(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة الراكع والساجد بأحكام المساجد القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: تحفة الراكع والساجد بأحكام المساجد
المؤلف: أبو بكر بن زيد الجراعي الصالحي الحنبلي (ت 883 هـ)
اعتنى به: صالح سالم النهام، محمد باني المطيري، صباح عبد الكريم العنزي، فيصل يوسف العلي
الناشر: وزارة الأوقاف الكويتية - إدارة مساجد محافظة الفروانية - المراقبة الثقافية.
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 416
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1440
মাসজিদের বিধিবিধান বিষয়ক রুকুকারী ও সিজদাকারীর জন্য উপঢৌকন বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
বই: মাসজিদের বিধিবিধান বিষয়ক রুকুকারী ও সিজদাকারীর জন্য উপঢৌকন
লেখক: আবু বকর বিন যাইদ আল-জুরাঈ আস-সালিহি আল-হানবালি (মৃত্যু ৮৮৩ হিজরি)
সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধানে: সালিহ সালিম আন-নাহহাম، মুহাম্মাদ বানি আল-মুতাইরি، সাবাহ আব্দুল কারিম আল-আনাজি، ফয়সাল ইউসুফ আল-আলি
প্রকাশক: কুয়েতি ওয়াকফ মন্ত্রণালয় - আল-ফারওয়ানিয়া প্রশাসনিক অঞ্চলের মাসজিদ বিভাগ - সাংস্কৃতিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৬
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সংঘ)، রূপায়ণে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ্), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দুহায়ান চ্যারিটেবল ওয়াকফ)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة الراكع والساجد بأحكام المساجد
تأليف
أبي بكر بن زيد الجراعي الصالحي الحنبلي
(المتوفى سنة 883 هـ)
اعتنى به
صالح سالم النهام - محمد باني المطيري
صباح عبد الكريم العنزي - فيصل يوسف العلي
মসজিদসমূহের বিধানাবলী বিষয়ে রুকুকারী ও সিজদাকারীর উপঢৌকন
রচনা
আবু বকর ইবনে যাইদ আল-জারায়ি আস-সালিহি আল-হানবালি
(মৃত্যু ৮৮৩ হিজরি)
সম্পাদনায়
সালেহ সালেম আন-নাহহাম - মুহাম্মদ বানি আল-মুতাইরি
সাবাহ আব্দুল কারিম আল-আনাজি - ফয়সাল ইউসুফ আল-আলি
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
تحفةُ الرَّاكع وَالسَّاجد بأحكام المسَاجِد
মসজিদসমূহের বিধিবিধান বিষয়ে রুকুকারী ও সেজদাকারীদের জন্য উপহার
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الأولى
1425 هـ - 2004 م
أودع بمركز المعلومات بالأمانة الْعَامَّة للأوقاف
رقم: 50/ 24/ 4/ 2004
وزارة الْأَوْقَاف والشؤون الإسلامية
قطاع الْمَسَاجِد
إدارة مَسَاجِد الفروانية
المراقبة الثقافية
هَاتِف: 4890383 - 4890412
প্রথম সংস্করণ
১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
আওকাফ সাধারণ সচিবালয়ের তথ্য কেন্দ্রে জমাদানকৃত
নম্বর: ৫০/ ২৪/ ৪/ ২০০৪
আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
মসজিদ বিভাগ
আল-ফারওয়ানিয়া মসজিদ প্রশাসন
সাংস্কৃতিক তদারকি বিভাগ
টেলিফোন: ৪৮৯০৩৮৩ - ৪৮৯০৪১২
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة
الحمد لله رب العالمين، وأفضل الصلاة وأتم التسليم، على سيدنا محمد المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد:
فهذا كتاب "تحفة الراكع والساجد بأحكام المساجد" لأبي بكر بن زيد الجراعي الصالحي الحنبلي (ت 883 هـ) -رحمه الله تعالى- الذي ارتأت المراقبة الثقافية، بإدارة مساجد محافظة الفروانية، إعادة طبعه وإخراجه في حلة جديدة، تناسب قدره وأهميته، معتمدة في تحقيقه على أربع نسخ خطية لم يقف عليها أصحاب الطبعة الأولى منه (1) -لهذا امتازت هذه الطبعة بإضافات علمية، وتصويبات مهمة- بقدر الوسع والطاقة- تجعلها تختلف اختلافًا كبيرًا عن الطبعة الأولى، التي اعتمد فيها المحقق: على نسخة خطية واحدة، طبع المكتب الإسلامي عام (1980)، ولعل هذا كان سببًا كافيًا لمبادرة المراقبة الثقافية بإعادة طبعه، إضافة إلى نفاد نسخة هذا الكتاب المطبوعة، مما جعل الحاجة ماسة إلى إعادة طبعه، كما قدمنا، خاصة وأنه يتعلق في بيوت الله عز وجل، وذكر أحكامها الواجب اتباعها، وآدابها المراد اقتدائها، وفضائلها وأحوالها، على مر العصور والدهور.
--------------------------------------------
ভূমিকা
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর শ্রেষ্ঠ দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:
এটি আবু বকর বিন যাইদ আল-জুরায়ী আস-সালিহি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৮৮৩ হিজরি) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— রচিত "তুহফাতুর রাকি' ওয়াস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ" নামক গ্রন্থ। আল-ফারওয়ানিয়া প্রদেশের মসজিদ প্রশাসনের সাংস্কৃতিক তদারকি বিভাগ বইটির গুরুত্ব ও মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একে নতুন আঙ্গিকে পুনঃপ্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর সম্পাদনায় চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা হয়েছে যা প্রথম সংস্করণের সংকলকদের নিকট ছিল না (১)। একারণে —সাধ্যানুযায়ী— এই সংস্করণটি এমন কিছু জ্ঞানগর্ভ সংযোজন ও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে যা একে প্রথম সংস্করণ থেকে বহুলাংশে স্বতন্ত্র করেছে। উল্লেখ্য যে, প্রথম সংস্করণে সম্পাদক ১৯৮০ সালে আল-মাকতাব আল-ইসলামি থেকে প্রকাশিত কেবল একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন। সম্ভবত সাংস্কৃতিক তদারকি বিভাগের পক্ষ থেকে এটিই পুনঃপ্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল। অধিকন্তু বইটির মুদ্রিত কপি শেষ হয়ে যাওয়ায় এর প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পায়, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। বিশেষত যেহেতু এটি মহান আল্লাহর ঘরের সাথে সম্পৃক্ত এবং এতে যুগ পরম্পরায় পালনীয় মসজিদের বিধানাবলী, আদবসমূহ, এর ফজিলত ও অবস্থার বর্ণনা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقطاع المساجد بحاجة ماسة لمثل هذه الكتب، لتوزيعها على الأئمة والمؤذنين، لتعم الاستفادة منها.
والمراقبة الثقافية إذ تقدم هذا الكتاب، ترجو من الله عز وجل أن ينفع به، ويكتب له حسن القبول، كما تشكر كل من ساهم في خدمة هذا الكتاب سواء ببذله للمخطوطات أو الإرشاد والتوجيه، والشكر موصول لمن قام بالتحقيق والتدقيق، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
المراقبة الثقافية
إدارة مساجد محافظة الفروانية
1425 هـ - 2004 م
মসজিদ বিভাগসমূহ এই জাতীয় গ্রন্থাবলির জন্য তীব্র মুখাপেক্ষী, যাতে এগুলো ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে বিতরণ করা যায় এবং এর দ্বারা উপকারিতা সর্বব্যাপী হয়।
সাংস্কৃতিক পর্যবেক্ষণ বিভাগ এই গ্রন্থটি নিবেদন করার প্রাক্কালে মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছে যেন তিনি এর দ্বারা উপকার সাধন করেন এবং একে উত্তমরূপে কবুল করেন। সেই সাথে যারা পাণ্ডুলিপি প্রদান কিংবা দিকনির্দেশনা ও পরামর্শের মাধ্যমে এই গ্রন্থের সেবায় অবদান রেখেছেন, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা এর সম্পাদনা ও নিরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর।
সাংস্কৃতিক পর্যবেক্ষণ বিভাগ
আল-ফারওয়ানিয়া প্রদেশ মসজিদ প্রশাসন
১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
نقد وردإن الناظر في هذا الكتاب يتبين له قيمته العلمية وانفراده في بابه وسعته، وأن المصنف قد أباع في صياغته وترتيبه، ولمّ شتات المسائل وشواردها، إلا أن الشيخ الدكتور عبد الرحمن العثيمين قال في تعليقه على ترجمة المصنف في السحب الوابلة (1/ 304): فائدة في مؤلفاته:
مؤلفات الجراعي هذا تكاد تخلو من الإفادة والجودة والإبداع فهي -في غالبها- مختصرات من مؤلفات سابقة لا تضيف جديدًا إلا ما ندر وقد قرأت أغلبها.
وقال -حفظه الله- ما نصه: كتابه "تحفة الراكع والساجد" مطبوع وهو مختصر من كلام الزركشي في كتابه "إعلام الساجد" كما أوضح المؤلف. اهـ
غير أنه من المناسب أن نبين أنه من قارن بين الكتابين المذكورين تبين له الآتي:
1 - أن الجراعي لم يذكر أنه اختصره من كتاب الزركشي لا في المقدمة ولا في غيرها -والله أعلم- وإن كان قد استفاد منه ونقل عنه.
2 - مؤلفه الجراعي حنبلي كما هو معروف، بينما الزركشي شافعي وقد ملأ الجراعي كتابه بأقوال الحنابلة وغيرهم، والزركشي قد أكثر من النقل عن الشافعية.
3 - أن مصادر الجراعي قد بلغت أضعاف ما اعتمد عليه الزركشي، وقد كان كتابه أحد مصادر الجراعي.
সমালোচনা ও প্রত্যুত্তরনিশ্চয়ই এই গ্রন্থের পাঠক এর ইলমী মান, নিজ বিষয়ে এর অনন্যতা এবং এর ব্যাপকতা অনুধাবন করতে পারবেন। গ্রন্থকার এর বিন্যাস ও সজ্জায় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন এবং বিক্ষিপ্ত ও বিরল মাসআলাসমূহকে একত্রিত করেছেন। তবে শায়খ ডক্টর আব্দুর রহমান আল-উসাইমিন ‘আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ’ (১/৩০৪) গ্রন্থে গ্রন্থকারের জীবনীর ওপর তাঁর টীকায় বলেন: তাঁর রচনাবলী সম্পর্কে একটি তথ্য:
আল-জারাঈ-এর এই রচনাবলী প্রায় উপকারিতা, গুণমান এবং সৃজনশীলতা বিবর্জিত। এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সংক্ষিপ্তসার যা কদাচিৎ ছাড়া নতুন কিছু যোগ করে না এবং আমি এগুলোর অধিকাংশ পাঠ করেছি।
তিনি (হাফিযাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে যা বলেছেন তা হলো: তাঁর ‘তুহফাতুর রাকি’ ওয়াস সাজিদ’ গ্রন্থটি মুদ্রিত এবং এটি আয-যারকাশীর ‘ইলামুস সাজিদ’ গ্রন্থের বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত রূপ, যেমনটি গ্রন্থকার স্পষ্ট করেছেন। (সমাপ্ত)
তবে এটি স্পষ্ট করা সমীচীন যে, যারা উল্লিখিত গ্রন্থ দুটির মধ্যে তুলনা করেছেন তাদের নিকট নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে:
১ - আল-জারাঈ এটি আয-যারকাশীর গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপ করেছেন বলে ভূমিকা বা অন্য কোথাও উল্লেখ করেননি—আল্লাহই ভালো জানেন—যদিও তিনি তা থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
২ - এর লেখক আল-জারাঈ একজন হাম্বলী হিসেবে পরিচিত, পক্ষান্তরে আয-যারকাশী একজন শাফেঈ। আল-জারাঈ তাঁর গ্রন্থটিকে হাম্বলী ও অন্যদের বক্তব্যে পূর্ণ করেছেন, যেখানে আয-যারকাশী শাফেঈদের থেকে অধিক বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন।
৩ - আল-জারাঈ যেসকল উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন তা আয-যারকাশীর নির্ভর করা উৎসের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ছিল এবং আয-যারকাশীর গ্রন্থটি আল-জারাঈ-এর অনেকগুলো উৎসের মধ্যে কেবল একটি ছিল।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
4 - إذا نظرت في الكتابين وأبوابهما وفصولهما وما جرى عليه كل منهما في التقسيم، ظهر لك الفرق شاسعًا، والبون واسعًا، بينهما في المسائل التي وردت، والتفاصيل التي ذكرت، والفتاوى والأحكام التي اعتبرت.
৪ - যদি আপনি গ্রন্থদ্বয়, এগুলোর অধ্যায় ও পরিচ্ছেদসমূহ এবং বিন্যাসের ক্ষেত্রে উভয়ের অনুসৃত পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, তবে সেখানে উপস্থাপিত মাসআলাসমূহ, উল্লিখিত বিস্তারিত বিবরণ এবং যে সকল ফতোয়া ও বিধিবিধান বিবেচনা করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে এক বিশাল পার্থক্য ও সুদূর ব্যবধান আপনার নিকট সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
عملنا في الكتاب1 - اعتمدنا في النسخ: طريقة الإملاء الحديثة.
2 - قابلنا المنسوخ على ثلاث نسخ خطية.
3 - عزونا الآيات والآحاديث إلى مصادرها التي أشار إليها المؤلف.
4 - وضعنا ترجمة مختصرة للمؤلف.
5 - حققنا اسم الكتاب ونسبته إلى مؤلفه.
6 - وصفنا النسخ الخطية، وألحقنا بالوصف نماذج؛ تأتي فيما بعد.
7 - وضعنا فهارس لمواضيع الكتاب.
কিতাবটি সম্পাদনায় আমাদের কাজ১ - অনুলিখনের ক্ষেত্রে আমরা আধুনিক বানানরীতি অনুসরণ করেছি।
২ - আমরা অনুলিখিত পাঠকে তিনটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে যাচাই করেছি।
৩ - আমরা আয়াত এবং হাদিসগুলোকে লেখক কর্তৃক নির্দেশিত মূল উৎসসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি।
৪ - আমরা লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী যুক্ত করেছি।
৫ - আমরা কিতাবটির নাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততা যাচাই করেছি।
৬ - আমরা পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ প্রদান করেছি এবং বর্ণনার সাথে কিছু নমুনা যুক্ত করেছি; যা সামনে আসবে।
৭ - আমরা কিতাবের বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র তৈরি করেছি।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ترجمة المصنف (1)
اسمه: تقي الدين أبو بكر بن زيد بن أبي بكر بن زيد بن عمر بن محمود الحَسَنِيُّ الجُراعيُّ الصَّالحيّ الحنبلي، الإمام العلامة الفقيه القاضي.
مولده: وُلد -تقريبًا- سنة (825 هـ) بجُراع من أعمال نابُلُس.
نسبه: قال تلميذه الشمس بن طولون: النُّوَيريُّ: قبيلة، الحُسَينيُّ: نسبًا، الجُراعي: مولدًا، الشرَيْحيُّ: منشأ، الصَّالحيُّ: مَسْكنًا، الحنبليُّ: مذهبًا، السَّلفيُّ: معتقدًا.
نشأته ورحلاله في طلب العلم:قرأ "القرآن" عند العبدوسيِّ، و"العمدة"، و"العَزيريَّ" في التفسير، و"الخرقيَّ"، و"النِّظام": كلاهما في المذهب في الفقه، و"الملحة"، وبعض "ألفية ابن مالك"، ونحو ثلثي "جمع الجوامع" و"ألفية شعبان الآثاري" بتمامها.
* قدم دمشق سنة (842 هـ)، وكان في السابعة عشرة من عمره، وأخذ الفقه: عن التقي بن قندس، ولازمه، وبه تخرَّج، وعليه؛ انتفع في الفقه، وأصوله، والفرائض، والعربية، والمعاني والبيان، وكان رفيقه: علاء الدين
--------------------------------------------
গ্রন্থকারের পরিচিতি (১)
তাঁর নাম: তাকিউদ্দীন আবু বকর বিন যায়েদ বিন আবি বকর বিন যায়েদ বিন উমর বিন মাহমুদ আল-হাসানি আল-জুরায়ি আস-সালেহি আল-হাম্বলি, ইমাম, আল্লামা, ফকিহ এবং কাজী।
জন্ম: তিনি আনুমানিক (৮২৫ হি.) সালে নাবলুসের অন্তর্ভুক্ত জুরায় নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
বংশধারা: তাঁর ছাত্র শামস বিন তুলুন বলেছেন: আন-নুওয়াইরি: গোত্রগতভাবে, আল-হুসাইনি: বংশগতভাবে, আল-জুরায়ি: জন্মগতভাবে, আশ-শুরাইহি: বেড়ে ওঠার দিক থেকে, আস-সালেহি: আবাসস্থলের দিক থেকে, আল-হাম্বলি: মাযহাবগতভাবে, সালাফি: আকিদাগতভাবে।
তাঁর বেড়ে ওঠা এবং ইলম অন্বেষণে সফর:তিনি আল-আবদুসির নিকট "কুরআন" পাঠ করেন, এবং "আল-উমদাহ", তাফসির শাস্ত্রে "আল-আযিরি", ফিকহ শাস্ত্রে মাযহাবের কিতাব "আল-খিরাকি" ও "আন-নিযাম": এ উভয়টিই পড়েন, এছাড়া "আল-মুলহাহ", "আলফিয়্যাত ইবনে মালিক"-এর কিছু অংশ এবং "জামউল জাওয়ামি"-এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ও "আলফিয়্যাত শাবান আল-আসারি" সম্পূর্ণ পাঠ করেন।
* তিনি (৮৪২ হি.) সালে দামেস্কে আসেন, তখন তাঁর বয়স ছিল সতেরো বছর। তিনি তাকি ইবনে কুনদুসের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন, তাঁর কাছেই তিনি শিক্ষা সমাপন করেন এবং তাঁর নিকট থেকে ফিকহ, উসূলে ফিকহ, ফারায়েয, আরবি ভাষা, মাআনি ও বয়ান শাস্ত্রে উপকৃত হন। তাঁর সহপাঠী ছিলেন: আলাউদ্দীন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المرداوي، ولازم الشيخ عبد الرحمن بن سليمان الحنبلي، وأخذ الفرائض عن الشمس السِّيليِّ وغيره، وسمع "صحيح البخاري" ببعلبك، وطاف بالسيِّد النسابة، والعَلَم البُلقيني، والجلال المحلي، وأم هانئ الهُورينية من المسندين، وقرأ على التقي الحصني، والقاضي عز الدين في المنطق وغيره، وحضر دروس ابن الهمام وآخرين، وقرأ مُسند إمامه الإمام أحمد على النجم ابن فهد في الحرم المكي.
* لزم الاشتغال حتى برع، وصار من أعيان فضلاء مذهبه بدمشق، وتصدر للتدريس والإفتاء والإفادة، بل ناب في القضاء.
شيوخه:أخذ تقي الدين الجراعي عن ثلةٍ من العلماء، وجمعٍ من الأجلاء، في دمشق، وبعلبك، والقاهرة، ومكة، فمنهم:
1 - يحيى العبدوسي.
2 - التقي بن قندس.
3 - برهان الدين بن مفلح.
4 - ناصر الدين بن زريق.
في آخرين؛ سبق ذكر بعضهم في رحلاته في الطلب.
تلاميذه:1 - الشمس بن طولون.
2 - النعيمي.
3 - جمال الدين بن يوسف بن عبد الهادي.
وأخذ عنه جماعة من المصريين.
আল-মারদাওয়ী, এবং তিনি শেখ আব্দুর রহমান বিন সুলায়মান আল-হানবালীর সাহচর্যে ছিলেন। তিনি শামস আস-সীলী ও অন্যদের নিকট হতে ইলমে ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) অর্জন করেন। তিনি বালবেকে "সহীহ আল-বুখারী" শ্রবণ করেছেন। তিনি বংশপরম্পরা বিশেষজ্ঞ আস-সায়্যিদ, প্রখ্যাত আলিম আল-বুলকিনী, আল-জালাল আল-মহল্লী এবং মুসনিদদের (সনদ দানকারী) মধ্য হতে উম্মে হানি আল-হুরীনিয়্যাহর নিকট গমনাগমন করেছেন। তিনি তকী আদ-দীন আল-হিসনী এবং কাযী ইজ্জুদ্দীনের নিকট যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) ও অন্যান্য বিষয়ে পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি ইবনুল হুমাম ও অন্যদের দরসে উপস্থিত হয়েছেন এবং মক্কার হারামে নাজম ইবনে ফাহাদের নিকট তাঁর ইমাম, ইমাম আহমদের "মুসনাদ" পাঠ করেছেন।
* তিনি জ্ঞানার্জনে নিমগ্ন ছিলেন যতক্ষণ না তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং দামেস্কে তাঁর মাযহাবের বিশিষ্ট ও শ্রেষ্ঠ ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি পাঠদান, ফতোয়া প্রদান এবং ইলমী উপকার সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, এমনকি তিনি বিচারকের (কাযী) দায়িত্বও পালন করেছেন।
তাঁর শিক্ষকগণ:তকী আদ-দীন আল-জাররাঈ দামেস্ক, বালবেক, কায়রো এবং মক্কায় একদল আলিম ও একঝাঁক মহান ব্যক্তিত্বের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - ইয়াহইয়া আল-আবদুসী।
২ - আত-তকী বিন কুনদুস।
৩ - বুরহান আদ-দীন ইবনে মুফলিহ।
৪ - নাসির আদ-দীন ইবনে যুরাইক।
আরও অনেকের নিকট; যাঁদের কয়েকজনের কথা তাঁর জ্ঞানার্জনের সফরের বর্ণনায় পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:১ - আশ-শামস ইবনে তুলুন।
২ - আন-নুআইমী।
৩ - জামাল আদ-দীন ইবনে ইউসুফ ইবনে আব্দুল হাদী।
এবং একদল মিশরীয় তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
مصنفاته:1 - " تحفة الراكع والساجد في أحكام المساجد": وهو كتابنا الذي نقدمه بهذه الحلة الجديدة.
2 - "الأوائل".
3 - "غاية المطلب في معرفة المذهب": اختصره من فروع ابن مفلح.
4 - "حلية الطراز في مسائل الألغاز": انتفع فيه من كتاب الجمال الأسنوي الشافعي: "طراز المحافل في ألغاز المسائل".
5 - "الترشيح في بيان مسائل الترجيح".
6 - "نفائس الدرر في موافقات عمر".
7 - "الأجوبة عن الستين مسألة": التي أنكرها ابن الهائم الشافعي على الشيخ تقي الدين ابن تيمية.
8 - "مختصر كتاب أحكام النساء": لابن الجوزي.
9 - "ختم الصحيح للبخاري".
10 - "ختم المسند للإمام أحمد".
11 - "شرح أصول ابن اللحام".
12 - جرّد حواشي شيخه التقي بن قندس على الفروع.
13 - "تصحيح الخلاف المطلق".
* وله فتاوى ونظم وأرجوزة.
وفاته:توفي رحمه الله: ليلة الخميس حادي عشر من رجب، سنة ثلاث وثمانين وثمانمائة بصالحية دمشق، ودفن في الجهة الشرقية من جبل قاسيون.
* * *
তাঁর রচনাবলি:১ - "তুহফাতুর রাকি‘ ওয়াস সাজিদ ফি আহকামিল মাসাজিদ": এটিই আমাদের সেই বই যা আমরা এই নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছি।
২ - "আল-আওয়ায়িল"।
৩ - "গায়াতুল মাতলাব ফি মা'রিফাতিল মাজহাব": তিনি এটি ইবন মুফলিহ-এর ফুরু' (শাখা মাসআলা) গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপ করেছেন।
৪ - "হিলইয়াতুত তিরায ফি মাসায়িলিল আলগায": এই কিতাবে তিনি জামাল আসনাউয়ি শাফিঈ-এর গ্রন্থ "তিরাযুল মাহাফিল ফি আলগাযিল মাসায়িল" থেকে উপকৃত হয়েছেন।
৫ - "আত-তারশীহ ফি বায়ানি মাসায়িলিত তারজীহ"।
৬ - "নাফায়িসুদ দুরার ফি মুওয়াফাকাতি উমর"।
৭ - "আল-আজউয়িবাহ আনিল সিত্তীন মাসআলাহ": সেই ষাটটি মাসআলার উত্তর যা ইবনুল হাইম শাফিঈ শায়খ তাকীউদ্দীন ইবন তাইমিয়্যাহর ওপর আপত্তি হিসেবে তুলেছিলেন।
৮ - "মুখতাসারু কিতাবি আহকামিন নিসা": ইবনুল জাওযীর মূল কিতাবের সংক্ষিপ্তসার।
৯ - "খাতমুস সহীহ লিল বুখারী"।
১০ - "খাতমুল মুসনাদ লিল ইমাম আহমাদ"।
১১ - "শারহু উসূলি ইবনিল লাহহাম"।
১২ - তিনি তাঁর উস্তাদ তাকী বিন কুনদুস-এর 'ফুরু' গ্রন্থের ওপর লেখা টীকাগুলো পৃথকভাবে সংকলন করেছেন।
১৩ - "তাসহীহুল খিলাফিল মুতলাক"।
* তাঁর ফতোয়া, কাব্য এবং উরজুযাহ (ছন্দোবদ্ধ কাব্য) রয়েছে।
তাঁর মৃত্যু:তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—আটশ তিরাশি হিজরির এগারোই রজব বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দামেস্কের সালিহিয়্যায় ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে কাসিয়ুন পাহাড়ের পূর্ব দিকে দাফন করা হয়।
* * *
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
اسم الكتاب ونسبته إلى مؤلفهاسم الكتاب:
تحفة الراكع والساجد بأحكام المساجد
* هذا ما أثبت على طرر النسخ الخطية الثلاثة.
* وكذلك سماه المؤلف في مقدمة كتابه هذا.
* وكذلك سماه كثير ممن ترجموا للمؤلف بهذا الاسم.
صحة نسبة الكتاب للمؤلف:* الكتاب صحيح النسبه للمؤلف؛ وذلك لأمور:
1 - ذكره المصنف في كتاب "الأوائل" في باب: المساجد والعيدين (ص: 52).
2 - نسب هذا الكتاب لمؤلفه كثير ممن ترجموا للمصنف -كما تراه في مصادر الترجمة.
* * *
গ্রন্থের নাম এবং লেখকের সাথে এর সম্পৃক্ততাগ্রন্থের নাম:
তুহফাতুর রাকি' ওয়াস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ
* এটিই তিনটি পাণ্ডুলিপির শিরোনামের পৃষ্ঠায় সাব্যস্ত করা হয়েছে।
* আর লেখক নিজেও তাঁর এই গ্রন্থের ভূমিকায় এটিকে এই নামেই অভিহিত করেছেন।
* একইভাবে যারা লেখকের জীবনী লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই এই গ্রন্থটিকে এই নামে অভিহিত করেছেন।
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা:* লেখকের প্রতি এই গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা বিশুদ্ধ; আর এটি কয়েকটি কারণে প্রমাণিত:
১ - গ্রন্থকার এটি তাঁর "আল-আওয়াইল" গ্রন্থের 'মাসজিদ ও দুই ঈদ' অধ্যায়ে (পৃষ্ঠা: ৫২) উল্লেখ করেছেন।
২ - যারা গ্রন্থকারের জীবনী লিখেছেন তাঁদের অনেকেই এই গ্রন্থটিকে তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন—যেমনটি আপনি জীবনীর উৎসগ্রন্থসমূহে দেখতে পাবেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وصف النسخ الخطية المعتمدة* اعتمدنا في إخراج هذا الكتاب على ثلاث نسخ خطية، وهي:
الأولى: مصدرها: العراق، وهي: "الأصل" المعتمد في صلب الكتاب، ورمزنا لها بـ"م".
الثانية: مصدرها: الكويت، ورمزنا لها بـ "ق".
الثالثة: مصدرها: السعودية، ورمزنا لها بـ "س".
وطريقتنا:
* أننا اعتمدنا "م" كـ"أصل" في إخراج الكتاب؛ إلا إذا كان الخطأ فيها بَيِّنًا؛ فإننا نثبت: "ق" أو "س"، ونبين الخطأ الذي في "م" في الحاشية.
* وكذلك عند اختلاف النسخ الثلاث من دون وجود خطأ؛ فإننا نبين فروق النسخ في الحاشية.
* * *
নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ* এই গ্রন্থটি সম্পাদনায় আমরা তিনটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, সেগুলো হলো:
প্রথমটি: এর উৎস: ইরাক। এটিই গ্রন্থের মূল পাঠের ভিত্তি হিসেবে গৃহীত 'মূল কপি', এবং আমরা একে 'ম' দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
দ্বিতীয়টি: এর উৎস: কুয়েত। একে আমরা 'ক' দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
তৃতীয়টি: এর উৎস: সৌদি আরব। একে আমরা 'স' দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
আমাদের কর্মপদ্ধতি:
* বইটি সম্পাদনায় আমরা 'ম'-কে 'মূল ভিত্তি' হিসেবে গ্রহণ করেছি; তবে যদি তাতে কোনো সুস্পষ্ট ভুল থাকে, তবে আমরা 'ক' অথবা 'স' এর পাঠটি গ্রহণ করেছি এবং 'ম'-এর ভুলটি টীকায় নির্দেশ করেছি।
* অনুরূপভাবে, কোনো ভুল থাকা ছাড়াই যদি তিনটি পাণ্ডুলিপিতে পাঠের ভিন্নতা দেখা দেয়, তবে আমরা সেই পাঠভেদসমূহ টীকায় বর্ণনা করেছি।
* * *
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
*
النسخة الأولى *مصدرها: العراق برقم: (9098) وهي المرموز إليها بـ "م".
عدد الأوراق: (108) ورقة.
عدد الأسطر: (25) سطر.
عدد كلمات السطر: (9) تقريبًا.
تاريخ نسخها: 12/ جمادى الأولى/ 1097 هـ.
اسم الناسخ: إبراهيم بن طعمة الصالحي.
خطها: واضح وجميل، ويبدو عليها أثر الحمرة؛ إذ العناوين خافتة الظهور، وبحواشيها تصويبات تدل على مقابلتها والعناية بها، وبأسفل كل ورقة تعقيبه؛ لتدل على اتصال الكتاب، وهو كذلك.
* * *
প্রথম পাণ্ডুলিপিএর উৎস: ইরাক, নম্বর: (৯০৯৮) এবং একে "ম" প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
পত্র সংখ্যা: (১০৮) টি।
পঙ্ক্তি সংখ্যা: (২৫) টি।
প্রতি পঙ্ক্তিতে শব্দের সংখ্যা: প্রায় (৯) টি।
প্রতিলিপিকরণের তারিখ: ১২ জুমাদাল উলা ১০৯৭ হিজরি।
অনুলিপিকারের নাম: ইব্রাহিম বিন তু'মাহ আস-সালিহি।
এর হস্তলিপি: স্পষ্ট ও সুন্দর এবং এতে লাল কালির ছাপ লক্ষ্য করা যায়; যেহেতু শিরোনামগুলো অস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এর পার্শ্বটীকায় সংশোধনীসমূহ বিদ্যমান যা পাণ্ডুলিপিটির মুকাবিলা (অন্য পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা) ও এর প্রতি বিশেষ যত্নের পরিচায়ক। প্রতিটি পাতার নিচে পরবর্তী পাতার প্রথম শব্দের সংকেত (তাকীব) রয়েছে যা কিতাবটির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে, এবং বিষয়টি তেমনই।
* * *
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
*
النسخة الثانية *مصدرها: وزارة الأوقاف والشئون الإسلامية- دولة الكويت:
إدارة المخطوطات والمكتبات الإسلامية برقم: (خ 74/ 1) فقه حنبلي. وهي المرموز إليها بـ "ق".
عدد أوراقها: (181) ورقة من القطع الصغير.
عدد الأسطر: يتراوح بين (15 - 22) سطر.
عدد الكلمات: (9) تقريبًا.
خطها: نسخ جميل وواضح، وهي مقابلة ومصححة، وبحواشيها ما يدل على العناية بها، وبأسفل كل ورقة تعقيبه، لتدل على اتصال الكتاب، وهي كذلك.
* وخطوطها مختلفة، لتوارد ثلاث نساخ عليها، وهم:
الأول: عبد الرحمن بن جلال من: ص: (154 - 1).
والثاني: أحد فضلاء بريدة من: ص: (160 - 154).
والثالث: عبد الله بن خلف الدحيان من: ص: (181 - 160).
وعليها قيد تمليك باسم: عبد الله بن خلف الدحيان.
وقد أهدى هذه النسخة إلى مكتبة الأوقاف: ورثة الشيخ عبد الله بن خلف الدحيان بتاريخ: (22/ ربيع الأول/ 1397 هـ).
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিএর উৎস: আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় - কুয়েত রাষ্ট্র:
পাণ্ডুলিপি ও ইসলামি গ্রন্থাগার বিভাগ, নম্বর: (খ ৭৪/ ১) হাম্বলি ফিকহ। একে "ক্বফ" চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর পত্র সংখ্যা: (১৮১)টি ছোট আকারের পত্র।
লাইনের সংখ্যা: (১৫ - ২২) লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
শব্দের সংখ্যা: প্রায় (৯)টি।
হস্তলিপি: সুন্দর ও স্পষ্ট নাসখ লিপি। এটি মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং সংশোধন করা হয়েছে। এর পার্শ্বটীকাসমূহ পাণ্ডুলিপিটির প্রতি বিশেষ যত্নের প্রমাণ বহন করে। গ্রন্থের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করার জন্য প্রতিটি পৃষ্ঠার নিচে পরবর্তী পৃষ্ঠার প্রথম শব্দের সংকেত (তাক্বিবাহ) রয়েছে এবং এটি তদ্রূপই।
* এর হস্তলিপি ভিন্ন ভিন্ন, কারণ এতে পর্যায়ক্রমে তিনজন লিপিকার কাজ করেছেন। তারা হলেন:
প্রথমজন: আব্দুর রহমান বিন জালাল, পৃষ্ঠা: (১ - ১৫৪) থেকে।
দ্বিতীয়জন: বুরাইদার অন্যতম একজন গুণী ব্যক্তি, পৃষ্ঠা: (১৫৪ - ১৬০) থেকে।
তৃতীয়জন: আব্দুল্লাহ বিন খালাফ আদ-দাহইয়ান, পৃষ্ঠা: (১৬০ - ১৮১) থেকে।
এতে আব্দুল্লাহ বিন খালাফ আদ-দাহইয়ান-এর নামে মালিকানার স্বত্বলিপি রয়েছে।
শেখ আব্দুল্লাহ বিন খালাফ আদ-দাহইয়ান-এর উত্তরাধিকারীগণ এই পাণ্ডুলিপিটি আওকাফ লাইব্রেরিতে উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন। তারিখ: (২২/ রবিউল আউয়াল/ ১৩৯৭ হিজরি)।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
*
النسخة الثالثة *مصدرها: المملكة العربية السعودية -جامعة الملك سعود- قسم المخطوطات (218/ ت ج).
وهي المرموز إليها بـ"س".
عدد أوراقها: (78) ورقة.
عدد الأسطر: (23) سطر.
عدد الكلمات في السطر من: (17 - 11) تقريبًا.
خطها: خطها نسخ واضح معتاد، وليس على حواشيها ما يدل على المقابلة أو التصحيح بعد النسخ، وبأسفل كل ورقة تعقيبه؛ لتدل على تواصل الكتاب، وهي ناقصة الآخر قدر ورقتين، وعليها خاتم غير واضح.
تاريخ نسخها: نسخة في القرن الثالث عشر الهجرية تقريبًا.
* * *
*
তৃতীয় অনুলিপি *এর উৎস: সৌদি আরব রাজত্ব - কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় - পাণ্ডুলিপি বিভাগ (২১৮/ তা জিম)।
এটি "স" (সীন) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত।
এর পত্রসংখ্যা: (৭৮) পত্র।
লাইনের সংখ্যা: (২৩) লাইন।
প্রতি লাইনে শব্দের সংখ্যা আনুমানিক: (১১ - ১৭) টি।
এর লিপি: এর লিপি স্পষ্ট ও সাধারণ নাসখ রীতিতে লিখিত; এর পার্শ্বটীকায় অনুলিপি করার পর কোনো পাঠ-মিলানো বা সংশোধনের চিহ্ন নেই। প্রতিটি পত্রের নিচে পরবর্তী পাতার সংযোগসূচক শব্দ (তাকীবাহ) রয়েছে, যা কিতাবটির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। এর শেষের দিক থেকে প্রায় দুই পত্র পরিমাণ অংশ অসম্পূর্ণ এবং এতে একটি অস্পষ্ট মোহর রয়েছে।
অনুলিপিকরণের তারিখ: এটি আনুমানিক হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর একটি অনুলিপি।
* * *
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تحفة الراكع والساجد بأحكام المساجد
تأليف
أبي بكر بن زيد الجراعي الصالحي الحنبلي
(المتوفى سنة 883 هـ)
اعتنى به
صالح سالم النهام - محمد باني المطيري
صباح عبد الكريم العنزي - فيصل يوسف العلي
মসজিদের বিধিবিধান বিষয়ক রুকুকারী ও সিজদাকারীর জন্য উপহার
রচনা
আবু বকর ইবন যাইদ আল-জারাঈ আস-সালিহি আল-হাম্বলি
(মৃত্যু ৮৮৩ হিজরি)
সম্পাদনায়
সালিহ সালিম আন-নাহহাম - মুহাম্মাদ বানি আল-মুতাইরি
সাবাহ আব্দুল কারিম আল-আনযি - ফয়সাল ইউসুফ আল-আলি
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
الحمد لله، الذي أوجد الأشياء وفضَّل بعضها على بعض، واختار منها ما أحبّ. فاختار المساجد من بقاع الأرض. أحمده على ما أوْلى من معرفة السُّنة والفرض.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إله؛ بيده الرفع والخفض والإبرام والنقض.
وأشهد أن سيدنا محمدًا عبده ورسوله، صاحب الشفاعة العظمى يوم العرض. صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه أكرم الخلق في حالتي البسط والقبض، وسلَّم تسليما.
أما بعد:
فإنَّ اللَّه تعالى جلّ ثناؤه، وتقدست اسماؤه، وتوالت آلاؤه، وعمّت نَعْماؤه أكمل لنا الدِّين وأتمَّ علينا النعمة ورضي الإسلام لنا دينًا. وجعل أمتنا هذه خير أمة، وخصَّها بخصائص كثيرة جمَّة. وضاعف لها بالشيء الواحد أجورًا، وجعل الأرض مسجدًا لها وطهورًا، فله الحمد كما ينبغي لجلال قُدْسه. لا نُحصي ثناء عليه، بل هو كما أثنى على نفسه.
سبحان من لو سجدنا بالجباه له
… على سنا الشوك والمحمى من الإبر
لم نبلغ العشر من معشار نعمته
… ولا العشير ولا عشرًا من العشر.
* ولا شك أن الله تعالى قد اصطفى من الأرض بلادًا وبقاعًا. واختار
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের একটিকে অন্যটির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, আর সেখান থেকে যা তিনি পছন্দ করেছেন তা বেছে নিয়েছেন। ফলে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন ভূখণ্ডের মধ্য থেকে মসজিদসমূহকে মনোনীত করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি সুন্নাত ও ফরজের জ্ঞান দান করার জন্য।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তাঁর হাতেই নিহিত রয়েছে উত্থান ও পতন এবং কোনো কিছু সুদৃঢ় করা বা ভেঙে দেওয়া।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি হাশরের ময়দানে মহান সুপারিশের অধিকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যাঁরা সচ্ছলতা ও সংকীর্ণতা—উভয় অবস্থায় সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত।
অতঃপর:
নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা—তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত হোক, তাঁর নামসমূহ পবিত্র হোক, তাঁর অনুগ্রহসমূহ নিরবচ্ছিন্ন হোক এবং তাঁর নেয়ামতসমূহ ব্যাপক হোক—তিনি আমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, আমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং ইসলামকে আমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। তিনি আমাদের এই উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন এবং একে অসংখ্য বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত করেছেন। তিনি সামান্য কাজের বিনিময়ে বহু গুণ প্রতিদান বৃদ্ধি করে দেন এবং জমিনকে এই উম্মতের জন্য সিজদার স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করেছেন। সুতরাং সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, যা তাঁর পবিত্রতার মহিমার উপযুক্ত। আমরা তাঁর প্রশংসার সীমা নির্ধারণ করতে পারি না; বরং তিনি তেমনই, যেমনটি তিনি নিজের প্রশংসা নিজেই করেছেন।
মহাপবিত্র সেই সত্তা, যদি আমরা আমাদের কপাল তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত করি
… কাঁটার অগ্রভাগে অথবা অগ্নি-উত্তপ্ত সূঁচের ওপর,
তবুও আমরা তাঁর নেয়ামতের এক দশমাংশের দশমাংশও আদায় করতে পারব না
… না এর সামান্যতম অংশ, আর না দশমাংশের দশমাংশ।
* এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা জমিন থেকে নির্দিষ্ট কিছু ভূখণ্ড ও অঞ্চলকে মনোনীত করেছেন। আর তিনি পছন্দ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
منها أودية وتلاعًا، عظَّمها بالحُرُمات المشهورات والآيات البيِّنات، وخصَّها بالفضائل والبركات، وصيَّرها مقدسات مطهرات، وجعل أفضلها على التحقيق البيت المعظم العتيق، وأضاف إليه (1) المشاعر العِظام وخصه بالركن والمقام. ولَمَّا بعُد العهد عن تلك المعاهد، وأقام الشوق من كل قاعد، وعرفتُ أني لشؤم الذنب عن بيت الحبيب متباعد؛ شمَّرت عن الساعد، وأحببت أن أضع كتابًا في أحكام المساجد، لعل الذكرى تساعد:
وسميته:
"تحفة الراكع والساجد بأحكام المساجد"
* ورتبته على مقدمة، وأربعة كتب، وخمسة وسبعين بابًا:
وهذه هي فهرستها:
المقدمة تشتمل على سبعة (2/ ب) فصول
* الأول: في فضل المساجد.
* الثاني: في فضل بنائها.
* الثالث: في فضل حبِّها.
* الرابع. في فضل السعي إليها.
* الخامس: في مدلول المسجد لغة وشرعًا.
* السادس: في ذهاب الأرض كلها يوم القيامة إلا المساجد.
* السابع: في فضل ملازمة المسجد.
--------------------------------------------
সেগুলোর মধ্য থেকে কোনোটি উপত্যকা ও কোনোটি উচ্চভূমি, যেগুলোকে তিনি সুপ্রসিদ্ধ পবিত্রতা ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলির মাধ্যমে মহিমান্বিত করেছেন, এবং সেগুলোকে বিশেষ ফযীলত ও বরকত দান করেছেন, আর সেগুলোকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ স্থানে পরিণত করেছেন। তিনি সেগুলোর মধ্যে সুনিশ্চিতভাবে শ্রেষ্ঠ করেছেন মহান প্রাচীন ঘরকে (কা’বাকে), এবং এর সাথে যুক্ত করেছেন সুমহান নিদর্শনসমূহকে এবং একে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন রুকন ও মাকামের মাধ্যমে। আর যখন সেই পবিত্র স্থানসমূহ থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো, এবং আকাঙ্ক্ষা প্রতিটি উপবিষ্ট ব্যক্তিকে জাগিয়ে তুলল, আর আমি অনুধাবন করলাম যে আমি পাপের অশুভ পরিণতির কারণে প্রিয়তমের ঘর থেকে দূরে অবস্থান করছি; তখন আমি সচেষ্ট হয়ে কোমর বেঁধে দাঁড়ালাম এবং মসজিদের বিধিবিধান সম্পর্কিত একটি গ্রন্থ রচনা করতে মনস্থ করলাম, যাতে হয়তো এই আলোচনা সহায়ক হয়:
আর আমি এর নামকরণ করেছি:
"তুহফাতুর রাকি' ওয়াস সাজিদ বি আহকামিল মাসাজিদ (মসজিদের বিধিবিধান বিষয়ক রুকুকারী ও সিজদাকারীদের জন্য উপঢৌকন)"
* এবং আমি এটি একটি ভূমিকা, চারটি কিতাব এবং পঁচাত্তরটি অধ্যায়ের ওপর বিন্যস্ত করেছি:
আর এটি হলো এর সূচিপত্র:
ভূমিকাটি সাতটি (২/ খ) পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত
* প্রথম: মসজিদের ফযীলত প্রসঙ্গে।
* দ্বিতীয়: মসজিদ নির্মাণের ফযীলত প্রসঙ্গে।
* তৃতীয়: মসজিদকে ভালোবাসার ফযীলত প্রসঙ্গে।
* চতুর্থ: মসজিদের দিকে গমনের ফযীলত প্রসঙ্গে।
* পঞ্চম: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে মসজিদের অর্থ প্রসঙ্গে।
* ষষ্ঠ: কিয়ামত দিবসে মসজিদ ব্যতীত সমগ্র পৃথিবী বিলীন হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে।
* সপ্তম: মসজিদে নিয়মিত যাতায়াত ও অবস্থান করার ফযীলত প্রসঙ্গে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأما الكتاب الأول؛ ففي ذكر الكعبة، زادها الله شرفًا، وما يتعلق بها وفيه: ثمانية وأربعون بابًا:
* الباب الأول: في ذكر أسمائها.
* الباب الثاني: في ذكر بنائها.
* الباب الثالث: في كيفية بناء المسجد الحرام.
* الباب الرابع: في فضل المسجد الحرام.
* الباب الخامس: في ذكر كسوة الكعبة.
* الباب السادس: في سدانة البيت.
* الباب السابع: في فضل الحجر الأسود وذكر أخذه ورده.
* الباب الثامن: فيما جاء في رفع الحجر الأسود.
* الباب التاسع: في ذكر الركن اليماني.
* الباب العاشر: في ذكر الحِجْر.
* الباب الحادي عشر: في ذكر الميزاب.
* الباب الثاني عشر: في ذكر الحَطيم.
* الباب الثالث عشر. في فضل النظر إلى البيت ونزول الرحمة عليه.
* الباب الرابع عشر: في ذكر المواضع التي يُستجاب فيها الدعاء.
* الباب الخامس عشر: في ذكر طواف الحشرات بالبيت.
প্রথম কিতাব প্রসঙ্গে; এটি কাবার আলোচনায়—আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি। এতে আটচল্লিশটি অধ্যায় রয়েছে:
* প্রথম অধ্যায়: কাবার নামসমূহের বর্ণনায়।
* দ্বিতীয় অধ্যায়: কাবার নির্মাণের বর্ণনায়।
* তৃতীয় অধ্যায়: মসজিদে হারামের নির্মাণ পদ্ধতির বর্ণনায়।
* চতুর্থ অধ্যায়: মসজিদে হারামের ফযীলতের বর্ণনায়।
* পঞ্চম অধ্যায়: কাবার গিলাফের বর্ণনায়।
* ষষ্ঠ অধ্যায়: কা’বা ঘরের চাবিকাঠি সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের বর্ণনায়।
* সপ্তম অধ্যায়: হাজরে আসওয়াদের ফযীলত এবং এটি সরিয়ে নেওয়া ও পুনরায় ফিরিয়ে আনার বর্ণনায়।
* অষ্টম অধ্যায়: হাজরে আসওয়াদ তুলে নেওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার বর্ণনায়।
* নবম অধ্যায়: রুকনে ইয়ামানির বর্ণনায়।
* দশম অধ্যায়: হিজরের বর্ণনায়।
* একাদশ অধ্যায়: মিজাবের (বৃষ্টির পানি পড়ার নালা) বর্ণনায়।
* দ্বাদশ অধ্যায়: হাতীমের বর্ণনায়।
* ত্রয়োদশ অধ্যায়: কা’বা ঘরের দিকে তাকানোর ফযীলত এবং এর ওপর রহমত নাযিল হওয়ার বর্ণনায়।
* চতুর্দশ অধ্যায়: ঐসব স্থানের বর্ণনায় যেখানে দু’আ কবুল হয়।
* পঞ্চদশ অধ্যায়: কীটপতঙ্গের কা’বা ঘর তওয়াফ করার বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
* الباب السادس عشر: في ذرْع الكعبة من جهاتها الأربع وارتفاعها في السماء وذكر الشاذروان.
* الباب السابع عشر: في ذكر المَقام.
* الباب الثامن عشر: في ذكر ابتداء زمزم وتجديدها بعد دثورها.
* الباب التاسع عشر: في ذكر الشرب من ماء زمزم والوضوء والغسل. وإزالة النجاسة به.
* الباب العشرون: في أسماء زمزم.
* الباب الحادي والعشرون: في غور الماء قبل يوم القيامة إلا زمزم (1).
* الباب الثاني والعشرون (2): في حد المسجد الحرام ومن هو حاضره.
* (3/ أ) الباب الثالث والعشرون: في ذكر حال انتهاء البيت.
* الباب الرابع والعشرون: في أسماء مكة.
* الباب الخامس والعشرون: في فضل مكة.
* الباب السادس والعشرون: في فضل صوم رمضان بمكة.
* الباب السابع والعشرون: في أن الحسنات كلها تضاعف بمكة كالصلاة.
* الباب الثامن والعشرون: في أن السيئات تُضاعف فيها كما تُضاعف الحسنات، وأنه يعاقَب عليها قبل فعلها.
--------------------------------------------
* ষোড়শ অধ্যায়: কাবার চারদিকের পরিমাপ, এর উচ্চতা এবং শাযারওয়ানের বিবরণ প্রসঙ্গে।
* সপ্তদশ অধ্যায়: মাকামের বিবরণ প্রসঙ্গে।
* অষ্টাদশ অধ্যায়: যমযমের সূচনা এবং বিলুপ্ত হওয়ার পর এর পুনঃখনন বা সংস্কার প্রসঙ্গে।
* উনবিংশ অধ্যায়: যমযমের পানি পান করা, উযু ও গোসল করা এবং এর মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর করা প্রসঙ্গে।
* বিংশ অধ্যায়: যমযমের নামসমূহ প্রসঙ্গে।
* একবিংশ অধ্যায়: কিয়ামতের আগে যমযম ব্যতীত অন্য সকল পানি ভূগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে (১)।
* দ্বাবিংশ অধ্যায় (২): মসজিদে হারামের সীমানা এবং কারা এর অধিবাসী সে প্রসঙ্গে।
* (৩/ অ) ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: বাইতুল্লাহ নির্মাণের সমাপ্তিকালীন অবস্থা প্রসঙ্গে।
* চতুর্বিংশ অধ্যায়: মক্কার নামসমূহ প্রসঙ্গে।
* পঞ্চবিংশ অধ্যায়: মক্কার ফযীলত প্রসঙ্গে।
* ষড়বিংশ অধ্যায়: মক্কায় রমযানের রোযা রাখার ফযীলত প্রসঙ্গে।
* সপ্তবিংশ অধ্যায়: মক্কায় সালাতের মতো সকল নেক আমল বা পুণ্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া প্রসঙ্গে।
* অষ্টবিংশ অধ্যায়: মক্কায় পুণ্যের ন্যায় পাপের গুনাহও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং পাপ কাজ সংঘটিত করার আগেই তার জন্য শাস্তি প্রদান করা প্রসঙ্গে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
* الباب التاسع والعشرون: في بيان أن أهل مكة أهل الله تعالى.
* الباب الثلاثون: في ذكر حدود الحرم.
* الباب الحادي والثلاثون: في ذكر نُصُب حدود الحرم وأول من نصبها.
* الباب الثاني والثلاثون: في ذكر تعظيم حرمة الحرم.
* الباب الثالث والثلاثون: في ذرع المسجد الحرام وعدد اسطواناته.
* الباب الرابع والثلاثون: في عدد الطاقات به.
* الباب الخامس والثلاثون: في صفة أبواب المسجد وعددها وذرعها.
* الباب السادس والثلاثون: في ذرع جدرات (1) المسجد وعدد شرافاته.
* الباب السابع والثلاثون: في حكم بيع دُور مكة وإجارتها.
* الباب الثامن والثلاثون: في ذكر مِنى (2).
* الباب التاسع والثلاثون (3): في ذكر مسجد الخيف.
* الباب الأربعون: في ذكر آيات عظام بمنى.
* الباب الحادي والأربعون: في ذكر المزدلفة.
* الباب الثاني والأربعون: في (4) الطريق من مزدلفة إلى عرفة.
* الباب الثالث والأربعون: في ذكر عرفة وحدودها.
--------------------------------------------
ঊনত্রিশতম অধ্যায়: মক্কাবাসীরা যে মহান আল্লাহর পরিজন, তার বর্ণনায়।
* ত্রিশতম অধ্যায়: হারামের সীমানা বর্ণনায়।
* একত্রিশতম অধ্যায়: হারামের সীমানা নির্ধারণী চিহ্নসমূহ এবং তা সর্বপ্রথম স্থাপনকারীর বর্ণনায়।
* বত্রিশতম অধ্যায়: হারামের পবিত্রতার গুরুত্ব বর্ণনায়।
* তেত্রিশতম অধ্যায়: মসজিদুল হারামের পরিমাপ এবং এর খুঁটিসমূহের সংখ্যা বর্ণনায়।
* চৌত্রিশতম অধ্যায়: এতে বিদ্যমান গবাক্ষ বা খিলানসমূহের সংখ্যা বর্ণনায়।
* পঁয়ত্রিশতম অধ্যায়: মসজিদের দরজাসমূহের বিবরণ, সংখ্যা এবং পরিমাপ বর্ণনায়।
* ছত্রিশতম অধ্যায়: মসজিদের দেয়ালসমূহের (১) পরিমাপ এবং এর প্রাচীর-চূড়ার সংখ্যা বর্ণনায়।
* সাইত্রিশতম অধ্যায়: মক্কার ঘরবাড়ি বিক্রয় এবং ভাড়া দেওয়ার বিধান বর্ণনায়।
* আটত্রিশতম অধ্যায়: মিনা (২) প্রসংগে।
* ঊনচল্লিশতম অধ্যায় (৩): মসজিদে খাইফ প্রসংগে।
* চল্লিশতম অধ্যায়: মিনায় অবস্থিত মহান নিদর্শনসমূহ প্রসংগে।
* একচল্লিশতম অধ্যায়: মুজদালিফা প্রসংগে।
* বিয়াল্লিশতম অধ্যায়: মুজদালিফা থেকে আরাফাতের (৪) পথ প্রসংগে।
* তেতাল্লিশতম অধ্যায়: আরাফাত এবং এর সীমানা বর্ণনায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
* الباب الرابع والأربعون: في ذكر المجاورة بمكة.
* الباب الخامس والأربعون: في كراهة نقل تراب الحرم وحجارته إلى الحل وعكسه.
* الباب السادس والأربعون: في بيان الحجاز.
* الباب السابع والأربعون: في ذكر جزيرة العرب.
* الباب الثامن والأربعون: في ذكر خصائص البيت والمسجد الحرام (3/ ب) والحرم.
الكتاب الثاني؛ في ذكر المسجد النبوي على صاحبه أفضل الصلاة والسلام وما يتعلق به وفيه ثمانية عشر بابًا:
* الباب الأول: في ذكر بنائه.
* الباب الثاني: في فضله.
* الباب الثالث: في فضل الصلاة فيه.
* الباب الرابع: في ذكر منبر النبي صلى الله عليه وسلم.
* الباب الخامس: في ذكر الروضة.
* الباب السادس: في ذكر حَنِين الجذع الذي كان النبي صلى الله عليه وسلم يخطب عنده.
* الباب السابع: في ذكر بناء الجدار الذي سقط عليهم (1) في زمن الوليد
--------------------------------------------
৪৪তম অধ্যায়: মক্কায় অবস্থানের বর্ণনায়।
৪৫তম অধ্যায়: হারামের মাটি ও পাথর হারামের সীমানার বাইরে নিয়ে যাওয়া এবং এর বিপরীত করার অপছন্দনীয়তা প্রসঙ্গে।
৪৬তম অধ্যায়: হিজাজের বর্ণনায়।
৪৭তম অধ্যায়: আরব উপদ্বীপের বর্ণনায়।
৪৮তম অধ্যায়: কাবাগৃহ, মসজিদুল হারাম (৩/ খ) এবং হারামের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনায়।
দ্বিতীয় কিতাব; মসজিদে নববী —তার অধিকারীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির বর্ণনায়, আর এতে আঠারোটি অধ্যায় রয়েছে:
* প্রথম অধ্যায়: এর নির্মাণের বর্ণনায়।
* দ্বিতীয় অধ্যায়: এর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায়।
* তৃতীয় অধ্যায়: এতে সালাত আদায়ের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায়।
* চতুর্থ অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিম্বরের বর্ণনায়।
* পঞ্চম অধ্যায়: রওজার বর্ণনায়।
* ষষ্ঠ অধ্যায়: সেই কাষ্ঠখণ্ডের (খেজুর গাছের গুঁড়ির) কান্নার বর্ণনায় যার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দিতেন।
* সপ্তম অধ্যায়: সেই প্রাচীর নির্মাণের বর্ণনায় যা ওয়ালিদের যুগে তাদের ওপর ধসে পড়েছিল (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ابن (1) عبد الملك.
* الباب الثامن: في ذكر آثار حسنة في المسجد الشريف.
* الباب التاسع: في فضل المدينة.
* الباب العاشر: في ذكر حدود الحرم.
* الباب الحادي عشر: في أسماء مدينة النبي صلى الله عليه وسلم.
* الباب الثاني عشر: في ذكر خراب المدينة.
* الباب الثالث عشر: في ذكر خروج النار التي أخبر عنها المختار.
* الباب الرابع عشر: فيما جاء أن المدينة (2)، أقلّ الأرض مطرًا.
* الباب الخامس عشر: هل المدينة حجازية أم شامية أم يمنية.
* الباب السادس عشر: في ذكر جملة من الخصائص والأحكام والفضائل.
* الباب السابع عشر: في صفة قبر النبي صلى الله عليه وسلم وقبرَىْ صاحبيه رضي الله تعالى عنهما.
* الباب الثامن عشر: في ذكر مسجد قباء وأهله.
--------------------------------------------
ইবনে (১) আবদুল মালিক।
* অষ্টম অধ্যায়: মসজিদে নববীতে বিদ্যমান উত্তম নিদর্শনাদি প্রসঙ্গে।
* নবম অধ্যায়: মদিনার ফজিলত প্রসঙ্গে।
* দশম অধ্যায়: হারামের সীমানা উল্লেখ প্রসঙ্গে।
* একাদশ অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহরের নামসমূহ প্রসঙ্গে।
* দ্বাদশ অধ্যায়: মদিনার জনশূন্য হওয়া প্রসঙ্গে।
* ত্রয়োদশ অধ্যায়: সেই আগুন নির্গত হওয়া প্রসঙ্গে যার সংবাদ আল-মুখতার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিয়েছিলেন।
* চতুর্দশ অধ্যায়: মদিনা (২) ভূখণ্ডের সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হওয়া এলাকা হওয়ার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
* পঞ্চদশ অধ্যায়: মদিনা কি হিজাজি, শামি নাকি ইয়ামানি।
* ষোড়শ অধ্যায়: বৈশিষ্ট্য, বিধি-বিধান ও ফজিলতসমূহের সমষ্টি প্রসঙ্গে।
* সপ্তদশ অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর এবং তাঁর দুই সাথীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) কবরের বিবরণ প্রসঙ্গে।
* অষ্টাদশ অধ্যায়: মসজিদে কুবা এবং তার অধিবাসীদের আলোচনা প্রসঙ্গে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الكتاب الثالث؛ في ذكر المسجد الأقصى وما بتعلق به وفيه: خمسة أبواب:
* الباب الأول: في معنى اسمه وابتداء بنائه.
* الباب الثاني: في فضله وفضل الصلاة فيه.
* الباب الثالث: في ذكر فتح بيت المقدس ومصلَّى المسلمين الذي بناه عمر رضي الله تعالى عنه، والصخرة، وغير ذلك.
* الباب الرابع: في أسمائها.
* الباب الخامس: في ذكر جملة من خصائصه (4/ أ) وأحكامه.
الكتاب الرابع؛ في ذكر بقية المساجد، وذكر طرف من أخبار المدارس، وفيه: أربعة أبواب:
* الباب الأول: في ذكر أول مسجد بُني في الإسلام.
* الباب الثاني: في ذكر طرف من أخبار المدارس.
* الباب الثالث: في ذكر أول مسجد وضع بالقاهرة.
* الباب الرابع: في ذكر أحكام تتعلق بسائر المساجد.
والله المسؤول أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، وأن يُدخلنا برحمته جنات النعيم، وأن يوفقنا لكل جميل، وحسبنا الله ونعم الوكيل.
তৃতীয় গ্রন্থ; মসজিদুল আকসা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি প্রসঙ্গে, এতে পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে:
* প্রথম অধ্যায়: এর নামের অর্থ এবং এর নির্মাণ আরম্ভ হওয়া প্রসঙ্গে।
* দ্বিতীয় অধ্যায়: এর মর্যাদা এবং এতে সালাত আদায়ের ফজিলত প্রসঙ্গে।
* তৃতীয় অধ্যায়: বাইতুল মাকদিস বিজয়, মুসলিমদের সালাত আদায়ের স্থান যা উমর (আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নির্মাণ করেছিলেন, সাখরা (পাথর) এবং অন্যান্য বিষয়াবলি প্রসঙ্গে।
* চতুর্থ অধ্যায়: এর নামসমূহ প্রসঙ্গে।
* পঞ্চম অধ্যায়: এর বৈশিষ্ট্যসমূহ (৪/ ক) এবং এর বিধানাবলির সমষ্টির বর্ণনায়।
চতুর্থ গ্রন্থ; অবশিষ্ট মসজিদসমূহের বর্ণনা এবং মাদরাসাসমূহের সংবাদাবলির অংশবিশেষের বর্ণনায়, এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে:
* প্রথম অধ্যায়: ইসলামে নির্মিত সর্বপ্রথম মসজিদের বর্ণনায়।
* দ্বিতীয় অধ্যায়: মাদরাসাসমূহের সংবাদাবলির অংশবিশেষের বর্ণনায়।
* তৃতীয় অধ্যায়: কায়রোতে স্থাপিত সর্বপ্রথম মসজিদের বর্ণনায়।
* চতুর্থ অধ্যায়: অন্যান্য সকল মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলির বর্ণনায়।
আর আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা যেন তিনি এটিকে তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন, এবং তাঁর রহমতে আমাদের জান্নাতুন নাঈমে প্রবেশ করান, এবং আমাদের সকল কল্যাণের তাওফীক দান করেন; আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الفصل الأول من المقدمة في فضل المساجدقال الله تعالى: {فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ} (1).
البيوت هنا (2): المساجد، وأذِن بمعنى: أمر، وترفع بمعنى: تعظَّم، واسمه: توحيده وكتابه.
وقال تعالى {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} (3).
فأضافها تعالى إلى نفسه؛ لشرفها وفضْلها.
* وفي أفراد مسلم، من حديث أبي هريرة عن النبيُّ أنه قال:
"أحب البلاد إلى الله تعالى مساجدها، وأبغض البلاد إلى الله تعالى أسواقها" (4).
فالمساجد؛ بيوت الله تعالى
قيل: إنها تضيء لأهل السماء -كما تضيء النجوم لأهل الأرض! !
* * *
--------------------------------------------
ভূমিকার প্রথম পরিচ্ছেদ: মসজিদের ফযীলত সম্পর্কেমহান আল্লাহ বলেছেন: {এমন সব গৃহে, যা সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন} (১)।
এখানে গৃহসমূহ (২) বলতে উদ্দেশ্য: মসজিদসমূহ; ‘নির্দেশ দিয়েছেন’ অর্থ: আদেশ দিয়েছেন; ‘সমুন্নত করা’ অর্থ: মর্যাদা দান করা; আর ‘তাঁর নাম’ বলতে: তাঁর তাওহীদ ও তাঁর কিতাব।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} (৩)।
অতঃপর মহান আল্লাহ একে তাঁর নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন; এর শ্রেষ্ঠত্ব ও ফযীলতের কারণে।
* এবং মুসলিমের একক বর্ণনায়, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী বলেছেন:
"আল্লাহ তাআলার নিকট ভূখণ্ডের সবচাইতে প্রিয় স্থান হলো এর মসজিদসমূহ, আর আল্লাহ তাআলার নিকট ভূখণ্ডের সবচাইতে অপ্রিয় স্থান হলো এর বাজারসমূহ" (৪)।
সুতরাং মসজিদসমূহ হলো মহান আল্লাহ তাআলার ঘর।
বলা হয়ে থাকে: নিশ্চয়ই এগুলো আসমানবাসীদের জন্য আলোকোজ্জ্বল দেখায়—যেমন নক্ষত্ররাজি যমীনবাসীদের জন্য আলোকোজ্জ্বল দেখায়!!
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الفصل الثاني في فضل بنائها* في الصحيحين من حديث عثمان رضي الله عنه، عن النبيُّ أنه قال: "من بنى لله عز وجل مسجدًا: بنى الله له مثله في الجنة" (1).
* وفي رواية البخاري، عن عثمان رضي الله عنه أنه قال عند قول الناس فيه حين بنى مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم: إنكم أكثرتم، وإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من بنى مسجدًا - قال بُكير: حسبت أنه قال: يبتغي به وجه الله تعالى: بنى الله له مثله في الجنة" (2).
* - وعن ابن عباس عن النبي أنه قال: "من بنى لله مسجدًا ولو كمفحَص قَطاة لبيْضها: بنى الله له بيتًا في الجنة". رواه أحمد (3).
تنبيهات:
* (4/ ب) أحدها: قوله: "مثله" استشكله بعض الناس مع ضمه إلى قوله تعالى: {مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا} (4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মসজিদ নির্মাণের ফযীলত সম্পর্কে* সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" (১)।
* বুখারীর বর্ণনায় উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, যখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদ পুনর্নির্মাণ করছিলেন এবং লোকেরা এ নিয়ে নানা কথা বলছিল, তখন তিনি বললেন: তোমরা অনেক কথা বলছ, অথচ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি একটি মসজিদ নির্মাণ করবে - বুকাইর বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন: এর মাধ্যমে সে আল্লাহ তাআলার চেহারা (সন্তুষ্টি) কামনা করবে - আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" (২)।
* ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, যদিও তা ডিম পাড়ার জন্য বালুচাতক পাখির বাসার ন্যায় ক্ষুদ্র হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (৩)।
সতর্কতাসমূহ:
* (৪/ খ) প্রথমটি: তাঁর বাণী: "তার অনুরূপ"; কেউ কেউ আল্লাহ তাআলার বাণী: {যে ব্যক্তি কোনো নেক আমল নিয়ে আসবে, সে তার দশগুণ সওয়াব পাবে} (৪)-এর সাথে একে মিলিয়ে বুঝতে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুর রাকিয়ি ওয়াস সাজিদি বি-আহকামিল মাসাজিদ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
قال النووي: المثلية هنا تحتمل وجهين:
أحدهما: أن يكون معناه: بنى (1) له بيتًا في الجنة فضَّله على ما سواه من بيوت الجنة- كفضل المسجد على بيوت الدنيا.
الثاني: أن يكون معناه مثله في مسمَّى البيت، وأما حقيقة صفته في السعة وغيرها؛ فمعلوم فضلها وعِظَمها.
وهذا معنى قول بعضهم: المثلية بحسب الكمية، والزيادة حاصلة بحسب الكيفية، فكم من بيت خير من عشرة بل من مائة.
وكذا قال ابن الجوزي: مثله في الاسم لا في المقدار، أي بُني له بيت كما بَنَى بيتًا؛ فيبقى جزاء هذه الحسنة من جنس البناء لا من غيره، مع قطع النظر عن ذلك، مع أن التفاوت حاصل قطعًا بالنسبة إلى ضيق الدنيا وسعة الجنة.
* وقد روى الإمام أحمد من حديث واثلة بلفظ "بنى الله له في الجنة أفضل منه" (2).
* وللطبراني من حديث أبي أُمامة بلفظ: "أوسع منه" (3).
وهذا يُشعر؛ بأن المثلية لم يقصد بها المساواة من كل وجه.
وقال القرطبي: هذه المثليَّة ليست على ظاهرها، ولكن المعنى: أنه يبني له بثوابه أشرف وأعظم وأرفع.
--------------------------------------------
ইমাম নববী বলেন: এখানে সাদৃশ্য বলতে দুটি অর্থ হতে পারে:
প্রথমটি: এর অর্থ হতে পারে, আল্লাহ তার জন্য (১) জান্নাতে এমন একটি ঘর নির্মাণ করবেন যাকে জান্নাতের অন্যান্য ঘরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করবেন—যেভাবে মসজিদের শ্রেষ্ঠত্ব দুনিয়ার অন্যান্য ঘরের ওপর রয়েছে।
দ্বিতীয়টি: এর অর্থ হতে পারে 'ঘর' নামকরণের ক্ষেত্রে তার অনুরূপ হওয়া, কিন্তু প্রশস্ততা ও অন্যান্য গুণের প্রকৃত হাকিকতের ক্ষেত্রে জান্নাতের ঘরের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশালতা সুপরিচিত।
আর এটিই কারো কারো এই কথার অর্থ: সাদৃশ্য হলো পরিমাণের দিক থেকে, আর আধিক্য বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়েছে গুণগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে। কেননা কত ঘর এমন আছে যা দশটি এমনকি একশতটি ঘর থেকেও উত্তম।
ইবনে জাওযীও তদ্রূপ বলেছেন: এটি নামের দিক থেকে অনুরূপ, পরিমাণের দিক থেকে নয়। অর্থাৎ সে যেমন একটি ঘর নির্মাণ করেছে, তার জন্যও একটি ঘর নির্মাণ করা হবে; ফলে এই নেক আমলের প্রতিদান অন্য কোনো কিছু থেকে নয় বরং নির্মাণ জাতীয় বিষয় থেকেই সাব্যস্ত হয়। তবে দুনিয়ার সংকীর্ণতা এবং জান্নাতের প্রশস্ততার নিরিখে এ দুটির মাঝে পার্থক্য থাকাটা সুনিশ্চিত।
* ইমাম আহমাদ ওয়াসিলাহ্ (রাযি.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ ঘর নির্মাণ করবেন" (২)।
* তাবারানিতে আবু উমামাহ্ (রাযি.)-এর হাদিসে এই শব্দে এসেছে: "তার চেয়েও প্রশস্ত" (৩)।
আর এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাদৃশ্য বলতে সকল দিক থেকে সমতা বোঝানো উদ্দেশ্য নয়।
ইমাম কুরতুবী বলেন: এই সাদৃশ্য তার প্রকাশ্য অর্থে নয়, বরং এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাকে এর সওয়াব হিসেবে এমন ঘর দান করবেন যা অধিক সম্মানিত, বিশাল ও সুউচ্চ।
--------------------------------------------