(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: -)
ما يفعله الأطباء والداعون بدفع شر الطاعون القسم: الطب
الكتاب: ما يفعله الأطباء والداعون بدفع شر الطاعون - سلسلة لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (18)
المؤلف: مرعي بن يوسف بن أبى بكر بن أحمد الكرمى المقدسي الحنبلى (ت 1033 هـ)
تقديم وتعليق: خالد بن العربي مدرك
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 53
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 صفر 1437
প্লেগের অনিষ্ট প্রতিরোধের নিমিত্তে চিকিৎসক ও দুআরত ব্যক্তিদের করণীয় বিভাগ: চিকিৎসা বিজ্ঞান
বই: প্লেগের অনিষ্ট প্রতিরোধের নিমিত্তে চিকিৎসক ও দুআরত ব্যক্তিদের করণীয় - মসজিদুল হারামের শেষ দশকের বৈঠকের ধারাবাহিক (১৮)
লেখক: মারয়ি ইবনে ইউসুফ ইবনে আবি বকর ইবনে আহমাদ আল-কারমি আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ১০৩৩ হিজরি)
উপস্থাপনা ও টীকা: খালিদ বিন আল-আরাবি মুদরিক
প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ প্রিন্টিং, পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: -)
لقاء العشر الأواخر بالمسجد الحرام (18)
ما يفعله الأطباء والداعون بدفع شر الطاعون
تأليف
العلامة مرعي بن يوسف الكرمي المقدسي الحنبلي توفي سنة 1033 هـ رحمه الله تعالى
تقديم وتعليق
خالد بن العربي مدرك
মসজিদুল হারামে শেষ দশকের সংকলন (১৮)
প্লেগের অনিষ্ট দূরীকরণে চিকিৎসক ও দোয়াকারীদের করণীয়
রচনা
আল্লামা মারয়ী বিন ইউসুফ আল-কারমী আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ১০৩৩ হিজরি), আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন
উপস্থাপনা ও টীকা প্রদান
খালিদ বিন আল-আরাবি মুদরিক
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه ثقتي
قال العبد الفقير إلى الله تعالى مرعي بن يوسف الحنبلي المقدسي:
الحمدُ لله النَّافِع الضَّارّ، خَلَقَ الدَّاءَ وَالدَّوَاءَ وَالمَنَافِعَ وَالمَضَارّ، بِيَدِهِ النَّفْعُ والضُرّ، والخير والشرّ، والنَّهي والأَمر، الحكيم القهَّار.
والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، وأفضل المتوكِّلين، المستسلم للقضاء والأَقدار، وعلى آله وأصحابه أولي السَّمَاح والرَّبَاح (1) والتَّيَقُظ والاعتبار.
وبعد، فقد سُئِلتُ في جمع أدعية وأذكار تستعمل للطَّاعون، وهل ذلك يُفيد، وهل الطِّبُّ لَه مَدخَلٌ فيه ويَنْفَع؟
وقَد أَحْبَبْتُ أَنْ أَذْكُرَ شَيئًا مِن ذلك مَعَ زِيَادَة فَوَائِد، وجَمعِ فَرَائِد، طَلَبًا للثَّوَابِ، وَنَفْعًا لِلأَصْحَابِ.
فأقول وبالله المستعان، وعليه التُّكلان، لا رَبَّ غَيره، ولا مَأْمُول إلَّا خَيْرُه:
--------------------------------------------
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং তাঁরই ওপর আমার ভরসা।
মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা মারঈ ইবনে ইউসুফ আল-হাম্বালি আল-মাকদিসি বলেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কল্যাণ ও অকল্যাণ দানকারী; তিনি রোগ ও আরোগ্য এবং উপকার ও অপকার সৃষ্টি করেছেন। তাঁরই হাতে নিহিত লাভ ও লোকসান, মঙ্গল ও অমঙ্গল এবং নিষেধ ও আদেশ; তিনি প্রজ্ঞাময় ও মহা পরাক্রমশালী।
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত, তাওয়াক্কুলকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ্র ফয়সালা ও তাকদিরের কাছে আত্মসমর্পণকারী (নবী)-র ওপর; আর তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা ছিলেন উদারতা, সমৃদ্ধি (১), সতর্কতা ও শিক্ষা গ্রহণের অধিকারী।
অতঃপর, প্লেগ বা মহামারীকালে পাঠযোগ্য কিছু দুয়া ও জিকির সংকলন করার বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে—এগুলো কি ফলদায়ক হয়? এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের কি এখানে কোনো ভূমিকা রয়েছে এবং তা কি উপকারে আসে?
সওয়াবের আশায় এবং বন্ধুদের উপকারের নিমিত্তে অতিরিক্ত কিছু ফায়দা ও দুর্লভ তথ্যাবলি সংবলিত এ বিষয়ে কিছু আলোচনা করতে আমি মনস্থ করেছি।
আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা রাখছি; তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং তাঁর কল্যাণ ব্যতিরেকে কোনো প্রত্যাশা নেই:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
اعلم أنَّ العلماء اختلفوا هل يُفِيد التَّدَاوي لِلطَّاعُون، وهَل يَنْفَعُ فيه ما ورد من الأدعية والأذكار ونحوها؟
فذهب جماعة من العلماء إلى أنَّ التَدَاوِي لا يُفِيد مَع الطَّاعُون شيئًا، وقالوا: إنَّ كل داء بسبب من الأسباب الطبيعية له دواء من الأدوية الطبيعية إلَّا الطَّاعون، فإنه قد أَعْيَى الأَطبَّاء دواؤه.
قال العلَّامة ابن القيم: حتى سَلَّمَ حُذَّاقهم أنه لا دواء له، ولا دافع له، إلَّا الذي خلقه وقدَّره (1).
وقال الحافظ جلال السيوطي فيمن مات في الطاعون: وأَكْثَرَ أُنَاسٌ في الطاعون من أشياء لا تُغْنِيهِم، وَأُمُورٍ لا تَعْنِيهِم؛ من ذلك استعمال مأكولات وقَوَابِض، ومُخَفِّفَات وحَوَامِض، وتعليق فصوص، لها في كتب الطب نصوص، وهذا باب قد أعيى الأَطبَّاء، واعترف بالعجز عن مداواته الألِبَّاء.
وأناسٌ رَتَّبُوا أدعية لم يرد بها حديث ولا أثر، وابتدعوا أذكارًا من عند أنفسهم ونسوا أين المفر، وآخرون تحوَّلوا إلى البحر وشاطئ النهر، وما شعروا أنَّ مجاوزة البحر من أكبر الأسباب المُعِينَة للطاعون طِبًّا، والمُضِرة عند فساد الهواء جسمًا ولُبًّا، إنما يصلح سكن البحر لمن يشكو الغم، أو سُوءَ هَضْمٍ (2).
قال: ولم أُعَوِّل على ذكر شيء مما ذكره الأَطبَّاء فيما يستعمل أيام الطَّاعون؛ لأنه شيء لا فائدة فيه، وهم إنما بَنَوْا ما ذكروه على ما قَرَّرُوه
--------------------------------------------
জেনে রাখুন যে, প্লেগের চিকিৎসায় কোনো সুফল পাওয়া যায় কি না এবং এতে বর্ণিত দুআ, জিকির ও অনুরূপ বিষয়গুলো ফলপ্রসূ হয় কি না—এ বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
একদল আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, প্লেগের ক্ষেত্রে চিকিৎসায় কোনো ফল পাওয়া যায় না। তাঁরা বলেন: জাগতিক কারণে উদ্ভূত প্রতিটি রোগেরই জাগতিক প্রতিষেধক রয়েছে, তবে প্লেগ এর ব্যতিক্রম। কারণ, এর চিকিৎসা চিকিৎসকদের পরিশ্রান্ত ও অক্ষম করে দিয়েছে।
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম বলেন: এমনকি তাদের মধ্যকার প্রাজ্ঞ চিকিৎসকরাও স্বীকার করেছেন যে, যিনি এটি সৃষ্টি করেছেন এবং নির্ধারণ করেছেন, তিনি ছাড়া এর কোনো প্রতিষেধক নেই এবং তা নিবারণ করারও কেউ নেই (১)।
হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ূতী প্লেগে মৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলেন: প্লেগ মহামারি চলাকালীন অনেক মানুষ এমন সব অসার ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে যা তাদের কোনো উপকারে আসে না; যেমন বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য, সঙ্কোচক, লঘুপাচ্য ও অম্লীয় উপাদানের ব্যবহার এবং বিভিন্ন রত্নপাথর ধারণ করা, যেগুলোর উল্লেখ চিকিৎসাশাস্ত্রের কিতাবসমূহে পাওয়া যায়। অথচ এটি এমন এক অধ্যায় যা চিকিৎসকদের পর্যুদস্ত করেছে এবং বিজ্ঞ ব্যক্তিরাও এর চিকিৎসায় নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করেছেন।
আবার কিছু লোক এমন সব দুআ সাজিয়েছে যা কোনো হাদিস বা আছারে (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) বর্ণিত হয়নি, এবং তারা নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন নতুন জিকির উদ্ভাবন করেছে অথচ তারা ভুলে গেছে যে পলায়ন করার স্থান কোথায়! অন্য কিছু লোক সমুদ্র ও নদীর তীরের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, অথচ তারা অনুধাবন করতে পারেনি যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া প্লেগ বিস্তারে সহায়ক অন্যতম প্রধান কারণ এবং দূষিত বায়ুর প্রভাবে তা শরীর ও বুদ্ধিবৃত্তির জন্য ক্ষতিকর। সমুদ্রের নিকট বসবাস কেবল তাদের জন্যই শোভন যারা বিষণ্নতা বা বদহজমে আক্রান্ত (২)।
তিনি বলেন: চিকিৎসকরা প্লেগের দিনগুলোতে ব্যবহারের জন্য যা কিছু উল্লেখ করেছেন, আমি তার কোনোটির ওপর নির্ভর করিনি; কারণ এটি এমন এক বিষয় যাতে কোনো উপকার নেই। আর তাঁরা যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তা মূলত তাঁদের স্ব-নির্ধারিত মূলনীতির ভিত্তিতেই করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
من أنَّ الطاعون ناشئ عن فساد الهواء، وقد تبيَّن فساد ما قالوه بمجيء الأحاديث النبوية بخلافه، فالأولى طرح ذلك، والتوكُّل على الله سبحانه وتعالي، انتهى (1).
وما أحسن قول بعضهم:
لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ يُسْتَطَبُّ بِهِ
… إِلَاّ الحَمَاقَةَ وَالطَّاعُونَ وَالْهَرَمَا (2)
وحقيقة الطَّاعون عند الأَطبَّاء ما قال ابن سينا (3) وغيره من الحُذَّاق: الطَّاعون مادة سُمِّيَّة تُحْدِث وَرَمَا قَتَّالًا يَحدث في المواضع الرخوة، والتغابن من البدن، وأغلب ما يكون تحت الإِبط، وخلف الأذن (4).
وَقَرِيبٌ من ذلك قَولُ بعضهم: الطَّاعُون وَرَمٌ رَدِيءٌ قَتَّالٌ يَخْرُج مَعَهُ تَلَهُّبٌ شديد مؤلم جدًّا، ويُصَيِّرُ ما حوله في الغالب أَسْوَدَ أَوْ أَخْضَرَ، وَفِي الأَكْثَر يحدث في ثلاثة مواضع؛ في الإِبط، وخلف الأُذن، وفي اللحوم الرَّخْوَة، وسَبَبُه دَمٌ رَدِيءٌ مَائِلٌ إلى العُفُونة والفساد، مُسْتَحِيلٌ إلى جوهر سُمِّيٍّ يُفْسِدُ العُضْوَ، ويُغَيِّر ما يَلِيه، وربما رَشَحَ دَمًا وصَدِيدًا ويُؤدِّي إلى القلب كيفية رَدِيَّة، فَيُحْدِثُ القَيْءَ والخَفَقَان والغَثَيَان، وأَرْدَؤُه ما حَدَثَ في
--------------------------------------------
যে প্লেগ রোগ বায়ুদূষণ থেকে উৎপন্ন হয়, আর তাদের এই বক্তব্যের অসারতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যা এর বিপরীত। অতএব, উক্ত অভিমত বর্জন করা এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করাই শ্রেয়। সমাপ্ত (১)।
কারো কারো এই উক্তিটি কতই না চমৎকার:
প্রতিটি রোগেরই এমন ওষুধ আছে যার দ্বারা চিকিৎসা করা যায়
… কেবল নির্বুদ্ধিতা, প্লেগ এবং বার্ধক্য ছাড়া (২)
চিকিৎসকদের নিকট প্লেগের প্রকৃত স্বরূপ হলো তা-ই যা ইবনে সিনা (৩) এবং অন্যান্য দক্ষ চিকিৎসাবিদগণ বলেছেন: প্লেগ হলো একটি বিষাক্ত উপাদান যা একটি প্রাণঘাতী স্ফীতি তৈরি করে। এটি শরীরের নরম অংশ এবং ভাঁজযুক্ত স্থানে দেখা দেয়; অধিকাংশ ক্ষেত্রে বগলের নিচে এবং কানের পেছনে এটি হয়ে থাকে (৪)।
এর কাছাকাছি বক্তব্য প্রদান করেছেন কেউ কেউ: প্লেগ হলো একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী স্ফীতি যার সাথে তীব্র এবং অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এর চারপাশ সাধারণত কালো বা সবুজ বর্ণ ধারণ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি তিনটি স্থানে দেখা দেয়: বগলে, কানের পেছনে এবং শরীরের নরম মাংসল অংশে। এর কারণ হলো দূষিত রক্ত যা পচন ও বিকৃতির দিকে ধাবিত হয় এবং একটি বিষাক্ত উপাদানে রূপান্তরিত হয়ে সংশ্লিষ্ট অঙ্গটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ও তার আশপাশের অংশকে বিকৃত করে দেয়। অনেক সময় এখান থেকে রক্ত ও পুঁজ নির্গত হয় এবং হৃদপিণ্ডে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, ফলে বমি, বুক ধড়ফড়ানি ও বমি বমি ভাব অনুভূত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الإِبط، وخَلْفَ الأُذن، وأَسْلَمُه الأحمر ثم الأصفر، والذي إلى السواد فلا يفلت منه أحد (1).
وفَسَّر بعضهم الطَّاعُونَ بِانْصِبَابِ الدَّم إلى عُضْوٍ.
وقال أكثرهم: إِنَهُ هَيَجَانُ الدَّمِ وَانْتِفَاخُه.
واخْتَلَفُوا عَمَّاذا يَنْشَأُ هَذَا الدَّمُ، وَهذَا الوَرَم، وبماذا تحصل هذه السُّمِّيَّة القَاتِلَة؟
فقال الأَطبَّاء: إنَّ سَبَبَه فَسَادُ جَوْهَرِ الهَوَاءِ ..
قال ابن سينا: الوَبَاءُ فَسَاد جَوْهَر الهَوَاء الَّذِي هُو مَادَّةُ الرُّوحِ ومَدَدُه، ولذلك لا يمكن حياة شيء من الحيوان بدون استنشاقه، وقريب من ذلك قول بعضهم: الوباء ينشأ عن فساد يعرض لجوهر الهواء بأسباب خبيثة سماوية أو أرضية، كالشُّهب والرجوم في آخر الصيف، والماء الآسن (2)، والجيف الكثيرة.
وقال أهل الشرع: إِنَّ كَلام الأطِبَّاء هذا بَاطِل مَردُودٌ؛ لاْنَّ الطَّاعُون قد يَقَع في أَعْدَل الفُصُول، وفي أَفْسَحِ البِلاد، وأَطْيَبِهَا مَاءً، ولأنه لو كان مِن الهَوَاء لَعَمَّ جَمِيعَ النَّاس، وسَائِر الحَيَوَان، وجَمِيعَ البَدَن!! ولَيسَ كَذلِك كَمَا هُوَ مُشَاهَد؛ فَإِنَّا نَجِد كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ والحَيَوَانِ يُصِيبُه الطَّاعُون، وبجانبه مِن جنسِهِ، ومَن يُشَابِه مِزَاجَه، وَلَا يُصِيبُه، وقد يأخُذ أَهْلَ البيت من بَلَد بأجمعهم، ولا يَدخُل بَيْتًا مُجَاوِرهم أصلًا، أو يَدخُل بَيتًا ولا يُصِيب مِنه إلَّا البَعْضَ (3).
--------------------------------------------
বগল এবং কানের পিছনে; এর মধ্যে লাল রঙেরটি তুলনামূলক নিরাপদ, এরপর হলুদ রঙেরটি, আর যা কালো বর্ণের হয় তা থেকে কেউই নিষ্কৃতি পায় না (১)।
কেউ কেউ প্লেগকে কোনো অঙ্গের দিকে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন।
আর তাদের অধিকাংশ বলেছেন: এটি হলো রক্তের উত্তেজনা ও স্ফীতি।
তবে এই রক্ত ও ফোলা কিসের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এবং কিসের কারণে এই মারাত্মক বিষক্রিয়া ঘটে—এ বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন।
চিকিৎসাবিদগণ বলেছেন: এর কারণ হলো বায়ুর প্রকৃত উপাদানের বিকৃতি...
ইবনে সিনা বলেন: মহামারি হলো বায়ুর উপাদানের সেই বিকৃতি যা রুহের মূল উপাদান ও জীবনীশক্তির সহায়ক; আর একারণেই কোনো প্রাণীর জীবন একে গ্রহণ বা শ্বাস নেওয়া ব্যতীত সম্ভব নয়। এর কাছাকাছি বক্তব্য হলো কারো কারো কথা: মহামারি সৃষ্টি হয় বায়ুর উপাদানে আসমানি বা জমিনি অনিষ্টকর কারণে উদ্ভূত বিকৃতি থেকে, যেমন গ্রীষ্মের শেষের দিকে উল্কাপাত ও বজ্রপাত, দুর্গন্ধযুক্ত বদ্ধ পানি (২) এবং অসংখ্য পচা মৃতদেহ।
শরিয়াহ বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন: চিকিৎসকদের এই কথা বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত; কেননা প্লেগ কখনও কখনও অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ঋতুতে, অতি প্রশস্ত জনপদে এবং সর্বোত্তম পানির দেশেও দেখা দেয়। তদুপরি, এটি যদি বায়ুর কারণে হতো তবে তা সকল মানুষ, সমস্ত প্রাণী এবং পুরো শরীরকে গ্রাস করত!! কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমন পরিলক্ষিত হয় না; কেননা আমরা দেখি অনেক মানুষ ও প্রাণীকে প্লেগ আক্রমণ করছে, অথচ তার পাশেই অবস্থানরত তার স্বজাতীয় এবং একই শারীরিক প্রকৃতির অন্য একজনকে এটি আক্রমণ করছে না। আবার কখনও দেখা যায়, কোনো শহরের একটি পরিবারের সকলকে এটি পাকড়াও করছে কিন্তু তাদের প্রতিবেশী বাড়িতে মোটেও প্রবেশ করছে না, অথবা কোনো বাড়িতে প্রবেশ করলেও কেবল পরিবারের কিছু সদস্যকে আক্রান্ত করছে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
قال أهل الشَّرع: والحق أنَّ سَبَبَ الطَّاعُون هو ظُهُور الفَوَاحِش والمَعَاصِي؛ بَل كُلُّ مُصِيبَة حَدَثَت فَهِي مِن كَسْب ابن آدم كما قال تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ (30)} [الشورى].
وروى ابن ماجه والبيهقي عن عمر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لَم تَظْهَر الفَاحِشَةُ في قَومٍ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ والأَوْجَاعُ التِي لَم يكُنْ مَضت في أسلافِهِم" (1).
ورَوَى أَبُو يَعْلَى والحَاكِم وصحَّحَهُ والبَيْهَقِي عن بُرَيدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مَا ظَهَرَت الفَاحِشَةُ في قَوْمٍ إلا سَلَّطَ الله عَلَيْهِم الموتَ" (2).
وروى أبو يعلى والحاكم وصحَّحه عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: "إذا بُخِس المِكيَالُ حُبِسَ القَطرُ، وَإِذَا كَثُر الزِّنَا كَثُر القَتْلُ وَوَقَعَ الطَّاعُون" (3).
--------------------------------------------
শরীয়ত বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন: প্রকৃত সত্য এই যে, মহামারির কারণ হলো অশ্লীলতা ও পাপাচারের বহিঃপ্রকাশ; বরং প্রতিটি বিপদ যা ঘটে তা আদম সন্তানের অর্জিত কাজেরই ফল, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদেরই কর্মফল এবং তিনি অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন (৩০)} [সূরা আশ-শূরা]।
ইবনে মাজাহ ও বায়হাকী উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ পায় এমনকি তারা তা প্রকাশ্যে করতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে মহামারি ও এমন সব ব্যধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না" (১)।
আবু ইয়ালা ও হাকেম (যিনি একে সহীহ বলেছেন) এবং বায়হাকী বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখনই কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ পায়, আল্লাহ তাদের ওপর মৃত্যুকে চাপিয়ে দেন" (২)।
আবু ইয়ালা ও হাকেম (যিনি একে সহীহ বলেছেন) ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন পরিমাপে কারচুপি করা হয়, তখন বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর যখন ব্যভিচার বেড়ে যায়, তখন হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পায় এবং মহামারি আপতিত হয়" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪০)
والأحاديث في ذلك كثيرة، ومن أراد المزيد فليراجع كتابنا: "تَحْقِيق الظُّنُون بِأَخْبَارِ الطَّاعُون" (1).
قالوا: وهو مِن وَخْزِ (2) الجن، أي: طعنهم.
روى عبد الرزاق في مصنفه، وابن أبي شيبة وأحمد بن حنبل في مسنديهما، وابن أبي الدنيا، والبزار، وأبو يعلى، والطبراني، وابن خزيمة في صحيحه، والحاكم وصحَّحه، والبيهقي في الدلائل من طرق عديدة عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "فَنَاءُ أُمَّتِي بِالطَّعْنِ وَالطَّاعُون"، قِيلَ: يا رَسُول الله، هذَا الطَّعْنُ قَد عَرَفْنَاهُ، فَمَا الطَّاعُونُ؟ قال: "وَخْزُ أَعْدَائِكُمْ مِنَ الجِنِّ، وفي كُلٍّ شَهَادَة" (3).
--------------------------------------------
এই বিষয়ে হাদীসসমূহ অসংখ্য, আর যে ব্যক্তি আরও অধিক জানতে চায় সে যেন আমাদের কিতাব: "তাহকীকুজ জুনুন বি আখবারিত তাউন" (১) দেখে নেয়।
তাঁরা বলেন: এটি জিনের 'ওয়াখজ' (২) বা আঘাতের কারণে হয়ে থাকে, অর্থাৎ: তাদের খোঁচা।
আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে, ইবনে আবি শায়বা ও আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁদের মুসনাদদ্বয়ে, ইবনে আবিদ দুনিয়া, বাজ্জার, আবু ইয়ালা, তাবারানি, ইবনে খুজাইমা তাঁর সহীহ গ্রন্থে, হাকেম (তিনি একে সহীহ বলেছেন) এবং বায়হাকী 'দালাইল' গ্রন্থে বহু সূত্রে আবু মুসা আল-াশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের ধ্বংস হবে তলোয়ারের আঘাত ও প্লেগের মাধ্যমে।" বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তলোয়ারের আঘাত তো আমরা জানি, কিন্তু প্লেগ (তাউন) কী? তিনি বললেন: "তোমাদের জিন শত্রুদের আঘাত, আর এগুলোর প্রত্যেকটিতেই রয়েছে শাহাদাত (শহীদি মর্যাদা)" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وروى أبو يعلى عن عائشة رضي الله عنها أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال في الطاعون: "وَخْزٌ يُصيبُ أُمَّتِي مِن أَعْدَائِهِم مِن الجِنِّ؛ غُدَّةٌ (1) كَغُدَّة الإِبِلِ، مَن أَقَامَ عَلَيْهَا كَانَ مُرَابِطًا، وَمَن أُصِيبَ كَانَ شَهِيدًا" (2).
قال الحافظ ابن حجر في شرح البخاري: وهو الذي أوجب للأطبَّاء أن يقولوا ما قالوه؛ لأنَّ معرفة كون الطاعون من وخز الجن إنما يدرك بالتوقيف، وليس للعقل فيه مجال. ولما لم يكن عندهم في ذلك موقوف رأوا أنَّ أقرب ما يقال فيه إنه من فساد جوهر الهواء، ولما ورد الشرع وجاء نهر الله بطل نهر مَعْقِل (3).
وذهب جماعة من العلماء إلى أنَّ التداوي يفيد مع الطاعون، وينفع لعموم الحديث الوارد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الوارد في الأمر بالتداوي.
قال الإِمام ابن حزم رحمه الله في الملل والنِّحل: صحَّ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم تصحيح الطب والأمر بالعلاج به، وأنه صلى الله عليه وسلم قال: "تَدَاوَوا فَإِنَّ الله تَعَالى لَم يَخْلُق دَاءً إلَّا خَلَقَ لَهُ دَوَاءً إلَّا السَّام" (4)، والسَّامُ: الموت.
--------------------------------------------
আবু ইয়ালা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্লেগ সম্পর্কে বলেছেন: "এটি আমার উম্মতের ওপর তাদের শত্রু জিনের পক্ষ থেকে এক প্রকার আঘাত; এটি উটের কুঁজের টিউমারের মতো (১), যে ব্যক্তি এতে ধৈর্য ধরে অবস্থান করবে সে সীমান্ত পাহারাদারের সমতুল্য এবং যে এতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে সে শহীদের মর্যাদা পাবে" (২)।
হাফেজ ইবনে হাজার বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: আর এটিই চিকিৎসকদের সেই কথা বলতে বাধ্য করেছে যা তারা বলেছে; কারণ প্লেগ যে জিনের আঘাত থেকে হয় তা কেবল ওহী বা শরীয়তের বর্ণনার মাধ্যমেই জানা সম্ভব, এতে বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির কোনো অবকাশ নেই। যেহেতু তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো শরয়ী বর্ণনা ছিল না, তাই তারা মনে করেছিল যে এর কারণ সম্পর্কে সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যাখ্যা হলো এটি বাতাসের মৌলিক উপাদানের দূষণজনিত। কিন্তু যখন শরীয়ত অবতীর্ণ হলো এবং আল্লাহর নহর (প্রমাণ) চলে এল, তখন মা'কিল-এর নহর (মানুষের তৈরি যুক্তি) অকার্যকর হয়ে গেল (৩)।
ওলামায়ে কেরামের একটি দল মনে করেন যে প্লেগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা গ্রহণ ফলপ্রসূ এবং তা উপকারে আসে, কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ সংবলিত যে সাধারণ হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে।
ইমাম ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' গ্রন্থে বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে চিকিৎসাবিদ্যার সত্যতা এবং এর মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ সহীহভাবে প্রমাণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো, কারণ মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি, কেবল মৃত্যু (সাম) ব্যতীত" (৪), আর 'সাম' অর্থ হলো মৃত্যু।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪২)
قال: فاعترض قوم فقالوا: قد سبق في علم الله عز وجل بنهاية أجل المرء، مدَّة صحَّته وسقمه، فأيّ معنى للعلاج؟
قال: فقلنا لهم: نسألكم هذا السؤال نفسه في جميع ما يتصرف فيه الناس من الأكل والشرب، واللباس لطرد البرد والحر، والسعي في المعاش بالحرث والغرس، والقيام على الماشية والحرفة بالتجارة والصناعة.
ونقول لهم: قد سبق علم الله تعالى بنهاية أجل المرء ومُدَّة صِحَّتِه، ومُدَّة سَقَمِه، فأيّ معنى لكل ما ذكرنا؟
فلا جواب لهم إلَّا أن يقولوا: إنَّ علم الله تعالى أيضًا قد سبق بما يكون من كل ذلك، وبأنها أسباب إلى بلوغ نهاية العمر المقدَّرة.
فنقول لهم: وهكذا الطب، فقد سبق في علم الله تعالى أنَّ هذا العليل يتداوى، وأنَّ تداويه سبب إلى بلوغ نهاية أجله، فَالْعِلَلُ مُقَدَّرَةٌ، والزَّمانَة (1) مُقَدَّرَةٌ، والموت والعلاج مقدَّر، ولا مرد لحكم الله تعالى، ونافذ علمه في كل شيء من ذلك، لا إله إلَّا هو. انتهى.
حيث علمت هذا فقد قال أئمة الطب كما نقله العلَّامة ابن القيم في الهدي: إنه يجب على كل محترز من الوباء أن يخرج عن بدنه الرطوبات الفَضْلِية، ويقلِّل الغذاء، ويميل إلى التدبير المجفّف من كل وجه إلَّا الرياضة والحمام؛ فإنهما يجب أن يحذرا؛ لأنَّ البدن لا يخلو غالبًا من فضل رديء كامن فيه، فتثيره الرياضة والحمام، ويجب عند وقوع الطاعون
--------------------------------------------
তিনি বললেন: একদল লোক আপত্তি তুলে বলল: মহান আল্লাহর ইলমে (জ্ঞানে) তো পূর্বেই মানুষের আয়ুর শেষ সীমা এবং তার সুস্থতা ও অসুস্থতার মেয়াদ নির্ধারিত হয়ে আছে, তবে চিকিৎসার কী অর্থ আছে?
তিনি বললেন: তখন আমরা তাদের বললাম: মানুষের যাবতীয় কর্মকাণ্ড—যেমন পানাহার, শীত ও গ্রীষ্ম নিবারণের জন্য পোশাক পরিধান, চাষাবাদ ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণ এবং পশুপালন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের মাধ্যমে পেশাগত দায়িত্ব পালন—এই সবকিছুর ক্ষেত্রেই আমরা আপনাদের ঠিক এই প্রশ্নটিই করছি।
আমরা তাদের বলি: আল্লাহ তাআলার ইলমে তো পূর্বেই মানুষের আয়ুর শেষ সীমা এবং তার সুস্থতা ও অসুস্থতার মেয়াদ নির্ধারিত হয়ে আছে, তবে আমরা যা কিছু উল্লেখ করলাম সেগুলোরই বা কী অর্থ আছে?
এর উত্তরে তাদের কথা এটাই হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই যে: আল্লাহ তাআলার ইলমে এই সবকিছু কীভাবে সংঘটিত হবে তাও পূর্বেই নির্ধারিত আছে এবং এগুলো হলো নির্ধারিত আয়ুষ্কাল পূর্ণ করার মাধ্যম মাত্র।
অতঃপর আমরা তাদের বলি: চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিষয়টিও তদ্রূপ। আল্লাহ তাআলার ইলমে তো পূর্বেই নির্ধারিত আছে যে এই অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসা গ্রহণ করবে এবং তার চিকিৎসা গ্রহণ হবে আয়ুর শেষ সীমা পর্যন্ত পৌঁছানোর একটি মাধ্যম। সুতরাং ব্যাধিও নির্ধারিত, দীর্ঘস্থায়ী অক্ষমতাও (১) নির্ধারিত এবং মৃত্যু ও চিকিৎসাও নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলার ফয়সালা রদ করার কেউ নেই এবং এ সবকিছুর প্রতিটি বিষয়েই তাঁর জ্ঞান কার্যকর। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। (সমাপ্ত)
আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন জেনে রাখুন যে চিকিৎসা শাস্ত্রের ইমামগণ বলেছেন—যেমনটি আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম 'আল-হাদি' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন—মহামারি থেকে আত্মরক্ষাকারীর জন্য আবশ্যক হলো তার শরীর থেকে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় আর্দ্রতা নির্গত করে দেওয়া, আহারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া এবং সর্বতোভাবে শরীর শুষ্ক রাখার ব্যবস্থার দিকে মনোযোগী হওয়া; তবে শরীরচর্চা ও গোসলখানা (হাম্মাম) এড়িয়ে চলা আবশ্যক। কারণ সাধারণত শরীর মন্দ ও সুপ্ত বর্জ্য পদার্থ থেকে মুক্ত থাকে না, যা শরীরচর্চা ও গোসলের কারণে উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। আর যখন প্লেগ বা মহামারি দেখা দেবে তখন আবশ্যক হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الدَّعة والسكون، وتسكين هَيَجَان الأخلاط (1).
وصرَّح رئيس الأَطبَّاء ابن سينا بأنَّ أول شيء يبدأ به في علاج الطَّاعون التشريط إن أمكن فيسيل ما فيه، ولا يترك حتى يجمد، فتزداد سُمِّيَّته.
قال: ويعالج الطَّاعون بما تقْبِض ويبرد، وبِالفَصْد (2)، وبِإِسْفِنْجَة مَغْمُوسة في خل وماء، ودهن وورد، ودُهن تُفَّاح، أو دهن آس. انتهى (3).
وقال شيخ الإِسلام القاضي زكريا (4): وقد أغفل الأَطبَّاء في عصرنا وما قبله هذا التدبير، فوقع التفريط الشديد من تواطئهم على عدم التعرُّض لصاحب الطَّاعون بإخراج الدم حتى شاع ذلك فيهم؛ حيث صار عامَّتهم يعتقد تحريم ذلك؛ مع أنَّ رئيسهم قال لمَّا ذكر العلاج بالشرط، أو بالفَصد: إنه واجب.
وذهب بعض الأَطبَّاء إلى المنع من الفصد مع أنَّ المرض دموي، وعلله بأنَّ الأبدان قد تخللها الوباء الهاوي، فَغَيَّر دِمَاءَهَا كلها فلا يفيد تنقيصها شيئًا؛ لأنها كلها فاسدة، ومتى استفرغها بجملتها هلك فلم يبق إلَّا التدبير الإِلهي بقلب المراد.
--------------------------------------------
প্রশান্তি ও স্থিতি এবং দৈহিক রসসমূহের (আখলাত) উত্তেজনা প্রশমন (১)।
চিকিৎসকদের প্রধান ইবনে সিনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, প্লেগ রোগের চিকিৎসায় সম্ভব হলে সর্বপ্রথম যা শুরু করা উচিত তা হলো ক্ষতস্থান চিরে দেওয়া (তশরিত), যাতে এর ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ প্রবাহিত হয়ে বেরিয়ে যায়। একে জমতে দেওয়া যাবে না, অন্যথায় এর বিষক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন: প্লেগের চিকিৎসা করা হবে সংকোচনকারী ও শীতলকারী পদ্ধতি দ্বারা, রক্তমোক্ষণ (২) দ্বারা এবং সিরকা ও পানিতে ভেজানো স্পঞ্জ, গোলাপ তেল, আপেল তেল অথবা আস (এক প্রকার সুগন্ধি বৃক্ষ) তেল ব্যবহারের মাধ্যমে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত) (৩)।
শাইখুল ইসলাম কাজী জাকারিয়া (৪) বলেন: আমাদের যুগের এবং এর পূর্ববর্তী যুগের চিকিৎসকরা এই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করেছেন। ফলে প্লেগ আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে রক্ত বের করার ব্যাপারে তাদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে চরম অবহেলা পরিলক্ষিত হয়েছে, এমনকি তা তাদের মধ্যে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, সাধারণ চিকিৎসকরা একে নিষিদ্ধ মনে করতে শুরু করেছেন; অথচ তাদের প্রধান (ইবনে সিনা) যখন ক্ষত চিরে দেওয়া বা রক্তমোক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসার কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি একে ওয়াজিব বা আবশ্যক বলে গণ্য করেছেন।
কোনো কোনো চিকিৎসক রক্তমোক্ষণ নিষিদ্ধ করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন, যদিও এই রোগটি রক্তঘটিত। তারা এর কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন যে, শরীরে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে যা সমস্ত রক্তকে পরিবর্তিত করে দিয়েছে, তাই রক্ত কমানো কোনো উপকারে আসবে না; কারণ সবটুকুই দূষিত হয়ে গেছে। আর যদি সমস্ত রক্ত বের করে দেওয়া হয় তবে রোগী মারা যাবে। এমতাবস্থায় ঐশী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের আশা করা ছাড়া আর কোনো পথ অবশিষ্ট থাকে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ولعلَّ الجمع بين هذا وبين كلام ابن سينا، أنَّ ذلك يعتبر باختلاف الأمزجة والأبدان، والبلدان، والأزمان، والطبيب الحاذق العارف لا يكاد يوجد في هذا الزمان وإنما الأدعياء.
فقد ذكر ابن أبي حاتم عن الإِمام الشافعي رحمه الله أنه قال: لم أَرَ لِلوَبَاء أَنْفَع مِن البَنَفْسَج يُدَّهَن بِه، ويُشْرَب (1).
وزعم بعضهم أنَّ من تَخَتَم باليَاقُوت، أَو عَلَّقَه عليه أَمِنَ شَرَّ الطَّاعُون!
وقال ابن سينا: قِشْرُ الأترج رائحته تصلح فساد الهواء والوباء، وسمن البقر إذا صُبَّ على الطواعين نفع منها، وشَرَاب الحَصْرَم (2) ينفع من الوباء شربًا. وعن بعضهم يترك على الفحم في زمن الوباء قشور الرمَّان والآس، ويرش عليها الخل.
قال السَّمَرْقَنْدي (3): ويشرب كل غداة حِلابًا من شراب الحماض، أو الأترج، أو النارنج، أو الليمون، أو السفرجل، أو التفاح، أو الرمان
--------------------------------------------
সম্ভবত এর এবং ইবনে সিনার বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে, তা মেজাজ (প্রকৃতি), শরীর, দেশ এবং সময়ের ভিন্নতা অনুযায়ী বিবেচিত হয়। আর দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক বর্তমান যুগে প্রায় পাওয়াই যায় না; বরং কেবল ভণ্ড ও নামধারীদেরই দেখা মেলে।
ইবনে আবি হাতিম ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: মহামারীর প্রতিকারে আমি বনফশা (ভায়োলেট)-এর চেয়ে অধিক উপকারী আর কিছু দেখিনি; যা শরীরে মালিশ করা হয় এবং পান করা হয় (১)।
কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, যে ব্যক্তি ইয়াকুত (চুনি) পাথরের আংটি পরিধান করবে অথবা তা নিজের সাথে ঝুলিয়ে রাখবে, সে প্লেগের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে!
ইবনে সিনা বলেছেন: লেবুর খোসার ঘ্রাণ বায়ুদূষণ ও মহামারীর গ্লানি দূর করতে সহায়ক। আর গরুর ঘি যদি প্লেগের ক্ষতের ওপর ঢালা হয়, তবে তা উপকারে আসে। এছাড়া কাঁচা আঙুরের টক রস (২) পান করা মহামারীর সময় ফলপ্রসূ। কারও কারও পক্ষ থেকে বর্ণিত আছে যে, মহামারীর সময় প্রজ্বলিত কয়লার ওপর ডালিম ও আস (সুগন্ধি লতা) গাছের বাকল রাখা হয় এবং তার ওপর সিরকা ছিটানো হয়।
সামারকান্দি (৩) বলেছেন: প্রত্যেক ভোরে টক পালং (হুম্মাদ), লেবু, কমলালেবু, বাতাবি লেবু, কুইন্স (সফরজল), আপেল অথবা ডালিমের শরবতের একটি পানীয় পান করা উচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الحامض، من أَيِّها حُضِّر عشرة دراهم مع ماء الورد، أو ماء لسان الثور من كُلِّ عشرة دراهم، ويُشَم الوَردُ والكَافُور والصَّنْدَل.
وقال بعضهم: الماء البارد شربه يمنع الوباء، ويطفئ الحرارة الحادثة عن الوباء، وفي كتاب: "التِّبْيَان فِيمَا يُسْتَعْمَل مِنَ الأَغْذِيةِ دَائِمًا أَيَّامَ الطَّاعُون": الخل والعدس والكَثَك، ويأكل القِثَّاء والخيار، وللترياق الأكبر في أيام الطَّاعون والوباء نَفْع عظيم شربًا وطلاء، وبِعُشْرٍ يُدْفَع فَسَادُ الهواء أكلًا وشمًّا على الفطور، وبَزَر القطون ينفع للوباء بخورًا، وإذا بُخِّر به قطع كل رائحة عَفِنة من أي نوع كانت، وبخور [لايعة] (1) ينفع الوباء بخورًا، ورائحته تقطع العفونة كيف كانت.
وأما الأذكار والأدعية، فقد ذكر العلَّامة ابن القيم رحمه الله: أنَّ الأرواح الشيطانية تتمكَّن من فعلها بالإِنسان ما لم يدفعها دافع قوي من الذِّكر والدعاء والابتهال، والتضرُّع والصدقة وقراءة القرآن، وهذا يكون قبل استحكامها وتمكُّنها، فمن وفَّقه الله تعالى بادر عند إحساسه بأسباب الشرِّ إلى هذه الأسباب التي تدفعها عنه، وهي له من أنفع الدواء.
وإذا أراد الله عز وجل إنفاذ قضائه وقدره أغفل قلب العبد عن معرفتها وتصوُّرها وإرادتها، فلا يَشْعُرُ بِهَا، وَلَا يُرِيدُها ليقضي الله فيه أمرًا كان مفعولًا (2). وإذا وَقَعَ القَضَاءُ عَمِيَ البَصَر.
إذا علمت هذا، وعلمت أنَّ الطاعون من الجن، فقد وردت أحاديث بأذكار تحرس قائلها من كيد الجن، روى الإِمام مسلم عن أبي هريرة
--------------------------------------------
টক জাতীয় কোনো উপাদান থেকে প্রস্তুতকৃত দশ দিরহাম পরিমাণ ওষুধ গোলাপ জল অথবা দশ দিরহাম পরিমাণ গাওজবান ফুলের পানির সাথে মিশিয়ে পান করবে। এছাড়া গোলাপ, কর্পূর এবং চন্দন শুকবে।
কেউ কেউ বলেছেন: ঠান্ডা পানি পান করা মহামারি প্রতিরোধ করে এবং মহামারির কারণে সৃষ্ট উত্তাপ প্রশমিত করে। আর "প্লেগের দিনগুলোতে সর্বদা ব্যবহারযোগ্য খাদ্যসামগ্রীর বর্ণনা" নামক কিতাবে উল্লেখ আছে: সিরকা, মসুর ডাল এবং কাশাক (এক প্রকার খাদ্য), আর কচি শসা ও ক্ষীরা আহার করবে। মহামারি ও প্লেগের দিনগুলোতে 'তিরইয়াক আকবর' পান করা এবং প্রলেপ লাগানোতে মহা কল্যাণ রয়েছে। আর প্রাতঃরাশের সময় 'উশর' আহার ও শোঁকার মাধ্যমে দূষিত বাতাস প্রতিরোধ করা যায়। ঈষবগুলের বীজ ধূপ হিসেবে মহামারিতে উপকারী; এর ধোঁয়া যে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ নির্মূল করে। এছাড়া 'লায়আহ' (১) নামক ধূপও মহামারিতে উপকারী, যার সুগন্ধি যে কোনো পচনশীল দুর্গন্ধ দূর করে।
আর জিকির ও দোয়ার প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) উল্লেখ করেছেন যে: শয়তানি শক্তি মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয় যতক্ষণ না জিকির, দোয়া, মিনতি, রোনাজারি, সদকা এবং কুরআন তিলাওয়াতের মতো কোনো শক্তিশালী প্রতিরোধক তাকে প্রতিহত করে। আর এটি হতে হয় শয়তানি প্রভাব মানুষের ওপর জেঁকে বসার আগেই। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যাকে তাওফিক দান করেন, সে অনিষ্টের কারণ অনুভব করার সাথে সাথেই একে প্রতিহতকারী এসব আমলের দিকে ধাবিত হয়; যা তার জন্য সর্বোত্তম ওষুধ।
আর আল্লাহ যখন তাঁর ফয়সালা ও তকদির কার্যকর করতে চান, তখন বান্দার অন্তরকে এগুলোর জ্ঞান, অনুধাবন ও ইচ্ছা থেকে বিমুখ করে দেন। ফলে সে তা অনুভব করতে পারে না এবং এর ইচ্ছাও করে না, যাতে আল্লাহ তার ব্যাপারে পূর্বনির্ধারিত ফয়সালা কার্যকর করতে পারেন (২)। আর যখন ফয়সালা অবতীর্ণ হয়, তখন অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে যায়।
আপনি যখন এটি অবগত হলেন এবং জানলেন যে প্লেগ বা মহামারি জিনের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে জিনের ষড়যন্ত্র থেকে পাঠকারীকে হিফাজত করার জন্য বিভিন্ন জিকির সম্বলিত হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إِنَّ الشَّيطَانَ يَنْفِرُ مِن البَيْتِ الّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ البَّقَرَة" (1).
ورَوَى الحاكم عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "سُورَةُ البَّقَرَة فِيهَا آيةٌ هِيَ سَيِّدَةُ آيِ الْقُرْآنِ، لا تُقْرَأُ في بَيْتٍ وَفِيهِ شَيْطَان إلَّا خَرَجَ مِنْهُ؛ آيةُ الكُرْسِي" (2).
وروى البَزَّار أنه صلى الله عليه وسلم قال لعبد الله الأسلمي: "تَعَوَّذ بِقُل هُوَ اللهُ أَحَد، وقُل أَعُوذُ بِرَبِّ الفَلَق، وقُل أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاس، فَمَا تَعَوَّذَ العِبَادُ بِمِثِلِهنَّ" (3).
وَرَوَى الترمذي: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتعوَّذ من الجان وعين الإِنسان حتى نزلت المعوِّذتان، فلما نزلتا أخذ بهما، وترك ما سواهما (4).
وفي الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم: "مَنْ قَالَ لَا إِللهَ إلا الله وَحْدَهُ لَا
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই শয়তান সেই ঘর থেকে পলায়ন করে যাতে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করা হয়" (১)।
এবং আল-হাকিম আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সূরা আল-বাকারায় এমন একটি আয়াত রয়েছে যা কুরআনের আয়াতসমূহের নেত্রী; এমন কোনো ঘরে তা পাঠ করা হয় না যেখানে শয়তান রয়েছে অথচ সে তা থেকে বের হয়ে যায় না; সেটি হলো আয়াতুল কুরসি" (২)।
এবং আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুল্লাহ আল-আসলামিকে বলেছিলেন: "তুমি 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ', 'কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক' এবং 'কুল আউযু বিরাব্বিন নাস' দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করো; কেননা বান্দারা এগুলোর মতো অন্য কিছু দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেনি" (৩)।
এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিন এবং মানুষের বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন যতক্ষণ না আল-মুআব্বিযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) নাযিল হলো। যখন এই দুটি নাযিল হলো, তখন তিনি এ দুটিকেই গ্রহণ করলেন এবং এ ছাড়া অন্য সব ত্যাগ করলেন (৪)।
এবং সহীহাইন-এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি বলল: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ ولَهُ الحَمْدُ وهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِير، مِائَةَ مَرَّة كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ، وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَان يَوْمَه ذلِكَ حَتَّى يُمْسِي" (1).
وفي رواية للترمذي: "مَنْ قَالَ دُبُرَ صَلَاةِ الفَجْرِ وهُوَ ثَانِي رِجْلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَتَكَلَّم: لَا إلهَ إلا الله، فَذَكَرَهَا عَشْرَ مَرَّاتٍ، كَتَبَ الله لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَكَانَ يَوْمَه في حِرْزٍ مِن كُلِّ مَكْرُوهٍ، وحُرِسَ مِنَ الشَيْطَان" (2).
ورَوَى مُسْلِم عَنِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَقَال: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّاتِ مِن شَر مَا خَلَق لَم يَضرَّهُ شَيْء حَتَّى يَرْتَحِلْ" (3).
وفي بعض النسخ من الحلية عن الشافعي: "أَحْسَنُ مَا يُدَاوَى بِهِ الطَّاعُون التَّسْبِيحُ" (4).
--------------------------------------------
তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সকল প্রশংসা একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য, আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান—একশ বার (পাঠ করলে) তা দশটি দাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে, এবং সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তা তার জন্য শয়তান থেকে সুরক্ষাস্বরূপ হবে" (১)।
তিরমিযীর এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি ফজরের নামাযের পর কথা বলার পূর্বে দুই পা ভাঁজ করে বসা অবস্থায় দশবার বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—অতঃপর পূর্ণ দোআটি পাঠ করবে—আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেবেন, সেদিন তিনি প্রতিটি অপছন্দনীয় বিষয় থেকে আশ্রয়ে থাকবেন এবং শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকবেন" (২)।
ইমাম মুসলিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে এই দোআ পাঠ করবে: 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি'—তবে সেখান থেকে প্রস্থান করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না" (৩)।
হিলয়া-এর কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ইমাম শাফেয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে: "মহামারীর সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো তাসবীহ (আল্লাহর মহিমা ঘোষণা) পাঠ করা" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
ووجهه أنَّ الذكر يدفع العقوبة والعذاب. قال الله تعالى: {فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ (143) لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ} [الصافات: 143، 144]، وقال كعب: سبحان الله تمنع العذاب.
وقال بعض العارفين: دعاء يونس عليه السلام من ذكره في أيام الطاعون مائة وستًّا وثلاثين مرة حفظه الله تعالى من الوباء والطَّاعون، وهو لا إله إلَّا أنت سبحانك إني كنت من الظالمين؛ وهو اسم الله الأعظم (1).
وذكر الزركشي أن بعض السلف كان يدعو عقب صلاته للنازلة: اللَّهُمَّ إنَّا نعوذ بك من عظيم النبلاء في النفس والأهل، والمال والولد، الله أكبر الله أكبر الله أكبر مما نخاف ونحذر، الله أكبر عدد ذنوبنا حتى تُغفر، اللَّهُمَّ كما شَفَّعْتَ فِينَا نَبِيَّنَا محمدًا صلى الله عليه وسلم فَأَمْهِلْنَا، وَعَمِّرْ بِنَا مَنَازِلَنَا، ولا تؤاخذنا بسوء أفعالنا، ولا تهلكنا بخطايانا يا رب العالمين.
وعن بعضهم مما ينفع للوباء: يا حيّ يا قيُّوم، ربُّنا اكشف عنَّا العذاب إنَّا مؤمنون، بسم الله ذي الشأن العظيم البرهان، الشَّديد السلطان، ما شاء الله كان، اللَّهُمَّ إنَي أعوذ بك من الطعن، والطَّاعون والوباء، اللَّهُمَّ إنَي أعوذ بك من موت الفجأة، وسوء القضاء، وجهد البلاء.
--------------------------------------------
এর কারণ হলো যিকর শাস্তি ও আযাবকে দূর করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর তিনি যদি তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতেন, তবে তিনি তার (মাছের) পেটে অবস্থান করতেন।" [আস-সাফফাত: ১৪৩, ১৪৪]। কাব (রা.) বলেন: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা) আযাবকে প্রতিহত করে।
জনৈক আরিফ (আল্লাহভীরু বিজ্ঞজন) বলেছেন: প্লেগ বা মহামারীর দিনগুলোতে যে ব্যক্তি ইউনুস আলাইহিস সালামের দুআটি একশ ছত্রিশ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে মহামারী ও প্লেগ থেকে রক্ষা করবেন। সেই দুআটি হলো: "আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি অতি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম"; আর এটিই আল্লাহর ইসমে আযম বা মহান নাম (১)।
যারকাশী উল্লেখ করেছেন যে, কোনো কোনো সালাফ (পূর্বসূরি আলেম) বিপদের সময় সালাতের পর এই দুআ করতেন: হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আশ্রয় চাই নিজের জীবন, পরিবার, সম্পদ ও সন্তানের ওপর আপতিত বড় মুসীবত থেকে। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান—আমরা যা ভয় করি ও যা থেকে সতর্ক থাকি তার চেয়েও তিনি মহান। আল্লাহ মহান আমাদের পাপের সংখ্যা পরিমাণ, যতক্ষণ না তা ক্ষমা করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে আমাদের জন্য আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ কবুল করেছেন, তেমনিভাবে আমাদের অবকাশ দিন, আমাদের ঘরবাড়িগুলোকে আমাদের দ্বারা আবাদ রাখুন, আমাদের মন্দ কাজের জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন না এবং আমাদের পাপের কারণে আমাদের ধ্বংস করবেন না, হে জগতসমূহের প্রতিপালক।
কোনো কোনো বর্ণনায় মহামারীর ক্ষেত্রে উপকারী হিসেবে এটি এসেছে: হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক! হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের থেকে আযাব দূর করুন, নিশ্চয়ই আমরা ঈমানদার। আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি সুমহান মর্যাদার অধিকারী, সুস্পষ্ট প্রমাণের অধিকারী এবং প্রবল পরাক্রমশালী। আল্লাহ যা চান তা-ই হয়। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আঘাত, প্লেগ ও মহামারী থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আকস্মিক মৃত্যু, ভাগ্যের মন্দ পরিণতি এবং চরম বিপদ থেকে আশ্রয় চাই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وعن بعضهم لدفع الوباء يُكتب ويُعلق على الشخص (1): بسم الله الرحمن الرحيم، وصلَّى الله على سيِّدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلَّم، اللَّهُمَّ سَكِّن هَيْبَةَ صَدْمَةِ قَهْرَمَان الجَبَرُوت بألطافك الخَفِيَّة الوَارِدَة النَّازِلَة من باب الملكوت حتى نتَشَبَّثَ بِلُطْفِك، ونَعْتَصِم عَن إِنْزَال قُدْرَتِك، يا ذا القدرة الكاملة، والرحمة الشاملة، يا ذا الجلال والإِكرام.
وذكر بعض العارفين نحوًا من الأسماء أنَّ اسمه تعالى المؤمن: مَنْ ذَكَره كل يوم مائة وستًّا وثلاثين مرة أَمِن شر الطَّاعون. الحكيم: مَنْ ذَكَره في أيام الوباء كل يوم ثمانيًا وثمانين مرة أمن شر العلَّة الوبائية. الحفيظ: مَنْ ذَكَره كل يوم ثمانمائة وتسعين مرة كان محفوظًا من الوباء والطاعون. الرقيب: مَنْ ذَكَره أيام الوباء كل يوم ثلاثمائة مرة، واثني عشر مرة عصمه الله في سائر حركاته وسكناته من علَّة الطعن والطاعون.
وعن بعضهم من قال في أيام الوباء: اللَّهُمَّ يا لطيف أسألك اللطف فيما جرت به المقادير، مائة وستًّا وثلاثين مرة أَمَّنَهُ الله مِن وَخْزِ الطَّاعون، وآفات البلاء (2).
--------------------------------------------
কোনো কোনো মনীষী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মহামারি প্রতিরোধের জন্য নিম্নোক্ত দুআটি লিখে শরীরে ধারণ করা যায় (১): পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আপনার মালাকুত (সার্বভৌমত্ব) জগত হতে অবতীর্ণ সূক্ষ্ম অনুগ্রহের মাধ্যমে জাবারুত (পরাক্রমশীলতা) জগতের শাসনকর্তার প্রচণ্ড প্রতাপকে প্রশমিত করুন, যাতে আমরা আপনার দয়ার আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি এবং আপনার কুদরতের কঠোরতা থেকে আত্মরক্ষা করতে পারি। হে পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী! হে ব্যাপক করুণার আধার! হে মহিমা ও সম্মানের মালিক!
জনৈক আরিফ (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) আল্লাহর কতিপয় নাম সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার নাম 'আল-মুমিন': যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১৩৬ বার এটি পাঠ করবে, সে প্লেগ রোগের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। 'আল-হাকিম': মহামারির দিনগুলোতে যে ব্যক্তি প্রতিদিন ৮৮ বার এটি পাঠ করবে, সে মহামারিজনিত ব্যাধির অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। 'আল-হাফিজ': যে ব্যক্তি প্রতিদিন ৮৯০ বার এটি পাঠ করবে, সে মহামারি ও প্লেগ থেকে সংরক্ষিত থাকবে। 'আর-রাকিব': মহামারির দিনগুলোতে যে ব্যক্তি প্রতিদিন ৩১২ বার এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে তার সমস্ত নড়াচড়া ও স্থির অবস্থায় ছুরিকাঘাত ও প্লেগ রোগের হাত থেকে রক্ষা করবেন।
জনৈক মনীষী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মহামারির দিনগুলোতে যে ব্যক্তি ১৩৬ বার পাঠ করবে: 'হে আল্লাহ! হে সূক্ষ্মদর্শী ও দয়ালু, যা কিছু তাকদীরে নির্ধারিত হয়েছে তাতে আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি', আল্লাহ তাকে প্লেগের যন্ত্রণা ও মুসিবতের আপদ থেকে নিরাপদ রাখবেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৫০)
بهذا، اعلم أيَّدك الله أنَّ كلام المنجِّمين في الإِخبار بالطاعون وغيره من الحوادث كَذِبٌ وبُهْتَانٌ، وَظَن وَحُسْبَان، ولا يجوز تصديقهم في ذلك، والمُصَدِّقُ لَهُم أَحْمَق، أو ذُو تَغْفِيل مُحَقَّق، كيف لا والله سبحانه يقول: {عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا (26) إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ} [الجن: 26، 27]، ويقول: {قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ} [النمل: 65].
وروى الإِمام أحمد عن أبي هريرة رضي الله عنه أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مَنْ أَتَى كَاهِنَا أَوْ عَرَّافَا فَصَدَّقَه بِمَا يَقُولُ فَقَد كَفَر بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّد" (1).
وروى مسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَن شَيْءٍ لَم
--------------------------------------------
এ থেকে জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন যে, মহামারী এবং অন্যান্য ঘটনা সম্পর্কে জ্যোতিষীদের বক্তব্য মিথ্যা ও অপবাদ এবং নিছক ধারণা ও অনুমান মাত্র। এ বিষয়ে তাদের বিশ্বাস করা বৈধ নয়। আর যে ব্যক্তি তাদের বিশ্বাস করে সে নির্বোধ অথবা চরম গাফেল। তা কেন হবে না, অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: "তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না; তাঁর মনোনীত রাসুল ব্যতীত।" [সূরা জিন: ২৬-২৭]। তিনি আরও বলেন: "বলুন, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না।" [সূরা নামল: ৬৫]।
ইমাম আহমদ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে আসলো এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল (তা অস্বীকার করল)" (১)।
ইমাম মুসলিম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষীর কাছে আসলো এবং তাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৫১)
تُقْبَلْ صلَاتُهُ أَرْبَعِينَ لَيْلَة" (1).
وروى الإِمام أحمد وأبو داود وابن ماجه عن ابن عباس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مَنِ اقْتبَسَ عِلْمًا مِنَ النُّجُوم اقْتبَس شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ" (2).
وروى الإِمام أحمد من حديث سمرة رضي الله عنه أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم
قال: "أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ رِجَالًا يَزْعُمُونٍ أَنَّ كُسُوف هذه الشَّمْسَ، وكُسُوفَ هذَا القَمَر، وزَوَالَ هذِهِ النُّجُوم عَن مَطَالِعِهَا لِمَوْتِ رِجَالٍ عُظَمَاء مِن أَهْلِ الأَرْضِ، وَإِنَّهُم قَد كَذَبُوا، وَلكِنَّهَا آيَاتٌ يَعتَبِر بِهَا عِبَادُه لِيَنْظُر مَنْ يُحدث لَه مِنْهُم تَوْبَة" (3).
ومما يَدُلُّ عَلَى فَسَادِ قَوْلِ المُنَجِّمين إجماعُهُم عندما تَمَّ بِنَاءُ بغداد أن لا يموت بها خليفة، وشاع ذلك الأمر حتى هَنَّأ الشُّعَرَاء الخليفة المنصور (4) بذلك، ثم قوي هذا الظن لما مات المنصور بطريق مكة، ثم
--------------------------------------------
তার চল্লিশ রাতের সালাত কবুল হবে না" (১)।
ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কোনো অংশ শিখল, সে জাদুরই একটি শাখা শিখল" (২)।
ইমাম আহমাদ সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
বলেছেন: "অতঃপর কথা এই যে, কিছু লোক ধারণা করে যে, এই সূর্যগ্রহণ, এই চন্দ্রগ্রহণ এবং নক্ষত্ররাজির স্বস্থান থেকে বিচ্যুতি ঘটে পৃথিবীর কোনো মহান ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে। অথচ তারা মিথ্যা বলেছে। বরং এগুলো হচ্ছে নিদর্শনাবলি, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের শিক্ষা দেন যাতে তিনি দেখেন যে তাদের মধ্যে কে তাওবা করে" (৩)।
জ্যোতিষীদের বক্তব্যের অসারতার একটি প্রমাণ হলো বাগদাদ শহর নির্মাণের সময় তাদের এই বিষয়ে ঐকমত্য যে, সেখানে কোনো খলিফা মারা যাবেন না। বিষয়টি এতই ছড়িয়ে পড়েছিল যে কবিরা খলিফা আল-মানসুরকে (৪) এই জন্য অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই ধারণা আরও বদ্ধমূল হয় যখন আল-মানসুর মক্কার পথে মৃত্যুবরণ করেন, অতঃপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৫২)
قوي لما مات المهدي خارجًا عنها، وكذلك الهادي، والرشيد، فلما قتل بها الخليفة الأمين انخرم هذا الحكم، ورجع القائل يقول:
كَذَبَ المُنَجِّمُ في مَقَالَتِهِ الَّتِي
… نَطَقَت عَلَى بَغدَادَ بِالْبُهْتَانِ
قُتِلَ الأَمِينُ بِهَا لَعَمْرِي يقْتَضِي
… تكْذِيبُهُم في سَائِرِ الحُسْبَانِ
ثُمَّ مات بها الواثق بالله، والمتوكِّل على الله، والمعتمد بالله، والمكتفي بالله، والناصر لدين الله، وظَهَرَ لِكُل عَاقِلِ تَنَاقُضُ قَولِ المُنَجِّمِين، وشَنِيعُ كذبهم، وافترائهم فيما أجمعوا عليه.
وأمَّا مَا اختَلَفُوا فيه وقَطَع به بَعضُهُم دون بعض فلو حكيناه عنهم على ما ذكره الإِمام ابن الجوزي وغيره لكان أمرًا يُضحك منه.
وما أحسن قول القائل:
أَطُلَّابَ النُّجُومِ أَحَلْتُمُونَا
… عَلَى عِلْمِ أَرَقَّ مِنَ الهَبَا
كُنُوزُ الأرضِ لم تَصِلُوا إِلَيْهَا
… فَكَيْفَ وَصَلْتُمُ عِلْمَ السَّمَا
وقول البهاء زهير (1):
وَاعْزِم مَتَى شِئْتَ فَالأَوْقَاتُ وَاحِدَةٌ
… لا الرَّيْبُ يَدفَعُ مَقْدُورًا وَلَا العَجَلُ
--------------------------------------------
যখন মাহদী এর (বাগদাদের) বাইরে মৃত্যুবরণ করলেন, তখন বিষয়টি জোরালো হলো। একইভাবে হাদী এবং রাশিদও (বাইরে মারা গেলেন)। কিন্তু যখন খলীফা আমীন সেখানে (বাগদাদে) নিহত হলেন, তখন এই নিয়মটি ভেঙে গেল এবং বর্ণনাকারী বলতে লাগলেন:
জ্যোতিষী তার সেই বক্তব্যে মিথ্যা বলেছে যা
… বাগদাদ সম্পর্কে মিথ্যাচারের সাথে উচ্চারিত হয়েছিল।
আমার জীবনের কসম! আমীন সেখানে নিহত হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে
… তাদের বাকি সমস্ত গণনাও মিথ্যা।
অতঃপর সেখানে আল-ওয়াসিক বিল্লাহ, আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ, আল-মুতামিদ বিল্লাহ, আল-মুকতাফী বিল্লাহ এবং আন-নাসির লি-দীনিল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন। ফলে প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে জ্যোতিষীদের বক্তব্যের স্ববিরোধিতা এবং তাদের সর্বসম্মত বিষয়গুলোতেও জঘন্য মিথ্যা ও অপবাদ স্পষ্ট হয়ে গেল।
আর তারা যে বিষয়ে মতভেদ করেছে এবং যে ব্যাপারে তাদের কেউ কেউ দৃঢ়তা দেখিয়েছে কিন্তু অন্যরা দেখায়নি, ইমাম ইবনুল জাওযী এবং অন্যদের বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী যদি আমরা তা বর্ণনা করি, তবে তা কেবল উপহাসের পাত্রই হবে।
আর কবির এই কথাটি কতই না চমৎকার:
হে জ্যোতিষশাস্ত্রের অন্বেষণকারীরা! তোমরা আমাদের এমন এক জ্ঞানের প্রতি সোপর্দ করেছ
… যা ধূলিকণার চেয়েও অসার।
তোমরা তো পৃথিবীর গুপ্তধন পর্যন্তই পৌঁছাতে পারোনি
… তবে আকাশের জ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছালে কীভাবে?
এবং বাহাউদ্দীন যুহাইর (১)-এর উক্তি:
তুমি যখন চাও তখনই সংকল্পবদ্ধ হও, কারণ সব সময় সমান
… কোনো সন্দেহ বা তাড়াহুড়োও নির্ধারিত তাকদীরকে প্রতিহত করতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মা ইয়াফআলুহু আল-আতিব্বাউ ওয়াদ-দাউনা বি-দাফয়ি শাররিত-তাউন
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
لَا تَرْقُبِ النَّجْمَ في أَمْرٍ تحَاوِلُهُ
… فالله يَفْعَلُ لَا جَديٌّ وَلَا حَمَلُ
مَعَ السَّعَادَةِ مَا لِلنَّجْمِ مِنْ أثرِ
… فَلَا يَضرُّك مَرِّيخٌ وَلَا زُحَلُ
الأَمْرُ أَعْظَمُ وَالأَفْكَارُ حَائِرَةٌ
… وَالشَّرْعُ أَصْدَقُ والإِنْسَانُ يَمْتَثِلُ
وفي هذا القدر كفاية للمعتبر، وهداية للمستبصر، والله يقول الحق وهو يهدي السبيل، وهو حسبي ونعم الوكيل.
قال مؤلفه مَرعِي بن يوسُف الحَنْبَلِي سامحه الله تعالى: فَرَغتُ مِن رَقْمِ هذه الفوائد ليلة الأحد بعد العشاء الآخرة بِنَحوِ أَرْبَعِينَ دَرَجَة حادي عشر ربيع الأول سنة إحدى وثلاثين وألف، وصلَّى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلَّم (1).
--------------------------------------------
কোনো কাজের সংকল্প করলে তুমি নক্ষত্রের পানে চেয়ো না
… কেননা আল্লাহই সব করেন, মকর বা মেষ রাশি নয়।
সৌভাগ্যের সাথে নক্ষত্রের কোনো সম্পর্ক নেই
… সুতরাং মঙ্গল কিংবা শনি গ্রহ তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
বিষয়টি অতি মহান আর চিন্তাসমূহ সেখানে কিংকর্তব্যবিমূঢ়
… তবে শরিয়তই পরম সত্য এবং মানুষ কেবল তাঁরই অনুগত।
উপদেশ গ্রহণকারীর জন্য এইটুকুই যথেষ্ট এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এটিই সঠিক দিশা। আল্লাহ সত্য বলেন এবং তিনিই সরল পথ প্রদর্শন করেন; তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
এর গ্রন্থকার মারঈ ইবনে ইউসুফ আল-হাম্বালী (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন: আমি এই হিতোপদেশগুলো লিপিবদ্ধ করার কাজ ১০৩১ হিজরি সনের ১১ই রবিউল আউয়াল, রবিবার রাতে এশার সালাতের পর আনুমানিক চল্লিশ ডিগ্রি (সময়) অতিবাহিত হওয়ার পর সমাপ্ত করেছি। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক (১)।
--------------------------------------------