (৩)-এর ক্ষেত্রে হয়েছিল; অথবা কিতাব পুড়ে যাওয়ার কারণে হতে পারে—যেমন ইবনে মুলাক্কিন (৪)-এর ক্ষেত্রে হয়েছিল)) (৫)।

সুতরাং স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) হলো: একটি মানসিক ব্যাধি যা উপলব্ধিতে বিকৃতি ঘটায় এবং এটি মানুষের শেষ বয়সে দেখা দেয়, অথবা প্রিয়জন হারানো বা সম্পদ নষ্ট হওয়ার মতো কোনো দুর্ঘটনার কারণে ঘটে থাকে। বার্ধক্যের কারণে যার এই ব্যাধি হয়, তার সম্পর্কে বলা হয়: শেষ বয়সে বিভ্রান্ত (اختلط) হয়েছেন (৬)।

স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) অনেক হাদিস বর্ণনাকারীর (رواة) ক্ষেত্রে ঘটতে পারে, যা মাঝেমধ্যে বর্ণনার ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে তার বর্ণনায় ভ্রান্তি (وهم) ও ভুল (خطأ) অনুপ্রবেশ করে, যার চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বর্ণনাগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়। অতঃপর যে ব্যক্তি স্মৃতিবিভ্রমী (مختلط) এবং তার হাদিসে ভ্রান্তি (وهم) ঢুকে পড়েছে, তার বর্ণনা নির্ভরযোগ্য (الثقات) ও সুদৃঢ় (الأثبات) রাবিদের বর্ণনার কোনো ক্ষতি করে না; কেননা বিশুদ্ধ (الصحيحة) বর্ণনা কখনও দুর্বল (الضعيفة) বর্ণনার কারণে ত্রুটিযুক্ত (تعل) সাব্যস্ত হয় না। সুতরাং স্মৃতিবিভ্রমী ব্যক্তির বর্ণনা দুর্বল (ضعيفة), যা নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) বর্ণনার সমকক্ষ হতে পারে না এবং তা দলিল হওয়ার যোগ্য (الحجية) নয়; তবে যদি সেই স্মৃতিবিভ্রমী ব্যক্তির বর্ণনার পক্ষে কোনো সমর্থন (توبع) পাওয়া যায় অথবা তার বর্ণনাটি স্মৃতিবিভ্রম ঘটার আগের সময়ের হয়ে থাকে, তবে তা গ্রহণযোগ্য। আমাদের মহান ওলামায়ে কেরাম হাদিসে প্রবিষ্ট প্রতিটি ভুল, ভ্রান্তি ও বৈসাদৃশ্য স্পষ্ট করার জন্য নিজেদের জীবনকে মোমবাতির মতো জ্বালিয়ে পথ আলোকিত করেছেন। কারণ স্মৃতিবিভ্রমী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ কাজ নয়, বরং এটি হাদিস বিশারদদের (المحدثين) জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ সাখাভী, হাদিস বিশারদ (المحدث) ও ইতিহাসবিদ। তিনি হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীর পাঠদান মজলিসে উপস্থিত হতেন। তাঁর মূল আবাস মিসরের ‘সাখা’ গ্রামে। তিনি ৮৩১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯০২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

নাজমুল উকইয়ান: ১৫২, শাজারাতুজ জাহাব ৮/১৫, আল-আ’লাম ৬/১৯৪।

(২) তিনি হলেন আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-মাসউদী আল-হুজালী। তিনি অন্যতম বড় ইমাম ছিলেন, তবে তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল (سيء الحفظ) ছিল। তিনি ১৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখুল কাবির ৫/৩১৪, তারিখে বাগদাদ ১০/২১৮, মিযানুল ইতিদাল ২/৫৭৪।

(৩) তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া ইবনে উকবাহ আল-হাদরামি, আবু আবদুর রহমান আল-মিসরি, বিচারক: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ার পর তিনি বিভ্রান্ত (خلط) হয়ে যান। তিনি ১৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাবাকাত ইবনে সাদ ৭/৫১৬ ও ৫১৭, আদ-দুয়াফাউল কাবির লি-উকাইলি ২/২৯৩, আত-তাকরিব (৩৫৬৩)।

(৪) তিনি হলেন উমর ইবনে আলী ইবনে আহমাদ আল-আনসারি আল-আন্দালুসি, অতঃপর আল-মিসরি। তিনি ৭২৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনাকারী ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে "তাবাকাতুল মুহাদ্দিসিন" এবং "আল-বাদরুল মুনির" ইত্যাদি। তিনি ৮০৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাবাকাতুল হুফফাজ: ৫৪২ (১১৭৩), শাজারাতুজ জাহাব ৭/৪৪ ও ৪৫, আল-আ’লাম ৫/৫৭।

(৫) ফাতহুল মুগিস ৩/২৭৭।

(৬) বলা হয়: ((تغير بآخرهِ)) হামযাহ দীর্ঘ করে এবং খা ও র-এর নিচে কাসরাহ দিয়ে, এরপর হা যোগে। এবং ((تغيّر بآخِرَة)) হামযাহ দীর্ঘ করে, খা-এর নিচে কাসরাহ এবং র-এর ওপর ফাতহাহ দিয়ে, এরপর গোল তা যোগে। এবং ((تغير بأخرة)) হামযাহ, খা এবং র—সবগুলোর ওপর ফাতহাহ দিয়ে, এরপর গোল তা যোগে। অর্থাৎ: জীবনের শেষ দিকে বা শেষ সময়ে তার হিফজ বা মুখস্থ রাখার সক্ষমতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কাওয়াইদ ফি উলুমিল হাদিস (পৃষ্ঠা ২৪৯)-এ শেখ আবদাল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর টীকা থেকে সংগৃহীত। আরও দেখুন: লিসানুল আরব ৪/১৪, তাজুল আরুস ১০/৩৬, এবং আত-তালিক আলা মা’রিফাতি আনওয়া উলুমিল হাদিস: ৪৯৪।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২০)
الْمُحَدِّثُوْنَ أحياناً يعيدون سَمَاع الأحاديث نفسها الَّتِيْ سمعوها من ذَلِكَ الشَّيْخ من أجل أن يعرفوا ويحددوا الاختلاط من عدمه، ويحددوا وقت الاختلاط؛ لِذَلِكَ قَالَ حماد بن زيد (1): ((شعبة كَانَ لا يرضى أن يَسْمَع الْحَدِيْث مرة يعاود صاحبه مراراً)) (2). ومما يذكر في هَذِهِ الباب ما قَالَهُ حماد ابن زيد: قَالَ: حَدَّثَنِي عمرو بن عبيد الأنصاري، قَالَ: حَدَّثَنِي أبو الزعيزعة (3) -كاتب مروان (4) - أن مروان أرسل إلى أبي هُرَيْرَة، فجعل يسأله، وأجلسني خلف السرير وأنا أكتب، حَتَّى إذا كَانَ رأس الحول، دعا بِهِ فأقعده من وراء الحجاب، فجعل يسأله من ذَلِكَ الكتاب، فما زاد ولا نقص، ولا قدّم ولا أخّر (5).

وروى الحافظ أبو خيثمة زهير (6) بن حرب في "كتاب العلم" (7) قَالَ: حَدَّثَنَا جرير (8)، عَنْ عمارة بن القعقاع (9)، قَالَ: قَالَ لي إبراهيم (10): حَدِّثنِي عَنْ أبي زرعة (11)

--------------------------------------------

(1) هُوَ حماد بن زيد بن درهم الأزدي الجهضمي، أبو إسماعيل البصري: ثقة ثبت فقيه، مولى آل جرير بن حازم، ولد سنة (98 هـ) وتوفي سنة (179 هـ).

تهذيب الكمال 2/ 274 (1465)، وسير أعلام النبلاء 7/ 456، والتقريب (1498).

(2) الجرح والتعديل 1/ 168.

(3) هُوَ سالم أبو الزعيزعة مولى مروان بن الحكم، وكاتبه وكاتب ابنه عَبْد الملك بن مروان، وَكَانَ عَلَى الرسائل لعبد الملك وولاه الحرس. تاريخ دمشق 20/ 88. وورد في تاريخ البخاري 9/ 33 (289)، والجرح والتعديل 9/ 375 (1734) أبو الزعزعة.

(4) هُوَ مروان بن الحكم بن أبي العاص بن أمية القرشي الأموي، ولد بَعْدَ الهجرة بسنتين وَقِيْلَ بأربع، وَلَمْ يصح لَهُ سَمَاع عَنْ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، توفي سنة (65 هـ).

تهذيب الكمال 7/ 71 (6462)، والبداية والنهاية 8/ 206، والتقريب (6567).

(5) أخرج هَذِهِ القصة الْحَاكِم في المستدرك 3/ 510، وابن عساكر في تاريخ دمشق 20/ 89، والذهبي في سير أعلام النبلاء 2/ 598.

(6) هُوَ أبو بكر، أحمد بن أبي خيثمة، زهير بن حرب النسائي الأصل، كَانَ ثقة عالماً متقناً حافظاً بصيراً بأيام الناس، راوية للأدب، من مصنفاته كتاب " التاريخ " الَّذِي أحسن تصنيفه وأكثر فائدته، توفي سنة (279 هـ). انظر: تاريخ بغداد 4/ 162، ومعجم الأدباء 3/ 35 - 36، وسير أعلام النبلاء 11/ 493.

(7) العلم: 16 (56)، ونقله عَنْهُ الترمذي في علله الصغير 6/ 240 آخر الجامع.

(8) هُوَ جرير بن عَبْد الحميد بن قرط الضبي الكوفي، نزيل الري: ثقة صَحِيْح الكِتَاب، توفي سنة (188 هـ). تهذيب الكمال 1/ 447 و 450 (901)، وسير أعلام النبلاء 9/ 9، والتقريب (916).

(9) هُوَ عمارة بن القعقاع بن شبرمة الضبي الكوفي: ثقة.

سير أعلام النبلاء 6/ 140، وتهذيب الكمال 5/ 329 (4785)، والتقريب (4859).

(10) هُوَ الإمام الحافظ إبراهيم بن يزيد بن قيس النخعي أبو عمران الكوفي: ثقة، توفي (196 هـ).

طبقات ابن سعد 6/ 270 وسير أعلام النبلاء 4/ 520، والتقريب (270).

(11) هُوَ أَبُو زرعة بن عمرو بن جرير بن عَبْد الله البجلي الكوفي قِيْلَ اسمه كنيته، وَقِيْلَ: اسمه هرم،

=
হাদিস বিশারদগণ অনেক সময় সেই একই হাদিসগুলো পুনরায় শ্রবণ (سماع) করতেন যা তারা সেই শায়খের নিকট থেকে শুনেছিলেন, যেন তারা তার স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) ঘটেছে কি না তা জানতে ও নির্ধারণ করতে পারেন এবং স্মৃতিবিভ্রমের (اختلاط) সময়কাল নির্ণয় করতে পারেন; এই কারণেই হাম্মাদ ইবনে যাইদ (১) বলেছেন: "শু’বাহ কোনো হাদিস একবার শুনেই সন্তুষ্ট হতেন না, বরং তিনি বর্ণনাকারীর নিকট বারবার ফিরে যেতেন" (২)। এই পরিচ্ছেদে যা উল্লেখ করা হয় তার মধ্যে হাম্মাদ ইবনে যাইদ যা বলেছেন তা অন্যতম, তিনি বলেন: আমর ইবনে উবাইদ আল-আনসারি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুয যা’য়যা’আ (৩) —যিনি মারওয়ানের (৪) সচিব ছিলেন— আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মারওয়ান আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর নিকট লোক পাঠালেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন। আর তিনি আমাকে খাটের পেছনে বসালেন এমতাবস্থায় যে আমি তা লিখে নিচ্ছিলাম। যখন বছর পূর্ণ হলো, তখন তিনি তাকে পুনরায় ডেকে পাঠালেন এবং পর্দার আড়াল থেকে বসালেন। এরপর তিনি তাকে সেই লিখিত কিতাব থেকে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন; তিনি (আবু হুরায়রা) একটি শব্দও বৃদ্ধি বা হ্রাস করেননি এবং কোনো অংশ আগে বা পরে করেননি (৫)।

হাফিয আবু খাইসামা যুহাইর (৬) ইবনে হারব ‘কিতাবুল ইলম’-এ (৭) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারির (৮) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উমারা ইবনুল ক্বাক্বা’ (৯) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম (১০) আমাকে বলেছেন: তুমি আমার নিকট আবু যুর’আ (১১) থেকে বর্ণনা করো...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ ইবনে দিরহাম আল-আযদি আল-জাহযামি, আবু ইসমাইল আল-বাসরি: নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুপ্রতিষ্ঠিত (ثبت) ও ফকিহ (فقيه)। তিনি জারির ইবনে হাযিমের বংশের আযাদকৃত দাস ছিলেন। তিনি ৯৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাহযিবুল কামাল ২/২৭৪ (১৪৬৫), সিয়ারু আলামিন নুবালা ৭/৪৫৬ এবং আত-তাকরিব (১৪৯৮)।

(২) আল-জারহ ওয়াত তা’দিল ১/১৬৮।

(৩) তিনি হলেন সালিম আবুয যা’য়যা’আ, মারওয়ান ইবনুল হাকামের আযাদকৃত দাস এবং তার ও তার পুত্র আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের সচিব। তিনি আব্দুল মালিকের পত্রবিনিময় বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন এবং তাকে প্রহরী বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেছিলেন। তারিখে দামেস্ক ২০/৮৮। তারিখে বুখারি ৯/৩৩ (২৮৯) এবং আল-জারহ ওয়াত তা’দিল ৯/৩৭৫ (১৭৩৪)-এ ‘আবুয যা’যা’আ’ হিসেবে এসেছে।

(৪) তিনি হলেন মারওয়ান ইবনুল হাকাম ইবনে আবিল আস ইবনে উমাইয়্যাহ আল-কুরাশি আল-উমায়ি। হিজরতের দুই বছর পর, মতান্তরে চার বছর পর তার জন্ম হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তার সরাসরি শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত নয়। তিনি ৬৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাহযিবুল কামাল ৭/৭১ (৬৪৬২), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/২০৬ এবং আত-তাকরিব (৬৫৬৭)।

(৫) হাকেম এই ঘটনাটি আল-মুস্তাদরাক ৩/৫১০, ইবনে আসাকির তারিখে দামেস্ক ২০/৮৯ এবং الذهبي সিয়ারু আলামিন নুবালা ২/৫৯৮-এ বর্ণনা করেছেন।

(৬) তিনি হলেন আবু বকর আহমাদ ইবনে আবি খাইসামা যুহাইর ইবনে হারব, বংশগতভাবে নাসায়ি। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة), আলিম, সুনিপুণ (متقن), হাফিয (حافظ) এবং মানুষের ইতিহাস সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন। তিনি সাহিত্যের বর্ণনাকারী ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে ‘আত-তারিখ’ যা অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিন্যস্ত এবং অত্যন্ত উপকারী। তিনি ২৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তারিখে বাগদাদ ৪/১৬২, মুজামুল উদাবা ৩/৩৫-৩৬ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ১১/৪৯৩।

(৭) আল-ইলম: ১৬ (৫৬); তিরমিজি তার ইলালুস সাগির ৬/২৪০-এ আল-জামি-এর শেষে এটি তার থেকে নকল করেছেন।

(৮) তিনি হলেন জারির ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে কুরত আদ-দব্বি আল-কুফি, রাই নিবাসী: নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং নির্ভুল পাণ্ডুলিপির অধিকারী (صحيح الكتاب)। তিনি ১৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাহযিবুল কামাল ১/৪৪৭ ও ৪৫০ (৯০১), সিয়ারু আলামিন নুবালা ৯/৯ এবং আত-তাকরিব (৯১৬)।

(৯) তিনি হলেন উমারা ইবনুল ক্বাক্বা’ ইবনে শুবরুমাহ আদ-দব্বি আল-কুফি: নির্ভরযোগ্য (ثقة)।

সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/১৪০, তাহযিবুল কামাল ৫/৩২৯ (৪৭৮৫) এবং আত-তাকরিব (৪৮৫৯)।

(১০) তিনি হলেন ইমাম হাফিয ইবরাহিম ইবনে ইয়াযিদ ইবনে কাইস আন-নাখায়ি, আবু ইমরান আল-কুফি: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। তিনি ১৯৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাবাক্বাতে ইবনে সাদ ৬/২৭০, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৫২০ এবং আত-তাকরিব (২৭০)।

(১১) তিনি হলেন আবু যুর’আ ইবনে আমর ইবনে জারির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি আল-কুফি। বলা হয় তার উপনামই তার নাম, আবার বলা হয় তার নাম হারম।

=
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২১)
فإني سألته عَنْ حَدِيْث، ثُمَّ سألته عَنْهُ بَعْدَ سنتين فما أخرم (1) مِنْهُ حرفاً)).

وهذا نوع من أنواع الكشف عَنْ الخلل المتوقع طرؤه عَلَى المحدّث عِنْدَ تقدم السَّمَاع لَهُ، وكانت ثمة طرق أخرى للمحدّثين يستطيعون من خلالها الكشف عَنْ حال المحدّث، وهل طرأ لَهُ اختلاط في ما يرويه أَوْ بعض ما يرويه أم أنه حافظ ومتقن لما يروي ويحدّث؟

ومن طرق الْمُحَدِّثِيْنَ في مَعْرِفَة اختلاط الرُّوَاة: أن الناقد مِنْهُمْ كَانَ يدخل عَلَى الرَّاوِي ليختبره فيقلب عَلَيْهِ الأسانيد والمتون، ويلقنه ما ليس من روايته، فإن لَمْ ينتبه الشيخ لما يراد بِهِ فإنه يعد مختلطاً ويعزف الناس عَنْ الرِّوَايَة عَنْهُ، ومما يذكر في هَذِهِ البابة ما أسند إلى يحيى بن سعيد قَالَ: ((قدمت الكوفة وبها ابن عجلان (2) وبها ممن يطلب الْحَدِيْث: مليح بن وكيع (3) وحفص بن غياث (4) وعبد الله بن إدريس (5) ويوسف بن خالد السمتي (6)، فقلنا: نأتي ابن عجلان، فَقَالَ يوسف بن خالد: نقلب عَلَى هَذَا الشيخ حديثه، ننظر تفهُّمه، قَالَ: فقلبوا فجعلوا ما كَانَ عَنْ سعيد عَنْ أبيه، وما كَانَ عَنْ أبيه عَنْ سعيد، ثُمَّ جئنا إِلَيْهِ، لَكِنْ ابن إدريس تورّع وجلس بالبابِ وَقَالَ: لا استحلُّ وجلست مَعَهُ. ودخل حفص، ويوسف بن خالد، ومليح فسألوه فمرّ فِيْهَا، فلما كَانَ عِنْدَ

--------------------------------------------

=

وَقِيْلَ: عَمْرو: ثقة.

طبقات ابن سعد 6/ 297، وسير أعلام النبلاء 5/ 8، والتقريب (8103).

(1) أي: ما نقص وما غير، قَالَ في الصحاح 5/ 1910: ((ما خرمت مِنْهُ شَيْئاً، أي: ما نقصت وما قطعت))، وفي المعجم الوسيط 1/ 230: ((ويقال: ما خرم من الْحَدِيْث حرفاً: ما نقص، وفي حَدِيْث سعد: ما خرمت من صلاة رَسُوْل الله شَيْئاً)). وانظر: النهاية 2/ 27.

(2) هُوَ مُحَمَّد بن عجلان، أبو عَبْد الله القرشي: صدوق إلا أنه اختلطت عَلَيْهِ أحاديث أبي هُرَيْرَة، توفي سنة (148 هـ).

طبقات خليفة: 270، والتاريخ الكبير 1/ 196، والجرح والتعديل 8/ 49، والتقريب (6136).

(3) هُوَ مليح بن الجراح بن مليح الرؤاسي الكوفي أخو وكيع بن الجراح. التاريخ الكبير 8/ 10، والثقات 9/ 194 ..

(4) هُوَ حفص بن غياث بن طلق، أبو عمر النخعي: ثقة مأمون، توفي سنة (194 هـ). التاريخ ليحيى بن معين رِوَايَة الدوري 2/ 121، وطبقات ابن سعد 6/ 389، والجرح والتعديل 3/ 185.

(5) هُوَ أبو مُحَمَّد عَبْد الله بن إدريس الأودي: ثقة فقيه عابد، توفي سنة (192 هـ). تاريخ يحيى بن معين رِوَايَة الدوري 2/ 295، وطبقات ابن سعد 6/ 389، والتاريخ الكبير 5/ 47.

(6) هُوَ يوسف بن خالد السمتي، أبو خالد البصري، مولى صخر بن سهل، قَالَ النسائي: بصري متروك الْحَدِيْث، وكذّبه ابن معين، توفي سنة (189 هـ).

الكامل 8/ 490، وتهذيب الكمال 8/ 190 (7729)، والتقريب (7862).
কেননা আমি তাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, অতঃপর দুই বছর পর আমি তাকে তা পুনরায় জিজ্ঞাসা করি, তখন তিনি তার একটি অক্ষরও বাদ দেননি (১)।

হাদিস বিশারদগণের নিকট থেকে শ্রবণের (سماع) দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাদের মধ্যে যে ত্রুটি ঘটার সম্ভাবনা থাকে, তা উদঘাটন করার এটি একটি পদ্ধতি। হাদিস বিশারদগণের নিকট আরও কিছু পদ্ধতি ছিল যার মাধ্যমে তারা একজন বর্ণনাকারীর অবস্থা উন্মোচন করতে পারতেন যে, তিনি যা বর্ণনা করছেন তাতে কোনো বিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটেছে কি না, নাকি তিনি যা বর্ণনা করছেন ও হাদিস হিসেবে বলছেন তাতে তিনি হাফেজ (حافظ) ও অত্যন্ত নিপুণ (متقن)?

বর্ণনাকারীদের বিভ্রান্তি (اختلاط) নিরূপণে হাদিস বিশারদগণের একটি পদ্ধতি হলো: তাদের মধ্য থেকে কোনো সমালোচক (ناقد) বর্ণনাকারীর নিকট গিয়ে তাকে পরীক্ষা করতেন। তিনি তার সামনে সনদসমূহ (أسانيد) ও মতনসমূহ (متون) উল্টেপাল্টে দিতেন এবং তার বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিছু তাকে শিখিয়ে দিতেন, যদি শাইখ বিষয়টি লক্ষ্য না করেন, তবে তাকে বিভ্রান্ত (مختلط) হিসেবে গণ্য করা হতো এবং মানুষ তার থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা বর্জন করত। এ প্রসঙ্গে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করা যায়, তিনি বলেন: "আমি কুফায় আসলাম, সেখানে ইবনে আজলান (২) ছিলেন। যারা হাদিস অনুসন্ধান করছিলেন তাদের মধ্যে মালিহ ইবনুল জাররাহ (৩), হাফস ইবনে গিয়াস (৪), আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস (৫) এবং ইউসুফ ইবনে খালিদ আস-সামতি (৬) উপস্থিত ছিলেন। আমরা বললাম: চলো আমরা ইবনে আজলানের নিকট যাই। ইউসুফ ইবনে খালিদ বলল: চলো আমরা এই শাইখের হাদিসগুলো উল্টেপাল্টে দেখি এবং তার উপলব্ধির ক্ষমতা পরীক্ষা করি। তিনি বলেন: তারা হাদিসগুলো উল্টেপাল্টে দিল। সাঈদ থেকে তার পিতার সূত্রে যা বর্ণিত ছিল তা পিতার থেকে সাঈদের সূত্রে করে দিল। তারপর আমরা তার কাছে গেলাম। তবে ইবনে ইদ্রিস সতর্কতা অবলম্বন (تورع) করলেন এবং দরজায় বসে পড়লেন। তিনি বললেন: আমি একে হালাল মনে করি না। আমি তার সাথে বসে থাকলাম। হাফস, ইউসুফ ইবনে খালিদ এবং মালিহ ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং তাকে প্রশ্ন করলেন। তিনি সেই বিভ্রান্তিকর বর্ণনাগুলোই বলে যাচ্ছিলেন, যখন তিনি পৌঁছালেন...

--------------------------------------------

=

বলা হয়েছে: আমর: নির্ভরযোগ্য (ثقة)।

তাবাকাত ইবনে সাদ ৬/২৯৭, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৫/৮ এবং তাকরিব (৮১০৩)।

(১) অর্থাৎ: যা তিনি হ্রাস করেননি বা পরিবর্তন করেননি। 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে (৫/১৯১০) বলা হয়েছে: "আমি তা থেকে কিছুই বাদ দেইনি" অর্থাৎ আমি তা হ্রাস করিনি বা কর্তন করিনি। 'আল-মু'জামুল ওয়াসিত' গ্রন্থে (১/২৩০) বলা হয়েছে: "বলা হয়: তিনি হাদিসের একটি অক্ষরও বাদ দেননি: অর্থাৎ হ্রাস করেননি। সা'দ (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে: "আমি আল্লাহর রাসুলের সালাত থেকে কিছুই বাদ দেইনি"। আরও দেখুন: আন-নিহায়া ২/২৭।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আজলান, আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরাশি: সত্যবাদী (صدوق), তবে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসসমূহে তার বিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটেছিল। তিনি ১৪৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাবাকাত খলিফা: ২৭০, আত-তারিখুল কাবির ১/১৯৬, আল-জারহ ওয়াত-তাদিল ৮/৪৯ এবং তাকরিব (৬১৩৬)।

(৩) তিনি হলেন মালিহ ইবনুল জাররাহ ইবনে মালিহ আর-রুয়ানি আল-কুফি, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ-এর ভাই। আত-তারিখুল কাবির ৮/১০ এবং আস-সিকাত ৯/১৯৪।

(৪) তিনি হলেন হাফস ইবনে গিয়াস ইবনে তালক, আবু উমর আন-নাখায়ি: নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও আমানতদার (مأمون)। তিনি ১৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখ ইয়াহইয়া ইবনে মাইন রিওয়ায়াতুদ দুরি ২/১২১, তাবাকাত ইবনে সাদ ৬/৩৮৯ এবং আল-জারহ ওয়াত-তাদিল ৩/১৮৫।

(৫) তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আল-আওদি: নির্ভরযোগ্য (ثقة), ফকিহ (فقيه) ও ইবাদতগুজার (عابد)। তিনি ১৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখ ইয়াহইয়া ইবনে মাইন রিওয়ায়াতুদ দুরি ২/২৯৫, তাবাকাত ইবনে সাদ ৬/৩৮৯ এবং আত-তারিখুল কাবির ৫/৪৭।

(৬) তিনি হলেন ইউসুফ ইবনে খালিদ আস-সামতি, আবু খালিদ আল-বাসরি, সাখর ইবনে সহলের মুক্তদাস। আন-নাসায়ি বলেন: তিনি বসরাবাসী, যার হাদিস পরিত্যক্ত (متروك الحديث)। ইবনে মাইন তাকে মিথ্যাবাদী (كذاب) বলেছেন। তিনি ১৮৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-কামিল ৮/৪৯০, তাহজিবুল কামাল ৮/১৯০ (৭৭২৯) এবং তাকরিব (৭৮৬২)।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২২)
آخر الكتاب انتبه الشيخ فَقَالَ: أعد العرض (1)، فعرض عَلَيْهِ فَقَالَ: ما سألتموني عَنْ أبي فَقَدْ حَدَّثَنِي سعيد بِهِ، وما سألتموني عَنْ سعيد فَقَدْ حَدَّثَنِي بِهِ أبي، ثُمَّ أقبل عَلَى يوسف بن خالد فَقَالَ: إن كُنْتَ أردت شيني وعيبِي فسلبك الله الإسلام، وأقبل عَلَى حفص فَقَالَ: ابتلاك الله في دينك ودنياك، وأقبل عَلَى مليح فَقَالَ: لا نفع الله بعلمك. قَالَ يحيى: فمات مليح وَلَمْ ينتفع بِهِ، وابتلي حفص في بدنه بالفالج (2) وبالقضاء في دينه، وَلَمْ يمت يوسف حَتَّى اتُّهمَ بالزندقة (3).

وعلى الرغم من اختلاف العلماء في جواز ذَلِكَ وعدمه (4)، إلاّ أنهم استطاعوا أن يحددوا في كثير من الأحيان الفترة الزمنية الَّتِيْ دخل فِيْهَا الاختلاط عَلَى هَذَا الرَّاوِي، كَمَا حددوا اختلاط إسحاق بن راهويه (5) بخمسة أشهر، فَقَالَ أبو داود (6): ((تغيّر قَبْلَ أن يموت بخمسة أشهر، وسمعتُ مِنْهُ في تِلْكَ الأيام فرميت)) (7). وكذلك حددوا وقت اختلاط جرير بن حازم (8)، قَالَ أبو حاتم (9): ((تغيّر قَبْلَ موته

--------------------------------------------

(1) العرض: هُوَ القراءة عَلَى المحدث. انظر: مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث: طبعة نور الدين: 122، و294 طبعتنا.

(2) قَالَ في المعجم الوسيط 2/ 699: ((شلل يصيب أحد شقي الجسم طولاً))، وانظر: اللسان 2/ 155، وتاج العروس 6/ 159 (فلج).

(3) أسنده الرامهرمزي في المحدّث الفاصل: 398 - 399 (408).

(4) قَالَ المعلمي في التنكيل 1/ 236: ((والتلقين: هُوَ أن يوقع الشيخ في الكذب ولا يبين، فإن كَانَ إنما فعل ذَلِكَ امتحاناً للشيخ وبيّن ذَلِكَ في المجلس لَمْ يضره))

وسيأتي الْحَدِيْث عَنْ هَذَا في الفصل مبحث القلب، الصفحة.

(5) إسحاق بن إبراهيم بن مُحَمَّد الحنظلي، المروزي، أَبُو يعقوب المعروف بابن راهويه، الإِمَام الحَافِظ الكبير، محدث خراسان سكن نيسابور، قرين أحمد بن حنبل، ولد سنة (161 هـ)، وَقِيْلَ: (166 هـ)، ومات سنة (238 هـ)، لَهُ " المسند ". انظر: حلية الأولياء 9/ 234، وسير أعلام النبلاء 11/ 358، وطبقات الفقهاء: 108.

(6) هُوَ سليمان بن الأشعث بن شداد الأزدي السجستاني صاحب السنن، وَقَالَ إبراهيم الحربي: ألين لأبي داود الْحَدِيْث كَمَا ألين لداود الحديد، ولد سنة (202 هـ)، وتوفي سنة (275 هـ).

وفيات الأعيان 2/ 404، وسير أعلام النبلاء 13/ 203، والعبر 2/ 60.

(7) تاريخ بغداد 6/ 355. وانظر: تهذيب الكمال 6/ 353، وميزان الاعتدال 1/ 183، والمختلطين: 9 (6)، والاغتباط: 3 (8)، والكواكب النيرات: 89 (4).

(8) هُوَ جرير بن حازم بن زيد الأزدي، أبو النضر البصري: ثقة لَكِنْ في حديثه عن قتادة ضعف وله أوهام إِذَا حدّث من حفظه. الجرح والتعديل 2/ 504، وسير أعلام النبلاء 7/ 98، والتقريب (911).

(9) هُوَ الإمام البارع مُحَمَّد بن إدريس، أبو حاتم الرازي الحنظلي صاحب العلل ولد سنة (195 هـ)، وتوفي سنة (277 هـ).

=
বইটির শেষে শায়খ সচেতন হলেন এবং বললেন: "উপস্থাপন (العرض) পুনরায় করো (১)," ফলে তাঁর কাছে তা পুনরায় পেশ করা হলো। তিনি বললেন: "তোমরা আমার পিতা সম্পর্কে আমাকে যা জিজ্ঞাসা করেছ, সাঈদ তা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আর সাঈদ সম্পর্কে তোমরা যা জিজ্ঞাসা করেছ, আমার পিতা তা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।" এরপর তিনি ইউসুফ বিন খালিদের দিকে ফিরে বললেন: "যদি তুমি আমাকে লাঞ্ছিত ও দোষী করতে চেয়ে থাকো, তবে আল্লাহ যেন তোমার থেকে ইসলাম ছিনিয়ে নেন।" তিনি হাফসের দিকে ফিরে বললেন: "আল্লাহ যেন তোমাকে তোমার দ্বীন ও দুনিয়ায় পরীক্ষায় ফেলেন।" এবং মালিহ-এর দিকে ফিরে বললেন: "আল্লাহ যেন তোমার জ্ঞান দ্বারা কোনো উপকার না করেন।" ইয়াহইয়া বলেন: এরপর মালিহ মারা গেলেন এবং তার দ্বারা কোনো উপকার সাধিত হয়নি। হাফস তার শরীরে পক্ষাঘাত (فالج) (২) রোগে এবং বিচারকার্যের মাধ্যমে তার দ্বীনের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় পতিত হলেন। আর ইউসুফ মারা যাওয়ার আগেই ধর্মদ্রোহিতার (زندقة) (৩) অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন।

এবং যদিও আলেমদের মধ্যে এটি বৈধ হওয়া বা না হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে (৪), তবে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই বর্ণনাকারী কখন স্মৃতিবিভ্রমের (الاختلاط) শিকার হয়েছেন, সেই সময়কাল নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। যেমন তারা ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-এর (৫) স্মৃতিবিভ্রমের (الاختلاط) সময়কাল পাঁচ মাস নির্ধারণ করেছেন। আবু দাউদ (৬) বলেন: "মৃত্যুর পাঁচ মাস আগে তিনি পরিবর্তিত হয়েছিলেন, আমি সেই দিনগুলোতে তাঁর থেকে শুনেছিলাম কিন্তু তা বর্জন করেছি" (৭)। তদ্রূপ তারা জারীর বিন হাযিমের (৮) স্মৃতিবিভ্রমের (الاختلاط) সময়কালও নির্ধারণ করেছেন। আবু হাতিম (৯) বলেন: "তিনি তাঁর মৃত্যুর আগে পরিবর্তিত হয়েছিলেন...

--------------------------------------------

(১) উপস্থাপন (العرض): এটি হলো মুহাদ্দিস (محدث)-এর নিকট পাঠ করা। দেখুন: মা’রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস: নূরুদ্দিন সংস্করণ: ১২২, এবং আমাদের সংস্করণ ২৯৪।

(২) আল-মু’জাম আল-ওয়াসীত ২/৬৯৯-এ বলা হয়েছে: "শরীরের এক পাশের দীর্ঘস্থায়ী পক্ষাঘাত।" আরও দেখুন: লিসান ২/১৫৫ এবং তাজুল আরুস ৬/১৫৯ (ফলজ)।

(৩) আর-রামাহুরমুযী এটি আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল: ৩৯৮ - ৩৯৯ (৪০৮) এ বর্ণনা করেছেন।

(৪) আল-মুয়াল্লিমী আত-তানকীল ১/২৩৬-এ বলেছেন: "তালকিন (التلقين): এটি হলো শায়খকে মিথ্যার মধ্যে পতিত করা অথচ তিনি তা বুঝতে পারেন না। যদি এটি কেবল শায়খকে পরীক্ষা করার জন্য করা হয় এবং মজলিসেই তা প্রকাশ করে দেওয়া হয়, তবে তা তাঁর কোনো ক্ষতি করবে না।"

অচিরেই এই বিষয়ে 'কালব' (القلب) পরিচ্ছেদের আলোচনায় বিবরণ আসবে।

(৫) ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-হানজালি, আল-মারওয়াযী, আবু ইয়াকুব যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত। তিনি মহান ইমাম ও হাফেজ (الحافظ), খোরাসানের মুহাদ্দিস (محدث), নিশাপুরে বসবাস করতেন। তিনি আহমাদ বিন হাম্বলের সমসাময়িক ছিলেন। তিনি ১৬১ হিজরি (মতান্তরে ১৬৬ হিজরি) সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৩৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "মুসনাদ"। দেখুন: হিলয়াতুল আউলিয়া ৯/২৩৪, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১১/৩৫৮ এবং তাবাকাতুল ফুকাহা: ১০৮।

(৬) তিনি সুলাইমান বিন আশ’আস বিন শাদ্দাদ আল-আযদি আস-সিজিস্তানি, সুনান গ্রন্থের লেখক। ইব্রাহিম আল-হারবি বলেছেন: আবু দাউদের জন্য হাদিসকে তেমনি নরম করে দেওয়া হয়েছে যেমন দাউদ (আ.)-এর জন্য লোহাকে নরম করা হয়েছিল। তিনি ২০২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

ওফায়াতুল আ’য়ান ২/৪০৪, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১৩/২০৩ এবং আল-ইবার ২/৬০।

(৭) তারিখ বাগদাদ ৬/৩৫৫। আরও দেখুন: তাহযিবুল কামাল ৬/৩৫৩, মীযানুল ইতিদাল ১/১৮৩, আল-মুখতালিতিন: ৯ (৬), আল-ইগতিবাত: ৩ (৮) এবং আল-কাওয়াকিবু আন-নিইয়ারাত: ৮৯ (৪)।

(৮) তিনি জারীর বিন হাযিম বিন যাইদ আল-আযদি, আবু আন-নাদর আল-বাসরি: নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে কাতাদাহ থেকে তাঁর বর্ণিত হাদিসে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে এবং যখন তিনি মুখস্থ বর্ণনা করতেন তখন তাঁর কিছু ভ্রান্তি (أوهام) হতো। আল-জারহ ওয়াত তাদীল ২/৫০৪, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৭/৯৮ এবং আত-তাক্বরীব (৯১১)।

(৯) তিনি বিদগ্ধ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদরিস, আবু হাতিম আর-রাজি আল-হানজালি, ইলাল (العلل) বিষয়ক গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি ১৯৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

=
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
بسنة)) (1). وحددوا وقت اختلاط سعيد بن أبي سعيد المقبري (2)، قَالَ ابن سعد (3): ((ثقة، إلا أنه اختلط قَبْلَ موته بأربع سنين)) (4).

وعلى الرغم من احتياطات الْمُحَدِّثِيْنَ وإمعانهم في تحديد وقت الاختلاط، فإنهم لَمْ يتمكنوا من تحديد الساعات الأولى لبدء الاختلاط، فالاختلاط - كَمَا سبق - آفة عقلية تبدأ بسيطة ثُمَّ تكبر شَيْئاً فشيئاً، ويتعاظم أمرها بالتدريج، وفي هَذِهِ الفترة الواقعة بَيْنَ بداية الاختلاط وظهوره وتفشيه، يَكُوْن المختلط قَدْ رَوَى أحاديث تناقلها الرُّوَاة عَنْهُ، من غَيْر أن يعرفوا اختلاطه حين أخذهم عَنْهُ، ولربما كَانَ هَذَا الأمر سبباً في دخول الاختلاف والاضطراب في بعض أحاديث الثقات.

غَيْر أن علماء الْحَدِيْث رحمهم الله لَمْ يتركوا قضية الاختلاط والمختلطين عَلَى عواهنها، بَلْ إنهم نقبوا وفتشوا أحوال الرُّوَاة جيدا، وقسموا الرُّوَاة عَنْ المختلطين عَلَى أربعة أقسام:

الأول: الَّذِيْنَ رووا عَنْ المختلط قَبْلَ اختلاطه.

الثاني: الَّذِيْنَ رووا عَنْهُ بَعْدَ اختلاطه.

الثالث: الَّذِيْنَ رووا عَنْهُ قَبْلَ الاختلاط وبعده، وَلَمْ يميزوا هَذَا من هَذَا.

الرابع: الَّذِيْنَ رووا عَنْهُ قَبْلَ اختلاطه وبعده وميزوا هَذَا من هَذَا.

ووضعوا حكماً لكل قسم من هَذِهِ الأقسام: فمن رَوَى عَنْ المختلط قَبْلَ الاختلاط قبلت روايته عَنْهُ، ومن رَوَى عَنْهُ قَبْلَ الاختلاط وبعده، وميز ما سَمِعَ قَبْلَ

--------------------------------------------

=

تاريخ بغداد 2/ 73، وسير أعلام النبلاء 13/ 247، والعبر 2/ 64.

(1) الجرح والتعديل 2/ 505 الترجمة (2079)، وانظر: المختلطين: 16 (8)، والاغتباط: 46 (17)، والكواكب النيرات: 111 (11).

(2) الإِمَام المحدّث الثقة: أبو سعد سعيد بن أبي سعيد كيسان الليثي، مولاهم، المدني المقبري، كَانَ يسكن بمقبرة البقيع ونسب إِلَيْهَا. توفي سنة (225 هـ) وَقِيْلَ سنة (223 هـ) وَقِيْلَ غَيْر ذَلِكَ وَكَانَ من أبناء التسعين.

انظر: تهذيب الكمال 3/ 166، وسير أعلام النبلاء 5/ 216، وميزان الاعتدال 2/ 139.

(3) مُحَمَّد بن سعد بن منيع، الحَافِظ، أبو عَبْد الله وَقِيْلَ: أبو سعد، البصري، كاتب الواقدي، سكن بغداد وظهرت فضائله، وَكَانَ كَثِيْر الْحَدِيْث والرواية كَثِيْر الكتب صنف كتاباً كبيراً في طبقات الصَّحَابَة والتابعين والخالفين إِلَى وقته، توفي سنة (230 هـ).

تاريخ بغداد 5/ 321، وتهذيب الكمال 6/ 320 (5828)، وتاريخ الاسلام: 355 وفيات (230 هـ).

(4) الطبقات الكبرى (القسم المتمم): 147. وانظر: سير أعلام النبلاء 5/ 217، والمختلطين: 39 (17)، والاغتباط: 61 (44).
বছরে)) (১)। এবং তারা সাঈদ বিন আবু সাঈদ আল-মাকবুরি-র বিভ্রান্তির (اختلاط) সময় নির্ধারণ করেছেন (২), ইবনে সাদ (৩) বলেছেন: ((তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে মৃত্যুর চার বছর আগে তিনি বিভ্রান্তিতে (اختلاط) আক্রান্ত হন)) (৪)।

হাদিস বিশারদগণের (المحدثون) সতর্কতা এবং বিভ্রান্তির (اختلاط) সময় নির্ধারণে তাদের গভীর মনোনিবেশ সত্ত্বেও, তারা বিভ্রান্তি (اختلاط) শুরু হওয়ার একদম প্রাথমিক মুহূর্তগুলো নির্ধারণ করতে সক্ষম হননি। কেননা বিভ্রান্তি (اختلاط) — যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে — একটি মানসিক ব্যাধি যা সামান্য আকারে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং ক্রমান্বয়ে তা গুরুতর রূপ ধারণ করে। বিভ্রান্তি (اختلاط) শুরু হওয়া এবং তা প্রকাশ পাওয়া ও ছড়িয়ে পড়ার মধ্যবর্তী এই সময়ে বিভ্রান্ত (مختلط) ব্যক্তি এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করে থাকেন যা বর্ণনাকারীরা (الرواة) তার থেকে গ্রহণ করেন, অথচ তারা তার নিকট থেকে গ্রহণের সময় তার বিভ্রান্তি (اختلاط) সম্পর্কে অবগত থাকেন না। সম্ভবত এই বিষয়টিই নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের কিছু হাদিসে মতভেদ (اختلاف) এবং অসংগতি (اضطراب) প্রবেশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) বিভ্রান্তি (اختلاط) এবং বিভ্রান্তিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের (المختلطون) বিষয়টিকে অবহেলায় ছেড়ে দেননি; বরং তারা বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত করেছেন এবং বিভ্রান্ত (المختلطون) ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনাকারীদের (الرواة) চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম: যারা বিভ্রান্ত (مختلط) ব্যক্তি থেকে তার বিভ্রান্তি (اختلاط) শুরু হওয়ার আগে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়: যারা তার থেকে বিভ্রান্তি (اختلاط) শুরু হওয়ার পর বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয়: যারা তার থেকে বিভ্রান্তি (اختلاط) শুরু হওয়ার আগে ও পরে উভয় সময়ে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু কোনটি আগে এবং কোনটি পরে তা পৃথক করতে পারেননি।

চতুর্থ: যারা তার থেকে বিভ্রান্তি (اختلاط) শুরু হওয়ার আগে ও পরে উভয় সময়ে বর্ণনা করেছেন এবং কোনটি আগে এবং কোনটি পরে তা পৃথক করতে পেরেছেন।

এবং তারা এই বিভাগগুলোর প্রত্যেকটির জন্য হুকুম বা বিধান নির্ধারণ করেছেন: সুতরাং যে ব্যক্তি বিভ্রান্ত (مختلط) ব্যক্তি থেকে তার বিভ্রান্তি (اختلاط) শুরু হওয়ার আগে বর্ণনা করেছেন, তার থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে। আর যে ব্যক্তি তার থেকে বিভ্রান্তি (اختلاط) শুরু হওয়ার আগে ও পরে বর্ণনা করেছেন এবং বিভ্রান্তির (اختلاط) আগে যা শুনেছেন তা পৃথক করেছেন

--------------------------------------------

=

তারিখ বাগদাদ ২/ ৭৩, এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৩/ ২৪৭, এবং আল-ইবার ২/ ৬৪।

(১) আল-জারহ ওয়া আল-তাদিল ২/ ৫০৫ অনুবাদ (২০৭৯), এবং দেখুন: আল-মুকতালিদিন: ১৬ (৮), এবং আল-ইগতিবাত: ৪৬ (১৭), এবং আল-কাওয়াকিবু আল-নাইয়িরাত: ১১১ (১১)।

(২) ইমাম, হাদিস বিশারদ (محدث), নির্ভরযোগ্য (ثقة): আবু সাদ সাঈদ বিন আবু সাঈদ কায়সান আল-লাইসি, তাদের মুক্তদাস, মদিনার মাকবুরি, তিনি বাকী কবরস্থানে বসবাস করতেন এবং সেই সূত্রে মাকবুরি হিসেবে পরিচিত হন। তিনি ২২৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, কারো মতে ২২৩ হিজরি, আবার ভিন্ন মতও রয়েছে এবং তিনি নব্বই বছরের ঊর্ধ্বে ছিলেন।

দেখুন: তাহজিবুল কামাল ৩/ ১৬৬, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৫/ ২১৬, মিজানুল ইতিদাল ২/ ১৩৯।

(৩) মুহাম্মাদ বিন সাদ বিন মানি', হাফেজ (حافظ), আবু আব্দুল্লাহ, মতান্তরে: আবু সাদ, বসরি, ওয়াকিদি-র লেখক, বাগদাদে বসবাস করতেন এবং তার জ্ঞান ও গুণাবলী বিকশিত হয়। তিনি প্রচুর হাদিস জানতেন এবং তার বর্ণনা ও গ্রন্থ সংখ্যাও অনেক ছিল, তিনি সাহাবী, তাবেয়ী এবং তার সময়কাল পর্যন্ত পরবর্তী ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে 'তাবাকাত' নামে একটি বিশাল গ্রন্থ রচনা করেন, ২৩০ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তারিখ বাগদাদ ৫/ ৩২১, তাহজিবুল কামাল ৬/ ৩২০ (৫৮২৮), তারিখুল ইসলাম: ৩৫৫, ইন্তেকাল (২৩০ হিজরি)।

(৪) আল-তাবাকাতুল কুবরা (পরিপূরক অংশ): ১৪৭। এবং দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ৫/ ২১৭, আল-মুকতালিদিন: ৩৯ (১৭), এবং আল-ইগতিবাত: ৬১ (৪৪)।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
الاختلاط قُبِلَ، وَلَمْ يُقبل ما سَمِعَ بَعْدَ الاختلاط، ومن لَمْ يميز حديثه أو سَمِعَ بَعْدَ الاختلاط لَمْ تقبل روايته (1).

ولعل الحافظ العراقي كَانَ أشمل في بيان الحكم من غيره، إِذْ قَالَ: ((ثُمَّ الحكم فيمن اختلط أنه لا يقبل من حديثه ما حدّث بِهِ في حال الاختلاط، وكذا ما أبهم أمره وأشكل، فَلَمْ ندرِ أحدّث بِهِ قَبْلَ الاختلاط أو بعده؟ وما حدث بِهِ قَبْلَ الاختلاط قُبِلَ، وإنما يتميز ذَلِكَ باعتبار الرُّوَاة عَنْهُمْ، فمنهم من سَمِعَ مِنْهُمْ قَبْلَ الاختلاط فَقَطْ، ومنهم من سَمِعَ بعده فَقَطْ، ومنهم من سَمِعَ في الحالين، وَلَمْ يتميز)) (2).

وَقَدْ قسّم الْمُحَدِّثُوْنَ المختلطين من حَيْثُ تأثير الاختلاط في قبول مروياتهم عَلَى ثلاثة أقسام قَالَ العلائي (3): ((أما الرُّوَاة الَّذِيْنَ حصل لَهُمْ الاختلاط في آخر عمرهم فهم عَلَى ثلاثة أقسام:

أحدها: من لَمْ يوجب ذَلِكَ لَهُ ضعفاً أصلاً، وَلَمْ يحط من مرتبته؛ إما لقصر مدة الاختلاط وقلَّتِهِ كسفيان بن عيينة (4)، وإسحاق بن إبراهيم بن راهويه، وهما من أئمة الإسلام المتفق عليهم؛ وإما لأنه لَمْ يروِ شيئاً حال اختلاطه، فسلم حديثه من الوهم كجرير بن حازم، وعفان بن مُسْلِم (5)، ونحوهما.

ثانيها: من كَانَ مُتَكلَّماً فِيْهِ قَبْلَ الاختلاط، فَلَمْ يحصل من الاختلاط إلا زيادة في ضعفه؛ كابن لهيعة (6)، ومحمد بن جابر السُّحيمي (7)، ونحوهما.

--------------------------------------------

(1) مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث: 354، وفي طبعتنا: 494، والإرشاد، للنووي 2/ 788، والتقريب، لَهُ: 198، وطبعتنا: 275، والمنهل الروي: 137، واختصار علوم الْحَدِيْث: 244، والشذا الفياح 2/ 744، والمقنع 2/ 663، والعواصم 3/ 101 - 103، وفتح المغيث 3/ 277، وفتح الباقي 3/ 264 الطبعة العلمية و 2/ 323 طبعتنا، وتدريب الراوي 2/ 372، وتوضيح الأفكار 2/ 502.

(2) شرح التبصرة والتذكرة الطبعة العلمية 3/ 264، وفي طبعتنا 2/ 329.

(3) هُوَ خليل بن كيكلدي بن عَبْد الله العلائي الدمشقي، محدث فاضل، ولد في دمشق سنة (694 هـ)، وتوفي في القدس سنة (761 هـ)، من مصنفاته " جامع التحصيل " و " نظم الفرائد " وغيرهما. شذرات الذهب 6/ 190، والأعلام 2/ 321 - 322.

(4) ينظر في هَذَا مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث: 497، مع التعليق عَلَيْهِ.

(5) هُوَ أبو عثمان، عفان بن مُسْلِم بن عَبْد الله الصفار البصري سكن بغداد: ثقة، توفي سنة (219 هـ)، وَقِيْلَ: (220 هـ). الثقات 8/ 522، وتهذيب الكمال 5/ 187 (4553)، وتهذيب التهذيب 7/ 230.

(6) هُوَ أَبُو عَبْد الرحمان المصري، عَبْد الله بن لهيعة بن عقبة الحضرمي الفقيه، قاضي مصر: صدوق، احترقت كتبه فحدّث من حفظه فأخطأ، توفي سنة (174 هـ). تهذيب الكمال 4/ 252 (3501)، والعبر 1/ 264، والتقريب (3563).

(7) هُوَ مُحَمَّد بن جابر بن سيار السحيمي الحنفي، أَبُو عَبْد الله اليمامي، أصله كوفيٌّ، وَكَانَ أعمى، قَالَ عَنْهُ البخاري: ليس بالقوي، يتكلمون فِيْهِ، رَوَى مناكير، توفي سنة بضع وسبعين ومئة.

=
স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটার পূর্বের বর্ণনা গৃহীত (مقبول) হবে, আর স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটার পর যা শ্রবণ করা হয়েছে তা গ্রহণ করা হবে না। আর যার বর্ণিত হাদিস পৃথক করা সম্ভব হয়নি অথবা যে ব্যক্তি স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটার পর শ্রবণ করেছে, তার বর্ণনা (رواية) গৃহীত হবে না (১)।

সম্ভবত হাফেজ (الحافظ) আল-ইরাকি বিধান (حكم) বর্ণনার ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় অধিক পূর্ণাঙ্গ ছিলেন; কেননা তিনি বলেছেন: "অতঃপর যার স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটেছে তার ব্যাপারে বিধান (حكم) হলো, স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) থাকাকালীন সে যা বর্ণনা করেছে তা গৃহীত হবে না। অনুরূপভাবে যার অবস্থা অস্পষ্ট এবং সংশয়পূর্ণ, ফলে আমরা জানতে পারিনি যে তিনি তা স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটার আগে বর্ণনা করেছেন নাকি পরে? আর যা তিনি স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটার আগে বর্ণনা করেছেন তা গৃহীত হবে। আর এটি কেবল তাদের থেকে বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থার প্রেক্ষিতেই পৃথক করা সম্ভব। কেননা তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা কেবল স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটার আগেই তাদের থেকে শ্রবণ করেছেন, আবার কেউ কেবল এর পরেই শ্রবণ করেছেন, আর কেউ উভয় অবস্থাতেই শ্রবণ করেছেন এবং তা পৃথক করা সম্ভব হয়নি" (২)।

মুহাদ্দিসগণ স্মৃতিবিভ্রান্ত (مختلط) ব্যক্তিদের বর্ণনাসমূহ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্মৃতিবিভ্রান্তির (اختلاط) প্রভাব অনুযায়ী তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। আল-আলাঈ (৩) বলেছেন: "যেসকল বর্ণনাকারীর (رواة) শেষ বয়সে স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটেছে তারা তিন প্রকারের:

প্রথমত: যাদের ক্ষেত্রে এটি আদপে কোনো দুর্বলতা (ضعف) সৃষ্টি করেনি এবং তাদের মর্যাদা (مرتبة) ক্ষুণ্ণ করেনি; হয় স্মৃতিবিভ্রান্তির (اختلاط) সময়কাল সংক্ষিপ্ত হওয়া এবং এর স্বল্পতার কারণে, যেমন সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ (৪) এবং ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন রাহওয়ায়ি—তাঁরা উভয়েই ইসলামের সর্বসম্মত ইমামদের অন্তর্ভুক্ত; অথবা এ কারণে যে তিনি তার স্মৃতিবিভ্রান্তির (اختلاط) অবস্থায় কোনো কিছু বর্ণনা করেননি, ফলে তার হাদিস ভ্রম (وهم) থেকে সুরক্ষিত ছিল, যেমন জারির বিন হাযিম, আফফান বিন মুসলিম (৫) এবং তাঁদের অনুরূপ বর্ণনাকারীগণ।

দ্বিতীয়ত: যার ব্যাপারে স্মৃতিবিভ্রান্তি (اختلاط) ঘটার আগেই সমালোচনা (متكلم فيه) বিদ্যমান ছিল, ফলে স্মৃতিবিভ্রান্তির (اختلاط) কারণে কেবল তার দুর্বলতাই (ضعف) বৃদ্ধি পেয়েছে; যেমন ইবনে লাহিয়াহ (৬), মুহাম্মদ বিন জাবির আস-সুহায়মি (৭) এবং তাঁদের অনুরূপ বর্ণনাকারীগণ।

--------------------------------------------

(১) মা'রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস: ৩৫৪, আমাদের সংস্করণে: ৪৯৪; আল-ইরশাদ, আন-নববী ২/৭৮৮; আত-তাকরিব, আন-নববী: ১৯৮, আমাদের সংস্করণে: ২৭৫; আল-মানহালুর রওয়ি: ১৩৭; ইখতিসারু উলুমিল হাদিস: ২৪৪; আশ-শাযাল ফাইয়াহ ২/৭৪৪; আল-মুকনি ২/৬৬৩; আল-আওয়াসিম ৩/১০১ - ১০৩; ফাতহুল মুগীস ৩/২৭৭; ফাতহুল বাক্বী ৩/২৬৪ (ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) এবং ২/৩২৩ (আমাদের সংস্করণ); তাদরীবুর রাবী ২/৩৭২; তাওদীহুল আফকার ২/৫০২।

(২) শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ (ইলমিয়্যাহ সংস্করণ) ৩/২৬৪, আমাদের সংস্করণে ২/৩২৯।

(৩) তিনি হলেন খলীল বিন কায়কালদী বিন আব্দুল্লাহ আল-আলাঈ আদ-দিমাশকী, একজন বিজ্ঞ মুহাদ্দিস। তিনি ৬৯৪ হিজরিতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৬১ হিজরিতে কুদসে মৃত্যুবরণ করেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে "জামি'উত তাহসীল" এবং "নাযমুল ফারাইদ" ইত্যাদি। শাযারাতুয যাহাব ৬/১৯০; আল-আ'লাম ২/৩২১ - ৩২২।

(৪) এ বিষয়ে মা'রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস: ৪৯৭-এর টীকাসহ দ্রষ্টব্য।

(৫) তিনি হলেন আবু উসমান, আফফান বিন মুসলিম বিন আব্দুল্লাহ আস-সাফফার আল-বাসরী, বাগদাদে বসবাস করতেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), ২১৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ২২০ হিজরি। আস-সিক্বাত ৮/৫২২; তাহযীবুল কামাল ৫/১৮৭ (৪৫৫৩); তাহযীবুত তাহযীব ७/২৩০।

(৬) তিনি হলেন আবু আব্দুর রহমান আল-মিসরী, আব্দুল্লাহ বিন লাহিয়াহ বিন উকবাহ আল-হাদরামি আল-ফকিহ, মিসরের বিচারক: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তার কিতাবসমূহ পুড়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি তার স্মৃতি থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং ভুল (أخطأ) করতেন। তিনি ১৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাহযীবুল কামাল ৪/২৫২ (৩৫০১); আল-ইবার ১/২৬৪; আত-তাকরিব (৩৫৬৩)।

(৭) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন জাবির বিন সাইয়্যার আস-সুহায়মি আল-হানাফি, আবু আব্দুল্লাহ আল-ইয়ামামি, তার আদি নিবাস কুফা। তিনি অন্ধ ছিলেন। বুখারি তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি শক্তিশালী (قوي) নন, তার ব্যাপারে সমালোচনা (متكلم فيه) রয়েছে, তিনি প্রত্যাখ্যাত (منكر) বর্ণনা করেছেন। তিনি একশ সত্তর হিজরির কিছুকাল পরে মৃত্যুবরণ করেন।

=
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثالثها: من كَانَ محتجاً بِهِ، ثُمَّ اختلط، أو عُمِّر في آخر عمره، فحصل الاضطراب فِيْمَا رَوَى بَعْدَ ذَلِكَ، فيتوقف الاحتجاج بِهِ عَلَى التمييز بَيْنَ ما حدّث بِهِ قَبْلَ الاختلاط عما رَوَاهُ بَعْدَ ذَلِكَ)) (1).

 

‌‌رابعاً. ذهاب البصر:

من المعروف في بَدَائِهِ علم الْحَدِيْث أنّ الضبط شرط أساسي في صحة الْحَدِيْث النبوي الشريف (2)، والضبط: هُوَ إتقان ما يرويه الرَّاوِي بأن يَكُوْن متيقظاً لما يروي غَيْر مغفل، حافظاً لروايته إن رَوَى من حفظه، ضابطاً لكتابه إن رَوَى من الكتاب، عالماً بمعنى ما يرويه، وبما يحيل المعنى عَنْ المراد إن روى بالمعنى (3)، حَتَّى يثق المطّلع عَلَى روايته والمتتبع لأحواله بأنه أدى الأمانة كَمَا تحملها، لَمْ يغير مِنْهَا شَيْئاً، وهذا مناط التفاضل بَيْنَ الرُّوَاة الثقات، فإذا كَانَ الرَّاوِي عدلاً ضابطاً سمي ثقةً (4). ويعرف ضبطه بموافقة الثقات الضابطين المتقنين إذا اعتبر حديثه بحديثهم، ولا تضر مخالفته النادرة لَهُمْ، فإن كثرت مخالفته لَهُمْ، وندرت الموافقة، اختل ضبطه وَلَمْ يحتج بحديثه (5).

والضبط نوعان: ظاهر وباطن.

فالظاهر من حَيْثُ اللغة. والباطن: ضبط معناه من حَيْثُ تعلق الحكم الشرعي بِهِ، وَهُوَ الفقه. ومطلق الضبط الَّذِيْ هُوَ شرط الرَّاوِي، هُوَ الضبط ظاهراً عِنْدَ الأكثر؛ لأنه يجوز نقل الْحَدِيْث بالمعنى عِنْدَ الكثير (6) من العلماء (7).

فمما تقدم نستخلص أن الضبط قسمان: ضبط صدر، وضبط كتاب. وضابط الكتاب يحتاج أن يقرأ كتابه من أجل الرِّوَايَة والمقابلة، وضابط الصدر يحتاج إلى أن يعاود حفظه وكتابه من أجل ضبط مروياته، وربما يمكن أن يحصل هَذَا لبعض الرُّوَاة

--------------------------------------------

=

تهذيب الكمال 6/ 259 - 260 (5699)، وسير أعلام النبلاء 8/ 238، والتقريب (5777).

(1) كتاب المختلطين: 3.

(2) انظر: شرح التبصرة والتذكرة الطبعة العلمية 1/ 12، وفي طبعتنا 1/ 103، وفتح المغيث 1/ 68.

(3) انظر: تدريب الرَّاوِي 1/ 301.

(4) فتح المغيث 1/ 28، وتدريب الرَّاوِي 1/ 63، وتوجيه النظر 1/ 181.

(5) هامش جامع الأصول 1/ 72.

(6) انظر: في حكم رِوَايَة الْحَدِيْث بالمعنى: الإلماع: 178، والتقريب: 134وطبعتنا: 183، وشرح التبصرة الطبعة العلمية: 2/ 168، وفي طبعتنا 1/ 506 - 507، وفتح المغيث 2/ 258، وتدريب الرَّاوِي 2/ 112.

(7) جامع الأصول 1/ 72 - 73.
তৃতীয় প্রকার: যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (محتج به), এরপর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন (اختلط) অথবা শেষ বয়সে বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন, ফলে পরবর্তী সময়ে তার বর্ণিত হাদিসে বিশৃঙ্খলা (اضطراب) দেখা দিয়েছে; এমতাবস্থায় তার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি ভারসাম্য হারানোর (اختلط) পূর্বের বর্ণনা এবং পরের বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের (التمييز) ওপর স্থগিত থাকবে। (১)।

 

‌‌চতুর্থত: দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা:

হাদিস বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়গুলোর মধ্যে এটি সুবিদিত যে, নির্ভুলতা বা প্রখরতা (ضبط) নববী হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য একটি মৌলিক শর্ত (২)। আর নির্ভুলতা বা প্রখরতা (ضبط) হলো: বর্ণনাকারী (راوي) যা বর্ণনা করছেন তাতে পারঙ্গম হওয়া, যাতে তিনি যা বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে সচেতন থাকেন এবং অসতর্ক না হন; যদি মুখস্থ থেকে বর্ণনা করেন তবে স্বীয় বর্ণনাটি মুখস্থ (حفظ) রাখা, আর যদি কিতাব থেকে বর্ণনা করেন তবে স্বীয় কিতাবের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ (ضبط) রাখা; এছাড়া তিনি যা বর্ণনা করছেন তার অর্থ সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া এবং অর্থের পরিবর্তে মর্মের মাধ্যমে বর্ণনা (رواية بالمعنى) করলে মূল উদ্দেশ্য থেকে অর্থ পরিবর্তনকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা (৩)। যাতে তার বর্ণনা পাঠকারী এবং তার অবস্থা অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি এই বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারেন যে, তিনি আমানতটি যেভাবে গ্রহণ করেছিলেন সেভাবেই তা আদায় করেছেন এবং তাতে কোনো পরিবর্তন করেননি। নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের (رواة) মাঝে মর্যাদার পার্থক্যের ভিত্তি হলো এটিই। সুতরাং যখন কোনো বর্ণনাকারী (راوي) ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী (ضابط) হন, তখন তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলা হয় (৪)। আর তার নির্ভুলতা (ضبط) পরিমাপ করা হয় অন্যান্য পারঙ্গম ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের সাথে তার বর্ণনার মিল থাকার মাধ্যমে, যখন তার হাদিসকে তাদের হাদিসের সাথে তুলনা (اعتبار) করা হয়। তাদের সাথে তার কদাচিৎ বিরোধ ক্ষতিকর নয়; তবে যদি তাদের সাথে বিরোধ বেশি হয় এবং মিল খুব কম থাকে, তবে তার নির্ভুলতা (ضبط) ক্ষুণ্ণ হবে এবং তার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (احتجاج) হবে না (৫)।

নির্ভুলতা বা প্রখরতা (ضبط) দুই প্রকার: প্রকাশ্য (ظاهر) ও অভ্যন্তরীণ (باطن)।

প্রকাশ্য হলো ভাষাগত দিক থেকে। আর অভ্যন্তরীণ হলো শারঈ বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার প্রেক্ষিতে অর্থের নির্ভুলতা বজায় রাখা, যা মূলত ফিকহ (فقه)। অধিকাংশের মতে বর্ণনাকারীর (راوي) জন্য শর্ত হিসেবে সাধারণ নির্ভুলতা (ضبط) বলতে প্রকাশ্য নির্ভুলতাকেই বোঝানো হয়; কারণ অনেক আলেমের (৬) মতেই হাদিসের মর্ম বর্ণনা করা (رواية بالمعنى) বৈধ (৭)।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সারসংক্ষেপ পেতে পারি যে, নির্ভুলতা বা প্রখরতা (ضبط) দুই প্রকার: স্মৃতির প্রখরতা (ضبط صدر) ও কিতাবের নির্ভুলতা (ضبط كتاب)। কিতাবের নির্ভুলতা (ضبط كتاب) বজায় রাখা বর্ণনাকারীর বর্ণনা (رواية) ও পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দেখার (مقابلة) জন্য তার কিতাব পাঠ করা প্রয়োজন। আর স্মৃতির প্রখরতা (ضبط صدر) বজায় রাখা বর্ণনাকারীর তার বর্ণিত বিষয়গুলো আয়ত্তে রাখার জন্য স্বীয় মুখস্থ বিষয় ও কিতাব বারবার ঝালিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। সম্ভবত কোনো কোনো বর্ণনাকারীর (رواة) ক্ষেত্রে এটি সম্ভব হতে পারে।

--------------------------------------------

=

তাহজিবুল কামাল ৬/ ২৫৯ - ২৬০ (৫৬৯৯), সিয়ারু আলামিন নুবালা ৮/ ২৩৮, এবং আত-তাকরিব (৫৭৭৭)।

(1) কিতাবুল মুখতালিতিন: ৩।

(2) দেখুন: শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ, ইলমিয়্যাহ সংস্করণ ১/ ১২, এবং আমাদের সংস্করণ ১/ ১০৩, এবং ফাতহুল মুগিস ১/ ৬৮।

(3) দেখুন: তাদরিবুর রাবি ১/ ৩০১।

(4) ফাতহুল মুগিস ১/ ২৮, তাদরিবুর রাবি ১/ ৬৩, এবং তাওজিহুন নাজার ১/ ১৮১।

(5) হামিশু জামিউল উসুল ১/ ৭২।

(6) দেখুন: হাদিসের মর্ম বর্ণনা করার বিধান সম্পর্কে: আল-ইলমা: ১৭৮, আত-তাকরিব: ১৩৪ এবং আমাদের সংস্করণ: ১৮৩, শারহুত তাবসিরাহ, ইলমিয়্যাহ সংস্করণ: ২/ ১৬৮, এবং আমাদের সংস্করণ ১/ ৫০৬ - ৫০৭, ফাতহুল মুগিস ২/ ২৫৮, এবং তাদরিবুর রাবি ২/ ১১২।

(7) জামিউল উসুল ১/ ৭২ - ৭৩।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
بمفردهم، وقسم مِنْهُمْ يستعين بمن يثق بِهِ ليعاونه عَلَى ذَلِكَ. إذن فالبصر مهم في ذَلِكَ وله دور كبير في المحافظة على الحفظ؛ لذا فإنّ زوال البصر وذهابه قَدْ يؤدي بالمحصلة النهائية إلى دخول الوهم في بعض روايات الْمُحَدِّثِيْنَ مِمَّا يؤدي إلى حصول اختلاف بَيْنَ الروايات.

ومن الَّذِيْنَ ذهب بصرهم: عَبْد الرزاق بن همام الصنعاني (1) صاحب المصنف قَالَ الحافظ ابن حجر العسقلاني: ((عمي في آخر عمره فتغير)) (2). وكذا علي بن مسهر (3) قَالَ العجلي (4): ((صاحب سنة ثقة في الْحَدِيْث صالح الكتاب كثير الرِّوَايَة عَنْ الكوفيين)) (5)، وَقَالَ أبو عَبْد الله أحمد بن حَنْبَل لما سئل عَنْهُ: ((لا أدري كيف أقول كَانَ قَدْ ذهب بصره فكان يحدّثهم من حفظه)) (6).

 

‌‌خامساً. ذهاب الكتب:

قَدْ علمنا مِمَّا سبق أن ضبط الكتاب (7) هُوَ أحد قسمي الضبط، والعمدة في هَذَا القسم عَلَى كتاب الرَّاوِي، وتطرق الخلل إلى كتابه أمر مضر بالثقة في مرويات ذَلِكَ الرَّاوِي، وَقَدْ يصل الأمر إلى أن يدع الرَّاوِي روايته جملة بسبب فقد كتابه.

إلاّ أن بعض الرُّوَاة قَدْ يعلق في أذهانهم شيء من تِلْكَ المرويات الَّتِيْ دونوها في كتبهم المفقودة، فيحدّثون بِهَا، ولما كَانَ معتمدهم أصلاً في الرِّوَايَة عَلَى كتبهم لا عَلَى حفظهم فإن وجود الخطأ والوهم في تِلْكَ الروايات وارد.

ومن رواة الأحاديث الَّذِيْنَ ذهبت كتبهم مع اعتمادهم عَلَى تِلْكَ الكتب في

--------------------------------------------

(1) هُوَ عَبْد الرزاق بن همام بن نافع الصنعاني أبو بكر الحميري، مولاهم صاحب المصنف: ثقة، حافظ، عمي في آخر عمره فتغير، توفي سنة (211 هـ).

طبقات ابن سعد 5/ 548، والتاريخ الكبير 6/ 130، والتقريب (4064).

(2) التقريب (4064).

(3) هُوَ أبو الحسن علي بن مسهر القرشي الكوفي، قاضي الموصل: ثقة لَهُ غرائب بَعْدَ أن أضر، مات سنة (189 هـ).

طبقات ابن سعد 6/ 388، وتهذيب الكمال 5/ 301 و 302 (4726)، والتقريب (4800).

(4) هُوَ أحمد بن عَبْد الله بن صالح بن مُسْلِم، العجلي الكوفي، ولد بالكوفة سنة (182 هـ)، ونزل مدينة طرابلس المغرب، قَالَ يحيى: ثقة ابن ثقة. من تصانيفه: " مَعْرِفَة الثقات " وغيرها، توفي سنة (261 هـ). سير أعلام النبلاء 12/ 505، وتذكرة الحفاظ 2/ 560، والبداية والنهاية 11/ 28 ..

(5) تهذيب التهذيب 7/ 384.

(6) المصدر السابق.

(7) هُوَ اعتماد الرَّاوِي عَلَى كتابه حال تأدية الْحَدِيْث.
তারা একা একা বর্ণনা করতেন, আবার তাদের কেউ কেউ এমন ব্যক্তির সাহায্য নিতেন যাকে তারা বিশ্বাস করেন যাতে সে তাকে এই কাজে সহযোগিতা করতে পারে। সুতরাং, এক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মুখস্থ শক্তি (حفظ) সংরক্ষণে এর বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে মুহাদ্দিসদের কিছু বর্ণনায় বিভ্রান্তি (وهم) প্রবেশের কারণ হতে পারে, যা বর্ণনাগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টির দিকে নিয়ে যায়।

যাদের দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল তাদের মধ্যে রয়েছেন: মুসান্নাফ-এর লেখক আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আস-সানআনী (১)। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী বলেন: "তিনি শেষ বয়সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, ফলে তার স্মৃতিতে পরিবর্তন (تغير) ঘটেছিল" (২)। অনুরূপভাবে আলী বিন মুসহির (৩)। আল-ইজলি (৪) বলেন: "সুন্নাহর অনুসারী, হাদিসে নির্ভরযোগ্য (ثقة), বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপির অধিকারী এবং কুফাবাসীদের থেকে অধিক বর্ণনাকারী (كثير الرواية)" (৫)। আর আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বলকে যখন তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "আমি জানি না কীভাবে বলব, তার দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল, ফলে তিনি তার স্মৃতি থেকে তাদের নিকট বর্ণনা করতেন" (৬)।

 

‌‌পঞ্চম: কিতাব বা পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়া:

আমরা পূর্বেই জেনেছি যে, লিখনলব্ধ সংরক্ষণ (ضبط الكتاب) (৭) হলো মুখস্থ ও নির্ভুলতার (ضبط) দুটি প্রকারের একটি। এই প্রকারের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো বর্ণনাকারীর কিতাব বা পাণ্ডুলিপি। তার কিতাবে কোনো ত্রুটি দেখা দেওয়া সেই বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদিসগুলোর নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর। এমনকি বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে, কিতাব হারিয়ে ফেলার কারণে বর্ণনাকারী তার বর্ণনা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করেন।

তবে কোনো কোনো বর্ণনাকারীর স্মৃতিতে তাদের সেই হারানো কিতাবগুলোতে লিপিবদ্ধ করা বর্ণনার কিছু অংশ গেঁথে থাকে এবং তারা সেগুলো বর্ণনা করেন। যেহেতু বর্ণনার ক্ষেত্রে মূলত তারা তাদের কিতাবের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, মুখস্থ শক্তির (حفظ) ওপর নয়, তাই সেই বর্ণনাগুলোতে ভুল (خطأ) ও বিভ্রান্তি (وهم) থাকার সম্ভাবনা থেকে যায়।

হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা তাদের কিতাব হারিয়ে ফেলেছিলেন অথচ বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা সেই কিতাবগুলোর ওপরই নির্ভর করতেন...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম বিন নাফি আস-সানআনী আবু বকর আল-হিমইয়ারী, তাদের মাওলা, মুসান্নাফ-এর লেখক: নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাফিজ (حافظ), শেষ বয়সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন ফলে তার স্মৃতিতে পরিবর্তন (تغير) ঘটেছিল, তিনি ২১১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাবাকাত ইবনে সাদ ৫/ ৫৪৮, আত-তারিখুল কবির ৬/ ১৩০ এবং আত-তাকরিব (৪০৬৪)।

(২) আত-তাকরিব (৪০৬৪)।

(৩) তিনি হলেন আবুল হাসান আলী বিন মুসহির আল-কুরাশি আল-কুফি, মসুলের বিচারক: নির্ভরযোগ্য (ثقة), অন্ধ হওয়ার পর তার বর্ণনায় কিছু বিরল বা অপরিচিত বিষয় (غرائب) পরিলক্ষিত হয়, তিনি ১৮৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

তাবাকাত ইবনে সাদ ৬/ ৩৮৮, তাহজিবুল কামাল ৫/ ৩০১ ও ৩০২ (৪৭২৬) এবং আত-তাকরিব (৪৮০০)।

(৪) তিনি হলেন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন সালিহ বিন মুসলিম, আল-ইজলি আল-কুফি, ১৮২ হিজরিতে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মাগরিবের ত্রিপোলি শহরে বসবাস করেন। ইয়াহইয়া বলেন: নির্ভরযোগ্য পিতার নির্ভরযোগ্য (ثقة ابن ثقة) সন্তান। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "মারিফাতুস সিকাত" ইত্যাদি। তিনি ২৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/ ৫০৫, তাযকিরাতুল হুফফাজ ২/ ৫৬০ এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/ ২৮...

(৫) তাহজিবুত তাহজিব ৭/ ৩৮৪।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস।

(৭) তা হলো হাদিস বর্ণনার সময় বর্ণনাকারীর তার কিতাব বা পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
حفظهم: عَبْد الله بن لهيعة، أبو عَبْد الرحمان الحضرمي، الفقيه قاضي مصر، كَانَ متقناً لكتابه، قَالَ الإمام أحمد: ((ابن لهيعة أجود قِرَاءة لكتبه من ابن وهب (1))) (2).

وَقَدْ كَانَ جل اعتماده في روايته عَلَى كتبه، فلما احترقت ضُعِّف في الرِّوَايَة لكثرة ما وجد من الوهم والخطأ في روايته بَعْدَ ذهاب كتبه. قَالَ إسحاق بن عيسى الطباع (3): ((احترقت كتب ابن لهيعة سنة تسع وستين)) (4). وَقَالَ البخاري (5) عَنْ يحيى بن بكير (6): ((احترق منْزل ابن لهيعة وكتبه في سنة سبعين ومئة)) (7).

وربما يَكُوْن لغياب الكتب نَفْسُ أثرِ فَقْدِ الكتب ويكون مدعاة للوهم والخلاف، فإذا حدّث الرَّاوِي - الَّذِيْ يعتمد في الأداء عَلَى كتابه - في حالة غياب كتبه عَنْهُ، وقع الوهم والخطأ في حديثه، وتحديثه في غَيْر بلده - أَيْضاً - مظنة (8) لوقوع ذَلِكَ كَمَا حصل

--------------------------------------------

(1) عَبْد الله بن وهب بن مُسْلِم القرشي، الفهري أبو مُحَمَّد المصري، الإمام الحَافِظ ولد سنة (125 هـ) ومات سنة (196 هـ) أو (197 هـ)، لَهُ مصنفات كثيرة مِنْهَا: " الجامع " و " المغازي ".

انظر: طبقات خليفة: 297، وتهذيب الكمال 4/ 317، وسير أعلام النبلاء 9/ 223.

(2) تهذيب الكمال 4/ 254.

(3) إسحاق بن عيسى بن نجيح البغدادي، أبو يعقوب المعروف بابن الطباع، ولد سنة (140 هـ)، وتوفي سنة (214 هـ) وَقِيْلَ: (215 هـ)، لَهُ " التاريخ " وغيره. انظر: تاريخ بغداد 6/ 332، وتهذيب الكمال 1/ 195 - 196 (368)، وتاريخ الإسلام وفيات (215 هـ): 65 - 66.

(4) تهذيب الكمال 4/ 253.

(5) الإِمَام حبر الإسلام إمام الْمُحَدِّثِيْنَ، أَبُو عَبْد الله مُحَمَّد بن إسماعيل بن إبراهيم البُخَارِيّ مولى الجحفيين، ولد سنة (194هـ)، صاحب"الجامع الصَّحِيْح" و"التاريخ" و"الأدب المفرد" و"الضعفاء"، توفي سنة (256هـ) انظر: تاريخ بغداد 2/ 4، وسير أعلام النبلاء 12/ 390، وشذرات الذهب 2/ 134 - 135.

(6) الإِمَام الحَافِظ الثقة أبو زكريا يَحْيَى بن عَبْد الله بن بكير القرشي المخزومي، مولاهم، المصري، ولد سنة (154 هـ) وَقِيْلَ بَعْدَ الثلاثين، وتوفي سُنَّةُ (231هـ).

انظر: تهذيب الكمال 8/ 56 (7453)،وسير أعلام النبلاء 10/ 162 - 164، وتذكرة الحفاظ 2/ 420.

(7) تهذيب الكمال 4/ 254. ويرى بعض العلماء أن كتبه لَمْ تحترق، انظر تفصيل هَذَا في المصدر السابق.

(8) مَظِنَّة - بكسر الظاء عَلَى وزن مَفْعِلَة - الشيء الموضع الَّذِيْ يظن كونه فِيْهِ وَهِيَ معدنه، من الظن بمعنى: العلم، قَالَ ابن الأثير: ((وَكَانَ القياس فتح الظاء، وإنما كسرت لأجل الهاء)). انظر: الصحاح 6/ 2160، والنهاية 3/ 164، ولسان العرب 13/ 273 (ظنن)، وتعليقنا عَلَى مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث: 105.
তাদের স্মৃতিশক্তি: আবদুল্লাহ বিন লাহিআহ, আবু আবদুর রহমান আল-হাদরামি, মিশরের ফকিহ ও কাজি, তিনি তার কিতাবের ক্ষেত্রে সুনিপুণ (متقن) ছিলেন। ইমাম আহমদ বলেন: "ইবনে লাহিআহ ইবনে ওয়াহাব (১) এর তুলনায় নিজের কিতাবসমূহ পাঠে অধিকতর পারদর্শী ছিলেন" (২)।

তিনি তার বর্ণনার ক্ষেত্রে মূলত নিজের কিতাবসমূহের ওপরই নির্ভর করতেন। কিন্তু যখন সেগুলো পুড়ে গেল, তখন তার বর্ণনায় প্রচুর বিভ্রান্তি (الوهم) ও ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হওয়ায় কিতাবসমূহ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরবর্তী সময়ের বর্ণনার কারণে তাকে দুর্বল (ضعيف) গণ্য করা হয়। ইসহাক বিন ঈসা আত-তাব্বা (৩) বলেন: "১৬৯ হিজরিতে ইবনে লাহিআহ-র কিতাবসমূহ পুড়ে গিয়েছিল" (৪)। বুখারি (৫) ইয়াহইয়া বিন বুকাইর (৬) থেকে বর্ণনা করেন যে: "১৭০ হিজরিতে ইবনে লাহিআহ-র ঘর এবং তার কিতাবসমূহ পুড়ে যায়" (৭)।

অনেক সময় কিতাবের অনুপস্থিতি কিতাব হারিয়ে ফেলার মতোই প্রভাব ফেলে এবং তা বিভ্রান্তি (الوهم) ও মতপার্থক্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং যখন কোনো বর্ণনাকারী (راو) — যিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে তার কিতাবের ওপর নির্ভর করেন — তার কিতাব কাছে না থাকা অবস্থায় হাদিস বর্ণনা করেন, তখন তার হাদিসে বিভ্রান্তি (الوهم) ও ভুল ঘটে থাকে। তদ্রূপ নিজ শহরের বাইরে হাদিস বর্ণনা করাও এর একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র (مظنة) (৮), যেমনটি ঘটেছিল...

--------------------------------------------

(১) আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব বিন মুসলিম আল-কুরাশি আল-ফিহরি, আবু মুহাম্মদ আল-মিসরি। তিনি একজন ইমাম ও হাফিজ (حافظ), ১২৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬ বা ১৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তার অনেকগুলো রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: "আল-জামি" এবং "আল-মাগাজি"।

দেখুন: তবাকাত খলিফা: ২৯৭, তাহজিবুল কামাল ৪/৩১৭, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৯/২২৩।

(২) তাহজিবুল কামাল ৪/২৫৪।

(৩) ইসহাক বিন ঈসা বিন নাজিহ আল-বাগদাদি, আবু ইয়াকুব, যিনি ইবনুত তাব্বা নামে পরিচিত। তিনি ১৪০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২১৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, মতান্তরে ২১৫ হিজরি। তার "আত-তারিখ" সহ অন্যান্য কিতাব রয়েছে। দেখুন: তারিখে বাগদাদ ৬/৩৩২, তাহজিবুল কামাল ১/১৯৫-১৯৬ (৩৬৮), তারিখে ইসলাম (মৃত্যু ২১৫ হি.): ৬৫-৬৬।

(৪) তাহজিবুল কামাল ৪/২৫৩।

(৫) ইমাম, ইসলামের মহান পন্ডিত, মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) ইমাম, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-বুখারি। তিনি ১৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি "আল-জামি আস-সহীহ", "আত-তারিখ", "আল-আদাবুল মুফরাদ" এবং "আদ-দুয়াফা" কিতাবের প্রণেতা। তিনি ২৫৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: তারিখে বাগদাদ ২/৪, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/৩৯০, শাজারাতুজ জাহাব ২/১৩৪-১৩৫।

(৬) ইমাম, হাফিজ (حافظ), নির্ভরযোগ্য (ثقة), আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ বিন বুকাইর আল-কুরাশি আল-মাখজুমি। তিনি ১৫৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, কারো মতে ১৬০ এর পরে এবং ২৩১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

দেখুন: তাহজিবুল কামাল ৮/৫৬ (৭৪৫৩), সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/১৬২-১৬৪, তাজকিরাতুল হুফফাজ ২/৪২০।

(৭) তাহজিবুল কামাল ৪/২৫৪। কোনো কোনো আলিমের মতে তার কিতাবসমূহ পুড়েনি। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য পূর্বোক্ত উৎস দেখুন।

(৮) মাজিন্নাহ (مظنة) — এটি যা-এর নিচে কাসরা দিয়ে মাফ'ইলাতুন (مَفْعِلَة) এর ওজনে। এর অর্থ কোনো বস্তু থাকার সম্ভাব্য স্থান বা উৎস। এটি যান (ظن) থেকে গৃহীত যার অর্থ জ্ঞান। ইবনুল আসির বলেন: "কিয়াসের দাবি ছিল যা-তে ফাতহা হওয়া, তবে গোল তা-এর কারণে কাসরা দেওয়া হয়েছে।" দেখুন: আস-সিহাহ ৬/২১৬০, আন-নিহায়া ৩/১৬৪, লিসানুল আরব ১৩/২৭৩, এবং "মা'রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস" এর ওপর আমাদের টীকা: ১০৫।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
لمعمر بن راشد (1) قَالَ ابن رجب (2): ((حديثه بالبصرة فِيْهِ اضطراب كثير، وحديثه باليمن جيد)) (3)، وَقَالَ الإمام أحمد في رِوَايَة الأثرم (4): ((حَدِيْث عَبْد الرزاق عَنْ معمر أحب إليّ من حَدِيْث هؤلاء البصريين، كَانَ يتعاهد كتبه وينظر، يعني باليمن، وَكَانَ يحدّثهم بخطأٍ بالبصرة)) (5). وَقَالَ يعقوب بن شيبة (6): ((سَمَاع أهل البصرة من معمر، حين قدم عليهم فِيْهِ اضطراب؛ لأن كتبه لَمْ تَكُنْ مَعَهُ)) (7).

ومن هَؤُلَاءِ أَيْضاً: إسماعيل بن عياش (8) قَالَ مُحَمَّد بن عثمان بن أبي شيبة (9):

((سَمِعْتُ يَحْيَى بن مَعِيْنٍ يَقُوْل: إسماعيل بن عياش ثقة فِيْمَا رَوَى عَنْ الشاميين، وأما روايته عَنْ أهل الحجاز فإن كتابه ضاع فخلط في حفظه عَنْهُمْ)) (10).

 

‌‌سادساً. عدم الضبط:

سبق الكلام أن الضبط من شروط صحة الْحَدِيْث الأساسية؛ ولكن بعض الرُّوَاة

-وإن كانوا ضابطين - إلا أنهم في بعض الأحايين يخف ضبطهم لبعض الأحاديث

--------------------------------------------

(1) هُوَ معمر بن راشد، أبو عروة بن أبي عمرو الأزدي، مولاهم البصري: ثقة ثبت فاضل أحد الأعلام الثقات، توفي سنة (153هـ). طبقات ابن سعد 5/ 546، تاريخ البخاري 7/ 378، والتقريب (6809).

(2) هُوَ عَبْد الرحمان بن أحمد بن رجب السلامي البغدادي، ثُمَّ الدمشقي، ولد سنة (736 هـ)، من حفاظ الْحَدِيْث، من مصنفاته " فضائل الشام" و " شرح جامع الترمذي "، توفي سنة (795 هـ). الدرر الكامنة 2/ 321، والمنهج الأحمد 3/ 263، والأعلام 3/ 295.

(3) شرح علل الترمذي 2/ 767.

(4) هُوَ الإمام أبو بكر، أحمد بن مُحَمَّد بن هانئ الإسكافي الأثرم، أحد الأعلام، ومصنف " السنن "، توفي بَعْدَ سنة (271 هـ).

الجرح والتعديل 2/ 72،، وسير أعلام النبلاء 12/ 623، والمنهج الأحمد 1/ 131.

(5) شرح علل الترمذي 2/ 767.

(6) هُوَ يعقوب بن شيبة بن الصلت، أبو يوسف السدودسي: ثقة حافظ، صنف " المسند الكبير "، ولد في حدود سنة (180 هـ)، وتوفي سنة (262 هـ).

تاريخ بغداد 14/ 281، وتذكرة الحفاظ 2/ 577، والنجوم الزاهرة 3/ 47.

(7) شرح علل الترمذي 2/ 767.

(8) هُوَ إسماعيل بن عياش بن سليم العنسي، أبو عتبة الحمصي: صدوق في روايته عن أهل بلده مخلط في غيرهم، مات سنة (181 هـ).

تهذيب الكمال 1/ 247 (465)، والكاشف 1/ 248 - 249 (400)، والتقريب (473).

(9) هُوَ مُحَمَّد بن عثمان بن أبي شيبة، أبو جعفر العبسي الكوفي، كَانَ كثير الْحَدِيْث واسع الرِّوَايَة، توفي سنة (297 هـ). تاريخ بغداد 3/ 42، والأنساب 4/ 116، وتذكرة الحفاظ 2/ 661.

(10) تهذيب الكمال 1/ 250، وانظر: الكواكب النيرات: 98.
মা'মার বিন রাশিদ (১) সম্পর্কে ইবনে রজব (২) বলেছেন: ((বসরায় তার হাদিস বর্ণনায় অনেক বিশৃঙ্খলা (اضطراب) রয়েছে, আর ইয়ামেনে তার হাদিস বর্ণনা ভালো (جيد))) (৩)। এবং ইমাম আহমদ আসরামের বর্ণনা (رواية) (৪)-এ বলেছেন: ((মা'মার থেকে আব্দুর রাজ্জাকের হাদিস আমার কাছে এসকল বসরাবাসীদের হাদিসের চেয়ে অধিক প্রিয়; তিনি ইয়ামেনে থাকাকালীন তার কিতাবসমূহ তদারকি করতেন এবং দেখতেন, কিন্তু বসরায় তিনি তাদের কাছে ভুলসহ হাদিস বর্ণনা করতেন)) (৫)। ইয়াকুব বিন শায়বাহ (৬) বলেছেন: ((বসরাবাসীরা যখন মা'মারের নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করেছিল, তখন তাতে বিশৃঙ্খলা (اضطراب) ছিল; কারণ তখন তার কিতাবসমূহ তার সাথে ছিল না)) (৭)।

তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন: ইসমাইল বিন আইয়্যাশ (৮)। মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবি শায়বা (৯) বলেছেন:

((আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে বলতে শুনেছি: ইসমাইল বিন আইয়্যাশ শামবাসীদের থেকে যা বর্ণনা (روى) করেছেন তাতে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে হিজাজবাসীদের থেকে তার বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে তার কিতাব হারিয়ে গিয়েছিল, ফলে তাদের থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি তার মুখস্থ (حفظ) শক্তিতে সংমিশ্রণ (خلط) ঘটিয়েছেন)) (১০)।

 

‌‌ষষ্ঠ: নির্ভুলতার অভাব (عدم الضبط):

পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, নির্ভুলতা (الضبط) হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য একটি মৌলিক শর্ত; কিন্তু কিছু বর্ণনাকারী (الرواة)

-যদিও তারা নির্ভুল (ضابطين) ছিলেন- তবুও কোনো কোনো সময়ে কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের নির্ভুলতা (ضبط) কমে যায়।

--------------------------------------------

(১) তিনি মা'মার বিন রাশিদ, আবু উরওয়া বিন আবি আমর আল-আজদি, তাদের মুক্তদাস, বসরাবাসী: নির্ভরযোগ্য (ثقة), দৃঢ় (ثبت), বিচক্ষণ (فاضل), অন্যতম শীর্ষ নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিত্ব, ১৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তবাকাত ইবনে সাদ ৫/ ৫৪৬, তারিখুল বুখারি ৭/ ৩৭৮, এবং তাকরিব (৬৮০৯)।

(২) তিনি আব্দুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব আস-সালামি আল-বাগদাদি, অতঃপর আদ-দিমাশকি, ৭৩৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি হাদিসের হাফেজগণের (حفاظ) অন্তর্ভুক্ত, তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে "ফাযায়িলুশ শাম" এবং "শারহু জামিউত তিরমিজি", ৭৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/ ৩২১, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/ ২৬৩, এবং আল-আলাম ৩/ ২৯৫।

(৩) শারহু ইলালিত তিরমিজি ২/ ৭৬৭।

(৪) তিনি ইমাম আবু বকর, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হানি আল-ইস্কফি আল-আসরাম, অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং "সুনান" গ্রন্থের রচয়িতা, ২৭১ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন।

আল-জারহ ওয়াত তাদিল ২/ ৭২, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/ ৬২৩, এবং আল-মানহাজুল আহমাদ ১/ ১৩১।

(৫) শারহু ইলালিত তিরমিজি ২/ ৭৬৭।

(৬) তিনি ইয়াকুব বিন শায়বাহ বিন আস-সালত, আবু ইউসুফ আস-সাদূসী: নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাফেজ (حافظ), "মুসনাদ আল-কাবীর" রচনা করেছেন, ১৮০ হিজরির দিকে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৬২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তারিখু বাগদাদ ১৪/ ২৮১, তাযকিরাতুল হুফফায ২/ ৫৭৭, এবং আন-নুজুমুজ জাহিরাহ ৩/ ৪৭।

(৭) শারহু ইলালিত তিরমিজি ২/ ৭৬৭।

(৮) তিনি ইসমাইল বিন আইয়্যাশ বিন সুলাইম আল-আনসি, আবু উতবা আল-হিমসি: নিজ দেশবাসীর নিকট থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যবাদী (صدوق), অন্যদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মিশ্রণকারী (مخلط), ১৮১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাহযীবুল কামাল ১/ ২৪৭ (৪৬৫), আল-কাশিফ ১/ ২৪৮ - ২৪৯ (৪০০), এবং তাকরিব (৪৭৩)।

(৯) তিনি মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবি শায়বা, আবু জাফর আল-আবসি আল-কুফি, তিনি প্রচুর হাদিস এবং বিস্তৃত বর্ণনার (الرواية) অধিকারী ছিলেন, ২৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তারিখু বাগদাদ ৩/ ৪২, আল-আনসাব ৪/ ১১৬, এবং তাযকিরাতুল হুফফায ২/ ৬৬১।

(১০) তাহযীবুল কামাল ১/ ২৫০, এবং দেখুন: আল-কাওয়াকিবুস নাইয়্যিরাত: ৯৮।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
خاصة، وَهُوَ أمرٌ اعتيادي يحصل لبني الإنسان؛ لأن الضبط كَمَا سبق أمرٌ نسبيٌّ. وهذا الباب الَّذِيْ يمكن من خلاله دخول الوهم في بَعْض أحاديث الثقات يعدُّ سبباً من أسباب اختلاف الروايات متناً وإسناداً مِمَّا يؤدي بالمحصلة النهائية إِلَى حصول بَعْض الاختلافات في بَعْض الأحاديث. وهذا الأمر نراه جلياً في أحاديث الثقات الَّتِيْ أخطؤوا فِيْهَا. وما يأتي في كَثِيْر من الأمثلة اللاحقة دليل لما أصّلناه في أن الضبط أمرٌ نسبيٌّ ينفك عَنْ بعض الثقات أحياناً في بعض الأحاديث.

وَكَانَ هناك رواة، لَهُمْ كتب صحيحة متقنة وفي حفظهم شيء وهؤلاء كانوا أحياناً إِذا حدثوا من حفظهم غلطوا وإذا حدثوا من كتابهم أصابوا، وهذا أمر أولاه العلماء عناية؛ لأن فِيْهِ مزيد ضبط في رِوَايَة هَذَا الرَّاوِي خاصة، ومن الأمثلة عَلَى ذَلِكَ شريك القاضي وَهُوَ شريك بن عَبْد الله النخعي، الكوفي، القاضي بواسط، ثُمَّ الكوفة، أبو عَبْد الله: صدوق يخطئ كثيراً، تغير حفظه منذ ولي القضاء بالكوفة (1).

قَالَ فِيْهِ مُحَمَّد بن عَبْد الله بن عمار الموصلي (2): ((شريك كتبه صحاح فمن سَمِعَ مِنْهُ من كتبه فهو صَحِيْح، قَالَ: وَلَمْ يَسْمَع من شريك من كتابه إلا إسحاق الأزرق (3))) (4). وَقَالَ فِيْهِ يعقوب بن شيبة: ((كتبه صحاح)) (5). وفي رِوَايَة الْخَطِيْب البغدادي (6) عَنْ يعقوب في شريك: ((ثقة صدوق، صَحِيْح الكتاب، رديء الحفظ مضطربه)) (7).

ومن الأمور الَّتِيْ يدخل الاختلاف بسببها لعدم الضبط، هُوَ عدم الضبط في بلد معين، وَهُوَ أن يَكُوْن الرَّاوِي ضابطاً إلا أنه في سماعه لحديث أهل بلدٍ معين لا يَكُوْن

--------------------------------------------

(1) التقريب (2787).

(2) هُوَ مُحَمَّد بن عَبْد الله بن عمار، أبو جعفر الموصلي، محدث الموصل، ولد بَعْدَ الستين ومئة: ثقة صاحب حَدِيْث، توفي سنة اثنتين وأربعين ومئتين. سير أعلام النبلاء 11/ 469 - 470.

(3) هُوَ أبو مُحَمَّد إسحاق بن يوسف بن مرداس القرشي الواسطي المخزومي المعروف بالأزرق: ثقة، ولد سنة (117 هـ)، وتوفي سنة (195 هـ).

تهذيب الكمال 1/ 203 (389)، وسير أعلام النبلاء 9/ 171، والتقريب (396).

(4) شرح علل الترمذي 2/ 759.

(5) شرح علل الترمذي 2/ 759.

(6) أبو بكر أحمد بن عَلِيّ بن ثابت البغدادي، (الحَافِظ الناقد)، ولد سنة (392 هـ)، رحل إِلَى البصرة ونيسابور وأصبهان ومكة ودمشق والكوفة والري وصنف قريباً من مئة مصنف مِنْهَا: " تاريخ بغداد " و " الجامع لأخلاق الرَّاوِي "، توفي سنة (463 هـ).

انظر: سير أعلام النبلاء 18/ 270، ومرآة الجنان 3/ 67، والبداية والنهاية 12/ 91.

(7) تاريخ بغداد 9/ 284.
বিশেষ করে, এটি একটি সাধারণ বিষয় যা মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে; কারণ সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) পূর্বেই যেমন বলা হয়েছে, একটি আপেক্ষিক বিষয়। এটি এমন একটি পথ যার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবিদের কিছু হাদিসে বিভ্রম (وهم) প্রবেশ করতে পারে, যা চূড়ান্ত ফলাফলে মতন (متناً) ও সনদ (إسناداً) এর বর্ণনায় পার্থক্যের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর ফলে কিছু হাদিসে কিছু মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয়টি আমরা নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবিদের ঐসব হাদিসে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই যেগুলোতে তাঁরা ভুল করেছেন। পরবর্তী উদাহরণগুলোর অনেকগুলোই আমাদের এই মূলনীতির প্রমাণ যে, সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) একটি আপেক্ষিক বিষয়, যা কখনও কখনও কিছু নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবির ক্ষেত্রে কোনো কোনো হাদিসে অনুপস্থিত থাকে।

আবার এমন কিছু রাবি (رواة) ছিলেন, যাঁদের কিতাবসমূহ ছিল সহিহ ও নির্ভুল, কিন্তু তাঁদের মুখস্থ রাখার ক্ষমতায় কিছুটা দুর্বলতা ছিল। তাঁরা যখন মুখস্থ থেকে বর্ণনা করতেন তখন ভুল করতেন, আর যখন কিতাব থেকে বর্ণনা করতেন তখন সঠিক বর্ণনা করতেন। এটি এমন একটি বিষয় যা ওলামায়ে কেরাম বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন; কারণ এতে সংশ্লিষ্ট রাবির বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) প্রকাশ পায়। এর একটি উদাহরণ হলো শরিক আল-কাদি, তিনি হলেন শরিক বিন আব্দুল্লাহ আল-নাখায়ি, আল-কুফি, ওয়াসিত ও পরবর্তীতে কুফার কাদি, আবু আব্দুল্লাহ: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে অনেক ভুল করেন (يخطئ كثيراً), কুফার কাদি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তাঁর মুখস্থ শক্তিতে পরিবর্তন এসেছিল (১)।

তাঁর সম্পর্কে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার আল-মাওসিলি (২) বলেছেন: "শরিকের কিতাবসমূহ সহিহ (صحاح), সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর নিকট থেকে তাঁর কিতাব দেখে শুনেছে তার বর্ণনা সহিহ (صحيح)। তিনি বলেন: ইসহাক আল-আজরাক (৩) ব্যতীত আর কেউ শরিকের নিকট থেকে তাঁর কিতাব থেকে শোনেনি (৪)।" ইয়াকুব বিন শায়বাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তাঁর কিতাবসমূহ সহিহ (صحاح) (৫)।" খতিব আল-বাগদাদির (৬) বর্ণনায় শরিক সম্পর্কে ইয়াকুব থেকে বর্ণিত হয়েছে: "নির্ভরযোগ্য (ثقة), সত্যবাদী (صدوق), কিতাবের দিক থেকে সহিহ (صحيح الكتاب), তবে দুর্বল স্মৃতিশক্তি (رديء الحفظ) সম্পন্ন এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ (مضطربه) (৭)।"

সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) না থাকার কারণে মতভেদ সৃষ্টির আরেকটি কারণ হলো নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) না থাকা। অর্থাৎ কোনো রাবি (رواة) সাধারণভাবে প্রখর সংরক্ষণ ক্ষমতার অধিকারী হলেও নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে হাদিস শোনার ক্ষেত্রে তিনি এমন হন না...

--------------------------------------------

(১) আত-তাকরিব (২৭৮৭)।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার, আবু জাফর আল-মাওসিলি, মোসেলের মুহাদ্দিস, ১৬০ হিজরির পর জন্ম: নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও হাদিস বিশারদ, ২৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সিয়ার আলামুন নুবালা ১১/ ৪৬৯ - ৪৭০।

(৩) তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ ইসহাক বিন ইউসুফ বিন মিরদাস আল-কুরাশি আল-ওয়াসিতি আল-মাখজুমি, আল-আজরাক নামে পরিচিত: নির্ভরযোগ্য (ثقة), জন্ম ১১৭ হিজরি এবং মৃত্যু ১৯৫ হিজরি।

তাহজিবুল কামাল ১/ ২০৩ (৩৮৯), সিয়ার আলামুন নুবালা ৯/ ১৭১, এবং আত-তাকরিব (৩৯৬)।

(৪) শারহু ইলালিত তিরমিজি ২/ ৭৫৯।

(৫) শারহু ইলালিত তিরমিজি ২/ ৭৫৯।

(৬) আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-বাগদাদি, (হাফেজ (الحافظ), সমালোচক (الناقد)), জন্ম ৩৯২ হিজরি, বসরা, নিশাপুর, ইস্পাহান, মক্কা, দামেস্ক, কুফা ও রাই সফর করেছেন এবং প্রায় একশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার মধ্যে অন্যতম: "তারিখু বাগদাদ" ও "আল-জামি লি আখলাকির রাবি", মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি।

দেখুন: সিয়ার আলামুন নুবালা ১৮/ ২৭০, মিরআতুল জিনান ৩/ ৬৭, এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/ ৯১।

(৭) তারিখু বাগদাদ ৯/ ২৮৪।
(খণ্ড: ১) আসারু ইখতিলাফিল আসানীদি ওয়াল মুতূনি ফী ইখতিলাফিল ফুক্বাহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
ضابطاً لحديثهم لعدم تأهبه لِذَلِكَ؛ لأن الضبط كَمَا يَكُوْن في الأداء يَكُوْن في التحمل فإن لَمْ يتحمل جيداً -لاختلال في السَّمَاع، أو عدم جودةٍ في تقييد الكتاب- لَمْ يؤد جيداً، ومثل هَذَا قَدْ حصل لعدد من الرُّوَاة، فتجد أحاديثهم جياداً في روايتهم عَنْ أهل بلد معين، وتجدها دون ذَلِكَ عِنْدَ أهل بلد آخر لخلل طرأ في السَّمَاع والتحمل.

ومن أولئك الرُّوَاة الَّذِيْنَ تضعّف روايتهم في بلد دون آخر إسماعيل بن عياش، وَهُوَ إسماعيل بن عياش بن سليم العَنْسيُّ - بالنون - أبو عتبة الحمصي: صدوق في روايته عَنْ أهل بلده مُخَلِّط في غيرهم (1). قَالَ يعقوب بن سفيان (2): ((تكلَّم قومٌ في إسماعيل، وإسماعيل ثقة عدلٌ، أعلم الناس بحديث الشام، ولا يدفعه دافع، وأكثر ما تكلموا قالوا: يُغرِبُ عَنْ ثقات المدنيين والمكيين)) (3). وَقَالَ أبو بكر بن أبي خيثمة: سُئِلَ يحيى بن معين عَنْ إسماعيل بن عياش، فَقَالَ: ((ليس بِهِ بأس في أهل الشام. والعراقيون يكرهون حديثه)) (4). وَقَالَ مضر بن مُحَمَّد الأسدي (5)، عَنْ يَحْيَى: ((إذا حدَّث عَنْ الشاميين وذكر الخبر، فحديثه مستقيم، وإذا حدّث عَنْ الحجازيين والعراقيين، خلّط ما شئت)) (6). وَقَالَ أبو داود: سألت أحمدَ عَنْ إسماعيلَ بنِ عياش فَقَالَ: ((ما حدّث عَنْ مشايخهم. قلت: الشاميين؟ قَالَ: نعم. فأما ما حدث عَنْ غيرهم، فعنده مناكير)) (7). وَقَالَ أبو طَالِب أحمد بن حميد (8): سَمِعْتُ أحمد بن حَنْبَل يَقُوْل: ((إسماعيل بن عيّاش ما رَوَى عَن الشاميين صَحِيْح، وما رَوَى عَنْ أهل الحجاز فليس بصحيح)) (9)

--------------------------------------------

(1) التقريب (473).

(2) هُوَ أبو يوسف، يعقوب بن سُفْيَان بن جوان الفارسي، الفسوي، من أهل مدينة فسا، ويقال لَهُ: يعقوب بن أبي معاوية: ثقة حافظ، ولد في حدود سنة (190 هـ)، وتوفي سنة (277 هـ).

الثقات 9/ 287، وسير أعلام النبلاء 13/ 180، والتقريب (7817).

(3) الْمَعْرِفَة والتاريخ 2/ 423، ونقله المزي في تهذيب الكمال 1/ 249.

(4) تهذيب الكمال 1/ 250.

(5) هُوَ مضر بن مُحَمَّد بن خالد بن الوليد بن مضر، أبو مُحَمَّد الأسدي، القاضي ولي قضاء واسط، توفي سنة (277 هـ). طبقات الحنابلة 1/ 339.

(6) تهذيب الكمال 1/ 250.

(7) سؤالات أبي داود للإمام أحمد: 264 (300)، وتهذيب الكمال 1/ 250.

(8) هُوَ أحمد بن حميد أبو طالب المشكاني، المتخصص بصحبة الإمام أحمد، توفي سنة (244 هـ).

تاريخ بغداد 4/ 122، وطبقات الحنابلة 1/ 40، والمنهج الأحمد 1/ 100.

(9) الكامل، لابن عدي 1/ 472.
তাদের হাদিস নিখুঁতভাবে সংরক্ষণকারী (ضابطا) হতে পারেননি এর জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতির অভাবে; কারণ সংরক্ষণ (الضبط) যেমন হাদিস প্রদানের (الأداء) সময় প্রয়োজন, তেমনই তা হাদিস সংগ্রহের (التحمل) সময়ও প্রয়োজন। সুতরাং যদি কেউ সঠিকভাবে সংগ্রহ (التحمل) না করেন—শ্রবণে (السماع) ত্রুটির কারণে হোক কিংবা কিতাবে লিপিবদ্ধ করার অসংলগ্নতার কারণে—তবে তিনি তা সঠিকভাবে প্রদানও (الأداء) করতে পারবেন না। এই ধরনের ঘটনা বেশ কিছু বর্ণনাকারীর (الرواة) ক্ষেত্রে ঘটেছে। ফলে দেখা যায় যে, নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে বর্ণিত তাদের হাদিসগুলো উত্তম (جياد), কিন্তু অন্য অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো নিম্নমানের; আর এটি ঘটেছে শ্রবণ (السماع) ও সংগ্রহের (التحمل) ক্ষেত্রে উদ্ভূত কোনো ত্রুটির কারণে।

সেই সকল বর্ণনাকারীদের (الرواة) অন্তর্ভুক্ত হলেন ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ, যাদের বর্ণনা এক অঞ্চলের ক্ষেত্রে দুর্বল (تضعف) করা হয়েছে কিন্তু অন্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে নয়। তিনি হলেন ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ ইবনে সালীম আল-আনসি—নূন যোগে—আবু উতবা আল-হিমসি: তিনি নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যবাদী (صدوق), কিন্তু অন্যদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সংমিশ্রণকারী বা তালগোল পাকানো (مخلط)। (১)। ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান (২) বলেন: "একদল লোক ইসমাইল সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন, অথচ ইসমাইল নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও ন্যায়পরায়ণ (عدল), শাম অঞ্চলের হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং কোনো আপত্তিকারীই তাকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। তারা তার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি যা বলেছেন তা হলো: তিনি মদিনা ও মক্কার নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) সূত্রে অপরিচিত বা বিস্ময়কর বর্ণনা (يغرب) করেন।" (৩)। আবু বকর ইবনে আবি খাইসামা বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "শামের অধিবাসীদের বর্ণনার ক্ষেত্রে তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)। তবে ইরাকিরা তার হাদিস অপছন্দ করেন।" (৪)। মুদার ইবনে মুহাম্মদ আল-আসাদি (৫) ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেন: "যখন তিনি শামের অধিবাসীদের থেকে বর্ণনা করেন এবং সূত্র বা সংবাদ (الخبر) উল্লেখ করেন, তখন তার হাদিস সঠিক (مستقيم)। কিন্তু যখন তিনি হিজাজ ও ইরাকের অধিবাসীদের থেকে বর্ণনা করেন, তখন তাতে প্রচুর সংমিশ্রণ বা গোলমাল (خلط) করে ফেলেন।" (৬)। আবু দাউদ বলেন: আমি আহমদকে ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "তিনি তাদের শাইখদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন—আমি বললাম: শামবাসীদের থেকে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আর যা তিনি অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তাতে অস্বীকৃত বা বর্জনীয় বর্ণনা (مناكير) রয়েছে।" (৭)। আবু তালিব আহমদ ইবনে হুমাইদ (৮) বলেন: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: "ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ শামবাসীদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা সহিহ (صحيح), কিন্তু হিজাজবাসীদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা সহিহ (صحيح) নয়।" (৯)

--------------------------------------------

(১) তাকরিব (৪৭৩)।

(২) তিনি হলেন আবু ইউসুফ, ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান ইবনে জাওয়ান আল-ফারিসি, আল-ফাসায়ি, ফাসা শহরের অধিবাসী। তাকে ইয়াকুব ইবনে আবু মুয়াবিয়াও বলা হয়: তিনি নির্ভরযোগ্য হিফজ শক্তির অধিকারী (ثقة حافظ)। তিনি ১৯০ হিজরির দিকে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আত-থিকাত ৯/২৮৭, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৩/১৮০ এবং তাকরিব (৭৮১৭)।

(৩) আল-মারিফাত ওয়াত তারিখ ২/৪২৩ এবং এটি আল-মিজ্জি তাহজিবুল কামাল ১/২৪৯-এ উদ্ধৃত করেছেন।

(৪) তাহজিবুল কামাল ১/২৫০।

(৫) তিনি হলেন মুদার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ইবনে মুদার, আবু মুহাম্মদ আল-আসাদি। তিনি বিচারক ছিলেন এবং ওয়াসিত শহরের বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন। তিনি ২৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাবাকাতুল হানাবিলা ১/৩৩৯।

(৬) তাহজিবুল কামাল ১/২৫০।

(৭) সুয়ালাতু আবি দাউদ লিল ইমাম আহমদ: ২৬৪ (৩০০) এবং তাহজিবুল কামাল ১/২৫০।

(৮) তিনি হলেন আহমদ ইবনে হুমাইদ আবু তালিব আল-মিশকানি, যিনি ইমাম আহমদের বিশেষ সহচর ছিলেন। তিনি ২৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তারিখ বাগদাদ ৪/১২২, তাবাকাতুল হানাবিলা ১/৪০ এবং আল-মানহাজুল আহমাদ ১/১০০।

(৯) আল-কামিল, ইবনে আদি ১/৪৭২।