(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: -)
أدوات الإعراب   (ظاهر شوكت البياتي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: أدوات الإعراب

المؤلف: ظاهر شوكت البياتي

الناشر: مجد المؤسسة الجامعية للدراسات والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 275

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 رمضان 1436

আদাওয়াতুল ই'রাব   (জহির শওকত আল-বায়াতি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আদাওয়াতুল ই'রাব

লেখক: জহির শওকত আল-বায়াতি

প্রকাশক: মাজদ আল-মুয়াসসাসাতুল জামিইয়্যাহ লিদ-দিরাসাত ওয়ান-নাশর ওয়াত-তাওযি', বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: -)
أدوات الأعراب

 

تأليف

ظاهر شوكت البياتي
এরাব-এর উপকরণসমূহ

 

রচনা

জাহের শওকত আল-বায়াতি
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الإهداء

إلى صديقي الصدوق: طه هاشم الدليمي الذي راجع مشكورا هذا الكتاب ورفده بفوائد جمة، كما راجع كتابي (تيسير الإعراب) من قبل.

أهدي هذه الجهد المتواضع مع خالص الوفاء والود

 

ظاهر شوكت البياتي
উৎসর্গ

আমার পরম সত্যবাদী (الصدوق) বন্ধু ত্বহা হাশেম আদ-দুলাইমি-র প্রতি, যিনি কৃতজ্ঞতার সাথে এই বইটি পর্যালোচনা করেছেন এবং একে বহুবিধ উপকারিতা দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, যেমনটি তিনি ইতিপূর্বে আমার (তaysীরুল ই‘রাব) গ্রন্থটিও পর্যালোচনা করেছিলেন।

পূর্ণ বিশ্বস্ততা ও অকৃত্রিম ভালোবাসার সাথে আমি আমার এই বিনম্র প্রচেষ্টা উৎসর্গ করছি।

 

জাহির শাওকাত আল-বায়াতি
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة

اعتاد الدارسون لقواعد اللغة العربية على أن يبحثوا عن أدوات الإعراب بين السطور لموضوعات النحو. فالدارس يحتاج إلى معرفة طبيعة الأداة ليعرف الموضوع الذي يبحث فيه، وقد تتملكه الحيرة أحيانا، ويعجز عن تحديد طبيعة الأداة.

لقد أصاب ابن هشام في كتابه (مغني اللبيب) حين حاول أن يرتب مصنفه على الحروف ليسهل على الراغب في معرفة ما يتعلق بالحرف الواحد في مكان واحد.

واستفاد نفر من المصنفين المعاصرين من تلك المحاولة، فأخذ يخصص فصلا لأدوات الإعراب في كتابه عن موضوعات النحو.

وقد دفعتهم هذه الجزئية إلى الإيجاز والشرح المقتضب وبخاصة إذا عرفنا أنه ينشغل بالمعجمية على نحو يحرص فيه على ذكر المستعمل والمهجور، والشاذ والنادر.

من هنا أدركت ضرورة الكتابة في أدوات الإعراب في كتاب منفرد يعتمد منهج التيسير ويهجر الشاذ والنادر، ويبتعد عن المبالغة في التأويل والتقدير، لكنه يكثر من الأمثلة والتطبيق مستفيدا من القرآن الكريم والحديث الشريف والأقوال المأثورة شعرا ونثرا.

هذا الكتاب- كما أعتقد- يوفر وقتا وجهدا كبيرين للراغب في
ভূমিকা

আরবি ভাষার নিয়মাবলি নিয়ে গবেষণাকারীরা সাধারণত নাহুর বিষয়বস্তুর ভেতরেই ই'রাবের অনুষঙ্গগুলো অনুসন্ধান করতে অভ্যস্ত। একজন শিক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু অনুধাবনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুষঙ্গের প্রকৃতি জানা আবশ্যক। তবে অনেক সময় সে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায় এবং অনুষঙ্গের প্রকৃতি নির্ধারণে অক্ষম হয়ে পড়ে।

ইবনে হিশাম তার মুগনি আল-লাবিব গ্রন্থে সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন, যখন তিনি তার সংকলনটিকে বর্ণানুক্রমে সাজানোর চেষ্টা করেছেন। এর উদ্দেশ্য ছিল যাতে কোনো নির্দিষ্ট বর্ণ বা অব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এক স্থানেই সহজে পাওয়া যায়।

সমকালীন একদল লেখক ইবনে হিশামের এই প্রচেষ্টা থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তারা নাহু বিষয়ক গ্রন্থে ই'রাবের অনুষঙ্গগুলোর জন্য পৃথক পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করতে শুরু করেছেন।

এই বিষয়টি তাদেরকে অতি সংক্ষিপ্ত ও সংকুচিত ব্যাখ্যার দিকে ধাবিত করেছে; বিশেষত যখন আমরা দেখি যে তারা আভিধানিক বিশ্লেষণে এমনভাবে মগ্ন থাকেন যেখানে তারা প্রচলিত ও অপ্রচলিত এবং বিচ্ছিন্ন (شاذ) ও বিরল (نادر) বিষয়গুলো উল্লেখ করার ব্যাপারে অতিমাত্রায় সচেষ্ট থাকেন।

এ কারণেই আমি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে ই'রাবের অনুষঙ্গগুলো নিয়ে লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি। এই গ্রন্থটি সহজীকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করবে এবং বিচ্ছিন্ন (شاذ) ও বিরল (نادر) বিষয়সমূহ বর্জন করবে। এটি অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা ও অনুমান থেকে দূরে থাকবে, তবে পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং কবিতা ও গদ্যের চিরায়ত বাণীসমূহ থেকে প্রচুর উদাহরণ ও ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।

আমার বিশ্বাস, এই গ্রন্থটি জ্ঞানপিপাসুদের জন্য প্রচুর সময় ও শ্রম সাশ্রয় করবে।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৮)
التعرف على أدوات الإعراب التي تم ترتيبها على حروف الهجاء.

انه معجم تحت الطلب المستعجل يستفيد منه المبتدئ والمتخصص، لذا سيجد- كما أرى- مكانه في المكتبة الخاصة وفي المكتبة العامة.

أرجو أني قدمت ما ينفع، والله من وراء القصد.

 

ظاهر شوكت البياتي
বর্ণমালার (حروف الهجاء) ক্রমানুসারে বিন্যস্ত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) উপকরণসমূহ সম্পর্কে পরিচিতি।

এটি একটি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারযোগ্য অভিধান (معجم), যা থেকে শিক্ষানবিশ (المبتدئ) এবং বিশেষজ্ঞ (المتخصص) উভয়ই উপকৃত হতে পারবেন। তাই আমি মনে করি, এটি ব্যক্তিগত ও সাধারণ উভয় ধরনের পাঠাগারেই নিজস্ব স্থান করে নেবে।

আমি আশা করি যে আমি কল্যাণকর কিছু উপস্থাপন করতে পেরেছি; আর আল্লাহ্‌ই সকল সংকল্পের মূল লক্ষ্য।

 

জহির শওকত আল-বায়াতি
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الهمزة

‌‌أ- همزة الاستفهام

حرف يفيد الاستفهام لا محل له من الاعراب، نحو:

قال تعالى: أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيماً فَآوى [الضحى 6/ 93].

أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهاداً [النبأ 6/ 78].

أَلَمْ نَجْعَلْ لَهُ عَيْنَيْنِ [البلد 8/ 90].

قالُوا أَتَجْعَلُ فِيها مَنْ يُفْسِدُ فِيها وَيَسْفِكُ الدِّماءَ [البقرة 30/ 2].

أَإِذا مِتْنا وَكُنَّا تُراباً وَعِظاماً أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ [الصافات 16/ 37].

أَإِذا مِتْنا وَكُنَّا تُراباً ذلِكَ رَجْعٌ بَعِيدٌ [ق 3/ 50].

أَلَمْ: الهمزة حرف استفهام لا محل له من الاعراب، لم أداة نفي وجزم وقلب.

أَتَجْعَلُ: الهمزة حرف استفهام لا محل له من الاعراب، نجعل:

فعل مضارع مرفوع لتجرده عن الناصب والجازم وعلامة رفعه الضمة الظاهرة، والفاعل ضمير مستتر تقديره أنت.

أَإِذا: الهمزة حرف استفهام لا محل له من الاعراب، إذا اسم شرط غير جازم يستعمل لما يستقبل من الزمان وهو مضاف والجملة الفعلية بعده في محل جر مضاف إليه.
হামজা

‌ক- প্রশ্নবোধক হামজা

এটি প্রশ্নবোধক অর্থ প্রদানকারী একটি অক্ষর যার ব্যাকরণগত বিশ্লেষণে কোনো স্থান নেই, যেমন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: তিনি কি আপনাকে এতিম হিসেবে পাননি? অতঃপর তিনি আপনাকে আশ্রয় দান করেছেন [আদ-দুহা ৯৩:৬]।

আমরা কি জমিনকে বিছানা স্বরূপ করিনি? [আন-নাবা ৭৮:৬]।

আমরা কি তার জন্য দুটি চোখ সৃষ্টি করিনি? [আল-বালাদ ৯০:৮]।

তারা বলল: আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? [আল-বাকারা ২:৩০]।

আমরা কি যখন মারা যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? [আস-সাফফাত ৩৭:১৬]।

আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি হয়ে যাব—এ তো এক সুদূরপরাহত প্রত্যাবর্তন। [কাফ ৫০:৩]।

‘আলাম’ (أَلَمْ): এখানে হামজা হলো একটি প্রশ্নবোধক অক্ষর যার ব্যাকরণগত কোনো স্থান নেই; ‘লাম’ হলো না-বোধক, জজম প্রদানকারী এবং অর্থ পরিবর্তনকারী অব্যয়।

‘আ-তাজআলু’ (أَتَجْعَلُ): এখানে হামজা হলো একটি প্রশ্নবোধক অক্ষর যার ব্যাকরণগত কোনো স্থান নেই। ‘নাজআলু’ (نجعل):

এটি একটি বর্তমানকালীন ক্রিয়া যা নসবকারী ও জজমকারী অব্যয় থেকে মুক্ত থাকার কারণে রফা-যুক্ত (مرفوع) অবস্থায় রয়েছে এবং এর রফার চিহ্ন হলো দৃশ্যমান পেশ। এর কর্তা হলো একটি উহ্য সর্বনাম যার সম্ভাব্য রূপ হলো ‘আনতা’ (তুমি)।

‘আ-ইযা’ (أَإِذا): এখানে হামজা হলো একটি প্রশ্নবোধক অক্ষর যার ব্যাকরণগত কোনো স্থান নেই। ‘ইযা’ হলো একটি শর্তবাচক বিশেষ্য যা জজম প্রদান করে না এবং ভবিষ্যৎ কালের অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মুদাফ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এর পরবর্তী ক্রিয়া-সংবলিত বাক্যটি মুদাফ ইলাইহি হিসেবে জেরের স্থানে থাকে।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌ب- همزة النداء

حرف بمعنى (يا) يفيد النداء لا محل له من الاعراب نحو ما ورد في الشعر:

أفاطم مهلا بعض هذا التدلل … وإن كنت قد أزمعت صرمي فأجملي

أعينيّ جودا ولا تجمدا … الاتبكيان لصخر الندى؟!

أبنت الدهر عندي كل بنت … فكيف وصلت أنت من الزحام؟!

أفاطم: الهمزة حرف نداء لا محل له من الاعراب.

فاطم: منادى مبني على الضم في محل نصب منادى.

أعينيّ: الهمزة حرف نداء لا محل له من الاعراب عينين منادى منصوب علامة نصبه الياء لأنه مثنى، وقد حذفت النون للإضافة.

الياء: ضمير متصل للمتكلم مبني في محل جر مضاف إليه.

بنت الدهر: المصيبة، النازلة- الهمزة للنداء لا محل لها من الإعراب.

بنت: منادى منصوب علامة نصبه الفتحة وبنت مضاف إلى الدهر والدهر مضاف إليه مجرور علامة جره الكسرة.

 

‌‌الألف الفارقة

في العربية أفعال معتلة الآخر بالواو، أي أن الواو جزء من الفعل، نحو: أدعو، يدعو، أصبو، يغزو.

قال تعالى: قُلْ هذِهِ سَبِيلِي أَدْعُوا إِلَى اللَّهِ [يوسف 108/ 12].

إِلَيْهِ أَدْعُوا وَإِلَيْهِ مَآبِ … [الرعد 36/ 13].

قُلْ إِنَّما أَدْعُوا رَبِّي وَلا أُشْرِكُ بِهِ [الجن 20/ 72].

وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ … [يوسف 33/ 12].
খ- আহ্বায়ক হামজা (همزة النداء)

এটি এমন একটি অক্ষর যা 'ইয়া' (يا) এর অর্থ প্রদান করে এবং আহ্বান (النداء) করার উপকারিতা প্রদান করে; ইরাবে (إعراب) এর কোনো স্থান নেই। যেমনটি কাব্যসাহিত্যে বর্ণিত হয়েছে:

হে ফাত্বিমা! কিছুটা নমনীয় হও এই নখরা করার ক্ষেত্রে... আর যদি তুমি আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকো, তবে তা সুন্দরভাবে করো।

হে আমার দুই নয়ন! তোমরা অঝোরে অশ্রু বিসর্জন দাও এবং শুষ্ক হয়ে যেও না... তোমরা কি দানশীল সাখর-এর বিয়োগে ক্রন্দন করবে না?!

হে কালের কন্যা (বিপদ)! আমার কাছে সব ধরনের বিপদ রয়েছে... তবে তুমি ভিড় ঠেলে আমার কাছে কীভাবে পৌঁছালে?!

আফাত্বিম (أفاطم): এখানে হামজাটি হলো আহ্বায়ক অক্ষর (حرف نداء), ইরাবে (إعراب) এর কোনো স্থান নেই।

ফাত্বিম (فاطم): এটি যম্মাহর (পেশ) ওপর ভিত্তি করে মবনি (مبني) হওয়া একটি মুনাদা (منادى), যা নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে।

আইনায়া (أعينيّ): হামজাটি হলো আহ্বায়ক অক্ষর (حرف نداء), ইরাবে (إعراب) এর কোনো স্থান নেই। আইনায়ন (عينين) হলো মানসুব (منصوب) মুনাদা (منادى), এর নসবের (نصب) চিহ্ন হলো ইয়া (ياء), কারণ এটি দ্বিবচন (مثنى); আর ইদাফাতের (إضافة) কারণে নুন বিলুপ্ত হয়েছে।

ইয়া (الياء): এটি মুতাকাল্লিমের (উত্তম পুরুষ) জন্য ব্যবহৃত সংযুক্ত সর্বনাম (ضمير متصل), যা যর-এর (جر) স্থানে মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে মবনি (مبني)।

বিনতাদ দাহর (بنت الدهر): এর অর্থ হলো মুসিবত বা আপতিত বিপদ। এখানে হামজাটি আহ্বানের (للنداء) জন্য এসেছে, ইরাবে (إعراب) এর কোনো স্থান নেই।

বিনতা (بنت): এটি মানসুব (منصوب) মুনাদা (منادى), এর নসবের (نصب) চিহ্ন হলো ফাতহা। বিনতা শব্দটি মুদাফ (مضاف) এবং আদ-দাহর (الدهر) হলো মাজরুর (مجرور) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه), যার যর-এর (جر) চিহ্ন হলো কাসরা।

 

পার্থক্যকারী আলিফ (الألف الفارقة)

আরবি ভাষায় কিছু ক্রিয়া (فعل) রয়েছে যার শেষ অক্ষরটি 'ওয়াও' বিশিষ্ট হরফে ইল্লাত (معتل الآخر بالواو), অর্থাৎ সেই 'ওয়াও' ক্রিয়াটিরই মূল অংশ। যেমন: আদউ (أدعو), ইয়াদউ (يدعو), আসবু (أصبو), ইয়াগজু (يغزو)।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: বলো, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর প্রতি আহ্বান (أدعو) করি। [ইউসুফ ১০৮/১২]

আমি তাঁরই প্রতি আহ্বান (أدعو) করি এবং তাঁরই নিকট আমার প্রত্যাবর্তন... [আর-রাদ ৩৬/১৩]

বলো, আমি তো কেবল আমার প্রতিপালককে আহ্বান (أدعو) করি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করি না। [আল-জিন ২০/৭২]

আর আপনি যদি তাদের ছলনা আমার থেকে দূর না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আসক্ত (أصبو) হয়ে পড়ব... [ইউসুফ ৩৩/১২]
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد تتصل واو الجماعة بفعل معتل الآخر بالواو، فكيف نفرق بين الواو التي هي حرف من أصل الفعل وبين واو الجماعة؟

نفرق بينها بوضع ألف بعد واو الجماعة لتكون فارقة بين الواو التي حرف من أصل الفعل وبين واو الجماعة، نحو:

قال تعالى: لا تَدْعُوا الْيَوْمَ ثُبُوراً واحِداً وَادْعُوا ثُبُوراً كَثِيراً [الفرقان 14/ 25].

وَأَنَّ الْمَساجِدَ لِلَّهِ فَلا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَداً [الجن 18/ 72].

لا تَدْعُوا: لا ناهية جازمة، تدعوا فعل مضارع مجزوم علامة جزمه حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة. واو الجماعة في محل رفع فاعل.

 

‌‌ألف الاطلاق

وتأتي» لإطلاق حركة الروي في الشعر إن كانت حركة الروي فتحة، والروي هو الحرف الذي ينتهي به البيت

وتسمى القصيدة باسمه، فنقول لامية الطغراني، رائية أبي تمام … وليس لهذه الألف موقع من الإعراب، وإنما نقول إنها ألف للإطلاق.

بكى صاحبي لما رأى الدرب دونه … وأيقن أنا لاحقان بقيصرا

فقلت له لا تبك عينك إنما … نحاول ملكا أو نموت فنعذرا

فالأصل: بقيصر، فنعذر فأطلقت حركة الروي بالألف فالألف هنا للإطلاق لا محل لها من الإعراب.

قال الشاعر:

غيض العدى من تساقينا الهوى فدعو … بأن نغص فقال الدهر أمينا

الأصل: آمين: وهو اسم فعل بمعنى استجب.

إني ذكرتك بالزهراء مشتاقا … والأفق طلق ووجه الأرض قد راقا

الأصل: راق الألف للإطلاق في راقا لا محل لها من الإعراب.
কখনো কখনো জমাআতবাচক ওয়াও (واو الجماعة) এমন ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয় যার শেষে হরফে ইল্লত হিসেবে ওয়াও রয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা মূল ধাতুর বর্ণ হিসেবে থাকা ওয়াও এবং জমাআতবাচক ওয়াও-এর (واو الجماعة) মধ্যে কীভাবে পার্থক্য করব?

আমরা এদের মধ্যে পার্থক্য করি জমাআতবাচক ওয়াও-এর (واو الجماعة) পরে একটি আলিফ যুক্ত করার মাধ্যমে, যাতে এটি মূল ধাতুর বর্ণ হিসেবে থাকা ওয়াও এবং জমাআতবাচক ওয়াও-এর (واو الجماعة) মধ্যে পার্থক্যকারী (فارقة) হিসেবে কাজ করে। যেমন:

মহান আল্লাহ বলেন: তোমরা আজ এক ধ্বংসকে ডেকো না বরং বহু ধ্বংসকে ডাকো [আল-ফুরকান ১৪/২৫]।

এবং নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে ডেকো না [আল-জিন ১৮/৭২]।

তোমরা ডেকো না (লা তাদ'ঊ): এখানে 'লা' হলো নিষেধবাচক জাযমকারী (ناهية جازمة) অব্যয়, 'তাদ'ঊ' হলো মুজারে ক্রিয়া যা জাযম অবস্থায় (مجزوم) রয়েছে। এর জাযম হওয়ার চিহ্ন হলো নুন বিলুপ্ত হওয়া (حذف النون), কারণ এটি পাঁচটি ক্রিয়ার (الأفعال الخمسة) অন্তর্ভুক্ত। জমাআতবাচক ওয়াও (واو الجماعة) এখানে রাফা-র স্থানে কর্তা (فاعل) হিসেবে রয়েছে।

 

‌‌প্রলম্বিতকরণের আলিফ (ألف الإطلاق)

এটি কবিতায় অন্ত্যমিল বর্ণের (الروي) হরকতকে প্রলম্বিত করার জন্য আসে যদি সেই বর্ণের হরকত ফাতহাহ হয়। অন্ত্যমিল বর্ণ (الروي) হলো সেই বর্ণ যার মাধ্যমে পংক্তি শেষ হয়।

এবং কাসিদাকে সেই বর্ণের নামানুসারে নামকরণ করা হয়, যেমন আমরা বলি তুগরানির লামিয়্যাহ, আবু তাম্মামের রাইয়্যাহ … আর এই আলিফটির কোনো ব্যাকরণগত স্থান (موقع من الإعراب) নেই, বরং আমরা বলি যে এটি হলো প্রলম্বিতকরণের আলিফ (ألف للإطلاق)।

আমার সঙ্গী কেঁদেছিল যখন সে দেখল পথটি তার নাগালের বাইরে … এবং নিশ্চিত হলো যে আমরা কায়সারের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি।

আমি তাকে বললাম, তোমার চোখ যেন না কাঁদে, আমরা তো কেবল রাজত্ব উদ্ধারের চেষ্টা করছি অথবা মৃত্যুবরণ করব যাতে ওজর পেশ করা যায় (ফানু’জারা)।

এখানে মূল শব্দ ছিল: 'বিকায়সারা' এবং 'ফানু’জারা'। অতঃপর আলিফ দ্বারা অন্ত্যমিল বর্ণের হরকতকে প্রলম্বিত করা হয়েছে। সুতরাং এখানে আলিফটি প্রলম্বিতকরণের জন্য (للإطلاق), যার কোনো ব্যাকরণগত স্থান (محل لها من الإعراب) নেই।

কবি বলেছেন:

আমাদের ভালোবাসার বন্ধন দেখে শত্রুরা ক্ষুব্ধ হলো এবং আমাদের বিপদের জন্য প্রার্থনা করল, তখন মহাকাল বলল ‘আমীনা’।

মূল শব্দ হলো: ‘আমীন’ (آمين); যা একটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (اسم فعل), যার অর্থ—কবুল করুন।

আমি তোমাকে আল-জাহরায় ব্যাকুলভাবে স্মরণ করেছি … যখন দিগন্ত ছিল উন্মুক্ত এবং পৃথিবীর চেহারা ছিল উজ্জ্বল (রাক্বা)।

মূল শব্দ হলো: ‘রাক্ব’ (راق)। ‘রাক্বা’ (راقا) শব্দের আলিফটি প্রলম্বিতকরণের জন্য (للإطلاق), যার কোনো ব্যাকরণগত স্থান (محل لها من الإعراب) নেই।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ألف الندبة

ندب الميت: بكاه، عدد محاسنه، والندبة تعديد محاسن الميت، وحين ندبت المرأة المسلمة في عمورية الخليفة المعتصم صارخة وامعتصماه، فكأنها تقول: إن لم يثأر لي المعتصم فإنه ميت وليس عندي سوى أن‌‌ أذكر محاسنه، فلو كان على وجه الأرض لثأر لي.

وامعتصماه: وا: أداة ندبة، معتصم منادى في محل نصب، والألف للندبة، والهاء للسكت.

 

‌‌أجل

حرف جواب لا محل له من الإعراب مثل [نعم] ويكثر مجيء هذا الحرف بعد الخبر تصديقا له، نحو: (قد نضج الثمر) ويكون الجواب:

أجل هو كذلك.

أجل حرف جواب لا محل له من الإعراب.

 

إذ

وترد اسما مرة وحرفا أخرى.

وحين ترد حرفا، فهي تفيد المفاجأة أو التعليل ولا محل لها من الإعراب، نحو:

بينما كان القوم يشكون من القحط إذ نزل المطر.

إذ: حرف أفاد المفاجأة، وهو مجرد حرف لا محل له من الإعراب ومن أمثلة إفادته التعليل:

قال تعالى: لَنْ يَنْفَعَكُمُ الْيَوْمَ إِذْ ظَلَمْتُمْ أَنَّكُمْ فِي الْعَذابِ مُشْتَرِكُونَ [الزخرف 39/ 43].

فظلمهم علة وسبب اشتراكهم في العذاب.

إِذْ: حرف أفاد التعليل، لا محل له من الاعراب.
আলিফ আল-নুদবাহ

মৃত ব্যক্তির জন্য নুদবাহ (শোক প্রকাশ) করা: তার জন্য রোদন করা এবং তার গুণাবলি বর্ণনা করা। আর নুদবাহ হলো মৃত ব্যক্তির ভালো গুণাবলির স্মৃতিচারণ করা। আম্মুরিয়াহ যুদ্ধের সময় যখন একজন মুসলিম নারী চিৎকার করে "ওয়া মুতাসিমাহ!" বলে খলিফা আল-মুতাসিমকে আহ্বান করেছিলেন, তখন বিষয়টি এমন ছিল যেন তিনি বলছিলেন: যদি আল-মুতাসিম আমার অপমানের প্রতিশোধ না নেন তবে তিনি মৃত এবং আমার কেবল তার গুণাবলি স্মৃতিচারণ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই; কেননা তিনি যদি পৃথিবীর বুকে জীবিত থাকতেন তবে অবশ্যই আমার হয়ে প্রতিশোধ নিতেন।

ওয়া মুতাসিমাহ: 'ওয়া' হলো শোক প্রকাশের অব্যয়, 'মুতাসিম' হলো নসবের স্থলে অবস্থিত সম্বোধিত পদ, আলিফ হলো শোক প্রকাশের জন্য এবং 'হা' হলো বিরতির জন্য ব্যবহৃত বর্ণ।

 

আজাল

এটি একটি উত্তরসূচক অব্যয় যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই, যেমন [না'আম]। কোনো সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য খবরের পরে এর ব্যবহার অধিক হয়, যেমন: (ফল পেকেছে), এর উত্তর হবে:

আজাল (হ্যাঁ), বিষয়টি এমনই।

আজাল হলো একটি উত্তরসূচক অব্যয় যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

 

ইয

এটি কখনো বিশেষ্য হিসেবে আবার কখনো অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

যখন এটি অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি আকস্মিকতা অথবা কারণ নির্দেশ করে এবং এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। যেমন:

যখন লোকেরা দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করছিল, তখনই (ইয) বৃষ্টি নামল।

ইয: আকস্মিকতা নির্দেশক একটি অব্যয়, যা কেবল একটি বর্ণ মাত্র এবং এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই। এর কারণ নির্দেশক ব্যবহারের একটি উদাহরণ হলো:

মহান আল্লাহ বলেন: "আজ তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না যে (ইয), যেহেতু তোমরা জুলুম করেছিলে, তোমরা আজাবে সমান অংশীদার।" [আয-যুখরুফ ৩৯/৪৩]।

তাদের জুলুমই হলো আজাবে তাদের অংশীদার হওয়ার কারণ ও হেতু।

ইয: একটি কারণ নির্দেশক অব্যয়, যার কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
أما حين ترد إذ اسما فيجب أن نحدد أولا الزمن الذي أفادته فإذا، أفادت الزمن الماضي، كان لها أربعة استعمالات:

 

‌‌[استعمالات «اذ»]

‌‌1 - تكون ظرفا للزمن بمعنى [حين].

قال تعالى: فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُما فِي الْغارِ إِذْ يَقُولُ لِصاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنا [التوبة 40/ 9].

إِذْ: اسم مبني على السكون في محل نصب ظرف زمان، وهو مضاف والجملة الفعلية [أخرجه الذين …] في محل جر مضاف إليه.

إِذْ هُما فِي الْغارِ: إذ اسم مبني على السكون في محل نصب ظرف زمان، وهو مضاف والجملة الاسمية [هما في الغار] في محل جر مضاف إليه.

إِذْ يَقُولُ: إذ اسم مبني على السكون في محل نصب ظرف زمان وهو مضاف والجملة الفعلية [يقول …] في محل جر مضاف إليه.

 

2 -‌‌ وتكون مفعولا به:

قال تعالى: وَاذْكُرُوا إِذْ كُنْتُمْ قَلِيلًا فَكَثَّرَكُمْ [الأعراف 86/ 7].

وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفاءَ مِنْ بَعْدِ عادٍ [الأعراف 74/ 7].

وَاذْكُرُوا إِذْ أَنْتُمْ قَلِيلٌ مُسْتَضْعَفُونَ فِي الْأَرْضِ [الأنفال 26/ 8].

إِذْ: اسم مبني على السكون في محل نصب مفعول به للفعل اذكروا، وهو مضاف والجمل: كنتم قليلا، جعلكم خلفاء، أنتم قليل في محل جر مضاف إليه ويكثر ورود إذ في القرآن مفعولا به في مطالع الآيات التي تبدأ ب (إذ) وفي هذه الحالة تقدر الفعل المحذوف ب [اذكر] نحو:

قال تعالى: وَإِذْ قالَ رَبُّكَ لِلْمَلائِكَةِ إِنِّي جاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً [البقرة 30/ 2].
তবে ‘ইয’ যখন বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন আমাদের প্রথমে এটি কোন সময়কে নির্দেশ করছে তা নির্ধারণ করতে হবে। যদি এটি অতীত কালকে নির্দেশ করে, তবে এর চারটি ব্যবহার রয়েছে:

 

‌‌[‘ইয’-এর ব্যবহারসমূহ]

‌‌১ - এটি সময়বাচক আধার হিসেবে ‘যখন’ অর্থে ব্যবহৃত হয়.

আল্লাহ তাআলা বলেন: “আল্লাহ তো তাকে সাহায্য করেছিলেন যখন কাফিররা তাকে বহিষ্কার করেছিল; সে ছিল দুইজনের দ্বিতীয় জন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল, যখন সে তার সঙ্গীকে বলছিল: ‘বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন’।” [আত-তাওবাহ ৯:৪০]।

ইয: সুকুনের ওপর ভিত্তি করে একটি মাবনি বিশেষ্য যা সময়বাচক আধারের স্থানে নসব অবস্থায় রয়েছে। এটি মুদাফ এবং [আখরাজাহুল্লাযীনা …] এই ক্রিয়াবাচক বাক্যটি মুদাফ ইলাইহি হিসেবে জরের স্থানে অবস্থিত।

ইয হুমা ফিল গারি: ইয সুকুনের ওপর ভিত্তি করে একটি মাবনি বিশেষ্য যা সময়বাচক আধারের স্থানে নসব অবস্থায় রয়েছে। এটি মুদাফ এবং [হুমা ফিল গারি] এই বিশেষ্যবাচক বাক্যটি মুদাফ ইলাইহি হিসেবে জরের স্থানে অবস্থিত।

ইয ইয়াকুলু: ইয সুকুনের ওপর ভিত্তি করে একটি মাবনি বিশেষ্য যা সময়বাচক আধারের স্থানে নসব অবস্থায় রয়েছে এবং এটি মুদাফ এবং [ইয়াকুলু …] এই ক্রিয়াবাচক বাক্যটি মুদাফ ইলাইহি হিসেবে জরের স্থানে অবস্থিত।

 

২ -‌‌ এবং এটি কর্মপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়:

আল্লাহ তাআলা বলেন: “এবং স্মরণ করো যখন তোমরা অল্পসংখ্যক ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন।” [আল-আ'রাফ ৭:৮৬]।

“এবং স্মরণ করো যখন তিনি তোমাদের আদ জাতির পর স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন।” [আল-আ'রাফ ৭:৭৪]।

“এবং স্মরণ করো যখন তোমরা জমিনে অল্পসংখ্যক ও দুর্বল হিসেবে গণ্য ছিলে।” [আল-আনফাল ৮:২৬]।

ইয: সুকুনের ওপর ভিত্তি করে একটি মাবনি বিশেষ্য যা ‘উযকুরু’ ক্রিয়ার কর্মপদ হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে। এটি মুদাফ এবং ‘কুনতুম কলীলান’, ‘জা’আলাকুম খুলাফাআ’, ‘আনতুম কলীলুন’—এই বাক্যগুলো মুদাফ ইলাইহি হিসেবে জরের স্থানে অবস্থিত। কুরআনের আয়াতের শুরুতে কর্মপদ হিসেবে ‘ইয’-এর ব্যবহার প্রচুর পাওয়া যায় যেখানে আয়াতগুলো ‘ইয’ দিয়ে শুরু হয় এবং এই অবস্থায় একটি উহ্য ক্রিয়া ‘উযকুর’ (স্মরণ করো) ধরে নেওয়া হয়, যেমন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: “এবং যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি’।” [আল-বাক্বারাহ ২:৩০]।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَإِذْ قالَ لُقْمانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ .. [لقمان 13/ 31].

وَإِذْ قالَ مُوسى لِقَوْمِهِ يا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنْفُسَكُمْ [البقرة 54/ 2].

وَإِذْ قُلْتُمْ يا مُوسى لَنْ نَصْبِرَ عَلى طَعامٍ واحِدٍ … [البقرة 61/ 2].

وَإِذْ قُلْتُمْ يا مُوسى لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً [البقرة 55/ 2].

وَإِذْ قالَ إِبْراهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هذا بَلَداً آمِناً [البقرة 126/ 2].

إِذْ قالَ اللَّهُ يا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ [المائدة 110/ 5].

وَإِذْ قالَ إِبْراهِيمُ لِأَبِيهِ آزَرَ أَتَتَّخِذُ أَصْناماً آلِهَةً [الأنعام 74/ 6].

إِذْ قالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ ما تَعْبُدُونَ … [الشعراء 70/ 26].

إِذْ قالَ مُوسى لِأَهْلِهِ إِنِّي آنَسْتُ ناراً … [النمل 7/ 27].

إِذْ قالَ لَهُ قَوْمُهُ لا تَفْرَحْ إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ [القصص 67/ 28].

وَإِذْ قالَ إِبْراهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إني بَراءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ [الزخرف 26/ 43].

إذ: اسم مبني على السكون في محل نصب مفعول به لفعل محذوف تقديره (اذكر أو اذكروا) وهو مضاف والجملة الفعلية بعده في محل جر مضاف إليه.

 

3 -‌‌ وتكون بدلا من المفعول به:

قال تعالى: وَاذْكُرْ فِي الْكِتابِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِها مَكاناً شَرْقِيًّا [مريم 16/ 19].

وَاذْكُرْ عَبْدَنا أَيُّوبَ إِذْ نادى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الشَّيْطانُ … [ص 41/ 38].

وَاذْكُرْ أَخا عادٍ إِذْ أَنْذَرَ قَوْمَهُ بِالْأَحْقافِ … [الاحقاف 21/ 46].

إِذْ: اسم مبني على السكون في محل نصب بدل من المفعول به: (مريم، عبدنا، أخا عاد) وهو مضاف والجملة بعد إذ في محل جر مضاف إليه.
আর স্মরণ করো, যখন লোকমান তার পুত্রকে উপদেশ দানকালে বলছিল... [লুকমান ১৩/ ৩১]।

আর স্মরণ করো, যখন মুসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ [আল-বাকারাহ ৫৪/ ২]।

আর যখন তোমরা বলেছিলে, হে মুসা! আমরা এক ধরণের খাদ্যের ওপর কখনও ধৈর্য ধারণ করব না... [আল-বাকারাহ ৬১/ ২]।

আর যখন তোমরা বলেছিলে, হে মুসা! আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্য দেখতে পাই [আল-বাকারাহ ৫৫/ ২]।

আর যখন ইবরাহিম বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি একে একটি নিরাপদ শহর বানিয়ে দিন [আল-বাকারাহ ১২৬/ ২]।

স্মরণ করো, যখন আল্লাহ বললেন, হে মারইয়াম তনয় ঈসা! তোমার ওপর আমার অনুগ্রহ স্মরণ করো [আল-মায়েদাহ ১১০/ ৫]।

আর যখন ইবরাহিম তার পিতা আজরকে বলেছিল, আপনি কি প্রতিমাগুলোকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করছেন? [আল-আনআম ৭৪/ ৬]।

যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলল, তোমরা কিসের ইবাদত করছ?... [আশ-শুআরা ৭০/ ২৬]।

যখন মুসা তার পরিবারকে বলল, আমি নিশ্চয়ই আগুনের দেখা পেয়েছি... [আন-নামল ৭/ ২৭]।

যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলল, দম্ভ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না [আল-কাসাস ৬৭/ ২৮]।

আর যখন ইবরাহিম তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা যার ইবাদত করো তা থেকে আমি অবশ্যই মুক্ত [আয-যুখরুফ ২৬/ ৪৩]।

ইয (إذ): সুকুন (السكون) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত স্থির বিশেষ্য (اسم مبني), যা একটি উহ্য ক্রিয়ার (فعل محذوف) কর্ম (مفعول به) হিসেবে নসবের স্থানে (في محل نصب) রয়েছে। এর নির্ধারিত রূপ (تقديره) হলো (স্মরণ করো বা আপনারা স্মরণ করুন)। এটি মুদাফ (مضاف) এবং এর পরবর্তী ক্রিয়াঘটিত বাক্যটি (الجملة الفعلية) জার-এর স্থানে (في محل جر) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে গণ্য।

 

৩ -‌‌ এবং এটি কর্মের (مفعول به) স্থলাভিষিক্ত (بدلا) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়:

আল্লাহ তাআলা বলেন: আর এই কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করো, যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের এক নির্জন স্থানে আশ্রয় নিল [মারইয়াম ১৬/ ১৯]।

আর আমাদের বান্দা আইয়ুবের কথা স্মরণ করো, যখন সে তার প্রতিপালককে আহ্বান করে বলেছিল, শয়তান আমাকে যাতনা দিচ্ছে... [সোয়াদ ৪১/ ৩৮]।

আর আদ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা স্মরণ করো, যখন সে আহকাফ নামক স্থানে তার সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল... [আল-আহকাফ ২১/ ৪৬]।

ইয (إذ): সুকুন (السكون) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত স্থির বিশেষ্য (اسم مبني), যা কর্মের (مفعول به) যথা- (মারইয়াম, আমাদের বান্দা, আদ-এর ভাই) স্থলাভিষিক্ত (بدل) হিসেবে নসবের স্থানে (في محل نصب) অবস্থিত। এটি মুদাফ (مضاف) এবং ‘ইয’-এর পরবর্তী বাক্যটি জার-এর স্থানে (في محل جر) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
4 -‌‌ وتكون مضافا إليها:

ويكون المضاف في الغالب كلمة من الكلمات التالية: [بعد، حين، يوم، قبل، ساعة].

قال تعالى: رَبَّنا لا تُزِغْ قُلُوبَنا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنا … [آل عمران 8/ 3].

أَيَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ … [آل عمران 80/ 3].

وَنُرَدُّ عَلى أَعْقابِنا بَعْدَ إِذْ هَدانَا اللَّهُ … [الانعام 71/ 6].

وَما كانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْماً بَعْدَ إِذْ هَداهُمْ حَتَّى يُبَيِّنَ لَهُمْ ما يَتَّقُونَ [التوبة 115/ 9].

وَلا يَصُدُّنَّكَ عَنْ آياتِ اللَّهِ بَعْدَ إِذْ أُنْزِلَتْ إِلَيْكَ [القصص 87/ 28].

أَنَحْنُ صَدَدْناكُمْ عَنِ الْهُدى بَعْدَ إِذْ جاءَكُمْ … [سبأ 32/ 34].

فَلَوْلا إِذا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ [الواقعة 84/ 56].

يَوْمَئِذٍ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَعَصَوُا الرَّسُولَ لَوْ تُسَوَّى بِهِمُ الْأَرْضُ [النساء 41/ 4].

مَنْ يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ وَذلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ [الأنعام 16/ 6].

بَعْدَ إِذْ: بعد ظرف زمان منصوب علامة نصبه الفتحة وهو مضاف.

إِذْ: اسم مبني على السكون في محل جر مضاف إليه، وإذ مضاف إلى الجملة أنتم مسلمون، والجملة في محل جر مضاف إليه.

حِينَئِذٍ: حين ظرف زمان منصوب علامة نصبه الفتحة وهو مضاف إلى إذ، وإذ اسم مبني على السكون في محل جر مضاف إليه.

 

‌‌ملاحظة مهمة: عندئذ، حينئذ، يومئذ، ساعتئذ.

إذ وردت هنا مضافا إليه ووردت منونة تنوين العوض، وتنوين العوض يعني التعويض عن شيء محذوف، ونحن نعرف أن (إذ) إذا وردت اسما،
৪ -‌‌ এবং এটি মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে ব্যবহৃত হয়:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুদাফ (مضاف) হিসেবে নিচের শব্দগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি শব্দ থাকে: [بعد, حين, يوم, قبل, ساعة]।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের সরল পথ প্রদর্শনের পর (بعد إذ) আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যলঙ্ঘনকারী করবেন না...” [আল ইমরান ৩: ৮]।

“তোমরা মুসলিম হওয়ার পর (بعد إذ) তিনি কি তোমাদের কুফরি করার নির্দেশ দেবেন?” [আল ইমরান ৩: ৮০]।

“আল্লাহ আমাদের পথপ্রদর্শনের পর (بعد إذ) আমরা কি আমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাব?” [আল আনআম ৬: ৭১]।

“আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করার পর (بعد إذ) তাদেরকে বিভ্রান্ত করেন না, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যে, তারা কী থেকে বেঁচে চলবে।” [আত তাওবাহ ৯: ১১৫]।

“আপনার প্রতি আল্লাহর আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার পর (بعد إذ) তারা যেন আপনাকে সেগুলো থেকে বিচ্যুত না করে।” [আল কাসাস ২৮: ৮৭]।

“তোমাদের নিকট হিদায়াত আসার পর (بعد إذ) আমরা কি তোমাদেরকে তা থেকে নিবৃত্ত করেছিলাম?” [সাবা ৩৪: ৩২]।

“তবে কেন নয়? যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়, এবং তখন (حينئذ) তোমরা তাকিয়ে থাকো।” [আল ওয়াকিয়াহ ৫৬: ৮৪]।

“সেদিন (يومئذ) যারা কুফরি করেছিল এবং রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল, তারা কামনা করবে যে—যদি মাটি তাদের সাথে সমতল হয়ে যেত।” [আন নিসা ৪: ৪১]।

“সেদিন (يومئذ) যার থেকে তা (শাস্তি) সরিয়ে নেওয়া হবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার প্রতি দয়া করবেন এবং সেটিই হলো সুস্পষ্ট সফলতা।” [আল আনআম ৬: ১৬]।

বাদা ইজ (بعد إذ): ‘বাদা’ (بعد) হলো সময়সূচক বিশেষ্য বা যরফ জামান (ظرف زمان) যা মানসুব (منصوب), এর নাসব-এর আলামত হলো ফাতহা এবং এটি মুদাফ (مضاف)।

ইজ (إذ): সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি অপরিবর্তনীয় বিশেষ্য (اسم مبني على السكون) যা মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)-এর স্থানে মাজরুর হিসেবে রয়েছে। আর ‘ইজ’ (إذ) শব্দটি ‘আনতুম মুসলিমুন’ বাক্যের প্রতি মুদাফ (مضاف) হয়েছে এবং বাক্যটি মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)-এর স্থানে মাজরুর হিসেবে গণ্য।

হীনা-ইজিন (حينئذ): ‘হীনা’ (حين) হলো সময়সূচক বিশেষ্য বা যরফ জামান (ظرف زمان) যা মানসুব (منصوب), এর নাসব-এর আলামত হলো ফাতহা এবং এটি ‘ইজ’ (إذ)-এর প্রতি মুদাফ (مضاف) হয়েছে। আর ‘ইজ’ (إذ) হলো সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি অপরিবর্তনীয় বিশেষ্য (اسم مبني على السكون) যা মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)-এর স্থানে মাজরুর হিসেবে রয়েছে।

 

‌‌গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: ইন্দাইজিন (عندئذ), হীনা-ইজিন (حينئذ), ইয়াওমা-ইজিন (يومئذ), সাআতাইজিন (ساعتئذ)।

এখানে ‘ইজ’ (إذ) শব্দটি মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে এসেছে এবং এতে তানউইনুল ইওয়াদ বা বিনিময় তানউইন (تنوين العوض) যুক্ত হয়েছে। বিনিময় তানউইন (تنوين العوض) বলতে কোনো একটি উহ্য বা বিলুপ্ত বিষয়ের পরিবর্তে ব্যবহৃত তানউইনকে বোঝায়। আমরা জানি যে, ‘ইজ’ (إذ) যখন বিশেষ্য (اسم) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন...
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
تضاف إلى الجملة بعدها، لذا يكون هذا التنوين عوضا عن جملة محذوفة، وهذه الجملة تقدرها حسب السياق، نحو فَلَوْلا إِذا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ. وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ [الواقعة 84/ 56] فالتقدير حين إذ بلغت الحلقوم.

ومن الضروري أن نشير في حالة تنوين (إذ) إلى الجملة المحذوفة، ونقدرها ونقول، إذ مضاف إلى الجملة المحذوفة والتي عوض عنها التنوين.

وإن أفادت إذ زمن المستقبل فهي اسم وهي ظرف زمان لا غير، نحو:

قال تعالى: فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ إِذِ الْأَغْلالُ فِي أَعْناقِهِمْ [غافر 71/ 40].

الفعل المضارع يعلمون مسيوق بسوف فتأكد لدينا دلالة الفعل على المستقبل، وقد وردت إذ في هذا السياق، لذا

تقول: إذ اسم مبني على السكون في محل نصب ظرف زمان، وقد حركت إذ بالكسر منعا لالتقاء الساكنين، وإذ مضاف والجملة الاسمية (الأغلال في أعناقهم) في محل جر مضاف إليه.

 

‌‌تمرين

اعرب إذ إعرابا مفصلا وميّز بين كونها حرفا وكونها اسما.

قال تعالى: غُلِبَتِ الرُّومُ* فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ* فِي بِضْعِ سِنِينَ لِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ* بِنَصْرِ اللَّهِ [الروم 2 - 5/ 30].

وَتَرَى الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفادِ [إبراهيم 49/ 14].

إِذْ قالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلا تَتَّقُونَ … [الشعراء 177/ 26].

وَإِنَّ لُوطاً لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ إِذْ نَجَّيْناهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ [الصافات 134/ 37].

اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ أَنْجاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ [إبراهيم 6/ 14].
এটি পরবর্তী বাক্যের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তাই এই তানউইন একটি উহ্য বাক্যের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য হয়। প্রসঙ্গের আলোকে এই উহ্য বাক্যটি আপনাকে অনুমান করে নিতে হবে, যেমন: "অতঃপর যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়। আর তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো।" [আল-ওয়াকিয়া ৫৬/৮৪]। এখানে অনুমানটি হলো: 'যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল'।

ইয (إذ)-এর তানউইনের ক্ষেত্রে উহ্য বাক্যটির প্রতি ইঙ্গিত করা এবং তা অনুমান করা জরুরি। আমরা বলি, ইয সেই উহ্য বাক্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে যার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এই তানউইন এসেছে।

যদি ইয ভবিষ্যৎকাল নির্দেশ করে, তবে সেটি বিশেষ্য এবং কেবল কালবাচক অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন:

মহান আল্লাহ বলেন: "অচিরেই তারা জানতে পারবে, যখন ইয তাদের গলায় বেড়ি পরানো হবে।" [গাফির ৪০/৭১]।

বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া 'তারা জানতে পারবে' এর পূর্বে 'অচিরেই' যুক্ত হওয়ায় ক্রিয়াটি যে ভবিষ্যৎকাল বোঝাচ্ছে তা আমাদের কাছে নিশ্চিত হয়েছে। আর এই প্রেক্ষাপটেই ইয ব্যবহৃত হয়েছে, তাই

আপনি বলবেন: ইয হলো সুকুন-এর ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত একটি বিশেষ্য যা নসব-এর স্থলে কালবাচক অব্যয় হিসেবে অবস্থিত। দুই সাকিনের মিলন রোধ করার জন্য ইয-কে কাসরা বা জের দ্বারা হরকত দেওয়া হয়েছে। ইয এখানে সম্বন্ধযুক্ত শব্দ এবং নামবাচক বাক্য 'তাদের গলায় বেড়ি পরানো হবে' সম্বন্ধপদের স্থানে অবস্থিত।

 

‌অনুশীলনী

ইয-এর বিস্তারিত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করুন এবং এটি বর্ণ নাকি বিশেষ্য তা নিরূপণ করুন।

মহান আল্লাহ বলেন: "রোমানরা পরাজিত হয়েছে। নিকটবর্তী এলাকায় এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে। কয়েক বছরের মধ্যেই। পূর্বের ও পরের সিদ্ধান্ত আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে।" [আর-রুম ৩০/২-৫]।

"আর সেদিন আপনি অপরাধীদের শিকল দিয়ে একত্রে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাবেন।" [ইবরাহীম ১৪/৪৯]।

"যখন ইয তাদের শুআইব বললেন, তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না? …" [আশ-শুআরা ২৬/১৭৭]।

"আর লূত অবশ্যই প্রেরিত রাসূলগণের (المرسلين) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন ইয আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে উদ্ধার করেছিলাম।" [আস-সাফফাত ৩৭/১৩৪]।

"তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করো যখন ইয তিনি তোমাদের ফিরআউনের লোকদের থেকে উদ্ধার করেছিলেন।" [ইবরাহীম ১৪/৬]।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌إذا

وتأتي على ثلاثة أوجه:

1 - فجائية: وهي في هذا المعنى حرف لا عمل له ولكنها تشترط مجيء جملة أسمية بعدها لتحقق هذا المعنى، وقد يكون الخبر في الجملة الاسمية محذوفا مقدرا ب (موجود).

قال تعالى: فَأَلْقاها فَإِذا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعى … [طه 20/ 20].

وَلا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَداوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ [فصلت 34/ 41].

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذا هُمْ مِنَ الْأَجْداثِ إِلى رَبِّهِمْ يَنْسِلُونَ [يس 51/ 36].

فَإِذا هِيَ حَيَّةٌ:

الفاء: استئنافية، إذا حرف يفيد المفاجأة لا محل له من الاعراب.

هِيَ: ضمير مبني على الفتح في محل رفع مبتدأ، حية خبر مرفوع علامة رفعه الضمة. تسعى فعل مضارع مرفوع لتجرده عن الناصب والجازم، علامة رفعه الضمة المقدرة على الألف للتعذر، والفاعل ضمير مستتر تقديره هي.

الجملة الفعلية تسعى في محل رفع صفة إلى حية.

الجملة الاسمية هي حية استئنافية لا محل لها من الإعراب.

فَإِذَا الَّذِي … الفاء استئنافية، إذا حرف يفيد المفاجأة، الذي اسم موصول مبني على السكون في محل رفع مبتدأ،

جملة كأنه ولي في محل رفع خبر للمبتدأ، كأن من الأحرف المشبهة بالفعل، الهاء ضمير مبني على الضم في محل نصب اسم كأن، ولي خبر كأن مرفوع علامة رفعه الضمة.

جملة كأن واسمها وخبرها في محل رفع خبر المبتدأ الذي- والجملة الاسمية استئنافية لا محل لها من الاعراب.
ইযা (إذَا)

এটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

১ - আকস্মিকতা জ্ঞাপক (فجائية): এই অর্থে এটি একটি অব্যয় (حرف) যার কোনো আমল বা কার্যকারিতা নেই। তবে এই অর্থ প্রকাশের জন্য এর পরে একটি বিশেষ্যমূলক বাক্য (جملة اسمية) আসার শর্ত রয়েছে। কখনো কখনো বিশেষ্যমূলক বাক্যের খবর (خبر) উহ্য (محذوف) থাকে এবং তা 'বিদ্যমান' (موجود) শব্দ দ্বারা প্রাক্কলিত (مقدر) করা হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা একটি ধাবমান সাপে পরিণত হলো..." [ত্বহা ২০/২০]।

"সৎকাজ ও অসৎকাজ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত করুন উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে আপনার সাথে যার শত্রুতা রয়েছে, সে যেন এক অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে।" [ফুসসিলাত ৪১/৩৪]।

"আর যখন শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে, অমনি তারা কবর থেকে তাদের প্রতিপালকের দিকে দ্রুত ছুটে চলবে।" [ইয়াসিন ৩৬/৫১]।

অমনি তা একটি সাপ (فَإِذا هِيَ حَيَّةٌ):

ফা (الفاء): প্রারম্ভিক (استئنافية); ইযা (إذا): আকস্মিকতা প্রকাশকারী অব্যয় (حرف) যার কোনো আমলি অবস্থান (إعراب) নেই।

হিয়া (هِيَ): ফাতাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত স্থির সর্বনাম (ضمير مبني على الفتح), যা মুক্তাদা (مبتدأ) হিসেবে রাফ’ (رفع) এর স্থানে রয়েছে। হায়্যাতুন (حية): মারফু (مرفوع) খবর (خبر), এর রাফ’ এর চিহ্ন হলো যম্মাহ। তাস’আ (تسعى): মুজারি (مضارع) ক্রিয়া যা নাসিব (ناصب) ও জাযেম (جازم) থেকে মুক্ত থাকায় মারফু (مرفوع) হয়েছে; এর রাফ’ এর চিহ্ন হলো আলিফের কারণে প্রকাশে অক্ষমতার জন্য উহ্য বা প্রাক্কলিত (مقدرة) যম্মাহ। আর এর কর্তা (فاعل) হলো উহ্য সর্বনাম 'হিয়া'।

'তাস’আ' (تسعى) ক্রিয়াভিত্তিক বাক্যটি (الجملة الفعلية) 'হায়্যাতুন' এর গুণ বা সিফাত (صفة) হিসেবে রাফ’ (رفع) এর স্থানে রয়েছে।

'হিয়া হায়্যাতুন' বিশেষ্যমূলক বাক্যটি (الجملة الاسمية) হলো প্রারম্ভিক (استئنافية), যার কোনো আমলি অবস্থান (إعراب) নেই।

ফলে সেই ব্যক্তি যার... (فَإِذَا الَّذِي …): ফা (الفاء) প্রারম্ভিক (استئنافية), ইযা (إذا) আকস্মিকতা প্রকাশকারী অব্যয় (حرف)। আল্লাযী (الذي) হলো সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত স্থির ইসম মাওসুল (اسم موصول), যা মুক্তাদা (مبتدأ) হিসেবে রাফ’ (رفع) এর স্থানে রয়েছে।

'কাআন্নাহু ওয়ালীয়্যুন' বাক্যটি মুক্তাদার খবর (خبر) হিসেবে রাফ’ (رفع) এর স্থানে রয়েছে। কাআন্না (كأن) হলো হরফে মুশাব্বাহ বিল ফেইল (الأحرف المشبهة بالفعل) এর অন্তর্ভুক্ত। হা (الهاء) হলো যম্মাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত স্থির সর্বনাম (ضمير مبني على الضم), যা 'কাআন্না' এর ইসম (اسم) হিসেবে নাসব (نصب) এর স্থানে রয়েছে। ওয়ালীয়্যুন (ولي) হলো 'কাআন্না' এর মারফু (مرفوع) খবর (خبر), এর চিহ্ন যম্মাহ।

'কাআন্না' তার ইসম ও খবরসহ গঠিত বাক্যটি 'আল্লাযী' নামক মুক্তাদার খবর (خبر) হিসেবে রাফ’ (رفع) এর স্থানে রয়েছে এবং এই বিশেষ্যমূলক বাক্যটি (الجملة الاسمية) প্রারম্ভিক (استئنافية) হওয়ার কারণে এর কোনো আমলি অবস্থান (إعراب) নেই।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - ظرفية شرطية غير جازمة، وهي في هذا المعنى ظرف للزمان المستقبل، وتأتي إذا لازمة الإضافة إلى الجملة الفعلية بعدها وتشترط أن تكون الجملة بعدها فعلية وتجرها بالإضافة، وتتعلق إذا بجواب الشرط، نحو:

قال تعالى: فَإِذا جاءَ أَمْرُ اللَّهِ قُضِيَ بِالْحَقِّ … [غافر 78/ 40].

فَإِذا: الفاء حسب ما قبلها، إذا اسم شرط غير جازم، يستعمل لما يستقبل من الزمان وهو مضاف.

جاءَ: فعل ماض مبني على الفتح، وهو فعل الشرط.

أَمْرُ: فاعل مرفوع علامة رفعه الضمة مضاف إلى لفظ الجلالة (الله) ولفظ الجلالة مضاف إليه.

الجملة الفعلية جاء أمر الله … في محل جر مضاف إليه.

قال تعالى: وَإِذا تُتْلى عَلَيْهِمْ آياتُنا قالُوا سَمِعْنا [الانفال 31/ 8].

وَإِذا: الواو حسب ما قبلها، إذا اسم شرط غير جازم، يستعمل لما يستقبل من الزمان وهو مضاف.

تُتْلى: فعل مضارع مبني للمجهول وهو فعل الشرط، آياتنا آيات نائب فاعل مرفوع علامة رفعه الضمة، وهو مضاف والضمير نا مبني على السكون في محل جر مضاف إليه.

الجملة الفعلية تتلى عليهم آياتنا في محل جر مضاف إليه.

إذا الظرفية الشرطية غير الجازمة لازمة الإضافة إلى الجملة الفعلية بعدها وهي جملة الشرط، فإذا ورد بعد إذا مباشرة اسم، أعربنا ذلك الاسم فاعلا لفعل محذوف وجوبا يفسره الفعل المذكور بعد الاسم، وبذا صارت لدينا جملة فعلية بعد إذا تتكون من الفعل المحذوف والفاعل المذكور والجملة الفعلية في محل جر مجرور بالإضافة، نحو:

قال تعالى: إِذَا السَّماءُ انْشَقَّتْ … [الانشقاق 1/ 84].

إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ … [التكوير 1/ 81].
2 - অ-কর্তনকারী (غير جازمة) শর্তবাচক ক্রিয়াবিশেষণ (ظرفية شرطية); এটি এই অর্থে ভবিষ্যৎ কালের জন্য ক্রিয়াবিশেষণ (ظرف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 'ইযা' (إذا) তার পরবর্তী ক্রিয়াবাচক বাক্যের (الجملة الفعلية) সাথে অনুসংলগ্ন বা মুদাফ (مضاف) হিসেবে যুক্ত হওয়া অপরিহার্য। এর শর্ত হলো যে, পরবর্তী বাক্যটি অবশ্যই ক্রিয়াবাচক (فعلية) হতে হবে এবং এটি ইযাফাত-এর কারণে মাজরুর (مجرور) হবে। 'ইযা' তার শর্তের জবাবের (جواب الشرط) সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। যেমন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর যখন আল্লাহর নির্দেশ আসবে, তখন ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করা হবে..." [গাফির ৭৮/৪০]।

ফা-ইযা (فَإِذا): 'ফা' (الفاء) তার পূর্ববর্তী বাক্য অনুযায়ী। 'ইযা' (إذا) একটি অ-কর্তনকারী (غير جازم) শর্তবাচক বিশেষ্য (اسم شرط), যা ভবিষ্যৎ কাল বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি মুদাফ (مضاف)।

জাআ (جاءَ): এটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض), যা ফাতহাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এটি শর্তের ক্রিয়া (فعل الشرط)।

আমরু (أَمْرُ): এটি মারফু (مرفوع) অবস্থায় থাকা কর্তা (فاعل), এর রাফা-র চিহ্ন হলো পেশ (ضمة)। এটি মহিমান্বিত শব্দ (আল্লাহ)-এর দিকে মুদাফ (مضاف) এবং মহিমান্বিত শব্দটি এখানে মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।

'জাআ আমরুল্লাহ' (جاء أمر الله) ... এই ক্রিয়াবাচক বাক্যটি (الجملة الفعلية) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জার (جر) এর স্থলাভিষিক্ত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যখন তাদের নিকট আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তারা বলে আমরা শুনেছি" [আনফাল ৩১/৮]।

ওয়া-ইযা (وَإِذا): 'ওয়াও' (الواو) তার পূর্ববর্তী বাক্য অনুযায়ী। 'ইযা' (إذا) একটি অ-কর্তনকারী (غير جازم) শর্তবাচক বিশেষ্য (اسم شرط), যা ভবিষ্যৎ কাল বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি মুদাফ (مضاف)।

তুতলা (تُتْلى): এটি কর্মবাচ্যবাচক বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع مبني للمجهول), যা শর্তের ক্রিয়া (فعل الشرط)। 'আয়াতুনা' (آياتنا) শব্দের 'আয়াত' (آيات) অংশটি মারফু (مرفوع) অবস্থায় নায়েবে ফায়েল (نائب فاعل), এর রাফা-র চিহ্ন হলো পেশ (ضمة)। এটি মুদাফ (مضاف) এবং 'না' (نا) সর্বনামটি সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত যা মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জার (جر) এর স্থলাভিষিক্ত।

'তুতলা আলাইহিম আয়াতুনা' (تتلى عليهم آياتنا) এই ক্রিয়াবাচক বাক্যটি (الجملة الفعلية) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জার (جر) এর স্থলাভিষিক্ত।

অ-কর্তনকারী শর্তবাচক ক্রিয়াবিশেষণ 'ইযা' (إذا) তার পরবর্তী ক্রিয়াবাচক বাক্যের সাথে মুদাফ (مضاف) হওয়া অপরিহার্য এবং সেই বাক্যটি হলো শর্তের বাক্য (جملة الشرط)। যদি 'ইযা'-এর ঠিক পরেই কোনো বিশেষ্য (اسم) আসে, তবে আমরা সেই বিশেষ্যটিকে একটি আবশ্যিকভাবে উহ্য ক্রিয়ার (فعل محذوف وجوبا) কর্তা বা ফায়েল (فاعل) হিসেবে গণ্য করব, যা উক্ত বিশেষ্যের পরে উল্লিখিত ক্রিয়াটি দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। এর মাধ্যমে আমাদের কাছে 'ইযা'-এর পরে একটি ক্রিয়াবাচক বাক্য (جملة فعلية) তৈরি হয় যা উহ্য ক্রিয়া এবং উল্লিখিত ফায়েল দ্বারা গঠিত এবং এই বাক্যটি ইযাফাত-এর কারণে মাজরুর (مجرور) এর স্থলাভিষিক্ত হয়। যেমন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: "যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে..." [আল-ইনশিকাক ১/৮৪]।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "যখন সূর্য আলোহীন হয়ে পড়বে..." [আত-তাকওয়ীর ১/৮১]।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
إِذَا: اسم شرط غير جازم يستعمل لما يستقبل من الزمان وهو مضاف.

السَّماءُ: فاعل لفعل محذوف وجوبا يفسره المذكور والتقدير إذا أنشقت السماء أنشقت. والفعل المحذوف هو فعل

الشرط، والجملة الفعلية من الفعل المحذوف وفاعله (السماء) في محل جر مضاف إليه.

إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ …

إِذَا: اسم شرط غير جازم، يستعمل لما يستقبل من الزمان وهو مضاف.

الشَّمْسُ: نائب فاعل للفعل المحذوف وجوبا والمفسر بالفعل المذكور.

والتقدير: إذا كورت الشمس كورت. والفعل المحذوف هو فعل الشرط. الجملة الفعلية من الفعل المحذوف ونائب الفاعل في محل جر مضاف إليه.

المرفوع (الشمس) الذي جاء بعد إذا أعرب نائبا للفاعل لأن الفعل كورت مبني للمجهول.

3 - قد تخرج (إذا) عن معنى الشرطية، وأكثر ما يكون ذلك بعد القسم. وعند ذلك تتعلق بحال محذوفة من المقسم به، نحو.

قال تعالى: وَالضُّحى * وَاللَّيْلِ إِذا سَجى … [الضحى 1 - 2/ 93].

وَاللَّيْلِ إِذا يَغْشى وَالنَّهارِ إِذا تَجَلَّى [الليل 1/ 92].

وَاللَّيْلِ: الواو واو القسم، حرف جر، (الليل) مقسم به مجرور بواو القسم، والجار والمجرور متعلقان بفعل (أقسم) المحذوف.

إِذا: ظرف للزمان مبني على السكون في محل نصب، متعلق بحال محذوفه من الليل والتقدير: أقسم بالليل كائنا إذا
ইযা (إِذَا): এটি একটি শর্তবোধক অব্যয় যা জযম প্রদান করে না (اسم شرط غير جازم), এটি ভবিষ্যৎকাল বুঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি মুদাফ (مضاف) হিসেবে গণ্য।

আস-সামাউ (السَّماءُ): এটি একটি আবশ্যিকভাবে উহ্য (محذوف وجوبا) ক্রিয়ার ফায়েল বা কর্তা (فاعل), যা পরবর্তী উল্লিখিত ক্রিয়া দ্বারা ব্যাখ্যাত। এর মূল রূপ হলো: 'ইযা আনশাক্কাতিস সামাউ আনশাক্কাত'। আর উহ্য ক্রিয়াটি হলো

শর্তবাচক ক্রিয়া (فعل الشرط); আর সেই উহ্য ক্রিয়া ও তার ফায়েল (আস-সামাউ) মিলে গঠিত ক্রিয়াভিত্তিক বাক্যটি (الجملة الفعلية) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জার (جر) এর স্থানে অবস্থিত।

ইযা আশ-শামসু কুউয়িরাত (إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ) …

ইযা (إِذَا): এটি একটি শর্তবোধক অব্যয় যা জযম প্রদান করে না (اسم شرط غير جازم), যা ভবিষ্যৎকাল বুঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি মুদাফ (مضاف)।

আশ-শামসু (الشَّمْسُ): এটি একটি আবশ্যিকভাবে উহ্য এবং পরবর্তী ক্রিয়া দ্বারা ব্যাখ্যাকৃত ক্রিয়ার নায়েবে ফায়েল বা কর্মবাচ্যের কর্তা (نائب فاعل)।

এর উহ্য রূপ হলো: 'ইযা কুউয়িরাতিশ শামসু কুউয়িরাত'। আর উহ্য ক্রিয়াটি হলো শর্তবাচক ক্রিয়া (فعل الشرط)। উহ্য ক্রিয়া এবং নায়েবে ফায়েল মিলে গঠিত ক্রিয়াভিত্তিক বাক্যটি (الجملة الفعلية) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে জার (جر) এর স্থানে অবস্থিত।

মারফু বা পেশযুক্ত (مرفوع) শব্দ (আশ-শামসু) যা 'ইযা' এর পরে এসেছে, সেটিকে নায়েবে ফায়েল (نائب فاعل) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে; কারণ 'কুউয়িরাত' ক্রিয়াটি মাজহুল বা কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

৩ - কখনও কখনও 'ইযা' (إِذَا) তার শর্তবাচকতা (الشرطية) এর অর্থ থেকে বেরিয়ে যায়, যা সাধারণত শপথের (قسم) পরে বেশি ঘটে থাকে। তখন এটি শপথকৃত বিষয় (مقسم به) থেকে একটি উহ্য অবস্থা (حال) এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যেমন—

আল্লাহ তাআলা বলেন: "ওয়াদ-দুহা, ওয়াল-লাইলি ইযা সাজা..." [আদ-দুহা ৯৩:১-২]

"ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াগশা, ওয়ান-নাহারি ইযা তাজয়াল্লা।" [আল-লাইল ৯২:১]

ওয়াল-লাইলি (وَاللَّيْلِ): এখানে 'ওয়াও' হলো শপথের ওয়াও (واو القسم), যা একটি হরফে জার (حرف جر)। 'আল-লাইল' হলো শপথকৃত বিষয় (مقسم به) যা শপথের ওয়াও এর মাধ্যমে মাজরুর (مجرور)। এই জার ও মাজরুর (الجار والمجرور) একটি উহ্য ক্রিয়া 'আকসিমু' (أقسم) এর সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلقان)।

ইযা (إِذا): এটি একটি কালবাচক অব্যয় (ظرف للزمان) যা সুকুন দ্বারা অপরিবর্তনীয় (مبني على السكون) এবং নাসব (نصب) এর স্থানে অবস্থিত। এটি 'আল-লাইল' এর একটি উহ্য অবস্থা (حال) এর সাথে সংশ্লিষ্ট; এর পূর্ণ অর্থ হলো: "আমি রাতের শপথ করছি এমতাবস্থায় যখন এটি..."
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২০)
يغشى وأقسم بالليل كائنا إذا سجى … أي القسم بالليل في حالة كونه يغشى، وحالة كونه يسجو.

 

‌‌فائدة:

أفيدكم يا أخوتي فائدة … فكل ما بعد إذا زائدة

إذا ما صنعت الزاد فالتمسي له … اكيلا فإني لست آكله وحدي

إذا: اسم شرط غير جازم يستعمل لما يستقبل من الزمان، وهو مضاف الجملة الفعلية (صنعت الزاد) في محل جر مضاف إليه.

ما: زائدة لا محل لها من الإعراب.

 

‌‌تمرين

اعرب ما تحته خط.

قال تعالى: وَإِذا مَسَّ النَّاسَ ضُرٌّ دَعَوْا رَبَّهُمْ مُنِيبِينَ إِلَيْهِ ثُمَّ إِذا أَذاقَهُمْ مِنْهُ رَحْمَةً إِذا فَرِيقٌ مِنْهُمْ بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ [الروم 33 /

30].

فَإِذا أَصابَ بِهِ مَنْ يَشاءُ مِنْ عِبادِهِ إِذا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ [الروم 48/ 30].

وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ* وَإِذَا الْجِبالُ سُيِّرَتْ* وَإِذَا الْعِشارُ عُطِّلَتْ* وَإِذَا الْوُحُوشُ حُشِرَتْ* وَإِذَا الْبِحارُ سُجِّرَتْ … [التكوير: 2 - 6/ 81].

وَإِذا خاطَبَهُمُ الْجاهِلُونَ قالُوا سَلاماً [الفرقان 63/ 25].

وَإِذا كالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ [المطففين 3/ 83].

وَالْقَمَرِ إِذا تَلاها وَالنَّهارِ إِذا جَلَّاها [الشمس 2، 3/ 91].

قال الشاعر

إذا ما الملك سام الناس خسفا … أبينا أن نقر الذل فينا
আবৃত করে এবং আমি শপথ করছি রাত্রির যখন তা নিঝুম হয় … অর্থাৎ রাত্রির শপথ সেই অবস্থায় যখন তা আবৃত করে এবং সেই অবস্থায় যখন তা স্থির হয়।

 

‌‌জ্ঞাতব্য বিষয় (فائدة):

হে আমার ভ্রাতৃগণ, আমি আপনাদের একটি নিয়ম (فائدة) অবগত করছি … 'ইযা' (إذا) এর পরে যা কিছু আসে তা-ই অতিরিক্ত (زائدة)।

যখন তুমি পাথেয় প্রস্তুত করো, তখন তার জন্য একজন সহভোজী তালাশ করো, কারণ আমি একা আহার করি না।

ইযা (إذا): এটি একটি জজম প্রদান করে না এমন শর্তবাচক বিশেষ্য (اسم شرط غير جازم) যা ভবিষ্যৎ কালের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মুদাফ (مضاف); এবং ক্রিয়াবাচক বাক্যটি (صنعت الزاد) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে যার (جر) এর স্থলাভিষিক্ত।

মা (ما): অতিরিক্ত (زائدة), ব্যাকরণগত বিশ্লেষণে (إعراب) এর কোনো স্থান নেই।

 

‌‌অনুশীলন

নিম্নরেখ অংশগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب) করো।

মহান আল্লাহ বলেন: আর যখন মানুষকে কোনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তারা তাদের রবের অভিমুখী হয়ে তাঁকে ডাকে; অতঃপর যখন তিনি তাদের নিজের পক্ষ থেকে অনুগ্রহের স্বাদ আস্বাদন করান, তখন তাদের একদল তাদের রবের সাথে শিরক করতে লিপ্ত হয় [রুম ৩৩ / ৩০]।

অতঃপর যখন তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তা (বৃষ্টি) পৌঁছান, অমনি তারা আনন্দিত হয় [রুম ৪৮/ ৩০]।

যখন নক্ষত্ররাজি দীপ্তিহীন হবে, যখন পাহাড়সমূহ অপসারিত হবে, যখন পূর্ণগর্ভা উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে, যখন বন্য পশুরা একত্রিত হবে এবং যখন সমুদ্রসমূহকে উত্তাল করা হবে... [তাকভীর: ২ - ৬/ ৮১]।

এবং যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, 'সালাম' [ফুরকান ৬৩/ ২৫]।

এবং যখন তারা মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয়, তখন তারা লোকসান ঘটায় [মুতাফফিফীন ৩/ ৮৩]।

শপথ চাঁদের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে, এবং শপথ দিনের যখন তা সূর্যকে প্রকাশিত করে [শামস ২, ৩/ ৯১]।

কবি বলেন:

যখন কোনো রাজা মানুষের ওপর জুলুম-নিপীড়ন চালায়, তখন আমরা আমাদের মাঝে অপমানকে মেনে নিতে অস্বীকার করি।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌إذن

حرف جواب يأتي على وجهين:

أ- حرف جواب ناصب للفعل بعده، إذا توفرت الشروط التالية:

1 - أن يكون صدرا في الكلام 2 - أن يدل الفعل بعده على الاستقبال 3 - ألا يفصل بينه وبين الفعل المضارع بعده فاصل. فإذا قال أحدهم:

سأزورك، أجبته إذن اكرمك.

فدخول السين على الفعل أزورك يحوله إلى المستقبل وعند ما أجبته جعلت إذن في بداية جوابي، ولم يفصل بين إذن والفعل أكرمك فاصل.

إذن: حرف جواب ناصب.

أكرمك: أكرم فعل مضارع منصوب بإذن، علامة نصبه الفتحة، الفاعل ضمير مستتر تقديره أنا، الكاف ضمير مبني على الفتح في محل نصب مفعول به.

ب- حرف جواب لا عمل له.

إذا اختل أحد الشروط لعمل الحرف إذن، أصبح حرف جواب غير ناصب، وهذه الحالة هي أكثر في الاستعمال:

قال تعالى: أَمْ لَهُمْ نَصِيبٌ مِنَ الْمُلْكِ فإذن لا يُؤْتُونَ النَّاسَ نَقِيراً [النساء 53/ 4].

الفاء: حسب ما قبلها.

إذن حرف جواب لا عمل له.

وعن عائشة (رض)، دخل عليّ النبي صلى الله عليه وآله وسلم ذات يوم، فقال: هل عندكم شيء؟ قلنا لا. قال فإني إذن صائم وفي هذا الحديث دليل على مشروعية إنشاء نية الصيام بالنفل في النهار.

إذن: حرف جواب لا عمل له.
ইযান (إذن)

এটি একটি উত্তরসূচক অব্যয় (حرف جواب) যা দুইভাবে ব্যবহৃত হয়:

ক. এটি পরবর্তী ক্রিয়াকে নসব প্রদানকারী উত্তরসূচক অব্যয় (حرف جواب ناصب), যদি নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরণ হয়:

১ - এটি বাক্যের শুরুতে থাকতে হবে। ২ - পরবর্তী ক্রিয়াটি ভবিষ্যৎকাল (استقبال) অর্থ প্রদান করবে। ৩ - অব্যয়টি এবং পরবর্তী মুজারে ক্রিয়ার (فعل مضارع) মাঝে অন্য কোনো শব্দের ব্যবধান থাকবে না। যেমন, যদি কেউ বলে:

আমি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করব, উত্তরে আপনি বললেন: তাহলে (إذن) আমি আপনাকে সম্মান করব।

এখানে ক্রিয়াটির শুরুতে 'সিন' বর্ণটি যুক্ত হওয়ায় তা ভবিষ্যৎকালের অর্থ দিচ্ছে এবং উত্তর দেওয়ার সময় 'ইযান' (إذن) শব্দটিকে উত্তরের শুরুতে রাখা হয়েছে এবং 'ইযান' ও 'আকরামুকা' ক্রিয়ার মাঝে কোনো ব্যবধান নেই।

ইযান (إذن): নসব প্রদানকারী উত্তরসূচক অব্যয় (حرف جواب ناصب)।

আকরামুকা (أكرمك): 'আকরামা' হলো ইযান দ্বারা মানসুব (منصوب) হওয়া একটি মুজারে ক্রিয়া (فعل مضارع), এর নসবের চিহ্ন হলো ফাতহা (فتحة), এর কর্তা (فاعل) হলো উহ্য সর্বনাম (ضمير مستتر) 'আনা', আর 'কাফ' হলো ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি সর্বনাম যা মাফউলে বিহি (مفعول به) হিসেবে নসবের স্থানে (محل نصب) রয়েছে।

খ. আমলহীন বা প্রভাবহীন উত্তরসূচক অব্যয় (حرف جواب لا عمل له)।

যদি 'ইযান' (إذن) অব্যয়টির আমল করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলির কোনো একটির অভাব ঘটে, তবে সেটি আমলহীন বা নসব প্রদান করে না এমন উত্তরসূচক অব্যয়ে পরিণত হয় এবং এর ব্যবহারই অধিক লক্ষ্য করা যায়:

আল্লাহ তাআলা বলেন: তবে কি রাজত্বে তাদের কোনো অংশ আছে? যদি তাই হতো (فإذن), তবে তারা মানুষকে তিল পরিমাণও দিত না। [আন-নিসা ৫৩/ ৪]।

ফা (الفاء): পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের সাথে সংগতিপূর্ণ।

ইযান (إذن): আমলহীন উত্তরসূচক অব্যয় (حرف جواب لا عمل له)।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন নবী (সা.) আমার নিকট আসলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের নিকট কি কিছু আছে? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন: তাহলে (إذن) আমি রোজা পালনকারী। আর এই হাদিস দিনের বেলায় নফল (نفل) রোজার নিয়ত করার বৈধতার দলীল।

ইযান (إذن): আমলহীন উত্তরসূচক অব্যয় (حرف جواب لا عمل له)।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أف

اسم فعل مضارع بمعنى أتضجر، وفاعله محذوف تقديره أنا.

ق‌‌ال تعالى: فَلا تَقُلْ لَهُما أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُما وَقُلْ لَهُما قَوْلًا كَرِيماً ‌‌[الاسراء 23/ 17].

أُفٍّ: اسم فعل مضارع بمعنى أتضجر، فاعله ضمير مستتر تقديره أنا وجمله أف في محل نصب مقول القول.

(المفعول للفعل لا تقل).

 

أل

وترد أداة تعريف للاسم وتصبح جزءا منه، نحو: الكتاب.

وقد تأتي اسما موصولا بمعنى (الذي، التي …) وهذا قليل.

قال الشاعر

ما أنت بالحكم الترضى حكومته … ولا الاصيل ولا ذي الرأي والجدل

إل دخلت على الفعل المضارع المبني للمجهول (ترضى)، ومعنى إل ظاهر بيّن فالتقدير الذي ترض حكومته، لذا نقول: أل اسم موصول بمعنى الذي، والجملة الفعلية ترضى حكومته صلة الموصول لا محل لها من الاعراب.

 

ألا

(الاستفتاحية). حرف يستفتح به الكلام لجلب الانتباه (لغاية بلاغية) وليس لها عمل إعرابي فيما بعدها، نحو:

قال تعالى: أَلا إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لا يَعْلَمُونَ [يونس 55/ 10].

أَلا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهاءُ وَلكِنْ لا يَعْلَمُونَ [البقرة 13/ 2].

أَلا: استفتاحية لا محل لها من الاعراب.
‌উফ (أف)

এটি একটি বর্তমানকালীন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (اسم فعل مضارع), যার অর্থ হলো ‘আমি বিরক্ত বোধ করছি’। এর কর্তা (فاعل) উহ্য রয়েছে, যা ‘আমি’ (أنا) হিসেবে অনুমিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “সুতরাং তাদের প্রতি ‘উফ’ (أف) বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।” [আল-ইসরা ১৭/২৩]।

উফ (أُفٍّ): এটি একটি বর্তমানকালীন ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (اسم فعل مضارع), যার অর্থ হলো ‘আমি বিরক্ত বোধ করছি’। এর কর্তা (فاعل) হলো একটি উহ্য সর্বনাম (ضمير مستتر), যা ‘আমি’ (أنا) হিসেবে অনুমিত। ‘উফ’ (أف) সংবলিত বাক্যটি উক্তি (مقول القول) হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত (في محل نصب)।

(এটি ‘লা তাকুল’ ক্রিয়ার কর্মপদ (المفعول) হিসেবে গণ্য)।

 

আল (أل)

এটি বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্টকারক অব্যয় (أداة تعريف) হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শব্দের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। যেমন: আল-কিতাব (الكتاب)।

কখনো এটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسم موصول) হিসেবে ‘যে’, ‘যিনি’ (الذي، التي …) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে এর প্রয়োগ খুবই কম।

কবি বলেছেন:

তুমি সেই বিচারক নও যার ফয়সালা পছন্দ করা হয় … আর তুমি কুলীন নও এবং তুমি প্রজ্ঞা ও বিতর্কের অধিকারীও নও।

এখানে ‘আল’ (أل) শব্দটি কর্মবাচ্যের বর্তমানকালীন ক্রিয়ার (الفعل المضارع المبني للمجهول) (তর্দা - ترضى) এর ওপর যুক্ত হয়েছে। এখানে ‘আল’-এর অর্থ অত্যন্ত সুস্পষ্ট; এর অনুমিত রূপ হলো ‘যাহার ফয়সালা পছন্দ করা হয়’ (الذي ترضى حكومته)। তাই আমরা বলতে পারি: ‘আল’ (أل) হলো একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسم موصول) যা ‘আল্লাজি’ (الذي) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ‘তর্দা হুকুমাতিহি’ (ترضى حكومته) নামক ক্রিয়াভিত্তিক বাক্যটি হলো সম্বন্ধসূচক বাক্যাংশ (صلة الموصول), যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (لا محل لها من الاعراب) নেই।

 

আলা (ألا)

(প্রারম্ভিক অব্যয় - الاستفتاحية)। এটি এমন একটি বর্ণ (حرف) যা মনোযোগ আকর্ষণের জন্য (অলঙ্কারশাস্ত্রীয় উদ্দেশ্যে - لغاية بلاغية) বাক্যের শুরুতে ব্যবহৃত হয়। এর পরবর্তী শব্দগুলোর ওপর এর কোনো ব্যাকরণিক প্রভাব (عمل إعرابي) নেই। যেমন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: “জেনে রেখো (ألا), আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।” [ইউনুস ১০/৫৫]।

“জেনে রেখো (ألا), তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা জানে না।” [আল-বাকারা ২/১৩]।

আলা (أَلا): এটি একটি প্রারম্ভিক অব্যয় (استفتاحية), ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে যার কোনো অবস্থান (لا محل لها من الاعراب) নেই।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ملاحظة:

من مواضع كسر همزة إن، وقوعها بعد الا الاستفتاحية وكأنها وقعت في بداية الكلام، لأن ألا لا تفيد إلا الاستفتاح.

ألا (الاستفهامية).

أ- تتكون من همزة الاستفهام و (لا) النافية للجنس وتدخل عندئذ على جملة اسمية، والسياق يحدد نوع (ألا).

ألا اصطبار لسلمى أم لها جلد … إذا ألاقي الذي لاقاه أمثالي

والمعنى أليس لسلمى اصطبار.

فالهمزة للاستفهام، لا نافية للجنس، اصطبار اسم لا النافية للجنس مبني على الفتح في محل نصب.

وتستعمل (ألا) هذه في ثلاثة معان هي:

1 - الاستفهام عن النفي كما ورد في الشاهد أعلاه.

2 - التعبير عن التمني كقول الشاعر:

ألا عمر ولى مستطاع رجوعه … فيرأب ما أثأت يد الغفلات

3 - التوبيخ والانكار كقول الشاعر:

ألا ارعواء لمن ولت شبيبته … وآذنت بمشيب بعده هرم

ب- وقد تتكون من همزة الاستفهام و (لا) النافية، وتدخل في هذه الحالة على الجملة الفعلية لا الاسمية، ومعناها (ألا) العرض والتحضيض، نحو:

قال تعالى: أَلا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ [النور 22/ 24].

أَلا: حرف عرض، أو الهمزة للاستفهام ولا حرف نفي.

تحبون: فعل مضارع مرفوع لتجرده عن الناصب والجازم وعلامة
দ্রষ্টব্য:

‘ইন্না (إنَّ)’ এর হামযাহ-তে কাসরা হওয়ার একটি ক্ষেত্র হলো এটি প্রারম্ভিক (الاستفتاحية) ‘আলা’ এর পরে আসা; যেন এটি বাক্যের শুরুতেই অবস্থিত হয়েছে, কারণ ‘আলা’ কেবল প্রারম্ভিক অর্থই (الاستفتاح) প্রদান করে।

আলা (প্রশ্নবোধক/الاستفهامية)।

ক- এটি প্রশ্নবোধক হামযাহ এবং জাতিবাচক না-বোধক (النافية للجنس) ‘লা’ এর সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং এমতাবস্থায় এটি নামবাচক বাক্যের শুরুতে প্রবেশ করে; প্রসঙ্গের মাধ্যমেই ‘আলা’ এর ধরণ নির্ধারিত হয়।

সালমার কি কোনো ধৈর্য নেই, নাকি তার সহনশীলতা আছে... যখন আমি আমার মতো ব্যক্তিদের পরিস্থিতির সম্মুখীন হই।

এর অর্থ হলো: সালামার কি কোনো ধৈর্য নেই?

এখানে হামযাহ প্রশ্নবোধক, ‘লা’ হলো জাতিবাচক না-বোধক (النافية للجنس), ‘ইসতিবারা’ হলো জাতিবাচক না-বোধক ‘লা’ এর বিশেষ্য যা ফাতাহ যুক্ত হয়ে নসব এর স্থলে অবস্থিত।

এই ‘আলা’ তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

১ - না-বোধক বিষয়ে প্রশ্ন করা, যেমনটি উপরের প্রমাণে বর্ণিত হয়েছে।

২ - আকাঙ্ক্ষা (تمني) প্রকাশ করা, যেমন কবির উক্তি:

হায়! অতিবাহিত জীবন যদি ফিরে পাওয়া সম্ভব হতো... তবে অসতর্কতার হাত যা নষ্ট করেছে তা সংশোধন করা যেত।

৩ - তিরস্কার (توبيخ) এবং অস্বীকৃতি (إنكار) জ্ঞাপন করা, যেমন কবির উক্তি:

যার যৌবন বিদায় নিয়েছে তার কি কোনো নিবৃত্তি নেই... যে বার্ধক্যের বার্তা দিয়েছে যার পরবর্তী অবস্থা হলো জরা।

খ- কখনো এটি প্রশ্নবোধক হামযাহ এবং না-বোধক (النافية) ‘লা’ এর সমন্বয়ে গঠিত হয়। এমতাবস্থায় এটি নামবাচক বাক্যের পরিবর্তে ক্রিয়াবাচক বাক্যের শুরুতে প্রবেশ করে এবং এর অর্থ হয় প্রস্তাব (عرض) ও উদ্বুদ্ধকরণ (تحضيض), যেমন:

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "তোমরা কি পছন্দ করো না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন? আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" [আন-নূর ২২/২৪]।

আলা: প্রস্তাবসূচক (عرض) অব্যয়, অথবা হামযাহ প্রশ্নবোধক এবং ‘লা’ না-বোধক অব্যয়।

তুহিব্বুনা: এটি একটি মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) ক্রিয়া যা নসব ও জযম প্রদানকারী আমেল থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে রফ’ (مرفوع) অবস্থায় রয়েছে এবং এর চিহ্ন হলো...
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
رفعه ثبوت النون لأنه من الأفعال الخمسة. واو الجماعة في محل رفع فاعل.

 

‌‌ألّا المركبة من أن المصدرية الناصبة ولا النافية:

قال تعالى: وَأَدْعُوا رَبِّي عَسى أَلَّا أَكُونَ بِدُعاءِ رَبِّي شَقِيًّا [مريم 48/ 19].

عسى: من أخوات إن، حرف يفيد الرجاء.

ألا: أن مصدرية ناصبة، لا نافية.

أكون: فعل مضارع منصوب بأن المصدرية وهو فعل ناقص، اسمه ضمير مستتر تقديره أنا.

بدعاء: الباء حرف جر، دعاء اسم مجرور علامة جره الكسرة، وهو مضاف إلى رب، رب مضاف إليه مجرور، ورب مضاف إلى ياء المتكلم والياء ضمير مبني في محل جر مضاف إليه.

شقيا: خبر الفعل الناقص (أكون) منصوب علامة نصبه الفتحة وأن والفعل (ألا أكون) في تأويل مصدر تقديره عدم كوني شقيا في محل رفع فاعل للفعل التام (عسى).

 

‌‌ألّا المركبة من أن التفسيرية أو المخففة ولا الناهية

قال تعالى: إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ* أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأْتُونِي مُسْلِمِينَ [النمل 30 - 31/ 27].

أَلَّا: أن تفسيرية أو مخففة، لا ناهية جازمة.

تَعْلُوا: فعل مضارع مجزوم بلا الناهية علامة جزمه حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة، واو الجماعة في محل رفع فاعل.
এর রাফা (رفع) হচ্ছে নুন (النون) বহাল থাকার মাধ্যমে, কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ার (الأفعাল الخمسة) অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও আল-জামাআহ (واو الجماعة) এখানে ফায়েল (فاعل) হিসেবে রাফা-র স্থলে (في محل رفع) রয়েছে।

 

‌‌'আল্লা' (ألّا) যা নাসব প্রদানকারী মাসদারিয়া 'আন' (أن المصدرية الناصبة) এবং না-বোধক 'লা' (لا النافية) এর সমন্বয়ে গঠিত:

আল্লাহ তায়ালা বলেন: "আমি আমার রবের কাছে প্রার্থনা করি; আশা করি আমার রবের নিকট প্রার্থনা করে আমি বঞ্চিত হব না।" [মারইয়াম ১৯/৪৮]

عسى (আসা): এটি 'ইন্না' (إن) এর সমগোত্রীয় শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত, যা একটি আশাবাচক অব্যয়।

ألا (আল্লা): 'আন' (أن) হচ্ছে নাসব প্রদানকারী মাসদারিয়া (مصدرية ناصبة), এবং 'লা' (لا) হচ্ছে না-বোধক (نافية)।

أكون (আকুনা): এটি মাসদারিয়া 'আন' এর কারণে মানসুব (منصوب) মুজারে ক্রিয়া এবং এটি একটি অসম্পূর্ণ ক্রিয়া (فعل ناقص)। এর ইসিম (اسم) হচ্ছে একটি উহ্য সর্বনাম যার প্রচ্ছন্ন রূপ হলো 'আনা' (আমি)।

بدعاء (বিদূআ-ই): 'বা' (الباء) হলো হরফে জর (حرف جر), 'দুআ' (دعاء) হলো মাজরুর (اسم مجরুর) যার জরের আলামত হলো কাসরা (জের)। এটি 'রব' (رب) শব্দের দিকে মুদাফ (مضاف) হয়েছে, আর 'রব' হলো মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) যা মাজরুর (مجرور) অবস্থায় আছে। আবার 'রব' শব্দটি মুতাকাল্লিমের 'ইয়া' (ياء المتكلم) এর দিকে মুদাফ হয়েছে এবং 'ইয়া' সর্বনামটি জরের স্থানে (في محل جر) মুদাফ ইলাইহি হিসেবে মাবনি (مبني)।

شقيا (শাক্বিয়্যান): এটি অসম্পূর্ণ ক্রিয়া (أكون)-এর খবর (خبر) হিসেবে মানসুব (منصوب), যার নাসবের আলামত হলো ফাতহা। 'আন' (أن) এবং ক্রিয়া (ألا أكون) মিলে এমন একটি মাসদারের (مصدر) ব্যাখ্যা প্রদান করছে যার অর্থ হলো 'আমার বঞ্চিত না হওয়া', যা পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়া (عسى)-এর ফায়েল (فاعل) হিসেবে মারফু (مرفوع) অবস্থায় আছে।

 

‌‌'আল্লা' (ألّا) যা তাফসিরিয়া (تفسيرية) অথবা মুখাফফাফাহ (مخففة) 'আন' এবং নিষেধজ্ঞাপক 'লা' (لا الناهية) এর সমন্বয়ে গঠিত:

আল্লাহ তায়ালা বলেন: "নিশ্চয় এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং এটি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (তা এই যে,) তোমরা আমার বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করো না এবং অনুগত হয়ে আমার কাছে উপস্থিত হও।" [আন-নামল ২৭/৩০-৩১]

أَلَّا (আল্লা): 'আন' (أن) এখানে তাফসিরিয়া (تفسيرية) অথবা মুখাফফাফাহ (مخففة), এবং 'লা' (لا) হলো জজম প্রদানকারী নিষেধজ্ঞাপক (ناهية جازمة)।

تَعْلُوا (তা'লু): এটি নিষেধজ্ঞাপক 'লা' এর কারণে মাজজুম (مجزوم) মুজারে ক্রিয়া, যার জজমের আলামত হলো নুন (النون) বিলুপ্ত হওয়া; কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ার (الأفعال الخمسة) অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও আল-জামাআহ (واو الجماعة) ফায়েল (فاعل) হিসেবে মারফু (مرفوع) অবস্থায় আছে।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌إلّا

حرف ينصب المستثنى بعده إن كان الكلام قبل (إلّا) تاما مثبتا.

والمقصود بالتام أن المستثنى منه مذكور.

قال تعالى: فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عاماً [العنكبوت 14/ 29].

إِلَّا: اداة استثناء، خمسين مستثنى منصوب علامة نصبه الياء لأنه ملحق بجمع المذكر السالم.

 

والمستثنى اسم يقع بعد إلا يخالف المستثنى منه (هو الشيء العام الذي يذكر قبل الا) في الحكم. فقد أخرجنا خمسين عاما من حكم الألف في اللبث (البقاء).

قال تعالى: وَالشُّعَراءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغاوُونَ* أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِي كُلِّ وادٍ يَهِيمُونَ* وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ ما لا يَفْعَلُونَ* إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ وَذَكَرُوا اللَّهَ كَثِيراً وَانْتَصَرُوا مِنْ بَعْدِ ما ظُلِمُوا … [الشعراء 224 - 227/ 26].

إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا … إلا اداة استثناء.

الذين: اسم موصول مبني على الفتح في محل نصب مستثنى وهذا المستثنى (الَّذِينَ آمَنُوا …) يخالف المستثنى منه (الشُّعَراءُ) في حكم اتباع الغاوين لهم.

قال تعالى: فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضاعُوا الصَّلاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَواتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا إِلَّا مَنْ تابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صالِحاً فَأُولئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلا يُظْلَمُونَ شَيْئاً [مريم 60/ 19].

إلا من تاب: إلا اداة استثناء.

من: اسم موصول بمعنى الذي مبني على السكون في محل نصب مستثنى.

قال تعالى: وَالْعَصْرِ* إِنَّ الْإِنْسانَ لَفِي خُسْرٍ* إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا
‌‌ইল্লা

এটি এমন একটি অব্যয় যা তার পরবর্তী মুস্তাসনা (ব্যতিক্রমকৃত বিশেষ্য)-কে নসব (জবরযুক্ত অবস্থা) প্রদান করে, যদি ‘ইল্লা’-এর পূর্ববর্তী বক্তব্যটি পূর্ণাঙ্গ এবং ইতিবাচক হয়।

পূর্ণাঙ্গ বলতে বোঝায় যে, মুস্তাসনা মিনহু (যার থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে) বাক্যে উল্লিখিত আছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “অতঃপর তিনি তাদের মাঝে নয়শত পঞ্চাশ বছর (অর্থাৎ এক হাজার বছর হতে পঞ্চাশ বছর কম) অবস্থান করলেন।” [আল-আনকাবুত ১৪/২৯]।

ইল্লা: ব্যতিক্রমবোধক অব্যয়, খামসিনা: নসবযুক্ত মুস্তাসনা, এর নসবের চিহ্ন হলো ‘ইয়া’, কারণ এটি জামা মুযাক্কার সালিম-এর অনুগামী।

 

মুস্তাসনা হলো এমন একটি বিশেষ্য যা ‘ইল্লা’-এর পরে আসে এবং বিধানের ক্ষেত্রে মুস্তাসনা মিনহু-এর (যা ‘ইল্লা’-এর পূর্বে উল্লিখিত সাধারণ বিষয়) বিপরীত হয়। এখানে আমরা পঞ্চাশ বছরকে এক হাজার বছরের অবস্থানের (বقاء) বিধান থেকে বের করে দিয়েছি।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর কবিদের অনুসরণ করে বিভ্রান্তরা। আপনি কি দেখেন না যে, তারা প্রতিটি প্রান্তরে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায়? এবং তারা এমন কথা বলে যা তারা করে না। তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, আল্লাহকে অধিক স্মরণ করেছে এবং নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে...” [আশ-শুআরা ২২৪-২২৭/২৬]।

ইল্লাল্লাযিনা আমানু... এখানে ‘ইল্লা’ হলো ব্যতিক্রমবোধক অব্যয়।

আল্লাযিনা: এটি একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য যা ফাতাহ-র ওপর ভিত্তি করে নসবের স্থলে মুস্তাসনা হিসেবে রয়েছে। আর এই মুস্তাসনা (যারা ঈমান এনেছে...) তাদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তদের অনুসরণের বিধানটি মুস্তাসনা মিনহু (কবিগণ)-এর বিধানের বিপরীত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আগমন ঘটল যারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুগামী হলো; সুতরাং তারা শীঘ্রই ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তবে তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্যতম জুলুম করা হবে না।” [মারইয়াম ৬০/১৯]।

ইল্লা মান তাবা: এখানে ‘ইল্লা’ হলো ব্যতিক্রমবোধক অব্যয়।

মান: এটি ‘আল্লাযি’ (যে)-এর অর্থে ব্যবহৃত একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য, যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে নসবের স্থলে মুস্তাসনা হিসেবে রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে...”
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ وَتَواصَوْا بِالْحَقِّ وَتَواصَوْا بِالصَّبْرِ [العصر 1 - 3/ 103].

وَأُوحِيَ إِلى نُوحٍ أَنَّهُ لَنْ يُؤْمِنَ مِنْ قَوْمِكَ إِلَّا مَنْ قَدْ آمَنَ [هود 36/ 11].

فَنَجَّيْناهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ إِلَّا عَجُوزاً فِي الْغابِرِينَ [الشعراء 171/ 26].

ثُمَّ قُلْنا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ [الاعراف 11/ 7].

وتكون [إلا] أداة استثناء لا عمل لها وقد تسمى أداة حصر في حالتين: أ- إذا كان الكلام قبلها منفيا والمستثنى منه مذكورا واعتبرنا الاسم بعد إلا بدلا من المستثنى منه، نحو:

قال الشاعر:

مالي إليك وسيلة إلا الرجا … وجميل عفوك ثم أني مسلم

ما أرى الفضل والتكرم إلا … كفك النفس عن طلاب الفضول

إلا الرجا: (الا) اداة استثناء لا عمل لها.

الرجا: بدل من كلمة (وسيلة) والبدل يتبع المبدل عنه. الرجا اسم بدل مرفوع علامة رفعه الضمة المقدرة على الألف منع من ظهورها التعذر.

إلا كفك: إلا اداة استثناء لا عمل لها.

كفك: بدل من الفضل هذه الكلمة التي وقعت مفعولا به للفعل أرى فلذا نصبت، والبدل يتبع المبدل منه. كف بدل من كلمة الفضل.

ب- وتسمى اداة حصر إذا كان الكلام قبلها منفيا والمستثنى منه غير مذكور. نحو:

قال تعالى: وَما يُلَقَّاها إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَما يُلَقَّاها إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ [فصلت 35/ 41].

وَما مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ [آل عمران 144/ 3].

قالُوا إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنا … [إبراهيم 10/ 14].

ما هذا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُرِيدُ أَنْ يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ [المؤمنون 24/ 23].
এবং তারা সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয় [আল-আসর ১ - ৩/ ১০৩]।

এবং নুহ-এর প্রতি ওহী অবতীর্ণ করা হলো যে, যারা ইতিমধ্যে ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আপনার সম্প্রদায়ের অন্য কেউ কখনও ঈমান আনবে না [হুদ ৩৬/ ১১]।

অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারের সকলকে রক্ষা করলাম, কেবল এক বৃদ্ধা ছাড়া যে পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল [আশ-শুআরা ১৭১/ ২৬]।

অতঃপর আমি ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সেজদা করো; তখন ইবলিস ছাড়া তারা সবাই সেজদা করল [আল-আরাফ ১১/ ৭]।

এবং [ইল্লা] একটি ব্যতিরেকী অব্যয় হতে পারে যার কোনো কার্যকারিতা নেই এবং একে দুটি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধকারী অব্যয় বলা হয়: ক- যদি তার পূর্ববর্তী বাক্যটি না-বোধক হয় এবং মুস্তাসনা মিনহু (যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে) উল্লিখিত থাকে এবং আমরা ‘ইল্লা’-র পরের বিশেষ্যটিকে মুস্তাসনা মিনহু-এর বদল (পরিবর্ত) হিসেবে গণ্য করি, যেমন:

কবি বলেছেন:

আপনার নিকট আমার কোনো অবলম্বন নেই আশা ব্যতীত … এবং আপনার সুন্দর ক্ষমা, আর নিশ্চয়ই আমি একজন মুসলিম

আমি শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব দেখি না কেবল … অনর্থক বস্তুর অন্বেষণ থেকে তোমার প্রবৃত্তিকে নিবৃত্ত রাখা ব্যতীত

আশা ব্যতীত (ইল্লা আর-রাজা): (ইল্লা) একটি ব্যতিরেকী অব্যয় যার কোনো কার্যকারিতা নেই।

আশা (আর-রাজা): এটি ‘অবলম্বন’ (ওয়াসিলাহ) শব্দের বদল এবং বদল তার পূর্ববর্তী পদের অনুসারী হয়। ‘আশা’ শব্দটি রফ (পেশ) যুক্ত একটি বদল, এর রফ-এর চিহ্ন হলো আলিফের ওপর উহ্য থাকা দম্মা, যা উচ্চারণ দুঃসাধ্য হওয়ার কারণে অপ্রকাশিত রয়েছে।

তোমার নিবৃত্ত রাখা ব্যতীত (ইল্লা কাফফাকা): ‘ইল্লা’ একটি ব্যতিরেকী অব্যয় যার কোনো কার্যকারিতা নেই।

তোমার নিবৃত্ত রাখা (কাফফাকা): এটি ‘আল-ফাদল’ শব্দের বদল; এই শব্দটি ‘আরা’ ক্রিয়ার কর্ম (মাফউল বিহি) হওয়ার কারণে নসব (যবর) যুক্ত হয়েছিল, তাই বদলটিও নসব হয়েছে, যেহেতু বদল তার পূর্ববর্তী পদের অনুসারী হয়। ‘কাফ’ শব্দটি ‘আল-ফাদল’ শব্দের বদল।

খ- এবং একে সীমাবদ্ধকারী অব্যয় বলা হয় যদি তার পূর্ববর্তী বাক্যটি না-বোধক হয় এবং মুস্তাসনা মিনহু (যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে) উল্লিখিত না থাকে। যেমন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: আর ধৈর্যশীলরা ব্যতীত কেউ তা প্রাপ্ত হয় না এবং মহা ভাগ্যবান ব্যতীত কেউ তা লাভ করে না [ফুসসিলাত ৩৫/ ৪১]।

আর মুহাম্মদ একজন রাসুল ছাড়া আর কিছু নন, যাঁর আগে বহু রাসুল অতিবাহিত হয়েছেন [আল-ইমরান ১৪৪/ ৩]।

তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর কিছু নও … [ইবরাহিম ১০/ ১৪]।

এ তো তোমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়, যে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায় [আল-মুমিনুন ২৪/ ২৩]।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
فالكلام قبل إلا منفي والمستثنى منه غير مذكور وتقديره كما يلي: ما يُلَقَّاها إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا … التقدير ما يلقاها أحد إلا من الذين …

إن أنتم إلا بشر ما أنتم شيئا يختلف وإنما بشر ما هذا إلا بشر ما هذا بكائن يختلف وإنما هو بشر.

وتعرب [إلّا] أداة حصر لا محل لها من الإعراب- ويعرب الاسم بعدها حسب موقعه من الجملة متخيلين عدم النفي وإلا، فلو قلنا: محمد رسول، محمد مبتدأ، رسول خبر. ولو قلنا: أنتم بشر أنتم مبتدأ وبشر خبر وهكذا في الأمثلة الأخرى، فلو قلنا:

ما حضر إلا الراغبون. وتخيّلنا حذف النفي وإلا، وصارت الجملة حضر الراغبون: حضر فعل ماض، الراغبون فاعل مرفوع، ولو قلنا ما حفظت إلا حديثين في الاسبوع الماضي.

حديثين مفعول به منصوب علامة نصبه الياء لأنه مثنى، لأننا لو حذفنا إلا والنفي، لصارت الجملة حفظت حديثين.

إلا المركبة من إن الشرطية المدغمة بلا النافية.

قال تعالى: إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ [التوبة 40/ 9].

إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسادٌ كَبِيرٌ [الانفال 73/ 8].

إِلَّا تَنْصُرُوهُ: إن حرف شرط جازم لفعلين، لا نافية.

تَنْصُرُوهُ: فعل الشرط وهو فعل مضارع مجزوم علامة جزمه حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة. الواو ضمير مبني في محل رفع فاعل، الهاء ضمير مبني على الضم في محل نصب مفعول به.

إِلَّا تَفْعَلُوهُ: إن حرف شرط جازم لفعلين، لا نافية.

تَفْعَلُوهُ: فعل مضارع مجزوم بأن علامة جزمه حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة وهو فعل الشرط. واو الجماعة في محل
সুতরাং 'ইলা' এর পূর্ববর্তী বক্তব্যটি না-বোধক এবং 'মুসতাসনা মিনহু' (যার থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে) উল্লিখিত নেই। এর অনুমিত রূপ নিম্নরূপ: "ধৈর্যশীলগণ ব্যতীত অন্য কেউ তা প্রাপ্ত হয় না..." … অনুমিত বাক্যটি হলো: "ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ তা প্রাপ্ত হয় না..." …

"তোমরা তো কেবল মানুষ" অর্থাৎ তোমরা মানুষ ব্যতীত অন্য কিছু নও বরং কেবল মানুষ; "এ তো কেবল একজন মানুষ" অর্থাৎ এটি ভিন্ন কোনো সত্তা নয় বরং কেবল একজন মানুষ।

এবং [ইলা] কে সীমাবদ্ধকরণ অব্যয় হিসেবে গণ্য করা হয় যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান নেই। এর পরবর্তী বিশেষ্যটি বাক্যে তার অবস্থান অনুযায়ী বিভক্তি বা ই'রাব প্রাপ্ত হয়, যেন সেখানে না-বোধক অব্যয় এবং 'ইলা' নেই। সুতরাং, আমরা যদি বলি: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল", তবে 'মুহাম্মদ' হবে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং 'রাসূল' হবে খবর (বিধেয়)। যদি আমরা বলি: "তোমরা মানুষ", তবে 'তোমরা' মুবতাদা এবং 'মানুষ' খবর হবে। অন্যান্য উদাহরণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। যেমন আমরা যদি বলি:

"আগ্রহীগণ ব্যতীত কেউ উপস্থিত হয়নি।" এখানে যদি আমরা না-বোধক অব্যয় এবং 'ইলা' বাদ দেওয়ার কথা কল্পনা করি, তবে বাক্যটি হয় "আগ্রহীগণ উপস্থিত হয়েছে": এখানে 'উপস্থিত হয়েছে' হলো অতীতকালীন ক্রিয়া, 'আগ্রহীগণ' হলো পেশযুক্ত বা মারফু অবস্থায় থাকা কর্তা। আর যদি আমরা বলি "গত সপ্তাহে আমি মাত্র দুটি হাদিস মুখস্থ করেছি।"

"দুটি হাদিস" শব্দটি এখানে জবরযুক্ত বা মানসুব অবস্থায় থাকা কর্মকারক, এর নসবের চিহ্ন হলো 'ইয়া', কারণ এটি দ্বিবচন। কেননা আমরা যদি 'ইলা' এবং না-বোধক অব্যয়টি বাদ দেই, তবে বাক্যটি হবে "আমি দুটি হাদিস মুখস্থ করেছি"।

'ইলা' শব্দটি শর্তবাচক 'ইন' এবং না-বোধক 'লা' এর সমন্বয়ে গঠিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "যদি তোমরা তাকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন।" [আত-তাওবাহ ৪০/৯]।

"যদি তোমরা তা না করো, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।" [আল-আনফাল ৭৩/৮]।

"যদি তোমরা তাকে সাহায্য না করো": এখানে 'ইন' হলো শর্তবাচক অব্যয় যা দুটি ক্রিয়াকে জযম প্রদান করে, আর 'লা' হলো না-বোধক অব্যয়।

'তানসুরুহু': এটি শর্তের ক্রিয়া যা জযমপ্রাপ্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, এর জযমের চিহ্ন হলো 'নূন' বিলুপ্ত হওয়া, কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়াপদের অন্তর্ভুক্ত। এখানে 'ওয়াও' হলো একটি সর্বনাম যা কর্তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে রাফা বা পেশের স্থানে রয়েছে, এবং 'হা' হলো পেশযুক্ত একটি সর্বনাম যা কর্মের স্থলাভিষিক্ত হয়ে নসব বা জবরের স্থানে রয়েছে।

"যদি তোমরা তা না করো": এখানে 'ইন' হলো শর্তবাচক অব্যয় যা দুটি ক্রিয়াকে জযম প্রদান করে, আর 'লা' হলো না-বোধক অব্যয়।

'তাফআলুহু': এটি 'ইন' দ্বারা জযমপ্রাপ্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, এর জযমের চিহ্ন হলো 'নূন' বিলুপ্ত হওয়া কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়াপদের অন্তর্ভুক্ত এবং এটিই হলো শর্তের ক্রিয়া। এখানে 'ওয়াও আল-জামাআহ' রাফা বা কর্তার স্থানে...
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
رفع فاعل. الهاء ضمير متصل مبني على الضم في محل نصب مفعول به.

 

‌‌أم

حرف عطف، وهي نوعان:

 

‌‌[انواع ام]

‌‌أ- متصلة إن سبقت بهمزة الاستفهام، أو بهمزة التسوية.

قال تعالى: وَسَواءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لا يُؤْمِنُونَ [يس 10/ 36].

سَواءٌ عَلَيْنا أَجَزِعْنا أَمْ صَبَرْنا ما لَنا مِنْ مَحِيصٍ [إبراهيم 21/ 14].

قالُوا سَواءٌ عَلَيْنا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُنْ مِنَ الْواعِظِينَ [الشعراء 136/ 26].

سَواءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ [المنافقون 6/ 63].

(أم) في الآيات الكريمة مسبوقة بجمل فعلية، فعلها مسبوق بهمزة (أأنذرتهم، أجزعنا، أوعظت، استغفرت) وهذه الجمل مسبوقة بكلمة سواء، لذا تسمى هذه الهمزة بهمزة التسوية لذا نقول إن أم هنا مسبوقة بهمزة التسوية ويكون الإعراب:

سَواءٌ: خير مقدم مرفوع علامة رفعه الضمة.

عَلَيْنا: جار ومجرور متعلقان ب (سَواءٌ).

أَأَنْذَرْتَهُمْ: الهمزة همزة التسوية، أنذرتهم: أنذر فعل ماض مبني على السكون لاتصاله بناء الفاعل، والتاء ضمير متصل مبني على الفتح في محل رفع فاعل، الهاء ضمير مبني في محل نصب مفعول به، والميم علامة الجمع. والجملة بتأويل مصدر تقديره إنذارهم في محل رفع مبتدأ مؤخر.
কর্তা (فاعل) হিসেবে রাফা (رفع) হয়েছে। 'হা' (الهاء) হলো একটি সংলগ্ন সর্বনাম (ضمير متصل) যা দম্মাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং কর্ম (مفعول به) হিসেবে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে।

 

‌‌আম (أم)

এটি একটি সংযোজক অব্যয় (حرف عطف), এবং এটি দুই প্রকার:

 

‌‌[আম (أم)-এর প্রকারভেদ]

‌‌ক- সংযুক্ত (متصلة), যদি এটি প্রশ্নবোধক হামযা (همزة الاستفهام) অথবা সমতাসূচক হামযা (همزة التسوية)-এর পরে আসে.

আল্লাহ তাআলা বলেন: তাদের জন্য সমান যে, আপনি তাদের সতর্ক করুন কিংবা না করুন, তারা ঈমান আনবে না [ইয়াসিন ১০/ ৩৬]।

আমাদের জন্য সমান যে, আমরা অস্থিরতা প্রকাশ করি কিংবা ধৈর্য ধারণ করি, আমাদের পালানোর কোনো পথ নেই [ইব্রাহিম ২১/ ১৪]।

তারা বলল: আমাদের জন্য সমান যে, আপনি উপদেশ দিন কিংবা আপনি উপদেশদাতাদের অন্তর্ভুক্ত না হোন [আশ-শুআরা ১৩৬/ ২৬]।

তাদের জন্য সমান যে, আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন কিংবা না করুন, আল্লাহ তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না [আল-মুনাফিকুন ৬/ ৬৩]।

পবিত্র আয়াতগুলোতে 'আম' (أم) শব্দটির পূর্বে ক্রিয়ামূলক বাক্য (جملة فعلية) রয়েছে, যার ক্রিয়াগুলোর শুরুতে হামযা (আ-আনযারতাহুম, আ-জারি’না, আ-ওয়া’আযতা, আসতাগফারতা) রয়েছে। এই বাক্যগুলোর পূর্বে 'সাওয়াউন' (سواء) শব্দ রয়েছে, তাই এই হামযাকে সমতাসূচক হামযা (همزة التسوية) বলা হয়। এজন্য আমরা বলি যে, এখানে 'আম' (أم) শব্দটি সমতাসূচক হামযা (همزة التسوية)-এর পরে এসেছে এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) হলো:

সাওয়াউন (سواء): অগ্রবর্তী বিধেয় (خبر مقدم), যা মারফু (مرفوع) এবং এর রাফা (رفع)-এর চিহ্ন হলো দম্মাহ।

আলাইনা (علينا): অব্যয় ও সম্বন্ধযুক্ত পদ (جار ومجرور) যা 'সাওয়াউন' (سواء)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট।

আ-আনযারতাহুম (أأنذرتهم): হামযাটি হলো সমতাসূচক হামযা (همزة التسوية)। আনযারতাহুম: 'আনযারা' হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত যেহেতু এটি কর্তাবাচক তা (تاء الفاعل)-এর সাথে যুক্ত। 'তা' (التاء) হলো একটি সংলগ্ন সর্বনাম (ضمير متصل) যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং কর্তা (فاعل) হিসেবে রাফা (رفع)-এর স্থানে রয়েছে। 'হা' (الهاء) হলো একটি সর্বনাম যা কর্ম (مفعول به) হিসেবে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে এবং 'মীম' হলো বহুবচনের চিহ্ন। আর বাক্যটি একটি মূল শব্দের (مصدر) অর্থ প্রদান করে (যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'তাদের সতর্ক করা') এবং তা পরবর্তী উদ্দেশ্য (مبتدأ مؤخر) হিসেবে রাফা (رفع)-এর স্থানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
أَمْ: حرف عطف.

لَمْ تُنْذِرْهُمْ: لم: اداة نفي وجزم وقلب، تنذر فعل مضارع مجزوم علامة جزمه السكون، الفاعل مستتر تقديره أنت، الهاء ضمير مبني في محل نصب مفعول به، الميم علامة الجمع.

والجملة الفعلية: لم تنذرهم بتأويل مصدر تقديره عدم إنذارك في محل رفع معطوف على المصدر المؤول في الجملة الأولى (انذرتهم) والذي وقع مبتدأ. التقدير: (إنذارك وعدم إنذارك سواء عليهم).

قال تعالى: أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخالِقُونَ؟ [الواقعة 59/ 56].

(أم) لم تسبق بكلمة سواء وإنما سبقت بهمزة استفهام ويكون الإعراب:

أَأَنْتُمْ: الهمزة للاستفهام، أنتم ضمير منفصل مبني في محل رفع مبتدأ.

تَخْلُقُونَهُ: تخلقون فعل مضارع مرفوع لتجرده عن الناصب والجازم، وعلامة رفعه ثبوت النون لأنه من الأفعال الخمسة، واو الجماعة في محل رفع فاعل، الهاء ضمير مبني على الضم في محل نصب مفعول له.

الجملة الفعلية (تخلقونه) في محل رفع خبر للمبتدأ: أأنتم.

أَمْ: حرف عطف.

نَحْنُ: ضمير منفصل مبني على الضم في محل رفع مبتدأ.

الْخالِقُونَ: خبر للمبتدأ مرفوع علامة رفعه الواو لأنه جمع مذكر سالم.

الجملة الاسمية (أأنتم تخلقونه) جملة ابتدائية لا محل لها من الإعراب والجملة الاسمية (نحن الخالقون) معطوفة على الجملة الابتدائية.
আম: সংযোজক অব্যয় (حرف عطف)।

লাম তুনজিরহুম: ‘লাম’ হলো একটি না-বোধক, জজম প্রদানকারী এবং অর্থ পরিবর্তনকারী অব্যয় (أداة نفي وجزم وقلب); ‘তুনজির’ একটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালবোধক ক্রিয়া (فعل مضارع) যা জজমযুক্ত (مجزوم) এবং এর জজমের চিহ্ন হলো সুকুন (سكون)। এর কর্তা (الفاعل) উহ্য (مستتر) আছে যার সম্ভাব্য রূপ হলো ‘আপনি’। ‘হা’ একটি সুসংবদ্ধ সর্বনাম (ضمير مبني) যা নসবের স্থানে কর্মপদ (محل نصب مفعول به) হিসেবে অবস্থিত এবং ‘মীম’ হলো বহুবচনের চিহ্ন (علامة الجمع)।

এবং ক্রিয়াবাচক বাক্যটি (الجملة الفعلية): ‘লাম তুনজিরহুম’ মাসদারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী (بتأويل مصدر) যার সম্ভাব্য অর্থ হলো ‘আপনার সতর্ক না করা’, তা রফ-এর স্থানে (في محل رفع) প্রথম বাক্যের ‘আনজারতাহুম’-এর ব্যাখ্যাকৃত মাসদারের (المصدر المؤول) সাথে সংযুক্ত (معطوف) হয়েছে, যা উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে গণ্য। এর মূল রূপ (التقدير) হলো: (আপনার সতর্ক করা এবং সতর্ক না করা তাদের জন্য সমান)।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: "তোমরা কি তা সৃষ্টি করো, নাকি আমিই স্রষ্টা?" [আল-ওয়াকিয়াহ ৫৯/৫৬]।

এখানে ‘আম’ (أم) শব্দটি ‘সাওয়াব’ শব্দের পরে আসেনি, বরং এটি একটি প্রশ্নবোধক হামজার পরে এসেছে এবং এর বাক্য বিশ্লেষণ (الإعراب) হবে নিম্নরূপ:

আ-আনতুম: এখানে হামজাটি প্রশ্নবোধক (الهمزة للاستفهام), ‘আনতুম’ একটি পৃথক সর্বনাম (ضمير منفصل) যা রফ-এর স্থানে উদ্দেশ্য (في محل رفع مبتدأ) হিসেবে অবস্থিত।

তাখলুকুনাঙ্কু: ‘তাখলুকুন’ একটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালবোধক ক্রিয়া (فعل مضارع) যা নসব ও জজম প্রদানকারী অব্যয় থেকে মুক্ত হওয়ায় রফ (مرفوع) অবস্থায় আছে। এর রফ-এর চিহ্ন হলো নুনের স্থিতি (ثبوت النون), কারণ এটি পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ার (الأفعال الخمسة) অন্তর্ভুক্ত। কর্তৃবাচক ওয়াও (واو الجماعة) রফ-এর স্থানে কর্তা (فاعل) হিসেবে রয়েছে। ‘হা’ একটি দম্মাহ-যুক্ত সুসংবদ্ধ সর্বনাম (ضمير مبني) যা নসবের স্থানে উদ্দেশ্যমূলক কর্ম (في محل نصب مفعول له) হিসেবে রয়েছে।

ক্রিয়াবাচক বাক্যটি (الجملة الفعلية) ‘তাখলুকুনাঙ্কু’ রফ-এর স্থানে ‘আ-আনতুম’ উদ্দেশ্যের বিধেয় (خبر) হিসেবে অবস্থিত।

আম: সংযোজক অব্যয় (حرف عطف)।

নাহনু: একটি পৃথক সর্বনাম (ضمير منفصل) যা দম্মাহ-যুক্ত এবং রফ-এর স্থানে উদ্দেশ্য (في محل رفع مبتدأ) হিসেবে অবস্থিত।

আল-খালিকুন: এটি উদ্দেশ্যের বিধেয় (خبر للمبتدأ) যা রফ (مرفوع) অবস্থায় আছে এবং এর রফ-এর চিহ্ন হলো ওয়াও (الواو), কারণ এটি জমা মুজাক্কার সালিম (جمع مذكر سالم)।

বিশেষ্যবাচক বাক্যটি (الجملة الاسمية) ‘আ-আনতুম তাখলুকুনাঙ্কু’ একটি প্রারম্ভিক বাক্য (جملة ابتدائية) যার কোনো ইরাবগত স্থান নেই (لا محل لها من الإعراب) এবং বিশেষ্যবাচক বাক্য (الجملة الاسمية) ‘নাহনুল খালিকুন’ প্রারম্ভিক বাক্যটির সাথে সংযুক্ত (معطوفة)।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌ب: أم المنقطعة:

حرف عطف يفيد الاضراب، يساوي (بل) في المعنى، وذلك إذا لم ترد قبل (أم) همزة تسوية أو همزة استفهام.

قال تعالى: قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُماتُ وَالنُّورُ [الرعد 16/ 13].

أم حرف عطف، وجملة هل تستوي الظلمات والنور معطوفة على جملة هل يستوي الأعمى والبصير التي وقعت مقولا للقول مفعولا به في محل نصب، والمعطوف يتبع المعطوف عليه.

 

‌‌أما

أما: حرف استفتاح مثل (ألا) ويكثر ورودها قبل القسم، وقد ورد في الحديث الشريف:

«أما ترضى أن تكون لهم الدنيا ولنا الآخرة» متفق عليه عن عمر.

«أما علمت أن الاسلام يهدم ما كان قبله» م. عن عمرو بن العاص.

«أما يخشى أحدكم إذا رفع رأسه قبل الإمام أن يجعل الله رأسه رأس حمار» متفق عليه- عن أبي هريرة.

«أما والله إني لاتقاكم لله وأخشاكم له» مسلم- عمرو بن أبي سلمة قال شاعر:

أما والذي أبكى وأضحك والذي … أمات وأحيا والذي أمره الأمر

أما: حرف استفتاح لا عمل له.

والله: الواو للقسم وهي حرف جر. الله لفظ الجلالة مجرور بواو القسم والجار والمجرور متعلقان بفعل تقديره (أقسم).
খ: বিচ্ছিন্ন (منقطعة) 'আম':

এটি একটি বিয়োজক অব্যয় (حرف عطف) যা ইদরাত (الاضراب) বা পূর্ববর্তী প্রসঙ্গ পরিবর্তনের অর্থ প্রদান করে। এটি অর্থের দিক থেকে 'বাল' (بل) এর সমতুল্য; আর এটি তখনই হয় যখন 'আম' (أم) এর পূর্বে সমতাসূচক হামজা (همزة تسوية) অথবা প্রশ্নবোধক হামজা (همزة استفهام) না থাকে।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: "বলুন, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? নাকি অন্ধকার ও আলো সমান হয়?" [রাদ ১৩/১৬]।

এখানে 'আম' (أم) হলো বিয়োজক অব্যয় (حرف عطف)। আর "অন্ধকার ও আলো কি সমান হয়" বাক্যটি "অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে" বাক্যের উপর অনুগামী (معطوفة) হয়েছে। পূর্ববর্তী বাক্যটি মাকুলুল কাওল (مقولا للقول) হিসেবে নসবের স্থানে মাফউল বিহি (مفعولا به) হিসেবে অবস্থান করছে। আর অনুগামী শব্দ (المعطوف) সর্বদা তার পূর্ববর্তী অনুগামীর (المعطوف عليه) অনুসরণ করে।

 

‌‌আম্মা (أما)

আম্মা (أما): এটি একটি প্রারম্ভিক অব্যয় (حرف استفتاح), যা 'আলা' (ألا) এর ন্যায় অর্থ প্রদান করে। শপথের পূর্বে এর ব্যবহার অধিক লক্ষ্য করা যায়। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে:

«আপনি কি এতে সন্তুষ্ট নন যে, তাদের জন্য দুনিয়া এবং আমাদের জন্য আখিরাত থাকবে?» উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

«আপনি কি জানেন না যে, ইসলাম তার পূর্ববর্তী সকল (গুনাহ) মিটিয়ে দেয়?» আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, মুসলিম।

«তোমাদের কেউ কি ভয় পায় না যে, যখন সে ইমামের আগে মাথা উঠাবে, তখন আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথায় রূপান্তরিত করে দেবেন?» আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

«আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে বেশি তাকওয়াবান (أتقى)।» আমর ইবনে আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, মুসলিম। কবি বলেন:

শপথ তাঁর যিনি কাঁদান ও হাসান এবং যিনি … মৃত্যু দেন ও জীবিত করেন এবং যাঁর নির্দেশই চূড়ান্ত নির্দেশ।

আম্মা (أما): এটি একটি প্রারম্ভিক অব্যয় (حرف استفتاح), এর কোনো আমল নেই।

ওয়াল্লাহি (والله): এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি শপথের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যা একটি হরফে জার (حرف جر)। 'আল্লাহ' শব্দটি (لفظ الجلالة) শপথের 'ওয়াও' দ্বারা মাজরুর হয়েছে। এই জার এবং মাজরুর একটি উহ্য ক্রিয়া—যার সম্ভাব্য রূপ 'আকসিমু' (أقسم)—এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌أما المركبة من همزة الاستفهام وما النافية:

أما لمسيء عندكن مثاب … ولا لجميل عندكن ثواب؟!

أما: الهمزة للاستفهام، ما نافية لا عمل لها.

 

‌‌أمّا حرف شرط

أما: حرف شرط يفيد التفصيل، كما يفيد التوكيد، وسميت حرف شرط لأن الفاء الرابطة للجواب لا تفارقها، لأنها كأدوات الشرط لها فعل شرط وجواب شرط، نحو:

قال تعالى: فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلا تَقْهَرْ. وَأَمَّا السَّائِلَ فَلا تَنْهَرْ. وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ [الضحى 9 - 11/ 93].

فَأَمَّا: الفاء حسب ما قبلها، (أمّا) حرف شرط يفيد التفصيل لا عمل له. اليتيم مفعول به مقدم منصوب علامة نصبه الفتحة.

فَلا: الفاء رابطة (واقعة) لجواب أمّا الشرطية، لا ناهية جازمة، تقهر فعل مضارع مجزوم بلا الناهية علامة جزمه السكون، والفاعل ضمير مستتر تقديره أنت.

إن تكرار أمّا في الآيات تفيد التفصيل، ولكننا لو أخذنا كل جملة لوحدها لأفادت (أمّا) التوكيد.

 

‌‌تمرين

وضع معنى أمّا واعرب ما تحته خط:

قال تعالى: يا صاحِبَيِ السِّجْنِ أَمَّا أَحَدُكُما فَيَسْقِي رَبَّهُ خَمْراً وَأَمَّا الْآخَرُ فَيُصْلَبُ فَتَأْكُلُ الطَّيْرُ مِنْ رَأْسِهِ [يوسف 41/ 12].

أَمَّا السَّفِينَةُ فَكانَتْ لِمَساكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ وَكانَ وَراءَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْباً [الكهف 79/ 18].
প্রশ্নবোধক হামযাহ এবং না-বোধক 'মা' (ما) দ্বারা গঠিত 'আম্মা' (أما) প্রসঙ্গে:

তোমাদের নিকট কি পাপাচারীর জন্য কোনো বিনিময় নেই … আর পুণ্যবানের জন্য কি কোনো প্রতিদান নেই?!

أما: এখানে হামযাহটি প্রশ্নবোধক (للاستفهام) এবং 'মা' (ما) হলো না-বোধক (نافية) যার কোনো আমল বা কার্যকারিতা নেই।

 

‌শর্তবাচক (حرف شرط) 'আম্মা' (أمّا)

أمّا: এটি একটি শর্তবাচক (حرف شرط) অব্যয় যা বিস্তারিত বর্ণনা (التفصيل) এবং গুরুত্বারোপ (التوكيد) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। একে শর্তবাচক অক্ষর বলা হয় কারণ এর জবাবের সাথে যুক্ত 'ফা' (الفاء الرابطة) একে ছেড়ে পৃথক হয় না। এটি অন্যান্য শর্তবাচক উপকরণের (أدوات الشرط) মতো, যার জন্য একটি শর্তবাচক ক্রিয়া (فعل شرط) ও শর্তের উত্তর (جواب شرط) থাকে, যেমন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: "সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না। আর সাহায্যপ্রার্থীর প্রতি ধমক দেবেন না। এবং আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা প্রচার করুন।" [আদ-দুহা ৯-১১/৯৩]।

فَأَمَّا: এখানে 'ফা' (الفاء) পূর্ববর্তী বর্ণনা অনুযায়ী ব্যবহৃত। (أمّا) হলো শর্তবাচক (حرف شرط) অব্যয় যা বিস্তারিত বর্ণনা (التفصيل) প্রকাশ করে, এর কোনো আমল নেই। 'আল-ইয়াতীমা' (اليتيم) হলো অগ্রবর্তী কর্ম (مفعول به مقدم) যা যবর বা ফাতহা দ্বারা মানসুব (منصوب)।

فَلا: এখানে 'ফা' (الفاء) হলো শর্তবাচক 'আম্মা'-এর জবাবের সাথে সংযোগকারী (رابطة), 'লা' (لا) হলো নিষেধসূচক (ناهية) যা জযম প্রদানকারী (جازمة), 'তাকহার' (تقهر) হলো বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা 'লা-নাহিয়ার' কারণে মাজযুম (مجزوم) হয়েছে এবং এর জযমের চিহ্ন হলো সুকুন, আর এর কর্তা (الفاعل) হলো উহ্য সর্বনাম 'আনতা' (أنت)।

উক্ত আয়াতসমূহে 'আম্মা' (أمّا)-এর পুনরাবৃত্তি বিস্তারিত বর্ণনা (التفصيل) প্রকাশ করছে; তবে আমরা যদি প্রতিটি বাক্যকে এককভাবে গ্রহণ করি, তবে 'আম্মা' (أمّا) দ্বারা গুরুত্বারোপ (التوكيد) বুঝাবে।

 

‌অনুশীলনী

'আম্মা' (أمّا)-এর অর্থ বর্ণনা করো এবং নিম্নরেখ শব্দগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (اعراب) করো:

আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে আমার কারাগারের দুই সঙ্গী! তোমাদের একজনের বিষয় তো এই যে, সে তার মনিবকে শরাব পান করাবে; আর অন্যজনের বিষয় এই যে, তাকে শূলে চড়ানো হবে এবং পাখিরা তার মাথা থেকে মগজ খুঁটে খাবে।" [ইউসুফ ৪১/১২]।

"নৌকাটির ব্যাপার তো এই যে, সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র মানুষের, যারা সমুদ্রে কাজ করত। তাদের পেছনে ছিল এক রাজা, যে প্রতিটি নৌকা জোরপূর্বক কেড়ে নিত।" [আল-কাহাফ ৭৯/১৮]।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَأَمَّا الْغُلامُ فَكانَ أَبَواهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينا أَنْ يُرْهِقَهُما طُغْياناً وَكُفْراً [الكهف 80/ 18].

وَأَمَّا الْجِدارُ فَكانَ لِغُلامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَهُما وَكانَ أَبُوهُما صالِحاً فَأَرادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغا أَشُدَّهُما … [الكهف 82/ 18].

 

‌‌إمّا (المكسورة الهمزة)

حرف يفيد التفصيل، أو التخيير، أو الشك، والسياق هو الذي يحدد المعنى. والمعنى لا يؤثر في إعراب (إما) لأنها حرف.

قال تعالى: قالُوا يا مُوسى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ [الاعراف 115/ 7].

إما: حرف أفاد التخيير.

ولو قلنا: الناس نوعان: إما جاهل وإما عالم.

إما حرف أفاد التفصيل.

ولو قلنا: سافر محمد إما إلى مكة وامّا إلى المدينة.

إما: حرف أفاد الشك.

 

‌‌أمس، الأمس

أمس: ظرف زمان مبني على الكسر في محل نصب، نحو: بدأ رمضان أمس.

الأمس: اسم يفيد الزمان ويعرب حسب موقعه، نحو:

قال تعالى: فَإِذَا الَّذِي اسْتَنْصَرَهُ بِالْأَمْسِ يَسْتَصْرِخُهُ [القصص 18/ 28].
আর কিশোরটির ব্যাপার হলো, তার পিতামাতা ছিলেন মুমিন। তাই আমরা আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও কুফরির মাধ্যমে তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলবে [আল-কাহফ ১৮/৮০]।

আর দেয়ালটির ব্যাপার হলো, সেটি ছিল নগরের দুটি এতিম কিশোরের এবং তার নিচে ছিল তাদের জন্য গচ্ছিত এক সম্পদ। আর তাদের পিতা ছিলেন একজন সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি। সুতরাং আপনার প্রতিপালক চাইলেন যে, তারা যেন তাদের পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হয় … [আল-কাহফ ১৮/৮২]।

 

‌‌ইম্মা (হামযাহ-র নিচে কাসরা বিশিষ্ট)

এটি এমন একটি অব্যয় যা বিস্তারিত বর্ণনা, অথবা পছন্দ দান, অথবা সংশয় প্রকাশ করে এবং প্রেক্ষাপটই এর অর্থ নির্ধারণ করে। অর্থের এই ভিন্নতা ‘ইম্মা’-র ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ এটি একটি অব্যয়।

মহান আল্লাহ বলেন: তারা বলল, হে মুসা! হয় আপনি নিক্ষেপ করবেন নতুবা আমরাই প্রথম নিক্ষেপকারী হব [আল-আরাফ ৭/১১৫]।

ইম্মা: এটি এমন একটি অব্যয় যা পছন্দ দানের অর্থ প্রকাশ করেছে।

আর যদি আমরা বলি: মানুষ দুই প্রকার: হয় অজ্ঞ নতুবা জ্ঞানী।

এখানে ইম্মা বিস্তারিত বর্ণনার অর্থ প্রদানকারী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

যদি আমরা বলি: মুহাম্মদ হয় মক্কায় অথবা মদীনায় সফর করেছে।

ইম্মা: এটি সংশয় প্রকাশকারী একটি অব্যয়।

 

‌‌আমসি, আল-আমসু

আমসি: এটি সময়ের একটি ক্রিয়া-বিশেষণ যা কাসরার ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় এবং ব্যাকরণিক বিচারে নাসব-এর স্থলাভিষিক্ত। যেমন: রমজান গতকাল শুরু হয়েছে।

আল-আমসু: এটি সময় জ্ঞাপক একটি বিশেষ্য এবং বাক্যে তার অবস্থান অনুযায়ী এর ব্যাকরণিক রূপ নির্ধারিত হয়। যেমন:

মহান আল্লাহ বলেন: অতঃপর গতকাল যে ব্যক্তি তার কাছে সাহায্য চেয়েছিল, সে (আজও) তাকে সাহায্যের জন্য ডাকছে [আল-কাসাস ২৮/১৮]।
(খণ্ড: ১) আদাওয়াতুল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌أن

على ثلاثة أوجه:

1 - حرف مصدري ناصب. ينصب الفعل المضارع بعده ويؤول والجملة بعده بمصدر في محل إعرابي، نحو:

قال تعالى: وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ … [البقرة 184/ 2].

أن: حرف مصدري ناصب.

تصوموا: فعل مضارع منصوب بأن علامة نصبه حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة، واو الجماعة ضمير متصل مبني في محل رفع فاعل. والجملة من أن والفعل في تأويل مصدر تقديره صيامكم في محل رفع مبتدأ. خير خبر للمبتدأ مرفوع علامة رفعه الضمة.

قال تعالى: وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوى … [البقرة 237/ 2].

لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ … [البقرة 177/ 2].

لَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِها … [البقرة 189/ 2].

مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لا بَيْعٌ فِيهِ وَلا خِلالٌ … [إبراهيم 31/ 14].

وَما كانَ لِرَسُولٍ أَنْ يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ … [غافر 78/ 40].

يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكُمْ وَخُلِقَ الْإِنْسانُ ضَعِيفاً [النساء 28/ 4].

بأن تأتوا البيوت من ظهورها:

الباء حرف جر، أن حرف مصدري ناصب، تَأْتُوا: فعل مضارع منصوب بأن علامة نصبه حذف النون لأنه من الأفعال الخمسة، واو الجماعة: ضمير متصل مبني في محل رفع فاعل، الْبُيُوتَ: مفعول به منصوب علامة نصبه

الفتحة. من: حرف جر، ظهور اسم مجرور مضاف إلى الضمير ها. جملة أن تَأْتُوا الْبُيُوتَ في تأويل مصدر تقديره إتيانكم في محل جر مجرور بحرف الجر الباء.
আন

তিনটি প্রকারে ব্যবহৃত হয়:

১ - মাসদারী নাসিব হরফ। এটি তার পরবর্তী মুদারি ক্রিয়াকে নসব প্রদান করে এবং এটি ও এর পরবর্তী বাক্যটি একটি মাসদারের ব্যাখ্যামূলক অর্থে ই’রাবের কোনো একটি স্থানে অবস্থান করে। যেমন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর..." [আল-বাকারাহ ২/১৮৪]।

আন: মাসদারী নাসিব হরফ।

তাসূমূ: আন-এর কারণে মানসুব হওয়া মুদারি ক্রিয়া; এর নসবের চিহ্ন হলো ‘নুন’ বিলুপ্ত হওয়া, কারণ এটি আফআলে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও আল-জামাআহ হলো একটি সংযুক্ত সর্বনাম যা ফায়িল হিসেবে রাফা-র স্থানে মাবনি অবস্থায় আছে। আর আন ও ক্রিয়াটি মিলে একটি মাসদারের ব্যাখ্যামূলক অর্থ প্রদান করছে যার অনুমিত রূপ হলো ‘সিয়ামুকুম’ (তোমাদের রোজা রাখা), যা মুবতাদা হিসেবে রাফা-র স্থানে অবস্থিত। খাইরুন হলো মুবতাদার খবর যা দম্মাহ দ্বারা মারফু হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমাদের ক্ষমা করে দেয়াই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী..." [আল-বাকারাহ ২/২৩৭]।

"তোমাদের মুখমণ্ডল পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফেরানোর মধ্যে কোনো পুণ্য নেই..." [আল-বাকারাহ ২/১৭৭]।

"পেছন দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোনো পুণ্য নেই..." [আল-বাকারাহ ২/১৮৯]।

"সেই দিন আসার আগে, যে দিন কোনো কেনাবেচা ও বন্ধুত্ব থাকবে না..." [ইবরাহীম ১৪/৩১]।

"আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো নিদর্শন নিয়ে আসা কোনো রাসুলের কাজ নয়..." [গাফির ৪০/৭৮]।

"আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান; আর মানুষকে দুর্বল (ضعيف) হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে।" [আন-নিসা ৪/২৮]।

পেছন দিক দিয়ে ঘরে তোমাদের প্রবেশ করার বিষয়টি (বأن تأتوا البيوت من ظهورها):

বা হলো হরফে জার, আন হলো মাসদারী নাসিব হরফ, তাতু: আন-এর কারণে মানসুব হওয়া মুদারি ক্রিয়া; এর নসবের চিহ্ন হলো ‘নুন’ বিলুপ্ত হওয়া, কারণ এটি আফআলে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত। ওয়াও আল-জামাআহ: সংযুক্ত সর্বনাম যা ফায়িল হিসেবে রাফা-র স্থানে মাবনি। আল-বুয়ূতা: মানসুব হওয়া মাফউলে বিহি, যার নসবের চিহ্ন হলো

ফাতহা। মিন: হরফে জার, যুহুরি: মাজরুর ইসম যা ‘হা’ সর্বনামের দিকে মুদাফ হয়েছে। ‘আন’ ও ‘তাতুল বুয়ূতা’ বাক্যটি একটি মাসদারের ব্যাখ্যামূলক অর্থে রয়েছে যার অনুমিত রূপ হলো ‘ইতিয়ানুকুম’ (তোমাদের প্রবেশ করা), যা ‘বা’ হরফে জারের কারণে মাজরুর হিসেবে গণ্য।