(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ضرورة الاهتمام بالسنن النبوية   (عبد السلام بن برجس آل عبد الكريم)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: ضرورة الاهتمام بالسنن النبوية

المؤلف: أبو عبد الرحمن عبد السلام بن برجس بن ناصر آل عبد الكريم (ت 1425 هـ)

الناشر: دار المنار للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1414 هـ

عدد الصفحات: 129

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 رمضان 1436

সুন্নাহে নববীর প্রতি গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তা   (আব্দুস সালাম বিন বারজাস আল আব্দুল কারীম)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ


গ্রন্থ: সুন্নাহে নববীর প্রতি গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তা

লেখক: আবু আব্দুর রহমান আব্দুস সালাম বিন বারজাস বিন নাসির আল আব্দুল কারীম (ওফাত ১৪২৫ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল মানার পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ضرورة الاهتمام بالسنن النبوية

 

تأليف

عبد السلام بن برجس بن ناصر آل عبد الكريم

 

دار المنار
নববীয় সুন্নাহসমূহের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তা

 

রচনায়

আবদুস সালাম বিন বারজাস বিন নাসির আল আবদিল কারীম

 

দার আল-মানার
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌بين يدي الرسالة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيِّئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [سورة آل عمران: الآية 102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [سورة النساء: الآية 1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [سورة الأحزاب: الآيتان: 70، 71]

أما بعد، فإنه لا يخفى على مسلم يدبُّ الآن على وجه الأرض؛
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌গ্রন্থের উপক্রমণিকা

নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [সুরা আলে ইমরান: আয়াত ১০২]

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [সুরা নিসা: আয়াত ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তবেই তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [সুরা আহজাব: আয়াত ৭০, ৭১]

অতঃপর, বর্তমানে ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী কোনো মুসলিমের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে;
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ما يُعايِشُهُ المسلمونَ من ضعفٍ تغلْغَلَ في كل جانبٍ من جوانبِ حياتهم، سياسياً كان، أو اقتصادياً، أو غير ذلك.

ولقد تنبَّهَ الساعونَ إلى الإصلاح مُنْذُ أَمَدٍ إلى هذا الضَّعْفِ، فعملوا على تشخيصه وتحديده، ومِنْ ثَمّ على علاجه واستئصاله.

إلا أن السُّبُلَ تفرَّقتْ بهم عند وَصْفِ العلاج، واجتثاثِ الداءِ، تبعاً لاختلافِ منهجهم، وتعدُّدِ فِرَقِهِمْ.

وما من ريب أنَّ ما حلَّ بالمسلمين هو بسبب ابتعادهم عن دينهم، وانغماسهم في الشهوات المحرَّمة.

وبما أن الأمر كذلك - وهو كذلك فإنَّ رسولنا صلى الله عليه وسلم أبان لنا هذا الدَّاءَ وَوَصَفَ لنا دواءه بما لا يَدَعُ مجالاً - عند ذي العقول - للاختلافِ والتنازع.

فقد أخرج أبو داود في سننه «3/ 740» وغيره؛ عن ابن عمر، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:

«إذا تبايعتم بالعِيْنَةِ.

وأخذتمْ أذنابَ البقرِ.

ورضيتم بالزَّرعِ.

وتركتم الجهاد:

سَلَّطَ اللَّهُ عليكم ذُلاً؛ لا يَنزعُهُ حتى ترْجعوا إلى دينكم».

فالمَخْرَجُ الوحيدُ من هذا الذَلّ، هو: الرجوع إلى شرعِ الله تعالى، والعَمَلِ به. وهذا قد شهد به القرآن في مواضع كثيرة.
মুসলমানরা বর্তমানে তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—তা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা অন্য যাই হোক না কেন—যে দুর্বলতা প্রত্যক্ষ করছে, তা তাদের জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে।

সংস্কারকামী ব্যক্তিবর্গ দীর্ঘকাল আগেই এই দুর্বলতা সম্পর্কে সজাগ হয়েছেন; ফলে তারা এটি শনাক্ত ও চিহ্নিত করার জন্য কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে এর চিকিৎসা ও নির্মূলে সচেষ্ট হয়েছেন।

তবে চিকিৎসার বর্ণনা এবং ব্যাধি উপড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের কর্মপন্থা ও দলের ভিন্নতার কারণে তাদের পথগুলো বিভিন্ন দিকে বিভক্ত হয়ে গেছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলমানদের ওপর যা আপতিত হয়েছে তা মূলত তাদের দ্বীন থেকে বিমুখতা এবং নিষিদ্ধ কামনা-বাসনায় নিমজ্জিত হওয়ার কারণে।

যেহেতু বিষয়টি এমনই—আর বাস্তবেও তা-ই—সেহেতু আমাদের রাসূল (সা.) আমাদের নিকট এই ব্যাধি সুস্পষ্ট করেছেন এবং এর প্রতিকার এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যা বিবেকবানদের কাছে মতভেদ ও বিবাদের অবকাশ রাখে না।

আবু দাউদ তার সুনান (৩/৭৪০) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি:

“যখন তোমরা ‘ঈনাহ’ (এক প্রকার সুদী লেনদেন) পদ্ধতিতে কেনাবেচা করবে,

গরুর লেজ ধরবে (অর্থাৎ পশুপালনে মগ্ন হবে),

চাষাবাদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে,

এবং জিহাদ পরিত্যাগ করবে;

তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন; যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে, ততক্ষণ তিনি তা তুলে নেবেন না।”

সুতরাং এই লাঞ্ছনা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো আল্লাহ তাআলার শরীয়তের দিকে ফিরে আসা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। আর কুরআনের বহু স্থানে এর সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
قال تعالى:

{وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آَمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ (65) وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَمَا أُنزلَ إِلَيْهِمْ مِنْ رَبِّهِمْ لَأَكَلُوا مِنْ فَوْقِهِمْ وَمِنْ تَحْتِ أَرْجُلِهِمْ مِنْهُمْ أُمَّةٌ مُقْتَصِدَةٌ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ سَاءَ مَا يَعْمَلُونَ} [سورة المائدة: الآيتان 65، 66].

ومع وضوح هذا الأمر، وجلائه، فإنً أُناساً من المنتسبين إلى «الدعوة» ضربوا صفحاً عن الرضوخ لهذا الأمر الجلي، ورضوا بما أَمْلَتْهُ عليهم عقولُهم القاصرة، وآراؤهم الكاسدة، فابتغوا إصلاحَ المسلمين بما لم يشْرَعه الله تعالى، ولا رسوله صلى الله عليه وسلم، فكانَ عاقبة أمرهم خسراً، ونهايةُ إقدامِهم وبالاً، والله لا يصلحُ عمل المفسدين.

وكانَ من بين ما اقترفَتْهُ أيديهم؛ تلك الحملةُ الشعواء على لواء السُّنِة المطهَّرة، والهدي النبوي؛ إذْ جعلوا الاهتمامَ بالسنن، والحرصَ على تطبيقها في كلّ شؤوننا؛ عائقاً من عوائِقِ تصحيح مَسَارِ المسلمين، وانتشالهم من أوحالِ الضعفِ.

فجاءت كتبهم، ومحاضراتهم، ودروسهم؛ مقررةً لهذه الفكرة النكراء، تارةً بالتصريح، وأخرى بالتلويح، وثالثة الأثافي باسمِ الغَيْرَةِ على السُّنَّةِ والحفاظِ على أوقات المسلمين!!.

فطوراً: يشنِّعونَ على فاعِل السنَّة، والمحافظِ عليها؛ بحجُّةِ تفريقِهِ وِحْدَةَ المسلمين، بفعله هذا!!!

وطوراً: يبالغون في ضرورة معرفة الواقع - على جميع
মহান আল্লাহ বলেন:

{আর যদি আহলে কিতাবগণ ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমরা তাদের পাপসমূহ মোচন করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদেরকে নিয়ামতে ভরপুর জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাতাম। (৬৫) আর যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠা করত, তবে তারা তাদের ওপর থেকে এবং তাদের পায়ের নিচ থেকে আহার্য লাভ করত। তাদের মধ্যে একটি পরিমিতিবোধ সম্পন্ন দল রয়েছে, আর তাদের অনেকের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত মন্দ।} [সুরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৬৫, ৬৬]।

এই বিষয়টি এত সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল হওয়া সত্ত্বেও 'দাওয়াত'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু লোক এই স্পষ্ট নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণ করা থেকে বিমুখ হয়েছে। তারা তাদের সীমাবদ্ধ বুদ্ধি এবং অসার মতামত যা প্ররোচনা দিয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট হয়েছে। ফলে তারা মুসলমানদের সংস্কার চেয়েছিল এমন বিষয়ের মাধ্যমে যা মহান আল্লাহ বা তাঁর রাসূল (সা.) বিধিবদ্ধ করেননি। ফলশ্রুতিতে তাদের কাজের পরিণাম হয়েছে ক্ষতি এবং তাদের পদক্ষেপের শেষ হয়েছে ধ্বংসের মাধ্যমে; আর আল্লাহ ফাসাদকারীদের কাজ সংশোধন করেন না।

তাদের কৃতকর্মের মধ্যে অন্যতম ছিল পবিত্র সুন্নাহর ঝাণ্ডা ও নবিজি (সা.)-এর হিদায়াতের ওপর সেই তীব্র আক্রমণ; তারা সুন্নাহর প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা প্রয়োগের ঐকান্তিক আগ্রহকে মুসলমানদের পথ সংশোধন এবং দুর্বলতার পঙ্কিলতা থেকে তাদের উদ্ধার করার পথে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।

ফলে তাদের বইপত্র, বক্তৃতা ও পাঠদানসমূহ এই জঘন্য ধারণাকেই প্রতিষ্ঠিত করেছে; কখনো সরাসরি বক্তব্যের মাধ্যমে, কখনো ইশারা-ইঙ্গিতে, আবার কখনো সুন্নাহর প্রতি অনুরাগ এবং মুসলমানদের সময় সংরক্ষণের নামে!!

কখনো তারা সুন্নাহর ওপর আমলকারী এবং তার হিফাজতকারীর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে; এই অজুহাতে যে, তার এই আমলের মাধ্যমে সে মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্ট করছে!!!

আবার কখনো তারা বাস্তবতা অনুধাবনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে অতিরঞ্জন করে—সকল
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
المسلمين - حتى يُصْرَفَ الناسُ عن العلم الشرعيّ، والعناية بالسنَّة، إلى متابعة: الجرائد والمجلات، وأخبار السياسات، فيصبحُ الممدوحُ من أغرق في هذه الأمور، والمُزْرى به من أقبل على الفقه في دين الله، وعَكفَ على السنن تعلماً وعملاً.

فَلَمَّا خرجت هذه الزوابع في وجهِ السُّنةِ، وتخلَّى عن تزييفها كثير ممن ظننَّاه أغيَر مَنْ نرى على السُّنَّةِ؛ استعنتُ الله تعالى، فكتبتُ هذه الرسالةَ راجياً منه تعالى أن يجعلها له خالصةً، وأن يعمَّ بنفعها الجميع.

وخلاصة ما أريدُ إيصالهُ إلى القُرَّاء الفضلاءِ في هذه الرسالة التَّنبِيْه على ضرورةِ الاهتمام بالسنن الثابتة عن رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، تعلماً، وتعليماً، وإرشاداً.

وأَنَّ مَكْمَنَ الضعفِ عندنا، إنما جاء من جرّاءِ البعدِ عن دين الله تعالى، فرائضه ونوافله، فالطريقُ الصحيحُ لرفع هذا الضعفِ، ينحصر في مراجعةِ ديننا، والحرصِ على العمل به، والدعوة إليه جميعاً، كما قال تعالى:

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً ..} الآية، [سورة البقرة: الآية 208].

وليس من طريقٍ إلى ذلك، سوى هذا الطَّريقِ، فبِهِ تنشأ الأجيال على السنَّة، ويُغْرَسُ في قلوبهم محبَّةُ الدين، محبَّةً تَضْعُفُ بجانبها محبَّةُ النفس، والمالِ، والولدِ، عندئذٍ تتهيأ النفوس لقبولِ كلّ خيرٍ، وتجود بكلّ ما تَمْلِكُ نصرةً لهذا الدين.
মুসলমানদের - যতক্ষণ না মানুষকে শরয়ী জ্ঞান এবং সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল হওয়া থেকে বিমুখ করে সংবাদপত্র, সাময়িকী এবং রাজনৈতিক সংবাদ অনুসরণের দিকে ধাবিত করা হয়; ফলে সেই ব্যক্তিই প্রশংসিত হন যে এই সব বিষয়ে মগ্ন থাকেন, আর তিনি লাঞ্ছিত হন যিনি আল্লাহর দ্বীনের ফিকহ অর্জনে মনোনিবেশ করেন এবং শিক্ষা ও আমলের মাধ্যমে সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকেন।

যখন সুন্নাহর বিরুদ্ধে এই ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল এবং সুন্নাহর ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিতে যাদের সবচেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবান মনে হতো, তাদের অনেকেই যখন এই বাতিলের মেকি আবরণ উন্মোচন করা থেকে পিছিয়ে গেলেন; তখন আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলাম এবং এই পুস্তিকাটি লিখলাম— মহান আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, তিনি একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করবেন এবং এর মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করবেন।

এই পুস্তিকার মাধ্যমে আমি সম্মানিত পাঠকদের কাছে যা পৌঁছে দিতে চাই তার সারকথা হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সুপ্রমাণিত (ثابتة) সুন্নাহসমূহের প্রতি শিক্ষা, পাঠদান এবং নির্দেশনার মাধ্যমে যত্নশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

আমাদের দুর্বলতার মূল উৎস মূলত মহান আল্লাহর দ্বীন, তাঁর ফরজ ও নফল ইবাদতগুলো থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং এই দুর্বলতা দূর করার একমাত্র সঠিক পথ হলো আমাদের দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, তার ওপর আমল করার প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং সকলের কাছে এর দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:

{হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ করো...} আয়াত, [সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ২০৮]।

এই পথ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। এর মাধ্যমেই সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে এবং তাদের অন্তরে দ্বীনের প্রতি এমন ভালোবাসা প্রোথিত হবে, যার সামনে নিজের জীবন, সম্পদ ও সন্তানের ভালোবাসাও তুচ্ছ হয়ে যাবে। তখনই মানুষের অন্তরসমূহ সকল কল্যাণ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবে এবং এই দ্বীনের বিজয়ের লক্ষ্যে তাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولقد بينتُ بعضَ الفوائد - العامَّة والخاصَّة - المترتبةِ على العمل بالسنَّة، ليكون ذلك مشوِّقاً إلى العمل بها، حاثاً على الاهتمام بتطبيقها.

كما أوردتُ بعض الشبه التي ينعِق بها مَنْ لا خلاقَ له؛ تزهيداً في السنةِ، وتقليلاً من أهميتها، ورددتُها، مراعياً الاختصار، وبالله التوفيق.
আমি সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার ফলে অর্জিত কিছু সাধারণ ও বিশেষ উপকারিতা বর্ণনা করেছি, যেন তা এর প্রতি আগ্রহী করে এবং এর প্রয়োগে গুরুত্ব প্রদানে উদ্বুদ্ধ করে।

তদ্রূপ আমি এমন কিছু সংশয়ও উল্লেখ করেছি যা নীতিহীন ব্যক্তিরা সুন্নাহর প্রতি বিমুখতা তৈরি এবং এর গুরুত্ব হ্রাস করার হীন উদ্দেশ্যে প্রচার করে থাকে; আমি সংক্ষিপ্ততা বজায় রেখে সেগুলোর খণ্ডন করেছি। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المقدِّمة

الحمد لله الذي أمرنا بالدخول في دينه كافةً: فرائضه، ونوافِلِه، فقال تعالى:

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً}.

والصلاة والسلام الأتمانِ الأكملانِ على من بُعِثَ إلينا ليكون لنا فيه أسوةً حسنةٌ في كلّ شؤونه، في قيامه وقعوده، وحركاته وسكونه، القائل: «عليكم بسنَّتي وسنَّة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ».

صلَّى الله عليه وعلى آله الطيبين الطاهرين، وأصحابه الغُرّ الميامين، المشرَّفين بشرف اتِّباع السنَّة، القائلين: «الاعتصام بالسُنَّةِ نجاة».

رضي الله عنهم، ومن تبعهم بإحسان، واقتفى أثرهم، إلى يوم الدين.

أما بعد:

فإنّ أحقّ ما اعتنى به المسلم، وأولى ما صرف فيه أوقاتَهُ: العملُ الدؤوب على اقتفاء آثار النبي صلى الله عليه وسلم، وتجسيدها في حياته اليومية، ما استطاع إلى ذلك سبيلاً.

ذلك بأن غايةَ المؤمن تحصيل الهداية الموصلة إلى دار السعادة، وقد قال تعالى:
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর দ্বীনে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন: এর ফরজ ও নফলসমূহসহ। মহান আল্লাহ বলেছেন:

{হে মুমিনগণ! তোমরা ইসলামের ভেতরে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবেশ করো।}

এবং সর্বাধিক পূর্ণ ও সুনিপুণ দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁকে আমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে যেন তিনি আমাদের জন্য তাঁর প্রতিটি ক্ষেত্রে—দাঁড়ানো ও বসা এবং নড়াচড়া ও স্থির থাকা অবস্থায়—এক উত্তম আদর্শ হন; যিনি বলেছেন: «তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরো; তা মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরে থাকো।»

আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন তাঁর প্রতি এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সুমহান মর্যাদাবান সাহাবীদের প্রতি, যাঁরা সুন্নাহ অনুসরণের গৌরবে গৌরবান্বিত ছিলেন এবং বলতেন: «সুন্নাহ আঁকড়ে ধরাই মুক্তি।»

আল্লাহ তাঁদের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলবেন, তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই একজন মুসলিমের জন্য যা সবচাইতে বেশি যত্নশীল হওয়ার যোগ্য এবং যাতে সময় ব্যয় করা সর্বাধিক অগ্রগণ্য বিষয়, তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণে নিরলস প্রচেষ্টা চালানো এবং সাধ্যানুযায়ী প্রাত্যহিক জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানো।

কারণ মুমিনের লক্ষ্য হলো সেই হেদায়েত অর্জন করা যা সৌভাগ্যের আলয়ে পৌঁছে দেয়। আর মহান আল্লাহ বলেছেন:
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
{وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا}.

وقال:

{وَاْتَّبعُوهُ لَعَلكُمْ تَهْتَدُونَ}.

وقال تعالى:

{لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فيِ رَسُولِ اَللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَن كَانَ يَرْجُواْ اَللهَ وَاُلْيَوْمَ آلاْخِرَ وَذَكَرَ اَلله كَثِيراً}.

وهذه الآية - كما قال ابن كثير -: «أصلٌ كبير في التأسي برسول الله صلى الله عليه وسلم، في أقواله، وأفعاله، وأحواله».

وهذه الأسوة إنما يسلكها ويوفق لها: من كان يرجو الله واليوم الآخر.

فإن ما معه من الإيمان، وخوف الله، ورجاء ثوابه، وخوف عقابه: يحثّهُ على التأسي بالرسول صلى الله عليه وسلم (1).

وشرف المؤمن ومنزلته إنما تقاس باتباعه، فكلما كان تحرِّيهْ للسنَّة أكثر كان بالدرجات العلى أحقُّ وأجدر.

ولذا كان العلماء السابقون من السلف الصالح يجعلون معيارَ مَنْ يؤخذ عنه العلم - وهو أشرف مأخوذ - تمسكه بالسنة، كما قال إبراهيم النخعي رحمه الله: «كانوا إذا أتوا الرجل يأخذون عنه العلم: نظروا إلى صلاته، وإلى سنَّته، وإلى هيئته؛ ثم يأخذون عنه».

--------------------------------------------

(1) تفسير السعدي 6/ 209.
"এবং তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য করো, তবে হিদায়াত প্রাপ্ত হবে।"

এবং তিনি বলেন:

"আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যেন তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হতে পারো।"

এবং মহান আল্লাহ বলেন:

"তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে এক উত্তম আদর্শ।"

এই আয়াতটি—যেমনটি ইবনে কাসীর বলেছেন—: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ ও অবস্থার ক্ষেত্রে তাঁকে অনুকরণের ব্যাপারে এটি একটি বড় মূলনীতি (أصل)।"

আর এই আদর্শের পথে কেবল তারাই চলতে পারে এবং এর তাওফিক পায়, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রত্যাশা করে।

কেননা তার মাঝে বিদ্যমান ঈমান, আল্লাহর ভয়, তাঁর সওয়াবের আশা এবং তাঁর শাস্তির আশঙ্কা তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে (১)।

একজন মুমিনের মর্যাদা ও অবস্থান কেবল তাঁর অনুসরণের মাধ্যমেই পরিমাপ করা হয়; সুন্নাহর (سنة) অনুসরণে তার অনুসন্ধান ও সতর্কতা যত বেশি হবে, উচ্চ মাকাম লাভে সে তত বেশি উপযুক্ত ও যোগ্য বলে গণ্য হবে।

এই কারণেই সালাফে সালেহীনের পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরাম যার থেকে ইলম গ্রহণ করা হবে—যা গ্রহণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ—তার সুন্নাহর (سنة) প্রতি অবিচল থাকাকেই মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করতেন। যেমনটি ইবরাহীম নাখয়ী রহ. বলেছেন: "তারা যখন কোনো ব্যক্তির কাছে ইলম গ্রহণের জন্য আসতেন, তখন তারা তার সালাত, তার সুন্নাহ (سنة) ও তার বাহ্যিক চালচলনের প্রতি লক্ষ্য করতেন; এরপর তার থেকে ইলম গ্রহণ করতেন।"

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে সাদী ৬/ ২০৯।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال أبو العالية: «كنا نأتي الرجل لنأخذ عنه فننظر إذا صلى: فإن أحسنها جلسنا إليه، وقلنا: هو لغيرها أحسن؛ وإن أساءَها قمنا عنه، وقلنا: هو لغيرها أسوأ» (1).

وفي الرسالة «القشيرية» (2) عن ذي النون المصري أنه قال:

«من علامة المحب لله عز وجل؛ متابعة حبيب الله صلى الله عليه وسلم؛ في أخلاقه، وأفعاله، وأوامره، وسننه».

وهذا حق مأخوذ من كتاب الله تعالى، قال تعالى:

{قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اَللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحَبِبْكُمُ اللهُ وَيَغَفْر لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ}.

قال الحسن البصري:

«فكان علامة حبَّهم إياه: اتباع سنة رسوله» (3).

وأخرج ابن أبي حاتم في «تفسيره» (4) عن أبي الدرداء أنه قال {فَاتَّبِعُوهُ}: على البِرِّ والتقوى، والتواضع، وذلّة النفس».

ولقد كان للعلماء الربانيين - على مرِّ العصور - يد ظاهرةٌ في الحث على العمل بالسنَّةِ - بمعناها الأصلي - إرشاداً، وتعليماً، وتأليفاً.

--------------------------------------------

(1) سنن الدارمي 1/ 93 - 94.

(2) 1/ 75.

(3) أخرجه ابن أبي حاتم في تفسيره 2/ 204، وأخرج نحوه الطبري 3/ 232، واللالكائي 1/ 70.

(4) 2/ 204.
আবু আল-আলিয়াহ বলেছেন: «আমরা কোনো ব্যক্তির নিকট তার কাছ থেকে (হাদিস) গ্রহণের জন্য আসতাম, তখন লক্ষ্য করতাম সে কীভাবে সালাত আদায় করছে। যদি সে তা সুন্দরভাবে আদায় করত, তবে আমরা তার নিকট বসতাম এবং বলতাম: সে অন্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি উত্তম হবে; আর যদি সে তা ত্রুটিপূর্ণভাবে আদায় করত, তবে আমরা তার নিকট থেকে উঠে যেতাম এবং বলতাম: সে অন্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি মন্দ হবে» (১)।

আর রিসালাহ আল-কুশায়রিয়্যাহ (২)-তে যুন-নুন আল-মিসরি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:

«আল্লাহ তাআলার প্রতি মহব্বত পোষণকারীর অন্যতম নিদর্শন হলো—চরিত্র, কর্ম, আদেশ এবং সুন্নাহর (سنن) ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা»।

আর এটি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে গৃহীত একটি ধ্রুব সত্য, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

{বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু}।

হাসান বসরী বলেছেন:

«সুতরাং তাঁর প্রতি তাদের ভালোবাসার নিদর্শন ছিল তাঁর রাসুলের সুন্নাহর (سنة) অনুসরণ করা» (৩)।

ইবনু আবি হাতিম তাঁর 'তাফসির' (৪)-এ আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি {তোমরা তাঁর অনুসরণ করো} আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বলেছেন: «সততা, তাকওয়া, বিনয় এবং আত্মিক নম্রতার সাথে (অনুসরণ করো)»।

যুগে যুগে রব্বানি আলেমগণের সুন্নাহর (سنة) —তার মূল অর্থ অনুযায়ী— ওপর আমল করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদানে সুস্পষ্ট অবদান রয়েছে—নির্দেশনা, শিক্ষা এবং লেখনীর মাধ্যমে।

--------------------------------------------

(১) সুনান আদ-দারিমি ১/ ৯৩ - ৯৪।

(২) ১/ ৭৫।

(৩) ইবনু আবি হাতিম এটি তাঁর তাফসিরে (২/ ২০৪) বর্ণনা করেছেন, আর তবারি (৩/ ২৩২) এবং লালকায়ি (১/ ৭০) এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(৪) ২/ ২০৪।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وبفضل الله، ثم بفضل هذه الجهود المبذولة، التي فنيتْ فيها الأعمار، وتجشَّمتْ من أَجْلها الأخطار، وأوثر في سبيلها الإعْسار على الإيسار: وصلت إلينا «السنَّة» مكلوءةً، محفوظةً، مخدومة، لينصَبَّ جهدنا على تعلُّمها، والانقياد لها، والدعوة لها، والدعوة إليها.

ولم تزلْ بحمد الله وتوفيقه وإعانته - في كلّ عصرٍ من العصور - طائفة تصرف هَمَّها وتنُشِّئْ أبناءها على العناية العظيمة بالسنَّة النبوية، لا فرقَ في ذلك بين شيءٍ منها، الكل يؤتى به كما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم، بضابطه الشرعي الوارد في الحديث الصحيح: «وإذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم».

يدعون إلى الأخذ بالسنَّة، والحرص عليها، جملةً وتفصيلاً، وينكرون على منْ حاد عن هذا الطريق بأي نوع من أنواع الحيدة، أولئك الذين قال فيهم أبو عبد الله الحاكم:

«قومٌ سلكوا محجة الصالحين، واتبعوا آثار السلَفِ من الماضين، ودمغوا أهل البدع والمخالفين بسننِ رسول الله صلى الله عليه وعلى آله أجمعين … فعقولهم بلذاذة السنَّة غامرة، وقلوبهم بالرضاء في الأحوال عامرة؛ تعلّمُ السَنن سرْوْرُهم، ومجالسُ العلم حبورهم، وأهل السنة قاطبة إخوانهم، وأهل الإلحاد والبدع بأسرها أعداؤهم» (1).

إلا أنَّ هذه الطائفة - المنصورة الناجية - لا تَسْلَمْ في كلّ عصرٍ من جاهلٍ أو صاحب هوى يكيد لها المكائد، وينصب لها العِداء، ويلصق بها أعظم الفِرَى.

--------------------------------------------

(1) معرفة علوم الحديث، ص: 4 - ط 3، الهند.
আল্লাহর অনুগ্রহে, অতঃপর এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টাসমূহের বদৌলতে, যার পেছনে জীবন উৎসর্গ করা হয়েছে, যার জন্য বিপদসংকুল পথ পাড়ি দেওয়া হয়েছে এবং যার পথে সচ্ছলতার পরিবর্তে অভাব-অনটনকে বেছে নেওয়া হয়েছে: আমাদের নিকট ‘সুন্নাহ’ সুরক্ষিত, সংরক্ষিত এবং সুবিন্যস্ত অবস্থায় পৌঁছেছে; যাতে আমাদের সকল শ্রম এর শিক্ষা গ্রহণ, এর আনুগত্য এবং এর দিকে দাওয়াত দেওয়ার কাজে নিবিষ্ট হতে পারে।

আল্লাহর প্রশংসা, তৌফিক এবং সাহায্যে—প্রতিটি যুগে—এমন একটি দল বিদ্যমান ছিল যারা তাদের যাবতীয় চিন্তা নববী সুন্নাহর বিশেষ যত্নে নিয়োজিত করেছে এবং তাদের সন্তানদের এর ওপর লালন-পালন করেছে। এক্ষেত্রে তারা সুন্নাহর কোনো অংশের মাঝে পার্থক্য করেনি; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবকিছুকেই তারা গ্রহণ করেছে, যা বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত শরয়ী মানদণ্ড অনুযায়ী: "যখন আমি তোমাদের কোনো বিষয়ের নির্দেশ প্রদান করি, তখন তোমরা সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো।"

তারা সামগ্রিকভাবে এবং বিস্তারিতভাবে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ও তার প্রতি যত্নবান হওয়ার দাওয়াত দেয় এবং যারা এই পথ থেকে যেকোনো ধরনের বিচ্যুতি অবলম্বন করে তারা তাদের প্রতিবাদ করে। এদের সম্পর্কেই আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেছেন:

«এমন এক দল যারা নেককারদের প্রশস্ত পথ অবলম্বন করেছে, পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক (آثار) অনুসরণ করেছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহসমূহের মাধ্যমে বিদআতপন্থী ও বিরোধীদের চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে … তাদের বুদ্ধি-বিবেচনা সুন্নাহর মাধুর্যে নিমগ্ন এবং তাদের অন্তর সকল অবস্থায় সন্তুষ্টিতে পরিপূর্ণ; সুন্নাহর শিক্ষা লাভ করাই তাদের আনন্দ এবং ইলমি মজলিসসমূহ তাদের প্রফুল্লতা। সকল সুন্নাহর অনুসারীরাই তাদের ভাই, আর সমস্ত নাস্তিক ও বিদআতপন্থীরা তাদের পরম শত্রু» (১)।

তবে এই সাহায্যপ্রাপ্ত ও নাজাতপ্রাপ্ত দলটি—প্রতিটি যুগেই—এমন কোনো মূর্খ বা প্রবৃত্তি পূজারীর চক্রান্ত থেকে রেহাই পায় না, যে তাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র করে, শত্রুতা পোষণ করে এবং তাদের প্রতি জঘন্যতম মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে।

--------------------------------------------

(১) মারিফাতু উলুমিল হাদিস, পৃষ্ঠা: ৪ - ৩য় মুদ্রণ, ভারত।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وما وَجَدَتْ هذه الفرقةُ الناجيةُ - في هذا الزمن - أشَدّ وأنكى من أولئك الذين وقفوا في وجه السنَّة، يريدون إطفاءَ نورها، وتَزْهِيْدَ المسلمين فيها، بتلك الطُّرقِ والوسائل المبطَّنَةِ، التي يحسبها الظمآن ماءً حتى إذا جاءه لم يجده شيئاً!.

ولقد تشكَّلَ هذا الوقوف في وجه السنَّة في صورٍ كلُّ صورٍ تلائم الظَّرْفَ الذي «نُظّم» لها أن تنزل فيه.

فتارةً يُشَنَّعُ على فاعلِ السنّةِ باسم: تفريقه - بهذا الفعل - وحدة المسلمين! وكذبوا وأيم الله!!

وتارة بالهمز واللمز على المعتنين بالسَّنن النبوية: بحثاً، وتقريراً، وعملاً، ودعوةً، وذلك تحت مظلة تقسيم الدين إلى «جزئيات» ينعى على «المُغْرِقِ» فيها، و «كليات» يلام المفرِّط فيها.

وسيأتي - إن شاء الله -؛ نقض هذا التفريق بين الشريعة في آخر هذه الرسالة.

إلَاّ إنني هنا أجدُ ضرورة المبادرة بنقل كلامٍ رصينٍ متين لإمام العصر، ومحدِّث الدنيا، الشيخ محمد ناصر الدين الألباني - في معرضِ حديثه مع أحد أفراد إحدى الجماعات الحزبية الإسلامية - قال فيه:

«… الذي نعرفه من كلّ الدعاة الإسلاميين اليوم غير الذين ينتمون إلى «منهج السلف الصالح»: تقسيمُ الإسلام إلى أصولٍ وفروعٍ - وكما قلنا آنفا: تقسيم الإسلام إلى لبّ وقشور -.

هذه باقعةُ الدَّهْرِ! تهلكُ المسلمين، وتجعلهم يبتعدون عن الإسلام من حيث هم يريدون أن يقتربوا.
বর্তমান যুগে এই মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية) সুন্নাহর বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের চেয়ে বেশি কঠোর ও ক্ষতিকারক আর কাউকে পায়নি, যারা সুন্নাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায় এবং সেই সকল ছদ্মবেশী পন্থা ও কৌশলের মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে সুন্নাহর প্রতি অনীহা তৈরি করতে চায়, যা তৃষ্ণার্থ ব্যক্তি পানি মনে করে, কিন্তু যখন সে তার কাছে আসে তখন দেখে যে সেখানে কিছুই নেই!

সুন্নাহর বিরুদ্ধে এই বিরোধিতা বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে, যার প্রতিটি রূপই সেই পরিস্থিতির উপযোগী করে সাজানো হয়েছে যাতে তা প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

কখনও সুন্নাহর ওপর আমলকারীর বিরুদ্ধে এই অপবাদ দেওয়া হয় যে, সে এই আমলের মাধ্যমে মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করছে! আল্লাহর কসম, তারা মিথ্যা বলছে!!

আবার কখনও যারা গবেষণা, সাব্যস্তকরণ (تقريراً), আমল ও দাওয়াতের মাধ্যমে সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল, তাদেরকে বিদ্রূপ ও উপহাস করা হয়; আর তা করা হয় দ্বীনকে 'খুঁটিনাটি বিষয়' (جزئيات) এবং 'মৌলিক বিষয়' (كليات) - এই দুই ভাগে বিভক্ত করার ছায়াতলে। সেখানে যারা 'খুঁটিনাটি বিষয়ে' ডুবে থাকে তাদের সমালোচনা করা হয়, আর যারা 'মৌলিক বিষয়গুলো' অবহেলা করছে তাদের নিন্দা করা হয়।

ইনশাআল্লাহ, শরীয়তের মধ্যে এই বিভাজনের খণ্ডন এই পুস্তিকার শেষে আলোচনা করা হবে।

তবে আমি এখানে বর্তমান সময়ের ইমাম ও বিশ্ববরেণ্য মুহাদ্দিস, শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি-এর একটি জোরালো ও সুদৃঢ় বক্তব্য উদ্ধৃত করার প্রয়োজন অনুভব করছি—যা তিনি একটি ইসলামি দলীয় গোষ্ঠীর জনৈক ব্যক্তির সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে বলেছিলেন:

«… 'সালাফে সালেহীনের মানহাজ' (منهج السلف الصالح)-এর অনুসারীগণ ছাড়া বর্তমানে আমরা সকল ইসলামি দাঈদের মধ্যে যা লক্ষ্য করছি তা হলো: ইসলামকে মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখা (فروع)-তে বিভক্ত করা—এবং যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বলেছি: ইসলামকে 'সারবস্তু' ও 'খোসা'য় বিভক্ত করা।

এটি বর্তমান যুগের এক মহাবিপদ! যা মুসলিমদের ধ্বংস করছে এবং তাদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে এমন এক অবস্থায় যখন তারা মূলত ইসলামের নিকটবর্তী হতে চাচ্ছে।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الآن - بما عندك من ثقافةٍ وعندي من علمٍ - لا نستطيع أن نميز الأصول من الفروع، إلا أن يقصد بالأصول ما يتعلق بالعقائد فقط، وليس منها ما يتعلق بالأحكام.

حينئذٍ: الصلاة وهي الركن الثاني: لا تدخل في الأصول، وإنما تدخل في الفروع، لماذا؟ لأنها ليس لها علاقة بالعقيدة المحضة.

هذا التقسيم: خطرٌ خطرٌ جداً.

ولذلك: أنا أعرف أنه مضى على بعض الجماعات قديماً، كانوا يدعون إلى تبني الإسلام كُلًّا.

وهذه دعوة الحق، لأن الإسلام كما جاءنا يجب أن نتبناه.

ولكن من الناحية العملية: ممكنٌ أن إنسانا فرداً - مثلاً - أو جماعة يستطيعون أن يطبقوا جانباً منه، ولا يستطيعون أن يطبقوا جانباً آخر.

لكن من ناحية الفكر: الإسلام يجب تبنِّيهِ كُلًّا لا يتجزأ؛ مثلاً: فرضٌ، سنَّة، مستحبٌ، مندوبٌ … إلى آخره، لا نقول: هذا مندوب ليس له قيمة، وهذا مستحب ليس له قيمة … علينا نحن فقط الفرائض، لا، نحنُ ندعو إلى هذا الإسلام بكامله، ثم كلّ إنسانٍ يأخذُ منه ما ينهض به، ويستطيع أن يقوم به. اهـ. (1)

وهذا المنهج الذي ذكره الشيخ - وفقه الله - هو المنهج السليم، والصراط المستقيم الذي كان عليه السلف الصالح - رضوان الله

--------------------------------------------

(1) من شريط صوتي مسجل، بتصرفٍ يسيرٍ.
বর্তমানে—আপনার কাছে যে সংস্কৃতি রয়েছে এবং আমার কাছে যে ইলম রয়েছে তা দিয়ে—আমরা মূলনীতি (الأصول) ও উপশাখার (الفروع) মাঝে পার্থক্য করতে সক্ষম নই, যদি না মূলনীতি (الأصول) বলতে কেবল বিশ্বাস সংক্রান্ত (العقائد) বিষয়গুলো উদ্দেশ্য হয় এবং বিধান সংক্রান্ত (الأحكام) বিষয়গুলো তার অন্তর্ভুক্ত না হয়।

তখন: সালাত যা দ্বিতীয় স্তম্ভ (الركن), তা মূলনীতির (الأصول) অন্তর্ভুক্ত হবে না, বরং তা উপশাখার (الفروع) অন্তর্ভুক্ত হবে। কেন? কারণ বিশুদ্ধ বিশ্বাসের (العقيدة) সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

এই বিভাজনটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এই কারণেই: আমি জানি যে, অতীতে কিছু দল অতিক্রান্ত হয়েছে যারা ইসলামকে সামগ্রিকভাবে গ্রহণ করার দাওয়াত দিতেন।

আর এটিই সত্যের দাওয়াত, কারণ ইসলাম আমাদের নিকট যেভাবে এসেছে, সেভাবেই একে গ্রহণ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

কিন্তু প্রায়োগিক দিক থেকে: এটা সম্ভব যে একজন ব্যক্তি—উদাহরণস্বরূপ—অথবা একটি দল ইসলামের একটি অংশ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হতে পারে এবং অন্য একটি অংশ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম না-ও হতে পারে।

তবে চিন্তাগত দিক থেকে: ইসলামকে একটি অবিভাজ্য পূর্ণাঙ্গ সত্তা হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক; উদাহরণস্বরূপ: ফরজ (فرض), সুন্নাহ (سنة), মুস্তাহাব (مستحب), মানদুব (مندوب) … ইত্যাদি। আমরা বলব না যে: এটি মানদুব (مندوب) তাই এর কোনো গুরুত্ব নেই, অথবা এটি মুস্তাহাব (مستحب) তাই এর কোনো মূল্য নেই … আমাদের ওপর কেবল ফরজসমূহ (الفرائض) পালন করা আবশ্যক। না, বরং আমরা এই পূর্ণাঙ্গ ইসলামের দিকেই আহ্বান করি, অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তি তা থেকে ততটুকুই গ্রহণ করবে যা পালনে সে সক্ষম এবং যা সে সম্পন্ন করতে পারে। সমাপ্ত। (১)

শায়খ—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—যে মানহাজ উল্লেখ করেছেন, সেটিই হলো সঠিক মানহাজ এবং সেই সুদৃঢ় পথ যার ওপর নেককার পূর্বসূরিগণ (السلف الصالح)—আল্লাহর সন্তুষ্টি...

--------------------------------------------

(১) একটি রেকর্ডকৃত অডিও টেপ থেকে, সামান্য পরিমার্জনসহ।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
عليهم - كما ستراه في العرض الآتي إن شاء الله تعالى، وصلى الله وسلم على نبينا محمد (1).

كتبه

عبد السلام بن برجس آل عبد الكريم

الرياض 19/ 1 / 1413 هـ

--------------------------------------------

(1) اعترافاً بالفضل لأهله؛ أشكر الشيخين الفاضلين: الشيخ محمد بن عمر بازمول، والشيخ مساعد بن سليمان الراشد، حيث قرأ كل واحد منهما هذه الرسالة - بعد صفها بالطابع - وأبدى بعض ملاحظاته وتوجيهاته، فجزاهما الله عني خير الجزاء.
তাদের ওপর - যেমনটি আপনি ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তী উপস্থাপনায় দেখতে পাবেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক (১)।

এটি লিখেছেন

আবদুস সালাম বিন বারজাস আল আবদিল কারীম

রিয়াদ ১৯/ ১ / ১৪১৩ হিজরী

--------------------------------------------

(১) গুণীজনের গুণের স্বীকৃতিস্বরূপ; আমি দুই পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ: শায়খ মুহাম্মাদ বিন উমর বাযমূল এবং শায়খ মুসাঈদ বিন সুলায়মান আর-রাশিদ-কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাঁরা উভয়েই এই পুস্তিকাটি—মুদ্রণের জন্য কম্পোজ করার পর—পাঠ করেছেন এবং কিছু পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাঁদের উভয়কে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌فصل

في تعريف السنَّة

لعل من الضروري - قبل الدخول في الموضوع - التعرض لمعنى السنَّة، في كلٍّ من:

لسان العرب الأقحاح.

ولسان الشارع والصدر الأول.

وعرف المتشرعين من المحدِّثين، والأصوليين، والفقهاء.

ثم بعد ذلك تحديد المعنى الذي يبنى عليه هذا الكتاب، فأقول:

 

أولاً:‌‌ التعريف اللغوي:

السنَّة في اللغة تطلق على: السيرة، حسنة كانت أو قبيحة.

قال خالد بن زهير الهذلي:

فلا تَجْزَعَنْ مِنْ سيرةٍ أَنتَ سرتها … فأوَّلُ راضٍ سنَّةً مَنْ يَسِيْرُها (1)

 

وتطلق - أيضا - على: الطريقة؛ مأخوذة من: السَّننِ، وهو:

--------------------------------------------

(1) لسان العرب 3/ 2124 / الجدول الثاني، ط دار المعارف المصرية، والصحاح للجوهري 5/ 2139 / الجدول الأول، ط دار العلم للملايين - بيروت.
‌পরিচ্ছেদ

সুন্নাহ (السنَّة)-এর সংজ্ঞায়ন প্রসঙ্গে

মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে—নিম্নোক্ত প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে 'সুন্নাহ (السنَّة)'-এর অর্থ আলোচনা করা সম্ভবত জরুরি:

বিশুদ্ধ আরবদের ভাষায়।

শরীয়ত প্রণেতা ও প্রথম যুগের (সালাফ) পরিভাষায়।

এবং শরীয়ত বিশেষজ্ঞ তথা হাদিস বিশারদ (المحدِّثون), উসুলবিদ (الأصوليون) ও ফকিহগণের (الفقهاء) প্রচলিত পরিভাষায়।

অতঃপর এই কিতাবটি যে অর্থের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে, তা নির্ধারণ করা। আমি বলছি:

 

প্রথমত:‌‌ শাব্দিক সংজ্ঞা:

অভিধানে 'সুন্নাহ (السنَّة)' শব্দটি 'সীরাত' বা জীবনপদ্ধতি অর্থে ব্যবহৃত হয়; তা উত্তম হোক কিংবা মন্দ।

খালিদ ইবনে যুহাইর আল-হুযালী বলেন:

তুমি যে জীবনপদ্ধতি অনুসরণ করেছ তাতে বিচলিত হয়ো না … কেননা কোনো রীতির (السنَّة) প্রতি প্রথম সন্তুষ্ট ব্যক্তি সে-ই, যে তা নিজে পরিচালনা করে। (১)

 

এটি 'তরিকা' বা পদ্ধতি অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যা 'আস-সানান' থেকে গৃহীত, আর তা হলো:

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব ৩/ ২১২৪ / দ্বিতীয় ছক, মিসরীয় দারুল মাআরিফ সংস্করণ; এবং জাওহারী কৃত আস-সিহাহ ৫/ ২১৩৯ / প্রথম ছক, দারুল ইলম লিল-মালাঈন - বৈরুত সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الطريقُ، يقال: خُذْ على سَنَنِ الطريق، وَسُنَنِهِ (1).

ثانياً: في لسان الشارع والصدر الأول:

إذا ورد لفظ السنَّة في كلام الرسول صلى الله عليه وسلم، أو كلام الصحابة، والتابعين وكان ذلك في سياق الاستحسان: فإنما يراد بها المعنى الشرعيُّ العام الشامل للأحكام: الاعتقادية، والعملية؛ واجبةً كانت، أو مندوبة، أو مباحة.

قال الحافظ ابن حجر في «الفتح» (2):

«… تقرَّر أن لفظ السنَّة إذا ورد في الحديث لا يراد به التي تقابل الواجب …». اهـ.

وقال ابن عَلَّان في «دليل الفالحين» (3) على حديث «فعليكم بسنَّتي»: «أي طريقتي، وسيرتي القويمة التي أنا عليها، مما فصَّلْتُهُ لكم من الأحكام الاعتقادية، والعملية الواجبة والمندوبة، وغيرها.

وتخصيص الأصوليين لها: بالمطلوب طلباً غيرَ جازم: اصطلاحٌ

--------------------------------------------

(1) تهذيب اللغة للأزهري 12/ 301 / الجدول الثاني، ط الدار المصرية للتأليف والترجمة - وقد فسر الأزهري، وكذا الخطابي - كما في إرشاد الفحول ص: 31 - السنّة: بالطريقة المستقيمة، وهو خلاف قول جمهور اللغويين، أفاد ذلك العلامة عبد الغني عبد الخالق، في كتابه الماتع (حجية السنة) ص: 46، ط المعهد العالي للفكر الإسلامي بواشنطن.

(2) 10/ 341، ط 1 السلفية.

(3) 1/ 415، ط الحلبي، عام 1397 هـ.
পথ; বলা হয়: পথের রীতি বা পদ্ধতির (سنن) অনুসরণ করো। (১)

দ্বিতীয়ত: শারে' (শরয়ি বিধানদাতা) এবং প্রথম যুগের (صدر الأول) পরিভাষায়:

যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবীগণ অথবা তাবিঈগণের বক্তব্যে 'সুন্নাহ' শব্দটি প্রশংসামূলক প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়, তবে এর দ্বারা সেই সাধারণ শরয়ি অর্থই উদ্দেশ্য হয় যা বিশ্বাসগত (اعتقادية) এবং আমলগত (عملية) সকল বিধানকে শামিল করে; চাই তা ওয়াজিব (واجبة) হোক, মুস্তাহাব (مندوبة) হোক কিংবা মুবাহ (مباحة) হোক।

হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে (২) বলেছেন:

«… এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, যখন হাদিসে 'সুন্নাহ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা ওয়াজিবের (واجب) বিপরীত অর্থ (অর্থাৎ কেবল নফল) উদ্দেশ্য হয় না …» সমাপ্ত।

এবং ইবনে আল্লান 'দালীলুল ফালিহীন' গ্রন্থে (৩) "তোমরা আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো" হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "অর্থাৎ আমার পদ্ধতি এবং আমার সুদৃঢ় জীবনরীতি যার ওপর আমি প্রতিষ্ঠিত, এবং তোমাদের জন্য আমি বিশ্বাসগত ও আমলগত যেসব ওয়াজিব (واجبة), মুস্তাহাব (مندوبة) ও অন্যান্য বিধিবিধান বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।

আর উসুলবিদগণ (الأصوليون) যে সুন্নাহ শব্দটিকে 'অনিশ্চিত নির্দেশ' (মুস্তাহাব) অর্থে নির্দিষ্ট করেছেন, তা একটি পারিভাষিক (اصطلاح) বিষয় মাত্র।

--------------------------------------------

(১) আজহারীর 'তাহযীবুল লুগাহ' ১২/৩০১ / দ্বিতীয় সারণি, দারুল মিসরিয়্যাহ লিত-তালিফ ওয়াত-তারজামাহ সংস্করণ - আজহারী এবং খাত্তাবী—যেমনটি 'ইরশাদুল ফুহুল' এর ৩১ পৃষ্ঠায় রয়েছে— 'সুন্নাহ' শব্দটিকে 'সরল পথ' (الطريقة المستقيمة) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা অধিকাংশ ভাষাবিদদের মতের পরিপন্থী; আল্লামা আব্দুল গনি আব্দুল খালিক ওয়াশিংটনের আল-মা'হাদ আল-আ'লি লিল-ফিকর আল-ইসলামি থেকে প্রকাশিত তাঁর চমৎকার গ্রন্থ 'হুজজিয়্যাতুস সুন্নাহ' এর ৪৬ পৃষ্ঠায় তা উল্লেখ করেছেন।

(২) ১০/৩৪১, আস-সালাফিয়্যাহ ১ম সংস্করণ।

(৩) ১/৪১৫, আল-হালাবী সংস্করণ, ১৩৯৭ হিজরি।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
طارئٌ، قصدوا به التمييز بينها، وبين الفرض». اهـ.

وقال الصنعاني في «سبل السلام» (1) على حديث أبي سعيد، في التيمم، وفيه: «أصبتَ السنَّة»:

«أي الطريقة الشرعية». اهـ.

وقال السهارنفوري في «بذل المجهود» (2) على الحديث السابق:

«أيْ صادفتَ الشريعةَ الثابتة بالسُّنَّةِ». اهـ.

وفي «الصحيح» (3) عن عبد الله المزني رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «صلوا قبل صلاة المغرب - قال في الثالثة -: لمن شاء، كراهيةَ أنْ يتخذها الناسُ سنةً».

قال الحافظ في «الفتح»: «ومعنى قوله: «سنة» أي: شريعةً وطريقةً لازمة». اهـ.

وقال - أيضا - على قوله صلى الله عليه وسلم: «فمن رغب عن سنَّتي فليس مني»:

«المراد بالسنَّة: الطريقة، لا التي تقابل الفرض … والمراد: مَنْ تركَ طريقتي وأخذ بطريقة غيري: فليس مني». اهـ (4).

--------------------------------------------

(1) 1/ 186، ط 1، جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

(2) 3/ 70، ط 3 المكتبة الإمدادية بمكة المكرمة.

(3) 3/ 59، (مع الفتح).

(4) الفتح 9/ 105.
আগন্তুক (طارئ), যা দ্বারা তারা এর (সুন্নাহ) ও ফরজের (الفرض) মধ্যে পার্থক্য করার উদ্দেশ্য গ্রহণ করেছেন।» সমাপ্ত।

আস-সানআনী ‘সুবুলুস সালাম’ (১) গ্রন্থে তায়াম্মুম বিষয়ক আবু সাঈদ-এর হাদিসের বর্ণনায় বলেন, যাতে রয়েছে: «তুমি সুন্নাহর (السنة) সঠিক প্রয়োগ করেছ»:

«অর্থাৎ শরয়ি পদ্ধতি (الطريقة الشرعية)»। সমাপ্ত।

সাহারানপুরী ‘বাযলুল মাজহুদ’ (২) গ্রন্থে পূর্বোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন:

«অর্থাৎ তুমি সুন্নাহ (السنة) দ্বারা প্রমাণিত শরিয়ত (الشريعة) লাভ করেছ»। সমাপ্ত।

এবং ‘সহিহ’ (৩) গ্রন্থে আবদুল্লাহ আল-মুযানী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমরা মাগরিবের সালাতের পূর্বে সালাত আদায় করো — তৃতীয়বার বললেন — যার ইচ্ছা; মানুষ যাতে এটিকে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গ্রহণ না করে, সেই অপছন্দনীয়তার কারণে»।

হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে বলেন: «এবং তাঁর কথা: ‘সুন্নাহ’ (سنة)-এর অর্থ হলো: শরিয়ত (شريعة) এবং অপরিহার্য পদ্ধতি (طريقة لازمة)»। সমাপ্ত।

তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: «যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর (سنَّتي) প্রতি বিরাগভাজন হলো, সে আমার দলভুক্ত নয়» — এর ব্যাখ্যায় আরও বলেন:

«সুন্নাহ (السنة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: পদ্ধতি (الطريقة), সেটি নয় যা ফরজের (الفرض) বিপরীতে ব্যবহৃত হয় … আর উদ্দেশ্য হলো: যে ব্যক্তি আমার পদ্ধতি (طريقتي) বর্জন করল এবং অন্য কারও পদ্ধতি গ্রহণ করল, সে আমার দলভুক্ত নয়»। সমাপ্ত (৪)।

--------------------------------------------

(১) ১/ ১৮৬, ১ম সংস্করণ, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়।

(২) ৩/ ৭০, ৩য় সংস্করণ, আল-মাকতাবাতুল ইমদাদিয়্যাহ, মক্কা মুকাররামা।

(৩) ৩/ ৫৯, (আল-ফাতহ সহ)।

(৪) আল-ফাতহ ৯/ ১০৫।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وهكذا بالتتبع لكثير من النصوص المشتملة على لفظ «السنَّة» يتبيَّن أن المراد بها - إذا كانت في سياق الاستحسان -: الطريقة المحمودة والسيرة المرضية التي جاء بها النبي صلى الله عليه وسلم عموماً.

وعلى هذا: فإن مما يجب التنبيه عليه ما قد يقع من بعض المنتسبين للعلم من تنزيل لفظ «السنَّة» الوارد في كلام الشارع على المعنى الاصطلاحي عند الفقهاء، فيحصل الخطأ الفاحش، ويُخْرجُ بالأحكام عن مراد الشارع.

ثالثاً: في عرف المحدِّثين:

السنَّة عند جمهورِ المحدِّثين مرادفة للحديث، وهو:

ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قولٍ، أو فعلٍ وتقريرٍ، أو صفة خَلْقِية، أو خُلُقِيَّة، أو سيرةٍ بعد البعثة، وقد يدخل بعض ما قبلها (1).

رابعاً:‌‌ السنَّة عند الأصوليين:

 

السنَّة عند الأصوليين: أصل من أصول الأحكام الشرعية، ودليل من أدلتها.

وقد عرَّفها الفتوحي في «الكوكب» (2) فقال:

--------------------------------------------

(1) ينظر (مجموع فتاوى شيخ الإسلام) 18/ 9 - 10، و (أسباب اختلاف المحدثين) للأحدب 1/ 25، و (السنّة ومكانتها في التشريع الإسلامي) للسباعي ص: 47، ط 4 المكتب الإسلامي.

(2) 2/ 159، (مع الشرح) ط 1 أم القرى.
এভাবে ‘সুন্নাহ’ (السنة) শব্দ সম্বলিত বহু মূল পাঠ (النصوص) পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে—যদি তা প্রশংসার প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়—তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সাধারণভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আনীত প্রশংসনীয় পদ্ধতি ও সন্তোষজনক জীবনাচার।

আর এ ভিত্তিতে, একটি বিষয়ে সতর্ক করা আবশ্যক যা ইলম সংশ্লিষ্ট কারো কারো ক্ষেত্রে ঘটে থাকে; তা হলো—বিধানদাতার (الشارع) বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘সুন্নাহ’ (السنة) শব্দটিকে ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট প্রচলিত পারিভাষিক অর্থে প্রয়োগ করা। এর ফলে মারাত্মক ভুল সংঘটিত হয় এবং বিধানসমূহকে (الأحكام) বিধানদাতার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করে ফেলা হয়।

তৃতীয়ত: মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) পরিভাষায়:

জুমহুর (جمهور) মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট ‘সুন্নাহ’ (السنة) হলো হাদিসের সমার্থক, আর তা হলো:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত (أثر) হয়েছে—তা তাঁর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير), শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অথবা নবুয়ত-পরবর্তী জীবনচরিত; আর কখনও নবুয়ত-পূর্ববর্তী কিছু বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে (১)।

চতুর্থত:‌‌ উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট সুন্নাহ (السنة):

 

উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট ‘সুন্নাহ’ (السنة) হলো শারয়ি বিধানের (الأحكام الشرعية) অন্যতম মূল উৎস (أصل) এবং এর দলীলসমূহের (أدلة) একটি দলীল (دليل)।

ফুতুহি ‘আল-কাওকাব’ (২) গ্রন্থে এর সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন (মাজমুউল ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম) ১৮/ ৯ - ১০, এবং আহদাব-কৃত (আসবাবুত ইখতিলাফিল মুহাদ্দিসীন) ১/ ২৫, এবং সিবায়ি-কৃত (আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরিয়িল ইসলামি) পৃষ্ঠা: ৪৭, ৪র্থ প্রকাশ, মাকতাব আল-ইসলামি।

(২) ২/ ১৫৯, (শারহসহ) ১ম প্রকাশ, উম্মুল কুরা।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
«قول النبي صلى الله عليه وسلم غير الوحي (1)، وفعله، وتقريره، وَزِيْد: الهمُّ».

وعرَّفها الآمدي في «الأحكام» (2) فقال:

«ما صدر عن الرسول صلى الله عليه وسلم من الأدلة الشرعية، مما ليس بمتلوٍّ، ولا هو معجز، ولا داخل في المعجز».

ويدخل في ذلك: أقوال النبي صلى الله عليه وسلم، وأفعاله، وتقاريره».

وإدخال «الهمّ» في التعريف، ردَّه العراقي فقال:

«الهم إنما يطلع عليه بقولٍ أو فعلٍ، فالاستدلال بما دلَّ منهما، فلا حاجة لزيادته». اهـ (3) وهو متجهٌ.

 

ويظهر‌‌ الفرق بين تعريفي المحدثين والأصوليين في «الصفة» النبوية، فإنها عند المحدثين مندرجة في حدِّ السنَّة، لأنهم ينظرون إلى النبي صلى الله عليه وسلم على أنه الأسوةُ للأمة، فينقل إليها كلّ ما أثر عنه، أَثْبَتَ حُكْماً شرعياً أو لا.

وليست «الصفة» كذلك عند الأصوليين، لأنهم إنما يبحثون عما يُثْبتُ الأحكامَ ويقرِّرها، فلم تدخل الصفة عند جماهيرهم في حدِّ السنَّة (4).

ومما ينبغي التنبيه عليه هنا: أن بعض الأصوليين يرى أن رُتْبَةَ السُّنَّةِ متأخرةٌ عن الكتاب في الاعتبار.

--------------------------------------------

(1) أي غير القرآن.

(2) 1/ 169، ط 1: النور بالرياض، عام 1387 هـ.

(3) حاشية العطار على جمع الجوامع 2/ 128، ط الحلبي، عام 1358 هـ.

(4) انظر المصدر السابق، و (حجية السنة) ص: 76، و (السنة ومكانتها) ص: 48.
«নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা ওহি (১) ব্যতীত, তাঁর কাজ এবং তাঁর মৌন সম্মতি (تقرير), আর অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা হয়েছে: তাঁর সংকল্প (الهم)»।

আল-আমিদি ‘আল-আহকাম’ (২) গ্রন্থে এর সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন:

«রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে উৎসারিত শরয়ি দলীলসমূহ, যা পঠিত (তিলওয়াতকৃত) নয়, এবং যা মুজিযা নয় কিংবা মুজিযার অন্তর্ভুক্তও নয়।

আর এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা, কাজ এবং তাঁর মৌন সম্মতিসমূহ (تقارير)»।

সংজ্ঞার মধ্যে ‘সংকল্প’ (الهم)-কে অন্তর্ভুক্ত করাকে আল-ইরাকি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন:

«সংকল্প কেবল কথা বা কাজের মাধ্যমেই জানা যায়, ফলে ওই দুটির মধ্যে যা এর ওপর প্রমাণ বহন করে তা দিয়েই দলিল গ্রহণ করা হয়, তাই এটি অতিরিক্ত করার প্রয়োজন নেই»। সমাপ্ত (৩) এবং এটিই যুক্তিযুক্ত মত।

 

হাদিস বিশারদ (المحدثون) এবং উসুলবিদদের (الأصوليون) সংজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি’ (الصفة)-র ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়; কারণ হাদিস বিশারদদের (المحدثون) নিকট এটি সুন্নাহ (السنة)-র সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। কেননা তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উম্মতের জন্য আদর্শ হিসেবে দেখেন, তাই তাঁর থেকে বর্ণিত (أثر) সবকিছুই তাঁরা বর্ণনা করেন, তা কোনো শরয়ি বিধান সাব্যস্ত করুক বা না করুক।

কিন্তু উসুলবিদদের (الأصوليون) নিকট ‘বৈশিষ্ট্য’ (الصفة) তেমন নয়, কারণ তাঁরা কেবল তা নিয়েই আলোচনা করেন যা বিধান সাব্যস্ত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করে। তাই তাঁদের অধিকাংশের নিকট বৈশিষ্ট্য সুন্নাহ (السنة)-র সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয় (৪)।

এখানে একটি বিষয় সতর্ক করা আবশ্যক যে: কোনো কোনো উসুলবিদ (الأصوليون) মনে করেন, বিবেচনার ক্ষেত্রে সুন্নাহ (السنة)-র মর্যাদা কুরআনের পরে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ কুরআন ব্যতীত।

(২) ১/ ১৬৯, ১ম প্রকাশ: আন-নূর, রিয়াদ, ১৩৮৭ হিজরি।

(৩) জামউল জাওয়ামি-র ওপর আল-আত্তারের টীকা ২/ ১২৮, আল-হালাবি প্রকাশনী, ১৩৫৮ হিজরি।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, এবং (হুজজিয়্যাতুস সুন্নাহ) পৃষ্ঠা: ৭৬, এবং (আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা) পৃষ্ঠা: ৪৮।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد أجاد العلامة الشيخ عبد الغني عبد الخالق في ردِّ هذا القول، وبيان بطلانه، حيث عَقَدَ مبحثاً في كتابه الماتع «حجَّية السُّنَّةَ» (1) لهذا الغرض، يقول في صدره:

السنَّة مع الكتاب في مرتبةٍ واحدةٍ: من حيث الاعتبار والاحتجاج بهما على الأحكام الشرعية، ولبيان ذلك نقول:

من المعلوم: أنه لا نزاع في أن الكتاب يمتاز عن السنة ويفضل عنها: بأنَّ لفظه منزلٌ من عند الله، متعبَّد بتلاوته، معجزٌ للبشر عن أن يأتوا بمثله، بخلافها: فهي متأخرة عنه في الفضل من هذه النواحي.

ولكن ذلك لا يوجب التفضيل بينهما من حيث الحجيَّة: بأن تكون مرتبتها التَّأخُّر عن الكتاب في الاعتبار والاحتجاج، فتُهْدرُ ويُعْمَل به وحده لو حصل بينهما تعارض.

وإنما كان الأمر كذلك: لأن حجيَّةَ الكتاب إنما جاءتْ من ناحية أنه وحي من عند الله … ، والسنَّة مساوية للقرآن من هذه الناحية: فإنها وحيٌ مثله، فيجب القول بعدم تأخرها عنه في الاعتبار. اهـ.

 

خامساً:‌‌ السنَّة عند الفقهاء:

استيفاء هذا المبحث يحتاج إلى إسهاب كبير، قد لا يعود على القارئ بكثير فائدة فيما يتصل بموضوعنا، إلا أننا نمرُّ على ما قاله فقهاء المذاهب في هذا الصدد على وجه الاختصار، فنقول:

--------------------------------------------

(1) ص: 485 إلى ص: 494.
আল্লামা শাইখ আব্দুল গনি আব্দুল খালিক এই মতটি খণ্ডন করতে এবং এর অসারতা প্রকাশে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন; যেখানে তিনি তাঁর চমৎকার গ্রন্থ ‘হাজ্জিয়্যাতুস সুন্নাহ’-এ (১) এই উদ্দেশ্যে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন। তিনি এর শুরুতে বলেন:

শরিয়তের বিধানের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা ও দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) বিচারে সুন্নাহ কুরআনের সাথে একই স্তরে রয়েছে। এটি স্পষ্ট করার জন্য আমরা বলছি:

এটি সর্বজনবিদিত যে, এতে কোনো বিরোধ নেই যে কুরআন সুন্নাহ অপেক্ষা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও শ্রেষ্ঠ; কারণ কুরআনের শব্দাবলি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, এর তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য এবং এটি মানুষের জন্য এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি মুজিজা। পক্ষান্তরে সুন্নাহর বিষয়টি ভিন্ন; সুন্নাহ এই দিকগুলো থেকে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে কুরআনের পরবর্তী স্তরে।

কিন্তু এটি প্রামাণ্যতার (الحجية) দিক থেকে উভয়ের মধ্যে এমন কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশ করে না যে, নির্ভরযোগ্যতা ও দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে সুন্নাহর অবস্থান কুরআনের পরে হবে; যার ফলে যদি উভয়ের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য (تعارض) দেখা দেয় তবে সুন্নাহকে বর্জন করা হবে এবং কেবল কুরআনের ওপর আমল করা হবে।

বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে এই কারণে যে, কুরআনের প্রামাণ্যতা (الحجية) মূলত এই দিক থেকে এসেছে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহি... আর সুন্নাহও এই দিক থেকে কুরআনের সমান: কেননা সুন্নাহও কুরআনের মতোই ওহি। সুতরাং এটি বলাই আবশ্যক যে, নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে সুন্নাহ কুরআনের চেয়ে পিছিয়ে নেই। (সমাপ্ত)।

 

পঞ্চম:‌‌ ফকিহগণের নিকট সুন্নাহ:

এই আলোচনার পূর্ণতা প্রদানের জন্য দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন, যা আমাদের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতায় পাঠকের জন্য খুব বেশি উপকারে নাও আসতে পারে। তবে আমরা বিভিন্ন মাজহাবের ফকিহগণ এই প্রসঙ্গে যা বলেছেন তা সংক্ষেপে উল্লেখ করব। আমরা বলছি:

--------------------------------------------

(১) পৃ: ৪৮৫ থেকে পৃ: ৪৯৪।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
قول الحنابلة:

قال الفتوحي في «الكوكب» (1) في تعريف «المندوب»:

«والمندوب شرعاً: ما أثيب فاعله - ولو قولاً وعملَ قلبٍ - ولم يعاقب تاركه مطلقاً.

ويُسَمَّى: سنَّةً، ومستحباً، وتطوُّعاَ، وطاعةً، ونفلاً، وقربةً، ومرغباً فيه، وإحساناً؛ وأعلاه: سنَّة، ثم فضيلة، ثم نافلة». اهـ.

وعرَّفه ابن بدران في «المدخل» (2) بتعريف الفتوحي السابق، وزاد:

«سواءُ تركه إلى بدلٍ، أو لا».

وهو: مرادف للسنة والمستحب.

فالسواك، والمبالغة في المضمضة، والاستنشاق، وتخليلُ الأصابع، ونحو هذا يقال له: مندوب، وسنَّة، ومستحب». اهـ.

وذكر الشيخ أبو طالب البصري في «الحاوي الكبير» (3) أن المندوب ينقسم ثلاثة أقسام:

أحدها: ما يعظم أجره، فيسمَّى سنةً.

والثاني: ما يقلُّ أجره، فيسمى: نافلةً.

--------------------------------------------

(1) مع شرحه 1/ 402 - 403، ط أم القرى.

(2) ص: 152، ط الرسالة، تحقيق معالي الدكتور: عبد الله بن عبد المحسن التركي.

(3) بواسطة نقل الفتوحي عنه في شرح الكواكب 1/ 404 - 405.
হাম্বলিগণের বক্তব্য:

আল-ফুতুহি 'আল-কাওকাব' (১) গ্রন্থে 'পছন্দনীয়' (المندوب)-এর সংজ্ঞায় বলেছেন:

«শরয়ি পরিভাষায় পছন্দনীয় (المندوب) হলো: যার সম্পাদনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হন—চাই তা মৌখিক বাক্য হোক কিংবা হৃদয়ের আমল—এবং যার বর্জনকারী কোনোভাবেই শাস্তিপ্রাপ্ত হয় না।

একে সুন্নাহ (سنة), মুস্তাহাব (مستحباً), স্বেচ্ছাধীন আমল (تطوُّعاَ), আনুগত্য (طاعةً), নফল (نفلاً), নৈকট্যমূলক কাজ (قربةً), আগ্রহ উদ্দীপক (مرغباً فيه) এবং ইহসান (إحساناً) নামে অভিহিত করা হয়; এর সর্বোচ্চ স্তর হলো সুন্নাহ (سنة), এরপর ফজিলাত (فضيلة) এবং তারপর নাফিলাহ (نافلة)»। [সমাপ্ত]

এবং ইবনে বাদরান 'আল-মাদখাল' (২) গ্রন্থে আল-ফুতুহির পূর্বোক্ত সংজ্ঞার মাধ্যমেই এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত যোগ করেছেন:

«চাই সে এটি কোনো বিকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বর্জন করুক কিংবা বিকল্প ছাড়াই»।

এটি সুন্নাহ (سنة) ও মুস্তাহাব (مستحب)-এর সমার্থক (مرادف)।

সুতরাং মেসওয়াক করা, কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার সময় অতিরঞ্জন করা, আঙুলের খিলাল করা এবং এই জাতীয় আমলসমূহকে পছন্দনীয় (مندوب), সুন্নাহ (سنة) ও মুস্তাহাব (مستحب) বলা হয়।» [সমাপ্ত]

শায়খ আবু তালিব আল-বাসরি 'আল-হাভি আল-কাবির' (৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, পছন্দনীয় (المندوب) তিন ভাগে বিভক্ত:

প্রথমটি: যার প্রতিদান অনেক বড়, তাকে সুন্নাহ (سنة) বলা হয়।

দ্বিতীয়টি: যার প্রতিদান কম, তাকে নাফিলাহ (نافلة) বলা হয়।

--------------------------------------------

(১) এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) সহ ১/৪০২ - ৪০৩, উম্মুল কুরা সংস্করণ।

(২) পৃষ্ঠা: ১৫২, আর-রিসালাহ সংস্করণ, মাননীয় ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি-এর সম্পাদনা (تحقيق)।

(৩) শারহুল কাওয়াকিব-এ আল-ফুতুহির উদ্ধৃতি সূত্রে ১/৪০৪ - ৪০৫।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
والثالث: ما يتوسط في الأجر بين هذين، فيسمى: فضيلةً، ورغيبةً (1). اهـ.

وقال المرداوي في «التحرير» (2): «يسمى المندوب: سنَّةً ومستحباً». اهـ.

قول الشافعية:

قال البيضاوي في «المنهاج».

«والمندوب: ما يُحمد فاعله، ولا يذمُّ تاركه؛

ويسمى: سنَّةً، ونافلةً». اهـ.

وقال الرازي في «المحصول»:

«أما المندوب فهو: الذي يكون فعله راجحاً على تركه في نظر الشرع، ويكون تركه جائزاً».

وعدَّد الرازيُّ أسماءه، وفسَّر معانيها، فذكر منها:

«مُرَغّب فيه، ومستحب، ونفلٌ، وتطوُّع، وسنَّة، وإحسان».

قال: «ولفظ السنَّة مختص - في العرف - بالمندوب؛ بدليل أنه يقال هذا الفعل واجبٌ، أو سنَّة». اهـ (3).

--------------------------------------------

(1) ذكر الشيخ عبد الغني عبد الخالق في كتابه (حجية السنة) ص: 67 أنه لم يعثر في كلام الحنابلة على تحديد لترتيبهم المندوب: سنَّة ثم فضيلة ثم نافلة.

(2) بواسطة نقل ابن بدران في شرح الروضة 1/ 113، ط 1 الملك عبد العزيز.

(3) المحصول 1 / ق 1/ 129 - 130، ثم ذكر بعد هذا خلاف بعضهم في إطلاق لفظ السنَّة وأنه لا يختص بالمندوب، بل هو عام في كل ما علم وجوبه أو ندبيته بأمر النبي صلى الله عليه وسلم أو بإدامة فعله … إلخ وهذا هو المعنى العام الذي سبق أن بيّناه.
এবং তৃতীয়টি: যা সওয়াবের ক্ষেত্রে এই দুইয়ের মধ্যবর্তী, একে বলা হয়: ফযিলত (فضيلة) ও রগিবাহ (رغيبة) (১)। সমাপ্ত।

আর আল-মারদাভি 'আত-তাহরির'-এ (২) বলেছেন: «মানদুব (مندوب)-কে সুন্নাত (سنة) ও মুস্তাহাব (مستحب) বলা হয়।» সমাপ্ত।

শাফেয়ী মাজহাবের অভিমত:

আল-বায়যাভি 'আল-মিনহাজ'-এ বলেছেন।

«মানদুব (مندوب) হলো: যার সম্পাদনকারী প্রশংসিত হয় এবং বর্জনকারী নিন্দিত হয় না;

আর একে সুন্নাত (سنة) ও নফল (نافلة) বলা হয়।» সমাপ্ত।

আর আর-রাজি 'আল-মাহসুল'-এ বলেছেন:

«মানদুব (مندوب) হলো: শরীয়তের দৃষ্টিতে যার পালন বর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য এবং যার বর্জন বৈধ (جائز)।’

আর-রাজি এর বিভিন্ন নাম গণনা করেছেন এবং সেগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন, যার মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন:

«উৎসাহব্যঞ্জক (مرغب فيه), মুস্তাহাব (مستحب), নফল (نفل), নফল ইবাদত (تطوع), সুন্নাত (سنة) এবং ইহসান (إحسان)।’

তিনি বলেছেন: «পরিভাষায় সুন্নাত (سنة) শব্দটি মানদুব (مندوب)-এর জন্য সুনির্দিষ্ট; এর প্রমাণ হলো যে বলা হয়—এই কাজটি ওয়াজিব (واجب) অথবা সুন্নাত (سنة)।» সমাপ্ত (৩)।

--------------------------------------------

(১) শায়খ আব্দুল গনি আব্দুল খালিক তাঁর গ্রন্থ 'হুজজিয়্যাতুস সুন্নাহ' (পৃষ্ঠা: ৬৭)-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাম্বলিদের বক্তব্যে মানদুব (مندুব)-এর বিন্যাসের ক্ষেত্রে—প্রথমে সুন্নাত (سنة), এরপর ফযিলত (فضيلة) এবং এরপর নফল (نافلة)—এভাবে কোনো ধারাবাহিকতা খুঁজে পাননি।

(২) ইবনে বদরানের উদ্ধৃতিতে, 'শারহুর রওযা' ১/১১৩, ১ম প্রকাশ, আল-মালিক আব্দুল আজিজ।

(৩) আল-মাহসুল ১ / ১ / ১২৯ - ১৩০, এরপর তিনি সুন্নাত (سنة) শব্দের প্রয়োগ নিয়ে কারো কারো মতভেদ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি কেবল মানদুব (مندوب)-এর জন্য সুনির্দিষ্ট নয়; বরং এটি এমন প্রতিটি বিষয়ের জন্য সাধারণ (عام) যার আবশ্যকতা (وجوب) বা পছন্দনীয়তা (ندبية) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ বা তাঁর কাজের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে জানা গেছে … ইত্যাদি। আর এটিই সেই সাধারণ অর্থ যা আমরা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي «لطائف الإشارات»:

«ويُسَمَّى المندوبُ: السُّنَّة، والمستحبَّ، والتطوُّعَ ومثلها: الحَسَنُ والنَّفْلُ، والمرغبُ فيه.

فهذه الألفاظ مترادفةٌ عرفاً، خلافاً للقاضي حسين والبغوي والخوارزمي من أصحابنا نفيهم ترادفها، حيث قالوا:

السنَّة: ما واظب عليه النبي صلى الله عليه وسلم.

والمستحب: ما فعله مرَّةَّ، أو مرتَّين.

والتطُّوع: ما ينشئه الإنسان باختياره من الأوراد (1).

ولم يتعرَّضوا للمندوبِ لشموله الأقسام الثلاثة، فهو مرادفٌ لكلّ منها». اهـ (2).

قال السبكي في «جمع الجوامع»:

«والمندوب، والمستحب، والتطوع، والسنَّةُ: مترادفةٌ، خلافاً لبعض أصحابنا، وهو لفظيُّ». اهـ.

--------------------------------------------

(1) أي الشرعية.

(2) لطائف الإشارات شرح نظم الورقات، للشيخ عبد الحميد بن محمد، ص: 11، ط الحلبي، عام 1369 هـ.

وينظر (المجموع) للنووي 4/ 2، ط 1 المنيرية و (مسائل ابن منقور) 1/ 92 - 93، ط 4، عام 1401 هـ.
এবং 'লাতাইফুল ইশারাত' গ্রন্থে রয়েছে:

«পছন্দনীয় (مندوب)-কে সুন্নাহ (سنة), মুস্তাহাব (مستحب) এবং ঐচ্ছিক (تطوع) বলা হয়। অনুরূপভাবে হাসান (حسن), নফল (نفل) এবং উৎসাহিত (مرغب فيه) কাজও এর অন্তর্ভুক্ত।

আমাদের মাযহাবের আলিমদের মধ্যে কাজী হুসাইন, আল-বাগাওয়ী এবং আল-খাওয়ারিজমি এই শব্দগুলোর সমার্থকতা অস্বীকার করলেও পরিভাষাগতভাবে এগুলো সমার্থক (مترادفة); তারা বলেছেন:

সুন্নাহ (سنة): যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করেছেন।

মুস্তাহাব (مستحب): যা তিনি একবার বা দুইবার করেছেন।

ঐচ্ছিক (تطوع): যা মানুষ নিজের ইচ্ছায় নিয়মিত আমল বা আওরাদ (أوراد) (১) হিসেবে শুরু করে।

তারা পছন্দনীয় (مندوب) শব্দটি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করেননি কারণ এটি তিনটি বিভাগকেই অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে এটি তাদের প্রত্যেকেরই সমার্থক (مرادف)»। ইতি (২)।

সুবকী 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থে বলেছেন:

«পছন্দনীয় (مندوب), মুস্তাহাব (مستحب), ঐচ্ছিক (تطوع) এবং সুন্নাহ (سنة) হলো সমার্থক (مترادفة); আমাদের কোনো কোনো সাথীদের ভিন্নমত থাকলেও এটি মূলত শাব্দিক মতভেদ মাত্র»। ইতি।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ শরিয়াহভিত্তিক (شرعية)।

(২) লাতাইফুল ইশারাত শারহু নাযমিল ওয়ারাকাত, শেখ আব্দুল হামিদ বিন মুহাম্মদ, পৃষ্ঠা: ১১, আল-হালাবি সংস্করণ, ১৩৬৯ হিজরি।

এবং ইমাম নববীর আল-মাজমু ৪/২, আল-মুনিরিয়্যাহ সংস্করণ এবং মাসায়েল ইবনে মানকুর ১/৯২-৯৩, ৪-র্থ সংস্করণ, ১৪০১ হিজরি দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال الجلالُ المحليُّ في شرحه (1):

«وهو» أي الخلاف «لفظيٌّ» أي عائداً إلى اللفظ، والتسمية.

إذْ حاصله: أن كلًّا من الأقسام الثلاثة كما يسمى باسمٍ من الأسماء الثلاثة - السنَّة والمستحب والتطوع كما ذُكرَ - هل يُسَمَّى بغيره منها؟

فقال البعض: لا، إذ السنَّة: الطريقة والعادة؛ والمستحب: المحبوب؛ والتطوع: الزيادة.

والأكثر: نعم، ويَصْدُقُ على كلّ من الأقسام الثلاثة أنه: طريقة وعادة في الدين، ومحبوب للشارع بطلبه، وزائد على الواجب». اهـ.

وقال الشَّرواني في حاشيته على «تحفة المحتاج» (2) بعد أن ذكر خلاف القاضي: «مع أنه لا خلاف في المعنى، فإن بعض المسنوناتِ أكد من بعضٍ قطعاً، وإنما الخلاف في الاسم نهاية ومعنى». اهـ.

قول المالكية:

قال القرافي في «شرح تنقيح الفصول» (3):

«والمندوب: ما رجع فعلُهُ على تركه شرعاً، من غير ذمٍّ». اهـ.

قال ابن رشد في «المقدمات» (4):

--------------------------------------------

(1) 1/ 127 (بحاشية العطار)، ط 1 المكتبة التجارية الكبرى بمصر.

(2) 2/ 219، تصوير: دار الفكر.

(3) ص: 71، ط مكتبة الكليات الأزهرية بمصر، ودار الفكر - بيروت.

(4) 1/ 64، دار الغرب الإسلامي، وينظر (نشر البنود على مراقي السعود) 1/ 38 - 40، وشرح الباجي على الموطأ 1/ 226، تصوير: دار الكتاب الإسلامي.

وقال في آخر المبحث: (وهذه كلها عبارات اصطلاح بين أهل الصنعة ولا خلاف في تأكد ركعتي الفجر …) إلخ.

وينظر أيضا (عارضة الأحوذي) لابن العربي 2/ 241.
আল-জালাল আল-মহল্লী তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১) বলেছেন:

«এটি» অর্থাৎ মতভেদটি «শাব্দিক (لفظي)» অর্থাৎ শব্দ এবং নামকরণের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

কেননা এর সারকথা হলো: উল্লিখিত তিনটি ভাগের প্রত্যেকটিকে যেভাবে তিনটি নামের যেকোনো একটি নামে—সুন্নাহ (سنة), মুস্তাহাব (مستحب) এবং ঐচ্ছিক (تطوع)—নামকরণ করা হয়েছে, সেগুলোকে কি এগুলোর একটির পরিবর্তে অন্যটি দ্বারা নামকরণ করা যাবে?

কেউ কেউ বলেছেন: না, কেননা সুন্নাহ (سنة) হলো: পথ ও পদ্ধতি; মুস্তাহাব (مستحب) হলো: পছন্দনীয়; এবং ঐচ্ছিক (تطوع) হলো: অতিরিক্ত।

আর অধিকাংশের মত হলো: হ্যাঁ, এবং এই তিনটি বিভাগের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই এটি সত্য যে: এটি দ্বীনের একটি পথ ও পদ্ধতি, শরীয়ত প্রণেতার নিকট তাঁর আহ্বানের কারণে তা পছন্দনীয় এবং তা ওয়াজিব (واجب) কর্মের অতিরিক্ত।

আল-শারওয়ানী ‘তুহফাতুল মুহতাজ’ গ্রন্থের ওপর তার পাদটীকায় (২) কাজী (আল-কাজী)-এর ভিন্নমত উল্লেখ করার পর বলেছেন: «যদিও অর্থের দিক থেকে কোনো মতভেদ নেই, কারণ কিছু সুন্নাত পরিপালিত বিষয় (مسنونات) নিশ্চিতভাবেই অন্যগুলোর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই মতভেদটি কেবল নামকরণের ক্ষেত্রে যা নিহায়া এবং মা’না গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে।»

মালিকিগণের বক্তব্য:

আল-কারাফী ‘শারহু তানকিহিল ফুসুল’ গ্রন্থে (৩) বলেছেন:

«আর মানদুব (مندوب) হলো: শরীয়তের দৃষ্টিতে যার সম্পাদন করা বর্জন করার চেয়ে অগ্রাধিকার পায়, কোনো প্রকার নিন্দা ব্যতিরেকেই।»

ইবনে রুশদ ‘আল-মুকাদ্দিমাত’ গ্রন্থে (৪) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) ১/ ১২৭ (আল-আত্তারের পাদটীকা সহ), ১ম সংস্করণ, আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাতুল কুবরা, মিসর।

(২) ২/ ২১৯, চিত্রায়ন: দারুল ফিকর।

(৩) পৃষ্ঠা: ৭১, আল-কুল্লিয়াত আল-আযহারিয়্যা প্রেস, মিসর, এবং দারুল ফিকর - বৈরুত।

(৪) ১/ ৬৪, দারুল গারব আল-ইসলামি; আরও দেখুন (নাশরুল বুনুদ আলা মারাকিস সউদ) ১/ ৩৮-৪০, এবং মুয়াত্তার ওপর আল-বাজীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ১/ ২২৬, চিত্রায়ন: দারুল কিতাব আল-ইসলামি।

তিনি আলোচনার শেষে বলেছেন: (এগুলো সবই শাস্ত্রীয় বিশেষজ্ঞদের মধ্যকার পারিভাষিক (اصطلاح) অভিব্যক্তি এবং ফজরের দুই রাকাতের গুরুত্বের বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই ...) ইত্যাদি।

আরও দেখুন ইবনুল আরাবীর (আরিদাতুল আহওয়াযী) ২/ ২৪১।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
«والمستحب: ما كان في فعله ثوابٌ، لم يكن في تركه عقابٌ … وهو يَنْقَسِم على ثلاثة أقسامٍ:

سنن، ورغائبُ، ونوافل.

فالسننُ: ما أمر النبي صلى الله عليه وسلم بفعله، واقترن بأمره ما يدلُّ على أن مراده به: الندب: أو لم تقترن به قرينة على مذهب من يحمل الأوامر على الندب ما لم يقترن بها ما يدل أن المراد بها الوجوب.

أو ما داوم النبي صلى الله عليه وسلم على فعله بخلاف صفة النوافل.

والرَّغائب: ما داوم النبي صلى الله عليه وسلم على فعله بصفة النوافل، أو رغّب فيه بقوله: مَنْ فعل كذا فله كذا.

والنوافل: ما قرّر الشرع أن في فعله ثواباً، من غير أن يأمر النبي صلى الله عليه وسلم به، أو يُرَغِّب فيه، أو يداوم على فعله». اهـ.

قال التنوخي في شرحه لمتن الرسالة (1) على قول القيرواني: «وركعتا الفجر من الرغائب، وقيل من السنن»: وفائدة الخلاف تفاوت الثواب، فإن ثواب السنَّة أكثر من ثواب الرغيبة والنافلة … هذا في الفعل؛ وأما في الترك عمداً: فإن قلنا إنها سنَّة: جرى فيها الخلاف في تارك السنن عمداً: هل يأثم أم لا؟» اهـ.

--------------------------------------------

(1) 2/ 337 - 338، ط 1 الحمالية بمصر، عام 1332 هـ.
«আর পছন্দনীয় (مستحب): তা-ই যার পালনে সওয়াব রয়েছে এবং বর্জনে কোনো শাস্তি নেই … আর এটি তিন ভাগে বিভক্ত:

সুন্নাত, রাগায়িব (رغائب) এবং নফল (نوافل)।

সুন্নাত হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর নির্দেশের সাথে এমন কিছু যুক্ত হয়েছে যা নির্দেশ করে যে তাঁর উদ্দেশ্য হলো পছন্দনীয় (ندب); অথবা যার সাথে এমন কোনো অনুষঙ্গ যুক্ত হয়নি—সেসব আলিমদের মাযহাব অনুযায়ী যারা নির্দেশকে পছন্দনীয় (ندب) হওয়ার অর্থে গ্রহণ করেন যতক্ষণ না তার সাথে এমন কিছু যুক্ত হয় যা এটি আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার প্রমাণ দেয়।

অথবা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করেছেন, যা নফল (نوافل)-এর বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী।

আর রাগায়িব (رغائب) হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নফল (نوافل) হিসেবে নিয়মিত পালন করেছেন অথবা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন যে: ‘যে ব্যক্তি এরূপ করবে তার জন্য এমন প্রতিদান রয়েছে’।

আর নফল (نوافل) হলো: যার পালনে সওয়াব রয়েছে বলে শরিয়ত নির্ধারণ করেছে, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির নির্দেশ দেননি, কিংবা সেটির প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করেননি অথবা তা পালনে ধারাবাহিকতা রক্ষা করেননি।» সমাপ্ত।

তানুুখী তাঁর ‘মাতনুর রিসালাহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১) আল-কায়রাওয়ানির এই উক্তির বর্ণনায় বলেন: «ফজরের দুই রাকাত হলো রাগায়িব (رغائب)-এর অন্তর্ভুক্ত, আর বলা হয়েছে এটি সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত»: এই মতপার্থক্যের সার্থকতা হলো সওয়াবের তারতম্যের ক্ষেত্রে, কেননা সুন্নাতের সওয়াব রাগিবা (رغيبة) ও নফল (نافلة)-এর সওয়াবের চেয়ে অধিক … এটি পালনের ক্ষেত্রে; আর ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জনের ক্ষেত্রে: যদি আমরা বলি যে এটি সুন্নাত, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে সুন্নাত বর্জনকারীর ক্ষেত্রে যে মতপার্থক্য রয়েছে তা এখানেও কার্যকর হবে: সে কি পাপী হবে নাকি হবে না?» সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) ২/ ৩৩৭ - ৩৩৮, ১ম সংস্করণ, আল-হামালিয়্যাহ, মিশর, ১৩৩২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وبعد هذا العرض الموجز لهذه المذاهب نرى أنه لا خلاف بينها في الجملة، وإن اختلفت الألفاظ فإن المعنى واحدٌ.

ولذا قال السبكي في «الإبهاج» (1) على قول البيضاوي «ويسمى سنَّة ونافلة»:

«من أسمائه - أيضا - أنه مرغّب فيه، وتطوع، ومستحب، والترادف في هذه الأسماء عند أكثر الشافعية، وجمهور الأصوليين».

ثم ذكر خلاف القاضي حسين من الشافعية، وذكر كلام المالكية، ثم قال:

«وللحنفية اصطلاح آخر في الفرق بين السنَّة والمستحب». اهـ.

وقال صاحب كتاب (الحكم التكليفي في الشريعة الإسلامية» (2):

«يرى جمهور الأصوليين: أن كلمة «مندوب» ترادف في الاصطلاح: كلمة سنَّة، أو مستحب، أو نفل، أو تطوع.

وخالف في ذلك الحنفية، وفرَّقوا بين السنَّة والنفل، وجعلوا المندوب هو الذي يرادف النفل، كما جعلوا السنَّة أعلى منه مرتبة». اهـ.

--------------------------------------------

(1) 1/ 57 - 58، ط الكليات الأزهرية، عام 1401 هـ.

وينظر فتاوى السبكي 1/ 159 - 160، فإنه مهم جداً.

(2) هو محمد البيانوني، ص: 163، ط دار القلم - دمشق.
এই মাজহাবগুলোর সংক্ষিপ্ত এই উপস্থাপনার পর আমরা দেখতে পাই যে, সামগ্রিকভাবে তাদের মধ্যে কোনো মৌলিক মতপার্থক্য নেই; যদিও শব্দগত ভিন্নতা রয়েছে, তবে অর্থ একই।

এ কারণেই আস-সুবকি তাঁর ‘আল-ইবহা’ (১) গ্রন্থে বায়জাবির উক্তি— “এবং একে সুন্নাহ (سنة) ও নাফিলা (نافلة) বলা হয়”—এর ব্যাখ্যায় বলেছেন:

“এর নামগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে— এটি উৎসাহিত (مرغّب فيه), ঐচ্ছিক (تطوع) এবং মুস্তাহাব (مستحب); আর অধিকাংশ শাফেয়ি এবং জমহুর উসুলবিদদের নিকট এই নামগুলো সমার্থবোধক (ترادف)।”

অতঃপর তিনি শাফেয়ি মাজহাবের কাজি হুসাইনের ভিন্নমত এবং মালিকিদের বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলেন:

“সুন্নাহ (سنة) ও মুস্তাহাবের (مستحب) মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে হানাফিদের ভিন্ন পরিভাষা (اصطلاح) রয়েছে।” সমাপ্ত।

‘আল-হুকমুত তাকলিফি ফিশ শারিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ’ (২) গ্রন্থের লেখক বলেছেন:

“জমহুর উসুলবিদদের অভিমত হলো: ‘মানদুব’ (مندوب) শব্দটি পরিভাষায় (اصطلاح) সুন্নাহ (سنة), মুস্তাহাব (مستحب), নফল (نفل) বা ঐচ্ছিক (تطوع) শব্দের সমার্থক (ترادف)।

হানাফিরা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং তারা সুন্নাহ (سنة) ও নফলের (نفل) মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তারা ‘মানদুব’-কে (مندوب) নফলের (نفل) সমার্থক গণ্য করেছেন এবং সুন্নাহকে (سنة) এর চেয়ে উচ্চতর স্তরের সাব্যস্ত করেছেন।” সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) ১/ ৫৭ - ৫৮, মুদ্রণ: আল-কুল্লিয়াত আল-আজহারিয়া, ১৪০১ হিজরি।

দ্রষ্টব্য: ফাতাওয়া আস-সুবকি ১/ ১৫৯ - ১৬০, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ আল-বায়ানুনি, পৃষ্ঠা: ১৬৩, মুদ্রণ: দারুল কলম - দামেস্ক।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وهذا هو بيان اصطلاح الحنفية:

قال الكمال ابن الهمام في «التحرير» (1):

«السنَّة … في فقه الحنفية: ما واظب [صلى الله عليه وسلم] على فعله مع تركٍ مَّا بلا عذرٍ … وما لم يواظبْهُ: مندوبٌ ومستحبٌ وإن لم يفعله بعد ما رغب فيه». اهـ.

وهذا التعريف غير جامعٍ - على مذهب الحنفية - لأن الخطبة الثانية، والاعتكاف، والترتيب والموالاة في الوضوء، والمضمضة والاستنشاق، ونحوها سننٌ عندهم مع ثبوت المواظبة عليها من غير تركٍ، ولذا فإن شارحَ «مُسَلّم الثبوت» حذف جملة «مع تركٍ ما بلا عذرٍ» فكان التعريف جامعاً لجميع السنن في مذهبهم، لكنه يصير غير مانع: لشموله الفرضَ والواجب (2).

وقال في متن «مختصر المنار» (3) في مبحث تقسيم العزيمة إلى أربعة أنواع:

وسنة، وهي: الطريقة المسلوكة في الدين.

وحكمها: المطالبة بإقامتها من غير افتراضٍ ولا وجوب.

ونفلٌ: وهو: ما زاد على العبادات، وحكمه: إثابة فاعله، ولا معاقبة على تاركه، ويلزم بالشروع». اهـ.

--------------------------------------------

(1) ص: 303، ط 1 الحلبي، عام 1351 هـ.

(2) شرح مسلم الثبوت ج 2/ 97 - 181، بواسطة (حجية السنة) ص: 55.

(3) ص: 14، تصوير مكتبة الشافعي بالرياض.
আর এটি হলো হানাফী পরিভাষার বর্ণনা:

আল-কামাল ইবনুল হুমাম 'আত-তাহরীর' (১)-এ বলেছেন:

«হানাফী ফিকহে সুন্নাত (سنة) … হলো: তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কোনো ওজর ছাড়াই মাঝেমধ্যে বর্জনসহ যা নিয়মিতভাবে পালন করেছেন … আর যা তিনি নিয়মিত পালন করেননি তা হলো পছন্দনীয় (مندوب) এবং মুস্তাহাব (مستحب), যদিও তিনি তাতে উৎসাহিত করার পর তা নিজে পালন করেননি।» সমাপ্ত।

আর এই সংজ্ঞাটি হানাফী মাযহাব অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ (جامع) নয়—কেননা দ্বিতীয় খুতবা, ইতিকাফ, অজুর ধারাবাহিকতা ও বিরতিহীনতা, কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো তাদের নিকট সুন্নাত (سنة), অথচ এগুলো কোনো বর্জন ছাড়াই নিয়মিত পালন করার বিষয়টি প্রমাণিত। এই কারণে 'মুসাল্লাম আস-সুবুত'-এর ব্যাখ্যাকার 'কোনো ওজর ছাড়াই মাঝেমধ্যে বর্জনসহ' বাক্যটি বাদ দিয়েছেন, ফলে সংজ্ঞাটি তাদের মাযহাবের সকল সুন্নাতকে অন্তর্ভুক্তকারী বা পূর্ণাঙ্গ (جامع) হয়েছে; তবে তা অ-ব্যবচ্ছেদকারী (غير مانع) হয়ে পড়ে: কারণ এতে ফরজ (فرض) ও ওয়াজিব (واجب) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় (২)।

আর 'মুখতাসার আল-মানার' (৩)-এর মতন-এ আজিমা (عزيمة)-কে চার প্রকারে বিভক্ত করার আলোচনায় বলা হয়েছে:

এবং সুন্নাত (سنة): আর তা হলো দ্বীনের মধ্যে অনুসৃত পদ্ধতি।

এর বিধান হলো: ফরজ (فرض) বা ওয়াজিব (واجب) করা ছাড়াই তা পালনের দাবি করা।

এবং নফল (نفل): তা হলো ইবাদতের অতিরিক্ত অংশ; এর বিধান হলো: আমলকারী সওয়াব পাবে এবং বর্জনকারীর কোনো শাস্তি হবে না, আর এটি শুরু করার মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায়।» সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) পৃ: ৩০৩, আল-হালাবি ১ম সংস্করণ, ১৩৫১ হিজরী।

(২) শারহু মুসাল্লাম আস-সুবুত, ২য় খণ্ড/ ৯৭ - ১৮১, (হুজ্জিয়াতুস সুন্নাহ) পৃ: ৫৫ এর মাধ্যমে।

(৩) পৃ: ১৪, রিয়াদের মাকতাবাতুশ শাফেয়ী কর্তৃক মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
قال ابن نجيم في «البحر الرائق شرح كنز الدقائق» (1):

«هي - أي السنَّة - اصطلاحاً: الطريقة المسلوكة في الدين، وكذا في «العناية» وفيه نظر؛ لشموله: الفرض والواجب.

فزاد في «الكشف» من غير افتراضٍ ولا وجوب.

وفيه نظر؛ لشموله: المستحب والمندوب.

والأولى أن يقال:

هي الطريقة المسلوكة في الدين، من غير لزومٍ، على سبيل المواظبة».

ثم أورد ابن نجيم بعض التعريفات، ونقضها، ثم قال:

«والذي يظهر للعبد الضعيف أن السنَّة: ما واظب النبي صلى الله عليه وسلم عليه، لكن إن كانت لا مع الترك فهي دليل السنَّة المؤكدة، وإن كانت مع الترك أحياناً فهي دليل غير المؤكدة، وإن اقترنت بالإنكار على من لم يفعله فهي دليل الوجوب». اهـ. هذا وسيأتي حكم كلّ من السنَّة والمندوب، وتقسيمُ السنَّة عند الحنفية إن شاء الله في مبحث «حكم ترك السنن».

--------------------------------------------

(1) 1/ 17، تصوير دار الكتاب الإسلامي.
ইবনে নুজাইম 'আল-বাহরুর রায়িক শারহু কানযিদ দাকায়িক' গ্রন্থে (১) বলেন:

«তা - অর্থাৎ সুন্নাহ (السنَّة) - পারিভাষিক অর্থে: দ্বীনের অনুসৃত পথ। 'আল-ইনায়া' গ্রন্থেও অনুরূপ রয়েছে। তবে এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কারণ এটি ফরজ (الفرض) ও ওয়াজিব (الواجب)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে।

অতঃপর 'আল-কাশফ' গ্রন্থে অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে: ফরজ বা ওয়াজিব হওয়া ব্যতিরেকে।

এতেও আপত্তির অবকাশ রয়েছে; কারণ এটি মুস্তাহাব (المستحب) ও মানদুব (المندوب)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে।

বরং এটি বলাই উত্তম যে:

তা হলো দ্বীনের অনুসৃত পথ, যা আবশ্যকীয়তা (لزوم) ব্যতিরেকে নিয়মিত পালনের (المواظبة) ভিত্তিতে সম্পাদিত»।

এরপর ইবনে নুজাইম কিছু সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো খণ্ডন করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন:

«এই অধম বান্দার নিকট যা স্পষ্ট হয় তা হলো, সুন্নাহ (السنَّة) হচ্ছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়মিত পালন করেছেন। তবে তিনি যদি তা কখনও বর্জন না করে থাকেন, তবে তা সুন্নাহে মুয়াক্কাদাহ (السنَّة المؤكدة)-র দলিল; আর যদি মাঝে মাঝে বর্জন করে থাকেন, তবে তা গায়রে মুয়াক্কাদাহ (غير المؤكدة)-র দলিল। আর যদি তা পালন নাকারীর প্রতি অস্বীকৃতি (الإنكار)-র সাথে যুক্ত হয়, তবে তা ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার দলিল»। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। অচিরেই ইনশাআল্লাহ ‘সুন্নাত বর্জনের হুকুম’ আলোচনায় সুন্নাহ (السنَّة) ও মানদুব (المندوب) উভয়ের বিধান এবং হানাফিদের নিকট সুন্নাহর প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আসবে।

--------------------------------------------

(১) ১/ ১৭, দারুল কিতাব আল-ইসলামি সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌مردّ الخلاف في الاصطلاحات السابقة

استعرضنا فيما مضى المصطلحات في السنَّة، وتبين لنا الاختلاف بينها.

«ومرد هذا الاختلاف في الاصطلاح إلى اختلافهم في الأغراض التي يعني بها كل فئة من أهل العلم».

فعلماء الحديث إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الإمام الهادي، الذي أخبر الله عنه أنه أسوةٌ لنا وقدوة؛ فنقلوا كلَّ ما يتصل به من سيرةٍ، وخلقٍ، وشمائل، وأخبارٍ، وأقوال، وأفعالٍ، سواءٌ أثبت ذلك حكماً شرعياً أم لا.

وعلماء الأصول إنما بحثوا عن رسول الله المشرِّع، الذي يضع قواعد للمجتهدين من بعده، ويبين للناسِ دستور الحياة، فَعُنُوا بأقواله، وأفعاله، وتقريراته التي تثبت الأحكام، وتقرِّرُها.

وعلماء الفقه إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي لا تخرج أفعاله عن الدلالة على حكم شرعي، وهم يبحثون عن حكم الشرع على أفعال العباد، وجوباً أو حرمةً أو إباحة، أو غير ذلك» (1).

--------------------------------------------

(1) السنُة ومكانتها في التشريع الإسلامي للدكتور مصطفى السباعي، ص: 48 - 49.
পূর্ববর্তী পরিভাষাগুলোর পার্থক্যের কারণ

আমরা ইতিপূর্বে সুন্নাহ (السنَّة)-এর পরিভাষাগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং সেগুলোর মধ্যকার পার্থক্য আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে।

«আর পরিভাষাগত এই পার্থক্যের কারণ হলো আলেমদের প্রতিটি শ্রেণির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ভিন্নতা, যা নিয়ে প্রতিটি গোষ্ঠী কাজ করে থাকেন।»

কেননা হাদিস শাস্ত্রের আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন পথপ্রদর্শক ইমাম হিসেবে অনুসন্ধান করেছেন, যাঁর সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আমাদের জন্য আদর্শ ও অনুকরণীয়; তাই তাঁরা তাঁর সীরাত, চরিত্র, শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (شمائل), সংবাদ, বাণী এবং কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই বর্ণনা করেছেন; চাই তা কোনো শারয়ী বিধান (حكم شرعي) সাব্যস্ত করুক বা না করুক।

আর উসুল শাস্ত্রের আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন বিধানদাতা (مشرِّع) হিসেবে অনুসন্ধান করেছেন, যিনি তাঁর পরবর্তী মুজতাহিদদের জন্য মূলনীতি নির্ধারণ করেন এবং মানুষের জন্য জীবনবিধান বর্ণনা করেন। তাই তাঁরা তাঁর এমন সব বাণী, কর্ম এবং মৌনসম্মতি (تقريرات) নিয়ে ব্যাপৃত হয়েছেন যা বিধানসমূহকে (أحكام) সাব্যস্ত ও সুসংহত করে।

পক্ষান্তরে ফিকহ শাস্ত্রের আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনভাবে অনুসন্ধান করেছেন যে, তাঁর কর্মসমূহ কোনো শারয়ী বিধানের (حكم شرعي) নির্দেশনার বাইরে নয়। তাঁরা বান্দাদের কর্মের ওপর শরিয়তের বিধান—আবশ্যকতা (وجوب), নিষিদ্ধতা (حرمة) বা বৈধতা (إباحة) ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করেন» (১)।

--------------------------------------------

(১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরী' আল-ইসলামী, ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ, পৃ: ৪৮ - ৪৯।
(খণ্ড: ১) দারুরাতুল ইহতিমাম বিস-সুনানিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ونحن نريد بالسنَّة في بحثنا هذا ما عناه جمهور الفقهاء، وهي ما يطلق في مقابلة الواجب.

ومما يجدر التنبيه عليه أننا عندما نستدل بالأحاديث والآثار التي يرد فيها لفظ "السنَّة" فإنما نستدلّ بعمومها، لا أنها وضعت للدلالة على السنَّة بالمعنى الاصطلاحي الفقهيّ.

* * *
আমরা আমাদের এই গবেষণায় সুন্নাহ (السنة) বলতে সেই অর্থই উদ্দেশ্য নিয়েছি যা জমহুর ফকিহগণ (جمهور الفقهاء) বুঝিয়েছেন; আর তা হলো যা ওয়াজিবের (الواجب) বিপরীতে ব্যবহৃত হয়।

এ বিষয়টি সতর্ক করা প্রয়োজন যে, আমরা যখন এমন সব হাদিস ও আসার (الآثار) দ্বারা দলিল পেশ করি যাতে 'সুন্নাহ' (السنة) শব্দটি এসেছে, তখন আমরা সেগুলোর সাধারণ অর্থের ভিত্তিতেই দলিল পেশ করি; এমন নয় যে সেগুলো ফিকহি পরিভাষাগত (الاصطلاحي الفقهي) অর্থে সুন্নাহ নির্দেশ করার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

* * *