(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: -)
القول المعروف في فضل المعروف   (مرعي الكرمي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: القول المعروف في فضل المعروف - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (19)

المؤلف: مرعي بن يوسف بن أبى بكر بن أحمد الكرمى المقدسي الحنبلى (ت 1033 هـ)

اعتنى به وخرج أحاديثه: محمد أبو بكر عبد الله باذيب

الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 60

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 صفر 1437

পরোপকারের ফযিলত সম্পর্কে প্রসিদ্ধ বক্তব্য   (মারয়ী আল-কারমী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: পরোপকারের ফযিলত সম্পর্কে প্রসিদ্ধ বক্তব্য - মসজিদুল হারামের শেষ দশদিনের বৈঠক সিরিজ (১৯)

লেখক: মারয়ী ইবনে ইউসুফ ইবনে আবু বকর ইবনে আহমদ আল-কারমী আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ১০৩৩ হিজরী)

সম্পাদনা ও হাদীস যাচাইকরণ: মুহাম্মদ আবু বকর আবদুল্লাহ বাযীব

প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরী - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (19)

 

القول المعروف في فضل المعروف

 

تأليف

العلامة مرعي بن يوسف الكرمي المقدسي الحنبلي توفي سنة 1033 هـ رحمه الله تعالى

 

اعتنى به وخرج أحاديثه

محمد أبو بكر عبد الله باذيب

 

عن نسخة أصلية بخط مصنفه

 

ساهم بطبعه بعض أهل الخير من الحرمين الشريفين ومحبيهم

 

دار البشائر الإسلامية
মসজিদুল হারামে শেষ দশদিনের বৈঠক (১৯)

 

আল-কাওলুল মা'রুফ ফি ফাদলিল মা'রুফ (সদাচারের ফযীলত বিষয়ে সুপ্রসিদ্ধ বক্তব্য)

 

রচনায়

আল্লামা মারঈ বিন ইউসুফ আল-কারমী আল-মাকদিসী আল-হানবালী, মৃত্যু ১০৩৩ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

 

সম্পাদনা ও হাদিস যাচাইকরণে

মুহাম্মাদ আবু বকর আব্দুল্লাহ বাযীব

 

গ্রন্থকারের স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপি হতে

 

হারামাইন শরীফাইনের কিছু দানশীল ব্যক্তি এবং তাঁদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের সৌজন্যে এটি মুদ্রিত হয়েছে

 

দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٢)
جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى

1421 هـ - 2000 م

 

دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع

هاتف: 702857 - فاكس: 704963 - 009611

بيروت - لبنان ص ب: 5955/ 14

 

e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা

টেলিফোন: ৭০২৮৫৭ - ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩ - ০০৯৬১১

বৈরুত - লেবানন, ডাকবক্স: ৫৯৫৫/ ১৪

 

ইমেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

في رحاب المسجد الحرام، وفي أجواء العشر الأواخر من الشهر الكريم، شهر رمضان المبارك، في تلك الأجواء الإِيمانية البديعة، تجتمع نخبة من أهل الفضل والعلم (1)، تتباحث في مسائل العلم وأحوال التراث الإِسلامي الذي لا يزال مغمورًا في بحار النسيان، وكل منهم يدلي بدلوه في هذا المضمار، فينقِّب عن تلك الكنوز، ويبحث في أعماق الفهارس عن درر تلك المصنفات التي تشبه بالدرر في باطن الأصداف. وهذا من العمل المبرور والسعي المشكور، جزا الله من يقوم عليه خير الجزاء.

وقد أسعدني الحظّ بتعرُّفي على هؤلاء الإِخوة والشيوخ الكرام أهل العلم والفضل، فرحَّبوا بي أيَّما ترحيب، وحدثتهم عن هذه الرسالة وعن

--------------------------------------------

(1) وهم: الشيخ الفاضل نظام محمد صالح يعقوبي من علماء البحرين؛ والبحاثة الأخ العزيز الشيخ محمد بن ناصر العجمي، الكويتي، صاحب المصنفات الممتعة؛ والأستاذ الفاضل رمزي سعد الدين دمشقية، صاحب "دار البشائر الإِسلامية"، الذي ما فتئ ينشر العلم ويخرج الكتب النافعة في أبهى الحلل؛ وأستاذي العزيز، صاحب الأفضال الكثيرة علي، الشيخ أبو أحمد مجد بن أحمد مكي الحلبي، الذي يعتبر منزله في جدة نافذة للاتِّصال والاجتماع بأهل العلم والفضل من أنحاء العالم الإِسلامي، وهو الواسطة في تعرُّفي بمن ذكرت، فله مني أجلّ تقدير واحترام.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

মাসজিদুল হারামের প্রাঙ্গণে এবং সম্মানিত মাস বরকতময় রমজানের শেষ দশকের পরিবেশে—সেই চমৎকার ঈমানি আবহে—ইলম ও ফযিলতের অধিকারী (১) একদল বিশিষ্ট ব্যক্তি একত্রিত হন। তাঁরা ইলমের বিভিন্ন মাসআলা এবং ইসলামি ঐতিহ্যের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন, যা আজও বিস্মৃতির সাগরে নিমজ্জিত হয়ে আছে। তাঁদের প্রত্যেকেই এই ময়দানে নিজ নিজ সাধ্যমতো অবদান রাখছেন; ফলে তাঁরা সেই সকল গুপ্তধনের সন্ধান করছেন এবং ক্যাটালগ বা সূচিপত্রসমূহের গভীরে সেই সকল রচনারূপী মুক্তা খুঁজছেন, যা ঝিনুকের অভ্যন্তরে থাকা মুক্তার মতো। এটি একটি পুণ্যময় কাজ এবং প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা। আল্লাহ এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

এই সকল ইলম ও মর্যাদার অধিকারী সম্মানিত ভাই ও শাইখদের সাথে পরিচিত হতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। তাঁরা আমাকে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। আমি তাঁদের কাছে এই রিসালাহ (পুস্তিকা) সম্পর্কে এবং...

--------------------------------------------

(১) তাঁরা হলেন: শাইখ আল-ফাদিল নিযাম মুহাম্মাদ সালেহ ইয়াকুবি, বাহরাইনের আলেমদের অন্যতম; এবং গবেষক প্রিয় ভাই শাইখ মুহাম্মাদ বিন নাসের আল-আজমি, কুয়েতি, যিনি বেশ কিছু চমৎকার গ্রন্থের রচয়িতা; এবং উস্তাদ আল-ফাদিল রামজি সাদ উদ্দীন দিমাসকিয়াহ, 'দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ'-এর প্রতিষ্ঠাতা, যিনি নিরন্তর জ্ঞান প্রচার করছেন এবং কল্যাণকর গ্রন্থসমূহ অত্যন্ত সুন্দর শৈলীতে প্রকাশ করছেন; এবং আমার প্রিয় উস্তাদ, যাঁর আমার ওপর অনেক অনুগ্রহ রয়েছে, শাইখ আবু আহমাদ মাজদ বিন আহমাদ মাক্কি আল-হালাবি। জেদ্দায় অবস্থিত তাঁর ঘরটি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আলেম ও গুণীজনদের সাথে যোগাযোগ ও মিলনের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। তাঁর মাধ্যমেই আমি উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাথে পরিচিত হয়েছি, তাই তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٤)
النسخة التي لدي، وكانوا قد عزموا على نشرها اعتمادًا على النسخة المصرية، وكلَّفوا بذلك العمل بعضَ الإِخوة، ولكوني قد قمت بالعمل في هذا الكتاب وخرَّجت أحاديثه، فحرصًا منهم على حفظ الجهود وعدم تكرر العمل: أوعزوا إليَّ بإتمام عملي فيه .. فقمتُ بذلك وأتممته على الوجه الذي يراه القارئ الكريم، فأرجو أن أكون قد وفقت في عملي هذا، وأرجو أن يكون عملي خالصًا لوجه الله الكريم.

ولهذه النخبة مني كل شكر وتقدير على ترحيبي بينهم، أعاننا الله وإياهم، ووفَّقنا لخدمة ديننا الحنيف، وخدمة تراثنا الإِسلامي وعلوم أسلافنا الصالحين، آمين اللَّهُمَّ آمين.

 

محمد أبو بكر باذيب

جُدة، غرة شوال 1420 هـ
আমার কাছে যে পাণ্ডুলিপিটি রয়েছে, তারা সেটি মিশরীয় সংস্করণের ওপর নির্ভর করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এই কাজের জন্য কয়েকজন ভাইকে দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। যেহেতু আমি এই কিতাবের কাজ সম্পন্ন করেছিলাম এবং এর হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস যাচাই) করেছিলাম, তাই শ্রমের অপচয় রোধ এবং কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের স্বার্থে তারা আমাকেই কাজটি সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন। আমি সেই অনুযায়ী কাজ করেছি এবং সম্মানিত পাঠক বর্তমানে যে রূপে এটি দেখছেন, সেভাবেই তা সম্পন্ন করেছি। আমি আশা করি আমার এই কাজে আমি সফল হয়েছি এবং আমি প্রার্থনা করি যেন আমার এই কাজ মহান আল্লাহর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ হয়।

এই সুধীবৃন্দের প্রতি আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা রইল আমাকে তাদের মাঝে স্বাগত জানানোর জন্য। আল্লাহ আমাদের ও তাদেরকে সাহায্য করুন এবং আমাদের হানিফ দ্বীনের সেবা, আমাদের ইসলামি ঐতিহ্য এবং আমাদের নেককার পূর্বসূরিদের জ্ঞানসমূহের খিদমত করার তাওফিক দান করুন। আমিন, হে আল্লাহ, কবুল করুন।

 

মুহাম্মাদ আবু বকর বাযীব

জেদ্দা, ১লা শাওয়াল ১৪২০ হিজরী
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌تمهيد من معاني المعروف ومدلولاته

قال ابن منظور (1): (والمعروف: ضد المنكر، والعُرف والمعروف: الجود، وقيل: اسم ما تبذله وتسديه، وقوله تعالى: {وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا} [لقمان: 15]، أي: مصاحبًا معروفًا، قال الزجاج: المعروف هنا: ما يستحسن من الأفعال.

وقد تكرر ذكر المعروف في الحديث، وهو اسم جامع لكل ما عرف من طاعة الله والتقرُّب إليه والإِحسان إلى الناس، وكل ما ندب إليه الشرع ونهى عنه من المحسّنات والمقبّحات، وهو من الصفات الغالبة، أي: أمر معروف بين الناس، إذا رأوه لا ينكرونه …) (2).

وقال ابن العربي (3): (حقيقة المعروف: المعلوم، لكنه أطلق في العربية على خير منفعة يستحمدها جميع الناس مما يجب على المرء فعله أو يستحب، ومعنى تسميته بذلك: أنه أمر لا يجهل، ومعنًى لا يختلف فيه كل أحد). انتهى (4).

--------------------------------------------

(1) ابن منظور محمد بن مكرم الإِفريقي المصري (630 - 711) صاحب لسان العرب، ترجم له ابن حجر في الدرر الكامنة.

(2) انظر مادة (عرف) من اللسان.

(3) القاضي أبو بكر بن العربي المالكي: محمد بن عبد الله المعافري (468 - 543)، صاحب "أحكام القرآن". الأعلام 6/ 230.

(4) فيض القدير 2/ 441 حديث (2245).
ভূমিকা: মারুফ-এর অর্থ ও তাৎপর্যসমূহ

ইবনে মানজুর (১) বলেন: (আল-মারুফ: এটি আল-মুনকারের বিপরীত; আর আল-উরাফ ও আল-মারুফ হলো: বদান্যতা। কেউ কেউ বলেন: এটি এমন বস্তুর নাম যা তুমি দান করো ও প্রদান করো। মহান আল্লাহর বাণী: {আর দুনিয়াতে তাদের সাথে মারুফ বা সদভাবে বসবাস করো} [লুকমান: ১৫], অর্থাৎ: মারুফ বা সুন্দর সাহচর্য প্রদান করো। আয-যাজ্জাজ বলেন: এখানে মারুফ হলো: কার্যাবলীর মধ্যে যা উত্তম গণ্য করা হয়।

হাদিসে মারুফ শব্দটি বারবার উল্লিখিত হয়েছে। এটি আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর নৈকট্য লাভ এবং মানুষের প্রতি ইহসান হিসেবে পরিচিত সকল বিষয়ের একটি সামষ্টিক নাম। এছাড়া শরিয়ত যা কিছুর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে এবং যা কিছু থেকে নিষেধ করেছে—সেই সকল প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় বিষয়ের মধ্যে প্রশংসনীয় বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত। এটি একটি প্রভাবশালী বিশেষণ, অর্থাৎ: মানুষের মাঝে পরিচিত বা সুপরিচিত বিষয়, যা দেখলে তারা অস্বীকার করে না …) (২)।

ইবনে আরাবি (৩) বলেন: (মারুফ-এর প্রকৃত রূপ হলো: জ্ঞাত বা পরিচিত বিষয়। তবে আরবি ভাষায় এটি এমন কল্যাণকর উপকারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার প্রশংসা সকল মানুষ করে থাকে, চাই তা কোনো ব্যক্তির জন্য করা আবশ্যক হোক কিংবা মুস্তাহাব। একে এই নামে ডাকার তাৎপর্য হলো: এটি এমন এক বিষয় যা কারো কাছে অজানা নয় এবং এমন এক অর্থ যার ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না)। সমাপ্ত (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মানজুর মুহাম্মদ বিন মাকরাম আল-ইফরিকি আল-মিসরি (৬৩০ - ৭১১ হিজরি), লিসানুল আরবের রচয়িতা। ইবনে হাজার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন।

(২) লিসানুল আরবের 'আইন-রা-ফা' মূলধাতু দেখুন।

(৩) কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাআফিরি (৪৬৮ - ৫৪৩ হিজরি), "আহকামুল কুরআন" গ্রন্থের রচয়িতা। আল-আলাম ৬/ ২৩০।

(৪) ফয়জুল কাদির ২/ ৪৪১, হাদিস (২২৪৫)।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٦)
وللقصري (1) رحمه الله معنى لطيف وتعبير رائق عن المعروف، كتبه بقلم الحكيم العارف، فقال رحمه الله تعالى: (المنكر والمعروف ضدان، كالليل والنهار، إذا ظهر هذا غاب هذا، وفي ذلك حكمة عظيمة لمن تفطن لها، فإن المعروف مأخوذ من (العُرف) الذي هو: العادة التي عرفها الناس، والمنكر: هو الذي أنكرته العقول والقلوب عند رؤيته، فالمنكر لا أصل له فإنه مجهول ومنكور في أصل الخلقة.

فإن المعروف الحقَّ الذي لم يزل ولا يزال: هو اللهُ. ومخلوقاتُه في الملك والملكوت والعرش والجبروت لم تعرفْ إلَّا إيَّاه ربًّا، ولم تعرفْ طاعةً إلَّا طاعته، فكان التعبد له والقيام بحقه هو المعروف فقط.

فلما خُلق آدم عليه السلام وخلق إبليس وذريتهما وحدثت المعاصي عند الثقلين، صار العصيان منكرًا، أي: أنكره العقل؛ لأنه لم يألفه ولم يعهده، وليس له أصل في العرف المتقدِّم.

ولهذا .. إذا كان المنكر مخفيًّا غير ظاهر لا يضر غير صاحبه الذي ظهر على قلبه وجوارحه فقط؛ لأنه شبيه بأصله لم يعرفه أحد، فإذا ظهر وفشى: وجب تغييره وردّه إلى أصله بإنكار النفس واللسان واليد، حتى لا يبقى إلَّا المعروف الذي لم يزل معروفًا قديمًا وحديثًا). انتهى (2).

هذا نزر من معاني المعروف ومدلولات هذه الكلمة الحاوية لأصناف وأنواع البر والخير والإِحسان، ومن أراد التوسع فعليه بمعاجم اللغة وقواميسها يجد فيها الكثير والكثير.

* * *

--------------------------------------------

(1) القصري: فتح بن موسى الجزيري المصري، توفي سنة 663، الأعلام.

(2) فيض القدير 2/ 441، شرح الحديث رقم (2245).
কাসরী (১) রহিমানুল্লাহর ‘মা‘রুফ’ (সৎকর্ম) সম্পর্কে একটি সূক্ষ্ম অর্থ ও চমৎকার অভিব্যক্তি রয়েছে, যা তিনি একজন প্রজ্ঞাবান আরিফের কলমে লিখেছেন। তিনি রহিমানুল্লাহ বলেছেন: “মুনকার (অসৎকর্ম) এবং মা‘রুফ হলো একে অপরের বিপরীত, যেমন রাত ও দিন; যখন একটি প্রকাশ পায়, অন্যটি অদৃশ্য হয়ে যায়। যারা এর প্রতি মনোনিবেশ করে তাদের জন্য এতে মহান হিকমত রয়েছে। কারণ মা‘রুফ শব্দটি ‘উর্ফ’ (প্রথা) থেকে নেওয়া হয়েছে, যা হলো: এমন অভ্যাস যা মানুষ চেনে। আর মুনকার হলো তা-ই, যা দেখার সময় বিবেক ও অন্তর অস্বীকার করে। সুতরাং মুনকারের কোনো ভিত্তি নেই, কেননা সৃষ্টির মূলে তা অজ্ঞাত ও অস্বীকৃত।

কেননা প্রকৃত মা‘রুফ যিনি অনাদি ও অনন্তকাল ধরে আছেন, তিনি হলেন আল্লাহ। তাঁর রাজত্ব ও মালাকুত এবং আরশ ও জাবারুতের সমস্ত সৃষ্টি তাঁকে ছাড়া আর কাউকে প্রতিপালক হিসেবে চেনে না, এবং তাঁর আনুগত্য ছাড়া অন্য কোনো আনুগত্য চেনে না। সুতরাং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা এবং তাঁর হক আদায় করাই ছিল একমাত্র মা‘রুফ।

অতঃপর যখন আদম আলাইহিস সালাম এবং ইবলিস ও তাদের সন্তানদের সৃষ্টি করা হলো এবং জিন ও ইনসানের মাঝে পাপাচারের উদ্ভব ঘটল, তখন অবাধ্যতা মুনকার হিসেবে গণ্য হলো। অর্থাৎ, বিবেক একে অস্বীকার করল; কারণ এটি এর সাথে অভ্যস্ত ছিল না এবং এর সাথে পরিচিতও ছিল না। আর পূর্ববর্তী প্রাচীন রীতির মাঝে এর কোনো ভিত্তি নেই।

এই কারণে.. মুনকার যদি গোপন থাকে এবং প্রকাশ্য না হয়, তবে তা কেবল তার কর্তার ক্ষতি করে যার অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তা প্রকাশ পেয়েছে; কারণ এটি তার মূলের সদৃশ যাকে কেউ চেনে না। কিন্তু যখন তা প্রকাশ পায় এবং ছড়িয়ে পড়ে, তখন নফস, জিহ্বা ও হাতের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করা এবং তার মূলে ফিরিয়ে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে; যাতে কেবল সেই মা‘রুফ-ই অবশিষ্ট থাকে যা প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সর্বদা মা‘রুফ হিসেবে পরিচিত ছিল।” সমাপ্ত (২)।

এটি মা‘রুফ-এর অর্থ এবং এই শব্দের তাৎপর্যের সামান্য অংশ মাত্র, যা সকল প্রকার নেকি, কল্যাণ ও ইহসানের ধারক। আর যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তারা যেন অভিধান ও শব্দকোষগুলো দেখেন; সেখানে তারা অনেক অনেক তথ্য পাবেন।

* * *

--------------------------------------------

(১) কাসরী: ফাতহ ইবনে মুসা আল-জাজিরি আল-মিসরি, মৃত্যু ৬৬৩ হিজরি, আল-আ‘লাম।

(২) ফয়জুল কাদির ২/৪৪১, হাদিস নং (২২৪৫)-এর ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٧)
ترجمة المصنف (1): الشيخ مرعي الكرمي

(000 - 1033 هـ = 000 - 1624 م)

مرعي بن يوسف بن أبي بكر بن أحمد بن أبي بكر بن يوسف الكرمي ثم المقدسي ثم المصري الحنبلي.

قال المحبِّي: كان فقيهًا محدِّثًا ذا اطِّلاع واسع على نقول الفقه ودقائقه، ومعرفة تامَّة بالعلوم النقلية والعقلية، وجميع العلوم المتداولة له فيها اليد الطولى.

والكرمي: نسبة لطور كرم (2) قرية بقرب نابلس، ولد بها، ولم يذكر كل من ترجم له سنة مولده.

--------------------------------------------

(1) اعتمدت فيما نقلته على: السحب الوابلة لابن حميد النجدي ط: مكتبة الإِمام أحمد 1409 هـ: 263 - 267، والأعلام للزركلي 7/ 203، ومقدمة كتاب إرشاد ذوي العرفان للمصنف، لبسام الجابي، ونقل فيها الترجمة التي وضعها الشيخ شعيب الأرنؤوط للمصنف ونشرف في مجلة البصائر (العدد الخامس) وفيها تفصيل ذكر مؤلفاته ما طبع وما هو مخطوط منها مع ذكر أماكن وجودها.

(2) وهي المعروفة اليوم بـ (طول كرم)، باللام، تقع شمال غريب نابلس، بينها وبين البحر سهول خصبة، كانت تسمَّى في عهد صلاح الدين الأيوبي "الطراز الأخضر". بسام الجابي، مقدمة إرشاد ذوي العرفان.
গ্রন্থকারের জীবনী (১): শেখ মারয়ি আল-কারমি

(০০০ - ১০৩৩ হিজরি = ০০০ - ১৬২৪ খ্রিস্টাব্দ)

মারয়ি ইবনে ইউসুফ ইবনে আবু বকর ইবনে আহমাদ ইবনে আবু বকর ইবনে ইউসুফ আল-কারমি, অতঃপর আল-মাকদিসি, অতঃপর আল-মিসরি আল-হানবালি।

আল-মুহিব্বি বলেন: তিনি ছিলেন একজন ফকিহ ও মুহাদ্দিস, ফিকহ শাস্ত্রের উদ্ধৃতি ও এর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহে তার ব্যাপক পাণ্ডিত্য ছিল। এছাড়া নকলি (বর্ণনাগত) ও আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) জ্ঞান এবং তৎকালীন প্রচলিত সকল শাস্ত্রে তার অগাধ পারদর্শিতা ছিল।

‘আল-কারমি’ শব্দটি ‘তুর কারম’ (২) এর দিকে নিসবত বা সম্বন্ধযুক্ত, যা নাবলুসের নিকটবর্তী একটি গ্রাম। তিনি সেখানে জন্মগ্রহণ করেন। তার জীবনীকারদের কেউ তার জন্মসাল উল্লেখ করেননি।

--------------------------------------------

(১) আমি এখানে যা উদ্ধৃত করেছি তার জন্য নিম্নোক্ত উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি: ইবনে হুমাইদ আন-নাজদি রচিত ‘আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ’, প্রকাশনা: মাকতাবাতুল ইমাম আহমাদ ১৪০৯ হিজরি: ২৬৩-২৬৭; আল-জিরিকলি রচিত ‘আল-আ’লাম’ ৭/২০৩; এবং বাসসাম আল-জাবি কর্তৃক গ্রন্থকারের ‘ইরশাদু উয়িল ইরফান’ গ্রন্থের ভূমিকা। সেখানে তিনি শেখ শুআইব আল-আরনাউত কর্তৃক প্রস্তুতকৃত গ্রন্থকারের জীবনীটি উদ্ধৃত করেছেন যা ‘আল-বাসায়ির’ ম্যাগাজিনে (পঞ্চম সংখ্যা) প্রকাশিত হয়েছিল। এতে তার মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে থাকা রচনাবলির বিস্তারিত বিবরণ এবং সেগুলো প্রাপ্তিস্থানের উল্লেখ রয়েছে।

(২) এটি বর্তমানে ‘তুলকারম’ (লাম সহকারে) নামে পরিচিত, যা নাবলুসের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এর এবং সমুদ্রের মধ্যবর্তী স্থানে উর্বর সমভূমি রয়েছে। সালাহউদ্দিন আইয়ুবির যুগে একে ‘আত-তিরাজুল আখদার’ (সবুজ অলঙ্কার) বলা হতো। — বাসসাম আল-জাবি, ‘ইরশাদু উয়িল ইরফান’-এর ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌مذهبه:

كان رحمه الله يقلد في الفروع مذهب إمام أهل السنَّة أحمد بن حنبل، لا يكاد يخرج عنه قِيد شعرة، وكان محققًا للمسائل، عارفًا بالمذهب، عاشقًا له، وفي ذلك يقول:

لئن قلد الناس الأئمة إنني … لفي مذهب الحبر ابن حنبل راغب

أقلد فتواه وأعشق قوله … وللناس فيما يعشقون مذاهب

قال في "النعت الأكمل": وكان الشيخ في الاعتقاد على مذهب السلف الصالح رضوان الله عليهم من التسليم المطلق للنصوص، وعدم تأويلها وصرفها عن ظاهرها كما يظهر جليًّا في كتابه: "أقاويل الثقات".

 

‌‌شيوخه ومنصبه:

أخذ عن عدد من الشيوخ ببيت المقدس، منهم:

1 - الشيخ محمد المرداوي.

2 - والقاضي يحيى الحجاوي.

ودخل مصر واستوطنها وأخذ بها عن:

1 - الشيخ محمد حجازي الواعظ (957 - 1035).

2 - والشيخ المحقق محمد الغنيمي.

وعن كثير من الشيوخ المصريين، وكلهم أجازوه، وتصدَّر للإِقراء والتدريس بجامع الأزهر، ثم تولَّى المشيخة بجامع السلطان حسن.

 

‌‌مؤلفاته:

قال في السُّحُب: كان منهمكًا على تحصيل العلوم انهماكًا كليًّا،
তাঁর মাজহাব:

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলায় (ফুরু'তে) আহলে সুন্নতের ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাজহাবের অনুসরণ করতেন, তা থেকে এক চুল পরিমাণও বিচ্যুত হতেন না। তিনি মাসআলাসমূহের গবেষক ছিলেন, মাজহাব সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল ছিলেন এবং এর প্রতি অনুরাগী ছিলেন। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন:

মানুষ যদি ইমামদের অনুসরণ করে, তবে আমি তো … মহান জ্ঞানী ইবনে হাম্বলের মাজহাবের প্রতিই অনুরাগী

আমি তাঁর ফতোয়া অনুসরণ করি এবং তাঁর কথাকে ভালোবাসি … আর মানুষ যা ভালোবাসে, তাতে তাদের ভিন্ন ভিন্ন পথ রয়েছে

"আন-না'তুল আকমাল" গ্রন্থে বলা হয়েছে: আকিদার ক্ষেত্রে শায়খ ছিলেন সালাফে সালেহীনদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাজহাবের ওপর; যা হলো নস বা পাঠ্যপ্রমাণসমূহের প্রতি নিরঙ্কুশ আত্মসমর্পণ এবং সেগুলোর জাহেরী বা বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে কোনো প্রকার ব্যাখ্যা (তাওয়ীল) না করা। যেমনটি তাঁর "আকাওয়ীলুস সিকাত" গ্রন্থে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

 

তাঁর শিক্ষকবৃন্দ এবং পদমর্যাদা:

তিনি বায়তুল মাকদিসের বেশ কিছু শায়খের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - শায়খ মুহাম্মদ আল-মারদাভী।

২ - এবং কাজী ইয়াহইয়া আল-হিজ্জাবী।

তিনি মিসরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেন; সেখানে তিনি যাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন:

১ - শায়খ মুহাম্মদ হিজাজী আল-ওয়ায়েজ (৯৫৭ - ১০৩৫)।

২ - এবং গবেষক শায়খ মুহাম্মদ আল-গুনাইমী।

এবং আরও অনেক মিসরীয় শায়খের নিকট থেকে (তিনি ইলম অর্জন করেন); তাঁরা সকলেই তাঁকে ইজাজত প্রদান করেছিলেন। তিনি আল-আজহার মসজিদে কিরাত ও দরস প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন, অতঃপর সুলতান হাসান মসজিদে প্রধান শায়খের পদে অধিষ্ঠিত হন।

 

তাঁর রচনাবলি:

"আস-সুহুব" গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি জ্ঞান অর্জনে পুরোপুরি নিবিষ্ট ছিলেন,
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٩)
فقطع زمانه بالإِفتاء والتدريس والتحقيق والتصنيف، فسارت بتآليفه الركبان، ومع كثرة أعدائه وأضداده ما أمكن أحدًا أن يطعن فيها ولا أن ينظر بعين الازدراء إليها.

وعدد في السُّحُب نحو سبعين كتابًا من تآليفه، وميَّز الأستاذ شعيب الأرنؤوط في ترجمته للمصنف ما طبع منها مما لا يزال مخطوطًا، وما له وجود مما لم يوجد في المكتبات العالمية.

(أ) فممَّا طبع منها:

1 - غاية المنتهى، في الفقه، متن جمع فيه من المسائل أقصاها وأدناها، مشى فيه على سنن المجتهدين في التصحيح والاختيار والترجيح. طبع في دمشق 1959 م، في ثلاثة أجزاء، صادرًا عن دار السلام.

2 - دليل الطالب، في الفقه، اختصره من "منتهى الإِرادات" لابن النجار الحنبلي، نشره المكتب الإِسلامي سنة 1961 م بتعليقات الشيخ محمد بن مانع.

3 - أقاويل الثقات في تأويل الأسماء والصفات المتشابهات، نشرته مؤسسة الرسالة بتحقيق الأستاذ شعيب الأرنؤوط (1).

4 - الشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية، نشرته دار الرسالة بتحقيق نجم عبد الرحمن خلف.

--------------------------------------------

(1) علمت من بعض الإِخوة أن بعض الباحثين قام بتحقيق هذا الكتاب وقدمه كرسالة علمية في الجامعة الإِسلامية بالمدينة المنورة، وأن فيه ترجمة موسعة للمصنف، ولم أقف عليه بعد.
তিনি তাঁর সময় অতিবাহিত করেছেন ফতোয়া প্রদান, অধ্যাপনা, গবেষণা এবং রচনার কাজে। ফলে তাঁর রচনাবলি দেশ-বিদেশে প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাঁর অসংখ্য শত্রু ও বিরোধী থাকা সত্ত্বেও কেউ তাতে কোনো ছিদ্রান্বেষণ করতে পারেনি এবং সেগুলোর প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকাতেও সমর্থ হয়নি।

‘আস-সুহুব’ গ্রন্থে তাঁর প্রায় সত্তরটি রচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উস্তাদ শুয়াইব আরনাউত গ্রন্থকারের জীবনীতে তাঁর সেই সকল রচনার বর্ণনা দিয়েছেন যেগুলো মুদ্রিত হয়েছে, যেগুলো এখনো পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়েছে এবং বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থাগারগুলোতে যেগুলোর অস্তিত্ব আছে কিংবা নেই।

(ক) মুদ্রিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:

১ - গায়াতুল মুনতাহা: ফিকহ শাস্ত্রের একটি মূল পাঠ (মাতান), যাতে তিনি মাসআলাসমূহের আদ্যোপান্ত একত্রিত করেছেন। এতে তিনি বিশুদ্ধতা নিরূপণ, চয়ন ও প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে মুজতাহিদগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। এটি ১৯৫৯ সালে দামেস্কের দারুস সালাম থেকে তিন খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

২ - দালীলুত তালিব: ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ, যা তিনি ইবনুন নাজ্জার হাম্বলীর ‘মুনতাহাল ইরাদাত’ থেকে সংক্ষেপিত করেছেন। এটি ১৯৬১ সালে শাইখ মুহাম্মাদ বিন মানি-এর টীকাসহ আল-মাকতাবুল ইসলামী থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

৩ - আকাওয়িলুস সিকাত ফি তাউয়িলিল আসমাই ওয়াস সিফাতিল মুতাশাবিহাত: এটি উস্তাদ শুয়াইব আরনাউতের সম্পাদনায় মুআসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে (১)।

৪ - আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফি সানাইল আইম্মাহ আলা ইবনি তাইমিয়্যাহ: এটি নাজম আবদুর রহমান খালাফের সম্পাদনায় দারুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আমি কিছু ভাইদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, কোনো কোনো গবেষক এই কিতাবটি সম্পাদনা করেছেন এবং মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাপত্র হিসেবে পেশ করেছেন। সেখানে গ্রন্থকারের একটি বিস্তারিত জীবনী রয়েছে, তবে আমি এখনো সেটি দেখার সুযোগ পাইনি।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١٠)
5 - إرشاد ذوي العرفان لما للعمر من الزيادة والنقصان. طبع مرة بتحقيق مشهور سلمان، وأخرى بتحقيق بسام الجابي، وصدر عن دار ابن حزم 1414 هـ.

6 - الفوائد الموضوعة في الأحاديث الموضوعة، تحقيق محمد الصباغ، ط: المكتب الإِسلامي 1977 م.

وقد طبع له مؤلفات أخرى، لا أطيل بذكرها.

(ب) ومما لا يزال مخطوطًا:

1 - تحقيق البرهان في إثبات حقيقة الميزان، منه نسخة في باريس 1026، وفي (باتنة) 2/ 428.

2 - تشويق الأنام إلى حج بيت الله الحرام، منه نسخة في لا يبزغ (ألمانيا الشرقية) 277.

3 - إحكام الأساس في قوله تعالى: {إنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ} [آل عمران: 96]. منه نسخة في دار الكتب المصرية، فهرست الخديوية 3/ 270.

4 - رسالة فيما وقع في كلام الصوفيين من ألفاظ موهمة للتكفير، منه بدار الكتب المصرية، فهرست الخديوية 7/ 546.

5 - قلائد العقيان في فضائل سلاطين آل عثمان. فرغ منه سنة 1031، منه نسخة في (فيينا) 979 و 980، وفي باريس 1624 و 4926، وبالهند والرباط والموصل.

هذا، وفي ترجمة المصنف في مجلة البصائر (العدد الخامس)
৫ - ইর্ষাদ যউয়িল ইরফান লিমা লিল উমরি মিনায যিয়াদাতু ওয়ান নুকসান। এটি একবার মাশহুর সালমানের তাহকীকে এবং অন্যবার বাসসাম আল-জাবীর তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে এবং ১৪১৪ হিজরিতে দার ইবনে হাযম থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

৬ - আল-ফাওয়াইদুল মাওদুআ ফিল আহাদিসিল মাওদুআ, মুহাম্মাদ আস-সাব্বাগের তাহকীক, প্রকাশ: আল-মাকতাবুল ইসলামী ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ।

তাঁর আরও কিছু গ্রন্থ মুদ্রিত হয়েছে, যা উল্লেখ করে আমি দীর্ঘ করছি না।

(খ) এবং যা এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে:

১ - তাহকীকুল বুরহান ফি ইসবাত হাকীকাতিল মিযান, এর একটি কপি প্যারিসে ১০২৬ এবং (বাতনা)-তে ২/৪২৮ এ রয়েছে।

২ - তাশউয়িকুল আনাম ইলা হাজ্জি বাইতিল্লাহিল হারাম, এর একটি কপি লাইপজিগ (পূর্ব জার্মানি) ২৭৭-এ রয়েছে।

৩ - ইহকামুল আসাস ফি ক্বাউলিহি তাআলা: {নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য প্রথম যে ঘরটি স্থাপিত হয়েছে...} [আল-ইমরান: ৯৬]। এর একটি কপি মিশরের দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যাহ-তে রয়েছে, ফিহরিসতুল খাদিবিয়্যাহ ৩/২৭০।

৪ - রিসালা ফিমা ওয়াকাআ ফি কালামিস সুফিয়্যিনা মিন আলফাযিন মুহামাতিন লিত-তাকফির, এটি মিশরের দারুল কুতুবে রয়েছে, ফিহরিসতুল খাদিবিয়্যাহ ৭/৫৪৬।

৫ - কালায়িদুিল উকইয়ান ফি ফাদায়িল সালাতীন আলি উসমান। তিনি এটি ১০৩১ হিজরিতে সমাপ্ত করেন, এর একটি কপি (ভিয়েনা) ৯৭৯ ও ৯৮০ এবং প্যারিসে ১৬২৪ ও ৪৯২৬-এ রয়েছে, এছাড়াও ভারত, রাবাত ও মুসুলে এর পাণ্ডুলিপি রয়েছে।

এটিই হলো বিষয়, আর আল-বাসাইর ম্যাগাজিনে (পঞ্চম সংখ্যা) গ্রন্থকারের জীবনীতে...
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١١)
تفصيل لا بأس به لمصنفاته المطبوعة والمخطوطة ومواضع وجودها في المكتبات، فليرجع إليها من أراد التوسع.

 

‌‌وفاته:

توفي رحمه الله بمصر، في ربيع الأول سنة ثلاث وثلاثين وألف (1033 هـ) من الهجرة النبوية، على صاحبها أفضل صلاة وأزكى تسليم وتحية.

قال فيه صاحب النعت الأكمل:

سقى الله تربًا ضمَّه وابل الحيا … بجنات عدن آمنًا من مخاوف

ولا زال رضوان الإِله مبارِكًا … ثرى ضمَّه ما حنَّ بيت لطائف

* * *
তাঁর মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি রচনার বিস্তারিত বিবরণ এবং গ্রন্থাগারগুলোতে সেগুলোর অবস্থান সম্পর্কে একটি উত্তম বর্ণনা রয়েছে, সুতরাং যে ব্যক্তি আরও বিস্তারিত জানতে চান তিনি যেন সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ১০৩৩ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে মিসরে ইন্তেকাল করেন। যাঁর হিজরত থেকে এই সাল গণনা করা হয় (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর প্রতি সর্বোত্তম সালাত এবং পবিত্রতম সালাম ও অভিবাদন বর্ষিত হোক।

'আন-নাতুল আকমাল' গ্রন্থের লেখক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:

আল্লাহ সেই মাটিকে মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা সিক্ত করুন যা তাঁকে আগলে রেখেছে … আদন জান্নাতে সকল প্রকার ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ অবস্থায়

আর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি সর্বদা বরকতময় হোক … সেই মাটির ওপর যা তাঁকে ধারণ করেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো গৃহ সূক্ষ্ম মাধুর্যের প্রতি ব্যাকুল থাকবে

* * *
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌هذا الكتاب

عبارة عن أربعين حديثًا جمعها مصنفها في فَضل عمل المعروف ومساعدة الآخرين، غالبها من الجامع الصغير للسيوطي وقليل منها لم ترد فيه.

وهذه الأربعين الحديث مفيدةٌ في بابها، وإن كان المصنف قد سبق في هذا المضمار من علماء متقدِّمين، وحفَّاظ كبار قد جمعوا هذه الأحاديث المتعلقة بهذا الموضوع في أجزاء حديثية مستقلة، وفيما يلي ذكرهم.

 

‌‌ذكر من صنف في الموضوع:

لعل أول من صنف كتابًا في أحاديث المعروف وفضل قضاء الحوائج: هو الإِمام المحدث الشهير أبو بكر بن أبي الدنيا (توفي حدود 280) في كتابه (قضاء الحوائج) وفيه 117 ما بين حديث وأثر في الموضوع، وقد طبع بتحقيق مجدي السيِّد إبراهيم، وصدر عن مكتبة القرآن بمصر، ولم يعتن المحقق بالتخريج كل العنثية.

وهناك الحافظ أبو الغنائم محمد بن علي النرسي (ت 510) في جزء حديثي سمَّاه: "ثواب قضاء حوائج الإِخوان"، طبع بتحقيق الدكتور عامر
এই গ্রন্থটি

এটি মূলত চল্লিশটি হাদিসের একটি সংকলন যা এর সংকলক সৎকর্ম করা এবং অন্যকে সাহায্য করার ফজিলত সম্পর্কে একত্র করেছেন। এর অধিকাংশ হাদিস সুয়ূতীর 'আল-জামি আল-সাগীর' থেকে নেওয়া হয়েছে এবং সামান্য কিছু হাদিস তাতে নেই।

এই চল্লিশটি হাদিস সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে বেশ ফলপ্রসূ, যদিও এই অঙ্গনে লেখকের পূর্বে প্রাচীন আলেমগণ এবং মহান হাফিজগণ কাজ করেছেন, যারা এই বিষয় সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোকে স্বতন্ত্র হাদিস সংকলনে একত্র করেছেন। নিম্নে তাদের নাম উল্লেখ করা হলো।

 

এই বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের আলোচনা:

সম্ভবত সৎকর্মের হাদিস এবং প্রয়োজন পূরণের ফজিলত সম্পর্কে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন, তিনি হলেন প্রখ্যাত ইমাম ও মুহাদ্দিস আবু বকর ইবন আবিদ দুনইয়া (মৃত্যু আনুমানিক ২৮০ হিজরি) তার ‘ক্বাদা আল-হাওয়াইজ’ (প্রয়োজন পূরণ) নামক গ্রন্থে। এতে এই বিষয়ে হাদিস ও আছার মিলিয়ে ১১৭টি বর্ণনা রয়েছে। এটি মাজদী আস-সাইয়্যিদ ইব্রাহিমের সম্পাদনায় মিসরের মাকতাবাতুল কুরআন থেকে প্রকাশিত হয়েছে, তবে সম্পাদক এর তাখরীজ তথা হাদিসের সূত্র নির্দেশনার ক্ষেত্রে খুব একটা যত্নবান হননি।

এছাড়া রয়েছেন হাফিজ আবু আল-গানায়িম মুহাম্মদ ইবন আলী আন-নারসী (মৃত্যু ৫১০ হি.), তিনি একটি হাদিস সংকলন রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'সাওয়াবু ক্বাদা হাওয়াইজিল ইখওয়ান' (ভাইদের প্রয়োজন পূরণের সওয়াব), এটি ডক্টর আমেরের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١٣)
حسن صبري، وصدر عن دار البشائر الإِسلامية 1414 هـ، ضمن سلسلة الأجزاء الحديثية، ويظهر جليًّا جهد المحقق في التخريج والعزو.

هذا ما وقفت عليه من المصنفات في هذا الموضوع، أما موضوع "مكارم الأخلاق" وهو عام يشمل ما نحن بصدده وغيره فالكتب فيه كثيرة، وقد تكفل الدكتور فاروق حمادة باستعراض عدد منها في مقدمة تحقيقه لمكارم الأخلاق للحافظ الطبراني، الصادر عن دار الثقافة بالمغرب (الدار البيضاء).

 

‌‌وصف النسخة الخطية:

عثرت على نسخة أصلية للكتاب وهي بخط المصنف، بمنزل جدي لأمي المرحوم عوض بن معروف باذيب (1) في مكتبته الخاصة ببلدنا (شبام حضرموت)، إحدى أقدم وأشهر البلدان الحضرمية الواقعة في (جنوب اليمن).

--------------------------------------------

(1) هو جدي لأمي الشيخ الفاضل أحد العقلاء وأهل الرأي والمشورة ببلده: عوض بن معروف بن محمد باذيب الشَبَامي. مولده بشبام حضرموت سنة 1314 للهجرة، وبها وفاته سنة 1402 رحمه الله تعالى.

وهذه الرسالة وجدتها ضمن ما تبقَّى من كتب المذكور التي ورثها عن آبائه، إذ أحرقت الكثير والكثير من كتب أهل حضرموت في عهد الشيوعية المظلم -الذي انتهى وزال قبل عشر سنوات من اليوم- فقد كان الناس آنذاك {عَلَى خَوْفٍ مِنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِمْ أَنْ يَفْتِنَهُمْ} [يونس: 83]، وقد زال هذا الكابوس بحمد الله وتنفَّس أهل حضرموت الصعداء بعد أن كتمت أنفاسهم طوال ربع قرن مضى، فالحمد لله ثم الحمد لله.

وقد وضعت فهرسًا لما وقفتُ عليه من المخطوطات في بلدتي المذكورة لا يزال في طَوْر الإِعداد، يسَّر الله إتمامه.
হাসান সাবরি, এটি ১৪১৪ হিজরি সনে দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে হাদিসের খণ্ডসমূহের সিরিজের অধীনে প্রকাশিত হয়েছে এবং তাহকিক ও তথ্যসূত্র প্রদানের ক্ষেত্রে মুহাক্কিকের পরিশ্রম এতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

এই বিষয়ে আমি যে সকল কিতাব সম্পর্কে জানতে পেরেছি তা হলো এইগুলো। আর 'মাকারেমুল আখলাক' (উচ্চমানের চরিত্র) বিষয়টি একটি সাধারণ বিষয়, যা আমাদের আলোচ্য বিষয় এবং অন্যান্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। এ বিষয়ে কিতাবের সংখ্যা অনেক। ডক্টর ফারুক হামাদা হাফেজ তবারানির 'মাকারেমুল আখলাক'-এর তাহকিকের ভূমিকায় এমন বেশ কিছু কিতাব পর্যালোচনার দায়িত্ব নিয়েছেন, যা মরক্কোর (কাসাব্লাঙ্কা) দারুস সাকাফাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

 

‌‌পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

আমি কিতাবটির একটি মূল পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি যা স্বয়ং লেখকের হস্তলিখিত। এটি আমার মাতামহ মরহুম আওয়াদ বিন মারুফ বাজিবের (১) ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে পেয়েছি, যা আমাদের শহর (শিবাম হাদরামাউত)-এ অবস্থিত। এটি (দক্ষিণ ইয়েমেনে) অবস্থিত হাদরামাউতের অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ শহর।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আমার মাতামহ, গুণী শায়খ, তাঁর এলাকার অন্যতম বুদ্ধিমান ও বিজ্ঞ পরামর্শদাতা: আওয়াদ বিন মারুফ বিন মুহাম্মদ বাজিব আশ-শিবামি। তাঁর জন্ম ১৩১৪ হিজরি সনে হাদরামাউতের শিবামে এবং সেখানেই ১৪০২ সনে তাঁর মৃত্যু হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

এই রিসালাটি (পুস্তিকা) আমি উল্লেখিত ব্যক্তির কিতাবসমূহের অবশিষ্টাংশের মধ্যে পেয়েছি যা তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। কারণ অন্ধকারাচ্ছন্ন সাম্যবাদী শাসনামলে—যা আজ থেকে দশ বছর আগে শেষ ও বিলুপ্ত হয়েছে—হাদরামাউতের অধিবাসীদের অসংখ্য কিতাব পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। তখন মানুষ ‘ফেরাউন এবং তাদের পারিষদবর্গের ভয়ে ভীত ছিল যে, তারা তাদের বিপদে ফেলবে’ [ইউনুস: ৮৩]। আল্লাহর প্রশংসা যে, এই দুঃস্বপ্ন বিদায় নিয়েছে এবং দীর্ঘ পঁচিশ বছর শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় থাকার পর হাদরামাউতবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর, পুনরায় সকল প্রশংসা আল্লাহর।

আমি আমার উল্লেখিত শহরে যে সকল পাণ্ডুলিপির সন্ধান পেয়েছি তার একটি সূচি তৈরি করেছি যা এখনও প্রস্তুতিাধীন রয়েছে, আল্লাহ তাআলা এটি সম্পন্ন করা সহজ করে দিন।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١٤)
تقع النسخة في 34 صفحة من القطع المتوسط، مسطرتها بين 9 و 10 أسطر، بخط نسخي واضح، كتبها جامعها سنة 1031 هجرية، أي قبل وفاته بسنتين بالجامع الأزهر، كتب على صفحة العنوان ما مثاله:

كتاب القول المعروف في فضل المعروف رقمه بخطه مصنفه

برسم سيدنا شيخ الإِسلام ملك العلماء الأعلام، فخر الموالي العظام، مفرد الزمان إلَّا أنه قائم مقام الجمع، والمستغرق لأوصاف الإِنسان عند كل منطق وسمع، الحبر الذي فاق بصفاته الأوائل، والبحر المشتمل بذاته على جواهر الفضائل، مولانا صدر الدين زاده، لا زال ممن إذا مد يراع قلمه أفرغ فرائد من البحور، وجعلها بعزائم هممه قلائد بيض النحور).

ويظهر من هذا أنَّ المصنف ألفه وأهداه لمن ذكر، ولكني لم أحظ بترجمة لـ (صدر الدين زاده) هذا، ويظهر أنه من العلماء لتلقيبه له بـ (شيخ الإِسلام).

وفي آخر النسخة:

(تم بخط المؤلف مرعي الحنبلي المقدسي خادم الفقراء بالجامع الأزهر، في أوائل ذي الحجة من شهور سنة إحدى وثلاثين وألف)

وذيَّلها بفائدة في نحو ستة عشر سطرًا، تدور حول الموضوع، وقد جعلتها في الحاشية ولم أحذف منها شيئًا.

وتوجد نسخة أخرى من الكتاب بدار الكتب المصرية، الخزانة التيمورية 272 مجاميع، وتقع في خمس ورقات بخط نسخي معتاد، وعدد
পাণ্ডুলিপিটি মাঝারি আকারের ৩৪ পৃষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত, যার প্রতি পৃষ্ঠায় ৯ থেকে ১০টি লাইন রয়েছে। এটি স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত। এর সংকলক এটি ১০৩১ হিজরি সনে অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুর দুই বছর পূর্বে আল-আজহার মসজিদে অনুলিখন করেছেন। শিরোনাম পৃষ্ঠায় যা লেখা আছে তার নমুনা নিম্নরূপ:

কিতাবুল কাওলুল মারুফ ফি ফাদলিল মারুফ (সতকাজের ফযীলত সম্পর্কে সুপ্রসিদ্ধ বক্তব্য), গ্রন্থকার এটি স্বহস্তে সংখ্যায়িত করেছেন।

আমাদের নেতা শায়খুল ইসলাম, প্রখ্যাত আলেমদের অধিপতি, মহান মনিবদের গৌরব, সমকালের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব—যিনি একক হওয়া সত্ত্বেও একাই এক শ এবং সকল বিবেক ও শ্রুতির নিকট মানবীয় গুণাবলির পূর্ণ আধার; সেই মহাজ্ঞানী যিনি স্বীয় গুণাবলি দ্বারা পূর্ববর্তীদেরও অতিক্রম করেছেন এবং সেই সমুদ্র যা আপন সত্তায় ফযীলতের মণি-মুক্তা ধারণ করে আছে, আমাদের মওলা সদরুদ্দিন জাদে—তিনি সর্বদা সেই ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত থাকুন, যাঁদের কলম চললে সমুদ্র হতে দুর্লভ মুক্তোরাশি নিঃসৃত হয় এবং আপন সংকল্পের দৃঢ়তায় সেগুলোকে শুভ্র কণ্ঠহারের রূপ দান করেন।

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, গ্রন্থকার এটি রচনা করে উল্লিখিত ব্যক্তিকে উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন। তবে আমি এই 'সদরুদ্দিন জাদে'র কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। তবে লেখক কর্তৃক তাঁকে 'শায়খুল ইসলাম' উপাধিতে ভূষিত করার কারণে মনে হয় যে, তিনি বিজ্ঞ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

পাণ্ডুলিপির শেষে বর্ণিত আছে:

(আল-আজহার মসজিদের ফকীরদের খাদেম, লেখক মারঈ আল-হাম্বলি আল-মাকদিসির হস্তলিপিতে এটি সমাপ্ত হলো, এক হাজার একত্রিশ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শুরুর দিকে)

তিনি এর শেষে প্রায় ষোল লাইনের একটি শিক্ষণীয় টীকা যুক্ত করেছেন যা মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। আমি সেটি পাদটীকায় স্থান দিয়েছি এবং তা থেকে কিছুই বর্জন করিনি।

গ্রন্থটির আরেকটি পাণ্ডুলিপি মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ সংরক্ষিত আছে (খিজানা আত-তয়মুরিইয়াহ ২৭২ মাজামিয়)। এটি সাধারণ নাসখ লিপিতে পাঁচটি পৃষ্ঠায় লিখিত এবং এর সংখ্যা
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١٥)
مسطرتها 25 سطرًا، ولم يكتب اسم الناسخ ولا سنة النسخ، ولا يوجد بينها وبين نسخة الأصل فروق جوهرية (1).

 

‌‌عملي في الكتاب:

قمتُ بنسخ الأحاديث، وضبطها، ورجعتُ إلى الكتب الحديثية لعزوها وتخريجها، وذكرت ما قاله المحدِّثون وأهل الجرح والتعديل في إسناد كل حديث غالبًا، من كلام على الرجال ونحو ذلك، وذلك باختصار بقدر الإِمكان.

وعلَّقت بعض الفوائد على بعض الأحاديث نقلًا عن "فيض القدير" للعلَّامة المناوي على الجامع الصغير للسيوطي، حيث إن معظم الأحاديث وردت فيه.

ولم أترجم للصحابة الرواة لشهرتهم، ولتوفر مصادر تراجمهم كالإِصابة وغيرها، كذلك لم أترجم لشيوخ المصنف واكتفيت بالعزو إلى المصادر.

وقدَّمت لهذا العمل بمقدمة مختصرة، وترجمت للمصنف، ووصفت النسخة الخطية التي حصلت عليها، وعملت في آخر الكتاب فهارس للأحاديث الشريفة الواردة مرتبًا لها هجائيًّا، يتلوه فهرس المراجع، ثم الفهرس العام.

وإني لأرجو بعملي هذا أن أدخل في بركة الحديث الشريف وأهله، وشرف المنتسبين إليه، وما قمت به إنما هو جهد المقِل، وأستغفر الله من كل خطأ وتقصيره لي ولوالدي ولشيوخي وكافة المسلمين.

--------------------------------------------

(1) وقد أتحفني بمصورة منها الأخ الباحث خالد مدرك المغربي، فجزاه المولى عني خير الجزاء.
এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৫টি লাইন রয়েছে। এতে লিপিকারের নাম কিংবা লিপ্যন্তরের সাল উল্লেখ করা হয়নি। মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এর কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই (১)।

 

‌‌এই কিতাবে আমার কাজ:

আমি হাদিসগুলো প্রতিলিপি করেছি এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করেছি। হাদিসসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান ও তাহরিজ (সূত্র নির্দেশ) করার জন্য আমি হাদিসগ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি প্রতিটি হাদিসের সনদের ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ এবং জারহ ও তাদিল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন) শাস্ত্রের পণ্ডিতদের বক্তব্য—যেমন বর্ণনাকারীদের পরিচয় এবং এই সংক্রান্ত অন্যান্য আলোচনা—যথাসম্ভব সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি।

সুয়ুতির 'আল-জামেউস সগির'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল্লামা মুনাবীর 'ফয়জুল কাদির' থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আমি কিছু হাদিসের ওপর টীকা ও শিক্ষণীয় বিষয়াদি যোগ করেছি; কারণ অধিকাংশ হাদিসই সেখানে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীগণ সুপরিচিত হওয়ায় এবং তাদের জীবনীমূলক গ্রন্থসমূহ—যেমন 'আল-ইসাবাহ' এবং অন্যান্য—সহজলভ্য হওয়ায় আমি তাদের জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ করিনি। একইভাবে আমি লেখকের উস্তাদদের জীবনীও বর্ণনা করিনি, বরং কেবল মূল উৎসগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি।

আমি এই কাজের শুরুতে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা লিখেছি, লেখকের জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরেছি এবং আমি যে পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করেছি তার বর্ণনা দিয়েছি। কিতাবের শেষে আমি বর্ণিত হাদিসগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়ে একটি সূচি তৈরি করেছি, এরপর তথ্যসূত্রের তালিকা এবং সবশেষে সাধারণ নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।

আমি আমার এই কাজের মাধ্যমে হাদিসে শরিফ ও এর অনুসারীদের বরকত এবং এর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মর্যাদা লাভে ধন্য হওয়ার আশা রাখি। আমি যা করেছি তা কেবল এক নগণ্য ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। আমি আমার সকল ভুল ও ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি—আমার নিজের জন্য, আমার পিতা-মাতার জন্য, আমার উস্তাদদের জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য।

--------------------------------------------

(১) গবেষক ভাই খালিদ মুদরিক আল-মাগরিবি আমাকে এর একটি অনুলিপি উপহার দিয়েছেন। মহান প্রতিপালক আমার পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١٦)
سندي إلى المصنف:

أروي هذا الكتاب عن الشيخ العالم الفاضل نظام بن محمد صالح يعقوبي البحريني قراءة، وإجازة، وهو يرويها عن مسند العصر الشيخ محمد ياسين الفاداني المكي رحمه الله، عن الفقيه الشيخ محمود السيد الدومي الحنبلي الدمشقي، عن شيخه الشيخ مصطفى الشطي، عن أبيه الشيخ أحمد الشطي، عن أبيه حسن بن عمر الشطي، عن مصطفى الرحيباني، عن الشيخ أحمد البعلي الحنبلي، عن العلَّامة الشيخ عبد القادر التغلبي الحنبلي، عن العلَّامة المسند عبد الباقي البعلي الحنبلي الدمشقي، عن الشيخ المصنف، رحمهم الله أجمعين.

وبهذا السند أروي هذا الكتاب وسائر تصانيف الشيخ مرعي الكرمي (1).

وللشيخ ياسين الفاداني أسانيد وطرق أخرى لا أطيل بذكرها، ومن أرادها فليراجع مصنفاته المطبوعة، وهي كثيرة وشهيرة.

وصلَّى الله على أشرف خلقه وأكرم عبيده سيدنا ومولانا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، وسلِّم تسليمًا كثيرًا إلى يوم الدين.

سبحان ربك ربِّ العزَّة عما يصفون، وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين.

محمد بن أبي بكر بن عبد الله باذيب الحضرمي

جُدة يوم الجمعة ثاني أيام عيد الفطر المبارك من عام 1420 للهجرة

--------------------------------------------

(1) انظر (إتحاف المستفيد بغرر الأسانيد)، للشيخ محمد ياسين الفاداني (توفي 1410 هـ)، ط: دار البصائر.
মূল গ্রন্থকারের নিকট আমার সনদ:

আমি এই কিতাবটি পাঠ ও অনুমোদনের (ইজাজাহ) মাধ্যমে বর্ণনা করছি বিশিষ্ট আলিম ও বিদ্বান শেখ নিজাম বিন মুহাম্মদ সালেহ ইয়াকুবী আল-বাহরাইনী থেকে। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন সমসাময়িক কালের মুসনিদ শেখ মুহাম্মদ ইয়াসিন আল-ফাদানি আল-মাক্কি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে, তিনি ফকিহ শেখ মাহমুদ আস-সাইয়্যেদ আদ-দুমি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি থেকে, তিনি তাঁর উস্তাদ শেখ মুস্তাফা আশ-শাত্তি থেকে, তিনি তাঁর পিতা শেখ আহমদ আশ-শাত্তি থেকে, তিনি তাঁর পিতা হাসান বিন উমর আশ-শাত্তি থেকে, তিনি মুস্তাফা আর-রুহাইবানি থেকে, তিনি শেখ আহমদ আল-বা'লি আল-হাম্বলি থেকে, তিনি আল্লামা শেখ আব্দুল কাদির আত-তাগলিবি আল-হাম্বলি থেকে, তিনি আল্লামা মুসনিদ আব্দুল বাকি আল-বা'লি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি থেকে, তিনি মূল গ্রন্থকার (মুসান্নিফ) শেখ থেকে বর্ণনা করেছেন—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।

এই সনদের মাধ্যমেই আমি এই কিতাব এবং শেখ মারয়ী আল-কারমির অন্যান্য সকল রচনা বর্ণনা করি (১)।

শেখ ইয়াসিন আল-ফাদানির আরও অনেক সনদ ও মাধ্যম রয়েছে যা উল্লেখ করে আমি দীর্ঘ করছি না। যে ব্যক্তি তা জানতে চায় সে যেন তাঁর মুদ্রিত রচনাসমূহ দেখে নেয়, যা অনেক এবং সুপ্রসিদ্ধ।

আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাশীল আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক বিচার দিবস পর্যন্ত।

আপনার রব, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসুলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বা-জীব আল-হাদরামি

জেদ্দা, শুক্রবার, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন, হিজরি ১৪২০ সাল

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শেখ মুহাম্মদ ইয়াসিন আল-ফাদানি (মৃত্যু ১৪১০ হি.) রচিত ‘ইতহাফুল মুস্তাফিদ বি গুরারিল আসানিদ’, প্রকাশনী: দারুল বাসাইর।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١٧)
صورة أول مخطوطة المصنف
আল-মুসান্নাফ-এর প্রথম পাণ্ডুলিপির চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١٨)
صورة آخر مخطوطة المصنف
আল-মুসান্নাফের সর্বশেষ পাণ্ডুলিপির চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ١٩)
صورة أول مخطوطة دار الكتب
দারুল কুতুবের প্রথম পাণ্ডুলিপির চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
صورة آخر مخطوط دار الكتب
দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপির শেষাংশের চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (19)

 

القول المعروف في فضل المعروف

 

تأليف

العلامة مرعي بن يوسف الكرمي المقدسي الحنبلي توفي سنة 1033 هـ رحمه الله تعالى

 

اعتنى به وخرج أحاديثه

محمد أبو بكر عبد الله باذيب

 

عن نسخة أصلية بخط مصنفه
মসজিদুল হারামে শেষ দশকের মিলনমেলা (১৯)

 

সদাচরণের ফযীলত বিষয়ক সুপ্রসিদ্ধ বক্তব্য

 

রচনা

আল্লামা মারঈ ইবনে ইউসুফ আল-কারমি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি, মৃত্যু ১০৩৩ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

 

সম্পাদনা ও হাদিস যাচাইকরণ

মুহাম্মদ আবু বকর আবদুল্লাহ বা-যিব

 

লেখকের স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপি থেকে
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدِمَة المؤلف

قال العبد الفقير إلى الله تعالى مرعي بن يوسف الحنبلي المقدسي لطف الله به آمين:

الحمد لله الآمر بالمعروف، الغافر الموصوف، الباعث رسله بمكارم الأخلاق والمعجزات الألوف، الذي يحب المحسنين ويحب المتصدقين، ومن هو بالمساكين برٌّ عطوف.

والصلاة والسلام على سيِّدنا محمد خير آلف ومألوف، القائل: "إن الله تعالى يحب إغاثة الملهوف" (1)، وعلى آله وصحبه الذين كل منهم رحيم رؤوف.

وبعد، فقد أحببت أن أجمع بعض أحاديث تتعلق بفضل المعروف وإغاثة الملهوف تسر الناظر والخاطر وتقرُّ بها العين الباصرة بقصد الترغيب في فعل المعروف والتحبيب في إغاثة الملهوف، وسميته:

--------------------------------------------

(1) قوله: "إن الله يحب إغاثة الملهوف"، لم يرد حديث بهذا اللفظ، وإنما هو: "إغاثة اللهفان"، أخرجه ابن عساكر في تاريخ دمشق عن أبي هريرة، انظر الحديث السادس عشر من هذا الكتاب.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

 

‌‌গ্রন্থকারের ভূমিকা

আল্লাহ তাআলার প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দা মারয়ি ইবনে ইউসুফ আল-হাম্বলি আল-মাকদিসি—আল্লাহ তাঁর প্রতি সদয় হোন, আমিন—বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৎকাজের আদেশদাতা, গুণান্বিত ক্ষমাশীল, যিনি তাঁর রাসূলগণকে মহৎ চরিত্র এবং হাজারো মুজিজাসহ প্রেরণ করেছেন; যিনি ইহসানকারীদের ভালোবাসেন এবং দানশীলদের ভালোবাসেন, আর যিনি অসহায়দের প্রতি পরম দয়ালু ও করুণাময়।

আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সর্বোত্তম সম্প্রীতি স্থাপনকারী ও প্রিয়ভাজন, যিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আর্তের সাহায্য করা পছন্দ করেন" (১); এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত দয়াবান ও সহমর্মী।

অতঃপর, আমি সৎকাজের ফজিলত এবং আর্তের সাহায্যের গুরুত্ব সম্পর্কিত কিছু হাদিস সংকলন করতে আগ্রহী হয়েছি, যা পাঠক ও চিন্তাশীলদের আনন্দিত করবে এবং যার দ্বারা চক্ষুষ্মান ব্যক্তির চোখ শীতল হবে। এর উদ্দেশ্য হলো সৎকাজে উৎসাহ প্রদান এবং আর্তের সেবায় আগ্রহী করে তোলা। আমি এর নামকরণ করেছি:

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আর্তের সাহায্য করা পছন্দ করেন", এই শব্দে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি, বরং শব্দটি হলো: "বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা", এটি ইবনে আসাকির 'তারীখে দামেশক' গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থের ষোড়শ হাদিসটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
(القول المعروف في فضل المعروف)

وجعلته أربعين حديثًا اقتداء بمن صنَّف في ذلك من الأئمة قديمًا وحديثًا، ورجاء أن يكون لي نصيب من قوله صلى الله عليه وسلم: "من حَفِظَ على أمَّتي أَرْبعينَ حدِيثًا مِن سُنَّتي أدخلتُه يومَ القيامةِ في شَفَاعتي" (1)، رواه ابن النجار عن أبي سعيد رضي الله عنه، وقوله صلى الله عليه وسلم: "مَنْ حَمل من أمَّتي أَربعينَ حديثًا بعثَه الله يومَ القيامةِ فَقِيهًا عالمًا" (2)، رواه أبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه عن أنس رضي الله عنه.

* * *

--------------------------------------------

(1) الحديث أورده السيوطي في الجامع الصغير برقم (8640) ورمز له بالصحة، قال المُناوي في الفيض في شرحه للحديث: (قال ابن حجر: حديث "من حفظ" ورد في رواية ثلاثة عشر صحابيًّا خرَّجها ابن الجوزي في العلل، بيَّن ضعفها كلها، وأفرده المنذري بجزء، ولخصت القول فيه في الإِملاء، ثم جمعت طرقه في جزء، ليس فيها طريق تسلم من علة قادحة). اهـ.

(2) تنبيه: حديث: "من حمل … "، أخرجه السيوطي في الجامع الصغير برقم (8649)، ورمز له بـ (عد) أي عند ابن عدي، وليس كما ذكر المصنف من رواية الأربعة له، ولعل الأمر اشتبه عليه، فظن أن رمز (عد) المعني به ابن عدي، هو رمز (ع) أي الأربعة كما هو اصطلاح السيوطي في جامعه الصغير، والله أعلم.

والحاصل: أن الحديث أخرجه ابن عدي في الكامل من رواية أنس رضي الله عنه 5/ 1712 من طريق عمر بن شاكر، قال ابن عدي: (وأحاديثه -أي عمر هذا- غير محفوظة). انتهى. وقال الذهبي في الميزان 3/ 203، (6135): (بصري واه، له عن أنس نحو عشرين حديثًا مناكير). انتهى.
(সদয় আচরণের ফযীলত সম্পর্কে প্রসিদ্ধ বক্তব্য)

আমি একে চল্লিশটি হাদীসে বিন্যস্ত করেছি, প্রাচীন ও আধুনিক যুগের সেই সকল ইমামদের অনুসরণ করে যারা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, এবং এই আশায় যে আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর অংশীদার হতে পারি: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য আমার সুন্নাহ হতে চল্লিশটি হাদীস মুখস্থ রাখবে, কিয়ামতের দিন আমি তাকে আমার সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত করব" (১), ইবনুন নাজ্জার এটি আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের মধ্য থেকে চল্লিশটি হাদীস বহন (সংরক্ষণ) করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ফকীহ ও আলিম হিসেবে পুনরুত্থিত করবেন" (২), আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ এটি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

* * *

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি সুয়ূতী ‘আল-জামি আস-সাগীর’-এ (৮৬৪০) নম্বরে উল্লেখ করেছেন এবং একে সহীহ হওয়ার প্রতীক প্রদান করেছেন। মুনাভী ‘আল-ফায়দ’-এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: (ইবনে হাজার বলেন: ‘যে ব্যক্তি মুখস্থ রাখবে’ হাদীসটি তেরোজন সাহাবীর বর্ণনায় এসেছে, যা ইবনুল জাওযী ‘আল-ইলাল’-এ উদ্ধৃত করেছেন এবং এর সবগুলোর দুর্বলতা স্পষ্ট করেছেন। মুনযিরী এ বিষয়ে একটি পৃথক অংশ রচনা করেছেন এবং আমি ‘আল-ইমলা’তে এ সংক্রান্ত বক্তব্য সংক্ষেপ করেছি, অতঃপর এর সকল সূত্র একটি অংশে জমা করেছি, যার কোনো সূত্রই দোষত্রুটি থেকে মুক্ত নয়)। সমাপ্ত।

(২) সতর্কতা: "যে ব্যক্তি বহন করবে..." হাদীসটি সুয়ূতী ‘আল-জামি আস-সাগীর’-এ (৮৬৪৯) নম্বরে উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে ‘আদ’ প্রতীক দিয়েছেন অর্থাৎ এটি ইবনে আদী-এর নিকট রয়েছে। বিষয়টি এমন নয় যেমনটি গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন যে চার ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত বিষয়টি তাঁর নিকট অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি ধারণা করেছিলেন যে ‘আদ’ প্রতীক দ্বারা ইবনে আদী উদ্দেশ্য নয়, বরং তা ‘আ’ প্রতীক অর্থাৎ চার ইমামের কথা বোঝানো হয়েছে, যেমনটি সুয়ূতীর ‘আল-জামি আস-সাগীর’-এর পরিভাষা। আল্লাহই ভালো জানেন।

সারকথা: হাদীসটি ইবনে আদী ‘আল-কামিল’-এ ৫/১৭১২ পৃষ্ঠায় আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনায় উমর বিন শাকিরের সূত্রে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আদী বলেছেন: (এবং তাঁর—অর্থাৎ এই উমরের—হাদীসগুলো সংরক্ষিত বা নির্ভরযোগ্য নয়)। সমাপ্ত। যাহাবী ‘আল-মিযান’ ৩/২০৩, (৬১৩৫)-এ বলেছেন: (তিনি বসরার একজন দুর্বল বর্ণনাকারী, আনাস থেকে তাঁর বর্ণিত প্রায় বিশটি মুনকার বা বর্জনীয় হাদীস রয়েছে)। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌الحديث الأول

عن عائشة وابن عباس وابن عمر وأبي هريرة وأنس بن مالك رضي الله عنهم، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "اطْلُبوا الخيرَ عِنْدَ حِسَانِ الوُجُوه" (1)، رواه البخاري في التاريخ وأبو يعلى والطبراني والبيهقي وغيرهم (2).

--------------------------------------------

(1) الحديث حسن لغيره لكثرة طرقه، إذ رواه نحو عشرة من الصحابة، وأخرجه كثير من الحفاظ من عدة طرق لا تسلم من علة، وقد أفرد بعض الحفاظ هذا الحديث بتأليف مستقل، منهم السيِّد أحمد الصديق الغماري في جزء سمَّاه: "بلوغ الطالب ما يرجوه"، حكم فيه بحسنه لغيره كما ذكر الدكتور خلدون الأحدب في كتابه: "زوائد تاريخ بغداد": 2: 560 - 574، وقد خرَّجه في نحو أربع عشرة صفحة.

(2) رواية السيدة عائشة: أخرجها البخاري في التاريخ الكبير 1/ 1 / 157، في ترجمة محمد بن عبد الرحمن (أبو غرارة) القرشي، زوج جبرة، ترجمة (468). وأخرجها البيهقي في "الشعب": 3/ 278، حديث (3541) و (3542)، وأخرجها أبو يعلى في مسنده، قال الحافظ الهيثمي في "مجمع الزوائد" 8/ 195: (وفيه من لم أعرفهم). انتهى.

رواية ابن عباس: أخرجها الطبراني الكبير 11/ 67، برقم (11110)، قال الحافظ في "المجمع" 8/ 195: (رواه الطبراني، وفيه عبد الله بن خراش بن =
প্রথম হাদিস

আয়েশা, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, আবু হুরায়রা এবং আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সুন্দর চেহারার অধিকারীদের নিকট কল্যাণ অনুসন্ধান করো।" (১), এটি ইমাম বুখারি তাঁর 'তারিখ'-এ, আবু ইয়ালা, তাবারানি, বায়হাকি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি এর বহুবিধ সূত্রের কারণে হাসান লিগাইরিহি (অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে হাসান), কেননা প্রায় দশজন সাহাবী এটি বর্ণনা করেছেন। অনেক হাফিজে হাদিস এটিকে এমন একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা ত্রুটিমুক্ত নয়। কোনো কোনো হাফিজে হাদিস এই হাদিসটি নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাইয়্যিদ আহমাদ আস-সিদ্দিক আল-গুবারি, তাঁর 'বুলুগুল তালিব মা ইয়ারজুহু' নামক পুস্তিকায়। সেখানে তিনি একে হাসান লিগাইরিহি হিসেবে হুকুম দিয়েছেন, যেমনটি ডক্টর খালদুন আল-আহদাব তাঁর 'যাওয়ায়েদু তারিখে বাগদাদ' গ্রন্থের ২য় খণ্ডের ৫৬০-৫৭৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন; তিনি সেখানে প্রায় চৌদ্দ পৃষ্ঠা জুড়ে এর সূত্র বিশ্লেষণ করেছেন।

(২) সায়্যিদা আয়েশার বর্ণনা: ইমাম বুখারি এটি 'আত-তারিখুল কাবির'-এ (১/১/১৫৭) বর্ণনা করেছেন, জাবরার স্বামী মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান (আবু গুরারা) আল-কুরাশির জীবনীতে (জীবনী নং ৪৬৮)। বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ (৩/২৭৮, হাদিস নং ৩৫৪১ ও ৩৫৪২) এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। হাফিজ হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ'-এ (৮/১৯৫) বলেছেন: (এতে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যাদের আমি চিনি না)। সমাপ্ত।

ইবনে আব্বাসের বর্ণনা: তাবারানি 'আল-মু'জামুল কাবির'-এ (১১/৬৭, হাদিস নং ১১১১০) এটি বর্ণনা করেছেন। হাফিজ 'আল-মাজমাউয যাওয়ায়েদ'-এ (৮/১৯৫) বলেছেন: (তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন, এবং এতে আবদুল্লাহ ইবনে খিরাশ ইবনে... রয়েছেন)।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وهذا لأنَّ حُسْنَ الصورة يدل على حُسْنِ السَّريرة في الغالب، وما أحسنَ قول القائل:

لقد قال الرَّسُولُ وقال حقًّا … وخيرُ القولِ ما قالَ الرسُولُ

إذا الحاجاتُ جَاءَتْ فاطْلبُوهَا … إلى مَنْ وَجْهُه حسنٌ جميلُ (1)

--------------------------------------------

= حوشب، وثقه ابن حبان وقال: ربما أخطأ، وضعفه غيره، وبقية رجاله ثقات). انتهى.

وأخرجه البيهقي في "الشعب": 3/ 278، حديث (3543)، وأخرجه ابن عدي في "الكامل" (3/ 1167) في ترجمة سليم بن مسلم الخشاب الجمحي، قال فيه ابن عدي: (هو جهمي خبيث متروك الحديث). اهـ. منه.

وقد أورد الحافظ الهيثمي في "مجمع الزوائد" 8/ 194 روايات أخرى ضعيفة.

وللتوسُّع في تخريج الحديث: راجع كتاب "زوائد تاريخ بغداد"، للدكتور الأحدب، حديث (571)، ففيه ما يكفي إن شاء الله.

* معنى الحديث:

(الوجه الجميل مَظنَّة لفعل الجميل، وبين الخَلق والخُلُق تناسبٌ قريب غالبًا، فإنه قلَّ صورة حسنة يتبعها نفس رديئة … وقيل: أراد حسن الوجه عند طلب الحاجة بدليل أنه قيل (للحبر)، أي ابن عباس: كم من رجل قبيح الوجه قضاء للحوائج، قال: إنما نعني حسن الوجه عند طلب الحاجة، أي بشاشته عند سؤاله، وحُسْن الاعتذار عند نواله)، عن "فيض القدير" شرح الحديث (1107).

(1) هذا البيت للحسين بن عبد الرحمن، كما في "مكارم الأخلاق" لابن أبي الدنيا 60، واسمه الحسين بن عبد الرحمن الفزاري الاحتياطي يروي عن ابن عيينة، ذكره في الميزان (1880): 1/ 502. ولحسان أو ابن رواحة رضي الله عنهما في المعنى:

قد سمعنا نبينا قال قولًا … هو لمن يطلب الحوائج راحهْ

اغتدوا فاطلبوا الحوائج ممن … زين الله وجهه بصباحهْ

أخرجه ابن أبي الدنيا بسنده في (الحوائج) (57): 59.
এটি এজন্য যে, বাহ্যিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের প্রমাণ মেলে। আর একজন কবির উক্তি কতই না চমৎকার:

নিশ্চয়ই রাসূল সত্য কথা বলেছেন … আর রাসূল যা বলেছেন তা-ই সর্বোত্তম কথা।

যখনই তোমাদের প্রয়োজনের উদ্ভব হয়, তখন তা এমন ব্যক্তির কাছে চাও … যার মুখমণ্ডল সুন্দর ও লাবণ্যময়। (১)

--------------------------------------------

= হাওশাব, ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং বলেছেন: সম্ভবত তিনি ভুল করেছেন, অন্যরা তাকে দুর্বল বলেছেন, এবং তার বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য। সমাপ্ত।

বায়হাকী এটি "শুয়াবুল ঈমান"-এ (৩/২৭৮, হাদীস ৩৫৪৩) বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি এটি "আল-কামিল" (৩/১১৬৭) গ্রন্থে সুলাইম বিন মুসলিম আল-খাশ্শাব আল-জুমাহীর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আদি তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি একজন খবীস জাহমী, যার হাদীস পরিত্যক্ত।" সমাপ্ত।

হাফেজ হাইসামি "মাজমাউয যাওয়াইদ"-এ (৮/১৯৪) আরও কিছু দুর্বল বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

হাদীসটির তাখরীজের বিস্তারিত জানার জন্য ডক্টর আল-আহদাবের "যাওয়াইদ তারিখ বাগদাদ" গ্রন্থের ৫৭১ নং হাদীসটি দেখুন। ইনশাআল্লাহ এতেই যথেষ্ট তথ্য রয়েছে।

* হাদীসের অর্থ:

(সুন্দর মুখমণ্ডল সুন্দর কাজ করার একটি স্থান হিসেবে গণ্য হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাহ্যিক অবয়ব ও চরিত্রের মাঝে এক গভীর সামঞ্জস্য থাকে। খুব কমই এমন সুন্দর অবয়ব দেখা যায় যার পেছনে মন্দ আত্মা রয়েছে … আরও বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজন চাওয়ার সময় মুখমণ্ডলের সৌন্দর্য। এর প্রমাণ হলো, যখন আল-হাবর অর্থাৎ ইবনে আব্বাসকে বলা হলো: কত কদর্য চেহারার মানুষই তো অভাব পূরণ করে থাকে! তিনি বললেন: আমরা শুধু প্রয়োজন পেশ করার সময়কার সৌন্দর্যকে বুঝিয়েছি; অর্থাৎ প্রার্থনার সময় তার হাস্যোজ্জ্বল চেহারা এবং কিছু দিতে না পারলে সুন্দরভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা।) সূত্র: "ফয়জুল কাদির", হাদীসের ব্যাখ্যা (১১০৭)।

(১) এই পঙ্‌ক্তিটি হুসাইন বিন আবদুর রহমানের, যেমনটি ইবনে আবুদ দুনিয়ার "মাকারিমুল আখলাক" (৬০) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তার নাম হুসাইন বিন আবদুর রহমান আল-ফাযারী আল-ইহতিয়াতি। তিনি ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন। "মিজানুল ইতিদাল"-এ (১৮৮০: ১/৫০২) তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই অর্থে হাসসান বা ইবনে রাওয়াহা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-রও কিছু কবিতা রয়েছে:

আমরা আমাদের নবীকে একটি কথা বলতে শুনেছি … যা প্রয়োজন অন্বেষণকারীর জন্য স্বস্তিদায়ক।

তোমরা সকালেই বের হও এবং নিজের প্রয়োজন এমন ব্যক্তির কাছে চাও … যার চেহারাকে আল্লাহ জ্যোতি দিয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন।

ইবনে আবুদ দুনিয়া তার নিজ সনদে "আল-হাওয়ায়েজ" (৫৭: ৫৯) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌الحديث الثاني

عن علي بن أبي طالب كرَّم الله وجهه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "اطْلُبُوا المعْروفَ من رُحَماء أُمَّتي تَعيشُوا في أكنَافِهِم، ولا تَطْلُبُوه مِنَ القَاسِيةِ قُلُوبُهم فإِنَّ اللعنةَ تَنْزِلُ عَلَيهِم.

يا عليُّ، إنَّ الله تَعَالى خَلَقَ المعرُوفَ وخَلَقَ لهُ أهْلًا فحبَّبه إِليهِم وحَبَّب إِلَيْهِم فِعَالَه، وَوَجَّه إِلَيْهِمْ طِلَابَه كمَا وجَّه المَاءَ في الأَرْضِ الجدبة لتَحْيَى بِه ويَحْيَى بِه أَهْلُها، إِن أَهْلَ المَعْرُوفِ في الدُّنيا هُمْ أَهْلُ المعرُوفِ في الآخرة"، رواه الحاكم في المستدرك (1).

--------------------------------------------

(1) الحديث عند الحاكم في المستدرك 4: 321، وقال: "هذا حديث صحيح الإِسناد ولم يخرِّجاه". وتعقبه الذهبي في التلخيص بقوله: "الأصبغ بن نباتة واه، وحبان ضعفوه".

وأما آخر الحديث من قوله: "إن أهل المعروف … " إلخ، فسيأتي تخريجه في الحديث الرابع والخامس من هذا الكتاب.

* معنى الحديث:

قوله: "فإن اللعنة تنزل عليهم": "قال ابن تيمية: والمراد بهم هنا: اليهود، بقرينة تصريحهم بأن المراد هم في آية: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ}، وقسوة القلب من ثمرات المعاصي، وقد وصف الله اليهود بها في غير موضع منها"، من "فيض القدير" حديث (1115).

وقوله: "هم أهل المعروف في الآخرة": "يعني: من بذل المعروف للناس في الدنيا آتاه الله جزاء معروفه في الآخرة … ". اهـ. فيض القدير.
দ্বিতীয় হাদিস

আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তার চেহারাকে সম্মানিত করুন) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার উম্মতের দয়ালু ব্যক্তিদের নিকট কল্যাণ অনুসন্ধান করো, তাহলে তোমরা তাদের আশ্রয়ে জীবন যাপন করতে পারবে; আর পাষাণ হৃদয়ের অধিকারীদের নিকট তা অনুসন্ধান করো না, কারণ তাদের ওপর অভিশাপ নাজিল হয়।

হে আলী, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কল্যাণ সৃষ্টি করেছেন এবং এর জন্য একদল লোক সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর একে তাদের নিকট প্রিয় করেছেন এবং এর আমলকে তাদের নিকট প্রিয় করেছেন। তিনি এর অন্বেষণকারীদের তাদের দিকে তেমনিভাবে ধাবিত করেন যেভাবে তিনি অনুর্বর জমিতে পানি প্রবাহিত করেন যাতে তার মাধ্যমে জমিটি জীবিত হয় এবং তার অধিবাসীরাও জীবন লাভ করে। নিশ্চয়ই যারা পৃথিবীতে কল্যাণের অধিকারী, তারাই পরকালেও কল্যাণের অধিকারী হবে", এটি হাকিম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১)।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি হাকিমের আল-মুস্তাদরাক ৪: ৩২১-এ রয়েছে, তিনি বলেছেন: "এই হাদিসটির সনদ সহিহ কিন্তু তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।" যাহাবি 'আত-তালখিস' গ্রন্থে এর সমালোচনা করে বলেছেন: "আসবাহ ইবনে নুবাতাহ অত্যন্ত দুর্বল, এবং হিব্বান তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।"

আর হাদিসের শেষাংশ অর্থাৎ "নিশ্চয়ই কল্যাণের অধিকারী..." ইত্যাদি সম্পর্কে এই গ্রন্থের চতুর্থ ও পঞ্চম হাদিসে তথ্যসূত্র আসবে।

* হাদিসের মর্মার্থ:

তাঁর উক্তি: "কারণ তাদের ওপর অভিশাপ নাজিল হয়": "ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এখানে তাদের দ্বারা ইয়াহুদিদের বোঝানো হয়েছে। এর প্রমাণ হলো আয়াতে তাদের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতভেদ করেছে, ফলে তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে গেছে}। হৃদয়ের কঠোরতা হলো পাপের অন্যতম ফল, এবং আল্লাহ তাআলা একাধিক স্থানে ইয়াহুদিদের এই গুণের কথা বর্ণনা করেছেন", 'ফয়জুল কাদির' থেকে সংকলিত, হাদিস (১১১৫)।

এবং তাঁর উক্তি: "তারাই পরকালেও কল্যাণের অধিকারী": "অর্থাৎ: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মানুষের প্রতি কল্যাণ প্রদর্শন করেছে, আল্লাহ পরকালে তাকে তার সেই কল্যাণের প্রতিদান প্রদান করবেন..."। সমাপ্ত—ফয়জুল কাদির।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌الحديث الثالث

عن أبي سعيد رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إنَّ الله تَعالى جَعَل للمَعْروفِ وجُوهًا مِنْ خَلْقه حَبَّبَ إلِيهِمْ المعروفَ، وحُبِّبَ إليهم فِعَالُه، وَوَجَّه طُلَّابَ المعروفِ إِليهِم، ويَسَّر عَلَيْهِمْ إعطَاءَهُ كمَا يسَّر الغَيْثَ إِلى الأَرْضِ الجَدْبةِ لِيُحْيِيَها ويُحيِيَ به أَهْلَها. وإنَّ الله تَعَالَى جَعَلَ للمعْرُوفِ أعْداءً مِنْ خَلْقِه، بغَّضَ إِليهِم المعْروف، وبغَّضَ إِليهِم فِعَالَه، وحَظَر عليهم إِعطاءَه، كمَا يَحْظُر الغَيثَ عن الأرْضِ الجَدْبةِ لِيُهْلِكَها ويُهْلِكَ بِها أهلَهَا"، رواه ابن أبي الدنيا (1).

--------------------------------------------

(1) ضعيف، أخرجه ابن أبي الدنيا في قضاء الحوائج (4)، وفيه أبو هارون العبدي عمارة بن جوين الراوي عن أبي سعيد، قال في الميزان (6018): "تابعي ليِّن بمرة، وقال ابن حبان، كان يروي عن أبي سعيد ما ليس من حديثه". انتهى 3/ 173. ورواه الدارقطني في "المستجاد" من رواية أبي هارون عنه، والحاكم من حديث علي وصححه. انظر: فيض القدير حديث (1713).

* من فوائد الحديث:

(يستفاد منه: أن الله تعالى جعل هذه القلوب أوعية، فخيرها: أوعاها للخير والرشاد، وشرها: أوعاها للبغي والفساد. وقد جعل الله النفس مبدأ كل شيء أبداه في ذات ذي النفس، فإنه تعالى يعطي الخير بواسطة وبغير واسطة، ولا يجري الشر إلَّا بواسطة نفس ليكون في ذلك حجة لله على خلقه). اهـ. من الفيض.

زاد في نسخة "الحوائج" و"الجامع الصغير" قوله: "وما يعفو أكثر"، "أي ومع ذلك فالذي يغفره الله لهم أكثر وأعظم مما يؤاخذهم عليه، {وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِمْ مَا تَرَكَ عَلَيْهَا مِنْ دَابَّة} ". انتهى منه.
তৃতীয় হাদিস

আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সৎকর্মের জন্য কিছু ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করেছেন, যাদের নিকট তিনি সৎকর্মকে প্রিয় করেছেন এবং এর সম্পাদনকেও তাদের কাছে প্রিয় করেছেন। তিনি সৎকর্ম অনুসন্ধানকারীদের তাদের দিকে পরিচালিত করেন এবং তাদের জন্য তা প্রদান করাকে সহজ করে দেন, যেমন তিনি শুষ্ক ভূমিতে বৃষ্টিবর্ষণ সহজ করেন যাতে তার মাধ্যমে ভূমিকে জীবিত করেন এবং তার অধিবাসীদেরও জীবন দান করেন। এবং নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সৎকর্মের কিছু শত্রুও নির্ধারণ করেছেন, যাদের নিকট তিনি সৎকর্মকে অপ্রিয় করেছেন এবং এর সম্পাদনকেও তাদের কাছে অপ্রিয় করেছেন। তিনি তাদের জন্য তা প্রদান করাকে রুদ্ধ করে দিয়েছেন, যেমন তিনি শুষ্ক ভূমি থেকে বৃষ্টিকে রুদ্ধ করেন যাতে ভূমিকে ধ্বংস করেন এবং তার মাধ্যমে তার অধিবাসীদেরও ধ্বংস করেন", এটি ইবনে আবিদ দুনিয়া (১) বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি দুর্বল, ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কাযাউল হাওয়ায়িজ' (৪) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আবু হারুন আল-আবদি উমারা বিন জুওয়াইন রয়েছেন, যিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। 'আল-মিজান' (৬০১৮) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "তিনি একজন অত্যন্ত শিথিল তাবিঈ।" ইবনে হিব্বান বলেছেন, "তিনি আবু সাঈদের সূত্রে এমন কিছু বর্ণনা করতেন যা তাঁর হাদিস নয়।" সমাপ্ত ৩/ ১৭৩। দারা কুতনি 'আল-মুস্তাজাদ' গ্রন্থে আবু হারুনের সূত্রে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম এটি আলীর হাদিস থেকে বর্ণনা করে সহিহ বলেছেন। দেখুন: ফয়জুল কাদির, হাদিস (১৭১৩)।

* হাদিসের শিক্ষা ও ফায়দা:

(এ থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে: মহান আল্লাহ এই অন্তরসমূহকে পাত্রস্বরূপ বানিয়েছেন। সুতরাং এর মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে সেটি যা কল্যাণ ও সঠিক পথের জন্য অধিক ধারণক্ষম, আর নিকৃষ্টতম হচ্ছে সেটি যা সীমালঙ্ঘন ও ফাসাদের জন্য অধিক ধারণক্ষম। এবং আল্লাহ প্রবৃত্তিকে (নফস) প্রতিটি বিষয়ের উৎস করেছেন যা তিনি নফসবিশিষ্ট সত্তার মাঝে প্রকাশ করেছেন। কেননা আল্লাহ তাআলা কল্যাণ দান করেন মাধ্যম সহকারে অথবা মাধ্যম ব্যতিরেকে, কিন্তু তিনি মন্দকে প্রবৃত্তির মাধ্যম ব্যতীত পরিচালিত করেন না, যাতে করে এটি সৃষ্টির বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণ স্বরূপ হয়)। সমাপ্ত। ফয়জুল কাদির থেকে।

'আল-হাওয়ায়িজ' এবং 'আল-জামি আস-সগির'-এর পাণ্ডুলিপিতে এই কথাটি বর্ধিত আছে: "এবং তিনি আরও অধিক ক্ষমা করেন", অর্থাৎ "এতদসত্ত্বেও আল্লাহ তাদের যা ক্ষমা করেন তা সেই পাপের চেয়ে অনেক বেশি ও মহান যার জন্য তিনি তাদের পাকড়াও করেন। {আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের অন্যায়ের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে পৃথিবীর বুকে কোনো বিচরণশীল জীবকে তিনি ছেড়ে দিতেন না}"। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌الحديث الرابع

عن أبي أمامة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إِن أهْلَ المعْروفِ في الدُّنيا هُمْ أَهْلُ المعروفِ في الآخِرَةِ، وإِنَّ أوَّلَ أَهْلِ الجنةِ دُخُولًا الجنةَ أهلُ المعرُوفِ"، رواه الطبراني (1).

 

‌‌الحديث الخامس

عن علي وأبي هريرة وابن عباس وسلمان رضي الله عنهم، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إنَّ أهْلَ المعرُوفِ في الدُّنيا أَهْلُ المعروفِ في الآخِرَة، وإِنَّ أَهْل المنْكَرِ في الدُنيا أَهْلُ المنكَرِ في الآخِرَةِ"، رواه الطبراني وأبو نُعيم والخطيب (2).

--------------------------------------------

(1) الحديث عند الطبراني في المعجم الكبير 8: 261، حديث رقم (8015)، قال الحافظ الهيثمي في "المجمع 7: 263: (رواه الطبراني، وفيهم من لم أعرفهم).

انتهى.

* معنى الحديث:

قوله: "إن أول أهل الجنة دخولًا"، أي: من أولهم دخولًا. مناوي.

لطيفة: روي أن قومًا من الأشراف فمن دونهم اجتمعوا بباب عمر، فخرج الإِذن لبلال وسلمان وصهيب، فشق على أبي سفيان وأضرابه، فقال سهيل بن عمرو -وكان أعقلهم-: إنما أُتينا من قِبَلِكم، دُعوا ودعينا، فأسرعوا وأبطأنا، وهذا باب عمر، فكيف التفاوت في الآخرة! ولئن حسدتموهم على باب عمر … لما أعد لهم في الجنة أكثر. اهـ. مناوي حديث (2245).

(2) حديث صحيح لغيره، لكثرة شواهده وطرقه.

فأما رواية الإِمام علي كرم الله وجهه: فهي عند الخطيب في التاريخ 2: 244، في ترجمة محمد بن الحسين بن عمران البغدادي، قال الخطيب: (قال فيه أبو سعيد =
চতুর্থ হাদিস

আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই দুনিয়াতে যারা সৎকর্মশীল (আহলুল মা’রুফ), আখেরাতেও তারাই সৎকর্মশীল হবে। আর জান্নাতবাসীদের মধ্যে যারা সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা হলো এই সৎকর্মশীলরাই।" তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন (১)।

 

পঞ্চম হাদিস

আলী, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস এবং সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই দুনিয়াতে যারা সৎকর্মশীল, আখেরাতেও তারাই সৎকর্মশীল হবে। আর দুনিয়াতে যারা অসৎকর্মশীল (আহলুল মুনকার), আখেরাতেও তারাই অসৎকর্মশীল হবে।" তাবারানি, আবু নুআইম এবং খতিব এটি বর্ণনা করেছেন (২)।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি তাবারানির আল-মু’জাম আল-কাবির (৮: ২৬১, হাদিস নং ৮০১৫) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। হাফেজ হাইসামি 'আল-মাজমা’ (৭: ২৬৩) গ্রন্থে বলেছেন: "তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাদের সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদের আমি চিনি না।"

সমাপ্ত।

* হাদিসের অর্থ:

তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে", অর্থাৎ: তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা সর্বপ্রথম প্রবেশ করবে। মানাউয়ি।

লতিফাহ (সূক্ষ্ম বিষয়): বর্ণিত আছে যে, একদল অভিজাত ব্যক্তি এবং তাদের নিম্নস্তরের ব্যক্তিবর্গ উমরের দরজায় সমবেত হলেন। অতঃপর বেলাল, সালমান এবং সুহাইবকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো। এতে আবু সুফিয়ান ও তাঁর সহযোগীদের মনে কষ্ট লাগল। তখন সুহাইল ইবনে আমর—যিনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ছিলেন—বললেন: "আমাদের যা হয়েছে তা তোমাদের নিজেদের কারণেই হয়েছে। তাদের (দীনের দিকে) আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং আমাদেরও জানানো হয়েছিল। তারা দ্রুত সাড়া দিয়েছিল আর আমরা দেরি করেছিলাম। এটি তো কেবল উমরের দরজা, তবে আখেরাতের ব্যবধান কেমন হবে! তোমরা যদি উমরের দরজায় তাদের প্রতি ঈর্ষা করো … তবে জান্নাতে তাদের জন্য যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে তা তো আরও অনেক বেশি।" সমাপ্ত। মানাউয়ি, হাদিস (২২৪৫)।

(২) এটি তার অসংখ্য শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) এবং সূত্রের কারণে 'সহিহ লি-গাইরিহি' পর্যায়ের হাদিস।

ইমাম আলী (কাররামান্লাহু ওয়াজহাহু)-এর বর্ণনার কথা বললে: সেটি খতিব বাগদাদির 'তারিখ' (২: ২৪৪) গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন উমরান আল-বাগদাদির জীবনীতে রয়েছে। খতিব বলেছেন: (আবু সাঈদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন =
(খণ্ড: ১) আল-কাউলুল মা’রুফ ফি ফাদলিল মা’রুফ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= الإِدريسي: لعله لم يخلف مثله من الكذابين)، ورواه أيضًا في ترجمة علي بن أحمد بن عمر السَّرَخْسي 11: 326، وإسناده تالف.

وأما رواية أبي هريرة: فهي عند الطبراني في مكارم الأخلاق (114) وفي الأوسط والصغير 1: 262 ترجمة (الفضل بن جعفر)، قال في المجمع 163:7:) رواه الطبراني في الصغير والأوسط بإسنادين في أحدهما يحيى بن خالد بن حيان الرقي، ولم أعرفه ولا ولده أحمد، وبقية رجاله رجال الصحيح، وفي الآخر: المسيب بن واضح؛ قال أبو حاتم: يخطئ كثيرًا، فإذا قيل له ارجع لم يرجع). انتهى. وهي في مسند الشهاب 1/ 199، وأخرجه الحافظ النرسي (11) بسند ضعيف.

وأما رواية سَلمان رضي الله عنه: فهي عند الطبراني في الكبير 6: 246 حديث رقم (6112) وفيه هشام بن لاحق تركه أحمد وقواه النسائي، وبقية رجاله ثقات. مجمع 7/ 263 .. وأخرجها الإِمام البخاري في الأدب المفرد (223)؛ والبيهقي في الشعب 7/ 517 برقم (11181)؛ والعقيلي في "الضعفاء" 4/ 337 وقال نقلًا عن البخاري: هشام بن لاحق المدائني مضطرب الحديث، عنده مناكير، أنكر شبابة أحاديثه.

وأما رواية ابن عباس رضي الله عنهما: فهي عند الطبراني في الكبير 11: 59 برقم (11078) و 11: 153 برقم (11460) وضعفها في "المجمع" 7/ 263.

وللحديث طرق أخرى غير ما ذكر، منها: رواية أبي الدرداء رضي الله عنه عند الخطيب 10: 425، في ترجمة عبد الملك بن زيد البزاز المدني. ورواية قبيصة بن بُرْمة الأسدي رضي الله عنه، عند الطبراني والبزار، والبخاري في الأدب المفرد (221). ورواية ابن عمر رضي الله عنهما، عند البزار، وفيه حازم بن محمد قال فيه ابن أبي حاتم: مجهول، مجمع 7: 262، وعند ابن أبي الدنيا في قضاء الحوائج (116)، والخطيب في "موضِّح أوهام الجمع والتفريق" 2: 69. ورواية أبي موسى رضي الله عنه عند الطبراني في الصغير =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= আল-ইদ্রিসী: সম্ভবত তিনি নিজের পরে তার মতো আর কোনো মিথ্যাবাদী রেখে যাননি), এবং এটি আলী বিন আহমদ বিন উমর আস-সারাকসী-এর জীবনীতেও বর্ণিত হয়েছে (১১: ৩২৬), এবং এর বর্ণনাপরম্পরা বা সনদ অত্যন্ত দুর্বল।

আর আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনাটি তাবারানি তার 'মাকারিমুল আখলাক' (১১৪) এবং 'আল-আওসাত' ও 'আস-সাগীর' গ্রন্থে (১: ২৬২) আল-ফজল বিন জাফরের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন। 'আল-মাজমা' গ্রন্থে (৭: ১৬৩) বলা হয়েছে: তাবারানি এটি 'আস-সাগীর' ও 'আল-আওসাত'-এ দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন; যার একটিতে ইয়াহইয়া বিন খালিদ বিন হাইয়ান আর-রাক্কি রয়েছেন, আমি তাকে চিনি না এবং তার ছেলে আহমদকেও চিনি না, তবে এর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সহীহ-এর বর্ণনাকারী। আর অন্য সনদে মুসাইয়িব বিন ওয়াদিহ রয়েছেন; আবু হাতিম বলেন: তিনি অনেক ভুল করেন, আর যখন তাকে (ভুল থেকে) ফিরে আসার কথা বলা হতো, তিনি ফিরতেন না। সমাপ্ত। এটি 'মুসনাদুশ শিহাব'-এ (১/১৯৯) রয়েছে এবং হাফিজ আন-নারসি (১১) এটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।

আর সালমান (রা.)-এর বর্ণনাটি তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ (৬: ২৪৬, হাদিস নং ৬১১২) উল্লেখ করেছেন। এতে হিশাম বিন লাহিক রয়েছেন, যাকে ইমাম আহমদ বর্জন করেছেন তবে ইমাম নাসাঈ শক্তিশালী বলেছেন, এবং অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। মাজমা (৭: ২৬৩)। ইমাম বুখারি এটি 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ (২২৩) বর্ণনা করেছেন; বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ (৭: ৫১৭, নং ১১১৮১); এবং উকাইলি 'আদ-দুয়াফা'-তে (৪: ৩৩৭) ইমাম বুখারি থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন: হিশাম বিন লাহিক আল-মাদায়িনী হাদিসের ক্ষেত্রে অস্থিতিশীল (মুতদারিব), তার বর্ণনায় মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বিষয় আছে, শাবাবাহ তার হাদিসসমূহ অস্বীকার করেছেন।

আর ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনাটি তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ (১১: ৫৯, নং ১১০৭৮ এবং ১১: ১৫৩, নং ১১৪৬০) উল্লেখ করেছেন এবং 'আল-মাজমা' (৭: ২৬৩) গ্রন্থে একে দুর্বল বলা হয়েছে।

উল্লিখিত বর্ণনাগুলো ছাড়াও এই হাদিসের আরও কিছু সূত্র রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: খতিব (১০: ৪২৫) এর নিকট আবু দারদা (রা.)-এর বর্ণনা, যা আব্দুল মালিক বিন যায়েদ আল-বাযযা আল-মাদানির জীবনীতে রয়েছে। তাবারানি ও বাযযার এবং বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ'-এ (২২১) কাবিসাহ বিন বুরমাহ আল-আসাদি (রা.)-এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। বাযযারের নিকট ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণনা রয়েছে, যাতে হাজিম বিন মুহাম্মদ রয়েছেন যার সম্পর্কে ইবনে আবু হাতিম বলেছেন: সে অপরিচিত (মাজহুল), মাজমা (৭: ২৬২)। এটি ইবনে আবিদ দুনিয়ার 'কদাউল হাওয়াইজি' (১১৬) এবং খতিব বাগদাদীর 'মুদিহু আওহামিল জামঈ ওয়াত তাফরিক' (২: ৬৯) গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে। তাবারানির 'আস-সাগীর' গ্রন্থে আবু মুসা (রা.)-এর বর্ণনা রয়েছে =